كتاب الزكاة

৩. যাকাতের অধ্যায়

Chapter 3 · 145 hadith

যাকাতের অধ্যায়

كتاب الزكاة

1556

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاسْتُخْلِفَ أَبُو بَكْرٍ بَعْدَهُ وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَبِ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لأَبِي بَكْرٍ كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَمَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلاَّ بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَاللَّهِ لأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلاَةِ وَالزَّكَاةِ فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عِقَالاً كَانُوا يُؤَدُّونَهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهِ . فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ رَأَيْتُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ لِلْقِتَالِ - قَالَ - فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ مَعْمَرُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعِقَالُ صَدَقَةُ سَنَةٍ وَالْعِقَالاَنِ صَدَقَةُ سَنَتَيْنِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ رَبَاحُ بْنُ زَيْدٍ وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ بِإِسْنَادِهِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ عِقَالاً . وَرَوَاهُ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ يُونُسَ قَالَ عَنَاقًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ وَمَعْمَرٌ وَالزُّبَيْدِيُّ عَنِ الزُّهْرِيِّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا . وَرَوَى عَنْبَسَةُ عَنْ يُونُسَ عَنِ الزُّهْرِيِّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ عَنَاقًا .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫৫৬। কুতায়বা ইবনে সাঈস আছ-ছাকাফী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তিকালের পর আবু বকর (রাযিঃ)-কে তাঁর স্থলাভিসিক্ত করা হয়। এই সময়ে আরবের কিছু লোক মুরতাদ (ইসলাম ত্যাগী) হয়ে যায়। এমতাবস্থায় উমর (রাযিঃ) আবু বকর (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি (মুরতাদ) লোকদের বিরুদ্ধে কিরূপে যুদ্ধ করবেন? অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ আমি নির্দেশ প্রাপ্ত হয়েছি যে, যতক্ষণ না লোকেরা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলবে, ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। অতঃপর যে ব্যক্তি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলবে, তাঁর জন্য জান-মাল আমার নিকট নিরাপদ। অবশ্য শরীআতের দৃষ্টিতে তার উপর দন্ড আসলে তা কার্যকর হবে এবং তাঁর হিসাব-নিকাশ আল্লাহর নিকটে।

আবু বকর (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব, যার নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে। কেননা যাকাত হল ধন-সম্পদের হক। আল্লাহর শপথ! তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে যে রশি যাকাত দিত, যদি তাও দিতে তারা অস্বীকার করে, তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধ করব।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! তখম আমি উপলদ্ধি করতে পারলাম যে, আল্লাহ তাআলা আবু বকর (রাযিঃ) এর অন্তর যুদ্ধের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছেন। উমর (রাযিঃ) আরও বলেন, আমি হৃদয়ংগম করলাম যে, তিনিই (আবু বকর) সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত আছে।

Reference: কুতুবে সিত্তাহ

1557

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ إِنَّ حَقَّهُ أَدَاءُ الزَّكَاةِ وَقَالَ عِقَالاً .

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

১৫৫৭। ইবনুস সারহ ও সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) .... ইমাম যুহরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু বাকর (রাযিঃ) বলেন, তার হক হল যাকাত আদায় করা। এই বর্ণনায় রাবী ‘ইকালান” শব্দ উল্লেখ করেছেন।

১. যে পরিমাণ মালে যাকাত ওয়াজিব হয়।

باب مَا تَجِبُ فِيهِ الزَّكَاةُ

1558

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৫৫৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ...... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পাঁচটি উটের কম হলে যাকাত ওয়াজিব হবে না, রূপার পরিমাণ দুই শত দিরহামের (তোলা) কম হলে যাকাত ওয়াজিব হবে না * এবং ভূমি হতে উৎপন্ন ফসলের পরিমাণ পাঁচ ওয়াসাকের কম হলে যাকাত ওয়াজিব হবে না।**

*যদি কেউ দুইশত দিরহাম পরিমাণ রূপার মালিক হয় এবং তা এক বছর তাঁর নিকট জমা থাকে, তবে ঐ সম্পদের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাতস্বরূপ প্রদান করতে হবে।

**এক ওয়াসাকের পরিমাণ হলঃ ৬০ সা’আ। এক সা’আ = প্রায় এক সের তের ছটাক। হানাফী মাযহাব অনুসারে ভূমিতে উৎপন্ন ফসলের যাকাত বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। বৃষ্টির পানি দ্বারা স্বাভাবিকভাবে বিনা শ্রমে যদি ক্ষেতের ফসল উৎপন্ন হয়, তবে দশ ভাগের একভাগ যাকাত আদায় করতে হবে। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এর মতে ক্ষেতের উৎপন্ন ফসল কম বা বেশী যাই হোক, তার যাকাত আদায় করতে হবে। আর ক্ষেতে পানি সেচ ও আগাছা পরিষ্কার করার জন্য শ্রম খাটানো হলে ১/৪০ ভাগ যাকাত আদায় করতে হবে। - (অনুবাদক)

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

1559

حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا إِدْرِيسُ بْنُ يَزِيدَ الأَوْدِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ الْجَمَلِيِّ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ الطَّائِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، يَرْفَعُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ زَكَاةٌ " . وَالْوَسْقُ سِتُّونَ مَخْتُومًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَبُو الْبَخْتَرِيِّ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِي سَعِيدٍ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৫৫৯. আইয়ুব ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এর বর্ণনা ধারা নবী করীম (ﷺ) পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। তিনি (নবী (ﷺ)) বলেনঃ পাঁচ ওয়াসাকের কম উৎপন্ন ফসলের যাকাত ওয়াজিব হবে না এবং এক ওয়াসাকের পরিমাণ হল ষাট সা’আ।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

1560

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ بْنِ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ الْوَسْقُ سِتُّونَ صَاعًا مَخْتُومًا بِالْحَجَّاجِيِّ .

Narrator: ইবরাহীম নাখঈ (রহঃ)

১৫৬০. মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা (রাহঃ) .... ইবরাহীম (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ওয়াসাকের পরিমাণ হল ষাট সা’আ-এর সমান এবং হিজাজীদের প্রচলিত সুনির্দিষ্ট ওজন।*

*হিজাজবাসীদের মতে এক সা’আ-এর পরিমাণ হল চার মুদ্‌ এবং এক মুদ হল ৪/৩ রতল। ইরাকীদের অভিমত অনুসারে এক সা’আ-এর পরিমাণ হল চার মুদ এক মুদ হল দুই রতলের সমান। - (অনুবাদক)
1561

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا صُرَدُ بْنُ أَبِي الْمَنَازِلِ، قَالَ سَمِعْتُ حَبِيبًا الْمَالِكِيَّ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ يَا أَبَا نُجَيْدٍ إِنَّكُمْ لَتُحَدِّثُونَنَا بِأَحَادِيثَ مَا نَجِدُ لَهَا أَصْلاً فِي الْقُرْآنِ . فَغَضِبَ عِمْرَانُ وَقَالَ لِلرَّجُلِ أَوَجَدْتُمْ فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا دِرْهَمٌ وَمِنْ كُلِّ كَذَا وَكَذَا شَاةً شَاةٌ وَمِنْ كُلِّ كَذَا وَكَذَا بَعِيرًا كَذَا وَكَذَا أَوَجَدْتُمْ هَذَا فِي الْقُرْآنِ قَالَ لاَ . قَالَ فَعَنْ مَنْ أَخَذْتُمْ هَذَا أَخَذْتُمُوهُ عَنَّا وَأَخَذْنَاهُ عَنْ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَذَكَرَ أَشْيَاءَ نَحْوَ هَذَا .

Narrator: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

১৫৬১. মুহাম্মাদ ইবনে বাশাশার (রাহঃ) .... নাসিরা ইবনে আবুল মানযিল (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাবীব আল-মালিকীকে বলতে শুনেছিঃ একদা জনৈক ব্যক্তি ইমরান ইবনে হুসায়েন (রাযিঃ)-কে বলেন, হে আবু নুজায়েদ! আপনারা এমন সব হাদীস বর্ণনা করেন যার ভিত্তি কুরআনের মধ্যে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় না। একথায় ইমরান (রাযিঃ) রাগান্বিত হয়ে তাকে বলেন, তোমরা কি কুরআনে এরূপ কোন নির্দেশ পেয়েছ যে, চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম যাকাত দিতে হবে? এত সংখ্যক ছাগলের জন্য একটি ছাগল যাকাত দিতে হবে? এত সংখ্যক উটের এত যাকাত দিতে হবে? অনুরূপ কোন নির্ধারিত নির্দেশ কুরআনে আছে কি? লোকটি বলল, না। তিনি বলেন, তোমরা এই যাকাতের বিস্তারিত নির্দেশ কোথায় পেয়েছে? তোমরা তা আমাদের নিকটে পেয়েছ এবং আমরা তা নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট পেয়েছি। তিনি এরূপভাবে অন্যান্য বিষয়ের কথাও উল্লেখ করেন।

২. বাণিজ্যিক পণ্যের যাকাত।

باب الْعُرُوضِ إِذَا كَانَتْ لِلتِّجَارَةِ هَلْ فِيهَا مِنْ زَكَاةٍ

1562

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سَعْدِ بْنِ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، حَدَّثَنِي خُبَيْبُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، سُلَيْمَانَ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْمُرُنَا أَنْ نُخْرِجَ الصَّدَقَةَ مِنَ الَّذِي نُعِدُّ لِلْبَيْعِ .

Narrator: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

১৫৬২. মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে খরিদকৃত পণ্যের যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।

৩. গচ্ছিত ধনের এবং অলংকারের যাকাত।

باب الْكَنْزِ مَا هُوَ وَزَكَاةِ الْحُلِيِّ

1563

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، وَحُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، - الْمَعْنَى - أَنَّ خَالِدَ بْنَ الْحَارِثِ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ امْرَأَةً، أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهَا ابْنَةٌ لَهَا وَفِي يَدِ ابْنَتِهَا مَسَكَتَانِ غَلِيظَتَانِ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ لَهَا " أَتُعْطِينَ زَكَاةَ هَذَا " . قَالَتْ لاَ . قَالَ " أَيَسُرُّكِ أَنْ يُسَوِّرَكِ اللَّهُ بِهِمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ سِوَارَيْنِ مِنْ نَارٍ " . قَالَ فَخَلَعَتْهُمَا فَأَلْقَتْهُمَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَتْ هُمَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَلِرَسُولِهِ .

Narrator: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

১৫৬৩. আবু কামিল (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শুআইব (রাহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদা) বলেন, এক মহিলা তার কন্যাসহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খেদমতে উপস্থিত হন। তার কন্যার হাতে মোটা দুই গাছি সোনার কাকন ছিল। তিনি বলেনঃ তোমরা কি যাকাত দাও? মহিলা বলেন, না।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তুমি কি পছন্দ কর যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা এর পরিবর্তে তোমাকে এক জোড়া আগুনের কাঁকন পরিধান করান? রাবী বলেন, একথা শুনে মেয়েটি তার হাত থেকে তা খুলে নবী করীম (ﷺ)-এর সামনে রেখে দিয়ে বলল, এ দুটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

1564

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا عَتَّابٌ، - يَعْنِي ابْنَ بَشِيرٍ - عَنْ ثَابِتِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَلْبَسُ أَوْضَاحًا مِنْ ذَهَبٍ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكَنْزٌ هُوَ فَقَالَ " مَا بَلَغَ أَنْ تُؤَدَّى زَكَاتُهُ فَزُكِّيَ فَلَيْسَ بِكَنْزٍ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

১৫৬৪. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ...... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি স্বর্ণালংকার ব্যবহার করতাম। একদা আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার এই অলংকার “কানয” হিসেবে গণ্য হবে কী? তিনি বলেনঃ যে মালের পরিমাণ এতটা হবে যার উপর যাকাত ধার্য হয়, তার যাকাত দিতে হবে, তা (ভূগর্ভে) গচ্ছিত ধন নয়।*

*জমীনের অভ্যন্তরে প্রোথিত সম্পদকে ‘কান্‌য’ বলে। তা সাধারণ সঞ্চিত সম্পদ হিসেবে গণ্য।
1565

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ الرَّبِيعِ بْنِ طَارِقٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، أَخْبَرَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادِ بْنِ الْهَادِ، أَنَّهُ قَالَ دَخَلْنَا عَلَى عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَأَى فِي يَدِي فَتَخَاتٍ مِنْ وَرِقٍ فَقَالَ " مَا هَذَا يَا عَائِشَةُ " . فَقُلْتُ صَنَعْتُهُنَّ أَتَزَيَّنُ لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " أَتُؤَدِّينَ زَكَاتَهُنَّ " . قُلْتُ لاَ أَوْ مَا شَاءَ اللَّهُ . قَالَ " هُوَ حَسْبُكِ مِنَ النَّارِ " .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ (রহঃ)

১৫৬৫. মুহাম্মাদ ইবনে ইদরীস (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ ইবনুল হাদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) এর খেদমতে উপস্থিত হই। তখন তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট উপস্থিত হয়ে আমার হাতে রূপার বড় বড় আংটি দেখতে পান। তিনি বলেন, হে আয়িশা! এ কি? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার উদ্দেশ্যে রূপচর্চা কারার জন্য তা গড়িয়েছি। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি এর যাকাত পরিশোধ করে থাক? আমি বললাম, না অথবা আল্লাহ পাকের যা ইচ্ছা ছিল। তিনি বলেনঃ তোমাকে দোযখে নিয়ে যাওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট।*

*হানাফী মাযহাব মতে অলংকারের যাকাত দিতে হবে। হযরত উমর, ইবনে মাসউদ, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আব্বাস, আবু মুসা (রাযিঃ) প্রমুখ সাহাবীগণের মতে অলংকার-পত্রের যাকাত দিতে হবে। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব, সাঈদ ইবনে জুবাইর, আতা, ইবনে সীরীন, জাবের ইবনে যায়েদ, মুজাহিদ, যুহরী, সুফিয়ান সাওরী, আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ, দাহ্‌হাক, আলকামা, আসওয়াদ, উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহ) প্রমুখ উপরোক্ত হয় গ্রহণ করেছেন। অপরদিকে ইবনে উমর, জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ, আয়েশা, আনাস ইবনে মালেক, আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) প্রমুখ সাহাবীগণের মতে অলংকার-পত্রের উপর যাকাত ধার্য হবে না। ইমাম মালেক, শাফিঈ, আহমাদ (রাহঃ) প্রমুখ এই মত গ্রহণ করেছেন।
1566

حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُمَرَ بْنِ يَعْلَى، فَذَكَرَ الْحَدِيثَ نَحْوَ حَدِيثِ الْخَاتَمِ . قِيلَ لِسُفْيَانَ كَيْفَ تُزَكِّيهِ قَالَ تَضُمُّهُ إِلَى غَيْرِهِ .

Narrator: বিবিধ

১৫৬৬. সাফওয়ান ইবনে সালেহ (রাহঃ) ..... উমর ইবনে ইয়ালা থেকে এই সূত্রেও আংটি সম্পর্কিত পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসা করা হল, কিভাবে এর যাকাত দিতে হবে? তিনি বলেন, যাকাতের অন্যান্য মালের সাথে যোগ করে।

৪. চরণভূমিতে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পশুর যাকাত।

باب فِي زَكَاةِ السَّائِمَةِ

1567

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، قَالَ أَخَذْتُ مِنْ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسٍ كِتَابًا زَعَمَ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، كَتَبَهُ لأَنَسٍ وَعَلَيْهِ خَاتَمُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ بَعَثَهُ مُصَدِّقًا وَكَتَبَهُ لَهُ فَإِذَا فِيهِ " هَذِهِ فَرِيضَةُ الصَّدَقَةِ الَّتِي فَرَضَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمُسْلِمِينَ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ بِهَا نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم فَمَنْ سُئِلَهَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ عَلَى وَجْهِهَا فَلْيُعْطِهَا وَمَنْ سُئِلَ فَوْقَهَا فَلاَ يُعْطِهِ فِيمَا دُونَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ مِنَ الإِبِلِ الْغَنَمُ فِي كُلِّ خَمْسِ ذَوْدٍ شَاةٌ . فَإِذَا بَلَغَتْ خَمْسًا وَعِشْرِينَ فَفِيهَا بِنْتُ مَخَاضٍ إِلَى أَنْ تَبْلُغَ خَمْسًا وَثَلاَثِينَ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهَا بِنْتُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَثَلاَثِينَ فَفِيهَا بِنْتُ لَبُونٍ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَأَرْبَعِينَ فَفِيهَا حِقَّةٌ طَرُوقَةُ الْفَحْلِ إِلَى سِتِّينَ فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَسِتِّينَ فَفِيهَا جَذَعَةٌ إِلَى خَمْسٍ وَسَبْعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَسَبْعِينَ فَفِيهَا ابْنَتَا لَبُونٍ إِلَى تِسْعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَتِسْعِينَ فَفِيهَا حِقَّتَانِ طَرُوقَتَا الْفَحْلِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ بِنْتُ لَبُونٍ وَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ فَإِذَا تَبَايَنَ أَسْنَانُ الإِبِلِ فِي فَرَائِضِ الصَّدَقَاتِ فَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْجَذَعَةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ جَذَعَةٌ وَعِنْدَهُ حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَأَنْ يَجْعَلَ مَعَهَا شَاتَيْنِ - إِنِ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ - أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ حِقَّةٌ وَعِنْدَهُ جَذَعَةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيُعْطِيهِ الْمُصَدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَ عِنْدَهُ حِقَّةٌ وَعِنْدَهُ ابْنَةُ لَبُونٍ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ مِنْ هَا هُنَا لَمْ أَضْبِطْهُ عَنْ مُوسَى كَمَا أُحِبُّ " وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ - إِنِ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ - أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ بِنْتِ لَبُونٍ وَلَيْسَ عِنْدَهُ إِلاَّ حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ إِلَى هَا هُنَا ثُمَّ أَتْقَنْتُهُ " وَيُعْطِيهِ الْمُصَدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ ابْنَةِ لَبُونٍ وَلَيْسَ عِنْدَهُ إِلاَّ بِنْتُ مَخَاضٍ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَشَاتَيْنِ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ ابْنَةِ مَخَاضٍ وَلَيْسَ عِنْدَهُ إِلاَّ ابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ فَإِنَّهُ يُقْبَلُ مِنْهُ وَلَيْسَ مَعَهُ شَىْءٌ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ إِلاَّ أَرْبَعٌ فَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا وَفِي سَائِمَةِ الْغَنَمِ إِذَا كَانَتْ أَرْبَعِينَ فَفِيهَا شَاةٌ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِيهَا شَاتَانِ إِلَى أَنْ تَبْلُغَ مِائَتَيْنِ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى مِائَتَيْنِ فَفِيهَا ثَلاَثُ شِيَاهٍ إِلَى أَنْ تَبْلُغَ ثَلاَثَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى ثَلاَثِمِائَةٍ فَفِي كُلِّ مِائَةِ شَاةٍ شَاةٌ وَلاَ يُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلاَ ذَاتُ عَوَارٍ مِنَ الْغَنَمِ وَلاَ تَيْسُ الْغَنَمِ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ وَلاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُفْتَرِقٍ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِ فَإِنْ لَمْ تَبْلُغْ سَائِمَةُ الرَّجُلِ أَرْبَعِينَ فَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا وَفِي الرِّقَةِ رُبْعُ الْعُشْرِ فَإِنْ لَمْ يَكُنِ الْمَالُ إِلاَّ تِسْعِينَ وَمِائَةً فَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৫৬৭। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... হাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমি ছুমামা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আনাস (রাযিঃ) এর নিকট থেকে একটি কিতাব (বা পত্র) সংগ্রহ করেছি। তিনি (ছুমামা) ধারণা করেন যে, আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) (খলিফা হওয়ার পরে) এই পত্রখানা আনাস (রাযিঃ)-কে (বাহরাইনে) যাকাত আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রেরণের সময় লিখেন। পত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মোহরাংকিত ছিল। তাতে লেখা ছিল, এটা ফরয যাকাতের ফিরিস্তি, যা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুসলমানদের উপর ধার্য করেছেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে যার নির্দেশ করেছেন। যে মুসলমানের নিকট তা নিয়ম মাফিক চাওয়া হবে, সে তা প্রদান করবে। আর যার নিকট এর অধিক চাওয়া হবে সে তা দেবা না।

পঁচিশটির কম সংখ্যক উটে প্রতি পাঁচটি উটের যাকাত হল একটি বকরী। উটের সংখ্যা পঁচিশ হতে পঁয়ত্রিশের মধ্যে হলে এর যাকাত হবে একটি বিনতে মাখাদ, অর্থাৎ এক বছর বয়সের মাদী উট। পালে যদি এই বয়সের মাদী উট না থাকে তবে একটি ইবনে মাবূন (যার বয়স দুই বছর পূর্ণ হয়ে তিন বছরে পড়বে) প্রদান করবে। উটের সংখ্যা ছত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশের মধ্যে হলে এর জন্য একটি “বিনতে লাবূন” (দুই বছরের মাদী উট) যাকাত স্বরূপ আদায় করতে হবে। উটের সংখ্যা ছেচল্লিশ হতে ষাটের মধ্যে হলে এর জন্য একটি গর্ভ ধারণের উপযোগী চার বৎসর বয়সের মাদী উট প্রদান করতে হবে। উটের সংখ্যা একষট্টি হতে পঁচাত্তরের মধ্যে হলে পাঁচ বৎসর বয়সের একটি মাদী উট যাকাত স্বরূপ দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছিয়াত্তর হতে নব্বইর মধ্যে হলে এর জন্য দুই বৎসর বয়সের দুটি মাদী উট প্রদান করতে হবে। উটের সংখ্যা একানব্বই হতে একশ বিশের মধ্যে হলে এর জন্য গর্ভ ধারণে সক্ষম দুইটি (চার বছর বয়সের) মাদী উট দিতে হবে। উটের সংখ্যা একশত বিশের অধিক হলে (অতিরিক্ত) প্রত্যেক চল্লিশ উটের জন্য একটি করে দুই বছর বয়সের মাদী উট দিতে হবে এবং প্রত্যেক পঞ্চাশ উটের জন্য একটি চার বছর বয়সের মাদী উট দিতে হবে।

যাকাত আদায়কালে নির্দিষ্ট বয়সের উট না থাকলে অর্থাৎ কারো উটের সংখ্যা পাঁচ বছরের একটি মাদী উট প্রদানের সম-পরিমাণ হল, অথচ তার নিকট পাঁচ বছরের মাদী উট নাই, কিন্তু চার বছরের মাদী উট আছে, তখন তার নিকট চার বছরের মাদী উট গ্রহণ করতে হবে এবং এর যাকাত প্রদাতা দুইটি বকরীও দেবে, যদি তা দেওয়া তার জন্য সহজ হয়, অন্যথায় বিশটি দিরহাম দিবে, অতঃপর যার উটের সংখ্যা চার বছরের মাদী উট প্রদানের সম-পরিমাণ হবে, কিন্তু তার নিকট চার বছর বয়সের মাদী উট নাই, অথচ পাঁচ বছর বয়সের মাদী উট আছে, এমতাবস্থায় তার নিকট হতে এটাই গ্রহণ করতে হবে এবং যাকাত উসুলকারী তাকে বিশটি দিরহাম বা দুইটি বকরী প্রদান করবে। অতঃপর যার উটের সংখ্যা চার বছর বয়সের মাদী মাদী উট প্রদানের সমান হবে, অথচ তার নিকট চার বছর বয়সের মাদী উট নাই; কিন্তু তার নিকট দুই বছরের মাদী উট আছে - এমতাবস্থায় এটাই তার নিকট হতে গ্রহণ করতে হবে।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, এখান থেকে আমি রাবী মুসার নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্য আমার আশানুরূপ সঠিকভাবে স্মরণে রাখতে পারিনিঃ “এবং মালিক এর সাথে বিশটি দিরহাম বা দুইটি বকরী প্রদান করবে। অতঃপর যার উটের সংখ্যা দুই বছরের একটি মাদী উট প্রদানের সমপরিমাণ হবে অথচ তার নিকট চার বৎসর বয়সের মাদী উট আছে, এমতাবস্থায় এটাই তার নিকট হতে গ্রহণ করতে হবে।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, এ পর্যন্ত (আমি সন্দিহান), অতঃপর (সামনের অংশ) উত্তমরূপে স্মরণ রেখেছিঃ “এবং যাকাত আদায়কারী ব্যক্তি মালিককে বিশ দিরহাম অথবা দুইটি বকরী প্রদান করবে। অতঃপর যার উটের সংখ্যা দুই বছর বয়সের একটি মাদী উট প্রদানের সমপরিমাণ হবে, অথচ তার নিকট মাত্র এক বছর বয়সের মাদী উট আছে, এমতাবস্থায় এটাই তার নিকট হতে গ্রহণ করতে হবে এবং এর সাথে দুটি বকরী অথবা বিশটি দিরহাম মালিকের নিকট হতে হবে। অতঃপর যার উটের যাকাত এক বছর বয়সের মাদী উট প্রদানে সমতুল্য হবে, অথচ তার নিকট এটা নাই; কিন্তু তার নিকট দুই বছর বয়সের পুরুষ উট আছে; এমতাবস্থায় এটাই তার নিকট হতে গ্রহণ করতে হবে এবং এজন্য কাউকেও কিছু প্রদান করতে হবে না। অতঃপর যার উটের সংখ্যা মাত্র চারটি, তার উপর কোন যাকাত নাই, কিন্তু যদি তার মালিক ইচ্ছা করে তবে দিতে পারে।″

বকরী (ভেড়ার) যাকাতঃ চরণভূমিতে বিচরণকারী বকরীর সংখ্যা সংখ্যা যখন চল্লিশ হতে একশত বিশের মধ্যে হবে, তখন এর জন্য একটি বকরী যাকাত দিতে হবে। অতঃপর যখন এর সংখ্যা একশত বিশ হতে দুইশতের মধ্যে হবে তখন এর জন্য দুইটি বকরী প্রদান করতে হবে। যখন বকরী সংখ্যা দুইশত হতে তিন শতের মধ্যে হবে তখন এর জন্য তিনটি বকরী দিতে হবে। যখন তিন শতের অধিক হবে তখন প্রতি শতকের জন্য একটি বকরী প্রদান করতে হবে। যাকাত হিসাবে কোন ত্রুটিপূর্ণ বকরী অথবা বৃদ্ধ বকরী গ্রহণযোগ্য নয়। অনুরূপভাবে নর ছাগলও যাকাত হিসেবে দেয়া যাবে না, তবে যদি যাকাত আদায়কারী তা স্বেচ্ছায় গ্রহণ করবে।

যাকাত প্রদানের ভয়ে বিচ্ছিন্ন পশু একত্রিত এবং একত্রিত পশু বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। দুই শরীকের উপর যা যাকাত ধার্য হল তা তারা পরস্পরের সম্পত্তির ভিত্তিতে সমানভাবে আদায় করবে। যদি কোন ব্যক্তির বকরীর সংখ্যা চল্লিশ না হয় তবে তার যাকাত দিতে হবে না। অবশ্য যদি এর মালিক স্বেচ্ছায় প্রদান করে তবে ভাল।

রৌপ্যের যাকাতের পরিমাণ হল উশরের চার ভাগের একভাগ (অর্থাৎ চল্লিশ ভাগের এক ভাগ)। যদি কারও নিকট একশত নব্বই দিরহামের অধিক না থাকে তবে তার উপর কোন যাকাত নাই, তবে এর মালিক স্বেচ্ছায় কিছু প্রদান করে তা স্বতন্ত্র কথা।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

1568

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَتَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كِتَابَ الصَّدَقَةِ فَلَمْ يُخْرِجْهُ إِلَى عُمَّالِهِ حَتَّى قُبِضَ فَقَرَنَهُ بِسَيْفِهِ فَعَمِلَ بِهِ أَبُو بَكْرٍ حَتَّى قُبِضَ ثُمَّ عَمِلَ بِهِ عُمَرُ حَتَّى قُبِضَ فَكَانَ فِيهِ " فِي خَمْسٍ مِنَ الإِبِلِ شَاةٌ وَفِي عَشْرٍ شَاتَانِ وَفِي خَمْسَ عَشَرَةَ ثَلاَثُ شِيَاهٍ وَفِي عِشْرِينَ أَرْبَعُ شِيَاهٍ وَفِي خَمْسٍ وَعِشْرِينَ ابْنَةُ مَخَاضٍ إِلَى خَمْسٍ وَثَلاَثِينَ فَإِنْ زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا ابْنَةُ لَبُونٍ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا حِقَّةٌ إِلَى سِتِّينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا جَذَعَةٌ إِلَى خَمْسٍ وَسَبْعِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا ابْنَتَا لَبُونٍ إِلَى تِسْعِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا حِقَّتَانِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِنْ كَانَتِ الإِبِلُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ وَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ ابْنَةُ لَبُونٍ وَفِي الْغَنَمِ فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ شَاةً شَاةٌ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِنْ زَادَتْ وَاحِدَةً فَشَاتَانِ إِلَى مِائَتَيْنِ فَإِنْ زَادَتْ وَاحِدَةً عَلَى الْمِائَتَيْنِ فَفِيهَا ثَلاَثُ شِيَاهٍ إِلَى ثَلاَثِمِائَةٍ فَإِنْ كَانَتِ الْغَنَمُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَفِي كُلِّ مِائَةِ شَاةٍ شَاةٌ وَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ حَتَّى تَبْلُغَ الْمِائَةَ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ وَلاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ مَخَافَةَ الصَّدَقَةِ وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِ وَلاَ يُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلاَ ذَاتُ عَيْبٍ " . قَالَ وَقَالَ الزُّهْرِيُّ إِذَا جَاءَ الْمُصَدِّقُ قُسِمَتِ الشَّاءُ أَثْلاَثًا ثُلُثًا شِرَارًا وَثُلُثًا خِيَارًا وَثُلُثًا وَسَطًا فَأَخَذَ الْمُصَدِّقُ مِنَ الْوَسَطِ وَلَمْ يَذْكُرِ الزُّهْرِيُّ الْبَقَرَ .

