كتاب الوصية

২৬- অছিয়াত সম্পর্কিত অধ্যায়

অধ্যায় ২৬ · ৩১ টি হাদীস

শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ

৪০৫৮

حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعَنَزِيُّ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، - وَهُوَ ابْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ، عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ شَىْءٌ يُرِيدُ أَنْ يُوصِيَ فِيهِ يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ إِلاَّ وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪০৫৮। আবু খায়সামা যুহাইর ইবনে হারব ও মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না আনাযী (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে মুসলিম ব্যক্তির কিছু অর্থ সস্পদ রয়েছে, আর সে এ সম্পর্কে ওসিয়াত করতে চায়, সেই মুসলিম ব্যক্তির জন্য সমীচীন নয় যে, সে দু’রাত অতিবাহিত করবে অথচ তার কাছে ওসিয়াত লিখিত থাকবে না।

৪০৫৯

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنِي أَبِي كِلاَهُمَا، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ غَيْرَ أَنَّهُمَا قَالاَ " وَلَهُ شَىْءٌ يُوصِي فِيهِ " . وَلَمْ يَقُولاَ " يُرِيدُ أَنْ يُوصِيَ فِيهِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪০৫৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও ইবনে নুমাইর (রাহঃ) উবাইদুল্লাহ থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেন। তবে এ হাদীসে আছে তাঁরা বলেছেন, তার কাছে এমন কিছু আছে, যাতে সে ওসিয়াত করবে। তাঁরা এ কথা বলেননি যে সে তাতে ওসিয়াত করতে ’চায়’।

৪০৬০

وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ، حَرْبٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ عُلَيَّةَ - كِلاَهُمَا عَنْ أَيُّوبَ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، ح وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ اللَّيْثِيُّ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ - كُلُّهُمْ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِ حَدِيثِ عُبَيْدِ اللَّهِ وَقَالُوا جَمِيعًا " لَهُ شَىْءٌ يُوصِي فِيهِ " . إِلاَّ فِي حَدِيثِ أَيُّوبَ فَإِنَّهُ قَالَ " يُرِيدُ أَنْ يُوصِيَ فِيهِ " . كَرِوَايَةِ يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪০৬০। আবু কামিল জাহদারী (রাহঃ), যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ), আবু তাহির (রাহঃ), হারুন ইবনে সাঈদ আয়লী (রাহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনে রাফি’ (রাহঃ) ......... ভিন্ন ভিন্ন সনদে নাফি’ (রাহঃ) সূত্রে ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে ......... উবাইদুল্লাহ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। আর তারা সবাই (এভাবে) বলেছেন যে, তার কাছে এমন সস্পদ আছে, যাতে সে ওসিয়াত করবে। কিন্তু আইয়ুব (রাহঃ) এর হাদীসে রয়েছে যে, তিনি বলেছেন, সে তাতে ওসিয়াত করতে চায়। উবাইদুলাহ থেকে ইয়াহয়ার বর্ণনার মতই।

৪০৬১

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، - وَهْوَ ابْنُ الْحَارِثِ - عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا حَقُّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَهُ شَىْءٌ يُوصِي فِيهِ يَبِيتُ ثَلاَثَ لَيَالٍ إِلاَّ وَوَصِيَّتُهُ عِنْدَهُ مَكْتُوبَةٌ " . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ مَا مَرَّتْ عَلَىَّ لَيْلَةٌ مُنْذُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ذَلِكَ إِلاَّ وَعِنْدِي وَصِيَّتِي .

বর্ণনাকারী: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

৪০৬১। হারুন ইবনে মারুফ (রাহঃ) ......... সালিম (রাহঃ) এর সূত্রে তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য সঙ্গত নয় যে, তার কাছে এমন সস্পদ আছে যাতে সে ওসিয়াত করবে তিন রাত অভিবাহিত করবে। অথচ তার ওসিয়াত তার কাছে লিখিত থাকবে না। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ কথা শোনার পর এক রাতও আমার উপর অতিবাহিত যে, আমার ওসিয়াত আমার কাছে (লিখিত) ছিল না।

৪০৬২

وَحَدَّثَنِيهِ أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، ح وَحَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، كُلُّهُمْ عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَ حَدِيثِ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪০৬২। আবু তাহির ও হারামালা, আব্দুল মালিক ইবনে শু’আয়ব, ইবনে লাঈস, ইবনে আবু উমর ও আব্দ ইবনে উমর (রাহঃ) সকলেই যুহরী (রাহঃ) সূত্রে উক্ত সনদে আমর ইবনে হারিস এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

