كتاب صلاة العيدين

৯- দুই ঈদের নামায

অধ্যায় ৯ · ২৬ টি হাদীস

শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ

১৯১৭

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، جَمِيعًا عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، - قَالَ ابْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، - أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي الْحَسَنُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ، عَبَّاسٍ قَالَ شَهِدْتُ صَلاَةَ الْفِطْرِ مَعَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ فَكُلُّهُمْ يُصَلِّيهَا قَبْلَ الْخُطْبَةِ ثُمَّ يَخْطُبُ قَالَ فَنَزَلَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ حِينَ يُجَلِّسُ الرِّجَالَ بِيَدِهِ ثُمَّ أَقْبَلَ يَشُقُّهُمْ حَتَّى جَاءَ النِّسَاءَ وَمَعَهُ بِلاَلٌ فَقَالَ ( يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَنْ لاَ يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا) فَتَلاَ هَذِهِ الآيَةَ حَتَّى فَرَغَ مِنْهَا ثُمَّ قَالَ حِينَ فَرَغَ مِنْهَا " أَنْتُنَّ عَلَى ذَلِكِ " فَقَالَتِ امْرَأَةٌ وَاحِدَةٌ لَمْ يُجِبْهُ غَيْرُهَا مِنْهُنَّ نَعَمْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ لاَ يُدْرَى حِينَئِذٍ مَنْ هِيَ قَالَ " فَتَصَدَّقْنَ " . فَبَسَطَ بِلاَلٌ ثَوْبَهُ ثُمَّ قَالَ هَلُمَّ فِدًى لَكُنَّ أَبِي وَأُمِّي . فَجَعَلْنَ يُلْقِينَ الْفَتَخَ وَالْخَوَاتِمَ فِي ثَوْبِ بِلاَلٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯১৭। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) আবু বকর, উমর ও উসমান (রাযিঃ) এর সঙ্গে ঈদুল ফিতরের নামাযে শরীক হয়েছি। তাঁরা সবাই খুতবা প্রদানের পূর্বেই এ নামায আদায় করতেন। তারপর খুতবা দিতেন। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমি যেন এখন দেখছি নবী (ﷺ) মিম্বর হতে নামছেন হাতের ইশারায় সবাইকে বসিয়ে দিচ্ছেন এরপর পুরুষদের কাতার ভেদ করে অগ্রসর হলেন এবং মহিলাদের নিকট গিয়ে পৌছলেন। তাঁর সাথে ছিলেন বিলাল (রাযিঃ)। তারপর এ আয়াত পাঠ করলেনঃ ″হে নবী! মু’মিন নারী যখন তোমার কাছে এসে বায়আত করে এ মর্মে যে, তারা আল্লাহব সাথে কোন শরীক স্থির করবে না। (সূরা মুমতাহিনাঃ ১২)। সম্পূর্ণ আয়াত পাঠ করার পর তিনি বললেন, তোমরা কি এ আয়াতের শর্তের উপর স্থির আছ? তখন একজন মহিলা উত্তর দিল। এ মহিলা ব্যতীত অন্য কেউ কথা বলেননি। হ্যাঁ হে আল্লাহর নবী! কিন্তু সে মহিলা কে তা জানা যায়নি। তিনি বললেন, তোমরা সাদ্‌কা কর। বিলাল (রাযিঃ) তার কাপড় দিলেন এবং বললেন, এসো আমার মাতাপিতা তোমাদের জন্য উৎসর্গকৃত। মহিলাগণ তাদের বালা ও আংটি বেলালের কাপড়ে দিতে লাগলেন।

১৯১৮

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ، عُيَيْنَةَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، قَالَ سَمِعْتُ عَطَاءً، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ أَشْهَدُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَصَلَّى قَبْلَ الْخُطْبَةِ - قَالَ - ثُمَّ خَطَبَ فَرَأَى أَنَّهُ لَمْ يُسْمِعِ النِّسَاءَ فَأَتَاهُنَّ فَذَكَّرَهُنَّ وَوَعَظَهُنَّ وَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ وَبِلاَلٌ قَائِلٌ بِثَوْبِهِ فَجَعَلَتِ الْمَرْأَةُ تُلْقِي الْخَاتَمَ وَالْخُرْصَ وَالشَّىْءَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯১৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুতবার পূর্বে নামায আদায় করতেন। তারপর খুতবা দিতেন। একবার তার মনে হল যে, মহিলারা (খুতবা) শুনতে পায়নি। তাই তিনি তাদের নিকট গেলেন। অতঃপর তাদের উদ্দেশ্যে ওয়ায-নসীহত করলেন এবং সাদ্‌কা করতে আদেশ দিলেন। আর বিলাল (রাযিঃ) তার কাপড় পেতে রাখলেন এবং মহিলাগণ আংটি, কানের দুল ইত্যাদি অলংকার ফেলতে লাগল।

