كتاب / باب فضائل القران وما يتعلق به

৭- কুরআনে কারীমের ফাযায়েল ও আদাব-মাসাঈল

অধ্যায় ৭ · ১১৪ টি হাদীস

১. কুরআন সংরক্ষণে যত্নবান হওয়ার নির্দেশ; অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি বলার অপছন্দনীয়তা ও আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলার বৈধতা প্রসঙ্গে

باب الأَمْرِ بِتَعَهُّدِ الْقُرْآنِ وَكَرَاهَةِ قَوْلِ نَسِيتُ آيَةَ كَذَا. وَجَوَازِ قَوْلِ أُنْسِيتُهَا

১৭১০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ رَجُلاً يَقْرَأُ مِنَ اللَّيْلِ فَقَالَ " يَرْحَمُهُ اللَّهُ لَقَدْ أَذْكَرَنِي كَذَا وَكَذَا آيَةً كُنْتُ أَسْقَطْتُهَا مِنْ سُورَةِ كَذَا وَكَذَا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭১০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে এক ব্যক্তিকে কুরআন তিলাওয়াত করে শুনালেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তাকে রহম করুন! সে আমাকে অমুক অমুক আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যা অমুক সূরা থেকে আমি বাদ দিয়েছিলাম।

১৭১১

وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَسْتَمِعُ قِرَاءَةَ رَجُلٍ فِي الْمَسْجِدِ . فَقَالَ " رَحِمَهُ اللَّهُ لَقَدْ أَذْكَرَنِي آيَةً كُنْتُ أُنْسِيتُهَا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭১১। ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে এক ব্যক্তির তিলাওয়াত শুনছিলেন। তখন তিনি বললেন, ″আল্লাহ তাকে রহম করুন! আমাকে এমন আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, যা আমাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছিল।″

১৭১২

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّمَا مَثَلُ صَاحِبِ الْقُرْآنِ كَمَثَلِ الإِبِلِ الْمُعَقَّلَةِ إِنْ عَاهَدَ عَلَيْهَا أَمْسَكَهَا وَإِنْ أَطْلَقَهَا ذَهَبَتْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৭১২। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কুরআনওয়ালা ব্যক্তির দৃষ্টান্ত তো বেধে রাখা উটের মত। তার দেখাশুনা করলে তাকে আটকে রাখতে পারে, আর তাকে ছেড়ে দিলে সে (নিরুদ্দেশে) চলে যায়।

১৭১৩

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا يَحْيَى، وَهُوَ الْقَطَّانُ ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي كُلُّهُمْ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْمُسَيَّبِيُّ حَدَّثَنَا أَنَسٌ، - يَعْنِي ابْنَ عِيَاضٍ - جَمِيعًا عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، كُلُّ هَؤُلاَءِ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ . بِمَعْنَى حَدِيثِ مَالِكٍ وَزَادَ فِي حَدِيثِ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ " وَإِذَا قَامَ صَاحِبُ الْقُرْآنِ فَقَرَأَهُ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ ذَكَرَهُ وَإِذَا لَمْ يَقُمْ بِهِ نَسِيَهُ "

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৭১৩। যুহাযর ইবনে হারব, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, ইবনে নুমাইর, ইবনে আবু উমর (রাহঃ) কুতায়বা ইবনে সাঈদ এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আল মুসায়্যিবী (রাহঃ) ......... সকলেই নাফি (রাহঃ) সূত্রে ইবনে উমর (রাযিঃ) এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে পূর্বোক্ত (ইয়াহয়া সনদের) মালিক (রাহঃ) এর হাদীসের অর্থসস্পন্ন হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে (মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ও সহযোগী সনদের) মুসা ইবনে উকবা (রাহঃ) এর হাদীসে আরও আছে, ″যখন কুরআনওয়ালা ব্যক্তি (ইবাদতে) সচেষ্ট হয় এবং রাতে ও দিনে কুরআন তিলাওয়াত করতে থাকে তখন সে তা স্মরণ রাখতে পারে, আর তার জন্য যত্নবান না হলে তা ভুলে যায়।″

১৩. কুরআন অধ্যয়ন ও শিক্ষাদানে রত ব্যক্তির ফযীলত এবং যে ব্যক্তি ফিকহ ইত্যাদির সূক্ষ্ম জ্ঞান আরোহণ করে, তদানুসারে আমল করে ও শিক্ষা দেয়, তার ফযীলত

باب فَضْلِ مَنْ يَقُومُ بِالْقُرْآنِ وَيُعَلِّمُهُ وَفَضْلِ مَنْ تَعَلَّمَ حِكْمَةً مِنْ فِقْهٍ أَوْ غَيْرِهِ فَعَمِلَ بِهَا وَعَلَّمَهَا

১৭১৪

وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بِئْسَمَا لأَحَدِهِمْ يَقُولُ نَسِيتُ آيَةَ كَيْتَ وَكَيْتَ بَلْ هُوَ نُسِّيَ اسْتَذْكِرُوا الْقُرْآنَ فَلَهُوَ أَشَدُّ تَفَصِّيًا مِنْ صُدُورِ الرِّجَالِ مِنَ النَّعَمِ بِعُقُلِهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭১৪। যুহাইর ইবনে হারব, উসমান ইবনে আবি শাঈবা ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ″তাদের যে কোন ব্যক্তির জন্য এমন করে বলা কতই নিন্দনীয় যে, আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি।″ বরং (এরূপ না বলে সে বলবে যে,) তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা কুরআন মুখস্ত করতে থাকবে। কেননা, উটের রশি হতে উটের পলায়নের চেয়ে অবশ্যই তা (কুরআন) মানুষের হৃদয় হতে অধিক হারে পলায়নকারী ও বিচ্ছিন্নতা প্রয়াসী।

১. কুরআন সংরক্ষণে যত্নবান হওয়ার নির্দেশ; অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি বলার অপছন্দনীয়তা ও আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলার বৈধতা প্রসঙ্গে

باب الأَمْرِ بِتَعَهُّدِ الْقُرْآنِ وَكَرَاهَةِ قَوْلِ نَسِيتُ آيَةَ كَذَا. وَجَوَازِ قَوْلِ أُنْسِيتُهَا

১৭১৫

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَأَبُو مُعَاوِيَةَ ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ تَعَاهَدُوا هَذِهِ الْمَصَاحِفَ - وَرُبَّمَا قَالَ الْقُرْآنَ - فَلَهُوَ أَشَدُّ تَفَصِّيًا مِنْ صُدُورِ الرِّجَالِ مِنَ النَّعَمِ مِنْ عُقُلِهِ . قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَقُلْ أَحَدُكُمْ نَسِيتُ آيَةَ كَيْتَ وَكَيْتَ بَلْ هُوَ نُسِّيَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭১৫। ইবনে নুমাইর এবং ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... শাকীক (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, এ মুসহাফ (পবিত্র গ্রন্থ)-সমূহের এবং অনেক সময় বলেছেন, এ কুরআনের হিফাযত সংরক্ষণ করবে। কেননা, দড়ি ছিড়ে উট (পশু) পলায়নের চেয়ে তা মানুষের হৃদয়পট থেকে অধিক পলায়নকারী। আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি বলবে না; বরং তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে।

১৭১৬

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي عَبْدَةُ، بْنُ أَبِي لُبَابَةَ عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " بِئْسَمَا لِلرَّجُلِ أَنْ يَقُولَ نَسِيتُ سُورَةَ كَيْتَ وَكَيْتَ أَوْ نَسِيتُ آيَةَ كَيْتَ وَكَيْتَ بَلْ هُوَ نُسِّيَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭১৬। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... শাকীক ইবনে সালামা (রাহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) কে আমি বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি বলতে শুনেছি, মানুষের জন্য এরূপ বলা খুবই নিন্দনীয় যে, আমি অমুক অমুক সূরা ভুলে গিয়েছি, কিংবা আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি। বরং তাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

১৭১৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَرَّادٍ الأَشْعَرِيُّ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَعَاهَدُوا هَذَا الْقُرْآنَ فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَهُوَ أَشَدُّ تَفَلُّتًا مِنَ الإِبِلِ فِي عُقُلِهَا " . وَلَفْظُ الْحَدِيثِ لاِبْنِ بَرَّادٍ.

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

১৭১৭। আব্দুল্লাহ ইবনে বাররাদ, আল আশ’আরী ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এ কুরআন সংরক্ষণে তোমরা যত্নবান হও। কেননা যার হাতে মুহাম্মাদের জীবন তার কসম! অবশ্যই রশি ছিড়ে পলায়নরত উটের তুলনায় তা অধিক পলায়নপর। এ হাদীসের ভাষ্য ইবনে বাররাদ (রাহঃ) এর।

২. কুরআন পাঠের আওয়াযে মাধুর্য সৃষ্টি করা মুস্তাহাব

باب اسْتِحْبَابِ تَحْسِينِ الصَّوْتِ بِالْقُرْآنِ

১৭১৮

حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا أَذِنَ اللَّهُ لِشَىْءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِيٍّ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭১৮। আমরুন নাকিদ ও যুহাইর ইবনে হাবর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি সনদটি নবী (ﷺ) পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। নবী (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ কোন কিছুর প্রতি এত কান দেন না (সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন না) যত কান দেন কোন নবীর প্রতি, যিনি মধুর কন্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করেন।

১৭১৯

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، ح وَحَدَّثَنِي يُونُسُ، بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، كِلاَهُمَا عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ قَالَ " كَمَا يَأْذَنُ لِنَبِيٍّ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭১৯। হারামালা ইবনে ইয়াহিয়া ও ইউনুস ইবনে আব্দুল আালা (রাহঃ) ......... ইবনে শিহাব (রাহঃ) সূত্রে ঐ সনদে রিওয়ায়াত করেছেন, তিনি বলেছেন, যেমন কান দিয়ে থাকেন মধুর সুরে কুরআন পাঠকারী কোন নবীর প্রতি।

১৭২০

حَدَّثَنِي بِشْرُ بْنُ الْحَكَمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - وَهُوَ ابْنُ الْهَادِ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا أَذِنَ اللَّهُ لِشَىْءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِيٍّ حَسَنِ الصَّوْتِ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ يَجْهَرُ بِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭২০। বিশর ইবনুল হাকাম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহ অত সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন না, যত সন্তুষ্টি প্রকাশ করে থাকেন সুকণ্ঠ কোন নবীর প্রতি, যিনি সূর দিয়ে কুরআন পাঠ করেন এবং সশব্দে তা পাঠ করতে থাকেন।

১৭২১

وَحَدَّثَنِي ابْنُ أَخِي ابْنِ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا عَمِّي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ، مَالِكٍ وَحَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ عَنِ ابْنِ الْهَادِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ سَوَاءً وَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَلَمْ يَقُلْ سَمِعَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭২১। ইবনে ওয়াহবের ভাতিজা (রাহঃ) ......... ইবনুল হাদ (রাহঃ) সূত্রে ঐ সনদে অবিকল অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ″আবু হুরায়রা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন″ বলেন নি।

১৭২২

وَحَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا هِقْلٌ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا أَذِنَ اللَّهُ لِشَىْءٍ كَأَذَنِهِ لِنَبِيٍّ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ يَجْهَرُ بِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭২২। হাকাম ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা শব্দ করে সূর দিয়ে কুরআন তিলাওয়াতকারী নবীর প্রতি কান দেয়ার মত অন্য কোন কিছুর প্রতি কান লাগান না।

১৭২৩

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . مِثْلَ حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ غَيْرَ أَنَّ ابْنَ أَيُّوبَ قَالَ فِي رِوَايَتِهِ " كَإِذْنِهِ ".

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭২৩। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব, কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে ইয়াহয়া ইবনে আবু কাসীর (রাহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

১৭২৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، - وَهُوَ ابْنُ مِغْوَلٍ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ أَوِ الأَشْعَرِيَّ أُعْطِيَ مِزْمَارًا مِنْ مَزَامِيرِ آلِ دَاوُدَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

১৭২৪। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... বুবায়দা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স কিংবা তিনি বলেছিলেন, (আবু মুসা) আল-আশ’আরীকে দাউদ (আলাইহিস সালাম) পরিবারের বাশরীসমুহের একটি বাশরী (অর্থাৎ সুমধুর সুর) দান করা হয়েছে।

১৭২৫

وَحَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا طَلْحَةُ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَبِي مُوسَى " لَوْ رَأَيْتَنِي وَأَنَا أَسْتَمِعُ لِقِرَاءَتِكَ الْبَارِحَةَ لَقَدْ أُوتِيتَ مِزْمَارًا مِنْ مَزَامِيرِ آلِ دَاوُدَ " .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

১৭২৫। দাউদ ইবনে রুশায়দ (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেন, তুমি যদি আমাকে দেখতে, গত রাতে যখন আমি তোমার কিরাআত মনোযোগ দিয়ে শুনছিলাম (তখন আমার মনে হয়েছিল যে,) তোমাকে দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর বাশরীসমূহের (সুরমালার) একটি বাশরী (সুর) দান করা হয়েছে।

১৭২৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، وَوَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُغَفَّلٍ الْمُزَنِيَّ، يَقُولُ قَرَأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفَتْحِ فِي مَسِيرٍ لَهُ سُورَةَ الْفَتْحِ عَلَى رَاحِلَتِهِ فَرَجَّعَ فِي قِرَاءَتِهِ . قَالَ مُعَاوِيَةُ لَوْلاَ أَنِّي أَخَافُ أَنْ يَجْتَمِعَ عَلَىَّ النَّاسُ لَحَكَيْتُ لَكُمْ قِرَاءَتَهُ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাঃ)

১৭২৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল মুযানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মক্কা) বিজয়ের বছর নবী (ﷺ) তাঁর কোন একটি সফরে তাঁর বাহনে থেকে সূরা ফাতহ তিলাওয়াত করছিলেন এবং তিলাওয়াতে তিনি ″তারজী″ (কণ্ঠনালীতে আওয়াযের উত্থান পতন) করছিলেন। মুআবিয়া (রাযিঃ) বলেন, আমার কাছে লোকের ভিড় জমে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকলে আমি তোমাদের (ছাত্রদের) সামনে তার কিরা’আত নকল করে শোনাতাম।

১৭২৭

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُغَفَّلٍ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ عَلَى نَاقَتِهِ يَقْرَأُ سُورَةَ الْفَتْحِ . قَالَ فَقَرَأَ ابْنُ مُغَفَّلٍ وَرَجَّعَ . فَقَالَ مُعَاوِيَةُ لَوْلاَ النَّاسُ لأَخَذْتُ لَكُمْ بِذَلِكَ الَّذِي ذَكَرَهُ ابْنُ مُغَفَّلٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাঃ)

১৭২৭। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তাঁর উটের পিঠে সূরা আল ফাতহ তিলাওয়াত করতে দেখলাম। মুআবিয়া (রাযিঃ) বলেন, (এ হাদীস বর্ণনার সময়) ইবনে মুগাফফাল (রাযিঃ) তিলাওয়াত করলে এবং তাতে গলায় আওয়াযের দোলা তুললেন। মুআবিয়া (রাযিঃ) বলেন, লোকেদের ভীড়ের আশঙ্কা না হলে আমি তোমাদের জন্য ঐ (কিরাআতের) বিষয়টি তুলে ধরতাম যা ইবনে মুগাফফাল (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

১৭২৮

وَحَدَّثَنَاهُ يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ، اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ حَدَّثَنَا أَبِي قَالاَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ وَفِي حَدِيثِ خَالِدِ بْنِ الْحَارِثِ قَالَ عَلَى رَاحِلَةٍ يَسِيرُ وَهُوَ يَقْرَأُ سُورَةَ الْفَتْحِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাঃ)

১৭২৮। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব হারিসী (রাহঃ) এবং উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয (রাহঃ) ......... শুবা (রাহঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে, (ইয়াহয়া সনদের) খালিদ ইবনে হারিস (রাহঃ) এর এর হাদীসে রয়েছে একটি বাহনের উপরে বসা অবস্থায় তিনি সূরা ফাতহ তিলাওয়াত করছিলেন ...।

৩. কুরআন তিলাওয়াতের সময় সাকীনা বা প্রশান্তি অবতরণ

باب نُزُولِ السَّكِينَةِ لِقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ

১৭২৯

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ كَانَ رَجُلٌ يَقْرَأُ سُورَةَ الْكَهْفِ وَعِنْدَهُ فَرَسٌ مَرْبُوطٌ بِشَطَنَيْنِ فَتَغَشَّتْهُ سَحَابَةٌ فَجَعَلَتْ تَدُورُ وَتَدْنُو وَجَعَلَ فَرَسُهُ يَنْفِرُ مِنْهَا فَلَمَّا أَصْبَحَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " تِلْكَ السَّكِينَةُ تَنَزَّلَتْ لِلْقُرْآنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

১৭২৯। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... বারা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি সূরা কাহফ তিলাওয়াত করছিল। আর দু’ গাছি পাকানো দড়ি দিয়ে একটি ঘোড়া তার কাছে বাধা ছিল। সে সময় এক খণ্ড মেঘ এসে তাকে আচ্ছাদিত করে ফেলল এবং তা চক্কর দিতে লাগল ও নিকটবর্তী হতে লাগল। তার ঘোড়াটি সে কারণে ভয়ে ছটপট করছিল। ভোর হলে লোকটি নবী (ﷺ) এর নিকটে এসে বিষয়টি আলোচনা করল। তখন তিনি বললেন, ও হল সাকীনা (প্রশান্তি) যা কুরআন তিলাওয়াতের কারণে অবর্তীর্ণ হয়েছিল।

১৭৩০

وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ، جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ، يَقُولُ قَرَأَ رَجُلٌ الْكَهْفَ وَفِي الدَّارِ دَابَّةٌ فَجَعَلَتْ تَنْفِرُ فَنَظَرَ فَإِذَا ضَبَابَةٌ أَوْ سَحَابَةٌ قَدْ غَشِيَتْهُ قَالَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " اقْرَأْ فُلاَنُ فَإِنَّهَا السَّكِينَةُ تَنَزَّلَتْ عِنْدَ الْقُرْآنِ أَوْ تَنَزَّلَتْ لِلْقُرْآنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

১৭৩০। ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... বারা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি সূরা কাহফ পাঠ করলেন। এ সময় তার বাড়ীতে একটি পশু বাধা ছিল। তা পলায়ন করতে উদ্যত হল। তখন সে তাকিয়ে দেখল যে একখণ্ড মেঘ তাকে আচ্ছাদিত করে নিয়েছে। এ ঘটনা নবী (ﷺ) এর নিকট বর্ণনা করা হলে তিনি বললেন এ হচ্ছে সাকীনা (প্রশান্তি), কুরআন তিলাওয়াতের সময় বা কুরআন তিলাওয়াতের কারণে অবর্তীর্ণ হয়েছিল।

১৭৩১

وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، وَأَبُو دَاوُدَ قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ، يَقُولُ . فَذَكَرَا نَحْوَهُ غَيْرَ أَنَّهُمَا قَالاَ تَنْقُزُ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

১৭৩১। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... বারা (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে তারাتَنْقُزُ শব্দটি বলেছেন।

