كتاب الأيمان

২৮- কসম-শপথ করার বিধান

অধ্যায় ২৮ · ৮৭ টি হাদীস

১. আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারো নামে কসম করা নিষেধ

باب النَّهْىِ عَنِ الْحَلِفِ بِغَيْرِ اللَّهِ تَعَالَى

৪১০৮

وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَرْحٍ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، ح وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ، عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ " . قَالَ عُمَرُ فَوَاللَّهِ مَا حَلَفْتُ بِهَا مُنْذُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْهَا ذَاكِرًا وَلاَ آثِرًا .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৪১০৮। আবু তাহির আহমাদ ইবনে আমর ইবনে সারহ ও হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মহান আল্লাহ তাআলা তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। উমর (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমি যখন থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ থেকে নিষেধ করতে শুনেছি, আর তখন থেকে কখনও সে নামে কখনি কসম করিনি। নিজের পক্ষ থেকেও নয় (অপরের) উদ্ধৃতি দিয়েও নয়।

৪১০৯

وَحَدَّثَنِي عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، حَدَّثَنِي عُقَيْلُ بْنُ، خَالِدٍ ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، كِلاَهُمَا عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ غَيْرَ أَنَّ فِي حَدِيثِ عُقَيْلٍ مَا حَلَفْتُ بِهَا مُنْذُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى عَنْهَا وَلاَ تَكَلَّمْتُ بِهَا . وَلَمْ يَقُلْ ذَاكِرًا وَلاَ آثِرًا .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৪১০৯। আব্দুল মালিক ইবনে শুআয়ব ইবনে লাঈস, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... যুহরী (রাহঃ) এর এর সূত্রে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। অবশ্য উকায়ল (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসে বর্ণিত আছে যে আমি আর সে নামে কসম করিনি যখন থেকে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ থেকে নিষেধ করতে শুনেছি। আর এ নামের কসমের উচ্চারণও করিনি। তবে তিনি ″নিজের পক্ষ থেকে এবং উদ্ধৃতি দিয়েও″ কথাটি উল্লেখ করেননি।

৪১১০

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، بْنُ عُيَيْنَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عُمَرَ وَهُوَ يَحْلِفُ بِأَبِيهِ . بِمِثْلِ رِوَايَةِ يُونُسَ وَمَعْمَرٍ .

বর্ণনাকারী: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

৪১১০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আমর আন নাকিদ ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... সালিম (রাহঃ) তাঁর পিতার থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) একদা উমর (রাযিঃ) কে তাঁর পিতার নামে শপথ করতে শুনলেন। পরবর্তী অংশ ইউনুস ও মামার (রাহঃ) এর বর্ণনার অনুসারে বর্ণনা করেন।

৪১১১

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ أَدْرَكَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فِي رَكْبٍ وَعُمَرُ يَحْلِفُ بِأَبِيهِ فَنَادَاهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ فَمَنْ كَانَ حَالِفًا فَلْيَحْلِفْ بِاللَّهِ أَوْ لِيَصْمُتْ ".

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১১১। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা এক কাফেলায় উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) কে পেলেন। উমর (রাযিঃ) তখন তার পিতার নামে শপথ করছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের ডেকে বললেনঃ সাবধান! মহান আল্লাহ তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। সুতরাং যে কেউ কসম খেতে চায়, সে যেন আল্লাহর নামে কসম খায় অথবা সে যেন চুপ থাকে।

৪১১২

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - وَهُوَ الْقَطَّانُ - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، ح وَحَدَّثَنِي بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، أَخْبَرَنَا الضَّحَّاكُ، وَابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَابْنُ، رَافِعٍ عَنْ عَبْدِ الرَّزَّاقِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْكَرِيمِ، . كُلُّ هَؤُلاَءِ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، بِمِثْلِ هَذِهِ الْقِصَّةِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১১২। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর, মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না, ইয়াহয়া, বিশর ইবনে হিলাল, আবু কুরায়ব, ইবনে আবু উমর, ইবনে রাফি, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... তারা সকলেই ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে অনুরূপ ঘটনা নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন।

৪১১৩

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالَ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ كَانَ حَالِفًا فَلاَ يَحْلِفْ إِلاَّ بِاللَّهِ " . وَكَانَتْ قُرَيْشٌ تَحْلِفُ بِآبَائِهَا فَقَالَ " لاَ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১১৩। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, ইবনে আইয়ুব, কুতায়বা ও ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শপথ করতে চায়, সে যেন আল্লাহর নাম ব্যতীত শপথ না করে। কুরাইশরা তাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করতো। কাজেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার নামের উপর শপথ করো না।

২. যে ব্যক্তি লা’ত ও উযযা এর নামে কসম করে সে যেন لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ বলে

باب مَنْ حَلَفَ بِاللاَّتِ وَالْعُزَّى فَلْيَقُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

৪১১৪

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، ح وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَلَفَ مِنْكُمْ فَقَالَ فِي حَلِفِهِ بِاللاَّتِ . فَلْيَقُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ . وَمَنْ قَالَ لِصَاحِبِهِ تَعَالَ أُقَامِرْكَ . فَلْيَتَصَدَّقْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১১৪। আবু তাহির ও হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কসম করে এবং সে কসম করতে গিয়ে বলে, লা’তের কসম, সে যেন (এর পরপরই) বলে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ আর যে ব্যক্তি তার সাথীকে বলে, এসো, তোমার সাথে জুয়া খেলি, সে যেন (এর সাথে সাথেই) কিছু সাদ্‌কা করে দেয়।

৪১১৫

وَحَدَّثَنِي سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، كِلاَهُمَا عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَحَدِيثُ مَعْمَرٍ مِثْلُ حَدِيثِ يُونُسَ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " فَلْيَتَصَدَّقْ بِشَىْءٍ " . وَفِي حَدِيثِ الأَوْزَاعِيِّ " مَنْ حَلَفَ بِاللاَّتِ وَالْعُزَّى " . قَالَ أَبُو الْحُسَيْنِ مُسْلِمٌ هَذَا الْحَرْفُ - يَعْنِي قَوْلَهُ تَعَالَ أُقَامِرْكَ . فَلْيَتَصَدَّقْ - لاَ يَرْوِيهِ أَحَدٌ غَيْرُ الزُّهْرِيِّ قَالَ وَلِلزُّهْرِيِّ نَحْوٌ مِنْ تِسْعِينَ حَدِيثًا يَرْوِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لاَ يُشَارِكُهُ فِيهِ أَحَدٌ بِأَسَانِيدَ جِيَادٍ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৪১১৫। সুওয়ায়দ ইবনে সাঈদ, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... যুহরী (রাহঃ) সূত্রে উক্ত সনদে বর্ণনা করেন। আর মা’মার (রাহঃ) এর হাদীস ইউনুস (রাহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ। তবে মামার বলেছেন, ″সে যেন কোন কিছু সাদ্‌কা করে দেয়″। আর আওযাঈর হাদীসে আছে, যে ’লাত’ ও ’মানাত’ এর শপথ করবে। আবুল হুসাইন (ইমাম) মুসলিম (রাহঃ) বলেন, এ কথাটি অর্থাৎ তার কথা ‘তুমি এসো, তোমার সাথে আমি জুয়া খেলি, তবে সে যেন সাথে সাথে সাদ্‌কা দেয়’ যুহরী ব্যতীত অন্য কেউই বর্ণনা করেনি। ইমাম মুসলিম (রাহঃ) আরো বলেন, যুহরীর নিকট উত্তম সনদের প্রায় নব্বইটি হাদীস আছে, যা তিনি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, যাতে আর কেউ শরীক নেই।

৪১১৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ، الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَحْلِفُوا بِالطَّوَاغِي وَلاَ بِآبَائِكُمْ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা (রাঃ)

৪১১৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা দেবতার নামে ও তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করো না।

৩. যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম করে, পরে এর বিপরীত বিষয়কে তার চেয়ে উত্তম মনে করে তবে তার জন্য উত্তমটিই করা এবং কসমের কাফফারা দেওয়া মুস্তাহাব

باب نَدْبِ مَنْ حَلَفَ يَمِينًا فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا أَنْ يَأْتِيَ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ وَيُكَفِّرَ عَنْ يَمِينِهِ

৪১১৭

حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَيَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ الْحَارِثِيُّ، - وَاللَّفْظُ لِخَلَفٍ - قَالُوا حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، الأَشْعَرِيِّ قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي رَهْطٍ مِنَ الأَشْعَرِيِّينَ نَسْتَحْمِلُهُ فَقَالَ " وَاللَّهِ لاَ أَحْمِلُكُمْ وَمَا عِنْدِي مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ " . قَالَ فَلَبِثْنَا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ أُتِيَ بِإِبِلٍ فَأَمَرَ لَنَا بِثَلاَثِ ذَوْدٍ غُرِّ الذُّرَى فَلَمَّا انْطَلَقْنَا قُلْنَا - أَوْ قَالَ بَعْضُنَا لِبَعْضٍ - لاَ يُبَارِكُ اللَّهُ لَنَا أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَسْتَحْمِلُهُ فَحَلَفَ أَنْ لاَ يَحْمِلَنَا ثُمَّ حَمَلَنَا . فَأَتَوْهُ فَأَخْبَرُوهُ فَقَالَ " مَا أَنَا حَمَلْتُكُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ حَمَلَكُمْ وَإِنِّي وَاللَّهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لاَ أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ ثُمَّ أَرَى خَيْرًا مِنْهَا إِلاَّ كَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي وَأَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ " .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৪১১৭। খালফ ইবনে হিশাম, কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও ইয়াহয়া ইবনে হাবীব হারিসী (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশ’আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আশ’আরী গোত্রের কয়েকজন লোককে নিয়ে সওয়ারী চাওয়ার জন্য নবী (ﷺ) এর নিকট আসি। তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সওয়ারী দিব না। আর আমার কাছে এমন কিছু নেই যাতে আমি তোমাদের সওয়ার করাতে পারি। আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) বললেন, আমরা অপেক্ষা করলাম, যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা ছিল। তারপর তার কাছে কিছু উট আসে। তিনি আমাদেরকে তিনটি সাদা কুঁজ বিশিষ্ট উট দেওয়ার হুকুম করেন।

যখন আমরা (তা নিয়ে) চলে আসি। তখন আমরা বললাম, (রাবী বলেন, অথবা বলেছেন, আমাদের একে অপরকে বলল) (এতে) আল্লাহ তাআলা আমাদের বরকত দিবেন না। আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট সওয়ারী চাইতে এসেছিলাম। তখন তিনি কসম করেছিলেন যে, আমাদের সওয়ারী দিবেন না। এরপর সওয়ারী আমাদের দিলেন। এরপর তারা নবী (ﷺ) এর নিকট এসে (তাঁর কসমের কথা) অবগত করালেন। তিনি বললেনঃ আমি তোমাদের সওয়ারী দেইনি; বরং আল্লাহ তোমাদের সওয়ারী দিয়েছেন। আর আল্লাহর কসম! ইনশাআল্লাহ আমি যখনই কোন বিষয়ের উপর কসম করি এরপর যদি এর তুলনায় (বিপরীতটিকে) উত্তম মনে করি, তবে আমি আমার কসমের কাফফারা দিয়ে দিব এবং যা উত্তম তাই করবো।
৪১১৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَرَّادٍ الأَشْعَرِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ الْهَمْدَانِيُّ، - وَتَقَارَبَا فِي اللَّفْظِ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ أَرْسَلَنِي أَصْحَابِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسْأَلُهُ لَهُمُ الْحُمْلاَنَ إِذْ هُمْ مَعَهُ فِي جَيْشِ الْعُسْرَةِ - وَهِيَ غَزْوَةُ تَبُوكَ - فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّ أَصْحَابِي أَرْسَلُونِي إِلَيْكَ لِتَحْمِلَهُمْ . فَقَالَ " وَاللَّهِ لاَ أَحْمِلُكُمْ عَلَى شَىْءٍ " . وَوَافَقْتُهُ وَهُوَ غَضْبَانُ وَلاَ أَشْعُرُ فَرَجَعْتُ حَزِينًا مِنْ مَنْعِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمِنْ مَخَافَةِ أَنْ يَكُونَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ وَجَدَ فِي نَفْسِهِ عَلَىَّ فَرَجَعْتُ إِلَى أَصْحَابِي فَأَخْبَرْتُهُمُ الَّذِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ أَلْبَثْ إِلاَّ سُوَيْعَةً إِذْ سَمِعْتُ بِلاَلاً يُنَادِي أَىْ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ . فَأَجَبْتُهُ فَقَالَ أَجِبْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْعُوكَ . فَلَمَّا أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خُذْ هَذَيْنِ الْقَرِينَيْنِ وَهَذَيْنِ الْقَرِينَيْنِ وَهَذَيْنِ الْقَرِينَيْنِ - لِسِتَّةِ أَبْعِرَةٍ ابْتَاعَهُنَّ حِينَئِذٍ مِنْ سَعْدٍ - فَانْطَلِقْ بِهِنَّ إِلَى أَصْحَابِكَ فَقُلْ إِنَّ اللَّهَ - أَوْ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - يَحْمِلُكُمْ عَلَى هَؤُلاَءِ فَارْكَبُوهُنَّ " . قَالَ أَبُو مُوسَى فَانْطَلَقْتُ إِلَى أَصْحَابِي بِهِنَّ فَقُلْتُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَحْمِلُكُمْ عَلَى هَؤُلاَءِ وَلَكِنْ وَاللَّهِ لاَ أَدَعُكُمْ حَتَّى يَنْطَلِقَ مَعِي بَعْضُكُمْ إِلَى مَنْ سَمِعَ مَقَالَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ سَأَلْتُهُ لَكُمْ وَمَنْعَهُ فِي أَوَّلِ مَرَّةٍ ثُمَّ إِعْطَاءَهُ إِيَّاىَ بَعْدَ ذَلِكَ لاَ تَظُنُّوا أَنِّي حَدَّثْتُكُمْ شَيْئًا لَمْ يَقُلْهُ . فَقَالُوا لِي وَاللَّهِ إِنَّكَ عِنْدَنَا لَمُصَدَّقٌ وَلَنَفْعَلَنَّ مَا أَحْبَبْتَ . فَانْطَلَقَ أَبُو مُوسَى بِنَفَرٍ مِنْهُمْ حَتَّى أَتَوُا الَّذِينَ سَمِعُوا قَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَنْعَهُ إِيَّاهُمْ ثُمَّ إِعْطَاءَهُمْ بَعْدُ فَحَدَّثُوهُمْ بِمَا حَدَّثَهُمْ بِهِ أَبُو مُوسَى سَوَاءً .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৪১১৮। আব্দুল্লাহ ইবনে বাররাদ আশআরী ও মুহাম্মাদ ইবনে আলা হামদানী (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার সাথীরা তাদের জন্য সওয়ারী চাইতে আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পাঠায়, যখন তারা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে ‘জায়শুল উসরা’ (সৎকারকালীন বাহিনী) (অর্থাৎ তাবুকের যুদ্ধে) তার সঙ্গে ছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমার সঙ্গীরা আমাকে আপনার নিকট তাদেরকে সওয়ারী দেয়ার জন্য পাঠিয়েছে। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের কোন বাহন দিব না। আর যখন আমি তার সঙ্গে সাক্ষাত করি তখন তিনি ক্রোধান্বিত ছিলেন, অথচ আমি বুঝতে পারিনি। আমি চিন্তিত মনে ফিরে আসি।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অসম্মতির কারণে এবং এই ভয়ে যে, সম্ভবত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার উপর মনে মনে ক্রোধান্বিত হয়েছেন। তখন আমি আমার সাথীদের নিকট চলে আসি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা বলেছেন তা তাদের জানাই। অল্পক্ষণ অতিবাহিত না করতেই হঠাৎ শুনতে পাই যে, বিলাল (রাযিঃ) ডাক দিচ্ছেন হে আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স! আমি উত্তর দিলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ডাকে সাড়া দিন। তিনি আপনাকে ডাকছেন।

যখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসি, তখন তিনি বললেনঃ এ জোড়া নাও, এ জোড়া নাও এবং এ জোড়া নাও। ছয়টি উট সম্পর্কে বললেন, (যা তিনি তখনই সা’দ (রাযিঃ) কাছ থেকে কিনেছিলেন) এবং এগুলো নিয়ে তোমার সাথীদের কাছে যাও আর বলো যে, আল্লাহ অথবা বলেন, আল্লাহর রাসুল তোমাদের এগুলো বাহনের জন্য দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা এর উপর আরোহণ করো।

আবু মুসা (রাযিঃ) বলেন, আমি এগুলি নিয়ে আমার সাথীদের নিকট আসি এবং বলি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এগুলো তোমাদের বাহন হিসেবে দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের ছাড়বো না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের কেউ আমার সাথে সেই ব্যক্তির নিকট না যায়, যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কথা শুনেছে, যখন আমি তার নিকট তোমাদের জন্য (বাহন) চেয়েছিলাম এবং তিনি প্রথমবারে নিষেধ করেন এবং পরে আমাকে তা প্রদান করেন। তোমরা ধারণা করোনা যে, আমি তোমাদের এমন কথা বলেছি যা তিনি বলেন নি।

তারা আমাকে বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি আমাদের নিকট অবশ্যই সত্যবাদী। আর আপনি যা চাইছেন তাও আমরা অবশ্যই করবো। তারপর আবু মুসা (রাযিঃ) তাদের মধ্য থেকে করেকজনকে সাথে নিযে ঐসব লোকদের নিকটে এলেন যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কথা এবং তাদের দিতে তার নিষেধাজ্ঞা শুনেছিলেন এবং পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তারা তাদের কাছে হুবহু সেই বর্ণনাই দিলেন যা আবু মুসা (রাযিঃ) তাদের কাছে বর্ণনা করেছিলেন।
৪১১৯

حَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ - عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي، قِلاَبَةَ وَعَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ زَهْدَمٍ الْجَرْمِيِّ، - قَالَ أَيُّوبُ وَأَنَا لِحَدِيثِ الْقَاسِمِ، أَحْفَظُ مِنِّي لِحَدِيثِ أَبِي قِلاَبَةَ - قَالَ كُنَّا عِنْدَ أَبِي مُوسَى فَدَعَا بِمَائِدَتِهِ وَعَلَيْهَا لَحْمُ دَجَاجٍ فَدَخَلَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي تَيْمِ اللَّهِ أَحْمَرُ شَبِيهٌ بِالْمَوَالِي فَقَالَ لَهُ هَلُمَّ . فَتَلَكَّأَ فَقَالَ هَلُمَّ فَإِنِّي قَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْكُلُ مِنْهُ . فَقَالَ الرَّجُلُ إِنِّي رَأَيْتُهُ يَأْكُلُ شَيْئًا فَقَذِرْتُهُ فَحَلَفْتُ أَنْ لاَ أَطْعَمَهُ فَقَالَ هَلُمَّ أُحَدِّثْكَ عَنْ ذَلِكَ إِنِّي أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَهْطٍ مِنَ الأَشْعَرِيِّينَ نَسْتَحْمِلُهُ فَقَالَ " وَاللَّهِ لاَ أَحْمِلُكُمْ وَمَا عِنْدِي مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ " . فَلَبِثْنَا مَا شَاءَ اللَّهُ فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِنَهْبِ إِبِلٍ فَدَعَا بِنَا فَأَمَرَ لَنَا بِخَمْسِ ذَوْدٍ غُرِّ الذُّرَى قَالَ فَلَمَّا انْطَلَقْنَا قَالَ بَعْضُنَا لِبَعْضٍ أَغْفَلْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمِينَهُ لاَ يُبَارَكُ لَنَا . فَرَجَعْنَا إِلَيْهِ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا أَتَيْنَاكَ نَسْتَحْمِلُكَ وَإِنَّكَ حَلَفْتَ أَنْ لاَ تَحْمِلَنَا ثُمَّ حَمَلْتَنَا أَفَنَسِيتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " إِنِّي وَاللَّهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لاَ أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ فَأَرَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا إِلاَّ أَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ وَتَحَلَّلْتُهَا فَانْطَلِقُوا فَإِنَّمَا حَمَلَكُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ " .

বর্ণনাকারী: যাহদাম জারমী (রহঃ)

৪১১৯। আবু রাবী’ আতাকী (রাহঃ) ......... যাহদাম জারমী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবু মুসা (রাযিঃ) এর নিকটে ছিলাম। তাঁর (খানার) দস্তরখান নিয়ে আসতে বললেন। তাতে মুরগীর গোশত ছিল। ইত্যবসরে তায়মুল্লাহ গোত্রের লাল বর্ণের এক লোক উপস্থিত হয়। যে গোলাম বা নও মুসলিম সদৃশ ছিল। আবু মুসা (রাযিঃ) তাকে বললেন, এসো। সে ইতস্তত করে। আবু মুসা (রাযিঃ) বললেন, এসো। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তা খেতে দেখেছি। লোকটি বললো, আমি একে এমন কিছু খেতে দেখেছি যাতে আমার ঘৃণা হয়, তাই আমি কসম করেছি যে, তা আর খাবো না। আবু মুসা (রাযিঃ) বললেন, এসো, এ ব্যাপারে আমি তোমাকে একটি হাদীস বলছি।

আমি একবার আশ’আরী গোত্রের কতিপয় লোকের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট সওয়ারী চাইতে আসি। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সওয়ারী দিব না। আর তোমাদের দেওয়ার মত সওয়ারীও আমার কাছে নাই। তারপর যতক্ষণ আল্লাহর মর্জি হয়, আমরা অপেক্ষা করলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটে কিছু গনিমতের উট আসে। তিনি আমাকে ডেকে পাঠান এবং সাদা কুঁজ বিশিষ্ট পাঁচটি উট আমাদের দেওয়ার জন্য আদেশ দেন।

যখন আমরা চললাম তখন আমাদের একে অন্যকে বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তার কসম সম্বন্ধে অমনোযোগী রেখেছি, আমাদের বরকত হবে না। তখন আমরা তার নিকট ফিরে গিয়ে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা আপনার নিকট সওয়ারী চাইতে এসেছিলাম। আর আপনি আমাদেরকে সওয়ারী না দেয়ার কসম করেছিলেন এবং তারপর আপনি আমাদের সওয়ারী দিয়ে দিয়েছিলেন। আপনি কি তা ভুলে গেছেন ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! ইনশাআল্লাহ, আমি যখনই কোন কসম করি, তারপর তার বিপরীতটিকে উত্তম মনে করি তখন আমি উত্তমটিই করব এবং কসম থেকে হালাল হয়ে যাব (অর্থাৎ কাফফারা আদায় করব) সুতরাং তোমরা যাও, কেননা আল্লাহ তাআলা তোমাদের সওয়ারী দান করেছেন।
৪১২০

وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، وَالْقَاسِمِ، التَّمِيمِيِّ عَنْ زَهْدَمٍ الْجَرْمِيِّ، قَالَ كَانَ بَيْنَ هَذَا الْحَىِّ مِنْ جَرْمٍ وَبَيْنَ الأَشْعَرِيِّينَ وُدٌّ وَإِخَاءٌ فَكُنَّا عِنْدَ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ فَقُرِّبَ إِلَيْهِ طَعَامٌ فِيهِ لَحْمُ دَجَاجٍ . فَذَكَرَ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: যাহদাম জারমী (রহঃ)

৪১২০। ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... যাহদাম জারমী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘জারম’ এর এই গোত্র এবং আশ’আরীদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। একবার আমরা আবু মুসা আশ’আরী (রাযিঃ) এর নিকটে ছিলাম। তখন তাঁর সামনে খাদ্য উপস্থিত করা হলো, যার মধ্যে মুরগির গোশতও ছিল। পরবর্তী অংশ উক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

৪১২১

وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ، ابْنِ عُلَيَّةَ عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ الْقَاسِمِ التَّمِيمِيِّ، عَنْ زَهْدَمٍ الْجَرْمِيِّ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ زَهْدَمٍ الْجَرْمِيِّ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، وَالْقَاسِمِ، عَنْ زَهْدَمٍ الْجَرْمِيِّ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ أَبِي مُوسَى . وَاقْتَصُّوا جَمِيعًا الْحَدِيثَ بِمَعْنَى حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ .

বর্ণনাকারী: যাহদাম জারমী (রহঃ)

৪১২১। আলী ইবনে হুজর সা’দী, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও ইবনে নুমাইর, ইবনে আবু উমর ও আবু বাকুর ইবনে ইসহাক (রাহঃ) ......... যাহদাম জারমী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবু মুসা (রাযিঃ) এর নিকটে ছিলাম। অতঃপর সকলেই হাম্মাদ ইবনে যায়দের হাদীসের মর্মানুসারে ঘটনা বর্ণনা করেন।

৪১২২

وَحَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا الصَّعْقُ، - يَعْنِي ابْنَ حَزْنٍ - حَدَّثَنَا مَطَرٌ الْوَرَّاقُ، حَدَّثَنَا زَهْدَمٌ الْجَرْمِيُّ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى أَبِي مُوسَى وَهُوَ يَأْكُلُ لَحْمَ دَجَاجٍ وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِنَحْوِ حَدِيثِهِمْ وَزَادَ فِيهِ قَالَ " إِنِّي وَاللَّهِ مَا نَسِيتُهَا " .

বর্ণনাকারী: যাহদাম জারমী (রহঃ)

৪১২২। শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ......... যাহদাম জারমী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু মুসা (রাহঃ) এর নিকট গমন করি। তখন তিনি মুরগির গোশত খাচ্ছিলেন। তিনি হাদীসের পরবর্তী অংশ উক্ত বর্ণনাকারীদের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি এতে এতটুকু অধিক বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর কসম! আমি তা ভুলে যাইনি।

৪১২৩

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ ضُرَيْبِ بْنِ، نُقَيْرٍ الْقَيْسِيِّ عَنْ زَهْدَمٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَسْتَحْمِلُهُ فَقَالَ " مَا عِنْدِي مَا أَحْمِلُكُمْ وَاللَّهِ مَا أَحْمِلُكُمْ " . ثُمَّ بَعَثَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِثَلاَثَةِ ذَوْدٍ بُقْعِ الذُّرَى فَقُلْنَا إِنَّا أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَسْتَحْمِلُهُ فَحَلَفَ أَنْ لاَ يَحْمِلَنَا فَأَتَيْنَاهُ فَأَخْبَرْنَاهُ فَقَالَ " إِنِّي لاَ أَحْلِفُ عَلَى يَمِينٍ أَرَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا إِلاَّ أَتَيْتُ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ " .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৪১২৩। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশ’আরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট সওয়ারী চাইতে উপস্থিত হই। তিনি বললেনঃ আমার নিকট এমন কিছু নাই যা তোমাদেরকে সওয়ারী হিসেবে দিতে পারি। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সওয়ারী দিব না। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (ছাই বর্ণের) সাদা কুঁজ বিশিষ্ট তিনটি উট আমাদের নিকট পাঠান। আমরা আলোচনা করলাম যে, সওয়ারী চাওয়ার জন্য আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসেছিলাম। তখন তিনি কসম খেয়েছিলেন যে, তিনি আমাদের সওয়ারী দিবেন না। এরপর আমরা তাঁর নিকট গিয়ে তাকে কসমের কথা জানালাম। তিনি বললেনঃ আমি কোন বিষয়ের উপর কসম করলে তার বিপরীত কাজ যদি উত্তম দেখি তবে অবশ্যই সে উত্তমটি করব।

৪১২৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى التَّيْمِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، عَنْ أَبِيهِ، حَدَّثَنَا أَبُو السَّلِيلِ، عَنْ زَهْدَمٍ، يُحَدِّثُهُ عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ كُنَّا مُشَاةً فَأَتَيْنَا نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَسْتَحْمِلُهُ . بِنَحْوِ حَدِيثِ جَرِيرٍ .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৪১২৪। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আলা তামীম (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা পদাতিক ছিলাম। তাই আমরা নবী (ﷺ) এর নিকটে সওয়ারী চাইতে এলাম। এরপর জারীরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