১. এক-তৃতীয়াংশের ওসিয়্যাত

باب الْوَصِيَّةِ بِالثُّلُثِ

৪০৬৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ عَادَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ مِنْ وَجَعٍ أَشْفَيْتُ مِنْهُ عَلَى الْمَوْتِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بَلَغَنِي مَا تَرَى مِنَ الْوَجَعِ وَأَنَا ذُو مَالٍ وَلاَ يَرِثُنِي إِلاَّ ابْنَةٌ لِي وَاحِدَةٌ أَفَأَتَصَدَّقُ بِثُلُثَىْ مَالِي قَالَ " لاَ " . قَالَ قُلْتُ أَفَأَتَصَدَّقُ بِشَطْرِهِ قَالَ " لاَ الثُّلُثُ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ إِنَّكَ أَنْ تَذَرَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَذَرَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ وَلَسْتَ تُنْفِقُ نَفَقَةً تَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ اللَّهِ إِلاَّ أُجِرْتَ بِهَا حَتَّى اللُّقْمَةُ تَجْعَلُهَا فِي فِي امْرَأَتِكَ " . قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُخَلَّفُ بَعْدَ أَصْحَابِي قَالَ " إِنَّكَ لَنْ تُخَلَّفَ فَتَعْمَلَ عَمَلاً تَبْتَغِي بِهِ وَجْهَ اللَّهِ إِلاَّ ازْدَدْتَ بِهِ دَرَجَةً وَرِفْعَةً وَلَعَلَّكَ تُخَلَّفُ حَتَّى يُنْفَعَ بِكَ أَقْوَامٌ وَيُضَرَّ بِكَ آخَرُونَ اللَّهُمَّ أَمْضِ لأَصْحَابِي هِجْرَتَهُمْ وَلاَ تَرُدَّهُمْ عَلَى أَعْقَابِهِمْ لَكِنِ الْبَائِسُ سَعْدُ ابْنُ خَوْلَةَ " . قَالَ رَثَى لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَنْ تُوُفِّيَ بِمَكَّةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৪০৬৩। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া তামীমী (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে দেখতে আসেন; এমন রোগের সময় যাতে আমি মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! রোগের কারণে আমার কি অবস্থা হয়েছে তা আপনি দেখতে পাচ্ছেন। আমি একজন সম্পদশালী ব্যক্তি, অথচ একটি মাত্র কন্যা সন্তান ব্যতীত আমার আর কোন ওয়ারিস নাই। সুতরাং আমি আমার সস্পদের দুই-তৃতীয়াংশ সাদ্‌কা করতে পারি কি? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তবে কি অর্ধেক মাল সাদ্‌কা করতে পারি? তিনি বললেন, না। বরং এক তৃতীয়াংশ এবং এক তৃতীয়াংশও বেশী।

তোমার ওয়ারিসদের সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাওয়া তোমার জন্য উত্তম, এই অবস্থা থেকে যে, তাদের তুমি অভাবগ্রস্ত অবস্থায় ছেড়ে যাবে যে, তারা মানুষের নিকট হাত পাতবে। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য তুমি যা কিছুই খরচ কর তাতে তোমাকে প্রতিদান দেয়া হবে। এমন কি, সে লোকমাটির বিনিময়েও যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দিবে।

আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি তো আমার সাথীদের থেকে পিছনে রয়ে যাচ্ছি। তিনি বললেন, তুমি যখনই পিছনে থেকে (বেঁচে থেকে) আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোন আমল করবে তখনই তার দ্বারা তোমার সম্মান ও মর্যাদাই বৃদ্ধি পাবে। আর সম্ভবত তুমি পরবর্তীতেও থাকবে (অর্থাৎ দীর্ঘায়ু লাভ করবে।) এমনকি বহু সম্প্রদায় তোমার দ্বারা লাভবান হবে এবং বহু লোক তোমার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (নবীজী দুআ করলেন।) ইয়া আল্লাহ! আমার সাথীদের হিজরত অক্ষুণ্ণ রাখুন এবং তাদেরকে পাশ্চাতে ফিরিয়ে দিবেন না। কিন্তু সা’দ ইবনে খাওলার জন্য আফসোস! রাবী বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। কারণ, তিনি মক্কায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
৪০৬৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، كُلُّهُمْ عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪০৬৪। কুতায়বা ইবনে সাঈদ, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আবু তাহির, হারামালা, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... সহ সকলেই যুহরীর সূত্রে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৪০৬৫

وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ، إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدٍ، قَالَ دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَىَّ يَعُودُنِي . فَذَكَرَ بِمَعْنَى حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ وَلَمْ يَذْكُرْ قَوْلَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَعْدِ ابْنِ خَوْلَةَ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ وَكَانَ يَكْرَهُ أَنْ يَمُوتَ بِالأَرْضِ الَّتِي هَاجَرَ مِنْهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৪০৬৫। ইসহাক ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমার রোগের খোঁজখবর নেয়ার জন্য আমার নিকট আগমন করেন। তারপর যুহরীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেন। এবং সা’দ ইবনে খাওলার প্রসঙ্গে নবী (ﷺ) এর উক্তি উল্লেখ করেন নি। তবে এতে একথা রয়েছে, কোন ব্যক্তি যে স্থান থেকে হিজরত করেছে তথায় মৃত্যুবরণ করুক, এটা নবী (ﷺ) পছন্দ করতেন না।

৪০৬৬

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا سِمَاكُ، بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنِي مُصْعَبُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ مَرِضْتُ فَأَرْسَلْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ دَعْنِي أَقْسِمْ مَالِي حَيْثُ شِئْتُ فَأَبَى . قُلْتُ فَالنِّصْفُ فَأَبَى . قُلْتُ فَالثُّلُثُ قَالَ فَسَكَتَ بَعْدَ الثُّلُثِ . قَالَ فَكَانَ بَعْدُ الثُّلُثُ جَائِزًا .

