উচ্চ স্বরে যিকির করা
প্রশ্ন
মসজিদে বা বাড়ীতে উচ্চস্বরে যিকির করা এবং মাইকে যিকির করার হুকুম কি? উচ্চ স্বরে যিকির করা উত্তম না নিম্নস্বরে?
উত্তর
যিকিরের ব্যাপারে কুরআন-হাদীসে অসংখ্য আয়াত ও হাদীস বর্ণিত হয়েছে এবং সাথে সাথে যিকিরের অগণিত ফযীলত ও আলোচিত হয়েছে। কুরআনে পাকে নিম্ন স্বরে যিকির করার নির্দেশ প্রদান করতঃ বলা হয়েছে, আর স্বীয় পালন কর্তাকে স্বরণ করতে থাক আপন মনে, ক্রন্দন রত ও ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় এবং এমন অনুচ্চ স্বরে সকাল ও সন্ধ্যায়। আর তোমরা গাফেল থেকো না। (সুরাহ আরাফ ২০৫)
অন্য আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে যে, তোমরা বিনিত ভাবে গোপনে তোমাদের প্রতিপালককে ডাক; তিনি সীমা লংঘন কারীদেরকে পছন্দ করেন না। (সুরাহ আরাফ ৫৫)
রাসূলে আকরাম ﷺ ইরশাদ করেন, নিশ্চয় তোমরা এমন আল্লাহ কে ডাক না যিনি বধির ও অনুপস্থিত। অবশ্যই তোমরা এমন আল্লাহকে ডাক যিনি সর্ব শ্রোতা ও অতি নিকটবর্তী এবং তিনি তোমাদের সাথেই আছেন। (বুখারী শরীফ ২-৬০৫, মুসলিম ২-৩৪)
উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, নিঃশব্দে ও আস্তে আস্তে যিকির করাই শ্রেয়। অবশ্য সশব্দে ও যিকির করা জায়েয আছে তবে তার জন্য কয়েকটি শর্তও রয়েছে। যথা, কেবল মাত্র পুরুষদের জন্য উচ্চ স্বরে যিকির করা জায়েয আছে।
* উক্ত যিকির দ্বারা রিয়া বা লৌকিকতা উদ্দেশ্য না হতে হবে।
* ঘুমন্ত ও অসুস্থ ব্যক্তিদের কোনরূপ অসুবিধা না হতে হবে।
* মসজিদে নামাযরত মুসল্লিদের নামাযে এবং তিলাওয়াতকারীর তিলাওয়াতে কোন রূপ ব্যাঘাত না হতে হবে। যদি যিকির দ্বারা উল্লেখিত ব্যক্তিদের কোনরকমের অসুবিধা হয় তাহলে উচ্চস্বরে যিকির করা জায়েয হবে না।
উল্লেখ্য যে, আমাদের দেশে বর্তমানে যে যিকিরের পদ্ধতি চালু রয়েছে ভালে তাল মিলিয়ে, সুরে সুর মিলিয়ে-এ ভাবে সম্মিলিত স্বরে যিকির করার কোন প্রমাণ সালফে সালেহীনদের থেকে পাওয়া যায় না। তাই কারো সাথে ভাল না মিলিয়ে প্রত্যেকে নিজের নিজের হিসাব ঠিক রেখে যিকির পূর্ণ করবে। এটাই সহীহ নিয়ম। সুতরাং একত্রে বসে যিকির করা যাবে বটে কিন্তু সম্মিলিত কণ্ঠে নয়। আর মাইকে যিকির করা কোন অবস্থাতেই বাঞ্ছনীয় নয়। কেননা কারো কারো ক্ষেত্রে মৃদু আওয়াযে যিকির করায় কলবের ফায়দা থাকলেও মাইকে যিকির করার কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। কেননা যিকির নিতান্তই ব্যক্তিগত আমল। সেখানে রাতভর বা কারো আরামের সময় মাইকে যিকির করে মানুষকে বিরক্ত করার কোন প্রশ্ন ওঠেনা। সুতরাং শর্ত সাপেক্ষে উচ্চ স্বরে যিকির জায়েয হওয়া সত্ত্বেও মাইক দ্বারা যিকির করাকে জায়েয বলা যায় না। এখানে বিশেষ ভাবে স্বরণ রাখা দরকার যে, ওয়াজ নসীহত যেহেতু অন্যদেরকে শুনানোর উদ্দেশ্যেই করা হয়ে থাকে তাই সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে মাইক ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে মাইকে ওয়াজ-নসীহত করার সময় ও এ বিষয়ের প্রতি বিশেষ ভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, পার্শবর্তী মুসল্লিদের নামায কালামে যেন ব্যাঘাত না ঘটে। তাই নামাযের সময় ওয়াজ বন্ধ রেখে নামায আদায় করে নিয়ে এর পরে আবার ওয়াজ শুরু করা উত্তম। ইমদাদুল মুফতীন-২৪৯/ ইমদাদুল ফাতাওয়া-৫/৫৫১