৪১২৫

حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَعْتَمَ رَجُلٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ رَجَعَ إِلَى أَهْلِهِ فَوَجَدَ الصِّبْيَةَ قَدْ نَامُوا فَأَتَاهُ أَهْلُهُ بِطَعَامِهِ فَحَلَفَ لاَ يَأْكُلُ مِنْ أَجْلِ صِبْيَتِهِ ثُمَّ بَدَا لَهُ فَأَكَلَ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَلْيَأْتِهَا وَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১২৫। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকটে গভীর রাত পর্যন্ত দেরী করে (ইশার নামায আদায় করে)। এরপর তার পরিবারের কাছে গিয়ে দেখে যে, বাচ্চারা ঘুমিয়ে পড়েছে। তার স্ত্রী তার খাবার নিয়ে এলে সে সন্তানদের কারণে কসম করলো যে, সে খাবে না। পরে তার ভাবান্তর ঘটলো এবং সে খেয়ে নিল। এরপর সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসে ও তাঁকে উক্ত ঘটনা বলে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম করে, পরে তার বিপরীতটিকে তা থেকে উত্তম মনে করে, সে যেন তা করে ফেলে এবং নিজের কসমের কাফফারা দেয়।

৪১২৬

وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي، صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ وَلْيَفْعَلْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১২৬। আবু তাহির (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম করে, পরে তার বিপরীতটিকে তার চেয়ে উত্তম মনে করে, তবে সে যেন তার কসমের কাফফারা দেয় এবং (ঐ কাজটি) করে ফেলে।

৪১২৭

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُطَّلِبِ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَلْيَأْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ وَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১২৭। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন বিষয়ের উপর কসম করে, পরে তার বিপরীতটিকে তার চেয়ে উত্তম মনে করে, তবে সে যেন সেই উত্তম বিষয়টি সম্পাদন করে এবং কসমের কাফফারা আদায় করে দেয়।

৪১২৮

وَحَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ بِلاَلٍ - حَدَّثَنِي سُهَيْلٌ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ بِمَعْنَى حَدِيثِ مَالِكٍ " فَلْيُكَفِّرْ يَمِينَهُ وَلْيَفْعَلِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ " .

বর্ণনাকারী: আবু সুহায়ল (রহঃ)

৪১২৮। কাসিম ইবনে যাকায়িয়া (রাহঃ) ......... সুহাঈল (রাহঃ) এর সূত্রে উক্ত সনদে মালিক বর্ণিত হাদীসের মর্মানুরূপ বর্ণনা করেন। তবে এতে আছে, ″সে যেন তার কসমের কাফফারা দেয় এবং তাই করে যা উত্তম।″

৪১২৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ رُفَيْعٍ - عَنْ تَمِيمِ بْنِ طَرَفَةَ، قَالَ جَاءَ سَائِلٌ إِلَى عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ فَسَأَلَهُ نَفَقَةً فِي ثَمَنِ خَادِمٍ أَوْ فِي بَعْضِ ثَمَنِ خَادِمٍ . فَقَالَ لَيْسَ عِنْدِي مَا أُعْطِيكَ إِلاَّ دِرْعِي وَمِغْفَرِي فَأَكْتُبُ إِلَى أَهْلِي أَنْ يُعْطُوكَهَا . قَالَ فَلَمْ يَرْضَ فَغَضِبَ عَدِيٌّ فَقَالَ أَمَا وَاللَّهِ لاَ أُعْطِيكَ شَيْئًا ثُمَّ إِنَّ الرَّجُلَ رَضِيَ فَقَالَ أَمَا وَاللَّهِ لَوْلاَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ ثُمَّ رَأَى أَتْقَى لِلَّهِ مِنْهَا فَلْيَأْتِ التَّقْوَى " . مَا حَنَّثْتُ يَمِينِي .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪১২৯। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... তামীম ইবনে তারফা (রাহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একজন সাহায্যকারী আদী ইবনে হাতিম (রাযিঃ) এর নিকট এলো। সে একজন দাসের মূল্য কিংবা দাসের মূল্যের কিছু অংশ সাহায্য করার প্রার্থনা জানায়। তিনি বললেন, একটা বর্ম ও লোহার টুপি ব্যতীত আমার নিকট তোমাকে দেওয়ার মত আর কিছুই নেই। আমি আমার পরিবারকে লিখে দিচ্ছি যেন তারা এ দু’টি তোমাকে দিয়ে দেয়। রাবী বলেন, সে ব্যক্তি এতে রাজি হলো না। আদী এতে ক্রোধাম্বিত হয়ে বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে দিব না।

পরে লোকটি রাযি হয়ে গেল। তখন তিনি বললেনঃ জেনে রাখ, আল্লাহর কসম! আমি যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একথা বলতে না শুনতাম যে, যে ব্যক্তি কোন ব্যাপারে কসম করে, অতঃপর তা অপেক্ষা আল্লাহর অধিক ভয় সম্পন্ন বিষয় দেখে, তবে সে যেন তাকওয়াপূর্ণ বিষয়টিই করে, তাহলে আমি আমার কসম প্রত্যাহার করতাম না।
৪১৩০

وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ طَرَفَةَ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَلْيَأْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ وَلْيَتْرُكْ يَمِينَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আদী ইবনে হাতিম (রাঃ)

৪১৩০। উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) ......... আদী ইবনে হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কসম করে, এরপর তার বিপরীতকে উত্তম মনে করে, তবে সে যেন উত্তমটিই করে, এবং কসম পরিত্যাগ (ভঙ্গ) করে।

৪১৩১

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ الْبَجَلِيُّ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ طَرِيفٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ تَمِيمٍ الطَّائِيِّ، عَنْ عَدِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا حَلَفَ أَحَدُكُمْ عَلَى الْيَمِينِ فَرَأَى خَيْرًا مِنْهَا فَلْيُكَفِّرْهَا وَلْيَأْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আদী ইবনে হাতিম (রাঃ)

৪১৩১। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর ও মুহাম্মাদ ইবনে তারিফ বাজালী (রাহঃ) ......... আদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ কোন কসম করে, এরপর তার চেয়ে উত্তম কিছু দেখে, তবে সে যেন তার কাফফারা আদায় করে এবং তাই যেন করে যা উত্তম।

৪১৩২

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، بْنِ رُفَيْعٍ عَنْ تَمِيمٍ الطَّائِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আদী ইবনে হাতিম (রাঃ)

৪১৩২। মুহাম্মাদ ইবনে তারীফ (রাহঃ) ......... আদী ইবনে হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) কে উক্ত হাদীসের অনুরূপ বলতে শুনেছেন।

৪১৩৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ طَرَفَةَ، قَالَ سَمِعْتُ عَدِيَّ بْنَ حَاتِمٍ، وَأَتَاهُ، رَجُلٌ يَسْأَلُهُ مِائَةَ دِرْهَمٍ . فَقَالَ تَسْأَلُنِي مِائَةَ دِرْهَمٍ وَأَنَا ابْنُ حَاتِمٍ وَاللَّهِ لاَ أُعْطِيكَ . ثُمَّ قَالَ لَوْلاَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ ثُمَّ رَأَى خَيْرًا مِنْهَا فَلْيَأْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আদী ইবনে হাতিম (রাঃ)

৪১৩৩। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আদী ইবনে হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একবার তার নিকট এক ব্যক্তি এসে একশ দিরহামের সাওয়ালকরে। তিনি বললেন, তুমি আমার নিকট একশ দিরহাম সাওয়ালকরছ! অথচ আমি হাতিম (তাই) এর পুত্র। আল্লাহর কসম! তোমাকে আমি দান করব না। এরপর তিনি বললেন, আমি যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ কথা বলতে না শোনতাম যে, যে ব্যক্তি কসম করে, পরে তার চেয়ে উত্তম কিছু দেখে, তবে সে যেন সেই উত্তমটিই পালন করে।

৪১৩৪

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ تَمِيمَ بْنَ طَرَفَةَ، قَالَ سَمِعْتُ عَدِيَّ بْنَ حَاتِمٍ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَهُ فَذَكَرَ مِثْلَهُ وَزَادَ وَلَكَ أَرْبَعُمِائَةٍ فِي عَطَائِي .

বর্ণনাকারী: হযরত আদী ইবনে হাতিম (রাঃ)

৪১৩৪। মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ......... আদী ইবনে হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার নিকট সাওয়ালকরে। এরপর উক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন এবং আরো বলেছেন যে, আমার প্রাপ্য (সরকারী) দান থেকে চারশ তোমার জন্য।

৪১৩৫
حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، بْنُ سَمُرَةَ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ سَمُرَةَ لاَ تَسْأَلِ الإِمَارَةَ فَإِنَّكَ إِنْ أُعْطِيتَهَا عَنْ مَسْأَلَةٍ وُكِلْتَ إِلَيْهَا وَإِنْ أُعْطِيتَهَا عَنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ أُعِنْتَ عَلَيْهَا وَإِذَا حَلَفْتَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَيْتَ غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَكَفِّرْ عَنْ يَمِينِكَ وَائْتِ الَّذِي هُوَ خَيْرٌ " .
قَالَ أَبُو أَحْمَدَ الْجُلُودِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ الْمَاسَرْجَسِيُّ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، . بِهَذَا الْحَدِيثِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা (রাঃ)

৪১৩৫। শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ......... আব্দর রহমান ইবনে সামুরাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে আব্দুর রহমান ইবনে সামুরাহ! তুমি শাসন ক্ষমতা চেয়ো না। কারণ, যদি তোমাকে চাওয়ার কারণে তা দেওয়া হয়, তবে তার দায়িত্ব, তোমার উপর বর্তাবে। আর চাওয়া ব্যতীত তোমাকে তা অর্পণ করা হলে এ ব্যাপারে তোমাকে সাহায্য করা হবে।

আর যখন তুমি কোন কাজের ব্যাপারে কসম কর; তারপর তার বিপরীত কাজকে তুমি উত্তম মনে কর, তবে তুমি তোমার কসমের কাফফারা আদায় করবে এবং যা উত্তম তা পালন করবে।

আবু আহমাদ আল জালুদী ......... জারীর ইবনে হাযিম (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেন।
৪১৩৬

حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ يُونُسَ، وَمَنْصُورٍ، وَحُمَيْدٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ عَطِيَّةَ، وَيُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، وَهِشَامِ، بْنِ حَسَّانَ فِي آخَرِينَ ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، عَنْ أَبِيهِ، ح وَحَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ الْعَمِّيُّ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، كُلُّهُمْ عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِهَذَا الْحَدِيثِ وَلَيْسَ فِي حَدِيثِ الْمُعْتَمِرِ عَنْ أَبِيهِ ذِكْرُ الإِمَارَةِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা (রাঃ)

৪১৩৬। আলী ইবনে হুজর সা’দী, আবু কামিল জাহদারী, ওয়াবদুল্লাহ ইবনে মুআয ও উকবা ইবনে মুকাররম আম্মী ......... আব্দুর রহমান ইবনে সামুরাহ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেন। তবে মুতামির তাঁর পিতা সূত্রে বর্ণিত হাদীসে ’শাসন ক্ষমতার’ (ইমারাত) কথা উল্লেখ নেই।

৪. কসম হবে কসম গ্রহণকারীর নিয়ত অনুযায়ী

باب يَمِينِ الْحَالِفِ عَلَى نِيَّةِ الْمُسْتَحْلِفِ

৪১৩৭

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، - قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا هُشَيْمُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، وَقَالَ، عَمْرٌو حَدَّثَنَا هُشَيْمُ بْنُ بَشِيرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَمِينُكَ عَلَى مَا يُصَدِّقُكَ عَلَيْهِ صَاحِبُكَ " . وَقَالَ عَمْرٌو " يُصَدِّقُكَ بِهِ صَاحِبُكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৩৭। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া ও আমর আন নাকিদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমার কসম ঐ উদ্দেশ্যের উপর ধরা হবে, যে উদ্দেশ্যের ব্যাপারে তোমার কসম গ্রহণকারী তোমাকে সত্য মনে করে। আমর বলেন, এভাবে যে, তোমার কসম গ্রহণকারী যে উদ্দেশ্যে তোমাকে সত্য মনে করে।

৪১৩৮

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ هُشَيْمٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ، أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْيَمِينُ عَلَى نِيَّةِ الْمُسْتَحْلِفِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৩৮। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কসম কসমগ্রহীতার নিয়ত অনুযায়ী সাব্যস্ত হবে।

৫. কসম ও অন্যান্য ব্যপারে "ইনশা-আল্লাহ" বলা

باب الاِسْتِثْنَاءِ

৪১৩৯

حَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ الْعَتَكِيُّ، وَأَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ - وَاللَّفْظُ لأَبِي الرَّبِيعِ - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - وَهُوَ ابْنُ زَيْدٍ - حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ لِسُلَيْمَانَ سِتُّونَ امْرَأَةً فَقَالَ لأَطُوفَنَّ عَلَيْهِنَّ اللَّيْلَةَ فَتَحْمِلُ كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْهُنَّ فَتَلِدُ كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْهُنَّ غُلاَمًا فَارِسًا يُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَلَمْ تَحْمِلْ مِنْهُنَّ إِلاَّ وَاحِدَةٌ فَوَلَدَتْ نِصْفَ إِنْسَانٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ كَانَ اسْتَثْنَى لَوَلَدَتْ كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْهُنَّ غُلاَمًا فَارِسًا يُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৩৯। আবু রাবী আতাকী ও আবু কামিল জাহদারী ও ফুযায়ল ইবনে হুসাইন (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) এর ষাটজন স্ত্রী ছিলো। একদা তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই আমি আজ রাতে তাদের (সকল স্ত্রীর) কাছে গমন করবো (অর্থাৎ সহবাস করবো)। অতএব, প্রত্যেকেই গর্ভবতী হবে এবং প্রত্যেকেই এমন সব সন্তান প্রসব করবে যারা (ভবিষ্যতে) আল্লাহর পথে অশ্বারোহী সৈনিক হিসেবে যুদ্ধ করবে। কিন্তু পরিশেষে একজন স্ত্রী ব্যতীত আর কেউই গর্ভবতী হননি।