Narrator: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

১৫৬৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... সালেম (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (বিভিন্ন এলাকার) যাকাত আদায়কারী কর্মকর্তাদের নিকট পত্র লিখে তা প্রেরণের পূর্বেই ইনতিকাল করেন। তিনি নির্দেশনাখানি নিজের তরবারির সাথে লাগিয়ে রেখেছিলেন। অতঃপর আবু বকর (রাযিঃ) (খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর) মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তদনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অতঃপর উমর (রাযিঃ)-ও মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তদানুযায়ী আমল করেন। উক্ত পত্রের বিষয়বস্তু হলঃ

পাঁচটি উটের যাকাত হল একটি বকরী, এবং দশটি উটের যাকাত হল দুটি বকরী, পনেরটি উটের জন্য তিনটি, বিশটির জন্য চারটি, পঁচিশের জন্য এক বছর বয়সের একটি মাদী উট এবং তা পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত। অতঃপর একটি বৃদ্ধি হলে অর্থাৎ ছত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত সংখ্যক উটের জন্য একটি দুই বছর বয়সের মাদী উট প্রদান করতে হবে। যখন এর উপর এটি বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ ছেচল্লিশ হতে ষাট পর্যন্ত উটের সংখ্যার জন্য গর্ভধারণক্ষম চার বছর বয়সের একটি মাদী উট যাকাত দিতে হবে। যদি এর উপর একটি বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ একষট্টি হতে পঁচাত্তর পর্যন্ত উটের সংখ্যার জন্য পাঁচ বছর বয়সের একটি মাদী উট দিতে হবে। যখন এর সংখ্যা একটি বৃদ্ধি হবে, অর্থাৎ উটের সংখ্যা ছিয়াত্তর হতে নব্বই হলে এর জন্য দুটি দুই বছর বয়সের মাদী উট দিতে হবে। অতঃপর যদি এর উপর একটি বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ একানব্বই হতে একশত বিশটি উট হলে গর্ভধারণ উপযোগী দুটি চার বছর বয়সের মাদী উট দিতে হবে। অতঃপর উটের সংখ্যা যদি তারও অধিক হয় তবে প্রত্যেক পঞ্চাশের জন্য একটি চার বছর বয়সের মাদী উট প্রদান করতে হবে এবং প্রত্যেক চল্লিশ উটের জন্য একটি দুই বছর বয়সের মাদী উট দিতে হবে।

বকরীর ক্ষেত্রে চল্লিশ হতে একশত বিশটি বকরীর যাকাত হল একটি বকরী। যদি এর উপর একটি বৃদ্ধি হয়, তবে দুইশত পর্যন্ত দুইটি বকরী দিতে হবে। এর উপর একটি বৃদ্ধি হলে তিনশত পর্যন্ত তিনটি বকরী প্রদান করতে হবে এবং একশত পূর্ণ না হলে এর উপর যাকাত দিতে হবে না। যাকাত প্রদানের ভয়ে বিচ্ছিন্নকে একত্রিত ও একত্রিতকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না এবং দুই শরীকের উপর যে যাকাত নির্ধারিত হবে তা তারা পরস্পর সমান অংশে প্রদান করবে। যাকাত গ্রহণকারী যাকাত বাবদ বৃদ্ধি পশু গ্রহণ করবে না এবং ত্রুটিযুক্ত পশুও গ্রহণ করবে না।

রাবী সুফিয়ান বলেনঃ ইমাম যুহরী (রাহঃ) বলেছেন, যাকাত আদায়কারী উপস্থিত হলে বকরীসমূহ তিনভাগে বিভক্ত করবে। একভাগে নিকৃষ্টগুলি, একভাগে উত্তমগুলি এবং অপর ভাগে মধ্যম শ্রেণীরগুলি। যাকাত আদায়কারী মধ্যম শ্রেণীর অংশ হতে যাকাত গ্রহণ করবে। ইমাম যুহরী (রাহঃ) গরু সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেন নাই।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

1569

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْوَاسِطِيُّ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ قَالَ " فَإِنْ لَمْ تَكُنِ ابْنَةُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ " . وَلَمْ يَذْكُرْ كَلاَمَ الزُّهْرِيِّ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৫৬৯. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... সুফিয়ান ইবনে হুসায়েন (রাহঃ) থেকে এই সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এই বর্ণনায় আরো আছেঃ যদি এক বছর বয়সের মাদী উট না থাকে তবে দুই বছর বয়সের নর উট দিতে হবে। তিনি এই বর্ণনায় ইমাম যুহরীর কথা উল্লেখ করেন নাই।

1570

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ هَذِهِ نُسْخَةُ كِتَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي كَتَبَهُ فِي الصَّدَقَةِ وَهِيَ عِنْدَ آلِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ أَقْرَأَنِيهَا سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَوَعَيْتُهَا عَلَى وَجْهِهَا وَهِيَ الَّتِي انْتَسَخَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ وَسَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ " فَإِذَا كَانَتْ إِحْدَى وَعِشْرِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا ثَلاَثُ بَنَاتِ لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَعِشْرِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ ثَلاَثِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا بِنْتَا لَبُونٍ وَحِقَّةٌ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَثَلاَثِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ أَرْبَعِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا حِقَّتَانِ وَبِنْتُ لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَأَرْبَعِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ خَمْسِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا ثَلاَثُ حِقَاقٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَخَمْسِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ سِتِّينَ وَمِائَةً فَفِيهَا أَرْبَعُ بَنَاتِ لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَسِتِّينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ سَبْعِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا ثَلاَثُ بَنَاتِ لَبُونٍ وَحِقَّةٌ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَسَبْعِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ ثَمَانِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا حِقَّتَانِ وَابْنَتَا لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَثَمَانِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ تِسْعِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا ثَلاَثُ حِقَاقٍ وَبِنْتُ لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَتِسْعِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ مِائَتَيْنِ فَفِيهَا أَرْبَعُ حِقَاقٍ أَوْ خَمْسُ بَنَاتِ لَبُونٍ أَىُّ السِّنَّيْنِ وُجِدَتْ أُخِذَتْ وَفِي سَائِمَةِ الْغَنَمِ " . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ وَفِيهِ " وَلاَ يُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلاَ ذَاتُ عَوَارٍ مِنَ الْغَنَمِ وَلاَ تَيْسُ الْغَنَمِ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ " .

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

১৫৭০. মুহাম্মাদ ইবনু আলা (রাহঃ) ..... ইবনে শিহাব (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন এটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যাকাতের নির্দেশনামা যা তিনি যাকাত সম্পর্কে লিখেছিলেন এবং পরবর্তীকালে এই নির্দেশনামা ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) এর বংশধরগণের নিকট সংরক্ষিত ছিল। রাবী ইবনে শিহাব বলেনঃ

সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাহঃ) আমার নিকট তা পাঠ করেন এবং আমি তৎক্ষণাৎ তা হুবহু মুখস্থ করি। এটা ঐ নির্দেশনামা যা উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর এবং সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) এর নিকট হতে কপি করিয়ে নিয়েছিলেন। অতঃপর রাবী পূর্বোক্ত হাদীসের বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, যখন উটের সংখ্যা একশত একুশ হতে একশত উনত্রিশটি হবে তখন এর যাকাত বাবত দুই বছর বয়সের তিনটি মাদি উট দিতে হবে।

অতঃপর উটের সংখ্যা একশত ত্রিশ হতে একশত উনচল্লিশের মধ্যে হলে এর জন্য দুইটি দুই বছর বয়সের মাদী উট এবং তিন বছর বয়সের একটি মাদি উট প্রদান করতে হবে। উটের সংখ্যা একশত চল্লিশ হতে একশত উনপঞ্চাশ হলে এর জন্য তিন বছর বয়সের দুটি ও দুই বছর বয়সের একটি মাদী উট দিতে হবে। উটের সংখ্যা একশত পঞ্চশ হতে একশত উনষাট হলে এর জন্য তিন বছর বয়সের তিনটি মাদী উট দিতে হবে। অতঃপর উটের সংখ্যা একশত ষাট হতে একশত উনসত্তর হলে এর জন্য দুই বছর বয়সের চারটি মাদী উট প্রদান করতে হবে।

উটের সংখ্যা একশত সত্তর হতে একশত উনআশী হলে এর জন্য দুই বছর বয়সের তিনটি ও তিন বছর বয়সের একটি মাদী উট দিতে হবে। উটের সংখ্যা একশত আশি হতে একশত উনানব্বই হলে এর জন্য তিন বছর বয়সের দুইটি এবং দুই বছর বয়সের দুইটি উট প্রদান করতে হবে। উটের সংখ্যা একশত নব্বই হতে একশত নিরানব্বই হলে এর জন্য তিন বছর বয়সের তিনটি এবং দুই বছর বয়সের একটি উট দিতে হবে। অতঃপর উটের সংখ্যা দুইশত হলে এর জন্য তিন বছর বয়সের চারটি অথবা দুই বছর বয়সের পাঁচটি মাদী উট দিতে হবে এবং এই দুইটির মধ্যে যেটি সহজলভ্য হবে তাই নেয়া হবে।

বকরীর যাকাত সম্পর্কে রাবী সুফিয়ান ইবনে হুসাইনের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে আরো উল্লেখ আছেঃ বৃদ্ধা এবং ত্রুটিপূর্ণ বকরী যাকাত হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং নর ছাগলও যাকাত হিসাবে দেওয়া যাবে না, তবে যাকাত আদায়কারি যদি তা গ্রহণ করতে সম্মত হয় তবে কোন আপত্তি নাই।
1571

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ قَالَ مَالِكٌ وَقَوْلُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه لاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ . هُوَ أَنْ يَكُونَ لِكُلِّ رَجُلٍ أَرْبَعُونَ شَاةً فَإِذَا أَظَلَّهُمُ الْمُصَدِّقُ جَمَعُوهَا لِئَلاَّ يَكُونَ فِيهَا إِلاَّ شَاةٌ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ . أَنَّ الْخَلِيطَيْنِ إِذَا كَانَ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةُ شَاةٍ وَشَاةٌ فَيَكُونُ عَلَيْهِمَا فِيهَا ثَلاَثُ شِيَاهٍ فَإِذَا أَظَلَّهُمَا الْمُصَدِّقُ فَرَّقَا غَنَمَهُمَا فَلَمْ يَكُنْ عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا إِلاَّ شَاةٌ فَهَذَا الَّذِي سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৫৭১. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) বলেন, ইমাম মালেক (রাহঃ) বলেছেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে বিচরণকারী পশুকে একত্রিত এবং একত্রে অবস্থানকারী বিচ্ছিন্ন করে যাকাত দেওয়া বা নেওয়া যাবে না। যেমন মালিকের পৃথক পৃথকভাবে চল্লিশটি করে বকরী আছে। এমতাবস্থায় যাকাত আদায়কারী তাদের নিকট উপস্থিত হলে তারা দুজনের একত্রিত করল যাতে একটির অধিক যাকাত দিতে না হয় (অবশ্য পৃথকভাবে যাকাত ধার্য করলে দুইটি বকরী যাকাত হিসাবে দিতে হত)। অনন্তর একত্রিত পশুকে পৃথক করা যাবে না। যেমন দুই যৌথ মালিকের প্রত্যেকের একশত একটি করে বকরী আছে। এমতাবস্থায় (মোট বকরীর সংখ্যা দুইশত দুইটি হওয়ার কারণে) তাদের উপর তিনটি বকরী যাকাত ধার্য করা হবে। রাবী বলেন, এর ব্যাখ্যা আমি এইরূপ শুনেছি।

1572

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، وَعَنِ الْحَارِثِ الأَعْوَرِ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ زُهَيْرٌ أَحْسَبُهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " هَاتُوا رُبْعَ الْعُشُورِ مِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا دِرْهَمٌ وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ شَىْءٌ حَتَّى تَتِمَّ مِائَتَىْ دِرْهَمٍ فَإِذَا كَانَتْ مِائَتَىْ دِرْهَمٍ فَفِيهَا خَمْسَةُ دَرَاهِمَ فَمَا زَادَ فَعَلَى حِسَابِ ذَلِكَ وَفِي الْغَنَمِ فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ شَاةً شَاةٌ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ إِلاَّ تِسْعًا وَثَلاَثِينَ فَلَيْسَ عَلَيْكَ فِيهَا شَىْءٌ " . وَسَاقَ صَدَقَةَ الْغَنَمِ مِثْلَ الزُّهْرِيِّ قَالَ " وَفِي الْبَقَرِ فِي كُلِّ ثَلاَثِينَ تَبِيعٌ وَفِي الأَرْبَعِينَ مُسِنَّةٌ وَلَيْسَ عَلَى الْعَوَامِلِ شَىْءٌ وَفِي الإِبِلِ " . فَذَكَرَ صَدَقَتَهَا كَمَا ذَكَرَ الزُّهْرِيُّ قَالَ " وَفِي خَمْسٍ وَعِشْرِينَ خَمْسَةٌ مِنَ الْغَنَمِ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا ابْنَةُ مَخَاضٍ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ بِنْتُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ إِلَى خَمْسٍ وَثَلاَثِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا بِنْتُ لَبُونٍ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا حِقَّةٌ طَرُوقَةُ الْجَمَلِ إِلَى سِتِّينَ " . ثُمَّ سَاقَ مِثْلَ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ قَالَ " فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً - يَعْنِي وَاحِدَةً وَتِسْعِينَ - فَفِيهَا حِقَّتَانِ طَرُوقَتَا الْجَمَلِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِنْ كَانَتِ الإِبِلُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ وَلاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُفْتَرِقٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ وَلاَ تُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلاَ ذَاتُ عَوَارٍ وَلاَ تَيْسٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ وَفِي النَّبَاتِ مَا سَقَتْهُ الأَنْهَارُ أَوْ سَقَتِ السَّمَاءُ الْعُشْرُ وَمَا سَقَى الْغَرْبُ فَفِيهِ نِصْفُ الْعُشْرِ " . وَفِي حَدِيثِ عَاصِمٍ وَالْحَارِثِ " الصَّدَقَةُ فِي كُلِّ عَامٍ " . قَالَ زُهَيْرٌ أَحْسَبُهُ قَالَ " مَرَّةً " . وَفِي حَدِيثِ عَاصِمٍ " إِذَا لَمْ يَكُنْ فِي الإِبِلِ ابْنَةُ مَخَاضٍ وَلاَ ابْنُ لَبُونٍ فَعَشَرَةُ دَرَاهِمَ أَوْ شَاتَانِ " .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৫৭২. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আন-নুফায়লী (রাহঃ) ...... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাবী যুহায়ের বলেন, আমার ধারণা এই হাদীস নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা প্রতি চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম যাকাত আদায় করবে এবং দুইশত দিরহাম পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের প্রতি কিছুই যাকাত নাই। দুইশত দিরহাম পূর্ণ হলে এর যাকাত হবে পাঁচ দিরহাম এবং এর অতিরিক্ত হলে তার যাকাত উপরোক্ত হিসবে প্রদান করতে হবে।

বকরীর যাকাত হিসাবে—প্রতি চল্লিশটি বকরীর জন্য একটি বকরী দিতে হবে। যদি বকরীর সংখ্যা উনচল্লিশ হয় তবে যাকাত হিসেবে তোমার উপর কিছু ওয়াজিব নয়। রাবী (আবু ইসহাক) বকরীর যাকাত সম্পর্কে ইমাম যুহরীর বর্ণিত উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

রাবী ইসহাক গরুর যাকাত সম্পর্কে বলেনঃ প্রত্যেক ত্রিশটি গরুর জন্য যাকাত হিসাবে একটি এক বছর বয়সের বাচ্চা দিতে হবে এবং গরুর সংখ্যা চল্লিশ হলে দুই বছর বয়সের একটি বাচ্চা দিতে হবে এবং কর্মে নিয়োজিত গরুর উপর কোন যাকাত নাই। তিনি উটের যাকাত সম্পর্কে ইমাম যুহরীর অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেনঃ পঁচিশটি উটের জন্য পাঁচটি বকরী যাকাত দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছাব্বিশ হতে পঁয়তাল্লিশটির মধ্যে হলে এর যাকাত হিসাবে এক বছর বয়সের একটি মাদী উট দিতে হবে। যাদি মাদী উট না থাকে তবে দুই বছর বয়সের একটি পুরুষ উট দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশের মধ্যে হলে এর জন্য দুই বছর বয়সের একটি মাদী উট দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছেচল্লিশ হতে ষাট হলে গর্ভধারণের উপযোগী একটি চার বছর বয়সের মাদী উট প্রদান করতে হবে। অতঃপর রাবী ইমাম যুহরীর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। উটের সংখ্যা একানব্বই হতে একশত বিশ এর যাকাত স্বরূপ গর্ভধারণের উপযোগী চার বছর বয়সের দুইটি উট দিতে হবে। অতঃপর উটের সংখ্যা এর অধিক হলে প্রতি পঞ্চাশ উটের জন্য চার বছর বয়সের একটি মাদী উট প্রদান করতে হবে। যাকাত দেওয়ার ভয়ে একত্রে বিচরণকারী উটগুলিকে বিচ্ছিন্ন করা এবং বিচ্ছিন্নভাবে বিচরণকরী উটকে একত্রিত করা যাবে না। যাকাত হিসাবে বৃদ্ধ ও ত্রুটিপূর্ণ উট গ্রহণযোগ্য নয়। অবশ্য যাকাত আদায়কারী ইচ্ছা করলে তা গ্রহণ করতে পারে।

যে সমস্ত কৃষিভূমি প্রাকৃতিক নিয়মে বৃষ্টি অথবা নদীর পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয়, তার ফসলের দশ ভাগের এক ভাগ যাকাত হিসাবে প্রদান করতে হবে। আর যা সেচ যন্ত্রের দ্বারা সিঞ্চিত হয়, তার জন্য বিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত দিতে হবে।

রাবী আসেম ও হারীছের বর্ণনামতে প্রতি বছরই যাকাত দিতে হবে। রাবী আসেমের হাদীসে আরো উল্লেখ আছে যে, যদি এক বছর বয়সী মাদী উট অথবা দুই বছর বয়সী নর উট না থাকে তবে এর পরিবর্তে দশ দিরহাম অথবা দুইটি বকরী (ছাগল) প্রদান করতে হবে।
1573

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، وَسَمَّى، آخَرَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، وَالْحَارِثِ الأَعْوَرِ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِبَعْضِ أَوَّلِ هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ " فَإِذَا كَانَتْ لَكَ مِائَتَا دِرْهَمٍ وَحَالَ عَلَيْهَا الْحَوْلُ فَفِيهَا خَمْسَةُ دَرَاهِمَ وَلَيْسَ عَلَيْكَ شَىْءٌ - يَعْنِي فِي الذَّهَبِ - حَتَّى يَكُونَ لَكَ عِشْرُونَ دِينَارًا فَإِذَا كَانَ لَكَ عِشْرُونَ دِينَارًا وَحَالَ عَلَيْهَا الْحَوْلُ فَفِيهَا نِصْفُ دِينَارٍ فَمَا زَادَ فَبِحِسَابِ ذَلِكَ " . قَالَ فَلاَ أَدْرِي أَعَلِيٌّ يَقُولُ فَبِحِسَابِ ذَلِكَ . أَوْ رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " وَلَيْسَ فِي مَالٍ زَكَاةٌ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ " . إِلاَّ أَنَّ جَرِيرًا قَالَ ابْنُ وَهْبٍ يَزِيدُ فِي الْحَدِيثِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ فِي مَالٍ زَكَاةٌ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ " .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৫৭৩. সুলাইমান ইবনে দাউদ আল--মোহরী (রাহঃ) ...... আলী (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। এতে পূর্বোক্ত হাদীসের কিছু অংশ আছে। তিনি (নবী (ﷺ)) বলেনঃ যদি তোমার নিকট এক বছরের জন্য দুইশত দিরহাম থাকে, তবে বৎসরান্তে এর জন্য পাঁচ দিরহাম যাকাত দিতে হবে। বিশ দীনারের কম পরিমাণ স্বর্ণে যাকাত ওয়াজিব নয়। অতঃপর যদি কোন ব্যক্তির নিকট বিশ দীনার পরিমাণ স্বর্ণ এক বছর পর্যন্ত থাকে তবে এর জন্য অর্ধ-দীনার যাকাত দিতে হবে। আর যদি এর পরিমাণ আরো বেশী হয় তবে উক্ত হিসাব অনুযায়ী যাকাত দিতে হবে। রাবী বলেনঃ এর চাইতে অধিক হলে উক্ত হিসাব অনুযায়ী যাকাত দিতে হবে। এই বাক্যটি আলী (রাযিঃ) এর না রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তা আমার জানা নাই। কোন মালের উপর এক বছর পূর্ণ না হলে তার জন্য যাকাত ওয়াজিব নয়।

রাবী ইবনে ওয়াহাবের বর্ণনায় আরো আছে, নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ যে মালের উপর এক বছর পূর্ণ হয় না তার কোন যাকাত নাই।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

1574

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ عَفَوْتُ عَنِ الْخَيْلِ وَالرَّقِيقِ فَهَاتُوا صَدَقَةَ الرِّقَةِ مِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا دِرْهَمٌ وَلَيْسَ فِي تِسْعِينَ وَمِائَةٍ شَىْءٌ فَإِذَا بَلَغَتْ مِائَتَيْنِ فَفِيهَا خَمْسَةُ دَرَاهِمَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ الأَعْمَشُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ كَمَا قَالَ أَبُو عَوَانَةَ وَرَوَاهُ شَيْبَانُ أَبُو مُعَاوِيَةَ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى حَدِيثَ النُّفَيْلِيِّ شُعْبَةُ وَسُفْيَانُ وَغَيْرُهُمَا عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ عَلِيٍّ لَمْ يَرْفَعُوهُ أَوْقَفُوهُ عَلَى عَلِيٍّ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৫৭৪. আমর ইবনে আওন (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ ঘোড়া ও দাস-দাসীর যাকাত মাফ করা হয়েছে এবং চল্লিশ তোলা রৌপ্যের যাকাত হল এক দিরহাম বা এক তোলা। আর একশত নিরানব্বই তোলা পর্যন্ত রৌপ্যের কোন যাকাত নাই। অতঃপর রৌপ্যের পরিমাণ দুইশত তোলা হলে পাঁচ দিরহাম যাকাত দিতে হবে (প্রতি চল্লিশ তোলায় এক তোলা হিসাবে)।

Reference: সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

1575

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فِي كُلِّ سَائِمَةِ إِبِلٍ فِي أَرْبَعِينَ بِنْتُ لَبُونٍ وَلاَ يُفَرَّقُ إِبِلٌ عَنْ حِسَابِهَا مَنْ أَعْطَاهَا مُؤْتَجِرًا " . قَالَ ابْنُ الْعَلاَءِ " مُؤْتَجِرًا بِهَا " . " فَلَهُ أَجْرُهَا وَمَنْ مَنَعَهَا فَإِنَّا آخِذُوهَا وَشَطْرَ مَالِهِ عَزْمَةً مِنْ عَزَمَاتِ رَبِّنَا عَزَّ وَجَلَّ لَيْسَ لآلِ مُحَمَّدٍ مِنْهَا شَىْءٌ " .

Narrator: বাহয ইবনে হাকীম (রহঃ)

১৫৭৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... বাহয ইবনে হাকীম (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ প্রতি চল্লিশটি ছাড়া উটের যাকাত একটি দুই বছর বয়সী মাদী উট। যে ব্যক্তি সাওয়াব প্রাপ্তির আশা রাখে সে যেন একত্রে বিচরণকারী উটকে বিচ্ছিন্ন না করে।

রাবী ইবনুল আলার বর্ণনায় আছেঃ যে ব্যক্তি সাওয়াবের আশা রাখে, সে অবশ্যই তা প্রাপ্ত হবে। যে ব্যক্তি যাকাত প্রদানে বিরত থাকে, আমি তা (যাকাত) তার নিকট হতে আদায় করব এবং যাকাত মহান আল্লাহ রাব্বুল আলমীনের প্রাপ্য। আর মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর বংশধরগণের জন্য এতে কোন অংশ নাই।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

1576

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مُعَاذٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا وَجَّهَهُ إِلَى الْيَمَنِ أَمَرَهُ أَنْ يَأْخُذَ مِنَ الْبَقَرِ مِنْ كُلِّ ثَلاَثِينَ تَبِيعًا أَوْ تَبِيعَةً وَمِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ مُسِنَّةً وَمِنْ كُلِّ حَالِمٍ - يَعْنِي مُحْتَلِمًا - دِينَارًا أَوْ عِدْلَهُ مِنَ الْمَعَافِرِ ثِيَابٌ تَكُونُ بِالْيَمَنِ .

Narrator: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

১৫৭৬. আন-নুফায়লী (রাহঃ) ..... মুআয (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) তাঁকে য়ামনে প্রেরণের সময় এইরূপ নির্দেশ দেন যে, প্রতি ত্রিশটি বকরীর জন্য একটি বকরী যাকাত হিসাবে গ্রহণ করবে। আর প্রতি চল্লিশটি বকরীর জন্য একটি দুই বছর বয়সী বকরী যাকাত হিসাবে গ্রহণ করবে এবং যিম্মী হলে প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়ষ্ক ব্যক্তির নিকট হতে (কর হিসাবে) এক দীনার অথবা তার সমপরিমাণ মূল্যের কাপড়, যা ইয়ামনে তৈরী হয় - গ্রহণ করবে।

Reference: সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

1577

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَالنُّفَيْلِيُّ، وَابْنُ الْمُثَنَّى، قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ مُعَاذٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .

Narrator: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

১৫৭৭. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... মুআয (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী করীম (ﷺ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

1578

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَبِي الزَّرْقَاءِ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ بَعَثَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْيَمَنِ فَذَكَرَ مِثْلَهُ لَمْ يَذْكُرْ ثِيَابًا تَكُونُ بِالْيَمَنِ . وَلاَ ذَكَرَ يَعْنِي مُحْتَلِمًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ جَرِيرٌ وَيَعْلَى وَمَعْمَرٌ وَشُعْبَةُ وَأَبُو عَوَانَةَ وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ مَسْرُوقٍ - قَالَ يَعْلَى وَمَعْمَرٌ - عَنْ مُعَاذٍ مِثْلَهُ .

Narrator: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

১৫৭৮। হারূন ইবনে যায়দ (রাহঃ) .... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) তাঁকে ইয়ামানে প্রেরণ করেন। অতঃপর উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এই বর্ণনায় ইয়ামানে তৈরী কাপড়ের বিষয় উল্লেখ নাই এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের সম্পর্কে কছু বর্ণনা নাই।

1579

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ خَبَّابٍ، عَنْ مَيْسَرَةَ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ، قَالَ سِرْتُ أَوْ قَالَ أَخْبَرَنِي مَنْ، سَارَ مَعَ مُصَدِّقِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَنْ لاَ تَأْخُذْ مِنْ رَاضِعِ لَبَنٍ وَلاَ تَجْمَعْ بَيْنَ مُفْتَرِقٍ وَلاَ تُفَرِّقْ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ " . وَكَانَ إِنَّمَا يَأْتِي الْمِيَاهَ حِينَ تَرِدُ الْغَنَمُ فَيَقُولُ أَدُّوا صَدَقَاتِ أَمْوَالِكُمْ . قَالَ فَعَمَدَ رَجُلٌ مِنْهُمْ إِلَى نَاقَةٍ كَوْمَاءَ - قَالَ - قُلْتُ يَا أَبَا صَالِحٍ مَا الْكَوْمَاءُ قَالَ عَظِيمَةُ السَّنَامِ - قَالَ - فَأَبَى أَنْ يَقْبَلَهَا قَالَ إِنِّي أُحِبُّ أَنْ تَأْخُذَ خَيْرَ إِبِلِي . قَالَ فَأَبَى أَنْ يَقْبَلَهَا قَالَ فَخَطَمَ لَهُ أُخْرَى دُونَهَا فَأَبَى أَنْ يَقْبَلَهَا ثُمَّ خَطَمَ لَهُ أُخْرَى دُونَهَا فَقَبِلَهَا وَقَالَ إِنِّي آخِذُهَا وَأَخَافُ أَنْ يَجِدَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِي عَمَدْتَ إِلَى رَجُلٍ فَتَخَيَّرْتَ عَلَيْهِ إِبِلَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ هُشَيْمٌ عَنْ هِلاَلِ بْنِ خَبَّابٍ نَحْوَهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ " لاَ يُفَرِّقْ " .