বর্ণনাকারী: মুসআব ইবনে সা‘দ (রহঃ)

৪০৬৬। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... মুসআব ইবনে সা’দ (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি একবার পিড়িত হয়ে পড়ি এবং নবী (ﷺ) এর নিকট সংবাদ পাঠাই। (তিনি আসলেন) আমি বললাম, আমার সম্পত্তি যে রূপে ইচ্ছা বন্টন করার অনুমতি দান করুন। তিনি অসম্মতি জানালেন। আমি বললাম, তা হলে অর্ধেক? তিনি তাও অস্বীকার করলেন। আমি বললাম, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ? রাবী বলেন, এক-তৃর্তীয়াংশ বলার পর নবী (ﷺ) নীরব থাকেন। রাবী বলেন, এরপর থেকে এক তৃতীয়াংশ বৈধ সাব্যস্ত হয়।

৪০৬৭

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ . وَلَمْ يَذْكُرْ فَكَانَ بَعْدُ الثُّلُثُ جَائِزًا .

বর্ণনাকারী: সিমাক ইবনে হারব (রহঃ)

৪০৬৭। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... সিমাক (রাহঃ) এর সূত্রে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি ″এরপর থেকে এক তৃতীয়াংশ বৈধ সাব্যস্ত হয়″ কথাটি উল্লেখ করেননি।

৪০৬৮

وَحَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ عَادَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ أُوصِي بِمَالِي كُلِّهِ . قَالَ " لاَ " . قُلْتُ فَالنِّصْفُ . قَالَ " لاَ " . فَقُلْتُ أَبِالثُّلُثِ فَقَالَ " نَعَمْ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ " .

বর্ণনাকারী: মুসআব ইবনে সা‘দ (রহঃ)

৪০৬৮। কাসিম ইবনে যাকারিয়া (রাহঃ) ......... মুসআব ইবনে সা’দ (রাযিঃ) এর সূত্রে তার পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমার অসুস্থতায় আমাকে দেখতে এলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি আমার সমস্ত সম্পদ ওসিয়াত করে যাব। তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তা হলে অর্ধেক? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তবে এক তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং বললেন এক-তৃতীয়াংশও অনেক।

৪০৬৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا الثَّقَفِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنْ عَمْرِو، بْنِ سَعِيدٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيِّ، عَنْ ثَلاَثَةٍ، مِنْ وَلَدِ سَعْدٍ كُلُّهُمْ يُحَدِّثُهُ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَى سَعْدٍ يَعُودُهُ بِمَكَّةَ فَبَكَى قَالَ " مَا يُبْكِيكَ " . فَقَالَ قَدْ خَشِيتُ أَنْ أَمُوتَ بِالأَرْضِ الَّتِي هَاجَرْتُ مِنْهَا كَمَا مَاتَ سَعْدُ ابْنُ خَوْلَةَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا " . ثَلاَثَ مِرَارٍ . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي مَالاً كَثِيرًا وَإِنَّمَا يَرِثُنِي ابْنَتِي أَفَأُوصِي بِمَالِي كُلِّهِ قَالَ " لاَ " . قَالَ فَبِالثُّلُثَيْنِ قَالَ " لاَ " . قَالَ فَالنِّصْفُ قَالَ " لاَ " . قَالَ فَالثُّلُثُ قَالَ " الثُّلُثُ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ إِنَّ صَدَقَتَكَ مِنْ مَالِكَ صَدَقَةٌ وَإِنَّ نَفَقَتَكَ عَلَى عِيَالِكَ صَدَقَةٌ وَإِنَّ مَا تَأْكُلُ امْرَأَتُكَ مِنْ مَالِكَ صَدَقَةٌ وَإِنَّكَ أَنْ تَدَعَ أَهْلَكَ بِخَيْرٍ - أَوْ قَالَ بِعَيْشٍ - خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَدَعَهُمْ يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ " . وَقَالَ بِيَدِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৪০৬৯। মুহাম্মাদ ইবনে আবু উমর মক্কী (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) এর তিন পুত্র তাদের পিতার থেকে বর্ণনা করেন যে, মক্কায় নবী (ﷺ) সা’দের অসুখ দেখার জন্য তাঁর কাছে আসেন। সা’দ (রাযিঃ) কেঁদে ফেলেন। নবী (ﷺ) বললেন, তুমি কেন কাঁদছ? তিনি বললেন, আমি ভয় পাচ্ছি, যে স্থান থেকে হিজরত করেছি, সেথায় না আমি মারা যাই; যেমনিভাবে সা’দ ইবনে খাওলা (রাযিঃ) মারা গিয়েছেন। নবী (ﷺ) বললেন, ইয়া আল্লাহ! সা’দকে শিফা দান করুন। সা’দ (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার প্রচুর সম্পদ আছে। আর একমাত্র কন্যাই আমার ওয়ারিস। তবে কি আমার সমুদয় সম্পদ ওসিয়াত করতে পারি? তিনি বললেন, না। সা’দ (রাযিঃ) বললেন, তবে কি দুই-তৃতীয়াংশ তিনি বললেন, না। সা’দ (রাযিঃ) বললেন, তা হলে অর্ধেক? তিনি বললেন, না। সা’দ বললেন, তাহলে এক তৃতীয়াংশ তিনি বললেন, হ্যাঁ, এক তৃতীয়াংশ। আর এক তৃতীয়াংশও অনেক।