এরপর তিনি অর্ধ মানবাকৃতির (অপূর্ণাঙ্গ) একটি সন্তান প্রসব করলেন। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যদি তিনি তখন ইনশাআল্লাহ বলতেন, তবে নিশ্চয়ই তাদের প্রত্যেকেই এমন সব সন্তান প্রসব করতেন, যারা প্রত্যেকেই অশ্বারোহী সৈনিক হিসেবে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতেন।
৪১৪০

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ أَبِي عُمَرَ - قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حُجَيْرٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ نَبِيُّ اللَّهِ لأَطُوفَنَّ اللَّيْلَةَ عَلَى سَبْعِينَ امْرَأَةً كُلُّهُنَّ تَأْتِي بِغُلاَمٍ يُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ . فَقَالَ لَهُ صَاحِبُهُ أَوِ الْمَلَكُ قُلْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ . فَلَمْ يَقُلْ وَنَسِيَ . فَلَمْ تَأْتِ وَاحِدَةٌ مِنْ نِسَائِهِ إِلاَّ وَاحِدَةٌ جَاءَتْ بِشِقِّ غُلاَمٍ " . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَلَوْ قَالَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ . لَمْ يَحْنَثْ وَكَانَ دَرَكًا لَهُ فِي حَاجَتِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৪০। মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ ও ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, একদিন আল্লাহর নবী সুলাইমান ইবনে দাউদ (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেনঃ অবশ্যই আমি আজ রাত সত্তরজন স্ত্রীর প্রত্যেকের কাছেই যাব। এতে তাদের প্রত্যেকেই এমন সব সন্তান প্রসব করবে যারা ভবিষ্যতে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবে। তখন তাঁর কোন সাথী অথবা কোন ফিরিশতা তাঁকে বললেন যে, আপনি ইনশাআল্লাহ বলুন! কিন্তু তিনি ভুলে যাওয়ার কারণে তা বলেননি।

অতএব, তাঁর স্ত্রীদের, মধ্য হতে একজন ব্যতীত অন্য কেউ সন্তান প্রসব করেননি। আর তিনিও অপূর্ণাঙ্গ সন্তান প্রসব করলেন। রাসুসুলাহ (ﷺ) বলেলেনঃ যদি তিনি ইনশাআল্লাহ বলতেন, তবে তিনি শপথ ভঙ্গকারী হতেন না। আর তিনি তখন তার উদ্দেশ্য সাধনে সফলকাম হতেন।
৪১৪১

وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ أَوْ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৪১। ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ শব্দের অথবা অনুরূপ অর্থের হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৪১৪২

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ هَمَّامٍ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ لأُطِيفَنَّ اللَّيْلَةَ عَلَى سَبْعِينَ امْرَأَةً تَلِدُ كُلُّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ غُلاَمًا يُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ . فَقِيلَ لَهُ قُلْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ . فَلَمْ يَقُلْ . فَأَطَافَ بِهِنَّ فَلَمْ تَلِدْ مِنْهُنَّ إِلاَّ امْرَأَةٌ وَاحِدَةٌ نِصْفَ إِنْسَانٍ . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ قَالَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ . لَمْ يَحْنَثْ وَكَانَ دَرَكًا لِحَاجَتِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৪২। আব্দ ইবনে হুমাইদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুলাইমান ইবনে দাউদ (আলাইহিস সালাম) একদা বলেছিলেন, নিশ্চয়ই আমি আজ রাতে সত্তরজন স্ত্রীর কাছে যাব। এতে তাদের প্রত্যেকেই এমন এক একটি সন্তান প্রসব করবে যারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবে। তখন তাকে বলা হল যে, আপনি ইনশাআল্লাহ বলুন। কিন্তু তিনি তা বলেননি। এরপর তিনি তাদের সাথে সহবাস করলেন। কিন্তু তাদের মধ্য হতে কেবলমাত্র একজন স্ত্রীর একটি অর্ধ মানবাকৃতির (অপূর্ণাঙ্গ) সন্তান প্রসব করা ব্যতীত আর কোন স্ত্রী কোন সন্তান প্রসব করেননি।

রাবী বলেনঃ যে, এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যদি তিনি তখন ইনশাআল্লাহ বলতেন, তবে তিনি শপথ ভঙ্গকারী হতেন না। আর উদ্দেশ্য পূরণে তিনি সফলকাম হতেন।
৪১৪৩

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنِي وَرْقَاءُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ لأَطُوفَنَّ اللَّيْلَةَ عَلَى تِسْعِينَ امْرَأَةً كُلُّهَا تَأْتِي بِفَارِسٍ يُقَاتِلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ . فَقَالَ لَهُ صَاحِبُهُ قُلْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ . فَلَمْ يَقُلْ إِنْ شَاءَ اللَّهُ . فَطَافَ عَلَيْهِنَّ جَمِيعًا فَلَمْ تَحْمِلْ مِنْهُنَّ إِلاَّ امْرَأَةٌ وَاحِدَةٌ فَجَاءَتْ بِشِقِّ رَجُلٍ وَايْمُ الَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ قَالَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ . لَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فُرْسَانًا أَجْمَعُونَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৪৩। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সুলাইমান ইবনে দাউদ (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন, নিশ্চয়ই আমি আজ রাতে নব্বইজন স্ত্রীর প্রত্যেকের কাছেই যাবো। এতে তারা সকলেই অশ্বারোহী সৈনিক হওয়ার যোগ্যতা সস্পন্ন এমন সন্তান প্রসব করবে যারা (ভবিষ্যতে) আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। তখন তাঁর কোন সাথী তাঁকে বললেন, আপনি ইনশাআল্লাহ বলুন। কিন্তু তিনি ইনশাআল্লাহ বলেননি।

এরপর তিনি সকল স্ত্রীর সঙ্গেই সহবাস করলেন। কিন্তু মাত্র একজন স্ত্রী ব্যতীত আর কোন স্ত্রী গর্ভবতী হলেন না। তিনিও অর্ধ মানবাকৃতির অপূর্ণাঙ্গ সন্তান প্রসব করলেন। সেই মহান সত্তার শপথ! যার হাতে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর জীবন, যদি তিনি তখন ইনশাআল্লাহ বলতেন, (তবে তারা সকলেই এমন সব যোগ্যতা সম্পন্ন অশ্বারোহী সৈনিক সন্তান জন্ম দিতেন) যারা-সকলেই (ভবিষ্যতে) অশ্বারোহী সৈনিক হয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করতো।
৪১৪৪

وَحَدَّثَنِيهِ سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ مَيْسَرَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ أَبِي، الزِّنَادِ بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ . غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ " كُلُّهَا تَحْمِلُ غُلاَمًا يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ".

বর্ণনাকারী: আবুয যিনাদ (রহঃ)

৪১৪৪। সুওয়াইদ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু যিনাদ (রাহঃ) থেকে একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি কিছু শাব্দিক পরিবর্তন করে বলেছেন যে- প্রত্যেক স্ত্রী এমন সব সন্তান প্রসব করবে, যারা ভবিষ্যতে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে।

৬. আল্লাহর নামে এমন শপথের ব্যপারে অনমনীয়তা নিষিদ্ধ; যাতে শপথকারীর পরিবার কষ্ট পায় অথচ (বাস্তবে) তা হারাম নয়

باب النَّهْىِ عَنِ الإِصْرَارِ، عَلَى الْيَمِينِ فِيمَا يَتَأَذَّى بِهِ أَهْلُ الْحَالِفِ مِمَّا لَيْسَ بِحَرَامٍ

৪১৪৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَاللَّهِ لأَنْ يَلَجَّ أَحَدُكُمْ بِيَمِينِهِ فِي أَهْلِهِ آثَمُ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ أَنْ يُعْطِيَ كَفَّارَتَهُ الَّتِي فَرَضَ اللَّهُ " .

বর্ণনাকারী: হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রহঃ)

৪১৪৫। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ......... হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রাহঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। সে সবের মধ্যে অন্যতম- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর কসম! তোমাদের কারো তার পরিবারের সাথে (কোন বিষয়ে) আল্লাহর নামে কসম করে তাতে অনমনীয়তা দেখানো অধিক গুনাহের কারণ বলে বিবেচিত হবে- কসম করে আল্লাহর (ফরযকৃত) নির্ধারিত (শপথ ভঙ্গের) কাফফারা আদায় করার তুলনায়।*

*কসম ভঙ্গ না করলে যদি পরিবারের লোকদের কষ্ট হয় তাহলে কসমের অনমনীয় থাকা কসম ভঙ্গ করে এর কাফ্ফারা দেওয়া তুলনায় অধিক গুনাহর কাজ বলে গণ্য হবে

৭. ইসলাম গ্রহণের পর কুফরী অবস্থায় মানতের ব্যপারে করণীয়

باب نَذْرِ الْكَافِرِ وَمَا يَفْعَلُ فِيهِ إِذَا أَسْلَمَ

৪১৪৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الْمُقَدَّمِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، - وَاللَّفْظُ لِزُهَيْرٍ - قَالُوا حَدَّثَنَا يَحْيَى، - وَهُوَ ابْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي نَذَرْتُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ أَنْ أَعْتَكِفَ لَيْلَةً فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ . قَالَ " فَأَوْفِ بِنَذْرِكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১৪৬। মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর মুকাদ্দামী মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদিন উমর (রাযিঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি (ইসলামপূর্ব) জাহেলিয়াতের যুগে মসজিদুল হারামে এক রাত ‘ইতিকাফ’ করার মান্নত করেছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ তুমি তোমার মান্নত পূর্ণ কর।

৪১৪৭

وَحَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ يَعْنِي الثَّقَفِيَّ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَإِسْحَاقُ، بْنُ إِبْرَاهِيمَ جَمِيعًا عَنْ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ جَبَلَةَ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، كُلُّهُمْ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَقَالَ، حَفْصٌ مِنْ بَيْنِهِمْ عَنْ عُمَرَ، بِهَذَا الْحَدِيثِ أَمَّا أَبُو أُسَامَةَ وَالثَّقَفِيُّ فَفِي حَدِيثِهِمَا اعْتِكَافُ لَيْلَةٍ . وَأَمَّا فِي حَدِيثِ شُعْبَةَ فَقَالَ جَعَلَ عَلَيْهِ يَوْمًا يَعْتَكِفُهُ . وَلَيْسَ فِي حَدِيثِ حَفْصٍ ذِكْرُ يَوْمٍ وَلاَ لَيْلَةٍ .

বর্ণনাকারী: উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার (রহঃ)

৪১৪৭। আবু সাঈদ আশাজ্জ, মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, মুহাম্মাদ ইবনে আলা, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে জাবালা ইবনে আবু রাওয়াদ (রাহঃ) ......... সকলেই উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) এর সূত্রে ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে এবং তাঁদের মধ্য হতে হাফস (রাযিঃ) উমর (রাযিঃ) থেকে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আর আবু উমামা এবং সাকিফী (রাহঃ) উভয়ের বর্ণিত হাদীসে اعْتِكَافُ لَيْلَة (এক রাত্রির ইতিকাফের) কথা উল্লেখ আছে। আর শুবা (রাহঃ) এর বর্ণিত হাদীসে جَعَلَ عَلَيْهِ يَوْمًا يَعْتَكِفُهُ (তিনি তাঁর উপর একদিনের ইতিকাফ করা ধার্য (মান্নত) করে নিয়েছিলেন)। উল্লেখিত হাফস (রাযিঃ) এর বর্ণিত হাদীসে দিন বা রাত এর উল্লেখ নেই।
৪১৪৮

وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، أَنَّ أَيُّوبَ، حَدَّثَهُ أَنَّ نَافِعًا حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ حَدَّثَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بِالْجِعْرَانَةِ بَعْدَ أَنْ رَجَعَ مِنَ الطَّائِفِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي نَذَرْتُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ أَنْ أَعْتَكِفَ يَوْمًا فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ فَكَيْفَ تَرَى قَالَ " اذْهَبْ فَاعْتَكِفْ يَوْمًا " . قَالَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَعْطَاهُ جَارِيَةً مِنَ الْخُمْسِ فَلَمَّا أَعْتَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَبَايَا النَّاسِ سَمِعَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَصْوَاتَهُمْ يَقُولُونَ أَعْتَقَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ مَا هَذَا فَقَالُوا أَعْتَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَبَايَا النَّاسِ . فَقَالَ عُمَرُ يَا عَبْدَ اللَّهِ اذْهَبْ إِلَى تِلْكَ الْجَارِيَةِ فَخَلِّ سَبِيلَهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৪১৪৮। আবু তাহির (রাহঃ) ......... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তায়েফ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর জিইররানা নামক স্থানে অবস্থান কালে উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অজ্ঞতার যুগে মসজিদুল হারামে একদিন ইতিকাফ করার মান্নত করেছিলাম। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? তখন তিনি বললেনঃ যাও এবং একদিন ইতিকাফ করে নাও। বর্ণনাকারী বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদের (গনিমতের) এক-পঞ্চমাংশ থেকে একটি দাসী প্রদান করেন।

এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন যুদ্ধ বন্দিদের মুক্ত করে দেন তখন উমর (রাযিঃ) তাদের কলরব শুনতে পান। তারা বলাবলি করছিল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে মুক্ত করে দিয়েছেন। উমর (রাযিঃ) (পুত্র আব্দুল্লাহ) কে বললেন, ব্যাপার কি? তখন তারা বলল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুদ্ধ বন্দীদেরকে মুক্ত করে দিয়েছেন। তখন উমর (রাযিঃ) বললেন, হে আব্দুল্লাহ! ঐ দাসীটির কাছে যাও এবং তাকে মুক্ত করে দাও।
৪১৪৯

