كتاب الزهد والرقائق

৫৬- দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও হৃদয়গ্রাহী বিষয়াদির বর্ণনা

অধ্যায় ৫৬ · ৯৩ টি হাদীস

অধ্যায়ঃ যুহদ ও দুনিয়ার প্রতি অনীহা

كتاب الزهد والرقائق

৭১৪৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي الدَّرَاوَرْدِيَّ - عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১৪৯। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা এবং কাফিরের জন্য জান্নাত (স্বরূপ)।

শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ

৭১৫০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ بِلاَلٍ - عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِالسُّوقِ دَاخِلاً مِنْ بَعْضِ الْعَالِيَةِ وَالنَّاسُ كَنَفَتَهُ فَمَرَّ بِجَدْىٍ أَسَكَّ مَيِّتٍ فَتَنَاوَلَهُ فَأَخَذَ بِأُذُنِهِ ثُمَّ قَالَ " أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنَّ هَذَا لَهُ بِدِرْهَمٍ " . فَقَالُوا مَا نُحِبُّ أَنَّهُ لَنَا بِشَىْءٍ وَمَا نَصْنَعُ بِهِ قَالَ " أَتُحِبُّونَ أَنَّهُ لَكُمْ " . قَالُوا وَاللَّهِ لَوْ كَانَ حَيًّا كَانَ عَيْبًا فِيهِ لأَنَّهُ أَسَكُّ فَكَيْفَ وَهُوَ مَيِّتٌ فَقَالَ " فَوَاللَّهِ لَلدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ مِنْ هَذَا عَلَيْكُمْ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৭১৫০। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা ইবনে কা’নাব (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলীয়া (অঞ্চল) হতে মদীনায় আসার পথে এক বাজার দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উভয় পার্শ্বে বেশ লোকজন ছিল। যেতে যেতে তিনি ক্ষুদ্র কান বিশিষ্ট একটি মৃত বকরীর বাচ্চার নিকট পৌছলেন। অতঃপর তিনি এর কান ধরে বললেন, তোমাদের কেউ কি এক দিরহামের বিনিময়ে এটা নিতে আগ্রহী হবে। তখন উপস্থিত লোকেরা বললেন, কোন কিছুর বিনিময়ে আমরা উহা নিতে আগ্রহী নই এবং এটি নিয়ে আমরা কি করব? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ (বিনা পয়সায়) তোমরা কি উহা নিতে আগ্রহী? তারা বললেন, এ যদি জীবিত তে তবুও তো এটা দোষী। কেননা এর কান হচ্ছে ক্ষুদ্র ,ক্ষুদ্র। আর এখন তো তা মৃত, কিভাবে আমরা তা গ্রহণ করব? এরপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! এ তোমাদের নিকট যতটা তুচ্ছ, আল্লাহর নিকট দুনিয়া এর চেয়েও অধিক তুচ্ছ।

৭১৫১

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعَنَزِيُّ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَرْعَرَةَ السَّامِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، - يَعْنِيَانِ الثَّقَفِيَّ - عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِهِ غَيْرَ أَنَّ فِي حَدِيثِ الثَّقَفِيِّ فَلَوْ كَانَ حَيًّا كَانَ هَذَا السَّكَكُ بِهِ عَيْبًا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৭১৫১। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না আনাযী ও ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আর’আরা সামী (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে সাকাফীর হাদীসের মধ্যে আছে যে, এটি যদি জীবিতও হত, তবুও ক্ষুদ্র কান একটি দোষনীয় ব্যাপার।

৭১৫২

حَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَقْرَأُ ( أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ) قَالَ " يَقُولُ ابْنُ آدَمَ مَالِي مَالِي - قَالَ - وَهَلْ لَكَ يَا ابْنَ آدَمَ مِنْ مَالِكَ إِلاَّ مَا أَكَلْتَ فَأَفْنَيْتَ أَوْ لَبِسْتَ فَأَبْلَيْتَ أَوْ تَصَدَّقْتَ فَأَمْضَيْتَ " .

বর্ণনাকারী: মুতাররিফ (রহঃ)

৭১৫২। হাদ্দাব ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... মুতাররিফ (রাহঃ) এর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) আমি নবী (ﷺ) এর নিকট আসলাম। তখন তিনি أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ পাঠ করছিলেন। তিনি বলেন, আদম সন্তানগণ বলে, আমার মাল আমার মাল। বস্তুতঃ হে আদম সন্তান! তোমার মাল তো তা-ই যা তুমি খেয়েছো ও শেষ করে দিয়েছে, অথবা পরিধান করেছ ও পুরাতন করে ফেলেছ অথবা দান করেছ ও কার্যকর (সঞ্চয়) করেছ।

৭১৫৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، وَقَالاَ، جَمِيعًا حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا أَبِي كُلُّهُمْ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ انْتَهَيْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . فَذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ هَمَّامٍ .

বর্ণনাকারী: মুতাররিফ (রহঃ)

৭১৫৩। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (অন্য সনদে) ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... মুতাররিফ এর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী (ﷺ) এর নিকট গেলাম ...... অতঃপর তিনি হাম্মামের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৭১৫৪
حَدَّثَنِي سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ مَيْسَرَةَ، عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَقُولُ الْعَبْدُ مَالِي مَالِي إِنَّمَا لَهُ مِنْ مَالِهِ ثَلاَثٌ مَا أَكَلَ فَأَفْنَى أَوْ لَبِسَ فَأَبْلَى أَوْ أَعْطَى فَاقْتَنَى وَمَا سِوَى ذَلِكَ فَهُوَ ذَاهِبٌ وَتَارِكُهُ لِلنَّاسِ " .
وَحَدَّثَنِيهِ أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنِي الْعَلاَءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১৫৪। সুওয়ায়দ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ বান্দাগণ বলে, আমার মাল আমার মাল। অথচ তিনটিই হল তার মাল, যা সে ভক্ষণ করল এবং শেষ করে দিল। অথবা যা সে পরিধান করল এবং পুরাতন করে দিল। কিংবা যা সে দান করল এবং সঞ্চয় করল। এ ছাড়া বাকীগুলো শেষ হয়ে যাবে এবং মানুষের জন্য রেখে যেতে হবে।

আবু বকর ইবনে ইসহাক (রাহঃ) ......... আলা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৭১৫৫

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، كِلاَهُمَا عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَتْبَعُ الْمَيِّتَ ثَلاَثَةٌ فَيَرْجِعُ اثْنَانِ وَيَبْقَى وَاحِدٌ يَتْبَعُهُ أَهْلُهُ وَمَالُهُ وَعَمَلُهُ فَيَرْجِعُ أَهْلُهُ وَمَالُهُ وَيَبْقَى عَمَلُهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭১৫৫। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তিনটি বস্তু মৃত ব্যক্তির সঙ্গীরূপে তার সাথে যায়। দুটি তো ফিরে আসে এবং একটি (তার সঙ্গে) থেকে যায়। সঙ্গে গমন করে আত্মীয় স্বজন ধন-সম্পদ এবং তার আমল। তার জাতি গোষ্ঠী ও মাল-দৌলত ফিরে আসে আর থেকে যায় শুধু আমল।

৭১৫৬

حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ حَرْمَلَةَ بْنِ عِمْرَانَ التُّجِيبِيَّ - أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَمْرَو بْنَ عَوْفٍ وَهُوَ حَلِيفُ بَنِي عَامِرِ بْنِ لُؤَىٍّ وَكَانَ شَهِدَ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ إِلَى الْبَحْرَيْنِ يَأْتِي بِجِزْيَتِهَا وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هُوَ صَالَحَ أَهْلَ الْبَحْرَيْنِ وَأَمَّرَ عَلَيْهِمُ الْعَلاَءَ بْنَ الْحَضْرَمِيِّ فَقَدِمَ أَبُو عُبَيْدَةَ بِمَالٍ مِنَ الْبَحْرَيْنِ فَسَمِعَتِ الأَنْصَارُ بِقُدُومِ أَبِي عُبَيْدَةَ فَوَافَوْا صَلاَةَ الْفَجْرِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم انْصَرَفَ فَتَعَرَّضُوا لَهُ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ رَآهُمْ ثُمَّ قَالَ " أَظُنُّكُمْ سَمِعْتُمْ أَنَّ أَبَا عُبَيْدَةَ قَدِمَ بِشَىْءٍ مِنَ الْبَحْرَيْنِ " . فَقَالُوا أَجَلْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " " فَأَبْشِرُوا وَأَمِّلُوا مَا يَسُرُّكُمْ فَوَاللَّهِ مَا الْفَقْرَ أَخْشَى عَلَيْكُمْ . وَلَكِنِّي أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَنْ تُبْسَطَ الدُّنْيَا عَلَيْكُمْ كَمَا بُسِطَتْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَتَنَافَسُوهَا كَمَا تَنَافَسُوهَا وَتُهْلِكَكُمْ كَمَا أَهْلَكَتْهُمْ " .

বর্ণনাকারী: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ)

৭১৫৬। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) সূত্রে বনু আমের ইবনে লুওয়াই এর চুক্তিবদ্ধ মিত্র আমর ইবনে আউফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে বদর যুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু উবাইদা ইবনুল জাবরাহ (রাযিঃ) কে বাহরাইনে জিযিয়া আদায় করতে পাঠিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাহরাইনবাসীদের সঙ্গে সন্ধি করেছিলেন এবং তাদের জন্য আলা ইবনে হাযরামী (রাযিঃ) কে শাসনকর্তা নিযুক্ত করেছিলেন। তারপর আবু উবাইদা (রাযিঃ) বাহরাইন থেকে মাল নিয়ে এলে, আনসার সাহাবীগণ তার আগমন খবর শুনলো, এরপর তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ফজরের নামায আদায় করলো।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযান্তে মুখ ফিরিয়ে বসলে তারা তাঁর নিকট হাযির হলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে দেখে মুচকি হেসে বললেন, আমার মনে হচ্ছে আবু উবাইদা বাহরাইন থেকে কিছু নিয়ে এসেছে, এ খবর তোমরা শুনেছ? তারা বললেন, জ্বী, হ্যাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ তাহলে তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর এবং তা তোমাদেরকে খুশী করবে আশা রাখি। আল্লাহর কসম! তোমাদের উপর দারিদ্র্য আসবে এ ভয় আমি করিনা। আমি তোমাদের সম্পর্কে এ ভয় করি যে, যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর দুনিয়া প্রশস্ত হয়ে গিয়েছিল, তেমনিভাবে তোমাদের উপরও দুনিয়া প্রশস্ত হয়ে যাবে। অতঃপর তোমরা তেমনি প্রতিযোগিতা করবে যেমন করে তারা প্রতিযোগিতা করেছে। অবশেষে তোমাদেরকেও ধ্বংস করে দিবে যেমনিভাবে তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।
৭১৫৭

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، جَمِيعًا عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، بْنِ سَعْدٍ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، كِلاَهُمَا عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِإِسْنَادِ يُونُسَ وَمِثْلِ حَدِيثِهِ غَيْرَ أَنَّ فِي حَدِيثِ صَالِحٍ " وَتُلْهِيَكُمْ كَمَا أَلْهَتْهُمْ " .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৭১৫৭। হাসান হুলওয়ানী ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (অন্য সনদে) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান দারেমী (রাহঃ) ......... যুহরী (রাহঃ) থেকে ইউনুসের সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে সালিহ (রাহঃ) এর হাদীসের মধ্যে وَتُهْلِكَكُمْ كَمَا أَهْلَكَتْهُمْ এর স্থলে وَتُلْهِيَكُمْ كَمَا أَلْهَتْهُمْ অবশেষে তোমাদেরকে নিমগ্ন (গাফিল) করে দিবে যেমন তাদের নিমগ্ন (গাফিল) করে দিয়েছে। কথাটি বর্ণিত আছে।

৭১৫৮

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ الْعَامِرِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ، الْحَارِثِ أَنَّ بَكْرَ بْنَ سَوَادَةَ، حَدَّثَهُ أَنَّ يَزِيدَ بْنَ رَبَاحٍ - هُوَ أَبُو فِرَاسٍ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ - حَدَّثَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " إِذَا فُتِحَتْ عَلَيْكُمْ فَارِسُ وَالرُّومُ أَىُّ قَوْمٍ أَنْتُمْ " . قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ نَقُولُ كَمَا أَمَرَنَا اللَّهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَوْ غَيْرَ ذَلِكَ تَتَنَافَسُونَ ثُمَّ تَتَحَاسَدُونَ ثُمَّ تَتَدَابَرُونَ ثُمَّ تَتَبَاغَضُونَ أَوْ نَحْوَ ذَلِكَ ثُمَّ تَنْطَلِقُونَ فِي مَسَاكِينِ الْمُهَاجِرِينَ فَتَجْعَلُونَ بَعْضَهُمْ عَلَى رِقَابِ بَعْضٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৭১৫৮। আমর ইবনে আস সাওয়াদ আমেরী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুূল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন রোম ও পারস্য বিজিত হবে তখন তোমরা কোন (কেমন) সম্প্রদায় হবে? জবাবে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহ আমাদেরকে যেরূপ আদেশ দিয়েছেন আমরা তাই বলব। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ অন্য কিছু (কি বলবে না)? তখন তোমরা পরস্পর ঈর্ষা করবে, তারপর হিংসা করবে অতঃপর সম্পর্ক ছিন্ন করবে, এরপর শক্রতা করবে। অথবা এরূপ কিছু কথা বলেছেন। অতঃপর তোমরা নিঃস্ব মুহাজির লোকদের নিকট যাবে এবং এক জনকে অপরের শাসক বানিয়ে দিবে।

৭১৫৯

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا وَقَالَ، يَحْيَى أَخْبَرَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِزَامِيُّ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا نَظَرَ أَحَدُكُمْ إِلَى مَنْ فُضِّلَ عَلَيْهِ فِي الْمَالِ وَالْخَلْقِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى مَنْ هُوَ أَسْفَلَ مِنْهُ مِمَّنْ فُضِّلَ عَلَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১৫৯। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া ও কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি মাল ও আকৃতির দিক থেকে তার তুলনায় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির প্রতি দৃষ্টি করে তবে সে যেন সঙ্গে সঙ্গে তার তুলনায় নিম্নস্তরের ব্যক্তিদের প্রতি লক্ষ্য করে, যাদের উপর তাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

৭১৬০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ حَدِيثِ أَبِي الزِّنَادِ سَوَاءً .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১৬০। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে আবু যিনাদের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৭১৬১

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَوَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " انْظُرُوا إِلَى مَنْ أَسْفَلَ مِنْكُمْ وَلاَ تَنْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَكُمْ فَهُوَ أَجْدَرُ أَنْ لاَ تَزْدَرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ " . قَالَ أَبُو مُعَاوِيَةَ " عَلَيْكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১৬১। যুবাইর ইবনে হারব (অন্য সনদে) আবু কুরায়ব (অন্য সনদে) আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের তুলনায় নিম্নস্তরের লোকদের প্রতি নযর কর। তবে তোমাদের তুলনায় উপরের স্তরের লোকদের প্রতি নযর করো না। কেননা আল্লাহর নিআমতকে তুচ্ছ না ভাবার এটাই উত্তম পন্থা। আবু মুআবিয়ার বর্ণনায় عَلَيْكُمْ (শব্দটি অতিরিক্ত) বলেছেন।

৭১৬২

حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي عَمْرَةَ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ ثَلاَثَةً فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ أَبْرَصَ وَأَقْرَعَ وَأَعْمَى فَأَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَبْتَلِيَهُمْ فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ مَلَكًا فَأَتَى الأَبْرَصَ فَقَالَ أَىُّ شَىْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ قَالَ لَوْنٌ حَسَنٌ وَجِلْدٌ حَسَنٌ وَيَذْهَبُ عَنِّي الَّذِي قَدْ قَذِرَنِي النَّاسُ . قَالَ فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ قَذَرُهُ وَأُعْطِيَ لَوْنًا حَسَنًا وَجِلْدًا حَسَنًا قَالَ فَأَىُّ الْمَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ قَالَ الإِبِلُ - أَوْ قَالَ الْبَقَرُ شَكَّ إِسْحَاقُ - إِلاَّ أَنَّ الأَبْرَصَ أَوِ الأَقْرَعَ قَالَ أَحَدُهُمَا الإِبِلُ وَقَالَ الآخَرُ الْبَقَرُ - قَالَ فَأُعْطِيَ نَاقَةً عُشَرَاءَ فَقَالَ بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِيهَا - قَالَ - فَأَتَى الأَقْرَعَ فَقَالَ أَىُّ شَىْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ قَالَ شَعَرٌ حَسَنٌ وَيَذْهَبُ عَنِّي هَذَا الَّذِي قَذِرَنِي النَّاسُ . قَالَ فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ وَأُعْطِيَ شَعَرًا حَسَنًا - قَالَ - فَأَىُّ الْمَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ قَالَ الْبَقَرُ . فَأُعْطِيَ بَقَرَةً حَامِلاً فَقَالَ بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِيهَا - قَالَ - فَأَتَى الأَعْمَى فَقَالَ أَىُّ شَىْءٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ قَالَ أَنْ يَرُدَّ اللَّهُ إِلَىَّ بَصَرِي فَأُبْصِرَ بِهِ النَّاسَ - قَالَ - فَمَسَحَهُ فَرَدَّ اللَّهُ إِلَيْهِ بَصَرَهُ . قَالَ فَأَىُّ الْمَالِ أَحَبُّ إِلَيْكَ قَالَ الْغَنَمُ . فَأُعْطِيَ شَاةً وَالِدًا فَأُنْتِجَ هَذَانِ وَوَلَّدَ هَذَا - قَالَ - فَكَانَ لِهَذَا وَادٍ مِنَ الإِبِلِ وَلِهَذَا وَادٍ مِنَ الْبَقَرِ وَلِهَذَا وَادٍ مِنَ الْغَنَمِ . قَالَ ثُمَّ إِنَّهُ أَتَى الأَبْرَصَ فِي صُورَتِهِ وَهَيْئَتِهِ فَقَالَ رَجُلٌ مِسْكِينٌ قَدِ انْقَطَعَتْ بِيَ الْحِبَالُ فِي سَفَرِي فَلاَ بَلاَغَ لِيَ الْيَوْمَ إِلاَّ بِاللَّهِ ثُمَّ بِكَ أَسْأَلُكَ بِالَّذِي أَعْطَاكَ اللَّوْنَ الْحَسَنَ وَالْجِلْدَ الْحَسَنَ وَالْمَالَ بَعِيرًا أَتَبَلَّغُ عَلَيْهِ فِي سَفَرِي . فَقَالَ الْحُقُوقُ كَثِيرَةٌ . فَقَالَ لَهُ كَأَنِّي أَعْرِفُكَ أَلَمْ تَكُنْ أَبْرَصَ يَقْذَرُكَ النَّاسُ فَقِيرًا فَأَعْطَاكَ اللَّهُ فَقَالَ إِنَّمَا وَرِثْتُ هَذَا الْمَالَ كَابِرًا عَنْ كَابِرٍ . فَقَالَ إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَصَيَّرَكَ اللَّهُ إِلَى مَا كُنْتَ . قَالَ وَأَتَى الأَقْرَعَ فِي صُورَتِهِ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ مَا قَالَ لِهَذَا وَرَدَّ عَلَيْهِ مِثْلَ مَا رَدَّ عَلَى هَذَا فَقَالَ إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَصَيَّرَكَ اللَّهُ إِلَى مَا كُنْتَ . قَالَ وَأَتَى الأَعْمَى فِي صُورَتِهِ وَهَيْئَتِهِ فَقَالَ رَجُلٌ مِسْكِينٌ وَابْنُ سَبِيلٍ انْقَطَعَتْ بِيَ الْحِبَالُ فِي سَفَرِي فَلاَ بَلاَغَ لِيَ الْيَوْمَ إِلاَّ بِاللَّهِ ثُمَّ بِكَ أَسْأَلُكَ بِالَّذِي رَدَّ عَلَيْكَ بَصَرَكَ شَاةً أَتَبَلَّغُ بِهَا فِي سَفَرِي فَقَالَ قَدْ كُنْتُ أَعْمَى فَرَدَّ اللَّهُ إِلَىَّ بَصَرِي فَخُذْ مَا شِئْتَ وَدَعْ مَا شِئْتَ فَوَاللَّهِ لاَ أَجْهَدُكَ الْيَوْمَ شَيْئًا أَخَذْتَهُ لِلَّهِ فَقَالَ أَمْسِكْ مَالَكَ فَإِنَّمَا ابْتُلِيتُمْ فَقَدْ رُضِيَ عَنْكَ وَسُخِطَ عَلَى صَاحِبَيْكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১৬২। শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, বনী ইসরাঈলের মধ্যে তিন ব্যক্তি ছিল। একজন ছিল কুষ্ঠরোগী, দ্বিতীয় জন টাক মাথা এবং তৃতীয় জন অন্ধ। আল্লাহ তাআলা এ তিনজনকে পরীক্ষা করার ইচ্ছা করলেন। তাই তিনি তাদের নিকট একজন ফিরিশতা পাঠালেন। ফিরিশতা প্রথমে কুষ্ঠরোগীর কাছে আসলেন এবং বললেন, তোমার নিকট সর্বাধিক প্রিয় বস্তু কি? সে বলল, উত্তম রং, উত্তম চর্ম এবং আমার থেকে যেন এ ব্যাধি নিরাময় হয়ে যায়, যার কারণে লোকেরা আমাকে ঘৃণা করে। অতঃপর ফিরিশতা তার শরীরে হাত বুলালেন। এতে তার এ কুৎসিত ব্যাধি নিরাময় হল এবং তাকে উত্তম রং ও উত্তম চর্ম প্রদান করা হল। ফিরিশতা আবার তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার নিকট প্রিয় মাল কি? সে বলল, উট বা গাভী। বর্ণনাকারী ইসহাক সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবে কুষ্ঠরোগী বা টাক মাথা তাদের একজন বলল, উট আর অপর জন বলল গাভী। অতঃপর তাকে গর্ভবতী উট প্রদান করা হল এবং বললেন, আল্লাহ তোমাকে এতে বরকত দান করুন।

এরপর ফিরিশতা টাক মাথা ব্যক্তির নিকট এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার নিকট অধিক প্রিয় বস্তু কি? সে বলল, সুন্দর চুল এবং আমার থেকে যেন এই ব্যাধি নিরাময় হয়ে যায় যার কারণে লোকেরা আমাকে ঘৃণা করছে। ফিরিশতা তার শরীরে হাত বুলালে তার ব্যাধি নিরাময় হয়ে যায়। অতঃপর তাকে প্রদান করা হয় সুন্দর চুল। পুনঃরায় ফিরিশতা তাকে প্রশ্ন করলেন যে, কোন মাল তোমার নিকট অধিক প্রিয়? সে বলল, গাভী। অতঃপর তাকে গর্ভবতী গাভী দান করা হল এবং ফিরিশতা বললেন, আল্লাহ তোমাকে এত বরকত দান করুন।

অতঃপর ফিরিশতা অন্ধের কাছে এসে বললেন, কোন জিনিস তোমার কাছে অধিক প্রিয়। সে বলল আল্লাহ আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিন, যা দিয়ে আমি মানুষদের দেখতে পাব। তিনি বলেন তখন তার চোখের উপর হাত বুলালে আল্লাহ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। এরপর ফিরিশতা পুনরায় তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন মাল তোমার নিকট অধিক প্রিয়? সে বলল, বকরী। তাকে গর্তবতী বকরী দান করা হল। অতঃপর উট, গাভী এবং বকরী সবই বাচ্চা দিল। ফলে তার এক মাঠ উট, তার এক মাঠ গাভী এবং তার এক মাঠ বকরী হয়ে গেল।

অতঃপর ফিরিশতা (অনতিকাল পরে) তার প্রথম আকৃতিতে কুষ্ঠরোগীর নিকট এসে বলল, আমি একজন মিসকীন ও নিঃস্ব ব্যক্তি, সফরে আমার সমস্ত অবলম্বন শেষ হয়ে গিয়েছে। আল্লাহর সাহায্য এবং অতঃপর তোমার সাহায্য ব্যতিরেকে বাড়ী পৌছানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সুতরাং যে আল্লাহ তোমাকে উত্তম রং, সুন্দর চামড়া এবং মাল দান করেছেন তার নামে আমি তোমার নিকট একটি উট প্রার্থনা করছি, যেন এ সফরে আমি তার সাহায্যে বাড়ী পৌছতে পারি। (এ কথা শুনে) সে বলল, দায়-দায়িত্ব (দেনা পাওনা) অনেক বেশী। তখন ফিরিশতা বললেন, আমি তোমাকে চিনি বলে মনে হচ্ছে তুমি কি নিঃস্ব কুষ্ঠরোগী ছিলে না? অতঃপর আল্লাহ তোমাকে সম্পদ দান করেছেন। সে বলল, বাহ! আমরা তো বাপ-দাদার কাল হতেই ক্রমাগত এ সম্পদের ওয়ারিস হয়ে আসছি। অতঃপর ফিরিশতা বললেন, যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও, তবে আল্লাহ তাআলা যেন তোমাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন।

এবার ফিরিশতা তার আকৃতিতে টাক মাথা ব্যক্তির নিকট এসে ঐ ব্যক্তির মত তাকেও বললেন এবং সে-ও প্রথম ব্যক্তির মতই উত্তর দিল। অতঃপর তিনি বললেন, যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও তবে যেন আল্লাহ তাআলা তোমাকে তোমার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন।

এরপর ফিরিশতা তাঁর পূর্বের আকৃতিতে অন্ধ ব্যক্তির নিকট এসে বলল, আমি একজন নিঃস্ব মুসাফির ব্যক্তি। আমার সফরের সমস্ত আসবাব অবলম্বন শেষ হয়ে গিয়েছে। আল্লাহ তাআলা এবং পরে তোমার সহযোগিতা ব্যতীত আজ বাড়ী পৌছা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। যে আল্লাহ তোমাকে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন তার নামে তোমার নিকট আমি একটি বকরী চাই যেন আমি সফর শেষে বাড়ী পৌছতে পারি।

এ কথা শুনে লোকটি বলল, হ্যাঁ, আমি অন্ধ ছিলাম, আল্লাহ আমার দৃষ্টিশক্তি পুনরায় ফিরিয়ে দিয়েছেন। আপনার ইচ্ছামত আপনি নিয়ে যান এবং যা মনে চায় রেখে যান। আল্লাহর কসম! আজ আল্লাহর নামে আপনি যা নিবেন এ ব্যাপারে আমি আপনাকে বাধা দিব না। অতঃপর ফিরিশতা বললেন, তুমি তোমার মাল রেখে দাও। তোমাদের তিন জনের পরীক্ষা হল। আল্লাহ তোমার প্রতি সন্তুষ্ট এবং তোমার অপর দুই সাথীর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন।
৭১৬৩

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، - وَاللَّفْظُ لإِسْحَاقَ - قَالَ عَبَّاسٌ حَدَّثَنَا وَقَالَ، إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا - أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا بُكَيْرُ بْنُ مِسْمَارٍ، حَدَّثَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ كَانَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ فِي إِبِلِهِ فَجَاءَهُ ابْنُهُ عُمَرُ فَلَمَّا رَآهُ سَعْدٌ قَالَ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّ هَذَا الرَّاكِبِ فَنَزَلَ فَقَالَ لَهُ أَنَزَلْتَ فِي إِبِلِكَ وَغَنَمِكَ وَتَرَكْتَ النَّاسَ يَتَنَازَعُونَ الْمُلْكَ بَيْنَهُمْ فَضَرَبَ سَعْدٌ فِي صَدْرِهِ فَقَالَ اسْكُتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْعَبْدَ التَّقِيَّ الْغَنِيَّ الْخَفِيَّ " .

