كتاب الفتن

৩৪. ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতপূর্ব আলামতের বর্ণনা

Chapter 34 · 173 hadith

যে ব্যক্তি 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু' স্বীকার করে, তার হত্যা থেকে বিরত থাক

بَاب الْكَفِّ عَمَّنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ

3927

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَحَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَإِذَا قَالُوهَا عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلاَّ بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৯২৭। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি লোকদের সাথে ততক্ষণ লড়াই করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু' (আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ্ নেই) এর স্বীকৃতি দিবে। যখন তারা এরূপ বলবে, তখন আমার পক্ষ থেকে তারা তাদের জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করবে। তবে কোন হকের বদলা-যেমন, হদ্দ কিংবা কিসাস (অর্থাৎ শরীয়াতের বিধান অনুসারে কেউ দন্ড পাওয়ার উপযুক্ত কোন অপরাধ করলে তার জ্ঞান-মালের দন্ড হবেই)। তাদের হিসাব মহান আল্লাহর নিকট থাকবে।

3928

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَإِذَا قَالُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلاَّ بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৯২৮। সুওয়েদ ইব্‌ন সাঈদ (রাযিঃ)...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি লোকদের সাথে ততক্ষণ লড়াই করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষন না তারা" “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু” বলে। যখন তারা বলবেঃ “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু", তখন তারা আমার থেকে তাদের জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে কোন হকের বদলা হলে, তা স্বতন্ত্র এবং তাদের হিসাব আল্লাহর উপর ন্যস্ত।

3929

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ السَّهْمِيُّ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ أَبِي صَغِيرَةَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَالِمٍ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ أَوْسٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَاهُ أَوْسًا أَخْبَرَهُ قَالَ إِنَّا لَقُعُودٌ عِنْدَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهُوَ يَقُصُّ عَلَيْنَا وَيُذَكِّرُنَا إِذْ أَتَاهُ رَجُلٌ فَسَارَّهُ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ اذْهَبُوا بِهِ فَاقْتُلُوهُ ‏"‏ ‏.‏ فَلَمَّا وَلَّى الرَّجُلُ دَعَاهُ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏"‏ هَلْ تَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ نَعَمْ قَالَ ‏"‏ اذْهَبُوا فَخَلُّوا سَبِيلَهُ فَإِنَّمَا أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ حَرُمَ عَلَىَّ دِمَاؤُهُمْ وَأَمْوَالُهُمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৩৯২৯। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আউস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট বসাছিলাম। তিনি আমাদিগকে (পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণের) কিসসা বর্ণনা করেছিলেন এবং নসীহত করছিলেন। হঠাৎ এক ব্যক্তি তাঁর নিকট আসলো। সে তাঁকে নবী (ﷺ) চুপি সারে কি যেন বললো। অনন্তর নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা একে নিয়ে যাও এবং কতল কর। লোকটি যখন ফিরে চললো, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ডাকলেন। অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ কি হে তুমি কি “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু"-এর সাক্ষ্য দিচ্ছ? সে বললোঃ জ্বি হ্যাঁ, তিনি বললেনঃ তোমরা যাও, একে তার পথে ছেড়ে দাও। কেননা, আমি লোকদের সাথে ততক্ষণ লড়াই করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ না তারা ‘লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ’ এর স্বীকৃতি দেয়। যখন তারা এরূপ করবে, তখন তাদের জান-মাল আমার উপর হারাম হয়ে যাবে।

3930
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ السُّمَيْطِ بْنِ السَّمِيرِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ قَالَ أَتَى نَافِعُ بْنُ الْأَزْرَقِ وَأَصْحَابُهُ فَقَالُوا هَلَكْتَ يَا عِمْرَانُ قَالَ مَا هَلَكْتُ قَالُوا بَلَى قَالَ مَا الَّذِي أَهْلَكَنِي قَالُوا قَالَ اللهُ ( وَقَاتِلُوهُمْ حَتّٰى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلهِ ) قَالَ قَدْ قَاتَلْنَاهُمْ حَتّٰى نَفَيْنَاهُمْ فَكَانَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلهِ إِنْ شِئْتُمْ حَدَّثْتُكُمْ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالُوا وَأَنْتَ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ نَعَمْ شَهِدْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ وَقَدْ بَعَثَ جَيْشًا مِنْ الْمُسْلِمِينَ إِلَى الْمُشْرِكِينَ فَلَمَّا لَقُوهُمْ قَاتَلُوهُمْ قِتَالًا شَدِيدًا فَمَنَحُوهُمْ أَكْتَافَهُمْ فَحَمَلَ رَجُلٌ مِنْ لُحْمَتِي عَلَى رَجُلٍ مِنْ الْمُشْرِكِينَ بِالرُّمْحِ فَلَمَّا غَشِيَهُ قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ إِنِّي مُسْلِمٌ فَطَعَنَهُ فَقَتَلَهُ فَأَتَى رَسُولَ اللهِ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ هَلَكْتُ قَالَ وَمَا الَّذِي صَنَعْتَ مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ فَأَخْبَرَهُ بِالَّذِي صَنَعَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَهَلَّا شَقَقْتَ عَنْ بَطْنِهِ فَعَلِمْتَ مَا فِي قَلْبِهِ قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ لَوْ شَقَقْتُ بَطْنَهُ لَكُنْتُ أَعْلَمُ مَا فِي قَلْبِهِ قَالَ فَلَا أَنْتَ قَبِلْتَ مَا تَكَلَّمَ بِهِ وَلَا أَنْتَ تَعْلَمُ مَا فِي قَلْبِهِ قَالَ فَسَكَتَ عَنْهُ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَلَمْ يَلْبَثْ إِلَّا يَسِيرًا حَتّٰى مَاتَ فَدَفَنَّاهُ فَأَصْبَحَ عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ فَقَالُوا لَعَلَّ عَدُوًّا نَبَشَهُ فَدَفَنَّاهُ ثُمَّ أَمَرْنَا غِلْمَانَنَا يَحْرُسُونَهُ فَأَصْبَحَ عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ فَقُلْنَا لَعَلَّ الْغِلْمَانَ نَعَسُوا فَدَفَنَّاهُ ثُمَّ حَرَسْنَاهُ بِأَنْفُسِنَا فَأَصْبَحَ عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ فَأَلْقَيْنَاهُ فِي بَعْضِ تِلْكَ الشِّعَابِ

حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ حَفْصٍ الْأَيْلِيُّ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ السُّمَيْطِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ قَالَ بَعَثَنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ فِي سَرِيَّةٍ فَحَمَلَ رَجُلٌ مِنْ الْمُسْلِمِينَ عَلَى رَجُلٍ مِنْ الْمُشْرِكِينَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَزَادَ فِيهِ فَنَبَذَتْهُ الْأَرْضُ فَأُخْبِرَ النَّبِيُّ ﷺ وَقَالَ إِنَّ الْأَرْضَ لَتَقْبَلُ مَنْ هُوَ شَرٌّ مِنْهُ وَلَكِنَّ اللهَ أَحَبَّ أَنْ يُرِيَكُمْ تَعْظِيمَ حُرْمَةِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ.

Narrator: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৩৯৩০। সুওয়াইদ ইবন সাঈদ (রাহঃ)...... ইমরান ইবন হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাফি ইব্‌ন আযরাক (রাযিঃ) এবং তাঁর সাথীরা (আমার নিকটে) এসে বললোঃ হে ইমরান! তুমি বরবাদ হয়ে গিয়েছো। তিনি বললেনঃ আমি ধ্বংস হইনি। তারা বললেনঃ হ্যাঁ, (তুমি বরবাদ হয়ে গিয়েছো)। তিনি বললেন, কিসে আমার, ধ্বংস ডেকে আনলো? তারা বললেনঃ মহান আল্লাহ বলেছেনঃ

وَقَاتِلُوهُمْ حَتّٰى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلهِ

“ফিতনা দূরীভূত না হওয়া এবং গোটা দীন আল্লাহর জন্য প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তোমরা তাদের (কাফিরদের) বিরুদ্ধে লড়াই করবে।" তিনি বললেনঃ আমরা তাদের বিরুদ্ধে এমনভাবে লড়াই করেছি যে, আমরা তাদের নির্বাসন করে দিয়েছি এবং গোটা দীন আল্লাহর জন্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যদি তোমরা চাও, তাহলে আমি তোমাদের কাছে একখানি হাদীস বর্ণনা করতে পারি, যা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি। তারা বললেনঃ তুমি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে তা শুনেছো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। (ইমরান বললেনঃ) আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি মুসলমানদের একটি দলকে মুশরিকদের বিরুদ্ধে অভিযানে পাঠালেন। মুসলমানরা তাদের মুখোমুখী হলো, তাদের সঙ্গে কঠিন সংঘর্ষে লিপ্ত হলো। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী মুশরিকরা পরাজয় বরণ করে তাদের গর্দান দিয়ে দিল অর্থাৎ পেছনে পালাতে লাগলো। আমরা বন্ধুদের একজন বর্শা দ্বারা এক মুশরিকের উপর হামলা করলেন। যখন তিনি তাকে পাকড়াও করলেন, তখন সে বলতে লাগলোঃ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ إِنِّي مُسْلِمٌ (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। নিশ্চয়ই আমি একজন মুসলিম)। তিনি তাকে ভর্ৎসনা করলেন এবং তাকে হত্যা করলেন। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট সে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল। আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি। একথাটি তিনি একবার মতান্তরে দুইবার বললেন। অতঃপর সে ব্যক্তি তাঁর নিকট তা বর্ণনা করলে, যা সে করেছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তুমি তার পেট ছিড়ে দেখলে না কেন? তাহলে তো তার অন্তরের খবর জানতে পারতে? তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল। যদি আমি তার পেট ছিড়ে ফেলতাম, তাহলে কি তার অন্তরের বিষয় আমি জানতে পারতাম? তিনি বললেনঃ তা হলে তুমি তার উচ্চারিত স্বীকৃতি কেন কবুল করলে না? আর তুমি তো তার অন্তরের খবর জানতে না। ইমরান (রাযিঃ) বললেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চুপ থেকে কিছুক্ষণ নীরবতা অবলম্বন করলেন। অবশেষে লোকটি মারা গেল। আমরা তার দাফন করলাম। প্রত্যুষে উঠে দেখলাম তার লাশ কবরের বাইরে যমীনে পড়ে আছে। তারা ভাবলেন, সম্ভবত: কোন দুশমনের কান্ড যে কবর খুঁড়ে একে বের করে রেখেছেন। অতঃপর আমরা তাকে আবার দাফন করলাম। আর আমাদের যুবকদের নির্দেশ দিলাম যে, তারা যেন তার কবর পাহারা দেয়। পরদিন ভোরবেলা দেখতে পেলাম তার লাশ কবরের বাইরে যমীনে পড়ে আছে। আমরা ভাবলাম, সম্ভবত: প্রহরীরা তন্দ্রাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল (কোন শত্রু এসে তার লাশ বাইরে বের করে রেখেছে)। এরপর আমরা তাকে দাফন করলাম এবং নিজেরাই প্রহরার দায়িত্ব গ্রহণ করলাম। প্রত্যুষে দেখলাম, সে কবরের বাইরে যমীনে পড়ে আছে। অবশেষে আমরা তাকে কোন এক গিরিপথে রেখে দেই।

ইসমাঈল ইবনে হাফস আঈলী (রাহঃ)...... ইমরান ইবন হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদিগকে এক সারিয়া হতে (ক্ষুদ্র অভিযাত্রীদলকে সারিয়াহ বলা হয়) পাঠালেন। সেখানে জনৈক মুসলমান ব্যক্তি এক মুশরিকের উপর হামলা করেছিল। অতঃপর তিনি উপরোক্ত হাদীস (কিসসা) উল্লেখ করলেন। তিনি তার বর্ণনায় এতটুকু বাড়িয়ে বললেনঃ অতঃপর যমীন তাকে উৎক্ষিপ্ত করেছিল। অতঃপর নবী (ﷺ) এ খবর দেওয়া হলে তিনি বললেনঃ যমীন তো তার চাইতে নিকৃষ্টতর ব্যক্তিকেও কবুল করে (এমনকি কাফির-মুশরিকদেরকেও)। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তোমাদের দেখতে চান যে, 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’-এর মযার্দা ও মাহাত্ম্য কত বেশী।

মু'মিনের জান-মালের মর্যাদা

بَاب حُرْمَةِ دَمِ الْمُؤْمِنِ وَمَالِهِ

3931

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي حِجَّةِ الْوَدَاعِ ‏"‏ أَلاَ إِنَّ أَحْرَمَ الأَيَّامِ يَوْمُكُمْ هَذَا أَلاَ وَإِنَّ أَحْرَمَ الشُّهُورِ شَهْرُكُمْ هَذَا أَلاَ وَإِنَّ أَحْرَمَ الْبَلَدِ بَلَدُكُمْ هَذَا أَلاَ وَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا أَلاَ هَلْ بَلَّغْتُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ اللَّهُمَّ اشْهَدْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৯৩১। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদায় হজ্জের সময় বলেছেনঃ সাবধান! তোমাদের এই দিন সর্বাপেক্ষা সম্মানীত দিন, সাবধান! তোমাদের এই মাস সর্বাপেক্ষা সম্মানীত মাস, সাবধান! তোমাদের এই শহর সর্বাপেক্ষা সম্মানীত শহর! সাবধান! তোমাদের জীবন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও তোমাদের ইযযত আবরু তোমাদের পরস্পরের কাছে এমন পবিত্র, যেমন এই দিন, এই মাস ও এই শহর। জেনে রাখ। আমি কি (আল্লাহর পয়গাম) পৌঁছে দিয়েছি? সমবেত জনমণ্ডলী বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন।

3932

حَدَّثَنَا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ أَبِي ضَمْرَةَ، نَصْرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ الْحِمْصِيُّ حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي قَيْسٍ النَّصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَطُوفُ بِالْكَعْبَةِ وَيَقُولُ ‏ "‏ مَا أَطْيَبَكِ وَأَطْيَبَ رِيحَكِ مَا أَعْظَمَكِ وَأَعْظَمَ حُرْمَتَكِ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَحُرْمَةُ الْمُؤْمِنِ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ حُرْمَةً مِنْكِ مَالِهِ وَدَمِهِ وَأَنْ نَظُنَّ بِهِ إِلاَّ خَيْرًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৯৩২। আবুল কাসিম ইব্‌ন আবু দামরাহ, নসর ইবনে মুহাম্মাদ ইবন সুলায়মান হিমসী (রাহঃ) আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালামকে কা'বা গৃহ তাওয়াফ করতে দেখলাম। সে সময় তিনি বলছিলেনঃ কত উত্তম তোমার খুশবু (হে কা'বা)! কত উচ্চ মর্যাদা তোমার, (হে কা'বা)! কত বড় সম্মান তোমার! সেই মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! মু'মিনের জান ও মালের ইযযত ও সম্মান আল্লাহ কাছে তোমার চাইতেও বেশী। আমরা মু'মিন ব্যক্তি সম্পর্কে ভাল ধারণাই পোষণ করি।

3933

حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ، وَيُونُسُ بْنُ يَحْيَى، جَمِيعًا عَنْ دَاوُدَ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ كُرَيْزٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ دَمُهُ وَمَالُهُ وَعِرْضُهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৯৩৩। বাকর ইবনে আব্দুল ওহহাব (রাযিঃ)...... আবু হুরায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক মুসলমানের জান, মাল ও মান সম্মান অপর মুসলমানের উপর হারাম।

3934

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي هَانِئٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ الْجَنْبِيِّ، أَنَّ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ الْمُؤْمِنُ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَى أَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ الْخَطَايَا وَالذُّنُوبَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: ফাযালা ইবনে উবায়দ (রাঃ)

৩৯৩৪। আহমাদ ইবন আমর ইবন সারহ মিসরী (রাহঃ)....... ফাযালাহ ইবন উবায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মু'মিন সেই ব্যক্তি, যার হাতে লোকদের জান-মাল নিরাপদে থাকে এবং মুজাহির সেই ব্যক্তি, যে মন্দ কাজ ও গুনাহ থেকে বিরত থাকে।

লুটপাটের নিষেধাজ্ঞা

بَاب النَّهْيِ عَنْ النُّهْبَةِ

3935

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنِ انْتَهَبَ نُهْبَةً مَشْهُورَةً فَلَيْسَ مِنَّا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৯৩৫। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রাযিঃ)....... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে লুটতরাজ করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।

3936

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ لاَ يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلاَ يَشْرَبُ الْخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلاَ يَسْرِقُ السَّارِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلاَ يَنْتَهِبُ نُهْبَةً يَرْفَعُ النَّاسُ إِلَيْهِ أَبْصَارَهُمْ حِينَ يَنْتَهِبُهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৯৩৬। ঈসা ইব্‌ন হাম্মাদ (রাহঃ)....... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন ব্যভচারী যখন ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তখন সে মু'মিন থাকে না, এবং চোর যখন চৌর্যবৃত্তিতে মশগুল হয়, তখন সে মু'মিন থাকে না। আর লুটতরাজকারী যখন লুটতরাজ করে এবং লোকেরা তার দিকে চোখ ফিরিয়ে ঢাকায়, তখন সে মু'মিন থাকে না।

3937

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَنِ انْتَهَبَ نُهْبَةً فَلَيْسَ مِنَّا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৩৯৩৭। হুমায়দ ইব্‌ন মাস'আদাহ্ (রাহঃ).....ইমরান ইবন হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ডাকাতির ও লুটতরাজ করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।

3938

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ الْحَكَمِ، قَالَ أَصَبْنَا غَنَمًا لِلْعَدُوِّ فَانْتَهَبْنَاهَا فَنَصَبْنَا قُدُورَنَا فَمَرَّ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِالْقُدُورِ فَأَمَرَ بِهَا فَأُكْفِئَتْ ثُمَّ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ النُّهْبَةَ لاَ تَحِلُّ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: ছা'লাবা ইবনে যাহদাম (রাঃ)

৩৯৩৮। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাযিঃ)..... সা'লাবা ইবন হাকাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা দুশমনের বকরীর পাল পাঁকড়াও করেছিলাম এবং লুট করেছিলাম। অতঃপর আমরা সেগুলোর গোশত ডেগচীতে করে রান্না করেছিলাম। নবী (ﷺ) ডেগচীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তিনি ডেগচীগুলোকে উল্টে ফেলার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর বললেনঃ লুটতরাজ করা বৈধ নয়।

মুসলামানকে গালি দেওয়া ফাসেকী এবং তার সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়া কুফরী

بَاب سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ

3939

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩৯৩৯। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাযিঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসেকী, তার সাথে লড়াই করা কুফরী।

3940

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الأَسَدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو هِلاَلٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৯৪০। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাযিঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসেকী এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরী।

3941

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৩৯৪১। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....... থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসেকী এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরী।

আমার পরে তোমরা একে অপরের গর্দান কেটে কুফরী দিকে ফিরে যেয়ো না

بَاب لَا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ

3942

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُدْرِكٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا زُرْعَةَ بْنَ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، يُحَدِّثُ عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ فِي حِجَّةِ الْوَدَاعِ ‏"‏ اسْتَنْصِتِ النَّاسَ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ لاَ تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

৩৯৪২। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার (রাহঃ)...... জারীর ইবন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদায় হজ্জে বলেনঃ (ভ্রাতৃমণ্ডলী)। লোকদের শান্ত করো, (যাতে তারা আমার কথাগুলো পরিস্কারভাবে শুনতে পায়)। অতঃপর তিনি বললেন, আমার পরে তোমরা একে অপরের গর্দান উড়িয়ে দিয়ে, কুফরীর দিকে ফিরে যেয়ো না।

3943

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ وَيْحَكُمْ - أَوْ وَيْلَكُمْ - لاَ تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৯৪৩। আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম (রাহঃ)....... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের জন্য আফসোস! অথবা বলেছেন, তোমাদের দুর্ভাগ্য। তোমরা আমার পরে একে অপরের গর্দান কেটে কুফরীর দিকে ফিরে যেয়ো না।

3944

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ قَيْسٍ، عَنِ الصُّنَابِحِ الأَحْمَسِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ أَلاَ إِنِّي فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ وَإِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الأُمَمَ فَلاَ تَقْتَتِلُنَّ بَعْدِي ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৩৯৪৪। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়ের (রাহঃ)........ সামাবিহ আহমাসী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সাবধান। আমি হাউসে কাউসারে তোমাদের আগেই উপস্থিত থাকবো। আমি তোমাদের নিয়ে অন্যান্য উম্মাতদের উপর আধিক্য প্রকাশ করবো। সুতরাং তোমরা আমার পরে পরস্পরে সশস্ত্র সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ো না।

মুসলমানরা মহান আল্লাহর জিম্মায় থাকে

بَاب الْمُسْلِمُونَ فِي ذِمَّةِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ

3945

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرِ بْنِ دِينَارٍ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ الْوَهْبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ الْمَاجِشُونُ، عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ أَبِي عَوْنٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ حَابِسٍ الْيَمَانِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ فَلاَ تُخْفِرُوا اللَّهَ فِي عَهْدِهِ فَمَنْ قَتَلَهُ طَلَبَهُ اللَّهُ حَتَّى يَكُبَّهُ فِي النَّارِ عَلَى وَجْهِهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)

৩৯৪৫। আমর ইব্‌ন উসমান ইব্‌ন সাঈদ ইবন কাসীর ইবনে দীনারা হেমসী (রাহঃ)...... আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করলো, সে আল্লাহর জিম্মায় রইলো। সুতরাং আল্লাহর জিম্মাদারীকে নষ্ট করো না। অতঃপর যে ব্যক্তি তাকে কতল করবে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন তলব করবেন এবং এমনকি তাকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।

3946

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا أَشْعَثُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৩৯৪৬। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাযিঃ)....... সামুরাহ ইবন জুনদুব (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করে, সে মহান আল্লাহর জিম্মায় থাকে।

3947

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُهَزِّمِ، يَزِيدُ بْنُ سُفْيَانَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الْمُؤْمِنُ أَكْرَمُ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ بَعْضِ مَلاَئِكَتِهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৯৪৭। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)....... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মু'মিন মহান আল্লাহর নিকট কিছু সংখ্যক ফিরিশতার ছেয়েও অধিক মর্যাদাবান।

আপন গোত্রের পক্ষপাতিত্ব করা

بَاب الْعَصَبِيَّةِ

3948

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ الصَّوَّافُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ رِيَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ قَاتَلَ تَحْتَ رَايَةٍ عِمِّيَّةٍ يَدْعُو إِلَى عَصَبِيَّةٍ أَوْ يَغْضَبُ لِعَصَبِيَّةٍ فَقِتْلَتُهُ جَاهِلِيَّةٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৯৪৮। বিশর ইবন হিলাল সাওয়াফ (রাযিঃ)....... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অন্ধ বিশ্বাসে পতাকাতলে সমবেত হয়ে লড়াই করে এবং লোকদের পক্ষপাতিত্বের দিকে আহ্বান জানায় কিংবা পক্ষপাতিত্বের জন্য গোস্বা করে, সে যেন জাহিলিয়্যাতের উপর মারা গেল।

3949

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ الرَّبِيعِ الْيُحْمِدِيُّ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ كَثِيرٍ الشَّامِيِّ، عَنِ امْرَأَةٍ، مِنْهُمْ يُقَالَ لَهَا فُسَيْلَةُ قَالَتْ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ، سَأَلْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمِنَ الْعَصَبِيَّةِ أَنْ يُحِبَّ الرَّجُلُ قَوْمَهُ قَالَ ‏ "‏ لاَ وَلَكِنْ مِنَ الْعَصَبِيَّةِ أَنْ يُعِينَ الرَّجُلُ قَوْمَهُ عَلَى الظُّلْمِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৩৯৪৯। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)... সিরীয় দেশীয় ফাসীলা নাম্বী এক মহিলা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপন গোত্রের সাথে ভালবাসা রাখা কি পক্ষপাতিত্ব? তিনি বললেনঃ না, তবে আপন গোত্রকে অন্যের উপর অত্যাচারে সহায়তা করাই হচ্ছে পক্ষপাতিত্ব ।

বড় জামা'আত

بَاب السَّوَادِ الْأَعْظَمِ

3950

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عُثْمَانَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا مُعَانُ بْنُ رِفَاعَةَ السَّلاَمِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو خَلَفٍ الأَعْمَى، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ إِنَّ أُمَّتِي لَنْ تَجْتَمِعَ عَلَى ضَلاَلَةٍ فَإِذَا رَأَيْتُمُ اخْتِلاَفًا فَعَلَيْكُمْ بِالسَّوَادِ الأَعْظَمِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৯৫০। আব্বাস ইব্‌ন উসমান দিমাশকী (রাহঃ)...আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ আমার উম্মাত গুমরাহীর উপরে একত্রিত হবে না। যখন তোমরা উম্মাতের মাঝে মতপার্থক্য দেখতে পাবে, তখন বড় জামা'আতের সাথে সম্পৃক্ত থাকবে।

সংঘটিতব্য ফিতনা

بَاب مَا يَكُونُ مِنْ الْفِتَنِ

3951

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ رَجَاءٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادِ بْنِ الْهَادِ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَوْمًا صَلاَةً فَأَطَالَ فِيهَا فَلَمَّا انْصَرَفَ قُلْنَا - أَوْ قَالُوا - يَا رَسُولَ اللَّهِ أَطَلْتَ الْيَوْمَ الصَّلاَةَ قَالَ ‏ "‏ إِنِّي صَلَّيْتُ صَلاَةَ رَغْبَةٍ وَرَهْبَةٍ سَأَلْتُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لأُمَّتِي ثَلاَثًا فَأَعْطَانِي اثْنَتَيْنِ وَرَدَّ عَلَىَّ وَاحِدَةً سَأَلْتُهُ أَنْ لاَ يُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ غَيْرِهِمْ فَأَعْطَانِيهَا وَسَأَلْتُهُ أَنْ لاَ يُهْلِكَهُمْ غَرَقًا فَأَعْطَانِيهَا وَسَأَلْتُهُ أَنْ لاَ يَجْعَلَ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ فَرَدَّهَا عَلَىَّ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৩৯৫১। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়র ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাযিঃ)....মু'আয ইব্‌ন জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করলেন এবং এতে তিনি অধিক সময় লাগালেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন আমরা বললাম, অথবা রাবী বলেনঃ তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আজ আপনি সালাত দীর্ঘায়িত করেছেন। তিনি বললেনঃ আজ আমি রোগবত ( আগ্রহ ) রাহবত (ভয়ের) এর সালাত আদায় করেছি। আমি মহামহিমান্বিত আল্লাহর কাছে আমার উম্মাতের জন্য তিনটি জিনিস চাইছিলাম। তিনি আমাকে দুইটি মঞ্জুর করলেন। অপরটি মঞ্জুর করলেন না। আমি আল্লাহর কাছে চাইছিলাম যে, আমার উম্মাতের উপরে তাদের শত্রুপক্ষ যেন কোন প্রকার আধিপত্য বিস্তার না করে। তিনি তা কবূল করলেন। আমি প্রার্থনা জানিয়ে ছিলাম আমার গোটা উম্মাত যেন পানিতে ডুবে মারা না যায়। তিনি এটাও মঞ্জুর করলেন। আমি আল্লাহর কাছে চাইছিলাম যে, আমার উম্মাত যেন পরস্পরে সংঘর্ষে জড়িয়ে না পড়ে। তিনি এটা আমাকে ফেরৎ দিলেন অর্থাৎ কবুল করলেন না।

3952

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ شَابُورَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّهُ حَدَّثَهُمْ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ الْجَرْمِيِّ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ، مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ زُوِيَتْ لِيَ الأَرْضُ حَتَّى رَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا وَأُعْطِيتُ الْكَنْزَيْنِ الأَصْفَرَ - أَوِ الأَحْمَرَ - وَالأَبْيَضَ - يَعْنِي الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ - وَقِيلَ لِي إِنَّ مُلْكَكَ إِلَى حَيْثُ زُوِيَ لَكَ وَإِنِّي سَأَلْتُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ ثَلاَثًا أَنْ لاَ يُسَلِّطَ عَلَى أُمَّتِي جُوعًا فَيُهْلِكَهُمْ بِهِ عَامَّةً وَأَنْ لاَ يَلْبِسَهُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَهُمْ بَأْسَ بَعْضٍ وَإِنَّهُ قِيلَ لِي إِذَا قَضَيْتُ قَضَاءً فَلاَ مَرَدَّ لَهُ وَإِنِّي لَنْ أُسَلِّطَ عَلَى أُمَّتِكَ جُوعًا فَيُهْلِكَهُمْ فِيهِ وَلَنْ أَجْمَعَ عَلَيْهِمْ مَنْ بَيْنَ أَقْطَارِهَا حَتَّى يُفْنِيَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا وَيَقْتُلَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا ‏.‏ وَإِذَا وُضِعَ السَّيْفُ فِي أُمَّتِي فَلَنْ يُرْفَعَ عَنْهُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَإِنَّ مِمَّا أَتَخَوَّفُ عَلَى أُمَّتِي أَئِمَّةً مُضِلِّينَ وَسَتَعْبُدُ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي الأَوْثَانَ وَسَتَلْحَقُ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِيِنَ وَإِنَّ بَيْنَ يَدَىِ السَّاعَةِ دَجَّالِينَ كَذَّابِينَ قَرِيبًا مِنْ ثَلاَثِينَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ وَلَنْ تَزَالَ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي عَلَى الْحَقِّ مَنْصُورِينَ لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ خَالَفَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو الْحَسَنِ لَمَّا فَرَغَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ مَا أَهْوَلَهُ ‏.‏

Narrator: হযরত ছাওবান (রাঃ)

৩৯৫২। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাযিঃ)....রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আযাদকৃত গোলাম সাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার জন্য যমীন (ভূপৃষ্ঠ) কে সংকোচন করা হলো, এমন কি আমি তার পূর্ব-পশ্চিম গোলার্ধের সবকিছু দেখলাম। আমাকে দু'টো কোষাগার ( ধন-রত্ন ভান্ডার) দেওয়া হয়েছে-হলুদ (অথবা রাবীর সন্দেহ লাল) এবং সাদা (অর্থাৎ স্বর্ণমুদ্রা এবং রৌপ্যমুদ্রা) আমাকে বলা হলো যে, আপনার রাজত্ব সেই সীমারেখা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে, যতদূর পর্যন্ত আপনার জন্য ভূ-পৃষ্ঠকে সংকোচন করে দেখানো হয়েছে। অতঃপর আমি মহান আল্লাহ সকাশে তিনবার আরয করলাম, যেন আমার উম্মাতকে ব্যাপকভাবে দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস করা না হয় এবং তাদেরকে দল-উপদলে বিভক্ত না করার জন্য আবেদন জানালাম, সর্বোপরি তাদের একে অপরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারটিও নিবেদন করলাম। কিন্তু আমাকে বলা হলো যে, আমি যখন কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি, তা প্রত্যাখ্যাত হয় না। তবে আমি আপনার উম্মাতকে ক্ষুধা-পীড়িত করে ধ্বংস করবো না, তাদের বিরুদ্ধে সারাবিশ্বের বিরোধী শক্তিকে একত্র করবো না। তবে তারা পরস্পরে সংঘর্ষে মশগুল হয়ে যাবে এবং একে অপরকে হত্যা করবে। আর যখন আমার উম্মাতেরা অস্ত্রধারণ করবে, তখন কিয়ামত পর্যন্ত সে তলোয়ার থামবে না। আমি আমার উম্মাতের উপরে সর্বাপেক্ষা অধিক আশংকা করছি পথভ্রষ্ট নেতৃবৃন্দ থেকে। অদূর ভবিষ্যতে আমার উম্মাতের কোন কোন শ্রেণী প্রতীমা পূজায় লিপ্ত হবে। অচিরেই আমাদের কতিপয় লোক মুশরিকদের সাথে আঁতাত করবে এবং কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে ত্রিশজনের মত মিথ্যাবাদী দাজ্জালের অভ্যুদয় ঘটবে। তারা প্রত্যেকেই নিজকে নবী বলে দাবি করবে। আমার উম্মাতের মধ্যে একটা দল, সর্বক্ষণ সত্যের উপর বিজয়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে। মহান আল্লাহর চূড়ান্ত মীমাংসা (অর্থাৎ কিয়ামত সংঘটিত) হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধাবাদীরা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

আবুল হাসান (রাহঃ) বলেন, তঃপর আবু আব্দুল্লাহ (রাহঃ) এই হাদীস বর্ণনা শেষে বললেনঃ কতই না ভয়াবহ এই হাদীস।
3953

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ زَيْنَبَ ابْنَةِ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ حَبِيبَةَ، عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ، أَنَّهَا قَالَتِ اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مِنْ نَوْمِهِ وَهُوَ مُحْمَرٌّ وَجْهُهُ وَهُوَ يَقُولُ ‏"‏ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ فُتِحَ الْيَوْمَ مِنْ رَدْمِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ ‏"‏ ‏.‏ وَعَقَدَ بِيَدَيْهِ عَشَرَةً ‏.‏ قَالَتْ زَيْنَبُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَهْلِكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ قَالَ ‏"‏ إِذَا كَثُرَ الْخَبَثُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন যায়নাব বিনতে জাহশ (রাঃ)

৩৯৫৩। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়রা (রাহঃ)....যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুম থেকে জাগলেন, তখন তাঁর চেহারা মুবারক ছিল রক্তিমাভ। তিনি 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু' (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই), আরবের ধ্বংস অনিবার্য, ঐ মন্দের কারণে, যা নিকটবর্তী হয়েছে। (যুলকারনাইন) নির্মিত প্রাচীর ভেঙ্গে ইয়াজূজ ও মাজুজ বের হয়ে পড়েছে। এ সময় তিনি তাঁর হাতের আঙ্গুল দিয়ে একটি বৃত্ত সৃষ্টি করলেন।

যায়নাব (রাযিঃ) বললেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি ধ্বংস হয়ে যাবো অথচ আমাদের মাঝে সৎলোক রয়েছেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, যখন মন্দ কাজের আধিক্য ছড়িয়ে পড়বে।
3954

حَدَّثَنَا رَاشِدُ بْنُ سَعِيدٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي السَّائِبِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ سَتَكُونُ فِتَنٌ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا إِلاَّ مَنْ أَحْيَاهُ اللَّهُ بِالْعِلْمِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

৩৯৫৪। রাশিদ ইবন সাঈদ রামলী (রাহঃ)....... আবু উমামাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অদূর ভবিষ্যতে এমন ফিত্না ছড়িয়ে পড়বে যে, সকালে মানুষ মু'মিন থাকবে এবং সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে। তবে আল্লাহ যাকে ইলমের বদৌলতে জীবিত রাখবেন।

3955

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَأَبِي، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ عُمَرَ فَقَالَ أَيُّكُمْ يَحْفَظُ حَدِيثَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي الْفِتْنَةِ قَالَ حُذَيْفَةُ فَقُلْتُ أَنَا ‏.‏ قَالَ إِنَّكَ لَجَرِيءٌ قَالَ كَيْفَ قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ ‏ "‏ فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ تُكَفِّرُهَا الصَّلاَةُ وَالصِّيَامُ وَالصَّدَقَةُ وَالأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْىُ عَنِ الْمُنْكَرِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ عُمَرُ لَيْسَ هَذَا أُرِيدُ إِنَّمَا أُرِيدُ الَّتِي تَمُوجُ كَمَوْجِ الْبَحْرِ ‏.‏ فَقَالَ مَالَكَ وَلَهَا يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّ بَيْنَكَ وَبَيْنَهَا بَابًا مُغْلَقًا ‏.‏ قَالَ فَيُكْسَرُ الْبَابُ أَوْ يُفْتَحُ قَالَ لاَ بَلْ يُكْسَرُ ‏.‏ قَالَ ذَاكَ أَجْدَرُ أَنْ لاَ يُغْلَقَ ‏.‏ قُلْنَا لِحُذَيْفَةَ أَكَانَ عُمَرُ يَعْلَمُ مَنِ الْبَابُ قَالَ نَعَمْ كَمَا يَعْلَمُ أَنَّ دُونَ غَدٍ اللَّيْلَةَ إِنِّي حَدَّثْتُهُ حَدِيثًا لَيْسَ بِالأَغَالِيطِ ‏.‏ فَهِبْنَا أَنْ نَسْأَلَهُ مَنِ الْبَابُ فَقُلْنَا لِمَسْرُوقٍ سَلْهُ فَسَأَلَهُ فَقَالَ عُمَرُ ‏.‏

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৩৯৫৫। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়র (রাহঃ)...হুযায়ফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আমরা উমার (রাযিঃ)-এর নিকট বসাছিলাম । তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের কার স্মরণ আছে ফিতনা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাদীস ও রাবী হুযায়ফা (রাযিঃ) বললেন, আমার জানা আছে। উমার (রাযিঃ) বললেনঃ তুমি তো বেশ বাহাদুর । তিনি বললেনঃ তাহলে সে হাদীস কি ধরনের ছিল? তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ মানুষ ফিতনায় পতিত হবে তার স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি এবং পাড়া প্রতিবেশী দ্বারা। তবে এ সবের কাফ্ফারা হচ্ছে--সালাত, সিয়াম, সাদাকাহ্ সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ। অতঃপর উমার (রাযিঃ) বললেনঃ আমি এ ফিতনা সম্পর্কে জানতে চাইনি। বরং আমি তো সেই ফিত্না সম্পর্কে জানতে চেয়েছি, যা সমুদ্রের তরং্গমালার ন্যায় উদ্বেলিত হবে। হুযায়ফা (রাযিঃ) বললেন এই ফিতনা দ্বারা আপনি কি বুঝাতে চান, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি ও সেই ফিতনার মাঝখানে তো একটা বন্ধ দরজা আছে। উমার (রাযিঃ) বললেন, সে দরজাটি কি ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে, না উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে? হুযায়ফা (রাযিঃ) বললেনঃ না, বরং তা ভেঙ্গে দেওয়া হবে। তিনি (উমার রা) বললেন, অতঃপর তা বন্ধ করার মত যোগ্য পাত্র থাকবে না । (রাবী শাকীক বলেনঃ) আমরা হুযায়ফা (রাযিঃ)-এর (রাযিঃ)-এর কাছে জানতে চাইলাম উমার (রাযিঃ) কি এই দরজা সম্পর্কে জানতেন ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ (তিনি তা এমনভাবে জানতেন) যেমনিভাবে আগামী কালকের দিন গত হওয়ার পর রাত আসবে বলে জানেন। আমি তাকে একখানি হাদীস বর্ণনা করেছি যা ধোঁকা ও প্রতারণামূলক ছিল না। অতঃপর আমরা এই মনে করে হুযায়ফা (রাযিঃ) কে ভয় পাচ্ছিলাম যে, সে দরজাটি কে যার কারণে ফিতনা বন্ধ ছিল? আমরা মাসরুক (রাহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি তাকে জিজ্ঞেস করে দেখ। তিনি হুযায়ফা (রাযিঃ) বললেন, সে দরজাটি ছিল স্বয়ং উমার (রাযিঃ)।