তোমার সস্পদ থেকে তুমি যা সাদ্‌কা কর তা তো সাদ্‌কাই। এবং তোমার পরিবারের জন্য যা খরচ কর তাও সাদ্‌কা আর তোমার মাল থেকে তোমার স্ত্রী যা খায় তাও সাদ্‌কা। তোমার পরিবার-পরিজনকে যদি তুমি সম্পদশালী রেখে যাও, (অথবা বলেছেন স্বচ্ছন্দে রেখে যাও) তবে তা তাদের মানুষের নিকট হাতপাতা অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম। আর একথা বলতে তিনি তার হাত দ্বারা ইঙ্গিত করলেন।
৪০৭০

وَحَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيِّ، عَنْ ثَلاَثَةٍ، مِنْ وَلَدِ سَعْدٍ قَالُوا مَرِضَ سَعْدٌ بِمَكَّةَ فَأَتَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعُودُهُ . بِنَحْوِ حَدِيثِ الثَّقَفِيِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৪০৭০। আবু রাবী আতাকী (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) এর তিন পুত্র থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেছেন, সা’দ (রাযিঃ) মক্কায় রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার অসুস্থতার খোঁজখবর নেয়ার জন্য তাঁর নিকট আসেন। পরবর্তী অংশ সাকাফীর হাদীসের অনুরূপ।

৪০৭১

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ حُمَيْدِ، بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَنِي ثَلاَثَةٌ، مِنْ وَلَدِ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ كُلُّهُمْ يُحَدِّثُنِيهِ بِمِثْلِ حَدِيثِ صَاحِبِهِ فَقَالَ مَرِضَ سَعْدٌ بِمَكَّةَ فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعُودُهُ . بِمِثْلِ حَدِيثِ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ عَنْ حُمَيْدٍ الْحِمْيَرِيِّ .

বর্ণনাকারী: হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

৪০৭১। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট সা’দ ইবনে মালিকের তিন পুত্র বর্ণনা করেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই আমার নিকট (তার সাথীর অনুরূপ অর্থাৎ অভিন্ন রূপে) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার অসুস্থতার খোঁজখবর নেয়ার জন্য তার নিকট গমন করেন। পরবর্তী অংশ আমর ইবনে সাঈদ সূত্রে বর্ণিত হুমায়দ হিময়ারীর (রাহঃ) হাদীসের অনুরূপ।

৪০৭২

حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، كُلُّهُمْ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَوْ أَنَّ النَّاسَ، غَضُّوا مِنَ الثُّلُثِ إِلَى الرُّبُعِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الثُّلُثُ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ " . وَفِي حَدِيثِ وَكِيعٍ " كَبِيرٌ أَوْ كَثِيرٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪০৭২। ইবরাহীম ইবনে মুসা রাযী, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হায়! লোকজন যদি এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে এক চতুর্থাংশ করতো। কেননা, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, এক তৃতীয়াংশ এবং এক-তৃতীয়াংশও বেশী। ওকী’র হাদীসে আছে বড় বা বেশী।

২. সাদ্‌কার সাওয়াব মৃতব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছে

باب وُصُولِ ثَوَابِ الصَّدَقَاتِ إِلَى الْمَيِّتِ

৪০৭৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أَبِي مَاتَ وَتَرَكَ مَالاً وَلَمْ يُوصِ فَهَلْ يُكَفِّرُ عَنْهُ أَنْ أَتَصَدَّقَ عَنْهُ قَالَ " نَعَمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৭৩। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব, কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলো, আমার পিতা মারা গিয়েছেন এবং তিনি কিছু সম্পদ রেখে গেছেন। কিন্তু ওসিয়াত করেননি। তার পক্ষ থেকে সাদ্‌কা করা হলে কি তার গুনাহ মাফ হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

৪০৭৪

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أُمِّيَ افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا وَإِنِّي أَظُنُّهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ فَلِيَ أَجْرٌ أَنْ أَتَصَدَّقَ عَنْهَا قَالَ " نَعَمْ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪০৭৪। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) কে বললো, আমার মা হঠাৎ মারা গেছেন। তার সম্পর্কে আমার বিশ্বাস এই যে, তিনি যদি কথা বলতে পারতেন তবে সাদ্‌কা করতেন। আমি যদি তার পক্ষে সাদ্‌কা করি, তবে কি আমার এ কাজের কোন বিনিময় (সাওয়াব) হবে? নবী (ﷺ) বললেন,হ্যাঁ।

৪০৭৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّيَ افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا وَلَمْ تُوصِ وَأَظُنُّهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ أَفَلَهَا أَجْرٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا قَالَ " نَعَمْ ".

