كتاب الفرائض

১৪. উত্তরাধিকার সম্পত্তির অধ্যায়

Chapter 14 · 43 hadith

১২১. ফারাইয শিক্ষা সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي تَعْلِيمِ الْفَرَائِضِ

2875

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَافِعٍ التَّنُوخِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْعِلْمُ ثَلاَثَةٌ وَمَا سِوَى ذَلِكَ فَهُوَ فَضْلٌ آيَةٌ مُحْكَمَةٌ أَوْ سُنَّةٌ قَائِمَةٌ أَوْ فَرِيضَةٌ عَادِلَةٌ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৮৭৫. আহমদ ইবনে আমর ইবনে সারহ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রকৃত জ্ঞান তিন প্রকার, এগুলো ব্যতীত আর সবই বাহুল্য। যথা- (১) আল-কুরআনের মুহকাম আয়াত (যার হুকুম মানসূখ বা বতিল হয়নি), (২) সহীহ ও সঠিক হাদীস এবং (৩) ইনসাফের সাথে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টনের জ্ঞান।

১২২. কালালা সম্পর্কে।

باب فِي الْكَلاَلَةِ

2876

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ الْمُنْكَدِرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا، يَقُولُ مَرِضْتُ فَأَتَانِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعُودُنِي هُوَ وَأَبُو بَكْرٍ مَاشِيَيْنِ وَقَدْ أُغْمِيَ عَلَىَّ فَلَمْ أُكَلِّمْهُ فَتَوَضَّأَ وَصَبَّهُ عَلَىَّ فَأَفَقْتُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ أَصْنَعُ فِي مَالِي وَلِي أَخَوَاتٌ قَالَ فَنَزَلَتْ آيَةُ الْمَوَارِيثِ ( يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلاَلَةِ ) .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৮৭৬. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি অসুস্থ ছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এবং আবু বকর (রাযিঃ) উভয়ে পদব্রজে আমাকে দেখার জন্য আগমন করেন। এ সময় আমি বেঁহুশ হয়ে যাওয়ায় নবী (ﷺ) এর সঙ্গে কোন কথা বলতে পারিনি। তখন তিনি উযু করেন এবং উযুর পানি আমার উপর ছিটিয়ে দেন, ফলে আমি চেতনা ফিরে পাই। তখন আমি জ্ঞিাসা করিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আমার ধন-সম্পদ কি করব? আমার তো কেবল বোনেরা আছে। তখন মীরাছ সম্পর্কিত এ আয়াত নাযিল হয়ঃ লোকেরা আপনার কাছে (‘কালালা’ সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুনঃ আল্লাহ্ তোমাদের কালালা সম্পর্কে জানিয়ে দিচ্ছেন ......... [নিসাঃ ১৭৬]

১২৩. যার কোন সন্তান নেই, তবে ভগ্নীরা আছে- সে সম্পর্কে।

باب مَنْ كَانَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَهُ أَخَوَاتٌ

2877

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، - يَعْنِي الدَّسْتَوَائِيَّ - عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ اشْتَكَيْتُ وَعِنْدِي سَبْعُ أَخَوَاتٍ فَدَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَفَخَ فِي وَجْهِي فَأَفَقْتُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ أُوصِي لأَخَوَاتِي بِالثُّلُثِ قَالَ " أَحْسِنْ " . قُلْتُ الشَّطْرَ قَالَ " أَحْسِنْ " . ثُمَّ خَرَجَ وَتَرَكَنِي فَقَالَ " يَا جَابِرُ لاَ أُرَاكَ مَيِّتًا مِنْ وَجَعِكَ هَذَا وَإِنَّ اللَّهَ قَدْ أَنْزَلَ فَبَيَّنَ الَّذِي لأَخَوَاتِكَ فَجَعَلَ لَهُنَّ الثُّلُثَيْنِ " . قَالَ فَكَانَ جَابِرٌ يَقُولُ أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ فِيَّ ( يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلاَلَةِ ) .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৮৭৭. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ি এবং এ সময় আমার সাতটি বোন ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার নিকট আগমন করেন এবং আমার চেহারার উপর ফুঁ দেন, ফলে আমি চেতনা ফিরে পাই। তখন আমি জিজ্ঞাসা করিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি আমার বোনদের জন্য (আমার সম্পদের) এক-তৃতীয়াংশ ওসীয়্যাত করব? তিনি বলেনঃ উত্তম কাজ কর। তখন আমি আবার জিজ্ঞাসা করিঃ তবে কি অর্ধেক সম্পদের জন্য ওসীয়্যাত করব? তিনি বলেনঃ উত্তম কাজ। অতঃপর তিনি আমাকে রেখে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বলেনঃ হে জাবির! এ পীড়ায় তুমি মারা যাবে বলে আমার মনে হচ্ছে না। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাআলা তাঁর কালাম নাযিল করেছেন, যাতে (তোমার বোনদের) জন্য অংশ হিসেবে দুই তৃতীয়াংশ নির্ধারণ করেছেন। রাবী বলেনঃ জাবির (রাযিঃ) বলতেন যে, এই আয়াতটি আমার ব্যাপারে নাযিল হয়ঃ লোকেরা আপনার কাছে (কালালা সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন, আল্লাহ্ তোদের কলালা সম্পর্কে জানিয়ে দিচ্ছেন ...। [নিসাঃ ১৭৬]

2878

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ آخِرُ آيَةٍ نَزَلَتْ فِي الْكَلاَلَةِ ( يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلاَلَةِ ) .

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

২৮৭৮. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... বারাআ‘ ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (সূরা নিসার) শেষ আয়াতটি কালালা সম্পর্কে নাযিল হয়ঃ লোকেরা আপনার কাছে (কালালা সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুনঃ আল্লাহ্ তোমাদের কালালা সমপর্কে জানিয়ে দিচ্ছেন ......... (নিসাঃ ১৭৬)

2879

حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي مُزَاحِمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ يَسْتَفْتُونَكَ فِي الْكَلاَلَةِ فَمَا الْكَلاَلَةُ قَالَ " تُجْزِيكَ آيَةُ الصَّيْفِ " . فَقُلْتُ لأَبِي إِسْحَاقَ هُوَ مَنْ مَاتَ وَلَمْ يَدَعْ وَلَدًا وَلاَ وَالِدًا قَالَ كَذَلِكَ ظَنُّوا أَنَّهُ كَذَلِكَ .

