كتاب الزهد

৩৫. যুহদ-দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তির বর্ণনা

Chapter 35 · 242 hadith

দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি

بَاب الزُّهْدِ فِي الدُّنْيَا

4100

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ وَاقِدٍ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مَيْسَرَةَ بْنِ حَلْبَسٍ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ الْغِفَارِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لَيْسَ الزَّهَادَةُ فِي الدُّنْيَا بِتَحْرِيمِ الْحَلاَلِ وَلاَ فِي إِضَاعَةِ الْمَالِ وَلَكِنِ الزَّهَادَةُ فِي الدُّنْيَا أَنْ لاَ تَكُونَ بِمَا فِي يَدَيْكَ أَوْثَقَ مِنْكَ بِمَا فِي يَدِ اللَّهِ وَأَنْ تَكُونَ فِي ثَوَابِ الْمُصِيبَةِ إِذَا أُصِبْتَ بِهَا أَرْغَبَ مِنْكَ فِيهَا لَوْ أَنَّهَا أُبْقِيَتْ لَكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ هِشَامٌ كَانَ أَبُو إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيُّ يَقُولُ مِثْلُ هَذَا الْحَدِيثِ فِي الأَحَادِيثِ كَمِثْلِ الإِبْرِيزِ فِي الذَّهَبِ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৪১০০। হিশাম ইবন আম্মার (রাহঃ).........আবু যার গিফারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দুনিয়াতে হালাল বস্তুকে হারাম করা এবং নিজের ধন সম্পদ নষ্ট করা, যুহদ নয়, বরং দুনিয়াতে যুহদ হচ্ছেঃ তোমার হাতে যা আছে, তা যেন তোমার জন্য অধিক নির্ভরতার কারণ না হয়, যা আল্লাহর হাতে আছে তার চাইতে। যখন তুমি (দুনিয়াতে) কোন বিপদ আপদে পতিত হবে, তখন তুমি তার প্রতিদানের জন্য অত্যন্ত আগ্রহশীল থাকবে, এই ভেবে যে, (সে মুসীবতের পুরস্কার) তোমার জন্য আখিরাতে মওজুদ রাখা হয়েছে।

হিশাম বলেনঃ আবু ইদরীস খাওলানী (রাহঃ) বলেছেন, অন্যান্য হাদীসের তুলনায়, এই হাদীসখানি হচ্ছে স্বর্ণখনির খাঁটি স্বর্ণের মত অর্থাৎ অত্যন্ত বিশুদ্ধ হাদীস।
4101

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي فَرْوَةَ، عَنْ أَبِي خَلاَّدٍ، - وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّجُلَ قَدْ أُعْطِيَ زُهْدًا فِي الدُّنْيَا وَقِلَّةَ مَنْطِقٍ فَاقْتَرِبُوا مِنْهُ فَإِنَّهُ يُلَقَّى الْحِكْمَةَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪১০১। হিশাম ইবন আম্মার (রাহঃ)......আবু খাল্লাদ (রাযিঃ) (তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সুহবত প্রাপ্ত ছিলেন) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা দেখতে পারে যে, এক ব্যক্তিকে দুনিয়াতে যুহদ এবং কম কথা বলার অভ্যাস দেওয়া হয়েছে, তখন তোমরা তার নিকটবর্তী হবে। কেননা, তাকে হিকমত দেওয়া হয়েছে।

4102

حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ أَبِي السَّفَرِ، حَدَّثَنَا شِهَابُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَمْرٍو الْقُرَشِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ أَتَى النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ إِذَا أَنَا عَمِلْتُهُ أَحَبَّنِيَ اللَّهُ وَأَحَبَّنِيَ النَّاسُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ ازْهَدْ فِي الدُّنْيَا يُحِبَّكَ اللَّهُ وَازْهَدْ فِيمَا فِي أَيْدِي النَّاسِ يُحِبُّوكَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৪১০২। আবু উবায়দা ইব্‌ন আবু সাফার (রাহঃ)...... সাহল ইবন সা'দ সাঈদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) -এর নিকট হাযির হলো, এবং বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল বাতলে দিন, যখন আমি তা আমল করব, আল্লাহ তা'আলা আমাকে ভালবাসবেন এবং লোকেরাও আমাকে ভালবাসবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি দুনিয়ার প্রতি যুহদ ইখতিয়ার করো, আল্লাহ তোমাকে ভালবাসবেন এবং মানুষের হাতে যা আছে, তার প্রতি অনাসক্ত হয়ে যাও, তাহলে তারা তোমাকে ভালাবাসবে।

4103

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ سَهْمٍ، - رَجُلٌ مِنْ قَوْمِهِ - قَالَ نَزَلْتُ عَلَى أَبِي هَاشِمِ بْنِ عُتْبَةَ وَهُوَ طَعِينٌ فَأَتَاهُ مُعَاوِيَةُ يَعُودُهُ فَبَكَى أَبُو هَاشِمٍ فَقَالَ مُعَاوِيَةُ مَا يُبْكِيكَ أَىْ خَالِ أَوَجَعٌ يُشْئِزُكَ أَمْ عَلَى الدُّنْيَا فَقَدْ ذَهَبَ صَفْوُهَا قَالَ عَلَى كُلٍّ لاَ وَلَكِنْ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَهِدَ إِلَىَّ عَهْدًا وَدِدْتُ أَنِّي كُنْتُ تَبِعْتُهُ قَالَ ‏ "‏ إِنَّكَ لَعَلَّكَ تُدْرِكُ أَمْوَالاً تُقْسَمُ بَيْنَ أَقْوَامٍ وَإِنَّمَا يَكْفِيكَ مِنْ ذَلِكَ خَادِمٌ وَمَرْكَبٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏ فَأَدْرَكْتُ فَجَمَعْتُ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪১০৩। মুহাম্মাদ ইবন সাববাহ (রাহঃ)...... সামুরা ইবন সাহম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবু হাশিম ইব্‌ন উৎবাহ (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। সে সময় তিনি বর্শার আঘাতে আহত ছিলেন। তখন মু'আবিয়া (রাযিঃ) তাঁর সেবা শুশ্রযার জন্য আসেন। আবু হাশিম কেঁদে ফেললেন। তখন মু'আবিয়া (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করেনঃ হে মামাজান! কিসে আপনাকে কাঁদাচ্ছে? আঘাতের কঠিন যন্ত্রণা না দুনিয়ার কোন কিছু? এর উৎকৃষ্ট অংশ তো অতিবাহিত হয়েছে। তিনি বললেনঃ এর কোনটার জন্যই নয়। তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট থেকে একটি প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেনঃ এখন আমার শুধুমাত্র আকাঙ্ক্ষাই রয়ে গেল। হায়! আমি যদি তা অনুসরণ করতাম। তিনি বলেছিলেনঃ সম্ভবতঃ তুমি অনেক মালের অধিকারী হবে, যা লোকদের মাঝে বন্টিত হবে, সে সময় তোমার পরিচর্যার জন্য এর থেকে একজন খাদিম এবং আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য একটি সাওয়ারী যথেষ্ট হবে। আমি তা (দুনিয়ার সম্পদ) পেয়েছি এবং সঞ্চয় করেছি ।

4104

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ اشْتَكَى سَلْمَانُ فَعَادَهُ سَعْدٌ فَرَآهُ يَبْكِي فَقَالَ لَهُ سَعْدٌ مَا يُبْكِيكَ يَا أَخِي أَلَيْسَ قَدْ صَحِبْتَ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَلَيْسَ أَلَيْسَ قَالَ سَلْمَانُ مَا أَبْكِي وَاحِدَةً مِنَ اثْنَتَيْنِ مَا أَبْكِي صَبًّا لِلدُّنْيَا وَلاَ كَرَاهِيَةً لِلآخِرَةِ وَلَكِنْ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَهِدَ إِلَىَّ عَهْدًا فَمَا أُرَانِي إِلاَّ قَدْ تَعَدَّيْتُ ‏.‏ قَالَ وَمَا عَهِدَ إِلَيْكَ قَالَ عَهِدَ إِلَىَّ أَنَّهُ يَكْفِي أَحَدَكُمْ مِثْلُ زَادِ الرَّاكِبِ وَلاَ أُرَانِي إِلاَّ قَدْ تَعَدَّيْتُ وَأَمَّا أَنْتَ يَا سَعْدُ فَاتَّقِ اللَّهَ عِنْدَ حُكْمِكَ إِذَا حَكَمْتَ وَعِنْدَ قَسْمِكَ إِذَا قَسَمْتَ وَعِنْدَ هَمِّكَ إِذَا هَمَمْتَ ‏.‏ قَالَ ثَابِتٌ فَبَلَغَنِي أَنَّهُ مَا تَرَكَ إِلاَّ بِضْعَةً وَعِشْرِينَ دِرْهَمًا مِنْ نَفَقَةٍ كَانَتْ عِنْدَهُ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪১০৪। হাসান ইব্‌ন আবু রাবী (রাহঃ)...... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালমান (রাযিঃ) অসুস্থ হয়ে পড়লে, সা'দ (রাযিঃ) তাঁর সেবা শুশ্রুষা করেন। তিনি তাঁকে কাঁদতে দেখেন। তখন সা'দ (রাযিঃ) তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে আমার ভাই! কিসে তোমাকে কাঁদাচ্ছে? তুমি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সুহব্বত পাওনি? তুমি কি এই, এই (ভাল কাজ) করনি ? তখন সালমান (রাযিঃ) বললেনঃ আমি এই দুই বিষয়ের কোনটির জন্যই কাঁদছি না । আমি দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার আক্ষেপে এবং আখিরাতের আশংকায় কাঁদছি না। তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট থেকে একটি প্রতিশ্রুতি নিয়ে ছিলেন অথচ আমি নিজের দিকে লক্ষ্য করে দেখলাম যে, আমি তাতে সীমালংঘন করেছি। সা'দ (রাযিঃ) বললেনঃ তিনি তোমার থেকে কি প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন? সালমান (রাযিঃ) বললেনঃ তিনি ওয়াদা নিয়েছিলেন যে, একজন মুসাফিরের জন্য যতটুকু পাথেয় প্রয়োজন তোমাদের কারুর জন্য ততটুকুই যথেষ্ট। আর আমি দেখতে পাচ্ছি যে, আমি সীমালংঘন করেছি। হে ভাই সা'দ! যখন তুমি বিচার করবে, যখন সম্পদ ভাগ-বন্টন করবে এবং যখন কোন কাজ করার সংকল্প করবে, তখন আল্লাহকেই ভয় করবে। সাবিত (রাযিঃ) বলেনঃ আমার কাছে তথ্য এসেছে যে, সালমান (রাযিঃ) মাত্র বিশ থেকে কিছু অধিক দিরহাম রেখে যান, যা তার দৈনন্দিন ব্যয়বার বহনের জন্য তাঁর কাছে ছিল।

দুনিয়ার সংকল্প করা

بَاب الْهَمِّ بِالدُّنْيَا

4105

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عُمَرَ بْنِ سُلَيْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ خَرَجَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ مِنْ عِنْدِ مَرْوَانَ بِنِصْفِ النَّهَارِ فَقُلْتُ مَا بَعَثَ إِلَيْهِ هَذِهِ السَّاعَةَ إِلاَّ لِشَىْءٍ سَأَلَ عَنْهُ ‏.‏ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ سَأَلَنَا عَنْ أَشْيَاءَ سَمِعْنَاهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ مَنْ كَانَتِ الدُّنْيَا هَمَّهُ فَرَّقَ اللَّهُ عَلَيْهِ أَمْرَهُ وَجَعَلَ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ وَلَمْ يَأْتِهِ مِنَ الدُّنْيَا إِلاَّ مَا كُتِبَ لَهُ وَمَنْ كَانَتِ الآخِرَةُ نِيَّتَهُ جَمَعَ اللَّهُ لَهُ أَمْرَهُ وَجَعَلَ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪১০৫। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার (রাহঃ)...... আবান ইবন উসমান ইবন আফ্ফান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যায়িদ ইব্‌ন সাবিত (রাযিঃ) দুপুরের সময় মারওয়ানের নিকট থেকে বের হন। আমি মনে করলামঃ এই সময় তিনি যে তাকে ডেকে পাঠিয়েছেন, নিশ্চয় কোন কিছু জিজ্ঞাসা করার জন্য ডেকে থাকবেন । আমি তার কাছে জানতে চাইলাম, (ডাকার কারণ কি) ? তখন তিনি (যায়িদ রা) বললেনঃ মারওয়ান আমাদের নিকট কতিপয় বিষয়ে প্রশ্ন করলেন, যা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তিকে দুনিয়া মোহগ্রস্ত করবে, আল্লাহ্ তার কাজকর্মে পেরেশানী পয়দা করবেন। আর করবেন তার দারিদ্র তার দুই চোখের সামনে। অথচ পার্থিব সম্পদ সে ততটাই লাভ করতে পারবে, যতটা তার তাকদীরে লিপিবদ্ধ আছে। আর যে ব্যক্তির উদ্দেশ্য হবে আখিরাত, আল্লাহ তা'আলা তার সবকিছু সঠিক করে দিবেন, তার অন্তরে মুখাপেক্ষীহীনতা ঢেলে দিবেন। দুনিয়া বিনাশ্রমে তার কাছে আসবে অর্থাৎ হাসিল হবে।

4106

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَالْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ النَّصْرِيِّ، عَنْ نَهْشَلٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ سَمِعْتُ نَبِيَّكُمْ، ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ مَنْ جَعَلَ الْهُمُومَ هَمًّا وَاحِدًا هَمَّ الْمَعَادِ كَفَاهُ اللَّهُ هَمَّ دُنْيَاهُ وَمَنْ تَشَعَّبَتْ بِهِ الْهُمُومُ فِي أَحْوَالِ الدُّنْيَا لَمْ يُبَالِ اللَّهُ فِي أَىِّ أَوْدِيَتِهِ هَلَكَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪১০৬। আলী ইবন মুহাম্মাদ ও হুসাইন ইব্‌ন আব্দুর রহমান (রাহঃ)...... আসওয়াদ ইব্‌ন ইয়াযীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেছেন যে, আমি তোমাদের নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি সব চিন্তা ফিকির বাদ দিয়ে এর একটি ফিকির করবে, (পরকালের চিন্তা-ভাবনায় বিভোর থাকবে) আল্লাহ তার দুনিয়ার চিন্তা-ভাবনার যিম্মাদারী আপন হাতে তুলে নিবেন। আর যে ব্যক্তি দুনিয়াবী চিন্তা-ভাবনায় মোহগ্রস্ত হয়ে পড়বে, সে কোন উপত্যকায় ধ্বংস হয়ে গেলে এতে আল্লাহর কোন পরোয়া নেই।

4107

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ زَائِدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي خَالِدٍ الْوَالِبِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ - وَلاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ قَدْ رَفَعَهُ - قَالَ ‏ "‏ يَقُولُ اللَّهُ سُبْحَانَهُ يَا ابْنَ آدَمَ تَفَرَّغْ لِعِبَادَتِي أَمْلأْ صَدْرَكَ غِنًى وَأَسُدَّ فَقْرَكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ مَلأْتُ صَدْرَكَ شُغْلاً وَلَمْ أَسُدَّ فَقْرَكَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১০৭। নসর ইবন আলী জাহযমী (রাহঃ) বলেন, রাবী আবু খালিদ ওয়ালেবী (রাহঃ) বলেন, আমার জানামতে আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু হাদীসটি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা বলেনঃ হে আদম সন্তান! একান্ত নিষ্ঠার সাথে আমার ইবাদতে লিপ্ত হলে, আমি অমুখাপেক্ষীতা দ্বারা তোমার অন্তর পূর্ণ করে দেব এবং তোমার দারিদ্র বিমোচন করবো। আর যদি তুমি তা না করো, তাহলে আমি তোমার অন্তর পেরেশানী দিয়ে পূর্ণ করে দেব এবং তোমার দারিদ্র বিমোচন করবো না।

দুনিয়ার উপমা

بَاب مَثَلُ الدُّنْيَا

4108

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ الْمُسْتَوْرِدَ، أَخَا بَنِي فِهْرٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ مَا مَثَلُ الدُّنْيَا فِي الآخِرَةِ إِلاَّ مَثَلُ مَا يَجْعَلُ أَحَدُكُمْ إِصْبَعَهُ فِي الْيَمِّ فَلْيَنْظُرْ بِمَ يَرْجِعُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪১০৮। মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ নুমায়র (রাহঃ) ......... কায়স ইবন আবু হাযিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বানু ফিহিরের ভাই মুস্তাওরিদ (রাযিঃ) থেকে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ দুনিয়ার উপমা আখিরাতের তুলনায় এমন, যেমন তোমাদের কেউ তার আংগুল দরিয়ার রাখে, অতঃপর দেখে নেয়, কতটা (পানি) নিয়ে তার আংগুল ফিরে আসে।

4109

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ اضْطَجَعَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَلَى حَصِيرٍ فَأَثَّرَ فِي جِلْدِهِ فَقُلْتُ بِأَبِي وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ كُنْتَ آذَنْتَنَا فَفَرَشْنَا لَكَ عَلَيْهِ شَيْئًا يَقِيكَ مِنْهُ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَا أَنَا وَالدُّنْيَا إِنَّمَا أَنَا وَالدُّنْيَا كَرَاكِبٍ اسْتَظَلَّ تَحْتَ شَجَرَةٍ ثُمَّ رَاحَ وَتَرَكَهَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪১০৯। ইয়াহইয়া ইবন হাকীম (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী (ﷺ) খেজুর পাতার মাদুরে শুয়েছিলেন। তাঁর দেহ মুবারকে মাদুরের দাগ পড়ে যায়। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আপনি যদি আমাদিগকে অনুমতি দিতেন, তাহলে আমরা আপনার জন্য এর উপর কিছু বিছিয়ে দিতাম, যা আপনাকে দাগ লাগা থেকে বাঁচিয়ে রাখতো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি এবং দুনিয়া, বস্তুত এর উপমা হচ্ছে একজন আরোহীর মত, যে একটি বৃক্ষের ছায়ায় অবস্থান করে, এরপর সে তা ছেড়ে চলে যায়।

4110

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ الْحِزَامِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى، زَكَرِيَّا بْنُ مَنْظُورٍ حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِذِي الْحُلَيْفَةِ فَإِذَا هُوَ بِشَاةٍ مَيِّتَةٍ شَائِلَةٍ بِرِجْلِهَا فَقَالَ ‏ "‏ أَتُرَوْنَ هَذِهِ هَيِّنَةً عَلَى صَاحِبِهَا فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَلدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ عَلَى صَاحِبِهَا وَلَوْ كَانَتِ الدُّنْيَا تَزِنُ عِنْدَ اللَّهِ جَنَاحَ بَعُوضَةٍ مَا سَقَى كَافِرًا مِنْهَا قَطْرَةً أَبَدًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৪১১০। হিশাম ইবন আম্মার, ইবরাহীম ইবন মুনযির হিযামী এবং মুহাম্মাদ ইবন সাববাহ (রাহঃ).... সাহল ইব্‌ন সা'দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে যুল-হোলায়ফা নামক স্থানে ছিলাম। হঠাৎ একটি মৃত বকরী দেখতে পেলাম, যার পা উপরে দিকে ছিল। তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের কি ধারণা এই বকরীটা তার মালিকের কাছে তাচ্ছিল্যের বস্তু কি ? সেই মহান সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই দুনিয়া আল্লাহর কাছে, এই বকরীর মালিকের নিকট মৃত বকরীটা যত তাচ্ছিল্য, এর চাইতে অধিক তাচ্ছিল্যের বস্তু। যদি দুনিয়ার মূল্য আল্লাহর কাছে একটা মশার ডানা বরাবরও হতো, তাহলে তিনি কাফিরকে কখনো এক ফোঁটা পানি পান করতে দিতো না।

4111

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ مُجَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ الْهَمْدَانِيِّ، قَالَ حَدَّثَنَا الْمُسْتَوْرِدُ بْنُ شَدَّادٍ، قَالَ إِنِّي لَفِي الرَّكْبِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذْ أَتَى عَلَى سَخْلَةٍ مَنْبُوذَةٍ قَالَ فَقَالَ ‏"‏ أَتُرَوْنَ هَذِهِ هَانَتْ عَلَى أَهْلِهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مِنْ هَوَانِهَا أَلْقَوْهَا ‏.‏ أَوْ كَمَا قَالَ قَالَ ‏"‏ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَلدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ عَلَى أَهْلِهَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: মুসতাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ (রাঃ)

৪১১১। ইয়াহ্ইয়া ইব্‌ন হাবীব ইব্‌ন আরাবী (রাযিঃ)...... মুসতাওরিদ ইব্‌ন শাদ্দাদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি কতিপয় আরোহীর সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। হঠাৎ তিনি একটি মৃত বকরীর বাচ্চার নিকট এসে পড়লেন, যা পথে ফেলে রাখা হয়েছিল। তিনি (রাবী) বলেন, অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান, এই বকরীর মৃত বাচ্চাটি তার মালিকের কাছে কতটা তুচ্ছ ? তিনি বলেন, বলা হলোঃ হে আল্লাহর রাসূল! হ্যাঁ, নিতান্ত তাচ্ছিল্যের বস্তু। কেননা, সে এটা ছুড়ে ফেলেছে, অথবা তিনি এরূপ কিছু বলেছেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ সেই মহান সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, এই বকরীর মৃত বাচ্ছাটির মূল্য তার মালিকের কাছে যতটা রয়েছে, দুনিয়ার মূল্য আল্লাহর কাছে তার চাইতেও কম।

4112

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو خُلَيْدٍ، عُتْبَةُ بْنُ حَمَّادٍ الدِّمَشْقِيُّ عَنِ ابْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ قُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ضَمْرَةَ السَّلُولِيِّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهُوَ يَقُولُ ‏ "‏ الدُّنْيَا مَلْعُونَةٌ مَلْعُونٌ مَا فِيهَا إِلاَّ ذِكْرَ اللَّهِ وَمَا وَالاَهُ أَوْ عَالِمًا أَوْ مُتَعَلِّمًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১১২। আলী ইবন মায়মুন রাক্কী (রাযিঃ) ….. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ দুনিয়া অতিশপ্ত, যা কিছু দুনিয়াতে রয়েছে তাও অভিশপ্ত, তবে আল্লাহর যিকির, যা তিনি পছন্দ করেন, অথবা আলিম ব্যক্তি এবং ইলম শিক্ষায় রত ব্যক্তি নয় অর্থাৎ এ তিনটি অভিশপ্ত নয়।

4113

حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ، مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعُثْمَانِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১১৩। আবু মারওয়ান মুহাম্মাদ ইব্‌ন উসমান উমসানী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দুনিয়া মু'মিনের জন্য কয়েদখানা এবং কাফিরের জন্য জান্নাত তুল্য।

4114

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِبَعْضِ جَسَدِي فَقَالَ ‏ "‏ يَا عَبْدَ اللَّهِ كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ كَأَنَّكَ عَابِرُ سَبِيلٍ وَعُدَّ نَفْسَكَ مِنْ أَهْلِ الْقُبُورِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১১৪। ইয়াহইয়া ইবন হাবীব ইবন আরাবী (রাহঃ)...... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার শরীরের কিছু অংশ ধরলেন এবং বললেনঃ “হে আব্দুল্লাহ! দুনিয়াতে এমনভাবে বসবাস করেবে, যেন তুমি অপরিচিত অথবা তুমি যেন একজন পথচারী। আর তুমি নিজকে কবরবাসীর মত মনে করবে।

লোকে যাকে গুরুত্ব দেয় না

بَاب مَنْ لَا يُؤْبَهُ لَهُ

4115

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ بُسْرِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ أَلاَ أُخْبِرُكَ عَنْ مُلُوكِ الْجَنَّةِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ بَلَى ‏.‏ قَالَ ‏"‏ رَجُلٌ ضَعِيفٌ مُسْتَضْعَفٌ ذُو طِمْرَيْنِ لاَ يُؤْبَهُ لَهُ لَوْ أَقْسَمَ عَلَى اللَّهِ لأَبَرَّهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৪১১৫। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)......মু'আয ইব্‌ন জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি কি তোমাকে জান্নাতের বাদশাহদের সম্পর্কে অবহিত করবো না। আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ দুর্বল লোকদের দৃষ্টিতে সর্বাপেক্ষা নিম্নস্তরের এবং দু'টো ছিন্ন বস্ত্র পরিহিত ব্যক্তি, যাকে হিসাবে গণ্য করা হয় না। সে যদি আল্লাহর নামে কোন বিষয়ে শপথ করে, তা অবশ্যই তিনি সত্যে পরিণত করেন, (সে হবে জান্নাতের বাদশাহ)।

4116

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَعْبَدِ بْنِ خَالِدٍ، قَالَ سَمِعْتُ حَارِثَةَ بْنَ وَهْبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ أَلاَ أُنَبِّئُكُمْ بِأَهْلِ الْجَنَّةِ كُلُّ ضَعِيفٍ مُتَضَعِّفٍ أَلاَ أُنَبِّئُكُمْ بِأَهْلِ النَّارِ كُلُّ عُتُلٍّ جَوَّاظٍ مُسْتَكْبِرٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪১১৬। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার (রাহঃ)...... হারিসা ইবন ওয়াহব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি কি জান্নাতের অধিবাসীদের কথা তোমাদের জানিয়ে দিব না? তারা হবে প্রত্যেক দুর্বল লোকদের দৃষ্টিতে নিম্নস্তরের ব্যক্তি। (অতঃপর বললেনঃ) আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামীদের সম্পর্কে অবহিত করবে না? তারা হবেঃ প্রত্যেক পাষাণ হৃদয়, কৃপণ, বিত্তশালী ও অহংকারী ব্যক্তি।

4117

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ صَدَقَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ أَغْبَطَ النَّاسِ عِنْدِي مُؤْمِنٌ خَفِيفُ الْحَاذِ ذُو حَظٍّ مِنْ صَلاَةٍ غَامِضٌ فِي النَّاسِ لاَ يُؤْبَهُ لَهُ كَانَ رِزْقُهُ كَفَافًا وَصَبَرَ عَلَيْهِ عَجِلَتْ مَنِيَّتُهُ وَقَلَّ تُرَاثُهُ وَقَلَّتْ بَوَاكِيهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪১১৭। মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)....... আবু উমামাহ্ (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকদের মাঝে আমার নিকট অধিক প্রিয় সেই মু'মিন, যার অবস্থা হালকা ধরনের (পার্থিব সম্পদের মোহশূন্য)। তবে সালাতেই সে প্রশান্তি পেয়ে থাকে। লোক চক্ষুর অন্তরালে সে বসবাস করে। তার কোন গুরুত্ব দেয়া হয় না। তার জীবিকা হচ্ছে প্রয়োজন পরিমাণ এবং এর উপর সে সবর করে। তার মৃত্যু হয় অতি সহজে এবং তার পরিত্যক্ত সম্পদ থাকে যৎসামান্য। তার জন্য বিলাপকারীর সংখ্যাও কম।

4118

حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُوَيْدٍ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أُمَامَةَ الْحَارِثِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الْبَذَاذَةُ مِنَ الإِيمَانِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ الْبَذَاذَةُ الْقَشَافَةُ يَعْنِي التَّقَشُّفَ ‏.‏

Narrator: আবু উমামাহ হারিসী (রাঃ)

৪১১৮। কাসীর ইবন উবায়দ হিমসী (রাহঃ)....... আবু উমামাহ্ হারিসী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অনাড়ম্বর জীবন যাপনই ঈমান। তিনি (রাবী) বলেন, 'বাযাযাহ' এর অর্থ ‘কাশাফাহ্' মানে বিলাস ব্যাসন পরিত্যাগ করা, সাধাসিধে জীবন নির্বাহ করা।

4119

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، عَنِ ابْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ، أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏"‏ أَلاَ أُنَبِّئُكُمْ بِخِيَارِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ خِيَارُكُمُ الَّذِينَ إِذَا رُءُوا ذُكِرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রাঃ)

৪১১৯। সুওয়ায়দ ইবন সাঈদ (রাহঃ)....... আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেনঃ আমি কি তোমাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের কথা জানিয়ে দিব না? তারা বললেনঃ হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ তোমাদের মাঝে তারাই শ্রেষ্ঠ, যাদের দেখলে মহান আল্লাহর স্মরণ হয়।

গরীবদের ফযীলত

بَاب فَضْلِ الْفُقَرَاءِ

4120

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ مَرَّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَجُلٌ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ مَا تَقُولُونَ فِي هَذَا الرَّجُلِ قَالُوا رَأْيَكَ فِي ‏.‏ هَذَا نَقُولُ هَذَا مِنْ أَشْرَافِ النَّاسِ هَذَا حَرِيٌّ إِنْ خَطَبَ أَنْ يُخَطَّبَ وَإِنْ شَفَعَ أَنْ يُشَفَّعَ وَإِنْ قَالَ أَنْ يُسْمَعَ لِقَوْلِهِ ‏.‏ فَسَكَتَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَمَرَّ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ مَا تَقُولُونَ فِي هَذَا ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا نَقُولُ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا مِنْ فُقَرَاءِ الْمُسْلِمِينَ هَذَا حَرِيٌّ إِنْ خَطَبَ لَمْ يُنْكَحْ وَإِنْ شَفَعَ لاَ يُشَفَّعْ وَإِنْ قَالَ لاَ يُسْمَعْ لِقَوْلِهِ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ لَهَذَا خَيْرٌ مِنْ مِلْءِ الأَرْضِ مِثْلَ هَذَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৪১২০। মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ (রাহঃ)........সাহল ইবন সা'দ সাঈদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা এই লোকটি সম্পর্কে কি ধরণা পোষণ করো? তারা (সাহাবা-কিরাম রা) বললেনঃ এর ব্যাপারে আপনার যা অভিমত (আমাদের ও ভাই।) আমরা মনে করি, এই লোকটি লোকদের মাঝে অভিজাত শ্রেণীর, এই ব্যক্তি এরূপ যোগ্য যে, সে যদি বিবাহের পয়গাম পাঠায় তা গৃহীত হয়। যদি সে সুপারিশ করে, তা গ্রহণ করা হয়। যদি সে কিছু বলে, তবে তা শ্রবণ করা হয়। নবী (ﷺ) চুপ থাকলেন। এরপর অন্য এক ব্যক্তি সেখান দিয়ে অতিক্রম করলো। তখন নবী (ﷺ) এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা কি ধারণা পোষণ করো ? তার (সাহাবা কিরাম রা) বললেনঃ আল্লাহর শপথ! হে আল্লাহর রাসূল! আমরা মনে করি এই ব্যক্তি তো ফকীর মুসলমানদের অন্তর্ভূক্ত। এই ব্যক্তি তো এরূপ যে, সে বিবাহের পয়গাম পাঠালে তা গৃহীত হয় না, যদি সে সুপারিশ করে, তা কবূল করা হয় না। এবং যদি কিছু বলে, তা শোনা হয় না। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ এ ব্যক্তি দুনিয়ার সমস্ত ব্যক্তির তুলনায় উত্তম।

4121

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ الْجُبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ، أَخْبَرَنِي الْقَاسِمُ بْنُ مِهْرَانَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ عَبْدَهُ الْمُؤْمِنَ الْفَقِيرَ الْمُتَعَفِّفَ أَبَا الْعِيَالِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৪১২১। উবায়দুল্লাহ ইবন ইউসুফ জুবায়রী (রাহঃ)...... ইমরান ইব্‌ন হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ মুহব্বত করেন তাঁর সেই অভাবী মু'মিন বান্দাকে, যে অধিক সন্তানের পিতা হওয়া সত্ত্বেও অন্যের দ্বারস্ত হওয়া থেকে বিরত থাকে।

দরিদ্র ব্যক্তিদের মর্যাদা

بَاب مَنْزِلَةِ الْفُقَرَاءِ

4122

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يَدْخُلُ فُقَرَاءُ الْمُؤْمِنِينَ الْجَنَّةَ قَبْلَ الأَغْنِيَاءِ بِنِصْفِ يَوْمٍ خَمْسِمِائَةِ عَامٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১২২। আবু বাকর ইবন শায়বা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দরিদ্র ঈমানদার ব্যক্তিরা ধনীদের দি-অর্ধ দিবস আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অর্ধ দিবসের পরিমাণ হবে-পঁচিশ' বছর। (কেননা আখিরাতের একদিন আল্লাহর কাছে এক হাজার বছরের সমান।)

4123

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ الْمُخْتَارِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَطِيَّةَ الْعَوْفِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ فُقَرَاءَ الْمُهَاجِرِينَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ قَبْلَ أَغْنِيَائِهِمْ بِمِقْدَارِ خَمْسِمِائَةِ سَنَةٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪১২৩। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)......আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি (রাসূল) বলেছেনঃ দরিদ্র মুহাজির মুসলমানেরা, বিত্তবান মুসলমানদের পঁচিশ বছর আগে জান্নাতে দাখিল হবে।

4124
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَنْبَأَنَا أَبُو غَسَّانَ، بُهْلُولٌ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ اشْتَكَى فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مَا فَضَّلَ اللَّهُ بِهِ عَلَيْهِمْ أَغْنِيَاءَهُمْ فَقَالَ ‏"‏ يَا مَعْشَرَ الْفُقَرَاءِ أَلاَ أُبَشِّرُكُمْ أَنَّ فُقَرَاءَ الْمُؤْمِنِينَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ قَبْلَ أَغْنِيَائِهِمْ بِنِصْفِ يَوْمٍ خَمْسِمِائَةِ عَامٍ ‏"‏ ‏.
ثُمَّ تَلاَ مُوسَى هَذِهِ الآيَةَ ‏(وَإِنَّ يَوْمًا عِنْدَ رَبِّكَ كَأَلْفِ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ )

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১২৪। ইসহাক ইব্‌ন মনসুর (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাযিঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, দরিদ্র মুহাজিরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর নিকট সে ব্যাপারে অভিযোগ করলেন, যে মর্যাদা আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর বিত্তবানদের দিয়েছেন। তিনি বললেনঃ হে দরিদ্র (মুহাজির) সমাজ। আমি কি তোমাদিগকে সুসংবাদ দিব না যে, দরিদ্র মু'মিন সম্প্রদায় ধনীদের চাইতে অর্ধদিবস অর্থাৎ পাঁচশ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে? অতঃপর মুসা (রাহঃ) এই আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ

وَإِنَّ يَوْمًا عِنْدَ رَبِّكَ كَأَلْفِ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ

“এবং তোমার প্রতিপালকের একদিন তোমাদের গণনার হাযার বছরের সমান” (২২ঃ ৪৭।)

দরিদ্রদের সাথে উঠা-বসা

بَاب مُجَالَسَةِ الْفُقَرَاءِ

4125

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيُّ أَبُو يَحْيَى، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ أَبُو إِسْحَاقَ الْمَخْزُومِيُّ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ جَعْفَرُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ يُحِبُّ الْمَسَاكِينَ وَيَجْلِسُ إِلَيْهِمْ وَيُحَدِّثُهُمْ وَيُحَدِّثُونَهُ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَكْنِيهِ أَبَا الْمَسَاكِينِ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১২৫। আব্দুল্লাহ ইবন সাঈদ আল-কিনদী (রাযিঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জা'ফর ইব্‌ন আবু তালিব (রাযিঃ) মিসকীনদের ভালবাসতেন, তাদের সাথে কথাবার্তা বলতেন এবং তারাও তাঁর সাথে আলাপ করতেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে' আবুল মাসাকীন' অর্থাৎ 'দরিদ্রদের পিতা' উপনামে ভূষিত করেন।

4126

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ أَبِي الْمُبَارَكِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ أَحِبُّوا الْمَسَاكِينَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ فِي دُعَائِهِ ‏ "‏ اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مِسْكِينًا وَأَمِتْنِي مِسْكِينًا وَاحْشُرْنِي فِي زُمْرَةِ الْمَسَاكِينِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪১২৬। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বাও আব্দুল্লাহ ইবন সাঈদী (রাহঃ)...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমারা মিস্কীনদের ভালবাসবে। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তাঁর দু'আয় বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ! আমাকে মিসকীন হিসেবে জীবিত রেখো, মিসকীন হিসেবে আমার মৃত্যু দান করো এবং মিসকীনদের দলভূক্ত করে আমাকে হাশরের ময়দানে উঠিয়ো।"

4127

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانِ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَنْقَزِيُّ، حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ نَصْرٍ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ أَبِي سَعْدٍ الأَزْدِيِّ، وَكَانَ، قَارِئَ الأَزْدِ عَنْ أَبِي الْكَنُودِ، عَنْ خَبَّابٍ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى ‏(وَلاَ تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ)‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏(فَتَكُونَ مِنَ الظَّالِمِينَ)‏ قَالَ جَاءَ الأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ التَّمِيمِيُّ وَعُيَيْنَةُ بْنُ حِصْنٍ الْفَزَارِيُّ فَوَجَدُوا رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مَعَ صُهَيْبٍ وَبِلاَلٍ وَعَمَّارٍ وَخَبَّابٍ قَاعِدًا فِي نَاسٍ مِنَ الضُّعَفَاءِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فَلَمَّا رَأَوْهُمْ حَوْلَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ حَقَرُوهُمْ فَأَتَوْهُ فَخَلَوْا بِهِ وَقَالُوا إِنَّا نُرِيدُ أَنْ تَجْعَلَ لَنَا مِنْكَ مَجْلِسًا تَعْرِفُ لَنَا بِهِ الْعَرَبُ فَضْلَنَا فَإِنَّ وُفُودَ الْعَرَبِ تَأْتِيكَ فَنَسْتَحْيِي أَنْ تَرَانَا الْعَرَبُ مَعَ هَذِهِ الأَعْبُدِ فَإِذَا نَحْنُ جِئْنَاكَ فَأَقِمْهُمْ عَنْكَ فَإِذَا نَحْنُ فَرَغْنَا فَاقْعُدْ مَعَهُمْ إِنْ شِئْتَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ نَعَمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا فَاكْتُبْ لَنَا عَلَيْكَ كِتَابًا ‏.‏ قَالَ فَدَعَا بِصَحِيفَةٍ وَدَعَا عَلِيًّا لِيَكْتُبَ وَنَحْنُ قُعُودٌ فِي نَاحِيَةٍ فَنَزَلَ جِبْرَائِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَقَالَ ‏(وَلاَ تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ مَا عَلَيْكَ مِنْ حِسَابِهِمْ مِنْ شَىْءٍ وَمَا مِنْ حِسَابِكَ عَلَيْهِمْ مِنْ شَىْءٍ فَتَطْرُدَهُمْ فَتَكُونَ مِنَ الظَّالِمِينَ)‏ ثُمَّ ذَكَرَ الأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ وَعُيَيْنَةَ بْنَ حِصْنٍ فَقَالَ ‏(وَكَذَلِكَ فَتَنَّا بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لِيَقُولُوا أَهَؤُلاَءِ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنْ بَيْنِنَا أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَعْلَمَ بِالشَّاكِرِينَ)‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏(وَإِذَا جَاءَكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِآيَاتِنَا فَقُلْ سَلاَمٌ عَلَيْكُمْ كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ )‏ ‏.‏ قَالَ فَدَنَوْنَا مِنْهُ حَتَّى وَضَعْنَا رُكَبَنَا عَلَى رُكْبَتِهِ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَجْلِسُ مَعَنَا فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَقُومُ قَامَ وَتَرَكَنَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ ‏(وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلاَ تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ)‏ وَلاَ تُجَالِسِ الأَشْرَافَ ‏(تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلاَ تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا)‏ - يَعْنِي عُيَيْنَةَ وَالأَقْرَعَ - ‏(وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا )‏ - قَالَ هَلاَكًا - قَالَ أَمْرُ عُيَيْنَةَ وَالأَقْرَعِ ‏.‏ ثُمَّ ضَرَبَ لَهُمْ مَثَلَ الرَّجُلَيْنِ وَمَثَلَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ‏.‏ قَالَ خَبَّابٌ فَكُنَّا نَقْعُدُ مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَإِذَا بَلَغْنَا السَّاعَةَ الَّتِي يَقُومُ فِيهَا قُمْنَا وَتَرَكْنَاهُ حَتَّى يَقُومَ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪১২৭। আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ কাত্তান (রাহঃ)....... খাববার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মহান আল্লাহর বাণী এ আয়াত সম্পর্কে বলেনঃ

ولا تطرد الذين يدعون ربهم بالغداة والعشي يريدون وجـهـه ماعليك من حسابهم من شيئ ومـا مـن حـسـابـك علـيـهـم مـن شـيـي فـتـطـردهـم فـتكون من الظالمين

“যারা তাদের প্রতিপালককে প্রাতে ও সন্ধ্যায় তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ডাকে, তাদের তুমি তাড়িয়ে দিয়ো না। তাদের কর্মের জবাবদিহির দায়িত্ব তোমার নয় এবং তোমার কোন কর্মের জবাবদিহির দায়িত্বও তাদের উপর ন্যস্ত নয় যে, তুমি তাদের বিতাড়িত করবে। যদি তাড়িয়ে দাও, তাহলে তুমি যালিমদের অন্তর্ভূক্ত হবে।" (৬ঃ৫২)

রাবী বলেন, আক্রা ইবন হাবিস তামিমী ও উয়ায়নাহ ইবন হিসন (এরা উভয়ে গোত্র প্রধান ও বিত্তবান ছিলেন) তারা রাসূলূল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসলেন। তারা রাসূলূল্লাহ (ﷺ) কে সুহাইব (রাযিঃ), বিলাল (রাযিঃ), আম্মার (রাযিঃ) খাববার (রাযিঃ) প্রমুখ দরিদ্র অসহায় মু'মিনদের সাথে বসা পেলেন। তারা নবী (ﷺ) এর চার পাশে এঁদের বসা দেখেতে পেয়ে, তাদের হেয় জ্ঞান করলেন। তাঁরা রাসূলূল্লাহ (ﷺ) -এর নিকটকে এলেন এবং নির্জনে তাঁর সাথে আলাপ আলোচনা শুরু করলেন। তারা বললেন যে, আমরা চাই, আপনি আমাদের

জন্য স্বতন্ত্রভাবে বসার ব্যবস্থা করবেন, যাতে আরবরা আমাদের মর্যাদা সম্পর্কে অবহিত হতে পারে। কেননা, আপনার কাছে আরবের প্রতিনিধিদল আসে। সুতরাং এই দাসদের সাথে আরবরা আমাদেরকে বসা দেখলে এতে আমরা লজ্জাবোধ করি। তাই আমরা যখন আপনার কাছে আসি তখন আপনি এদেরকে আপনার নিকট থেকে উঠিয়ে দিবেন। আমরা আপনার কাছ থেকে বিদায় দিলে, আপনি ইচ্ছা করলে, তাদের সাথে বসতে পারেন। তিনি বললেনঃ ঠিক আছে। (নেতা গোছের লোকগুলোর চিত্তাকর্ষণের জন্য ইসলামের গৌরব বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এতে সম্মতি দান করলেন) তারা বললেনঃ আপনি আমাদের জন্য এই মর্মে একটি চুক্তি লিখে দিন। রাবী বলেনঃ তখন তিনি কাগজ আনালেন এবং আলী (রাযিঃ) কে লেখার জন্য ডাকলেন। আর আমরা এক পাশে বসা ছিলাম। তখন জিবরাঈল (আ) নাযিল হলেন এবং বললেনঃ

ولا تطرد الذين يدعون ربهم بالغداة والعشي يريدون وجـهـه مـاعليك من حـسـابـهـم مـن شـيئ ومـا مـن حـسـابـك علـيـهـم مـن شــي فـتـطـردهـم فتكون من الظالمين

“যারা তাদের রবকে সকাল ও সন্ধ্যায় ডাকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্য, তাদের আপনি তাড়িয়ে দিবেন না। তাদের কর্মের জবাবদিহির দায়িত্ব আপনার নয় এবং আপনার কর্মের জাবাবদিহির দায়িত্বও তাদের নয় যে, আপনি তাদের বিতাড়িত করবেন। যদি আপনি তাদের সরিয়ে দিন, তাহলে যালিমদের অন্তর্ভূক্ত হবেন"। (সূরা আনআম, ৬ঃ ৫২)

অতঃপর আল্লাহ তা'আলা আকরা ইবন হাবিস ও উয়ায়নাহ্ ইবন হিসন এর কথা উল্লেখ করে ইরশাদ করেনঃ

وكذالك فتنا بعضهم ببعض ليقولوا أهؤلاء من الله عليهم من بيننا أليس الله بأعلم بالشاكرين.

