ঔষধের দোকানে কনডম ইত্যাদি বিক্রি করা
প্রশ্ন
ঔষধের দোকান পরিবার-পরিকল্পনা সংক্রান্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি কনডম ও ইনজেকশন ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয আছে কি-না?
উত্তর
শরী‘আতের বিধান হলো- যে জিনিস জায়েয ভাবে ব্যবহারের কোন সুরত নেই, তার বেচা-কেনা হারাম ও নিষিদ্ধ যেমন- মদ, শুকর ইত্যাদি। আর যে জিনিস জায়েয ভাবে ব্যবহার করা যায়, হারাম কাজে সহায়তার ইরাদা না থাকলে তা বেচা-কেনা জায়েয আছে- যদিও কেউ তা খরীদ করে নাজায়েয কাজে ব্যবহার করে। যেমন- আঙ্গুর বেচা-কেনা জায়েয আছে- যদিও কেউ এটা খরিদ করে মদ তৈরী করে।
সন্দেহ নেই যে, প্রচলিত ধ্যান-ধারণা ও রীতিনীতির পরিবার-পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম। তবে মুসলমান, দ্বীনদার-পরহেযগার অভিজ্ঞ ডাক্তারের মতে ক্ষতির আশংকাজনক অবস্থায় বিজ্ঞ মুফতীগণের ফাতাওয়ার ভিত্তিতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে অপারগতার ক্ষেত্রে সাময়িক জন্মনিরোধ পদ্ধতি অবলম্বন জায়েয আছে। সেই হিসাবে শরী‘আতে বর্ণিত নীতির আলোকে ঔষধের দোকানে জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি, কনডম, প্লাস্টিক কয়েল ও ইনজেকশন ইত্যাদির ক্রয়-বিক্রয় মৌলিকভাবে জায়েয। তবে এগুলো বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ফার্মেসী ওয়ালাদের সাধ্যানুযায়ী সতর্কতা অবলম্বন করা কর্তব্য। যাতে কোন অবিবাহিত লোক এগুলো খরীদ করে যিনার দরজা প্রশস্ত না করতে পারে এবং বিবাহিত লোকেরাও আলেম-উলামা ও দ্বীনদার বিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শক্রমে একান্ত অপরাগতা ব্যতীত এগুলো ব্যবহার করতে না পারে।
বর্তমানে একদিকে সমাজে নারী-পুরুষের সহ অবস্থান ও সকল ক্ষেত্রে যুবক-যুবতীদের অবাধ মেলামেশা, অপরদিকে জন্মনিয়ন্ত্রণের সহজ পদ্ধতি সমাজকে ব্যাপকভাবে যিনা-ব্যভিচারের মাধ্যমে আযাব-গযবের দ্বারপ্রান্তে এনে দাঁড় করিয়েছে। যে কোন মুহূর্তে এ সমাজ আল্লাহর গযবের শিকার হয়ে যেতে পারে, আর হচ্ছেও। এ সবই মুসলমানদের ধর্মীয় অসচেতনতার সুযোগে হিন্দু, ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের মুসলিম জাতির অবক্ষয় সৃষ্টিতে সুদূরপ্রসারী গভীর নীল-নকশার পরিণতি। ধর্মহীন কর্মশিক্ষা, সহশিক্ষা, চাকুরীর সকল ক্ষেত্রে মহিলাদের অবাধ উপস্থিতি, মেয়েদের অবাধ বিচরণ, অশ্লীল নভেল, নাটক, টেলিভিশন, ভিসিআর, এনজিওদের প্রতারণা ফাঁদ, নারী মুক্তি আন্দোলন ও জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এসব তাদের নীল-নকশার বাস্তব বহিঃপ্রকাশ। মুসলিম মিল্লাত যদি দুশমনদের এসব ষড়যন্ত্র উপলদ্ধি করে এগুলোর প্রতিকার করতে সক্ষম না হয়, তাহলে অচিরেই এ সমাজ ধ্বংস হয়ে কাফির-বেদ্বীনদের গোলামীর জিঞ্জিরে আবদ্ধ হবে। উলামাগণের দারিত্ব হক কথাগুলো পৌঁছে দেয়া।