১৯১৯

وَحَدَّثَنِيهِ أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنِي يَعْقُوبُ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، كِلاَهُمَا عَنْ أَيُّوبَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯১৯। আবু রাবী যাহরানী ও ইয়াকুব দাওরাকী (রাহঃ) ......... আইয়ুব (রাহঃ) থেকে উল্লিখিত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৯২০

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ ابْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَامَ يَوْمَ الْفِطْرِ فَصَلَّى فَبَدَأَ بِالصَّلاَةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ ثُمَّ خَطَبَ النَّاسَ فَلَمَّا فَرَغَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَزَلَ وَأَتَى النِّسَاءَ فَذَكَّرَهُنَّ وَهُوَ يَتَوَكَّأُ عَلَى يَدِ بِلاَلٍ وَبِلاَلٌ بَاسِطٌ ثَوْبَهُ يُلْقِينَ النِّسَاءُ صَدَقَةً . قُلْتُ لِعَطَاءٍ زَكَاةَ يَوْمِ الْفِطْرِ قَالَ لاَ وَلَكِنْ صَدَقَةً يَتَصَدَّقْنَ بِهَا حِينَئِذٍ تُلْقِي الْمَرْأَةُ فَتَخَهَا وَيُلْقِينَ وَيُلْقِينَ . قُلْتُ لِعَطَاءٍ أَحَقًّا عَلَى الإِمَامِ الآنَ أَنْ يَأْتِيَ النِّسَاءَ حِينَ يَفْرُغُ فَيُذَكِّرَهُنَّ قَالَ إِي لَعَمْرِي إِنَّ ذَلِكَ لَحَقٌّ عَلَيْهِمْ وَمَا لَهُمْ لاَ يَفْعَلُونَ ذَلِكَ.

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৯২০। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ঈদুল ফিতরের দিনে প্রথমে খুতবার পূর্বে নামায আদায় করলেন। এরপর লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুতবা শেষ করার পর মিম্বর হতে অবতরণ করলেন এবং মহিলাদের নিকট গেলেন এবং তাদেরকে উপদেশ দিলেন। তখন তিনি বিলালের হাতের উপর হেলান দিয়েছিলেন। আর বিলাল (রাযিঃ) কাপড় পেতে রেখেছিলেন। মহিলারা সাদ্‌কা দিচ্ছিল। আমি আতাকে জিজ্ঞাসা করলাম, এসব কি সাদ্‌কায়ে ফিতরা ছিল? তিনি বললেন, না। তবে তারা নফল সাদ্‌কা দিচ্ছিল। ঐ সময়ে মহিলাগণ সাদ্‌কা করছিল তাদের কানের বালা এবং অন্যান্য জিনিস। আমি আতাকে বললাম, এখনও কি ইমামের খুতবা শেষ করার পর মহিলাদের নিকট যাওয়া এবং তাদের উপদেশ দেয়া কর্তব্য। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমার জীবনের কসম। এ হল তাদের দায়িত্ব। কিন্তু তাদের কি হয়েছে? তারা কেন তা করেন না?

১৯২১

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةَ يَوْمَ الْعِيدِ فَبَدَأَ بِالصَّلاَةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلاَ إِقَامَةٍ ثُمَّ قَامَ مُتَوَكِّئًا عَلَى بِلاَلٍ فَأَمَرَ بِتَقْوَى اللَّهِ وَحَثَّ عَلَى طَاعَتِهِ وَوَعَظَ النَّاسَ وَذَكَّرَهُمْ ثُمَّ مَضَى حَتَّى أَتَى النِّسَاءَ فَوَعَظَهُنَّ وَذَكَّرَهُنَّ فَقَالَ تَصَدَّقْنَ فَإِنَّ أَكْثَرَكُنَّ حَطَبُ جَهَنَّمَ فَقَامَتْ امْرَأَةٌ مِنْ سِطَةِ النِّسَاءِ سَفْعَاءُ الْخَدَّيْنِ فَقَالَتْ لِمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ لِأَنَّكُنَّ تُكْثِرْنَ الشَّكَاةَ وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ قَالَ فَجَعَلْنَ يَتَصَدَّقْنَ مِنْ حُلِيِّهِنَّ يُلْقِينَ فِي ثَوْبِ بِلَالٍ مِنْ أَقْرِطَتِهِنَّ وَخَوَاتِمِهِنَّ

