كتاب صلاة المسافرين وقصرها

৬- মুসাফিরের নামায - কসর নামায

অধ্যায় ৬ · ২৬৭ টি হাদীস

১. মুসাফিরের নামায এবং তার কসর

باب صَلاَةِ الْمُسَافِرِينَ وَقَصْرِهَا

১৪৪৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ فُرِضَتِ الصَّلاَةُ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ فَأُقِرَّتْ صَلاَةُ السَّفَرِ وَزِيدَ فِي صَلاَةِ الْحَضَرِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৪৪৩। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুকিম ও মুসাফির অবস্থায় নামায দু’দু রাক’আত ফরজ করা হয়েছিল। পরে সফরের নামায ঠিক রাখা হল কিন্তু মুকিমের নামাযে বৃদ্ধি করা হল।

১৪৪৪

وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ فَرَضَ اللَّهُ الصَّلاَةَ حِينَ فَرَضَهَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَتَمَّهَا فِي الْحَضَرِ فَأُقِرَّتْ صَلاَةُ السَّفَرِ عَلَى الْفَرِيضَةِ الأُولَى .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৪৪৪। আবু তাহির (রাহঃ) ও হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আল্লাহ যখন নামায ফরয করেছিলেন, তখন দু’রাকআত ফরয করেছিলেন। এরপর মুকিমের নামায পুরা করেন (চার রাক’আত) কিন্তু সফরের নামায প্রথম অবস্থায়ই রাখা হয়।

১৪৪৫

وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ الصَّلاَةَ، أَوَّلَ مَا فُرِضَتْ رَكْعَتَيْنِ فَأُقِرَّتْ صَلاَةُ السَّفَرِ وَأُتِمَّتْ صَلاَةُ الْحَضَرِ . قَالَ الزُّهْرِيُّ فَقُلْتُ لِعُرْوَةَ مَا بَالُ عَائِشَةَ تُتِمُّ فِي السَّفَرِ قَالَ إِنَّهَا تَأَوَّلَتْ كَمَا تَأَوَّلَ عُثْمَانُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৪৪৫। আলী ইবনে খাশরাম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নামায প্রথমে দু রাক’আত ফরয করা হয়েছিল, এরপর সফরের নামায ঠিক রাখা হল এবং মুকিমের নামায পুরা করা হল। যুহুরি (রাহঃ) বলেন, আমি উরওয়াকে জিজ্ঞাসা করলাম আয়িশা (রাযিঃ) যে সফরে নামায পূর্ণ করেন এর কারণ কি? তিনি বললেন, তিনি এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা অবলম্বন করেছেন, যেমনভাবে উসমান (রাযিঃ) ব্যাখ্যা অবলম্বন করেছিলেন।

১৪৪৬

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَابَيْهِ، عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ، قَالَ قُلْتُ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ( لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا، مِنَ الصَّلاَةِ إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا) فَقَدْ أَمِنَ النَّاسُ فَقَالَ عَجِبْتُ مِمَّا عَجِبْتَ مِنْهُ فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ . فَقَالَ " صَدَقَةٌ تَصَدَّقَ اللَّهُ بِهَا عَلَيْكُمْ فَاقْبَلُوا صَدَقَتَهُ " .

বর্ণনাকারী: ইয়ালা ইবন উমাইয়া (রাঃ)

১৪৪৬। আবু বকর ইবনে শায়বা (রাহঃ) ......... ইয়ালা ইবনে উমাইয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) কে বললাম, (আল্লাহ তাআলা বলেছেন) ″যদি তোমরা ভয় পাও যে, কাফিররা তোমাদেরকে কষ্ট দেবে, তরে নামায সংক্ষেপ করে পড়াতে কোন দোষ নেই″ কিন্তু এখন তো লোকেরা নিরাপদ। উমর (রাযিঃ) বললেন, তুমি যাতে বিস্মিত হয়েছ, আমিও তাতে বিস্মিত হয়েছিলাম। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন, এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি একটি সাদ্‌কা। তোমরা তাঁর সাদ্‌কাটি গ্রহণ কর।

১৪৪৭

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَابَيْهِ، عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ، قَالَ قُلْتُ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ . بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ إِدْرِيسَ .

বর্ণনাকারী: ইয়ালা ইবন উমাইয়া (রাঃ)

১৪৪৭। মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর আল মুকাদ্দামী (রাহঃ) ......... ইয়া’লা ইবনে উমাইয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) কে বললাম। অতঃপর ইবনে্ ইদরীসের হাদীসের অনুরূপ।

১৪৪৮

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَسَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَأَبُو الرَّبِيعِ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَخْنَسِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ فَرَضَ اللَّهُ الصَّلاَةَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم فِي الْحَضَرِ أَرْبَعًا وَفِي السَّفَرِ رَكْعَتَيْنِ وَفِي الْخَوْفِ رَكْعَةً .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৪৪৮। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ), সাঈদ ইবনে মানসুর (রাহঃ), আবুর রবী (রাহঃ) ও কতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের নবীর ভাষায় মুকীমের জন্য চার রাকআত, মুসাফিরের জন্য দু’রাকআত এবং শংকিত অবস্থায় এক রাক’আত নামায ফরয করেছেন।

১৪৪৯

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، جَمِيعًا عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مَالِكٍ، - قَالَ عَمْرٌو حَدَّثَنَا قَاسِمُ بْنُ مَالِكٍ الْمُزَنِيُّ، - حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ عَائِذٍ الطَّائِيُّ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَخْنَسِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ إِنَّ اللَّهَ فَرَضَ الصَّلاَةَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمُسَافِرِ رَكْعَتَيْنِ وَعَلَى الْمُقِيمِ أَرْبَعًا وَفِي الْخَوْفِ رَكْعَةً .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৪৪৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ও আমরূন নাকিদ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের নবীর ভাষায় মুসাফিরের উপর দু-রাক’আত, মুকীমের উপর চার রাকআত এবং ভয়ের অবস্থায় এক রাকআত নামায ফরয করেছেন।

১৪৫০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ مُوسَى بْنِ سَلَمَةَ الْهُذَلِيِّ، قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ كَيْفَ أُصَلِّي إِذَا كُنْتُ بِمَكَّةَ إِذَا لَمْ أُصَلِّ مَعَ الإِمَامِ . فَقَالَ رَكْعَتَيْنِ سُنَّةَ أَبِي الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: মুসা ইবনে সালামা হুযালী (রহঃ)

১৪৫০। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... মুসা ইবনে সালামা আল-হুযালী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি যখন মক্কায় থাকি এবং ইমামের সঙ্গে নামায আদায়ের সুযোগ না পাই, তখন কিরূপ নামায আদায় করব? তিনি বললেন, দু'রাক’আত। এটিই আবুল কাসিম [রাসূলুল্লাহ (ﷺ)] এর সুন্নত।

১৪৫১

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ مِنْهَالٍ الضَّرِيرُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا أَبِي جَمِيعًا، عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৪৫১। মুহাম্মাদ ইবনে মিনহাল আদ-দারীর (রাহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনুল মূুসান্না (রাহঃ) ......... কাতাদা (রাহঃ) থেকে উক্ত সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

১৪৫২

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَفْصِ بْنِ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَحِبْتُ ابْنَ عُمَرَ فِي طَرِيقِ مَكَّةَ - قَالَ - فَصَلَّى لَنَا الظُّهْرَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَقْبَلَ وَأَقْبَلْنَا مَعَهُ حَتَّى جَاءَ رَحْلَهُ وَجَلَسَ وَجَلَسْنَا مَعَهُ فَحَانَتْ مِنْهُ الْتِفَاتَةٌ نَحْوَ حَيْثُ صَلَّى فَرَأَى نَاسًا قِيَامًا فَقَالَ مَا يَصْنَعُ هَؤُلاَءِ قُلْتُ يُسَبِّحُونَ . قَالَ لَوْ كُنْتُ مُسَبِّحًا لأَتْمَمْتُ صَلاَتِي يَا ابْنَ أَخِي إِنِّي صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي السَّفَرِ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ وَصَحِبْتُ أَبَا بَكْرٍ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ وَصَحِبْتُ عُمَرَ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ ثُمَّ صَحِبْتُ عُثْمَانَ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ وَقَدْ قَالَ اللَّهُ ( لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৫২। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা ইবনে কা’নাব (রাহঃ) ......... ঈসা ইবনে হাফস ইবনে আসিম ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব তাঁর পিতা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কার রাস্তায় আমি ইবনে উমরের সহচর হলাম। তিনি আমাদের যোহরের নামায দু’ রাক’আত পড়ালেন। এরপর তিনি সামনে অগ্রসর হলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে অগ্রসর হলাম। তারপর তিনি তাঁর মনযিলে এসে বসলেন এবং আমরাও তাঁর সঙ্গে বসলাম। এরপর যে স্থানে তিনি নামায আদায় করেছিলেন, সে স্থানের প্রতি দৃষ্টি পড়লে তিনি দেখলেন, কিছু লোক দাঁড়ানো। তিনি বললেন, তারা সেখানে কি করছে? আমি বললাম, তারা নফল নামায আদায় করছে তিনি বললেন, আমি যদি নফল আদায় করতাম তাহলে আমি আমার নামায (ফরয)-কেই পূর্ণ করতাম।

হে ভ্রাতুষ্পুত্র! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে সফরে থেকেছি। কিন্তু ইন্‌তিকালের পূর্ব পর্যন্ত তিনি দু’ রাক’আতের অতিরিক্ত আদায় করেননি। আমি আবু বকর (রাযিঃ) এর সঙ্গেও থেকেছি, তিনিও তাঁর ইন্‌তিকালের পূর্ব পর্যন্ত দু’ রাক’আতের অতিরিক্ত আদায় করেননি। আমি উমর (রাযিঃ) এর সঙ্গেও ছিলাম। তিনিও ইন্‌তিকালের পূর্ব পর্যন্ত দু’ রাক’আতের অতিরিক্ত পড়েননি। আমি উসমান (রাযিঃ) এরও সঙ্গে ছিলাম। তিনিও ইন্‌তিকালের পূর্ব পর্যন্ত দু’ রাক’আতের অতিরিক্ত আদায় করেননি। আর আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, ″নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।″
১৪৫৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ - عَنْ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، قَالَ مَرِضْتُ مَرَضًا فَجَاءَ ابْنُ عُمَرَ يَعُودُنِي قَالَ وَسَأَلْتُهُ عَنِ السُّبْحَةِ، فِي السَّفَرِ فَقَالَ صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي السَّفَرِ فَمَا رَأَيْتُهُ يُسَبِّحُ وَلَوْ كُنْتُ مُسَبِّحًا لأَتْمَمْتُ وَقَدْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى ( لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ إِسْوَةٌ حَسَنَةٌ)

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৫৩। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... হাফস ইবনে আসিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ি। ইবনে উমর (রাযিঃ) আমাকে দেখতে আসেন। তিনি বলেন, আমি তাঁর কাছে সফরে সুন্নত নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমি তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে সফরে ছিলাম, কিন্তু তাকে কখনো সুন্নত আদায় করতে দেখি নি। যদি আমি সুন্নত পড়তাম তাহলে আমি (ফরয) নামাযকেই পূর্ণভাবে আদায় করতাম। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ″নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মধ্যে রয়েছে তোম্যদের জন্য উত্তম আদর্শ।″

১৪৫৪

حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، وَأَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، وَهُوَ ابْنُ زَيْدٍ ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَيَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، كِلاَهُمَا عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ بِالْمَدِينَةِ أَرْبَعًا وَصَلَّى الْعَصْرَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৪৫৪। খালফ ইবনে হিশাম, আবুর রাবী আয যাহরানী (রাহঃ), কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ), যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ), ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় যোহরের নামায চার রাকআত আদায় করেন এবং যুল হুলাইফায় আসরের নামায দু’ রাক’আত আদায় করেন।

১৪৫৫

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ مَيْسَرَةَ، سَمِعَا أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ بِالْمَدِينَةِ أَرْبَعًا وَصَلَّيْتُ مَعَهُ الْعَصْرَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৪৫৫। সাঈদ ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে মদীনায় যোহরের নামায চার রাক’আত আদায় করেছি। আর যুল হুলাইফায় তাঁর সঙ্গে আসরের নামায দু' রাক’আত পড়েছি।

১৪৫৬

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، كِلاَهُمَا عَنْ غُنْدَرٍ، - قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، غُنْدَرٌ - عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَزِيدَ الْهُنَائِيِّ، قَالَ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ عَنْ قَصْرِ الصَّلاَةِ، فَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا خَرَجَ مَسِيرَةَ ثَلاَثَةِ أَمْيَالٍ أَوْ ثَلاَثَةِ فَرَاسِخَ - شُعْبَةُ الشَّاكُّ - صَلَّى رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৪৫৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ইয়াহিয়া ইবনে ইযায়ীদ আল হুনাঈ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) এর নিকট নামায কসর করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, রাসুলূল্লাহ (ﷺ) যখন সফরের উদ্দেশ্যে তিন মাইল অথবা (রাবী শুবার সন্দেহ) তিনি তিন ফারসাখ পথ অতিক্রম করতেন, তখন দু’রাকআত পড়তেন।

১৪৫৭

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ مَهْدِيٍّ، - قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ شُرَحْبِيلَ بْنِ السِّمْطِ إِلَى قَرْيَةٍ عَلَى رَأْسِ سَبْعَةَ عَشَرَ أَوْ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ مِيلاً فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ . فَقُلْتُ لَهُ فَقَالَ رَأَيْتُ عُمَرَ صَلَّى بِذِي الْحُلَيْفَةِ رَكْعَتَيْنِ فَقُلْتُ لَهُ فَقَالَ إِنَّمَا أَفْعَلُ كَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৪৫৭। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... যুহাইর ইবনে নুফায়র (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শুরাহবিল ইবনুল সিমত (রাহঃ) এর সঙ্গে একটি গ্রামের দিকে রওয়ানা দিলাম, যা সতের বা আঠার মাইলের মাথায় অবস্থিত। তারপর তিনি দু’ রাক’আত নামায পড়লেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আমি উমর (রাযিঃ) কে দেখেছি, তিনি যুল হুলাইফায় দু’ রাক’আত পড়েছেন। এ বিষয়ে তাঁকে আমি জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে যেরূপ করতে দেখেছি, সেরূপই করছি।

১৪৫৮

وَحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَقَالَ عَنِ ابْنِ السِّمْطِ، وَلَمْ يُسَمِّ شُرَحْبِيلَ وَقَالَ إِنَّهُ أَتَى أَرْضًا يُقَالُ لَهَا دَوْمِينُ مِنْ حِمْصَ عَلَى رَأْسِ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ مِيلاً .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৪৫৮। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... শু’বার সূত্রে উক্ত সনদে (হাদীস) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, ইবনে সিমত থেকে তিনি শুরাহবীলের নাম উল্লেখ করেননি। তিনি আরো বলেছেন যে, তিনি যে গ্রামটিতে গিয়েছিলেন, সেটি ছিল হিমসের অন্তর্ভুক্ত দূমীন, সেটি আঠার মাইলের শেষ প্রান্তে অবস্থিত।

১৪৫৯

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى مَكَّةَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ حَتَّى رَجَعَ . قُلْتُ كَمْ أَقَامَ بِمَكَّةَ قَالَ عَشْرًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৪৫৯। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া তামিমী (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে মদীনা থেকে মক্কার দিকে রওয়ানা দিলাম। সেই সফরে তিনি মদীনায় ফিরে আসা পর্যন্ত দু’ রাক’আত দু’ রাক’আত করে নামায আদায় করেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি মক্কায় কতদিন ছিলেন? তিনি বললেন, দশ দিন।

১৪৬০

وَحَدَّثَنَاهُ قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، ح وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، جَمِيعًا عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ حَدِيثِ هُشَيْمٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৪৬০। কুতায়বা (রাহঃ) ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে হুশায়মের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৪৬১

وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ خَرَجْنَا مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى الْحَجِّ . ثُمَّ ذَكَرَ مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৪৬১। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা হজ্জের উদ্দেশ্য মদীনা থেকে বের হলাম। অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনূরূপ বর্ণনা করেন।

১৪৬২

وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، جَمِيعًا عَنِ الثَّوْرِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ وَلَمْ يَذْكُرِ الْحَجَّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৪৬২। ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি তাঁর বর্ণনায় হজ্জের কথা উল্লেখ করেননি।

২. মিনায় নামায কসর করা

باب قَصْرِ الصَّلاَةِ بِمِنًى

১৪৬৩

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، وَهُوَ ابْنُ الْحَارِثِ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ صَلَّى صَلاَةَ الْمُسَافِرِ بِمِنًى وَغَيْرِهِ رَكْعَتَيْنِ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ رَكْعَتَيْنِ صَدْرًا مِنْ خِلاَفَتِهِ ثُمَّ أَتَمَّهَا أَرْبَعًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৬৩। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিনা ও অন্যান্য জায়গায় মুসাফিরের নামায হিসেরে দু-রাকআত নামায আদায় করেন। আবু বকর (রাযিঃ) এবং উমর (রাযিঃ)ও দু রাকআত পড়েন। উসমান (রাযিঃ) তাঁর খিলাফতের প্রথম দিকে দু রাকআত পড়েন। পরে তিনি চার রাকআত পুরা করেন।

১৪৬৪

وَحَدَّثَنَاهُ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، ح وَحَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، جَمِيعًا عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ قَالَ بِمِنًى . وَلَمْ يَقُلْ وَغَيْرِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৬৪। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ), ইসহাক ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... যুহুরি (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর বর্ণনায় মিনার কথা উল্লেখ করেছেন কিন্তু ’অন্যান্য স্থানে’ শব্দটি উল্লেখ করেন নি।

১৪৬৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ وَأَبُو بَكْرٍ بَعْدَهُ وَعُمَرُ بَعْدَ أَبِي بَكْرٍ وَعُثْمَانُ صَدْرًا مِنْ خِلاَفَتِهِ ثُمَّ إِنَّ عُثْمَانَ صَلَّى بَعْدُ أَرْبَعًا . فَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا صَلَّى مَعَ الإِمَامِ صَلَّى أَرْبَعًا وَإِذَا صَلاَّهَا وَحْدَهُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৬৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিনায় দু’ রাক’আত নামায আদায় করেছেন। তারপর আবু বকর (রাযিঃ) এবং আবু বকরের পর উমর (রাযিঃ) দু’ রাক’আত নামায আদায় করেছেন। উসমান (রাযিঃ) তার খিলাফতের প্রথম দিকে দু’ রাক’আত পড়েছেন। পরবর্তী সময় উসমান (রাযিঃ) চার রাক’আত নামায আদায় করেছেন। ইবনে উমর (রাযিঃ) যখন ইমামের সঙ্গে পড়তেন, তখন চার রাক’আত পড়তেন, যখন একাকী পড়তেন তখন দু’ রাক’আত পড়তেন।

১৪৬৬

وَحَدَّثَنَاهُ ابْنُ الْمُثَنَّى، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، وَهُوَ الْقَطَّانُ ح وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، ح وَحَدَّثَنَاهُ ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، كُلُّهُمْ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৬৬। ইবনুল মুসান্না (রাহঃ), উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ আবু কুরায়ব (রাহঃ) ও ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) সূত্রে উক্ত সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

১৪৬৭

وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، سَمِعَ حَفْصَ بْنَ عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمِنًى صَلاَةَ الْمُسَافِرِ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ ثَمَانِيَ سِنِينَ أَوْ قَالَ سِتَّ سِنِينَ . قَالَ حَفْصٌ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يُصَلِّي بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يَأْتِي فِرَاشَهُ . فَقُلْتُ أَىْ عَمِّ لَوْ صَلَّيْتَ بَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ . قَالَ لَوْ فَعَلْتُ لأَتْمَمْتُ الصَّلاَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৬৭। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মিনায় মুসাফিরের নামায আদায় করেন। আর আবু বকর (রাযিঃ), উমর (রাযিঃ) ও উসমান (রাযিঃ) (তার খিলাফতের) আট বছর অথবা ছয় বছর পর্যন্ত সফরের নামায আদায় করেন। হাফস (রাহঃ) বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) মিনায় দু’ রাক’আত পড়তেন। তারপর বিছানায় ফিরে আসতেন। আমি বললাম হে চাচাজান! আপনি যদি এরপর আরো দু’ রাক’আত পড়তেন (তাহলে ভাল হতো)। তিনি বললেন, আমি যদি তা করতাম, তাহলে ফরয নামাযই পূর্ণ করতাম।

১৪৬৮

وَحَدَّثَنَاهُ يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الصَّمَدِ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَقُولاَ فِي الْحَدِيثِ بِمِنًى . وَلَكِنْ قَالاَ صَلَّى فِي السَّفَرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৬৮। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব (রাহঃ) ও ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা এ হাদীসে মিনার কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু ″সফরে নামায আদায় করেন″- বাক্যটি উল্লেখ করেছেন।

১৪৬৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، عَنِ الأَعْمَشِ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ يَزِيدَ، يَقُولُ صَلَّى بِنَا عُثْمَانُ بِمِنًى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فَقِيلَ ذَلِكَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ فَاسْتَرْجَعَ ثُمَّ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ وَصَلَّيْتُ مَعَ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ وَصَلَّيْتُ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ فَلَيْتَ حَظِّي مِنْ أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ رَكْعَتَانِ مُتَقَبَّلَتَانِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৪৬৯। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উসমান (রাযিঃ) মিনায় আমাদের নিয়ে চার রাকআত নামায আদায় করেছেন। এই কথাটি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর নিকট বলা হলে, তিনি ″ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রাজিউন″ পাঠ করলেন। অতঃপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে মিনায় দু’ রাক’আত নামায আদায় করেছি, আবু বকর (রাযিঃ) এর সঙ্গে মিনায় দু’ রাক’আত নামায আদায় করেছি। উমর (রাযিঃ) এর সঙ্গেও মিনায় দু’ রাক’আত নামায আদায় করেছি। চার রাক’আতের স্থলে আমার ভাগ্যে যদি গ্রহণযোগ্য দু’ রাক’আতই থাকত!

১৪৭০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، وَابْنُ، خَشْرَمٍ قَالاَ أَخْبَرَنَا عِيسَى، كُلُّهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৪৭০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ), আবু কুরায়ব (রাহঃ), উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ), ইসহাক (রাহঃ) ও ইবনে খাশরাম (রাহঃ) ......... আ’মাশ (রাহঃ) সূত্রে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৪৭১

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ، قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ، قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ وَهْبٍ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِنًى - آمَنَ مَا كَانَ النَّاسُ وَأَكْثَرَهُ - رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত হারিছা ইবনু ওয়াহব (রাঃ)

১৪৭১। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহিয়া (রাহঃ) ও কুতায়বা (রাহঃ) ......... হারিসা ইবনে ওয়াহব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে মিনায় দু’ রাক’আত নামায আদায় করেছি। অথচ সে সময় লোকজন সর্বাপেক্ষা নিরাপদ ছিল।

১৪৭২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي حَارِثَةُ بْنُ وَهْبٍ الْخُزَاعِيُّ، قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِنًى وَالنَّاسُ أَكْثَرُ مَا كَانُوا فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ . قَالَ مُسْلِمٌ حَارِثَةُ بْنُ وَهْبٍ الْخُزَاعِيُّ هُوَ أَخُو عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ لأُمِّهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত হারিছা ইবনু ওয়াহব (রাঃ)

১৪৭২। আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... হারিসা ইবনে ওয়াহাব খুযাঈ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে মিনায় নামায আদায় করেছি। সে সময় বহু লোকের সমাগম ছিল। তিনি বিদায় হজ্জে দু’রাকআত নামায আদায় করেছেন।

ইমাম মুসলিম (রাহঃ) বলেন, হারিসা ইবনে ওয়াহাব আল-খুযাঈ (রাহঃ) ছিলেন উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাবের বৈপত্রিয় ভাই।

৩. বৃষ্টির দিনে ঘরে নামায আদায় করা

باب الصَّلاَةِ فِي الرحَالِ فِي الْمَطَرِ

১৪৭৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، أَذَّنَ بِالصَّلاَةِ فِي لَيْلَةٍ ذَاتِ بَرْدٍ وَرِيحٍ فَقَالَ أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ . ثُمَّ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُ الْمُؤَذِّنَ إِذَا كَانَتْ لَيْلَةٌ بَارِدَةٌ ذَاتُ مَطَرٍ يَقُولُ " أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৭৩। ইয়াহিয়া ইবনে ইয়াহিয়া (রাহঃ) ......... নাফি (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনে উমর (রাযিঃ) ঠাণ্ডা ও ঝড়ের রাতে আযান দেন। পরে বলেন, ″তোমরা (নিজ নিজ) মনযিলে নামায আদায় করে নাও।″ তারপর বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও বৃষ্টি ঠাণ্ডার রাতে মুয়াযযিনকে নির্দেশ দিতেন যেন সে বলে দেয় যে, ″তোমরা তোমাদের অবস্থানে নামায আদায় করে নাও।″

১৪৭৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ نَادَى بِالصَّلاَةِ فِي لَيْلَةٍ ذَاتِ بَرْدٍ وَرِيحٍ وَمَطَرٍ فَقَالَ فِي آخِرِ نِدَائِهِ أَلاَ صَلُّوا فِي رِحَالِكُمْ أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ . ثُمَّ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْمُرُ الْمُؤَذِّنَ إِذَا كَانَتْ لَيْلَةٌ بَارِدَةٌ أَوْ ذَاتُ مَطَرٍ فِي السَّفَرِ أَنْ يَقُولَ أَلاَ صَلُّوا فِي رِحَالِكُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৭৪। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ঠাণ্ডা ও ঝড় বৃষ্টির রাতে আযান দেন এবং তিনি তাঁর আযানের শেষে বলেন, ‘তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে নামায আদায় করে নাও। অবস্থান স্থলে নামায আদায় করে নাও। তারপর বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরে ঠাণ্ডা ও বাদলা রাতে মুয়াযযিনকে নির্দেশ দিতেন, সে যেন বলে দেয় যে, তোমরা তোমাদের নিজ নিজ অবস্থানে নামায আদায় করে ফেল।

১৪৭৫

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ نَادَى بِالصَّلاَةِ بِضَجْنَانَ ثُمَّ ذَكَرَ بِمِثْلِهِ وَقَالَ أَلاَ صَلُّوا فِي رِحَالِكُمْ . وَلَمْ يُعِدْ ثَانِيَةً أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ . مِنْ قَوْلِ ابْنِ عُمَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৭৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি দাজনান নামক স্থানে আযান দিলেন। এরপর উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন এবং বলেন, “তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে নামায আদায় করে নাও। তিনি ইবনে উমর (রাযিঃ) এর উক্তিতে ″অবস্থানস্থলে নামায আদায় করে নাও″ কথাটির পুনরাবৃত্তি করেন নি।

১৪৭৬

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَمُطِرْنَا فَقَالَ " لِيُصَلِّ مَنْ شَاءَ مِنْكُمْ فِي رَحْلِهِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৪৭৬। ইয়াহিয়া ইবনে ইয়াহিয়া (রাহঃ) ও আহমাদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে এক সফরে বের হলাম। তারপর আমরা বৃষ্টিতে পড়লাম; তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যার ইচ্ছা, সে নিজ অবস্থানে নামায আদায় করতে পারে।

১৪৭৭

وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ، صَاحِبِ الزِّيَادِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ لِمُؤَذِّنِهِ فِي يَوْمٍ مَطِيرٍ إِذَا قُلْتَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ فَلاَ تَقُلْ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ قُلْ صَلُّوا فِي بُيُوتِكُمْ - قَالَ - فَكَأَنَّ النَّاسَ اسْتَنْكَرُوا ذَاكَ فَقَالَ أَتَعْجَبُونَ مِنْ ذَا قَدْ فَعَلَ ذَا مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنِّي إِنَّ الْجُمُعَةَ عَزْمَةٌ وَإِنِّي كَرِهْتُ أَنْ أُحْرِجَكُمْ فَتَمْشُوا فِي الطِّينِ وَالدَّحْضِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৪৭৭। আলী ইবনে হুজর আল সা’দী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বৃষ্টির দিনে তাঁর মুয়াযযিনকে বললেন, যখন ’আশহাদু আন-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ও ’আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’ বলবে, তারপর হাইয়্যা আলাস সালাহ” (নামাযের দিকে আস) না বলে বলবে যে, তোমরা তোমাদের ঘরে ঘরে নামায আদায় কর। এই আদেশ শুনে লোকেরা যেন তা পছন্দ করল না। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, তোমরা কি তাতে বিস্মিত হচ্ছ? এটি তো তিনিই করেছেন যিনি আমার চাইতে শ্রেষ্ঠ। যদিও জুমআর নামায ফরয, তথাপি আমি তোমাদের কষ্টে ফেলা পছন্দ করি না যে, তোমরা কাদাযুক্ত পিছল পথ হেঁটে আসবে।

১৪৭৮

وَحَدَّثَنِيهِ أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ - عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَارِثِ، قَالَ خَطَبَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ فِي يَوْمٍ ذِي رَدْغٍ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمَعْنَى حَدِيثِ ابْنِ عُلَيَّةَ وَلَمْ يَذْكُرِ الْجُمُعَةَ وَقَالَ قَدْ فَعَلَهُ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنِّي . يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ أَبُو كَامِلٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، بِنَحْوِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৪৭৮। আবু কামিল জাহদারী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) কাদাপানির দিনে আমাদের খুতবা দিয়েছেন। অতঃপর ইবনে উলায়্যার হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি তাঁর বর্ণনায় জুমআ শব্দটি উল্লেখ করেননি। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, এই কাজ তো তিনিই করেছেন, যিনি আমার চাইতে উত্তম অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। আবু কামিল, আসিমের সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

১৪৭৯

وَحَدَّثَنِيهِ أَبُو الرَّبِيعِ الْعَتَكِيُّ، - هُوَ الزَّهْرَانِيُّ - حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ - حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، وَعَاصِمٌ الأَحْوَلُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَذْكُرْ فِي حَدِيثِهِ يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৪৭৯। আবুর রাবী আতাকী যাহরানী (রাহঃ) ......... আইয়ুব ও আসিম আহওয়াল (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি উক্ত হাদীসে অর্থাৎ নবী (ﷺ) কথাটি উল্লেখ করেন নি।

১৪৮০

وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ شُمَيْلٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ، صَاحِبُ الزِّيَادِيِّ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَارِثِ، قَالَ أَذَّنَ مُؤَذِّنُ ابْنِ عَبَّاسٍ يَوْمَ جُمُعَةٍ فِي يَوْمٍ مَطِيرٍ . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ ابْنِ عُلَيَّةَ وَقَالَ وَكَرِهْتُ أَنْ تَمْشُوا فِي الدَّحْضِ وَالزَّلَلِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৪৮০। ইসহাক ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর মুয়াযযিন বৃষ্টির দিন জুমআর দিবসে আযান দেন, তারপর তিনি ইবনে উলায়্যার অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন এবং বললেন, তোমাদের পিচ্ছিল কর্দমের মধ্যে হেঁটে আসা আমি পছন্দ করি নি।

