হজের ব্যাপারে ত্রুটি
প্রশ্ন
হজের ব্যাপারে ত্রুটিগুলো জানালে উপকার হতো।
উত্তর
হজের ব্যাপারে একটা ত্রুটি আমাদের মধ্যে দেখা যায় যে, লোকেরা হজকে ঐ সময় ফরয মনে করে যখন তার মক্কায় যাওয়ার সাথে সাথে মদীনা শরীফ যাওয়ার মত সামর্থও হয়। যদি কারো কাছে এই পরিমাণ টাকা থাকে যা দ্বারা সে মক্কা থেকে হজ তো সেরে আসতে পারে কিন্তু মদীনায় যাওয়া সম্ভব হয় না তাহলে লোকেরা মনে করে যে হজ ফরয হয়নি। তাই মনে রাখা দরকার এটা মারাত্মক ভুল। মদীনা শরীফের সফর একটি স্বতন্ত্র ইবাদাত। কেউ বলেছেন ওয়াজিব কেউ বলেছেন মুস্তাহাব। মোট কথা মদীনা শরীফ সফরের সামর্থের উপর হজ ফরয হওয়া নির্ভরশীল নয়। কারো যদি শুধু মক্কা থেকে হজ সেরে আসার সামর্থ থাকে আর মদীনায় যাওয়ার সামর্থ না থাকে তাহলে তার উপর হজ ফরয হবে। যদি না করে তাহলে ঐ সকল ধমকীর উপযুক্ত হবে যা হজ তরককারীর ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে। তবে হজের কাজ সমাধা করার পরে যদি কিছু সামানা থাকে বা পায়দল যাওয়ার হিম্মত থাকে তাহলে এই সৌভাগ্য থেকেও বঞ্চিত হওয়া চায় না। আর যদি কোন বন্দোবস্ত না হয় তাহলে ফিরে আসবে। সাথে সাথে এরাদা করবে যে, ভবিষ্যতে কখনো তাওফীক হলে মদীনার সফর ও করব। সারা জীবনে যদি সেই ব্যবস্থা আর না হয় তবুও কোন অসুবিধা নাই। নিয়তের কারণে সে সাওয়াব পেতে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
আরো একটি ত্রুট এই হয় যে, অনেকে হজ তো করতে যাচ্ছে কিন্তু ট্রেন-বাস, প্লেন বা উটের পিঠে তার ফরয নামায বরবাদ হয়ে যাচ্ছে, একটা ফরয আদায় করতে যেয়ে অনেকগুলি ফরয তারা নষ্ট করে দিচ্ছে। আর যদি এমন হয় যে, হজ ফরয নয় বরং নফল তাহলে তো আরো গজবের কথা। এক নফলের জন্য এতগুলি ফরয তার ছুটে যাচ্ছে। বস্তুতঃ এমন লোকের জন্য হজে যাওয়াই জায়েয নেই।
আরো একটি ভুল হল, অনেক লোক হজ থেকে এসে সেখানের কষ্ট আর পেরেশানীর কথা এমনভাবে বয়ান করে যে, শ্রোতারা ভয় পেয়ে যায়, তারা আর হজে যেতে সাহস পায় না। তাহলে এই ব্যক্তি তো আল্লাহর পথে বাধাদান কারী হিসাবে গণ্য হল। আর যদি এমন হয় যে, এই কষ্টটা তার ভুলের কারণে বা আহম্মকির কারণে হয়েছে তাহলে নিজের আহম্মকির কথা জনসম্মুখে বলে বেড়ানো কি ঠিক? সুতরাং এ থেকে ও বিরত থাকা উচিৎ।
অসুস্থ অবস্থার কিছু ত্রুটি ও তার সংশোধন
কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার সম্মন্ধে মারাত্মক ত্রুটি যেটা হয় সেটা হল তার নামাযের ব্যাপারে বড্ড গাফলতি করা হয়। রোগির প্রতি দয়া পরবশ হয়ে নামাযের ওয়াক্ত সম্মন্ধে তাকে অবহিত করা হয় না এবং নামায পড়ার জন্যও বলা হয় না। মনে করে এতে তার কষ্ট হবে। অনেক রোগি তো নিজেরাই জাহেল আর অলস হয় আগে থেকে নামাযী হলে ও অসুস্থ অবস্থায় নেতিয়ে পড়ে। অনেক সময় মনে ওসওয়াসা আসে, শরীর নাপাক, কাপড় নাপাক, উযূ করা যাবে না ইত্যাদি। এসব বাহানা করে নামায কাযা করে ফেলে। মনকে প্রবোধ দেয় যে, সুস্থ হয়ে গেলে সব আদায় করে ফেলব। কিন্তু একথা মনে করে না যে, সুস্থ হওয়ার আগে তার ডাক চলে আসতে পারে।