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৯২১। মুহাম্মাদ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর সঙ্গে ঈদের দিন নামাযে উপস্থিত ছিলাম। তিনি খুতবার পূর্বে প্রথমে নামায আরম্ভ করলেন। তাতে আযান ও ইকামত ছিল না। তারপর তিনি, গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করার জন্য আদেশ দিলেন। তার (আল্লাহর) অনুগত্যের প্রতি উৎসাহিত করলেন। লোকদের ওয়ায-নসিহত করলেন। তারপর মহিলাদের নিকট গেলেন। তাদের উদ্দেশ্যে ওয়ায-নসীহত করলেন এবং বললেন, সাদ্‌কা কর। কেননা তোমাদের অধিকাংশ হবে জাহান্নামের ইন্ধন। মহিলাদের মধ্যে থেকে একজন মহিলা দাঁড়াল। যার উভয় গালে কাল দাগ ছিল। সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তা কেন? তিনি বললেন। তোমরা বেশী অভিযোগ করে থাকো। তোমরা উপকারকারীর উপকার অস্বীকার কর।

রাবী বলেন তখন মহিলাগণ তাদের অলংকারাদি সাদ্‌কা করতে লাগল। তারা বিলাল (রাযিঃ) এর কাপড়ে তাদের আংটি, কানের দুল ইত্যাদি ফেলতে শুরু করল।
১৯২২
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيِّ، قَالاَ لَمْ يَكُنْ يُؤَذَّنُ يَوْمَ الْفِطْرِ وَلاَ يَوْمَ الأَضْحَى . ثُمَّ سَأَلْتُهُ بَعْدَ حِينٍ عَنْ ذَلِكَ فَأَخْبَرَنِي
قَالَ أَخْبَرَنِي جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ أن لا أذان للصلاة يوم الفطر حين يخرج الإمام ولا بعد ما يخرج ولا إقامة ولا نداء ولا شيء لا نداء يومئذ ولا إقامة

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯২২। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) ও জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিবসে আযান দেয়া হত না। ইবনে জুরায়জ (রাহঃ) বলেন, কিছুকাল পর আমি তাকে [আতাকে] এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে বললেন যে, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাযিঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, ঈদুল ফিতরের নামাযের জন্য কোন আযান নেই। ইমাম (হুজরা থেকে) বের হওয়ার মূহৃর্তেও নয়, পরেও নয়। ইকামতও নেই, নেদা-আহবান কিছুই নেই। সেদিন আহবানও নেই, ইকামতও নেই।

১৯২৩

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، أَرْسَلَ إِلَى ابْنِ الزُّبَيْرِ أَوَّلَ مَا بُويِعَ لَهُ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يُؤَذَّنُ لِلصَّلاَةِ يَوْمَ الْفِطْرِ فَلاَ تُؤَذِّنْ لَهَا - قَالَ - فَلَمْ يُؤَذِّنْ لَهَا ابْنُ الزُّبَيْرِ يَوْمَهُ وَأَرْسَلَ إِلَيْهِ مَعَ ذَلِكَ إِنَّمَا الْخُطْبَةُ بَعْدَ الصَّلاَةِ وَإِنَّ ذَلِكَ قَدْ كَانَ يُفْعَلُ - قَالَ - فَصَلَّى ابْنُ الزُّبَيْرِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯২৩। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... আতা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনে যুবাইরের (রাযিঃ) এর যখন প্রথম বায়আত অনুষ্ঠিত হল, তখন ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) তার নিকট সংবাদ পাঠালেন যে, তিনি ঈদুল ফিতরের নামাযের জন্য আযান দেওয়া হত না। অতএব তুমিও আযান দিও না। রাবী বলেন, ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) ঐ দিন ঈদুল ফিতরের নামাযে আযান দেননি তিনি আরও বলে পাঠান যে, খুতবা নামাযের পর। পূর্বে এভাবেই করা হত। রাবী বলেন, ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) খুতবা দেয়ার পূর্বেই নামায আদায় করে নিলেন।

১৯২৪

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ، سَمُرَةَ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِيدَيْنِ غَيْرَ مَرَّةٍ وَلاَ مَرَّتَيْنِ بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلاَ إِقَامَةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

১৯২৪। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, হাসান ইবনে রাবী , কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও আবু বকর ইবনে শায়বা (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একাধিকবার আযান ইকামত ব্যতীত উভয় ঈদের নামায রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আদায় করেছি।

১৯২৫

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ عُبَيْدِ، اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ كَانُوا يُصَلُّونَ الْعِيدَيْنِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৯২৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ), আবু বকর ও উমর (রাযিঃ) খুতবা দেয়ার পূর্বে উভয় ঈদের নামায আদায় করতেন।