১৪৮১

وَحَدَّثَنَاهُ عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، كِلاَهُمَا عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، أَمَرَ مُؤَذِّنَهُ - فِي حَدِيثِ مَعْمَرٍ - فِي يَوْمِ جُمُعَةٍ فِي يَوْمٍ مَطِيرٍ . بِنَحْوِ حَدِيثِهِمْ وَذَكَرَ فِي حَدِيثِ مَعْمَرٍ فَعَلَهُ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنِّي . يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৪৮১। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ষণ মুখর জুমআর দিনে তাঁর মুয়াযযিনকে আযান দেয়ার নির্দেশ দিলেন। মা’মারের হাদীসে রয়েছে, বৃষ্টির দিনে জুমআর দিবসে উক্ত বর্ণনাকারীর অনুরূপ এবং মা’মারের হাদীসে এও রয়েছে, তা করেছেন আমার চাইতে উত্তম ব্যক্তি অর্থাৎ নবী (ﷺ)।

১৪৮২

وَحَدَّثَنَاهُ عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْحَضْرَمِيُّ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، - قَالَ وُهَيْبٌ لَمْ يَسْمَعْهُ مِنْهُ - قَالَ أَمَرَ ابْنُ عَبَّاسٍ مُؤَذِّنَهُ فِي يَوْمِ جُمُعَةٍ فِي يَوْمٍ مَطِيرٍ . بِنَحْوِ حَدِيثِهِمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৪৮২। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) জুমআর দিবসে বৃষ্টির দিনে তার মুয়াযযিনকে নির্দেশ দেন। তার পূর্বোক্ত বর্ণনাকারীদের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

৪. সফরে সওয়ারী জন্তুর উপর নফল নামায আদায় করা বৈধ, জন্তুটি যেদিকেই গমন করুক

باب جَوَازِ صَلاَةِ النَّافِلَةِ عَلَى الدَّابَّةِ فِي السَّفَرِ حَيْثُ تَوَجَّهَتْ

১৪৮৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي سُبْحَتَهُ حَيْثُمَا تَوَجَّهَتْ بِهِ نَاقَتُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৮৩। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর উটের পিঠে নফল নামায আদায় করতেন, উটের মুখ যে দিকেই থাক না কেন।

১৪৮৪

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي عَلَى رَاحِلَتِهِ حَيْثُ تَوَجَّهَتْ بِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৮৪। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর উটর পিঠে নামায আদায় করতেন, উট যে দিকেই মুখ করে চলুক।

১৪৮৫

وَحَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَهُوَ مُقْبِلٌ مِنْ مَكَّةَ إِلَى الْمَدِينَةِ عَلَى رَاحِلَتِهِ حَيْثُ كَانَ وَجْهُهُ - قَالَ - وَفِيهِ نَزَلَتْ ( فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ)

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৮৫। উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর কাওয়ারীরী (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মক্কা থেকে মর্দ্বীনায় আসছিলেন, তখন তার সওয়ারীর উপর নামায আদায় করেছেন, যে দিকেই তাঁর মুখ ছিল। ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, এ বিষয়ে নাযিল হয়ঃ অর্থাৎ “যে দিকেই তোমরা মুখ ফিরাও না কেন সে দিকই আল্লাহর দিক”।

১৪৮৬

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، وَابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي كُلُّهُمْ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ . وَفِي حَدِيثِ ابْنِ مُبَارَكٍ وَابْنِ أَبِي زَائِدَةَ ثُمَّ تَلاَ ابْنُ عُمَرَ ( فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ) وَقَالَ فِي هَذَا نَزَلَتْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৮৬। আবু কুরায়ব (রাহঃ) বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেনইবনে মুবারক ও ইবনে আবু যায়দা (রাহঃ) ইবনে নুমাইর (রাহঃ) বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা আর তারা সকলে আব্দুল মালিক (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে পূর্বের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইবনে মুবারক ও ইবনে আবু যায়দা (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসে এইরূপ আছে যে, অতঃপর ইবনে উমর (রাযিঃ) তিলাওয়াত করেন,فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ এবং তিনি বলেন, এই বিষয়েই আয়াতটি নাযিল হয়েছে।

১৪৮৭

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي عَلَى حِمَارٍ وَهُوَ مُوَجِّهٌ إِلَى خَيْبَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৮৭। ইয়াহিয়া ইবনে ইয়াহিয়া (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে গাধার উপরে নামায আদায় করতে দেখেছি যখন তিনি খায়বরের দিকে মুখ করেছিলেন।

১৪৮৮

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ قَالَ كُنْتُ أَسِيرُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ بِطَرِيقِ مَكَّةَ - قَالَ سَعِيدٌ - فَلَمَّا خَشِيتُ الصُّبْحَ نَزَلْتُ فَأَوْتَرْتُ ثُمَّ أَدْرَكْتُهُ فَقَالَ لِي ابْنُ عُمَرَ أَيْنَ كُنْتَ فَقُلْتُ لَهُ خَشِيتُ الْفَجْرَ فَنَزَلْتُ فَأَوْتَرْتُ . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ أَلَيْسَ لَكَ فِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُسْوَةٌ فَقُلْتُ بَلَى وَاللَّهِ . قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُوتِرُ عَلَى الْبَعِيرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৮৮। ইয়াহিয়া ইবনে ইয়াহিয়া (রাহঃ) ......... সাঈদ ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমরের সঙ্গে মক্কার পথে যাচ্ছিলাম। সাঈদ (রাহঃ) বলেন, যখন ভোর হওয়ার আশঙ্কা করলাম, তখন আমি সওয়ারী থেকে নেমে বিতর নামায আদায় করলাম। তারপর ইবনে উমরের সঙ্গে গিয়ে মিলিত হলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কোথায় ছিলে? আমি বললাম, ফজর হওয়ার আশঙ্কায় আমি নেমে বিতরের নামায আদায় করেছি। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মধ্যে কি তোমার জন্য আদর্শ নেই? আমি বললাম, হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উটের উপর বসে বিতর আদায় করতেন।

১৪৮৯

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي عَلَى رَاحِلَتِهِ حَيْثُمَا تَوَجَّهَتْ بِهِ . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ كَانَ ابْنُ عُمَرَ يَفْعَلُ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৮৯। ইয়াহিয়া ইবনে ইয়াহিয়া (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সওয়ারীর উপর নামায আদায় করতেন, যে দিকেই সে তাঁকে নিয়ে চলুক না কেন। আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রাহঃ) বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) তাই করতেন।

১৪৯০

وَحَدَّثَنِي عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ الْمِصْرِيُّ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي ابْنُ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُوتِرُ عَلَى رَاحِلَتِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৯০। ঈসা ইবনে হাম্মাদ মিসরী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সওয়ারীর উপর বসে বিতর আদায় করতেন।

১৪৯১

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُسَبِّحُ عَلَى الرَّاحِلَةِ قِبَلَ أَىِّ وَجْهٍ تَوَجَّهَ وَيُوتِرُ عَلَيْهَا غَيْرَ أَنَّهُ لاَ يُصَلِّي عَلَيْهَا الْمَكْتُوبَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৯১। হারামালা ইবনে ইয়াহিয়া (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সওয়ারীর উপর বসে নফল আদায় করতেন, যে দিকেই সে মুখ করুক না কেন এবং বিতরও তার উপর আদায় করতেন। তবে ফরয নামায সওয়ারীর উপর বসে আদায় করতেন না।

১৪৯২

وَحَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ، وَحَرْمَلَةُ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَاهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي السُّبْحَةَ بِاللَّيْلِ فِي السَّفَرِ عَلَى ظَهْرِ رَاحِلَتِهِ حَيْثُ تَوَجَّهَتْ .

বর্ণনাকারী: আমির ইবনে রবীআ (রাঃ)

১৪৯২। আমর ইবনে সাওয়াদ ও হারামালা (রাহঃ) ......... আমির ইবনে রাবিয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সফর অবস্থায় রাতে সওয়ারীর পিঠে বসে নফল নামায আদায় করতে দেখেছেন। যে দিকেই সে মুখ করুক না কেন।

১৪৯৩

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ سِيرِينَ، قَالَ تَلَقَّيْنَا أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ حِينَ قَدِمَ الشَّامَ فَتَلَقَّيْنَاهُ بِعَيْنِ التَّمْرِ فَرَأَيْتُهُ يُصَلِّي عَلَى حِمَارٍ وَوَجْهُهُ ذَلِكَ الْجَانِبَ - وَأَوْمَأَ هَمَّامٌ عَنْ يَسَارِ الْقِبْلَةِ - فَقُلْتُ لَهُ رَأَيْتُكَ تُصَلِّي لِغَيْرِ الْقِبْلَةِ . قَالَ لَوْلاَ أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُهُ لَمْ أَفْعَلْهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৪৯৩। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে সীরীন (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) যখন সিরিয়া থেকে আসলেন তখন আমরা তাঁর সঙ্গে মিলিত হলাম। তখন তাঁকে দেখলাম যে, তিনি গাধার উপর বসে নামায আদায় করেছেন এবং তাঁর মুখ ছিল এই দিকে। (রাবী হাম্মাম ইঙ্গিত করলেন, কিবলার বাঁ দিকে) তখন আমি তাকে বললাম, আমি আপনাকে কিবলার বিপরীতমুখী নামায আদায় করতে দেখেছি। তিনি বললেন, আমি যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তা করতে না দেখতাম, তবে আমিও তা করতাম না।

৫. সফরে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করার বৈধতা

باب جَوَازِ الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ فِي السَّفَرِ

১৪৯৪

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا عَجِلَ بِهِ السَّيْرُ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৯৪। ইয়াহিয়া ইবনে ইয়াহিয়া (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যখন সফরে তাড়াহুড়া থাকত তখন মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করতেন।

১৪৯৫

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا جَدَّ بِهِ السَّيْرُ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بَعْدَ أَنْ يَغِيبَ الشَّفَقُ وَيَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا جَدَّ بِهِ السَّيْرُ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৯৫। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... নাফি’ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনে উমর (রাযিঃ) এর যখন তাড়াহুড়া থাকত তখন পশ্চিমাকাশের লালিমা অস্তমিত হওয়ার পর মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করতেন এবং বলতেন, তাড়াহুড়ার সফরের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন।

১৪৯৬

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَعَمْرٌو النَّاقِدُ كُلُّهُمْ عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، - قَالَ عَمْرٌو حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَجْمَعُ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ إِذَا جَدَّ بِهِ السَّيْرُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৯৬। ইয়াহিয়া ইবনে ইয়াহিয়া (রাহঃ), কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ), আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ও আমর ইবনে নাকীদ (রাহঃ) ......... সালিমের পিতা [ইবনে উমর] থেকে বর্ণিত যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দেখেছি, যখন তাঁর সফরে তাড়াহুড়া থাকত, তখন তিনি মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন।

১৪৯৭

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ أَبَاهُ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَعْجَلَهُ السَّيْرُ فِي السَّفَرِ يُؤَخِّرُ صَلاَةَ الْمَغْرِبِ حَتَّى يَجْمَعَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ صَلاَةِ الْعِشَاءِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৯৭। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখেছি, যখন তাঁর সফরে তাড়াহুড়া থাকত তখন মাগরিবের নামায বিলম্বিত করতেন। পরে মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন।

১৪৯৮

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْمُفَضَّلُ، - يَعْنِي ابْنَ فَضَالَةَ - عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا ارْتَحَلَ قَبْلَ أَنْ تَزِيغَ الشَّمْسُ أَخَّرَ الظُّهْرَ إِلَى وَقْتِ الْعَصْرِ ثُمَّ نَزَلَ فَجَمَعَ بَيْنَهُمَا فَإِنْ زَاغَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَرْتَحِلَ صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ رَكِبَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৪৯৮। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সূর্য ঢলে যাওয়ার সময় সফর করতেন, তখন যোহরের নামায আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত বিলম্ব করতেন। তারপর অবতরণ করে এ দুই নামায একত্রে আদায় করতেন। আর যদি সূর্য ঢলে যাওয়ার পর রওয়ানা দিতেন, তখন যুহুরের নামায আদায় করে সওয়ার হতেন।

১৪৯৯

وَحَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ الْمَدَايِنِيُّ، حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عُقَيْلِ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ أَنْ يَجْمَعَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ فِي السَّفَرِ أَخَّرَ الظُّهْرَ حَتَّى يَدْخُلَ أَوَّلُ وَقْتِ الْعَصْرِ ثُمَّ يَجْمَعُ بَيْنَهُمَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৪৯৯। আমরুন নাকিদ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সফর অবস্থায় দুই নামায একত্রে আদায় করার ইচ্ছা করতেন, তখন যোহরের নামায আসরের প্রথম ওয়াক্ত আসা পর্যন্ত বিলম্ব করতেন। এরপর উভয় নামায একত্রে আদায় করতেন।

১৫০০

وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَعَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي جَابِرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذَا عَجِلَ عَلَيْهِ السَّفَرُ يُؤَخِّرُ الظُّهْرَ إِلَى أَوَّلِ وَقْتِ الْعَصْرِ فَيَجْمَعُ بَيْنَهُمَا وَيُؤَخِّرُ الْمَغْرِبَ حَتَّى يَجْمَعَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الْعِشَاءِ حِينَ يَغِيبُ الشَّفَقُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৫০০। আবু তাহির ও আমর ইবনে সাওয়াদ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যখন সফরে তাড়াহুড়া থাকত, তখন তিনি যোহরের নামায আসরের প্রথম ওয়াক্ত আসা পর্যন্ত-বিলম্ব করতেন। তারপর উভয় নামায একত্রে আদায় করতেন। মাগরিবের নামাযে বিলম্ব করতেন এমনকি লালিমা অস্তমিত হওয়ার সময় হলে মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন।

৬. মুকীম অবস্থায় দুই নামায একত্রে আদায়

باب الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ فِي الْحَضَرِ

১৫০১

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ جَمِيعًا فِي غَيْرِ خَوْفٍ وَلاَ سَفَرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৫০১। ইয়াহিয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন ভয়-ভীতি ও সফর ছাড়াই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যোহর ও আসরের নামায এবং মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করেন।

১৫০২

وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، وَعَوْنُ بْنُ سَلاَّمٍ، جَمِيعًا عَنْ زُهَيْرٍ، - قَالَ ابْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، - حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا بِالْمَدِينَةِ فِي غَيْرِ خَوْفٍ وَلاَ سَفَرٍ . قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ فَسَأَلْتُ سَعِيدًا لِمَ فَعَلَ ذَلِكَ فَقَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ كَمَا سَأَلْتَنِي فَقَالَ أَرَادَ أَنْ لاَ يُحْرِجَ أَحَدًا مِنْ أُمَّتِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৫০২। আহমাদ ইবনে ইউনূস (রাহঃ) ও আওন ইবনে সাল্লাম (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফর অথবা ভয়-ভীতি ছাড়াই মদীনায় যোহর ও আসরের নামায একত্রে আদায় করেছেন। আবু যুবাইর (রাহঃ) বলেন, আমি সাঈদকে জিজ্ঞাসা করলাম কেন এইরূপ করলেন? তিনি বললেন, তুমি যেমন আমাকে জিজ্ঞাসা করেছ, আমিও তেমনি ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তখন তিনি বললেন, নবী (ﷺ) এর উদ্দেশ্য ছিল, তার উম্মতেরকাউকে কষ্ট না দেওয়া।

১৫০৩

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - حَدَّثَنَا قُرَّةُ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَمَعَ بَيْنَ الصَّلاَةِ فِي سَفْرَةٍ سَافَرَهَا فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ فَجَمَعَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ . قَالَ سَعِيدٌ فَقُلْتُ لاِبْنِ عَبَّاسٍ مَا حَمَلَهُ عَلَى ذَلِكَ قَالَ أَرَادَ أَنْ لاَ يُحْرِجَ أُمَّتَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৫০৩। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব হারীসি (রাহঃ) ......... সাঈদ ইবনে যুবাইর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাবুকের যুদ্ধে সফরকালে যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করেন।* সাঈদ বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তাঁকে তা করতে কিসে উদ্বুদ্ধ করেছিল? তিনি বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য তার উম্মতকে কষ্টে না ফেলা।

*অর্থাৎ, প্রত্যেক নামায নিজ ওয়াক্তে। প্রথম নামায শেষ ওয়াক্তে এবং পরের নামায আউয়াল ওয়াক্তে আদায় করেছেন, যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে একত্রে আদায় করা হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে এরূপ একত্রে আদায় জায়েয।
১৫০৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَامِرٍ عَنْ مُعَاذٍ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ فَكَانَ يُصَلِّي الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ جَمِيعًا .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

১৫০৪। আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... মু’আয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা তাবুকের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে বের হই। সে সময় তিনি যোহর ও আসর একত্রে এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করেন।

১৫০৫

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، حَدَّثَنَا عَامِرُ بْنُ وَاثِلَةَ أَبُو الطُّفَيْلِ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ، قَالَ جَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَبَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ . قَالَ فَقُلْتُ مَا حَمَلَهُ عَلَى ذَلِكَ قَالَ فَقَالَ أَرَادَ أَنْ لاَ يُحْرِجَ أُمَّتَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

১৫০৫। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব (রাহঃ) ......... মু’আয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাবুকের যুদ্ধের সময় যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করেন। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তার এইরূপ করার কারণ কি? তিনি বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, তাঁর উম্মতকে কষ্ট না দেওয়া।

১৫০৬

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ - وَاللَّفْظُ لأَبِي كُرَيْبٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، كِلاَهُمَا عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِالْمَدِينَةِ فِي غَيْرِ خَوْفٍ وَلاَ مَطَرٍ . فِي حَدِيثِ وَكِيعٍ قَالَ قُلْتُ لاِبْنِ عَبَّاسٍ لِمَ فَعَلَ ذَلِكَ قَالَ كَىْ لاَ يُحْرِجَ أُمَّتَهُ . وَفِي حَدِيثِ أَبِي مُعَاوِيَةَ قِيلَ لاِبْنِ عَبَّاسٍ مَا أَرَادَ إِلَى ذَلِكَ قَالَ أَرَادَ أَنْ لاَ يُحْرِجَ أُمَّتَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৫০৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ও আবু কুরায়ব ও আবু সাঈদ আশাজ্জ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন প্রকার ভয়-ভীতি বা বৃষ্টি-বাদলা ছাড়াই মদীনায় যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করেছেন। ওয়াকী’ বর্ণিত হাদীসে আছে যে, রাবী বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, কেন তিনি এইরূপ করলেন? তিনি বললেন, যেন তাঁর উম্মতের কোন কষ্ট না হয়।

আবু মুআবিয়া (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসে আছে, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) কে বলা হল, এইরূপ করার উদ্দেশ্য কি? তিনি বললেন, তাঁর উদ্দেশ্য তাঁর উম্মত কে কষ্টে না ফেলা।
১৫০৭

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثَمَانِيًا جَمِيعًا وَسَبْعًا جَمِيعًا . قُلْتُ يَا أَبَا الشَّعْثَاءِ أَظُنُّهُ أَخَّرَ الظُّهْرَ وَعَجَّلَ الْعَصْرَ وَأَخَّرَ الْمَغْرِبَ وَعَجَّلَ الْعِشَاءَ . قَالَ وَأَنَا أَظُنُّ ذَاكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৫০৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর সঙ্গে আট রাক’আত একত্রে এবং সাত রাক’আত একত্রে আদায় করেছি। আমি বললাম হে আবুশ শা’সা! আমার মনে হয়, তিনি যোহরের নামায বিলম্বে এবং আসরের নামায ত্বরানিত করেছেন। অনুরূপভাবে মাগরিবের নামায বিলম্ব করে এবং ইশার নামায ত্বরান্বিত করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমিও তাই মনে করি।

১৫০৮

وَحَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِالْمَدِينَةِ سَبْعًا وَثَمَانِيًا الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৫০৮। আবুর রাবী আয যাহরানী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় আট রাক’আত ও সাত রাক’আত অর্থাৎ যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করেছেন।

১৫০৯

وَحَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ الْخِرِّيتِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ خَطَبَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ يَوْمًا بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَبَدَتِ النُّجُومُ وَجَعَلَ النَّاسُ يَقُولُونَ الصَّلاَةَ الصَّلاَةَ - قَالَ - فَجَاءَهُ رَجُلٌ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ لاَ يَفْتُرُ وَلاَ يَنْثَنِي الصَّلاَةَ الصَّلاَةَ . فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَتُعَلِّمُنِي بِالسُّنَّةِ لاَ أُمَّ لَكَ . ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَمَعَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَقِيقٍ فَحَاكَ فِي صَدْرِي مِنْ ذَلِكَ شَىْءٌ فَأَتَيْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ فَسَأَلْتُهُ فَصَدَّقَ مَقَالَتَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৫০৯। আবুর রাবী আয যাহরানী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) আসরের পরে আমাদের ভাষণ দেন এমনকি সূর্য ডুবে গেল এবং তারকাসমূহ প্রকাশ পেল। লোকেরা বলতে লাগল, নামায, নামায। বনী তামীমের এক ব্যক্তি তার দিকে এগিয়ে এসে অন্য দিকে না তাকিয়ে অবিরাম বলতে লাগল, নামায, নামায। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, তোমার সর্বনাশ হোক, তুমি আমাকে সুন্নতের শিক্ষা দিচ্ছ? তারপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখেছি যে, তিনি যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করেছেন।

আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাহঃ) বলেন, তা শুনে আমার অন্তরে কিছু খটকা লাগল। তারপর আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর কাছে এসে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি ইবনে আব্বাসের বিবরণটির সত্যতা স্বীকার করলেন।
১৫১০

وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ حُدَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ الْعُقَيْلِيِّ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ لاِبْنِ عَبَّاسٍ الصَّلاَةَ فَسَكَتَ . ثُمَّ قَالَ الصَّلاَةَ . فَسَكَتَ ثُمَّ قَالَ الصَّلاَةَ فَسَكَتَ . ثُمَّ قَالَ لاَ أُمَّ لَكَ أَتُعَلِّمُنَا بِالصَّلاَةِ وَكُنَّا نَجْمَعُ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৫১০। ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক উকায়লী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) কে বলেন নামায, তিনি নীরব রইলেন। সে আবার বলল, নামায। তিনি নীরব রইলেন। লোকটি আবার বলল, নামায। তিনি এবারও নীরব রইলেন। তারপর তিনি বললেন, তোমার সর্বনাশ হোক। তুমি কি আমাকে নামায শিক্ষা দিচ্ছ? আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় দুই নামায একত্রে আদায় করতাম।

৭. নামায শেষে ডানে-বামে ফিরার বৈধতা

باب جَوَاز الاِنْصِرَافِ مِنَ الصَّلاَةِ عَنِ الْيَمِينِ، وَالشِّمَالِ

১৫১১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَوَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لاَ يَجْعَلَنَّ أَحَدُكُمْ لِلشَّيْطَانِ مِنْ نَفْسِهِ جُزْءًا لاَ يَرَى إِلاَّ أَنَّ حَقًّا عَلَيْهِ أَنْ لاَ يَنْصَرِفَ إِلاَّ عَنْ يَمِينِهِ أَكْثَرُ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْصَرِفُ عَنْ شِمَالِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৫১১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে কেউই যেন শয়তানকে নিজে থেকে কোন অংশ না দেয়। অর্থাৎ কেউ যেন মনে না করে যে, (নামায শেষে) কেবল ডানদিকে ফিরা তার উপর ওয়াজিব। আমি অনেক সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাম দিকে ফেরতেও দেখেছি।

১৫১২

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، وَعِيسَى بْنُ يُونُسَ، ح وَحَدَّثَنَاهُ عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، جَمِيعًا عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৫১২। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ও আলী ইবনে খাশরাম (রাহঃ) ......... আ’মাশ (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৫১৩

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ السُّدِّيِّ، قَالَ سَأَلْتُ أَنَسًا كَيْفَ أَنْصَرِفُ إِذَا صَلَّيْتُ عَنْ يَمِينِي أَوْ عَنْ يَسَارِي قَالَ أَمَّا أَنَا فَأَكْثَرُ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْصَرِفُ عَنْ يَمِينِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৫১৩। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... সুদ্দী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, নামায শেষে আমি কিভাবে ফিরব? ডানদিকে না বামদিকে? তিনি বললেন, আমি বেশীর ভাগ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ডান দিকে ফেরতে দেখেছি।

১৫১৪

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَنْصَرِفُ عَنْ يَمِينِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৫১৪। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায শেষে ডান দিকে ফেরতেন।

৮. ইমামের ডানপার্শ্বে থাকা মুস্তাহাব

باب اسْتِحْبَابِ يَمِينِ الإِمَامِ

১৫১৫

وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ ابْنِ الْبَرَاءِ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحْبَبْنَا أَنْ نَكُونَ عَنْ يَمِينِهِ يُقْبِلُ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ - قَالَ - فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ " رَبِّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ - أَوْ تَجْمَعُ - عِبَادَكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

১৫১৫। আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আল বারা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিছনে নামায আদায় করতাম, তখন তার ডানপার্শ্বে থাকাই পছন্দ করতাম, যেন তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরান। রাবী বলেন, আমি তাঁকে এ দুআ বলতে শুনেছিঃ رَبِّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ - أَوْ تَجْمَعُ - عِبَادَكَ অর্থঃ হে রব! আমাকে তোমার সে দিনের আযাব থেকে বাঁচাও, যে দিন তুমি তোমার বান্দাদের উত্থিত করবে কিংবা (তিনি বলেছেন) একত্রিত করবে”।

১৫১৬

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَذْكُرْ يُقْبِلُ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

১৫১৬। আবু কুরায়ব ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... মিস’আর (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি তার বর্ণনায় يُقْبِلُ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ (যেন তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরান) উল্লেখ করেননি।

৯. মুয়াযযিন ইকামত দেওয়া শুরু করলে নফল নামায আরম্ভ করা মাকরূহ

باب كَرَاهَةِ الشُّرُوعِ فِي نَافِلَةٍ بَعْدَ شُرُوعِ الْمُؤَذِّنِ

১৫১৭

وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ وَرْقَاءَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ صَلاَةَ إِلاَّ الْمَكْتُوبَةُ "

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫১৭। আহমাদ ইবনে হানুল (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন ইকামত দেওয়া হয়, তখন ফরয ব্যতীত অন্য নামায নেই।

১৫১৮

وَحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ وَابْنُ رَافِعٍ قَالاَ حَدَّثَنَا شَبَابَةُ حَدَّثَنِي وَرْقَاءُ بِهَذَا الإِسْنَادِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫১৮। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ও ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... ওয়ারাকা (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন।

১৫১৯

وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ، يَقُولُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ صَلاَةَ إِلاَّ الْمَكْتُوبَةُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫১৯। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব আল হারিসী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, যখন নামাযের ইকামত দেওয়া হয়, তখন ফরয ব্যতীত অন্য কোন নামায নেই।

১৫২০

وَحَدَّثَنَاهُ عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ إِسْحَاقَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫২০। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... যাকারিয়া ইবনে ইসহাক (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৫২১

وَحَدَّثَنَا حَسَنٌ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِهِ . قَالَ حَمَّادٌ ثُمَّ لَقِيتُ عَمْرًا فَحَدَّثَنِي بِهِ وَلَمْ يَرْفَعْهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫২১। হাসান আল হুলওয়ানি (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। রাবী হামীদ (রাহঃ) বলেন, আমি আমরের সঙ্গে সাক্ষাত করলে তিনি আমার কাছে এই হাদীস বর্ণনা করেন, কিন্তু মারফু’রূপে বর্ণনা করেননি।

১৫২২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكٍ ابْنِ بُحَيْنَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِرَجُلٍ يُصَلِّي وَقَدْ أُقِيمَتْ صَلاَةُ الصُّبْحِ فَكَلَّمَهُ بِشَىْءٍ لاَ نَدْرِي مَا هُوَ فَلَمَّا انْصَرَفْنَا أَحَطْنَا نَقُولُ مَاذَا قَالَ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ لِي " يُوشِكُ أَنْ يُصَلِّيَ أَحَدُكُمُ الصُّبْحَ أَرْبَعًا " . قَالَ الْقَعْنَبِيُّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَالِكٍ ابْنُ بُحَيْنَةَ عَنْ أَبِيهِ . قَالَ أَبُو الْحُسَيْنِ مُسْلِمٌ وَقَوْلُهُ عَنْ أَبِيهِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ خَطَأٌ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক বুহায়না (রাঃ)

১৫২২। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা কা’নবী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক ইবনে বুহায়না (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে আসছিলেন, সে নামায আদায় করছিল। তখন ফজরের নামাযে ইকামত দেওয়া হয়েছে তিনি তার সঙ্গে কিছু কথা বললেন। কি বলেছেন, আমরা তা জানি না। আমরা যখন নামায শেষ করলাম তখন আমরা তাঁকে ঘিরে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে কি বলেছেন? সে বলল, তিনি আমাকে বলেছেন, মনে হচ্ছে, তোমাদের কেউ ফজরের নামায চার রাকআত আদায় করছে? কানবী বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক ইবনে যুহায়না (রাহঃ) তার পিতা থেকে। ইমাম মুসলিম (রাহঃ) বলেছেন যে, ‘তার পিতা থেকে’ কথাটি এ হাদীসে ভুল।

১৫২৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ بُحَيْنَةَ، قَالَ أُقِيمَتْ صَلاَةُ الصُّبْحِ فَرَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يُصَلِّي وَالْمُؤَذِّنُ يُقِيمُ فَقَالَ " أَتُصَلِّي الصُّبْحَ أَرْبَعًا " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক বুহায়না (রাঃ)

১৫২৩। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবনে বুহায়না (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফজরের নামাযে দাঁড়িয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দেখতে পেলেন যে, এক ব্যক্তি নামায আদায় করছে। মুয়াযযিন তখন তাকবীর দিচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকটিকে বললেন, তুমি কি ফজরের নামায চার রাকআত আদায় করছ?

১৫২৪

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ، ح وَحَدَّثَنِي حَامِدُ بْنُ عُمَرَ الْبَكْرَاوِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ يَعْنِي ابْنَ زِيَادٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، كُلُّهُمْ عَنْ عَاصِمٍ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ، قَالَ دَخَلَ رَجُلٌ الْمَسْجِدَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الْغَدَاةِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ فِي جَانِبِ الْمَسْجِدِ ثُمَّ دَخَلَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا سَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَا فُلاَنُ بِأَىِّ الصَّلاَتَيْنِ اعْتَدَدْتَ أَبِصَلاَتِكَ وَحْدَكَ أَمْ بِصَلاَتِكَ مَعَنَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সারজিস রাযি.

১৫২৪। আবু কামিল জাহদারী (রাহঃ), হামিদ ইবনে উমর বাকারাবী (রাহঃ), ইবনে নুমাইর ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে সারজিস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের নামায আদায় করছিলেন। লোকটি মসজিদের কোনায় দু রাকআত নামায আদায় করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে শামিল হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাম ফিরিয়ে বললেন, হে ওমুক! তুমি এ দু’ নামাযের মধ্যে কোনটিকে (আসল) গণ্য করেছ? যা তুমি একাকী পড়লে তা, না যা আমাদের সাথে পড়লে তা?