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

২৮৭৯. মানসুর ইবনে আবী মূযাহিম (রাহঃ) ..... বারাআ’ ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট হাযির হয়ে জিজ্ঞাসা করে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আল-কুরআনের (يَسْتَفْتُونَكَ فِي الْكَلاَلَةِ) এ আয়াতে যে ‘কালালা’ শব্দের উল্লেখ আছে, বলুনঃ কালালা শব্দের অর্থ কি? তিনি বলেনঃ তোমার জন্য সেই আয়াতটি যথেষ্ঠ, যা গরমের সময় নাযিল হয়। (রাবী আবু বকর বলেনঃ) আমি এ সম্পর্কে আবু ইসহাকের নিকট জিজ্ঞাসা করি। (তিনি বলেন) কালালা হলো, যার মৃত্যুর পর সে কোন সন্তান এবং পিতামাতাকে রেখে যায় না। তখন তিনি বলেনঃ লোকদের ধারণাও এরূপ।

১২৪. সহোদর ভাই-বোনের মিরাস।

باب مَا جَاءَ فِي مِيرَاثِ الصُّلْبِ

2880

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرِ بْنِ زُرَارَةَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ الأَوْدِيِّ، عَنْ هُزَيْلِ بْنِ شُرَحْبِيلَ الأَوْدِيِّ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ وَسَلْمَانَ بْنِ رَبِيعَةَ فَسَأَلَهُمَا عَنِ ابْنَةٍ وَابْنَةِ ابْنٍ وَأُخْتٍ، لأَبٍ وَأُمٍّ فَقَالاَ لاِبْنَتِهِ النِّصْفُ وَلِلأُخْتِ مِنَ الأَبِ وَالأُمِّ النِّصْفُ وَلَمْ يُوَرِّثَا ابْنَةَ الاِبْنِ شَيْئًا وَأْتِ ابْنَ مَسْعُودٍ فَإِنَّهُ سَيُتَابِعُنَا فَأَتَاهُ الرَّجُلُ فَسَأَلَهُ وَأَخْبَرَهُ بِقَوْلِهِمَا فَقَالَ لَقَدْ ضَلَلْتُ إِذًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُهْتَدِينَ وَلَكِنِّي سَأَقْضِي فِيهَا بِقَضَاءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لاِبْنَتِهِ النِّصْفُ وَلاِبْنَةِ الاِبْنِ سَهْمٌ تَكْمِلَةُ الثُّلُثَيْنِ وَمَا بَقِيَ فَلِلأُخْتِ مِنَ الأَبِ وَالأُمِّ .

Narrator: হুযাইল ইবনে শুরাহবীল (রহঃ)

২৮৮০. আব্দুল্লহ্ ইবনে আমির ইবনে যুরারা (রাহঃ) ..... হুযাইল ইবনে শুরাহবীল আওদী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি আবু মুসা আশআরী এবং সালমান ইবনে রাবীআ (রাযিঃ) এর নিকট হাযির হয়ে উভয়কে জিজ্ঞাসা করেন যে, মেয়ে, ছেলের মেয়ে (নাতনী) এবং আপন বোনের অংশ কি? তখন তাঁরা বলেনঃ মেয়ে অর্ধেক পাবে এবং আপন বোন পাবে বাকী অর্ধেক এবং নাতনীকে তাঁরা উত্তরাধিকারী করেননি। (উপরন্তু তারা বলেন) তুমি এ সম্পর্কে ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা কর, হয়তো তিনি এ ব্যাপারে আমাদেরই অনুসরণ করবেন।

তখন সে ব্যক্তি তাঁর নিকট গমন করে এবং তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, আর তাঁকে সে দু‘জনের কথাও বলে। তখন তিনি [ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)] বলেনঃ (আমি যদি তাদের অভিমতকে সমর্থন করি), তবে অবশ্যই আমি গুমরাহদের শামিল হয়ে যাব এবং আমি হিদায়াতপ্রাপ্তদের শামিল থাকব না। বস্তুত আমি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর ফয়সালা অনুযায়ী ফতওয়া দেব। (তা হলো) মেয়ে পাবে অর্ধেক এবং নাতনী পাবে এক-ষষ্ঠমাংশ যাতে উভয়ে মিলে দুই-তৃতীয়াংশ পূর্ণ হয় এবং বাকী এক তৃতীয়াংশ পাবে আপন বোন।
2881

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، حَدَّثَنِي أَبُو حَسَّانَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، وَرَّثَ أُخْتًا وَابْنَةً فَجَعَلَ لِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا النِّصْفَ وَهُوَ بِالْيَمَنِ وَنَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَئِذٍ حَىٌّ .

Narrator: আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ নাখঈ (রহঃ)

২৮৮১. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) তাঁর উত্তরাধিকার এক বোন ও এক মেয়েকে তাঁর সম্পত্তির অর্ধাংশ করে ভাগ করে দেন এবং এ সময় তিনি ইয়ামানে ছিলেন। আর নবী (ﷺ)-ও সে সময় জীবিত ছিলেন।

2882

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى جِئْنَا امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ فِي الأَسْوَاقِ فَجَاءَتِ الْمَرْأَةُ بِابْنَتَيْنِ لَهَا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَاتَانِ بِنْتَا ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ قُتِلَ مَعَكَ يَوْمَ أُحُدٍ وَقَدِ اسْتَفَاءَ عَمُّهُمَا مَالَهُمَا وَمِيرَاثَهُمَا كُلَّهُ فَلَمْ يَدَعْ لَهُمَا مَالاً إِلاَّ أَخَذَهُ فَمَا تَرَى يَا رَسُولَ اللَّهِ فَوَاللَّهِ لاَ تُنْكَحَانِ أَبَدًا إِلاَّ وَلَهُمَا مَالٌ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَقْضِي اللَّهُ فِي ذَلِكَ " . قَالَ وَنَزَلَتْ سُورَةُ النِّسَاءِ ( يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلاَدِكُمْ ) الآيَةَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ادْعُوا لِيَ الْمَرْأَةَ وَصَاحِبَهَا " . فَقَالَ لِعَمِّهِمَا " أَعْطِهِمَا الثُّلُثَيْنِ وَأَعْطِ أُمَّهُمَا الثُّمُنَ وَمَا بَقِيَ فَلَكَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَخْطَأَ بِشْرٌ فِيهِ إِنَّمَا هُمَا ابْنَتَا سَعْدِ بْنِ الرَّبِيعِ وَثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ قُتِلَ يَوْمَ الْيَمَامَةِ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৮৮২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে বের হয়ে আসওয়াফ নামক স্থানে একজন আনসার মহিলার নিকট উপস্থিত হই। তখন সে মহিলা তার দু‘টি কন্যা সন্তান নিয়ে এসে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এ কন্যা দুটি সাবিত ইবনে কায়স (রাযিঃ) এর, যিনি আপনার সাথী থাকাকালে উহুদের যুদ্ধে শহীদ হন। এখন এদের চাচা এদের সমস্ত মাল ও মীরাছ দখল করে নিয়েছে। এদের দু‘জন কিছুই দেয়নি; বরং সবই সে গ্রাস করেছে। ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এখন এ ব্যাপারে আপনি কি বলেন? আল্লাহর শপথ! যতক্ষণ এরা সম্পদের অধিকারী না হবে, ততক্ষণ এদের বিবাহ হবে না।

তখন রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ্ তাআলা এব্যাপারে ফয়সালা করে দেবেন। অতঃপর এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلاَدِكُمْ) অর্থাৎ আল্লাহ্ তাআলা তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে ওসীয়্যাত করেছেন ...। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ আমার নিকট ঐ মহিলা এবং তার দেবরকে ডেকে আন। অতঃপর তিনি মেয়ে দুটির চাচাকে ডেকে বলেনঃ তুমি এদের দুই-তৃতীয়াংশ দিয়ে দাও এবং এদের মাকে এক-অষ্টমাংশ দিয়ে দাও; আর যা অবশিষ্ট থাকে তা তোমার।
2883