3956

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيُّ، وَوَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ رَبِّ الْكَعْبَةِ، قَالَ انْتَهَيْتُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَهُوَ جَالِسٌ فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ وَالنَّاسُ مُجْتَمِعُونَ عَلَيْهِ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ بَيْنَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي سَفَرٍ إِذْ نَزَلَ مَنْزِلاً فَمِنَّا مَنْ يَضْرِبُ خِبَاءَهُ وَمِنَّا مَنْ يَنْتَضِلُ وَمِنَّا مَنْ هُوَ فِي جَشَرِهِ إِذْ نَادَى مُنَادِيهِ الصَّلاَةُ جَامِعَةٌ فَاجْتَمَعْنَا فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَخَطَبَنَا فَقَالَ ‏ "‏ إِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيٌّ قَبْلِي إِلاَّ كَانَ حَقًّا عَلَيْهِ أَنْ يَدُلَّ أُمَّتَهُ عَلَى مَا يَعْلَمُهُ خَيْرًا لَهُمْ وَيُنْذِرَهُمْ مَا يَعْلَمُهُ شَرًّا لَهُمْ وَإِنَّ أُمَّتَكُمْ هَذِهِ جُعِلَتْ عَافِيَتُهَا فِي أَوَّلِهَا وَإِنَّ آخِرَهُمْ يُصِيبُهُمْ بَلاَءٌ وَأُمُورٌ تُنْكِرُونَهَا ثُمَّ تَجِيءُ فِتَنٌ يُرَقِّقُ بَعْضُهَا بَعْضًا فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ هَذِهِ مُهْلِكَتِي ثُمَّ تَنْكَشِفُ ثُمَّ تَجِيءُ فِتْنَةٌ فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ هَذِهِ مُهْلِكَتِي ‏.‏ ثُمَّ تَنْكَشِفُ فَمَنْ سَرَّهُ أَنْ يُزَحْزَحَ عَنِ النَّارِ وَيُدْخَلَ الْجَنَّةَ فَلْتُدْرِكْهُ مَوْتَتُهُ وَهُوَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَلْيَأْتِ إِلَى النَّاسِ الَّذِي يُحِبُّ أَنْ يَأْتُوا إِلَيْهِ وَمَنْ بَايَعَ إِمَامًا فَأَعْطَاهُ صَفْقَةَ يَمِينِهِ وَثَمَرَةَ قَلْبِهِ فَلْيُطِعْهُ مَا اسْتَطَاعَ فَإِنْ جَاءَ آخَرُ يُنَازِعُهُ فَاضْرِبُوا عُنُقَ الآخَرِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَأَدْخَلْتُ رَأْسِي مِنْ بَيْنِ النَّاسِ فَقُلْتُ أَنْشُدُكَ اللَّهَ أَنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ فَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى أُذُنَيْهِ فَقَالَ سَمِعَتْهُ أُذُنَاىَ وَوَعَاهُ قَلْبِي ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩৯৫৬। আবু কুরায়ব (রাহঃ)....আব্দুর রহমান ইব্‌ন আব্দু রাব্বুল কা'বাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আ'স (রাযিঃ)-এর নিকট গেলাম। এ সময় তিনি কা'বা ঘরের ছায়ায় উপবিষ্ট ছিলেন এবং তার চতুর্দিকে লোকজন সমবেত ছিল। অতঃপর আমি তাকে বলতে শুনলাম যে, আমরা একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সাথে সফরে ছিলাম। তিনি এক জায়গায় অবতরণ করলেন। আমাদের কতক তাবু স্থাপন করছিলেন এবং কতক তীর নিক্ষেপের প্রশিক্ষণ রপ্ত করেছিলেন। ইত্যবসরে তাঁর মুয়াযাযিন সালাতের জন্য আহ্বান জানালেনঃ সালাতের জন্য একত্রিত হও। তখন আমরা সবাই সমবেত হলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়ালেন এবং আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন তিনি বললেনঃ আমার পূর্বে এমন কোন নবী অতিবাহিত হননি, যিনি তার উম্মাতের জন্য কল্যাণকর কথা বাতলে দেননি এবং সে সব বিষয় থেকে ভয় দেখাননি যা তাদের জন্য মন্দ ও অকল্যাণকর মনে করছেন। আর তোমাদের এই উম্মাতের প্রথম অংশে রয়েছে নিরাপত্তা এবং পরবর্তী অংশে বালা মুসীবত আসতে থাকবে। অতঃপর এমন কার্যকলাপ শুরু হবে যাকে তোমরা মন্দ জ্ঞান কর। তারপর এমনভাবে ফিতনা আসতে থাকবে যে, একটা অপরটার চাইতে হালকা (লঘু) বলে মনে হবে অর্থাৎ প্রথমটার চাইতে পরবর্তীটা আরও ভয়াবহ হবে। মু'মিন ব্যক্তি বলতে থাকবে হায়, আফসোসে এই বিপর্যয়ে আমার ধ্বংস অনিবার্য। অতঃপর সে বিপর্যয় স্থগিত থাকবে এবং আরেকটি বিপর্যয় এসে খাড়া হবে। তখন মু'মিন ব্যক্তি বলবে, হায়, এরমধ্যে আমার ধ্বংস অনিবার্য। অতঃপর এই বিপর্যয়ও দূরীভূত হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি ভাল মনে করে যে, সে জাহান্নাম থেকে নাজাত পাবে এবং জান্নাতে দাখিল হবে, সে যেন কোশেশ করে যে, মুত্যুকালে আল্লাহর প্রতি, কিয়ামত দিবসের প্রতি তার যেন ঈমান থাকে এবং লোকদের সাথে তদ্রূপ আচরণ করে, যেমনটি সে নিজের জন্য পছন্দ করে। যে ব্যক্তি কোন ইমামের হাতে বায়'আত গ্রহণ করে এবং অন্তরে এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের বায়'আতের হাত দিয়ে দিবে, সে যেন যথাসাধ্য তার আনুগত্য করে। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ইমামের আবির্ভাব হলে এবং সে তার (পূর্ববর্তী ইমামের) সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে এবং নিজের বায়'আত গ্রহণের কথা বলে, তাহলে পরবর্তী আগন্তুক ইমামের গর্দনা উড়িয়ে দাও।

রাবী আব্দুর রহমান (রাযিঃ) বলেনঃ আমি (একথ শুনে) লোকদের ভিড় থেকে আমার মাথা বের করলাম এবং আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাযিঃ)-কে বললাম, আমি আপনাকে আল্লাহর শপথ করে বলছি, আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট হতে এই কথা শুনেছেন? তিনি তার হাত দিয়ে কানের দিকে ইশারা করে বললেনঃ আমার দুই কান তাঁর নিকট থেকে শুনেছে এবং আমার কালব তা সংরক্ষণ করেছে।

ফিতনার যুগে ঈমানের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা

بَاب التَّثَبُّتِ فِي الْفِتْنَةِ

3957

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏"‏ كَيْفَ بِكُمْ وَبِزَمَانٍ يُوشِكُ أَنْ يَأْتِيَ يُغَرْبَلُ النَّاسُ فِيهِ غَرْبَلَةً وَتَبْقَى حُثَالَةٌ مِنَ النَّاسِ قَدْ مَرِجَتْ عُهُودُهُمْ وَأَمَانَاتُهُمْ فَاخْتَلَفُوا وَكَانُوا هَكَذَا ‏"‏ ‏.‏ وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ قَالُوا كَيْفَ بِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَا كَانَ ذَلِكَ قَالَ ‏"‏ تَأْخُذُونَ بِمَا تَعْرِفُونَ وَتَدَعُونَ مَا تُنْكِرُونَ وَتُقْبِلُونَ عَلَى خَاصَّتِكُمْ وَتَذَرُونَ أَمْرَ عَوَامِّكُمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩৯৫৭। হিশাম ইব্‌ন আম্মার ও মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ (রাহঃ)....আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের অবস্থা তখন কোন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াবে, যখন লোকেরা আটার ভূষি নিঃসরণের মত হবে এবং প্রেতাত্মার মত লোকগুলো থেকে যাবে। তাদের অঙ্গীকার, প্রতিশ্রুতি ও আমানত দূরীভূত হয়ে যাবে। অতঃপর তারা মতপার্থক্যে নিঃপতিত হবে। তিনি এই বলে অঙ্গুলী মুষ্টিবদ্ধ করলেন (অর্থাৎ মু'মিন ও কাফিরের মধ্যে কোন তফাৎ থাকবে)। সাহাবা কিরাম (রাযিঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! যখন অবস্থা এরূপ হবে, তখন আমরা কি করবো? তিনি বললেনঃ যে সব জিনিষকে তোমরা ভাল মনে করবে তা ইখতিয়ার করবে এবং যা কিছু মন্দ জ্ঞান করবে তা পরিহার করবে। নিজেদের ব্যাপারে চিন্তা ফিকির করবে, সাধারণের ভাবধারা বর্জন করবে।

3958

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ، عَنِ الْمُشَعَّثِ بْنِ طَرِيفٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ كَيْفَ أَنْتَ يَا أَبَا ذَرٍّ وَمَوْتًا يُصِيبُ النَّاسَ حَتَّى يُقَوَّمَ الْبَيْتُ بِالْوَصِيفِ ‏"‏ ‏.‏ يَعْنِي الْقَبْرَ قُلْتُ مَا خَارَ اللَّهُ لِي وَرَسُولُهُ - أَوْ قَالَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ - قَالَ ‏"‏ تَصَبَّرْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ كَيْفَ أَنْتَ وَجُوعًا يُصِيبُ النَّاسَ حَتَّى تَأْتِيَ مَسْجِدَكَ فَلاَ تَسْتَطِيعَ أَنْ تَرْجِعَ إِلَى فِرَاشِكَ وَلاَ تَسْتَطِيعَ أَنْ تَقُومَ مِنْ فِرَاشِكَ إِلَى مَسْجِدِكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ أَوْ - مَا خَارَ اللَّهُ لِي وَرَسُولُهُ - قَالَ ‏"‏ عَلَيْكَ بِالْعِفَّةِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ كَيْفَ أَنْتَ وَقَتْلاً يُصِيبُ النَّاسَ حَتَّى تُغْرَقَ حِجَارَةُ الزَّيْتِ بِالدَّمِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ مَا خَارَ اللَّهُ لِي وَرَسُولُهُ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ الْحَقْ بِمَنْ أَنْتَ مِنْهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلاَ آخُذُ بِسَيْفِي فَأَضْرِبَ بِهِ مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ قَالَ ‏"‏ شَارَكْتَ الْقَوْمَ إِذًا وَلَكِنِ ادْخُلْ بَيْتَكَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَإِنْ دُخِلَ بَيْتِي قَالَ ‏"‏ إِنْ خَشِيتَ أَنْ يَبْهَرَكَ شُعَاعُ السَّيْفِ فَأَلْقِ طَرَفَ رِدَائِكَ عَلَى وَجْهِكَ فَيَبُوءَ بِإِثْمِهِ وَإِثْمِكَ فَيَكُونَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৩৯৫৮। আহমাদ ইব্‌ন আবাদা (রাযিঃ)...আবু যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আবু যার! তখন তোমার কি অবস্থা হবে, যখন লোকদের উপর মৃত্যু পতিত হবে, এমনকি একটা কবরের মূল্য হবে এক গোলামের মূল্য বরাবর। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমার জন্য যা পছন্দ করেন (অথবা বলেনঃ আল্লাহ ও তদীয় রাসূল (ﷺ) সম্যক জ্ঞাত)। তিনি বললেনঃ সবর করবে। অতঃপর তিনি বললেনঃ তখন তোমার কি হাল হবে, যখন লোকেরা দুর্ভিক্ষ তাড়িত হবে? ক্ষুধার তাড়না এত প্রকট রূপ ধারণ করবে যে, তুমি তোমার মসজিদে (সালাত আদায়ের জন্য) আসবে এবং সালাত শেষে নিজের বিছানায় ফিরে আসার শক্তি হারিয়ে ফেলবে। এবং তুমি তোমার বিছানা থেকে উঠে মসজিদে যাওয়ার শক্তিও রাখবে না। তিনি বলেনঃ আমি বললামঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সম্যক জ্ঞাত আছেন। (অথবা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল আমার জন্য যা ভাল মনে করেন।) তিনি বললেনঃ তখন তুমি হারাম থেকে বেঁচে থাকা নিজের জন্য অপরিহার্য করে নিবে (যদিও ভূখা, নাংগা থাকতে হয়)। অতঃপর তিনি বললেনঃ যখন গণহত্যা চলবে, এমনকি মদীনা মুনাওয়ারা রক্তে রঞ্জিত হবে, তখন তোমার কি হাল হবে? حجار ة الزبت দ্বারা واقعة خرة বুঝানো হয়েছে)। আমি বললামঃ যা কিছু আল্লাহ ও তাঁর রাসূল পছন্দ করবেন। তিনি বললেনঃ তুমি যাদের সাথে আছ তারাই সত্য, মিলেমিশে থাকা। আবু যার (রাযিঃ) বললেনঃ আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। যারা এরূপ করবে, আমি কি তলোয়ার দ্বারা তাদের হত্যা করবো না? তিনি বললেনঃ তুমি যদি এরূপ কর, তাহলে বিপর্যয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে, বরং আপন ঘরে প্রবেশ করবে। আমি বললামঃ যদি তারা আমার ঘরে ঢুকে পড়ে, (তখন কি করবো)? তিনি বললেনঃ যদি তোমার তরবারীর ধারালো জ্যোতির ভয় হয়, তাহলে আপন চাদর মুড়ি দিয়ে ঘরে বসে থাকবে (এবং নিহত হয়ে যাবে)। সে হবে হত্যাকারী। সে তারও তোমার গোনাহের ভার বহন করবে এবং জাহান্নামী হয়ে যাবে।

3959

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا عَوْفٌ، عَنِ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا أَسِيدُ بْنُ الْمُتَشَمِّسِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِنَّ بَيْنَ يَدَىِ السَّاعَةِ لَهَرْجًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْهَرْجُ قَالَ ‏"‏ الْقَتْلُ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ بَعْضُ الْمُسْلِمِينَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَقْتُلُ الآنَ فِي الْعَامِ الْوَاحِدِ مِنَ الْمُشْرِكِينَ كَذَا وَكَذَا ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ لَيْسَ بِقَتْلِ الْمُشْرِكِينَ وَلَكِنْ يَقْتُلُ بَعْضُكُمْ بَعْضًا حَتَّى يَقْتُلَ الرَّجُلُ جَارَهُ وَابْنَ عَمِّهِ وَذَا قَرَابَتِهِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَعَنَا عُقُولُنَا ذَلِكَ الْيَوْمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ لاَ تُنْزَعُ عُقُولُ أَكْثَرِ ذَلِكَ الزَّمَانِ وَيَخْلُفُ لَهُ هَبَاءٌ مِنَ النَّاسِ لاَ عُقُولَ لَهُمْ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ الأَشْعَرِيُّ وَايْمُ اللَّهِ إِنِّي لأَظُنُّهَا مُدْرِكَتِي وَإِيَّاكُمْ وَايْمُ اللَّهِ مَا لِي وَلَكُمْ مِنْهَا مَخْرَجٌ إِنْ أَدْرَكَتْنَا فِيمَا عَهِدَ إِلَيْنَا نَبِيُّنَا ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِلاَّ أَنْ نَخْرُجَ كَمَا دَخَلْنَا فِيهَا ‏.‏

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৩৯৫৯। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ).....আবু মুসা আশ'আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদিগকে বললেন, কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে হারাজ ছড়িয়ে পড়বে। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহ রাসূল! 'হারাজ' কি জিনিস? তিনি বললেনঃ হারাজ মানে কতল হত্যা, খুন-খারাবী । অতঃপর কতক মুসলমান বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো এখনও এক বছরে এত এত জন মুশরিক মেরে ফেলেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটা তো মুশরিকদের হত্যা করা নয়; বরং তোমরা নিজেরা একে অপরকে হত্যা করবে; এমনকি এক ব্যক্তি তার প্রতিবেশী চাচাতো ভাই এবং নিকট আত্মীয়-স্বজনকে হত্যা করবে। তখন কাওমের কতিপয় লোক জিজ্ঞাসা করলোঃ হে আল্লাহর রাসূল! সে সময় কি আমাদের বিবেক বুদ্ধি লোপ পেয়ে যাবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ না, সেকালের অধিকাংশ লোক হবে জ্ঞান পাপী ও বিবেক শূন্য। আর অবশিষ্ট থাকবে নির্বোধ ও মুর্খ ব্যক্তিরা, যাদের বিবেক বুদ্ধি ও প্রজ্ঞা বলতে কিছুই থাকবে না। অতঃপর আবু মুসা আশ'আরী (রাযিঃ) বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি ভেবেছিলাম সম্ভবত এই যুগ তোমাদের ও আমাকে স্পর্শ করবে। আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, যদি এই যুগ তোমাদের ও আমাকে পেয়ে বসে, তাহলে না তুমি এর থেকে বাঁচতে পারবে, আর না আমি রক্ষা পাবো। যেমন আমাদের নবী (ﷺ) আমাদের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছেন যে, তোমরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না যে যেভাবে তথায় প্রবেশ করেছিলে। (অর্থাৎ যুদ্ধে অংশগ্রহণের পূর্বে যেমন তোমরা বে-গোনাহ ছিলে এবং অংশ গ্রহণের পরে গোনাহগার হয়ে গেলে)।

3960

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدٍ، مُؤَذِّنُ مَسْجِدِ جُرْدَانَ قَالَ حَدَّثَتْنِي عُدَيْسَةُ بِنْتُ أُهْبَانَ، قَالَتْ لَمَّا جَاءَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ هَاهُنَا الْبَصْرَةَ دَخَلَ عَلَى أَبِي فَقَالَ يَا أَبَا مُسْلِمٍ أَلاَ تُعِينُنِي عَلَى هَؤُلاَءِ الْقَوْمِ قَالَ بَلَى ‏.‏ قَالَ فَدَعَا جَارِيَةً لَهُ فَقَالَ يَا جَارِيَةُ أَخْرِجِي سَيْفِي ‏.‏ قَالَ فَأَخْرَجَتْهُ فَسَلَّ مِنْهُ قَدْرَ شِبْرٍ فَإِذَا هُوَ خَشَبٌ فَقَالَ إِنَّ خَلِيلِي وَابْنَ عَمِّكَ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَهِدَ إِلَىَّ إِذَا كَانَتِ الْفِتْنَةُ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ فَأَتَّخِذُ سَيْفًا مِنْ خَشَبٍ فَإِنْ شِئْتَ خَرَجْتُ مَعَكَ ‏.‏ قَالَ لاَ حَاجَةَ لِي فِيكَ وَلاَ فِي سَيْفِكَ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৩৯৬০। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার (রাযিঃ)...... উদারসা বিনতে উহ্বান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আলী ইবন আবী তালিব (রাযিঃ) বসরায় আসেন, তখন তিনি আমার পিতার কাছে চলে আসেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ হে আবু মুসলিম! তুমি কি এই কাওমের (সিরিয়াবাসীদের) বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করবে না? আবু মুসলিম বললেনঃ কেন করবো না, নিশ্চয়ই করবো। অতঃপর তিনি তাঁর এক দাসীকে ডাকলেন এবং বললেনঃ হে দাসী! আমার তরবারীটা দাও। আবু মুসলিম বলেন, আমি খাপের মধ্য থেকে সেটা এক বিঘৎ বরাবর বের করলাম। দেখতে পেলাম যে, সেটা একটা কাষ্ঠখণ্ড মাত্র। আবু মুসলিম বললেনঃ আমার অন্তরং্গ বন্ধু ও তোমার চাচাতো ভাই, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন নির্দেশ প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেনঃ যখন মুসলমানদের মাঝে বিপর্যয়ের ঘনঘটা নেমে আসবে, তখন একটা কাঠের তলোয়ার বানিয়ে নিবে। এখন আপনি যদি চান তাহলে আমি সেই কাঠের তলোয়ারটি নিয়ে আপনার সাথে বের হতে পারি। তিনি (আলী (রাযিঃ) বললেনঃ তোমার এবং তোমার তলোয়ারের কোন প্রয়োজন আমার নেই।

3961

حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى اللَّيْثِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَرْوَانَ، عَنْ هُزَيْلِ بْنِ شُرَحْبِيلَ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ بَيْنَ يَدَىِ السَّاعَةِ فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا وَيُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْقَائِمِ وَالْقَائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي فَكَسِّرُوا قِسِيَّكُمْ وَقَطِّعُوا أَوْتَارَكُمْ وَاضْرِبُوا بِسُيُوفِكُمُ الْحِجَارَةَ فَإِنْ دُخِلَ عَلَى أَحَدٍ مِنْكُمْ فَلْيَكُنْ كَخَيْرِ ابْنَىْ آدَمَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৩৯৬১। ইমরান ইব্‌ন মুসা লায়সী (রাহঃ)....আবু মুসা আশ'আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে এমন ফিতনার সৃষ্টি হবে, যেমন ঘোর অন্ধকার রজনী। সকাল বেলা এক ব্যক্তি মু'মিন থাকবে সন্ধ্যেবেলা কাফির এবং সন্ধ্যেবেলা মু'মিন সকালবেলা কাফির। এই বিপর্যয়ের দিনে উপবেশনকারী দন্ডায়মান ব্যক্তির চাইতে উত্তম। দন্ডায়মান ব্যক্তি চলমান ব্যক্তির চাইতে উত্তম। পদব্রজে চলাচলকারী দ্রুত ধাবমান ব্যক্তির চাইতে উত্তম। সেই বিপর্যয়ের দিনে তীর-ধনুক ভেঙ্গে ফেলবে এবং কামানের রশি কেটে ফেলবে। আর নিজেদের তরবারিগুলো পাথরের উপর আঘাত করে ভোতা করে ফেলবে। যদি তোমাদের কারোর নিকট কেউ এসে পড়ে, তাহলে সে যেন আদম (আ)-এর দুইপুত্র হাবীল ও কাবীলের মধ্যে যে ভাল ছিল, সে যা করেছিল তাই করে।

3962

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، - أَوْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ شَكَّ أَبُو بَكْرٍ - عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ مَسْلَمَةَ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّهَا سَتَكُونُ فِتْنَةٌ وَفُرْقَةٌ وَاخْتِلاَفٌ فَإِذَا كَانَ كَذَلِكَ فَأْتِ بِسَيْفِكَ أُحُدًا فَاضْرِبْهُ حَتَّى يَنْقَطِعَ ثُمَّ اجْلِسْ فِي بَيْتِكَ حَتَّى تَأْتِيَكَ يَدٌ خَاطِئَةٌ أَوْ مَنِيَّةٌ قَاضِيَةٌ ‏"‏ ‏.‏ فَقَدْ وَقَعَتْ وَفَعَلْتُ مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏

Narrator: মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা আনসারী (রাঃ)

৩৯৬২। আবু বাকর ইবন আবু শায়রা (রাহঃ)....আবু বুরদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবন মাসলমাহ (রাযিঃ)-এর কাছে গেলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই একটি ফিতনা বিচ্ছিন্নতা ও মতভেদ ছড়িয়ে পড়বে। তখন নিজেদের তরবারীসহ উহুদ পর্বতে আরোহন করবে এবং তার উপরে আঘাত করবে, যাতে তা ভেঙ্গে যায়। অতঃপর নিজের ঘরে বসে থাকবে, যতক্ষণ না কোন বিদ্রোহী কিংবা অনিষ্টকারী তোমাকে হত্যা করে কিংবা স্বাভাবিক পন্থায় তোমার মৃত্যু এসে যায়।

(মুহাম্মাদ ইবন মাসলামাহ (রাযিঃ) বলেন), এই ফিতনা তো এসে গেছে এবং আমি তাই করেছি, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলে গিয়েছেন।

যখন দুইজন মুসলমান পরস্পরে অস্ত্রধারণ করবে

بَاب إِذَا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا

3963

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا مُبَارَكُ بْنُ سُحَيْمٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَا مِنْ مُسْلِمَيْنِ الْتَقَيَا بِأَسْيَافِهِمَا إِلاَّ كَانَ الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৯৬৩। সুওয়াইদ ইবন সাঈদ (রাহঃ)......আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন দুইজন মুসলমান একে অপরের বিরুদ্ধে তলোয়ার নিয়ে লড়াই করবে, তখন হত্যাকারীও নিহত ব্যক্তি উভয়েই জাহান্নামী হবে।

3964

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، وَسَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِذَا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَالْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا الْقَاتِلُ فَمَا بَالُ الْمَقْتُولِ قَالَ ‏"‏ إِنَّهُ أَرَادَ قَتْلَ صَاحِبِهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৩৯৬৪। আহমাদ ইব্‌ন সিনান (রাহঃ)........আবু মুসা আশ'আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন দুইজন মুসলমান তলোয়ার নিয়ে পরস্পরে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে, তখন হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়ই জাহান্নামী হবে। তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! এই তো হত্যাকারী, যে জাহান্নামে যাবে, কিন্তু নিহত ব্যক্তির অবস্থা কি? তিনি বললেন, সেও তো তার সাথীকে কতল করার ইচ্ছা করেছিল।

3965

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِذَا الْمُسْلِمَانِ حَمَلَ أَحَدُهُمَا عَلَى أَخِيهِ السِّلاَحَ فَهُمَا عَلَى جُرُفِ جَهَنَّمَ فَإِذَا قَتَلَ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ دَخَلاَهَا جَمِيعًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৩৯৬৫। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ)..... আবু বাকরা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুইজন মুসলমানের একজন তার ভাই এর বিরুদ্ধে অস্ত্র উত্তোলন করলে, তারা উভয়ই জাহান্নামের কিনারায় উপনীত হবে। অতঃপর তাদের একজন তার সাথীকে কতল করলে, তারা একত্রে জাহান্নামে দাখিল হবে।

3966

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَبْدِ الْحَكَمِ السَّدُوسِيِّ، حَدَّثَنَا شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مِنْ شَرِّ النَّاسِ مَنْزِلَةً عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَبْدٌ أَذْهَبَ آخِرَتَهُ بِدُنْيَا غَيْرِهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

৩৯৬৬। সুওয়াইদ ইব্‌ন সাঈদ (রাহঃ).... আবু উমামাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিনে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তি সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট বলে সাব্যস্ত হবে, যে তার আখিরাত অপরের দুনিয়ার জন্য নষ্ট করেছে।

ফিতনার দিনে রসনা সংযত রাখা

بَاب كَفِّ اللِّسَانِ فِي الْفِتْنَةِ

3967

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْجُمَحِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنْ زِيَادٍ، سِيمِينْ كُوشْ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ تَكُونُ فِتْنَةٌ تَسْتَنْظِفُ الْعَرَبَ قَتْلاَهَا فِي النَّارِ اللِّسَانُ فِيهَا أَشَدُّ مِنْ وَقْعِ السَّيْفِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩৯৬৭। আব্দুল্লাহ ইবন মু'আবিয়্যাহ জুমাহী (রাহঃ).... আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এমন একটা ফিতনা অনিবার্য যা সমগ্র আরবকে পরিবেষ্টন করবে। এই ফিতনায় যারা মারা যাবে, তারা হবে জাহান্নামী। সে সময় মুখে কথা বলা, তলোয়ার দ্বারা আঘাত করার চাইতেও কঠিনতর হবে।

3968

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْبَيْلَمَانِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِيَّاكُمْ وَالْفِتَنَ فَإِنَّ اللِّسَانَ فِيهَا مِثْلُ وَقْعِ السَّيْفِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৯৬৮। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ফিতনা থেকে বেঁচে থাকবে। কেননা তাতে রসনা তলোয়ারের আঘাতের সমতূল্য।

3969

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِيهِ، عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ قَالَ مَرَّ بِهِ رَجُلٌ لَهُ شَرَفٌ فَقَالَ لَهُ عَلْقَمَةُ إِنَّ لَكَ رَحِمًا وَإِنَّ لَكَ حَقًّا وَإِنِّي رَأَيْتُكَ تَدْخُلُ عَلَى هَؤُلاَءِ الأُمَرَاءِ وَتَتَكَلَّمُ عِنْدَهُمْ بِمَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَتَكَلَّمَ بِهِ وَإِنِّي سَمِعْتُ بِلاَلَ بْنَ الْحَارِثِ الْمُزَنِيَّ صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ رِضْوَانِ اللَّهِ مَا يَظُنُّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ فَيَكْتُبُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ بِهَا رِضْوَانَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ سَخَطِ اللَّهِ مَا يَظُنُّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ فَيَكْتُبُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْهِ بِهَا سَخَطَهُ إِلَى يَوْمِ يَلْقَاهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ عَلْقَمَةُ فَانْظُرْ وَيْحَكَ مَاذَا تَقُولُ وَمَاذَا تَكَلَّمُ بِهِ فَرُبَّ كَلاَمٍ - قَدْ - مَنَعَنِي أَنْ أَتَكَلَّمَ بِهِ مَا سَمِعْتُ مِنْ بِلاَلِ بْنِ الْحَارِثِ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৩৯৬৯। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আলকামাহ্ ইব্‌ন ওয়াককাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার নিকট দিয়ে একজন শরীফ লোক যাচ্ছিলেন। আলকামাহ্ (রাযিঃ) তাঁকে বললেনঃ তোমার সাথে আমার আত্মীতার সম্পর্ক আছে এবং অন্যবিধ অধিকারও আছে। আমি দেখতে পাচ্ছি যে, তুমি সে সব আমীর লোকদের কাছে যাতায়াত করছো এবং তাদের সাথে সে সব কথাবর্তা বলে বেড়াও, যা আল্লাহ তা'য়ালা চান। আর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী বিলাল ইবন হারিস মুযানী (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি এমন কথা বলে, যাতে আল্লাহর রিযামন্দী আছে, অথচ সে জানে না এর পরিণতি কি হবে এবং কতটা (বিনিময়) হবে, তখন আল্লাহ তা'আলা এই কথার বদৌলতে কিয়ামত পর্যন্ত তার রিযামন্দী লিখে দেন। পক্ষান্তরে, তোমাদের কেউ যদি তার মুখ থেকে এমন কথা বের করে, যাতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি রয়েছে এবং তার জানানেই যে, এই কথার পরিণতি কতদূর গড়াবে মহান আল্লাহ তার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত অসন্তুষ্টি লিপি বদ্ধ করেন। আলকামাহ্ (রাযিঃ) বলেন, এবারে ভেবে দেখুন, আপনি কি বলছেন এবং সব কথা মুখ থেকে বের করছেন? আর আমি অনেক কথা বলতে ইচ্ছা করি, কিন্তু বিলাল ইবন হারিস মুযানী (রাযিঃ) এর এই হাদীস আমাকে তা থেকে বিরত রেখেছে।

3970

حَدَّثَنَا أَبُو يُوسُفَ الصَّيْدَلاَنِيُّ، مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الرَّقِّيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ سَخَطِ اللَّهِ لاَ يَرَى بِهَا بَأْسًا فَيَهْوِي بِهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ سَبْعِينَ خَرِيفًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৯৭০। আবু ইউসুফ সায়দালানী, মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ রাক্কী (রাহঃ)....... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষ আল্লাহর অসন্তুষ্টসূচক একটি কথা বলে ফেলে এবং তাতে খারাপ কিছু মনে করে না, অথচ এই কথাটি সত্তর বছর পর্যন্ত সে জাহান্নামের গর্তে পড়তে থাকবে।

3971

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَسْكُتْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৯৭১। আবু বকর (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে অথবা নীরবতা অবলম্বন করে।

ফিতনার সময়ে যবান সংযত রাখা

بَاب كَفِّ اللِّسَانِ فِي الْفِتْنَةِ

3972

حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ، مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعُثْمَانِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَاعِزٍ الْعَامِرِيِّ، أَنَّ سُفْيَانَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الثَّقَفِيَّ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ حَدِّثْنِي بِأَمْرٍ أَعْتَصِمُ بِهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ قُلْ رَبِّيَ اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقِمْ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَكْثَرُ مَا تَخَافُ عَلَىَّ فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِلِسَانِ نَفْسِهِ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ هَذَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৩৯৭২। আবু মারওয়ান মুহাম্মাদ ইবন উমান উসমানী (রাহঃ)...... সুফইয়ান ইব্‌ন আব্দুল্লাহ সাকাফী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি বিষয় বাতলে দিন, যাকে আমি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারি। তিনি বললেনঃ তুমি বল, আল্লাহ আমার রব এবং এর উপরে তুমি ইস্তিকামাত (প্রতিষ্ঠিত) থাকো। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার উপরে কোন জিনিসকে আপনি বেশী ভয় করেন? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিজের জিহ্বা ধরলেন এবং বললেনঃ এইটার।

ফিতনার দিনে রসনা সংযত রাখা

بَاب كَفِّ اللِّسَانِ فِي الْفِتْنَةِ

3973

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْعَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي سَفَرٍ فَأَصْبَحْتُ يَوْمًا قَرِيبًا مِنْهُ وَنَحْنُ نَسِيرُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي بِعَمَلٍ يُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ وَيُبَاعِدُنِي مِنَ النَّارِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ لَقَدْ سَأَلْتَ عَظِيمًا وَإِنَّهُ لَيَسِيرٌ عَلَى مَنْ يَسَّرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ تَعْبُدُ اللَّهَ لاَ تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمُ الصَّلاَةَ وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ وَتَصُومُ رَمَضَانَ وَتَحُجُّ الْبَيْتَ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ أَلاَ أُدُلُّكَ عَلَى أَبْوَابِ الْجَنَّةِ الصَّوْمُ جُنَّةٌ وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ النَّارَ الْمَاءُ وَصَلاَةُ الرَّجُلِ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَرَأَ ‏(تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ‏)‏ حَتَّى بَلَغَ ‏(جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ)‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ أَلاَ أُخْبِرُكَ بِرَأْسِ الأَمْرِ وَعَمُودِهِ وَذُرْوَةِ سَنَامِهِ الْجِهَادُ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ أَلاَ أُخْبِرُكَ بِمِلاَكِ ذَلِكَ كُلِّهِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ بَلَى ‏.‏ فَأَخَذَ بِلِسَانِهِ فَقَالَ ‏"‏ تَكُفُّ عَلَيْكَ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَإِنَّا لَمُؤَاخَذُونَ بِمَا نَتَكَلَّمُ بِهِ قَالَ ‏"‏ ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا مُعَاذُ وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ عَلَى وُجُوهِهِمْ فِي النَّارِ إِلاَّ حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৩৯৭৩। মুহাম্মাদ ইবন আবু উমার আদানী (রাহঃ) …….. মু'আয ইবন জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা কোন এক সফরে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সঙ্গে ছিলাম। একদিন আমি অতি ভোরে তাঁর নিকটে লোম এবং এ সময় আমরা পথ চলছিলাম। তখন আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন একটি আমল বলে দিন, যা আমাকে জান্নাতে দাখিল করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। তিনি বললেনঃ তুমি বড় কঠিন প্রশ্ন করলে। এই বিষয়টি তার জন্যই সহজ, যাকে আল্লাহ সহজ লভ্য করে দেন। তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে, তাঁর সাথে অন্য কিছুর শরীক করবে না, সালাত আদায় করবে, যাকাত দিবে, রামাযান মাসের সিয়াম পালন করবে এবং বায়তুল্লাহর হাজ্জ করবে। অতঃপর তিনি বললেনঃ আমি তোমাকে কল্যাণের পথসমূহ বলে দিব কি? (তাহলোঃ ) সিয়াম ঢাল স্বরূপ, সাদাকাহ (দান খয়রাত) পাপরাশি মোচন করে দেয়, যেমন পানি আগুন নিভিয়ে ফেলে এবং রাতের মধ্যবর্তী সময়ে মানুষের সালাত অর্থাৎ তাহাজ্জুদ। অতঃপর তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ

تتجافى جنوبهم عن المضاجع يدعون ربهم خوفا وطمعا وممارزقنهم ينفقون. فلا تعلم نفس ما أخفى لهم من قرة أعين جزاء بما كانوا يعملون.

“তারা শয্যাত্যাগ করে তাদের রবকে ডাকে আশাও আকাঙ্ক্ষায় এবং আমি তাদেরকে যে জীবনোপকরণ দান করেছি, তা থেকে তারা খরচ করে। কেউই জানে না তাদের জন্য নয়ন প্রীতিকরকী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে, তাদের কতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ।" (৩২ঃ ১৬-১৭)

অতঃপর তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাকে দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সার সংক্ষেপ ও শীর্ষস্থানীয় কাজটি বলে দিব? (তা হচ্ছে)ঃ জিহাদ। তারপর তিনি বললেনঃ এই সব কাজের ভিত্তি যার উপর রচিত, সেটা কি আমি তোমাকে বলে দিব না? আমি বললাম, জ্বি হ্যাঁ, (হে আল্লার নবী! আমাদের মুখের কথাবার্তা সম্পর্কে কি আমাদের পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেনঃ হে মু'আয! তোমার মা তোমার জন্য কাঁদুক! (এটা একটা প্রবাদ যা মনোযোগ আকর্ষণের জন্য বলা হয়) মানুষ তো তার অসংযত কথাবার্তার কারণে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
3974

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ خُنَيْسٍ الْمَكِّيُّ، قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ حَسَّانَ الْمَخْزُومِيَّ، قَالَ حَدَّثَتْنِي أُمُّ صَالِحٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ كَلاَمُ ابْنِ آدَمَ عَلَيْهِ لاَ لَهُ إِلاَّ الأَمْرَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْىَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَذِكْرَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে হাবীবা (রাঃ)

৩৯৭৪। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার (রাহঃ)...... নবী (স) এর সহধর্মীনি উম্মু হাবীবাহ্ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ সৎকাজের আদেশ, অসৎকজের নিষেধ এবং মহান আল্লাহর যিকির ব্যতিরেকে মানুষের প্রতিটি কথা তার জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে, কোন কোন কথায় তার ফায়দা হবে না।

3975

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا خَالِي، يَعْلَى عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، قَالَ قِيلَ لاِبْنِ عُمَرَ إِنَّا نَدْخُلُ عَلَى أُمَرَائِنَا فَنَقُولُ الْقَوْلَ فَإِذَا خَرَجْنَا قُلْنَا غَيْرَهُ ‏.‏ قَالَ كُنَّا نَعُدُّ ذَلِكَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ النِّفَاقَ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৯৭৫। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আবু শা'সা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন উমার (রাযিঃ) কে প্রশ্ন করা হলো যে, আমরা আমাদের শাসকদের কাছে যাতায়াত করি এবং তাদের সাথে কথাবার্তা বলি, (তাদের সন্তুষ্ট করার জন্যে); কিন্তু যখন সেখান থেকে বের হই, তখান উল্টো কথা বলি। (তোমাদের মন্দ দিকগুলো আলোচনা করি। এর পরিণতি কি হতে পারে ?) তিনি বললেনঃ আমরা তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় এরূপ আচরণকে নিফাক মনে করতাম।

3976

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ شَابُورَ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ قُرَّةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَيْوَئِيلَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مِنْ حُسْنِ إِسْلاَمِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لاَ يَعْنِيهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৯৭৬। হিশাম ইবন আম্মার (রাহঃ)......আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষের জন্য সৌন্দর্য হচ্ছে তার অনর্থক বাক্যালাপ পরিহার করা।

নির্জনতা অবলম্বন

بَاب الْعُزْلَةِ

3977

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ بَعْجَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَدْرٍ الْجُهَنِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ خَيْرُ مَعَايِشِ النَّاسِ لَهُمْ رَجُلٌ مُمْسِكٌ بِعِنَانِ فَرَسِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَيَطِيرُ عَلَى مَتْنِهِ كُلَّمَا سَمِعَ هَيْعَةً أَوْ فَزْعَةً طَارَ عَلَيْهِ إِلَيْهَا يَبْتَغِي الْمَوْتَ أَوِ الْقَتْلَ مَظَانَّهُ وَرَجُلٌ فِي غُنَيْمَةٍ فِي رَأْسِ شَعَفَةٍ مِنْ هَذِهِ الشِّعَافِ أَوْ بَطْنِ وَادٍ مِنْ هَذِهِ الأَوْدِيَةِ يُقِيمُ الصَّلاَةَ وَيُؤْتِي الزَّكَاةَ وَيَعْبُدُ رَبَّهُ حَتَّى يَأْتِيَهُ الْيَقِينُ لَيْسَ مِنَ النَّاسِ إِلاَّ فِي خَيْرٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৯৭৭। মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ (রাযিঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সেই ব্যক্তির জীবন ও জীবিকা উত্তম, যে তার ঘোড়ার লাগাম আল্লাহর রাস্তায় মযবূত করে আঁকড়ে ধরে এবং তার পিঠে আরোহণ করে দৌড়ায় যখন দুশমনের হুংকার শুনে অথবা মুকাবিলা করার সময় উপস্থিত হয়, তখন সেদিকে ধাবিত হয় । সর্বোপরি মৃত্যু অথবা হত্যা (শাহাদাতের) স্থান তালাশ করে। সেই ব্যক্তির জীবন ও জীবিকা ও উত্তম, যে, তার কতক ছাগল বকরী নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করে, কিংবা এই উপত্যাকাসমূহের যে কোন একটি উপত্যাকায় বকরী চরায়, সালাত আদায় করে, যাকাত প্রদান করে এবং মৃত্যু আসা পর্যন্ত তার রবের ইবাদত করতে থাকে, সে কেবল মানুষের জন্য কল্যাণ কামনা করা।

3978

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا الزُّبَيْدِيُّ، حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ أَىُّ النَّاسِ أَفْضَلُ قَالَ ‏"‏ رَجُلٌ مُجَاهِدٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ ‏"‏ ثُمَّ امْرُؤٌ فِي شِعْبٍ مِنَ الشِّعَابِ يَعْبُدُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَيَدَعُ النَّاسَ مِنْ شَرِّهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৯৭৮। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললোঃ উত্তম ব্যক্তিকে? তিনি বললেনঃ জান-মাল নিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদকারী। সে বললোঃ তারপর কে? তিনি বললেনঃ তারপর সে ব্যক্তি যে কোন উপত্যাকায় বসে আল্লাহর ইবাদত করে এবং মানুষকে নিজের মন্দ থেকে রক্ষা করে।