১০. মসজিদে প্রবেশের সময় কী পাঠ করবে

باب مَا يَقُولُ إِذَا دَخَلَ الْمَسْجِدَ

১৫২৫

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ، - أَوْ عَنْ أَبِي أُسَيْدٍ، - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ . وَإِذَا خَرَجَ فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ " . قَالَ مُسْلِمٌ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ يَحْيَى يَقُولُ كَتَبْتُ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ كِتَابِ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ . قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ يَحْيَى الْحِمَّانِيَّ يَقُولُ وَأَبِي أُسَيْدٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু উসাইদ সাঈদী (রাঃ)

১৫২৫। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহিয়া (রাহঃ) ......... আবু উসায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করে, তখন বলবে হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজা খুলে দিন। যখন বের হয়ে যাব, তখন বলবে-আমি আপনার কাছে আপনার অনুগ্রহপ্রার্থী।

১৫২৬

وَحَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ عُمَرَ الْبَكْرَاوِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ غَزِيَّةَ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ سُوَيْدٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ، أَوْ عَنْ أَبِي أُسَيْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু উসাইদ সাঈদী (রাঃ)

১৫২৬। হামিদ ইবনে উমর বাকারাবী (রাহঃ) ......... আবু উসায়দ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১১. দু’রাক’আত তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় মুস্তাহাব এবং দু’রাক’আত আদায় করার পূর্বে বসা মাকরূহ

باب اسْتِحْبَابِ تَحِيَّةِ الْمَسْجِدِ بِرَكْعَتَيْنِ وَكَرَاهَةِ الْجُلُوسِ قَبْلَ صَلاَتِهِمَا

১৫২৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يَجْلِسَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

১৫২৭। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা ইবনে কানাব, কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করে, তখন বসার আগে দু'রাক’আত নামায আদায় করবে।

১৫২৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ يَحْيَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمِ بْنِ خَلْدَةَ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، صَاحِبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ بَيْنَ ظَهْرَانَىِ النَّاسِ - قَالَ - فَجَلَسْتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مَنَعَكَ أَنْ تَرْكَعَ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ تَجْلِسَ " . قَالَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ رَأَيْتُكَ جَالِسًا وَالنَّاسُ جُلُوسٌ . قَالَ " فَإِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلاَ يَجْلِسْ حَتَّى يَرْكَعَ رَكْعَتَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

১৫২৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মসজিদে গেলাম তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের সামনে বসেছিলেন। তিনি বলেন, আমিও বসে পড়লাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন, বসার আগে দু'রাক’আত নামায আদায় করা থেকে তোমাকে কিসে বিরত রাখল? আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনাকে বসা দেখলাম এবং লোকেরাও বসা ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ করে তখন দু'রাকআত নামায আদায়ের আগে বসবে না।

১২. সফর থেকে ফিরে এসে মসজিদে দু’রাকআত নামায আদায় করা মুস্তাহাব

باب اسْتِحْبَابِ الرَّكْعَتَيْنِ فِي الْمَسْجِدِ لِمَنْ قَدِمَ مِنْ سَفَرٍ أَوَّلَ قُدُومِهِ

১৫২৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَوَّاسٍ الْحَنَفِيُّ أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ الأَشْجَعِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ لِي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم دَيْنٌ فَقَضَانِي وَزَادَنِي وَدَخَلْتُ عَلَيْهِ الْمَسْجِدَ فَقَالَ لِي " صَلِّ رَكْعَتَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৫২৯। আহমাদ ইবনে জাওয়াস আল হানাফী (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আমার পাওনা ছিল, তিনি আমাকে তো পরিশোধ করলেন এবং কিছু বেশী দিলেন। আমি মসজিদে তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন, তুমি দু'রাক’আত নামায আদায় কর।

১৫৩০

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَارِبٍ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ اشْتَرَى مِنِّي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعِيرًا فَلَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ أَمَرَنِي أَنْ آتِيَ الْمَسْجِدَ فَأُصَلِّيَ رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৫৩০। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট থেকে উট খরিদ করলেন। আমি যখন মদীনায় আসলাম তখন তিনি আমাকে মসজিদে যাওয়ার আদেশ দিলেন এবং বললেন, দু’রাকআত নামায আদায় কর।

১৫৩১

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، - يَعْنِي الثَّقَفِيَّ - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزَاةٍ فَأَبْطَأَ بِي جَمَلِي وَأَعْيَى ثُمَّ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبْلِي وَقَدِمْتُ بِالْغَدَاةِ فَجِئْتُ الْمَسْجِدَ فَوَجَدْتُهُ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ قَالَ " الآنَ حِينَ قَدِمْتَ " . قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ " فَدَعْ جَمَلَكَ وَادْخُلْ فَصَلِّ رَكْعَتَيْنِ " . قَالَ فَدَخَلْتُ فَصَلَّيْتُ ثُمَّ رَجَعْتُ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৫৩১। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে কোন এক যুদ্ধে বের হলাম। আমার উট পথ চলতে বিলম্ব করল। এমনকি পথ চলতে অক্ষম হয়ে পড়ল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আগেই পৌছে গেলেন, আর আমি পরদিন সকালে পৌহুলাম। আমি মসজিদে আসলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মসজিদের দরজায় দেখতে পেলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি এখনই পৌছেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, উট রেখে মসজিদে আস এবং দু-রাক’আত নামায আদায় করো। তখন আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং দু' রাকআত নামায আদায় করে ফিরে এলাম।

১৫৩২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ يَعْنِي أَبَا عَاصِمٍ، ح وَحَدَّثَنِي مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالاَ جَمِيعًا أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ، أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِيهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ، وَعَنْ عَمِّهِ، عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ عَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَقْدَمُ مِنْ سَفَرٍ إِلاَّ نَهَارًا فِي الضُّحَى فَإِذَا قَدِمَ بَدَأَ بِالْمَسْجِدِ فَصَلَّى فِيهِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ جَلَسَ فِيهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত কা‘ব ইবনে মালিক রাযি.

১৫৩২। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ও মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ......... কা’ব ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফর থেকে ফিরে পূর্বাহ্নে মদীনায় প্রবেশ করতেন। প্রথমে মসজিদে যেতেন এবং দু' রাকআত নামায আদায় করে বসতেন।

১৩. চাশতের (পূর্বাহ্নের) নামায মুস্তাহাব হওয়া

بَابُ اسْتِحْبَابِ صَلَاةِ الضُّحَى، وَأَنَّ أَقَلَّهَا رَكْعَتَانِ، وَأَكْمَلَهَا ثَمَانِ رَكَعَاتٍ، وَأَوْسَطُهَا أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ، أَوْ سِتٍّ، وَالْحَثُّ عَلَى الْمُحَافَظَةِ عَلَيْهَا

১৫৩৩

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ هَلْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الضُّحَى قَالَتْ لاَ إِلاَّ أَنْ يَجِيءَ مِنْ مَغِيبِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৩৩। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি পূর্বাহ্নে নামায আদায় করতেন? তিনি বললেন, না, কিন্তু সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করলে আদায় করতেন।

১৫৩৪

وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ الْقَيْسِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ أَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الضُّحَى قَالَتْ لاَ إِلاَّ أَنْ يَجِيءَ مِنْ مَغِيبِهِ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৩৪। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি দু’হার (চাশতের) নামায আদায় করতেন? তিনি বললেন, না। কিন্তু সফর থেকে ফিরে এলে (আদায় করতেন)।

১৫৩৫

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي سُبْحَةَ الضُّحَى قَطُّ . وَإِنِّي لأُسَبِّحُهَا وَإِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيَدَعُ الْعَمَلَ وَهُوَ يُحِبُّ أَنْ يَعْمَلَ بِهِ خَشْيَةَ أَنْ يَعْمَلَ بِهِ النَّاسُ فَيُفْرَضَ عَلَيْهِمْ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৩৫। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দু’হার সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কখনো নামায আদায় করতে দেখিনি। কিন্তু আমি তা আদায় করি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন কোন কাজ পছন্দ করতেন; কিন্তু পাছে লোকেরা তা আকড়ে ধরবে এবং তাদের উপর তা ফরয হয়ে পড়বে এ আশঙ্কায় তা ছেড়ে দিতেন।

১৫৩৬

حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي الرِّشْكَ - حَدَّثَتْنِي مُعَاذَةُ، أَنَّهَا سَأَلَتْ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - كَمْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي صَلاَةَ الضُّحَى قَالَتْ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ وَيَزِيدُ مَا شَاءَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৩৬। শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ......... মু’আয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু’হার নামায কত রাক’আত আদায় করতেন? তিনি বললেন, চার রাক’আত। ইচ্ছে হলে বেশীও পড়তেন।

১৫৩৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ وَقَالَ يَزِيدُ مَا شَاءَ اللَّهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৩৭। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ইয়াযীদের সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর বর্ণনায় يَزِيدُ مَا شَاءَ اللَّهُ উল্লেখ করেছেন।

১৫৩৮

وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، أَنَّ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةَ، حَدَّثَتْهُمْ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الضُّحَى أَرْبَعًا وَيَزِيدُ مَا شَاءَ اللَّهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৩৮। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব আল হারিসী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু’হার নামায চার রাকআত আদায় করতেন। আল্লাহর ইচ্ছায় বেশীও পড়তেন।

১৫৩৯

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَابْنُ، بَشَّارٍ جَمِيعًا عَنْ مُعَاذِ بْنِ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৩৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... কাতাদা (রাহঃ) থেকে উক্ত সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৫৪০

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ مَا أَخْبَرَنِي أَحَدٌ، أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الضُّحَى إِلاَّ أُمُّ هَانِئٍ فَإِنَّهَا حَدَّثَتْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ بَيْتَهَا يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ فَصَلَّى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ مَا رَأَيْتُهُ صَلَّى صَلاَةً قَطُّ أَخَفَّ مِنْهَا غَيْرَ أَنَّهُ كَانَ يُتِمُّ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ . وَلَمْ يَذْكُرِ ابْنُ بَشَّارٍ فِي حَدِيثِهِ قَوْلَهُ قَطُّ .

বর্ণনাকারী: উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব (রাঃ)

১৫৪০। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে আবু লায়লা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) দু’হার নামায আদায় করতে দেখেছেন বলে উম্মে হানী (রাযিঃ) ব্যতীত কেউ আমাকে বলেন নি। তিনি বলেছেন যে, নবী (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন তাঁর ঘরে আসেন এবং আট রাকআত নামায আদায় করেন। আমি আর কখনও তাঁকে এর চাইতে সংক্ষিপ্ত নামায আদায় করতে দেখিনি। তবে তিনি রুকু ও সিজদা ঠিক মতো আদায় করেছিলেন। তবে ইবনে বাশশার (রাহঃ) তার বর্ণনা قَطُّ (কখনও) শব্দটি উল্লেখ করেননি।

১৫৪১

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّ أَبَاهُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَارِثِ بْنِ نَوْفَلٍ، قَالَ سَأَلْتُ وَحَرَصْتُ عَلَى أَنْ أَجِدَ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ يُخْبِرُنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَبَّحَ سُبْحَةَ الضُّحَى فَلَمْ أَجِدْ أَحَدًا يُحَدِّثُنِي ذَلِكَ غَيْرَ أَنَّ أُمَّ هَانِئٍ بِنْتَ أَبِي طَالِبٍ أَخْبَرَتْنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَى بَعْدَ مَا ارْتَفَعَ النَّهَارُ يَوْمَ الْفَتْحِ فَأُتِيَ بِثَوْبٍ فَسُتِرَ عَلَيْهِ فَاغْتَسَلَ ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ لاَ أَدْرِي أَقِيَامُهُ فِيهَا أَطْوَلُ أَمْ رُكُوعُهُ أَمْ سُجُودُهُ كُلُّ ذَلِكَ مِنْهُ مُتَقَارِبٌ - قَالَتْ - فَلَمْ أَرَهُ سَبَّحَهَا قَبْلُ وَلاَ بَعْدُ . قَالَ الْمُرَادِيُّ عَنْ يُونُسَ . وَلَمْ يَقُلْ أَخْبَرَنِي .

বর্ণনাকারী: উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব (রাঃ)

১৫৪১। হারামালা ইবনে ইয়াহিয়া (রাহঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনে সালামা আল-মুরাদী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে নাওফল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করতাম এবং কৌতূহলী হতাম যাতে এমন কাউকে পাই যে আমাকে বলে দেবে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু’হার নামায আদায় করেছেন। কিন্তু আমি উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব (রাযিঃ) ব্যতীত আর কাউকে এই বিষয়ে বর্ণনাকারী পাইনি।

উম্মে হানী (রাযিঃ) বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন পূর্বাহ্নে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এলেন এবং একটি কাপড় এনে তাঁর জন্য পর্দা করা হল। তিনি গোসল করলেন এবং দাঁড়িয়ে আট রাক’আত নামায আদায় করলেন। আমি জানি না, তাঁর নামাযে দাঁড়ানো, অথবা তার রুকু অথবা তার সিজদা কোনটা দীর্ঘ ছিল। এর প্রত্যেকটই প্রায় সমান ছিল। তিনি বলেন, এর পূর্বে বা পরে তাঁকে আর দু’হার (চাশতের) নামায আদায় করতে দেখি নি।
১৫৪২

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ أَبِي النَّضْرِ، أَنَّ أَبَا مُرَّةَ، مَوْلَى أُمِّ هَانِئٍ بِنْتِ أَبِي طَالِبٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أُمَّ هَانِئٍ بِنْتَ أَبِي طَالِبٍ، تَقُولُ ذَهَبْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفَتْحِ فَوَجَدْتُهُ يَغْتَسِلُ وَفَاطِمَةُ ابْنَتُهُ تَسْتُرُهُ بِثَوْبٍ - قَالَتْ - فَسَلَّمْتُ فَقَالَ " مَنْ هَذِهِ " . قُلْتُ أُمُّ هَانِئٍ بِنْتُ أَبِي طَالِبٍ . قَالَ " مَرْحَبًا بِأُمِّ هَانِئٍ " . فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ غُسْلِهِ قَامَ فَصَلَّى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ مُلْتَحِفًا فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ . فَلَمَّا انْصَرَفَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ زَعَمَ ابْنُ أُمِّي عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ أَنَّهُ قَاتِلٌ رَجُلاً أَجَرْتُهُ فُلاَنُ بْنُ هُبَيْرَةَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ أَجَرْنَا مَنْ أَجَرْتِ يَا أُمَّ هَانِئٍ " . قَالَتْ أُمُّ هَانِئٍ وَذَلِكَ ضُحًى .

বর্ণনাকারী: উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব (রাঃ)

১৫৪২। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহিয়া (রাহঃ) ......... আবু মুররা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উম্মে হানী (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছেন যে, আমি মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গেলাম এবং আমি তাঁকে গোসল করতে পেলাম। তাঁর কন্যা ফাতিমা (রাযিঃ) একটি কাপড় দিয়ে তাকে আড়াল করে রেখেছিলেন। আমি সালাম করলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ কে? আমি জবাব দিলাম, উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব। তিনি বললেন, মারহাবা হে উম্মে হানী!

তারপর তিনি গোসল সেরে দাঁড়িয়ে আট রাকআত নামায আদায় করলেন। তখন তিনি একই কাপড় জড়িয়ে ছিলেন। তিনি যখন নামায শেষ করলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার সহোদর আলী ইবনে আবু তালিব, হুরায়রার পূত্র অমুককে কতল করার সংকল্প করেছে, যাকে আমি নিরাপত্তা দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে উম্মে হানী! তুমি যাকে নিরাপত্তা দিয়েছ আমিও তাকে নিরাপত্তা দিলাম। উম্মে হানী (রাযিঃ) বললেন, এ ছিল চাশতের সময়।
১৫৪৩

وَحَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ، حَدَّثَنَا وُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي مُرَّةَ، مَوْلَى عَقِيلٍ عَنْ أُمِّ هَانِئٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي بَيْتِهَا عَامَ الْفَتْحِ ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ قَدْ خَالَفَ بَيْنَ طَرَفَيْهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব (রাঃ)

১৫৪৩। হাজ্জাজ ইবনে শাইর (রাহঃ) ......... উম্মে হানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ঘরে একটি কাপড় পরে আট রাকআত নামায আদায় করেন। তিনি সে কাপড়ের দুআঁচল বিপরীত দিকে জড়িয়েছিলেন।

১৫৪৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ الضُّبَعِيُّ، حَدَّثَنَا مَهْدِيٌّ، - وَهُوَ ابْنُ مَيْمُونٍ - حَدَّثَنَا وَاصِلٌ، مَوْلَى أَبِي عُيَيْنَةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ عُقَيْلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ الدُّؤَلِيِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " يُصْبِحُ عَلَى كُلِّ سُلاَمَى مِنْ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ فَكُلُّ تَسْبِيحَةٍ صَدَقَةٌ وَكُلُّ تَحْمِيدَةٍ صَدَقَةٌ وَكُلُّ تَهْلِيلَةٍ صَدَقَةٌ وَكُلُّ تَكْبِيرَةٍ صَدَقَةٌ وَأَمْرٌ بِالْمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ وَنَهْىٌ عَنِ الْمُنْكَرِ صَدَقَةٌ وَيُجْزِئُ مِنْ ذَلِكَ رَكْعَتَانِ يَرْكَعُهُمَا مِنَ الضُّحَى " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

১৫৪৪। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আসমা আয-যুবাঈ (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন ভোরে উঠে, তখন তার প্রতিটি জোড়ার উপর একটি সাদ্‌কা রয়েছে। প্রতি সূবহানাল্লাহ সাদ্‌কা, প্রতি আলহামদুলিল্লাহ সাদ্‌কা, প্রতি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ সাদ্‌কা, প্রতি আল্লাহু আকবার সাদ্‌কা, আমর বিল মা’রুফ (সৎকাজের আদেশ) সাদ্‌কা, নাহী আনিল মুনকার (অসৎকাজের নিষেধ) সাদ্‌কা। অবশ্য চাশতের সময় দু রাকআত নামায আদায় করা এ সবের পক্ষ থেকে যথেষ্ট।

১৫৪৫

حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا أَبُو التَّيَّاحِ، حَدَّثَنِي أَبُو عُثْمَانَ النَّهْدِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَوْصَانِي خَلِيلِي صلى الله عليه وسلم بِثَلاَثٍ بِصِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَكْعَتَىِ الضُّحَى وَأَنْ أُوتِرَ قَبْلَ أَنْ أَرْقُدَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫৪৫। শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু নবী (ﷺ) আমাকে তিনটি বিষয়ের উপদেশ দিয়েছেন। প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোযা পালন করা, চাশতের দু’ রাক’আত নামায আদায় করা এবং নিন্দ্রা যাওয়ার আগে যেন আমি বিতর নামায আদায় করে নেই।

১৫৪৬

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبَّاسٍ الْجُرَيْرِيِّ، وَأَبِي، شِمْرٍ الضُّبَعِيِّ قَالاَ سَمِعْنَا أَبَا عُثْمَانَ النَّهْدِيَّ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫৪৬। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৫৪৭

وَحَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ مَعْبَدٍ، حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُخْتَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الدَّانَاجِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو رَافِعٍ الصَّائِغُ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ أَوْصَانِي خَلِيلِي أَبُو الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم بِثَلاَثٍ . فَذَكَرَ مِثْلَ حَدِيثِ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫৪৭। সুলাইমান ইবনে মাবাদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু আবুল কাসিম (ﷺ) আমাকে তিনটি বিষয়ের উপদেশ দিয়েছেন। অতঃপর আবু উসমান (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

১৫৪৮

وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنْ أَبِي مُرَّةَ، مَوْلَى أُمِّ هَانِئٍ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ أَوْصَانِي حَبِيبِي صلى الله عليه وسلم بِثَلاَثٍ لَنْ أَدَعَهُنَّ مَا عِشْتُ بِصِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَصَلاَةِ الضُّحَى وَبِأَنْ لاَ أَنَامَ حَتَّى أُوتِرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

১৫৪৮। হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবনে রাফি’ (রাহঃ) ......... আবুদ দারদা (রাযিঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার বন্ধু নবী (ﷺ) আমাকে তিনটি বিষয়ের উপদেশ দিয়েছেন। যতদিন আমি জীবিত থাকব, ততদিন তা ছাড়ব না। প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখা, চাশতের নামায আদায় করা এবং বিতর আদায় না করা পর্যন্ত যেন আমি নিদ্রায় না যাই।

১৪. ফজরের দু রাক’আত সুন্নত মুস্তাহাব, তা আদায়ে উৎসাহ দান, তা সংক্ষেপে আদায় করা, সর্বদা আদায় করা এবং এতে যে সূরা পড়া মুস্তাহাব

باب اسْتِحْبَابِ رَكْعَتَيْ سُنَّةِ الْفَجْرِ وَالْحَثِّ عَلَيْهِمَا وَتَخْفِيفِهِمَا وَالْمُحَافَظَةِ عَلَيْهِمَا وَبَيَانِ مَا يُسْتَحَبُّ أَنْ يُقْرَأَ فِيهِمَا

১৫৪৯

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ حَفْصَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُ مِنَ الأَذَانِ لِصَلاَةِ الصُّبْحِ وَبَدَا الصُّبْحُ رَكَعَ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ تُقَامَ الصَّلاَةُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৫৪৯। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, উম্মুল মু’মিনীন হাফসা (রাযিঃ) তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, মুয়াযযিন যখন ফজরের আযান দিয়ে নীরব হয়ে যেতেন এবং ভোর প্রকাশ হয়ে যেত, তখন ফজরের ইকামতের আগে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সংক্ষেপে দু’রাকআত নামায আদায় করতেন।

১৫৫০

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، رُمْحٍ عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَيُّوبَ، كُلُّهُمْ عَنْ نَافِعٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ كَمَا قَالَ مَالِكٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৫৫০। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, কুতায়বা ইবনে রুমহ, যূহায়র ইবনে হারব ও উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... নাফি’ (রাহঃ) এর সূত্রে উক্ত সনদে মালিকের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৫৫১

وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَكَمِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ سَمِعْتُ نَافِعًا، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ حَفْصَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ لاَ يُصَلِّي إِلاَّ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

১৫৫১। আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাকাম (রাহঃ) ......... হাফসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের সময় হলে সংক্ষিপ্ত দু’রাক’আত ছাড়া অন্য কোন নামায আদায় করতেন না।

১৫৫২

وَحَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا النَّضْرُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

১৫৫২। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৫৫৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَخْبَرَتْنِي حَفْصَةُ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَضَاءَ لَهُ الْفَجْرُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

১৫৫৩। মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ (রাহঃ) ......... হাফসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের আলো প্রকাশ হওয়ার পর দু’রাকআত নামায আদায় করতেন।

১৫৫৪

حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ إِذَا سَمِعَ الأَذَانَ وَيُخَفِّفُهُمَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৫৪। আমরুন নাকিদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আযান শুনার পর ফজরের দু’রাকআত (সুন্নত) নামায আদায় করতেন এবং তা সংক্ষিপ্ত করতেন।

১৫৫৫

وَحَدَّثَنِيهِ عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا عَلِيٌّ يَعْنِي ابْنَ مُسْهِرٍ، ح وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، ح وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرٍ، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَابْنُ نُمَيْرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، ح وَحَدَّثَنَاهُ عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، كُلُّهُمْ عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَفِي حَدِيثِ أَبِي أُسَامَةَ إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৫৫। আলী ইবনে হুজর, আবু কুরায়ব, আবু বকর ও আমরূন নাকিদ (রাহঃ) ......... হিশাম (রাহঃ) সূত্রে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। আবু উসামা (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসে আছে إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ (যখন ফজর হত)।

১৫৫৬

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ بَيْنَ النِّدَاءِ وَالإِقَامَةِ مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৫৬। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) ফজরের আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় দু’রাকআত নামায আদায় করতেন।

১৫৫৭

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَمِعَ عَمْرَةَ، تُحَدِّثُ عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا كَانَتْ تَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ فَيُخَفِّفُ حَتَّى إِنِّي أَقُولُ هَلْ قَرَأَ فِيهِمَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৫৭। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের দু’রাক'আত (সুন্নত) পড়তেন যে, আমি মনে মনে বলতাম, তিনি উভয় রাক’আতে সূরা ফাতিহা পড়েছেন তো?

১৫৫৮

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَنْصَارِيِّ، سَمِعَ عَمْرَةَ بِنْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ أَقُولُ هَلْ يَقْرَأُ فِيهِمَا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৫৮। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন ফজর হতো তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু’রাকআত নামায আদায় করতেন। আমি মনে মনে বলতাম তিনি এতে সূরা ফাতিহা পড়েছেন তো।

১৫৫৯

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَطَاءٌ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكُنْ عَلَى شَىْءٍ مِنَ النَّوَافِلِ أَشَدَّ مُعَاهَدَةً مِنْهُ عَلَى رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الصُّبْحِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৫৯। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ফজরের দু রাক’আত সুন্নত ব্যতীত অন্য কোন নফল নামাযের প্রতি এত বেশী যত্নবান থাকতে দেখিনি।

১৫৬০

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ جَمِيعًا عَنْ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، - قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا حَفْصٌ، - عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شَىْءٍ مِنَ النَّوَافِلِ أَسْرَعَ مِنْهُ إِلَى الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৬০। আবু বকর ইবনে শায়বা ও ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের দু’রাকআত সুন্নত নামাযের জন্য যতটা ব্যস্ত হতেন, অন্য কোন নফল নামাযের জন্য ততটা ব্যস্ত হতে আমি তাঁকে দেখি নি।

১৫৬১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْغُبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رَكْعَتَا الْفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৬১। মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ গুবারী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ফজরে দু’রাকআত (সুন্নত) দুনিয়া এবং দুনিয়ার সকল কিছুর চাইতে উত্তম।

১৫৬২

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيْبٍ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ قَالَ أَبِي حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ زُرَارَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ فِي شَأْنِ الرَّكْعَتَيْنِ عِنْدَ طُلُوعِ الْفَجْرِ " لَهُمَا أَحَبُّ إِلَىَّ مِنَ الدُّنْيَا جَمِيعًا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৬২। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের ওয়াক্ত আসার পরে দু’রাকআত সুন্নত সম্পর্কে বলেছেন যে, তা আমার নিকট দুনিয়ার সকল কিছু অপেক্ষা শ্রেয়।

১৫৬৩

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ يَزِيدَ، - هُوَ ابْنُ كَيْسَانَ - عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ فِي رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ ( قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ) وَ ( قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ)

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫৬৩। মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ ও ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের সুন্নত দু’ রাক’আতে قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ এবং قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ পাঠ করতেন।

১৫৬৪

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْفَزَارِيُّ، - يَعْنِي مَرْوَانَ بْنَ مُعَاوِيَةَ - عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ يَسَارٍ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ فِي رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ فِي الأُولَى مِنْهُمَا ( قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا) الآيَةَ الَّتِي فِي الْبَقَرَةِ وَفِي الآخِرَةِ مِنْهُمَا ( آمَنَّا بِاللَّهِ وَاشْهَدْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ)

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৫৬৪। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের দু’ রাক’আত সুন্নত নামাযের প্রথম রাক’আতে قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا আয়াতটি পাঠ করতে এবং দ্বিতীয় রাক’আতে آمَنَّا بِاللَّهِ وَاشْهَدْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ আয়াতটি পাঠ করতেন।

১৫৬৫

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ ( قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا) وَالَّتِي فِي آلِ عِمْرَانَ ( تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ)

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৫৬৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের সুন্নত নামাযের প্রথম রাক’আতে قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا দ্বিতীয় রাক’আতে সূরা আলে ইমরানের تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ পাঠ করতেন।

১৫৬৬

وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمٍ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ . بِمِثْلِ حَدِيثِ مَرْوَانَ الْفَزَارِيِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৫৬৬। আলী ইবনে খাশরাম (রাহঃ) ......... উসমান ইবনে হাকীম (রাহঃ) সূত্রে উক্ত সনদে মারওয়ান ফাজারী (রাহঃ) এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৫. ফরযের আগে ও পরে নিয়মিত সুন্নতের ফযীলত এবং তার সংখ্যার বিবরণ

باب فَضْلِ السُّنَنِ الرَّاتِبَةِ قَبْلَ الْفَرَائِضِ وَبَعْدَهُنَّ وَبَيَانِ عَدَدِهِنَّ

১৫৬৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، - يَعْنِي سُلَيْمَانَ بْنَ حَيَّانَ - عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَوْسٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَنْبَسَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ بِحَدِيثٍ يُتَسَارُّ إِلَيْهِ قَالَ سَمِعْتُ أُمَّ حَبِيبَةَ تَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ صَلَّى اثْنَتَىْ عَشْرَةَ رَكْعَةً فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ بُنِيَ لَهُ بِهِنَّ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ " . قَالَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ فَمَا تَرَكْتُهُنَّ مُنْذُ سَمِعْتُهُنَّ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَقَالَ عَنْبَسَةُ فَمَا تَرَكْتُهُنَّ مُنْذُ سَمِعْتُهُنَّ مِنْ أُمِّ حَبِيبَةَ . وَقَالَ عَمْرُو بْنُ أَوْسٍ مَا تَرَكْتُهُنَّ مُنْذُ سَمِعْتُهُنَّ مِنْ عَنْبَسَةَ . وَقَالَ النُّعْمَانُ بْنُ سَالِمٍ مَا تَرَكْتُهُنَّ مُنْذُ سَمِعْتُهُنَّ مِنْ عَمْرِو بْنِ أَوْسٍ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবন আউস (রাঃ)

১৫৬৭। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আমর ইবনে আউস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনবাসা ইবনে আবু সুফিয়ান (রাহঃ) তাঁর সেই রোগের সময়— যেই রোগে তিনি মৃত্যুবরণ করেন, একটি হাদীস বর্ণনা করেন, যা বড়ই আনন্দদায়ক। তিনি বলেন, উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি দিবা-রাত্রে বারো রাক’আত (সুন্নত) নামায আদায় করবে তার প্রতিদানে তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরী করা হবে।

উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) বলেন, যখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ কথা শুনেছি তখন থেকে এই নামাযগুলো কখনো ছাড়িনি। আনবাসা (রাহঃ) বলেন, আমি উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) থেকে একথা শুনেছি, তখন থেকে আমিও তা ছাড়িনি। আমর ইবনে আউস (রাহঃ) বলেন, আমি যখন থেকে আনবাসার নিকট থেকে এ কথা শুনেছি, তখন থেকে এই নামাযগুলো ছাড়িনি। নূমান ইবনে সালিম (রাহঃ) বলেন, আমি যখন আমর ইবনে আউস (রাহঃ) থেকে এগুলোর কথা শুনেছি, তখন থেকে এগুলো আমিও ছাড়িনি।
১৫৬৮

حَدَّثَنِي أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَالِمٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ " مَنْ صَلَّى فِي يَوْمٍ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ سَجْدَةً تَطَوُّعًا بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবন আউস (রাঃ)

১৫৬৮। আবু গাসসান মিসমাঈ (রাহঃ) ......... নূ’মান ইবনে সালিম (রাযিঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি দিনে বারো রাক’আত অতিরিক্ত (নিয়মিত) নামায আদায় করবে, জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর বানানো হবে।

