كتاب الفتن وأشراط الساعة

৫৫- ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতের আলামতের বর্ণনা

অধ্যায় ৫৫ · ১৭৮ টি হাদীস

১. ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতের আলামতের বর্ণনাঃ
ফিতনা ও দুর্যোগসমূহ সন্নিকট হওয়া এবং ইয়াজুজ মাজুজের প্রাচীর খুলে দেয়া প্রসঙ্গে

كتاب الفتن وأشراط الساعة باب اقْتِرَابِ الْفِتَنِ وَفَتْحِ رَدْمِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ

৬৯৭১

حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ زَيْنَبَ، بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اسْتَيْقَظَ مِنْ نَوْمِهِ وَهُوَ يَقُولُ " لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ فُتِحَ الْيَوْمَ مِنْ رَدْمِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مِثْلُ هَذِهِ " . وَعَقَدَ سُفْيَانُ بِيَدِهِ عَشَرَةً . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَهْلِكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ قَالَ " نَعَمْ إِذَا كَثُرَ الْخَبَثُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন যায়নাব বিনতে জাহশ (রাঃ)

৬৯৭১। আমর নাকিদ (রাহঃ) ......... যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ (একদিন) নবী (ﷺ) ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন। এ সময়ে তিনি বললেনঃ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ নিকট ভবিষ্যতে সংঘটিত দুর্যোগে আরবরা ধংস হয়ে যাবে। আজ ইয়াজুজ-মাজুজের প্রাচীর এতটুকু পরিমাণ খুলে দেয়া হয়েছে। এ সময় সুফিয়ান (রাহঃ) এর হাত দ্বারা দশের চক্র বানালেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মধ্যে পুণ্যবান লোক থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধবংস হয়ে যাব? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ, যখন পাপাচার বেশী হবে।

১. ফিতনা ও দুর্যোগসমূহ সন্নিকট হওয়া এবং ইয়াজুজ মাজুজের প্রাচীর খুলে দেয়া প্রসঙ্গে

باب اقْتِرَابِ الْفِتَنِ وَفَتْحِ رَدْمِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ

৬৯৭২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَسَعِيدُ بْنُ عَمْرٍو الأَشْعَثِيُّ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَابْنُ، أَبِي عُمَرَ قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَزَادُوا فِي الإِسْنَادِ عَنْ سُفْيَانَ، فَقَالُوا عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ حَبِيبَةَ، عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ، .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৬৯৭২। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, সাঈদ ইবনে আমর আশআশী, যুহাইর ইবনে হারব ও ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... যুহরী (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে তারা সুফিয়ান থেকে বর্ণিত সনদেعَنْ سُفْيَانَ، فَقَالُوا عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ حَبِيبَةَ، عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ অধিক বর্ণনা করেছেন।

৬৯৭৩

حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ زَيْنَبَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ أَبِي سُفْيَانَ أَخْبَرَتْهَا أَنَّ زَيْنَبَ بِنْتَ جَحْشٍ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا فَزِعًا مُحْمَرًّا وَجْهُهُ يَقُولُ " لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ فُتِحَ الْيَوْمَ مِنْ رَدْمِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مِثْلُ هَذِهِ " . وَحَلَّقَ بِإِصْبَعِهِ الإِبْهَامِ وَالَّتِي تَلِيهَا . قَالَتْ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَهْلِكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ قَالَ " نَعَمْ إِذَا كَثُرَ الْخَبَثُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে হাবীবা (রাঃ)

৬৯৭৩। হারমালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... উম্মে হাবীবা বিনতে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) এর স্ত্রী যয়নাব বিনতে জাহশ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় বের হলেন। তখন তাঁর চেহারা মুবারক লাল বর্ণ হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলছিলেনঃ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ নিকট ভবিষ্যতে সংঘটিত দুর্যোগে আরবরা ধ্বংস হয়ে যাবে। আজ ইয়াজুজ মাজুজের প্রাচীর এতটুকু পরিমাণ খুলে গেছে। এ সময় তিনি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি ও শাহাদাত আঙ্গুলির দ্বারা চক্র বানালেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মধ্যে নেক লোক থাকা অবস্থায়ও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যখন পাপাচার বেশী হবে।

৬৯৭৪

وَحَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، حَدَّثَنِي عُقَيْلُ بْنُ، خَالِدٍ ح وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، كِلاَهُمَا عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِمِثْلِ حَدِيثِ يُونُسَ عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِإِسْنَادِهِ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৬৯৭৪। আব্দুল মালিক ইবনে শুআয়ব ইবনে লাঈস (রাহঃ) (অন্য সনদে) আমর নাকিদ (রাহঃ) ......... ইবনে শিহাব (রাহঃ) থেকে ইউনুস (রাহঃ) এর সূত্রে যুহরী (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৬৯৭৫

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ، اللَّهِ بْنُ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فُتِحَ الْيَوْمَ مِنْ رَدْمِ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مِثْلُ هَذِهِ " . وَعَقَدَ وُهَيْبٌ بِيَدِهِ تِسْعِينَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৯৭৫। আবু বকর ইবনে শায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আজ ইয়াজুজ ও মা’জুজের প্রাচীর এতটুকু পরিমাণ খুলে গেছে। এ সময় উহায়ব (রাহঃ) নব্বই (সংখ্যা) নির্দেশক বৃত্ত তৈরী করে দেখালেন।

২. যে বাহিনী (আল্লাহর) ঘরের উদ্দেশ্যে অভিযান করবে তাদের ধসিয়ে দেয়া হবে

باب الْخَسْفِ بِالْجَيْشِ الَّذِي يَؤُمُّ الْبَيْتَ

৬৯৭৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ - وَاللَّفْظُ لِقُتَيْبَةَ - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ ابْنِ الْقِبْطِيَّةِ، قَالَ دَخَلَ الْحَارِثُ بْنُ أَبِي رَبِيعَةَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَفْوَانَ وَأَنَا مَعَهُمَا، عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ فَسَأَلاَهَا عَنِ الْجَيْشِ الَّذِي يُخْسَفُ بِهِ وَكَانَ ذَلِكَ فِي أَيَّامِ ابْنِ الزُّبَيْرِ فَقَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَعُوذُ عَائِذٌ بِالْبَيْتِ فَيُبْعَثُ إِلَيْهِ بَعْثٌ فَإِذَا كَانُوا بِبَيْدَاءَ مِنَ الأَرْضِ خُسِفَ بِهِمْ " . فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ بِمَنْ كَانَ كَارِهًا قَالَ " يُخْسَفُ بِهِ مَعَهُمْ وَلَكِنَّهُ يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى نِيَّتِهِ " . وَقَالَ أَبُو جَعْفَرٍ هِيَ بَيْدَاءُ الْمَدِينَةِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৬৯৭৬। শুয়বা ইবনে সাঈদ, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... উবাইদুল্লাহ ইবনে কিবতিয়্যা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হারিস ইবনে আবু রাবীআ এবং আব্দুল্লাহ ইবনে সুফিয়ান (রাহঃ) উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর নিকট গেলেন। আমিও তাঁদের সাথে ছিলাম। তারা তাকে ঐ বাহিনী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, যাদের ভূমিতে ধসিয়ে দেয়া হবে। তখন ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) এর খিলাফতকাল ছিল। উত্তরে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জনৈক আশ্রয় গ্রহণকারী বায়তুল্লাহ শরীফে আশ্রয় গ্রহণ করবে। তখন তার বিরুদ্ধে একটি সেনাদল প্রেরণ করা হবে। তারা যখন বায়দায় (ময়দানে) অবস্থান নিবে তখন তাদের ভূমিতে ধ্বসিয়ে দেয়া হবে। এ কথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে এ কি করে প্রযোজ্য হতে পারে যে অসন্তুষ্ট চিত্তে এ অভিযানে শরীক হয়েছে? তিনি বললেন, তাদের সাথে তাকে সহ ধ্বসিয়ে দেয়া হবে। তবে কিয়ামতের দিন তার উত্থান হবে তার নিয়তের ভিত্তিতে। বর্ণনাকারী আবু জা’ফর (রাহঃ) বলেন, এ হল মদীনার বায়দা (যা যুল হুলাইফার সন্নিকটে অবস্থিত)।

৬৯৭৭

حَدَّثَنَاهُ أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ رُفَيْعٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَفِي حَدِيثِهِ قَالَ فَلَقِيتُ أَبَا جَعْفَرٍ فَقُلْتُ إِنَّهَا إِنَّمَا قَالَتْ بِبَيْدَاءَ مِنَ الأَرْضِ فَقَالَ أَبُو جَعْفَرٍ كَلاَّ وَاللَّهِ إِنَّهَا لَبَيْدَاءُ الْمَدِينَةِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল আযীয ইবনে রূফাঈ (রহঃ)

৬৯৭৭। আহমাদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... আব্দুল আযীয ইবনে রুফায় (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে আছে, আমি আবু জাফর (রাহঃ) এর সাথে সাক্ষাত করে বললাম, উম্মে সালামা (রাযিঃ) তো কোন এক বায়দার (ময়দানের) কথা বলেছেন। আবু জাফর বললেন, কখনো নয়, আল্লাহর কসম! তা অবশ্যই মদীনার বায়দা (ময়দান)।

৬৯৭৮

حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، - وَاللَّفْظُ لِعَمْرٍو - قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ، عُيَيْنَةَ عَنْ أُمَيَّةَ بْنِ صَفْوَانَ، سَمِعَ جَدَّهُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ صَفْوَانَ، يَقُولُ أَخْبَرَتْنِي حَفْصَةُ، أَنَّهَا سَمِعَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَيَؤُمَّنَّ هَذَا الْبَيْتَ جَيْشٌ يَغْزُونَهُ حَتَّى إِذَا كَانُوا بِبَيْدَاءَ مِنَ الأَرْضِ يُخْسَفُ بِأَوْسَطِهِمْ وَيُنَادِي أَوَّلُهُمْ آخِرَهُمْ ثُمَّ يُخْسَفُ بِهِمْ فَلاَ يَبْقَى إِلاَّ الشَّرِيدُ الَّذِي يُخْبِرُ عَنْهُمْ " . فَقَالَ رَجُلٌ أَشْهَدُ عَلَيْكَ أَنَّكَ لَمْ تَكْذِبْ عَلَى حَفْصَةَ وَأَشْهَدُ عَلَى حَفْصَةَ أَنَّهَا لَمْ تَكْذِبْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

৬৯৭৮। আমর নাকিদ ও ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে সাফওয়ান (রাহঃ) হাফসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছি, একটি সৈন্যদল এ (আল্লাহর) ঘরের বিরুদ্ধে লড়াই করার উদ্দেশ্যে আগমন করবে। অতঃপর তারা যখন এ ভূমির এক বায়দায় (ময়দানে) পদার্পণ করবে তখন তাদের মাঝের অংশটি ভূমিতে ধসিয়ে দেয়া হবে। এ সময় অগ্রভাগের সৈন্যরা পেছনের সৈন্যদেরকে চিৎকার করে ডাকতে থাকবে। অতঃপর সকলকেই ভূমিতে ধসিয়ে দেয়া হবে। পালিয়ে যাওয়া একটি লোক ব্যতীত তাদের কেউ আর অবশিষ্ট থাকবে না। সে-ই তাদের সম্পর্কে অন্যদেরকে সংবাদ দিবে। এ কথা শুনে এক ব্যক্তি বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি (আব্দুল্লাহ) হাফসা (রাযিঃ) এর উপর মিথ্যা আরোপ করেন নি এবং হাফসা (রাযিঃ) এর ব্যাপারেও আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনিও নবী (ﷺ) এর উপর মিথ্যা আরোপ করেননি।

৬৯৭৯

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ، عَمْرٍو حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ الْعَامِرِيِّ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَفْوَانَ، عَنْ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " سَيَعُوذُ بِهَذَا الْبَيْتِ - يَعْنِي الْكَعْبَةَ - قَوْمٌ لَيْسَتْ لَهُمْ مَنَعَةٌ وَلاَ عَدَدٌ وَلاَ عُدَّةٌ يُبْعَثُ إِلَيْهِمْ جَيْشٌ حَتَّى إِذَا كَانُوا بِبَيْدَاءَ مِنَ الأَرْضِ خُسِفَ بِهِمْ " . قَالَ يُوسُفُ وَأَهْلُ الشَّأْمِ يَوْمَئِذٍ يَسِيرُونَ إِلَى مَكَّةَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَفْوَانَ أَمَا وَاللَّهِ مَا هُوَ بِهَذَا الْجَيْشِ . قَالَ زَيْدٌ وَحَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ الْعَامِرِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ، عَنِ الْحَارِثِ، بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ عَنْ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، . بِمِثْلِ حَدِيثِ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكٍ غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ فِيهِ الْجَيْشَ الَّذِي ذَكَرَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَفْوَانَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

৬৯৭৯। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম ইবনে মায়মুন (রাহঃ) ......... উম্মুল মু'মিনীন [হাফসা অথবা আয়িশা (রাযিঃ)] থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এমন সম্প্রদায় এ গৃহ তথা কাবার দায়িত্ব গ্রহণ করবে, যাদের প্রতিরোধ শক্তি থাকবে না, থাকবে না তাদের উল্লেখযোগ্য সৈন্য সংখ্যা এবং থাকবে না তাদের আসবাব সামগ্রী। তাদের বিরুদ্ধে একটি সৈন্যদল প্রেরণ করা হবে। তারা উদ্ভিদশূন্য এক ময়দানে আসতেই তাদেরকে ভূমিতে ধ্বসিয়ে দেয়া হবে। বর্ণনাকারী ইউসুফ (রাহঃ) বলেন, এ সময় সিরিয়াবাসীরা মক্কাবাসীদের সাথে লড়াই করার জন্য আসছিল। আব্দুল্লাহ ইবনে সাফওয়ান (রাহঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! তারা এ সৈন্যবেহিনী নয়। বর্ণনাকারী যায়দ (রাহঃ) উম্মুল মু'মিনীন থেকে ইউসুফ ইবনে মাহাকের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে আব্দুল্লাহ ইবনে সাফওয়ান (রাহঃ) যে বাহিনীর কথা উল্লেখ করেছেন তিনি সে বাহিনীর কথা উল্লেখ করেননি।

৬৯৮০

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ، الْحُدَّانِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ عَبِثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَنَامِهِ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ صَنَعْتَ شَيْئًا فِي مَنَامِكَ لَمْ تَكُنْ تَفْعَلُهُ . فَقَالَ " الْعَجَبُ إِنَّ نَاسًا مِنْ أُمَّتِي يَؤُمُّونَ بِالْبَيْتِ بِرَجُلٍ مِنْ قُرَيْشٍ قَدْ لَجَأَ بِالْبَيْتِ حَتَّى إِذَا كَانُوا بِالْبَيْدَاءِ خُسِفَ بِهِمْ " . فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الطَّرِيقَ قَدْ يَجْمَعُ النَّاسَ . قَالَ " نَعَمْ فِيهِمُ الْمُسْتَبْصِرُ وَالْمَجْبُورُ وَابْنُ السَّبِيلِ يَهْلِكُونَ مَهْلَكًا وَاحِدًا وَيَصْدُرُونَ مَصَادِرَ شَتَّى يَبْعَثُهُمُ اللَّهُ عَلَى نِيَّاتِهِمْ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৯৮০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার হাত পা নাড়ালেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! (আজ রাতে) ঘুমন্ত অবস্থায় আপনি এমন আচরণ করেছেন, যা পূর্বে আপনি কখনো করেননি। তিনি বললেনঃ আশ্চর্য ব্যাপার এই যে, কুরাইশ বংশীয় এক ব্যক্তি বায়তুল্লাহ শরীফে আশ্রয় গ্রহণ করবে। তার কারণে আমার উম্মতের একদল লোক বায়তুল্লাহর উপর আক্রমণের ইচ্ছা করবে। তারা রওয়ানা হয়ে উদ্ভিদশূন্য ময়দানে আসতেই তাদেরকে সহ ভূমি ধ্বসিয়ে দেয়া হরে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! বিভিন্ন রকমের মানুষই তো রাস্তা দিয়ে চলে। জবাবে তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তাদের মধ্যে কেউ তো সেচ্ছায় আগমনকারী, কেউ অপারগ, আবার কেউ পথিক মুসাফির। তারা সকলে এক সাথেই ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে তাদের উত্থান হবে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তাদের নিয়তের ভিত্তিতে উত্থিত করবেন।

৩. বৃষ্টির ন্যায় দুর্যোগ নেমে আসা

باب نُزُولِ الْفِتَنِ كَمَوَاقِعِ الْقَطْرِ

৬৯৮১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ أَبِي شَيْبَةَ - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أُسَامَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَشْرَفَ عَلَى أُطُمٍ مِنْ آطَامِ الْمَدِينَةِ ثُمَّ قَالَ " هَلْ تَرَوْنَ مَا أَرَى إِنِّي لأَرَى مَوَاقِعَ الْفِتَنِ خِلاَلَ بُيُوتِكُمْ كَمَوَاقِعِ الْقَطْرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

৬৯৮১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আমর নাকিদ, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... উসামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা নবী (ﷺ) মদীনার সুউচ্চ এক দালানের উপর আরোহণ করে বললেন, আমি যা কিছু দেখছি তোমরা কি তা দেখছ? আমি তোমাদের গৃহের অভ্যন্তরে বৃষ্টি বর্ষণের ন্যায় বিপদাপদ পতিত হবার স্থানসমূহ দেখতে পাচ্ছি।

৬৯৮২

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৬৯৮২। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... যুহুরী (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।

৬৯৮৩

حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَالْحَسَنُ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ عَبْدٌ أَخْبَرَنِي وَقَالَ، الآخَرَانِ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ، شِهَابٍ حَدَّثَنِي ابْنُ الْمُسَيَّبِ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " سَتَكُونُ فِتَنٌ الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْقَائِمِ وَالْقَائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي مَنْ تَشَرَّفَ لَهَا تَسْتَشْرِفُهُ وَمَنْ وَجَدَ فِيهَا مَلْجَأً فَلْيَعُذْ بِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৯৮৩। আমর নাকিদ, হাসান আল হুলওয়ানি ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শীঘ্রই এমন ফিতনা দেখা দিবে, যখন বসে থাকা ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তি হতে ভাল থাকবে। আর দাঁড়ানো ব্যক্তি তখন চলমান ব্যক্তি হতে ভাল থাকবে। আর চলমান ব্যক্তি তখন দ্রুতগামী ব্যক্তি থেকে ভাল থাকবে। যে ফিতনায় লিপ্ত হবে তাকে সে ফিতনা ধ্বংস করে দিবে। আর যে তখন কোন আশ্রয়স্থল পাবে, সে যেন সেখানে আশ্রয় নেয়।

৬৯৮৪

حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَالْحَسَنُ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ عَبْدٌ أَخْبَرَنِي وَقَالَ، الآخَرَانِ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُطِيعِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ نَوْفَلِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، . مِثْلَ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ هَذَا إِلاَّ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، يَزِيدُ " مِنَ الصَّلاَةِ صَلاَةٌ مَنْ فَاتَتْهُ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ " .

বর্ণনাকারী: নাওফাল ইবনে মুআবিয়া (রাঃ)

৬৯৮৪। আমর নাকিদ, হাসান আল হুলওয়ানি ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... নাওফাল ইবনে মুআবিয়া (রাযিঃ) থেকে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর এ হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে (রাবী) আবু বকর (রাহঃ) তার রিওয়ায়াতে অধিক বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, নামাযের মধ্যে এমন এক নামায যে, যার তা ছুটে গেল তার যেন পরিবার পরিজন এবং সমুদয় ধন-সম্পদ ধ্বংস করে দেয়া হল।

৬৯৮৫

حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " تَكُونُ فِتْنَةٌ النَّائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْيَقْظَانِ وَالْيَقْظَانُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْقَائِمِ وَالْقَائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي فَمَنْ وَجَدَ مَلْجَأً أَوْ مَعَاذًا فَلْيَسْتَعِذْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৯৮৫। ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, অচিরেই ফিতনা দেখা দিবে। তখন ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত ব্যক্তি থেকে ভাল থাকবে। আর জাগ্রত ব্যক্তি তখন দাঁড়ান ব্যক্তি থেকে ভাল থাকবে। এবং দাঁড়ান ব্যক্তি দ্রুতগামী ব্যক্তি হতে তখন ভাল থাকবে। তখন যদি কোন ব্যক্তি আশ্রয়স্থল অথবা রক্ষাস্থান পায় তবে সে যেন আশ্রয় গ্রহণ করে।

৬৯৮৬

حَدَّثَنِي أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، الشَّحَّامُ قَالَ انْطَلَقْتُ أَنَا وَفَرْقَدٌ السَّبَخِيُّ، إِلَى مُسْلِمِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ وَهُوَ فِي أَرْضِهِ فَدَخَلْنَا عَلَيْهِ فَقُلْنَا هَلْ سَمِعْتَ أَبَاكَ يُحَدِّثُ فِي الْفِتَنِ حَدِيثًا قَالَ نَعَمْ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرَةَ يُحَدِّثُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهَا سَتَكُونُ فِتَنٌ أَلاَ ثُمَّ تَكُونُ فِتْنَةٌ الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي فِيهَا وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي إِلَيْهَا أَلاَ فَإِذَا نَزَلَتْ أَوْ وَقَعَتْ فَمَنْ كَانَ لَهُ إِبِلٌ فَلْيَلْحَقْ بِإِبِلِهِ وَمَنْ كَانَتْ لَهُ غَنَمٌ فَلْيَلْحَقْ بِغَنَمِهِ وَمَنْ كَانَتْ لَهُ أَرْضٌ فَلْيَلْحَقْ بِأَرْضِهِ " . قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ مَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ إِبِلٌ وَلاَ غَنَمٌ وَلاَ أَرْضٌ قَالَ " يَعْمِدُ إِلَى سَيْفِهِ فَيَدُقُّ عَلَى حَدِّهِ بِحَجَرٍ ثُمَّ لْيَنْجُ إِنِ اسْتَطَاعَ النَّجَاءَ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ " . قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ أُكْرِهْتُ حَتَّى يُنْطَلَقَ بِي إِلَى أَحَدِ الصَّفَّيْنِ أَوْ إِحْدَى الْفِئَتَيْنِ فَضَرَبَنِي رَجُلٌ بِسَيْفِهِ أَوْ يَجِيءُ سَهْمٌ فَيَقْتُلُنِي قَالَ " يَبُوءُ بِإِثْمِهِ وَإِثْمِكَ وَيَكُونُ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৬৯৮৬। আবু কামিল জাহদারী ফুযায়ল ইবনে হুসাইন (রাহঃ) ......... উসমান আশ-শাহহাম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসলিম ইবনে আবু বাকরা (রাহঃ) তার ভূমিতে ছিলেন। এমতাবস্থায় আমি ও ফারকাদ সাবাখী তার নিকট গেলাম। এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি আপনার আব্বাকে ফিতনা সম্পর্কে কোন হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছেন? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি আবু বাকরা (রাযিঃ) কে এ কথা বর্ণনা করতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই ফিতনা দেখা দিবে। সাবধান, আবার ফিতনা দেখা দিবে। তখন বসে থাকা ব্যক্তি চলমান ব্যক্তি থেকে ভাল থাকবে। আর চলমান ব্যক্তি তখন দ্রুতগামী ব্যক্তি হতে ভাল থাকবে। সাবধান যখন ফিতনা আপতিত হবে অথবা সংঘটিত হবে, এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি উটের মালিক সে তার উট নিয়ে ব্যস্ত থাকুক। আর যার বকরী আছে সে তার বকরী নিয়ে ব্যস্ত থাকুক এবং যার যমীন আছে সে তার যমীন নিয়ে ব্যস্ত থাকুক।

তখন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! বলে দিন যার উট, বকরী ও যমীন নেই, সে কি করবে? উত্তরে তিনি বললেন, সে তার তরবারি হাতে নিয়ে প্রস্তরাঘাতে তার ধারাল তীক্ষ্ণ অংশ চুর্ণ করে ফেলবে। অতঃপর সে রক্ষা পেতে সক্ষম হলে রক্ষা লাভ করবে। অতঃপর তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি কি পৌছিয়ে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌছিয়ে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌছিয়ে দিয়েছি?

এ সময় জনৈক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! যদি চাপ সৃষ্টি করে দুই সারির কোন একটিতে অথবা দুই দলের কোন এক দলে আমাকে নিয়ে যায় আর কোন এক ব্যক্তি তার তরবারি দ্বারা আমাকে আঘাত করে বা তীর এসে আমার গায়ে লাগে এবং আমাকে সে মেরে ফেলে, তবে আমার অবস্থা কি হবে? উত্তরে তিনি বললেনঃ তবে সে তার এবং তোমার পাপের ভার বহন করবে এবং জাহান্নামী হবে।
৬৯৮৭

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ، بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، كِلاَهُمَا عَنْ عُثْمَانَ الشَّحَّامِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . حَدِيثُ ابْنِ أَبِي عَدِيٍّ نَحْوَ حَدِيثِ حَمَّادٍ إِلَى آخِرِهِ وَانْتَهَى حَدِيثُ وَكِيعٍ عِنْدَ قَوْلِهِ " إِنِ اسْتَطَاعَ النَّجَاءَ " . وَلَمْ يَذْكُرْ مَا بَعْدَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৬৯৮৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (অন্য সনদে) মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... উসমান আশ-শাহহাম (রাহঃ) থেকে এ সনদে ইবনে আবু আদী (রাহঃ) এর হাদীসটি হাম্মাদের হাদীসের অনুরূপ শেষ পর্যন্ত বর্ণিত আছে। তবে إِنِ اسْتَطَاعَ النَّجَاءَ পর্যন্ত ওয়াকীহ (রাহঃ) এর হাদীসটি শেষ হয়েছে। এর পরবর্তী অংশটি তিনি আর উল্লেখ করেননি।

৪. যখন দুই মুসলমান তাদের তরবারি নিয়ে মুখোমুখী হয়

باب إِذَا تَوَاجَهَ الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا

৬৯৮৮

حَدَّثَنِي أَبُو كَامِلٍ، فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ الْجَحْدَرِيُّ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، وَيُونُسَ عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ الأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ خَرَجْتُ وَأَنَا أُرِيدُ، هَذَا الرَّجُلَ فَلَقِيَنِي أَبُو بَكْرَةَ فَقَالَ أَيْنَ تُرِيدُ يَا أَحْنَفُ قَالَ قُلْتُ أُرِيدُ نَصْرَ ابْنِ عَمِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - يَعْنِي عَلِيًّا - قَالَ فَقَالَ لِي يَا أَحْنَفُ ارْجِعْ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا تَوَاجَهَ الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَالْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ " . قَالَ فَقُلْتُ أَوْ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا الْقَاتِلُ فَمَا بَالُ الْمَقْتُولِ قَالَ " إِنَّهُ قَدْ أَرَادَ قَتْلَ صَاحِبِهِ " .

বর্ণনাকারী: আহনাফ ইবনে কায়স (রহঃ)

৬৯৮৮। আবু কামিল ফুযায়ল ইবনে হুসাইন আল-জাহদারী (রাহঃ) ......... আহনাফ ইবনে কায়স থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি বের হলাম। এই লোকটিকে [আলী (রাযিঃ)] সাহায্য করার আমার ইচ্ছা ছিল। এ সময় আবু বাকরাহ (রাযিঃ) এর সাথে আমার সাক্ষাত হল। তখন তিনি বললেন, হে আহনাফ! তুমি কোথায় যেতে চাচ্ছ? তিনি বলেন, আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চাচাত ভাই আলী (রাযিঃ) এর সাহায্য করার জন্য আমি যেতে চাচ্ছি।

আহনাফ বলেন, অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, হে আহনাফ! চলে যাও। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি একথা বলতে শুনেছি, যখন দু’জন মুসলমান তলোয়ার নিয়ে পরস্পর যুদ্ধ করে তখন হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়ই জাহান্নামী হবে। একথা শুনে আমি বললাম অথবা বলা হল, হে আল্লাহর রাসুল! হত্যাকারীর অবস্থা তো এই, তবে নিহত ব্যক্তির অবস্থা কি? উত্তরে তিনি বললেন, সে তার সাথীকে হত্যা করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত ছিল।
৬৯৮৯

وَحَدَّثَنَاهُ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، وَيُونُسَ، وَالْمُعَلَّى بْنِ زِيَادٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ الأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَالْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)

৬৯৮৯। আহমাদ ইবনে আব্দা আযযাব্বী (রাহঃ) ......... আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি দু’জন মুসলমান তলোয়ার নিয়ে পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হয় তবে হত্যাকারী ও নিহত উভয় ব্যক্তিই জাহান্নামী হবে।

৬৯৯০

وَحَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، مِنْ كِتَابِهِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَ حَدِيثِ أَبِي كَامِلٍ عَنْ حَمَّادٍ، إِلَى آخِرِهِ .

বর্ণনাকারী: আইয়ুব সাখতিয়ানী (রহঃ)

৬৯৯০। হাজ্জাজ ইবনে শাঈর (রাহঃ) ......... আইয়ুব (রাহঃ) থেকে এ সনদে আবু কামিলের সূত্রে হাম্মাদের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।

৬৯৯১

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا الْمُسْلِمَانِ حَمَلَ أَحَدُهُمَا عَلَى أَخِيهِ السِّلاَحَ فَهُمَا فِي جُرُفِ جَهَنَّمَ فَإِذَا قَتَلَ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ دَخَلاَهَا جَمِيعًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৬৯৯১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (অন্য সনদে) মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ যদি দু’জন মুসলমানের একজন তার অন্য ভাইয়ের উপর অস্ত্রধারণ করে তবে তারা উভয়ই জাহান্নামের প্রান্তে এসে উপনীত হয়। অতঃপর যখন তাদের একজন তার অপর সঙ্গীকে হত্যা করে ফেলে, তখন তারা উভয়ই জাহান্নামে দাখিল হয়ে যায়।

৬৯৯২

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَقْتَتِلَ فِئَتَانِ عَظِيمَتَانِ وَتَكُونُ بَيْنَهُمَا مَقْتَلَةٌ عَظِيمَةٌ وَدَعْوَاهُمَا وَاحِدَةٌ " .

বর্ণনাকারী: হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রহঃ)

৬৯৯২। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ (হাদীস) সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা আবু হুরায়রা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। সেগুলোর একটি হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না দুটি বড় দল পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হয়। তাদের মাঝে এক ভয়াবহ যুদ্ধ হবে। অথচ তাদের উভয়ের দাবী একই হবে।

৬৯৯৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكْثُرَ الْهَرْجُ " . قَالُوا وَمَا الْهَرْجُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " الْقَتْلُ الْقَتْلُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৯৯৩। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না ‘হারজ’ বৃদ্ধি পাবে। সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! ‘হারজ’ কি? জবাবে তিনি বললেন, হত্যা, হত্যা।

৫. এ উম্মতের পরস্পরের হাতে পরস্পরের ধ্বংসের বিবরণ

باب هَلاَكُ هَذِهِ الأُمَّةِ بَعْضِهِمْ بِبَعْضٍ

৬৯৯৪

حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الْعَتَكِيُّ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، كِلاَهُمَا عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، - وَاللَّفْظُ لِقُتَيْبَةَ - حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ زَوَى لِيَ الأَرْضَ فَرَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا وَإِنَّ أُمَّتِي سَيَبْلُغُ مُلْكُهَا مَا زُوِيَ لِي مِنْهَا وَأُعْطِيتُ الْكَنْزَيْنِ الأَحْمَرَ وَالأَبْيَضَ وَإِنِّي سَأَلْتُ رَبِّي لأُمَّتِي أَنْ لاَ يُهْلِكَهَا بِسَنَةٍ بِعَامَّةٍ وَأَنْ لاَ يُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ سِوَى أَنْفُسِهِمْ فَيَسْتَبِيحَ بَيْضَتَهُمْ وَإِنَّ رَبِّي قَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنِّي إِذَا قَضَيْتُ قَضَاءً فَإِنَّهُ لاَ يُرَدُّ وَإِنِّي أَعْطَيْتُكَ لأُمَّتِكَ أَنْ لاَ أُهْلِكَهُمْ بِسَنَةٍ بِعَامَّةٍ وَأَنْ لاَ أُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ سِوَى أَنْفُسِهِمْ يَسْتَبِيحُ بَيْضَتَهُمْ وَلَوِ اجْتَمَعَ عَلَيْهِمْ مَنْ بِأَقْطَارِهَا - أَوْ قَالَ مَنْ بَيْنَ أَقْطَارِهَا - حَتَّى يَكُونَ بَعْضُهُمْ يُهْلِكُ بَعْضًا وَيَسْبِي بَعْضُهُمْ بَعْضًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত ছাওবান (রাঃ)

৬৯৯৪। আবুর রাবী আল আতাকী ও কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... সাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ সমস্ত পৃথিবীকে ভাজ করে আমার সামনে রেখে দিয়েছেন। অতঃপর আমি এর পূর্ব দিগন্ত হতে পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত দেখে নিয়েছি। পৃথিবীর যে পরিমাণ অংশ গুটিয়ে আমার সম্মুখে রাখা হয়েছিল সে পর্যন্ত আমার উম্মতের রাজত্ব পৌছবে। আমাকে লাল ও সাদা দুই ধনভাণ্ডার দেয়া হয়েছে। আমি আমার উম্মতের জন্য আমার প্রতিপালকের নিকট এ দুআ করেছি, যেন তিনি তাদেরকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস না করেন এবং যেন তিনি তাদের উপর নিজেদের ব্যতীত এমন কোন শক্রকে চাপিয়ে না দেন যারা তাদের দলকে ভেঙ্গে টুক্বরা টুকরা করে দিবে।

এ কথা শুনে আমার প্রতিপালক বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি যা সিদ্ধান্ত করি তা কখনো প্রতিহত হয় না। আমি তোমার দুআ কবুল করেছি। আমি তোমার উম্মতকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস করবো না এবং তাদের উপর তাদের নিজেদের ব্যতীত অন্য এমন কোন শক্রকে চাপিয়ে দেবো না যারা তাদের সমষ্টিকে বিক্ষিপ্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হবে। যদিও বিভিন্ন প্রান্ত হতে লোক সমবেত হয়ে চেষ্টা করে না কেন। তবে মুসলমানগণ পরস্পর একে অপরকে ধ্বংস করবে এবং একে অপরকে বন্দী করবে।
৬৯৯৫

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى زَوَى لِيَ الأَرْضَ حَتَّى رَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا وَأَعْطَانِي الْكَنْزَيْنِ الأَحْمَرَ وَالأَبْيَضَ " . ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত ছাওবান (রাঃ)

৬৯৯৫। যুহাইর ইবনে হারব, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম, মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... সাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ পৃথিবীকে গুটিয়ে আল্লাহ তাআলা আমার সামনে পেশ করেছেন। আমি এর পূর্ব দিগন্ত হতে পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত (দেখে নিয়েছি। আল্লাহ তাআলা আমাকে লাল ও সাদা দুটি ধন-ভাণ্ডার দান করেছেন। অতঃপর কাতাদা (রাহঃ) আইয়ুবের সূত্রে আবু কিলাবা (রাহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৬৯৯৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ، أَخْبَرَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقْبَلَ ذَاتَ يَوْمٍ مِنَ الْعَالِيَةِ حَتَّى إِذَا مَرَّ بِمَسْجِدِ بَنِي مُعَاوِيَةَ دَخَلَ فَرَكَعَ فِيهِ رَكْعَتَيْنِ وَصَلَّيْنَا مَعَهُ وَدَعَا رَبَّهُ طَوِيلاً ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَيْنَا فَقَالَ صلى الله عليه وسلم " سَأَلْتُ رَبِّي ثَلاَثًا فَأَعْطَانِي ثِنْتَيْنِ وَمَنَعَنِي وَاحِدَةً سَأَلْتُ رَبِّي أَنْ لاَ يُهْلِكَ أُمَّتِي بِالسَّنَةِ فَأَعْطَانِيهَا وَسَأَلْتُهُ أَنْ لاَ يُهْلِكَ أُمَّتِي بِالْغَرَقِ فَأَعْطَانِيهَا وَسَأَلْتُهُ أَنْ لاَ يَجْعَلَ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ فَمَنَعَنِيهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৬৯৯৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (অন্য সনদে) ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (একদা) আলিয়া (মদীনার উঁচু অঞ্চল) হতে এসে বনু মুআবিয়ায় অবস্থিত মসজিদের নিকট গেলেন। অতঃপর তিনি উক্ত মসজিদে প্রবেশ করে দুরাকআত নামায আদায় করলেন। আমরাও তার সাথে নামায আদায় করলাম। এ সময় তিনি তার প্রতিপালকের নিকট দীর্ঘ দুআ করলেন। এবং দুআ শেষে আমাদের নিকট ফিরে বললেনঃ আমি আমার প্রতিপালকের নিকট তিনটি জিনিস কামনা করেছি। তন্মধ্যে তিনি আমাকে দুটি প্রদান করেছেন এবং একটি প্রদান করেননি।

আমি আমার প্রতিপালকের নিকট কামনা করেছিলাম, যেন তিনি আমার উম্মতকে দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস না করেন। তিনি আমার এ দুআ কবুল করেছেন। তাঁর নিকট এও প্রার্থনা করেছিলাম যে, তিনি যেন আমার উম্মতকে পানিতে ডুবিয়ে ধ্বংস না করেন। তিনি আমার এ দুআও কবুল করেছেন। আমি তাঁর নিকট এ মর্মেও দুআ করেছিলাম যে, যেন মুসলমান পরস্পর একে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত না হয়। তিনি আমার এ দুআ কবুল করেননি।
৬৯৯৭

وَحَدَّثَنَاهُ ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ الأَنْصَارِيُّ، أَخْبَرَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ أَقْبَلَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي طَائِفَةٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فَمَرَّ بِمَسْجِدِ بَنِي مُعَاوِيَةَ . بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ نُمَيْرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৬৯৯৭। ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি সাহাবীদের একটি দলের মাঝে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে কোথাও থেকে আসলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বনু মুআবিয়ায় অবস্থিত মসজিদের নিকট গেলেন। ...... অতঃপর তিনি ইবনে নূমায়রের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৬. কিয়ামত পর্যন্ত ঘটিতব্য বিষয়াদি সম্পর্কে নবীজী (ﷺ) এর খবর প্রদান করা।

بَابُ إِخْبَارِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا يَكُونُ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ

৬৯৯৮

حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى التُّجِيبِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ أَبَا إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيَّ، كَانَ يَقُولُ قَالَ حُذَيْفَةُ بْنُ الْيَمَانِ وَاللَّهِ إِنِّي لأَعْلَمُ النَّاسِ بِكُلِّ فِتْنَةٍ هِيَ كَائِنَةٌ فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَ السَّاعَةِ وَمَا بِي إِلاَّ أَنْ يَكُونَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسَرَّ إِلَىَّ فِي ذَلِكَ شَيْئًا لَمْ يُحَدِّثْهُ غَيْرِي وَلَكِنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَهُوَ يُحَدِّثُ مَجْلِسًا أَنَا فِيهِ عَنِ الْفِتَنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَعُدُّ الْفِتَنَ " مِنْهُنَّ ثَلاَثٌ لاَ يَكَدْنَ يَذَرْنَ شَيْئًا وَمِنْهُنَّ فِتَنٌ كَرِيَاحِ الصَّيْفِ مِنْهَا صِغَارٌ وَمِنْهَا كِبَارٌ " . قَالَ حُذَيْفَةُ فَذَهَبَ أُولَئِكَ الرَّهْطُ كُلُّهُمْ غَيْرِي .