Narrator: সুওয়াইদ ইবনে গাফালা (রহঃ)

১৫৭৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... সুওয়ায়েদ ইবনে গাফালাহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি স্বয়ং সফর করেছি অথবা তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর যাকাত আদায়কারীর সাথে সফর করেছেন তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তার নিকট নবী করীম (ﷺ)-এর একখানি পত্র আছে যাতে লিখিত ছিলঃ দুগ্ধপোষ্য বাচ্চার যাকাত গ্রহণ করতে হবে না এবং বিচ্ছিন্নভাবে বিচরণকারী পশুকে একত্রিত করবে না এবং একত্রে বিচরণকারী পশুকেও বিচ্ছিন্ন করবে না।

রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যাকাত উসুলকারী কর্মকর্তা মেশ পালের পানি পান করাবার স্থানে উপস্থিত থাকতেন এবং বলতেনঃ তোমরা তোমাদের মালের যাকাত প্রদান কর। অতঃপর তাদের এক ব্যক্তি একটি 'কাওমা' যাকাতস্বরূপ দিতে চাইল। রাবী বলেন, আমি তাকে (মায়সারাকে) জিজ্ঞাসা করি, কওমা কাকে বলে? তিনি বলেন, তা হল উঁচু কুজ বিশিষ্ট উষ্ট্রি। যাকাত আদায়কারী তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। উটের মালিক বলল, আমি পছন্দ করি যে, আপনি আমার উত্তম মাল যাকাত হিসাবে গ্রহণ করবেন। এতদসত্ত্বেও যাকাত উসুলকারী তা গ্রহণে তা গ্রহণে অসম্মতি জ্ঞাপন করে কেননা নবী করীম (ﷺ) উত্তম মাল যাকাত হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেন।

অতঃপর সে ব্যক্তি অপর একটি উট (সামান্য নিম্নমানের) টেনে আনলে যাকাত উসুলকারী তাও গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। অতঃপর সে ব্যক্তি অপর একটি উট (আরও নিম্ন মানের) টেনে তার সম্মুখে পেশ করলে সে তা কবুল করে এবং বলে, আমি এটা গ্রহণ করলাম। অতঃপর তিনি আরো বলেন, আমি এজন্য ভয় করেছিলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার উপর এজন্য রাগান্বিত হতে পারেন যে, তুমি এক ব্যক্তির উত্তম উট যাকাত হিসাবে কেন গ্রহণ করলে?

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

1580

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي لَيْلَى الْكِنْدِيِّ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ، قَالَ أَتَانَا مُصَدِّقُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ وَقَرَأْتُ فِي عَهْدِهِ " لاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُفْتَرِقٍ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ " . وَلَمْ يَذْكُرْ " رَاضِعَ لَبَنٍ " «قال أبو داود: بين لا تجمع ولا يجمع حكم»

Narrator: সুওয়াইদ ইবনে গাফালা (রহঃ)

১৫৮০. মুহাম্মাদ ইবনে সাব্বাহ (রাহঃ) ..... সুওয়ায়েদ ইবনে গাফালা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম (ﷺ)-এর যাকাত উসুলকারী জনৈক ব্যক্তি আমাদের নিকট এলে আমি তাঁর সাথে মোসাফাহা করি। অতঃপর আমি তাঁর নিকট যাকাত সম্পর্কীয় যে নির্দেশনামা ছিল তাতে এই বিষয়টি পাঠ করিঃ যাকাত আদায়ের ভয়ে তোমরা বিচ্ছিন্নভাবে বিচরণকারী পশুকে একত্রিত করবে না এবং একত্রে বিচরণকারীদের বিচ্ছিন্ন করবে না এবং তাতে দুগ্ধপোষ্য বাচ্চার যাকাত সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ ছিল না।

1581

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ إِسْحَاقَ الْمَكِّيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي سُفْيَانَ الْجُمَحِيِّ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ ثَفِنَةَ الْيَشْكُرِيِّ، - قَالَ الْحَسَنُ رَوْحٌ يَقُولُ مُسْلِمُ بْنُ شُعْبَةَ - قَالَ اسْتَعْمَلَ نَافِعُ بْنُ عَلْقَمَةَ أَبِي عَلَى عِرَافَةِ قَوْمِهِ فَأَمَرَهُ أَنْ يُصَدِّقَهُمْ قَالَ فَبَعَثَنِي أَبِي فِي طَائِفَةٍ مِنْهُمْ فَأَتَيْتُ شَيْخًا كَبِيرًا يُقَالُ لَهُ سَعْرُ بْنُ دَيْسَمٍ فَقُلْتُ إِنَّ أَبِي بَعَثَنِي إِلَيْكَ - يَعْنِي لأُصَدِّقَكَ - قَالَ ابْنَ أَخِي وَأَىَّ نَحْوٍ تَأْخُذُونَ قُلْتُ نَخْتَارُ حَتَّى إِنَّا نَتَبَيَّنُ ضُرُوعَ الْغَنَمِ . قَالَ ابْنَ أَخِي فَإِنِّي أُحَدِّثُكَ أَنِّي كُنْتُ فِي شِعْبٍ مِنْ هَذِهِ الشِّعَابِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَنَمٍ لِي فَجَاءَنِي رَجُلاَنِ عَلَى بَعِيرٍ فَقَالاَ لِي إِنَّا رَسُولاَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْكَ لِتُؤَدِّيَ صَدَقَةَ غَنَمِكَ . فَقُلْتُ مَا عَلَىَّ فِيهَا فَقَالاَ شَاةٌ . فَأَعْمِدُ إِلَى شَاةٍ قَدْ عَرَفْتُ مَكَانَهَا مُمْتَلِئَةً مَحْضًا وَشَحْمًا فَأَخْرَجْتُهَا إِلَيْهِمَا . فَقَالاَ هَذِهِ شَاةُ الشَّافِعِ وَقَدْ نَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَأْخُذَ شَافِعًا . قُلْتُ فَأَىَّ شَىْءٍ تَأْخُذَانِ قَالاَ عَنَاقًا جَذَعَةً أَوْ ثَنِيَّةً . قَالَ فَأَعْمِدُ إِلَى عَنَاقٍ مُعْتَاطٍ . وَالْمُعْتَاطُ الَّتِي لَمْ تَلِدْ وَلَدًا وَقَدْ حَانَ وِلاَدُهَا فَأَخْرَجْتُهَا إِلَيْهِمَا فَقَالاَ نَاوِلْنَاهَا . فَجَعَلاَهَا مَعَهُمَا عَلَى بَعِيرِهِمَا ثُمَّ انْطَلَقَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ أَبُو عَاصِمٍ عَنْ زَكَرِيَّاءَ قَالَ أَيْضًا مُسْلِمُ بْنُ شُعْبَةَ . كَمَا قَالَ رَوْحٌ .

Narrator: মুসলিম ইবনে সাফীনা (রহঃ)

১৫৮১. আল-হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ...... মুসলিম ইবনে ছাফিনাহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নাফে ইবনে আলকামা আমার পিতাকে তাঁর গোত্রের যাকাত উসুলকারী হিসাবে নিয়োগ করেন এবং তাঁকে এই নির্দেশ দান করেন, তুমি তাদের নিকট যাকাত উসুল করবে। অতঃপর আমার পিতা আমাকে একদল লোকের সাথে যাকাত আদায়ের জন্য গমন করি এবং আমি তাকে বলি, আমার পিতা আমাকে আপনার নিকট হতে যাকাত গ্রহণের জন্য পাঠিয়েছেন। তখন তিনি বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি কি নিয়মে যাকাত গ্রহণ করবে? আমি বলি, আমি লোকদের নিকট হতে উত্তম মাল গ্রহণ করব। এমনকি আমি দুগ্ধবতী ছাগীও যাকাত হিসাবে নেব। তিনি বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! আমি রাসূলুল্লহ (ﷺ)-এর যুগেও বকরীসহ এই উপত্যকায় বসবাস করতাম।

ঐ সময় একদা দুই ব্যক্তি উটের পিঠে সওয়ার হয়ে আমার নিকট এসে বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতিনিধি এবং আপনার নিকট হতে বকরীর যাকাত উসুল করতে এসেছি। তখন আমি তাদের জিজ্ঞাসা করি যে, আমার উপর কি দেওয়া ওয়াজিব? তাঁরা বলেন, একটি বকরী। তখন আমি তাঁদেরকে এমন একটি বকরী দিতে চাই, যা হৃষ্টপুষ্ট ও দুগ্ধবতী ছিল। আমি তা তাদের সম্মুখে পেশ করলে তাঁরা বলেন, এটা বাচ্চাওয়ালা বকরী এবং নবী করীম (ﷺ) এরূপ বকরী যাকাত হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। তখন আমি তাঁদের নিকট জিজ্ঞাসা করি, আপনার কিরূপ বকরী গ্রহণ করবেন? তাঁরা বলেন, এক অথবা দুই বছর বয়সি বকরী গ্রহণ করব। আমি তাদের সম্মুখে এমন একটি বকরী আনি যা তখনও বাচ্চা প্রসব না করলেও বাচ্চা ধরণের উপযোগী হয়েছে। তাঁরা এটাকে তাদের উটের সাথে একত্রে নিয়ে যান।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

1582

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ النَّسَائِيُّ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ إِسْحَاقَ، بِإِسْنَادِهِ بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ مُسْلِمُ بْنُ شُعْبَةَ . قَالَ فِيهِ وَالشَّافِعُ الَّتِي فِي بَطْنِهَا الْوَلَدُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَرَأْتُ فِي كِتَابِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَالِمٍ بِحِمْصَ عِنْدَ آلِ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ الْحِمْصِيِّ عَنِ الزُّبَيْدِيِّ قَالَ وَأَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ جَابِرٍ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُعَاوِيَةَ الْغَاضِرِيِّ - مِنْ غَاضِرَةِ قَيْسٍ - قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " ثَلاَثٌ مَنْ فَعَلَهُنَّ فَقَدْ طَعِمَ طَعْمَ الإِيمَانِ مَنْ عَبَدَ اللَّهَ وَحْدَهُ وَأَنَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَعْطَى زَكَاةَ مَالِهِ طَيِّبَةً بِهَا نَفْسُهُ رَافِدَةً عَلَيْهِ كُلَّ عَامٍ وَلاَ يُعْطِي الْهَرِمَةَ وَلاَ الدَّرِنَةَ وَلاَ الْمَرِيضَةَ وَلاَ الشَّرَطَ اللَّئِيمَةَ وَلَكِنْ مِنْ وَسَطِ أَمْوَالِكُمْ فَإِنَّ اللَّهَ لَمْ يَسْأَلْكُمْ خَيْرَهُ وَلَمْ يَأْمُرْكُمْ بِشَرِّهِ " .

Narrator: মুসলিম ইবনে সাফীনা (রহঃ)

১৫৮২. মুহাম্মাদ ইবনে য়ূনুস (রাহঃ) .... যাকারিয়া ইবনে ইসহাক (রাহঃ) হতে উপরোক্ত সনদে পূর্বের হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রাবী মুসলিম ইবনে শোবা (রাহঃ) এই বর্ণনায় বলেনঃ শাফী ঐ বকরীকে বলা হয় যা গর্ভবতী।

1583

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ زُرَارَةَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ بَعَثَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُصَدِّقًا فَمَرَرْتُ بِرَجُلٍ فَلَمَّا جَمَعَ لِي مَالَهُ لَمْ أَجِدْ عَلَيْهِ فِيهِ إِلاَّ ابْنَةَ مَخَاضٍ فَقُلْتُ لَهُ أَدِّ ابْنَةَ مَخَاضٍ فَإِنَّهَا صَدَقَتُكَ . فَقَالَ ذَاكَ مَا لاَ لَبَنَ فِيهِ وَلاَ ظَهْرَ وَلَكِنْ هَذِهِ نَاقَةٌ فَتِيَّةٌ عَظِيمَةٌ سَمِينَةٌ فَخُذْهَا . فَقُلْتُ لَهُ مَا أَنَا بِآخِذٍ مَا لَمْ أُومَرْ بِهِ وَهَذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْكَ قَرِيبٌ فَإِنْ أَحْبَبْتَ أَنْ تَأْتِيَهُ فَتَعْرِضَ عَلَيْهِ مَا عَرَضْتَ عَلَىَّ فَافْعَلْ فَإِنْ قَبِلَهُ مِنْكَ قَبِلْتُهُ وَإِنْ رَدَّهُ عَلَيْكَ رَدَدْتُهُ . قَالَ فَإِنِّي فَاعِلٌ فَخَرَجَ مَعِي وَخَرَجَ بِالنَّاقَةِ الَّتِي عَرَضَ عَلَىَّ حَتَّى قَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَتَانِي رَسُولُكَ لِيَأْخُذَ مِنِّي صَدَقَةَ مَالِي وَايْمُ اللَّهِ مَا قَامَ فِي مَالِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلاَ رَسُولُهُ قَطُّ قَبْلَهُ فَجَمَعْتُ لَهُ مَالِي فَزَعَمَ أَنَّ مَا عَلَىَّ فِيهِ ابْنَةُ مَخَاضٍ وَذَلِكَ مَا لاَ لَبَنَ فِيهِ وَلاَ ظَهْرَ وَقَدْ عَرَضْتُ عَلَيْهِ نَاقَةً فَتِيَّةً عَظِيمَةً لِيَأْخُذَهَا فَأَبَى عَلَىَّ وَهَا هِيَ ذِهِ قَدْ جِئْتُكَ بِهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . خُذْهَا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ذَاكَ الَّذِي عَلَيْكَ فَإِنْ تَطَوَّعْتَ بِخَيْرٍ آجَرَكَ اللَّهُ فِيهِ وَقَبِلْنَاهُ مِنْكَ " . قَالَ فَهَا هِيَ ذِهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ جِئْتُكَ بِهَا فَخُذْهَا . قَالَ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقَبْضِهَا وَدَعَا لَهُ فِي مَالِهِ بِالْبَرَكَةِ .

Narrator: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

১৫৮৩. মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ...... উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে যাকাত আদায়কারী হিসাবে প্রেরণ করেন। অতঃপর আমি এক ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হলে সে তার মাল আমার সম্মুখে একত্রিত করে। হিসাবান্তে আমি দেখতে পাই যে, তার উপর এক বছর বয়সের একটি মাদী উট ফরয হয়েছে। আমি তার নিকট এক বছর বয়সী একটি মাদী উট চাইলে সে বলে, এই উষ্ট্রি দ্বারা আপনার কোনই উপকার হবে না, এর দুধও নাই এবং আপনি এতে আরোহণ করে কোথাও যেতেও পারবেন না। বরং এর পরিবর্তে আপনি আমার এই শক্তিশালী মোটাতাজা যুবতী উট গ্রহণ করুন। আমি বললাম, যা গ্রহণের জন্য আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয় নাই, আমি তা গ্রহণ করতে পারি না। (অতঃপর তিনি বলেন) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিকটেই আছেন। তুমি আমার নিকট যা পেশ করেছ, ইচ্ছা করলে তা তাঁর খেদমতে পেশ করতে পার। যদি তিনি তা গ্রহণ করেন তবে তা আমিও তা গ্রহণ করব এবং যদি ফেরত দেন তবে আমিও ফেরত দেব।

এতদশ্রবণে সেই ব্যক্তি বলে, হ্যাঁ আমি তাই করব। অতঃপর সে উক্ত উটসহ রওয়ানা হয়, এমনকি আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে হাযির হই। ঐ ব্যক্তি বলে, ইয়া নবীআল্লাহ! আমার নিকট হতে মালের যাকাত গ্রহণের জন্য আপনার পক্ষ হতে প্রতিনিধি গিয়েছে। আল্লাহর শপথ! ইতি পূর্বে আল্লাহর রাসূল বা তাঁর কোন প্রতিনিধি আমার নিকট আসেন নাই। আমি যাকাত আদায়কারীর সম্মুখে আমার ধন-সম্পদ পেশ করার পর তিনি এইরূপ মনে করেন যে, আমার উপর যাকাত হিসেবে একবছর বয়সের এমন একটি উট ওয়াজিব হয়েছে যা দুগ্ধবতী নয় এবং এর নিকট আরোহণ করাও সম্ভব নয়। আমি তাঁর সম্মুখে একটি শক্তিশালী, হৃষ্টপুষ্ট যুবতী উট পেশ করি। কিন্তু তিনি তা গ্রহণে আসম্মতি জ্ঞাপন করেন এবং সেই উটটি এই-যা আমি আপনার খেদমতে এনেছি। ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তা গ্রহণ করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেনঃ তোমার উপর যাকাত স্বরূপ এক বছর বয়সের একটি উট ওয়াজিব হয়েছে, এর যদি তুমি খুশী হয়ে এর চাইতে উৎকৃষ্ট মাল প্রদান করতে চাও তবে আল্লাহ তোমাকে এর প্রতিদান দিবেন এবং আমরাও তা তোমার নিকট হতে গ্রহণ করব। তখন সে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটাই সেই মাল। এটা আমি আপনার খেদমতে এনেছি, কাজেই আপনি তা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন এবং তার মালের বরকতের জন্য দুআ করেন।
1584

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَاقَ الْمَكِّيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَيْفِيِّ، عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ " إِنَّكَ تَأْتِي قَوْمًا أَهْلَ كِتَابٍ فَادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوكَ لِذَلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوكَ لِذَلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ فِي فُقَرَائِهِمْ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوكَ لِذَلِكَ فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهَا لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ حِجَابٌ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৫৮৪. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুআয (রাযিঃ)-কে ইয়ামানে প্রেরণের সময় বলেনঃ তুমি এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ যারা আহলে কিতাব (অর্থাৎ ঐশী গ্রন্থের অধিকার)। অতএব তুমি তাদেরকে নিম্নোক্ত কথা গ্রহণে আহব্বান করবেঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্নী রাসূলুল্লাহ।

যদি তারা তা স্বীকার করে নেয় তবে, তুমি তাদের বলবে যে, আল্লাহ তাআলা তাদের উপর দিনরাত পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। যদি তারা তা মেনে নেয় তবে তাদের ধনীদের নিকট হতে তা গ্রহণ করে গরীবদের মধ্যে বিতরণ করবে। যদি তারা তা মেনে নেয় তবে তুমি তাদের উত্তম মাল (যাকাত স্বরূপ) গ্রহণ করা হতে বিরত থাকবে এবং তুমি মযলুমের (অত্যাচারিতের) বদ-দু'আকে ভয় করবে। কেননা তার দু'আ ও আল্লাহর মধ্যে কোন প্রতিবন্ধক নাই (অর্থাৎ মজলুমের বদ-দু'আ বিনা বাধায় আল্লাহর নিকট পৌছে যায়)।

Reference: কুতুবে সিত্তাহ

1585

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمُعْتَدِي فِي الصَّدَقَةِ كَمَانِعِهَا " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৫৮৫. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যাকাত আদায় করার মধ্যে অতিরঞ্জিতকারী ব্যক্তি যাকাত প্রদানে বাঁধাদানকারী তুল্য।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫. যাকাত আদায়কারীকে রাখা।

باب رِضَا الْمُصَدِّقِ

1586

حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ حَفْصٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ رَجُلٍ، يُقَالُ لَهُ دَيْسَمٌ - وَقَالَ ابْنُ عُبَيْدٍ مِنْ بَنِي سَدُوسٍ - عَنْ بَشِيرِ بْنِ الْخَصَاصِيَةِ، - قَالَ ابْنُ عُبَيْدٍ فِي حَدِيثِهِ وَمَا كَانَ اسْمُهُ بَشِيرًا - وَلَكِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَمَّاهُ بَشِيرًا قَالَ قُلْنَا إِنَّ أَهْلَ الصَّدَقَةِ يَعْتَدُونَ عَلَيْنَا أَفَنَكْتُمْ مِنْ أَمْوَالِنَا بِقَدْرِ مَا يَعْتَدُونَ عَلَيْنَا فَقَالَ " لاَ " .

Narrator: বিবিধ

১৫৮৬. মাহদী ইবনে হাফস ও মুহাম্মাদ ইবনে উবাইেদ (রাহঃ) ..... বাশীর ইবনুল খাসাসিয়াহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাবী ইবনে উবাইেদ তাঁর হাদীসে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর অর্থাৎ রাবীর নাম প্রকৃতপক্ষে বাশীর ছিল না। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পরবর্তী কালে তাঁর নাম বাশীর রাখেন। তিনি বলেন, একদা আমরা (বাশীরকে) জিজ্ঞাসা করি যে, যাকাত আদায়কারীগণ আমাদের মাল হতে অতিরিক্ত পরিমাণ যাকাত আদায় করতে থাকেন। কাজেই তারা যে পরিমাণ মাল অতিরিক্ত গ্রহণ করেন আমরা কি ঐ পরিমাণ মাল গোপন করে রাখব? তিনি বলেন, না।

1587

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَيَحْيَى بْنُ مُوسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ أَيُّوبَ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَصْحَابَ الصَّدَقَةِ يَعْتَدُونَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَفَعَهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ .

Narrator: আইয়ুব সাখতিয়ানী (রহঃ)

১৫৮৭. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আইয়ুব (রাহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের সনদ ও অর্থে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি তার বর্ণনায় আরো বর্ণনা করেছেন, একদা আমরা বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যাকাত আদায়কারীগণ পরিমাণের অতিরিক্ত যাকাত উসুল করে থাকে।

1588

حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ أَبِي الْغُصْنِ، عَنْ صَخْرِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جَابِرِ بْنِ عَتِيكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " سَيَأْتِيكُمْ رَكْبٌ مُبَغَّضُونَ فَإِذَا جَاءُوكُمْ فَرَحِّبُوا بِهِمْ وَخَلُّوا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ مَا يَبْتَغُونَ فَإِنْ عَدَلُوا فَلأَنْفُسِهِمْ وَإِنْ ظَلَمُوا فَعَلَيْهَا وَأَرْضُوهُمْ فَإِنَّ تَمَامَ زَكَاتِكُمْ رِضَاهُمْ وَلْيَدْعُوا لَكُمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَبُو الْغُصْنِ هُوَ ثَابِتُ بْنُ قَيْسِ بْنِ غُصْنٍ .

Narrator: আব্দুর রহমান ইবনে জাবর (রাঃ)

১৫৮৮. আব্বাস ইবনে আব্দুল আজীম (রাহঃ) .... আব্দুর রহমান ইবনে জাবের ইবনে আতীক তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ অদূর ভবিষ্যতে তোমাদের নিকট এমন যাকাত আদায়কারীগণ আগমন করবে, যাদের আচরণে তোমরা অসুন্তুষ্ট হবে। তথাপি তারা যখন তোমাদের নিকট আসবে তখন তোমরা তাদের স্বাগত জানাবে। অতঃপর তারা যাকাতস্বরূপ তোমাদের নিকট যা দাবী করে তোমরা তা প্রদান কর। যদি তারা ইনসাফের সাথে কাজ করে তবে তারা এর প্রতিদান প্রাপ্ত হবে। আর যদি এ ব্যাপারে তারা যুলুম করে তবে এর জন্য শাস্তি প্রাপ্ত হবে। তোমরা তাদেরকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করবে। কেননা তাদের সন্তুষ্টির উপরেই তোমাদের যাকাত আদায় হওয়া নির্ভর করে। আর তোমরা তাদের সাথে এমন আচরণ করবে যাতে তারা তোমাদের জন্য দু'আ করে।

1589

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ يَعْنِي ابْنَ زِيَادٍ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، - وَهَذَا حَدِيثُ أَبِي كَامِلٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ هِلاَلٍ الْعَبْسِيُّ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ جَاءَ نَاسٌ - يَعْنِي مِنَ الأَعْرَابِ - إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا إِنَّ نَاسًا مِنَ الْمُصَدِّقِينَ يَأْتُونَا فَيَظْلِمُونَا . قَالَ فَقَالَ " أَرْضُوا مُصَدِّقِيكُمْ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنْ ظَلَمُونَا قَالَ " أَرْضُوا مُصَدِّقِيكُمْ " . زَادَ عُثْمَانُ " وَإِنْ ظُلِمْتُمْ " . قَالَ أَبُو كَامِلٍ فِي حَدِيثِهِ قَالَ جَرِيرٌ مَا صَدَرَ عَنِّي مُصَدِّقٌ بَعْدَ مَا سَمِعْتُ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ وَهُوَ عَنِّي رَاضٍ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৫৮৯. আবু কামিল (রাহঃ) ..... জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আরবের কতিপয় ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে আগমন করেন। অতঃপর তারা বলেন, আমাদের নিকট যাকাত আদায়ের জন্য এমন লোক আসেন যারা বাড়াবাড়ি করে থাকেন। তখন তিনি বলেনঃ তোমরা তাদেরকে সন্তুষ্ট রাখবে। তারা জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি তারা আমাদের উপর যুলুমও করেন? জবাবে তিনি বলেন, তোমরা তোমাদের যাকাত উসুলকারী ব্যক্তিদের খুশী রাখবে। রাবী উছমানের বর্ণনায় আরও আছে যে, যদিও তারা তোমাদের উপর যুলুম করে।

রাবী আবু কামিলের বর্ণনায় আছে যে, জারীর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হতে এই নির্দেশ প্রাপ্তির পর সমস্ত যাকাত আদায়কারীগণ আমার নিকট হতে সন্তুষ্ট মনে বিদায় গ্রহণ করেন।

Reference: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৬. যাকাত আদায়কারীর যাকাত প্রদানকারীদের জন্য দুআ করা।

باب دُعَاءِ الْمُصَدِّقِ لأَهْلِ الصَّدَقَةِ

1590

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، وَأَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ كَانَ أَبِي مِنْ أَصْحَابِ الشَّجَرَةِ وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَتَاهُ قَوْمٌ بِصَدَقَتِهِمْ قَالَ " اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى آلِ فُلاَنٍ " . قَالَ فَأَتَاهُ أَبِي بِصَدَقَتِهِ فَقَالَ " اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى آلِ أَبِي أَوْفَى " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

১৫৯০. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা (বাইআতুর রিদওয়ানে) বৃক্ষের নীচে শপথ গ্রহণকারীদের মধ্যে অন্যতম। নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট যখন কোন কওম (গোত্র) যাকাত নিয়ে আসত, তখন তিনি তাদের জন্য এইরূপ দু'আ করতেনঃ ইয়া আল্লাহ! তুমি তাদের উপর রহম কর।

একদা আমার পিতা তাঁর নিকট যাকাতের মালসহ উপস্থিত হলে তিনি (ﷺ) বলেনঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি আবু আওফার বংশধরগণের উপর রহমত বর্ষণ করুন।
৭. উটের বয়স সম্পর্কে

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, আমি রায়্যাশী, আবু হাতীম ও অন্যুদের নিকট হতে এই বর্ণনা শুনেছি এবং নাদর ইবনে শুমায়েল ও আবু উবাইদের গ্রন্থে পেয়েছি, কোন কোন কথা তাদের একজনেই বলেছেন। তাঁরা বলেন, উটের বাচ্চাকে (যতকক্ষণ মাতৃগর্ভে থেকে) ’আল-হাওয়্যার’, আল-ফাসীল (যখন ভূমিষ্ঠ হয়) ও বিনত মাখাদ (যে বাচ্চা দ্বিতীয় বছরে পদার্পন করেছে), আর তিন বছর বয়সে পদার্পণকারী বাচ্চাকে 'বিনতে লাবূন’ বলা হয়। অতঃপর উটের বয়স পূর্ণ তিন বছর হতে চার বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত বলা হয়, হিক্ক ও হিককাহ। কেননা তখন হিক্কাহ বাহনের যোগ্য হয় বাচ্চা ধারণের উপযুক্ত হয় এবং যৌবনে পৌঁছে। কিন্তু হিক্কাহ ছয় বছরে না পৌঁছা পর্যন্ত প্রাপ্তবয়ষ্ক হয় না এবং হিককাহকে 'তুরুকাতুল ফাহল’ও বলা হয়। কেননা ঐ সময় পুরুষ উট এর উপর কুঁদে পড়ে।

অতঃপর যখন তার বয়স পাঁচ বছর পড়ে তখন তাকে জাযাআহ বলে এবং পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তাকে এই নামেই অখ্যায়িত করা হয়। অতঃপর যখন তা ছয় বছরে পদার্পণ করে এবং সামনের দাঁত উঠে তখন তাকে ‘ছানা’ বলে - ছয় বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত। অতঃপর যখন তার বয়স সাত শুরু হয় তখন হতে সাত বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত পুরুষ উটকে বলা হয় ‘রুবাঈ’ এবং স্ত্রী উটকে বলা হয় ‘রুবাইয়া'। অতঃপর তা যখন আট বছরে পদার্পণ করে তখন থেকে তাকে ‘সাদীস' বলে আট পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত। যখন তা নয় বছরে পদার্পণ করে তখন তাকে ‘বাযিল’ বলা হয়। কারণ তখন তাঁর কুঁজ নির্গত হতে থাকে।

অতঃপর উট যখন দশ বছরে পদার্পণ করে তখন তাকে ‘মুখলিফা’ বলে। এর পরে উটের আর কোন নামকরণ নাই। অবশ্য এর পরে তাকে এক বছরের বাযিল, দুই বছরের বাযিল; এক বছরে মুখলিফ, দুই বছরের মুখলিফ, তিন বছরের মুখলিফ, চার বছরের মুখলিফ এবং পাঁচ বছরের মুখলিফ বলা হয়ে থাকে। গর্ভবতী উটকে 'হালাফা’ বলে। আবু হাতেম বলেন, জুযূআহ হল কাল প্রবাহের একটি সময়, কোন দাঁতের নাম নয়। উটের বয়সের পরিবর্তে হয় সুহাইল (Canopus) তারকা উদিত হওয়ার সাথে সাথে। আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, আর-রিয়াশী আমাদেরকে নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করে শুনানঃ (অর্থ)

“রাতের প্রথম প্রহরে যখন সুহাইল তারকা উদিত হয়, তখন ইবনে লাবূন হিক্কা হয়ে গেলে এবং হিক্কাহ জাযাআহ হয়ে গেল। হুবা ছাড়া এমন কোন বয়স নাই যা (সুহাইল তারকা উদয় থেকে) গণনা করা যায় না, হুবা সেই উট শাবককে বলা হয় যা সুহাইল তারকা উদয়কালে ভুমিষ্ঠ হয় না, বরং অন্য সময় ভূমিষ্ঠ হয়।