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ لَمَّا قَفَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ حُنَيْنٍ سَأَلَ عُمَرُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ نَذْرٍ كَانَ نَذَرَهُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ اعْتِكَافِ يَوْمٍ . ثُمَّ ذَكَرَ بِمَعْنَى حَدِيثِ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১৪৯। আব্বাদ ইবনে হুমাইদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী (ﷺ) হুনাইনের যুদ্ধ থেকে ফিরে এলেন তখন উমর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তাঁর জাহিলী যুগের একদিনের ইতিকাফ করার মান্নত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। এরপর জারীর ইবনে হাযিম এর হাদীসটি উল্লেখ করেন।

৪১৫০

وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ ذُكِرَ عِنْدَ ابْنِ عُمَرَ عُمْرَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْجِعْرَانَةِ فَقَالَ لَمْ يَعْتَمِرْ مِنْهَا - قَالَ - وَكَانَ عُمَرُ نَذَرَ اعْتِكَافَ لَيْلَةٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ . ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ وَمَعْمَرٍ عَنْ أَيُّوبَ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

৪১৫০। আহমাদ ইবনে আব্দাতাদ্দাব্বী (রাহঃ) ......... নাফি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন ইবনে উমর (রাযিঃ) এর নিকট জি’ইররানা থেকে প্রত্যবর্তনের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উমরা করার কথা উল্লেখ করা হল। তখন তিনি বললেন, সেখান থেকে তিনি উমরা করেননি। বর্ণনাকারী বলেন যে উমর (রাযিঃ) জাহিলী যুগে একরাত্রি ইতিকাফ করার মান্নত করেছিলেন। এরপর জারীর ইবনে হাযিম ও মা’মার সূত্রে আইয়ুব থেকে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেন।

৪১৫১

وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ الْمِنْهَالِ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، كِلاَهُمَا عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، . بِهَذَا الْحَدِيثِ فِي النَّذْرِ وَفِي حَدِيثِهِمَا جَمِيعًا اعْتِكَافُ يَوْمٍ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

৪১৫১। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান দারিমী, ইয়াহয়া ইবনে খালাফ (রাহঃ) ......... উভয়েই নাফি (রাহঃ) এর সূত্রে ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে মান্নত স্পম্পর্কে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর উভয়ের বর্ণিত হাদীসে সকলেই اعْتِكَافُ يَوْمٍ (একদিনের ইতিকাফ) কথাটি বর্ণনা করেছেন।

৮. ক্রীতদাসের সাথে সদ্ব্যবহার করা এবং দাসকে চপোটাঘাতের কাফফারা

باب صُحْبَةِ الْمَمَالِيكِ وَكَفَّارَةِ مَنْ لَطَمَ عَبْدَهُ

৪১৫২

حَدَّثَنِي أَبُو كَامِلٍ، فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ الْجَحْدَرِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ فِرَاسٍ، عَنْ ذَكْوَانَ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ زَاذَانَ أَبِي عُمَرَ، قَالَ أَتَيْتُ ابْنَ عُمَرَ وَقَدْ أَعْتَقَ مَمْلُوكًا - قَالَ - فَأَخَذَ مِنَ الأَرْضِ عُودًا أَوْ شَيْئًا فَقَالَ مَا فِيهِ مِنَ الأَجْرِ مَا يَسْوَى هَذَا إِلاَّ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ لَطَمَ مَمْلُوكَهُ أَوْ ضَرَبَهُ فَكَفَّارَتُهُ أَنْ يُعْتِقَهُ ".

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১৫২। আবু কামিল ফুযাইল ইবনে হুসাইন জাহদারী (রাহঃ) ......... আবু উমর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা ইবনে উমর (রাযিঃ) এর কাছে গিয়ে দেখি যে, তিনি একজন ক্রীতদাসকে মুক্ত করে দিয়েছেন বা বর্ণনাকারী বলেন যে, তিনি মাটি থেকে একটি কাঠি অথবা অন্য কোন বস্তু ধারণ করে বললেন, তাকে আযাদ করার মধ্যে এর (কাঠির) সমতূল্য পুণ্যও নেই। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আপন ক্রীতদাসকে চপেটাঘাত করল অথবা প্রহার করল, এর কাফফারা হল তাকে আযাদ করে দেয়া।

৪১৫৩

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ فِرَاسٍ، قَالَ سَمِعْتُ ذَكْوَانَ، يُحَدِّثُ عَنْ زَاذَانَ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، دَعَا بِغُلاَمٍ لَهُ فَرَأَى بِظَهْرِهِ أَثَرًا فَقَالَ لَهُ أَوْجَعْتُكَ قَالَ لاَ . قَالَ فَأَنْتَ عَتِيقٌ . قَالَ ثُمَّ أَخَذَ شَيْئًا مِنَ الأَرْضِ فَقَالَ مَا لِي فِيهِ مِنَ الأَجْرِ مَا يَزِنُ هَذَا إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ ضَرَبَ غُلاَمًا لَهُ حَدًّا لَمْ يَأْتِهِ أَوْ لَطَمَهُ فَإِنَّ كَفَّارَتَهُ أَنْ يُعْتِقَهُ " .

বর্ণনাকারী: যাযান (রহঃ)

৪১৫৩। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... যাযান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনে উমর (রাযিঃ) তার এক গোলামকে ডাকালেন। এরপর তার পিঠে (প্রহারের) দাগ দেখতে পেলেন। তিনি তাকে বললেনঃ তুমি কি এতে ব্যথা অনুভব করছ? সে বলল না। তখন তিনি বললেন, তুমি মুক্ত। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি মাটি থেকে কোন বস্তু তুলে নিয়ে বললেন, তাকে আযাদ করার মধ্যে এতটুকু পুণ্যও মেলেনি। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তার গোলামকে বিনা অপরাধে প্রহার করল কিংবা চপোটাঘাত করল, এর কাফফারা হল তাকে মুক্ত করে দেয়া।

৪১৫৪

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، كِلاَهُمَا عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ فِرَاسٍ، بِإِسْنَادِ شُعْبَةَ وَأَبِي عَوَانَةَ أَمَّا حَدِيثُ ابْنِ مَهْدِيٍّ فَذَكَرَ فِيهِ " حَدًّا لَمْ يَأْتِهِ " . وَفِي حَدِيثِ وَكِيعٍ " مَنْ لَطَمَ عَبْدَهُ " . وَلَمْ يَذْكُرِ الْحَدَّ.

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪১৫৪। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) উভয়ই সুফায়ান (রাহঃ) এর সূত্রে ইবনে মাহদী (রাহঃ) এর হাদীস উল্লেখ করে বলেন যে, এতে حَدًّا لَمْ يَأْتِهِ (বিনা অপরাধে) কথাটি উল্লেখ আছে। আর ওয়াকী (রাহঃ) কতৃক বর্ণিত হাদীসে مَنْ لَطَمَ عَبْدَهُ (যে ব্যক্তি তার গোলামকে চপোটাঘাত করল) বাক্যটির উল্লেখ আছে। তিনি তাঁর হাদীসে حد (অপরাধের শাস্তি) কথাটি উল্লেখ করেননি।

৪১৫৫

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ سُوَيْدٍ، قَالَ لَطَمْتُ مَوْلًى لَنَا فَهَرَبْتُ ثُمَّ جِئْتُ قُبَيْلَ الظُّهْرِ فَصَلَّيْتُ خَلْفَ أَبِي فَدَعَاهُ وَدَعَانِي ثُمَّ قَالَ امْتَثِلْ مِنْهُ . فَعَفَا ثُمَّ قَالَ كُنَّا بَنِي مُقَرِّنٍ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْسَ لَنَا إِلاَّ خَادِمٌ وَاحِدَةٌ فَلَطَمَهَا أَحَدُنَا فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَعْتِقُوهَا " . قَالُوا لَيْسَ لَهُمْ خَادِمٌ غَيْرُهَا قَالَ " فَلْيَسْتَخْدِمُوهَا فَإِذَا اسْتَغْنَوْا عَنْهَا فَلْيُخَلُّوا سَبِيلَهَا " .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে সুওয়াইদ ইবনুল মুকাররিন(রহঃ)

৪১৫৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... মুআবিয়া ইবনে সুওয়াইদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, একদা আমি আমাদের এক গোলামকে চপোটাঘাত করলাম। এরপর আমি পলায়ন করলাম এবং যোহরের নামাযের পূর্বক্ষণে ফিরে এলাম। আমি আমার পিতার পিছনে নামায আদায় করলাম। তিনি তাকে এবং আমাকে ডাকালেন। গোলামকে বললেন, তুমি তার কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ কর। সে মাফ করে দিল।

এরপর তিনি বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়কালে বনী মুকাররিন গৌত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমাদের মাত্র একটি গোলাম (দাস) ছিল। আমাদের কোন একজন তাকে চপোটাঘাত করল এবং এ সংবাদ নবী (ﷺ) পর্যন্ত পৌঁছল। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা তাকে মুক্ত করে দাও। তারা বলল, সে ব্যতীত আমাদের অন্য কোন খাদিম নেই। তখন তিনি বললেনঃ তারা তার কাছ হতে সেবা গ্রহণ করতে থাকবে, যখনই তার প্রতি তাদের প্রয়োজন থাকবে না, তখনই তারা তাকে মুক্ত করে দিবে।
৪১৫৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، - وَاللَّفْظُ لأَبِي بَكْرٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يَسَافٍ، قَالَ عَجِلَ شَيْخٌ فَلَطَمَ خَادِمًا لَهُ فَقَالَ لَهُ سُوَيْدُ بْنُ مُقَرِّنٍ عَجَزَ عَلَيْكَ إِلاَّ حُرُّ وَجْهِهَا لَقَدْ رَأَيْتُنِي سَابِعَ سَبْعَةٍ مِنْ بَنِي مُقَرِّنٍ مَا لَنَا خَادِمٌ إِلاَّ وَاحِدَةٌ لَطَمَهَا أَصْغَرُنَا فَأَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نُعْتِقَهَا .

বর্ণনাকারী: হিলাল ইবনে ইয়াসাফ (রহঃ)

৪১৫৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... হিলাল ইবনে ইয়াসাফ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক বৃদ্ধ তার দাসীকে তড়িঘড়ি করে চপোটাঘাত করল। সুওয়ায়েদ ইবনে মুকাররিন (রাহঃ) তাকে বললেন, আপনি (প্রহারের জন্য) তার চেহারা ব্যতীত আর কোন স্থান পেলেন না। তুমি আমাকে বনী মুকাররিন গোত্রের সাত সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের সপ্তম লোক হিসেবে দেখছ। আমাদের একজন ব্যতীত অন্য কোন দাসী ছিল না। একদা আমাদের মধ্যকার কনিষ্ঠ ব্যক্তি তাকে চপোটাঘাত করল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে তাকে আযাদ করে দেয়ার আদেশ দিলেন।

৪১৫৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يَسَافٍ، قَالَ كُنَّا نَبِيعُ الْبَزَّ فِي دَارِ سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ أَخِي النُّعْمَانِ بْنِ مُقَرِّنٍ فَخَرَجَتْ جَارِيَةٌ فَقَالَتْ لِرَجُلٍ مِنَّا كَلِمَةً فَلَطَمَهَا فَغَضِبَ سُوَيْدٌ . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ ابْنِ إِدْرِيسَ .

বর্ণনাকারী: সুওয়াইদ ইবনে মুকাররিন (রাঃ)

৪১৫৭। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... হিলাল ইবনে ইয়াসাফ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নোমান ইবনে মুকাররিন (রাহঃ) এর ভাই সুওয়াইদ ইবনে মুকাররিন এর বাড়িতে কাপড় বিক্রি করছিলাম। এমন সময় একজন দাসী বেরিয়ে এসে আমাদের একজন লোকের সাথে তর্ক করল। তখন সে তাকে একটি চপোটাঘাত করল। এতে সুওয়াইদ (রাযিঃ) রাগান্বিত হলেন। তখন তিনি ইবনে ইদরীস বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।

৪১৫৮

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ قَالَ لِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ مَا اسْمُكَ قُلْتُ شُعْبَةُ . فَقَالَ مُحَمَّدٌ حَدَّثَنِي أَبُو شُعْبَةَ الْعِرَاقِيُّ عَنْ سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ أَنَّ جَارِيَةً لَهُ لَطَمَهَا إِنْسَانٌ فَقَالَ لَهُ سُوَيْدٌ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الصُّورَةَ مُحَرَّمَةٌ فَقَالَ لَقَدْ رَأَيْتُنِي وَإِنِّي لَسَابِعُ إِخْوَةٍ لِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَا لَنَا خَادِمٌ غَيْرُ وَاحِدٍ فَعَمَدَ أَحَدُنَا فَلَطَمَهُ فَأَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نُعْتِقَهُ .

বর্ণনাকারী: সুওয়াইদ ইবনে মুকাররিন (রাঃ)

৪১৫৮। আব্দুল ওয়ারিস ইবনে আব্দুস সামাদ (রাহঃ) ......... সুওয়াইদ ইবনে মুকাররিন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তার একজন দাসী ছিল। এক ব্যক্তি তাকে চপোটাঘাত করল। তখন সুওয়াইদ (রাযিঃ) তাকে বললেন, তুমি কি জাননা যে, চেহারায় (আঘাত করা) নিষিদ্ধ? তিনি আরো বললেন, আমার নিশ্চিতরূপে মনে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে আমি ছিলাম সাত ভাইয়ের সপ্তম (একজন)। আমাদের একজন গোলাম ব্যতীত আর কোন গোলাম ছিল না। একদা আমাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি তাকে চপোটাঘাত করল। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে তাকে মুক্ত করে দেয়ার জন্য আদেশ দিলেন।

৪১৫৯

وَحَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، عَنْ وَهْبِ بْنِ جَرِيرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، قَالَ قَالَ لِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ مَا اسْمُكَ فَذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ عَبْدِ الصَّمَدِ .