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪০৭৫। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার মা অকস্মাৎ মারা গেছেন এবং কোন ওসিয়াত করেননি। তার প্রতি আমার বিশ্বাস যে, যদি তিনি কথা বলার সুযোগ পেতেন তবে সাদ্‌কা করতেন। আমি যদি তার পক্ষে সাদ্‌কা করি, তবে কি তিনি সাওয়াব পাবেন? নবী (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ।

৪০৭৬

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، ح وَحَدَّثَنِي الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ، بْنُ إِسْحَاقَ ح وَحَدَّثَنِي أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ - حَدَّثَنَا رَوْحٌ، - وَهُوَ ابْنُ الْقَاسِمِ - ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، كُلُّهُمْ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ أَمَّا أَبُو أُسَامَةَ وَرَوْحٌ فَفِي حَدِيثِهِمَا فَهَلْ لِي أَجْرٌ كَمَا قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ . وَأَمَّا شُعَيْبٌ وَجَعْفَرٌ فَفِي حَدِيثِهِمَا أَفَلَهَا أَجْرٌ كَرِوَايَةِ ابْنِ بِشْرٍ .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

৪০৭৬। আবু কুরায়ব, হাকাম ইবনে মুসা, উমাইয়া ইবনে বিসতাম ও আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... এ সকল সূত্রে হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেন। তবে উসামা ও রাওহ (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসে আছে, আমার কি সাওয়াব হবে? যেমন বলেছেন, ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ। আর শুআঈব ও জা’ফর (রাহঃ) এর বর্ণনায় আছে, ″তার কি সাওয়াব হবে?″ যেমন রয়েছে ইবনে বিশরের রিওয়ায়াতে।

৩. মানুষের মৃত্যুর পরে যে সকল জিনিসের সাওয়াব তার কাছে পৌঁছে

باب مَا يَلْحَقُ الإِنْسَانَ مِنَ الثَّوَابِ بَعْدَ وَفَاتِهِ

৪০৭৭

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ - وَابْنُ حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - هُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاَثَةٍ إِلاَّ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০৭৭। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব ও কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন মানুষ মারা যায় তখন তিন প্রকার আমল ব্যতীত তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়।

১. সাদ্‌কায়ে জারিয়া অথবা

২. এমন ইলম যার দ্বারা উপকার সাধিত হয় অথবা

৩. নেককার সন্তান যে তার জন্য দুআ করতে থাকে।

৪. ওয়াক্‌ফ

باب الْوَقْفِ

৪০৭৮

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمُ بْنُ أَخْضَرَ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ أَصَابَ عُمَرُ أَرْضًا بِخَيْبَرَ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَسْتَأْمِرُهُ فِيهَا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَصَبْتُ أَرْضًا بِخَيْبَرَ لَمْ أُصِبْ مَالاً قَطُّ هُوَ أَنْفَسُ عِنْدِي مِنْهُ فَمَا تَأْمُرُنِي بِهِ قَالَ " إِنْ شِئْتَ حَبَسْتَ أَصْلَهَا وَتَصَدَّقْتَ بِهَا " . قَالَ فَتَصَدَّقَ بِهَا عُمَرُ أَنَّهُ لاَ يُبَاعُ أَصْلُهَا وَلاَ يُبْتَاعُ وَلاَ يُورَثُ وَلاَ يُوهَبُ . قَالَ فَتَصَدَّقَ عُمَرُ فِي الْفُقَرَاءِ وَفِي الْقُرْبَى وَفِي الرِّقَابِ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَالضَّيْفِ لاَ جُنَاحَ عَلَى مَنْ وَلِيَهَا أَنْ يَأْكُلَ مِنْهَا بِالْمَعْرُوفِ أَوْ يُطْعِمَ صَدِيقًا غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ فِيهِ . قَالَ فَحَدَّثْتُ بِهَذَا الْحَدِيثِ مُحَمَّدًا فَلَمَّا بَلَغْتُ هَذَا الْمَكَانَ غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ فِيهِ . قَالَ مُحَمَّدٌ غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً . قَالَ ابْنُ عَوْنٍ وَأَنْبَأَنِي مَنْ قَرَأَ هَذَا الْكِتَابَ أَنَّ فِيهِ غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪০৭৮। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া তামীমী (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) খায়বরে একখণ্ড জমি লাভ করেন। তখন এ সম্পর্কে পরামর্শের জন্য তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট আসেন এবং বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি খায়বরে এমন একখণ্ড জমি লাভ করেছি যে, এর চেয়ে উৎকৃষ্টতর সস্পদ আমি কখনও লাভ করিনি। আপনি এ সম্পর্কে আমাকে কি নির্দেশ দেন। তিনি বললেন, তুমি যদি চাও, তবে তার মূল (মালিকানা) আব্দ্ধ রেখে তার আয় সাদ্‌কা করতে পার।

