সরকারী অফিস আদালতে ছবি ব্যবহার করার হুকুম
প্রশ্ন
সরকারী অফিস আদালতে বিভিন্ন ছবি ব্যবহার করা হয়। শরী‘আতের আলোকে এর হুকুম কী?
উত্তর
স্বরণ রাখা উচিৎ যে, সরকারী কাগজপত্রে, অফিস আদালতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছবি ব্যবহার করার যে কানুন চালু রয়েছে তা অবৈধ। যে সরকার সর্ব প্রথম এই কানুন জারী করেছিল তারা কিয়ামত পর্যন্ত এইসব গুনাহের ভাগীদার হবে। সুতরাং সরকারী পদস্থ কর্মকর্তাদের উচিৎ এই অনৈসলামিক ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া। সরকারী ব্যক্তিবর্গ যদি অন্যান্য অনৈসলামিক কাজের মত এটাকেও বন্ধ করার জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তাহলে নিম্ন পদস্থ কর্মচারী কর্মকর্তাদের উচিৎ এর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা। এবং যেখানে যতটুকু সম্ভব এর প্রচার প্রসারে বাধা দেয়া। এতে সফলকাম হলে দ্বিগুণ সাওয়াব আর ব্যর্থ হলেও রয়েছে সাওয়াব। সাধারণ লোকদের জন্য এ ব্যাপারে হুকুম হল যে, যেসব কাজ ফরজ বা ওয়াজিব এবং ছবি ছাড়া সেগুলি করা সম্ভব নয় বাধ্য হয়ে সেক্ষেত্রে ছবি তোলাকে হারাম মনে করে ছবি তুলতে পারবে। যেমন পাসপোর্ট ছাড়া ফরজ হজ্ব আদায় করা যায় না। রেশন কার্ড বা ভোটার আই ডি কার্ড ছাড়া নাগরিকত্ব বহাল থাকে না ইত্যাদি ক্ষেত্রে অপারগ লোকদের জন্য ছবি তোলার অনুমতি রয়েছে।
এখানে স্বরণীয় যে, ছবি দ্বারা ঐসব ছবি হারাম হওয়া বুঝানো হয়েছে যা বড় এবং দৃষ্টি গোচর হয়। তার সামনে দাঁড়ালে স্পষ্ট ছবি রূপে বোঝা যায়। কিন্তু ছবি যদি এত ছোট হয় যে ভাল করে দৃষ্টি না বুলালে ধরা পড়ে না। তাহলে এ ধরনের ছবি যুক্ত জিনিস কেনা এবং ঘরে রাখা জায়েয আছে। প্রাণীর ছবি যদি সম্পূর্ণ না হয় এবং অর্ধেক বা তার কিছু কম-বেশী হয় তাহলে সেরূপ ছবির ব্যাপারে হুকুম হল: অসম্পূর্ণ ঐ ছবি যদি নিম্নাংশ হয় তাহলে নিষেধ নেই, কিন্তু যদি উর্দ্ধাংশ হয় তাহলে তাও হারাম। প্রাণীর ছবি যদি তার কোন সম্পূর্ণ অংগের হয় যেমন হাত পা মাথা পেট বুক ইত্যাদি তাহলে তা নিষিদ্ধ নয়, কেননা শরী‘আতের দৃষ্টিতে এগুলি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নয়। ছবি সম্বলিত বিছানা, কার্পেট, বেড কভার, বেড সীট, পাপোস ইত্যাদি তৈরি করা নাজায়েয ও হারাম। এ ধরনের কার্পেট, চাদর, বিছানা ইত্যাদির ব্যবহার দুনিয়াদারী এবং শোভা বর্ধনের জন্য হয়ে থাকে যা তাকওয়ার পরিপন্থী এবং খেল তামাশার বস্তু ও বটে, এই জন্য তা ব্যবহার ২ জায়েয নেই এবং সেই ঘরে রহমতের ফেরেশতাও প্রবেশ করে না।
ছবি যুক্ত কাপড় যদি এমনভাবে কেটে পোশাক তৈরী করা হয় যাতে ছবিও কেটে যায় এবং পূর্ণ ছবি বুঝা যায় না তাহলে এরকম কাপড় ব্যবহার করা জায়েয। বাড়ীতে যে সব ছবি বা ছবি যুক্ত আসবাব পত্র রয়েছে প্রথমত সেগুলিকে তো রাখাই উচিৎ না, যদি কেউ রেখে থাকে তাহলে জ্বালানোর মত হলে আগুনে জ্বালিয়ে ফেলবে, আর যদি সেটা মূল্যবান জিনিস হয় তাহলে ছবি মুছে দিতে চেষ্টা করবে অথবা সেগুলিকে সিন্দুক বা আলমারিতে বন্ধ করে রাখবে। অনেক লোক গাড়ীতে, ড্রয়িং রুমে অথবা অফিসে সম্মানিত কোন মানুষের ছবি ঝুলিয়ে রাখে এটা মারাত্মক গুনাহ, এর দ্বারা অনেক সময় ঝগড়া ফাসাদের সম্ভাবনা ও দেখা দেয়। কেননা কেউ তাকে সম্মান করে কেউ করে না। এ নিয়ে বির্তকের সূত্রপাত থেকে রক্তারক্তি পর্যন্ত ঘটে যায়। ছবিযুক্ত পত্র পত্রিকা বই পুস্তক যদি কোন দ্বীনী ফায়েদার কারণে দেখতে হয় তাহলে তা দেখা জায়েয আছে তবে ছবি দেখা থেকে বিরত থাকতে হবে। হঠাৎ করে দৃষ্টি পড়ে গেলে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে মহিলা এবং সিনেমার ছবি থেকে। তবে উত্তম হল এ ধরনের পত্র-পত্রিকা, বই-পুস্তক পুড়িয়ে ফেলা। (জাওয়াহিরুল ফাতওয়া ২১৭/৩)