“এইভাবে আমি তাদের একদলকে অন্যদল দ্বারা পরীক্ষা করেছি, যেন তারা বলেঃ আমাদিগের মধ্যে কি এদের প্রতিই আল্লাহ অনুগ্রহ করলেন? আল্লাহ কি কৃতজ্ঞ লোকদের সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত নন"? (সূরা আনআম, ৬ঃ ৫৩)

এর পর আল্লাহ তা'আলা বললেনঃ

وإذا جائك الذين يؤمنون بايـأتـنـا فـقـل سـلام عليكم كتب ربكم على نفسه الرحمة

"যারা আমার আয়াত সমূহের প্রতি ঈমান এনেছে, তারা যখন আপনার নিকটে আসে, তখন আপনি বলবে 'তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক 'তোমাদের রব (তোমাদের জন্য) রহমত বর্ষণ করা তার উপর স্থির করেছেন"। (সূরা আনআম, ৬৪৫৪)

রাবী বলেন, তখন আমরা তাঁর নিকটবর্তী হলাম, এমনকি আমাদের জানু তাঁর জানুর সাথে লাগিয়ে বসলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সাথে বসতেন এবং যখন উঠার ইচ্ছা করতেন, তখন আমাদের ছেড়ে দাঁড়িয়ে যেতেন। তখন আল্লাহ তা'আলা এই আয়াত নাযিল করলেন واصبر نفسك مع الذين يدعون ربهم بالغداة والعشي يريدون وجهه ولا تعد عيناك عنهم

“আপনি নিজকে ধৈর্য সহকারে রাখবেন তাদেরই সংঙ্গে, যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালককে ডাকে তাঁদের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এবং আপনি পার্থিব জীবনের শোভা কামান করে তাদের থেকে আপনার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিবেন না।"- (কাহফ, ১৮ঃ ২৮)

আর আপনি অভিজাতদের সাথে বসবে না। “আপনি তার অনুগত্য করো না, যার চিত্তকে আমি আমার স্মরণে অমনোযোগী করে দিয়েছিল (অর্থাৎ উয়ায়নাহ ও আকরা ইবনে হাবিস-এর কথায় কান দিবেন না), যে তার খেয়াল-খুলীর অনুসরণ করেও যার কাজ কর্ম সীমা অতিক্রম করে। (রাবী বলেনঃ সে ধ্বংস হয়েছে)। তিনি বলেনঃ উরায়নাহ ও আকরা ইবন হারিস-এর কর্মকান্ড বরবাদ হয়েছে। অতঃপর তিনি তাদের সামনে দুই ব্যক্তির দৃষ্টান্ত পার্থিক জীবনের উপমা পেশ করলেন (সূরা কাফ্ফের ৩২ নং ও ৪৫ নং আয়াতে এর উল্লেখ রয়েছে)। খাব্বাব (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর এমন অবস্থা হয়ে গেল যে, আমরা নবী (ﷺ) এর সাথে উঠা-বাস করতাম। যখন তাঁর উঠার সময় হতো, তখন আমরা উঠে দাঁড়াতাম এবং তাঁকে উঠার জন্য সুযোগ করে দিতাম।
4128

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ الرَّبِيعِ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَعْدٍ، قَالَ نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ فِينَا سِتَّةٍ فِيَّ وَفِي ابْنِ مَسْعُودٍ وَصُهَيْبٍ وَعَمَّارٍ وَالْمِقْدَادِ وَبِلاَلٍ ‏.‏ قَالَ قَالَتْ قُرَيْشٌ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِنَّا لاَ نَرْضَى أَنْ نَكُونَ أَتْبَاعًا لَهُمْ فَاطْرُدْهُمْ عَنْكَ ‏.‏ قَالَ فَدَخَلَ قَلْبَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مِنْ ذَلِكَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَدْخُلَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ‏(وَلاَ تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ)‏ الآيَةَ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪১২৮। ইয়াহইয়া ইবন হাকীম (রাহঃ)...... সা'দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এই আয়াত আমাদের ছয়জনের ব্যাপারে নাযিল হয়েছেঃ আমি, ইবন মাসউদ, সুহাইব, আম্মার, মিকদাদ ও বিলাল (রাযিঃ)। রাবী বলেনঃ কুরায়শরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললেন, আমরা এসব লোকদের অনুসরণে আপনার সাথে একত্রে (বসতে) সম্মত নই, আপনি আপনার নিকট থেকে এদের সরিয়ে দিন। রাবী বলেন, এই কথা শোনার পরে রাসুলূল্লাহ (ﷺ) -এর অন্তকরণে সেই কথাই প্রবিষ্ট হলো, যা আল্লাহর মঞ্জুর ছিল। অতঃপর মহান আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করলেন-

ولا تطرد الذين يدعون ربهم بالغداة والعشي يريدون وجـهـه ماعليك من حـسـابـهـم مـن شـيـي ومـا مـن حـسـابـك علـيـهـم مـن شـيـي فـتطردهم فتكون من الظالمين

“যারা তাদের রবকে সকাল ও সন্ধ্যায় ডাকে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্য, তাদের আপনি তাড়িয়ে দিবেন না। তাদের কর্মের জবাবদিহির দায়িত্ব আপনার নয় এবং আপনার কোন কর্মের জবাবদিহির দায়িত্বও তাদের নয় যে, আপনি তাদের বিতাড়িত করবেন যদি আপনি তাদের সরিয়ে দিন, তাহলে আপনি যালিমদের অন্তর্ভূক্ত হবেন।” (সূরা আনআম, ৬ঃ৫২)।

বিত্তবানদের প্রসঙ্গে

بَاب فِي الْمُكْثِرِينَ

4129

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ الْمُخْتَارِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَطِيَّةَ الْعَوْفِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّهُ قَالَ ‏ "‏ وَيْلٌ لِلْمُكْثِرِينَ إِلاَّ مَنْ قَالَ بِالْمَالِ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا ‏"‏ ‏.‏ أَرْبَعٌ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ وَمِنْ قُدَّامِهِ وَمِنْ وَرَائِهِ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪১২৯। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ)........ আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) সূত্রে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ধনবানদের জন্য ধ্বংস; তবে তারা নয়, যারা ধন-সম্পদ সম্পর্কে বলেঃ এই দিকে, এই দিকে, এইদিকে, এইদিকে তিনি চারদিকেই ইশারা করলেন, ডানে, বামে সামেন ও পেছনে (অর্থাৎ যাবতীয় হক্ আদায় করে)।

4130

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي أَبُو زُمَيْلٍ، - هُوَ سِمَاكٌ - عَنْ مَالِكِ بْنِ مَرْثَدٍ الْحَنَفِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الأَكْثَرُونَ هُمُ الأَسْفَلُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلاَّ مَنْ قَالَ بِالْمَالِ هَكَذَا وَهَكَذَا وَكَسَبَهُ مِنْ طَيِّبٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৪১৩০। আব্বাস ইবন আব্দুল আযীম আম্বারী (রাহঃ)...... আবু যার (রাযিঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ঐশ্বর্যশালী ব্যক্তিগত কিয়ামতের দিন সর্বাপেক্ষা নিম্নস্তরে উপনীত হবে। তাবে তারা নয়, যারা ধন-সম্পদ সম্পর্কে বলেঃ এই দিকে, এই দিকে (অর্থাৎ যথাযথভাবে ব্যয় করে) এবং সে তা হালাল ভাবে অর্জন করে।

4131

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الأَكْثَرُونَ هُمُ الأَسْفَلُونَ إِلاَّ مَنْ قَالَ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا ‏"‏ ‏.‏ ثَلاَثًا ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৩১। ইয়াহ্ইয়া ইবন হাকীম (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বিপুল ধন-সম্পদের অধিকারীরা (কিয়ামতের দিন) সর্বাপেক্ষা নিচুস্তরে অবস্থান করবে। তবে তারা নয় যারা বলবে (বিলিয়ে দিবে) এই দিকে, এই দিকে এই দিকে। তিনি এই কথাটি তিনবার বলেছেন।

4132

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَا أُحِبُّ أَنَّ أُحُدًا عِنْدِي ذَهَبًا فَتَأْتِي عَلَىَّ ثَالِثَةٌ وَعِنْدِي مِنْهُ شَىْءٌ إِلاَّ شَىْءٌ أُرْصِدُهُ فِي قَضَاءِ دَيْنٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৩২। ইয়াকূব ইব্‌ন হুমায়দ ইবন কাসিব (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তো চাই না যে, উহুদ পরিমাণ স্বর্ণ আমার কাছে থাকবে এবং তৃতীয় দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও তা থেকে আমার নিকট কিছু অংশ অবশিষ্ট থাকে। অবশ্য আমি ঋণ পরিশোধের জন্য যা রেখে দেবে, তা ভিন্নতর।

4133

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدِ اللَّهِ، مُسْلِمِ بْنِ مِشْكَمٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ غَيْلاَنَ الثَّقَفِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ اللَّهُمَّ مَنْ آمَنَ بِي وَصَدَّقَنِي وَعَلِمَ أَنَّ مَا جِئْتُ بِهِ هُوَ الْحَقُّ مِنْ عِنْدِكَ - فَأَقْلِلْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ وَحَبِّبْ إِلَيْهِ لِقَاءَكَ وَعَجِّلْ لَهُ الْقَضَاءَ وَمَنْ لَمْ يُؤْمِنْ بِي وَلَمْ يُصَدِّقْنِي وَلَمْ يَعْلَمْ أَنَّ مَا جِئْتُ بِهِ هُوَ الْحَقُّ مِنْ عِنْدِكَ فَأَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ وَأَطِلْ عُمْرَهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আমর ইবনে গায়লান ছাকাফী (রাঃ)

৪১৩৩। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... আমর ইব্‌ন গায়লান সাকাফী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আল্লাহ! যে আমার প্রতি ঈমান এনেছে, আমাকে সত্য (নবী) বলে গ্রহণ করেছে এবং আপনার নিকট থেকে আমি যা নিয়ে এসেছি তাকে (কুরআনকে) সত্য জ্ঞান করেছে, আপনি তার ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্ততি কম করে দিন এবং আপনার দীদার তার জন্য প্রিয় বানিয়ে দিন। এবং তাকে তাড়াতাড়ি মৃত্যু দিন। আর যে ব্যক্তি আমার প্রতি ঈমান আনেনি, আমাকে সত্য বলে স্বীকার করেননি এবং আমি আপনার নিকট থেকে যা নিয়ে এসেছি তাকে অসত্য জ্ঞান করে না, আপনি তার ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততি বাড়িয়ে দিন এবং তার আয়ু বৃদ্ধি করে দিন।

4134

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا غَسَّانُ بْنُ بُرْزِينَ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْجُمَحِيُّ، حَدَّثَنَا غَسَّانُ بْنُ بُرْزِينَ، حَدَّثَنَا سَيَّارُ بْنُ سَلاَمَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ السَّلِيطِيِّ، عَنْ نُقَادَةَ الأَسَدِيِّ، قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِلَى رَجُلٍ يَسْتَمْنِحُهُ نَاقَةً فَرَدَّهُ ثُمَّ بَعَثَنِي إِلَى رَجُلٍ آخَرَ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ بِنَاقَةٍ فَلَمَّا أَبْصَرَهَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏"‏ اللَّهُمَّ بَارِكْ فِيهَا وَفِيمَنْ بَعَثَ بِهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ نُقَادَةُ فَقُلْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَفِيمَنْ جَاءَ بِهَا قَالَ ‏"‏ وَفِيمَنْ جَاءَ بِهَا ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَحُلِبَتْ فَدَرَّتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَ فُلاَنٍ ‏"‏ ‏.‏ لِلْمَانِعِ الأَوَّلِ ‏"‏ وَاجْعَلْ رِزْقَ فُلاَنٍ يَوْمًا بِيَوْمٍ ‏"‏ ‏.‏ لِلَّذِي بَعَثَ بِالنَّاقَةِ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪১৩৪। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ) ...নুকাদাহ্ আসাদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এক ব্যক্তির নিকট উটনী আনার জন্য প্রেরণ করেন। কিন্তু সে ফিরায়ে দিল। অতঃপর তিনি আমাকে অপর এক ব্যক্তির কাছে পাঠালেন। সে ব্যক্তি তাঁর (রাসূলুল্লাহ সা) নিকট উটনী পাঠিয়ে দিল। যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উটনী দেখলেন, তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! এতে তুমি রবকত দাও এবং যে ব্যক্তি "এটা পাঠিয়েছে তাঁকে ও।

নুকাদাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বললামঃ যে ব্যক্তি এই উটনী নিয়ে এসেছে-তার জন্যও (দু'আ করুন)। তিনি বলেনঃ (হে আল্লাহ! তাকেও অশেষ কল্যাণ দিন ), যে এটা নিয়ে এসেছে। অতঃপর তিনি উটনীর দুধ দোহনের জন্য নির্দেশ দিলেন। তখন দুধদোহন করা হলো এবং তা পরিমাণে অধিক হলো। তারপর রাসূলুল্লাহ বললেনঃ হে আল্লাহ! অমুক ব্যক্তির মাল বৃদ্ধি করে দিন, যে প্রথম নিষেধকারী । আর অমুকের, যে ব্যক্তি উটনী পাঠিয়েছে, তাকে দৈনিক হারে জীবিকা দিন।
4135

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ تَعِسَ عَبْدُ الدِّينَارِ وَعَبْدُ الدِّرْهَمِ وَعَبْدُ الْقَطِيفَةِ وَعَبْدُ الْخَمِيصَةِ إِنْ أُعْطِيَ رَضِيَ وَإِنْ لَمْ يُعْطَ لَمْ يَفِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৩৫। হাসান ইবন হাম্মাদ (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দীনার ও দিরহামের দাসেরা (মালিকরা) ধ্বংস হোক, সুদৃশ্য চাদর এবং কালরেখা বিশিষ্ট রেশমী কাপড়ের দাসেরাও নিপাত ডাক। যদি তাকে এসব সামগ্রী দেওয়া হয়, তবে সে হয় খুশী আর যদি তাকে না দেওয়া হয়, তখন সে অঙ্গীকার পূর্ণ করে না।

4136

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ تَعِسَ عَبْدُ الدِّينَارِ وَعَبْدُ الدِّرْهَمِ وَعَبْدُ الْخَمِيصَةِ تَعِسَ وَانْتَكَسَ وَإِذَا شِيكَ فَلاَ انْتَقَشَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৩৬। ইয়াকুব ইব্‌ন হুমায়দ (রাহঃ)...আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দীনার, দিরহাম ও শালের গোলামেরা নিপাত যাক। আল্লাহ্ এদেরকে মুখ থুবড়ে জাহান্নামের নিক্ষেপ করুন। যখন জাহান্নামের কাঁটার আঘাত লাগবে, তখন সে বের হতে পারবে না।

কানা'আত (অল্পে তুষ্টি)

بَاب الْقَنَاعَةِ

4137

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لَيْسَ الْغِنَى عَنْ كَثْرَةِ الْعَرَضِ وَلَكِنَّ الْغِنَى غِنَى النَّفْسِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৩৭। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ধন-সম্পদের আধিক্যতাই অমুখাপেক্ষীতার মাপকাঠি নয়, বরং অমুখাপেক্ষীতাই প্রকৃত মুখাপেক্ষহীনতা।

4138

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، وَحُمَيْدِ بْنِ هَانِئٍ الْخَوْلاَنِيِّ، أَنَّهُمَا سَمِعَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيَّ، يُخْبِرُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّهُ قَالَ ‏ "‏ قَدْ أَفْلَحَ مَنْ هُدِيَ إِلَى الإِسْلاَمِ وَرُزِقَ الْكَفَافَ وَقَنِعَ بِهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪১৩৮। মুহাম্মাদ ইবন রুমহ্ (রাহঃ)....... আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন আ'স (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ সে ব্যক্তি অবশ্যই সফলকাম হয়েছে, যে ইসলামের দিকে হিদায়েতপ্রাপ্ত হয়েছে, প্রয়োজন মাফিক জীবিকা দেওয়া হয়েছে এবং এতেই সে পরিতুষ্ট হয়েছে।

4139

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ اللَّهُمَّ اجْعَلْ رِزْقَ آلِ مُحَمَّدٍ قُوتًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৩৯। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন নুমায়র ও আলী ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনকে প্রয়োজন মাফিক জীবিকা দান করুন।

4140

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَيَعْلَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ نُفَيْعٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَا مِنْ غَنِيٍّ وَلاَ فَقِيرٍ إِلاَّ وَدَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَّهُ أُتِيَ مِنَ الدُّنْيَا قُوتًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪১৪০। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুয়ায়র (রাহঃ)....আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এমন কোন ধনী কিংবা দরিদ্র নেই, যারা কিয়ামতের দিন এই আকাঙ্ক্ষা না করবে যে, যদি আল্লাহ তাকে দুনিয়াতে প্রয়োজন মাফিক জীবিকা দান করতেন। (তাহলে ভাল হতো)।

4141

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي شُمَيْلَةَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مِحْصَنٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ أَصْبَحَ مِنْكُمْ مُعَافًى فِي جَسَدِهِ آمِنًا فِي سِرْبِهِ عِنْدَهُ قُوتُ يَوْمِهِ فَكَأَنَّمَا حِيزَتْ لَهُ الدُّنْيَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪১৪১। সুওয়াইদ ইব্‌ন সাঈদ ও মুজাহিদ ইব্‌ন মুসা (রাহঃ)...উবায়দুল্লাহ ইবন মিহসান আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আপন গৃহে সুস্থ দেহে প্রাণের নিরাপত্তার সাথে সকাল যাপন করলো আর তার কাছে সে দিনকার আহার্য মজুদ থাকলো, তাহলে সমগ্র পৃথিবীদের তার হাসিল হয়ে গেল। (স্বাস্থ্য ও দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন এক মহাসম্পদ)

4142

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ انْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَلاَ تَنْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَكُمْ فَإِنَّهُ أَجْدَرُ أَنْ لاَ تَزْدَرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو مُعَاوِيَةَ ‏"‏ عَلَيْكُمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৪২। আবু বাকর (রাহঃ).....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের চাইতে নিম্নস্তরের লোকদের প্রতি নযর রাখবে, (তাহলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে পারবে) এবং নিজেদের চাইতে উপরস্থ লোকদের প্রতি লক্ষ্য করবে না। এমনটি করলে আল্লাহর নি'আমতকে ক্ষুদ্র জ্ঞান করার প্রবণতা সৃষ্টি হবে না।

রাবী আবু মু'আবিয়া (রাহঃ) فَوْقَكُمْ এর স্থলে عَلَيْكُمْ বলে বর্ণনা করেছেন। অর্থ একই অর্থাৎ উপরস্থ উঁচুস্তরের।
4143

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ الأَصَمِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ لاَ يَنْظُرُ إِلَى صُوَرِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ وَلَكِنْ إِنَّمَا يَنْظُرُ إِلَى أَعْمَالِكُمْ وَقُلُوبِكُمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৪৩। আহমাদ ইব্‌ন সিনান (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে মারফু সনদে বর্ণিত। তিনি (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ব্যাহ্যিক আকৃতি ও ঐশ্বর্যের প্রতি লক্ষ্য করেন না, বরং তিনি তোমাদের আমল ও কাল্‌বের দিকে দেখে থাকেন।

মুহাম্মাদ এর পরিবার-পরিজনের জীবন-যাপন পদ্ধতি

بَاب مَعِيشَةِ آلِ مُحَمَّدٍ ﷺ

4144

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنْ كُنَّا آلَ مُحَمَّدٍ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لَنَمْكُثُ شَهْرًا مَا نُوقِدُ فِيهِ بِنَارٍ مَا هُوَ إِلاَّ التَّمْرُ وَالْمَاءُ ‏.‏ إِلاَّ أَنَّ ابْنَ نُمَيْرٍ قَالَ نَلْبَثُ شَهْرًا ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪১৪৪। আবু বাকর ইবন শায়বা (রাহঃ)....... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আলে-মুহাম্মাদ (ﷺ) একেক মাস এমনভাবে অতিবাহিত করতাম যে, ঘরে আগুন প্রজ্জ্বলিত করতাম না। আমাদের আহার্য বলতে খেজুর ও পানি ব্যতীত কিছুই থাকতো না। এই হাদীসের রাবী ইবন নুমায়র لنمكث شهرا এর স্থলে نلبث شهرا শব্দ উল্লেখ করেছেন- অর্থ একই।

4145

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَقَدْ كَانَ يَأْتِي عَلَى آلِ مُحَمَّدٍ ـ صلى الله عليه وسلم ـ الشَّهْرُ مَا يُرَى فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِهِ الدُّخَانُ ‏.‏ قُلْتُ فَمَا كَانَ طَعَامُهُمْ قَالَتِ الأَسْوَدَانِ التَّمْرُ وَالْمَاءُ غَيْرَ أَنَّهُ كَانَ لَنَا جِيرَانٌ مِنَ الأَنْصَارِ جِيرَانُ صِدْقٍ وَكَانَتْ لَهُمْ رَبَائِبُ فَكَانُوا يَبْعَثُونَ إِلَيْهِ أَلْبَانَهَا ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدٌ وَكَانُوا تِسْعَةَ أَبْيَاتٍ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪১৪৫। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর পরিবার পরিজনদের বেলায় এমন মাসও অতিবাহিত হতো যে, তার গৃহগুলোর কোনটি থেকে ধুয়া বের হতে দেখা যেতো না। (আবু সালাম (রাযিঃ) বলেন) ঃ আমি জিজ্ঞাসা করলাম ঃ তখন তাদের আহার্য কি ছিল ? তিনি বললেন ঃ দু'টো কালো রং এর জিনিস-খিজুর ও পানি। তবে আমাদের আনাসারী সৎ প্রতিবেশীরা বকরী পালন করতেন এবং বকরীর দুধ হাদিয়া হিসেবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট পাঠাতেন। রাবী মুহাম্মাদ ইবন আমর (যিনি আবু সালামা থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন) বলেন, তাদের নয়টি গৃহ ছিল। (নয়জন উন্মুহাতুল মু'মিনীনের জন্য নয়টি পৃথক কামরা ছিল)

4146

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَلْتَوِي فِي الْيَوْمِ مِنَ الْجُوعِ مَا يَجِدُ مِنَ الدَّقَلِ مَا يَمْلأُ بِهِ بَطْنَهُ ‏.‏

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৪১৪৬। নসর ইবন আলী (রাহঃ)........ নুমান ইবন বাশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি উমর ইবন খাত্তাব (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছিঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দিনের বেলায় ক্ষুধার তাড়নায় পার্শ্ব পরিবর্তন করতে দেখেছি। তিনি এমন কোন নিকৃষ্ট খেজুরও পেতেন না যা দিয়ে তিনি তার পেট পুরা করতে পারেন।

4147

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، أَنْبَأَنَا شَيْبَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ مِرَارًا ‏ "‏ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ مَا أَصْبَحَ عِنْدَ آلِ مُحَمَّدٍ صَاعُ حَبٍّ وَلاَ صَاعُ تَمْرٍ ‏"‏ ‏.‏ وَإِنَّ لَهُ يَوْمَئِذٍ تِسْعَ نِسْوَةٍ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪১৪৭। আহামদ ইব্‌ন মানী' (রাহঃ) ...... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কয়েকবার বলতে শুনেছিঃ সেই মহান সত্তার শপথ! যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ ; মুহাম্মাদের পরিবার পরিজনের কাছে সকালবেলা আহার্য দ্রব্য হিসেবে এক সা'! (সাড়ে তিন কেজি) পরিমাণ গম কিংবা খুরমা খেজুর থাকতো না। তখন তাঁর নয়জন বিবি ছিলেন।

4148

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ بَذِيمَةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ مَا أَصْبَحَ فِي آلِ مُحَمَّدٍ إِلاَّ مُدٌّ مِنْ طَعَامٍ ‏"‏ ‏.‏ أَوْ ‏"‏ مَا أَصْبَحَ فِي آلِ مُحَمَّدٍ مُدٌّ مِنْ طَعَامٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪১৪৮। মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইয়াহ্ইয়া (রাযিঃ)......আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আলে মুহাম্মাদের কাছে সকাল বেলা এক মুদের অধিক খাদ্য শস্য থাকতো না। (এক মুদ এক রতলের চাইতে কিছু বেশী যার পরিমাণ আমাদের দেশের পরিমাপ অনুসারে আধা সের)। কথাটি তিনি দুই বার বলেছেন।

4149

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَبْدِ الأَكْرَمِ، - رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدٍ، قَالَ أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَمَكَثْنَا ثَلاَثَ لَيَالٍ لاَ نَقْدِرُ - أَوْ لاَ يَقْدِرُ - عَلَى طَعَامٍ ‏.‏

Narrator: হযরত সুলাইমান ইবনে সুরাদ রাযি.

৪১৪৯। নসর ইবন আলী (রাহঃ)........ সুলায়মান ইব্‌ন সুরাদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে এলেন। এ সময় আমরা তিনদিন পর্যন্ত এভাবে কাটাতাম যে, আমরা খাবার সংগ্রহ করতে পারতাম না। অথবা তাঁকে পানাহার করানো সামর্থ ছিল না।

4150

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَوْمًا بِطَعَامٍ سُخْنٍ فَأَكَلَ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ ‏ "‏ الْحَمْدُ لِلَّهِ مَا دَخَلَ بَطْنِي طَعَامٌ سُخْنٌ مُنْذُ كَذَا وَكَذَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৫০। সুওয়ায়দ ইবন সাঈদ......আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সামনে গরম টাটকা খাবার পরিবেশন করা হলো। তিনি আহার করলেন। পানাহার শেষে বললেনঃ আল-হামদু লিল্লাহ'। এতদিন পর্যন্ত আমার উদরে কখনো এরূপ টাটকা উপাদেয় খাদ্য প্রবেশ করেনি।

মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর পরিবার পরিজনদের বিছানা

بَاب ضِجَاعِ آلِ مُحَمَّدٍ ﷺ

4151

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو خَالِدٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ ضِجَاعُ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَدَمًا حَشْوُهُ لِيفٌ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪১৫১। আব্দুল্লাহ ইব্‌ন সাঈদ (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিছানা ছিল চামড়া তৈরী। তার ভেতরে ছিল খেজুরের ছোবড়া।

4152

حَدَّثَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَتَى عَلِيًّا وَفَاطِمَةَ وَهُمَا فِي خَمِيلٍ لَهُمَا - وَالْخَمِيلُ الْقَطِيفَةُ الْبَيْضَاءُ مِنَ الصُّوفِ - قَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ جَهَّزَهُمَا بِهَا وَوِسَادَةٍ مَحْشُوَّةٍ إِذْخِرًا وَقِرْبَةٍ ‏.‏

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪১৫২। ওয়াসিল ইব্‌ন আব্দুল আ'লা (রাহঃ).....আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী (রাযিঃ) ও ফাতিমা (রাযিঃ) এর নিকটে আসেন। সে সময় তাঁরা তাঁদের চাদরের আবৃত ছিলেন। (এটি ছিল একটি সাদা পশমী চাদর) তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদেরকে উপহার হিসাবে দিয়েছিলেন। তিনি আরও দিয়েছিলেন একটি বালিশ যা ইযখির ঘাস দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল এবং পানি রাখার জন্য একটি মশক দিয়েছিলেন।

4153

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي سِمَاكٌ الْحَنَفِيُّ أَبُو زُمَيْلٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهُوَ عَلَى حَصِيرٍ قَالَ فَجَلَسْتُ فَإِذَا عَلَيْهِ إِزَارٌ وَلَيْسَ عَلَيْهِ غَيْرُهُ وَإِذَا الْحَصِيرُ قَدْ أَثَّرَ فِي جَنْبِهِ وَإِذَا أَنَا بِقَبْضَةٍ مِنْ شَعِيرٍ نَحْوَ الصَّاعِ وَقَرَظٍ فِي نَاحِيةٍ فِي الْغُرْفَةِ وَإِذَا إِهَابٌ مُعَلَّقٌ فَابْتَدَرَتْ عَيْنَاىَ فَقَالَ ‏"‏ مَا يُبْكِيكَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَمَا لِيَ لاَ أَبْكِي وَهَذَا الْحَصِيرُ قَدْ أَثَّرَ فِي جَنْبِكَ وَهَذِهِ خِزَانَتُكَ لاَ أَرَى فِيهَا إِلاَّ مَا أَرَى وَذَلِكَ كِسْرَى وَقَيْصَرُ فِي الثِّمَارِ وَالأَنْهَارِ وَأَنْتَ نَبِيُّ اللَّهِ وَصَفْوَتُهُ وَهَذِهِ خِزَانَتُكَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ أَلاَ تَرْضَى أَنْ تَكُونَ لَنَا الآخِرَةُ وَلَهُمُ الدُّنْيَا ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ بَلَى ‏.‏

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৪১৫৩। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার (রাযিঃ)...... উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি তখন খেজুর পাতার চাটাই-এর উপরে আরাম করছিলেন। রাবী বলেনঃ আমি সেখানে বসে পড়লাম। সে সময় তাঁর পরিধানে ছিল একটি ইযার। এছাড়া অন্য কোন বস্ত্র তাঁর পরিধানে ছিল না তাঁর চাটাই এর দাগ বসে গিয়েছিল। আমি দেখতে পেলাম তাঁর গৃহে এক অঞ্জলী সমান তথা এক সা' (সাড়ে তিন কেজি পরিমাণ) গম, জ্বালানী রূপে ছিল কিছু বাবুল বৃক্ষের পাতা এবং গৃহের এক কোণে একটি পানি মশক ঝুলন্ত ছিল। এ অবস্থা দেখে আমার দু'চোখ বেয়ে অশ্রু প্রবাহিত হলো। তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ সা) বললেনঃ হে ইবন খাত্তাব। কিসে তোমাকে কাঁদাচ্ছে? আমি বললামঃ হে আল্লাহর নবী (ﷺ)। আমি কেন কাঁদবো না? এই খেজুর পাতার নির্মিত চাটাই আপনার পাঁজরে দাগ বসিয়ে দিয়েছে। আর আপনার গৃহ সামগ্রী যা দেখলাম, তাতো। এই, এই। আর কিসরা (পারস্য রাজ) এবং কায়সার (রোমক সম্রাট) কে দেখুন, তারা কত বিলাস-ব্যসনে ফলমূল ও ঝরণা সমূহের মাঝে রয়েছে। অথচ আপনি তো আল্লাহর নবী ! এবং তাঁর মনোনীত প্রিয় বান্দা। আপনার পার্থিব সামগ্রী হচ্ছে এই, এই । তিনি বললেন, হে ইব্‌ন খাত্তাব। তুমি কি এতে খুশী নও যে, আমাদের জন্য রয়েছে আখিরাত (অর্থাৎ জান্নাতের চিরস্থায়ী সুখ-সম্পদ), এবং ওদের জন্য রয়েছে দুনিয়া (ক্ষণিকের রং তামাশা)। আমি বললামঃ জ্বি হ্যাঁ।

4154

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ حَبِيبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ أُهْدِيَتِ ابْنَةُ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِلَىَّ فَمَا كَانَ فِرَاشُنَا لَيْلَةَ أُهْدِيَتْ إِلاَّ مَسْكَ كَبْشٍ ‏.‏

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪১৫৪। মুহাম্মাদ ইব্‌ন তারীফ ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম ইবন হাবীব (রাহঃ)...আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কন্যা (ফাতিমা রা) কে আমার নিকট বাসর যাপনের জন্য পাঠান হলো। সে রাতে বকরীর চামড়ার বিছানা ব্যতীত আর কোন বিছানা আমাদের ছিল না।

নবী (ﷺ) এর সাহাবীগণের জীবন যাপন পদ্ধতি

بَاب مَعِيشَةِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ

4155

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَأْمُرُ بِالصَّدَقَةِ فَيَنْطَلِقُ أَحَدُنَا يَتَحَامَلُ حَتَّى يَجِيءَ بِالْمُدِّ وَإِنَّ لأَحَدِهِمُ الْيَوْمَ مِائَةَ أَلْفٍ ‏.‏ قَالَ شَقِيقٌ كَأَنَّهُ يُعَرِّضُ بِنَفْسِهِ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

৪১৫৫। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়র ও আবু কুরায়ব (রাযিঃ)..... আবু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদিগকে সাদাকা করার নির্দেশ দিলেন। আমাদের কেউ বের হতেন এবং মযদূরী করতেন, এমকি এক মুদ (এক রতল পরিমাণ-আমাদের দেশীয় মাপে অর্ধ সের) নিয়ে আসতেন (এবং সাদাকা করতেন)। আজকের দিনে তাদের কারো কারো কাছে লাখ লাখ দিরহাম মওজুদ রয়েছে। রাবী শাকীক (রাহঃ)ঃ আবু মাসউদ (রাযিঃ) এই কথার দ্বারা নিজের প্রতি ইশারা করেছেন।

4156

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ أَبِي نَعَامَةَ، سَمِعَهُ مِنْ، خَالِدِ بْنِ عُمَيْرٍ قَالَ خَطَبَنَا عُتْبَةُ بْنُ غَزْوَانَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ لَقَدْ رَأَيْتُنِي سَابِعَ سَبْعَةٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مَا لَنَا طَعَامٌ نَأْكُلُهُ إِلاَّ وَرَقُ الشَّجَرِ حَتَّى قَرِحَتْ أَشْدَاقُنَا ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪১৫৬। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... খালিদ ইবন উমায়ের (রাহঃ) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, উৎবাহ ইবন গাওয়ান (রাযিঃ) আমাদিগকে মিম্বরে উঠে খুৎবা শোনাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সপ্তম ব্যক্তি ছিলাম, আর আমাদের কাছে কতিপয় গাছের পাতা ব্যতিরেকে কোন খাদ্যদ্রব্য ছিল না, যা আমরা খেতে পারি। শেষ পর্যন্ত আমাদের দাঁতের মাড়িতে ঘা হয়ে গিয়েছিল (খসখসে পাতা খাওয়ার কারণে )

4157

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَبَّاسٍ الْجُرَيْرِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عُثْمَانَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُمْ أَصَابَهُمْ جُوعٌ وَهُمْ سَبْعَةٌ قَالَ فَأَعْطَانِي النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ سَبْعَ تَمَرَاتٍ لِكُلِّ إِنْسَانٍ تَمْرَةٌ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৫৭। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তাদের (সাহাবা কিরাম রা এর) ভয়াণক ক্ষুধা পাচ্ছিল এবং তাদের সংখ্যা ছিল সাতজন। তিনি বললেনঃ নবী (ﷺ) মাথা পিছু একটি করে দেওয়ার জন্য আমাদেক সাতটি খেজুর দিলেন।

4158

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ أَبِي عُمَرَ الْعَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَاطِبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ ‏(ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ)‏ قَالَ الزُّبَيْرُ وَأَىُّ نَعِيمٍ نُسْأَلُ عَنْهُ وَإِنَّمَا هُوَ الأَسْوَدَانِ التَّمْرُ وَالْمَاءُ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَمَا إِنَّهُ سَيَكُونُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ)

৪১৫৮। মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইয়াহ্ইয়া ইবন আবু উমার আদানী (রাহঃ)..... যুবায়র ইব্‌ন আওয়াম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন (এরপর তোমরা অবশ্যই যেদিন নি'আমত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে) আয়াতটি নাযিল হলো, তখন যুবায়র (রাযিঃ) বললেনঃ আমাদের কাছে এমন কি নি'আমত আছে, যে, সম্পর্কে আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে? আমাদের কাছে তো শুধু মাত্র দু'টো কালো রং এর জিনিস তথা খেজুর ও পানি আছে। তিনি (ﷺ) বললেন, নি'আমতের যুগ অচিরেই আসবে।

4159

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَنَحْنُ ثَلاَثُمِائَةٍ نَحْمِلُ أَزْوَادَنَا عَلَى رِقَابِنَا فَفَنِيَ أَزْوَادُنَا حَتَّى كَانَ يَكُونُ لِلرَّجُلِ مِنَّا تَمْرَةٌ ‏.‏ فَقِيلَ يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ وَأَيْنَ تَقَعُ التَّمْرَةُ مِنَ الرَّجُلِ فَقَالَ لَقَدْ وَجَدْنَا فَقْدَهَا حِينَ فَقَدْنَاهَا وَأَتَيْنَا الْبَحْرَ فَإِذَا نَحْنُ بِحُوتٍ قَدْ قَذَفَهُ الْبَحْرُ فَأَكَلْنَا مِنْهُ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ يَوْمًا ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪১৫৯। উসমান ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... জাবির ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের তিনশত জনকে কোন জিহাদে পাঠালেন। আমরা আমাদের রসদ প্রত্রাদি কাঁধের করে বহণ করছিলাম । আমাদের রসদপত্রাদি ফুরিয়ে এলো, এমনকি শেষাবধি আমাদের প্রতিজনের জন্য একটি করে খেজুর বাকী রইলো। অতঃপর জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আবু আব্দুল্লাহ! একটি মাত্র খেজুরে একজন পুরুষের কতদূর কি হবে। তখন তিনি বললেনঃ যখন সেই জনপ্রতি একটি করে খেজুর প্রাপ্ত হলাম। হঠাৎ তথায় আমরা একটা বিরাটকায় মাছ দেখতে পেলাম, যাকে সমুদ্রের ঢেউ তীরে নিক্ষেপ করেছিল। আমরা (সংখ্যায় তিনশত জন) দীর্ঘ আঠার দিন পর্যন্ত সেই মাছটি আহার করলাম।[১]

[১] তিনশত জন লোক একটি মাছ খেয়ে দীর্ঘ আঠার দিন অতিবাহিত করেন। মাছটা এতবড় ছিল যে, মেরুদন্ডের হাড় দু'টোর মধ্যখান দিয়ে বলিষ্ঠকায় উট অতিক্রম করতে পারতো। মদীনাতে এসে তারা মাছটির কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিকট বললেন। তিনি বললেন, এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর অকৃপণ হস্তের দান মাত্র।

ইমারত তৈরী করা ও নষ্ট করা

بَاب فِي الْبِنَاءِ وَالْخَرَابِ

4160

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي السَّفَرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ مَرَّ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَنَحْنُ نُعَالِجُ خُصًّا لَنَا فَقَالَ ‏"‏ مَا هَذَا ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ خُصٌّ لَنَا وَهَى نَحْنُ نُصْلِحُهُ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ مَا أُرَى الأَمْرَ إِلاَّ أَعْجَلَ مِنْ ذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪১৬০। আবু কুরায়ব (রাহঃ) ….. আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, এ সময় আমরা একটা ঝুপড়ি মেরামত করছিলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ এইটা কি? তখন আমি বললামঃ আমাদের বাড়ীঘর পুরানো হয়ে গেছে, আমরা তা মেরামত করছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি তো দেখতে পাচ্ছি, মৃত্যু তার আগেই উপস্থিত হচ্ছে।

