كتاب المناسك

২৩. হজ্ব - উমরার অধ্যায়

Chapter 23 · 238 hadith

হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হওয়া

بَاب الْخُرُوجِ إِلَى الْحَجِّ

2882
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَأَبُو مُصْعَبٍ الزُّهْرِيُّ وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ قَالُوا حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ السَّفَرُ قِطْعَةٌ مِنَ الْعَذَابِ يَمْنَعُ أَحَدَكُمْ نَوْمَهُ وَطَعَامَهُ وَشَرَابَهُ فَإِذَا قَضَى أَحَدُكُمْ نَهْمَتَهُ مِنْ سَفَرِهِ فَلْيُعَجِّلِ الرُّجُوعَ إِلَى أَهْلِهِ ‏"‏ ‏.‏

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৮৮২। হিশাম ইবন আম্মার, আবু মুস'আব যুহরী ও সুওয়াইদ ইবন সাঈদ (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ), থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ সফর শাস্তিরই একটি টুকরা, তা তোমাদের যে কোন ব্যক্তিকে তার ঘুষ ও পানাহারে বাধা দেয়। তোমাদের যে কেউ সফরে নিজ প্রয়োজন পূরণ হওয়ার সাথে সাথে যেন অবিলম্বে বাড়ি ফিরে আসে।

ইয়াকূব ইব্‌ন হুমায়দ ইব্‌ন কাসিব (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে মহা নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন।
2883

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَبُو إِسْرَائِيلَ، عَنْ فُضَيْلِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ الْفَضْلِ، - أَوْ أَحَدِهِمَا عَنِ الآخَرِ، - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَنْ أَرَادَ الْحَجَّ فَلْيَتَعَجَّلْ فَإِنَّهُ قَدْ يَمْرَضُ الْمَرِيضُ وَتَضِلُّ الضَّالَّةُ وَتَعْرِضُ الْحَاجَةُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৮৮৩। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ ও আমর ইবন আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে ফাদল এর সূত্রে (অথবা পরস্পরের সূত্রে) বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি হজ্জের সংকল্প করে সে যেন অতি দ্রুত তা আদায় করে। কারণ মানুষ কখনও অসুস্থ হয়ে যায়, কখনও প্রয়োজনীয় জিনিস বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং কখনও বিশেষ প্রয়োজন সামনে এসে যায়।

হজ্জ ফরয হওয়ার বর্ণনা

بَاب فَرْضِ الْحَجِّ

2884

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ وَرْدَانَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ ‏(‏وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً‏)‏‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ الْحَجُّ فِي كُلِّ عَامٍ فَسَكَتَ ثُمَّ قَالُوا أَفِي كُلِّ عَامٍ فَقَالَ ‏"‏ لاَ وَلَوْ قُلْتُ نَعَمْ لَوَجَبَتْ ‏"‏ ‏.‏ فَنَزَلَتْ ‏(‏يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ ‏)‏‏.‏

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৮৮৪। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়র ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হলো- “মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ্জ করা তার অবশ্য কর্তব্য" (৩ঃ৯৭) তখন সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করেন হে আল্লাহর রাসূল! প্রতি বছরই কি হজ্জ ফরয? তিনি নীরব থাকলেন, পুনরায় তাঁরা বলেন, প্রতি বছরই কি ? তখন তিনি বলেন, না। কিন্তু আমি যদি বলতাম-হ্যাঁ, তবে ওয়াজির হতো। অতঃপর নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়ঃ “হে ঈমানদারগণ? এমন বিষয়ে প্রশ্ন করো না- যা প্রকাশিত হলে তোমরা দুঃখিত হবে...." (৫:১০১)

2885

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ الْحَجُّ فِي كُلِّ عَامٍ قَالَ ‏ "‏ لَوْ قُلْتُ نَعَمْ لَوَجَبَتْ وَلَوْ وَجَبَتْ لَمْ تَقُومُوا بِهَا وَلَوْ لَمْ تَقُومُوا بِهَا عُذِّبْتُمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৮৮৫। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন নুমায়র (রাহঃ)...... আনাস ইব্‌ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করেন, যে আল্লাহর রাসূল! প্রতি বছরই কি হজ্জ ফরয? তিনি বলেন, আমি যদি বলি হ্যাঁ, তবে তা অবশ্যই ওয়াজিব হতো। আর যদি তা ওয়াজিব হতো তবে তোমরা তা আদায় করতে পারতে না। আর তোমরা যদি তা আদায় না করতে তবে তোমাদের শাস্তি দেয়া হতো।

2886

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سِنَانٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ الأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ الْحَجُّ فِي كُلِّ سَنَةٍ أَوْ مَرَّةً وَاحِدَةً قَالَ ‏ "‏ بَلْ مَرَّةً وَاحِدَةً فَمَنِ اسْتَطَاعَ فَتَطَوُّعٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৮৮৬। ইয়াকূব ইন ইবরাহীম দাওরাকী (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আকরা ইবন হাবিস (রাযিঃ) মহানবী (ﷺ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! হজ্জ কি প্রতি বছর, না মাত্র একবার ? তিনি বলেন বরং একবার মাত্র। অতঃপর এর অধিক করার কারো সামর্থ্য থাকলে তা নফল।

হজ্জ ও উমরার ফযীলত

بَاب فَضْلِ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ

2887
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ تَابِعُوا بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّ الْمُتَابَعَةَ بَيْنَهُمَا تَنْفِي الْفَقْرَ وَالذُّنُوبَ كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ ‏"‏ ‏.‏

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ نَحْوَهُ ‏.‏

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২৮৮৭। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... উমার (রাযিঃ) সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ধারাবাহিকভাবে হজ্জ ও উমরা আদায় কর। কেননা, এ দু'টি ধারাবাহিকভাবে আদায় দারিদ্র ও গুনাহ দূরীভূত করে দেয় যেমন হাপর লোহার মরিচা দূর করে দেয়।

আবু ইব্‌ন আবু শায়রা. (রাহঃ)..... উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন।
2888

حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ سُمَىٍّ، - مَوْلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ الْعُمْرَةُ إِلَى الْعُمْرَةِ كَفَّارَةُ مَا بَيْنَهُمَا وَالْحَجُّ الْمَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلاَّ الْجَنَّةُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৮৮৮। আবু মুসআব (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, মহানবী (ﷺ) বলেনঃ এক উমরা অপর উমরা পর্যন্ত মাঝখানের সময়ের জন্য কাফ্ফারা স্বরূপ এবং মকবূল হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয় ।

2889

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرٍ، وَسُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ حَجَّ هَذَا الْبَيْتَ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَمَا وَلَدَتْهُ أُمُّهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৮৮৯। আবু বকর ইবন আবু শায়রা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এই ঘরের হজ্জ করেছে এবং তাতে অশালীন কথাবার্তা বা কাজকর্ম করেনি, সে প্রত্যাবর্তন করবে যেমন তার মা তাকে প্রসব করেছে।

বাহনে চড়ে হজ্জ আদায় করা

بَاب الْحَجِّ عَلَى الرَّحْلِ

2890

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ صَبِيحٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبَانَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ حَجَّ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَلَى رَحْلٍ رَثٍّ وَقَطِيفَةٍ تُسَاوِي أَرْبَعَةَ دَرَاهِمَ أَوْ لاَ تُسَاوِي ثُمَّ قَالَ ‏ "‏ اللَّهُمَّ حِجَّةٌ لاَ رِيَاءَ فِيهَا وَلاَ سُمْعَةَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৮৯০। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহানবী (ﷺ) একটি পুরাতন জিন ও পালানে উপবিষ্ট অবস্থায় হজ্জ করেন। তাঁর পরিধানে ছিল একটি চাদর যার মূল্য চার দিরহাম বা তারও কম। অতঃপর তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! এ এমন হজ্জ যাতে কোন রিয়া এবং জানানোর ইচ্ছা নেই।

2891

حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ فَمَرَرْنَا بِوَادٍ فَقَالَ ‏"‏ أَىُّ وَادٍ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا وَادِي الأَزْرَقِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى مُوسَى ـ صلى الله عليه وسلم ـ - فَذَكَرَ مِنْ طُولِ شَعَرِهِ شَيْئًا لاَ يَحْفَظُهُ دَاوُدُ - وَاضِعًا إِصْبَعَيْهِ فِي أُذُنَيْهِ لَهُ جُؤَارٌ إِلَى اللَّهِ بِالتَّلْبِيَةِ مَارًّا بِهَذَا الْوَادِي ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ثُمَّ سِرْنَا حَتَّى أَتَيْنَا عَلَى ثَنِيَّةٍ فَقَالَ ‏"‏ أَىُّ ثَنِيَّةٍ هَذِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا ثَنِيَّةُ هَرْشَى أَوْ لَفْتٍ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى يُونُسَ عَلَى نَاقَةٍ حَمْرَاءَ عَلَيْهِ جُبَّةُ صُوفٍ وَخِطَامُ نَاقَتِهِ خُلْبَةٌ مَارًّا بِهَذَا الْوَادِي مُلَبِّيًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৮৯১। আবু বিশর বকর ইবন খালাফ (রাহঃ)......ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে মক্কা ও মদীনায় মাঝপথে ছিলাম। আমরা একটি উপত্যকা অতিক্রম করছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ এটা কোন উপত্যকা ? সাহাবীগণ বলেন, একটি আযরাক উপত্যকা। তিনি বললেনঃ আমি যেন মুসা (আ)-কে দেখতে পাচ্ছি। অতঃপর তিনি তার দীর্ঘ কেশের কিছুটা বর্ণনা দেন যা রাবী দাউদ পূর্ণ মনে রাখতে পারেননি। আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করতে করতে তিনি উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় এই উপত্যকা অতিক্রম করেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমরা পথ অতিক্রম করে একটি টিলার উপর আসলাম। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ এটা কোন টিলা? সাহাবীগণ বললেনঃ এটা হারশা অথবা লিফাত (লাফত) নামক টিলা। তিনি বললেনঃ আমি যেন ইউনুস (আ)-কে একটি লাল বর্ণের উটনীর উপর পশমী জুব্বা পরিহিত অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি, উনিটির নাসারন্দ্রের রশি ছিল খেজুর পাতার তৈরী এবং তিনি তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় এই উপত্যকা অতিক্রম করেন।

হাজ্বীগণের দুআর ফযীলাত

بَاب فَضْلِ دُعَاءِ الْحَاجِّ

2892

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ، حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَالِحٍ، - مَوْلَى بَنِي عَامِرٍ - حَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّهُ قَالَ ‏ "‏ الْحُجَّاجُ وَالْعُمَّارُ وَفْدُ اللَّهِ إِنْ دَعَوْهُ أَجَابَهُمْ وَإِنِ اسْتَغْفَرُوهُ غَفَرَ لَهُمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৮৯২। ইবরাহীম ইবনুল মুনযির হিযামী (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হজ্জ যাত্রীগণ ও উমরার যাত্রীগণ আল্লাহর প্রতিনিধিদল। তারা তাঁর নিকট দোয়া করলে তিনি তাদের দোয়া কবুল করেন এবং তাঁর নিকট মাফ চাইলে, তিনি তাদের মাফ করে দেন।

2893

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ الْغَازِي فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْحَاجُّ وَالْمُعْتَمِرُ وَفْدُ اللَّهِ دَعَاهُمْ فَأَجَابُوهُ وَسَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৮৯৩। মুহাম্মাদ ইব্‌ন তারীফ (রাহঃ)...... ইব্‌ন উমার (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর পথের বিজয়ী হজ্জযাত্রী ও উমরা আদায়কারী আল্লাহর প্রতিনিধিদল, তাঁরা আল্লাহর নিকট দোয়া করলে তিনি তা কবূল করেন এবং কিছু চাইলে তা তাঁদের দান করেন।

2894

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، أَنَّهُ اسْتَأْذَنَ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي الْعُمْرَةِ فَأَذِنَ لَهُ وَقَالَ ‏ "‏ يَا أُخَىَّ أَشْرِكْنَا فِي شَىْءٍ مِنْ دُعَائِكَ وَلاَ تَنْسَنَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৮৯৪। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... উমার (রাযিঃ)-র থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উমরা আদায় করার অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দেন এবং বলেনঃ “হে আমার ভাই ! তোমার দোয়ার মধ্যে আমাদেরও শরীক করবে, আমাদের কথা ভুলে যেও না।"

2895

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَفْوَانَ، قَالَ وَكَانَتْ تَحْتَهُ ابْنَةُ أَبِي الدَّرْدَاءِ فَأَتَاهَا فَوَجَدَ أُمَّ الدَّرْدَاءِ وَلَمْ يَجِدْ أَبَا الدَّرْدَاءِ فَقَالَتْ لَهُ تُرِيدُ الْحَجَّ الْعَامَ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَتْ فَادْعُ اللَّهَ لَنَا بِخَيْرٍ فَإِنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَقُولُ ‏ "‏ دَعْوَةُ الْمَرْءِ مُسْتَجَابَةٌ لأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ عِنْدَ رَأْسِهِ مَلَكٌ يُؤَمِّنُ عَلَى دُعَائِهِ كُلَّمَا دَعَا لَهُ بِخَيْرٍ قَالَ آمِينَ وَلَكَ بِمِثْلِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ثُمَّ خَرَجْتُ إِلَى السُّوقِ فَلَقِيتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ فَحَدَّثَنِي عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِمِثْلِ ذَلِكَ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

২৮৯৫। আবু বকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... সাফওয়ান ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন সাফওয়ান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু দারদা (রাযিঃ)-এর কন্যা তাঁর বিবাহাধীনে ছিল। তিনি তার নিকট এলেন এবং সেখানে উম্মু দারদা (রাযিঃ) কেও উপস্থিত পেলেন, কিন্তু আবু দারদা (রাযিঃ)-কে পাননি। উম্মু দারদা (রাযিঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি এ বছর হজ্জ করতে চাও ? সাফওয়ান বলেনঃ হ্যাঁ। তিনি বলেন, তাহলে তুমি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট কল্যাণের দোয়া করো। কেননা, মহানবী (ﷺ) বলতেনঃ কোন ব্যক্তি তার অপর ভাইয়ের জন্য তার অনুপস্থিতিতে দোয়া করলে তা কবূল হয়। তার মাথার নিকট একজন ফিরেশতা তার দোয়ার সময় আমীন বলতে থাকে। যখনই সে তার জন্য কল্যাণের দোয়া করে, তখন ফিরেশতা বলে, আমীন, তোমার জন্যও অনুরূপ কল্যাণ। রাবী বলেন, অতঃপর আমি বাজারের দিকে গেলাম এবং আবু দারদা (রাযিঃ)-র সাক্ষাত পেলাম। তিনিও মহানবী (ﷺ) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেন।

কিসে হজ্জ ফরয হয়

بَاب مَا يُوجِبُ الْحَجَّ

2896

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَزِيدَ الْمَكِّيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ الْمَخْزُومِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَامَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا يُوجِبُ الْحَجَّ قَالَ ‏"‏ الزَّادُ وَالرَّاحِلَةُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا الْحَاجُّ قَالَ ‏"‏ الشَّعِثُ التَّفِلُ ‏"‏ ‏.‏ وَقَامَ آخَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْحَجُّ قَالَ ‏"‏ الْعَجُّ وَالثَّجُّ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَكِيعٌ يَعْنِي بِالْعَجِّ الْعَجِيجَ بِالتَّلْبِيَةِ وَالثَّجُّ نَحْرُ الْبُدْنِ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৮৯৬। হিসাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মহানবী (ﷺ) এর সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিসে হজ্জ ফরয হয়? তিনি বললেন, পাথেয় ও বাহন থাকলে সে (পুনরায়) বললো, হে আল্লাহর রাসূল! হাজ্জী কে? তিনি বললেনঃ যার (ইহরামের কারণে) এলোমেলো কেশ এবং দুর্গন্ধ শরীর। অপর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহ্র রাসূল ! হজ্জ কি? তিনি বললেনঃ উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ ও রক্ত প্রবাহিত (কুরবানী) করা। ওয়াকী (রাহঃ) মূল শব্দ আল-আজ্জু' অর্থ তালবিয়া পাঠ এবং 'আস-সাজ্জু' অর্থ পশু কুরবানী করা বলেছেন।

2897

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْقُرَشِيُّ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ وَأَخْبَرَنِيهِ أَيْضًا، عَنِ ابْنِ عَطَاءٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏"‏ الزَّادُ وَالرَّاحِلَةُ ‏"‏ ‏.‏ يَعْنِي قَوْلَهُ ‏(‏ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً ‏)‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৮৯৭। সুওয়াইদ ইব্‌ন সাঈদ (রাহঃ)....... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পাথেয় ও বাহন। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ "যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে” (সূরা আলে ইমরানঃ ১৭) (-এর তাৎপর্য এটাই)।

অভিভাবক ব্যতীত মহিলাদের হজ্জ করা

بَاب الْمَرْأَةِ تَحُجُّ بِغَيْرِ وَلِيٍّ

2898

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ تُسَافِرُ الْمَرْأَةُ سَفَرَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ فَصَاعِدًا إِلاَّ مَعَ أَبِيهَا أَوْ أَخِيهَا أَوِ ابْنِهَا أَوْ زَوْجِهَا أَوْ ذِي مَحْرَمٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৮৯৮। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মহিলা যেন তিন দিন বা তার অধিক দূরত্বের পথ সাথে তার পিতা, ভাই, ছেলে, স্বামী অথবা কোন মুহরিম পুরুষ ব্যতীত সফর না করে।

2899

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُسَافِرَ مَسِيرَةَ يَوْمٍ وَاحِدٍ لَيْسَ لَهَا ذُو حُرْمَةٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৮৯৯। আবু বাকর ইবন আবু শায়রা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতের দিনে উপর ঈমান রাখে–সাথে কোন মুহরিম পুরুষ ব্যতীত তার পক্ষে এক দিনের পরিমাণ দূরত্বের পথ সফর করা বৈধ নয়।

2900

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا مَعْبَدٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ إِنِّي اكْتُتِبْتُ فِي غَزْوَةِ كَذَا وَكَذَا وَامْرَأَتِي حَاجَّةٌ ‏.‏ قَالَ ‏ "‏ فَارْجِعْ مَعَهَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯০০। হিশাম ইবন আম্মার (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বেদুঈন নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, অমুক অমুক যুদ্ধে যোগদানের জন্য আমার নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং আমার স্ত্রী হজ্জে যাওয়ার সংকল্প করেছে। নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি ফিরে গিয়ে তার সাথে হজ্জে যাও।[১]

[১] উল্লেখিত হাদীসসমূহ থেকে জানা যায় যে, মুহরিম সফরসঙ্গী ছাড়া কোন মহিলার পক্ষে একাকি সফর করা সাধারণত জায়েয নয়। জমহুরের মতে স্বামী বা কোন মুহরিম পুরুষ (যাদের সাথে চিরকালের জন্য বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন নিষিদ্ধ) সাথে না থাকলে কোন মহিলা জন্য হজ্জের সফরে বের হওয়া জায়েয নয়। ইমাম আযম আবু হানীফা (রহ)-এর মতে কোন মহিলার উপর হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য তার সাথে তার মুহরিম থাকা শর্ত নয়। সে একাই হজ্জের সফরে বের হতে পারে। একদল মুহাদ্দিস তাঁর এই মত সমর্থন করেছেন। হাসান বসরী এবং ইবরাহীম নাখঈরও এই মত।
ইমাম মালিক, শাফিঈ (প্রসিদ্ধ মত), আওযাঈ, আতা, সাঈদ ইবন জুবায়র ও ইবন সীরীনের মতে হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য কোন মহিলার সাথে তার মুহরিম থাকা শর্ত নয়, বরং নিজের জীবনের নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক। ইমাম শাফিঈর মতে তিনটি জিনিসের মাধ্যমে নিরাপত্তা লাভ হয়ঃ ১. স্বামী ২. অন্য কোন মুহরিম পরুষ ৩. একদল বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য মহিলা। এই তিনটির কোন একটির অভাবে কোন মহিলার উপর হজ্জ ফরয হয় না।

মহিলাদের জিহাদ হলো হজ্জ

بَاب الْحَجُّ جِهَادُ النِّسَاءِ

2901

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَى النِّسَاءِ جِهَادٌ قَالَ ‏ "‏ نَعَمْ عَلَيْهِنَّ جِهَادٌ لاَ قِتَالَ فِيهِ الْحَجُّ وَالْعُمْرَةُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯০১। আবু বাকর ইবন আবু শায়রা (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মহিলাদের জন্য কি জিহাদ বাধ্যতামূলক? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তাদের উপরও জিহাদ ফরয, তবে তাতে মারামারি কাটাকাটি নেই। তা হচ্ছে হজ্জ ও উমরা।

2902

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ الْفَضْلِ الْحُدَّانِيِّ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الْحَجُّ جِهَادُ كُلِّ ضَعِيفٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২৯০২। আবু বাকর ইবন আবু শায়রা (রাহঃ)...... উম্মু সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে কোন দুর্বল ব্যক্তির জিহাদ হলো হজ্জ।

মৃতের পক্ষ থেকে হজ্জ করা

بَاب الْحَجِّ عَنْ الْمَيِّتِ

2903

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَزْرَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ سَمِعَ رَجُلاً يَقُولُ لَبَّيْكَ عَنْ شُبْرُمَةَ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ مَنْ شُبْرُمَةُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قَرِيبٌ لِي ‏.‏ قَالَ ‏"‏ هَلْ حَجَجْتَ قَطُّ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَاجْعَلْ هَذِهِ عَنْ نَفْسِكَ ثُمَّ احْجُجْ عَنْ شُبْرُمَةَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯০৩। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়র (রাহঃ)...... ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেনঃ “শুবরুমার পক্ষ থেকে আমি তোমার দরবারে হাযির হয়েছি।" রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেনঃ শুবরুমা কে? সে বললো, আমার এক নিকটাত্মীয়। তিনি বললেনঃ তুমি কি কখনও হজ্জ করেছ? সে বললো, না। তিনি বললেনঃ তাহলে এই হজ্জ তোমার নিজের পক্ষ থেকে কর, এরপর শুবরুমার পক্ষ থেকে হজ্জ কর।

2904

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ سُلَيْمَانَ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ أَحُجُّ عَنْ أَبِي قَالَ ‏ "‏ نَعَمْ حُجَّ عَنْ أَبِيكَ فَإِنْ لَمْ تَزِدْهُ خَيْرًا لَمْ تَزِدْهُ شَرًّا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯০৪। মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল আলা সান'আনী (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বললো, আমি কি আমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ করতে পারি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ কর। তুমি যদি তার জন্য কল্যাণ ও নেকী বৃদ্ধি করতে না পার, তবে অকল্যাণ ও পাপও বৃদ্ধি কর না।

2905

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي الْغَوْثِ بْنِ حُصَيْنٍ، - رَجُلٌ مِنَ الْفُرْعِ - أَنَّهُ اسْتَفْتَى النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَنْ حِجَّةٍ كَانَتْ عَلَى أَبِيهِ مَاتَ وَلَمْ يَحُجَّ قَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ حُجَّ عَنْ أَبِيكَ ‏"‏ ‏.‏ وَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ وَكَذَلِكَ الصِّيَامُ فِي النَّذْرِ يُقْضَى عَنْهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

২৯০৫। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... কুর'আ গোত্রের আবুল গাওস, ইবন হুসাইন নামক জনৈক ব্যক্তি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ)-এর নিকট তাঁর পিতার উপর ফরয হওয়া হজ্জ সম্পর্কে ফাতওয়া জিজ্ঞেস করেন, যিনি মারা গেছেন কিন্তু হজ্জ করতে পারেননি। নবী করীম (ﷺ) বললেনঃ তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় কর। নবী করীম (ﷺ) আরও বললেনঃ মানতের রোযাও অনুরূপ অর্থাৎ তার পক্ষ থেকে তা আদায় করা যাবে।

জীবিত ব্যক্তি হজ্জ করতে অপারগ হলে তার পক্ষ থেকে হজ্জ করা

بَاب الْحَجِّ عَنْ الْحَيِّ إِذَا لَمْ يَسْتَطِعْ

2906

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَوْسٍ، عَنْ أَبِي رَزِينٍ الْعُقَيْلِيِّ، أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ لاَ يَسْتَطِيعُ الْحَجَّ وَلاَ الْعُمْرَةَ وَلاَ الظَّعَنَ ‏.‏ قَالَ ‏ "‏ حُجَّ عَنْ أَبِيكَ وَاعْتَمِرْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আবু রাযীন উকায়লী (রাঃ)

২৯০৬। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)......আবু রাযীন উকায়লী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা অতিশয় বৃদ্ধ। তিনি হজ্জ অথবা উমরা করতে বা বাহনে উপবিষ্ট থাকতে সক্ষম নন। নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি তোমার পিতার পক্ষ হজ্জ ও উমরা আদায় কর।

2907

حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ، مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعُثْمَانِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ الدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَيَّاشِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ الْمَخْزُومِيِّ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ حَكِيمِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ حُنَيْفٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ امْرَأَةً، مِنْ خَثْعَمٍ جَاءَتِ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ قَدْ أَفْنَدَ وَأَدْرَكَتْهُ فَرِيضَةُ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ فِي الْحَجِّ وَلاَ يَسْتَطِيعُ أَدَاءَهَا فَهَلْ يُجْزِئُ عَنْهُ أَنْ أُؤَدِّيَهَا عَنْهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ نَعَمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯০৭। আবু মারওয়ান মুহাম্মাদ ইবন উসমান উসমানী (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, খাস্আম গোত্রের এক মহিলা নবী (ﷺ) -এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা অতিশয় বৃদ্ধ এবং অচল হয়ে পড়েছেন। বান্দার উপর আল্লাহর ফরযকৃত হজ্জ তার উপর অবধারিত হয়েছে। কিন্তু তিনি তা আদায় করতে সক্ষম নন। এখন আমি যদি তাঁর পক্ষ থেকে হজ্জ করি, তবে তা কি তার জন্য যথেষ্ট হবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ।

2908

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كُرَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي حُصَيْنُ بْنُ عَوْفٍ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبِي أَدْرَكَهُ الْحَجُّ وَلاَ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَحُجَّ إِلاَّ مُعْتَرِضًا ‏.‏ فَصَمَتَ سَاعَةً ثُمَّ قَالَ ‏ "‏ حُجَّ عَنْ أَبِيكَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯০৮। মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়র (রাহঃ)...... ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে হুসায়ন ইব্‌ন আওফ (রাযিঃ) অবহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতার উপর হজ্জ ফরয হয়েছে। কিন্তু তিনি হজ্জ করতে সক্ষম নন, যদি না তাকে হাওদার সাথে বেঁধে দেয়া হয়। তিনি মুহূর্তকাল নীরব থাকার পর বললেনঃ তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ কর।

2909

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أَخِيهِ الْفَضْلِ، أَنَّهُ كَانَ رِدْفَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ غَدَاةَ النَّحْرِ فَأَتَتْهُ امْرَأَةٌ مِنْ خَثْعَمٍ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ فِي الْحَجِّ عَلَى عِبَادِهِ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا لاَ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَرْكَبَ أَفَأَحُجُّ عَنْهُ قَالَ ‏ "‏ نَعَمْ فَإِنَّهُ لَوْ كَانَ عَلَى أَبِيكِ دَيْنٌ قَضَيْتِيهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯০৯। আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম দিমাশকী (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ)-এর ভাই ফাদল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে তিনি কুরবানীর দিন ভোরবেলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাওয়ারীতে তাঁর পেছনে উপবিষ্ট ছিলেন। এ সময় খাস'আম গোত্রের এক মহিলা তাঁর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! বান্দাদের উপর আল্লাহর ধার্যকৃত হজ্জ আমার পিতার উপর বৃদ্ধ বয়সে ফরয হয়েছে। কিন্তু তিনি বাহনে চড়তে সক্ষম নন। আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে হজ্জ করবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কেননা তোমার পিতার কোন ঋণ থাকলে তাও তোমাকেই পরিশোধ করতে হতো।

শিশুদের হজ্জের বিবরণ

بَاب حَجِّ الصَّبِيِّ

2910

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سُوقَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ رَفَعَتِ امْرَأَةٌ صَبِيًّا لَهَا إِلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي حَجَّتِهِ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلِهَذَا حَجٌّ قَالَ ‏ "‏ نَعَمْ وَلَكِ أَجْرٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৯১০। আলী ইব্‌ন ও মুহাম্মাদ ইবন শরীফ (রাহঃ)...... জাবির ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজ্জের সময় এক মহিলা তার শিশু সন্তানকে নবী (ﷺ)-এর সামনে উঁচিয়ে ধরে জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এই শিশুর জন্যও কি হজ্জ? তিনি বললেন হ্যাঁ, তবে সাওয়াব তুমি পাবে।

হায়েয ও নিফাসগ্রস্ত মহিলার হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধার বিবরণ

بَاب النُّفَسَاءِ وَالْحَائِضِ تُهِلُّ بِالْحَجِّ

2911

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ نُفِسَتْ أَسْمَاءُ بِنْتُ عُمَيْسٍ بِالشَّجَرَةِ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَبَا بَكْرٍ أَنْ يَأْمُرَهَا أَنْ تَغْتَسِلَ وَتُهِلَّ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯১১। উসমান ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, শাজারা (যুল্ হুলায়ফা) নামক স্থানে উমায়স-কন্যা আসমার নিফাস হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু বকর (রাযিঃ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন তাকে গোসল করে ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দেন।

2912

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهُ خَرَجَ حَاجًّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَمَعَهُ أَسْمَاءُ بِنْتُ عُمَيْسٍ فَوَلَدَتْ بِالشَّجَرَةِ مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي بَكْرٍ فَأَتَى أَبُو بَكْرٍ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَأَخْبَرَهُ فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ يَأْمُرَهَا أَنْ تَغْتَسِلَ ثُمَّ تُهِلَّ بِالْحَجِّ وَتَصْنَعَ مَا يَصْنَعُ النَّاسُ إِلاَّ أَنَّهَا لاَ تَطُوفُ بِالْبَيْتِ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)

২৯১২। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)......আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হলেন। তাঁর সাথে (তাঁর স্ত্রী) উমাইস-কন্যা আসমাও ছিলেন। তিনি শাজারা নামক স্থানে মুহাম্মাদ ইবন আবু বকরকে প্রসব করলেন। আবু বাকর (রাযিঃ) নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে তাঁকে এ সম্পর্কে অবহিত করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে নির্দেশ দেন--তিনি যেন তাকে গোসল করার পর হজ্জের ইহরাম বাঁধার এবং লোকদের অনুরূপ অনুষ্ঠানাদি পালনের নির্দেশ দেন। কিন্তু সে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবে না।

2913

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ نُفِسَتْ أَسْمَاءُ بِنْتُ عُمَيْسٍ بِمُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ فَأَرْسَلَتْ إِلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَأَمَرَهَا أَنْ تَغْتَسِلَ وَتَسْتَثْفِرَ بِثَوْبٍ وَتُهِلَّ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৯১৩। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসমা বিনতে উমাইস (রাযিঃ) মুহাম্মাদ ইব্‌ন আবু বাকরকে প্রসব করলেন। তিনি নবী (ﷺ)-এর নিকট বিধান জিজ্ঞেস করার জন্য লোক পাঠালেন। নবী (ﷺ) তাঁকে নির্দেশ দেন যে, সে যেন গোসল করে এবং একটি কাপড় জড়িয়ে নেয় ও ইহরাম বাঁধে।

বিভিন্ন দেশের অধিবাসীদের মীকাতের বর্ণনা

بَاب مَوَاقِيتِ أَهْلِ الْآفَاقِ

2914

حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏"‏ يُهِلُّ أَهْلُ الْمَدِينَةِ مِنْ ذِي الْحُلَيْفَةِ وَأَهْلُ الشَّامِ مِنَ الْجُحْفَةِ وَأَهْلُ نَجْدٍ مِنْ قَرْنٍ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ أَمَّا هَذِهِ الثَّلاَثَةُ فَقَدْ سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَبَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏"‏ وَيُهِلُّ أَهْلُ الْيَمَنِ مِنْ يَلَمْلَمَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯১৪। আবু মুস'আব (রাহঃ)...... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ মদীনাবাসীগণ যুল্-হুলায়ফা থেকে, সিরিয়ার অধিবাসীগণ জুহফা থেকে, নাজদবাসীগণ কারণ নামক স্থান থেকে ইহরাম বাঁধবে। আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, এই তিনটি মীকাতের বর্ণনা আমি সরাসরি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট থেকে শুনেছি। আমি আরও জানতে পেরেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়ামনবাসীগণ ইয়ালাম্‌লাম থেকে ইহরাম বাঁধবে।

2915

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏"‏ مُهَلُّ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مِنْ ذِي الْحُلَيْفَةِ وَمُهَلُّ أَهْلِ الشَّامِ مِنَ الْجُحْفَةِ وَمُهَلُّ أَهْلِ الْيَمَنِ مِنْ يَلَمْلَمَ وَمُهَلُّ أَهْلِ نَجْدٍ مِنْ قَرْنٍ وَمُهَلُّ أَهْلِ الْمَشْرِقِ مِنْ ذَاتِ عِرْقٍ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ أَقْبَلَ بِوَجْهِهِ لِلأُفُقِ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ اللَّهُمَّ أَقْبِلْ بِقُلُوبِهِمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৯১৫। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেনঃ মদীনাবাসীগণের মীকাত হলো যুল্-হুলায়ফা, সিরিয়াবাসীদের মীকাত জুহফা, ইয়ামনবাসীদের মীকাত ইয়ালামলাম, নাজদবাসীদের মীকাত কারণ, প্রাচ্যের লোকদের মীকাত[১] যাতু ইরক। অতঃপর তিনি দিগন্তের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলেনঃ হে আল্লাহ! তাদের অন্তরসমূহ ঈমানের দিকে ধাবিত করুন।

[১] যে স্থান বরাবর পৌঁছে হজ্জযাত্রীদের ইহরাম বাঁধতে হয়--তাকে 'মীকাত' বলে। হজ্জযাত্রীগণ ইহরাম না বেঁধে এই স্থান অতিক্রম করতে পারেন না। মীকাতের স্থানসমূহঃ যুল হুলায়ফা যা মদীনার ছয় মাইল দক্ষিণে অবস্থিত। জুহফা সিরিয়া ও এতদঞ্চল দিয়ে আগত লোকদের মীকাত। এটা রাবাগ নামক এলাকার একটি জনশূন্য গ্রাম। কারনুল মানাযিল-এর বর্তমান নাম আস সায়েল। ইয়ালাম্‌লাম তিহামা অঞ্চলের একটি পাহাড়ের নাম। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের হজ্জ্বযাত্রীগণের এটাই মীকাত। ইমাম আযম আবু হানীফা (রাহঃ) ব্যতীত অন্যদের মতে কোন অবস্থায়ই ইহরাম ব্যতীত মীকাত অতিক্রম করে মক্কায় প্রবেশ জায়েয নয়।

ইহরাম বাঁধা

بَاب الْإِحْرَامِ

2916

حَدَّثَنَا مُحْرِزُ بْنُ سَلَمَةَ الْعَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّرَاوَرْدِيُّ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ إِذَا أَدْخَلَ رِجْلَهُ فِي الْغَرْزِ وَاسْتَوَتْ بِهِ رَاحِلَتُهُ أَهَلَّ مِنْ عِنْدِ مَسْجِدِ ذِي الْحُلَيْفَةِ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯১৬। মুহরিয ইব্‌ন সালামা আদানী (রাহঃ)...... ইব্‌ন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যেত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন স্বীয় পদদ্বয় বাহনের পাদানিতে রাখতেন এবং তাঁর জন্তুযান তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যেত, তখন তিনি যুল্-হুলায়ফার মসজিদের নিকট থেকে ইহরাম বেঁধেছেন।