পরিচ্ছেদ ৮. যাকাত আদায়কারী যাকাতদাতাদের নিকট কোন স্থানে যাকাত গ্রহণ করবে।

بَابُ تَفْسِيرِ أَسْنَانِ الإِبِلِ.<br>قَالَ أَبُو دَاوُدَ: سَمِعْتُهُ مِنَ الرِّيَاشِيِّ, وَأَبِي حَاتِمٍ, وَغَيْرِهِمَا, [وَمِنْ كِتَابِ النَّضْرِ بْنِ شُمَيْلٍ, وَمِنْ كِتَابِ أَبِي عُبَيْدٍ, وَرُبَّمَا ذَكَرَ أَحَدُهُمُ الْكَلِمَةَ قَالُوا: يُسَمَّى الْحُوَارُ, ثُمَّ الْفَصِيلُ, إِذَا فَصَلَ, ثُمَّ تَكُونُ بِنْتُ مَخَاضٍ] لِسَنَةٍ, إِلَى تَمَامِ سَنَتَيْنِ, فَإِذَا دَخَلَتْ فِي الثَّالِثَةِ, فَهِيَ ابْنَةُ لَبُونٍ, فَإِذَا تَمَّتْ لَهُ ثَلاَثُ سِنِينَ, فَهُوَ حِقٌّ وَحِقَّةٌ إِلَى تَمَامِ أَرْبَعِ سِنِينَ, لأَنَّهَا اسْتَحَقَّتْ أَنْ تُرْكَبَ, وَيُحْمَلَ عَلَيْهَا الْفَحْلُ, وَهِيَ تَلْقَحُ, وَلاَ يُلْقِحُ الذَّكَرُ حَتَّى يُثَنِّيَ, وَيُقَالُ لِلْحِقَّةِ: طَرُوقَةُ الْفَحْلِ, لأَنَّ الْفَحْلَ يَطْرُقُهَا إِلَى تَمَامِ أَرْبَعِ سِنِينَ, فَإِذَا طَعَنَتْ فِي الْخَامِسَةِ, فَهِيَ جَذَعَةٌ حَتَّى يَتِمَّ لَهَا خَمْسُ سِنِينَ, فَإِذَا دَخَلَتْ فِي السَّادِسَةِ, وَأَلْقَى ثَنِيَّتَهُ, فَهُوَ حِينَئِذٍ ثَنِيٌّ, حَتَّى يَسْتَكْمِلَ سِتًّا, فَإِذَا طَعَنَ فِي السَّابِعَةِ, سُمِّيَ الذَّكَرُ رَبَاعِيًا, وَالأُنْثَى رَبَاعِيَةً إِلَى تَمَامِ السَّابِعَةِ, فَإِذَا دَخَلَ فِي الثَّامِنَةِ, وَأَلْقَى السِّنَّ السَّدِيسَ الَّذِي بَعْدَ الرَّبَاعِيَةِ, فَهُوَ سَدِيسٌ وَسَدِسٌ إِلَى تَمَامِ الثَّامِنَةِ, فَإِذَا دَخَلَ فِي التِّسْعِ وَطَلَعَ نَابُهُ, فَهُوَ بَازِلٌ, أَيْ بَزَلَ نَابُهُ, يَعْنِي طَلَعَ, حَتَّى يَدْخُلَ فِي الْعَاشِرَةِ, فَهُوَ حِينَئِذٍ مُخْلِفٌ, ثُمَّ لَيْسَ لَهُ اسْمٌ, وَلَكِنْ يُقَالُ: بَازِلُ عَامٍ, وَبَازِلُ عَامَيْنِ, وَمُخْلِفُ عَامٍ, وَمُخْلِفُ عَامَيْنِ, وَمُخْلِفُ ثَلاَثَةِ أَعْوَامٍ إِلَى خَمْسِ سِنِينَ, وَالْخَلِفَةُ: الْحَامِلُ.<br>قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: وَالْجُذُوعَةُ: وَقْتٌ مِنَ الزَّمَنِ لَيْسَ بِسِنٍّ, وَفُصُولُ الأَسْنَانِ عِنْدَ طُلُوعِ سُهَيْلٍ.<br>قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَأَنْشَدَنَا الرِّيَاشِيُّ.<br>إِذَا سُهَيْلٌ أول اللَّيْلِ طَلَعْ ... فَابْنُ اللَّبُونِ الْحِقُّ, وَالْحِقُّ جَذَعْ.<br>لَمْ يَبْقَ مِنْ أَسْنَانِهَا غَيْرُ الْهُبَعْ.<br>وَالْهُبَعُ: الَّذِي يُولَدُ فِي غَيْرِ حِينِهِ.<br><br>باب أَيْنَ تُصَدَّقُ الأَمْوَالُ

1591

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ جَلَبَ وَلاَ جَنَبَ وَلاَ تُؤْخَذُ صَدَقَاتُهُمْ إِلاَّ فِي دُورِهِمْ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৫৯১. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আমর ইবনে শুআয়েব (রাহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও পিতামহের সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যাকাত আদায়কারী (যাকাত প্রদানকারীকে) দূরে টেনে নিবে না এবং যাকাতদাতা নিজের মাল দূরে সরিয়ে রাখবে না (যাতে লেনদেনে কষ্ট না হয়); আর তাদের যাকাতের মাল, তাদের ঘর-বাড়ি ব্যতীত অন্য কোথাও হতে গ্রহণ করা চলবে না।

৮. যাকাত আদায়কারী যাকাতদাতাদের নিকট কোন স্থানে যাকাত গ্রহণ করবে।

باب أَيْنَ تُصَدَّقُ الأَمْوَالُ

1592

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، فِي قَوْلِهِ " لاَ جَلَبَ وَلاَ جَنَبَ " . قَالَ أَنْ تُصَدَّقَ الْمَاشِيَةُ فِي مَوَاضِعِهَا وَلاَ تُجْلَبُ إِلَى الْمُصَدِّقِ وَالْجَنَبُ عَنْ غَيْرِ هَذِهِ الْفَرِيضَةِ أَيْضًا لاَ يُجْنَبُ أَصْحَابُهَا يَقُولُ وَلاَ يَكُونُ الرَّجُلُ بِأَقْصَى مَوَاضِعِ أَصْحَابِ الصَّدَقَةِ فَتُجْنَبُ إِلَيْهِ وَلَكِنْ تُؤْخَذُ فِي مَوْضِعِهِ .

Narrator: বিবিধ

১৫৯২. আল-হাসান ইবনে আলী ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে, মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাকের সূত্রে لاَ جَلَبَ وَلاَ جَنَبَ সম্পর্কে বর্ণনা করতে শুনেছিঃ চতুষ্পদ জন্তুর অবস্থানের স্থানেই এগুলোর যাকাত দিতে হবে। আর যাকাত আদায়কারীর নিকট এগুলো নিতে হবে না এবং মালের যাকাত প্রদানকারীগণ এগুল দূরে সরিয়ে রাখবে না। আর যাকাত আদায়কারী যাকাত দাতাদের নিকট হতে দূরে সরিয়ে রাখবে না। আর যাকাত আদায়কারী যাকাত দাতাদের নিকট হতে দূরেও অবস্থান করবে না, বরং চতুষ্পদ জন্তু যেখানে থাকে সেখান হতেই যাকাত আদায় করবে।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৯. যাকাত দিয়ে তা পুনরায় ক্রয় করা।

باب الرَّجُلِ يَبْتَاعُ صَدَقَتَهُ

1593

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، - رضى الله عنه - حَمَلَ عَلَى فَرَسٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَوَجَدَهُ يُبَاعُ فَأَرَادَ أَنْ يَبْتَاعَهُ فَسَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ " لاَ تَبْتَعْهُ وَلاَ تَعُدْ فِي صَدَقَتِكَ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৫৯৩. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য একটি ঘোড়াদান করেন। অতঃপর তিনি তা বিক্রী হতে দেখে খরিদ করতে মনস্থ করেন। তিনি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেনঃ তুমি তা খরিদ কর না এবং তোমার সদকার মাল ফেরত লইও না।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১০. দাস-দাসীর যাকাত।

باب صَدَقَةِ الرَّقِيقِ

1594

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَيَّاضٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ فِي الْخَيْلِ وَالرَّقِيقِ زَكَاةٌ إِلاَّ زَكَاةُ الْفِطْرِ فِي الرَّقِيقِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫৯৪. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ ঘোড়া ও দাস-দাসীতে কোন যাকাত নাই। কিন্তু দাস-দাসীর পক্ষ থেকে সাদ্‌কাতুল ফিতর (ফেতরা) দিতে হবে।

1595

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِ فِي عَبْدِهِ وَلاَ فِي فَرَسِهِ صَدَقَةٌ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫৯৫. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা ও মালিক (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন মুসলমানের জন্য তাঁর দাস-দাসীর ও ঘোড়ার কোন যাকাত নাই।

Reference: কুতুবে সিত্তাহ

১১. কৃষিজ ফসলের যাকাত।

باب صَدَقَةِ الزَّرْعِ

1596

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْهَيْثَمِ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فِيمَا سَقَتِ السَّمَاءُ وَالأَنْهَارُ وَالْعُيُونُ أَوْ كَانَ بَعْلاً الْعُشْرُ وَفِيمَا سُقِيَ بِالسَّوَانِي أَوِ النَّضْحِ نِصْفُ الْعُشْرِ " .

Narrator: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

১৫৯৬. হারূন ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ যে যমীন বৃষ্টি, নদী ও কুয়ার পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয় অথবা যেখানে পানি সেচের আদৌ কোন প্রয়োজন হয় না- এমন ক্ষেতের ফসলের যাকাত হল উশর বা উৎপন্ন ফসলের দশ ভাগের এক ভাগ। আর যে যমীতে কৃত্রিম উপায়ে পানি সিঞ্চিত হয়- তার যাকাত হল নিসফে উশর বা উশরের অর্ধেক।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

1597

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فِيمَا سَقَتِ الأَنْهَارُ وَالْعُيُونُ الْعُشْرُ وَمَا سُقِيَ بِالسَّوَانِي فَفِيهِ نِصْفُ الْعُشْرِ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৫৯৭. আমহাদ ইবনে সাহেল ও আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহব (রাহঃ) ..... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে যমীন নদী-নালা ও কূপের পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয়, তার যাকাত হল উশর।* আর যে যমীন কৃত্রিম উপায়ে সিঞ্চিত হয় তার যাকাত হল অর্ধ উশর।

* উশ্‌রঃ কৃষিজ উৎপাদনের উপর যে যাকাত দিতে হয় তাকে আইনের পরিভাষায় উশর’ বলে। শব্দটির অর্থ ‘এক-দশমাংশ’।
1598

حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ خَالِدٍ الْجُهَنِيُّ، وَحُسَيْنُ بْنُ الأَسْوَدِ الْعِجْلِيُّ، قَالاَ قَالَ وَكِيعٌ الْبَعْلُ الْكَبُوسُ الَّذِي يَنْبُتُ مِنْ مَاءِ السَّمَاءِ . قَالَ ابْنُ الأَسْوَدِ وَقَالَ يَحْيَى يَعْنِي ابْنَ آدَمَ سَأَلْتُ أَبَا إِيَاسٍ الأَسَدِيَّ عَنِ الْبَعْلِ فَقَالَ الَّذِي يُسْقَى بِمَاءِ السَّمَاءِ ، وَقَالَ: النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ: " الْبَعْلُ: مَاءُ الْمَطَرِ "

Narrator: বিবিধ

১৫৯৮. আল-হায়ছাম ইবনে খালিদ আল-জুহানী ও ইবনুল আসওয়াদ আল-আজালী (রাহঃ) বলেন, ওয়াকী (রাহঃ) বলেছেন, الْبَعْلُ الْكَبُوسُ হল সেই ফসল, যা বৃষিটির পানির সাহায্যে জন্মে। ইবনুল আসওয়াদ বলেন, ইয়াহয়া ইবনে আদাম বলেছেন, আমি আবু আয়্যাস আল-আসাদীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তা হল ঐ ফসল যা বৃষ্টির পানির সাহায্যে উৎপন্ন হয়।

1599

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ، - يَعْنِي ابْنَ بِلاَلٍ - عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَهُ إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ " خُذِ الْحَبَّ مِنَ الْحَبِّ وَالشَّاةَ مِنَ الْغَنَمِ وَالْبَعِيرَ مِنَ الإِبِلِ وَالْبَقَرَةَ مِنَ الْبَقَرِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ شَبَّرْتُ قِثَّاءَةً بِمِصْرَ ثَلاَثَةَ عَشَرَ شِبْرًا وَرَأَيْتُ أُتْرُجَّةً عَلَى بَعِيرٍ بِقِطْعَتَيْنِ قُطِعَتْ وَصُيِّرَتْ عَلَى مِثْلِ عِدْلَيْنِ .

Narrator: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

১৫৯৯. আবু রাবী ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ..... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে ইয়ামানে প্রেরণের সমইয়ে বলেনঃ উৎপন্ন ফসল হতে ফসল, বকরী পাল হতে বকরী, উটের পাল হতে উট এবং গরুর পাল হতে গরু যাকাত হিসাবে গ্রহণ করবে; যখন এদের সংখ্যা পঁচিশ বা তদুর্ধ হয়।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, মিসরে একটি শসা মেপেছি তের বিঘত (সাড়ে ছয় হাত) লম্বা এবং একটি লেবু (বাতাবি) দেখেছি, যা দুই টুকরা করে একটি উটের পিঠে বোঝাই করা ছিল দুইটি বোঝা সদৃশ।

১২. মধুর যাকাত।

باب زَكَاةِ الْعَسَلِ

1600

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ الْمِصْرِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ جَاءَ هِلاَلٌ - أَحَدُ بَنِي مُتْعَانَ - إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعُشُورِ نَحْلٍ لَهُ وَكَانَ سَأَلَهُ أَنْ يَحْمِيَ لَهُ وَادِيًا يُقَالُ لَهُ سَلَبَةُ فَحَمَى لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَلِكَ الْوَادِي فَلَمَّا وُلِّيَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه - كَتَبَ سُفْيَانُ بْنُ وَهْبٍ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ يَسْأَلُهُ عَنْ ذَلِكَ فَكَتَبَ عُمَرُ رضى الله عنه إِنْ أَدَّى إِلَيْكَ مَا كَانَ يُؤَدِّي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عُشُورِ نَحْلِهِ لَهُ فَاحْمِ لَهُ سَلَبَةَ وَإِلاَّ فَإِنَّمَا هُوَ ذُبَابُ غَيْثٍ يَأْكُلُهُ مَنْ يَشَاءُ .

Narrator: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

১৬০০. আহমাদ ইবনে আবু শুআইব (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শুআইব (রাহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা এবং দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনী মুতআন গোত্রের সদস্য হিলাল (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট তাঁর মধুর উশর নিয়ে উপস্থিত হন। তিনি নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট সালবা’ নামক উপত্যকাটি জায়গীর চান। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উক্ত উপত্যকা তাকে জায়গীর দেন। অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) যখন খলীফা নির্বাচিত হন, তখন সুফিয়ান ইবনে ওয়াহব তাঁর সম্পর্কে জানতে চেয়ে একখানি পত্র লেখেন। এর জবাবে উমর (রাযিঃ) তাঁকে লিখে জানান, সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মধুর যে উশর দিত তা যদি তোমাকে দিতে থাকে তবে সালবা উপত্যকায় তার জায়গীর বহাল রাখ। অন্যথায় তা বনের মৌমাছি হিসেবে গণ্য হবে এবং যে কোন ব্যক্তি তার মধু খেতে পারবে।

1601

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ، - وَنَسَبَهُ إِلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ الْمَخْزُومِيِّ - قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ شَبَابَةَ، - بَطْنٌ مِنْ فَهْمٍ - فَذَكَرَ نَحْوَهُ قَالَ مِنْ كُلِّ عَشْرِ قِرَبٍ قِرْبَةٌ وَقَالَ سُفْيَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الثَّقَفِيُّ قَالَ وَكَانَ يُحَمِّي لَهُمْ وَادِيَيْنِ زَادَ فَأَدَّوْا إِلَيْهِ مَا كَانُوا يُؤَدُّونَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَحَمَّى لَهُمْ وَادِيَيْهِمْ .

Narrator: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

১৬০১. আহমাদ ইবনে আব্দাহ (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শুআইব (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও পিতামহের সূত্রে বর্ণিত। শাবাবা ছিল ফাহম গোত্রের উপগোত্র। অতঃপর তিনি এইরূপ বর্ণনা করেন যে, প্রত্যেক দশ মশকের জন্য এক মশক যাকাত দিতে হবে। সুফিয়ান ইবনে আব্দুল্লাহ আছ-ছাকাফী তাদেরকে দুইটি উপত্যকার জায়গীর দেন। তারা তাকে ঐরূপ (মধুর) যাকাত প্রদান করতেন, যেভাবে তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে তা প্রদান করতেন। তিনি (সুফিয়ান) তাদের জায়গীর স্বত্ব বহাল রাখেন।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

1602

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْمُؤَذِّنُ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ بَطْنًا، مِنْ فَهْمٍ بِمَعْنَى الْمُغِيرَةِ قَالَ مِنْ عَشْرِ قِرَبٍ قِرْبَةٌ . وَقَالَ وَادِيَيْنِ لَهُمْ .

Narrator: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

১৬০২. আর-রবী ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শুআইব (রাহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও পিতামহের সূত্রে বর্ণিত। ফাহম গোত্রের একটি শাখা ......... মুগীরার বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। প্রত্যেক দশ মশকের জন্য যাকাত এক মশক। অতঃপর রাবী বলেন, ঐ দুইটি উপত্যকার মালিক ছিলেন তারা।

১৩. যাকাতের জন্য অনুমানপুর্বক আঙ্গুরের পরিমাণ নির্ধারণ।

باب فِي خَرْصِ الْعِنَبِ

1603

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ السَّرِيِّ النَّاقِطُ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَتَّابِ بْنِ أَسِيدٍ، قَالَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُخْرَصَ الْعِنَبُ كَمَا يُخْرَصُ النَّخْلُ وَتُؤْخَذُ زَكَاتُهُ زَبِيبًا كَمَا تُؤْخَذُ زَكَاةُ النَّخْلِ تَمْرًا .

Narrator: আত্তাব বিন উসাইদ (রাঃ)

১৬০৩. আব্দুল আযীয ইবনুস সারী (রাহঃ) ..... আত্তাব ইবনে উসায়েদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অনুমানে অঙ্গুরের পরিমাণ নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন, যেভাবে অনুমানে খেজুরের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় এবং শুকনা আঙ্গুর (কিসমিস) যাকাত হিসাবে গ্রহণ করবে, যেরূপ খেজুরের যাকাতস্বরূপ শুকনা খেজুর গ্রহণ করা হয়।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

1604

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الْمُسَيَّبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ صَالِحٍ التَّمَّارِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «سَعِيدٌ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عَتَّابٍ شَيْئًا»

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

১৬০৪. মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক আল-মুসায়্যাবী (রাহঃ) ..... ইবনে শিহাব (রাহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের সনদ ও অর্থে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

১৪. (যাকাতের জন্য) গাছের ফলের পরিমাণ অনুমানে নির্ণয় করা।

باب فِي الْخَرْصِ

1605

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ جَاءَ سَهْلُ بْنُ أَبِي حَثْمَةَ إِلَى مَجْلِسِنَا قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا خَرَصْتُمْ فَخُذُوا وَدَعُوا الثُّلُثَ فَإِنْ لَمْ تَدَعُوا أَوْ تَجِدُوا الثُّلُثَ فَدَعُوا الرُّبُعَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْخَارِصُ يَدَعُ الثُّلُثَ لِلْحِرْفَةِ .

Narrator: সাহল ইবনে আবি হাছমা (রাঃ)

১৬০৫. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... আব্দুর রহমান ইবনে মাসউদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহল ইবনে আবু হাছমাহ (রাযিঃ) আমাদের সভায় আগমন করেন এবং বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নির্দেশ দেনঃ তোমরা (ফলের পরিমাণ) অনুমান কর। তখন দুই-তৃতীয়াংশ (হিসাবে) ধর এবং এক-তৃতীয়াংশ (হিসাব থেকে) বাদ দাও। যাদি এক-তৃতীয়াংশ না পাও বা বাদ দিতে না পার তবে এক-চতুর্থাংশ বাদ দাও।*

* অর্থাৎ যে পরিমাণ যাকাত অনুমানে নির্ধারণ করা হবে তা থেকে এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ যাকাতদাতাকে ছেড়ে দিবে। কারণ অনুমানে কম-বেশী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, ফলে বিনষ্ট ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫. কখন খেজুরের পরিমাণ অনুমান করবে?

باب مَتَى يُخْرَصُ التَّمْرُ

1606

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أُخْبِرْتُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ وَهِيَ تَذْكُرُ شَأْنَ خَيْبَرَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَبْعَثُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ إِلَى يَهُودِ خَيْبَرَ فَيَخْرِصُ النَّخْلَ حِينَ يَطِيبُ قَبْلَ أَنْ يُؤْكَلَ مِنْهُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬০৬. ইয়াহয়া ইবনু মুঈন (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিন খায়বর বিজয়ের ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, নবী করীম (ﷺ) আব্দুল্লহ ইবনে রাওয়াহা (রাযিঃ)-কে খায়বরের ইয়াহুদীদের নিকট প্রেরণ করতেন। তিনি গাছের খেজুরের পরিমাণ অনুমান করতেন - যখন তা উপযুক্ত অবস্থায় পৌঁছতো এবং খাওয়ার উপযুক্ত হওয়ার পূর্বে।

১৬. যে ফল যাকাত হিসাবে গ্রহণ করা জায়েয নয়।

باب مَا لاَ يَجُوزُ مِنَ الثَّمَرَةِ فِي الصَّدَقَةِ

1607

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا عَبَّادٌ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْجُعْرُورِ وَلَوْنِ الْحُبَيْقِ أَنْ يُؤْخَذَا فِي الصَّدَقَةِ . قَالَ الزُّهْرِيُّ لَوْنَيْنِ مِنْ تَمْرِ الْمَدِينَةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَأَسْنَدَهُ أَيْضًا أَبُو الْوَلِيدِ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ كَثِيرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ .

Narrator: আবু উমামা বিন সাহল (রাঃ)

১৬০৭. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে ফারিস (রাহঃ) ..... আবু উমামা ইবনে সাহল (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জা’রূর ও লাওনুল হুবায়েক যাকাত হিসাবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। যুহরী (রাহঃ) বলেন, এটা মদীনার খেজুরের দুইটি প্রকার বিশেষ।

1608

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَاصِمٍ الأَنْطَاكِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي الْقَطَّانَ - عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنِي صَالِحُ بْنُ أَبِي عَرِيبٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسْجِدَ وَبِيَدِهِ عَصًا وَقَدْ عَلَّقَ رَجُلٌ مِنَّا قِنًا حَشَفًا فَطَعَنَ بِالْعَصَا فِي ذَلِكَ الْقِنْوِ وَقَالَ " لَوْ شَاءَ رَبُّ هَذِهِ الصَّدَقَةِ تَصَدَّقَ بِأَطْيَبَ مِنْهَا " . وَقَالَ " إِنَّ رَبَّ هَذِهِ الصَّدَقَةِ يَأْكُلُ الْحَشَفَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .

Narrator: আউফ ইবনে মালিক (রাঃ)

১৬০৮. নসর ইবনে আসিম (রাহঃ) .... আওফ ইবনে মালেক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে আমাদের নিকট প্রবেশ করেন, তাঁর হাতে ছিল একটি লাঠি। এক ব্যক্তি এক গুচ্ছ হাশাফ (নিকৃষ্ট মানের খেজুর) ঝুলিয়ে রেখেছিল। তিনি ঐ গুচ্ছের উপর লাঠির আঘাত হেনে বলেনঃ এই যাকাত-দাতা ইচ্ছা করলে এর চেয়ে উত্তম মাল যাকাত হিসাবে প্রদান করতে পারত। তিনি আরও বলেনঃ এই যাকাত-দাতাকে কিয়ামতের দিন এই ‘হাশাফ’-ই খেতে হবে।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৭. সাদ্‌কাতুল ফিতর (ফিতরা)

باب زَكَاةِ الْفِطْرِ

1609

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ الدِّمَشْقِيُّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّمَرْقَنْدِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ حَدَّثَنَا أَبُو يَزِيدَ الْخَوْلاَنِيُّ، - وَكَانَ شَيْخَ صِدْقٍ وَكَانَ ابْنُ وَهْبٍ يَرْوِي عَنْهُ - حَدَّثَنَا سَيَّارُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، - قَالَ مَحْمُودٌ الصَّدَفِيُّ - عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَكَاةَ الْفِطْرِ طُهْرَةً لِلصَّائِمِ مِنَ اللَّغْوِ وَالرَّفَثِ وَطُعْمَةً لِلْمَسَاكِينِ مَنْ أَدَّاهَا قَبْلَ الصَّلاَةِ فَهِيَ زَكَاةٌ مَقْبُولَةٌ وَمَنْ أَدَّاهَا بَعْدَ الصَّلاَةِ فَهِيَ صَدَقَةٌ مِنَ الصَّدَقَاتِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬০৯. মুহাম্মাদ ইবনে খালিদ আদ-দিমাশকী (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাদ্‌কাতুল ফিতর রোযাকে বেহুদা ও অশ্লীল কথাবার্তা ও আচরণ থেকে পবিত্র করার উদ্দেশ্যে এবং মিসকীনদের খাদ্যের ব্যবস্থার জন্য ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি (ঈদুল ফিতরের) নামাযের আগে তা আদায় করবে আল্লাহর কাছে তা মাকবূল হবে।
আর যে ব্যক্তি তা (ঈদুল ফিতরের) নামাযের পরে পরিশোধ করে তা অন্যান্য সাধারণ দান-খয়রাতের অনুরূপ হিসাবে গণ্য।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৮. সাদকাতুল ফিতর প্রদানের সময়।

باب مَتَى تُؤَدَّى

1610

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِزَكَاةِ الْفِطْرِ أَنْ تُؤَدَّى قَبْلَ خُرُوجِ النَّاسِ إِلَى الصَّلاَةِ . قَالَ فَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يُؤَدِّيهَا قَبْلَ ذَلِكَ بِالْيَوْمِ وَالْيَوْمَيْنِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬১০. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আন-নুফায়লী (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে সাদ্‌কাতুল ফিতর, লোকদের ঈদের নামাযের উদ্দ্যশ্যে বের হওয়ার পূর্বে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। নাফে (রাহঃ) বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) ঈদুল ফিতরের এক বা দুই পূর্বে সাদ্‌কাতুল ফিতর প্রদান করতেন।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৯. কি পরিমাণ সাদ্‌কাতুল ফিতর দিতে হবে তার বর্ণনা।

باب كَمْ يُؤَدَّى فِي صَدَقَةِ الْفِطْرِ

1611

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، - وَقَرَأَهُ عَلَى مَالِكٍ أَيْضًا - عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَضَ زَكَاةَ الْفِطْرِ - قَالَ فِيهِ فِيمَا قَرَأَهُ عَلَىَّ مَالِكٌ - زَكَاةُ الْفِطْرِ مِنْ رَمَضَانَ صَاعٌ مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعٌ مِنْ شَعِيرٍ عَلَى كُلِّ حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى مِنَ الْمُسْلِمِينَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬১১. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাদ্‌কাতুল ফিতর নির্ধারিত করেছেন (আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা এই হাদীস সম্পর্কে বলেন, মালিক আমাদের নিকট এরূপ বর্ণনা করেছেন, রমযানের সাদ্‌কাতুল ফিতর এক সা’ খেজুর কিংবা এক সা’ বার্লি প্রত্যেক স্বাধীন, ক্রীতদাস এবং নর-নারী নির্বিশেষে সকল মুসলমানের জন্য দেয়।

1612

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ السَّكَنِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَهْضَمٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا فَذَكَرَ بِمَعْنَى مَالِكٍ زَادَ وَالصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ وَأَمَرَ بِهَا أَنْ تُؤَدَّى قَبْلَ خُرُوجِ النَّاسِ إِلَى الصَّلاَةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ عَبْدُ اللَّهِ الْعُمَرِيُّ عَنْ نَافِعٍ بِإِسْنَادِهِ قَالَ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ وَرَوَاهُ سَعِيدٌ الْجُمَحِيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ قَالَ فِيهِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَالْمَشْهُورُ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ لَيْسَ فِيهِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬১২. ইয়াহয়া ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাদ্‌কাতুল ফিতর (মাথাপিছু) এক সা’ নির্ধারণ করেছেন ......... (আমর ইবনে নাফে) মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে এই বর্ণনায় আরও আছেঃ “ছোট এবং বড় সকলের পক্ষ থেকে। আর তিনি তা ঈদুল ফিতরের নামাযের জন্য লোকদের বের হওয়ার পূর্বে আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

1613

دَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَنَّ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، وَبِشْرَ بْنَ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَاهُمْ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، ح وَحَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ فَرَضَ صَدَقَةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ أَوْ تَمْرٍ عَلَى الصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ وَالْحُرِّ وَالْمَمْلُوكِ زَادَ مُوسَى وَالذَّكَرِ وَالأُنْثَى . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ فِيهِ أَيُّوبُ وَعَبْدُ اللَّهِ - يَعْنِي الْعُمَرِيَّ - فِي حَدِيثِهِمَا عَنْ نَافِعٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬১৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (নবী (ﷺ)) সদকায়ে ফিতর এক সা’* খেজুর বা এক সা’ বার্লি নির্ধারণ করেছেন, ছোট বড়, স্বাধীন ও ক্রীতদাসের উপর। রাবী মুসা আরও বর্ণনা করেছেন, নর ও নারীর (জন্যও দেয়)।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