১৯২৬

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَخْرُجُ يَوْمَ الأَضْحَى وَيَوْمَ الْفِطْرِ فَيَبْدَأُ بِالصَّلاَةِ فَإِذَا صَلَّى صَلاَتَهُ وَسَلَّمَ قَامَ فَأَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ وَهُمْ جُلُوسٌ فِي مُصَلاَّهُمْ فَإِنْ كَانَ لَهُ حَاجَةٌ بِبَعْثٍ ذَكَرَهُ لِلنَّاسِ أَوْ كَانَتْ لَهُ حَاجَةٌ بِغَيْرِ ذَلِكَ أَمَرَهُمْ بِهَا وَكَانَ يَقُولُ " تَصَدَّقُوا تَصَدَّقُوا تَصَدَّقُوا " . وَكَانَ أَكْثَرَ مَنْ يَتَصَدَّقُ النِّسَاءُ ثُمَّ يَنْصَرِفُ فَلَمْ يَزَلْ كَذَلِكَ حَتَّى كَانَ مَرْوَانُ بْنُ الْحَكَمِ فَخَرَجْتُ مُخَاصِرًا مَرْوَانَ حَتَّى أَتَيْنَا الْمُصَلَّى فَإِذَا كَثِيرُ بْنُ الصَّلْتِ قَدْ بَنَى مِنْبَرًا مِنْ طِينٍ وَلَبِنٍ فَإِذَا مَرْوَانُ يُنَازِعُنِي يَدَهُ كَأَنَّهُ يَجُرُّنِي نَحْوَ الْمِنْبَرِ وَأَنَا أَجُرُّهُ نَحْوَ الصَّلاَةِ فَلَمَّا رَأَيْتُ ذَلِكَ مِنْهُ قُلْتُ أَيْنَ الاِبْتِدَاءُ بِالصَّلاَةِ فَقَالَ لاَ يَا أَبَا سَعِيدٍ قَدْ تُرِكَ مَا تَعْلَمُ . قُلْتُ كَلاَّ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ تَأْتُونَ بِخَيْرٍ مِمَّا أَعْلَمُ . ثَلاَثَ مِرَارٍ ثُمَّ انْصَرَفَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৯২৬। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব, কুতায়বা ও ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিনে বের হতেন এবং সর্বপ্রথম নামায আদায় করতেন। নামায আদায় করার পর সালাম ফিরিয়ে সবার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে যেতেন। তখন সবাই নিজ নিজ নামাযের জায়গায় বসে থাকতেন। যদি কোথাও বাহিনী প্রেরণের প্রয়োজন হত তবে তিনি তা লোকদের নিকট উল্লেখ করতেন। অন্য কোন প্রয়োজন থাকলে তারও নির্দেশ দিতেন। আর তিনি বলতেন, সাদ্‌কা কর, সাদ্‌কা কর, সাদ্‌কা কর। মহিলাগণই বেশী সাদ্‌কা দিতেন। তারপর তিনি ফেরতেন এটাই ছিল নিয়ম।

যখন মারওয়ানের যুগ এল তখন আমি ও মারওয়ানের হাত ধরাধরি করে বের হলাম। ঈদগাহে পৌছে দেখতে পেলাম যে, কাসীর ইবনে সালত ইট ও মাটি দ্বারা একটি মিম্বর তৈরী করে রেখেছে। তখন মারওয়ান আমার হাত ধরে টানতে লাগলেন যেন তিনি আমাকে মিম্বরের দিকে নিয়ে যাবেন। আর আমি তাকে নামাযের দিকে টানছি। যখন আমি এ অবস্থা দেখলাম, তখন তাকে বললাম, প্রথমে নামায আদায় করার কি হল? তিনি বললেন, হে আবু সাঈদ! না, তুমি যা জান তা বাদ দেয়া হয়েছে। আমি বললাম, কখনো নয়, যার হাতে আমার জীবন তার কসম করে বলছি, আমি যা জানি তার চেয়ে উত্তম কিছু তোমরা আনয়ন করতে পারবে না। এই কথাটি তিনবার বলে তিনি চলে গেলেন।

১. ঈদগাহে নারীদের গমন ও খুতবা শ্রবনের বৈধতা এবং পুরুষদের থেকে পৃথক থাকা

باب ذِكْرِ إِبَاحَةِ خُرُوجِ النِّسَاءِ فِي الْعِيدَيْنِ إِلَى الْمُصَلَّى وَشُهُودِ الْخُطْبَةِ مُفَارِقَاتٌ لِلرِّجَالِ

১৯২৭

حَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ أَمَرَنَا - تَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - أَنْ نُخْرِجَ فِي الْعِيدَيْنِ الْعَوَاتِقَ وَذَوَاتِ الْخُدُورِ وَأَمَرَ الْحُيَّضَ أَنْ يَعْتَزِلْنَ مُصَلَّى الْمُسْلِمِينَ .