4161

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عُثْمَانَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى بْنِ أَبِي فَرْوَةَ، حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِقُبَّةٍ عَلَى بَابِ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ ‏"‏ مَا هَذِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا قُبَّةٌ بَنَاهَا فُلاَنٌ ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ كُلُّ مَالٍ يَكُونُ هَكَذَا فَهُوَ وَبَالٌ عَلَى صَاحِبِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏ ‏.‏ فَبَلَغَ الأَنْصَارِيَّ ذَلِكَ فَوَضَعَهَا فَمَرَّ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بَعْدُ فَلَمْ يَرَهَا فَسَأَلَ عَنْهَا فَأُخْبِرَ أَنَّهُ وَضَعَهَا لِمَا بَلَغَهُ عَنْكَ فَقَالَ ‏"‏ يَرْحَمُهُ اللَّهُ يَرْحَمُهُ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪১৬১। আব্বাস ইবন উসমান দিমাশকী (রাহঃ).......আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক আনসারী ব্যক্তির চারকোণ বিশিষ্ট ঘরের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ এটা কি ? তাঁরা বললেনঃ এতো একটি চারকোণ বিশিষ্ট ঘর, যা অমুকে তৈরী করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেলেনঃ যে সম্পদ এরূপ হবে, তা কিয়ামতের দিন তার মালিকের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এই খবর আনসারীর কাছে পৌঁছে গেল। তিনি তৎক্ষণাৎ তা ভেঙ্গে ফেললেন। পরবর্তী সময়ে নবী (ﷺ) সে পথে গেলেন; কিন্তু তিনি সেই ঘরখানি দেখতেন পেলেন না। তখন তিনি সে সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তাঁকে জানানো হলো যে, আপনার কথা তার কাছে পৌঁছলে সে তা ভেঙ্গে ফেলে। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন, আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন।

4162

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ، عَنْ أَبِيهِ، سَعِيدٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُنِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بَنَيْتُ بَيْتًا يُكِنُّنِي مِنَ الْمَطَرِ وَيُكِنُّنِي مِنَ الشَّمْسِ مَا أَعَانَنِي عَلَيْهِ خَلْقُ اللَّهِ تَعَالَى ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১৬২। মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইয়াহয়া (রাহঃ)...... ইব্‌ন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আমাকে দেখতে পেলাম যে, আমি বৃষ্টি ও সূর্যকিরণ থেকে বাঁচার জন্য একটা ঘর তৈরী করছিলাম। এ কাজে আমাকে আল্লাহর কোন সৃষ্টি সাহায্য করেনি। অর্থাৎ আমি নিজ হাতেই কাজটি সম্পন্ন করেছি)।

4163

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ مُضَرِّبٍ، قَالَ أَتَيْنَا خَبَّابًا نَعُودُهُ فَقَالَ لَقَدْ طَالَ سُقْمِي وَلَوْلاَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏"‏ لاَ تَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ ‏"‏ ‏.‏ لَتَمَنَّيْتُهُ وَقَالَ ‏"‏ إِنَّ الْعَبْدَ لَيُؤْجَرُ فِي نَفَقَتِهِ كُلِّهَا إِلاَّ فِي التُّرَابِ ‏"‏ ‏.‏ أَوْ قَالَ ‏"‏ فِي الْبِنَاءِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪১৬৩। ইসমাঈল ইবন মুসা (রাহঃ)........ হারিসা ইবন মুদাররিব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাববার (রাযিঃ)-এর নিকট তাঁর সেবা শুশ্রূষার জন্য এলাম। তখন তিনি বললেনঃ আমার অসুখ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। যদি আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একথা বলতে না শুনতাম যে, “তোমরা মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করবে না, তাহলে অবশ্যই আমি তা কামনা করতাম। তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই বান্দা তার প্রত্যেকটি ব্যয়ের বদৌলতে পুরস্কার পাবে, কিন্তু মাটির মধ্যে খরচ করার (কিংবা ইমারত তৈরীতে ব্যয় করার) জন্য কোন বিনিময় পাবে না।

তাওয়াক্কুল (আল্লাহ ভরসা) ও ইয়াকীন (দৃঢ় প্রত্যয়)

بَاب التَّوَكُّلِ وَالْيَقِينِ

4164

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنِ ابْنِ هُبَيْرَةَ، عَنْ أَبِي تَمِيمٍ الْجَيْشَانِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ لَوْ أَنَّكُمْ تَوَكَّلْتُمْ عَلَى اللَّهِ حَقَّ تَوَكُّلِهِ لَرَزَقَكُمْ كَمَا يَرْزُقُ الطَّيْرَ تَغْدُو خِمَاصًا وَتَرُوحُ بِطَانًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৪১৬৪। হারমালাহ্ ইব্‌ন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ) ...আবু তামীম জায়শানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমার (ইবনুল খাত্তাব) কে বলতে শুনেছি, (তিনি বলেছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ যদি তোমরা আল্লাহর উপর যথাযথভাবে তাওয়াক্কুল (ভরসা) করতে, তাহলে অবশ্যই তিনি তোমাদিগকে জীবিকা দান করতেন, যেমন তিনি রিযিক থাকেন পাখীদের। ওরা খালি পেটে ( সকাল বেলা বাসা থেকে বের হয়। এবং (সন্ধ্যায়) উদরপূর্তি করে ফিরে আসে।

4165

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَلاَّمِ بْنِ شُرَحْبِيلَ أَبِي شُرَحْبِيلَ، عَنْ حَبَّةَ، وَسَوَاءٍ، ابْنَىْ خَالِدٍ قَالاَ دَخَلْنَا عَلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهُوَ يُعَالِجُ شَيْئًا فَأَعَنَّاهُ عَلَيْهِ فَقَالَ ‏ "‏ لاَ تَيْأَسَا مِنَ الرِّزْقِ مَا تَهَزَّزَتْ رُءُوسُكُمَا فَإِنَّ الإِنْسَانَ تَلِدُهُ أُمُّهُ أَحْمَرَ لَيْسَ عَلَيْهِ قِشْرٌ ثُمَّ يَرْزُقُهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪১৬৫। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... খালিদের পুত্রদ্বয়-হাববাহ ও সাওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেছেনঃ আমরা নবী (ﷺ) -এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি কিছু কাজ করছিলেন, আমরা তাঁকে সে কাজ সাহায্য করলাম। অতঃপর তিনি (রাসূল সা) বললেনঃ যতদিন তোমাদের মাথা সতেজ থাকবে অর্থাৎ যতদিন তোমার জীবিত থাকবে, তোমরা জীবিকার জন্য নিরাশ হয়ো না। কেননা, মানুষের অবস্থা এই যে, তার মা তাকে লাল আভাযুক্ত অর্থাৎ অসহায় অবস্থায় প্রসব করনে। তার পরনে পোশাক থাকে না। অতঃপর মহান আল্লাহ তাকে জীবিকা দান করেন অর্থাৎ মাতৃ উদরে থাকাকালীন অলৌকিকভাবে আহার সরবরাহ করেন।

4166

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَنْبَأَنَا أَبُو شُعَيْبٍ، صَالِحُ بْنُ رُزَيْقٍ الْعَطَّارُ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُمَحِيُّ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُلَىِّ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ مِنْ قَلْبِ ابْنِ آدَمَ بِكُلِّ وَادٍ شُعْبَةً فَمَنِ اتَّبَعَ قَلْبُهُ الشُّعَبَ كُلَّهَا لَمْ يُبَالِ اللَّهُ بِأَىِّ وَادٍ أَهْلَكَهُ وَمَنْ تَوَكَّلَ عَلَى اللَّهِ كَفَاهُ التَّشَعُّبَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪১৬৬। ইসহাক ইব্‌ন মনসুর (রাহঃ)....... আম্‌র ইবনুল আ'স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আদম সন্তানের কালবে অনেক কামনা বাসনার অনেক শাখা-প্রশাখা রয়েছে, যে ব্যক্তি তার কালবকে প্রবৃত্তির সব শাখায় নিয়োজিত করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে যে কোন উপত্যকায় ধ্বংস করতে পরোয়া করবেন না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করবে, সে সব ধরনের চিন্তা ভাবনা থেকে মুক্তি পাবে।

4167

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ لاَ يَمُوتَنَّ أَحَدٌ مِنْكُمْ إِلاَّ وَهُوَ يُحْسِنُ الظَّنَّ بِاللَّهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪১৬৭। মুহাম্মাদ ইব্‌ন তারীফ (রাহঃ)....জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কেউ যেন আল্লাহর প্রতি ভাল-ধারণা পোষাণ করা ব্যতিরেকে মারা না যায়।

4168

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ الْمُؤْمِنُ الْقَوِيُّ خَيْرٌ وَأَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِ الضَّعِيفِ وَفِي كُلٍّ خَيْرٌ احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ وَلاَ تَعْجِزْ فَإِنْ غَلَبَكَ أَمْرٌ فَقُلْ قَدَّرَ اللَّهُ وَمَا شَاءَ فَعَلَ وَإِيَّاكَ وَاللَّوْ فَإِنَّ اللَّوْ تَفْتَحُ عَمَلَ الشَّيْطَانِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৬৮। মুহাম্মাদ ইব্‌ন সাববাহ (রাহঃ)....... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ শক্তিশালী বীর্যবান ঈমানদার ব্যক্তি দুর্বল-ক্ষীণকায় মু'মিন থেকে উত্তম ও আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয়। প্রত্যেকটি ভাল কাজের প্রতি আগ্রহশীল হও, যাতে তা তোমাদের আসে এবং অলস ও গাফিল হয়ো না। কোন কাজে যদি তুমি পরাভূত হও, তখন বলোঃ আল্লাহ তা'আলার নির্ধারণ, তিনি যা চেয়েছেন তাই করেছেন। কেননা, 'যদি' শয়তানের পথ সুগম করে দেয়।

হিকমত

بَاب الْحِكْمَةِ

4169

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الْكَلِمَةُ الْحِكْمَةُ ضَالَّةُ الْمُؤْمِنِ حَيْثُمَا وَجَدَهَا فَهُوَ أَحَقُّ بِهَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৬৯। আব্দুর রহমান ইবন আব্দুল ওহ্হাব (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হিতমত পূর্ণ বাক্য মু'মিনদের হারানো সম্পদ। যেখানে সে তা পাবে, সে তার অধিকতর হকদার।

4170

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ نِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ الصِّحَّةُ وَالْفَرَاغُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪১৭০। আব্বাস ইব্‌ন আব্দুল আযীম আম্বারী (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দু'টো নি'আমত এমন রয়েছে, যার প্রতি (ভ্রক্ষেপ না করার কাণে) এতে অধিকাংশ লোক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ঃ একটি হচ্ছে সুস্থতা, অপরটি অবকাশ ও দুশ্চিন্তামুক্ত হওয়া ।

4171

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا الْفُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، حَدَّثَنِي عُثْمَانُ بْنُ جُبَيْرٍ، - مَوْلَى أَبِي أَيُّوبَ - عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلِّمْنِي وَأَوْجِزْ ‏.‏ قَالَ ‏ "‏ إِذَا قُمْتَ فِي صَلاَتِكَ فَصَلِّ صَلاَةَ مُوَدِّعٍ وَلاَ تَكَلَّمْ بِكَلاَمٍ تَعْتَذِرُ مِنْهُ وَأَجْمِعِ الْيَأْسَ عَمَّا فِي أَيْدِي النَّاسِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

৪১৭১। মুহাম্মাদ ইব্‌ন যিয়াদ (রাহঃ)....... আবু আইউব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাকে কিছু শিখিয়ে দিন, যা আমি সহজে আদায় করতে পারি। তিনি বললেনঃ যখন তুমি তোমার সালাতে দাঁড়াবে, তখন এমনভাবে সালাত আদায় করবে, যেন তুমি বিদায়ী সালাত আদায় করছো এবং এমন কোন কথা মুখে উচ্চারণ করবে না, যার জন্য পরে ওযর পেশ করতে হয়। আর মানুষের হাতে যা কিছু আছে তা থেকে নিরাশ হয়ে যাও। (তাদের কাছে কিছু চাইবে না)।

4172
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَوْسِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَثَلُ الَّذِي يَجْلِسُ يَسْمَعُ الْحِكْمَةَ ثُمَّ لاَ يُحَدِّثُ عَنْ صَاحِبِهِ إِلاَّ بِشَرِّ مَا يَسْمَعُ كَمَثَلِ رَجُلٍ أَتَى رَاعِيًا فَقَالَ يَا رَاعِي أَجْزِرْنِي شَاةً مِنْ غَنَمِكَ ‏.‏ قَالَ اذْهَبْ فَخُذْ بِأُذُنِ خَيْرِهَا ‏.‏ فَذَهَبَ فَأَخَذَ بِأُذُنِ كَلْبِ الْغَنَمِ ‏"‏ ‏.‏

قَالَ أَبُو الْحَسَنِ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَاهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا مُوسَى، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، فَذَكَرَ نَحْوَهُ وَقَالَ فِيهِ ‏ "‏ بِأُذُنِ خَيْرِهَا شَاةً ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৭২। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ঐ ব্যক্তির উদাহরণ যে, কোন মজলিসে বসে হিকমতপূর্ণ কথাবার্তা শুনে এরপর সে তার সাথীর কাছে যা মন্দ শুনেছে তা-ই বর্ণনা করে। তার উপমা সেই ব্যক্তির মত, যে কোন রাখালের কাছে গিয়ে বলে, হে রাখাল। তোমার পাল থেকে আমাকে একটি বকরী দাও। সে বলেঃ তুমি যাও, এবং এর উত্তমটির কান ধরে নিয়ে নাও। তখন সে গেল এবং বকরী পালের (পাহাড়ার) কুকুরের কান ধরে নিয়ে চললো।

আবুল হাসান ইব্‌ন সালামা (রাহঃ) ....সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর তিনি তার বর্ণনায় (তার উত্তমের কান ধরে) এর স্থলে (তন্মমধ্যে উত্তম বকরীর কান ধরে) কথাটির উল্লেখ রয়েছে।

অহংকার বর্জন ও নম্রতা অবলম্বন

بَاب الْبَرَاءَةُ مِنْ الْكِبْرِ وَالتَّوَاضُعُ

4173

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَسْلَمَةَ، جَمِيعًا عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ كِبْرٍ وَلاَ يَدْخُلُ النَّارَ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪১৭৩। সুওয়ায়দ ইবন সাঈদী (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যার অন্তরে এক সরিয়ার দানা পরিমাণ অহংকার রয়েছে। আর যে ব্যক্তির অন্তরে এক সরিষার বীজ পরিমাণ ঈমান আছে, সে জাহান্নামে দাখিল হবে না।

4174

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنِ الأَغَرِّ أَبِي مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يَقُولُ اللَّهُ سُبْحَانَهُ الْكِبْرِيَاءُ رِدَائِي وَالْعَظَمَةُ إِزَارِي مَنْ نَازَعَنِي وَاحِدًا مِنْهُمَا أَلْقَيْتُهُ فِي جَهَنَّمَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৭৪। হান্নাদ ইবন সারী (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা বলেনঃ অহংকার আমার চাদর, বড়ত্ব আমার ইযার। যে কেউ এই দুই এর কোন একটার জন্য আমার সাথে ঝগড়া করবে, আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো।

4175

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، وَهَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يَقُولُ اللَّهُ سُبْحَانَهُ الْكِبْرِيَاءُ رِدَائِي وَالْعَظَمَةُ إِزَارِي فَمَنْ نَازَعَنِي وَاحِدًا مِنْهُمَا أَلْقَيْتُهُ فِي النَّارِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪১৭৫। আব্দুল্লাহ ইবন সাঈদ ও হারুন ইবন ইসহাক (রাহঃ) ....ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা বলেনঃ অহংকার আমার চাদর, বড়ত্ব আমার ইযার। যে কেউ এই দুইয়ের কোন একটি নিয়ে আমার সাথে ঝগড়া করবে, আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো।

4176

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ دَرَّاجًا، حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَنْ يَتَوَاضَعْ لِلَّهِ سُبْحَانَهُ دَرَجَةً يَرْفَعْهُ اللَّهُ بِهِ دَرَجَةً وَمَنْ يَتَكَبَّرْ عَلَى اللَّهِ دَرَجَةً يَضَعْهُ اللَّهُ بِهِ دَرَجَةً حَتَّى يَجْعَلَهُ فِي أَسْفَلِ السَّافِلِينَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪১৭৬। হারামালা ইব্‌ন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ).......আবু সাঈদ (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলাল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্য এক স্তর বিনয়ভাব দেখাবে, আল্লাহ তাঁর পদমর্যাদা এক স্তর বুলন্দ করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর উপরে এক স্তর অহংকার করবে, আল্লাহ তা'আলা তার মর্যাদা এক স্তর নীচে নামিয়ে দেবেন, অবশেষে তাকে সর্বনিম্ন তাঁর পৌঁছিয়ে দিবেন।

4177

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، وَسَلْمُ بْنُ قُتَيْبَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ إِنْ كَانَتِ الأَمَةُ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ لَتَأْخُذُ بِيَدِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَمَا يَنْزِعُ يَدَهُ مِنْ يَدِهَا حَتَّى تَذْهَبَ بِهِ حَيْثُ شَاءَتْ مِنَ الْمَدِينَةِ فِي حَاجَتِهَا ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪১৭৭। নসর ইবন আলী (রাহঃ)...আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি মদীনার অধিবাসীদের মধ্য থেকে কোন দাসী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাত ধরতো, তাহলে তিনি তার হাত থেকে নিজের হাত টেনে নিতেন না, যতক্ষণ না সে তার প্রয়োজন পূরণের জন্য মদীনার যেখানে ইচ্ছা তাঁকে নিয়ে যেতো।

4178

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مُسْلِمٍ الأَعْوَرِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَعُودُ الْمَرِيضَ وَيُشَيِّعُ الْجِنَازَةَ وَيُجِيبُ دَعْوَةَ الْمَمْلُوكِ وَيَرْكَبُ الْحِمَارَ وَكَانَ يَوْمَ قُرَيْظَةَ وَالنَّضِيرِ عَلَى حِمَارٍ وَيَوْمَ خَيْبَرَ عَلَى حِمَارٍ مَخْطُومٍ بِرَسَنٍ مِنْ لِيفٍ وَتَحْتَهُ إِكَافٌ مِنْ لِيفٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪১৭৮। আমর ইবন রাফি (রাহঃ)...... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রোগীর সেবা-শুশ্রুষা করতেন, জানাযার পেছনে পেছনে যেতেন, ক্রীতদাসের দাওয়াত কবুল করতেন, গাধার পিঠে আরোহণ করতেন। বনু কুরায়যা ও বনু নাযীর গোত্রদ্বয়ের নির্বাসনের দিন তিনি গাধার পিঠে ছিলেন এবং খায়বার বিজয়ের দিনেও তিনি নাকাল করা গাধায় সাওয়ার ছিলেন, যার রশি ছিল খেজুর গাছের ছোবলার তৈরী এবং তার নীচে ছিল ছোবড়ার তৈরী একটি জীন্।

4179

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مَطَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّهُ خَطَبَهُمْ فَقَالَ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَوْحَى إِلَىَّ أَنْ تَوَاضَعُوا حَتَّى لاَ يَفْخَرَ أَحَدٌ عَلَى أَحَدٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: ইয়ায ইবনে হিমার মুজাশিঈ (রাঃ)

৪১৭৯। আহমাদ ইবন সাঈদ (রাহঃ)...... ইয়ায ইব্‌ন হিমার (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি লোকদের সামনে ভাষণ দেওয়ার সময় বললেনঃ মহান আল্লাহ আমার প্রতি ওহী নাযিল করেছেন যে, তোমরা নম্রতা অবলম্বন কর, এমন কি কেউ যেন কারোর উপর ফখর না করে।

লজ্জাশীলতা

بَاب الْحَيَاءِ

4180

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي عُتْبَةَ، - مَوْلًى لأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَشَدَّ حَيَاءً مِنْ عَذْرَاءَ فِي خِدْرِهَا وَكَانَ إِذَا كَرِهَ شَيْئًا رُئِيَ ذَلِكَ فِي وَجْهِهِ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪১৮০। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার (রাহঃ)...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পর্দানশীন কুমারী কন্যার চাইতেও অধিকতর লজ্জাশীল ছিলেন। তিনি যখন কোন জিনিস অপছন্দ করতেন, তখন তাঁর চেহারায় এর ছাপ পড়ে যেতো।

4181

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ لِكُلِّ دِينٍ خُلُقًا وَخُلُقُ الإِسْلاَمِ الْحَيَاءُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪১৮১। ইসমাঈল ইব্‌ন আব্দুল্লাহ রাক্কী (রাহঃ)...... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক দ্বীনেরই একটা চরিত্র (বৈশিষ্ট্য) রয়েছে। আর ইসলামের চরিত্র হচ্ছে লজ্জাশীলতা।

4182

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَرَّاقُ، حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ لِكُلِّ دِينٍ خُلُقًا وَإِنَّ خُلُقَ الإِسْلاَمِ الْحَيَاءُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪১৮২। আব্দুল্লাহ ইব্‌ন সাঈদ (রাহঃ)....ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই প্রত্যেক দ্বীনেরই একটি চরিত্র (বৈশিষ্ট্য) রয়েছে। আর ইসলামের চরিত্র হচ্ছে লজ্জাশীলতা।

4183

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَمْرٍو أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ مِمَّا أَدْرَكَ النَّاسُ مِنْ كَلاَمِ النُّبُوَّةِ الأُولَى إِذَا لَمْ تَسْتَحِي فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪১৮৩। আমর ইবন রাফি (রাহঃ) ......... উকবা ইবন আমর আবু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষ পূর্ববর্তী নবীদের বাণী থেকে যা পেয়েছে, তা হচ্ছে- “যখন তুমি লজ্জাশীলতা হারাবে, তখন তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পার"।

4184

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الْحَيَاءُ مِنَ الإِيمَانِ وَالإِيمَانُ فِي الْجَنَّةِ وَالْبَذَاءُ مِنَ الْجَفَاءِ وَالْجَفَاءُ فِي النَّارِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৪১৮৪। ইসমাঈল ইবন মুসা (রাহঃ) ......... আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ লজ্জাশীলতা ঈমানের অঙ্গ, আর ঈমান অবস্থান করবে জান্নাতে। পক্ষান্তরে, অশ্লীলতাই অত্যাচার (যুলুম), আর অত্যাচার থাকবে জাহান্নামে।

4185

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَا كَانَ الْفُحْشُ فِي شَىْءٍ قَطُّ إِلاَّ شَانَهُ وَلاَ كَانَ الْحَيَاءُ فِي شَىْءٍ قَطُّ إِلاَّ زَانَهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪১৮৫। হাসান ইব্‌ন আলী আল-খাল্লাল (রাহঃ)... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন; যে জিনিসের মধ্যে বেহায়াপনা থাকবে, তা সে জিনিসকে ত্রুটিপূর্ণ করবেই। আর যে জিনিসের মাঝে লজ্জাশীলতা বিদ্যামান থাকবে, তাকে সে সৌকর্যময় করে তুলবে।

সহনশীলতা প্রসঙ্গে

بَاب الْحِلْمِ

4186

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي مَرْحُومٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَنْ كَظَمَ غَيْظًا وَهُوَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يُنْفِذَهُ دَعَاهُ اللَّهُ عَلَى رُءُوسِ الْخَلاَئِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ فِي أَىِّ الْحُورِ شَاءَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: মু‘আয ইবনে আনাস জুহানী রাযি.

৪১৮৬। হারমালা ইবন ইয়াহইয়া (রাহঃ) ......... মু'আয ইবন আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তার ক্রোধ প্রশমিত করবে, আল্লাহ তা'আলা তাঁকে কিয়ামতের দিনে মানুষের সামনে ডেকে আনবেন এবং তাকে তার হচ্ছে মাফিক হুর গ্রহণ করার ইখতিয়ার দিবেন।

4187

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ الْهَمْدَانِيُّ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ دِينَارٍ الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ عُمَارَةَ الْعَبْدِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ، قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏"‏ أَتَتْكُمْ وُفُودُ عَبْدِ الْقَيْسِ ‏"‏ ‏.‏ وَمَا يَرَى أَحَدٌ فَبَيْنَا نَحْنُ كَذَلِكَ إِذْ جَاءُوا فَنَزَلُوا فَأَتَوْا رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَبَقِيَ الأَشَجُّ الْعَصَرِيُّ فَجَاءَ بَعْدُ فَنَزَلَ مَنْزِلاً فَأَنَاخَ رَاحِلَتَهُ وَوَضَعَ ثِيَابَهُ جَانِبًا ثُمَّ جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ يَا أَشَجُّ إِنَّ فِيكَ لَخَصْلَتَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ الْحِلْمَ وَالتُّؤَدَةَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَشَىْءٌ جُبِلْتُ عَلَيْهِ أَمْ شَىْءٌ حَدَثَ لِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ بَلَ شَىْءٌ جُبِلْتَ عَلَيْهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪১৮৭। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইব্‌ন আলী আল-হামদানী (রাহঃ)....... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট বসা ছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমাদের কাছে আব্দুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধিবর্গ এসেছেন, অথচ আমাদের কেউ দেখছিল না। আমরা এ অবস্থায় ছিলাম, হঠাৎ তারা এসে পৌঁছলেন, এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির হলেন। তবে আশাজ্জ আসরী নামক জনৈক ব্যক্তি অবশিষ্ট ছিলেন, পরে তিনিও এসে একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবতরণ করে তার উষ্ট্রী বাঁধলেন। নিজের কাপড় চোপড় এক পার্শ্বে রাখলেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর নিকট হাযির হলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে বললেন, হে আশাজ্জ! তোমার মধ্যে দু'টো ভাল অভ্যাস রয়েছে, যা আল্লাহ তা'আলা খুবই পছন্দ করেন। একটি সহনশীলতা, অপরটি আত্মসম্মানবোধ। তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! এই জিনিসটি কি জন্মগতভাবেই আমার মধ্যে রয়েছে, না নতুন করে সংযোজিত হয়েছে? তিনি বললেন, না, নতুন করে নয় বরং সৃষ্টিগতভাবেই তোমার মধ্যে বিদ্যমান।

4188

حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْهَرَوِيُّ، حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْفَضْلِ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو جَمْرَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ لِلأَشَجِّ الْعَصَرِيِّ ‏ "‏ إِنَّ فِيكَ خَصْلَتَيْنِ يُحِبُّهُمَا اللَّهُ الْحِلْمَ وَالْحَيَاءَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪১৮৮। আবু ইসহাক হারবী (রাহঃ)...... ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) আশাজ্জ আসরীকে বললেনঃ নিশ্চয়ই তোমার মধ্যে দু'টো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে, যা আল্লাহ তা'আলা পছন্দ করেনঃ একটি সহনশীলতা, অপরটি লজ্জাশীলতা।

4189

حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَخْزَمَ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَا مِنْ جُرْعَةٍ أَعْظَمُ أَجْرًا عِنْدَ اللَّهِ مِنْ جُرْعَةِ غَيْظٍ كَظَمَهَا عَبْدٌ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১৮৯। যায়িদ ইবন আখযাম (রাহঃ)...... ইবন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ ক্রোধান্বিত অবস্থায় কোন বান্দা শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এক চুমুক ক্রোধ প্রশমণ করার চাইতে, আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম চুমুক আর নেই। (অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্রোধ থেকে বিরত থাকা সর্বোত্তম কাজ)।

চিন্তা-ভাবনা ও ক্রন্দন

بَاب الْحُزْنِ وَالْبُكَاءِ

4190

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، أَنْبَأَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَنْبَأَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ مُوَرِّقٍ الْعِجْلِيِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنِّي أَرَى مَا لاَ تَرَوْنَ وَأَسْمَعُ مَا لاَ تَسْمَعُونَ إِنَّ السَّمَاءَ أَطَّتْ وَحُقَّ لَهَا أَنْ تَئِطَّ مَا فِيهَا مَوْضِعُ أَرْبَعِ أَصَابِعَ إِلاَّ وَمَلَكٌ وَاضِعٌ جَبْهَتَهُ سَاجِدًا لِلَّهِ ‏.‏ وَاللَّهِ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلاً وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا وَمَا تَلَذَّذْتُمْ بِالنِّسَاءِ عَلَى الْفُرُشَاتِ وَلَخَرَجْتُمْ إِلَى الصُّعُدَاتِ تَجْأَرُونَ إِلَى اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏ وَاللَّهِ لَوَدِدْتُ أَنِّي كُنْتُ شَجَرَةً تُعْضَدُ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৪১৯০। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি যা দেখি তোমরা তা দেখতে পাও না এবং আমি যা শুনি তা তোমরা শুনতে পাও না। নিশ্চয়ই আকাশ কড়কড় শব্দ করছে। আর তা কড়কড় করবেই তো। কেননা তাতে তো চার আংগুল পরিমাণ স্থানও অবশিষ্ট নেই, যেখানে একজন ফিরিশতা তাঁর পেশানী লুটায়ে আল্লাহকে সিজদা না করছেন। আল্লাহর শপথ, আমি যা জানি, তা যদি তোমরা জানতে; তাহলে তোমরা খুব কমই হাসতে এবং বেশী কাঁদতে এবং তোমরা বিছানায় স্ত্রীদের সম্ভোগ করতে না। আর অবশ্যই তোমরা চীৎকার করে আল্লাহর কাছে দু'আ করতে করতে জঙ্গলে চলে যেতে। আল্লাহর শপথ। আমার ঐকান্তিক বাসনা যদি আমি একটি গাছ হতাম, আর তা কেটে ফেলা হতো, (তাহলে কত না ভাল হতো)।

4191

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلاً وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪১৯১। মুহাম্মাদ ইব্‌ন মুসান্না (রাহঃ)...... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি যা জানি, যদি তোমরা তা জানতে, তাহলে তোমরা খুব কমই হাসতে এবং বেশী করে কাঁদতে।

4192

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ يَعْقُوبَ الزَّمْعِيِّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، أَنَّ عَامِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَاهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، لَمْ يَكُنْ بَيْنَ إِسْلاَمِهِمْ وَبَيْنَ أَنْ نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ يُعَاتِبُهُمُ اللَّهُ بِهَا إِلاَّ أَرْبَعُ سِنِينَ ‏(وَلاَ يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ)‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪১৯২। আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম (রাহঃ)...... আবু হাযিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আমের ইবন আব্দুল্লাহ ইবন যুবায়র (রাযিঃ)-কে তার পিতা বর্ণনা করেন যে আব্দুল্লাহ ইবন যুবায়র (রাযিঃ)-এর ইসলাম গ্রহণ ও এই আয়াত নাযিলের মধ্যে চার বছরের ব্যবধান ছিল, যাতে তাদের তিরষ্কার করা হয়েছে। তা হচ্ছেঃ

وَلاَ يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ

“আর এরা যেন তাদের মতো না হয় যাদের পূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল। তাদের উপর দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ায় তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গিয়েছে এবং তাদের অধিকাংশই ছিল ফাসিক। (৫৭ঃ ১৫)।
4193

حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ تُكْثِرُوا الضَّحِكَ فَإِنَّ كَثْرَةَ الضَّحِكِ تُمِيتُ الْقَلْبَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৯৩। আবু বিশর ইব্‌ন খাল্‌ফ (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা অধিক হাসবে না; কেননা অধিক হাসি অন্তর মেরে ফেলে।

4194

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ لِيَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ اقْرَأْ عَلَىَّ ‏"‏ ‏.‏ فَقَرَأْتُ عَلَيْهِ بِسُورَةِ النِّسَاءِ حَتَّى إِذَا بَلَغْتُ ‏(فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا)‏ فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ فَإِذَا عَيْنَاهُ تَدْمَعَانِ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪১৯৪। হান্নাদ ইবন সারী (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে বললেন, আমার কাছে কুরআন তিলাওয়াত কর। তখন আমি তাঁকে সূরা নিসা তিলাওয়াত করে শোনাই। অবশেষে আমি যখন এই আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলামঃ

فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا
“যখন প্রত্যেক উম্মাত হতে একজন সাক্ষী উপস্থিত করবো, এবং তোমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করবো তখন কী অবস্থা হবে? (৪ঃ ৬৪)" তখন আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে, তাঁর চক্ষুযুগল থেকে অঝরেই অশ্রুপাত হচ্ছে।
4195

حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ دِينَارٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو رَجَاءٍ الْخُرَاسَانِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي جِنَازَةٍ فَجَلَسَ عَلَى شَفِيرِ الْقَبْرِ فَبَكَى حَتَّى بَلَّ الثَّرَى ثُمَّ قَالَ ‏ "‏ يَا إِخْوَانِي لِمِثْلِ هَذَا فَأَعِدُّوا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৪১৯৫। কাসিম ইব্‌ন যাকারিয়া ইবন দীনার (রাহঃ)...... বারা'আ। (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা একটি জানাযায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সঙ্গে শরীক ছিলাম। তিনি একটি কবরের পার্শে বসলেন, পরে কাঁদতে শুরু করলেন। এমন কি তাঁর চোখের পানিতে মাটি ভিজে গেল। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে আমার প্রিয় ভাইয়েরা। (তোমাদের অবস্থা) এর মতই হবে, সুতরাং তোমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করো।

4196

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ بَشِيرِ بْنِ ذَكْوَانَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو رَافِعٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ ابْكُوا فَإِنْ لَمْ تَبْكُوا فَتَبَاكَوْا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৪১৯৬। আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আহমাদ ইবন বাসীর ইব্‌ন যাওয়ান দিমাশকী (র.)...... সা'দ ইব্‌ন আবু ওয়াককাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কাঁদতে থাকো, যদি কান্না না আসে, তাহলে কান্নার ভাব প্রকাশ কর।

4197

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، حَدَّثَنِي حَمَّادُ بْنُ أَبِي حُمَيْدٍ الزُّرَقِيُّ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَا مِنْ عَبْدٍ مُؤْمِنٍ يَخْرُجُ مِنْ عَيْنَيْهِ دُمُوعٌ وَإِنْ كَانَ مِثْلَ رَأْسِ الذُّبَابِ مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ ثُمَّ تُصِيبُ شَيْئًا مِنْ حُرِّ وَجْهِهِ - إِلاَّ حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪১৯৭। আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম দিমাশকী ও ইবরাহীম ইবন মুনযির (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে মু'মিন বান্দার দুই চোখ থেকে আল্লাহর ভয়ে পানি বের হবে, যদিও তা মাছির মাথা বরাবর হয় এবং তা দুই গন্ড বেয়ে ঝরতে থাকে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দিবেন।

আমল কবুল না হওয়ার ভয়

بَاب التَّوَقِّي عَلَى الْعَمَلِ

4198

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏(وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ)‏ أَهُوَ الرَّجُلُ الَّذِي يَزْنِي وَيَسْرِقُ وَيَشْرَبُ الْخَمْرَ قَالَ ‏"‏ لاَ يَا بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ - أَوْ يَا بِنْتَ الصِّدِّيقِ - وَلَكِنَّهُ الرَّجُلُ يَصُومُ وَيَتَصَدَّقُ وَيُصَلِّي وَهُوَ يَخَافُ أَنْ لاَ يُتَقَبَّلَ مِنْهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪১৯৮। আবু বাকর (রাহঃ)........ আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল!

وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ

-এ আয়াত দ্বারা কি সে লোককে বুঝানো হয়েছে, যে ব্যভিচার করে, চুরি করে এবং সূরা পান করে? তিনি বললেনঃ না, হে আবু বকর তনয়া (অথবা তিনি বলেছেনঃ হে সিদ্দীকের কন্যা)। বরং এর দ্বারা সেই ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে যে সিয়াম পালন করে, দান খয়রাত করে, সালাত আদায় করে, আর সে এই ভয়ে সন্ত্রস্ত থাকে যে, তার ইবাদত কবুল করা হবে না।
4199

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عِمْرَانَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ رَبٍّ، قَالَ سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ إِنَّمَا الأَعْمَالُ كَالْوِعَاءِ إِذَا طَابَ أَسْفَلُهُ طَابَ أَعْلاَهُ وَإِذَا فَسَدَ أَسْفَلُهُ فَسَدَ أَعْلاَهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

৪১৯৯। উসমান ইব্‌ন ইসমাঈল ইব্‌ন ইমরান দিমাশকী (রাহঃ)...... মু'আবিয়া ইব্‌ন আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছিঃ বস্তুত আমল হচ্ছে পাত্রের মত। যদি তার নিম্নাংশ ভাল হয়, তবে তার উপরিভাগও ভাল হবে। আর যদি এর নিম্নভাগ খারাপ হয়, তাহলে তার উপরিভাগও খারাপ হবে।

4200

حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ وَرْقَاءَ بْنِ عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ ذَكْوَانَ أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا صَلَّى فِي الْعَلاَنِيَةِ فَأَحْسَنَ وَصَلَّى فِي السِّرِّ فَأَحْسَنَ - قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ هَذَا عَبْدِي حَقًّا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২০০। কাসীর ইব্‌ন উবায়দ হিমসী (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন বান্দা যখন প্রকাশ্যে উত্তমরূপে সালাত আদায় করে এবং গোপনেও সুন্দর করে সালাত আদায় করে, তখন মহান আল্লাহ বলেনঃ এই ব্যক্তিই আমার প্রকৃত বান্দা।

4201

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ زُرَارَةَ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ قَارِبُوا وَسَدِّدُوا فَإِنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ مِنْكُمْ بِمُنْجِيهِ عَمَلُهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا وَلاَ أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ وَلاَ أَنَا إِلاَّ أَنْ يَتَغَمَّدَنِيَ اللَّهُ بِرَحْمَةٍ مِنْهُ وَفَضْلٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২০১। আব্দুল্লাহ ইবন আমির ইবন যুরারা ও ইসমাঈল ইবন মুসা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ইবাদতের বেলায় মধ্যম পন্থা অবলম্বন করো এবং সঠিক পন্থা দৃঢ়তার সাথে আঁকড়ে ধরো। কেননা তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার আমল তাকে মুক্তি দিতে পারবে। তারা (সাহাবায়ে কিরাম রা:) জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আর আপনি অর্থাৎ আপনার আমলও কি আপনাকে নাজাত দিবে না? তিনি বললেনঃ না, আমিও না। তবে মহান আল্লাহ তাঁর রহমত, করুণায় আমাকে ঢেকে রাখবেন।

রিয়াও খ্যাতি

بَاب الرِّيَاءِ وَالسُّمْعَةِ

4202

حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ الْعُثْمَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنَا أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ فَمَنْ عَمِلَ لِي عَمَلاً أَشْرَكَ فِيهِ غَيْرِي فَأَنَا مِنْهُ بَرِيءٌ وَهُوَ لِلَّذِي أَشْرَكَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২০২। আবু মারওয়ান উসমানী (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ জাল্লাশানুহু বলেনঃ আমি তামাম শরীকদের মধ্যে শিরক থেকে অধিক অমুখাপেক্ষী। যে কেউ আমার জন্য আমলের ক্ষেত্রে, আমি ব্যতিরেকে অন্য কাউকে শরীক স্থির করবে, আমি এ ব্যাপারে দায়-দায়িত্ব মুক্ত। আর সে আমল তার, যার সে শরীক করেছে।

4203

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَمَّالُ، وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ الْبُرْسَانِيُّ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ زِيَادِ بْنِ مِينَاءَ، عَنْ أَبِي سَعْدِ بْنِ أَبِي فَضَالَةَ الأَنْصَارِيِّ، - وَكَانَ مِنَ الصَّحَابَةِ - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِذَا جَمَعَ اللَّهُ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ لِيَوْمٍ لاَ رَيْبَ فِيهِ نَادَى مُنَادٍ مَنْ كَانَ أَشْرَكَ فِي عَمَلٍ عَمَلَهُ لِلَّهِ فَلْيَطْلُبْ ثَوَابَهُ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আবু সা'দ ইবনে আবু ফাযালা আনসারী (রাঃ)

৪২০৩। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার, হারূন ইব্‌ন আব্দুল্লাহ হাম্মাল ও ইসহাক ইবন মনসুর (রাহঃ)...... আবু সা'দ ইব্‌ন আবু ফাযালা আনসারী (রাযিঃ) (তিনি একজন সাহাবী ছিলেন) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন আল্লাহ তা'আলা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে কিয়ামতের দিনে একত্রিত করবেন, যে দিনের ব্যাপারে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেঃ যে ব্যক্তি কোন আমলে আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক করেছে, সে যেন তার আমলের সাওয়াব আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যের কাছে প্রত্যাশা করে। কেননা আল্লাহ তা'আলা শরীকের অংশীদারীত্ব থেকে অমুখাপেক্ষী।

4204

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ رُبَيْحِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ فَقَالَ ‏"‏ أَلاَ أُخْبِرُكُمْ بِمَا هُوَ أَخْوَفُ عَلَيْكُمْ عِنْدِي مِنَ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ قُلْنَا بَلَى ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ الشِّرْكُ الْخَفِيُّ أَنْ يَقُومَ الرَّجُلُ يُصَلِّي فَيُزَيِّنُ صَلاَتَهُ لِمَا يَرَى مِنْ نَظَرِ رَجُلٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪২০৪। আব্দুল্লাহ ইব্‌ন সাঈদ (রাহঃ)....... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন ঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে আসলেন, আমরা তখন মাসীহ দাজ্জালের কথা আলোচনা করছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাদের সে বিষয়ে অবহিত করবো না, যা আমার নিকট তোমাদের জন্য মাসীহ্ দাজ্জালের ফিতনা থেকেও অধিক ভয়াবহ? তিনি (রাবী) বললেনঃ আমরা বললাম, অবশ্যই বলুন। অতঃপর তিনি বললেনঃ (তা হচ্ছে) শিরকে খফী (গোপনী শিরক)। এর ধরন হচ্ছে যে, মানুষ সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ায়, আর সে লোক দেখানোর জন্য নিজের সালাত সুন্দর করে আদায় করে।