বর্ণনাকারী: আবু ইদরীস খাওলানী (রহঃ)

৬৯৯৮। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া তুজিবী (রাহঃ) ......... আবু ইদরীস খাওলানী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। হুযাইফা ইবনে ইয়ামান (রাযিঃ) বলেন, আমার ও কিয়ামত সংঘটিত হবার সময়কালের মাঝে ঘটমান ফিতনা সম্পর্কে আমি সর্বাধিক জ্ঞাত। বস্তুত বিষয়টি এমন নয় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অন্যদের নিকট বর্ণনা না করে কেবল আমার নিকটই এ বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এক মজলিসে আমি ছিলাম। এতে তিনি ফিতনা সম্পর্কে বর্ণনা করছিলেন এবং গুণে গুণে বর্ণনা করছিলেন। এগুলোর তিনটি এমন, যা কোন কিছুকেই অব্যাহতি দিবে না। এর কতেকটি গ্রীষ্মের (ঝাঞ্ঝা) বায়ুর ন্যায়। আবার কতেকটি ছোট এবং কয়েকটি বড়। হুযাইফা (রাযিঃ) বলেন, মজলিসে উপস্থিত লোকদের আমি ব্যতীত অন্য সকলেই এ পৃথিবী হতে চির বিদায় গ্রহণ করেছেন।

৬৯৯৯

وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ عُثْمَانُ حَدَّثَنَا وَقَالَ، إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَقَامًا مَا تَرَكَ شَيْئًا يَكُونُ فِي مَقَامِهِ ذَلِكَ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ إِلاَّ حَدَّثَ بِهِ حَفِظَهُ مَنْ حَفِظَهُ وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيَهُ قَدْ عَلِمَهُ أَصْحَابِي هَؤُلاَءِ وَإِنَّهُ لَيَكُونُ مِنْهُ الشَّىْءُ قَدْ نَسِيتُهُ فَأَرَاهُ فَأَذْكُرُهُ كَمَا يَذْكُرُ الرَّجُلُ وَجْهَ الرَّجُلِ إِذَا غَابَ عَنْهُ ثُمَّ إِذَا رَآهُ عَرَفَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৬৯৯৯। উসমান ইবনে আবি শাঈবা ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে দণ্ডায়মান হয়ে কিয়ামত পর্যন্ত ঘটমান সমস্ত ফিতনার কথাই বর্ণনা করলেন। অতঃপর যে স্মরণ রাখবার সে স্মরণ রাখল এবং যে ভুলে যাবার সে ভুলে গেল। তিনি বলেন, আমার এই সাথীগণ জানেন যে, এর কতিপয় বিষয় এমন আছে, যা আমি ভুলে গিয়েছি। কিন্তু তা সংঘটিত হতে দেখে আমার তা পূনরায় স্মরণ হয়ে যায়। বিষয়টি ঠিক তদ্রূপ যেমন এক ব্যক্তি কোন ব্যক্তির চেহারা দেখে, অতঃপর সে তার থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবার পর পুনরায় দেখে সে তাকে চিনে নেয়।

৭০০০

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ إِلَى قَوْلِهِ وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيَهُ . وَلَمْ يَذْكُرْ مَا بَعْدَهُ .

বর্ণনাকারী: সুলাইমান আ‘মাশ (রহঃ)

৭০০০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আ’মাশ (রাহঃ) থেকে এ সনদে وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيَهُ পর্যন্ত অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাদীসের পরবর্তী অংশটি সুফিয়ান (রাহঃ) উল্লেখ করেননি।

৭০০১

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ، بْنُ نَافِعٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ حُذَيْفَةَ، أَنَّهُ قَالَ أَخْبَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَا هُوَ كَائِنٌ إِلَى أَنْ تَقُومَ السَّاعَةُ فَمَا مِنْهُ شَىْءٌ إِلاَّ قَدْ سَأَلْتُهُ إِلاَّ أَنِّي لَمْ أَسْأَلْهُ مَا يُخْرِجُ أَهْلَ الْمَدِينَةِ مِنَ الْمَدِينَةِ

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৭০০১। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (অন্য সনদে) আবু বকর ইবনে নাফি (রাহঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিয়ামত পর্যন্ত ঘটমান সমুদয় ফিতনা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন। ফিতনা সংক্রান্ত সমুদয় বিষয় সম্পর্কে আমি তাকে প্রশ্ন করেছি। তবে মদীনাবাসীকে কিসে মদীনা হতে বের করবে এ বিষয়ে আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করিনি।

৭০০২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৭০০২। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।

৭০০৩

وَحَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، وَحَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، جَمِيعًا عَنْ أَبِي عَاصِمٍ، - قَالَ حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، - أَخْبَرَنَا عَزْرَةُ بْنُ ثَابِتٍ، أَخْبَرَنَا عِلْبَاءُ بْنُ أَحْمَرَ، حَدَّثَنِي أَبُو زَيْدٍ، - يَعْنِي عَمْرَو بْنَ أَخْطَبَ - قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْفَجْرَ وَصَعِدَ الْمِنْبَرَ فَخَطَبَنَا حَتَّى حَضَرَتِ الظُّهْرُ فَنَزَلَ فَصَلَّى ثُمَّ صَعِدَ الْمِنْبَرَ فَخَطَبَنَا حَتَّى حَضَرَتِ الْعَصْرُ ثُمَّ نَزَلَ فَصَلَّى ثُمَّ صَعِدَ الْمِنْبَرَ فَخَطَبَنَا حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ فَأَخْبَرَنَا بِمَا كَانَ وَبِمَا هُوَ كَائِنٌ فَأَعْلَمُنَا أَحْفَظُنَا .

বর্ণনাকারী: আবু যায়দ আমর ইবনে আখতাব (রাঃ)

৭০০৩। ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম দাওরাকী ও হাজ্জাজ ইবনে শাঈর (রাহঃ) ......... আবু যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে ফজরের নামায আদায় করলেন। অতঃপর মিম্বরে আরোহণ করে খুতবা দিলেন। অবশেষে যোহরের নামাযের সময় হল। তিনি মিম্বর হতে অবতরণ করে নামায আদায় করলেন। এরপর আবার মিম্বরে আরোহণ করতঃ তিনি খুতবা দিলেন। এবার আসরের নামাযের সময় হল। তিনি মিম্বর থেকে অবতরণ করে নামায আদায় করে পূনরায় মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং আমাদেরকে লক্ষ্য করে খুতবা দিতে দিতে সূর্য অস্তমিত হল। এ খুতবায় তিনি আমাদেরকে যা হয়েছে এবং যা হবে ইত্যকার বিষয়ে সংবাদ দিলেন। অতঃপর তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এ কথাগুলো সর্বাধিক স্মরণ রেখেছেন আমাদের মাঝে এ বিষয়ে তিনি সর্বাধিক জ্ঞাত।

৭. যে ফিতনা সমুদ্রের তরং্গের ন্যায় তরং্গায়িত হবে

باب فِي الْفِتْنَةِ الَّتِي تَمُوجُ كَمَوْجِ الْبَحْرِ

৭০০৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ أَبُو كُرَيْبٍ، جَمِيعًا عَنْ أَبِي، مُعَاوِيَةَ قَالَ ابْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ عُمَرَ فَقَالَ أَيُّكُمْ يَحْفَظُ حَدِيثَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْفِتْنَةِ كَمَا قَالَ قَالَ فَقُلْتُ أَنَا . قَالَ إِنَّكَ لَجَرِيءٌ وَكَيْفَ قَالَ قَالَ قُلْتُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَنَفْسِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ يُكَفِّرُهَا الصِّيَامُ وَالصَّلاَةُ وَالصَّدَقَةُ وَالأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْىُ عَنِ الْمُنْكَرِ " . فَقَالَ عُمَرُ لَيْسَ هَذَا أُرِيدُ إِنَّمَا أُرِيدُ الَّتِي تَمُوجُ كَمَوْجِ الْبَحْرِ - قَالَ - فَقُلْتُ مَا لَكَ وَلَهَا يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّ بَيْنَكَ وَبَيْنَهَا بَابًا مُغْلَقًا قَالَ أَفَيُكْسَرُ الْبَابُ أَمْ يُفْتَحُ قَالَ قُلْتُ لاَ بَلْ يُكْسَرُ . قَالَ ذَلِكَ أَحْرَى أَنْ لاَ يُغْلَقَ أَبَدًا . قَالَ فَقُلْنَا لِحُذَيْفَةَ هَلْ كَانَ عُمَرُ يَعْلَمُ مَنِ الْبَابُ قَالَ نَعَمْ كَمَا يَعْلَمُ أَنَّ دُونَ غَدٍ اللَّيْلَةَ إِنِّي حَدَّثْتُهُ حَدِيثًا لَيْسَ بِالأَغَالِيطِ . قَالَ فَهِبْنَا أَنْ نَسْأَلَ حُذَيْفَةَ مَنِ الْبَابُ فَقُلْنَا لِمَسْرُوقٍ سَلْهُ فَسَأَلَهُ فَقَالَ عُمَرُ .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৭০০৪। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর ও মুহাম্মাদ ইবনুল আ’লা (ইবনে) আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। বলেন, আমরা উমর (রাযিঃ) এর নিকট বসা ছিলাম। এ সময় তিনি বললেন, ফিতনা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাদীস তোমাদের কার স্মরণ আছে? আমি বললাম, আমার স্মরণ আছে। এ কথা শুনে বললেন, ব্যস, তুমি তো খুব সাহসী। তিনি কি বলেছেন, বল। অতঃপর আমি বললাম, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, নিজ সত্তা, সন্তান-সন্ততি এবং প্রতিবেশীর ব্যাপারে মানুষ যে ফিতনায় আক্রান্ত হয়, তার রোযা, নামায, সাদ্‌কা এবং সৎকার্যের আদেশ ও অসৎকার্যে বাধা দানই হল এগুলোর জন্য কাফফারা। এ কথা শুনে উমর (রাযিঃ) বললেন, আমি তো এ ফিতনা সম্পর্কে শুনতে চাইনি। বরং সমুদ্রের তরং্গমালার ন্যায় যে ফিতনা আপতিত, আমি তো কেবল তাই শুনতে চেয়েছি।

তখন আমি বললাম, হে আমীরুল মু'মিনীন! এ ফিতনার সাথে আপনার কি সম্পর্ক, এতে আপনার উদ্দেশ্য কি? এ ফিতনা ও আপনার মাঝে এক রুদ্ধদ্বার অন্তরায় রয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তা (দ্বার) কি ভাঙ্গা হবে, না খোলা হবে? আমি বললাম, না,খোলা হবে না, বরংভাঙ্গা হবে। এ কথা শুনে উমর (রাযিঃ) বললেন, তবে তো তা আর কখনো বন্ধ হবে না।

বর্ণনাকারী [শাকীক (রাহঃ)] বলেন, আমরা হুযাইফা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, কে সে দ্বার উমর (রাযিঃ) তা কি জানতেন? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ, আগামী দিনের পর রাত, এ কথাটি যেমন জানতেন, ঠিক তদ্রূপঐ বিষয়টিও তিনি জানতেন। হুযাইফা (রাযিঃ) বলেন, আমি তাঁকে ভুল হাদীস শুনাইনি। শাকীক (রাহঃ) বলেন, কে সে দ্বার, এ সম্পর্কে হুযাইফা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করতে আমরা ভয় পাচ্ছিলাম। তাই আমরা মাসরুক (রাহঃ) কে বললাম, আপনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি হুযাইফা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি [হুযাইফা (রাযিঃ)] বললেন, (এ দ্বার) উমর (রাযিঃ) নিজেই।
৭০০৫

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عِيسَى، كُلُّهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَ حَدِيثِ أَبِي مُعَاوِيَةَ وَفِي حَدِيثِ عِيسَى عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، قَالَ سَمِعْتُ حُذَيْفَةَ، يَقُولُ .

বর্ণনাকারী: সুলাইমান আ‘মাশ (রহঃ)

৭০০৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু সাঈদ আশাজ্জ (অন্য সনদে) উসমান ইবনে আবি শাঈবা (অন্য সনদে) ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (অন্য সনদে) ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আ’মাশ (রাহঃ) থেকে এ সনদে আবু মুআবিয়ার অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে ঈসা (রাহঃ) এর সূত্রে শাকীক (রাহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের মধ্যে তিনি বলেছেন, আমি হুযাইফা (রাযিঃ) কে এ কথা বলতে শুনেছি।

৭০০৬

وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ جَامِعِ بْنِ أَبِي رَاشِدٍ، وَالأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَالَ عُمَرُ مَنْ يُحَدِّثُنَا عَنِ الْفِتْنَةِ، وَاقْتَصَّ الْحَدِيثَ، بِنَحْوِ حَدِيثِهِمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৭০০৬। ইবনে আবু উমর (রাযিঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) বলেছেন, ফিতনা সম্পর্কে আমাকে কে হাদীস শুনাতে পারবে? অতঃপর পূর্ববতীদের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৭০০৭

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ، عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ جُنْدُبٌ جِئْتُ يَوْمَ الْجَرَعَةِ فَإِذَا رَجُلٌ جَالِسٌ فَقُلْتُ لَيُهَرَاقَنَّ الْيَوْمَ هَا هُنَا دِمَاءٌ . فَقَالَ ذَاكَ الرَّجُلُ كَلاَّ وَاللَّهِ . قُلْتُ بَلَى وَاللَّهِ . قَالَ كَلاَّ وَاللَّهِ . قُلْتُ بَلَى وَاللَّهِ . قَالَ كَلاَّ وَاللَّهِ إِنَّهُ لَحَدِيثُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدَّثَنِيهِ . قُلْتُ بِئْسَ الْجَلِيسُ لِي أَنْتَ مُنْذُ الْيَوْمِ تَسْمَعُنِي أُخَالِفُكَ وَقَدْ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلاَ تَنْهَانِي ثُمَّ قُلْتُ مَا هَذَا الْغَضَبُ فَأَقْبَلْتُ عَلَيْهِ وَأَسْأَلُهُ فَإِذَا الرَّجُلُ حُذَيْفَةُ .

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন (রহঃ)

৭০০৭। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। জুনদুব (রাহঃ) বলেন, জার’আর দিন আমি আসলাম। দেখলাম, এক ব্যক্তি উপবিষ্ট আছে। আমি বললাম, আজ তো এখানে রক্ত ঝরানো হবে। এ কথা শুনে লোকটি বলল, কখনো না। আল্লাহর কসম! (খুন হবে না)। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! অবশ্যই খুন হবে। সে আবারো বলল, আল্লাহর কসম! কখনো খুন হবে না। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! অবশ্যই খুন হবে। পুনরায় সে বলল, আল্লাহর কসম! খুন কখনো হবে না।

এ বিষয়টি অবশ্যই একটি হাদীস (দ্বারা প্রমাণিত), যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। আমি বললাম, আজ দিনভর আপনি আমার একজন মন্দ সাথী (হলেন)। কারণ আপনি শুনতে পাচ্ছেন যে, আমি আপনার বিরুদ্ধাচরণ করছি। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে হাদীস শুনা সত্ত্বেও আপনি আমাকে বারণ করছেন না। অতঃপর আমি বললাম, এত রাগারাগি কেন? তখন আমি তার দিকে এগিয়ে গেলাম এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলাম। পরে জানতে পেলাম, তিনি হলেন হুযাইফা (রাযিঃ)।

৮. কিয়ামত কায়েম হবে না, যতক্ষণ না ফোরাত তার মধ্যস্থিত স্বর্ণের পর্বত বের করে দিবে

باب لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَحْسِرَ الْفُرَاتُ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ

৭০০৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَارِيَّ - عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَحْسِرَ الْفُرَاتُ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ يَقْتَتِلُ النَّاسُ عَلَيْهِ فَيُقْتَلُ مِنْ كُلِّ مِائَةٍ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ وَيَقُولُ كُلُّ رَجُلٍ مِنْهُمْ لَعَلِّي أَكُونُ أَنَا الَّذِي أَنْجُو " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০০৮। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না ফোরাত তার মধ্যস্থিত স্বর্ণের পর্বত বের করে দিবে। লোকেরা এ নিয়ে লড়াই করবে এবং এক শতের মধ্যে নিরানব্বই জন মারা যাবে। তাদের প্রত্যেকেই বলবে, সম্ভবত আমি বেঁচে যাব।

৭০০৯

وَحَدَّثَنِي أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ وَزَادَ فَقَالَ أَبِي إِنْ رَأَيْتَهُ فَلاَ تَقْرَبَنَّهُ .

বর্ণনাকারী: সুহায়ল ইবনে আবু সালিহ (রহঃ)

৭০০৯। উমাইয়া ইবনে বিসতাম (রাহঃ) ......... সুহাঈল (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আমার পিতা বলেছেন, যদি তুমি তা (ঐ পর্বত) দেখ তবে তুমি কিছুতেই এর কাছেও যাবে না।

৭০১০

حَدَّثَنَا أَبُو مَسْعُودٍ، سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ السَّكُونِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ، اللَّهِ عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُوشِكُ الْفُرَاتُ أَنْ يَحْسِرَ عَنْ كَنْزٍ مِنْ ذَهَبٍ فَمَنْ حَضَرَهُ فَلاَ يَأْخُذْ مِنْهُ شَيْئًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০১০। আবু মাসউদ সাহল ইবনে উসমান (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই ফোরাত তার মধ্যস্থিত স্বর্ণ(খনি) বের করে দিবে। সুতরাং এ সময় যারা উপস্থিত থাকবে তারা যেন এ থেকে কিছুই না নেয়।

৭০১১

حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُوشِكُ الْفُرَاتُ أَنْ يَحْسِرَ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ فَمَنْ حَضَرَهُ فَلاَ يَأْخُذْ مِنْهُ شَيْئًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০১১। সাহল ইবনে উসমান (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই ফোরাত তার মধ্যস্থিত স্বর্ণের পাহাড় বের করে দিবে। সুতরাং এ সময় যারা উপস্থিত থাকবে তারা যেন এ থেকে কিছুই না নেয়।

৭০১২

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ وَأَبُو مَعْنٍ الرَّقَاشِيُّ - وَاللَّفْظُ لأَبِي مَعْنٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ، يَسَارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ نَوْفَلٍ، قَالَ كُنْتُ وَاقِفًا مَعَ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ فَقَالَ لاَ يَزَالُ النَّاسُ مُخْتَلِفَةً أَعْنَاقُهُمْ فِي طَلَبِ الدُّنْيَا . قُلْتُ أَجَلْ . قَالَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " يُوشِكُ الْفُرَاتُ أَنْ يَحْسِرَ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ فَإِذَا سَمِعَ بِهِ النَّاسُ سَارُوا إِلَيْهِ فَيَقُولُ مَنْ عِنْدَهُ لَئِنْ تَرَكْنَا النَّاسَ يَأْخُذُونَ مِنْهُ لَيُذْهَبَنَّ بِهِ كُلِّهِ قَالَ فَيَقْتَتِلُونَ عَلَيْهِ فَيُقْتَلُ مِنْ كُلِّ مِائَةٍ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ " . قَالَ أَبُو كَامِلٍ فِي حَدِيثِهِ قَالَ وَقَفْتُ أَنَا وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ فِي ظِلِّ أُجُمِ حَسَّانَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

৭০১২। আবু কামিল ফুযায়ল ইবনে হুসাইন ও আবু মাআন রাক্কাশী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে নাওফাল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) এর সাথে দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলাম। এমতাবস্থায় তিনি বললেন, বিভিন্ন প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে মানুষ পার্থিব সম্পদ উপার্জনের কাজে সর্বদা নিয়োজিত থাকবে। আমি বললাম, হ্যাঁ, ঠিকই। তখন তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, অচিরেই ফোরাত তার মধ্যস্থিত স্বর্ণের পাহাড় বের করে দিবে। তা শুনামাত্রই লোকজন সেদিকে চলতে আরম্ভ করবে। সেখানকার লোকেরা বলবে, আমরা যদি লোকদেরকে ছেড়ে দেই তবে তারা সবই নিয়ে চলে যাবে। এ নিয়ে তারা পরস্পর যুদ্ধেজড়িয়ে পড়বে এবং এতে একশতের মধ্যে নিরানব্বই জন লোকই নিহত হবে। বর্ণনাকারী আবু কামিল (রাহঃ) তার হাদীসে উল্লেখ করেছেন যে, আমি এবং উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) হাসসানের কিল্লার ছায়ায় দাঁড়ানো ছিলাম।

৭০১৩

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ يَعِيشَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - وَاللَّفْظُ لِعُبَيْدٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، بْنُ آدَمَ بْنِ سُلَيْمَانَ مَوْلَى خَالِدِ بْنِ خَالِدٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنَعَتِ الْعِرَاقُ دِرْهَمَهَا وَقَفِيزَهَا وَمَنَعَتِ الشَّأْمُ مُدْيَهَا وَدِينَارَهَا وَمَنَعَتْ مِصْرُ إِرْدَبَّهَا وَدِينَارَهَا وَعُدْتُمْ مِنْ حَيْثُ بَدَأْتُمْ وَعُدْتُمْ مِنْ حَيْثُ بَدَأْتُمْ وَعُدْتُمْ مِنْ حَيْثُ بَدَأْتُمْ " . شَهِدَ عَلَى ذَلِكَ لَحْمُ أَبِي هُرَيْرَةَ وَدَمُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০১৩। উবাইদ ইবনে ইয়াঈশ ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক সময় ইরাক তার রৌপ্য মুদ্রা এবং কাফীয দিতে অস্বীকার করবে। সিরিয়াও তার মুদ এবং স্বর্ণমুদ্রা প্রদান করতে অস্বীকার করবে। অনুরূপভাবে মিসরও তাদের ইরদাব এবং স্বর্ণ প্রদান করতে অস্বীকার প্রকাশ করবে। অবশেষে তোমরা পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে, তোমরা পূর্ববস্থায় ফিরে যাবে, তোমরা পূর্ববস্থায় ফিরে যাবে। আবু হুরায়রার রক্ত-গোশত এ সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছে।

৯. ইস্তাম্বুল বিজয়, দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ এবং ঈসা ইবনে মারয়াম (আলাইহিস সালাম) এর অবতরণ

باب فِي فَتْحِ قُسْطُنْطِينِيَّةَ وَخُرُوجِ الدَّجَّالِ وَنُزُولِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ

৭০১৪

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، حَدَّثَنَا سُهَيْلٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَنْزِلَ الرُّومُ بِالأَعْمَاقِ أَوْ بِدَابِقَ فَيَخْرُجُ إِلَيْهِمْ جَيْشٌ مِنَ الْمَدِينَةِ مِنْ خِيَارِ أَهْلِ الأَرْضِ يَوْمَئِذٍ فَإِذَا تَصَافُّوا قَالَتِ الرُّومُ خَلُّوا بَيْنَنَا وَبَيْنَ الَّذِينَ سَبَوْا مِنَّا نُقَاتِلْهُمْ . فَيَقُولُ الْمُسْلِمُونَ لاَ وَاللَّهِ لاَ نُخَلِّي بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ إِخْوَانِنَا . فَيُقَاتِلُونَهُمْ فَيَنْهَزِمُ ثُلُثٌ لاَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ أَبَدًا وَيُقْتَلُ ثُلُثُهُمْ أَفْضَلُ الشُّهَدَاءِ عِنْدَ اللَّهِ وَيَفْتَتِحُ الثُّلُثُ لاَ يُفْتَنُونَ أَبَدًا فَيَفْتَتِحُونَ قُسْطُنْطِينِيَّةَ فَبَيْنَمَا هُمْ يَقْتَسِمُونَ الْغَنَائِمَ قَدْ عَلَّقُوا سُيُوفَهُمْ بِالزَّيْتُونِ إِذْ صَاحَ فِيهِمُ الشَّيْطَانُ إِنَّ الْمَسِيحَ قَدْ خَلَفَكُمْ فِي أَهْلِيكُمْ . فَيَخْرُجُونَ وَذَلِكَ بَاطِلٌ فَإِذَا جَاءُوا الشَّأْمَ خَرَجَ فَبَيْنَمَا هُمْ يُعِدُّونَ لِلْقِتَالِ يُسَوُّونَ الصُّفُوفَ إِذْ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَيَنْزِلُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ فَأَمَّهُمْ فَإِذَا رَآهُ عَدُوُّ اللَّهِ ذَابَ كَمَا يَذُوبُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ فَلَوْ تَرَكَهُ لاَنْذَابَ حَتَّى يَهْلِكَ وَلَكِنْ يَقْتُلُهُ اللَّهُ بِيَدِهِ فَيُرِيهِمْ دَمَهُ فِي حَرْبَتِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০১৪। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না রোমান সেনাবাহিনী আমাক’ অথবা ‘দাবিক’ নগরীতে অবতরণ করবে। তখন তাদের মুকাবিলায় মদীনা হতে এ পৃথিবীর সর্বোত্তম মানুষের এক দল সৈন্য বের হবে। অতঃপর উভয় দল সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান হবার পর রোমানরা বলবে, তোমরা ঐ সমস্ত লোকদের পৃথক করে দাও, যারা আমাদের লোকদের মধ্যে যাদের বন্দী করেছে। আমরা তাদের সাথে লড়াই করবো।

তখন মুসলমানগণ বলবে, আল্লাহর শপথ! আমরা আমাদের ভাইদের থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হবো না। অবশেষে তাদের পরস্পর যুদ্ধ হবে। এ যুদ্ধে মুসলমানদের এক তৃতীয়াংশ সৈন্য পালিয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা কখনো তাদের তাওবা কবুল করবেন না। সৈন্যদের এক তৃতীয়াংশ নিহত হবে এবং তারা হবে আল্লাহর নিকট শহীদানের মাঝে সর্বোত্তম শহীদ। আর সৈন্যদের অপর তৃতীয়াংশ বিজিয়ী হবে। জীবনে আর কখনো তারা ফিতনায় আক্রান্ত হবে না। তারাই ইস্তাম্বুল জয় করবে। তারা নিজেদের তরবারী যায়তুন বৃক্ষে লটকিয়ে যুদ্ধ লব্ধ সম্পদ বন্টন করতে থাকবে। এমতাবস্থায় তাদের মধ্যে শয়তান চিৎকার করে বলতে থাকবে- দাজ্জাল তোমাদের পেছনে তোমাদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে চলে এসেছে।

এ কথা শুনে মুসলমানরা সেখান থেকে বের হবে। অথচ এটি মিথ্যা খবর। তারা যখন সিরিয়া পৌছবে তখন দাজ্জালের আবির্ভাব হবে। যখন মুসলিম বাহিনী যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে এবং সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান হতে শুরু করবে তখন নামাযের সময় হবে। অতঃপর ঈসা (আলাইহিস সালাম) অবতরণ করবেন এবং নামাযে তাদের ইমামত করবেন। আল্লাহর শক্র তাকে দেখামাত্রই বিগলিত হয়ে যাবে যেমন লবণ পানিতে গলে যায়। যদি ঈসা (আলাইহিস সালাম) কাউকে এমনিই ছেড়ে দেন তবে সেও নিজে নিজেই বিগলিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। অবশ্য আল্লাহ তাআলা ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর হাতে তাকে হত্যা করবেন এবং তার রক্ত ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর বর্শাতে তিনি তাদেরকে দেখিয়ে দিবেন।

১০. রোমনদের সংখ্যাধিক্যের অবস্থায় কিয়ামত সংঘটিত হবে

باب تَقُومُ السَّاعَةُ وَالرُّومُ أَكْثَرُ النَّاسِ

৭০১৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ، بْنُ سَعْدٍ حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ عُلَىٍّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ الْمُسْتَوْرِدُ الْقُرَشِيُّ عِنْدَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " تَقُومُ السَّاعَةُ وَالرُّومُ أَكْثَرُ النَّاسِ " . فَقَالَ لَهُ عَمْرٌو أَبْصِرْ مَا تَقُولُ . قَالَ أَقُولُ مَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَئِنْ قُلْتَ ذَلِكَ إِنَّ فِيهِمْ لَخِصَالاً أَرْبَعًا إِنَّهُمْ لأَحْلَمُ النَّاسِ عِنْدَ فِتْنَةٍ وَأَسْرَعُهُمْ إِفَاقَةً بَعْدَ مُصِيبَةٍ وَأَوْشَكُهُمْ كَرَّةً بَعْدَ فَرَّةٍ وَخَيْرُهُمْ لِمِسْكِينٍ وَيَتِيمٍ وَضَعِيفٍ وَخَامِسَةٌ حَسَنَةٌ جَمِيلَةٌ وَأَمْنَعُهُمْ مِنْ ظُلْمِ الْمُلُوكِ .

বর্ণনাকারী: মুসতাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ (রাঃ)

৭০১৫। আব্দুল মালিক ইবনে শু’আয়ব ইবনে লাঈস (রাহঃ) ......... মুসতাওরিদ আল কুরাশী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) এর নিকট বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, খ্রীষ্টানদের সংখ্যা যখন সর্বাধিক হবে তখন কিয়ামত কায়িম হবে। এ কথা শুনে আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) তাকে বললেন, কি বলছ, ভেবে-চিন্তে বল। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যা শুনেছি আমি তাই বলছি। অতঃপর আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) বললেন, তুমি যদি বল, তবে সত্যই বলছ। কেননা খ্রীষ্টানদের মাঝে চারটি বৈশিষ্ট্য আছে। ফিতনার সময় তারা সর্বাধিক ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে থাকে এবং মুসীবতের পর তড়িৎ তাদের মধ্যে চেতনা ফিরে আসে। পলায়নের পর অতি দ্রুত তারা হামলা করে এবং মিসকীন, ইয়াতীম ও দুর্বলের জন্য তারা সর্বাধিক কল্যাণকামী। তাদের পঞ্চম সুন্দর গুণটি হল এই যে, তারা রাজন্যবর্গের যুলুম প্রতিহত করতে অধিক তৎপর।

৭০১৬

حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى التُّجِيبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي أَبُو شُرَيْحٍ، أَنَّ عَبْدَ الْكَرِيمِ بْنَ الْحَارِثِ، حَدَّثَهُ أَنَّ الْمُسْتَوْرِدَ الْقُرَشِيَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " تَقُومُ السَّاعَةُ وَالرُّومُ أَكْثَرُ النَّاسِ " . قَالَ فَبَلَغَ ذَلِكَ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ فَقَالَ مَا هَذِهِ الأَحَادِيثُ الَّتِي تُذْكَرُ عَنْكَ أَنَّكَ تَقُولُهَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ الْمُسْتَوْرِدُ قُلْتُ الَّذِي سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَقَالَ عَمْرٌو لَئِنْ قُلْتَ ذَلِكَ إِنَّهُمْ لأَحْلَمُ النَّاسِ عِنْدَ فِتْنَةٍ وَأَجْبَرُ النَّاسِ عِنْدَ مُصِيبَةٍ وَخَيْرُ النَّاسِ لِمَسَاكِينِهِمْ وَضُعَفَائِهِمْ .