রাবী বলেন, তারপর উমর (রাযিঃ) তা সাদ্‌কা করে দেন এই শর্তে যে, এর মূলসত্বা বিক্রি করা যাবে না, খরিদ করা যাবে না, উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করা যাবে না এবং দান (হিবা)ও করা যাবে না। সুতরাং উমর (রাযিঃ) এর আয় দরিদ্র, আত্মীয়, দাস মুক্তি, জিহাদ, পথিক ও মেহমানের উদ্দেশ্যে সাদ্‌কা করে দেন। অবশ্য যে ব্যক্তি এর তত্ত্বাবধায়ক হবে তার জন্য এর থেকে যুক্তি সঙ্গত পরিমাণ খাওয়া বা কোন বন্ধু-বান্ধবকে খাওয়ানো দোষনীয় হবে না, যদি সে এর থেকে সঞ্চয়কারী না হয়।

রাবী বলেন, আমি এ হাদীসটি মুহাম্মাদ (রাহঃ) এর কাছে বর্ণনা করতে গিয়ে যখন এ স্থানে পৌছি, غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ فِيهِ (যদি সে এর থেকে সঞ্চয়কারী না হয়,) তখন মুহাম্মাদ (রাহঃ) বললেন غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً (সম্পদ সঞ্চয়কারী হবে না।) ইবনে আওন (রাহঃ) বলেনঃ এই কিতাব যিনি পড়েছেন তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, এ স্থলে غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً রয়েছে।
৪০৭৯

حَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا أَزْهَرُ السَّمَّانُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، كُلُّهُمْ عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ غَيْرَ أَنَّ حَدِيثَ ابْنِ أَبِي زَائِدَةَ وَأَزْهَرَ انْتَهَى عِنْدَ قَوْلِهِ " أَوْ يُطْعِمَ صَدِيقًا غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ فِيهِ " . وَلَمْ يُذْكَرْ مَا بَعْدَهُ . وَحَدِيثُ ابْنِ أَبِي عَدِيٍّ فِيهِ مَا ذَكَرَ سُلَيْمٌ قَوْلُهُ فَحَدَّثْتُ بِهَذَا الْحَدِيثِ مُحَمَّدًا . إِلَى آخِرِهِ .

বর্ণনাকারী: ইবনে আউন (রহঃ)

৪০৭৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, ইসহাক ও মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... সূত্রে ইবনে আওন (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনে আবু যায়দ ও আযহার (রাহঃ) এর হাদীস এ পর্যন্ত এসে শেষ হয়েছে যে, ‘অথবা কোন বন্ধু বান্ধবকে খাওয়ায় এতে সঞ্চয়কারী না হয়ে’, পরের অংশ তিনি উল্লেখ করেননি। আর ইবনে আদী (রাহঃ) এর হাদীসে তাই আছে, যা সুলায়ম (রাহঃ) উল্লেখ করেছেন অর্থাৎ ‘অতঃপর আমি এই হাদীসটি মুহাম্মাদ (রাহঃ) এর নিকট বর্ণনা করি ...... শেষ পর্যন্ত।’

৪০৮০

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ، عُمَرُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، قَالَ أَصَبْتُ أَرْضًا مِنْ أَرْضِ خَيْبَرَ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ أَصَبْتُ أَرْضًا لَمْ أُصِبْ مَالاً أَحَبَّ إِلَىَّ وَلاَ أَنْفَسَ عِنْدِي مِنْهَا . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمِثْلِ حَدِيثِهِمْ وَلَمْ يَذْكُرْ فَحَدَّثْتُ مُحَمَّدًا وَمَا بَعْدَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৪০৮০। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি খায়বরের এলাকায় একখণ্ড জমি লাভ করি। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বলি, আমি এমন একখণ্ড জমি লাভ করেছি, যার চেয়ে অধিক প্রিয় এবং আমার কাছে উৎকৃষ্ট কোন মাল আর পাইনি। রাবী এ হাদীসে পরবর্তী অংশ অন্যান্যের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি একথা উল্লেখ করেননি যে, অতঃপর আমি মুহাম্মাদ (রাহঃ) এর নিকট বর্ণনা করি এবং এর পরেরটুকু উল্লেখ করেননি।

৫. যার কাছে ওসিয়্যাতযোগ্য কিছু নেই, তার ওসিয়্যাত না করা

باب تَرْكِ الْوَصِيَّةِ لِمَنْ لَيْسَ لَهُ شَىْءٌ يُوصِي فِيهِ

৪০৮১

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى هَلْ أَوْصَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لاَ . قُلْتُ فَلِمَ كُتِبَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ الْوَصِيَّةُ أَوْ فَلِمَ أُمِرُوا بِالْوَصِيَّةِ قَالَ أَوْصَى بِكِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ .

বর্ণনাকারী: তালহা ইবনে মুসাররিফ (রহঃ)

৪০৮১। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া তামীমী (রাহঃ) ......... তালহা ইবনে মুসাররিফ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি ওসিয়াত করেছিলেন? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তাহলে কেন মুসলমানদের উপর ওসিয়াত ফরয করা হলো? অথবা বললেন, কিভাবে তাদেরকে ওসিয়াতের হুকুম দেয়া হলো? তিনি বললেন, নবী (ﷺ) ওসিয়াত করেছেন, মহান আল্লাহর মহিয়ান কিতাব সম্পর্কে (আমল করতে)।

৪০৮২

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، كِلاَهُمَا عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ غَيْرَ أَنَّ فِي حَدِيثِ وَكِيعٍ قُلْتُ فَكَيْفَ أُمِرَ النَّاسُ بِالْوَصِيَّةِ وَفِي حَدِيثِ ابْنِ نُمَيْرٍ قُلْتُ كَيْفَ كُتِبَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ الْوَصِيَّةُ.