4205

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفٍ الْعَسْقَلاَنِيُّ، حَدَّثَنَا رَوَّادُ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ ذَكْوَانَ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَىٍّ، عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَتَخَوَّفُ عَلَى أُمَّتِي الإِشْرَاكُ بِاللَّهِ أَمَا إِنِّي لَسْتُ أَقُولُ يَعْبُدُونَ شَمْسًا وَلاَ قَمَرًا وَلاَ وَثَنًا وَلَكِنْ أَعْمَالاً لِغَيْرِ اللَّهِ وَشَهْوَةً خَفِيَّةً ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত শাদ্দাদ ইবনে আওস (রাঃ)

৪২০৫। মুহাম্মাদ ইবন খালাফ আসকালানী (রাহঃ)...... শাদ্দাদ ইব্‌ন আউস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি আমার উম্মাতের ব্যাপারে যে জিনিস সম্পর্কে অধিক আশংকা করছি, তা হচ্ছে আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা। অবশ্য আমি একথা বলছি না যে, তারা সূর্য, চন্দ্র কিংবা দেব-দেবী পূজা করবে অর্থাৎ শিরকে জলী করবে; তবে তারা গায়রুল্লাহর ইবাদত করবে (প্রদর্শনীমূলক কিংবা সুখ্যাতির জন্য ইবাদত করবে)। আরেকটি হচ্ছে গোপন পাপাচার।

4206

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ الْمُخْتَارِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَطِيَّةَ الْعَوْفِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ مَنْ يُسَمِّعْ يُسَمِّعِ اللَّهُ بِهِ وَمَنْ يُرَاءِ يُرَاءِ اللَّهُ بِهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪২০৬। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ)...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি লোকদের শোনানোর জন্য কিছু বলবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে (কিয়ামতের দিন অপদস্থের কথা) শোনাবেন। যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য ইবাদত করবে, আল্লাহ তা'আলা (কিয়ামতের দিন) তাকে তা দেখাবেন (লাঞ্ছিত করবেন)।

4207

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ جُنْدَبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ يُرَاءِ يُرَاءِ اللَّهُ بِهِ وَمَنْ يُسَمِّعْ يُسَمِّعِ اللَّهُ بِهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪২০৭। হারূন ইব্‌ন ইসহাক (রাহঃ)...... জুনদাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমলের প্রদর্শনী করবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে (কিয়ামতের দিন) তা দেখাবেন (অপদস্থ করবেন)। আর যে ব্যক্তি যশঃ খ্যাতির জন্য কিছু শোনাবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে (কিয়ামতের দিন লাঞ্ছিত হওয়ার কথা) শোনাবেন।

হিংসা-বিদ্বেষ

بَاب الْحَسَدِ

4208

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ حَسَدَ إِلاَّ فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالاً فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الْحَقِّ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ حِكْمَةً فَهُوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪২০৮। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়র (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দুই ব্যক্তি ব্যতিরেকে অন্য কারোর সাথে হাসাদ (হিংসা) জায়েয নেই। (এখানে হাসাদ- মানে ঈর্ষা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে)। এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তা'আলা ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং সে তা সত্য ও ন্যায়ের পথে ব্যয় করে। আর এমন ব্যক্তি যাকে আল্লাহ হিকমত (অর্থাৎ ধর্মীয় জ্ঞান) দান করেছেন এবং সে তদনুযায়ী নিজে আমল করে এবং অন্যকে তা শিক্ষা দেয় ।

4209

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ حَسَدَ إِلاَّ فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ الْقُرْآنَ فَهُوَ يَقُومُ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالاً فَهُوَ يُنْفِقُهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪২০৯। ইয়াহইয়া ইব্‌ন হাকীম ও মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ইয়াযীদ (রাহঃ)...... সালিমের পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দুই ব্যক্তি ব্যতিরেকে অন্য কারোর সাথে হাসাদ জায়েয নেই । এমন ব্যক্তি যাকে মহান আল্লাহ কুরআন (গিবতা) দান করেছেন এবং সে তা নিয়ে দিবারাত্র কায়েম থাকে। আর সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তা'আলা ধন-সম্পদ দিয়েছেন এবং সে তা দিবারাত্র (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে।

4210

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَمَّالُ، وَأَحْمَدُ بْنُ الأَزْهَرِ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ أَبِي عِيسَى الْحَنَّاطِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ الْحَسَدُ يَأْكُلُ الْحَسَنَاتِ كَمَا تَأْكُلُ النَّارُ الْحَطَبَ وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ وَالصَّلاَةُ نُورُ الْمُؤْمِنِ وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ مِنَ النَّارِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪২১০। হারূন ইব্‌ন আব্দুল্লাহ হাম্মাল ও আহমাদ ইবন আযহার (রাহঃ) ….. আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হাসাদ নেক আমলসমূহ খেয়ে ফেলে, যেমন আগুন কাষ্ঠখণ্ড ভস্মীভূত করে। আর সাদাকা গুনাহরাশি মোচন করে দেয়, যেমনিভাবে পানি আগুন নিভিয়ে দেয়। সালাত মু'মিনের নূর এবং সিয়াম জাহান্নাম থেকে আত্মরক্ষার ঢাল।

বিদ্রোহ

بَاب الْبَغْيِ

4211

حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، وَابْنُ، عُلَيَّةَ عَنْ عُيَيْنَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَا مِنْ ذَنْبٍ أَجْدَرُ أَنْ يُعَجِّلَ اللَّهُ لِصَاحِبِهِ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا مَعَ مَا يَدَّخِرُ لَهُ فِي الآخِرَةِ - مِنَ الْبَغْىِ وَقَطِيعَةِ الرَّحِمِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৪২১১। হুসাইন ইব্‌ন হাসান মারওয়াযী (রাহঃ)...... আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বিদ্রোহ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা ব্যতীত এমন কোন গুরুতর পাপ নেই, যার ফলে আখিরাতের শাস্তি জমা করে রাখার সাথে সাথে আল্লাহ তা'আলা দুনিয়াতে ও সেই অপরাধীকে তড়িঘড়ি শাস্তির ফয়সালা করে থাকেন।

4212

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ مُوسَى، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ أَسْرَعُ الْخَيْرِ ثَوَابًا الْبِرُّ وَصِلَةُ الرَّحِمِ وَأَسْرَعُ الشَّرِّ عُقُوبَةً الْبَغْىُ وَقَطِيعَةُ الرَّحِمِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪২১২। সুওয়ায়দ ইবন সাঈদ (রাহঃ)...... মু'মিন জননী আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দ্রুত প্রতিদান পাওয়ার উত্তম বস্তু হচ্ছে নেক আমল করাও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা। আর দ্রুত শাস্তি পাওয়ার যোগ বস্তু হচ্ছে বিদ্রোহ করা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা।

4213

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدٍ الْمَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، - مَوْلَى بَنِي عَامِرٍ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ حَسْبُ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২১৩। ইয়াকূব ইবন হুমায়দ আল-মাদানী (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একজন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলমান ভাইকে হেয় জ্ঞান করবে।

4214

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَنْبَأَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سِنَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ أَوْحَى إِلَىَّ أَنْ تَوَاضَعُوا وَلاَ يَبْغِي بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪২১৪। হারমালা ইবন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)...... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা আমার কাছে ওহী পাঠিয়েছেন যে, তোমরা পরস্পরে বিনয়ী হও। আর তোমাদের কেউ যেন কারোর প্রতি দুশমনী না করে।

আল্লাহ ভীতি ও তাকওয়া

بَاب الْوَرَعِ وَالتَّقْوَى

4215

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَقِيلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنِي رَبِيعَةُ بْنُ يَزِيدَ، وَعَطِيَّةُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ عَطِيَّةَ السَّعْدِيِّ، - وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ يَبْلُغُ الْعَبْدُ أَنْ يَكُونَ مِنَ الْمُتَّقِينَ حَتَّى يَدَعَ مَا لاَ بَأْسَ بِهِ حَذَرًا لِمَا بِهِ الْبَأْسُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আতিয়্যা ইবনে উরওয়া সাদী (রাঃ)

৪২১৫। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)..... নবী (ﷺ) -এর সাহাবী আত্বিয়্যাহ্ সা'দী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষ মুত্তাকীকের স্তরে ততক্ষণ উন্নীত হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে মন্দ ও খারাপ নয় এমন কাজকে মন্দ ও খারাপ মনে করে ভয়ে ছেড়ে না দিবে।

4216

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ وَاقِدٍ، حَدَّثَنَا مُغِيثُ بْنُ سُمَىٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَىُّ النَّاسِ أَفْضَلُ قَالَ ‏"‏ كُلُّ مَخْمُومِ الْقَلْبِ صَدُوقِ اللِّسَانِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا صَدُوقُ اللِّسَانِ نَعْرِفُهُ فَمَا مَخْمُومُ الْقَلْبِ قَالَ ‏"‏ هُوَ التَّقِيُّ النَّقِيُّ لاَ إِثْمَ فِيهِ وَلاَ بَغْىَ وَلاَ غِلَّ وَلاَ حَسَدَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪১১৬। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলোঃ কোন ব্যক্তি উত্তম? তিনি বললেনঃ প্রত্যেক বিশুদ্ধ অন্তর বিশিষ্ট (হিংসা-বিদ্বেষ অহংকার, দুশমনী ও খিয়ানতমুক্ত দিল) ও সত্যভাষী ব্যক্তি। তারা (সাহাবা-ই-কিরাম) বললেনঃ সত্যভাষীকে তো আমরা চিনি, কিন্তু বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে কিভাবে চিনবো? তিনি বললেনঃ সে হলো পূত পবিত্র নিষ্কলুষ ব্যক্তি যার কোন গুনাহ নেই, নেই দুশমনী, হিংসা, বিদ্বেষ ও অহমিকা।

4217

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ أَبِي رَجَاءٍ، عَنْ بُرْدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ كُنْ وَرِعًا تَكُنْ أَعْبَدَ النَّاسِ وَكُنْ قَنِعًا تَكُنْ أَشْكَرَ النَّاسِ وَأَحِبَّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ تَكُنْ مُؤْمِنًا وَأَحَسِنْ جِوَارَ مَنْ جَاوَرَكَ تَكُنْ مُسْلِمًا وَأَقِلَّ الضَّحِكَ فَإِنَّ كَثْرَةَ الضَّحِكِ تُمِيتُ الْقَلْبَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২১৭। আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আবু হুরায়রা! তুমি পরহেযগার হয়ে যাও, তাহলে লোকদের মাঝে শ্রেষ্ঠ ইবাদতগুয়ার হতে পারবে। তুমি অল্পে তুষ্ট থাকো, তাহলে লোকদের মাঝে উত্তম শোকরগুযার বান্দা হতে পারবে। তুমি মানুষের জন্য তাই পছন্দ করবে, যা নিজের জন্য পছন্দ কর, তাহলে তুমি পূর্ণ মু'মিন হতে পারবে। তুমি তোমার প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করবে, তাহলে তুমি সত্যিকার মুসলমান হতে পারবে। আর তুমি হাসি-তামাশা কম করবে, কেননা, অধিক হাসি-তামাশা মানুষের দিল মেরে ফেলে।

4218

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ رُمْحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنِ الْمَاضِي بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ عَقْلَ كَالتَّدْبِيرِ وَلاَ وَرَعَ كَالْكَفِّ وَلاَ حَسَبَ كَحُسْنِ الْخُلُقِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৪২১৮। আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ইব্‌ন রুমহ্ (রাহঃ)...... আবু যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তাদবীরের ন্যায় কোন প্রজ্ঞা নেই (জীবিতা ও পরকালের পাথেয় সংগ্রহের জন্য পরিশ্রম করা এবং পরিণাম ভেবে কাজ করাই তাদবীর)। হারাম থেকে বেঁচে থাকার তূল্য কোন পরহেযগারী নেই। সচ্চরিত্রের সমতুল্য কোন আভিজাত্য নেই।

4219

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفٍ الْعَسْقَلاَنِيُّ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا سَلاَّمُ بْنُ أَبِي مُطِيعٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الْحَسَبُ الْمَالُ وَالْكَرَمُ التَّقْوَى ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৪২১৯। মুহাম্মাদ ইব্‌ন খালাফ্ আল-আসকালানী (রাহঃ)........সামুরাহ্ ইব্‌ন জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বংশ মর্যাদাই সম্পদ এবং সৌজন্যবোধই পরহেযগারী (তাকওয়া)।

4220

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ كَهْمَسِ بْنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي السَّلِيلِ، ضُرَيْبِ بْنِ نُقَيْرٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِنِّي لأَعْرِفُ كَلِمَةً - وَقَالَ عُثْمَانُ آيَةً - لَوْ أَخَذَ النَّاسُ كُلُّهُمْ بِهَا لَكَفَتْهُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَّةُ آيَةٍ قَالَ ‏"‏ وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৪২২০। হিশাম ইব্‌ন আম্মার ও উসমান ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি এমন একটি কথা জানি, (উসমান (রাযিঃ)-এর বর্ণনা মতে, একটি আয়াত উল্লেখ আছে)। যদি সকল মানুষ তা গ্রহণ করে, তাহলে তা তাদের জন্য যথেষ্ট। তারা (সাহাবা-ই-কিরাম) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! সে কোন আয়াত? তিনি বললেনঃ তা হচ্ছেঃ
وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا
“যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার জন্য পথ সুগম করে দিবেন।”

সুধারণা পোষণ

بَاب الثَّنَاءِ الْحَسَنِ

4221

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ الْجُمَحِيُّ، عَنْ أُمَيَّةَ بْنِ صَفْوَانَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي زُهَيْرٍ الثَّقَفِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِالنَّبَا أَوِ النَّبَاوَةِ - قَالَ وَالنَّبَاوَةُ مِنَ الطَّائِفِ - قَالَ ‏"‏ يُوشِكُ أَنْ تَعْرِفُوا أَهْلَ الْجَنَّةِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا بِمَ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ بِالثَّنَاءِ الْحَسَنِ وَالثَّنَاءِ السَّيِّئِ أَنْتُمْ شُهَدَاءُ اللَّهِ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আবু যুহাইর ছাকাফী (রাঃ)

৪২২১। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু যুহায়র সাকাফী তাঁর পিতার (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নাবাওয়াহ্ অথবা বানাওয়াহ্ প্রান্তরে খুৎবা দিচ্ছিলেন। (রাবী বলেনঃ নাবাওয়াহ্ তায়েফের একটি জায়গার নাম)। তিনি (রাসূলুল্লাহ সা) বললেনঃ অদূর ভবিষ্যতে তোমরা জান্নাতীদের জাহান্নামীদের থেকে আলাদা করে চিনতে পারবে। তারা (সাহাবা-ই-কিরাম (রাযিঃ)) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! তা কিভাবে? তিনি বললেনঃ সুধারণা পোষণ করে এবং সুধারণার মাধ্যমে। (অর্থাৎ প্রশংসিত ব্যক্তিরা আল্লাহর কাছে ভাল বলে গৃহীত হবে এবং নিন্দিতজনেরা তাঁর কাছে ঘৃণিত বলে বিবেচিত হবে)। তোমরা একে অন্যের উপর আল্লাহর কাছে স্বাক্ষী স্বরূপ।

4222

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ كُلْثُومٍ الْخُزَاعِيِّ، قَالَ أَتَى النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ لِي أَنْ أَعْلَمَ إِذَا أَحْسَنْتُ أَنِّي قَدْ أَحْسَنْتُ وَإِذَا أَسَأْتُ أَنِّي قَدْ أَسَأْتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِذَا قَالَ جِيرَانُكَ إِنَّكَ قَدْ أَحْسَنْتَ فَقَدْ أَحْسَنْتَ وَإِذَا قَالُوا إِنَّكَ قَدْ أَسَأْتَ فَقَدْ أَسَأْتَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: কুলছুম খুযাঈ (রা)

৪২২২। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)......কুলসুম খুযাঈ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) -এর কাছে এসে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি কিভাবে জানতে পারব যে, আমি ভাল কাজ করেছি? নিশ্চয়ই আমি ভাল কাজ করেছি। আর যখন মন্দ কাজ করি, তখন কি ভাবে বুঝবো যে, আমি মন্দ কাজ করেছি? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যখন তোমার প্রতিবেশী বলে যে, তুমি ভাল কাজ করে, তখন বুঝবে তুমি সত্যই ভাল কাজ করেছ। আর যখন তারা বলবেঃ নিশ্চয় তুমি মন্দ কাজ করেছ, তখন বুঝবে যে, অবশ্যই তুমি মন্দ কাজ করেছ।

4223

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ كَيْفَ لِي أَنْ أَعْلَمَ إِذَا أَحْسَنْتُ وَإِذَا أَسَأْتُ قَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏ "‏ إِذَا سَمِعْتَ جِيرَانَكَ يَقُولُونَ قَدْ أَحْسَنْتَ فَقَدْ أَحْسَنْتَ وَإِذَا سَمِعْتَهُمْ يَقُولُونَ ‏:‏ قَدْ أَسَأْتَ فَقَدْ أَسَأْتَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪২২৩। মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করেনঃ আমি কি প্রকারে জানতে পারব যে, আমি যে কাজ করি, তা ভাল না মন্দ? নবী (ﷺ) বললেনঃ যখন তুমি শুনতে পাবে যে, তোমার প্রতিবেশীরা বলাবলি করছেঃ তুমি ভাল কাজ করেছ, তখন তুমি বুঝবে, তুমি ভাল করেছ। আর যখন তুমি তোমার প্রতিবেশীদের বলাবলি করতে শুনবে যে, তুমি মন্দ কাজ করেছ, তখন তুমি বুঝবে যে, তুমি মন্দ কাজ করেছ।

4224

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، وَزَيْدُ بْنُ أَخْزَمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبُو هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ أَبِي ثُبَيْتٍ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏ "‏ أَهْلُ الْجَنَّةِ مَنْ مَلأَ اللَّهُ أُذُنَيْهِ مِنْ ثَنَاءِ النَّاسِ خَيْرًا وَهُوَ يَسْمَعُ، وَأَهْلُ النَّارِ مَنْ مَلأَ أُذُنَيْهِ مِنْ ثَنَاءِ النَّاسِ شَرًّا وَهُوَ يَسْمَعُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪২২৪। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া ও যায়িদ ইবন আখযাম (রাহঃ)........ ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সেই ব্যক্তিই জান্নাতী আল্লাহ তা'আলা মানুষের তারীফ ও প্রশংসা দ্বারা যার দুইকান পরিপূর্ণ করবেন এবং সে তা শুনতে থাকবে। আর সেই ব্যক্তি জাহান্নামী, আল্লাহ তা'আলা যার উভয় কান মানুষের নিন্দা জ্ঞাপনের দ্বারা পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন এবং সে তা শুনতে থাকবে।

4225

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ قُلْتُ لَهُ ‏:‏ الرَّجُلُ يَعْمَلُ الْعَمَلَ لِلَّهِ فَيُحِبُّهُ النَّاسُ عَلَيْهِ قَالَ ‏:‏ ‏ "‏ ذَلِكَ عَاجِلُ بُشْرَى الْمُؤْمِنِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৪২২৫। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার (রাহঃ)...... আবু যার (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তাঁকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলামঃ এক ব্যক্তি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য আমল করে, তখন লোকেরা তাকে সেই আমলের জন্য ভালবাসে, (সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কি)? তিনি বললেনঃ এটা তো ঈমানদারের জন্য তাৎক্ষণিক শুভ সংবাদ।

নিয়্যাত

بَاب النِّيَّةِ

4226

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سِنَانٍ أَبُو سِنَانٍ الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ ‏:‏ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَعْمَلُ الْعَمَلَ فَيُطَّلَعُ عَلَيْهِ فَيُعْجِبُنِي قَالَ ‏:‏ ‏ "‏ لَكَ أَجْرَانِ ‏:‏ أَجْرُ السِّرِّ وَأَجْرُ الْعَلاَنِيَةِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২২৬। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলোঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটি আমল করি, তা আমার নিকট এই কারণে ভাল লাগে যে, লোকেরা তার উপরে আমার প্রশংসা করে। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ পুরস্কার, গোপনে কাজ করার পুরস্কার ও প্রকাশ্যে আমল করার প্রতিদান।

4227

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، قَالاَ أَنْبَأَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ عَلْقَمَةَ بْنَ وَقَّاصٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، وَهُوَ يَخْطُبُ النَّاسَ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏:‏ ‏ "‏ إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَلِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৪২২৭। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আলকামা ইবন ওয়াক্কাস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একবার উমর ইব্‌ন খাত্তাব (রাযিঃ) কে লোকদের সামনে ভাষণ দিতে শুনছিলেন। তখন তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, আমলের পরিণাম নিয়াত অনুসারে। প্রত্যেক ব্যক্তিই তার নিয়্যাত অনুসারে ফলভোগ করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল-এর (সন্তুষ্টি) হাসিলের জন্য হিজরত করবে, তার হিজরত হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য। আর যে ব্যক্তি পার্থিব স্বার্থ সিদ্ধির জন্য কিংবা কোন নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হিজরত করবে, তার হিজরত হবে সেই জিনিসের জন্য যার দিকে সে হিজরত করেছে।

4228
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ أَبِي كَبْشَةَ الأَنْمَارِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏"‏ مَثَلُ هَذِهِ الأُمَّةِ كَمَثَلِ أَرْبَعَةِ نَفَرٍ ‏:‏ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالاً وَعِلْمًا فَهُوَ يَعْمَلُ بِعِلْمِهِ فِي مَالِهِ يُنْفِقُهُ فِي حَقِّهِ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ عِلْمًا وَلَمْ يُؤْتِهِ مَالاً فَهُوَ يَقُولُ ‏:‏ لَوْ كَانَ لِي مِثْلُ هَذَا عَمِلْتُ فِيهِ مِثْلَ الَّذِي يَعْمَلُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏"‏ فَهُمَا فِي الأَجْرِ سَوَاءٌ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالاً وَلَمْ يُؤْتِهِ عِلْمًا فَهُوَ يَخْبِطُ فِي مَالِهِ يُنْفِقُهُ فِي غَيْرِ حَقِّهِ وَرَجُلٌ لَمْ يُؤْتِهِ اللَّهُ عِلْمًا وَلاَ مَالاً فَهُوَ يَقُولُ ‏:‏ لَوْ كَانَ لِي مِثْلُ مَالِ هَذَا عَمِلْتُ فِيهِ مِثْلَ الَّذِي يَعْمَلُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏"‏ فَهُمَا فِي الْوِزْرِ سَوَاءٌ ‏"‏ ‏.‏

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنِ ابْنِ أَبِي كَبْشَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَمُرَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ مُفَضَّلٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنِ ابْنِ أَبِي كَبْشَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ نَحْوَهُ ‏.‏

Narrator: আবু কাবশা আনমারী (রাঃ)

৪২২৮। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা ও আলী ইব্‌ন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... আবু কাবশাহ আনমারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এই উম্মাতের উপমা চার ব্যক্তির ন্যায়। এক এমন ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তা'আলা ধন-সম্পদ ও ইল্ম দান করেছেন এবং সে তার ধন-সম্পদ (আহরণের বেলায়) তার ইলম অনুসারে আমল করে এবং তা ঠিকভাবে খরচ করে। দুই এমন ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তা'আলা ইলম দান করেছেন কিন্তু ধন-দৌলত দান করেন নি। তখন সে বলে, যদি আমার ঐ ব্যক্তির মত সম্পদ থাকত, তাহলে আমি এরূপভাবে আমল করতাম, যেভাবে সে আমল করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ পুরস্কার লাভের ক্ষেত্রে এই দুইজন সমান সমান। তিন এমন ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তা'আলা ধন-সম্পদ দান

করেছেন, অথচ তাকে ইলম দান করেননি। সে তার ধন-সম্পদ ঠিকভাবে ব্যয় করে না, এবং অন্যায় পথে তা ব্যয় করে। (যেমন- গান-বাজনা, জুয়া, বাহুল্য ব্যয় ইত্যাদি ক্ষেত্রে খরচ করে)। চার এমন ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তা'আলা ধন-সম্পদ দেননি, ইল্‌মও দান করেননি। সে বলে, যদি আমার কাছে এই ব্যক্তির মত (ধন-দৌলত) থাকত, তাহলে আমি এই ব্যক্তির মত আমল (ব্যয়) করতাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এই দুই ব্যক্তি, গুণাহের বেলায় সমান সমান। ইসহাক ইবন মানসুর মারওয়াযী ও মুহাম্মাদ ইবন ইসমাঈল ইব্‌ন সামুরা (রাহঃ)...... ইব্‌ন আবু কাবশা (রাযিঃ) তাঁর পিতার সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
4229

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏ "‏ إِنَّمَا يُبْعَثُ النَّاسُ عَلَى نِيَّاتِهِمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২২৯। আহমাদ ইব্‌ন সিনান ও মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বস্তুত লোকদের (হাশরের দিন) তাদের নিয়্যাত অনুসারে উঠানো হবে।

4230

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنْبَأَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ، أَنْبَأَنَا شَرِيكٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏ "‏ يُحْشَرُ النَّاسُ عَلَى نِيَّاتِهِمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪২৩০। যুহায়র ইবন মুহাম্মাদ (রাহঃ)...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন মানুষদের তাদের নিয়্যাত অনুসারে জমা করা হবে।

আকাংক্ষা ও আয়ু

بَاب الْأَمَلِ وَالْأَجَلِ

4231

حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، ‏:‏ بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ الْبَاهِلِيُّ قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِي يَعْلَى، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ أَنَّهُ خَطَّ خَطًّا مُرَبَّعًا وَخَطًّا وَسَطَ الْخَطِّ الْمُرَبَّعِ وَخُطُوطًا إِلَى جَانِبِ الْخَطِّ الَّذِي وَسَطَ الْخَطِّ الْمُرَبَّعِ وَخَطًّا خَارِجًا مِنَ الْخَطِّ الْمُرَبَّعِ فَقَالَ ‏:‏ ‏"‏ أَتَدْرُونَ مَا هَذَا ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا ‏:‏ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ‏.‏ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ هَذَا الإِنْسَانُ الْخَطُّ الأَوْسَطُ وَهَذِهِ الْخُطُوطُ إِلَى جَنْبِهِ الأَعْرَاضُ تَنْهَشُهُ أَوْ تَنْهَسُهُ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ فَإِنْ أَخْطَأَهُ هَذَا أَصَابَهُ هَذَا وَالْخَطُّ الْمُرَبَّعُ الأَجَلُ الْمُحِيطُ وَالْخَطُّ الْخَارِجُ الأَمَلُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪২৩১। আবু বিশর, বকর ইবন খালাফ ও আবু বকর ইবন খাল্লাফ বাহেলী (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইব্‌ন মাসউদ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একটি চতুষ্কোণ ক্ষেত্র অংকন করলেন, যার মধ্যভাগে আরেকটি রেখা টানলেন এবং মধ্যবর্তী রেখার দুই দিক অনেকগুলো ক্ষুদ্র রেখা টানলেন। রেখার বহিঃ মুখে একটা রেখা টানলেন যা ক্ষেত্রটিকে ছেদ করে অন্য প্রান্ত দিয়ে বাইরে গিয়েছে। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা কি জান এটা কি জিনিস? তারা (সাহাবা-ই-কিরাম (রাযিঃ)) বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেনঃ এই মধ্যবর্তী রেখাটি হচ্ছে মানুষ। আর সরল রেখার দুই দিকে যে সূক্ষ্মসূক্ষ্ম রেখা আছে এগুলো অসুখ-বিসুখ ও বিপদ-বালা, যা সর্বক্ষণ তাকে ক্ষয় করে কিংবা দংশন করে চতুর্দিক থেকে। সে যদি একটি আপদ থেকে মুক্তি পায়, তাহলে আরেকটি বিপদ তার ঘাড়ে চাপে। আর এই চতুষ্কোণ ক্ষেত্র তাকে পরিবেষ্টন করে রাখে। এটাই তার আয়ু। এর বাইরে যাওয়ার সাধ্য নেই। আর যে রেখাটি এই চতুষ্কোণ ক্ষেত্রের বাইরে ছেদ করে চলে গিয়েছে, তা হচ্ছে তার আশা-আকাংক্ষা।

4232

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏"‏ هَذَا ابْنُ آدَمَ وَهَذَا أَجَلُهُ عِنْدَ قَفَاهُ ‏"‏ ‏.‏ وَبَسَطَ يَدَهُ أَمَامَهُ ثُمَّ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ وَثَمَّ أَمَلُهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪২৩২। ইসহাক ইব্‌ন মানসুর (রাহঃ)...... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ এই হলো আদম সন্তান এবং এই তার আয়ূ। তিনি তার গর্দানে হাত রাখেন এবং সামনে বিস্তার করেন। তারপর বললেনঃ এই পর্যন্ত তার আকাংক্ষা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।[১]

[১] মানুষ তার আয়ূর চাইতে বেশী আকাংক্ষা করে থাকে। সে পার্থিব কর্মকাণ্ডে এত ব্যস্ত থাকে যে, গগনচুম্বী ইমারত তৈরী করে, স্বপ্ন রাজপুরী নির্মাণ করে যা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই তার মৃত্যু এসে হাযির হয়।
4233

حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ، ‏:‏ مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعُثْمَانِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏:‏ ‏ "‏ قَلْبُ الشَّيْخِ شَابٌّ فِي اثْنَتَيْنِ ‏:‏ فِي حُبِّ الْحَيَاةِ وَكَثْرَةِ الْمَالِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৩৩। আবু মারওয়ান মুহাম্মাদ ইবন উসমান উসমানী (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ বলেছেন: দুইটি জিনিসের আকর্ষণে বৃদ্ধলোকের মন যুবক হয়ে যায় : একটা জীবনের প্রতি মুহব্বত এবং অপরটি অধিক ধন-সম্পদ।

4234

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ الضَّرِيرُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏ "‏ يَهْرَمُ ابْنُ آدَمَ وَيَشِبُّ مِنْهُ اثْنَتَانِ ‏:‏ الْحِرْصُ عَلَى الْمَالِ وَالْحِرْصُ عَلَى الْعُمُرِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪২৩৪। বিশর ইব্‌ন মু'আয দারীর (রাহঃ) ........ আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আদম সন্তান বার্ধক্যে উপনীত হয়, অথচ দু'টো জিনিস তাকে যুবক করে তোলেঃ একটা অধিক ধন-সম্পদ লাভের স্পৃহা, অপরটি অধিক আয়ূ লাভের লালসা।

4235

حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ الْعُثْمَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏:‏ ‏ "‏ لَوْ أَنَّ لاِبْنِ آدَمَ وَادِيَيْنِ مِنْ مَالٍ لأَحَبَّ أَنْ يَكُونَ مَعَهُمَا ثَالِثٌ وَلاَ يَمْلأُ نَفْسَهُ إِلاَّ التُّرَابُ وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَى مَنْ تَابَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৩৫। আবু মারওয়ান উসমানী (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি আদম সন্তান দু'টি উপত্যকা (দুইটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী খালিস্তানকে উপত্যকা বলে) বরাবর সম্পদের অধিকারী হয়, তবে সে এর সাথে তৃতীয়টি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। মাটি ব্যতিরেকে কোন জিনিস তার আশাপূর্ণ করতে পারে না। আর আল্লাহ তা'আলা তার তাওবা কবুল করেন, যে তাওবা করে।

4236

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏:‏ ‏ "‏ أَعْمَارُ أُمَّتِي مَا بَيْنَ السِّتِّينَ إِلَى السَّبْعِينَ وَأَقَلُّهُمْ مَنْ يَجُوزُ ذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৩৬। হাসান ইব্‌ন আরাফাহ (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মতের (অধিকাংশের) আয়ূ ষাট থেকে সত্তর বছর হবে। তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যই এমন হবে, যাদের আয়ু সত্তর অতিক্রম করবে।

স্থায়ীভাবে আমল করা

بَاب الْمُدَاوَمَةِ عَلَى الْعَمَلِ

4237

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ ‏:‏ وَالَّذِي ذَهَبَ بِنَفْسِهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مَا مَاتَ حَتَّى كَانَ أَكْثَرُ صَلاَتِهِ وَهُوَ جَالِسٌ وَكَانَ أَحَبَّ الأَعْمَالِ إِلَيْهِ، الْعَمَلُ الصَّالِحُ الَّذِي يَدُومُ عَلَيْهِ الْعَبْدُ وَإِنْ كَانَ يَسِيرًا ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৪২৩৭। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সেই মহান সত্তার শপথ, যিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে নিয়ে গিয়েছেন, তিনি ইন্তিকাল করা অবধি অধিকাংশ (নফল) সালাত বসে আদায় করতেন। তিনি সেই নেক আমলকে সর্বাধিক পছন্দ করতেন, যা বান্দা সব সময় আদায় করে, যদিও তা পরিমাণের কম হয়।

4238

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ ‏:‏ كَانَتْ عِنْدِي امْرَأَةٌ فَدَخَلَ عَلَىَّ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏:‏ ‏"‏ مَنْ هَذِهِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ ‏:‏ فُلاَنَةُ ‏.‏ لاَ تَنَامُ - تَذْكُرُ مِنْ صَلاَحِهَا - فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏"‏ مَهْ عَلَيْكُمْ بِمَا تُطِيقُونَ فَوَاللَّهِ لاَ يَمَلُّ اللَّهُ حَتَّى تَمَلُّوا ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ ‏:‏ وَكَانَ أَحَبَّ الدِّينِ إِلَيْهِ الَّذِي يَدُومُ عَلَيْهِ صَاحِبُهُ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪২৩৮। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে একজন মহিলা বসা ছিলেন। এ সময় নবী (ﷺ) আমার ঘরে প্রবেশ করেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ এই মহিলা কে? আমি বললামঃ অমুক মহিলা, যে রাতে ঘুমায় না (তিনি তার সালাতের কথা উল্লেখ করলেন।) তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ আরে থামো, তোমাদের সামর্থ্য অনুসারে তোমরা আমল করবে। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ (পুরস্কার প্রদানে) ক্ষান্ত হন না, যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ো। আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ তাঁর (রাসূলুল্লাহ ﷺ) নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয় দীন (আমল) সেটাই যা তার আমলকারী সর্বদা আদায় করে।

4239

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ حَنْظَلَةَ الْكَاتِبِ التَّمِيمِيِّ الأُسَيِّدِيِّ، قَالَ ‏:‏ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَذَكَرْنَا الْجَنَّةَ وَالنَّارَ حَتَّى كَأَنَّا رَأْىَ الْعَيْنِ فَقُمْتُ إِلَى أَهْلِي وَوَلَدِي فَضَحِكْتُ وَلَعِبْتُ ‏.‏ قَالَ ‏:‏ فَذَكَرْتُ الَّذِي كُنَّا فِيهِ فَخَرَجْتُ فَلَقِيتُ أَبَا بَكْرٍ فَقُلْتُ ‏:‏ نَافَقْتُ، نَافَقْتُ ‏.‏ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ ‏:‏ إِنَّا لَنَفْعَلُهُ ‏.‏ فَذَهَبَ حَنْظَلَةُ فَذَكَرَهُ لِلنَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏:‏ ‏ "‏ يَا حَنْظَلَةُ لَوْ كُنْتُمْ كَمَا تَكُونُونَ عِنْدِي لَصَافَحَتْكُمُ الْمَلاَئِكَةُ عَلَى فُرُشِكُمْ - أَوْ عَلَى طُرُقِكُمْ - يَا حَنْظَلَةُ سَاعَةٌ وَسَاعَةٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪২৩৯। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... হানযালা কাতিব তামিমী উসায়দী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট ছিলেন। তখন আমরা জান্নাত-জাহান্নাম সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। এমন কি মনে হচ্ছিল যে, আমরা যেন তা স্বচক্ষে দেখেতে পাচ্ছি। তারপর আমি আমার পরিবার ও মাতা-পিতার কাছে ফিরে আসলাম। এবং হাসি-তামাশা ও খেলাধুলায় মত্ত হলাম।
রাবী বলেনঃ অনন্তর আমি সেই অবস্থার কথা স্মরণ করলাম, যে অবস্থায় আমরা ছিলাম। পরে আমি বের হয়ে গিয়ে আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তখন আমি বললামঃ আমি মুনাফিক হয়ে গেছি, আমি মুনাফিক হয়ে গেছি। তখন আবু বকর (রাযিঃ) বললেনঃ আমরাও তো এরূপ করছি। অতঃপর হানযালাহ (রাযিঃ) তাঁর (রাসূলুল্লাহ্ সা) নিকট গেলেন এবং নবী (ﷺ) -এর কাছে পুরো ঘটনা পেশ করলেনঃ তখন তিনি বললেনঃ হে হানযালাহ্। যদি তোমরা সেই অবস্থায় সর্বক্ষণ থাকত, যেমন তোমরা আমার নিকটে থাকো; তাহলে ফিরিশতারা তোমাদের বিছানা (কিংবা তোমাদের রাস্তাঘাটে) তোমাদের সাথে মুসাহাফাহ্ (করমর্দন) করতো। হে হানযালাহ! মুহূর্ত, আর মুহূর্ত অর্থাৎ মানুষের জন্য সব সময় একই ধরনের হয় না। (আমার সুহবতে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, পরিবার পরিজনের সাথে থাকাকালে সে অবস্থা থাকে না)।
4240

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عُثْمَانَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجُ، سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏ "‏ اكْلَفُوا مِنَ الْعَمَلِ مَا تُطِيقُونَ فَإِنَّ خَيْرَ الْعَمَلِ أَدْوَمُهُ وَإِنْ قَلَّ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৪০। আব্বাস ইব্‌ন উসমান দিমাশকী (রাহঃ).....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের শক্তি সামর্থে যতটা কুলায় যে ততটাই আমল করো। কেননা, সেই আমলই উত্তম, যা সদা-সর্বদা করা হয়, যদিও তা পরিমাণে কম হয়।

4241

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَشْعَرِيُّ، عَنْ عِيسَى بْنِ جَارِيَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ ‏:‏ مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَلَى رَجُلٍ يُصَلِّي عَلَى صَخْرَةٍ فَأَتَى نَاحِيَةَ مَكَّةَ فَمَكَثَ مَلِيًّا ثُمَّ انْصَرَفَ فَوَجَدَ الرَّجُلَ يُصَلِّي عَلَى حَالِهِ فَقَامَ فَجَمَعَ يَدَيْهِ ثُمَّ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ يَا أَيُّهَا النَّاسُ عَلَيْكُمْ بِالْقَصْدِ ‏"‏ ‏.‏ ثَلاَثًا ‏:‏ ‏"‏ فَإِنَّ اللَّهَ لاَ يَمَلُّ حَتَّى تَمَلُّوا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪২৪১। আমর ইবন রাফি (রাহঃ)...... জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তখন সে একটি পাথরের উপর সালাত আদায় করিছল। অতঃপর তিনি মক্কার এক প্রান্তে এসে সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন। এরপর তিনি ফিরে আসলেন এবং উক্ত লোকটিকে পূর্ববৎ সালাত আদায় রত পেলেন। তিনি (অবাক হয়ে) দাঁড়িয়ে গেলেন এবং উভয় হাত মিলালেন। এরপর বললেন, হে লোক সকল! তোমরা মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে। এই কথাটি তিনি তিনবার বললেন। কেননা আল্লাহ তা'আলা প্রতিদান দিতে ক্ষান্ত হন না, যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হও।

গুনাহ-এর উল্লেখ

بَاب ذِكْرِ الذُّنُوبِ

4242

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَأَبِي، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قُلْنَا ‏:‏ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنُؤَاخَذُ بِمَا كُنَّا نَفْعَلُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏ "‏ مَنْ أَحْسَنَ فِي الإِسْلاَمِ لَمْ يُؤَاخَذْ بِمَا كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَمَنْ أَسَاءَ أُخِذَ بِالأَوَّلِ وَالآخِرِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪২৪২। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়ের (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! জাহিলী যুগে আমরা যে সব কাজ কর্ম করেছি, সে সম্পর্কে আমরা কি পাঁকড়াও হবো? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ যারা ইসলাম গ্রহণের পর ভাল কাজ করেছে, তারা তাদের কৃত জাহিলী যুগের কাজ কর্ম সম্পর্কে পাকড়াও হবে না। আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে, তাকে আগের ও পরের বিষয়ে পাকড়াও করা হবে।

4243

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ بَانَكَ، قَالَ سَمِعْتُ عَامِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، يَقُولُ ‏:‏ حَدَّثَنِي عَوْفُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏ "‏ يَا عَائِشَةُ إِيَّاكِ وَمُحَقَّرَاتِ الأَعْمَالِ فَإِنَّ لَهَا مِنَ اللَّهِ طَالِبًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪২৪৩। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ হে আয়েশা! তুমি সে সব গুনাহ থেকে দূরে থাক যেগুলো তোমার কাছে ছোট বলে মনে হয়। কেননা, আল্লাহ তা'আলা সেগুলোর জন্যও পাকড়াও করবেন। গুনাহ থেকে সর্বাবস্থায় বেঁচে থাকা চাই- তা বড় হোক কিংবা ছোট।

4244

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَالْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلاَنَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا أَذْنَبَ كَانَتْ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ فِي قَلْبِهِ فَإِنْ تَابَ وَنَزَعَ وَاسْتَغْفَرَ صُقِلَ قَلْبُهُ فَإِنْ زَادَ زَادَتْ فَذَلِكَ الرَّانُ الَّذِي ذَكَرَهُ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ ‏(كَلاَّ بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ)‏ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৪৪। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মু'মিন ব্যক্তি যখন কোন গুনাহ করে তখন তার কালবে (হৃদয়ে) একটা কালো দাগ পড়ে যায়। অতঃপর সে যদি তাওবা করে এবং সে কাজ ছেড়ে দেয়, আর মাগফিরাত কামনা করে, তাহলে তার কালব সাফ করে দেওয়া হয়। যদি সে আরও গুনাহ করে, তাহলে সেই কালো দাগ বেড়ে যায়, (এমন কি সমগ্র অন্তর কালো-কালিমায় ছেয়ে যায়)। এই জংয়ের কথাই আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেনঃ

كَلاَّ بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ

“না এ সত্য নয়, ওদের কৃতকর্মই ওদের কালবে (হৃদয়ে) জং ধরিয়েছে।" (৮৩ঃ ১৪)।
4245

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ عَلْقَمَةَ بْنِ حُدَيْجٍ الْمَعَافِرِيُّ، عَنْ أَرْطَاةَ بْنِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَبِي عَامِرٍ الأَلْهَانِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّهُ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ لأَعْلَمَنَّ أَقْوَامًا مِنْ أُمَّتِي يَأْتُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِحَسَنَاتٍ أَمْثَالِ جِبَالِ تِهَامَةَ بِيضًا فَيَجْعَلُهَا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ هَبَاءً مَنْثُورًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ثَوْبَانُ ‏:‏ يَا رَسُولَ اللَّهِ صِفْهُمْ لَنَا جَلِّهِمْ لَنَا أَنْ لاَ نَكُونَ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لاَ نَعْلَمُ ‏.‏ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ أَمَا إِنَّهُمْ إِخْوَانُكُمْ وَمِنْ جِلْدَتِكُمْ وَيَأْخُذُونَ مِنَ اللَّيْلِ كَمَا تَأْخُذُونَ وَلَكِنَّهُمْ أَقْوَامٌ إِذَا خَلَوْا بِمَحَارِمِ اللَّهِ انْتَهَكُوهَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত ছাওবান (রাঃ)

৪২৪৫। ঈসা ইবন ইউনুস রাম্‌লী (রাহঃ)...... সাওবান (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার উম্মাতের সে সব লোককে জানি, যারা কিয়ামতের দিন তেহামার (মক্কা ও ইয়ামনের অবস্থান অঞ্চলকে তেহামা বলা হয়) পর্বতমালার সমান নেক আমল নিয়ে হাযির হবে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তা বিক্ষিপ্ত ধূলোর ন্যায় করে দিবেন। সাওবান (রাযিঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! তাদের ব্যাপারে আমাদের অবহিত করুন, সবিস্তারে খোলাখুলিভাবে আলোচনা করুন যাতে অজ্ঞাতসারে আমরা তাদের মধ্যে শামিল হয়ে না পড়ি। তিনি বললেনঃ মনোযোগ দিয়ে শোনো, তারা তোমাদেরই ভাই এবং তোমাদের সম্প্রদায়ভুক্ত। তারা রাতের বেলা এমনভাবে ইবাদত করে থাকে, যেমনভাবে তোমরা কর। কিন্তু তারা এমন কাওম, যখন তারা নিকটবর্তী হয় এমন কাজের যা আল্লাহ হারাম করেছেন, তখন তারা তার পর্দা ছিন্ন করে ফেলে (অর্থাৎ হারাম কাজে লিপ্ত হয়)।

4246

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ أَبِيهِ، وَعَمِّهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ ‏:‏ سُئِلَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ مَا أَكْثَرُ مَا يُدْخِلُ الْجَنَّةَ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ التَّقْوَى وَحُسْنُ الْخُلُقِ ‏"‏ ‏.‏ وَسُئِلَ ‏:‏ مَا أَكْثَرُ مَا يُدْخِلُ النَّارَ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ الأَجْوَفَانِ ‏:‏ الْفَمُ وَالْفَرْجُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৪৬। হারূন ইব্‌ন ইসহাক ও আব্দুল্লাহ ইব্‌ন সাঈদ (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) -কে জিজ্ঞাসা করা হলো ; কোন আমলের বদৌলতে অধিকাংশ লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে ? তিনি বললেনঃ তাকওয়া ও সচ্চরিত্রের বদৌলতে। আবার জিজ্ঞাসা করা হলোঃ কোন জিনিস অধিকাংশ লোককে জাহান্নামে প্রবেশ করাবে? তিনি বললেনঃ দু'টি অংশ- মুখ ও লজ্জাস্থান। মুখ থেকে মন্দ কথা বের হয় এবং শরমগাহ থেকে হারাম কাজ সম্পন্ন হয়।

তাওবা-এর আলোচনা

بَاب ذِكْرِ التَّوْبَةِ

4247

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏:‏ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ أَحَدِكُمْ مِنْهُ بِضَالَّتِهِ إِذَا وَجَدَهَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৪৭। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাযিঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ (গুনাহ থেকে) তাওবা করলে মহান আল্লাহ্ এত খুশী হন, যেমন কেউ হারানো বস্তু ফিরে পেলে খুশী হয়।

4248

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ الْمَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏:‏ ‏ "‏ لَوْ أَخْطَأْتُمْ حَتَّى تَبْلُغَ خَطَايَاكُمُ السَّمَاءَ ثُمَّ تُبْتُمْ لَتَابَ عَلَيْكُمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৪৮। ইয়াকূব ইবন হুমায়দ ইবন কাসির মাদিনী (রাহঃ)......আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যদি তোমরা এত অধিক পরিমাণ গুনাহ কর, যা আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, এর পর যদি তোমরা তাওবা কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের তাওবা কবুল করবেন।

4249

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ فُضَيْلِ بْنِ مَرْزُوقٍ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏ "‏ لَلَّهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ مِنْ رَجُلٍ أَضَلَّ رَاحِلَتَهُ بِفَلاَةٍ مِنَ الأَرْضِ فَالْتَمَسَهَا حَتَّى إِذَا أَعْيَى تَسَجَّى بِثَوْبِهِ فَبَيْنَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ سَمِعَ وَجْبَةَ الرَّاحِلَةِ حَيْثُ فَقَدَهَا فَكَشَفَ الثَّوْبَ عَنْ وَجْهِهِ فَإِذَا هُوَ بِرَاحِلَتِهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪২৪৯। সুফিয়ান ইব্‌ন ওয়াকী (রাহঃ)......আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ তা'আলা তাঁর কোন তাওবাকারী বান্দার প্রতি সেই ব্যক্তির চাইতেও অধিকতর সন্তুষ্ট হন, যে ব্যক্তির উট কোন জনমানবহীন খাদ্য শষ্যবিহীন জঙ্গলে হারিয়ে গেছে, সে তাকে তালাশ করে এমন কি ক্লান্ত হয়ে নিজের কাপড় মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ে। (কেননা, এখন বাঁচার কোন উপায় নেই। পানাহারের একমাত্র ভরসা ছিল সেই উটটি। সে জঙ্গলে, এক ফোঁটা পানিও নেই)। যখন সে এ অবস্থায় ছিল হঠাৎ সে সেখানে উটের পায়ের শব্দ শুনতে পেল যেখানে সে তাকে হারিয়েছিল তখন সে তার মুখ থেকে আবরণ উঠিয়ে দেখে যে, সেটি হলো তার সেই উট।

4250

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ، حَدَّثَنَا وُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏ "‏ التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لاَ ذَنْبَ لَهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪২৫০। আহমাদ ইবন সাঈদ দারিমী (রাহঃ)...... আবু উবায়দা ইবন আব্দুল্লাহ (রাহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ গুনাহ থেকে তাওবাকারীর উপমা হচ্ছে সেই ব্যক্তির মত, যার কোন গুনাহ নেই।

4251

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَسْعَدَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏ "‏ كُلُّ بَنِي آدَمَ خَطَّاءٌ وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪২৫১। আহমাদ ইব্‌ন মানী (রাহঃ)........ আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ সমস্ত আদম সন্তানই গুনাহগার। আর উত্তম গুনাহগার হলো তাওবাকারীরা।

4252

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ الْجَزَرِيِّ، عَنْ زِيَادِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنِ ابْنِ مَعْقِلٍ، قَالَ ‏:‏ دَخَلْتُ مَعَ أَبِي عَلَى عَبْدِ اللَّهِ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏"‏ النَّدَمُ تَوْبَةٌ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ أَبِي ‏:‏ أَنْتَ سَمِعْتَ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏:‏ ‏"‏ النَّدَمُ تَوْبَةٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ‏:‏ نَعَمْ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪২৫২। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... ইব্‌ন মা'কিল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সাথে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। আমি তাকে বলতে শুনলামঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ “শরমিন্দা হওয়াই তাওবা”। তখন আমার পিতা তাঁকে বললেনঃ আপনি কি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন যে, “গুনাহ থেকে শরমিন্দা হওয়াই তাওবা”? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।

4253

حَدَّثَنَا رَاشِدُ بْنُ سَعِيدٍ الرَّمْلِيُّ، أَنْبَأَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ ابْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏:‏ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪২৫৩। রাশিদ ইব্‌ন সাঈদ রামলী (রাহঃ).......আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাযিঃ)-এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ জাল্লাশানুহু বান্দার প্রাণ কণ্ঠনালীতে না পৌঁছা পর্যন্ত তার তাওবা কবুল করবেন।

4254

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، سَمِعْتُ أَبِي، حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، ‏:‏ أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَذَكَرَ أَنَّهُ أَصَابَ مِنِ امْرَأَةٍ قُبْلَةً فَجَعَلَ يَسْأَلُ عَنْ كَفَّارَتِهَا فَلَمْ يَقُلْ لَهُ شَيْئًا فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ (وَأَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَىِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ)‏ فَقَالَ الرَّجُلُ ‏:‏ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلِي هَذِهِ فَقَالَ ‏:‏ ‏ "‏ هِيَ لِمَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ أُمَّتِي ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪২৫৪। ইসহাক ইব্‌ন ইবরাহীম ইব্‌ন হাবীব (রাহঃ)....... ইবন মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট হাযির হয়ে বললো যে, সে এক অপরিচিতা মহিলাকে চুম্বন করেছে। সে এই চুম্বনের কাফ্ফারা সম্পর্কে জানতে চাইলো। কিন্তু তিনি তাকে কিছুই বললেন না। তখন আল্লাহ জাল্লাশানুহু এই আয়াত নাযিল করলেনঃ

وَأَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَىِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ

“দিনের উভয় প্রান্তে সালাত আদায় করবে এবং রাতের প্রথম অংশেও। নিশ্চয় নেক কাজ মন্দকাজকে মিটিয়ে দেয়। এই উপদেশ তাদের জন্য, যারা উপদেশ গ্রহণ করে"। (১১ঃ ১১৪)।
তখন সেই ব্যক্তি বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল! এ নির্দেশ কি কেবল আমার জন্যই? তিনি বললেন ঃ বরং আমার উম্মাতের যে কেউ এর উপর আমল করবে, তার জন্যই। (অর্থাৎ সবাই এই আমলের অংশীদার)।
4255

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، قَالَ قَالَ الزُّهْرِيُّ ‏:‏ أَلاَ أُحَدِّثُكَ بِحَدِيثَيْنِ عَجِيبَيْنِ ‏:‏ أَخْبَرَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏:‏ ‏ "‏ أَسْرَفَ رَجُلٌ عَلَى نَفْسِهِ فَلَمَّا حَضَرَهُ الْمَوْتُ أَوْصَى بَنِيهِ فَقَالَ ‏:‏ إِذَا أَنَا مِتُّ فَأَحْرِقُونِي ثُمَّ اسْحَقُونِي ثُمَّ ذَرُّونِي فِي الرِّيحِ فِي الْبَحْرِ فَوَاللَّهِ لَئِنْ قَدَرَ عَلَىَّ رَبِّي لَيُعَذِّبُنِي عَذَابًا مَا عَذَّبَهُ أَحَدًا ‏.‏ قَالَ ‏:‏ فَفَعَلُوا بِهِ ذَلِكَ فَقَالَ لِلأَرْضِ ‏:‏ أَدِّي مَا أَخَذْتِ ‏.‏ فَإِذَا هُوَ قَائِمٌ فَقَالَ لَهُ ‏:‏ مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ قَالَ ‏:‏ خَشْيَتُكَ - أَوْ مَخَافَتُكَ - يَا رَبِّ ‏.‏ فَغَفَرَ لَهُ لِذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৫৫। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহ্ইয়া ও ইসহাক ইব্‌ন মনসুর (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি তার নাফসের উপর বাড়াবাড়ি করেছিল (অর্থাৎ নাফরমানী করেছিল)। যখন তার মৃত্যু ঘনিয়ে এলো, তখন সে তার পুত্রদের অসীয়্যত করে বললোঃ আমি মারা গেলে তোমরা আমাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভস্মীভূত করে ফেলবে। অতঃপর পিষে চূর্ণ-বিচূর্ণ করবে। তারপর প্রবল বায়ুর মধ্যে আমার ছাই ভস্ম সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে। (এতে কিছু অংশ বাতাসে উড়ে যাবে এবং বাকী অংশ সমুদ্রের পানিতে মিশে যাবে)। আল্লাহর শপথ! যদি আমার রব (আল্লাহ) আমাকে পাঁকড়াও করেন তাহলে তিনি আমাকে এমন ভয়ানক শাস্তি দিবেন, যা অন্য কাউকে দেননি।

রাবী বললেন, তখন তারা (তার পুত্ররা) তার অসীয়্যত মত কাজ করলো। তখন আল্লাহ তা'আলা যমীনকে নির্দেশ দিলেনঃ তুমি (এই ব্যক্তির দেহ ভস্ম থেকে) যা গ্রহণ করলে, তা (আমার) সামনে পেশ কর। আচানক সে দণ্ডায়মান হবে। তখন তিনি (আল্লাহ) তাকে জিজ্ঞাসা করবেনঃ এই কাজে কি সে তোমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে ? সে বলবেঃ হে আমার প্রতিপালক! আপনার ভয়, কিংবা আপনার ভয়েই এমনটি করেছি। তখন আল্লাহ তাকে এজন্য ক্ষমা করে দেন।
4256

قَالَ الزُّهْرِيُّ وَحَدَّثَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏:‏ ‏ "‏ دَخَلَتِ امْرَأَةٌ النَّارَ فِي هِرَّةٍ رَبَطَتْهَا فَلاَ هِيَ أَطْعَمَتْهَا وَلاَ هِيَ أَرْسَلَتْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الأَرْضِ حَتَّى مَاتَتْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ الزُّهْرِيُّ ‏:‏ لِئَلاَّ يَتَّكِلَ رَجُلٌ وَلاَ يَيْأَسَ رَجُلٌ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৫৬। যুহরী (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক মহিলা একটি বিড়ালকে নির্যাতনের কারণে জাহান্নামে গিয়েছিল। এই বিড়ালটি সে বেঁধে রেখেছিল, সে তাকে খাবার দেয়নি ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে ভূ-পৃষ্ঠের কীট-পতঙ্গ খেতে পারে, অবশেষে সে অনাহারে মারা গেল।

যুহরী (রাহঃ) বলেন, এই দুই হাদীস দ্বারা এটাই প্রতীয়মান হয় যে, কোন ব্যক্তির পক্ষে তার আমলের উপর ভরসা করা উচিত নয়, এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়াও ঠিক নয়।
4257

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُوسَى بْنِ الْمُسَيَّبِ الثَّقَفِيِّ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ يَا عِبَادِي كُلُّكُمْ مُذْنِبٌ إِلاَّ مَنْ عَافَيْتُ فَسَلُونِي الْمَغْفِرَةَ فَأَغْفِرَ لَكُمْ وَمَنْ عَلِمَ مِنْكُمْ أَنِّي ذُو قُدْرَةٍ عَلَى الْمَغْفِرَةِ فَاسْتَغْفَرَنِي بِقُدْرَتِي غَفَرْتُ لَهُ، وَكُلُّكُمْ ضَالٌّ إِلاَّ مَنْ هَدَيْتُ فَسَلُونِي الْهُدَى أَهْدِكُمْ، وَكُلُّكُمْ فَقِيرٌ إِلاَّ مَنْ أَغْنَيْتُ فَسَلُونِي أَرْزُقْكُمْ، وَلَوْ أَنَّ حَيَّكُمْ وَمَيِّتَكُمْ وَأَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَرَطْبَكُمْ وَيَابِسَكُمُ اجْتَمَعُوا فَكَانُوا عَلَى قَلْبِ أَتْقَى عَبْدٍ مِنْ عِبَادِي - لَمْ يَزِدْ فِي مُلْكِي جَنَاحُ بَعُوضَةٍ، وَلَوِ اجْتَمَعُوا فَكَانُوا عَلَى قَلْبِ أَشْقَى عَبْدٍ مِنْ عِبَادِي لَمْ يَنْقُصْ مِنْ مُلْكِي جَنَاحُ بَعُوضَةٍ وَلَوْ أَنَّ حَيَّكُمْ وَمَيِّتَكُمْ، وَأَوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَرَطْبَكُمْ وَيَابِسَكُمُ اجْتَمَعُوا، فَسَأَلَ كُلُّ سَائِلٍ مِنْهُمْ مَا بَلَغَتْ أُمْنِيَّتُهُ - مَا نَقَصَ مِنْ مُلْكِي إِلاَّ كَمَا لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ مَرَّ بِشَفَةِ الْبَحْرِ فَغَمَسَ فِيهَا إِبْرَةً ثُمَّ نَزَعَهَا، ذَلِكَ بِأَنِّي جَوَادٌ مَاجِدٌ عَطَائِي كَلاَمٌ إِذَا أَرَدْتُّ شَيْئًا فَإِنَّمَا أَقُولُ لَهُ ‏:‏ كُنْ فَيَكُونُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৪২৫৭। আব্দুল্লাহ ইবন সাঈদ (রাহঃ)...... আবু যার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাবারাকা ও তা'আলা বলেনঃ হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই গুনাহগার, তবে যাদের আমি ক্ষমা করবো (তারা ব্যতিত)। কাজেই তোমরা আমার কাছে মাগফিরাত চাও, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিব, আর তোমাদের মধ্যে যারা জানে যে, আমি ক্ষমা করে দিতে সক্ষম এবং সর্বশক্তিমান, তারা যেন আমার উপর বিশ্বাস রেখে মাগফিরাত কামনা করে, তাহলে আমি তাদের ক্ষমা করে দেব। (হে আমার বান্দারা)! তোমরা সবাই পথভ্রষ্ট, তবে যাকে আমি হিদায়েত দান করেছি, সে ব্যতীত। সুতরাং তোমরা আমার কাছে হিদায়েত কামনা কর, আমি তোমাদের সুপথ দেখাবো। তোমরা সবাই অভাবী, তবে আমি যার অভাব মোচন করেছি (সে ব্যতিত)। অতএব তোমরা আমার কাছেই জীবিকা চাও, আমি তোমাদের পর্যাপ্ত জীবীকা দান করব। তোমাদের জীবিত, মৃত, অগ্রবর্তী-পরবর্তী, পানিতে অবস্থানকারী, স্থলভাগে বসবাসকারী চেতন-অচেতন নির্বিশেষে সকলেই যদি আমার সেই বান্দার মত হয়ে যাও, যে আমার নিকট সর্বাপেক্ষা বড় পরহেযগার ও বিশুদ্ধ অন্তর সম্পন্ন (যেমন মুহাম্মাদ (ﷺ)); তাহলে আমার সালতানাত একটি মশার ডানার সমানও বৃদ্ধি পাবে না। পক্ষান্তরে, এরা সবাই যদি যৌথভাবে সেই দুর্বৃত্তের মত হয়ে যায়, সে সর্বাপেক্ষা বদবখত ও নিকৃষ্টতর ছিল (যেমন নমরূদ, ফির'আউন, শাদ্দাদ); তাহলে এতেও আমার রাজত্বে এক মশার ডানা পরিমাণও ঘাটতি হবে না। তোমাদের জীবিত, মৃত, অগ্রবর্তী-পরবর্তী, পানিতে অবস্থানকারী স্থলভাগে বসবাসকারী নির্বিশেষে সবাই যদি একত্র হয়ে তোমাদের দাবী-দাওয়ার সীমারেখা যতটাই হোক আমার কাছে চাও, সকলের চাহিদা পূরণ করলেও আমার ধনাগারের বিন্দুমাত্রও হ্রাস পাবে না। তবে হ্যাঁ, এই পরিমাণ ঘাটতি হবে, যেমন তোমাদের কেউ সমুদ্রের তীরে গিয়ে তার মধ্যে একটা সূক্ষ্ম সুঁই ডুবিয়ে দিয়ে তা বের করে আনে। এর কারণ হচ্ছে এই যে, আমি মহাদাতা, আমার দেওয়ার পদ্ধতি হচ্ছে এই যে, যখন আমি কোন কিছুর ইরাদা করি, তখন আমি বলিঃ 'হও', অমনি তা হয়ে যায়।

মৃত্যুর স্মরণ ও এর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ

بَاب ذِكْرِ الْمَوْتِ وَالِاسْتِعْدَادِ لَهُ

4258

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏ "‏ أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ ‏"‏ ‏.‏ يَعْنِي الْمَوْتَ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৫৮। মাহমুদ ইব্‌ন গায়লান (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ জীবনের স্বাদ বিনাশকারী বস্তু অর্থাৎ মৃত্যুকে তোমরা অধিক স্মরণ কর। (মৃত্যুকে স্মরণ করলে পার্থিব মোহ হ্রাস পায় এবং পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ সহজতর হয়)।

4259

حَدَّثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ بَكَّارٍ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ فَرْوَةَ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ ‏:‏ كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَجَاءَهُ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ثُمَّ قَالَ ‏:‏ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ الْمُؤْمِنِينَ أَفْضَلُ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَأَىُّ الْمُؤْمِنِينَ أَكْيَسُ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ أَكْثَرُهُمْ لِلْمَوْتِ ذِكْرًا وَأَحْسَنُهُمْ لِمَا بَعْدَهُ اسْتِعْدَادًا أُولَئِكَ الأَكْيَاسُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪২৫৯। যুবায়র ইব্‌ন বাক্কার (রাহঃ)...... ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সঙ্গে বসা ছিলাম। এ সময় জনৈক আনসারী তাঁর নিকট আসে। সে নবী (ﷺ)-কে সালাম করে এবং বলেঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! সর্বাপেক্ষা উত্তম ঈমানদার কে? তিনি বললেনঃ তাদের মধ্যে যাদের চরিত্র উত্তম। লোকটি আবার জিজ্ঞাসা করেঃ সর্বাপেক্ষা দূরদর্শী ঈমানদার কে? তিনি বললেনঃ যারা মৃত্যুকে অধিক স্মরণ করে এবং মৃত্যু পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য উত্তমরূপে প্রস্তুতি গ্রহণ করে, এরাই সর্বোত্তম দূরদর্শী।

4260

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي يَعْلَى، شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏ "‏ الْكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ وَالْعَاجِزُ مَنْ أَتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا ثُمَّ تَمَنَّى عَلَى اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪২৬০। হিশাম ইব্‌ন আব্দুল মালিক হিমসী (রাহঃ)...... আবু ইয়ালা শাদ্দাদ ইবন আউস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ সেই-ই দূরদর্শী ও প্রজ্ঞাবান, যে তার নাফসকে নিয়ন্ত্রণ করে নিয়েছে এবং মৃত্যুর পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য আমল করেছে। আর সেই ব্যক্তিই নির্বোধ ও অকর্মন্য, যে নাফসের খাহেশের অনুসরণ করে এবং শুধুমাত্র আল্লাহ্ রহমতের প্রত্যাশা করে।

4261

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَكَمِ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، حَدَّثَنَا سَيَّارٌ، حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، ‏:‏ أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ دَخَلَ عَلَى شَابٍّ وَهُوَ فِي الْمَوْتِ فَقَالَ ‏:‏ ‏"‏ كَيْفَ تَجِدُكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ‏:‏ أَرْجُو اللَّهَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَأَخَافُ ذُنُوبِي ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏"‏ لاَ يَجْتَمِعَانِ فِي قَلْبِ عَبْدٍ فِي مِثْلِ هَذَا الْمَوْطِنِ إِلاَّ أَعْطَاهُ اللَّهُ مَا يَرْجُو وَآمَنَهُ مِمَّا يَخَافُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪২৬১। আব্দুল্লাহ ইব্‌ন হাকাম ইব্‌ন আবু যিয়াদ (রাহঃ).....আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত । একদা নবী (ﷺ) জনৈক যুবকের কাছে উপস্থিত হন, তখন সে মরণাপন্ন ছিল। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার অবস্থা কি? সে বলেঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর নিকট মাগফিরাতের আশা করছি, এবং আমার গুনাহের জন্য আশঙ্কা করছি। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ এই দুইটি জিনিস (আশা ও ভয়) যে বান্দার কালবে (অন্তরে) একত্রিত হয়, সে যা চাইবে আল্লাহ তাকে তাই দিবেন এবং যাকে সে ভয় করে, তা থেকে তাকে নিরাপত্তা দান করবেন।

4262

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏:‏ ‏ "‏ الْمَيِّتُ تَحْضُرُهُ الْمَلاَئِكَةُ فَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ صَالِحًا قَالُوا ‏:‏ اخْرُجِي أَيَّتُهَا النَّفْسُ الطَّيِّبَةُ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الطَّيِّبِ اخْرُجِي حَمِيدَةً وَأَبْشِرِي بِرَوْحٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبٍّ غَيْرِ غَضْبَانَ فَلاَ يَزَالُ يُقَالُ لَهَا ذَلِكَ حَتَّى تَخْرُجَ ثُمَّ يُعْرَجُ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ فَيُفْتَحُ لَهَا فَيُقَالُ ‏:‏ مَنْ هَذَا فَيَقُولُونَ ‏:‏ فُلاَنٌ ‏.‏ فَيُقَالُ ‏:‏ مَرْحَبًا بِالنَّفْسِ الطَّيِّبَةِ، كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الطَّيِّبِ ادْخُلِي حَمِيدَةً، وَأَبْشِرِي بِرَوْحٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبٍّ غَيْرِ غَضْبَانَ ‏.‏ فَلاَ يَزَالُ يُقَالُ لَهَا ذَلِكَ حَتَّى يُنْتَهَى بِهَا إِلَى السَّمَاءِ الَّتِي فِيهَا اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ السُّوءُ قَالَ اخْرُجِي أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْخَبِيثَةُ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الْخَبِيثِ اخْرُجِي ذَمِيمَةً وَأَبْشِرِي بِحَمِيمٍ وَغَسَّاقٍ ‏.‏ وَآخَرَ مِنْ شَكْلِهِ أَزْوَاجٌ ‏.‏ فَلاَ يَزَالُ يُقَالُ لَهَا ذَلِكَ حَتَّى تَخْرُجَ ثُمَّ يُعْرَجُ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ فَلاَ يُفْتَحُ لَهَا فَيُقَالُ ‏:‏ مَنْ هَذَا فَيُقَالُ ‏:‏ فُلاَنٌ ‏.‏ فَيُقَالُ ‏:‏ لاَ مَرْحَبًا بِالنَّفْسِ الْخَبِيثَةِ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الْخَبِيثِ ارْجِعِي ذَمِيمَةً فَإِنَّهَا لاَ تُفْتَحُ لَكِ أَبْوَابُ السَّمَاءِ فَيُرْسَلُ بِهَا مِنَ السَّمَاءِ ثُمَّ تَصِيرُ إِلَى الْقَبْرِ ‏"

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৬২। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তির নিকটে (মৃত্যুর নিকটবর্তী সময়ে) ফিরিশতারা আগমন করে। যদি সে ব্যক্তি নেককার হয়, তা হলে তাঁরা বলেঃ হে পবিত্র আত্মা! বের হয়ে এসো। তুমি তো পবিত্র দেহে অবস্থান করছিলেন। তুমি সম্মানিত অবস্থায় বেরিয়ে এসো, আর তুমি আল্লাহর রহমত ও সুগন্ধির দ্বারা পরিতূষ্ট হও এবং তোমার রব তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট নন, (বরং অত্যন্ত দয়াবান ও অনুকম্পাশীল)। তাকে যখন এভাবে আহ্বান করা হবে, তখন তার রূহ বেরিয়ে আসবে। এরপর তার রূহ্ আকাশের দিকে উঠানো হবে। তার জন্য আকাশের দরজা খুলে দেওয়া হবে। এবং জিজ্ঞাসা করা হবেঃ এ ব্যক্তিকে ? তখন ফিরিশতারা বলবেঃ অমুক। তারপর বলা হবেঃ খোশ আমদেদ, পবিত্র আত্মার জন্য। দুনিয়াতে তুমি পবিত্র শরীরে অবস্থান করছিলে। তুমি প্রশংসিত স্থানে প্রবেশ করো, তুমি পরিতুষ্ট হও, আল্লাহর রহমত ও খুশবু তোমারই জন্যে এবং তোমার রব তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট নন। তাকে এরূপই বলা হবে। অবশেষে তার রূহ এমন আসমানে পৌঁছানো হবে, যেখানে আল্লাহ জাল্লাশানুহু রয়েছেন। আর সে লোকটি যদি গুনাহগার হয়, তখন ফিরিশতা তাকে বলেঃ ওহে পাপিষ্ট আত্মা, তুমি তো না পাক শরীরে ছিলে, নিন্দিত অবস্থায় বেরিয়ে আস এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর গরম পানি, পুঁজ-রক্তের এবং এমন ধরনের অন্য কোন বিষাক্ত বস্তুর। তাকে এরূপই বলা হবে, অবশেষে রূহ্‌ দেহ থেকে বেরিয়ে আসবে। অতঃপর তাকে আকাশে উঠানো হবে। কিন্তু তার জন্য আসমানের দ্বার খুলে দেওয়া হবে না। এবং জিজ্ঞাসা করা হবে। এ ব্যক্তি কে? তখন বলা হবেঃ অমুক ব্যক্তি এরপর বলা হবেঃ এই পাপিষ্ট আত্মার জন্য কোন খোশ আমদেদ নেই। (দুনিয়াতে) সে নাপাক শরীরে ছিল। তুমি নিন্দিত অবস্থায় ফিরে যাও। কারণ তোমার জন্য আসমানের দরজা খোলা হবে না। পরিশেষে তাকে আসমান থেকে নিক্ষেপ করা হবে এবং সে কবরে প্রত্যাবর্তিত হবে অর্থাৎ কবরে ফিরে আসবে যেখানে লাশ রয়েছে।

4263

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ ثَابِتٍ الْجَحْدَرِيُّ، وَعُمَرُ بْنُ شَبَّةَ بْنِ عَبِيدَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏:‏ ‏ "‏ إِذَا كَانَ أَجَلُ أَحَدِكُمْ بِأَرْضٍ أَوْثَبَتْهُ إِلَيْهَا الْحَاجَةُ فَإِذَا بَلَغَ أَقْصَى أَثَرِهِ قَبَضَهُ اللَّهُ سُبْحَانَهُ فَتَقُولُ الأَرْضُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏:‏ رَبِّ هَذَا مَا اسْتَوْدَعْتَنِي ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪২৬৩। আহমাদ ইবন সাবিত জাহদারীও উমার ইবন শারবা ইবন আবীদা (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন তোমাদের কারো কোন ভূ-খণ্ডে মৃত্যু নির্ধারিত হয়, তখন প্রয়োজন তাকে সেখানে যেতে বাধ্য করে। সে যখন তার শেষ প্রান্তে পৌঁছায়, তখন মহান আল্লাহ তার জান কবয করেন। আর কিয়ামতের দিন (সেখানকার) যমীন বলবেঃ হে আমার রব! এই তোমার আমানত, যা আমার কাছে রেখেছিলে।

4264

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ ‏"‏ ‏.‏ فَقِيلَ لَهُ ‏:‏ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَرَاهِيَةُ لِقَاءِ اللَّهِ فِي كَرَاهِيَةِ لِقَاءِ الْمَوْتِ فَكُلُّنَا يَكْرَهُ الْمَوْتَ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ لاَ إِنَّمَا ذَاكَ عِنْدَ مَوْتِهِ إِذَا بُشِّرَ بِرَحْمَةِ اللَّهِ وَمَغْفِرَتِهِ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ فَأَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَإِذَا بُشِّرَ بِعَذَابِ اللَّهِ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ وَكَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪২৬৪। ইয়াহইয়া ইবন খালফ আবু সালামা (রাহঃ)......আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করে, আল্লাহ তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভকে অপছন্দ করে, আল্লাহ ও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন। তখন তাকে জিজ্ঞাস করা হলোঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আল্লাহর মুলাকাত অপছন্দ করার মানে তো মৃত্যুকে অপছন্দ করা। আর আমরা সকলেই তো মৃত্যুকে অপছন্দ করি। (তাহলে আমরা কি সবাই মন্দ)? তিনি বললেনঃ তা নয়। বরং এটা তো মৃত্যুর সময়ের কথা। যখন কোন বান্দাকে আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভকে পছন্দ করে এবং আল্লাহ ও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যখন কোন বান্দাকে কঠির শাস্তির সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করে এবং আল্লাহও তার মুলাকাত অপছন্দ করেন।

4265

حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى اللَّيْثِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏ "‏ لاَ يَتَمَنَّى أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ لِضُرٍّ نَزَلَ بِهِ فَإِنْ كَانَ لاَ بُدَّ مُتَمَنِّيًا الْمَوْتَ فَلْيَقُلِ ‏:‏ اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪২৬৫। ইমরান ইব্‌ন মুসা (রাহঃ)......আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন তার প্রতি পতিত বালা মুসীবতের কারণে মৃত্যু কামনা না করে। অবশ্য কেউ যদি মৃত্যু কামনা করেই, তাহলে সে যেন বলেঃ “হে আল্লাহ! যতদিন পর্যন্ত জীবিত থাকা আমার জন্য কল্যাণকর, ততদিন আমাকে জীবিত রাখুন এবং আমাকে তখন মৃত্যু দিন, যখন আমার জন্য মৃত্যু কল্যাণকর হবে"।

কবরের অবস্থা ও মুসীবতের বর্ণনা

بَاب ذِكْرِ الْقَبْرِ وَالْبِلَى

4266

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏ "‏ لَيْسَ شَىْءٌ مِنَ الإِنْسَانِ إِلاَّ يَبْلَى إِلاَّ عَظْمًا وَاحِدًا وَهُوَ عَجْبُ الذَّنَبِ وَمِنْهُ يُرَكَّبُ الْخَلْقُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৬৬। আবু বকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মানব দেহের যাবতীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মাটির সাথে মিশে যাবে, কিন্তু একটি হাড় গলবে না। সেটা হচ্ছে মেরুদণ্ডের হাড়। এই হাড় থেকেই কিয়ামতের দিন সৃষ্টির শারীরিক অবকাঠামো তৈরী করা হবে।

4267

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَحِيرٍ، عَنْ هَانِئٍ، - مَوْلَى عُثْمَانَ - قَالَ ‏:‏ كَانَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ إِذَا وَقَفَ عَلَى قَبْرٍ يَبْكِي حَتَّى يَبُلَّ لِحْيَتَهُ فَقِيلَ لَهُ ‏:‏ تَذْكُرُ الْجَنَّةَ وَالنَّارَ وَلاَ تَبْكِي وَتَبْكِي مِنْ هَذَا قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ إِنَّ الْقَبْرَ أَوَّلُ مَنَازِلِ الآخِرَةِ فَإِنْ نَجَا مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَيْسَرُ مِنْهُ وَإِنْ لَمْ يَنْجُ مِنْهُ، فَمَا بَعْدَهُ أَشَدُّ مِنْهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏:‏ ‏"‏ مَا رَأَيْتُ مَنْظَرًا قَطُّ إِلاَّ وَالْقَبْرُ أَفْظَعُ مِنْهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪২৬৭। মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইসহাক (রাহঃ)... উসমান (রাযিঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম হানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উসমান ইব্‌ন আফফান (রাযিঃ) যখন কোন কবরের পাশে দাঁড়াতেন, তখন তিনি এমন কাঁদতেন তাঁর দাঁড়ি অশ্রুসিক্ত হয়ে যেতো। তখন তাঁকে বলা হলোঃ আপনি তো জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা করেন এবং আপনি রোদন করেন না। অথচ আপনি কবর দেখলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন, (এর কারণ কি? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয় কবর আখিরাতের প্রথম মনযিল। কেউ যদি এ থেকে মুক্তি পায়, তাহলে এর পরে যা আছে, তা এর চাইতে সহজ হবে। আর এখান থেকে সে যদি নাজাত না পায়, তাহলে এর পরে যা আছে, তা এর চাইতে আরও কঠিন হবে। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি কবরের চাইতে ভয়াবহতম কোন দৃশ্য কখনো দেখিনি।

4268

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏:‏ ‏ "‏ إِنَّ الْمَيِّتَ يَصِيرُ إِلَى الْقَبْرِ فَيُجْلَسُ الرَّجُلُ الصَّالِحُ فِي قَبْرِهِ غَيْرَ فَزِعٍ وَلاَ مَشْعُوفٍ ثُمَّ يُقَالُ لَهُ ‏:‏ فِيمَ كُنْتَ فَيَقُولُ ‏:‏ كُنْتُ فِي الإِسْلاَمِ ‏.‏ فَيُقَالُ لَهُ ‏:‏ مَا هَذَا الرَّجُلُ فَيَقُولُ ‏:‏ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ فَصَدَّقْنَاهُ ‏.‏ فَيُقَالُ لَهُ ‏:‏ هَلْ رَأَيْتَ اللَّهَ فَيَقُولُ ‏:‏ مَا يَنْبَغِي لأَحَدٍ أَنْ يَرَى اللَّهَ ‏.‏ فَيُفْرَجُ لَهُ فُرْجَةٌ قِبَلَ النَّارِ فَيَنْظُرُ إِلَيْهَا يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا فَيُقَالُ لَهُ ‏:‏ انْظُرْ إِلَى مَا وَقَاكَ اللَّهُ ‏.‏ ثُمَّ يُفْرَجُ لَهُ فُرْجَةٌ قِبَلَ الْجَنَّةِ فَيَنْظُرُ إِلَى زَهْرَتِهَا وَمَا فِيهَا فَيُقَالُ لَهُ ‏:‏ هَذَا مَقْعَدُكَ ‏.‏ وَيُقَالُ لَهُ ‏:‏ عَلَى الْيَقِينِ كُنْتَ وَعَلَيْهِ مُتَّ وَعَلَيْهِ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ ‏.‏ وَيُجْلَسُ الرَّجُلُ السُّوءُ فِي قَبْرِهِ فَزِعًا مَشْعُوفًا فَيُقَالُ لَهُ ‏:‏ فِيمَ كُنْتَ فَيَقُولُ ‏:‏ لاَ أَدْرِي ‏.‏ فَيُقَالُ لَهُ ‏:‏ مَا هَذَا الرَّجُلُ فَيَقُولُ ‏:‏ سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ قَوْلاً فَقُلْتُهُ ‏.‏ فَيُفْرَجُ لَهُ قِبَلَ الْجَنَّةِ فَيَنْظُرُ إِلَى زَهْرَتِهَا وَمَا فِيهَا فَيُقَالُ لَهُ ‏:‏ انْظُرْ إِلَى مَا صَرَفَ اللَّهُ عَنْكَ ‏.‏ ثُمَّ يُفْرَجُ لَهُ فُرْجَةٌ قِبَلَ النَّارِ فَيَنْظُرُ إِلَيْهَا يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا فَيُقَالُ لَهُ ‏:‏ هَذَا مَقْعَدُكَ عَلَى الشَّكِّ كُنْتَ وَعَلَيْهِ مُتَّ وَعَلَيْهِ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৬৮। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখা হয়, তখন নেক লোক হলে তাকে এমনভাবে বসানো হয়, যাতে সে ভয়-ভীতি শূন্য হয় এবং পেরেশানীমুক্ত হয়। অতঃপর তাকে প্রশ্ন করা হয়ঃ তুমি কিসের উপর কায়েম ছিলে? তখন সে বলবেঃ আমি ইসলামের উপরে কায়েম ছিলাম। অতঃপর তাকে প্রশ্ন করা হবে এই ব্যক্তি কে? তখন সে বলবেঃ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণাদি সহ আমাদের কাছে এসেছিলেন, তখন আমরা তাঁকে সত্য নবী বলে স্বীকার করেছিলাম। অতঃপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হবেঃ তুমি কি আল্লাহকে দেখেছিলে? তখন সে বলবেঃ আল্লাহকে দেখা কারোর পক্ষে সম্ভব নয়। এরপর তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি সুড়ঙ্গ পথ খুলে দেয়া হবে। তখন সে সেদিকে (জাহান্নামের দিকে) তাকিয়ে দেখতে পাবে, তার এক অংশ অপরাংশকে ভক্ষণ করছে। অনন্তর তাকে বলা হবেঃ দেখে নাও, যা থেকে আল্লাহ তা'আলা তোমাকে রক্ষা করেছেন। অতঃপর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি সুড়ংগ পথ খুলে দেওয়া হবে। তখন সে তথাকার সবুজ বন-বীথিকা এবং যা তার মধ্যে আছে, তা দেখতে পাবে। তখন তাকে বলা হবেঃ এই হলো তোমার আবাসস্থল। আর তাকে আরও বলা হবেঃ তুমি ঈমানের পরে দৃঢ়ভাবে অটল ছিলো, এর উপরই মারা গেছ, এবং এর উপরই হাশরের ময়দানে উত্থিত হবে- ইনশাআল্লাহ তা'আলা । পক্ষান্তরে, মন্দ প্রকৃতির লোককে তার কবরে পেরেশানী ও অস্থির অবস্থায় বসানো হবে। তখন তাকে প্রশ্ন করা হবেঃ তুমি কিসে (কোন দ্বীনে) ছিলে ? সে বলবেঃ আমি তো জানি না। এরপর তাকে প্রশ্ন করা হবেঃ এ ব্যক্তিকে? সে বলবেঃ আমি লোকদের একটা কথা বলাবলি করতে শুনেছি, আমিও তাই বলতাম। এরপর তার জন্য জান্নাতের সবুজ শ্যামলীমা বন-বীথিকা এবং তার ভিতরে যা আছে তা দেখতে পাবে। তাকে বলা হবেঃ তা দেখে নাও, যা আল্লাহ তা'আলা তোমার থেকে ফিরিয়ে নিয়েছিল। অতঃপর তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটা দরজা খুলে দেওয়া হবে। তখন সে তার দিকে (জাহান্নামের দিকে) তাকাবে, যার একাংশ অপরাংশকে ভক্ষণ করছে। তারপর তাকে বলা হবেঃ এই হলো তোমার ঠিকানা। তুমি (দুনিয়াতে) সন্দেহের উপর ছিলে এবং এর উপরেই মারা গেছ এবং ইনশাআল্লাহ এই শংশয়ের উপরই তোমাকে উঠানো হবে।