বর্ণনাকারী: মুসতাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ (রাঃ)

৭০১৬। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... মুসতাওরিদ আল কুরাশী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, রোমীয়দের সংখ্যা যখন সর্বাধিক হবে তখন কিয়ামত কায়িম হবে। এ সংবাদ আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) এর নিকট পৌছার পর তিনি বললেন, এ কেমন হাদীস, যা সম্বন্ধে লোকেরা বলছে যে, এ নাকি তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করছো? মুসতাওরিদ (রাযিঃ) তাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যা শুনেছি আমি তাই বলছি। এ কথা শুনে আমর (রাযিঃ) বললেন, তুমি যদি বলে থাক তা ঠিকই আছে। কেননা তারা ফিতনার সময় সর্বাধিক ধৈর্যশীল হবে এবং মুসীবতের পর সবার পূর্বেতাদের হুশ ফিরে আসবে। সর্বোপরি তারা হলো মিসকীন এবং দুর্বল মানুষের জন্য অধিক শুভাকাংখী।

১১. দাজ্জালের আবির্ভাবের প্রাক্কালে খৃষ্টানদের ব্যপকভাবে যুদ্ধে অংশ নেয়া।

بَابُ إِقْبَالِ الرُّومِ فِي كَثْرَةِ الْقَتْلِ عِنْدَ خُرُوجِ الدَّجَّالِ

৭০১৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، كِلاَهُمَا عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ حُجْرٍ - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، الْعَدَوِيِّ عَنْ يُسَيْرِ بْنِ جَابِرٍ، قَالَ هَاجَتْ رِيحٌ حَمْرَاءُ بِالْكُوفَةِ فَجَاءَ رَجُلٌ لَيْسَ لَهُ هِجِّيرَى إِلاَّ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ جَاءَتِ السَّاعَةُ . قَالَ فَقَعَدَ وَكَانَ مُتَّكِئًا فَقَالَ إِنَّ السَّاعَةَ لاَ تَقُومُ حَتَّى لاَ يُقْسَمَ مِيرَاثٌ وَلاَ يُفْرَحَ بِغَنِيمَةٍ . ثُمَّ قَالَ بِيَدِهِ هَكَذَا - وَنَحَّاهَا نَحْوَ الشَّأْمِ - فَقَالَ عَدُوٌّ يَجْمَعُونَ لأَهْلِ الإِسْلاَمِ وَيَجْمَعُ لَهُمْ أَهْلُ الإِسْلاَمِ . قُلْتُ الرُّومَ تَعْنِي قَالَ نَعَمْ وَتَكُونُ عِنْدَ ذَاكُمُ الْقِتَالِ رَدَّةٌ شَدِيدَةٌ فَيَشْتَرِطُ الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لاَ تَرْجِعُ إِلاَّ غَالِبَةً فَيَقْتَتِلُونَ حَتَّى يَحْجُزَ بَيْنَهُمُ اللَّيْلُ فَيَفِيءُ هَؤُلاَءِ وَهَؤُلاَءِ كُلٌّ غَيْرُ غَالِبٍ وَتَفْنَى الشُّرْطَةُ ثُمَّ يَشْتَرِطُ الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لاَ تَرْجِعُ إِلاَّ غَالِبَةً فَيَقْتَتِلُونَ حَتَّى يَحْجُزَ بَيْنَهُمُ اللَّيْلُ فَيَفِيءُ هَؤُلاَءِ وَهَؤُلاَءِ كُلٌّ غَيْرُ غَالِبٍ وَتَفْنَى الشُّرْطَةُ ثُمَّ يَشْتَرِطُ الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لاَ تَرْجِعُ إِلاَّ غَالِبَةً فَيَقْتَتِلُونَ حَتَّى يُمْسُوا فَيَفِيءُ هَؤُلاَءِ وَهَؤُلاَءِ كُلٌّ غَيْرُ غَالِبٍ وَتَفْنَى الشُّرْطَةُ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الرَّابِعِ نَهَدَ إِلَيْهِمْ بَقِيَّةُ أَهْلِ الإِسْلاَمِ فَيَجْعَلُ اللَّهُ الدَّبْرَةَ عَلَيْهِمْ فَيَقْتُلُونَ مَقْتَلَةً - إِمَّا قَالَ لاَ يُرَى مِثْلُهَا وَإِمَّا قَالَ لَمْ يُرَ مِثْلُهَا - حَتَّى إِنَّ الطَّائِرَ لَيَمُرُّ بِجَنَبَاتِهِمْ فَمَا يُخَلِّفُهُمْ حَتَّى يَخِرَّ مَيْتًا فَيَتَعَادُّ بَنُو الأَبِ كَانُوا مِائَةً فَلاَ يَجِدُونَهُ بَقِيَ مِنْهُمْ إِلاَّ الرَّجُلُ الْوَاحِدُ فَبِأَىِّ غَنِيمَةٍ يُفْرَحُ أَوْ أَىُّ مِيرَاثٍ يُقَاسَمُ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ سَمِعُوا بِبَأْسٍ هُوَ أَكْبَرُ مِنْ ذَلِكَ فَجَاءَهُمُ الصَّرِيخُ إِنَّ الدَّجَّالَ قَدْ خَلَفَهُمْ فِي ذَرَارِيِّهِمْ فَيَرْفُضُونَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ وَيُقْبِلُونَ فَيَبْعَثُونَ عَشَرَةَ فَوَارِسَ طَلِيعَةً . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لأَعْرِفُ أَسْمَاءَهُمْ وَأَسْمَاءَ آبَائِهِمْ وَأَلْوَانَ خُيُولِهِمْ هُمْ خَيْرُ فَوَارِسَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ يَوْمَئِذٍ أَوْ مِنْ خَيْرِ فَوَارِسَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ يَوْمَئِذٍ " . قَالَ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ فِي رِوَايَتِهِ عَنْ أُسَيْرِ بْنِ جَابِرٍ.

বর্ণনাকারী: উসায়র ইবনে জাবির (রহঃ)

৭০১৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... উসায়র ইবনে জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার কুফা নগরীতে লাল (উত্তপ্ত) ঝঞ্ঝা বায়ু প্রবাহিত হল। এ সময় এক ব্যক্তি কুফায় আসল। তার কথার ’মুদ্রাদোষ’ ছিল ’আলা’ হে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ! কিয়ামত কায়িম হবে না, যতক্ষণ না উত্তরাধিকার সম্পদ অবণ্টিত থাকবে এবং যতক্ষণ না লোক গনিমতে আনন্দিত হবে না। অতঃপর তিনি তার হস্ত দ্বারা সিরিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন, আল্লাহর শক্ররা সমবেত হবে মুসলমানদের সাথে লড়াই করার জন্য এবং মুসলমানগণও তাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য সমবেত হবে।

(এ কথা শুনে) আমি বললাম, আল্লাহর শক্র বলে আপনাদের উদ্দেশ্য হল রোমীয় খ্রীষ্টান সম্প্রদায়। তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং তখন ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হবে। তখন মুসলিম সম্প্রদায় একটি দল অগ্রে প্রেরণ করবে, তারা মৃত্যুর জন্য সামনে অগ্রসর হবে। জয়লাভ করা ব্যতিরেকে তারা পেছনে ফিরবে না। এরপর পরস্পর তাদের মাঝে যুদ্ধ হবে। যুদ্ধ করতে করতে রাত হয়ে যাবে। অতঃপর উভয় পক্ষের সৈন্য জয়লাভ করা ব্যতিরেকেই ফিরে চলে যাবে। যুদ্ধের জন্য মুসলমানদের যে দলটি অগ্রে এগিয়ে গিয়েছিল তারা সকলেই মরে যাবে। অতঃপর পূর্ববর্তী দিন মুসলমানগণ মৃত্যুর জন্য অপর একটি দল অগ্রে প্রেরণ করবে। তারা বিজয়ী না হয়ে প্রত্যাবর্তন করবে না। এদিনও পরস্পরের মাঝে মারাত্মক যুদ্ধ হবে। অবশেষে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। উভয় বাহিনী জয়লাভ করা ব্যতীতই নিজ নিজ শিবিরে ফিরে আসবে। দলটি নিঃশেষ হয়ে যাবে। অতঃপর তৃতীয় দিন পুনঃরায় মুসলমানগণ মৃত্যুর জন্য একটি বাহিনী পাঠাবে। যারা বিজয়ী না হয়ে ফিরবে না। সে দিন পৃথিবীর সর্বোত্তম অশ্বারোহী দলের অন্তর্ভুক্ত হবে তারা।

এ যুদ্ধ সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকবে। অবশেষে জয়লাভ করা ব্যতিরেকেই এ দল ও ঐ দল ফিরে যাবে। (তবে মুসলিম বাহিনীর সামনের) সেনাদলটি শেষ হয়ে যাবে। এরপর যুদ্ধের চতুর্থ দিবসে অবশিষ্ট মুসলমানগণ সকলেই যুদ্ধের জন্য সম্মুখ পানে এগিয়ে যাবে। সেদিন কাফিরদের উপর আল্লাহ তাআলা অমঙ্গল চক্র চাপিয়ে দিবেন। অতঃপর এমন যুদ্ধ হবে যা জীবনে কেউ দেখবেনা অথবা যা জীবনে কেউ দেখেনি। অবশেষে তাদের শরীরের উপর পাখি উড়তে থাকবে। পাখি তাদেরকে অতিক্রম করবে না; এমতাবস্থায় তা মাটিতে পড়ে মরে যাবে। একশ মানুষ বিশিষ্ট পূর্ণ পুরুষদের একটি গোত্র, এদের থেকে মাত্র এক ব্যক্তি বেঁচে থাকবে। এমতাবস্থায় কেমন করে গনিমতের সম্পদ নিয়ে লোকেরা আনন্দ উৎসব করবে এবং কেমন করে উত্তরাধিকার সম্পদ বন্টন করা হবে।

মুসলমানগণ এ সময় আরেকটি ভয়াবহ বিপদের সংবাদ শুনতে পাবে এবং এ মর্মে একটি আওয়াজ তাদের নিকট পৌছবে যে, দাজ্জাল তাদের পেছনে তাদের পরিবার পরিজনের মধ্যে চলে এসেছে। এ সংবাদ শুনতেই তারা হাতের সমস্ত কিছু ফেলে দিয়ে রওয়ানা হয়ে যাবে এবং দশজন অশ্বারোহী ব্যক্তিকে সংবাদ সংগ্রাহক দল হিসাবে প্রেরণ করবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ দাজ্জালের সংবাদ সংগ্রাহক দলের প্রতিটি ব্যক্তির নাম, তাদের বাপ-দাদার নাম এবং তাদের অশ্বের রং সম্পর্কেও আমি অবগত আছি। এ এ পৃথিবীর সর্বোত্তম অশ্বারোহী দল সেদিন তারাই হবে। অথবা (বলেছেন) ইবনে আবি শাঈবা (তার) রিওয়ায়াতের মধ্যে يُسَيْرِ بْنِ جَابِرٍ এর পরিবর্তে أُسَيْرِ بْنِ جَابِرٍ বর্ণনা করে ছেন।

১১. দাজ্জালের আবির্ভাবের প্রাক্কালে খৃষ্টানদের ব্যপকভাবে যুদ্ধে অংশ নেয়া।

بَابُ إِقْبَالِ الرُّومِ فِي كَثْرَةِ الْقَتْلِ عِنْدَ خُرُوجِ الدَّجَّالِ

৭০১৮

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْغُبَرِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ، هِلاَلٍ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ يُسَيْرِ بْنِ جَابِرٍ، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ مَسْعُودٍ فَهَبَّتْ رِيحٌ حَمْرَاءُ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِنَحْوِهِ . وَحَدِيثُ ابْنُ عُلَيَّةَ أَتَمُّ وَأَشْبَعُ .

বর্ণনাকারী: উসায়র ইবনে জাবির (রহঃ)

৭০১৮। মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ ইবনুল গুবারী (রাহঃ) ......... ইউসায়র ইবনে জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর নিকট ছিলাম। তখন লাল উত্তপ্ত ঝঞ্ঝা বায়ু প্রবাহিত হল ...... অতঃপর তিনি পূর্বের ন্যায় অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনে উলায়্যার হাদীসটি পূর্ণাঙ্গ এবং তৃপ্তিদায়ক।

৭০১৯

وَحَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُغِيرَةِ - حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، - يَعْنِي ابْنَ هِلاَلٍ - عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أُسَيْرِ بْنِ جَابِرٍ، قَالَ كُنْتُ فِي بَيْتِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَالْبَيْتُ مَلآنُ - قَالَ - فَهَاجَتْ رِيحٌ حَمْرَاءُ بِالْكُوفَةِ . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ ابْنِ عُلَيَّةَ .

বর্ণনাকারী: উসায়র ইবনে জাবির (রহঃ)

৭০১৯। শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ......... উসায়র ইবনে জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর বাড়ীতে ছিলাম। বাড়ীটি তখন লোকে লোকারণ্য ছিল। ইবনে উসায়র এর মত তিনিও বললেন, তখন কুফা নগরীতে লাল উত্তপ্ত ঝঞ্ঝা বায়ু প্রবাহিত হল।

১২. দাজ্জালের (আত্মপ্রকাশের) পূর্বে মুসলিমগণ যে সকল বিজয় লাভ করবেন

باب مَا يَكُونُ مِنْ فُتُوحَاتِ الْمُسْلِمِينَ قَبْلَ الدَّجَّالِ

৭০২০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ عُتْبَةَ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةٍ - قَالَ - فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَوْمٌ مِنْ قِبَلِ الْمَغْرِبِ عَلَيْهِمْ ثِيَابُ الصُّوفِ فَوَافَقُوهُ عِنْدَ أَكَمَةٍ فَإِنَّهُمْ لَقِيَامٌ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاعِدٌ - قَالَ - فَقَالَتْ لِي نَفْسِي ائْتِهِمْ فَقُمْ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ لاَ يَغْتَالُونَهُ - قَالَ - ثُمَّ قُلْتُ لَعَلَّهُ نَجِيٌّ مَعَهُمْ . فَأَتَيْتُهُمْ فَقُمْتُ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَهُ - قَالَ - فَحَفِظْتُ مِنْهُ أَرْبَعَ كَلِمَاتٍ أَعُدُّهُنَّ فِي يَدِي قَالَ " تَغْزُونَ جَزِيرَةَ الْعَرَبِ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ فَارِسَ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ تَغْزُونَ الرُّومَ فَيَفْتَحُهَا اللَّهُ ثُمَّ تَغْزُونَ الدَّجَّالَ فَيَفْتَحُهُ اللَّهُ " . قَالَ فَقَالَ نَافِعٌ يَا جَابِرُ لاَ نَرَى الدَّجَّالَ يَخْرُجُ حَتَّى تُفْتَحَ الرُّومُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৭০২০। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... নাফি ইবনে উতবা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। তখন পশ্চিম দিক হতেএক দল লোক নবী (ﷺ) এর নিকট আসল। তাদের গায়ে ছিল পশমের কাপড়। তারা এক টিলার নিকট এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সাক্ষাত করলো। এসময় তারা ছিল দণ্ডায়মান এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন উপবিষ্ট। আমার মন তখন আমাকে বলল, তুমি যাও এবং তাদের ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাঝে গিয়ে দাঁড়াও, যেন তারা প্রতারণা করে তাকে হত্যা করতে না পারে। পুনঃরায় আবার আমার মনে আসল, সম্ভবত তিনি তাদের সাথে কোন গোপন আলাপ করছেন। তথাপি আমি গেলাম এবং তাদের ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মধ্যখানে দাঁড়িয়ে রইলাম।

এ সময় আমি তার থেকে চারটি কথা মুখস্থ করলাম এবং তিনি এ কথাগুলো আমার হাত দ্বারাই গণনা করালেন। তিনি বললেন, তোমরা জাযিরাতুল আরবে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ তা বিজীত করে দিবেন। অতঃপর পারস্যবাসীদের সাথে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ তাও বিজীত করে দিবেন। এরপর রোমানদের সাথে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ তাআলা এতেও তোমাদের বিজয়ী করে দিবেন। অবশেষে তোমরা দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে, এখানেও আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে বিজয়ী করবেন। বর্ণনাকারী নাফি (রাহঃ) বলেন, হে জাবির! আমাদের বিশ্বাস রোম বিজয়ের পূর্ব দাজ্জালের আবির্ভাব হচ্ছে না।

১৩. কিয়ামতের পূর্বে যে সব আলামত দেখা দিবে

باب فِي الآيَاتِ الَّتِي تَكُونُ قَبْلَ السَّاعَةِ

৭০২১

حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَابْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ - وَاللَّفْظُ لِزُهَيْرٍ - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ فُرَاتٍ، الْقَزَّازِ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ أَسِيدٍ الْغِفَارِيِّ، قَالَ اطَّلَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَيْنَا وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ فَقَالَ " مَا تَذَاكَرُونَ " . قَالُوا نَذْكُرُ السَّاعَةَ . قَالَ " إِنَّهَا لَنْ تَقُومَ حَتَّى تَرَوْنَ قَبْلَهَا عَشْرَ آيَاتٍ " . فَذَكَرَ الدُّخَانَ وَالدَّجَّالَ وَالدَّابَّةَ وَطُلُوعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَنُزُولَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ صلى الله عليه وسلم وَيَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَثَلاَثَةَ خُسُوفٍ خَسْفٌ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفٌ بِالْمَغْرِبِ وَخَسْفٌ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَآخِرُ ذَلِكَ نَارٌ تَخْرُجُ مِنَ الْيَمَنِ تَطْرُدُ النَّاسَ إِلَى مَحْشَرِهِمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৭০২১। আবু খায়সামা যুহাইর ইবনে হারব, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও ইবনে আবু উমর মক্কী (রাহঃ) ......... হুযাইফা ইবনে আসীদ আল গিফারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা আলোচনা করছিলাম। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট আসলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা কি নিয়ে আলোচনা করছ? তাঁরা বললেন- আমরা কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করছি। তখন তিনি বললেনঃ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না তোমরা দশটি বিশেষ নিদর্শন দেখবে। অতঃপর তিনি ধুম্র, দাজ্জাল, দাব্বা, পশ্চিম দিগন্ত হতে সূর্য উদিত হওয়া, মারইয়াম তনয় ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর অবতরণ, ইয়াজুজ মা'জুজ এবং তিনবার ভূমি ধ্বসে যাওয়া তথা পূর্ব প্রান্তে একটি ভূমি ধ্বস, পশ্চিম প্রান্তে একটি ভূমি ধ্বস, এবং আরব উপদ্বীপে একটি ভূমি ধ্বসের কথা উল্লেখ করলেন। এ নিদর্শনসমূহের পর এক আগুন প্রকাশিত হবে, ইয়ামান থেকে এবং মানুষকে তাড়িয়ে হাশরের ময়দানে দিকে নিয়ে যাবে।

৭০২২

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ فُرَاتٍ الْقَزَّازِ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ أَبِي سَرِيحَةَ، حُذَيْفَةَ بْنِ أَسِيدٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي غُرْفَةٍ وَنَحْنُ أَسْفَلَ مِنْهُ فَاطَّلَعَ إِلَيْنَا فَقَالَ " مَا تَذْكُرُونَ " . قُلْنَا السَّاعَةَ . قَالَ " إِنَّ السَّاعَةَ لاَ تَكُونُ حَتَّى تَكُونَ عَشْرُ آيَاتٍ خَسْفٌ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفٌ بِالْمَغْرِبِ وَخَسْفٌ فِي جَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَالدُّخَانُ وَالدَّجَّالُ وَدَابَّةُ الأَرْضِ وَيَأْجُوجُ وَمَأْجُوجُ وَطُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَنَارٌ تَخْرُجُ مِنْ قُعْرَةِ عَدَنٍ تَرْحَلُ النَّاسَ " . قَالَ شُعْبَةُ وَحَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ رُفَيْعٍ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَنْ أَبِي سَرِيحَةَ . مِثْلَ ذَلِكَ لاَ يَذْكُرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ أَحَدُهُمَا فِي الْعَاشِرَةِ نُزُولُ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ صلى الله عليه وسلم . وَقَالَ الآخَرُ وَرِيحٌ تُلْقِي النَّاسَ فِي الْبَحْرِ .

বর্ণনাকারী: আবু সারীহা হুযায়ফা ইবনে আসীদ (রাঃ)

৭০২২। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয আনবারী (রাহঃ) ......... আবু সারীহা হুযাইফা ইবনে আসী’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একটি কামরার ভেতর ছিলেন। তখন আমরা তাঁর থেকে একটু নীচু স্থানে ছিলাম। তখন তিনি আমাদের দিকে দৃষ্টি দিয়ে বললেন, তোমরা কি আলোচনা করছিলে। আমরা বললাম, কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। এ কথা শুনে তিনি বললেনঃ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না দশটি নিদর্শন প্রকাশিত হবে। পূর্ব দিগন্তে ভূমি ধস, পশ্চিম অঞ্চলে ভূমি ধস, আরব উপদ্বীপে ভূমি ধস, ধুম্র, দাজ্জাল, দাব্বাতুল আরদ, ইয়াযুয-মা'জুজ, পশ্চিম দিক হতে সূর্য উদিত হওয়া এবং সর্বশেষ আদন এর গর্ত হতে অগ্নি প্রকাশিত হওয়া যা লোকদেরকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। শু’বা (রাহঃ) বলেন, ......... আবু সারীহা থেকে ......... অনুরূপ। তবে এতেনবী (ﷺ) উল্লেখ করেন, দশম নিদর্শন হিসাবে একজন ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর অবতরণের কথা বলেছেন, অন্যজন বলেছেন যে, এমন ঝঞ্ঝা বায়ু (প্রবাহিত হবে), যা লোকদেরকে সমুদ্রের মধ্যে নিক্ষেপ করবে।

৭০২৩

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ فُرَاتٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الطُّفَيْلِ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي سَرِيحَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غُرْفَةٍ وَنَحْنُ تَحْتَهَا نَتَحَدَّثُ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمِثْلِهِ . قَالَ شُعْبَةُ وَأَحْسِبُهُ قَالَ تَنْزِلُ مَعَهُمْ إِذَا نَزَلُوا وَتَقِيلُ مَعَهُمْ حَيْثُ قَالُوا . قَالَ شُعْبَةُ وَحَدَّثَنِي رَجُلٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَنْ أَبِي سَرِيحَةَ وَلَمْ يَرْفَعْهُ قَالَ أَحَدُ هَذَيْنِ الرَّجُلَيْنِ نُزُولُ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَقَالَ الآخَرُ رِيحٌ تُلْقِيهِمْ فِي الْبَحْرِ .

বর্ণনাকারী: আবু সারীহা হুযায়ফা ইবনে আসীদ (রাঃ)

৭০২৩। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু সারীহা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক কামরায় ছিলেন। আমরা তার নীচে ছিলাম। ...... অতঃপর বর্ণনাকারী হাদীসটি পূর্বের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। শু’বা (রাহঃ) বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছেনঃ তারা যেখানে অবতরণ করবে আগুনও সেখানে অবতরণ করবে এবং তারা যেখানে দ্বিপ্রহরে বিশ্রাম করবে আগুনও সেখানে তাদের সঙ্গে দ্বিপ্রহরে বিশ্রাম করবে। বর্ণনাকারী শু’বা (রাহঃ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি আবু সারীহার এ হাদীসটি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি তা মারফূ হিসাবে উল্লেখ করেননি। এতে এক ব্যক্তি বলেছেন, দশম নিদর্শনটি হল, ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর অবতরণ। কিন্তু অপর ব্যক্তি বলেছেন, (দশম নিদর্শনটি হল), তখন এমন ঝঞ্ঝা বাযু প্রবাহিত হবে, যা তাদের সমুদ্রে নিক্ষেপ করবে।

৭০২৪

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ الْحَكَمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ فُرَاتٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الطُّفَيْلِ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي سَرِيحَةَ، قَالَ كُنَّا نَتَحَدَّثُ فَأَشْرَفَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . بِنَحْوِ حَدِيثِ مُعَاذٍ وَابْنِ جَعْفَرٍ . وَقَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ الْحَكَمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ، الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ أَبِي سَرِيحَةَ، بِنَحْوِهِ قَالَ وَالْعَاشِرَةُ نُزُولُ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ . قَالَ شُعْبَةُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ عَبْدُ الْعَزِيزِ .

বর্ণনাকারী: আবু সারীহা হুযায়ফা ইবনে আসীদ (রাঃ)

৭০২৪। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আবু সারীহা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আলোচনা করছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উপর থেকে আমাদের দিকে দৃষ্টি দিলেন ...... অতঃপর তিনি মু’আয ও ইবনে আবু জাফরের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি (তার হাদীসের শেষাংশে) বলেছেন যে, দশম নিদর্শনটি হল, মারইয়াম তনয় ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর অবতরণ। বর্ণনাকারী শু’বা (রাহঃ) বলেন, আব্দুল আযীয (রাহঃ) এ হাদীসটি মারফু (হিসাবে বর্ণনা) করেন নি।

১৪. হিজায ভূমি থেকে আগুন প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না

باب لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَخْرُجَ نَارٌ مِنْ أَرْضِ الْحِجَازِ

৭০২৫

حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ح وَحَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ جَدِّي، حَدَّثَنِي عُقَيْلُ بْنُ، خَالِدٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ قَالَ قَالَ ابْنُ الْمُسَيَّبِ أَخْبَرَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَخْرُجَ نَارٌ مِنْ أَرْضِ الْحِجَازِ تُضِيءُ أَعْنَاقَ الإِبِلِ بِبُصْرَى " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০২৫। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না হিযায ভূমি থেকে একটি অগ্নি প্রকাশিত হবে। ফলে বসরায় অবস্থানরত উটের গলা পর্যন্ত আলোকিত হয়ে যাবে।

১৫. কিয়ামতের পূর্বে মদীনার বসতি ও আবাদী

باب فِي سُكْنَى الْمَدِينَةِ وَعِمَارَتِهَا قَبْلَ السَّاعَةِ

৭০২৬

حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي، صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَبْلُغُ الْمَسَاكِنُ إِهَابَ أَوْ يَهَابَ " . قَالَ زُهَيْرٌ قُلْتُ لِسُهَيْلٍ فَكَمْ ذَلِكَ مِنَ الْمَدِينَةِ قَالَ كَذَا وَكَذَا مِيلاً .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০২৬। আমর আন-নাকিদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ মদীনার বাড়ি বসতি ইহাব অথবা ইয়হাব পর্যন্ত পৌছে যাবে। যুহাইর (রাহঃ) বলেন, আমি সূহায়ল (রাহঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, উহা মদীনা হতে কত দুরে অবস্থিত। তিনি বললেন, এতো-এতো মাইল দুরে অবস্থিত।

৭০২৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَتِ السَّنَةُ بِأَنْ لاَ تُمْطَرُوا وَلَكِنِ السَّنَةُ أَنْ تُمْطَرُوا وَتُمْطَرُوا وَلاَ تُنْبِتُ الأَرْضُ شَيْئًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০২৭। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ অনাবৃষ্টি দুর্ভিক্ষ নয়। বরং দুর্ভিক্ষ কেবল বৃষ্টি হতে থাকবে, বৃষ্টি হতে থাকবে। ফলে ভূমি কোন কিছুই উৎপন্ন করবে না।

১৬. ফিতনা পূর্ব দিক থেকে (আত্মপ্রকাশ করবে), যেদিক থেকে শয়তানের শিং উদিত হয়

باب الْفِتْنَةِ مِنَ الْمَشْرِقِ مِنْ حَيْثُ يَطْلُعُ قَرْنَا الشَّيْطَانِ

৭০২৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُسْتَقْبِلُ الْمَشْرِقِ يَقُولُ " أَلاَ إِنَّ الْفِتْنَةَ هَا هُنَا أَلاَ إِنَّ الْفِتْنَةَ هَا هُنَا مِنْ حَيْثُ يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭০২৮। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (অন্য সনদে) মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পূর্বমুখী ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, ফিতনা এদিক থেকে, ফিতনা এদিক থেকে- যেদিক থেকে শয়তানের শিং উদিত হয়।

৭০২৯

حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ، سَعِيدٍ كُلُّهُمْ عَنْ يَحْيَى الْقَطَّانِ، قَالَ الْقَوَارِيرِيُّ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ، عُمَرَ حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَامَ عِنْدَ بَابِ حَفْصَةَ فَقَالَ بِيَدِهِ نَحْوَ الْمَشْرِقِ " الْفِتْنَةُ هَا هُنَا مِنْ حَيْثُ يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ " . قَالَهَا مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا . وَقَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ فِي رِوَايَتِهِ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ بَابِ عَائِشَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭৩২৯। উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আল কাওয়ারিরী, মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (অন্য সনদে) উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাফসা (রাযিঃ) এর দরজার নিকট দণ্ডায়মান ছিলেন। এ সময় তিনি তাঁর আঙ্গুল দ্বারা প্রাচ্যের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, ফিতনা এ দিক থেকে-যেদিক থেকে শয়তানের শিং উদিত হবে। এ কথাটি তিনি দুই বা তিনবার বলেছেন। বর্ণনাকারী উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) তার বর্ণনায় বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশা (রাযিঃ) এর দরজার নিকট দাঁড়িয়ে ছিলেন।

৭০৩০

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَهُوَ مُسْتَقْبِلُ الْمَشْرِقِ " هَا إِنَّ الْفِتْنَةَ هَا هُنَا هَا إِنَّ الْفِتْنَةَ هَا هُنَا هَا إِنَّ الْفِتْنَةَ هَا هُنَا مِنْ حَيْثُ يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭০৩০। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পূর্বমুখী অবস্থায় বললেনঃ শোন! ফিতনা এদিকে, শোন! ফিতনা এদিকে, শোন! ফিতনা এদিকে- যেদিক থেকে শয়তানের শিং উদিত হবে।

৭০৩১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ بَيْتِ عَائِشَةَ فَقَالَ " رَأْسُ الْكُفْرِ مِنْ هَا هُنَا مِنْ حَيْثُ يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ " . يَعْنِي الْمَشْرِقَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭০৩১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশা (রাযিঃ) এর ঘর থেকে বের হয়ে বললেনঃ কুফরীর মাথা এদিক থেকে-যেদিক থেকে শয়তানের শিং উদিত হয়। অর্থাৎ পূর্ব দিক থেকে।

৭০৩২

وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، - يَعْنِي ابْنَ سُلَيْمَانَ - أَخْبَرَنَا حَنْظَلَةُ، قَالَ سَمِعْتُ سَالِمًا، يَقُولُ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُشِيرُ بِيَدِهِ نَحْوَ الْمَشْرِقِ وَيَقُولُ " هَا إِنَّ الْفِتْنَةَ هَا هُنَا هَا إِنَّ الْفِتْنَةَ هَا هُنَا " . ثَلاَثًا " حَيْثُ يَطْلُعُ قَرْنَا الشَّيْطَانِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭০৩২। ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, পূর্ব দিকে ইঙ্গিত করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি একথা বলতে শুনেছি যে, সাবধান, ফিতনা এদিক থেকে, সাবধান ফিতনা এদিক থেকে- তিনবার বলে তিনি বললেন- যেদিক থেকে শয়তানের শিং উদিত হয়।

৭০৩৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبَانَ، وَوَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، وَأَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ الْوَكِيعِيُّ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ أَبَانَ - قَالُوا حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، بْنِ عُمَرَ يَقُولُ يَا أَهْلَ الْعِرَاقِ مَا أَسْأَلَكُمْ عَنِ الصَّغِيرَةِ وَأَرْكَبَكُمْ لِلْكَبِيرَةِ سَمِعْتُ أَبِي عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ الْفِتْنَةَ تَجِيءُ مِنْ هَا هُنَا " . وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ نَحْوَ الْمَشْرِقِ " مِنْ حَيْثُ يَطْلُعُ قَرْنَا الشَّيْطَانِ " . وَأَنْتُمْ يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ وَإِنَّمَا قَتَلَ مُوسَى الَّذِي قَتَلَ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ خَطَأً فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ ( وَقَتَلْتَ نَفْسًا فَنَجَّيْنَاكَ مِنَ الْغَمِّ وَفَتَنَّاكَ فُتُونًا) قَالَ أَحْمَدُ بْنُ عُمَرَ فِي رِوَايَتِهِ عَنْ سَالِمٍ لَمْ يَقُلْ سَمِعْتُ .

বর্ণনাকারী: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

৭০৩৩। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আবান, ওয়াসিল ইবনে আব্দুল আ’লা ও আহমাদ ইবনে উমর ওয়াকীঈ (রাহঃ) ......... সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলতেন, হে ইরাকবাসী! আশ্চর্য! সগীরা (গুনাহ) সম্পর্কে তোমাদের কতই প্রশ্ন অথচ কবীরা (গুনাহ) করতে তোমাদের দ্বিধা নেই। আমি আমার পিতা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে শুনেছি, তিনি বলতেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তার হাত দ্বারা পূর্ব দিকে ইঙ্গিত করে বলতে শুনেছি, ফিতনা এদিক থেকে আসবে-যেদিক থেকে শয়তানের দুই শিং উদিত হয়। অথচ তোমরা পরস্পর হানাহানি করছে। মুসা (আলাইহিস সালাম) ফিরআউন গোষ্ঠীর এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলেন। তিনি সে হত্যা করে ছিলেন অনিচ্ছাক্রমে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “এবং তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে, অতঃপর আমি তোমাকে মনঃপীড়া হতে মুক্তি দেই। আমি তোমাকে বহু সংকটের সম্মুখীন করেছি।” বর্ণনাকারী আহমাদ ইবনে উমর (রাহঃ) তাঁর বর্ণনায় سَمِعْتُ سَالِما না বলে عَنْ سَالِمٍ বলেছেন।

১৭. কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না দাউস গোত্রীয় লোকেরা যুল-খালাসা (মন্দিরে প্রতীমার) র পূজা করবে

باب لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَعْبُدَ دَوْسٌ ذَا الْخَلَصَةِ

৭০৩৪

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ عَبْدٌ أَخْبَرَنَا وَقَالَ ابْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَضْطَرِبَ أَلَيَاتُ نِسَاءِ دَوْسٍ حَوْلَ ذِي الْخَلَصَةِ " . وَكَانَتْ صَنَمًا تَعْبُدُهَا دَوْسٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ بِتَبَالَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৩৪। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না দাউস গোত্রীয় রমণীদের নিতম্ব যুলখালাসা মূর্তির চারপাশে আন্দোলিত হবে। যুলখালাসা একটি মুর্তি ছিল, দাউস গোত্রীয় লোকেরা প্রাক-ইসলামী যুগে তাবালা নামক স্থানে এর পূজা করত।

৭০৩৫

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، وَأَبُو مَعْنٍ زَيْدُ بْنُ يَزِيدَ الرَّقَاشِيُّ - وَاللَّفْظُ لأَبِي مَعْنٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يَذْهَبُ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ حَتَّى تُعْبَدَ اللاَّتُ وَالْعُزَّى " . فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ كُنْتُ لأَظُنُّ حِينَ أَنْزَلَ اللَّهُ ( هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ) أَنَّ ذَلِكَ تَامًّا قَالَ " إِنَّهُ سَيَكُونُ مِنْ ذَلِكَ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ يَبْعَثُ اللَّهُ رِيحًا طَيِّبَةً فَتَوَفَّى كُلَّ مَنْ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةِ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ فَيَبْقَى مَنْ لاَ خَيْرَ فِيهِ فَيَرْجِعُونَ إِلَى دِينِ آبَائِهِمْ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭০৩৫। আবু কামিল আল জাহদারী, আবু মাআন যায়দ ইবনে ইয়াযীদ রাকাশী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, রাত দিন খতম হবে না, (কিয়ামত হবে না) যতক্ষণ না লাত ও উযযা দেবতার পূজা (পূনরায় আরম্ভ) করা হয়। এ কথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, তাঁর রাসুলকে প্রেরণ করেছেন হিদায়াত ও সত্য দ্বীন সহ, সকল দ্বীনের উপর উহাকে শ্রেষ্ঠত্ব দানের জন্য, যদিও মুশরিকরা উহা অপছন্দ করে। এ আয়াত নাযিলের পর আমি তো মনে করছিলাম যে, এ ওয়াদা অবশ্যই পূর্ণ হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তা অবশ্যই হবে। তবে যতদিন আল্লাহ ইচ্ছা করবেন ততদিন পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে। অতঃপর তিনি স্বচ্ছ বায়ু প্রবাহিত করবেন। ফলে যাদের হৃদয়ে দানা পরিমাণ ঈমান আছে তাদের প্রত্যেককেই তুলে নিবে। অবশেষে যাদের মাঝে কোন কল্যাণ নেই তারাই কেবল বেঁচে থাকবে। তখন তারা পূর্ব পুরুষদের ধর্মে ফিরে যাবে।

৭০৩৬

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، - وَهُوَ الْحَنَفِيُّ - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ، بْنُ جَعْفَرٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৭০৩৬। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আব্দুল হামীদ ইবনে জাফর (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

১৮. কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না (বিপদাপদের কারণে) এক ব্যক্তি আর এক ব্যক্তির কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মৃত ব্যক্তির স্থানে হওয়ার বাসনা করবে

بَاب لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ بِقَبْرِ الرَّجُلِ فَيَتَمَنَّى أَنْ يَكُونَ مَكَانَ الْمَيِّتِ مِنْ الْبَلَاءِ

৭০৩৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، فِيمَا قُرِئَ عَلَيْهِ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ بِقَبْرِ الرَّجُلِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي مَكَانَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৩৭। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন কিয়ামত কায়িম হবে না, যতক্ষণ না এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির কবরের পাশ দিয়ে যাত্রাকালে বলবে, হায়! আমি যদি তার স্থানে হতাম।

