১২ই রবিউল আউয়ালে জশনে জুলুস করা

মুফতী মীযানুর রহমান কাসেমী সাহেব (রাহমানিয়া)২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫কুফর শিরক বিদ‘আত কুসংস্কার অপসংস্কৃতি

প্রশ্ন

আমাদের দেশে ১২ই রবিউল আউয়ালে যে জশনে জুলুস ও ঈদে মীলাদুন্নবীর নামে অনুষ্ঠান করা হয়, মিছিল ইত্যাদি করা হয় শরী‘আতের দৃষ্টিতে তার হুকুম কি?

উত্তর

১২ই রবিউল আউয়ালে জশনে জুলুস এবং ঈদে মীলাদুন্নবীর নামে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়, দামী দামী ছবি তৈরি করা হয়, গেট সাজানো হয়, কয়েক দিন যাবত বিভিন্ন প্রোগ্রাম সহ বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়। কুরআন-হাদীসে এর কোন মূল বা ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে হাদীসে যে তিন যুগকে খাইরুল কুরুন বা সর্বোত্তম যুগ বলা হয়েছে সেই তিন যুগে এর কোন অস্তিত্বই ছিল না। বরং এগুলো বহু পরে ৬০০ হিজরীতে আবিষ্কৃত হয়েছে। বাদশাহ আবু সাঈদ মুযাফফর এবং আবুল খাত্তাব ইবনে ইয়াইয়া এর উদ্ভাবক ছিলেন। কোন কোন ঐতিহাসিক এই দুই ব্যক্তিকে ফাসিক এবং মিথ্যাশ্রয়ী বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের উদ্ভাবিত এ প্রথা বিদআত ও নাজায়েয।

সামান্য চিন্তা করলেও বুঝা যায় যে এটাকে ঈদ বলে অভিহিত করা চরম মূর্খতা। কেননা রাসুলুল্লাহ ﷺ ১২ই রবিউল আউয়াল ইন্তিকাল করেছেন এ ব্যাপারে কোন মতভেদ নেই। সুতরাং ১২ই রবিউল আউয়াল নিশ্চিতভাবে নবীয়ে পাক ﷺ এর মৃত্যুর তারিখ, কিন্তু তাঁর জন্মের মাস ও তারিখ নিয়ে প্রচুর মতপার্থক্য রয়েছে। অধিকাংশ ঐতিহাসিকদের মতে তিনি রবিউল আউয়াল মাসেই জন্মগ্রহণ করেছেন, কেউ কেউ বলেছেন রবিউস সানিতে। অনেকে রজব মাস বলেন আবার কেউ কেউ সফর মাসে তাঁর জন্ম বলে উল্লেখ করেছেন, রমজান মাসের কথাও এক বর্ণনায় পাওয়া যায়। এখন যদি সব মতভেদকে বাদ দিয়ে মেনে ও নেয়া হয় যে তিনি রবিউল আউয়ালেই জন্ম গ্রহণ করেছেন তবুও আরেক বির্তক থেকে যায় জন্ম তারিখ নিয়ে। কেউ কেউ বলেছেন ১২ তারিখে তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন। তবে অনেকের মতে ৮ই রবিউল আউয়াল তার জন্ম তারিখ, প্রমাণ সূত্রে এটাই বেশী নির্ভর যোগ্য বলে মনে হয়। কাজেই ১২ই রবিউল আউয়াল কোন মতেই ঈদে মীলাদুন্নবী হতে পারে না, কেননা এই তারিখে নবী করীম ﷺ এর জন্ম গ্রহণ নিশ্চিত না হলেও মৃত্যু বরণ নিশ্চিত। সেই হিসেবে এ মাস মুসলমানদের জন্য বরং ভীষণ শোকের মাস। সুতরাং ১২ই রবিউল আউয়াল কোনক্রমেই ঈদ তথা খুশির দিন হতে পারে না। মৃত্যু দিবসে খুশি করা কত বড় ধৃষ্টতা ও বেআদবী তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর সেই জন্যই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে এ দিনকে ঈদের দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।

সাধারণ লোকদের ধর্মীয় দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল এটাকে খুবই নেকীর কাজ বলে প্রচারণা চালিয়ে সমাজে বিদআতকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। সুতরাং মুসলমানদের উচিৎ এসব ভিত্তিহীন কাজ পরিহার করে সহীহ হাদীস দ্বারা যতটুকু প্রমাণিত হয় ততটুকু আমল করা, এর নামই দ্বীন। কাজেই শুধু রবিউল আউয়াল মাসেই নয় বরং সারা বৎসর যখন যাদের সুযোগ হয় তারা হুযুর ﷺ এর জীবনী আলোচনার মজলিস করবেন। হক্কানী উলামায়ে কেরাম সেখানে বয়ান করবেন, মুসলমানগণ সেই অনুযায়ী নিজেদের যিন্দেগী ঠিক করে নিবেন। সেটাই হবে বরকতময় সীরাতের মাহফিল। নতুবা সারা বছর নামায রোযা করলাম না, পর্দা পুশিদা করলাম না, আর ১২ই রবিউল আউয়ালে বিরাট বড় এক মিছিল করে দিয়ে নবী ভক্ত সেজে গেলাম এর চেয়ে আহম্মকী আর কি হতে পারে? (তারিখ ইবনে খাল্লিকান, ইমাদুল মুফতীন পৃঃ ১৭৪)

১২ই রবিউল আউয়ালে জশনে জুলুস করা | ইসলামী যিন্দেগী