মহিলাদের বোরকা পরে মার্কেটে যাওয়া

মুফতী মীযানুর রহমান কাসেমী সাহেব (রাহমানিয়া)১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫মহিলাদের বিষয়, কুফর শিরক বিদ‘আত কুসংস্কার অপসংস্কৃতি

প্রশ্ন

আমরা জানি মহিলাদের জন্য একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া নিষেধ। এখন কোন মহিলা যদি বোরকা পরে একাকি বা স্বামী কিংবা মাহরাম পুরুষের সাথে মার্কেটে যেয়ে কেনাকাটা করে তাহলে সেটা জায়েয আছে কি? এটা কি প্রয়োজন হিসাবে গণ্য হবে?

উত্তর

মহিলাদের স্বীয় দ্বীনদারী টিকিয়ে রাখার জন্য এবং দুনিয়া ও আখেরাতের সুমহান মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য তাদের কর্তব্য হল সদা সর্বদা বাড়ীতে অবস্থান করা তথা বাইরে না যাওয়া। তবে একান্ত প্রয়োজনে মাহরামের সাথে পর্দা সহকারে বাইরে যাওয়ার অনুমতি আছে। তথাপিও বর্তমান ফিৎনার যামানায় যতদুর সম্ভব বাইরে না যাওয়াটাই পরহেজগারী ও তাকওয়ার পরিচায়ক। প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী শুধুমাত্র জিনিষপত্র পছন্দ করার জন্য বা শখের বশবর্তী হয়ে স্বীয় স্বামীর সাথে মার্কেটে যাওয়ার অনুমতি নেই। কেননা শরী‘আত মহিলাদেরকে যে ঠেকা বা প্রয়োজন বশতঃ বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে এটা সে প্রয়োজনের এওতায় পড়ে না। কারণ সেই প্রয়োজন বা ঠেকার অর্থ হল এমন জরুরত, যে জরুরতে বাইরে বের না হলে বিশেষ অসুবিধা বা ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। শুধু পর্দা করলেই বা বোরকা পরলেই মহিলাদের জন্য বাড়ীর বাইরে যাওয়া জায়েয হয় না। বরং প্রথমতঃ বিশেষ জরুরত প্রমাণিত হতে হবে এর পরে পর্দা সহকারে বাইরে যাওয়া যাবে। দ্বিতীয়তঃ স্ত্রীর নিজের পক্ষ থেকে জিনিস পছন্দ করাটা স্বামীর প্রতি পূর্ণ ভালবাসা ও বিশ্বাস না থাকার পরিচয় বহন করে। কারণ পোশাক পরিচ্ছদ দ্বারা একমাত্র স্বামীকেই খুশি করা স্ত্রীর কাম্য। কাজেই যাকে খুশি করা হবে তিনি নিজের পছন্দমত কিনবেন এটাইতো যুক্তির কথা। তাই স্ত্রীর এ ধরনের আচরণ থেকে দূরে থাকা কর্তব্য। কুরআনে কারীমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মহিলাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, তোমরা গৃহ অভ্যন্তরে অবস্থান কর। মুর্খতা যুগের মত নিজেদের কে প্রদর্শন কর না।

অনুরূপভাবে হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলে কারীম ﷺ এর ইন্তিকালের পরে হযরত আয়েশা রা. ইরশাদ করেন, যদি রাসূলুল্লাহ ﷺ বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হতেন তাহলে তিনি অবশ্যই মহিলাদের মসজিদে গমন নিষিদ্ধ করে দিতেন। অপর এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলে আকরাম ﷺ ইরশাদ করেন, তোমরা মহিলাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করনা, তবে তাদের জন্য স্বীয় ঘরে নামায পড়াটাই উত্তম। এ হাদীসদ্বয়ের সমন্বয়ে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর যামানায় যখন ফিৎনার আশংকায় মহিলাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে তখন আমাদের এই যুগের পরিস্থিতির সাথে সাহাবায়ে কেরামের যুগের অবস্থার যেখানে আকাশ পাতাল ব্যবধান সেখানে মহিলাদের বাইরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা। সামান্য ফিৎনার কারণে সেযুগে মহিলাদের মসজিদে যেয়ে নামায পড়তে নিধেষ করা হয়েছে তাহলে আজকে এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে মার্কেটে যাওয়া ধৃষ্টতা বৈ অন্য কিছু নয়। চাই সে একা যাক বা স্বামীর সাথে যাক। কেননা একথা আজ সর্বজন বিদিত যে, স্বামী কিংবা মাহরামের সাথে যাওয়া সত্ত্বেও আজ অনেক মহিলাকে লাঞ্ছিত আর বেইযযত হতে হয়। আরো একটি বিষয় এখানে লক্ষ্যণীয় যে, কোন মহিলা বোরকা পরে বাইরে গেলে তার সৌন্দর্য কোন পুরুষে যদি নাও দেখল কিন্তু সেতো বেগানা পুরুষকে দেখল বিনা জরুরতে। অথচ পুরুষের জন্য যেমন নিজের দৃষ্টির হেফাযত জরুরী তদ্রুপ ভাবে মহিলাদের জন্যও স্বীয় দৃচির হেফাযত করা একই পর্যায়ের জরুরী। এ ব্যাপারে একটি হাদীস খুবই প্রনিধান যোগ্য। একবার উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে সালামা রা. এবং হযরত মায়মুনা রা. রাসূলে আকরাম ﷺ এর নিকট বসা ছিলেন। তখন অন্ধ সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রা. হুযুর ﷺ এর দরবারে আসার অনুমতি প্রার্থনা করলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ স্ত্রীদেরকে সেখান থেকে সরে যেতে বললেন। স্ত্রীগণ আরয করলেন, উনি তো অন্ধ, আমাদের কে তো দেখতে পাবেন না। প্রতিউত্তরে নবীয়ে কারীম ﷺ ইরশাদ করলেন, তোমরা ও কি অন্ধ? (অর্থাৎ তোমরা তো তাকে দেখতে পাবে। এটা তো তোমাদের জন্য বৈধ নয়।) সুতরাং সকল মহিলার এদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিৎ। কখনো একান্ত বাইরে যেতে হলে মুখ মণ্ডল সহ হাতে-পায়ে মোজা পরে যেতে হবে। (ফাতাওয়া রহীমিয়া-১-৩০, ফাতাওয়া রশিদিয়া-২০৬)

মহিলাদের বোরকা পরে মার্কেটে যাওয়া | ইসলামী যিন্দেগী