৭০৩৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبَانَ بْنِ صَالِحٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الرِّفَاعِيُّ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ أَبَانَ - قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ أَبِي إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ تَذْهَبُ الدُّنْيَا حَتَّى يَمُرَّ الرَّجُلُ عَلَى الْقَبْرِ فَيَتَمَرَّغُ عَلَيْهِ وَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي كُنْتُ مَكَانَ صَاحِبِ هَذَا الْقَبْرِ وَلَيْسَ بِهِ الدِّينُ إِلاَّ الْبَلاَءُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৩৮। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবান ইবনে সালিহ ও মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াযীদ রিফাঈ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ, আমি তাঁর শপথ করে বলছি, দুনিয়া খতম হবে না যতক্ষণ না এক ব্যক্তি কবরের পাশ দিযে যাত্রাকালে উহার উপর গড়াগড়ি দিয়ে বলবে, হায়! এই কবরবাসীর স্থানে যদি আমি হতাম। তার নিকট দ্বীন থাকবে না; থাকবে কেবল বালা মুসীবত।

৭০৩৯

وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، عَنْ يَزِيدَ، - وَهُوَ ابْنُ كَيْسَانَ - عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لاَ يَدْرِي الْقَاتِلُ فِي أَىِّ شَىْءٍ قَتَلَ وَلاَ يَدْرِي الْمَقْتُولُ عَلَى أَىِّ شَىْءٍ قُتِلَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৩৯। ইবনে আবু উমর মক্কী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ ঐ সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, মানুষের নিকট এমন এক সময় আসবে, যখন হত্যাকারী জানবে না যে, কি অপরাধে সে হত্যা করেছে এবং নিহত ব্যক্তিও জানবে না যে, কি অপরাধে সে নিহত হয়েছে।

৭০৪০

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبَانَ، وَوَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ أَبِي إِسْمَاعِيلَ الأَسْلَمِيِّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ تَذْهَبُ الدُّنْيَا حَتَّى يَأْتِيَ عَلَى النَّاسِ يَوْمٌ لاَ يَدْرِي الْقَاتِلُ فِيمَ قَتَلَ وَلاَ الْمَقْتُولُ فِيمَ قُتِلَ " . فَقِيلَ كَيْفَ يَكُونُ ذَلِكَ قَالَ " الْهَرْجُ . الْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ " . وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ أَبَانَ قَالَ هُوَ يَزِيدُ بْنُ كَيْسَانَ عَنْ أَبِي إِسْمَاعِيلَ . لَمْ يَذْكُرِ الأَسْلَمِيَّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৪০। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আবান, ওয়াসিল ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ সেই সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, দুনিয়া খতম হবে না যে পর্যন্ত না মানুষের নিকট আসে এমন এক যুগ, যখন হত্যাকারী জানবে না যে, কি কারণে সে হত্যা করেছে এবং নিহত ব্যক্তিও জানবে না যে, কি কারণে সে নিহত হয়েছে। প্রশ্ন করা হল, এমন যুলুম কিভাবে হবে? তিনি বললেনঃ সে যুগটা হবে খুনাখুনির যুগ। এরূপ যুগের হত্যকারী ও নিহত উভয় ব্যক্তি জাহান্নামী হবে। বর্ণনাকারী আবানের রিওয়ায়াতে ইয়াযীদ ইবনে কায়সান। তিনি ইসমাঈল (রাহঃ) থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে আসলামী শব্দটি তিনি উল্লেখ করেননি।

৭০৪১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، - وَاللَّفْظُ لأَبِي بَكْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " يُخَرِّبُ الْكَعْبَةَ ذُو السُّوَيْقَتَيْنِ مِنَ الْحَبَشَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৪১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ ছোট ছোটপায়ের গোছা বিশিষ্ট আবিসিনিয়ার এক ব্যক্তি কাবা গৃহকে ধ্বংস করবে।

৭০৪২

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُخَرِّبُ الْكَعْبَةَ ذُو السُّوَيْقَتَيْنِ مِنَ الْحَبَشَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৪২। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আবিসিনিয়ার এক ব্যক্তি কাবা গৃহকে ধ্বংস করবে; তার পায়ের গোছা ছোট ছোট হবে।

৭০৪৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي الدَّرَاوَرْدِيَّ - عَنْ ثَوْرِ بْنِ، زَيْدٍ عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " ذُو السُّوَيْقَتَيْنِ مِنَ الْحَبَشَةِ يُخَرِّبُ بَيْتَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৪৩। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ছোট ছোট গোছা বিশিষ্ট আবিসিনিয়ার এক ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার ঘরকে ধ্বংস করবে।

৭০৪৪

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنْ ثَوْرِ بْنِ، زَيْدٍ عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَخْرُجَ رَجُلٌ مِنْ قَحْطَانَ يَسُوقُ النَّاسَ بِعَصَاهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৪৪। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ না কাহতান গোত্র হতে এক ব্যক্তির আবির্ভাব হবে, যে লোকদেরকে লাঠি দ্বারা পরিচালিত করবে।

৭০৪৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْكَبِيرِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْحَكَمِ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَذْهَبُ الأَيَّامُ وَاللَّيَالِي حَتَّى يَمْلِكَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ الْجَهْجَاهُ " . قَالَ مُسْلِمٌ هُمْ أَرْبَعَةُ إِخْوَةٍ شَرِيكٌ وَعُبَيْدُ اللَّهِ وَعُمَيْرٌ وَعَبْدُ الْكَبِيرِ بَنُو عَبْدِ الْمَجِيدِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৪৫। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার আল-আব্দী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাত দিন খতম হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না জাহজাহ নামক ব্যক্তি বাদশাহ হবে।

মুসলিম (রাহঃ) বলেন, তারা চার ভাই- শরীক, উবাইদুল্লাহ, উমায়র ও আব্দুল কবীর। তারা সকলেই আব্দুল মজীদের সন্তান।
৭০৪৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ أَبِي عُمَرَ - قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْمَجَانُّ الْمُطْرَقَةُ وَلاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا نِعَالُهُمُ الشَّعَرُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৪৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামত কায়িম হবে না যে পর্যন্ত না, তোমরা এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ করবে, যাদের মুখমণ্ডল হবে পরতে পরতে চামড়া দিয়ে তৈরী ঢালের ন্যায় (পশমযুক্ত চামড়ার) গোশতবহুল এবং কিয়ামত সংগঠিত হবে না, যে পর্যন্ত না তোমরা এমন জাতির সাথে যুদ্ধ করবে, যাদের জুতা হবে পশমের।

৭০৪৭

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلَكُمْ أُمَّةٌ يَنْتَعِلُونَ الشَّعَرَ وُجُوهُهُمْ مِثْلُ الْمَجَانِّ الْمُطْرَقَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৪৭। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামত কায়িম হবে না যে পর্যন্ত না তোমরা এমন দলের সাথে যুদ্ধ করবে যারা পশমযুক্ত জুতা পরিধান করবে। তাদের মুখমণ্ডল হবে চামড়া জড়ানো ঢালের ন্যায় (গোশতবহুল)।

৭০৪৮

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا نِعَالُهُمُ الشَّعَرُ وَلاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تُقَاتِلُوا قَوْمًا صِغَارَ الأَعْيُنِ ذُلْفَ الآنُفِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৪৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামত কায়িম হবে না, যে পর্যন্ত তোমরা এমন সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ না করবে, যাদের জুতা হবে পশমযুক্ত চামড়ার। কিয়ামত সংগঠিত হবে না, যে পর্যন্ত তোমরা এমন কওমের সাথে যুদ্ধ না করবে যাদের চক্ষু হবে ছোট ছোট এবং নাসিকা হবে অনুন্নত (চ্যাপটা)।

৭০৪৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ التُّرْكَ قَوْمًا وُجُوهُهُمْ كَالْمَجَانِّ الْمُطْرَقَةِ يَلْبَسُونَ الشَّعَرَ وَيَمْشُونَ فِي الشَّعَرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৪৯। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামত সংগঠিত হবে না, যে পর্যন্ত মুসলিমরা তুর্কীদের সাথে যুদ্ধ না করবে। তারা এমন সম্প্রদায়, যাদের মুখমণ্ডল হবে চামড়া জড়ানো ঢালের ন্যায় (গোশতবহুল)। তারা পশমী পোশাক পরবে এবং পশমের উপর (পশমযুক্ত জুতা পায়ে) হাটবে।

৭০৫০

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ، بْنِ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تُقَاتِلُونَ بَيْنَ يَدَىِ السَّاعَةِ قَوْمًا نِعَالُهُمُ الشَّعَرُ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الْمَجَانُّ الْمُطْرَقَةُ حُمْرُ الْوُجُوهِ صِغَارُ الأَعْيُنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৫০। আবু কুরায়ব ও আবু উসামা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামতের পূর্বে তোমরা এমন এক কওমের সাথে যুদ্ধ করবে, যাদের জুতা হবে পশমের। তাদের মুখমণ্ডল চামড়া জড়ানো ঢালের ন্যায় (গোশতবহুল), এবং রক্ত বর্ণ হবে এবং তাদের চোখ হবে ছোট ছোট।

৭০৫১

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، - وَاللَّفْظُ لِزُهَيْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ يُوشِكُ أَهْلُ الْعِرَاقِ أَنْ لاَ يُجْبَى إِلَيْهِمْ قَفِيزٌ وَلاَ دِرْهَمٌ . قُلْنَا مِنْ أَيْنَ ذَاكَ قَالَ مِنْ قِبَلِ الْعَجَمِ يَمْنَعُونَ ذَاكَ . ثُمَّ قَالَ يُوشِكَ أَهْلُ الشَّأْمِ أَنْ لاَ يُجْبَى إِلَيْهِمْ دِينَارٌ وَلاَ مُدْىٌ . قُلْنَا مِنْ أَيْنَ ذَاكَ قَالَ مِنْ قِبَلِ الرُّومِ . ثُمَّ سَكَتَ هُنَيَّةً ثُمَّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَكُونُ فِي آخِرِ أُمَّتِي خَلِيفَةٌ يَحْثِي الْمَالَ حَثْيًا لاَ يَعُدُّهُ عَدَدًا " . قَالَ قُلْتُ لأَبِي نَضْرَةَ وَأَبِي الْعَلاَءِ أَتَرَيَانِ أَنَّهُ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَقَالاَ لاَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৭০৫১। যুহাইর ইবনে হারব ও আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, অচিরেই এমন হবে যে, ইরাকবাসীরা না খাদ্যশস্য পাবে না দিরহাম পাবে। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, কোন দিক থেকে এ বিপদ আসবে? তিনি বললেন, অনারবদের পক্ষ থেকে। তারা তা (খাদ্য শস্য ও দিরহাম) আসতে বাধা দিবে। তিনি আবার বললেন অচিরেই সিরিয়াবাসীর নিকট কোন দীনার আসবে না এবং কোন খাদ্যশস্যও আসবে না। আমরা বললাম, এ বিপদ কোন দিক থেকে আগমন করবে? তিনি বললেন, রোমের দিক থেকে। অতঃপর তিনি (রাবী) কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মতের শেষভাগে একজন খলীফা হবে। সে হাত ভরে ভরে অর্থ সম্পদ দান করবে, গণনা করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি আবু নাদরা ও আবুল আলাকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাদের কি মনে করেন তিনি উমর ইবনে আব্দুল আযীয? তারা জবাবে বললেন, না।

৭০৫২

وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، - يَعْنِي الْجُرَيْرِيَّ - بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৭০৫২। ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... জুরায়রী (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৭০৫৩

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرٌ يَعْنِي ابْنَ الْمُفَضَّلِ، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ، بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ عُلَيَّةَ - كِلاَهُمَا عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مِنْ خُلَفَائِكُمْ خَلِيفَةٌ يَحْثُو الْمَالَ حَثْيًا لاَ يَعُدُّهُ عَدَدًا " . وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ حُجْرٍ " يَحْثِي الْمَالَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭০৫৩। নসর ইবনে আলী আল জাহযামী (অন্য সনদে) আলী ইবনে হুজর সা’দী (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের খলীফাদের মধ্যে একজন খলীফা এমন হবে, যে হাত ভরে ভরে দান করবে এবং মালের কোন গণনাই করবে না। ইবনে হুজর (রাহঃ)-এর রেওয়ায়েতে يَحْثُو الْمَالَ এর পরিবর্তে يَحْثِي الْمَالَ বর্ণিত আছে।

৭০৫৪

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا دَاوُدُ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ خَلِيفَةٌ يَقْسِمُ الْمَالَ وَلاَ يَعُدُّهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭০৫৪। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ ও জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আখেরী যুগে এমন খলীফা পয়দা হবে, যে মাল বণ্টন করবে কিন্তু মোটেই গণনা করবে না।

৭০৫৫

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي، نَضْرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭০৫৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৭০৫৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي مَسْلَمَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا نَضْرَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَنْ، هُوَ خَيْرٌ مِنِّي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِعَمَّارٍ حِينَ جَعَلَ يَحْفِرُ الْخَنْدَقَ وَجَعَلَ يَمْسَحُ رَأْسَهُ وَيَقُولُ " بُؤْسَ ابْنِ سُمَيَّةَ تَقْتُلُكَ فِئَةٌ بَاغِيةٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭০৫৬। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে, আম্মার (রাযিঃ) যখন পরিখা খনন করছিলেন তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে (তাঁকে সম্বোধন করে) বলেছেনঃ সুমাইয়ার পুত্রের জন্য ভয়াবহ সংকট (আপতিত হবে) এবং একটি বিদ্রোহী দল তোমাকে হত্যা করবে।

৭০৫৭

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُعَاذِ بْنِ عَبَّادٍ الْعَنْبَرِيُّ، وَهُرَيْمُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالاَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ قَالُوا أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، كِلاَهُمَا عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي مَسْلَمَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَهُ غَيْرَ أَنَّ فِي حَدِيثِ النَّضْرِ أَخْبَرَنِي مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنِّي أَبُو قَتَادَةَ . وَفِي حَدِيثِ خَالِدِ بْنِ الْحَارِثِ قَالَ أُرَاهُ يَعْنِي أَبَا قَتَادَةَ . وَفِي حَدِيثِ خَالِدٍ وَيَقُولُ " وَيْسَ " . أَوْ يَقُولُ " يَا وَيْسَ ابْنِ سُمَيَّةَ " .

বর্ণনাকারী: আবূ মাসলামাহ সা‘ঈদ ইবনু ইয়াযীদ আল-আযদী (রহঃ)

৭০৫৭। মুহাম্মাদ ইবনে মু’আয ইবনে আব্বাদ আল আনবারী ও হুরায়ম ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) (অন্য সনদে) ইসহাক ইবনে ইবরাহীম, ইসহাক ইবনে মনসুর, মাহমুদ ইবনে গায়লান ও মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা (রাহঃ) ......... আবু মাসলামা (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

তবে নাদরের হাদীসে রয়েছে যে, أَخْبَرَنِي مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنِّي أَبُو قَتَادَةَ এবং খালিদ ইবনে হারিসের হাদীসে أُرَاهُ يَعْنِي أَبَا قَتَادَةَ আমার মনে হয় যে তিনি আবু কাতাদাকে বুঝিয়েছেন। খালিদের হাদীসে يؤس ابْنِ سُمَيَّةَ এর স্থলে وَيْسَ বা ياويس ابْنِ سُمَيَّةَ বর্ণিত আছে।
৭০৫৮

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ جَبَلَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ح وَحَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ، مُكْرَمٍ الْعَمِّيُّ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ قَالَ عُقْبَةُ حَدَّثَنَا وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ خَالِدًا، يُحَدِّثُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِعَمَّارٍ " تَقْتُلُكَ الْفِئَةُ الْبَاغِيَةُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৭০৫৮। মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে জাবালা (অন্য সনদে) উকবা ইবনে মুকাররাম আম্মী ও আবু বকর ইবনে নাফি (রাহঃ) ......... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আম্মার (রাযিঃ) কে বলেছেনঃ তোমাকে বিদ্রোহী (রাষ্ট্রদ্রোহী) লোকেরা হত্যা করবে।

৭০৫৯

وَحَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ، وَالْحَسَنِ، عَنْ أُمِّهِمَا، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৭০৫৯। ইসহাক ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৭০৬০

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَقْتُلُ عَمَّارًا الْفِئَةُ الْبَاغِيَةُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৭০৬০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আম্মারকে রাষ্ট্রদ্রোহী লোকেরা হত্যা করবে।

৭০৬১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يُهْلِكُ أُمَّتِي هَذَا الْحَىُّ مِنْ قُرَيْشٍ " . قَالُوا فَمَا تَأْمُرُنَا قَالَ " لَوْ أَنَّ النَّاسَ اعْتَزَلُوهُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৬১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কুরাইশের এ গোত্রটি আমার উম্মতকে ধংস করবে। (এ কথা শুনে) সাহাবীগণ বললেন, আপনি আমাদের কি আদেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেনঃ তখন যেন লোকেরা তাদের থেকে দূরে সরে যায়।

৭০৬২

وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ النَّوْفَلِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ فِي مَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৭০৬২। আহমাদ ইবনে ইবরাহীম দাওরাকী (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৭০৬৩

حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ أَبِي عُمَرَ - قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ مَاتَ كِسْرَى فَلاَ كِسْرَى بَعْدَهُ وَإِذَا هَلَكَ قَيْصَرُ فَلاَ قَيْصَرَ بَعْدَهُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتُنْفَقَنَّ كُنُوزُهُمَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৬৩। আমর নাকিদ ও ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ কিসরা (পারস্য রাজা) মারা গেছে। অতঃপর পারস্য রাজ্য আর হবে না। এবং যখন কায়সার (রোম সম্রাট) মারা যাবে তারপর আর কোন কায়সার (রোম সম্রাট) হবে না। শপথ ঐ সত্তার, যার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা তাদের ধন-ভাণ্ডার অবশ্যই আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করবে।

৭০৬৪

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، ح وَحَدَّثَنِي ابْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، كِلاَهُمَا عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِإِسْنَادِ سُفْيَانَ وَمَعْنَى حَدِيثِهِ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৭০৬৪। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া অন্য সনদে ইবনে রাফি ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... যুহরী (রাহঃ) থেকে সুফিয়ান (রাহঃ) এর সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৭০৬৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلَكَ كِسْرَى ثُمَّ لاَ يَكُونُ كِسْرَى بَعْدَهُ وَقَيْصَرُ لَيَهْلِكَنَّ ثُمَّ لاَ يَكُونُ قَيْصَرُ بَعْدَهُ وَلَتُقْسَمَنَّ كُنُوزُهُمَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ " .

বর্ণনাকারী: হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রহঃ)

৭০৬৫। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এগুলো সে সব হাদীস যা আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে একটি হাদীস হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিসরা (পারস্য রাজ্য) নিপাত গিয়েছে, এরপর আর কেউ কিসরা (পারস্য রাজ) হবে না। কায়সার (রোম সম্রাট) অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাবে। এরপর আর কোন কায়সার (রোম সম্রাট) হবে না। তোমরা তাদের ধনভাণ্ডার আল্লাহর পথে বন্টন করবে।

৭০৬৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا هَلَكَ كِسْرَى فَلاَ كِسْرَى بَعْدَهُ " . فَذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ سَوَاءً .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

৭০৬৬। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কিসরা (পারস্য রাজা) নিপাত যাবে, এরপর আর কেউ কিসরা (পারস্য রাজা) হবেনা। অতঃপর জাবির (রাযিঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৭০৬৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكِ، بْنِ حَرْبٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَتَفْتَحَنَّ عِصَابَةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ أَوْ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ كَنْزَ آلِ كِسْرَى الَّذِي فِي الأَبْيَضِ " . قَالَ قُتَيْبَةُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ . وَلَمْ يَشُكَّ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

৭০৬৭। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও আবু কামিল আল জাহদারী (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই মুসলমান অথবা মুমিনদের একটি দল শুভ্র প্রাসাদে সংরক্ষিত কিসরা পারস্য রাজ্য পরিবারের ধনভাণ্ডার জয় করবে। বর্ণনাকারী কুতায়বা দ্বিধাহীনভাবে মুসলমানদের কথা উল্লেখ করেছেন।

৭০৬৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى حَدِيثِ أَبِي عَوَانَةَ .

বর্ণনাকারী: সিমাক ইবনে হারব (রহঃ)

৭০৬৮। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... সিমাক ইবনে হারব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি ...... আবু আওয়ানা (রাহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ।

৭০৬৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنْ ثَوْرٍ، - وَهُوَ ابْنُ زَيْدٍ الدِّيلِيُّ - عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " سَمِعْتُمْ بِمَدِينَةٍ جَانِبٌ مِنْهَا فِي الْبَرِّ وَجَانِبٌ مِنْهَا فِي الْبَحْرِ " . قَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَغْزُوَهَا سَبْعُونَ أَلْفًا مِنْ بَنِي إِسْحَاقَ فَإِذَا جَاءُوهَا نَزَلُوا فَلَمْ يُقَاتِلُوا بِسِلاَحٍ وَلَمْ يَرْمُوا بِسَهْمٍ قَالُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ . فَيَسْقُطُ أَحَدُ جَانِبَيْهَا " . قَالَ ثَوْرٌ لاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ قَالَ " الَّذِي فِي الْبَحْرِ ثُمَّ يَقُولُوا الثَّانِيَةَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ . فَيَسْقُطُ جَانِبُهَا الآخَرُ ثُمَّ يَقُولُوا الثَّالِثَةَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ . فَيُفَرَّجُ لَهُمْ فَيَدْخُلُوهَا فَيَغْنَمُوا فَبَيْنَمَا هُمْ يَقْتَسِمُونَ الْمَغَانِمَ إِذْ جَاءَهُمُ الصَّرِيخُ فَقَالَ إِنَّ الدَّجَّالَ قَدْ خَرَجَ . فَيَتْرُكُونَ كُلَّ شَىْءٍ وَيَرْجِعُونَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৬৯। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কি ঐ শহরের কথা শুনেছ, যার এক প্রান্তে স্থল ভাগে এবং এক প্রান্তে সাগরে? তারা (সাহবীগণ) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! শুনেছি। অতঃপর বললেনঃ কিয়ামত কায়িম হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত ইসহাক (ইসমাঈল) (আলাইহিস সালাম) এর সন্তানদের সত্তর হাজার লোক এ শহরের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করবে। তারা শহরের দ্বার প্রান্তে উপনীত হয়ে কোন অস্ত্র দ্বারা যুদ্ধ করবে না এবং কোন তীরও চালাবে না; বরং তারা একবার لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ বলবে; অমনি এর একপ্রান্ত পতিত (পদানত) হয়ে যাবে।

বর্ণনাকারী সাওর (রাহঃ) বলেন, আমার যতদূর মনে পড়ে, আমার কাছে বর্ণনাকারী ব্যক্তি সাগর প্রান্তের কথা বলেছিলেন। অতঃপর দ্বিতীয়বার তারা لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ বলবে। এতে শহরের অপর প্রান্ত পতিত (পদানত) হয়ে যাবে। এরপর তারা তৃতীয় বার لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ বলবে তখন তাদের জন্য (নগর তোরণ) খুলে দেয়া হবে। তখন তারা সেখানে (প্রচুর) গনিমত লাভ করবে। তারা যখন গনিমতের মাল বন্টনে ব্যস্ত থাকবে, তখন কেউ চিৎকার করে ঘোষণা করবে, দাজ্জালের আবির্ভাব হয়েছে। এ কথা শুনতেই তারা সব কিছু ফেলে প্রত্যাবর্তন করবে।
৭০৭০

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مَرْزُوقٍ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، حَدَّثَنَا ثَوْرُ بْنُ زَيْدٍ الدِّيلِيُّ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ بِمِثْلِهِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৭০৭০। মুহাম্মাদ ইবনে মারযুক (রাহঃ) ......... সাওর ইবনে যায়দ দীলী (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৭০৭১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَتُقَاتِلُنَّ الْيَهُودَ فَلَتَقْتُلُنَّهُمْ حَتَّى يَقُولَ الْحَجَرُ يَا مُسْلِمُ هَذَا يَهُودِيٌّ فَتَعَالَ فَاقْتُلْهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭০৭১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ অবশ্যই তোমরা ইয়াহুদীদের সাথে যুদ্ধ করবে এবং তোমরা তাদেরকে হত্যা করবে, এমনও হবে যে, পাথর বলবে, হে মুসলিম! এ-ই তো ইয়াহুদী। তুমি তাকে হত্যা কর।

৭০৭২

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَقَالَ فِي حَدِيثِهِ " هَذَا يَهُودِيٌّ وَرَائِي " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৭০৭২। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে রয়েছে هَذَا يَهُودِيٌّ وَرَائِي অর্থাৎ এই তো আমার পশ্চাতে এক ইয়াহুদী (লুকিয়ে) আছে।

৭০৭৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ حَمْزَةَ، قَالَ سَمِعْتُ سَالِمًا، يَقُولُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَقْتَتِلُونَ أَنْتُمْ وَيَهُودُ حَتَّى يَقُولَ الْحَجَرُ يَا مُسْلِمُ هَذَا يَهُودِيٌّ وَرَائِي تَعَالَ فَاقْتُلْهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭০৭৩। আবু বকর ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা এবং ইয়াহুদী সম্প্রদায় পরস্পর লড়াই করবে। অবশেষে পাথরও বলবে, হে মুসলিম! এই তো ইয়াহুদী আমার পাশ্চাতে (লুকিয়ে আছে), এসো তাকে তুমি হত্যা কর।

৭০৭৪

حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تُقَاتِلُكُمُ الْيَهُودُ فَتُسَلَّطُونَ عَلَيْهِمْ حَتَّى يَقُولَ الْحَجَرُ يَا مُسْلِمُ هَذَا يَهُودِيٌّ وَرَائِي فَاقْتُلْهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭০৭৪। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়াহুদী সম্প্রদায় তোমাদের সাথে যুদ্ধ করবে। অতঃপর তাদের উপর তোমাদের প্রাধান্য দেয়া হবে। অবশেষে পাথর বলবে, হে মুসলিম! এই তো ইয়াহুদী আমার পশ্চাতে লুকিয়ে আছে, তাকে তুমি হত্যা কর।

৭০৭৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُقَاتِلَ الْمُسْلِمُونَ الْيَهُودَ فَيَقْتُلُهُمُ الْمُسْلِمُونَ حَتَّى يَخْتَبِئَ الْيَهُودِيُّ مِنْ وَرَاءِ الْحَجَرِ وَالشَّجَرِ فَيَقُولُ الْحَجَرُ أَوِ الشَّجَرُ يَا مُسْلِمُ يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا يَهُودِيٌّ خَلْفِي فَتَعَالَ فَاقْتُلْهُ . إِلاَّ الْغَرْقَدَ فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرِ الْيَهُودِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৭৫। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত সংগঠিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলমানগণ ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের সাথে লড়াই না করবে। মুসলমানগণ তাদেরকে হত্যা করবে। ফলে তারা পাথর বা বৃক্ষের আড়ালে আত্মগোপন করবে। তখন পাথর বা গাছ বলবে, হে মুসলিম, হে আল্লাহর বান্দা! এই তো ইয়াহুদী আমার পশ্চাতে। এসো, তাকে হত্যা কর। কিন্তু ’গারকাদ’ গাছ এ কথা বলবে না। কারণ এ হচ্ছে ইয়াহুদীদের গাছ।

৭০৭৬

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، كِلاَهُمَا عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ بَيْنَ يَدَىِ السَّاعَةِ كَذَّابِينَ " . وَزَادَ فِي حَدِيثِ أَبِي الأَحْوَصِ قَالَ فَقُلْتُ لَهُ آنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

৭০৭৬। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া ও আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (অন্য সনদে) আবু কামিল আল-জাহদারী (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছি, কিয়ামতের পূর্বে কতিপয় মিথ্যাবাদী লোকের আবির্ভাব হবে। তবে আবুল আহওয়াসের বর্ণনায় এ কথা বর্ণিত আছে যে, আমি তাকে [জাবির (রাযিঃ)] কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ কথা শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ (শুনেছি)।

৭০৭৭

وَحَدَّثَنِي ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ . قَالَ سِمَاكٌ وَسَمِعْتُ أَخِي، يَقُولُ قَالَ جَابِرٌ فَاحْذَرُوهُمْ .

বর্ণনাকারী: সিমাক ইবনে হারব (রহঃ)

৭০৭৭। ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... সিমাক (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। সিমাক (রাহঃ) বলেনঃ আমি আমার ভাইকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, জাবির (রাযিঃ) বলেছেন, তোমরা তাদের থেকে সতর্ক থাকবে।

৭০৭৮

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ، زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - وَهُوَ ابْنُ مَهْدِيٍّ - عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُبْعَثَ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ قَرِيبٌ مِنْ ثَلاَثِينَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৭৮। যুহায়ব ইবনে হারব ও ইসহাক ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামত সংগঠিত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না প্রায় ত্রিশজন মিথ্যাবাদী দাজ্জালের আবির্ভাব হয়। আবির্ভাবের পর তারা প্রত্যেকেই দাবী করবে, সে আল্লাহর রাসুল।

৭০৭৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِهِ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ يَنْبَعِثَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৭৯। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে রাবী حَتَّى يُبْعَثَ স্থলে حَتَّى يَنْبَعِثَ বলেছেন।

১৯. ইবনে সাইয়্যাদের আলোচনা

باب ذِكْرِ ابْنِ صَيَّادٍ

৭০৮০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - وَاللَّفْظُ لِعُثْمَانَ - قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ، عُثْمَانُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَرَرْنَا بِصِبْيَانٍ فِيهِمُ ابْنُ صَيَّادٍ فَفَرَّ الصِّبْيَانُ وَجَلَسَ ابْنُ صَيَّادٍ فَكَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَرِهَ ذَلِكَ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " تَرِبَتْ يَدَاكَ أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ " . فَقَالَ لاَ . بَلْ تَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ . فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ذَرْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ حَتَّى أَقْتُلَهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ يَكُنِ الَّذِي تَرَى فَلَنْ تَسْتَطِيعَ قَتْلَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৭০৮০। উসমান ইবনে আবি শাঈবা ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। এ সময় আমরা কতিপয় বালকের নিকট দিয়ে গেলাম। তাদের মধ্যে ইবনে সাইয়্যাদও বিদ্যমান ছিল। বালকেরা পালিয়ে গেল এবং ইবনে সাইয়্যাদ বসে রইল। এ দেথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুটা বিরক্তিবোধ করলেন। অতঃপর নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ তোমার দুই হাত ধুলায় ধুসরিত হোক। তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসুল! সে বলল, না। বরং আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে আমি আল্লাহর রাসুল। একথা শুনে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ছেড়ে দিন। আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি যা মনে করছ, যদি সে সে-ই হয়, তবে তো তুমি তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না।

৭০৮১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ - وَاللَّفْظُ لأَبِي كُرَيْبٍ - قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا نَمْشِي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَمَرَّ بِابْنِ صَيَّادٍ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ خَبَأْتُ لَكَ خَبِيئًا " . فَقَالَ دُخٌّ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اخْسَأْ فَلَنْ تَعْدُوَ قَدْرَكَ " . فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ دَعْنِي فَأَضْرِبَ عُنُقَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " دَعْهُ فَإِنْ يَكُنِ الَّذِي تَخَافُ لَنْ تَسْتَطِيعَ قَتْلَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৭০৮১। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর সাথে হ্যাঁটছিলাম। এমতাবস্থায় তিনি ইবনে সাইয়্যাদের নিকট দিয়ে পথ অতিক্রম করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ তোমার জন্য আমি একটি কথা গোপন রেখেছি। বল তো তা কি? সে (ইবনে সাইয়্যাদ) বলল, (আপনার অন্তরে) دخ (ধুঁয়া) শব্দটি লুকায়িত আছে। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ দুর্ভাগা! তুই তোর পরিমণ্ডল অতিক্রম করতে পারবি না। তখন উমর (রাযিঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে ছেড়ে দিন। এক্ষণি আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাকে রেখে দাও, যার সম্পর্কে তুমি আশঙ্কা করছ সে যদি ঐ ব্যক্তিই হয়ে থাকে তবে তুমি তাকে হত্যা করতে পারবে না।

৭০৮২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ نُوحٍ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ لَقِيَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ فِي بَعْضِ طُرُقِ الْمَدِينَةِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ " . فَقَالَ هُوَ أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " آمَنْتُ بِاللَّهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ مَا تَرَى " . قَالَ أَرَى عَرْشًا عَلَى الْمَاءِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَرَى عَرْشَ إِبْلِيسَ عَلَى الْبَحْرِ وَمَا تَرَى " . قَالَ أَرَى صَادِقَيْنِ وَكَاذِبًا أَوْ كَاذِبَيْنِ وَصَادِقًا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لُبِسَ عَلَيْهِ دَعُوهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭০৮২। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার মদীনার কোন এক গলিতে ইবনে সাইয়্যাদের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু বকর ও উমর (রাযিঃ) এর সামনাসামনি দেখা হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দাও, আমি আল্লাহর রাসুল? জবাবে সে বলল, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি তো আল্লাহর প্রতি, তার ফিরিশতাগণের প্রতি ও তার কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান আনয়ন করেছি। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি কি দেখতে পাও? সে বলল, আমি পানির উপর আরশ দেখতে পাই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি তো সমুদ্রে ইবলীসের আরশ (সিংহাসন) দেখতে পাও। আচ্ছা তুমি আর কি দেখতে পাচ্ছ? সে বলল, আমি দুজন সত্যবাদী ও একজন মিথ্যাবাদীকে অথবা দুইজন মিথ্যাবাদী ও একজন সত্যবাদীকে দেখতে পাচ্ছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ একে ছেড়ে দাও। সে অস্পষ্টতার শিকার।

৭০৮৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالاَ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا أَبُو نَضْرَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَقِيَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ابْنَ صَائِدٍ وَمَعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَابْنُ صَائِدٍ مَعَ الْغِلْمَانِ . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ الْجُرَيْرِيِّ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৭০৮৩। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী (ﷺ) ইবনে সাইয়্যাদকে দেখলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আবু বকর ও উমর (রাযিঃ) ও ছিলেন। এবং ইবনে সাইয়্যাদ ছিল কতিপয় বালকের সাথে ...... অতঃপর জুরায়রী (রাহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৭০৮৪

حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا دَاوُدُ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ صَحِبْتُ ابْنَ صَائِدٍ إِلَى مَكَّةَ فَقَالَ لِي أَمَا قَدْ لَقِيتُ مِنَ النَّاسِ يَزْعُمُونَ أَنِّي الدَّجَّالُ أَلَسْتَ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّهُ لاَ يُولَدُ لَهُ " . قَالَ قُلْتُ بَلَى . قَالَ فَقَدْ وُلِدَ لِي . أَوَلَيْسَ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يَدْخُلُ الْمَدِينَةَ وَلاَ مَكَّةَ " . قُلْتُ بَلَى . قَالَ فَقَدْ وُلِدْتُ بِالْمَدِينَةِ وَهَذَا أَنَا أُرِيدُ مَكَّةَ - قَالَ - ثُمَّ قَالَ لِي فِي آخِرِ قَوْلِهِ أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لأَعْلَمُ مَوْلِدَهُ وَمَكَانَهُ وَأَيْنَ هُوَ . قَالَ فَلَبَسَنِي .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭০৮৪। উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আল কাওয়ারীরী ও মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (মক্কা যাওয়ার পথে) ইবনে সাইয়্যাদ মক্কা পর্যন্ত আমার সফর সঙ্গী ছিল। পথিমধ্যে সে আমায় বলল, মানুষের কানাঘুষায় আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। তারা মনে করছে, আমিই দাজ্জাল। আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেননি যে, দাজ্জালের কোন সন্তান হবে না? তিনি বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ শুনেছি। তখন সে বলল, আমার তো সন্তানাদি রয়েছে। আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেননি যে, দাজ্জাল মক্কা ও মদীনা প্রবেশ করতে পারবে না? আমি বললাম, হ্যাঁ, শুনেছি। সে বলল, দেখুন, আমি তো মদীনায় জন্মগ্রহণ করেছি এবং এখন মক্কা যাবার ইচ্ছা করছি। এ সব কথা বলার পর উপসংহারে সে বলল, আল্লাহর কসম! তবে আমি জানি, দাজ্জাল কোথায় জন্মগ্রহণ করেছে, তার বাড়ী কোথায় এবং এখন সে কোথায় আছে। আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) বলেন, (এহেন কথা বলে) সে আমাকে মহা ফাঁপরে ফেলে দিল।