1614

حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ خَالِدٍ الْجُهَنِيُّ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ، عَنْ زَائِدَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي رَوَّادٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ النَّاسُ يُخْرِجُونَ صَدَقَةَ الْفِطْرِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ أَوْ تَمْرٍ أَوْ سُلْتٍ أَوْ زَبِيبٍ . قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَلَمَّا كَانَ عُمَرُ - رضى الله عنه - وَكَثُرَتِ الْحِنْطَةُ جَعَلَ عُمَرُ نِصْفَ صَاعِ حِنْطَةٍ مَكَانَ صَاعٍ مِنْ تِلْكَ الأَشْيَاءِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬১৪. আল-হায়ছাম ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে মাথাপিছু এক সা’ পরিমাণ বার্লি অথবা খেজুর বা বার্লি জাতীয় শস্য, অথবা কিসমিস সদকায়ে ফিতর প্রদান করত। রাবী (নাফে) বলেন, আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেনঃ অতঃপর হযরত উমর (রাযিঃ)-র সময় যখন গমের ফলন অধিক হতে থাকে, তখন তিনি আধা সা’ গমকে উল্লেখিত বস্তুর এক সা’-এর সম পরিমাণ নির্ধারণ করেন।

1615

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَعَدَلَ النَّاسُ بَعْدُ نِصْفَ صَاعٍ مِنْ بُرٍّ . قَالَ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ يُعْطِي التَّمْرَ فَأَعْوَزَ أَهْلَ الْمَدِينَةِ التَّمْرُ عَامًا فَأَعْطَى الشَّعِيرَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬১৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, পরবর্তীকালে লোকেরা (উমরের) অর্ধ সা’ গম দিতে থাকে। নাফে’ বলেন, আর আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) সাদ্‌কায়ে ফিতর হিসাবে শুকনা খেজুর প্রদান করতেন। অতঃপর কোন এক বছর মদীনায় শুকনা খেজুর দুষ্প্রাপ্য হওয়ায় তাঁর তাঁর সদকায়ে ফিতর হিসাবে বার্লি প্রদান করেন।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

1616

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ، - يَعْنِي ابْنَ قَيْسٍ - عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كُنَّا نُخْرِجُ إِذْ كَانَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَكَاةَ الْفِطْرِ عَنْ كُلِّ صَغِيرٍ وَكَبِيرٍ حُرٍّ أَوْ مَمْلُوكٍ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ أَوْ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ فَلَمْ نَزَلْ نُخْرِجُهُ حَتَّى قَدِمَ مُعَاوِيَةُ حَاجًّا أَوْ مُعْتَمِرًا فَكَلَّمَ النَّاسَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَكَانَ فِيمَا كَلَّمَ بِهِ النَّاسَ أَنْ قَالَ إِنِّي أَرَى أَنَّ مُدَّيْنِ مِنْ سَمْرَاءِ الشَّامِ تَعْدِلُ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ فَأَخَذَ النَّاسُ بِذَلِكَ . فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ فَأَمَّا أَنَا فَلاَ أَزَالُ أُخْرِجُهُ أَبَدًا مَا عِشْتُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ عُلَيَّةَ وَعَبْدَةُ وَغَيْرُهُمَا عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ عَنْ عِيَاضٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ بِمَعْنَاهُ وَذَكَرَ رَجُلٌ وَاحِدٌ فِيهِ عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ أَوْ صَاعَ حِنْطَةٍ . وَلَيْسَ بِمَحْفُوظٍ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৬১৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে (জীবিত) ছিলেন, তখন আমরা সদকায়ে ফিতর আদায় করতাম, প্রত্যেক ছোট, বড়, স্বাধীন ও ক্রীতদাসের পক্ষ থেকে এক সা’ পরিমাণ খাদ্য (খাদ্যশস্য) বা এক সা’ পরিমাণ পনির বা এক সা’ বার্লি বা এক সা খোরমা অথবা এক সা’ পরিমাণ কিসমিস।

আমরা এই হিসাবে সাদ্‌কায়ে ফিতর দিয়ে যাচ্ছিলাম এবং অবশেষে মুআবিয়া (রাযিঃ) হজ্জ অথবা উমরার উদ্দেশ্যে আগমন করেন। অতঃপর তিনি মিম্বরে আরোহণ পূর্বক ভাষণ দেন এবং লোকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সিরিয়া থেকে আগত দুই ‘মুদ্দ’* গম এক সা’ খেজুরের সম পরিমাণ। তখন লোকেরা তাই গ্রহণ করেন। কিন্তু আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) বলেন, আমি যত দিন জীবিত আছি, সদকায়ে ফিতর এক সা’ হিসাবেই প্রদান করতে থাকব।

Reference: কুতুবে সিত্তাহ

1617

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ، لَيْسَ فِيهِ ذِكْرُ الْحِنْطَةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَدْ ذَكَرَ مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ عَنِ الثَّوْرِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عِيَاضٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، " نِصْفَ صَاعٍ مِنْ بُرٍّ " . وَهُوَ وَهَمٌ مِنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ هِشَامٍ أَوْ مِمَّنْ رَوَاهُ عَنْهُ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৬১৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) থেকে ইসমাঈলের সূত্রে বর্ণিত এ হাদীসে ‘গমের’ উল্লেখ নাই।

1618

حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، سَمِعَ عِيَاضًا، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ لاَ أُخْرِجُ أَبَدًا إِلاَّ صَاعًا إِنَّا كُنَّا نُخْرِجُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَاعَ تَمْرٍ أَوْ شَعِيرٍ أَوْ أَقِطٍ أَوْ زَبِيبٍ هَذَا حَدِيثُ يَحْيَى زَادَ سُفْيَانُ أَوْ صَاعًا مِنْ دَقِيقٍ قَالَ حَامِدٌ فَأَنْكَرُوا عَلَيْهِ فَتَرَكَهُ سُفْيَانُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ فَهَذِهِ الزِّيَادَةُ وَهَمٌ مِنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৬১৮. হামিদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ..... ইবনে আজলান ইয়াদ (রাহঃ) কে বলতে শুনেছেন, আমি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ আমি সব সময়ই (সকল বস্তু হতে) সাদ্‌কায়ে ফিতর হিসাবে এক সা’ পরিমাণই আদায় করতে থাকব। কেননা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে খেজুর, বার্লি, পনির ও কিসমিস সদকায়ে ফিতর হিসাবে এক সা’ করে আদায় করতাম। এটা ইয়াহয়া বর্ণিত হাদীস। তবে সুফিয়ানের বর্ণনায় আরও আছে: ″অথবা এক সা’ আটা″।

রাবী হামিদ বলেন, মুহাদ্দিছগণ এটা গ্রহণে অসম্মতি জ্ঞাপন করায় সুফিয়ান এটা পরিহার করেন।

২০. অর্ধ সা’ গম প্রদানের বর্ণনাসমুহ

باب مَنْ رَوَى نِصْفَ، صَاعٍ مِنْ قَمْحٍ

1619

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ رَاشِدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، - قَالَ مُسَدَّدٌ عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي صُعَيْرٍ، - عَنْ أَبِيهِ، - وَقَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ ثَعْلَبَةَ أَوْ ثَعْلَبَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي صُعَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ، - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صَاعٌ مِنْ بُرٍّ أَوْ قَمْحٍ عَلَى كُلِّ اثْنَيْنِ صَغِيرٍ أَوْ كَبِيرٍ حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى أَمَّا غَنِيُّكُمْ فَيُزَكِّيهِ اللَّهُ وَأَمَّا فَقِيرُكُمْ فَيَرُدُّ اللَّهُ عَلَيْهِ أَكْثَرَ مِمَّا أَعْطَاهُ " . زَادَ سُلَيْمَانُ فِي حَدِيثِهِ غَنِيٍّ أَوْ فَقِيرٍ .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে ছা'লাবা (রাঃ)

১৬১৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে ছা’লাবা অথবা ছা’লাবা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবী সুআয়র (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ ছোট বা বড়, স্বাধীন বা ক্রীতদাস, নর বা নারী তোমাদের প্রতি দুইজনের পক্ষ থেকে এক সা’ গম বা খেজুর নির্ধারিত করা হল। তোমাদের মধ্যে যারা ধনী, তাদের আল্লাহ পবিত্র করবেন এবং যারা গরীব তাদেরকে দানের তুলনায় আরও অধিক দান করবেন। রাবী সুলাইমান তাঁর হাদীসে গ’নী অথবা ফকীর শব্দ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।

1620

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ الدَّرَابَجِرْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا بَكْرٌ، - هُوَ ابْنُ وَائِلٍ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَوْ قَالَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ثَعْلَبَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ بَكْرٍ الْكُوفِيِّ، قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى هُوَ بَكْرُ بْنُ وَائِلِ بْنِ دَاوُدَ أَنَّ الزُّهْرِيَّ، حَدَّثَهُمْ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ثَعْلَبَةَ بْنِ صُعَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطِيبًا فَأَمَرَ بِصَدَقَةِ الْفِطْرِ صَاعِ تَمْرٍ أَوْ صَاعِ شَعِيرٍ عَنْ كُلِّ رَأْسٍ زَادَ عَلِيٌّ فِي حَدِيثِهِ أَوْ صَاعِ بُرٍّ أَوْ قَمْحٍ بَيْنَ اثْنَيْنِ - ثُمَّ اتَّفَقَا - عَنِ الصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ وَالْحُرِّ وَالْعَبْدِ .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে ছা'লাবা (রাঃ)

১৬২০. আলী ইবনুল হাসান (রাহঃ) .... ছা’লাবা ইবনে আব্দুল্লাহ অথবা (রাবীর সন্দেহ) আব্দুল্লাহ ইবনে ছা’লাবা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। অপর পক্ষে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া আন-নিশাপুরী ......... আব্দুল্লাহ ইবনে ছালাবা ইবনে সাগীর তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ পরিমাণ বার্লি সদকায়ে ফিতর হিসাবে দেয়ার নির্দেশ দেন।

রাবী আলী ইবনে হাসানের হাদীসে আরও আছেঃ براوقمح ( উভয় শব্দের অর্থ অভিন্ন)। অতঃপর উভয় রাবী (আলী ইবনে হাসান ও মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া) এক হয়ে বর্ণনা করেছেনঃ ছোট, বড়, স্বাধীন ও ক্রীতদাস সকলের পক্ষ হতে (সাদ্‌কায়ে ফিতর) আদায় করতে হবে।
1621

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ وَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ ثَعْلَبَةَ قَالَ ابْنُ صَالِحٍ قَالَ الْعَدَوِيُّ وَإِنَّمَا هُوَ الْعُذْرِيُّ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّاسَ قَبْلَ الْفِطْرِ بِيَوْمَيْنِ بِمَعْنَى حَدِيثِ الْمُقْرِئِ .

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

১৬২১. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে ছালাবা আর ইবনে সালেহ (রাহঃ) তার সাথে আল-আদাবী অর্থাৎ আল-আযরী যোগ করেছেন। রাবী ’আযরী বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল ফিতরের দুই দিন পূর্বে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন ......... আল মুকরীর (আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ) হাদীসের অনুরূপ।

1622

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ حُمَيْدٌ أَخْبَرَنَا عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ خَطَبَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَحِمَهُ اللَّهُ فِي آخِرِ رَمَضَانَ عَلَى مِنْبَرِ الْبَصْرَةِ فَقَالَ أَخْرِجُوا صَدَقَةَ صَوْمِكُمْ فَكَأَنَّ النَّاسَ لَمْ يَعْلَمُوا فَقَالَ مَنْ هَا هُنَا مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ قُومُوا إِلَى إِخْوَانِكُمْ فَعَلِّمُوهُمْ فَإِنَّهُمْ لاَ يَعْلَمُونَ فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَذِهِ الصَّدَقَةَ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ شَعِيرٍ أَوْ نِصْفَ صَاعٍ مِنْ قَمْحٍ عَلَى كُلِّ حُرٍّ أَوْ مَمْلُوكٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى صَغِيرٍ أَوْ كَبِيرٍ فَلَمَّا قَدِمَ عَلِيٌّ - رضى الله عنه - رَأَى رُخْصَ السِّعْرِ قَالَ قَدْ أَوْسَعَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ فَلَوْ جَعَلْتُمُوهُ صَاعًا مِنْ كُلِّ شَىْءٍ . قَالَ حُمَيْدٌ وَكَانَ الْحَسَنُ يَرَى صَدَقَةَ رَمَضَانَ عَلَى مَنْ صَامَ .

Narrator: হাসান বসরী (রহঃ)

১৬২২. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ..... আল-হাসান (আল বসরী) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) রমযানের শেষভাগে বসরার (মসজিদের) মিম্বরে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন এবং বলেনঃ তোমরা তোমাদের রোযার যাকাত (সদকায়ে ফিতর) প্রদান কর। উপস্থিত জনগণ তাঁর বক্তব্য হৃদয়ঙ্গম করতে অসমর্থ হলে তিনি সেখানে উপস্থিত মদীনার লোকদের সম্বোধন করে বলেনঃ তোমরা তোমাদের ভাইদের নিকট যাও এবং তাদের এ সম্পর্কে শিক্ষা প্রদান কর, কেননা তারা বুঝতে পারছে না। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এই সদকাহ এক সা’ পরিমাণ খেজুর বা বার্লি অথবা অর্ধ সা’ পরিমাণ গম প্রত্যেক স্বাধীন ক্রীতদাস, নর-নারী, ছোট-বড় সকলের উপর ধার্য করেছেন। অতঃপর আলী (রাযিঃ) যখন (বসরায়) এলেন তখন জিনিসপত্রের দর কম দেখে বলেনঃ এখন আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে প্রাচুর্য দান করেছেন। কাজেই তোমরা যদি প্রত্যেক বস্তু হতে সাদ্‌কাহ (সাদ্‌কায়ে-ফিতর) হিসাবে এক সা’ পরিমাণ প্রদান কর (তবে ভালো হত)।

রাবী হুমায়দ বলেন, হাসান এই মত পোষণ করতেন যে, রমযানের ফিতরা (সাদ্‌কায়ে ফিতর) কেবল রোযাদার ব্যক্তির উপর ওয়াজিব।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

২১. অবিলম্বে (অগ্রিম) যাকাত পরিশোধ কর।

باب فِي تَعْجِيلِ الزَّكَاةِ

1623

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، عَنْ وَرْقَاءَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ بَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَلَى الصَّدَقَةِ فَمَنَعَ ابْنُ جَمِيلٍ وَخَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ وَالْعَبَّاسُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا يَنْقِمُ ابْنُ جَمِيلٍ إِلاَّ أَنْ كَانَ فَقِيرًا فَأَغْنَاهُ اللَّهُ وَأَمَّا خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ فَإِنَّكُمْ تَظْلِمُونَ خَالِدًا فَقَدِ احْتَبَسَ أَدْرَاعَهُ وَأَعْتُدَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَمَّا الْعَبَّاسُ عَمُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَهِيَ عَلَىَّ وَمِثْلُهَا " . ثُمَّ قَالَ " أَمَا شَعَرْتَ أَنَّ عَمَّ الرَّجُلِ صِنْوُ الأَبِ " . أَوْ " صِنْوُ أَبِيهِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬২৩. আল-হাসান ইবনুস-সাব্বাহ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-কে যাকাত আদায়ের জন্য প্রেরণ করেন। ইবনে জামীল, খালীদ ইবনুল ওলীদ এবং আব্বাস (রাযিঃ) যাকাত প্রদানে বিরত থাকেন। সুতরাং রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ইবনে জামীল যাকাত প্রদানে অনিচ্ছুক কেন? আসলে সে তো গরীব ছিল, এখন আল্লাহ তাকে ধনী করেছেন। আর খালিদ ইবনুল ওলীদের প্রতি তোমরা যুলুম করেছ (অর্থাৎ তার উপর যাকাত ফরজ নয়)। কেননা সে তো তার লৌহবর্ম ওয়াক্‌ফ করেছে এবং তার সমুদয় যুদ্ধাস্ত্র আল্লাহর পথে যুদ্ধের জন্য দিয়ে দিয়েছে। আর আব্বাস, তিনি তো রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর চাচা, তাঁর যাকাত আদায় ও অনুরূপ খরচপত্রের ভার আমাকেই বহন করতে হবে। অতঃপর তিনি বলেনঃ তুমি কি অবগত নও যে, কোন ব্যক্তির চাচা তার পিতার সমতুল্য বা তার পিতার মতই?

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

1624

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ حُجَيَّةَ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ الْعَبَّاسَ، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي تَعْجِيلِ صَدَقَتِهِ قَبْلَ أَنْ تَحِلَّ فَرَخَّصَ لَهُ فِي ذَلِكَ . قَالَ مَرَّةً فَأَذِنَ لَهُ فِي ذَلِكَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى هَذَا الْحَدِيثَ هُشَيْمٌ عَنْ مَنْصُورِ بْنِ زَاذَانَ عَنِ الْحَكَمِ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَحَدِيثُ هُشَيْمٍ أَصَحُّ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৬২৪. সাঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আব্বাস (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট (সময়ের পূর্বে) দ্রুত যাকাত প্রদানের অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি তাঁকে অনুমতি দান করেন।

আরও একটি সূত্রে হুশাইম থেকে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে এবং এই শেষোক্ত সূত্রটি অধিকতর সহীহ।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২২. এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাকাত সামগ্রী খরচ করা সম্পর্কে।

باب فِي الزَّكَاةِ هَلْ تُحْمَلُ مِنْ بَلَدٍ إِلَى بَلَدٍ

1625

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا أَبِي، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَطَاءٍ، مَوْلَى عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ زِيَادًا، أَوْ بَعْضَ الأُمَرَاءِ بَعَثَ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ عَلَى الصَّدَقَةِ فَلَمَّا رَجَعَ قَالَ لِعِمْرَانَ أَيْنَ الْمَالُ قَالَ وَلِلْمَالِ أَرْسَلْتَنِي أَخَذْنَاهَا مِنْ حَيْثُ كُنَّا نَأْخُذُهَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَوَضَعْنَاهَا حَيْثُ كُنَّا نَضَعُهَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

১৬২৫. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ..... ইবরাহীম ইবনে আতা (রাহঃ) তাঁর পিতার নিকট হতে বর্ণনা করেছেন যে, যিয়াদ অথবা অন্য কোন শাসক ইমরান ইবনে হুসাঈন (রাযিঃ)-কে যাকাত আদায়ের জন্য প্রেরণ করেন। অতঃপর ইমরান (রাযিঃ) ফিরে এলে তিনি (আমীর) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, যাকাতের মাল কোথায়? তিনি বলেনঃ আপনি আমাকে যাকাতের যে মাল আদায়ের জন্য প্রেরণ করেন, তা আমরা সেই সমস্ত স্থান হতে আদায় করেছি; যেখান হতে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে আদায় করতাম, আর তা সেই সমস্ত স্থানে খরচ করেছি, যেখানে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে ব্যয় করতাম (অর্থাৎ যেখানে আদায় করা হত সেই এলাকার গরীবদের মধ্যে বিতরণ করা হত)।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২৩. যাকাত কাকে দিতে হবে এবং কাকে ধনী বলা যায়।

باب مَنْ يُعْطَى مِنَ الصَّدَقَةِ وَحَدِّ الْغِنَى

1626

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَأَلَ وَلَهُ مَا يُغْنِيهِ جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ خُمُوشٌ - أَوْ خُدُوشٌ - أَوْ كُدُوحٌ - فِي وَجْهِهِ " . فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْغِنَى قَالَ " خَمْسُونَ دِرْهَمًا أَوْ قِيمَتُهَا مِنَ الذَّهَبِ " . قَالَ يَحْيَى فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ لِسُفْيَانَ حِفْظِي أَنَّ شُعْبَةَ لاَ يَرْوِي عَنْ حَكِيمِ بْنِ جُبَيْرٍ فَقَالَ سُفْيَانُ فَقَدْ حَدَّثَنَاهُ زُبَيْدٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৬২৬. আল-হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি ভিক্ষা চায় অথচ তার নিকট যা আছে তা তার জন্য যথেষ্ট, সে কিয়ামতের দিন স্বীয় চেহারায় অসংখ্য জখম, নখের আঁচড় ও ক্ষত সহ আগমন করবে। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ধনী কে? তিনি বলেনঃ পঞ্চাশ দিরহাম অথবা পঞ্চাশ দিরহাম মূল্যের পরিমাণ স্বর্ণ (যার কাছে থাকবে সে ভিক্ষা করতে পারবে না)।

ইয়াহয়া (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উছমান (রাহঃ) সুফিয়ানকে বলেন, আমার স্মরণ আছে যে, শোবা (রাহঃ) হাকীমের সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেন না। সুফিয়ান বলেন, যুবায়দ (রাহঃ) মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদের সূত্রে তা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।

Reference: আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

1627

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي أَسَدٍ أَنَّهُ قَالَ نَزَلْتُ أَنَا وَأَهْلِي، بِبَقِيعِ الْغَرْقَدِ فَقَالَ لِي أَهْلِي اذْهَبْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلْهُ لَنَا شَيْئًا نَأْكُلُهُ فَجَعَلُوا يَذْكُرُونَ مِنْ حَاجَتِهِمْ فَذَهَبْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدْتُ عِنْدَهُ رَجُلاً يَسْأَلُهُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ أَجِدُ مَا أُعْطِيكَ " . فَتَوَلَّى الرَّجُلُ عَنْهُ وَهُوَ مُغْضَبٌ وَهُوَ يَقُولُ لَعَمْرِي إِنَّكَ لَتُعْطِي مَنْ شِئْتَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَغْضَبُ عَلَىَّ أَنْ لاَ أَجِدَ مَا أُعْطِيهِ مَنْ سَأَلَ مِنْكُمْ وَلَهُ أُوقِيَّةٌ أَوْ عَدْلُهَا فَقَدْ سَأَلَ إِلْحَافًا " . قَالَ الأَسَدِيُّ فَقُلْتُ لَلَقِحَةٌ لَنَا خَيْرٌ مِنْ أُوقِيَّةٍ وَالأُوقِيَّةُ أَرْبَعُونَ دِرْهَمًا . قَالَ فَرَجَعْتُ وَلَمْ أَسْأَلْهُ فَقَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ ذَلِكَ شَعِيرٌ أَوْ زَبِيبٌ فَقَسَمَ لَنَا مِنْهُ - أَوْ كَمَا قَالَ - حَتَّى أَغْنَانَا اللَّهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَكَذَا رَوَاهُ الثَّوْرِيُّ كَمَا قَالَ مَالِكٌ .

Narrator: আতা ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

১৬২৭. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আতা ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) বনী আসাদ গোত্রের এক ব্যক্তি হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা আমি এবং আমার পরিবার-পরিজন (মদীনার নিকটবর্তী) বাকী আল-গারকাদে গিয়ে অবতরণ করি। তখন আমার স্ত্রী আমাকে বলে, আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট যান এবং তাঁর নিকট কিছু প্রার্থনা করুন যা আমরা আহার করতে পারি। আর আমার পরিবারের লোকেরাও তাদের প্রয়োজনের কথা বর্ণনা করতে থাকে। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পৌঁছে দেখতে পাই যে, জনৈক ব্যক্তি তাঁর নিকট কিছু প্রার্থনা করছে আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলছেনঃ আমার নিকট এমন কিছু নাই যা আমি তোমাকে দিতে পারি।

অতঃপর সে তাঁর নিকট হতে অসন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যাওয়ার সময় বলতে থাকেঃ আমার জীবনের শপথ! নিশ্চয় আপনি আপনার পছন্দসই লোককে দিয়ে থাকেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ লোকটি আমার উপর অসন্তুষ্ট হলো, কিন্তু আমার নিকট দেয়ার মত কিছুই নাই। অতঃপর তিনি আরো বলেনঃ তোমাদের মধ্যে যারা ভিক্ষা চায়, আর সে এক উকিয়া* বা তার সমপরিমাণ মুল্যের মালের মালিক সে অবশ্যই উত্যক্ত করার জন্য ভিক্ষা চায়।

আসাদী বলেন, তখন আমি (মনে মনে) বলি, আমাদের উট উকিয়া হতে উত্তম। আর উকিয়া হল চল্লিশ দিরহামের সমান। রাবী বলেন, আমি তাঁর নিকট কিছুই না চেয়ে ফিরে আসি। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে কিছু গম ও কিসমিস এলে তিনি তার অংশবিশেষ আমাদেরও দান করেন, অথবা (রাবীর সন্দেহ) যেমন তিনি বলেছেন, এমনকি আল্লাহ তাআলা এর বদৌলতে আমাদেরকে মালদার বানিয়ে দেন।

* উকিয়া হলঃ রৌপ্যের ওজন, যার পরিমাণ হল এক তোলা সাত মাশা। অন্য বর্ণনায় উকিয়া হলঃ চল্লিশ দিরহামের সমান।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

1628

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الرِّجَالِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ " مَنْ سَأَلَ وَلَهُ قِيمَةُ أُوقِيَّةٍ فَقَدْ أَلْحَفَ " . فَقُلْتُ نَاقَتِي الْيَاقُوتَةُ هِيَ خَيْرٌ مِنْ أُوقِيَّةٍ . قَالَ هِشَامٌ خَيْرٌ مِنْ أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا فَرَجَعْتُ فَلَمْ أَسْأَلْهُ شَيْئًا زَادَ هِشَامٌ فِي حَدِيثِهِ وَكَانَتِ الأُوقِيَّةُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৬২৮. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি ভিক্ষা চায়, আর তার নিকট এক উকিয়া পরিমাণ মূল্যের বস্ত থাকে সে অসংগতভাবে ভিক্ষা চায়। অতঃপর আমি (মনে মনে) বলি, আমার ইয়াকূত নাম্নী উট তো এক উকিয়ার চাইতেও উত্তম। রাবী হিশাম বলেন, চল্লিশ দিরহাম হতেও উত্তম। অতপঃর আমি তার নিকট কিছু প্রার্থনা না করে প্রত্যাবর্তন করি। হিশাম তাঁর হাদীসে আরও বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে এক উকিয়া চল্লিশ দিরহামের সমপরিমাণ মূল্যের ছিল।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

1629

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مِسْكِينٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي كَبْشَةَ السَّلُولِيِّ، حَدَّثَنَا سَهْلُ ابْنُ الْحَنْظَلِيَّةِ، قَالَ قَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ عُيَيْنَةُ بْنُ حِصْنٍ وَالأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ فَسَأَلاَهُ فَأَمَرَ لَهُمَا بِمَا سَأَلاَ وَأَمَرَ مُعَاوِيَةَ فَكَتَبَ لَهُمَا بِمَا سَأَلاَ فَأَمَّا الأَقْرَعُ فَأَخَذَ كِتَابَهُ فَلَفَّهُ فِي عِمَامَتِهِ وَانْطَلَقَ وَأَمَّا عُيَيْنَةُ فَأَخَذَ كِتَابَهُ وَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَكَانَهُ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ أَتَرَانِي حَامِلاً إِلَى قَوْمِي كِتَابًا لاَ أَدْرِي مَا فِيهِ كَصَحِيفَةِ الْمُتَلَمِّسِ . فَأَخْبَرَ مُعَاوِيَةُ بِقَوْلِهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَأَلَ وَعِنْدَهُ مَا يُغْنِيهِ فَإِنَّمَا يَسْتَكْثِرُ مِنَ النَّارِ " . وَقَالَ النُّفَيْلِيُّ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ " مِنْ جَمْرِ جَهَنَّمَ " . فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا يُغْنِيهِ وَقَالَ النُّفَيْلِيُّ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ وَمَا الْغِنَى الَّذِي لاَ تَنْبَغِي مَعَهُ الْمَسْأَلَةُ قَالَ " قَدْرُ مَا يُغَدِّيهِ وَيُعَشِّيهِ " . وَقَالَ النُّفَيْلِيُّ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ " أَنْ يَكُونَ لَهُ شِبَعُ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ أَوْ لَيْلَةٍ وَيَوْمٍ " . وَكَانَ حَدَّثَنَا بِهِ مُخْتَصِرًا عَلَى هَذِهِ الأَلْفَاظِ الَّتِي ذُكِرَتْ .