2917

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، وَعُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، قَالاَ حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ إِنِّي عِنْدَ ثَفِنَاتِ نَاقَةِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عِنْدَ الشَّجَرَةِ فَلَمَّا اسْتَوَتْ بِهِ قَائِمَةً قَالَ ‏ "‏ لَبَّيْكَ بِعُمْرَةٍ وَحَجَّةٍ مَعًا ‏"‏ ‏.‏ وَذَلِكَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৯১৭। আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম দিমাশকী (রাহঃ)...... আনাস ইব্‌ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, শাজারা (যুল-হুলায়ফা) নামক স্থানে আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর উটনীর পায়ের নিকটে ছিলাম। উনী যখন তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো, তখন তিনি বললেনঃ “লাব্বায়কা বি-উমরাতিন ওয়া হাজ্জাতিম-মাআন" (আমি তোমার দরবার এক সাথে হজ্জ ও উমরার সংকল্প নিয়ে হাযির হচ্ছি)। এটা বিদায় হজ্জের ঘটনা।

তালবিয়ার বর্ণনা

بَاب التَّلْبِيَةِ

2918

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَأَبُو أُسَامَةَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ تَلَقَّفْتُ التَّلْبِيَةَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهُوَ يَقُولُ ‏ "‏ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَزِيدُ فِيهَا لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ فِي يَدَيْكَ لَبَّيْكَ وَالرَّغْبَاءُ إِلَيْكَ وَالْعَمَلُ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯১৮। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).......ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট তালবিয়া শিখেছি। তিনি বলেনঃ “লাব্বায়কা আল্লাহুম্মা লাব্বায়কা লাব্বায়কা, লা শারীকা লাকা লাব্বায়কা, ইন্নাল হামদা ওয়ান-নি'মাতা লাকা ওয়াল-মুল্‌কা লা শারীকা লাকা।” “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট উপস্থিত আছি, তোমার নিকট উপস্থিত আছি, তোমার নিকট উপস্থিত আছি, তোমার দরবারে হাযির হয়েছি। তোমার কোন শরীক নেই, আমি তোমার নিকট হাযির হয়েছি। যাবতীয় প্রশংসা ও নিয়ামত তোমারই এবং সমগ্র রাজত্ব তোমার। তোমার কোন শরীক নেই।” রাবী বলেন, ইবন উমার (রাযিঃ)-এর সাথে যোগ করতেনঃ “লাব্বায়কা লাব্বায়কা ওয়া সা'দায়কা ওয়া'ল-খায়রু ফী ইয়াদায়কা, লাব্বায়কা ওয়ার-রাগবাউ ইলায়কা ওয়াল-আমালু।" (অর্থ) “তোমার দরবারে উপস্থিত হয়েছি, তোমার নিকট হাযির হয়েছি, তোমার নিকট হাযির আছি, তোমার খেদমতের সৌভাগ্য লাভ করেছি। সমস্ত কল্যাণ তোমার হাতে, আমি তোমার সমীপে উপস্থিত হয়েছি। সমস্ত আকর্ষণ তোমার প্রতি এবং সকল কাজ তোমারই নির্দেশে।"

2919

حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَخْزَمَ، حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كَانَتْ تَلْبِيَةُ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৯১৯। যায়িদ ইব্‌ন আখযাম (রাহঃ)...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর তালবিয়া ছিল নিম্নরূপঃ “লাব্বায়কা আল্লাহুমা লাব্বায়কা, লাব্বায়কা লা শারীকা লাকা লাব্বায়কা ইন্নাল-হামদা ওয়ান-নি'মাতা লাকা ওয়াল-মুলকা লা শারীকা লাকা।”

2920

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ فِي تَلْبِيَتِهِ ‏ "‏ لَبَّيْكَ إِلَهَ الْحَقِّ لَبَّيْكَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৯২০। আবু বাক ইব্‌ন আবু শায়বা ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর তালবিয়ায় বলেনঃ “লাব্বায়কা ইলাহাল্-হাক্কি লাব্বায়কা।"

2921

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ غَزِيَّةَ الأَنْصَارِيُّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَا مِنْ مُلَبٍّ يُلَبِّي إِلاَّ لَبَّى مَا عَنْ يَمِينِهِ وَشِمَالِهِ مِنْ حَجَرٍ أَوْ شَجَرٍ أَوْ مَدَرٍ حَتَّى تَنْقَطِعَ الأَرْضُ مِنْ هَا هُنَا وَهَا هُنَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

২৯২১। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... সাহল ইবন সা'দ সাঈদী (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তিই তালবিয়া পাঠ করে, সাথে তার ডান ও বাঁ দিকের পাথর, গাছপালা অথবা মাটি, এমনকি দুনিয়ার সর্বশেষ প্রান্ত পর্যন্ত উভয়দিকের সবকিছু তালবিয়া পাঠ করে।

উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করা

بَاب رَفْعِ الصَّوْتِ بِالتَّلْبِيَةِ

2922

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، حَدَّثَهُ عَنْ خَلاَّدِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ أَتَانِي جِبْرِيلُ فَأَمَرَنِي أَنْ آمُرَ أَصْحَابِي أَنْ يَرْفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ بِالإِهْلاَلِ ‏"‏ ‏.‏

২৯২২। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... খাল্লাদ ইবন সায়েব সূত্রে তাঁর পিতা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ আমার নিকট জিবরীল (আ) এসে আমাকে নির্দেশ দেন যে, আমি যেন আমার সাহাবীগণকে উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠের আদেশ দেই।

2923

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي لَبِيدٍ، عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبٍ، عَنْ خَلاَّدِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ جَاءَنِي جِبْرِيلُ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ مُرْ أَصْحَابَكَ فَلْيَرْفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ بِالتَّلْبِيَةِ فَإِنَّهَا مِنْ شِعَارِ الْحَجِّ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাঃ)

২৯২৩। আলী ইবন মুহাম্মাদ ..... যায়িদ ইব্‌ন খালিদ জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার নিকট জিবরীল (আ) এসে বলেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি আপনার সাহাবীদের নির্দেশ দিন, তাঁরা যেন উচ্চস্বরে তাল্‌বিয়া পাঠ করে। কারণ তা হলো হজ্জের অন্যতম নিদর্শন।

2924

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ، وَيَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَرْبُوعٍ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ سُئِلَ أَىُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ ‏ "‏ الْعَجُّ وَالثَّجُّ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)

২৯২৪। ইবরাহীম ইব্‌ন মুনযির হিযামী ও ইয়াকূব ইব্‌ন হুমাঈদ ইব্‌ন কাসিব (রাহঃ)...... আবু বাকর সিদ্দীক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট জিজ্ঞেস করা হলো কোন কাজটি সর্বোত্তম? তিনি বললেনঃ “উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ এবং কুরবানীর দিন কুরবানী করা।"

ইহরামধারী ব্যক্তির অনবরত তালবিয়া পাঠের ফযীলত

بَاب الظِّلَالِ لِلْمُحْرِمِ

2925

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ فُلَيْحٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ عُمَرَ بْنِ حَفْصٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَا مِنْ مُحْرِمٍ يَضْحَى لِلَّهِ يَوْمَهُ يُلَبِّي حَتَّى تَغِيبَ الشَّمْسُ إِلاَّ غَابَتْ بِذُنُوبِهِ فَعَادَ كَمَا وَلَدَتْهُ أُمُّهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৯২৫। ইবরাহীম ইবন মুনযির হিযামী (রাহঃ)...... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে কোন ইহরামধারী ব্যক্তি কুরবানীর দিন আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানী করে এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত অনবরত মধ্যাহ্ন থেকে তালবিয়া পাঠ করতে থাকে, সূর্য তার গুনাহরাশিসহ অস্ত যায়। তখন সে এমন নিষ্পাপ অবস্থায় ফিরে যায়, যেমন তার মা তাকে প্রসব করেছিল।

ইহরামবস্ত্র পরিধানের সময় সুগন্ধির ব্যবহার

بَاب الطِّيبِ عِنْدَ الْإِحْرَامِ

2926

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، جَمِيعًا عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ طَيَّبْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لإِحْرَامِهِ قَبْلَ أَنْ يُحْرِمَ وَلِحِلِّهِ قَبْلَ أَنْ يُفِيضَ - قَالَ سُفْيَانُ - بِيَدَىَّ هَاتَيْنِ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯২৬। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তাঁর ইহরাম বাঁধার পূর্বে সুগন্ধি লাগিয়ে দেই এবং ইহরাম খোলার সময় তাওয়াফে ইফাদা করার পূর্বেও আমি তাঁকে সুগন্ধি লাগিয়ে দেই। রাবী সুফইয়ান বলেনঃ “আমার এই দুই হাত দিয়ে।"

2927

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى وَبِيصِ الطِّيبِ فِي مَفَارِقِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهُوَ يُلَبِّي ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯২৭। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সিঁথিতে সুগন্ধির উজ্জ্বলতা দেখতে পাচ্ছি তখন তিনি তাল্‌বিয়া উচ্চারণ করছিলেন।

2928

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَأَنِّي أَرَى وَبِيصَ الطِّيبِ فِي مَفْرِقِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بَعْدَ ثَلاَثَةٍ وَهُوَ مُحْرِمٌ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯২৮। ইসমাঈল ইব্‌ন মুসা (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সিঁথিতে সুগন্ধির উজ্জ্বলতা দেখতে পাচ্ছি তিন দিন পরেও অথচ তিনি ছিলেন ইরাম অবস্থায়।

মুহরিম অবস্থায় কি ধরনের কাপড় পরিধান করবে

بَاب مَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ مِنْ الثِّيَابِ

2929

حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ مِنَ الثِّيَابِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ يَلْبَسُ الْقُمُصَ وَلاَ الْعَمَائِمَ وَلاَ السَّرَاوِيلاَتِ وَلاَ الْبَرَانِسَ وَلاَ الْخِفَافَ إِلاَّ أَنْ لاَ يَجِدَ نَعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسْ خُفَّيْنِ وَلْيَقْطَعْهُمَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ وَلاَ تَلْبَسُوا مِنَ الثِّيَابِ شَيْئًا مَسَّهُ الزَّعْفَرَانُ أَوِ الْوَرْسُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯২৯। আবু মুস'আব (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ্ ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলো মুহরিম ব্যক্তি কি ধরনের কাপড় পরিধান করবে? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ সে জামা পরবে না, পাগড়ী পরবে না, পায়জামা পরবে না, টুপি পরবে না এবং মোজা পরবে না। কিন্তু তার যদি জুতা না থাকে সে মোজা পরতে পারবে, তবে উভয় টাখনুর নীচের অংশের মোজার উপরিভাগ কেটে ফেলে দিয়ে। সে জাফরান অথবা সুগন্ধি ঘাস দ্বারা রঞ্জিত কাপড় পরিধান করবে না।

2930

حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ يَلْبَسَ الْمُحْرِمُ ثَوْبًا مَصْبُوغًا بِوَرْسٍ أَوْ زَعْفَرَانٍ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯৩০। আবু মুস'আব (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ্ ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুহরিম ব্যক্তিকে কুমকুম অথবা ওয়ারস ঘাস দ্বারা রঞ্জিত কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন।

কাপড় ও জুতা না থাকলে মুরিম ব্যক্তি পাজামা ও মোজা পরিধান করবে

بَاب السَّرَاوِيلِ وَالْخُفَّيْنِ لِلْمُحْرِمِ إِذَا لَمْ يَجِدْ إِزَارًا أَوْ نَعْلَيْنِ

2931

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَخْطُبُ - قَالَ هِشَامٌ عَلَى الْمِنْبَرِ - فَقَالَ ‏"‏ مَنْ لَمْ يَجِدْ إِزَارًا فَلْيَلْبَسْ سَرَاوِيلَ وَمَنْ لَمْ يَجِدْ نَعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسْ خُفَّيْنِ ‏"‏ ‏.‏ وَقَالَ هِشَامٌ فِي حَدِيثِهِ ‏"‏ فَلْيَلْبَسْ سَرَاوِيلَ إِلاَّ أَنْ يَفْقِدَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯৩১। হিশাম ইব্‌ন আম্মার ও মুহাম্মাদ ইব্‌ন সাব্বাহ (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে ভাষণ দান কালে বলতে শুনেছিঃ যে (মুহরিম) ব্যক্তি কাপড় সংগ্রহ করতে পারেনি সে পায়জামা পরতে পারে এবং যে, ব্যক্তি জুতা সংগ্রহ করতে পারেনি সে মোজা পরতে পারে। হিশামের বর্ণনায় আছে “কাপড় না পেলে পায়জামা পরিধান করবে।"

2932

حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ نَافِعٍ، وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَنْ لَمْ يَجِدْ نَعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسْ خُفَّيْنِ وَلْيَقْطَعْهُمَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯৩২। আবু মুস'আব (রাহঃ)......ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি জুতা সংগ্রহ করতে না পারলে মোজা পরিধান করবে। সে যেন টাখনুর নিম্নাংশ পর্যন্ত মোজার উপরিভাগ কেটে নেয়।

ইহরাম অবস্থায় যে সব আচরণ থেকে বিরত থাকা উচিৎ

بَاب التَّوَقِّي فِي الْإِحْرَامِ

2933

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْعَرْجِ نَزَلْنَا فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَعَائِشَةُ إِلَى جَنْبِهِ وَأَنَا إِلَى جَنْبِ أَبِي بَكْرٍ وَكَانَتْ زِمَالَتُنَا وَزِمَالَةُ أَبِي بَكْرٍ وَاحِدَةً مَعَ غُلاَمِ أَبِي بَكْرٍ قَالَ فَطَلَعَ الْغُلاَمُ وَلَيْسَ مَعَهُ بَعِيرُهُ فَقَالَ لَهُ أَيْنَ بَعِيرُكَ قَالَ أَضْلَلْتُهُ الْبَارِحَةَ ‏.‏ قَالَ مَعَكَ بَعِيرٌ وَاحِدٌ تُضِلُّهُ قَالَ فَطَفِقَ يَضْرِبُهُ وَرَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ انْظُرُوا إِلَى هَذَا الْمُحْرِمِ مَا يَصْنَعُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

২৯৩৩। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু বাকর (রাযিঃ)-র কন্যা আসমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে বের হলাম। আরজ নামক স্থানে পৌঁছে আমরা যাত্রা বিরতি করলাম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বসলেন এবং আয়েশা (রাযিঃ) তাঁর পাশে এবং আমি আবু বাকর (রাযিঃ)-র পাশে বসলাম। আমাদের আবু বাকর (রাযিঃ)-র এবং তাঁর গোলামসহ একটি উট ছিল। রাবী বলেনঃ ইত্যবসরে গোলাম আসলো কিন্তু তার সাথে উট ছিল না। তিনি (আবু বকর (রাযিঃ)) জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার উট কোথায় ? সে বললো, রাতে হারিয়ে গেছে। তিনি বললেন, তোমার সাথে একটি মাত্র উট ছিল, তাও তুমি হারিয়ে ফেললে ? রাবী বলেন, তিনি তাকে মারতে লাগলেন। আর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ দেখ! এই ব্যক্তি ইরামের অবস্থায় কি করছে?

মুহরিম ব্যক্তি মাথা ধুইতে পারে

بَاب الْمُحْرِمِ يَغْسِلُ رَأْسَهُ

2934

حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، اخْتَلَفَا بِالأَبْوَاءِ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ يَغْسِلُ الْمُحْرِمُ رَأْسَهُ ‏.‏ وَقَالَ الْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ لاَ يَغْسِلُ الْمُحْرِمُ رَأْسَهُ ‏.‏ فَأَرْسَلَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ إِلَى أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ أَسْأَلُهُ عَنْ ذَلِكَ، فَوَجَدْتُهُ يَغْتَسِلُ بَيْنَ الْقَرْنَيْنِ وَهُوَ يَسْتَتِرُ بِثَوْبٍ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ مَنْ هَذَا قُلْتُ أَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حُنَيْنٍ أَرْسَلَنِي إِلَيْكَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ أَسْأَلُكَ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَغْسِلُ رَأْسَهُ وَهُوَ مُحْرِمٌ قَالَ فَوَضَعَ أَبُو أَيُّوبَ يَدَهُ عَلَى الثَّوْبِ فَطَأْطَأَهُ حَتَّى بَدَا لِي رَأْسُهُ ثُمَّ قَالَ لإِنْسَانٍ يَصُبُّ عَلَيْهِ اصْبُبْ ‏.‏ فَصَبَّ عَلَى رَأْسِهِ ثُمَّ حَرَّكَ رَأْسَهُ بِيَدَيْهِ فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ هَكَذَا رَأَيْتُهُ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَفْعَلُ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

২৯৩৪। আবু মুস'আব (রাহঃ)...... ইবরাহীম ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন হুনায়ন (রাযিঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস ও মিসওয়ার ইব্‌ন মাখরামা (রাযিঃ) আবওয়া নামক স্থানে মতবিরোধে লিপ্ত হলেন। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, মুহরিম ব্যক্তি নিজের মাথা ধৌত করতে পারবে। আর মিস্ওয়ার (রাযিঃ) বলেন, সে নিজ মাথা ধৌত করতে পারবে না। তাই ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) আমাকে আবু আইউব আনসারী (রাযিঃ)-র নিকট এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠালেন। আমি গিয়ে তাঁকে এমন অবস্থায় পেলাম যে, তিনি দু'টি খুঁটির মাঝখানে কাপড় দ্বারা পর্দা টেনে গোসল করছেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কে? আমি বললাম, আমি আব্দুল্লাহ ইব্‌ন হুনায়ন। ইবন আব্বাস (রাযিঃ) আমাকে আপনার নিকট জিজ্ঞাসা করতে পাঠিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইহরাম অবস্থায় কিভাবে মাথা ধৌত করতেন? রাবী বলেন, আবু আইউব (রাযিঃ) তাঁর হস্তদ্বয় পর্দার কাপড়ের উপর রেখে তা মাথা পর্যন্ত উত্তোলন করলেন এবং আমি তাঁর মাথা দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি এক ব্যক্তিকে বললেন, পানি ঢালো। লোকটি তাঁর গোসলে সাহায্য করছিল। সে তাঁর মাথায় পানি ঢেলে দিল। এরপর তিনি তার উভয় হাত দিয়ে গোটা মাথা মললেন এবং বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে এভাবে করতে দেখেছি।

মুহরিমা স্ত্রীলোকের মুখমণ্ডলে কাপড় লটকানো

بَاب الْمُحْرِمَةِ تَسْدُلُ الثَّوْبَ عَلَى وَجْهِهَا

2935
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَنَحْنُ مُحْرِمُونَ فَإِذَا لَقِيَنَا الرَّاكِبُ أَسْدَلْنَا ثِيَابَنَا مِنْ فَوْقِ رُءُوسِنَا فَإِذَا جَاوَزَنَا رَفَعْنَاهَا ‏.‏

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِنَحْوِهِ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৩৫। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ).....আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় নবী (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। আমরা কোন পথযাত্রীর নিকটবর্তী হলে নিজেদের মাথার সামনে দিয়ে কাপড় ঝুলিয়ে দিতাম। যখন তাদের অতিক্রম করে যেতাম তখন তা তুলে ফেলতাম।
আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) সূত্রেও নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন।

হজ্জে শর্ত আরোপ করা

بَاب الشَّرْطِ فِي الْحَجِّ

2936

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ جَدَّتِهِ، - قَالَ لاَ أَدْرِي أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَوْ سُعْدَى بِنْتِ عَوْفٍ ‏.‏ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ دَخَلَ عَلَى ضُبَاعَةَ بِنْتِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَقَالَ ‏"‏ مَا يَمْنَعُكِ يَا عَمَّتَاهُ مِنَ الْحَجِّ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَتْ أَنَا امْرَأَةٌ سَقِيمَةٌ وَأَنَا أَخَافُ الْحَبْسَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَأَحْرِمِي وَاشْتَرِطِي أَنَّ مَحِلَّكِ حَيْثُ حُبِسْتِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: দুবাআ বিনতে যুবায়র (রাঃ)

২৯৩৬। মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়র ও আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).....আবু বাকুর ইবন আব্দুল্লাহ ইবন যুবায়র (রাযিঃ) সূত্রে তাঁর দাদী আসমা বিনতে আবু বকর নানী সু'দা বিনতে আওফ (রাযিঃ)-এর থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আব্দুল মুত্তালিব-কন্যা সাবা'আর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেনঃ হে ফুফুজানঃ কোন জিনিস আপনাকে হজ্জ থেকে বিরত রাখছে? তিনি বলেন, আমি একজন অসুস্থ মহিলা, আমার আশংকা হচ্ছে যে, হজ্জের অনুষ্ঠানাদি পূর্ণ করতে পারবো না। তিনি বলেনঃ আপনি ইহরাম বাঁধুন এবং এই শর্ত আরোপ করুন যে, “যেখানে আপনি বাধাপ্রাপ্ত হবেন, সেটাই হবে আপনার ইহরাম খোলার স্থান।”

2937

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، وَوَكِيعٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ ضُبَاعَةَ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَنَا شَاكِيَةٌ فَقَالَ ‏"‏ أَمَا تُرِيدِينَ الْحَجَّ الْعَامَ ‏"‏ قُلْتُ إِنِّي لَعَلِيلَةٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ حُجِّي وَقُولِي مَحِلِّي حَيْثُ تَحْبِسُنِي ‏"‏ ‏.‏

Narrator: দুবাআ বিনতে যুবায়র (রাঃ)

২৯৩৭। আবু বাক্‌র ইব্‌ন আবু শায়বা.....(রাহঃ) দুবাআ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার নিকট উপস্থিত হলেন এবং আমি তখন রোগগ্রস্ত ছিলাম। তিনি বললেনঃ আপনি কি এ বছর হজ্জে যাওয়ার সংকল্প করছেন ? আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি অসুস্থ? তিনি বললেনঃ আপনি হজ্জের নিয়্যত করুন এবং বলুন- আপনি (আল্লাহ) যেখানে আমাকে বাধাগ্রস্ত করবেন, সেটাই হবে আমার ইহরাম খোলার জায়গা।

2938

حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ طَاوُسًا، وَعِكْرِمَةَ، يُحَدِّثَانِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَتْ ضُبَاعَةُ بِنْتُ الزُّبَيْرِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَتْ إِنِّي امْرَأَةٌ ثَقِيلَةٌ وَإِنِّي أُرِيدُ الْحَجَّ فَكَيْفَ أُهِلُّ قَالَ ‏ "‏ أَهِلِّي وَاشْتَرِطِي أَنَّ مَحِلِّي حَيْثُ حَبَسْتَنِي ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯৩৮। আবু বিশর বাকর ইবন খালাফ (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুবায়র ইবন আব্দুল মুত্তালিবের কন্যা যুবা'আ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললেন, আমি রোগাক্রান্ত এবং আমি হজ্জে যাওয়ার ইচ্ছা রাখি। অতএব আমি কিভাবে ইহরাম বাঁধব ? তিনি বললেনঃ আপনি ইহরাম বাঁধা এবং শর্ত রাখুন, আপনি (আল্লাহ) যেখানে আমাকে বাধাগ্রস্ত করবেন, সেটাই হবে আমার ইব্রাম খোলার স্থান।

হেরেম এলাকায় প্রবেশ

بَاب دُخُولِ الْحَرَمِ

2939

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ صَبِيحٍ حَدَّثَنَا مُبَارَكُ بْنُ حَسَّانَ أَبُو عَبْدِ اللهِ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَتْ الْأَنْبِيَاءُ تَدْخُلُ الْحَرَمَ مُشَاةً حُفَاةً وَيَطُوفُونَ بِالْبَيْتِ وَيَقْضُونَ الْمَنَاسِكَ حُفَاةً مُشَاةً

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯৩৯। আবু কুরায়ব (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবীগণ হেরেমের এলাকায় পদব্রজে ও নগ্ন পদে প্রবেশ করতেন এবং বায়তুল্লাহ তাওয়াফসহ হজ্জের যাবতীয় অনুষ্ঠান নগ্নপদে ও পদব্রজে সমাপন করতেন।

পবিত্র মক্কায় প্রবেশ

بَاب دُخُولِ مَكَّةَ

2940

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَدْخُلُ مَكَّةَ مِنَ الثَّنِيَّةِ الْعُلْيَا وَإِذَا خَرَجَ خَرَجَ مِنَ الثَّنِيَّةِ السُّفْلَى ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯৪০। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... ইব্‌ন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উচ্চ ভূমি দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করতেন এবং বের হওয়ার সময় নিম্নভূমি দিয়ে বের হতেন।

2941

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الْعُمَرِيُّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ دَخَلَ مَكَّةَ نَهَارًا ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯৪১। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... ইব্‌ন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) দিনের বেলায় মক্কায় প্রবেশ করেন।

2942

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيْنَ تَنْزِلُ غَدًا وَذَلِكَ فِي حَجَّتِهِ قَالَ ‏"‏ وَهَلْ تَرَكَ لَنَا عَقِيلٌ مَنْزِلاً ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ نَحْنُ نَازِلُونَ غَدًا بِخَيْفِ بَنِي كِنَانَةَ - يَعْنِي الْمُحَصَّبَ - حَيْثُ قَاسَمَتْ قُرَيْشٌ عَلَى الْكُفْرِ ‏"‏ ‏.‏ وَذَلِكَ أَنَّ بَنِي كِنَانَةَ حَالَفَتْ قُرَيْشًا عَلَى بَنِي هَاشِمٍ أَنْ لاَ يُنَاكِحُوهُمْ وَلاَ يُبَايِعُوهُمْ ‏.‏ قَالَ مَعْمَرٌ قَالَ الزُّهْرِيُّ وَالْخَيْفُ الْوَادِي ‏.‏

Narrator: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

২৯৪২। মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)...... উসামা ইব্‌ন যায়িদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! আমরা আগামীকাল কোথায় অবতরণ করব? এটা তাঁর (বিদায়) হজ্জের সময়কার কথা। তিনি বললেনঃ আকীল কি আমাদের জন্য কোন অবতরণের স্থান অবশিষ্টি রেখেছে ? এরপর তিনি বললেনঃ আমরা আগামীকাল বনু কিনানার ঘাঁটিতে (অর্থাৎ মুহাসসাবে) অবতরণ করতে যাচ্ছি যেখানে কুরায়শগণ কুফরীর উপর অবিচল থাকার শপথ করেছিল। আর তাহলো, বনু কিনানা কুরায়শদের নিকট থেকে বানূ হাশিম সম্পর্কে এই মর্মে প্রতিশ্রুতি আদায় করে যে, তারা শেষোক্ত গোত্রের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না এবং ব্যবসায়িক লেনদেনও করবে না। মা'মার বলেন, যুহরী (রাহঃ) বলেছেনঃ খায়ফ অর্থ উপত্যকা।

হাজরে আসওয়াদে চুম্বন করা

بَاب اسْتِلَامِ الْحَجَرِ

2943

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ، قَالَ رَأَيْتُ الأُصَيْلِعَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يُقَبِّلُ الْحَجَرَ وَيَقُولُ إِنِّي لأُقَبِّلُكَ وَإِنِّي لأَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ لاَ تَضُرُّ وَلاَ تَنْفَعُ وَلَوْلاَ أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُقَبِّلُكَ مَا قَبَّلْتُكَ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সারজিস রাযি.

২৯৪৩। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন সারজিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসায়লি অর্থাৎ উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ)-কে দেখলাম- তিনি হাজরে আসওয়াদে চুম্বন করছেন, এবং বলছেনঃ অবশ্য আমি তোমায় চুম্বন করছি। আমি নিশ্চিত জানি যে, তুমি একটি পাথর মাত্র, তুমি ক্ষতিও করতে পার না এবং উপকার করতেও পার না। আমি যদি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখতাম তবে আমিও তোমায় চুম্বন করতাম না।

হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা

بَاب اسْتِلَامِ الْحَجَرِ

2944

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ الرَّازِيُّ، عَنِ ابْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لَيَأْتِيَنَّ هَذَا الْحَجَرُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَهُ عَيْنَانِ يُبْصِرُ بِهِمَا وَلِسَانٌ يَنْطِقُ بِهِ يَشْهَدُ عَلَى مَنْ يَسْتَلِمُهُ بِحَقٍّ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯৪৪। সুওয়ায়দ ইব্‌ন সাঈদ (রাহঃ) ......... সাঈদ ইব্‌ন জুবাইর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন এই পাথরকে উপস্থিত করা হবে। তার দু'টি চোখ থাকবে তা দিয়ে সে দেখবে, যবান থাকবে তা দিয়ে সে কথা বলবে এবং সাক্ষী দেবে এমন লোকের অনুকূলে যে তাকে সত্যতার সাথে চুম্বন করেছে।

2945

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا خَالِي، يَعْلَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَوْنٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ اسْتَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ الْحَجَرَ ثُمَّ وَضَعَ شَفَتَيْهِ عَلَيْهِ يَبْكِي طَوِيلاً ثُمَّ الْتَفَتَ فَإِذَا هُوَ بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ يَبْكِي فَقَالَ ‏ "‏ يَا عُمَرُ هَاهُنَا تُسْكَبُ الْعَبَرَاتُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯৪৫। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পাথরের দিকে মুখ করলেন, অতপর এর উপর নিজের দুই ঠোঁট স্থাপন করে দীর্ঘক্ষণ কাঁদলেন। অতঃপর তিনি অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে দেখলেন- উমার ইব্‌ন খাত্তাব (রাযিঃ)-ও কাঁদছেন। তিনি বলেনঃ হে উমার! এটাই প্রবাহিত করার স্থান।

2946

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَسْتَلِمُ مِنْ أَرْكَانِ الْبَيْتِ إِلاَّ الرُّكْنَ الأَسْوَدَ وَالَّذِي يَلِيهِ مِنْ نَحْوِ دُورِ الْجُمَحِيِّينَ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯৪৬। আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ মিসরী (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বায়তুল্লাহর কোন রুকনে চুমা খেতেন না- কেবলমাত্র রুকনুল আসওয়াদ (কালো পাথর) এবং এর নিকটেরও বনু জুমহ গোত্রের দিককার কোণে (রুকনে ইয়ামানীতে চুমা খেতেন।)

লাঠির সাহায্যে রুকনে (আসওয়াদ)-কে চুমা দেওয়া

بَاب مَنْ اسْتَلَمَ الرُّكْنَ بِمِحْجَنِهِ

2947

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي ثَوْرٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، قَالَتْ لَمَّا اطْمَأَنَّ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَامَ الْفَتْحِ طَافَ عَلَى بَعِيرِهِ يَسْتَلِمُ الرُّكْنَ بِمِحْجَنٍ بِيَدِهِ ثُمَّ دَخَلَ الْكَعْبَةَ فَوَجَدَ فِيهَا حَمَامَةَ عَيْدَانٍ فَكَسَرَهَا ثُمَّ قَامَ عَلَى بَابِ الْكَعْبَةِ فَرَمَى بِهَا وَأَنَا أَنْظُرُهُ ‏.‏

Narrator: সাফিয়্যা বিনতে শাইবা (রাঃ)

২৯৪৭। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমাইর (রাহঃ)...... শায়বার কন্যা সাফিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের বছর যখন নিশ্চিত হলেন তখন তিনি স্বীয় উটে আরোহণ করে (বায়তুল্লাহ) তাওয়াফ করেন এবং নিজের হাতের লাঠির সাহায্যে রুকনে (আসওয়াদ) কে চুমা দেন। অতঃপর তিনি কা'বার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন এবং তথায় কাঠের তৈরী একটি কবুতর দেখতে পান। তিনি তা ভেঙ্গে ফেলেন, এরপর তিনি কা'বার দরজায় দাঁড়িয়ে তা বাইরে নিক্ষেপ করেন। আর আমি তা দেখছিলাম।

2948

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ طَافَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ عَلَى بَعِيرٍ يَسْتَلِمُ الرُّكْنَ بِمِحْجَنٍ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯৪৮। আমাদ ইবন আমর ইবন সারহ (রাহঃ)...... ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বিদায় হজ্জে একটি উটে আরোহণ করে তাওয়াফ করেন এবং একটি লাঠির সাহায্যে রুকনকে চুমা দেন।

2949

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا هَدِيَّةُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا مَعْرُوفُ بْنُ خَرَّبُوذَ الْمَكِّيُّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الطُّفَيْلِ، عَامِرَ بْنَ وَاثِلَةَ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ عَلَى رَاحِلَتِهِ يَسْتَلِمُ الرُّكْنَ بِمِحْجَنِهِ وَيُقَبِّلُ الْمِحْجَنَ ‏.‏

Narrator: আবু তুফাইল লাইছী (রাঃ)

২৯৪৯। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ ও হাদীয়্যা ইব্‌ন আব্দুল ওয়াহব (রাহঃ)...... আবু তুফায়ল আমির ইব্‌ন ওয়াসিলা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) -কে দেখেছি যে, তিনি তাঁর সাওয়ারীতে আরোহণ করে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন, নিজের লাঠির সাহায্যে রুকন স্পর্শ করেন এবং লাঠিতে চুমা দেন।

বায়তুল্লাহর চারপাশে রামল করা

بَاب الرَّمَلِ حَوْلَ الْبَيْتِ

2950

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ بَشِيرٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ إِذَا طَافَ بِالْبَيْتِ الطَّوَافَ الأَوَّلَ رَمَلَ ثَلاَثَةً وَمَشَى أَرْبَعَةً مِنَ الْحَجَرِ إِلَى الْحَجَرِ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَفْعَلُهُ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯৫০। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন নুমাইর আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন বাইতুল্লাহ তাওয়াফ শুরু করতেন (বাহু দুলিয়ে বীরদর্পে প্রদক্ষিণ করতেন) এবং চার চক্করে সাধারণ গতিতে হেঁটে তাওয়াফ করতেন, 'হাজারুল আসওয়াদ' থেকে (প্রদক্ষিণ) শুরু করে হাজারুল আসওয়াদ পর্যন্ত। ইবন উমার (রাযিঃ)-ও তাই করতেন।

2951

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ الْعُكْلِيُّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَمَلَ مِنَ الْحَجَرِ إِلَى الْحَجَرِ ثَلاَثًا وَمَشَى أَرْبَعًا ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৯৫১। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) হাজারুল আসওয়াদ থেকে শুরু করে হাজারুল আসওয়াদ পর্যন্ত তিনবার রামল করতেন এবং চারবার সাধারণ গতিতে তাওয়াফ করতেন।

2952

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ، يَقُولُ فِيمَ الرَّمَلاَنُ الآنَ وَقَدْ أَطَّأَ اللَّهُ الإِسْلاَمَ وَنَفَى الْكُفْرَ وَأَهْلَهُ وَايْمُ اللَّهِ مَا نَدَعُ شَيْئًا كُنَّا نَفْعَلُهُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏

Narrator: যায়দ ইবনে আসলাম (রহঃ)

২৯৫২। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... যায়িদ ইব্‌ন আসলাম (রাযিঃ) সূত্রে তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার (রাযিঃ) হক বলতে শুনেছি--এখন এই দুই রামলের মধ্যে কি ফায়দা আছে? এখন তো আল্লাহ তা'আলা ইসলামকে শক্তিশালী করেছেন এবং কুফর ও তার অনুসারীদের নিশ্চিহ্ন করেছেন। আল্লাহর শপথ! আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে যেসব আমল করেছি তার কিছুই পরিত্যাগ করবো না।

