কিছু দিনের জন্য বিবাহ করা
প্রশ্ন
যে সব মুসলমান ছাত্র-ছাত্রীরা পশ্চিমা দেশগুলিতে লেখা-পড়ার জন্য আসে, তারা এখানে এসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিবাহের সময় এই নিয়ত থাকে যে, যতদিন এখানে লেখা-পড়া করব ততদিন বিবাহ বাকি থাকবে। লেখা-পড়া শেষ করে চলে যাওয়ার সময় বিবাহও খতম হয়ে যাবে। তবে এই বিবাহ ও অন্যান্য বিবাহের মতই আনুষ্ঠানিকতার সাথে সম্পন্ন হয়ে থাকে। শরী‘আতে এর কি হুকুম?
উত্তর
বিবাহের সকল শর্ত যদি পাওয়া যায় এবং সেখানে এমন কোন শব্দ না থাকে যার দ্বারা “সাময়িক বিবাহ” বুঝে আসে তাহলে উক্ত বিবাহ সহীহ হবে এবং এর দ্বারা উপকৃত হওয়া যাবে। ছাত্র-ছাত্রীদের ঐ নিয়তের কারণে বিবাহের কোন ক্ষতি হবে না। তবে বিবাহ যেহেতু শরী‘আতের একটি স্থায়ী বন্ধন সেহেতু স্বামী-স্ত্রীর নিকট এটাও শরী‘আতের দাবী যে, এই বন্ধন যেন অটুট থাকে, ভীষণ ঠেকা ছাড়া এই সম্পর্ক যেন ছিন্ন না হয়। সুতরাং বিবাহের সময় সম্পর্ক ছিন্ন করার নিয়ত রাখা সেই উদ্দেশ্যের পরিপন্থী বিধায় এটা অপছন্দনীয় বটে।
উল্লেখ্য যে, পশ্চিমা বিশ্বে এখন এ ধরনের বিবাহ প্রায়ই ঘটছে এবং মুসলমান অভিবাসী, চাকুরীজীবীসহ বিভিন্ন তবকার মুসলমান এতে জড়িয়ে পড়ছে, তাই বিষয়টিকে আরেকটু খোলাসা করে উপস্থাপন করছি।
ফুকাহায়ে কেরামের বর্ণনা অনুযায়ী বিবাহ তিন প্রকার। (১) মুতআ’ এর হাকীকত হচ্ছে, দুইজন নারী পুরুষ একটা নির্দিষ্ট সময় একসাথে থাকার এবং একে অন্যকে ভোগ করার চুক্তি করে। এতে বিবাহ শব্দও উচ্চারিত হয়না আর দুইজন স্বাক্ষীও তখন উপস্থিত থাকে না। যেটাকে বর্তমানের পরিভাষায় লিভটুগেদার বলা যায়। এটা একেবারেই হারাম এবং যিনা- ব্যভিচারের নামান্তর।
(২) সাময়িক বা চুক্তিভিত্তিক বিবাহ। এখানে নারী-পুরুষ নিয়মতান্ত্রিকভাবে দুইজন স্বাক্ষীর সামনে ইজাব-কবুল করে থাকে। কিন্তু সাথে সাথে তারা এটাও স্পষ্ট করে দেয় যে, এই বিবাহ একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে এরপরে অটোমেটিক শেষ হয়ে যাবে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে এই প্রকারের বিবাহও হারাম। এভাবে বিবাহ সহীহ ও হবে না, আর স্ত্রীর সাথে মেলামেশাও করা যাবে না।
(৩) তৃতীয় সূরতহল নারী-পুরুষ নিয়মমত দুইজন স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব-কবুল করবে এবং সেখানে এমন কোন কথা থাকবে না যদ্দারা এটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হওয়া বুঝে আসে। এরপরেও যদি উভয়ের কারো অন্তরে এই নিয়ত থাকে যে, নির্দিষ্ট সময়ের পরে তালাকের মাধ্যমে এই বিবাহ খতম করে দেয়া হবে তাহলে ফুকাহায়ে কেরামের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই বিবাহ সহীহহবে এবং তারা স্বামী-স্ত্রী হিসাবে গণ্য হবে। এর পরে সেই নির্দিষ্ট সময় এসে গেলে তালাক দেয়া কোন জরুরী নয় বরং তাদেরকে চেষ্টা করতে হবে সম্পর্ক বাকি রাখার জন্য। বিবাহের সময় এ ধরনের নিয়ত রেখে বিবাহ করা মাকরূহহবে। (আলমগীরী ১-১৮৩, ফাতহুল কাদীর- ৩-১৫২)