4269

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏:‏ ‏"‏ ‏(يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ )‏ قَالَ ‏:‏ نَزَلَتْ فِي عَذَابِ الْقَبْرِ يُقَالُ لَهُ ‏:‏ مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ ‏:‏ رَبِّيَ اللَّهُ وَنَبِيِّي مُحَمَّدٌ فَذَلِكَ قَوْلُهُ ‏(يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ)‏ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৪২৬৯। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার (রাহঃ)...... বারা ইবন আযিব (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃيُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা ঈমানদার বান্দাদের দৃঢ় বাক্যের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখবেন। (রাবী বলেন); এই আয়াত কবর-আযাব সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। তাকে (কবরবাসীকে) প্রশ্ন করা হবেঃ তোমার রব কে? সে উত্তর দিবেঃ আমার রব আল্লাহ এবং আমার নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) । এই হচ্ছে তাঁর (আল্লাহর) বাণীঃ يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ। আল্লাহ তা'আলা ঈমানদার বানদাদের দুনিয়া ও আখিরাত উভয়স্থানে অনঢ় বাক্যের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখবেন"-এর তাৎপর্য। (১৪ঃ ২৭)।

4270

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏:‏ ‏ "‏ إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمْ عُرِضَ عَلَى مَقْعَدِهِ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ إِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ يُقَالُ هَذَا مَقْعَدُكَ حَتَّى تُبْعَثَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪২৭০। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... ইবন উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন তোমাদের কেউ মারা যায়, তখন তার সামনে সকাল-সন্ধ্যায় তার ঠিকানা পেশ করা হয়। যদি সে জান্নাতী হয়, তাহলে জান্নাতীদের অবস্থা তাকে দেখানো হবে। আর যদি সে জাহান্নামী হয়, তাহলে তাকে জাহান্নামীদের অবস্থা দেখানো হবে। তাকে বলা হবেঃ আর যদি সে জাহান্নামী হয়, তাহলে তাকে জাহান্নামীদের অবস্থা দেখানো হবে। তাকে বলা হবেঃ এটাই তোমার আবাসস্থল। অবশেষে এখান থেকেই কিয়ামতের দিকে তোমাকে উঠানো হবে।

4271

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، أَنْبَأَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبٍ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَاهُ كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏:‏ ‏ "‏ إِنَّمَا نَسَمَةُ الْمُؤْمِنِ طَائِرٌ يَعْلُقُ فِي شَجَرِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى جَسَدِهِ يَوْمَ يُبْعَثُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪২৭১। সুওয়ায়দ ইবন সাঈদ (রাহঃ)...আব্দুর রহমান ইবন কা'ব আনসারী (রাযিঃ)-এর পিতার সূত্রে বর্ণিত কা'ব আনসারী (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মু'মিনের রূহ একটি পাখির আকৃতিতে জান্নাতের বৃক্ষরাজির মাঝে আনন্দে বিচরণ করবে। অবশেষে কিয়ামতের দিন তা তার শরীরে ফিরে আসবে।

4272

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ حَفْصٍ الأُبُلِّيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏:‏ ‏ "‏ إِذَا أُدْخِلَ الْمَيِّتُ الْقَبْرَ مُثِّلَتِ الشَّمْسُ لَهُ عِنْدَ غُرُوبِهَا فَيَجْلِسُ يَمْسَحُ عَيْنَيْهِ وَيَقُولُ ‏:‏ دَعُونِي أُصَلِّي ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪২৭২। ইসমাঈল ইব্‌ন হাফস উবুলী (রাহঃ)..... আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখা হয়, তখন সে সূর্যকে অস্তমিত দেখতে পায়। সে বলে তার চক্ষুদ্বয় মুছে এবং বলেঃ আমাকে ছেড়ে দাও, আমি সালাত আদায় করবো, (অর্থাৎ দুনিয়ার অভ্যাস অনুসারে সে সালাত আদায়ের জন্য প্রস্তুতি নিবে)।

পুনরুত্থানের আলোচনা

بَاب ذِكْرِ الْبَعْثِ

4273

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ صَاحِبَىِ الصُّورِ بِأَيْدِيهِمَا - أَوْ فِي أَيْدِيهِمَا - قَرْنَانِ يُلاَحِظَانِ النَّظَرَ مَتَى يُؤْمَرَانِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪২৭৩। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ সিংগাধারী দু'জন ফিরিশতা তাদের দু'হাতে দু'টো শিংগা নিয়ে অপেক্ষা করছেন যে, কখন তাদের (সিংগা ফুৎকারের) নির্দেশ দেওয়া হবে।

4274

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْيَهُودِ بِسُوقِ الْمَدِينَةِ وَالَّذِي اصْطَفَى مُوسَى عَلَى الْبَشَرِ ‏.‏ فَرَفَعَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يَدَهُ فَلَطَمَهُ قَالَ تَقُولُ هَذَا وَفِينَا رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏"‏ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ‏(وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الأَرْضِ إِلاَّ مَنْ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنْظُرُونَ)‏ فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ رَفَعَ رَأْسَهُ فَإِذَا أَنَا بِمُوسَى آخِذٌ بِقَائِمَةٍ مِنْ قَوَائِمِ الْعَرْشِ فَلاَ أَدْرِي أَرَفَعَ رَأْسَهُ قَبْلِي أَوْ كَانَ مِمَّنِ اسْتَثْنَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ‏.‏ وَمَنْ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى فَقَدْ كَذَبَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৭৪। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ).......আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মদীনার বাজারে জনৈক ইয়াহুদী বলেছিলঃ সেই মহান সত্তার শপথ! যিনি মুসা (আ) সমগ্র মানব জাতির উপরে মর্যাদা দান করেছেন। এ কথা শুনে একজন আনসারী তার হাতে উঠিয়ে তাকে এক ছড় দিল এবং বললোঃ তুমি এরূপ বলছো? অথচ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের মাঝে রয়েছেন? তখন ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর নিকট পেশ করা হলো। তিনি বললেনঃ মহান আল্লাহ বলেছেনঃ

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الأَرْضِ إِلاَّ مَنْ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنْظُرُونَ

“এবং সিংগা ফুঁকার হবে। ফলে যাদের আল্লাহ চান তারা ব্যতীত আসমানের ও যমীনের সকলে জ্ঞানহারা হয়ে পড়বে। অতঃপর আবার সিংগায় ফুৎকার দেওয়া হবে, তখন তারা দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে।" (৩৯ঃ ৬৮)।
তিনি (ﷺ) বলেন)ঃ এরপর আমিই হব প্রথম ব্যক্তি, যে তার মাথা উঠাবে। তখন আমি মুসা (আ)-কে আরশের একটি পায়া ধরে রাখা অবস্থায় দেখতে পাব। আমি জানতে পারব না, তিনি আমার আগে তার মাথা উঠিয়েছেন, অথবা তিনি সে সবলোকদের একজন হবেন কিনা, যাদের আল্লাহ তা'আলা আলাদাভাবে রক্ষা করেছেন। আর যে ব্যক্তি বলে যে, আমি ইউনুস ইব্‌ন মাত্তা (আ)-এর চাইতে উত্তম, সে মিথ্যা বলল।
4275

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مِقْسَمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ ‏ "‏ يَأْخُذُ الْجَبَّارُ سَمَوَاتِهِ وَأَرَضِيهِ بِيَدِهِ - وَقَبَضَ يَدَهُ فَجَعَلَ يَقْبِضُهَا وَيَبْسُطُهَا - ثُمَّ يَقُولُ أَنَا الْجَبَّارُ أَنَا الْمَلِكُ أَيْنَ الْجَبَّارُونَ أَيْنَ الْمُتَكَبِّرُونَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَيَتَمَايَلُ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ حَتَّى نَظَرْتُ إِلَى الْمِنْبَرِ يَتَحَرَّكُ مِنْ أَسْفَلِ شَىْءٍ مِنْهُ حَتَّى إِنِّي لأَقُولُ أَسَاقِطٌ هُوَ بِرَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪২৭৫। হিশাম ইব্‌ন আম্মার ও মুহাম্মাদ ইবন সাব্বাহ (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে মিম্বরের উপরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছিঃ মহান আল্লাহ তাঁর আসমান ও যমীনকে আপন হাতের মুঠোয় পুরে নিবেন এবং নিজ হাতে তাকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি (যমীন ও আসমান) সংকুচিত করবেন এবং ছড়িয়ে দিবেন। অতঃপর ঘোষণা করবেনঃ আমি মহাপ্রতাপশালী, নিরংকুশ প্রভুত্বের অধিকারী, দন্তকারী রাজা বাদশাহরা কোথায়? অহংকারীরা কোথায়? আব্দুল্লাহ ইবন উমরা (রাযিঃ) বলেনঃ এই কথা বলতে বলতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ডানে বামে ঝুঁকছিলেন। এমনকি আমি দেখতে পেলাম মিম্বরের নীচের কিছু অংশ দুলছিল। অবশেষে আমি বলছিঃ মিম্বর কি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে নীচে ফেলে দিবে?

4276

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ حَاتِمِ بْنِ أَبِي صَغِيرَةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ ‏"‏ حُفَاةً عُرَاةً ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ وَالنِّسَاءُ قَالَ ‏"‏ وَالنِّسَاءُ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا يُسْتَحْيَى قَالَ ‏"‏ يَا عَائِشَةُ الأَمْرُ أَشَدُّ مِنْ أَنْ يَنْظُرَ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪২৭৬। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন; একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! মানুষকে কিয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে কিভাবে একত্রিত করা হবে? তিনি বললেনঃ খালি পায়ে, উলঙ্গ শরীরে। আমি বললামঃ মহিলারাও (কি উলঙ্গ হয়ে উঠবে)? তিনি বললেনঃ নারীরাও । আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! এতে কি লজ্জাবোধ হবে না? তিনি বললেনঃ হে আয়েশা! তখনকার অবস্থা এমন কঠিন হবে যে, কেউ কারুর প্রতি তাকানোর অবকাশ পাবে না। (নিজের চিন্তায় বিভোর থাকবে- দৃষ্টির সুযোগ কোথায়?)।

4277

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَلِيِّ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يُعْرَضُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثَلاَثَ عَرَضَاتٍ فَأَمَّا عَرْضَتَانِ فَجِدَالٌ وَمَعَاذِيرُ وَأَمَّا الثَّالِثَةُ فَعِنْدَ ذَلِكَ تَطِيرُ الصُّحُفُ فِي الأَيْدِي فَآخِذٌ بِيَمِينِهِ وَآخِذٌ بِشِمَالِهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৪২৭৭। আবু বাকর (রাহঃ)...... আবু মুসা আশ'আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন মানুষকে তিনবার হাযির করা হবে। প্রথম দুইবারে ঝগড়া-বিবাদ ও ওযর-আপত্তি পেশ করা হবে। (কেউ বলবে, আমার কাছে কোন পয়গম্বর আসেন নি, কেউ বলবে, এই দিনের হাকীকত আমার কাছে স্পষ্ট ছিল না, কেউ বা পাপরাশির স্বীকারোক্তি পূর্বক ওযরখাহি করবে)। অবশেষে তৃতীয় দফায় আমলনামা উড়ে এসে হাতে পৌঁছবে। কেউ তা ডান হাতে গ্রহণ করবে, আর কেউ বাম হাতে নিবে।

4278

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، وَأَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏(يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ)‏ قَالَ ‏"‏ يَقُومُ أَحَدُهُمْ فِي رَشْحِهِ إِلَى أَنْصَافِ أُذُنَيْهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪২৭৮। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... ইবন উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর বাণীঃ يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ যেদিন মানুষ সারা জাহানের রবের সামনে দাঁড়াবে (৮৩ঃ ৬ ); এ আয়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেছেনঃ (সেদিন) তাদের একজন তার দু'কান বরাবর, নিজের শরীর নিঃসৃত ঘামের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকবে।

4279

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ دَاوُدَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَنْ قَوْلِهِ ‏(يَوْمَ تُبَدَّلُ الأَرْضُ غَيْرَ الأَرْضِ وَالسَّمَوَاتُ ‏)‏ فَأَيْنَ تَكُونُ النَّاسُ يَوْمَئِذٍ قَالَ ‏"‏ عَلَى الصِّرَاطِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪২৭৯। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ) ….. আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে এই আয়াতের মর্মবাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম-

يَوْمَ تُبَدَّلُ الأَرْضُ غَيْرَ الأَرْضِ وَالسَّمَوَاتُ
“যেদিন এ পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে এবং আকাশমণ্ডলীও, "(১৪ঃ ৪৮); সেদিন মানুষেরা কোথায় অবস্থান করবে?" তিনি বললেনঃ পুলসিরাতের উপরে থাকবে।
4280

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَبْدٍ الْعُتْوَارِيِّ، أَحَدِ بَنِي لَيْثٍ - قَالَ - وَكَانَ فِي حَجْرِ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ سَمِعْتُهُ - يَعْنِي أَبَا سَعِيدٍ، - يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ يُوضَعُ الصِّرَاطُ بَيْنَ ظَهْرَانَىْ جَهَنَّمَ عَلَى حَسَكٍ كَحَسَكِ السَّعْدَانِ ثُمَّ يَسْتَجِيزُ النَّاسُ فَنَاجٍ مُسَلَّمٌ وَمَخْدُوجٌ بِهِ ثُمَّ نَاجٍ وَمُحْتَبَسٌ بِهِ وَمَنْكُوسٌ فِيهَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪২৮০। আবু বাকর (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ পুলসিরাত জাহান্নামের দুই তীরে সংশ্লিষ্ট করে রাখা হবে (যেমন নদীর পেতু দুই তীর ঘেঁষে হয়ে থাকে)। তার উপরে থাকবে সা'দানের কাঁটার মত কাঁটাসমূহ। অতঃপর লোকেরা এর উপর দিয়ে পারাপার শুরু করবে। তখন কতক নাজাত পাবে নিরাপদে, আর কতক কাঁটার আঁচড়সহ। আর কতক কাঁটায় আটকে থাকার পর নাজাত পাবে এবং কতক মুখ থুবড়ে জাহান্নামের তলদেশে পতিত হবে।

4281

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أُمِّ مُبَشِّرٍ، عَنْ حَفْصَةَ، قَالَتْ قَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِنِّي لأَرْجُو أَلاَّ يَدْخُلَ النَّارَ أَحَدٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا وَالْحُدَيْبِيَةَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَيْسَ قَدْ قَالَ اللَّهُ ‏(وَإِنْ مِنْكُمْ إِلاَّ وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَقْضِيًّا)‏ قَالَ ‏"‏ أَلَمْ تَسْمَعِيهِ يَقُولُ ‏(ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوْا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا)‏ ‏.‏

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

৪২৮১। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)......হাফ্সা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি অবশ্যই আশা করছি যে, আল্লাহ চাহেত যারা বদর যুদ্ধে ও হুদায়বিয়া প্রান্তরে হাযির হয়েছিলেন তাদের কেউ জাহান্নামে যাবে না। রাবী (হাফসা) বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা'আলা কি একথা বলেননিঃ وَإِنْ مِنْكُمْ إِلاَّ وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَقْضِيًّا তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে, উহা (জাহান্নাম) অতিক্রম করবে না, এ তোমার রবের অনিবার্য সিদ্ধান্ত (১৯ঃ ৭১। তিনি বললেনঃ (হে হাফসা)! তুমি কি শোননি যে, মহান আল্লাহ বলেছেনঃ

ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوْا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا

এরপর আমি মুত্তাকীদের নাজাত দেব এবং যালিমদের সেখানে নতজানু অবস্থায় রেখে দেব। (১৯ঃ ৭২)।

উম্মাতে মুহাম্মাদীর গুণাবলী

بَاب صِفَةِ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ ﷺ

4282

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ تَرِدُونَ عَلَىَّ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنَ الْوُضُوءِ سِيمَاءُ أُمَّتِي لَيْسَ لأَحَدٍ غَيْرِهَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৮২। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন আমার কাছে অযূর বদৌলতে শুভ্রকপাল, উত্তম চেহারা বিশিষ্ট লোকেরা আসবে। এটা আমা উম্মাতের বিশেষ নিদর্শন হবে। অন্য কোন উম্মাতের জন্য এমনটি হবে না।

4283

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي قُبَّةٍ فَقَالَ ‏"‏ أَتَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا رُبُعَ أَهْلِ الْجَنَّةِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا بَلَى ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَتَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا ثُلُثَ أَهْلِ الْجَنَّةِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأَرْجُو أَنْ تَكُونُوا نِصْفَ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَذَلِكَ أَنَّ الْجَنَّةَ لاَ يَدْخُلُهَا إِلاَّ نَفْسٌ مُسْلِمَةٌ وَمَا أَنْتُمْ فِي أَهْلِ الشِّرْكِ إِلاَّ كَالشَّعَرَةِ الْبَيْضَاءِ فِي جِلْدِ الثَّوْرِ الأَسْوَدِ أَوْ كَالشَّعَرَةِ السَّوْدَاءِ فِي جِلْدِ الثَّوْرِ الأَحْمَرِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪২৮৩। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে এক ডেরায় বসা ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, জান্নাতের এক চতুর্থাংশ হবে তোমরাই? আমরা বললামঃ হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বললেনঃ তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, জান্নাতের এক তৃতীয়াংশ হবে তোমরা? আমরা বললামঃ জি হ্যাঁ। এরপর তিনি বললেনঃ সেই মহান সত্তার শপথ যাঁর নিয়ন্ত্রণে আমার প্রাণ, আমি আশা করি যে, জান্নাতের অর্ধেক হবে তোমরা। তার কারণ হচ্ছে এই যে, জান্নাতে শুধুমাত্র মুসলিম (তাওহীদবাদী-আত্মসমর্পণকারী) আত্মাই প্রবেশ করবে। আর মুশরিকদের তুলনায় তোমাদের পরিসংখ্যান হচ্ছে একটা কালো বর্ণের বলদের দেহে একটা সাদা পশমের মত, অথবা একটি লাল বলদের (গরুর) গায়ে একটা কালো পশমের মত।

4284

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ يَجِيءُ النَّبِيُّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَعَهُ الرَّجُلُ وَيَجِيءُ النَّبِيُّ وَمَعَهُ الرَّجُلاَنِ وَيَجِيءُ النَّبِيُّ وَمَعَهُ الثَّلاَثَةُ وَأَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ وَأَقَلُّ فَيُقَالُ لَهُ هَلْ بَلَّغْتَ قَوْمَكَ فَيَقُولُ نَعَمْ ‏.‏ فَيُدْعَى قَوْمُهُ فَيُقَالُ هَلَ بَلَّغَكُمْ فَيَقُولُونَ لاَ ‏.‏ فَيُقَالُ مَنْ شَهِدَ لَكَ فَيَقُولُ مُحَمَّدٌ وَأُمَّتُهُ ‏.‏ فَتُدْعَى أُمَّةُ مُحَمَّدٍ فَيُقَالُ هَلْ بَلَّغَ هَذَا فَيَقُولُونَ نَعَمْ ‏.‏ فَيَقُولُ وَمَا عِلْمُكُمْ بِذَلِكَ فَيَقُولُونَ أَخْبَرَنَا نَبِيُّنَا بِذَلِكَ أَنَّ الرُّسُلَ قَدْ بَلَّغُوا فَصَدَّقْنَاهُ ‏.‏ قَالَ فَذَلِكُمْ قَوْلُهُ تَعَالَى ‏(وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا)‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪২৮৪। আবু কুরায়ব ও আহমাদ ইবন সিনান (রাহঃ)...... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমান বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন একজন নবী (আ) আসবেন, যাঁর সঙ্গে থাকবে দুইজন লোক। আরেকজন নবী আসবেন, যাঁর সঙ্গে থাকবে তিন ব্যক্তি। (কোন কোন নবীর সাথে) এর চাইতে বেশী কিংবা এর চাইতে কম লোক থাকবে। তখন তাঁকে বলা হবেঃ তুমি কি তোমার কাওমের কাছে আল্লাহর পয়গাম পৌঁছায়ে ছিলে? তিনি বলবেনঃ হ্যাঁ, অতঃপর তার কাওমকে ডাকা হবে। এবং জিজ্ঞাসা করা হবেঃ তোমাদের কাছে ইনি কি আল্লাহর পয়গাম পৌছিয়েছেন? তখন তারা বলবেঃ না। এরপর তাঁকে (সে নবীকে) বলা হবেঃ তোমার সাক্ষী কারা ? তখন তিনি বললেনঃ মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তাঁর উম্মাত। অতঃপর মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর উম্মাতকে ডাকা হবে এবং জিজ্ঞেস করা হবেঃ এই নবী কি (তাঁর উম্মাতের কাছে আল্লাহ্ পয়গাম) পৌছায়েছেন? তখন তারা বলবেঃ হ্যাঁ। আবার জিজ্ঞেস করা হবেঃ তোমরা তা জানলে কি ভাবে? তারা বলবেঃ আমাদের নবী (ﷺ) আমাদের খবর দিয়েছেন যে, নিশ্চয় রাসূলগণ অবশ্যই আল্লাহর পয়গাম তাঁদের জাতির কাছে পৌছিয়েছেন। আমরা তাঁর বাণীর সত্যতা স্বীকার করেছি। রাবী বলেনঃ এই কথারই প্রতিধ্বনি রয়েছে তোমাদের জন্য আল্লাহর বাণীঃ “এভাবে আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী জাতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি, যাতে তোমরা মানব জাতির জন্য সাক্ষী স্বরূপ হতে পার এবং রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হবেন"। (২ঃ ১৪৩)।

4285

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُصْعَبٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ رِفَاعَةَ الْجُهَنِيِّ، قَالَ صَدَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَ ‏ "‏ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ مَا مِنْ عَبْدٍ يُؤْمِنُ ثُمَّ يُسَدَّدُ إِلاَّ سُلِكَ بِهِ فِي الْجَنَّةِ وَأَرْجُو أَلاَّ يَدْخُلُوهَا حَتَّى تَبَوَّءُوا أَنْتُمْ وَمَنْ صَلَحَ مِنْ ذَرَارِيِّكُمْ مَسَاكِنَ فِي الْجَنَّةِ وَلَقَدْ وَعَدَنِي رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُدْخِلَ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعِينَ أَلْفًا بِغَيْرِ حِسَابٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: রিফাআ ইবনে ইরাবা জুহানী (রাঃ)

৪২৮৫। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ) ......... রিফা'আ জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা (কোন সফর থেকে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ফিরে এলাম। তখন তিনি বললেনঃ মহান সত্তার শপথ। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ। এমন কোন বান্দা নেই যে ঈমান আনার পর তার উপরে দৃঢ় থাকবে অথচ জান্নাতের দিকে পরিচালিত হবে না। আর আমি আশা করি যে, যতক্ষণ না তোমার এবং তোমাদের সন্তানেরা জান্নাতে নিজ নিজ ঠিকানা বানিয়ে নিবে, ততক্ষণে অন্যান্য লোকেরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর আমার মহান রব আমার সঙ্গে ওয়াদা করেছেন যে, তিনি বিনা হিসাবে আমার উম্মাতের সত্তর হাজার লোক জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

4286

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ الأَلْهَانِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ الْبَاهِلِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ وَعَدَنِي رَبِّي سُبْحَانَهُ أَنْ يُدْخِلَ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعِينَ أَلْفًا لاَ حِسَابَ عَلَيْهِمْ وَلاَ عَذَابَ مَعَ كُلِّ أَلْفٍ سَبْعُونَ أَلْفًا وَثَلاَثُ حَثَيَاتٍ مِنْ حَثَيَاتِ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

৪২৮৬। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... আবু উমামা বাহিলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছিঃ আমার মহান রব আমার সঙ্গে ওয়াদা করেছেন যে, তিনি আমার উম্মাতের সত্তর হাজার লোককে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তাদের কোন হিসাব হবে না এবং তাদের উপর কোন আযাবও পতিত হবে না। প্রতি হাজারের সাথে থাকবে সত্তর হাজার করে। আর আমার মহান রবের মুষ্টি হতে তিনটি মুষ্টিও থাকবে। আর রবের মুষ্টির অনুমাণ তিনিই করতে পারেন। কোন সৃষ্টির পক্ষে তা অনুমাণ করা সম্ভব নয়।

4287

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ النَّحَّاسِ الرَّمْلِيُّ، وَأَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّقِّيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنِ ابْنِ شَوْذَبٍ، عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ نُكْمِلُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ سَبْعِينَ أُمَّةً نَحْنُ آخِرُهَا وَخَيْرُهَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪২৮৭। ঈসা ইব্‌ন মুহাম্মাদ ইব্‌ন নাহহাস রামলীও আইউব ইবন মুহাম্মাদ রাক্কী (রাহঃ)...... বাহায ইবন হাকীম-এর দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন সত্তরটি উম্মাত (দল) পরিপূর্ণ হবে। তন্মধ্যে আমরাই হবো সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ।

4288

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ خِدَاشٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ إِنَّكُمْ وَفَّيْتُمْ سَبْعِينَ أُمَّةً أَنْتُمْ خَيْرُهَا وَأَكْرَمُهَا عَلَى اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪২৮৮। মুহাম্মাদ ইব্‌ন খালিদ ইব্‌ন খিদাশ (রাহঃ)...... বাহায ইবন হাকীম (রাযিঃ)-এর দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা সত্তরতম উম্মাত (দল) পরিপূর্ণ করেছো। তোমরা সর্বাপেক্ষা উত্তম এবং আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা অধিক সম্মানিত।

4289

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ الْجَوْهَرِيُّ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ حَفْصٍ الأَصْبَهَانِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ أَهْلُ الْجَنَّةِ عِشْرُونَ وَمِائَةُ صَفٍّ ثَمَانُونَ مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ وَأَرْبَعُونَ مِنْ سَائِرِ الأُمَمِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

৪২৮৯। আব্দুল্লাহ ইবন ইসহাক জাওহারী (রাহঃ)....বুরায়দাহ্ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জান্নাতীদের সারির সংখ্যা হবে একশত বিশটি। যার আশিটি হবে এই উম্মাতের এবং অবশিষ্ট চল্লিশটি হবে অন্যান্য উম্মাতের।

4290

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ إِيَاسٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ نَحْنُ آخِرُ الأُمَمِ وَأَوَّلُ مَنْ يُحَاسَبُ يُقَالُ أَيْنَ الأُمَّةُ الأُمِّيَّةُ وَنَبِيُّهَا فَنَحْنُ الآخِرُونَ الأَوَّلُونَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪২৯০। মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)...... ইব্‌ন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমরা সর্বশেষ উম্মাত, যাদের হিসাব হবে সর্বাগ্রে। এরূপ ঘোষণা দেয়া হবেঃ উম্মী (নিরক্ষর) নবীর উম্মাত কোথায় এবং তাঁদের নবী (ﷺ) কোথায়? সুতরাং আমরা সর্বশেষ উম্মাত (দুনিয়াতে আবির্ভাবের প্রেক্ষাপটে) এবং অগ্রবর্তী উম্মাত (জান্নাতে দাখিল হওয়ার প্রেক্ষিতে)।

4291

حَدَّثَنَا جُبَارَةُ بْنُ الْمُغَلِّسِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ أَبِي الْمُسَاوِرِ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِذَا جَمَعَ اللَّهُ الْخَلاَئِقَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أُذِنَ لأُمَّةِ مُحَمَّدٍ بِالسُّجُودِ فَيَسْجُدُونَ لَهُ طَوِيلاً ثُمَّ يُقَالُ ارْفَعُوا رُءُوسَكُمْ قَدْ جَعَلْنَا عِدَّتَكُمْ فِدَاءَكُمْ مِنَ النَّارِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪২৯১। জুবারা ইবন মুগাল্লিস (রাহঃ)..... আবু বুরদাহ (রাযিঃ) এর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ কিয়ামতের দিন যখন সমগ্র সৃষ্টিকে একত্রিত করবেন, তখন উম্মাতে মুহাম্মাদীকে সিজ্দা করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তারা দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁকে সিজ্দারত থাকবে। অতঃপর ঘোষণা দেওয়া হবেঃ তোমরা তোমাদের মাথা উঠাও। আমি তোমাদের সংখ্যা অনুপাতে জাহান্নামের ফেদিয়া করে দিয়েছি।

4292

حَدَّثَنَا جُبَارَةُ بْنُ الْمُغَلِّسِ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ هَذِهِ أُمَّةٌ مَرْحُومَةٌ عَذَابُهَا بِأَيْدِيهَا فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ دُفِعَ إِلَى كُلِّ رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ رَجُلٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَيُقَالُ هَذَا فِدَاؤُكَ مِنَ النَّارِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪২৯২। জুবারা ইব্‌ন মুগাল্লিস (রাহঃ)....... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এই উম্মাত হচ্ছে মারহুমাহ অর্থাৎ রহমতপ্রাপ্ত। এদের শাস্তি হবে এদের হাতেই অর্থাৎ এরা পরস্পরে কতল ও মারামারি হানাহানি করবে। আর কিয়ামতের দিন প্রত্যেক মুসলমানকে একজন করে মুশরিক সোপর্দ করা হবে এবং বলা হবে, জাতানাম থেকে বাঁচার জন্য এ হলো তোমাদের ফেদিয়া।[১]

[১] একের জন্য অন্যকে শাস্তি দেওয়ার বিধান নেই। তবে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যই আল্লাহ তা'আলা দু'টো পৃথক আবাস স্থল তৈরী করে রেখেছেন – একটি জান্নাতে অপরটি জাহান্নামে। কাফির, মুশরিকরা চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামের অধিবাসী হবে। তাদের জান্নাতের আবাসস্থলগুলো ওয়ারিস হিসাবে মুসলমানরা পেয়ে যাবেন। একেই ফেদিয়া বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন কুরআনুল করীমে ইরশাদ হচ্ছেঃ- أُولَئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ
“এরাই হবে তাদের ওয়ারিস যারা জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হবে অর্থাৎ ঈমানদারগণ।

কিয়ামতের দিন আল্লাহর রহমত লাভের প্রত্যাশা

بَاب مَا يُرْجَى مِنْ رَحْمَةِ اللهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

4293

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ لِلَّهِ مِائَةَ رَحْمَةٍ قَسَمَ مِنْهَا رَحْمَةً بَيْنَ جَمِيعِ الْخَلاَئِقِ فَبِهَا يَتَرَاحَمُونَ وَبِهَا يَتَعَاطَفُونَ وَبِهَا تَعْطِفُ الْوَحْشُ عَلَى أَوْلاَدِهَا وَأَخَّرَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ رَحْمَةً يَرْحَمُ بِهَا عِبَادَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৯৩। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)......আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার একশত রহমত রয়েছে। তন্মধ্যে তিনি একটি রহমত সারা সৃষ্টির মাঝে বন্টন করে দিয়েছেন একটি রহমতের বদৌলতে তারা এক অপরকে ভালবাসে, পরস্পরে সৌহার্দ্রভাব পোষণ করে, এমনকি বন্য জীবজন্তুও তার বাচ্চাদের আদর সোহাগ করে। অবশিষ্ট নিরানব্বইটি রহমত আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তাঁর বান্দাদের জন্য রেখে দিয়েছেন। তিনি তা দিয়ে তার বান্দাদের প্রতি কিয়ামতের দিন রহম করবেন।

4294

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ خَلَقَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ مِائَةَ رَحْمَةٍ فَجَعَلَ فِي الأَرْضِ مِنْهَا رَحْمَةً فَبِهَا تَعْطِفُ الْوَالِدَةُ عَلَى وَلَدِهَا وَالْبَهَائِمُ بَعْضُهَا عَلَى بَعْضٍ وَالطَّيْرُ وَأَخَّرَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةٍ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ أَكْمَلَهَا اللَّهُ بِهَذِهِ الرَّحْمَةِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪২৯৪। আবু কুরায়ব ও আহমাদ ইবন সিনান (রাহঃ)...... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মহান আল্লাহ আসমান ও যমীন সৃষ্টির দিনেই একশত রহমত পয়দা করেছেন। তার থেকে তিনি মাত্র একটি রহমত পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। এর বদৌলতে মাতার সন্তানের প্রতি অনুরক্ত হয় এবং চতুস্পদ জীব জন্তু ও পক্ষীকূল এক অপরের সাথে দয়া ও প্রীতির বন্ধনে আব্দ্ধ হয়। আর অবশিষ্ট নিরানব্বইটি রহমত তিনি কিয়ামতের দিনের জন্য রেখে দিয়েছেন। যেদিন কিয়ামত হবে, সেদিন আল্লাহ্ এটি দিয়ে একশ' রহমত পূর্ণ করবেন।

4295

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَمَّا خَلَقَ الْخَلْقَ كَتَبَ بِيَدِهِ عَلَى نَفْسِهِ إِنَّ رَحْمَتِي تَغْلِبُ غَضَبِي ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৯৫। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইব্‌ন নূমায়র ও আবু বাক্‌র ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে দিন মহান আল্লাহ সৃষ্টিকূল পয়দা করেন, সেদিন তিনি আপন কুদরতী হাতে নিজের দায়িত্বে লিখলেন যেঃ আমার রহমত আমার গযবের উপর বিজয়ী। (অর্থাৎ আল্লাহর সত্তায় গযবের চাইতে রহমতের আধিক্যতা অনেক বেশী। এক মুহূর্তকাল ও তাঁর রহমত ব্যতিরেকে সৃষ্টির অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে না।)

4296

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ مَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَنَا عَلَى حِمَارٍ فَقَالَ ‏"‏ يَا مُعَاذُ هَلْ تَدْرِي مَا حَقُّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ وَمَا حَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَإِنَّ حَقَّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلاَ يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا ‏.‏ وَحَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ إِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ أَنْ لاَ يُعَذِّبَهُمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৪২৯৬। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল মালিক ইব্‌ন আবু শাওয়ারিব (রাহঃ)...... মু'আয ইব্‌ন জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, এ সময় আমি একটা গাধার পিঠে সাওয়ার ছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ হে মু'আয। তুমি কি জান, বান্দার উপরে আল্লাহর কি হক এবং আল্লাহর দায়িত্ব বান্দার কি কি হক? আমি বললামঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক অবহিত। তিনি বললেনঃ বান্দার উপরে আল্লাহর অধিকার হচ্ছে, বান্দা তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক করবে না। আর আল্লাহর দায়িত্বে বান্দার হক হচ্ছে, তারা (বান্দা) যখন এমন আমল করবে, তখন তিনি তাদের শাস্তি দিবেন না।

4297

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ يَحْيَى الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ حَفْصٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي بَعْضِ غَزَوَاتِهِ فَمَرَّ بِقَوْمٍ فَقَالَ مَنِ الْقَوْمُ فَقَالُوا نَحْنُ الْمُسْلِمُونَ ‏.‏ وَامْرَأَةٌ تَحْصِبُ تَنُّورَهَا وَمَعَهَا ابْنٌ لَهَا فَإِذَا ارْتَفَعَ وَهَجُ التَّنُّورِ تَنَحَّتْ بِهِ فَأَتَتِ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالَتْ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ نَعَمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَرْحَمِ الرَّاحِمِينَ قَالَ ‏"‏ بَلَى ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ أَوَلَيْسَ اللَّهُ بِأَرْحَمَ بِعِبَادِهِ مِنَ الأُمِّ بِوَلَدِهَا قَالَ ‏"‏ بَلَى ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ فَإِنَّ الأُمَّ لاَ تُلْقِي وَلَدَهَا فِي النَّارِ ‏.‏ فَأَكَبَّ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَبْكِي ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ إِلَيْهَا فَقَالَ ‏"‏ إِنَّ اللَّهَ لاَ يُعَذِّبُ مِنْ عِبَادِهِ إِلاَّ الْمَارِدَ الْمُتَمَرِّدَ الَّذِي يَتَمَرَّدُ عَلَى اللَّهِ وَأَبَى أَنْ يَقُولَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪২৯৭। হিশাম ইবন আম্মার (রাহঃ)...... ইব্‌ন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কোন এক জিহাদে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি এক কাওমের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তখন জিজ্ঞেস করলেনঃ এরা কোন কাওম? তারা বললোঃ আমরা মুসলমান। সেখানে এক মহিলা রান্নাবান্নার জন্য উনূনে জ্বালানী ধরাচ্ছিল এবং তার কাছেই ছিল তার একপুত্র সন্তান। যখন উনূন থেকে ধুয়া বের হচ্ছিল, তখন সে তার শিশুটিকে সরিয়ে নিলো। অতঃপর সে মহিলা নবী (ﷺ) -এর নিকট এসে বললোঃ আপনি কি আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। সে বললোঃ আমর পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আল্লাহ তা'আলা কি সর্বাপেক্ষা দয়ালু নন? তিনি বললেনঃ অবশ্যই। মহিলা বললো ঃ আল্লাহ্ কি তাঁর বান্দাদের প্রতি এর চাইতে অধিকতর রহমত (দেয়া প্রদর্শন) করেন না, যতটা মা তার সন্তানের প্রতি করে থাকে? তিনি বললেন: তাঁ। সে বললোঃ নিশ্চয় মা তার সন্তানকে আগুনে নিক্ষেপ করে না। এই কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাথা নিচু এবং কেঁদে দিলেন। অতঃপর তার দিকে মাথা উঠিয়ে বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের থেকে মন্দ স্বভাব, নাপরমান ও তাঁর সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণকারী এবং যে বলতে অস্বীকার করেঃ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু" (অর্থাৎ তাওহীদ অস্বীকারকারী) এদের ব্যতীত কাউকে শাস্তি দিবেন না।

4298

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ هَاشِمٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ لاَ يَدْخُلُ النَّارَ إِلاَّ شَقِيٌّ ‏"‏ ‏.‏ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَنِ الشَّقِيُّ قَالَ ‏"‏ مَنْ لَمْ يَعْمَلْ لِلَّهِ بِطَاعَةٍ وَلَمْ يَتْرُكْ لَهُ مَعْصِيَةً ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২৯৮। আব্বাস ইব্‌ন ওয়ালীদ দিমাশকী (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শাকী (মন্দ স্বভাব বিশিষ্ট ব্যক্তি) ব্যতীত আর কেউ জাহান্নামে যাবে না। বলা হলোঃ হে আল্লাহর রাসূল। শাকী কে? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি কখনো আল্লাহর আনুগত্য করেনি এবং তাঁর নাফরমানী ত্যাগ করেননি।

4299
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، - أَخُو حَزْمٍ الْقُطَعِيِّ - حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَرَأَ - أَوْ تَلاَ - هَذِهِ الآيَةَ ‏(هُوَ أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ)‏ فَقَالَ ‏"‏ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنَا أَهْلٌ أَنْ أُتَّقَى فَلاَ يُجْعَلَ مَعِي إِلَهٌ آخَرُ فَمَنِ اتَّقَى أَنْ يَجْعَلَ مَعِي إِلَهًا آخَرَ فَأَنَا أَهْلٌ أَنْ أَغْفِرَ لَهُ ‏"‏ ‏.‏

قَالَ أَبُو الْحَسَنِ الْقَطَّانُ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي حَزْمٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ فِي هَذِهِ الآيَةِ ‏(هُوَ أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ )‏ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ قَالَ رَبُّكُمْ أَنَا أَهْلٌ أَنْ أُتَّقَى فَلاَ يُشْرَكَ بِي غَيْرِي وَأَنَا أَهْلٌ لِمَنِ اتَّقَى أَنْ يُشْرِكَ بِي أَنْ أَغْفِرَ لَهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪২৯৯। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন? (অর্থ) “এক মাত্র তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং তিনিই ক্ষমা করার অধিকারী"। (৭৪ঃ ৫৬)। অতঃপর তিনি বললেনঃ মহান আল্লাহ বলেছেনঃ আমি এর উপযুক্ত যে, যেন আমাকেই একমাত্র ভয় করা হয়। আমার সাথে অন্য কোন ইলাহকে যেন শরীক না করা হয়। আর যে ব্যক্তি আমার সাথে অন্য কোন ইলাহ শরীক করা থেকে বিরত থাকবে, আমি এর উপযুক্ত যে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।

আবুল হাসান কাত্তান (রাহঃ)...... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, এ আয়াতঃ هُوَ أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ সম্পর্কে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমাদের রব বলেছেনঃ আমি এর উপযুক্ত যেন আমাকেই ভয় করবে। আর আমার সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক করানো হয়। এবং আমি এমন যে, যে ব্যক্তি আমার সঙ্গে অন্য কিছুর শরীক করতে ভয় করে, আমি তাকে ক্ষমা করি।
4300

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي عَامِرُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يُصَاحُ بِرَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى رُءُوسِ الْخَلاَئِقِ فَيُنْشَرُ لَهُ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ سِجِلاًّ كُلُّ سِجِلٍّ مَدَّ الْبَصَرِ ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ هَلْ تُنْكِرُ مِنْ هَذَا شَيْئًا فَيَقُولُ لاَ يَا رَبِّ فَيَقُولُ أَظَلَمَتْكَ كَتَبَتِي الْحَافِظُونَ ثُمَّ يَقُولُ أَلَكَ عُذْرٌ أَلَكَ حَسَنَةٌ فَيُهَابُ الرَّجُلُ فَيَقُولُ لاَ ‏.‏ فَيَقُولُ بَلَى إِنَّ لَكَ عِنْدَنَا حَسَنَاتٍ وَإِنَّهُ لاَ ظُلْمَ عَلَيْكَ الْيَوْمَ فَتُخْرَجُ لَهُ بِطَاقَةٌ فِيهَا أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ قَالَ فَيَقُولُ يَا رَبِّ مَا هَذِهِ الْبِطَاقَةُ مَعَ هَذِهِ السِّجِلاَّتِ فَيَقُولُ إِنَّكَ لاَ تُظْلَمُ ‏.‏ فَتُوضَعُ السِّجِلاَّتُ فِي كِفَّةٍ وَالْبِطَاقَةُ فِي كِفَّةٍ فَطَاشَتِ السِّجِلاَّتُ وَثَقُلَتِ الْبِطَاقَةُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْبِطَاقَةُ الرُّقْعَةُ وَأَهْلُ مِصْرَ يَقُولُونَ لِلرُّقْعَةِ بِطَاقَةً