Narrator: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

১৬২৯. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... সাহল ইবনুর-রাবী আল-হানযালীয়া (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে উয়াইনা ইবনে হিসন ও আল-আকরা ইবনে হাবিস আগমন করে। তারা উভয়ে তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করলে তিনি তাদের প্রার্থনার অনুরূপ মাল প্রদানের নির্দেশ দেন এবং মুআবিয়া (রাযিঃ)-কে তাদের অনুকূলে একটি দলীল লিখে দিতে নির্দেশ দেন। তখন মুআবিয়া (রাযিঃ) তাদের উভয়ের চাহিদা অনুযায়ী তা লিখে দেন। অতঃপর আকরা এই নির্দেশনামা নিয়ে তা ভাঁজ করে তার পাগড়ীর মধ্যে লুকিয়ে চলে যায়। কিন্তু উয়াইনা নিজের নির্দেশনামা গ্রহণ করে তা নিয়ে নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট এসে বলেঃ ইয়া মুহাম্মাদ! আপনি কি চান যে, আমি আমার কওমের নিকট এমন একটি পত্র বহন করে নিয়ে যাই যার বিষয়বস্তু সম্পর্কে আমি অজ্ঞ (সহীফাতুল মুতালাম্মেসের)* মত।

মুআবিয়া (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে তার কথা অবহিত করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি ধনী (অমুখাপেক্ষী) হওয়া সত্ত্বেও সম্পদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অন্যের নিকট কিছু চায়, সে অধিক দোজখের আগুন চায়। রাবী নুফায়লীর অন্য বর্ণনায় আছেঃ জাহান্নামের জ্বলন্ত অঙ্গার চায়। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ধনী (বা মুখাপেক্ষী) হওয়ার সীমা কি? রাবী নুফায়লীর অন্য বর্ণনায় উল্লেখ করেনঃ অমুখাপেক্ষীতার সীমা কি, যার কারণে অন্যের নিকট কিছু চাওয়া অনুচিত হয়? তিনি বলেন, কারো নিকট এমন সম্পদ থাকা, যা তার সকাল ও সন্ধ্যার প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট। রাবী নুফায়লীর অন্য বর্ণনায় আছেঃ যে ব্যক্তির নিকট এমন পরিমাণ সম্পদ হবে, যা তার রাত-দিন বা দিন-রাতের জন্য যথেষ্ট। ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ আমি এখানে যে হাদীস উল্লেখ করলাম তা নুফায়লী আমাদের নিকট সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।

* মুতালাম্মেসের দলীল, ইনি প্রাচীন আরবের একজন কবি ছিলেন। কোন এক বাদশাহের বিরুদ্ধে বিদ্রুপাত্মক কবিতা রচনা করায় তিনি রুষ্ট হন এবং তাঁর এক গভর্নরের নিকট একটি একটি পত্রসহ তাঁকে পাঠান। কবি মনে করেন, নিশ্চয় বাদ্শাহ তাঁকে পুরস্কৃত করার জন্য লিখেছেন। পথিমধ্যে সন্দেহ বশে তিনি পত্র খুলে দেখতে পান যে, তন্মধ্যে তাঁর মৃত্যুদন্ড দেওয়ার নিদের্শ আছে। অতঃপর তিনি সেই গভর্নরের নিকট উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকেন এবং বেঁচে যান। এমতাবস্থায় তা একটি আরবীয় প্রবাদবাক্যে পরিণত হয়েছে।
1630

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ عُمَرَ بْنِ غَانِمٍ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادٍ، أَنَّهُ سَمِعَ زِيَادَ بْنَ نُعَيْمٍ الْحَضْرَمِيَّ، أَنَّهُ سَمِعَ زِيَادَ بْنَ الْحَارِثِ الصُّدَائِيَّ، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَايَعْتُهُ فَذَكَرَ حَدِيثًا طَوِيلاً قَالَ فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ أَعْطِنِي مِنَ الصَّدَقَةِ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَمْ يَرْضَ بِحُكْمِ نَبِيٍّ وَلاَ غَيْرِهِ فِي الصَّدَقَاتِ حَتَّى حَكَمَ فِيهَا هُوَ فَجَزَّأَهَا ثَمَانِيَةَ أَجْزَاءٍ فَإِنْ كُنْتَ مِنْ تِلْكَ الأَجْزَاءِ أَعْطَيْتُكَ حَقَّكَ " .

Narrator: যিয়াদ ইবনে হারিছ সুদাঈ (রাঃ)

১৬৩০. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... যিয়াদ ইবনে হারিছ আস-সুদাঈ (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে হাজির হয়ে তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করি। অতঃপর তিনি একটি দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন, অতপর বলেন, তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলে, আমাকে কিছু যাকাতের মাল দান করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেনঃ আল্লাহ তাআলা সাদকার (মাল খরচের ব্যাপারে) তাঁর নবী ও অন্যের নির্দেশের উপর সন্তুষ্ট হননি, বরং তিনি এ ব্যাপারে স্বয়ং নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং তা আট শ্রেনীর লোকের মধ্যে বিভক্ত করেছেন। যদি তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হও তবে আমি অবশ্যই তোমাকে তোমার হক প্রদান করব।

1631

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ الْمِسْكِينُ الَّذِي تَرُدُّهُ التَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ وَالأُكْلَةُ وَالأُكْلَتَانِ وَلَكِنَّ الْمِسْكِينَ الَّذِي لاَ يَسْأَلُ النَّاسَ شَيْئًا وَلاَ يَفْطِنُونَ بِهِ فَيُعْطُونَهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৩১. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ ঐ ব্যক্তি মিসকীন নয়, যাকে তুমি একটি এবং দুটি খেজুর, কিংবা এক বা দুই লোকমা খাদ্য দান কর। বরং প্রকৃত মিসকীন তারাই, যারা (অভাবী হওয়া সত্ত্বেও) মানুষের নিকট চায় না, যার ফলে মানুষেরা তাদের অভাব সম্পর্কে অবহিতও হতে পারে না যে, তাদের দান-খয়রাত করবে।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

1632

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، وَأَبُو كَامِلٍ - الْمَعْنَى - قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ قَالَ " وَلَكِنَّ الْمِسْكِينَ الْمُتَعَفِّفُ " . زَادَ مُسَدَّدٌ فِي حَدِيثِهِ " لَيْسَ لَهُ مَا يَسْتَغْنِي بِهِ الَّذِي لاَ يَسْأَلُ وَلاَ يُعْلَمُ بِحَاجَتِهِ فَيُتَصَدَّقُ عَلَيْهِ فَذَاكَ الْمَحْرُومُ " . وَلَمْ يَذْكُرْ مُسَدَّدٌ " الْمُتَعَفِّفُ الَّذِي لاَ يَسْأَلُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا مُحَمَّدُ بْنُ ثَوْرٍ وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ جَعَلاَ الْمَحْرُومَ مِنْ كَلاَمِ الزُّهْرِيِّ وَهَذَا أَصَحُّ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৩২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ......... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। মুসাদ্দাদের বর্ণনায় আছে, মিসকীন ঐ ব্যক্তি, যে অভাবী হওয়া সত্ত্বেও অন্যের নিকট নিজের প্রয়োজনের কথা ব্যক্ত করে না এবং তার অভাবও বুঝা যায় না যে, তাকে দান-খয়রাত দেয়া যেতে পারে, তাকে বঞ্চিত বলা যায়। আর মুসাদ্দাদের বর্ণনায় ″তাদেরকে ’মুতাআফফিফ" (যারা কিছুই চায় না) কথাটুকু উল্লেখ নাই।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

1633

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارِ، قَالَ أَخْبَرَنِي رَجُلاَنِ، أَنَّهُمَا أَتَيَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَهُوَ يَقْسِمُ الصَّدَقَةَ فَسَأَلاَهُ مِنْهَا فَرَفَعَ فِينَا الْبَصَرَ وَخَفَضَهُ فَرَآنَا جَلْدَيْنِ فَقَالَ " إِنْ شِئْتُمَا أَعْطَيْتُكُمَا وَلاَ حَظَّ فِيهَا لِغَنِيٍّ وَلاَ لِقَوِيٍّ مُكْتَسِبٍ " .

Narrator: উবাইদুল্লাহ ইবনে আদী ইবনে খিয়ার (রহঃ)

১৬৩৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... উবাইদুল্লাহ ইবনে আদী ইবনুল খিয়ার (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে (অপরিচিত) দুই ব্যক্তি এই খবর দেন যে, তাঁরা বিদায় হজ্জের সময় নবী করীম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে হাযির হন। তখন তিনি যাকাতের মাল বন্টনে রত ছিলেন। ঐ দুই ব্যক্তি কিছু মালের জন্য প্রার্থনা করেন। তিনি আমাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করে পুনরায় দৃষ্টি অবনত করেন। তিনি আমাদের উভয়কে শক্ত সবল ও হৃষ্টপুষ্ট দেখতে পেলেন। তিনি বলেন, যদি তোমরা চাও তবে আমি তোমাদের দুই জনকে দান করব। (কিন্তু জেনে রাখ!) এই মালে ধনী, কর্মক্ষম ও শক্ত সবলদের কোন অধিকার নাই।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

1634

حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ مُوسَى الأَنْبَارِيُّ الْخُتَّلِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، - يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ - قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ رَيْحَانَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ وَلاَ لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ سُفْيَانُ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ كَمَا قَالَ إِبْرَاهِيمُ وَرَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ سَعْدٍ قَالَ " لِذِي مِرَّةٍ قَوِيٍّ " . وَالأَحَادِيثُ الأُخَرُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بَعْضُهَا " لِذِي مِرَّةٍ قَوِيٍّ " . وَبَعْضُهَا " لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ " . وَقَالَ عَطَاءُ بْنُ زُهَيْرٍ إِنَّهُ لَقِيَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو فَقَالَ إِنَّ الصَّدَقَةَ لاَ تَحِلُّ لِقَوِيٍّ وَلاَ لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৬৩৪. আব্বাদ ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মহানবী (ﷺ) বলেনঃ ধনী ব্যক্তি ও সুঠাম দেহের অধিকারী কর্মক্ষম ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ (বা তাদের যাকাত প্রদান) বৈধ নয়।

২৪. ধনী হওয়া সত্ত্বেও যার জন্য যাকাত গ্রহণ বৈধ।

باب مَنْ يَجُوزُ لَهُ أَخْذُ الصَّدَقَةِ وَهُوَ غَنِيٌّ

1635

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ إِلاَّ لِخَمْسَةٍ لِغَازٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ لِعَامِلٍ عَلَيْهَا أَوْ لِغَارِمٍ أَوْ لِرَجُلٍ اشْتَرَاهَا بِمَالِهِ أَوْ لِرَجُلٍ كَانَ لَهُ جَارٌ مِسْكِينٌ فَتُصُدِّقَ عَلَى الْمِسْكِينِ فَأَهْدَاهَا الْمِسْكِينُ لِلْغَنِيِّ " .

Narrator: আতা ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

১৬৩৫. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আতা ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পাঁচ শ্রেনীর লোক ব্যতীত ধনী ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ বৈধ নয়ঃ
(১) আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে যোগদানকারী;
(২) যাকাত আদায়ের জন্য নিযুক্ত কর্মচারী;
(৩) ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি;
(৪) কোন ধনী ব্যক্তির গরীবের প্রাপ্ত যাকাত স্বীয় অর্থের বিনিময়ে খরিদ করা;
(৫) যার মিসকীন প্রতিবেশী নিজের প্রাপ্ত যাকাত তাকে উপঢৌকন হিসাবে দান করলে ধনী হওয়া সত্ত্বেও তা গ্রহণ বৈধ।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

1636

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ زَيْدٍ كَمَا قَالَ مَالِكٌ وَرَوَاهُ الثَّوْرِيُّ عَنْ زَيْدٍ قَالَ حَدَّثَنِي الثَّبْتُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৬৩৬. আল-হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) .... আবু সাইদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ......... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

1637

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ الطَّائِيُّ، حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عِمْرَانَ الْبَارِقِيِّ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ إِلاَّ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوِ ابْنِ السَّبِيلِ أَوْ جَارٍ فَقِيرٍ يُتَصَدَّقُ عَلَيْهِ فَيُهْدِي لَكَ أَوْ يَدْعُوكَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ فِرَاسٌ وَابْنُ أَبِي لَيْلَى عَنْ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৬৩৭. মুহাম্মাদ ইবনে আওফ (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করছেনঃ ধনী ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ করা হালাল নয়। অবশ্য যারা আল্লাহর রাস্তায় থাকে, অথবা মুসাফির, অথবা কারো দরিদ্র প্রতিবেশী যদি যাকাত হিসাবে কিছু মাল প্রাপ্ত হয়ে তা তার ধনী প্রতিবেশীকে উপঢৌকন হিসাবে দান করে অথবা দাওয়াত করে খেতে দেয়, তবে তা তাদের (ধনীদের) জন্য বৈধ বা হালাল।

২৫. এক ব্যক্তিকে যাকাতের মালের কি পরিমাণ দেয়া যেতে পারে।

باب كَمْ يُعْطَى الرَّجُلُ الْوَاحِدُ مِنَ الزَّكَاةِ

1638

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدٍ الطَّائِيُّ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، زَعَمَ أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُ سَهْلُ بْنُ أَبِي حَثْمَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَدَاهُ بِمِائَةٍ مِنْ إِبِلِ الصَّدَقَةِ - يَعْنِي دِيَةَ الأَنْصَارِيِّ الَّذِي قُتِلَ بِخَيْبَرَ .

Narrator: সাহল ইবনে আবি হাছমা (রাঃ)

১৬৩৮. আল-হাসান ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... বশীর ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আনসারদের এক ব্যক্তি যার নাম সাহল ইবনে আবু হাছমাহ, তাঁকে খবর দেন যে, নবী করীম (ﷺ) তাঁকে দিয়াতের হিসাবে একশতটি যাকাতের উট দান করেন, অর্থাৎ সেই আনসারীর দিয়াত (রক্তমূল্য) যিনি খায়বরে নিহত হন।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আল মুওয়াত্তা - ইমাম মালিক রহঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

২৬. যে অবস্থায় যাঞ্ছা করা বৈধ।

باب مَا تَجُوزُ فِيهِ الْمَسْأَلَةُ

1639

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عُقْبَةَ الْفَزَارِيِّ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمَسَائِلُ كُدُوحٌ يَكْدَحُ بِهَا الرَّجُلُ وَجْهَهُ فَمَنْ شَاءَ أَبْقَى عَلَى وَجْهِهِ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَ إِلاَّ أَنْ يَسْأَلَ الرَّجُلُ ذَا سُلْطَانٍ أَوْ فِي أَمْرٍ لاَ يَجِدُ مِنْهُ بُدًّا " .

Narrator: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

১৬৩৯. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে উকবা আল-ফাযারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ ভিক্ষাবৃত্তি হল ক্ষতবিক্ষতকারী জিনিস-যার সাহায্যে কোন ব্যক্তি নিজের মুখমণ্ডল ক্ষতবিক্ষত করে। অতএব যার ইচ্ছা সে নিজের মানসম্মান বজায় রাখুক এবং যার ইচ্ছা নিজের লজ্জা-শরম ত্যাগ করুক। কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধানের নিকট কিছু যাচ্ঞা করা বৈধ, অথবা অনন্যোপায় অবস্থায় যাচ্ঞা করা বৈধ।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

1640

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ هَارُونَ بْنِ رِيَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي كِنَانَةُ بْنُ نُعَيْمٍ الْعَدَوِيُّ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ مُخَارِقٍ الْهِلاَلِيِّ، قَالَ تَحَمَّلْتُ حَمَالَةً فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَقِمْ يَا قَبِيصَةُ حَتَّى تَأْتِيَنَا الصَّدَقَةُ فَنَأْمُرَ لَكَ بِهَا " . ثُمَّ قَالَ " يَا قَبِيصَةُ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لاَ تَحِلُّ إِلاَّ لأَحَدِ ثَلاَثَةٍ رَجُلٌ تَحَمَّلَ حَمَالَةً فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيبَهَا ثُمَّ يُمْسِكُ وَرَجُلٌ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ فَاجْتَاحَتْ مَالَهُ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ " . أَوْ قَالَ " سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ " . " وَرَجُلٌ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ حَتَّى يَقُولَ ثَلاَثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَا مِنْ قَوْمِهِ قَدْ أَصَابَتْ فُلاَنًا الْفَاقَةُ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ - أَوْ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ - ثُمَّ يُمْسِكُ وَمَا سِوَاهُنَّ مِنَ الْمَسْأَلَةِ يَا قَبِيصَةُ سُحْتٌ يَأْكُلُهَا صَاحِبُهَا سُحْتًا " .

Narrator: কাবীসা ইবনে মুখারিক্ব (রাঃ)

১৬৪০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... কাবীসা ইবনে মুখারিক আল-হিলালী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (এক জনের) ঋণের জামিন হলাম। আমি নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট এলে তিনি বলেনঃ হে কাবীসা! তুমি যাকাতের মাল আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর। আর আমি তা থেকে তোমাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দিব। অতঃপর তিনি বলেন, হে কাবীসা! তিন শ্রেনীর লোক ব্যতীত কারো জন্য যাচ্ঞা করা হালাল নয়।

(১) যে ব্যক্তি যামিন হয়েছে তার জন্য তা পরিশোধিত না হওয়া পর্যন্ত অন্যের সাহায্য চাওয়া হালাল, অতঃপর সে তা পরিত্যাগ করবে।

(২) যদি কোন ব্যক্তির ধন-সম্পদ দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বিনষ্ট হয়, তবে সে ব্যক্তির জন্য এ বিপদ হতে নিষ্কৃতি লাভ না করা পর্যন্ত যাচ্ঞা করা হালাল।

(৩) ঐ ব্যক্তি যে ধনী হওয়া সত্ত্বেও দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে অভাবগ্রস্ত ও সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছে। প্রমাণস্বরূপ যদি তার স্থানীয় তিনজন ব্যক্তি বলে যে, অমুক ব্যক্তিটি সর্বহারা হয়ে গিয়াছে তখন সেই ব্যক্তির জন্য চাওয়া (ভিক্ষা করা) ততক্ষণ পর্যন্ত বৈধ-যতক্ষণ না সে জীবন ধারণে স্বচ্ছল ও স্বাবলম্বী হয়।

অতঃপর তিনি বলেনঃ হে কাবীসা! উপরোক্ত তিন শ্রেনীর লোক ব্যতীত অন্যদের জন্য ভিক্ষা করা হারাম। যদি কেউ করে, তবে সে হারাম খায়।

Reference: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

1641

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الأَخْضَرِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الْحَنَفِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الأَنْصَارِ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَسْأَلُهُ فَقَالَ " أَمَا فِي بَيْتِكَ شَىْءٌ " . قَالَ بَلَى حِلْسٌ نَلْبَسُ بَعْضَهُ وَنَبْسُطُ بَعْضَهُ وَقَعْبٌ نَشْرَبُ فِيهِ مِنَ الْمَاءِ . قَالَ " ائْتِنِي بِهِمَا " . فَأَتَاهُ بِهِمَا فَأَخَذَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ وَقَالَ " مَنْ يَشْتَرِي هَذَيْنِ " . قَالَ رَجُلٌ أَنَا آخُذُهُمَا بِدِرْهَمٍ . قَالَ " مَنْ يَزِيدُ عَلَى دِرْهَمٍ " . مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا قَالَ رَجُلٌ أَنَا آخُذُهُمَا بِدِرْهَمَيْنِ . فَأَعْطَاهُمَا إِيَّاهُ وَأَخَذَ الدِّرْهَمَيْنِ وَأَعْطَاهُمَا الأَنْصَارِيَّ وَقَالَ " اشْتَرِ بِأَحَدِهِمَا طَعَامًا فَانْبِذْهُ إِلَى أَهْلِكَ وَاشْتَرِ بِالآخَرِ قَدُومًا فَأْتِنِي بِهِ " . فَأَتَاهُ بِهِ فَشَدَّ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عُودًا بِيَدِهِ ثُمَّ قَالَ لَهُ " اذْهَبْ فَاحْتَطِبْ وَبِعْ وَلاَ أَرَيَنَّكَ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا " . فَذَهَبَ الرَّجُلُ يَحْتَطِبُ وَيَبِيعُ فَجَاءَ وَقَدْ أَصَابَ عَشَرَةَ دَرَاهِمَ فَاشْتَرَى بِبَعْضِهَا ثَوْبًا وَبِبَعْضِهَا طَعَامًا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذَا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ تَجِيءَ الْمَسْأَلَةُ نُكْتَةً فِي وَجْهِكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لاَ تَصْلُحُ إِلاَّ لِثَلاَثَةٍ لِذِي فَقْرٍ مُدْقِعٍ أَوْ لِذِي غُرْمٍ مُفْظِعٍ أَوْ لِذِي دَمٍ مُوجِعٍ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৬৪১. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক আনসারী ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে কিছু সাহায্য প্রার্থনা করে। তখন তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার ঘরে কি কিছু নাই? সে বলেঃ হ্যাঁ, একটি কম্বল মাত্র যার অর্ধেক আমি পরিধান করি এবং বাকী অর্ধেক বিছিয়ে শয়ন করি। আর আছে একটি পেয়ালা, যাতে আমি পানি পান করি। তিনি বলেনঃ উভয় বস্তু আমার নিকট নিয়ে আস। রাবী বলেনঃ সে তা আনয়ন করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা স্বহস্তে ধারণ পূর্বক (নিলামের ডাকের মত) বলেনঃ কে এই দুটি ক্রয় করতে ইচ্ছুক? এক ব্যক্তি বলে, আমি তা এক দিরহামের বিনিময়ে গ্রহণ করতে চাই।

অতঃপর তিনি বলেনঃ এক দিরহামের অধিক কে দিবে? তিনি দুই বা তিনবার এইরূপ উচ্চারণ করেন। তখন এক ব্যক্তি বলে, আমি তা দুই দিরহামের বিনিময়ে গ্রহণ করব। তিনি সেই ব্যক্তিকে তা প্রদান করেন এবং বিনিময়ে দুইটি দিরহাম গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি তা আনসারীর হাতে তুলে দিয়ে বলেনঃ এর একটি দিরহাম দিয়ে কিছু খাদ্য ক্রয় করে তোমার পরিবার-পরিজনদের দাও; আর বাকী এক দিরহাম দিয়ে একটি কুঠার কিনে আমার নিকট আস। লোকটি কুঠার কিনে আনলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বহস্তে তাতে হাতল লাগিয়ে তার হাতে দিয়ে বলেনঃ এখন তুমি যাও এবং জঙ্গল হতে কাঠ কেটে এনে বিক্রী কর। আর আমি যেন তোমাকে পনের দিন না দেখি।

অতঃপর সে চলে গেল এবং কাঠ কেটে এনে বিক্রয় করতে থাকে। অতঃপর সে (পনের দিন পর) আসল। সে তখন প্রাপ্ত হয়েছিল দশটি দিরহাম যা দিয়ে সে কিছু কাপড় এবং কিছু খাদ্য ক্রয় করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ভিক্ষাবৃত্তির চাইতে এটা তোমার জন্য উত্তম। কেননা ভিক্ষাবৃত্তির ফলে কিয়ামতের দিন তোমার চেহারা ক্ষত-বিক্ষত হত। ভিক্ষা চাওয়া তিন শ্রেনীর ব্যক্তি ব্যতীত অন্যদের জন্য হালাল নয়ঃ (১) ধূলা-মলিন নিঃস্ব ভিক্ষুকের জন্য, (২) প্রচন্ড ঋণের চাপে জর্জরিত ব্যক্তির জন্য এবং (৩) যার উপর দিয়াত (রক্তপণ) আছে, অথচ তা পরিশোধের অক্ষমতার কারণে নিজের জীবন বিপন্ন— এ ধরনের ব্যক্তিরা যাচ্ঞা করতে পারে।

Reference: সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

২৭. ভিক্ষাবৃত্তির নিন্দা।

باب كَرَاهِيَةِ الْمَسْأَلَةِ

1642

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ رَبِيعَةَ، - يَعْنِي ابْنَ يَزِيدَ - عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي مُسْلِمٍ الْخَوْلاَنِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي الْحَبِيبُ الأَمِينُ، أَمَّا هُوَ إِلَىَّ فَحَبِيبٌ وَأَمَّا هُوَ عِنْدِي فَأَمِينٌ عَوْفُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَبْعَةً أَوْ ثَمَانِيَةً أَوْ تِسْعَةً فَقَالَ " أَلاَ تُبَايِعُونَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " . وَكُنَّا حَدِيثَ عَهْدٍ بِبَيْعَةٍ قُلْنَا قَدْ بَايَعْنَاكَ حَتَّى قَالَهَا ثَلاَثًا فَبَسَطْنَا أَيْدِيَنَا فَبَايَعْنَاهُ فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا قَدْ بَايَعْنَاكَ فَعَلاَمَ نُبَايِعُكَ قَالَ " أَنْ تَعْبُدُوا اللَّهَ وَلاَ تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَتُصَلُّوا الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ وَتَسْمَعُوا وَتُطِيعُوا " . وَأَسَرَّ كَلِمَةً خُفْيَةً قَالَ " وَلاَ تَسْأَلُوا النَّاسَ شَيْئًا " . قَالَ فَلَقَدْ كَانَ بَعْضُ أُولَئِكَ النَّفَرِ يَسْقُطُ سَوْطُهُ فَمَا يَسْأَلُ أَحَدًا أَنْ يُنَاوِلَهُ إِيَّاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَدِيثُ هِشَامٍ لَمْ يَرْوِهِ إِلاَّ سَعِيدٌ .

Narrator: আউফ ইবনে মালিক (রাঃ)

১৬৪২. হিশাম ইবনে আম্মার (রাহঃ) ..... আওফ ইবনে মালিক (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে সাতজন বা আটজন অথবা নয়জন উপস্থিত চিলাম। তখন তিনি বলেন, তোমরা কি আল্লাহর রাসূলের নিকট বায়আত গ্রহণ করবে না? আর আমরা অল্পদিন আগেই বায়আত গ্রহণ করেছিলাম। আমরা বলি, আমরা তো আপনার নিকট বায়আত হয়েছি, (এই উদ্দেশ্যে যে, হয়ত তিনি তা ভুলে গিয়েছেন)। তিনি এইরূপ তিনবার বলেন (যাতে আমরা মনে করি যে, তিনি পুনর্বার বায়আত গ্রহণের জন্য বলেছেন)।

তখন আমরা আমাদের হাত সম্প্রসারিত করি এবং তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করি। (আমাদের) একজন বলেন, ইয়া রাসূলা্ল্লাহ! আমরা তো (পূর্বে) আপনার নিকট বায়আত হয়েছি, এখন কিসের জন্য আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করব? তিনি বলেনঃ (এর উপর যে,) তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করবে এবং তাঁর সাথে কিছুই শরীক করবেন। অতঃপর তিনি অনুচ্চ কন্ঠে বলেঃ তোমরা লোকদের নিকট কিছুই সাওয়ালকরবে না।

রাবী আওফ (রাযিঃ) বলেনঃ এদের কোন কোন ব্যক্তির (সফরকালে) চাবুক নীচে পড়ে গেলে তা উঠিয়ে দেওয়ার জন্য অন্যকে বলতেন না।

Reference: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

1643

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ وَكَانَ ثَوْبَانُ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَكَفَّلَ لِي أَنْ لاَ يَسْأَلَ النَّاسَ شَيْئًا وَأَتَكَفَّلَ لَهُ بِالْجَنَّةِ " . فَقَالَ ثَوْبَانُ أَنَا . فَكَانَ لاَ يَسْأَلُ أَحَدًا شَيْئًا .

Narrator: হযরত ছাওবান (রাঃ)

১৬৪৩. উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয (রাহঃ) ..... ছাওবান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। আর তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আযাদকৃত গোলাম। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার নিকট এই মর্মে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে যে, সে অন্যের নিকট যাচ্ঞা করবে না, আমি তার জান্নাতের জিম্মাদারী গ্রহণ করব। ছাওবান (রাযিঃ) বলেন, আমি। অতঃপর তিনি কারো নিকট কিছু প্রার্থনা করতেন না।

২৮. ভিক্ষাবৃত্তি বা কারো কাছে কিছু চাওয়া থেকে নিবৃত্ত থাকা।

باب فِي الاِسْتِعْفَافِ

1644

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ نَاسًا، مِنَ الأَنْصَارِ سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَعْطَاهُمْ ثُمَّ سَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ حَتَّى إِذَا نَفِدَ مَا عِنْدَهُ قَالَ " مَا يَكُونُ عِنْدِي مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ أَدَّخِرَهُ عَنْكُمْ وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّهُ اللَّهُ وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ وَمَنْ يَتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُ اللَّهُ وَمَا أَعْطَى اللَّهُ أَحَدًا مِنْ عَطَاءٍ أَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৬৪৪. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। আনসারদের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট কিছু প্রার্থনা করে। তিনি তাদের কিছু দান করলে তারা পুনরায় প্রার্থনা করে। অতঃপর তিনি বারবার তাদের দান করতে থাকায় তাঁর (সম্পদ) শেষ হয়ে যায়।

তখন তিনি বলেনঃ আমার নিকট গচ্ছিত আর কোন সম্পদ নাই। আর যে ব্যক্তি অন্যের নিকট প্রার্থনা করা থেকে বিরত থাকবে, আল্লাহ তাআলা তাকে পবিত্র করবেন; যে অমুখাপেক্ষী হবে, আল্লাহ তাআলা তাকে অমুখাপেক্ষী করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট সবর (ধৈর্য) কামনা করবে, আল্লাহ তাকে তা দান করবেন। বস্ততঃ সবরের চাইতে উত্তম জিনিস কাউকে দান করা হয় নাই।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

1645

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، ح حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ حَبِيبٍ أَبُو مَرْوَانَ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، - وَهَذَا حَدِيثُهُ - عَنْ بَشِيرِ بْنِ سَلْمَانَ، عَنْ سَيَّارٍ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ طَارِقٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِالنَّاسِ لَمْ تُسَدَّ فَاقَتُهُ وَمَنْ أَنْزَلَهَا بِاللَّهِ أَوْشَكَ اللَّهُ لَهُ بِالْغِنَى إِمَّا بِمَوْتٍ عَاجِلٍ أَوْ غِنًى عَاجِلٍ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৬৪৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি দারিদ্র্য পীড়িত হয়ে তা মানুষের নিকট প্রকাশ করে, আল্লাহ তার দারিদ্র্য দূর করেন না। অপরপক্ষে যে ব্যক্তি তা আল্লাহর কাছে পেশ করে আল্লাহ তাকে অমুখাপেক্ষী করেন, হয় দ্রুত মৃত্যুর মাধ্যমে অথবা সম্পদশালী করার মাধ্যমে।

Reference: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

1646

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ بَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ مَخْشِيٍّ، عَنِ ابْنِ الْفِرَاسِيِّ، أَنَّ الْفِرَاسِيَّ، قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسْأَلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ وَإِنْ كُنْتَ سَائِلاً لاَ بُدَّ فَاسْأَلِ الصَّالِحِينَ " .