বর্ণনাকারী: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

১৯২৭। আবুর রাবী যাহরানী (রাহঃ) ......... উম্মে আতিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে নবী (ﷺ) আদেশ করেছেন, দু’ঈদের নামাযে যাওয়ার জন্য। সাবালক ও পর্দানশীন নির্বিশেষে সবার জন্য এ আদেশ। কিন্তু ঋতুবতী মহিলাদেরকে নিষেধ করেছেন মুসলমানদের ঈদগাহে হাযির হতে।

১৯২৮

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ، سِيرِينَ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ كُنَّا نُؤْمَرُ بِالْخُرُوجِ فِي الْعِيدَيْنِ وَالْمُخَبَّأَةُ وَالْبِكْرُ قَالَتِ الْحُيَّضُ يَخْرُجْنَ فَيَكُنَّ خَلْفَ النَّاسِ يُكَبِّرْنَ مَعَ النَّاسِ .

বর্ণনাকারী: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

১৯২৮। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... উম্মে আতিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে উভয় ঈদে যাওয়ার জন্য আদেশ করা হত। পর্দানশীন ও কুমারী মহিলাদেরকেও। রাবী বলেন, ঋতুবতী মহিলারাও বের হবে কিন্তু দাঁড়াবে পুরুষের পেছনে এবং সকলের সাথে তাকবীর বলবে।

১৯২৯

وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ، سِيرِينَ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نُخْرِجَهُنَّ فِي الْفِطْرِ وَالأَضْحَى الْعَوَاتِقَ وَالْحُيَّضَ وَذَوَاتِ الْخُدُورِ فَأَمَّا الْحُيَّضُ فَيَعْتَزِلْنَ الصَّلاَةَ وَيَشْهَدْنَ الْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْمُسْلِمِينَ . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِحْدَانَا لاَ يَكُونُ لَهَا جِلْبَابٌ قَالَ " لِتُلْبِسْهَا أُخْتُهَا مِنْ جِلْبَابِهَا " .

বর্ণনাকারী: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

১৯২৯। আমরুন নাকিদ (রাহঃ) ......... উম্মে আতিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সাবলিকা মেয়েদেরকে, ঋতুবতীদেরকে ও পর্দানশীনদেরকে ঈদের নামাযে যাওয়ার জন্য বের করতে। তবে ঋতুবতী মহিলারা নামাযে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে। তারা কল্যাণ কর্ম ও মুসলিমদের দুআতে অংশগ্রহণ করবে। আমি আরয করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের কারো ওড়না থাকে না (সে কি করবে?) তিনি বললেন, তার বোন তাকে ওড়না পরিধান করতে দিয়ে সাহায্য করবে।

২. ঈদগাহে ঈদের নামায আদায়ের আগে ও পরে নফল না পড়া

باب تَرْكِ الصَّلاَةِ قَبْلَ الْعِيدِ وَبَعْدَهَا فِي الْمُصَلَّى

১৯৩০

وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدِ، بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ يَوْمَ أَضْحَى أَوْ فِطْرٍ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَمْ يُصَلِّ قَبْلَهَا وَلاَ بَعْدَهَا ثُمَّ أَتَى النِّسَاءَ وَمَعَهُ بِلاَلٌ فَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ فَجَعَلَتِ الْمَرْأَةُ تُلْقِي خُرْصَهَا وَتُلْقِي سِخَابَهَا

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯৩০। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয আম্বরী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতর দিবসে বের হলেন এবং দু’রাক’আত ঈদের নামায আদায় করলেন। এর আগে ও পরে কোন নামায আদায় করেননি। এরপর মহিলাদের কাছে গমন করলেন, বিলাল (রাযিঃ)ও তাঁর সাথে ছিলেন। তিনি মহিলাদেরকে সাদ্‌কা করতে নির্দেশ দিলেন। তখন মহিলারা তাদের আংটি ও কণ্ঠাভরণ (গলার হার) দিতে শুরু করল।

১৯৩১

وَحَدَّثَنِيهِ عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ، وَمُحَمَّدُ، بْنُ بَشَّارٍ جَمِيعًا عَنْ غُنْدَرٍ، كِلاَهُمَا عَنْ شُعْبَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৯৩১। আমরুন নাকিদ, আবু বকর ইবনে নাফি ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... শুবা (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৩. দুই ঈদের নামাযে কোন কিরা’আত পড়া হবে

