দোকানের প্রথম বিক্রির টাকাকে সালাম করা, বাকী বিক্রি না করা
প্রশ্ন
দেশের প্রায় প্রতিটি দোকানে দেখা যায় দিনের শুরুতে প্রথম ক্রেতার টাকা গ্রহণ করার পরে বিক্রেতা তা কপালে ঠেকায়, দোকানে বা ক্যাশ বাক্সে বুলায়। তাছাড়া দোকান বন্ধের সময় বাকীতে বিক্রি করতে চায় না, বহনী না হওয়া পর্যন্ত বাকীতে বিক্রি করে না, এধরনের আরো অনেক প্রথা পালন করতে দেখা যায়। শরী‘আত এ ব্যাপারে কি হুকুম দেয়?
উত্তর
প্রশ্নে উল্লেখিত সব বিষয়গুলিই সামাজিক কুসংস্কার এবং হিন্দুয়ানী প্রথা। শরী‘আতে এর কোন বাস্তবতা নেই। সুতরাং কোন মুসলমানের জন্য এ ধরনের আকীদা পোষণ করা বা এ ধরনের কাজ করা মূর্খতা বৈ আর কিছু নয়। রাসূলে আকরাম ﷺ বাকীতে বিক্রি করার অনেক ফযীলত বয়ান করেছেন এবং বিক্রেতাকে দুনিয়া ও আখিরাতে লাভবান হওয়ার জন্য বাকী বিক্রির প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন যাতে করে গরীব ও অসহায় লোকদের কিছুটা সহায়তা হয়।
হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, কেউ যদি কোন মুসলমানের সামান্য একটা পেরেশানী বা ঠেকা দূর করে দেয় তাহলে আল্লাহ তা‘আলা হাশরের ময়দানে তার ৭০টি বড় বড় পেরেশানী দূর করে দিবেন। অনুরূপ ভাবে কেউ কোন জিনিষ ক্রয়ের পরে কোন কারণ বশতঃ তা ফিরিয়ে দিতে চাইলে দোকানদারের জন্য সেটা খুশি মনে ফেরৎ নেয়ার মধ্যেও বহুত ফযীলত ও সাওয়াব রয়েছে। তাই বিক্রিত মাল ফেরৎ নেয়া হয় না বলে মেমোতে যা লেখা থাকে সেটা বর্জনীয়। রাসূলে আকরাম ﷺ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি বিক্রিত মাল ক্রেতা ফেরৎ দেয়ার কারণে ফেরত নিয়ে নিল আল্লাহ পাক কিয়ামতের দিন তার গুনাহ সমূহ ফেরত নিয়ে নিবেন। তবে যারা লোকদের টাকা পয়সা আত্মসাৎ করার জন্য বাকী বা কর্য নেয় তাদেরকে বাকী দিতে নবী করীম ﷺ উৎসাহিত করেন নি।
দোকানের প্রথম বিক্রির টাকা বা রিকশার প্রথম ভাড়ার টাকাকে সালাম করাও ঠিক নয়। এর দ্বারা কোন ফায়দা শরী‘আতে ঘোষিত হয় নি। তাছাড়া এটা বিজাতীয়দের প্রণাম ও পুজা রীতির সাথে সামঞ্জস্য শীল। সুতরাং এটা বর্জনীয়।