পৃথিবীতে এত ভাষার উৎপত্তি কি ভাবে হল?
প্রশ্ন
আমরা জানি যে, সৃষ্টির সর্ব প্রথম মানুষ আদি পিতা হযরত আদম আ. এর ভাষা ছিল আরবী। কিন্তু এর পরে এই হাজার হাজার ভাষার বিকাশ আর উৎপত্তি কি ভাবে হল?
উত্তর
কুরআন-হাদীস এবং তাফসীরের কিতাব সমূহের আলোকে একথা বুঝে আসে যে, সকল ভাষা স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলাই সৃষ্টি করেছেন। হযরত আদম আ. কে সৃষ্টি করার পূর্বেই আল্লাহ তা‘আলা ভাষা সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁকে সৃষ্টি করার পরে ফেরেশতাদের উত্তর দেয়ার জন্য তাঁকে বিষয়-বন্ধু-সামগ্রির নাম শিক্ষা দিয়েছেন। হযরত আদম আ. বেহেশতে অবস্থান কালে আরবী ভাষায় কথা বলতেন। নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভক্ষণ করার পরে আরবী ভাষা ভুলে যান এবং সুরিয়ানী ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। এর পর তাওবা কবুল হওয়ার পরে পুনরায় আরবী ভাষা বলতে সক্ষম হন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে এই তথ্য বর্ণিত হয়েছে। দুনিয়ায় প্রেরীত হওয়ার পরে তাওবা কবুল হওয়া পর্যন্ত সুরিয়ানী ভাষাতেই কথা বলতে থাকেন। এরপর অন্যান্য ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। এসকল ভাষার প্রচলন তার সন্তানদের মধ্যেও বিস্তৃত হয়। অতঃপর তার সন্তানরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েন তখন তারা স্বীয় পিতার ভাষাগুলি থেকে একেক জন একেক ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। এভাবেই একেকটি সম্প্রদায় বা জাতির জন্য পৃথক পৃথক ভাষা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এরপর যখন হযরত নূহ আ. এর সময় বিশ্বব্যাপী মহা প্লাবন সংঘটিত হয় তখন তার নৌকার আরোহীদের মধ্যে আরবীসহ অন্যান্য ভাষাভাষীরাও ছিল। তাফসীরে রুহুল মাআনীতে দেখা যায়, তখন পৃথিবীতে ৭২টি ভাষার প্রচলন ছিল। তন্মধ্যে হাম জাতির মধ্যে ১৭টি, সাম জাতির মধ্যে ১৯টি এবং ইয়াফিস জাতির মধ্যে ৩৬টি ভাষার প্রচলন ছিল। (১১ খণ্ড ২১পৃঃ) এগুলি হল পূর্বের যুগের কথা। আর এখন তো পৃথিবীতে ভাষার সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। এসব আলোচনা দ্বারা বুঝা গেল যে শুধু বর্তমানেই নয় বরং পূর্বে থেকেই পৃথিবীতে বহু ভাষা ব্যবহার হয়ে আসছে। মূলতঃ এসবই আল্লাহ পাকের অসীম কুদরতের নমূনা। আর এই কথাই আল্লাহ তা‘আলা সুরাহ রুমের ২২ নম্বর আয়াতে বর্ণনা করেছেন।