3979

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، حَدَّثَنِي بُسْرُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي أَبُو إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ حُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ يَكُونُ دُعَاةٌ عَلَى أَبْوَابِ جَهَنَّمَ مَنْ أَجَابَهُمْ إِلَيْهَا قَذَفُوهُ فِيهَا ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ صِفْهُمْ لَنَا قَالَ ‏"‏ هُمْ قَوْمٌ مِنْ جِلْدَتِنَا يَتَكَلَّمُونَ بِأَلْسِنَتِنَا ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ فَمَا تَأْمُرُنِي إِنْ أَدْرَكَنِي ذَلِكَ قَالَ ‏"‏ فَالْزَمْ جَمَاعَةَ الْمُسْلِمِينَ وَإِمَامَهُمْ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُمْ جَمَاعَةٌ وَلاَ إِمَامٌ فَاعْتَزِلْ تِلْكَ الْفِرَقَ كُلَّهَا وَلَوْ أَنْ تَعَضَّ بِأَصْلِ شَجَرَةٍ حَتَّى يُدْرِكَكَ الْمَوْتُ وَأَنْتَ كَذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৩৯৭৯। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... হুযায়ফা ইবন ইয়ামান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জাহান্নামের দরজাসমূহে অনেক ঘোষক থাকবে, যারা তাদের ঘোষণায় সাড়া দিবে, তারা ওদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ সব লোকদের সম্পর্কে আমাদের অবহিত করুন। তিনি বললেনঃ সে সব লোক আমাদের মধ্য থেকেই হবে এবং আমাদের ভাষায় কথাবার্তা কলবে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি আমাকে কি নির্দেশ দিবেন, যদি তারা আমাকে পায়। তিনি বললেনঃ তুমি মুসলমানদের জামা'আতকে অপরিহার্য করে নিবে এবং তাদের ইমামকেও। যদি জামা'আতও ইমাম কোনটাই না থাকে, যদিও তুমি বিজন বনে ক্ষুধার তাড়নায় বক্ষের মল খেয়ে থাক, আজীবন সেই অবস্থানেই থাকবে।

3980

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خَيْرَ مَالِ الْمُسْلِمِ غَنَمٌ يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الْجِبَالِ وَمَوَاقِعَ الْقَطْرِ يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الْفِتَنِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৯৮০। আবু কুরায়ব (রাহঃ)......আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই মুসলমানদের সর্বাপেক্ষা উত্তম ধেনৈশ্বর্য হবে কতক বকরী। তারা ফিতনা ফাসাদ থেকে তাদের দীন ও জীবন বাঁচানো খাতিরে সেগুলো নিয়ে পাহাড়ের পাদদেশে কিংবা বৃষ্টিপাত বর্ষিত চারণ ভূমিতে পলায়ণ করবে।

3981

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ الْمُقَدَّمِيُّ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْخَزَّازُ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ قُرْطٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ تَكُونُ فِتَنٌ عَلَى أَبْوَابِهَا دُعَاةٌ إِلَى النَّارِ فَأَنْ تَمُوتَ وَأَنْتَ عَاضٌّ عَلَى جِذْلِ شَجَرَةٍ خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ تَتْبَعَ أَحَدًا مِنْهُمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৩৯৮১। মুহাম্মাদ ইবন উমার ইব্‌ন আলী মুকাদ্দাসী (রাহঃ).... হুযায়ফা ইবন ইয়ামন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই এমন কতক ফিনার আবির্ভাব হবে, যার দরজার উপর জাহান্নামের দিকে আহবানকারী থাকবে। এহেন অবস্থায় তুমি যদি কোন বৃক্ষের মূল চর্বন করতে করতে মৃত্যুবরণ করবে, তাহলে তা তোমার জন্য সে আহ্বানকারীদের ডাকে সাড়া দেওয়া থেকে শ্রেয়।

3982

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَارِثِ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ لاَ يُلْدَغُ الْمُؤْمِنُ مِنْ جُحْرٍ مَرَّتَيْنِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৯৮২। মুহাম্মাদ ইবন হারিস মিসরী (রাহঃ)........আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ স বলেছেন : ঈমানদার ব্যক্তি একই সাপের গর্ত থেকে দুইবার দংশিত হয় না।

3983

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا زَمْعَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ يُلْدَغُ الْمُؤْمِنُ مِنْ جُحْرٍ مَرَّتَيْنِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৯৮৩। উসমান ইব্‌ন আবু শায়বাহ (রাযিঃ).......ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন : মুমিন বান্দা একই গর্তের থেকে দুইবার দংশিত হয় না।

সন্দেহের ক্ষেত্রে বিরত থাকা

بَاب الْوُقُوفِ عِنْدَ الشُّبُهَاتِ

3984

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ وَأَهْوَى بِإِصْبَعَيْهِ إِلَى أُذُنَيْهِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ الْحَلاَلُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ وَبَيْنَهُمَا مُشْتَبِهَاتٌ لاَ يَعْلَمُهَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ فَمَنِ اتَّقَى الشُّبُهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ وَقَعَ فِي الْحَرَامِ كَالرَّاعِي حَوْلَ الْحِمَى يُوشِكُ أَنْ يَرْتَعَ فِيهِ أَلاَ وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى أَلاَ وَإِنَّ حِمَى اللَّهِ مَحَارِمُهُ أَلاَ وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلُحَتْ صَلُحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ أَلاَ وَهِيَ الْقَلْبُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

৩৯৮৪। আমর ইবন রাফি' (রাহঃ)...... শা'বী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নু'মান ইবন বাশীর (রাযিঃ) কে মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি। সে সময় তিনি তার দুই আংগুল দ্বারা উভয় কানের দিকে ইশারা করে বলছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি; হালাল সুস্পষ্ট, হারাম ও সুস্পষ্ট। এই দুই এর মধ্যবর্তী কতিপয় বিষয় আছে যা সন্দেহযুক্ত। অধিকাংশ লোক এই গুলো সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান রাখে না। সুতরাং যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বস্তুরাজি থেকে বিরত থাকলো, সে যেন তার দীন ও ইযযত আবরুকে পবিত্র রাখলো। আর যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত কাজ করলো সে হারামের মধ্যে পতিত হলো। যেমন রাখাল সরকারী সংরক্ষিত চারণভূমির আশে-পাশে তার পশুগুলো চরানো সময়, সেগুলো তাতে ঢুকে পড়ার আশংকা থাকে। জেনে রাখ! প্রত্যেক বাদশাহের একটি সংরক্ষিত চারণভূমি আছে। এও জেনে রাখ যে, আল্লাহর চারণভূমির পরিসীমা হচ্ছে হারাম জিনিসগুলো। সাবধান!শরীরে এক খন্ড মাংসপিন্ড রয়েছে। যখন সেটা ঠিক হয়ে যায়, তখন সারা শরীর ঠিক হয়ে যায়। আর যখন তা নষ্ট হয়, তখন সারা শরীর নষ্ট হয়ে যা। জেনে রাখ! তা হচ্ছে কালব (দিল)।

3985

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنِ الْمُعَلَّى بْنِ زِيَادٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الْعِبَادَةُ فِي الْهَرْجِ كَهِجْرَةٍ إِلَىَّ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: মা'কিল ইবনে ইয়াসার (রাঃ)

৩৯৮৫। হুমায়দ ইব্‌ন মাস'আদাহ (রাহঃ)... মা'কিল ইব্‌ন ইয়াসার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ফিতনার সময়ের ইবাদত আমার নিকট হিজরত সমতূল্য।

ইসলামের সূচনা অল্প সংখ্যক লোকের দ্বারা

بَاب بَدَأَ الْإِسْلَامُ غَرِيبًا

3986

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَيَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ، وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ بَدَأَ الإِسْلاَمُ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ غَرِيبًا فَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৯৮৬। আব্দুর রহমান ইব্‌ন ইবরাহীম, ইয়াকূব ইব্‌ন হুমায়দ ইব্‌ন কাসিব ও সুওয়াইদ ইব্‌ন সাঈদ (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অল্প সংখ্যক লোকের দ্বারাই ইসলামের সূচনা হয়েছে। অচিরেই তা অল্প সংখ্যকের মাঝে ফিরে যাবে। সুতরাং এ অল্প সংখ্যকদের জন্যই শুভ সংবাদ।

3987

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَنْبَأَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، وَابْنُ، لَهِيعَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سِنَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ الإِسْلاَمَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ غَرِيبًا فَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৯৮৭। হারমালাহ্ ইবন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)....... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নিশ্চয় ইসলামের অভ্যুদয় ঘটেছে অল্প সংখ্যক লোকের দ্বারা এবং অচিরেই তা অল্প সংখ্যক লোকের মধ্যে ফিরে যাবে। আর এ অল্প সংখ্যকদের জন্যই শুভ সংবাদ।

3988

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ الإِسْلاَمَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ غَرِيبًا فَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قِيلَ وَمَنِ الْغُرَبَاءُ قَالَ النُّزَّاعُ مِنَ الْقَبَائِلِ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩৯৮৮। সুফইয়ান ইব্‌ন ওয়াকী' (রাহঃ)..... আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয় ইসলামের সূচনা হয়েছে অল্প সংখ্যক লোকের দ্বারা। অচিরেই তা ফিরে যাবে অল্প সংখ্যক লোকের মাঝে। আর এ অল্প সংখ্যকদের জন্যই সুসংবাদ।রাবী বলেন, প্রশ্ন করা হলোঃ এ অল্প সংখ্যক কারা ? তিনি বললেনঃ যাদেরকে তাদের গোত্র থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রবাসী মুসাফির ও মুহাজির সম্প্রদায়।

যার জন্য ফিতনা থেকে নিরাপদে থাকা কামনা করা হয়

بَاب مَنْ تُرْجَى لَهُ السَّلَامَةُ مِنْ الْفِتَنِ

3989

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عِيسَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّهُ خَرَجَ يَوْمًا إِلَى مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَوَجَدَ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ قَاعِدًا عِنْدَ قَبْرِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَبْكِي فَقَالَ مَا يُبْكِيكَ قَالَ يُبْكِينِي شَىْءٌ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ إِنَّ يَسِيرَ الرِّيَاءِ شِرْكٌ وَإِنَّ مَنْ عَادَى لِلَّهِ وَلِيًّا فَقَدْ بَارَزَ اللَّهَ بِالْمُحَارَبَةِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الأَبْرَارَ الأَتْقِيَاءَ الأَخْفِيَاءَ الَّذِينَ إِذَا غَابُوا لَمْ يُفْتَقَدُوا وَإِنْ حَضَرُوا لَمْ يُدْعَوْا وَلَمْ يُعْرَفُوا قُلُوبُهُمْ مَصَابِيحُ الْهُدَى يَخْرُجُونَ مِنْ كُلِّ غَبْرَاءَ مُظْلِمَةٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৩৯৮৯। হারমালাহ্ ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ).... উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, একবার তিনি মসজিদে নববীতে যান। সেখানে তিনি নবী (ﷺ) এর রওযা মুবারকের পার্শ্বে মু'আয ইব্‌ন জাবাল (রাযিঃ) কে কান্নারত অবস্থায় বসা দেখতে পান। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ কোন জিনিস তোমাকে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেনঃ আমাকে এমন এক জিনিস কাঁদাচ্ছে যা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ সামান্যতম রিয়াও শিরক। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর কোন ওলীর সাথে দুশমনী করে সে যেন আল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা পছন্দ করেন নেককার, পরহেযগার এবং গোপন বান্দাদের, যারা অদৃশ্য হয়ে গেলে কেউ তাদের তালাশ করে না। যদি তারা কোথাও উপস্থিত হয়ে, তাহলে তাদের ডাকা হয় না এবং তাদের পরিচয়ও নেওয়া হয় না। তাদের অন্তকরণগুলো হিদায়েতের আলোক বর্তিকা সদৃশ্য। তারা সব ধরনের কদর্য ফিতনা থেকে মুক্তি পাবে।

3990

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّرَاوَرْدِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ النَّاسُ كَإِبِلِ مِائَةٍ لاَ تَكَادُ تَجِدُ فِيهَا رَاحِلَةً ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৯৯০। হিশাম ইবন আম্মার (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষের উপমা একশত উটের মত, যার মধ্যে তুমি সাওয়ারীর যোগ্য একটিও পাবে না।

উন্মাতের বিভিন্ন দলে বিভক্ত হওয়া

بَاب افْتِرَاقِ الْأُمَمِ

3991

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ تَفَرَّقَتِ الْيَهُودُ عَلَى إِحْدَى وَسَبْعِينَ فِرْقَةً وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৯৯১। আবু বাকর ইব্ন আবু শায়বা (রাহঃ)....... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়াহুদী জাতি একাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর আমার উম্মাত তেহত্তরটি দলে বিভক্ত হবে।

3992

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ كَثِيرِ بْنِ دِينَارٍ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ افْتَرَقَتِ الْيَهُودُ عَلَى إِحْدَى وَسَبْعِينَ فِرْقَةً فَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ وَسَبْعُونَ فِي النَّارِ وَافْتَرَقَتِ النَّصَارَى عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً فَإِحْدَى وَسَبْعُونَ فِي النَّارِ وَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَتَفْتَرِقَنَّ أُمَّتِي عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً فَوَاحِدَةٌ فِي الْجَنَّةِ وَثِنْتَانِ وَسَبْعُونَ فِي النَّارِ ‏"‏ ‏.‏ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ هُمْ قَالَ ‏"‏ الْجَمَاعَةُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আউফ ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৯৯২। আমর ইব্‌ন উসমান ইন সাঈদ ইব্‌ন কাসীর ইব্‌ন দীনার হিমসী (রাহঃ)... আউফ ইব্‌ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়াহুদী জাতি একাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল তন্মধ্যে একাত্তরটি দল জাহান্নামী এবং একটি দল জান্নাতী আর খ্রিস্টান জাতি বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল তাদের মধ্যে একাত্তর দল জাহান্নামী এবং একটি দল মাত্র জান্নাতী। সেই মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, অবশ্যই আমার উম্মত তেহাত্তরটি দলে বিভক্ত হবে। তন্মধ্যে একটি দল হবে জান্নাতী এবং বাহাত্তরটি হবে জাহান্নামী। আরয করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কোন্ দলটি জান্নাতী ? তিনি বললেনঃ জামা'আত (অর্থাৎ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত।)

3993

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ افْتَرَقَتْ عَلَى إِحْدَى وَسَبْعِينَ فِرْقَةً وَإِنَّ أُمَّتِي سَتَفْتَرِقُ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً كُلُّهَا فِي النَّارِ إِلاَّ وَاحِدَةً وَهِيَ الْجَمَاعَةُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৯৯৩। হিসাব ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)......... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বানু ইসরাঈল একাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর আমার উম্মাত বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হবে। সবাই হবে জাহান্নামী। তবে একটি দল ব্যতীত, সেটি হচ্ছে জামা'আত ।

3994

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ لَتَتَّبِعُنَّ سُنَّةَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بَاعًا بِبَاعٍ وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ وَشِبْرًا بِشِبْرٍ حَتَّى لَوْ دَخَلُوا فِي جُحْرِ ضَبٍّ لَدَخَلْتُمْ فِيهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى قَالَ ‏"‏ فَمَنْ إِذًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৯৯৪। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাযিঃ)....... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের তরীকা অনুকরণ করবে হাত বহাত এবং বিঘৎ, অবশেষে তা গুঁই সাপের গর্তে ঢুকে পড়লো, তোমরাও তাতে ঢুকে পড়লে। তারা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! পূর্ববর্তীদের বুঝাতে কি ইয়াহুদী ও নাসারাদের বুঝাবে ? তিনি বললেনঃ তবে আর কারা ?

ধন-সম্পদের ফিতনা

بَاب فِتْنَةِ الْمَالِ

3995

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ الْمِصْرِيُّ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَخَطَبَ فَقَالَ ‏"‏ لاَ وَاللَّهِ مَا أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَيُّهَا النَّاسُ إِلاَّ مَا يُخْرِجُ اللَّهُ لَكُمْ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ فَصَمَتَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ سَاعَةً ثُمَّ قَالَ ‏"‏ كَيْفَ قُلْتَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ وَهَلْ يَأْتِي الْخَيْرُ بِالشَّرِّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِنَّ الْخَيْرَ لاَ يَأْتِي إِلاَّ بِخَيْرٍ أَوَخَيْرٌ هُوَ إِنَّ كُلَّ مَا يُنْبِتُ الرَّبِيعُ يَقْتُلُ حَبَطًا أَوْ يُلِمُّ إِلاَّ آكِلَةَ الْخَضِرِ أَكَلَتْ حَتَّى إِذَا امْتَلأَتْ خَاصِرَتَاهَا اسْتَقْبَلَتِ الشَّمْسَ فَثَلَطَتْ وَبَالَتْ ثُمَّ اجْتَرَّتْ فَعَادَتْ فَأَكَلَتْ فَمَنْ يَأْخُذُ مَالاً بِحَقِّهِ يُبَارَكُ لَهُ وَمَنْ يَأْخُذُ مَالاً بِغَيْرِ حَقِّهِ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الَّذِي يَأْكُلُ وَلاَ يَشْبَعُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৯৯৫। ঈসা ইব্‌ন হাম্মাদ মিসরী (রাযিঃ)...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে লোকদের সামনে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ! হে লোক সকল! আমি তোমাদের উপর কোন কিছুর আশংকা করি না, তবে, আল্লাহ তা'আলা দুনিয়ার মোহনীয় ধন-সম্পদ থেকে যা উৎপন্ন করেন (তাতে শংকাবোধ করছি)। তখন এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলো। ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! উত্তম কি অধম ডেকে আনে ? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তুমি কি বলেছিলে ? সে বললোঃ আমি বলেছিলামঃ উত্তমের সাথে অধম থাকতে পারে কি ? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ নিশ্চয় উত্তম উত্তমই নিয়ে আসে। অথবা তা উত্তম। নিশ্চয় বর্ষাকাল যা কিছু উৎপন্ন করে, তা পেট ভর্তি করে খেলে পশুকে মেরে ফেলে অথবা বদ হযমী সৃষ্টি করে, কিংবা মৃত্যুর কোলে পৌছায় (যখন পশু তা অধিক পরিমাণে খায়)। কিন্তু যে সব পশু খিযির (এক ধরনের তৃণ যা উপাদেয় নয় এবং পশুরা পেট পুরো খায় না) খায় এবং যখন তার পেটের। উভয় প্রান্ত পূর্তি হয়ে যায়, তখন সূর্যের আলোতে গমণ করে এবং রোমখন করে। যখন তা হযম হয়ে যায়, তখন আমার এসে খায়। এমনিভাবে যে কেউ তার অধিকার মাফিক ধন-সম্পদ গ্রহণ করবে, তাতে তার বরকত ও কল্যাণ আসবে এবং যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে মাল অর্জন করে। তার উপমা হচ্ছে সেই ব্যক্তির মত, যে খায় অথচ পরিতৃপ্ত হয় না।

3996

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ الْمِصْرِيُّ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَنْبَأَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ بَكْرَ بْنَ سَوَادَةَ، حَدَّثَهُ أَنَّ يَزِيدَ بْنَ رَبَاحٍ حَدَّثَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّهُ قَالَ ‏"‏ إِذَا فُتِحَتْ عَلَيْكُمْ خَزَائِنُ فَارِسَ وَالرُّومِ أَىُّ قَوْمٍ أَنْتُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ نَقُولُ كَمَا أَمَرَنَا اللَّهُ ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ أَوْ غَيْرَ ذَلِكَ تَتَنَافَسُونَ ثُمَّ تَتَحَاسَدُونَ ثُمَّ تَتَدَابَرُونَ ثُمَّ تَتَبَاغَضُونَ أَوْ نَحْوَ ذَلِكَ ثُمَّ تَنْطَلِقُونَ فِي مَسَاكِينِ الْمُهَاجِرِينَ فَتَجْعَلُونَ بَعْضَهُمْ عَلَى رِقَابِ بَعْضٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩৯৯৬। আমর ইব্‌ন সাওয়াদ মিসরী (রাহঃ)......... আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইব্‌ন আ'স (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ যখন পারস্য ও রোম সাম্রাজ্যের ধন-ভান্ডার তোমাদের করতলগত হবে, তোমরা তখন কিরূপ হবে? আব্দুর রহমান ইবন আউফ (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহ যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন আমরা সে ভাবেই বলবো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ ছাড়া অন্য কিছু ? তবে তোমরা একে অপরের ধন-সম্পদে আপত্তি প্রকাশ করবে, পরস্পরে হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করবে, একে অপরের পিছে লেগে থাকবে, পরিশেষে একে অপরের সাথে শত্রুতা পোষণ করবে অথবা এর অনুরূপ কাজ করবে। অতঃপর তোমরা মিসকীন মুহাজিরদের কাছে যাবে। তাদের কতককে কতকের গর্দান মারার কাজে লাগিয়ে দিবে।

3997

حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الْمِصْرِيُّ، أَخْبَرَنِي ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، ‏.‏ أَنَّ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، أَخْبَرَهُ عَنْ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ، - وَهُوَ حَلِيفُ بَنِي عَامِرِ بْنِ لُؤَىٍّ وَكَانَ شَهِدَ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بَعَثَ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ إِلَى الْبَحْرَيْنِ يَأْتِي بِجِزْيَتِهَا وَكَانَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ هُوَ صَالَحَ أَهْلَ الْبَحْرَيْنِ وَأَمَّرَ عَلَيْهِمُ الْعَلاَءَ بْنَ الْحَضْرَمِيِّ فَقَدِمَ أَبُو عُبَيْدَةَ بِمَالٍ مِنَ الْبَحْرَيْنِ فَسَمِعَتِ الأَنْصَارُ بِقُدُومِ أَبِي عُبَيْدَةَ فَوَافَوْا صَلاَةَ الْفَجْرِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَلَمَّا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ انْصَرَفَ فَتَعَرَّضُوا لَهُ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ حِينَ رَآهُمْ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ أَظُنُّكُمْ سَمِعْتُمْ أَنَّ أَبَا عُبَيْدَةَ قَدِمَ بِشَىْءٍ مِنَ الْبَحْرَيْنِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا أَجَلْ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَبْشِرُوا وَأَمِّلُوا مَا يَسُرُّكُمْ فَوَاللَّهِ مَا الْفَقْرَ أَخْشَى عَلَيْكُمْ وَلَكِنِّي أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَنْ تُبْسَطَ الدُّنْيَا عَلَيْكُمْ كَمَا بُسِطَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَتَنَافَسُوهَا كَمَا تَنَافَسُوهَا فَتُهْلِكَكُمْ كَمَا أَهْلَكَتْهُمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আমর ইবনে আওফ (রাঃ)

৩৯৯৭। ইউনুস ইব্‌ন আব্দুল আ'লা মিসরী (রাহঃ)........ বানু আমির ইব্‌ন লুই-এর মিত্র ও বাদরী সাহাবী আমর ইবন আউফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু উবায়দাহ ইব্‌ন জাররাহ (রাযিঃ) কে বাহরাইন শহরে জিযিয়া আদায় করার জন্য পাঠান। আর নবী (ﷺ) বাহরাইন বাসীদের সাথে সন্ধিচুক্তি সম্পাদন করেছিলেন এবং আলা ইবন হাদরামী (রাযিঃ) কে তাদের শাসক নিযুক্ত করেছিলেন। আবু উবায়দাহ (রাযিঃ) বাহরাইনের রাজস্ব বাবদ আদায়কৃত ধন-সম্পদ নিয়ে মদীনাতে আসেন। আনসারগণ তার আগমনের কথা শুনতে পেলেন। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সালাতুল ফজর আদায় করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত থেকে ফারেগ হয়ে ফিরছিলেন, তখন লোকেরা তাঁর সামনে হাযির হলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের দেখে মুচকী হাসলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ আমি বুঝতে পারছি, তোমরা শুনেছো যে, আবু উবায়দাহ (রাযিঃ) বাইরাইন থেকে কিছু নিয়ে এসেছেন। তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! জ্বি হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তোমরা খোশ-খবর গ্রহণ কর এবং আশাবাদী হও সে জিনিসের প্রতি যা তোমাদের খুশী করেছে। আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের ব্যাপারে দারিদ্রকে ভয় করি না। কিন্তু আমি আশংকা করছি যে, দুনিয়া তোমাদের জন্য প্রশস্ত হয়ে যাওয়ার, যেমন পূর্ববর্তীদিগের জন্য প্রশস্ত হয়েছিল। পরিশেষে, তোমরা হিংসা-বিদ্বেষ করতে থাকবে যেমন তারা ঈর্ষাকাতর হয়েছিল পরস্পরে। আর তোমাদের ধ্বংস ডেকে আনবে যেমন পূর্ববর্তীদের ধ্বংস ডেকে এনেছিল।

নারী জাতির ফিতনা

بَاب فِتْنَةِ النِّسَاءِ

3998

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ الصَّوَّافُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، ح وَحَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَا أَدَعُ بَعْدِي فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

৩৯৯৮। বিশর ইবন হিলাল সাওয়াফ (রাহঃ)...... উসামাহ ইব্‌ন যায়িদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি আমার ওফাতের পরে পুরুষদের জন্য নারী জাতির চাইতে অধিক ফিতনার বস্তু আর কিছুই নয়।

3999

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ مُصْعَبٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَا مِنْ صَبَاحٍ إِلاَّ وَمَلَكَانِ يُنَادِيَانِ وَيْلٌ لِلرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ وَوَيْلٌ لِلنِّسَاءِ مِنَ الرِّجَالِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৯৯৯। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)......আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন সকাল হয়, তখন দুইজন ফিরিশতা ঘোষণা দেনঃ নারীদের কারণে পুরুষদের ধ্বংস অনিবার্য এবং পুরুষদের কারণে নারীদের ধ্বংস অনিবার্য।

4000

حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى اللَّيْثِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَامَ خَطِيبًا فَكَانَ فِيمَا قَالَ ‏ "‏ إِنَّ الدُّنْيَا خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ وَإِنَّ اللَّهَ مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيهَا فَنَاظِرٌ كَيْفَ تَعْمَلُونَ أَلاَ فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪০০০। ইমরান ইব্‌ন মুসা লায়সী (রাহঃ)...... আবু সাঈদ (রাযিঃ) বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুৎবার জন্য দাঁড়িয়ে যান। তিনি তাঁর খুৎবার বলেন, নিশ্চয় দুনিয়া চির সবুজ ও সুমধুর মনে হয়। আর আল্লাহ তা'আলা দুনিয়াতে তোমাদেরকে খলীফা বানিয়েছেন। আর তিনি দেখছেন তোমরা কি করছো। সাবধান ! দুনিয়া থাক এবং নারী জাতি থেকেও হুশিয়ার থাক।

4001

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ مُوسَى بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ مُدْرِكٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ جَالِسٌ فِي الْمَسْجِدِ إِذْ دَخَلَتِ امْرَأَةٌ مِنْ مُزَيْنَةَ تَرْفُلُ فِي زِينَةٍ لَهَا فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يَا أَيُّهَا النَّاسُ انْهَوْا نِسَاءَكُمْ عَنْ لُبْسِ الزِّينَةِ وَالتَّبَخْتُرِ فِي الْمَسْجِدِ فَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ لَمْ يُلْعَنُوا حَتَّى لَبِسَ نِسَاؤُهُمُ الزِّينَةَ وَتَبَخْتَرْنَ فِي الْمَسَاجِدِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪০০১। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা ও আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)..... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে বসা ছিলেন। ইত্যবসরে মুযায়নাহ গোত্রের একজন মহিলা তাঁর খিদমতে আসলো। সে অত্যন্ত সুসজ্জিতা ও অলংকার পরিহিতা অবস্থায় মসজিদে প্রবেশ করলো। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের জৌলুসপূর্ণ ও শোভাবর্ধক পোশাক পরিধান করে মসজিদে আসতে নিষেধ কর। কেননা, বনী ইসরাঈলের নারীরা অলংকার ভূষিতা ও সুসজ্জিতা হয়ে মসজিদে আসার পূর্বে তাদের প্রতি লা'নত বর্ষিত হয়নি।

4002

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ مَوْلَى أَبِي رُهْمٍ، - وَاسْمُهُ عُبَيْدٌ - أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، لَقِيَ امْرَأَةً مُتَطَيِّبَةً تُرِيدُ الْمَسْجِدَ فَقَالَ يَا أَمَةَ الْجَبَّارِ أَيْنَ تُرِيدِينَ قَالَتِ الْمَسْجِدَ قَالَ وَلَهُ تَطَيَّبْتِ قَالَتْ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ أَيُّمَا امْرَأَةٍ تَطَيَّبَتْ ثُمَّ خَرَجَتْ إِلَى الْمَسْجِدِ لَمْ تُقْبَلْ لَهَا صَلاَةٌ حَتَّى تَغْتَسِلَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০০২। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ).... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি একবার এক মহিলাকে সুগন্ধি মেখে মসজিদে আসতে দেখলেন তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর বান্দী! তুমি কোথায় যাওয়ার মনস্থ করছো? সে বললোঃ মসজিদে। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বললেনঃ তুমি কি সুগন্ধি ব্যবহার করেছো ? সে বললোঃ জ্বি হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ যে মহিলা আতর মেখে মসজিদে গমণ করে, তার সালাত কবুল হবে না, যতক্ষণ সে গোসল করে।

4003

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّهُ قَالَ ‏"‏ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ وَأَكْثِرْنَ مِنَ الاِسْتِغْفَارِ فَإِنِّي رَأَيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ جَزْلَةٌ وَمَا لَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ قَالَ ‏"‏ تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ مَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينٍ أَغْلَبَ لِذِي لُبٍّ مِنْكُنَّ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا نُقْصَانُ الْعَقْلِ وَالدِّينِ قَالَ ‏"‏ أَمَّا نُقْصَانُ الْعَقْلِ فَشَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ تَعْدِلُ شَهَادَةَ رَجُلٍ فَهَذَا مِنْ نُقْصَانِ الْعَقْلِ وَتَمْكُثُ اللَّيَالِيَ مَا تُصَلِّي وَتُفْطِرُ فِي رَمَضَانَ فَهَذَا مِنْ نُقْصَانِ الدِّينِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪০০৩। মুহাম্মাদ ইবন (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ হে নারী সমাজ! তেমরা অধিক সাদাকাহ দিবে এবং অধিক পরিমাণে ইতিগফার করবে। কেননা, আমি তোমাদের অধিকাংশকে জাহান্নামের কীট হিসাবে দেখেছি। তখন তাদের থেকে জনৈকা জ্ঞানী মহিলা বললো; হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কি কসূর যে, আমরা জাহান্নামে বেশী সংখ্যক হবো? তিনি বললেনঃ তোমরা অধিক অভিশাপ দিয়ে থাকো এবং স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকো। আমি তো বিবেক বুদ্ধি ও দ্বীনের লোকসানের সাথে সাথে জ্ঞানদীপ্ত পুরুষের জ্ঞান লোপকারী হিসেবে তোমাদের চাইতে অধিকতর পটু কাউকে দেখছি না। সে মহিলাটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল। বিবেক বুদ্ধি ও দ্বীনের লোকসান কি করে হয়? তিনি বললেনঃ জ্ঞানের দৈন্যতার পরিচয় হচ্ছে এই যে, দুইজন নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান। আর তোমাদের দ্বীনের ক্ষেত্রে কমতির চিহ্ন হচ্ছে এই যে, তোমরা কয়েক দিনরাত্র পর্যন্ত সালাত থেকে বিরত থাকো এবং রমযান মাসের বেশ কয়েকদিন সিয়াম পালন থেকে বঞ্চিত থাকো। এই হচ্ছে তোমাদের দীন সম্পর্কিত লোকসান।

ভালকাজের আদেশ ও মন্দকাজের নিষেধ প্রসঙ্গে

بَاب الْأَمْرِ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيِ عَنْ الْمُنْكَرِ

4004

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ مُرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ قَبْلَ أَنْ تَدْعُوا فَلاَ يُسْتَجَابَ لَكُمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪০০৪। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)......আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা ভাল কাজের আদেশ দিবে এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে ঐ সময় আসার আগ পর্যন্ত যে, তোমরা দু'আ করলে তা কবূল করা হবে না। মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখবে ঐ সময় আসার আগ পর্যন্ত যে, তোমরা দু'আ করলে তা কবূল করা হবে না।

4005

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ قَامَ أَبُو بَكْرٍ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ تَقْرَءُونَ هَذِهِ الآيَةَ ‏(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ)‏ وَإِنَّا سَمِعْنَا رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏"‏ إِنَّ النَّاسَ إِذَا رَأَوُا الْمُنْكَرَ لاَ يُغَيِّرُونَهُ أَوْشَكَ أَنْ يَعُمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو أُسَامَةَ مَرَّةً أُخْرَى فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪০০৫। আবু বাকর ইবন শায়বা (রাহঃ)...... কায়স ইব্‌ন আবু হাযিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আবু বাকর (রাযিঃ) দাঁড়ালেন, তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর তারীফ করলেন। অতঃপর বললেনঃ হে লোক সকল। তোমরা তো, এই আয়াত তিলাওয়াত করে থাক :

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ

“ওহে বিশ্বাসীগণ। তোমরা নিজেদের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করো। যে ব্যক্তি গুমরাহ হয়েছে, সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না, যখন তোমরা হিদায়েতের উপরে প্রতিষ্ঠিত থাকবে।”

(তিনি বলেনঃ) এবং আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ মানুষ যখন কোন মন্দ কাজ হতে দেখে তা পরিবর্তন করার চেষ্টা না করে, তখন আল্লাহ তাদের উপর ব্যাপক হারে শাস্তি অবতীর্ণ করেন।

আবু উসামাহ (রাহঃ) তাঁর সনদে পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি।
4006
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ بَذِيمَةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ لَمَّا وَقَعَ فِيهِمُ النَّقْصُ كَانَ الرَّجُلُ يَرَى أَخَاهُ عَلَى الذَّنْبِ فَيَنْهَاهُ عَنْهُ فَإِذَا كَانَ الْغَدُ لَمْ يَمْنَعْهُ مَا رَأَى مِنْهُ أَنْ يَكُونَ أَكِيلَهُ وَشَرِيبَهُ وَخَلِيطَهُ فَضَرَبَ اللَّهُ قُلُوبَ بَعْضِهِمْ بِبَعْضٍ وَنَزَلَ فِيهِمُ الْقُرْآنُ فَقَالَ ‏(لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ)‏ حَتَّى بَلَغَ ‏(وَلَوْ كَانُوا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالنَّبِيِّ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مَا اتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَاءَ وَلَكِنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ فَاسِقُونَ )‏ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مُتَّكِئًا فَجَلَسَ وَقَالَ ‏"‏ لاَ حَتَّى تَأْخُذُوا عَلَى يَدَىِ الظَّالِمِ فَتَأْطِرُوهُ عَلَى الْحَقِّ أَطْرًا ‏"‏ ‏.‏
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، - أَمْلاَهُ عَلَىَّ - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْوَضَّاحِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ بَذِيمَةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِمِثْلِهِ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪০০৬। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ)....... আবু উবায়দাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন বানূ ইসরাঈলের উপর বিপদ আসলো, তখন তাদের অবস্থা ছিল এই যে, এক ব্যক্তি তার ভাইকে পাপাচারে লিপ্ত দেখলে তাকে নিষেধ করতো। কিন্তু পরদিন তার সাথে একত্রে পানাহার করতো, মেলামেশা করতো এবং তাকে পাপকার্য থেকে বিরত রাখতো না। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাদের একের অন্তর দ্বারা অপরকে আঘাত করেন এবং তাদের শানে এই আয়াত নাযিল হয়ঃ
لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ...... وَلَوْ كَانُوا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالنَّبِيِّ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مَا اتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَاءَ وَلَكِنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ فَاسِقُونَ
“বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরী করেছিল, তারা দাউদ ও মারয়াম তনয় ঈসা কর্তৃক অভিশপ্ত হয়েছিল এর কারণ ছিল এই যে, তারা ছিল অবাধ্য ও সীমালংঘনকারী। তারা যে সব গর্হিত কাজ করতো তা থেকে তারা একে অন্যকে বারণ করতো না। তারা যা করতো, তা কতই না নিকৃষ্ট। তাদের অনেককে তুমি কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবে। কত নিকৃষ্ট তাদের কৃতকর্ম যে কারণে আল্লাহ্ তাদের প্রতি ক্রোধান্বিত হয়েছেন। তাদের শাস্তি ভোগ স্থায়ী হবে। তারা আল্লাহর প্রতি, নবীর প্রতি এবং যা তার প্রতি নাযিল হয়েছে, তাতে বিশ্বাসী হলে তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করতো না। কিন্তু তাদের অনেকেই ফাসিক।” (৫ঃ ৭৮-৮১)

রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেলান দিয়ে বসাছিলেন। এরপর তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেনঃ তোমরা যালিমের হাত পাকড়াও করে তাকে ইনসাফ কায়েম করতে বাধ্য না করা পর্যন্ত শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না।

মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাসউদ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
4007

حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى، أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَامَ خَطِيبًا فَكَانَ فِيمَا قَالَ ‏ "‏ أَلاَ لاَ يَمْنَعَنَّ رَجُلاً هَيْبَةُ النَّاسِ أَنْ يَقُولَ بِحَقٍّ إِذَا عَلِمَهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَبَكَى أَبُو سَعِيدٍ وَقَالَ قَدْ وَاللَّهِ رَأَيْنَا أَشْيَاءَ فَهِبْنَا ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪০০৭। ইমরান ইব্‌ন মুসা (রাহঃ)....... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তিনি তাঁর ভাষণে বলেনঃ জেনে রাখ। কোন মানুষের পক্ষে সত্য কথা বলার ব্যাপারে ভয় করা উচিত নয়, যখন সে নিশ্চিতভাবে সত্যকে জানে।

তিনি (রাবী) বলেন, এই হাদীস বর্ণনাকালে আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) ক্রন্দন করেন এবং বলেনঃ আল্লাহর শপথ । আমরা তো কয়েকটি ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি, কিন্তু আমরা ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে পড়েছি।
4008

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ لاَ يَحْقِرْ أَحَدُكُمْ نَفْسَهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ يَحْقِرُ أَحَدُنَا نَفْسَهُ قَالَ ‏"‏ يَرَى أَمْرًا لِلَّهِ عَلَيْهِ فِيهِ مَقَالٌ ثُمَّ لاَ يَقُولُ فِيهِ فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَقُولَ فِي كَذَا وَكَذَا فَيَقُولُ خَشْيَةُ النَّاسِ ‏.‏ فَيَقُولُ فَإِيَّاىَ كُنْتَ أَحَقَّ أَنْ تَخْشَى ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪০০৮। আবু কুরায়ব (রাহঃ)....আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন নিজকে হেয় জ্ঞান না করে। তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কেউ নিজকে কিভাবে হেয় জ্ঞান করবে? তিনি বললেনঃ সে কোন বিষয় সম্পর্কে আল্লাহর নির্দেশের ব্যাপারে অবহিত থাকবে, অথচ সত্য কথা প্রকাশ করবে না। অতঃপর কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তা'আলা তাকে বললেনঃ অমুক ব্যাপারে এই, এই কথা বলতে তোমাকে কিসে বাঁধা দিয়েছিল। সে বলবে, লোকের ভয়ভীতি। অতঃপর আল্লাহ বলবেনঃ তোমাকে তো আমার ব্যাপারে অধিকতর ভয় করা উচিত ছিল।

4009

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَا مِنْ قَوْمٍ يُعْمَلُ فِيهِمْ بِالْمَعَاصِي هُمْ أَعَزُّ مِنْهُمْ وَأَمْنَعُ لاَ يُغَيِّرُونَ إِلاَّ عَمَّهُمُ اللَّهُ بِعِقَابٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

৪০০৯। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).... জারীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে পাপকার্য সংঘটিত হয় এবং তাদের নেককার ব্যক্তির তাদের চাইতে অধিকতর শক্তিশালী ও সম্মানিত হওয়া সত্ত্বেও তারা পাপকার্য থেকে তাদের ফিরিয়ে রাখে না, তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর ব্যাপক শাস্তি অবতীর্ণ করেন।