১৫৬৯

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَوْسٍ، عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي لِلَّهِ كُلَّ يَوْمٍ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعًا غَيْرَ فَرِيضَةٍ إِلاَّ بَنَى اللَّهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ أَوْ إِلاَّ بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ " . قَالَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ فَمَا بَرِحْتُ أُصَلِّيهِنَّ بَعْدُ . وَقَالَ عَمْرٌو مَا بَرِحْتُ أُصَلِّيهِنَّ بَعْدُ . وَقَالَ النُّعْمَانُ مِثْلَ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে হাবীবা (রাঃ)

১৫৬৯। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনা উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে কোন মুসলিম বান্দা দৈনিক ফরয ব্যতীত বারো রাক’আত নামায আল্লাহর উদ্দেশ্যে আদায় করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরী করবেন অথবা বলেছেন, জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর তৈরী করা হবে। উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) বলেন, এরপর থেকে আমি এই নামায নিয়মিত আদায় করে আসছি। বর্ণনাকারী আমর (রাহঃ) বলেন, এরপর থেকে আমিও এ নামায নিয়মিত আদায় করে আসছি। নুমান (রাহঃ)ও অনুরূপ বলেছেন।

১৫৭০

وَحَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ هَاشِمٍ الْعَبْدِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ النُّعْمَانُ بْنُ سَالِمٍ أَخْبَرَنِي قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ أَوْسٍ، يُحَدِّثُ عَنْ عَنْبَسَةَ، عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ تَوَضَّأَ فَأَسْبَغَ الْوُضُوءَ ثُمَّ صَلَّى لِلَّهِ كُلَّ يَوْمٍ " . فَذَكَرَ بِمِثْلِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে হাবীবা (রাঃ)

১৫৭০। আব্দুর রহমান ইবনে বিশর ও আব্দুল্লাহ ইবনে হাশিম আল আব্দী (রাহঃ) ......... উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে মুসলিম বান্দা উত্তমরূপে ওযু করে দৈনিক আল্লাহর উদ্দেশ্যে আদায় করে.... অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৫৭১

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، - وَهُوَ ابْنُ سَعِيدٍ - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ الظُّهْرِ سَجْدَتَيْنِ وَبَعْدَهَا سَجْدَتَيْنِ وَبَعْدَ الْمَغْرِبِ سَجْدَتَيْنِ وَبَعْدَ الْعِشَاءِ سَجْدَتَيْنِ وَبَعْدَ الْجُمُعَةِ سَجْدَتَيْنِ فَأَمَّا الْمَغْرِبُ وَالْعِشَاءُ وَالْجُمُعَةُ فَصَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৫৭১। যুহাহার ইবনে হারব, উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ ও আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে যোহরের পূর্বে দু’রাকআত ও তার পরে দু'রাক’আত, মাগরিবের পরে দু'রাকআত, ইশার পরে দু'রাক’আত এবং জুমআর পরে দু'রাক’আত নামায আদায় করেছি। আর মাগরিব, ইশা, জুমআর (দু-রাকআত) নামায রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে তাঁর ঘরেই আদায় করেছি।

১৬. দাঁড়িয়ে ও বসে নফল নামায আদায় এবং একই রাক’আতের অংশবিশেষ দাঁড়িয়ে ও অংশবিশেষ বসে আদায় করার বৈধতা

باب جَوَازِ النَّافِلَةِ قَائِمًا وَقَاعِدًا وَفِعْلِ بَعْضِ الرَّكْعَةِ قَائِمًا وَبَعْضِهَا قَاعِدًا

১৫৭২

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ تَطَوُّعِهِ فَقَالَتْ كَانَ يُصَلِّي فِي بَيْتِي قَبْلَ الظُّهْرِ أَرْبَعًا ثُمَّ يَخْرُجُ فَيُصَلِّي بِالنَّاسِ ثُمَّ يَدْخُلُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَكَانَ يُصَلِّي بِالنَّاسِ الْمَغْرِبَ ثُمَّ يَدْخُلُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَيُصَلِّي بِالنَّاسِ الْعِشَاءَ وَيَدْخُلُ بَيْتِي فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَكَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ تِسْعَ رَكَعَاتٍ فِيهِنَّ الْوِتْرُ وَكَانَ يُصَلِّي لَيْلاً طَوِيلاً قَائِمًا وَلَيْلاً طَوِيلاً قَاعِدًا وَكَانَ إِذَا قَرَأَ وَهُوَ قَائِمٌ رَكَعَ وَسَجَدَ وَهُوَ قَائِمٌ وَإِذَا قَرَأَ قَاعِدًا رَكَعَ وَسَجَدَ وَهُوَ قَاعِدٌ وَكَانَ إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৭২। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ) কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামায অর্থাৎ তাঁর নফল নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, যোহরের আগে আমার ঘরে চার রাকআত নামায আদায় করতেন। এরপর বেরিয়ে গিয়ে লোকদের নিয়ে (যোহর) নামায জামাতে আদায় করতেন। তারপর ঘরে এসে দু’রাকআত আদায় করতেন। আর তিনি লোকদের নিয়ে মাগরিব নামায আদায় করতেন। এরপর ঘরে এসে দু’রাকআত নামায আদায় করতেন। আর ইশার নামায লোকদের নিয়ে আদায় করতেন। তারপর আমার ঘরে এসে দু’রাকআত পড়তেন এবং তিনি রাতের বেলা নয় রাক’আত নামায আদায় করতেন, যার মাঝে বিতরও রয়েছে। দীর্ঘ রাত পর্যন্ত দাঁড়িয়ে তিনি নামায আদায় করতেন এবং দীর্ঘরাত বসে নামায আদায় করতেন। আর তাঁর অভ্যাস ছিল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কিরাআত পাঠ করলে রুকু ও সিজদাও তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় থেকে আদায় করতেন, আর যখন বসে কির’আত পাঠ করতেন তখন বসেই রুকু ও সিজদা করতেন এবং ফজর উদিত হওয়ার পর দু’ রাক’আত নামায আদায় করতেন।

১৫৭৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ بُدَيْلٍ، وَأَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي لَيْلاً طَوِيلاً فَإِذَا صَلَّى قَائِمًا رَكَعَ قَائِمًا وَإِذَا صَلَّى قَاعِدًا رَكَعَ قَاعِدًا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৭৩। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দীর্ঘরাত পর্যন্ত নামায আদায় করতেন। যখন তিনি দাঁড়িয়ে নামায (কিরা’আত) আদায় করতেন তখন রুকু দাঁড়ানো অবস্থায় থেকে করতেন আর বসে নামায আদায় করার সময় রুকুও বসা অবস্থায় করতেন।

১৫৭৪

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ بُدَيْلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ كُنْتُ شَاكِيًا بِفَارِسَ فَكُنْتُ أُصَلِّي قَاعِدًا فَسَأَلْتُ عَنْ ذَلِكَ عَائِشَةَ فَقَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي لَيْلاً طَوِيلاً قَائِمًا . فَذَكَرَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৭৪। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি পারস্য দেশে অসুস্থ অবস্থায় ছিলাম। তখন আমি বসে নামায আদায় করলাম। পরে আয়িশা (রাযিঃ) কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দীর্ঘরাত পর্যন্ত দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতেন...... অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন।

১৫৭৫

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ الْعُقَيْلِيِّ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِاللَّيْلِ فَقَالَتْ كَانَ يُصَلِّي لَيْلاً طَوِيلاً قَائِمًا وَلَيْلاً طَوِيلاً قَاعِدًا وَكَانَ إِذَا قَرَأَ قَائِمًا رَكَعَ قَائِمًا وَإِذَا قَرَأَ قَاعِدًا رَكَعَ قَاعِدًا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৭৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক আল-উকায়লী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-এর কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রাতের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তিনি দীর্ঘরাত পর্যন্ত দাঁড়িয়ে এবং দীর্ঘরাত পর্যন্ত বসে নামায আদায় করতেন। যখন দাঁড়িয়ে কিরা’আত পাঠ করতেন তখন দাঁড়ানো অবস্থায় থেকে রুকু করতেন আর বসে কিরা’আত পাঠ করলে রুকুও বসা অবস্থায় থেকেই করতেন।

১৫৭৬

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ الْعُقَيْلِيِّ، قَالَ سَأَلْنَا عَائِشَةَ عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُكْثِرُ الصَّلاَةَ قَائِمًا وَقَاعِدًا فَإِذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ قَائِمًا رَكَعَ قَائِمًا وَإِذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ قَاعِدًا رَكَعَ قَاعِدًا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৭৬। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক আল উকায়লী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আয়িশা (রাযিঃ) এর কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে এবং উপবিষ্ট অবস্থায় বহু নামায আদায় করতেন। দাঁড়িয়ে নামায শুরু করলে দাঁড়ানো থেকেই করতেন এবং উপবেশন করে নামায শুরু করলে উপবিষ্ট অবস্থায় থেকে রুকু করতেন।

১৫৭৭

وَحَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، أَخْبَرَنَا حَمَّادٌ يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، جَمِيعًا عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي شَىْءٍ مِنْ صَلاَةِ اللَّيْلِ جَالِسًا حَتَّى إِذَا كَبِرَ قَرَأَ جَالِسًا حَتَّى إِذَا بَقِيَ عَلَيْهِ مِنَ السُّورَةِ ثَلاَثُونَ أَوْ أَرْبَعُونَ آيَةً قَامَ فَقَرَأَهُنَّ ثُمَّ رَكَعَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৭৭। আবুর রাবী যাহরানী, হাসান ইবনুল রাবী, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আবু কুরায়ব ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) (শব্দ যুহাইরের) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতের নামাযের কোন অংশেই আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বসে কিরা’আত পাঠ করতে দেখি নি। অবশেষে যখন তিনি বৃদ্ধ হয়ে পড়লেন, তখন বসে কিরা’আত পাঠ করতেন এবং যখন সে সূরার ত্রিশ কিংবা চল্লিশ আয়াত বাকী থাকত তখন দাঁড়িয়ে যেতেন এবং সেগুলো পাঠ করার পরে রুকু করতেন।

১৫৭৮

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، وَأَبِي النَّضْرِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي جَالِسًا فَيَقْرَأُ وَهُوَ جَالِسٌ فَإِذَا بَقِيَ مِنْ قِرَاءَتِهِ قَدْرُ مَا يَكُونُ ثَلاَثِينَ أَوْ أَرْبَعِينَ آيَةً قَامَ فَقَرَأَ وَهُوَ قَائِمٌ ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ ثُمَّ يَفْعَلُ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ مِثْلَ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৭৮। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বসে নামায আদায় করতেন এবং উপবিষ্ট অবস্থায় কিরা’আত পাঠ করতেন। যখন ত্রিশ কিংবা চল্লিশ আয়াতের পরিমাণ তার কিরাআত বাকী থাকত তখন তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দাঁড়ানো অবস্থায় তা পাঠ করতেন। তারপর রুকু করতেন ও পরে সিজদায় যেতেন। তারপর দ্বিতীয় রাকআতেও অনুরূপ করতেন।

১৫৭৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ أَبِي هِشَامٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ وَهُوَ قَاعِدٌ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ قَامَ قَدْرَ مَا يَقْرَأُ إِنْسَانٌ أَرْبَعِينَ آيَةً .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৭৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বসা অবস্থায় কির’আত পাঠ করতেন। যখন রুকু করার ইচ্ছা করতেন তখন কোন লোকের চল্লিশ আয়াত পাঠ করার পরিমাণ সময় দাঁড়াতেন।

১৫৮০

وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ كَيْفَ كَانَ يَصْنَعُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الرَّكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ قَالَتْ كَانَ يَقْرَأُ فِيهِمَا فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ قَامَ فَرَكَعَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৮০। ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন উপবিষ্ট অবস্থায় নামায আদায় করতেন, তখন সে দু’ রাক’আতে কিরূপ করতেন? তিনি বললেন, সে দু’রাকআতে তিনি কির’আত পাঠ করতেন। যখন রুকু করার ইচ্ছা করতেন তখন দাঁড়িয়ে যেতেন, এরপর রুকু করতেন।

১৫৮১

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ هَلْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَهُوَ قَاعِدٌ قَالَتْ نَعَمْ بَعْدَ مَا حَطَمَهُ النَّاسُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৮১। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী (ﷺ) কি বসে নামায আদায় করতেন? তিনি বললেন হ্যাঁ, লোক সমাজ যখন তাঁকে ভারাক্রান্ত করে ফেলেছিল (অর্থাৎ যখন তিনি বৃদ্ধ হয়েছিলেন)।

১৫৮২

وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا كَهْمَسٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ . فَذَكَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৮২। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম .... নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন।

১৫৮৩

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي عُثْمَانُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَمُتْ حَتَّى كَانَ كَثِيرٌ مِنْ صَلاَتِهِ وَهُوَ جَالِسٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৮৩। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম ও হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) ইন্তিকাল করেননি যতক্ষণ না তাঁর অধিকাংশ নামায উপবিষ্ট অবস্থায় আদায় হয়েছে।

১৫৮৪

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، وَحَسَنٌ الْحُلْوَانِيُّ، كِلاَهُمَا عَنْ زَيْدٍ، قَالَ حَسَنٌ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنِي الضَّحَّاكُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا بَدَّنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَثَقُلَ كَانَ أَكْثَرُ صَلاَتِهِ جَالِسًا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৮৪। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম ও হাসান হুলওয়ানী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বয়স হয়ে গেলে এবং তার শরীর ভারী হয়ে গেলে তাঁর অধিকাংশ নামায বসা অবস্থায় আদায় হত।

১৫৮৫

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ أَبِي وَدَاعَةَ السَّهْمِيِّ، عَنْ حَفْصَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي سُبْحَتِهِ قَاعِدًا حَتَّى كَانَ قَبْلَ وَفَاتِهِ بِعَامٍ فَكَانَ يُصَلِّي فِي سُبْحَتِهِ قَاعِدًا وَكَانَ يَقْرَأُ بِالسُّورَةِ فَيُرَتِّلُهَا حَتَّى تَكُونَ أَطْوَلَ مِنْ أَطْوَلَ مِنْهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

১৫৮৫। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... হাফসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বসে নফল নামায আদায় করতে দেখি নি। অবশেষে তার ইন্তিকালের এক বছর আগে থেকে নফল নামায বসে আদায় করতেন এবং যে সূরা পাঠ করতেন তা এতই তারতীলের সাথে (স্পষ্টভাবে ধীরে ধীরে) পাঠ করতেন যে, তা এর চেয়ে দীর্ঘ সূরার চাইতেও দীর্ঘ হয়ে যেত।

১৫৮৬

وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، جَمِيعًا عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ غَيْرَ أَنَّهُمَا قَالاَ بِعَامٍ وَاحِدٍ أَوِ اثْنَيْنِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

১৫৮৬। আবু তাহির, হারামালা, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... যুহুরী (রাহঃ) সূত্রে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ দু’জন (ইসহাক ও আব্দ) বলেছেন, ″এক বছর অথবা দু-বছর।″

১৫৮৭

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ حَسَنِ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ سِمَاكٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي جَابِرُ بْنُ سَمُرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَمُتْ حَتَّى صَلَّى قَاعِدًا .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

১৫৮৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, বসে নামায আদায় না করা পর্যন্ত নবী (ﷺ) এর ইন্তিকাল হয়নি।

১৫৮৮

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يَسَافٍ، عَنْ أَبِي يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ حُدِّثْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةُ الرَّجُلِ قَاعِدًا نِصْفُ الصَّلاَةِ " . قَالَ فَأَتَيْتُهُ فَوَجَدْتُهُ يُصَلِّي جَالِسًا فَوَضَعْتُ يَدِي عَلَى رَأْسِهِ فَقَالَ مَا لَكَ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو قُلْتُ حُدِّثْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَّكَ قُلْتَ " صَلاَةُ الرَّجُلِ قَاعِدًا عَلَى نِصْفِ الصَّلاَةِ " . وَأَنْتَ تُصَلِّي قَاعِدًا قَالَ " أَجَلْ وَلَكِنِّي لَسْتُ كَأَحَدٍ مِنْكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৫৮৮। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে এ হাদীস শোনান হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ″ব্যক্তির বসা অবস্থায় নামায অর্ধেক নামায।″ আমর (রাযিঃ) বলেন, আমি তখন তাঁর কাছে গিয়ে তাঁকে বসে নামায আদায় করতে পেলাম। তখন তার মাথায় হাত রাখলাম। তিনি বললেন, হে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর! কি ব্যাপার? আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাকে হাদীস শোনানো হয়েছে যে, আপনি বলেছেন যে, কারও উপবিষ্ট অবস্থায় নামায আদায় অর্ধেক নামাযের সমান। অথচ আপনি বসে নামায আদায় করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ (আমি তাই বলেছি) কিন্তু আমি তো তোমাদের কারো মত নই।

১৫৮৯

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ جَمِيعًا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، كِلاَهُمَا عَنْ مَنْصُورٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَفِي رِوَايَةِ شُعْبَةَ عَنْ أَبِي يَحْيَى الأَعْرَجِ، .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৫৮৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... শু’বা থেকে এবং মুহাম্মাদ ইবনুল মুনান্না (রাহঃ) সুফিয়ান (রাহঃ) থেকে উভয়ে মানসুর (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। তবে শু’বা (রাহঃ) এর রিওয়ায়েতে রয়েছে ’আবু ইয়াহয়া আল-আরাজ থেকে’......।

১৭. রাতের নামায, রাতের বেলা নবী (ﷺ) এর নামাযের রাক’আত সংখ্যা, বিতর নামায এক রাক’আত এবং এক রাক’আত নামাযও বিশুদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গ

باب صَلاَةِ اللَّيْلِ وَعَدَدِ رَكَعَاتِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي اللَّيْلِ وَأَنَّ الْوِتْرَ رَكْعَةٌ وَأَنَّ الرَّكْعَةَ صَلاَةٌ صَحِيحَةٌ

১৫৯০

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي بِاللَّيْلِ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُوتِرُ مِنْهَا بِوَاحِدَةٍ فَإِذَا فَرَغَ مِنْهَا اضْطَجَعَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ حَتَّى يَأْتِيَهُ الْمُؤَذِّنُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৯০। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে এগার রাকআত নামায আদায় করতেন, এর মধ্যে এক রাকআত বিতর হিসেবে আদায় করতেন।* এ নামায শেষ করে তিনি ডান পার্শ্বে শুইতেন। অবশেষে মুয়াযযিন তার কাছে এলে তিনি সংক্ষিপ্ত দু রাকআত ফজরের সুন্নত নামায আদায় করতেন।

*এ এক রাকআত দিয়ে আদায়কৃত নামাযের অংশবিশেষকে বিতর ও বিজোড় করে দিতেন।
১৫৯১

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِيمَا بَيْنَ أَنْ يَفْرُغَ مِنْ صَلاَةِ الْعِشَاءِ - وَهِيَ الَّتِي يَدْعُو النَّاسُ الْعَتَمَةَ - إِلَى الْفَجْرِ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُسَلِّمُ بَيْنَ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ وَيُوتِرُ بِوَاحِدَةٍ فَإِذَا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُ مِنْ صَلاَةِ الْفَجْرِ وَتَبَيَّنَ لَهُ الْفَجْرُ وَجَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ ثُمَّ اضْطَجَعَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ حَتَّى يَأْتِيَهُ الْمُؤَذِّنُ لِلإِقَامَةِ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৯১। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনী আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইশার নামায যাকে লোকেরা ’আতামা’ নামে অভিহিত করে থাকে - থেকে অবসর হওয়ার পর হতে ফজর পর্যন্ত সময়ের মাঝে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এগার রাকআত নামায আদায় করতেন এবং প্রতি দু-রাক’আতের মাঝে (শেষে) সালাম ফিরাতেন। আর বিতর করতেন এক রাকআত। পরে ফজর নামাযের (আযান) থেকে মুয়াযযিন নীরব হলে এবং ফজর এর ওয়াক্ত তার কাছে পুর্ণ উদ্ভাসিত হয়ে উঠলে এবং মুয়াযযিন তার কাছে এলে তিনি সংক্ষিপ্ত দু’ রাক’আত নামায আদায় করতেন। তারপর ইকামতের জন্য মুয়াযযিন তার কাছে আসা পর্যন্ত তিনি ডানপার্শ্বের উপর শুয়ে থাকতেন।

১৫৯২

وَحَدَّثَنِيهِ حَرْمَلَةُ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَسَاقَ حَرْمَلَةُ الْحَدِيثَ بِمِثْلِهِ غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ وَتَبَيَّنَ لَهُ الْفَجْرُ وَجَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ . وَلَمْ يَذْكُرِ الإِقَامَةَ . وَسَائِرُ الْحَدِيثِ بِمِثْلِ حَدِيثِ عَمْرٍو سَوَاءً .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৯২। হারামালা (রাহঃ) ......... ইবনে শিহাব (রাহঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত সনদে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। তবে হারামালা (রাহঃ) তাঁর বর্ণনায় ″তার কাছে ফজর উদ্ভাসিত হলে এবং মুয়াযযিন তাঁর নিকটে এলে″ উল্লেখ করেননি। সেরূপ ইকামত এর কথাও উল্লেখ করেননি। হাদীসের অবশিষ্টাংশ হুবহু আমর (রাযিঃ) এর হাদীসের অনুরূপ।

১৫৯৩

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً يُوتِرُ مِنْ ذَلِكَ بِخَمْسٍ لاَ يَجْلِسُ فِي شَىْءٍ إِلاَّ فِي آخِرِهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৯৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আবু কুরায়ব ও ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তের রাক’আত নামায আদায় করতেন। এর মধ্যে পাঁচ রাক’আত দিয়ে তিনি বিতর আদায় করতেন এর শেষে ব্যতীত কখনও বসতেন না।

১৫৯৪

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ح وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَأَبُو أُسَامَةَ كُلُّهُمْ عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৯৪। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা এবং আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... হিশাম (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন।

১৫৯৫

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً بِرَكْعَتَىِ الْفَجْرِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৯৫। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (রাতের বেলা) ফজরের দু’রাকআত (সুন্নত) সহ তের রাক’আত নামায আদায় করতেন।

১৫৯৬

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ قَالَتْ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا فَقَالَتْ عَائِشَةُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ فَقَالَ " يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَىَّ تَنَامَانِ وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৯৬। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আয়িশা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, রমযানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রাতের নামায কিরূপ ছিল? আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযানে এবং রমযান ছাড়াও এগার রাকআতের অধিক পড়তেন না। চার রাকআত নামায আদায় করতেন, তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্বন্ধে তোমার প্রশ্নের অবকাশ নেই, তারপর চার রাক’আত নামায আদায় করতেন, তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্বন্ধে তোমার প্রশ্নের অবকাশ নেই। তারপর তিনি তিন রাক’আত নামায আদায় করতেন। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনার বিতর আদায়ের আগে কি আপনি নিদ্রা যান? তিনি বললেন, হে আয়িশা! উভয় চোখ তো ঘুমায়, কিন্তু আমার অন্তর ঘুমায় না।

১৫৯৭

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كَانَ يُصَلِّي ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً يُصَلِّي ثَمَانَ رَكَعَاتٍ ثُمَّ يُوتِرُ ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ قَامَ فَرَكَعَ ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ بَيْنَ النِّدَاءِ وَالإِقَامَةِ مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৯৭। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... আবু সালামা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ) কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রাতের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তিনি তের রাকআত নামায আদায় করতেন। আট রাক’আত নামায আদায় করতেন, তারপর বিতর। পরে বসে দু’ রাক’আত নামায আদায় করতেন এবং যখন রুকু করার ইচ্ছা করতেন তখন উঠে রুকু করতেন। তারপর আযান ও ইকামতের মাঝে দু-রাকআত আদায় করতেন।

১৫৯৮

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ، ح وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ بِشْرٍ الْحَرِيرِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَلاَّمٍ - عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِهِ غَيْرَ أَنَّ فِي حَدِيثِهِمَا تِسْعَ رَكَعَاتٍ قَائِمًا يُوتِرُ مِنْهُنَّ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৯৮। যুহাইর ইবনে হারব ও ইয়াহয়া ইবনে বিশর হারীরী (রাহঃ) ......... আবু সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আয়িশা (রাযিঃ) কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, পরবর্তী অংশ উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তবে এদের দু’জনের হাদীসে রয়েছে, নয় রাক’আত আদায় করতেন দাঁড়িয়ে, তার মধ্যে বিতরও রয়েছে।

১৫৯৯

وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي لَبِيدٍ، سَمِعَ أَبَا سَلَمَةَ، قَالَ أَتَيْتُ عَائِشَةَ فَقُلْتُ أَىْ أُمَّهْ أَخْبِرِينِي عَنْ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَتْ كَانَتْ صَلاَتُهُ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ وَغَيْرِهِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً بِاللَّيْلِ مِنْهَا رَكْعَتَا الْفَجْرِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৯৯। আমর ইবনে নাকিদ (রাহঃ) ......... আবু সালামা (রাযিঃ) বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ) এর কাছে গিয়ে বললাম, হে আম্মাজান! আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামায সম্পর্কে অবহিত করতন। তিনি বললেন, তাঁর নামায ছিল রমযান এবং রমযানের বাইরে রাতের রেলায় তের রাক’আত। এর মধ্যে ফজরের দু’রাক’আত (সুন্নত) ও রয়েছে।

১৬০০

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا حَنْظَلَةُ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، تَقُولُ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ اللَّيْلِ عَشَرَ رَكَعَاتٍ وَيُوتِرُ بِسَجْدَةٍ وَيَرْكَعُ رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ فَتِلْكَ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬০০। ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতের বেলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামায ছিল দশ রাক’আত এবং এক রাকআত দিয়ে বিতর আদায় করতেন। আর ফজরের দু’রাকআত (সুন্নত)ও আদায় করতেন। এই হল তের রাক’আত।

১৬০১

وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَأَلْتُ الأَسْوَدَ بْنَ يَزِيدَ عَمَّا حَدَّثَتْهُ عَائِشَةُ، عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ يَنَامُ أَوَّلَ اللَّيْلِ وَيُحْيِي آخِرَهُ ثُمَّ إِنْ كَانَتْ لَهُ حَاجَةٌ إِلَى أَهْلِهِ قَضَى حَاجَتَهُ ثُمَّ يَنَامُ فَإِذَا كَانَ عِنْدَ النِّدَاءِ الأَوَّلِ - قَالَتْ - وَثَبَ - وَلاَ وَاللَّهِ مَا قَالَتْ قَامَ - فَأَفَاضَ عَلَيْهِ الْمَاءَ - وَلاَ وَاللَّهِ مَا قَالَتِ اغْتَسَلَ . وَأَنَا أَعْلَمُ مَا تُرِيدُ - وَإِنْ لَمْ يَكُنْ جُنُبًا تَوَضَّأَ وُضُوءَ الرَّجُلِ لِلصَّلاَةِ ثُمَّ صَلَّى الرَّكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬০১। আহমাদ ইবনে ইউনুস ও ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু ইসহাক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আসওয়াদ ইবনে ইয়াযিদ (রাহঃ) কে ঐ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যাতে আয়িশা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামাযের বর্ণনা দিয়েছেন। আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেন, রাতের প্রথম অংশে তিনি ঘুমিয়ে পড়তেন এবং শেষ অংশে জাগতেন। পরে তাঁর স্ত্রীর প্রতি তাঁর ’প্রয়োজন’ থাকলে তা পূরণ করতেন এবং ঘুমিয়ে পড়তেন। প্রথম আযানের সময় হয়ে গেলে আয়িশা (রাযিঃ) বলেছেন, ত্বরিত উঠে পড়তেন। [আল্লাহর কসম! তিনি বলেন নি যে, উঠে পড়তেন)। তারপর তিনি নিজের গায়ে পানি ঢেলে দিতেন। (আল্লাহর কসম, আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, নি যে তিনি গোসল করেছেন কিন্তু আমি তাঁর কথার উদ্দোশ্য বুঝে ফেলি] আর তিনি জুনুবি না থাকলে নামাযের জন্য মানুষ যেমন ওযু করে তেমন ওযু করতেন। এরপর দু’রাকআত নামায আদায় করতেন।

১৬০২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ رُزَيْقٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ حَتَّى يَكُونَ آخِرَ صَلاَتِهِ الْوِتْرُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬০২। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতের বেলা নামায আদায় করতেন। আর তার শেষ নামায হত বিতর।

১৬০৩

حَدَّثَنِي هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنْ عَمَلِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كَانَ يُحِبُّ الدَّائِمَ . قَالَ قُلْتُ أَىَّ حِينٍ كَانَ يُصَلِّي فَقَالَتْ كَانَ إِذَا سَمِعَ الصَّارِخَ قَامَ فَصَلَّى .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬০৩। হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) ......... মাসরূক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) এর কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, তিনি সর্বদা আমল করা পছন্দ করতেন। মাসরুক (রাহঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি কোন সময় (তাহাজ্জুদের) নামায আদায় করতেন? তিনি বললেন, যখন (মোরগের) ডাক শুনতেন তখন উঠে নামায আদায় করতেন।

১৬০৪

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ بِشْرٍ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا أَلْفَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم السَّحَرُ الأَعْلَى فِي بَيْتِي - أَوْ عِنْدِي - إِلاَّ نَائِمًا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬০৪। আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ঘরে অথবা (তিনি বলেছেন) আমার কাছে রাতের শেষ প্রহরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ঘুমন্ত অবস্থা ছাড়া পাইনি। (অর্থাৎ সে সময়ই তিনি কিছুক্ষণ বিশ্রাম করতেন)।

১৬০৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَنَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا صَلَّى رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ فَإِنْ كُنْتُ مُسْتَيْقِظَةً حَدَّثَنِي وَإِلاَّ اضْطَجَعَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬০৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, নসর ইবনে আলী ও ইবনে আবু উমর (রাযিঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ফজরের দু’রাক’আত (সুন্নত) নামায আদায় করতেন, তখন আমি সজাগ থাকলে আমার সঙ্গে কথা বলতেন, অন্যথায় কাত হয়ে শুয়ে পড়তেন।

১৬০৬

وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَتَّابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬০৬। ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৬০৭

وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ فَإِذَا أَوْتَرَ قَالَ " قُومِي فَأَوْتِرِي يَا عَائِشَةُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬০৭। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে নামায আদায় করতেন। বিতর আদায় করার সময় হলে বলতেন, হে আয়িশা, উঠ বিতর আদায় কর।

১৬০৮

وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي صَلاَتَهُ بِاللَّيْلِ وَهِيَ مُعْتَرِضَةٌ بَيْنَ يَدَيْهِ فَإِذَا بَقِيَ الْوِتْرُ أَيْقَظَهَا فَأَوْتَرَتْ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬০৮। হারুন ইবনে সাঈদ আয়লী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে তাঁর নামায আদায় করতেন এবং তাঁর সামনে আড়াআড়িভাবে (শুয়ে) থাকতেন। যখন নবী (ﷺ) এর কেবল বিতর বাকী থাকত, তখন তাঁকে জাগাতেন। তিনি বিতর আদায় করে নিতেন।

১৬০৯

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي يَعْفُورٍ، - وَاسْمُهُ وَاقِدٌ وَلَقَبُهُ وَقْدَانُ - ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَ أَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، كِلاَهُمَا عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مِنْ كُلِّ اللَّيْلِ قَدْ أَوْتَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَانْتَهَى وِتْرُهُ إِلَى السَّحَرِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬০৯। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতের সব অংশেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিতর আদায় করেছেন। তবে শেষ দিকে তাঁর বিতর আদায়ের অভ্যাস ছিল সাহরীর সময়।