বর্ণনাকারী: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৪১৫৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... শুবা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার নাম কি? অতঃপর তিনি আব্দুস সামাদ এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৪১৬০

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، - يَعْنِي ابْنَ زِيَادٍ - حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ أَبُو مَسْعُودٍ الْبَدْرِيُّ كُنْتُ أَضْرِبُ غُلاَمًا لِي بِالسَّوْطِ فَسَمِعْتُ صَوْتًا مِنْ خَلْفِي " اعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ " . فَلَمْ أَفْهَمِ الصَّوْتَ مِنَ الْغَضَبِ - قَالَ - فَلَمَّا دَنَا مِنِّي إِذَا هُوَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا هُوَ يَقُولُ " اعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ اعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ " . قَالَ فَأَلْقَيْتُ السَّوْطَ مِنْ يَدِي فَقَالَ " اعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ أَنَّ اللَّهَ أَقْدَرُ عَلَيْكَ مِنْكَ عَلَى هَذَا الْغُلاَمِ " . قَالَ فَقُلْتُ لاَ أَضْرِبُ مَمْلُوكًا بَعْدَهُ أَبَدًا .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৪১৬০। আবু কামিল জাহদারী (রাহঃ) ......... আবু মাসউদ বদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আমার এক ক্রীতদাসকে বেত্রাঘাত করছিলাম। হঠাৎ আমার পিছনে থেকে একটি শব্দ শুনলাম, হে আবু মাসউদ! জেনে রেখো! রাগের কারণে (আওয়াজ কার) তা স্পষ্ট বুঝতে পারলাম না। বর্ণনাকারী বলেন, যখন তিনি আমার নিকটে এলেন হঠাৎ দেখতে পেলাম, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তিনি বলছেনঃ হে আবু মাসউদ! তুমি জেনে রেখো, হে আবু মাসউদ! তুমি জেনে রেখো! বর্ণনাকারী বলেনঃ এরপর আমি বেতটি আমার হাত থেকে ফেলে দিলাম। এরপর তিনি বললেন, হে আবু মাসউদ! তুমি জেনে রেখো যে, এই দাসের উপর তোমার ক্ষমতার চেয়ে তোমার উপর আল্লাহ তাআলা নিশ্চয়ই অধিক ক্ষমতাবান। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, এরপর কখনও কোন কৃতদাসকে আমি প্রহার করবো না।

৪১৬১

وَحَدَّثَنَاهُ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ، - وَهُوَ الْمَعْمَرِيُّ - عَنْ سُفْيَانَ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ، الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، كُلُّهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، بِإِسْنَادِ عَبْدِ الْوَاحِدِ . نَحْوَ حَدِيثِهِ . غَيْرَ أَنَّ فِي حَدِيثِ جَرِيرٍ فَسَقَطَ مِنْ يَدِي السَّوْطُ مِنْ هَيْبَتِهِ .

বর্ণনাকারী: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

৪১৬১। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম যুহাইর ইবনে হারব, মুহাম্মাদ ইবনে রাফি, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) সকলেই আ’মাশ (রাহঃ) সূত্রে আব্দুল ওয়াহিদ (রাহঃ) এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু জারীর (রাযিঃ) এর বর্ণিত হাদীসে فَسَقَطَ مِنْ يَدِي السَّوْطُ مِنْ هَيْبَتِهِ (তাঁর ভয়ে আমার হাত থেকে বেতটি পড়ে গেল) এই বাক্যটি রয়েছে।

৪১৬২

وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ كُنْتُ أَضْرِبُ غُلاَمًا لِي فَسَمِعْتُ مِنْ خَلْفِي صَوْتًا " اعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ لَلَّهُ أَقْدَرُ عَلَيْكَ مِنْكَ عَلَيْهِ " . فَالْتَفَتُّ فَإِذَا هُوَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هُوَ حُرٌّ لِوَجْهِ اللَّهِ . فَقَالَ " أَمَا لَوْ لَمْ تَفْعَلْ لَلَفَحَتْكَ النَّارُ أَوْ لَمَسَّتْكَ النَّارُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৪১৬২। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনু আ’লা (রাহঃ) ......... আবু মাসউদ আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার এক ক্রীতদাসকে প্রহার করছিলাম। হঠাৎ আমার পিছন দিক থেকে একটি আওয়ায শুনলাম, হে আবু মাসউদ! জেনে রেখো, তুমি তার ওপর যেরূপ ক্ষমতাবান, আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তোমার ওপর এর চেয়ে অধিক ক্ষমতাবান। হঠাৎ পিছন দিকে তাকিয়ে দেখি তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! সে আল্লাহর ওয়াস্তে আযাদ। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ শোন! যদি তুমি তা না করতে তাহলে অবশ্যই (জাহান্নামের) আগুন তোমাকে ঝলসে দিত। কিংবা (তিনি বললেন) আগুন তোমাকে অবশ্যই স্পর্শ করতো।

৪১৬৩

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ، أَبِي عَدِيٍّ عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، أَنَّهُ كَانَ يَضْرِبُ غُلاَمَهُ فَجَعَلَ يَقُولُ أَعُوذُ بِاللَّهِ - قَالَ - فَجَعَلَ يَضْرِبُهُ فَقَالَ أَعُوذُ بِرَسُولِ اللَّهِ . فَتَرَكَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَاللَّهِ لَلَّهُ أَقْدَرُ عَلَيْكَ مِنْكَ عَلَيْهِ " . قَالَ فَأَعْتَقَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৪১৬৩। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাযিঃ) ......... আবু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একবার তার গোলামকে প্রহার করছিলেন। তখন সে বলতে লাগলো- আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই। বর্ণনাকারী বলেন, তখনও তিনি তাকে প্রহার করছিলেন। এরপর সে বলল, আমি আল্লাহর রাসূলের কাছে সাহায্য চাই। তখন তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহর শপথ! তুমি তার উপর যতটুকু ক্ষমতাবান, আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তোমার উপর তার চেয়ে অধিক ক্ষমতাবান। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি তাকে মুক্ত করেছেন।

৪১৬৪

وَحَدَّثَنِيهِ بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنْ شُعْبَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَذْكُرْ قَوْلَهُ أَعُوذُ بِاللَّهِ أَعُوذُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪১৬৪। বিশর ইবনে খালিদ উক্ত হাদীসটি শুবা (রাহঃ) থেকে এই একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনিأَعُوذُ بِاللَّهِ أَعُوذُ بِرَسُولِ اللَّهِ (আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই, আমি আল্লাহর রাসূলের কাছে সাহায্য চাই) এই বাক্যটির উল্লেখ করেননি।

৯. দাসীর প্রতি যিনার অপবাদদাতার ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারী

باب التَّغْلِيظِ عَلَى مَنْ قَذَفَ مَمْلُوكَهُ بِالزِّنَا

৪১৬৫

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ، نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ غَزْوَانَ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي نُعْمٍ، حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَذَفَ مَمْلُوكَهُ بِالزِّنَا يُقَامُ عَلَيْهِ الْحَدُّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ كَمَا قَالَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৬৫। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নূমায়র (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আবুল কাসিম (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আপন গোলামকে ব্যভিচারের মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করল, কিয়ামত দিবসে তার ওপর এই মিথ্যা অভিযোগের শাস্তি প্রয়োগ করা হবে। কিন্তু সে যদি সত্যই অপরাধী হয় (তবে অভিযোগীকারী আর শাস্তি পাবে না)।

৪১৬৬

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ، يُوسُفَ الأَزْرَقُ كِلاَهُمَا عَنْ فُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَفِي حَدِيثِهِمَا سَمِعْتُ أَبَا، الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم نَبِيَّ التَّوْبَةِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪১৬৬। আবু কুরায়ব যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... উভয়ে ফুযায়ল ইবনে গাযওয়ান (রাযিঃ) থেকে একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর তাদের উভয়ের হাদীসে سَمِعْتُ أَبَا، الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم نَبِيَّ التَّوْبَةِ (তাওবার নবী আবুল কাসিম (ﷺ) কে একথা বলতে শুনেছি) এর উল্লেখ আছে।

১০. নিজে যা খাবে ও পরবে দাস-দাসীকেও তা খেতে ও পরতে দেয়া এবং তাদের সাধ্যাতীত কাজের ভার না দেয়া

باب إِطْعَامِ الْمَمْلُوكِ مِمَّا يَأْكُلُ وَإِلْبَاسِهِ مَمَّا يَلْبَسُ وَلاَ يُكَلِّفُهُ مَا يَغْلِبُهُ

৪১৬৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنِ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ، قَالَ مَرَرْنَا بِأَبِي ذَرٍّ بِالرَّبَذَةِ وَعَلَيْهِ بُرْدٌ وَعَلَى غُلاَمِهِ مِثْلُهُ فَقُلْنَا يَا أَبَا ذَرٍّ لَوْ جَمَعْتَ بَيْنَهُمَا كَانَتْ حُلَّةً . فَقَالَ إِنَّهُ كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَ رَجُلٍ مِنْ إِخْوَانِي كَلاَمٌ وَكَانَتْ أَمُّهُ أَعْجَمِيَّةً فَعَيَّرْتُهُ بِأُمِّهِ فَشَكَانِي إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَقِيتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " يَا أَبَا ذَرٍّ إِنَّكَ امْرُؤٌ فِيكَ جَاهِلِيَّةٌ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ سَبَّ الرِّجَالَ سَبُّوا أَبَاهُ وَأُمُّهُ . قَالَ " يَا أَبَا ذَرٍّ إِنَّكَ امْرُؤٌ فِيكَ جَاهِلِيَّةٌ هُمْ إِخْوَانُكُمْ جَعَلَهُمُ اللَّهُ تَحْتَ أَيْدِيكُمْ فَأَطْعِمُوهُمْ مِمَّا تَأْكُلُونَ وَأَلْبِسُوهُمْ مِمَّا تَلْبَسُونَ وَلاَ تُكَلِّفُوهُمْ مَا يَغْلِبُهُمْ فَإِنْ كَلَّفْتُمُوهُمْ فَأَعِينُوهُمْ " .

বর্ণনাকারী: মা’রূর ইবনে সুওয়াইদ (রহঃ)

৪১৬৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... মা’রূর ইবনে সুওয়াইদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমারা ‘রাবাযাহ’ নামক স্থানে আবু যর (রাযিঃ) এর নিকট দিয়ে গমন করছিলাম। তখন তার গায়ে একটি চাঁদর ছিল এবং তাঁর গোলামের ওপরও অনুরূপ একটি চাঁদর ছিল। তখন আমরা বললাম, হে আবু যর (রাযিঃ)! যদি আপনি উভয়টি একত্রিত করতেন, তাহলে দু’জোড় (এক ধরনের দু’কাপড়) হতো। তিনি বললেন, আমার মধ্যে এবং আমার ভাইদের একজন (অর্থাৎ) আমার গোলামের কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তার মা ছিল অনারব। একদা আমি তার মাকে উল্লেখ করে তাকে গালি দিলাম। তখন সে আমার বিরুদ্ধে নবী (ﷺ) এর কাছে নালিশ করল। এরপর যখন আমি নবী (ﷺ) এর সাথে সাক্ষাত করলাম তখন তিনি বললেন, হে আবু যর! তুমি এমন ব্যক্তি, যার মধ্যে অজ্ঞতা (জাহিলী) যুগের স্বভাব বিদ্যমান।

আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! যে ব্যক্তি মানুষদেরকে গালি দেয় তার প্রতি উত্তরে তারাও তার পিতা মাতাকে উল্লেখ করে গালি দেয়া স্বভাব। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আবু যর! তোমার মধ্যে অজ্ঞতা যুগের স্বভাব এখনও বিদ্যমান। তারা তোমাদের (কালিমার) ভাই। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করেছেন। তোমরা যা খাবে তাদেরকেও তা থেকে খাওয়াবে এবং তোমরা যেমন পোশাক পরবে তাদেরকেও তা থেকে পরারে। তোমরা তাদের উপর এমন কোন কাজের ভার চাপিয়ে দিবে না, যা করতে তারা হিমশিম খেয়ে যায়। যদি তোমরা তাদেরকে (ভারী কাজ) চাপিয়ে দাও, তাহলে একাজে (তোমরাও) তাদের সাহায্যও করবে।
৪১৬৮

وَحَدَّثَنَاهُ أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، كُلُّهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَزَادَ فِي حَدِيثِ زُهَيْرٍ وَأَبِي مُعَاوِيَةَ بَعْدَ قَوْلِهِ " إِنَّكَ امْرُؤٌ فِيكَ جَاهِلِيَّةٌ " . قَالَ قُلْتُ عَلَى حَالِ سَاعَتِي مِنَ الْكِبَرِ قَالَ " نَعَمْ " . وَفِي رِوَايَةِ أَبِي مُعَاوِيَةَ " نَعَمْ عَلَى حَالِ سَاعَتِكَ مِنَ الْكِبَرِ " . وَفِي حَدِيثِ عِيسَى " فَإِنْ كَلَّفَهُ مَا يَغْلِبُهُ فَلْيَبِعْهُ " . وَفِي حَدِيثِ زُهَيْرٍ " فَلْيُعِنْهُ عَلَيْهِ " . وَلَيْسَ فِي حَدِيثِ أَبِي مُعَاوِيَةَ " فَلْيَبِعْهُ " . وَلاَ " فَلْيُعِنْهُ " . انْتَهَى عِنْدَ قَوْلِهِ " وَلاَ يُكَلِّفْهُ مَا يَغْلِبُهُ " .