১৭৩২

وَحَدَّثَنِي حَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، وَحَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، - وَتَقَارَبَا فِي اللَّفْظِ - قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ الْهَادِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ خَبَّابٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّ أُسَيْدَ بْنَ حُضَيْرٍ بَيْنَمَا هُوَ لَيْلَةً يَقْرَأُ فِي مِرْبَدِهِ إِذْ جَالَتْ فَرَسُهُ فَقَرَأَ ثُمَّ جَالَتْ أُخْرَى فَقَرَأَ ثُمَّ جَالَتْ أَيْضًا قَالَ أُسَيْدٌ فَخَشِيتُ أَنْ تَطَأَ يَحْيَى فَقُمْتُ إِلَيْهَا فَإِذَا مِثْلُ الظُّلَّةِ فَوْقَ رَأْسِي فِيهَا أَمْثَالُ السُّرُجِ عَرَجَتْ فِي الْجَوِّ حَتَّى مَا أَرَاهَا - قَالَ - فَغَدَوْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بَيْنَمَا أَنَا الْبَارِحَةَ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ أَقْرَأُ فِي مِرْبَدِي إِذْ جَالَتْ فَرَسِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْرَإِ ابْنَ حُضَيْرٍ " . قَالَ فَقَرَأْتُ ثُمَّ جَالَتْ أَيْضًا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْرَإِ ابْنَ حُضَيْرٍ " . قَالَ فَقَرَأْتُ ثُمَّ جَالَتْ أَيْضًا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْرَإِ ابْنَ حُضَيْرٍ " . قَالَ فَانْصَرَفْتُ . وَكَانَ يَحْيَى قَرِيبًا مِنْهَا خَشِيتُ أَنْ تَطَأَهُ فَرَأَيْتُ مِثْلَ الظُّلَّةِ فِيهَا أَمْثَالُ السُّرُجِ عَرَجَتْ فِي الْجَوِّ حَتَّى مَا أَرَاهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تِلْكَ الْمَلاَئِكَةُ كَانَتْ تَسْتَمِعُ لَكَ وَلَوْ قَرَأْتَ لأَصْبَحَتْ يَرَاهَا النَّاسُ مَا تَسْتَتِرُ مِنْهُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৭৩২। হাসান ইবনে আলী আল হুলওয়ানী ও হাজ্জাজ ইবনুশ শাইর (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, উসায়দ ইবনে হুযায়র (রাযিঃ) যখন তাঁর আস্তাবলে তিলাওয়াত করছিলেন, তখন হঠাৎ তার ঘোড়াটি অস্থিরতা প্রকাশ করতে লাগল। তিনি আবার তিলাওয়াত করলে ঘোড়া আবার অস্থির হয়ে উঠল। তিনি পূনরায় তিলাওয়াত করলে ঘোড়াটি আবারও অস্থিরতা প্রকাশ করতে লাগল। উসায়দ (রাযিঃ) বলেন, আমার এখন আশঙ্কা হল যে, ঘোড়া (ওখানে কাছেই শুয়ে থাকা আমার পূত্র) ইয়াহয়াকে মাড়িয়ে দিতে পারে তাই আমি উঠে তার (ঘোড়ার) কাছে গেলাম। তখন দেখলাম যে, আমার মাথার উপরে একটি প্রদীপের মত কিছু, যার মাঝে প্রদীপের ন্যায় কিছু শূন্যে লটকে রয়েছে। পরে আমি তা আর দেখলাম না।

উসায়দ (রাযিঃ) বলেন, সকালে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! গত মাঝরাতে যখন আমি আমার আস্তাবলে তিলাওয়াত করছিলাম, হঠাৎ আমার ঘোড়া অস্থির হয়ে উঠল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ইবনে হুযায়র! পাঠ করতে থাকতে, তিনি বললেন, আমি পাঠ করতে থাকলাম, সে আবার অস্থির হয়ে উঠল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ইবনে হুযায়র! পাঠ করতে থাকতে, তিনি বলেন, আমি আবার পাঠ করতে থাকলাম, ঘোড়াটি আবারো অস্থির হয়ে উঠল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ইবনে হুযায়র! তুমি পাঠ করতে থাকতে! ইবনে হুযায়র (রাযিঃ) বলেন, তখন আমি পাঠ সমাপন করলাম।

(আমার ছেলে) ইয়াহয়া ছিল ঘোড়াটির কাছে। তাই আমার আশঙ্কা হল যে, সে তাকে মাড়িয়ে দিতে পারে। আমি তখন দেখলাম একটি চাঁদু'আর মত যার নীচে যেন অনেক প্রদীপ ঝূলে রয়েছে। পরে আর তা দেখতে পেলাম না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন, এরা ছিলেন ফিরিশতা। তারা তোমার তিলাওয়াত মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। তুমি যদি তিলাওয়াত করতে থাকতে তবে তারা সকাল পর্যন্ত থেমে যেত এবং লোকেরা তা দেখতে পেত তাঁরা তাদের নিকট হতে আত্মগোপন করত না।

৪. হাফিযুল কুরআনের মর্যাদা

باب فَضِيلَةِ حَافِظِ الْقُرْآنِ

১৭৩৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ كِلاَهُمَا عَنْ أَبِي عَوَانَةَ، - قَالَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، - عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مَثَلُ الأُتْرُجَّةِ رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا طَيِّبٌ وَمَثَلُ الْمُؤْمِنِ الَّذِي لاَ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مَثَلُ التَّمْرَةِ لاَ رِيحَ لَهَا وَطَعْمُهَا حُلْوٌ وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ مَثَلُ الرَّيْحَانَةِ رِيحُهَا طَيِّبٌ وَطَعْمُهَا مُرٌّ وَمَثَلُ الْمُنَافِقِ الَّذِي لاَ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ كَمَثَلِ الْحَنْظَلَةِ لَيْسَ لَهَا رِيحٌ وَطَعْمُهَا مُرٌّ " .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

১৭৩৩। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও আবু কামিল জাহদারী (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশ’আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে মুমিন কুরআন তিলাওয়াত করে তারা দৃষ্টান্ত হচ্ছে উতরুজ্জা (লেবু তুল্য ফল) যার ঘ্রাণ মনোহর এবং যার স্বাদও আকর্ষনিয়। আর যে মুমিন কুরআন তিলাওয়াত করে না তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে খুরমা, যার (বিশেষ কোন) ঘ্রাণ নেই এবং তার স্বাদ মিষ্টি। আর যে মুনাফিক কুরআন তিলাওয়াত করে তার দৃষ্টান্ত সুগন্ধি ফুল। যার ঘ্রাণ আকর্ষনীয় অথচ সা’দ তিক্ত। আর যে মুনাফিক কুরআন তিলাওয়াত করে না তার দৃষ্টান্ত মাকাল। যার কোন ঘ্রাণ নেই এবং স্বাদও নেই।

১৭৩৪

وَحَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى، بْنُ سَعِيدٍ عَنْ شُعْبَةَ، كِلاَهُمَا عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ غَيْرَ أَنَّ فِي حَدِيثِ هَمَّامٍ بَدَلَ الْمُنَافِقِ الْفَاجِرِ .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

১৭৩৪। হাদ্দাব ইবনে খালিদ এবং মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... কাতাদা (রাহঃ) হাতে উল্লিখিত সনদে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। তবে (হাদ্দাব সনদের) হাম্মাম (রাহঃ) এর হাদীসে ’মুনাফিক’ শব্দের বদলে ‘ফাজির’ (পাপি) শব্দ রয়েছে।

১৭৩৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْغُبَرِيُّ، جَمِيعًا عَنْ أَبِي عَوَانَةَ، - قَالَ ابْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، - عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْمَاهِرُ بِالْقُرْآنِ مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ وَالَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيَتَتَعْتَعُ فِيهِ وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌّ لَهُ أَجْرَانِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৩৫। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও মুহাম্মাদ উবাইদ গুবারী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কুরআন পাঠে সুদক্ষ ব্যক্তি পুণ্যবান, মহান দুতবর্গের (ফিরিশতাকুলের) সঙ্গী। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তাতে সে 'তো- তো' করে ও তার উচ্চারণ তার কাছে কঠিন মনে হয়, তার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব।

১৭৩৬

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ، بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ، كِلاَهُمَا عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَقَالَ فِي حَدِيثِ وَكِيعٍ " وَالَّذِي يَقْرَأُ وَهُوَ يَشْتَدُّ عَلَيْهِ لَهُ أَجْرَانِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৩৬। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না এবং আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... কাতাদা (রাহঃ) এর অনুরূপ সনদে বর্ণিত হয়েছে। তবে ওয়াকী (রাহঃ) এর হাদীসে বলেছেন, ″আর যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করে এবং তা তার জন্য কঠিন অনুভূত হয়, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সাওয়াব।″

৫. বিশিষ্ট ও দক্ষ লোকদের কুরআন তিলাওয়াত করে শোনানো মুস্তাহাব; তিলাওয়াতকারী শ্রোতার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হলেও।

باب اسْتِحْبَابِ قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ عَلَى أَهْلِ الْفَضْلِ وَالْحُذَّاقِ فِيهِ وَإِنْ كَانَ الْقَارِئُ أَفْضَلَ مِنَ الْمَقْرُوءِ عَلَيْهِ

১৭৩৭

حَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لأُبَىٍّ " إِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ " . قَالَ آللَّهُ سَمَّانِي لَكَ قَالَ " اللَّهُ سَمَّاكَ لِي " . قَالَ فَجَعَلَ أُبَىٌّ يَبْكِي .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৭৩৭। হাদ্দাব ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাই (রাযিঃ) কে বললেন, মহান আল্লাহ তোমাকে পড়ে শোনাবার জন্য আমাকে হুকুম করেছেন। উবাই (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহ তাআলা (নির্দিষ্ট করে) আপনার কাছে আমার নাম নিয়েছেন কি? নবী (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহ আমার কাছে বিশেষ করে তোমার নাম বলেন। রাবী বলেন, উবাই (রাযিঃ) তখন কাঁদতে লাগলেন।

১৭৩৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ " إِنَّ اللَّهَ أَمَرَنِي أَنْ أَقْرَأَ عَلَيْكَ ( لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا) " . قَالَ وَسَمَّانِي لَكَ قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ فَبَكَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৭৩৮। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) কে বলেন,لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ (বায়্যিনা) সূরাটি তোমাকে শোনাবার জন্য মহান আল্লাহ আমাকে হুকুম করেছেন। উবাই (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহ কি আপনার কাছে আমার নামসহ উল্লেখ করেছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। রাবী বলেন, তখন উবাই (রাযিঃ) কেঁদে ফেললেন।

১৭৩৯

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأُبَىٍّ بِمِثْلِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৭৩৯। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব আল হারিসী (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাই (রাযিঃ) কে অনুরূপ বলেছেন।

৬. কুরআন তিলওয়াত শোনার ফযীলত, তিলাওয়াত শোনার জন্য হাফিযুল কুরআনকে তিলওয়াত করার অনুরোধ ও তিলওয়াতকালে ক্রন্দন এবং চিন্তা করা

باب فَضْلِ اسْتِمَاعِ الْقُرْآنِ وَطَلَبِ الْقِرَاءَةِ مِنْ حَافِظِهِ لِلاِسْتِمَاعِ وَالْبُكَاءِ عِنْدَ الْقِرَاءَةِ وَالتَّدَبُّرِ

১৭৪০

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ جَمِيعًا عَنْ حَفْصٍ، - قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْرَأْ عَلَىَّ الْقُرْآنَ " . قَالَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَقْرَأُ عَلَيْكَ وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ قَالَ " إِنِّي أَشْتَهِي أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِي " . فَقَرَأْتُ النِّسَاءَ حَتَّى إِذَا بَلَغْتُ (فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا) رَفَعْتُ رَأْسِي أَوْ غَمَزَنِي رَجُلٌ إِلَى جَنْبِي فَرَفَعْتُ رَأْسِي فَرَأَيْتُ دُمُوعَهُ تَسِيلُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭৪০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, আমাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাও। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকে আমি পড়ে শোনাব, অথচ আপনার উপরেই তো তা নাযিল হয়েছে। তিনি বললেন, অন্য কারো নিকট থেকে শুনতে আমার ভাল লাগে। তখন আমি সূরা নিসা পাঠ করলাম যখন فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا “যখন প্রত্যেক উম্মত হতে একজন সাক্ষী উপস্থিত করবে এবং তোমাকে ওদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য উপস্থিত করব তখন অবস্থাটা কেমন দাঁড়াবে? (নিসাঃ ৪১) এ আয়াত পৌঁছলাম, আমি মাথা তুললাম কিংবা আমার পাশের এক ব্যক্তি আমাকে হাত দিয়ে চাপ দিলে আমি আমার মাখা তুললাম। দেখলাম, তাঁর অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে।

১৭৪১

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، وَمِنْجَابُ بْنُ الْحَارِثِ التَّمِيمِيُّ، جَمِيعًا عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَزَادَ هَنَّادٌ فِي رِوَايَتِهِ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ " اقْرَأْ عَلَىَّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭৪১। হান্নাদ ইবনে সারী ও মিনজাব ইবনে হারিস তামীমী (রাহঃ) ......... আ’মাশ (রাহঃ) সূত্রে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। হান্নাদ (রাহঃ) তাঁর বর্ণনায় বাড়িয়ে বলেছেন, “রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, আমাকে পড়ে শোনাও যখন তিনি মিম্বরের উপর ছিলেন।

১৭৪২

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنِي مِسْعَرٌ، - وَقَالَ أَبُو كُرَيْبٍ عَنْ مِسْعَرٍ، - عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ " اقْرَأْ عَلَىَّ " . قَالَ أَقْرَأُ عَلَيْكَ وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ قَالَ " إِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِي " قَالَ فَقَرَأَ عَلَيْهِ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ النِّسَاءِ إِلَى قَوْلِهِ ( فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا) فَبَكَى . قَالَ مِسْعَرٌ فَحَدَّثَنِي مَعْنٌ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " شَهِيدًا عَلَيْهِمْ مَا دُمْتُ فِيهِمْ أَوْ مَا كُنْتُ فِيهِمْ " . شَكَّ مِسْعَرٌ .

বর্ণনাকারী: ইবরাহীম নাখঈ (রহঃ)

১৭৪২। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... ইবরাহীম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) কে বললেন, আমাকে পড়ে শোনাও। আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, আপনাকে আমি পড়ে শোনাব? অথচ আপনার উপরেই তো তা নাযিল হয়েছে! নবী (ﷺ) বলেন, আমি অন্যের নিকট থেকে তা শুনতে পছন্দ করি। বর্ণনাকারী (ইবরাহীম) বলেন, তখন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) সূরা নিসার শুরু হতে فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا (সূরা নিসাঃ ৪১) আয়াত পর্যন্ত নবী (ﷺ) কে পড়ে শোনালেন। তখন নবী (ﷺ) কেঁদে ফেঁলেন।

মিস’আর (রাহঃ) ......... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেন, ″তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী যতক্ষণ তাদের মাঝে বর্তমান ছিলাম″ কিংবা (রাবী মিস’আরের সন্দেহ) তিনি বলেছেন ″যতক্ষণ তাদের মাঝে ছিলাম।″
১৭৪৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنْتُ بِحِمْصَ فَقَالَ لِي بَعْضُ الْقَوْمِ اقْرَأْ عَلَيْنَا . فَقَرَأْتُ عَلَيْهِمْ سُورَةَ يُوسُفَ - قَالَ - فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ وَاللَّهِ مَا هَكَذَا أُنْزِلَتْ . قَالَ قُلْتُ وَيْحَكَ وَاللَّهِ لَقَدْ قَرَأْتُهَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِي " أَحْسَنْتَ " . فَبَيْنَمَا أَنَا أُكَلِّمُهُ إِذْ وَجَدْتُ مِنْهُ رِيحَ الْخَمْرِ قَالَ فَقُلْتُ أَتَشْرَبُ الْخَمْرَ وَتُكَذِّبُ بِالْكِتَابِ لاَ تَبْرَحُ حَتَّى أَجْلِدَكَ - قَالَ - فَجَلَدْتُهُ الْحَدَّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭৪৩। উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘হিমস’ এ অবস্থান করছিলাম। তখন উপস্থিত এক ব্যক্তি আমাকে বলল, আমাদের তিলাওয়াত করে শোনান। আমি তখন তাদের সামনে সূরা ইউসুফ তিলাওয়াত করে শোনালাম। আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, তখন উপস্থিত দলের এক ব্যক্তি আমাকে বললেন, ″আল্লাহর কসম! এভাবে তো নাযিল করা হয়নি।″ আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেছেন, তোমার জন্য আফসোস! আমি তো (খোদ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তা পড়ে শুনিয়েছি। তিনি বললেন, ভালো পড়েছ। আমি তার সঙ্গে কথা বলাছিলাম, এ অবস্থায় হঠাৎ তার মুখ থেকে মদের দুর্গন্ধ পেলাম। আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, তুমি মদ পান কর আর আল্লাহর কিতাবকে বেঠিক প্রতিপন্ন করছ? (আচ্ছা) তুমি যেতে পারছ না, যতক্ষণ না আমি তোমাকে চাবুকের ঘা লাগাচ্ছি! আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি তখন তাকে (মদ পান করার অপরাধে) হদ্দ ও দণ্ডের চাবুক লাগালাম।

১৭৪৪

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، جَمِيعًا عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَلَيْسَ فِي حَدِيثِ أَبِي مُعَاوِيَةَ فَقَالَ لِي " أَحْسَنْتَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭৪৪। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম, আলী ইবনে খাশরাম এবং আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আ’মাশ (রাহঃ) থেকে এ সম্বন্ধে বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী আবু মুআবিয়া (রাহঃ) এর হাদীসে ″তিনি আমাকে বলেছেন, ভালো পড়েছ″ কথাটির উল্লেখ নেই।

৭. নামাযে কুরআন তিলওয়াত এবং কুরআন শিক্ষা করার ফযীলত

باب فَضْلِ قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ فِي الصَّلاَةِ وَتَعَلُّمِهِ

১৭৪৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ،عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ إِذَا رَجَعَ إِلَى أَهْلِهِ أَنْ يَجِدَ فِيهِ ثَلاَثَ خَلِفَاتٍ عِظَامٍ سِمَانٍ " . قُلْنَا نَعَمْ . قَالَ " فَثَلاَثُ آيَاتٍ يَقْرَأُ بِهِنَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَتِهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ ثَلاَثِ خَلِفَاتٍ عِظَامٍ سِمَانٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭৪৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু সাঈদ আল আশাজ্জ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ কি এ কথা পছন্দ করে যে, যখন সে তার বাড়ীতে ফিরে যায় তখন সেখানে সে তিনটি গর্ভবর্তী তাজা উট পেয়ে যাবে? আমরা বললাম জ্বী, হ্যাঁ! তিনি বললেন তা হলে তিনটি আয়াত যা তোমাদের কেউ তার নামাযে পাঠ করে তা তার জন্য তিনটি গর্ভবর্তী মোটা তাজা উটের চেয়ে উত্তম।