باب مَا يُقْرَأُ بِهِ فِي صَلاَةِ الْعِيدَيْنِ

১৯৩২

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ سَعِيدٍ الْمَازِنِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، سَأَلَ أَبَا وَاقِدٍ اللَّيْثِيَّ مَا كَانَ يَقْرَأُ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الأَضْحَى وَالْفِطْرِ فَقَالَ كَانَ يَقْرَأُ فِيهِمَا بِـ ( ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ) وَ ( اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ)

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৯৩২। ইয়াহহয়া ইবনে ইয়াহহয়া (রাহঃ) ......... উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) আবু ওয়াকিদ লায়সী (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরে কোন সূরা পাঠ করতেন? তিনি বললেন, উভয় ঈদের নামাযে সূরা ″কাফ ওয়াল কুরানিল মাজীদ″ এবং ″ইকতারাবাতিস সা’আ, ওয়ান শাক্কাল কামার″ তিলাওয়াত করতেন।

১৯৩৩

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، عَنْ ضَمْرَةَ، بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ، قَالَ سَأَلَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ عَمَّا قَرَأَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي يَوْمِ الْعِيدِ فَقُلْتُ بِـ ( اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ) وَ ( ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ)

বর্ণনাকারী: আবু ওয়াকিদ লায়ছী (রাঃ)

১৯৩৩। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু ওয়াকিদ লায়সী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর (রাযিঃ) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদের নামাযে কোন সূরা পাঠ করতেন। আমি বললাম, ″ইকতারাবাতিস সা’আ″ ও ″ক্কাফ ওয়াল কুরআনিল মাজীদ″ পাঠ করতেন।

৪. ঈদের দিনসমুহে নিষ্পাপ খেলাধুলার বৈধতা

باب الرُّخْصَةِ فِي اللَّعِبِ الَّذِي لاَ مَعْصِيَةَ فِيهِ فِي أَيَّامِ الْعِيدِ

১৯৩৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ أَبُو بَكْرٍ وَعِنْدِي جَارِيَتَانِ مِنْ جَوَارِي الأَنْصَارِ تُغَنِّيَانِ بِمَا تَقَاوَلَتْ بِهِ الأَنْصَارُ يَوْمَ بُعَاثٍ قَالَتْ وَلَيْسَتَا بِمُغَنِّيَتَيْنِ . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ أَبِمُزْمُورِ الشَّيْطَانِ فِي بَيْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَذَلِكَ فِي يَوْمِ عِيدٍ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَبَا بَكْرٍ إِنَّ لِكُلِّ قَوْمٍ عِيدًا وَهَذَا عِيدُنَا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৯৩৪। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার গৃহে আবু বকর (রাযিঃ) প্রবেশ করলেন। আমার নিকট দু’টি আনসারী বালিকা ছিল। তারা বিরত্বগাঁথা গাইছিল, যা আনসারগণ বুয়াস যুদ্ধের দিন আবৃত্তি করেছিল। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আসলে বালিকা দুটি গায়িকা ছিল না। আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, শয়তানের বাদ্যযন্ত্র দ্বারা কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘরে গান গাওয়া হচ্ছে। সে দিনটি ছিল ঈদের দিন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আবু বকর, প্রত্যেক জাতিরই ঈদ আর এটা হল আমাদের ঈদ।

১৯৩৫

وَحَدَّثَنَاهُ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو كُرَيْبٍ جَمِيعًا عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَفِيهِ جَارِيَتَانِ تَلْعَبَانِ بِدُفٍّ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৯৩৫। ইয়াহহয়া ইবনে ইয়াহহয়া, আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... হিশাম (রাহঃ) থেকে ঐ সনদে বর্ণিত। এতে আরও আছে যে, দুটি বালিকা দফ (বাদযন্ত্র) নিয়ে খেলছিল।