Narrator: ইবনুল ফিরাসী / ফিরাসী (রাঃ)

১৬৪৬. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ...... ইবনুল ফিরাসী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি (লোকের নিকট) সাওয়ালকরব? নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ না। আর একান্তই যদি তোমাকে কিছু প্রার্থনা করতে হয় তবে অবশ্যই উত্তম লোকদের নিকট চাইবে।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

1647

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ السَّاعِدِيِّ، قَالَ اسْتَعْمَلَنِي عُمَرُ - رضى الله عنه - عَلَى الصَّدَقَةِ فَلَمَّا فَرَغْتُ مِنْهَا وَأَدَّيْتُهَا إِلَيْهِ أَمَرَ لِي بِعُمَالَةٍ فَقُلْتُ إِنَّمَا عَمِلْتُ لِلَّهِ وَأَجْرِي عَلَى اللَّهِ . قَالَ خُذْ مَا أُعْطِيتَ فَإِنِّي قَدْ عَمِلْتُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَمَّلَنِي فَقُلْتُ مِثْلَ قَوْلِكَ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أُعْطِيتَ شَيْئًا مِنْ غَيْرِ أَنْ تَسْأَلَهُ فَكُلْ وَتَصَدَّقْ " .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৬৪৭. আবুল ওলীদ আত-তাইয়ালিসী (রাহঃ) ...... ইবনুস-সাঈদী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) আমাকে যাকাত আদায়ের জন্য নিয়োগ করেন। আমি তা আদায়ের পর তাঁর নিকট জমা দিলে তিনি আমাকে কাজের বিনিময় গ্রহণের নির্দেশ দেন। তখন আমি বলি, আমি তো তা আল্লাহর জন্য করেছি, অতএব আমার বিনিময় আল্লাহর কাছে। তিনি বলেন, আমি তোমাকে যা দান করি তা গ্রহণ কর। কেননা আমিও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে যাকাত আদায়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলাম। আর আমিও তোমার মত বলেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেনঃ তোমার চাওয়া ব্যতিরেকে যা কিছু দেওয়া হয়, তুমি তা দিয়ে যা খুশী তাই কর অথবা দান-খয়রাত করে দাও।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

1648

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَذْكُرُ الصَّدَقَةَ وَالتَّعَفُّفَ مِنْهَا وَالْمَسْأَلَةَ " الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى وَالْيَدُ الْعُلْيَا الْمُنْفِقَةُ وَالسُّفْلَى السَّائِلَةُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ اخْتُلِفَ عَلَى أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ عَبْدُ الْوَارِثِ " الْيَدُ الْعُلْيَا الْمُتَعَفِّفَةُ " . وَقَالَ أَكْثَرُهُمْ عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ " الْيَدُ الْعُلْيَا الْمُنْفِقَةُ " . وَقَالَ وَاحِدٌ عَنْ حَمَّادٍ " الْمُتَعَفِّفَةُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬৪৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বরের উপর উপবিষ্ট হয়ে যাকাত ও দান-খয়রাত গ্রহণ হতে বিরত থাকা এবং উপরের হাত নীচের হাত হতে উত্তম হওয়ার কথা বলেন। উপরের হাত হল খরচকারী (দাতা) এবং নীচের হাত যাচ্ঞাকারী (গ্রহীতা)।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

1649

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ التَّيْمِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو الزَّعْرَاءِ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِيهِ، مَالِكِ بْنِ نَضْلَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الأَيْدِي ثَلاَثَةٌ فَيَدُ اللَّهِ الْعُلْيَا وَيَدُ الْمُعْطِي الَّتِي تَلِيهَا وَيَدُ السَّائِلِ السُّفْلَى فَأَعْطِ الْفَضْلَ وَلاَ تَعْجِزْ عَنْ نَفْسِكَ " .

Narrator: আবুল আহওয়াস (রহঃ)

১৬৪৯. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আবুল আহওয়াস (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতা মালিক ইবনে নাদলা (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ হাত তিন প্রকারের-
(১) আল্লাহ তাআলার হাত সবার উপরে,
(২) অতঃপর দানকারীর হাত এবং
(৩) সর্ব নিম্নের হাত হল ভিক্ষুকের হাত।
কাজেই তোমরা তোমাদের উদ্ধৃত্ত মাল দান-খয়রাত কর এবং নিজেকে নফসের দাবীর কাছে সমর্পণ কর না।

২৯. হাশিম বংশীয়দের যাকাত প্রদান সম্পর্কে।

باب الصَّدَقَةِ عَلَى بَنِي هَاشِمٍ

1650

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ رَجُلاً عَلَى الصَّدَقَةِ مِنْ بَنِي مَخْزُومٍ فَقَالَ لأَبِي رَافِعٍ اصْحَبْنِي فَإِنَّكَ تُصِيبُ مِنْهَا . قَالَ حَتَّى آتِيَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَسْأَلَهُ فَأَتَاهُ فَسَأَلَهُ فَقَالَ " مَوْلَى الْقَوْمِ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَإِنَّا لاَ تَحِلُّ لَنَا الصَّدَقَةُ " .

Narrator: আবু রাফি' (রাঃ)

১৬৫০. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আবু রাফে (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) এক ব্যক্তিকে (আরকাম) বনী মাখযূমদের নিকট হতে যাকাত আদায়ের জন্য প্রেরণ করেন। তিনি (আরকাম) আবু রাফেকে বলেন, আপনি আমার সঙ্গে থাকুন তাহলে আপনিও তা হতে কিছু পাবেন। জবাবে তিনি বলেনঃ আমি নবী করীম (ﷺ)-এর নিকটে গিয়ে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে নেব। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ কোন সম্প্রদায়ের মুক্তদাস তাদের অর্ন্তভূক্ত। অতএব আমাদের জন্য যাকাতের মাল বৈধ নয় (তাই তোমার জন্যও তা বৈধ নয়)।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

1651

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَمُرُّ بِالتَّمْرَةِ الْعَائِرَةِ فَمَا يَمْنَعُهُ مِنْ أَخْذِهَا إِلاَّ مَخَافَةُ أَنْ تَكُونَ صَدَقَةً .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৬৫১. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) একটি পতিত খেজুরের পাশ দিয়ে গমন করেন। কিন্তু তিনি এই ভয়ে তা গ্রহণ করেন নাই যে, হয়ত তা যাকাতের খেজুর।

1652

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا أَبِي، عَنْ خَالِدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَجَدَ تَمْرَةً فَقَالَ " لَوْلاَ أَنِّي أَخَافُ أَنْ تَكُونَ صَدَقَةً لأَكَلْتُهَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ هِشَامٌ عَنْ قَتَادَةَ هَكَذَا .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৬৫২. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) একটি খেজুর পেয়ে বলেনঃ যদি আমি তা যাকাতের মাল হওয়ার আশঙ্কা না করতাম তবে অবশ্যই তা খেয়ে ফেলতাম।

Reference: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

1653

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بَعَثَنِي أَبِي إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي إِبِلٍ أَعْطَاهَا إِيَّاهُ مِنَ الصَّدَقَةِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৫৩। মুহাম্মাদ ইবনে উবাইেদ(রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে নবী করিম (ﷺ)-এর খিদমতে একটি উটের জন্য প্রেরণ করেন, যা তিনি (নবী (ﷺ)) তাঁকে যাকাতের মাল হতে দান করেছিলেন।*

* সম্ভবতঃ এটা বনী হাশিমদের জন্য সাদকার মাল গ্রহণ হারাম হওয়ার পূর্বের ঘটনা। পরে তা মানসূখ হয়। অথবা তা সাদকার মাল ছিল না।
1654

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - هُوَ ابْنُ أَبِي عُبَيْدَةَ - عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، نَحْوَهُ زَادَ أَبِي يُبْدِلُهَا لَهُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৫৪. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে এই সূত্রেও পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এই সূত্রে হাদীসের শেষাংশে (আমার পিতা এগুলো তাঁর সাথে বিনিময় করেন) অংশটি অতিরিক্ত আছে।

৩০. ফকীর যদি ধনীকে হাদিয়া হিসাবে যাকাতের মাল দেয়।

باب الْفَقِيرِ يُهْدِي لِلْغَنِيِّ مِنَ الصَّدَقَةِ

1655

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِلَحْمٍ قَالَ " مَا هَذَا " . قَالُوا شَىْءٌ تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ فَقَالَ " هُوَ لَهَا صَدَقَةٌ وَلَنَا هَدِيَّةٌ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৬৫৫. আমর ইবনে মারযূক (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ)-এর খিদমতে গোশত পেশ করা হলে তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তা কি ধরনের গোশত? লোকেরা বলেন, এই গোশত বারীরাহ (আয়িশা (রাযিঃ) এর দাসী)-কে সদকাহ হিসাবে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেনঃ তা তার জন্য সদকাহস্বরূপ এবং আমার জন্য উপঢৌকন স্বরূপ।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৩১. কোন ব্যক্তি যাকাত প্রদানের পর পুনরায় তার ওয়ারিশ হলে।

باب مَنْ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ ثُمَّ وَرِثَهَا

1656

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، بُرَيْدَةَ أَنَّ امْرَأَةً، أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كُنْتُ تَصَدَّقْتُ عَلَى أُمِّي بِوَلِيدَةٍ وَإِنَّهَا مَاتَتْ وَتَرَكَتْ تِلْكَ الْوَلِيدَةَ . قَالَ " قَدْ وَجَبَ أَجْرُكِ وَرَجَعَتْ إِلَيْكِ فِي الْمِيرَاثِ " .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

১৬৫৬. আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা থেকে তাঁর পিতা বুরায়দা (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। একজন স্ত্রীলোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করেন, আমি আমার মাকে (তার সেবার জন্য) একটি দাসী দান করেছিলাম। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন এবং সেই দাসীটি রেখে গেছেন। তিনি বলেনঃ তুমি (তোমার দানের) পুরস্কার অবশ্যই প্রাপ্ত হবে এবং সে উত্তরাধিকার সূত্রে পুনরায় তোমার মালিকানায় ফিরে আসবে।

Reference: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩২. সম্পত্তি সংক্রান্ত অধিকার।

باب فِي حُقُوقِ الْمَالِ

1657

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا نَعُدُّ الْمَاعُونَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَارِيَةَ الدَّلْوِ وَالْقِدْرِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৬৫৭. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে (الماعون) (দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিস) বলতে বালতি ও রান্নার সরঞ্জামকে গণ্য করতাম।

1658

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا مِنْ صَاحِبِ كَنْزٍ لاَ يُؤَدِّي حَقَّهُ إِلاَّ جَعَلَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُحْمَى عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَى بِهَا جَبْهَتُهُ وَجَنْبُهُ وَظَهْرُهُ حَتَّى يَقْضِيَ اللَّهُ تَعَالَى بَيْنَ عِبَادِهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ ثُمَّ يُرَى سَبِيلُهُ إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ وَإِمَّا إِلَى النَّارِ وَمَا مِنْ صَاحِبِ غَنَمٍ لاَ يُؤَدِّي حَقَّهَا إِلاَّ جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَوْفَرَ مَا كَانَتْ فَيُبْطَحُ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ فَتَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا وَتَطَؤُهُ بِأَظْلاَفِهَا لَيْسَ فِيهَا عَقْصَاءُ وَلاَ جَلْحَاءُ كُلَّمَا مَضَتْ أُخْرَاهَا رُدَّتْ عَلَيْهِ أُولاَهَا حَتَّى يَحْكُمَ اللَّهُ بَيْنَ عِبَادِهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ ثُمَّ يُرَى سَبِيلُهُ إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ وَإِمَّا إِلَى النَّارِ وَمَا مِنْ صَاحِبِ إِبِلٍ لاَ يُؤَدِّي حَقَّهَا إِلاَّ جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَوْفَرَ مَا كَانَتْ فَيُبْطَحُ لَهَا بِقَاعٍ قَرْقَرٍ فَتَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا كُلَّمَا مَضَتْ عَلَيْهِ أُخْرَاهَا رُدَّتْ عَلَيْهِ أُولاَهَا حَتَّى يَحْكُمَ اللَّهُ تَعَالَى بَيْنَ عِبَادِهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ مِمَّا تَعُدُّونَ ثُمَّ يُرَى سَبِيلُهُ إِمَّا إِلَى الْجَنَّةِ وَإِمَّا إِلَى النَّارِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৫৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি সঞ্চিত সম্পদের (সোনা-রূপার) মালিক হওয়া সত্ত্বেও তার যাকাত প্রদান করে না, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার হুকুমে তা দোযখের আগুনে উত্তপ্ত করে তা দ্বারা তার কপাল, পার্শ্বদেশ ও পৃষ্ঠদেশে সেক দেওয়া হবে যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বান্দাদের মাঝে ফয়সালা দেবেন - যে দিনের পরিমাণ হবে তোমাদের গণনা অনুসারে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমতুল্য। অতপর সে হয় বেহেশতের দিকে অথবা দোযখের দিকে তার পথ দেখবে।

যে মেষপালে মালিক তার মেষের যাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তার মেষপাল আসবে অত্যধিক শক্তিশালী হয়ে এবং অধিক সংখ্যায়, একটি নরম বালুকাময় প্রশস্ত সমতল ভূমি তাদের জন্য বিস্তার করা হবে, এগুলো (সেখানে) তাকে শিং দিয়ে গুতা মারবে, ক্ষুরাঘাতে পদদলিত করতে থাকবে। এর কোন একটি বাঁকা শিং বিশিষ্ট বা শিংবিহীন হবে না। যখন এদের সর্বশেষটি তাকে দলিত-মথিত করে অতিক্রম করবে তখন আবার প্রথমটিকে তার নিকট ফিরিয়ে আনা হবে (আর অব্যহতভাবে এইরূপ শাস্তি চলতে থাকবে) যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর বান্দাদের বিচারকার্য সম্পন্ন করেন, এমন দিনে যার পরিমাণ তোমাদের গণনা অনুসারে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান হবে। অতঃপর সে হয় জান্নাতের দিকে অথবা জাহান্নামের দিকে তার পথ দেখবে।

আর যে উটের মালিক তার উটের যাকাত প্রদান করে না, কিয়ামতের দিন তার উটপাল অত্যন্ত হৃষ্টপুষ্ট অবস্থায় আগমন করবে, একটি নরম বালুকাময় সমতলভূমি এদের জন্য বিস্তার করা হবে, অতপর তা তাকে পদতলে নিস্পেষিত করতে থাকবে, যখন তার সর্বশেষটি অতিক্রম করবে তখন প্রথমটিকে পুনরায় তার নিকট ফিরিয়ে আনা হবে (আর এইরূপ শাস্তি অব্যাহতভাবে চলতে থাকবে), যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের বিচারকার্য সমাপ্ত করেন এমন দিনে, যার পরিমাণ হবে তোমাদের হিসাব অনুযায়ী পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর উক্ত ব্যক্তি হয় জান্নাতের দিকে অথবা জাহান্নামের দিকে নিজের পথ দেখবে।

Reference: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

1659

حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . قَالَ فِي قِصَّةِ الإِبِلِ بَعْدَ قَوْلِهِ " لاَ يُؤَدِّي حَقَّهَا " . قَالَ " وَمِنْ حَقِّهَا حَلْبُهَا يَوْمَ وِرْدِهَا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৫৯. জাফর ইবনে মুসাফির (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে এই সনদসূত্রে নবী করিম (ﷺ)-এর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি (যায়দ ইবনে আসলাম) উটের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, ″যার হক আদায় করা হয় নাই″। রাবী বলেনঃ এর হক হল এর দুধ যা পানি পান করানোর দিন দোহন করা হয়।

1660

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي عُمَرَ الْغُدَانِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذِهِ الْقِصَّةِ فَقَالَ لَهُ - يَعْنِي لأَبِي هُرَيْرَةَ - فَمَا حَقُّ الإِبِلِ قَالَ تُعْطِي الْكَرِيمَةَ وَتَمْنَحُ الْغَزِيرَةَ وَتُفْقِرُ الظَّهْرَ وَتُطْرِقُ الْفَحْلَ وَتَسْقِي اللَّبَنَ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৬০. আল-হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। অতঃপর রাবী আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, উটের হক কি? তিনি বলেন, উত্তম উট (আল্লাহর রাস্তায়) দান করা, অধিক দুগ্ধবতী উট দান করা, আরোহণের জন্য উট ধার দেওয়া, প্রজননের উদ্দেশ্যে পারিশ্রমিক ছাড়াই উট ধার দেওয়া এবং উটের দুধ (অভাবগ্রস্তকে) পান করতে দেওয়া।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

1661

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ عُمَيْرٍ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا حَقُّ الإِبِلِ فَذَكَرَ نَحْوَهُ زَادَ " وَإِعَارَةُ دَلْوِهَا " .

Narrator: উবায়দ ইবনে উমায়র (রহঃ)

১৬৬১. ইয়াহয়া ইবনে খালাফ (রাহঃ) ..... উবাইেদ ইবনে উমায়র (রাযিঃ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! উটের হক কি? ......... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। এই বর্ণনায় আরও আছে, ″এর দুধের পালান ধার দেওয়া″

1662

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَمِّهِ، وَاسِعِ بْنِ حَبَّانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ مِنْ كُلِّ جَادِّ عَشَرَةِ أَوْسُقٍ مِنَ التَّمْرِ بِقِنْوٍ يُعَلَّقُ فِي الْمَسْجِدِ لِلْمَسَاكِينِ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৬৬২. আব্দুল আযীয ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ..... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) নির্দেশ দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি দশ ওসক (পরিমাণ) খেজুর কাটবে সে যেন মিসকীনদের জন্য মসজিদে এক গুচ্ছ খেজুর ঝুলিয়ে রাখে।

1663

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخُزَاعِيُّ، وَمُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَشْهَبِ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ إِذْ جَاءَ رَجُلٌ عَلَى نَاقَةٍ لَهُ فَجَعَلَ يَصْرِفُهَا يَمِينًا وَشِمَالاً فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ كَانَ عِنْدَهُ فَضْلُ ظَهْرٍ فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لاَ ظَهْرَ لَهُ وَمَنْ كَانَ عِنْدَهُ فَضْلُ زَادٍ فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لاَ زَادَ لَهُ " . حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ لاَ حَقَّ لأَحَدٍ مِنَّا فِي الْفَضْلِ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৬৬৩. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ...... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে এক সফরে ছিলাম। ইত্যবসরে এক ব্যক্তি নিজ উটে আরোহণ করে তাঁর নিকট আগমন করে এবং ডান এবং বাম দিকে তাকাতে থাকে (অন্য উট পাবার আশায়, কেননা তার উট দুর্বল ছিল)।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যার নিকট (বাহনযোগ্য) অতিরিক্ত উট আছে সে যেন তা অন্যকে দান করে যার কোন বাহন নাই। আর যার নিকট অতিরিক্ত পাথেয় আছে সে যেন তা তার সামনে পেশ করে যার কোন পাথেয় নাই। এর ফলে আমাদের ধারণা হয় যে, আমাদের কারো অতিরিক্ত কোন জিনিস রাখার অধিকার নাই।

Reference: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

1664

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَعْلَى الْمُحَارِبِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا غَيْلاَنُ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ إِيَاسٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ ) قَالَ كَبُرَ ذَلِكَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ فَقَالَ عُمَرُ - رضى الله عنه أَنَا أُفَرِّجُ عَنْكُمْ . فَانْطَلَقَ فَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّهُ كَبُرَ عَلَى أَصْحَابِكَ هَذِهِ الآيَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَفْرِضِ الزَّكَاةَ إِلاَّ لِيُطَيِّبَ مَا بَقِيَ مِنْ أَمْوَالِكُمْ وَإِنَّمَا فَرَضَ الْمَوَارِيثَ لِتَكُونَ لِمَنْ بَعْدَكُمْ " . فَكَبَّرَ عُمَرُ ثُمَّ قَالَ لَهُ " أَلاَ أُخْبِرُكَ بِخَيْرِ مَا يَكْنِزُ الْمَرْءُ الْمَرْأَةُ الصَّالِحَةُ إِذَا نَظَرَ إِلَيْهَا سَرَّتْهُ وَإِذَا أَمَرَهَا أَطَاعَتْهُ وَإِذَا غَابَ عَنْهَا حَفِظَتْهُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬৬৪. উছমান ইবনে আবু শয়বা (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হয়, ″যারা সোনা ও রূপা পুঞ্জীভুত করে ...″, রাবী বলেন, তখন মুসলমানদের নিকট তা খুবই গুরতর মনে হল। উমর (রাযিঃ) বলেনঃ আমি তোমাদের এই উদ্বেগ দূরীভূত করব। অতপর তিনি গিয়ে বলেনঃ ইয়া নবীআল্লাহ! এই আয়াত আপনার সাহাবীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের অবশিষ্ট ধন-সম্পদ পবিত্র করতে যাকাত ফরয করেছেন। আর তিনি মীরাছ এইজন্য ফরয করেছেন, যাতে পরিত্যক্ত মাল তোমাদের পরবর্তী বংশধরেরা পেতে পারে।

তখন উমর (রাযিঃ) ″আল্লাহু আকবার″ ধ্বনি দেন। অতঃপর তিনি উমর (রাযিঃ)-কে বলেনঃ আমি কি তোমাকে লোকদের পুঞ্জীভুত মালের চেয়ে উত্তম মাল সর্ম্পকে অবহিত করব না? তা হল পূন্যবতী নারী যখন সে (স্বামী) তার দিকে দৃষ্টিপাত করে তখন সে সন্তুষ্ট হয়। আর যখন সে (স্বামী) তাকে কিছু করার নির্দেশ দেয়, তখন সে তা পালন করে। আর যখন সে (স্বামী) তার নিকট হতে অনুপস্থিত থাকে তখন সে তার (ইজ্জত ও মালের) হেফাযত করে।

৩৩. প্রার্থনাকারীর অধিকার সম্পর্কে।

باب حَقِّ السَّائِلِ

1665

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا مُصْعَبُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شُرَحْبِيلَ، حَدَّثَنِي يَعْلَى بْنُ أَبِي يَحْيَى، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ حُسَيْنٍ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِلسَّائِلِ حَقٌّ وَإِنْ جَاءَ عَلَى فَرَسٍ " .

Narrator: হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ)

১৬৬৫. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... হুসায়েন ইবনে আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ যাচ্ঞাকারীর অধিকার আছে, যদিও সে অশ্বপৃষ্টে সওয়ার হয়ে আগমন করে।

Reference: আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

1666

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ شَيْخٍ، قَالَ رَأَيْتُ سُفْيَانَ عِنْدَهُ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ حُسَيْنٍ، عَنْ أَبِيهَا، عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৬৬৬. মুহাম্মাদ ইবনে রাফে (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ ......... পূবোর্ক্ত হাদীসের অনুরূপ।

1667

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ بُجَيْدٍ، عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ بُجَيْدٍ، وَكَانَتْ، مِمَّنْ بَايَعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْكَ إِنَّ الْمِسْكِينَ لَيَقُومُ عَلَى بَابِي فَمَا أَجِدُ لَهُ شَيْئًا أُعْطِيهِ إِيَّاهُ . فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ لَمْ تَجِدِي لَهُ شَيْئًا تُعْطِينَهُ إِيَّاهُ إِلاَّ ظِلْفًا مُحْرَقًا فَادْفَعِيهِ إِلَيْهِ فِي يَدِهِ " .

Narrator: উম্মে বুজাইদ (রাঃ)

১৬৬৭। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... উম্মে বুযায়দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট বায়আত গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাঁকে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! অনেক সময় মিসকীন আমার দরজায় আসে, কিন্তু তাকে দেওয়ার মত আমার কিছুই থাকে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বলেনঃ তুমি যদি তার হাতে কিছু দেওয়ার মত না পাও, তবুও তাকে বঞ্চিত করনা। জ্বলন্ত (রান্না করা) পায়া হলেও তা তাকে দান কর।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৪. অমুসলিমদের দান-খয়রাত করা।

باب الصَّدَقَةُ عَلَى أَهْلِ الذِّمَّةِ

1668

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ، قَالَتْ قَدِمَتْ عَلَىَّ أُمِّي رَاغِبَةً فِي عَهْدِ قُرَيْشٍ وَهِيَ رَاغِمَةٌ مُشْرِكَةٌ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي قَدِمَتْ عَلَىَّ وَهِيَ رَاغِمَةٌ مُشْرِكَةٌ أَفَأَصِلُهَا قَالَ " نَعَمْ فَصِلِي أُمَّكِ " .

Narrator: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

১৬৬৮. আহমাদ ইবনে আবু শুআয়ব (রাহঃ) ..... আসমা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মাতা, যিনি ইসলামের বৈরী ও কুরাইশদের ধর্মের অনুরাগী ছিলেন, (কুরাইশদের সাথে হোদায়বিয়ার সন্ধির সময়) আমার নিকট আগমন করেন। আমি জিজ্ঞাসা করিঃ ইয়া রাসুলল্লাহ! আমার মাতা আমার নিকট এসেছেন, কিন্তু তিনি ইসলাম বৈরী মুশরিক। এখন (আত্মীয়তার বন্ধন হেতু) আমি কি তাকে কিছু দান করব? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তুমি তোমার মাতার সাথে অনুগ্রহপূর্ণ ব্যবহার কর।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৩৫. যেসব জিনিস চাইলে দিতে বারণ করা যায় না।

باب مَا لاَ يَجُوزُ مَنْعُهُ

1669

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا كَهْمَسٌ، عَنْ سَيَّارِ بْنِ مَنْظُورٍ، - رَجُلٍ مِنْ بَنِي فَزَارَةَ - عَنْ أَبِيهِ، عَنِ امْرَأَةٍ، يُقَالُ لَهَا بُهَيْسَةُ عَنْ أَبِيهَا، قَالَتِ اسْتَأْذَنَ أَبِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَدَخَلَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ قَمِيصِهِ فَجَعَلَ يُقَبِّلُ وَيَلْتَزِمُ ثُمَّ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الشَّىْءُ الَّذِي لاَ يَحِلُّ مَنْعُهُ قَالَ " الْمَاءُ " . قَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَا الشَّىْءُ الَّذِي لاَ يَحِلُّ مَنْعُهُ قَالَ " الْمِلْحُ " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الشَّىْءُ الَّذِي لاَ يَحِلُّ مَنْعُهُ قَالَ " أَنْ تَفْعَلَ الْخَيْرَ خَيْرٌ لَكَ " .

Narrator: অজ্ঞাত সাহাবী

১৬৬৯. ওবায়দুল্লাহ ইবনে মুআয (রাহঃ) ..... বুহায়সাহ নাম্নী এক মহিলা হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা নবী করীম (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করেন। অতঃপর তিনি তার খুবই নিকটবর্তী হয়ে তার জামা তুলে চুমা দিতে থাকেন এবং তাকে জড়িয়ে ধরেন। অতঃপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এমন কি জিনিস আছে, যা প্রদানে বাধা দেওয়া জায়েয নয়? তিনি বলেনঃ পানি। তিনি পুনরায় বলেনঃ ইয়া নবীআল্লাহ! আর কি জিনিস আছে, যা প্রদানে বাধা দেওয়া বৈধ নয়? তিনি বলেনঃ লবন। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করেন। ইয়া নবীআল্লাহ! আরো কি বস্তু আছে যা হতে অন্যকে নিষেধ করা জায়েয নয়? তিনি বলেনঃ যদি তুমি কোন ভাল কাজ কর, তবে তা তোমার জন্য কল্যাণকর (অর্থাৎ সাধারণ প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি প্রদানে বাধা দান করা উচিত নয়)।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৩৬. মসজিদের মধ্যে যাঞ্ছা করা।

باب الْمَسْأَلَةِ فِي الْمَسَاجِدِ

1670

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَكْرٍ السَّهْمِيُّ، حَدَّثَنَا مُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ مِنْكُمْ أَحَدٌ أَطْعَمَ الْيَوْمَ مِسْكِينًا " . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه - دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا أَنَا بِسَائِلٍ يَسْأَلُ فَوَجَدْتُ كِسْرَةَ خُبْزٍ فِي يَدِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ فَأَخَذْتُهَا مِنْهُ فَدَفَعْتُهَا إِلَيْهِ .