বর্ণনাকারী: আমির ইবন সা'দ (রহঃ)

৭১৬৩। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আব্বাস ইবনে আব্দুল আযীম (রাহঃ) ......... আমের ইবনে সা’দ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা’দ ইবনে ওয়াক্কাস (রাযিঃ) তার উটপালের মাঝে ছিলেন, এমতাবস্থায় তার পুত্র উমর আসল। সা’দ (রাযিঃ) তাকে দেখামাত্রই পাঠ করলেন أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّ هَذَا الرَّاكِبِ অর্থাৎ এই আরোহী ব্যক্তির অকল্যাণ হতে আমি পানাহ চাই। এরপর সে তার সওয়ারী হতে অবতরণ করল এবং বলল আপনি লোকদেরকে ছেড়ে দিয়ে উট এবং বকরীর মাঝে এসে গেছেন কি? অথচ রাজত্ব নিয়ে লোকেরা পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্ত। একথা শুনে সা’দ (রাযিঃ) তার বক্ষে আঘাত করে বললেন, চুপ থাক। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুত্তাকী (আল্লাহভীরু), স্বাবলম্বী লোকালয় হতে নির্জনে বাসকারী বান্দাকে আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন।

৭১৬৪

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ سَمِعْتُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ سَعْدٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَابْنُ، بِشْرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ قَيْسٍ، قَالَ سَمِعْتُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ، يَقُولُ وَاللَّهِ إِنِّي لأَوَّلُ رَجُلٍ مِنَ الْعَرَبِ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَقَدْ كُنَّا نَغْزُو مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا لَنَا طَعَامٌ نَأْكُلُهُ إِلاَّ وَرَقُ الْحُبْلَةِ وَهَذَا السَّمُرُ حَتَّى إِنَّ أَحَدَنَا لَيَضَعُ كَمَا تَضَعُ الشَّاةُ ثُمَّ أَصْبَحَتْ بَنُو أَسَدٍ تُعَزِّرُنِي عَلَى الدِّينِ لَقَدْ خِبْتُ إِذًا وَضَلَّ عَمَلِي وَلَمْ يَقُلِ ابْنُ نُمَيْرٍ إِذًا .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৭১৬৪। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব হারেসী, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। বলেন, আল্লাহর কসম! আরবের বাসিন্দাদের মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম আল্লাহর পথে তীর নিক্ষেপ করেছি। আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে যুদ্ধ করতাম। তখন হুবলা এবং সমর গাছের পাতা ব্যতিরেকে আমাদের নিকট খাবার মত কোন খাদ্যই থাকত না। ফলে আমাদের এক একজন বকরীর মত মল ত্যাগ করত। আর এখন বনু আসাদের লোকেরা দ্বীনী ব্যাপারে আমাদেরকে সবক দিচ্ছে, এমনই যদি হয় তবে তো আমরা অকৃতকার্য এবং আমাদের আমল সবই ব্যর্থ। ইবনে নুমাইর তার বর্ণনায় إِذًا শব্দটি উল্লেখ করেননি।

৭১৬৫

وَحَدَّثَنَاهُ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ حَتَّى إِنْ كَانَ أَحَدُنَا لَيَضَعُ كَمَا تَضَعُ الْعَنْزُ مَا يَخْلِطُهُ بِشَىْءٍ .

বর্ণনাকারী: ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ (রহঃ)

৭১৬৫। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... ইসমাঈল ইবনে আবু খালিদ (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে রয়েছে যে, ফলে আমাদের এক একজন বকরীর মত মল ত্যাগ করত। এর সাথে কোন কিছুই মিশ্রিত থাকত না।

৭১৬৬

حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلاَلٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ عُمَيْرٍ الْعَدَوِيِّ، قَالَ خَطَبَنَا عُتْبَةُ بْنُ غَزْوَانَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ الدُّنْيَا قَدْ آذَنَتْ بِصُرْمٍ وَوَلَّتْ حَذَّاءَ وَلَمْ يَبْقَ مِنْهَا إِلاَّ صُبَابَةٌ كَصُبَابَةِ الإِنَاءِ يَتَصَابُّهَا صَاحِبُهَا وَإِنَّكُمْ مُنْتَقِلُونَ مِنْهَا إِلَى دَارٍ لاَ زَوَالَ لَهَا فَانْتَقِلُوا بِخَيْرِ مَا بِحَضْرَتِكُمْ فَإِنَّهُ قَدْ ذُكِرَ لَنَا أَنَّ الْحَجَرَ يُلْقَى مِنْ شَفَةِ جَهَنَّمَ فَيَهْوِي فِيهَا سَبْعِينَ عَامًا لاَ يُدْرِكُ لَهَا قَعْرًا وَوَاللَّهِ لَتُمْلأَنَّ أَفَعَجِبْتُمْ وَلَقَدْ ذُكِرَ لَنَا أَنَّ مَا بَيْنَ مِصْرَاعَيْنِ مِنْ مَصَارِيعِ الْجَنَّةِ مَسِيرَةُ أَرْبَعِينَ سَنَةً وَلَيَأْتِيَنَّ عَلَيْهَا يَوْمٌ وَهُوَ كَظِيظٌ مِنَ الزِّحَامِ وَلَقَدْ رَأَيْتُنِي سَابِعَ سَبْعَةٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا لَنَا طَعَامٌ إِلاَّ وَرَقُ الشَّجَرِ حَتَّى قَرِحَتْ أَشْدَاقُنَا فَالْتَقَطْتُ بُرْدَةً فَشَقَقْتُهَا بَيْنِي وَبَيْنَ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ فَاتَّزَرْتُ بِنِصْفِهَا وَاتَّزَرَ سَعْدٌ بِنِصْفِهَا فَمَا أَصْبَحَ الْيَوْمَ مِنَّا أَحَدٌ إِلاَّ أَصْبَحَ أَمِيرًا عَلَى مِصْرٍ مِنَ الأَمْصَارِ وَإِنِّي أَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ أَكُونَ فِي نَفْسِي عَظِيمًا وَعِنْدَ اللَّهِ صَغِيرًا وَإِنَّهَا لَمْ تَكُنْ نُبُوَّةٌ قَطُّ إِلاَّ تَنَاسَخَتْ حَتَّى يَكُونَ آخِرُ عَاقِبَتِهَا مُلْكًا فَسَتَخْبُرُونَ وَتُجَرِّبُونَ الأُمَرَاءَ بَعْدَنَا .

বর্ণনাকারী: খালিদ ইবনে উমায়র আদাবী (রহঃ)

৭১৬৬। শায়বান ইবনে ফররুখ (রাহঃ) ......... খালিদ ইবনে উমায়র আদাবী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উকবা ইবনে গাযওয়ান (রাযিঃ) একদা আমাদের মাঝে ভাষণ দিলেন এবং প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করে বললেন, আম্মা বাদ! দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাবার সংবাদ দিয়েছে। দুনিয়ার সামান্য কিছু বাকী রয়েছে, যেমন খানার পর বরতনে কিছু খাদ্য উচ্ছিষ্ট থেকে, যা ভক্ষণকারী রেখে দেয়। একদিন এ দুনিয়া ছেড়ে তোমরা অবিনশ্বর জগতের দিকে রওয়ানা করবে। সুতরাং তোমরা ভবিষ্যতের জন্য কিছু নেকী নিয়ে রওয়ানা কর। কেননা আমাকে বলা হয়েছে যে, জাহান্নামের এক কোণে একটি পাথর নিক্ষেপ করা হবে, অতঃপর তা সত্তর বছর পর্যন্ত ক্রমাগতভাবে যেতে থাকবে, তথাপিও উহা তার তলদেশে পৌছতে পারবে না। আল্লাহর শপথ! জাহান্নাম পূর্ণ হয়ে যাবে। তোমরা কি এতে বিস্ময় বোধ করছ? এবং আমার নিকট এও বর্ণনা করা হয়েছে যে, জান্নাতের দুই পাল্লার মাঝে চল্লিশ বছরের সফরের পথ।

অচিরেই একদিন এমন আসবে, যখন উহা মানুষের ভীড়ে পরিপূর্ণ থাকবে। আমি আমার প্রতি লক্ষ্য করেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথী সাত ব্যক্তির সপ্তম জন ছিলাম। তখন আমাদের নিকট গাছের পাতা ব্যতীত আর কোন খাদ্যই ছিল না। ফলে আমাদের চোয়ালে ঘা হয়ে গেল। এ সময় আমি একটি চাঁদর পেয়েছিলাম। অতঃপর আমার ও সা’দ ইবনে মালিকের জন্য আমি তাকে দু’টুকরা করে নেই। এক টুকরা দিয়ে আমি লুঙ্গি বানিয়েছি এবং অপর টুকরা দিয়ে লুঙ্গি বানিয়েছে সা’দ ইবনে মালিক (রাযিঃ)।

আজ আমাদের সকলেই কোন না কোন শহরের আমীর। অতঃপর তিনি বলেন, আমি আমার নিকট বড় এবং আল্লাহর নিকট ছোট হওয়া থেকে আল্লাহর পানাহ চাই। সমস্ত পয়গাম্বরের নবুয়্যাতই এক পর্যায়ে নির্বাপিত হয়ে পড়েছে। অবশেষে উহা বাদশাহীর রূপ পরিগ্রহ করেছে। আমাদের পর আগমনকারী আমীর-উমরাদের সংবাদ তোমরা অচিরেই পাবে এবং তাদেরকে যাচাই করতে পারবে।
৭১৬৭

وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ عُمَرَ بْنِ سَلِيطٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ، هِلاَلٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عُمَيْرٍ، وَقَدْ أَدْرَكَ الْجَاهِلِيَّةَ قَالَ خَطَبَ عُتْبَةُ بْنُ غَزْوَانَ وَكَانَ أَمِيرًا عَلَى الْبَصْرَةِ . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ شَيْبَانَ .

বর্ণনাকারী: খালিদ ইবনে উমায়র আদাবী (রহঃ)

৭১৬৭। ইসহাক ইবনে উমর ইবনে সালীত (রাহঃ) ......... খালিদ ইবনে উমায়র (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি জাহিলী যুগ পেয়েছিলেন, খালিদ (রাহঃ) বলেন, (একদা) উতবা ইবনে গাযওয়ান (রাযিঃ) বক্তৃতা দিলেন। তখন তিনি বসরার আমীর ছিলেন। অতঃপর ইসহাক সূত্রে শায়বানের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৭১৬৮

وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ قُرَّةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ حُمَيْدِ، بْنِ هِلاَلٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عُمَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ عُتْبَةَ بْنَ غَزْوَانَ، يَقُولُ لَقَدْ رَأَيْتُنِي سَابِعَ سَبْعَةٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا طَعَامُنَا إِلاَّ وَرَقُ الْحُبْلَةِ حَتَّى قَرِحَتْ أَشْدَاقُنَا .

বর্ণনাকারী: খালিদ ইবনে উমায়র আদাবী (রহঃ)

৭১৬৮। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) ......... খালিদ ইবনে উমায়র (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উতবা ইবনে গাযওয়ান (রাযিঃ) কে একথা বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, আমি আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথী সাতজনের সপ্তম ব্যক্তি রূপে দেখেছি, তখন হুবলা বৃক্ষের পাতা ব্যতীত আমাদের কোন খাদ্য ছিল না। পাতা খেতে খেতে অবশেষে আমাদের চোয়ালে ঘা হয়ে যায়।

৭১৬৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ نَرَى رَبَّنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ " هَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الشَّمْسِ فِي الظَّهِيرَةِ لَيْسَتْ فِي سَحَابَةٍ " . قَالُوا لاَ . قَالَ " فَهَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ لَيْسَ فِي سَحَابَةٍ " . قَالُوا لاَ . قَالَ " فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ رَبِّكُمْ إِلاَّ كَمَا تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ أَحَدِهِمَا - قَالَ - فَيَلْقَى الْعَبْدَ فَيَقُولُ أَىْ فُلْ أَلَمْ أُكْرِمْكَ وَأُسَوِّدْكَ وَأُزَوِّجْكَ وَأُسَخِّرْ لَكَ الْخَيْلَ وَالإِبِلَ وَأَذَرْكَ تَرْأَسُ وَتَرْبَعُ فَيَقُولُ بَلَى . قَالَ فَيَقُولُ أَفَظَنَنْتَ أَنَّكَ مُلاَقِيَّ فَيَقُولُ لاَ . فَيَقُولُ فَإِنِّي أَنْسَاكَ كَمَا نَسِيتَنِي . ثُمَّ يَلْقَى الثَّانِيَ فَيَقُولُ أَىْ فُلْ أَلَمْ أُكْرِمْكَ وَأُسَوِّدْكَ وَأُزَوِّجْكَ وَأُسَخِّرْ لَكَ الْخَيْلَ وَالإِبِلَ وَأَذَرْكَ تَرْأَسُ وَتَرْبَعُ فَيَقُولُ بَلَى أَىْ رَبِّ . فَيَقُولُ أَفَظَنَنْتَ أَنَّكَ مُلاَقِيَّ فَيَقُولُ لاَ . فَيَقُولُ فَإِنِّي أَنْسَاكَ كَمَا نَسِيتَنِي . ثُمَّ يَلْقَى الثَّالِثَ فَيَقُولُ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ فَيَقُولُ يَا رَبِّ آمَنْتُ بِكَ وَبِكِتَابِكَ وَبِرُسُلِكَ وَصَلَّيْتُ وَصُمْتُ وَتَصَدَّقْتُ . وَيُثْنِي بِخَيْرٍ مَا اسْتَطَاعَ فَيَقُولُ هَا هُنَا إِذًا - قَالَ - ثُمَّ يُقَالُ لَهُ الآنَ نَبْعَثُ شَاهِدَنَا عَلَيْكَ . وَيَتَفَكَّرُ فِي نَفْسِهِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْهَدُ عَلَىَّ فَيُخْتَمُ عَلَى فِيهِ وَيُقَالُ لِفَخِذِهِ وَلَحْمِهِ وَعِظَامِهِ انْطِقِي فَتَنْطِقُ فَخِذُهُ وَلَحْمُهُ وَعِظَامُهُ بِعَمَلِهِ وَذَلِكَ لِيُعْذِرَ مِنْ نَفْسِهِ . وَذَلِكَ الْمُنَافِقُ وَذَلِكَ الَّذِي يَسْخَطُ اللَّهُ عَلَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১৬৯। মুহাম্মাদ ইবনে উমর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কিয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাব? উত্তরে বললেন, আকাশে মেঘ না থাকা অবস্থায় দুপুরের সময় সূর্য দেখতে তোমাদের কোন সমস্যা হয় কি? সাহাবীগণ বললেন, জী না। অতঃপর তিনি বললেন, আকাশে মেঘ না থাকা অবস্থায় পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে তোমাদের কোন সমস্যা হয় কি? সাহাবীগণ বললেন, জি না। এরপর তিনি বললেন, ঐ সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ! চন্দ্র সূর্যের কোন একটি দেখতে তোমাদের যেরূপ সমস্যা হয় না তোমাদের প্রতিপালককেও দেখতে তোমাদের ঠিক তদ্রূপ সমস্যা হবে না। আল্লাহর সাথে বান্দার সাক্ষাত হবে। তখন তিনি বললেন, হে অমুক! আমি কি তোমাকে ইজ্জত দান করিনি, নেতৃত্ব দান করিনি, জোড়া মিলিয়ে (বিয়ে করিয়ে) দেইনি, ঘোড়া, উট তোমার বশীভূত করে দেইনি এবং নেতৃত্ব ও এক-চতুর্থাংশ ভোগের মাধ্যমে প্রাচুর্যের মাঝে তোমার পানাহারের ব্যবস্থা করিনি?

সে বলবে, হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক! অতঃপর তিনি বলবেন, তুমি কি মনে করতে যে, তুমি আমার সাথে সাক্ষাত করবে? সে বলবে, না। তখন আল্লাহ বলবেন, তুমি যেমনিভাবে আমাকে ভুলে গিয়েছিলে অনুরূপভাবে আমিও তোমাকে ভুলে যাচ্ছি।

অতঃপর দ্বিতীয় অপর এক ব্যক্তির আল্লাহর সাথে সাক্ষাত হবে। তখন তিনি তাকেও বলবেন, হে অমুক! আমি কি তোমাকে সম্মান দান করিনি, নেতৃত্ব দেই নি, তোমার জোড়া মিলিয়ে দেইনি, উট-ঘোড়া তোমার অনুগত করে দেইনি এবং সূখ-সাচ্ছন্দ্যে পানাহারের জন্য তোমাকে কি সুযোগ করে দেই নি? সে বলবে, হ্যাঁ করেছেন, হে আমার প্রতিপালক! অতঃপর তিনি বলবেন, আমার সাথে তোমার সাক্ষাত হবে এ কথা তুমি মনে করতে? সে বলবে, না। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি যেমন আমাকে ভুলে গিয়েছিলে অনুরূপভাবে আমিও তোমাদেরকে বিষ্মিৃত হব।

অতঃপর তিনি অপর এক ব্যক্তির আল্লাহর সাথে সাক্ষাত হবে। অতঃপর পূর্বের অনুরূপ বলবেন। তখন লোকটি বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার প্রতি এবং কিতাব ও রাসুলগণের প্রতি ঈমান আনয়ন করেছি। আমি নামায আদায় করেছি, রোযা পালন করেছি এবং সাদ্‌কা করেছি। এমনিভাবে সে যথাসম্ভব নিজের প্রশংসা করবে। এমতাবস্থায় আল্লাহ তাআলা বলবেন, এখনই তোমার মিথ্যা প্রকাশিত হয়ে যাবে।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এরপর তাকে বলা হবে, এখনই আমি তোমার উপর আমার সাক্ষী কায়িম করব। তখন বান্দা মনে মনে চিন্তা করতে থাকবে যে, কে তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিবে? তখন তার মুখে মোহর দেয়া হবে। এবং তার উরু, গোশত ও হাড়কে বলা হবে, তোমরা কথা বল। ফলে তার উরু, গোশত ও হাড়ি তার আমল সম্পর্কে বলতে থাকবে। এ ব্যবস্থা এ জন্য করা হবে যেন, আত্মপক্ষ সমর্থন করার কোন অবকাশ তার আর বাকি না থাকে। এই ব্যক্তি হচ্ছে মুনাফিক। তার প্রতি আল্লাহ তাআলা অন্তুষ্ট হবেন।
৭১৭০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ النَّضْرِ بْنِ أَبِي النَّضْرِ، حَدَّثَنِي أَبُو النَّضْرِ، هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ الأَشْجَعِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدٍ الْمُكْتِبِ، عَنْ فُضَيْلٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَضَحِكَ فَقَالَ " هَلْ تَدْرُونَ مِمَّ أَضْحَكُ " . قَالَ قُلْنَا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ " مِنْ مُخَاطَبَةِ الْعَبْدِ رَبَّهُ يَقُولُ يَا رَبِّ أَلَمْ تُجِرْنِي مِنَ الظُّلْمِ قَالَ يَقُولُ بَلَى . قَالَ فَيَقُولُ فَإِنِّي لاَ أُجِيزُ عَلَى نَفْسِي إِلاَّ شَاهِدًا مِنِّي قَالَ فَيَقُولُ كَفَى بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ شَهِيدًا وَبِالْكِرَامِ الْكَاتِبِينَ شُهُودًا - قَالَ - فَيُخْتَمُ عَلَى فِيهِ فَيُقَالُ لأَرْكَانِهِ انْطِقِي . قَالَ فَتَنْطِقُ بِأَعْمَالِهِ - قَالَ - ثُمَّ يُخَلَّى بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْكَلاَمِ - قَالَ - فَيَقُولُ بُعْدًا لَكُنَّ وَسُحْقًا . فَعَنْكُنَّ كُنْتُ أُنَاضِلُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭১৭০। আবু বকর ইবনে নযর ইবনে আবু নযর (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট ছিলাম। এ সময় তিনি হেসে বললেন, তোমরা কি জান, আমি কেন হাসছি? আমরা বললাম, এ সম্পর্কে আল্লাহ ও তার রাসুলই ভাল জানেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ বান্দা তার প্রতিপালকের সাথে যে কথা বলবে, এ জন্য হাসছি। সে (বান্দা) বলবে হে আমার প্রতিপালক! তুমি কি আশ্রয় দাওনি আমাকে যুলুমহতে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা বলবেন, হ্যাঁ আমি কারো প্রতি যুলুম করি না। অতঃপর বান্দা বলবে, আমি আমার ব্যাপারে নিজের সাক্ষ্য ব্যতীত অন্য কারো সাক্ষী হওয়াকে জায়েয মনে করি না। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, আজ তুমি নিজেই তোমার সাক্ষী হওয়ার জন্য যথেষ্ট এবং সম্মানিত লিপিকার বৃন্দও। অতঃপর বান্দার মুখের উপর মোহর লাগিয়ে দেয়া হবে এবং তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে হুকুম করা হবে যে, তোমরা বল। তারা তার আমল সম্পর্কে বলবে। এরপর বান্দাকে কথা বলার অনুমতি দেয়া হবে। তখন বান্দা তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে লক্ষ্য করে বলবে, অভিশাপ তোমাদের প্রতি, তোমরা দূর হয়ে যাও। আমি তো তোমাদের জন্যই লড়াই করছিলাম।

৭১৭১

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ اجْعَلْ رِزْقَ آلِ مُحَمَّدٍ قُوتًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১৭১। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনকে নুন্যতম প্রয়োজন অনুপাতে জীবিকা দান কর।

৭১৭২

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ اجْعَلْ رِزْقَ آلِ مُحَمَّدٍ قُوتًا " . وَفِي رِوَايَةِ عَمْرٍو " اللَّهُمَّ ارْزُقْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১৭২। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আমর নাকিদ, যুহাইর ইবনে হারব ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হে আল্লাহ! তুমি নুন্যতম প্রয়োজনীয় পরিমাণকে মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের জন্য রিযিক নির্ধারণ কর। আমরের বর্ণনায় اللَّهُمَّ ارْزُقْ শব্দটি বর্ণিত আছে।