4010

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ لَمَّا رَجَعَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مُهَاجِرَةُ الْبَحْرِ قَالَ ‏"‏ أَلاَ تُحَدِّثُونِي بِأَعَاجِيبِ مَا رَأَيْتُمْ بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فِتْيَةٌ مِنْهُمْ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ بَيْنَا نَحْنُ جُلُوسٌ مَرَّتْ بِنَا عَجُوزٌ مِنْ عَجَائِزِ رَهَابِينِهِمْ تَحْمِلُ عَلَى رَأْسِهَا قُلَّةً مِنْ مَاءٍ فَمَرَّتْ بِفَتًى مِنْهُمْ فَجَعَلَ إِحْدَى يَدَيْهِ بَيْنَ كَتِفَيْهَا ثُمَّ دَفَعَهَا فَخَرَّتْ عَلَى رُكْبَتَيْهَا فَانْكَسَرَتْ قُلَّتُهَا فَلَمَّا ارْتَفَعَتِ الْتَفَتَتْ إِلَيْهِ فَقَالَتْ سَوْفَ تَعْلَمُ يَا غُدَرُ إِذَا وَضَعَ اللَّهُ الْكُرْسِيَّ وَجَمَعَ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ وَتَكَلَّمَتِ الأَيْدِي وَالأَرْجُلُ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ فَسَوْفَ تَعْلَمُ كَيْفَ أَمْرِي وَأَمْرُكَ عِنْدَهُ غَدًا ‏.‏ قَالَ يَقُولُ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ صَدَقَتْ صَدَقَتْ كَيْفَ يُقَدِّسُ اللَّهُ أُمَّةً لاَ يُؤْخَذُ لِضَعِيفِهِمْ مِنْ شَدِيدِهِمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪০১০। সুওয়ায়েদ ইব্‌ন সাঈদ (রাহঃ).......জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সমুদ্র-প্রথের মুহাজিরবৃন্দ (জাফর ইব্‌ন আবু তালিব ও তাঁর সফর সঙ্গীরা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে ফিরে এলেন, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা কি আমার কাছে সেসব আশ্চর্যজনক ঘটনা ব্যক্ত করবে না, যা তোমরা হাবশার দেশে প্রত্যক্ষ করেছো? তাদের মধ্য হতে কতিপয় নওজোয়ান বললেন, জ্বি হ্যাঁ। হে আল্লাহর রাসূল! একবার আমরা সেখানে বসাছিলাম, হঠাৎ তাদের পাদ্রীদের স্ত্রীদের মধ্য হতে এক বৃদ্ধ রমনী আমাদের কাছে দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে তার মাথায় এক কলসী পানি বহন করছিল। সে হাবসার এক যুবকের পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করছিল। সেই যুবকটি তার একটি হাত বৃদ্ধা মহিলার উভয় কাঁধের মাঝখানে রাখলো অতঃপর তাকে ধাক্কা দিল। মহিলাটি তার উভয় হাঁটুর উপর পড়ে গেল এবং তার পানির কলসীটা ভেঙ্গে গেল। সে পতিত অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে যুবকটির দিকে তাকাচ্ছিল। সে বললোঃ হে ধোঁকাবাজ। তোমার (এ কাজের পরিণতি) তুমি অচিরেই জানতে পারবে। যখন আল্লাহ তা'আলা ইনসাফের আসনে উপবিষ্ট হবেন, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত লোককে একত্রিত করবেন, হাত-পা (যাবতীয় অঙ্গ প্রতঙ্গ) তাদের দ্বারা কৃতকর্মের ফিরিস্তি পেশ করবে, তখন তুমি জানতে পারবে তোমার ও আমার অবস্থা আল্লাহর নিকট কি হবে।

রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ বৃদ্ধা মহিলা সত্যিই বলেছে, বৃদ্ধা মহিলা সত্যিই বলেছে। আল্লাহ তা'আলা এই উম্মাতকে কি ভাবে গোনাহ থেকে পবিত্র করবেন, যাদের সবলদের থেকে দুর্বলদের পাওনা চুকিয়ে দেওয়া না হবে?
4011

حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ دِينَارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُصْعَبٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَادَةَ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ، عَنْ عَطِيَّةَ الْعَوْفِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ أَفْضَلُ الْجِهَادِ كَلِمَةُ عَدْلٍ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪০১১। কাসিম ইব্‌ন যাকারিয়া ইবন দীনার (রাহঃ)... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যালিম শাসকের সামনে ন্যায়ের কথা বলাই উত্তম জিহাদ।

4012

حَدَّثَنَا رَاشِدُ بْنُ سَعِيدٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي غَالِبٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ عَرَضَ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَجُلٌ عِنْدَ الْجَمْرَةِ الأُولَى فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ فَسَكَتَ عَنْهُ فَلَمَّا رَأَى الْجَمْرَةَ الثَّانِيَةَ سَأَلَهُ فَسَكَتَ عَنْهُ فَلَمَّا رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الْغَرْزِ لِيَرْكَبَ قَالَ ‏"‏ أَيْنَ السَّائِلُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ كَلِمَةُ حَقٍّ عِنْدَ ذِي سُلْطَانٍ جَائِرٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

৪০১২। রাশিদ ইব্‌ন সাঈদ রামলী (রাহঃ)....আবু উমামাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। বলেন, জামরায়ে উলা (মিনা প্রান্তরে অবস্থিত) নামক স্থানে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট হাযির হলো। সে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! উত্তম জিহাদ কোনটি? তিনি কতক্ষণ নীরব থাকলেন। যখন তিনি দ্বিতীয় জামরায় কংকর নিক্ষেপ করলেন, তখন সেই ব্যক্তি একই প্রশ্ন করলো। তিনি এবারও নীরবতা অবলম্বন করলেন। যখন তিনি 'জামরায়ে আকাবাহ'-এর কংকর নিক্ষেপ করলেন এবং সাওয়ার হওয়ার জন্য কদম মুবারক রেকাবে রাখলেন, তখন বললেনঃ প্রশ্নকারী কোথায়? সে বলালোঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি হাযির। তিনি বললেনঃ যালিম শাসকের সামনে, সত্যকথা বলাই (উত্তম জিহাদ)।

4013

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَجَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَعَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ أَخْرَجَ مَرْوَانُ الْمِنْبَرَ فِي يَوْمِ عِيدٍ فَبَدَأَ بِالْخُطْبَةِ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَقَالَ رَجُلٌ يَا مَرْوَانُ خَالَفْتَ السُّنَّةَ أَخْرَجْتَ الْمِنْبَرَ فِي هَذَا الْيَوْمِ وَلَمْ يَكُنْ يُخْرَجُ وَبَدَأْتَ بِالْخُطْبَةِ قَبْلَ الصَّلاَةِ وَلَمْ يَكُنْ يُبْدَأُ بِهَا ‏.‏ فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ أَمَّا هَذَا فَقَدْ قَضَى مَا عَلَيْهِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَاسْتَطَاعَ أَنْ يُغَيِّرَهُ بِيَدِهِ فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪০১৩। আবু কুরাইব (রাহঃ)...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খলীফা মারওয়ান ঈদের দিনে মিম্বর সরিয়ে ফেললেন। তিনি সালাতুল ঈদের পূর্বেই খুৎবা শুরু করলেন। তখন জনৈক ব্যক্তি বললোঃ হে মারওয়ান! তুমি সুন্নতের খেলাফ করছো, একে তো তুমি আজকের দিনে মিম্বর সরিয়ে দিয়েছো, অথচ এই দিনে তা বের করা হতো না। আর তুমি সালাতের পূর্বেই খুৎবা শুরু করে দিয়েছো, অথচ (সালাতের পূর্বে) তা শুরু করা হতো না। তখন আবু সাঈদ (রাযিঃ) বললেনঃ এই ব্যক্তি তো তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করলো। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যদি শরীয়াত বিরোধী কাজ হতে দেখে এবং সে তার হাত দিয়ে বদলে দিতে সক্ষম হয়, তাহলে সে যেন তা হাত দিয়ে বদলে দেয়। যদি সে এতে সক্ষম না হয়; তাহলে মুখের কথ্য দিয়ে (প্রতিবাদ করবে)। এতেও যদি সে সক্ষম না হয়, তাহলে সে যেন অন্তর দিয়ে তা অপছন্দ করে। আর এটাই হচ্ছে ঈমানের দর্বলতর স্তর।

মহান আল্লাহর বাণীঃ হে মু'মিনগণ! আত্ম-সংশোধন করাই তোমাদের কর্তব্য

بَاب قَوْلِهِ تَعَالَى { يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ }

4014

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنِي عُتْبَةُ بْنُ أَبِي حَكِيمٍ، حَدَّثَنِي عَمِّي، عَمْرُو بْنُ جَارِيَةَ عَنْ أَبِي أُمَيَّةَ الشَّعْبَانِيِّ، قَالَ أَتَيْتُ أَبَا ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيَّ قَالَ قُلْتُ كَيْفَ تَصْنَعُ فِي هَذِهِ الآيَةِ قَالَ أَيَّةُ آيَةٍ قُلْتُ ‏(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ)‏ قَالَ سَأَلْتَ عَنْهَا خَبِيرًا سَأَلْتُ عَنْهَا رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏"‏ بَلِ ائْتَمِرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَتَنَاهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ حَتَّى إِذَا رَأَيْتَ شُحًّا مُطَاعًا وَهَوًى مُتَّبَعًا وَدُنْيَا مُؤْثَرَةً وَإِعْجَابَ كُلِّ ذِي رَأْىٍ بِرَأْيِهِ وَرَأَيْتَ أَمْرًا لاَ يَدَانِ لَكَ بِهِ فَعَلَيْكَ خُوَيْصَّةَ نَفْسِكَ وَدَعْ أَمْرَ الْعَوَامِّ فَإِنَّ مِنْ وَرَائِكُمْ أَيَّامَ الصَّبْرِ الصَّبْرُ فِيهِنَّ مِثْلُ قَبْضٍ عَلَى الْجَمْرِ لِلْعَامِلِ فِيهِنَّ مِثْلُ أَجْرِ خَمْسِينَ رَجُلاً يَعْمَلُونَ بِمِثْلِ عَمَلِهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু ছালাবা আল-খুশানী রাযি.

৪০১৪। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... উবূ উমায়্যাহ শা'বানী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার আবু সালাবাহ খুশানী (রাযিঃ)-এর কাছে গেলাম এবং তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করলাম, এই আয়াত সম্পর্কে তোমার অভিমত কি? তিনি বললেনঃ কোন আয়াত? আমি বললামঃ এই আয়াত

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ

“হে মু'মিনগণ! আত্মা সংশোধন করাই তোমাদের কর্তব্য। যদি সৎপথ পরিচালিত হও, তবে যে পথ-ভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। (৫ঃ ১০৫)

রাবী বলেনঃ আমি এ আয়াত সম্পর্কে সবচেয়ে বেশী জ্ঞাত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে। তখন তিনি বললেনঃ এই আয়াতের শাব্দিক অর্থের দিকে লক্ষ্য করে 'আমর বিল মারূফ "(ভাল কাজের আদেশ) এর প্রয়োজন নেই মনে করে ধোঁকা খেয়ো না। বরং “আমর বিল মারূফ ও নাহি আনিল মুনকার” (ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ) করতে থাকো যে পর্যন্ত না এমন যুগ আসে, যখন লোকেরা কৃপণতা অনুসরণ করবে, প্রবৃত্তির তাড়নার শিকার হবে, দুনিয়াকে অগ্রাধিকার দিবে এবং প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার মতামতকে পছন্দ করবে। আর তুমি এমন কাজ হতে দেখবে যা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা তোমার থাকবে না। এমন অবস্থায় বিশেষভাবে নিজের ব্যাপারে চিন্তা করবে এবং (সাধারণের চিন্তা ছেড়ে দিবে)। তোমাদের পরবর্তীতে এমন যুগ আসবে, যা হবে ধৈর্যের যুগ। সে সময় ধৈর্যধারণ করা মানে অগ্নিস্ফুলিংগ হাতের মুঠোয় রাখা। যে কেউ সে সময় নেক আমল করবে, তার অনুরূপ আমলকারী পঞ্চাশ জনের সওয়াব তাকে দান করা হবে।
4015

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدٍ الْخُزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَيْدٍ، حَفْصُ بْنُ غَيْلاَنَ الرُّعَيْنِيُّ عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَتَى نَتْرُكُ الأَمْرَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْىَ عَنِ الْمُنْكَرِ قَالَ ‏"‏ إِذَا ظَهَرَ فِيكُمْ مَا ظَهَرَ فِي الأُمَمِ قَبْلَكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا ظَهَرَ فِي الأُمَمِ قَبْلَنَا قَالَ ‏"‏ الْمُلْكُ فِي صِغَارِكُمْ وَالْفَاحِشَةُ فِي كِبَارِكُمْ وَالْعِلْمُ فِي رُذَالَتِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ زَيْدٌ تَفْسِيرُ مَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ وَالْعِلْمُ فِي رُذَالَتِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ إِذَا كَانَ الْعِلْمُ فِي الْفُسَّاقِ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪০১৫। আব্বাস ইবন ওয়ালীদ দিমাশকী (রাহঃ).......আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা “আমর বিল মারূফ ওয়ানাহি আনিল মুনকার” (সংকাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ) কখন ছেড়ে দিব? তিনি বললেনঃ যখন তোমাদের মাঝে সেসব বিষয় প্রকাশ পাবে, যা তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতদের মাঝে প্রকাশ পেয়েছিল। আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাদের পূর্বেকার। উম্মত সমুহের উপর কি কি বিষয় প্রকাশ পেয়েছিল। তিনি বললেনঃ তোমাদের নিকৃষ্টদের হাতে রাজ ক্ষমতা চলে যাবে, সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ অশ্লীল কার্যকলাপে লিপ্ত হবে এবং নরাধমদের হাতে ইল্‌ম চলে যাবে।

রাবী যায়িদ বলেনঃ নবী (ﷺ) -এর বাণী والعلم فى رذالتكم اذاكان العلم فى الفساق ব্যাখ্যা হলোঃ অর্থাৎ নরাধমদের আলিম হওয়ার তাৎপর্য হচ্ছে, ফাসিক ও আল্লাহ্দ্রোহীদের হাতে ইম চলে যাওয়া।
4016

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ جُنْدُبٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ لاَ يَنْبَغِي لِلْمُؤْمِنِ أَنْ يُذِلَّ نَفْسَهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا وَكَيْفَ يُذِلُّ نَفْسَهُ قَالَ ‏"‏ يَتَعَرَّضُ مِنَ الْبَلاَءِ لِمَا لاَ يُطِيقُهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৪০১৬। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ)........ হুযায়ফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মু'মিন বান্দার নিজকে অপদস্ত করা সমীচীন নয়। লোকেরা বললোঃ কি ভাবে সে নিজেকে অপদস্ত করবে? তিনি বললেনঃ সে যে সব বালা-মুসীবিত সহ্য করার ক্ষমতা রাখেন না, তাতে পতিত হবে।

4017

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو طُوَالَةَ، حَدَّثَنَا نَهَارٌ الْعَبْدِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ لَيَسْأَلُ الْعَبْدَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يَقُولَ مَا مَنَعَكَ إِذْ رَأَيْتَ الْمُنْكَرَ أَنْ تُنْكِرَهُ فَإِذَا لَقَّنَ اللَّهُ عَبْدًا حُجَّتَهُ قَالَ يَا رَبِّ رَجَوْتُكَ وَفَرِقْتُ مِنَ النَّاسِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪০১৭। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি; নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন বান্দাকে জিজ্ঞেস করবেন, এমনকি বললেনঃ তুমি শরীয়াত বিরোধী কার্যকলাপ হতে দেখে প্রতিরোধ করনি কেন? (যখন সে উত্তর দানে অসমর্থ হবে), তখন আল্লাহ তাকে তার যথাযথ উত্তর শিখিয়ে দিবেন। সে বলবে, হে আমার রব। আমি তোমার (রহমতের) প্রত্যাশী ছিলাম এবং লোকদের থেকে আলাদা থাকতাম।

শাস্তি প্রদান

بَاب الْعُقُوبَاتِ

4018

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ بُرَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِنَّ اللَّهَ يُمْلِي لِلظَّالِمِ فَإِذَا أَخَذَهُ لَمْ يُفْلِتْهُ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَرَأَ ‏(وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَى وَهِيَ ظَالِمَةٌ)‏ ‏.‏

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৪০১৮। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়র ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).... আবু মুসা আশ'আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা যালিমকে অবকাশ দিয়ে থাকেন। আর যখন তিনি তাকে পাকড়াও করেন, তখন তাকে আর ছাড়েন না। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন-

وَكَذَلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ إِذَا أَخَذَ الْقُرَى وَهِيَ ظَالِمَةٌ
অর্থাৎ 'এরূপই রবের পাঁকড়াও, তিনি যখন কোন জনবসতিকে পাঁকড়াও করেন, এমতাবস্থায় যে তারা হয় অত্যাচারী'। (১১ঃ ১০২)
4019

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ أَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏ "‏ يَا مَعْشَرَ الْمُهَاجِرِينَ خَمْسٌ إِذَا ابْتُلِيتُمْ بِهِنَّ وَأَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ تُدْرِكُوهُنَّ لَمْ تَظْهَرِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ قَطُّ حَتَّى يُعْلِنُوا بِهَا إِلاَّ فَشَا فِيهِمُ الطَّاعُونُ وَالأَوْجَاعُ الَّتِي لَمْ تَكُنْ مَضَتْ فِي أَسْلاَفِهِمُ الَّذِينَ مَضَوْا ‏.‏ وَلَمْ يَنْقُصُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ إِلاَّ أُخِذُوا بِالسِّنِينَ وَشِدَّةِ الْمَؤُنَةِ وَجَوْرِ السُّلْطَانِ عَلَيْهِمْ ‏.‏ وَلَمْ يَمْنَعُوا زَكَاةَ أَمْوَالِهِمْ إِلاَّ مُنِعُوا الْقَطْرَ مِنَ السَّمَاءِ وَلَوْلاَ الْبَهَائِمُ لَمْ يُمْطَرُوا وَلَمْ يَنْقُضُوا عَهْدَ اللَّهِ وَعَهْدَ رَسُولِهِ إِلاَّ سَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ غَيْرِهِمْ فَأَخَذُوا بَعْضَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ ‏.‏ وَمَا لَمْ تَحْكُمْ أَئِمَّتُهُمْ بِكِتَابِ اللَّهِ وَيَتَخَيَّرُوا مِمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلاَّ جَعَلَ اللَّهُ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪০১৯। মাহমুদ ইব্‌ন খালিদ দিমাশকী (রাহঃ).....আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের দিকে এগিয়ে আসলেন, অতঃপর তিনি বললেনঃ হে মুহাজিরগণ। তোমরা পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে, তবে আমি আল্লাহর কাছে পানাহ্ চাচ্ছি যেন তোমরা তাতে পতিত না হও। (সেই পাঁচটি বিষয় হচ্ছে)ঃ যখন কোন জাতির মাঝে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে (যেমন সুদ, ঘুষ, যিনা ইত্যাদি) তখন সেখানে প্লেগ মহামারী আকারে দেখা দিবে। তাছাড়া এমন সব ব্যাধি ছড়িয়ে পড়বে, যা পূর্বেকার লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। যখন কোন জাতি ওযন ও পরিমাপে কারচুপি করবে, তখন তাদের উপর নেমে আসবে দুর্ভিক্ষ, কঠিন বালা- মুসীবত, যালিম শাসক গোষ্ঠি তাদের উপর নিঃপীড়ন করবে। যখন কোন জাতি তাদের ধন- সম্পদের যাকাত আদায় করে না, তখন আসমানের বৃষ্টি বন্ধ করে দেয়া হবে। যদি ভূ-পৃষ্ঠে চতুস্পদ জন্তু (গরু, ছাগল, ভেড়া, কুকুর ঘোড়া ইত্যাদি) না থাকতো, তাহলে আর বৃষ্টিপাত হতো না। আর যখন কোন জাতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অংগীকার ভঙ্গ করে, তখন আল্লাহ তাদের উপর এক দুশমনকে ক্ষমতাসীন করেন, যে তাদের বংশোদ্ভূত নয় এবং সে তাদের হাতে যা আছে, তা থেকে কেড়ে নিবে। আর যখন তোমাদের শাসকবর্গ আল্লাহর কিতাব অনুসারে মীমাংসা করবে না এবং আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানকে ইতিয়ার করবে না তখন আল্লাহ তাদের পরস্পরে যুদ্ধ বিগ্রহ লাগিয়ে দিবেন।

4020

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ حَاتِمِ بْنِ حُرَيْثٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ الأَشْعَرِيِّ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْعَرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لَيَشْرَبَنَّ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا يُعْزَفُ عَلَى رُءُوسِهِمْ بِالْمَعَازِفِ وَالْمُغَنِّيَاتِ يَخْسِفُ اللَّهُ بِهِمُ الأَرْضَ وَيَجْعَلُ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আবু মালিক আশআরী (রাঃ)

৪০২০। আব্দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রাহঃ) . আবু মালিক আশ'আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের কিছু লোক মদপান করবে এবং এর নাম রাখবে অন্য কিছু। তাদের মাথার উপরে (সামনে) বাজনা বাজানো হবে এবং গায়িকা নারীরা গান পরিবেশন করবে। আল্লাহ তা'আলা এদেরকে যমীনে ধসিয়ে দিবেন। তাদের মধ্য থেকে কতককে বানর ও শূকরে রূপান্তরিত করবেন।

4021

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنِ الْمِنْهَالِ، عَنْ زَاذَانَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ ‏(يَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللاَّعِنُونَ )‏ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ دَوَابُّ الأَرْضِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৪০২১। মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ (রাহঃ)... বারা ইব্‌ন আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃيَلْعَنُهُمُ اللَّهُ وَيَلْعَنُهُمُ اللاَّعِنُونَ

“আল্লাহ তাদের অভিসম্পাত করেন এবং অভিশাপকারীরা তাদের লানত করে থাকে”। (২ঃ ১৫৯)।
রাবী বলেনঃ অভিশম্পাতকারীদের দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠের জীব জানোয়ারের কথা বুঝানো হয়েছে।
4022

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ يَزِيدُ فِي الْعُمْرِ إِلاَّ الْبِرُّ وَلاَ يَرُدُّ الْقَدَرَ إِلاَّ الدُّعَاءُ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيُحْرَمُ الرِّزْقَ بِالذَّنْبِ يُصِيبُهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত ছাওবান (রাঃ)

৪০২২। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... সাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন জিনিস আয়ূ বাড়াতে পারে না, তবে নেকী অর্থাৎ সদ্ব্যবহার আর কোন জিনিসে তাকদীর রদ্দ হয় না। কিন্তু দু'আ (দু'আ তাক্‌দীর পাল্টে দিতে পারে)। কখনো কখনো এক ব্যক্তি তার একটি মাত্র গুনাহের দরূন রিযিক থেকে বঞ্চিত হয়।

বিপদে সবর করা

بَاب الصَّبْرِ عَلَى الْبَلَاءِ

4023

حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ حَمَّادٍ الْمَعْنِيُّ، وَيَحْيَى بْنُ دُرُسْتَ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلاَءً قَالَ ‏ "‏ الأَنْبِيَاءُ ثُمَّ الأَمْثَلُ فَالأَمْثَلُ يُبْتَلَى الْعَبْدُ عَلَى حَسَبِ دِينِهِ فَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ صُلْبًا اشْتَدَّ بَلاَؤُهُ وَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ رِقَّةٌ ابْتُلِيَ عَلَى حَسَبِ دِينِهِ فَمَا يَبْرَحُ الْبَلاَءُ بِالْعَبْدِ حَتَّى يَتْرُكَهُ يَمْشِي عَلَى الأَرْضِ وَمَا عَلَيْهِ مِنْ خَطِيئَةٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৪০২৩। ইউসুফ ইবন হাম্মাদ আল-মানী ও ইয়াহইয়া ইব্‌ন দুরুসতা (রাহঃ)... সা'দ ইব্‌ন আবু ওয়াককাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! কোন মানুষের পরীক্ষা সর্বপেক্ষা কঠিন? তিনি বললেনঃ নবীগণের। অতঃপর মর্যাদার দিক দিয়ে তাদের পরবর্তীদের উপর, পরে তাদের পরবর্তীগণের উপর। বান্দাকে তার দ্বীনের প্রকৃতি অনুসারে পরীক্ষা করা হয়। যদি সে তার দ্বীনের প্রতি কঠোর হয়, তবে পরীক্ষাও ততটা কঠিন হয়। আর যদি সে তার দ্বীনের প্রতি হালকা হয়, তাহলে সেই অনুপাতেই তাকে পরীক্ষা করা হয়। বান্দা বিপদ-আপদ দ্বারা সব সময় পরিবেষ্টিত থাকে না (অর্থাৎ মুসীবতের দরূণ তার গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়)।

4024

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهُوَ يُوعَكُ فَوَضَعْتُ يَدِي عَلَيْهِ فَوَجَدْتُ حَرَّهُ بَيْنَ يَدَىَّ فَوْقَ اللِّحَافِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَشَدَّهَا عَلَيْكَ قَالَ ‏"‏ إِنَّا كَذَلِكَ يُضَعَّفُ لَنَا الْبَلاَءُ وَيُضَعَّفُ لَنَا الأَجْرُ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلاَءً قَالَ ‏"‏ الأَنْبِيَاءُ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ثُمَّ مَنْ قَالَ ‏"‏ ثُمَّ الصَّالِحُونَ إِنْ كَانَ أَحَدُهُمْ لَيُبْتَلَى بِالْفَقْرِ حَتَّى مَا يَجِدُ أَحَدُهُمْ إِلاَّ الْعَبَاءَةَ يُحَوِّيهَا وَإِنْ كَانَ أَحَدُهُمْ لَيَفْرَحُ بِالْبَلاَءِ كَمَا يَفْرَحُ أَحَدُكُمْ بِالرَّخَاءِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪০২৪। আব্দুর রহমান ইব্‌ন ইবরাহীম (রাহঃ).... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি নবী (ﷺ) -এর কাছে গেলাম, এ সময় তিনি জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। আমি তাঁর দেহ মুবারকের উপর আমার হাত রাখলাম এবং পায়ের চাদরের উপর থেকেই আমার হাতে প্রচন্ড তাপ অনুভব করলাম। তখন আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কত কঠিন জ্বর আপনার। তিনি বললেনঃ আমাদের (নবী -রাসূলগণের) অবস্থা এমনই হয়ে থাকে। আমাদেরকে দ্বিগুণ মুসীবত দেওয়া হয় এবং দ্বিগুণ পুরস্কার ও দেওয়া হয়। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কোন লোকের উপর সর্বাপেক্ষা কঠিণ মুসীবত পতিত হয়? তিনি বললেনঃ নবীগণের উপর। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! তারপর কারা? তিনি বললেনঃ এর পর নেককার বান্দাদের উপর। তাদের কেউ কেউ এমনভাবে দুর্ভিক্ষ পীড়িত হয় যে, শেষ পর্যন্ত তার কাছে একটি কম্বল ব্যতীত কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। তাদের কেউ বালা-মুসীবতের শিকার হয়ে এত উৎফুল্ল থাকেন, যেমন তোমাদের কেউ ধন-সম্পদ প্রাপ্তিতে খুশী হয়ে থাকেন।

4025

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهُوَ يَحْكِي نَبِيًّا مِنَ الأَنْبِيَاءِ ضَرَبَهُ قَوْمُهُ وَهُوَ يَمْسَحُ الدَّمَ عَنْ وَجْهِهِ وَيَقُولُ رَبِّ اغْفِرْ لِقَوْمِي فَإِنَّهُمْ لاَ يَعْلَمُونَ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪০২৫। মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়র (রাহঃ).... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন দেখতে পাচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নবীদের থেকে একজন নবীর কিসসা বর্ণনা করছেন। তাঁর জাতি তাঁকে বেদম প্রহার করেছিল। তিনি তাঁর চেহারা থেকে রক্ত মুছছিলেন এবং বলছিলেনঃ হে আমার রব! আমার জাতিকে ক্ষমা করুন, কেননা তারা জানে না।

4026

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، وَيُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ نَحْنُ أَحَقُّ بِالشَّكِّ مِنْ إِبْرَاهِيمَ إِذْ قَالَ ‏(رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِي الْمَوْتَى قَالَ أَوَ لَمْ تُؤْمِنْ قَالَ بَلَى وَلَكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي)‏ وَيَرْحَمُ اللَّهُ لُوطًا لَقَدْ كَانَ يَأْوِي إِلَى رُكْنٍ شَدِيدٍ وَلَوْ لَبِثْتُ فِي السِّجْنِ طُولَ مَا لَبِثَ يُوسُفُ لأَجَبْتُ الدَّاعِيَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০২৬। হারমালাহ ইবন ইয়াহ্ইয়া ও ইউনুস ইবন আব্দুল আ'লা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইবরাহীম (আ)-এর তুলনায় আমরাই অধিকতর সংশয়ের উপযুক্ত, যখন তিনি বলেছিলেন হে আমার রব। আমাকে একটু দেখান, আপনি কিভাবে মৃতকে জীবিত করেন। তিনি (আল্লাহ) বললেনঃ তবে কি তুমি বিশ্বাস করো না? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, “নিশ্চয়ই আমি বিশ্বাস করি, তবে আমার হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য।" আল্লাহ লূত (আ)-এর উপর রহমাত বর্ষণ করুন। “তিনি বড় শক্তিশালী লোকের সাহায্য কামনা করিছিলেন" (আপন মেহমানদের নিরাপত্তার জন্যেই তিনি এমন কি করেছিলেন)। তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) বলেছেনঃ যদি আমি ততদিন জেলখানায় থাকতাম, যতদিন ইউসুফ (আ) ছিলেন, তাহলে অবশ্যই আমি আহবানকারীর ডাকে সাড়া দিতাম।

4027

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ كُسِرَتْ رَبَاعِيَةُ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَشُجَّ فَجَعَلَ الدَّمُ يَسِيلُ عَلَى وَجْهِهِ وَجَعَلَ يَمْسَحُ الدَّمَ عَنْ وَجْهِهِ وَيَقُولُ ‏ "‏ كَيْفَ يُفْلِحُ قَوْمٌ خَضَبُوا وَجْهَ نَبِيِّهِمْ بِالدَّمِ وَهُوَ يَدْعُوهُمْ إِلَى اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ‏(لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَىْءٌ)‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪০২৭। নসর ইবন আলী জাহযামী ও মুহাম্মাদ ও ইব্‌ন মুসান্না (রাহঃ)...... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন উহুদের দিনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মুখের সম্মুখ ভাগের চারটি দাঁতের একটি ভেঙ্গে গিয়েছিল এবং তাঁর মাথায় আঘাত লেগেছিল, তখন তাঁর চেহারার উপর রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল। তিনি তাঁর চেহারা থেকে রক্ত মুছছিলেন এবং বলছিলেনঃ সেই জাতি কিভাবে মুক্তি পাবে, যারা তাদের নবীর চেহারাকে রক্তে রঞ্চিত করে দিয়েছে, অথচ তিনি তাদেরকে আল্লাহর দিকে আহবান করছিলেন। তখন মহান আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করেনঃ لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَىْءٌ

“এই ব্যাপারে আপনার করণীয় কিছু নেই"। (৩ঃ ১২৮)।
4028

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ جَاءَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ ذَاتَ يَوْمٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهُوَ جَالِسٌ حَزِينٌ قَدْ خُضِبَ بِالدِّمَاءِ قَدْ ضَرَبَهُ بَعْضُ أَهْلِ مَكَّةَ فَقَالَ مَا لَكَ فَقَالَ ‏"‏ فَعَلَ بِي هَؤُلاَءِ وَفَعَلُوا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَتُحِبُّ أَنْ أُرِيَكَ آيَةً قَالَ ‏"‏ نَعَمْ أَرِنِي ‏"‏ ‏.‏ فَنَظَرَ إِلَى شَجَرَةٍ مِنْ وَرَاءِ الْوَادِي فَقَالَ ادْعُ تِلْكَ الشَّجَرَةَ ‏.‏ فَدَعَاهَا فَجَاءَتْ تَمْشِي حَتَّى قَامَتْ بَيْنَ يَدَيْهِ قَالَ قُلْ لَهَا فَلْتَرْجِعْ فَقَالَ لَهَا فَرَجَعَتْ حَتَّى عَادَتْ إِلَى مَكَانِهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ حَسْبِي ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪০২৮। মুহাম্মাদ ইব্‌ন তারীফ (রাহঃ).... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জিবরাঈল (আ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -র নিকট আসেন, এ সময় তিনি চিন্তাযুক্ত অবস্থয় বসাছিলেন। তাঁকে রক্তে রঞ্জিত করা হয়েছিল। মক্কার জনৈক অধিবাসী তাঁকে আঘাত করেছিল। জিবরাঈল (আ) বললেনঃ আপনার কি হয়েছে? তখন তিনি বললেনঃ এরা আমার সাথে এই এই আচরণ করেছেন। জিবরাঈল (আ) বললেনঃ আপনি কি চান যে, আমি আপনাকে একটা নিদর্শন দেখাই? তিনি বললেনঃ জি হ্যাঁ, আমাকে দেখান। অতঃপর তিনি (জিবরাঈল (আ)) উপত্যকার একটি গাছের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন। তিনি বললেনঃ আপনি এই গাছটিকে আহবান করুন। তিনি গাছটিকে আহবান জানালেন, তখন গাছটি চলে আসলো, এমনকি তা তাঁর সামনে এসে খাড়া হলো। জিবরাঈল (আ) বললেনঃ একে ফিরে যেতে বলুন। তিনি তাকে বললেনঃ ফিরে যাও, তখন তা ফিরে গিল, এমন কি আপন জায়গায় গিয়ে তা খাড়া হয়ে গেল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এটাই আমার জন্য যথেষ্ট।

4029

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ أَحْصُوا لِي كُلَّ مَنْ تَلَفَّظَ بِالإِسْلاَمِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَخَافُ عَلَيْنَا وَنَحْنُ مَا بَيْنَ السِّتِّمِائَةِ إِلَى السَّبْعِمِائَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِنَّكُمْ لاَ تَدْرُونَ لَعَلَّكُمْ أَنْ تُبْتَلَوْا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَابْتُلِينَا حَتَّى جَعَلَ الرَّجُلُ مِنَّا مَا يُصَلِّي إِلاَّ سِرًّا ‏.‏

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৪০২৯। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন নুমায়র ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... হুযায়ফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যারা ইসলামের কালেমার স্বীকৃতি দিয়েছে, তাদের সংখ্যা আমাকে জানাও। আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাদের উপর কি আপনার সংশয় আছে? আমাদের সংখ্যা ছয়শত থেকে সাতশতের মাঝামাঝি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের জানা নেই যে, অচিরেই তোমরা বিপদ- আপদের সম্মুখীন হবে।

রাবী বলেন, অতঃপর আমরা পরীক্ষার সম্মুখীন হলাম, এমনকি আমাদের কেউ কেউ গোপনে সালাত আদায় করতেন।
4030

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّهُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ وَجَدَ رِيحًا طَيِّبَةً فَقَالَ ‏ "‏ يَا جِبْرِيلُ مَا هَذِهِ الرِّيحُ الطَّيِّبَةُ قَالَ هَذِهِ رِيحُ قَبْرِ الْمَاشِطَةِ وَابْنَيْهَا وَزَوْجِهَا ‏.‏ قَالَ وَكَانَ بَدْءُ ذَلِكَ أَنَّ الْخَضِرَ كَانَ مِنْ أَشْرَافِ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَكَانَ مَمَرُّهُ بِرَاهِبٍ فِي صَوْمَعَتِهِ فَيَطْلُعُ عَلَيْهِ الرَّاهِبُ فَيُعَلِّمُهُ الإِسْلاَمَ فَلَمَّا بَلَغَ الْخَضِرُ زَوَّجَهُ أَبُوهُ امْرَأَةً فَعَلَّمَهَا الْخَضِرُ وَأَخَذَ عَلَيْهَا أَنْ لاَ تُعْلِمَهُ أَحَدًا وَكَانَ لاَ يَقْرَبُ النِّسَاءَ فَطَلَّقَهَا ثُمَّ زَوَّجَهُ أَبُوهُ أُخْرَى فَعَلَّمَهَا وَأَخَذَ عَلَيْهَا أَنْ لاَ تُعْلِمَهُ أَحَدًا فَكَتَمَتْ إِحَدَاهُمَا وَأَفْشَتْ عَلَيْهِ الأُخْرَى فَانْطَلَقَ هَارِبًا حَتَّى أَتَى جَزِيرَةً فِي الْبَحْرِ فَأَقْبَلَ رَجُلاَنِ يَحْتَطِبَانِ فَرَأَيَاهُ فَكَتَمَ أَحَدُهُمَا وَأَفْشَى الآخَرُ وَقَالَ قَدْ رَأَيْتُ الْخَضِرَ ‏.‏ فَقِيلَ وَمَنْ رَآهُ مَعَكَ قَالَ فُلاَنٌ فَسُئِلَ فَكَتَمَ وَكَانَ فِي دِينِهِمْ أَنَّ مَنْ كَذَبَ قُتِلَ قَالَ فَتَزَوَّجَ الْمَرْأَةَ الْكَاتِمَةَ فَبَيْنَمَا هِيَ تَمْشُطُ ابْنَةَ فِرْعَوْنَ إِذْ سَقَطَ الْمُشْطُ فَقَالَتْ تَعِسَ فِرْعَوْنُ ‏.‏ فَأَخْبَرَتْ أَبَاهَا وَكَانَ لِلْمَرْأَةِ ابْنَانِ وَزَوْجٌ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِمْ فَرَاوَدَ الْمَرْأَةَ وَزَوْجَهَا أَنْ يَرْجِعَا عَنْ دِينِهِمَا فَأَبَيَا فَقَالَ إِنِّي قَاتِلُكُمَا ‏.‏ فَقَالاَ إِحْسَانًا مِنْكَ إِلَيْنَا إِنْ قَتَلْتَنَا أَنْ تَجْعَلَنَا فِي بَيْتٍ فَفَعَلَ فَلَمَّا أُسْرِيَ بِالنَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَجَدَ رِيحًا طَيِّبَةً فَسَأَلَ جِبْرِيلَ فَأَخْبَرَهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

৪০৩০। হিশাম ইবন আম্মার (রাহঃ)...... উবাই ইবন কা'ব (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি মিরাজের রাতে উত্তম খোশবু পেলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে জিবরাঈল! এই পবিত্র সুগন্ধি কিসের? তিনি বললেনঃ এই সুগন্ধি সেই মহিলার কবরের, (যে ফির'আউন তনয়ার) কেশ বিন্যাসকারিনী ছিল এবং তার দুই পুত্র ও স্বামীর। রাবী বলেনঃ তিনি কিসসাটি এভাবে শুরু করলেনঃ খিযির বনী ইসরাঈল সম্প্রদায়ের অভিজাত লোকদের অন্যতম ছিলেন। তিনি এক পাদ্রীর গীর্জার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। পাদ্রী তার চোখের পর্দা খুলে দিলেন এবং তাখে ইসলাম সম্পর্কে তালীম দিলেন। খিযির যৌবনে পদার্পণ করলে, তার পিতা তাঁকে এক মহিলার সাথে সাদী করিয়ে দেন। খিযির এই মহিলাকে দ্বীনের তালীম দিলেন। তিনি তাঁর নিকট থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়ে ছিলেন যেন কারোর কাছে তাঁর পরিচয় ফাঁস করে না দেয়। তিনি স্ত্রী লোকদের সাহচর্যে থাকা পছন্দ করতেন না। পরিশেষে তিনি তাঁর স্ত্রীকে তালাক দেন। তার পিতা অন্য এক মহিলার সাথে তাঁর শাদী করিয়ে দেন। তিনি তাঁকেও দ্বীন শিক্ষা দিলেন। তাঁর নিকট থেকে প্রতিশ্রুতি নিলেন যে, কারোর নিকট তাঁর কথা প্রকাশ করবে না। অতঃপর এক মহিলা এই ভেদ গোপন রাখলো এবং অপরজন প্রকাশ করে দিল। (ফিরআউন তাঁকে গ্রেফতারের পরোয়ানা জারি করলো)। তিনি দেশত্যাগ করলেন, এমন কি শেষ পর্যন্ত সমুদ্রের একটি দ্বীপে উপনীত হলেন। সেখানে দুইজন কাঠ সংগ্রহের জন্য আসলো। তারা দুইজনে খিযিরকে দেখতে পেলো। একজন তাদের পরিচয় গোপন রাখলো, পক্ষান্তরে অন্যজন প্রকাশ করে দিল। সে বললো, আমি খিযির (আ)-কে দেখেছি। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ তোমার সাথে তাকে আরকে দেখছে? বললোঃ অমুক। তখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে বিষয়টি গোপনই রাখলো। তাদের দ্বীনের বিধানে এই ছিল যে, যে মিথ্যা বলবে তাঁকে কতল করা হবে। রাবী বলেন, অতঃপর সে গোপনকারিনী মহিলাকে বিবাহ করলো। সেই মহিলা ফিরআউন তনয়ার কেশ বিন্যাস করছিল। ইত্যবসরে তার হাত থেকে চিরুনীটা পড়ে যায় এবং তার মুখ থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে বেরিয়ে আসে, ফির'আউনও নিপাত যাক। ফির'আউন তনয়া এই ব্যাপারটি তার পিতাকে অবহিত করে। এই মহিলার ছিল দুই পুত্র এবং এক স্বামী। ফির'আউন তাদের সবাইকে ডেকে পাঠালো এবং মহিলাও তার স্বামীকে তাদের দীন ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করলো। তারা উভয়ে তা অস্বীকার করলো। তখন ফির'আউন বললোঃ আমি তোমাদের দুইজনকে একই কবরে দাফন করবেন। সে তাই করলো। অতঃপর যে রাতে নবী (ﷺ)-এর মি'রাজের ঘটনা সংঘটিত হলো, সে সময় তিনি খোশবু পেয়েছিলেন। অতঃপর তিনি জিবরাঈল (আ)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে এই বিষয়ে অবহিত করেন।