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ، وَغَيْرُهُ، مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ امْرَأَةَ، سَعْدِ بْنِ الرَّبِيعِ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ سَعْدًا هَلَكَ وَتَرَكَ ابْنَتَيْنِ . وَسَاقَ نَحْوَهُ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا هُوَ الصَّوَابُ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৮৮৩. ইবনে সারহ (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। সা‘দ ইবনে রাবী’ এর স্ত্রী বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সা‘দ মারা গিয়েছে এবং এ দু‘টি মেয়ে রেখে গিয়েছে। অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

১২৫. দাদীর অংশ সম্পর্কে।

باب فِي الْجَدَّةِ

2884

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ خَرَشَةَ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ، أَنَّهُ قَالَ جَاءَتِ الْجَدَّةُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا فَقَالَ مَا لَكِ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى شَىْءٌ وَمَا عَلِمْتُ لَكِ فِي سُنَّةِ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا فَارْجِعِي حَتَّى أَسْأَلَ النَّاسَ . فَسَأَلَ النَّاسَ فَقَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ حَضَرْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْطَاهَا السُّدُسَ . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ هَلْ مَعَكَ غَيْرُكَ فَقَامَ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ فَقَالَ مِثْلَ مَا قَالَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ فَأَنْفَذَهُ لَهَا أَبُو بَكْرٍ ثُمَّ جَاءَتِ الْجَدَّةُ الأُخْرَى إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضى الله عنه تَسْأَلُهُ مِيرَاثَهَا فَقَالَ مَا لَكِ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى شَىْءٌ وَمَا كَانَ الْقَضَاءُ الَّذِي قُضِيَ بِهِ إِلاَّ لِغَيْرِكِ وَمَا أَنَا بِزَائِدٍ فِي الْفَرَائِضِ وَلَكِنْ هُوَ ذَلِكَ السُّدُسُ فَإِنِ اجْتَمَعْتُمَا فِيهِ فَهُوَ بَيْنَكُمَا وَأَيَّتُكُمَا خَلَتْ بِهِ فَهُوَ لَهَا .

Narrator: কাবীসা ইবন যুআয়ব (রহঃ)

২৮৮৪. আল- কা‘নবী (রাহঃ) ..... কাবীসা ইবনে যুওয়ায়ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক মৃত ব্যক্তির দাদী আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তার মীরাছ (প্রাপ্য অংশ) দাবি করে। তখন তিনি বলেনঃ আল্লাহর কিতাবে তোমার কোন অংশের কথা উল্লেখ করেননি এবং আমি নবী (ﷺ) এর সুন্নত হতে তোমার ব্যাপারে কোন কিছু অবহিত নই। অতএব এখন তুমি ফিরে যাও, এ সম্পর্কে আমি লোকদের কাছে জিজ্ঞাসা করব।

তখন মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি তখন রাসূলূল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, যখন তিনি দাদীকে এক-ষষ্ঠমাংশ প্রদান করেন। তখন আবু বকর (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করেনঃ এ সময় তোমার সঙ্গে আর কেউ ছিল কি? তখন মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা (রাযিঃ) দণ্ডায়মান হন এবং ঐরূপ বলেন, যেরূপ মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাযিঃ) বলেন। তখন আবু বকর (রাযিঃ) তার জন্য এক-ষষ্ঠমাংশ প্রদান করেন।

অতঃপর অন্য এক মৃত ব্যক্তির দাদী (বা নানী) উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এর নিকট (তাঁর খিলাফতকালে) উপস্থিত হয়ে মীরাছ দাবি করে। তখন তিনি বলেনঃ আল্লাহর কিতাবে তো তোমার কোন অংশের কথা উল্লেখ নেই, তবে ইতপূর্বে তুমি ব্যতীত অন্যদের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে (অর্থাৎ এক-ষষ্ঠমাংশ), আর যেহেতু ফারাইযের ব্যাপারে আমার পক্ষে বাড়াবাড়ি করাও সম্ভব নয়, কাজেই ঐ এক-ষষ্ঠমাংশ তুমি নিয়ে যাও। আর যদি নানী ও দাদী উভয়ই একত্রে জীবিত থাকে, তবে ঐ এক-ষষ্ঠমাংশ তোমাদের দুজনের জন্য। আর তোমাদের একজন যদি হও, তবে সে ঐ অংশ পাবে।
2885

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رِزْمَةَ، أَخْبَرَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ أَبُو الْمُنِيبِ الْعَتَكِيُّ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم جَعَلَ لِلْجَدَّةِ السُّدُسَ إِذَا لَمْ تَكُنْ دُونَهَا أُمٌّ .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

২৮৮৫. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দিল আযীয (রাহঃ) .... ইবনে বুরায়দা (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে নবী (ﷺ) এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি দাদী (বা নানীর) জন্য এক-ষষ্ঠমাংশ নির্ধারণ করেছেন, তবে এ শর্তে যে, যদি মৃত ব্যক্তির মা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে।

১২৬. দাদীর মিরাছ সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي مِيرَاثِ الْجَدِّ

2886

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ ابْنَ ابْنِي مَاتَ فَمَا لِي مِنْ مِيرَاثِهِ فَقَالَ " لَكَ السُّدُسُ " . فَلَمَّا أَدْبَرَ دَعَاهُ فَقَالَ " لَكَ سُدُسٌ آخَرُ " . فَلَمَّا أَدْبَرَ دَعَاهُ فَقَالَ " إِنَّ السُّدُسَ الآخَرَ طُعْمَةٌ " . قَالَ قَتَادَةُ فَلاَ يَدْرُونَ مَعَ أَىِّ شَىْءٍ وَرَّثَهُ . قَالَ قَتَادَةُ أَقَلُّ شَىْءٍ وَرِثَ الْجَدُّ السُّدُسَ .

Narrator: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

২৮৮৬. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর(রাহঃ) .... ‘ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট হাযির হয়ে বলেঃ আমার ছেলের ছেলে (পৌত্র) ইনতিকাল করেছে, এখন আমি তার মীরাছ থেকে কিরূপ অংশ পাব? তিনি বলেনঃ তোমার অংশ হবে এক-ষষ্ঠমাংশ। অতঃপর সে লোক যখন ফিরে যাচ্ছিল, তখন তিনি ডাকেন এবং বলেনঃ তুমি এক-ষষ্ঠমাংশ পাবে।

আবু কাতাদা (রাযিঃ) বলেনঃ তারা (সাহাবীরা) জানত না যে দাদা কোন সময় এক-ষষ্ঠমাংশ পায়। আবু কাতাদা (রাযিঃ) আরো বলেনঃ দাদার প্রাপ্ত সর্বনিম্ন মীরাছের অংশ হলো এক-ষষ্ঠমাংশ।
2887

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّ عُمَرَ، قَالَ أَيُّكُمْ يَعْلَمُ مَا وَرَّثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْجَدَّ فَقَالَ مَعْقِلُ بْنُ يَسَارٍ أَنَا وَرَّثَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم السُّدُسَ . قَالَ مَعَ مَنْ قَالَ لاَ أَدْرِي . قَالَ لاَ دَرَيْتَ فَمَا تُغْنِي إِذًا .