১৭৪৬

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُلَىٍّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ فِي الصُّفَّةِ فَقَالَ " أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنْ يَغْدُوَ كُلَّ يَوْمٍ إِلَى بُطْحَانَ أَوْ إِلَى الْعَقِيقِ فَيَأْتِيَ مِنْهُ بِنَاقَتَيْنِ كَوْمَاوَيْنِ فِي غَيْرِ إِثْمٍ وَلاَ قَطْعِ رَحِمٍ " . فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ نُحِبُّ ذَلِكَ . قَالَ " أَفَلاَ يَغْدُو أَحَدُكُمْ إِلَى الْمَسْجِدِ فَيَعْلَمَ أَوْ يَقْرَأَ آيَتَيْنِ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ خَيْرٌ لَهُ مِنْ نَاقَتَيْنِ وَثَلاَثٌ خَيْرٌ لَهُ مِنْ ثَلاَثٍ وَأَرْبَعٌ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَرْبَعٍ وَمِنْ أَعْدَادِهِنَّ مِنَ الإِبِلِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

১৭৪৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বেরিয়ে আসলেন, আমরা তখন সুফফায় ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কি এমনটা পছন্দ করবে যে, সে প্রতিদিন সকালে ‘বুতহান’ কিংবা আকীক নামক স্থানে যাবে এবং সেখান থেকে কোন পাপের আশ্রয় না নিয়ে কিংবা কোন প্রকার আত্মীয়তা ছিন্ন না করে বড় বড় কূঁজবিশিষ্ট দুটি উটনী নিয়ে আসবে? আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা তা পছন্দ করি। তিনি বললেন, তবে, তোমাদের যে কেউ সকাল বেলা মসজিদে গিয়ে আল্লাহর কিতাবের দুটি আয়াত শিখে অথবা তিলাওয়াত করে যা তার জন্য দুটি উটনীর চেয়ে উত্তম। আর তিন আয়াত তার জন্য তিনটি উটনীর চেয়ে উত্তম এবং চার আয়াত চারটি উটনীর চেয়ে উত্তম। এমনিভাবে যত আয়াত তিলাওয়াত করবে ততো উটনীর চেয়ে উত্তম।

৮. কুরআন তিলওয়াত এবং সূরা বাকারা তিলওয়াতের ফযীলত

باب فَضْلِ قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ وَسُورَةِ الْبَقَرَةِ

১৭৪৭

حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، - وَهُوَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ - حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَلاَّمٍ - عَنْ زَيْدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَلاَّمٍ، يَقُولُ حَدَّثَنِي أَبُو أُمَامَةَ، الْبَاهِلِيُّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لأَصْحَابِهِ اقْرَءُوا الزَّهْرَاوَيْنِ الْبَقَرَةَ وَسُورَةَ آلِ عِمْرَانَ فَإِنَّهُمَا تَأْتِيَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا غَيَايَتَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَّ تُحَاجَّانِ عَنْ أَصْحَابِهِمَا اقْرَءُوا سُورَةَ الْبَقَرَةِ فَإِنَّ أَخْذَهَا بَرَكَةٌ وَتَرْكَهَا حَسْرَةٌ وَلاَ تَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ " . قَالَ مُعَاوِيَةُ بَلَغَنِي أَنَّ الْبَطَلَةَ السَّحَرَةُ .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

১৭৪৭। হাসান ইবনে আলী আল হুলওয়ানী (রাহঃ) ......... আবু উমামা বাহিলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তোমরা কুরআন তিলাওয়াত করবে। কেননা, কিয়ামতের দিন তা তিলাওয়াতকারীদের জন্য সুপারিশকারীরূপে উপস্থিত হবে। সুপারিশকারী দুটি সমুজ্জ্বল সূরা বাকারা ও আলে ইমরান তিলাওয়াত করবে। কেননা, এ দুটি কিয়ামতের দিনে উপস্থিত হবে যেন সে দুটি ‘গামামা’ কিংবা (তিনি বলেছিলেন) সে দুটি দুটি ‘গায়ায়া’ (মেঘ) কিংবা যেন সে দুটি ডানা বিস্তারকারী দুটি পাখির ঝাঁক যারা তাদের তিলাওয়াতকারীদের পক্ষে সাহায্যকারী হবে। তোমরা সূরা বাকারা তিলাওয়াত করবে। কেননা, তা তিলাওয়াত করাতে বরকত রয়েছে। এবং তা বর্জন করা আফসোসের। কারণ বাতিলপন্থীরা তার সাথে কুলিয়ে উঠতে পারবে না। (সনদের মধ্যবর্তী রাবী) মুআবিয়া (রাহঃ) বলেন, আমার কাছে এ তথ্য পৌছেছে যে, “বাতালা” (বাতিলপন্থীরা) অর্থ হল যাদুকর।

১৭৪৮

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ حَسَّانَ - حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " وَكَأَنَّهُمَا " . فِي كِلَيْهِمَا وَلَمْ يَذْكُرْ قَوْلَ مُعَاوِيَةَ بَلَغَنِي .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

১৭৪৮। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আাবু দারিমী (রাহঃ) ......... মুআবিয়া (রাহঃ) সূত্রে উল্লেখিত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি (তুলনার) উভয় স্থানে এবং সে দুটি যেন, বলেছেন এবং তিনি মুআবিয়া (রাহঃ) এর উক্তি আমার কাছে তথ্য পৌছেছে’... উল্লেখ করেননি।

১৭৪৯

حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ رَبِّهِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُرَشِيِّ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ النَّوَّاسَ، بْنَ سَمْعَانَ الْكِلاَبِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " يُؤْتَى بِالْقُرْآنِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَهْلِهِ الَّذِينَ كَانُوا يَعْمَلُونَ بِهِ تَقْدُمُهُ سُورَةُ الْبَقَرَةِ وَآلُ عِمْرَانَ " . وَضَرَبَ لَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَةَ أَمْثَالٍ مَا نَسِيتُهُنَّ بَعْدُ قَالَ " كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ أَوْ ظُلَّتَانِ سَوْدَاوَانِ بَيْنَهُمَا شَرْقٌ أَوْ كَأَنَّهُمَا حِزْقَانِ مِنْ طَيْرٍ صَوَافَّ تُحَاجَّانِ عَنْ صَاحِبِهِمَا

বর্ণনাকারী: নাওয়াস ইবনে সামআন (রাঃ)

১৭৪৯। ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... জুবাইর ইবনে নুফায়র (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাওয়াস ইবনে সাম’আন কিলাবী (রাযিঃ) বলেছেন যে, নবী (ﷺ) কে আমি বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন কুরআন ও কুরআন ওয়ালাদের যারা তদনূসারে আমল করেছে উপস্থিত করা হবে, সূরা বাকারা ও সূরা আলে ইমরান তার সামনে পেশ করা হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দুটির জন্য তিনটি উপমা উল্লেখ করেছেন যেগুলো এখনও আমি ভুলে যাইনি। তিনি বললেন, সে দুটি যেন দুটি ‘গামামা’ বাদল কিংবা দুঁটি কাল শামিয়ানা যার মাঝে রয়েছে দ্যুতি; কিংবা সে দুটি যেন পাখা বিস্তারকারী পাখির দুঁটি ঝাঁক যারা তিলাওয়াতকারীদের জন্য সাহায্যকারী হবে।

৯. সূরা ফাতিহা ও সূরা বাকারার শেষ অংশের ফযীলত, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তিলাওয়াতে উৎসাহ দান

باب فَضْلِ الْفَاتِحَةِ وَخَوَاتِيمِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَالْحَثِّ عَلَى قِرَاءَةِ الآيَتَيْنِ مِنْ آخِرِ الْبَقَرَةِ

১৭৫০

حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، وَأَحْمَدُ بْنُ جَوَّاسٍ الْحَنَفِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ رُزَيْقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بَيْنَمَا جِبْرِيلُ قَاعِدٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ نَقِيضًا مِنْ فَوْقِهِ فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ هَذَا بَابٌ مِنَ السَّمَاءِ فُتِحَ الْيَوْمَ لَمْ يُفْتَحْ قَطُّ إِلاَّ الْيَوْمَ فَنَزَلَ مِنْهُ مَلَكٌ فَقَالَ هَذَا مَلَكٌ نَزَلَ إِلَى الأَرْضِ لَمْ يَنْزِلْ قَطُّ إِلاَّ الْيَوْمَ فَسَلَّمَ وَقَالَ أَبْشِرْ بِنُورَيْنِ أُوتِيتَهُمَا لَمْ يُؤْتَهُمَا نَبِيٌّ قَبْلَكَ فَاتِحَةُ الْكِتَابِ وَخَوَاتِيمُ سُورَةِ الْبَقَرَةِ لَنْ تَقْرَأَ بِحَرْفٍ مِنْهُمَا إِلاَّ أُعْطِيتَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৫০। হাসান ইবনুর রাবী ও আহমাদ ইবনে জাওয়াস হানাফী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) নবী (ﷺ) এর নিকটে উপবিষ্ট ছিলেন, ইত্যবসরে উপরের দিকে তিনি একটি আওয়াজ শুনতে পেয়ে নিজের মাথা তুললেন এবং বললেন, এটি আসমানের একটি দরজা যা আজই খুলে দেয়া হল; আজকের দিন ব্যতীত কখনও তা খোলা হয়নি। তখন সে দরজা দিয়ে একজন ফিরিশতা অবতরণ করলেন। তিনি বললেন, ইনি একজন ফিরিশতা যিনি পৃথিবীতে অবতরণ করলেন, আজ ছাড়া অন্য কখনো তিনি অবতরণ করেননি। এরপর উক্ত ফিরিশতা সালাম করে বললেন, দুটি নূর এর সুসংবাদ গ্রহণ করুন যা আপনাকে দেয়া হয়েছে এবং যা আপনার আগে আর কোন নবীকে দেয়া হয়নি। তা হল সূরা ফাতিহা এবং সূরা বাকারা’র শেষাংশ। এ দু’ টির যে কোন হরফ আপনি পাঠ করবেন তা আপনাকে দিয়েই দেয়া হবে।*

*অর্থাৎ, এতে যে দু'আর বিষয়বস্তু আছে তা কবুল করা হবে।
১৭৫১

وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا مَنْصُورٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ يَزِيدَ قَالَ لَقِيتُ أَبَا مَسْعُودٍ عِنْدَ الْبَيْتِ فَقُلْتُ حَدِيثٌ بَلَغَنِي عَنْكَ فِي الآيَتَيْنِ فِي سُورَةِ الْبَقَرَةِ . فَقَالَ نَعَمْ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الآيَتَانِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ مَنْ قَرَأَهُمَا فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭৫১। আহমাদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বায়তুল্লাহর নিকটে আমি আবু মাসউদ (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাত করে তাঁকে বললাম, সূরা বাকারার দুটি আয়াত সম্পর্কে আপনার পক্ষ হতে এক হাদীসের খবর আমার কাছে পৌছেছে। তিনি বলেন, হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সূরা বাকারার শেষ দুআয়াতে যে ব্যক্তি কোন রাতে তিলাওয়াত করবে আয়াত দুটি তার জন্য যথেষ্ট হবে।

১৭৫২

وَحَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، كِلاَهُمَا عَنْ مَنْصُورٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭৫২। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... মানসুর (রাহঃ) সূত্রে উক্ত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

১৭৫৩

حَدَّثَنَا مِنْجَابُ بْنُ الْحَارِثِ التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَرَأَ هَاتَيْنِ الآيَتَيْنِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ " . قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فَلَقِيتُ أَبَا مَسْعُودٍ وَهُوَ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ فَسَأَلْتُهُ فَحَدَّثَنِي بِهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

১৭৫৩। মিনজাব ইবনে হারিস তামীমী (রাহঃ) ......... আবু মাসউদ আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি সূরা বাকারার শেষ আয়াতদ্বয় রাতে পাঠ করবে তার জন্য তা যথেষ্ট হবে। রাবী আব্দুর রহমান (রাহঃ) বলেন, পরে আমি আবু মাসউদ (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাত করলাম, তখন তিনি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করছিলেন। আমি তাকে এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি নবী (ﷺ) থেকে আমাকে হাদীসটি শুনিয়ে দিলেন।

১৭৫৪

وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، أَخْبَرَنَا عِيسَى يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ، بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، جَمِيعًا عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَعَبْدِ، الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

১৭৫৪। আলী ইবনে খাশরাম ও আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু মাসউদ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৭৫৫

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

১৭৫৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু মাসউদ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১০. সূরা কাহফ এবং আয়াতুল কুরসীর ফযীলত

باب فَضْلِ سُورَةِ الْكَهْفِ وَآيَةِ الْكُرْسِيِّ

১৭৫৬

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَالِمِ، بْنِ أَبِي الْجَعْدِ الْغَطَفَانِيِّ عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ الْيَعْمَرِيِّ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ حَفِظَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ الْكَهْفِ عُصِمَ مِنَ الدَّجَّالِ "

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

১৭৫৬। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... আবু দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে সে দাজ্জাল এর ফিতনা থেকে রক্ষা পাবে।

১৭৫৭

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، جَمِيعًا عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ قَالَ شُعْبَةُ مِنْ آخِرِ الْكَهْفِ . وَقَالَ هَمَّامٌ مِنْ أَوَّلِ الْكَهْفِ كَمَا قَالَ هِشَامٌ.

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

১৭৫৭। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইবনে বাশশার ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... কাতাদা (রাহঃ) উক্ত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী শু’বা (রাহঃ) বলেছেন, সূরা কাহফের শেষ অংশ থেকে এবং রাবী হাম্মাম (রাহঃ) বলেছেন, সূরা কাহফের শুরু হতে যেমন হিশাম (রাহঃ) এর বর্ণনায় রয়েছে।

১৭৫৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي السَّلِيلِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَبَا الْمُنْذِرِ أَتَدْرِي أَىُّ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ مَعَكَ أَعْظَمُ " . قَالَ قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ " يَا أَبَا الْمُنْذِرِ أَتَدْرِي أَىُّ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ مَعَكَ أَعْظَمُ " . قَالَ قُلْتُ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ . قَالَ فَضَرَبَ فِي صَدْرِي وَقَالَ " وَاللَّهِ لِيَهْنِكَ الْعِلْمُ أَبَا الْمُنْذِرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

১৭৫৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, হে আবুল মুনযির! তুমি জান কি তোমার কাছে আল্লাহর যে কিতাব রয়েছে এর কোন আয়াতটি সর্বাপেক্ষা মর্যাদাবান? উবাই (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ এবং তার রাসুল (ﷺ) অধিক জ্ঞাত। নবী (ﷺ) (আবার) বললেন, হে আবুল মুনযির তুমি জান কি, তোমার কাছে আল্লাহর যে কিতাব রয়েছে এর কোন আয়াতটি সর্বাপেক্ষা মর্যাদাবান? উবাই (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ (অর্থাৎ আয়াতুল কুরসী) উবাই (রাযিঃ) বলেন, তখন নবী (ﷺ) আমার বুকে হাত মেরে বললেন, আবুল মুনযির! মুবারক হোক তোমার জন্য ইলম।

১১. সূরা ইখলাস পাঠের ফযীলত

باب فَضْلِ قِرَاءَةِ { قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ}

১৭৫৯

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ فِي لَيْلَةٍ ثُلُثَ الْقُرْآنِ " قَالُوا : وَكَيْفَ يَقْرَأْ ثُلُثَ الْقُرْآنِ ؟ قَالَ : " قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

১৭৫৯। যুহাইর ইবনে হারব ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ কি এতে অক্ষম যে, এক রাতে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়বে? সাহাবাগণ বললেন, কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ কেমন করে পড়তে পারব? নবী (ﷺ) বলেছেন,قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ (সূরা ইখলাস) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।

১৭৬০

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا أَبَانٌ الْعَطَّارُ، جَمِيعًا عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَفِي حَدِيثِهِمَا مِنْ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ اللَّهَ جَزَّأَ الْقُرْآنَ ثَلاَثَةَ أَجْزَاءٍ فَجَعَلَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ جُزْءًا مِنْ أَجْزَاءِ الْقُرْآنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

১৭৬০। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম এবং আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... কাতাদা (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তবে দু’ জনের হাদীসে নবী (ﷺ) এর বাণীর এ অংশও রয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা কুরআনকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন এবং قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ কে কুরআনের অংশ সমুহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাব্যস্ত করেছেন।

১৭৬১

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، وَيَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، جَمِيعًا عَنْ يَحْيَى، - قَالَ ابْنُ حَاتِمٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، - حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ كَيْسَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " احْشِدُوا فَإِنِّي سَأَقْرَأُ عَلَيْكُمْ ثُلُثَ الْقُرْآنِ " . فَحَشَدَ مَنْ حَشَدَ ثُمَّ خَرَجَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَرَأَ ( قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ) ثُمَّ دَخَلَ فَقَالَ بَعْضُنَا لِبَعْضٍ إِنِّي أُرَى هَذَا خَبَرٌ جَاءَهُ مِنَ السَّمَاءِ فَذَاكَ الَّذِي أَدْخَلَهُ . ثُمَّ خَرَجَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنِّي قُلْتُ لَكُمْ سَأَقْرَأُ عَلَيْكُمْ ثُلُثَ الْقُرْآنِ أَلاَ إِنَّهَا تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭৬১। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম ও ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা সমবেত হও! আমি তোমাদের সামনে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়ব। ফলে যাদের পক্ষে সম্ভব তারা সমবেত হল। এরপর নবী (ﷺ) বের হয়ে এলেন এবং তিলাওয়াত করে আবার ঘরে গেলেন। তখন আমাদের একজন অন্যজনকে বলতে লাগল, মনে হয়, এই যে আসমান হতে (এখনই) কোন খবর পড়েছে এবং তাই তাঁকে (ঘরে) প্রবেশ করিয়েছে। পরে নবী (ﷺ) বের হয়ে এসে বললেন, আমি তোমাদের বলেছিলাম যে, তোমাদের সামনে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পাঠ করব। শোন সূরা ইখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।

১৭৬২

وَحَدَّثَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ بَشِيرٍ أَبِي إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ خَرَجَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَقْرَأُ عَلَيْكُمْ ثُلُثَ الْقُرْآنِ " . فَقَرَأَ ( قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ * اللَّهُ الصَّمَدُ) حَتَّى خَتَمَهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭৬২। ওয়াসিল ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে বের হয়ে এসে বললেন, আমি তোমাদের সামনে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করছি। তিনি তখন قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ * اللَّهُ الصَّمَدُ শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন।

১৭৬৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا عَمِّي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ، أَنَّ أَبَا الرِّجَالِ، مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَهُ عَنْ أُمِّهِ، عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَكَانَتْ فِي حَجْرِ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ رَجُلاً عَلَى سَرِيَّةٍ وَكَانَ يَقْرَأُ لأَصْحَابِهِ فِي صَلاَتِهِمْ فَيَخْتِمُ بِـ ( قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ) فَلَمَّا رَجَعُوا ذُكِرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " سَلُوهُ لأَىِّ شَىْءٍ يَصْنَعُ ذَلِكَ " . فَسَأَلُوهُ فَقَالَ لأَنَّهَا صِفَةُ الرَّحْمَنِ فَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَقْرَأَ بِهَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَخْبِرُوهُ أَنَّ اللَّهَ يُحِبُّهُ ".