4031

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّهُ قَالَ ‏ "‏ عِظَمُ الْجَزَاءِ مَعَ عِظَمِ الْبَلاَءِ وَإِنَّ اللَّهَ إِذَا أَحَبَّ قَوْمًا ابْتَلاَهُمْ فَمَنْ رَضِيَ فَلَهُ الرِّضَا وَمَنْ سَخِطَ فَلَهُ السُّخْطُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪০৩১। মুহাম্মাদ ইবন রুমহ্ (রাহঃ).... আনাস ইব্‌ন মালিক (রাযিঃ) সুত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মুসীবত যতবড় হবে, প্রতিদানও তত বড় পাওয়া যাবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন কোন জাতিকে ভালবাসেন, তাদের পরীক্ষা করে থাকেন। যে কেউ এতে সন্তুষ্ট থাকে, আল্লাহও তার প্রতি খুশী থাকেন। আর যে কেউ এতে নাখোশ তাকে, আল্লাহ ও তার প্রতি নাখোশ থাকেন।

4032

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ وَثَّابٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الْمُؤْمِنُ الَّذِي يُخَالِطُ النَّاسَ وَيَصْبِرُ عَلَى أَذَاهُمْ أَعْظَمُ أَجْرًا مِنَ الْمُؤْمِنِ الَّذِي لاَ يُخَالِطُ النَّاسَ وَلاَ يَصْبِرُ عَلَى أَذَاهُمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪০৩২। আলী ইবন মায়মুন রাক্কী (রাহঃ)...... ইবন উমর (রাযিঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "যে মু'মিন, যে মানুষের সাথে মেলামেশা করে এবং তাদের নির্যাতনের উপর ধৈর্যধারণ করে। সে ঐ মু'মিন ব্যক্তির তুলনায় অধিকতার সাওয়াবের অধিকারী, যে লোকদের সাথে মেলামেশা করে না এবং তাদের নির্যাতনের উপর সবর করে না।

4033

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ ثَلاَثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ طَعْمَ الإِيمَانِ - وَقَالَ بُنْدَارٌ حَلاَوَةَ الإِيمَانِ - مَنْ كَانَ يُحِبُّ الْمَرْءَ لاَ يُحِبُّهُ إِلاَّ لِلَّهِ ‏.‏ وَمَنْ كَانَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا ‏.‏ وَمَنْ كَانَ أَنْ يُلْقَى فِي النَّارِ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ أَنْ يَرْجِعَ فِي الْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنْقَذَهُ اللَّهُ مِنْهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪০৩৩। মুহাম্মাদ ইবন মুসান্নাও মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার (রাহঃ)... আনাস ইব্‌ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তিনটি জিনিস যার মধ্যে আছে সেই ঈমানের প্রকৃত স্বাদ পেয়েছে। বিনদার বলেনঃ ঈমানের মিষ্ট স্বাদ পেয়েছে। (১) যে ব্যক্তি কারোর সাথে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যই বন্ধুত্ব স্থাপন করে, (২) যে ব্যক্তির কাছে সব কিছুর চাইতে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক প্রিয়। (৩) যে ব্যক্তি ঈমান আনার পরে কুফরের দিকে ফিরে যাওয়ার চাইতে, অগ্নির মাঝে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অধিকতর প্রিয় মনে করে। যখন আল্লাহ তাকে তা থেকে রক্ষা করেন।

4034

حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، ح وَحَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا رَاشِدٌ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحِمَّانِيُّ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ أَوْصَانِي خَلِيلِي ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ ‏ "‏ لاَ تُشْرِكْ بِاللَّهِ شَيْئًا وَإِنْ قُطِّعْتَ وَحُرِّقْتَ وَلاَ تَتْرُكْ صَلاَةً مَكْتُوبَةً مُتَعَمِّدًا فَمَنْ تَرَكَهَا مُتَعَمِّدًا فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ الذِّمَّةُ وَلاَ تَشْرَبِ الْخَمْرَ فَإِنَّهَا مِفْتَاحُ كُلِّ شَرٍّ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

৪০৩৪। হুসাইন ইব্‌ন হাসান মারওয়াযী (রাহঃ)...... আবু দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে অসীয়্যত করেছেন যে, আল্লাহর সঙ্গে কিছু শরীক করবে না, যদিও তোমাকে টুকরো টুকরো করা হয়, কিংবা আগুনে ভস্মীভূত করা হয়। আর ইচ্ছাকৃতভাবে ফরয সালাত ছেড়ে দিবে না। যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় তা ছেড়ে দেয়, তার থেকে (আল্লাহর) জিম্মা উঠে যায়। আর মদ পান করবে না। কেননা, তা সমস্ত পাপ কাজের (উৎস)।

যামানার কঠোরতা

بَاب شِدَّةِ الزَّمَانِ

4035

حَدَّثَنَا غِيَاثُ بْنُ جَعْفَرٍ الرَّحْبِيُّ، أَنْبَأَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، سَمِعْتُ ابْنَ جَابِرٍ، يَقُولُ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ رَبِّهِ، يَقُولُ سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ لَمْ يَبْقَ مِنَ الدُّنْيَا إِلاَّ بَلاَءٌ وَفِتْنَةٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

৪০৩৫। গিয়াস ইবন জাফর রাহবী (রাহঃ)....... মু'আবিয়্যাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ দুনিয়াতে বালা-মুসীবত ও ফিতনা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই ।

4036

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ قُدَامَةَ الْجُمَحِيُّ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ أَبِي الْفُرَاتِ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ سَيَأْتِي عَلَى النَّاسِ سَنَوَاتٌ خَدَّاعَاتٌ يُصَدَّقُ فِيهَا الْكَاذِبُ وَيُكَذَّبُ فِيهَا الصَّادِقُ وَيُؤْتَمَنُ فِيهَا الْخَائِنُ وَيُخَوَّنُ فِيهَا الأَمِينُ وَيَنْطِقُ فِيهَا الرُّوَيْبِضَةُ قِيلَ وَمَا الرُّوَيْبِضَةُ قَالَ الرَّجُلُ التَّافِهُ فِي أَمْرِ الْعَامَّةِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৩৬। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)....... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই লোকদের উপর ধোকাবাজির বছরগুলি আসবে। সে সময় মিথ্যাবাদী বলে গন্য হবে এবং সত্যবাদীর উপর মিথ্যারোপ করা হবে। আমানতের খিয়ানতকারীকে আমানতদার বলা হবে এবং আমানতদার তাতে খিয়ানত করবে। বদলোকেরা নেতৃত্ব করবে। (জিজ্ঞাসা করা হলোঃ الرُّوَيْبِضَةُ কি? তিনি বললেনঃ সাবধান যে লোকের দৃষ্টিতে নীচ প্রকৃতির লোক)।

4037

حَدَّثَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ أَبِي إِسْمَاعِيلَ الأَسْلَمِيِّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ تَذْهَبُ الدُّنْيَا حَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ عَلَى الْقَبْرِ فَيَتَمَرَّغَ عَلَيْهِ وَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي كُنْتُ مَكَانَ صَاحِبِ هَذَا الْقَبْرِ وَلَيْسَ بِهِ الدِّينُ إِلاَّ الْبَلاَءُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৩৭। ওয়াসিল ইব্‌ন আব্দুল আলা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সেই মহান সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার জান। দুনিয়া ধ্বংস হবে না যতক্ষণ না এক ব্যক্তি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলবে হায়! আমি যদি কবরবাসীর স্থানে থাকতে পারতাম! তার কোন দীন নেই, বালা মুসবিত ছাড়া ।

4038

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا طَلْحَةُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ، - يَعْنِي مَوْلَى مُسَافِعٍ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لَتُنْتَقَوُنَّ كَمَا يُنْتَقَى التَّمْرُ مِنْ أَغْفَالِهِ فَلْيَذْهَبَنَّ خِيَارُكُمْ وَلَيَبْقَيَنَّ شِرَارُكُمْ فَمُوتُوا إِنِ اسْتَطَعْتُمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৩৮। উসমান ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)........ আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের বাছাই করা হবে, যেমনিভাবে ভাল খেজুর মন্দ খেজুর থেকে আলাদা করা হয়। তোমাদের মধ্যকার ভাললোকগুলো চলে যাবে এবং মন্দলোকগুলো অবশ্যই থেকে যাবে অবশিষ্ট। যদি মরতে পার, তাহলে মরে যেতে চেষ্টা করো।

4039

حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيُّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ الْجَنَدِيُّ، عَنْ أَبَانَ بْنِ صَالِحٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ لاَ يَزْدَادُ الأَمْرُ إِلاَّ شِدَّةً وَلاَ الدُّنْيَا إِلاَّ إِدْبَارًا وَلاَ النَّاسُ إِلاَّ شُحًّا وَلاَ تَقُومُ السَّاعَةُ إِلاَّ عَلَى شِرَارِ النَّاسِ وَلاَ الْمَهْدِيُّ إِلاَّ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪০৩৯। ইউনুস ইব্‌ন আব্দুল আ'লা (রাহঃ)......আনাস ইব্‌ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দিনে দিনে কঠোরতা বেড়েই চলবে। দুনিয়াতে অভাব-অনটন ও দুর্ভিক্ষের আধিক্য দেখা দিবে। কৃপণ লোকদের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাবে। মন্দ প্রকৃতির লোকদের উপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে। ঈসা ইবন মারয়াম (আ) ব্যতিরেকে কোন মাহদী নেই।

কিয়ামাতের আলামত

بَاب أَشْرَاطِ السَّاعَةِ

4040

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، وَأَبُو هِشَامٍ الرِّفَاعِيُّ مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا أَبُو حَصِينٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ ‏"‏ ‏.‏ وَجَمَعَ بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৪০। হান্নাদ ইবন সারী ও আবু হিশাম রিফাঈ মুহাম্মাদ ইবন ইয়াযীদ (রাহঃ).... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি এবং কিয়ামত এমনিভাবে প্রেরিত হয়েছি- এই বলে তিনি তাঁর দুইট আংগুলকে মিলালেন।

4041

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ فُرَاتٍ الْقَزَّازِ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ أَسِيدٍ، قَالَ اطَّلَعَ عَلَيْنَا النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مِنْ غُرْفَةٍ وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ السَّاعَةَ فَقَالَ ‏ "‏ لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَكُونَ عَشْرُ آيَاتٍ الدَّجَّالُ وَالدُّخَانُ وَطُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আবু সারীহা হুযায়ফা ইবনে আসীদ (রাঃ)

৪০৪১। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)..... হুযায়ফা ইব্‌ন আসীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তাঁর হুজরা শরীফ থেকে আমাদের পানে উঁকি দিয়ে তাকালেন। আমরা তখন কিয়ামত সম্পর্কে পরস্পরে আলোচনা করছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ দশটি আলামত প্রকাশ পাওয়ার পূর্বে কিয়ামত সংঘটিত হবে নাঃ দাজ্জালের অভ্যুদয়, ধূয়া, পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় হওয়া।

4042

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنِي بُسْرُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي أَبُو إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيُّ، حَدَّثَنِي عَوْفُ بْنُ مَالِكٍ الأَشْجَعِيُّ، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهُوَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ وَهُوَ فِي خِبَاءٍ مِنْ أَدَمٍ فَجَلَسْتُ بِفِنَاءِ الْخِبَاءِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ ادْخُلْ يَا عَوْفُ ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ بِكُلِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ بِكُلِّكَ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ يَا عَوْفُ احْفَظْ خِلاَلاً سِتًّا بَيْنَ يَدَىِ السَّاعَةِ إِحْدَاهُنَّ مَوْتِي ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَوَجَمْتُ عِنْدَهَا وَجْمَةً شَدِيدَةً ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ قُلْ إِحْدَى ثُمَّ فَتْحُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ ثُمَّ دَاءٌ يَظْهَرُ فِيكُمْ يَسْتَشْهِدُ اللَّهُ بِهِ ذَرَارِيَّكُمْ وَأَنْفُسَكُمْ وَيُزَكِّي بِهِ أَمْوَالَكُمْ ثُمَّ تَكُونُ الأَمْوَالُ فِيكُمْ حَتَّى يُعْطَى الرَّجُلُ مِائَةَ دِينَارٍ فَيَظَلَّ سَاخِطًا وَفِتْنَةٌ تَكُونُ بَيْنَكُمْ لاَ يَبْقَى بَيْتُ مُسْلِمٍ إِلاَّ دَخَلَتْهُ ثُمَّ تَكُونُ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ بَنِي الأَصْفَرِ هُدْنَةٌ فَيَغْدِرُونَ بِكُمْ فَيَسِيرُونَ إِلَيْكُمْ فِي ثَمَانِينَ غَايَةٍ تَحْتَ كُلِّ غَايَةٍ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আউফ ইবনে মালিক (রাঃ)

৪০৪২। আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম (রাহঃ)...... আউফ ইব্‌ন আশজাঈ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকটে উপস্থিত হলাম। সে সময় তিনি গুযওয়ায়ে তাবূকের ময়দানে একটি চামড়ার তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। আমি তাবুর এক কোনায় গিয়ে বসলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আউফ! ভেতরে চলে এসো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি পূরাপুরিভাবে প্রবেশ করবো? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তুমি সশরীরে এসো। অতঃপর তিনি বললেন, হে আউফ! কিয়ামতের পূর্বে ছয়টি আলামত প্রকাশ পাবে এগুলো স্মরণে রেখো। একটি হচ্ছে আমার ওফাত। আউফ (রাযিঃ) বললেনঃ আমি একথা শুনে খুবই মর্মাহত হলাম। অতঃপর তিনি বললেনঃ এরপর বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয় এরপর তোমাদের মধ্যে এমন এক মহামারী ছড়িয়ে পড়েবে, যার দ্বারা আল্লাহ সমূহ পরিশুদ্ধ করবেন। এরপর তোমাদের হাতে অগাধ ধন সম্পদ পুঞ্জিভূত হবে, এমনকি জনপ্রতি একশ দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) পাবে, এতেও সে নাখোশ হবে। আর তোমাদের মাঝে এমন একটি ফিতনা পয়দা হবে, যা থেকে কোন মুসলমানের ঘর রেহাই পাবে না। আর তোমাদের মাঝে এমন একটি ফিতনা পয়দা হবে, যা থেকে কোন মুসলমোনের ঘর রেহাই পাবে না। এর পর বানু আসফার অর্থাৎ রোমক খ্রিস্টানদের সাথে তোমাদের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। অতঃপর তারা তোমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং আশিটি পতাকাতলে সমবেত হয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। প্রত্যেক পতাকার অধীনে বার হাজার সৈন্য থাকবে।

4043

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ الدَّرَاوَرْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرٌو، - مَوْلَى الْمُطَّلِبِ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَقْتُلُوا إِمَامَكُمْ وَتَجْتَلِدُوا بِأَسْيَافِكُمْ وَيَرِثُ دُنْيَاكُمْ شِرَارُكُمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৪০৪৩। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... হুযায়ফা ইবন ইয়ামান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের ইমাম (নেতা) -কে হত্যা করবে, (ইমাম দ্বারা উসমান, আলী, হাসান ও হুসাইনকে বুঝানো হয়েছে)। এবং নিজেদের তরবারী দ্বারা লড়ে মরবে এবং তোমাদের মন্দ ব্যক্তিরা দুনিয়ার ওয়ারিস (কর্তৃত্বের মালিক) হবে।

4044

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَوْمًا بَارِزًا لِلنَّاسِ فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَتَى السَّاعَةُ فَقَالَ ‏"‏ مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ وَلَكِنْ سَأُخْبِرُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا إِذَا وَلَدَتِ الأَمَةُ رَبَّتَهَا فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا وَإِذَا كَانَتِ الْحُفَاةُ الْعُرَاةُ رُءُوسَ النَّاسِ فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا وَإِذَا تَطَاوَلَ رِعَاءُ الْغَنَمِ فِي الْبُنْيَانِ فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا فِي خَمْسٍ لاَ يَعْلَمُهُنَّ إِلاَّ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏ فَتَلاَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏(إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الأَرْحَامِ)‏ الآيَةَ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৪৪। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ).... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবাদের সাথে বসা ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে? তিনি বললেনঃ জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চাইতে অধিক জ্ঞাত নন। তবে আমি এর কতিপয় আলামত সম্পর্কে খবর দেবঃ যখন দাসী তার প্রভুকে প্রসব করবে- তখন কিয়ামতের একটি আলামত। যখন নগ্নপদ ও নগ্নদেহ বিশিষ্ট লোকেরা সমাজের নেতা হবে, তখন এটাও কিয়ামতের আলামত । আর যখন বকরী পালের রাখালেরা সুরম্য অট্টালিকায় বসবাস করবে, তখন এটাও এর একটা আলামত। (তিনি বললেনঃ) পাঁচটি বিষয় যা আল্লাহর ছাড়া আর কেউ-ই অবহিত নন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ

إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الأَرْحَامِ
“কিয়ামাতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকট রয়েছে। তিনি বৃষ্টিবর্ষণ করেন এবং তিনি জানেন যা জরায়ুতে রয়েছে। কেহ জানে না আগামীকাল সে কি অর্জন করবে এবং কোন প্রাণী জানে না কোন স্থানে তার মৃত্যু হবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সব বিষয়ে অবহিত।” (৩১ঃ ৩৪)।
4045

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ أَلاَ أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لاَ يُحَدِّثُكُمْ بِهِ أَحَدٌ بَعْدِي سَمِعْتُهُ مِنْهُ ‏ "‏ إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يُرْفَعَ الْعِلْمُ وَيَظْهَرَ الْجَهْلُ وَيَفْشُوَ الزِّنَا وَيُشْرَبَ الْخَمْرُ وَيَذْهَبَ الرِّجَالُ وَيَبْقَى النِّسَاءُ حَتَّى يَكُونَ لِخَمْسِينَ امْرَأَةً قَيِّمٌ وَاحِدٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪০৪৫। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রাহঃ)..... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কি তোমাদের কাছে একটি হাদীস বর্ননা করবো না, যা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি? আমার পরে সেই হাদীসখানি তোমাদের কাছে কেই বর্ণনা করবে না; আমি তার থেকে শুনেছিঃ কিয়ামতের আলামত হচ্ছেঃ ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে, অজ্ঞতা প্রকাশ পাবে, যিনা ব্যভিচার ছড়িয়ে পড়বে, মদপান করা হবে, পুরুষদের মৃত্যু হবে এবং নারীরা জীবিত থাকবে। এমনকি পঞ্চাশজন স্ত্রীলোকের রক্ষণাবেক্ষণকারী হবে একজন পুরুষ।

4046

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَحْسِرَ الْفُرَاتُ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ فَيَقْتَتِلُ النَّاسُ عَلَيْهِ فَيُقْتَلُ مِنْ كُلِّ عَشَرَةٍ تِسْعَةٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৪৬। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ফুরাত নদীতে সোনার পাহাড় না জাগা পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না এবং লোকেরা সেখানে যুদ্ধ বিগ্রহ করবে। তাদের প্রতি দশজনে নয়জন মারা যাবে।

4047

حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ الْعُثْمَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏"‏ لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَفِيضَ الْمَالُ وَتَظْهَرَ الْفِتَنُ وَيَكْثُرَ الْهَرْجُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا وَمَا الْهَرْجُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ الْقَتْلُ الْقَتْلُ الْقَتْلُ ‏"‏ ‏.‏ ثَلاَثًا ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৪৭। আবু মারওয়ান উসমানী (রাহঃ)......আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ধন-সম্পদের প্রচুর্য, ফিতনা- ফাসাদ প্রকাশ ও হারাজ (حرج) এর আধিক্যতা না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। সাহাবা কিরাম (রাযিঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! 'হারাজ' কি? তিনি তিনবার বললেনঃ হত্যা, হত্যা।

কুরআন ও ইলম উঠে যাওয়া

بَاب ذَهَابِ الْقُرْآنِ وَالْعِلْمِ

4048

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ زِيَادِ بْنِ لَبِيدٍ، قَالَ ذَكَرَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ شَيْئًا فَقَالَ ‏"‏ ذَاكَ عِنْدَ أَوَانِ ذَهَابِ الْعِلْمِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ يَذْهَبُ الْعِلْمُ وَنَحْنُ نَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَنُقْرِئُهُ أَبْنَاءَنَا وَيُقْرِئُهُ أَبْنَاؤُنَا أَبْنَاءَهُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ قَالَ ‏"‏ ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ زِيَادُ إِنْ كُنْتُ لأَرَاكَ مِنْ أَفْقَهِ رَجُلٍ بِالْمَدِينَةِ أَوَلَيْسَ هَذِهِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى يَقْرَءُونَ التَّوْرَاةَ وَالإِنْجِيلَ لاَ يَعْمَلُونَ بِشَىْءٍ مِمَّا فِيهِمَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪০৪৮। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... যিয়াদ ইবন লাবীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কোন এক বিষয়ে আলোচনা করলেন। তারপর তিনি বললেনঃ এটা সে সময়কার কথা, যখন ইলম উঠে যাবে। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কিভাবে ইলম উঠে যাবে? অথচ আমরা কুরআন পড়ছি, তা আমাদের সন্তান সন্ততিদের পড়াচ্ছি এবং তারাও তা আমাদের ও তাদের সন্তান সন্ততিদের শিক্ষা দিবে কিয়ামত পর্যন্ত। তিনি বললেনঃ হে যিয়াদ! তোমার মা তোমার জন্য বিলাপ করুক। (এ আরবদের পরিভাষা, বদ দু'আ নয়)। আমি তোমাকে মদীনার অধিক বুদ্ধিমান ব্যক্তি জানতাম। এই ইয়াহুদী ও নাসারারা কি তাওরাত ও ইন্‌জীল পড়ে না, কিন্তু তারা তো এ দু'টি গ্রন্থে যা আছে, তা আমল করে না?

4049

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يَدْرُسُ الإِسْلاَمُ كَمَا يَدْرُسُ وَشْىُ الثَّوْبِ حَتَّى لاَ يُدْرَى مَا صِيَامٌ وَلاَ صَلاَةٌ وَلاَ نُسُكٌ وَلاَ صَدَقَةٌ وَلَيُسْرَى عَلَى كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فِي لَيْلَةٍ فَلاَ يَبْقَى فِي الأَرْضِ مِنْهُ آيَةٌ وَتَبْقَى طَوَائِفُ مِنَ النَّاسِ الشَّيْخُ الْكَبِيرُ وَالْعَجُوزُ يَقُولُونَ أَدْرَكْنَا آبَاءَنَا عَلَى هَذِهِ الْكَلِمَةِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَنَحْنُ نَقُولُهَا ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ صِلَةُ مَا تُغْنِي عَنْهُمْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَهُمْ لاَ يَدْرُونَ مَا صَلاَةٌ وَلاَ صِيَامٌ وَلاَ نُسُكٌ وَلاَ صَدَقَةٌ فَأَعْرَضَ عَنْهُ حُذَيْفَةُ ثُمَّ رَدَّهَا عَلَيْهِ ثَلاَثًا كُلَّ ذَلِكَ يُعْرِضُ عَنْهُ حُذَيْفَةُ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْهِ فِي الثَّالِثَةِ فَقَالَ يَا صِلَةُ تُنْجِيهِمْ مِنَ النَّارِ ‏.‏ ثَلاَثًا ‏.‏

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৪০৪৯। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)....... হুযায়ফা ইবন ইয়ামান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইসলাম পুরাতন হয়ে যাবে, যেমনিভাবে কাপড়ের উপর বুনট করা ফূল পাতা পুরাতন হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এমন অবস্থা হবে যে, কেউ জানবে না, সিয়াম কি, সালাত কি, কুরবানী কি এবং সাদাকা (যাকাত) কি জিনিস? আর মহান আল্লাহর কিতাব কতিপয় দল অবশিষ্ট থাকবে তাদের মধ্যকার বৃদ্ধ- বৃদ্ধারা এই কথা বলে বেড়াবে, আমরা আমাদের প্রিতৃপুরুষের এই কথার উপরে পেয়েছি তারা বলতেন لااله الا الله আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই)। সুতরাং আমরাও সেই কথা বলতে থাকবো। তখন তাকে সিলাহ বললেনঃ لا اله الا الله বললে তাদের কি ফায়দা হবে? অথচ তারা জানে না সালাত কি, সিয়াম কি, কুরবানী কি, এবং সাদাকা কি? হুযায়ফা (রাযিঃ) তার দিক থেকে তিন বার মুখ ফিরিয়ে নিলেন। কিন্তু সিলাহ ইবন যুফার (রাহঃ) কথাটি হুয়ায়াফা (রাযিঃ)-এর কাছে তিনবার বললেন। কিন্তু প্রত্যেকবারই তিনি প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন। অতঃপর তৃতীয়বারে তিনি তার দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেনঃ হে সিলাহ। এই কলিমা তাদেরকে জাহান্নাম থেকে নাজাত দিবে- এই কথাটি তিনি তিনবার বললেন।

4050

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَوَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يَكُونُ بَيْنَ يَدَىِ السَّاعَةِ أَيَّامٌ يُرْفَعُ فِيهَا الْعِلْمُ وَيَنْزِلُ فِيهَا الْجَهْلُ وَيَكْثُرُ فِيهَا الْهَرْجُ ‏"‏ ‏.‏ وَالْهَرْجُ الْقَتْلُ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪০৫০। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন নুমায়র (রাহঃ).... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের পূর্বক্ষণে এমন একটা কাল আসবে, যখন ইল্‌ম উঠিয়ে নেওয়া হবে, এবং অজ্ঞতা প্রসারিত হবে, হারাজ বৃদ্ধি পাবে। আর হারাজ হলোঃ হত্যা।

4051

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِنَّ مِنْ وَرَائِكُمْ أَيَّامًا يَنْزِلُ فِيهَا الْجَهْلُ وَيُرْفَعُ فِيهَا الْعِلْمُ وَيَكْثُرُ فِيهَا الْهَرْجُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْهَرْجُ قَالَ ‏"‏ الْقَتْلُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৪০৫১। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন নুমায়র ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ).... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের পরে এমন যুগ আসবে, যখন অজ্ঞতা ছেয়ে যাবে এবং ইল্‌ম উঠিয়ে নেওয়া হবে, আর 'হারজ' বৃদ্ধি পাবে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! 'হারজ' কি? তিনি বললেনঃ 'হারজ' হলোঃ হত্যা আর হত্যা।

4052

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَرْفَعُهُ قَالَ ‏"‏ يَتَقَارَبُ الزَّمَانُ وَيَنْقُصُ الْعِلْمُ وَيُلْقَى الشُّحُّ وَتَظْهَرُ الْفِتَنُ وَيَكْثُرُ الْهَرْجُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْهَرْجُ قَالَ ‏"‏ الْقَتْلُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৫২। আবু বাকর (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মারফু সনদে বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যামানা সংক্ষিপ্ত হয়ে যাবে (বিলাস ব্যসনের দরুণ)। 'ইলম' হ্রাস পাবে এবং কৃপণতা বিস্তৃত হবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে, এবং হারজ বৃদ্ধি পাবে। তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! 'হারজ' কি? তিনি বললেনঃ কতল বা হত্যা।

আমানত উঠে যাওয়া

بَاب ذَهَابِ الْأَمَانَةِ

4053

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ حَدِيثَيْنِ قَدْ رَأَيْتُ أَحَدَهُمَا وَأَنَا أَنْتَظِرُ الآخَرَ حَدَّثَنَا ‏"‏ أَنَّ الأَمَانَةَ نَزَلَتْ فِي جَذْرِ قُلُوبِ الرِّجَالِ ‏"‏ ‏.‏ - قَالَ الطَّنَافِسِيُّ يَعْنِي وَسْطَ قُلُوبِ الرِّجَالِ - وَنَزَلَ الْقُرْآنُ فَعَلِمْنَا مِنَ الْقُرْآنِ وَعَلِمْنَا مِنَ السُّنَّةِ ‏.‏ ثُمَّ حَدَّثَنَا عَنْ رَفْعِهِمَا فَقَالَ ‏"‏ يَنَامُ الرَّجُلُ النَّوْمَةَ فَتُرْفَعُ الأَمَانَةُ مِنْ قَلْبِهِ فَيَظَلُّ أَثَرُهَا كَأَثَرِ الْوَكْتِ ثُمَّ يَنَامُ النَّوْمَةَ فَتُنْزَعُ الأَمَانَةُ مِنْ قَلْبِهِ فَيَظَلُّ أَثَرُهَا كَأَثَرِ الْمَجْلِ كَجَمْرٍ دَحْرَجْتَهُ عَلَى رِجْلِكَ فَنَفِطَ فَتَرَاهُ مُنْتَبِرًا وَلَيْسَ فِيهِ شَىْءٌ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ أَخَذَ حُذَيْفَةُ كَفًّا مِنْ حَصًى فَدَحْرَجَهُ عَلَى سَاقِهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَيُصْبِحُ النَّاسُ يَتَبَايَعُونَ وَلاَ يَكَادُ أَحَدٌ يُؤَدِّي الأَمَانَةَ حَتَّى يُقَالَ إِنَّ فِي بَنِي فُلاَنٍ رَجُلاً أَمِينًا ‏.‏ وَحَتَّى يُقَالَ لِلرَّجُلِ مَا أَعْقَلَهُ وَأَجْلَدَهُ وَأَظْرَفَهُ ‏.‏ وَمَا فِي قَلْبِهِ حَبَّةُ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ ‏"‏ ‏.‏ وَلَقَدْ أَتَى عَلَىَّ زَمَانٌ وَلَسْتُ أُبَالِي أَيَّكُمْ بَايَعْتُ لَئِنْ كَانَ مُسْلِمًا لَيَرُدَّنَّهُ عَلَىَّ إِسْلاَمُهُ وَلَئِنْ كَانَ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَانِيًّا لَيَرُدَّنَّهُ عَلَىَّ سَاعِيهِ فَأَمَّا الْيَوْمَ فَمَا كُنْتُ لأُبَايِعَ إِلاَّ فُلاَنًا وَفُلاَنًا ‏.‏

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৪০৫৩। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... হুযায়ফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট দু'টি হাদীস বর্ণনা করলেন, যার একটা আমি নিজেই প্রত্যক্ষ করেছি এবং আমি অপরটির অপেক্ষায় আছি। তিনি বলেছেনঃ আমানত লোকদের অন্তকরণ থেকে উঠে যাবে। তানাফেসী (রাহঃ) বলেনঃ অর্থাৎ মানুষের অন্তরের মধ্যস্থল। অতঃপর কুরআন নাযিল হলো এবং শিক্ষা করলাম এবং সুন্নাহ থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করলাম । অতঃপর তিনি আমাদের নিকট আমানত উঠে যাওয়ার অবস্থা বর্ণনা করেন। তখন তিনি বলেনঃ মানুষ গভীর নিদ্রায় থাকবে, তখন তার কাল্‌ব থেকে আমানত উঠিয়ে নেওয়া হবে। অবশ্য তার একটা চিহ্ন বিন্দুর আকারে তার কলবে থেকে যাবে। অতঃপর সে নিদ্রায় বিভোর থাকবে, তখন তার অন্তর থেকে আমানতকে উঠিয়ে নেওয়া হবে। তবে তার নিদর্শন ফোঁসকা উঠার মত রয়ে যাবে। যেমনিভাবে একটি আগুনের প্রজ্জ্বলিত শিখা পায়ে লাগিয়ে দিলে ফোসকা পড়ে যায়। তখন তুমি তা ফোলা অবস্থায় দেখতে পাবে, কিন্তু তার কিছুই নেই। অতঃপর হুযায়ফা (রাযিঃ) হাতের মুটি ভরে মাটি নিলেন এবং নিজের হাটুর নীচে ছড়িয়ে দিলেন। তিনি বলেনঃ লোকেরা সকাল বেলা বায়'আত গ্রহণ করবে, কিন্তু তাদের মধ্যে কেউই আমানতদার থাকবে না, শেষ পর্যন্ত বলা হবে যে, অমুক গোত্রে একজন আমানতদার লোক আছে। এমনকি এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হবেঃ সে কতবড় জ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান, ভদ্র ও শরীফ, কিন্তু তার অন্তরে সরিষার দানা বরাবর ঈমানও থাকেবে না। আমার উপরেই একটি যুগ অতিবাহিত হয়েছে। তবে তোমাদের মধ্য থেকে কারও কাছ থেকে বায়'আত গ্রহণে আমার কোন পরোয়া ছিল না। যদি সে মুসলমান হয়, তাহলে তার ইসলামই তাকে অন্যায় পথ থেকে ফিরিয়ে রাখবে। কিন্তু যদি সে ইয়াহুদী কিংবা নাসারা হয়, তাহলে তাদের চেষ্টা আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে আজকের দিনে অমুক, অমুক ব্যক্তি ব্যতিরেকে আমি কারোর কাছে বায়'আত গ্রহণ করতে পারছি না।

4054

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، عَنْ أَبِي شَجَرَةَ، كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُهْلِكَ عَبْدًا نَزَعَ مِنْهُ الْحَيَاءَ فَإِذَا نَزَعَ مِنْهُ الْحَيَاءَ لَمْ تَلْقَهُ إِلاَّ مَقِيتًا مُمَقَّتًا فَإِذَا لَمْ تَلْقَهُ إِلاَّ مَقِيتًا مُمَقَّتًا نُزِعَتْ مِنْهُ الأَمَانَةُ فَإِذَا نُزِعَتْ مِنْهُ الأَمَانَةُ لَمْ تَلْقَهُ إِلاَّ خَائِنًا مُخَوَّنًا فَإِذَا لَمْ تَلْقَهُ إِلاَّ خَائِنًا مُخَوَّنًا نُزِعَتْ مِنْهُ الرَّحْمَةُ فَإِذَا نُزِعَتْ مِنْهُ الرَّحْمَةُ لَمْ تَلْقَهُ إِلاَّ رَجِيمًا مُلَعَّنًا فَإِذَا لَمْ تَلْقَهُ إِلاَّ رَجِيمًا مُلَعَّنًا نُزِعَتْ مِنْهُ رِبْقَةُ الإِسْلاَمِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪০৫৪। মুহাম্মাদ ইব্‌ন মুসাফ্ফা (রাহঃ)..... ইব্‌ন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে ধ্বংস করতে চান, তখন তার থেকে লজ্জা শরম কেড়ে নেন। আর যখন তিনি তার থেকে লজ্জা শরম ছিনিয়ে নেন, তখন তিনি তার উপর সর্বদা ক্রোধান্বিত থাকেন। সর্বক্ষণ তার উপরে আল্লাহর গযব থাকার কারণে তার অন্তর থেকে আমানত উঠিয়ে নেওয়া হয়। আর যখন তার আমানত উঠিয়ে নেওয়া হবে, তখন তুমি তাকে চরম বিশ্বাসঘাতক ব্যতীত আর কিছুই পাবে না। আর যখন তুমি তাকে বিশ্বাসঘাতক ছাড়া আর কিছুই পাবে না, তখন তার থেকে রহমত উঠিয়ে নেওয়া হবে। আর যখন তার থেকে রহমাত উঠিয়ে নেওয়া হবে, তখন তুমি তাকে একটা বিতাড়িত (শয়তান) পাবে। আর যখন তুমি তাকে অভিশপ্ত, বিতাড়িত (শয়তান) হিসাবে পাবে, তখন ইসলামের রশি তার কাঁধ থেকে উঠিয়ে নেওয়া হবে।

কিয়ামতের আলামত

بَاب الْآيَاتِ

4055

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ فُرَاتٍ الْقَزَّازِ، عَنْ عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ أَبِي الطُّفَيْلِ الْكِنَانِيِّ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ أَسِيدٍ أَبِي سَرِيحَةَ، قَالَ اطَّلَعَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مِنْ غُرْفَةٍ وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ السَّاعَةَ فَقَالَ ‏ "‏ لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَكُونَ عَشْرُ آيَاتٍ طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَالدَّجَّالُ وَالدُّخَانُ وَالدَّابَّةُ وَيَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَخُرُوجُ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ وَثَلاَثُ خُسُوفٍ خَسْفٌ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفٌ بِالْمَغْرِبِ وَخَسْفٌ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَنَارٌ تَخْرُجُ مِنْ قَعْرِ عَدَنِ أَبْيَنَ تَسُوقُ النَّاسَ إِلَى الْمَحْشَرِ تَبِيتُ مَعَهُمْ إِذَا بَاتُوا وَتَقِيلُ مَعَهُمْ إِذَا قَالُوا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আবু সারীহা হুযায়ফা ইবনে আসীদ (রাঃ)

৪০৫৫। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ).... হুযায়ফা ইবন আসীদ আবু সারীহা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুজরা শরীফ থেকে বের হলেন, আর এ সময় আমরা কিয়ামত সম্পর্কে পরস্পরে আলোচনা করছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ দশটি আলামত (পর্বলক্ষণ) প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় হওয়া, মাসীহ দাজ্জালের আবির্ভাব, ধুঁয়া হওয়া, দাব্বাতুল ও ইয়াজূজ মা'জুজের আবির্ভাব। (নুহ্ (আ) -এর পুত্র ইয়াফেস এর বংশধরদের থেকে এই দু'টো সম্প্ৰদায় আবির্ভূত হবে)। ঈসা ইব্‌ন মারয়াম (আ)-এর অবতরণ, তিনটি ভূমিধস: পূর্বাদেশে ভূমিধস পাওয়া, পশ্চিম দেশে ভূমিধস হওয়া আর জাযীরাতুল আরবে ভূমিধস হওয়া। এডেনের নিম্নভূমি 'আবইয়ান' নামক স্থান থেকে এক আগুন ছড়িয়ে পড়বে, তা মানুষকে হাশরের ময়দানের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে। এই আগুন তাদের সাথে রাত্রিবাস করবে, যখন তারা (মানুষেরা) রাতে অবস্থান করবে এবং তা তাদের সাথে দ্বিপ্রহরে আরাম করবে। যখন তারা কায়লুল্লাহ করবে।

4056

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، وَابْنُ، لَهِيعَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سِنَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ بَادِرُوا بِالأَعْمَالِ سِتًّا طُلُوعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَالدُّخَانَ وَدَابَّةَ الأَرْضِ وَالدَّجَّالَ وَخُوَيْصَّةَ أَحَدِكُمْ وَأَمْرَ الْعَامَّةِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪০৫৬। হারমালাহ ইব্‌ন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)...... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ছয়টি জিনিস প্রকাশিত হওয়ার পূর্বেই নেক আমল সম্পাদনে জলদি করঃ পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় হওয়া, ধুঁয়া হওয়া, দাব্বাতুল আরদা এর প্রকাশ পাওয়া, দাজ্জালের আবির্ভাব হওয়া এবং তোমাদের প্রত্যেকের জন্য বিশেষ বিপদ (মৃত্যু) আসা। আর পর্থিব কাজের ব্যস্ততা নেককাজ থেকে বিরত থাকা।

4057

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا عَوْنُ بْنُ عُمَارَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُثَنَّى بْنِ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الآيَاتُ بَعْدَ الْمِائَتَيْنِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৪০৫৭। হাসান ইব্‌ন আলী আল-খাল্লাল (রাহঃ)....... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের (ছোট) আলামতসমূহ দুইশত বছর পরে প্রকাশ পাবে।

4058
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا نُوحُ بْنُ قَيْسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَعْقِلٍ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏"‏ أُمَّتِي عَلَى خَمْسِ طَبَقَاتٍ فَأَرْبَعُونَ سَنَةً أَهْلُ بِرٍّ وَتَقْوَى ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةِ سَنَةٍ أَهْلُ تَرَاحُمٍ وَتَوَاصُلٍ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ إِلَى سِتِّينَ وَمِائَةِ سَنَةٍ أَهْلُ تَدَابُرٍ وَتَقَاطُعٍ ثُمَّ الْهَرْجُ الْهَرْجُ النَّجَا النَّجَا ‏"‏ ‏.‏
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا خَازِمٌ أَبُو مُحَمَّدٍ الْعَنَزِيُّ، حَدَّثَنَا الْمِسْوَرُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي مَعْنٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ أُمَّتِي عَلَى خَمْسِ طَبَقَاتٍ كُلُّ طَبَقَةٍ أَرْبَعُونَ عَامًا فَأَمَّا طَبَقَتِي وَطَبَقَةُ أَصْحَابِي فَأَهْلُ عِلْمٍ وَإِيمَانٍ وَأَمَّا الطَّبَقَةُ الثَّانِيَةُ مَا بَيْنَ الأَرْبَعِينَ إِلَى الثَّمَانِينَ فَأَهْلُ بِرٍّ وَتَقْوَى ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَهُ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪০৫৮। নসর ইবন আলী জাহযামী (রাহঃ).... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার উম্মাত পাঁচটি স্তরে বিভক্ত হবেঃ চল্লিশ বছর পর্যন্ত নেক ও মুত্তাকীরা থাকবেন। পরবর্তী একশত বিশ বছর থাকবেন সে সব লোক, যারা পারস্পরিক সহানুভূতি ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বহাল রাখবেন। তৎপরবর্তী একশত ষাট বছর পর্যন্ত সে সব লোক অবস্থান করবে, যারা আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদ করবে। একে অন্যের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে। তৎপরবর্তীকালে শুধুমাত্র কতল, আর কতল বাকী থাকবে। এর থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাও।