Narrator: হাসান বসরী (রহঃ)

২৮৮৭. ওয়াহব ইবনে বাকীয়্যা (রাহঃ) ..... হাসান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উমর (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের মাঝের কে জানে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দাদাকে মীরাছ হিসাবে কি দিয়েছেন? তখন মা‘কিল ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ) বলেনঃ আমি এ সম্পর্কে জানি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাদাকে মীরাছ হিসাবে এক-ষষ্ঠমাংশ প্রদান করেছেন। তখন তিনি [উমর (রাযিঃ)] জিজ্ঞাসা করেনঃ কোন কোন ওয়ারিছের সাথে এক-ষষ্ঠমাংশ পাবে? তখন মাকিল (রাযিঃ) বলেনঃ এতো আমার জানা নেই। তখন উমর (রাযিঃ) বলেনঃ যদি তুমি না-ই জান, তবে এতে কি লাভ!

১২৭. আসাবা সম্পর্কে।

باب فِي مِيرَاثِ الْعَصَبَةِ

2888

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، وَمَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، - وَهَذَا حَدِيثُ مَخْلَدٍ وَهُوَ الأَشْبَعُ - قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْسِمِ الْمَالَ بَيْنَ أَهْلِ الْفَرَائِضِ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ فَمَا تَرَكَتِ الْفَرَائِضُ فَلأَوْلَى ذَكَرٍ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৮৮৮. আহমেদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আহলে ফারায়েজের মাঝে, আহলে কিতাবের বিধান অনুযায়ী ধন-সম্পদ বন্টন কর। আর এদের মাঝে বন্টনের পর যে মাল অবশিষ্ট থাকবে, তার সবই নিকটাত্মীয় পুরুষ প্রাপ্ত হবে।

১২৮. নিকটাত্মীয়ের মীরাছ সম্পর্কে।

باب فِي مِيرَاثِ ذَوِي الأَرْحَامِ

2889

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ بُدَيْلٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي عَامِرٍ الْهَوْزَنِيِّ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ لُحَىٍّ، عَنِ الْمِقْدَامِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَرَكَ كَلاًّ فَإِلَىَّ " . وَرُبَّمَا قَالَ " إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ " . " وَمَنْ تَرَكَ مَالاً فَلِوَرَثَتِهِ وَأَنَا وَارِثُ مَنْ لاَ وَارِثَ لَهُ أَعْقِلُ لَهُ وَأَرِثُهُ وَالْخَالُ وَارِثُ مَنْ لاَ وَارِثَ لَهُ يَعْقِلُ عَنْهُ وَيَرِثُهُ " .

Narrator: হযরত মিকদাম ইবনে মা’দীকারিব (রাঃ)

২৮৮৯. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... মিকদাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দেনা বা নাবালক সন্তান-সন্ততি রেখে যাবে, তার যিম্মাদারী আমার। অথবা তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের উপর। আর যে মাল রেখে মারা যাবে, তা তার উত্তরাধিকারীদের। আর যার কোন ওয়ারিছ নেই, আমি তার ওয়ারিছ। আমি তার পক্ষে দিয়্যাত (রক্তপণ) আদায় করব এবং পরিত্যক্ত সম্পত্তির ভাগও দেব। আর মামা তার ওয়ারিছ হবে, যার কোন ওয়ারিছ নেই। সে তার দিয়্যাত আদায় করবে এবং তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির ওয়ারিছ হবে।

2890

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، - فِي آخَرِينَ - قَالُوا حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ بُدَيْلٍ، - يَعْنِي ابْنَ مَيْسَرَةَ - عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي عَامِرٍ الْهَوْزَنِيِّ، عَنِ الْمِقْدَامِ الْكِنْدِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَنَا أَوْلَى بِكُلِّ مُؤْمِنٍ مِنْ نَفْسِهِ فَمَنْ تَرَكَ دَيْنًا أَوْ ضَيْعَةً فَإِلَىَّ وَمَنْ تَرَكَ مَالاً فَلِوَرَثَتِهِ وَأَنَا مَوْلَى مَنْ لاَ مَوْلَى لَهُ أَرِثُ مَالَهُ وَأَفُكُّ عَانَهُ وَالْخَالُ مَوْلَى مَنْ لاَ مَوْلَى لَهُ يَرِثُ مَالَهُ وَيَفُكُّ عَانَهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الزُّبَيْدِيُّ عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ عَائِذٍ عَنِ الْمِقْدَامِ وَرَوَاهُ مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ رَاشِدٍ قَالَ سَمِعْتُ الْمِقْدَامَ .

Narrator: হযরত মিকদাম ইবনে মা’দীকারিব (রাঃ)

২৮৯০. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ..... মিকদাম কিনদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি প্রত্যেক মুসলমানের জন্য তার নিজের সত্তা হতেও অধিক নিকটবর্তী। তাই যে ব্যক্তি দেনা বা সন্তান রেখে মারা যাবে, তার যিম্মাদারী আমার উপর (অর্থাৎ আমি তার দেনা পরিশোধ করব এবং তার সন্তানদের রক্ষণাবেক্ষণ করব)। আর যে ব্যক্তি মাল রেখে মারা যাবে, তা তার ওয়ারিছের জন্য। আর যার কোন মালিক নেই, আমি তার মালিক এবং তার মালেরও মালিক হব, (অর্থাৎ তার মাল বায়তুল মালে সংরক্ষণ করব।) এবং তার কয়েদীদের মুক্ত করব। আর যার কোন ওয়ারিছ নেই, মামা তার ওয়ারিছ হবে। সে তার মালের উত্তরাধিকারী হবে এবং কয়েদীদের মুক্ত করবে।

2891

حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ عَتِيقٍ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ حُجْرٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ يَحْيَى بْنِ الْمِقْدَامِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَنَا وَارِثُ مَنْ لاَ وَارِثَ لَهُ أَفُكُّ عَانِيَهُ وَأَرِثُ مَالَهُ وَالْخَالُ وَارِثُ مَنْ لاَ وَارِثَ لَهُ يَفُكُّ عَانِيَهُ وَيَرِثُ مَالَهُ " .

Narrator: হযরত মিকদাম ইবনে মা’দীকারিব (রাঃ)

২৮৯১. আব্দুস সালাম ইবনে আতীক দিমাশকী (রাহঃ) ..... সালিহ্ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে মিকদাম (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ আমি তার ওয়ারিছ যার কোন ওয়ারিছ নেই, তার কয়েদীদের মুক্তি করি এবং তার পরিত্যক্ত মালের উত্তরাধিকারী হই। আর যার কোন ওয়ারিছ নেই, তার মামা তার ওয়ারিছ হবে, যে তার কয়েদীদের মুক্ত করবে এবং তার মালের উত্তরাধিকারীও হবে।

2892

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ سُفْيَانَ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ الأَصْبَهَانِيِّ، عَنْ مُجَاهِدِ بْنِ وَرْدَانَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ مَوْلًى، لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَاتَ وَتَرَكَ شَيْئًا وَلَمْ يَدَعْ وَلَدًا وَلاَ حَمِيمًا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَعْطُوا مِيرَاثَهُ رَجُلاً مِنْ أَهْلِ قَرْيَتِهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدِيثُ سُفْيَانَ أَتَمُّ وَقَالَ مُسَدَّدٌ قَالَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " هَا هُنَا أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ أَرْضِهِ " . قَالُوا نَعَمْ . قَالَ " فَأَعْطُوهُ مِيرَاثَهُ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮৯২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) এর আযাদকৃত গোলাম মারা গেলে সে কিছু মাল রেখে গেল কিন্তু তার কোন ওয়ারিছ ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ তার পরিত্যক্ত মাল তার গ্রামের কোন এক ব্যক্তিকে দিয়ে দাও।