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭৬৩। আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ওয়হব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে একটি সেনাদলের অধিনায়ক করে পাঠালেন। তিনি তার সঙ্গীদের নিয়ে নামায আদায় করতে গিয়ে তার কিরাআত قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ দ্বারা শেষ করতেন। তারা ফিরে এলে বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেন তাঁকে জিজ্ঞাসা কর সে কিসের জন্য এমন করে থাকে? তখন তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, কেননা, এ সূরাটি রহমানের গুণাবলী সম্বলিত। কাজেই আমি তা পাঠ করতে ভালবাসি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা তাকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহও তাকে ভালবাসেন।

১২. মু’আব্বিযাতায়ন (সূরা ফালাক ও সূরা নাস) পাঠের ফযীলত

باب فَضْلِ قِرَاءَةِ الْمُعَوِّذَتَيْنِ

১৭৬৪

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ بَيَانٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلَمْ تَرَ آيَاتٍ أُنْزِلَتِ اللَّيْلَةَ لَمْ يُرَ مِثْلُهُنَّ قَطُّ ( قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ) وَ ( قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ) " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

১৭৬৪। কুতায়াবা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সে আয়াতসমূহের প্রতি লক্ষ্য করেছ কি, যা আজ রাতে অবর্তীর্ণ হয়েছে। সেগুলোর সদৃশ আর কখনও দেখা যায়নি। (তা হল) ″কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক″ ও ″কুল আউযু বি রাব্বিন নাস″।

১৭৬৫

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُنْزِلَ - أَوْ أُنْزِلَتْ - عَلَىَّ آيَاتٌ لَمْ يُرَ مِثْلُهُنَّ قَطُّ الْمُعَوِّذَتَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

১৭৬৫। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমার উপরে এমন কতক আয়াত নাযিল করা হয়েছে যার মত আর কখনও দেখা যায়নি। তা হল মু’আববিযাতাইন।

১৭৬৬

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، كِلاَهُمَا عَنْ إِسْمَاعِيلَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ . وَفِي رِوَايَةِ أَبِي أُسَامَةَ عَنْ عُقْبَةَ، بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ وَكَانَ مِنْ رُفَعَاءِ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

১৭৬৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... ইসমাঈল (রাহঃ) থেকে পূর্বোক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে আবু উসামা (রাহঃ) এর রিওয়ায়াতে রয়েছে, উকবা ইবনে আমির জুহানী (রাযিঃ) থেকে ......... এবং তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মহান সাহাবীগণের অন্যতম।

১৩. কুরআন অধ্যয়ন ও শিক্ষাদানে রত ব্যক্তির ফযীলত এবং যে ব্যক্তি ফিকহ ইত্যাদির সূক্ষ্ম জ্ঞান আরোহণ করে, তদানুসারে আমল করে ও শিক্ষা দেয়, তার ফযীলত

باب فَضْلِ مَنْ يَقُومُ بِالْقُرْآنِ وَيُعَلِّمُهُ وَفَضْلِ مَنْ تَعَلَّمَ حِكْمَةً مِنْ فِقْهٍ أَوْ غَيْرِهِ فَعَمِلَ بِهَا وَعَلَّمَهَا

১৭৬৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، كُلُّهُمْ عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، - قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، - حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ حَسَدَ إِلاَّ فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ الْقُرْآنَ فَهُوَ يَقُومُ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالاً فَهُوَ يُنْفِقُهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৭৬৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আমরুন নাকিদ ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... সালিম (রাহঃ) তাঁর পিতা ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, হাসাদ (ঈর্ষা) করা যায় না। কিন্তু দু’ব্যক্তির ব্যাপারেঃ ১. এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআন দান করেছেন, আর সে দিন রাতের মুহুর্তগুলোতে তা নিয়েই ব্যস্ত থাকে। ২. এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ ধন-সস্পদ দিয়েছেন, আর সে রাত দিনের মুহূর্তগুলোতে তা ব্যয় করতে থাকে।

১৭৬৮

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ حَسَدَ إِلاَّ عَلَى اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ هَذَا الْكِتَابَ فَقَامَ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالاً فَتَصَدَّقَ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৭৬৮। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাহঃ) বলেছেন, দুই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো প্রতি হাসাদ (ঈর্ষা) করা যায় না। এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ এ কিতাব দান করেছেন এবং সে দিবারাতের মুহূর্তগুলোতে তা নিয়ে ব্যস্ত থাকে আর এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ মাল দিয়েছেন এবং সে দিবারাতের মুহুর্তগুলোতে তা দান করতে থাকে।

১৭৬৯

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ قَيْسٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ حَسَدَ إِلاَّ فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالاً فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الْحَقِّ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ حِكْمَةً فَهُوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭৬৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, দু’ ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো প্রতি হাসাদ (ঈর্ষা) করা যায় নাঃ সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং তাকে তা হক পথে উজাড় করার ক্ষমতা দিয়েছেন, আর এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ দ্বীনের সূক্ষজ্ঞান দান করেছেন এবং সে তার আলোকে ফয়সালা করে এবং তা শিক্ষা দেয়।

১৭৭০

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ، أَنَّ نَافِعَ بْنَ عَبْدِ الْحَارِثِ، لَقِيَ عُمَرَ بِعُسْفَانَ وَكَانَ عُمَرُ يَسْتَعْمِلُهُ عَلَى مَكَّةَ فَقَالَ مَنِ اسْتَعْمَلْتَ عَلَى أَهْلِ الْوَادِي فَقَالَ ابْنَ أَبْزَى . قَالَ وَمَنِ ابْنُ أَبْزَى قَالَ مَوْلًى مِنْ مَوَالِينَا . قَالَ فَاسْتَخْلَفْتَ عَلَيْهِمْ مَوْلًى قَالَ إِنَّهُ قَارِئٌ لِكِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَإِنَّهُ عَالِمٌ بِالْفَرَائِضِ . قَالَ عُمَرُ أَمَا إِنَّ نَبِيَّكُمْ صلى الله عليه وسلم قَدْ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ يَرْفَعُ بِهَذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا وَيَضَعُ بِهِ آخَرِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৭৭০। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আমির ইবনে ওয়াসিলা (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নাফি ইবনে আব্দুল হারিস (রাযিঃ) উসফানে উমর (রাযিঃ) এর সঙ্গে সাক্ষাত লাভ করেছিলেন। উমর (রাযিঃ) তাকে মক্কার আমির ও শাসনকর্তা নিয়োগ করেছিলেন। (পথিমধ্যে সাক্ষাতে) উমর (রাযিঃ) বললেন, উপত্যকাবাসীদের (মক্কাবাসীদের) জন্য কাকে ভারপ্রাপ্ত শাসনকর্তা নিয়োগ করে এসেছ? তিনি (নাফি (রাযিঃ) বলেন, ইবনে আবযা (রাযিঃ) কে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইবনে আবযা আবার কে? তিনি (নাফি (রাযিঃ) বললেন, আমাদের আযাদকৃত গোলামদের মধ্যে একজন। উমর (রাযিঃ) বললেন, তুমি কি একজন ক্রীতদাসকে তাদের জন্য তোমার স্থলাভিষিক্ত নিয়োগ করে এসেছ? নাফি (রাযিঃ) বললেন, সে তো মহা মহীয়ান আল্লাহর কিতাবের একজন কারী (হাফিয) ও আহকামে শরীয়ত সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি। উমর (রাযিঃ) বললেন, শোন! তোমাদের নবী (ﷺ) ই তো বলেছেন যে, আল্লাহ এই কিতারের মাধ্যমে অনেক জাতির উত্থান সাধন করবেন এবং এরই কারণে অনেক জাতির পতন ঘটাবেন।

১৭৭১

وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ قَالاَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي عَامِرُ بْنُ وَاثِلَةَ اللَّيْثِيُّ، أَنَّ نَافِعَ بْنَ، عَبْدِ الْحَارِثِ الْخُزَاعِيَّ لَقِيَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ بِعُسْفَانَ . بِمِثْلِ حَدِيثِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ، .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৭৭১। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান দারিমী ও আবু বকর ইবনে ইসহাক (রাহঃ) ......... আমির ইবনে ওয়াসিলা লায়সী (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নাফি ইবনে আব্দুল হারিস খুযাঈ (রাযিঃ) উসফানে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) এর সঙ্গে সাক্ষাত করলেন...... (পূর্বোক্ত সনদের) ইবরাহীম সা’দ কর্তৃক যুহুরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।

১৪. কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ হওয়ার বিবরণ ও এর মর্মার্থ

باب بَيَانِ أَنَّ الْقُرْآنَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ وَبَيَانِ مَعْنَاهُ

১৭৭২

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ، حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ عَلَى غَيْرِ مَا أَقْرَؤُهَا وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقْرَأَنِيهَا فَكِدْتُ أَنْ أَعْجَلَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَمْهَلْتُهُ حَتَّى انْصَرَفَ ثُمَّ لَبَّبْتُهُ بِرِدَائِهِ فَجِئْتُ بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي سَمِعْتُ هَذَا يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ عَلَى غَيْرِ مَا أَقْرَأْتَنِيهَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَرْسِلْهُ اقْرَأْ " . فَقَرَأَ الْقِرَاءَةَ الَّتِي سَمِعْتُهُ يَقْرَأُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَكَذَا أُنْزِلَتْ " . ثُمَّ قَالَ لِيَ " اقْرَأْ " . فَقَرَأْتُ فَقَالَ " هَكَذَا أُنْزِلَتْ إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ أُنْزِلَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৭৭২। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে আব্দ কারী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবনুূল খাত্তাব (রাযিঃ) কে আমি বলতে শুনেছি যে, আমি যেভাবে সূরা ফূরকান তিলাওয়াত করি, হিশাম ইবনে হাকীম ইবনে হিযাম (রাযিঃ) কে তা থেকে ভিন্ন কায়দায় তিলাওয়াত করতে শুনলাম। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ই এ সূরাটি এভাবে পড়তে আমাকে শিখিয়েছেন। আমি তখনই তাকে পাকড়াও করতে উদ্যত হয়েছিলাম। কিন্তু তাকে অবকাশ দিলাম। তিনি নামায সমাপ্ত করলেন। এরপরই আমি তার চাঁদর দিয়ে তাঁকে পেঁচিয়ে ধরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে নিয়ে এসে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি একে সূরা ফুরকান পাঠ করতে শুনেছি। আপনি আমাকে যেমন পাঠ করতে শিক্ষা দিয়েছেন, তা থেকে ভিন্নরূপ।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (আমাকে) বললেন, তাঁকে ছেড়ে দাও, (এবং তাকে বললেন) পড় তো। সে তখন ওই কিরা’আতই পড়ে শোনাল, যেমন তাঁকে আমি পড়তে শুনেছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, (আয়াতটি) অনুরূপ নাযিল করা হয়েছে। অতঃপর আমাকে বললেন, তুমি পড়! আমি তিলাওয়াত করলাম, তিনি বললেন, এভাবেই নাযিল করা হয়েছে। এ কুরআন সাত হরফে (ধরণে) নাযিল করা হয়েছে। সুতরাং যার যেভাবে সহজ হয় তোমরা তা (সেভাবে) পাঠ করবে।
১৭৭৩

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَبْدٍ الْقَارِيَّ، أَخْبَرَاهُ أَنَّهُمَا، سَمِعَا عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ حَكِيمٍ، يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمِثْلِهِ وَزَادَ فَكِدْتُ أُسَاوِرُهُ فِي الصَّلاَةِ فَتَصَبَّرْتُ حَتَّى سَلَّمَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৭৭৩। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... মিসওয়ার ইবনে মাখরামা ও আব্দুর রহমান ইবনে আব্দ কারী (রাহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তারা দু’জন শুনেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেছেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জীবিত থাকাকালে একবার হিশাম ইবনে হাকীম (রাযিঃ) কে সূরা ফুরকান তিলাওয়াত করতে শুনলাম। হাদীসটির পূর্বানুরূপ বিবরণ দিয়েছেন। তবে তিনি এতে আরো বলেছেন, ″নামাযের মাঝেই আমি তাকে পাকড়াও করতে উদ্যত হয়েছিলাম। পরে সালাম করা পর্যন্ত কোন রকমে সবর করে থাকলাম।″

১৭৭৪

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، كَرِوَايَةِ يُونُسَ بِإِسْنَادِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৭৭৪। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... যুহরী (রাহঃ) থেকে ইউনূস (রাহঃ) এর রিওয়ায়াতের অনুরূপ তারই সনদে বর্ণনা করেছেন।

১৭৭৫

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَقْرَأَنِي جِبْرِيلُ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - عَلَى حَرْفٍ فَرَاجَعْتُهُ فَلَمْ أَزَلْ أَسْتَزِيدُهُ فَيَزِيدُنِي حَتَّى انْتَهَى إِلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ " . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ بَلَغَنِي أَنَّ تِلْكَ السَّبْعَةَ الأَحْرُفَ إِنَّمَا هِيَ فِي الأَمْرِ الَّذِي يَكُونُ وَاحِدًا لاَ يَخْتَلِفُ فِي حَلاَلٍ وَلاَ حَرَامٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৭৫। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) (প্রথমে) আমাকে এক হরফে কুরআন পাঠ করালে আমি তাঁর কাছে (আরো বৃদ্ধির) আব্দার জানালাম। এভাবে আমি তাঁর কাছে কিরা’আতের ধরন বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ করতে থাকি তিনিও প্রতিবার বাড়াতে থাকেন। অবশেষে সাত হরফে গিয়ে পরিসমাপ্তি হয়।

ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলেছেন, আমার কাছে রিওয়ায়াত পৌছেছে যে, সে সাত হরফ সে সব নির্দেশের ব্যাপারে প্রযোজ্য যেখানে অর্থ এক হয়, হালাল-হারামের ব্যাপারে কোনো বিরোধ সৃষ্টি করে না।
১৭৭৬

وَحَدَّثَنَاهُ عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ.

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৭৬। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... যুহরী (রাহঃ) থেকে ঐ সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন

১৭৭৭

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ ، وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ بَيَانٍ الْقَنَّادُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْوَاسِطِيُّ ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى ، عَنْ جَدِّهِ ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ ، قَالَ : كُنْتُ فِي الْمَسْجِدِ ، فَدَخَلَ رَجُلٌ يُصَلِّي ، فَقَرَأَ قِرَاءَةً أَنْكَرْتُهَا عَلَيْهِ ، ثُمَّ دَخَلَ رَجُلٌ آخَرُ ، فَقَرَأَ قِرَاءَةً غَيْرَ قِرَاءَةِ صَاحِبِهِ ، فَدَخَلْنَا جَمِيعًا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّ هَذَا قَرَأَ قِرَاءَةً أَنْكَرْتُهَا عَلَيْهِ ، ثُمَّ دَخَلَ هَذَا فَقَرَأَ قِرَاءَةً غَيْرَ قِرَاءَةِ صَاحِبِهِ . فَأَمَرَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَرَءَا ، فَحَسَّنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَأْنَهُمَا ، فَوَقَعَ فِي نَفْسِي مِنَ التَّكْذِيبِ ، وَلا إِذْ كُنْتُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ ، فَلَمَّا رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا غَشِيَنِي ضَرَبَ فِي صَدْرِي ، فَفِضْتُ عَرَقًا ، كَأَنَّمَا أَنْظُرُ إِلَى اللَّهِ فَرَقًا ، فَقَالَ لِي : " يَا أُبَيُّ ، أُرْسِلَ إِلَيَّ : أَنِ اقْرَأِ الْقُرْآنَ عَلَى حَرْفٍ ، فَرَدَدْتُ عَلَيْهِ : أَنْ هَوِّنْ عَلَى أُمَّتِي ، فَرَدَّ عَلَيَّ فِي الثَّانِيَةِ : أَنِ اقْرَأِ الْقُرْآنَ عَلَى حَرْفٍ ، فَرَدَدْتُ عَلَيْهِ : أَنْ هَوِّنْ عَلَى أُمَّتِي ، فَرَدَّ عَلَيَّ فِي الثَّالِثَةِ : أَنِ اقْرَأْهُ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ ، وَلَكَ بِكُلِّ رَدَّةٍ رَدَدْتُكَهَا مَسْأَلَةٌ تَسْأَلَنِيهَا ، فَقُلْتُ : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لأُمَّتِي ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لأُمَّتِي ، وَأَخَّرْتُ الثَّالِثَةَ لِيَوْمٍ يَرْغَبُ إِلَيَّ فِيهِ الْخَلْقُ كُلُّهُمْ حَتَّى إِبْرَاهِيمُ "

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

১৭৭৭। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মসজিদে ছিলাম। এক ব্যক্তি প্রবেশে করে নামায আদায় করতে লাগল। সে এমন এক ধরনের কিরাআত করতে লাগল আমার কাছে অভিনব মনে হল। পরে আর একজন প্রবেশ করে তার পূর্ববর্তী ব্যক্তি হতে ভিন্ন ধরনের কিরা’আত করতে লাগল। নামায শেষে আমরা সবাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গেলাম। আমি বললাম, এ ব্যক্তি এমন কিরা’আত করেছে যা আমার কাছে অভিনব ঠেকেছে এবং অন্যজন প্রবেশ করে তার পূর্ববর্তী জন হতে ভিন্ন কিরা’আত পাঠ করেছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের উভয়কে (কিরা’আত পাঠ করতে) নির্দেশ দিলেন। তারা উভয়েই কিরা’আত পাঠ করল। নবী (ﷺ) তাদের দু’ জনের (কিরা’আতের) ধরনকে সুন্দর বললেন। ফলে আমার মনে নবী (ﷺ) এর কুরআনের প্রতি মিথ্যা অবিশ্বাস ও সন্দেহের উন্মেষ দেখা দিল। এমন কি জাহিলী যুগেও আমার এমন খটকা জাগেনি।

আমার ভেতরে সৃষ্ট খটকা অবলোকন করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার বুকে সজোরে আঘাত করলেন। ফলে আমি ঘর্মাক্ত হয়ে গেলাম এবং যেন আমি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে মহা মহীয়ান আল্লাহকে দেখছিলাম। নবী (ﷺ) আমাকে বললেন, ওহে উবাই! আমার কাছে[(জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)] কে প্রেরণ করা হয়েছে যে, আমি যেন কুরআন এক হরফে তিলাওয়াত করি। আমি তখন তাঁর কাছে পূনরায় অনুরোধ করলাম আমার উম্মতের জন্য সহজ করুন। দ্বিতীয়বার আমাকে বলা হল যে, দুই হরফে তা তিলাওয়াত করবে। তখন তাঁর কাছে আবার অনুরোধ করলাম, আমার উম্মতের জন্য সহজ করে দিতে। তৃতীয়বার আমাকে বলা হল যে সাত হরফে তা তিলাওয়াত করবে এবং যতবার আপনাকে জবাব দিয়েছি তার প্রতিটির বদলে আপনার জন্য একটি প্রার্থনা বরাদ্দ করা হল যা আপনি করতে পারতেন। আমি বললাম হে আল্লাহ! আমার উম্মতকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আমার উম্মতকে ক্ষমা করুন। আর তৃতীয় প্রার্থনাটি বিলম্বিত করে রেখেছি সে দিনের জন্য যে দিন সারা সৃষ্টি এমন কি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)ও আমার প্রতি আকৃষ্ট হবেন।
১৭৭৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي، خَالِدٍ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِيسَى، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، أَخْبَرَنِي أُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ، أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا فِي الْمَسْجِدِ إِذْ دَخَلَ رَجُلٌ فَصَلَّى فَقَرَأَ قِرَاءَةً وَاقْتَصَّ الْحَدِيثَ بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ نُمَيْرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