১৯৩৬

حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، حَدَّثَهُ عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، دَخَلَ عَلَيْهَا وَعِنْدَهَا جَارِيَتَانِ فِي أَيَّامِ مِنًى تُغَنِّيَانِ وَتَضْرِبَانِ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُسَجًّى بِثَوْبِهِ فَانْتَهَرَهُمَا أَبُو بَكْرٍ فَكَشَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْهُ وَقَالَ " دَعْهُمَا يَا أَبَا بَكْرٍ فَإِنَّهَا أَيَّامُ عِيدٍ " . وَقَالَتْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتُرُنِي بِرِدَائِهِ وَأَنَا أَنْظُرُ إِلَى الْحَبَشَةِ وَهُمْ يَلْعَبُونَ وَأَنَا جَارِيَةٌ فَاقْدِرُوا قَدْرَ الْجَارِيَةِ الْعَرِبَةِ الْحَدِيثَةِ السِّنِّ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৯৩৬। হারুন ইবনে সাঈদ আয়লী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবু বকর (রাযিঃ) তাঁর নিকট এলেন। তখন তাঁর কাছে দুটি বালিকা দফ বাজাচ্ছিল আর গান গাইছিল। আর সেটা ছিল মিনা দিবসের মধ্যে। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বস্ত্রাবৃত ছিলেন। আবু বকর (রাযিঃ) বালিকাদের ধমকালেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুখের আবরণ সরিয়ে বললেন, হে আবু বকর! এদেরকে ছেড়ে দাও, যেহেতু এটা ঈদের দিন।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখছি যে, তিনি আমাকে তাঁর চাঁদর দ্বারা মাথা ঢেকে রেখেছেন আর তখন আমি হাবশীদের খেলা দেখছিলাম। আমি তখন বালিকা। অনুমান করে দেখ, অল্পবয়স্কা একজন আমোদিনী বালিকা কতক্ষণ তা দেখতে আগ্রহী হবে (তিনি ততক্ষণই দাঁড়িয়েছিলেন)।
১৯৩৭

وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنِي ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ وَاللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُومُ عَلَى بَابِ حُجْرَتِي - وَالْحَبَشَةُ يَلْعَبُونَ بِحِرَابِهِمْ فِي مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - يَسْتُرُنِي بِرِدَائِهِ لِكَىْ أَنْظُرَ إِلَى لَعِبِهِمْ ثُمَّ يَقُومُ مِنْ أَجْلِي حَتَّى أَكُونَ أَنَا الَّتِي أَنْصَرِفُ . فَاقْدُرُوا قَدْرَ الْجَارِيَةِ الْحَدِيثَةِ السِّنِّ حَرِيصَةً عَلَى اللَّهْوِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৯৩৭। আবু তাহির (রাহঃ) ......... উরওয়া ইবনে যুবাইর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখেছি যে, তিনি আমার হুজরার দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতেন আর হাবশীরা তাদের অস্ত্র দিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মসজিদে খেলত (যুদ্ধের অনুশীলন করত) তিনি তাঁর চাঁদর দিয়ে আমাকে ঢেকে রাখতেন যেন আমি তাদের খেলাধুলা দেখতে পারি এবং ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে থাকতেন। তোমরা অনুমান কর, অল্পবয়স্কা ও খেলাধূলার প্রতি আগ্রহী একজন বালিকা কতক্ষণ তা দেখতে পারে।

১৯৩৮

حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، وَيُونُسُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، - وَاللَّفْظُ لِهَارُونَ - قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا عَمْرٌو، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَهُ عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدِي جَارِيَتَانِ تُغَنِّيَانِ بِغِنَاءِ بُعَاثٍ فَاضْطَجَعَ عَلَى الْفِرَاشِ وَحَوَّلَ وَجْهَهُ فَدَخَلَ أَبُو بَكْرٍ فَانْتَهَرَنِي وَقَالَ مِزْمَارُ الشَّيْطَانِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " دَعْهُمَا " فَلَمَّا غَفَلَ غَمَزْتُهُمَا فَخَرَجَتَا وَكَانَ يَوْمَ عِيدٍ يَلْعَبُ السُّودَانُ بِالدَّرَقِ وَالْحِرَابِ فَإِمَّا سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِمَّا قَالَ " تَشْتَهِينَ تَنْظُرِينَ " . فَقُلْتُ نَعَمْ فَأَقَامَنِي وَرَاءَهُ خَدِّي عَلَى خَدِّهِ وَهُوَ يَقُولُ " دُونَكُمْ يَا بَنِي أَرْفَدَةَ " . حَتَّى إِذَا مَلِلْتُ قَالَ " حَسْبُكِ " . قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ " فَاذْهَبِي " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৯৩৮। হারূন ইবনে সাঈদ আয়লী ও ইউনুস ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গৃহে প্রবেশ করলেন, তখন আমার কাছে দুটি বালিকা ছিল। তারা বুয়াসের ঘটনাবলী সম্পর্কে গান গাচ্ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিছানায় শুয়ে পড়লেন এবং তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এরপর আবু বকর (রাযিঃ) প্রবেশ করলেন। তিনি আমাকে ধমকালেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে শয়তানের বাজনা বাজান হচ্ছে? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এদিকে মুখ ফিরালেন এবং বললেন, এদেরকে গাইতে দাও। যখন আবু বকর (রাযিঃ) নিশ্চুপ হলেন তখন আমি তাদেরকে ইঙ্গিত করলাম এবং তারা বেরিয়ে গেল।