নসর ইবন আলী (রাহঃ)...... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মাত পাঁচটি স্তরে বিন্যস্ত হবেঃ প্রত্যেকটি স্তর চল্লিশ বছর স্থায়ী হবে। তবে আমার ও আমার সাহাবীদের দলটি (স্তরটি) হবে জ্ঞানী-গুনী ও ঈমানদারদের (দল)। আর দ্বিতীয় স্তর চল্লিশ থেকে আশি বছর পর্যন্ত নেককার ও মুত্তাকীদের যামানা। অতঃপর তিনি উপরোক্ত হাদীসের অনূরূপ কর্ননা করেন।

ভূমি ধস

بَاب الْخُسُوفِ

4059

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا بَشِيرُ بْنُ سَلْمَانَ، عَنْ سَيَّارٍ، عَنْ طَارِقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ بَيْنَ يَدَىِ السَّاعَةِ مَسْخٌ وَخَسْفٌ وَقَذْفٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪০৫৯। নসর ইব্‌ন আলী জাহযামী (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) সুত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামতের পূর্বে মাসখ (চেহারা বিকৃতি) খাসফ (ভূমিধস) এবং কাযফ (শিলাবৃষ্টি) হবে।

4060

حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي حَازِمِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ يَكُونُ فِي آخِرِ أُمَّتِي خَسْفٌ وَمَسْخٌ وَقَذْفٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৪০৬০। আবু মুসআব (রাহঃ)...... সাহল ইবন সা'দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছেনঃ আমার শেষ যামানার উম্মাতের মাঝে ভূমিধস হবে, চেহারা বিকৃতি ঘটবে এবং শিলাবৃষ্টি হবে।

4061

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، حَدَّثَنَا أَبُو صَخْرٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى ابْنَ عُمَرَ فَقَالَ إِنَّ فُلاَنًا يَقْرَأُ عَلَيْكَ السَّلاَمَ قَالَ إِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّهُ قَدْ أَحْدَثَ فَإِنْ كَانَ قَدْ أَحْدَثَ فَلاَ تُقْرِئْهُ مِنِّي السَّلاَمَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ يَكُونُ فِي أُمَّتِي - أَوْ فِي هَذِهِ الأُمَّةِ - مَسْخٌ وَخَسْفٌ وَقَذْفٌ ‏"‏ ‏.‏ وَذَلِكَ فِي أَهْلِ الْقَدَرِ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪০৬১। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (রাহঃ)...... নাফি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি ইবন উমার (রাযিঃ)-এর কাছে এসে বলেন, অমুক ব্যক্তি আপনাকে সালাম জানিয়েছে। তিনি বললেনঃ আমার কাছে খবর এসেছে যে, সে দ্বীনের মাঝে নতুন জিনিস (বিদ'আত) উদ্ভাবন করেছে। যদি সে সত্যিই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন করে থাকে, তাহলে আমার পক্ষ থেকে তাকে সালাম দিও না। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, আমার উম্মাতের মাঝে অথবা এই উম্মাতের মধ্যে চেহারা বিকৃতি, ভূমিধস ও শিলাবৃষ্টি হবে। আর তা 'আহলুল কাদর' (কাদেরিয়া-তাকদীর অস্বীকারকারী সম্প্রদায়ের) এর মাঝেই সংঘটিত হবে।

4062

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يَكُونُ فِي أُمَّتِي خَسْفٌ وَمَسْخٌ وَقَذْفٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪০৬২। আবু কুরায়ব (রাহঃ)....... আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মাঝে খাসফ, মাসখ ও কাযফ (চেহারা বিকৃতি, ভূমিধস ও শিলাবৃষ্টি) প্রকাশ পাবে।

'বায়দা'-এর সেনাবাহিনী

بَاب جَيْشِ الْبَيْدَاءِ

4063

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أُمَيَّةَ بْنِ صَفْوَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَفْوَانَ، سَمِعَ جَدَّهُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ صَفْوَانَ، يَقُولُ أَخْبَرَتْنِي حَفْصَةُ، أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ لَيَؤُمَّنَّ هَذَا الْبَيْتَ جَيْشٌ يَغْزُونَهُ حَتَّى إِذَا كَانُوا بِبَيْدَاءَ مِنَ الأَرْضِ خُسِفَ بِأَوْسَطِهِمْ وَيَتَنَادَى أَوَّلُهُمْ آخِرَهُمْ فَيُخْسَفُ بِهِمْ فَلاَ يَبْقَى مِنْهُمْ إِلاَّ الشَّرِيدُ الَّذِي يُخْبِرُ عَنْهُمْ ‏"‏ ‏.‏ فَلَمَّا جَاءَ جَيْشُ الْحَجَّاجِ ظَنَنَّا أَنَّهُمْ هُمْ فَقَالَ رَجُلٌ أَشْهَدُ عَلَيْكَ أَنَّكَ لَمْ تَكْذِبْ عَلَى حَفْصَةَ وَ أَنَّ حَفْصَةَ لَمْ تَكْذِبْ عَلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

৪০৬৩। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)....... হাফসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেনঃ এই কা'বা ঘরের উদ্দেশ্যে একটি সেনাদল মক্কাবাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে উদ্যত হবে, তারা ‘বায়দা' অঞ্চলে অবস্থান করবে। (যুল- হুলায়ফার নিকটবর্তী একটি স্থানের নাম'বায়দা')। (তারা বায়দা প্রান্তরে আসলে) তাদের মধ্যভাগ যমীনে ধসে যাবে এবং ভূমি ধসের সময় যারা সামনে যেতে থাকবে, তারা পেছেনের লোকদের আওয়াজ দিতে থাকবে, তাদেরও যমীনে ধসিয়ে দেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত তাদের কেহ অবশিষ্ট থাকবে না। তবে একজন দূত রক্ষা পাবে, যে তাদের সম্পর্কিত সংবাদ দিবে। অতঃপর যখন হাজ্জাজের বাহিনী (আব্দুল্লাহ ইবন যুবায়র (রাযিঃ)-এর সাথে লড়াই এর নিমিত্তে মক্কা মুয়াযযামায়) আসে, তখন আমরা ধারণা করলাম, নিশ্চয় এরাই হলো তারা। তখন এক ব্যক্তি বললো, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তোমরা হাফসা (রাযিঃ)-এর প্রতি মিথ্যারোপ করো নি এবং হাফসা (রাযিঃ) ও নবী (ﷺ)-এর প্রতি মিথ্যারোপ করেননি।

4064

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْمُرْهِبِيِّ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ صَفْوَانَ، عَنْ صَفِيَّةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ لاَ يَنْتَهِي النَّاسُ عَنْ غَزْوِ هَذَا الْبَيْتِ حَتَّى يَغْزُوَ جَيْشٌ حَتَّى إِذَا كَانُوا بِالْبَيْدَاءِ - أَوْ بَيْدَاءَ مِنَ الأَرْضِ - خُسِفَ بِأَوَّلِهِمْ وَآخِرِهِمْ وَلَمْ يَنْجُ أَوْسَطُهُمْ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ فَإِنْ كَانَ فِيهِمْ مَنْ يُكْرَهُ قَالَ ‏"‏ يَبْعَثُهُمُ اللَّهُ عَلَى مَا فِي أَنْفُسِهِمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪০৬৪। আবু বাকর ইব্‌ন শায়বা (রাহঃ)......সাফিয়্যাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ লোকেরা এই কা'বা ঘরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে বিরত হবে না। এমনকি একটি সেনাদল লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে, যারা ‘বায়দা’ অঞ্চল (অথবা বায়দার অন্য কোন এলাকায় উপস্থিত হবে)। তাদের অগ্রবর্তী বাহিনী এবং পশ্চাদবর্তী বাহিনী ভূমিধসে পতিত হবে। আর তাদের অধ্যবর্তী বাহিনীও রেহাই পাবে না।

আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! যদি কেউ বল প্রয়োগের কারণে এই বাহিনীতে শামিল হয়? তিনি বললেনঃ কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে তাদের স্ব-স্ব নিয়্যাত অনুসারে উঠাবেন।
4065

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، وَنَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَمَّالُ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ، سَمِعَ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرٍ، يُخْبِرُ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ ذَكَرَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ الْجَيْشَ الَّذِي يُخْسَفُ بِهِمْ فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَعَلَّ فِيهِمُ الْمُكْرَهُ قَالَ ‏ "‏ إِنَّهُمْ يُبْعَثُونَ عَلَى نِيَّاتِهِمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৪০৬৫। মুহাম্মাদ ইব্‌ন সাববাহ, নসর ইবন আলী আব্দুল্লাহ ও হারূন ইব্‌ন আব্দুল্লাহ্ হাম্মাল (রাহঃ)...... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সেই বাহিনীর কথা উল্লেখ করলেন, যাদের যমীনে ধসিয়ে দেওয়া হবে। তখন উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! সম্ভবতঃ সে বাহিনীতে এমন লোক ও থাকে, যাদেরকে জবরদস্তি আনা হবে? তিনি বললেনঃ তাদেরকে তাদের নিয়্যাত অনুসারে হাশরের ময়দানে উঠানো হবে।

দাব্বাতুল আরদ

بَاب دَابَّةِ الْأَرْضِ

4066
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَوْسِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ تَخْرُجُ الدَّابَّةُ وَمَعَهَا خَاتَمُ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ وَعَصَا مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ عَلَيْهِمَا السَّلاَمُ فَتَجْلُو وَجْهَ الْمُؤْمِنِ بِالْعَصَا وَ تَخْطِمُ أَنْفَ الْكَافِرِ بِالْخَاتَمِ حَتَّى أَنَّ أَهْلَ الْحِوَاءِ لَيَجْتَمِعُونَ فَيَقُولُ هَذَا يَا مُؤْمِنُ وَيَقُولُ هَذَا يَا كَافِرُ ‏"‏ ‏.‏
قَالَ أَبُو الْحَسَنِ الْقَطَّانُ حَدَّثَنَاهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، فَذَكَرَ نَحْوَهُ وَقَالَ فِيهِ مَرَّةً فَيَقُولُ هَذَا يَا مُؤْمِنُ ‏.‏ وَهَذَا يَا كَافِرُ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৬৬। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দাব্বাতুল আরদ বের হবে, এবং এদের সাথে সুলায়মান ইবন দাউদের আংটি এবং মুসা ইবন ইমরান (আ)-এর লাঠি থাকবে। তারা লাঠি দিয়ে মু'মিনের চেহারা আলোকিত করবে এবং সিল মোহর দিয়ে কাফিরদের নাকে দাগ বসিয়ে দিবে। পরিশেষে, এক মহাল্লাবাসী একত্রে জমায়েত হবে। সে বলবেঃ হে মু'মিন। সে বলবেঃ হে কাফির।

আবুল হাসান কাত্তান, ইবরহীম ইবন ইয়াহইয়া মুসা ইবন ইসমাঈল ও হাম্মাদ ইবন সালামা (রাযিঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবুল হাসান (রাহঃ)এ বর্ণনা প্রসঙ্গে একবার বলেনঃ সে বলবেঃ হে মু'মিন। সে বলবেঃ হে কাফির।
4067

حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو زُنَيْجٌ حَدَّثَنَا أَبُو تُمَيْلَةَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ ذَهَبَ بِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى مَوْضِعٍ بِالْبَادِيَةِ قَرِيبٍ مِنْ مَكَّةَ فَإِذَا أَرْضٌ يَابِسَةٌ حَوْلَهَا رَمْلٌ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَخْرُجُ الدَّابَّةُ مِنْ هَذَا الْمَوْضِعِ فَإِذَا فِتْرٌ فِي شِبْرٍ قَالَ ابْنُ بُرَيْدَةَ فَحَجَجْتُ بَعْدَ ذَلِكَ بِسِنِينَ فَأَرَانَا عَصًا لَهُ فَإِذَا هُوَ بِعَصَايَ هَذِهِ هَكَذَا وَهَكَذَا.

Narrator: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

৪০৬৭। আবু গাসসান, মুহাম্মাদ ইবন আমর যুনাইজ (রাহঃ)...... বুরায়দা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে মক্কার অদূরে একটি জঙ্গলে নিয়ে গেলেন। স্থানটি ছিল শুস্ক এবং এর চারিদিকে ছিল বালু। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এ স্থান থেকে 'দাব্বাতুল আরদ' বের হবে। আমি সেখানে এক বিঘৎ পরিমাণ একটি চিহ্ন দেখতে পেলাম।

ইবন যুরায়দাহ (রাহঃ) বললেনঃ এরপর আমি কয়েক বছর হাজ্জ পালন করি। সে সময় তিনি আমাদের একখানা লাঠি দেখান, আর লাঠিটি ছিল- এরূপ এরূপ ।

পশ্চিমাকাশ থেকে সূর্যোদয়

بَاب طُلُوعِ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا

4068

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا فَإِذَا طَلَعَتْ وَرَآهَا النَّاسُ آمَنَ مَنْ عَلَيْهَا فَذَلِكَ حِينَ لاَ يَنْفَعُ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৬৮। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছিঃ পশ্চিম দিক হতে সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। আর যখন তা উদিত হবে এবং লোকেরা তা দেখবে, তখন যারা যমীনের উপর থাকবে তারা ঈমান আনবে। তবে সে ঈমান আনায় কারো উপকারো আসবে না। যদি এর আগে ঈমান না এনে থাকে।

4069

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ أَوَّلُ الآيَاتِ خُرُوجًا طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَخُرُوجُ الدَّابَّةِ عَلَى النَّاسِ ضُحًى ‏"‏ ‏.‏ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَأَيَّتُهُمَا مَا خَرَجَتْ قَبْلَ الأُخْرَى فَالأُخْرَى مِنْهَا قَرِيبٌ ‏.‏ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ وَلاَ أَظُنُّهَا إِلاَّ طُلُوعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪০৬৯। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের আলামত হিসাবে সর্বপ্রথম যা প্রকাশ পাবে, তা হলো- পশ্চিম দিক হতে সূর্যোদয় হওয়া এবং দিনের প্রথম ভাগে মানুষের সামনে 'দাব্বাতুল আরদ'-এর বের হওয়া।
আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেনঃ এই দুইয়ের যেটাই প্রথম প্রকাশ পাবে, দ্বিতীয়টি তার নিকটবর্তী হবে।
আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) আরও বলেনঃ আমরা ধারণা মতে, সর্বপ্রথম পশ্চিম দিক হতে সূর্যোদয় হবে।
4070

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ مِنْ قِبَلِ مَغْرِبِ الشَّمْسِ بَابًا مَفْتُوحًا عَرْضُهُ سَبْعُونَ سَنَةً فَلاَ يَزَالُ ذَلِكَ الْبَابُ مَفْتُوحًا لِلتَّوْبَةِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ نَحْوِهِ فَإِذَا طَلَعَتْ مِنْ نَحْوِهِ لَمْ يَنْفَعْ نَفْسًا إِيمَانُهَا لَمْ تَكُنْ آمَنَتْ مِنْ قَبْلُ أَوْ كَسَبَتْ فِي إِيمَانِهَا خَيْرًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: সাফওয়ান ইবনে আসসাল (রাঃ)

৪০৭০। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... সাফওয়ান ইব্‌ন আসসাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পশ্চিম দিকে একটা খোলা দরজা রয়েছে, যার প্রস্থ সত্তর বছরের পথ। এই দরজাটি সর্বক্ষণ তাওবা কবুলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যতক্ষণ না এই দিক থেকে (পশ্চিম দিক হতে) সূর্যোদয় হবে, তখন কোন ব্যক্তির জন্যই ঈমান আনা ফলপ্রসূ হবে না, যদি সে ইতিপূর্বে ঈমান না আনে কিংবা ঈমানের সাথে নেক আমল না করে।

দাজ্জালের ফিতনা, ঈসা ইবন মারইয়ামের অবতরণ
ও ইয়াজুজ-মাজুজের বের হওয়া

بَاب فِتْنَةِ الدَّجَالِ وَخُرُوجِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَخُرُوجِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ

4071

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الدَّجَّالُ أَعْوَرُ عَيْنِ الْيُسْرَى جُفَالُ الشَّعَرِ مَعَهُ جَنَّةٌ وَنَارٌ فَنَارُهُ جَنَّةٌ وَجَنَّتُهُ نَارٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৪০৭১। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়র ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... হুযায়ফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দাজ্জালের ডান চোখ কানা হবে, কোঁকড়ানো চুল হবে, তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম থাকবে। তার জাহান্নাম হবে জান্নাত এবং জান্নাত হবে জাহান্নাম।

দাজ্জালের ফিতনা, ঈসা ইবন মারইয়ামের অবতরণ ও ইয়াজুজ-মাজুজের বের হওয়া

بَاب فِتْنَةِ الدَّجَالِ وَخُرُوجِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَخُرُوجِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ

4072

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالُوا حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ سُبَيْعٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، قَالَ حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ أَنَّ الدَّجَّالَ يَخْرُجُ مِنْ أَرْضٍ بِالْمَشْرِقِ يُقَالُ لَهَا خُرَاسَانُ يَتْبَعُهُ أَقْوَامٌ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْمَجَانُّ الْمُطْرَقَةُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)

৪০৭২। নসর ইব্‌ন জাহযামী (রাহঃ)........ আবু বাকর সিদ্দীক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, দাজ্জাল প্রাচ্যের খোরাসান অঞ্চল থেকে বের হবে। তাদের সাথে এমন লোকজন থাকবে, যাদের মুখাবয়ব হবে ভাঁজযুক্ত। (গোল চেহারা, মাংসল কপোল যেমন তুর্কী জাতি)

4073

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ مَا سَأَلَ أَحَدٌ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَنِ الدَّجَّالِ أَكْثَرَ مِمَّا سَأَلْتُهُ - وَقَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ أَشَدَّ سُؤَالاً مِنِّي - فَقَالَ لِي ‏"‏ مَا تَسْأَلُ عَنْهُ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ إِنَّهُمْ يَقُولُونَ إِنَّ مَعَهُ الطَّعَامَ وَالشَّرَابَ قَالَ ‏"‏ هُوَ أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ مِنْ ذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

৪০৭৩। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন নুমায়র ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)..... মুগীরাহ ইব্‌ন শু’বা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) -এর কাছে দাজ্জাল সম্পর্কে আমার চাইতে বেশী প্রশ্ন আর কেউ করেনি। (ইবন নুমায়র (রাহঃ) এর রিওয়ায়েত অর্থাৎ আমার চাইতে কঠিনতর প্রশ্ন আর কেউ করেনি' উল্লেখ আছে)। অতঃপর তিনি আমাকে বললেনঃ তুমি তার সম্পর্কে কি জানতে চাচ্ছ? আমি বললামঃ লোকেরা বলাবলী করছে যে, তার সাথে না কি পানাহার সামগ্রী থাকে। তিনি বললেনঃ আল্লাহর পক্ষে তো তা এর চাইতে অধিক সহজ।

4074

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنْ مُجَالِدٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ قَالَتْ صَلَّى رَسُولُ اللهِ ﷺ ذَاتَ يَوْمٍ وَصَعِدَ الْمِنْبَرَ وَكَانَ لَا يَصْعَدُ عَلَيْهِ قَبْلَ ذَلِكَ إِلَّا يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَى النَّاسِ فَمِنْ بَيْنِ قَائِمٍ وَجَالِسٍ فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ بِيَدِهِ أَنْ اقْعُدُوا فَإِنِّي وَاللهِ مَا قُمْتُ مَقَامِي هَذَا لِأَمْرٍ يَنْفَعُكُمْ لِرَغْبَةٍ وَلَا لِرَهْبَةٍ وَلَكِنَّ تَمِيمًا الدَّارِيَّ أَتَانِي فَأَخْبَرَنِي خَبَرًا مَنَعَنِي الْقَيْلُولَةَ مِنْ الْفَرَحِ وَقُرَّةِ الْعَيْنِ فَأَحْبَبْتُ أَنْ أَنْشُرَ عَلَيْكُمْ فَرَحَ نَبِيِّكُمْ أَلَا إِنَّ ابْنَ عَمٍّ لِتَمِيمٍ الدَّارِيِّ أَخْبَرَنِي أَنَّ الرِّيحَ أَلْجَأَتْهُمْ إِلَى جَزِيرَةٍ لَا يَعْرِفُونَهَا فَقَعَدُوا فِي قَوَارِبِ السَّفِينَةِ فَخَرَجُوا فِيهَا فَإِذَا هُمْ بِشَيْءٍ أَهْدَبَ أَسْوَدَ قَالُوا لَهُ مَا أَنْتَ قَالَ أَنَا الْجَسَّاسَةُ قَالُوا أَخْبِرِينَا قَالَتْ مَا أَنَا بِمُخْبِرَتِكُمْ شَيْئًا وَلَا سَائِلَتِكُمْ وَلَكِنْ هَذَا الدَّيْرُ قَدْ رَمَقْتُمُوهُ فَأْتُوهُ فَإِنَّ فِيهِ رَجُلًا بِالْأَشْوَاقِ إِلَى أَنْ تُخْبِرُوهُ وَيُخْبِرَكُمْ فَأَتَوْهُ فَدَخَلُوا عَلَيْهِ فَإِذَا هُمْ بِشَيْخٍ مُوثَقٍ شَدِيدِ الْوَثَاقِ يُظْهِرُ الْحُزْنَ شَدِيدِ التَّشَكِّي فَقَالَ لَهُمْ مِنْ أَيْنَ قَالُوا مِنْ الشَّامِ قَالَ مَا فَعَلَتْ الْعَرَبُ قَالُوا نَحْنُ قَوْمٌ مِنْ الْعَرَبِ عَمَّ تَسْأَلُ قَالَ مَا فَعَلَ هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي خَرَجَ فِيكُمْ قَالُوا خَيْرًا نَاوَى قَوْمًا فَأَظْهَرَهُ اللهُ عَلَيْهِمْ فَأَمْرُهُمْ الْيَوْمَ جَمِيعٌ إِلَهُهُمْ وَاحِدٌ وَدِينُهُمْ وَاحِدٌ قَالَ مَا فَعَلَتْ عَيْنُ زُغَرَ قَالُوا خَيْرًا يَسْقُونَ مِنْهَا زُرُوعَهُمْ وَيَسْتَقُونَ مِنْهَا لِسَقْيِهِمْ قَالَ فَمَا فَعَلَ نَخْلٌ بَيْنَ عَمَّانَ وَبَيْسَانَ قَالُوا يُطْعِمُ ثَمَرَهُ كُلَّ عَامٍ قَالَ فَمَا فَعَلَتْ بُحَيْرَةُ الطَّبَرِيَّةِ قَالُوا تَدَفَّقُ جَنَبَاتُهَا مِنْ كَثْرَةِ الْمَاءِ قَالَ فَزَفَرَ ثَلَاثَ زَفَرَاتٍ ثُمَّ قَالَ لَوْ انْفَلَتُّ مِنْ وَثَاقِي هَذَا لَمْ أَدَعْ أَرْضًا إِلَّا وَطِئْتُهَا بِرِجْلَيَّ هَاتَيْنِ إِلَّا طَيْبَةَ لَيْسَ لِي عَلَيْهَا سَبِيلٌ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِلَى هَذَا يَنْتَهِي فَرَحِي هَذِهِ طَيْبَةُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا فِيهَا طَرِيقٌ ضَيِّقٌ وَلَا وَاسِعٌ وَلَا سَهْلٌ وَلَا جَبَلٌ إِلَّا وَعَلَيْهِ مَلَكٌ شَاهِرٌ سَيْفَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ

Narrator: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৪০৭৪। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়র (রাহঃ)...... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করে মিম্বরে উঠলেন, অথচ জুমু'আর দিন ব্যতিরেকে এর পূর্বে তিনি মিম্বরে আরোহন করতেন না। ব্যাপারটি সাহাবা কিরামের নিকট কঠিন মনে হয়। তাদের মাঝে কেউ দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং কেউ বসে ছিলেন। তিনি নিজের হাত দিয়ে তাদের ইশারা করলেন যে, তোমরা বসে পড়ো। (তারপর বললেনঃ) আল্লাহর শপথ! আমি আমার এ স্থানে তোমাদের কোন কাজে উদ্বুদ্ধ করা অথবা ভয় দেখাবার জন্য দাড়াইনি। তবে তামীম দারী (রাযিঃ) আমার কাছে এসেছেন। তিনি আমাকে এমন একটি খবর দিয়েছেন, যার আনন্দ ও প্রশান্তি আমাকে দুপুরের কায়লুলা থেকে বিরত রেখেছে। আমি তোমাদের নবীর এ খুশীর কথা তোমাদের কাছে ব্যক্ত করতে পছন্দ করেছি। জেনে রাখ। তামীম দারী (রাযিঃ) এর এক চাচাতো ভাই আমাকে এ খবর দিয়েছে যে, প্রবল বায়ু তাদেরকে এমন এক দ্বীপে নিয়ে গেল, যা তারা চিনতো না। তারা জাহাজের ছোট নৌকাগুলোতে বসলো, তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে পড়লো। হঠাৎ তারা সেখানে ঘন কৃষকেশধারী একটা কিছু দেখতে পেল। তখন তারা তাকে প্রশ্ন করলোঃ তুমি কে? সে বললোঃ আমি গুপ্তচর, (আমি দাজ্জালের গোয়েন্দা)। তারা বললোঃ আমাদেরকে তার সম্পর্কে কিছু তথ্য দাও। সে বললোঃ আমি তোমাদের নিকট কোন খবর সরবরাহ করবো না এবং তোমাদের কাছে কোন কিছু জিজ্ঞেস করবো না। তবে তোমরা ঐ দূরে ইবাদতখানায় যেতে পরো, যা তোমরা দেখতে পাচ্ছো। তারপর তারা সেখানে গেল। কেননা সেখানে এক ব্যক্তি রয়েছে, যে তোমাদের সাথে কথা বলতে খুবই আগ্রহী আর্থাৎ তোমাদের কাছে প্রশ্ন করতে এবং তোমাদের তথ্য সরবরাহ করতে অত্যন্ত আগ্রহী। তারপর তারা সেখানে গেল এবং তার নিকট উপস্থিত হলো। তারা সেখানে অতি বৃদ্ধ জনৈক ব্যক্তিকে দেখতে পেলো। সে বয়সের ভারে কাঁপছিল। সে তার দূঃখ-দুর্দশাও চিন্তার প্রকাশ করলো, সে তাদেরকে বললোঃ তোমরা কোথা থেকে এসেছো? তারা বললোঃ শাম সিরিয়া থেকে। সে বললোঃ আরবেরা কি করছে? তারা বললোঃ আমরা তো আরব লোক, যাদের কাছে তুমি প্রশ্ন করছো? সে বললোঃ এই ব্যক্তি কি করেছে যে তোমাদের মাঝে আবির্ভূত হয়েছে? (অর্থাৎ সর্বশেষ নবী (ﷺ))। তারা বললোঃ ভাল কাজ করেছে। তিনি কাওমের অবস্থা পরিবর্তন করে দিয়েছেন। আর আল্লাহ তা'আলা তাঁকে তাদের উপরে সাহায্য করেছেন। আজ তারা একই মতাদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত। তাদের ইলাহ্ এক এবং দীনও এক। সে বললোঃ যুগার নহরের খবর কি? (শাম দেশের একটি গ্রামের নাম।) তারা বললোঃ ভালই আছে। লোকেরা সেখানে থেকে খেত খামারে পানি সিঞ্চন করে এবং সেখান থেকে খাবার পানিও সংগ্রহ করে। সে বললোঃ আম্মান ও বায়সানের (সিরিয়ার দু'টি শহর) মধ্যবর্তী খেজুর বাগানের কি অবস্থা? তারা বললোঃ প্রতি বছর সেই বাগানে প্রচুর ফল ধরে। অতঃপর সে তাবরিয়ার জলাশয়ের অবস্থা কি? তারা বললো, তার উভয় তীর বেয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। রাবী বলেনঃ এতে সে তিনটি দীর্ঘশ্বাস ফেললো। তারপর বললোঃ যদি আমি আমার এই বন্ধীদশা থেকে মুক্তি পাই, তাহলে তাইয়্যেবাহ (মদীনা মুনাওয়ারা) ব্যতিরেকে সর্বত্র আমার এ দু'পায়ে বিচরণ করতাম; কিন্তু সেখানে প্রবেশে করার ক্ষমতা আমার নেই। নবী (ﷺ) বললেনঃ এই কারণেই আমি অধিক আনন্দিত ও উৎফুল্ল হয়েছি। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, এই সেই পবিত্র শহর। মদীনার গলিপথ হোক, কিংবা রাজপথ, নরম স্থান হোক কিংবা কংকরময় স্থান সর্বত্রই একজন ফিরিশতা কিয়ামত পর্যন্ত উলঙ্গ তলোয়ার হাতে মোতায়েন রয়েছে।

4075

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ، سَمِعَ النَّوَّاسَ بْنَ سَمْعَانَ الْكِلاَبِيَّ، يَقُولُ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ الدَّجَّالَ الْغَدَاةَ فَخَفَضَ فِيهِ وَرَفَعَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ فِي طَائِفَةِ النَّخْلِ فَلَمَّا رُحْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَرَفَ ذَلِكَ فِينَا فَقَالَ ‏"‏ مَا شَأْنُكُمْ ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَكَرْتَ الدَّجَّالَ الْغَدَاةَ فَخَفَضْتَ فِيهِ ثُمَّ رَفَعْتَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ فِي طَائِفَةِ النَّخْلِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ غَيْرُ الدَّجَّالِ أَخْوَفُنِي عَلَيْكُمْ إِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا فِيكُمْ فَأَنَا حَجِيجُهُ دُونَكُمْ وَإِنْ يَخْرُجْ وَلَسْتُ فِيكُمْ فَامْرُؤٌ حَجِيجُ نَفْسِهِ وَاللَّهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ إِنَّهُ شَابٌّ قَطَطٌ عَيْنُهُ قَائِمَةٌ كَأَنِّي أُشَبِّهُهُ بِعَبْدِ الْعُزَّى بْنِ قَطَنٍ فَمَنْ رَآهُ مِنْكُمْ فَلْيَقْرَأْ عَلَيْهِ فَوَاتِحَ سُورَةِ الْكَهْفِ إِنَّهُ يَخْرُجُ مِنْ خَلَّةٍ بَيْنَ الشَّامِ وَالْعِرَاقِ فَعَاثَ يَمِينًا وَعَاثَ شِمَالاً يَا عِبَادَ اللَّهِ اثْبُتُوا ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا لُبْثُهُ فِي الأَرْضِ قَالَ ‏"‏ أَرْبَعُونَ يَوْمًا يَوْمٌ كَسَنَةٍ وَيَوْمٌ كَشَهْرٍ وَيَوْمٌ كَجُمُعَةٍ وَسَائِرُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَذَلِكَ الْيَوْمُ الَّذِي كَسَنَةٍ تَكْفِينَا فِيهِ صَلاَةُ يَوْمٍ قَالَ ‏"‏ فَاقْدُرُوا لَهُ قَدْرًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْنَا فَمَا إِسْرَاعُهُ فِي الأَرْضِ قَالَ ‏"‏ كَالْغَيْثِ اشْتَدَّ بِهِ الرِّيحُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَيَأْتِي الْقَوْمَ فَيَدْعُوهُمْ فَيَسْتَجِيبُونَ لَهُ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ فَيَأْمُرُ السَّمَاءَ أَنْ تُمْطِرَ فَتُمْطِرَ وَيَأْمُرُ الأَرْضَ أَنْ تُنْبِتَ فَتُنْبِتَ وَتَرُوحُ عَلَيْهِمْ سَارِحَتُهُمْ أَطْوَلَ مَا كَانَتْ ذُرًى وَأَسْبَغَهُ ضُرُوعًا وَأَمَدَّهُ خَوَاصِرَ ثُمَّ يَأْتِي الْقَوْمَ فَيَدْعُوهُمْ فَيَرُدُّونَ عَلَيْهِ قَوْلَهُ فَيَنْصَرِفُ عَنْهُمْ فَيُصْبِحُونَ مُمْحِلِينَ مَا بِأَيْدِيهِمْ شَىْءٌ ثُمَّ يَمُرُّ بِالْخَرِبَةِ فَيَقُولُ لَهَا أَخْرِجِي كُنُوزَكِ فَيَنْطَلِقُ فَتَتْبَعُهُ كُنُوزُهَا كَيَعَاسِيبِ النَّحْلِ ثُمَّ يَدْعُو رَجُلاً مُمْتَلِئًا شَبَابًا فَيَضْرِبُهُ بِالسَّيْفِ ضَرْبَةً فَيَقْطَعُهُ جِزْلَتَيْنِ رَمْيَةَ الْغَرَضِ ثُمَّ يَدْعُوهُ فَيُقْبِلُ يَتَهَلَّلُ وَجْهُهُ يَضْحَكُ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ فَيَنْزِلُ عِنْدَ الْمَنَارَةِ الْبَيْضَاءِ شَرْقِيَّ دِمَشْقَ بَيْنَ مَهْرُودَتَيْنِ وَاضِعًا كَفَّيْهِ عَلَى أَجْنِحَةِ مَلَكَيْنِ إِذَا طَأْطَأَ رَأْسَهُ قَطَرَ وَإِذَا رَفَعَهُ يَنْحَدِرُ مِنْهُ جُمَانٌ كَاللُّؤْلُؤِ وَلاَ يَحِلُّ لِكَافِرٍ أَنْ يَجِدَ رِيِحَ نَفَسِهِ إِلاَّ مَاتَ وَنَفَسُهُ يَنْتَهِي حَيْثُ يَنْتَهِي طَرْفُهُ فَيَنْطَلِقُ حَتَّى يُدْرِكَهُ عِنْدَ بَابِ لُدٍّ فَيَقْتُلُهُ ثُمَّ يَأْتِي نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى قَوْمًا قَدْ عَصَمَهُمُ اللَّهُ فَيَمْسَحُ وُجُوهَهُمْ وَيُحَدِّثُهُمْ بِدَرَجَاتِهِمْ فِي الْجَنَّةِ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ أَوْحَى اللَّهُ إِلَيْهِ يَا عِيسَى إِنِّي قَدْ أَخْرَجْتُ عِبَادًا لِي لاَ يَدَانِ لأَحَدٍ بِقِتَالِهِمْ وَأَحْرِزْ عِبَادِي إِلَى الطُّورِ ‏.‏ وَيَبْعَثُ اللَّهُ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَهُمْ كَمَا قَالَ اللَّهُ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ فَيَمُرُّ أَوَائِلُهُمْ عَلَى بُحَيْرَةِ الطَّبَرِيَّةِ فَيَشْرَبُونَ مَا فِيهَا ثُمَّ يَمُرُّ آخِرُهُمْ فَيَقُولُونَ لَقَدْ كَانَ فِي هَذَا مَاءٌ مَرَّةً وَيَحْضُرُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ حَتَّى يَكُونَ رَأْسُ الثَّوْرِ لأَحَدِهِمْ خَيْرًا مِنْ مِائَةِ دِينَارٍ لأَحَدِكُمُ الْيَوْمَ فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ إِلَى اللَّهِ فَيُرْسِلُ اللَّهُ عَلَيْهِمُ النَّغَفَ فِي رِقَابِهِمْ فَيُصْبِحُونَ فَرْسَى كَمَوْتِ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ ‏.‏ وَيَهْبِطُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ فَلاَ يَجِدُونَ مَوْضِعَ شِبْرٍ إِلاَّ قَدْ مَلأَهُ زَهَمُهُمْ وَنَتْنُهُمْ وَدِمَاؤُهُمْ فَيَرْغَبُونَ إِلَى اللَّهِ سُبْحَانَهُ فَيُرْسِلُ عَلَيْهِمْ طَيْرًا كَأَعْنَاقِ الْبُخْتِ فَتَحْمِلُهُمْ فَتَطْرَحُهُمْ حَيْثُ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مَطَرًا لاَ يُكِنُّ مِنْهُ بَيْتُ مَدَرٍ وَلاَ وَبَرٍ فَيَغْسِلُهُ حَتَّى يَتْرُكَهُ كَالزَّلَقَةِ ثُمَّ يُقَالُ لِلأَرْضِ أَنْبِتِي ثَمَرَتَكِ وَرُدِّي بَرَكَتَكِ فَيَوْمَئِذٍ تَأْكُلُ الْعِصَابَةُ مِنَ الرُّمَّانَةِ فَتُشْبِعُهُمْ وَيَسْتَظِلُّونَ بِقِحْفِهَا وَيُبَارِكُ اللَّهُ فِي الرِّسْلِ حَتَّى إِنَّ اللِّقْحَةَ مِنَ الإِبِلِ تَكْفِي الْفِئَامَ مِنَ النَّاسِ وَاللِّقْحَةَ مِنَ الْبَقَرِ تَكْفِي الْقَبِيلَةَ وَاللِّقْحَةَ مِنَ الْغَنَمِ تَكْفِي الْفَخِذَ ‏.‏ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ رِيحًا طَيِّبَةً فَتَأْخُذُ تَحْتَ آبَاطِهِمْ فَتَقْبِضُ رُوحَ كُلِّ مُسْلِمٍ وَيَبْقَى سَائِرُ النَّاسِ يَتَهَارَجُونَ كَمَا تَتَهَارَجُ الْحُمُرُ فَعَلَيْهِمْ تَقُومُ السَّاعَةُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: নাওয়াস ইবনে সামআন (রাঃ)