বর্ণনাকারী: সুলাইমান আ‘মাশ (রহঃ)

৪১৬৮। আহমাদ ইবনে ইউনূস, আবু কুরায়ব ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... সকলেই আ’মাশ (রাহঃ) ......... থেকে এই একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি যুহাইর ও আবু মুআবিয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে ″তোমার মধ্যে অজ্ঞতা যুগের কর্মকাণ্ড বিদ্যমান″ এই কথার পর কিছু অতিরিক্ত সংযোগ করেছেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, তা কি আমার বৃদ্ধ বয়সেও? তিনি বলেন, হ্যাঁ। আর আবু মুআবিয়ার বর্ণনায় আছে- হ্যাঁ, তোমার এ বৃদ্ধ বয়সেও।

আর ঈসা (রাহঃ) এর হাদীসে আছে, যদি সে তাকে সাধ্যাতীত কোন কাজ চাপিয়ে দেয়, যা সে করতে অক্ষম, তবে তাকে বিক্রি করে দেবে। আর যুহাইর (রাহঃ) এর হাদীসে আছে “তবে সে তাকে সাহায্যও করবে”। আবু মুআবিয়ার (রাযিঃ) হাদীসে “সে তাকে বিক্রি করে দিবে” অথবা “সাহায্য করবে” কোন কথার উল্লেখ নেই। ″তুমি তাকে এমন কাজের ভার চাপিয়ে দিও না, যা করতে সে অক্ষম″ একথা পর্যন্তই হাদীস শেষ করা হয়েছে।
৪১৬৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ وَاصِلٍ الأَحْدَبِ، عَنِ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ، قَالَ رَأَيْتُ أَبَا ذَرٍّ وَعَلَيْهِ حُلَّةٌ وَعَلَى غُلاَمِهِ مِثْلُهَا فَسَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ قَالَ فَذَكَرَ أَنَّهُ سَابَّ رَجُلاً عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَيَّرَهُ بِأُمِّهِ - قَالَ - فَأَتَى الرَّجُلُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّكَ امْرُؤٌ فِيكَ جَاهِلِيَّةٌ إِخْوَانُكُمْ وَخَوَلُكُمْ جَعَلَهُمُ اللَّهُ تَحْتَ أَيْدِيكُمْ فَمَنْ كَانَ أَخُوهُ تَحْتَ يَدَيْهِ فَلْيُطْعِمْهُ مِمَّا يَأْكُلُ وَلْيُلْبِسْهُ مِمَّا يَلْبَسُ وَلاَ تُكَلِّفُوهُمْ مَا يَغْلِبُهُمْ فَإِنْ كَلَّفْتُمُوهُمْ فَأَعِينُوهُمْ عَلَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৪১৬৯। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) মারুর ইবনে সুওয়াইদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু যর (রাযিঃ) কে দেখতে পেলাম যে, তাঁর গায়ে জোড়া (সেট) চাঁদর এবং তাঁর গোলামের গায়েও অনুরূপ এক জোড়া চাঁদর রয়েছে। তখন আমি এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন যে, সে (আবু যর) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় এক ব্যক্তিকে গালি দিয়েছিল। এবং সে ব্যক্তি তার মাকে উল্লেখ করে গালি দিল। বর্ণনাকারী বলেনঃ তখন লোকটি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে তাঁর কাছে ঐ ঘটনা বর্ণনা করলো।

নবী (ﷺ) (আমাকে) বললেনঃ নিশ্চয়ই তোমার মধ্যে জাহিলী যুগের স্বভাব বিদ্যমান। তারা তোমাদের ভাই, তোমাদের খাদিম। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তির অধীনে তার কোন ভাই (গোলাম) থাকে তার উচিত তাকে এমন খাদ্য দেওয়া যা সে নিজে খায় এবং এমন পোশাক দেওয়া যা সে নিজে পরিধান করে। আর তোমরা তাদের উপর এমন কাজের ভার চাপিয়ে দিও না যা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়। আর, যদি তোমরা তাদেরকে সাধ্যতীত কাজ দাও তবে তোমরা তাদেরকে প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতাও করো।
৪১৭০

وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَرْحٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا عَمْرُو، بْنُ الْحَارِثِ أَنَّ بُكَيْرَ بْنَ الأَشَجِّ، حَدَّثَهُ عَنِ الْعَجْلاَنِ، مَوْلَى فَاطِمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لِلْمَمْلُوكِ طَعَامُهُ وَكِسْوَتُهُ وَلاَ يُكَلَّفُ مِنَ الْعَمَلِ إِلاَّ مَا يُطِيقُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৭০। আবু তাহির আহমাদ ইবনে আমর ইবনে সারহ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেনঃ কৃতদাসের জন্যে খানা-পিনা ও পোশাক-পরিচ্ছেদ ক্রীতদাসের অধিকার। (তার ব্যবস্থা করা মনিবের কর্তব্য) তার সাধ্যাতীত কোন কাজের জন্য তাকে কষ্ট দেয়া যাবে না।

৪১৭১

وَحَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا صَنَعَ لأَحَدِكُمْ خَادِمُهُ طَعَامَهُ ثُمَّ جَاءَهُ بِهِ وَقَدْ وَلِيَ حَرَّهُ وَدُخَانَهُ فَلْيُقْعِدْهُ مَعَهُ فَلْيَأْكُلْ فَإِنْ كَانَ الطَّعَامُ مَشْفُوهًا قَلِيلاً فَلْيَضَعْ فِي يَدِهِ مِنْهُ أُكْلَةً أَوْ أُكْلَتَيْنِ " . قَالَ دَاوُدُ يَعْنِي لُقْمَةً أَوْ لُقْمَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৭১। কা’নবী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কোন গোলাম খাবার রান্না করে তার (মনিবের) কাছে নিয়ে আসে। এমন খাবার যার তাপ ও ধোঁয়া সে সহ্য করেছে, তখন তার উচিত হবে তাকে কাছে বসিয়ে তা থেকে কিছু খাবার প্রদান করা। আর যদি খাবারের পরিমাণ অতি অল্প হয়, তবে সে যেন তার হাতে অন্তত এক গ্রাস অথবা দু'গ্রাস খাবার তুলে দেয়। বর্ণনাকারী দাউদ (রাহঃ) ......... বলেন যে, أُكْلَةً أَوْ أُكْلَتَيْنِ এর অর্থ لُقْمَةً أَوْ لُقْمَتَيْنِ --এক লুকমা অথবা দু’লুকমা।

১১. আন্তরিকতার সাথে মনিবের সেবা ও উত্তমরূপে আল্লাহর ইবাদতকারী দাস-দাসীর সাওয়াব

باب ثَوَابِ الْعَبْدِ وَأَجْرِهِ إِذَا نَصَحَ لِسَيِّدِهِ وَأَحْسَنَ عِبَادَةَ اللَّهِ

৪১৭২

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا نَصَحَ لِسَيِّدِهِ وَأَحْسَنَ عِبَادَةَ اللَّهِ فَلَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১৭২। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন গোলাম যখন আন্তরিকতার সাথে তার মনিবের কাজ করে (মনিবের কল্যাণ কামনা করে) এবং আল্লাহর ইবাদতেও উত্তমরূপে সমাধা করে তখন তার জন্য পুরস্কার দুই গুণ।

৪১৭৩

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، وَهْوَ الْقَطَّانُ ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو أُسَامَةَ كُلُّهُمْ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، ح وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي أُسَامَةُ، جَمِيعًا عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ حَدِيثِ مَالِكٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১৭৩। যুহাইর ইবনে হারব, মুহাম্মাদ ইবনে নুমাইর, আবু বকর আবি শাঈবা ও হারুন ইবনে সাঈদ আইলী (রাহঃ) ......... সকলেই ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে মালিক (রাহঃ) ......... এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৪১৭৪

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، يَقُولُ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِلْعَبْدِ الْمَمْلُوكِ الْمُصْلِحِ أَجْرَانِ " . وَالَّذِي نَفْسُ أَبِي هُرَيْرَةَ بِيَدِهِ لَوْلاَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْحَجُّ وَبِرُّ أُمِّي لأَحْبَبْتُ أَنْ أَمُوتَ وَأَنَا مَمْلُوكٌ . قَالَ وَبَلَغَنَا أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ لَمْ يَكُنْ يَحُجُّ حَتَّى مَاتَتْ أُمُّهُ لِصُحْبَتِهَا . قَالَ أَبُو الطَّاهِرِ فِي حَدِيثِهِ " لِلْعَبْدِ الْمُصْلِحِ " . وَلَمْ يَذْكُرِ الْمَمْلُوكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৭৪। আবু তাহির ও হারামালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ক্রীতদাস সৎ গোলামের জন্যে দুটি পুরস্কার রয়েছে। সেই মহান আল্লাহর শপথ। যার হাতে আবু হুরায়রার জীবন, যদি আল্লাহর পথে জিহাদ করা, হজ্জ করা এবং আমার মায়ের সেবা করা এসব কর্তব্য (আমার দায়িত্বে) না থাকত তবে গোলাম অবস্থায় মৃত্যু বরণকেই আমি অধিক পছন্দ করতাম।

বর্ণনাকারী বলেন, আমরা জানতে পারলাম যে, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হজ্জে গমন করেননি তাঁর মায়ের মৃত্যুর আগে। কেননা, তিনি সর্বদা তাঁর সাহচর্যে থেকে সেবা করতেন। বর্ণনাকারী আবু তাহের তাঁর বর্ণিত হাদীসে لِلْعَبْدِ الْمُصْلِحِ (সৎ গোলামের জন্যে) কথাটির উল্লেখ করেছেন। কিন্তু الْمَمْلُوكَ (ক্রীতদাস) শব্দটি তিনি উল্লেখ করেন নি।
৪১৭৫

وَحَدَّثَنِيهِ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو صَفْوَانَ الأُمَوِيُّ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَذْكُرْ بَلَغَنَا وَمَا بَعْدَهُ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৪১৭৫। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... ইবনে শিহাব (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি بَلَغَنَا وَمَا بَعْدَهُ (আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছছে থেকে নিয়ে এর পরবর্তী অংশ উল্লেখ করেননি)

৪১৭৬
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَدَّى الْعَبْدُ حَقَّ اللَّهِ وَحَقَّ مَوَالِيهِ كَانَ لَهُ أَجْرَانِ " . قَالَ فَحَدَّثْتُهَا كَعْبًا فَقَالَ كَعْبٌ لَيْسَ عَلَيْهِ حِسَابٌ وَلاَ عَلَى مُؤْمِنٍ مُزْهِدٍ .
وَحَدَّثَنِيهِ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৭৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে গোলাম আল্লাহর হক এবং তার মনিবের হক আদায় করল, তার জন্য দু’গুণ সাওয়াব রয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন যে, আমি হাদীসটি কা’ব (রাযিঃ) নিকট বর্ণনা করলাম তখন কা’ব (রাযিঃ) বললেন, কিয়ামত দিবসে তার ওপর কোন হিসাব নেই এবং ঐ মুমিনের ওপরও কোন হিসাব নেই যার সম্পদ কম।

উপরোক্ত হাদীস যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) আমাশ (রাযিঃ) থেকে একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
৪১৭৭

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نِعِمَّا لِلْمَمْلُوكِ أَنْ يُتَوَفَّى يُحْسِنُ عِبَادَةَ اللَّهِ وَصَحَابَةَ سَيِّدِهِ نِعِمَّا لَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৭৭। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি’ (রাহঃ) হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রাহঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে অনেক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার অন্যতম (হাদীস) তিনি (আবু হুরায়রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ঐ গোলামের জন্য কতইনা উত্তম (পুরস্কার রয়েছে) যে উত্তমরূপে আল্লাহর ইবাদত করে এবং আপন মনিবের উত্তম সেবা করে মৃত্যুবরণ করেছে, তার জন্য কতইনা উত্তম প্রতিদান রয়েছে।

১২. শরীকী গোলাম আযাদ করা

باب مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي عَبْدٍ

৪১৭৮

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قُلْتُ لِمَالِكٍ حَدَّثَكَ نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي عَبْدٍ فَكَانَ لَهُ مَالٌ يَبْلُغُ ثَمَنَ الْعَبْدِ قُوِّمَ عَلَيْهِ قِيمَةَ الْعَدْلِ فَأَعْطَى شُرَكَاءَهُ حِصَصَهُمْ وَعَتَقَ عَلَيْهِ الْعَبْدُ وَإِلاَّ فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১৭৮। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কয়েক শরীকের মালিকানাধীণ কোন গোলামের নিজ অংশ যে ব্যক্তি আযাদ করে দিল আর তার কাছে এমন পরিমাণ সম্পদ আছে যা গোলামের মূল্য পরিমাণ হয় তবে ন্যায়সঙ্গতভাবে মূল্য নির্ধারণ করে অন্যন্য অংশীদারদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করে দিবে এবং গোলাম (সম্পূর্ণভাবে) তার পক্ষ থেকে আযাদ হবে। অন্যথা সে যে অংশ আযাদ করল, তাই (শুধু) আযাদ হবে।

৪১৭৯

حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ مِنْ مَمْلُوكٍ فَعَلَيْهِ عِتْقُهُ كُلُّهُ إِنْ كَانَ لَهُ مَالٌ يَبْلُغُ ثَمَنَهُ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১৭৯। ইবনে নুমাইর (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন গোলামের (মালিকানা হবে তার) নিজ অংশ আযাদ করে দিল, তার কর্তব্য হবে সম্পূর্ণ গোলাম আযাদ করে দেয়া, যদি তার কাছে সম্পূর্ণ গোলামের মূল্য পরিমাণ সম্পদ বিদ্যমান থাকে। আর যদি তার সম্পদ বিদ্যমান না থাকে, তবে সে যে অংশ আযাদ করল, তাই (শুধু) আযাদ হবে।

৪১৮০

وَحَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ نَافِعٍ، مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَعْتَقَ نَصِيبًا لَهُ فِي عَبْدٍ فَكَانَ لَهُ مِنَ الْمَالِ قَدْرُ مَا يَبْلُغُ قِيمَتَهُ قُوِّمَ عَلَيْهِ قِيمَةَ عَدْلٍ وَإِلاَّ فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১৮০। শায়বান ইবনে ফাররুখ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি যৌথভাবে ক্রয় করা কোন গোলামের নিজ অংশ আযাদ করে দেয় এবং তার কাছে গোলামের সম্পূর্ণ মূল্যের পরিমাণ সম্পদও থাকে তখন ন্যায়সঙ্গতভাবে গোলামও মূল্য নিরূপণ করা হবে এবং সকলের পাওনা পরিশোধ করে তাকে সম্পূর্ণ আযাদ করে দেবে। অন্যথা সে যে অংশ আযাদ করল তাই (শুধু) আযাদ হবে।