2893

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ جِبْرِيلَ بْنِ أَحْمَرَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ إِنَّ عِنْدِي مِيرَاثَ رَجُلٍ مِنَ الأَزْدِ وَلَسْتُ أَجِدُ أَزْدِيًّا أَدْفَعُهُ إِلَيْهِ . قَالَ " اذْهَبْ فَالْتَمِسْ أَزْدِيًّا حَوْلاً " . قَالَ فَأَتَاهُ بَعْدَ الْحَوْلِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ أَجِدْ أَزْدِيًّا أَدْفَعُهُ إِلَيْهِ . قَالَ " فَانْطَلِقْ فَانْظُرْ أَوَّلَ خُزَاعِيٍّ تَلْقَاهُ فَادْفَعْهُ إِلَيْهِ " . فَلَمَّا وَلَّى قَالَ " عَلَىَّ الرَّجُلَ " . فَلَمَّا جَاءَ قَالَ " انْظُرْ كُبْرَ خُزَاعَةَ فَادْفَعْهُ إِلَيْهِ " .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

২৮৯৩. আব্দুল্লাহ্ ইবনে সাঈদ কানদী (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে বুরায়দা (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করে যে, আমার কাছে ‘আযাদ গোত্রের’’ জনৈক ব্যক্তির কিছু পরিত্যক্ত সম্পদ আছে। কিন্তু আমি এমন কাউকে পাচ্ছি না, যার কাছে আমি তা দিতে পারি। তিনি বলেনঃ তুমি এক বছর পর্যন্ত কোন আযাদী লোককে তালাশ করতে থাক। রাবী বলেনঃ সে ব্যক্তি এক বছর পর তাঁর নিকট হাযির হয়ে বললোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কোন আযাদী লোককে পাইনি, যার কাছে এ মাল দিতে পারি।

তখন তিনি বলেনঃ তুমি খাযাঈ গোত্রের যে লোকের সাথে সর্বপ্রথম মিলিত হবে, তা তাকে দিয়ে দেবে। অতঃপর যখন সে (লোক) ফিরে চললো, তখন তিনি বললেনঃ ঐ ব্যক্তিকে আমার কাছে ডেকে আনো। অতঃপর সে ব্যক্তি যখন তাঁর নিকট হাযির হলো, তখন তিনি বললেনঃ তুমি খাযাঈ গোত্রের কোন বৃদ্ধ ব্যক্তিকে ওগুলো দিয়ে দেবে। তখন সে ব্যক্তি তাকে তা দিয়ে দেয়।
2894

حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ أَسْوَدَ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ جِبْرِيلَ بْنِ أَحْمَرَ أَبِي بَكْرٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ مَاتَ رَجُلٌ مِنْ خُزَاعَةَ فَأُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمِيرَاثِهِ فَقَالَ " الْتَمِسُوا لَهُ وَارِثًا أَوْ ذَا رَحِمٍ " . فَلَمْ يَجِدُوا لَهُ وَارِثًا وَلاَ ذَا رَحِمٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَعْطُوهُ الْكُبْرَ مِنْ خُزَاعَةَ " . قَالَ يَحْيَى قَدْ سَمِعْتُهُ مَرَّةً يَقُولُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ " انْظُرُوا أَكْبَرَ رَجُلٍ مِنْ خُزَاعَةَ " .

Narrator: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

২৮৯৪. হাসান ঈন আসওয়াদ আজালী (রাহঃ) .... বুরায়দা (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ খুযাআ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি মারা গেলে তাঁর ধন-সম্পদ নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত করা হয়। তখন তিনি বলেনঃ তোমরা কোন ওয়ারিছকে অন্বেষণ কর, অথবা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ এই মীরাছ খুযাআ গোত্রের কোন বৃদ্ধ লোককে দিয়ে দেবে।

রাবী ইয়াহয়া বলেনঃ আমি তাঁকে মাত্র একবার এরূপ বলতে শুনেছি যে, খুযাআ গোত্রের কোন বৃদ্ধ লোককে তা দিয়ে দাও।
2895

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، عَنْ عَوْسَجَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلاً، مَاتَ وَلَمْ يَدَعْ وَارِثًا إِلاَّ غُلاَمًا لَهُ كَانَ أَعْتَقَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ لَهُ أَحَدٌ " . قَالُوا لاَ إِلاَّ غُلاَمًا لَهُ كَانَ أَعْتَقَهُ . فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِيرَاثَهُ لَهُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৮৯৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি মারা যায় এবং সে একটি আযাদকৃত গোলাম ব্যতীত আর কাউকে ওয়ারিছ হিসাবে রেখে যায়নি। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ তার কি কোন ওয়ারিছ আছে? তাঁরা (সাহাবীরা) বলেনঃ না, তবে তার একটি আযাদকৃত গোলাম আছে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সেই ব্যক্তিকে ঐ ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পদ দিয়ে দেন।

১২৯. ব্যভিচারের অপবাদে অভিযুক্ত ও অভিশপ্ত মহিলার সন্তানের মীরাস সম্পর্কে।

باب مِيرَاثِ ابْنِ الْمُلاَعِنَةِ

2896

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ رُؤْبَةَ التَّغْلِبِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ النَّصْرِيِّ، عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الأَسْقَعِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمَرْأَةُ تُحْرِزُ ثَلاَثَةَ مَوَارِيثَ عَتِيقَهَا وَلَقِيطَهَا وَوَلَدَهَا الَّذِي لاَعَنَتْ عَنْهُ " .

Narrator: ওয়াছিলা ইবনে আসকা‘ (রাঃ)

২৮৯৬. ইবরাহীম ইবনে মুসা রাযী (রাহঃ) ..... ওয়াসিলা ইবনে আসকা’ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মহিলারা তিন ব্যক্তির উত্তরাধিকারী হতে পারে, যথাঃ (১) স্বীয় আযাদকৃত গোলামের, (২) পথে কুড়িয়ে পাওয়া সন্তানের এবং (৩) নিজের ঐ সন্তানের, যার ব্যাপারে স্বামীর সাথে লিআন করা হয়েছে (অর্থাৎ পিতা যার পিতৃত্বের অস্বীকার করেছে এমন সন্তান)।

2897

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، وَمُوسَى بْنُ عَامِرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جَابِرٍ، حَدَّثَنَا مَكْحُولٌ، قَالَ جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِيرَاثَ ابْنِ الْمُلاَعِنَةِ لأُمِّهِ وَلِوَرَثَتِهَا مِنْ بَعْدِهَا .

Narrator: মাকহুল শামী (রহঃ)

২৮৯৭. মাহমুদ ইবনে খালিদ ও মুসা (রাহঃ) .... মাকহূল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ব্যভিচারের অপবাদে অভিযুক্ত স্ত্রীলোকের সন্তানের উত্তরাধিকারী তার মাতাকে করেছেন, এরপর তার মাতার নিকটাত্মীয়দের।

2898

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَامِرٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، أَخْبَرَنِي عِيسَى أَبُو مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .

Narrator: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

২৮৯৮. মুসা ইবনে আমির (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শু’আয়ব (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা সূত্রে নবী (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৩০. কোন মুসলমান কি কোন কাফিরের ওয়ারিছ হতে পারে?

باب هَلْ يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ

2899

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ وَلاَ الْكَافِرُ الْمُسْلِمَ " .

Narrator: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

২৮৯৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কোন মুসলমান কোন কাফিরের ওয়ারিছ হতে পারে না এবং কোন কাফিরও কোন মুসলমানের ওয়ারিছ হতে পারে না।

2900

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيْنَ تَنْزِلُ غَدًا فِي حَجَّتِهِ . قَالَ " وَهَلْ تَرَكَ لَنَا عَقِيلٌ مَنْزِلاً " . ثُمَّ قَالَ " نَحْنُ نَازِلُونَ بِخَيْفِ بَنِي كِنَانَةَ حَيْثُ تَقَاسَمَتْ قُرَيْشٌ عَلَى الْكُفْرِ " . يَعْنِي الْمُحَصَّبَ وَذَاكَ أَنَّ بَنِي كِنَانَةَ حَالَفَتْ قُرَيْشًا عَلَى بَنِي هَاشِمٍ أَنْ لاَ يُنَاكِحُوهُمْ وَلاَ يُبَايِعُوهُمْ وَلاَ يُئْوُوهُمْ . قَالَ الزُّهْرِيُّ وَالْخَيْفُ الْوَادِي .

Narrator: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

২৯০০. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আগামীকাল হজ্জের সময় আপনি কোথায় অবতরণ করবেন? তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ আকীল কি আমাদের জন্য কোন ঘর অবশিষ্ট রেখেছে? অতঃপর তিনি বলেনঃ আমরা বনু কিনানার খায়ফ নামক স্থানে অবতরণ করব, যেখানে কুরাইশগণ কাফিরদের সাথে শপথ করেছিল অর্থাৎ মুহাসসাব নামক স্থানে। আর ঘটনাটি এরূপঃ বনু কিনানা কুরাশদের থেকে এ মর্মে শপথ নিয়েছিল যে, তারা বনু হাশিমের সাথে কোন বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না এবং তাদের সাথে কোনরূপ বেচাকেনা করবে না, আর না তাদের কোনরূপ আশ্রয় দেবে।

যুহরী (রাহঃ) বলেনঃ খায়ফ হলো একটি উপত্যকার নাম- যেখানে উক্ত শপথ সংঘটিত হয়েছিল।
2901

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ حَبِيبٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَتَوَارَثُ أَهْلُ مِلَّتَيْنِ شَتَّى " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৯০১. মুসা ইবনে ইসমা‘ঈল (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন যে, দুটি ভিন্ন মিল্লাতের (জাতির) অনুসারীরা একে অপরের ওয়ারিছ হতে পারে না।

2902

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي حَكِيمٍ الْوَاسِطِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، أَنَّ أَخَوَيْنِ، اخْتَصَمَا إِلَى يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ يَهُودِيٌّ وَمُسْلِمٌ فَوَرَّثَ الْمُسْلِمَ مِنْهُمَا وَقَالَ حَدَّثَنِي أَبُو الأَسْوَدِ أَنَّ رَجُلاً حَدَّثَهُ أَنَّ مُعَاذًا حَدَّثَهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الإِسْلاَمُ يَزِيدُ وَلاَ يَنْقُصُ " . فَوَرَّثَ الْمُسْلِمَ .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

২৯০২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে বুরাইদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা দু‘ভাই ইয়াহয়া ইবনে ইয়ামুরা (রাযিঃ) এর নিকট মোকদ্দমা পেশ করে, যার একজন ছিল ইয়াহুদী এবং অপরজন মুসলিম। তিনি ঐ দু‘জনের মধ্য হতে মীরাছ প্রদান করলেন এবং বললেনঃ আমার কাছে আবুল আসওয়াদ হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা তার নিকট জনৈক ব্যক্তি বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, একদা মুআয (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ ইসলাম বর্ধিত হয়, কমেনা। অতঃপর তিনি মুসলমান ব্যক্তিকে মীরাছ দিয়ে দেন।

2903

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي حَكِيمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ الدِّيلِيِّ، أَنَّ مُعَاذًا، أُتِيَ بِمِيرَاثِ يَهُودِيٍّ وَارِثُهُ مُسْلِمٌ بِمَعْنَاهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: আবুল আসওয়াদ দুআলী (রহঃ)

২৯০৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আবু আসওয়াদ আদ দীলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা মুআয এমন একজন ইয়াহুদীর পরিত্যক্ত সম্পত্তি নিয়ে আসেন, যার ওয়ারিছ ছিল মুসলমান। অতঃপর তিনি নবী (ﷺ) এর হাদীসের আলোকে তা মুসলমান ব্যক্তিকে দিয়ে দেন।

১৩১. কোন মুসলমান কি কোন কাফিরের ওয়ারিছ হতে পারে?

باب فِيمَنْ أَسْلَمَ عَلَى مِيرَاثٍ

2904

حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " كُلُّ قَسْمٍ قُسِمَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَهُوَ عَلَى مَا قُسِمَ لَهُ وَكُلُّ قَسْمٍ أَدْرَكَهُ الإِسْلاَمُ فَهُوَ عَلَى قَسْمِ الإِسْلاَمِ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯০৪. হাজ্জাজ ইবনে আবু ইয়াকুব (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে পরিত্যক্ত ধন-সম্পদ জাহিলীয়াতের যুগে বণ্টন হয়েছে, তার বণ্টন এরূপই থাকবে। পক্ষান্তরে, যে ধন-সস্পদ ইসলামের যুগে বন্টিত হবে, তা ইসলামের বিধান অনুসারে বণ্টন করতে হবে।

১৩২. আযাদকৃত দাসের পরিত্যক্ত মাল সম্পর্কে।

باب فِي الْوَلاَءِ

2905

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ قُرِئَ عَلَى مَالِكٍ وَأَنَا حَاضِرٌ، قَالَ مَالِكٌ عَرَضَ عَلَىَّ نَافِعٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ أَرَادَتْ أَنْ تَشْتَرِيَ جَارِيَةً تَعْتِقُهَا فَقَالَ أَهْلُهَا نَبِيعُكِهَا عَلَى أَنَّ وَلاَءَهَا لَنَا . فَذَكَرَتْ عَائِشَةُ ذَاكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لاَ يَمْنَعُكِ ذَلِكَ فَإِنَّ الْوَلاَءَ لِمَنْ أَعْتَقَ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯০৫. কুতায়বা ইবনে সা’ঈদ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একবার উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাযিঃ) আযাদ করে দেওয়ার জন্য একটি দাসী খরিদ করতে মনস্থ করেন। তখন সে দাসীর মালিক বলেনঃ আমি একে এ শর্তে বিক্রি করতে চাই যে, তার মৃত্যুর পর তার পরিত্যক্ত সস্পদের মালিকানা যেন আমরা হয়। তখন আয়িশা (রাযিঃ) ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বর্ণনা করেন। তখন তিনি বলেনঃ সে তোমাকে তা থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না। কেননা দাসীর পরিত্যক্ত মালের মালিক সে হবে, যে তাকে মুক্ত করেছে।