৭১৭৩

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ سَمِعْتُ الأَعْمَشَ، ذَكَرَ عَنْ عُمَارَةَ، بْنِ الْقَعْقَاعِ بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ " كَفَافًا " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৭১৭৩। আবু সাঈদ আশাজ্জ (রাহঃ) ......... উমরা ইবনে কা’কা (রাযিঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ রিওয়ায়েতে قوتا এর স্থলেكَفَافًا শব্দ (প্রয়োজন মেটানো পরিমাণ) বর্ণিত আছে।

৭১৭৪

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ، زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا شَبِعَ آلُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مُنْذُ قَدِمَ الْمَدِينَةَ مِنْ طَعَامِ بُرٍّ ثَلاَثَ لَيَالٍ تِبَاعًا حَتَّى قُبِضَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭১৭৪। যুহাইর ইবনে হারব ও ইসহাক ইবনে ইররাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (ﷺ) এর পরিজন মদীনায় আসার পর লাগাতার তিন দিন গমের রুটি পরিতৃপ্ত হয়ে খাননি। আর এ অবস্থায় তাঁর ইন্‌তিকাল হয়ে গেল।

৭১৭৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا شَبِعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ تِبَاعًا مِنْ خُبْزِ بُرٍّ حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭১৭৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আবু কুরায়ব ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ধারাবাহিক তিন দিন গমের রুটি পরিতৃপ্ত হয়ে খাননি, এ অবস্থায়ই তিনি তাঁর পথে চলে যান।

৭১৭৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ يَزِيدَ، يُحَدِّثُ عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ مَا شَبِعَ آلُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مِنْ خُبْزِ شَعِيرٍ يَوْمَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ حَتَّى قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭১৭৬। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ধারাবাহিক দুই দিন মুহাম্মাদ (ﷺ) এর পরিবার যবের রুটি তৃপ্ত হয়ে আহার করেননি। এ অবস্থায়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্‌তিকাল হয়ে যায়।

৭১৭৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَابِسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا شَبِعَ آلُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مِنْ خُبْزِ بُرٍّ فَوْقَ ثَلاَثٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭১৭৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (ﷺ) এর পরিবার তিন দিনের অধিক গমের রুটি পরিতৃপ্ত হয়ে খাননি।

৭১৭৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ مَا شَبِعَ آلُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مِنْ خُبْزِ الْبُرِّ ثَلاَثًا حَتَّى مَضَى لِسَبِيلِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭১৭৮। আবু বকর ইবনে শায়বা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লাগাতার তিন দিন মুহাম্মাদ (ﷺ) এর পরিবার গমের রুটি পরিতৃপ্ত হয়ে খাননি। এ অবস্থায়ই তিনি তাঁর পথে চলে যান।

৭১৭৯

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ حُمَيْدٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا شَبِعَ آلُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم يَوْمَيْنِ مِنْ خُبْزِ بُرٍّ إِلاَّ وَأَحَدُهُمَا تَمْرٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭১৭৯। আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (ﷺ) এর পরিবার দুই দিন পরিতৃপ্ত হয়ে গমের রুটি ভক্ষণ করেননি। দু’দিনের এক দিন তিনি (আহার করতেন) হত।

৭১৮০

حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ وَيَحْيَى بْنُ يَمَانٍ حَدَّثَنَا عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنْ كُنَّا آلَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم لَنَمْكُثُ شَهْرًا مَا نَسْتَوْقِدُ بِنَارٍ إِنْ هُوَ إِلاَّ التَّمْرُ وَالْمَاءُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭১৮০। আমর আন নাকিদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মুহাম্মাদ (ﷺ) এর পরিবার মাস-পূর্ণ এমনভাবে কাটাতাম যে, আমরা আগুনও জ্বালাতাম না। (আমরা) শুধু খুরমা ও পানি খেয়েই কাটিয়ে দিতাম।

৭১৮১

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ إِنْ كُنَّا لَنَمْكُثُ . وَلَمْ يَذْكُرْ آلَ مُحَمَّدٍ . وَزَادَ أَبُو كُرَيْبٍ فِي حَدِيثِهِ عَنِ ابْنِ نُمَيْرٍ إِلاَّ أَنْ يَأْتِيَنَا اللُّحَيْمُ .

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৭১৮১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও কুরায়ব (রাহঃ) ......... হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এতে রয়েছে যে, إِنْ كُنَّا لَنَمْكُثُ কিন্তু آلَ مُحَمَّدٍ কথাটির উল্লেখ নেই। আবু কুরায়বের বর্ণনায় অতিরিক্ত রয়েছে যে, হ্যাঁ, যখন গোশত আসত (তখন অগ্নি প্রজ্জলিত করা হত)।

৭১৮২

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ بْنِ كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَا فِي رَفِّي مِنْ شَىْءٍ يَأْكُلُهُ ذُو كَبِدٍ إِلاَّ شَطْرُ شَعِيرٍ فِي رَفٍّ لِي فَأَكَلْتُ مِنْهُ حَتَّى طَالَ عَلَىَّ فَكِلْتُهُ فَفَنِيَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭১৮২। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনে আলা ইবনে কুরায়ব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করেছেন, তখন আমার পাত্রে সামান্য কিছু যব ব্যতীত কোন কলিজাধারী (প্রাণী) খেতে পারে এমন কিছুই আমার কাছে ছিল না। আমি তা থেকেই খেতাম। এভাবে অনেক দিন চলে গেলে আমি তা ওজন দিলাম। ফলে উহা শেষ হয়ে গেল।

৭১৮৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ، رُومَانَ عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا كَانَتْ تَقُولُ وَاللَّهِ يَا ابْنَ أُخْتِي إِنْ كُنَّا لَنَنْظُرُ إِلَى الْهِلاَلِ ثُمَّ الْهِلاَلِ ثُمَّ الْهِلاَلِ ثَلاَثَةَ أَهِلَّةٍ فِي شَهْرَيْنِ وَمَا أُوقِدَ فِي أَبْيَاتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَارٌ - قَالَ - قُلْتُ يَا خَالَةُ فَمَا كَانَ يُعَيِّشُكُمْ قَالَتِ الأَسْوَدَانِ التَّمْرُ وَالْمَاءُ إِلاَّ أَنَّهُ قَدْ كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جِيرَانٌ مِنَ الأَنْصَارِ وَكَانَتْ لَهُمْ مَنَائِحُ فَكَانُوا يُرْسِلُونَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَلْبَانِهَا فَيَسْقِينَاهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭১৮৩। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আমার বোনের ছেলে! আমরা (নতুন) চাঁদ দেখতাম এরপর পুনরায় নতুন চাঁদ দেখতাম,এরপর নতুন চাঁদ (দেখতাম) অর্থাৎ দু’মাসে তিনটি চাঁদ দেখতাম। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘরে আগুন জ্বলত না। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে খালা! আপনারা কিভাবে দিনাতিপাত করতেন? তিনি বললেনঃ দুটো কালো জিনিস, খুরমা ও পানি (দ্বারা)। তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কতিপয় আনসারী প্রতিবেশী ছিল। তাদের ছিল কিছু দুগ্ধবতী উটনী ও বকরী। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য সেগুলো দোহন করে এর দুধ তার নিকট পাঠাতেন এবং আমরা তাই পান করতাম।

৭১৮৪

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَحْمَدُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو صَخْرٍ، عَنْ يَزِيدَ، بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ ح وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو صَخْرٍ، عَنِ ابْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ لَقَدْ مَاتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَا شَبِعَ مِنْ خُبْزٍ وَزَيْتٍ فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ مَرَّتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭১৮৪। আবু তাহির (অন্য সনদে) হারুন ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মরে গেছেন অথচ দুবেলা তিনি রুটি ও যায়তুন দ্বারা কখনো পরিতৃপ্ত হননি।

৭১৮৫

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَكِّيُّ الْعَطَّارُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ، ح وَحَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعَطَّارُ، حَدَّثَنِي مَنْصُورُ، بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحَجَبِيُّ عَنْ أُمِّهِ، صَفِيَّةَ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ شَبِعَ النَّاسُ مِنَ الأَسْوَدَيْنِ التَّمْرِ وَالْمَاءِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭১৮৫। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (অন্য সনদে) সাঈদ ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তো বিদায় গ্রহণ করেছেন, অথচ লোকেরা তখন দুটি কালো বস্তু তথা খুরমা ও পানি খেয়ে পরিতৃপ্ত হয়েছে।

৭১৮৬

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ صَفِيَّةَ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ شَبِعْنَا مِنَ الأَسْوَدَيْنِ الْمَاءِ وَالتَّمْرِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭১৮৬। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্‌তিকাল হয়েছে, অথচ আমরা দুটি কাল বস্তু তথা পানি ও খুরমা খেয়ে পরিতৃপ্ত হয়েছি।

৭১৮৭

وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا الأَشْجَعِيُّ، ح وَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، كِلاَهُمَا عَنْ سُفْيَانَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ غَيْرَ أَنَّ فِي، حَدِيثِهِمَا عَنْ سُفْيَانَ وَمَا شَبِعْنَا مِنَ الأَسْوَدَيْنِ .

বর্ণনাকারী: সুফয়ান বিন উয়াইনা (রহঃ)

৭১৮৭। আবু কুরায়ব (অন্য সনদে) নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... সুফিয়ান (রাহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এখানে শুধু وَمَا شَبِعْنَا مِنَ الأَسْوَدَيْنِ এ কথাটি (আমরা তো দুই কাল দিয়ে পরিতৃপ্ত হইনি) বর্ণিত আছে।

৭১৮৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، - يَعْنِيَانِ الْفَزَارِيَّ - عَنْ يَزِيدَ، - وَهُوَ ابْنُ كَيْسَانَ - عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ - وَقَالَ ابْنُ عَبَّادٍ وَالَّذِي نَفْسُ أَبِي هُرَيْرَةَ بِيَدِهِ - مَا أَشْبَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَهْلَهُ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ تِبَاعًا مِنْ خُبْزِ حِنْطَةٍ حَتَّى فَارَقَ الدُّنْيَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১৮৮। মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ ও ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঐ সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ। বর্ণনাকারী ইবনে আব্বাদ (রাহঃ) বলেন, (আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেছেন,) ঐ সত্তার কসম, যার হাতে আবু হুরায়রার প্রাণ। এক নাগাড়ে তিন দিন গমের রুটি দ্বারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার পরিবার-পরিজনকে পরিতৃপ্ত করেননি। এ অবস্থায়ই তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করেছেন।

৭১৮৯

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ كَيْسَانَ، حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ قَالَ رَأَيْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يُشِيرُ بِإِصْبَعِهِ مِرَارًا يَقُولُ وَالَّذِي نَفْسُ أَبِي هُرَيْرَةَ بِيَدِهِ مَا شَبِعَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَهْلُهُ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ تِبَاعًا مِنْ خُبْزِ حِنْطَةٍ حَتَّى فَارَقَ الدُّنْيَا .

বর্ণনাকারী: আবু হাযিম (রহঃ)

৭১৮৯। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... আবু হাযিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কে তার আঙ্গুল দ্বারা কয়েকবার ইশারা করে বলতে শুনেছি যে, ঐ সত্তার কসম! যার হাতে আবু হুরায়রার প্রাণ লাগাতার তিন দিন পর্যন্ত আল্লাহর নবী (ﷺ) ও তাঁর পরিবার গমের রুটি দ্বারা কখনো পরিতৃপ্ত হননি। এমতাবস্থায় তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করেছেন।

৭১৯০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، يَقُولُ أَلَسْتُمْ فِي طَعَامٍ وَشَرَابٍ مَا شِئْتُمْ لَقَدْ رَأَيْتُ نَبِيَّكُمْ صلى الله عليه وسلم وَمَا يَجِدُ مِنَ الدَّقَلِ مَا يَمْلأُ بِهِ بَطْنَهُ . وَقُتَيْبَةُ لَمْ يَذْكُرْ بِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

৭১৯০। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... নুমান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা কি সুখ-সাচ্ছন্দ্যে পানাহার করছনা? অথচ আমি তোমাদের নবী (ﷺ) কে দেখেছি যে, পেট ভরার জন্য নিম্নমানের খেজুরও তিনি পাননি। বর্ণনাকারী কুতায়বা بِهِ শব্দটি উল্লেখ করেননি।

৭১৯১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا الْمُلاَئِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، كِلاَهُمَا عَنْ سِمَاكٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَهُ وَزَادَ فِي حَدِيثِ زُهَيْرٍ وَمَا تَرْضَوْنَ دُونَ أَلْوَانِ التَّمْرِ وَالزُّبْدِ .

বর্ণনাকারী: সিমাক ইবনে হারব (রহঃ)

৭১৯১। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (অন্য সনদে) ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... সিমাক (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন তবে সিমাক (রাহঃ) যুহাইরের হাদীসের মধ্যে অতিরিক্ত এ কথাটি বর্ণনা করেছেন যে, অথচ (বর্তমানে) তোমরা খুরমার বিভিন্ন প্রকার (খাবার) ও মাখন ব্যতীত তুষ্ট হও না।

৭১৯২

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ، يَخْطُبُ قَالَ ذَكَرَ عُمَرُ مَا أَصَابَ النَّاسُ مِنَ الدُّنْيَا فَقَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَظَلُّ الْيَوْمَ يَلْتَوِي مَا يَجِدُ دَقَلاً يَمْلأُ بِهِ بَطْنَهُ .

বর্ণনাকারী: সিমাক ইবনে হারব (রহঃ)

৭১৯২। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... সিমাক ইবনে হারব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নুমান (রাহঃ) কে বক্তৃতারত অবস্থায় আমি বলতে শুনেছি যে, উমর (রাযিঃ) বলেছেন, মানুষ কি পরিমাণ দুনিয়া কামাই করেছে। অথচ রাসুল (ﷺ) কে আমি দেখেছি যে, তিনি ক্ষুধার তাড়নায় সারা দিন অস্থির থাকতেন। পেট ভরার মত নিম্নমানের একটি খেজুরও তিনি (খেতে) পাননি।

৭১৯৩

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَرْحٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو هَانِئٍ سَمِعَ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، وَسَأَلَهُ، رَجُلٌ فَقَالَ أَلَسْنَا مِنْ فُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ أَلَكَ امْرَأَةٌ تَأْوِي إِلَيْهَا قَالَ نَعَمْ . قَالَ أَلَكَ مَسْكَنٌ تَسْكُنُهُ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَأَنْتَ مِنَ الأَغْنِيَاءِ قَالَ فَإِنَّ لِي خَادِمًا قَالَ فَأَنْتَ مِنَ الْمُلُوكِ . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَجَاءَ ثَلاَثَةُ نَفَرٍ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَأَنَا عِنْدَهُ فَقَالُوا يَا أَبَا مُحَمَّدٍ إِنَّا وَاللَّهِ مَا نَقْدِرُ عَلَى شَىْءٍ لاَ نَفَقَةٍ وَلاَ دَابَّةٍ وَلاَ مَتَاعٍ . فَقَالَ لَهُمْ مَا شِئْتُمْ إِنْ شِئْتُمْ رَجَعْتُمْ إِلَيْنَا فَأَعْطَيْنَاكُمْ مَا يَسَّرَ اللَّهُ لَكُمْ وَإِنْ شِئْتُمْ ذَكَرْنَا أَمْرَكُمْ لِلسُّلْطَانِ وَإِنْ شِئْتُمْ صَبَرْتُمْ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ فُقَرَاءَ الْمُهَاجِرِينَ يَسْبِقُونَ الأَغْنِيَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى الْجَنَّةِ بِأَرْبَعِينَ خَرِيفًا " . قَالُوا فَإِنَّا نَصْبِرُ لاَ نَسْأَلُ شَيْئًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৭১৯৩। আবু তাহির আহমদ ইবনে আমর ইবনে সারহ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তাকে প্রশ্ল করল যে, আমরা কি মুহাজির ফকীরদের অন্তভুক্ত নই? আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) তাকে বললেন, তোমার কি স্ত্রী নেই, যার নিকট তুমি গিয়ে থাক? জবাবে সে বলল, হ্যাঁ আছে। অতঃপর তিনি বললেন, বসবাস করার জন্য তোমার কি বাসস্থান নেই? সে বলল, হ্যাঁ আছে। তখন তিনি বললেন, তবে তো তুমি ধনীদের অন্তর্ভুক্ত। এরপর সে বলল, আমার একজন খাদিমও আছে। এ কথা শুনে তিনি বললেন, তাহলে তো তুমি বাদশাহ।

আবু আব্দুর রহমান বলেন, একদা তিন ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) এর নিকট এলেন। তখন আমি তার নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। এসে তারা বলল, হে আবু মুহাম্মাদ! আমাদের কোন কিছুই নেই। না ব্যয় করার মত পয়সা আছে, না আছে সওয়ারী, না আছে কোন আসবাব সামগ্রী। অতঃপর তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা যা চাও আমি তাই করব। তোমাদের মনে চাইলে তোমরা আমার নিকট চলে এসো। আল্লাহ তোমাদের ভাগ্যে যা রেখেছেন আমি তোমাদেরকে তা দান করব। তোমরা চাইলে, বাদশাহর নিকট আমি তোমাদের আলোচনা করব। আর তোমাদের মনে চাইলে তোমরা ধৈর্য ধারণ কর।

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একথা বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন ফকীর মুহাজির ব্যক্তিগণ ধনীদের চেয়ে চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে পৌছে যাবে। একথা শুনে তারা বললেন, আমরা ধৈর্য ধারণ করব, আমরা কিছুই চাই না।

১. যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছে (সামুদ সম্প্রদায়) ক্রন্দনরত অবস্থা ব্যতীত তাদের জনপদে প্রবেশ কর না

باب لاَ تَدْخُلُوا مَسَاكِنَ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ إِلاَّ أَنْ تَكُونُوا بَاكِينَ .

৭১৯৪

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، جَمِيعًا عَنْ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ ابْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ، بْنَ عُمَرَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَصْحَابِ الْحِجْرِ " لاَ تَدْخُلُوا عَلَى هَؤُلاَءِ الْقَوْمِ الْمُعَذَّبِينَ إِلاَّ أَنْ تَكُونُوا بَاكِينَ فَإِنْ لَمْ تَكُونُوا بَاكِينَ فَلاَ تَدْخُلُوا عَلَيْهِمْ أَنْ يُصِيبَكُمْ مِثْلُ مَا أَصَابَهُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭১৯৪। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব, কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুলাহ (ﷺ) আসহাবে হিজ্বর (সামূদ সম্প্রদায়) সম্পর্কে সাহাবাদেরকে বলেছেন শাস্তি প্রাপ্ত এ সম্প্রদায়ের উপর দিয়ে কান্না জড়িত অবস্থায় তোমারা পথ অতিক্রম করবে। অন্যথা (যদি তোমাদের কান্না না আসে) তাদের এলাকায় কিছুতেই প্রবেশ করবে না। যাতে এমনটি না ঘটে যে, যে আযাব তাদের উপর নাযিল হয়েছিল, অনুরূপ (আযাব) তোমাদের উপরও নাযিল হয়ে যায়।

৭১৯৫

حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، - وَهُوَ يَذْكُرُ الْحِجْرَ مَسَاكِنَ ثَمُودَ - قَالَ سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ مَرَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْحِجْرِ فَقَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَدْخُلُوا مَسَاكِنَ الَّذِينَ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ إِلاَّ أَنْ تَكُونُوا بَاكِينَ حَذَرًا أَنْ يُصِيبَكُمْ مِثْلُ مَا أَصَابَهُمْ " . ثُمَّ زَجَرَ فَأَسْرَعَ حَتَّى خَلَّفَهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭১৯৫। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে একদা আমরা হিজর অধিবাসীদের এলাকা দিয়ে পথ অতিক্রম করছিলাম। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে বললেন, যারা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছে তাদের জনপদ দিয়ে তোমরা কান্না জড়িত অবস্থায় যাবে। এ আশঙ্কায় যে, তাদের উপর যে আযাব নাযিল হয়েছে অনুরূপ আযাব তোমাদের উপরও যেন নাযিল না হয়ে যায়। অতঃপর ধমক দিয়ে তিনি তার সওয়ারীকে আরো দ্রুতগতি করলেন এবং উক্ত অঞ্চল অতিক্রম করলেন।

৭১৯৬

حَدَّثَنِي الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى أَبُو صَالِحٍ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّاسَ نَزَلُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْحِجْرِ أَرْضِ ثَمُودَ فَاسْتَقَوْا مِنْ آبَارِهَا وَعَجَنُوا بِهِ الْعَجِينَ فَأَمَرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُهَرِيقُوا مَا اسْتَقَوْا وَيَعْلِفُوا الإِبِلَ الْعَجِينَ وَأَمَرَهُمْ أَنْ يَسْتَقُوا مِنَ الْبِئْرِ الَّتِي كَانَتْ تَرِدُهَا النَّاقَةُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭১৯৬। আবু সালিহ, হাকাম ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে হিজর তথা সামূদ সম্প্রদায়ের জনপদে পৌছলেন। অতঃপর লোকেরা তথাকার কুয়া হতে পানি উঠালেন এবং এর দ্বারা আটার খামীর তৈরী করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে এ সংগৃহীত পানি ফেলে দেয়া এবং খামীর উষ্ট্রিকে খাওয়াবার আদেশ দিলেন। আর তাদেরকে ঐ কূপ হতে পানি সংগ্রহ করার নির্দেশ দিলেন, যে কূপ হতে সালিহ (আলাইহিস সালাম) এর উট পানি পান করত।

৭১৯৭

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فَاسْتَقَوْا مِنْ بِئَارِهَا وَاعْتَجَنُوا بِهِ .

বর্ণনাকারী: উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার (রহঃ)

৭১৯৭। ইসহাক ইবনে মুসা আনসারী (রাহঃ) ......... উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তিনি বলেছেন فَاسْتَقَوْا مِنْ بِئَارِهَا وَاعْتَجَنُوا بِهِ (তারা সে কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করল এবং তা দিয়ে খামীর তৈরী করল)।

২. বিধবা, মিসকীন ও ইয়াতীমের প্রতি অনুগ্রহ করা

باب الإِحْسَانِ إِلَى الأَرْمَلَةِ وَالْمِسْكِينِ وَالْيَتِيمِ

৭১৯৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " السَّاعِي عَلَى الأَرْمَلَةِ وَالْمِسْكِينِ كَالْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ - وَأَحْسِبُهُ قَالَ - وَكَالْقَائِمِ لاَ يَفْتُرُ وَكَالصَّائِمِ لاَ يُفْطِرُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১৯৮। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা ইবনে কা’নাব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, বিধবা ও মিসকীনের প্রতি অনুগ্রহকারী ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারী ব্যক্তির সমতুল্য। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় তিনি এও বলেছেন যে, ঐ ব্যক্তি অক্লান্ত নামায আদায়কারী ও অনবরত রোযা সাধনাকারী ব্যক্তির সমতূল্য।

৭১৯৯

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ، الدِّيلِيِّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الْغَيْثِ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَافِلُ الْيَتِيمِ لَهُ أَوْ لِغَيْرِهِ أَنَا وَهُوَ كَهَاتَيْنِ فِي الْجَنَّةِ " . وَأَشَارَ مَالِكٌ بِالسَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১৯৯। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নিজের (আত্মীয়) বা অনাত্নীয় ইয়াতীমের তত্ত্বাবধানকারী ও আমি জান্নাতে এ দুই আঙ্গুলের মত থাকব। বর্ণনাকারী মালিক (রাহঃ) (হাদীস বর্ণনার সময়) শাহাদাত ও মধ্যমা আঙ্গুলীর দ্বারা ইশারা করেছেন।

৩. মসজিদ নির্মাণের ফযীলত

باب فَضْلِ بِنَاءِ الْمَسَاجِدِ

৭২০০

حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، - وَهُوَ ابْنُ الْحَارِثِ - أَنَّ بُكَيْرًا، حَدَّثَهُ أَنَّ عَاصِمَ بْنَ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ عُبَيْدَ اللَّهِ الْخَوْلاَنِيَّ، يَذْكُرُ أَنَّهُ سَمِعَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، عِنْدَ قَوْلِ النَّاسِ فِيهِ حِينَ بَنَى مَسْجِدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّكُمْ قَدْ أَكْثَرْتُمْ وَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ بَنَى مَسْجِدًا - قَالَ بُكَيْرٌ حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ - يَبْتَغِي بِهِ وَجْهَ اللَّهِ بَنَى اللَّهُ لَهُ مِثْلَهُ فِي الْجَنَّةِ " . وَفِي رِوَايَةِ هَارُونَ " بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ " .

বর্ণনাকারী: উবাইদুল্লাহ খাওলানী (রহঃ)

৭২০০। হারুন ইবনে সাঈদ ও আহমাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ......... উবাইদুল্লাহ খাওলানী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন, যখন মুসজিদে নববী (পুনঃ) নির্মাণের ব্যাপারে লোকজন তার সমালোচনা করছিল; তোমরা আমার ব্যাপারে অনেক বেশী কথা বলছ, অথচ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মসজিদ নির্মাণ করবে-বুকায়ব (রাহঃ) বলেন, আমার মনে হয় তিনি (আসিম) এও বলেছেন যে, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে; আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ (ঘর) তৈরী করবেন। হারুনের বর্ণনায় আছে যে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরী করবেন।

৭২০১

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، كِلاَهُمَا عَنِ الضَّحَّاكِ، - قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ، - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، أَرَادَ بِنَاءَ الْمَسْجِدِ فَكَرِهَ النَّاسُ ذَلِكَ وَأَحَبُّوا أَنْ يَدَعَهُ عَلَى هَيْئَتِهِ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ بَنَى مَسْجِدًا لِلَّهِ بَنَى اللَّهُ لَهُ فِي الْجَنَّةِ مِثْلَهُ " .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

৭২০১। যুহাইর ইবনে হারব ও মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... মাহমুদ ইবনে লাবীদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) মসজিদ নির্মাণের ইচ্ছা করলে লোকেরা এটাকে অপছন্দ করল। তারা চাচ্ছিল যে, তিনি উহাকে পূর্বের অবস্থায় রেখে দেন। তখন তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একথা বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ (ঘর) নির্মাণ করবেন।

৭২০২

وَحَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ، وَعَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ، الصَّبَّاحِ كِلاَهُمَا عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ غَيْرَ أَنَّ فِي، حَدِيثِهِمَا " بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৭২০২। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আব্দুল হামীদ ইবনে জা’ফর (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তাদের হাদীসের মধ্যে রয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।

৪. মিসকীন ও মুসাফির লোকদের জন্য দান করার ফযীলত

باب الصَّدَقَةِ فِي الْمَسَاكِينِ

৭২০৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، - وَاللَّفْظُ لأَبِي بَكْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، اللَّيْثِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بَيْنَا رَجُلٌ بِفَلاَةٍ مِنَ الأَرْضِ فَسَمِعَ صَوْتًا فِي سَحَابَةٍ اسْقِ حَدِيقَةَ فُلاَنٍ . فَتَنَحَّى ذَلِكَ السَّحَابُ فَأَفْرَغَ مَاءَهُ فِي حَرَّةٍ فَإِذَا شَرْجَةٌ مِنْ تِلْكَ الشِّرَاجِ قَدِ اسْتَوْعَبَتْ ذَلِكَ الْمَاءَ كُلَّهُ فَتَتَبَّعَ الْمَاءَ فَإِذَا رَجُلٌ قَائِمٌ فِي حَدِيقَتِهِ يُحَوِّلُ الْمَاءَ بِمِسْحَاتِهِ فَقَالَ لَهُ يَا عَبْدَ اللَّهِ مَا اسْمُكَ قَالَ فُلاَنٌ . لِلاِسْمِ الَّذِي سَمِعَ فِي السَّحَابَةِ فَقَالَ لَهُ يَا عَبْدَ اللَّهِ لِمَ تَسْأَلُنِي عَنِ اسْمِي فَقَالَ إِنِّي سَمِعْتُ صَوْتًا فِي السَّحَابِ الَّذِي هَذَا مَاؤُهُ يَقُولُ اسْقِ حَدِيقَةَ فُلاَنٍ لاِسْمِكَ فَمَا تَصْنَعُ فِيهَا قَالَ أَمَّا إِذَا قُلْتَ هَذَا فَإِنِّي أَنْظُرُ إِلَى مَا يَخْرُجُ مِنْهَا فَأَتَصَدَّقُ بِثُلُثِهِ وَآكُلُ أَنَا وَعِيَالِي ثُلُثًا وَأَرُدُّ فِيهَا ثُلُثَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭২০৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ একদা এক ব্যক্তি কোন এক জঙ্গলে ভ্রমণ করছিলেন। এমতাবস্থায় হঠাৎ মেঘখণ্ড হতে তিনি এ আওয়াজ শুনতে পেলেন যে, অমুকের বাগানে পানি দাও। সঙ্গে সঙ্গে ঐ মেঘখণ্ডটি একদিকে যেতে লাগল। অতঃপর এক প্রস্তর পূর্ণ ভূমিতে বারিপাত করল। ঐ স্থানের নালা সমূহের একটি নালা ঐ পানিতে সম্পূর্ণরূপে ভরে গেল। তখন সে লোকটি পানির অনুসরণ করে চলল। যেতে যেতে সে এক ব্যক্তিকে তার বাগানে দণ্ডায়মাল অবস্থায় কোদাল দিয়ে পানি ফিরাচ্ছে, দেখতে পেল। এ দেখে সে তাকে বলল, হে আল্লাহর বান্দা! তোমার নাম কি? সে বলল, আমার নাম অমুক, যা তুমি মেঘ খণ্ডের মাঝে শুনতে পেয়েছ।

অতঃপর বাগানের মালিক তাকে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি আমার নাম জিজ্ঞাসা করলে কেন? জবাবে সে বলল, যে মেঘের এতে পানি, এর মাঝে আমি এ আওয়াজ শুনতে পেয়েছি, তোমার নাম নিয়ে বলছে যে, অমুকের বাগানে পানি দাও। অতঃপর বলল, তুমি এ (বাগানের ব্যাপারে) কি আমল কর? মালিক বলল, যেহেতু তুমি জিজ্ঞাসা করছ, (তাই বলছি) আমি এ বাগানের উৎপাদিত ফসলের প্রতি লক্ষ্য করি। অতঃপর এর এক-তৃতীয়াংশ সাদ্‌কা করি, এক তৃতীয়াংশ আমি ও আমার পরিবার পরিজন আহার করি এবং এক তৃতীয়াংশ এতে ফিরিয়ে দেই (চাষাবাদ ও বাগানের উন্নয়নের কাজে ব্যয় করি)।
৭২০৪

وَحَدَّثَنَاهُ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ كَيْسَانَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " وَأَجْعَلُ ثُلُثَهُ فِي الْمَسَاكِينِ وَالسَّائِلِينَ وَابْنِ السَّبِيلِ " .

বর্ণনাকারী: ওয়াহব ইবনে কায়সান (রহঃ)

৭২০৪। আহমাদ ইবনে আব্দা দাব্বী (রাহঃ) ......... ওয়াহাব ইবনে কায়সান (রাহঃ) থেকে এ সনদে (অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন)। তবে এতে একথা উল্লখ রয়েছে যে, অতঃপর সে বলল, এর এক-তৃতীয়াংশ আমি মিসকিন, প্রার্থী ও মুসাফিরদের জন্য ব্যয় করি।

৫. আমলে আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে শরীক করা

باب مَنْ أَشْرَكَ فِي عَمَلِهِ غَيْرَ اللَّهِ

৭২০৫

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْقُوبَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أَنَا أَغْنَى الشُّرَكَاءِ عَنِ الشِّرْكِ مَنْ عَمِلَ عَمَلاً أَشْرَكَ فِيهِ مَعِي غَيْرِي تَرَكْتُهُ وَشِرْكَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭২০৫। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি শিরক হতে শরীকদের মধ্যে সর্বাধিক বেপরোয়া। যদি কোন ব্যক্তি কোন আমল করে এবং এতে আমি ব্যতিরেকে অন্য কাউকে শরীক করে, তবে আমি তাকে ও তাঁর শিরককে (শরীক ও শিরকী কাজকে) তাঁর অবস্থায় ছেড়ে দেই।

৭২০৬

حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سُمَيْعٍ، عَنْ مُسْلِمٍ، الْبَطِينِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَمَّعَ سَمَّعَ اللَّهُ بِهِ وَمَنْ رَاءَى رَاءَى اللَّهُ بِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭২০৬। উমর ইবনে হাফস ইবনে গিয়াস (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি লোক সমাজে প্রচারের উদ্দেশ্যে (নেক আমল) করে আল্লাহ তাআলাও (কিয়ামতের ময়দানে) তাঁর (কৃতকর্মের) উদ্দেশ্যের কথা লোকদেরকে জানিয়ে ও শুনিয়ে দিবেন। আর যে ব্যক্তি লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে (কোন সৎ কাজ) করে, আল্লাহ তাআলাও তাঁর (প্রকৃত উদ্দেশ্যের) কথা লোকদের মাঝে প্রকাশ করে দিবেন (অপদস্থ করবেন)।

৭২০৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، قَالَ سَمِعْتُ جُنْدُبًا الْعَلَقِيَّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ يُسَمِّعْ يُسَمِّعِ اللَّهُ بِهِ وَمَنْ يُرَائِي يُرَائِي اللَّهُ بِهِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৭২০৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... জুনদুব আল-আলাকী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (লোক সমাজে) প্রচারের উদ্দেশ্য (নেক) আমল করে আল্লাহ তাআলাও তাঁর (প্রকৃত উদ্দেশ্যের) কথা লোকদের শুনিয়ে দিবেন। আর যে ব্যক্তি লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে (কোন সৎকাজ) করে আল্লাহ তাআলাও তার (প্রকৃত উদ্দেশ্যের) কথা লোকদের মাঝে প্রকাশ করে দিবেন।

৭২০৮

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الْمُلاَئِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَزَادَ وَلَمْ أَسْمَعْ أَحَدًا غَيْرَهُ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: সুফয়ান বিন উয়াইনা (রহঃ)

৭২০৮। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... সুফিয়ান (রাহঃ) থেকে এ সনদে (অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন)। তবে এতে অধিক একথা আছে যে, রাবী বলেন, তাকে (সুফিয়ান) ব্যতিত অন্য কাউকে আমি একথা বলতে শুনিনি যে, “রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন”।

৭২০৯

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو الأَشْعَثِيُّ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ حَرْبٍ، - قَالَ سَعِيدٌ أَظُنُّهُ قَالَ ابْنُ الْحَارِثِ بْنِ أَبِي مُوسَى - قَالَ سَمِعْتُ سَلَمَةَ بْنَ كُهَيْلٍ، قَالَ سَمِعْتُ جُنْدُبًا، - وَلَمْ أَسْمَعْ أَحَدًا يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَيْرَهُ - يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ بِمِثْلِ حَدِيثِ الثَّوْرِيِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত জুনদুব ইবন আব্দুল্লাহ রাযি

৭২০৯। সাঈদ ইবনে আমর আশআছী (রাহঃ) ......... জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। অর্থাৎ তিনিই এ হাদীসটি মারফু বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বলেতে শুনেছি। সুফিয়ান সাওরীর হাদীসের অনুরূপ এ হাদীসটিও।

৭২১০

وَحَدَّثَنَاهُ ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الصَّدُوقُ الأَمِينُ الْوَلِيدُ بْنُ حَرْبٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৭২১০। ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... সতবাদী আমানতদার ব্যক্তি ওয়ালীদ ইবনে হারব (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৬. এমন কোন শব্দ উচ্চারণ করা যা তাকে জাহান্নামে গড়িয়ে দিবে এবং রসনার সংযম

باب التَّكَلُّمِ بِالْكَلِمَةِ يَهْوِي بِهَا فِي النَّارِ

৭২১১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا بَكْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُضَرَ - عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ، بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ الْعَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ يَنْزِلُ بِهَا فِي النَّارِ أَبْعَدَ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭২১১। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, বান্দা এমন কথা বলে, যার ফলে সে জাহান্নামের এত দূরে নিক্ষিপ্ত হয় যা পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তের মধ্যস্থিত ব্যবধানের চেয়ে অধিক।

৭২১২

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ الدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ، الْهَادِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْعَبْدَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مَا يَتَبَيَّنُ مَا فِيهَا يَهْوِي بِهَا فِي النَّارِ أَبْعَدَ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭২১২। মুহাম্মাদ ইবনে আবু উমর মক্কী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বান্দা এমন কথা বলে, যার ক্ষতি সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা (গবেষণা) করে না। ফলে সে জাহান্নামের এমন গভীরে নিক্ষিপ্ত হয় যা পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যস্থিত ব্যবধানের চেয়েও অধিক দূরে।

৭. যে ব্যক্তি সৎ কাজের আদেশ দেয়, কিন্তু নিজে করে না এবং মন্দ কাজের বাধা দেয়, কিন্তু নিজে তা থেকে বিরত থাকেনা, তার শাস্তি

باب عُقُوبَةِ مَنْ يَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَلاَ يَفْعَلُهُ وَيَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ وَيَفْعَلُهُ

৭২১৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَأَبُو كُرَيْبٍ - وَاللَّفْظُ لأَبِي كُرَيْبٍ - قَالَ يَحْيَى وَإِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ قِيلَ لَهُ أَلاَ تَدْخُلُ عَلَى عُثْمَانَ فَتُكَلِّمَهُ فَقَالَ أَتُرَوْنَ أَنِّي لاَ أُكَلِّمُهُ إِلاَّ أُسْمِعُكُمْ وَاللَّهِ لَقَدْ كَلَّمْتُهُ فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَهُ مَا دُونَ أَنْ أَفْتَتِحَ أَمْرًا لاَ أُحِبُّ أَنْ أَكُونَ أَوَّلَ مَنْ فَتَحَهُ وَلاَ أَقُولُ لأَحَدٍ يَكُونُ عَلَىَّ أَمِيرًا إِنَّهُ خَيْرُ النَّاسِ . بَعْدَ مَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " يُؤْتَى بِالرَّجُلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُلْقَى فِي النَّارِ فَتَنْدَلِقُ أَقْتَابُ بَطْنِهِ فَيَدُورُ بِهَا كَمَا يَدُورُ الْحِمَارُ بِالرَّحَى فَيَجْتَمِعُ إِلَيْهِ أَهْلُ النَّارِ فَيَقُولُونَ يَا فُلاَنُ مَا لَكَ أَلَمْ تَكُنْ تَأْمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ فَيَقُولُ بَلَى قَدْ كُنْتُ آمُرُ بِالْمَعْرُوفِ وَلاَ آتِيهِ وَأَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ وَآتِيهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

৭১২৩। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আবু করায়ব (রাহঃ) ......... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাবী বলেন, তাকে [উসামা (রাযিঃ)] কে বলা হল, আপনি উসমান (রাযিঃ) এর নিকট গিয়ে (আপত্তি উত্থাপিত বিষয়ে) আলাপ আলোচনা করেন না কেন? জবাবে তিনি বলেন, আমি তাঁর সাথে কথা বলি না, তোমরা কি এটা মনে করছ? তোমাদের শুনিয়ে কথা বলব? আল্লাহর কসম! আমার ও তাঁর মধ্যকার যে কথা বলার, আমি তাকে তা বলেছি। তবে আমি এমন কোন ব্যাপারের সূচনা করতে চাই না, যে ব্যাপারে আমিই হব এর সূচনাকারী। আর কোন ব্যক্তি আমার আমীর হলে তাঁর সম্পর্কে আমি এ কথাও বলতে চাই না যে, তিনিই সর্বোত্তম ব্যক্তি।

কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি একথা বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে উপস্থিত করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, ফলে তাঁর উদরস্থ নাড়ি ভুঁড়ি বের হয়ে যাবে। এরপর গাধা যেমন চাক্কী নিয়ে ঘুরে অনুরূপভাবে সেও এগুলি নিয়ে ঘুরতে থাকবে। তখন জাহান্নামীরা তাঁর চারপাশে সমবেত হয়ে বলবে, হে অমুক! তোমার কি হয়েছে? তুমি কি সৎকাজের আদেশ দিতেনা এবং অসৎ কর্ম হতে নিষেধ করতে না? সে বলবে হ্যাঁ, তবে আমি সৎকর্মের আদেশ দিতাম, কিন্তু নিজে তা পালন করতাম না এবং মন্দ কর্মে নিষেধ করতাম কিন্তু নিজে তা করতাম।
৭২১৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ فَقَالَ رَجُلٌ مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَدْخُلَ عَلَى عُثْمَانَ فَتُكَلِّمَهُ فِيمَا يَصْنَعُ وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمِثْلِهِ .

বর্ণনাকারী: আবু ওয়াইল (রহঃ)

৭২১৪। উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু ওয়াইল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) এর নিকট ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তাকে বললেন, উসমান (রাযিঃ) এর নিকট গিয়ে তিনি যা করছেন এ বিষয়ে তাঁর সাথে আলোচনা করতে আপনাকে কিসে বাঁধা দিচ্ছে? অতঃপর [জারীর (রাহঃ)] অনুরূপ বর্ণনা করলেন।

৮. মানুষের নিজের গোপন দোষ প্রকাশ করা নিষেধ

باب النَّهْىِ عَنْ هَتْكِ الإِنْسَانِ، سِتْرَ نَفْسِهِ

৭২১৫

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ عَبْدٌ حَدَّثَنِي وَقَالَ، الآخَرَانِ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَخِي ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَمِّهِ، قَالَ قَالَ سَالِمٌ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " كُلُّ أُمَّتِي مُعَافَاةٌ إِلاَّ الْمُجَاهِرِينَ وَإِنَّ مِنَ الإِجْهَارِ أَنْ يَعْمَلَ الْعَبْدُ بِاللَّيْلِ عَمَلاً ثُمَّ يُصْبِحُ قَدْ سَتَرَهُ رَبُّهُ فَيَقُولُ يَا فُلاَنُ قَدْ عَمِلْتُ الْبَارِحَةَ كَذَا وَكَذَا وَقَدْ بَاتَ يَسْتُرُهُ رَبُّهُ فَيَبِيتُ يَسْتُرُهُ رَبُّهُ وَيُصْبِحُ يَكْشِفُ سِتْرَ اللَّهِ عَنْهُ " . قَالَ زُهَيْرٌ " وَإِنَّ مِنَ الْهِجَارِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭২১৫। যুহাইর ইবনে হারব, মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, নিজের অপরাধ প্রকাশকারী ব্যতিত আমার উম্মতের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। নিজদের অপরাধ প্রকাশ করার মানে হচ্ছে এই যে, মানুষ রাতে কোন অপরাধ জনিত কাজ করে, অতঃপর সকাল হয় আর তাঁর প্রতিপালক উহা গোপন করে রাখেন। অথচ সে নিজেই বলে, হে অমুক! গতরাতে আমি এই কাজটি করেছি। অথচ রাত্রে তাঁর প্রতিপালক উহাকে গোপন রেখেছেন এবং অবিরত তাঁর প্রতিপালক তা গোপন রাখছিলেন আর সে রাত যাপন করছিল। কিন্তু সকালে সে তাঁর প্রতিপালকের গোপন রাখা বিষয়টিকে প্রকাশ করে দিল। রাবী যুহাইর (রাহঃ) لإِجْهَارِ এর স্থলে الْهِجَارِ শব্দটি উল্লেখ করেছেন।

৯. হাঁচি দাতাকে দুআ করা (সন্তুষ্ট করা) এবং হাই তোলার অপছন্দনীয়তার বর্ণনা

باب تَشْمِيتِ الْعَاطِسِ وَكَرَاهَةِ التَّثَاؤُبِ

৭২১৬

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، - وَهُوَ ابْنُ غِيَاثٍ - عَنْ سُلَيْمَانَ، التَّيْمِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ عَطَسَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَجُلاَنِ فَشَمَّتَ أَحَدَهُمَا وَلَمْ يُشَمِّتِ الآخَرَ فَقَالَ الَّذِي لَمْ يُشَمِّتْهُ عَطَسَ فُلاَنٌ فَشَمَّتَّهُ وَعَطَسْتُ أَنَا فَلَمْ تُشَمِّتْنِي . قَالَ " إِنَّ هَذَا حَمِدَ اللَّهَ وَإِنَّكَ لَمْ تَحْمَدِ اللَّهَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭২১৬। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুই ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট হাঁচি দেয়ার পর তিনি এক জনের জন্য দুআ করলেন। কিন্তু অপর জনের জন্য দুআ করলেন না। এতে নবী (ﷺ) যাকে দুআ করেন নি, সে বলল, অমুক হাঁচি দিয়েছে আপনি তাকে দুআ করলেন, আর আমিও হাঁচি দিয়েছি কিন্তু আপনি আমাকে হাঁচির দুআ করেন নি। নবী (ﷺ) বললেনঃ সে তো আল্লাহর প্রশংসা করেছ الحمد لله বলেছে; কিন্তু তুমি আল্লাহর প্রসংসা করনি।

৭২১৭

وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، - يَعْنِي الأَحْمَرَ - عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭২১৭। আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৭২১৮

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، - وَاللَّفْظُ لِزُهَيْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ مَالِكٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى أَبِي مُوسَى وَهْوَ فِي بَيْتِ بِنْتِ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ فَعَطَسْتُ فَلَمْ يُشَمِّتْنِي وَعَطَسَتْ فَشَمَّتَهَا فَرَجَعْتُ إِلَى أُمِّي فَأَخْبَرْتُهَا فَلَمَّا جَاءَهَا قَالَتْ عَطَسَ عِنْدَكَ ابْنِي فَلَمْ تُشَمِّتْهُ وَعَطَسَتْ فَشَمَّتَّهَا . فَقَالَ إِنَّ ابْنَكِ عَطَسَ فَلَمْ يَحْمَدِ اللَّهَ فَلَمْ أُشَمِّتْهُ وَعَطَسَتْ فَحَمِدَتِ اللَّهَ فَشَمَّتُّهَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا عَطَسَ أَحَدُكُمْ فَحَمِدَ اللَّهَ فَشَمِّتُوهُ فَإِنْ لَمْ يَحْمَدِ اللَّهَ فَلاَ تُشَمِّتُوهُ " .

