বরযাত্রী যাওয়া- কনের বাড়ী খাওয়া দাওয়া করা
প্রশ্ন
আমাদের দেশে প্রথা হয়ে গেছে বিবাহের সময় বরযাত্রী যাওয়া। কনের বাড়ী ভাল উন্নতমানের খানা পিনার ব্যবস্থা করা। অনেক সময় মেয়ের পিতা অস্বচ্ছল ও দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও সামাজিকতা ও লৌকিকতার খাতিরে অনিচ্ছা সত্ত্বেও এসব ব্যবস্থা করতে বাধ্য হন। আমন্ত্রিত মেহমানরাও কিছু না কিছু গিফট-উপহার নিয়ে আসেন যতটা না আন্তরিকতার সাথে তার চাইতে বেশী চক্ষু লজ্জার ভয়ে। এখন প্রশ্ন হল- (ক) এভাবে ৫০/১০০ জন করে মেয়ের বাড়ী যাওয়া জায়েয আছে কি? (খ) আমন্ত্রিত মেহমানরা যে উপহার উপঢৌকন নিয়ে আসে সে গুলিরই বা হুকুম কি? (গ) ছেলের বাড়ীতে যে বৌভাত বা ওলীমা হয় তার হুকুম কি?
উত্তর
মনে রাখা দরকার যে, শরী‘আতে বরযাত্রীর অনুষ্ঠান নামে কোন অনুষ্ঠান নেই। আমাদের দেশের প্রচলিত নিয়ম যে, বরের সাথে ৫০/১০০ জন বরযাত্রী যাবে। তাদের উন্নত মানের খানা পিনার ভার মেয়ের বাপের কাঁধে চাপবে চাই তার সামর্থ্য থাক বা না থাক। এটা একটা অমানবিক কাজ। বরং মেয়ের বাপের সামর্থ থাকলেও তার বাড়ীতে কোন অনুষ্ঠান হবে না। তবে অল্প সংখ্যক লোক বরের সাথে পরামর্শ দাতা হিসাবে বা সাহায্যকারী হিসাবে যেতে পারে। মেয়ের বাপ ইচ্ছা করলে তাদেরকে তাওফীক অনুযায়ী মেহমানদারী করবে। আর বাড়ীতে ওলীমা করা এটা শুধু জায়েযই নয় বরং সুন্নত। এটাকে বৌভাত না বলে ওলীমা বলতে হবে। ওলীমার অনুষ্ঠানে বা বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত মেহমানদেরকে দাওয়াত করে আনা হয়, তারা স্বেচ্ছায় আসে না। সুতরাং তাদের কে দাওয়াত করে এনে তাদের নিকট থেকে উপহার আদায় করা যৌতুকের মধ্যে শামিল না হলেও তা নেয়া জায়েয নয়। কেননা পরোক্ষভাবে এটা খাওয়ার প্রতিদান হিসাবে উসুল করা হচ্ছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা এটা প্রথা হিসাবে দিয়ে থাকে, আন্তরিকতার সাথে দেয় না তাই এটা গ্রহণ কারীর যিম্মায় ঋণ হিসাবে বাকি থাকবে। মূল মালিককে সেটা ফেরৎ দেয়া জরুরী। (ইসলামী শাদী-২৩৮)
শরী‘আতমত বিবাহের নিয়ম হল, তাতে বেশী ধুমধাম জাঁক জমক করবে না। নামের জন্য সামর্থের বাইরে খরচ করবে না। খুবই সাদামাটা ভাবে বিবাহ সম্পাদন করতে হবে। যে পরিমাণ মহর আদায় করার সামর্থ থাকে সেই পরিমাণ মহর নির্ধারণ করা সুন্নত। তবে তা যেন ১০ দেরহাম তথা আড়াই ভরি রূপার কম না হয়। বিবাহ শাদীতে বর কনের গোসল ও হলুদ দেয়ার প্রথা, এতে বেপর্দা, বেহায়ায়ীর সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া, ক্ষীর পিঠে করা, নব বধুকে বরণ করতে মাত্রাতিরিক্ত ধুমধাম করা, পুরুষ-মহিলা এক হয়ে খাওয়া, জামাইকে পাটায় উঠানো, উভয়কে মিষ্টি মুখ করে তামাশা করা, বরের হাতে-পায়ে মেহেদী লাগানো, রং ছিটানো, ছবি তোলা, ভিডিও করা সবই কবীরা গুনাহ ও অত্যন্ত গর্হিত কাজ। (ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ৭-৩১৮)