৭০৮৫

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالاَ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ لِيَ ابْنُ صَائِدٍ وَأَخَذَتْنِي مِنْهُ ذَمَامَةٌ هَذَا عَذَرْتُ النَّاسَ مَا لِي وَلَكُمْ يَا أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ أَلَمْ يَقُلْ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهُ يَهُودِيٌّ " . وَقَدْ أَسْلَمْتُ . قَالَ " وَلاَ يُولَدُ لَهُ " . وَقَدْ وُلِدَ لِي . وَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَ عَلَيْهِ مَكَّةَ " . وَقَدْ حَجَجْتُ . قَالَ فَمَا زَالَ حَتَّى كَادَ أَنْ يَأْخُذَ فِيَّ قَوْلُهُ . قَالَ فَقَالَ لَهُ أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لأَعْلَمُ الآنَ حَيْثُ هُوَ وَأَعْرِفُ أَبَاهُ وَأُمَّهُ . قَالَ وَقِيلَ لَهُ أَيَسُرُّكَ أَنَّكَ ذَاكَ الرَّجُلُ قَالَ فَقَالَ لَوْ عُرِضَ عَلَىَّ مَا كَرِهْتُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭০৮৫। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবনে সাইয়্যাদ আমার সাথে কিছু কথাবার্তা বলল। এতে আমি লজ্জিত হচ্ছিলাম। (সে বলল), লোকদের নিকট ওযর পেশ করছি, হে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর সাথীরা! আমার ব্যাপারে তোমাদের কি হয়েছে? আল্লাহর নবী (ﷺ) কি এ কথা বলেননি যে, দাজ্জাল ইয়াহুদী হবে? আমি তো মুসলমান হয়েছি। তিনি তো বলেছেনঃ দাজ্জালের কোন সন্তান হবে না। আমার তো সন্তানাদি রয়েছে। তিনি তো এও বলেছেন যে আল্লাহ তাআলা দাজ্জালের উপর মক্কায় প্রবেশ করা হারাম করে দিয়েছেন। অথচ আমি তো হজ্জও করেছি। আবু সাঈদ (রাযিঃ) বলেন, সে অনর্গল এমনভাবে বলে যেতে লাগল, যার ফলে আমি তাকে সত্যবাদী মনে করার কাছাকাছি পৌছে গেলাম। অতঃপর সে বলল, আল্লাহর শপথ! অবশ্যই আমি জানি, দাজ্জাল এখন কোথায় আছে। আমি তার পিতামাতাকেও চিনি। লোকেরা ইবনে সাইয়্যাদকে প্রশ্ন করল, তুমি দাজ্জাল হও, একি তুমি পছন্দ কর? জবাবে সে বলল, যদি আমাকে দাজ্জাল হওয়ার প্রস্তাব করা হয়, তবে আমি তা অপছন্দ করব না।

১৭. ইবনে সাইয়্যাদের আলোচনা

باب ذِكْرِ ابْنِ صَيَّادٍ

৭০৮৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ نُوحٍ، أَخْبَرَنِي الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ خَرَجْنَا حُجَّاجًا أَوْ عُمَّارًا وَمَعَنَا ابْنُ صَائِدٍ - قَالَ - فَنَزَلْنَا مَنْزِلاً فَتَفَرَّقَ النَّاسُ وَبَقِيتُ أَنَا وَهُوَ فَاسْتَوْحَشْتُ مِنْهُ وَحْشَةً شَدِيدَةً مِمَّا يُقَالُ عَلَيْهِ - قَالَ - وَجَاءَ بِمَتَاعِهِ فَوَضَعَهُ مَعَ مَتَاعِي . فَقُلْتُ إِنَّ الْحَرَّ شَدِيدٌ فَلَوْ وَضَعْتَهُ تَحْتَ تِلْكَ الشَّجَرَةِ - قَالَ - فَفَعَلَ - قَالَ - فَرُفِعَتْ لَنَا غَنَمٌ فَانْطَلَقَ فَجَاءَ بِعُسٍّ فَقَالَ اشْرَبْ أَبَا سَعِيدٍ . فَقُلْتُ إِنَّ الْحَرَّ شَدِيدٌ وَاللَّبَنُ حَارٌّ . مَا بِي إِلاَّ أَنِّي أَكْرَهُ أَنْ أَشْرَبَ عَنْ يَدِهِ - أَوْ قَالَ آخُذَ عَنْ يَدِهِ - فَقَالَ أَبَا سَعِيدٍ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آخُذَ حَبْلاً فَأُعَلِّقَهُ بِشَجَرَةٍ ثُمَّ أَخْتَنِقَ مِمَّا يَقُولُ لِيَ النَّاسُ يَا أَبَا سَعِيدٍ مَنْ خَفِيَ عَلَيْهِ حَدِيثُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا خَفِيَ عَلَيْكُمْ مَعْشَرَ الأَنْصَارِ أَلَسْتَ مِنْ أَعْلَمِ النَّاسِ بِحَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَلَيْسَ قَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هُوَ كَافِرٌ " . وَأَنَا مُسْلِمٌ أَوَلَيْسَ قَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هُوَ عَقِيمٌ لاَ يُولَدُ لَهُ " . وَقَدْ تَرَكْتُ وَلَدِي بِالْمَدِينَةِ أَوَ لَيْسَ قَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَدْخُلُ الْمَدِينَةَ وَلاَ مَكَّةَ " . وَقَدْ أَقْبَلْتُ مِنَ الْمَدِينَةِ وَأَنَا أُرِيدُ مَكَّةَ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ حَتَّى كِدْتُ أَنْ أَعْذِرَهُ . ثُمَّ قَالَ أَمَا وَاللَّهِ إِنِّي لأَعْرِفُهُ وَأَعْرِفُ مَوْلِدَهُ وَأَيْنَ هُوَ الآنَ . قَالَ قُلْتُ لَهُ تَبًّا لَكَ سَائِرَ الْيَوْمِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭০৮৬। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা হজ্জ বা উমরার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। আমাদের সাথে ছিল ইবনে সাইয়াদ। অতঃপর এক স্থানে আমরা অবতরণ করলাম। লোকেরা এদিক-ওদিক চলে গেল। কেবল আমি এবং সে রয়ে গেলাম। লোকেরা ইবনে সাইয়্যাদ সম্পর্কে যে কথা বলাবলি করছে, এ কারণে আমি তার থেকে ভীষণ একাকীত্ব (আতংক)-বোধ করছিলাম। তিনি বলেন, সে তার মাল-পত্র আমার মালের সাথে এনে রাখল। আমি বললাম, গরম খুব প্রচণ্ড। তুমি যদি তোমার মালামাল ঐ গাছের নীচে নিয়ে রাখতে। এ কথা শুনে সে তাই করল। অতঃপর আমাদের সামনে কতগুলো বকরী এল। এ দেখে ইবনে সাইয়্যাদ সেখানে গেল এবং এক পাত্র দুধ নিয়ে এল। এরপর সে আমাকে বলল, হে আবু সাঈদ। তুমি দুধ পান করে নাও। আমি বললাম, গরম খুব প্রচন্ড। দুধও গরম। আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) বলেন, দুধ পান না করার কারণ এটাই ছিল যে, তার হাতে দুধ পান করা বা তার হাত থেকে দুধ গ্রহণ করা আমি পছন্দ করিনি।

এ দেখে ইবনে সাইয়্যাদ বলল, হে আবু সাঈদ! লোকেরা আমার সম্পর্কে যে কথা কানাঘুষা করে বলছে, এ কারণে এখন আমার ইচ্ছা যে, আমি একটি রশি নিয়ে উহা গাছে লটকিয়ে ফাঁসি দিয়ে মরে যাই। অতঃপর সে বলল, হে আবু সাঈদ! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাদীস ওটা কারো নিকট লুক্কায়িত থাকলেও আনসার সম্প্রদায়ের নিকট তা লুকায়িত নয়। আর তুমি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাদীস সম্পর্কে তাদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞাত নও?

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি বলেননি যে, দাজ্জাল কাফির হবে অথচ আমি মুসলমান। তিনি কি বলেননি যে, দাজ্জাল (বন্ধ্যা এবং) সন্তানহীন হবে? অথচ মদীনায় আমি আমার সন্তান রেখে এসেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি বলেননি যে, দাজ্জাল মক্কা মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না? অথচ আমি মদীনা থেকে এসেছি এবং মক্কা যাবার ইচ্ছা করছি। আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) বলেন, তার কথায় আমি তার পক্ষ অবলম্বন করার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। অতঃপর সে (ইবনে সাইয়াদ) বললঃ আল্লাহর কসম! আমি তাকে (দাজ্জালকে) চিনি, তার জন্মস্থান চিনি এবং এখন সে কোথায় আছে, তাও আমি জানি। এ কথা শুনে আমি বললাম, তোমার সমস্ত দিন ধ্বংস হোক, অকল্যাণকর হোক।

১৯. ইবনে সাইয়্যাদের আলোচনা

باب ذِكْرِ ابْنِ صَيَّادٍ

৭০৮৭

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُفَضَّلٍ - عَنْ أَبِي مَسْلَمَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاِبْنِ صَائِدٍ " مَا تُرْبَةُ الْجَنَّةِ " . قَالَ دَرْمَكَةٌ بَيْضَاءُ مِسْكٌ يَا أَبَا الْقَاسِمِ . قَالَ " صَدَقْتَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭০৮৭। নসর ইবনে আলী আল জাহযামী (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইবনে সাইয়্যাদকে প্রশ্ন করেছেন, জান্নাতের মাটি কিরূপ হবে? সে বলল, হে আবুল কাসিম! (জান্নাতের মাটি) সাদা ময়দা এবং মিশকের মত সুগন্ধিযুক্ত হবে। তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) বললেনঃ তুমি সত্য বলেছ।

৭০৮৮

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ ابْنَ صَيَّادٍ، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ تُرْبَةِ الْجَنَّةِ فَقَالَ " دَرْمَكَةٌ بَيْضَاءُ مِسْكٌ خَالِصٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭০৮৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইবনে সাইয়্যাদ জান্নাতের মাটি সম্পর্কে নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ জান্নাতের মাটি ময়দার মত সাদা এবং খাঁটি মিশকের ন্যায় সুগন্ধিযুক্ত হবে।

৭০৮৯

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، قَالَ رَأَيْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَحْلِفُ بِاللَّهِ أَنَّ ابْنَ صَائِدٍ الدَّجَّالُ، فَقُلْتُ أَتَحْلِفُ بِاللَّهِ قَالَ إِنِّي سَمِعْتُ عُمَرَ يَحْلِفُ عَلَى ذَلِكَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يُنْكِرْهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহঃ)

৭০৮৯। উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয আল আনবারী (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে আল্লাহর নামে শপথ করে এ কথা বলতে শুনেছি যে, ইবনে সাইয়্যাদই হলো দাজ্জাল। আমি বললাম, আপনি আল্লাহর নামে শপথ করে এ কথা বলছেন? তিনি বললেন, আমি উমর (রাযিঃ) কে নবী (ﷺ) এর নিকট শপথ করে এ বিষয়ে শপথ করতে শুনেছি। তখন নবী (ﷺ) তার এ কথাকে প্রত্যাখ্যান করেননি।

৭০৯০

حَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَرْمَلَةَ بْنِ عِمْرَانَ التُّجِيبِيُّ، أَخْبَرَنِي ابْنُ، وَهْبٍ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ أَخْبَرَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ انْطَلَقَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَهْطٍ قِبَلَ ابْنِ صَيَّادٍ حَتَّى وَجَدَهُ يَلْعَبُ مَعَ الصِّبْيَانِ عِنْدَ أُطُمِ بَنِي مَغَالَةَ وَقَدْ قَارَبَ ابْنُ صَيَّادٍ يَوْمَئِذٍ الْحُلُمَ فَلَمْ يَشْعُرْ حَتَّى ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ظَهْرَهُ بِيَدِهِ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاِبْنِ صَيَّادٍ " أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ " . فَنَظَرَ إِلَيْهِ ابْنُ صَيَّادٍ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ الأُمِّيِّينَ . فَقَالَ ابْنُ صَيَّادٍ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَرَفَضَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " آمَنْتُ بِاللَّهِ وَبِرُسُلِهِ " . ثُمَّ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَاذَا تَرَى " . قَالَ ابْنُ صَيَّادٍ يَأْتِينِي صَادِقٌ وَكَاذِبٌ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خُلِّطَ عَلَيْكَ الأَمْرُ " . ثُمَّ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي قَدْ خَبَأْتُ لَكَ خَبِيئًا " . فَقَالَ ابْنُ صَيَّادٍ " هُوَ الدُّخُّ " . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اخْسَأْ فَلَنْ تَعْدُوَ قَدْرَكَ " . فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ذَرْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ أَضْرِبْ عُنُقَهُ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ يَكُنْهُ فَلَنْ تُسَلَّطَ عَلَيْهِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْهُ فَلاَ خَيْرَ لَكَ فِي قَتْلِهِ " . وَقَالَ سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يَقُولُ انْطَلَقَ بَعْدَ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ الأَنْصَارِيُّ إِلَى النَّخْلِ الَّتِي فِيهَا ابْنُ صَيَّادٍ حَتَّى إِذَا دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّخْلَ طَفِقَ يَتَّقِي بِجُذُوعِ النَّخْلِ وَهُوَ يَخْتِلُ أَنْ يَسْمَعَ مِنِ ابْنِ صَيَّادٍ شَيْئًا قَبْلَ أَنْ يَرَاهُ ابْنُ صَيَّادٍ فَرَآهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُضْطَجِعٌ عَلَى فِرَاشٍ فِي قَطِيفَةٍ لَهُ فِيهَا زَمْزَمَةٌ فَرَأَتْ أُمُّ ابْنِ صَيَّادٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَتَّقِي بِجُذُوعِ النَّخْلِ فَقَالَتْ لاِبْنِ صَيَّادٍ يَا صَافِ - وَهُوَ اسْمُ ابْنِ صَيَّادٍ - هَذَا مُحَمَّدٌ . فَثَارَ ابْنُ صَيَّادٍ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ تَرَكَتْهُ بَيَّنَ " . قَالَ سَالِمٌ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي النَّاسِ فَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ ذَكَرَ الدَّجَّالَ فَقَالَ " إِنِّي لأُنْذِرُكُمُوهُ مَا مِنْ نَبِيٍّ إِلاَّ وَقَدْ أَنْذَرَهُ قَوْمَهُ لَقَدْ أَنْذَرَهُ نُوحٌ قَوْمَهُ وَلَكِنْ أَقُولُ لَكُمْ فِيهِ قَوْلاً لَمْ يَقُلْهُ نَبِيٌّ لِقَوْمِهِ تَعَلَّمُوا أَنَّهُ أَعْوَرُ وَأَنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لَيْسَ بِأَعْوَرَ " . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَأَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ ثَابِتٍ الأَنْصَارِيُّ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ بَعْضُ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَوْمَ حَذَّرَ النَّاسَ الدَّجَّالَ " إِنَّهُ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ يَقْرَؤُهُ مَنْ كَرِهَ عَمَلَهُ أَوْ يَقْرَؤُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ " . وَقَالَ " تَعَلَّمُوا أَنَّهُ لَنْ يَرَى أَحَدٌ مِنْكُمْ رَبَّهُ عَزَّ وَجَلَّ حَتَّى يَمُوتَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭০৯০। হারামালা ইবনে ইয়াহয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হারামালা ইবনে ইমরান আত-তুজীবী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) একদল মানুষ সহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ইবনে সাইয়্যাদের নিকট গেলেন। তখন তাকে বনী মাগলার কিল্লার নিকট একদল বালকের সাথে ক্রীড়ারত অবস্থায় পেলেন। তখন ইবনে সাইয়্যাদ বালিগ হবার কাছাকাছি পৌছে গিয়েছিল। কিন্তু সে তা জানত না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর হাত দ্বারা তার পৃষ্ঠে আঘাত করে বললেন, তুমি কি সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, আমি আল্লাহর রাসুল? এ কথা শুনে ইবনে সাইয়্যাদ তার প্রতি তাকাল এবং বলল যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি উম্মীদের রাসূল। অতঃপর ইবনে সাইয়্যাদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করল যে, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসুল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ছেড়ে দিলেন এবং (এর সরাসরি উত্তর না দিয়ে) বললেন আমি ঈমান আনয়ন করেছি আল্লাহর প্রতি ও তার রাসুলগণের প্রতি।

এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ তুমি কি দেখতে পাও? ইবনে সাইয়্যাদ বলল, আমার নিকট সত্যবাদী ও মিথ্যাবদী লোক আসে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তোমার বিষয়টি সঠিক-বেঠিক মিশ্রিত (হযবরল) হয়ে গিয়েছে। তোমাকে জিজ্ঞাসা করার জন্য একটি কথা আমি মনে মনে গোপন রেখেছি। ইবনে সাইয়্যাদ বলল, তা হচ্ছে دخ (ধুয়া)। তৎপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ দূর হয়ে যা। তুই তোর পরিধি অতিক্রম করতে পারবি না। অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে ছেড়ে দিন। আমি এক্ষণি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। রাসুল(ﷺ) বললেনঃ যদি সে দাজ্জাল হয়, তবে তো তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না। আর যদি সে দাজ্জাল না হয় তবে তাকে হত্যা করার মাঝে কোন কল্যাণ নেই।

সালাম ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, পরবর্তী সময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) সেই খেজুর বাগানের দিকে চললেন, যেখানে ইবনে সাইয়্যাদ বসবাস করত। বাগানের মধ্যে এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বৃক্ষের আড়ালে আত্মগোপন করতে চেষ্টা করছিলেন, যাতে ইবনে সাইয়্যাদ তাঁকে দেখার পূর্বে তিনি তার কথা শুনে নেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে দেখলেন যে, সে তার বিছানায় একটি চাঁদরে আবৃত অবস্থায় গুণগুণ করে কি যেন বলছিল। এদিকে ইবনে সাইয়্যাদের মা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখল যে, তিনি বৃক্ষের আড়ালে আত্মগোপনের চেষ্টা করছেন। সে ততক্ষণাৎ ইবনে সাইয়্যাদকে বলে উঠলঃ হে সাফ! এটা ইবনে সাইয়্যাদের নাম। মুহাম্মাদ এসে গেছে। (এ কথা শুনতেই) ইবনে সাইয়্যাদ বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তার মা তাকে সাবধান না করলে সে পরিষ্কার বলে ফেলত।

সালিম (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেছেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুসলমানদের উদ্দেশ্যে একটি বক্তৃতা দিলেন। তাতে আল্লাহ তাআলার যথাযোগ্য প্রশংসা ও গুণকীর্তনের পর দাজ্জালের কথা উল্লেখ করলেন এবং বললেনঃ আমি তোমাদেরকে দাজ্জালের ফিত্‌না সম্পর্কে সতর্ক করছি যেমন প্রত্যেক নবী তাঁর সম্প্রদায়কে এ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। এমনকি নূহ (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর কওমকে এ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তবে এ সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে একটি বিষয় পরিস্কারভাবে বলে দিচ্ছি যা কোন নবী তার সম্প্রদায়কে বলেননি। তা হল এই যে, তোমরা জেনে রাখ, দাজ্জাল কানা হবে। আর আল্লাহ তাআলা কানা নন।

ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জনৈক সাহাবী তাকে অবহিত করেছেন যে, যে দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। সে দিন তিনি বলেছেন, যে তাঁর চক্ষুদ্বয়ের মাঝখানে কাফির (كافر) অথবা (ك ف ر) লেখা থাকবে। যে ব্যক্তি তার কার্যক্রম অপছন্দ করবে সে তা পাঠ করতে পারবে অথবা প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তি তা পাঠ করতে সক্ষম হবে। তিনি এও বলেছেন যে, তোমরা জেনে রাখ যে, তোমাদের কোন ব্যক্তি মৃত্যুর পূর্বে তার প্রতিপালককে দেখতে সক্ষম হবে না।
৭০৯১

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّالله عليه وسلم وَمَعَهُ رَهْطٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ حَتَّى وَجَدَ ابْنَ صَيَّادٍ غُلاَمًا قَدْ نَاهَزَ الْحُلُمَ يَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمَانِ عِنْدَ أُطُمِ بَنِي مُعَاوِيَةَ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمِثْلِ حَدِيثِ يُونُسَ إِلَى مُنْتَهَى حَدِيثِ عُمَرَ بْنِ ثَابِتٍ وَفِي الْحَدِيثِ عَنْ يَعْقُوبَ قَالَ قَالَ أُبَىٌّ - يَعْنِي فِي قَوْلِهِ لَوْ تَرَكَتْهُ بَيَّنَ - قَالَ لَوْ تَرَكَتْهُ أُمُّهُ بَيَّنَ أَمْرَهُ .

বর্ণনাকারী: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

৭০৯১। হাসান আল-হুলওয়ানি ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদল সাহাবীসহ চললেন। এতে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-ও ছিলেন। তিনি ইবনে সাইয়্যাদকে বালিগ হওয়ার কাছাকাছি অবস্থায় বালক রূপে অন্য বালকদের সাথে ক্রীড়ারত অবস্থায় বনী মুআবিয়্যার কিল্লার নিকট দেখতে পেলেন। ...... অতঃপর তিনি উমর ইবনে সাবিতের হাদীসের শেষ পর্যন্ত ইউনুসের অনুরূপ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে ইয়াকুব থেকে অধিক বর্ণিত রয়েছে যে, আমার পিতা لَوْ تَرَكَتْهُ بَيَّنَ এর স্থলেلَوْ تَرَكَتْهُ أُمُّهُ بَيَّنَ أَمْرَهُ (যদি তার মা তাকে তার অবস্থায় রেখে দিত তবে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যেতো) বর্ণিত আছে।

৭০৯২

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، وَسَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، جَمِيعًا عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِابْنِ صَيَّادٍ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَهُوَ يَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمَانِ عِنْدَ أُطُمِ بَنِي مَغَالَةَ وَهُوَ غُلاَمٌ . بِمَعْنَى حَدِيثِ يُونُسَ وَصَالِحٍ غَيْرَ أَنَّ عَبْدَ بْنَ حُمَيْدٍ لَمْ يَذْكُرْ حَدِيثَ ابْنِ عُمَرَ فِي انْطِلاَقِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَعَ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ إِلَى النَّخْلِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭০৯২। আব্দ ইবনে হুমায়দ ও সালামা ইবনে শাবীব (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসুল(ﷺ) একদল সাহাবীসহ ইবনে সাইয়্যাদের পাশ দিয়ে গেলেন। এদের মধ্যে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)ও ছিলেন। এ সময় সে বনী মাগালার কিল্লার নিকট এক দল বালকের সাথে খেলাধূলা করছিল। তখন সে বালক ছিল। বর্ণনাকারী এ হাদীসটি ইউনূস এবং সালিহ (রাহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ইবনে উমর (রাযিঃ) এর হাদীস তথা উবাই ইবনে কা’বের সাথে নবী (ﷺ) এর বাগানের দিকে যাওয়ার হাদীসটি উল্লেখ করেননি।

৭০৯৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ لَقِيَ ابْنُ عُمَرَ ابْنَ صَائِدٍ فِي بَعْضِ طُرُقِ الْمَدِينَةِ فَقَالَ لَهُ قَوْلاً أَغْضَبَهُ فَانْتَفَخَ حَتَّى مَلأَ السِّكَّةَ فَدَخَلَ ابْنُ عُمَرَ عَلَى حَفْصَةَ وَقَدْ بَلَغَهَا فَقَالَتْ لَهُ رَحِمَكَ اللَّهُ مَا أَرَدْتَ مِنِ ابْنِ صَائِدٍ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّمَا يَخْرُجُ مِنْ غَضْبَةٍ يَغْضَبُهَا " .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

৭০৯৩। আব্দ ইবনে হুমায়দ ও উবাদা (রাহঃ) ......... নাফি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনার কোন রাস্তায় ইবনে উমর (রাযিঃ) ইবনে সাইয়্যাদের সাক্ষাত পান। তিনি তাকে এমন কিছু কথা বলেন, যার ফলে সে রাগে ফুলতে থাকে। সে এমন ফুলল যে, সমগ্র গলি যেন পূর্ণ হয়ে গেল। অতঃপর ইবনে উমর (রাযিঃ) হাফসা (রাযিঃ) এর নিকট গেলেন। তাঁর কাছে এ ঘটনার সংবাদ পৌঁছে গেল। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন।ইবনে সাইয়্যাদের কাছে তোমার এমন কি প্রয়োজন ছিল? তুমি কেন তাকে খোঁচা দিতে গেলে? তুমি কি জানেন না যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যাপারে ক্রুদ্ধ হওয়ার কারণেই দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ ঘটবে।

৭০৯৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، - يَعْنِي ابْنَ حَسَنِ بْنِ يَسَارٍ - حَدَّثَنَا ابْنُ، عَوْنٍ عَنْ نَافِعٍ، قَالَ كَانَ نَافِعٌ يَقُولُ ابْنُ صَيَّادٍ . قَالَ قَالَ ابْنُ عُمَرَ لَقِيتُهُ مَرَّتَيْنِ - قَالَ - فَلَقِيتُهُ فَقُلْتُ لِبَعْضِهِمْ هَلْ تَحَدَّثُونَ أَنَّهُ هُوَ قَالَ لاَ وَاللَّهِ - قَالَ - قُلْتُ كَذَبْتَنِي وَاللَّهِ لَقَدْ أَخْبَرَنِي بَعْضُكُمْ أَنَّهُ لَنْ يَمُوتَ حَتَّى يَكُونَ أَكْثَرَكُمْ مَالاً وَوَلَدًا فَكَذَلِكَ هُوَ زَعَمُوا الْيَوْمَ - قَالَ - فَتَحَدَّثْنَا ثُمَّ فَارَقْتُهُ - قَالَ - فَلَقِيتُهُ لَقْيَةً أُخْرَى وَقَدْ نَفَرَتْ عَيْنُهُ - قَالَ - فَقُلْتُ مَتَى فَعَلَتْ عَيْنُكَ مَا أَرَى قَالَ لاَ أَدْرِي - قَالَ - قُلْتُ لاَ تَدْرِي وَهِيَ فِي رَأْسِكَ قَالَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ خَلَقَهَا فِي عَصَاكَ هَذِهِ . قَالَ فَنَخَرَ كَأَشَدِّ نَخِيرِ حِمَارٍ سَمِعْتُ - قَالَ - فَزَعَمَ بَعْضُ أَصْحَابِي أَنِّي ضَرَبْتُهُ بِعَصًا كَانَتْ مَعِيَ حَتَّى تَكَسَّرَتْ وَأَمَّا أَنَا فَوَاللَّهِ مَا شَعَرْتُ - قَالَ - وَجَاءَ حَتَّى دَخَلَ عَلَى أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ فَحَدَّثَهَا فَقَالَتْ مَا تُرِيدُ إِلَيْهِ أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّهُ قَدْ قَالَ " إِنَّ أَوَّلَ مَا يَبْعَثُهُ عَلَى النَّاسِ غَضَبٌ يَغْضَبُهُ " .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

৭০৯৪। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... নাফি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, ইবনে সাইয়্যাদের সাথে আমার দু’বার সাক্ষাত হয়েছে একবার সাক্ষাতের পর আমি জনৈক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি বলেন যে, সে-ই (ইবনে সাইয়্যাদ) দাজ্জাল? জবাবে সে বলল, আল্লাহর শপথ, কখনো না। আমি বললাম, তাহলে তো আমাকে মিথ্যা বলেছেন। আল্লাহর কসম! আপনাদের জনৈক ব্যক্তি তো আমাকে এ মর্মে সংবাদ দিয়েছে যে, সে মৃত্যুবরণ করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সে আপনাদের মধ্যে সর্বাধিক বিত্তশালী এবং সন্তান-সন্ততি সস্পন্ন না হবে। আজ তো অনুরূপই হয়েছে বলে তারা বলছে। অতঃপর (ইবনে সাইয়্যাদ) আমাদের সাথে আলোচনা করল। এরপর আমি তাকে ছেড়ে চলে আসলাম।

ইবনে সাইয়্যাদের সাথে আরেকবার আমার সাক্ষাত হল। তখন তার চোখ ফুলে উঠে ছিল। আমি তাকে বললাম, তোমার চোখের এ অবস্থা কখন হল, যা আমি দেখতে পাচ্ছি? সে বলল, আমি জানিনা। আমি বললাম, সেটি তোমার মাথায়ই রয়েছে অথচ তুমি জাননা! অতঃপর সে বলল, আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমার এ লাঠিতেও তিনি চোখ পয়দা করে দিতে পারেন। এরপর সে গাধার ন্যায় এমন বিকট আওয়াজে চিৎকার করল।

তিনি (ইবনে উমর) বলেন, পরে আমার কোন সাথী বলেছে যে, আমি তাকে আমার সাথে থাকা লাঠি দ্বারা প্রহার করেছি যে, লাঠিটি টুকরা টুকরা হয়ে পড়েছে। আল্লাহর কসম অথচ এ সম্পর্কে আমি তা অনুভব করতে পারি না। নাফি (রাহঃ) বলেন, তারপর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) উম্মুল মু'মিনীন [হাফসা (রাযিঃ)] এর নিকট এলেন এবং তার নিকট এ ঘটনা বর্ণনা করলেন। একথা শুনে তিনি বললেন, ইবনে সাইয়্যাদের নিকট তোমার কি প্রয়োজন ছিল? তুমি কি জান না যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) বলেছেনঃ কারো প্রতি ক্রোধই প্রথমে দাজ্জালের প্রথম প্রকাশ ঘটবে।

২০. দাজ্জাল, তার পরিচয় এবং তার সাথে যা থাকবে তার বিবরণ

باب ذِكْرِ الدَّجَّالِ وَصِفَتِهِ وَمَا مَعَهُ

৭০৯৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ، اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَرَ الدَّجَّالَ بَيْنَ ظَهْرَانَىِ النَّاسِ فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَيْسَ بِأَعْوَرَ . أَلاَ وَإِنَّ الْمَسِيحَ الدَّجَّالَ أَعْوَرُ الْعَيْنِ الْيُمْنَى كَأَنَّ عَيْنَهُ عِنَبَةٌ طَافِئَةٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭০৯৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (অন্য সনদে) ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মানুষের মাঝে দাজ্জালের আলোচনা করে বললেন, আল্লাহ তাআলা কানা নন। শোন! দাজ্জালের ডান (চোখ) কানা হবে। তার চোখ যেন আঙ্গুরের ন্যায় ফোলা হবে।

৭০৯৬

حَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ، وَأَبُو كَامِلٍ قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - وَهُوَ ابْنُ زَيْدٍ - عَنْ أَيُّوبَ، وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ - عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، كِلاَهُمَا عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭০৯৬। আবুর রাবী ও আবু কামিল (রাহঃ) (অন্য সনদে) মুহাম্মাদ ইবনে আববাদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৭০৯৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ نَبِيٍّ إِلاَّ وَقَدْ أَنْذَرَ أُمَّتَهُ الأَعْوَرَ الْكَذَّابَ أَلاَ إِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ وَمَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ ك ف ر " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭০৯৭। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীই তার উম্মতকে কানা মিথ্যাবাদী সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। জেনে রাখ! দাজ্জাল কানা হবে। তোমাদের প্রতিপালক কানা নন। দাজ্জালের দুই চোখের মাঝখানে ك - ف - ر লেখা থাকবে।

৭০৯৮

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الدَّجَّالُ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ ك ف ر أَىْ كَافِرٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭০৯৮। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, দাজ্জালের চক্ষুদ্বয়ের মাঝখানে ك ف ر অর্থাৎ كَافِرٌ (কাফির) লেখা থাকবে।

৭০৯৯

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ الْحَبْحَابِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الدَّجَّالُ مَمْسُوحُ الْعَيْنِ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ " . ثُمَّ تَهَجَّاهَا ك ف ر " يَقْرَؤُهُ كُلُّ مُسْلِمٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭০৯৯। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দাজ্জালের চক্ষু বিকৃত হবে। তার চক্ষুদ্বয়ের মাঝখানেكَافِرٌ (কাফির) লেখা থাকবে। পরে তিনি ’বানান’ করে বলেন, ك ف ر প্রত্যেক মুসলমানই তা পাঠ করতে পারবে।

৭১০০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الدَّجَّالُ أَعْوَرُ الْعَيْنِ الْيُسْرَى جُفَالُ الشَّعَرِ مَعَهُ جَنَّةٌ وَنَارٌ فَنَارُهُ جَنَّةٌ وَجَنَّتُهُ نَارٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৭১০০। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর, মুহাম্মাদ ইবনুল আলা ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দাজ্জালের বাম চোখ কানা হবে। (তার দেহে) ঘন চুল হবে। তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাম থাকবে। (মুলতঃ) তার জাহান্নাম জান্নাত হবে এবং তার জান্নাত জাহান্নাম হবে।

৭১০১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لأَنَا أَعْلَمُ بِمَا مَعَ الدَّجَّالِ مِنْهُ مَعَهُ نَهْرَانِ يَجْرِيَانِ أَحَدُهُمَا رَأْىَ الْعَيْنِ مَاءٌ أَبْيَضُ وَالآخَرُ رَأْىَ الْعَيْنِ نَارٌ تَأَجَّجُ فَإِمَّا أَدْرَكَنَّ أَحَدٌ فَلْيَأْتِ النَّهْرَ الَّذِي يَرَاهُ نَارًا وَلْيُغَمِّضْ ثُمَّ لْيُطَأْطِئْ رَأْسَهُ فَيَشْرَبَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مَاءٌ بَارِدٌ وَإِنَّ الدَّجَّالَ مَمْسُوحُ الْعَيْنِ عَلَيْهَا ظَفَرَةٌ غَلِيظَةٌ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ يَقْرَؤُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ كَاتِبٍ وَغَيْرِ كَاتِبٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৭১০১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ দাজ্জালের সাথে কি থাকবে, এ সম্পর্কে আমি নিশ্চিত অবগত আছি। তার সাথে প্রবাহমান দুটি নহর থাকবে। একটি দৃশ্যত সাদা পানি এবং অপরটি দৃশ্যত লেলিহান অগ্নি মনে হবে। যদি কেউ সুযোগ পায় তবে সে যেন ঐ নহরে প্রবেশ করে যাকে দৃশ্যত আগুন মনে হবে এবং (এই) চক্ষু বন্ধ করতঃ মাথা অবনমিত করে সে যেন তা থেকে পানি পান করে। তা হবে ঠাণ্ডা পানি। দাজ্জালের এক চোখ বিকৃত হবে এবং তার চোখের উপরে ঝুলন্ত চামড়া থাকবে এবং দুই চোখের মাঝখানে كَافِرٌ অথবাك ف ر লেখা থাকবে। স্বাক্ষর-নিরক্ষর নির্বিশেষে সকল মুমিন ব্যক্তি তা পাঠ করতে পারবে।

৭১০২

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ، حِرَاشٍ عَنْ حُذَيْفَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ فِي الدَّجَّالِ " إِنَّ مَعَهُ مَاءً وَنَارًا فَنَارُهُ مَاءٌ بَارِدٌ وَمَاؤُهُ نَارٌ فَلاَ تَهْلِكُوا " . قَالَ أَبُو مَسْعُودٍ وَأَنَا سَمِعْتُهُ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৭১০২। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (অন্য সনদে) মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দাজ্জালের সাথে পানি ও আগুন থাকবে। (কিন্তু প্রকৃতপক্ষে) তার আগুনই হবে সুশীতল পানি এবং তার পানিই হবে আগুন। সুতরাং তোমরা ভুল সিদ্ধান্ত করে নিজেদের ধ্বংস করো না। আবু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, আমিও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ হাদীস শুনেছি।

৭১০৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ صَفْوَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ رِبْعِيِّ، بْنِ حِرَاشٍ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَمْرٍو أَبِي مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ انْطَلَقْتُ مَعَهُ إِلَى حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ فَقَالَ لَهُ عُقْبَةُ حَدِّثْنِي مَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الدَّجَّالِ . قَالَ " إِنَّ الدَّجَّالَ يَخْرُجُ وَإِنَّ مَعَهُ مَاءً وَنَارًا فَأَمَّا الَّذِي يَرَاهُ النَّاسُ مَاءً فَنَارٌ تُحْرِقُ وَأَمَّا الَّذِي يَرَاهُ النَّاسُ نَارًا فَمَاءٌ بَارِدٌ عَذْبٌ فَمَنْ أَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَلْيَقَعْ فِي الَّذِي يَرَاهُ نَارًا فَإِنَّهُ مَاءٌ عَذْبٌ طَيِّبٌ " . فَقَالَ عُقْبَةُ وَأَنَا قَدْ، سَمِعْتُهُ تَصْدِيقًا، لِحُذَيْفَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৭১০৩। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... উকবা ইবনে আমর আবু মাসউদ আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রিবঈ ইবনে হিরাশ (রাহঃ) বলেন, আমি তার [উকবা ইবনে আমর আবু মাসউদ আনসারী (রাযিঃ)] এর সাথে হুযাইফা ইবনে ইয়ামান (রাযিঃ) এর নিকট গেলাম। তারপর উকবা (রাযিঃ) হুযাইফা (রাযিঃ) কে বললেন, আপনি দাজ্জাল সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যা যা শুনেছেন তা আমাদেরকেও শোনান। তিনি বললেন, দাজ্জাল যখন আবির্ভূত হবে তখন তার সাথে পানি ও আগুন থাকবে। কিন্তু মানুষ যাকে পানি দেখবে সেটা হবে দহনশীল আগুন। আর যেটাকে মানুষ আগুন দেখবে সেটা হবে সুমিষ্ট ঠাণ্ডা পানি। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ সময়কাল পায় সে যেন দৃশ্যত যাকে আগুন দেখা যাচ্ছে তাতেই প্রবেশ করে। কেননা প্রকৃতপক্ষে সেটা হবে সুপেয় সুমিষ্ট পানি। তারপর হুযাইফা (রাযিঃ) এর সত্যায়নে উকবা [আবু মাসউদ (রাযিঃ)] বলেন, আমিও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ হাদীস শুনেছি।

৭১০৪

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ حُجْرٍ قَالَ إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا وَقَالَ ابْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ رِبْعِيِّ، بْنِ حِرَاشٍ قَالَ اجْتَمَعَ حُذَيْفَةُ وَأَبُو مَسْعُودٍ فَقَالَ حُذَيْفَةُ " لأَنَا بِمَا مَعَ الدَّجَّالِ أَعْلَمُ مِنْهُ إِنَّ مَعَهُ نَهْرًا مِنْ مَاءٍ وَنَهْرًا مِنْ نَارٍ فَأَمَّا الَّذِي تَرَوْنَ أَنَّهُ نَارٌ مَاءٌ وَأَمَّا الَّذِي تَرَوْنَ أَنَّهُ مَاءٌ نَارٌ فَمَنْ أَدْرَكَ ذَلِكَ مِنْكُمْ فَأَرَادَ الْمَاءَ فَلْيَشْرَبْ مِنَ الَّذِي يَرَاهُ أَنَّهُ نَارٌ فَإِنَّهُ سَيَجِدُهُ مَاءً " . قَالَ أَبُو مَسْعُودٍ هَكَذَا سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ .

