মসজিদে প্রদত্ত কুরআন শরীফ, বাতাসা, বিস্কুট ইত্যাদির হুকুম

মুফতী মীযানুর রহমান কাসেমী সাহেব (রাহমানিয়া)১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫মসজিদ মাদরাসা, বিবিধ

প্রশ্ন

অনেকে মসজিদে দান বা মান্নতের জিনিষ দিয়ে থাকে। কুরআন শরীফও দিয়ে থাকে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় কুরআন পড়ার লোক কম বা প্রয়োজন হয় না বিধায় প্রচুর কুরআন শরীফ অব্যবহৃত থেকে যায়। সুতরাং ঐসব কুরআন শরীফ বিক্রি করে মসজিদের কাজে লাগানো যাবে কি না? অনুরূপ ভাবে মসজিদে প্রদত্ত খাদ্য-দ্রব্য, মুরগী, ফল ফলাদীর কী হুকুম?

উত্তর

প্রথমেই মনে রাখতে হবে যে, মসজিদের জন্য মান্নত মানলে তা সহীহ হয় না। কেননা মান্নতের জিনিষ ঐসব খাতে ব্যয় করা জরুরী, যে সব খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যায়। আর মসজিদে যেহেতু যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যায় না তাই মান্নতের জিনিষও মসজিদে দেয়া যাবে না। এতদসত্ত্বেও যদি কেউ মসজিদের নামে মান্নত করে এবং মান্নতের বস্তু মসজিদে প্রেরণ করে যেমন, টাকা পয়সা, মুরগী, লাউ ইত্যাদি, তাহলে সেই মাল বিক্রি করে বিক্রিলদ্ধ টাকা মসজিদের কাজে ব্যয় করা যাবে। কেননা সেটা সাধারণ দান হিসাবে গণ্য হবে, মান্নত হিসাবে নয়। আর যদি পায়েশ, বিস্কুট, বাতাশা, খিচুড়ি ইত্যাদি আসে এবং তা গরীব মুসল্লীদের খাওয়ানোর জন্য মান্নত মানা হয় তাহলে সেটা সহীহ আছে। কেননা এক্ষেত্রে মসজিদের কথা উল্লেখ করলেও মসজিদ উদ্দেশ্য হয় না, বরং উদ্দেশ্য থাকে মসজিদের মুসল্লী। আর ধনীরা যেহেতু যাকাতের অর্থ ভোগ করতে পারে না, তাই মান্নতের এস, খাদ্য দ্রব্য তারা খেতে পারবে না। শুধু মাত্র গরীবরা খাবে।

আর কুরআন শরীফের ব্যাপারে হুকুম হল, মসজিদে যে সব কুরআন শরীফ প্রদান করা হয় তা মুসল্লীদের পড়ার জন্যই প্রদান করা হয় এবং এটা ওয়াকফ হিসাবে গণ্য হয়। আর ওয়াকফকৃত জিনিষ বিক্রি করা নিষেধ। সুতরাং ঐ সব কুরআন শরীফ বিক্রি করা জায়েয হবে না। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত হলে আশ পাশের মসজিদগুলিতে দিয়ে দেয়া যেতে পারে এবং এটাই উত্তম। (ফাতাওয়া রহীমিয়া-৬-৭৭, ফাতাওয়া দারুল উলুম-১২-১৩৪)

মসজিদে প্রদত্ত কুরআন শরীফ, বাতাসা, বিস্কুট ইত্যাদির হুকুম | ইসলামী যিন্দেগী