১৬১০

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ وَثَّابٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مِنْ كُلِّ اللَّيْلِ قَدْ أَوْتَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ وَأَوْسَطِهِ وَآخِرِهِ فَانْتَهَى وِتْرُهُ إِلَى السَّحَرِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬১০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতের সব অংশেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিতর আদায় করেছেন রাতের প্রথম অংশে, মাঝরাতে এবং শেষ রাতে। অবশেষ তিনি বিতর আদায় করতেন সাহরীর সময়।

১৬১১

حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا حَسَّانُ، - قَاضِي كِرْمَانَ - عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُلَّ اللَّيْلِ قَدْ أَوْتَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَانْتَهَى وِتْرُهُ إِلَى آخِرِ اللَّيْلِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬১১। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাতের সব অংশেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিতর আদায় করেছেন। পরে তাঁর বিতর উপনীত হয়েছে রাতের শেষভাগে।

১৬১২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعَنَزِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ، أَنَّ سَعْدَ بْنَ هِشَامِ بْنِ عَامِرٍ، أَرَادَ أَنْ يَغْزُوَ، فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَدِمَ الْمَدِينَةَ فَأَرَادَ أَنْ يَبِيعَ عَقَارًا لَهُ بِهَا فَيَجْعَلَهُ فِي السِّلاَحِ وَالْكُرَاعِ وَيُجَاهِدَ الرُّومَ حَتَّى يَمُوتَ فَلَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ لَقِيَ أُنَاسًا مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ فَنَهَوْهُ عَنْ ذَلِكَ وَأَخْبَرُوهُ أَنَّ رَهْطًا سِتَّةً أَرَادُوا ذَلِكَ فِي حَيَاةِ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَهَاهُمْ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " أَلَيْسَ لَكُمْ فِيَّ أُسْوَةٌ " . فَلَمَّا حَدَّثُوهُ بِذَلِكَ رَاجَعَ امْرَأَتَهُ وَقَدْ كَانَ طَلَّقَهَا وَأَشْهَدَ عَلَى رَجْعَتِهَا فَأَتَى ابْنَ عَبَّاسٍ فَسَأَلَهُ عَنْ وِتْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى أَعْلَمِ أَهْلِ الأَرْضِ بِوِتْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ قَالَ عَائِشَةُ . فَأْتِهَا فَاسْأَلْهَا ثُمَّ ائْتِنِي فَأَخْبِرْنِي بِرَدِّهَا عَلَيْكَ فَانْطَلَقْتُ إِلَيْهَا فَأَتَيْتُ عَلَى حَكِيمِ بْنِ أَفْلَحَ فَاسْتَلْحَقْتُهُ إِلَيْهَا فَقَالَ مَا أَنَا بِقَارِبِهَا لأَنِّي نَهَيْتُهَا أَنْ تَقُولَ فِي هَاتَيْنِ الشِّيعَتَيْنِ شَيْئًا فَأَبَتْ فِيهِمَا إِلاَّ مُضِيًّا . - قَالَ - فَأَقْسَمْتُ عَلَيْهِ فَجَاءَ فَانْطَلَقْنَا إِلَى عَائِشَةَ فَاسْتَأْذَنَّا عَلَيْهَا فَأَذِنَتْ لَنَا فَدَخَلْنَا عَلَيْهَا . فَقَالَتْ أَحَكِيمٌ فَعَرَفَتْهُ . فَقَالَ نَعَمْ . فَقَالَتْ مَنْ مَعَكَ قَالَ سَعْدُ بْنُ هِشَامٍ . قَالَتْ مَنْ هِشَامٌ قَالَ ابْنُ عَامِرٍ فَتَرَحَّمَتْ عَلَيْهِ وَقَالَتْ خَيْرًا - قَالَ قَتَادَةُ وَكَانَ أُصِيبَ يَوْمَ أُحُدٍ . فَقُلْتُ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ أَنْبِئِينِي عَنْ خُلُقِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَتْ أَلَسْتَ تَقْرَأُ الْقُرْآنَ قُلْتُ بَلَى . قَالَتْ فَإِنَّ خُلُقَ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ الْقُرْآنَ . - قَالَ - فَهَمَمْتُ أَنْ أَقُومَ وَلاَ أَسْأَلَ أَحَدًا عَنْ شَىْءٍ حَتَّى أَمُوتَ ثُمَّ بَدَا لِي فَقُلْتُ أَنْبِئِينِي عَنْ قِيَامِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَتْ أَلَسْتَ تَقْرَأُ ( يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ) قُلْتُ بَلَى . قَالَتْ فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ افْتَرَضَ قِيَامَ اللَّيْلِ فِي أَوَّلِ هَذِهِ السُّورَةِ فَقَامَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ حَوْلاً وَأَمْسَكَ اللَّهُ خَاتِمَتَهَا اثْنَىْ عَشَرَ شَهْرًا فِي السَّمَاءِ حَتَّى أَنْزَلَ اللَّهُ فِي آخِرِ هَذِهِ السُّورَةِ التَّخْفِيفَ فَصَارَ قِيَامُ اللَّيْلِ تَطَوُّعًا بَعْدَ فَرِيضَةٍ . - قَالَ - قُلْتُ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ أَنْبِئِينِي عَنْ وِتْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَتْ كُنَّا نُعِدُّ لَهُ سِوَاكَهُ وَطَهُورَهُ فَيَبْعَثُهُ اللَّهُ مَا شَاءَ أَنْ يَبْعَثَهُ مِنَ اللَّيْلِ فَيَتَسَوَّكُ وَيَتَوَضَّأُ وَيُصَلِّي تِسْعَ رَكَعَاتٍ لاَ يَجْلِسُ فِيهَا إِلاَّ فِي الثَّامِنَةِ فَيَذْكُرُ اللَّهَ وَيَحْمَدُهُ وَيَدْعُوهُ ثُمَّ يَنْهَضُ وَلاَ يُسَلِّمُ ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي التَّاسِعَةَ ثُمَّ يَقْعُدُ فَيَذْكُرُ اللَّهَ وَيَحْمَدُهُ وَيَدْعُوهُ ثُمَّ يُسَلِّمُ تَسْلِيمًا يُسْمِعُنَا ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ بَعْدَ مَا يُسَلِّمُ وَهُوَ قَاعِدٌ فَتِلْكَ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يَا بُنَىَّ فَلَمَّا أَسَنَّ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَخَذَ اللَّحْمَ أَوْتَرَ بِسَبْعٍ وَصَنَعَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ مِثْلَ صَنِيعِهِ الأَوَّلِ فَتِلْكَ تِسْعٌ يَا بُنَىَّ وَكَانَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا صَلَّى صَلاَةً أَحَبَّ أَنْ يُدَاوِمَ عَلَيْهَا وَكَانَ إِذَا غَلَبَهُ نَوْمٌ أَوْ وَجَعٌ عَنْ قِيَامِ اللَّيْلِ صَلَّى مِنَ النَّهَارِ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ رَكْعَةً وَلاَ أَعْلَمُ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ الْقُرْآنَ كُلَّهُ فِي لَيْلَةٍ وَلاَ صَلَّى لَيْلَةً إِلَى الصُّبْحِ وَلاَ صَامَ شَهْرًا كَامِلاً غَيْرَ رَمَضَانَ . - قَالَ - فَانْطَلَقْتُ إِلَى ابْنِ عَبَّاسِ فَحَدَّثْتُهُ بِحَدِيثِهَا فَقَالَ صَدَقَتْ لَوْ كُنْتُ أَقْرَبُهَا أَوْ أَدْخُلُ عَلَيْهَا لأَتَيْتُهَا حَتَّى تُشَافِهَنِي بِهِ . - قَالَ - قُلْتُ لَوْ عَلِمْتُ أَنَّكَ لاَ تَدْخُلُ عَلَيْهَا مَا حَدَّثْتُكَ حَدِيثَهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬১২। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আনাযী (রাহঃ) ......... যুরারা (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, সা’দ ইবনে হিশাম ইবনে আমির (রাহঃ) আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার ইচ্ছা করে মদীনায় এলেন এবং সেখানে তাঁর একটি সম্পত্তি বিক্রি করে তা যুদ্ধাস্ত্র ও ঘোড়া সংগ্রহে ব্যয় করার এবং মৃত্যু পর্যন্ত রোমানদের বিরুদ্ধে জিহাদে আত্মনিয়োগ করার সংকল্প করলেন। মদীনায় আসার পর মদীনাবাসী কিছু লোকের সাথে সাক্ষাত হলে তাঁরা ঐ কাজ করতে নিষেধ করলেন এবং তাঁকে জানালেন যে, ছয় জনের একটি দল নবী (ﷺ) এর জীবদ্দশায় এরূপ ইচ্ছা করেছিল। তখন নবী (ﷺ) তাদের নিষেধ করেন এবং বলেন, ″আমার মধ্যে তোমাদের জন্য কি কোন আদর্শ নেই″?

মদীনাবাসীরা তাঁকে এ ঘটনা বর্ণনা করলে তিনি নিজের স্ত্রীর সাথে রাজা’আত, (পুনরায় স্ত্রীত্বে বরণ) করলেন। কেননা তিনি তাঁকে তালাক দিয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর এ রাজা’আতের ব্যাপারে সাক্ষীও রাখলেন। এরপর তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর কাছে গিয়ে তাঁকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিতর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিতর সম্পর্কে পৃথিবীর মধ্যে সর্বাধিক বিজ্ঞ ব্যক্তি সম্পর্কে কি তোমাকে বলে দিব না? তিনি বললেন, তিনি কে? ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, তিনি আয়িশা (রাযিঃ)। তাঁর কাছে গিয়ে তুমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করবে পরে আমার কাছে এসে তোমাকে দেওয়া তার জবাব সম্পর্কে অবহিত করবে।

আমি তখন তাঁর কাছে রওয়ানা হলাম। আর হাকীম ইবনে আফলাহ (রাযিঃ) এর কাছে গিয়ে আমার সঙ্গে আয়িশা (রাযিঃ) এর কাছে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলাম। তিনি বললেন, আমি তো তাঁর নিকট যাই না। কেননা (বিবাদমান) দু’দল সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে আমি তাকে নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু তিনি তাতে অংশগ্রহণ না করতে অস্বীকার করেন। সা’দ (রাযিঃ) বলেন, তখন আমি তাঁকে কসম দিলাম। তখন তিনি তৈরী হলেন। আমরা আয়িশা (রাযিঃ)-এর উদ্দেশ্যে চললাম এবং তাঁর কাছে গিয়ে অনুমতি চাইলাম। তিনি আমাদের অনুমতি দিলেন।

আমরা তাঁর ঘরে প্রবেশ করলে তিনি বললেন, হাকীম না কি? তিনি তাঁকে চিনে ফেলেছিলেন। উত্তরে হাকীম (রাযিঃ) বললেন, হ্যাঁ। আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, তোমার সঙ্গে কে? হাকীম (রাযিঃ) বললেন, সা’দ ইবনে হিশাম। আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, কোন হিশাম? হাকীম (রাযিঃ) বললেন, ইবনে আমির। তখন আয়িশা (রাযিঃ) তাঁর জন্য রহমতের দুআ করলেন এবং তাঁর সম্পর্কে ভাল মন্তব্য করলেন। রাবী কাতাদা (রাহঃ) বলেছেন, আমির (রাযিঃ) উহুদের যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। আমি (সা’দ) বললাম, হে, উম্মুল মু'মিনীন! আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আখলাক সম্পর্কে অবহিত করুন! তিনি বললেন, তুমি কি কুরআন পাঠ কর না? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আল্লাহর নবী (ﷺ)-এর চরিত্র তো ছিল আল-কুরআনই।

সা’দ (রাহঃ) বলেন, তখন আমার ইচ্ছে ছিল যে, উঠে যাই এবং মৃত্যু পর্যন্ত কাউকে কোন বিষয় জিজ্ঞাসা করব না। পরে আবার মনে হল (আরো কিছু জিজ্ঞাসা করি) তাই আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রাতের ইবাদত সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন! তিনি বললেন, তুমি কি সূরা ″ইয়া আয়্যুহাল মুযযামিল″ পড় না? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, মহান আল্লাহ এ সূরার প্রথমাংশ (ইবাদত) রাত্রি জাগরণ ফরয করে দিয়েছিলেন। তখন আল্লাহর নবী (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণ এক বছর যাবত (তাহাজ্জুদের জন্য) রাত্রি জাগরণ করলেন। আর আল্লাহ তাআলা এ সূরার শেষ অংশ বার মাস পর্যন্ত আসমানে রুখে রাখেন। অবশেষে এ সূরার শেষ অংশ নাযিল করে সহজ করে দিলেন। ফলে রাত্রি জাগরণ ফরয হওয়ার পরে নফলে পরিণত হয়।

সা’দ (রাহঃ) বলেন, আমি বললাম, উাম্মুল হে মু'মিনীন! আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিতর সম্পর্কে অবহিত করুন! তিনি বললেন, আমরা তাঁর জন্য তাঁর মিসওয়াক ও ওযুর পানি প্রস্তুত রাখতাম। রাতের যে সময় আল্লাহর ইচ্ছা হত তাকে জাগিয়ে দিতেন। তিনি তখন মিসওয়াক ও ওযু করতেন এবং নয় রাক’আত নামায আদায় করতেন। তিনি এর মাঝে আর বসতেন না অষ্টম রাক’আত ব্যতীত। তখন তিনি আল্লাহর যিক্‌র করতেন, তাঁর হামদ করতেন এবং তাঁর কাছে দুআ করতেন। তারপর সালাম না করেই উঠে পড়তেন এবং নবম রাক’আত আদায় করে বসতেন এবং আল্লাহর যিক্‌র ও তাঁর হামদ ও তাঁর কাছে দুআ করতেন। পরে এমন ভাবে সালাম বলতেন যা আমরা শুনতে পেতাম। সালাম করার পরে বসে দু’রাকআত নামায আদায় করতেন। বৎস, এ হল মোট এগার রাকআত।

পরে যখন আল্লাহর নবী (ﷺ)-এর বায়োঃবৃদ্ধ হয়ে গেলেন এবং তিনি স্থুলদেহী হয়ে গেলেন, তখন সাত রাকআত দিয়ে বিতর আদায় করতেন। আর শেষ দু’ রাক’আতে তাঁর আগের আমলের অনুরূপ আমল করতেন। বৎস, এভাবে হল নয় রাক’আত। নবী (ﷺ) যখন কোন নামায আদায় করতেন তখন তাতে স্থায়িত্ব রক্ষা করা পছন্দ করতেন। আর কখনো নিদ্রা বা কোন ব্যাধি তাঁর রাত জেগে ইবাদতের ব্যাপারে তাঁকে সংঘাত ঘটালে দিনের বেলা বারো রাক’আত নামায আদায় করে নিতেন।

আর আল্লাহর নবী (ﷺ) একই রাতে পূর্ণ কুরআন পড়েছেন বলে আমার জানা নেই এবং তিনি ভোর পর্যন্ত সারা রাত নামায আদায় করেননি এবং রমযান ব্যতীত অন্য কোন পূর্ণ মাস রোযা পালন করেননি।

সা’দ (রাহঃ) বলেন, পরে আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-এর কাছে গেলাম এবং আয়িশা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীস তাঁর কাছে বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, ঠিকই বলেছেন। আমি যদি তাঁর কাছে যেতাম, অথবা বললেন, আমি যদি তাঁর সঙ্গে যেতাম তাহলে অবশ্যই আমি তাঁর কাছে গিয়ে সরাসরি তার মুখে এ হাদীস শুনতাম। সা’দ (রাহঃ) বলেন, আমি বললাম, আমি যদি জানতাম যে, আপনি তাঁর কাছে যান না, তবে তাঁর হাদীস আমি আপনাকে শোনাতাম না।
১৬১৩

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثُمَّ انْطَلَقَ إِلَى الْمَدِينَةِ لِيَبِيعَ عَقَارَهُ . فَذَكَرَ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬১৩। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে হিশাম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পরে তাঁর সম্পতি বিক্রি করার উদ্দেশ্যে মদীনা অভিমুখে চললেন.... পরবতীঁ অংশ উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৬১৪

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، أَنَّهُ قَالَ انْطَلَقْتُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ فَسَأَلْتُهُ عَنِ الْوِتْرِ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِقِصَّتِهِ وَقَالَ فِيهِ قَالَتْ مَنْ هِشَامٌ قُلْتُ ابْنُ عَامِرٍ . قَالَتْ نِعْمَ الْمَرْءُ كَانَ عَامِرٌ أُصِيبَ يَوْمَ أُحُدٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬১৪। আবু বাকুর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে হিশাম (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর কাছে গিয়ে তাকে বিতর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। এরপর ঘটনা সহকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর তাতে তিনি বলেছেন, আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, কোন হিশাম? আমি বললাম, ইবনে আমির। তিনি বললেন, আমির ভালো লোক ছিলেন। তিনি উহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছে।

১৬১৫

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، كِلاَهُمَا عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، أَنَّ سَعْدَ بْنَ هِشَامٍ، كَانَ جَارًا لَهُ فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ . وَاقْتَصَّ الْحَدِيثَ بِمَعْنَى حَدِيثِ سَعِيدٍ وَفِيهِ قَالَتْ مَنْ هِشَامٌ قَالَ ابْنُ عَامِرٍ . قَالَتْ نِعْمَ الْمَرْءُ كَانَ أُصِيبَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ أُحُدٍ . وَفِيهِ فَقَالَ حَكِيمُ بْنُ أَفْلَحَ أَمَا إِنِّي لَوْ عَلِمْتُ أَنَّكَ لاَ تَدْخُلُ عَلَيْهَا مَا أَنْبَأْتُكَ بِحَدِيثِهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬১৫। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... যুরারা ইবনে আওফা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, সা’দ ইবনে হিশাম (রাহঃ) তাঁর প্রতিবেশী ছিলেন। তিনি তাঁকে বললেন যে, তিনি তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিয়েছেন। এরপর রাবী সাঈদ (রাহঃ) এর হাদীসের মর্মানুযায়ী বর্ণনা করেছেন। তবে তাতে রয়েছে আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, কোন হিশাম? তিনি বললেন, ইবনে আমির আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, তিনি ভালো লোক ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে উহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তাতে আরো রয়েছে হাকীম ইবনে আফলাহ (রাযিঃ) বললেন, আচ্ছা! আমি যদি জানতাম যে, তুমি তাঁর কাছে যাও না তবে আমি তোমাকে তার হাদীস বলতাম না।

১৬১৬

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، جَمِيعًا عَنْ أَبِي عَوَانَةَ، قَالَ سَعِيدٌ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا فَاتَتْهُ الصَّلاَةُ مِنَ اللَّيْلِ مِنْ وَجَعٍ أَوْ غَيْرِهِ صَلَّى مِنَ النَّهَارِ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ رَكْعَةً .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬১৬। সাঈদ ইবনে মনসুর ও কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, কোন অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামায ছুটে যেত, তবে তিনি দিনের বেলা বারো রাক’আত নামায আদায় করে নিতেন।

১৬১৭

وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، - وَهُوَ ابْنُ يُونُسَ - عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا عَمِلَ عَمَلاً أَثْبَتَهُ وَكَانَ إِذَا نَامَ مِنَ اللَّيْلِ أَوْ مَرِضَ صَلَّى مِنَ النَّهَارِ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ رَكْعَةً . قَالَتْ وَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ لَيْلَةً حَتَّى الصَّبَاحِ وَمَا صَامَ شَهْرًا مُتَتَابِعًا إِلاَّ رَمَضَانَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬১৭। আলী ইবনে খাশরাম (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোন আমল করতেন তখন নিয়মিত করতেন আর যখন রাতের বেলা নিদ্রা মগ্ন হয়ে পড়তেন কিংবা অসুস্থ হয়ে পড়তেন তখন দিনের বেলা বারো রাকআত নামায আদায় করে নিতেন। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কোন রাতে ভোর পর্যন্ত রাত্রি জাগরণ করতে এবং রমযান ব্যতীত কোন মাসে লাগাতার রোযা পালন করতে দেখিনি।

১৮. কিয়ামে রমযান অর্থাৎ তারাবীহ সম্পর্কে উৎসাহ দান

باب التَّرْغِيبِ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَهُوَ التَّرَاوِيحُ

১৬১৮

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، وَعُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَاهُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ نَامَ عَنْ حِزْبِهِ أَوْ عَنْ شَىْءٍ مِنْهُ فَقَرَأَهُ فِيمَا بَيْنَ صَلاَةِ الْفَجْرِ وَصَلاَةِ الظُّهْرِ كُتِبَ لَهُ كَأَنَّمَا قَرَأَهُ مِنَ اللَّيْلِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৬১৮। হারুন ইবনে মা’রুফ, আবু তাহির ও হারামালা (রাহঃ) ......... উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার নিয়মিত ওযীফা বা তার অংশবিশেষ আদায় করতে না পেরে ঘুমিয়ে পড়ল এবং পরে ফজর নামায ও যোহর নামাযের মধ্যবর্তী সময় তা পড়ে নিল তবে তার জন্য তেমনই লিপিবদ্ধ করা হরে যেন সে তা রাতেই পড়েছে।

১৭. রাতের নামায, রাতের বেলা নবী (ﷺ) এর নামাযের রাক’আত সংখ্যা, বিতর নামায এক রাক’আত এবং এক রাক’আত নামাযও বিশুদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গ

باب صَلاَةِ اللَّيْلِ وَعَدَدِ رَكَعَاتِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي اللَّيْلِ وَأَنَّ الْوِتْرَ رَكْعَةٌ وَأَنَّ الرَّكْعَةَ صَلاَةٌ صَحِيحَةٌ

১৬১৯

وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ عُلَيَّةَ - عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ الْقَاسِمِ الشَّيْبَانِيِّ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ، رَأَى قَوْمًا يُصَلُّونَ مِنَ الضُّحَى فَقَالَ أَمَا لَقَدْ عَلِمُوا أَنَّ الصَّلاَةَ فِي غَيْرِ هَذِهِ السَّاعَةِ أَفْضَلُ . إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةُ الأَوَّابِينَ حِينَ تَرْمَضُ الْفِصَالُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রাঃ)

১৬১৯। যুহাইর ইবনে হারব ও ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... কাসিম আশ-শায়বানী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, যায়দ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) একদল লোককে ‘দুহা’ নামায আদায় করতে দেখে বললেন, ওহে! এরা তো জানে না যে, এ সময় ছাড়া অন্য সময় নামায আদায় করাই বেশী ফযীলতের। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন। আল্লাহর দিকে ধাবিতদের নামাযের ওয়াক্ত উট শাবকের পায়ে গরম সেকা লাগার সময় হয়ে থাকে।

১৬২০

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَهْلِ قُبَاءٍ وَهُمْ يُصَلُّونَ فَقَالَ " صَلاَةُ الأَوَّابِينَ إِذَا رَمِضَتِ الْفِصَالُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রাঃ)

১৬২০। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... যায়দ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুবাবাসীদের ওখানে গেলেন, তখন তারা নামায আদায় করছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন, আল্লাহর দিকে ধাবিতদের নামাযের সময় হল যখন উট শাবকের পায়ে উত্তাপ লাগে (অর্থাৎ মাটি গরম হয়ে যায়)।

১৬২১

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَلاَةِ اللَّيْلِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صَلاَةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى فَإِذَا خَشِيَ أَحَدُكُمُ الصُّبْحَ صَلَّى رَكْعَةً وَاحِدَةً تُوتِرُ لَهُ مَا قَدْ صَلَّى " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬২১। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহিয়া (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে রাতের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। তিনি বললেন, রাতের নামায দু’রাকআত দু’রাকআত। পরে যখন তোমাদের কেউ ভোর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে তখন এক রাকআত পড়বে। যা তার আদায়কৃত নামাযকে বিতর করে দেবে।

১৬২২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا عَمْرٌو، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، ح وَحَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَلاَةِ اللَّيْلِ فَقَالَ " مَثْنَى مَثْنَى فَإِذَا خَشِيتَ الصُّبْحَ فَأَوْتِرْ بِرَكْعَةٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬২২। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আমরুন নাকিদ ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু সালিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন। অন্য সনদে মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে ......... অন্য সনদে যুহুরি (রাহঃ)-সালিম (রাহঃ) তার পিতা থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাতের নামায সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, দুই দুই (রাক’আত) পরে যখন তুমি ভোর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করবে, তখন এক রাক’আত দিয়ে বিতর করে নেবে।

১৬২৩

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ وَحُمَيْدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ حَدَّثَاهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّهُ قَالَ قَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ صَلاَةُ اللَّيْلِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صَلاَةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى فَإِذَا خِفْتَ الصُّبْحَ فَأَوْتِرْ بِوَاحِدَةٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬২৩। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! রাতের নামায কি রকম? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, রাতের নামায দুই দুই (রাক’আত)। যখন তুমি ভোর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করবে তখন এক রাক’আত দিয়ে বিতর করে নেবে।

১৬২৪

وَحَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، وَبُدَيْلٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ السَّائِلِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ صَلاَةُ اللَّيْلِ قَالَ " مَثْنَى مَثْنَى فَإِذَا خَشِيتَ الصُّبْحَ فَصَلِّ رَكْعَةً وَاجْعَلْ آخِرَ صَلاَتِكَ وِتْرًا " . ثُمَّ سَأَلَهُ رَجُلٌ عَلَى رَأْسِ الْحَوْلِ وَأَنَا بِذَلِكَ الْمَكَانِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلاَ أَدْرِي هُوَ ذَلِكَ الرَّجُلُ أَوْ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬২৪। আবুর রাবী যাহরানী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) কে প্রশ্ন করল, তখন আমি ছিলাম তার ও প্রশ্নকারীর মাঝে। সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! রাতের নামায কি কিরূপ? তিনি বললেন, দুই দুই রাকআত করে। পরে যখন তুমি ভোর হওয়ার আশঙ্কা করবে তখন এক রাক’আত নামায আদায় করবে এবং বিতরকে তোমার শেষ নামায বানাবে। পরে সেই বছরের শেষে এক ব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করল, আর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে সে অবস্থানে ছিলাম। তবে আমি জানি না যে, এই প্রশ্নকারী সে ব্যক্তি ছিল না অন্য কোন লোক। এবারও তিনি তাকে অনুরূপ উত্তর দিলেন। “

১৬২৫

وَحَدَّثَنِي أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، وَبُدَيْلٌ، وَعِمْرَانُ بْنُ حُدَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْغُبَرِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، وَالزُّبَيْرُ بْنُ الْخِرِّيتِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم . فَذَكَرَا بِمِثْلِهِ وَلَيْسَ فِي حَدِيثِهِمَا ثُمَّ سَأَلَهُ رَجُلٌ عَلَى رَأْسِ الْحَوْلِ وَمَا بَعْدَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬২৫। আবু কামিল, মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ গুবারী (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করল ...... দু’ জনই পূর্বনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে ″পরের বছরের মাথায় এক ব্যক্তি তাকে প্রশ্ন করল″ ...... এবং এর পরবর্তী বিবরণ তাঁদের দু’জনের হাদীসে নেই।

১৬২৬

وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، وَسُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ جَمِيعًا عَنِ ابْنِ أَبِي زَائِدَةَ، - قَالَ هَارُونُ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، - أَخْبَرَنِي عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بَادِرُوا الصُّبْحَ بِالْوِتْرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬২৬। হারূন ইবনে মা’রূফ, সূরায়হ ইবনে ইউনূস ও আবু কুরায়র (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, ভোর হওয়ার আগেই বিতর আদায় করে নাও।

১৬২৭

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، قَالَ مَنْ صَلَّى مِنَ اللَّيْلِ فَلْيَجْعَلْ آخِرَ صَلاَتِهِ وِتْرًا فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْمُرُ بِذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬২৭। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও ইবনে রুমহ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রাতে নামায আদায় করে সে যেন বিতরকে তার শেষ নামায বানায়। কেননা, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ আদেশ করতেন।

১৬২৮

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، كُلُّهُمْ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اجْعَلُوا آخِرَ صَلاَتِكُمْ بِاللَّيْلِ وِتْرًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬২৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, ইবনে নুমাইর, যুহাইর ইবনে হারব ও ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমরা তোমাদের রাতের শেষ নামায বিতরকে বানিও।

১৬২৯

وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقُولُ مَنْ صَلَّى مِنَ اللَّيْلِ فَلْيَجْعَلْ آخِرَ صَلاَتِهِ وِتْرًا قَبْلَ الصُّبْحِ كَذَلِكَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُهُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬২৯। হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন, রাতের বেলা যে ব্যক্তি নামায আদায় করবে সে যেন ভোরের আগে বিতরকে শেষ নামায করে নেয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবাদের এরূপ নির্দেশ দিতেন।

১৬৩০

حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو مِجْلَزٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْوِتْرُ رَكْعَةٌ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬৩০। শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, বিতর হল এক রাকআত রাতের শেষভাগে।

১৬৩১

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْوِتْرُ رَكْعَةٌ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬৩১। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু মিজলায (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর (রাযিঃ) কে নবী (ﷺ) থেকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, বিতর রাতের শেষ ভাগের এক রাক’আত।

১৬৩২

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنِ الْوِتْرِ، فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " رَكْعَةٌ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ " . وَسَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " رَكْعَةٌ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৩২। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু মিজলায (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) কে বিতর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, শেষরাতে এক রাক’আত। আমি ইবনে উমর (রাযিঃ) কেও জিজ্ঞাসা করলাম। তিনিও বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, রাতের শেষভাগে এক রাক’আত।

১৬৩৩

وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، حَدَّثَهُمْ أَنَّ رَجُلاً نَادَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ أُوتِرُ صَلاَةَ اللَّيْلِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَلَّى فَلْيُصَلِّ مَثْنَى مَثْنَى فَإِنْ أَحَسَّ أَنْ يُصْبِحَ سَجَدَ سَجْدَةً فَأَوْتَرَتْ لَهُ مَا صَلَّى " . قَالَ أَبُو كُرَيْبٍ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ . وَلَمْ يَقُلِ ابْنِ عُمَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬৩৩। আবু কুরায়ব ও হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ডাক দিয়ে জিজ্ঞাসা করল, তখন তিনি মসজিদে ছিলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি রাতের নামাযকে কিরূপে বিতর করব? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যে নামায আদায় করতে চায়, সে যেন দুই দুই (রাকআত) করে নামায আদায় করে। যখন ভোর হয় বলে অনুভব করবে, তখন যেন এক রাক’আত আদায় করে নেয়। এটি সে যে নামায আদায় করেছে, তাকে বিতর বানিয়ে দেবে। আবু কুরায়ব (রাহঃ) এর বর্ণনায় উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ রয়েছে, তিনি ইবনে উমর বলেন নি।

১৬৩৪

حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، وَأَبُو كَامِلٍ قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ قُلْتُ أَرَأَيْتَ الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الْغَدَاةِ أَأُطِيلُ فِيهِمَا الْقِرَاءَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى وَيُوتِرُ بِرَكْعَةٍ - قَالَ - قُلْتُ إِنِّي لَسْتُ عَنْ هَذَا أَسْأَلُكَ . قَالَ إِنَّكَ لَضَخْمٌ أَلاَ تَدَعُنِي أَسْتَقْرِئُ لَكَ الْحَدِيثَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى وَيُوتِرُ بِرَكْعَةٍ وَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْغَدَاةِ كَأَنَّ الأَذَانَ بِأُذُنَيْهِ . قَالَ خَلَفٌ أَرَأَيْتَ الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْغَدَاةِ وَلَمْ يَذْكُرْ صَلاَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬৩৪। খালফ ইবনে হিশাম ও আবু কামিল (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে সীরীন (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, ভোরের নামাযের আগের দু-রাকআত সম্পর্কে আপনার কি অভিমত, আমি কি তাতে কির’আত দীর্ঘ করব? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে দুই দুই (রাক’আত) করে নামায আদায় করতেন এবং এক রাকআত দিয়ে বিতর করতেন। আনাস বলেন, আমি বললাম, আমি তো এ বিষয় আপনাকে জিজ্ঞাসা করছি না। তিনি বললেন, তুমি তো স্থুলবুদ্ধির লোক। তুমি কি আমাকে পূরো হাদীস বলার অবকাশ দিবে না?

