মদ ও শুকরের গোশত ক্রয়-বিক্রয় হয় সেখানে চাকরী করা
প্রশ্ন
অনেক মুসলমান ছাত্র যারা লেখা-পড়ার জন্য অমুসলিম দেশে আসে তাদের অনেকে কিছু আর্থিক সাচ্ছন্দতার জন্য পার্ট টাইম চাকরীও করে থাকে। এদের মধ্যে অনেকে এমন হোটেলে চাকরী করে, যেখানে সমস্যার জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অন্যান্য ৯৫ ভাগ ওষুধের মধ্যেও এ্যালকোহল মেশানো হয়। বর্তমান যুগে এ্যালকোহল বিহিন ওষুধ তালাশ করা বা খুঁজে পাওয়া শুধু মুশকিলই নয় বরং অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্থায় এসব ওষুধ ব্যবহার করা জায়েয হবে কি না?
উত্তর
এ্যালকোহল মিশ্রিত ওষুধের বিষয়টি এখন আর পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই বরং মুসলিম দেশগুলিতেও এর ঢেউ লেগেছে। ইমাম আবু হানীফা রহ. এর মতানুযায়ী তো এই সমস্যার সমাধান অতি সহজ। কেননা ইমাম আবু হানীফা এবং আবু ইউসুফ রহ. এর নিকট আঙ্গুর ও খেজুর ব্যতীত অন্যান্য জিনিষ দিয়ে তৈরী করা শরাব ওষুধ হিসাবে অথবা শক্তি অর্জনের জন্য এতটুকু পরিমাণ ব্যবহার করা জায়েয যাতে নেশা না হয়। (ফাতহুল কাদীর ৮/১৬০)
ওষুধের মধ্যে যে এ্যালকোহল ব্যবহৃত হয় তার বেশির ভাগই আঙ্গুর ও খেজুর ব্যতীত অন্যান্য জিনিষ যথা চামড়া, গন্ধক, মধু, গম, যব ইত্যাদি দ্বারা তৈরী করা হয়। সুতরাং ওষুধের মধ্যে ব্যবহৃত এ্যালকোহল যদি আঙ্গুর আর খেজুরের না হয়ে অন্য জিনিষের হয় তাহলে ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম আবু ইউসুফ রহ. এর নিকট সেই ওষুধ ব্যবহার করা জায়েয হবে। তবে শর্ত হল সেটা যেন নেশা পর্যন্ত না পৌঁছে। চিকিৎসার খাতিরে এই মতের উপর আমল করা দুরস্ত হবে।
আর যদি উক্ত এ্যালকোহল আঙ্গুরবা খেজুর থেকে প্রস্তুতকৃত হয় তাহলে সেই ওষুধ ব্যবহার করা জায়েয হবে না। তবে অভিজ্ঞ ডাক্তার যদি একথা বলে যে, এই রোগের জন্য এছাড়া অন্য কোন ওষুধ নেই তাহলে তখন ব্যবহারের অবকাশ আছে। (আল বাহরুর রায়িক ১-১১৬)