বর্ণনাকারী: রিবঈ ইবনে হিরাশ (রহঃ)

৭১০৪। আলী ইবনে হুজর সা’দী ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... রিবঈ ইবনে হিরাশ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হুযাইফা ও আবু মাসউদ (রাযিঃ) একত্রিত হলেন। তখন হুযাইফা (রাযিঃ) বললেন, দাজ্জালের সাথে যা থাকবে এ সম্পর্কে আমি তার থেকে অধিক জ্ঞাত। তার সাথে একটি পানির নহর এবং একটি আগুনের নহর থাকবে। যেটাকে তোমরা আগুন রূপে দেখতে পাবে সেটাই (হবে) পানি। আর যেটাকে তোমরা পানি (রূপে) দেখবে সেটাই হবে আগুন। তোমাদের কেউ যদি এ সময়কাল পায় এবং সে পানি পান করার ইচ্ছা করে তবে সে যেন যা সে আগুন রূপে দেখতে পাবে তা থেকে পান করে। কেননা এখানেই সে পানি পাবে। বর্ণনাকারী আবু মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, আমিও নবী (ﷺ) কে এরূপ বলতে শুনেছি।

৭১০৫

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي، سَلَمَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ أُخْبِرُكُمْ عَنِ الدَّجَّالِ حَدِيثًا مَا حَدَّثَهُ نَبِيٌّ قَوْمَهُ إِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّهُ يَجِيءُ مَعَهُ مِثْلُ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ فَالَّتِي يَقُولُ إِنَّهَا الْجَنَّةُ هِيَ النَّارُ وَإِنِّي أَنْذَرْتُكُمْ بِهِ كَمَا أَنْذَرَ بِهِ نُوحٌ قَوْمَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১০৫। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি দাজ্জাল সম্পর্কে তোমাদেরকে এমন বিষয় বলতে যাচ্ছি, যা কোন নবী তার কওমকে আজ পর্যন্ত বলেননি। শোন, দাজ্জাল কানা হবে এবং তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতিকৃতির ন্যায় কিছু বস্তু থাকবে। সে যেটিকে জান্নাত বলবে সেটি (আসলে হবে) জাহান্নাম। দেখ, দাজ্জালের ব্যাপারে আমি তোমাদেরকে সতর্ক করছি, যেমন নূহ (আলাইহিস সালাম) তাঁর সম্প্রদায়কে ভীতি প্রদর্শন করেছিলেন।

৭১০৬

حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ، بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ جَابِرٍ الطَّائِيُّ، قَاضِي حِمْصَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ، جُبَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ، جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ الْحَضْرَمِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ النَّوَّاسَ بْنَ سَمْعَانَ الْكِلاَبِيَّ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الرَّازِيُّ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَابِرٍ الطَّائِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ، نُفَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ، جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنِ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ، قَالَ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الدَّجَّالَ ذَاتَ غَدَاةٍ فَخَفَّضَ فِيهِ وَرَفَّعَ حَتَّى ظَنَنَّاهُ فِي طَائِفَةِ النَّخْلِ فَلَمَّا رُحْنَا إِلَيْهِ عَرَفَ ذَلِكَ فِينَا فَقَالَ " مَا شَأْنُكُمْ " . قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَكَرْتَ الدَّجَّالَ غَدَاةً فَخَفَّضْتَ فِيهِ وَرَفَّعْتَ حَتَّى ظَنَنَّاهُ فِي طَائِفَةِ النَّخْلِ . فَقَالَ " غَيْرُ الدَّجَّالِ أَخْوَفُنِي عَلَيْكُمْ إِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا فِيكُمْ فَأَنَا حَجِيجُهُ دُونَكُمْ وَإِنْ يَخْرُجْ وَلَسْتُ فِيكُمْ فَامْرُؤٌ حَجِيجُ نَفْسِهِ وَاللَّهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ إِنَّهُ شَابٌّ قَطَطٌ عَيْنُهُ طَافِئَةٌ كَأَنِّي أُشَبِّهُهُ بِعَبْدِ الْعُزَّى بْنِ قَطَنٍ فَمَنْ أَدْرَكَهُ مِنْكُمْ فَلْيَقْرَأْ عَلَيْهِ فَوَاتِحَ سُورَةِ الْكَهْفِ إِنَّهُ خَارِجٌ خَلَّةً بَيْنَ الشَّأْمِ وَالْعِرَاقِ فَعَاثَ يَمِينًا وَعَاثَ شِمَالاً يَا عِبَادَ اللَّهِ فَاثْبُتُوا " . قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا لَبْثُهُ فِي الأَرْضِ قَالَ " أَرْبَعُونَ يَوْمًا يَوْمٌ كَسَنَةٍ وَيَوْمٌ كَشَهْرٍ وَيَوْمٌ كَجُمُعَةٍ وَسَائِرُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ " . قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَذَلِكَ الْيَوْمُ الَّذِي كَسَنَةٍ أَتَكْفِينَا فِيهِ صَلاَةُ يَوْمٍ قَالَ " لاَ اقْدُرُوا لَهُ قَدْرَهُ " . قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا إِسْرَاعُهُ فِي الأَرْضِ قَالَ " كَالْغَيْثِ اسْتَدْبَرَتْهُ الرِّيحُ فَيَأْتِي عَلَى الْقَوْمِ فَيَدْعُوهُمْ فَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَجِيبُونَ لَهُ فَيَأْمُرُ السَّمَاءَ فَتُمْطِرُ وَالأَرْضَ فَتُنْبِتُ فَتَرُوحُ عَلَيْهِمْ سَارِحَتُهُمْ أَطْوَلَ مَا كَانَتْ ذُرًا وَأَسْبَغَهُ ضُرُوعًا وَأَمَدَّهُ خَوَاصِرَ ثُمَّ يَأْتِي الْقَوْمَ فَيَدْعُوهُمْ فَيَرُدُّونَ عَلَيْهِ قَوْلَهُ فَيَنْصَرِفُ عَنْهُمْ فَيُصْبِحُونَ مُمْحِلِينَ لَيْسَ بِأَيْدِيهِمْ شَىْءٌ مِنْ أَمْوَالِهِمْ وَيَمُرُّ بِالْخَرِبَةِ فَيَقُولُ لَهَا أَخْرِجِي كُنُوزَكِ . فَتَتْبَعُهُ كُنُوزُهَا كَيَعَاسِيبِ النَّحْلِ ثُمَّ يَدْعُو رَجُلاً مُمْتَلِئًا شَبَابًا فَيَضْرِبُهُ بِالسَّيْفِ فَيَقْطَعُهُ جَزْلَتَيْنِ رَمْيَةَ الْغَرَضِ ثُمَّ يَدْعُوهُ فَيُقْبِلُ وَيَتَهَلَّلُ وَجْهُهُ يَضْحَكُ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ فَيَنْزِلُ عِنْدَ الْمَنَارَةِ الْبَيْضَاءِ شَرْقِيَّ دِمَشْقَ بَيْنَ مَهْرُودَتَيْنِ وَاضِعًا كَفَّيْهِ عَلَى أَجْنِحَةِ مَلَكَيْنِ إِذَا طَأْطَأَ رَأَسَهُ قَطَرَ وَإِذَا رَفَعَهُ تَحَدَّرَ مِنْهُ جُمَانٌ كَاللُّؤْلُؤِ فَلاَ يَحِلُّ لِكَافِرٍ يَجِدُ رِيحَ نَفَسِهِ إِلاَّ مَاتَ وَنَفَسُهُ يَنْتَهِي حَيْثُ يَنْتَهِي طَرْفُهُ فَيَطْلُبُهُ حَتَّى يُدْرِكَهُ بِبَابِ لُدٍّ فَيَقْتُلُهُ ثُمَّ يَأْتِي عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ قَوْمٌ قَدْ عَصَمَهُمُ اللَّهُ مِنْهُ فَيَمْسَحُ عَنْ وُجُوهِهِمْ وَيُحَدِّثُهُمْ بِدَرَجَاتِهِمْ فِي الْجَنَّةِ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ أَوْحَى اللَّهُ إِلَى عِيسَى إِنِّي قَدْ أَخْرَجْتُ عِبَادًا لِي لاَ يَدَانِ لأَحَدٍ بِقِتَالِهِمْ فَحَرِّزْ عِبَادِي إِلَى الطُّورِ . وَيَبْعَثُ اللَّهُ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ فَيَمُرُّ أَوَائِلُهُمْ عَلَى بُحَيْرَةِ طَبَرِيَّةَ فَيَشْرَبُونَ مَا فِيهَا وَيَمُرُّ آخِرُهُمْ فَيَقُولُونَ لَقَدْ كَانَ بِهَذِهِ مَرَّةً مَاءٌ . وَيُحْصَرُ نَبِيُّ اللَّهُ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ حَتَّى يَكُونَ رَأْسُ الثَّوْرِ لأَحَدِهِمْ خَيْرًا مِنْ مِائَةِ دِينَارٍ لأَحَدِكُمُ الْيَوْمَ فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ فَيُرْسِلُ اللَّهُ عَلَيْهُمُ النَّغَفَ فِي رِقَابِهِمْ فَيُصْبِحُونَ فَرْسَى كَمَوْتِ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ ثُمَّ يَهْبِطُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ إِلَى الأَرْضِ فَلاَ يَجِدُونَ فِي الأَرْضِ مَوْضِعَ شِبْرٍ إِلاَّ مَلأَهُ زَهَمُهُمْ وَنَتْنُهُمْ فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ إِلَى اللَّهِ فَيُرْسِلُ اللَّهُ طَيْرًا كَأَعْنَاقِ الْبُخْتِ فَتَحْمِلُهُمْ فَتَطْرَحُهُمْ حَيْثُ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ مَطَرًا لاَ يَكُنُّ مِنْهُ بَيْتُ مَدَرٍ وَلاَ وَبَرٍ فَيَغْسِلُ الأَرْضَ حَتَّى يَتْرُكَهَا كَالزَّلَفَةِ ثُمَّ يُقَالُ لِلأَرْضِ أَنْبِتِي ثَمَرَتَكِ وَرُدِّي بَرَكَتَكِ . فَيَوْمَئِذٍ تَأْكُلُ الْعِصَابَةُ مِنَ الرُّمَّانَةِ وَيَسْتَظِلُّونَ بِقِحْفِهَا وَيُبَارَكُ فِي الرِّسْلِ حَتَّى أَنَّ اللِّقْحَةَ مِنَ الإِبِلِ لَتَكْفِي الْفِئَامَ مِنَ النَّاسِ وَاللِّقْحَةَ مِنَ الْبَقَرِ لَتَكْفِي الْقَبِيلَةَ مِنَ النَّاسِ وَاللِّقْحَةَ مِنَ الْغَنَمِ لَتَكْفِي الْفَخِذَ مِنَ النَّاسِ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ رِيحًا طَيِّبَةً فَتَأْخُذُهُمْ تَحْتَ آبَاطِهِمْ فَتَقْبِضُ رُوحَ كُلِّ مُؤْمِنٍ وَكُلِّ مُسْلِمٍ وَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ يَتَهَارَجُونَ فِيهَا تَهَارُجَ الْحُمُرِ فَعَلَيْهِمْ تَقُومُ السَّاعَةُ " .

বর্ণনাকারী: নাওয়াস ইবনে সামআন (রাঃ)

৭১০৬। আবু খায়সামা যুহাইর ইবনে হারব (অন্য সনদে) মুহাম্মাদ ইবনে মিহরান রাবী (রাহঃ) ......... নাওয়াস ইবনে সামআন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। আলোচনাকালে তিনি কখনো আওয়াজ ছোট করলেন, আবার কখনো আওয়াজ বড় করলেন। ফলে আমরা মনে করলাম যে, দাজ্জাল বৃক্ষরাজির এ ঝাড়ের মধ্যেই বুঝি এসে পড়েছে। অতঃপর আমরা সন্ধ্যায় আবার তাঁর নিকট গেলাম। তিনি আমাদের মাঝে এর কিছু আলামত দেখতে পেয়ে বললেন, তোমাদের কি অবস্থা? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি সকালে দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং এতে আপনি কখনো আওয়াজ ছোট করেছেন, আবার কখনো বড় করেছন। ফলে আমরা মনে করেছি যে, দাজ্জাল বুঝি এ ঝাড়ের মধ্যেই বিদ্যমান। এ কথা শুনে তিনি বললেন, দাজ্জাল নয়, বরং তোমাদের ব্যাপারে অন্য কিছুর আমি অধিক আশঙ্কা করছি।

শোন, আমি তোমাদের মাঝে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যদি দাজ্জালের আবির্ভাব হয় তবে আমি নিজেই তাকে প্রতিহত করব। তোমাদের প্রয়োজন হবে না। আর যদি আমি তোমাদের মাঝে না থাকা অবস্থায় দাজ্জালের আবির্ভাব হয়, তবে প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তি নিজের পক্ষ হতে একে প্রতিহত করবে। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আল্লাহ তাআলাই হলেন আমার পক্ষ হতে তত্ত্বাবধায়ক। দাজ্জাল যুবক এবং কোঁকড়া চুল বিশিষ্ট হবে। তার চক্ষু হবে স্ফীত আঙ্গুরের ন্যায়। আমি তাকে কাফির আব্দুল উযযা ইবনে কুতনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করছি। তোমাদের যে কেউ দাজ্জালের সময়কাল পাবে সে যেন সূরা কাহফের প্রথমোক্ত আয়াত সমুহ পাঠ করে। সে ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যপথ হতে আবির্ভূত হবে। সে ডানে-বামে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! অবিচল থাকবে।

আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল (ﷺ)! সে পৃথিবীতে কত দিন অবস্থান করবে? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, চল্লিশ দিন পর্যন্ত। এর প্রথম দিনটি এক বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন এক মাসের সমান এবং তৃতীয় দিন এক সপ্তাহের সমান হবে। অবশিষ্ট দিনগুলো তোমাদের দিনসমূহের মতই হবে।

আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! যেদিন এক বছরের সমান হবে, উহাতে এক দিনের নামাযই কি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? জবাবে তিনি বললেন, না, বরং তোমরা এদিন হিসাবে ঐ দিনের পরিমাণ নির্ধারণ করে নিবে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! দাজ্জাল পৃথিবীতে তার গতির দ্রুততা কেমন হবে? তিনি বললেন, বাতাসে পরিচালিত মেঘের ন্যায়। সে এক সম্প্রদায়ের নিকট এসে তাদেরকে কুফরীর দিকে আহবান করবে। তারা তার উপর ঈমান আনয়ন করবে এবং তার ডাকে সাড়া দিবে। অতঃপর সে আকাশকে হুকুম করবে। আকাশ বৃষ্টি বর্ষণ করবে এবং ভূমিকে নির্দেশ দিবে, ভূমি গাছ-পালা ও শস্য উদগত করবে।

এরপর সন্ধ্যায় তাদের গবাদী পশুগুলো পূর্বের তূলনায় অধিক লম্বা, কুঁ’জ, প্রশস্ত স্তন এবং উদরপূর্ণ অবস্থায় তাদের নিকট ফিরে আসবে। অতঃপর দাজ্জাল অপর এক সম্প্রদায়ের নিকট আসবে এবং তাদেরকে কুফুরীর প্রতি আহবান করবে। তারা তার কথাকে উপেক্ষা করবে। ফলে সে তাদের নিকট হতে ফিরে চলে যাবে। অমনি তাদের মাঝে দুর্ভিক্ষ ও পানির অনটন দেখা দিবে এবং তাদের হাতে তাদের ধন-সম্পদ থাকবে না। তখন দাজ্জাল এক পতিত স্থান অতিক্রমকালে উহাকে সম্বোধন করে বলবে, তুমি তোমার গুপ্তধন বের করে দাও। তখন যমীনের ধন-ভাণ্ডার বের হয়ে তার অনুগমন করবে, যেমন মৌমাছি তাদের সর্দারের অনুগমন করে।

অতঃপর দাজ্জাল এক যুবক ব্যক্তিকে ডেকে আনবে এবং তাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করে তীরের লক্ষ্যস্থলের ন্যায় দু’ফাঁক করে ফেলবে। অতঃপর সে পুনরায় তাকে ডাকবে। যুবক দীপ্তিমান হাস্যোজ্জল চেহারায় তার দিকে এগিয়ে আসবে। এ সময় আল্লাহ রাববুল আলামীন মারইয়াম তনয় ঈসা (আলাইহিস সালাম) কে প্রেরণ করবেন। তিনি দুই ফিরিশতার কাঁধের উপর ভর করে লাল-গোলাপী (জাফরানী) রং এর জোড়া পরিহিত অবস্থায় দামেশক নগরীর পূর্ব দিকের শ্বেত মিনারের উপর অবতরণ করবেন। যখন তিনি তার মাথা ঝুঁকাবেন তখন বিন্দু বিন্দু ঘাম তাঁর শরীর থেকে গড়িযে পড়বে। তিনি যে কোন কাফিরের নিকট যাবেন সেই তাঁর শ্বাসের বাতাসে ধ্বংস হয়ে যাবে। তাঁর দৃষ্টি যতদুর পর্যন্ত যাবে তাঁর শ্বাসও ততাদূর পর্যন্ত পৌছবে। তিনি দাজ্জালকে তালাশ করতে থাকবেন। অবশেষে তাকে লুদ নামক আরণ্যের কাছে পেয়ে যাবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। অতঃপর ঈসা (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঐ সম্প্রদায়ের নিকট যাবেন, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা দাজ্জালের ফিতনা থেকে হিফাযত করেছেন। তাদের নিকট গিয়ে তিনি তাদের চেহারায় হাত বুলিয়ে জান্নাতে তাদের স্থানসমূহ সম্পর্কে সংবাদ দিবেন।

এমতাবস্থায় আল্লাহ তাআলা ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর প্রতি এ মর্মে ওহী নাযিল করবেন যে, আমি আমার এমন কিছু বিশেষ বান্দা আবির্ভূত করেছি, যাদের সাথে কারোই যুদ্ধ করার ক্ষমতা নেই। সুতরাং তুমি আমার বান্দাদের তূর পর্বতে সমবেত কর। তখন আল্লাহ তাআলা ইয়াজুয-মাজুয সম্প্রদায়কে প্রেরণ করবেন। তারা প্রতি উঁচু ভূমি হতে ছুটে আসবে। তাদের প্রথম দলটি তবরিস্তান উপসাগরের নিকট এসে এর সমুদয় পানি পান করে নিঃশেষ করে দিবে। অতঃপর তাদের সর্বশেষ দলটি এ স্থান দিয়ে যাত্রাকালে বলবে, এ সমুদ্রে এক সময় অবশ্যই পানি ছিল। তারা আল্লাহর নবী ঈসা (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর সঙ্গীদেরকে অবরোধ করে রাখবে। ফলে তাদের নিকট একটি ষাঁড়ের মাথা বর্তমানে তোমাদের নিকট একশ দীনারের মূল্যের চেয়েও অধিক উৎকৃষ্ট প্রতিপন্ন হবে।

তখন আল্লাহর নবী ঈসা (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর সঙ্গীগণ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। ফলে আল্লাহ তাআলা ইয়াজুয-মাজুজ সম্প্রদায়ের প্রতি আযাব প্রেরণ করবেন। তাদের ঘাড়ে এক প্রকার পোকা হবে। এতে একজন মানুষের মৃত্যুর ন্যায় তারাও সবাই মরে খতম হয়ে যাবে। অতঃপর ঈসা (আলাইহিস সালাম) ও তাঁর সঙ্গীগণ পাহাড় হতে যমীনে বেরিয়ে আসবেন। কিন্তু তারা অর্ধ হাত জায়গাও এমন পাবেন না যথায় তাদের পঁচা লাশ ও লাশের দুর্গন্ধ নেই। অতঃপর ঈসা (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর সঙ্গীগণ পুনরায় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবেন। তখন আল্লাহ তাআলা উটের ঘাড়ের ন্যায় লম্বা এক ধরনের পাখি প্রেরণ করবেন। তারা তাদেরকে বহন করে আল্লাহর ইচ্ছা মাফিক স্থানে নিয়ে ফেলবে।

এরপর আল্লাহ এমন মুষলধারে বৃষ্টি বর্যণ করবেন যার ফলে কাচা-পাকা কোন ঘরই তাকে বাধাগ্রস্ত করবে না। এতে যমীন বিধৌত হয়ে পরিচ্ছন্ন পিচ্ছিল মৃত্তিকায় পরিণত হবে। অতঃপর পুনরায় যমীনকে এ মর্মে নির্দেশ দেয়া হবে যে, হে যমীন! তুমি আবার শস্য উৎপন্ন কর এবং তোমার বরকত ফিরিয়ে দাও। সেদিন একদল মানুষ একটি ডালিম ভক্ষণ করবে এবং এর বাকলের নীচে লোকেরা ছায়া গ্রহণ করবে। দুধের মধ্যে বরকত হবে। ফলে দুগ্নবতী একটি উটই ছোট ছোট অনেক গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে, দুগ্ধবতী একটি গাভী এক বড় গোত্রীয় মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে এবং যথেষ্ট হবে দুগ্ধবতী একটি বকরী এক দাদার সন্তানের (গোষ্ঠীর) জন্য। এ সময় আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত আরামদায়ক একটি বাতাস প্রেরণ করবেন। এ বাতাস সমস্ত ঈমানদার লোকদের বগলে গিয়ে লাগবে এবং সমস্ত মুমিন মুসলমানদের রুহ কবয করে নিয়ে যাবে। তখন একমাত্র মন্দ লোকেরাই এ পৃথিবীতে বাকী থাকবে। তারা গাধার ন্যায় পরস্পর একে অন্যের সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। এদের উপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে।
৭১০৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، وَالْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ - قَالَ ابْنُ حُجْرٍ دَخَلَ حَدِيثُ أَحَدِهِمَا فِي حَدِيثِ الآخَرِ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَ مَا ذَكَرْنَا وَزَادَ بَعْدَ قَوْلِهِ " لَقَدْ كَانَ بِهَذِهِ مَرَّةً مَاءٌ ثُمَّ يَسِيرُونَ حَتَّى يَنْتَهُوا إِلَى جَبَلِ الْخَمَرِ وَهُوَ جَبَلُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ فَيَقُولُونَ لَقَدْ قَتَلْنَا مَنْ فِي الأَرْضِ هَلُمَّ فَلْنَقْتُلْ مَنْ فِي السَّمَاءِ . فَيَرْمُونَ بِنُشَّابِهِمْ إِلَى السَّمَاءِ فَيَرُدُّ اللَّهُ عَلَيْهِمْ نُشَّابَهُمْ مَخْضُوبَةً دَمًا " . وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ حُجْرٍ " فَإِنِّي قَدْ أَنْزَلْتُ عِبَادًا لِي لاَ يَدَىْ لأَحَدٍ بِقِتَالِهِمْ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ (রহঃ)

৭১০৭। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ ইবনে জারির (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে “এখানেও এক সময় পানি ছিল” এ কথার পর অধিক এ কথাও বর্ণিত আছে যে, অতঃপর তারা এগুতে থাকবে। অবশেষে যেতে যেতে তারা খামার পর্বত নামক স্থানে গিয়ে পৌছবে। এ হল, বায়তুল মুকাদ্দাসের একটি পাহাড়। এখানে পৌছে তারা বলবে, আমরা তো দুনিয়াবাসীদেরকে খতম করে দিয়েছি। এসো, আসমানের সত্তাকেও খতম করে দেই। এ বলেই তারা আকাশের দিকে তীর নিক্ষেপ করতে থাকবে। আল্লাহ তীর রক্তে রঞ্জিত করে তাদের প্রতি আবার ফিরিয়ে দিবেন। বর্ণনাকারী ইবনে হুজরের বর্ণনায় রয়েছে যে, আল্লাহ বলবেন, আমি আমার এমন কিছু বিশেষ বান্দাদেরকে অবতরণ করোছি, যাদের সাথে যুদ্ধ করা ক্ষমতা কারো নেই।

২১. দাজ্জালের বিবরণ, মদীনায় (প্রবেশ) তার জন্য হারাম হওয়া এবং একজন মু’মিনকে হত্যা ও তাকে জীবিত করার বিবরণ

باب فِي صِفَةِ الدَّجَّالِ وَتَحْرِيمِ الْمَدِينَةِ عَلَيْهِ وَقَتْلِهِ الْمُؤْمِنَ وَإِحْيَائِهِ

৭১০৮

حَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَالْحَسَنُ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، - وَأَلْفَاظُهُمْ مُتَقَارِبَةٌ وَالسِّيَاقُ لِعَبْدٍ - قَالَ حَدَّثَنِي وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، قَالَ حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا حَدِيثًا طَوِيلاً عَنِ الدَّجَّالِ فَكَانَ فِيمَا حَدَّثَنَا قَالَ " يَأْتِي وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْهِ أَنْ يَدْخُلَ نِقَابَ الْمَدِينَةِ فَيَنْتَهِي إِلَى بَعْضِ السِّبَاخِ الَّتِي تَلِي الْمَدِينَةَ فَيَخْرُجُ إِلَيْهِ يَوْمَئِذٍ رَجُلٌ هُوَ خَيْرُ النَّاسِ - أَوْ مِنْ خَيْرِ النَّاسِ - فَيَقُولُ لَهُ أَشْهَدُ أَنَّكَ الدَّجَّالُ الَّذِي حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثَهُ فَيَقُولُ الدَّجَّالُ أَرَأَيْتُمْ إِنْ قَتَلْتُ هَذَا ثُمَّ أَحْيَيْتُهُ أَتَشُكُّونَ فِي الأَمْرِ فَيَقُولُونَ لاَ . قَالَ فَيَقْتُلُهُ ثُمَّ يُحْيِيهِ فَيَقُولُ حِينَ يُحْيِيهِ وَاللَّهِ مَا كُنْتُ فِيكَ قَطُّ أَشَدَّ بَصِيرَةً مِنِّي الآنَ - قَالَ - فَيُرِيدُ الدَّجَّالُ أَنْ يَقْتُلَهُ فَلاَ يُسَلَّطُ عَلَيْهِ " . قَالَ أَبُو إِسْحَاقَ يُقَالُ إِنَّ هَذَا الرَّجُلَ هُوَ الْخَضِرُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭১০৮। আমর নাকিদ, হাসান হুলওয়ানী ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন আমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে এক দীর্ঘ বর্ণনা দিলেন। দাজ্জাল সম্পর্কে তিনি এও বললেন যে, দাজ্জাল আসবে, কিন্তু মদীনার রাস্তা ঘাটে প্রবেশ করা তার জন্য হারাম ও অসাধ্য কাজ হবে। কাজেই সে মদীনার আশে পাশে কোন লবণাক্ত অনুর্বর ভূমিতে অবতরণ করবে। তার মুকাবিলার জন্য মদীনা থেকে এক ব্যক্তি তার কাছে যাবে, যে সেদিন শ্রেষ্ঠ মানব হবে। সে বলবে, আমি সাক্ষ্য দিয়ে বলছি যে, তুই সে দাজ্জাল যার কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে শুনিয়েছিলেন। দাজ্জাল বলবে, লোক সকল! যদি আমি এ ব্যক্তিকে হত্যা করি অতঃপর জীবিত করি তবে তোমাদের মনে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ থাকবে কি? লোকেরা বলবে, না। অতঃপর সে তাকে হত্যা করবে; অতঃপর জীবিত করবে; জীবিত করার পর সে ব্যক্তি বলবে, আল্লাহর কসম! এখনি তো তোমার ব্যাপারে আমার জ্ঞান-একীন আরো বেড়ে গেছে, যা ইতিপূর্বে কখনো ছিল না। দাজ্জাল আবারো তাকে হত্যা করতে চাইবে। কিন্তু করতে সক্ষম হবে না।

আবু ইসহাক (রাহঃ) বলেন, কথিত আছে যে, এ ব্যক্তিই হলেন খিজির (আলাইহিস সালাম)।
৭১০৯

وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ بِمِثْلِهِ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৭১০৯। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান দারেমী (রাহঃ) ......... যুহরী (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৭১১০

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُهْزَاذَ، مِنْ أَهْلِ مَرْوَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي الْوَدَّاكِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فَيَتَوَجَّهُ قِبَلَهُ رَجُلٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فَتَلْقَاهُ الْمَسَالِحُ مَسَالِحُ الدَّجَّالِ فَيَقُولُونَ لَهُ أَيْنَ تَعْمِدُ فَيَقُولُ أَعْمِدُ إِلَى هَذَا الَّذِي خَرَجَ - قَالَ - فَيَقُولُونَ لَهُ أَوَمَا تُؤْمِنُ بِرَبِّنَا فَيَقُولُ مَا بِرَبِّنَا خَفَاءٌ . فَيَقُولُونَ اقْتُلُوهُ . فَيَقُولُ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ أَلَيْسَ قَدْ نَهَاكُمْ رَبُّكُمْ أَنْ تَقْتُلُوا أَحَدًا دُونَهُ - قَالَ - فَيَنْطَلِقُونَ بِهِ إِلَى الدَّجَّالِ فَإِذَا رَآهُ الْمُؤْمِنُ قَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ هَذَا الدَّجَّالُ الَّذِي ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَيَأْمُرُ الدَّجَّالُ بِهِ فَيُشَبَّحُ فَيَقُولُ خُذُوهُ وَشُجُّوهُ . فَيُوسَعُ ظَهْرُهُ وَبَطْنُهُ ضَرْبًا - قَالَ - فَيَقُولُ أَوَمَا تُؤْمِنُ بِي قَالَ فَيَقُولُ أَنْتَ الْمَسِيحُ الْكَذَّابُ - قَالَ - فَيُؤْمَرُ بِهِ فَيُؤْشَرُ بِالْمِئْشَارِ مِنْ مَفْرِقِهِ حَتَّى يُفَرَّقَ بَيْنَ رِجْلَيْهِ - قَالَ - ثُمَّ يَمْشِي الدَّجَّالُ بَيْنَ الْقِطْعَتَيْنِ ثُمَّ يَقُولُ لَهُ قُمْ . فَيَسْتَوِي قَائِمًا - قَالَ - ثُمَّ يَقُولُ لَهُ أَتُؤْمِنُ بِي فَيَقُولُ مَا ازْدَدْتُ فِيكَ إِلاَّ بَصِيرَةً - قَالَ - ثُمَّ يَقُولُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ لاَ يَفْعَلُ بَعْدِي بِأَحَدٍ مِنَ النَّاسِ - قَالَ - فَيَأْخُذُهُ الدَّجَّالُ لِيَذْبَحَهُ فَيُجْعَلَ مَا بَيْنَ رَقَبَتِهِ إِلَى تَرْقُوَتِهِ نُحَاسًا فَلاَ يَسْتَطِيعُ إِلَيْهِ سَبِيلاً - قَالَ - فَيَأْخُذُ بِيَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ فَيَقْذِفُ بِهِ فَيَحْسِبُ النَّاسُ أَنَّمَا قَذَفَهُ إِلَى النَّارِ وَإِنَّمَا أُلْقِيَ فِي الْجَنَّةِ " . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذَا أَعْظَمُ النَّاسِ شَهَادَةً عِنْدَ رَبِّ الْعَالَمِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭১১০। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কাহয়ায (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ দাজ্জালের আবির্ভাবের পর জনৈক মুসলিম ব্যক্তি তার দিকে অগ্রসর হবে। অতঃপর রাস্তায় অস্ত্রধারী দাজ্জাল বাহিনীর সাথে তার সাক্ষাত হবে। তারা তাকে জিজ্ঞাসা করবে, কোথায় যাবে? সে বলবে, আবির্ভূত দাজ্জালের নিকট যাব। তারা তাকে আবারো জিজ্ঞাসা করবে, তুমি কি আমাদের রবের উপর ঈমান আনয়ন করনি? সে বলবে, আমাদের প্রতিপালকের ব্যাপারে কোন অস্পষ্টতা নেই। দাজ্জালের লোকেরা বলবে, তোমরা তাকে হত্যা কর। তখন তাদের পরস্পর একে অপরকে বলবে, আমাদের রব কাউকে তার সামনে নেয়া ব্যতিরেকে হত্যা করতে তোমাদেরকে নিষেধ করেননি? অতঃপর তারা তাকে নিয়ে দাজ্জালের নিকট যাবে। দাজ্জালকে দেখা মাত্রই সে বলবে, হে লোক সকল! এ-তো সেই দাজ্জাল, যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে বর্ণনা দিয়েছেন।

এরপর দাজ্জাল (তার লোকদেরকে) আদেশ করলে তাকে টানা হেঁচড়া করা হবে। তখন সে বলবে, তাকে ধর এবং তাকে ক্ষত বিক্ষত করে দাও। অতঃপর তার পেট ও পৃষ্ঠে আঘাত করা হবে। পুনরায় দাজ্জাল তাকে বলবে, তুমি কি আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর না? সে বলবে, তুমি তো মাসীহ দাজ্জাল। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর দাজ্জাল তার সম্পর্কে হুকুম দিবে। দাজ্জালের হুকুমে মাথা থেকে পা পর্যন্ত তাকে করাতে চিরে দু’ফাঁক করে দেয়া হবে। অতঃপর দাজ্জাল দুই টুকরার মধ্যস্থলে হেঁটে গিয়ে তাকে সম্বোধন করে বলবে, উঠ। তখন সে সোজা দাঁড়িয়ে যাবে।

অতঃপর সে (দাজ্জাল) তাকে বলবে, তুমি কি আমার প্রতি ঈমান রাখ না? সে বলবে, তোমার ব্যাপারে আমার মাঝে একীন কেবল বেড়েই চলবে। অতঃপর আগন্তুক ব্যক্তি বলবে, হে লোক সকল! আমার পর দাজ্জাল আর কারো সাথে এমন আচরণ করতে সক্ষম হবে না। এরপর যবেহ করার জন্য দাজ্জাল তাকে পাকড়াও করবে। কিন্তু তার গলা হতে হাসুলী পর্যন্ত শরীর তামায় পরিণত হয়ে যাবে। ফলে দাজ্জাল তাকে যবেহ করতে সক্ষম হবে না। উপায় না দেখে দাজ্জাল তখন তার হাত-পা ধরে তাকে ছুঁড়ে মারবে। লোকেরা মনে করবে, দাজ্জাল তাকে আগুনে নিক্ষেপ করেছে বস্তুতঃ সে নিক্ষিপ্ত হবে জান্নাতে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ রাব্বূল আলামীনের নিকট এ ব্যক্তি হবে মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম শহীদ।

২২. দাজ্জালের (ভেল্কিবাজি) আল্লাহর নিকট অতি সহজ ও তুচ্ছ

بَابٌ فِي الدَّجَّالِ وَهُوَ أَهْوَنُ عَلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ

৭১১১

حَدَّثَنَا شِهَابُ بْنُ عَبَّادٍ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حُمَيْدٍ الرُّؤَاسِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، بْنِ أَبِي خَالِدٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ مَا سَأَلَ أَحَدٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الدَّجَّالِ أَكْثَرَ مِمَّا سَأَلْتُ قَالَ " وَمَا يُنْصِبُكَ مِنْهُ إِنَّهُ لاَ يَضُرُّكَ " . قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُمْ يَقُولُونَ إِنَّ مَعَهُ الطَّعَامَ وَالأَنْهَارَ قَالَ " هُوَ أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ مِنْ ذَلِكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

৭১১১। শিহাব ইবনে আব্বাদ আল আবাদী (রাহঃ) ......... মুগীরা ইবনে শু’বা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দাজ্জাল সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমার তুলনায় এতো অধিক আর কেউ জিজ্ঞাসা করেনি। তিনি বলেছেনঃ তার ব্যাপারে তোমার কিসের এত চিন্তা? সে তোমার কোন ক্ষতিই করতে পারবে না। উত্তরে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! লোকেরা বলাবলি করছে যে, তার সাথে খাদ্য এবং পানির নহর থাকবে। তখন তিনি (নবী (ﷺ)) বললেনঃ এটা তো আল্লাহর নিকট তার চাইতেও অনেক তুচ্ছ।

৭১১২

حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ، عَنِ الْمُغِيرَةِ، بْنِ شُعْبَةَ قَالَ مَا سَأَلَ أَحَدٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الدَّجَّالِ أَكْثَرَ مِمَّا سَأَلْتُهُ قَالَ " وَمَا سُؤَالُكَ " . قَالَ قُلْتُ إِنَّهُمْ يَقُولُونَ مَعَهُ جِبَالٌ مِنْ خُبْزٍ وَلَحْمٍ وَنَهَرٌ مِنْ مَاءٍ . قَالَ " هُوَ أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ مِنْ ذَلِكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

৭১১২। সুরায়জ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... মুগীরা ইবনে শু’বা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দাজ্জাল সম্পর্কে নবী (ﷺ) এর নিকট আমার চাইতে অধিক জিজ্ঞাসা আর কেউ করেনি। আর তিনি আমাকে বলেছেন, কেন তোমার প্রশ্ন? তিনি বলেন, উত্তরে আমি বললাম, যেহেতু লোকেরা বলাবলি করছে যে, তার সাথে রুটি ও গোশতের পাহাড় এবং (পানির) নহর থাকবে। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ এটা তো আল্লাহর নিকট তার চাইতেও তুচ্ছ।

৭১১৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ، أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، كُلُّهُمْ عَنْ إِسْمَاعِيلَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . نَحْوَ حَدِيثِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ حُمَيْدٍ وَزَادَ فِي حَدِيثِ يَزِيدَ فَقَالَ لِي " أَىْ بُنَىَّ " .