১৭৭৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে আবু লায়লা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন,) উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) খরব দিয়েছেন যে, তিনি মসজিদে উপবিষ্ট ছিলেন। তখনই এ ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল, নামায পড়ল এবং কিরা’আত পাঠ করলেন যে...... ইবনে নুমাইর (রাহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ।

১৭৭৯

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَاهُ ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ بَشَّارٍ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ عِنْدَ أَضَاةِ بَنِي غِفَارٍ - قَالَ - فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكَ أَنْ تَقْرَأَ أُمَّتُكَ الْقُرْآنَ عَلَى حَرْفٍ . فَقَالَ " أَسْأَلُ اللَّهَ مُعَافَاتَهُ وَمَغْفِرَتَهُ وَإِنَّ أُمَّتِي لاَ تُطِيقُ ذَلِكَ " . ثُمَّ أَتَاهُ الثَّانِيَةَ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكَ أَنْ تَقْرَأَ أُمَّتُكَ الْقُرْآنَ عَلَى حَرْفَيْنِ فَقَالَ " أَسْأَلُ اللَّهَ مُعَافَاتَهُ وَمَغْفِرَتَهُ وَإِنَّ أُمَّتِي لاَ تُطِيقُ ذَلِكَ " . ثُمَّ جَاءَهُ الثَّالِثَةَ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكَ أَنْ تَقْرَأَ أُمَّتُكَ الْقُرْآنَ عَلَى ثَلاَثَةِ أَحْرُفٍ . فَقَالَ " أَسْأَلُ اللَّهَ مُعَافَاتَهُ وَمَغْفِرَتَهُ وَإِنَّ أُمَّتِي لاَ تُطِيقُ ذَلِكَ " . ثُمَّ جَاءَهُ الرَّابِعَةَ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكَ أَنْ تَقْرَأَ أُمَّتُكَ الْقُرْآنَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ فَأَيُّمَا حَرْفٍ قَرَءُوا عَلَيْهِ فَقَدْ أَصَابُوا .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

১৭৭৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে নবী (ﷺ) বনু গিফারের জলাভূমি (ডোবা) এর কাছে ছিলেন। উবাই (রাযিঃ) বলেন, তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিকটে এসে বললেন, আল্লাহ আপনাকে আদেশ করেছেন যে আপনার উম্মত এক ধরনের কুরআন পাঠ করবে। তখন নবী (ﷺ) বললেন, আমি আল্লাহর কাছে তার মার্জনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমার উম্মততো এ হুকুম পালনে সমর্থ হবে না। পরে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) দ্বিতীয়বার তার কাছে আগমন করে বললেন, আল্লাহ আপনাকে হুকুম করেছেন যে, আপনার উম্মত দু’ধরনের কুরআন পাঠ করবে।

নবী (ﷺ) বললেন, আমি আল্লাহর সকাশে তার মার্জনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি আমার উম্মততো তা পালনে সমর্থ হবে না। তারপর তিনি তাঁর কাছে তৃতীয়বার এসে বললেন, আল্লাহ আপনাকে হুকুম করেছেন যে, আপনার উম্মত তিন হরফে কুরআন পাঠ করবে। নবী (ﷺ) বললেন, আমি আল্লাহর সমীপে তাঁর মার্জনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আমার উম্মত তো এটি পালনের সমর্থ রাখে না। তারপর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) চতুর্থবার নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বললেন, আল্লাহ আপনাকে হুকুম করেছেন যে, আপনার উম্মত সাত হরফে কুরআন পাঠ করবে এবং এর যে কোন হরফ ও ধরন অনুসারে তারা পাঠ করলে তা-ই যথার্থ হবে।
১৭৮০

وَحَدَّثَنَاهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

১৭৮০। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) সূত্রে সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৫. ধীরস্থিরতার সাথে কিরা’আত পড়া। অতিদ্রুত পাঠ বর্জন করা এবং একরাক’আতে দুই ও ততোধিক সূরা পড়ার বৈধতা

باب تَرْتِيلِ الْقِرَاءَةِ وَاجْتِنَابِ الْهَذِّ وَهُوَ الإِفْرَاطُ فِي السُّرْعَةِ وَإِبَاحَةِ سُورَتَيْنِ فَأَكْثَرَ فِي الرَّكْعَةِ

১৭৮১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ جَمِيعًا عَنْ وَكِيعٍ، - قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ نَهِيكُ بْنُ سِنَانٍ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ كَيْفَ تَقْرَأُ هَذَا الْحَرْفَ أَلِفًا تَجِدُهُ أَمْ يَاءً مِنْ مَاءٍ غَيْرِ آسِنٍ أَوْ مِنْ مَاءٍ غَيْرِ يَاسِنٍ قَالَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ وَكُلَّ الْقُرْآنِ قَدْ أَحْصَيْتَ غَيْرَ هَذَا قَالَ إِنِّي لأَقْرَأُ الْمُفَصَّلَ فِي رَكْعَةٍ . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ هَذًّا كَهَذِّ الشِّعْرِ إِنَّ أَقْوَامًا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ وَلَكِنْ إِذَا وَقَعَ فِي الْقَلْبِ فَرَسَخَ فِيهِ نَفَعَ إِنَّ أَفْضَلَ الصَّلاَةِ الرُّكُوعُ وَالسُّجُودُ إِنِّي لأَعْلَمُ النَّظَائِرَ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرُنُ بَيْنَهُنَّ سُورَتَيْنِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ . ثُمَّ قَامَ عَبْدُ اللَّهِ فَدَخَلَ عَلْقَمَةُ فِي إِثْرِهِ ثُمَّ خَرَجَ فَقَالَ قَدْ أَخْبَرَنِي بِهَا . قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ فِي رِوَايَتِهِ جَاءَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي بَجِيلَةَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ وَلَمْ يَقُلْ نَهِيكُ بْنُ سِنَانٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭৮১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও ইবনে নুমাইর (রাহঃ) একত্রে ......... আবু ওয়াইল (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, নাহীক ইবনে সিনান নামের এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) (রাযিঃ) এর কাছে এসে বলল, হে আবু আব্দুর রহমান! এ শব্দটি আপনি কি ভাবে পাঠ করে থাকেন ″আলিফ″ সহকারে নাকি ″ইয়া″ সহকারে অর্থাৎمِنْ مَاءٍ غَيْرِ آسِنٍ নাمِنْ مَاءٍ غَيْرِ يَاسِنٍ আবু ওয়াইল (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, আর এ শব্দটি ছাড়া বাকী কুরআনের সবটাই তুমি আয়ত্ত করে ফেলেছ? সে বলল, আমি তো মুফাসসাল (সূরাসমূহ) এক রাকআতেই পড়ে থাকি। আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, কবিতার ফড়ফড়ানির ন্যায় ফড়ফড় করে কী?

একদল লোক কুরআন পাঠ করে থাকে যা তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করে না। তবে যখন তা কলবে পতিত হয় এবং তা তাতে দৃঢ় অবস্থান নেয় তখনই তা উপকারে আসে। উত্তম নামায হল রুকু ও সিজদা (-র আধিক্য)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক রাকআতে যে সদৃশ্য দু’টি দু’টি সূরা মিলিয়ে পাঠ করতেন আমি সেগুলোর কথা ভালভাবেই জানি।

অতঃপর আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) উঠে দাঁড়ালে আলকামা (রাহঃ) তাঁর পিছনে পিছনে প্রবেশ করলেন। পরে বের হায় এসে বললেন, তিনি আমাকে সেগুলো সম্পর্কে অবগত করেছেন। (এ ছিল আবু বকর (রাহঃ) এর বিবরণ) আর ইবনে নুমাইর (রাহঃ) তাঁর বর্ণনায় বলেছেন, বনু বাজীলার এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) এর সাথে আসল। তিনি নাহীক ইবনে সিনান (নামটি) বলেন নি।
১৭৮২

وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ يُقَالُ لَهُ نَهِيكُ بْنُ سِنَانٍ . بِمِثْلِ حَدِيثِ وَكِيعٍ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فَجَاءَ عَلْقَمَةُ لِيَدْخُلَ عَلَيْهِ فَقُلْنَا لَهُ سَلْهُ عَنِ النَّظَائِرِ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ بِهَا فِي رَكْعَةٍ فَدَخَلَ عَلَيْهِ فَسَأَلَهُ ثُمَّ خَرَجَ عَلَيْنَا فَقَالَ عِشْرُونَ سُورَةً مِنَ الْمُفَصَّلِ فِي تَأْلِيفِ عَبْدِ اللَّهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭৮২। আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আবু ওয়াইল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাহীক ইবনে সিনান নামে এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) এর কাছে এলেন (পূর্ববর্তী সনদের) ওয়াকী (রাহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ। তবে তিনি বলেছেন, পরে আলকামা (রাহঃ) তাঁর কাছে প্রবেশ করার জন্য আসলেন। আমরা তাকে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক রাক’আতে যে সদৃশ সূরাগুলো (র দু’টি করে) তিলাওয়াত করতেন সে বিষয় আপনি তাকে (আব্দুল্লাহকে) জিজ্ঞাসা করুন। তখন আলকামা (রাহঃ) তাঁর কাছে গেলেন এবং পরে আমাদের কাছে বেরিয়ে এসে বললেন, তা হল আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) এর কুরআন সংকলনের বিশটি মুফাসসাল সূরা।

১৭৮৩

وَحَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ . بِنَحْوِ حَدِيثِهِمَا وَقَالَ إِنِّي لأَعْرِفُ النَّظَائِرَ الَّتِي كَانَ يَقْرَأُ بِهِنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اثْنَتَيْنِ فِي رَكْعَةٍ . عِشْرِينَ سُورَةً فِي عَشْرِ رَكَعَاتٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭৮৩। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আ’মাশ (রাহঃ) থেকে এই সনদে পূর্ববর্তী দু’জনের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বললেন, আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেছেন, আমি সে নযীর সূরাগুলো জানি যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঠ করতেন, দুই সূরা প্রতি রাক’আতে, বিশটি সূরা দশ রাক’আতে।

১৭৮৪

حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا وَاصِلٌ الأَحْدَبُ، عَنْ أَبِي، وَائِلٍ قَالَ غَدَوْنَا عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ يَوْمًا بَعْدَ مَا صَلَّيْنَا الْغَدَاةَ فَسَلَّمْنَا بِالْبَابِ فَأَذِنَ لَنَا - قَالَ - فَمَكَثْنَا بِالْبَابِ هُنَيَّةً - قَالَ - فَخَرَجَتِ الْجَارِيَةُ فَقَالَتْ أَلاَ تَدْخُلُونَ فَدَخَلْنَا فَإِذَا هُوَ جَالِسٌ يُسَبِّحُ فَقَالَ مَا مَنَعَكُمْ أَنْ تَدْخُلُوا وَقَدْ أُذِنَ لَكُمْ فَقُلْنَا لاَ إِلاَّ أَنَّا ظَنَنَّا أَنَّ بَعْضَ أَهْلِ الْبَيْتِ نَائِمٌ . قَالَ ظَنَنْتُمْ بِآلِ ابْنِ أُمِّ عَبْدٍ غَفْلَةً قَالَ ثُمَّ أَقْبَلَ يُسَبِّحُ حَتَّى ظَنَّ أَنَّ الشَّمْسَ قَدْ طَلَعَتْ فَقَالَ يَا جَارِيَةُ انْظُرِي هَلْ طَلَعَتْ قَالَ فَنَظَرَتْ فَإِذَا هِيَ لَمْ تَطْلُعْ فَأَقْبَلَ يُسَبِّحُ حَتَّى إِذَا ظَنَّ أَنَّ الشَّمْسَ قَدْ طَلَعَتْ قَالَ يَا جَارِيَةُ انْظُرِي هَلْ طَلَعَتْ فَنَظَرَتْ فَإِذَا هِيَ قَدْ طَلَعَتْ . فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَقَالَنَا يَوْمَنَا هَذَا - فَقَالَ مَهْدِيٌّ وَأَحْسِبُهُ قَالَ - وَلَمْ يُهْلِكْنَا بِذُنُوبِنَا - قَالَ - فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ قَرَأْتُ الْمُفَصَّلَ الْبَارِحَةَ كُلَّهُ - قَالَ - فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ هَذًّا كَهَذِّ الشِّعْرِ إِنَّا لَقَدْ سَمِعْنَا الْقَرَائِنَ وَإِنِّي لأَحْفَظُ الْقَرَائِنَ الَّتِي كَانَ يَقْرَؤُهُنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَمَانِيَةَ عَشَرَ مِنَ الْمُفَصَّلِ وَسُورَتَيْنِ مِنْ آلِ حم.

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭৮৪। শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ......... আবু ওয়াইল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। বলেন, একদিন সকালে (ফজরের) নামায আদায়ের পরে আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। আমরা দরজায় দাঁড়িয়ে সালাম করলে তিনি আমাদের অনুমতি দিলেন। রাবী আবু ওয়াইল (রাহঃ) বলেন, আমরা কিছুক্ষণ দরজায় অবস্থান করলাম। রাবী বলেন, তখন বেরিয়ে এসে বলল, আপনারা প্রবেশ করছেন না কেন? আমরা তখন প্রবেশ করলাম। তিনি (আব্দুল্লাহ) বসে বসে তাসবীহ পড়ছেন। তিনি বললেন, তোমাদের অনুমতি দেওয়া সত্ত্বেও কিসে তোমাদের প্রবেশে বাধা দিয়েছিল? তখন আমরা বললাম, না (তেমন কিছু নয়) তবে কিনা আমরা ধারণা করেছিলাম যে, ঘরের কেউ হয়ত ঘুমিয়ে রয়েছে।

তিনি বললেন, ইবনে উম্মু আব্দ এর পরিবারে তোমরা আলসেমী ও উদাসীনতার ধারণা করলে? রাবী (ওয়াইল) বলেন, তারপর তিনি তাসবীহ পাঠ শুরু করলেন। পরে যখন ধারণা করলেন যে সূর্য উদিত হয়েছে, তখন বললেন, হে দাসী! দেখ তো সূর্য উঠেছে কি না? রাবী বলেন, সে নযর করে দেখল যে, তখনও সূর্য উঠেনি। তিনি আবার তাসবীহ পাঠ শুরু করলেন। অবশেষে যখন তাঁর ধারণা হল যে সূর্য উদিত হয়েছে, তখন বললেন, হে দাসী! দেখ তো সূর্য উঠেছে কি? তখন সে নযর করে দেখতে পেল যে, তা উদিত হয়েছে। তখন তিনি বললেন, সমস্ত প্রশংসা সেই সত্তার যিনি আমাদের এ দিনটি ফিরিয়ে দিয়েছেন।

[মাহদী (রাহঃ) বলেন, আমার ধারণা যে, আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) আরও বলেছেন] এবং তিনি আমাদের পাপের কারণে আমাদের ধ্বংস করে দেননি। রাবী বলেন, তখন (উপস্থিত) দলের একজন বলল, গতরাতে আমি (নামাযে) মূফাসসাল সম্পূর্ণটা পাঠ করেছি। রাবী বলেন, তখন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, কবিতার মত দ্রুত? আমর তো সেই জোড়া জোড়া সূরাগুলো আছে যেগুলো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঠ করতেন। মুফাসসালের আঠারটি সূরা এবং হা-মীম শ্রেণীর দু’টি সূরা।
১৭৮৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ شَقِيقٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي بَجِيلَةَ يُقَالُ لَهُ نَهِيكُ بْنُ سِنَانٍ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ إِنِّي أَقْرَأُ الْمُفَصَّلَ فِي رَكْعَةٍ . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ هَذًّا كَهَذِّ الشِّعْرِ لَقَدْ عَلِمْتُ النَّظَائِرَ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ بِهِنَّ سُورَتَيْنِ فِي رَكْعَةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭৮৫। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... শাকীক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাহিক ইবনে সিনান (রাহঃ) নামে পরিচিত বনু বাজীলার এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) এর কাছে এসে বলল, আমি এক রাকআতেই মুফাসসাল সূরা পাঠ করে থাকি। আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, কবিতা আবৃতি করার ন্যায় (তাড়াতাড়ি)? আমি তো সে সদৃশ সূরাগুলোর কথা জানি, যেগুলো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রতি রাক’আতে দুই সূরা করে পাঠ করতেন।

১৭৮৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا وَائِلٍ، يُحَدِّثُ أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ إِلَى ابْنِ مَسْعُودٍ فَقَالَ إِنِّي قَرَأْتُ الْمُفَصَّلَ اللَّيْلَةَ كُلَّهُ فِي رَكْعَةٍ . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ هَذًّا كَهَذِّ الشِّعْرِ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ لَقَدْ عَرَفْتُ النَّظَائِرَ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرُنُ بَيْنَهُنَّ - قَالَ - فَذَكَرَ عِشْرِينَ سُورَةً مِنَ الْمُفَصَّلِ سُورَتَيْنِ سُورَتَيْنِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭৮৬। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আমর ইবনে মুররা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আবু ওয়াইল (রাহঃ) কে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, এক ব্যক্তি ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর কাছে এসে বলল, আজ (গত)রাতে আমি মুফাসসাল (সূরাগুলো) সম্পূর্ণই এক রাক’আতে পড়ে ফেলেছি। তখন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, কবিতা আবৃতি করার মত তাড়াতাড়ি করে? পরে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) আরো বললেন, আমি তো সে সদৃশ (সূরা) গুলো জানি, যেগুলো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিলিয়ে পাঠ করতেন। রাবী বলেন, তিনি তখন মুফাসসালভুক্ত বিশটি সূরার নাম উল্লেখ করলেন (যার) দুই দুই সূরা প্রতি রাক’আতে (পাঠ করা হত)।

১৬. কিরা’আত সম্পর্কিত বিষয়াবলী

باب مَا يَتَعَلَّقُ بِالْقِرَاءَاتِ

১৭৮৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، قَالَ رَأَيْتُ رَجُلاً سَأَلَ الأَسْوَدَ بْنَ يَزِيدَ وَهُوَ يُعَلِّمُ الْقُرْآنَ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ كَيْفَ تَقْرَأُ هَذِهِ الآيَةَ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ أَدَالاً أَمْ ذَالاً قَالَ بَلْ دَالاً سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مُدَّكِرٍ " . دَالاً .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭৮৭। আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... আবু ইসহাক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখলাম এক ব্যক্তি আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) এর কাছে প্রশ্ন করছে। তিনি তখন মসজিদে কুরআনের শিক্ষা দিচ্ছিলেন। লোকটি বলল, فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ আয়াতটি কি ভাবে পাঠ করেনمُدَّكِرٍ শব্দে দাল দিয়ে না যাল দিয়ে? আসওয়াদ (রাহঃ) বললেন,مُدَّكِرٍ দাল দিয়ে। আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কেمُدَّكِرٍ ″দাল″ সহকারে বলতে শুনেছি

১৭৮৮

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَقْرَأُ هَذَا الْحَرْفَ " فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭৮৮। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আসওয়াদ সূত্রে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে নবী (ﷺ) সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি এ শব্দটিمُدَّكِرٍ (দাল সহকারে) পাঠ করতেন।