৪০৭৫। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... নাওয়াস ইবন সাম'আন কিলাবী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- একদা সকাল বেলা দাজ্জালের প্রসঙ্গ আলোচনা করেন। তিনি কন্ঠস্বর উঁচু-নীচু করে তার সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দিলেন। এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে, সে এই খেজুর বাগানেই আছে। অতঃপর আমরা যখন সন্ধ্যায় তাঁর নিকট উপস্থিত হই, তখন তিনি আমাদের মাঝে দাজ্জালের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করলেন। তিনি বললেনঃ তোমাদের অবস্থা কি? আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি সকালে আমাদের সামনে দাজ্জালের ঘটনা উল্লেখ করেছেন, আর আপনি সেখানে আপনার কন্ঠস্বর উঁচু-নীচু করে তার বর্ণনা দিয়েছেন। এমন কি আমরা ধারণা করলাম যে, সে এই খেজুর বাগানের আড়ালেই অবস্থান করছে। তিনি বললেনঃ দাজ্জাল ছাড়া অন্যান্য ব্যাপারেও আমি তোমাদের নিয়ে শংকিত। যদি সে বের হয় এমতাবস্থায় যে, আমি তোমাদের মাঝে অবস্থান করি, তাহলে আমি তোমাদের পক্ষে তার বিরুদ্ধে যুক্তি উত্থাপন করবো। আর যদি সে এমন সময় বের হয়, যখন আমি তোমাদের মাঝে থাকবো না, তখন প্রত্যেককে নিজের পক্ষ হতে যুক্তি পেশ করতে হবে। আমার অবর্তমানে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আল্লাহ নেগাহবান। নিশ্চয় সে (দাজ্জাল) হবে নওজোয়ান, তার কেশদাম হবে ঘন কৃষ্ণবর্ণের, তার চক্ষু হবে খাড়া। আমি যেন তাকে আব্দুল উযযা ইবন কাতানের সাদৃশ্য মনে করছি। তোমাদের যে কেউ তাকে দেখবে, সে যেন তার বিরুদ্ধে সূরা কাহফের প্রথম দিকের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে। নিশ্চয় সে সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যবর্তী 'খাল্লাফ' নামক রাস্তা থেকে বের হবে। অতঃপর সে ডানে বামে বিপর্যয় ছড়িয়ে দিবে। হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ঈমানের উপরে দৃঢ়ভাবে কায়েম থাকবে। আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! সে কতদিন পর্যন্ত যমীনে অবস্থান করবে? তিনি বললেনঃ চল্লিশ দিন। তবে এই দিনগুলোর কোনটি হবে এক বছরের সমান, কোনটি হবে এক মাসের সমান, কোনটি হবে এক সপ্তাহের সমান। অবশিষ্ট দিনগুলো হবে তোমাদের দিনগুলোর মতই। আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! যে দিনটি হবে এক বছরের সমান, সেদিন কি আমাদের এক দিনের সালাত যথেষ্ট হবে? তিনি বললেনঃ অনুমান করে সালাত আদায় করতে হবে । রাবী বলেনঃ আমরা বললামঃ (হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ))! সে যমীনে কতটা দ্রুততার সাথে বিচরণ করবে? তিনি বললেনঃ মেঘমালার মত, বাতাস তার পেছনে থাকবে। রাবী বলেনঃ সে এক সম্প্রদায়ের কাছে আসবে এবং তাদের ডাকবে। তারা তার ডাকে সাড়া দিবে এবং তার উপরে ঈমান আনবে। অতঃপর সে আসমানকে বৃষ্টি বর্ষণের আদেশ করবে, তখন আসমান বৃষ্টি বর্ষণ করবে। সে যমীনকে শস্য উৎপাদনের আদেশ দিবে এবং যমীন তা উৎপাদন করবে। তাদের বাহনগুলি সন্ধ্যাবেলা তাদের নিকট এ অবস্থায় ফিরে আসবে যে, সেগুলোর ঝুটি হবে খুবই উঁচু, এবং স্তন থাকবে দুধে পরিপূর্ণ, এবং দেহের দু'পাশ হবে মাংসল। এরপর সে অপর এক সম্প্রদায়ের কাছে আসবে এবং তাদেরকে আহ্বান জানাবে। কিন্তু তারা তার কথা প্রত্যাখ্যান করবে। তখন সে তাদের কাছ থেকে ফিরে আসবে। তাদের দেশ দূর্ভিক্ষ কবলিত হবে এবং তাদের হাতে কিছুই থাকবে না। এরপর সে এক বিধস্ত স্থানের নিকট দিয়ে গমন করবে এবং তাকে বলবে, তোমার গুপ্তধন বের করে দাও। তখন সে চলতে থাকবে এবং গুপ্ত ধন-ভাণ্ডার ও অনুসরণ করবে, যেমন মধুমক্ষিকা মৌচাকের সাথে থাকে। অতঃপর সে এক হৃষ্ট-পুষ্ট যুবককে ডাক দিবে এবং তাকে তলোয়ার দিয়ে জোরে আঘাত করবে এবং তাকে দুই টুকরো করে ফেলবে। প্রত্যেকটি টুকরো দুই ধনুকের ব্যবধানে চলে যাবে। অতঃপর তাকে ডাকবে। ডাকামাত্র সে জীবিত হয়ে তার কাছে আসবে। তার চেহারা হবে উজ্জ্বল ও চমকপ্রদ সর্বোপরি হাস্যময়। যা হোক, দাজ্জাল ও অন্যান্য লোকেরা এই অস্থিরতার মধ্যে থাকবে। এ সময় আল্লাহ তা'আলা ঈসা ইব্‌ন মারইয়াম (আ)-কে পাঠাবেন। তিনি জর্দা রং এর দু'টো কাপড় পরিধান করে দামেশকের পূর্বপ্রান্তে দুইজন ফিরিশতার কাঁধে দু’হাত রেখে শুভ্র মিনারে অবতরণ করবেন। যখন তিনি তাঁর মাথা নীচের দিকে ঝুঁকাবেন, তখন (তাঁর চেহারা থেকে) ঘাম বের হবে, এবং যখন তিনি তাঁর মাথা উঁচু করবে, তখন মুক্তাদানার মত ঘামের বিন্দুগুলো ঝরতে থাকবে। আর যে সব কাফির তাঁর নিঃশ্বাসের গন্ধ পাবে, তারা তৎক্ষণাৎ মরে যাবে। তার শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রভাব তাঁর দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। অতঃপর তিনি সামনে অগ্রসর হতে থাকবেন, এমন কি তিনি 'লূদ' নামক ফটকের নিকট দাজ্জালকে পাবেন। (লূদ সিরিয়ার একটি পাহাড়ের নাম। কেউ কেউ বলেন, বায়তুল মুকাদ্দাসের একটি গ্রামের নাম)। তখন তিনি তাকে কতল করবেন। এরপর আল্লাহর নবী ঈসা (আ) এমন কাওমের কাছে যাবেন যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা (দাজ্জালের অনিষ্ট ও ফিতনা থেকে রক্ষা করেছেন। তিনি তাদের চেহারায় হাত বুলালেন এবং তিনি জান্নাতে তাদের মর্যাদা সম্পর্কে বর্ণনা করবেন। লোকেরা যখন এ অবস্থায় থাকবে, তখন আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিকট ওহী পাঠাবেন, হে ঈসা! আমি আমার এমন বান্দাদের বের করেছি, যাদের সাথে কেউ লড়াই করতে সক্ষম হবে না। তুমি আমার বান্দাদের তূর পাহাড়ে একত্রিত কর। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা ইয়াজুজ ও মাজুজদের পাঠাবেন। তারা হবে এমন, যেমন... আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ “তারা প্রত্যেক উঁচু জমি থেকে ছুটে আসবে।” এদের প্রথম দল তারাবিয়া নামক ছোট সাগরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে এবং তার সমুদয় পানি পান করে ফেলবে। এর পর তাদের পরবর্তী দল অতিক্রম করবে, তখন তারা বলবেঃ কোন কালে এতে পানি ছিল।

আল্লাহর নবী ঈসা (আ) ও তাঁর সংগীগণ উপস্থিত হবেন। শেষ পর্যন্ত একটি বলদের মাথা তাদের একজনের জন্য তোমাদের আজকের দিনের একশত স্বর্ণ মুদ্রার চাইতেও দামী বলে বিবেচিত হবে। তারপর আল্লাহর নবী ঈসা (আ) এবং তাঁর সাথীগণ আল্লাহর নিকট দু'আ করবেন। তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের (ইয়াজুজ-মাজুজ-এর) গর্দানে ফোঁড়া সৃষ্টি করবেন যাতে পোকা-মাকড় থাকবে। তারা পরদিন সকালে সবাই মরে যাবে, যেমন কোন এক ব্যক্তি মারা যায়। তখন আল্লাহর নবী ঈসা (আ) এবং তাঁর সঙ্গীগণ অবতরণ করবেন এবং অর্ধ হাত স্থান ও তারা খালি পাবে না, বরং তা পরিপূর্ণ থাকবে ওদের চর্বি, গন্ধ ও রক্তে। এরপর তারা মহান আল্লাহর দরবারে দু'আ করবেন, তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রতি কতিপয় পাখি পাঠাবেন, যাদের ঘাড় হবে বুখ্ত এলাকার উটের মত। ওরা তাদের মৃতদেহগুলো উঠিয়ে নিয়ে যাবে এবং আল্লাহ যেখানে চাইবেন সেখানে নিক্ষেপ করবে। এরপর আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। মাটি কিংবা বালু নির্মিত কোন ঘরই এই পানি হতে রক্ষা পাবে না। এই পানি ওদের সকলকে ধুয়ে মুছে আয়নার মত সাফ করে দেবে। এরপর যমীনকে বলা হবেঃ এবার তুমি তোমার ফলমূল উৎপন্ন কর এবং তোমার বরকত ফিরিয়ে দাও। সে সময় কতিপয় লোকেরা তৃপ্তিভরে ডালিম ভক্ষণ করবে এবং এর খোসা দিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করবে। আল্লাহ তা'আলা দুধে বরকত দিবেন, এমনকি একটি দুধেল উষ্ট্রী কয়েক জামা'আত লোকের জন্য যথেষ্ট হবে। একটি দুধেল গাভী একটি গোত্রের লোকদের জন্য যথেষ্ট হবে। একটি দুধেল বকরী একটি ক্ষুদ্র গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে। তারা যখন এ অবস্থায় থাকবে, তখন আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রতি নির্মল বায়ু পাঠাবেন। এই বাতাস তাদের বগলের নীচে প্রভাব ফেলবে এবং প্রত্যেক মুসলিমের জান কবয করে নিবে। তখন অবশিষ্ট নর-নারী গাধার মত প্রকাশ্যে সংগমে লিপ্ত হবে। তাদের উপর কিয়ামত সঙ্গটিত হবে।
4076

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ جَابِرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَابِرٍ الطَّائِيِّ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّوَّاسَ بْنَ سَمْعَانَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ سَيُوقِدُ الْمُسْلِمُونَ مِنْ قِسِيِّ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَنُشَّابِهِمْ وَأَتْرِسَتِهِمْ سَبْعَ سِنِينَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: নাওয়াস ইবনে সামআন (রাঃ)

৪০৭৬। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)..... নাওয়াস ইবন সাম'আন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অদূর ভবিষ্যতে মুসলমানেরা ইয়াযূ ও মাজুজ-এর সামান তীর ধনুক বর্শাফলক এবং ঢালসমূহ সাত বছর ব্যাপী ভস্মীভূত করতে থাকবে।

4077

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَافِعٍ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ السَّيْبَانِيِّ، يَحْيَى بْنِ أَبِي عَمْرٍو عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَكَانَ أَكْثَرُ خُطْبَتِهِ حَدِيثًا حَدَّثَنَاهُ عَنِ الدَّجَّالِ وَحَذَّرَنَاهُ فَكَانَ مِنْ قَوْلِهِ أَنْ قَالَ ‏"‏ إِنَّهُ لَمْ تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الأَرْضِ مُنْذُ ذَرَأَ اللَّهُ ذُرِّيَّةَ آدَمَ أَعْظَمَ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ وَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَبْعَثْ نَبِيًّا إِلاَّ حَذَّرَ أُمَّتَهُ الدَّجَّالَ وَأَنَا آخِرُ الأَنْبِيَاءِ وَأَنْتُمْ آخِرُ الأُمَمِ وَهُوَ خَارِجٌ فِيكُمْ لاَ مَحَالَةَ وَإِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا بَيْنَ ظَهْرَانَيْكُمْ فَأَنَا حَجِيجٌ لِكُلِّ مُسْلِمٍ وَإِنْ يَخْرُجْ مِنْ بَعْدِي فَكُلُّ امْرِئٍ حَجِيجُ نَفْسِهِ وَاللَّهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ وَإِنَّهُ يَخْرُجُ مِنْ خَلَّةٍ بَيْنَ الشَّامِ وَالْعِرَاقِ فَيَعِيثُ يَمِينًا وَيَعِيثُ شِمَالاً ‏.‏ يَا عِبَادَ اللَّهِ أَيُّهَا النَّاسُ فَاثْبُتُوا فَإِنِّي سَأَصِفُهُ لَكُمْ صِفَةً لَمْ يَصِفْهَا إِيَّاهُ نَبِيٌّ قَبْلِي إِنَّهُ يَبْدَأُ فَيَقُولُ أَنَا نَبِيٌّ وَلاَ نَبِيَّ بَعْدِي ثُمَّ يُثَنِّي فَيَقُولُ أَنَا رَبُّكُمْ ‏.‏ وَلاَ تَرَوْنَ رَبَّكُمْ حَتَّى تَمُوتُوا وَإِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ وَإِنَّهُ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ يَقْرَؤُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ كَاتِبٍ أَوْ غَيْرِ كَاتِبٍ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنَّ مَعَهُ جَنَّةً وَنَارًا فَنَارُهُ جَنَّةٌ وَجَنَّتُهُ نَارٌ فَمَنِ ابْتُلِيَ بِنَارِهِ فَلْيَسْتَغِثْ بِاللَّهِ وَلْيَقْرَأْ فَوَاتِحَ الْكَهْفِ فَتَكُونَ عَلَيْهِ بَرْدًا وَسَلاَمًا كَمَا كَانَتِ النَّارُ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَقُولَ لأَعْرَابِيٍّ أَرَأَيْتَ إِنْ بَعَثْتُ لَكَ أَبَاكَ وَأُمَّكَ أَتَشْهَدُ أَنِّي رَبُّكَ فَيَقُولُ نَعَمْ ‏.‏ فَيَتَمَثَّلُ لَهُ شَيْطَانَانِ فِي صُورَةِ أَبِيهِ وَأُمِّهِ فَيَقُولاَنِ يَا بُنَىَّ اتَّبِعْهُ فَإِنَّهُ رَبُّكَ ‏.‏ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يُسَلَّطَ عَلَى نَفْسٍ وَاحِدَةٍ فَيَقْتُلَهَا وَيَنْشُرَهَا بِالْمِنْشَارِ حَتَّى يُلْقَى شِقَّتَيْنِ ثُمَّ يَقُولُ انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي هَذَا فَإِنِّي أَبْعَثُهُ الآنَ ثُمَّ يَزْعُمُ أَنَّ لَهُ رَبًّا غَيْرِي ‏.‏ فَيَبْعَثُهُ اللَّهُ وَيَقُولُ لَهُ الْخَبِيثُ مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ رَبِّيَ اللَّهُ وَأَنْتَ عَدُوُّ اللَّهِ أَنْتَ الدَّجَّالُ وَاللَّهِ مَا كُنْتُ بَعْدُ أَشَدَّ بَصِيرَةً بِكَ مِنِّي الْيَوْمَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو الْحَسَنِ الطَّنَافِسِيُّ فَحَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ الْوَصَّافِيُّ عَنْ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ ذَلِكَ الرَّجُلُ أَرْفَعُ أُمَّتِي دَرَجَةً فِي الْجَنَّةِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ وَاللَّهِ مَا كُنَّا نُرَى ذَلِكَ الرَّجُلَ إِلاَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ ‏.‏ قَالَ الْمُحَارِبِيُّ ثُمَّ رَجَعْنَا إِلَى حَدِيثِ أَبِي رَافِعٍ قَالَ ‏"‏ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَأْمُرَ السَّمَاءَ أَنْ تُمْطِرَ فَتُمْطِرَ وَيَأْمُرَ الأَرْضَ أَنْ تُنْبِتَ فَتُنْبِتَ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَمُرَّ بِالْحَىِّ فَيُكَذِّبُونَهُ فَلاَ تَبْقَى لَهُمْ سَائِمَةٌ إِلاَّ هَلَكَتْ وَإِنَّ مِنْ فِتْنَتِهِ أَنْ يَمُرَّ بِالْحَىِّ فَيُصَدِّقُونَهُ فَيَأْمُرَ السَّمَاءَ أَنْ تُمْطِرَ فَتُمْطِرَ وَيَأْمُرَ الأَرْضَ أَنْ تُنْبِتَ فَتُنْبِتَ حَتَّى تَرُوحَ مَوَاشِيهِمْ مِنْ يَوْمِهِمْ ذَلِكَ أَسْمَنَ مَا كَانَتْ وَأَعْظَمَهُ وَأَمَدَّهُ خَوَاصِرَ وَأَدَرَّهُ ضُرُوعًا وَإِنَّهُ لاَ يَبْقَى شَىْءٌ مِنَ الأَرْضِ إِلاَّ وَطِئَهُ وَظَهَرَ عَلَيْهِ إِلاَّ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةَ لاَ يَأْتِيهِمَا مِنْ نَقْبٍ مِنْ نِقَابِهِمَا إِلاَّ لَقِيَتْهُ الْمَلاَئِكَةُ بِالسُّيُوفِ صَلْتَةً حَتَّى يَنْزِلَ عِنْدَ الظُّرَيْبِ الأَحْمَرِ عِنْدَ مُنْقَطَعِ السَّبَخَةِ فَتَرْجُفُ الْمَدِينَةُ بِأَهْلِهَا ثَلاَثَ رَجَفَاتٍ فَلاَ يَبْقَى مُنَافِقٌ وَلاَ مُنَافِقَةٌ إِلاَّ خَرَجَ إِلَيْهِ فَتَنْفِي الْخَبَثَ مِنْهَا كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ وَيُدْعَى ذَلِكَ الْيَوْمُ يَوْمَ الْخَلاَصِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَتْ أُمُّ شَرِيكٍ بِنْتُ أَبِي الْعُكَرِ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَيْنَ الْعَرَبُ يَوْمَئِذٍ قَالَ ‏"‏ هُمْ يَوْمَئِذٍ قَلِيلٌ وَجُلُّهُمْ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ وَإِمَامُهُمْ رَجُلٌ صَالِحٌ فَبَيْنَمَا إِمَامُهُمْ قَدْ تَقَدَّمَ يُصَلِّي بِهِمُ الصُّبْحَ إِذْ نَزَلَ عَلَيْهِمْ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ الصُّبْحَ فَرَجَعَ ذَلِكَ الإِمَامُ يَنْكُصُ يَمْشِي الْقَهْقَرَى لِيَتَقَدَّمَ عِيسَى يُصَلِّي بِالنَّاسِ فَيَضَعُ عِيسَى يَدَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ ثُمَّ يَقُولُ لَهُ تَقَدَّمْ فَصَلِّ فَإِنَّهَا لَكَ أُقِيمَتْ ‏.‏ فَيُصَلِّي بِهِمْ إِمَامُهُمْ فَإِذَا انْصَرَفَ قَالَ عِيسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ افْتَحُوا الْبَابَ ‏.‏ فَيُفْتَحُ وَوَرَاءَهُ الدَّجَّالُ مَعَهُ سَبْعُونَ أَلْفِ يَهُودِيٍّ كُلُّهُمْ ذُو سَيْفٍ مُحَلًّى وَسَاجٍ فَإِذَا نَظَرَ إِلَيْهِ الدَّجَّالُ ذَابَ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ وَيَنْطَلِقُ هَارِبًا وَيَقُولُ عِيسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ إِنَّ لِي فِيكَ ضَرْبَةً لَنْ تَسْبِقَنِي بِهَا ‏.‏ فَيُدْرِكُهُ عِنْدَ بَابِ اللُّدِّ الشَّرْقِيِّ فَيَقْتُلُهُ فَيَهْزِمُ اللَّهُ الْيَهُودَ فَلاَ يَبْقَى شَىْءٌ مِمَّا خَلَقَ اللَّهُ يَتَوَارَى بِهِ يَهُودِيٌّ إِلاَّ أَنْطَقَ اللَّهُ ذَلِكَ الشَّىْءَ لاَ حَجَرَ وَلاَ شَجَرَ وَلاَ حَائِطَ وَلاَ دَابَّةَ - إِلاَّ الْغَرْقَدَةَ فَإِنَّهَا مِنْ شَجَرِهِمْ لاَ تَنْطِقُ - إِلاَّ قَالَ يَا عَبْدَ اللَّهِ الْمُسْلِمَ هَذَا يَهُودِيٌّ فَتَعَالَ اقْتُلْهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ وَإِنَّ أَيَّامَهُ أَرْبَعُونَ سَنَةً السَّنَةُ كَنِصْفِ السَّنَةِ وَالسَّنَةُ كَالشَّهْرِ وَالشَّهْرُ كَالْجُمُعَةِ وَآخِرُ أَيَّامِهِ كَالشَّرَرَةِ يُصْبِحُ أَحَدُكُمْ عَلَى بَابِ الْمَدِينَةِ فَلاَ يَبْلُغُ بَابَهَا الآخَرَ حَتَّى يُمْسِيَ ‏"‏ ‏.‏ فَقِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ نُصَلِّي فِي تِلْكَ الأَيَّامِ الْقِصَارِ قَالَ ‏"‏ تَقْدُرُونَ فِيهَا الصَّلاَةَ كَمَا تَقْدُرُونَهَا فِي هَذِهِ الأَيَّامِ الطِّوَالِ ثُمَّ صَلُّوا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ فَيَكُونُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ فِي أُمَّتِي حَكَمًا عَدْلاً وَإِمَامًا مُقْسِطًا يَدُقُّ الصَّلِيبَ وَيَذْبَحُ الْخِنْزِيرَ وَيَضَعُ الْجِزْيَةَ وَيَتْرُكُ الصَّدَقَةَ فَلاَ يُسْعَى عَلَى شَاةٍ وَلاَ بَعِيرٍ وَتُرْفَعُ الشَّحْنَاءُ وَالتَّبَاغُضُ وَتُنْزَعُ حُمَةُ كُلِّ ذَاتِ حُمَةٍ حَتَّى يُدْخِلَ الْوَلِيدُ يَدَهُ فِي فِي الْحَيَّةِ فَلاَ تَضُرَّهُ وَتُفِرُّ الْوَلِيدَةُ الأَسَدَ فَلاَ يَضُرُّهَا وَيَكُونُ الذِّئْبُ فِي الْغَنَمِ كَأَنَّهُ كَلْبُهَا وَتُمْلأُ الأَرْضُ مِنَ السِّلْمِ كَمَا يُمْلأُ الإِنَاءُ مِنَ الْمَاءِ وَتَكُونُ الْكَلِمَةُ وَاحِدَةً فَلاَ يُعْبَدُ إِلاَّ اللَّهُ وَتَضَعُ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا وَتُسْلَبُ قُرَيْشٌ مُلْكَهَا وَتَكُونُ الأَرْضُ كَفَاثُورِ الْفِضَّةِ تُنْبِتُ نَبَاتَهَا بِعَهْدِ آدَمَ حَتَّى يَجْتَمِعَ النَّفَرُ عَلَى الْقِطْفِ مِنَ الْعِنَبِ فَيُشْبِعَهُمْ وَيَجْتَمِعَ النَّفَرُ عَلَى الرُّمَّانَةِ فَتُشْبِعَهُمْ وَيَكُونَ الثَّوْرُ بِكَذَا وَكَذَا مِنَ الْمَالِ وَتَكُونَ الْفَرَسُ بِالدُّرَيْهِمَاتِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا يُرْخِصُ الْفَرَسَ قَالَ ‏"‏ لاَ تُرْكَبُ لِحَرْبٍ أَبَدًا ‏"‏ ‏.‏ قِيلَ لَهُ فَمَا يُغْلِي الثَّوْرَ قَالَ ‏"‏ تُحْرَثُ الأَرْضُ كُلُّهَا وَإِنَّ قَبْلَ خُرُوجِ الدَّجَّالِ ثَلاَثَ سَنَوَاتٍ شِدَادٍ يُصِيبُ النَّاسَ فِيهَا جُوعٌ شَدِيدٌ يَأْمُرُ اللَّهُ السَّمَاءَ فِي السَّنَةِ الأُولَى أَنْ تَحْبِسَ ثُلُثَ مَطَرِهَا وَيَأْمُرُ الأَرْضَ فَتَحْبِسُ ثُلُثَ نَبَاتِهَا ثُمَّ يَأْمُرُ السَّمَاءَ فِي السَّنَةِ الثَّانِيَةِ فَتَحْبِسُ ثُلُثَىْ مَطَرِهَا وَيَأْمُرُ الأَرْضَ فَتَحْبِسُ ثُلُثَىْ نَبَاتِهَا ثُمَّ يَأْمُرُ اللَّهُ السَّمَاءَ فِي السَّنَةِ الثَّالِثَةِ فَتَحْبِسُ مَطَرَهَا كُلَّهُ فَلاَ تَقْطُرُ قَطْرَةٌ وَيَأْمُرُ الأَرْضَ فَتَحْبِسُ نَبَاتَهَا كُلَّهُ فَلاَ تُنْبِتُ خَضْرَاءَ فَلاَ تَبْقَى ذَاتُ ظِلْفٍ إِلاَّ هَلَكَتْ إِلاَّ مَا شَاءَ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏ قِيلَ فَمَا يُعِيشُ النَّاسَ فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ قَالَ ‏"‏ التَّهْلِيلُ وَالتَّكْبِيرُ وَالتَّسْبِيحُ وَالتَّحْمِيدُ وَيُجْرَى ذَلِكَ عَلَيْهِمْ مَجْرَى الطَّعَامِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ سَمِعْتُ أَبَا الْحَسَنِ الطَّنَافِسِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيَّ يَقُولُ يَنْبَغِي أَنْ يُدْفَعَ هَذَا الْحَدِيثُ إِلَى الْمُؤَدِّبِ حَتَّى يُعَلِّمَهُ الصِّبْيَانَ فِي الْكُتَّابِ ‏.‏

Narrator: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

৪০৭৭। আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আবু উমামাহ্ বাহিলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন। তিনি তাঁর অধিকাংশ ভাষণে যা তিনি আমাদের সামনে দিলেন, তা ছিল দাজ্জালের প্রসঙ্গে। তিনি আমাদিগকে তার সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করলেন। এ পর্যায়ে তিনি বললেনঃ যখন থেকে আল্লাহ আদম সন্তানকে সৃষ্টি করেছেন তখন থেকে দাজ্জালের ফিতনার চাইতে আর কোন বড় ফিতনা যমীনে সংঘটিত হয়নি। নিশ্চয় আল্লাহ কোন নবী পাঠাননি, যিনি তার উম্মাতকে দাজ্জালের ভয় দেখাননি। আর আমি সর্বশেষ নবী এবং তোমরা সবশেষ উম্মাত। সে অবশ্যই তোমাদের মাঝে প্রকাশ পাবে। আমি তোমাদের মাঝে বর্তমান থাকাকালীন সময়ে যদি সে বের হয়, তাহলে আমি প্রত্যেক মুসলমানের পক্ষে যুক্তি উত্থাপন করবো। আর যদি সে আমার পরে বের হয়, তাহলে প্রত্যেককে নিজের পক্ষে দলীল পেশ করতে হবে। আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক মুসলিমের উপর নেগাহবান। নিশ্চয় সিরিয়া ও ইরাকের ‘খুল্লাহ' নামক স্থান থেকে বের হবে। আর সে তার ডান ও বামে সর্বত্র বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। হে আল্লাহর বান্দারা! তোমরা ঈমানের উপর দৃঢ়পদে প্রতিষ্ঠিত থাকবে। কেননা, আমি তোমাদের নিকট তার এমন সব অবস্থা বর্ণনা করবো, যা আমার পূর্বে কোন নবী তার উম্মাতের কাছে বলেননি। প্রথমে সে বলবে যে, আমি নবী এবং আমার পরে কোন নবী নেই। এরপর সে দাবী করে বলবে, আমি তোমাদের রব! অথবা তোমরা তোমাদের প্রভুকে মরার পূর্বে দেখবে না। সে হবে কানা। আর তোমাদের রব তো কানা নন। আর তার দুই চোখের মাঝখানে (কপালে) লেখা থাকবে 'কাফির'। এই লেখাটি প্রত্যেক মু'মিন ব্যক্তিই পড়তে পারবে, সে লেখা পড়া জানুক বা নিরক্ষর হোক। তার ফিতনা হবে এই যে, তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম থাকবে। তবে তার জাহান্নাম হবে জান্নাত, এবং তার জান্নাত হবে জাহান্নাম। সুতরাং যে কেউ তার জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে, সে যেন আল্লাহর কাছে পানাহ চায় এবং সূরা কাহফ-এর প্রথমাংশ তিলাওয়াত করে। তখন সেই জাহান্নাম তার জন্য ঠাণ্ডা-শান্তিময় স্থানে পরিণত হবে। যে হয়েছিল আগুন ইবরসহীম (আ)-এর উপর।

দাজ্জালের অন্যতম এক ফিতনা হবে এই যে, সে এক বেদুইনকে বলবেঃ যদি আমি তোমার জন্য তোমার পিতামাতাকে জীবিত করতে পারি, তবে কি তুমি এরূপ সাক্ষ্য দিবে যে, নিশ্চয় আমি তোমার রব! তখন সে বলবেঃ হ্যাঁ, তখন তার জন্য (দাজ্জালের নির্দেশে) দুইটি শয়তান তার পিতা ও মাতার আকৃতি ধারণ করবে। তারা বলবেঃ হে বৎস! তার আনুগত্য কর। নিশ্চয় সে তোমার রব।

দাজ্জালের আরেকটি ফিতনা হবে এই যে, সে জনৈক ব্যক্তিকে পরাভূত করে তাকে হত্যা করবে, এমন কি তাকে করাত দিয়ে দু'টুকরো করে নিক্ষেপ করবে। এরপর সে বলবেঃ তোমরা আমার এই বান্দার দিকে লক্ষ্য কর, আমি একে এখনই জীবিত করছি। এরপরও কি কেউ বলবে যে, আমি ব্যতীত অন্য কেউ তার রব আছেন? এরপর আল্লাহ তা'আলা সে লোকটিকে জীবিত করবেন। তখন (দাজ্জাল) খবীস তাকে বলবেঃ তোমার রব কে? সে বলবেঃ আমার রব আল্লাহ। আর তুই তো আল্লাহর দুশমন। তুই তো দাজ্জাল! আল্লাহর শপথ! আজ আমি তোর সম্পর্কে ভাল করে বুঝতে পারছি যে, (তুই-ই দাজ্জাল)

আবুল হাসান তানফিসী (রাহঃ)....আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সেই ব্যক্তির মর্যাদা জান্নাতে আমার উম্মাতের মধ্যে বুলন্দ হবে।

রাবী বলেন, আবু সাঈদ (রাযিঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ শপথ! আমরা ধারণা করছি যে, ব্যক্তি উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ)-ই হবে। এমন কি তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

মুহারিবী (রাহঃ) বলেন, এরপর আমরা আবু রাফি (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীস আলোচনা করবো। তিনি বলেন, দাজ্জালের আরেকটি ফিতনা হবে এই যে, সে আসমানকে বৃষ্টিপাতের জন্য নির্দেশ দিবে, তখনই বৃষ্টি বর্ষণ শুরু হবে। সে যমীনকে ফসল উৎপাদনের নির্দেশ দিবে, তখন সেও ফসলাদি উদগত করবে। দাজ্জালের আরেকটি ফিতনা হবে এই যে, সে একটি গোত্রের কাছে যাবে। তখন তারা তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করবে। ফলে তাদের গৃহপালিত পশু ধ্বংস হয়ে যাবে। দাজ্জালের আরেকটি ফিতনা হবে এই যে, আরেকটি গোত্রের কাছে যাবে। তারা তাকে সত্য বলে মেনে নিবে। তখন সে আসমানকে বৃষ্টি বর্ষণের নির্দেশ দিবে, তখন বৃষ্টি বর্ষিত হবে। অতপর সে যমীনকে শস্য উৎপাদনের নির্দেশ দিবে, তখন যমীন তা উদগত করবে। যমীন এমনভাবে ফসলাদি ও ঘাস তৃণ লতাপাতা উদ্‌গত করবে যে, এমনকি তাদের গৃহ-পালিত পশুগুলো সেদিন সন্ধ্যায় অত্যন্ত মোটা-তাজা, এবং উদরপূর্তি করে দুধে স্তন ফুলিয়ে ফিরে আসবে। অবস্থা এই হবে যে, দুনিয়ার কোন ভূখণ্ড বাকী থাকবে না, যেখানে দাজ্জাল গমন না করবে এবং তা তার পদানত হচ্ছে। তবে মক্কা মোয়াযযমা ও মদীনা মুনাওয়ারা ব্যতীত (অর্থাৎ এই দুই শহরে সে প্রবেশ করতে পারেবে না)। এই দুই শহরের প্রবেশ দ্বারে উন্মুক্ত তলোয়ার হাতে ফিরিশতা মোতায়েন থাকবেন। এমন কি সে একটি ছোট লাল পাহাড়ের নিকট অবতরণ করবে, যা হবে তৃণলতা শূন্য স্থানের শেষ ভাগ। এরপর মদীনা তার অধিবাসীদের সহ তিনবার প্রকম্পিত হবে। ফলে মুনাফিক পুরুষ ও মহিলারা মদীনা থেকে বের হয়ে দাজ্জালের সাথে মিলিত হবে। এরূপে মদীনা তার ভেতরকার ময়লা বিদূরীত করবে, যেমনিভাবে লোহার মরিচা হাপর দূর করে। সে দিনের নাম হবে 'নাজাত দিবস'।

অতঃপর উম্মু শারীক বিনতে আবুল আকর (রাযিঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আরবের লোকেরা সেদিন কোথায় থাকবে? তিনি বললেনঃ সেদিন তাদের সংখ্যা হবে খুবই নগন্য। তাদের অধিকাংশ (ঈমানদার) বান্দা সে সময় বায়তুল মুকাদ্দাসে অবস্থান করবেন। তাদের ইমাম হবেন একজন নেককার ব্যক্তি। এমতাবস্থায় একদিন তাদের ইমাম তাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করবেন। সে সময় ঈসা ইবন মারইয়াম (আ) সকাল বেলা (আকাশ থেকে) অবতরণ করবেন। তখন উক্ত ইমাম (তাঁকে দেখে) পেছন দিকে হটবেন, যাতে ঈসা ইবন মারইয়াম (আ) সামনে অগ্রসর হয়ে লোকদের সালাতে ইমামতি করতে পারেন। তখন ঈসা (আ) তাঁর হাতে উক্ত ইমামের দু'কাধের উপর রাখবেন এবং তাঁকে বলবেনঃ আপনি সামনে যান এবং সালাতে ইমামতি করুন। কেননা, এই সালাত আপনার জন্যই কায়েম হয়েছিল। (অর্থাৎ আপনার ইমামতির নিয়্যাত করা হয়েছিল)।

তখন তাদের ইমাম তাদের নিয়ে সালাত আদায় করবেন। যখন তিনি সালাত শেষ করবেন, তখন ঈসা (আ) বলবেনঃ দরজা খুলে দাও। তখন দরজা খুলে দেয়া হবে। আর দরজার পেছনে থাকবে দাজ্জাল। তার সাথে থাকবে সত্তর হাজার ইয়াহুদী। এদের প্রত্যেকের কাছে তলোয়ার থাকবে, যা হবে কারুকার্যখচিত এবং থাকবে চাদরে আবৃত। যখন দাজ্জাল তাঁকে (ঈসা ইবন মারইয়াম (আ) কে) দেখবে, তখনই সে বিগলিত হয়ে যাবে, যেমন লবণ পানিতে গলে যায়। সে পালাতে থাকবে। তখন ঈসা (আ) বলবেনঃ তোর প্রতি আমার একটি আঘাত আছে। এর থেকে বাঁচবার তোর কোন উপায় নেই। পরিশেষে তিনি তাঁকে ‘বাবে লুদের' পূর্ব দিকে পাবেন এবং তাকে কতল করে ফেলবেন। আর আল্লাহ ইয়াহুদীদের পরাভূত করবেন। তখন ইয়াহুদীরা আল্লাহর সৃষ্ট যে কোন জিনিসের আড়ালে আত্মগোপন করে থাকুক না কেন, সে বস্তুকে আল্লাহ তা'আলা বাকশক্তি দান করবেন, চাই তা পাথর হোক, গাছপালা হোক, প্রাচীন হোক অথবা জানোয়ার। তবে একটি গাছ হবে ভিন্নতর, যার নাম হবে (গারকাদাহ) এটা এক ধরনের কাটাযুক্ত বৃক্ষ। একে ইয়াহুদীদের গাছ বলা হয়, সে কথা বলবে না); তবে সে বলবেঃ হে আল্লাহর মুসলিম বান্দা। এই তো ইয়াহুদী। তুমি এসো এবং একে হত্যা কর।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দাজ্জালের সময় হবে চল্লিশ বছর। তবে তার এক বছর হবে অর্ধ বছরের সমান। আরেক বছর হবে- এক মাসের সমান এবং এক মাস এক সপ্তাহের বরাবর হবে। তার শেষ দিনগুলো এমন ভয়াবহ হবে, যেমন অগ্নিস্ফুলিংগ বায়ুমণ্ডলে উড়ে বেড়ায়। তোমাদের কেউ মদীনার এক ঘটকে সকাল যাপন করলে, অন্য ফটকে যেতে না যেতেই সন্ধ্যা হয়ে যাবে। তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এত ছোট দিনে আমরা সালাত কিভাবে আদায় করবো? তিনি বললেনঃ তোমরা অনুমান করে সালাতের সময় নির্ধারণ করবে, যেমন তোমরা লম্বা দিনে অনুমান করে সালাতের সময় নির্ধারণ করে থাকে এবং এভাবে সালাত আদায় করবে।

রাসূলুল্লাহ বললেনঃ ঈসা ইব্‌ন মারইয়াম (আ) আমার উম্মাতের একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক ও ইনসাফগার ইমাম হবেন। তিনি ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন। শূকর হত্যা করবেন, (শূকর ভক্ষণ করা হারাম করবেন এবং এমনভাবে হত্যা করবেন যে, তা একটাও অবশিষ্ট থাকবে না)। তিনি জিযিয়া মাউকুফ করবেন, সাদাকা উসূল করা বন্ধ করবেন, না বকরীর উপর যাকাত ধার্য করা হবে, আর না উটের উপর। লোকদের মাঝে পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতার অবসান হবে। প্রত্যেক বিষাক্ত জন্তু-জানোয়ারের বিষ দূরীভূত হয়ে যাবে। এমন কি দুগ্ধপোষ্য শিশু তার হাত সাপের মুখের ভেতর ঢুকিয়ে দিবে, কিন্তু সে তার কোন ক্ষতি করবে না। একজন ক্ষুদ্র মানব শিশু সিংহকে তাড়া করবে। সেও তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। নেকড়ে বাঘ বকরীর পালে এমনভাবে থাকবে, যেন তা তার কুকুর অর্থাৎ রক্ষক। পৃথিবী শান্তিপূর্ণ হয়ে যাবে, যেমন পানিতে বরতন পরিপূর্ণ হয়। সকলের কলেমা এক হয়ে যাবে। আল্লাহ ব্যতীত কারোর ইবাদত করা হবে না। যুদ্ধ-বিগ্রহ তার সাজ সরঞ্জাম রেখে দিবে। কুরায়শদের রাজত্বের অবসান হবে। যমীন রৌপ্য নির্মিত তশতরীর মত হয়ে যাবে। সে এমন সব ফলমূল উৎপন্ন করবে, যেমনিভাবে আদম (আ)-এর যামানায় উদ্‌গত হতো। এমনকি কয়েকজন লোক একটি আংগুরের খোসার মধ্যে একত্র হতে পারবে এবং তা সকলকে পরিতৃপ্ত করবে। অনেক লোক একটি ডালিমের জন্য একত্র হবে এবং তা সকলকে পরিতৃপ্ত করবে। তাদের বলদ গরু হবে এই, এই মূল্যের এবং ঘোড়া স্বল্প মূল্যে বিক্রি হবে। তারা বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! ঘোড়া সস্তা হবে কেন? তিনি বললেনঃ কারণ লড়াই এর জন্য কেউ অশ্বারোহী হবে না। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ গরু অতি মূল্যবান হবে কেন? তিনি বললেনঃ সারা ভূ-খণ্ডে কৃষিকাজ সম্প্রসারিত হবে।

দাজ্জালের আবির্ভাবের তিন বছর পূর্বে দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে। যাতে মানুষে চরমভাবে ক্ষুধায় কষ্ট পাবে। প্রথম বছর আল্লাহ তা'আলা আসমানকে তিনভাগের এক ভাগ বৃষ্টি আটকে রাখার নির্দেশ দিবেন এবং যমীনকে নির্দেশ দিবেন, তখন তা এক তৃতীয়াংশ ফসল কম উৎপাদন করবে। এরপর তিনি আসমানকে দ্বিতীয় বছর একই নির্দেশ দিবেন, তখন তা দুই তৃতীয়াংশ বৃষ্টি বন্ধ করে দিবে এবং যমীনকে হুকুম করবেন, তখন তাও দুই তৃতীয়াংশ ফসলাদি কম উৎপন্ন করবে। এরপর আল্লাহ তা'আলা আকাশকে তৃতীয় বছরে একই নির্দেশ দিবেন, তখন তা সম্পূর্ণভাবে বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দিবে। ফলে, এক ফোঁটা বৃষ্টি ও বর্ষিত হবে না। আর তিনি যমীনকে নির্দেশ দিবেন, তখন সে সম্পূর্ণভাবে শস্য উৎপাদন বন্ধ করবে। ফলে যমীনে কোন ঘাস জন্মাবে না, আর কোন সব্‌জি অবশিষ্ট থাকবে না, বরং তা ধ্বংস হয়ে যাবে, তবে আল্লাহ যা চাইবেন। তখন জিজ্ঞাসা করা হলোঃ এ সময় লোকেরা কিরূপে বেঁচে থাকবে? তিনি বললেনঃ যারা তাহলীল (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু), তাকবীর (আল্লাহ আকবর) তাসবীহ্ (সুবহানাল্লাহ) তাহমীদ (আলহামদুল্লিাহ) বলতে থাকে, এসব তাদের খাদ্য নালিতে প্রবাহিত করে দেওয়া হবে।

আবু আব্দুল্লাহ (রাহঃ) বলেনঃ আমি আবুল হাসান তানাফিসী (রাহঃ) থেকে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ আমি আব্দুর রহমান মুহারিবী (রাহঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, এই হাদীসখানি মকতবের উস্তাদের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন, যাতে তারা বাচ্চাদের এটা শিক্ষা দিতে পারেন।
4078

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَنْزِلَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ حَكَمًا مُقْسِطًا وَإِمَامًا عَدْلاً فَيَكْسِرُ الصَّلِيبَ وَيَقْتُلُ الْخِنْزِيرَ وَيَضَعُ الْجِزْيَةَ وَيَفِيضُ الْمَالُ حَتَّى لاَ يَقْبَلَهُ أَحَدٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৭৮। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়ব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ ঈসা ইব্‌ন মারইয়াম (আ) ন্যায়পরায়ণ শাসক ও ইনসাফগার ইমাম হিসাবে অতবরণ না করার পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। তিনি ক্রুশ ভেঙ্গে চুরমার করবেন, শূকর

