চল্লিশা, ত্রিশা, কুল পড়া ইত্যাদির হুকুম
প্রশ্ন
মানুষ মারা যাওয়ার তিন দিনের দিন কুল পড়া হয়। সেখানে আগতদের জন্য খানা পিনার ব্যবস্থা করা হয়। অনুরূপ ভাবে চল্লিশ দিন পরে চেহলাম পালিত হয়। কারো মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আরো বেশ কিছু অনুষ্ঠান আমাদের সমাজে পালিত হয়ে আসছে। নিষেধ করতে গেলে সমাজের মুরব্বীরা বলেন এগুলি বাপ দাদার আমল থেকে চলে আসছে। এটা ছাড়ি কি ভাবে? শরী‘আতে এসব কর্মকাণ্ডের হুকুম কি? অনেক জায়গায় আবার মারা যাওয়ার স্থানে কোন হাফেয সাহেব কে দিয়ে চল্লিশ দিন কুরআন শরীফ পড়ানো হয় এবং চল্লিশ দিন পরে তাকে বিনিময় দেয়া হয়, এটারই বা হুকুম কি?
উত্তর
মানুষ মারা যাওয়ার পর তার জন্য যে সাওয়াব রেসানী করা হয় তাতে মৃতের মাগফিরাতের আশা করা যায়। তবে এই সাওয়াব রেসানী কুরআন হাদীস তথা শরী‘আত সম্মত ভাবে হতে হবে। মনগড়া ভাবে করলে। চলবে না। তাই তিন বা চল্লিশ দিনের কোন আনুষ্ঠানিকতা না করে যখনই সময় বা সুযোগ হয় সাওয়াব রেসানী করতে থাকবে। হালাল মাল দ্বারা গরীব মিসকীন বা আত্মীয় স্বজনকে খানা খাওয়াবে। এসব না করে কেউ যদি নিজের পক্ষ থেকে তিন দিনের দিন কুল পড়ে বা চল্লিশ দিনের দিন চেহলাম করে তাহলে এটা শরী‘আত সম্মত না হওয়ার কারণে কোন সাওয়াব তো হবেই না বরং উল্টা আরো গুনাহ হবে এবং বিদ‘আত হিসাবে গণ্য হবে। মারা যাওয়ার স্থানে চল্লিশ দিন কুরআন পড়ার কোন প্রমাণ শরী‘আতে পাওয়া যায় না। আর সাওয়াব রেসানীর জন্য কুরআন পড়ে টাকা পয়সা নেয়া এবং দেয়া উভয়টিই গুনাহ। কিয়ামতের দিন তাদের চেহারায় গোশত থাকবে না। কাজেই এ ধরনের লেনদেন থেকে হুশিয়ার সাবধান। (ইমদাদুল আহকাম-১-১১২)