2953

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لأَصْحَابِهِ حِينَ أَرَادُوا دُخُولَ مَكَّةَ فِي عُمْرَتِهِ بَعْدَ الْحُدَيْبِيَةِ ‏ "‏ إِنَّ قَوْمَكُمْ غَدًا سَيَرَوْنَكُمْ فَلَيَرَوُنَّكُمْ جُلْدًا ‏"‏ ‏.‏ فَلَمَّا دَخَلُوا الْمَسْجِدَ اسْتَلَمُوا الرُّكْنَ وَرَمَلُوا وَالنَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مَعَهُمْ حَتَّى إِذَا بَلَغُوا الرُّكْنَ الْيَمَانِيَّ مَشَوْا إِلَى الرُّكْنِ الأَسْوَدِ ثُمَّ رَمَلُوا حَتَّى بَلَغُوا الرُّكْنَ الْيَمَانِيَّ ثُمَّ مَشَوْا إِلَى الرُّكْنِ الأَسْوَدِ فَفَعَلَ ذَلِكَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ مَشَى الأَرْبَعَ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯৫৩। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) হুদাইবিয়ার বছরের পরবর্তী উমরা পালনকালীন সময়ে মক্কায় প্রবেশের প্রাক্কালে তাঁর সাহাবীগণকে বলেনঃ তোমাদের সম্প্রদায় আগামী কাল সতেজ ও চালাক-চতুর দেখতে পায়। তাঁরা মসজিদে প্রবেশ করে রুকন (পাথর) চুম্বন করেন এবং রামল করেন এবং নবী (ﷺ) ও তাদের সাথে ছিলেন। তারা রুকনে ইয়ামানীতে পৌঁছে হাজারুল আসওয়াদ পর্যন্ত স্বাভাবিক গতিতে অগ্রসর হন। তাঁরা পুনরায় রামল করে রুকনে ইয়ামানীতে পৌঁছান, অতঃপর রুকনুল আসওয়াদ পর্যন্ত স্বাভাবিক গতিতে চলেন। তাঁরা তিনবার রামল করেন ও চারবার স্বাভাবিক গতিতে হ্যাঁটেন।

ইযতিবার বর্ণনা

بَاب الِاضْطِبَاعِ

2954

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، وَقَبِيصَةُ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنِ ابْنِ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ أَبِيهِ، يَعْلَى أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ طَافَ مُضْطَبِعًا ‏.‏ قَالَ قَبِيصَةُ وَعَلَيْهِ بُرْدٌ ‏.‏

২৯৫৪। মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)........ ইয়া'লা ইবন উমাইয়্যা তাঁর পিতা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) ডান কাঁধ খোলা রেখে এবং বাম কাঁধের উপর চাদরের উভয় কোণা লটকিয়ে তাওয়াফ করেন। কারীসা বলেন, তাঁর শরীর মুবারকে ছিল একটি চাদর।

হাতীম ও তাওয়াফের অন্তর্ভুক্ত

بَاب الطَّوَافِ بِالْحِجْرِ

2955

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَنِ الْحِجْرِ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ هُوَ مِنَ الْبَيْتِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ مَا مَنَعَهُمْ أَنْ يُدْخِلُوهُ فِيهِ قَالَ ‏"‏ عَجَزَتْ بِهِمُ النَّفَقَةُ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ فَمَا شَأْنُ بَابِهِ مُرْتَفِعًا لاَ يُصْعَدُ إِلَيْهِ إِلاَّ بِسُلَّمٍ قَالَ ‏"‏ ذَلِكَ فِعْلُ قَوْمِكِ لِيُدْخِلُوهُ مَنْ شَاءُوا وَيَمْنَعُوهُ مَنْ شَاءُوا وَلَوْلاَ أَنَّ قَوْمَكِ حَدِيثُ عَهْدٍ بِكُفْرٍ مَخَافَةَ أَنْ تَنْفِرَ قُلُوبُهُمْ لَنَظَرْتُ هَلْ أُغَيِّرُهُ فَأُدْخِلَ فِيهِ مَا انْتَقَصَ مِنْهُ وَجَعَلْتُ بَابَهُ بِالأَرْضِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৫৫। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়রা (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট হিজর (হাতীম) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ তা বাইতুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত। আমি বললাম, তাকে কা'বার অন্তর্ভুক্ত করতে কোন জিনিস তাদের বাধা ছিল? তিনি বলেনঃ অর্থাভাব তাদের অপারগ করে দেয়। আমি বললামঃ তার দরজা উচ্চে স্থাপিত হওয়ার কারণ কি যে, তাতে সিঁড়ি ব্যতীত উঠা যায় না? তিনি বলেনঃ তা তোমার সম্প্রদায়ের কান্ড। তাদের মর্জি হলে কেউ তাতে প্রবেশ করতে পারত আর যাদের ইচ্ছা তাতে প্রবেশে বাধা দিত। তোমার সম্প্রদায়ের কুফরী পরিত্যাগের যুগ যদি অতি নিকটে না হত এবং (কা'বা ঘর ভাঙ্গার কারণে) তাদের মধ্যে বিতৃষ্ণার উদ্রেক হওয়ার আশংকা না থাকতো, তাহলে তুমি দেখতে পেতে--আমি কিভাবে তা পরিবর্তন করতাম! তা থেকে যা বাদ দেয়া হয়েছিল--আমি পুনরায় তা এর অন্তর্ভুক্ত করতাম এবং তার দরজা ভূমি বরাবর করে দিতাম।

তাওয়াফের ফযীলত

بَاب فَضْلِ الطَّوَافِ

2956

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفُضَيْلِ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ مَنْ طَافَ بِالْبَيْتِ وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَ كَعِتْقِ رَقَبَةٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯৫৬। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করল এবং দুই রাক'আত নামায পড়ল' তা একটি গোলাম আযাদ করার সমতুল্য।

2957

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ أَبِي سَوِيَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ هِشَامٍ، يَسْأَلُ عَطَاءَ بْنَ أَبِي رَبَاحٍ عَنِ الرُّكْنِ الْيَمَانِيِّ، وَهُوَ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ فَقَالَ عَطَاءٌ حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏"‏ وُكِلَ بِهِ سَبْعُونَ مَلَكًا فَمَنْ قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ - قَالُوا آمِينَ ‏"‏ ‏.‏ فَلَمَّا بَلَغَ الرُّكْنَ الأَسْوَدَ قَالَ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ مَا بَلَغَكَ فِي هَذَا الرُّكْنِ الأَسْوَدِ فَقَالَ عَطَاءٌ حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏"‏ مَنْ فَاوَضَهُ فَإِنَّمَا يُفَاوِضُ يَدَ الرَّحْمَنِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ لَهُ ابْنُ هِشَامٍ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ فَالطَّوَافُ قَالَ عَطَاءٌ حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏"‏ مَنْ طَافَ بِالْبَيْتِ سَبْعًا وَلاَ يَتَكَلَّمُ إِلاَّ بِسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَقُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ مُحِيَتْ عَنْهُ عَشْرُ سِيِّئَاتٍ وَكُتِبَتْ لَهُ عَشْرُ حَسَنَاتٍ وَرُفِعَ لَهُ بِهَا عَشْرُ دَرَجَاتٍ وَمَنْ طَافَ فَتَكَلَّمَ وَهُوَ فِي تِلْكَ الْحَالِ خَاضَ فِي الرَّحْمَةِ بِرِجْلَيْهِ كَخَائِضِ الْمَاءِ بِرِجْلَيْهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

২৯৫৭। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... হুমায়দ ইব্‌ন আবু সাবিয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি ইবন হিশামকে রুকনে ইয়ামানী সম্পর্কে আতা ইব্‌ন আবু রাবাহ-এর নিকট জিজ্ঞেস করতে শুনেছি। তিনি তখন বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করছেন। আতা বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ (রুকনে ইয়ামানীতে) সত্তরজন ফিরিশতা মোতায়েন রয়েছে। অতএব যে ব্যক্তি বলে--“আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল আফওয়া, ওয়াল আফিয়াতা ফি'দ দুনয়া ওয়াল্-আখিরাতে,

রাব্বানা আতিনা ফিদ’-দুনয়া হাসানাতান ওয়া-ফি’ল-আখিরাতে হাসানাতান ওয়াকিনা আযাবান-নার"--তখন ফিরিশতাগণ বলেনঃ আমীন। (অর্থঃ “ইয়া আল্লাহ! আপনার নিকট ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করি দুনিয়া আখিরাতের। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের দোযখের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন")।

আতা (রাহঃ) রুকনুল-আসওয়াদে (হাজারুল আসওয়াদ) পৌঁছলে ইব্‌ন হিশাম বলেন, হে আবু মুহাম্মাদ! এই রুকনুল আসওয়াদ সম্পর্কে আপনি কি জানতে পেরেছেন ? আতা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেনঃ “যে কেউ তার সামনা-সামনি হলো, সে যেন দয়াময় আল্লাহর হাতের সামনা-সামনি হলো।” ইব্‌ন হিশাম (রাহঃ) তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞেস করেন, হে আবু মুহাম্মাদ! তাওয়াফ সম্পর্কে কি এসেছে? আতা বলেনঃ আমার নিকট আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হাদীস বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেনঃ “যে ব্যক্তি সাতবার বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ করে এবং কোন কথা না বলে নিম্নোক্ত দোয়া পড়ে “সুবহানাল্লাহ্ ওয়াল-হামদুলিল্লাহ ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ্"- তার দশটি গুনাহ মুছে যাবে, তার জন্য দশটি নেকী লেখা হবে এবং তার মর্যাদা দশগুণ বর্ধিত করা হবে। আর যে ব্যক্তি তাওয়াফ করে এবং এ .অবস্থায় কথা বলে, সে তার পদদ্বয় কেবল রহমতের মধ্যে ডুবিয়ে রাখে; যেমন কারো পদদ্বয় পানিতে ডুবিয়ে রাখে।

তাওয়াফ শেষে দুই রাক্আত সালাত আদায় করা

بَاب الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الطَّوَافِ

2958

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ كَثِيرِ بْنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ أَبِي وَدَاعَةَ السَّهْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْمُطَّلِبِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا فَرَغَ مِنْ سَبْعِهِ جَاءَ حَتَّى يُحَاذِيَ بِالرُّكْنِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ فى حَاشِيَةِ الْمَطَافِ وَلَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الطُّوَّافِ أَحَدٌ ‏.‏ قَالَ ابْنُ مَاجَهْ هَذَا بِمَكَّةَ خَاصَّةً ‏.‏

Narrator: মুত্তালিব ইবনে আবু ওয়াদাআহ (রাঃ)

২৯৫৮। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).....মুত্তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে দেখেছি যে, তিনি সাত চক্কর তাওয়াফ শেষ করে হাজারুল আসওয়াদ বরাবর এলেন এবং মাতাফের প্রান্তে দুই রাক'আত সালাত আদায় করেন। তাঁর ও তাওয়াফের মাঝে আর কেউ ছিল না। ইমাম ইবন মাজা (রাহঃ) বলেন, এটা (সুতরাবিহীন অবস্থায় সালাত আদায় করা) কেবলমাত্র মক্কার জন্য নির্দিষ্ট।

2959

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ الْعَبْدِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَدِمَ فَطَافَ بِالْبَيْتِ سَبْعًا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ - قَالَ وَكِيعٌ يَعْنِي عِنْدَ الْمَقَامِ - ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّفَا ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯৫৯। আলী ইবন মুহাম্মাদ আমর ইবন আব্দুল্লাহ (রাহঃ)...... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মক্কায় পৌঁছে সাতবার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন ? অতঃপর দুই রাক'আত সালাত আদায় করেন। (ওয়াকী বলেন, অর্থাৎ মাকামে ইবরাহীমের নিকটে), এরপর তিনি সাফার দিকে রওয়ানা হন।

2960

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عُثْمَانَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّهُ قَالَ لَمَّا فَرَغَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مِنْ طَوَافِ الْبَيْتِ أَتَى مَقَامَ إِبْرَاهِيمَ فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا مَقَامُ أَبِينَا إِبْرَاهِيمَ الَّذِي قَالَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ ‏(وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى)‏ ‏.‏ قَالَ الْوَلِيدُ فَقُلْتُ لِمَالِكٍ هَكَذَا قَرَأَهَا ‏(وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى)‏ قَالَ نَعَمْ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৯৬০। আব্বাস ইবন উসমান দিমাশকী (রাহঃ)...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বায়তুল্লাহ তাওয়াফ শেষে মাকামে ইবরাহীমে এলেন। তখন উমার (রাযিঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! এতো আমাদের পিতা (পূর্ব পুরুষ) ইবরাহীম (আ)-এর স্থান- যে সম্পর্কে মহামহিম আল্লাহ বলেনঃ “তোমরা ইবরাহীমের দাঁড়াবার জায়গাকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর" (সূরা বাকারাঃ ১২৫)। ওয়ালীদ বলেন, আমি (ইমাম) মালিক (রাহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম- তিনি কি এভাবে পাঠ করেছেনঃ "ওয়াত্তাখিযূ মিম-মাকামি ইবরাহীমা মুসল্লা?" তিনি বলেন, হ্যাঁ।

অসুস্থ ব্যক্তির আরোহণ অবস্থায় তাওয়াফ

بَاب الْمَرِيضِ يَطُوفُ رَاكِبًا

2961

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ مَنْصُورٍ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ زَيْنَبَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّهَا مَرِضَتْ فَأَمَرَهَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ تَطُوفَ مِنْ وَرَاءِ النَّاسِ وَهِيَ رَاكِبَةٌ ‏.‏ قَالَتْ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُصَلِّي إِلَى الْبَيْتِ وَهُوَ يَقْرَأُ ‏(وَالطُّورِ * وَكِتَابٍ مَسْطُورٍ)‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ مَاجَهْ هَذَا حَدِيثُ أَبِي بَكْرٍ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২৯৬১। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রোগাক্রান্ত হলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে লোকদের পেছনে পেছনে আরোহিত অবস্থায় তাওয়াফ করার নির্দেশ দেন। উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে বায়তুল্লাহর দিকে ফিরে সালাত আদায় করতে দেখেছি এবং তাতে তিনি “ওয়াত-তূর ওয়া কিতাবিম মাসতূর" তিলাওয়াত করছেন। ইবন মাজা (রাহঃ) বলেন, এটা আবু বকর বর্ণিত হাদীস।

মুলতাযিম-এর বর্ণনা

بَاب الْمُلْتَزِمِ

2962

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ سَمِعْتُ الْمُثَنَّى بْنَ الصَّبَّاحِ، يَقُولُ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ طُفْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو فَلَمَّا فَرَغْنَا مِنَ السَّبْعِ رَكَعْنَا فِي دُبُرِ الْكَعْبَةِ فَقُلْتُ أَلاَ نَتَعَوَّذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ ‏.‏ قَالَ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ ‏.‏ قَالَ ثُمَّ مَضَى فَاسْتَلَمَ الرُّكْنَ ثُمَّ قَامَ بَيْنَ الْحَجَرِ وَالْبَابِ فَأَلْصَقَ صَدْرَهُ وَيَدَيْهِ وَخَدَّهُ إِلَيْهِ ثُمَّ قَالَ هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَفْعَلُ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৯৬২। মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)...... শু'আয়বের পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাযিঃ)-র সাথে তাওয়াফ করলাম। আমরা সাতবার তাওয়াফ শেষে কা'বার পশ্চাতে সালাত আদায় করলাম। আমি বললাম, আমরা কি আল্লাহর নিকট দোযখ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করব না? তিনি বলেন, আমি আল্লাহর নিকট দোযখ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করব না? তিনি বলেন, আমি আল্লাহর নিকট দোযখ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। রাবী বলেন, অতপর তিনি অগ্রসর হয়ে হাজারুল আসওয়াদ চুম্বন করেন। এরপর তিনি হাজরে আসওয়াদ ও দরজার মাঝ বরাবর দাঁড়ান, অতপর তার নিজের বুক, হস্তদ্বয় ও গাল তার সাথে লাগান এবং বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -কে এরূপ করতে দেখেছি।

ঋতুমতী মহিলা তাওয়াফ ব্যতীত হজ্জের অবশিষ্ট হুকুম পালন করবে

بَاب الْحَائِضِ تَقْضِي الْمَنَاسِكَ إِلَّا الطَّوَافَ

2963

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لاَ نَرَى إِلاَّ الْحَجَّ فَلَمَّا كُنَّا بِسَرِفَ أَوْ قَرِيبًا مِنْ سَرِفَ حِضْتُ فَدَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَنَا أَبْكِي فَقَالَ مَالَكِ أَنَفِسْتِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ إِنَّ هَذَا أَمْرٌ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَى بَنَاتِ آدَمَ فَاقْضِي الْمَنَاسِكَ كُلَّهَا غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوفِي بِالْبَيْتِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ وَضَحَّى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَنْ نِسَائِهِ بِالْبَقَرِ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৬৩। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর সাথে রওনা হলাম, আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল হজ্জ আদায় করা। আমরা যখন সারিফ নামক স্থানে অথবা তার কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছলাম তখন আমি ঋতুবতী হলাম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার নিকট এলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ “তোমার কি হয়েছে, তুমি কি ঋতুগ্রস্ত হয়েছ?” আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ “এটা এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ তা'আলা আদম-কন্যাদের জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। তুমি হজ্জের সমস্ত অনুষ্ঠান পালন কর, শুধুমাত্র বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবে না।" আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর বিবিদের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেন।

ইফরাদ হজ্জের বর্ণনা

بَاب الْإِفْرَادِ بِالْحَجِّ

2964

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَأَبُو مُصْعَبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَفْرَدَ الْحَجَّ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৬৪। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরফাদ হজ্জ করেছেন।

2965

حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ - وَكَانَ يَتِيمًا فِي حِجْرِ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ - عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَفْرَدَ الْحَجَّ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৬৫। আবু মুস'আব (রাহঃ)...... উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইফরাদ হজ্জ করেছেন।

2966

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ الدَّرَاوَرْدِيُّ، وَحَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَفْرَدَ الْحَجَّ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৯৬৬। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইফরাদ হজ্জ করেছেন।

2967

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعُمَرِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ أَفْرَدُوا الْحَجَّ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৯৬৭। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আবু বকর, উমার ও উসমান (রাযিঃ) ইফরাদ হজ্জ করেছেন। [১]

[১] হজ্জ তিন প্রকার। যথা- ইফাদ, কিরান ও তামাত্তো। শুধুমাত্র হজ্জের নিয়াতে ইহরাম বাঁধলে তাকে ইফরাদ হজ্জ বলে। এ ক্ষেত্রে হজ্জের যাবতীয় অনুষ্ঠান পালন করবে।
হজ্জ্বের মাসে প্রথমে উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধলে তাকে তামাত্তো হজ্জ বলে। এ ক্ষেত্রে মক্কায় পৌঁছে প্রথমে উমরা আদায় করবে। অতঃপর ইহরাম খুলে হজ্জের নিয়্যতে আবার ইহরাম বেঁধে হজ্জের অনুষ্ঠানাদি সমাধা করবে।
একই সাথে হজ্জ ও উমরার নিয়াতে ইহরাম বাঁধলে তাকে কিরান হজ্জ বলে। এক্ষেত্রে প্রথমে উমরা আদায়ের পর ইহরাম অবস্থায় থাকতে হবে, তারপর হজ্জের যাবতীয় হুকুম পালন করবে।

একই ইহরামের হজ্জ ও উমরা আদায় করা

بَاب مَنْ قَرَنَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ

2968

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِلَى مَكَّةَ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ ‏ "‏ لَبَّيْكَ عُمْرَةً وَحَجَّةً ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৯৬৮। নসর ইব্‌ন আলী জাহযামী (রাহঃ)...... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। আমি তাঁকে বলতে শুনেছিঃ “আমি উমরা ও হজ্জের উদ্দেশ্যে হাযির।”

2969

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ لَبَّيْكَ بِعُمْرَةٍ وَحَجَّةٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৯৬৯। নসর ইব্‌ন আলী (রাহঃ)...... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ “আমি উমরা ও হজ্জের উদ্দেশ্যে আপনার দরবারে হাযির।”

2970
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدَةَ بْنِ أَبِي لُبَابَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ، شَقِيقَ بْنَ سَلَمَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ الصُّبَىَّ بْنَ مَعْبَدٍ، يَقُولُ كُنْتُ رَجُلاً نَصْرَانِيًّا فَأَسْلَمْتُ فَأَهْلَلْتُ بِالْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَسَمِعَنِي سَلْمَانُ بْنُ رَبِيعَةَ وَزَيْدُ بْنُ صُوحَانَ وَأَنَا أُهِلُّ بِهِمَا جَمِيعًا بِالْقَادِسِيَّةِ فَقَالاَ لَهَذَا أَضَلُّ مِنْ بَعِيرِهِ فَكَأَنَّمَا حَمَلاَ عَلَىَّ جَبَلاً بِكَلِمَتِهِمَا فَقَدِمْتُ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَأَقْبَلَ عَلَيْهِمَا فَلاَمَهُمَا ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَىَّ فَقَالَ هُدِيتَ لِسُنَّةِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ هُدِيتَ لِسُنَّةِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏ قَالَ هِشَامٌ فِي حَدِيثِهِ قَالَ شَقِيقٌ فَكَثِيرًا مَا ذَهَبْتُ أَنَا وَمَسْرُوقٌ نَسْأَلُهُ عَنْهُ ‏.‏

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ وَخَالِي يَعْلَى قَالُوا حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنِ الصُّبَىِّ بْنِ مَعْبَدٍ، قَالَ كُنْتُ حَدِيثَ عَهْدٍ بِنَصْرَانِيَّةٍ فَأَسْلَمْتُ فَلَمْ آلُ أَنْ أَجْتَهِدَ، فَأَهْلَلْتُ بِالْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ ‏.‏ فَذَكَرَ نَحْوَهُ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

২৯৭০। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... সুবাই ইব্‌ন মা'বাদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি ছিলাম একজন নাসারা। অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করি। আমি হজ্জ ও উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধলাম। সালমান ইবন রা'বীআ ও যায়িদ ইবন সুহান উভয়ে আমাকে কাদিসিয়ায় হজ্জ ও উমরার একত্রে তালবিয়া পাঠ করতে শুনেন। তখন তাঁরা বলেন, এ ব্যক্তি তো তার উটের চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট। তাদের এই মন্তব্য যেন আমার বুকের উপর একটি পাহাড় নিক্ষেপ করল। অতএব আমি উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ)-র নিকট উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করলাম। তিনি তাদের উভয়কে লক্ষ্য করে তিরস্কার করলেন এবং আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি নবী (ﷺ) -এর সুন্নত পর্যন্ত পৌঁছে গেছ, তুমি নবী (ﷺ) -এর সুন্নত অনুযায়ী আমল করেছ। হিশাম (রাহঃ) তাঁর বর্ণিত হাদীসে বলেন, শাকীক বলেছেন, আমি ও মাসরূক অনেকবার (সুবাই ইবন মা'বাদের) নিকট গিয়েছি এবং এ হাদীস সম্পর্কে তাঁর নিকট জিজ্ঞাসা করেছি।

আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আস-সুবাই ইবন মা'বাদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুবক বয়সে আমি খ্রিস্টান ছিলাম, অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করি এবং ইবাদত-বন্দেগী করার চেষ্টা করি। অতএব আমি একই সময়ে হজ্জ ও উমরার জন্য ইহরাম বাঁধলাম। এরপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
2971

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو طَلْحَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَرَنَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯৭১। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু তালহা (রাযিঃ) আমাকে অবহিত করেন যে, “রাসূলুল্লাহ্ একই ইহরামে হজ্জ ও উমরা আদায় করেছেন।"

কিরান হজ্জ পালনকারীর তাওয়াফ

بَاب طَوَافِ الْقَارِنِ

2972

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَعْلَى بْنِ حَارِثٍ الْمُحَارِبِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَامِعٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ عَطَاءٍ، وَطَاوُسٍ، وَمُجَاهِدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، وَابْنِ، عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لَمْ يَطُفْ هُوَ وَأَصْحَابُهُ لِعُمْرَتِهِمْ وَحَجَّتِهِمْ حِينَ قَدِمُوا إِلاَّ طَوَافًا وَاحِدًا ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৯৭২। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়ের (রাহঃ)...... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ, ইবন উমার ও ইন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ মক্কায় পৌঁছে হজ্জ উমরা উভয়ের জন্য একবার (সাত চক্কর) মাত্র তাওয়াফ করেন।

2973

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْثَرُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ طَافَ لِلْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ طَوَافًا وَاحِدًا ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৯৭৩। হান্নাদ ইবন সারী (রাহঃ)...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) হজ্জ ও উমরার উদ্দেশ্যে এক তাওয়াফ করেন।

2974

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ الزَّنْجِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَدِمَ قَارِنًا فَطَافَ بِالْبَيْتِ سَبْعًا وَسَعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ قَالَ هَكَذَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯৭৪। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি কিরান হজ্জের ইহরাম বেঁধে (মক্কায়) আপমন করেন। তিনি সাতবার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন এবং সাফা ও মারওয়া মাঝে সায়ী করেন। অতঃপর তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এরূপ করেছেন।

2975

حَدَّثَنَا مُحْرِزُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَنْ أَحْرَمَ بِالْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ كَفَى لَهُمَا طَوَافٌ وَاحِدٌ وَلَمْ يَحِلَّ حَتَّى يَقْضِيَ حَجَّهُ وَيَحِلَّ مِنْهُمَا جَمِيعًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯৭৫। মুহরিন ইব্‌ন সালামা (রাহঃ)...... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি হজ্জ ও উমরার জন্য একত্রে ইহরাম বাঁধে- এতদুভয়ের জন্য এক তাওয়াফই যথেষ্ট। সে হজ্জের যাবতীয় অনুষ্ঠান সমাপ্ত না করা পর্যন্ত ইহরাম-মুক্ত হতে পারে না। সে হজ্জ ও উমরা থেকে একই সময় ইহুরাম মুক্ত হবে।

উমরা ও হজ্জসহ তামাত্তো হজ্জের বর্ণনা

بَاب التَّمَتُّعِ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ

2976

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُصْعَبٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، - يَعْنِي دُحَيْمًا - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ وَهُوَ بِالْعَقِيقِ ‏ "‏ أَتَانِي آتٍ مِنْ رَبِّي فَقَالَ صَلِّ فِي هَذَا الْوَادِي الْمُبَارَكِ وَقُلْ عُمْرَةٌ فِي حَجَّةٍ ‏"‏ ‏.‏ وَاللَّفْظُ لِدُحَيْمٍ ‏.‏

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২৯৭৬। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা ও আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম দিমাশকী (রাহঃ)...... উমার ইব্‌ন খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে আকীক নামক স্থানে অবস্থানকালে বলতে শুনেছিঃ আমার রবের তরফ থেকে আমার নিকট একজন দূত এসে বললেনঃ এ বরকতময় উপত্যকায় আপনি সালাত আদায় করুন। এবং বলুন উমরা হজ্জের মধ্যে।

2977

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكَ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنْ سُرَاقَةَ بْنِ جُعْشُمٍ، قَالَ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ خَطِيبًا فِي هَذَا الْوَادِي فَقَالَ ‏ "‏ أَلاَ إِنَّ الْعُمْرَةَ قَدْ دَخَلَتْ فِي الْحَجِّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: সুরাকা ইবনে মালিক ইবনে জু‘শুম (রাঃ)

২৯৭৭। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... সুরাকা ইবন জু'শুম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ভাষণদানের উদ্দেশ্যে এই উপত্যকায় দণ্ডায়মান হন এবং বলেনঃ জেনে রাখ! কিয়ামত পর্যন্ত হজ্জের সাথে উমরা আদায় করা যেতে পারে।

2978

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي الْعَلاَءِ، يَزِيدَ بْنِ الشِّخِّيرِ عَنْ أَخِيهِ، مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ قَالَ قَالَ لِي عِمْرَانُ بْنُ الْحُصَيْنِ إِنِّي أُحَدِّثُكَ حَدِيثًا لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَنْفَعَكَ بِهِ بَعْدَ الْيَوْمِ اعْلَمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَدْ أَعْمَرَ طَائِفَةً مِنْ أَهْلِهِ فِي الْعَشْرِ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ وَلَمْ يَنْهَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَلَمْ يَنْزِلْ نَسْخُهُ قَالَ فِي ذَلِكَ بَعْدُ رَجُلٌ بِرَأْيِهِ مَا شَاءَ أَنْ يَقُولَ ‏.‏

Narrator: মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ (রহঃ)

২৯৭৮। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ...... মুতারিফ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন শিখখীর (রাহঃ) বলেন, ইমরান ইব্‌ন হুসায়ন (রাযিঃ) আমাকে বললেন, নিশ্চয় আমি তোমার নিকট একটি হাদীস বর্ণনা করব। আশা করি আল্লাহ তা'আলা আজকের দিনের পর এ হাদীসের সাহায্যে তোমাকে উপকৃত করবেন। জেনে রাখ! রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর পরিবারের একদল সদস্য যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের মধ্যে উমরা আদায় করেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তা করতে নিষেধ করেননি এবং তা রহিতকারী কোন আয়াতও নাযিল হয়নি। কিন্তু পরবর্তীকালে এক ব্যক্তি (ইবন উমর) এ সম্পর্কে নিজ ইচ্ছামত যা বলার তাই বলেন।

2979

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ح وَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي قَالاَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي مُوسَى، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، أَنَّهُ كَانَ يُفْتِي بِالْمُتْعَةِ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ رُوَيْدَكَ بَعْضَ فُتْيَاكَ فَإِنَّكَ لاَ تَدْرِي مَا أَحْدَثَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ فِي النُّسُكِ بَعْدَكَ ‏.‏ حَتَّى لَقِيتُهُ بَعْدُ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ عُمَرُ قَدْ عَلِمْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَعَلَهُ وَأَصْحَابُهُ وَلَكِنِّي كَرِهْتُ أَنْ يَظَلُّوا بِهِنَّ مُعْرِسِينَ تَحْتَ الأَرَاكِ ثُمَّ يَرُوحُونَ بِالْحَجِّ تَقْطُرُ رُءُوسُهُمْ ‏.‏

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

২৯৭৯। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা ও মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও নসর ইবন আলী জাহযামী (রাহঃ)...... আবু মুসা আশা'আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তামাত্তো হজ্জের অনুকূলে ফাত্ওয়া দিতেন। এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, আপনি আপনার কিছু ফাত্ওয়া দেওয়া ছেড়ে দিন। কেননা, আপনার জানা নেই যে, আপনার পরে আমীরুল মু'মিনীন (উমার) হজ্জের ব্যাপারে নতুন হুকুম প্রদান করেছেন। অবশেষে আমি (আবু মুসা) তাঁর সাথে সাক্ষাত করলাম এবং বিষয়টি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন উমার (রাযিঃ) বললেনঃ আমি অবশ্যই জানি যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ তামাত্তো হজ্জ করেছেন। কিন্তু আমার নিকট এটা খুবই খারাপ লাগে যে, লোকেরা গাছের নীচে স্ত্রীদের সাথে সহবাস করবে, অতঃপর মাথার চুল থেকে পানি পতিত অবস্থায় হজ্জে যাবে।

হজ্জের ইহরাম ছেড়ে দেওয়া সম্পর্কে

بَاب فَسْخِ الْحَجِّ

2980

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أَهْلَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِالْحَجِّ خَالِصًا لاَ نَخْلِطُهُ بِعُمْرَةٍ فَقَدِمْنَا مَكَّةَ لأَرْبَعِ لَيَالٍ خَلَوْنَ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ فَلَمَّا طُفْنَا بِالْبَيْتِ وَسَعَيْنَا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ نَجْعَلَهَا عُمْرَةً وَأَنْ نَحِلَّ إِلَى النِّسَاءِ ‏.‏ فَقُلْنَا مَا بَيْنَنَا لَيْسَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ عَرَفَةَ إِلاَّ خَمْسٌ فَنَخْرُجُ إِلَيْهَا وَمَذَاكِيرُنَا تَقْطُرُ مَنِيًّا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِنِّي لأَبَرُّكُمْ وَأَصْدَقُكُمْ وَلَوْلاَ الْهَدْىُ لأَحْلَلْتُ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكٍ أَمُتْعَتُنَا هَذِهِ لِعَامِنَا هَذَا أَمْ لأَبَدٍ فَقَالَ ‏"‏ لاَ بَلْ لأَبَدِ الأَبَدِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৯৮০। আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম দিমাশকী (রাহঃ)...... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কেবলমাত্র হজ্জের নিয়্যতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে ইহরাম বাঁধলাম, এর সাথে উমরার নিয়্যত করিনি । যিলহজ্জ মাসের চার দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আমরা মক্কায় উপনীত হলাম। আমরা বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ সমাপ্ত করলে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করার নির্দেশ দেন এবং স্ত্রীদের সাথে মেলামেশার অনুমতি দেন। আমরা আরজ করলাম, আমাদের ও আরাফাতের দিনের মাঝে আর মাত্র পাঁচ দিন অবশিষ্ট আছে। আমরা আমাদের পুরুষাঙ্গ থেকে বীর্য নির্গত হওয়ার পরক্ষণেই আরাফাতের দিকে রওয়ানা করবো। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ “আমি তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক সৎকর্মশীল ও সর্বাধিক সত্যবাদী। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে আমিও ইহরাম খুলে ফেলতাম।" সুরাকা ইবন মালিক (রাযিঃ) বলেন, এ সুযোগ কি আমাদের এ বছরের জন্য না চিরকালের জন্য? তিনি বললেনঃ না, বরং চিরকালের জন্য।

2981

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لِخَمْسٍ بَقِينَ مِنْ ذِي الْقَعْدَةِ لاَ نُرَى إِلاَّ الْحَجَّ حَتَّى إِذَا قَدِمْنَا وَدَنَوْنَا أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ هَدْىٌ أَنْ يَحِلَّ فَحَلَّ النَّاسُ كُلُّهُمْ إِلاَّ مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْىٌ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ دُخِلَ عَلَيْنَا بِلَحْمِ بَقَرٍ فَقِيلَ ذَبَحَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَنْ أَزْوَاجِهِ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৮১। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ).....আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলকাদ মাসের পাঁচ দিন অবশিষ্ট থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যিলকাদ মাসের পাঁচ দিন অবশিষ্ট থাকতে আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে রওয়ানা হলাম। কেবলমাত্র হজ্জ করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা গন্তব্যে (মক্কায়) বা তার কাছাকাছি পৌঁছলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নির্দেশ দেন যে, “যার সাথে কুরবানীর পশু নেই সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে।" অতএব যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল তারা ব্যতীত আর সকলেই ইহরাম খুলে ফেলল। কুরবানীর দিন আমাদের জন্য গরুর গোশত নিয়ে আসা হল এবং বলা হল, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর বিবিদের পক্ষ থেকে কুরবানী করেছেন।

2982

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَصْحَابُهُ فَأَحْرَمْنَا بِالْحَجِّ فَلَمَّا قَدِمْنَا مَكَّةَ قَالَ ‏"‏ اجْعَلُوا حَجَّكُمْ عُمْرَةً ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ النَّاسُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ أَحْرَمْنَا بِالْحَجِّ فَكَيْفَ نَجْعَلُهَا عُمْرَةً قَالَ ‏"‏ انْظُرُوا مَا آمُرُكُمْ بِهِ فَافْعَلُوا ‏"‏ ‏.‏ فَرَدُّوا عَلَيْهِ الْقَوْلَ فَغَضِبَ فَانْطَلَقَ حَتَّى دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ غَضْبَانَ فَرَأَتِ الْغَضَبَ فِي وَجْهِهِ فَقَالَتْ مَنْ أَغْضَبَكَ أَغْضَبَهُ اللَّهُ قَالَ ‏"‏ وَمَالِي لاَ أَغْضَبُ وَأَنَا آمُرُ أَمْرًا فَلاَ أُتْبَعُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

২৯৮২। মুহাম্মাদ ইব্‌ন সাব্বাহ (রাহঃ)...আল-বারা'আ ইব্‌ন আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ রওয়ানা হলেন, আমরা হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। আমরা মক্কায় পৌঁছলে তিনি বললেনঃ “তোমাদের হজ্জ উমরায় পরিণত কর।" লোকেরা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আমরা তো হজ্জের নিয়্যতে ইহরাম বেঁধেছি, তা কিভাবে উমরায় পরিবর্তন করব? তিনি বললেনঃ লক্ষ্য কর, আমি তোমাদের কিসের নির্দেশ দেই, অতএব তা কর। তারা তাঁর সামনে নিজেদের কথার পুনরাবৃত্তি করলে তিনি অসন্তুষ্ট হয়ে স্থান ত্যাগ করেন এবং এই অবস্থায় আয়েশা (রাযিঃ)-এর নিকট যান। তিনি তাঁর চেহারায় অসন্তোষের ছাপ দেখে বলেন, আপনাকে অসন্তোষ্ট করেছে, আল্লাহ তাকে অসন্তুষ্ট করুন? তিনি বলেন, আমি কিভাবে অসন্তুষ্ট না হয়ে পারি, আমি কোন কাজের হুকুম দিলে অনুসরণ করা হবে না?