বর্ণনাকারী: আবু বুরদা আশআরী (রহঃ)

৭২১৮। যুহাইর ইবনে হারব ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আবু বুরাদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু মুসা (রাযিঃ) এর নিকট গেলাম। তখন তিনি ফযল ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর কন্যার ঘরে ছিলেন। তখন আমি হাঁচি দিলাম; কিন্তু আবু মুসা (রাযিঃ) আমাকে দুআ করলেন না। অতঃপর সে (ফযলের কন্যা) হাঁচি দিল, তিনি তাকে দুআ করলেন। আমি আমার মায়ের নিকট ফিরে এসে তাকে এ সম্পর্কে জানালাম। এরপর (কোন এক সময়) আবু মুসা (রাযিঃ) আমার আম্মার নিকট আসলে তিনি তাকে বললেন, তোমার নিকট আমার ছেলে হাঁচি দিয়েছিল, তুমি তাকে দুআ করনি। কিন্তু সে (ফযলের কন্যা) হাঁচি দিলে তুমি তাকে দুআ করেছ।

আবু মুসা (রাযিঃ) বললেন, তোমার ছেলে হাঁচি দিয়েছে কিন্তু আল্লাহর প্রশংসা করেনি, الحمد لله বলে নি। তাই আমিও তাকে দুআ দেয়নি। আর সে (মহিলা) হাঁচি দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করেছে, তাই আমিও তাকে দুআ দিয়েছি। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি বলতে শুনেছি যে, তোমাদের কেউ যদি হাঁচি দেয় এবং الحمد لله বলে তাহলে তোমরা তাকে দুআ দিবে। আর যদি সে الحمد لله না বলে তবে তোমরাও তাকে দুআ দিবে না।
৭২১৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ إِيَاسِ، بْنِ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ عَنْ أَبِيهِ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، أَنَّ أَبَاهُ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَعَطَسَ رَجُلٌ عِنْدَهُ فَقَالَ لَهُ " يَرْحَمُكَ اللَّهُ " . ثُمَّ عَطَسَ أُخْرَى فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الرَّجُلُ مَزْكُومٌ " .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

৭২১৯। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (অন্য সনদে) ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... সালাম ইবনে আকওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট হাঁচি দেয়ার পর তিনি তাকে বললেন يَرْحَمُكَ اللَّهُ (আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন)। অতঃপর সে আরেক বার হাঁচি দেবার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন তার সর্দি লেগেছে।

৭২২০

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنُونَ ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " التَّثَاؤُبُ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِذَا تَثَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَكْظِمْ مَا اسْتَطَاعَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭২২০। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব, কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হাই তোলা শয়তানের পক্ষে হতে (আসে)। তোমাদের কেউ যদি হাই তোলে তবে যথাসম্ভব সে যেন তাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে।

৭২২১

حَدَّثَنِي أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ، مَالِكُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنًا، لأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ يُحَدِّثُ أَبِي عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا تَثَاوَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيُمْسِكْ بِيَدِهِ عَلَى فِيهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭২২১। আবু গাসসান মিসামাঈ মালিক ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি হাই তোলে তবে সে যেন তাঁর মুখের উপর হাত রাখে। কেননা এ সময় শয়তান (মুখের ভিতরে) প্রবেশ করে।

৭২২২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي، سَعِيدٍ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا تَثَاوَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيُمْسِكْ بِيَدِهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭২২২। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি তোমাদের কেউ হাই তোলে তবে সে যেন তাঁর মুখের উপর হাত রেখে তাকে প্রতিহত করে। কেননা এ সময় শয়তান (মুখ দিয়ে) প্রবেশ করে।

৭২২৩

حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا تَثَاوَبَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلاَةِ فَلْيَكْظِمْ مَا اسْتَطَاعَ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭২২৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নামাযের মধ্যে তোমাদের কেউ যদি হাই তোলে তবে সে যেন যথা সম্ভব তাকে প্রতিহত করে। কেননা, শয়তান এ সময় (মুখ দিয়ে) প্রবেশ করে।

৭২২৪

حَدَّثَنَاهُ عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَوْ عَنِ ابْنِ أَبِي، سَعِيدٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ حَدِيثِ بِشْرٍ وَعَبْدِ الْعَزِيزِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭২২৪। উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... সুহাঈলের পিতা ও আবু সাঈদ (রাযিঃ) এর পুত্র আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বিশর ও আব্দুল আজিজের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

১০. বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে হাদীসের বর্ণনা

باب فِي أَحَادِيثَ مُتَفَرِّقَةٍ

৭২২৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ عَبْدٌ أَخْبَرَنَا وَقَالَ ابْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خُلِقَتِ الْمَلاَئِكَةُ مِنْ نُورٍ وَخُلِقَ الْجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭২২৫। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ফিরিশতাগণকে সৃষ্টি করা হয়েছে নূর থেকে আর জীন সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করা হয়েছে ধুয়া বিহিন আগুনের শিখা হতে এবং আদম (আলাইহিস সালাম) কে সৃষ্টি করা হয়েছে তোমাদের নিকট বর্ণিত বস্তু হতে।

১১. বানর প্রসঙ্গ এবং তা বিকৃত প্রাণী হওয়া প্রসঙ্গ

باب فِي الْفَأْرِ وَأَنَّهُ مَسْخٌ

৭২২৬

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعَنَزِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرُّزِّيُّ، جَمِيعًا عَنِ الثَّقَفِيِّ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ، سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فُقِدَتْ أُمَّةٌ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ لاَ يُدْرَى مَا فَعَلَتْ وَلاَ أُرَاهَا إِلاَّ الْفَأْرَ أَلاَ تَرَوْنَهَا إِذَا وُضِعَ لَهَا أَلْبَانُ الإِبِلِ لَمْ تَشْرَبْهُ وَإِذَا وُضِعَ لَهَا أَلْبَانُ الشَّاءِ شَرِبَتْهُ " . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَحَدَّثْتُ هَذَا الْحَدِيثَ كَعْبًا فَقَالَ آنْتَ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ ذَلِكَ مِرَارًا . قُلْتُ أَأَقْرَأُ التَّوْرَاةَ قَالَ إِسْحَاقُ فِي رِوَايَتِهِ " لاَ نَدْرِي مَا فَعَلَتْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭২২৬। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না আম্বরী ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ রাযী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বনী ইসরাইলের একদল লোক নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। জানা নেই তাঁরা কোথায় গিয়েছে। আমার মনে হয় তারাই ইঁদুর (হয়ে গিয়েছে)। তোমরা কি দেখছ না যে, এদের জন্য যদি উষ্ঠ্রীর দুধ রাখা হয় তবে তাঁরা তা পান করে না। কিন্তু বকরীর দুধ রাখা হলে তাঁরা তা পান করে নেয়।

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, এ হাদীস আমি কা’ব (রাযিঃ) এর নিকট বর্ণনা করার পর তিনি আমাকে বললেন, এ হাদীসটি তুমি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। কথাটি তিনি আমাকে বারবার বললে অবশেষে আমি বললাম, আমি কি তাওরাত পাঠ করি? বর্ণনাকারী ইসহাক তাঁর বর্ণনায়اَ يُدْرَى مَا فَعَلَتْ এর স্থলে لاَ نَدْرِي مَا فَعَلَتْ বাক্যটি উল্লেখ করেছেন।
৭২২৭

وَحَدَّثَنِي أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ " الْفَأْرَةُ مَسْخٌ وَآيَةُ ذَلِكَ أَنَّهُ يُوضَعُ بَيْنَ يَدَيْهَا لَبَنُ الْغَنَمِ فَتَشْرَبُهُ وَيُوضَعُ بَيْنَ يَدَيْهَا لَبَنُ الإِبِلِ فَلاَ تَذُوقُهُ " . فَقَالَ لَهُ كَعْبٌ أَسَمِعْتَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَفَأُنْزِلَتْ عَلَىَّ التَّوْرَاةُ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭২২৭। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনে আ’লা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন, ইঁদুর (মানুষের) বিকৃত প্রাণী। এর নিদর্শন হচ্ছে এই যে, এদের সামনে বকরীর দুধ রাখা হলে তাঁরা তা পান করে, আর উটের দুধ রাখা হলে তাঁরা তাঁর একটু স্বাদ গ্রহণ করেও দেখেনা। এ কথা শুনে কা’ব (রাযিঃ) তাকে বললেন, তুমি নিজে কি (এ হাদীসটি) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছ? তিনি বললেন, তা না হলে, কি তাওরাত আমার উপর অবতীর্ণ হয়েছে?

১২. মু’মিন ব্যক্তি একই গর্তে দু’বার দংশিত হয় না

باب لاَ يُلْدَغُ الْمُؤْمِنُ مِنْ جُحْرٍ مَرَّتَيْنِ

৭২২৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يُلْدَغُ الْمُؤْمِنُ مِنْ جُحْرٍ وَاحِدٍ مَرَّتَيْنِ " . وَحَدَّثَنِيهِ أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَخِي، ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَمِّهِ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭২২৮। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একই ছিদ্র হতে মুমিন দু’বার দংশিত হয় না।

আবু তাহির ও হারামালা (অন্য সনদে) যুহাইর ইবনে হারব ও মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৭২২৯

حَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ الأَزْدِيُّ، وَشَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، جَمِيعًا عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، - وَاللَّفْظُ لِشَيْبَانَ - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ صُهَيْبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عَجَبًا لأَمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ ذَاكَ لأَحَدٍ إِلاَّ لِلْمُؤْمِنِ إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خَيْرًا لَهُ " .

বর্ণনাকারী: সুহায়ব রূমী (রাঃ)

৭২২৯। হাদ্দাব ইবনে খালিদ আযদী ও ফাররুখ ইবনে শায়বান (রাহঃ) ......... সুহায়ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মু’মিনের অবস্থা ভারী অদ্ভুত। তাঁর সমস্ত কাজই তাঁর জন্য কল্যাণকর। মু’মিন ব্যতিত অন্য কারো জন্য এ কল্যাণ লাভের ব্যাবস্থা নেই। তাঁরা আনন্দ (সুখ শান্তি) লাভ করলে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে, তা তাঁর জন্য কল্যাণকর হয়, আর দুঃখকষ্টে আক্রান্ত হলে ধৈর্যধারণ করে, এও তাঁর জন্য কল্যাণকর হয়।

১৩. প্রশংসার মধ্যে যদি অতিশয়োক্তি থাকে এবং প্রশংসার ফলে যদি প্রশংসিত ব্যক্তির ফিতনায় পড়ার আশঙ্কা থাকে তবে এ ধরনের প্রশংসা করা নিষেধ

باب النَّهْىِ عَنِ الْمَدْحِ، إِذَا كَانَ فِيهِ إِفْرَاطٌ وَخِيفَ مِنْهُ فِتْنَةٌ عَلَى الْمَمْدُوحِ

৭২৩০

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ مَدَحَ رَجُلٌ رَجُلاً عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - فَقَالَ " وَيْحَكَ قَطَعْتَ عُنُقَ صَاحِبِكَ قَطَعْتَ عُنُقَ صَاحِبِكَ " . مِرَارًا " إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ مَادِحًا صَاحِبَهُ لاَ مَحَالَةَ فَلْيَقُلْ أَحْسِبُ فُلاَنًا وَاللَّهُ حَسِيبُهُ وَلاَ أُزَكِّي عَلَى اللَّهِ أَحَدًا أَحْسِبُهُ إِنْ كَانَ يَعْلَمُ ذَاكَ كَذَا وَكَذَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৭২৩০। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর নিকট এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির প্রশংসা করল। এ কথা শুনে তিনি বললেন, হতভাগা! তুমি তো তোমার সঙ্গীর গর্দান কেটে দিয়েছ, তুমি তো তোমার সঙ্গীর গর্দান কেটে ফেলেছ। এ কথাটি তিনি কয়েকবার বললেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের কারো যদি তাঁর সঙ্গীর প্রশংসা করতেই হয় তবে সে যেন বলে ‘অমুক সম্পর্কে আমার ধারণা’ আল্লাহ তাআলাই তাঁর পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব জানেন, (আমি তাঁর ভিতরের অবস্থা সম্পর্কে জানি না)। আর আল্লাহর উপর খোদকারী করে কারো পরিশুদ্ধতা ঘোষণা করছি না। পরিণাম সম্পর্কিত জ্ঞান আল্লাহরই আছে। (তবে) আমি মনে করি সে এরূপ। যদি তা জানে।

৭২৩১
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَبَلَةَ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ، أَخْبَرَنَا غُنْدَرٌ، قَالَ شُعْبَةُ حَدَّثَنَا عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ عَبْدِ، الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ ذُكِرَ عِنْدَهُ رَجُلٌ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا مِنْ رَجُلٍ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفْضَلُ مِنْهُ فِي كَذَا وَكَذَا . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " وَيْحَكَ قَطَعْتَ عُنُقَ صَاحِبِكَ " . مِرَارًا يَقُولُ ذَلِكَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ كَانَ أَحَدُكُمْ مَادِحًا أَخَاهُ لاَ مَحَالَةَ فَلْيَقُلْ أَحْسِبُ فُلاَنًا إِنْ كَانَ يُرَى أَنَّهُ كَذَلِكَ وَلاَ أُزَكِّي عَلَى اللَّهِ أَحَدًا " .
وَحَدَّثَنِيهِ عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، ح وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ، كِلاَهُمَا عَنْ شُعْبَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَ حَدِيثِ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ وَلَيْسَ فِي حَدِيثِهِمَا فَقَالَ رَجُلٌ مَا مِنْ رَجُلٍ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفْضَلُ مِنْهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৭২৩১। মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আব্বাদ ইবনে নাফি (রাহঃ) ......... আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদিন) নবী (ﷺ) এর নিকট এক ব্যক্তি সম্পর্কে আলোচনা হয়। তখন অপর এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! অমুক অমুক কাজের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পর তাঁর থেকে শ্রেষ্ঠ আর কোন ব্যক্তি নেই। নবী (ﷺ) বললেনঃ হতভাগা! তুমি তো তোমার সাথীর গর্দান কেটে ফেললে। বারবার তিনি কথাটি বললেন, তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমাদের কারো যদি তাঁর ভ্রাতার প্রশংসা করতেই হয় তবে সে যেন বলেন, অমুক সম্পর্কে আমার ধারণা যে, সে এমন (বাস্তবে হলেই এ কথাটি বলতে পারবে), তবে আল্লাহর সামনে আমি কাউকে নির্দোষ বলছি না।

আমর আন-নাকিদ (অন্য সনদে) আবু বকর ইবনুূ আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) থেকে এ সনদে ইয়াযীদ ইবনে যুরায় (রাহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তাদের [হাশিম ও শায়বা (রাহঃ) এর] হাদীসে এ কথাটি উল্লেখ নেই যে, অতঃপর জনৈক ব্যক্তি বলল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পর তাঁর থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি আর কেউ নেই।
৭২৩২

حَدَّثَنِي أَبُو جَعْفَرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، عَنْ بُرَيْدِ بْنِ، عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ سَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يُثْنِي عَلَى رَجُلٍ وَيُطْرِيهِ فِي الْمِدْحَةِ فَقَالَ " لَقَدْ أَهْلَكْتُمْ أَوْ قَطَعْتُمْ ظَهْرَ الرَّجُلِ " .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৭২৩২। আবু জা’ফর মুহাম্মাদ ইবনে সাব্বাহ (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে অপর ব্যক্তির প্রশংসা করতে এবং তাতে অতিশয়োক্তি করতে শুনলেন। তিনি বললেনঃ তোমরা তো (ঐ ব্যক্তিকে) ধ্বংস করে দিয়েছ, অথবা বললেন, লোকটির পিঠ ভেঙ্গে দিয়েছ।

৭২৩৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ مَهْدِيٍّ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ حَبِيبٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، قَالَ قَامَ رَجُلٌ يُثْنِي عَلَى أَمِيرٍ مِنَ الأُمَرَاءِ فَجَعَلَ الْمِقْدَادُ يَحْثِي عَلَيْهِ التُّرَابَ وَقَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَحْثِيَ فِي وُجُوهِ الْمَدَّاحِينَ التُّرَابَ .

বর্ণনাকারী: আবু মা‘মার (রহঃ)

৭২৩৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আবু মা’মার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে কোন এক আমীরের প্রশংসা করতে আরম্ভ করলে মিকদাদ (রাযিঃ) তাঁর মুখে মাটি ছুঁড়ে মারতে শুরু করলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অতিশয় প্রশংসাকারীদের মুখে মাটি ছুঁড়ে মারার জন্য আমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন।

৭২৩৪

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّ رَجُلاً، جَعَلَ يَمْدَحُ عُثْمَانَ فَعَمِدَ الْمِقْدَادُ فَجَثَا عَلَى رُكْبَتَيْهِ - وَكَانَ رَجُلاً ضَخْمًا - فَجَعَلَ يَحْثُو فِي وَجْهِهِ الْحَصْبَاءَ فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ مَا شَأْنُكَ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا رَأَيْتُمُ الْمَدَّاحِينَ فَاحْثُوا فِي وُجُوهِهِمُ التُّرَابَ " .

বর্ণনাকারী: হাম্মাম ইবনু হারিস (রহঃ)

৭২৩৪। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... হাম্মাম ইবনুল হারিছ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি উসমান (রাযিঃ) এর প্রশংসা করতে শুরু করল। তখন মিকদাদ (রাযিঃ) হাঁটুর উপর ভোর করে বসলেন, (কারণ) তিনি মোটা (মানুষ) ছিলেন। অতঃপর তিনি প্রশংসাকারীর মুখে নুড়ি পাথর ছুঁড়ে মারতে লাগলেন। তখন উসমান (রাযিঃ) তাকে বললেন, (হে মিকদাদ!) তুমি কি করছ? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা অতিশয় প্রশংসাকারীদেরকে দেখলে তাদের মুখমণ্ডলে মাটি ছুঁড়ে মারবে।

৭২৩৫

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الأَشْجَعِيُّ، عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنِ الأَعْمَشِ، وَمَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنِ الْمِقْدَادِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৭২৩৫। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (অন্য সনদে) উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) মিকদাদ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) হতে অনুরূপ (বর্ণনা করেছেন)।

১৫. বড়কে আগে প্রদান করা

باب مُنَاوَلَةِ الأَكْبَرِ

৭২৩৬

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا صَخْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ جُوَيْرِيَةَ - عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَرَانِي فِي الْمَنَامِ أَتَسَوَّكُ بِسِوَاكٍ فَجَذَبَنِي رَجُلاَنِ أَحَدُهُمَا أَكْبَرُ مِنَ الآخَرِ فَنَاوَلْتُ السِّوَاكَ الأَصْغَرَ مِنْهُمَا فَقِيلَ لِي كَبِّرْ . فَدَفَعْتُهُ إِلَى الأَكْبَرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭২৩৬। নসর ইবনে আলী আল-জাহযামী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ স্বপ্নে দেখলাম, আমি মিসওয়াক করছি। তখন দুই ব্যক্তি এসে আমাকে আকর্ষণ করল। একজন বড় এবং অপরজন ছোট। অতঃপর তাদের ছোটজনকে আমি আমার মিসওয়াকটি দিতে গেলাম, তখন আমাকে বলা হল, বড়কে দাও। তখন সেটি আমি বড়জনকে দিয়ে দিলাম।

১৬. ধীর-স্থীরভাবে হাদীস বর্ণনা করা এবং ইলম লিপিবদ্ধ করার হুকুম

باب التَّثَبُّتِ فِي الْحَدِيثِ وَحُكْمِ كِتَابَةِ الْعِلْمِ

৭২৩৭

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا بِهِ، سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ وَيَقُولُ اسْمَعِي يَا رَبَّةَ الْحُجْرَةِ اسْمَعِي يَا رَبَّةَ الْحُجْرَةِ . وَعَائِشَةُ تُصَلِّي فَلَمَّا قَضَتْ صَلاَتَهَا قَالَتْ لِعُرْوَةَ أَلاَ تَسْمَعُ إِلَى هَذَا وَمَقَالَتِهِ آنِفًا إِنَّمَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُحَدِّثُ حَدِيثًا لَوْ عَدَّهُ الْعَادُّ لأَحْصَاهُ .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

৭২৩৭। হারুন ইবনে মারুফ (রাহঃ) ......... উরাওয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদিন) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হাদীস বর্ণনা করছিলেন এবং বলছিলেন, হে হুজরাবাসিনী, শুনুন হে হুজরা বাসিনী! শুনুন। তখন আয়িশা (রাযিঃ) নামায আদায় করছিলেন। নামাযান্তে তিনি উরওয়া (রাযিঃ) কে বললেন, এ কি বলছে, তুমি তা শুনতে পেয়েছ কি? অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমনভাবে কথা বলতেন, যদি কোন গণনাকারী (তাঁর শব্দ ও বর্ণ) গণনা করতে চাইত তবে সে তা গুণতে পারত।

৭২৩৮

حَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَكْتُبُوا عَنِّي وَمَنْ كَتَبَ عَنِّي غَيْرَ الْقُرْآنِ فَلْيَمْحُهُ وَحَدِّثُوا عَنِّي وَلاَ حَرَجَ وَمَنْ كَذَبَ عَلَىَّ - قَالَ هَمَّامٌ أَحْسِبُهُ قَالَ - مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭২৩৮। হাদ্দাব ইবনে খালিদ আযদী (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমার বাণী তোমরা লিপিবদ্ধ করোনা। কুরআন ব্যতিত কেউ যদি আমার বাণী লিপিবদ্ধ করে থাকে তবে যেন তা মুছে ফেলে। আমার হাদীস বর্ণনা কর, এতে কোন অসুবিধা নেই। যে ব্যক্তি আমার উপর মিথ্যারোপ করবে- হাম্মাম (রাহঃ) বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে; তবে সে যেন জাহান্নামে তাঁর ঠিকানা বানিয়ে নেয়।

১৭. অগ্নিকুণ্ডের অধিপতি এবং যাদুকর, পাদ্রী ও বালকের ঘটনা

باب قِصَّةِ أَصْحَابِ الأُخْدُودِ وَالسَّاحِرِ وَالرَّاهِبِ وَالْغُلاَمِ

৭২৩৯

حَدَّثَنَا هَدَّابُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ، أَبِي لَيْلَى عَنْ صُهَيْبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كَانَ مَلِكٌ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ وَكَانَ لَهُ سَاحِرٌ فَلَمَّا كَبِرَ قَالَ لِلْمَلِكِ إِنِّي قَدْ كَبِرْتُ فَابْعَثْ إِلَىَّ غُلاَمًا أُعَلِّمْهُ السِّحْرَ . فَبَعَثَ إِلَيْهِ غُلاَمًا يُعَلِّمُهُ فَكَانَ فِي طَرِيقِهِ إِذَا سَلَكَ رَاهِبٌ فَقَعَدَ إِلَيْهِ وَسَمِعَ كَلاَمَهُ فَأَعْجَبَهُ فَكَانَ إِذَا أَتَى السَّاحِرَ مَرَّ بِالرَّاهِبِ وَقَعَدَ إِلَيْهِ فَإِذَا أَتَى السَّاحِرَ ضَرَبَهُ فَشَكَا ذَلِكَ إِلَى الرَّاهِبِ فَقَالَ إِذَا خَشِيتَ السَّاحِرَ فَقُلْ حَبَسَنِي أَهْلِي . وَإِذَا خَشِيتَ أَهْلَكَ فَقُلْ حَبَسَنِي السَّاحِرُ . فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ أَتَى عَلَى دَابَّةٍ عَظِيمَةٍ قَدْ حَبَسَتِ النَّاسَ فَقَالَ الْيَوْمَ أَعْلَمُ آلسَّاحِرُ أَفْضَلُ أَمِ الرَّاهِبُ أَفْضَلُ فَأَخَذَ حَجَرًا فَقَالَ اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ أَمْرُ الرَّاهِبِ أَحَبَّ إِلَيْكَ مِنْ أَمْرِ السَّاحِرِ فَاقْتُلْ هَذِهِ الدَّابَّةَ حَتَّى يَمْضِيَ النَّاسُ . فَرَمَاهَا فَقَتَلَهَا وَمَضَى النَّاسُ فَأَتَى الرَّاهِبَ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ لَهُ الرَّاهِبُ أَىْ بُنَىَّ أَنْتَ الْيَوْمَ أَفْضَلُ مِنِّي . قَدْ بَلَغَ مِنْ أَمْرِكَ مَا أَرَى وَإِنَّكَ سَتُبْتَلَى فَإِنِ ابْتُلِيتَ فَلاَ تَدُلَّ عَلَىَّ . وَكَانَ الْغُلاَمُ يُبْرِئُ الأَكْمَهَ وَالأَبْرَصَ وَيُدَاوِي النَّاسَ مِنْ سَائِرِ الأَدْوَاءِ فَسَمِعَ جَلِيسٌ لِلْمَلِكِ كَانَ قَدْ عَمِيَ فَأَتَاهُ بِهَدَايَا كَثِيرَةٍ فَقَالَ مَا هَا هُنَا لَكَ أَجْمَعُ إِنْ أَنْتَ شَفَيْتَنِي فَقَالَ إِنِّي لاَ أَشْفِي أَحَدًا إِنَّمَا يَشْفِي اللَّهُ فَإِنْ أَنْتَ آمَنْتَ بِاللَّهِ دَعَوْتُ اللَّهَ فَشَفَاكَ . فَآمَنَ بِاللَّهِ فَشَفَاهُ اللَّهُ فَأَتَى الْمَلِكَ فَجَلَسَ إِلَيْهِ كَمَا كَانَ يَجْلِسُ فَقَالَ لَهُ الْمَلِكُ مَنْ رَدَّ عَلَيْكَ بَصَرَكَ قَالَ رَبِّي . قَالَ وَلَكَ رَبٌّ غَيْرِي قَالَ رَبِّي وَرَبُّكَ اللَّهُ . فَأَخَذَهُ فَلَمْ يَزَلْ يُعَذِّبُهُ حَتَّى دَلَّ عَلَى الْغُلاَمِ فَجِيءَ بِالْغُلاَمِ فَقَالَ لَهُ الْمَلِكُ أَىْ بُنَىَّ قَدْ بَلَغَ مِنْ سِحْرِكَ مَا تُبْرِئُ الأَكْمَهَ وَالأَبْرَصَ وَتَفْعَلُ وَتَفْعَلُ . فَقَالَ إِنِّي لاَ أَشْفِي أَحَدًا إِنَّمَا يَشْفِي اللَّهُ . فَأَخَذَهُ فَلَمْ يَزَلْ يُعَذِّبُهُ حَتَّى دَلَّ عَلَى الرَّاهِبِ فَجِيءَ بِالرَّاهِبِ فَقِيلَ لَهُ ارْجِعْ عَنْ دِينِكَ . فَأَبَى فَدَعَا بِالْمِئْشَارِ فَوَضَعَ الْمِئْشَارَ فِي مَفْرِقِ رَأْسِهِ فَشَقَّهُ حَتَّى وَقَعَ شِقَّاهُ ثُمَّ جِيءَ بِجَلِيسِ الْمَلِكِ فَقِيلَ لَهُ ارْجِعْ عَنْ دِينِكَ . فَأَبَى فَوَضَعَ الْمِئْشَارَ فِي مَفْرِقِ رَأْسِهِ فَشَقَّهُ بِهِ حَتَّى وَقَعَ شِقَّاهُ ثُمَّ جِيءَ بِالْغُلاَمِ فَقِيلَ لَهُ ارْجِعْ عَنْ دِينِكَ . فَأَبَى فَدَفَعَهُ إِلَى نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقَالَ اذْهَبُوا بِهِ إِلَى جَبَلِ كَذَا وَكَذَا فَاصْعَدُوا بِهِ الْجَبَلَ فَإِذَا بَلَغْتُمْ ذُرْوَتَهُ فَإِنْ رَجَعَ عَنْ دِينِهِ وَإِلاَّ فَاطْرَحُوهُ فَذَهَبُوا بِهِ فَصَعِدُوا بِهِ الْجَبَلَ فَقَالَ اللَّهُمَّ اكْفِنِيهِمْ بِمَا شِئْتَ . فَرَجَفَ بِهِمُ الْجَبَلُ فَسَقَطُوا وَجَاءَ يَمْشِي إِلَى الْمَلِكِ فَقَالَ لَهُ الْمَلِكُ مَا فَعَلَ أَصْحَابُكَ قَالَ كَفَانِيهِمُ اللَّهُ . فَدَفَعَهُ إِلَى نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقَالَ اذْهَبُوا بِهِ فَاحْمِلُوهُ فِي قُرْقُورٍ فَتَوَسَّطُوا بِهِ الْبَحْرَ فَإِنْ رَجَعَ عَنْ دِينِهِ وَإِلاَّ فَاقْذِفُوهُ . فَذَهَبُوا بِهِ فَقَالَ اللَّهُمَّ اكْفِنِيهِمْ بِمَا شِئْتَ . فَانْكَفَأَتْ بِهِمُ السَّفِينَةُ فَغَرِقُوا وَجَاءَ يَمْشِي إِلَى الْمَلِكِ فَقَالَ لَهُ الْمَلِكُ مَا فَعَلَ أَصْحَابُكَ قَالَ كَفَانِيهِمُ اللَّهُ . فَقَالَ لِلْمَلِكِ إِنَّكَ لَسْتَ بِقَاتِلِي حَتَّى تَفْعَلَ مَا آمُرُكَ بِهِ . قَالَ وَمَا هُوَ قَالَ تَجْمَعُ النَّاسَ فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ وَتَصْلُبُنِي عَلَى جِذْعٍ ثُمَّ خُذْ سَهْمًا مِنْ كِنَانَتِي ثُمَّ ضَعِ السَّهْمَ فِي كَبِدِ الْقَوْسِ ثُمَّ قُلْ بِاسْمِ اللَّهِ رَبِّ الْغُلاَمِ . ثُمَّ ارْمِنِي فَإِنَّكَ إِذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ قَتَلْتَنِي . فَجَمَعَ النَّاسَ فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ وَصَلَبَهُ عَلَى جِذْعٍ ثُمَّ أَخَذَ سَهْمًا مِنْ كِنَانَتِهِ ثُمَّ وَضَعَ السَّهْمَ فِي كَبِدِ الْقَوْسِ ثُمَّ قَالَ بِاسْمِ اللَّهِ رَبِّ الْغُلاَمِ . ثُمَّ رَمَاهُ فَوَقَعَ السَّهْمُ فِي صُدْغِهِ فَوَضَعَ يَدَهُ فِي صُدْغِهِ فِي مَوْضِعِ السَّهْمِ فَمَاتَ فَقَالَ النَّاسُ آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ . فَأُتِيَ الْمَلِكُ فَقِيلَ لَهُ أَرَأَيْتَ مَا كُنْتَ تَحْذَرُ قَدْ وَاللَّهِ نَزَلَ بِكَ حَذَرُكَ قَدْ آمَنَ النَّاسُ . فَأَمَرَ بِالأُخْدُودِ فِي أَفْوَاهِ السِّكَكِ فَخُدَّتْ وَأَضْرَمَ النِّيرَانَ وَقَالَ مَنْ لَمْ يَرْجِعْ عَنْ دِينِهِ فَأَحْمُوهُ فِيهَا . أَوْ قِيلَ لَهُ اقْتَحِمْ . فَفَعَلُوا حَتَّى جَاءَتِ امْرَأَةٌ وَمَعَهَا صَبِيٌّ لَهَا فَتَقَاعَسَتْ أَنْ تَقَعَ فِيهَا فَقَالَ لَهَا الْغُلاَمُ يَا أُمَّهِ اصْبِرِي فَإِنَّكِ عَلَى الْحَقِّ " .