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাত্রিকালে দুই দুই (রাকআত) নামায আদায় করতেন এবং এক রাকআত দিয়ে বিতর করতেন এবং ফজরের আগে দু’রাকআত সুন্নত এত দ্রুত আদায় করতেন যেন আযান অর্থাৎ ইকামত তাঁর কানে বাজছে। খালফ (রাহঃ) তাঁর রিওয়ায়াতে বলেছেন ফজরের আগের দু’ রাক’আত সম্পর্কে অভিমত কি? ’নামায’ শব্দ উল্লেখ করেননি।
১৬৩৫

وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ . بِمِثْلِهِ وَزَادَ وَيُوتِرُ بِرَكْعَةٍ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ . وَفِيهِ فَقَالَ بَهْ بَهْ إِنَّكَ لَضَخْمٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬৩৫। ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে সীরীন (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর (রাযিঃ) কে আমি জিজ্ঞাসা করলাম .... পূর্বোক্ত রিওয়ায়াতের অনুরূপ। তিনি একটু অতিরিক্ত বলেছেন, ‘রাতের শেষ ভাগে এক রাকআত দিয়ে বিতর আদায় করতেন’। তাতে আরো রয়েছে, বাঃ বাঃ তুমি তো বড় স্থুলবুদ্ধির লোক।

১৬৩৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ حُرَيْثٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى فَإِذَا رَأَيْتَ أَنَّ الصُّبْحَ يُدْرِكُكَ فَأَوْتِرْ بِوَاحِدَةٍ " . فَقِيلَ لاِبْنِ عُمَرَ مَا مَثْنَى مَثْنَى قَالَ أَنْ يُسَلِّمَ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬৩৬। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, রাতের নামায দুই দুই (রাক’আত); পরে যখন তুমি দেখবে যে, সুবহ সাদিক তোমাকে পেয়ে বসেছে তখন তুমি এক (রাক’আত) দিয়ে বিতর আদায় করে নেবে। তখন ইবনে উমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হল, দুই দুই কি? তিনি বললেন, প্রতি দুই রাক’আতে তুমি সালাম ফিরাবে।

১৬৩৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَوْتِرُوا قَبْلَ أَنْ تُصْبِحُوا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৬৩৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, ভোর হওয়ার আগেই তোমরা বিতর আদায় করে নেবে।

১৬৩৮

وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ يَحْيَى، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو نَضْرَةَ الْعَوَقِيُّ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ، أَخْبَرَهُمْ أَنَّهُمْ، سَأَلُوا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْوِتْرِ فَقَالَ " أَوْتِرُوا قَبْلَ الصُّبْحِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৬৩৮। ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) কে বিতর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, সুবহ সা’দিক এর আগে বিতর আদায় করবে।

১৬৩৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ خَافَ أَنْ لاَ يَقُومَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ فَلْيُوتِرْ أَوَّلَهُ وَمَنْ طَمِعَ أَنْ يَقُومَ آخِرَهُ فَلْيُوتِرْ آخِرَ اللَّيْلِ فَإِنَّ صَلاَةَ آخِرِ اللَّيْلِ مَشْهُودَةٌ وَذَلِكَ أَفْضَلُ " . وَقَالَ أَبُو مُعَاوِيَةَ مَحْضُورَةٌ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৬৩৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যার আশঙ্কা থাকে যে, শেষ রাতে সে উঠতে পারবে না সে যেন প্রথম রাতেই বিতর আদায় করে নেয়। আর যে ব্যক্তি শেষ রাতে উঠতে পারবে বলে আশা রাখে সে যেন রাতের শেষ ভাগে বিতর আদায় করে। কেননা শেষ রাতের নামাযে রহমতের ফিরিশতার উপস্থিতির কাল এবং তাই উত্তম। রাবী আবু মুআবিয়া (রাহঃ) مَشْهُودَةٌ শব্দের স্থলে مَحْضُورَةٌ শব্দ বলেছেন।

১৬৪০

وَحَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا مَعْقِلٌ، - وَهُوَ ابْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ - عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَيُّكُمْ خَافَ أَنْ لاَ يَقُومَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ فَلْيُوتِرْ ثُمَّ لْيَرْقُدْ وَمَنْ وَثِقَ بِقِيَامٍ مِنَ اللَّيْلِ فَلْيُوتِرْ مِنْ آخِرِهِ فَإِنَّ قِرَاءَةَ آخِرِ اللَّيْلِ مَحْضُورَةٌ وَذَلِكَ أَفْضَلُ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৬৪০। সালামা ইবনে শাবীব (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তোমাদের যার আশঙ্কা হবে যে, শেষরাতে সে উঠতে পারবে না, সে যেন বিতর আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে। আর যে রাতে ওঠার ব্যাপারে আস্থাবান সে যেন শেষরাতে বিতর আদায় করে। কেননা শেষরাতের কির’আত (ফিরিশতাদের) উপস্থিতির সময় এবং তা উত্তম।

১৬৪১

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفْضَلُ الصَّلاَةِ طُولُ الْقُنُوتِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৬৪১। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, অতি উত্তম নামায দীর্ঘ সময় দাঁড়ান (অর্থাৎ লম্বা কিরা’আতের নামায)

১৬৪২

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَىُّ الصَّلاَةِ أَفْضَلُ قَالَ " طُولُ الْقُنُوتِ " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৬৪২। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করা হল কোন নামায উত্তম? তিনি বললেন, দীর্ঘ সময় দাঁড়ান।

১৬৪৩

وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ فِي اللَّيْلِ لَسَاعَةً لاَ يُوَافِقُهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللَّهَ خَيْرًا مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৬৪৩। উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কে আমি বলতে শুনেছি, রাত্রিকালে এমন একটি সময় রয়েছে যে, কোন মুসলমান ব্যক্তি আল্লাহর কাছে দুনিয়া-আখিরাতের কোন কল্যাণের প্রার্থনা করা অবস্থায় যদি সময়টির আনুকুল্য পায় তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে তা দান করবেন। আর তা রয়েছে প্রতি রাতে।

১৬৪৪

وَحَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا مَعْقِلٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ مِنَ اللَّيْلِ سَاعَةً لاَ يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللَّهَ خَيْرًا إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৬৪৪। সালামা ইবনে শাবীব (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, রাতের এমন একটি ক্ষণ রয়েছে যে, কোন মুসলমান বান্দা আল্লাহর কাছে কোন কল্যাণের প্রার্থনারত অবস্থায় সে সময়টি পেয়ে গেলে আল্লাহ তাকে তা অবশ্যই দান করবেন।

১৬৪৫

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الأَغَرِّ، وَعَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ فَيَقُولُ مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ وَمَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ وَمَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৪৫। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমাদের বরকতময় ও মহান প্রতিপালক প্রতি রাতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকার সময় নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন কে আছে আমাকে ডাকবে, তাহলে আমি তার ডাকে সাড়া দিব; কে আছে আমার কাছে প্রার্থনা করবে, তবে আমি তাকে দিয়ে দিব, কে আছে আমার কাছে মাগফিরাত কামনা করবে, তবে আমি তাকে মাফ করে দেব।

১৬৪৬

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَارِيُّ - عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَنْزِلُ اللَّهُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا كُلَّ لَيْلَةٍ حِينَ يَمْضِي ثُلُثُ اللَّيْلِ الأَوَّلُ فَيَقُولُ أَنَا الْمَلِكُ أَنَا الْمَلِكُ مَنْ ذَا الَّذِي يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ فَلاَ يَزَالُ كَذَلِكَ حَتَّى يُضِيءَ الْفَجْرُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৪৬। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, প্রতি রাতে যখন রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তখন আল্লাহ নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করেন আর তিনি বলতে থাকেন, আমিই বাদশাহ। কে আছে এমন যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব; কে আছে এমন যে আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তাকে দিয়ে দেব; কে আছে এমন যে, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। ফজর উদ্ভাসিত হওয়া পর্যন্ত এ ভাবেই চলতে থাকে।

১৬৪৭

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا مَضَى شَطْرُ اللَّيْلِ أَوْ ثُلُثَاهُ يَنْزِلُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَقُولُ هَلْ مِنْ سَائِلٍ يُعْطَى هَلْ مِنْ دَاعٍ يُسْتَجَابُ لَهُ هَلْ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ يُغْفَرُ لَهُ حَتَّى يَنْفَجِرَ الصُّبْحُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৪৭। ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, রাতের অর্ধেক কিংবা দুই তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হয়ে গেলে আল্লাহ তাআলা নিকটবতীঁ আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেন, আছে কি কোন প্রার্থী? তাকে প্রদান করা হবে, আছে কি কোন দুআকারী? তার দুআ কবুল করা হবে; আছ কি কোন ক্ষমাপ্রাথীঁ? তাকে ক্ষমা কর দেয়া হবে; এরূপ চলতে থাকে ভোর প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত।

১৬৪৮

حَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا مُحَاضِرٌ أَبُو الْمُوَرِّعِ، حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ مَرْجَانَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَنْزِلُ اللَّهُ فِي السَّمَاءِ الدُّنْيَا لِشَطْرِ اللَّيْلِ أَوْ لِثُلُثِ اللَّيْلِ الآخِرِ فَيَقُولُ مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ أَوْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ . ثُمَّ يَقُولُ مَنْ يُقْرِضُ غَيْرَ عَدِيمٍ وَلاَ ظَلُومٍ " . قَالَ مُسْلِمٌ ابْنُ مَرْجَانَةَ هُوَ سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَمَرْجَانَةُ أُمُّهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৪৮। হাজ্জাজ ইবনে শাইর (রাহঃ) ...ইবনে মারজানা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, রাতের আধাআধির সময় কিংবা রাতের শেষ ভাগের সময় মহান আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, কে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব; কিংবা কে আমার কাছে প্রার্থনা করবে? আমি তাকে দিয়ে দেব। অতঃপর বলতে থাকেন, কে আছে করয দেবে এমন সত্তাকে যিনি নিঃস্ব নন এবং যিনি যুলুম করেন না।

মুসলিম (রাহঃ) বলেছেন, ইবনে মারাজানা হচ্ছেন সাঈদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) এবং মারজানা (রাযিঃ) হলেন তাঁর মাতা।
১৬৪৯

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَزَادَ " ثُمَّ يَبْسُطُ يَدَيْهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَقُولُ مَنْ يُقْرِضُ غَيْرَ عَدُومٍ وَلاَ ظَلُومٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৪৯। হারুন ইবনে সাঈদ আয়লী (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) উপরোক্ত সনদে বর্ণিত এবং তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর দু’ হাত প্রসারিত করে বলতে থাকেন, কে আছে করয দেবে এমন সত্তাকে যিনি নিঃস্ব নন এবং যিনি যুলুম করেন না।

১৬৫০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، وَأَبُو بَكْرٍ ابْنَا أَبِي شَيْبَةَ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ - وَاللَّفْظُ لاِبْنَىْ أَبِي شَيْبَةَ - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَغَرِّ أَبِي مُسْلِمٍ، يَرْوِيهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، وَأَبِي، هُرَيْرَةَ قَالاَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ يُمْهِلُ حَتَّى إِذَا ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ الأَوَّلُ نَزَلَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَقُولُ هَلْ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ هَلْ مِنْ تَائِبٍ هَلْ مِنْ سَائِلٍ هَلْ مِنْ دَاعٍ حَتَّى يَنْفَجِرَ الْفَجْرُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৬৫০। আবি শাঈবার পূত্র উসমান ও আবু বকর এবং ইসহাক ইবনে ইবরাহীম হানযালী (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ অপেক্ষা করতে থাকেন। অবশেষে রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয়ে গেলে তিনি নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে বলেন, কেউ কি আছে মাগফিরাতকামী? কেউ কি আছে তাওবাকারী? কেউ কি আছে প্রার্থনাকারী? কেউ কি আছে দুআকারী? এরূপ বলতে থাকেন ফজর উদ্ভাসিত হওয়া পর্যন্ত।

১৬৫১

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . غَيْرَ أَنَّ حَدِيثَ، مَنْصُورٍ أَتَمُّ وَأَكْثَرُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৫১। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... শুবা সূত্রে ইসহাক (রাহঃ) থেকে উপরোক্ত সনদে বর্ণনা করেন। তবে মনসুর (রাহঃ) বর্ণিত আবু ইসহাক (রাহঃ) এর হাদীসটি অধিক পূর্ণাঙ্গ ও অধিক বিবরণ সম্বলিত।

১৮. কিয়ামে রমযান অর্থাৎ রমযান মাসে রাতের ইবাদত সম্পর্কে উৎসাহ দান

باب التَّرْغِيبِ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَهُوَ التَّرَاوِيحُ

১৬৫২

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৫২। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও নিষ্ঠার সাথে (সাওয়াব প্রাপ্তির বিশ্বাস নিয়ে) রমযানে রাত্রি জাগরণ করে (তারাবীহ পড়ে), তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

১৮. কিয়ামে রমযান অর্থাৎ তারাবীহ সম্পর্কে উৎসাহ দান

باب التَّرْغِيبِ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَهُوَ التَّرَاوِيحُ

১৬৫৩

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُرَغِّبُ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ فِيهِ بِعَزِيمَةٍ فَيَقُولُ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " . فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ ثُمَّ كَانَ الأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ فِي خِلاَفَةِ أَبِي بَكْرٍ وَصَدْرًا مِنْ خِلاَفَةِ عُمَرَ عَلَى ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৫৩। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযানে রাত্রি জাগরণের জন্য অবশ্য পালনীয় নির্দেশ না দিয়ে তাদের উৎসাহিত করতেন। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও নিষ্ঠার সাথে রমযানে রাত্রি জাগরণ করবে তার বিগত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওফাত হয় আর বিষয়টি এরূপই ছিল। পরে আবু বকর (রাযিঃ) এর খিলাফত যুগে অবস্থা অনুরূপ থাকে, উমর (রাযিঃ) এর খিলাফতের প্রথম দিকেও অবস্থা অনুরূপ অব্যাহত ছিল।

১৬৫৪

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، حَدَّثَهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৫৪। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াবের আশায় রমযানের রোযা পালন করবে তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি লায়লাতুল কাদরে ঈমান ও সাওয়াবের আশায় রাত জাগরণ (ইবাদত) করবে তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

১৬৫৫

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنِي وَرْقَاءُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ يَقُمْ لَيْلَةَ الْقَدْرِ فَيُوَافِقُهَا - أُرَاهُ قَالَ - إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৫৫। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি লায়লাতুল কাদরে রাত জাগরণ করে রাবী বলেন, আমার ধারণা যে তিনি বলেছেন, ঈমান ও সাওয়াবের আশায়, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে।

১৬৫৬

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي الْمَسْجِدِ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَصَلَّى بِصَلاَتِهِ نَاسٌ ثُمَّ صَلَّى مِنَ الْقَابِلَةِ فَكَثُرَ النَّاسُ ثُمَّ اجْتَمَعُوا مِنَ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ أَوِ الرَّابِعَةِ فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ " قَدْ رَأَيْتُ الَّذِي صَنَعْتُمْ فَلَمْ يَمْنَعْنِي مِنَ الْخُرُوجِ إِلَيْكُمْ إِلاَّ أَنِّي خَشِيتُ أَنْ تُفْرَضَ عَلَيْكُمْ " . قَالَ وَذَلِكَ فِي رَمَضَانَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬৫৬। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক রাতে মসজিদে নামায আদায় করলেন। তখন তাঁর সঙ্গে লোকজন নামায আদায় করল। এরপর পরবর্তী রাতে তিনি নামায আদায় করলেন এতে বহু লোক হল। পরে তৃতীয় কিংবা চতুর্থ রাতেও তাঁরা সমবেত হলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদের দিকে বের হলেন না। পরে সকালে তিনি বললেন, তোমরা যা করেছ তা তো আমি দেখেছি। তোমাদের কাছে বের হয়ে আসতে আমাকে শুধু এই বাধা দিয়েছে যে, আমি আশঙ্কা করছিলাম যে, সে নামায তোমাদের উপর ফরয হয়ে যেতে পারে। এ ঘটনা রমযানের।

১৮. কিয়ামে রমযান অর্থাৎ রমযান মাসে রাতের ইবাদত সম্পর্কে উৎসাহ দান

باب التَّرْغِيبِ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَهُوَ التَّرَاوِيحُ

১৬৫৭

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ فَصَلَّى فِي الْمَسْجِدِ فَصَلَّى رِجَالٌ بِصَلاَتِهِ فَأَصْبَحَ النَّاسُ يَتَحَدَّثُونَ بِذَلِكَ فَاجْتَمَعَ أَكْثَرُ مِنْهُمْ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي اللَّيْلَةِ الثَّانِيَةِ فَصَلَّوْا بِصَلاَتِهِ فَأَصْبَحَ النَّاسُ يَذْكُرُونَ ذَلِكَ فَكَثُرَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ مِنَ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ فَخَرَجَ فَصَلَّوْا بِصَلاَتِهِ فَلَمَّا كَانَتِ اللَّيْلَةُ الرَّابِعَةُ عَجَزَ الْمَسْجِدُ عَنْ أَهْلِهِ فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَطَفِقَ رِجَالٌ مِنْهُمْ يَقُولُونَ الصَّلاَةَ . فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى خَرَجَ لِصَلاَةِ الْفَجْرِ فَلَمَّا قَضَى الْفَجْرَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ ثُمَّ تَشَهَّدَ فَقَالَ " أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّهُ لَمْ يَخْفَ عَلَىَّ شَأْنُكُمُ اللَّيْلَةَ وَلَكِنِّي خَشِيتُ أَنْ تُفْرَضَ عَلَيْكُمْ صَلاَةُ اللَّيْلِ فَتَعْجِزُوا عَنْهَا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬৫৭। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মধ্য রাতে বেরিয়ে মসজিদে নামায আদায় করলেন। তখন একদল লোক তাঁর সঙ্গে নামায আদায় করল এবং সকালে লোকেরা এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করল। ফলে তাদের চাইতে অনেক বেশী লোক সমবেত হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দ্বিতীয় রাতে বের হলেন এবং লোকেরা তাঁর সঙ্গে নামায আদায় করল। এদিন সকালেও লোকেরা বিষয়টি আলোচনা করতে থাকল। এতে রাতে মসজিদের লোক সংখ্যা আরো বেশী হল। তখন নবী (ﷺ) বের হয়ে এলেন। লোকেরা তাঁর সঙ্গে নামায আদায় করল।

চতুর্থ রাতে মসজিদ লোকদের স্থান সংকুলানে অক্ষম হল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদের কাছে বের হলেন না। তখন তাদের মাঝে কিছু লোক বলতে লাগল, নামায! নামায! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখনও তাদের কাছে বের হলেন না। অবশেষে ফজরের নামাযের জন্য বের হলেন। ফজরের নামায আদায় করার পরে লোকদের দিকে মুখ করলেন এবং তাশাহহুদ পাঠের পরে বললেন, আজ রাতে তোমাদের অবস্থা আমার কাছে গোপন থাকে নি। তবে আমার আশঙ্কা হয়েছিল যে, রাতের (তারাবীহ) নামায তোমাদের উপর ফরয হয়ে যায়; আর তোমরা তা পালনে অক্ষম হও।

১৯. শবে-ক’দরে রাত্রি জাগরনে উৎসাহ দান এবং তা যে সাতাশে রমাযান তার প্রমাণ

১৬৫৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي عَبْدَةُ، عَنْ زِرٍّ، قَالَ سَمِعْتُ أُبَىَّ بْنَ كَعْبٍ، يَقُولُ - وَقِيلَ لَهُ إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ يَقُولُ مَنْ قَامَ السَّنَةَ أَصَابَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ - فَقَالَ أُبَىٌّ وَاللَّهِ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ إِنَّهَا لَفِي رَمَضَانَ - يَحْلِفُ مَا يَسْتَثْنِي - وَوَاللَّهِ إِنِّي لأَعْلَمُ أَىُّ لَيْلَةٍ هِيَ . هِيَ اللَّيْلَةُ الَّتِي أَمَرَنَا بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقِيَامِهَا هِيَ لَيْلَةُ صَبِيحَةِ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ وَأَمَارَتُهَا أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فِي صَبِيحَةِ يَوْمِهَا بَيْضَاءَ لاَ شُعَاعَ لَهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

১৬৫৮। মুহাম্মাদ ইবনে মিহরান রাযী (রাহঃ) ......... উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যখন তাকে বলা হয় যে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি সারা বছর (ইবাদতে) রাত্রি জাগরণ করবে সে শবে-কাদর পাবে; তখন উবাই (রাযিঃ) বললেন, সেই আল্লাহর কসম তিনি ব্যতীত আর কোন মা’বুদ নেই। তা অবশ্যই রমযানে রয়েছে। তিনি কসম করে বলেছিলেন এবং তিনি কোন ব্যতিক্রম ছাড়াই কসম করে বলেছিলেন। আবার তিনি আল্লাহর কসম খেয়ে বললেন, ভাল করেই জানি যে, সেটি কোন রাত; সেটি হল সে রাত যে রাত জেগে ইবাদত করার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের হুকুম করেছিলেন। যে রাতের ভোর হয়, সাতাশে রমযান। আর সে রাতের আলামত হল এই যে, দিনের সূর্য উদিত হয় উজ্জ্বল হয়ে তাতে (কিরণের) তীব্রতা থাকে না।

১৬৫৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَةَ بْنَ أَبِي لُبَابَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ أُبَىٌّ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَاللَّهِ إِنِّي لأَعْلَمُهَا وَأَكْثَرُ عِلْمِي هِيَ اللَّيْلَةُ الَّتِي أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقِيَامِهَا هِيَ لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ - وَإِنَّمَا شَكَّ شُعْبَةُ فِي هَذَا الْحَرْفِ - هِيَ اللَّيْلَةُ الَّتِي أَمَرَنَا بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ وَحَدَّثَنِي بِهَا صَاحِبٌ لِي عَنْهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

১৬৫৯। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি লায়লাতুল কাদর সম্পর্কে বলেন, আল্লাহর কসম! আমি তা অবশ্যই জানি এবং আমার অধিক ধারণা যে, সেই রাত, যে রাত জেগে ইবাদত করার জন্য আল্লাহর রাসুল আমাদের আদেশ দিয়েছিলেন, সেটি সাতাশের রাত। রাবী শু’বা এ বাক্যে সন্দেহ পোষণ করছেন - ″তা সেই রাত যে রাত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন।″ তিনি বলেন, আমার এক সঙ্গী আমাকে তাঁর কাছ থেকে এ কথাটি বর্ণনা করেছেন।

১৬৬০

وَحَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ إِنَّمَا شَكَّ شُعْبَةُ . وَمَا بَعْدَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

১৬৬০। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে শু’বা (রাহঃ) সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং পরবর্তী বাক্যটি তিনি উল্লেখ করেননি।

২০. রাতের বেলা নবী (ﷺ) এর নামায ও দুআ

১৬৬১

حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ هَاشِمِ بْنِ حَيَّانَ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ مَهْدِيٍّ - حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بِتُّ لَيْلَةً عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنَ اللَّيْلِ فَأَتَى حَاجَتَهُ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ ثُمَّ نَامَ ثُمَّ قَامَ فَأَتَى الْقِرْبَةَ فَأَطْلَقَ شِنَاقَهَا ثُمَّ تَوَضَّأَ وُضُوءًا بَيْنَ الْوُضُوءَيْنِ وَلَمْ يُكْثِرْ وَقَدْ أَبْلَغَ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى فَقُمْتُ فَتَمَطَّيْتُ كَرَاهِيَةَ أَنْ يَرَى أَنِّي كُنْتُ أَنْتَبِهُ لَهُ فَتَوَضَّأْتُ فَقَامَ فَصَلَّى فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَأَخَذَ بِيَدِي فَأَدَارَنِي عَنْ يَمِينِهِ فَتَتَامَّتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ اللَّيْلِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً ثُمَّ اضْطَجَعَ فَنَامَ حَتَّى نَفَخَ وَكَانَ إِذَا نَامَ نَفَخَ فَأَتَاهُ بِلاَلٌ فَآذَنَهُ بِالصَّلاَةِ فَقَامَ فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ وَكَانَ فِي دُعَائِهِ " اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا وَفِي بَصَرِي نُورًا وَفِي سَمْعِي نُورًا وَعَنْ يَمِينِي نُورًا وَعَنْ يَسَارِي نُورًا وَفَوْقِي نُورًا وَتَحْتِي نُورًا وَأَمَامِي نُورًا وَخَلْفِي نُورًا وَعَظِّمْ لِي نُورًا " . قَالَ كُرَيْبٌ وَسَبْعًا فِي التَّابُوتِ فَلَقِيتُ بَعْضَ وَلَدِ الْعَبَّاسِ فَحَدَّثَنِي بِهِنَّ فَذَكَرَ عَصَبِي وَلَحْمِي وَدَمِي وَشَعَرِي وَبَشَرِي وَذَكَرَ خَصْلَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৬১। আব্দুল্লাহ ইবনে হাশিম হায়্যান আন-আব্দী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মুনার ঘরে রাত্রি যাপন করলাম। রাতের বেলা এক সময় নবী (ﷺ) উঠে নিজের প্রয়োজন সমাধা করলেন। তারপর নিজের হাত-মুখ ধুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। পরে (পানির) মশকের কাছে গিয়ে বন্ধন খুললেন। তারপর দুই ওযুর মাঝামাঝি ওযু করলেন। অতিরিক্ত পানি খরচ করলেন না। তবে পূর্ণাঙ্গ ওযু করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে নামায আদায় করলেন। আমি জেগে মোড়ামুড়ি দিলাম। আমার পছন্দ ছিল না যে, আমি জেগে জেগে তাঁকে লক্ষ্য করছিলাম, তা তিনি বুঝে ফেলেন। এরপর আমি ওযু করলাম। তিনি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করেছিলেন। আমি তাঁর বামপাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে হাতে ধরে ঘুরিয়ে তাঁর ডান দিকে আনলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর রাতের নামায (তাহাজ্জুদ) তেরো রাকআত হল।

তারপর তিনি শুয়ে পড়লেন এবং ঘুমিয়ে নাক ডাকতে লাগলেন। তিনি ঘুমালে তাঁর নাক ডাকত। তখন বিলাল (রাযিঃ) এসে তাঁকে নামাযের সময় হওয়ার খবর দিলেন। তিনি উঠে নামায আদায় করলেন এবং ওযু করলেন না। (এ রাতে) তাঁর দুআর মধ্যে ছিলঃ

হে আল্লাহ! আমার কলবে নূর দান করুন, আমার দৃষ্টিতে নূর দান করুন, আমার শ্রবণশক্তিতে নুর দান করুন, আমার ডানদিকে নূর, আমার বামদিকে নূর, আমার উপরে নূর, আমার নীচে নূর, আমার সামনে নূর, আমার পিছনে নূর এবং বিরাট নূর দান করুন।

রাবী কুরায়ব (রাহঃ) বলেন, আরও সাতটি বিষয় যা আমার অন্তরে রয়েছে। সালামা ইবনে কুহায়ল বলেন, এরপর আমি আব্বাস পরিবারের কোন একজনের সঙ্গে সাক্ষাত করলে তিনি ঐ বিষয়গুলো আমাকে বর্ণনা করলেন। আমার শিরায়, আমার গোশতে, আমার রক্তে, আমার পশমে এবং আমার ত্বকে... আরও দু’টি বিষয় বললেন।
১৬৬২

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، بَاتَ لَيْلَةً عِنْدَ مَيْمُونَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ - وَهِيَ خَالَتُهُ - قَالَ فَاضْطَجَعْتُ فِي عَرْضِ الْوِسَادَةِ وَاضْطَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَهْلُهُ فِي طُولِهَا فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى انْتَصَفَ اللَّيْلُ أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيلٍ أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيلٍ اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ بِيَدِهِ ثُمَّ قَرَأَ الْعَشْرَ الآيَاتِ الْخَوَاتِمَ مِنْ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ ثُمَّ قَامَ إِلَى شَنٍّ مُعَلَّقَةٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَقُمْتُ فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رَأْسِي وَأَخَذَ بِأُذُنِي الْيُمْنَى يَفْتِلُهَا فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَوْتَرَ ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى جَاءَ الْمُؤَذِّنُ فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৬২। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর খালা উম্মুল মু'মিনীন মায়মুনা (রাযিঃ) এর কাছে একবার রাত্রি যাপন করেন। তিনি বলেন, আমি বিছানার প্রস্থে শয়ন করলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর স্ত্রী (মায়মুনা) শয়ন করলেন তার দৈর্ঘে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুমিয়ে পড়লেন। রাতের অর্ধেক হলে অথবা তার কিছু আগে বা কিছু পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জাগলেন এবং নিজের হাতে তাঁর চেহারা মুবারক থেকে ঘুমের আমেজ মুছতে লাগলেন। তারপর সূরা আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত পড়লেন। তারপর একটি লটকিয়ে রাখা মাশকের কাছে গিয়ে তাঁর থেকে উযু করলেন এবং উত্তমরূপে উযু করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে নামায শুরু করলেন।

ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমিও উঠে তেমনই করলাম যেমন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) করেছিলেন। পরে আমি গিয়ে তার পাশে দাঁড়ালাম, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার ডান হাত আমার মাথায় রাখলেন এবং আমার কান ধরে তা মলতে লাগলেন। তখন তিনি দু’রাকআত নামায আদায় করলেন, তারপর দু’রাকআত, তারপর দু’রাকআত, তারপর দু’রাকআত, তারপর দু’রাকআত তারপর বিতর আদায় করলেন। তারপর শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুয়াযযিন তাঁর নিকটে এলেন। তিনি উঠে সংক্ষিপ্ত দু-রাকআত নামায (ফজরের সুন্নত) আদায় করলেন। এরপর বের হয়ে ফজরের নামায আদায় করলেন।
১৬৬৩