2983

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ أَبُو بِشْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي مَنْصُورُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أُمِّهِ، صَفِيَّةَ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مُحْرِمِينَ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْىٌ فَلْيُقِمْ عَلَى إِحْرَامِهِ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ هَدْىٌ فَلْيَحْلِلْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ وَلَمْ يَكُنْ مَعِي هَدْىٌ فَأَحْلَلْتُ وَكَانَ مَعَ الزُّبَيْرِ هَدْىٌ فَلَمْ يَحِلَّ فَلَبِسْتُ ثِيَابِي وَجِئْتُ إِلَى الزُّبَيْرِ فَقَالَ قُومِي عَنِّي ‏.‏ فَقُلْتُ أَتَخْشَى أَنْ أَثِبَ عَلَيْكَ ‏.‏

Narrator: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

২৯৮৩। বাকর ইবন খালাফ আবু বিশর (রাহঃ)...... আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর সাথে রওয়ানা হলাম। তখন নবী (ﷺ)বললেনঃ “যাদের সাথে কুরবানীর পশু আছে তারা যেন ইহরাম অবস্থায় থাকে। আর যাদের সাথে কুরবানীর পশু নেই তারা যেন ইহরাম ছেড়ে দেয়।” রাবী বলেন, আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকায় আমিও ইহরাম মুক্ত হলাম। কিন্তু (আমার স্বামী) যুবায়র (রাযিঃ)-র সাথে কুরবানীর পশু থাকায় তিনি তিনি ইহরামমুক্ত হতে পারেননি। আমি আমার পরিধেয় বস্ত্র পরে যুবায়র (রাযিঃ)-র নিকট আসলে তিনি বললেন, তুমি আমার নিকট থেকে উঠে যাও। আমি বললাম, আপনি কি আশংকা করছেন যে, আমি আপনার উপর ঝাপিয়ে পড়ব?

যে বলে, বিশেষ কারণে হজ্জের ইহরাম ছেড়ে দেওয়া

بَاب مَنْ قَالَ كَانَ فَسْخُ الْحَجِّ لَهُمْ خَاصَّةً

2984

حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ بِلاَلِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ فَسْخَ الْحَجِّ فِي الْعُمْرَةِ لَنَا خَاصَّةً أَمْ لِلنَّاسِ عَامَّةً فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ بَلْ لَنَا خَاصَّةً ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিলাল ইবনে হারিস (রাঃ)

২৯৮৪। আবু মুস'আব...... বিলাল ইবন হারিস (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! হজ্জের ইহরাম ছেড়ে দিয়ে উমরা করা কি কেবলমাত্র আমাদের জন্যই নির্দিষ্ট, না সাধারণভাবে সবলোকের জন্য ? তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ “বরং আমাদের জন্যই নির্দিষ্ট।"

2985

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ كَانَتِ الْمُتْعَةُ فِي الْحَجِّ لأَصْحَابِ مُحَمَّدٍ ـ صلى الله عليه وسلم ـ خَاصَّةً ‏.‏

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২৯৮৫। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আবু যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজ্জের ইহরাম ভঙ্গ করার সুযোগ মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবীগণের জন্য নির্দিষ্ট ছিল।

সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করা

بَاب السَّعْيِ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ

2986

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ، قُلْتُ لِعَائِشَةَ مَا أَرَى عَلَىَّ جُنَاحًا أَنْ لاَ أَطَّوَّفَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ‏.‏ قَالَتْ إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ ‏(إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا)‏ وَلَوْ كَانَ كَمَا تَقُولُ لَكَانَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ لاَ يَطَّوَّفَ بِهِمَا ‏.‏ إِنَّمَا أُنْزِلَ هَذَا فِي نَاسٍ مِنَ الأَنْصَارِ كَانُوا إِذَا أَهَلُّوا أَهَلُّوا لِمَنَاةَ فَلاَ يَحِلُّ لَهُمْ أَنْ يَطَّوَّفُوا بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَلَمَّا قَدِمُوا مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي الْحَجِّ ذَكَرُوا ذَلِكَ لَهُ فَأَنْزَلَهَا اللَّهُ فَلَعَمْرِي مَا أَتَمَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ حَجَّ مَنْ لَمْ يَطُفْ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ‏.‏

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

২৯৮৬। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা...... হিশাম ইব্‌ন উরওয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে অবহিত করে বলেছেন, আমি আয়েশা (রাযিঃ)-কে বললাম, আমি যদি সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ না করি তবে তা আমার জন্য দূষণীয় মনে করি না। তিনি বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ বলেছেনঃ “সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কেউ কা'বা ঘরের হজ্জ কিংবা উমরা সম্পন্ন করে- এ দু'টির মাঝে সাঈ করাতে কোন গুনাহ নেই” (সূরা বাকারাঃ ১৫৮)। তুমি যেরূপ বুঝেছ- যদি তাই হত তবে এভাবে বলা হতঃ “তবে এ দু'টির মাঝে সাঈ মা করলে তার কোন গুণাহ নেই।" উপরোক্ত আনসার সম্প্রদায়ের কতিপয় লোকের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। তারা যখন ইহরাম বাঁধত (ইসলাম পূর্ব যুগে)- মানাত দেবতার উদ্দেশ্যে তা বাঁধত। তাই সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করা (তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী) বৈধ ছিল না। তারা (ইসলামোত্তর যুগে) নবী (ﷺ)-এর সাথে হজ্জ করতে এসে বিষয়টি তাঁর সামনে উল্লেখ করলে, তখন আল্লাহ তা'আলা উপরোক্ত আয়াত নাযিল করেন। (আয়েশা (রাযিঃ) বলেন) আমার জীবনের শপথ! যে ব্যক্তি হজ্জ করতে এসে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করবে না মহান আল্লাহ তার হজ্জ পূর্ণ করবেন না।

2987

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ، عَنْ بُدَيْلِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، عَنْ أُمِّ وَلَدِ، شَيْبَةَ قَالَتْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَسْعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَهُوَ يَقُولُ ‏ "‏ لاَ يُقْطَعُ الأَبْطَحُ إِلاَّ شَدًّا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

২৯৮৭। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... শায়বার উম্মে ওয়ালাদ সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করতে দেখেছি এবং তিনি তখন বলছিলেনঃ আবতাহ্-কে দৌড়ে অতিক্রম করতে হবে।

2988

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ جُمْهَانَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ إِنْ أَسْعَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَسْعَى وَإِنْ أَمْشِ فَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَمْشِي وَأَنَا شَيْخٌ كَبِيرٌ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯৮৮। আলী ইবন মুহাম্মাদ ও আমর ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (রাহঃ)...... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যদি সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করি, (তা এ জন্য যে,) আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে সাঈ করতে দেখেছি। আমি যদি তা হেঁটে অতিক্রম করি, (তা এজন্য যে,) আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে তা হেঁটে করতে দেখেছি। আর আমি তো একজন বয়োঃবৃদ্ধ।

উমরার বর্ণনা

بَاب الْعُمْرَةِ

2989

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ يَحْيَى الْخُشَنِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ قَيْسٍ، أَخْبَرَنِي طَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ عَمِّهِ، إِسْحَاقَ بْنِ طَلْحَةَ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ الْحَجُّ جِهَادٌ وَالْعُمْرَةُ تَطَوُّعٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাঃ)

২৯৮৯। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)....... তালহা ইব্‌ন উবায়দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেনঃ হজ্জ হচ্ছে-জিহাদ, আর উমরা হচ্ছে নফল।

2990

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا يَعْلَى، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى، يَقُولُ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ حِينَ اعْتَمَرَ فَطَافَ وَطُفْنَا مَعَهُ وَصَلَّى وَصَلَّيْنَا مَعَهُ وَكُنَّا نَسْتُرُهُ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ لاَ يُصِيبُهُ أَحَدٌ بِشَىْءٍ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

২৯৯০। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আবু আওফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। তিনি উমরা করাকালীন (বাইতুল্লাহ) তাওয়াফ করেন, আমরাও তাঁর সাথে তাওয়াফ করি, তিনি সালাত আদায় করেন এবং আমরাও তাঁর সাথে সালাত আদায় করলাম। আমরা তাঁকে মক্কাবাসীদের থেকে আড়াল করে রাখতাম যাতে কেউ তাঁর কোন ক্ষতি সাধনের সুযোগ না পায়।

রমযান মাসে উমরা করার বর্ণনা

بَاب الْعُمْرَةِ فِي رَمَضَانَ

2991

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ بَيَانٍ، وَجَابِرٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ وَهْبِ بْنِ خَنْبَشٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ عُمْرَةٌ فِي رَمَضَانَ تَعْدِلُ حِجَّةً ‏"‏ ‏.‏

Narrator: ওয়াহব ইবনে খানবাশ (রাঃ)

২৯৯১। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... ওয়াহব ইব্‌ন খানবাশ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ রমযান মাসের উমরা (সাওয়াবের ক্ষেত্রে) হজ্জের সমতুল্য।

2992

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، جَمِيعًا عَنْ دَاوُدَ بْنِ يَزِيدَ الزَّعَافِرِيِّ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ هَرِمِ بْنِ خَنْبَشٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ عُمْرَةٌ فِي رَمَضَانَ تَعْدِلُ حِجَّةً ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হারিম ইবনে খানবাশ ((রাঃ)

২৯৯২। মুহাম্মাদ ইব্‌ন সাব্বাহ্, আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ ও আমর ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (রাহঃ)...... হারিম ইন খানবাশ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ রমযান মাসের উমরা হজ্জের সমতূল্য।

2993

حَدَّثَنَا جُبَارَةُ بْنُ الْمُغَلِّسِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي مَعْقِلٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ عُمْرَةٌ فِي رَمَضَانَ تَعْدِلُ حِجَّةً ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আবু মা'কিল (রাঃ)

২৯৯৩। জুবারা ইব্‌ন মুগাল্লিস (রাহঃ)...... আবু মা'কিল (রাযিঃ) সূত্রে মহানবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রমযান মাসের একটি উমরা একটি হজ্জের সমতুল্য।

2994

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ عُمْرَةٌ فِي رَمَضَانَ تَعْدِلُ حِجَّةً ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯৯৪। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ রমযানের একটি উমরা একটি হজ্জের সমতুল্য।

2995

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ وَاقِدٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ عُمْرَةٌ فِي رَمَضَانَ تَعْدِلُ حِجَّةً ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৯৯৫। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ রমযান মাসের উমরা হজ্জের সমতুল্য।

যিলকাদ মাসের উমরা

بَاب الْعُمْرَةِ فِي ذِي الْقَعْدَةِ

2996

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمْ يَعْتَمِرْ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِلاَّ فِي ذِي الْقَعْدَةِ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯৯৬। উসমান ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কেবল যিলূকাদ মাসেই উমরা করেছেন।

2997

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمْ يَعْتَمِرْ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عُمْرَةً إِلاَّ فِي ذِي الْقَعْدَةِ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯৯৭। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)..... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যিল্‌কাদ মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে উমরা করেননি।

রজব মাসের উমরা

بَاب الْعُمْرَةِ فِي رَجَبٍ

2998

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي ثَابِتٍ - عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ سُئِلَ ابْنُ عُمَرَ فِي أَىِّ شَهْرٍ اعْتَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ فِي رَجَبٍ ‏.‏ فَقَالَتْ عَائِشَةُ مَا اعْتَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي رَجَبٍ قَطُّ وَمَا اعْتَمَرَ إِلاَّ وَهُوَ مَعَهُ - تَعْنِي ابْنَ عُمَرَ ‏.‏

Narrator: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

২৯৯৮। আবু কুরায়ব (রাহঃ)...... উরওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার (রাযিঃ)-র নিকট জিজ্ঞাসা করা হল যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কোন মাসে উমরা করেছেন? তিনি বলেন, রজব মাসে। তখন আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কখনও রজব মাসে উমরা করেননি। আর তিনি যখনই উমরা করেছেন। ইবন উমার (রাযিঃ) তাঁর সাথে ছিলেন (কিন্তু তিনি ভুলে রজব মাস বলেছেন)।[১]

[১] বিভিন্ন রিওয়ায়েতে চারটি উমরার কথা উল্লেখ আছে, প্রতিটিই যিলকাদ মাসে ১০ম হিজরীতে হজ্জের সাথের উমরা নবী (ﷺ) কেবল যিলহজ্জ মাসে করেছেন। হুদায়বিয়ার উমরা (৬ষ্ঠ হিজরী), পরবর্তী বছরের (৭ম হিজরী) উমরাতুল কাযা ও জি'রানা থেকে হুনাইনের যুদ্ধের পর (৮ম হিজরী)-(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, মুসনাদে আহমাদ)। ১০ম হিজারীর উমরাকে এজন্য যিলকাদ মাসে অনুষ্ঠিত গণ্য করা হয়েছে যে, নবী (ﷺ) যিলকাদ মাসের ২৪ অথবা ২৫ তারিখে ইহরাম বেঁধে মদীনা থেকে রওয়ানা হন।

তানঈম নামক স্থান থেকে উমরা করা

بَاب الْعُمْرَةِ مِنْ التَّنْعِيمِ

2999

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو إِسْحَاقَ الشَّافِعِيُّ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ شَافِعٍ قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ أَوْسٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَمَرَهُ أَنْ يُرْدِفَ عَائِشَةَ فَيُعْمِرَهَا مِنَ التَّنْعِيمِ ‏.‏

Narrator: আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রাঃ)

২৯৯৯। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা আবু ইসহাক শাফী (রাহঃ)...... আব্দুর রহমান ইবন আবু বাকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তাঁকে নির্দেশ দেন যে, তিনি যেন আয়েশা (রাযিঃ)-কে নিজের বাহনে করে নিয়ে যান এবং তাঁকে তানঈম নামক স্থান থেকে উমরা করার ব্যবস্থা করেন।

3000

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي حِجَّةِ الْوَدَاعِ نُوَافِي هِلاَلَ ذِي الْحِجَّةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ مَنْ أَرَادَ مِنْكُمْ أَنْ يُهِلَّ بِعُمْرَةٍ فَلْيُهْلِلْ فَلَوْلاَ أَنِّي أَهْدَيْتُ لأَهْلَلْتُ بِعُمْرَةٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ فَكَانَ مِنَ الْقَوْمِ مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ وَمِنْهُمْ مَنْ أَهَلَّ بِحَجٍّ فَكُنْتُ أَنَا مِمَّنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ ‏.‏ قَالَتْ فَخَرَجْنَا حَتَّى قَدِمْنَا مَكَّةَ فَأَدْرَكَنِي يَوْمُ عَرَفَةَ وَأَنَا حَائِضٌ لَمْ أَحِلَّ مِنْ عُمْرَتِي فَشَكَوْتُ ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏"‏ دَعِي عُمْرَتَكِ وَانْقُضِي رَأْسَكِ وَامْتَشِطِي وَأَهِلِّي بِالْحَجِّ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ فَفَعَلْتُ فَلَمَّا كَانَتْ لَيْلَةُ الْحَصْبَةِ وَقَدْ قَضَى اللَّهُ حَجَّنَا أَرْسَلَ مَعِي عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ فَأَرْدَفَنِي وَخَرَجَ إِلَى التَّنْعِيمِ فَأَهْلَلْتُ بِعُمْرَةٍ فَقَضَى اللَّهُ حَجَّنَا وَعُمْرَتَنَا وَلَمْ يَكُنْ فِي ذَلِكَ هَدْىٌ وَلاَ صَدَقَةٌ وَلاَ صَوْمٌ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০০০। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে বিদায় হজ্জে রওনা হলাম, যিলহজ্জ মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার কাছাকাছি সময়ে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উমরার উদ্দেশ্যে ইরাম বাঁধতে চায়, সে তা করতে পারে। আমি যদি সাথে কুরবানীর পশু না আনতাম তবে অবশ্যই উমরার ইহরাম বাঁধতাম। আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, যাত্রীদলের কতেকে উমরার উদ্দেশ্যে আর কতেকে হজ্জের উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধল। যারা উমরার নিয়্যতে ইহরাম বাঁধল আমি তাদের দলভুক্ত ছিলাম। তিনি আরো বলেনঃ আমরা রওয়ানা হয়ে মক্কায় পৌঁছলাম। আরাফাত দিবস নিকটবর্তী হলে আমি ঋতুমতী হলাম এবং তখনও উমরার ইহরাম খুলিনি। এ ব্যাপারে আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট অভিযোগ করলাম। তখন তিনি বললেনঃ “তুমি উমরা পরিত্যাগ কর, মাথার চুল খুলে ফেল, তাতে চিরুনী কর এবং হজ্জের ইহরাম বাঁধ।” আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, আমি তাই করলাম। যখন হাসবার রাত যিলহাজ্জ মাসের (১২তম রাত) এলো এবং আল্লাহ তা'আলা আমাদের হজ্জ পূর্ণ করলেন। (নবী (ﷺ)) আমার সাথে (আমার ভাই) আব্দুর রহমান ইব্‌ন আবু বকর (রাযিঃ)-কে পাঠালেন। তখন তিনি আমাকে তাঁর উটের পিঠে পেছন দিকে তুলে নিয়ে তানঈম রওনা হলেন। সেখানে আমি উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধলাম। এভাবে আল্লাহ তা'আলা আমাদের হজ্জ ও উমরা পূর্ণ করে দিলেন এবং এজন্য আমাদের উপর না কুরবানী, না সাদাকা, আর না রোযা বাধ্যতামূলক হয়েছে।

যে ব্যক্তি বাইতুল মুকাদ্দাস থেকে উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধে

بَاب مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ

3001

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ سُحَيْمٍ، عَنْ أُمِّ حَكِيمٍ بِنْتِ أُمَيَّةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ غُفِرَ لَهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৩০০১। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধে, তাকে ক্ষমা করা হবে।

3002

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ أُمِّهِ أُمِّ حَكِيمٍ بِنْتِ أُمَيَّةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ كَانَتْ لَهُ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوبِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ فَخَرَجْتُ - أَىْ مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ - بِعُمْرَةٍ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৩০০২। মুহাম্মাদ ইব্‌ন মুসাফ্ফা হিমসী (রাহঃ)......নবী (ﷺ)-এর বিবি উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বাঁধে তা তার পূর্বেকার সমস্ত গুনাহ্ কাফ্ফারা হবে। উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেন, অতএব আমি বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে উমরার উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।

নবী (ﷺ) কতটি উমরা করেছেন ?

بَاب كَمْ اعْتَمَرَ النَّبِيُّ ﷺ

3003

حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الشَّافِعِيُّ، إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ اعْتَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَرْبَعَ عُمَرٍ عُمْرَةَ الْحُدَيْبِيَةِ وَعُمْرَةَ الْقَضَاءِ مِنْ قَابِلٍ وَالثَّالِثَةَ مِنَ الْجِعْرَانَةِ وَالرَّابِعَةَ الَّتِي مَعَ حَجَّتِهِ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০০৩। আবু ইসহাক শাফিঈ ইবরাহীম ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).…...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) চারবার উমরা করেছেনঃ হুদায়বিয়ার উমরা, পরবর্তী বছরের কাযা উমরা, তৃতীয়টি জি'রানা থেকে এবং চতুর্থটি তাঁর বিদায় হজ্জের সাথে কৃত।

মিনার উদ্দেশ্যে বের হওয়া

بَاب الْخُرُوجِ إِلَى مِنًى

3004

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ صَلَّى بِمِنًى يَوْمَ التَّرْوِيَةِ الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ وَالْفَجْرَ ثُمَّ غَدَا إِلَى عَرَفَةَ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০০৪। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তারবিয়ার দিন মিনায় যুহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজরের সালাত আদায় করেন। এরপর সকাল বেলা আরাফাতে চলে যান।

3005

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ بِمِنًى ثُمَّ يُخْبِرُهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩০০৫। মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)...... ইব্‌ন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতেন। অতপর তিনি সঙ্গীদের অবহিত করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও তাই করতেন।

মিনায় অবতরণ

بَاب النُّزُولِ بِمِنًى

3006

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ نَبْنِي لَكَ بِمِنًى بَيْتًا قَالَ ‏ "‏ لاَ مِنًى مُنَاخُ مَنْ سَبَقَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০০৬। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম- হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আপনার জন্য মিনায় একটি ঘর বানিয়ে দেব না ? তিনি বললেনঃ না, যারা আগে পৌঁছে যাবে মিনা তাদের ঠিকানা।

3007

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ أُمِّهِ، مُسَيْكَةَ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ نَبْنِي لَكَ بِمِنًى بُنْيَانًا يُظِلُّكَ قَالَ ‏ "‏ لاَ مِنًى مُنَاخُ مَنْ سَبَقَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০০৭। আলী ইবন মুহাম্মাদ ও আমর ইবন আব্দুল্লাহ (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললাম- হে আল্লাহর রাসূল। আমরা কি মিনায় আপনার জন্য একটি ঘর বানাব না, যা আপনাকে ছায়া দান করবে? তিনি বললেনঃ না, মিনায় যারা আগে পৌঁছবে, তা তাদের ঠিকানা।

ভোরবেলা মিনা থেকে আরাফাতে যাওয়া

بَاب الْغُدُوِّ مِنْ مِنًى إِلَى عَرَفَاتٍ

3008

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْعَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ غَدَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي هَذَا الْيَوْمِ مِنْ مِنًى إِلَى عَرَفَةَ فَمِنَّا مَنْ يُكَبِّرُ وَمِنَّا مَنْ يُهِلُّ فَلَمْ يَعِبْ هَذَا عَلَى هَذَا وَلاَ هَذَا عَلَى هَذَا - وَرُبَّمَا قَالَ هَؤُلاَءِ عَلَى هَؤُلاَءِ وَلاَ هَؤُلاَءِ عَلَى هَؤُلاَءِ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩০০৮। মুহাম্মাদ ইবন আবু উমার আদানী (রাহঃ)...... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এই দিনির (৯ যিলহজ্জ) ভোরেই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর সাথে মিনা থেকে আরাফাতে গিয়েছিলাম। আমাদের মধ্যে কতেকে তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করত, আর কতেকে তাহলীল (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্) উচ্চারণ করত। দুই দলের কেউই সে জন্য পরস্পরের উপর দোষারোপ করেনি। অথবা তিনি একথা বলেছেন যে, না একদল দ্বিতীয় দলের ত্রুটি নির্দেশ করেছে, না দ্বিতীয় দল প্রথমোক্তদের ত্রুটি ধরেছে।

আরাফাতে অবতরনের স্থান

3009

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، أَنْبَأَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ الْجُمَحِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ حَسَّانَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَنْزِلُ بِعَرَفَةَ فِي وَادِي نَمِرَةَ ‏.‏ قَالَ فَلَمَّا قَتَلَ الْحَجَّاجُ ابْنَ الزُّبَيْرِ أَرْسَلَ إِلَى ابْنِ عُمَرَ أَىَّ سَاعَةٍ كَانَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَرُوحُ فِي هَذَا الْيَوْمِ قَالَ إِذَا كَانَ ذَلِكَ رُحْنَا ‏.‏ فَأَرْسَلَ الْحَجَّاجُ رَجُلاً يَنْظُرُ إِلَى سَاعَةِ يَرْتَحِلُ ‏.‏ فَلَمَّا أَرَادَ ابْنُ عُمَرَ أَنْ يَرْتَحِلَ قَالَ أَزَاغَتِ الشَّمْسُ قَالُوا لَمْ تَزِغْ بَعْدُ ‏.‏ فَجَلَسَ ثُمَّ قَالَ أَزَاغَتِ الشَّمْسُ قَالُوا لَمْ تَزِغْ بَعْدُ ‏.‏ فَجَلَسَ ثُمَّ قَالَ أَزَاغَتِ الشَّمْسُ قَالُوا لَمْ تَزِغْ بَعْدُ ‏.‏ فَجَلَسَ ثُمَّ قَالَ أَزَاغَتِ الشَّمْسُ قَالُوا نَعَمْ ‏.‏ فَلَمَّا قَالُوا قَدْ زَاغَتِ ارْتَحَلَ ‏.‏ قَالَ وَكِيعٌ يَعْنِي رَاحَ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩০০৯। আলী ইবন মুহাম্মাদ আমর ইবন আব্দুল্লাহ (রাহঃ)...... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আরাফাতের ময়দানে ‘নামিরাহ্' উপত্যকায় অবতরণ করতেন। রাবী বলেন, হাজ্জাজ যখন ইবন যুবায়র (রাযিঃ)-কে হত্যা করে, তারপর ইবন উমার (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞেস করে পাঠায় যে, এই দিনে কোন সময়ে নবী (ﷺ) বের হতেন? তিনি বললেনঃ সেই সময় উপস্থিত হলে স্বয়ং আমরাই রওয়ানা হব। অতএব তিনি কখন বের হন তা লক্ষ্য করার জন্য হাজ্জাজ একটি লোক পাঠায়। ইব্‌ন উমার (রাযিঃ) যখন রওয়ানা হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন জিজ্ঞেস করলেন, সূর্য কি ঢলে পড়েছে? লোকেরা বলল, এখনও ঢলেনি। তিনি বসে রইলেন, এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, সূর্য কি ঢলে পড়েছে? তারা বলল, এখনও ঢলেনি। কিছুক্ষণ বসে থাকার পর তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, সূর্য কি ঢলেছে? তারা বলল, এখনও ঢলেনি। কিছুক্ষণ বসে থেকে তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, সূর্য কি ঢলে পড়েছে? তারা বলল, হ্যাঁ। তারা যখন বলল, সূর্য ঢলেছে তখন তিনি রওয়ানা হলেন।

আরাফাতে অবস্থান স্থল

بَاب الْمَوْقِفِ بِعَرَفَاتٍ

3010

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ وَقَفَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِعَرَفَةَ فَقَالَ ‏ "‏ هَذَا الْمَوْقِفُ وَعَرَفَةُ كُلُّهَا مَوْقِفٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩০১০। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আরাফাতে অবস্থান করেন এবং বলেনঃ এটাই অবস্থানস্থল, গোটা আরাফাতই অবস্থানস্থল।

3011

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَفْوَانَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ شَيْبَانَ، قَالَ كُنَّا وُقُوفًا فِي مَكَانٍ تُبَاعِدُهُ مِنَ الْمَوْقِفِ فَأَتَانَا ابْنُ مِرْبَعٍ فَقَالَ إِنِّي رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِلَيْكُمْ يَقُولُ ‏ "‏ كُونُوا عَلَى مَشَاعِرِكُمْ فَإِنَّكُمُ الْيَوْمَ عَلَى إِرْثٍ مِنْ إِرْثِ إِبْرَاهِيمَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: ইয়াযীদ ইবনে শায়বান ↦ ইবনুল মিরবা' (রাঃ)

৩০১১। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... ইয়াযীদ ইব্‌ন শায়বান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা এক স্থানে অবস্থানরত ছিলাম, কিন্তু আরাফাত থেকে তা দূরে মনে হল। ইতিমধ্যে ইব্‌ন মিরবা (রাযিঃ) আমাদের নিকট আসেন এবং বলেন, আমি তোমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর দূত হিসেবে এসেছি। তিনি বলেনঃ তোমরা নিজ নিজ স্থানে অবস্থান কর। কারণ তোমরা আজকে ইবরাহীম (রাযিঃ)-এর উত্তরসূরী।

3012

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعُمَرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ كُلُّ عَرَفَةَ مَوْقِفٌ وَارْفَعُوا عَنْ بَطْنِ عُرَنَةَ وَكُلُّ الْمُزْدَلِفَةِ مَوْقِفٌ وَارْفَعُوا عَنْ بَطْنِ مُحَسِّرٍ وَكُلُّ مِنًى مَنْحَرٌ إِلاَّ مَا وَرَاءَ الْعَقَبَةِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩০১২। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ সমস্ত আরাফাতই অবস্থানস্থল, বাতনে আরাফাত থেকে উঠে যাও। গোটা মুযদালিফাই অবস্থানস্থল এবং বাতনে মুহাসসির থেকে উঠে যাও। (সেখানে অবস্থান কর না।)। সমস্ত মিনাই কুরবানীর স্থান, কিন্তু জামরাতুল আকাবার পশ্চদভাগ নয়।

আরাফাতের দু'আ

بَاب الدُّعَاءِ بِعَرَفَةَ

3013

حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَاشِمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْقَاهِرِ بْنُ السَّرِيِّ السُّلَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ كِنَانَةَ بْنِ عَبَّاسِ بْنِ مِرْدَاسٍ السُّلَمِيُّ، أَنَّ أَبَاهُ، أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ دَعَا لأُمَّتِهِ عَشِيَّةَ عَرَفَةَ بِالْمَغْفِرَةِ فَأُجِيبَ إِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُمْ مَا خَلاَ الظَّالِمَ فَإِنِّي آخُذُ لِلْمَظْلُومِ مِنْهُ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَىْ رَبِّ إِنْ شِئْتَ أَعْطَيْتَ الْمَظْلُومَ مِنَ الْجَنَّةِ وَغَفَرْتَ لِلظَّالِمِ ‏"‏ ‏.‏ فَلَمْ يُجَبْ عَشِيَّتَهُ فَلَمَّا أَصْبَحَ بِالْمُزْدَلِفَةِ أَعَادَ الدُّعَاءَ فَأُجِيبَ إِلَى مَا سَأَلَ ‏.‏ قَالَ فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏ أَوْ قَالَ تَبَسَّمَ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي إِنَّ هَذِهِ لَسَاعَةٌ مَا كُنْتَ تَضْحَكُ فِيهَا فَمَا الَّذِي أَضْحَكَكَ أَضْحَكَ اللَّهُ سِنَّكَ قَالَ ‏"‏ إِنَّ عَدُوَّ اللَّهِ إِبْلِيسَ لَمَّا عَلِمَ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدِ اسْتَجَابَ دُعَائِي وَغَفَرَ لأُمَّتِي أَخَذَ التُّرَابَ فَجَعَلَ يَحْثُوهُ عَلَى رَأْسِهِ وَيَدْعُو بِالْوَيْلِ وَالثُّبُورِ فَأَضْحَكَنِي مَا رَأَيْتُ مِنْ جَزَعِهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৩০১৩। আইউব ইব্‌ন মুহাম্মাদ হাশিমী (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইব্‌ন কিনানা ইব্‌ন আব্বাস ইব্‌ন মিরদাস সুলামী বলেন যে, তাঁর পিতা (কিনানা) তাঁকে অবহিত করেছেন তাঁর পিতার (আব্বাস) সূত্রেঃ নবী (ﷺ) আরাফাতে তৃতীয় প্রহরে তাঁর উম্মাতের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে দু'আ করেন। জওয়াবে তাঁকে জানানো হয়ঃ আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম যালিম ব্যতীত। কারণ আমি অবশ্যই তার উপর নির্যাতিতের প্রতিশোধ নেব। নবী (ﷺ) বলেনঃ হে রব! আপনি ইচ্ছা করলে নির্যাতিত ব্যক্তিকে জান্নাত দান করতে এবং যালিমকে ক্ষমা করতে পারেন। কিন্তু রাত পর্যন্ত এর কোন জবাব পাওয়া গেল না। ভোর বেলা তিনি মুযদালিফায় পুনরায় উপরোক্ত দু'আ করেন। এবার তাঁর আবেদন কবূল হল। রাবী বলেন, নবী (ﷺ) হেসে দিলেন অথবা মুচকি হাসলেন। আবু বাকর (রাযিঃ) ও উমার (রাযিঃ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোকঃ আপনি এ সময় কখনও হাসেননি, আজ কোন জিনিস আপনাকে হাসলো? আল্লাহ আপনাকে হাসিমুখে রাখুন। তিনি বলেনঃ আল্লাহর দুশমন ইব্‌লীস যখন জানতে পারল যে, মহামহিম আল্লাহ আমার দোয়া কবূল করেছেন এবং আমার উম্মাতকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, তখন সে গুড়া মাটি তুলে নিজের মাথায় ঢালতে ঢালতে বলতে লাগল- হায় সর্বনাশ, হায় ধ্বংস। আমি তার যে অস্থিরতা দেখেছি তা আমাকে হাসালো।

3014

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الْمِصْرِيُّ أَبُو جَعْفَرٍ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مَخْرَمَةُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ يُونُسَ بْنَ يُوسُفَ، يَقُولُ عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَنْ يُعْتِقَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِيهِ عَبْدًا مِنَ النَّارِ مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ وَإِنَّهُ لَيَدْنُو عَزَّ وَجَلَّ ثُمَّ يُبَاهِي بِهِمُ الْمَلاَئِكَةَ فَيَقُولُ مَا أَرَادَ هَؤُلاَءِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০১৪। হারূন ইব্‌ন সাঈদ মিসরী আবু জাফর (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মহান আল্লাহ আরাফাতের দিন দোযখ থেকে যত অধিক সংখ্যক বান্দাকে মুক্তি দেন, অন্য কোন দিন এত অধিক বান্দাকে মুক্তি দেন না। মহান আল্লাহ এই দিন (বান্দার) নিকটবর্তী হন অতঃপর তাদের সম্পর্কে ফিরিশতাদের নিকট গৌরব করে বলেঃ তারা কি চায় ?