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪০৮২। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... মালিক ইবনে মিগওয়াল (রাহঃ) এর সূত্রে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। অবশ্য ওকী’ (রাহঃ) এর বর্ণনায় আছে ...... আমি (তালহা) বললাম, ″তা হলে কি করে মানুষকে ওসিয়াতের হুকুম করা হলো″? আর ইবনে নুমাইর (রাহঃ) এর বর্ণনায় আছে, ......... আমি বললাম, কিভাবে মুসলমানের উপর ওসিয়াত ফরয করা হলো?

৪০৮৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَأَبُو مُعَاوِيَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دِينَارًا وَلاَ دِرْهَمًا وَلاَ شَاةً وَلاَ بَعِيرًا وَلاَ أَوْصَى بِشَىْءٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪০৮৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন দীনার, দিরহাম, বকরী বা উট রেখে যাননি এবং কোন কিছুর ওসিয়াত করেননি।

৪০৮৪

وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، كُلُّهُمْ عَنْ جَرِيرٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، - وَهُوَ ابْنُ يُونُسَ - جَمِيعًا عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: সুলাইমান আ‘মাশ (রহঃ)

৪০৮৪। যুহাইর ইবনে হারব, উসমান ইবনে আবি শাঈবা, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আলী ইবনে খাশরাম (রাহঃ) ......... আমাশ (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৪০৮৫

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ - وَاللَّفْظُ لِيَحْيَى - قَالَ أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ ذَكَرُوا عِنْدَ عَائِشَةَ أَنَّ عَلِيًّا كَانَ وَصِيًّا فَقَالَتْ مَتَى أَوْصَى إِلَيْهِ فَقَدْ كُنْتُ مُسْنِدَتَهُ إِلَى صَدْرِي - أَوْ قَالَتْ حَجْرِي - فَدَعَا بِالطَّسْتِ فَلَقَدِ انْخَنَثَ فِي حَجْرِي وَمَا شَعَرْتُ أَنَّهُ مَاتَ فَمَتَى أَوْصَى إِلَيْهِ.

বর্ণনাকারী: আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ নাখঈ (রহঃ)

৪০৮৫। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া ও আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তারা আয়িশা (রাযিঃ) এর কাছে উল্লেখ করেন যে, আলী (রাযিঃ) তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওসী ছিলেন। তিনি বললেন, কখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ওসিয়াত করেছেন? আমি তো তাকে (নবী (ﷺ) কে) আমার বুকে ভর দিয়ে রেখেছিলাম, অথবা বলেছেন, আমার কোলে তখন তিনি একটি রেকাব চাইলেন, এরপর আমার কোলে ঢলে পড়েন। আমি বুঝতেও পারিনি যে, তিনি ইন্‌তিকাল করেছেন। তিনি কখন তাকে ওসিয়াত করলেন?

৪০৮৬
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَمْرٌو النَّاقِدُ - وَاللَّفْظُ لِسَعِيدٍ - قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سُلَيْمَانَ الأَحْوَلِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَوْمُ الْخَمِيسِ وَمَا يَوْمُ الْخَمِيسِ ثُمَّ بَكَى حَتَّى بَلَّ دَمْعُهُ الْحَصَى . فَقُلْتُ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ وَمَا يَوْمُ الْخَمِيسِ قَالَ اشْتَدَّ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَعُهُ . فَقَالَ " ائْتُونِي أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لاَ تَضِلُّوا بَعْدِي " . فَتَنَازَعُوا وَمَا يَنْبَغِي عِنْدَ نَبِيٍّ تَنَازُعٌ . وَقَالُوا مَا شَأْنُهُ أَهَجَرَ اسْتَفْهِمُوهُ . قَالَ " دَعُونِي فَالَّذِي أَنَا فِيهِ خَيْرٌ أُوصِيكُمْ بِثَلاَثٍ أَخْرِجُوا الْمُشْرِكِينَ مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَأَجِيزُوا الْوَفْدَ بِنَحْوِ مَا كُنْتُ أُجِيزُهُمْ " . قَالَ وَسَكَتَ عَنِ الثَّالِثَةِ أَوْ قَالَهَا فَأُنْسِيتُهَا .