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْفِهْرِيِّ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَزَادَ ثُمَّ عَمَدَ إِلَى شَجْبٍ مِنْ مَاءٍ فَتَسَوَّكَ وَتَوَضَّأَ وَأَسْبَغَ الْوُضُوءَ وَلَمْ يُهْرِقْ مِنَ الْمَاءِ إِلاَّ قَلِيلاً ثُمَّ حَرَّكَنِي فَقُمْتُ . وَسَائِرُ الْحَدِيثِ نَحْوُ حَدِيثِ مَالِكٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৬৩। মুহাম্মাদ ইবনে সালামা মুরাদী (রাহঃ) উক্ত সনদে ......... মাখরামা ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, এতে তিনি অতিরিক্ত বলেছেন, তিনি পানির মশক ঝুলিয়ে রাখার খুঁটির কাছে গেলেন এবং মিসওয়াক করলেন ও উযু করলেন এবং পূর্ণাঙ্গ উযু করলেন। তবে পানি পরিমাণে কমই ঢাললেন। তারপর আমাকে নাড়া দিলে আমি উঠে পড়লাম। হাদীসে বাকী অংশ মালিক (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।

১৬৬৪

حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا عَمْرٌو، عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ نِمْتُ عِنْدَ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَهَا تِلْكَ اللَّيْلَةَ فَتَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَأَخَذَنِي فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ فَصَلَّى فِي تِلْكَ اللَّيْلَةِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً ثُمَّ نَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى نَفَخَ وَكَانَ إِذَا نَامَ نَفَخَ ثُمَّ أَتَاهُ الْمُؤَذِّنُ فَخَرَجَ فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ . قَالَ عَمْرٌو فَحَدَّثْتُ بِهِ بُكَيْرَ بْنَ الأَشَجِّ فَقَالَ حَدَّثَنِي كُرَيْبٌ بِذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৬৪। হারুন ইবনে সাঈদ আয়লী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনী মায়মুনা (রাযিঃ) এর ঘরে শুলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ রাতে তার ঘরে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উযু করার পরে নামাযে দাঁড়ালেন। আমি গিয়ে তাঁর বামপাশে দাড়ালাম। তখন তিনি আমাকে ধরে তাঁর ডানপাশে নিয়ে এলেন। তিনি সে রাতে তের রাকআত নামায আদায় করলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শুয়ে পড়লেন এমন কি নাক ডাকতে লাগলেন। তিনি ঘুমিয়ে পড়লে সাধারণত নাক ডাকতেন। এরপর মুয়াযযিন তাঁর নিকটে এলে তিনি বের হয়ে নামায আদায় করলেন আর তিনি উযু করলেন না।

রাবী আমর (রাহঃ) বলেন, পরে আমি বুকায়র ইবনে আশাজ্জ (রাহঃ) কে এ হাদীস শুনালে তিনি বললেন, কুরায়ব (রাহঃ) আমাকে এরূপ বর্ণনা করেছেন।
১৬৬৫

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، أَخْبَرَنَا الضَّحَّاكُ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بِتُّ لَيْلَةً عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ فَقُلْتُ لَهَا إِذَا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَيْقِظِينِي . فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ الأَيْسَرِ فَأَخَذَ بِيَدِي فَجَعَلَنِي مِنْ شِقِّهِ الأَيْمَنِ فَجَعَلْتُ إِذَا أَغْفَيْتُ يَأْخُذُ بِشَحْمَةِ أُذُنِي - قَالَ - فَصَلَّى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً ثُمَّ احْتَبَى حَتَّى إِنِّي لأَسْمَعُ نَفَسَهُ رَاقِدًا فَلَمَّا تَبَيَّنَ لَهُ الْفَجْرُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৬৫। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি’ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি আমার খালা মায়মুনা বিনতে হারিস (রাযিঃ) এর ঘরে এক রাত্রি যাপন করলাম এবং আমি তাঁকে বলে রাখলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন উঠেন তখন আমাকে জাগিয়ে দিবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে (নামায) দাঁড়ালেন। তখন আমি তার বামপাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমার হাত ধরে আমাকে তাঁর ডানপাশে নিয়ে এলেন। এরপর আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন হলেই তিনি আমার কানের লতি ধরতেন (ধরে মোচড় দিতেন) ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, তিনি তখন এগার রাকআত নামায আদায় করলেন। তারপর হাটু খাড়া করে দু’ হাত নিয়ে জড়িয়ে বসলেন। অবশেষে আমি তার ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসের আওয়াজ শুনতে লাগলাম। পরে ফজর প্রকাশ পেলে তিনি সংক্ষিপ্ত দু’ রাক’আত (নামায) আদায় করলেন।

১৬৬৬

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، - قَالَ ابْنُ أَبِي عُمَرَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، - عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ بَاتَ عِنْدَ خَالَتِهِ مَيْمُونَةَ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ اللَّيْلِ فَتَوَضَّأَ مِنْ شَنٍّ مُعَلَّقٍ وُضُوءًا خَفِيفًا - قَالَ وَصَفَ وُضُوءَهُ وَجَعَلَ يُخَفِّفُهُ وَيُقَلِّلُهُ - قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَقُمْتُ فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ جِئْتُ فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَأَخْلَفَنِي فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ فَصَلَّى ثُمَّ اضْطَجَعَ فَنَامَ حَتَّى نَفَخَ ثُمَّ أَتَاهُ بِلاَلٌ فَآذَنَهُ بِالصَّلاَةِ فَخَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ . قَالَ سُفْيَانُ وَهَذَا لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خَاصَّةً لأَنَّهُ بَلَغَنَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَنَامُ عَيْنَاهُ وَلاَ يَنَامُ قَلْبُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৬৬। ইবনে আবু উমর ও মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর খালা মায়মুনা (রাযিঃ) এর ঘরে রাতে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে উঠে একটি লটকানো পূরানো মশক থেকে হালকাভাবে উযু করলেন। বর্ণনাকারী কুরায়াব (রাহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর উযুর বিবরণ দিতে গিয়ে তাঁর স্বল্পতা ও হালকা ভাবের ব্যাখ্যা দিলেন। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমিও উঠে দাঁড়ালাম এবং নবী (ﷺ) যেরূপ করেছিলেন আমি সেরূপ করলাম। তারপর এসে তাঁর বামপাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমাকে পিছন দিক দিযে ঘুরিয়ে আমাকে তাঁর ডানপাশে নিলেন। তারপর নামায আদায় করে শুয়ে পড়লেন এবং ঘুমিয়ে নাক ডাকতে লাগলেন। এরপর বিলাল (রাযিঃ) তাঁর নিকট এসে তাঁকে নামাযের (সময় হওয়ার) খবর দেন। তখন তিনি বের হয়ে গিয়ে ফজরের নামায আদায় করলেন এবং উযু করেননি।

সুফিয়ান (রাহঃ) বলেন, এ ব্যাপার (ঘুমে উযু ভঙ্গ না হওয়া) নবী (ﷺ) এর জন্য খাস কেননা, আমাদের কাছে হাদীস পৌছেছে যে, তাঁর দু’ চোখ নিদ্রা যায় কিন্তু তার অন্তর নিদ্রা যায় না।
১৬৬৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَلَمَةَ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بِتُّ فِي بَيْتِ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَبَقَيْتُ كَيْفَ يُصَلِّي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - فَقَامَ فَبَالَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ ثُمَّ نَامَ ثُمَّ قَامَ إِلَى الْقِرْبَةِ فَأَطْلَقَ شِنَاقَهَا ثُمَّ صَبَّ فِي الْجَفْنَةِ أَوِ الْقَصْعَةِ فَأَكَبَّهُ بِيَدِهِ عَلَيْهَا ثُمَّ تَوَضَّأَ وُضُوءًا حَسَنًا بَيْنَ الْوُضُوءَيْنِ ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي فَجِئْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ - قَالَ - فَأَخَذَنِي فَأَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ فَتَكَامَلَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً ثُمَّ نَامَ حَتَّى نَفَخَ وَكُنَّا نَعْرِفُهُ إِذَا نَامَ بِنَفْخِهِ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ فَصَلَّى فَجَعَلَ يَقُولُ فِي صَلاَتِهِ أَوْ فِي سُجُودِهِ " اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا وَفِي سَمْعِي نُورًا وَفِي بَصَرِي نُورًا وَعَنْ يَمِينِي نُورًا وَعَنْ شِمَالِي نُورًا وَأَمَامِي نُورًا وَخَلْفِي نُورًا وَفَوْقِي نُورًا وَتَحْتِي نُورًا وَاجْعَلْ لِي نُورًا أَوْ قَالَ وَاجْعَلْنِي نُورًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৬৭। মুহামাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খালা মায়মুনা (রাযিঃ) এর ঘরে আমি রাত্রে ছিলাম। আমি অপেক্ষায় ছিলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি প্রকারে নামায আদায় করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে পেশাব করলেন, তারপর হাত-মুখ ধুয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়লেন। পরে উঠে মশকের কাছে গিয়ে তার বাধন খুলে পাত্রে পানি ঢেলে নিলেন। তিনি হাত দিয়ে মশকটি পাত্রের উপরে কাত করে ধরলেন। তারপর দুই উযুর মাঝামাঝি উত্তমরূপে উযু করলেন। তারপর নামাযে দাঁড়ালেন। তখন আমি এসে তাঁর পাশে দাঁড়ালাম। আমি দাঁড়ালাম তাঁর বামপাশে।

ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে ধরে তাঁর ডানপাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামায তের রাকআত হল। এর পরে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন এমনকি নাক ডাকতে লাগলেন। আমরা তাঁর নাকের আওয়াজ শুনে তাঁর ঘুমিয়ে পড়া বুঝতে পারতাম। তিনি তাঁর নামাযের মধ্যে অথবা (রাবী বলেন) তাঁর সিজদায় বলতে লাগলেন ″হে আল্লাহ! আমার কলবে নূর দান করুন, আমার কানে নূর, আমার চোখে নূর এবং আমার ডানে নূর, আমার বামে নূর, আমার সামনে নূর, আমরা পিছনে নূর আমার উপরে নূর, এবং আমার নীচে নূর দান করুন এবং আমাকে দান করুন অথবা তিনি বলেছিলেন আমাকে নুরে পরিণত করুন।″
১৬৬৮

وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، . قَالَ سَلَمَةُ فَلَقِيتُ كُرَيْبًا فَقَالَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كُنْتُ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . ثُمَّ ذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ غُنْدَرٍ . وَقَالَ " وَاجْعَلْنِي نُورًا " . وَلَمْ يَشُكَّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৬৮। ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন, আমি আমার খালা মায়মুনা (রাযিঃ) এর ঘরে ছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আগমন করলেন। অতঃপর গুনদার (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে, এতে তিনি বলেন, ″আমাকে নূরে পরিণত করুন″ এ রিওয়ায়াতে সন্দেহ নেই।

১৬৬৯

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ أَبِي رِشْدِينٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بِتُّ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ . وَاقْتَصَّ الْحَدِيثَ وَلَمْ يَذْكُرْ غَسْلَ الْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ ثُمَّ أَتَى الْقِرْبَةَ فَحَلَّ شِنَاقَهَا فَتَوَضَّأَ وُضُوءًا بَيْنَ الْوُضُوءَيْنِ ثُمَّ أَتَى فِرَاشَهُ فَنَامَ ثُمَّ قَامَ قَوْمَةً أُخْرَى فَأَتَى الْقِرْبَةَ فَحَلَّ شِنَاقَهَا ثُمَّ تَوَضَّأَ وُضُوءًا هُوَ الْوُضُوءُ وَقَالَ " أَعْظِمْ لِي نُورًا " . وَلَمْ يَذْكُرْ " وَاجْعَلْنِي نُورًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৬৯। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও হান্নাদ ইবনে সারী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মুনা (রাযিঃ) এর ঘরে রাত্রি যাপন করলাম। এরপর পূর্ণ ঘটনার বিবরণ দেন। এতে হাত-মুখ ধোয়ার কথা উল্লেখ করেননি। তবে বলেছেন, তারপর মশকের কাছে গিয়ে তার বাঁধন খুললেন এবং দুই উযুর মাঝামাঝি উযু করলেন। তারপর নিজের বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। দ্বিতীয়বার উঠে মশকের কাছে গেলেন এবং তার বাধন খুলে উযু করলেন ঐ উযুর মতই। আর তিনি আমাকে এতে বলেছেন, ″আমাকে বিরাট নূর দান করুন।″ এ বর্ণনায় ″আমাকে নূরে পরিণত করুন″ এ কথা উল্লেখ করেননি।

১৬৭০

وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَلْمَانَ الْحَجْرِيِّ، عَنْ عُقَيْلِ بْنِ خَالِدٍ، أَنَّ سَلَمَةَ بْنَ كُهَيْلٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ كُرَيْبًا حَدَّثَهُ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ بَاتَ لَيْلَةً عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْقِرْبَةِ فَسَكَبَ مِنْهَا فَتَوَضَّأَ وَلَمْ يُكْثِرْ مِنَ الْمَاءِ وَلَمْ يُقَصِّرْ فِي الْوُضُوءِ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَفِيهِ قَالَ وَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَتَئِذٍ تِسْعَ عَشْرَةَ كَلِمَةً . قَالَ سَلَمَةُ حَدَّثَنِيهَا كُرَيْبٌ فَحَفِظْتُ مِنْهَا ثِنْتَىْ عَشْرَةَ وَنَسِيتُ مَا بَقِيَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ اجْعَلْ لِي فِي قَلْبِي نُورًا وَفِي لِسَانِي نُورًا وَفِي سَمْعِي نُورًا وَفِي بَصَرِي نُورًا وَمِنْ فَوْقِي نُورًا وَمِنْ تَحْتِي نُورًا وَعَنْ يَمِينِي نُورًا وَعَنْ شِمَالِي نُورًا وَمِنْ بَيْنِ يَدَىَّ نُورًا وَمِنْ خَلْفِي نُورًا وَاجْعَلْ فِي نَفْسِي نُورًا وَأَعْظِمْ لِي نُورًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৭০। আবু তাহির (রাহঃ) ......... কুরায়ব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে রাত্রি যাপন করেন। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুম থেকে উঠে মশকের দিকে গেলেন এবং তা থেকে (পানি) ঢেলে উযু করলেন। পানি খুব বেশী ব্যবহার করেননি এবং উযুতেও কোন ক্রটি করেন নি। এরপর পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেন। আর এতে রয়েছে যে, তিনি বলেছেন, সে রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উনিশটি বাক্যের দ্বারা দুআ করলেন। সালামা (রাহঃ) বলেন, কুরায়ব (রাহঃ) আমাকে সেগুলোর বিবরণ দিয়েছিলেন, আমি তার বারোটি মুখস্ত রেখেছি এবং বাকীগুলো ভুলে গিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেনঃ

″হে আল্লাহ! আমার হৃদয়ে নূর দিয়ে দিন, আমার জিহ্বায় নূর, আমার কানে নূর, আমার চোখে নূর দিন, আমার উপরে নূর, আমার নীচে নূর, আমার ডানে নূর, আমার বামে নূর, আমার সামনে নূর এবং আমার পিছনে নূর দিন এবং আমার অন্তরে নূর প্রদান করুন এবং আমাকে বিরাট নূর দান করুন”।
১৬৭১

وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنِي شَرِيكُ بْنُ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ رَقَدْتُ فِي بَيْتِ مَيْمُونَةَ لَيْلَةَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عِنْدَهَا لأَنْظُرَ كَيْفَ صَلاَةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِاللَّيْلِ - قَالَ - فَتَحَدَّثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَعَ أَهْلِهِ سَاعَةً ثُمَّ رَقَدَ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَفِيهِ ثُمَّ قَامَ فَتَوَضَّأَ وَاسْتَنَّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৭১। আবু বকর ইবনে ইসহাক (রাহঃ) ......... আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মায়মুনা (রাযিঃ) এর কাছে অবস্থান করার রাতে আমি তাঁর (মায়মুনা) ঘরে রাত্রি যাপন করলাম যাতে নবী (ﷺ) এর রাতের নামায কেমন হয় তা আমি প্রত্যক্ষ করতে পারি। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, নবী (ﷺ) তাঁর পরিবারের সাথে কিছু সময় কথা বললেন। তারপর শুয়ে পড়লেন। এরপর তিনি পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এতে রয়েছে এরপর উঠে তিনি উযু করলেন ও মিসওয়াক করলেন।

১৬৭২

حَدَّثَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ رَقَدَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَيْقَظَ فَتَسَوَّكَ وَتَوَضَّأَ وَهُوَ يَقُولُ ( إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لأُولِي الأَلْبَابِ) فَقَرَأَ هَؤُلاَءِ الآيَاتِ حَتَّى خَتَمَ السُّورَةَ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَأَطَالَ فِيهِمَا الْقِيَامَ وَالرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ ثُمَّ انْصَرَفَ فَنَامَ حَتَّى نَفَخَ ثُمَّ فَعَلَ ذَلِكَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ سِتَّ رَكَعَاتٍ كُلَّ ذَلِكَ يَسْتَاكُ وَيَتَوَضَّأُ وَيَقْرَأُ هَؤُلاَءِ الآيَاتِ ثُمَّ أَوْتَرَ بِثَلاَثٍ فَأَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ فَخَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ وَهُوَ يَقُولُ " اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا وَفِي لِسَانِي نُورًا وَاجْعَلْ فِي سَمْعِي نُورًا وَاجْعَلْ فِي بَصَرِي نُورًا وَاجْعَلْ مِنْ خَلْفِي نُورًا وَمِنْ أَمَامِي نُورًا وَاجْعَلْ مِنْ فَوْقِي نُورًا وَمِنْ تَحْتِي نُورًا . اللَّهُمَّ أَعْطِنِي نُورًا "

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৭২। ওয়াসিল ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি (এক রাতে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে শয়ন করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জাগ্রত হয়ে মিসওয়াক করলেন ও ওযু করলেন। তখন তিনি পাঠ করছিলেনঃإِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لأُولِي الأَلْبَابِ (আকাশ মন্ডল ও সৃষ্টিতে দিন ও রাতের পরিবর্তনে নিদর্শনাবলী রয়েছে বোধশক্তি সম্পন্ন লোকদের জন্য, -- (আলে ইমরানঃ ১৯০) এই আয়াতগুলো থেকে সূরার শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে দু’ রাক’আত নামায আদায় করলেন এবং তাতে কিয়াম, রুকু ও সিজদা দীর্ঘায়িত করলেন। তা শেষ করে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি নাক ডাকতে লাগলেন। এভাবে তিনবারে তিনি ছয় রাকআত আদায় করলেন প্রতিবারে মিসওয়াক ও উযু করেন এবং ঐ আয়াতসমূহ পাঠ করেন। এরপর তিন রাক’আত বিতর আদায় করলেন। তখন মুয়াযযিন আযান দিলে তিনি নামাযের উদ্দেশ্যে বের হলেন। তিনি তখন বলছিলেন, ″হে আল্লাহ! দান করুন আমার ক্বলবে নূর, আমার জিহ্বায় নূর, আমার কানে নূর, আমার চোখে নূর, পিছনে নূর, সম্মুখে নূর, আমার উপরে নূর, আমার নীচে নূর, হে আল্লাহ! আমাকে নূর দিয়ে দিন।″

১৬৭৩

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بِتُّ ذَاتَ لَيْلَةٍ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مُتَطَوِّعًا مِنَ اللَّيْلِ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْقِرْبَةِ فَتَوَضَّأَ فَقَامَ فَصَلَّى فَقُمْتُ لَمَّا رَأَيْتُهُ صَنَعَ ذَلِكَ فَتَوَضَّأْتُ مِنَ الْقِرْبَةِ ثُمَّ قُمْتُ إِلَى شِقِّهِ الأَيْسَرِ فَأَخَذَ بِيَدِي مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِهِ يَعْدِلُنِي كَذَلِكَ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِهِ إِلَى الشِّقِّ الأَيْمَنِ . قُلْتُ أَفِي التَّطَوُّعِ كَانَ ذَلِكَ قَالَ نَعَمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৭৩। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মুনার কাছে এক রাত যাপন করলাম। নবী (ﷺ) সে রাতের নফল নামাযের জন্য উঠলেন। নবী (ﷺ) মশকের কাছে গিয়ে উযু করলেন। এরপর দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে লাগলেন, যখন তাকে ঐ সব করতে দেখলাম আমিও উঠলাম এবং মশক থেকে (পানি নিয়ে) উযু করলাম। এর পরে তাঁর বামপাশে দাড়ালাম। তিনি তখন তার পিছন দিয়ে আমাকে ডানপাশে নিয়ে এলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম তা কি নফল নামাযে ছিল? ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, হ্যাঁ।

১৬৭৪

وَحَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ قَيْسَ بْنَ سَعْدٍ، يُحَدِّثُ عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بَعَثَنِي الْعَبَّاسُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي بَيْتِ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَبِتُّ مَعَهُ تِلْكَ اللَّيْلَةَ فَقَامَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَتَنَاوَلَنِي مِنْ خَلْفِ ظَهْرِهِ فَجَعَلَنِي عَلَى يَمِينِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৭৪। হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ ও মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্বাস (রাযিঃ) আমাকে নবী (ﷺ) এর কাছে পাঠালেন, তিনি তখন আমার খালা মায়মুনা (রাযিঃ) এর ঘরে ছিলেন। সে রাতে আমি তাঁর সঙ্গে থাকলাম। রাতের এক অংশে উঠে তিনি নামায আদায় করতে লাগলেন। আমি তাঁর বামপাশে দাঁড়ালাম। তিনি নিজের পিঠের পিছন থেকে আমাকে ধরে তাঁর ডানপাশে বের করে দিলেন।

১৬৭৫

وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بِتُّ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ . نَحْوَ حَدِيثِ ابْنِ جُرَيْجٍ وَقَيْسِ بْنِ سَعْدٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৭৫। ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খালা মায়মুনা (রাযিঃ) এর কাছে আমি রাত যাপন করলাম...... (পরবতীঁ অংশ) ইবনে জুরায়জ (রাহঃ) এবং কায়স ইবনে সা’দ (রাহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ।

১৬৭৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৭৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে তেরো রাক’আত নামায আদায় করতেন।

১৬৭৭

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسِ بْنِ مَخْرَمَةَ، أَخْبَرَهُ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّهُ قَالَ لأَرْمُقَنَّ صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اللَّيْلَةَ فَصَلَّى . رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ طَوِيلَتَيْنِ طَوِيلَتَيْنِ طَوِيلَتَيْنِ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُمَا دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُمَا دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُمَا دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُمَا دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا ثُمَّ أَوْتَرَ فَذَلِكَ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাঃ)

১৬৭৭। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... যায়দ ইবনে খালিদ আল জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আমি স্থির করলাম) আজ রাতে আমি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামাযের প্রতি লক্ষ্য রাখব। তিনি প্রথমে সংক্ষেপে দু’রাকআত নামায আদায় করলেন। তারপর দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ দু’রাকআত নামায আদায় করলেন, তারপর দু’রাকআত নামায আদায় করলেন যা তার পূর্ববর্তী রাকআতের চেয়ে কম। তারপর দু’ রাক’আত নামায আদায় করলেন যা তার পূর্ববর্তী দু’রাকআতের চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল। তারপর দু’ রাক’আত নামায আদায় করলেন যা ছিল পূর্ববর্তী দু’রাকআতের চেয়ে কম দীর্ঘ। তারপর বিতর আদায় করলেন। এই হল মোট তের রাকআত।

১৬৭৮

وَحَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَدَائِنِيُّ أَبُو جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَانْتَهَيْنَا إِلَى مَشْرَعَةٍ فَقَالَ " أَلاَ تُشْرِعُ يَا جَابِرُ " . قُلْتُ بَلَى - قَالَ - فَنَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَشْرَعْتُ - قَالَ - ثُمَّ ذَهَبَ لِحَاجَتِهِ وَوَضَعْتُ لَهُ وَضُوءًا - قَالَ - فَجَاءَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ خَالَفَ بَيْنَ طَرَفَيْهِ فَقُمْتُ خَلْفَهُ فَأَخَذَ بِأُذُنِي فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৬৭৮। হাজ্জাজ ইবনে শাইর (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা একটি (পানির) ঘাটে পৌহুলাম। নবী (ﷺ) বললে, জাবির! তুমি কি উটকে ঘাটে নামাবে না? আমি বললাম হ্যাঁ। জাবির (রাযিঃ) বলেন, তখন নবী (ﷺ) অবতরণ করলেন এবং আমি (উটকে) ঘাটে নামালাম। জাবির (রাযিঃ) বলেন, এরপর তিনি নিজের প্রাকৃতিক প্রয়োজনে (পেশাব করতে) গেলেন। আমি তার জন্য উযুর পানি ঠিক করে রাখলাম। জাবির (রাযিঃ) বলেন, তিনি এসে উযু করলেন, দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে লাগলেন। তখন তিনি এক কাপড় পরিহিত ছিলেন যার দু’প্রান্ত বিপরীত দিকে জড়িয়ে ছিলেন। আমি তাঁর পিছনে দাঁড়লাম। তিনি আমার হাতে ধরে তাঁর ডানপাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন।

১৬৭৯

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ جَمِيعًا عَنْ هُشَيْمٍ، - قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، - أَخْبَرَنَا أَبُو حُرَّةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ لِيُصَلِّيَ افْتَتَحَ صَلاَتَهُ بِرَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬৭৯। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া ও আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাযিঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে যখন নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে উঠতেন তখন সংক্ষিপ্ত দু’রাকআত দিয়ে তাঁর নামায আরম্ভ করতেন।

১৬৮০

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ فَلْيَفْتَتِحْ صَلاَتَهُ بِرَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৮০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যখন রাতে ওঠে, তখন সে যেন সংক্ষিপ্ত দু’রাকআত দিয়ে নামায শুরু করে।

১৬৮১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ، عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ " اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيَّامُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ أَنْتَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ الْحَقُّ وَقَوْلُكَ الْحَقُّ وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَأَخَّرْتُ وَأَسْرَرْتُ وَأَعْلَنْتُ أَنْتَ إِلَهِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৮১। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাঝরাতে যখন নামাযের উদ্দেশ্যে উঠতেন তখন (এ দুআ) বলতেনঃ ″হে আল্লাহ! আপনারই জন্য যাবর্তীয় প্রশংসা, আপনিই আসমান যমীনের নূর (জ্যোতি), আপনারই সকল প্রশংসা, আপনিই আসমান যমীনের রক্ষক, আপনারই জন্য সকল প্রশংসা, আপনি আসমান যমীনের মধ্যে যা কিছু রয়েছে সে সবের রব। আপনিই সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আপনার বাণী সত্য, আপনার সাক্ষাত সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ! আপনারই কাছে আত্মসমর্পণ করছি, আপনার প্রতি ঈমান স্থাপন করছি, আপনারই উপর ভরসা করছি, আপনারই দিকে প্রত্যাবর্তন করছি, আপনারই প্রদত্ত সত্য প্রমাণ নিয়ে দুশমনের মুকাবিলা করছি, আপনারই কাছে ফয়সালা ন্যস্ত করছি। তাই আমার যা কিছু পুর্বাপর এবং গোপন ও প্রকাশ্য, সে সকল ক্ষমা করুন। মা’বুদ আপনি ব্যতীত আমার কোন ইলাহ নেই।

১৬৮২

حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ وَابْنُ أَبِي عُمَرَ قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، كِلاَهُمَا عَنْ سُلَيْمَانَ الأَحْوَلِ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . أَمَّا حَدِيثُ ابْنِ جُرَيْجٍ فَاتَّفَقَ لَفْظُهُ مَعَ حَدِيثِ مَالِكٍ لَمْ يَخْتَلِفَا إِلاَّ فِي حَرْفَيْنِ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ مَكَانَ قَيَّامُ قَيِّمُ وَقَالَ وَمَا أَسْرَرْتُ وَأَمَّا حَدِيثُ ابْنِ عُيَيْنَةَ فَفِيهِ بَعْضُ زِيَادَةٍ وَيُخَالِفُ مَالِكًا وَابْنَ جُرَيْجٍ فِي أَحْرُفٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৮২। আমরুন নাকিদ, ইবনে নুমাইর, ইবনে আবু উমর ও মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তবে এ সনদে উর্ধ্বতন রাবী জুরায়জ (রাহঃ) এর হাদীসের শব্দ, ভাষা পূর্ববর্তী সনদের মালিক (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। শুধু দু’ টি শব্দে তাদের বর্ণনা ব্যবধান রয়েছে। মালিকের قَيَّامُ শব্দের স্থলে ইবনে জুরায়জ (রাহঃ) قَيِّمُ বলেছেন আর أَسْرَرْتُ স্থলে বলেছেন مَا أَسْرَرْتُ তবে ইবনে উয়াইনা (রাহঃ) এর হাদীসে কিছু অধিক বিবরণ রয়েছে এবং কয়েকটি শব্দে মালিক ও ইবনে জুরায়জ (রাহঃ) এর সাথে তাঁর বর্ণনায় বিরোধ রয়েছে।

১৬৮৩

وَحَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا مَهْدِيٌّ، - وَهُوَ ابْنُ مَيْمُونٍ - حَدَّثَنَا عِمْرَانُ، الْقَصِيرُ عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ وَاللَّفْظُ قَرِيبٌ مِنْ أَلْفَاظِهِمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৮৩। শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর শব্দ পূর্বোল্লিখিতগণের ভাষ্যের কাছাকাছি।

১৬৮৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، وَأَبُو مَعْنٍ الرَّقَاشِيُّ قَالُوا حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ بِأَىِّ شَىْءٍ كَانَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْتَتِحُ صَلاَتَهُ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ قَالَتْ كَانَ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ افْتَتَحَ صَلاَتَهُ " اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَافِيلَ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬৮৪। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম, আব্দ ইবনে হুমায়দ ও আবু মা’ন রাকাশী (রাহঃ) ......... আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মুল মু'মিনীন আয়িশা (রাযিঃ) কে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহর নবী রাতে যখন উঠতেন তখন কি দিয়ে (কোন দুআ পড়ে) তিনি তাঁর নামায আরম্ভ করতেন। তিনি বলেন, তিনি যখন রাতে উঠতেন তখন নামায শুরু করতেন

اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَافِيلَ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ

″হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মীকাইল ও ইসরাফিল (আলাইহিমুস সালাম) এর প্রতিপালক আসমানসমূহ ও যমীনের সৃজনকর্তা, অদৃশ্য ও দৃশ্যের জ্ঞাতা আপনিই মীমাংশা করবেন আপনার বান্দাদের মাঝে সে বিষয় যাতে তারা মতবিরোধ করছিল। আপনি আমাকে হিদায়াত ও সঠিক পথ প্রদর্শন করুন, সত্য ন্যায়ের বিপরীত বিষয়ে আপনার হুকুমে, আপনিই হিদায়াত করেন যাকে ইচ্ছা হয়, সরল পথের দিকে।″
১৬৮৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ، حَدَّثَنَا يُوسُفُ الْمَاجِشُونُ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عَبْدِ، الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ قَالَ " وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ اللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ . أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِي وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا إِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ وَاهْدِنِي لأَحْسَنِ الأَخْلاَقِ لاَ يَهْدِي لأَحْسَنِهَا إِلاَّ أَنْتَ وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا لاَ يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلاَّ أَنْتَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ " . وَإِذَا رَكَعَ قَالَ " اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ خَشَعَ لَكَ سَمْعِي وَبَصَرِي وَمُخِّي وَعَظْمِي وَعَصَبِي " . وَإِذَا رَفَعَ قَالَ " اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا بَيْنَهُمَا وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ " . وَإِذَا سَجَدَ قَالَ " اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَصَوَّرَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ تَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ " . ثُمَّ يَكُونُ مِنْ آخِرِ مَا يَقُولُ بَيْنَ التَّشَهُّدِ وَالتَّسْلِيمِ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَسْرَفْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৬৮৫। মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর আল মুকাদ্দামী (রাহঃ) ......... আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন বলতেনঃ

وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ اللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِي وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا إِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ وَاهْدِنِي لأَحْسَنِ الأَخْلاَقِ لاَ يَهْدِي لأَحْسَنِهَا إِلاَّ أَنْتَ وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا لاَ يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلاَّ أَنْتَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ

(হে আল্লাহ!) অভিমুখী করলাম একনিষ্ঠ হয়ে আমার চেহারা সে সত্তার দিকে যিনি আসমানসমূহ ও যমীনসমূহ সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার নামায, আমার ইবাদত ও কুরবানী এবং আমার হায়াত ও মাওত রাব্বূল আলামীন (বিশ্ব প্রতিপালক) আল্লাহর জন্য যার কোন শরীক নেই। আর আমি এ বিষয় আদিষ্ট হয়েছি এবং আমি মুসলমানদের একজন। হে আল্লাহ! আপনিই বাদশাহ, আপনি ব্যতীত ইলাহ নেই, আমার প্রতিপালক এবং আমি আপনার বান্দা। আমি নিজের উপর যুলুম করেছি এবং আমার অপরাধ আমি স্বীকার করছি। অতএব আমাকে আমার সব গুনাহ মাফে করে দিন। আপনি ব্যতীত আর কেউই তো ক্ষমাকারী নেই এবং আমাকে উত্তম চরিত্রের দিকে পরিচালিত করুন। আপনি ব্যতীত কেউ উত্তম চরিত্রের দিকে পরিচালিত করতে পারে না এবং মন্দ চরিত্র থেকে আমাকে দুরে নিন। মন্দ চরিত্রগুলো আপনি ব্যতীত কেউ আমা থেকে সরাতে পারে না। আপনার নিকটে আমি হাযির! আনুগত্য আপনারই জন্য নিবেদিত! সকল কল্যাণ আপনারই হাতে, অকল্যাণ আপনার প্রতি সম্পৃক্ত নয়। আমি আপনার উপর নির্ভরশীল এবং আপনার দিকেই রুজু হই। আপনি বরকতময়, আপনি মহামহিম, আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করছি, আপনার জন্য বিনীত। আমার কান, আমার চোখ, আমার অস্থি-মজ্জা এবং আমার শিরা-উপশিরা।

আর যখন রুকু থেকে উঠতেন তখন বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমাদের রব, আপনারই জন্য সকল প্রশংসা। হে আমাদের প্রতিপালক! আসমান সমুহের মধ্যবর্তি ও যমীন এবং দুয়ের মধ্যবর্তি আকাশভর্তি এবং এরপর আপনি যা কিছু ইচ্ছা করবেন তাও ভর্ভি।

আর তিনি যখন সিজদায় যেতেন তখন বলতেনঃ হে আল্লাহ! আপনারই জন্য সিজদা করছি। আপনার প্রতি ঈমান আনছি। আমার চেহারা সিজদাবনত সে সত্তার জন্য যিনি তা সৃষ্টি করেছেন, তার আকৃতি দান করেছেন, তার মধ্যে কান ও চোখ ফুটিয়েছেন, কতই মহান বরকতময় আল্লাহ সর্বোত্তম স্রষ্টা।

তারপর তাশাহহুদও সালামের মাঝে সর্বশেষ এ দুআ পাঠ করতেন। হে আল্লাহ! ক্ষমা করুন আমার পূর্ববর্তী গুনাহ এবং পরবর্তী গুনাহ এবং যা আমি গোপন করেছি ও যা আমি প্রকাশ্যে করেছি এবং যা আমি সীমালঙ্ঘন করেছি এবং সে সকল অপরাধ যা আপনি আমার চেয়ে অধিক অবগত। আপনি এগিয়ে দেওয়ার ও পিছিয়ে দেওয়ার মালিক। আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই।
১৬৮৬

وَحَدَّثَنَاهُ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ، إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا أَبُو النَّضْرِ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَمِّهِ، الْمَاجِشُونِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ عَنِ الأَعْرَجِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَفْتَحَ الصَّلاَةَ كَبَّرَ ثُمَّ قَالَ " وَجَّهْتُ وَجْهِي " . وَقَالَ " وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ " . وَقَالَ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ " . وَقَالَ " وَصَوَّرَهُ فَأَحْسَنَ صُوَرَهُ " . وَقَالَ وَإِذَا سَلَّمَ قَالَ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ " . إِلَى آخِرِ الْحَدِيثِ وَلَمْ يَقُلْ بَيْنَ التَّشَهُّدِ وَالتَّسْلِيمِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৬৮৬। যুহাইর ইবনে হারব এবং ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আ’রাজ (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। এতে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন নামায শুরু করতেন তখন তাকবীর বলার পরে তিনি বলতেন,

″আমি অভিমুখী করলাম আমার চেহারা, তিনি আরো বলেছেন, এবং আমি প্রথম মুসলমান।″ রাবী বলেছেন, রুকু থেকে মাথা তুলবার সময় তিনি বলতেন, আল্লাহ শুনেন তার কথা যে তার প্রশংসা করে। হে আমাদের রব! আর আপনার জন্য সকল প্রশংসা। তারপর বলেন, যখন সালাম করতেন তখন বলতেন, হে আল্লাহ! ক্ষমা করুন আমার পূর্ববর্তী গুনাহ এভাবে হাদীসের শেষ পর্যন্ত, এতে তিনি তাশাহ্‌হুদ ও সালামের মধ্যবর্তীর কথা উল্লেখ করেননি।

২১. রাতের নামাযে দীর্ঘ কিরা’আত পাঠ করা মুস্তাহাব

১৬৮৭

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ ح وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، جَمِيعًا عَنْ جَرِيرٍ، كُلُّهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ، نُمَيْرٍ - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ الأَحْنَفِ، عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَافْتَتَحَ الْبَقَرَةَ فَقُلْتُ يَرْكَعُ عِنْدَ الْمِائَةِ . ثُمَّ مَضَى فَقُلْتُ يُصَلِّي بِهَا فِي رَكْعَةٍ فَمَضَى فَقُلْتُ يَرْكَعُ بِهَا . ثُمَّ افْتَتَحَ النِّسَاءَ فَقَرَأَهَا ثُمَّ افْتَتَحَ آلَ عِمْرَانَ فَقَرَأَهَا يَقْرَأُ مُتَرَسِّلاً إِذَا مَرَّ بِآيَةٍ فِيهَا تَسْبِيحٌ سَبَّحَ وَإِذَا مَرَّ بِسُؤَالٍ سَأَلَ وَإِذَا مَرَّ بِتَعَوُّذٍ تَعَوَّذَ ثُمَّ رَكَعَ فَجَعَلَ يَقُولُ " سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ " . فَكَانَ رُكُوعُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ ثُمَّ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . ثُمَّ قَامَ طَوِيلاً قَرِيبًا مِمَّا رَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ فَقَالَ " سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى " . فَكَانَ سُجُودُهُ قَرِيبًا مِنْ قِيَامِهِ . قَالَ وَفِي حَدِيثِ جَرِيرٍ مِنَ الزِّيَادَةِ فَقَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ" .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

১৬৮৭। আবু বকর ইবনে শায়বা, যুহাইর ইবনে হারব, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম, ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এক রাতে আমি নবী (ﷺ) এর সঙ্গে নামায আদায় করছিলাম। তিনি সূরা বাকারা শুরু করলেন, আমি মনে করলাম সম্ভবত একশত আয়াতের মাথায় রুকু করবেন। কিন্তু তিনি অগ্রসর হয়ে গেলেন। তখন আমি ভাবলাম, তিনি সূরা বাকারা দিয়ে নামায পূর্ণ করবেন। কিন্তু তিনি সূরা নিসা আরম্ভ করলেন এবং তাও পড়ে আলে ইমরান শুরু করে তাও পড়ে ফেললেন। তিনি ধীর-স্থিরতার সাথে পাঠ করে যাচ্ছিলেন। যখন তাসবীহ যুক্ত কোন আয়াতে উপনীত হতেন তখন তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করতেন এবং যখন প্রার্থনার কোন আয়াতে উপনীত হতেন তখন তিনি প্রার্থনা করে নিতেন। আর যখন (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় গ্রহণের আয়াতে পৌছতেন তখন (আল্লাহর কাছে) পানাহ চাইতেন।

তারপর রুকু করলেন এবং রুকুতেسُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ (আমার মহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি), বলতে থাকেন। তার রুকু ছিল প্রায় তার দাঁড়ানোর সমান (দীর্ঘ)। এরপর বললেন,سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ (যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তা শোনেন)। তারপর দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন রুকুতে যতক্ষণ ছিলেন তার কাছাকাছি। তারপর সিজদা করলেন এবংسُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى (আমার সুমহান প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি), বললেন। তাঁর সিজদার পরিমাণ ছিল তার দাঁড়ানোর কাছাকাছি। বর্ণনাকারী বলেন, জারীর (রাহঃ) এর হাদীসে অতিরিক্ত রয়েছে যে, নবী (ﷺ) বললেন,سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ (যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে, তিনি তা শোনেন আমাদের প্রতিপালক! আপনারই জন্য সকল প্রশংসা)।
১৬৮৮

وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، كِلاَهُمَا عَنْ جَرِيرٍ، - قَالَ عُثْمَانُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَطَالَ حَتَّى هَمَمْتُ بِأَمْرِ سَوْءٍ قَالَ قِيلَ وَمَا هَمَمْتَ بِهِ قَالَ هَمَمْتُ أَنْ أَجْلِسَ وَأَدَعَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৬৮৮। উসমান ইবনে আবি শাঈবা ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু ওয়াইল (রাহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে (রাতের) নামায আদায় করছিলাম। তিনি এত দীর্ঘ করলেন যে, আমার মন্দ ইচ্ছা উদিত হচ্ছিল। বর্ণনাকারী আবু ওয়াইল (রাহঃ) বলেন, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, কি মন্দ ইচ্ছা উদিত হচ্ছিল? তিনি বললেন, ″আমি ইচ্ছা করছিলাম যে, আমি বসে পড়ব এবং তাঁকে (তাঁর ইক্তিদা) ছেড়ে দেব।″

১৬৮৯

وَحَدَّثَنَاهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ الْخَلِيلِ، وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৬৮৯। ইসমাঈল ইবনে খলিল ও সুওয়ায়দ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আ’মাশ (রাহঃ) সূত্রে পুর্বোক্ত সনদের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

২২. তাহাজ্জুদের নামাযের প্রতি উৎসাহ দান যদিও তা পরিমাণে স্বল্প হয়

১৬৯০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ، قَالَ عُثْمَانُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ ذُكِرَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ نَامَ لَيْلَةً حَتَّى أَصْبَحَ قَالَ " ذَاكَ رَجُلٌ بَالَ الشَّيْطَانُ فِي أُذُنَيْهِ " . أَوْ قَالَ " فِي أُذُنِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৬৯০। উসমান ইবনে আবি শাঈবা ও ইসহাক (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এমন একজন লোকের কথা আলোচনা করা হল যে ভোর পর্যন্ত রাতভর ঘুমিয়ে থাকে। নবী (ﷺ) বললেন, ও এমন ব্যক্তি যার দু’ কানে শয়তান পেশাব করে দিয়েছে অথবা বললেন, তার কানে।

১৬৯১

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، أَنَّ الْحُسَيْنَ بْنَ عَلِيٍّ، حَدَّثَهُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم طَرَقَهُ وَفَاطِمَةَ فَقَالَ " أَلاَ تُصَلُّونَ " . فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا أَنْفُسُنَا بِيَدِ اللَّهِ فَإِذَا شَاءَ أَنْ يَبْعَثَنَا بَعَثَنَا . فَانْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ قُلْتُ لَهُ ذَلِكَ ثُمَّ سَمِعْتُهُ وَهُوَ مُدْبِرٌ يَضْرِبُ فَخِذَهُ وَيَقُولُ " وَكَانَ الإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَىْءٍ جَدَلاً " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৬৯১। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী(ﷺ) রাত্রের বেলা তাঁর ও ফাতিমা (রাযিঃ) এর গৃহে আসলেন এবং বললেন, তোমরা কি নামায (তাহাজ্জুদ) আদায় করছ না? [আলী (রাযিঃ) বলেন] আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের আত্মা আল্লাহর কবজায়, তাই তিনি যখন আমাদের উঠাবার ইচ্ছা করেন, তখন উঠান। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে চলে গেলেন, যখন আমি তাকে এ কথা বলি। আর তার একার যাওয়ার সময় আমি শুনতে পেলাম তিনি নিজের রানে হাত মারছেন এবং বলছেন,وَكَانَ الإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَىْءٍ جَدَلاً ″মানুষ অধিকংশ ব্যাপারেই বিতর্ক প্রিয়″ (সূরা কাহফঃ ৫৪)

১৬৯২

حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ عَمْرٌو حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم " يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ ثَلاَثَ عُقَدٍ إِذَا نَامَ بِكُلِّ عُقْدَةٍ يَضْرِبُ عَلَيْكَ لَيْلاً طَوِيلاً فَإِذَا اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ وَإِذَا تَوَضَّأَ انْحَلَّتْ عُقْدَتَانِ فَإِذَا صَلَّى انْحَلَّتِ الْعُقَدُ فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ وَإِلاَّ أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلاَنَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৯২। আমরুন নাকিদ ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি হাদীসটি নবী (ﷺ) পর্যন্ত পৌছিয়েছেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, শয়তান তোমাদের প্রত্যেকের মাথার তিনটি গিট দেয়- যখন সে ঘুমিয়ে পড়ে। প্রতি গিটে এই বলে ফুঁ দেয় যে, তোমার সামনে দীর্ঘ রাত...... সে যখন জেগে উঠে আল্লাহর নাম নেয় তখন একটি গিঁট খুলে যায় যখন উযু করে তখন দু’টি গিট খুলে যায়। আর যখন নামায আদায় করে তখন সবকটি গিটই খুলে যায়। ফলে সে উৎফুল্ল ও আনন্দিত মনে ভোর করে। অন্যথায় সে ভোর করে বিমর্ষ মনে ও আলসে অবস্থায়।

২৩. নফল নামায নিজের ঘরে আদায় করা মুস্তাহাব, মসজিদে আদায় করাও জায়েয

باب اسْتِحْبَابِ صَلاَةِ النَّافِلَةِ فِي بَيْتِهِ وَجَوَازِهَا فِي الْمَسْجِدِ

১৬৯৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ، عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اجْعَلُوا مِنْ صَلاَتِكُمْ فِي بُيُوتِكُمْ وَلاَ تَتَّخِذُوهَا قُبُورًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬৯৩। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলন, তোমাদের নামাযের কিছু অংশ তোমাদের ঘরে (আদায়ের জন্য) নির্ধারিত করবে এবং সে (ঘর) গুলোকে কবর বানাবে না।

১৬৯৪

وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلُّوا فِي بُيُوتِكُمْ وَلاَ تَتَّخِذُوهَا قُبُورًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬৯৪। ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা নিজেদের ঘরে নামায আদায় করবে এবং সেগুলোকে কবর বানিও না।

১৬৯৫

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا قَضَى أَحَدُكُمُ الصَّلاَةَ فِي مَسْجِدِهِ فَلْيَجْعَلْ لِبَيْتِهِ نَصِيبًا مِنْ صَلاَتِهِ فَإِنَّ اللَّهَ جَاعِلٌ فِي بَيْتِهِ مِنْ صَلاَتِهِ خَيْرًا " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৬৯৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন তার মসজিদের (ফরয) নামায সমাধা করে, তখন সে যেন তার ঘরের জন্য তার নামাযের একটি অংশ নির্দিষ্ট করে। কেননা, তার নামাযের কারণে আল্লাহ তার ঘরে বরকত দান করবেন।

১৬৯৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَرَّادٍ الأَشْعَرِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَثَلُ الْبَيْتِ الَّذِي يُذْكَرُ اللَّهُ فِيهِ وَالْبَيْتِ الَّذِي لاَ يُذْكَرُ اللَّهُ فِيهِ مَثَلُ الْحَىِّ وَالْمَيِّتِ " .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

১৬৯৬। আব্দুল্লাহ ইবনে বাররাদ আশ’আরী ও মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, যে ঘরে আল্লাহর যিক্‌র করা হয় এবং যে ঘরে আল্লাহর যিক্‌র করা হয় না, তার দৃষ্টান্ত জীবিত ও মৃতের।

১৬৯৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَارِيُّ - عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرَ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ مِنَ الْبَيْتِ الَّذِي تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৯৭। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের ঘরগুলোকে কবরস্থান বানিও না। যে ঘরে সূরা বাকারা পাঠ করা হয় শয়তান সে ঘর থেকে পলায়ন করে।

১৬৯৮

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سَالِمٌ أَبُو النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ احْتَجَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حُجَيْرَةً بِخَصَفَةٍ أَوْ حَصِيرٍ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِيهَا - قَالَ - فَتَتَبَّعَ إِلَيْهِ رِجَالٌ وَجَاءُوا يُصَلُّونَ بِصَلاَتِهِ - قَالَ - ثُمَّ جَاءُوا لَيْلَةً فَحَضَرُوا وَأَبْطَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْهُمْ - قَالَ - فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ فَرَفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ وَحَصَبُوا الْبَابَ فَخَرَجَ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُغْضَبًا فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا زَالَ بِكُمْ صَنِيعُكُمْ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ سَيُكْتَبُ عَلَيْكُمْ فَعَلَيْكُمْ بِالصَّلاَةِ فِي بُيُوتِكُمْ فَإِنَّ خَيْرَ صَلاَةِ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلاَّ الصَّلاَةَ الْمَكْتُوبَةَ " .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

১৬৯৮। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি চাটাই কিংবা একটি মাদুর দিয়ে (মসজিদে) একটি ছোট্ট ″হুজরা″ তৈরী করলেন। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে সেখানে নামায আদায় করতে লাগলেন। রাবী বলেন, তখন কিছু লোক তাঁকে খোঁজ করে সেখানে সমবেত হল। তারা তার সঙ্গে নামায আদায় করার উদ্দেশ্যে এসেছিল। বর্ণনাকারী বলেন, পরে আর এক রাতে তারা এসে উপস্থিত হল, কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের কাছে বের হয়ে আসতে বিলম্ব করতে লাগলেন এবং তাদের কাছে বের হলেন না। তখন লোকেরা তাদের আওয়াজ উচু করল এবং (হুজরার) দরজায় কংকর মারল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রুষ্ট হয়ে তাদের কাছে বের হয়ে এলেন। তিনি তাদের বললেন, তোমাদের কর্ম তো তোমরা চালাতে থাকলে, এমন কি আমার ধারণা হল যে, তা (রাতের নামায) অচিরেই তোমাদের জন্য ফরয করে দেয়া হতে পারে। সুতরাং তোমরা তোমাদের বাড়ী ঘরে নামায আদায় করবে। কেননা, মানুষের সে নামাযই উত্তম, যা তার ঘরে আদায় করা হয়, তবে ফরয নামায ছাড়া।

১৬৯৯

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا النَّضْرِ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اتَّخَذَ حُجْرَةً فِي الْمَسْجِدِ مِنْ حَصِيرٍ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهَا لَيَالِيَ حَتَّى اجْتَمَعَ إِلَيْهِ نَاسٌ . فَذَكَرَ نَحْوَهُ وَزَادَ فِيهِ " وَلَوْ كُتِبَ عَلَيْكُمْ مَا قُمْتُمْ بِهِ " .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

১৬৯৯। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মাদূর দিয়ে মসজিদে একটি হুজরা তৈরী করেন এবং তিনি কয়েক রাত সেখানে নামায আদায় করেন। অবশেষে তাঁর কাছে কিছু লোক সমবেত হল। অতঃপর পূর্বানুরূপ উল্লেখ করেছেন। এ রিওয়ায়াতে অতিরিক্ত আছে, আর তোমাদের উপরে তা ফরয করে দেয়া হলে তোমরা তা পালন করতে না।

২৪. রাতের ইবাদত ও অন্যান্য ক্ষেত্রে স্থায়ী ও নিয়মিত আমলের ফযীলত

باب فَضِيلَةِ الْعَمَلِ الدَّائِمِ مِنْ قِيَامِ اللَّيْلِ وَغَيْرِهِ

১৭০০

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، - يَعْنِي الثَّقَفِيَّ - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَصِيرٌ وَكَانَ يُحَجِّرُهُ مِنَ اللَّيْلِ فَيُصَلِّي فِيهِ فَجَعَلَ النَّاسُ يُصَلُّونَ بِصَلاَتِهِ وَيَبْسُطُهُ بِالنَّهَارِ فَثَابُوا ذَاتَ لَيْلَةٍ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ عَلَيْكُمْ مِنَ الأَعْمَالِ مَا تُطِيقُونَ فَإِنَّ اللَّهَ لاَ يَمَلُّ حَتَّى تَمَلُّوا وَإِنَّ أَحَبَّ الأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ مَا دُووِمَ عَلَيْهِ وَإِنْ قَلَّ " . وَكَانَ آلُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم إِذَا عَمِلُوا عَمَلاً أَثْبَتُوهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭০০। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একটি মাদুর ছিল, যা দিয়ে রাতের বেলা তিনি ’হুজরা’ বানিয়ে নিতেন এবং সেখানে নামায আদায় করতেন। লোকেরা ও তাঁর নামাযের সঙ্গে (মুক্তাদী হয়ে) নামায আদায় করতে লাগল। আর দিনের বেলা তিনি সেটা বিছিয়ে দিতেন। এক রাতে তারা উদগ্রীবতার সাথে নামাযের জন্য ফিরে এলে নবী (ﷺ) তাদের বললেন, লোক সকল, তোমরা এমন আমল গ্রহণ করবে যদ্দুর করার তোমরা সামর্থ রাখ। কেননা, আল্লাহ নিশ্চয়ই (সাওয়াব দানে) ক্লান্তিবোধ করেন না, যাবৎ না তোমরাই ক্লান্ত হয়ে পড় (ও আমল ছেড়ে দাও)। আর আল্লাহর নিকট সমধিক প্রিয় আমল হল তাই, যা নিয়মিত করা হয়- যদিও তা কম হয়। আর (বর্ণনাকারী বলেন) মুহাম্মাদ (ﷺ) এর পরিবার পরিজন কোন আমল শুরু করলে তাকে তারা স্থায়ী রাখতেন।

১৭০১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَلَمَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ أَىُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ قَالَ " أَدْوَمُهُ وَإِنْ قَلَّ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭০১। মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ......... আবু সালামা (রাযিঃ) সূত্রে আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করা হল- আল্লাহর নিকটে সর্বাধিক পছন্দনীয় আমল কোনটি? তিনি বললেন, যা স্থায়ী হয়, যদিও তা (পরিমাণে) কম হয়।

১৭০২

وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ سَأَلْتُ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ عَائِشَةَ قَالَ قُلْتُ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ كَيْفَ كَانَ عَمَلُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَلْ كَانَ يَخُصُّ شَيْئًا مِنَ الأَيَّامِ قَالَتْ لاَ . كَانَ عَمَلُهُ دِيمَةً وَأَيُّكُمْ يَسْتَطِيعُ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتَطِيعُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭০২। যুহাইর ইবনে হারব ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আলকামা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম। ইবরাহীম (রাহঃ) বলেন, আমি বললাম, হে উম্মুল মু’মিনীন! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আমল কোন প্রকৃতির ছিল? তিনি কি নিজের জন্য কোন দিন বিশেষভাবে নির্ধারিত করতেন? তিনি বললেন, না; তার আমল ছিল নিয়মানুবর্তিতাসস্পন্ন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা করতে সামর্থ ছিলেন তোমাদের মাঝে কে তা করতে সমর্থ হবে?

১৭০৩

وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ، أَخْبَرَنِي الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَحَبُّ الأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى أَدْوَمُهَا وَإِنْ قَلَّ " . قَالَ وَكَانَتْ عَائِشَةُ إِذَا عَمِلَتِ الْعَمَلَ لَزِمَتْهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭০৩। ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তাআলার নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমল অধিক নিয়মানুবর্তিতাসস্পন্ন আমল যদিও তা স্বল্প হয়। আর আয়িশা (রাযিঃ) যখন কোন আমল শুরু করতেন তখন তাকে স্থায়িভাবে করতেন।

১৭০৪

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسْجِدَ وَحَبْلٌ مَمْدُودٌ بَيْنَ سَارِيَتَيْنِ فَقَالَ " مَا هَذَا " . قَالُوا لِزَيْنَبَ تُصَلِّي فَإِذَا كَسِلَتْ أَوْ فَتَرَتْ أَمْسَكَتْ بِهِ . فَقَالَ " حُلُّوهُ لِيُصَلِّ أَحَدُكُمْ نَشَاطَهُ فَإِذَا كَسِلَ أَوْ فَتَرَ قَعَدَ " . وَفِي حَدِيثِ زُهَيْرٍ " فَلْيَقْعُدْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৭০৪। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) এবং যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং তখন দুই থামের মাঝে একটি রশি টানানো ছিল। তা দেখতে পেয়ে তিনি বললেন এটি কি? তারা বলল যায়নাবের। সে নামায আদায় করতে থাকে। যখন অলসতা কিংবা দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভব করেন তখন ঐ রশির সাথে নিজেকে আটকে রাখেন। নবী (ﷺ) বললেন, ওটি খূলে দাও! তোমাদের যে কেউ তার উদ্যম ও স্ফুর্তি পরিমাণ নামায আদায় করবে। যখন অলসতা ও ক্লাড়ি অনুভব করবে, তখন বসে পড়বে। যুহাইর (রাহঃ) এর হাদীসে ’বসে পড়বে’ (قَعَدَ) স্থলে ’সে যেন বসে পড়ে’ (فَلْيَقْعُدْ) রয়েছে।

১৭০৫

وَحَدَّثَنَاهُ شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৭০৫। শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে হাদীসটি অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন।

১৭০৬

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ الْحَوْلاَءَ بِنْتَ تُوَيْتِ بْنِ حَبِيبِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى مَرَّتْ بِهَا وَعِنْدَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ هَذِهِ الْحَوْلاَءُ بِنْتُ تُوَيْتٍ وَزَعَمُوا أَنَّهَا لاَ تَنَامُ اللَّيْلَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَنَامُ اللَّيْلَ خُذُوا مِنَ الْعَمَلِ مَا تُطِيقُونَ فَوَاللَّهِ لاَ يَسْأَمُ اللَّهُ حَتَّى تَسْأَمُوا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭০৬। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া ও মুহাম্মাদ ইবনে সালামা মুরাদী (রাহঃ) ......... উরওয়া ইবনে যুবাইর (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনী আয়িশা (রাযিঃ) খবর দিয়েছেন যে, হাওলা বিনতে তুওয়ায়ত ইবনে হাবীব ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযা তাঁর (আয়িশা) নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন তার কাছে ছিলেন। (আয়িশা (রাযিঃ) বলেন) আমি বললাম, ″এ হচ্ছে হাওলা বিনতে তুওয়ায়ত, লোকেরা বলে যে, সে রাতে ঘুমায় না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন রাতে ঘুমায় না।″ .... এমন আমল তোমরা গ্রহণ কর যাতে তোমরা সমর্থ হবে। কেননা, আল্লাহ তো (সাওয়াব দানে) বিরক্ত হন না, যাবৎ তোমরাই বিরক্ত হয়ে আমল ছেড়ে দাও।

১৭০৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ، عُرْوَةَ ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعِنْدِي امْرَأَةٌ فَقَالَ " مَنْ هَذِهِ " . فَقُلْتُ امْرَأَةٌ لاَ تَنَامُ تُصَلِّي . قَالَ " عَلَيْكُمْ مِنَ الْعَمَلِ مَا تُطِيقُونَ فَوَاللَّهِ لاَ يَمَلُّ اللَّهُ حَتَّى تَمَلُّوا " . وَكَانَ أَحَبَّ الدِّينِ إِلَيْهِ مَا دَاوَمَ عَلَيْهِ صَاحِبُهُ وَفِي حَدِيثِ أَبِي أُسَامَةَ أَنَّهَا امْرَأَةٌ مِنْ بَنِي أَسَدٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭০৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আবু কুরায়ব এবং যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে আগমন করলেন, তখন আমার কাছে একটি স্ত্রীলোক ছিল। তিনি বললেন, এটি কে? আমি বললাম, এ এক নারী, যে রাতে ঘুমায় না, নামায আদায় করতে থাকে। তিনি বললেন, তোমরা এমন আমল গ্রহণ করবে যা পালনে তোমাদের সামর্থ্য রয়েছে। কেননা, আল্লাহর কসম! আল্লাহ তো (সাওয়াব দানে) ক্লান্ত বিরক্ত হবেন না, ততক্ষণে তোমরাই ক্লান্ত হয়ে পড়বে। আর আল্লাহর কাছে সর্বাধিক পছন্দনীয় দ্বীন ছিল যার পালনকারী তাতে নিয়মানূবর্তিতা রক্ষা করত। আবু উসামা (রাহঃ) (প্রথম সনদ) এর হাদীসে রয়েছে, সে ছিল বনু আসাদ গোত্রের এক নারী!

২৫. নামাযে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে কিংবা কুরআন তিলাওয়াত ও যিক্‌রে জিহ্বা জড়িয়ে যেতে লাগলে ঘুমিয়ে পড়া কিংবা বিশ্রাম নেয়ার আদেশ, যাতে তার তন্দ্রাভাব কেটে যায়

باب أَمْرِ مَنْ نَعَسَ فِي صَلاَتِهِ أَوِ اسْتَعْجَمَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ أَوِ الذِّكْرُ بِأَنْ يَرْقُدَ أَوْ يَقْعُدَ حَتَّى يَذْهَبَ عَنْهُ ذَلِكَ

১৭০৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، جَمِيعًا عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، بْنُ سَعِيدٍ - وَاللَّفْظُ لَهُ - عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلاَةِ فَلْيَرْقُدْ حَتَّى يَذْهَبَ عَنْهُ النَّوْمُ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا صَلَّى وَهُوَ نَاعِسٌ لَعَلَّهُ يَذْهَبُ يَسْتَغْفِرُ فَيَسُبُّ نَفْسَهُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭০৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, ইবনে নূমায়ার, আবু কুরায়ব এবং কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ নামাযে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে সে যেন শুয়ে পড়ে যাতে তার ঘুম চলে যায়। কেননা, তোমাদের কেউ যখন তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে নামায আদায় করবে তখন এমন হতে পারে যে, সে ইস্তিগফার ও ক্ষমা প্রার্থনা করতে চাইবে, অথচ সে নিজেকে গালি দিয়ে বসবে। (দুআ করতে গিয়ে বদ দুআ করে ফেলবে।)

১৭০৯

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ فَاسْتَعْجَمَ الْقُرْآنُ عَلَى لِسَانِهِ فَلَمْ يَدْرِ مَا يَقُولُ فَلْيَضْطَجِعْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৭০৯। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এটি হল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) আমাদের কাছে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন...... তিনি অনেক হাদীস উল্লেখ করেছেন, যার একটি এই, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন রাতে জেগে উঠে এবং কুরআন তার জিহ্বায় জড়িয়ে যেতে থাকে এবং কি বলছে তা বুঝতে পারে না, তখন সে যেন শুয়ে পড়ে।