যে ব্যক্তি মুযদালিফার রাতের ফজরের পূর্বেই আরাফাতে চলে আসে

بَاب مَنْ أَتَى عَرَفَةَ قَبْلَ الْفَجْرِ لَيْلَةَ جَمْعٍ

3015
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَطَاءٍ، سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ يَعْمُرَ الدِّيلِيَّ، قَالَ شَهِدْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهُوَ وَاقِفٌ بِعَرَفَةَ وَأَتَاهُ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ الْحَجُّ قَالَ ‏ "‏ الْحَجُّ عَرَفَةُ فَمَنْ جَاءَ قَبْلَ صَلاَةِ الْفَجْرِ لَيْلَةَ جَمْعٍ فَقَدْ تَمَّ حَجُّهُ أَيَّامُ مِنًى ثَلاَثَةٌ فَمَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلاَ إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَنْ تَأَخَّرَ فَلاَ إِثْمَ عَلَيْهِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ أَرْدَفَ رَجُلاً خَلْفَهُ فَجَعَلَ يُنَادِي بِهِنَّ ‏.‏

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا الثَّوْرِيُّ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَطَاءٍ اللَّيْثِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْمُرَ الدِّيلِيِّ، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِعَرَفَةَ فَجَاءَهُ نَفَرٌ مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ فَذَكَرَ نَحْوَهُ ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى مَا أُرَى لِلثَّوْرِيِّ حَدِيثًا أَشْرَفَ مِنْهُ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৩০১৫। আবু বকর ইব্‌ন আবু শাইবা ও আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আব্দুর রহমান ইবন ইয়া'মার দায়েলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম তাঁর আরাফাতে অবস্থানকালে। নাজদ এলাকার কতিপয় লোক তাঁর নিকট হাযির হয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! হাজ্জ কিভাবে সম্পন্ন হয়? তিনি বললেনঃ আরাফাতে অবস্থান হচ্ছে হাজ্জ। অতএব যে ব্যক্তি মুযদালিফার রাতের ফজরের সালাতের পূর্বেই আরাফাতে এসে পৌঁছলো তার হাজ্জ পূর্ণ হলো। মিনায় তিন দিন (১১, ১২ ও ১৩ যিলহজ্জ) অবস্থান করতে হয়। কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি দুই দিন অবস্থানের পর চলে আসে, তবে তাতে কোন গুনাহ নেই। আর কোন ব্যক্তি বিলম্ব করলেও তাতে কোন গুনাহ নেই। অতঃপর তিনি নিজের সাথে এক ব্যক্তিকে নিজ বাহনে তুলে নিলেন এবং সে উচ্চস্বরে একথা ঘোষণা করতে থাকল।

মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহ্ইয়া...... আব্দুর রহমান ইবন ইয়া'মার দায়েলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আরাফাতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট এলাম। এ সময় নাজদের একদল লোক তাঁর নিকট উপস্থিত হল... অবশিষ্ট অংশ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ) বলেন, আমি সাওরীর কোন রিওয়ায়েত এই হাদীসের তুলনায় অধিক উত্তম পাইনি।
3016

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ عَامِرٍ، - يَعْنِي الشَّعْبِيَّ - عَنْ عُرْوَةَ بْنِ مُضَرِّسٍ الطَّائِيِّ، أَنَّهُ حَجَّ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَلَمْ يُدْرِكِ النَّاسَ إِلاَّ وَهُمْ بِجَمْعٍ ‏.‏ قَالَ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَنْضَيْتُ رَاحِلَتِي وَأَتْعَبْتُ نَفْسِي وَاللَّهِ إِنْ تَرَكْتُ مِنْ حَبْلٍ إِلاَّ وَقَفْتُ عَلَيْهِ فَهَلْ لِي مِنْ حَجٍّ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ شَهِدَ مَعَنَا الصَّلاَةَ وَأَفَاضَ مِنْ عَرَفَاتٍ لَيْلاً أَوْ نَهَارًا فَقَدْ قَضَى تَفَثَهُ وَتَمَّ حَجُّهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উরওয়া ইবনে মুদাররিস তাঈ (রাঃ)

৩০১৬। আবু বাকর ইবন আবু শাইবা ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... উরওয়া ইবন মুদাররিস তাঈ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর যুগে হজ্জ করেন। লোকেরা যখন মুযদালিফায় ছিল তখন তিনি পৌঁছেন। তিনি বলেন, অতএব আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আমি আমার উষ্ট্রীকে শীর্ণকায় করে ফেলেছি (দীর্ঘ সফরে) এবং নিজেও কষ্টক্লেশ করেছি। আল্লাহর কসম! আমি এমন কোন টিলা ত্যাগ করিনি যার উপর অবস্থান করিনি। আমার হাজ্জ হয়েছে কি ? তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের সাথে সালাতে শরীক হয়েছে এবং আরাফাতে অবস্থানের পর রাতে অথবা দিনে প্রত্যাবর্তন করল- সে নিজের ময়লা-মালিন্য দূর করেছে এবং তাঁর হাজ্জ পূর্ণ হয়েছে।

আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন

بَاب الدَّفْعِ مِنْ عَرَفَةَ

3017

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّهُ سُئِلَ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَسِيرُ حِينَ دَفَعَ مِنْ عَرَفَةَ قَالَ كَانَ يَسِيرُ الْعَنَقَ فَإِذَا وَجَدَ فَجْوَةً نَصَّ ‏.‏ قَالَ وَكِيعٌ وَالنَّصُّ يَعْنِي فَوْقَ الْعَنَقِ ‏.‏

Narrator: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

৩০১৭। আলী ইবন মুহাম্মাদ ও আমর ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (রাহঃ)..... উসামা ইব্‌ন যায়িদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আরাফাত থেকে ফেরার পথে কিভাবে পথ অতিক্রম করতেন? তিনি বললেনঃ তিনি জন্তুযানে আরোহণ করে কিছুটা দ্রুত গতিতে পথ অতিক্রম করতেন। উন্মুক্ত জায়গা পেলে তিনি দ্রুত চলতেন। ওয়াকী বলেন, প্রথমোক্ত গতির তুলনায় অধিক দ্রুত বেগে (চলতেন)।

3018

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا الثَّوْرِيُّ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَتْ قُرَيْشٌ نَحْنُ قَوَاطِنُ الْبَيْتِ لَا نُجَاوِزُ الْحَرَمَ فَقَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ ( ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০১৮। মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)..... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরাইশগণ বলল, আমরা তো বায়তুল্লাহর অধিবাসী। তাই আমরা হেরেমের বাইরে যাই না। (আরাফাত হেরেমের সীমার বাইরে হওয়াতে তারা আরাফাতে যেত না)। এই প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেনঃ “অতঃপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে- তোমরা সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করবে"- (সূরা বাকারাঃ ১৯৯)।

প্রয়োজনবোধে আরাফাত ও মুযদালিফার মাঝে অবতরণ করা

بَاب النُّزُولِ بَيْنَ عَرَفَاتٍ وَجَمْعٍ لِمَنْ كَانَتْ لَهُ حَاجَةٌ

3019

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ أَفَضْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَلَمَّا بَلَغَ الشِّعْبَ الَّذِي يَنْزِلُ عِنْدَهُ الأُمَرَاءُ نَزَلَ فَبَالَ وَتَوَضَّأَ قُلْتُ الصَّلاَةَ ‏.‏ قَالَ ‏ "‏ الصَّلاَةُ أَمَامَكَ ‏"‏ ‏.‏ فَلَمَّا انْتَهَى إِلَى جَمْعٍ أَذَّنَ وَأَقَامَ ثُمَّ صَلَّى الْمَغْرِبَ ثُمَّ لَمْ يَحِلَّ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ حَتَّى قَامَ فَصَلَّى الْعِشَاءَ ‏.‏

Narrator: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

৩০১৯। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার (রাহঃ)...... উসামা ইব্‌ন যায়িদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে (আরাফাত থেকে) প্রত্যাবর্তন করলাম। যখন তিনি সেই উপত্যকায় পৌঁছলেন যেখানে সম্ভ্রান্ত লোকেরা অবতরণ করে, তখন সেখানে অবতরণের পর পেশাব করে এরপর উযূ করলেন। আমি বললাম, (মাগরিবের) সালাত। তিনি বললেনঃ আরও সামনে অগ্রসর হয়ে সালাত আদায় করবো। তিনি মুযদালিফায় পৌঁছলে আযান ও ইকামত দেয়া হল, অতঃপর তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। এরপর কেউ জন্তুযানের পালান না খুলতেই তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন এবং এশার সালাত আদায় করলেন।

মুযদালিফায় দুই ওয়াক্তের সালাত একত্রে আদায় করা

بَاب الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ بِجَمْعٍ

3020

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْخَطْمِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا أَيُّوبَ الأَنْصَارِيَّ، يَقُولُ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ فِي حِجَّةِ الْوَدَاعِ بِالْمُزْدَلِفَةِ ‏.‏

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ আনসারী (রাঃ)

৩০২০। মুহাম্মাদ ইব্‌ন রুম্‌হ (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ খাতমী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু আইউব আনসারী (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন- আমি বিদায় হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর সাথে মুযদালিফায় মাগরিব ও এশার সালাত আদায় করেছি।

3021

حَدَّثَنَا مُحْرِزُ بْنُ سَلَمَةَ الْعَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ صَلَّى الْمَغْرِبَ بِالْمُزْدَلِفَةِ فَلَمَّا أَنَخْنَا قَالَ ‏ "‏ الصَّلاَةُ بِإِقَامَةٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

৩০২১। মুহরিয ইবন সালামা আদানী (রাহঃ)...... সালিম সূত্রে তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মুযদালিফায় মাগরিবের সালাত আদায় করেন। আমরা যখন উটগুলো বসাচ্ছিলাম তখন তিনি বলেনঃ (এশার) নামাযের ইকামত হচ্ছে।[১]

[১] মুযদালিফায় মাগরিব ও এশার সালাত পরপর একই সময় আদায় করতে হয়। এর আযান ও ইকামত সম্পর্কে আল্লামা আইনী ছয়টি মত উল্লেখ করেছেন। (১) দুই নামাযের জন্যই ইকামত দেয়া হবে কিন্তু আযান দেয়া হবে না, (২) আযান দেয়া হবে না, কিন্তু একবার মাত্র ইকামত দেয়া হবে, (৩) মাগরিবের জন্য আযান দেয়া হবে এবং উভয় নামাযের জন্য ইকামত বলা হবে (শাফিঈ ও আহমাদ-এর এই মত), (৪) মাগরিবের জন্য আযান ও ইকামত বলা হবে, কিন্তু এশার জন্য কোনটিই বলা হবে না (হানাফী মত), (৫) উভয় নামাযের জন্য আযান ও ইকামত দিতে হবে (মালিকী মত)

মুযদালিফায় অবস্থান

بَاب الْوُقُوفِ بِجَمْعٍ

3022

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، قَالَ حَجَجْنَا مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَلَمَّا أَرَدْنَا أَنْ نُفِيضَ، مِنَ الْمُزْدَلِفَةِ قَالَ إِنَّ الْمُشْرِكِينَ كَانُوا يَقُولُونَ أَشْرِقْ ثَبِيرُ كَيْمَا نُغِيرُ ‏.‏ وَكَانُوا لاَ يُفِيضُونَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَخَالَفَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَأَفَاضَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ ‏.‏

Narrator: আমর ইবনু মায়মূন (রহঃ)

৩০২২। আবু বাকর ইবন আবু শাইবা (রাহঃ)...... আমর ইবন মায়মূন (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ)-এর সাথে হাজ্জ করেছি। আমরা যখন মুযদালিফা থেকে প্রত্যাবর্তন করলাম তখন তিনি বলেন, মুশরিকরা বলত, হে সাবীর (মুযদালিফায় একটি পাহাড়)! উজ্জ্বল হও, আমরা প্রত্যাবর্তন করব। তারা সূর্য না উঠা পর্যন্ত (মুযদালিফা থেকে) প্রত্যাবর্তন করত না। অতএব রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের বিপরীত আমল করেন এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে (মিনায়) রওয়ানা করেন।

3023

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ الْمَكِّيُّ، عَنِ الثَّوْرِيِّ، قَالَ قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ قَالَ جَابِرٌ أَفَاضَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَعَلَيْهِ السَّكِينَةُ وَأَمَرَهُمْ بِالسَّكِينَةِ وَأَمَرَهُمْ أَنْ يَرْمُوا بِمِثْلِ حَصَى الْخَذْفِ وَأَوْضَعَ فِي وَادِي مُحَسِّرٍ ‏.‏ وَقَالَ ‏ "‏ لِتَأْخُذْ أُمَّتِي نُسُكَهَا فَإِنِّي لاَ أَدْرِي لَعَلِّي لاَ أَلْقَاهُمْ بَعْدَ عَامِي هَذَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩০২৩। মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ (রাহঃ)...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বিদায় হাজ্জে ধীরেসুস্থে (মুযদালিফা থেকে) রওয়ানা করেন এবং লোকদেরও শান্তভাবে রওয়ানা হতে বলেন। (মিনায় পৌঁছার পর) তিনি তাদের নির্দেশ দেন যে, তারা যেন ক্ষুদ্র কাঁকর নিক্ষেপ করে। তিনি নিজে (মুযদালিফা ও মিনার মাঝখানে অবস্থিত) ওয়াদিয়ে মুহাসসার দ্রুত অতিক্রম করেন এবং বলেনঃ আমার উম্মাত যেন হজ্জের অনুষ্ঠানাদি শিখে নেয়। কারণ আমি জানি না যে, এ বছরের পর আমি তাদের সাথে আর মিলিত হতে পারব কি না।

3024

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي رَوَّادٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ الْحِمْصِيِّ، عَنْ بِلاَلِ بْنِ رَبَاحٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ لَهُ غَدَاةَ جَمْعٍ ‏"‏ يَا بِلاَلُ أَسْكِتِ النَّاسَ ‏"‏ ‏.‏ أَوْ ‏"‏ أَنْصِتِ النَّاسَ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ إِنَّ اللَّهَ تَطَوَّلَ عَلَيْكُمْ فِي جَمْعِكُمْ هَذَا فَوَهَبَ مُسِيئَكُمْ لِمُحْسِنِكُمْ وَأَعْطَى مُحْسِنَكُمْ مَا سَأَلَ ادْفَعُوا بِاسْمِ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিলাল ইবনে রাবাহ (রাঃ)

৩০২৪। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ আমর ইবন আব্দুল্লাহ (রাহঃ)...... বিলাল ইব্‌ন রাবাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, মুযদালিফার দিন ভোরে নবী (ﷺ) তাঁকে বলেনঃ হে বিলাল! লোকদের চুপ করতে বল। অতঃপর তিনি বলেনঃ এই মুযদালিফায় আল্লাহ তা'আলা তোমাদের প্রতি যথেষ্ট অনুগ্রহ করেছেন, তোমাদের উত্তম লোকদের অসীলায় তোমাদের গুনাহগারদের ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের মধ্যে সৎকর্মশীল ব্যক্তি যা প্রার্থনা করেছে তিনি তাকে তা দিয়েছেন। অতএব তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে প্রত্যাবর্তন কর।

যে ব্যক্তি কংকর নিক্ষেপের উদ্দেশ্যে মুযদালিফা থেকে আগেভাগে চলে যায়

بَاب مَنْ تَقَدَّمَ مِنْ جَمْعٍ إِلَى مِنًى لِرَمْيِ الْجِمَارِ

3025

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، وَسُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنِ الْحَسَنِ الْعُرَنِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَدَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أُغَيْلِمَةَ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَلَى حُمُرَاتٍ لَنَا مِنْ جَمْعٍ فَجَعَلَ يَلْطَحُ أَفْخَاذَنَا وَيَقُولُ ‏"‏ أُبَيْنِيَّ لاَ تَرْمُوا الْجَمْرَةَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ‏"‏ ‏.‏ زَادَ سُفْيَانُ فِيهِ ‏"‏ وَلاَ إِخَالُ أَحَدًا يَرْمِيهَا حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০২৫। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শাইবা ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে অর্থাৎ আব্দুল মুত্তালিব গোত্রের ছোটদেরকে মুযদালিফা থেকে কাঁকর দিয়ে আগেভাগে পাঠিয়ে দেন। তিনি আমাদের উরুর উপর হাল্কা আঘাত করে বলতেনঃ কচিকাচা! সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত জামরায় পাথর নিক্ষেপ কর না। সুফিয়ানের বর্ণনায় আরও আছে, সূর্যোদয়ের পূর্বে কেউ কাঁকর নিক্ষেপ করত কি না জানি না।

3026

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا عَمْرٌو، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كُنْتُ فِيمَنْ قَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي ضَعَفَةِ أَهْلِهِ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০২৬। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শাইবা (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর পরিবারের যেসব দুর্বল লোকদের (মুযদালিফা থেকে মিনায়) আগেই পাঠিয়ে দিয়েছিলেন, আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।

3027

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ سَوْدَةَ بِنْتَ زَمْعَةَ، كَانَتِ امْرَأَةً ثَبِطَةً فَاسْتَأْذَنَتْ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ تَدْفَعَ مِنْ جَمْعٍ قَبْلَ دُفْعَةِ النَّاسِ فَأَذِنَ لَهَا ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০২৭। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। সাওদা বিনতে যাম'আ (রাযিঃ) স্থূলকায় ছিলেন। তিনি মুযদালিফা থেকে লোকদের রওনা হওয়ার আগেই চলে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন।

কোন সাইজের কংকর নিক্ষেপ করবে

بَاب قَدْرِ حَصَى الرَّمْيِ

3028

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، عَنْ أُمِّهِ، قَالَتْ رَأَيْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَوْمَ النَّحْرِ عِنْدَ جَمْرَةِ الْعَقَبَةِ وَهُوَ رَاكِبٌ عَلَى بَغْلَةٍ فَقَالَ ‏ "‏ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِذَا رَمَيْتُمُ الْجَمْرَةَ فَارْمُوا بِمِثْلِ حَصَى الْخَذْفِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৩০২৮। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শাইবা (রাহঃ)...... সুলাইমান ইবন আমর ইব্‌ন আহ্ওয়াস সূত্রে তাঁর মাতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কুরবানীর দিন জামরাতুল আকাবার নিকটে আমি নবী (ﷺ) কে খচ্চরের পিঠে আরোহণ করা অবস্থায় দেখেছি, এখন তিনি বলেছেনঃ হে লোক সকল! যখন তোমরা জামরায় (পাথর) নিক্ষেপ করতে যাবে, তখন ছোট সাইজের কংকর নিক্ষেপ করবে।

3029

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عَوْفٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ الْحُصَيْنِ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ غَدَاةَ الْعَقَبَةِ وَهُوَ عَلَى نَاقَتِهِ ‏"‏ الْقُطْ لِي حَصًى ‏"‏ ‏.‏ فَلَقَطْتُ لَهُ سَبْعَ حَصَيَاتٍ هُنَّ حَصَى الْخَذْفِ فَجَعَلَ يَنْفُضُهُنَّ فِي كَفِّهِ وَيَقُولُ ‏"‏ أَمْثَالَ هَؤُلاَءِ فَارْمُوا ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِيَّاكُمْ وَالْغُلُوَّ فِي الدِّينِ فَإِنَّمَا أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمُ الْغُلُوُّ فِي الدِّينِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০২৯। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)......ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জামরাতুল আকাবার ভোরে উষ্ট্রীর পিঠে আরোহণ করা অবস্থায় বলেনঃ আমার জন্য কংকর সংগ্রহ করে লও। আমি তাঁর জন্য সাতটি কংকর সংগ্রহ করলাম। তা ছিল সাইজে ছোট। তিনি তা নিজের হাতের তালুতে নাড়াচাড়া করতে করতে বললেনঃ তোমরা এই সাইজের কংকর নিক্ষেপ করবে। এরপর তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! দ্বীনের বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা থেকে তোমরা সাবধান থাকবে। কেননা, তোমাদের পূর্বেকার লোকদের দ্বীনের ব্যাপারের বাড়াবাড়ি, ধ্বংস করে দিয়েছে।

কোথায় দাঁড়িয়ে জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করতে হয়?

بَاب مِنْ أَيْنَ تُرْمَى جَمْرَةُ الْعَقَبَةِ

3030

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الْمَسْعُودِيِّ، عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ لَمَّا أَتَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ اسْتَبْطَنَ الْوَادِيَ وَاسْتَقْبَلَ الْكَعْبَةَ وَجَعَلَ الْجَمْرَةَ عَلَى حَاجِبِهِ الأَيْمَنِ ثُمَّ رَمَى بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ ثُمَّ قَالَ مِنْ هَاهُنَا وَالَّذِي لاَ إِلَهَ غَيْرُهُ رَمَى الَّذِي أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ ‏.‏

Narrator: আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ (রহঃ)

৩০৩০। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আব্দুর রহমান ইব্‌ন ইয়াযীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাযিঃ) জামরাতুল আকাবায় পৌঁছে উপত্যকার নিম্নভূমিতে গিয়ে কা'বাকে সামনে রেখে এবং জামরাতুল আকাবাকে ডান দিকে রেখে, সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন। তিনি প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সময় তাকবীর বলেন। এরপর বলেনঃ সেই মহান সত্তার কসম, যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। যে মহান ব্যক্তির প্রতি সূরা বাকারা নাযিল হয়েছিল তিনি এখান থেকে কংকর নিক্ষেপ করেছিলেন।

3031
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، عَنْ أُمِّهِ، قَالَتْ رَأَيْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَوْمَ النَّحْرِ عِنْدَ جَمْرَةِ الْعَقَبَةِ اسْتَبْطَنَ الْوَادِيَ فَرَمَى الْجَمْرَةَ بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ ثُمَّ انْصَرَفَ ‏.‏

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، عَنْ أُمِّ جُنْدُبٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِنَحْوِهِ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৩০৩১। আবু বাক্‌র ইবন আবু শাইবা (রাহঃ)...... সুলাইমান ইবন আমর ইবন আহ্ওয়াস (রাহঃ) সূত্রে তাঁর মা থেকে বর্ণিত। তিনি (মা) বলেন, আমি কুরবানীর দিন জামরাতুল আকাবার নিকটে উপত্যকার কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে নবী (ﷺ) কে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করতে দেখেছি। তিনি প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সময় তাকবীর বলেছেন, এরপর তিনি ফিরে এসেছেন।
আবু বাকর ইবন আবু শাইবা (রাহঃ)...... উম্মে জুনদুব (রাযিঃ) মহানবী (ﷺ) এর নিকট থেকে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপের পর তথায় অবস্থান করবে না

بَاب إِذَا رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ لَمْ يَقِفْ عِنْدَهَا

3032

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا طَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ وَلَمْ يَقِفْ عِنْدَهَا وَذَكَرَ أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩০৩২। উসমান ইব্‌ন আবু শাইবা (রাহঃ)...... ইব্‌ন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করার পর সেখানে আর অবস্থান করেননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নবী (ﷺ) ও এরূপ করতেন।

3033

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الْحَجَّاجِ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ مَضَى وَلَمْ يَقِفْ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৩৩। সুওয়াইদ ইব্‌ন সাঈদ (রাহঃ)....ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করে চলে যেতেন, অবস্থান করতেন না।

আরোহণ করা অবস্থায় কংকর নিক্ষেপ করা

بَاب رَمْيِ الْجِمَارِ رَاكِبًا

3034

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَمَى الْجَمْرَةَ عَلَى رَاحِلَتِهِ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৩৪। আবু বাকর ইবন আবু শাইবা (রাহঃ)...... ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তার সাওয়ারীতে আরোহণ করা অবস্থায় জামরায় কংকর নিক্ষেপ করেন।

3035

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ أَيْمَنَ بْنِ نَابِلٍ، عَنْ قُدَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْعَامِرِيِّ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَمَى الْجَمْرَةَ يَوْمَ النَّحْرِ عَلَى نَاقَةٍ لَهُ صَهْبَاءَ لاَ ضَرْبَ وَلاَ طَرْدَ وَلاَ إِلَيْكَ إِلَيْكَ ‏.‏

Narrator: কুদামা ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ)

৩০৩৫। আবু বকর ইবন আবু শাইবা (রাহঃ)...... কুদামা ইব্‌ন আব্দুল্লাহ আমিরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে কুরবানীর দিন একটি লাল-সাদা মিশ্র বর্ণের উটনীতে সাওয়ার অবস্থায় জামরায় কংকর নিক্ষেপ করতে দেখেছি। এতে কোন আঘাতও ছিল না এবং কোন হাঁকানও ছিল না, না এদিক না ওদিক।

ওজর বশত কংকর নিক্ষেপে বিলম্ব করা

بَاب تَأْخِيرِ رَمْيِ الْجِمَارِ مِنْ عُذْرٍ

3036

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِي الْبَدَّاحِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَخَّصَ لِلرِّعَاءِ أَنْ يَرْمُوا يَوْمًا وَيَدَعُوا يَوْمًا ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৩০৩৬। আবু বাকর ইবন আবু শাইবা (রাহঃ)...... আবুল বাদ্দাহ ইব্‌ন আসিম (রাহঃ) সূত্রে তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) উটের রাখালদের একদিন কংকর নিক্ষেপ করা ও একদিন বিরতি দেয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন।

3037

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي الْبَدَّاحِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَخَّصَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لِرِعَاءِ الإِبِلِ فِي الْبَيْتُوتَةِ أَنْ يَرْمُوا يَوْمَ النَّحْرِ ثُمَّ يَجْمَعُوا رَمْىَ يَوْمَيْنِ بَعْدَ النَّحْرِ فَيَرْمُونَهُ فِي أَحَدِهِمَا - قَالَ مَالِكٌ ظَنَنْتُ أَنَّهُ قَالَ فِي الأَوَّلِ مِنْهُمَا - ثُمَّ يَرْمُونَ يَوْمَ النَّفْرِ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৩০৩৭। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহ্ইয়া ও আহমাদ ইবন সিনান (রাহঃ)...... আবুল বাদ্দাহ ইব্‌ন আসিম (রাহঃ) সূত্রে তার পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উটের রাখালদের মিনায় অথবা তার বাইরে রাত্রি যাপনের অনুমতি দিয়েছেন, যেন তারা কুরবানীর দিন কংকর নিক্ষেপ করে, এরপর কুরবানীর পরে দুই দিনের কংকর নিক্ষেপ এক সাথে করবে, তার ঐ দুই দিনের যে কোন একদিন তা নিক্ষেপ করবে। ইমাম মালিক (রাহঃ) বলেন, আমার মনে হয় যে, রাবী বলেছেনঃ প্রথম দিন (কুরবানীর দিন) কংকর নিক্ষেপ করবে, এরপর প্রস্থানের দিন কংকর নিক্ষেপ করবে।

শিশুদের তরফ থেকে কংকর নিক্ষেপ

بَاب الرَّمْيِ عَنْ الصِّبْيَانِ

3038

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ حَجَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَمَعَنَا النِّسَاءُ وَالصِّبْيَانُ فَلَبَّيْنَا عَنِ الصِّبْيَانِ وَرَمَيْنَا عَنْهُمْ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩০৩৮। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শাইবা (রাহঃ)...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে হাজ্জ করলাম। আমাদের সাথে মহিলা ও শিশুরা ছিল। আমরা শিশুদের তরফ থেকে তালবিয়া পাঠ ও কংকর নিক্ষেপ করেছি।

হাজ্জ আদায়কারী কখন তালবিয়া পাঠ বন্ধ করবে

بَاب مَتَى يَقْطَعُ الْحَاجُّ التَّلْبِيَةَ

3039

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ أَبُو بِشْرٍ، حَدَّثَنَا حَمْزَةُ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لَبَّى حَتَّى رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৩৯। বাকর ইবন খালাফ আবু বিশর (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তালবিয়া পাঠ অব্যাহত রেখেছেন যতক্ষণ না জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করেছেন।

3040

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ خُصَيْفٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ الْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ كُنْتُ رِدْفَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَمَا زِلْتُ أَسْمَعُهُ يُلَبِّي حَتَّى رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ فَلَمَّا رَمَاهَا قَطَعَ التَّلْبِيَةَ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৪০। হান্নান্দ ইব্‌ন সারী (রাহঃ)......ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাদল ইবন আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন-আমি নবী (ﷺ) -এর সাথে একই বাহনে তাঁর পেছনে সাওয়ার ছিলাম। আমি তাঁকে অনবরত তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছি, যতক্ষণ না তিনি জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করেছেন। তিনি যখন তা নিক্ষেপ করেন, তখন তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দেন।

জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপের পর হাজ্জীদের জন্য যা বৈধ হয়

بَاب مَا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ إِذَا رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ

3041

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَوَكِيعٌ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنِ الْحَسَنِ الْعُرَنِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ إِذَا رَمَيْتُمُ الْجَمْرَةَ فَقَدْ حَلَّ لَكُمْ كُلُّ شَىْءٍ إِلاَّ النِّسَاءَ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ وَالطِّيبُ فَقَالَ أَمَّا أَنَا فَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُضَمِّخُ رَأْسَهُ بِالْمِسْكِ أَفَطِيبٌ ذَلِكَ أَمْ لاَ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৪১। আবু বাকর ইবন আবু শাইবা, আলী ইবন মুহাম্মাদ ও আবু বাকর ইবন খাল্লাদ বাহিলী (রাহঃ)...... ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন তোমরা জামরায় কংকর নিক্ষেপ করলে, তখন তোমাদের জন্য সবকিছু হালাল হয়ে গেল- স্ত্রী সহবাস ব্যতীত। এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, হে ইব্‌ন আব্বাস! সুগন্ধিও? তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কথা হচ্ছে, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে নিজ মাথায় কস্তুরী মাখতে দেখেছি (কংকর নিক্ষেপের পরে)। তা সুগন্ধি কি না?

3042

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا خَالِي، مُحَمَّدٌ وَأَبُو مُعَاوِيَةَ وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ طَيَّبْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لإِحْرَامِهِ حِينَ أَحْرَمَ وَلإِحْلاَلِهِ حِينَ أَحَلَّ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০৪২। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).....আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে ইহরাম বাঁধার আগে সুগন্ধি লাগিয়ে দিয়েছি এবং তিনি যখন হালাল হয়েছেন।[১]

[১] ইমাম আযম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মতে ইহরাম বাঁধার সময় সুগন্ধি ব্যবহার করা মুস্তাহাব। আয়েশা (রাযিঃ) থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আমার পিতা যখন ইহরাম বাঁধতেন আমি তাঁকে সুগন্ধি মেখে দিতাম। মুনযিরী (রাহঃ) বলেন, অধিকাংশ সাহাবীই ইহরাম বাঁধার সময় সুগন্ধি মাখা মুস্তাহাব বলেছেন। কিন্তু ইহরাম বাঁধার পর আর সুগন্ধি ব্যবহার জায়েয নয়।

মাথা মুণ্ডনের বর্ণনা

بَاب الْحَلْقِ

3043

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِينَ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَالْمُقَصِّرِينَ قَالَ ‏"‏ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِينَ ‏"‏ ‏.‏ ثَلاَثًا قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَالْمُقَصِّرِينَ قَالَ ‏"‏ وَالْمُقَصِّرِينَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩০৪৩। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শাইবা, আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আল্লাহ! যারা মাথা মুণ্ডন করেছে তাদের ক্ষমা করুন। সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! চুল ছোটকারীদের? তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! যারা মাথা মুণ্ডন করেছে তাদের ক্ষমা করুন। একথা তিনি তিনবার বলেন। সাহাবাগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! চুল ছোটকারীদের। তিনি বলেনঃ চুল খাটোকারীদের।

3044

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ أَبِي الْحَوَارِيِّ الدِّمَشْقِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏"‏ رَحِمَ اللَّهُ الْمُحَلِّقِينَ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا وَالْمُقَصِّرِينَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ رَحِمَ اللَّهُ الْمُحَلِّقِينَ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا وَالْمُقَصِّرِينَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ رَحِمَ اللَّهُ الْمُحَلِّقِينَ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا وَالْمُقَصِّرِينَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ وَالْمُقَصِّرِينَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩০৪৪। আলী ইবন মুহাম্মাদ, আহমাদ ইব্‌ন আবুল হাওয়ারী দিমাশকী (রাহঃ)...... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি দয়া করুন। সাহাবীগণ বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! চুল ছোটকারীদের। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি রহম করুন। তাঁরা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) ! চুল ছোটকারীদের (অনুরূপ দোয়া করুন)। তিনি বলেনঃ মাথা মুণ্ডনকারীদের প্রতি আল্লাহ রহম করুন। তারা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)। চুল ছোটকারীদের। তিনি বলেনঃ চুল খাটোকারীদের।

3045

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَ ظَاهَرْتَ لِلْمُحَلِّقِينَ ثَلاَثًا وَلِلْمُقَصِّرِينَ وَاحِدَةً قَالَ ‏ "‏ إِنَّهُمْ لَمْ يَشُكُّوا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৪৫। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়র (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বলা হলো ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আপনি মাথা মুণ্ডনকারীদের জন্য তিনবার আর চুল ছোটকারীদের জন্য মাত্র একবার দোয়া করলেন-এর কারণ কি ? তিনি বলেনঃ মাথা মুণ্ডনকারীগণ সন্দেহ করেনি (অর্থাৎ উত্তম কাজ সন্দেহমুক্তভাবে সমাধান করেছে)।

যে ব্যক্তি মাথার চুল একত্রে জমিয়ে নেয়।

بَاب مَنْ لَبَّدَ رَأْسَهُ

3046

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ حَفْصَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا شَأْنُ النَّاسِ حَلُّوا وَلَمْ تَحِلَّ أَنْتَ مِنْ عُمْرَتِكَ قَالَ ‏ "‏ إِنِّي لَبَّدْتُ رَأْسِي وَقَلَّدْتُ هَدْيِي فَلاَ أَحِلُّ حَتَّى أَنْحَرَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩০৪৬। আবু বাকর ইবন আবু শাইবা (রাহঃ)...... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ)-এর বিবি হাফসা (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! কি ব্যাপার লোকেরা ইরামমুক্ত হয়েছে এবং আপনি এখনও উমরার ইহরাম থেকে মুক্ত হননি? তিনি বলেনঃ আমি আমার মাথার চুল জমিয়ে নিয়েছি এবং সাথে কুরবানীর পশু এনেছি। অতএব কুরবানী না করা পর্যন্ত আমি ইহরামমুক্ত হতে পারি না।

3047

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ الْمِصْرِيُّ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَنْبَأَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُهِلُّ مُلَبِّدًا ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩০৪৭। আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহি ইবন সারহ মিসরী ...... সালিম সূত্রে তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেনঃ) আমি শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিজ মাথার চুল একত্রে বিজড়িত অবস্থায় লাব্বাইক্ ধ্বনি করেছেন।

কোরবানীর বর্ণনা

بَاب الذَّبْحِ

3048

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مِنًى كُلُّهَا مَنْحَرٌ وَكُلُّ فِجَاجِ مَكَّةَ طَرِيقٌ وَمَنْحَرٌ وَكُلُّ عَرَفَةَ مَوْقِفٌ وَكُلُّ الْمُزْدَلِفَةِ مَوْقِفٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩০৪৮। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মিনার সমস্ত এলাকাই কুরবানীর স্থান, মক্কার প্রতিটি প্রশস্ত সড়কই রাস্তা এবং কুরবানীর স্থান, আরাফাতের গোটা এলাকাই অবস্থানস্থল এবং মুযদালিফার সমস্ত এলাকাও অবস্থানস্থল।

হজ্জের অনুষ্ঠানাদি আগে পরে করা

بَاب مَنْ قَدَّمَ نُسُكًا قَبْلَ نُسُكٍ

3049

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مَا سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَمَّنْ قَدَّمَ شَيْئًا قَبْلَ شَىْءٍ إِلاَّ يُلْقِي بِيَدَيْهِ كِلْتَيْهِمَا ‏ "‏ لاَ حَرَجَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৪৯। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজ্জের অনুষ্ঠানদিতে অগ্র-পশ্চাৎ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি দুই হাতের ইশারায় বলেন, কোন ক্ষতি নেই।

3050

حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُسْأَلُ يَوْمَ مِنًى فَيَقُولُ ‏"‏ لاَ حَرَجَ لاَ حَرَجَ ‏"‏ ‏.‏ فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ حَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَذْبَحَ قَالَ ‏"‏ لاَ حَرَجَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ رَمَيْتُ بَعْدَ مَا أَمْسَيْتُ قَالَ ‏"‏ لاَ حَرَجَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৫০। আবু বাকর ইবন খালাফ (রাহঃ)...... ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মিনার দিবসে লোকেরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর নিকট জিজ্ঞেস করলে তিনি বলতেনঃ কোন দোষ নেই, কোন ক্ষতি নেই । অতএব এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল, কুরবানীর পূর্বে আমি মাথা মুণ্ডন করে ফেলেছি। তিনি বলেনঃ কোন দোষ নেই। অপর একজন বলল, আমি সন্ধ্যায় কাঁকর নিক্ষেপ করেছি। তিনি বলেনঃ কোন ক্ষতি নেই।

3051

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ سُئِلَ عَمَّنْ ذَبَحَ قَبْلَ أَنْ يَحْلِقَ أَوْ حَلَقَ قَبْلَ أَنْ يَذْبَحَ قَالَ ‏ "‏ لاَ حَرَجَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩০৫১। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ)-এর নিকট মাসআলা জানতে চাওয়া হল যে, কোন ব্যক্তি মাথা মুণ্ডনের পূর্বে কুরবানী করেছে, অথবা কোন ব্যক্তি কুরবানীর পূর্বে মাথা কামিয়েছে। তিনি বলেনঃ তাতে কোন দোষ নেই।

3052

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ قَعَدَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِمِنًى يَوْمَ النَّحْرِ لِلنَّاسِ فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي حَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَذْبَحَ قَالَ ‏"‏ لاَ حَرَجَ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ جَاءَهُ آخَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي نَحَرْتُ قَبْلَ أَنْ أَرْمِيَ قَالَ ‏"‏ لاَ حَرَجَ ‏"‏ ‏.‏ فَمَا سُئِلَ يَوْمَئِذٍ عَنْ شَىْءٍ قُدِّمَ قَبْلَ شَىْءٍ إِلاَّ قَالَ ‏"‏ لاَ حَرَجَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩০৫২। হারূন ইব্‌ন সাঈদ মিসরী (রাহঃ)...... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কুরবানীর দিন লোকদের উদ্দেশ্যে মিনায় বসলেন। অতএব এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কুরবানী করার পূর্বে মাথা মুণ্ডন করেছি। তিনি বললেনঃ এতে কোন দোষ নেই । অপর এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আমি পাথর নিক্ষেপ করার পূর্বে কুরবানী করেছি। তিনি বললেনঃ কোন দোষ নেই। সেদিন কোন অনুষ্ঠান কোন অনুষ্ঠানের আগে বা পরে করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ কোন দোষ নেই।

তাশরীকের দিবস সমূহে জামরায় কংকর নিক্ষেপ করা

بَاب رَمْيِ الْجِمَارِ أَيَّامَ التَّشْرِيقِ

3053

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ ضُحًى وَأَمَّا بَعْدَ ذَلِكَ فَبَعْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩০৫৩। হারমালা ইব্‌ন ইয়াহ্ইয়া মিসরী (রাহঃ)...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে জামরাতুল আকাবায় পূর্বাহ্নে পাথর নিক্ষেপ করতে দেখেছি। এর পরের পাথর নিক্ষেপ করেন অপরাহ্নে।

3054

حَدَّثَنَا جُبَارَةُ بْنُ الْمُغَلِّسِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ أَبُو شَيْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَرْمِي الْجِمَارَ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ قَدْرَ مَا إِذَا فَرَغَ مِنْ رَمْيِهِ صَلَّى الظُّهْرَ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৫৪। জুবারা ইব্‌ন মুগাল্লিস (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) অপরাহ্নে জামরায় কাঁকর নিক্ষেপ করতেন সূর্য এতটুকু ঢলার পর যে, পাথর নিক্ষেপের পর তাঁর নামায পড়ার সময় হয়ে যেত।

কুরবানীর দিন ভাষণ প্রদান

بَاب الْخُطْبَةِ يَوْمَ النَّحْرِ

3055

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ شَبِيبِ بْنِ غَرْقَدَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ ‏"‏ يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَلاَ أَىُّ يَوْمٍ أَحْرَمُ ‏"‏ ‏.‏ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ قَالُوا يَوْمُ الْحَجِّ الأَكْبَرِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ بَيْنَكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا أَلاَ لاَ يَجْنِي جَانٍ إِلاَّ عَلَى نَفْسِهِ وَلاَ يَجْنِي وَالِدٌ عَلَى وَلَدِهِ وَلاَ مَوْلُودٌ عَلَى وَالِدِهِ ‏.‏ أَلاَ إِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ أَيِسَ أَنْ يُعْبَدَ فِي بَلَدِكُمْ هَذَا أَبَدًا وَلَكِنْ سَيَكُونُ لَهُ طَاعَةٌ فِي بَعْضِ مَا تَحْتَقِرُونَ مِنْ أَعْمَالِكُمْ فَيَرْضَى بِهَا أَلاَ وَكُلُّ دَمٍ مِنْ دِمَاءِ الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ وَأَوَّلُ مَا أَضَعُ مِنْهَا دَمُ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ - كَانَ مُسْتَرْضِعًا فِي بَنِي لَيْثٍ فَقَتَلَتْهُ هُذَيْلٌ - أَلاَ وَإِنَّ كُلَّ رِبًا مِنْ رِبَا الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ لَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لاَ تَظْلِمُونَ وَلاَ تُظْلَمُونَ أَلاَ يَا أُمَّتَاهُ هَلْ بَلَّغْتُ ‏"‏ ‏.‏ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ قَالُوا نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ اللَّهُمَّ اشْهَدْ ‏"‏ ‏.‏ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ‏.‏

Narrator: হযরত আমর ইবনুল আহওয়াস রাযি.