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৩০০। মুহাম্মাদ ইব্‌ন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন আমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টির সামনে আমার একজন উম্মাতকে ডাকা হবে। তখন তার সামনে নিরানব্বইটি দফতর (লিখিত বিবরনী) পেশ করা হবে। এর প্রত্যেকটি দফতর দৃষ্টি সীমার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত দীর্ঘ হবে। অতঃপর মহান আল্লাহ্ বলবেনঃ তুমি কি এর কোনটা অস্বীকার কর? (অর্থাৎ দফতর সমূহে লিপিবদ্ধ পাপের ফিরিস্তির মধ্যে তুমি কি কোন্‌টা অস্বীকার কর?) তখন সে বলবেঃ না, হে আমার রব। আল্লাহ্ বললেনঃ তোমার উপর কি আমার সংরক্ষণকারী লিখক ফিরিশতারা যুলম করেছে? অতঃপর তিনি জিজ্ঞাসা করবেনঃ তোমার কাছে কি কোন নেকী আছে? তখন লোকটি ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে পড়বে এবং বলবেঃ না। তখন আল্লাহ বলবেনঃ হ্যাঁ, আমার কাছে তোমার কিছু নেকী জমা আছে। আজ তোমার উপর কোন যুলুম করা হবে না। তখন তার সামনে একটি চিরকুট পেশ করা হবে, যাতে লেখা থাকবেঃ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দাও রাসূল"। রাবী বলেন, তখন সে লোকটি বলবেঃ হে আমার রব। এত বড় বড় দফতর সমূহের মুকাবিলায় এই ক্ষুদ্র চিরকুট কি কাজে আসবে? তখন তিনি বলবেনঃ তুমি অত্যাচারিত হবে না। এরপর সেই দফতর সমূহ একটি পাল্লায় রাখা হবে, আর সেই ক্ষুদ্র চিরকুটটি আরেক পাল্লায়। তখন দফতর সমূহের সমূহের পাল্লা হাল্কা হয়ে উপরে উটে যাবে এবং চিরকুটের পাল্লা ভারী হয়ে যাবে।

মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসে শব্দের অর্থ البطاقة الرقعة মানে কাগজের চিরকূট । আর মিসরবাসীরা للرقعة بطا قة কে (কাগজের চিরকুট বলে থাকে।

হাওযে কাওসারের আলোচনা

بَابُ ذِكْرِ الْحَوْضِ

4301

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا، حَدَّثَنَا عَطِيَّةُ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ لِي حَوْضًا مَا بَيْنَ الْكَعْبَةِ وَبَيْتِ الْمَقْدِسِ أَبْيَضَ مِثْلَ اللَّبَنِ آنِيَتُهُ عَدَدُ النُّجُومِ وَإِنِّي لأَكْثَرُ الأَنْبِيَاءِ تَبَعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪৩০১। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)........ আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ বায়তুল্লাহ থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত বিস্তৃত একটি হাউয (ঝরণা) আমার জন্য সংরক্ষিত আছে। এর পানি দুধের ন্যায় ধবধবে সাদা, পান পাত্রের সংখ্যা আকাশের তারকাপুঞ্জের সমান। তার কিয়ামতের দিন অন্যান্য নবী রাসূলের (ﷺ) অনুসারীর চাইতে আমার অনুগামীদের সংখ্যা হবে অনেক বেশী।

4302

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ، سَعْدِ بْنِ طَارِقٍ عَنْ رِبْعِيٍّ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِنَّ حَوْضِي لأَبْعَدُ مِنْ أَيْلَةَ إِلَى عَدَنَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لآنِيَتُهُ أَكْثَرُ مِنْ عَدَدِ النُّجُومِ وَلَهُوَ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأَذُودُ عَنْهُ الرِّجَالَ كَمَا يَذُودُ الرَّجُلُ الإِبِلَ الْغَرِيبَةَ عَنْ حَوْضِهِ ‏"‏ ‏.‏ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَعْرِفُنَا قَالَ ‏"‏ نَعَمْ تَرِدُونَ عَلَىَّ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنْ أَثَرِ الْوُضُوءِ لَيْسَتْ لأَحَدٍ غَيْرِكُمْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৪৩০২। উসমান ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)......হুযায়ফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার হাউযের পরিধি আয়লা থেকে আদন পর্যন্ত বিস্তৃত। সেই মহান সত্তার শপথ। যাঁর হাতে আমার প্রাণ। এ হাউযের পান পাত্রের সংখ্যা আকাশের নক্ষত্ররাজির চেয়েও অধিক। এর পানি দুধের চেয়েও সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি। সেই মহান সত্তার শপথ। যার হাতে আমার প্রাণ। নিশ্চয়ই আমি এ হাউযের তীর থেকে লোকদের তেমনিভাবে তাড়িয়ে দেব, যেমনিভাবে লোকেরা অপরিচিত উটকে তাদের কূপ থেকে তাড়িয়ে দেয়। জিজ্ঞাসা করা হলোঃ হে আল্লাহর রাসূল। আপনি কি আমাদের চিনতে পারবেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তোমরা আমার সামনে অযূর বদৌলতে হাত-পা উজ্জল- বিশিষ্ট অবস্থায় আসবে। যে নিদর্শন অন্য কোন উম্মাতের জন্য হবে না।

4303

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ، حَدَّثَنِي الْعَبَّاسُ بْنُ سَالِمٍ الدِّمَشْقِيُّ، نُبِّئْتُ عَنْ أَبِي سَلاَّمٍ الْحَبَشِيِّ، قَالَ بَعَثَ إِلَىَّ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَأَتَيْتُهُ عَلَى بَرِيدٍ فَلَمَّا قَدِمْتُ عَلَيْهِ قَالَ لَقَدْ شَقَقْنَا عَلَيْكَ يَا أَبَا سَلاَّمٍ فِي مَرْكَبِكَ ‏.‏ قَالَ أَجَلْ وَاللَّهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ ‏.‏ قَالَ وَاللَّهِ مَا أَرَدْتُ الْمَشَقَّةَ عَلَيْكَ وَلَكِنْ حَدِيثٌ بَلَغَنِي أَنَّكَ تُحَدِّثُ بِهِ عَنْ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فِي الْحَوْضِ فَأَحْبَبْتُ أَنْ تُشَافِهَنِي بِهِ ‏.‏ قَالَ فَقُلْتُ حَدَّثَنِي ثَوْبَانُ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ حَوْضِي مَا بَيْنَ عَدَنَ إِلَى أَيْلَةَ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ أَوَانِيهِ كَعَدَدِ نُجُومِ السَّمَاءِ مَنْ شَرِبَ مِنْهُ شَرْبَةً لَمْ يَظْمَأْ بَعْدَهَا أَبَدًا وَأَوَّلُ مَنْ يَرِدُهُ عَلَىَّ فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ الدُّنْسُ ثِيَابًا وَالشُّعْثُ رُءُوسًا الَّذِينَ لاَ يَنْكِحُونَ الْمُنَعَّمَاتِ وَلاَ يُفْتَحُ لَهُمُ السُّدَدُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَبَكَى عُمَرُ حَتَّى اخْضَلَّتْ لِحْيَتُهُ ثُمَّ قَالَ لَكِنِّي قَدْ نَكَحْتُ الْمُنَعَّمَاتِ وَفُتِحَتْ لِيَ السُّدَدُ لاَ جَرَمَ أَنِّي لاَ أَغْسِلُ ثَوْبِي الَّذِي عَلَى جَسَدِي حَتَّى يَتَّسِخَ وَلاَ أَدْهُنُ رَأْسِي حَتَّى يَشْعَثَ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪৩০৩। মাহমুদ ইবন খালিদ দিমাশকী (রাহঃ) …. আবু সাল্লাম হাবশী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন একদা উমার ইব্‌ন আব্দুল আযীয (রাহঃ) আমাকে ডেকে পাঠান। তখন আমি অতি দ্রুত তাঁর কাছে উপস্থিত হই । আমি যখন তাঁর কাছে এসে পৌছি, তিনি বলেনঃ আমি আপনাকে তাকলীফ দিলাম, হে আবু সাল্লাম। আপনার সাওয়ারীকে ও তাকলীফ দিয়েছি। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, আল্লাহ্ শপথ। হে আমীরুল মু'মিনীন। তিনি বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি আপনাকে, একখানা হাদীস শোনার জন্যই, এই কষ্ট দিয়েছি। আমি জানতে পেরেছি, আপনি তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর আযাদকৃত গেলাম সাওবান (রাযিঃ) থেকে হাউয সম্পর্কে বর্ণনা করছেন। আমি এ হাদীসখানি আপনার মুখ থেকে শুনতে আগ্রহী। তিনি বলেন, তখন আমি বললামঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আযাদকৃত গোলাম সাওবান (রাযিঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার হাউয আদন (এডেন) থেকে আইলা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। যার পানি দুধের চেয়েও সাদা, এবং মধুর চেয়েও সুমিষ্ট। এর পাত্র সংখ্যা আকাশের তারকারাজির সমান। যে কেউ এ হাউয থেকে এক ঢোক (চুমুক বা ফোঁটা) পানি পান করবে, সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। সর্বপ্রথম যে সব লোক এ হাউযের পানি পান করার জন্য আমার নিকট আসবে, তারা হবে ফকীর মুহাজিরগণ। এদের পরিধানে ছিল ছিড়াফাঁটা ময়লা কাপড়, মাথার চুল ছিল উশকো-খুশকো, তারা অভিজাত সম্পদশালী মেয়েদের বিবাহ করতে পারতো না এবং তাদের (আপ্যায়নের জন্য) ঘরের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হতো না। রাবী বলেনঃ হাদীস শুনে উমার (রাযিঃ) কেঁদে ফেলেন এমনকি তাঁর দাঁড়ি অশ্রুসিক্ত হয়ে যা। এরপর তিনি বললেনঃ আমি তো সম্পদশালী মহিলা বিয়ে করেছি এবং আমার জন্য সব দরজাই তো উন্মুক্ত। এখন থেকে আমি আমার পরিধেয় বস্ত্রাদি ময়লা না হওয়া পর্যন্ত ধোব না এবং মাথার চুল উশকো-খুশকো না হওয়া পর্যন্ত তেল লাগাব না।

4304

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَا بَيْنَ نَاحِيَتَىْ حَوْضِي كَمَا بَيْنَ صَنْعَاءَ وَالْمَدِينَةِ أَوْ كَمَا بَيْنَ الْمَدِينَةِ وَعَمَّانَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৩০৪। নসর ইব্‌ন আলী (রাহঃ).....আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার হাউযের দুই তীরের ব্যবধান সানআ (ইয়ামানের রাজধানী) এর মদীনা মুনাওয়ারার মধ্যবর্তী স্থানের সমান অথবা মদীনা ও আম্মানের মধ্যবর্তী ব্যবধানের সমান।

4305

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يُرَى فِيهِ أَبَارِيقُ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ كَعَدَدِ نُجُومِ السَّمَاءِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৩০৫। হুমায়দ ইবন মাস'আদহ্ (রাহঃ)...... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লার নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সেখানে (হাউয কাওসারের তীরে) আকাশের নক্ষত্রপুঞ্জের পরিসংখ্যানের সমান স্বর্ণ ও রৌপ্য নির্মিত পানপাত্র সমূহ পরিদৃশ্যমান হবে।

4306

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّهُ أَتَى الْمَقْبَرَةَ فَسَلَّمَ عَلَى الْمَقْبَرَةِ فَقَالَ ‏"‏ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ دَارَ قَوْمٍ مُؤْمِنِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى بِكُمْ لاَحِقُونَ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ وَدِدْتُ أَنَّا قَدْ رَأَيْنَا إِخْوَانَنَا ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوَلَسْنَا إِخْوَانَكَ قَالَ ‏"‏ أَنْتُمْ أَصْحَابِي وَإِخْوَانِي الَّذِينَ يَأْتُونَ مِنْ بَعْدِي وَأَنَا فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَعْرِفُ مَنْ لَمْ يَأْتِ مِنْ أُمَّتِكَ قَالَ ‏"‏ أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنَّ رَجُلاً لَهُ خَيْلٌ غُرٌّ مُحَجَّلَةٌ بَيْنَ ظَهْرَانَىْ خَيْلٍ دُهْمٍ بُهْمٍ أَلَمْ يَكُنْ يَعْرِفُهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا بَلَى ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَإِنَّهُمْ يَأْتُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ غُرًّا مُحَجَّلِينَ مِنْ آثَارِ الْوُضُوءِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ أَنَا فَرَطُهُمْ عَلَى الْحَوْضِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ أَلاَ لَيُذَادَنَّ رِجَالٌ عَنْ حَوْضِي كَمَا يُذَادُ الْبَعِيرُ الضَّالُّ فَأُنَادِيهِمْ أَلاَ هَلُمُّوا ‏.‏ فَيُقَالُ إِنَّهُمْ قَدْ بَدَّلُوا بَعْدَكَ وَلَمْ يَزَالُوا يَرْجِعُونَ عَلَى أَعْقَابِهِمْ ‏.‏ فَأَقُولُ أَلاَ سُحْقًا سُحْقًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৩০৬। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার (রাহঃ)..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, একবার তিনি কবরস্তানে গমন করেন এবং তিনি কবরবাসীদের উদ্দেশ্যে সালাম করেন। তিনি বলেনঃ 'হে ঈমানদার কবরবাসীরা! তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। অচিরেই আল্লাহ চাহেত আমরা তোমাদের সাথে মিলিত হব। অতঃপর তিনি বললেনঃ আমি আকাঙ্ক্ষা রাখি যে, আমরা আমাদরে ভাইদের প্রত্যক্ষ করি। তাঁরা (সাহাবাই কিরাম) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আপনার ভাই নই? তিনি বললেনঃ তোমরা আমার সাহাবী। আর যারা আমার পরে আসবে, তারা আমার ভাই। আমি তোমদের আগেই হাউযের তীরে উপস্থিত হব। তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সে লোকদের আপনার উম্মাত হিসেবে কিভাবে চিনবেন, যারা এখনও পয়দা হয়নি? তিনি বললেনঃ তোমরা কি দেখ না, যদি এক ব্যক্তির এতটা সাদা হাত-পাও শুভ কপালযুক্ত ঘোড়া, অপর ব্যক্তির কুৎসিত কালো ঘোড়ার পালে মিশে যায়, তাহলে সে কি তার ঘোড়াটি চিনবে না ? তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ, নিশ্চয়ই চিনবে। তিনি বললেনঃ তাঁরা (আমার উম্মাত ) কিয়ামতের দিন অযূর বদৌলতে সাদা কপাল ও শুভ্র হাত পা বিশিষ্ট হয়ে আসবে। অতঃপর তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের আগে হাউযের কিনারে যাব। এরপর বললেনঃ অনেক লোক আমার হাউয থেকে বিতাড়িত হবে, যেমন পথতোলা উট বিতাড়িত হয়। এরপর আমি তাদের ডেকে বলবোঃ তোমরা এদিকে এসো! তখন বলা হবেঃ এসব লোক আপনার পরে (দীন) পরিবর্তন করেছে এবং সর্ববস্থায় তারা তাদের পশ্চাতে ফিরে গেছে। তখন বলবোঃ সাবধান! দূর হও, দূর হও।

শাফা’আতের আলোচনা

بَاب ذِكْرِ الشَّفَاعَةِ

4307

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لِكُلِّ نَبِيٍّ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ فَتَعَجَّلَ كُلُّ نَبِيٍّ دَعْوَتَهُ وَإِنِّي اخْتَبَأْتُ دَعْوَتِي شَفَاعَةً لأُمَّتِي فَهِيَ نَائِلَةٌ مَنْ مَاتَ مِنْهُمْ لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৩০৭। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীর জন্য (তাঁর উম্মাতের ব্যাপারে) এমন দু'আ রয়েছে, যা কবূল করা হয়। আর প্রত্যেক নবীই (তাঁর উম্মাতের জন্য) বিশেষ দু'আটি তাড়াতাড়ি করেন। কিন্তু আমি আমার দু'আ আমার উম্মতের শাফা'আতের জন্য জমা রেখেছি। সুতরাং আমার উম্মাতের মধ্যে যারা আল্লাহর সাথে শরীক না করে ইন্তিকাল করে, তারা তা (আমার শাফা'আত) প্রাপ্ত হবে।

4308

حَدَّثَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، وَأَبُو إِسْحَاقَ الْهَرَوِيُّ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَاتِمٍ قَالاَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ وَلاَ فَخْرَ وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ تَنْشَقُّ الأَرْضُ عَنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ فَخْرَ وَأَنَا أَوَّلُ شَافِعٍ وَأَوَّلُ مُشَفَّعٍ وَلاَ فَخْرَ وَلِوَاءُ الْحَمْدِ بِيَدِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ فَخْرَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪৩০৮। মুজাহিদ ইবন মুসা ও আবু ইসহাক হারভ, ইবরাহীম ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন হাতিম (রাহঃ) ...... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি আদম সন্তানদের সরদার, এতে কোন গর্ব নেই। (বরং আল্লাহর নি'আমতের শুকরিয়া ও বাস্তব অবস্থার বহিঃপ্রকাশ মাত্র) আর আমি হব প্রথম ব্যক্তি, কিয়ামতের দিন যার ব্যাপারে যমীনে ফাটল ধরবে, (অর্থাৎ কবরগাহ্ থেকে সর্বপ্রথম আমিই উঠবো), এতে কোন ফখর নেই। আমি হবো প্রথম শাফা'আতকারী এবং সর্বাগ্রে আমার শাফায়াইত কবুল করা হবে, এতে কোন ফখর নেই। আল্লাহর প্রশংসার পতাকা কিয়ামতের দিন আমার হাতে থাকবে, এতে কোন গর্ব নেই ।

4309

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ حَبِيبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ أَمَّا أَهْلُ النَّارِ الَّذِينَ هُمْ أَهْلُهَا فَإِنَّهُمْ لاَ يَمُوتُونَ فِيهَا وَلاَ يَحْيَوْنَ وَلَكِنْ نَاسٌ أَصَابَتْهُمُ النَّارُ بِذُنُوبِهِمْ أَوْ بِخَطَايَاهُمْ فَأَمَاتَتْهُمْ إِمَاتَةً حَتَّى إِذَا كَانُوا فَحْمًا أُذِنَ لَهُمْ فِي الشَّفَاعَةِ فَجِيءَ بِهِمْ ضَبَائِرَ ضَبَائِرَ فَبُثُّوا عَلَى أَنْهَارِ الْجَنَّةِ فَقِيلَ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ أَفِيضُوا عَلَيْهِمْ فَيَنْبُتُونَ نَبَاتَ الْحِبَّةِ تَكُونُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ كَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَدْ كَانَ فِي الْبَادِيَةِ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪৩০৯। নসর ইব্‌ন আলী ও ইসহাক ইবন ইবরাহীম ইব্‌ন হাবীব (রাহঃ)...... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিন বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আর জাহান্নামীরা চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে বসবাস করবে- সেখানে তারা মরবে না এবং নতুনভাবে জীবিতও হবে না। তবে কতক লোক তাদের ভূল ভ্রান্তি ও গুনাহের দরুন জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে। আগুন তাদের দগ্ধীভূত করে ফেলবে, এমন কি তারা কয়লার মত হযে যাবে, তখন তাদের শাফা'আতের অনুমতি দেয়া হবে। তাদের দলে দলে (জাহান্নাম থেকে) নিয়ে আসা হবে, এবং তাদের জান্নাতের ঝরণার পাড়ে ছড়িয়ে রাখা হবে এবং বলা হবেঃ হে জান্নাতবাসীরা! তোমরা তাদের উপর পানি ঢেলে দাও। (নির্দেশ মতে পানি ঢেলে দেওয়া হবে) ফলে, সেথায় দ্রুত গতিতে নানাবিধ ফলের গাছ উৎপন্ন হবে, যেমনিভাবে বীজ নালার প্রবাহিত পানি দ্বারা অংকুরিত হয়। রাবী বলেনঃ তখন কাওমের এক ব্যক্তি বলে উঠলোঃ মনে হচ্ছিল যেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বন বীথিকায় অবস্থান করতেন।

4310

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ إِنَّ شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ لأَهْلِ الْكَبَائِرِ مِنْ أُمَّتِي ‏"‏ ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪৩১০। আব্দুর রহমান ইব্‌ন ইবরাহীম দিমাশকী (রাহঃ)...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের দিন আমার শাফা'আত আমার উম্মাতের কবীরগুনাহে অভিযুক্তদের জন্যই কার্যকর হবে।

4311

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَسَدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَدْرٍ، حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ خَيْثَمَةَ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ خُيِّرْتُ بَيْنَ الشَّفَاعَةِ وَبَيْنَ أَنْ يَدْخُلَ نِصْفُ أُمَّتِي الْجَنَّةَ فَاخْتَرْتُ الشَّفَاعَةَ لأَنَّهَا أَعَمُّ وَأَكْفَى أَتُرَوْنَهَا لِلْمُتَّقِينَ لاَ وَلَكِنَّهَا لِلْمُذْنِبِينَ الْخَطَّائِينَ الْمُتَلَوِّثِينَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৪৩১১। ইসমাঈল ইব্‌ন আসাদ (রাহঃ).... আবু মুসা আশ'আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে (দু'টো বিষয়ের) শাফা'আত করার অথবা আমার অর্ধেক উম্মাতের জান্নাতী হওয়ার। আমি শাফা'আতকে বেছে নিয়েছি। কেননা, তা ব্যাপক এবং অধিকতর ফলপ্রসূ। তোমরা কি মনে করছো যে, শাফা'আত কেবল মুক্তাকীদের জন্যই ? তা নয় বরং তা গুনাহগার, ভ্রান্তপথগামীও অপরাধে অভিযুক্তদের জন্য কার্যকর হবে।

4312
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏"‏ يَجْتَمِعُ الْمُؤْمِنُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُلْهَمُونَ - أَوْ يَهُمُّونَ شَكَّ سَعِيدٌ - فَيَقُولُونَ لَوْ تَشَفَّعْنَا إِلَى رَبِّنَا فَأَرَاحَنَا مِنْ مَكَانِنَا فَيَأْتُونَ آدَمَ فَيَقُولُونَ أَنْتَ آدَمُ أَبُو النَّاسِ خَلَقَكَ اللَّهُ بِيَدِهِ وَأَسْجَدَ لَكَ مَلاَئِكَتَهُ فَاشْفَعْ لَنَا عِنْدَ رَبِّكَ يُرِحْنَا مِنْ مَكَانِنَا هَذَا ‏.‏ فَيَقُولُ لَسْتُ هُنَاكُمْ - وَيَذْكُرُ وَيَشْكُو إِلَيْهِمْ ذَنْبَهُ الَّذِي أَصَابَ فَيَسْتَحْيِي مِنْ ذَلِكَ - وَلَكِنِ ائْتُوا نُوحًا فَإِنَّهُ أَوَّلُ رَسُولٍ بَعَثَهُ اللَّهُ إِلَى أَهْلِ الأَرْضِ فَيَأْتُونَهُ فَيَقُولُ لَسْتُ هُنَاكُمْ - وَيَذْكُرُ سُؤَالَهُ رَبَّهُ مَا لَيْسَ لَهُ بِهِ عِلْمٌ وَيَسْتَحْيِي مِنْ ذَلِكَ - وَلَكِنِ ائْتُوا خَلِيلَ الرَّحْمَنِ إِبْرَاهِيمَ فَيَأْتُونَهُ فَيَقُولُ لَسْتُ هُنَاكُمْ وَلَكِنِ ائْتُوا مُوسَى عَبْدًا كَلَّمَهُ اللَّهُ وَأَعْطَاهُ التَّوْرَاةَ ‏.‏ فَيَأْتُونَهُ فَيَقُولُ لَسْتُ هُنَاكُمْ - وَيَذْكُرُ قَتْلَهُ النَّفْسَ بِغَيْرِ النَّفْسِ - وَلَكِنِ ائْتُوا عِيسَى عَبْدَ اللَّهِ وَرَسُولَهُ وَكَلِمَةَ اللَّهِ وَرُوحَهُ ‏.‏ فَيَأْتُونَهُ فَيَقُولُ لَسْتُ هُنَاكُمْ وَلَكِنِ ائْتُوا مُحَمَّدًا عَبْدًا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ ‏.‏ قَالَ فَيَأْتُونِي فَأَنْطَلِقُ - قَالَ فَذَكَرَ هَذَا الْحَرْفَ عَنِ الْحَسَنِ ‏.‏ قَالَ فَأَمْشِي بَيْنَ السِّمَاطَيْنِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ ‏.‏ قَالَ ثُمَّ عَادَ إِلَى حَدِيثِ أَنَسٍ - قَالَ ‏"‏ فَأَسْتَأْذِنُ عَلَى رَبِّي فَيُؤْذَنُ لِي فَإِذَا رَأَيْتُهُ وَقَعْتُ سَاجِدًا فَيَدَعُنِي مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَدَعَنِي ثُمَّ يُقَالُ ارْفَعْ يَا مُحَمَّدُ وَقُلْ تُسْمَعْ وَسَلْ تُعْطَهْ وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ فَأَحْمَدُهُ بِتَحْمِيدٍ يُعَلِّمُنِيهِ ثُمَّ أَشْفَعُ فَيَحُدُّ لِي حَدًّا فَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ ثُمَّ أَعُودُ الثَّانِيَةَ فَإِذَا رَأَيْتُهُ وَقَعْتُ سَاجِدًا فَيَدَعُنِي مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَدَعَنِي ثُمَّ يُقَالُ لِي ارْفَعْ مُحَمَّدُ قُلْ تُسْمَعْ وَسَلْ تُعْطَهْ وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ فَأَرْفَعُ رَأْسِي فَأَحْمَدُهُ بِتَحْمِيدٍ يُعَلِّمُنِيهِ ثُمَّ أَشْفَعُ فَيَحُدُّ لِي حَدًّا فَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ ثُمَّ أَعُودُ الثَّالِثَةَ فَإِذَا رَأَيْتُ رَبِيِّ وَقَعْتُ سَاجِدًا فَيَدَعُنِي مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَدَعَنِي ثُمَّ يُقَالُ ارْفَعْ مُحَمَّدُ قُلْ تُسْمَعْ وَسَلْ تُعْطَهْ وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ فَأَرْفَعُ رَأْسِي فَأَحْمَدُهُ بِتَحْمِيدٍ يُعَلِّمُنِيهِ ثُمَّ أَشْفَعُ فَيَحُدُّ لِي حَدًّا فَيُدْخِلُهُمُ الْجَنَّةَ ثُمَّ أَعُودُ الرَّابِعَةَ فَأَقُولُ يَا رَبِّ مَا بَقِيَ إِلاَّ مَنْ حَبَسَهُ الْقُرْآنُ ‏"‏ ‏.‏
قَالَ يَقُولُ قَتَادَةُ عَلَى أَثَرِ هَذَا الْحَدِيثِ وَحَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَكَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ شَعِيرَةٍ مِنْ خَيْرٍ وَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَكَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ بُرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ وَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَكَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৩১২। নসর ইবন আলী (রাহঃ)..... আনাস ইব্‌ন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলছেনঃ কিয়ামতের দিন ঈমানদার বান্দারা জমায়েত হবে। তখন তাদের অন্তরে ঢেলে দেওয়া হবে (অথবা তাদের অন্তরে এই বিষয়টি বদ্ধমূল করে দিবেন রাবী সাঈদ-এর সন্দেহ) এ সময় তারা বলবেঃ কেউ যদি আমার রবের কাছে আমাদের (নাজাতের) জন্য শাফা'আত করতেন, তাহলে (ময়দানে হাশরের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে) আমাদের শান্তি দিতে পারতেন। এরপর তারা আদম আলাইহিস্ সালামের কাছে উপস্থিত হয়ে বলবেঃ আপনি তো মানব জাতির পিতা আদম (আলাইহিস সালাম)। আল্লাহ আপন কুদরতী হাতে আপনাকে পয়দা করেছেন এব তাঁর ফিরিশতাদের দ্বারা আপনাকে সম্মানজনক সিজ্দা করিয়েছেন। আপনি আমাদের (নাজাতের) জন্য আপনার রবের নিকেট শাফা'আত করুন, যাতে তিনি আমাদের এ ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে শান্তি দেন। তখন তিনি বলেনঃ আমি তোমাদের এ বিষয়ের উপযুক্ত নই। (তিনি তাদের কাছে সেই গুনাহের কথা তুলে ধরবেন, যা তিনি করে বসেছিলেন এবং এ কারণে তিনি লজ্জাবোধ করবেন)। নবী-রাসূলগণ নিষ্পাপ এবং আদম (আ)-এর তাওবা কবুল হয়েছিল) বরং তোমরা নূহ (আলাইহিস সালামের) কাছে যাও। কেননা, তিনি ছিলেন যমীনবাসীর প্রতি আল্লাহ প্রেরিত প্রথম রাসূল। তখন তারা তাঁরা কাছে উপস্থিত হবে এবং শাফা'আতের জন্য নিবেদন করবে। তিনি বলবেনঃ তোমাদের এ বিষয়ে আমি উপযুক্ত নই। (তিনি সেই প্রশ্নের কথা স্মরণ করবেন, যা অজ্ঞাতসারে আল্লাহর কাছে নিবেদন করেছিলেন। তিনি এই কারণে লজ্জাবোধ করবেন)। (নূহ আলাইহিস সালাম তার পুত্র কেনান-এর জন্য আল্লাহর নাজাত চাইছিলেন অথচ সে মন্দ স্বভাবের ছিল)। বরং তোমরা আল্লাহর খলীল ইবরাহীম (আলাইহিস্ সালাম)-এর কাছে যাও। তখন তারা তাঁর নিকট হাযির হবে। তিনি বলবেন ঃ আমি তোমাদের এ বিষয়ের জন্য যোগ্য নই। বরং তোমরা মুসা (কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম)-এর কাছে যাও। তিনি আল্লাহর প্রিয় বান্দা ছিলেন, যার সাথে আল্লাহ তা'আলা কথা বলছেন এবং তাঁকে তাওরাত দান করেছেন। তখন তাঁর কাছে উপস্থিত হবে। তিনি আমি এ বিষয়ে তোমাদের যোগ্য নই। (এবং তিনি দুনিয়াতে একটি অন্যায় খুনের জন্য নিজের অপরাধের কথা স্মরণ করবেন। অথচ এই খুন ইচ্ছাকৃত ছিল না তিনি ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার খাতিরে ধমকানোর জন্য একটি ঘুষি মেরেছিলেন। ফলে সে কিবতী মারা গিয়েছিল)। তোমরা বরং ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে যাও। তিনি ছিলেন আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল, আল্লাহর কালিমা এবং তাঁর রুহ্। তখন লোকেরা তাঁর কাছে এসে হাযির হবে। তিনি বলবেনঃ আমি তোমাদের এ বিষয়ের জন্য যোগ্য নই বরং তোমরা মুহাম্মাদ (ﷺ) -এর কাছে যাও। এমন বান্দা আল্লাহ তা'আলা তাঁর আগের ও পরের যাবতীয় ত্রুটি বিচ্যুতি মাফ করে দিয়েছেন। তিনি সে বলেনঃ তখন তারা আমার নিকটে হাযির হবে। আমি তাদের সহ বেরিয়ে পড়বো। (রাবী বলেন, হাসান (রাহঃ) এর সূত্রে তিনি এই শব্দাবলী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন । এরপর আমি মু'মিনদের দুইটি সারির মাঝখান দিয়ে চলতে থাকবো)।

রাবী কাতাদাহ্ (রাহঃ) বলেনঃ তারপর তিনি আনাস (রাযিঃ) এর বর্ণিত হাদীসের প্রতি ফিরে এসেছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তখন আমি আমার রবের নিকট শাফা'আতের অনুমতি চাইব। আর আমাকে অনুমতি দেওয়া হবে। আমি তাঁকে দেখামাত্রই সিজ্দায় পড়ে যাব। তিনি (আল্লাহ) যতক্ষণ চাইবেন আমাকে সিজদায় নত রাখবেন। অতঃপর নির্দেশ দেওয়া হবেঃ হে মুহাম্মাদ মাথা উঠান। আপনি বলুন। শোনা হবে; আপনি চান তা দেওয়া হবে এবং আপনি শাফা'আত করুন, সে শাফা'আত কবুল করা হবে। এরপর আমি মাথা উঠাব)। আর তিনি যেভাবে আমাকে শিখিয়েছেন, সেভাবে তাঁর তারীফ ও প্রশংসা করবো। তারপর আমি শাফা'আত করব। তবে আমার শাফা'আতের জন্য একটা সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। আল্লাহ তা'আলা শাফা'আত প্রাপ্তদের জান্নাতে দাখিল করবেন। এরপর আমি দ্বিতীয়বার আমার (রবের কাছে ফিরে আসবো। আমি তাঁকে দেখা মাত্রই সিজদায় পতিত হবো। আল্লাহ তা'আলা যতক্ষণ চাইবেন, ততক্ষণ আমাকে সিজ্দায় নত রাখবেন। অতঃপর আমাকে বলা হবেঃ হে মুহাম্মাদ! আপনি মাথা উঠান। আপনি বলুন, শোনা হবে, আপনি চান, আপনাকে তা দেওয়া হবে এবং আপনি শাফা'আত করুন, আপনার শাফা'আত কবুল করা হবে। এরপর আমি আমার মাথা উঠাব। অতঃপর তাঁর শিক্ষা মাফিক আমি তাঁর তা'রীফ ও প্রশংসা করবো। তারপর আমি শাফা'আত করব। তবে আমার জন্য একটা সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। অতঃপর তিনি শাফা'আত প্রাপ্তদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। এরপর তৃতীয় বারের মত আমি (রবের কাছে) ফিরে যাব। আর যখন আমি আমার রবকে দেখব, তখনই সিজ্দায় পতিত হবো। আর আল্লাহ যতক্ষণ চাইবেন, আমাকে সিজদায় নত রাখবেন। তারপর বলা হবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠান। আপনি বলুন, শোনা হবে; আপনি চান, তা দান করা হবে। আপনি শাফা'আত করুন, আপনার শাফা'আত কবুল করা হবে। এরপর আমি মাথা উঠাব। এবং তাঁর তারীফ ও প্রশংসা করবো, যেবাবে তিনি আমাকে শিখিয়েছেন। তারপর আমি শাফা'আত করব। কিন্তু এবারেও একটা নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারন করে দেওয়া হবে। তখন আল্লাহ্ তা'আলা তাদের (সুপারিশকৃতদের) জান্নাতে দাখিল করবেন। অতঃপর আমি চতুর্থ পর্যায়ে (রবের) কাছে ফিরে যাব এবং বলবঃ হে আমার রব। এখন তো আর কেউ অবশিষ্ট নেই। তবে কুরআন যাদের আটক রেখেছে। (অর্থাৎ কুরআনের দৃষ্টিতে যারা জাহান্নামী তারাই অবশিষ্ট রয়েছে।

রাবী বলেন, কাতাদা (রাহঃ) এই হাদীস বর্ণনাকালে বলেছেনঃ আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পরিশেষে সেই ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে যে, বলেছেঃ 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু' (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই) এবং যার অন্তরে একটি গমের দানা পরিমাণ নেক আমল ছিল। আর সেই ব্যক্তিকেও জাহান্নাম থেকে বের করা হবে যে বলেছেঃ “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু", এবং যার কালবে এক রতি পরিমাণ নেক আমল (ঈমান) ছিল। সেই ব্যক্তিও জাহান্নাম থেকে বের করা হবে যে বলেছেঃ “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু" এবং যার অন্তরে অণু পরিমাণ নেক আমল (ঈমান) ছিল।
4313

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَرْوَانَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ عَنْ عَلَّاقِ بْنِ أَبِي مُسْلِمٍ عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَشْفَعُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثَلَاثَةٌ الْأَنْبِيَاءُ ثُمَّ الْعُلَمَاءُ ثُمَّ الشُّهَدَاءُ

Narrator: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

৪৩১৩। সাঈদ ইবন মারওয়ান (রাহঃ)...... উসমান ইবন আফ্ফান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণীর লোক শাফা'আত করবেনঃ নবীগণ পরে আলিমগণ এরপর শহীদগণ।

4314

حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الرَّقِّيُّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ عَنْ الطُّفَيْلِ بْنِ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ كُنْتُ إِمَامَ النَّبِيِّينَ وَخَطِيبَهُمْ وَصَاحِبَ شَفَاعَتِهِمْ غَيْرَ فَخْرٍ

Narrator: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

৪৩১৪। ইসমাঈল ইবন আব্দুল্লাহ রাক্কী (রাহঃ).... তুফায়ল ইবন উবাই ইব্‌ন কা'ব-এর পিতা (রাযিঃ) বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যেদিন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন আমি নবীগণের ইমাম হবো এবং তাদের পক্ষ থেকে খতীব নির্বাচিত হবো, সর্বোপরি তাদের শাফা'আতকারী হবো। এতে কোন গর্ব নেই।

4315

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ ذَكْوَانَ، عَنْ أَبِي رَجَاءٍ الْعُطَارِدِيِّ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ لَيَخْرُجَنَّ قَوْمٌ مِنَ النَّارِ بِشَفَاعَتِي يُسَمَّوْنَ الْجَهَنَّمِيِّينَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৪৩১৫। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার (রাহঃ)...... ইমরান ইবন হুসায়ন (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার শাফা'আতের বদৌলতে জাহান্নাম থেকে অনেক লোক পরিত্রাণ পাবে। যাদের জাহান্নামী বলা হবে।

4316

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الْجَذْعَاءِ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏"‏ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ بِشَفَاعَةِ رَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي أَكْثَرُ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ سِوَاكَ قَالَ ‏"‏ سِوَاىَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ أَنْتَ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ أَنَا سَمِعْتُهُ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪৩১৬। আবু বাক্‌র ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)... আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আবু জাদ'আ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তিনি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, (কিয়ামতের দিন) আমার একজন উম্মাতের শাফা'আত ক্ৰমে বনু তামীম গোত্রের লোকজনের চাইতেও অধিক লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাঁরা (সাহাবা-ই-কিরাম) জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! সেই ব্যক্তি কি আপনি ব্যতীত অন্য কেউ? তিনি বললেনঃ আমি ব্যতীত। আমি (আব্দুল্লাহ ইবন শাকীক (রাহঃ) জিজ্ঞাসা করলামঃ আপনি (আব্দুল্লাহ ইব্‌ন আবু জাদ'আ (রাযিঃ)) কি এই হাদীস রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছেন? তিনি বললেনঃ আমি তাঁর নিকট থেকেই শুনেছি।

4317

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جَابِرٍ، قَالَ سَمِعْتُ سُلَيْمَ بْنَ عَامِرٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ الأَشْجَعِيَّ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ أَتَدْرُونَ مَا خَيَّرَنِي رَبِّيَ اللَّيْلَةَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ ‏"‏ فَإِنَّهُ خَيَّرَنِي بَيْنَ أَنْ يَدْخُلَ نِصْفُ أُمَّتِي الْجَنَّةَ وَبَيْنَ الشَّفَاعَةِ فَاخْتَرْتُ الشَّفَاعَةَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنَا مِنْ أَهْلِهَا ‏.‏ قَالَ ‏"‏ هِيَ لِكُلِّ مُسْلِمٍ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: আউফ ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৩১৭। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ).... আউফ ইব্‌ন মালিক আশজাই (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কি জান, আমার রব আজ রাতে আমাকে কোন বিষয়ে ইখতিয়ার দান করেছেন ? আমরা বললামঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেনঃ তিনি (আল্লাহ) আমাকে এ মর্মে ইখতিয়ার দিয়েছেন যে, আমার উম্মাতের অর্ধেক জান্নাত প্রবেশ করবে। কিংবা তাদের নাজাতের জন্য শাফা'আতের অনুমতি। আমি শাফা'আতকে ইখতিয়ার করলাম। আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর কাছে দু'আ করুন, যেন তিনি আমাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বললেনঃ এ (শাফা'আত) প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কার্যকর হবে।

জাহান্নামের বর্ণনা

بَاب صِفَةِ النَّارِ

4318

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَيَعْلَى، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ نُفَيْعٍ أَبِي دَاوُدَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنَّ نَارَكُمْ هَذِهِ جُزْءٌ مِنْ سَبْعِينَ جُزْءًا مِنْ نَارِ جَهَنَّمَ وَلَوْلاَ أَنَّهَا أُطْفِئَتْ بِالْمَاءِ مَرَّتَيْنِ مَا انْتَفَعْتُمْ بِهَا وَإِنَّهَا لَتَدْعُو اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ لاَ يُعِيدَهَا فِيهَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৩১৮। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়র (রাহঃ)....আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের দুনিয়ার এ আগুন জাহান্নামের আগুনের সত্তর ভাগের একভাগ (অর্থাৎ এখানের আগুনের চাইতে জাহান্নামের আগুন সত্তরগুণ বেশী উত্তাপ বিশিষ্ট)। যদি সে আগুনকে দু'বার পানি দ্বারা ঠাণ্ডা করা না হতো, তাহলে তোমরা এর থেকে ফায়দা নিতে পারতে না। এখন এ আগুন আল্লাহর দরিবারে দু'আ করছে যেন আবার তাকে জাহান্নামে ফিরিয়ে না নেওয়া হয়।