Narrator: আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রাঃ)

১৬৭০. বিশর ইবনে আদাম (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে আবু বাকর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে আজ একজন মিসকীনকে আহার করিয়েছে? আবু বাকর (রাযিঃ) বলেনঃ আজ আমি মসজিদে প্রবেশ করে দেখতে পাই যে, এক ভিক্ষুক কিছু ভিক্ষা চাচ্ছে। তখন আমি (আমার পুত্র) আব্দুর রহমানের হাতে এক টুকরা রুটি পাই। আমি তা তার হতে নিয়ে ঐ ভিক্ষুককে দান করি।

Reference: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৩৭. আল্লাহর নাম নিয়ে কিছু চাওয়া অপছন্দনীয়।

باب كَرَاهِيَةِ الْمَسْأَلَةِ بِوَجْهِ اللَّهِ تَعَالَى

1671

حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ الْقِلَّوْرِيُّ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِسْحَاقَ الْحَضْرَمِيُّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُعَاذٍ التَّيْمِيِّ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يُسْأَلُ بِوَجْهِ اللَّهِ إِلاَّ الْجَنَّةُ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৬৭১. আবুল আব্বাস আল-কিল্লাওরী (রাযিঃ) ..... জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ জান্নাত ব্যতীত আর কিছুই আল্লাহর নাম উচ্চারণ পূর্বক চাওয়া ঠিক নয়।

৩৮. মহান আল্লাহর নামে সাওয়ালকারিকে দান করা সম্পর্কে।

باب عَطِيَّةِ مَنْ سَأَلَ بِاللَّهِ

1672

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنِ اسْتَعَاذَ بِاللَّهِ فَأَعِيذُوهُ وَمَنْ سَأَلَ بِاللَّهِ فَأَعْطُوهُ وَمَنْ دَعَاكُمْ فَأَجِيبُوهُ وَمَنْ صَنَعَ إِلَيْكُمْ مَعْرُوفًا فَكَافِئُوهُ فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا مَا تُكَافِئُونَهُ فَادْعُوا لَهُ حَتَّى تَرَوْا أَنَّكُمْ قَدْ كَافَأْتُمُوهُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬৭২. উছমান ইবনে আবু শায়রা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তোমরা তাকে আশ্রয় দাও। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে কিছু চায় তাকে কিছু দান কর। যে ব্যক্তি তোমাদের সাথে সদ্ব্যবহার করে, তোমরা বিনিময় দাও। যদি বিনিময় দেওয়ার সামর্থ্য না থাকে তবে তার জন্য দু'আ করতে থাক; যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পার যে, তোমরা তাদের বিনিময় দান করেছ।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৩৯. যে ব্যক্তি তার সকল সম্পদ দান করতে চায়।

باب الرَّجُلِ يَخْرُجُ مِنْ مَالِهِ

1673

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَ رَجُلٌ بِمِثْلِ بَيْضَةٍ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَصَبْتُ هَذِهِ مِنْ مَعْدِنٍ فَخُذْهَا فَهِيَ صَدَقَةٌ مَا أَمْلِكُ غَيْرَهَا . فَأَعْرَضَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ أَتَاهُ مِنْ قِبَلِ رُكْنِهِ الأَيْمَنِ فَقَالَ مِثْلَ ذَلِكَ فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ أَتَاهُ مِنْ قِبَلِ رُكْنِهِ الأَيْسَرِ فَأَعْرَضَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ أَتَاهُ مِنْ خَلْفِهِ فَأَخَذَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَذَفَهُ بِهَا فَلَوْ أَصَابَتْهُ لأَوْجَعَتْهُ أَوْ لَعَقَرَتْهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَأْتِي أَحَدُكُمْ بِمَا يَمْلِكُ فَيَقُولُ هَذِهِ صَدَقَةٌ ثُمَّ يَقْعُدُ يَسْتَكِفُّ النَّاسَ خَيْرُ الصَّدَقَةِ مَا كَانَ عَنْ ظَهْرِ غِنًى " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৬৭৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমতাবস্থায় জনৈক ব্যক্তি ডিমের পরিমাণ এক খণ্ড স্বর্ণ নিয়ে তার নিকট উপস্থিত হয়। সে বলে ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এই স্বর্ণ খনিতে প্রাপ্ত হয়েছি। আপনি তা দানস্বরূপ গ্রহণ করুন। এছাড়া আমার আর কিছুই নাই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার দিক হতে মুখ ফিরিয়ে নেন। অতঃপর সে তার ডান দিক হতে এসে একইরূপ বলে এবং তিনি এবারও তার দিক হতে মুখ ফিরিয়ে নেন। অতঃপর সে তার বাম দিক হতে এলে এবারও তিনি তার মুখ ফিরিয়ে নেন।

অতঃপর সে তার পশ্চাত দিকে হতে আগমন করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা কবুল করে পুনরায় তার দিকে জোরে নিক্ষেপ করেন। যদি তা তার গায়ে লাগত তবে অবশ্যই সে আঘাত পেত অথবা আহত হত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ তার মালিকানার সমস্ত মাল নিয়ে এসে বলে এটা সদকা স্বরূপ। অতঃপর সে মানুষের নিকট সাহায্যের জন্য স্বীয় হাত প্রসারিত করে। (জেনে রাখ!) উত্তম সাদকাহ তাই, যা প্রয়োজনাতিরিক্ত মাল হতে দেওয়া হয়।
1674

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ زَادَ " خُذْ عَنَّا مَالَكَ لاَ حَاجَةَ لَنَا بِهِ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৬৭৪. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... ইবনে ইসহাক হতে বর্ণিত ......... উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। রাবী (আব্দুল্লাহ) এইরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেনঃ “আমাদের নিকট হতে তোমার মাল নিয়ে যাও, আমাদের এর কোন প্রয়োজন নাই।”

1675

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ، سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ دَخَلَ رَجُلٌ الْمَسْجِدَ فَأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم النَّاسَ أَنْ يَطْرَحُوا ثِيَابًا فَطَرَحُوا فَأَمَرَ لَهُ مِنْهَا بِثَوْبَيْنِ ثُمَّ حَثَّ عَلَى الصَّدَقَةِ فَجَاءَ فَطَرَحَ أَحَدَ الثَّوْبَيْنِ فَصَاحَ بِهِ وَقَالَ " خُذْ ثَوْبَكَ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৬৭৫. ইসহাক ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... ইয়াদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সা’দ (রাহঃ) আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেনঃ জনৈক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলে নবী করীম সাল্লাল্লাহ আলাইহে ওয়াসাল্লাম সমবেত জনতাকে দানস্বরূপ কাপড় প্রদান করতে নির্দেশ দেন। সাহাবীগণ কাপড় দান করলে তিনি ঐ ব্যক্তিকে দুইটি কাপড় প্রদানের নির্দেশ দেন। অতঃপর তিনি সকলকে দানের জন্য উদ্বুদ্ধ করলেন। ঐ ব্যক্তি তার একটি কাপড় (দানের জন্য) নিক্ষেপ করলে তিনি তাকে ধমক দিয়ে বললেনঃ তোমার কাপড় ফেরত নাও।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

1676

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ خَيْرَ الصَّدَقَةِ مَا تَرَكَ غِنًى أَوْ تُصُدِّقَ بِهِ عَنْ ظَهْرِ غِنًى وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৭৬. উছমান ইবনে আবু শাউওবা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ নিশ্চয়ই উত্তম সাদকা তাই যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ হতে দেওয়া হয়। অথবা (রাবীর সন্দেহ) এমন বস্তু সদকাহ করা যা দেওয়ার পরও অভাবগ্রস্থ হয় না এবং তুমি যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব বহন কর তাদেরকে দিয়েই দান আরম্ভ কর।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৪০. এ ব্যাপারে অনুমতি সম্পর্কে।

باب فِي الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ

1677

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَيَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ الرَّمْلِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَعْدَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ قَالَ " جَهْدُ الْمُقِلِّ وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৭৭. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কোন ধরনের সাদকাহ উত্তম? তিনি বলেনঃ যার মালের পরিমাণ কম এবং তা থেকে কষ্ট করে দান করে দান করে এবং তোমার পরিবার-পরিজন, যাদের ভরণ-পোষণ তোমার কর্তব্য তাদেরকে প্রথমে দান কর।

1678

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، - وَهَذَا حَدِيثُهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، - رضى الله عنه - يَقُولُ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا أَنْ نَتَصَدَّقَ فَوَافَقَ ذَلِكَ مَالاً عِنْدِي فَقُلْتُ الْيَوْمَ أَسْبِقُ أَبَا بَكْرٍ إِنْ سَبَقْتُهُ يَوْمًا فَجِئْتُ بِنِصْفِ مَالِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا أَبْقَيْتَ لأَهْلِكَ " . قُلْتُ مِثْلَهُ . قَالَ وَأَتَى أَبُو بَكْرٍ - رضى الله عنه - بِكُلِّ مَا عِنْدَهُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا أَبْقَيْتَ لأَهْلِكَ " . قَالَ أَبْقَيْتُ لَهُمُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ . قُلْتُ لاَ أُسَابِقُكَ إِلَى شَىْءٍ أَبَدًا .

Narrator: যায়দ ইবনে আসলাম (রহঃ)

১৬৭৮. আহমাদ ইবনে সাহল (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে আসলাম (রাহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে দান করার নির্দেশ দেন। ঘটনাক্রমে সেদিন আমার কাছে মাল ছিল। আমি (মনে মনে) বলিঃ আজ আমি আবু বাকর (রাযিঃ) এর চাইতে (দানে) অগ্রগামী হব, যদিও কোন দিন আমি দানে তার অগ্রগামী হতে পারিনি। তাই আমি আমার অর্ধেক সম্পদ নিয়ে আসি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি তোমার পরিবার-পরিজনদের জন্য কি রেখে এসেছ? আমি বলি, এর সম-পরিমাণ সম্পদ।

উমর (রাযিঃ) বলেনঃ আর আবু বকর (রাযিঃ) আনলেন তার সমস্ত সম্পদ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি তোমার পরিবার-পরিজনদের জন্য কি রেখে এসেছ? তিনি বলেন, আমি তাদের জন্য আল্লাহ এবং তার রাসূলকে রেখে এসেছি। উমর (রাযিঃ) বলেনঃ তখন আমি বলিঃ আমি ভবিষ্যতে কোন দিন কোন ব্যাপারে অধিক ফযীলতের অধিকারী হওয়ার জন্য আপনার সাথে প্রতিযোগিতা করব না।

Reference: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪১. পানি পান করানোর ফযিলত।

باب فِي فَضْلِ سَقْىِ الْمَاءِ

1679

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدٍ، أَنَّ سَعْدًا، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَىُّ الصَّدَقَةِ أَعْجَبُ إِلَيْكَ قَالَ " الْمَاءُ " .

Narrator: সা'দ ইবনে উবাদা (রাঃ)

১৬৭৯. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ...... সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ)-এর খিদমতে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসা করেন, কি ধরনের সদকাহ আপনার নিকট প্রিয়? তিনি বলেনঃ পানি পান করানো।

1680

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَرْعَرَةَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَالْحَسَنِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .

Narrator: সা'দ ইবনে উবাদা (রাঃ)

১৬৮০. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) থেকে এই সূত্রে নবী করীম (ﷺ)-এর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

1681

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمَّ سَعْدٍ مَاتَتْ فَأَىُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ قَالَ " الْمَاءُ " . قَالَ فَحَفَرَ بِئْرًا وَقَالَ هَذِهِ لأُمِّ سَعْدٍ .

Narrator: সা'দ ইবনে উবাদা (রাঃ)

১৬৮১. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মাতা উম্মে সা’দ ইনতিকাল করেছেন। কাজেই (তার ঈছালে সাওয়াবের জন্য) কোন ধরনের সদকাহ উত্তম? তিনি বলেনঃ পানি। অতঃপর সা’দ (রাযিঃ) একটি কূপ খনন করেন এবং বলেন, এই কূপের পানি বিতরণের সাওয়াব উম্মে সা’দের জন্য নির্ধারিত।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৪২. কোন কিছু ধারণাস্বরূপ দেওয়া।

باب فِي الْمَنِيحَةِ

1682

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِشْكَابَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَدْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، - الَّذِي كَانَ يَنْزِلُ فِي بَنِي دَالاَنَ - عَنْ نُبَيْحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَيُّمَا مُسْلِمٍ كَسَا مُسْلِمًا ثَوْبًا عَلَى عُرْىٍ كَسَاهُ اللَّهُ مِنْ خُضْرِ الْجَنَّةِ وَأَيُّمَا مُسْلِمٍ أَطْعَمَ مُسْلِمًا عَلَى جُوعٍ أَطْعَمَهُ اللَّهُ مِنْ ثِمَارِ الْجَنَّةِ وَأَيُّمَا مُسْلِمٍ سَقَى مُسْلِمًا عَلَى ظَمَإٍ سَقَاهُ اللَّهُ مِنَ الرَّحِيقِ الْمَخْتُومِ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৬৮২. আলী ইবনুল হুসায়েন (রাহঃ) ..... আবু সা’ঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ যে মুসলমান কোন বস্ত্রহীন মুসলমানকে কাপড় পরাবে আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের সবুজ রেশমী কাপড় পরিধান করাবেন। আর যে মুসলমান কোন ক্ষুধার্ত মুসলমানকে আহার করাবে আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন। আর যে মুসলমান কোন তৃষ্ণার্ত মুসলমানকে পানি পান করাবে মহামহিম আল্লাহ তাকে জান্নাতের পবিত্র প্রতীকধারী মদ পান করাবেন।

1683

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، قَالَ أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى، - وَهَذَا حَدِيثُ مُسَدَّدٍ وَهُوَ أَتَمُّ - عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي كَبْشَةَ السَّلُولِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَرْبَعُونَ خَصْلَةً أَعْلاَهُنَّ مَنِيحَةُ الْعَنْزِ مَا يَعْمَلُ رَجُلٌ بِخَصْلَةٍ مِنْهَا رَجَاءَ ثَوَابِهَا وَتَصْدِيقَ مَوْعُودِهَا إِلاَّ أَدْخَلَهُ اللَّهُ بِهَا الْجَنَّةَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ فِي حَدِيثِ مُسَدَّدٍ قَالَ حَسَّانُ فَعَدَدْنَا مَا دُونَ مَنِيحَةِ الْعَنْزِ مِنْ رَدِّ السَّلاَمِ وَتَشْمِيتِ الْعَاطِسِ وَإِمَاطَةِ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ وَنَحْوِهِ فَمَا اسْتَطَعْنَا أَنْ نَبْلُغَ خَمْسَ عَشْرَةَ خَصْلَةً .

Narrator: আবু কাবশা আনমারী (রাঃ)

১৬৮৩. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... আবু কাবশাহ আস-সালূলী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ চল্লিশটি বৈশিষ্ট্য আছে, তন্মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠটি হল - কাউকে দুগ্ধবতী বকরী দান করা (যার দুধ দ্বারা সে উপকৃত হয়)। যে ব্যক্তি এই চল্লিশটি বৈশিষ্টের মধ্যে যে কোন একটির উপর সাওয়াবের আশায় এবং তার প্রতিশ্রুতিকে সত্য জেনে আমল করবে, আল্লাহ তাআলা এর বিনিময়ে তাকে জান্নাত দান করবেন।

৪৩. ভাণ্ডার রক্ষকের সাওয়াব সম্পর্কে।

باب أَجْرِ الْخَازِنِ

1684

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الْخَازِنَ الأَمِينَ - الَّذِي يُعْطِي مَا أُمِرَ بِهِ كَامِلاً مُوَفَّرًا طَيِّبَةً بِهِ نَفْسُهُ حَتَّى يَدْفَعَهُ إِلَى الَّذِي أُمِرَ لَهُ بِهِ - أَحَدُ الْمُتَصَدِّقَيْنِ " .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

১৬৮৪. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... আবু মুসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বিশ্বস্ত ভাণ্ডার রক্ষক সেই ব্যক্তি যে নির্দেশ মত পূর্ণ অংশ পবিত্র মনে প্রদান করে এমনকি যাকে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাকে প্রদান করে, সে দুইজন দান খয়রাতকারীর একজন।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৪৪. স্বামীর সম্পদ থেকে স্ত্রীর দান-খয়রাত করার বর্ণনা।

باب الْمَرْأَةِ تَتَصَدَّقُ مِنْ بَيْتِ زَوْجِهَا

1685

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَنْفَقَتِ الْمَرْأَةُ مِنْ بَيْتِ زَوْجِهَا غَيْرَ مُفْسِدَةٍ كَانَ لَهَا أَجْرُ مَا أَنْفَقَتْ وَلِزَوْجِهَا أَجْرُ مَا اكْتَسَبَ وَلِخَازِنِهِ مِثْلُ ذَلِكَ لاَ يَنْقُصُ بَعْضُهُمْ أَجْرَ بَعْضٍ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৬৮৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন স্ত্রীলোক তার স্বামীর সম্পদ থেকে ক্ষতির উদ্দেশ্য ব্যতীত কিছু দান করলে সে ঐ দানের ছাওয়ার প্রপ্ত হবে, তার স্বামী উপার্জনের জন্য এর বিনিময় পাবে এবং এর রক্ষণাবেক্ষণকারীর জন্য অনুরূপ সাওয়াব রয়েছে। এমতাবস্থায় তাদের কারো সাওয়াব অন্যের কারণে কম হবে না।

Reference: কুতুবে সিত্তাহ

1686

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَوَّارٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ سَعْدٍ، قَالَ لَمَّا بَايَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النِّسَاءَ قَامَتِ امْرَأَةٌ جَلِيلَةٌ كَأَنَّهَا مِنْ نِسَاءِ مُضَرَ فَقَالَتْ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّا كَلٌّ عَلَى آبَائِنَا وَأَبْنَائِنَا - قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَأُرَى فِيهِ وَأَزْوَاجِنَا - فَمَا يَحِلُّ لَنَا مِنْ أَمْوَالِهِمْ فَقَالَ " الرَّطْبُ تَأْكُلْنَهُ وَتُهْدِينَهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الرَّطْبُ الْخُبْزُ وَالْبَقْلُ وَالرُّطَبُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا رَوَاهُ الثَّوْرِيُّ عَنْ يُونُسَ .

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

১৬৮৬. মুহাম্মাদ ইবনে সওয়ার (রাহঃ) ..... সা’দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট মহিলারা বায়আত গ্রহণ করে তাদের মধ্যে একজন স্থুলদেহী মহিলাও ছিলেন, সম্ভবত তিনি মুদার গোত্রভুক্ত ছিলেন। তিনি উঠে বলেন ইয়া নবীয়াল্লাহ! আমরা তো আমাদের পিতা ও সন্তানদের উপর নির্ভরশীল।

1687

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَنْفَقَتِ الْمَرْأَةُ مِنْ كَسْبِ زَوْجِهَا مِنْ غَيْرِ أَمْرِهِ فَلَهَا نِصْفُ أَجْرِهِ " .

Narrator: হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রহঃ)

১৬৮৭. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) .... হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রাহঃ) বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যখন কোন স্ত্রীলোক স্বীয় স্বামীর উপার্জিত সম্পদ হতে তার অনুমতি ব্যতীত কিছু খরচ করে এমতাবস্থায় সে অর্ধেক সাওয়াবের ভাগী হবে।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

1688

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَوَّارٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، فِي الْمَرْأَةِ تَصَدَّقُ مِنْ بَيْتِ زَوْجِهَا قَالَ لاَ إِلاَّ مِنْ قُوتِهَا وَالأَجْرُ بَيْنَهُمَا وَلاَ يَحِلُّ لَهَا أَنْ تَصَدَّقَ مِنْ مَالِ زَوْجِهَا إِلاَّ بِإِذْنِهِ ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «هَذَا يُضَعِّفُ حَدِيثَ هَمَّامٍ»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৮৮. মুহাম্মাদ ইবনে সওয়ার আল-মিসরী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তাকে এমন স্ত্রীলোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল, যে তার স্বামীর ঘর হতে দান করে। তিনি বলেন, না, তবে তার নিজের ভরণ-পোষণের অংশ থেকে দান করতে পারে। এর সাওয়াব উভয়েই প্রাপ্ত হবে। আর স্ত্রীর জন্য তার স্বামীর মাল হতে তার অনুমতি ব্যতীত খরচ করা বৈধ নয়।

৪৫. নিকটাত্মীয়দের অনুগ্রহ প্রদর্শন।

باب فِي صِلَةِ الرَّحِمِ

1689

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ ( لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ ) قَالَ أَبُو طَلْحَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَى رَبَّنَا يَسْأَلُنَا مِنْ أَمْوَالِنَا فَإِنِّي أُشْهِدُكَ أَنِّي قَدْ جَعَلْتُ أَرْضِي بِأَرِيحَاءَ لَهُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اجْعَلْهَا فِي قَرَابَتِكَ " . فَقَسَمَهَا بَيْنَ حَسَّانَ بْنِ ثَابِتٍ وَأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ بَلَغَنِي عَنِ الأَنْصَارِيِّ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَبُو طَلْحَةَ زَيْدُ بْنُ سَهْلِ بْنِ الأَسْوَدِ بْنِ حَرَامِ بْنِ عَمْرِو بْنِ زَيْدِ مَنَاةَ بْنِ عَدِيِّ بْنِ عَمْرِو بْنِ مَالِكِ بْنِ النَّجَّارِ وَحَسَّانُ بْنُ ثَابِتِ بْنِ الْمُنْذِرِ بْنِ حَرَامٍ يَجْتَمِعَانِ إِلَى حَرَامٍ وَهُوَ الأَبُ الثَّالِثُ وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبِ بْنِ قَيْسِ بْنِ عَتِيكِ بْنِ زَيْدِ بْنِ مُعَاوِيَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ مَالِكِ بْنِ النَّجَّارِ فَعَمْرٌو يَجْمَعُ حَسَّانَ وَأَبَا طَلْحَةَ وَأُبَيًّا . قَالَ الأَنْصَارِيُّ بَيْنَ أُبَىٍّ وَأَبِي طَلْحَةَ سِتَّةُ آبَاءٍ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৬৮৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন কুরআনের এই আয়াত “তোমরা ততক্ষণ কল্যাণের অধিকারী হতে পারবে না যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের মহব্বতের বস্তু খরচ কর” - তখন আবু তালহা (রাযিঃ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মনে হয় আমাদের রব আমাদের ধন সম্পদ চাচ্ছেন। আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে আমার আরীহা নামক স্থানের যমীন তাঁর (আল্লাহ) জন্য দান করছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তুমি তা তোমার নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বন্টন করে দাও। আবু তালহা (রাযিঃ) তা হাসসান ইবনে ছাবিত ও উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) এর মধ্যে বন্টন করে দেন।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

1690

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ عَبْدَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مَيْمُونَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَتْ لِي جَارِيَةٌ فَأَعْتَقْتُهَا فَدَخَلَ عَلَىَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ " آجَرَكِ اللَّهُ أَمَا إِنَّكِ لَوْ كُنْتِ أَعْطَيْتِهَا أَخْوَالَكِ كَانَ أَعْظَمَ لأَجْرِكِ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত মাইমুনা (রাঃ)

১৬৯০. হান্নাদ ইবনুস সারী (রাহঃ) .... নবী করীম (ﷺ)-এর স্ত্রী হযরত মায়মুনা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার একটি ক্রীতাদাসী ছিল যাকে আমি আযাদ করে দেই। অতঃপর নবী করীম (ﷺ) আমার নিকট এলে আমি তাকে এই সংবাদ জ্ঞাপন করি। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাআলা তোমাকে এর সাওয়াব, দান করুন। কিন্তু যদি তুমি তাকে তোমার মাতুল গোষ্ঠীকে দান করতে তবে তোমার অধিক সাওয়াব হত।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

1691

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالصَّدَقَةِ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ عِنْدِي دِينَارٌ . فَقَالَ " تَصَدَّقْ بِهِ عَلَى نَفْسِكَ " . قَالَ عِنْدِي آخَرُ . قَالَ " تَصَدَّقْ بِهِ عَلَى وَلَدِكَ " . قَالَ عِنْدِي آخَرُ . قَالَ " تَصَدَّقْ بِهِ عَلَى زَوْجَتِكَ " . أَوْ قَالَ " زَوْجِكَ " . قَالَ عِنْدِي آخَرُ . قَالَ " تَصَدَّقْ بِهِ عَلَى خَادِمِكَ " . قَالَ عِنْدِي آخَرُ . قَالَ " أَنْتَ أَبْصَرُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬৯১. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) দান-খয়রাতের নির্দেশ দেন। তখন এক ব্যক্তি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার নিকট একটি দীনার আছে। তিনি বলেন, তুমি তা তোমার নিজের জন্য দান কর। অতঃপর সে বলে, আমার নিকট আরো একটি (দীনার) আছে। তিনি বলেন, তুমি তা তোমার সন্তানদের জন্য দান কর। সে আবার বলে, আমার কাছে আরো একটি দীনার আছে। তিনি বলেনঃ তুমি তা তোমার স্ত্রীর জন্য সদকা কর অথবা (স্ত্রী হলে) স্বামীর জন্য সদকা কর। সে বলে, আমার নিকট আরো একটি দীনার আছে। তিনি বলেন, তুমি তা তোমার খাদেমদের জন্য সদকা কর। সে আবার বলে, আমার কাছে আরো একটি আছে। তিনি বলেনঃ তুমিই ভালো জান (তা দিয়ে তোমরা কি করা উচিত)।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

1692

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ وَهْبِ بْنِ جَابِرٍ الْخَيْوَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَفَى بِالْمَرْءِ إِثْمًا أَنْ يُضَيِّعَ مَنْ يَقُوتُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৬৯২. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষের গুনাহগার হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার খাদ্যদ্রব্য নষ্ট করছে অথবা যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব তার উপর, সে তাদের অবজ্ঞা করছে।

Reference: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

1693

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، وَيَعْقُوبُ بْنُ كَعْبٍ، - وَهَذَا حَدِيثُهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَرَّهُ أَنْ يُبْسَطَ لَهُ فِي رِزْقِهِ وَيُنْسَأَ لَهُ فِي أَثَرِهِ فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৬৯৩. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, (দুনিয়াতে তার) রিযিক বৃদ্ধি করে দেওয়া হোক এবং তার মৃত্যু বিলম্বিত হোক - সে যেন অবশ্যই তার আত্মীয় সম্পর্ক অটুট রাখে।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

1694

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " قَالَ اللَّهُ أَنَا الرَّحْمَنُ وَهِيَ الرَّحِمُ شَقَقْتُ لَهَا اسْمًا مِنَ اسْمِي مَنْ وَصَلَهَا وَصَلْتُهُ وَمَنْ قَطَعَهَا بَتَتُّهُ " .

Narrator: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ)

১৬৯৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেনঃ আমি ‘রহমান’, আর আত্মীয় সম্পর্ক হল ‘রাহেম’। আমি আমার নাম হতে তা বের করেছি। কাজেই যে ব্যক্তি আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখে, আমি তার নিকটবর্তী হই। আর যে ব্যক্তি আত্মীয়তা ছিন্ন করে আমি আমার সম্পর্কও তার সাথে ছিন্ন করি।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

1695

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ الْعَسْقَلاَنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، أَنَّ الرَّدَّادَ اللَّيْثِيَّ، أَخْبَرَهُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ .

Narrator: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ)

১৬৯৫. মুহাম্মাদ ইবনুল মুতাওয়াক্কিল (রাহঃ) .... আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছেন ......... পূর্বক্তো হাদীসের অনুরূপ।

1696

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ رَحِمٍ " .

Narrator: জুবায়র ইবনে মুতঈম (রাঃ)

১৬৯৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... যুবায়ের ইবনে মুত’ইম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী করীম (ﷺ) কে বলতে শুনেছেনঃ আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে যাবে না।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

1697

حَدَّثَنَا ابْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، وَالْحَسَنِ بْنِ عَمْرٍو، وَفِطْرٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، - قَالَ سُفْيَانُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ سُلَيْمَانُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرَفَعَهُ فِطْرٌ وَالْحَسَنُ - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ الْوَاصِلُ بِالْمُكَافِئِ وَلَكِنَّ الْوَاصِلَ هُوَ الَّذِي إِذَا قُطِعَتْ رَحِمُهُ وَصَلَهَا " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৬৯৭. ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ আত্মীয় সম্পর্ক সংযুক্তকারী ঐ ব্যক্তি নয়, যে উপকারের বিনিময়ে উপকার দ্বারা দান করে, বরং সেই ব্যক্তি - যখন আত্মীয়তা ছিন্ন হয়, তখন যে আত্মীয়তার সম্পর্ক যুক্ত করে নেয়।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৬. কৃপনতার নিন্দা।

باب فِي الشُّحِّ

1698

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِيَّاكُمْ وَالشُّحَّ فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِالشُّحِّ أَمَرَهُمْ بِالْبُخْلِ فَبَخَلُوا وَأَمَرَهُمْ بِالْقَطِيعَةِ فَقَطَعُوا وَأَمَرَهُمْ بِالْفُجُورِ فَفَجَرُوا " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৬৯৮. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহে ওয়াসাল্লাম ভাষণ দিলেন। তাতে তিনি বলেন, তোমরা কৃপণতাকে ভয় কর। কেননা কৃপণতার কারণে তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা ধ্বংস হয়েছে। তাদের লোভ-লালাসা তাদেরকে কৃপণতার নির্দেশ দিয়েছে, তখন তারা কৃপণতা করেছে। আর তা তাদেরকে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলেছে, তখন তারা তা ছিন্ন করেছে। আর তা তাদেরকে লাম্পট্যের দিকে প্ররোচিত করেছে, তখন তারা তাতে লিপ্ত হয়েছে।

Reference: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

1699

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، حَدَّثَتْنِي أَسْمَاءُ بِنْتُ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لِي شَىْءٌ إِلاَّ مَا أَدْخَلَ عَلَىَّ الزُّبَيْرُ بَيْتَهُ أَفَأُعْطِي مِنْهُ قَالَ " أَعْطِي وَلاَ تُوكِي فَيُوكِيَ عَلَيْكِ " .

Narrator: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

১৬৯৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আসমা বিনতে আবু বাকর (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যুবায়ের (তার স্বামী) তার যরে যে মাল আনেন তা ব্যতীত আমার কোন সম্পদ নাই। আমি কি তা হতে দান-খয়রাত করতে পারি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ তুমি তা হতে দান করবে এবং সম্পদ জমা করবে না। কেননা তুমি তা ধরে রাখলে তোমার রিযিকও স্থগিত করে রাখা হবে।

Reference: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

1700

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا ذَكَرَتْ عِدَّةً مِنْ مَسَاكِينَ - قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ غَيْرُهُ أَوْ عِدَّةً مِنْ صَدَقَةٍ - فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَعْطِي وَلاَ تُحْصِي فَيُحْصِيَ عَلَيْكِ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৭০০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি মিসকীনদের সংখ্যা গণনা করলেন। ইমাম আবু দাউদ বলেনঃ অন্য রাবীর বর্ণনায় আছে, তিনি সাদ্‌কার পরিমাণ গণনা করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেন, তুমি দান কর এবং তা গণনা কর না। কেননা (যদি তুমি এইরূপ কর) গুণে গুণে প্রাপ্ত হবে।