প্রথম আবাসিক মাদরাসা
আসহাবে সুফফার ছাত্রদের অবস্থা
আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ৭০ জন (আহলে সুফ্ফাকে) এই অবস্থায় দেখেছি, তাদের কারো কাছে (গা ঢাকার) জন্য চাদর ছিল না, কারো কাছে লুঙ্গী ছিল এবং কারো কাছে চাদর, (এক সঙ্গে দু’টি বস্ত্রই কারো কাছে ছিল না) তারা তা গর্দানে বেঁধে নিতেন। অতঃপর সেই বস্ত্র কারো পায়ের অর্ধগোছা পর্যন্ত হত এবং কারো পায়ের গাঁট পর্যন্ত। সুতরাং তাঁরা তা হাত দিয়ে জমা করে ধরে রাখতেন, যেন লজ্জাস্থান দেখা না যায়।’ (বুখারি- ৪৪২)
হযরত আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রা. বলেন, আসহাবে সুফফা ছিলেন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অন্তর্গত। তাদের আর্থিক অবস্থা এতই শোচনীয় ছিল যে, শীত নিবারণ কিংবা পুরো শরীর আবৃত করার মতো কোনো কাপড় তাদের ছিল না। এ অবস্থায় অর্ধ আবৃত পোশাক নিয়ে তারা বাইরে আসতে লজ্জাবোধ করতেন। অন্যদিকে সুফফার চারপাশ খোলা ছিল বলে অবাধে ধুলাবালি ঢুকত। ফলে তাদের পোশাক আশাক ময়লা হয়ে যেত।
প্রাথমিক পর্যায়ে এর দৈর্ঘ্য ছিল ১২ মিটার এবং প্রস্থ ছিল ৮ মিটার। মসজিদে নববির উত্তর-পূর্বাংশে নির্মিত সুফফার দক্ষিণ দিকে ছিল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহী ওয়া সাল্লাম ও তাঁর স্ত্রীদের অবস্থানের হুজরা এবং সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছিল মেহরাব। আসহাবে সুফফার অর্থ চত্বরবাসী। ঐ সকল মহৎ প্রাণ সাহাবি আসহাবে সুফফা নামে পরিচিত, যারা জ্ঞানার্জনের জন্য ভোগবিলাস ত্যাগ করে অতি সাধারণ জীবনযাপন করতে সর্বদা মসজিদে নববির চত্বরে অবস্থান করতেন। আসহাবে সুফফা হলো তরুণ, অবিবাহিত ও দরিদ্র সাহাবিদের একটি দলের নাম, যারা সুফফা নামক স্থানে বসবাস করতেন।
সব অধ্যায়