৩০৫৫। আবু বাক্‌র ইবন আবু শাইবা (রাহঃ)...... সুলাইমান ইবন আমর ইবন আহওয়াস সূত্রে তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বিদায় হজ্জে বলতে শুনেছিঃ হে লোক সকল! কোন দিনটি সর্বাধিক সম্মানিত? তিনি তিনবার একথা বলেন। তাঁরা বললেনঃ হজ্জে আকবরের দিন।[১] তিনি বলেন, তোমাদের রক্ত (জীবন), তোমাদের সম্পদ, তোমাদের মান-সম্ভ্রম তোমাদের পরস্পরের জন্য (তাতে হস্তক্ষেপ করা) হারাম- যেভাবে তোমাদের এই দিনে, এই মাসে এবং এই শহরে হারাম। সাবধান! কেউ অপরাধ করলে সেজন্য তাকেই দায়ী করা হবে। পিতার অপরাধের জন্য পুত্রকে দায়ী করা যাবে না এবং পুত্রের অপরাধের জন্য পিতাকে দায়ী করা যাবে না। জেনে রাখ! তোমাদের এই শহরে শয়তান নিজের ইবাদত পাওয়া থেকে চিরকালের জন্য নিরাশ হয়ে গেছে । কিন্তু কতগুলো কাজ যা তোমরা তুচ্ছজ্ঞানে করতে গিয়ে শয়তানের আনুগত্য কর এবং তাতে সে খুশী হয়ে যায়। সাবধান! জাহিলী যুগের সকল রক্তের (হত্যার) দাবী রহিত হল। এসব দাবীর মধ্যে আমি সর্বপ্রথমে হারিস ইব্‌ন আব্দুল মুত্তালিবের রক্তের দাবী রহিত (সে লাইস গোত্রে প্রতিপালিত হওয়াকালীন হুযাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে)। সাবধান! জাহিলী যুগের সমস্ত সূদের দাবী রহিত হল। তবে তোমরা মূলধন ফেরত পাবে, তোমরা যুলুমও করবে না, যুলুমের শিকারও হবে না। শুন হে আমার উম্মাত! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? একথা তিনি তিনবার জিজ্ঞেস করেন। তারা বলেন, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! সাক্ষী থাক। এ কথাও তিনি তিনবার বলেন।

[১] 'হজ্জের বড় দিন' (ইয়াওমুল-হাজ্জিল আকবার)-এর ব্যাখ্যা মতভেদ আছে। কারো মতে এই বাক্যাংশ দ্বারা ৯ম হিজরীতে অনুষ্ঠিত হজ্জ এবং কারো মতে ১০ম হিজরীতে অনুষ্ঠিত হজ্জ বুঝানো হয়েছে। অপর একদল আলেমের মতে 'হজ্জ আকবার' বলে হজ্জকে উমরা থেকে পৃথক করা হয়েছে। কারণ ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবরা হজ্জকে বড় হজ্জ এবং উমরাকে ছোট হজ্জ বলত। হজ্জের দিনটিই যে একটি মহান, মহিমান্বিত ও গৌরবময় দিন-উক্ত ব্যাখ্যাংশ দ্বারা বরং তাই বুঝানো হয়েছে- (অনুবাদক)।
3056

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ السَّلاَمِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِالْخَيْفِ مِنْ مِنًى فَقَالَ ‏ "‏ نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مَقَالَتِي فَبَلَّغَهَا فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ غَيْرُ فَقِيهٍ وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ ثَلاَثٌ لاَ يُغِلُّ عَلَيْهِنَّ قَلْبُ مُؤْمِنٍ إِخْلاَصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ وَالنَّصِيحَةُ لِوُلاَةِ الْمُسْلِمِينَ وَلُزُومُ جَمَاعَتِهِمْ فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ تُحِيطُ مِنْ وَرَائِهِمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জুবায়র ইবনে মুতঈম (রাঃ)

৩০৫৬। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমাইর (রাহঃ)...... মুহাম্মাদ ইবন জুবায়র ইবন মুতঈম সূত্রে তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মিনার মসজিদুল খায়ফ-এ দাঁড়ালেন এবং বললেনঃ আল্লাহ তা'আলা সেই ব্যক্তিকে সজীব রাখুন- যে আমার কথা শুনে, অতঃপর তা (অন্যদের নিকট) পৌঁছে দেয়। জ্ঞানের অনেক বাহক মূলত জ্ঞানী নয়। কোন কোন জ্ঞানের বাহক যার নিকট জ্ঞান বয়ে নিয়ে যায়- সে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী। তিনটি বিষয়ে মু'মিন ব্যক্তির অন্তর প্রতারণা করতে পারে না। (১) আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমলকে ইখলাসের সাথে (সন্তোষ লাভের) জন্য সম্পন্ন করা, (২) মুসলিম শাসকদের নসীহত করা এবং (৩) মুসলিম জামাআতের (সমাজের) সাথে অবিচ্ছিন্ন থাকার কারণ মুসলমানদের দোয়া তাদেরকে পেছন থেকে পরিবেষ্টন করে রাখে।

3057

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا زَافِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي سِنَانٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهُوَ عَلَى نَاقَتِهِ الْمُخَضْرَمَةِ بِعَرَفَاتٍ فَقَالَ ‏"‏ أَتَدْرُونَ أَىُّ يَوْمٍ هَذَا وَأَىُّ شَهْرٍ هَذَا وَأَىُّ بَلَدٍ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا هَذَا بَلَدٌ حَرَامٌ وَشَهْرٌ حَرَامٌ وَيَوْمٌ حَرَامٌ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَلاَ وَإِنَّ أَمْوَالَكُمْ وَدِمَاءَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ شَهْرِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا فِي يَوْمِكُمْ هَذَا أَلاَ وَإِنِّي فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ وَأُكَاثِرُ بِكُمُ الأُمَمَ فَلاَ تُسَوِّدُوا وَجْهِي أَلاَ وَإِنِّي مُسْتَنْقِذٌ أُنَاسًا وَمُسْتَنْقَذٌ مِنِّي أُنَاسٌ فَأَقُولُ يَا رَبِّ أُصَيْحَابِي ‏.‏ فَيَقُولُ إِنَّكَ لاَ تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩০৫৭। ইসমাঈল ইবন তাওবা (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আরাফাতের ময়দানে তাঁর কানকাটা উটনীর উপর আরোহণ করা অবস্থায় বলেনঃ তোমরা কি জান- আজ কোন দিন, এটা কোন মাস এবং এটা কোন শহর ? তাঁরা বলেন, এটা (মক্কা) সম্মানিত শহর, সম্মানিত মাস ও সম্মানিত দিন। তিনি (আরো) বলেনঃ সাবধান! তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের রক্ত তোমাদের পরস্পরের প্রতি তেমনি হারাম যেমনি- তোমাদের এই মাসের সম্মান রয়েছে তোমাদের এই শহরে তোমাদের এই দিনে। শুনে রাখ! আমি তোমাদের আগেই হাওয কাওসারে উপস্থিত থাকব। অন্যান্য উম্মাতের তুলনায় তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে আমি গৌরব করব। তোমরা যেন আমার চেহারা কালিমালিপ্ত না কর। সাবধান! কিছু লোককে আমি মুক্ত করতে পারব, আর কিছু লোককে আমার নিকট থেকে ছিনিয়ে নেয়া হবে। তখন আমি বলব, হে আল্লাহ! এরা তো আমার সাহাবী! তখন তিনি বলবেনঃ তোমার পরে এরা কি নতুন কাজ করেছে, তা তুমি জান না।

3058

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ الْغَازِ، قَالَ سَمِعْتُ نَافِعًا، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَقَفَ يَوْمَ النَّحْرِ بَيْنَ الْجَمَرَاتِ فِي الْحَجَّةِ الَّتِي حَجَّ فِيهَا فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ أَىُّ يَوْمٍ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَوْمُ النَّحْرِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَأَىُّ بَلَدٍ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا هَذَا بَلَدُ اللَّهِ الْحَرَامُ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَأَىُّ شَهْرٍ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا شَهْرُ اللَّهِ الْحَرَامُ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ هَذَا يَوْمُ الْحَجِّ الأَكْبَرِ وَدِمَاؤُكُمْ وَأَمْوَالُكُمْ وَأَعْرَاضُكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ هَذَا الْبَلَدِ فِي هَذَا الشَّهْرِ فِي هَذَا الْيَوْمِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ هَلْ بَلَّغْتُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا نَعَمْ ‏.‏ فَطَفِقَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏"‏ اللَّهُمَّ اشْهَدْ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ وَدَّعَ النَّاسَ فَقَالُوا هَذِهِ حَجَّةُ الْوَدَاعِ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩০৫৮। হিশাম ইবন আম্মার (রাহঃ)..... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যে বছর হজ্জ করেন, সেই বছর কুরবানীর দিন জামরাসমূহের মধ্যস্থলে দাঁড়ালেন এবং জিজ্ঞাসা করলেনঃ আজ কোন দিন? সাহাবীগণ বললেন, কুরবানীর দিন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ এটি কোন শহর? তাঁরা বললেন, এটা আল্লাহর সম্মানিত শহর। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ এটি কোন মাস ? তাঁরা বললেন, আল্লাহর সম্মানিত মাস। তিনি বললেনঃ এটি হজ্জে আকবরের দিন। তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ তোমাদের মান-সম্ভ্রম (প্রভৃতির উপর হস্তক্ষেপ) তোমাদের জন্য হারাম- যেমন এই শহরের হুরমাত (সম্মান) এই মাসে এবং এই দিনে। এরপর তিনি বললেনঃ আমি কি পৌঁছে দিয়েছি। তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বলতে শুরু করলেনঃ হে আল্লাহ! সাক্ষী থাকুন। অতঃপর তিনি লোকদের বিদায় দেন। তখন তারা বলেন, এটা বিদায় হজ্জ।

বায়তুল্লাহ যিয়ারতের বর্ণনা

بَاب زِيَارَةِ الْبَيْتِ

3059

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ أَبُو بِشْرٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ طَارِقٍ، عَنْ طَاوُسٍ، وَأَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، وَابْنِ، عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَخَّرَ طَوَافَ الزِّيَارَةِ إِلَى اللَّيْلِ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০৫৯। আবু বাকর ইব্‌ন খালাফ, আবু বিশর (রাহঃ)...... আয়েশা ও ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) রাত পর্যন্ত তাওয়াফে যিয়ারতে বিলম্ব করেছেন।[১]

[১] হাজ্জীগণকে তিনবার বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে হয়। প্রথমে মক্কায় পৌঁছেই- এটা তাওয়াফে কুদূম (আগমনি তাওয়াফ), তা সুন্নত । দ্বিতীয়বার মিনা থেকে ফিরে এসে- এটা তাওয়াফে যিয়ারত বা তাওয়াফে ইফাদা, এটা ফরয। তৃতীয় বার হজ্জ শেষে নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে এটা তাওয়াফে বিদা (বিদায়ী তাওয়াফ)। মক্কার বাইরের লোকদের জন্য তা ওয়াজিব। মক্কা ও আশেপাশের লোকদের জন্য তা অপরিহার্য নয়।
3060

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَنْبَأَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لَمْ يَرْمُلْ فِي السَّبْعِ الَّذِي أَفَاضَ فِيهِ ‏.‏ قَالَ عَطَاءٌ وَلاَ رَمَلَ فِيهِ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৬০। হারমালা ইবন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তাওয়াফে যিয়ারতের সাত চক্করে রমল (বাহু দুলিয়ে বীরত্বপূর্ণ পদক্ষেপ) করেননি। আতা বলেন, তাওয়াফে যিয়ারতে রমল করতে হয় না।

যমযমের পানি পান করা

بَاب الشُّرْبِ مِنْ زَمْزَمَ

3061

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ جَالِسًا فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ مِنْ أَيْنَ جِئْتَ قَالَ مِنْ زَمْزَمَ ‏.‏ قَالَ فَشَرِبْتَ مِنْهَا كَمَا يَنْبَغِي قَالَ وَكَيْفَ قَالَ إِذَا شَرِبْتَ مِنْهَا فَاسْتَقْبِلِ الْكَعْبَةَ وَاذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ وَتَنَفَّسْ ثَلاَثًا وَتَضَلَّعْ مِنْهَا فَإِذَا فَرَغْتَ فَاحْمَدِ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ آيَةَ مَا بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْمُنَافِقِينَ أَنَّهُمْ لاَ يَتَضَلَّعُونَ مِنْ زَمْزَمَ ‏"‏ ‏.‏

৩০৬১। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... মুহাম্মাদ ইবন আব্দুর রহমান ইব্‌ন আবু বকর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ)-র নিকট বসা ছিলাম। এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এলো। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কোথা থেকে এসেছ? সে বলল, যমযমের নিকট থেকে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি তা থেকে প্রয়োজন মত পান করেছ? সে বলল, কিরূপে? তিনি বললেন, তুমি যখন তা থেকে পান করবে, তখন কিবলামুখী হবে, আল্লাহর নাম স্মরণ করবে, তিনবার নিঃশ্বাস নিবে এবং তৃপ্তি সহকারে পান করবে। পানি পান শেষে তুমি মহামহিম আল্লাহর প্রশংসা করবে। কারণ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আমাদের ও মুনাফিকদের মধ্যে নিদর্শন এই যে, তারা তৃপ্তিসহকারে যমযমের পানি পান করে না।

3062

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُؤَمَّلِ إِنَّهُ سَمِعَ أَبَا الزُّبَيْرِ، يَقُولُ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ مَاءُ زَمْزَمَ لِمَا شُرِبَ لَهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩০৬২। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যমযমের পানি যে উপকারের আশায় পান করা হবে, তা অর্জিত হবে।

পবিত্র কা'বা গৃহে প্রবেশ করা

بَاب دُخُولِ الْكَعْبَةِ

3063

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَوْمَ الْفَتْحِ الْكَعْبَةَ وَمَعَهُ بِلاَلٌ وَعُثْمَانُ بْنُ شَيْبَةَ فَأَغْلَقُوهَا عَلَيْهِمْ مِنْ دَاخِلٍ فَلَمَّا خَرَجُوا سَأَلْتُ بِلاَلاً أَيْنَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَأَخْبَرَنِي أَنَّهُ صَلَّى عَلَى وَجْهِهِ حِينَ دَخَلَ بَيْنَ الْعَمُودَيْنِ عَنْ يَمِينِهِ ثُمَّ لُمْتُ نَفْسِي أَنْ لاَ أَكُونَ سَأَلْتُهُ كَمْ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩০৬৩। আব্দুর রহমান ইব্‌ন ইবরাহীম দিমাশকী (রাহঃ)...... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন কা'বা গৃহে প্রবেশ করেন। তাঁর সাথে ছিলেন বিলাল ও উসমান ইবন শাইবা (রাযিঃ)। তাঁরা ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিলেন। তাঁরা বেরিয়ে এলে আমি বিলালকে জিজ্ঞাসা করলাম- রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কোন স্থানে সালাত আদায় করেছেন? তিনি আমাকে অবহিত করেন যে, তিনি ভেতরে প্রবেশ করে ডান দিকের দুই স্তম্ভের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর আমি নিজেকে তিরষ্কার করলাম যে, আমি কেন তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম না যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কত রাক'আত সালাত আদায় করেছেন।

3064

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَرَجَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مِنْ عِنْدِي وَهُوَ قَرِيرُ الْعَيْنِ طَيِّبُ النَّفْسِ ثُمَّ رَجَعَ إِلَىَّ وَهُوَ حَزِينٌ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ خَرَجْتَ مِنْ عِنْدِي وَأَنْتَ قَرِيرُ الْعَيْنِ وَرَجَعْتَ وَأَنْتَ حَزِينٌ ‏.‏ فَقَالَ ‏ "‏ إِنِّي دَخَلْتُ الْكَعْبَةَ وَوَدِدْتُ أَنِّي لَمْ أَكُنْ فَعَلْتُ إِنِّي أَخَافُ أَنْ أَكُونَ أَتْعَبْتُ أُمَّتِي مِنْ بَعْدِي ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০৬৪। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমার নিকট থেকে আনন্দিত ও উৎফুল্ল চিত্তে বেরিয়ে গেলেন, কিন্তু বিষণ্ন অবস্থায় ফিরে এলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার নিকট থেকে চক্ষু শীতল অবস্থায় বেরিয়ে গেলেন, অথচ দুশ্চিন্তাযুক্ত অবস্থায় ফিরে এলেন? তখন তিনি বললেনঃ আমি কা'বা গৃহে প্রবেশ করার পর ভাবলাম, আমি যদি এ কাজ না করতাম! আমার আশংকা হচ্ছে- আমার পরে আমার উম্মাতের কষ্ট হবে!

মিনার রাতগুলোতে মক্কায় অবস্থান

بَاب الْبَيْتُوتَةِ بِمَكَّةَ لَيَالِي مِنًى

3065

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ اسْتَأْذَنَ الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ يَبِيتَ بِمَكَّةَ أَيَّامَ مِنًى مِنْ أَجْلِ سِقَايَتِهِ فَأَذِنَ لَهُ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩০৬৫। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিব (রাযিঃ) মিনার দিনগুলোর-রাত, মক্কায় কাটানোর জন্য রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করেন। কারণ হাজ্জীদের পানি পান করানোর দায়িত্ব তাঁর উপর ন্যস্ত ছিল। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন।

3066

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَهَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمْ يُرَخِّصِ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لأَحَدٍ يَبِيتُ بِمَكَّةَ إِلاَّ لِلْعَبَّاسِ مِنْ أَجْلِ السِّقَايَةِ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৬৬। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আব্বাস (রাযিঃ) ব্যতীত আর কাউকে মিনার রাতগুলোতে মক্কায় অবস্থানের অনুমতি দেননি। কারণ তাঁর উপর পানি সরবরাহের দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল।

মুহাসসাবে অবতরণ করা

بَاب نُزُولِ الْمُحَصَّبِ

3067

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، وَعَبْدَةُ، وَوَكِيعٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، كُلُّهُمْ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنَّ نُزُولَ الأَبْطَحِ لَيْسَ بِسُنَّةٍ إِنَّمَا نَزَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لِيَكُونَ أَسْمَحَ لِخُرُوجِهِ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০৬৭। হান্নাদ ইবন সারী, আলী ইবন মুহাম্মাদ ও আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবতাহ নামক স্থানে অবতরণ করা সুন্নত নয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে এজন্য অবতরণ করেন যাতে (মদীনার উদ্দেশ্যে) তাঁর রওয়ানা করা সহজ হয়।

3068

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ رُزَيْقٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتِ ادَّلَجَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لَيْلَةَ النَّفْرِ مِنَ الْبَطْحَاءِ ادِّلاَجًا ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০৬৮। আবু বাকর ইবন আবু শাইবা (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) রাতের বেলা বাতহা থেকে মদীনার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

3069

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ يَنْزِلُونَ بِالأَبْطَحِ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩০৬৯। মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)...... ইব্‌ন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আবু বাকর, উমার ও উসমান (রাযিঃ) বাতহা নামক স্থানে অবতরণ করতেন।

বিদায়ী তাওয়াফ

بَاب طَوَافِ الْوَدَاعِ

3070

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ النَّاسُ يَنْصَرِفُونَ كُلَّ وَجْهٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ يَنْفِرَنَّ أَحَدٌ حَتَّى يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِ بِالْبَيْتِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৭০। হিশাম ইবন আম্মার (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা বিক্ষিপ্তভাবে সব দিকে যাচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ শেষবারের মত বায়তুল্লাহ তাওয়াফ না করা পর্যন্ত কেউ যেন প্রস্থান না করে।

3071

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ يَنْفِرَ الرَّجُلُ حَتَّى يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِ بِالْبَيْتِ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩০৭১। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, শেষ বারের মত বায়তুল্লাহ তাওয়াফ না করা পর্যন্ত কোন ব্যক্তিকে প্রস্থান করতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিষেধ করেছেন।

ঋতুমতী স্ত্রীলোক বিদায়ী তাওয়াফ না করে প্রস্থান করতে পারে

بَاب الْحَائِضِ تَنْفِرُ قَبْلَ أَنْ تُوَدِّعَ

3072

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، وَعُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ حَاضَتْ صَفِيَّةُ بِنْتُ حُيَىٍّ بَعْدَمَا أَفَاضَتْ ‏.‏ قَالَتْ عَائِشَةُ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ أَحَابِسَتُنَا هِيَ ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ إِنَّهَا قَدْ أَفَاضَتْ ثُمَّ حَاضَتْ بَعْدَ ذَلِكَ ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ فَلْتَنْفِرْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০৭২। আবু বাকর ইবন আবু শাইবা ও মুহাম্মাদ ইব্‌ন রুমহ (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, তাওয়াফে ইফাদা করার পর সাফিয়্যা বিনতে হুয়ায়ি (রাযিঃ) ঋতুমতী হলেন। আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি তা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি বললেনঃ সে কি আমাদের আটকে রাখবে? আমি বললামঃ তিনি তাওয়াফে ইফাদা করেছেন, অতঃপর ঋতুমতী হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, তাহলে রওয়ানা হতে পার।

3073

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ صَفِيَّةَ فَقُلْنَا قَدْ حَاضَتْ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ عَقْرَى حَلْقَى مَا أُرَاهَا إِلاَّ حَابِسَتَنَا ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا قَدْ طَافَتْ يَوْمَ النَّحْرِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَلاَ إِذًا مُرُوهَا فَلْتَنْفِرْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০৭৩। আবু বাকর ইবন আবু শাইবা ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).....আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাফিয়্যা (রাযিঃ) সম্পর্কে জানতে চাইলেন, আমরা বললাম সে ঋতুমতী হয়েছে। তিনি বললেনঃ বন্ধ্যা, ন্যাড়া- সে তো আমাদের আটকে ফেলেছে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! তিনি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছেন। তিনি বললেনঃ তাহলে অসুবিধা নেই তাকে রওয়ানা হতে বল।

রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর হজ্জ

بَاب حَجَّةِ رَسُولِ اللهِ ﷺ

3074
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَعِيلَ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ دَخَلْنَا عَلَى جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ فَلَمَّا انْتَهَيْنَا إِلَيْهِ سَأَلَ عَنْ الْقَوْمِ حَتّٰى انْتَهَى إِلَيَّ فَقُلْتُ أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ فَأَهْوَى بِيَدِهِ إِلَى رَأْسِي فَحَلَّ زِرِّي الْأَعْلَى ثُمَّ حَلَّ زِرِّي الْأَسْفَلَ ثُمَّ وَضَعَ كَفَّهُ بَيْنَ ثَدْيَيَّ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ غُلَامٌ شَابٌّ فَقَالَ مَرْحَبًا بِكَ سَلْ عَمَّا شِئْتَ فَسَأَلْتُهُ وَهُوَ أَعْمَى فَجَاءَ وَقْتُ الصَّلَاةِ فَقَامَ فِي نِسَاجَةٍ مُلْتَحِفًا بِهَا كُلَّمَا وَضَعَهَا عَلَى مَنْكِبَيْهِ رَجَعَ طَرَفَاهَا إِلَيْهِ مِنْ صِغَرِهَا وَرِدَاؤُهُ إِلَى جَانِبِهِ عَلَى الْمِشْجَبِ فَصَلَّى بِنَا فَقُلْتُ أَخْبِرْنَا عَنْ حَجَّةِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ بِيَدِهِ فَعَقَدَ تِسْعًا وَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَكَثَ تِسْعَ سِنِينَ لَمْ يَحُجَّ فَأَذَّنَ فِي النَّاسِ فِي الْعَاشِرَةِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَاجٌّ فَقَدِمَ الْمَدِينَةَ بَشَرٌ كَثِيرٌ كُلُّهُمْ يَلْتَمِسُ أَنْ يَأْتَمَّ بِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَيَعْمَلَ بِمِثْلِ عَمَلِهِ فَخَرَجَ وَخَرَجْنَا مَعَهُ فَأَتَيْنَا ذَا الْحُلَيْفَةِ فَوَلَدَتْ أَسْمَاءُ بِنْتُ عُمَيْسٍ مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي بَكْرٍ فَأَرْسَلَتْ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ أَصْنَعُ قَالَ اغْتَسِلِي وَاسْتَثْفِرِي بِثَوْبٍ وَأَحْرِمِي فَصَلَّى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ ثُمَّ رَكِبَ الْقَصْوَاءَ حَتّٰى إِذَا اسْتَوَتْ بِهِ نَاقَتُهُ عَلَى الْبَيْدَاءِ قَالَ جَابِرٌ نَظَرْتُ إِلَى مَدِّ بَصَرِي مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ بَيْنَ رَاكِبٍ وَمَاشٍ وَعَنْ يَمِينِهِ مِثْلُ ذَلِكَ وَعَنْ يَسَارِهِ مِثْلُ ذَلِك وَمِنْ خَلْفِهِ مِثْلُ ذَلِكَ وَرَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَظْهُرِنَا وَعَلَيْهِ يَنْزِلُ الْقُرْآنُ وَهُوَ يَعْرِفُ تَأْوِيلَهُ مَا عَمِلَ بِهِ مِنْ شَيْءٍ عَمِلْنَا بِهِ فَأَهَلَّ بِالتَّوْحِيدِ لَبَّيْكَ اللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ وَأَهَلَّ النَّاسُ بِهَذَا الَّذِي يُهِلُّونَ بِهِ فَلَمْ يَرُدَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِمْ شَيْئًا مِنْهُ وَلَزِمَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَلْبِيَتَهُ قَالَ جَابِرٌ لَسْنَا نَنْوِي إِلَّا الْحَجَّ لَسْنَا نَعْرِفُ الْعُمْرَةَ حَتّٰى إِذَا أَتَيْنَا الْبَيْتَ مَعَهُ اسْتَلَمَ الرُّكْنَ فَرَمَلَ ثَلَاثًا وَمَشَى أَرْبَعًا ثُمَّ قَامَ إِلَى مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ فَقَالَ ( وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى ).
فَجَعَلَ الْمَقَامَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْبَيْتِ فَكَانَ أَبِي يَقُولُ وَلَا أَعْلَمُهُ إِلَّا ذَكَرَهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّهُ كَانَ يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ وَ قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى الْبَيْتِ فَاسْتَلَمَ الرُّكْنَ ثُمَّ خَرَجَ مِنْ الْبَابِ إِلَى الصَّفَا حَتّٰى إِذَا دَنَا مِنْ الصَّفَا قَرَأَ ( إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ ).
نَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللهُ بِهِ فَبَدَأَ بِالصَّفَا فَرَقِيَ عَلَيْهِ حَتّٰى رَأَى الْبَيْتَ فَكَبَّرَ اللهَ وَهَلَّلَهُ وَحَمِدَهُ وَقَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ أَنْجَزَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ ثُمَّ دَعَا بَيْنَ ذَلِكَ وَقَالَ مِثْلَ هَذَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ نَزَلَ إِلَى الْمَرْوَةِ فَمَشَى حَتّٰى إِذَا انْصَبَّتْ قَدَمَاهُ رَمَلَ فِي بَطْنِ الْوَادِي حَتّٰى إِذَا صَعِدَتَا يَعْنِي قَدَمَاهُ مَشَى حَتّٰى أَتَى الْمَرْوَةَ فَفَعَلَ عَلَى الْمَرْوَةِ كَمَا فَعَلَ عَلَى الصَّفَا فَلَمَّا كَانَ آخِرُ طَوَافِهِ عَلَى الْمَرْوَةِ قَالَ لَوْ أَنِّي اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ لَمْ أَسُقْ الْهَدْيَ وَجَعَلْتُهَا عُمْرَةً فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ لَيْسَ مَعَهُ هَدْيٌ فَلْيَحْلِلْ وَلْيَجْعَلْهَا عُمْرَةً فَحَلَّ النَّاسُ كُلُّهُمْ وَقَصَّرُوا إِلَّا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ كَانَ مَعَهُ الْهَدْيُ فَقَامَ سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ أَلِعَامِنَا هَذَا أَمْ لِأَبَدِ الْأَبَدِ قَالَ فَشَبَّكَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَصَابِعَهُ فِي الْأُخْرَى وَقَالَ دَخَلَتْ الْعُمْرَةُ فِي الْحَجِّ هَكَذَا مَرَّتَيْنِ لَا بَلْ لِأَبَدِ الْأَبَدِ قَالَ وَقَدِمَ عَلِيٌّ بِبُدْنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدَ فَاطِمَةَ مِمَّنْ حَلَّ وَلَبِسَتْ ثِيَابًا صَبِيغًا وَاكْتَحَلَتْ فَأَنْكَرَ ذَلِكَ عَلَيْهَا عَلِيٌّ فَقَالَتْ أَمَرَنِي أَبِي بِهَذَا فَكَانَ عَلِيٌّ يَقُولُ بِالْعِرَاقِ فَذَهَبْتُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم مُحَرِّشًا عَلَى فَاطِمَةَ فِي الَّذِي صَنَعَتْهُ مُسْتَفْتِيًا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي الَّذِي ذَكَرَتْ عَنْهُ وَأَنْكَرْتُ ذَلِكَ عَلَيْهَا فَقَالَ صَدَقَتْ صَدَقَتْ مَاذَا قُلْتُ حِينَ فَرَضْتَ الْحَجَّ قَالَ قُلْتُ اللّٰهُمَّ إِنِّي أُهِلُّ بِمَا أَهَلَّ بِهِ رَسُولُكَ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَإِنَّ مَعِي الْهَدْيَ فَلَا تَحِلَّ قَالَ فَكَانَ جَمَاعَةُ الْهَدْيِ الَّذِي جَاءَ بِهِ عَلِيٌّ مِنْ الْيَمَنِ وَالَّذِي أَتَى بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ الْمَدِينَةِ مِائَةً ثُمَّ حَلَّ النَّاسُ كُلُّهُمْ وَقَصَّرُوا إِلَّا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْيٌ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ التَّرْوِيَةِ وَتَوَجَّهُوا إِلَى مِنًى أَهَلُّوا بِالْحَجِّ فَرَكِبَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى بِمِنًى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ وَالصُّبْحَ ثُمَّ مَكَثَ قَلِيلًا حَتّٰى طَلَعَتْ الشَّمْسُ وَأَمَرَ بِقُبَّةٍ مِنْ شَعَرٍ فَضُرِبَتْ لَهُ بِنَمِرَةَ فَسَارَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَا تَشُكُّ قُرَيْشٌ إِلَّا أَنَّهُ وَاقِفٌ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ أَوْ الْمُزْدَلِفَةِ كَمَا كَانَتْ قُرَيْشٌ تَصْنَعُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَأَجَازَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتّٰى أَتَى عَرَفَةَ فَوَجَدَ الْقُبَّةَ قَدْ ضُرِبَتْ لَهُ بِنَمِرَةَ فَنَزَلَ بِهَا حَتّٰى إِذَا زَاغَتْ الشَّمْسُ أَمَرَ بِالْقَصْوَاءِ فَرُحِلَتْ لَهُ فَرَكِبَ حَتّٰى أَتَى بَطْنَ الْوَادِي فَخَطَبَ النَّاسَ فَقَالَ إِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا أَلَا وَإِنَّ كُلَّ شَيْءٍ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ تَحْتَ قَدَمَيَّ هَاتَيْنِ وَدِمَاءُ الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعَةٌ وَأَوَّلُ دَمٍ أَضَعُهُ دَمُ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ كَانَ مُسْتَرْضِعًا فِي بَنِي سَعْدٍ فَقَتَلَتْهُ هُذَيْلٌ وَرِبَا الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ وَأَوَّلُ رِبًا أَضَعُهُ رِبَانَا رِبَا الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَإِنَّهُ مَوْضُوعٌ كُلُّهُ فَاتَّقُوا اللهَ فِي النِّسَاءِ فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانَةِ اللهِ وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللهِ وَإِنَّ لَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ فَإِنْ فَعَلْنَ ذَلِكَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَقَدْ تَرَكْتُ فِيكُمْ مَا لَمْ تَضِلُّوا إِنْ اعْتَصَمْتُمْ بِهِ كِتَابَ اللهِ وَأَنْتُمْ مَسْئُولُونَ عَنِّي فَمَا أَنْتُمْ قَائِلُونَ قَالُوا نَشْهَدُ أَنَّكَ قَدْ بَلَّغْتَ وَأَدَّيْتَ وَنَصَحْتَ فَقَالَ بِإِصْبَعِهِ السَّبَابَةِ إِلَى السَّمَاءِ وَيَنْكُبُهَا إِلَى النَّاسِ اللّٰهُمَّ اشْهَدْ اللّٰهُمَّ اشْهَدْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ أَذَّنَ بِلَالٌ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الْعَصْرَ وَلَمْ يُصَلِّ بَيْنَهُمَا شَيْئًا ثُمَّ رَكِبَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتّٰى أَتَى الْمَوْقِفَ فَجَعَلَ بَطْنَ نَاقَتِهِ إِلَى الصَّخَرَاتِ وَجَعَلَ حَبْلَ الْمُشَاةِ بَيْنَ يَدَيْهِ وَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ فَلَمْ يَزَلْ وَاقِفًا حَتّٰى غَرَبَتْ الشَّمْسُ وَذَهَبَتْ الصُّفْرَةُ قَلِيلًا حَتّٰى غَابَ الْقُرْصُ وَأَرْدَفَ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ خَلْفَهُ فَدَفَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ شَنَقَ الْقَصْوَاءَ بِالزِّمَامِ حَتّٰى إِنَّ رَأْسَهَا لَيُصِيبُ مَوْرِكَ رَحْلِهِ وَيَقُولُ بِيَدِهِ الْيُمْنَى أَيُّهَا النَّاسُ السَّكِينَةَ السَّكِينَةَ’ كُلَّمَا أَتَى حَبْلًا مِنْ الْحِبَالِ أَرْخَى لَهَا قَلِيلًا حَتّٰى تَصْعَدَ ثُمَّ أَتَى الْمُزْدَلِفَةَ فَصَلَّى بِهَا الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِأَذَانٍ وَاحِدٍ وَإِقَامَتَيْنِ وَلَمْ يُصَلِّ بَيْنَهُمَا شَيْئًا ثُمَّ اضْطَجَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتّٰى طَلَعَ الْفَجْرُ فَصَلَّى الْفَجْرَ حِينَ تَبَيَّنَ لَهُ الصُّبْحُ بِأَذَانٍ وَإِقَامَةٍ ثُمَّ رَكِبَ الْقَصْوَاءَ حَتّٰى أَتَى الْمَشْعَرَ الْحَرَامَ فَرَقِيَ عَلَيْهِ فَحَمِدَ اللهَ وَكَبَّرَهُ وَهَلَّلَهُ فَلَمْ يَزَلْ وَاقِفًا حَتّٰى أَسْفَرَ جِدًّا ثُمَّ دَفَعَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَأَرْدَفَ الْفَضْلَ بْنَ الْعَبَّاسِ وَكَانَ رَجُلًا حَسَنَ الشَّعَرِ أَبْيَضَ وَسِيمًا فَلَمَّا دَفَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ الظُّعُنُ يَجْرِينَ فَطَفِقَ يَنْظُرُ إِلَيْهِنَّ فَوَضَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ مِنْ الشِّقِّ الْآخَرِ فَصَرَفَ الْفَضْلُ وَجْهَهُ مِنْ الشِّقِّ الْآخَرِ يَنْظُرُ حَتّٰى أَتَى مُحَسِّرًا حَرَّكَ قَلِيلًا ثُمَّ سَلَكَ الطَّرِيقَ الْوُسْطَى الَّتِي تُخْرِجُكَ إِلَى الْجَمْرَةِ الْكُبْرَى حَتّٰى أَتَى الْجَمْرَةَ الَّتِي عِنْدَ الشَّجَرَةِ فَرَمَى بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ مِنْهَا مِثْلِ حَصَى الْخَذْفِ وَرَمَى مِنْ بَطْنِ الْوَادِي ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى الْمَنْحَرِ فَنَحَرَ ثَلَاثًا وَسِتِّينَ بَدَنَةً بِيَدِهِ وَأَعْطَى عَلِيًّا فَنَحَرَ مَا غَبَرَ وَأَشْرَكَهُ فِي هَدْيِهِ ثُمَّ أَمَرَ مِنْ كُلِّ بَدَنَةٍ بِبَضْعَةٍ فَجُعِلَتْ فِي قِدْرٍ فَطُبِخَتْ فَأَكَلَا مِنْ لَحْمِهَا وَشَرِبَا مِنْ مَرَقِهَا ثُمَّ أَفَاضَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْبَيْتِ فَصَلَّى بِمَكَّةَ الظُّهْرَ فَأَتَى بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَهُمْ يَسْقُونَ عَلَى زَمْزَمَ فَقَالَ انْزَعُوا بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ لَوْلَا أَنْ يَغْلِبَكُمْ النَّاسُ عَلَى سِقَايَتِكُمْ لَنَزَعْتُ مَعَكُمْ فَنَاوَلُوهُ دَلْوًا فَشَرِبَ مِنْهُ