বর্ণনাকারী: ইসমা‘ঈল (রহঃ)

৭১১৩। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও ইবনে নুমাইর (রাহঃ) (অন্য সনদে) ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (অন্য সনদে) ইবনে আবু উমর (অন্য সনদে) আবু বকর ইবনে শায়বা (অন্য সনদে) মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... ইসমাঈল (রাহঃ) থেকে এ সনদে ইবরাহীম ইবনে হুমায়দের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে ইয়াযীদের হাদীসে অধিক রয়েছে যে, অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, হে বৎস!।

২৩. দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ এবং দুনিয়াতে তার অবস্থান, ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর অবতরণ এবং তার দ্বারা দাজ্জালকে হত্যা করা, দুনিয়া থেকে ভাল লোক এবং ঈমানের বিদায় গ্রহণ, এবং মন্দ লোকদের অবস্থান, তাদের মূর্তিপূজা, শিঙ্গায় ফুৎকার এবং কবর থেকে সকলের উত্থান

بَابٌ فِي خُرُوجِ الدَّجَّالِ وَمُكْثِهِ فِي الْأَرْضِ، وَنُزُولِ عِيسَى وَقَتْلِهِ إِيَّاهُ، وَذَهَابِ أَهْلِ الْخَيْرِ وَالْإِيمَانِ، وَبَقَاءِ شِرَارِ النَّاسِ وَعِبَادَتِهِمُ الْأَوْثَانَ، وَالنَّفْخِ فِي الصُّورِ، وَبَعْثِ مَنْ فِي الْقُبُورِ

৭১১৪

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَالِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ يَعْقُوبَ بْنَ عَاصِمِ بْنِ عُرْوَةَ بْنِ مَسْعُودٍ الثَّقَفِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، وَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ مَا هَذَا الْحَدِيثُ الَّذِي تُحَدِّثُ بِهِ تَقُولُ إِنَّ السَّاعَةَ تَقُومُ إِلَى كَذَا وَكَذَا . فَقَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ - أَوْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهُمَا - لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ لاَ أُحَدِّثَ أَحَدًا شَيْئًا أَبَدًا إِنَّمَا قُلْتُ إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ بَعْدَ قَلِيلٍ أَمْرًا عَظِيمًا يُحَرَّقُ الْبَيْتُ وَيَكُونُ وَيَكُونُ ثُمَّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فِي أُمَّتِي فَيَمْكُثُ أَرْبَعِينَ - لاَ أَدْرِي أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ أَرْبَعِينَ شَهْرًا أَوْ أَرْبَعِينَ عَامًا - فَيَبْعَثُ اللَّهُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ كَأَنَّهُ عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ فَيَطْلُبُهُ فَيُهْلِكُهُ ثُمَّ يَمْكُثُ النَّاسُ سَبْعَ سِنِينَ لَيْسَ بَيْنَ اثْنَيْنِ عَدَاوَةٌ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ رِيحًا بَارِدَةً مِنْ قِبَلِ الشَّأْمِ فَلاَ يَبْقَى عَلَى وَجْهِ الأَرْضِ أَحَدٌ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ أَوْ إِيمَانٍ إِلاَّ قَبَضَتْهُ حَتَّى لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ دَخَلَ فِي كَبَدِ جَبَلٍ لَدَخَلَتْهُ عَلَيْهِ حَتَّى تَقْبِضَهُ " . قَالَ سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ فِي خِفَّةِ الطَّيْرِ وَأَحْلاَمِ السِّبَاعِ لاَ يَعْرِفُونَ مَعْرُوفًا وَلاَ يُنْكِرُونَ مُنْكَرًا فَيَتَمَثَّلُ لَهُمُ الشَّيْطَانُ فَيَقُولُ أَلاَ تَسْتَجِيبُونَ فَيَقُولُونَ فَمَا تَأْمُرُنَا فَيَأْمُرُهُمْ بِعِبَادَةِ الأَوْثَانِ وَهُمْ فِي ذَلِكَ دَارٌّ رِزْقُهُمْ حَسَنٌ عَيْشُهُمْ ثُمَّ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ فَلاَ يَسْمَعُهُ أَحَدٌ إِلاَّ أَصْغَى لِيتًا وَرَفَعَ لِيتًا - قَالَ - وَأَوَّلُ مَنْ يَسْمَعُهُ رَجُلٌ يَلُوطُ حَوْضَ إِبِلِهِ - قَالَ - فَيَصْعَقُ وَيَصْعَقُ النَّاسُ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ - أَوْ قَالَ يُنْزِلُ اللَّهُ - مَطَرًا كَأَنَّهُ الطَّلُّ أَوِ الظِّلُّ - نُعْمَانُ الشَّاكُّ - فَتَنْبُتُ مِنْهُ أَجْسَادُ النَّاسِ ثُمَّ يُنْفَخُ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنْظُرُونَ ثُمَّ يُقَالُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ هَلُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ . وَقِفُوهُمْ إِنَّهُمْ مَسْئُولُونَ - قَالَ - ثُمَّ يُقَالُ أَخْرِجُوا بَعْثَ النَّارِ فَيُقَالُ مِنْ كَمْ فَيُقَالُ مِنْ كُلِّ أَلْفٍ تِسْعَمِائَةٍ وَتِسْعَةً وَتِسْعِينَ - قَالَ - فَذَاكَ يَوْمَ يَجْعَلُ الْوِلْدَانَ شِيبًا وَذَلِكَ يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৭১১৪। উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয আল আনবারী (রাহঃ) ......... ইয়াকুব ইবনে আসিম ইবনে উরওয়া ইবনে মাসউদ সাকাফী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) কে আমি এ কথা বলতে শুনেছি যে, একদা এক ব্যক্তি তার নিকট এসে বললেন এ কেমন হাদীস আপনি বর্ণনা করছেন যে, এতো এতো দিনের মধ্যে কিয়ামত সংগঠিত হবে। এ কথা শুনে তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ অথবা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ অথবা অনুরূপ কোন শব্দ। অতঃপর তিনি বললেন, আমি তো কেবল এ কথাই বলেছিলাম যে অচিরেই তোমরা এমন ভয়াবহ ঘটনা প্রত্যক্ষ করবে যা ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দিবে এবং এমন ঘটবে এমন ঘটবে ......।

অতঃপর তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মতের মধ্যেই দাজ্জালের আবির্ভাব হবে এবং সে চল্লিশ পর্যন্ত অবস্থান করবে। আমি জানি না চল্লিশ দিন, না চল্লিশ মাস, না চল্লিশ বছর। এ সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মারইয়াম তনয় ঈসা (আলাইহিস সালাম) কে প্রেরণ করবেন। তাঁর আকৃতি উরওয়া ইবনে মাসউদের অনুরূপ হবে। তিনি দাজ্জালকে তালাশ করে তাকে ধ্বংস করে দিবেন। অতঃপর সাতটি বছর লোকেরা এমনভাবে অতিবাহিত করবে যে, দুই ব্যক্তির মাঝে কোন দুশমনী থাকবে না। তখন আল্লাহ তাআলা সিয়িয়ার দিক হতে ঠাণ্ডা বায়ু প্রবাহিত করবেন। ফলে যার অন্তরে কল্যাণ বা ঈমান থাকবে, এ ধরনের কোন ব্যক্তি এ পৃথিবীতে আর বেঁচে থাকবে না। বরং এ ধরনের প্রত্যেকের জান আল্লাহ তাআলা কবয করে নিবেন। এমন কি তোমাদের কোন ব্যক্তি যদি পাহাড়ের অভ্যন্তরে গিয়েও আত্মগোপন করে তবে সেখানেও বায়ু তার নিকট পৌছে তার জান কবয করে নিবে।

আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একথা বলতে শুনেছি যে, তখন মন্দ লোকগুলো দুনিয়াতে বাকী থাকবে। দ্রুতগামী পাখি এবং জ্ঞানশূন্য হিংস্রপ্রাণীর ন্যায় তাদের আখলাক হবে। তারা কল্যাণকে কল্যাণ বলে জানবে না এবং অকল্যাণকে অকল্যাণ বলে মনে করবে না। এ সময় শয়তান এক আকৃতিতে তাদের নিকট এসে বলবে, তোমরা কি ডাকে সাড়া দিবে না? তারা বলবে, আপনি আমাদেরকে কোন বিষয়ের আদেশ দিচ্ছেন? তখন সে তাদেরকে মূর্তি পূজার নির্দেশ দিবে। সে সময় তাদের জীবনোপকরণে প্রাচুর্য থাকবে এবং তারা স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন যাপন করবে। তখনই শিংগায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। যেই এ আওয়ায শুনবে সেই তার ঘাড় একদিকে অবনমিত করবে এবং অন্য দিকে উত্তলোন করবে।

এ আওয়ায সর্বপ্রথম ঐ ব্যক্তি শুনতে পাবে যে তার উটের জন্য হাউয মেরামতের কাজে মগ্ন থাকবে। আওয়ায শুনমাত্রই সে বেহুশ হয়ে পড়ে যাবে। সাথে সাথে অনান্য লোকেরাও বেহুশ হয়ে যাবে। অতঃপর মহান আল্লাহ শুক্র বিন্দুর মত গুড়িগুড়ি বৃষ্টি প্রেরণ করবেন বা ছায়ার বৃষ্টি বর্ষণ করবেন।

বর্ণনাকারী নুমান (রাহঃ) طل ওظل সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এতে মানুষর শরীর উদগত হবে। পুনরায় সিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে। তৎক্ষণাৎ তারা দণ্ডায়মান হয়ে তাকাতে থাকবো অতঃপর আহবান করা হবে যে, হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট আস। অতঃপর বলা হবে, তাদেরকে থামাও, কারণ তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে। এরপর বলা হবে, জাহান্নামী দল বের কর। জিজ্ঞাসা করা হবে, কত জন? বলা হবে, প্রত্যেক হাজার থেকে নয়শ’ নিরানব্বই জন। অতঃপর তিনি বললেন, এ ই তো ঐ দিন, যেদিন শিশুদের পরিণত করবে বৃদ্ধে এবং এ-ই চরম সংকটের দিন।
৭১১৫

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ، سَالِمٍ قَالَ سَمِعْتُ يَعْقُوبَ بْنَ عَاصِمِ بْنِ عُرْوَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَجُلاً، قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو إِنَّكَ تَقُولُ إِنَّ السَّاعَةَ تَقُومُ إِلَى كَذَا وَكَذَا فَقَالَ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ لاَ أُحَدِّثَكُمْ بِشَىْءٍ إِنَّمَا قُلْتُ إِنَّكُمْ تَرَوْنَ بَعْدَ قَلِيلٍ أَمْرًا عَظِيمًا . فَكَانَ حَرِيقَ الْبَيْتِ - قَالَ شُعْبَةُ هَذَا أَوْ نَحْوَهُ - قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فِي أُمَّتِي " . وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمِثْلِ حَدِيثِ مُعَاذٍ وَقَالَ فِي حَدِيثِهِ " فَلاَ يَبْقَى أَحَدٌ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ إِيمَانٍ إِلاَّ قَبَضَتْهُ " . قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنِي شُعْبَةُ بِهَذَا الْحَدِيثِ مَرَّاتٍ وَعَرَضْتُهُ عَلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৭১১৫। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ইয়াকুব ইবনে আসিম ইবনে উরওয়া ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে শুনেছি যে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছেন, আপনি কি বলেছেন, অমুক অমুক সময় কিয়ামত কায়িম হবে? একথা শুনে তিনি বললেন, আমি ইচ্ছা করেছি, তোমদেরকে কোন কথাই আমি আর বলব না। আমি তো একথাই বলেছি যে, অল্প কিছু দিন পরেই তোমরা একটি ভয়াবহ ঘটনা প্রত্যক্ষ করবে। যা ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে ভষ্মীভূত করে দিবে। বর্ণনাকারী শু’বা এ কথা বা অনুরূপ কথাই বলেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মতের মধ্যেই দাজ্জালের আবির্ভাব হবে। ...... অতঃপর তিনি মুআযের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এতে তিনি বলেছেন, যার অন্তরে অণুপরিমাণ ঈমান থাকবে, এ ধরনের কোন ব্যক্তি তখন আর বাকী থাকবে না। বরং তা (বায়ু) তার জান কবয করে নেয়া হবে। মুহাম্মাদ ইবনে জাফর (রাহঃ) বলেন, শুবা (রাহঃ) এ হাদীস আমার নিকট কয়েকবার বর্ণনা করেছেন এবং আমিও তাকে কয়েকবার পড়ে শুনিয়েছি।

৭১১৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ حَفِظْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا لَمْ أَنْسَهُ بَعْدُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ أَوَّلَ الآيَاتِ خُرُوجًا طُلُوعُ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَخُرُوجُ الدَّابَّةِ عَلَى النَّاسِ ضُحًى وَأَيُّهُمَا مَا كَانَتْ قَبْلَ صَاحِبَتِهَا فَالأُخْرَى عَلَى إِثْرِهَا قَرِيبًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৭১১৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে আমি একটি হাদীস মুখস্থ করেছি, যা কখনো আমি ভুলিনি। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের প্রথম নিদর্শন হল, পূর্ব দিক হতে সূর্য উদিত হওয়া এবং পূর্বাহ্নের সময় দাব্বা (মানুষ রূপ পশু-গরু) বের হওয়া। এ দুটির যে কোনটি প্রথমে সংঘটিত হবে অবিলম্বে দ্বিতীয়টিও তড়িৎ প্রকাশিত হবে।

৭১১৭

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا أَبُو حَيَّانَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، قَالَ جَلَسَ إِلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ بِالْمَدِينَةِ ثَلاَثَةُ نَفَرٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَسَمِعُوهُ وَهُوَ، يُحَدِّثُ عَنِ الآيَاتِ، أَنَّ أَوَّلَهَا، خُرُوجًا الدَّجَّالُ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو لَمْ يَقُلْ مَرْوَانُ شَيْئًا قَدْ حَفِظْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا لَمْ أَنْسَهُ بَعْدُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ . فَذَكَرَ بِمِثْلِهِ .

বর্ণনাকারী: আবু যুরআ ইবনে আমর ইবনে জারীর (রহঃ)

৭১১৭। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... আবু যুরআ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনায় মারওয়ান ইবনুল হাকামের নিকট তিনজন মুসলমান উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি কিয়ামতের নিদর্শন সমুহের বিবরণ দিচ্ছিলেন এবং তারা তা শুনছিলেন। (আলোচনায় তিনি বলছিলেন যে), কিয়ামতের নিদর্শন সমূহের প্রথম নিদর্শন হল, দাজ্জালের আবির্ভাব হওয়া। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) বললেন, মারওয়ানের কথা কিছুই হয়নি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এমন একটি হাদীস আমি মুখস্থ করেছি, যা আজ পর্যন্ত আমি ভুলিনি। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছি ...... অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৭১১৮

وَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، قَالَ تَذَاكَرُوا السَّاعَةَ عِنْدَ مَرْوَانَ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمَا وَلَمْ يَذْكُرْ ضُحًى .

বর্ণনাকারী: আবু যুরআ ইবনে আমর ইবনে জারীর (রহঃ)

৭১১৮। নসর ইবনে আলী আল জাহযামী (রাহঃ) ......... আবু যুর’আ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মারওয়ানের নিকট লোকেরা কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করল। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি ...... পূর্বোক্ত হাদীস দু’টোর অনুরূপ। তবে এতে তিনি ’পূর্বাহ্নে’র শব্দটি উল্লেখ করেন নি।

২৪. জাসসাসাহ্‌ (দাজ্জালের গুপ্তচর) প্রাণীর ঘটনা

باب قِصَّةِ الْجَسَّاسَةِ ‏

৭১১৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ عَبْدِ الْوَارِثِ، وَحَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، كِلاَهُمَا عَنْ عَبْدِ الصَّمَدِ، - وَاللَّفْظُ لِعَبْدِ الْوَارِثِ بْنِ عَبْدِ الصَّمَدِ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ جَدِّي، عَنِ الْحُسَيْنِ، بْنِ ذَكْوَانَ حَدَّثَنَا ابْنُ بُرَيْدَةَ، حَدَّثَنِي عَامِرُ بْنُ شَرَاحِيلَ الشَّعْبِيُّ، شَعْبُ هَمْدَانَ أَنَّهُ سَأَلَ فَاطِمَةَ بِنْتَ قَيْسٍ أُخْتَ الضَّحَّاكِ بْنِ قَيْسٍ وَكَانَتْ مِنَ الْمُهَاجِرَاتِ الأُوَلِ فَقَالَ حَدِّثِينِي حَدِيثًا سَمِعْتِيهِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ تُسْنِدِيهِ إِلَى أَحَدٍ غَيْرِهِ فَقَالَتْ لَئِنْ شِئْتَ لأَفْعَلَنَّ فَقَالَ لَهَا أَجَلْ حَدِّثِينِي . فَقَالَتْ نَكَحْتُ ابْنَ الْمُغِيرَةِ وَهُوَ مِنْ خِيَارِ شَبَابِ قُرَيْشٍ يَوْمَئِذٍ فَأُصِيبَ فِي أَوَّلِ الْجِهَادِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا تَأَيَّمْتُ خَطَبَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَخَطَبَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى مَوْلاَهُ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ وَكُنْتُ قَدْ حُدِّثْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَحَبَّنِي فَلْيُحِبَّ أُسَامَةَ " . فَلَمَّا كَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُلْتُ أَمْرِي بِيَدِكَ فَأَنْكِحْنِي مَنْ شِئْتَ فَقَالَ " انْتَقِلِي إِلَى أُمِّ شَرِيكٍ " . وَأُمُّ شَرِيكٍ امْرَأَةٌ غَنِيَّةٌ مِنَ الأَنْصَارِ عَظِيمَةُ النَّفَقَةِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ يَنْزِلُ عَلَيْهَا الضِّيفَانُ فَقُلْتُ سَأَفْعَلُ فَقَالَ " لاَ تَفْعَلِي إِنَّ أُمَّ شَرِيكٍ امْرَأَةٌ كَثِيرَةُ الضِّيفَانِ فَإِنِّي أَكْرَهُ أَنْ يَسْقُطَ عَنْكِ خِمَارُكِ أَوْ يَنْكَشِفَ الثَّوْبُ عَنْ سَاقَيْكِ فَيَرَى الْقَوْمُ مِنْكِ بَعْضَ مَا تَكْرَهِينَ وَلَكِنِ انْتَقِلِي إِلَى ابْنِ عَمِّكِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ " . - وَهُوَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي فِهْرٍ فِهْرِ قُرَيْشٍ وَهُوَ مِنَ الْبَطْنِ الَّذِي هِيَ مِنْهُ - فَانْتَقَلْتُ إِلَيْهِ فَلَمَّا انْقَضَتْ عِدَّتِي سَمِعْتُ نِدَاءَ الْمُنَادِي مُنَادِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُنَادِي الصَّلاَةَ جَامِعَةً . فَخَرَجْتُ إِلَى الْمَسْجِدِ فَصَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكُنْتُ فِي صَفِّ النِّسَاءِ الَّتِي تَلِي ظُهُورَ الْقَوْمِ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَتَهُ جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَضْحَكُ فَقَالَ " لِيَلْزَمْ كُلُّ إِنْسَانٍ مُصَلاَّهُ " . ثُمَّ قَالَ " أَتَدْرُونَ لِمَ جَمَعْتُكُمْ " . قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ " إِنِّي وَاللَّهِ مَا جَمَعْتُكُمْ لِرَغْبَةٍ وَلاَ لِرَهْبَةٍ وَلَكِنْ جَمَعْتُكُمْ لأَنَّ تَمِيمًا الدَّارِيَّ كَانَ رَجُلاً نَصْرَانِيًّا فَجَاءَ فَبَايَعَ وَأَسْلَمَ وَحَدَّثَنِي حَدِيثًا وَافَقَ الَّذِي كُنْتُ أُحَدِّثُكُمْ عَنْ مَسِيحِ الدَّجَّالِ حَدَّثَنِي أَنَّهُ رَكِبَ فِي سَفِينَةٍ بَحْرِيَّةٍ مَعَ ثَلاَثِينَ رَجُلاً مِنْ لَخْمٍ وَجُذَامَ فَلَعِبَ بِهِمُ الْمَوْجُ شَهْرًا فِي الْبَحْرِ ثُمَّ أَرْفَئُوا إِلَى جَزِيرَةٍ فِي الْبَحْرِ حَتَّى مَغْرِبِ الشَّمْسِ فَجَلَسُوا فِي أَقْرُبِ السَّفِينَةِ فَدَخَلُوا الْجَزِيرَةَ فَلَقِيَتْهُمْ دَابَّةٌ أَهْلَبُ كَثِيرُ الشَّعَرِ لاَ يَدْرُونَ مَا قُبُلُهُ مِنْ دُبُرِهِ مِنْ كَثْرَةِ الشَّعَرِ فَقَالُوا وَيْلَكِ مَا أَنْتِ فَقَالَتْ أَنَا الْجَسَّاسَةُ . قَالُوا وَمَا الْجَسَّاسَةُ قَالَتْ أَيُّهَا الْقَوْمُ انْطَلِقُوا إِلَى هَذَا الرَّجُلِ فِي الدَّيْرِ فَإِنَّهُ إِلَى خَبَرِكُمْ بِالأَشْوَاقِ . قَالَ لَمَّا سَمَّتْ لَنَا رَجُلاً فَرِقْنَا مِنْهَا أَنْ تَكُونَ شَيْطَانَةً - قَالَ - فَانْطَلَقْنَا سِرَاعًا حَتَّى دَخَلْنَا الدَّيْرَ فَإِذَا فِيهِ أَعْظَمُ إِنْسَانٍ رَأَيْنَاهُ قَطُّ خَلْقًا وَأَشَدُّهُ وِثَاقًا مَجْمُوعَةٌ يَدَاهُ إِلَى عُنُقِهِ مَا بَيْنَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى كَعْبَيْهِ بِالْحَدِيدِ قُلْنَا وَيْلَكَ مَا أَنْتَ قَالَ قَدْ قَدَرْتُمْ عَلَى خَبَرِي فَأَخْبِرُونِي مَا أَنْتُمْ قَالُوا نَحْنُ أُنَاسٌ مِنَ الْعَرَبِ رَكِبْنَا فِي سَفِينَةٍ بَحْرِيَّةٍ فَصَادَفْنَا الْبَحْرَ حِينَ اغْتَلَمَ فَلَعِبَ بِنَا الْمَوْجُ شَهْرًا ثُمَّ أَرْفَأْنَا إِلَى جَزِيرَتِكَ هَذِهِ فَجَلَسْنَا فِي أَقْرُبِهَا فَدَخَلْنَا الْجَزِيرَةَ فَلَقِيَتْنَا دَابَّةٌ أَهْلَبُ كَثِيرُ الشَّعَرِ لاَ يُدْرَى مَا قُبُلُهُ مِنْ دُبُرِهِ مِنْ كَثْرَةِ الشَّعَرِ فَقُلْنَا وَيْلَكِ مَا أَنْتِ فَقَالَتْ أَنَا الْجَسَّاسَةُ . قُلْنَا وَمَا الْجَسَّاسَةُ قَالَتِ اعْمِدُوا إِلَى هَذَا الرَّجُلِ فِي الدَّيْرِ فَإِنَّهُ إِلَى خَبَرِكُمْ بِالأَشْوَاقِ فَأَقْبَلْنَا إِلَيْكَ سِرَاعًا وَفَزِعْنَا مِنْهَا وَلَمْ نَأْمَنْ أَنْ تَكُونَ شَيْطَانَةً فَقَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ نَخْلِ بَيْسَانَ قُلْنَا عَنْ أَىِّ شَأْنِهَا تَسْتَخْبِرُ قَالَ أَسْأَلُكُمْ عَنْ نَخْلِهَا هَلْ يُثْمِرُ قُلْنَا لَهُ نَعَمْ . قَالَ أَمَا إِنَّهُ يُوشِكُ أَنْ لاَ تُثْمِرَ قَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ بُحَيْرَةِ الطَّبَرِيَّةِ . قُلْنَا عَنْ أَىِّ شَأْنِهَا تَسْتَخْبِرُ قَالَ هَلْ فِيهَا مَاءٌ قَالُوا هِيَ كَثِيرَةُ الْمَاءِ . قَالَ أَمَا إِنَّ مَاءَهَا يُوشِكُ أَنْ يَذْهَبَ . قَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ عَيْنِ زُغَرَ . قَالُوا عَنْ أَىِّ شَأْنِهَا تَسْتَخْبِرُ قَالَ هَلْ فِي الْعَيْنِ مَاءٌ وَهَلْ يَزْرَعُ أَهْلُهَا بِمَاءِ الْعَيْنِ قُلْنَا لَهُ نَعَمْ هِيَ كَثِيرَةُ الْمَاءِ وَأَهْلُهَا يَزْرَعُونَ مِنْ مَائِهَا . قَالَ أَخْبِرُونِي عَنْ نَبِيِّ الأُمِّيِّينَ مَا فَعَلَ قَالُوا قَدْ خَرَجَ مِنْ مَكَّةَ وَنَزَلَ يَثْرِبَ . قَالَ أَقَاتَلَهُ الْعَرَبُ قُلْنَا نَعَمْ . قَالَ كَيْفَ صَنَعَ بِهِمْ فَأَخْبَرْنَاهُ أَنَّهُ قَدْ ظَهَرَ عَلَى مَنْ يَلِيهِ مِنَ الْعَرَبِ وَأَطَاعُوهُ قَالَ لَهُمْ قَدْ كَانَ ذَلِكَ قُلْنَا نَعَمْ . قَالَ أَمَا إِنَّ ذَاكَ خَيْرٌ لَهُمْ أَنْ يُطِيعُوهُ وَإِنِّي مُخْبِرُكُمْ عَنِّي إِنِّي أَنَا الْمَسِيحُ وَإِنِّي أُوشِكُ أَنْ يُؤْذَنَ لِي فِي الْخُرُوجِ فَأَخْرُجَ فَأَسِيرَ فِي الأَرْضِ فَلاَ أَدَعَ قَرْيَةً إِلاَّ هَبَطْتُهَا فِي أَرْبَعِينَ لَيْلَةً غَيْرَ مَكَّةَ وَطَيْبَةَ فَهُمَا مُحَرَّمَتَانِ عَلَىَّ كِلْتَاهُمَا كُلَّمَا أَرَدْتُ أَنْ أَدْخُلَ وَاحِدَةً أَوْ وَاحِدًا مِنْهُمَا اسْتَقْبَلَنِي مَلَكٌ بِيَدِهِ السَّيْفُ صَلْتًا يَصُدُّنِي عَنْهَا وَإِنَّ عَلَى كُلِّ نَقْبٍ مِنْهَا مَلاَئِكَةً يَحْرُسُونَهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَطَعَنَ بِمِخْصَرَتِهِ فِي الْمِنْبَرِ " هَذِهِ طَيْبَةُ هَذِهِ طَيْبَةُ هَذِهِ طَيْبَةُ " . يَعْنِي الْمَدِينَةَ " أَلاَ هَلْ كُنْتُ حَدَّثْتُكُمْ ذَلِكَ " . فَقَالَ النَّاسُ نَعَمْ " فَإِنَّهُ أَعْجَبَنِي حَدِيثُ تَمِيمٍ أَنَّهُ وَافَقَ الَّذِي كُنْتُ أُحَدِّثُكُمْ عَنْهُ وَعَنِ الْمَدِينَةِ وَمَكَّةَ أَلاَ إِنَّهُ فِي بَحْرِ الشَّامِ أَوْ بَحْرِ الْيَمَنِ لاَ بَلْ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ ما هُوَ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ مَا هُوَ مِنْ قِبَلِ الْمَشْرِقِ مَا هُوَ " . وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى الْمَشْرِقِ . قَالَتْ فَحَفِظْتُ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: শা‘বী (রহঃ)

৭১১৯। আব্দুল ওয়ারিস ইবনে আব্দুস সামাদ ইবনে আব্দুল ওয়ারিস ও হাজ্জাজ ইবনে শাঈর (রাহঃ) ......... আমির ইবনে শারাহীল শা’বী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি যাহহাক ইবনে কায়সের বোন ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন। যে সমন্ত মহিলাগণ প্রথমে হিজরত করেছিলেন, তিনি তাদের অন্যতম। তিনি বলেন, আপনি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যে হাদীস শুনেছেন, অন্যের দিকে সম্বোধন করা ব্যতিরেকে, এমন একটি হাদীস আপনি আমার নিকট বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আচ্ছা, তুমি যদি শুনতে চাও, তবে অবশ্যই আমি বর্ণনা করবো। সে বলল, হ্যাঁ আপনি বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আমি ইবনে মুগীরাকে বিবাহ করেছি। তখন তিনি কুরাইশী যুবকদের উত্তম ব্যক্তি ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে প্রথম যুদ্ধে শরীক হয়েই তিনি শহীদ হয়ে যান। আমি বিধবা হয়ে যাবার পর আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) আমার নিকট বিবাহের পয়গাম পাঠান। পয়গাম পাঠান রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আরো কতিপয় সাহাবী।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজেও তাঁর আযাদকৃত গোলাম উসামা ইবনে যায়দের জন্য পয়গাম পাঠান। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ হাদীসটি আমি পূর্বেই শুনেছিলাম যে, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাকে ভালবাসে সে যেন উসামাকেও ভালবাসে। ফাতিমা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ বিষয়ে আমার সাথে আলোচনা করার পর আমি তাকে বলেছি, আমার বিষয়টি আপনার ইখতিয়ারে ছেড়ে দিলাম। আপনি যার সাথে ইচ্ছা আমাকে বিয়ে দিয়ে দিন। অতঃপর তিনি বললেন, তুমি উম্মে শারীকের নিকট চলে যাও। উম্মে শরীক একজন আনসারী বিত্তশালী মহিলা। আল্লাহর পথে সে অধিক ব্যয় করে এবং তার নিকট অধিক অতিথি আসে। একথা শুনে আমি বললাম, আমি তাই করব।

তখন তিনি বললেন, তুমি উম্মে শরীকের নিকট যেয়ো না। কেননা উম্মে শরীকের কাছে অনেক মেহমানের আনাগোনা এবং আমি এটাও পছন্দ করিনা যে, তোমার ওড়না পড়ে যাক বা তোমার পায়ের গোছা হতে কাপড় খসে যাক আর লোকেরা তোমার শরীরের এমন স্থান দেখে নিক যা তুমি কখনো পছন্দ করনা। তবে তুমি তোমার চাচাতো ভাই আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুমের নিকট চলে যাও। তিনি বনী ফিহরের এক ব্যক্তি। ফিহর কুরাইশেরই একটি শাখা গোত্র। ফাতিমা যে খান্দানের লোক তিনিও সে খান্দানেরই মানুষ।

আমি তার নিকট চলে গেলাম। অতঃপর আমার ইদ্দত সমাপ্ত হলে আমি জনৈক আহবানকারীর আওয়াজ শুনতে পেলাম। বস্তুতঃ তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কর্তৃক নির্ধারিত আহবানকারী ছিলেন। তিনি এ মর্মে আহবান করছিলেন যে নামাযের উদ্দেশ্যে তোমরা একত্রিত হয়ে যাও। অতঃপর আমি মসজিদের দিকে রওয়ানা হলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে নামায আদায় করলাম। তিনি বলেন, কওমের পেছনে যে কাতারে মহিলাগণ ছিলেন আমি সে কাতারেই ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযান্তে হাসিমুখে মিম্বরে বসে গেলেন। অতঃপর বললেনঃ প্রত্যেকেই আপন আপন স্থানে বসে যাও। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা কি জান, আমি কি জন্য তোমাদেরকে একত্রিত করেছি? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তোমাদেরকে কোন আশা বা ভীতি প্রদর্শনের জন্য একত্রিত করিনি। তবে আমি তোমাদেরকে কেবল এ জন্য একত্রিত করেছি যে, তামীম দারী (রাযিঃ) প্রথমে খ্রীষ্টান ছিল। সে আমার নিকট এসে বায়আত গ্রহণ করেছে এবং ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছে। সে আমার কাছে এমন একটি কাহিনী বর্ণনা করেছে যদ্বারা আমার সেই বর্ণনার সত্যায়ন হয়ে যায়, যা আমি দাজ্জাল সম্পর্কে তোমাদের বর্ণনা করেছিলাম।