বর্ণনাকারী: সুহায়ব রূমী (রাঃ)

৭২৩৯। হাদ্দাব ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... সুহায়ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী যুগে এক বাদশাহ ছিল। তাঁর ছিল এক যাদুকর। বার্ধক্যে উপনীত হয়ে সে বাদশাকে বলল, আমি তো বৃদ্ধ হয়ে পড়েছি, সুতরাং একজন কিশোরকে আপনি আমার নিকট পাঠিয়ে দিন, যাকে আমি যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিব। তখন যাদুবিদ্যা শিক্ষা দেয়ার জন্য বাদশাহ তাঁর নিকট এক কিশোর (বালক) কে পাঠাল। বালকের যাত্রাপথে ছিল এক পাদ্রী। বালক তাঁর নিকট বসল এবং তাঁর কথা শুনল। তাঁর কথা বালকের পছন্দ হল। অতঃপর বালক যাদুকরের নিকট যাত্রাকালে সর্বদাই পাদ্রির নিকট যেত এবং তাঁর নিকট বসত।

এরপর সে যখন যাদুকরের নিকট যেত তখন সে তাকে প্রহার করত। অবশেষে যাদুকরের ব্যাপারে সে পাদ্রির নিকট অভিযোগ করল। তখন পাদ্রি বলল, তোমার যদি যাদুকরের ব্যাপারে আশঙ্কা হয় তবে বলবে, আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে আসতে বাঁধা দিয়েছে, আর যদি তুমি তোমার পরিবারের লোকদের ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ কর তবে বলবে, যাদুকর আমাকে আসতে বাঁধা দিয়েছে।

এমনি একদিন হঠাৎ সে একটি ভয়ানক হিংস্র প্রাণীর সম্মুখীন হল, যা লোকদের পথ আটকিয়ে রেখেছিল। এ অবস্থা দেখে সে বলল, আজই জানতে পারব, যাদুকর উত্তম না পাদ্রী উত্তম। অতঃপর একটি পাথর হাতে নিয়ে সে বলল, হে আল্লাহ! যদি যাদুকরের তরীকার তুলনায় পাদ্রীর তরীকা আপনার নিকট প্রিয় হয়, পছন্দনীয় হয়, তবে এই প্রস্তারাঘাতে এই হিংস্র প্রাণীটি নিহত করে দিন, যেন লোকজন চলাচল করতে পারে। অতঃপর সে তাঁর প্রতি পাথরটি নিক্ষেপ করল এবং উহাকে মেরে ফেলল। ফলে লোকজন আবার যাতায়াত আরম্ভ করল।

এরপর সে পাদ্রীর নিকট এসে সে সম্পর্কে পাদ্রীকে সংবাদ দিল। পাদ্রী বলল, বৎস আজ তুমি তো আমার থেকেও শ্রেষ্ঠ হয়ে গিয়েছ। তোমার মর্যাদা এ পর্যন্ত পৌঁছেছে যা আমি দেখতে পাচ্ছি। তবে অচিরেই তুমি পরীক্ষার সুম্মুখীন হবে। যদি পরীক্ষার মুখোমুখি হও তবে আমার কথা বলবে না। এ দিকে বালক জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে আরোগ্য এবং লোকদের সমুদয় রোগ ব্যাধির চিকিৎসা করতে লাগল। বাদশাহের পরিষদবর্গের এক ব্যক্তি অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাঁর সংবাদ সে শুনতে পেয়ে বহু উপহার ও উপঢৌকন নিয়ে তাঁরা তাঁর কাছে আসল এবং তাকে বলল, তুমি যদি আমাকে আরোগ্য দান করতে পার তবে এ সব মাল আমি তোমাকে দিয়ে দিব। এ কথা শুনে বালক বলল, আমি তো কাউকে আরোগ্য দান করতে পারি না। আরোগ্য তো দেন আল্লাহ তাআলা। আপনি যদি আল্লাহর উপন ঈমান আনয়ন করেন তবে আমি আল্লাহর নিকট দুআ করব, আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দান করবেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন করলেন, আল্লাহ তাআলা তাকে রোগমুক্ত করে দিলেন।

অতঃপর সে বাদশাহের নিকট এসে অন্যান্য সময়ের ন্যায় এবারও বসল। বাদশাহ তাকে বললেন, তোমার দৃষ্টিশক্তি কে ফিরিয়ে দিয়েছেন? সে বলল, আমার প্রতিপালক। এ কথা শুনে বাদশাহ বলল, আমি ব্যতিত তোমার অন্য কোন প্রতিপালকও আছে কি? সে বলল, আমার ও আপনার সকলের প্রতিপালকই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। অতঃপর বাদশাহ তাকে পাকড়াও করে অব্যাহতভাবে শাস্তি দিতে লাগল। অবশেষে সে বালকের কথা বলে দিন। তখন বালককে আনা হল। বাদশাহ তাকে বললেন, হে বৎস! তুমি তো যাদুতে এত দক্ষ হয়েছ যে, তুমি জন্মান্ধকে ও কুষ্ঠ রোগীকে নিরাময় করে দাও এবং এই কর সেই কর ...। সে বলল, আমি কাউকে নিরাময় করি না। আল্লাহই শিফা দান করেন।

তখন বাদশাহ তাকেও পাকড়াও করে শাস্তি দিতে থাকল। অবশেষে সে পাদ্রীর কথা বলে দিল। এবার পাদ্রীকে ধরে আনা হল এবং তাকে বলা হল তুমি তোমার দ্বীন পরিত্যাগ কর। সে অস্বীকার করল, ফলে তাঁর মাথার তালুতে করাত রেখে তাকে বিদীর্ণ করে ফেল হল। এতে তাঁর দেহ দুই খণ্ড হয়ে মাটিতে পড়ে গেল। অতঃপর বাদশাহর পরিষদকে আনা হল এবং তাকে বলা হল তোমার দ্বীন থেকে ফিরে আস। সে তা অস্বীকার করলে তার মাথার মাঝখানে করাত রাখল এবং তাকেও দুই টুকরা করল। পরিশেষে ঐ বালকটিকে আনা হল এবং তাকেও একই কথা বলা হল যে তুমি তোমার দ্বীন থেকে ফিরে আসো। সেও অস্বীকার করল। অতঃপর বাদশাহ তাকে তাঁর করিপয় সহযোগী (কর্মচারী)’র হাওলা করে দিয়ে বলল, তোমরা তাকে অমুক পাহাড়ে নিয়ে যাও এবং তাকে সহ পাহাড়ে আরোহণ কর। পর্বত শৃঙ্গে পৌছার পর সে যদি তাঁর দ্বীন থেকে ফিরে আসে (তবে ভাল)। অন্যথা তাকে সেখান থেকে ছুঁড়ে মারবে।

তারপর তাঁরা তাকে নিয়ে গেল এবং তাকে সহ পাহাড়ে আরোহণ করল। তখন সে দুআ করে বলল, হে আল্লাহ! আপনার যেভাবে ইচ্ছা তাদের ব্যাপারে আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান (আমাকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করুন) তৎক্ষণাৎ তাদেরকে সহ পর্বত প্রকম্পিত হতে লাগল। ফলে তাঁরা পাহাড় হতে গড়িয়ে পড়ল। আর সে হেঁটে হেঁটে বাদশাহের নিকট চলে এলো। এ দেখে বাদশাহ তাকে বলল তোমরা সঙ্গীরা কোথায়? সে বলল, আল্লাহ আমার জন্য তাদের ব্যাপারে যথেষ্ট হয়েছে (আমাকে তাদের কবল থেকে রক্ষা করেছেন)।

আবার বাদশাহ তাকে তাঁর কতিপয় সহচরের হাওলা করে বলল, তোমরা তাকে নিয়ে যাও এবং ক্ষুদ্র নৌকায় উঠিয়ে তাকে মাঝ সমুদ্রে নিয়ে যাও। অতঃপর সে যদি তাঁর দ্বীন থেকে ফিরে আসে তবে ভাল, অন্যথা তোমরা তাকে সমুদ্রে ফেলে দাও। তাঁরা তাকে সমুদ্রে নিয়ে গেল। এবারও সে দুআ করে বলল, হে আল্লাহ! আপনার যেভাবে ইচ্ছা তাদের ব্যাপারে আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান (আমাকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করুন)। তৎক্ষণাৎ নৌকাটি তাদেরকে সহ উল্টে গেল। ফলে তাঁরা সকেলেই পানিতে ডুবে গেল আর ছেলেটি হেঁটে হেঁটে বাদশাহের নিকট চলে এলো।

বাদশাহ তাকে বলল, তোমার সাথিরা কোথায়? সে বলল, আল্লাহ তাদের ব্যাপারে আমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে (আমাকে তাদের কবল থেকে রক্ষা করেছেন)। অতঃপর সে বাদশাহকে বলল, তুমি আমাকে হত্যা করতে পারবে না যে পর্যন্ত না তুমি আমার নির্দেশিত পদ্ধতি মুতাবিক কাজ করবে। বাদশাহ বলল, সে আবার কি? বালক বলল, একটি ময়দানে তুমি লোকদেরকে সমবেত কর, তারপর একটি কাঠের শূলীতে আমাকে উঠিয়ে আমার তীরদানি হতে একটি তীর নিয়ে তা ধনুকের মাঝে রাখ, এরপর بِاسْمِ اللَّهِ رَبِّ الْغُلاَمِ (বালকের পালনকর্তা আল্লাহর নামে) বলে আমার দিকে তীর ছুঁড়ে মার। এ যদি কর তবে তুমি আমাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে।

তাঁর কথা মোতাবেক বাদশাহ লোকদেরকে এক ময়দানে সমবেত করল এবং তাকে একটি কাঠের শূলীতে চড়াল, অতঃপর তাঁর তীরদানী হতে একটি তীর নিয়ে তা ধনুকের মাঝে রেখে বিসমিল্লাহি রাব্বুল আলামিন বলে তাঁর দিকে ছুঁড়ে মারল। তীর তাঁর কানপট্টিতে গিয়ে বিধল। অতঃপর সে (বালক) কানপট্টিতে তীরের স্থানে নিজের হাত রাখল এবং মারা গেল। এ দেখে সমবেত লোকজন বলে উঠলآمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ “আমরা এই বালকের রবের প্রতি ঈমান আনলাম”।

এই সংবাদ বাদশাহকে জানানো হল এবং তাকে বলা হল লক্ষ্য করেছেন কি? আপনি যে পরিস্থিতি হতে আশঙ্কা করছিলেন, আল্লাহর কসম! সে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতই আপনার মাথার উপর চেপে বসেছে। সমস্ত মানুষই বালকের রবের উপর ঈমান আনয়ন করেছে। তখন বাদশাহ রাস্তার মাথায় গর্ত খননের নির্দেশ দিল। গর্ত খনন করা হল এবং তাদের অগ্নি প্রজ্বলিত করা হল। অতঃপর বাদশাহ হুকুম করল যে, যে ব্যক্তি তাঁর ধর্মমত বর্জন না করবে তাকে তাতে নিক্ষেপ করব, অথবা সে বলল, তাকে বলবে সে যেন অগ্নিতে প্রবেশ করে। লোকেরা তাই করল।

অবশেষে এক মহিলা আসল, তাঁর সঙ্গে ছিল এক শিশু। সে অগ্নিতে পতিত হবার ব্যাপারে ইতস্তত করছিল, এ দেখে শিশু তাকে বলল, হে আম্মাজান, ধৈর্যধারণ করুন, আপনি তো সত্য দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত।