2906

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْطَى الثَّمَنَ وَوَلِيَ النِّعْمَةَ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৯০৬. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আযাদকৃত দাস-দাসীর পরিত্যক্ত মাল সে পাবে, যে তার মুক্তির জন্য মূল্য পরিশোধ করবে এবং তার উপর ইহসান করবে (অর্থাৎ তাকে খরিদ করে আযাদ করে দেবে)।

2907
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ أَبِي الْحَجَّاجِ أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رِئَابَ بْنَ حُذَيْفَةَ، تَزَوَّجَ امْرَأَةً فَوَلَدَتْ لَهُ ثَلاَثَةَ غِلْمَةٍ فَمَاتَتْ أُمُّهُمْ فَوَرِثُوهَا رِبَاعَهَا وَوَلاَءَ مَوَالِيهَا وَكَانَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ عَصَبَةَ بَنِيهَا فَأَخْرَجَهُمْ إِلَى الشَّامِ فَمَاتُوا فَقَدِمَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ وَمَاتَ مَوْلًى لَهَا وَتَرَكَ مَالاً لَهُ فَخَاصَمَهُ إِخْوَتُهَا إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ عُمَرُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا أَحْرَزَ الْوَلَدُ أَوِ الْوَالِدُ فَهُوَ لِعَصَبَتِهِ مَنْ كَانَ " . قَالَ فَكَتَبَ لَهُ كِتَابًا فِيهِ شَهَادَةُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَرَجُلٍ آخَرَ فَلَمَّا اسْتُخْلِفَ عَبْدُ الْمَلِكِ اخْتَصَمُوا إِلَى هِشَامِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ أَوْ إِلَى إِسْمَاعِيلَ بْنِ هِشَامٍ فَرَفَعَهُمْ إِلَى عَبْدِ الْمَلِكِ فَقَالَ هَذَا مِنَ الْقَضَاءِ الَّذِي مَا كُنْتُ أَرَاهُ . قَالَ فَقَضَى لَنَا بِكِتَابِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَنَحْنُ فِيهِ إِلَى السَّاعَةِ .
[حَدَّثنا أبو داود, قال: حَدَّثنا أبو سلمة, قال: حَدَّثنا حماد, عن حميد قال: الناس يتهمون عمرو بن شعيب في هذا الحديث.
قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وروي عن أبي بكر, وعمر, وعثمان خلاف هذا الحديث, إلا أنه روي عن علي بن أبي طالب بمثل هذا]

Narrator: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

২৯০৭. আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আবী হাজ্জাজ আবু মা’মার (রাহঃ) .... আমর ইবনে শু’আয়ব (রাহঃ) তার পিতা হতে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাবাব ইবনে হুযাইফা (রাযিঃ) জনৈক মহিলাকে বিবাহ করেন। যার গর্ভে তাঁর ঔরসে তিনটি সন্তান জন্ম নেয়। অতঃপর তাদের মাতা মারা গেলে, তারা (বাচ্চারা) তাদের মাতার পরিত্যক্ত বাড়ী ও আযাদকৃত দাস-দাসীর ওয়ারিছ হয়। আর আমর ইবনে আস (রাযিঃ) ছিলেন এদের ’আসাবা’ যিনি তাদেরকে শাম দেশে পাঠালে তারা সবাই সেখানে মারা যায়।

অতঃপর আমর ইবনে আস (রাযিঃ) সেখানে গমন করেন। তখন সে মহিলার একটি আযাদকৃত গোলাম মারা যায়, যে তার কিছু ধন-সম্পদ রেখে যায়। তখন সে মহিলার ভাই এ ব্যাপারে ফয়সালার জন্য উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়। সে সময় উমর (রাযিঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, আযাদকৃত দাস-দাসীর পরিত্যক্ত মাল, যা সন্তান-সন্ততি বা পিতা পেয়েছে, তা তার ’আসাবা’ যারা থাকবে, তাদের প্রাপ্য।

অতঃপর তিনি [উমর (রাযিঃ)] এ ব্যাপারে একটি রায় লিপিবদ্ধ করেন, যাতে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ, যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) এর দস্তখত ছাড়াও আরো এক ব্যক্তির দস্তখত নেয়া হয়। অতঃপর আব্দুল মালিক ইবনে মারোয়ান যখন খলীফা নিযুক্ত হন, তখন লোকেরা এ ধরনের একটি মোকদ্দমা হিশাম ইবনে ইসমাঈল বা ইসমাঈল ইবনে হিশামের কাছে পেশ করে। যিনি সেটি খলীফা আব্দুল মালিকের নিকট পাঠিয়ে দেন। যা দেখে তিনি বলেনঃ ব্যাপারটি আমার কাছে এমনই মনে হচ্ছে যে, যেন আমি তা দেখেছি।

রাবী বলেনঃ তখন তিনি (আব্দুল মালিক) উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এর ফয়সালার অনুরূপ মোকদ্দমাটি নিষ্পত্তি করে দেন। আর ঐ পরিত্যক্ত সস্পত্তি এখনও আমাদের কাছে মওজুদ আছে।

১৩৩. কেউ কারো হাতে ইসলাম কবুল করলে সে সস্পর্কে।

باب فِي الرَّجُلِ يُسْلِمُ عَلَى يَدَىِ الرَّجُلِ

2908

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ الرَّمْلِيُّ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهُوَ ابْنُ حَمْزَةَ - عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَوْهَبٍ، يُحَدِّثُ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ، - قَالَ هِشَامٌ عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ، أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . وَقَالَ يَزِيدُ - إِنَّ تَمِيمًا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا السُّنَّةُ فِي الرَّجُلِ يُسْلِمُ عَلَى يَدَىِ الرَّجُلِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ قَالَ " هُوَ أَوْلَى النَّاسِ بِمَحْيَاهُ وَمَمَاتِهِ " .

Narrator: হযরত তামীম আদ-দারী রাযি.

২৯০৮. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ ইবনে মাওয়াহব রামলী ও হিশাম ইবনে আম্মার (রাহঃ) .... তামীম দারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাবী ইয়াযীদ বলেনঃ জনৈক ইয়াতীম বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বিধান কি, যে কোন মুসলমানের হাতে হাত রেখে ইসলাম কবুল করেছে? তিনি বলেনঃ সে ব্যক্তি তার জীবন ও মৃত্যুর জন্য উত্তম ব্যক্তি (যদি সে ব্যক্তির কোন ওয়ারিছ না থাকে, তবে সে-ই ওয়ারিছ হয়ে যাবে)।

১৩৪. আযাদকৃত দাস-দাসীর মাল বিক্রি করা সম্পর্কে।

باب فِي بَيْعِ الْوَلاَءِ

2909

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رضى الله عنهما قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الْوَلاَءِ وَعَنْ هِبَتِهِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৯০৯. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আযাদকৃত দাস-দাসীদের পরিত্যক্ত মাল বিক্রি করতে এবং হেবা বা দান করতে নিষেধ করেছেন।

১৩৫. সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়ে চিৎকার করে কাঁদার পর মারা গেলে সে সম্পর্কে।