১৭৮৯

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ - وَاللَّفْظُ لأَبِي بَكْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ قَدِمْنَا الشَّامَ فَأَتَانَا أَبُو الدَّرْدَاءِ فَقَالَ أَفِيكُمْ أَحَدٌ يَقْرَأُ عَلَى قِرَاءَةِ عَبْدِ اللَّهِ فَقُلْتُ نَعَمْ أَنَا . قَالَ فَكَيْفَ سَمِعْتَ عَبْدَ اللَّهِ يَقْرَأُ هَذِهِ الآيَةَ ( وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى) قَالَ سَمِعْتُهُ يَقْرَأُ ( وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى * وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى) . قَالَ وَأَنَا وَاللَّهِ هَكَذَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَؤُهَا وَلَكِنْ هَؤُلاَءِ يُرِيدُونَ أَنْ أَقْرَأَ وَمَا خَلَقَ . فَلاَ أُتَابِعُهُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭৮৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আলকামা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা শাম দেশে (সিরিয়ায়) গেলাম। আবু দারদা (রাযিঃ) আমাদের কাছে এসে বললেন, তোমাদের মাঝে কি এমন কেউ আছে যে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) এর কিরা’আত অনুসরণে কুরআন পাঠ করতে পারে? আমি বললাম, হ্যাঁ আমি। তিনি বললেন, আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) কে এ আয়াতوَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى কিভাবে পাঠ করতে শুনেছ? আমি বললাম আমি তাকে পড়তে শুনেছিوَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى * وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى আবু দারদা (রাযিঃ) বললেন, আামিও আল্লাহর ‘কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এভাবে পাঠ করতে শুনেছি। কিন্তু এরা তো চাচ্ছেوَمَا خَلَقَ সহ পাঠ করি, আমি তাদের অনুরণ করব না।

১৭৯০

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَتَى عَلْقَمَةُ الشَّامَ فَدَخَلَ مَسْجِدًا فَصَلَّى فِيهِ ثُمَّ قَامَ إِلَى حَلْقَةٍ فَجَلَسَ فِيهَا - قَالَ - فَجَاءَ رَجُلٌ فَعَرَفْتُ فِيهِ تَحَوُّشَ الْقَوْمِ وَهَيْئَتَهُمْ . قَالَ فَجَلَسَ إِلَى جَنْبِي ثُمَّ قَالَ أَتَحْفَظُ كَمَا كَانَ عَبْدُ اللَّهِ يَقْرَأُ فَذَكَرَ بِمِثْلِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৭৯০। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবরাহীম (রাহঃ) বলেন, আলকামা (রাহঃ) সিরিয়ায় আগমন করলেন এবং মসজিদে প্রবেশ করে নামায আদায় করলেন। তারপর একটি (তালিমী) হালকার দিকে অগ্রসর হয়ে সেখানে বসে পড়লেন। আলকামা (রাহঃ) বলেন, তারপর এক ব্যক্তি আগমন করলেন। আমি তার প্রতি লোকের সমীহ ও শুদ্ধাভাবে দেখতে পেলাম। আলকামা (রাহঃ) বলেন, ঐ ব্যক্তি আমার পার্শ্বে বসে পড়লেন। তারপর আমাকে বললেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) যেভাবে পড়েন তা কি তোমার স্মরণ আছে? পরবর্তী অংশ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ......।

১৭৯১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي، هِنْدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ لَقِيتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ فَقَالَ لِي مِمَّنْ أَنْتَ قُلْتُ مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ . قَالَ مِنْ أَيِّهِمْ قُلْتُ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ . قَالَ هَلْ تَقْرَأُ عَلَى قِرَاءَةِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ فَاقْرَأْ ( وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى) قَالَ فَقَرَأْتُ ( وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى * وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّى * وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى) . قَالَ فَضَحِكَ ثُمَّ قَالَ هَكَذَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَؤُهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

১৭৯১। আলী ইবনে হুজর আস সা’দী (রাহঃ) ......... আলকামা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু দারদা (রাযিঃ) এর সাথে আমার সাক্ষাত ঘটে। তিনি আমাকে বললেন, তুমি কোত্থেকে? আমি বললাম, ইরাকের বাসিন্দা। তিনি বললেন, কোন অঞ্চলের? আমি বললাম, কুফার অধিবাসী। তিনি বললেন, তুমি কি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর কিরাআত অনুযায়ী কুরআন পাঠ করতে পার? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনوَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى পড়োতো। আলকামা (রাহঃ) বলেন, আমি পড়লামوَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى * وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّى * وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى (আমার পড়া শুনে) তিনি হেসে দিলেন। তারপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে এভাবে সূরাটি পড়তে শুনেছি।

১৭৯২

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا دَاوُدُ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ أَتَيْتُ الشَّامَ فَلَقِيتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ فَذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ عُلَيَّةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

১৭৯২। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... আলকামা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় গমন করলাম এবং আবু দারদা (রাযিঃ) এর সাথে আমার সাক্ষাত ঘটল। পরবর্তী অংশ ইবনে উলায়্যার হাদীসের অনুরূপ।

১৭. যে সকল ওয়াক্তে নামায আদায় করা নিষেধ

باب الأَوْقَاتِ الَّتِي نُهِيَ عَنِ الصَّلاَةِ، فِيهَا .

১৭৯৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَعَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭৯৩। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের পর নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন যাবৎ না সূর্য অস্ত যায় এবং ফজরের পর নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন যাবৎ না সূর্যোদয় হয়।

১৭৯৪

وَحَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ سَالِمٍ، جَمِيعًا عَنْ هُشَيْمٍ، - قَالَ دَاوُدُ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، - أَخْبَرَنَا مَنْصُورٌ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ سَمِعْتُ غَيْرَ، وَاحِدٍ، مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَكَانَ أَحَبَّهُمْ إِلَىَّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَبَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৯৪। দাউদ ইবনে রুশায়দ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বহু সাহাবী হতে শুনেছি, তাঁদের মধ্যে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)ও রয়েছেন। আর তাঁদের মধ্যে তিনিই আমার কাছে সর্বাধিক প্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের পর নামায আদায় করা হতে নিষেধ করেছেন, যে পর্যন্ত না সূর্য উদিত হয়। তিনি আসরের পরও (নিষেধ করেছেন) সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত।

১৭৯৫

وَحَدَّثَنِيهِ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو غَسَّانَ، الْمِسْمَعِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا مُعَاذُ، بْنُ هِشَامٍ حَدَّثَنِي أَبِي كُلُّهُمْ، عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ غَيْرَ أَنَّ فِي، حَدِيثِ سَعِيدٍ وَهِشَامٍ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَشْرُقَ الشَّمْسُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৭৯৫। যুহাইর ইবনে হারব, আবু গাসসান মিসমায়ী, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) সবাই ......... কাতাদা (রাহঃ) হতে ঐ সনদে বর্ণনা করেছেন। তবে সাঈদ ও হিশামের বর্ণনায় এ কথাটি অতিরিক্ত আছে ″ফজরের পর সূর্য আলোকোজ্জল না হওয়া পর্যন্ত।″

১৭৯৬

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، أَخْبَرَهُ قَالَ أَخْبَرَنِي عَطَاءُ بْنُ يَزِيدَ اللَّيْثِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ صَلاَةَ بَعْدَ صَلاَةِ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَلاَ صَلاَةَ بَعْدَ صَلاَةِ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৭৯৬। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আসরের পর কোন নামায নেই সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং ফজরের পর কোন নামায নেই সুর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত।

১৭৯৭

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَتَحَرَّى أَحَدُكُمْ فَيُصَلِّي عِنْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَلاَ عِنْدَ غُرُوبِهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৭৯৭। ইয়াইয়া ইবনে ইয়াইয়া (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কেউ যেন সূর্যোদয় বা সূর্যাস্ত যাওয়ার সময় নামায আদায় করার ইচ্ছা না করে।

১৭৯৮

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ، نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا أَبِي وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، قَالاَ جَمِيعًا حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَحَرَّوْا بِصَلاَتِكُمْ طُلُوعَ الشَّمْسِ وَلاَ غُرُوبَهَا فَإِنَّهَا تَطْلُعُ بِقَرْنَىْ شَيْطَانٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৭৯৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা তোমাদের নামায সূর্যাদয় ও সূর্যাস্তের সময় আদায় করার ইচ্ছা করবে না। কেননা সূর্য শয়তানের দুটি শিং এর মাঝখানে উদিত হয়।

১৭৯৯

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ، نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا أَبِي وَابْنُ، بِشْرٍ قَالُوا جَمِيعًا حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا بَدَا حَاجِبُ الشَّمْسِ فَأَخِّرُوا الصَّلاَةَ حَتَّى تَبْرُزَ وَإِذَا غَابَ حَاجِبُ الشَّمْسِ فَأَخِّرُوا الصَّلاَةَ حَتَّى تَغِيبَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৭৯৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সূর্যের কিনারা যখন প্রকাশিত হয় তখন তোমরা সূর্য পূরাপূরি প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত নামায আদায়ে বিলম্ব কর এবং যখন কিনারা অদৃশ্য হয়ে যায় তখন পুরোপুরি অস্ত যাওয়া পর্যন্ত তোমরা নামায আদায় বিলম্ব কর।

১৮০০

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ خَيْرِ بْنِ نُعَيْمٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنِ ابْنِ هُبَيْرَةَ، عَنْ أَبِي تَمِيمٍ الْجَيْشَانِيِّ، عَنْ أَبِي بَصْرَةَ الْغِفَارِيِّ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَصْرَ بِالْمُخَمَّصِ فَقَالَ " إِنَّ هَذِهِ الصَّلاَةَ عُرِضَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَضَيَّعُوهَا فَمَنْ حَافَظَ عَلَيْهَا كَانَ لَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ وَلاَ صَلاَةَ بَعْدَهَا حَتَّى يَطْلُعَ الشَّاهِدُ " . وَالشَّاهِدُ النَّجْمُ .

বর্ণনাকারী: আবু বাসরা গিফারী (রহঃ)

১৮০০। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু বাসরা আল গিফারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিয়ে মুখাম্মাস নামক স্থানে আসরের নামায আদায় করলেন এবং বললেন, এ নামায তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের কাছে পেশ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা এ নামাযকে বিনষ্ট করল। অতএব যে ব্যক্তি এ নামাযের ব্যাপারে যত্নবান হবে তাকে দ্বিগুণ সওয়ার দেয়া হবে। এ নামাযের পর অন্য কোন নামায নেই 'শাহিদ’ উদয় না হওয়া পর্যন্ত। (শাহিদ হল তারকা)

১৮০১

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ خَيْرِ بْنِ نُعَيْمٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هُبَيْرَةَ السَّبَائِيِّ، - وَكَانَ ثِقَةً - عَنْ أَبِي تَمِيمٍ الْجَيْشَانِيِّ، عَنْ أَبِي بَصْرَةَ الْغِفَارِيِّ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَصْرَ . بِمِثْلِهِ .

বর্ণনাকারী: আবু বাসরা গিফারী (রহঃ)

১৮০১। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু বাসরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের নামায পড়লেন। তারপর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

১৮০২

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُلَىٍّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِيَّ، يَقُولُ ثَلاَثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّيَ فِيهِنَّ أَوْ أَنْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتَّى تَمِيلَ الشَّمْسُ وَحِينَ تَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغْرُبَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

১৮০২। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... উলাঈ (রাহঃ) বলেন, আমি উকবা ইবনে আমির জুহানী (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিনটি সময়ে নামায আদায় এবং মৃত ব্যক্তিকে কবরস্থ করা হতে আমাদেরকে নিষেধ করতেন, সূর্য যখন আলোকজ্জ্বল হয়ে উদয় হতে থাকে তখন থেকে পরিষ্কারভাবে উপরে না উঠা পর্যন্ত। যখন সূর্য ঠিক মধ্যাকাশে থাকে তখন থেকে ঢলে না পড়া পর্যন্ত এবং সূর্য অস্ত যাওয়া শুরু হলে, যাবৎ না সম্পূর্ণরূপে অস্তমিত হয়।

১৮০৩

حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَعْقِرِيُّ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا شَدَّادُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَبُو عَمَّارٍ، وَيَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، - قَالَ عِكْرِمَةُ وَلَقِيَ شَدَّادٌ أَبَا أُمَامَةَ وَوَاثِلَةَ وَصَحِبَ أَنَسًا إِلَى الشَّامِ وَأَثْنَى عَلَيْهِ فَضْلاً وَخَيْرًا - عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ قَالَ عَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ السُّلَمِيُّ كُنْتُ وَأَنَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ أَظُنُّ أَنَّ النَّاسَ عَلَى ضَلاَلَةٍ وَأَنَّهُمْ لَيْسُوا عَلَى شَىْءٍ وَهُمْ يَعْبُدُونَ الأَوْثَانَ فَسَمِعْتُ بِرَجُلٍ بِمَكَّةَ يُخْبِرُ أَخْبَارًا فَقَعَدْتُ عَلَى رَاحِلَتِي فَقَدِمْتُ عَلَيْهِ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُسْتَخْفِيًا جُرَءَاءُ عَلَيْهِ قَوْمُهُ فَتَلَطَّفْتُ حَتَّى دَخَلْتُ عَلَيْهِ بِمَكَّةَ فَقُلْتُ لَهُ مَا أَنْتَ قَالَ " أَنَا نَبِيٌّ " . فَقُلْتُ وَمَا نَبِيٌّ قَالَ " أَرْسَلَنِي اللَّهُ " . فَقُلْتُ وَبِأَىِّ شَىْءٍ أَرْسَلَكَ قَالَ " أَرْسَلَنِي بِصِلَةِ الأَرْحَامِ وَكَسْرِ الأَوْثَانِ وَأَنْ يُوَحَّدَ اللَّهُ لاَ يُشْرَكُ بِهِ شَىْءٌ " . قُلْتُ لَهُ فَمَنْ مَعَكَ عَلَى هَذَا قَالَ " حُرٌّ وَعَبْدٌ " . قَالَ وَمَعَهُ يَوْمَئِذٍ أَبُو بَكْرٍ وَبِلاَلٌ مِمَّنْ آمَنَ بِهِ . فَقُلْتُ إِنِّي مُتَّبِعُكَ . قَالَ " إِنَّكَ لاَ تَسْتَطِيعُ ذَلِكَ يَوْمَكَ هَذَا أَلاَ تَرَى حَالِي وَحَالَ النَّاسِ وَلَكِنِ ارْجِعْ إِلَى أَهْلِكَ فَإِذَا سَمِعْتَ بِي قَدْ ظَهَرْتُ فَأْتِنِي " . قَالَ فَذَهَبْتُ إِلَى أَهْلِي وَقَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَكُنْتُ فِي أَهْلِي فَجَعَلْتُ أَتَخَبَّرُ الأَخْبَارَ وَأَسْأَلُ النَّاسَ حِينَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ حَتَّى قَدِمَ عَلَىَّ نَفَرٌ مِنْ أَهْلِ يَثْرِبَ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ فَقُلْتُ مَا فَعَلَ هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَقَالُوا النَّاسُ إِلَيْهِ سِرَاعٌ وَقَدْ أَرَادَ قَوْمُهُ قَتْلَهُ فَلَمْ يَسْتَطِيعُوا ذَلِكَ . فَقَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَعْرِفُنِي قَالَ " نَعَمْ أَنْتَ الَّذِي لَقِيتَنِي بِمَكَّةَ " . قَالَ فَقُلْتُ بَلَى . فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَخْبِرْنِي عَمَّا عَلَّمَكَ اللَّهُ وَأَجْهَلُهُ . أَخْبِرْنِي عَنِ الصَّلاَةِ قَالَ " صَلِّ صَلاَةَ الصُّبْحِ ثُمَّ أَقْصِرْ عَنِ الصَّلاَةِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ حَتَّى تَرْتَفِعَ فَإِنَّهَا تَطْلُعُ حِينَ تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ ثُمَّ صَلِّ فَإِنَّ الصَّلاَةَ مَشْهُودَةٌ مَحْضُورَةٌ حَتَّى يَسْتَقِلَّ الظِّلُّ بِالرُّمْحِ ثُمَّ أَقْصِرْ عَنِ الصَّلاَةِ فَإِنَّ حِينَئِذٍ تُسْجَرُ جَهَنَّمُ فَإِذَا أَقْبَلَ الْفَىْءُ فَصَلِّ فَإِنَّ الصَّلاَةَ مَشْهُودَةٌ مَحْضُورَةٌ حَتَّى تُصَلِّيَ الْعَصْرَ ثُمَّ أَقْصِرْ عَنِ الصَّلاَةِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَإِنَّهَا تَغْرُبُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ " . قَالَ فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ فَالْوُضُوءُ حَدِّثْنِي عَنْهُ قَالَ " مَا مِنْكُمْ رَجُلٌ يُقَرِّبُ وَضُوءَهُ فَيَتَمَضْمَضُ وَيَسْتَنْشِقُ فَيَنْتَثِرُ إِلاَّ خَرَّتْ خَطَايَا وَجْهِهِ وَفِيهِ وَخَيَاشِيمِهِ ثُمَّ إِذَا غَسَلَ وَجْهَهُ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ إِلاَّ خَرَّتْ خَطَايَا وَجْهِهِ مِنْ أَطْرَافِ لِحْيَتِهِ مَعَ الْمَاءِ ثُمَّ يَغْسِلُ يَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ إِلاَّ خَرَّتْ خَطَايَا يَدَيْهِ مِنْ أَنَامِلِهِ مَعَ الْمَاءِ ثُمَّ يَمْسَحُ رَأْسَهُ إِلاَّ خَرَّتْ خَطَايَا رَأْسِهِ مِنْ أَطْرَافِ شَعْرِهِ مَعَ الْمَاءِ ثُمَّ يَغْسِلُ قَدَمَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ إِلاَّ خَرَّتْ خَطَايَا رِجْلَيْهِ مِنْ أَنَامِلِهِ مَعَ الْمَاءِ فَإِنْ هُوَ قَامَ فَصَلَّى فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَمَجَّدَهُ بِالَّذِي هُوَ لَهُ أَهْلٌ وَفَرَّغَ قَلْبَهُ لِلَّهِ إِلاَّ انْصَرَفَ مِنْ خَطِيئَتِهِ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ " . فَحَدَّثَ عَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ بِهَذَا الْحَدِيثِ أَبَا أُمَامَةَ صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ أَبُو أُمَامَةَ يَا عَمْرَو بْنَ عَبَسَةَ انْظُرْ مَا تَقُولُ فِي مَقَامٍ وَاحِدٍ يُعْطَى هَذَا الرَّجُلُ فَقَالَ عَمْرٌو يَا أَبَا أُمَامَةَ لَقَدْ كَبِرَتْ سِنِّي وَرَقَّ عَظْمِي وَاقْتَرَبَ أَجَلِي وَمَا بِي حَاجَةٌ أَنْ أَكْذِبَ عَلَى اللَّهِ وَلاَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ لَوْ لَمْ أَسْمَعْهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا - حَتَّى عَدَّ سَبْعَ مَرَّاتٍ - مَا حَدَّثْتُ بِهِ أَبَدًا وَلَكِنِّي سَمِعْتُهُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)

১৮০৩। আহমাদ ইবনে জাফর আল মা’কিরী (রাহঃ) ......... ইকরিমা (রাহঃ) বলেন, শাদ্দাদ, আবু উমামা ও ওয়াসিলার সাথে তার সাক্ষাত হয়েছে এবং সিরিয়া ভ্রমণকালেও আনাস (রাযিঃ) এর সহচর ছিলেন। তিনি তার প্রশংসা করেছেন ও তার মহাত্ম্য বর্ণনা করেছেন। আবু উমামা (রাযিঃ) বলেন, আমর ইবনে আবাসা সুলামী (রাযিঃ) বলেন, আমি প্রাক ইসলাম যুগে সকল মানুষকে পথভ্রষ্ট বলে ধারণা করতাম। তারা কোন ধর্মের উপর নেই। তারা সবাই মুর্তি পূঁজা, দেব-দেবীর পূঁজা করত। তিনি বলেন, তখন আমি মক্কায় এমন এক ব্যক্তির কথা শুনলাম যিনি বিভিন্ন সংবাদ বর্ণনা করেন। তখন আমি সওয়ারীর উপর আরোহণ করে তাঁর নিকট এলাম এবং আমি জানতে পারলাম যে তিনি জনসমাবেশ থেকে নিজেকে দুরে রাখেন। তাঁর কওম তাঁর উপর নির্যাতন করে। আমি কৌশলে মক্কায় তার নিকট পৌছিলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনার পরিচয় কি?