১৮. জাবির (রাযিঃ) এর সুদীর্ঘ হাদীস এবং আবুল ইউসরের ঘটনা

باب حَدِيثِ جَابِرٍ الطَّوِيلِ وَقِصَّةِ أَبِي الْيَسَرِ

৭২৪০

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، - وَتَقَارَبَا فِي لَفْظِ الْحَدِيثِ - وَالسِّيَاقُ لِهَارُونَ قَالاَ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ مُجَاهِدٍ أَبِي حَزْرَةَ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ خَرَجْتُ أَنَا وَأَبِي نَطْلُبُ الْعِلْمَ فِي هَذَا الْحَىِّ مِنَ الأَنْصَارِ قَبْلَ أَنْ يَهْلِكُوا فَكَانَ أَوَّلُ مَنْ لَقِينَا أَبَا الْيَسَرِ صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ غُلاَمٌ لَهُ مَعَهُ ضِمَامَةٌ مِنْ صُحُفٍ وَعَلَى أَبِي الْيَسَرِ بُرْدَةٌ وَمَعَافِرِيٌّ وَعَلَى غُلاَمِهِ بُرْدَةٌ وَمَعَافِرِيٌّ فَقَالَ لَهُ أَبِي يَا عَمِّ إِنِّي أَرَى فِي وَجْهِكَ سَفْعَةً مِنْ غَضَبٍ . قَالَ أَجَلْ كَانَ لِي عَلَى فُلاَنِ بْنِ فُلاَنٍ الْحَرَامِيِّ مَالٌ فَأَتَيْتُ أَهْلَهُ فَسَلَّمْتُ فَقُلْتُ ثَمَّ هُوَ قَالُوا لاَ . فَخَرَجَ عَلَىَّ ابْنٌ لَهُ جَفْرٌ فَقُلْتُ لَهُ أَيْنَ أَبُوكَ قَالَ سَمِعَ صَوْتَكَ فَدَخَلَ أَرِيكَةَ أُمِّي . فَقُلْتُ اخْرُجْ إِلَىَّ فَقَدْ عَلِمْتُ أَيْنَ أَنْتَ . فَخَرَجَ فَقُلْتُ مَا حَمَلَكَ عَلَى أَنِ اخْتَبَأْتَ مِنِّي قَالَ أَنَا وَاللَّهِ أُحَدِّثُكَ ثُمَّ لاَ أَكْذِبُكَ خَشِيتُ وَاللَّهِ أَنْ أُحَدِّثَكَ فَأَكْذِبَكَ وَأَنْ أَعِدَكَ فَأُخْلِفَكَ وَكُنْتَ صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكُنْتُ وَاللَّهِ مُعْسِرًا . قَالَ قُلْتُ آللَّهِ . قَالَ اللَّهِ . قُلْتُ آللَّهِ . قَالَ اللَّهِ . قُلْتُ آللَّهِ . قَالَ اللَّهِ . قَالَ فَأَتَى بِصَحِيفَتِهِ فَمَحَاهَا بِيَدِهِ فَقَالَ إِنْ وَجَدْتَ قَضَاءً فَاقْضِنِي وَإِلاَّ أَنْتَ فِي حِلٍّ فَأَشْهَدُ بَصَرُ عَيْنَىَّ هَاتَيْنِ - وَوَضَعَ إِصْبَعَيْهِ عَلَى عَيْنَيْهِ - وَسَمْعُ أُذُنَىَّ هَاتَيْنِ وَوَعَاهُ قَلْبِي هَذَا - وَأَشَارَ إِلَى مَنَاطِ قَلْبِهِ - رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَقُولُ " مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا أَوْ وَضَعَ عَنْهُ أَظَلَّهُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ " . قَالَ فَقُلْتُ لَهُ أَنَا يَا عَمِّ لَوْ أَنَّكَ أَخَذْتَ بُرْدَةَ غُلاَمِكَ وَأَعْطَيْتَهُ مَعَافِرِيَّكَ وَأَخَذْتَ مَعَافِرِيَّهُ وَأَعْطَيْتَهُ بُرْدَتَكَ فَكَانَتْ عَلَيْكَ حُلَّةٌ وَعَلَيْهِ حُلَّةٌ . فَمَسَحَ رَأْسِي وَقَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ فِيهِ يَا ابْنَ أَخِي بَصَرُ عَيْنَىَّ هَاتَيْنِ وَسَمْعُ أُذُنَىَّ هَاتَيْنِ وَوَعَاهُ قَلْبِي هَذَا - وَأَشَارَ إِلَى مَنَاطِ قَلْبِهِ - رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَقُولُ " أَطْعِمُوهُمْ مِمَّا تَأْكُلُونَ وَأَلْبِسُوهُمْ مِمَّا تَلْبَسُونَ " . وَكَانَ أَنْ أَعْطَيْتُهُ مِنْ مَتَاعِ الدُّنْيَا أَهْوَنَ عَلَىَّ مِنْ أَنْ يَأْخُذَ مِنْ حَسَنَاتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ . ثُمَّ مَضَيْنَا حَتَّى أَتَيْنَا جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ فِي مَسْجِدِهِ وَهُوَ يُصَلِّي فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ مُشْتَمِلاً بِهِ فَتَخَطَّيْتُ الْقَوْمَ حَتَّى جَلَسْتُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ فَقُلْتُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ أَتُصَلِّي فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ وَرِدَاؤُكَ إِلَى جَنْبِكَ قَالَ فَقَالَ بِيَدِهِ فِي صَدْرِي هَكَذَا وَفَرَّقَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ وَقَوَّسَهَا أَرَدْتُ أَنْ يَدْخُلَ عَلَىَّ الأَحْمَقُ مِثْلُكَ فَيَرَانِي كَيْفَ أَصْنَعُ فَيَصْنَعُ مِثْلَهُ . أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَسْجِدِنَا هَذَا وَفِي يَدِهِ عُرْجُونُ ابْنِ طَابٍ فَرَأَى فِي قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ نُخَامَةً فَحَكَّهَا بِالْعُرْجُونِ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا فَقَالَ " أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنْ يُعْرِضَ اللَّهُ عَنْهُ " . قَالَ فَخَشَعْنَا ثُمَّ قَالَ " أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنْ يُعْرِضَ اللَّهُ عَنْهُ " . قَالَ فَخَشَعْنَا ثُمَّ قَالَ " أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنْ يُعْرِضَ اللَّهُ عَنْهُ " . قُلْنَا لاَ أَيُّنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا قَامَ يُصَلِّي فَإِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قِبَلَ وَجْهِهِ فَلاَ يَبْصُقَنَّ قِبَلَ وَجْهِهِ وَلاَ عَنْ يَمِينِهِ وَلْيَبْصُقْ عَنْ يَسَارِهِ تَحْتَ رِجْلِهِ الْيُسْرَى فَإِنْ عَجِلَتْ بِهِ بَادِرَةٌ فَلْيَقُلْ بِثَوْبِهِ هَكَذَا " . ثُمَّ طَوَى ثَوْبَهُ بَعْضَهُ عَلَى بَعْضٍ فَقَالَ " أَرُونِي عَبِيرًا " . فَقَامَ فَتًى مِنَ الْحَىِّ يَشْتَدُّ إِلَى أَهْلِهِ فَجَاءَ بِخَلُوقٍ فِي رَاحَتِهِ فَأَخَذَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلَهُ عَلَى رَأْسِ الْعُرْجُونِ ثُمَّ لَطَخَ بِهِ عَلَى أَثَرِ النُّخَامَةِ . فَقَالَ جَابِرٌ فَمِنْ هُنَاكَ جَعَلْتُمُ الْخَلُوقَ فِي مَسَاجِدِكُمْ . سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ بَطْنِ بُوَاطٍ وَهُوَ يَطْلُبُ الْمَجْدِيَّ بْنَ عَمْرٍو الْجُهَنِيَّ وَكَانَ النَّاضِحُ يَعْتَقِبُهُ مِنَّا الْخَمْسَةُ وَالسِّتَّةُ وَالسَّبْعَةُ فَدَارَتْ عُقْبَةُ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ عَلَى نَاضِحٍ لَهُ فَأَنَاخَهُ فَرَكِبَهُ ثُمَّ بَعَثَهُ فَتَلَدَّنَ عَلَيْهِ بَعْضَ التَّلَدُّنِ فَقَالَ لَهُ شَأْ لَعَنَكَ اللَّهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ هَذَا اللاَّعِنُ بَعِيرَهُ " . قَالَ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " انْزِلْ عَنْهُ فَلاَ تَصْحَبْنَا بِمَلْعُونٍ لاَ تَدْعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ وَلاَ تَدْعُوا عَلَى أَوْلاَدِكُمْ وَلاَ تَدْعُوا عَلَى أَمْوَالِكُمْ لاَ تُوَافِقُوا مِنَ اللَّهِ سَاعَةً يُسْأَلُ فِيهَا عَطَاءٌ فَيَسْتَجِيبُ لَكُمْ " . سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا كَانَتْ عُشَيْشِيَةٌ وَدَنَوْنَا مَاءً مِنْ مِيَاهِ الْعَرَبِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ رَجُلٌ يَتَقَدَّمُنَا فَيَمْدُرُ الْحَوْضَ فَيَشْرَبُ وَيَسْقِينَا " . قَالَ جَابِرٌ فَقُمْتُ فَقُلْتُ هَذَا رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَىُّ رَجُلٍ مَعَ جَابِرٍ " . فَقَامَ جَبَّارُ بْنُ صَخْرٍ فَانْطَلَقْنَا إِلَى الْبِئْرِ فَنَزَعْنَا فِي الْحَوْضِ سَجْلاً أَوْ سَجْلَيْنِ ثُمَّ مَدَرْنَاهُ ثُمَّ نَزَعْنَا فِيهِ حَتَّى أَفْهَقْنَاهُ فَكَانَ أَوَّلَ طَالِعٍ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَتَأْذَنَانِ " . قُلْنَا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَأَشْرَعَ نَاقَتَهُ فَشَرِبَتْ شَنَقَ لَهَا فَشَجَتْ فَبَالَتْ ثُمَّ عَدَلَ بِهَا فَأَنَاخَهَا ثُمَّ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْحَوْضِ فَتَوَضَّأَ مِنْهُ ثُمَّ قُمْتُ فَتَوَضَّأْتُ مِنْ مُتَوَضَّإِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَهَبَ جَبَّارُ بْنُ صَخْرٍ يَقْضِي حَاجَتَهُ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيُصَلِّيَ وَكَانَتْ عَلَىَّ بُرْدَةٌ ذَهَبْتُ أَنْ أُخَالِفَ بَيْنَ طَرَفَيْهَا فَلَمْ تَبْلُغْ لِي وَكَانَتْ لَهَا ذَبَاذِبُ فَنَكَّسْتُهَا ثُمَّ خَالَفْتُ بَيْنَ طَرَفَيْهَا ثُمَّ تَوَاقَصْتُ عَلَيْهَا ثُمَّ جِئْتُ حَتَّى قُمْتُ عَنْ يَسَارِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذَ بِيَدِي فَأَدَارَنِي حَتَّى أَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ ثُمَّ جَاءَ جَبَّارُ بْنُ صَخْرٍ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ جَاءَ فَقَامَ عَنْ يَسَارِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدَيْنَا جَمِيعًا فَدَفَعَنَا حَتَّى أَقَامَنَا خَلْفَهُ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْمُقُنِي وَأَنَا لاَ أَشْعُرُ ثُمَّ فَطِنْتُ بِهِ فَقَالَ هَكَذَا بِيَدِهِ يَعْنِي شُدَّ وَسَطَكَ فَلَمَّا فَرَغَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَا جَابِرُ " . قُلْتُ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " إِذَا كَانَ وَاسِعًا فَخَالِفْ بَيْنَ طَرَفَيْهِ وَإِذَا كَانَ ضَيِّقًا فَاشْدُدْهُ عَلَى حِقْوِكَ " . سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ قُوتُ كُلِّ رَجُلٍ مِنَّا فِي كُلِّ يَوْمٍ تَمْرَةً فَكَانَ يَمَصُّهَا ثُمَّ يَصُرُّهَا فِي ثَوْبِهِ وَكُنَّا نَخْتَبِطُ بِقِسِيِّنَا وَنَأْكُلُ حَتَّى قَرِحَتْ أَشْدَاقُنَا فَأُقْسِمُ أُخْطِئَهَا رَجُلٌ مِنَّا يَوْمًا فَانْطَلَقْنَا بِهِ نَنْعَشُهُ فَشَهِدْنَا أَنَّهُ لَمْ يُعْطَهَا فَأُعْطِيَهَا فَقَامَ فَأَخَذَهَا . سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى نَزَلْنَا وَادِيًا أَفْيَحَ فَذَهَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْضِي حَاجَتَهُ فَاتَّبَعْتُهُ بِإِدَاوَةٍ مِنْ مَاءٍ فَنَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَرَ شَيْئًا يَسْتَتِرُ بِهِ فَإِذَا شَجَرَتَانِ بِشَاطِئِ الْوَادِي فَانْطَلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى إِحْدَاهُمَا فَأَخَذَ بِغُصْنٍ مِنْ أَغْصَانِهَا فَقَالَ " انْقَادِي عَلَىَّ بِإِذْنِ اللَّهِ " . فَانْقَادَتْ مَعَهُ كَالْبَعِيرِ الْمَخْشُوشِ الَّذِي يُصَانِعُ قَائِدَهُ حَتَّى أَتَى الشَّجَرَةَ الأُخْرَى فَأَخَذَ بِغُصْنٍ مِنْ أَغْصَانِهَا فَقَالَ " انْقَادِي عَلَىَّ بِإِذْنِ اللَّهِ " . فَانْقَادَتْ مَعَهُ كَذَلِكَ حَتَّى إِذَا كَانَ بِالْمَنْصَفِ مِمَّا بَيْنَهُمَا لأَمَ بَيْنَهُمَا - يَعْنِي جَمَعَهُمَا - فَقَالَ " الْتَئِمَا عَلَىَّ بِإِذْنِ اللَّهِ " . فَالْتَأَمَتَا قَالَ جَابِرٌ فَخَرَجْتُ أُحْضِرُ مَخَافَةَ أَنْ يُحِسَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقُرْبِي فَيَبْتَعِدَ - وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ فَيَتَبَعَّدَ - فَجَلَسْتُ أُحَدِّثُ نَفْسِي فَحَانَتْ مِنِّي لَفْتَةٌ فَإِذَا أَنَا بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُقْبِلاً وَإِذَا الشَّجَرَتَانِ قَدِ افْتَرَقَتَا فَقَامَتْ كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا عَلَى سَاقٍ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَفَ وَقْفَةً فَقَالَ بِرَأْسِهِ هَكَذَا - وَأَشَارَ أَبُو إِسْمَاعِيلَ بِرَأْسِهِ يَمِينًا وَشِمَالاً - ثُمَّ أَقْبَلَ فَلَمَّا انْتَهَى إِلَىَّ قَالَ " يَا جَابِرُ هَلْ رَأَيْتَ مَقَامِي " . قُلْتُ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " فَانْطَلِقْ إِلَى الشَّجَرَتَيْنِ فَاقْطَعْ مِنْ كُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا غُصْنًا فَأَقْبِلْ بِهِمَا حَتَّى إِذَا قُمْتَ مَقَامِي فَأَرْسِلْ غُصْنًا عَنْ يَمِينِكَ وَغُصْنًا عَنْ يَسَارِكَ " . قَالَ جَابِرٌ فَقُمْتُ فَأَخَذْتُ حَجَرًا فَكَسَرْتُهُ وَحَسَرْتُهُ فَانْذَلَقَ لِي فَأَتَيْتُ الشَّجَرَتَيْنِ فَقَطَعْتُ مِنْ كُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا غُصْنًا ثُمَّ أَقْبَلْتُ أَجُرُّهُمَا حَتَّى قُمْتُ مَقَامَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْسَلْتُ غُصْنًا عَنْ يَمِينِي وَغُصْنًا عَنْ يَسَارِي ثُمَّ لَحِقْتُهُ فَقُلْتُ قَدْ فَعَلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَعَمَّ ذَاكَ قَالَ " إِنِّي مَرَرْتُ بِقَبْرَيْنِ يُعَذَّبَانِ فَأَحْبَبْتُ بِشَفَاعَتِي أَنْ يُرَفَّهَ عَنْهُمَا مَا دَامَ الْغُصْنَانِ رَطْبَيْنِ " . قَالَ فَأَتَيْنَا الْعَسْكَرَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا جَابِرُ نَادِ بِوَضُوءٍ " . فَقُلْتُ أَلاَ وَضُوءَ أَلاَ وَضُوءَ أَلاَ وَضُوءَ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا وَجَدْتُ فِي الرَّكْبِ مِنْ قَطْرَةٍ وَكَانَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يُبَرِّدُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَاءَ فِي أَشْجَابٍ لَهُ عَلَى حِمَارَةٍ مِنْ جَرِيدٍ قَالَ فَقَالَ لِيَ " انْطَلِقْ إِلَى فُلاَنِ بْنِ فُلاَنٍ الأَنْصَارِيِّ فَانْظُرْ هَلْ فِي أَشْجَابِهِ مِنْ شَىْءٍ " . قَالَ فَانْطَلَقْتُ إِلَيْهِ فَنَظَرْتُ فِيهَا فَلَمْ أَجِدْ فِيهَا إِلاَّ قَطْرَةً فِي عَزْلاَءِ شَجْبٍ مِنْهَا لَوْ أَنِّي أُفْرِغُهُ لَشَرِبَهُ يَابِسُهُ . فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لَمْ أَجِدْ فِيهَا إِلاَّ قَطْرَةً فِي عَزْلاَءِ شَجْبٍ مِنْهَا لَوْ أَنِّي أُفْرِغُهُ لَشَرِبَهُ يَابِسُهُ قَالَ " اذْهَبْ فَأْتِنِي بِهِ " . فَأَتَيْتُهُ بِهِ فَأَخَذَهُ بِيَدِهِ فَجَعَلَ يَتَكَلَّمُ بِشَىْءٍ لاَ أَدْرِي مَا هُوَ وَيَغْمِزُهُ بِيَدَيْهِ ثُمَّ أَعْطَانِيهِ فَقَالَ " يَا جَابِرُ نَادِ بِجَفْنَةٍ " . فَقُلْتُ يَا جَفْنَةَ الرَّكْبِ . فَأُتِيتُ بِهَا تُحْمَلُ فَوَضَعْتُهَا بَيْنَ يَدَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ فِي الْجَفْنَةِ هَكَذَا فَبَسَطَهَا وَفَرَّقَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ ثُمَّ وَضَعَهَا فِي قَعْرِ الْجَفْنَةِ وَقَالَ " خُذْ يَا جَابِرُ فَصُبَّ عَلَىَّ وَقُلْ بِاسْمِ اللَّهِ " . فَصَبَبْتُ عَلَيْهِ وَقُلْتُ بِاسْمِ اللَّهِ . فَرَأَيْتُ الْمَاءَ يَتَفَوَّرُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ فَارَتِ الْجَفْنَةُ وَدَارَتْ حَتَّى امْتَلأَتْ فَقَالَ " يَا جَابِرُ نَادِ مَنْ كَانَ لَهُ حَاجَةٌ بِمَاءٍ " . قَالَ فَأَتَى النَّاسُ فَاسْتَقَوْا حَتَّى رَوَوْا قَالَ فَقُلْتُ هَلْ بَقِيَ أَحَدٌ لَهُ حَاجَةٌ فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ مِنَ الْجَفْنَةِ وَهِيَ مَلأَى . وَشَكَا النَّاسُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْجُوعَ فَقَالَ " عَسَى اللَّهُ أَنْ يُطْعِمَكُمْ " . فَأَتَيْنَا سِيفَ الْبَحْرِ فَزَخَرَ الْبَحْرُ زَخْرَةً فَأَلْقَى دَابَّةً فَأَوْرَيْنَا عَلَى شِقِّهَا النَّارَ فَاطَّبَخْنَا وَاشْتَوَيْنَا وَأَكَلْنَا حَتَّى شَبِعْنَا . قَالَ جَابِرٌ فَدَخَلْتُ أَنَا وَفُلاَنٌ وَفُلاَنٌ حَتَّى عَدَّ خَمْسَةً فِي حِجَاجِ عَيْنِهَا مَا يَرَانَا أَحَدٌ حَتَّى خَرَجْنَا فَأَخَذْنَا ضِلَعًا مِنْ أَضْلاَعِهِ فَقَوَّسْنَاهُ ثُمَّ دَعَوْنَا بِأَعْظَمِ رَجُلٍ فِي الرَّكْبِ وَأَعْظَمِ جَمَلٍ فِي الرَّكْبِ وَأَعْظَمِ كِفْلٍ فِي الرَّكْبِ فَدَخَلَ تَحْتَهُ مَا يُطَأْطِئُ رَأْسَهُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৭২৪০। হারুন ইবনে মারুফ ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ (রাহঃ) ......... উবাদা ইবনে ওয়ালীদ ইবনে উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) আনসারী সাহাবীদের শেষ হয়ে যাওয়ার পূর্বে আমি এবং আমার পিতা দীন শিক্ষা করার উদ্দেশ্যে আনসারী সাহাবীদের এই মহল্লায় বের হলাম। প্রথমে আমাদের যার সাথে সাক্ষাত হল, তিনি হলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবী আবুল ইউসর (রাযিঃ)। এক বোঝা কিতাব নিয়ে তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর এক গোলাম। তখন আবুল ইউসুর (রাযিঃ) এর গায়ে ছিল একটি চাঁদর এবং একটি মুআফিরী কাপড়। অনুরূপভাবে তার গোলামের গায়েও ছিল একটি চাঁদর এবং একটি মুআফিরী কাপড়।

অতঃপর আমার আব্বা তাঁকে বললেন, হে চাচাজান! আপনার চেহারায় যে ক্রোধের নিদর্শন দেখতে পাচ্ছি। তিনি বললেন, হ্যাঁ, কারণ বনী হারাম গোত্রের অমুকের পূত্র অমুকের নিকট আমি মাল পাওনা আছি। তাগাদার উদ্দেশ্যে আমি তার বাড়ীতে গিয়েছি। অতঃপর আমি সালাম দিয়ে বললাম, অমুক কোথায়, সে বাড়ী আছে কি? বাড়ীর ভেতর হতে তারা বলল, সে বাড়ীতে নেই। এমতাবস্থায় তার এক কিশোর ছেলে বাইরে আমার নিকট এলো। আমি তাকে বললাম, তোমার বাবা কোথায়? সে বলল, আপনার আওয়াজ শুনে আমার আম্মার খাটের ভেতর পালিয়ে রয়েছে। আমি তাকে বললাম, আমার কাছে এসো। অবশ্যই আমি জানি তুমি কোথায় আছে।

অতঃপর সে বেরিয়ে আসল। আমি তাকে বললাম, আমার থেকে আত্মগোপন করার ব্যাপারে কিসে তোমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। সে বলল, আল্লাহর কসম! আমি আপনাকে বলব, তবে মিথ্যা বলব না। আল্লাহর কসম, আপনি তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবী, তাই এ বিষয়টিকে আমি ভয়ানক মনে করেছি যে আমি আপনার সাথে মিথ্যা কথা বলব অথবা অঙ্গীকার করে অঙ্গীকার ভঙ্গ করব। আল্লাহর কসম! আমি একজন অভাবগ্রস্থ ব্যক্তি। আমি বললাম, সত্যই তুমি আল্লাহর কসম করে বলছো? সে বলল, হ্যাঁ। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি। আমি বললাম, আল্লাহর কসম করে বলছো? সে বলল, হ্যাঁ আল্লাহর কসম করে বলছি। আমি আবারো বললাম, আল্লাহর কসম করে বলছো? সে বলল, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম করে বলছি।

অতঃপর এতদসশ্লিষ্ট দলীল আনা হল এবং আবুল ইউসর নিজ হাতে উহা মুছে দিলেন। এরপর তিনি বললেন, আমার ঋণ পরিশোধের মত টাকা যদি তোমার ব্যবস্থা হয় তবে তুমি তা পরিশোধ করবে। অন্যথায় তুমি আমার পক্ষ হতে মুক্ত। অতঃপর আবুল ইউসর (রাযিঃ) দুটি আঙ্গুল তার চক্ষুদ্বয়ের উপর রেখে বললেন, আমার উভয় চোখের দৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছে, আমার উভয় কান শ্রবণ করেছে এবং হৃদয় ধমনীর প্রতি ইশারা করে তিনি বললেন, আমার হৃদয় তা সংরক্ষণ করেছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে কোন অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে অবকাশ দেয় বা মাফ করে দেয় আল্লাহ তাআলা তাকে তাঁর স্বীয় ছায়ার নীচে আশ্রয় প্রদান করবেন।

উবাদা (রাযিঃ) বলেন, আমি তাকে বললাম, চাচাজান! যদি আপনি আপনার গোলামের শরীর থেকে চাঁদরটি নিয়ে তাকে আপনার মুআফিরী কাপড়টি দিয়ে দেন অথবা তার মুআফিরী কাপড়টি নিয়ে আপনি যদি তাকে আপনার চাঁদরটি দিয়ে দেন তবে তো আপনার এক জোড়া কাপড় এবং তারও এক জোড়া কাপড় হয়ে যায়। এ কথা শুনে তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, হে আল্লাহ! আপনি এ বাচ্চার মধ্যে বরকত দিন। এরপর বললেন, হে ভ্রাতুষ্পূত্র! আমার এ দু’চোখ প্রত্যক্ষ করেছে, আমার এ দু’কান শ্রবণ করেছে এবং হদয় ধমনীর প্রতি ইশারা করে তিনি বললেন, আমার এ হৃদয় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে সংরক্ষণ করেছে, তিনি বলেছেনঃ তোমরা যা খাও, তাদেরকেও তা খাওয়াও, তোমরা যা পরিধান কর তাদেরকেও তা পরিধান করাও। অধিকন্তু তিনি বললেন, কিয়ামতের দিন তার আমার নেকী নিয়ে যাওয়ার চেয়ে আমার তাকে পার্থিব সামগ্রী যা একেবারেই তুচ্ছ তা দান করা খুবই সহজ ব্যাপার।

অতঃপর আমরা সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) এর নিকট মসজিদে আসলাম। তখন তিনি এক কাপড় শরীরে জড়িয়ে নামায আদায় করছিলেন। এ দেখে আমি লোকদের ডিঙ্গিয়ে তার ও কিবলার মাঝামাঝি স্থানে গিয়ে বসলাম অতঃপর আমি বললাম, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন। আপনি এক কাপড় পরিহিত অবস্থায় নামায আদায় করছেন। অথচ আপনার পাশেই আপনার চাঁদর পড়ে আছে। এ কথা শুনে তিনি আঙ্গুলগুলো প্রশস্ত করতঃ সেগুলো কামানের মত বাকা করে আমার বক্ষের দিকে ইশারা করে বললেন, আমার ইচ্ছা ছিল যে তোমার মত কোন আহমক (নির্বোধ) ব্যক্তি আমার নিকট এসে আমি যা করছি তা প্রত্যক্ষ করবে এবং পরে তার অনুরূপ করবে।

শোন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইবনে তাবের (খেজুর গাছের) একটি ডাল হাতে আমাদের এ মসজিদে আসলেন এবং মসজিদের পশ্চিম দিকে কফ দেখে তিনি ডাল দ্বারা ঘষে উহা পরিস্কার করলেন। অতঃপর আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেনঃ তোমাদের কে চায় যে, আল্লাহ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন? জাবির (রাযিঃ) বলেন, এতে আমরা তীত-সন্ত্রস্ত হয়ে গেলাম। অতঃপর তিনি আবার বললেনঃ তোমাদের কেউ পছন্দ করবে কি যে, আল্লাহ তাআলা তার থেকে তার মুখ ফিরিয়ে নেন? তিনি বলেন, এবারও আমরা শংকিত হয়ে গেলাম, তৎপর পূনরায় তিনি বললেনঃ তোমাদের কে চায় যে তার থেকে আল্লাহ তাআলা মুখ ফিরিয়ে নেন? উত্তরে আমরা বললাম, না! হে আল্লাহর রাসুল! (আমাদের কেউ এমনটি চায়না)।

অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাঁড়াবে, তখন আল্লাহ তাআলা তার চেহারামুখী থাকেন। সুতরাং মুসল্লী যেন সম্মুখের দিকে, ডান দিকে থু-থু না ফেলে; বরং সে যেন বাম দিকে বাম পায়ের নীচে থু-থু ফেলে আর যদি তড়িৎ কফ চলে আসে তবে সে যেন কাপড়ের উপর এভাবে থু-থু ফেলে, এবং পরে যেন এক অংশকে অন্য অংশের উপর এভাবে গুটিয়ে নেয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমার নিকট আবির (সুগন্ধি) নিয়ে আসো। তখন আমাদের গোত্রের একজন যুবক লম্ফ দিয়ে উঠে দৌড়িয়ে তার বাড়ীতে গেল এবং হাতের তালুতে করে সুগন্ধি নিয়ে এলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার থেকে সুগন্ধি নিয়ে ডালার মাথায় মেখে যেখানে কফের দাগ ছিল তাতে তা লাগিয়ে দিলেন। জাবির (রাযিঃ) বলেন, এখান থেকেই তোমরা তোমাদের মসজিদে সুগন্ধি মাখতে আরম্ভ করেছ।

জাবির (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বুওয়াত প্রান্তরের যুদ্ধে রওয়ানা হলাম। তিনি মাজদী ইবনে আমর জুহানী কাফিরকে তালাশ করছিলেন। অবস্থা এই ছিল যে, আমাদের পাঁচ পাঁচ, ছয় ছয়, সাত সাত ব্যক্তি পালাক্রমে একটি উটের উপর আরোহণ করতো। অতঃপর এক আনসারী ব্যক্তির আরোহণের পালা আসলে সে তার উটটিকে বসিয়ে এর উপর আরোহণ করল এবং উহাকে চালাল। চলমাল অবস্থায় উটটি তার উপর কিছু ধূলাবালি উড়াল। ফলে সে ক্ষেপে গিয়ে বলে উঠল- আল্লাহ তোমার প্রতি লানত করেন। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ লোকটি কে যে তার উটের প্রতি অভিসম্পাত করল? সে বলল, আমি, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি এর থেকে নেমে যাও! আর অভিশপ্ত উটটি আমাদের সাথে থাকতে পারবে না। তোমাদের সন্তানদের উপর বদ দুআ করোনা এবং নিজের ধন-সম্পদের উপরও না। এমন যেন না হয় যে, তোমরা এমন মুহুর্তে বদ দুআ করবে যখন আল্লাহর নিকট কিছু চাওয়া হয় এবং গ্রহণযোগ্যও হয়।

জাবির (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আমরা আবার চললাম, সন্ধ্যা হলে আমরা আরবের এক জল স্থানের নিকট পৌছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কে আছে, যে আমাদের আগে গিয়ে হাউজটি ঠিকঠাক করবে এবং নিজেও পান করবে আর আমাদেরকেও পান করাবে। জাবির (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর আমি দাঁড়িয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! এই ব্যক্তি অগ্রে যাবে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ জাবিরের সাথে আর কে যাবে? তখন জাব্বার ইবনে সাখর (রাযিঃ) দাঁড়ালেন। অতঃপর আমরা দু’জন কুয়ার ধারে গেলাম এবং এক বা দু’বালতি তুললাম। এরপর আমরা সে (হাউজ) টি মাটি দ্বারা লেপলাম। পরে আমরা কুয়া হতে পানি উঠাতে আরম্ভ করলাম এবং পানি দ্বারা উহা কানায় কানায় ভরে দিলাম।

অতঃপর সর্ব প্রথম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে এলেন এবং বললেন, তোমরা কি আমাকে অনুমতি দাও? আমরা বললাম, নিশ্চয়ই হে আল্লাহর রাসুল! অতঃপর তিনি তাঁর উট ছাড়লেন পানি পানের জন্য। উট পানি পান করল। অতঃপর তিনি তাঁর উটকে টান দিলে উহা পানি পান বন্ধ করল এবং পেশাব করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পরে উহাকে আলাদা স্থানে নিয়ে গেলেন এবং বসালেন। এরপর পুনরায় তিনি হাউজের নিকট এসে উযু করলেন, আমি দাঁড়িয়ে থাকলাম এবং পরে আমিও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উযুর স্থান হতে উযু করলাম। জাব্বার ইবনে সাখর (রাযিঃ) সৌচকার্যের উদ্দেশ্যে গমন করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে দাঁড়ালেন। আমার গায়ে ছিল একটি চাঁদর। আমি তার উভয় আচল বিপরীত দিকে দেয়ার চেষ্টা করলাম; কিন্তু তা সংকুলান হলনা। তবে উহাতে কতগুলো রেশমের থোবা ছিল। তাই তাকে আমি তা উল্টো দিকে করলাম ও এর দুই পার্শ্ব বিপরীতভাবে দুই কাঁধের উপর রাখলাম এবং গর্দানের সাথে তাকে বাঁধলাম।

অতঃপর আমি এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমার হাত ধরে ঘুরিয়ে আমাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন। অতঃপর জাব্বার ইবনে সাখর (রাযিঃ) এসে উযু করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাম পাশে দাঁড়ালেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের উভয়ের হাত ধরে আমাদেরকে পেছনের দিকে সরিয়ে দিলেন এবং আমাদেরকে তাঁর পেছনে দাঁড় করালেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার প্রতি তীক্ষ্ণভাবে তাকাতে আরম্ভ করলেন; কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম না, অবশেষে আমি বুঝতে পারলাম। তখন তিনি আমাকে তার হাত দ্বারা ইশারা করে বললেন, তুমি তোমার চাদর (কোমরে) বেঁধে নাও।

এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযান্তে বললেনঃ হে জাবির! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি উপস্থিত। তিনি বললেনঃ চাঁদর যদি প্রশস্ত হয় তবে এর উভয় প্রান্ত বিপরীতভারে উভয় কাঁধের উপর রেখে দিবে আর চাঁদর যদি সংকীর্ণ হয় তবে উহাকে তোমার কোমরে বেঁধে নিবে।