4319

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ اشْتَكَتِ النَّارُ إِلَى رَبِّهَا فَقَالَتْ يَا رَبِّ أَكَلَ بَعْضِي بَعْضًا ‏.‏ فَجَعَلَ لَهَا نَفَسَيْنِ نَفَسٌ فِي الشِّتَاءِ وَنَفَسٌ فِي الصَّيْفِ فَشِدَّةُ مَا تَجِدُونَ مِنَ الْبَرْدِ مِنْ زَمْهَرِيرِهَا وَشِدَّةُ مَا تَجِدُونَ مِنَ الْحَرِّ مِنْ سَمُومِهَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩১৯। আবু বাকর ইবন শায়বা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জাহান্নাম তাঁর রবের কাছে অভিযোগ করে বলে হে আমার রব! আমার একাংশ অপরাংশকে ভক্ষণ করছে। তখন আল্লাহ তাকে দু'বার নিঃশ্বাস ফেলার নির্দেশ দেন--একটি শীত মৌসুমে, আরেকটি গ্রীষ্মে। সুতরাং দুনিয়াতে যে ঠাণ্ডা অনুভব করছো, তা জাহান্নামের যামহারীর তবকার (হিমস্তরের) নিঃশ্বাস এবং যে প্রচণ্ড গরম অনুভব করছো, তা জাহান্নামের আগুনের উষ্ণতার ফলশ্রুতি।

4320

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ أُوقِدَتِ النَّارُ أَلْفَ سَنَةٍ فَابْيَضَّتْ ثُمَّ أُوقِدَتْ أَلْفَ سَنَةٍ فَاحْمَرَّتْ ثُمَّ أُوقِدَتْ أَلْفَ سَنَةٍ فَاسْوَدَّتْ فَهِيَ سَوْدَاءُ كَاللَّيْلِ الْمُظْلِمِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৩২০। আব্বাস ইবন মুহাম্মাদ দূরী (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জাহান্নামের আগুন হাজার বছর উত্তপ্ত করার পর তা সাদা রং ধারণ করে। পরে তা হাজার বছর প্রজ্জ্বলিত করায় লাল রং ধারণ করে। তারপর হাযার বছর প্রজ্জ্বলিত রাখার পর তা কালবর্ণ রূপ ধারণ করে। এখন তা অন্ধকার রাতের মত কাল।

4321

حَدَّثَنَا الْخَلِيلُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْحَرَّانِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يُؤْتَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَنْعَمِ أَهْلِ الدُّنْيَا مِنَ الْكُفَّارِ فَيُقَالُ اغْمِسُوهُ فِي النَّارِ غَمْسَةً ‏.‏ فَيُغْمَسُ فِيهَا ثُمَّ يُقَالُ لَهُ أَىْ فُلاَنُ هَلْ أَصَابَكَ نَعِيمٌ قَطُّ فَيَقُولُ لاَ مَا أَصَابَنِي نَعِيمٌ قَطُّ ‏.‏ وَيُؤْتَى بِأَشَدِّ الْمُؤْمِنِينَ ضُرًّا وَبَلاَءً ‏.‏ فَيُقَالُ اغْمِسُوهُ غَمْسَةً فِي الْجَنَّةِ ‏.‏ فَيُغْمَسُ فِيهَا غَمْسَةً فَيُقَالُ لَهُ أَىْ فُلاَنُ هَلْ أَصَابَكَ ضُرٌّ قَطُّ أَوْ بَلاَءٌ فَيَقُولُ مَا أَصَابَنِي قَطُّ ضُرٌّ وَلاَ بَلاَءٌ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৩২১। খলীল ইবন আমর (রাহঃ)..... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন কাফিরদের মধ্য হতে এমন এক ব্যক্তিকে হাযির করা হবে, যে দুনিয়াতে জৌলুসপূর্ণ জীবন কাটিয়েছে। তখন বলা হবে তোমরা (ফিরিশতারা) একে জাহান্নামে নিক্ষেপ কর। তখন তাকে জাহান্নামের গর্তে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে হে অমুক! তুমি কি কখনো শান্তির মুখ দেখেছো? সে বলবেঃ না, আমি কখনো সুখের ছোঁয়া পাইনি। অতঃপর কিয়ামতের দিনে ঈমানদারদের মধ্য হতে এমন একজনকে হাযির করা হবে, যে দুনিয়াতে দুঃখ-কষ্ট ও বিপদাপদে জীবন যাপন করেছিল। তখন বলা হবেঃ একে জান্নাত ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখাও। তখন তাকে জান্নাত ঘুরিয়ে দেখানো হবে। এরপর তাকে বলা হবেঃ হে অমুক! তোমাকে কি কখনো দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদ স্পর্শ করেছে? তখন সে বলবেঃ আমি কখনো দুঃখ-কষ্টে পতিত হইনি।

4322

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ الْمُخْتَارِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَطِيَّةَ الْعَوْفِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ الْكَافِرَ لَيَعْظُمُ حَتَّى إِنَّ ضِرْسَهُ لأَعْظَمُ مِنْ أُحُدٍ وَفَضِيلَةُ جَسَدِهِ عَلَى ضِرْسِهِ كَفَضِيلَةِ جَسَدِ أَحَدِكُمْ عَلَى ضِرْسِهِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪৩২২। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)..... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কাফিরের শরীর অস্বাভাবিক মোটাতাজা হবে, এমনকি তার একেকটি দাঁত উহুদ পর্বতের চাইতেও বড় হবে। অতঃপর তার সারা দেহ দাঁতের তুলনায় এমন প্রশস্ততর ও বিরাটাকায় হবে, যেমন (দুনিয়াতে) তোমাদের দাঁতের তুলনায় তার দেহ হয়ে থাকে।

4323

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَيْسٍ، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ أَبِي بُرْدَةَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَدَخَلَ عَلَيْنَا الْحَارِثُ بْنُ أُقَيْشٍ فَحَدَّثَنَا الْحَارِثُ، لَيْلَتَئِذٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ مِنْ أُمَّتِي مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ بِشَفَاعَتِهِ أَكْثَرُ مِنْ مُضَرَ وَإِنَّ مِنْ أُمَّتِي مَنْ يَعْظُمُ لِلنَّارِ حَتَّى يَكُونَ أَحَدَ زَوَايَاهَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪৩২৩। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইব্‌ন কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি আবু বুরদাহ (রাযিঃ)-এর কাছে ছিলাম। এ সময় হারিস ইব্‌ন উকায়শ (রাযিঃ) আমাদের নিকটে আসেন। তখন তিনি আমাদের কাছে এ মর্মে হাদীস বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মাঝে কোন ব্যক্তি এমন হবে, যার শাফা'আতে মুদার গোত্রের লোকদের চাইতেও অধিক লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে। পক্ষান্তরে আমার উম্মাতের মধ্য থেকে এমন এক ব্যক্তিও হবে, যে জাহান্নামের জন্য মোটাতাজা হবে, এমন কি জাহান্নামের এক কোণা পরিপূর্ণ হবে।

4324

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يُرْسَلُ الْبُكَاءُ عَلَى أَهْلِ النَّارِ فَيَبْكُونَ حَتَّى يَنْقَطِعَ الدُّمُوعُ ثُمَّ يَبْكُونَ الدَّمَ حَتَّى يَصِيرَ فِي وُجُوهِهِمْ كَهَيْئَةِ الأُخْدُودِ لَوْ أُرْسِلَتْ فِيهِ السُّفُنُ لَجَرَتْ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৩২৪। মুহাম্মাদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ ইবন নুমায়র (রাহঃ)...... আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জাহান্নামীদের জন্য প্রেরিত হবে কেবল কান্না আর কান্না। তারা কাঁদতে থাকবে, অবশেষে তাদের চোখের পানি বন্ধ হয়ে যাবে। পরে চোখ দিয়ে ঝরতে থাকবে রক্তাশ্রু, এমনকি তাদের চেহারাশ নালার মত ক্ষতের চিহ্ন পড়ে যাবে (অর্থাৎ পানি ও রক্ত ঝরতে ঝরতে চেহারায় গর্তের সৃষ্টি হবে)। যদি সেথায় নৌযান চালু করা হয়, তাহলে তা চলতে পারবে।

4325

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوتُنَّ إِلاَّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ )‏ ‏"‏ وَلَوْ أَنَّ قَطْرَةً مِنَ الزَّقُّومِ قُطِرَتْ فِي الأَرْضِ لأَفْسَدَتْ عَلَى أَهْلِ الدُّنْيَا مَعِيشَتَهُمْ فَكَيْفَ بِمَنْ لَيْسَ لَهُ طَعَامٌ غَيْرُهُ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৩২৫। মুহাম্মাদ ইবন বাশশার (রাহঃ)....... ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوتُنَّ إِلاَّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ

“হে মু'মিনগণ। তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা আত্মসমর্পণকারী না হয়ে কোন অবস্থায় মরো না"। (৩ঃ ১০২)। (তিনি বললেন) যদি এক ফোটা যাক্কুম যমীনে পড়তো, তবে তা সারা বিশ্বের অধিবাসীদের জীবন নষ্ট করে ফেলত। সুতরাং সে সব লোকদের পরিণতি কতই না ভয়াবহ হবে, যাদের যাক্কুম[১] ব্যতীত আর কোন খাদ্য থাকবে না।

[১] যাকুম এক ধরনের আঠাযুক্ত বৃক্ষ। খাওয়ার সাথে সাথে কণ্ঠনালীতে আটকে যাবে। নীচেও নামবে না, বেরও করা যাবে না। গলিত তামার ন্যায় এবং ফুটন্ত পানির ন্যায় তা পাপীদের উদরে ফুটতে থাকবে।
4326

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَادَةَ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ تَأْكُلُ النَّارُ ابْنَ آدَمَ إِلاَّ أَثَرَ السُّجُودِ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَى النَّارِ أَنْ تَأْكُلَ أَثَرَ السُّجُودِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৩২৬। মুহাম্মাদ ইব্‌ন উবাদা ওয়াসিতী (রাহঃ)......আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জাহান্নামের আগুন সিজ্দার চিহ্নসমূহ ব্যতীত আদম সন্তানের সারা শরীর ভক্ষণ করবে। আল্লাহ তা'আলা সিজ্দার চিহ্নসমূহ জাহান্নামের আগুনের জন্য খাওয়া হারাম করেছেন।

4327

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ يُؤْتَى بِالْمَوْتِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُوقَفُ عَلَى الصِّرَاطِ فَيُقَالُ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ ‏.‏ فَيَطَّلِعُونَ خَائِفِينَ وَجِلِينَ أَنْ يُخْرَجُوا مِنْ مَكَانِهِمُ الَّذِي هُمْ فِيهِ ثُمَّ يُقَالُ يَا أَهْلَ النَّارِ فَيَطَّلِعُونَ مُسْتَبْشِرِينَ فَرِحِينَ أَنْ يُخْرَجُوا مِنْ مَكَانِهِمُ الَّذِي هُمْ فِيهِ فَيُقَالُ هَلْ تَعْرِفُونَ هَذَا قَالُوا نَعَمْ هَذَا الْمَوْتُ ‏.‏ قَالَ فَيُؤْمَرُ بِهِ فَيُذْبَحُ عَلَى الصِّرَاطِ ثُمَّ يُقَالُ لِلْفَرِيقَيْنِ كِلاَهُمَا خُلُودٌ فِيمَا تَجِدُونَ لاَ مَوْتَ فِيهِ أَبَدًا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৩২৭। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে হাযির করা হবে। এরপর বলা হবেঃ হে জাহান্নামীরা। এ শুনে তারা খুশিতে ডগমগিয়ে উঁকি মোরে দেখবে এ ধারণা করে যে, তাদেরকে তাদের আবাসস্থল থেকে বের করা হবে। তখন (সমবেত জান্নাতী ও জাহান্নামী সকলকে) বলা হবেঃ তোমরা কি একে (মৃত্যু) চিন? তারা বলবেঃ হ্যাঁ এতো ‘মৃত্যু'। রাবী বলেনঃ তখন তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে, ফলে তাকে পুলসিরাতের উপর যবাই করা হবে। তারপর উভয় পক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হবে, এ বার তোমরা আপন আপন আবাসস্থলে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান কর। এখানে আর কখনো মৃত্যু নেই ।

জান্নাতের বর্ণনা

بَاب صِفَةِ الْجَنَّةِ

4328

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَعْدَدْتُ لِعِبَادِيَ الصَّالِحِينَ مَا لاَ عَيْنٌ رَأَتْ وَلاَ أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلاَ خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ وَمِنْ بَلْهَ مَا قَدْ أَطْلَعَكُمُ اللَّهُ عَلَيْهِ اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ ‏(فَلاَ تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ )‏ قَالَ وَكَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يَقْرَؤُهَا مِنْ قُرَّاتِ أَعْيُنٍ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৩২৮। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মহান আল্লাহ বলেনঃ “আমি আমার নেক্কার বান্দাদের জন্য এমন সব নি'আমত ও বিলাস-ব্যসনের সামগ্রী তৈরী করে রেখেছি, যা কোন চোখ কখনো দেখেনি, কোন কান কখনো শুনেনি, এমনকি কোন মানুষের অন্তরে তার ধারণারও কোন দিন উদ্রেক হয়নি"।

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, সে সব ভোগ-বিলাসের উপকরণাদির কথা বাদ দাও, যেগুলো আল্লাহ তা'আলা তোমাদের কাছে স্পষ্ট করে বর্ণনা করেছেন (অর্থাৎ বর্ণনাতীত ভোগ্যসামগ্রী মজুদ রয়েছে)। যদি তোমরা কৌতূহলবশত জানতে চাও, তাহলে এ আয়াত তিলাওয়াত করঃ

فَلاَ تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
“কেউ জানে না তাদের জন্য নয়ন--প্রীতিকর কী লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ"। (৩২ঃ ১৭)।
4329

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏"‏ لَشِبْرٌ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِنَ الأَرْضِ وَمَا عَلَيْهَا - الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪৩২৯। আবু বাকর ইব্‌ন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জান্নাতের এক বিঘৎ (অর্ধহাত) পরিমাণ স্থান সমগ্র পৃথিবী এবং এর মাঝে যা কিছু আছে তা থেকে উত্তম।

4330

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ مَنْظُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَوْضِعُ سَوْطٍ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৪৩৩০। হিশাম ইব্‌ন আম্মার (রাহঃ)...... সাহল সা'দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতের একটা কোড়া রাখার পরিমাণ জায়গা পৃথিবী এবং এর মাঝে যা আছে তা থেকে উত্তম।

4331

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ مَيْسَرَةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ الْجَنَّةُ مِائَةُ دَرَجَةٍ كُلُّ دَرَجَةٍ مِنْهَا مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ وَإِنَّ أَعْلاَهَا الْفِرْدَوْسُ وَإِنَّ أَوْسَطَهَا الْفِرْدَوْسُ وَإِنَّ الْعَرْشَ عَلَى الْفِرْدَوْسِ مِنْهَا تُفَجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ فَإِذَا مَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَسَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৪৩৩১। সুওয়ায়দ ইবন সাঈদ (রাহঃ)..... মু'আয ইবন জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ জান্নাতের একশ স্তর রয়েছে। এক স্তর থেকে অপর স্তরের ব্যবধান আসমান-যমীনের দূরত্বের সমান। নিশ্চয় এর শীর্ষস্তরে রয়েছে ফিরদাউস এবং এর মধ্যবর্তী স্তরও ফিরদাউস। আর আরশও ফিরদাউসের উপর অবস্থিত। এখান থেকে জান্নাতের ঝরণাসমূহ প্রবাহিত। তাই যখন তোমরা আল্লাহর কাছে (জান্নাত) চাইবে, তখন তাঁর কাছে ফিরদাউস জান্নাত চাইবে।

4332

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عُثْمَانَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنِي الضَّحَّاكُ الْمَعَافِرِيُّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ كُرَيْبٍ، - مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ - قَالَ حَدَّثَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ذَاتَ يَوْمٍ لأَصْحَابِهِ ‏"‏ أَلاَ مُشَمِّرٌ لِلْجَنَّةِ فَإِنَّ الْجَنَّةَ لاَ خَطَرَ لَهَا هِيَ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ نُورٌ يَتَلأْلأُ وَرَيْحَانَةٌ تَهْتَزُّ وَقَصْرٌ مَشِيدٌ وَنَهَرٌ مُطَّرِدٌ وَفَاكِهَةٌ كَثِيرَةٌ نَضِيجَةٌ وَزَوْجَةٌ حَسْنَاءُ جَمِيلَةٌ وَحُلَلٌ كَثِيرَةٌ فِي مَقَامٍ أَبَدًا فِي حَبْرَةٍ وَنَضْرَةٍ فِي دَارٍ عَالِيَةٍ سَلِيمَةٍ بَهِيَّةٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا نَحْنُ الْمُشَمِّرُونَ لَهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ قُولُوا إِنْ شَاءَ اللَّهُ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ ذَكَرَ الْجِهَادَ وَحَضَّ عَلَيْهِ ‏.‏

Narrator: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

৪৩৩২। আব্বাস ইব্‌ন উসমান দিমাশকী (রাহঃ)...... উসামা ইবন যায়িদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার তাঁর সাহাবীদের লক্ষ্য করে বলেছেনঃ আছে কি কেউ জান্নাতের জন্য কোমর বেঁধে কর্ম সম্পাদনকারী? কেননা, জান্নাতের উপমা সদৃশ কোন জিনিস নেই। কা'বার রব অর্থাৎ আল্লাহর শপথ এ (জান্নাত) তো ঝলমলে আলো, বিচ্ছুরিত সুগন্ধি, সুরম্য প্রাসাদ, প্রবাহমান স্রোতস্বিনী, সুমিষ্ট অসংখ্য ফলমূল, সুন্দরী-সুশ্রী স্ত্রী, বহু অলংকারে বিমন্ডিত, চিরস্থায়ী স্থান, সবুজ শ্যামলিমায় পরিপূর্ণ নিয়ামতে। আরও রয়েছে গগনচুম্বী নিরাপদ প্রাণস্পর্শী প্রাসাদ। তাঁরা (সাহাবারা) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এই জান্নাতের জন্য কোমর বাঁধলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা বলঃ 'ইনশাআল্লাহ'। এরপর তিনি জিহাদ সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান করেন।

4333
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ أَوَّلُ زُمْرَةٍ تَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ عَلَى ضَوْءِ أَشَدِّ كَوْكَبٍ دُرِّيٍّ فِي السَّمَاءِ إِضَاءَةً لاَ يَبُولُونَ وَلاَ يَتَغَوَّطُونَ وَلاَ يَمْتَخِطُونَ وَلاَ يَتْفِلُونَ أَمْشَاطُهُمُ الذَّهَبُ وَرَشْحُهُمُ الْمِسْكُ وَمَجَامِرُهُمُ الأَلُوَّةُ أَزْوَاجُهُمُ الْحُورُ الْعِينُ أَخْلاَقُهُمْ عَلَى خَلْقِ رَجُلٍ وَاحِدٍ عَلَى صُورَةِ أَبِيهِمْ آدَمَ سِتُّونَ ذِرَاعًا ‏"‏ ‏.‏

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، مِثْلَ حَدِيثِ ابْنِ فُضَيْلٍ عَنْ عُمَارَةَ، ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৩৩৩। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতের প্রবেশকারী প্রথম দল পূর্ণিমার রাতের পূর্ণচন্দ্রের মত আলো ঝলমলে চেহারা বিশিষ্ট হবে। তাদের পরবর্তী দলের লোকেরা হবে উজ্জ্বল আকাশের স্পষ্ট তারকারাজির মত উজ্জ্বলতর। তারা (জান্নাতীরা) পেশাব করবে না, পায়খানাও করবে না, এমনকি নাকও ঝাড়বে না এবং থুথুও ফেলবে না। তাদের চিরুণী হবে সোনার তৈরী, তাদের শরীর থেকে নির্গত ঘাম হবে মিশুকের ন্যায় সুগন্ধযুক্ত, তাদের ধূপাধার হবে সুগন্ধি বিশিষ্ট। তাদের স্ত্রীগণ হবে আয়তলোচনা হুরবালা। তাদের আগ্লাক হবে একই ব্যক্তির আচরণের মত, তারা তাদের পিতা আদম (আ)-এর আকৃতিতে ষাট হাত (গজ) লম্বা হবেন।

আবু বাকর ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ), উমারা (রাহঃ) থেকে ইবন ফুযায়ল (রাহঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
4334

حَدَّثَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، وَعَلِيُّ بْنُ الْمُنْذِرِ، قَالُوا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الْكَوْثَرُ نَهَرٌ فِي الْجَنَّةِ حَافَتَاهُ مِنْ ذَهَبٍ مَجْرَاهُ عَلَى الْيَاقُوتِ وَالدُّرِّ تُرْبَتُهُ أَطْيَبُ مِنَ الْمِسْكِ وَمَاؤُهُ أَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ وَأَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ الثَّلْجِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৩৩৪। ওয়াসিল ইব্‌ন আব্দুল আ'লা আব্দুল্লাহ ইবন সাঈদ ও আলী ইবন মুনযির (রাহঃ).......ইবন উমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কাওসার জান্নাতের একটি ঝরণা। তার উভয় তীর স্বর্ণপাতে মোড়ানো, এর পানি প্রবাহিত হবে ইয়াকূত ও মোতির উপর দিয়ে। তার মাটি মিশক আম্বরের চাইতেও সুগন্ধিযুক্ত । পানি মধুর চাইতে সুমিষ্টতর এবং বরফের চাইতেও ধবধবে সাদা।

4335

حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ الضَّرِيرُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُثْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ شَجَرَةً يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلِّهَا مِائَةَ سَنَةٍ لاَ يَقْطَعُهَا ‏"‏ ‏.‏ وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ ‏(وَظِلٍّ مَمْدُودٍ * وَمَاءٍ مَسْكُوبٍ ‏)‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৩৩৫। আবু উমার দারীর (রাহঃ)....আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাত (তুবা নামক) একটি বৃক্ষ আছে। এই বৃক্ষের ছায়ায় ঘোড় সাওয়ার একশত বছর পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারবে কিন্তু বৃক্ষের ছায়ার সীমারেখা শেষ হবে না। অতঃপর তিনি বলেনঃ তোমরা চাইলে এ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারঃ অর্থাৎ বিস্তৃত ছায়া।

4336

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ حَبِيبِ بْنِ أَبِي الْعِشْرِينَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ لَقِيَ أَبَا هُرَيْرَةَ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَسْأَلُ اللَّهَ أَنْ يَجْمَعَ، بَيْنِي وَبَيْنَكَ فِي سُوقِ الْجَنَّةِ ‏.‏ قَالَ سَعِيدٌ أَوَفِيهَا سُوقٌ قَالَ نَعَمْ أَخْبَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ إِذَا دَخَلُوهَا نَزَلُوا فِيهَا بِفَضْلِ أَعْمَالِهِمْ فَيُؤْذَنُ لَهُمْ فِي مِقْدَارِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ مِنْ أَيَّامِ الدُّنْيَا فَيَزُورُونَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَيُبْرِزُ لَهُمْ عَرْشَهُ وَيَتَبَدَّى لَهُمْ فِي رَوْضَةٍ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ فَتُوضَعُ لَهُمْ مَنَابِرُ مِنْ نُورٍ وَمَنَابِرُ مِنْ لُؤْلُؤٍ وَمَنَابِرُ مِنْ يَاقُوتٍ وَمَنَابِرُ مِنْ زَبَرْجَدٍ وَمَنَابِرُ مِنْ ذَهَبٍ وَمَنَابِرُ مِنْ فِضَّةٍ وَيَجْلِسُ أَدْنَاهُمْ - وَمَا فِيهِمْ دَنِيءٌ - عَلَى كُثْبَانِ الْمِسْكِ وَالْكَافُورِ مَا يُرَوْنَ أَنَّ أَصْحَابَ الْكَرَاسِيِّ بِأَفْضَلَ مِنْهُمْ مَجْلِسًا ‏.‏ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ نَرَى رَبَّنَا قَالَ ‏"‏ نَعَمْ هَلْ تَتَمَارَوْنَ فِي رُؤْيَةِ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ ‏"‏ ‏.‏ قُلْنَا لاَ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ كَذَلِكَ لاَ تَتَمَارَوْنَ فِي رُؤْيَةِ رَبِّكُمْ عَزَّ وَجَلَّ وَلاَ يَبْقَى فِي ذَلِكَ الْمَجْلِسِ أَحَدٌ إِلاَّ حَاضَرَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مُحَاضَرَةً حَتَّى إِنَّهُ يَقُولُ لِلرَّجُلِ مِنْكُمْ أَلاَ تَذْكُرُ يَا فُلاَنُ يَوْمَ عَمِلْتَ كَذَا وَكَذَا - يُذَكِّرُهُ بَعْضَ غَدَرَاتِهِ فِي الدُّنْيَا - فَيَقُولُ يَا رَبِّ أَفَلَمْ تَغْفِرْ لِي فَيَقُولُ بَلَى فَبِسَعَةِ مَغْفِرَتِي بَلَغْتَ مَنْزِلَتَكَ هَذِهِ ‏.‏ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ غَشِيَتْهُمْ سَحَابَةٌ مِنْ فَوْقِهِمْ فَأَمْطَرَتْ عَلَيْهِمْ طِيبًا لَمْ يَجِدُوا مِثْلَ رِيحِهِ شَيْئًا قَطُّ ثُمَّ يَقُولُ قُومُوا إِلَى مَا أَعْدَدْتُ لَكُمْ مِنَ الْكَرَامَةِ فَخُذُوا مَا اشْتَهَيْتُمْ ‏.‏ قَالَ فَنَأْتِي سُوقًا قَدْ حُفَّتْ بِهِ الْمَلاَئِكَةُ فِيهِ مَا لَمْ تَنْظُرِ الْعُيُونُ إِلَى مِثْلِهِ وَلَمْ تَسْمَعِ الآذَانُ وَلَمْ يَخْطُرْ عَلَى الْقُلُوبِ ‏.‏ قَالَ فَيُحْمَلُ لَنَا مَا اشْتَهَيْنَا لَيْسَ يُبَاعُ فِيهِ شَىْءٌ وَلاَ يُشْتَرَى وَفِي ذَلِكَ السُّوقِ يَلْقَى أَهْلُ الْجَنَّةِ بَعْضُهُمْ بَعْضًا فَيُقْبِلُ الرَّجُلُ ذُو الْمَنْزِلَةِ الْمُرْتَفِعَةِ فَيَلْقَى مَنْ هُوَ دُونَهُ - وَمَا فِيهِمْ دَنِيءٌ - فَيَرُوعُهُ مَا يَرَى عَلَيْهِ مِنَ اللِّبَاسِ فَمَا يَنْقَضِي آخِرُ حَدِيثِهِ حَتَّى يَتَمَثَّلَ لَهُ عَلَيْهِ أَحْسَنُ مِنْهُ وَذَلِكَ أَنَّهُ لاَ يَنْبَغِي لأَحَدٍ أَنْ يَحْزَنَ فِيهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ ثُمَّ نَنْصَرِفُ إِلَى مَنَازِلِنَا فَيَتَلَقَّانَا أَزْوَاجُنَا فَيَقُلْنَ مَرْحَبًا وَأَهْلاً لَقَدْ جِئْتَ وَإِنَّ بِكَ مِنَ الْجَمَالِ وَالطِّيبِ أَفْضَلَ مِمَّا فَارَقْتَنَا عَلَيْهِ فَنَقُولُ إِنَّا جَالَسْنَا الْيَوْمَ رَبَّنَا الْجَبَّارَ عَزَّ وَجَلَّ وَيَحِقُّنَا أَنْ نَنْقَلِبَ بِمِثْلِ مَا انْقَلَبْنَا ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৩৩৬। হিশাম ইবন আম্মার (রাহঃ)..... সাঈদ ইবন মুসায়্যিব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একবার আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষৎ করেন। তখন আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বললেনঃ আমি আল্লাহর দরগাহে মুনাজাত করছি, তিনি যেন আমাকেও তোমাকে জান্নাতের বাজারে একত্রিত করেন। সাঈদ (রাহঃ) বললেনঃ সেখানে কি থাকবে ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে জানিয়েছেন যে, জান্নাতীরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তাদের নেক আমল অনুসারে তারা সেখানে মর্যাদা লাভ করবে। এরপর তাদের পৃথিবীর দিন অনুসারে জুমু'আর দিবসের পরিমাণ সময়ের জন্য আল্লাহ তা'আলার (দীদার লাভের) অনুমতি দেওয়া হবে। তখন তারা মহান আল্লাহকে দেখতে পাবে এবং তিনি তাদের জন্য তাঁর আরশ উন্মুক্ত করে দেবেন। এবং তিনি জান্নাতের বাগানগুলির মাঝে একটি বাগনে তাদের সামনে উদ্ভাসিত হবেন। জান্নাতীদের জন্য নূরের মিম্বরসমূহ সুসজ্জিত করে রাখা হবে, আর রাখা হবে হিরে, মোতি, পান্না, সোনা ও রূপার তৈরী আসন সমূহ। জান্নাতীদের কম মর্যাদার লোকেরা বসবে, (অথচ তাদের মানে কোন কম মর্যাদার লোক থাকবে না), কস্তুরী সুবাসিত ও কাফূর মিশ্রিত টিলার উপরে। চেয়ারে উপবিষ্ট জান্নাতীদের মর্যাদার দিক দিয়ে তাদের চেয় অধিক মর্যাদাবান বলে অনুভূত হবে না।
আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আমাদের রবকে দেখতে পাব? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ । তোমরা কি সূর্য ও পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখার ব্যাপারে সন্দীহান হয়ে একে অপরের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হও? আমরা বললামঃ না। তিনি বললেনঃ এভাবেই তোমরা তোমাদের মহান রবকে দেখার ব্যাপারে সন্দীহান হয়ে পরস্পর জগড়ায় লিপ্ত হবে না। যে মজলিসে এমন কোন লোক অবশিষ্ট থাকবে না, যার সামনে মহান আল্লাহ উদ্ভাসিত না হবেন (অর্থাৎ সবাই তাঁকে দেখতে পাবে)। এমনকি তিনি তোমাদের এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করবেনঃ হে অমুক! তোমার কি মনে আছে, অমুক দিন তুমি এই এই কাজ করেছিলে ? তাকে তার দুনিয়ার জীবনে কৃত কতিপয় গুনাহের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে। তখন সে বলবেঃ হে আমার রব! তুমি কি আমার (পাপরাশি) ক্ষমা করে দাওনি? তিনি বলবেনঃ হ্যাঁ, তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আমার ক্ষমার ব্যাপক বিস্তৃতির বদৌলতে তুমি এ মর্যাদায় সমাসীন হতে পেরেছ। তারা এ অবস্থায় থাকবে, ইত্যবসরে তাদের উপর থেকে একখন্ড মেঘ তাদের ঢেকে ফেলবে। তা থেকে এমন সুগন্ধিযুক্ত বৃষ্টি বর্ষণ হবে, যে ধরনের সুরভিত সুবাস এর আগে তারা কখনো পায়নি। অতঃপর তিনি বলবেন (হে জান্নাতীরা)। তোমাদের জন্য যে বড় নিয়ামত আমি তৈরী করে রেখেছি সে দিকে এসো এবং তোমরা যা ইচ্ছা কর তা গ্রহণ কর। (রাবী বলেন) তারপরে আমরা (জান্নাতীরা) ফিরিশতা পরিবেষ্টিত একটি বাজারে যাব। সেই বাজারে এমন সব দ্রব্য সম্ভার রয়েছে যার দৃষ্টান্ত চক্ষুসমূহ কখনো দেখেনি, কান সমূহ শুনেনি, সর্বোপরি সে সম্পর্কে অন্তরে কল্পনার ও উদ্রেক হয়নি। (রাবী বলেন), আমরা যা চাইবো তাই আমাদের জন্য সরবরাহ করা হবে। এখানে কান জিনিস বেচা-কিনা হবে না। এই বাজারে সব জান্নাতীরা সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবে। এরপর একজন উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন জান্নাতী এগিয়ে আসবে এবং সেন তার চাইতে অপেক্ষাকৃত কমমর্যাদা সম্পন্ন জান্নাতীর সঙ্গে সাক্ষাত করবে। (অথচ সেখানকার কেউ-ই কম মর্যাদার হবে না)। উঁচুমর্যাদা সম্পন্ন জান্নাতী কমমর্যাদা সম্পন্ন জান্নাতীর পোশাক, বিব্রত করে তুলবে। এ অবস্থা শেষ হত না হতেই তাঁর পরিধানে যে বস্ত্র ছিল তা উন্নতমানের রূপ প্ররিগ্রহ করবে। তা এজন্য যে, সেখানে কারো জন্য চিন্তা ভাবনায় পতিত হওয়া শোভনীয় নয়।

রাবী বলেনঃ এরপর আমরা নিজনিজ বাসস্থানে ফিরে যাবো এবং আমাদের সহধর্মীনিরা আমাদের সাথে মিলিত হবে। তখন তারা বলতে থাকবেঃ মারহাবান ওয়া আহলান্, (অর্থাৎ স্বাগতম, সাদর আমন্ত্রণ)। তুমি তো এমন অবস্থায় ফিরে এসেছো যে, তোমার সৌন্দর্য ও সুগন্ধি পূর্বের চাইতে বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তখন আমরা বলবোঃ আজ আমরা আমাদের মহিমান্বিত মহান রবের সান্নিধ্যে বসে ধন্য হয়ে এসছি। এ সুবাধে যতটা সৌন্দর্য ও সুরভিত হওয়া সমীচীন (ততটা হতে পেরেছি) এবং আমরা যেভাবে ফিরে এসেছি, এভাবে ফিরে আসাই আমাদের জন্য যথাযথ।
4337

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ خَالِدٍ الأَزْرَقُ أَبُو مَرْوَانَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ أَبِي مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَا مِنْ أَحَدٍ يُدْخِلُهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ إِلاَّ زَوَّجَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ زَوْجَةً ثِنْتَيْنِ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ وَسَبْعِينَ مِنْ مِيرَاثِهِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ مَا مِنْهُنَّ وَاحِدَةٌ إِلاَّ وَلَهَا قُبُلٌ شَهِيٌّ وَلَهُ ذَكَرٌ لاَ يَنْثَنِي ‏"‏ ‏.‏ قَالَ هِشَامُ بْنُ خَالِدٍ مِنْ مِيرَاثِهِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ يَعْنِي رِجَالاً دَخَلُوا النَّارَ فَوَرِثَ أَهْلُ الْجَنَّةِ نِسَاءَهُمْ كَمَا وُرِثَتِ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪৩৩৭। হিশাম ইব্‌ন খালিদ আযদাক আবু মারওয়ান দিমাশকী (রাহঃ)...... আবু উমামাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ যাকে জান্নাতে দাখিল করাবেন, তাদের প্রত্যেককেই ৭২ জন স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ করিয়ে দেবেন। তন্মধ্যে দু'জন হবে আয়তলোচনা হুর এবং অবশিষ্ট ৭০ জন হবে জাহান্নামীদের থেকে ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত। তাদের প্রত্যেকের লজ্জাস্থান হবে অত্যন্ত সৌষ্ঠব এবং তার পুরুষাংগ হবে অত্যন্ত সুদৃঢ় মযবুত যা কখনো টলবে না।

হিশাম ইবন খালিদ (রাহঃ) বলেনঃ জাহান্নামীদের থেকে স্ত্রী বুঝাতে সে সব পবিত্রা নারীদের বুঝাবে, যাদের স্বামীরা জাহান্নামে নিক্ষপ্ত হয়েছে এবং স্ত্রীরা ঈমানদার হিসেবে জান্নাতের অধিবাসী হয়েছে, যেমন ফির'আউনের স্ত্রী আছিয়াহ (রাহঃ)। (ফিরা'আউন জাহান্নামী আর আছিয়াহ্ (রাহঃ) জান্নাতী। কেননা সে ঈমানাদার ছিল)
4338

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ عَامِرٍ الأَحْوَلِ، عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ النَّاجِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ الْمُؤْمِنُ إِذَا اشْتَهَى الْوَلَدَ فِي الْجَنَّةِ كَانَ حَمْلُهُ وَوَضْعُهُ فِي سَاعَةٍ وَاحِدَةٍ كَمَا يَشْتَهِي ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪৩৩৮। মুহাম্মাদ ইব্‌ন বাশশার (রাহঃ)...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মু'মিন ব্যক্তি যখন জান্নাতে সন্তান-সন্ততি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবে, তখন তাঁর আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী তার গর্ভধারণ ও গর্ভ খালাস এক মুহূর্তের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

4339

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِنِّي لأَعْلَمُ آخِرَ أَهْلِ النَّارِ خُرُوجًا مِنْهَا وَآخِرَ أَهْلِ الْجَنَّةِ دُخُولاً الْجَنَّةَ ‏.‏ رَجُلٌ يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ حَبْوًا فَيُقَالُ لَهُ اذْهَبْ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ ‏.‏ فَيَأْتِيهَا فَيُخَيَّلُ إِلَيْهِ أَنَّهَا مَلأَى فَيَرْجِعُ فَيَقُولُ يَا رَبِّ وَجَدْتُهَا مَلأَى ‏.‏ فَيَقُولُ اللَّهُ اذْهَبْ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ ‏.‏ فَيَأْتِيهَا فَيُخَيَّلُ إِلَيْهِ أَنَّهَا مَلأَى فَيَرْجِعُ فَيَقُولُ يَا رَبِّ وَجَدْتُهَا مَلأَى ‏.‏ فَيَقُولُ اللَّهُ سُبْحَانَهُ اذْهَبْ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ ‏.‏ فَيَأْتِيهَا فَيُخَيَّلُ إِلَيْهِ أَنَّهَا مَلأَى فَيَرْجِعُ فَيَقُولُ يَا رَبِّ إِنَّهَا مَلأَى ‏.‏ فَيَقُولُ اللَّهُ اذْهَبْ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ ‏.‏ فَإِنَّ لَكَ مِثْلَ الدُّنْيَا وَعَشَرَةَ أَمْثَالِهَا - أَوْ إِنَّ لَكَ مِثْلَ عَشَرَةِ أَمْثَالِ الدُّنْيَا - فَيَقُولُ أَتَسْخَرُ بِي - أَوْ أَتَضْحَكُ بِي - وَأَنْتَ الْمَلِكُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ ‏.‏ فَكَانَ يُقَالُ هَذَا أَدْنَى أَهْلِ الْجَنَّةِ مَنْزِلَةً ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪৩৩৯। উসমান ইবন আবু শায়বা (রাহঃ)...... আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জাহান্নাম হতে (নির্ধারিত শাস্তিভোগের পর) সব শেষে বেরিয়ে আসবে এবং সবার শেষে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আমি তাকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ কর। তখন সে সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর তার মনে হবে, জান্নাত তো পরিপূর্ণ। সে ফিরে আসবে এবং বলবেঃ হে আমার রব। জান্নাত তো পরিপূর্ণ। এভাবে তিনবার জান্নাতী যাবে ও ফিরে এসে একই কথা বলবে তখন আল্লাহ বলবেনঃ তুমি যাও এবং জান্নাতে প্রবেশ কর। তোমার জন্য রয়েছে দুনিয়া এবং দশ দুনিয়া সমান আমার রব)। আপনি কি আমার সাথে উপহাস করেছেন? (অথবা যে বলবেঃ আপনি কি আমার সাথে হাসি-তামাশা করছেন? অথচ আপনি তো শাহানশাহ। রাবী বলেনঃ আমি দেখতে পেলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাঁসলেন, এমন কি তাঁর মাড়ির দাঁত মুবারক প্রকাশ পেল। আর বলা হলোঃ এ ব্যক্তিই হবে মর্যাদার দিক দিয়ে জান্নাতীদের মাঝে নিম্নতম

4340

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ مَنْ سَأَلَ الْجَنَّةَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ الْجَنَّةُ اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ وَمَنِ اسْتَجَارَ مِنَ النَّارِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ النَّارُ اللَّهُمَّ أَجِرْهُ مِنَ النَّارِ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৩৪০। হান্নাদ ইবন সারী (রাহঃ) .......আনাস ইবন মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তিনবার জান্নাত চায়, জান্নাত তার জন্য বলেঃ হে আল্লাহ। আপনি এক জান্নাতে দাখিল করুন। আর যে ব্যক্তি তিনবার জাহান্নাম থেকে পানাহ্ চায়, জাহান্নাম বলেঃ اللَّهُمَّ أَجِرْهُ مِنَ النَّارِ হে আল্লাহ। একে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন।

4341

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلاَّ لَهُ مَنْزِلاَنِ مَنْزِلٌ فِي الْجَنَّةِ وَمَنْزِلٌ فِي النَّارِ فَإِذَا مَاتَ فَدَخَلَ النَّارَ وَرِثَ أَهْلُ الْجَنَّةِ مَنْزِلَهُ فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى ‏(أُولَئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ )‏ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৩৪১। আবু বাকর ইবন আবু শায়বা ও আহমাদ ইবন সিনান (রাযিঃ) …… আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের জন্য দু'টো মনযিল (ঠিকানা) রয়েছে - একটি ঠিকানা জান্নাতে এবং অপরটি জাহান্নামে। তাই যখন কোন ব্যক্তি মারা যায় এবং জাহান্নামে প্রবেশ করে তার ঠিকানাটি জান্নাতীরা ওয়ারিশ সূত্রে লাভ করবে। আর এ হলো মহান আল্লাহর বাণীঃ

أُولَئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ

"তারা, তারাই হবে ওয়ারিশ"

وهذا أخر سنن الإمام الحافظ أبي عبد الله محمد بن يزيد بن ماجة القزويني رحمه الله تعالى. والحمد لله رب العالمين والصلوة والسلام على سيدنا محمد رسول الله وخاتم النبيين وعلى اله وصحبه أجمعين