4079

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي عَاصِمُ بْنُ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏"‏ تُفْتَحُ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ فَيَخْرُجُونَ كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى ‏(وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ)‏ فَيَعُمُّونَ الأَرْضَ وَيَنْحَازُ مِنْهُمُ الْمُسْلِمُونَ حَتَّى تَصِيرَ بَقِيَّةُ الْمُسْلِمِينَ فِي مَدَائِنِهِمْ وَحُصُونِهِمْ وَيَضُمُّونَ إِلَيْهِمْ مَوَاشِيَهُمْ حَتَّى أَنَّهُمْ لَيَمُرُّونَ بِالنَّهَرِ فَيَشْرَبُونَهُ حَتَّى مَا يَذَرُونَ فِيهِ شَيْئًا فَيَمُرُّ آخِرُهُمْ عَلَى أَثَرِهِمْ فَيَقُولُ قَائِلُهُمْ لَقَدْ كَانَ بِهَذَا الْمَكَانِ مَرَّةً مَاءٌ وَيَظْهَرُونَ عَلَى الأَرْضِ فَيَقُولُ قَائِلُهُمْ هَؤُلاَءِ أَهْلُ الأَرْضِ قَدْ فَرَغْنَا مِنْهُمْ وَلَنُنَازِلَنَّ أَهْلَ السَّمَاءِ حَتَّى إِنَّ أَحَدَهُمْ لَيَهُزُّ حَرْبَتَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَتَرْجِعُ مُخَضَّبَةً بِالدَّمِ فَيَقُولُونَ قَدْ قَتَلْنَا أَهْلَ السَّمَاءِ ‏.‏ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ دَوَابَّ كَنَغَفِ الْجَرَادِ فَتَأْخُذُ بِأَعْنَاقِهِمْ فَيَمُوتُونَ مَوْتَ الْجَرَادِ يَرْكَبُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا فَيُصْبِحُ الْمُسْلِمُونَ لاَ يَسْمَعُونَ لَهُمْ حِسًّا فَيَقُولُونَ مَنْ رَجُلٌ يَشْرِي نَفْسَهُ وَيَنْظُرُ مَا فَعَلُوا فَيَنْزِلُ مِنْهُمْ رَجُلٌ قَدْ وَطَّنَ نَفْسَهُ عَلَى أَنْ يَقْتُلُوهُ فَيَجِدُهُمْ مَوْتَى فَيُنَادِيهِمْ أَلاَ أَبْشِرُوا فَقَدْ هَلَكَ عَدُوُّكُمْ ‏.‏ فَيَخْرُجُ النَّاسُ وَيُخْلُونَ سَبِيلَ مَوَاشِيهِمْ فَمَا يَكُونُ لَهُمْ رَعْىٌ إِلاَّ لُحُومُهُمْ فَتَشْكَرُ عَلَيْهَا كَأَحْسَنِ مَا شَكِرَتْ مِنْ نَبَاتٍ أَصَابَتْهُ قَطُّ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪০৭৯। আবু কুরায়ব (রাহঃ)...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়াজুজ মাজুজকে ছেড়ে দেয়া হবে; (অর্থাৎ যে প্রাচীর বেষ্টিত আছে, তা খুলে দেওয়া হবে)। অতঃপর তারা বের হবে, যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃوَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ

“এবং তারা সব উঁচু ভূমি হতে ছুটে আসবে।" (২১ঃ ৯৬)। এবং তারা যমীনের সর্বজ্ঞ ছড়িয়ে পড়বে মুসলমানেরা তাদের থেকে পৃথক হয়ে যাবে, অবশিষ্ট মুসলমানরা তাদের শহর ও দুর্গে আশ্রয় নিবে। সেখানে তারা তাদের গৃহপালিত পশুগুলো সাথে করে নিয়ে যাবে। ইয়াজুজ ও মাজুজের অবস্থা হবে এই যে, তাদের লোকগুলো একটি নহরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে এবং তার সমুদয় পানি পান করে ফেলবে, এমন কি এক ফোঁটা পানিও অবশিষ্ট থাকবে না। এরপর তাদের দলের অবশিষ্টরা তাদের অনুসরণ করবে। তখন তাদের মধ্য হতে একজন বলবে, এখানে কি কখনো পানি ছিল। যমীনে তারা বিজয়ী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। শেষ পর্যন্ত তাদের একজন বলবে, এখন তো আমরা পৃথিবী বাসীদের থেকে স্বস্তি পেয়েছি, আমাদের কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এবারে আসমান বাসীদের বিরুদ্ধে লড়বো। পরিশেষে তাদের একজন নিজ হাতে আকাশের দিকে বর্শা নিক্ষেপ করবে। তা রক্তে রঞ্জিত হয়ে ফিরে আসবে। অতঃপর তারা বলবে আমরা আসমানবাসীদেরও নিপাত করেছি। তারা এই অবস্থায় থাকবে, তখন আল্লাহ তা'আলা টিড্ডি (এক প্রকার ফড়িং বা ফসলের ক্ষতি করে এরূপ পোকা) বাহিনী পাঠাবেন। এই টিডিডগুলো ওদের ঘাড় ভেঙ্গে দিবে অথবা ঘাড়ের মধ্যে ঢুকে পড়বে। ফলে ওরাও তাদের মত মারা যাবে। তারপর একের উপর অপরটি পড়ে থাকবে। মুসলমানেরা সকাল বেলা তাদের শহর ও দুর্গ থেকে উঠবেন। তখন তারা ওদের বীভৎস চীৎকার শুনতে পাবেন এবং বলবেন আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে তার নিজের জানের উপর তামাশা করবে? সে যেন ইয়াজুজ মাজুজের কি কাণ্ড ঘটেছে তা দেখে নেয়। অতঃপর তাদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি বের হবে এই বলে যে, তারা অবশ্যই তাকে হত্যা করবে। সে তাদের সবাইকে মৃত দেখতে পাবে। অতঃপর আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে অন্যান্য মুসলমানদের ডাকতে থাকবে, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। তোমাদের দুশমন ধ্বংস হয়েছে। তখন লোকেরা বেরিয়ে আসবে এবং তাদের গৃহপালিত পশুগুলো চারণভূমিতে ছেড়ে দিবে। তাদের চারণভূমিতে ইয়াজুজ মাজুজের গোশত ব্যতিরেকে কিছুই থাকবে না, ওরা তাদের মাংস ভক্ষণ করে বেশ মোটাতাজা হবে, যেমন কখনো কেউ ঘাস তৃণ লতা খেয়েও মোটাতাজা হতে পারেনি।
4080

حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِنَّ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ يَحْفِرُونَ كُلَّ يَوْمٍ حَتَّى إِذَا كَادُوا يَرَوْنَ شُعَاعَ الشَّمْسِ قَالَ الَّذِي عَلَيْهِمُ ارْجِعُوا فَسَنَحْفِرُهُ غَدًا ‏.‏ فَيُعِيدُهُ اللَّهُ أَشَدَّ مَا كَانَ حَتَّى إِذَا بَلَغَتْ مُدَّتُهُمْ وَأَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَبْعَثَهُمْ عَلَى النَّاسِ حَفَرُوا حَتَّى إِذَا كَادُوا يَرَوْنَ شُعَاعَ الشَّمْسِ قَالَ الَّذِي عَلَيْهِمُ ارْجِعُوا فَسَتَحْفِرُونَهُ غَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى وَاسْتَثْنَوْا فَيَعُودُونَ إِلَيْهِ وَهُوَ كَهَيْئَتِهِ حِينَ تَرَكُوهُ فَيَحْفِرُونَهُ وَيَخْرُجُونَ عَلَى النَّاسِ فَيَنْشِفُونَ الْمَاءَ وَيَتَحَصَّنُ النَّاسُ مِنْهُمْ فِي حُصُونِهِمْ فَيَرْمُونَ بِسِهَامِهِمْ إِلَى السَّمَاءِ فَتَرْجِعُ عَلَيْهَا الدَّمُ الَّذِي اجْفَظَّ فَيَقُولُونَ قَهَرْنَا أَهْلَ الأَرْضِ وَعَلَوْنَا أَهْلَ السَّمَاءِ فَيَبْعَثُ اللَّهُ نَغَفًا فِي أَقْفَائِهِمْ فَيَقْتُلُهُمْ بِهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ دَوَابَّ الأَرْضِ لَتَسْمَنُ وَتَشْكَرُ شَكَرًا مِنْ لُحُومِهِمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৮০। আযহার ইব্‌ন মারওয়ান (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয় ইয়াজুজ মাজুজ প্রত্যহ গর্ত খুঁড়তে থাকে, এমনকি যখন তারা সূর্যের আলোক রশ্মি দেখার মত অবস্থায় পৌঁছে (অর্থাৎ গর্ত এতটা পাতলা হয় যেন সূর্য রশ্মি দেখা যায়) এরপর তাদের নেতা বলেঃ তোমরা ফিরে চলো, আগামীকাল এসে আমরা খুঁড়ার কাজ শেষ করবো। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা (রাতের মধ্যে) সেই প্রাচীরকে আগের চাইতে মযবুত করে দেন। যখন তাদের আবির্ভাবের সময় পৌঁছে যাবে এবং আল্লাহ তা'আলা তাদের মানুষের নিকট পাঠাতে চাইবেন, তখন তারা (অভ্যাস অনুযায়ী) প্রাচীর খুঁড়তে থাকবে, এমন কি যখন তারা সূর্যের আলোক রশ্মি দেখার মত অবস্থায় পৌঁছবে, তখন তাদের নেতা বলবেঃ এবার ফিরে চলো, ইনশাআল্লাহ আগামীকাল বাকী খুঁড়ার কাজ শেষ করবে। তারা 'ইনশাআল্লাহ' শব্দ ব্যবহার করবে। সেদিন তারা ফিরে যাবে এবং প্রাচীর ঐ অবস্থায় থাকবে, যে অবস্থায় তারা রেখে যাবে। অবশেষে তারা খুঁড়ার কাজ শেষ করবে এবং লোকের নিকট বেরিয়ে আসবে এবং সমুদয় পানি পান করে নিঃশেষ করে ফেলবে। মানুষ তাদের ভয়ে পালিয়ে দুর্গের মধ্যে আশ্রয় নিবে। তারা আকাশের পানে তাদের বর্শা নিক্ষেপ করবে। রক্তে রঞ্জিত হয়ে তাঁর তাদের দিকে ফিরে আসবে। তখন তারা বলবেঃ আমরা যমীন বাসীদের উপর বিজয়ী হয়েছি এবং আসমান বাসীদের উপরও বিজয়ী হয়েছি। এরপর আল্লাহ তাদের গর্দানে এক ধরনের কীট পয়দা করবেন। কীটগুলো ওদের কতল করে ফেলবে।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সেই মহান সত্তার শপথ। যাঁর হাতে আমার প্রাণ। ভূ-পৃষ্টের চতুস্পদ গৃহপালিত জন্তুগুলো মোটাতাজা হয়ে যাবে এবং থলথলে মাংসল হয়ে যাবে ওদের গোশত ভক্ষণ করে।
4081

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا الْعَوَّامُ بْنُ حَوْشَبٍ، حَدَّثَنِي جَبَلَةُ بْنُ سُحَيْمٍ، عَنْ مُؤْثِرِ بْنِ عَفَازَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ لَمَّا كَانَ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لَقِيَ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى فَتَذَاكَرُوا السَّاعَةَ فَبَدَءُوا بِإِبْرَاهِيمَ فَسَأَلُوهُ عَنْهَا فَلَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ مِنْهَا عِلْمٌ ثُمَّ سَأَلُوا مُوسَى فَلَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ مِنْهَا عِلْمٌ فَرُدَّ الْحَدِيثُ إِلَى عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ فَقَالَ قَدْ عُهِدَ إِلَىَّ فِيمَا دُونَ وَجْبَتِهَا فَأَمَّا وَجْبَتُهَا فَلاَ يَعْلَمُهَا إِلاَّ اللَّهُ ‏.‏ فَذَكَرَ خُرُوجَ الدَّجَّالِ قَالَ فَأَنْزِلُ فَأَقْتُلُهُ فَيَرْجِعُ النَّاسُ إِلَى بِلاَدِهِمْ فَيَسْتَقْبِلُهُمْ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ فَلاَ يَمُرُّونَ بِمَاءٍ إِلاَّ شَرِبُوهُ وَلاَ بِشَىْءٍ إِلاَّ أَفْسَدُوهُ فَيَجْأَرُونَ إِلَى اللَّهِ فَأَدْعُو اللَّهَ أَنْ يُمِيتَهُمْ فَتَنْتُنُ الأَرْضُ مِنْ رِيحِهِمْ فَيَجْأَرُونَ إِلَى اللَّهِ فَأَدْعُو اللَّهَ فَيُرْسِلُ السَّمَاءَ بِالْمَاءِ فَيَحْمِلُهُمْ فَيُلْقِيهِمْ فِي الْبَحْرِ ثُمَّ تُنْسَفُ الْجِبَالُ وَتُمَدُّ الأَرْضُ مَدَّ الأَدِيمِ فَعُهِدَ إِلَىَّ مَتَى كَانَ ذَلِكَ كَانَتِ السَّاعَةُ مِنَ النَّاسِ كَالْحَامِلِ الَّتِي لاَ يَدْرِي أَهْلُهَا مَتَى تَفْجَؤُهُمْ بِوِلاَدَتِهَا ‏.‏ قَالَ الْعَوَّامُ وَوُجِدَ تَصْدِيقُ ذَلِكَ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى ‏(حَتَّى إِذَا فُتِحَتْ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ)‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪০৮১। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর মি'রাজ সংঘটিত হয়েছিল তিনি সেই রাতে ইবরাহীম (আ), মুসা (আ) ও ঈসা (আ)-এর সাথে মুলাকাত করেন। তাঁরা পরস্পরে কিয়ামত সম্পর্কে আলাপ আলোচনা করছিলেন। সবাই প্রথমে ইবরাহীম (আ)-এর কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলেন। কিন্তু কিয়ামতের কোন ইল্‌ম তাঁর ছিল না। এরপর বিষয়টি ঈসা ইবন মারইয়াম (আ)-এর কাছে সোপর্দ করা হলো। তখন তিনি বললেনঃ আমার থেকে কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে দুনিয়াতে প্রত্যাবর্তনের প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিয়ামতের সঠিক ইল্‌ম আল্লাহ ব্যতীত কারোর কাছে নেই। এরপর তিনি দাজ্জালের আবির্ভাবের কথা উল্লেখ করলেন। তিনি বললেনঃ আমি দুনিয়াতে অবতরণ করবো এবং দাজ্জালকে কতল করবো। এরপর লোকেরা তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবে। ইত্যবসরে তাদের নিকট ইয়াজুজ মাজুজের প্রাদুর্ভাব হবে। তারা প্রতি উঁচু ভূমি থেকে ছুটে আসবে। তারা যে পানির নিকট দিয়ে অতিক্রম করবে, তা পান করে ফেলবে, এরা যে বস্তুর কাছ দিয়ে যাবে, তা নষ্ট করে ফেলবে। তখন লোকেরা উচ্চস্বরে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করবে এবং আমিও আল্লাহর কাছে দু'আ করবো, যাতে তিনি ওদের মেরে ফেলেন। (ফলে তারা মরে যাবে) এবং যমীন তাদের (গলিত লাশের) গন্ধে দুর্গন্ধময় হয়ে যাবে। লোকেরা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করবে এবং আমিও দু'আ করবো। তখন তিনি আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, যা তাদের ভাসিয়ে নিয়ে সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে। এরপর পাহাড়-পর্বত উৎপাটিত করা হবে, যমীন প্রশস্ত করা হবে, যেমন চামড়া প্রশস্ত করা হয়। তারপর আমাকে বলা হলোঃ যখন এই সব বিষয় প্রকাশিত হবে, তখন কিয়ামত মানুষের এতটা নিকটবর্তী হবে, যেমন গর্ভবতী মহিলা তার পরিবারের লোকজন জানে না যে, কখন সে সন্তান প্রসব করবে। তখন তাদের সন্তান প্রসবের ব্যাপারটি ব্যস্ততায় রাখবে। আওয়াম (রাহঃ) বলেন, এই ঘটনার সত্যতার আল্লাহর কিতাবে পাওয়া যায়ঃ حَتَّى إِذَا فُتِحَتْ يَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ

“এমনকি যখন ইয়াজূজ মাজুজকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং ওরা প্রতি উঁচুভূমি থেকে ছুটে আসবে। (২১ঃ ৯৬)

মাহদী (আ)-এর আবির্ভাব

بَاب خُرُوجِ الْمَهْدِيِّ

4082

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذْ أَقْبَلَ فِتْيَةٌ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ فَلَمَّا رَآهُمُ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ اغْرَوْرَقَتْ عَيْنَاهُ وَتَغَيَّرَ لَوْنُهُ قَالَ فَقُلْتُ مَا نَزَالُ نَرَى فِي وَجْهِكَ شَيْئًا نَكْرَهُهُ ‏.‏ فَقَالَ ‏ "‏ إِنَّا أَهْلُ بَيْتٍ اخْتَارَ اللَّهُ لَنَا الآخِرَةَ عَلَى الدُّنْيَا وَإِنَّ أَهْلَ بَيْتِي سَيَلْقَوْنَ بَعْدِي بَلاَءً وَتَشْرِيدًا وَتَطْرِيدًا حَتَّى يَأْتِيَ قَوْمٌ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ مَعَهُمْ رَايَاتٌ سُودٌ فَيَسْأَلُونَ الْخَيْرَ فَلاَ يُعْطَوْنَهُ فَيُقَاتِلُونَ فَيُنْصَرُونَ فَيُعْطَوْنَ مَا سَأَلُوا فَلاَ يَقْبَلُونَهُ حَتَّى يَدْفَعُوهَا إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي فَيَمْلَؤُهَا قِسْطًا كَمَا مَلَؤُوهَا جَوْرًا فَمَنْ أَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَلْيَأْتِهِمْ وَلَوْ حَبْوًا عَلَى الثَّلْجِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪০৮২। উসমান ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট বসা ছিলাম, তখন বানূ হাশিম গোত্রের কতিপয় যুবক তাঁর নিকট হাযির হলো। নবী (ﷺ) যখন তাদের দেখলেন, তখন তাঁর চোখ মুবারক অশ্রুসিক্ত হলো এবং তাঁর চেহারার রং পাল্টে গেল। রাবী বলেন, আমি বললামঃ আমরা সব সময় আপনার চেহারায় দুশ্চিন্তার ছাপ দেখতে পাই। তিনি বললেনঃ আমরা সেই পরিবারের লোক, আমাদের জন্য আল্লাহ তা'আলা দুনিয়ার উপর আখিরাতকে পছন্দ করেছেন। আমার পরিবার পরিজন আমার পরে অচিরেই কঠিন বিপদের সম্মুখীন হবে, সর্বোপরি দেশান্তরিত হবে, এমন কি প্রাচ্যদেশ থেকে কিছু লোক তাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসবে, তাদের সাথে থাকবে কালো পতাকাসমূহ। তারা কল্যাণ (গুপ্তধন) চাইবে, কিন্তু তা তাদের দেওয়া হবে না। তারা লড়াই করবে এবং বিজয়ী হবে। অবশেষে তাদের তা দেওয়া হবে, যা তারা চেয়েছিল, কিন্তু তারা তা কবূল করবে না। অবশেষে আমার পরিবারের একজন লোকের নিকট তা সোপর্দ করা হবে। সে পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পরিপূর্ণ করে দিবে, যেমনিভাবে লোকেরা একে যুলুম নির্যাতন দ্বারা জর্জরিত করেছিল। তোমাদের মাঝে যারা সেই যুগ পাবে, তারা যেন তাদের নিকট যায়, যদিও তাদের হামাগুঁড়ি দিয়ে বরফের, উপর দিয়ে চলতে হয়।

4083

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَرْوَانَ الْعُقَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ أَبِي حَفْصَةَ، عَنْ زَيْدٍ الْعَمِّيِّ، عَنْ أَبِي صِدِّيقٍ النَّاجِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ يَكُونُ فِي أُمَّتِي الْمَهْدِيُّ إِنْ قُصِرَ فَسَبْعٌ وَإِلاَّ فَتِسْعٌ فَتَنْعَمُ فِيهِ أُمَّتِي نَعْمَةً لَمْ يَنْعَمُوا مِثْلَهَا قَطُّ تُؤْتَى أُكُلَهَا وَلاَ تَدَّخِرُ مِنْهُمْ شَيْئًا وَالْمَالُ يَوْمَئِذٍ كُدُوسٌ فَيَقُومُ الرَّجُلُ فَيَقُولُ يَا مَهْدِيُّ أَعْطِنِي فَيَقُولُ خُذْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪০৮৩। নসর ইবন আলী জাহযামী (রাহঃ).....আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মাঝেই মাহদী পয়দা হবেন। তিনি কমপক্ষে সাত বছর অন্যথায় নয় বছর (দুনিয়াতে) অবস্থানে করবেন। তাঁর সময়কালে আমার উম্মাত এতবেশী আনন্দ ও খুশীতে থাকবে যত খুশী ইতিপূর্বে কখনো হয়নি। (ভূ-পৃষ্ঠের হাল এই হবে যে), সে সব ধরনের ফলমুল উৎপন্ন করবে এবং তাদের থেকে কিছুই আটকিয়ে রাখবে না। ধন-সম্পদ স্তুপকৃত হবে। লোকে দাঁড়িয়ে বলবেঃ হে মাহদী! আমাকে দিন। তিনি বলবেনঃ যতটা প্রয়োজন নিয়ে যাও।

4084

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، وَأَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ يَقْتَتِلُ عِنْدَ كَنْزِكُمْ ثَلاَثَةٌ كُلُّهُمُ ابْنُ خَلِيفَةٍ ثُمَّ لاَ يَصِيرُ إِلَى وَاحِدٍ مِنْهُمْ ثُمَّ تَطْلُعُ الرَّايَاتُ السُّودُ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ فَيَقْتُلُونَكُمْ قَتْلاً لَمْ يُقْتَلْهُ قَوْمٌ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ ذَكَرَ شَيْئًا لاَ أَحْفَظُهُ فَقَالَ ‏"‏ فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَبَايِعُوهُ وَلَوْ حَبْوًا عَلَى الثَّلْجِ فَإِنَّهُ خَلِيفَةُ اللَّهِ الْمَهْدِيُّ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত ছাওবান (রাঃ)

৪০৮৪। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইন ইউসুফ (রাহঃ)...... সাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের একটি ধনাগারের (আশ্রাগার) নিকট তিন জন নিহত হবেন। তাদের প্রত্যেকই হবেন খলীফার পুত্র। এরপর সেই ধনাগার তাদের কেউ পাবেন না। প্রাচ্য দেশ থেকে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। তারা তোমাদের এমনভাবে হত্যা করবে, যেমনটি ইতিপূর্বে কোন জাতি করেনি। অতঃপর তিনি আরও কিছু উল্লেখ করেছিলেন, যা আমার স্মরণে নেই। আর তিনি এও বললেনঃ যখন তোমরা তাঁকে দেখতে পাবে, তখন তাঁর হাতে বায়'আত গ্রহণ করবে, যদিও তোমাদের হামাগুড়ি দিয়ে বরফের উপর দিয়ে অতিক্রম করতে হয়। কেননা তিনি আল্লাহর খলীফা আল-মাহ্দী ।

4085

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ، حَدَّثَنَا يَاسِينُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الْمَهْدِيُّ مِنَّا أَهْلَ الْبَيْتِ يُصْلِحُهُ اللَّهُ فِي لَيْلَةٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪০৮৫। উসমান ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মাহদী আমাদের আহলে বায়তদের মাঝ থেকে হবেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে এক রাতে খিলাফতের যোগ্য করে দিবেন।

4086

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمَلِيحِ الرَّقِّيُّ، عَنْ زِيَادِ بْنِ بَيَانٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ نُفَيْلٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ أُمِّ سَلَمَةَ فَتَذَاكَرْنَا الْمَهْدِيَّ فَقَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ الْمَهْدِيُّ مِنْ وَلَدِ فَاطِمَةَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৪০৮৬। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাযিঃ)...... সাঈদ ইব্‌ন মুসায়্যাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা (উম্মুল মু'মিনীন) উম্মু সালামা (রাযিঃ)-এর কাছে বসা ছিলাম। তখন আমরা পরস্পরে মাহদী সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ মাহদী (নবী দুলালী) ফাতিমা (রাযিঃ)-এর বংশধর থেকে হবেন।

4087

حَدَّثَنَا هَدِيَّةُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زِيَادٍ الْيَمَامِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ نَحْنُ وَلَدَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ سَادَةُ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَنَا وَحَمْزَةُ وَعَلِيٌّ وَجَعْفَرٌ وَالْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ وَالْمَهْدِيُّ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪০৮৭। হাদিয়াহ্ ইব্‌ন আব্দুল ওহ্হাব (রাহঃ)...... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ আমরা আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর এবং জান্নাত বাসীর সরদার। এই সব লোকঃ আমি হামযাহ (রাযিঃ), আলী (রাযিঃ), জাফর (রাযিঃ), হাসান (রাযিঃ), হুসাইন (রাযিঃ) ও মাহদী (আ)।

4088

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى الْمِصْرِيُّ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ عَبْدُ الْغَفَّارِ بْنُ دَاوُدَ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَمْرِو بْنِ جَابِرٍ الْحَضْرَمِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ الزُّبَيْدِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يَخْرُجُ نَاسٌ مِنَ الْمَشْرِقِ فَيُوَطِّئُونَ لِلْمَهْدِيِّ ‏"‏ ‏.‏ يَعْنِي سُلْطَانَهُ ‏.‏

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস যুবাইদী (রাঃ)

৪০৮৮। হারমালাহ ইবন ইয়াহইয়া মিসরী ও ইবরাহীম ইবন সাঈদ জাওহারী (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন হারিস ইবন যাবীদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পূর্বদেশ থেকে কিছু লোক বের হবে এবং তারা মাহদী (আ)-এর সালতানাত প্রতিষ্ঠা করবে।

বড় বড় যুদ্ধ বিগ্রহ

بَاب الْمَلَاحِمِ

4089
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، قَالَ مَالَ مَكْحُولٌ وَابْنُ أَبِي زَكَرِيَّا إِلَى خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ وَمِلْتُ مَعَهُمَا فَحَدَّثَنَا عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، قَالَ قَالَ لِي جُبَيْرٌ انْطَلِقْ بِنَا إِلَى ذِي مِخْمَرٍ - وَكَانَ رَجُلاً مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ - فَانْطَلَقْتُ مَعَهُمَا فَسَأَلَهُ عَنِ الْهُدْنَةِ فَقَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ سَتُصَالِحُكُمُ الرُّومُ صُلْحًا آمِنًا ثُمَّ تَغْزُونَ أَنْتُمْ وَهُمْ عَدُوًّا فَتُنْصَرُونَ وَتَغْنَمُونَ وَتَسْلَمُونَ ثُمَّ تَنْصَرِفُونَ حَتَّى تَنْزِلُوا بِمَرْجٍ ذِي تُلُولٍ فَيَرْفَعُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الصَّلِيبِ الصَّلِيبَ فَيَقُولُ غَلَبَ الصَّلِيبُ ‏.‏ فَيَغْضَبُ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَيَقُومُ إِلَيْهِ فَيَدُقُّهُ فَعِنْدَ ذَلِكَ تَغْدِرُ الرُّومُ وَيَجْتَمِعُونَ لِلْمَلْحَمَةِ ‏"‏ ‏.‏

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ وَزَادَ فِيهِ فَيَجْتَمِعُونَ لِلْمَلْحَمَةِ فَيَأْتُونَ حِينَئِذٍ تَحْتَ ثَمَانِينَ غَايَةٍ تَحْتَ كُلِّ غَايَةٍ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪০৮৯। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... জুবায়ের ইবন নুফায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে জুবায়র (রাযিঃ) বললেনঃ তুমি আমাদের সঙ্গে যু-মিখসারের কাছে চল এবং তিনি ছিলেন নবী (ﷺ) এর একজন সাহাবী। আমিও তাদের দুইজনের সাথে গেলাম। তিনি তাঁকে সন্ধি সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। তখন তিনি বললেনঃ আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ অদূর ভবিষ্যতে রোমকরা তোমাদের সাথে শান্তিচুক্তি সম্পাদন করবে। অতঃপর তোমরা (তাদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধ করবে। তোমরা এবং তারা (পরস্পরের) দুশমন হবে। এরপর তোমরা বিজয়ী হবে এবং গনীমতের মাল লাভ করবে। আর তোমরা নিরাপদে থাকবে এবং (যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে) ফিরে আসবে, এমনকি তেমরা সবুজ শ্যামল উঁচু স্থানে অবতরণ করবে। তখন যোদ্ধদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি ক্রুশ উত্তোলন করবে এবং বলবেঃ সলীব বিজয়ী হয়েছে। সে সময় একজন মুসলমান ক্রোধান্বিত হবেন এবং ক্রুশের নিকট গিয়ে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলবেন। তখন রোমকরা অংগীকার ভঙ্গ করবে এবং তারা সবাই যুদ্ধের জন্য একত্রিত হবে।

আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম দিমাশকী (রাহঃ)...... হাসান ইব্‌ন আতিয়্যা (রাযিঃ) তাঁর সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি তার বর্ণনায় অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেনঃ তখন তারা যুদ্ধের জন্য একত্রিত হবে। তখন তারা আশিটি পতাকার অধীনে উপস্থিত হবে। প্রত্যেক পতাকার অধীনে বার হাজার সৈন্য থাকবে।
4090

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي الْعَاتِكَةِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ حَبِيبٍ الْمُحَارِبِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِذَا وَقَعَتِ الْمَلاَحِمُ بَعَثَ اللَّهُ بَعْثًا مِنَ الْمَوَالِي هُمْ أَكْرَمُ الْعَرَبِ فَرَسًا وَأَجْوَدُهُ سِلاَحًا يُؤَيِّدُ اللَّهُ بِهِمُ الدِّينَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৯০। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন বড় বড় যুদ্ধ বিগ্রহ সংঘটিত হবে, তখন আল্লাহ তা'আলা মাওয়ালীদের অনারব থেকে একদল সেনাবাহিনী প্রেরণ করবেন। তারা সারা আরবে সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞ অশ্বারোহী হবে এবং উন্নততর যুদ্ধাস্ত্রের অধিকারী হবে। আল্লাহ তা'আলা তাদের দ্বারা দ্বীনের সাহায্য করবেন।

4091

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ سَتُقَاتِلُونَ جَزِيرَةَ الْعَرَبِ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ تُقَاتِلُونَ الرُّومَ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ تُقَاتِلُونَ الدَّجَّالَ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ جَابِرٌ فَمَا يَخْرُجُ الدَّجَّالُ حَتَّى تُفْتَحَ الرُّومُ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪০৯১। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাযিঃ)....... নাফি ইব্‌ন উতবা ইব্‌ন আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমরা জাযিরাতুল আরব[১] অর্থাৎ আরব উপদ্বীপের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। আল্লাহ একে তোমাদের আয়ত্তে এনে দিবেন। অতঃপর তোমরা রোমকদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। আল্লাহ সেখানেও তোমাদের বিজয়ী করবেন। তারপর তোমরা দাজ্জালের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে। আল্লাহ তার উপরেও তোমাদের জয়যুক্ত করবেন।

জাবির (রাযিঃ) বলেনঃ দাজ্জাল আবির্ভূত হওয়ার পূর্বেই রোম সাম্রাজ্য বিজিত হবে।

[১] আরব দেশ তিন দিক দিয়ে সমুদ্র বেষ্টিত, এক দিকে স্থলভাগ। তাই একে 'উপদ্বীপ' বলা হয়।
4092

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ سُفْيَانَ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ قُطَيْبٍ السَّكُونِيِّ، - وَقَالَ الْوَلِيدُ يَزِيدُ بْنُ قُطْبَةَ - عَنْ أَبِي بَحْرِيَّةَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ الْمَلْحَمَةُ الْكُبْرَى وَفَتْحُ الْقُسْطُنْطِينِيَّةِ وَخُرُوجُ الدَّجَّالِ فِي سَبْعَةِ أَشْهُرٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৪০৯২। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)..... মু'আয ইব্‌ন জাবাল (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ঘোরতর যুদ্ধ কনষ্টান্টিনোপল বিজয় এবং দাজ্জালের আবির্ভাব এই তিনটি (ঘটনা) সাত মাসের মধ্যেই সংঘটিত হবে।

4093

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ بَحِيرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ أَبِي بِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ بَيْنَ الْمَلْحَمَةِ وَفَتْحِ الْمَدِينَةِ سِتُّ سِنِينَ وَيَخْرُجُ الدَّجَّالُ فِي السَّابِعَةِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর আল-আসলামী রাযি.

৪০৯৩। সুওয়ায়দ ইবন সাঈদ (রাহঃ)..... আব্দুল্লাহ ইবন বুসর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ঘোরতম যুদ্ধ ও মদীনা (কনষ্টান্টিনোপল) বিজয়ের মাঝখানে ছয় বছরের ব্যবধান হবে এবং সপ্তম বর্ষে দাজ্জালের প্রাদুর্ভাব ঘটবে।

4094

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو يَعْقُوبَ الْحُنَيْنِيُّ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَكُونَ أَدْنَى مَسَالِحِ الْمُسْلِمِينَ بِبَوْلاَءَ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ يَا عَلِيُّ يَا عَلِيُّ يَا عَلِيُّ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ بِأَبِي وَأُمِّي ‏.‏ قَالَ ‏"‏ إِنَّكُمْ سَتُقَاتِلُونَ بَنِي الأَصْفَرِ وَيُقَاتِلُهُمُ الَّذِينَ مِنْ بَعْدِكُمْ حَتَّى تَخْرُجَ إِلَيْهِمْ رُوقَةُ الإِسْلاَمِ أَهْلُ الْحِجَازِ الَّذِينَ لاَ يَخَافُونَ فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لاَئِمٍ فَيَفْتَتِحُونَ الْقُسْطُنْطِينِيَّةَ بِالتَّسْبِيحِ وَالتَّكْبِيرِ فَيُصِيبُونَ غَنَائِمَ لَمْ يُصِيبُوا مِثْلَهَا حَتَّى يَقْتَسِمُوا بِالأَتْرِسَةِ وَيَأْتِي آتٍ فَيَقُولُ إِنَّ الْمَسِيحَ قَدْ خَرَجَ فِي بِلاَدِكُمْ أَلاَ وَهِيَ كِذْبَةٌ فَالآخِذُ نَادِمٌ وَالتَّارِكُ نَادِمٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪০৯৪। আলী ইব্‌ন মায়মূন রাক্কী (রাযিঃ)...... আবু ইবন আউফ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নিকটবর্তী বাওলা[১] (একটি স্থানের নাম) মুসলমানদের করতলগত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না। অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেনঃ হে আলী, হে আলী! হে আলী! তিনি (আলী রা) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল সা! আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক। তিনি (রাসূল সা) বললেনঃ অচিরেই তোমরা বনু আসফারদের (রোমকদের) বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। আর তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের পরবর্তী হিজাযের মুসলমানরা, যারা আল্লাহর ব্যাপারে কোন নিন্দুকের কথায় কর্ণপাত করে না। লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে, যতক্ষণ না তাদের কাছে ইসলামের চিরন্তন বিধান বিকশিত হয়। অতঃপর তারা তাসবীহ্ ও তাকবীর ধ্বনি দিয়ে কনষ্টান্টিনোপল জয় করবে। ফলে তাদের হাতে এত অধিক পরিমাণে গনীমতের মাল আসবে, যে পরিমাণ ইতিপূর্বে কখনো হস্তাগত হয়নি। এমনকি তারা খাঞ্চা ভর্তি করে নিজেদের মধ্যে বন্টন করবে। অতপর জনৈক আগন্তুক আসবে এবং বলবেঃ তোমাদের শহরে মাসীহ্ (দাজ্জাল) এর অভ্যুদয় ঘটেছে। সাবধান, সে খবরটি হবে মিথ্যা। সুতরাং (এই মিথ্যা খবরের) গৃহীতা লজ্জিত হবে এবং অগ্রাহ্যকারী ও শরনিন্দা হবে।

[১] বাওলা একটি ক্ষুদ্র জায়গার নাম। এটা ছিল একটা লুটপাটের আড্ডাখানা। বেদুইনরা হিজাযীদের মালামাল লুণ্ঠন করতো এখান থেকেই। এখানে একটা সীমান্ত চৌকি আছে। এখানকার জনগণ যোদ্ধা ও সামরিক কৌশলে পারদর্শী। তাই তাদেরকে (অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত) বলা হয়। -নিহায়াহ।
4095

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنِي بُسْرُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي أَبُو إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيُّ، حَدَّثَنِي عَوْفُ بْنُ مَالِكٍ الأَشْجَعِيُّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ تَكُونُ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ بَنِي الأَصْفَرِ هُدْنَةٌ فَيَغْدِرُونَ بِكُمْ فَيَسِيرُونَ إِلَيْكُمْ فِي ثَمَانِينَ غَايَةً تَحْتَ كُلِّ غَايَةٍ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আউফ ইবনে মালিক (রাঃ)

৪০৯৫। আব্দুর রহমান ইব্‌ন ইবরাহীম (রাহঃ)....... আউফ ইবন মালিক আশজাঈ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই তোমাদের ও বানু আসফার (রোমকদের) মাঝে চুক্তি সম্পদিত হবে। অতঃপর তারা তোমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে। তারা তোমাদের বিরুদ্ধে (লড়াই এর জন্য) আশিটি পতাকাতলে সমবেত হবে, প্রতেক্যটি পতাকার অধীনে বার হাযার সৈন্য থাকবে।

তুর্কী[১] জাতি

بَاب التُّرْكِ

4096

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا نِعَالُهُمُ الشَّعَرُ وَلاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا صِغَارَ الأَعْيُنِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৯৬। আবু বাক্‌র ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যাদের পাদুকা হবে পশমের তৈরী। কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির বিরুদ্ধে লড়াই করবে, যারা ক্ষুদ্র চোখ বিশিষ্ট হবে। (অর্থাৎ তুর্কী জাতির বিরুদ্ধে লড়বে, এদের চোখ খুবই ছোট ছোট)।

[১] ইয়াফেস ইব্‌ন নূহ (আ) এর বংশধর। এদের মধ্যে অনেক গোত্রও শাখা-প্রশাখা রয়েছে। যেমন চাগতান, কিরযি, কাথাক, কুলমাক, আরনাউত, খোজক, উযবেক, সারকাম, কাসাখ ইত্যাদি। এদের আদিবাস হচ্ছে বোখারা, সমরকন্দ, তাশখন্দ, কাশগড়, তাতার, উযবেকিস্তান ও কাযাকিস্তান।

তুর্কীজাতি

بَاب التُّرْكِ

4097

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا صِغَارَ الأَعْيُنِ ذُلْفَ الأُنُوفِ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْمَجَانُّ الْمُطْرَقَةُ وَلاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا نِعَالُهُمُ الشَّعَرُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৯৭। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ).......আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ক্ষুদ্র চোখ এবং উঁচু চেপ্টা নাক বিশিষ্ট জাতির বিরুদ্ধে লড়াই না করা পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। তাদের চেহারাগুলো হবে রক্তিমাভ। সর্বোপরি এমন জাতির সাথে লড়াইয়ে অবতীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যাদের পাদুকা হবে পশমযুক্ত।

4098

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ تَغْلِبَ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ تُقَاتِلُوا قَوْمًا عِرَاضَ الْوُجُوهِ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْمَجَانُّ الْمُطْرَقَةُ وَإِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ تُقَاتِلُوا قَوْمًا يَنْتَعِلُونَ الشَّعَرَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আমর ইবনু তাগলিব (রাঃ)

৪০৯৮। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)....... আম্‌র ইবন তাগলিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের নিদর্শন সমূহের মধ্যে অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে এই যে, তোমরা এমন জাতির বিরুদ্ধে লড়াই করবে, যাদের চেহারা হবে চওড়া, যেন তাদের চেহারা রক্তিমাভ। কিয়ামতের অপর নিদর্শন এই যে, তোমরা এমন জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, যারা পশমের তৈরী পাদুকা পরিধান করবে।

4099

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا صِغَارَ الأَعْيُنِ عِرَاضَ الْوُجُوهِ كَأَنَّ أَعْيُنَهُمْ حَدَقُ الْجَرَادِ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْمَجَانُّ الْمُطْرَقَةُ يَنْتَعِلُونَ الشَّعَرَ وَيَتَّخِذُونَ الدَّرَقَ يَرْبِطُونَ خَيْلَهُمْ بِالنَّخْلِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪০৯৯। হাসান ইব্‌ন আরাফা (রাহঃ)....... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত কায়েম হবে না, যতক্ষণ না তোমরা এমন জাতির সাথে লড়াই করবে, যাদের চক্ষুগুলো হবে ছোট ছোট এবং চেহারা হবে চওড়া। তাদের চোখ হবে ফড়িং-এর চোখের ন্যায়, যেন তাদের চেহারাগুলো হবে রক্তিমাভ। তারা পশমের তৈরী পাদুকা পরিধান করবে এবং আত্মরক্ষার্থে চামড়ার ঢাল ব্যবহার করবে। তারা তাদের ঘোড়াগুলো সাথে বেঁধে রাখবে।