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩০৭৪। হিশাম ইব্‌ন আম্মার...... জাফর (সাদিক) ইবন মুহাম্মাদ (বাকের) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ)-র নিকট উপস্থিত হলাম। আমরা তাঁর নিকট পৌঁছলে তিনি সাক্ষাতপ্রার্থীদের পরিচয় জানতে চান। আমার পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে আমি বলি যে, আমি আলী ইবন হুসাইনের পুত্র মুহাম্মাদ। অতএব তিনি (স্নেহভরে) আমার দিকে হাত বাড়ালেন এবং তা আমার মাথার উপর রাখলেন। তিনি প্রথমে আমার পরিচ্ছদের উপর দিকের বোতাম, পরে নীচের বোতাম খুললেন, অতঃপর তাঁর হাত আমার বুকের উপর রাখলেন। আমি তখন উঠতি বয়সের যুবক ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমাকে মোবারকবাদ জানাই। তুমি যা জানতে চাও জিজ্ঞাসা কর। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, এ সময় তিনি (বার্ধক্য জনিত কারণে) দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। ইতিমধ্যে সালাতের ওয়াক্ত হলো। তিনি নিজেকে একটি চাদরে আবৃত করে উঠে দাঁড়ালেন। তিনি যখনই চাদরের প্রান্ত নিজ কাঁধের উপর রাখতেন, তা (আকারে) ছোট হওয়ার কারণে নীচে পড়ে যেত। তাঁর আরেকটি বড় চাদর তাঁর পাশেই আলনায় রাখা ছিল। তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তখন আমি বললাম, আপনি আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর (বিদায়) হজ্জ সম্পর্কে অবহিত করুন। জাবির (রাযিঃ) স্বহস্তে নয় সংখ্যার প্রতি ইংগিত করে বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নয় বছর (মদীনায়) অবস্থান করেন এবং (এ সময়কালের মধ্যে) হজ্জ করেননি। অতঃপর ১০শ বর্ষে লোকদের মধ্যে ঘোষণা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (এ বছর) হজ্জে যাবেন। সুতরাং মদীনায় অসংখ্য লোকের সমাগম হলো। তাদের প্রত্যেকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর অনুসরণ করতে এবং তাঁর অনুরূপ আমল করতে আগ্রহী। অতএব তিনি রওয়ানা হলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে রওয়ানা হলাম। আমরা যখন যুল হুলাইফা নামক স্থানে পৌঁছলাম আসমা বিনতে উসাইফ (রাযিঃ) মুহাম্মাদ ইব্‌ন আবু বাকরকে প্রসব করলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর নিকট লোক পাঠিয়ে জানতে চাইলেন এখন আমি কি করব? তিনি বললেনঃ তুমি গোসল কর, এক খণ্ড কাপড় দিয়ে পানি বেঁধে যাও এবং ইহরামের পোশাক পরিধান কর।

রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মসজিদে (ইহরামের দুই রাক'আত) সালাত আদায় করবেন। অতঃপর 'কাসওয়া' নামক উষ্ট্রীতে আরোহণ করলেন। অবশেষে 'বাইদা' নামক স্থানে তাঁর উষ্ট্রী যখন তাঁকে নিয়ে দাঁড়ালো তখন আমি (জাবির) সামনের দিকে যতদূর দৃষ্টি যায় তাকিয়ে দেখলাম লোকে লোকারণ্য, কতেকে সাওয়ারীতে এবং কতেকে পদব্রজে অগ্রসর হচ্ছে। ডান দিকে, বাঁ দিকে এবং পেছনেও একই দৃশ্য। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের মাঝখানে ছিলেন এবং তাঁর উপর কুরআন নাযিল হচ্ছিল। একমাত্র তিনিই এর আসল তাৎপর্য জানেন এবং তিনি যা করতেন আমরাও তাই করতাম। তিনি আল্লাহর তাওহীদ সম্বলিত তালবিয়া পাঠ করলেনঃ

“আমি তোমার দরবারে হাযির আছি হে আল্লাহ, আমি তোমার দরবারে হাযির, আমি তোমার দরবারে হাযির। তোমার কোন শরীক নাই, আমি তোমার দরবারে উপস্থিত। নিশ্চিত সমস্ত প্রশংসা, সমস্ত নি'আমত তোমারই এবং রাজত্বও তোমার কোন শরীক নাই।”

লোকেরাও উপরোক্ত তালবিয়া পাঠ করল- যা (আজকাল) পাঠ করা হয়। লোকেরা তাঁর তালবিয়ার সাথে কিছু শব্দ বাড়িয়ে বলে, কিন্তু তাদের বাধা দেননি। আর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উপরোক্ত তালবিয়াই পাঠ করেন।

জাবির (রাযিঃ) বলেন, আমরা হজ্জ ছাড়া অন্য কিছুর নিয়্যত করিনি, আমরা উমরার কথা জানতাম না। অবশেষে আমরা যখন তাঁর সাথে বায়তুল্লাহ শরীফে পৌছলাম তিনি রুকন (হাজারে আসওয়াদ) চুম্বন করলেন, অতঃপর সাতবার এবং চারবার স্বাভাবিক গতিতে। এরপর তিনি মাকামে ইবরাহীমে পৌঁছে তিলাওয়াত করলেনঃ “তোমরা ইবরাহীমের দাঁড়াবার স্থানকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর" (সূরা বাকারাঃ ১২৫)।

তিনি মাকামে ইবরাহীমকে তাঁর ও বায়তুল্লাহর মাঝখানে রেখে (দুই রাক'আত নামায পড়লেন)। (জা'ফর বলেন) আমি যতদূর জানি, তিনি (জাবির) বরং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি দুই রাক'আত নামাযে সূরা কাফিরূন ও সূরা ইখলাস পাঠ করেছেন।

অতঃপর তিনি বায়তুল্লায় ফিরে এলেন এবং হাজারে আসওয়াদেও চুমা খেলেন। এরপর তিনি দরজা দিয়ে সাফা পাহাড়ের দিকে বের হলেন এবং সাফার নিকটবর্তী হয়ে তিলাওয়াত করলেন। “নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয় আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম” (সূরা বাকারাঃ ১৫৮) এবং (আরও বললেন) আল্লাহ তা'আলা যা দিয়ে আরম্ভ করেছেন আমরাও তা দিয়ে আরম্ভ করব। তখন তিনি সাফা পাহাড় থেকে শুরু করলেন এবং তার এতটা উপরে আরোহণ করলেন যে, বায়তুল্লাহ শরীফ দেখতে পেলেন। তিনি (কিবলামুখী হয়ে) আল্লাহর এক ও মহত্ত ঘোষণা করেন এবং এই দু'আ পড়েন।

“আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বূদ নাই, তিনি এক তাঁর কোন শরীক নাই, তাঁর জন্য রাজত্ব এবং তাঁর জন্য সমস্ত প্রশংসা, তিনি প্রতিটি জিনিসের উপর শক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, তিনি এক, তিনি নিজের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন, নিজের বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সমস্ত সম্মিলিত শক্তিকে পরাভূত করেছেন।"

তিনি এ দু'আ তিনবার পড়লেন এবং মাঝখানে অনুরূপ আরো কিছু দু'আ পড়লেন। অতঃপর তিনি নেমে মারওয়া পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হলেন, যাবত না তাঁর পা মোবারক উপত্যকার সমতল ভূমিতে গিয়ে ঠেকল। তিনি দৌড়ে চললেন, যাবত না উপত্যকা অতিক্রম করলেন। মারওয়া পাহাড়ে উঠার সময় হেঁটে উঠলেন, অতঃপর এখানেও তাই করলেন, যা তিনি সাফা পাহাড়ে করেছিলেন। শেষে তাওয়াফে যখন তিনি মারওয়া পাহাড়ে পৌছলেন, (লোকদের সম্বোধন করে) বললেনঃ যদি আমি আগেই বুঝতে পারতাম যে, আমার কি করা উচিৎ তাহলে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না এবং (হজ্জের) ইহরামকে উমরায় পরিবর্তন করতাম। অতএব তোমাদের মধ্যে যার সাথে কুরবানীর পশু নাই, সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে এবং একে উমরায় পরিণত করে। তখন নবী (ﷺ) এবং যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল তারা ব্যতীত সকলেই ইহরাম খুলে ফেললে এবং চুল ছোট করল। এ সময় সুরাকা ইব্‌ন মালিক, ইব্‌ন জু'শুম (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এই ব্যবস্থা কি আমাদের এ বছরের জন্য, না সর্বকালের জন্য? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিজ হাতের আংগুলগুলো পরস্পরের ফাঁকে ঢুকিয়ে দুইবার বললেনঃ উমরা হজ্জের মধ্যে প্রবেশ করলো না, বরং সর্বকালের জন্য।

এ সময় আলী (রাযিঃ) নবী (ﷺ) র জন্য কুরবানীর পশু নিয়ে এলেন এবং যারা ইহরাম খুলে ফেলেছে ফাতিমা (রাযিঃ)-কে তাদের অন্তর্ভুক্ত দেখতে পেলেন। তিনি রং্গীন কাপড় পরিধান করছিলেন এবং চোখে সুরমা লাগিয়ে ছিলেন। আলী (রাযিঃ) তা অপছন্দ করলেন। ফাতিমা (রাযিঃ) বললেন, আমার পিতা আমাকে এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। (রাবী বলেন) এরপর আলী (রাযিঃ) ইরাকে অবস্থানকালে বলতেন; তখন আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম ফাতিমার উপর অসন্তুষ্ট অবস্থায় যে, সে যা করেছে সে সম্পর্কে মাসআলা জানার জন্য। আমি তাঁকে বললাম যে, আমি তার এই কাজ অপছন্দ করেছি। তখন তিনি বললেনঃ ফাতিমা ঠিকই করেছে ঠিকই বলেছে। তুমি হজ্জের ইহরাম বাঁধার সময় কি বলেছিলে? আলী (রাযিঃ) বলেন, আমি বলেছিলামঃ হে আল্লাহ! আমি ইহরাম বাঁধলাম, যে নিয়্যতে ইরাম বেঁধেছেন আপনার রাসূল। তিনি বললেনঃ আমার সাথে কুরবানীর পশু আছে, অতএব তুমি (আলী) ইহরাম খুল না ।

জাবির (রাযিঃ) বলেন, আলী (রাযিঃ) ইয়ামান থেকে যে পশুপাল নিয়ে আসেন এবং নবী (ﷺ) নিজের সাথে করে যে পশুগুলো নিয়ে গিয়েছিলেন- এর সর্বমোট সংখ্যা দাঁড়ায় একশত। অতএব নবী (ﷺ) এবং যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল তারা ব্যতীত আর সকলেই ইহরাম খুলে ফেলেন এবং চুল ছোট করে ফেলে। অতঃপর যখন তারবিয়ার দিন (৮ যিলহজ্জ) হলো তখন লোকেরা পুনরায় ইহরাম বাঁধল এবং মিনার দিকে রওয়ানা হল। আর নবী (ﷺ) সাওয়ার হয়ে গেলেন এবং তথায় যুহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজরের সালাত আদায় করলেন। আর তিনি সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত তথায় কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং তাঁর জন্য নামিরা নামক স্থানে গিয়ে একটি তাঁবু খাটানোর নির্দেশ দিলেন। অতঃপর নিজেও রওয়ানা হয়ে গেলেন।

কুরাইশগণ নিশ্চিত ছিল যে, নবী (ﷺ) মাশআরুল-হারাম অথবা মুযদালাফা নামক স্থানে অবস্থান করলেন, যেমন কুরাইশগণ জাহিলী যুগে এখানে অবস্থান করত মানহানী হওয়ার আশংকায় তারা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সামনে অগ্রসর হতে থাকলেন- যাবত না আরাফাতে পৌঁছলেন। তিনি দেখতে পেলেন, নামিরায় তাঁর জন্য তাঁবু খাটানো হয়েছে। তিনি এখানে অবতরণ করলেন। অবশেষে সূর্য (পশ্চিমাকাশে) ঢলে পড়লে তিনি তাঁর কাসওয়া নামক উষ্ট্রী সাজানোর নির্দেশ দিলে তাই করা হল। অতঃপর তিনি উপত্যকার মাঝখানে আসেন এবং লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তিনি বলেনঃ

“তোমাদের জীবন ও সম্পদ তোমাদের পরস্পরের জন্য হারাম-যেভাবে এই দিন এই মাস এবং এই শহর হারাম।"

“সাবধান! জাহিলী যুগের সকল জিনিস (অপ-সংস্কৃতি) আমার পদতলে সম্পূর্ণ রহিত করা হল।"

“জাহিলী যুগের রক্তের দাবীও (হত্যার প্রতিশোধ) রহিত হল। আমাদের (বংশের) রক্তের দাবীর মধ্যে সর্বপ্রথম আমি রবী'আ ইবন হারিসের রক্তের দাবী রহিত করলাম।" সে বনু সা'দ-এ শিশু অবস্থায় লালিত-পালিত হওয়াকালীন হুযাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে।

“জাহিলী যুগের সুদও রহিত করা হল। আমাদের বংশের প্রাপ্য সুদের মধ্যে সর্বপ্রথম আমি আব্দুল মুত্তালিব-পুত্র আব্বাস (রাযিঃ)-র প্রাপ্য সমুদয় সুদ রহিত করলাম।"

“তোমরা স্ত্রীলোকদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করবে। তোমরা তাদেরকে আল্লাহর জামানতে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কালামের মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছ। তাদের উপর তোমাদের অধিকার এই যে, তারা যেন তোমাদের অন্দর মহলে এমন কোন লোককে যেতে না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ কর। যদি তারা অনুরূপ কাজ করে তবে তাদেরকে হাল্কাভাবে মারপিট করবে। আর তোমাদের উপর তাদের অধিকার এই যে, তোমরা ন্যায়সংগতভাবে তাদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবে।"

“আমি তোমাদের মাঝে এমন এক জিনিস রেখে যাচ্ছি- যা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব।"

“তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে- তখন তোমরা কি বলবে? উপস্থিত জনতা বলল, আমরা সাক্ষ্য দেব আপনি (আল্লাহর বাণী) পৌঁছে দিয়েছেন, আপনার কর্তব্য পালন করেছেন এবং সদোপদেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি নিজের তর্জনী (শাহাদত আংগুল) আকাশের দিকে উত্তোলন করে এবং জনতার প্রতি ইংগিত করে বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন (তিনবার)।

অতঃপর বিলাল (রাযিঃ) আযান দিলেন, অতঃপর ইকামত দিলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যুহরের সালাত আদায় করলেন। বিলাল (রাযিঃ) পুনরায় ইকামত দিলেন এবং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আসরের সালাত আদায় করলেন। তিনি এই দুই সালাতের মাঝখানে অন্য কোন সালাত আদায় করেননি।

অতপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কাসওয়ার উপর সওয়ার হয়ে আল-মাওকিফ (অবস্থান-স্থল)-এ এলেন, নিজের কাসওয়া নামক উষ্ট্রীর পেট পাথরের স্তুপের দিকে করে দিলেন এবং পায়ে হ্যাঁটার পথ নিজের সামনে রেখে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ালেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তিনি এভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন। পীত আভা কিছুটা দূরীভূত হল, এমন কি সূর্য-গোলক সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেল। তিনি উসামা (রাযিঃ)-কে তাঁর বাহনে পেছন দিকে বসালেন এবং কাসওয়ার নাসারন্দ্রের দড়ি সজোরে টান দিলেন- ফলে এর মাথা জিন স্পর্শ করল (এবং তা অগ্রযাত্রা শুরু করল)। তিনি ডান হাতের ইশারায় বললেনঃ “হে জনমণ্ডলী! শান্তভাবে, শান্তভাবে (ধীরেসুস্থে মধ্যম গতিতে) অগ্রসর হও।" যখনই তিনি বালুর স্তূপের নিকট পৌঁছতেন কাসওয়ার নাসারন্দ্রের রশি কিছুটা ঢিল দিতেন, যাতে তা উপর দিকে উঠতে পারে।

এভাবে তিনি মুযদালিফায় পৌঁছলেন এবং এখানে একই আযানে ও দুই ইকামতে মাগরিব ও এশার সালাত আদায় করলেন। এই দুই সালাতের মাঝখানে অন্য কোন সালাত আদায় করলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) শুয়ে ঘুমালেন যাবত না ফজরের ওয়াক্ত হল। অতঃপর উষা পরিষ্কার হয়ে গেলে তিনি আযান ও ইকামতসহ ফজরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর কাসওয়ার পিঠে আরোহণ করে 'মাশআরুল হারাম' নামক স্থানে এলেন। এখানে তিনি (কিবলামুখী হয়ে) আল্লাহর প্রশংসা করলেন, তাঁর মহত্ত বর্ণনা করলেন, কলেমা তাওহীদ পড়লেন এবং তাঁর একত্ব ঘোষণা করলেন। আকাশ যথেষ্ট পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত তিনি দাঁড়িয়ে এরূপ করতে থাকলেন।

সূর্য উদয়ের পূর্বে তিনি আবার রওয়ানা হলেন এবং ফাদল ইব্‌ন আব্বাসকে সাওয়ারীতে তাঁর পেছনে বসালেন। সে ছিল সুদর্শন যুবক এবং তার মাথার চুল ছিল অত্যন্ত সুন্দর। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন অগ্রসর হলেন- তখন (পাশাপাশি) একদল মহিলাও যাচ্ছিল। ফাদল তাদের দিকে তাকাতে লাগল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিজের হাত ফাদলের চেহারার উপর রাখলেন এবং সে তার মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিয়ে দেখতে লাগল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পুনরায় অন্য দিক থেকে। ফাদল-এর মুখমণ্ডলে হাত রাখলেন। সে আবার অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে দেখতে লাগল। এভাবে তিনি 'বাতনে মুহাসসার' নামক স্থানে পৌঁছলেন এবং সাওয়ারীর গতি কিছুটা দ্রুত করলেন। তিনি মধ্যপথ দিয়ে অগ্রসর হলেন- যা জামরাতুল কুবরায় গিয়ে পৌঁছেছে। তিনি বৃক্ষের নিকটের জামরায় এলেন এবং নীচের খালি জায়গায় দাঁড়িয়ে এখানে সাতটি কাঁকর নিক্ষেপ করলেন এবং প্রত্যেকবার 'আল্লাহু আকবার' বললেন। অতঃপর সেখান থেকে কুরবানীর স্থানে এলেন এবং নিজ হাতে তেষট্টিটি পশু যবেহ করলেন। অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকল তা আলী (রাযিঃ)-কে যবেহ্ করতে বললেন এবং তিনি তা কুরবানী করলেন। তিনি নিজ পশুতে আলীকেও শরীক করলেন। অতঃপর তিনি প্রতিটি পশুর কিছু অংশ নিয়ে একত্রে রান্না করার নির্দেশ দিলেন। অতএব তাই করা হল। তাঁরা উভয়ে এই গোশ্ত থেকে খেলেন এবং ঝোল পান করলেন।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাওয়ার হয়ে বায়তুল্লার দিকে রওয়ানা হলেন এবং মক্কায় পৌঁছে যুহরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি (নিজ গোত্র) বনু আব্দুল মুত্তালিব-এ এলেন। তারা লোকদের যমযমের পানি পান করাচ্ছিল। তিনি বললেনঃ হে আব্দুল মুত্তালিবের বংশধরগণ! পানি তোল। আমি যদি আশংকা না করতাম যে, পানি পান করানোর ব্যাপারে লোকেরা তোমাদের পরাভূত করে দেবে- তবে আমি নিজেও তোমাদের সাথে পানি তুলতাম। তখন তারা তাঁকে এক বালতি পানি দিল এবং তিনি তা থেকে কিছু পান করলেন।
3075

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ الْعَبْدِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَاطِبٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لِلْحَجِّ عَلَى أَنْوَاعٍ ثَلاَثَةٍ فَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِحَجٍّ وَعُمْرَةٍ مَعًا وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِحَجٍّ مُفْرَدٍ وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ مُفْرَدَةٍ ‏.‏ فَمَنْ كَانَ أَهَلَّ بِحَجٍّ وَعُمْرَةٍ مَعًا لَمْ يَحْلِلْ مِنْ شَىْءٍ مِمَّا حَرُمَ مِنْهُ حَتَّى يَقْضِيَ مَنَاسِكَ الْحَجِّ وَمَنْ أَهَلَّ بِالْحَجِّ مُفْرَدًا لَمْ يَحْلِلْ مِنْ شَىْءٍ مِمَّا حَرُمَ مِنْهُ حَتَّى يَقْضِيَ مَنَاسِكَ الْحَجِّ وَمَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ مُفْرَدَةٍ فَطَافَ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ حَلَّ مَا حَرُمَ مِنْهُ حَتَّى يَسْتَقْبِلَ حَجًّا ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০৭৫। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শাইবা (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে তিন পর্যায়ে বিভক্ত হয়ে হজ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। আমাদের কতেকে হজ্জ ও উমরার একসাথে ইহরাম বাঁধে, কতেকে শুধু হজ্জের ইহরাম বাঁধ ছিল তাদের জন্যও হজ্জের অনুষ্ঠানাদি শেষ না করা পর্যন্ত (ইহরামের কারণে) কোন নিষিদ্ধ জিনিস হালাল হয়নি। আর যারা ব্যক্তি শুধু উমরার ইহরাম বাঁধছিল, তাদের জন্য বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝখানে সাঈ করার পর যা কিছু হারাম ছিল তা হালাল হয়ে গেল- হজ্জের ইহরাম বাঁধার পূর্ব পর্যন্ত।

3076

حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادٍ الْمُهَلَّبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَجَّ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ثَلاَثَ حَجَّاتٍ حِجَّتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يُهَاجِرَ وَحَجَّةً بَعْدَ مَا هَاجَرَ مِنَ الْمَدِينَةِ وَقَرَنَ مَعَ حَجَّتِهِ عُمْرَةً وَاجْتَمَعَ مَا جَاءَ بِهِ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَمَا جَاءَ بِهِ عَلِيٌّ مِائَةَ بَدَنَةٍ مِنْهَا جَمَلٌ لأَبِي جَهْلٍ فِي أَنْفِهِ بُرَةٌ مِنْ فِضَّةٍ فَنَحَرَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِيَدِهِ ثَلاَثًا وَسِتِّينَ وَنَحَرَ عَلِيٌّ مَا غَبَرَ ‏.‏ قِيلَ لَهُ مَنْ ذَكَرَهُ قَالَ جَعْفَرٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرٍ وَابْنُ أَبِي لَيْلَى عَنِ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ‏.‏

Narrator: সুফয়ান ছাওরী (রহঃ)

৩০৭৬। কাসিম ইবন মুহাম্মাদ, ইবন আব্বাস মুহাল্লাবী (রাহঃ)...... সুফিয়ান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনবার হজ্জ করেছেনঃ হিজরতের পূর্বে দুইবার এবং মদীনায় হিজরতের পর এক বার (যা বিদায় হজ্জ নামে প্রসিদ্ধ)। শেষোক্তটি তিনি কিরান হজ্জ করেন অর্থাৎ একত্রে হজ্জ ও উমরার ইহরাম বাঁধেন। এই হজ্জে নবী (ﷺ) যে সংখ্যক কুরবানীর পশু এনেছিলেন এবং আলী (রাযিঃ) যে সংখ্যক পশু এনেছিলেন তার মোট সংখ্যা ছিল একশত। এর মধ্যে একটি উট ছিল আবু জাহলের, এর নাসারন্দ্রে রূপার লাগাম ছিল। নবী (ﷺ) সহস্তে ৬৩টি এবং আলী (রাযিঃ) অবশিষ্টগুলি কুরবানী করেন।

সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসা করা হল- এ হাদীস তাঁর নিকট কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বলেন, জাফর সাদিক, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি জাবির (রাযিঃ)-র সূত্রে। অন্য দিকে ইব্‌ন আবু লাইলা, তিনি আল-হাকামের সূত্রে, তিনি মিকসামের সূত্রে, তিনি ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে।

হজ্জে যাওয়ার পথে বাঁধাগ্রস্ত হলে

بَاب الْمُحْصِرِ

3077

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَابْنُ عُلَيَّةَ عَنْ حَجَّاجِ بْنِ أَبِي عُثْمَانَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ حَدَّثَنِي الْحَجَّاجُ بْنُ عَمْرٍو الْأَنْصَارِيُّ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَنْ كُسِرَ أَوْ عَرَجَ فَقَدْ حَلَّ وَعَلَيْهِ حَجَّةٌ أُخْرَى فَحَدَّثْتُ بِهِ ابْنَ عَبَّاسٍ وَأَبَا هُرَيْرَةَ فَقَالَا صَدَقَ

Narrator: হাজ্জাজ ইবনে আমর আনসারী (রাঃ)

৩০৭৭। আবু বাকর ইবন আবু শাইবা (রাহঃ)..... হাজ্জাজ ইব্‌ন আমর-আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ যার হাড় ভেঙ্গে গেল অথবা লেংড়া হয়ে গেল (ইহরাম বাঁধার পর)- সে ইহরামমুক্ত হয়ে গেল। সে পুণর্বার হজ্জ করবে। (ইকরিমা বলেন), আমি এ হাদীস ইবন আব্বাস (রাযিঃ) ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-র নিকট বর্ণনা করলে তাঁরা উভয়ে বলেন, তিনি (হাজ্জাজ) সত্য বলেছেন।

3078

حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ رَافِعٍ مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ قَالَ سَأَلْتُ الْحَجَّاجَ بْنَ عَمْرٍو عَنْ حَبْسِ الْمُحْرِمِ فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ كُسِرَ أَوْ مَرِضَ أَوْ عَرَجَ فَقَدْ حَلَّ وَعَلَيْهِ الْحَجُّ مِنْ قَابِلٍ قَالَ عِكْرِمَةُ فَحَدَّثْتُ بِهِ ابْنَ عَبَّاسٍ وَأَبَا هُرَيْرَةَ فَقَالَا صَدَقَ قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ فَوَجَدْتُهُ فِي جُزْءِ هِشَامٍ صَاحِبِ الدَّسْتُوَائِيِّ فَأَتَيْتُ بِهِ مَعْمَرًا فَقَرَأَ عَلَيَّ أَوْ قَرَأْتُ عَلَيْهِ

Narrator: বিবিধ

৩০৭৮। সালামা ইবন শাবীব (রাহঃ)...... উম্মে সালামা (রাযিঃ)-র মুক্তদাস আব্দুল্লাহ ইবন রাফি (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাজ্জাজ ইবন আমর (রাযিঃ)-র নিকট ইহরামধারী ব্যক্তির বাধাগ্রস্ত হওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তির হাড় ভেঙ্গে গেলে, পংগু হয়ে পেলে, রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লে অথবা বাধাগ্রস্ত হলে সে হালাল হয়ে যাবে। তাকে পরবর্তী বছর হজ্জ করতে হবে।

ইকরিমা বলেন, আমি এ হাদীস ইবন আব্বাস (রাযিঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-র নিকট বর্ণনা করলে তাঁরা উভয়ে বলেন, তিনি সত্য বলেছেন। আব্দুর রাযযাক (রাহঃ) বলেন, আমি এ হাদীস হিশাম দাস-তাওয়াঈর কিভাবে লিখিত পেয়েছি। আমি তা নিয়ে মা'মার-এর নিকট এলে তিনি আমার সামনে তা পাঠ করেন, অথবা আমি তার সামনে তা পাঠ করি।

বাঁধাগ্রস্ত হলে তার ফিদয়া

بَاب فِدْيَةِ الْمُحْصِرِ

3079

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَصْبَهَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْقِلٍ، قَالَ قَعَدْتُ إِلَى كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ فِي الْمَسْجِدِ فَسَأَلْتُهُ عَنْ هَذِهِ الآيَةِ، ‏(فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ)‏ ‏.‏ قَالَ كَعْبٌ فِيَّ أُنْزِلَتْ كَانَ بِي أَذًى مِنْ رَأْسِي فَحُمِلْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَالْقَمْلُ يَتَنَاثَرُ عَلَى وَجْهِي فَقَالَ ‏"‏ مَا كُنْتُ أُرَى الْجُهْدَ بَلَغَ مِنْكَ مَا أَرَى أَتَجِدُ شَاةً ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ لاَ ‏.‏ قَالَ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ‏(فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ)‏ ‏.‏ قَالَ فَالصَّوْمُ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ وَالصَّدَقَةُ عَلَى سِتَّةِ مَسَاكِينَ لِكُلِّ مِسْكِينٍ نِصْفُ صَاعٍ مِنْ طَعَامٍ وَالنُّسُكُ شَاةٌ ‏.‏

Narrator: কাব ইবনে উজরাহ (রাঃ)

৩০৭৯। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও মুহাম্মাদ ইবন ওয়ালীদ...... আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মা'কিল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মসজিদে কা'ব ইবন উজরা (রাযিঃ)-র নিকট বসা ছিলাম। আমি তাঁর নিকট নিম্নোক্ত আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিঃ “তবে রোযা, অথবা সদাকা অথবা কুরবানীর মাধ্যমে ফিদয়া দিবে”- (সূরা বাকারাঃ ১৯৬)।

কা'ব (রাযিঃ) বলেন, আমার সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। আমার মাথায় অসুখ ছিল। অতএব আমাকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর নিকট নিয়ে যাওয়া হল, আর উকুন আমার মুখমণ্ডলে ছড়িয়েছিল। তখন তিনি বললেনঃ আমি তোমার যে কষ্ট হতে দেখছি- তেমনটি আর কখনও দেখিনি। তুমি কি একটি বকরী সংগ্রহ করতে পারবে? আমি বললাম, না। রাবী বলেনঃ তখন এ আয়াত নাযিল হলঃ “তবে রোযা অথবা সাদাকা অথবা কুরবানীর মাধ্যমে ফিদযা দিবে।" রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তিন দিন রোযা রাখতে হবে, আর সাদাকার ক্ষেত্রে ছয়জন মিসকীনকে খাদ্যদ্রব্য দিতে হবে- মাথাপিছু অর্ধ সা' (এক সের সাড়ে বার ছটাক) এবং কুরবানীর ক্ষেত্রে একটি বকরী।
3080

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، قَالَ أَمَرَنِي النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ حِينَ آذَانِي الْقَمْلُ أَنْ أَحْلِقَ رَأْسِي وَأَصُومَ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ أَوْ أُطْعِمَ سِتَّةَ مَسَاكِينَ وَقَدْ عَلِمَ أَنْ لَيْسَ عِنْدِي مَا أَنْسُكُ ‏.‏

Narrator: কাব ইবনে উজরাহ (রাঃ)

৩০৮০। আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম (রাহঃ)...... কা'ব ইবন উযরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উকুন আমাকে কষ্ট দিলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে মাথা কামানোর নির্দেশ দেন এবং তিন দিন রোযা রাখতে অথবা ছয়জন মিসকীনকে আহার করাতে বলেন। তিনি জানতেন যে, আমার নিকট কুরবানী করার মত কিছু ছিল না।

মুহরিম ব্যক্তির শিঙ্গা লাগানো

بَاب الْحِجَامَةِ لِلْمُحْرِمِ

3081

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ احْتَجَمَ وَهُوَ صَائِمٌ مُحْرِمٌ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৮১। মুহাম্মাদ ইব্‌ন মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ (রাহঃ)...... ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সিয়াম রত অবস্থায় ইহরামে থাকাকালে শিঙ্গা লাগিয়েছেন।

3082

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ أَبُو بِشْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الضَّيْفِ، عَنِ ابْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ احْتَجَمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ مِنْ رَهْصَةٍ أَخَذَتْهُ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩০৮২। বকর ইব্‌ন খালাফ আবু বিশর (রাহঃ)...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একটি কঠিন ব্যাথার কারণে নবী (ﷺ) ইহরাম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন।