এর সংশোধনের উপায় হল, রোগিকে একথা বুঝাতে হবে যে, শরী‘আতে সর্বাবস্থায় আসানী রাখা হয়েছে। শরীর বা কাপড় পরিষ্কার থাকা কোন ফরয নয়, ময়লা যদি হয় তো হোক ঐ অবস্থায় পড়ে ফেল, আর যদি নাপাক থাকে তাহলে নাপাকি দূর করতে তেমন আর কি কষ্ট? যে কোন কাজেই তো কিছু না কিছু কষ্ট করতে হয়। ওষুধ খাওয়া, ইনজেকশান নেয়া ও তো কষ্টকর। অনেক সময় পাশ ফিরতে ও কষ্ট হয় কিন্তু তবুও ফিরতে হয় শরীরিক আরামের জন্য। অনুরূপ ভাবে নামায হচ্ছে রুহানী শান্তির জিনিষ। শরীরের চেয়ে রুহের হকই তো বেশি। আর পাক হতে যদি বেশি কষ্ট হয় তাহলে পাক হওয়া ছাড়াই নামায পড়ে নাও। উযূ গোসল যদি করতে না পার তাহলে তায়াম্মুম করার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু নামায ত্যাগ করার অনুমতি নেই।
এটাতো গেল ঐ সব রোগীদের কথা যারা জাহেল এবং অলসতার কারণে নামাযের পাবন্দি করতে পারে না। আর কিছু রোগি এমন আছে যারা অসুস্থাবস্থায়ও নামাযের ইহতিমাম করে, কিন্তু অনেক সময় রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নামাযের সময় ইত্যাদি স্বরণ রাখতে পারে না, অথবা ঘুমের ভাব একটু বেশি চলে আসে কিংবা বেশি দুর্বলতার কারণে চোখ বন্ধ হয়ে অসতার ভাব চলে আসে, তবে নামাযের কথা বললে তারা তৎক্ষণাৎ নামাযের জন্য তৈরী হয়ে যায়। কিন্তু তার দেখাশোনা করার জন্য যারা থাকে তারা এখানে শিথিলতা করে। রোগির শারীরিক আরামের কথা ভেবে তাকে ডিস্টার্ব করতে চায় না। কিন্তু এতে যে দ্বীনের ক্ষতি হচ্ছে সেদিকে কোন খেয়াল থাকে না। আবার অনেক সময় রোগি নিজে নামায পড়তে চাইলেও এরা তাকে সাহায্য করে না। এসব লোকের বুঝা উচিৎ যে, যে প্রিয়জনের সামান্য দুঃখ কষ্ট আজ আপনারা বরদাশত করতে পারছেন না নামায তরয করার কারণে তার জাহান্নামে জ্বলাকে আপনারা কি ভাবে বরদাশত করবেন? সুতরাং সাবধান।
অনেক রোগি আবার এমন আছে যাদের উযূতে কোন সমস্যা না হওয়া সত্ত্বেও তারা তায়াম্মুম করে নামায পড়ে। অনেক সময় আবার পরিচর্যাকারীরা তায়াম্মুম করতে পরামর্শ দেয়। অনুরূপ ভাবে অনেক সময় দাড়িয়ে নামায পড়ার শক্তি থাকা সত্ত্বেও বসেই নামায পড়ে নেয়। অনেকে আবার সহ্য করার শক্তি থাকা সত্ত্বেও নামাযের মধ্যে উহু-আহা করতে থাকে। এতে যে নামায শেষ হয়ে গেল তার কোন খবর থাকে না। অনেকে আবার বেশি তাকওয়া দেখাতে যেয়ে উযূ নিষেধ হওয়া সত্ত্বেও উযূ করতে জিদ ধরে। যেন তায়াম্মুম সে চেনেই না। এরকম বাড়াবাড়িও শরী‘আতে কাম্য নয়।