قَالَ أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ بِشْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، بِهَذَا الْحَدِيثِ

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনে জুবায়র (রহঃ)

৪০৮৬। সাঈদ ইবনে মানসুর, কুতায়বা ইবনে সাঈদ, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আমর আন নাকিদ (রাহঃ) ......... সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, বৃহস্পতিবার দিন, হায়রে বৃহস্পতিবার দিন! এই বলে তিনি কেঁদে ফেলেন, এমনকি তার অশ্রু ধারা কংকর ভিজে যায়। আমি বললাম, হে আবু আব্বাস! বৃহস্পতিবারের দিনের ব্যাপার কী? তিনি বললেন, সেদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পীড়া বৃদ্ধি পায়। তখন তিনি বললেন, আমার নিকট এসো, আমি তোমাদের এমন একটি লিপি লিখে দিই, যাতে আমার পরে তোমরা আর পথভ্রষ্ট হবে না। তখন উপস্থিত সাহাবাগণ পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত হলেন। অথচ নবী (ﷺ) এর কাছে তর্কবিতর্ক করা উচিত নয়।

তারা বললেন, নবী (ﷺ) এর অবস্থা কী হলো? তিনিও কি অর্থহীন কথা বলেছেন? কখনও নয়। তোমরা তাকে জিজ্ঞাসা করে (তাঁর কথা বুঝার চেষ্টা) কর। রাবী বলেন, নবী (ﷺ) বললেন, তোমরা আমাকে বিতর্ক থেকে মুক্ত থাকতে দাও। কেননা আমি যে অবস্থায় আছি তাই উত্তম।

আমি তোমাদেরকে তিনটি বিষয়ে ওসিয়াত করছি, মুশরিকদেরকে আরব উপদ্বীপ থেকে বহিস্কার করবে। প্রতিনিধি দলকে উপঢৌকন দিবে, যেমন আমি তাদেরকে উপঢৌকন দিতাম। রাবী বলেন, [ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)] তৃতীয়টা থেকে নীরব থাকেন অথবা তিনি বলেছেন, কিন্তু তা ভুলে গিয়েছি। আবু ইসহাক (রাহঃ) বলেন, হাসান ইবনে বিশর (রাহঃ) সুফিয়ান (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৪০৮৭

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ يَوْمُ الْخَمِيسِ وَمَا يَوْمُ الْخَمِيسِ . ثُمَّ جَعَلَ تَسِيلُ دُمُوعُهُ حَتَّى رَأَيْتُ عَلَى خَدَّيْهِ كَأَنَّهَا نِظَامُ اللُّؤْلُؤِ . قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ائْتُونِي بِالْكَتِفِ وَالدَّوَاةِ - أَوِ اللَّوْحِ وَالدَّوَاةِ - أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ أَبَدًا " . فَقَالُوا إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَهْجُرُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪০৮৭। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একদিন বলেন, বৃহস্পতিবার দিন, আর কি সে বৃহস্পতিবার দিন! এরপর তার অশ্রু প্রবাহিত হতে থাকে। এমন কি, আমি দেখলাম যে, তাঁর দু’গণ্ডের উপরে যেন মুক্তার লহরী। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার নিকট হাড় ও দোয়াত নিয়ে আস, অথবা বলেছেন, কাঠফলক ও দোয়াত। আমি তোমাদের এমন একটা কিতাব লিখে (পত্র) দিব যে, এরপর আর তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। অতঃপর তারা বললো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অর্থহীন কথা বলেছেন?

৪০৮৮

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، - قَالَ عَبْدٌ أَخْبَرَنَا وَقَالَ ابْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، - أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا حُضِرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَفِي الْبَيْتِ رِجَالٌ فِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " هَلُمَّ أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لاَ تَضِلُّونَ بَعْدَهُ " . فَقَالَ عُمَرُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ غَلَبَ عَلَيْهِ الْوَجَعُ وَعِنْدَكُمُ الْقُرْآنُ حَسْبُنَا كِتَابُ اللَّهِ . فَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْبَيْتِ فَاخْتَصَمُوا فَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ قَرِّبُوا يَكْتُبْ لَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كِتَابًا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ . وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ مَا قَالَ عُمَرُ . فَلَمَّا أَكْثَرُوا اللَّغْوَ وَالاِخْتِلاَفَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قُومُوا " . قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ فَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ إِنَّ الرَّزِيَّةَ كُلَّ الرَّزِيَّةِ مَا حَالَ بَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبَيْنَ أَنْ يَكْتُبَ لَهُمْ ذَلِكَ الْكِتَابَ مِنِ اخْتِلاَفِهِمْ وَلَغَطِهِمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪০৮৮। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মৃত্যুশয্যায় ছিলেন এবং ঘরে বেশ লোক উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উমর ইবনে খাত্তাবও ছিলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, এসো, আমি তোমাদের এক কিতাব (পত্র) লিখে দেই। এরপরে আর তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। উমর (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অসুস্থতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর তোমাদের কাছে কুরআন বর্তমান আছে। আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট। তখন ঘরের লোকজনের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয় এবং তারা ঝগড়ায় লিপ্ত হন।

তাদের কেউ কেউ বলেন, তোমরা (কাগজ) কাছে নিয়ে এসো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের এমন এক কিতাব লিখে দিবেন, যার পরে আর তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। আর কেউ কেউ সে কথাই বলেন, যা উমর (রাযিঃ) বলেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে যখন তাদের এ ঝগড়া ও কথা কাটাকাটি বৃদ্ধি পায়, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা উঠে যাও। উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) বলেন, এরপর থেকে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) আক্ষেপ করে বলতেন, বিপদ কত বড় বিপদ! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাদের জন্য সেই কিতাব লিখে দেওয়ার মাঝখানে তাদের মতবিরোধ ও ঝগড়া যে অন্তরায় হয়ে পড়ল।