ইহরামধারী ব্যক্তি কি ধরনের তেল মাখতে পারে

بَاب مَا يَدَّهِنُ بِهِ الْمُحْرِمُ

3083

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ فَرْقَدٍ السَّبَخِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَدَّهِنُ رَأْسَهُ بِالزَّيْتِ وَهُوَ مُحْرِمٌ غَيْرَ الْمُقَتَّتِ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩০৮৩। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) ইহরাম অবস্থায় ঘ্রাণহীন যায়তূনের তেল মাথায় মাখতেন।

ইহরাম অবস্থায় মারা গেলে

بَاب الْمُحْرِمِ يَمُوتُ

3084
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلاً، أَوْقَصَتْهُ رَاحِلَتُهُ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَكَفِّنُوهُ فِي ثَوْبَيْهِ وَلاَ تُخَمِّرُوا وَجْهَهُ وَلاَ رَأْسَهُ فَإِنَّهُ يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلَبِّيًا ‏"‏ ‏.‏
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، مِثْلَهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ أَعْقَصَتْهُ رَاحِلَتُهُ ‏.‏ وَقَالَ ‏ "‏ لاَ تُقَرِّبُوهُ طِيبًا فَإِنَّهُ يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلَبِّيًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৮৪। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তিকে তার সাওয়ারী নীচে ফেলে দিল তার ঘাড় ভেঙ্গে যায়। সে ইহরাম অবস্থায় ছিল। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তাকে কুলপাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল দাও, তার পরনের বস্ত্রদ্বয় দিয়ে কাফন দাও এবং মুখমণ্ডল ও মাথা ঢেকো না। কারণ তাকে কিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে।

আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন বলেন। তবে তিনি বলেন, তার সাওয়ারী তার ঘাড় মটকে দেয়। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আরও বলেনঃ তাকে সুগন্ধি মাখিও না। কারণ তাকে কিয়ামতের দিন তালবিয়া পাঠরত অবস্থায় উঠানো হবে।

মুহরিম ব্যক্তি শিকার করলে তার কাফ্ফারা

بَاب جَزَاءِ الصَّيْدِ يُصِيبُهُ الْمُحْرِمُ

3085

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي الضَّبُعِ يُصِيبُهُ الْمُحْرِمُ كَبْشًا وَجَعَلَهُ مِنَ الصَّيْدِ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩০৮৫। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).....জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুহরিম ব্যক্তি কর্তৃক হায়েনা শিকারের কাফ্ফারা একটি ভেড়া নির্ধারণ করেছেন এবং হায়েনাও শিকারের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

3086

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الْقَطَّانُ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مَوْهَبٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ أَبِي الْمُهَزِّمِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ فِي بَيْضِ النَّعَامِ يُصِيبُهُ الْمُحْرِمُ ‏ "‏ ثَمَنُهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩০৮৬। মুহাম্মাদ ইব্‌ন মুসা (রাহঃ).....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ মুহরিম ব্যক্তি উট পাখির ডিম আত্মসাৎ করলে তাকে তার মূল্য আদায় করতে হবে (কাফ্ফারা স্বরূপ)।

মুহরিম ব্যক্তি যে সব প্রাণী হত্যা করতে পারে

بَاب مَا يَقْتُلُ الْمُحْرِمُ

3087

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ، قَالُوا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ خَمْسٌ فَوَاسِقُ يُقْتَلْنَ فِي الْحِلِّ وَالْحَرَمِ الْحَيَّةُ وَالْغُرَابُ الأَبْقَعُ وَالْفَأْرَةُ وَالْكَلْبُ الْعَقُورُ وَالْحِدَأَةُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০৮৭। আবু বাকর ইবন আবু শাইবা, মুহাম্মাদ ইবন বাশশার, মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবন ওয়ালীদ (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত নবী (ﷺ) বলেনঃ পাঁচটি অনিষ্ট কর প্রাণী আছে যা হেরেমের বাইরে ও ভেতরে হত্যা করা বৈধঃ সাপ, বুকে বা পিঠে সাদা চিহ্নযুক্ত কাক, ইঁদুর, হিংস্র কুকুর ও চিল ।

3088

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ خَمْسٌ مِنَ الدَّوَابِّ لاَ جُنَاحَ عَلَى مَنْ قَتَلَهُنَّ - أَوْ قَالَ فِي قَتْلِهِنَّ - وَهُوَ حَرَامٌ الْعَقْرَبُ وَالْغُرَابُ وَالْحِدَأَةُ وَالْفَأْرَةُ وَالْكَلْبُ الْعَقُورُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩০৮৮। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... ইব্‌ন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ এমন পাঁচটি প্রাণী যা কোন ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় হত্যা করলে তার কোন দোষ হবে নাঃ বিছা, কাক, চিল, ইঁদুর ও পাগলা কুকুর।

3089

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي نُعْمٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّهُ قَالَ ‏ "‏ يَقْتُلُ الْمُحْرِمُ الْحَيَّةَ وَالْعَقْرَبَ وَالسَّبُعَ الْعَادِيَ وَالْكَلْبَ الْعَقُورَ وَالْفَأْرَةَ الْفُوَيْسِقَةَ ‏"‏ ‏.‏ فَقِيلَ لَهُ لِمَ قِيلَ لَهَا الْفُوَيْسِقَةُ قَالَ لأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ اسْتَيْقَظَ لَهَا وَقَدْ أَخَذَتِ الْفَتِيلَةَ لِتُحْرِقَ بِهَا الْبَيْتَ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩০৮৯। আবু কুরাইব (রাহঃ)...... আবু সাঈদ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মুহরিম ব্যক্তি নিম্নোক্ত প্রাণীগুলো হত্যা করতে পারেঃ সাপ, বিছা, আক্রমণকারী হিংস্র প্রাণী, পাগলা কুকুর এবং ক্ষতিকর ইঁদুর। আবু সাঈদ (রাযিঃ)-র নিকট জিজ্ঞাসা করা হল, ইঁদুরকে ক্ষতিকর বলা হল কেন? তিনি বলেন, কেননা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার জন্য জেগেছিলেন এবং সে ঘরে আগুন ধরানোর জন্য জ্বলন্ত সলিতা নিয়েছিল।

মুহরিম ব্যক্তির জন্য যে ধরনের শিকার নিষিদ্ধ

بَاب مَا يُنْهَى عَنْهُ الْمُحْرِمُ مِنْ الصَّيْدِ

3090

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَنْبَأَنَا صَعْبُ بْنُ جَثَّامَةَ، قَالَ مَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَنَا بِالأَبْوَاءِ أَوْ بِوَدَّانَ فَأَهْدَيْتُ لَهُ حِمَارَ وَحْشٍ فَرَدَّهُ عَلَىَّ فَلَمَّا رَأَى فِي وَجْهِيَ الْكَرَاهِيَةَ ‏.‏ قَالَ ‏ "‏ إِنَّهُ لَيْسَ بِنَا رَدٌّ عَلَيْكَ وَلَكِنَّا حُرُمٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৯০। আবু বাকর ইবন আবু শাইবা, হিশাম ইবন আম্মার (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা'ব ইব্‌ন জাসসামা (রাযিঃ) আমাদের অবহিত করে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমি তখন আবওয়া অথবা ওয়াদ্দান এলাকায় ছিলাম। আমি তাঁকে বন্য গাধার গোশত পেশ করলাম। তিনি তা আমাকে ফেরত দিলেন। তিনি আমার চেহারায় অনুতাপের লক্ষণ দেখে বললেনঃ আমরা অন্য কোন কারণে তা ফেরত দেইনি বরং আমরা ইহরাম অবস্থায় আছি ।

3091

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِلَحْمِ صَيْدٍ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَلَمْ يَأْكُلْهُ ‏.‏

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩০৯১। উসমান ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আলী ইবন আবু তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-এর সামনে শিকারকৃত প্রাণীর গোশত পেশ করা হল। তিনি ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। তাই তিনি তা আহার করেননি।

মুহরিম ব্যক্তির উদ্দেশ্যে শিকার না করা হলে সে তার গোশত খেতে পারে

بَاب الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ إِذَا لَمْ يُصَدْ لَهُ

3092

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَعْطَاهُ حِمَارَ وَحْشٍ وَأَمَرَهُ أَنْ يُفَرِّقَهُ فِي الرِّفَاقِ وَهُمْ مُحْرِمُونَ ‏.‏

Narrator: তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাঃ)

৩০৯২। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... তালহা ইব্‌ন উবায়দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তাঁকে একটি (শিকারকৃত) বন্য গাধা প্রদান করে তা তাঁর সঙ্গীদের মধ্যে বন্টন করার নির্দেশ দেন। তখন তাঁরা মুহরিম অবস্থায় ছিলেন।

3093

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ فَأَحْرَمَ أَصْحَابُهُ وَلَمْ أُحْرِمْ فَرَأَيْتُ حِمَارًا فَحَمَلْتُ عَلَيْهِ وَاصْطَدْتُهُ فَذَكَرْتُ شَأْنَهُ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَذَكَرْتُ أَنِّي لَمْ أَكُنْ أَحْرَمْتُ وَأَنِّي إِنَّمَا اصْطَدْتُهُ لَكَ فَأَمَرَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَصْحَابَهُ فَأَكَلُوا وَلَمْ يَأْكُلْ مِنْهُ حِينَ أَخْبَرْتُهُ أَنِّي اصْطَدْتُهُ لَهُ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৩০৯৩। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন আবু কাতাদা (রাহঃ) সূত্রে তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদাইবিয়ার বছর আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে রওয়ানা হলাম। তাঁর সাহাবীগণ ইহরাম বাঁধলেন, কিন্তু আমি বাঁধিনি। আমি একটি গাধা দেখতে পেয়ে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম এবং তা শিকার করলাম। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর নিকট তার অবস্থা বর্ণনা করলাম এবং আরও উল্লেখ করলাম যে, আমি তখনও ইহরাম বাঁধিনি, এবং তা আপনার জন্য শিকার করেছি। নবী (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের এই গোশত খাওয়ার নির্দেশ দিলেন, কিন্তু নিজে তা খেলেন না, যখন আমি বললাম যে, আমি তাঁর জন্য এটা শিকার করেছি।

কুরবানীর পশুর গলায় মালা পরানো

بَاب تَقْلِيدِ الْبُدْنِ

3094

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، وَعَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُهْدِي مِنَ الْمَدِينَةِ فَأَفْتِلُ قَلاَئِدَ هَدْيِهِ ثُمَّ لاَ يَجْتَنِبُ شَيْئًا مِمَّا يَجْتَنِبُ الْمُحْرِمُ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০৯৪। মুহাম্মাদ ইবন রুম্‌হ (রাহঃ)..... নবী (ﷺ)-এর সহধর্মীনি আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মদীনা থেকে কুরবানীর পশু পাঠাতেন (মক্কায়)। আমি তাঁর কুরবানীর পশুর জন্য মালা বানিয়ে দিতাম। অতঃপর তিনি এমন কোন জিনিস বর্জন করতেন না, যা মুহরিম ব্যক্তি বর্জন করে থাকে।

3095

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَتْ كُنْتُ أَفْتِلُ الْقَلاَئِدَ لِهَدْىِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَيُقَلِّدُ هَدْيَهُ ثُمَّ يَبْعَثُ بِهِ ثُمَّ يُقِيمُ لاَ يَجْتَنِبُ شَيْئًا مِمَّا يَجْتَنِبُهُ الْمُحْرِمُ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০৯৫। আবু বাক্‌র ইবন আবু শাইবা (রাহঃ)...... নবী (ﷺ) -এর সহধর্মীনি আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ)-এর কুরবানীর পশুর মালা তৈরী করে দিতাম এবং তিনি তা পশুর গলায় পরিয়ে দিতেন। এরপর তা পাঠিয়ে এবং তিনি (সেখানে) অবস্থান করতেন। আর তিনি এমন কোন বস্তু বর্জন করতেন না। যা মুহরিম ব্যক্তি বর্জন করে।

বকরীর গলায় মালা পরানো

بَاب تَقْلِيدِ الْغَنَمِ

3096

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أَهْدَى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مَرَّةً غَنَمًا إِلَى الْبَيْتِ فَقَلَّدَهَا ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০৯৬। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শাইবা, আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কুরবানীর উদ্দেশ্যে বায়তুল্লায় বকরী পাঠান এবং তার গলায় মালা পরান।

উটের কুঁজ ফেড়ে দেয়ার বর্ণনা

بَاب إِشْعَارِ الْبُدْنِ

3097

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي حَسَّانَ الأَعْرَجِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَشْعَرَ الْهَدْىَ فِي السَّنَامِ الأَيْمَنِ وَأَمَاطَ عَنْهُ الدَّمَ ‏.‏ وَقَالَ عَلِيٌّ فِي حَدِيثِهِ بِذِي الْحُلَيْفَةِ وَقَلَّدَ نَعْلَيْنِ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩০৯৭। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শাইবা, আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) কুরবানীর উটের কুঁজ ডান পাশ দিয়ে ফেড়ে দেন এবং তা থেকে রক্ত পরিষ্কার করেন। আলী তাঁর বর্ণনায় বলেন, এটা যুল হুলাইফা নামক স্থানে। আর তিনি এক জোড়া জুতার মালা পরিয়ে দেন।

3098

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ أَفْلَحَ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَلَّدَ وَأَشْعَرَ وَأَرْسَلَ بِهَا وَلَمْ يَجْتَنِبْ مَا يَجْتَنِبُ الْمُحْرِمُ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩০৯৮। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শাইবা (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) কুরবানীর পশুর গলায় মালা পরান, কুঁজ ফেড়ে দেন এবং তা (মক্কায়) পাঠিয়ে দেন। আর তিনি এমন কোন কিছু পরিহার করেননি যা মুহরিম ব্যক্তিরা পরিহার করে থাকে।

কুরবানীর পশুকে কাপড়ের ঝুল পরানো

بَاب مَنْ جَلَّلَ الْبَدَنَةَ

3099

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ أَقُومَ عَلَى بُدْنِهِ وَأَنْ أَقْسِمَ جِلاَلَهَا وَجُلُودَهَا وَأَنْ لاَ أُعْطِيَ الْجَازِرَ مِنْهَا شَيْئًا وَقَالَ ‏ "‏ نَحْنُ نُعْطِيهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩০৯৯। মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ্ (রাহঃ)....... আলী ইবন আবু তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে নির্দেশ দেন যে, আমি যেন তাঁর কুরবানীর পশু দেখাশুনা করি, ঝুল ও চামড়া (দরিদ্রদের মধ্যে) বন্টন করে দেই এবং কসাইকে যেন তা থেকে (পরিশ্রমিক বাবদ) কিছু না দেই। তিনি বলেনঃ তাকে আমি নিজের পক্ষ থেকে দেব।

নর ও মাদী উভয় ধরনের পশু কুরবানী দেয়া

بَاب الْهَدْيِ مِنْ الْإِنَاثِ وَالذُّكُورِ

3100

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَهْدَى فِي بُدْنِهِ جَمَلاً لأَبِي جَهْلٍ بُرَتُهُ مِنْ فِضَّةٍ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩১০০। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শাইবা, আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... ইবন আব্বাস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) কুরবানীর জন্য যে পশু পাঠান তার মধ্যে আবু জাহলের একটি উটও ছিল, এবং এর নাসারন্ধ্রের দড়ি ছিল রূপার তৈরী।

3101

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَنْبَأَنَا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ فِي بُدْنِهِ جَمَلٌ ‏.‏

Narrator: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

৩১০১। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শাইবা (রাহঃ)...... ইয়াস ইবন সালামা (রাহঃ) সূত্রে তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর কুরবানীর পশুর মধ্যে একটি উটও ছিল।

মীকাত অতিক্রম করেও কুরবানীর পশু নেয়া যায়

بَاب الْهَدْيِ يُسَاقُ مِنْ دُونِ الْمِيقَاتِ

3102

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَمَانٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ اشْتَرَى هَدْيَهُ مِنْ قُدَيْدٍ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩১০২। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমাইর (রাহঃ)...... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) কুদাইদ নামক স্থান থেকে তাঁর কুরবানীর পশু ক্রয় করেন।

কুরবানীর পশুর পিঠে আরোহণ করা

بَاب رُكُوبِ الْبُدْنِ

3103

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ‏.‏ أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَأَى رَجُلاً يَسُوقُ بَدَنَةً فَقَالَ ‏"‏ ارْكَبْهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ إِنَّهَا بَدَنَةٌ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ ارْكَبْهَا وَيْحَكَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১০৩। আবু বাকর ইবন আবু শাইবা (রাহঃ)..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে নিজের কুরবানীর পশু হাঁকিয়ে নিয়ে যেতে দেখে বললেনঃ এর পিঠে চড়ে যাও। সে বলল, এটা কুরবানীর পশু। তিনি বলেনঃ তুমি তার পিঠে চড়ে যাও, তোমার জন্য আফসোস।

3104

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامٍ، - صَاحِبِ الدَّسْتَوَائِيِّ - عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مُرَّ عَلَيْهِ بِبَدَنَةٍ فَقَالَ ‏"‏ ارْكَبْهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ إِنَّهَا بَدَنَةٌ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ ارْكَبْهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَرَأَيْتُهُ رَاكِبَهَا مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي عُنُقِهَا نَعْلٌ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩১০৪। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)..... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর সামনে দিয়ে একটি উট নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বললেনঃ এর পিঠে চড়ে চাও। লোকটি বললোঃ এটা কুরবানীর উট । তিনি বললেনঃ তুমি এর পিঠে চড়। আমাস (রাযিঃ) বলেন, আমি তাকে নবী (ﷺ)-এর সাথে উঠের পিঠে চড়ে যেতে দেখেছি। এর গলায় একটি জুতা লটকানো ছিল।

কুরবানীর পশু পথিমধ্যে অচল হয়ে পড়লে

بَاب فِي الْهَدْيِ إِذَا عَطِبَ

3105

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سِنَانِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ ذُؤَيْبًا الْخُزَاعِيَّ، حَدَّثَ أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَبْعَثُ مَعَهُ بِالْبُدْنِ ثُمَّ يَقُولُ ‏ "‏ إِذَا عَطِبَ مِنْهَا شَىْءٌ فَخَشِيتَ عَلَيْهِ مَوْتًا فَانْحَرْهَا ثُمَّ اغْمِسْ نَعْلَهَا فِي دَمِهَا ثُمَّ اضْرِبْ صَفْحَتَهَا وَلاَ تَطْعَمْ مِنْهَا أَنْتَ وَلاَ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ رُفْقَتِكَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩১০৫। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যুআইব খুযাঈ (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) তাঁকে কুরবানীর পশু নিয়ে (মক্কায়) পাঠাতেন অতঃপর বলতেনঃ এগুলোর মধ্যে কোন পশু অচল হয়ে পড়লে এবং তুমি তার মৃত্যুর আশংকা করলে । যবেহ্ করবে, অতঃপর তাঁর রক্তের মধ্যে তার গলায় জুতা ফেলে রাখবে, অতঃপর তার পিছন ভাগে আঘাত করবে, কিন্তু তার গোশ্ত তুমিও এবং তোমার সঙ্গীদের মধ্যেও কেউ খাবে না।

3106

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ نَاجِيَةَ الْخُزَاعِيِّ، - قَالَ عَمْرٌو فِي حَدِيثِهِ وَكَانَ صَاحِبَ بُدْنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ - قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ أَصْنَعُ بِمَا عَطِبَ مِنَ الْبُدْنِ قَالَ ‏ "‏ انْحَرْهُ وَاغْمِسْ نَعْلَهُ فِي دَمِهِ ثُمَّ اضْرِبْ صَفْحَتَهُ وَخَلِّ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّاسِ فَلْيَأْكُلُوهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৩১০৬। আবু বাক্‌র ইব্‌ন আবু শাইবা, আলী ইবন মুহাম্মাদ ও উমর ইবন আব্দুল্লাহ (রাহঃ)...... নাজিয়া খুসাঈ (আম্‌রের বর্ণনা মতে তিনি ছিলেন নবী (ﷺ) কুরবানীর উটের রক্ষণাবেক্ষণকারী) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম- ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! কোন উট অচল হয়ে পড়লে আমি কি করব? তিনি বললেনঃ একে যবেহ করবে এবং তার গলার জুতা তার রক্তের মধ্যে ফেলে দিবে অতঃপর তার পিছন ভাগে আঘাত করবে এবং লোকদের জন্য তা ফেলে রাখবে, তারা তা থেকে খাবে।

মক্কা শরীফের বাড়ী-ঘর ভাড়া দেওয়া

بَاب أَجْرِ بُيُوتِ مَكَّةَ

3107

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ نَضْلَةَ، قَالَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَمَا تُدْعَى رِبَاعُ مَكَّةَ إِلاَّ السَّوَائِبَ مَنِ احْتَاجَ سَكَنَ وَمَنِ اسْتَغْنَى أَسْكَنَ ‏.‏

Narrator: আলকামা ইবনে নাযলা (রাঃ)

৩১০৭। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আলকামা ইন নাদলা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) , আবু বাকর, উমার, ইন্তিকাল করলেন এবং ঐ সময় পর্যন্ত মক্কার বাড়ীঘর 'সাওয়াইব' নামে পরিচিত ছিল। কোন ব্যক্তির প্রয়োজন হলে সে তাতে বসবাস করতো। আর নিজের প্রয়োজন না হলে সে তা অন্যকে বসবাসের জন্য দিত।

পবিত্র মক্কার ফযীলাত

بَاب فَضْلِ مَكَّةَ

3108

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ الْمِصْرِيُّ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، أَخْبَرَنِي عُقَيْلٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ، أَنَّهُ قَالَ إِنَّ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَدِيِّ بْنِ الْحَمْرَاءِ قَالَ لَهُ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهُوَ عَلَى رَاحِلَتِهِ وَاقِفٌ بِالْحَزْوَرَةِ يَقُولُ ‏ "‏ وَاللَّهِ إِنَّكِ لَخَيْرُ أَرْضِ اللَّهِ وَأَحَبُّ أَرْضِ اللَّهِ إِلَيَّ وَاللَّهِ لَوْلاَ أَنِّي أُخْرِجْتُ مِنْكِ مَا خَرَجْتُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

৩১০৮। ঈসা ইবন হাম্মাদ মিসরী (রাহঃ)...... আবু সালামা ইবন আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আব্দুল্লাহ ইবন আদী ইবন হামরা'আ (রাযিঃ) তাকে বলেন, আমি দেখেছি যে- রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর উটনীর পিঠে আরোহিত অবস্থায় জাওরা নামক স্থানে বলেনঃ আল্লাহর কসম! তুমি (মক্কা) আল্লাহর গোটা যমীনের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং দুনিয়ার সমস্ত যমীনের মধ্যে তুমি আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয়। আল্লাহর কসম! তোমার থেকে আমাকে বের করে দেওয়া না হলে আমি বের হতাম না।

3109

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ يَنَّاقٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، قَالَتْ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَخْطُبُ عَامَ الْفَتْحِ فَقَالَ ‏"‏ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ مَكَّةَ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ فَهِيَ حَرَامٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لاَ يُعْضَدُ شَجَرُهَا وَلاَ يُنَفَّرُ صَيْدُهَا وَلاَ يَأْخُذُ لُقَطَتَهَا إِلاَّ مُنْشِدٌ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ الْعَبَّاسُ إِلاَّ الإِذْخِرَ فَإِنَّهُ لِلْبُيُوتِ وَالْقُبُورِ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِلاَّ الإِذْخِرَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: সাফিয়্যা বিনতে শাইবা (রাঃ)

৩১০৯। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমাইর (রাহঃ)...... সাফিয়্যা বিনতে শাইবা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কা বিজয়ের বছর নবী (ﷺ) কে তাঁর ভাষণে বলতে শুনেছিঃ হে জনগণ! আল্লাহ তা'আলা আসমান ও যমীন সৃষ্টির দিন থেকে মক্কাকে হারাম (সম্মানিত) করেছেন। অতএব তা কিয়ামত পর্যন্ত হারাম থাকবে। তার বৃক্ষরাজি কাটা যাবে না, এখানকার শিকারের পিছু ধাওয়া করা যাবে না, এখানে পড়ে থাকা কোন জিনিস তুলে নেয়া যাবে না- কেবল সেই ব্যক্তি তুলতে পারবে যে তার ঘোষণা দেবে। আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ কিন্তু ইযখির ঘাস (বৈধ করা হোক)। কারণ তা ঘরবাড়ী তৈরী ও কবরের জন্য (প্রয়োজন হয়)। তখন রাসূলুল্লাহ্ বলেনঃ ইযখির ঘাস ব্যতীত।

3110

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، وَابْنُ الْفُضَيْلِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَابِطٍ، عَنْ عَيَّاشِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ الْمَخْزُومِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ تَزَالُ هَذِهِ الأُمَّةُ بِخَيْرٍ مَا عَظَّمُوا هَذِهِ الْحُرْمَةَ حَقَّ تَعْظِيمِهَا فَإِذَا ضَيَّعُوا ذَلِكَ هَلَكُوا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৩১১০। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আইয়্যাশ ইব্‌ন আবু রাবীআ মাখযূমী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ এই উম্মাত যতদিন এই হেরেমের যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করবে, তত দিন তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে। কিন্তু যখন তারা তা বিনষ্ট করবে, তখন ধ্বংস হবে।

মদীনা শরীফের ফযীলাত

بَاب فَضْلِ الْمَدِينَةِ

3111

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ الإِيمَانَ لَيَأْرِزُ إِلَى الْمَدِينَةِ كَمَا تَأْرِزُ الْحَيَّةُ إِلَى جُحْرِهَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১১১। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ ঈমান মদীনার দিকে গুটিয়ে আসবে- যেমন সাপ তার গর্ভের দিকে গুটিয়ে আসে।

3112

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَمُوتَ بِالْمَدِينَةِ فَلْيَفْعَلْ فَإِنِّي أَشْهَدُ لِمَنْ مَاتَ بِهَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩১১২। বাকর ইবন খালাফ (রাহঃ)....... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যদি মদীনায় মৃত্যুবরণ করতে পারে- সে যেন তাই করে। কারণ যে ব্যক্তি এখানে মারা যাবে, আমি তার পক্ষে সাক্ষী হব।

3113

حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ، مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعُثْمَانِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ اللَّهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنَّكَ حَرَّمْتَ مَكَّةَ عَلَى لِسَانِ إِبْرَاهِيمَ اللَّهُمَّ وَأَنَا عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنِّي أُحَرِّمُ مَا بَيْنَ لاَبَتَيْهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو مَرْوَانَ لاَبَتَيْهَا حَرَّتَىِ الْمَدِينَةِ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১১৩। আবু মারওয়ান মুহাম্মাদ ইব্‌ন উসমান উসমানী (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ হে আল্লাহ্! ইবরাহীম (আ) তোমার বন্ধু ও নবী। তুমি মক্কাকে ইবরাহীম (আ)-এর যবানীতে হেরেম ঘোষণা করেছ। হে আল্লাহ! আমিও তোমার বান্দা ও নবী। অতএব আমি মদীনাকে, তার দুই কৃষ্ণ পাথরময় যমীনের মধ্যস্থল, হেরেম ঘোষণা করছি। আবু মারওয়ান বলেন, 'লা-বাতাইহা' শব্দের অর্থ মদীনার দুই প্রান্তের প্রস্তরময় ভূমি।

3114

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ أَرَادَ أَهْلَ الْمَدِينَةِ بِسُوءٍ أَذَابَهُ اللَّهُ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১১৪। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)......আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মদীনার অধিবাসীদের ক্ষতি করার ইচ্ছা করবে তাকে আল্লাহ তা'আলা এমন ভাবে গলিয়ে দিবেন, যেভাবে লবণ পানিতে গলে যায়।

3115

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مِكْنَفٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ أُحُدًا جَبَلٌ يُحِبُّنَا وَنُحِبُّهُ وَهُوَ عَلَى تُرْعَةٍ مِنْ تُرَعِ الْجَنَّةِ وَعَيْرٌ عَلَى تُرْعَةٍ مِنْ تُرَعِ النَّارِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩১১৫। আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ উহুদ একটি পাহাড়, সে আমাদের ভালোবাসে, আমরাও তাকে ভালোবাসি। তা জান্নাতের টিলাসমূহের একটির উপ অবস্থিত। আর আইর পাহাড় দোযখের টিলাসমূহের একটির উপর অবস্থিত।

পবিত্র কা'বা গৃহের সম্পদ

بَاب مَالِ الْكَعْبَةِ

3116

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ وَاصِلٍ الأَحْدَبِ، عَنْ شَقِيقٍ، قَالَ بَعَثَ رَجُلٌ مَعِيَ بِدَرَاهِمَ هَدِيَّةً إِلَى الْبَيْتِ ‏.‏ قَالَ فَدَخَلْتُ الْبَيْتَ وَشَيْبَةُ جَالِسٌ عَلَى كُرْسِيٍّ فَنَاوَلْتُهُ إِيَّاهَا ‏.‏ فَقَالَ أَلَكَ هَذِهِ قُلْتُ لاَ وَلَوْ كَانَتْ لِي لَمْ آتِكَ بِهَا ‏.‏ قَالَ أَمَا لَئِنْ قُلْتَ ذَلِكَ لَقَدْ جَلَسَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ مَجْلِسَكَ الَّذِي جَلَسْتَ فِيهِ فَقَالَ لاَ أَخْرُجُ حَتَّى أَقْسِمَ مَالَ الْكَعْبَةِ بَيْنَ فُقَرَاءِ الْمُسْلِمِينَ ‏.‏ قُلْتُ مَا أَنْتَ بِفَاعِلٍ ‏.‏ قَالَ لأَفْعَلَنَّ ‏.‏ قَالَ وَلِمَ ذَاكَ قُلْتُ لأَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَدْ رَأَى مَكَانَهُ ‏.‏ وَأَبُو بَكْرٍ وَهُمَا أَحْوَجُ مِنْكَ إِلَى الْمَالِ فَلَمْ يُحَرِّكَاهُ ‏.‏ فَقَامَ كَمَا هُوَ فَخَرَجَ ‏.‏

Narrator: শাকীক ইবনে সালামা (রহঃ)

৩১১৬। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... শাকীক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আমার মাধ্যমে বায়তুল্লায় হাদিয়া স্বরূপ কতগুলি দিরহাম পাঠায়। আমি বায়তুল্লার অভ্যন্তরে প্রবেশ করে শাইবাকে একটি কুরসীর উপর উপবিষ্ট পেলাম। আমি দিরহামগুলো তার নিকট দিলাম। সে তাকে জিজ্ঞাসা করল, এগুলো কি তোমার দিরহাম? আমি বললাম, না। এগুলো আমার হলে তা নিয়ে তোমার দিরহাম? আমি বললাম, না। এগুলো আমার হলে নিয়ে তোমার নিকট আসতাম না। সে বলল, যদি তুমি একথা বল তবে শুনো- তুমি যে স্থানে বসে আছ- উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ) এখানে বসলেন, অতপর বললেনঃ আমি কা'বার সম্পদ দরিদ্র মুসলমানদের মধ্যে বণ্টন না করা পর্যন্ত বের হব না। আমি বললাম, আপনি তা করবেন না। তিনি বললেন, আমি অবশ্যই তা করব। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি একথা কেন বললে ? আমি বললাম, কারণ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এই সম্পদের স্থান দেখেছেন এবং আবু বাকর (রাযিঃ)-ও। তাদের উভয়ের তোমার চেয়ে মালের অধিক প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তাঁরা এই সম্পদ স্থানচ্যুত করেননি। একথা শুনে উমার (রাযিঃ) উঠে দাঁড়ালেন এবং বের হয়ে চলে গেলেন।

পবিত্র মক্কার রমযানের সিয়াম পালন করা

بَاب صِيَامِ شَهْرِ رَمَضَانَ بِمَكَّةَ

3117

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْعَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ زَيْدٍ الْعَمِّيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ بِمَكَّةَ فَصَامَ وَقَامَ مِنْهُ مَا تَيَسَّرَ لَهُ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ مِائَةَ أَلْفِ شَهْرِ رَمَضَانَ فِيمَا سِوَاهَا ‏.‏ وَكَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ يَوْمٍ عِتْقَ رَقَبَةٍ وَكُلِّ لَيْلَةٍ عِتْقَ رَقَبَةٍ وَكُلِّ يَوْمٍ حُمْلاَنَ فَرَسٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَفِي كُلِّ يَوْمٍ حَسَنَةً وَفِي كُلِّ لَيْلَةٍ حَسَنَةً ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩১১৭। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আবু উমার আদানী (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মক্কায় রমযান পেল এবং সিয়াম পালন করলো এবং যথাসাধ্য ইবাদত করলো- আল্লাহ তা'আলা তাকে একলক্ষ রমযান মাসের সওয়ার দান করবেন- অন্য স্থানের তুলনায় এবং প্রতিটি দিনের পরিবর্তে একটি গোলাম এবং প্রতিটি রাতের পরিবর্তে একটি গোলাম আযাদ করার সাওয়াব (তার আমলনামায়) লিখে দিবেন, প্রতিটি দিনের পরিবর্তে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধের জন্য একটি ঘোড়া দানের সমপরিমাণ সাওয়াব, প্রতিদিনের জন্য একটি নেকী (পুণ্য) এবং প্রতিটি দিনের জন্য একটি পুণ্য দান করবেন।

বৃষ্টির মধ্যে (বায়তুল্লাহ) তাওয়াফ করা

بَاب الطَّوَافِ فِي مَطَرٍ

3118

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْعَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَجْلاَنَ، قَالَ طُفْنَا مَعَ أَبِي عِقَالٍ فِي مَطَرٍ فَلَمَّا قَضَيْنَا طَوَافَنَا أَتَيْنَا خَلْفَ الْمَقَامِ فَقَالَ طُفْتُ مَعَ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ فِي مَطَرٍ فَلَمَّا قَضَيْنَا الطَّوَافَ أَتَيْنَا الْمَقَامَ فَصَلَّيْنَا رَكْعَتَيْنِ فَقَالَ لَنَا أَنَسٌ ‏ "‏ ائْتَنِفُوا الْعَمَلَ فَقَدْ غُفِرَ لَكُمْ ‏"‏ ‏.‏ هَكَذَا قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَطُفْنَا مَعَهُ فِي مَطَرٍ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৩১১৮। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আবু উমার আদানী (রাহঃ)...... সূত্রে দাউদ ইব্‌ন আজলান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা আবু ইকালের সাথে বৃষ্টির মধ্যে (বায়তুল্লাহ) তাওয়াফ করলাম। আমরা তাওয়াফ শেষে মাকামে ইবরাহীমের পেছনে এলাম। তখন আবু ইকাল বললেন, আমি আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ)-র সাথে বৃষ্টির মধ্যে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেছি। আমরা তাওয়াফ শেষে মাকামে (ইবরাহীমে) এসে দুই রাক'আত সালাত আদায় করি। অতঃপর আনাস (রাযিঃ) আমাদের বলেন, এখন নতুনভাবে নিজেদের আমলের হিসাব রাখ। তোমাদের পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের এরূপ বলেছেন এবং আমরা তাঁর সাথে বৃষ্টির মধ্যে তাওয়াফ করেছি।

পদব্রজে হজ্জ করা

بَاب الْحَجُّ مَاشِيًا

3119

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ حَفْصٍ الأُبُلِّيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَمَانٍ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ حَبِيبٍ الزَّيَّاتِ، عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَعْيَنَ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ حَجَّ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَصْحَابُهُ مُشَاةً مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى مَكَّةَ وَقَالَ ‏ "‏ ارْبُطُوا أَوْسَاطَكُمْ بِأُزُرِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ وَمَشَى خِلْطَ الْهَرْوَلَةِ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩১১৯। ইসমাঈল ইব্‌ন হাফস আইলী (রাহঃ)......আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ মদীনা থেকে মক্কায় পদব্রজে গিয়ে হজ্জ করেন এবং তিনি বলেনঃ “নিজেদের কোমরে পরিধেয় বস্ত্র বেঁধে নাও।" তিনি কিছুটা দ্রুত গতিতে পথ অতিক্রম করেন।[১]

[১] এ হাদীসটি রাবী এককভাবে বর্ণনা করেছেন বিধায়, মুহাদ্দিসগণ একে মুনকার ও যয়ীফ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। কেননা, সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণ মদীনা থেকে মক্কায় পদব্রজে গমন করেননি।