সে আমাকে বলেছে যে, একবার সে লাখম ও জুযাম গোত্রের ত্রিশজন লোকসহ একটি সামুদ্রিক নৌকায় আরোহণ করেছিল। সামুদ্রিক তুফান এক মাস পর্যন্ত তাদেরকে নিয়ে খেলা করতে থাকে। অতঃপর (একদিন) সূর্যাস্তের সময় তারা সমুদ্রের এক দ্বীপে আশ্রয় গ্রহণ করে। এরপর তারা ছোট ছোট নৌকায় বসে ঐ দ্বীপে প্রবেশ করে। দ্বীপে নামতেই একটি জন্তু তাদের দৃষ্টিগোচর হল। তার সমগ্র দেহ লোমে আবৃত ছিল। লোমের কারণে তার সম্মুখ অঙ্গ ও পশ্চাত অঙ্গ চিনা যাচ্ছিল না। লোকেরা তাকে বলল, হতভাগা, তুই কে? সে বলল, আমি দাজ্জালের গুপ্তচর। লোকেরা বলল, গুপ্তচর আবার কি? সে বলল! লোক সকল! ঐ যে গীর্জা দেখা যায় সেখানে চল। সেখানে এক ব্যক্তি অধীর আগ্রহে তোমাদের অপেক্ষা করছে।

তামীমদারী (রাযিঃ) বলেন, তার মুখে এক ব্যক্তির কথা শুনে আমরা ভীত ছিলাম যে, সে আবার শয়তান তো নয়! আমরা দ্রুত হেটে গীর্জায় প্রবেশ করতঃ এক বিশালদেহী ব্যক্তিকে দেখতে পেলাম। ইতিপূর্বে এমন আমরা আর কখনো দেখিনি। লোহার শিকলে বাধা অবস্থায় দুই হাঁটুর মধ্য দিয়ে তার উভয় হাত ঘাড়ের সাথে মিলানো। আমরা তাকে বললাম, তোর সর্বনাশ হোক, তুই কে? সে বলল, তোমরা আমার সন্ধান কিছু না কিছু পেয়েই গেছ। এখন তোমরা বল, তোমাদের পরিচয় কি? তারা বলল, আমরা আরবের বাসিন্দা। আমরা সমুদ্রে নৌকায় চড়ে ভ্রমণ করছিলাম। আমরা সমূদ্রকে উত্তাল তরং্গে উদ্বেলিত অবস্থায় পেয়েছি। এক মাস পর্যন্ত ঝাড়ের কবলে থেকে আমরা তোমার এ দ্বীপে এসে পৌছেছি। অতঃপর ছোট ছোট নৌকায় আরোহণ করে এ দ্বীপে আমরা প্রবেশ করেছি। এখানে আমরা একটি সর্বাঙ্গ লোমে আবৃত জন্তুকে দেখতে পেয়েছি। লোমের আধিক্যের কারণে আমরা তার সম্মুখ অঙ্গ ও পশ্চাত অঙ্গ চিহ্নিত করতে পারছিলাম না। আমরা তাকে বলেছি, তোর সর্বনাশ হোক, তুই কে? সে বলেছে, সে নাকি দাজ্জালের গুপ্তচর। আমরা বললাম, গুপ্তচর আবার কি! তখন সে বলেছে, ঐ যে গীর্জা দেখা যায়, তোমরা সেখানে চল। সেখানে এক ব্যক্তি অধীর আগ্রন্থে তোমাদের অপেক্ষায় আছে। তাই আমরা দ্রুত তোর কাছে এসে গেছি।

আমরা তার কথায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি; না জানি এ আবার কোন শয়তান (জ্বীন) কিনা? অতঃপর সে বলল, তোমরা আমাকে বায়সানের খেজুর বাগানের খবর বল। আমরা বললাম, এর কোন বিষয়টি সম্পর্কে তুই সংবাদ জানতে চাচ্ছিস? সে বলল, বায়সানের খেজুর বাগানে ফল আসে কি না, এ সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করছি। তাকে আমরা বললাম, হ্যাঁ, আছে। সে বলল, সেদিন নিকটেই যেদিন এগুলোতে ফল ধরবে না। অতঃপর সে বলল, আচ্ছা, তাবারিয়া সমুদ্র সম্পর্কে আমাকে অবগত কর। আমরা বললাম, এর কোন বিষয় সম্পর্কে তুই আমাদের থেকে জানতে চাচ্ছিস! সে বলল, এর মধ্যে পানি আছে কি? তারা বলল, হ্যাঁ, সেখানে বহু পানি আছে। অতঃপর সে বলল, সেদিন বেশী দূরে নয়, যখন এ সাগরে পানি থাকবে না।

সে আবার বলল, যুগার এর ঝর্ণা সম্পর্কে তোমরা আমাকে অবহিত কর। তারা বলল, তুই এর কি সম্পর্কে আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করতে চাচ্ছিস। সে বলল, এতে পানি আছে কি? এবং এ জনপদের লোকেরা তাদের ক্ষেত্রে এ ঝর্ণার পানি দেয় কি! আমরা বললাম- হ্যাঁ, এ তে বহু পানি আছে এবং এ জনপদের লোকেরা এ পস্রবনের পানি দ্বারা চাষাবাদ করে কি? সে পূনরায় বলল, তোমরা আমাকে উম্মীদের নবী সম্পর্কে সংবাদ দাও। সে এখন কি করছে? তারা বলল, তিনি মক্কা থেকে হিজরত করে মদীনায় চলে এসেছেন। সে জিজ্ঞাসা করল, আরবের লোকেরা তার সাথে যুদ্ধ করছে কি? আমরা বললাম, হ্যাঁ, করেছে। সে বলল, সে তাদের সাথে কিরূপ আচরণ করেছে। আমরা তাকে সংবাদ দিলাম যে, তিনি আরবের পার্শ্ববর্তী এলাকায় জয়ী হয়েছেন এবং তারা তার বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছে। সে বলল, এ কি হয়েই গেছে? আমরা বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, বশ্যতা স্বীকার করে নেয়াই জনগণের জন্য মঙ্গলজনক ছিল।

এখন আমি নিজের সম্পর্কে তোমাদেরকে বলছি, আমিই মাসীহ দাজ্জাল। অতিসত্ত্বরই আমি এখান থেকে বাইরে যাবার অনুমতি পেয়ে যাব। বাইরে যেয়ে আমি সমগ্র ভূ-পৃষ্ঠ প্রদক্ষিণ করবো। চল্লিশ দিনের ভেতর এমন কোন জনপদ থাকবে না, যেখানে আমি প্রবেশ না করব। তবে মক্কা ও তায়বা এ দু’টি স্থানে আমি প্রবেশ করব না। যখন আমি এ দুটির কোন একটিতে প্রবেশের ইচ্ছা করব, তখন এক ফিরিশতা উন্মুক্ত তরবারি হাতে সামনে এসে আমাকে বাধা দিবে। এ দুটি স্থানের সকল রাস্তায় ফিরিশতাদের পাহারা থাকবে।

বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার ছড়ি দ্বারা মিম্বরে আঘাত করে বললেন, এই হচ্ছে তায়বা, এই হচ্ছে তায়বা, এই হচ্ছে তায়বা। অর্থাৎ তায়বা অর্থ এই মদীনাই। সাবধান! আমি কি এ কথাটি ইতিপূর্বে তোমাদেরকে বলিনি? তখন লোকেরা বলল, হ্যাঁ, আপনি বলেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তামীমদারীর বর্ণনাটি আমাকে বিমোহিত করেছে। যেহেতু তা সামঞ্জস্যপূর্ণ আমার ঐ বর্ণনার, যা আমি তোমাদেরকে দাজ্জাল, মাদীনা ও মক্কা সম্পর্কে ইতিপূর্বে বলেছি। তিনি আরো বললেন, সিরিয়া সাগরে অথবা ইয়ামান সাগরে বরং পূর্বদিকে রয়েছে, পূর্বদিকে রয়েছে, পূর্বদিকে রয়েছে। এসময় তিনি তার হাত দ্বারা পূর্ব দিকে ইশারাও করলেন। বর্ণনাকারী ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) বলেন, এ হাদীস আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে মুখস্থ করেছি।
৭১২০

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ الْهُجَيْمِيُّ أَبُو عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا قُرَّةُ، حَدَّثَنَا سَيَّارٌ أَبُو الْحَكَمِ، حَدَّثَنَا الشَّعْبِيُّ، قَالَ دَخَلْنَا عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ فَأَتْحَفَتْنَا بِرُطَبٍ يُقَالُ لَهُ رُطَبُ ابْنِ طَابٍ وَأَسْقَتْنَا سَوِيقَ سُلْتٍ فَسَأَلْتُهَا عَنِ الْمُطَلَّقَةِ، ثَلاَثًا أَيْنَ تَعْتَدُّ قَالَتْ طَلَّقَنِي بَعْلِي ثَلاَثًا فَأَذِنَ لِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَعْتَدَّ فِي أَهْلِي - قَالَتْ - فَنُودِيَ فِي النَّاسِ إِنَّ الصَّلاَةَ جِامِعَةً - قَالَتْ - فَانْطَلَقْتُ فِيمَنِ انْطَلَقَ مِنَ النَّاسِ - قَالَتْ - فَكُنْتُ فِي الصَّفِّ الْمُقَدَّمِ مِنَ النِّسَاءِ وَهُوَ يَلِي الْمُؤَخَّرَ مِنَ الرِّجَالِ - قَالَتْ - فَسَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَخْطُبُ فَقَالَ " إِنَّ بَنِي عَمٍّ لِتَمِيمٍ الدَّارِيِّ رَكِبُوا فِي الْبَحْرِ " . وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَزَادَ فِيهِ قَالَتْ فَكَأَنَّمَا أَنْظُرُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَهْوَى بِمِخْصَرَتِهِ إِلَى الأَرْضِ وَقَالَ " هَذِهِ طَيْبَةُ " . يَعْنِي الْمَدِينَةَ .

বর্ণনাকারী: শা‘বী (রহঃ)

৭১২০। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব হারেসী (রাহঃ) ......... শা’বী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) এর নিকট গেলাম। অতঃপর তিনি আমাকে তাজা খেজুর হাদিয়া দিলেন। এ খেজুরকে رُطَبُ ابْنِ طَابٍ ’ইবনে তা'ব খেজুর’ নামে পরিচিতি এবং যবের ছাতু পান করালেন। এরপর আমি তাকে তিন তালাক- প্রাপ্তা মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে সে কোথায় ইদ্দত পালন করবে? জবাবে তিনি বললেন আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দেয়ার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে আমার বাপের বাড়ীতে ইদ্দত পালনের অনুমতি দিয়েছিলেন। ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) বলেন, তখন লোকদের উদ্দেশ্যে ঘোষনা দেয়া হল, নামাযের উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়ে যাও। অতঃপর এ ঘোষণা শুনে যারা সমবেত হলেন তাদের সাথে আমিও গেলাম এবং পুরুষের কাতারের পেছনে মহিলাদের কাতারের প্রথম সারিতে আমি দাঁড়ালাম। নামাযান্তে নবী (ﷺ) কে মিম্বরে বসে খুতবারত অবস্থায় একথা বলতে শুনলাম যে, তামীম দারীর জ্ঞাতি ভাই একবার সমুদ্রে নৌকায় ভ্রমণ করছিল। অতঃপর তিনি হাদীসটি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে রাবী আরো বলেছেন যে, তিনি (ফাতিমা) বলেন, আমি যেন এখনো দেখতে পাচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কোমর হেলিয়ে মাটির দিকে ইশারা করে বলেছেন, এই হচ্ছে তায়বা অর্থ মদীনা।

৭১২১

وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ عُثْمَانَ النَّوْفَلِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَهْبُ، بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ غَيْلاَنَ بْنَ جَرِيرٍ، يُحَدِّثُ عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ، قَيْسٍ قَالَتْ قَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَمِيمٌ الدَّارِيُّ فَأَخْبَرَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ رَكِبَ الْبَحْرَ فَتَاهَتْ بِهِ سَفِينَتُهُ فَسَقَطَ إِلَى جَزِيرَةٍ فَخَرَجَ إِلَيْهَا يَلْتَمِسُ الْمَاءَ فَلَقِيَ إِنْسَانًا يَجُرُّ شَعَرَهُ . وَاقْتَصَّ الْحَدِيثَ وَقَالَ فِيهِ ثُمَّ قَالَ أَمَا إِنَّهُ لَوْ قَدْ أُذِنَ لِي فِي الْخُرُوجِ قَدْ وَطِئْتُ الْبِلاَدَ كُلَّهَا غَيْرَ طَيْبَةَ . فَأَخْرَجَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى النَّاسِ فَحَدَّثَهُمْ قَالَ " هَذِهِ طَيْبَةُ وَذَاكَ الدَّجَّالُ " .

বর্ণনাকারী: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৭১২১। হাসান ইবনে আলী আল হুলওয়ানী ও আহমাদ ইবনে উসমান নাওফিলী (রাহঃ) ......... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট তামীমদারী আসল এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ মর্মে অবগত করল যে, একদা সে সমুদ্রে নৌযান আরোহণ করল। তখন তার জাহাজ পথ হারিয়ে এক দ্বীপে গিয়ে ভিড়ল। অতঃপর সে পানির উদ্দেশ্যে দ্বীপ অভ্যন্তরে প্রবেশ করল। সেখানে পৌছে সে এমন এক ব্যক্তিকে দেখল, যে তার লোম টানছিল ...... অতঃপর তিনি হাদীসের পূর্ণ রূপে বর্ণনা করলেন।

তবে এতে এও রয়েছে যে, সে (দাজ্জাল) বলবে, আমাকে যদি বের হওয়ার অনুমতি প্রদান করা হয় তবে আমি তায়বা ব্যতীত সমগ্র পৃথিবী প্রদক্ষিণ করব। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তামীমদারীকে লোকদের মাঝে নিয়ে এলেন এবং সে তাদেরকে পূর্ণ বৃত্তান্ত বর্ণনা করে শুনালেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এই হলো তায়বা এবং ঐ ব্যক্তি দাজ্জাল।
৭১২২

حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ، - يَعْنِي الْحِزَامِيَّ - عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَعَدَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ " أَيُّهَا النَّاسُ حَدَّثَنِي تَمِيمٌ الدَّارِيُّ أَنَّ أُنَاسًا مِنْ قَوْمِهِ كَانُوا فِي الْبَحْرِ فِي سَفِينَةٍ لَهُمْ فَانْكَسَرَتْ بِهِمْ فَرَكِبَ بَعْضُهُمْ عَلَى لَوْحٍ مِنْ أَلْوَاحِ السَّفِينَةِ فَخَرَجُوا إِلَى جَزِيرَةٍ فِي الْبَحْرِ " . وَسَاقَ الْحَدِيثَ

বর্ণনাকারী: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৭১২২। আবু বকর ইবনে ইসহাক (রাহঃ) ......... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বরে বসে বললেন, হে লোক সকল! তামীমদারী আমার নিকট বর্ণনা করেছে যে, এক সময় তার গোত্রের কতিপয় লোক জাহাজে করে সমুদ্রে ভ্রমণ করছিল। অতঃপর তাদের জাহাজটি ভেঙ্গে যায়। তখন তাদের কেউ কেউ জাহাজের কাঠে চড়ে সাগরের কোন দ্বীপে গিয়ে পৌছে ...... অতঃপর আবু যিনাদ হাদীসটি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

২৫. দাজ্জাল সম্পর্কে আরো কতিপয় হাদীস

بَابٌ فِي بَقِيَّةٍ مِنْ أَحَادِيثِ الدَّجَّالِ

৭১২৩

حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنِي أَبُو عَمْرٍو، - يَعْنِي الأَوْزَاعِيَّ - عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ مِنْ بَلَدٍ إِلاَّ سَيَطَؤُهُ الدَّجَّالُ إِلاَّ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةَ وَلَيْسَ نَقْبٌ مِنْ أَنْقَابِهَا إِلاَّ عَلَيْهِ الْمَلاَئِكَةُ صَافِّينَ تَحْرُسُهَا فَيَنْزِلُ بِالسَّبَخَةِ فَتَرْجُفُ الْمَدِينَةُ ثَلاَثَ رَجَفَاتٍ يَخْرُجُ إِلَيْهِ مِنْهَا كُلُّ كَافِرٍ وَمُنَافِقٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭১২৩। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মক্কা মদীনা ব্যতীত পৃথীবির সমস্ত জানপদেই দাজ্জাল বিচরণ করবে। (তবে মক্কা মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না।) কেননা এ দুই শহরের প্রতিটি রাস্তায়ই ফিরিশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে এর পাহারাদারীতে নিয়োজিত থাকবে। অবশেষে দাজ্জাল মদীনার এক নিকটবর্তী স্থানে অবতরণ করবে। তখন মদীনাতে তিনবার ভূ-কম্পন হবে। যার ফলে প্রত্যেক মুনাফিক ও কাফির মদীনা থেকে বের হয়ে তার নিকট চলে যাবে।

৭১২৪

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ . فَذَكَرَ نَحْوَهُ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فَيَأْتِي سَبَخَةَ الْجُرُفِ فَيَضْرِبُ رِوَاقَهُ وَقَالَ فَيَخْرُجُ إِلَيْهِ كُلُّ مُنَافِقٍ وَمُنَافِقَةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭১২৪। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অতঃপর (হাম্মাদ ইবনে সালামাহ) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে রয়েছে যে, দাজ্জাল এসে জুরুফের এক অনুর্বর লবণাক্ত ভূমিতে অবতরণ করবে এবং এখানেই সে তার শিবির স্থাপন করবে। যার ফলে প্রত্যেক মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক মহিলা তার নিকট চলে যাবে।

৭১২৫

حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي مُزَاحِمٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ إِسْحَاقَ، بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَمِّهِ، أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَتْبَعُ الدَّجَّالَ مِنْ يَهُودِ أَصْبَهَانَ سَبْعُونَ أَلْفًا عَلَيْهِمُ الطَّيَالِسَةُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭১২৫। মানসুর ইবনে আবী মুযাহিম (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ইস্পাহানের সত্তর হাজার ইয়াহুদী দাজ্জালের অনুগামী হবে, তাদের গায়ে থাকবে তায়লাসান চাদর।

৭১২৬

حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ حَدَّثَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ أَخْبَرَتْنِي أُمُّ شَرِيكٍ، أَنَّهَا سَمِعَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَيَفِرَّنَّ النَّاسُ مِنَ الدَّجَّالِ فِي الْجِبَالِ " . قَالَتْ أُمُّ شَرِيكٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَيْنَ الْعَرَبُ يَوْمَئِذٍ قَالَ " هُمْ قَلِيلٌ " .

বর্ণনাকারী: উম্মে শরীক (রাঃ)

৭১২৬। হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... উম্মে শারীক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, লোকেরা দাজ্জালের ভয়ে পাহাড়ে পালিয়ে যাবে। এ কথা শুনে উম্মু শারীক (রাযিঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! সেদিন আরবের লোকেরা কোথায় থাকবে? উত্তরে তিনি বললেনঃ তখন তারা সংখ্যায় কম হবে।

৭১২৭

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .

বর্ণনাকারী: ইবনে জুরাইজ (রহঃ)

৭১২৭। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... ইবনে জুরায়জ (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৭১২৮

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْحَضْرَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُخْتَارِ - حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ رَهْطٍ، مِنْهُمْ أَبُو الدَّهْمَاءِ وَأَبُو قَتَادَةَ قَالُوا كُنَّا نَمُرُّ عَلَى هِشَامِ بْنِ عَامِرٍ نَأْتِي عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ فَقَالَ ذَاتَ يَوْمٍ إِنَّكُمْ لَتُجَاوِزُونِي إِلَى رِجَالٍ مَا كَانُوا بِأَحْضَرَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنِّي وَلاَ أَعْلَمَ بِحَدِيثِهِ مِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا بَيْنَ خَلْقِ آدَمَ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ خَلْقٌ أَكْبَرُ مِنَ الدَّجَّالِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৭১২৮। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু দাহমা, আবু কাতাদা ও আরো কতিপয় ব্যক্তি থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, হিশাম ইবনে আমিরের সন্মুখে দিয়ে আমরা ইমরান ইবনে হুসাইনের নিকট যেতাম। একদা হিশাম বললেন, তোমরা আমাকে অতিক্রম করে এমন মানুষের নিকট যাচ্ছ, যারা আমার তুলনায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটে অধিক উপস্থিত হয়নি এবং যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাদীস সম্পর্কে আমার তুলনায় অধিক জ্ঞাত নয়। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আদম (আলাইহিস সালাম) এর পর হতে কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের মাঝে দাজ্জালের তুলনায় মারাত্মক আর কোন মাখলুক/সৃষ্টি হবে না।

৭১২৯

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ ثَلاَثَةِ، رَهْطٍ مِنْ قَوْمِهِ فِيهِمْ أَبُو قَتَادَةَ قَالُوا كُنَّا نَمُرُّ عَلَى هِشَامِ بْنِ عَامِرٍ إِلَى عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ . بِمِثْلِ حَدِيثِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُخْتَارٍ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " أَمْرٌ أَكْبَرُ مِنَ الدَّجَّالِ " .

বর্ণনাকারী: হুমাইদ ইবনে হিলাল (রহঃ)

৭১২৯। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... হুমায়দ (রাহঃ) এর সম্প্রদায়ের তিন ব্যক্তি থেকে বর্ণিত, এদের মধ্যে আবু কাতাদাও আছেন, তারা আব্দুল আযীয ইবনে মুখতারের মতই বলেছেন যে, আমরা হিশাম ইবনে আমিরের সম্মুখ দিয়ে ইমরান ইবনে হুসাইনের নিকট যেতাম। তবে এতে (خَلْقٌ أَكْبَرُ مِنَ الدَّجَّالِ এর স্থলে) أَمْرٌ أَكْبَرُ مِنَ الدَّجَّالِ কথাটি উল্লেখ আছে।

৭১৩০

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنُونَ ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بَادِرُوا بِالأَعْمَالِ سِتًّا طُلُوعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا أَوِ الدُّخَانَ أَوِ الدَّجَّالَ أَوِ الدَّابَّةَ أَوْ خَاصَّةَ أَحَدِكُمْ أَوْ أَمْرَ الْعَامَّةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১৩০। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব ও কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ছয়টি ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পূর্বে তোমরা নেক আমলের প্রতিযোগিতা কর, (তা হল) পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া অথবা ধুঁয়াঅথবা দাজ্জাল অথবা দাব্বাতুল আরদ অথবা তোমাদের কারো খাস বিষয় (অর্থাৎ মৃত্যু) ও আম (ব্যাপক) বিষয় (অর্থাৎ কিয়ামত)।

৭১৩১

حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامَ الْعَيْشِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ زِيَادِ بْنِ رِيَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بَادِرُوا بِالأَعْمَالِ سِتًّا الدَّجَّالَ وَالدُّخَانَ وَدَابَّةَ الأَرْضِ وَطُلُوعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَأَمْرَ الْعَامَّةِ وَخُوَيِّصَةَ أَحَدِكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১৩১। উমাইয়া ইবনে বিসতাম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ছয়টি ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পূর্বে তোমরা নেক আমল করতে আরম্ভ কর। তা হল দাজ্জাল, ধোঁয়া, দাব্বাতুল আরদ, পশ্চিম দিক হতে সূর্য উদিত হওয়া, ব্যাপক বিষয় (কিয়ামত) এবং খাস বিষয় (ব্যক্তির মৃত্যু)।

৭১৩২

وَحَدَّثَنَاهُ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: কাতাদা ইবনে দিআমা (রহঃ)

৭১৩২। যুহাইর ইবনে হারব ও মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... কাতাদা (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

২৬. ফিতনা-দুর্যোগকালে ইবাদত করার ফযীলত

باب فَضْلِ الْعِبَادَةِ فِي الْهَرْجِ

৭১৩৩
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ مُعَلَّى بْنِ زِيَادٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ، قُرَّةَ عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ح وَحَدَّثَنَاهُ قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنِ الْمُعَلَّى بْنِ زِيَادٍ، رَدَّهُ إِلَى مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ رَدَّهُ إِلَى مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ رَدَّهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْعِبَادَةُ فِي الْهَرْجِ كَهِجْرَةٍ إِلَىَّ " .
وَحَدَّثَنِيهِ أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: মা'কিল ইবনে ইয়াসার (রাঃ)

৭১৩৩। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (অন্য সনদে) কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... মা’কিল ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ফিতনা-দুর্যোগের সময় ইবাদত করা আমার নিকট হিজরত করার সমতুল্য।

আবু কামিল (রাহঃ) ......... হাম্মাদ (রাহঃ) থেকে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

২৭. কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়া

باب قُرْبِ السَّاعَةِ

৭১৩৪

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ مَهْدِيٍّ - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ إِلاَّ عَلَى شِرَارِ النَّاسِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৭১৩৪। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ নিকৃষ্ট মানুষের উপরই কিয়ামত কায়িম হবে।

৭১৩৫

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي، حَازِمٍ عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، أَنَّهُ سَمِعَ سَهْلاً، يَقُولُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يُشِيرُ بِإِصْبَعِهِ الَّتِي تَلِي الإِبْهَامَ وَالْوُسْطَى وَهُوَ يَقُولُ " بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ هَكَذَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৭১৩৫। যাঈদ ইবনে মানসুর (অন্য সনদে) কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি নবী (ﷺ) এর মধ্যমা ও শাহাদাত আঙ্গুলী দ্বারা ইশারা করে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আমি ও কিয়ামত প্রেরিত হয়েছি এ দুটির মত (কাছাকাছি)।

৭১৩৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ " . قَالَ شُعْبَةُ وَسَمِعْتُ قَتَادَةَ يَقُولُ فِي قَصَصِهِ كَفَضْلِ إِحْدَاهُمَا عَلَى الأُخْرَى فَلاَ أَدْرِي أَذَكَرَهُ عَنْ أَنَسٍ أَوْ قَالَهُ قَتَادَةُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭১৩৬। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি ও কিয়ামত প্রেরিত হয়েছি এ দুটির মত। শু’বা (রাহঃ) বলেন, আমি কাতাদা (রাহঃ) এর নিকট শুনেছি, তিনি তার ওয়াজে বলতেন, এক আঙ্গুল অন্য আঙ্গুলের তুলনায় যতটুকু বড়। অতঃপর শু’বা বলেন, এ কথাটি কাতাদা (রাহঃ) আনাস (রাযিঃ) থেকে শুনে বর্ণনা করেছেন না নিজের থেকেই বলছেন, তা আমি নিশ্চিত জানি না।

৭১৩৭

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، وَأَبَا التَّيَّاحِ، يُحَدِّثَانِ أَنَّهُمَا سَمِعَا أَنَسًا، يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ هَكَذَا " . وَقَرَنَ شُعْبَةُ بَيْنَ إِصْبَعَيْهِ الْمُسَبِّحَةِ وَالْوُسْطَى يَحْكِيهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭১৩৭। ইয়াহয়া ইবনে হাবীব হারিসী (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি এবং কিয়ামত এ দুটির মত প্রেরিত হয়েছি। এ কথাটির বিবরণ দিতে গিয়ে শু’বা তার শাহাদাত ও মধ্যমা আঙ্গুলিকে এক সাথে মিলালেন।

৭১৩৮

وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ جَعْفَرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭১৩৮। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (অন্য সনদে) মুহাম্মাদ ইবনে ওয়ালীদ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে (এ সনদে) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৭১৩৯

وَحَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ حَمْزَةَ، - يَعْنِي الضَّبِّيَّ - وَأَبِي التَّيَّاحِ عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ حَدِيثِهِمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭১৩৯। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ (হাদীস বর্ণনা করেছেন)।

৭১৪০

وَحَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَعْبَدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ " . قَالَ وَضَمَّ السَّبَّابَةَ وَالْوُسْطَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭১৪০। আবু গাসসান মিসমাঈ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি এবং কিয়ামত প্রেরিত হয়েছি এ দুটির মত। রাবী বলেন (এ সময়) তিনি তার শাহাদাত ও মধ্যমা আঙ্গুলিকে একত্রিত করেছেন।

৭১৪১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ الأَعْرَابُ إِذَا قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَأَلُوهُ عَنِ السَّاعَةِ مَتَى السَّاعَةُ فَنَظَرَ إِلَى أَحْدَثِ إِنْسَانٍ مِنْهُمْ فَقَالَ " إِنْ يَعِشْ هَذَا لَمْ يُدْرِكْهُ الْهَرَمُ قَامَتْ عَلَيْكُمْ سَاعَتُكُمْ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭১৪১। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বেদুঈনরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসেই তাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত, বলত, কিয়ামত কবে হবে? তখন তিনি তাদের মাঝে কম বয়স লোকটির প্রতি নযর করে বলতেন, এ যদি বেঁচে থাকে তবে সে বৃদ্ধ হওয়ার পূর্বেই তোমাদের উপর তোমাদের কিয়ামত সংগঠিত হবে।

৭১৪২

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَتَى تَقُومُ السَّاعَةُ وَعِنْدَهُ غُلاَمٌ مِنَ الأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُ مُحَمَّدٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ يَعِشْ هَذَا الْغُلاَمُ فَعَسَى أَنْ لاَ يُدْرِكَهُ الْهَرَمُ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭১৪২। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, কিয়ামত কবে হবে? তখন তাঁর নিকট মুহাম্মাদ নামক এক আনসারী বালক উপিস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ বালক যদি বেঁচে থাকে তবে সে বৃদ্ধ হওয়ার পূর্বেই কিয়মত সংগঠিত হয়ে যাবে।

৭১৪৩

وَحَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ - حَدَّثَنَا مَعْبَدُ بْنُ هِلاَلٍ الْعَنَزِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَتَى تَقُومُ السَّاعَةُ قَالَ فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هُنَيْهَةً ثُمَّ نَظَرَ إِلَى غُلاَمٍ بَيْنَ يَدَيْهِ مِنْ أَزْدِ شَنُوءَةَ فَقَالَ " إِنْ عُمِّرَ هَذَا لَمْ يُدْرِكْهُ الْهَرَمُ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ " . قَالَ قَالَ أَنَسٌ ذَاكَ الْغُلاَمُ مِنْ أَتْرَابِي يَوْمَئِذٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭১৪৩। হাজ্জাজ ইবনে শাঈর (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, কিয়ামত কবে হবে? এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুক্ষণ পর্যন্ত চুপ করে থাকেন। অতঃপর তিনি সম্মুখস্থ আযদ-শানু’আ গোত্রের এক বালকের প্রতি তাকালেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ এ বালক যদি দীর্ঘ হায়াত পায় তবে তার বার্ধক্যে পদার্পণ করার পূর্বেই কিয়ামত সংগঠিত হয়ে যাবে। আনাস (রাযিঃ) বলেন, তখন এ বালক আমার সমবয়স্ক ছিল।

৭১৪৪

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ مَرَّ غُلاَمٌ لِلْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ وَكَانَ مِنْ أَقْرَانِي فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنْ يُؤَخَّرْ هَذَا فَلَنْ يُدْرِكَهُ الْهَرَمُ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭১৪৪। হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুগীরা ইবনে শুবা (রাযিঃ) এর এক গোলাম একদা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল, সে ছিল আমার সমবয়স্কা। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ যদি তার হায়াত দীর্ঘায়িত হয় তবে সে বার্ধক্যে পৌছার পূর্বেই কিয়ামত সংগঠিত হবে।

৭১৪৫

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَقُومُ السَّاعَةُ وَالرَّجُلُ يَحْلُبُ اللِّقْحَةَ فَمَا يَصِلُ الإِنَاءُ إِلَى فِيهِ حَتَّى تَقُومَ وَالرَّجُلاَنِ يَتَبَايَعَانِ الثَّوْبَ فَمَا يَتَبَايَعَانِهِ حَتَّى تَقُومَ وَالرَّجُلُ يَلِطُ فِي حَوْضِهِ فَمَا يَصْدُرُ حَتَّى تَقُومَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১৪৫। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে নবী (ﷺ) পর্যন্ত উন্নীত সনদে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি তার উট দোহন করতে থাকবে; কিন্তু পাত্র তার মুখের কাছে পৌছার পূর্বেই কিয়ামত হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে ব্যক্তি কাপড় বেচা-কেনায় লিপ্ত থাকবে। তারা বেচা-কেনা শেষ না করতেই কিয়ামত কায়েম হয়ে যাবে। এমনিভাবে এক ব্যক্তি তার হাউয মেরামত করতে থাকবে। কিন্তু মেরামত শেষ করার পূর্বেই কিয়ামত এসে যাবে।

২৮. দুই ফুঁৎকারের মাঝের ব্যবধান

باب مَا بَيْنَ النَّفْخَتَيْنِ

৭১৪৬

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا بَيْنَ النَّفْخَتَيْنِ أَرْبَعُونَ " . قَالُوا يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَرْبَعُونَ يَوْمًا قَالَ أَبَيْتُ . قَالُوا أَرْبَعُونَ شَهْرًا قَالَ أَبَيْتُ . قَالُوا أَرْبَعُونَ سَنَةً قَالَ أَبَيْتُ " ثُمَّ يُنْزِلُ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَيَنْبُتُونَ كَمَا يَنْبُتُ الْبَقْلُ " . قَالَ " وَلَيْسَ مِنَ الإِنْسَانِ شَىْءٌ إِلاَّ يَبْلَى إِلاَّ عَظْمًا وَاحِدًا وَهُوَ عَجْبُ الذَّنَبِ وَمِنْهُ يُرَكَّبُ الْخَلْقُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১৪৬। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ দুইবার ফুঁৎকারের মাঝে চল্লিশ হবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আবু হুরায়রা! চল্লিশ দিন? তিনি বললেন, আমি অস্বীকার করলাম। তারা বললেন, এ কি চল্লিশ মাস? তিনি বললেন, আমি অস্বীকার করলাম।তারা বললেন, এ কি চল্লিশ বছর? তিনি বললেন, অস্বীকার করলাম (অর্থাৎ আমারও জানা নেই)। অতঃপর আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষিত হবে, এতে তারা উদগত হবে যেমন সবজি উদগত হয়। অতঃপর তিনি বললেন, তখন একটি হাড় ব্যতীত মানুষের সমস্ত শরীর পঁচে যাবে। আর সে হাড়টি হল, মেরুদণ্ডের (সর্বনিম্নভাগের এবং নিতম্বের উপরের) হাড়। কিয়ামতের দিন এ হাড় থেকেই আবার মানুষকে পুনরায় সৃষ্টি করা হবে।

২৮. দুই ফুঁৎকারের মাঝে ব্যবধান

باب مَا بَيْنَ النَّفْخَتَيْنِ

৭১৪৭

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ، - يَعْنِي الْحِزَامِيَّ - عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كُلُّ ابْنِ آدَمَ يَأْكُلُهُ التُّرَابُ إِلاَّ عَجْبَ الذَّنَبِ مِنْهُ خُلِقَ وَفِيهِ يُرَكَّبُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১৪৭। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ মানুষের সব কিছুই মাটি খেয়ে ফেলবে। কেবল মেরুদণ্ডের সর্বনিম্ন হাড় বাকী থাকবে। এর দ্বারাই (প্রথমতঃ) মানুষ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর দ্বারাই (আবার তাদেরকে) সংযোজন (সৃষ্টি) করা হবে।

৭১৪৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ فِي الإِنْسَانِ عَظْمًا لاَ تَأْكُلُهُ الأَرْضُ أَبَدًا فِيهِ يُرَكَّبُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . قَالُوا أَىُّ عَظْمٍ هُوَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " عَجْبُ الذَّنَبِ " .

বর্ণনাকারী: হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রহঃ)

৭১৪৮। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ হচ্ছে তা যা আবু হুরায়রা (রাযিঃ) আমাদের শুনিয়েছেন। তিনি কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। তার মধ্যে একটি হাদীস হচ্ছে এই যে, রাসুল (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষের শরীরে এমন একটি হাড্ডি আছে, যা যমীন কখনো ভক্ষণ করবে না। কিয়ামতের দিন এর দ্বারাই জোড়া (পুনরায় মানুষ সৃষ্টি) দেয়া হবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এ আবার কোন হাড়? তিনি বললেন, এ হল, মেরুদণ্ডের সর্বনিম্নের হাড়।