আর ঈদের দিনে সুদানীরা ঢাল-তলোয়ার জাতীয় যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে খেলাধূলা করছিল। হয়ত আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আবেদন করেছিলাম কিংবা তিনি নিজেই বলেছিলেন, তোমার দেখার আগ্রহ আছে? আমি বললাম, হ্যাঁ আছে। এরপর আমাকে তাঁর পিছনে দাঁড় করালেন। আমার গালে তার গালের উপর ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলছিলেন, এভাবে অনুশীলন জারি রাখ হে আরাফিদার বংশধরগণ! শেষ পর্যন্ত আমি যখন ক্লান্ত হয়ে পড়লাম, তখন তিনি বললেন, তোমার দেখা শেষ হয়েছে কি? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তবে যাও।
১৯৩৯

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَ حَبَشٌ يَزْفِنُونَ فِي يَوْمِ عِيدٍ فِي الْمَسْجِدِ فَدَعَانِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَوَضَعْتُ رَأْسِي عَلَى مَنْكِبِهِ فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَى لَعِبِهِمْ حَتَّى كُنْتُ أَنَا الَّتِي أَنْصَرِفُ عَنِ النَّظَرِ إِلَيْهِمْ.

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৯৩৯। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঈদের দিনে মসজিদে একটি সেনাদল আগমন করলেন। যখন তারা অনুশীলন করছিল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ডাকলেন। আমি আমার মাথা তাঁর কাঁধের উপর রেখে দিলাম এবং তাদের অনুশীলন দেখতে লাগলাম। শেষ পর্যন্ত আমি নিজেই তাদের দেখা ক্ষান্ত করে চলে গেলাম।

১৯৪০

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّاءَ بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ، نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، كِلاَهُمَا عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَذْكُرَا فِي الْمَسْجِدِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৯৪০। ইয়াহহয়া ইবনে ইয়াহহয়া ও ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... হিশাম (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তারা মসজিদের কথাটি উল্লেখ করেননি।

১৯৪১

وَحَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ دِينَارٍ، وَعُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ الْعَمِّيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، كُلُّهُمْ عَنْ أَبِي، عَاصِمٍ - وَاللَّفْظُ لِعُقْبَةَ - قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ بْنُ عُمَيْرٍ، أَخْبَرَتْنِي عَائِشَةُ، أَنَّهَا قَالَتْ لِلَعَّابِينَ وَدِدْتُ أَنِّي أَرَاهُمْ قَالَتْ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقُمْتُ عَلَى الْبَابِ أَنْظُرُ بَيْنَ أُذُنَيْهِ وَعَاتِقِهِ وَهُمْ يَلْعَبُونَ فِي الْمَسْجِدِ . قَالَ عَطَاءٌ فُرْسٌ أَوْ حَبَشٌ . قَالَ وَقَالَ لِي ابْنُ عَتِيقٍ بَلْ حَبَشٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৯৪১। ইবরাহীম ইবনে দীনার, উকবা ইবনে মুকরাম আম্মী ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... উবাইদ ইবনে উমায়র (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) আমাকে বলেছেন যে, তিনি অনুশীলনকারীদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বলেছিলেন যে, আমি তাদের দেখতে আগ্রহী। তিনি বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়ালেন। আমি তাঁর পিছনে দরজার পার্শ্বে দাড়ালাম এবং তাঁর কান ও কাঁধের মধ্য দিয়ে দেখতে লাগলাম। তখন তারা মসজিদে মহড়া দিচ্ছিল। আতা (রাহঃ) বলেন, অনুশীলনকারী পার্শিয়ান অথবা হাবশী ছিল। রাবী বলেন, আমাকে ইবনে আতিক (রাহঃ) বলেছেন যে, বরং তারা হাবশী ছিল।

১৯৪২

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ عَبْدٌ أَخْبَرَنَا وَقَالَ ابْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ بَيْنَمَا الْحَبَشَةُ يَلْعَبُونَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِحِرَابِهِمْ إِذْ دَخَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَأَهْوَى إِلَى الْحَصْبَاءِ يَحْصِبُهُمْ بِهَا . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " دَعْهُمْ يَا عُمَرُ.

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৯৪২। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হাবশীরাা নবী (ﷺ) এর কাছে তাদের অস্ত্র নিয়ে খেলা করছিল। সে সময়ে উমর (রাযিঃ) আগমন করলেন এবং কংকর তুলে নিয়ে তাদের দিকে ছুড়ে মারতে লাগলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে উমর! তাদেরকে অনুশীলন করতে দাও।