জাবির (রাযিঃ) বলেন, (আর একবার) আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে চলতে আরম্ভ করলাম। তখন জীবিকা হিসাবে আমাদের প্রত্যেকেই একটি করে খেজুর পেত, উহা সে চুষত এবং পরে আবার উহা কাপড়ের মধ্যে রেখে দিত। তখন আমরা আমাদের ধনূকের দ্বারা গাছের পাতা পাড়তাম এবং উহা ভক্ষণ করতাম। ফলে আমাদের চোয়ালে ঘা হয়ে গেল। এ সময় এক দিন এক ব্যক্তি খেজুর বন্টন করল এবং বন্টনের সময় এক ব্যক্তিকে ভুলে গেল। আমরা তাকে নিয়ে চললাম এবং তার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে বললাম, তাকে খেজুর দেয়া হয়নি। অবশেষে তাকেও খেজুর দেয়া হল। সে দাঁড়িয়ে খেজুর গ্রহণ করল।

জাবির (রাযিঃ) বলেন, (একবার) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আমরা চলতে আরম্ভ করলাম। যেতে যেতে আমরা এক প্রশস্ত উপত্যকায় অবতরণ করলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শৌচকার্য সমাধানের উদ্দেশ্যে গমন করলেন আমিও পানির পাত্র নিয়ে তার পেছনে পেছনে গেলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নযর করে দেখলেন; কিন্তু পর্দা করবার জন্য কিছুই পেলেন না। হঠাৎ উপত্যকার এক প্রান্তে দুটি বৃক্ষ দেখতে পেলেন। তাই তিনি এর একটির নিকট গেলেন এবং এর একটি ডাল হাতে নিয়ে বললেন, আল্লাহর হুকুমে তুমি আমার আনুগত্য কর। ডালটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বশ্যতা স্বীকার করে নিল, লাগাম পরিহিত ঐ উটের ন্যায় যা তার চালকের অনুসরণ করে।

অতঃপর তিনি দ্বিতীয় গাছটির নিকট এসে এর একটি ডাল হাতে নিয়ে বললেন, আল্লাহর হুকুমে তুমি আমার আনুগত্য কর। এটিও অনুরূপ তার আনুগত্য করল। অতঃপর তিনি যখন দুই গাছের মধ্যবর্তী ছুরতে পৌছলেন, তখন তিনি ডাল দু’টো এক সাথে মিলিয়ে বললেন, আল্লাহর হুকুমে তোমরা আমার সন্মুখে (একত্রিত হয়ে যাও) মিলে যাও। তারা উভয়ই একত্রিত হয়ে গেল, মিলে গেল। জাবির (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর আমি এই ভয়ে দৌড়িয়ে চলে এলাম যে, না জানি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার সন্নিকটে হবার বিষয়টি জেনে ফেলেন এবং আরো দুরে চলে যান।

ইবনে আব্বাদ (রাযিঃ)يَبْتَعِدَ এর স্থলেفَيَتَبَعَّ উল্লেখ করেছেন। অতঃপর আমি বসে মনে মনে কিছু বলছিলাম। এমতাবস্থায় নযর উঠিয়েই আমি দেখলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্মুখ দিক হতে তাশরীফ আনছেন। উভয় বৃক্ষই তখন আলাদা হয়ে স্বীয় কান্ডের উপর দণ্ডায়মান অবস্থায় ছিল। অতঃপর আমি দেখলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে মাথা দ্বারা ডানে ও বামে ইশারা করলেন। এ স্থলে বর্ণনাকারী আবু ইসমাঈলও তার মাথা দ্বারা ইশারা করেছেন। এরপর তিনি সামনের দিকে এগিয়ে এসে আমার পর্যন্ত পৌছে আমাকে বললেন, হে জাবির! তুমি তো আমার অবস্থানের স্থান দেখেছো? আমি বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তখন তিনি বললেন, তুমি ঐ গাছ দু’টির নিকট যাও এবং উহাদের প্রত্যেকটির একটি একটি ডাল কেটে নিয়ে এসো। অতঃপর তুমি আমার এ স্থানে পৌছে একটি ডাল ডান দিকে এবং অপরটি বাম দিকে রেখে দিবে।

জাবির (রাযিঃ) বলেন, আমি উঠলাম এবং একটি পাথর হাতে নিয়ে উহাকে ভেঙ্গে তীক্ষ্ণ করলাম। ফলে উহা ভীষণ ধারাল হল। অতঃপর আমি গাছ দুটির নিকট আসলাম এবং এক এক গাছ হতে এক একটি করে ডাল কাটলাম। এরপর ডাল দুটো হেঁচড়িয়ে নিয়ে আমি রওয়ানা হলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অবস্থান স্থলে পৌছে একটি ডাল আমার ডান দিকে এবং অন্য ডালটি আমার বাম দিকে রেখে দিলাম। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সাক্ষাত করে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি যা বলেছেন আমি তা পূর্ণ করেছি। তবে এর কারণ কি?

জবাবে তিনি বললেনঃ দু’টি কবরের পাশ দিয়ে পথ অতিক্রম কালে আমি দেখেছি, তাদের কবরে আযাব হচ্ছে। আমি তাদের জন্য সুপারিশ করার ইচ্ছা করছি। সম্ভবত এ তাদের আযাবকে লঘু করে দিবে, যতক্ষণ পর্যন্ত এ ডাল দুটো তরতাজা থাকবে। জাবির (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর আমরা সৈন্যদের মাঝে আসলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে জাবির! ঘোষণা দাও, উযু করার জন্য। আমি ঘোষণা করলাম, হে লোক সকল! উযু কর, উযু কর, উযু কর। এরপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! কাফেলার নিকট এক ফোটা পানিও নেই। কাফেলায় এক আনসারী সাহাবী ছিলেন। তিনি কাষ্ঠের ডালাতে ঝুলন্ত পুরাতন মশকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য পানি ঠাণ্ডা করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

জাবির (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তুমি অমুকের ছেলে অমুক আনসারীর নিকট যাও এবং দেখ তার মশকে কিছু পানি আছে কিনা? আমি তার নিকট গেলাম এবং দেখলাম, মশকের মুখে শুধু এক ফোটা পানি আছে। উহা যদি আমি মাশকের ভেতর ফেলে দেই তবে শুষ্ক মশকই উহা খেয়ে নিঃশেষ করে দিবে। এ দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! মশকের মুখে এক ফোটা পানি ব্যতীত আর কোন পানই মশকের ভেতর নেই। উহাও যদি মশকের ভেতর ঢেলে দেয়া হয় তবে মশকের শুষ্ক অংশই উহা খেয়ে নিঃশেষ করে দিবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যাও, উহা নিয়ে এসো।

জাবির (রাযিঃ) বলেন, উহা আমি নিয়ে আসলাম। তিনি উহা হাতে নিয়ে কি যেন পড়তে শুরু করলেন। আমি তা বুঝতে পারাছিলাম না। এবং সাথে সাথে নিজ হাত দ্বারা উহা টিপতে আরম্ভ করলেন। অতঃপর তিনি মশকটি আমার হাতে দিয়ে বললেন, হে জাবির! একটি বড় পাত্র নিয়ে আবার ঘোষণা দাও। আমি ঘোষণা করলাম। হে কাফেলা! একটি বড় পাত্র, একটি বড় পাত্র অতঃপর আমার কাছে একটি বড় পাত্র নিয়ে আসা হলো। আমি তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে নিয়ে রাখলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার হাত দ্বারা উক্ত পাত্রের উপর এভাবে ইঙ্গিত করলেন এবং পাত্রের তলায় নিজের হাত রেখে আঙ্গুলগুলো ছড়িয়ে রাখলেন। অতঃপর তিনি বললেন, হে জাবির! ঐ মশকটি নিয়ে এসো এবং বিসমিল্লাহ বলে উহার পানি আমার হাতের উপর ঢালো।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নির্দেশ মোতাবিক ’বিসমিল্লাহ’ বলে আমি উহার পানি ঢাললাম। অমনি দেখতে পেলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আঙ্গুল সমূহের মধ্য হতে পানি উথলিয়ে উঠছে। অবশেষে পাত্রও উথলিয়ে উঠল এবং ঘুরতে শুরু করল। পরে তা পানিতে ভরপূর হয়ে গেল। তখন আবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে জাবির! ঘোষণা দাও, যার যার পানির প্রয়োজন আছে। জাবির (রাযিঃ) বলেন, লোকজন সকলেই আসলো, পানি পান করলো এবং তৃপ্ত হলো। তিনি বলেন, এরপর আমি বললাম, পানির প্রযোজন আছে, এমন কোন লোক বাকী রয়েছে কি? অতঃপর পাত্র পানিতে ভরপুর এ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাত্র হতে নিজ হাত উত্তোলন করলেন।

জাবির (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট ক্ষুধার ব্যাপারে অভিযোগ করলেন। এ কথা শুনে তিনি বললেন, অচিরেই আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে খাদ্য দান করবেন। অতঃপর আমরা সমুদ্র উপকুলে আসলাম। সমুদ্র তরং্গায়িত হয়ে একটি জন্তু (বিশাল মাছ) আমাদের সম্মুখে নিক্ষেপ করল। আমরা সমুদ্র তীরে আগুন জ্বালিয়ে তা পাকালাম, ভূনা করলাম এবং ভক্ষণ করলাম ও তৃপ্ত হয়ে ভক্ষণ করলাম।

জাবির (রাযিঃ) বলেন, আমি এবং অমুক অমুক পাঁচ ব্যক্তি এর চোখের গোলাকৃতির মাঝে প্রবেশ করলাম। আমাদের কাউকেই দেখা যাচ্ছিলোনা। অতঃপর আমরা বের হয়ে এলাম। এরপর এর পাঁজরের হাড়সমূহের একটি হাড় আমরা হাতে নিলাম এবং উহাকে ধনূকের মত বানিয়ে বৃহৎ যীন পরিহিত অবস্থায় কাফেলার সর্ব বৃহৎ উটে আরোহণ করতঃ কাফেলার বৃহদকায় এক ব্যক্তিকে এর তলদেশ দিয়ে প্রবেশ করার জন্য আমরা আহবান জানালাম। সে এর তলদেশ দিয়ে মাথা অবনমিত করা ব্যতিরেকেই প্রবেশ করে চলে গেল।

১৯. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হিজরত সম্পর্কিত হাদীস

باب فِي حَدِيثِ الْهِجْرَةِ

৭২৪১
حَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ، يَقُولُ جَاءَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ إِلَى أَبِي فِي مَنْزِلِهِ فَاشْتَرَى مِنْهُ رَحْلاً فَقَالَ لِعَازِبٍ ابْعَثْ مَعِيَ ابْنَكَ يَحْمِلْهُ مَعِي إِلَى مَنْزِلِي فَقَالَ لِي أَبِي احْمِلْهُ . فَحَمَلْتُهُ وَخَرَجَ أَبِي مَعَهُ يَنْتَقِدُ ثَمَنَهُ فَقَالَ لَهُ أَبِي يَا أَبَا بَكْرٍ حَدِّثْنِي كَيْفَ صَنَعْتُمَا لَيْلَةَ سَرَيْتَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ أَسْرَيْنَا لَيْلَتَنَا كُلَّهَا حَتَّى قَامَ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ وَخَلاَ الطَّرِيقُ فَلاَ يَمُرُّ فِيهِ أَحَدٌ حَتَّى رُفِعَتْ لَنَا صَخْرَةٌ طَوِيلَةٌ لَهَا ظِلٌّ لَمْ تَأْتِ عَلَيْهِ الشَّمْسُ بَعْدُ فَنَزَلْنَا عِنْدَهَا فَأَتَيْتُ الصَّخْرَةَ فَسَوَّيْتُ بِيَدِي مَكَانًا يَنَامُ فِيهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي ظِلِّهَا ثُمَّ بَسَطْتُ عَلَيْهِ فَرْوَةً ثُمَّ قُلْتُ نَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَأَنَا أَنْفُضُ لَكَ مَا حَوْلَكَ فَنَامَ وَخَرَجْتُ أَنْفُضُ مَا حَوْلَهُ فَإِذَا أَنَا بِرَاعِي غَنَمٍ مُقْبِلٍ بِغَنَمِهِ إِلَى الصَّخْرَةِ يُرِيدُ مِنْهَا الَّذِي أَرَدْنَا فَلَقِيتُهُ فَقُلْتُ لِمَنْ أَنْتَ يَا غُلاَمُ فَقَالَ لِرَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ قُلْتُ أَفِي غَنَمِكَ لَبَنٌ قَالَ نَعَمْ . قُلْتُ أَفَتَحْلُبُ لِي قَالَ نَعَمْ . فَأَخَذَ شَاةً فَقُلْتُ لَهُ انْفُضِ الضَّرْعَ مِنَ الشَّعَرِ وَالتُّرَابِ وَالْقَذَى - قَالَ فَرَأَيْتُ الْبَرَاءَ يَضْرِبُ بِيَدِهِ عَلَى الأُخْرَى يَنْفُضُ - فَحَلَبَ لِي فِي قَعْبٍ مَعَهُ كُثْبَةً مِنْ لَبَنٍ قَالَ وَمَعِي إِدَاوَةٌ أَرْتَوِي فِيهَا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِيَشْرَبَ مِنْهَا وَيَتَوَضَّأَ - قَالَ - فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَكَرِهْتُ أَنْ أُوقِظَهُ مِنْ نَوْمِهِ فَوَافَقْتُهُ اسْتَيْقَظَ فَصَبَبْتُ عَلَى اللَّبَنِ مِنَ الْمَاءِ حَتَّى بَرَدَ أَسْفَلُهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ اشْرَبْ مِنْ هَذَا اللَّبَنِ - قَالَ - فَشَرِبَ حَتَّى رَضِيتُ ثُمَّ قَالَ " أَلَمْ يَأْنِ لِلرَّحِيلِ " . قُلْتُ بَلَى . قَالَ فَارْتَحَلْنَا بَعْدَ مَا زَالَتِ الشَّمْسُ وَاتَّبَعَنَا سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكٍ - قَالَ - وَنَحْنُ فِي جَلَدٍ مِنَ الأَرْضِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُتِينَا فَقَالَ " لاَ تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا " . فَدَعَا عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَارْتَطَمَتْ فَرَسُهُ إِلَى بَطْنِهَا أُرَى فَقَالَ إِنِّي قَدْ عَلِمْتُ أَنَّكُمَا قَدْ دَعَوْتُمَا عَلَىَّ فَادْعُوَا لِي فَاللَّهُ لَكُمَا أَنْ أَرُدَّ عَنْكُمَا الطَّلَبَ . فَدَعَا اللَّهَ فَنَجَى فَرَجَعَ لاَ يَلْقَى أَحَدًا إِلاَّ قَالَ قَدْ كَفَيْتُكُمْ مَا هَا هُنَا فَلاَ يَلْقَى أَحَدًا إِلاَّ رَدَّهُ - قَالَ - وَوَفَى لَنَا .
وَحَدَّثَنِيهِ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، ح وَحَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، كِلاَهُمَا عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ اشْتَرَى أَبُو بَكْرٍ مِنْ أَبِي رَحْلاً بِثَلاَثَةَ عَشَرَ دِرْهَمًا وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمَعْنَى حَدِيثِ زُهَيْرٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ وَقَالَ فِي حَدِيثِهِ مِنْ رِوَايَةِ عُثْمَانَ بْنِ عُمَرَ فَلَمَّا دَنَا دَعَا عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَاخَ فَرَسُهُ فِي الأَرْضِ إِلَى بَطْنِهِ وَوَثَبَ عَنْهُ وَقَالَ يَا مُحَمَّدُ قَدْ عَلِمْتُ أَنَّ هَذَا عَمَلُكَ فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يُخَلِّصَنِي مِمَّا أَنَا فِيهِ وَلَكَ عَلَىَّ لأُعَمِّيَنَّ عَلَى مَنْ وَرَائِي وَهَذِهِ كِنَانَتِي فَخُذْ سَهْمًا مِنْهَا فَإِنَّكَ سَتَمُرُّ عَلَى إِبِلِي وَغِلْمَانِي بِمَكَانِ كَذَا وَكَذَا فَخُذْ مِنْهَا حَاجَتَكَ قَالَ " لاَ حَاجَةَ لِي فِي إِبِلِكَ " . فَقَدِمْنَا الْمَدِينَةَ لَيْلاً فَتَنَازَعُوا أَيُّهُمْ يَنْزِلُ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَنْزِلُ عَلَى بَنِي النَّجَّارِ أَخْوَالِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ أُكْرِمُهُمْ بِذَلِكَ " . فَصَعِدَ الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ فَوْقَ الْبُيُوتِ وَتَفَرَّقَ الْغِلْمَانُ وَالْخَدَمُ فِي الطُّرُقِ يُنَادُونَ يَا مُحَمَّدُ يَا رَسُولَ اللَّهِ يَا مُحَمَّدُ يَا رَسُولَ اللَّهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৭২৪১। সালামা ইবনে শাবীব (রাহঃ) ......... বারা’ ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) আমার পিতার নিকট আসলেন এবং তাঁর থেকে একটি হাওদা খরীদ করলেন। অতঃপর তিনি (আমার পিতা) আযিবকে বললেন, তুমি তোমার ছেলেকে আমার সাথে পাঠিয়ে দাও, সে উহা আমার সাথে বহন করে আমার বাড়ী পর্যন্ত পৌছিয়ে দিয়ে আসবে। আমার পিতা আমাকে বললেন, তুমি উহা উঠিয়ে নাও। আমি উহা উঠিয়ে নিলাম। অতঃপর মূল্য আদায়ের জন্য আমার পিতাও তাঁর সাথে বের হলেন। পথিমধ্যে আমার পিতা তাকে বললেন, হে আবু বকর! যে রাতে আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ভ্রমণ (হিজরত) করেছিলেন তখন আপনারা কি করেছিলেন, তা আমার নিকট আপনি বর্ণনা করুন।

তিনি বললেন, (তা হলে শোন), আমরা পুর্ণ রাত সফর করেছি। অবশেষে যখন দিন হল, ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় হল রাস্তা সম্পূর্ণ খালি হয়ে গেল এবং কোন মানুষ জন আর রাস্তা অতিক্রম করেছে না, তখন আমরা একটি বৃহদাকায় পাথর খণ্ড দেখতে পেলাম। এর ছায়া মাটিতে পড়ছিল এবং তখনো পর্যন্ত সেখানে রৌদ্র আসেনি। তাই আমরা সেখানে গেলাম এবং আমি নিজে পাথরটির নিকট গিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘুমানোর জন্য একটু স্থান সমান্তরাল করলাম। এরপর একটি কম্বল উহাতে আমি বিছিয়ে দিলাম। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি ঘুমিয়ে পড়ুন। আমি আপনার আশেপাশের শক্রদের অবস্থান সম্পর্কে অনুসন্ধান চালাচ্ছি। একথা শুনে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন এবং আমি তাঁর পার্শ্ববর্তী স্থানসমূহে অনুসন্ধান চালালাম।

হঠোৎ একজন বকরীর রাখালকে দেখতে পেলাম। সে আমাদের মত উদ্দেশ্য নিয়েই পাথরটির দিকে এগিয়ে আসছে। আমি তার সাথে সাক্ষাত করলাম এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, ওহে! তুমি কার গোলাম? সে বলল, আমি শহরবাসী এক ব্যক্তির গোলাম। আমি বললাম, তোমার বকরীতে দুধ আছে কি? সে বলল, হ্যাঁ, আছে। আমি বললাম, তাহলে আমার জন্য উহা দোহন করবে কি? সে বলল, হ্যাঁ করব। অতঃপর সে একটি বকরী নিয়ে এল। তখন আমি তাকে বললাম, প্রথমে পশম, মাটি এবং খড়কুটা হতে স্তনটি একবার ঝেড়ে নাও। রাবী বলেন, এ সময় আমি বারাআ ইবনে আযিবকে এক হাত অন্য হাতের উপর মেরে ঝাড়তে দেখেছি।

অতঃপর সে কাষ্ঠের একটি পেয়ালাতে আমার জন্য সামান্য দুধ দোহন করল। আবু বকর (রাযিঃ) বলেন, আমার নিকট একটি পাত্র ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পান করা ও উযু করার জন্য উহাতে আমি পানি রাখতাম। অতঃপর আমি নবী (ﷺ) এর নিকট আসলাম। কিন্তু তাকে ঘুম থেকে জাগ্রত করতে আমার ইচ্ছা ছিলনা। তবে তার প্রতি আমি চেয়ে দেখি যে, তিনি নিজে নিজেই জাগ্রত হয়ে গিয়েছেন। এরপর দুধের মাঝে আমি পানি ঢাললাম। ফলে উহা শীতল হয়ে গেল। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! এ থেকে একটু দুধ পান করে নিন। তিনি দুধ পান করলেন এবং খুব খুশী হলেন।

অতঃপর তিনি বললেনঃ এখনো কি যাত্রার সময় হয়নি! আমি বললাম, হ্যাঁ হয়েছে। ঠিক দ্বিপ্রহরের পর আমরা আবার যাত্রা শুরু করলাম। এদিকে সুরাকা ইবনে মালিক আমাদের অনুসরণ করে চলছে। আমরা তখন এক শক্ত ভূমিতে ছিলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল আমাদেরকে তো ধরে ফেলেছে। তিনি বললেনঃ চিন্তিত হয়োনা, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উপর বদ-দুআ করলেন। এতে তার ঘোড়া পেট পর্যন্ত যমীনে ধ্বসে গেল। আমি তা দেখতে পাচ্ছিলাম। অতঃপর সে বলল, আমি জানি, তোমরা আমার জন্য বদ-দুআ করেছ। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি তোমাদের তালাশকারীদের তোমাদের (এদিক) থেকে ফিরিয়ে দিব। সুতরাং তোমরা আমার জন্য দুআ কর। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর নিকট দুআ করলেন। এতে সে মুক্তি পেয়ে গেল।

অতঃপর সে ফিরে গেল। এবং যে কোন কাফিরের সাথে দেখা হলে সে বলত, এদিকে আমি সব দেখে এসেছি। এদিকে কোন কিছুই নেই। মোটকথা, যার সাথেই তার দেখা হত সে তাকে ফিরিয়ে দিত। আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) বলেন, সুরাকা তার অঙ্গীকার পূর্ণ করেছিল।

যুহাইর ইবনে হারব (অন্য সনদে) ইসহাক ইবনে হারব (রাহঃ) ......... বারা’ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) আমার পিতার নিকট হতে তের দিরহামের বিনিময়ে একটি হাওদা ক্রয় করেছেন। অতঃপর তিনি যুহাইরের সূত্রে ইসহাক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে (ইসরাঈল) উসমান ইবনে উমর (রাহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসের মধ্যে উল্লেখ করেছেন যে, সে নিকটবর্তী হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জন্য বদ-দুআ করেছেন। এতে পেট পর্যন্ত তার ঘোড়ার পা যমীনে ধ্বসে যায়। সুরাকা তার ঘোড়ার উপর থেকে লাফ দিল। পরে বলল, হে মুহাম্মাদ! আমি জানি, এ তোমারই কাজ। আমি যে বিপদে আছি এ থেকে যেন আল্লাহ আমাকে মুক্তি দেন, এ ব্যাপারে তুমি আমার জন্য আল্লাহর নিকট দুআ কর। আমি তোমাকে ওয়াদা দিচ্ছি যে, আমার পেছনে যারাই তোমার তালাশে থাকবে আমি তাদের থেকে তোমার অবস্থান গোপন রাখব এবং এ হচ্ছে আমার তীরদানী, এ থেকে তুমি একটি তীর নিয়ে যাও। কিছু দুর পরই অমুক স্থানে তুমি আমার উট ও গোলামদেরকে দেখতে পাবে, এর থেকে তুমি তোমার প্রয়োজন অনুপাতে নিয়ে যাবে।

তিনি (নবী (ﷺ)) বললেনঃ তোমার উটের আমার কোন প্রয়োজন নেই। আবু বকর (রাযিঃ) বলেন, রাতে আমরা মদীনায় পৌছলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কার বাড়ীতে অবস্থান করবেন, এ নিয়ে লোকদের মাঝে বিতর্ক শুরু হল। তখন তিনি বললেনঃ আমি আব্দুল মুত্তালিবের মামার বংশ বনু নাজ্জারে অবতরণ করবো। এর দ্বারা তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন। অতঃপর পুরুষ লোকেরা পাহাড়ে আরোহণ করে, মহিলাগণ নিজ নিজ গৃহে এবং যুবক ও ক্রীতদাসগণ রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষিপ্ত হয়ে এ আওয়াজ দিতে লাগল যে, হে মুহাম্মাদ! হে আল্লাহর রাসুল! হে মুহাম্মাদ! হে আল্লাহর রাসুল!