তিনি বললেন, আমি নবী। আমি বললাম, নবী কি? তিনি বললেন, আল্লাহ আমাকে প্রেরণ করেছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম আল্লাহ আপনাকে কি দিয়ে পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন, আমাকে আত্মীয়তার বন্ধন সুদূঢ় করা, দেব-দেবী ও মূর্তি ভেঙ্গে দেওয়া, আল্লাহকে এক বলে জানা এবং তাঁর সঙ্গে কোন কিছু শরীক না করা। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ ব্যাপারে আপনার সঙ্গে কারা আছে? তিনি বললেন, একজন স্বাধীন ব্যক্তি ও একজন কৃতদাস। তিনি বলেন যে, তাঁর প্রতি যারা ঈমান এনেছিলেন তাদের মধ্যে আবু বকর (রাযিঃ) ও বিলাল (রাযিঃ) ছিলেন। আমি বললাম, আমিও আপনার অনুসারী হাত চাই। তিনি বললেন, বর্তমান অবস্থায় তুমি তা পারবে না। তুমি আমার অবস্থা ও লোকজনের অবস্থা কি দেখছ না? তুমি বরং পরিজনদের কাছে ফিরে যাও। যখন আমি বিজয় লাভ করেছি বলে শুনতে পাবে তখন আমার কাছে এসো।

তিনি বললেন, আমি পরিজনদের কাছে চলে গেলাম। ইতিমধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হিজরত করে মদীনায় গমন করলেন। তখন আমি পরিজনদের মাঝে অবস্থান করছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় গমন করার পর থেকে আমি সর্বদা এ বিষয়ে খোঁজ-খবর এবং মানুষকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকলাম। মদীনাবাসীদের একদল লোক আমার কাছে এলেন। তাদেরকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম। যে ব্যক্তি মদীনায় আগমন করেছেন তিনি কি করছেন, তাঁর অবস্থা কি? তারা বললেন, লোকজন অতি দ্রুত তাঁর সাহচর্যে যাচ্ছে তাঁর কওম তাঁকে হত্যা করতে চাচ্ছিল। কিন্তু তারা সফলকাম হয়নি। আমি এ কথা শুলে মদীনায় গেলাম এবং তাঁর কাছে পৌছলাম। তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে চিনতে পেরেছেন? তিনি বললেন হ্যাঁ, তুমি সে ব্যক্তি যে আমার সাথে মক্কায় সাক্ষাত করেছিলে।

(বর্ণনাকারী) বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। আমি আবার বললাম, ইয়া-নবী আল্লাহ। আল্লাহ তাআলা আপনাকে যা কিছু শিখিয়েছেন, অথচ আমি তা জানি না, তা আমাকে শিক্ষা দিন। আমাকে নামায সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, ফজরের নামায আদায় করবে। এরপর সূর্য উদিত হয়ে পরিষ্কারভাবে উপরে না উঠা পর্যন্ত তুমি নামায থেকে বিরত থাক। কেননা সূর্য যখন উদিত হয় তখন সেটা উদিত হয় শয়তানের দু’ শিং-এর মাঝখান দিয়ে। সে সময়ে কাফির তাকে সিজদা করে। এরপর নামায আদায় কর, তীরের ছায়া তার সমান না হওয়া পর্যন্ত। নামাযে ফিরিশতাগণের উপস্থিতি এবং সাক্ষ্যের ব্যাপার রয়েছে। এরপর নামায থেকে বিরত থাকো কেননা এ সময়ে জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়। এরপর যখন ছায়ায় পরিবর্তন শুরু হয় তখন নামায পড়তে থাক। ফিরিশতাগণ নামাযে উপস্থিত থাকেন। অর্থাৎ আসরের নামায আদায় করা পর্যন্ত, তারপর নামায হতে বিরত থাক সূর্য অস্তমিত না যাওয়া পর্যন্ত। কেননা সূর্য শয়তানের দু’শিং-এর মধ্যে দিয়ে অস্ত যায়। ঐ সময় কাফিররা তাকে সিজদা করে।

রাবী বলেন,আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! উযু সম্পর্কে আমাকে বলে দিন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমাদের কোন ব্যক্তির কাছে যখন ওযুর পানি পেশ করা হয়, এরপর সে কুলি করে ও নাকে পানি দেয় ও তা পরিষ্কার করে। তখন তার মুখমণ্ডলের মূখ গহব্বর ও নাকের সকল গুনাহ ঝরে যায়। তারপর যখন সে আল্লাহ পাকের নির্দেশ অনুসারে মুখমণ্ডল ধোয় তখন মুখমণ্ডলের চারিদিক থেকে সকল গুনাহ পানির সাথে ঝরে যায়। এরপর যখন দু’ হাত ধোয় কুনূই পর্যন্ত, তখন তার উভয় হাতের গুনাহসমূহ আঙ্গুল দিয়ে পানির সাথে ঝরে পড়ে। এরপর উভয় পা গোড়ালী পর্যন্ত ধৌত করলে উভয় পায়ের গুনাহগুলো আঙ্গুল দিয়ে পানির সাথে ঝরে পড়ে। এরপর যদি সে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করে আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করে, যথাযথভাবে ও তাঁর অন্তরকে আল্লাহর জন্য মুক্ত করে নেয়, তাহলে সে গুনাহ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে সেদিনের মত যে দিন তার মাতা তাকে প্রসব করোছিল।

আমর ইবনে আবাসা (রাযিঃ)ও হাদীসটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবী আবু উমামা (রাযিঃ) এর নিকট বর্ণনা করেন। তখন আবু উমামা (রাযিঃ) তাঁকে বললেন, হে আমর ইবনে আবাসা! ভেবে দেখ, তুমি কি বলছ! একই স্থানে ঐ ব্যক্তিকে এত মর্যাদা দেয়া হবে? তখন আমর (রাযিঃ) বললেন, হে আবু উমামা (রাযিঃ)! আমি বয়োবৃদ্ধ হয়ে গিয়েছি। আমার হাড়গুলো নরম হয়ে গিয়েছে। আমার মৃত্যুকাল নিকটবর্তী হয়ে পড়েছে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর মিথ্যা আরোপের কোন প্রয়োজন আমার নেই। আমি যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে না শুনতাম একবার দু’বার, তিনবার এমনকি তিনি সাত বার পর্যন্ত গণনা করলেন। তবে আমি কখনো এ হাদীস বর্ণনা করতাম না। আমি হাদীসটি সাত বারের চেয়েও অনেক বেশীবার শুনেছি।
১৮০৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ وَهِمَ عُمَرُ إِنَّمَا نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُتَحَرَّى طُلُوعُ الشَّمْسِ وَغُرُوبُهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৮০৪। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) এর ধারণা হয়েছিল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূর্যোদয় ও সূর্যস্তের সময়কালে নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

১৮০৫

وَحَدَّثَنَا حَسَنٌ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ لَمْ يَدَعْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ . قَالَ فَقَالَتْ عَائِشَةُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَتَحَرَّوْا طُلُوعَ الشَّمْسِ وَلاَ غُرُوبَهَا فَتُصَلُّوا عِنْدَ ذَلِكَ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৮০৫। হাসান হুলওয়ানী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের পর দু’রাকআত নামায ত্যাগ করেননি। রাবী বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) আরো বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ের অপেক্ষায় থেকো না এবং সে সময় নামায আদায় করো না।

১৮০৬

حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى التُّجِيبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، - وَهُوَ ابْنُ الْحَارِثِ - عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ، بْنَ أَزْهَرَ وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ أَرْسَلُوهُ إِلَى عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا اقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلاَمَ مِنَّا جَمِيعًا وَسَلْهَا عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ وَقُلْ إِنَّا أُخْبِرْنَا أَنَّكِ تُصَلِّينَهُمَا وَقَدْ بَلَغَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْهُمَا . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَكُنْتُ أَصْرِفُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ النَّاسَ عَنْهَا . قَالَ كُرَيْبٌ فَدَخَلْتُ عَلَيْهَا وَبَلَّغْتُهَا مَا أَرْسَلُونِي بِهِ . فَقَالَتْ سَلْ أُمَّ سَلَمَةَ . فَخَرَجْتُ إِلَيْهِمْ فَأَخْبَرْتُهُمْ بِقَوْلِهَا فَرَدُّونِي إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ بِمِثْلِ مَا أَرْسَلُونِي بِهِ إِلَى عَائِشَةَ . فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى عَنْهُمَا ثُمَّ رَأَيْتُهُ يُصَلِّيهِمَا أَمَّا حِينَ صَلاَّهُمَا فَإِنَّهُ صَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ دَخَلَ وَعِنْدِي نِسْوَةٌ مِنْ بَنِي حَرَامٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَصَلاَّهُمَا فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ الْجَارِيَةَ فَقُلْتُ قُومِي بِجَنْبِهِ فَقُولِي لَهُ تَقُولُ أُمُّ سَلَمَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَسْمَعُكَ تَنْهَى عَنْ هَاتَيْنِ الرَّكْعَتَيْنِ وَأَرَاكَ تُصَلِّيهِمَا فَإِنْ أَشَارَ بِيَدِهِ فَاسْتَأْخِرِي عَنْهُ - قَالَ - فَفَعَلَتِ الْجَارِيَةُ فَأَشَارَ بِيَدِهِ فَاسْتَأْخَرَتْ عَنْهُ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " يَا بِنْتَ أَبِي أُمَيَّةَ سَأَلْتِ عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ إِنَّهُ أَتَانِي نَاسٌ مِنْ عَبْدِ الْقَيْسِ بِالإِسْلاَمِ مِنْ قَوْمِهِمْ فَشَغَلُونِي عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ فَهُمَا هَاتَانِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৮০৬। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া তুজীবী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়ব (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আব্দুর রহমান ইবনে আযহার এবং মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) সবাই তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহধর্মিনী আয়িশা (রাযিঃ) এর নিকট প্রেরণ করলেন এবং বলে দিলেন, তাকে আমাদের সবার পক্ষ থেকে সালাম জানাবে এবং তাঁকে আসরের পরের দু’রাকআত নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে এবং এ কথাও বলবে যে আমরা জানতে পেরেছি, আপনিও সে দু রাকআত নামায আদায় করে থাকেন, অথচ আমাদের নিকট হাদীস পৌছেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা নিষেধ করেছেন।

ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমিও উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) এর সঙ্গে এ নামায হতে লোকদের ফিরিয়ে রাখতাম। কুরায়ব (রাযিঃ) বলেন, আমি তার নিকট গেলাম এবং তাঁরা যে সব কথা বলে দিয়ে আমাকে প্রেরণ করেছিলেন তা সব পৌছে দিলাম। আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, উম্মে সালামাকে (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা কর। আমি সেখান থেকে বেরিয়ে যারা আমাকে পাঠিয়েছেন, তাঁদের কাছে এলাম এবং তাঁদেরকে আয়িশা (রাযিঃ) যা বলেছিলেন তা অবহিত করলাম। তারা আমাকে পূনরায় উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর নিকট প্রেরণ করলেন, যেভাবে আমাকে পাঠিয়েছিলেন আয়িশা (রাযিঃ)-এর কাছে।

(আমার বক্তব্য শুনে) উম্মে সালামা (রাযিঃ) বললেন, আমিও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ নামায নিষেধ করতে শুনেছি, পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ নামায আদায় করতে দেখেছি। যে দু’রাকআত নামায আদায় করেছিলেন (তার ব্যাপার এই) তিনি আসরের নামায আদায় করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার হুজরায় প্রবেশ করলেন তখন আমার কাছে আনসারের বনী হারাম গোত্রের কতিপয় মহিলা বসাছিলেন। এরপর দু- রাকআত নামায আদায় করলেন। আমি দাসীকে তাঁর নিকট পাঠালাম এবং বলে দিলাম, তুমি তার পার্শ্বে দাঁড়াবে এবং তাঁকে বলবে ইয়া রাসুলাল্লাহ! উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেছেন যে, আপনাকে এ দু- রাক’আত হতে নিষেধ করতে শুনেছেন। অথচ এখন দেখছি আপনি সে দু’রাকআত আদায় করেছেন। তখন তিনি যদি হাত দ্বারা ইশারা করেন তাহলে পিছনে সরে দাঁড়াবে। উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেন, দাসী তাই করল।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাত দ্বারা ইশারা করলেন। দাসী পিছনে সরে দাঁড়াল। নামায শেষ করে যখন বললেন, হে আবু উমাইয়ার কন্যা! তুমি আমাকে আসরের পরের দু’রাকআত নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ? (ঘটনা হল) আমার নিকট আব্দুল কায়স গোত্রের কতিপয় লোক ইসলাম গ্রহণ করতে এসেছিল। তাদের সাথে ব্যস্ততার কারণে যোহরের পরের দু’ রাক’আত আদায় করতে পারিনি। এ হল সেই দু’রাকআত।
১৮০৭

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ ابْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - أَخْبَرَنِي مُحَمَّدٌ، - وَهُوَ ابْنُ أَبِي حَرْمَلَةَ - قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنِ السَّجْدَتَيْنِ اللَّتَيْنِ، كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّيهِمَا بَعْدَ الْعَصْرِ فَقَالَتْ كَانَ يُصَلِّيهِمَا قَبْلَ الْعَصْرِ ثُمَّ إِنَّهُ شُغِلَ عَنْهُمَا أَوْ نَسِيَهُمَا فَصَلاَّهُمَا بَعْدَ الْعَصْرِ ثُمَّ أَثْبَتَهُمَا وَكَانَ إِذَا صَلَّى صَلاَةً أَثْبَتَهَا . قَالَ يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ قَالَ إِسْمَاعِيلُ تَعْنِي دَاوَمَ عَلَيْهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৮০৭। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব, কুতায়বা ও আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আবু সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আয়িশা (রাযিঃ) কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের পর যে দু’রাকআত নামায আদায় করতেন সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু’রাকআত আসরের পূর্বেই আদায় করতেন। অবশ্য অধিক ব্যস্ততা অথবা ভুলে যাওয়ার ক্যরণে ঐ দু’রাকআত আদায় করতে না পারায় তা আসরের পর আদায় করলেন।

তারপর থেকে এ দু’ রাক’আত নিয়মিত আদায় করতে লাগলেন। তাঁর নিয়ম ছিল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন নামায আদায় করলে তা নিয়মিত আদায় করতেন। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব (রাহঃ) বলেন, ইসমাঈল বলেছেন যে, তিনি তা সর্বদা আদায় করতেন।
১৮০৮

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي جَمِيعًا، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ عِنْدِي قَطُّ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৮০৮। যুহাইর ইবনে হারব ও ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকটে (অবস্থানকালে) আসরের পরের দু’রাকআত কখনো ত্যাগ করেন নি।

১৮০৯

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ الأَسْوَدِ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ صَلاَتَانِ مَا تَرَكَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِي قَطُّ سِرًّا وَلاَ عَلاَنِيَةً رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৮০৯। আবু বকর ইবনে শায়বা (রাহঃ), আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুটি নামায আমার গৃহে অবস্থানকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনো ত্যাগ করেননি গোপনেও নয় প্রকাশ্যে নয়; ফজরের (ফরযের) পূর্বে দু- রাক’আত ও আসরের (ফরযের) পর দু’রাক’আত।

১৮১০

وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، وَمَسْرُوقٍ، قَالاَ نَشْهَدُ عَلَى عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ مَا كَانَ يَوْمُهُ الَّذِي كَانَ يَكُونُ عِنْدِي إِلاَّ صَلاَّهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِي . تَعْنِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৮১০। ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আসওয়াদ ও মাসরুক (রাহঃ) বলেন, আমরা আয়িশা (রাযিঃ) এর সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, তিনি বলেন, আমার নিকট পালাক্রমে অবস্থানের দিনটিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার গৃহে ঐ দু’ রাক’আত অবশ্যই আদায় করতেন। অর্থাৎ আসরের পরের দু’রাকআত।

১৮. মাগরিবের (ফরয) নামাযের পূর্বক্ষণে দু’ রাক’আত পড়া মুস্তাহাব

باب اسْتِحْبَابِ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الْمَغْرِبِ

১৮১১

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ جَمِيعًا عَنِ ابْنِ فُضَيْلٍ، - قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، - عَنْ مُخْتَارِ بْنِ فُلْفُلٍ، قَالَ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ عَنِ التَّطَوُّعِ، بَعْدَ الْعَصْرِ فَقَالَ كَانَ عُمَرُ يَضْرِبُ الأَيْدِي عَلَى صَلاَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ وَكُنَّا نُصَلِّي عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ بَعْدَ غُرُوبِ الشَّمْسِ قَبْلَ صَلاَةِ الْمَغْرِبِ . فَقُلْتُ لَهُ أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَّهُمَا قَالَ كَانَ يَرَانَا نُصَلِّيهِمَا . فَلَمْ يَأْمُرْنَا وَلَمْ يَنْهَنَا.