৪১৮১

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ، وَأَبُو كَامِلٍ قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، وَهُوَ ابْنُ زَيْدٍ ح وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ عُلَيَّةَ - كِلاَهُمَا عَنْ أَيُّوبَ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، ح وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ، - يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ - كُلُّ هَؤُلاَءِ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ وَلَيْسَ فِي حَدِيثِهِمْ " وَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ " . إِلاَّ فِي حَدِيثِ أَيُّوبَ وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ فَإِنَّهُمَا ذَكَرَا هَذَا الْحَرْفَ فِي الْحَدِيثِ وَقَالاَ لاَ نَدْرِي أَهُوَ شَىْءٌ فِي الْحَدِيثِ أَوْ قَالَهُ نَافِعٌ مِنْ قِبَلِهِ وَلَيْسَ فِي رِوَايَةِ أَحَدٍ مِنْهُمْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . إِلاَّ فِي حَدِيثِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৪১৮১। কুতায়বা ইবনে সাঈদ, মুহামদ ইবনে রুহম, মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না, আবু রাবী, আবু কামিল, যুহাইর ইবনে হারব, ইসহাক ইবনে মানসুর, মুহাম্মাদ ইবনে রাফি, হারুন ইবনে সাঈদ আইলী (রাহঃ) ......... সকলেই ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর আইয়ুব ও ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ব্যতিত অন্য সকলে তাদের বর্ণিত হাদীসে وَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ (আর যদি তার কাছে প্রচুর সম্পদ বিদ্যমান না থাকে, তবে সে যে অংশ আযাদ করল তাই শুধু আযাদ হবে) এইরূপ বাক্যের উল্লেখ নেই। আর তারা (দু’জন) একথাও বলেছেন যে, আমরা জানিনা যে, প্রকৃতপক্ষেই এই শব্দগুলো হাদীসের অন্তর্ভুক্ত, না বর্ণনাকারী নাফি (রাহঃ) নিজের পক্ষ হতেই এইগুলো বলেছেন। উল্লিখিত বর্ণনাকারীদের কারো বর্ণনায় আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতে শুনিনি কথাটা নেই, একমাত্র লাইস ইবনে সা’দ এর হাদীস ব্যতিত।

৪১৮২

وَحَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، كِلاَهُمَا عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، قَالَ ابْنُ أَبِي عُمَرَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَعْتَقَ عَبْدًا بَيْنَهُ وَبَيْنَ آخَرَ قُوِّمَ عَلَيْهِ فِي مَالِهِ قِيمَةَ عَدْلٍ لاَ وَكْسَ وَلاَ شَطَطَ ثُمَّ عَتَقَ عَلَيْهِ فِي مَالِهِ إِنْ كَانَ مُوسِرًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১৮২। আমর আন-নাকিদ ও ইবনে আবী উমর (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অংশীদারিত্ব আছে, তবে ন্যায়সঙ্গতভাবে কমবেশী করা ব্যতীত তার মূল্য নিরূপণ করা হবে। এরপর তার সম্পদ হতে তাকে মুক্ত করে দেয়া উচিত, যদি সে সচ্ছল হয়।

৪১৮৩

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي عَبْدٍ عَتَقَ مَا بَقِيَ فِي مَالِهِ إِذَا كَانَ لَهُ مَالٌ يَبْلُغُ ثَمَنَ الْعَبْدِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১৮৩। আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন গোলামের তার অংশ আযাদ করল, বাকী অংশটুকু তার সম্পদ থেকে আযাদ হয়ে যাবে, যদি তার এমন সস্পদ থাকে যদ্বারা গোলামের মূল্য পরিশাধ করা যায়।

৪১৮৪

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، عَنْ أَبِي، هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي الْمَمْلُوكِ بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ فَيُعْتِقُ أَحَدُهُمَا قَالَ " يَضْمَنُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৮৪। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) উভয়েই ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ দু’ব্যক্তির অংশীদারিত্বে কোন গোলামের একজন মালিক যদি তার অংশ আযাদ করে দেয়, তবে সে (অপরের অংশের) যামিন হবে।

৪১৮৫

وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الإِسْنَادِ قَالَ " مَنْ أَعْتَقَ شَقِيصًا مِنْ مَمْلُوكٍ فَهُوَ حُرٌّ مِنْ مَالِهِ " .

বর্ণনাকারী: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৪১৮৫। উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) সূত্রে হাদীসটি একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, যদি কেউ কোন গোলামের এক অংশ আযাদ করল, সে স্বাধীন হবে তার মাল থেকেই। (অর্থাৎ নিজ দায়িত্বে স্বীয় সম্পদ দ্বারা তাকে সম্পূর্ণ আজাদ করে দেয়া তার কর্তব্য)।

৪১৮৬

وَحَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَعْتَقَ شَقِيصًا لَهُ فِي عَبْدٍ فَخَلاَصُهُ فِي مَالِهِ إِنْ كَانَ لَهُ مَالٌ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ اسْتُسْعِيَ الْعَبْدُ غَيْرَ مَشْقُوقٍ عَلَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১৮৬। আমর আন-নাকিদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (যৌথ মালিকানার) কোন গোলামের নিজ অংশ আযাদ করল, তবে তার মাল থেকেই তাকে সম্পূর্ণ মুক্ত করে দেওয়া কর্তব্য, যদি তার সম্পদ থাকে। আর যদি তার সম্পদ না থাকে তবে (পূর্ণ মুক্ত হওয়ার জন্য) গোলামকে সে (তার অবশিষ্ট মূল্য পরিমাণ) শ্রম করানো হবে। (এবং মূল্য পরিশোধ হলে সে সম্পূর্ণ মুক্ত হবে), তবে তার উপর কোন কঠোরতা আরোপ করতে পারবে না।

৪১৮৭

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ أَبِي، عَرُوبَةَ بِهَذَا الإِسْنَادِ . وَفِي حَدِيثِ عِيسَى " ثُمَّ يُسْتَسْعَى فِي نَصِيبِ الَّذِي لَمْ يُعْتِقْ غَيْرَ مَشْقُوقٍ عَلَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনে আবি আরূবা (রহঃ)

৪১৮৭। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আলী ইবনে খাশরাম (রাহঃ) ......... ইবনে আবু আরূবা (রাহঃ) থেকে একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর ঈসা (রাহঃ) এর বর্ণিত হাদীসে ″এরপর যে অংশ আযাদ করেনি শ্রম দ্বারা সে চেষ্টা করবে, কিন্তু তার উপর কোন কঠোরতা আরোপ করা যাবে না″ বর্ণিত রয়েছে।

৪১৮৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ عُلَيَّةَ - عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ، عَنْ عِمْرَانَ، بْنِ حُصَيْنٍ . أَنَّ رَجُلاً، أَعْتَقَ سِتَّةَ مَمْلُوكِينَ لَهُ عِنْدَ مَوْتِهِ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرُهُمْ فَدَعَا بِهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَزَّأَهُمْ أَثْلاَثًا ثُمَّ أَقْرَعَ بَيْنَهُمْ فَأَعْتَقَ اثْنَيْنِ وَأَرَقَّ أَرْبَعَةً وَقَالَ لَهُ قَوْلاً شَدِيدًا .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৪১৮৮। আলী ইবনে হুজর সা’দী, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তার মৃত্যুকালে নিজের ছয়জন গোলামকে আযাদ করল অথচ তারা ব্যতীত তার আর কোন সম্পদও ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে ডাকালেন এবং তাদেরকে তিনভাগে ভাগ করলেন। তারপর তাদের মাঝে লটারী করে দু’জনকে (সম্পৃর্ণভাবে) আযাদ করলেন এবং বাকী চারজনকে গোলাম বানিয়ে রাখলেন। আর তার সম্পর্কে (মৃতের প্রতি) কঠোর ভাষা প্রয়োগ করলেন।

৪১৮৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَابْنُ أَبِي، عُمَرَ عَنِ الثَّقَفِيِّ، كِلاَهُمَا عَنْ أَيُّوبَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . أَمَّا حَمَّادٌ فَحَدِيثُهُ كَرِوَايَةِ ابْنِ عُلَيَّةَ وَأَمَّا الثَّقَفِيُّ فَفِي حَدِيثِهِ أَنَّ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ أَوْصَى عِنْدَ مَوْتِهِ فَأَعْتَقَ سِتَّةَ مَمْلُوكِينَ .

বর্ণনাকারী: আইয়ুব সাখতিয়ানী (রহঃ)

৪১৮৯। কুতায়বা ইবনে সাঈদ, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আইয়ুব (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর হাম্মাদ (রাহঃ) এর বর্ণিত হাদীসটি ইবনে উলাইয়া (রাহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ। আর সাকাফী (রাহঃ) এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, “আনসারী এক লোক তাঁর মৃত্যুকালে অসিয়্যাত করলেন এবং (সে ওয়াসিয়্যাতে) তাঁর ছয়জন গোলামকে আযাদ করলেন”।

৪১৯০

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِنْهَالٍ الضَّرِيرُ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ حَدِيثِ ابْنِ عُلَيَّةَ وَحَمَّادٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৪১৯০। মুহাম্মাদ ইবনে মিনহাল দারীর ও আহমাদ ইবনে আব্দা (রাহঃ) উভয়ে ......... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে ইবনে উলাইয়া (রাহঃ) ও হাম্মাদ (রাহঃ) এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৩. মুদাব্বার* গোলাম বিক্রি করা বৈধ

باب جَوَازِ بَيْعِ الْمُدَبَّرِ

৪১৯১

حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ، سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ - عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الأَنْصَارِ أَعْتَقَ غُلاَمًا لَهُ عَنْ دُبُرٍ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرُهُ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَنْ يَشْتَرِيهِ مِنِّي " . فَاشْتَرَاهُ نُعَيْمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بِثَمَانِمِائَةِ دِرْهَمٍ فَدَفَعَهَا إِلَيْهِ . قَالَ عَمْرٌو سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ عَبْدًا قِبْطِيًّا مَاتَ عَامَ أَوَّلَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪১৯১। আবু রাবী সুলাইমান ইবনে দাউদ আতাকী (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আনসারী একজন লোক তাঁর গোলামকে এই শর্তে আযাদ করল যে, তুমি আমার মৃত্যুর পর স্বাধীন। সে গোলাম ব্যতিত তার আর কোন সম্পদও ছিল না। এই সংবাদ যখন নবী (ﷺ) পর্যন্ত পৌছল, তখন তিনি বললেনঃ কে আছ যে, তাকে আমার নিকট হতে ক্রয় করবে। তখন নু’আয়ম ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) আটশ দিরহামের বিনিময়ে তাকে ক্রয় করলেন। তখন নবী (ﷺ) ঐ অর্থ আনসারীকে দিয়ে দিলেন। আমর (রাহঃ) বলেন, আমি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, সে ছিল একজন কিবতী গোলাম। সে (আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাহার (রাযিঃ) এর খিলাফতের) প্রথম বছর মৃত্যুবরণ করেছে।

*মুদাব্বার ঐ শ্রেণীর গোলামকে বলে- যার মনিব তাকে বলল, আমার মৃত্যুর পর তুমি আযাদ।

১৩. মুদাব্বার গোলাম বিক্রি করা বৈধ

باب جَوَازِ بَيْعِ الْمُدَبَّرِ

৪১৯২

وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ سَمِعَ عَمْرٌو، جَابِرًا يَقُولُ دَبَّرَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ غُلاَمًا لَهُ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرُهُ فَبَاعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ جَابِرٌ فَاشْتَرَاهُ ابْنُ النَّحَّامِ عَبْدًا قِبْطِيًّا مَاتَ عَامَ أَوَّلَ فِي إِمَارَةِ ابْنِ الزُّبَيْرِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪১৯২। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারী এক লোক তার গোলামকে এই বলে আযাদ করল যে, আমার মৃত্যুর পর তুমি স্বাধীন। কিন্তু সে গোলাম ব্যতীত তার আর কোন সম্পদ ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বিক্রি করলেন। জাবির (রাযিঃ) বলেন যে, ইবনে নাহহাম (রাযিঃ) তাকে ক্রয় করলো। সে ছিল একজন কিবতি গোলাম। ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) এর খিলাফত কালের প্রথম বছর সে ইন্‌তিকাল করে।

৪১৯৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ، رُمْحٍ عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمُدَبَّرِ نَحْوَ حَدِيثِ حَمَّادٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪১৯৩। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও ইবনে রুমহ (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে “মুদাব্বার” সম্পর্কে হাম্মাদ (রাহঃ) কর্তৃক আমর ইবনে দীনারের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৪১৯৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ، - يَعْنِي الْحِزَامِيَّ - عَنْ عَبْدِ الْمَجِيدِ بْنِ، سُهَيْلٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، ح. وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ هَاشِمٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ - عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ، ذَكْوَانَ الْمُعَلِّمِ حَدَّثَنِي عَطَاءٌ، عَنْ جَابِرٍ، ح. وَحَدَّثَنِي أَبُو غَسَّانَ الْمِسْمَعِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاذٌ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ مَطَرٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ، أَبِي رَبَاحٍ وَأَبِي الزُّبَيْرِ وَعَمْرِو بْنِ دِينَارٍ أَنَّ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَهُمْ فِي، بَيْعِ الْمُدَبَّرِ . كُلُّ هَؤُلاَءِ قَالَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى حَدِيثِ حَمَّادٍ وَابْنِ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرٍو عَنْ جَابِرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪১৯৪। কুতায়বা, আব্দুল্লাহ ইবনে হাশেম ও আবু গাসসান মিসমাঈ (রাহঃ) সকলই নবী (ﷺ) থেকে হাম্মাদ (রাহঃ) এবং ইবনে উয়াইনা (রাযিঃ) কর্তৃক আমর (রাযিঃ) ও জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।