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৮১১। আবু বকর ইবনে আবু শায়রা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... মুখতার ইবনে ফুলফুল (রাহঃ) বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) কে আসরের পর নফল নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, উমর (রাযিঃ) আসরের পর নফল নামায পড়ার কারণে মানুষের হাতে আঘাত করতেন। আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাযের পূর্বক্ষণ দু’রাকআত পড়তাম। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি এ দু-রাকআত পড়তেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে পড়তে দেখেছেন কিন্তু তিনি আমাদেরকে এ সম্পর্কে আদেশ-নিষেধ কিছুই করেননি।

১৮১২

وَحَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، - وَهُوَ ابْنُ صُهَيْبٍ - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا بِالْمَدِينَةِ فَإِذَا أَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ لِصَلاَةِ الْمَغْرِبِ ابْتَدَرُوا السَّوَارِيَ فَيَرْكَعُونَ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ حَتَّى إِنَّ الرَّجُلَ الْغَرِيبَ لَيَدْخُلُ الْمَسْجِدَ فَيَحْسِبُ أَنَّ الصَّلاَةَ قَدْ صُلِّيَتْ مِنْ كَثْرَةِ مَنْ يُصَلِّيهِمَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৮১২। শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রা,) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন মদীনা ছিলাম তখন মুয়াযযিন মাগরিবের নামাযের আযান দিলে তারা তাড়াতাড়ি করে স্তম্ভের দিকে যেয়ে দু’রাকআত নামায আদায় করে নিত। ফলে কোন আগন্তুক মসজিদে প্রবেশ করলে মুসল্লীদের সংখ্যাধিক্য দেখে ধারণা করত যে, (ফরয) নামায শেষ হয়ে গেছে।

১৮১৩

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، وَوَكِيعٌ، عَنْ كَهْمَسٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ الْمُزَنِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ - قَالَهَا ثَلاَثًا قَالَ فِي الثَّالِثَةِ - لِمَنْ شَاءَ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাঃ)

১৮১৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল আল মুযানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, উভয় আযানের (আযান ও ইকামত) মাঝে নামায (নফল) রয়েছে। তিনি এ কথাটি তিনবার বলেছেন। তৃতীয়বারে বলেছেন, যে ব্যক্তি এ নামায আদায় করতে ইচ্ছুক হয়।

১৮১৪

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . مِثْلَهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ فِي الرَّابِعَةِ " لِمَنْ شَاءَ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাঃ)

১৮১৪। আবু বকর ইবনে শায়বা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি চতূর্থবারে বলেছেন, ″যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে।″

১৯. ভয়-ভীতিকালে নামায আদায়ের পদ্ধতি

باب صَلاَةِ الْخَوْفِ

১৮১৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْخَوْفِ بِإِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ رَكْعَةً وَالطَّائِفَةُ الأُخْرَى مُوَاجِهَةُ الْعَدُوِّ ثُمَّ انْصَرَفُوا وَقَامُوا فِي مَقَامِ أَصْحَابِهِمْ مُقْبِلِينَ عَلَى الْعَدُوِّ وَجَاءَ أُولَئِكَ ثُمَّ صَلَّى بِهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَكْعَةً ثُمَّ سَلَّمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَضَى هَؤُلاَءِ رَكْعَةً وَهَؤُلاَءِ رَكْعَةً .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৮১৫। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শংকার সময় দুই দলের একটি দলকে নিয়ে এক রাকআত নামায আদায় করলেন এবং অপর দলটি শক্রর মুখোমুখি থাকল। এরপর প্রথম দল ফিরে গিয়ে তাদের সাথীদের স্থানে অবস্থান গ্রহণ করে শক্রর মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ালেন এবং দ্বিতীয় দলটি আসল। তখন নবী (ﷺ) তাদেরকে নিয়ে সালাম ফিরালেন। তারপর এদল এক রাকআত আদায় করলেন এবং ঐ দল আরেক রাক’আত আদায় করলেন।

১৮১৬

وَحَدَّثَنِيهِ أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ يُحَدِّثُ عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْخَوْفِ وَيَقُولُ صَلَّيْتُهَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . بِهَذَا الْمَعْنَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৮১৬। আবুর রাবী যাহরানী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর শংকাকালীন নামাযের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলতেন যে, ″আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সঙ্গে এ নামায আদায় করেছি।″ উপরোক্ত বর্ণনানুযায়ী।

১৮১৭

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُوسَى بْنِ، عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْخَوْفِ فِي بَعْضِ أَيَّامِهِ فَقَامَتْ طَائِفَةٌ مَعَهُ وَطَائِفَةٌ بِإِزَاءِ الْعَدُوِّ فَصَلَّى بِالَّذِينَ مَعَهُ رَكْعَةً ثُمَّ ذَهَبُوا وَجَاءَ الآخَرُونَ فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً ثُمَّ قَضَتِ الطَّائِفَتَانِ رَكْعَةً رَكْعَةً - قَالَ - وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ فَإِذَا كَانَ خَوْفٌ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَصَلِّ رَاكِبًا أَوْ قَائِمًا تُومِئُ إِيمَاءً .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৮১৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক যুদ্ধে ভয় ভীতির মধ্যে সালাতুল-খাওফ আদায় করলেন। তখন একটি দল তাঁর সাথে নামাযে দাঁড়ালেন এবং অন্য দল শক্রর মুকাবিলায় অবস্থান নিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সঙ্গে যারা ছিলেন তাদের নিয়ে এক রাক’আত আদায় করলেন। এরপর তারা চলে গেলেন এবং অপর দল আগমন করলে তাঁদেরকে নিয়েও এক রাক’আত নামায আদায় করলেন। এরপর উভয় দল এক এক রাকআত আদায় করলেন। রাবী বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) আরো বলেন, যখন ভয়-তীতি অত্যধিক হয়ে পড়ে তখন কোন বাহনে আরোহণ অবস্থায় অথবা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় ইশারায় নামায আদায় করে নেবে।

১৮১৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْخَوْفِ فَصَفَّنَا صَفَّيْنِ صَفٌّ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْعَدُوُّ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ فَكَبَّرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَكَبَّرْنَا جَمِيعًا ثُمَّ رَكَعَ وَرَكَعْنَا جَمِيعًا ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ وَرَفَعْنَا جَمِيعًا ثُمَّ انْحَدَرَ بِالسُّجُودِ وَالصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ وَقَامَ الصَّفُّ الْمُؤَخَّرُ فِي نَحْرِ الْعَدُوِّ فَلَمَّا قَضَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم السُّجُودَ وَقَامَ الصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ انْحَدَرَ الصَّفُّ الْمُؤَخَّرُ بِالسُّجُودِ وَقَامُوا ثُمَّ تَقَدَّمَ الصَّفُّ الْمُؤَخَّرُ وَتَأَخَّرَ الصَّفُّ الْمُقَدَّمُ ثُمَّ رَكَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَرَكَعْنَا جَمِيعًا ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ وَرَفَعْنَا جَمِيعًا ثُمَّ انْحَدَرَ بِالسُّجُودِ وَالصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ الَّذِي كَانَ مُؤَخَّرًا فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى وَقَامَ الصَّفُّ الْمُؤَخَّرُ فِي نُحُورِ الْعَدُوِّ فَلَمَّا قَضَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم السُّجُودَ وَالصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ انْحَدَرَ الصَّفُّ الْمُؤَخَّرُ بِالسُّجُودِ فَسَجَدُوا ثُمَّ سَلَّمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَسَلَّمْنَا جَمِيعًا . قَالَ جَابِرٌ كَمَا يَصْنَعُ حَرَسُكُمْ هَؤُلاَءِ بِأُمَرَائِهِمْ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৮১৮। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে সালাতুল খাওফে হাযির ছিলাম। তিনি আমাদের দু’দলে বিভক্ত করলেন। এক দল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পেছনে। আর শক্র ছিল আমাদের ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাঝখানে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকবীর বললেন, আমরাও একত্রে তাকবীর বললাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকু’ করলেন এবং আমরাও একত্রে রুকু’ করলাম। এরপর তিনি রুকু’ হতে মাথা উঠালে আমরাও সকলে মাথা উঠালাম। এরপর তিনি সিজদায় গেলেন এবং তার সঙ্গে যে দলটি ছিল, সে দলটিও। তাঁর পিছনের দল শক্রর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকলেন।

নবী (ﷺ) যখন সিজদা সমাপ্ত করলেন এবং তাঁর সংলগ্ন পেছনের দলটি দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন পেছনের দলটি সিজদায় গেল। এরপর তারা দাঁড়াল। অতঃপর পেছনের দলটি সামনে গেল এবং সামনের দলটি পেছনে এল। এরপর নবী(ﷺ) রুকু’ করলেন এবং আমরাও সবাই রুকু’ করলাম। এরপর তিনি রুকু’ থেকে মাথা উঠালেন। আমরাও মাথা উঠালাম। এরপর তিনি সিজদায় গেলেন এবং তাঁর সংলগ্ন যারা প্রথম রাকআতে পেছনে ছিলেন তাঁরাও। আর পেছনের দলটি শক্রর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকলেন যখন নবী (ﷺ) এবং তাঁর সংলগ্ন দল সিজদা সমাপন করলেন, তখন পেছনের দলটি সিজদায় গেল এবং তারা সকলে এভাবে সিজদা করল। এরপর নবী (ﷺ) ও আমরা সকলে সালাম ফিরালাম। জাবির (রাযিঃ) বলেন, যেমন তোমাদের প্রহরীগণ তাদের আমীরগণের পাহারা দেয়।
১৮১৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَوْمًا مِنْ جُهَيْنَةَ فَقَاتَلُونَا قِتَالاً شَدِيدًا فَلَمَّا صَلَّيْنَا الظُّهْرَ قَالَ الْمُشْرِكُونَ لَوْ مِلْنَا عَلَيْهِمْ مَيْلَةً لاَقْتَطَعْنَاهُمْ . فَأَخْبَرَ جِبْرِيلُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَلِكَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - وَقَالُوا إِنَّهُ سَتَأْتِيهِمْ صَلاَةٌ هِيَ أَحَبُّ إِلَيْهِمْ مِنَ الأَوْلاَدِ فَلَمَّا حَضَرَتِ الْعَصْرُ - قَالَ - صَفَّنَا صَفَّيْنِ وَالْمُشْرِكُونَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ - قَالَ - فَكَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَبَّرْنَا وَرَكَعَ فَرَكَعْنَا ثُمَّ سَجَدَ وَسَجَدَ مَعَهُ الصَّفُّ الأَوَّلُ فَلَمَّا قَامُوا سَجَدَ الصَّفُّ الثَّانِي ثُمَّ تَأَخَّرَ الصَّفُّ الأَوَّلُ وَتَقَدَّمَ الصَّفُّ الثَّانِي فَقَامُوا مَقَامَ الأَوَّلِ فَكَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَبَّرْنَا وَرَكَعَ فَرَكَعْنَا ثُمَّ سَجَدَ وَسَجَدَ مَعَهُ الصَّفُّ الأَوَّلُ وَقَامَ الثَّانِي فَلَمَّا سَجَدَ سَجَدَ الصَّفُّ الثَّانِي ثُمَّ جَلَسُوا جَمِيعًا سَلَّمَ عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ ثُمَّ خَصَّ جَابِرٌ أَنْ قَالَ كَمَا يُصَلِّي أُمَرَاؤُكُمْ هَؤُلاَءِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৮১৯। আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনূস (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যুহায়না গোত্রের একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে যুদ্ধ করেছি। তারা আমাদের সাথে প্রচন্ড যুদ্ধে লিপ্ত হয়। আমরা যখন যোহরের নামায আদায় করে নিলাম তখন মুশরিকরা বলতে লাগল, আমরা যদি এক যোগে আক্রমণ করতাম তাহলে মুসলমানদেরকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারতাম। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ সংবাদ দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে জানালেন। তিনি বলেন, মুশরিকরা আরো বলেছে যে, মুসলমানদের নিকট এমন একটি নামাযের সময় উপস্থিত হচ্ছে যে নামায তাদের নিকট নিজেদের সন্তান থেকেও অধিক প্রিয়। তিনি বলেন, যখন আসরের সময় হল, তখন তিনি আমাদের- দু’ কাতারে বিভক্ত করলেন। আর মুশরিকরা ছিল আমাদের এবং কিবলার মাঝখানে।

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকবীর বললেন, আমরাও তাকবীর বললাম। তিনি রুকু’ করলেন, আমরাও রুকু’ করলাম। এরপর তিনি সিজদা করলেন। তাঁর সাথে প্রথম সারির লোকেরাও সিজদা করল। এরপর প্রথম সারির লোকেরা দাঁড়িয়ে থাকলেন। আর পেছনের সারির লোকেরা সিজদা করলেন। এরপর প্রথম সারির লোকেরা পেছনে এলেন এবং দ্বিতীয় সারির লোকেরা সামনে আসলেন এবং প্রথম কাতারের লোকদের স্থানে দাঁড়াল। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকবীর বললেন, আমরাও তাকবীর বললাম। তিনি রুকু’ করলেন আমরাও রুকু’ করলাম। এরপর তাঁর সাথে প্রথম সারির লোকেরা সিজদা করলেন এবং পিছনের সারির লোকেরা দাঁড়িয়ে গেল। অতঃপর যখন দ্বিতীয় সারির লোকেরা সিজদা করল, তারপর সকলে বসে গেল এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সবাইকে নিয়ে সালাম ফিরালেন।

আবু যুবাইর (রাহঃ) বলেন, এরপর জাবির (রাযিঃ) বিশেষভাবে বললেন, যেভাবে তোমাদের বর্তমানকালের আমীরগণ নামায আদায় করেন।
১৮২০

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ، الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِأَصْحَابِهِ فِي الْخَوْفِ فَصَفَّهُمْ خَلْفَهُ صَفَّيْنِ فَصَلَّى بِالَّذِينَ يَلُونَهُ رَكْعَةً ثُمَّ قَامَ فَلَمْ يَزَلْ قَائِمًا حَتَّى صَلَّى الَّذِينَ خَلْفَهُمْ رَكْعَةً ثُمَّ تَقَدَّمُوا وَتَأَخَّرَ الَّذِينَ كَانُوا قُدَّامَهُمْ فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً ثُمَّ قَعَدَ حَتَّى صَلَّى الَّذِينَ تَخَلَّفُوا رَكْعَةً ثُمَّ سَلَّمَ .

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

১৮২০। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয আম্বারী (রাহঃ) ......... সাহল ইবনে আবু হাসমাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সাহাবীদেরকে নিয়ে সালাতুল খাওফ আদায় করলেন। তাদেরকে তাঁর পেছনে দু’ কাতারে দাঁড় করালেন। তার সংলগ্ন কাতারে লোকদের নিয়ে তিনি এক রাকআত নামায আদায় করলেন। তারপর তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন। তাঁর পিছনের কাতারের লোকেরা এক রাকআত নামায আদায় না করা পর্যন্ত তিনি দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর তাঁরা সন্মুখে অগ্রসর হলেন এবং যারা সম্মুখ ভাগে ছিলেন তারা পিছনে সরে এল। তিনি তাঁদেরকে নিয়ে আরেক রাক’আত নামায আদায় করলেন এবং পেছনে অবস্থানকারীগণ আরেক রাকআত আদায় না করা পর্যন্ত তিনি বসে থাকলেন। তারপর তিনি সালাম ফিরালেন।

১৮২১

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ، عَنْ صَالِحِ، بْنِ خَوَّاتٍ عَمَّنْ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ ذَاتِ الرِّقَاعِ صَلاَةَ الْخَوْفِ أَنَّ طَائِفَةً صَفَّتْ مَعَهُ وَطَائِفَةٌ وِجَاهَ الْعَدُوِّ . فَصَلَّى بِالَّذِينَ مَعَهُ رَكْعَةً ثُمَّ ثَبَتَ قَائِمًا وَأَتَمُّوا لأَنْفُسِهِمْ . ثُمَّ انْصَرَفُوا فَصَفُّوا وِجَاهَ الْعَدُوِّ وَجَاءَتِ الطَّائِفَةُ الأُخْرَى فَصَلَّى بِهِمُ الرَّكْعَةَ الَّتِي بَقِيَتْ ثُمَّ ثَبَتَ جَالِسًا وَأَتَمُّوا لأَنْفُسِهِمْ ثُمَّ سَلَّمَ بِهِمْ .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

১৮২১। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... সালিহ ইবনে খাওওয়াত (রাহঃ) যাতূর রিকার যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে সালাতুল খাওফ আদায়কারী জনৈক সাহাবী সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে একটি দল কাতারে দাঁড়ান এবং অন্য দল শক্রর মুখোমুখি ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সঙ্গে যারা কাতারে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁদেরকে নিয়ে এক রাক’আত নামায আদায় করলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে থাকলেন এবং তাঁরা নিজেরা তাদের নামায পূর্ণ করল। এরপর তাঁরা চলে গেলেন এবং কাতারবন্দী হয়ে শক্রর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেলেন। অতঃপর দ্বিতীয় দল এল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে নিয়ে অবশিষ্ট রাকআতটি আদায় করলেন। এরপর তিনি বসে থাকলেন এবং তাঁরা তাঁদের নামায পূর্ণ করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এদের নিয়ে সালাম ফিরালেন।

১৮২২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ أَقْبَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا كُنَّا بِذَاتِ الرِّقَاعِ قَالَ كُنَّا إِذَا أَتَيْنَا عَلَى شَجَرَةٍ ظَلِيلَةٍ تَرَكْنَاهَا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - فَجَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَسَيْفُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُعَلَّقٌ بِشَجَرَةٍ فَأَخَذَ سَيْفَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاخْتَرَطَهُ فَقَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَخَافُنِي قَالَ " لاَ " . قَالَ فَمَنْ يَمْنَعُكَ مِنِّي قَالَ " اللَّهُ يَمْنَعُنِي مِنْكَ " . قَالَ فَتَهَدَّدَهُ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَغْمَدَ السَّيْفَ وَعَلَّقَهُ - قَالَ - فَنُودِيَ بِالصَّلاَةِ فَصَلَّى بِطَائِفَةٍ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ تَأَخَّرُوا وَصَلَّى بِالطَّائِفَةِ الأُخْرَى رَكْعَتَيْنِ قَالَ فَكَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ وَلِلْقَوْمِ رَكْعَتَانِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৮২২। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাযিঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে যুদ্ধে যাত্রা করলাম এবং যাতুর-রিকা নামক স্থানে পৌহুলাম। তিনি বলেন আমাদের অবস্থা এরূপ ছিল যে, আমরা যখন কোন ছায়াযুক্ত গাছের কাছে পৌছতাম তখন আমরা তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য ছেড়ে দিতাম। রাবী বলেন, হঠাৎ মুশরিকদের এক ব্যক্তি এল। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তরবারী গাছে ঝুলানো ছিল। মুশরিক লোকটি নবী (ﷺ) এর তরবারীটি হাতে তুলে নিয়ে খাপ থেকে বের করে নিল এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলল, তুমি কি আমাকে ভয় কর? তিনি বললেন, না।

মুশরিক বলল, তোমাকে আমার থেকে কে রক্ষা করবে? তিনি বললেন, আল্লাহ আমাকে তোমার হাত থেকে রক্ষা করবেন। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীগণ ঐ ব্যক্তিকে তাড়া দিলেন। সে তরবারী খাপে ডুকিয়ে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখল। রাবী বলেন, ইতিমধ্যে নামাযের জন্য আযান দেওয়া হল। তখন একটি দলকে নিয়ে তিনি দু’রাকআত নামায আদায় করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অপর দলকে নিয়ে দু-রাকআত নামায আদায় করলেন। রাবী বলেন, অতএব রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হল চার রাক’আত এবং সাহাবীগণের হল দু’ রাক’আত।
১৮২৩

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ حَسَّانَ - حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، - وَهُوَ ابْنُ سَلاَّمٍ - أَخْبَرَنِي يَحْيَى، أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ جَابِرًا، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْخَوْفِ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِإِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ صَلَّى بِالطَّائِفَةِ الأُخْرَى رَكْعَتَيْنِ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ وَصَلَّى بِكُلِّ طَائِفَةٍ رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৮২৩। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান দারিমী (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে নামাযূল খাওফ আদায় করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু’ দলের একটি দলকে নিয়ে দু-রাক’আত নামায আদায় করলেন। এরপর আরেক দল নিয়ে দু’রাক’আত নামায আদায় করলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু’ রাক’আত করে চার রাকআত নামায আদায় করলেন এবং প্রত্যেক দলকে নিয়ে আদায় করলেন দু’রাকআত।