باب فِي الْمَوْلُودِ يَسْتَهِلُّ ثُمَّ يَمُوتُ

2910

حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ - عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا اسْتَهَلَّ الْمَوْلُودُ وُرِّثَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৯১০. হুসাইন ইবনে মু’আয (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সন্তান যদি ভূমিষ্ঠ হয়ে কাঁদে, তবে তাকে ওয়ারিছ করা হবে (অর্থাৎ সন্তানের মাঝে জীবনের চিহ্ন প্রকাশের সাথে সাথেই সে মীরাছের অধিকারী হবে)।

১৩৬. আত্মীয়তার মীরাছ মৌখিক স্বীকৃতির মীরাছকে বাতিল করে দেয়।

باب نَسْخِ مِيرَاثِ الْعَقْدِ بِمِيرَاثِ الرَّحِمِ

2911

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رضى الله عنهما قَالَ ( وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ فَآتُوهُمْ نَصِيبَهُمْ ) كَانَ الرَّجُلُ يُحَالِفُ الرَّجُلَ لَيْسَ بَيْنَهُمَا نَسَبٌ فَيَرِثُ أَحَدُهُمَا الآخَرَ فَنَسَخَ ذَلِكَ الأَنْفَالُ فَقَالَ تَعَالَى ( وَأُولُو الأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ ) .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯১১. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ছাবিত (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাআলার বিধানঃ (وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ فَآتُوهُمْ نَصِيبَهُمْ) অর্থাৎ ″তোমরা শপথপূর্বক যাদের সাথে ওয়াদা করেছ, তাদের হক তাদের দিয়ে দাও।″ জাহিলীয়াতের যুগে এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির সাথে শপথপূর্বক এরূপ ওয়াদা করত, যদিও তাদেরর মাঝে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকতো না। ফলে, তারা একে অন্যের ওয়ারিছ হয়ে যেত। এ হুকুমটি সূরা আনফালের এ আয়াত দ্বারা বাতিল হয়ে যায়ঃ (وَأُولُو الأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ) অর্থাৎ নিকট আত্মীয়রাই একে অন্যের সস্পদের অধিক হকদার।

2912

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنِي إِدْرِيسُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا طَلْحَةُ بْنُ مُصَرِّفٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ ( وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ فَآتُوهُمْ نَصِيبَهُمْ ) قَالَ كَانَ الْمُهَاجِرُونَ حِينَ قَدِمُوا الْمَدِينَةَ تُوَرِّثُ الأَنْصَارَ دُونَ ذَوِي رَحِمِهِ لِلأُخُوَّةِ الَّتِي آخَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمْ فَلَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ مِمَّا تَرَكَ ) قَالَ نَسَخَتْهَا ( وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ فَآتُوهُمْ نَصِيبَهُمْ ) مِنَ النُّصْرَةِ وَالنَّصِيحَةِ وَالرِّفَادَةِ وَيُوصِي لَهُ وَقَدْ ذَهَبَ الْمِيرَاثُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯১২. হারুন ইবনে আব্দুল্লাহু (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এই আয়াতঃ (وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ فَآتُوهُمْ نَصِيبَهُمْ) অর্থাৎ ″তোমরা শপথপূর্বক যাদের সাথে ওয়াদা করেছ, তাদের হক তাদের দিয়ে দাও″-এর ব্যাখ্যায় বলেন যে, যখন মুহাজিরগণ (মক্কা হতে হিজরত করে) মদীনায় আসেন, তখন আনসারগণ তাদের ওয়ারিছ হতেন এবং আত্মীয়রা মাহরুম হতেন। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের মাঝে আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপন করে দেন। কিন্তু যখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ مِمَّا تَرَكَ) অর্থাৎ পিতামাতা যে সম্পদ রেখে যাবে, তাতে আমি তাদের প্রত্যেকের জন্য অংশ নির্ধারণ করে দিয়েছি। রাবী ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, এই আয়াতটি পূর্ববর্তী আয়াতঃ (وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ فَآتُوهُمْ نَصِيبَهُمْ) অর্থাৎ ″যাদের সাথে তোমরা ওয়াদাবদ্ধ তাদের প্রাপ্য তাদের প্রদান করো।″ এর হুকুম, যাতে আনসারদের প্রতি সাহায্য-সহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের নির্দেশ ছিল, তা বাতিল হয়ে যায়। অবশ্য তাদের জন্য মালের এক-তৃতীয়াংশ ওসীয়ত করা যেতে পারে, কিন্ত উত্তরাধিকারিত্ব বাতিল হয়ে গেছে।

2913

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى الْمَعْنَى، - قَالَ أَحْمَدُ - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ، قَالَ كُنْتُ أَقْرَأُ عَلَى أُمِّ سَعْدٍ بِنْتِ الرَّبِيعِ وَكَانَتْ يَتِيمَةً فِي حِجْرِ أَبِي بَكْرٍ فَقَرَأْتُ ( وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ ) فَقَالَتْ لاَ تَقْرَأْ ( وَالَّذِينَ عَاقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ ) وَلَكِنْ ( وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ ) إِنَّمَا نَزَلَتْ فِي أَبِي بَكْرٍ وَابْنِهِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حِينَ أَبَى الإِسْلاَمَ فَحَلَفَ أَبُو بَكْرٍ أَلاَّ يُوَرِّثَهُ فَلَمَّا أَسْلَمَ أَمَرَ اللَّهُ تَعَالَى نَبِيَّهُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَنْ يُؤْتِيَهُ نَصِيبَهُ . زَادَ عَبْدُ الْعَزِيزِ فَمَا أَسْلَمَ حَتَّى حُمِلَ عَلَى الإِسْلاَمِ بِالسَّيْفِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: " مَنْ قَالَ: {عَقَدَتْ} [النساء: 33] : جَعَلَهُ حِلْفًا، وَمَنْ قَالَ: عَاقَدَتْ جَعَلَهُ حَالِفًا، قَالَ: وَالصَّوَابُ حَدِيثُ طَلْحَةَ عَاقَدَتْ "

Narrator: দাউদ ইবনে হুসাইন (রহঃ)

২৯১৩. আহমদ ইবনে হাম্বল ও আব্দুল আযীয ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... দাউদ ইবনে হুসাইন (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি উম্মু সা’দ বিনতে রাবী’র কাছে কুরআন মাজীদ পড়তাম, যিনি ইয়াতীম ছিলেন এবং আবু বকর (রাযিঃ) এর তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন। অতঃপর যখন আমি এই আয়াতঃ (وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ) অর্থাৎঃ ″যাদের সাথে তোমরা ওয়াদাবদ্ধ তাদের প্রাপ্য তাদের প্রদান করো″ তিলাওয়াত করি, তখন তিনি বলেনঃ তুমি এ আয়াত পড়বে না (অর্থাৎ এর উপর আমল করবে না)। কেননা এ আয়াত আবু বকর (রাযিঃ) এবং তাঁর পুত্র আব্দুর রহমান এর শানে নাযিল হয়। যখন আব্দুর রহমান ইসলাম কবুল করতে অস্বীকার করেন, তখন আবু বকর (রাযিঃ) এরূপ শপথ করেন যে, তিনি তাকে মীরাছের অংশ দিবেন না। পরে যখন তিনি [আব্দুর রহমান (রাযিঃ)] ইসলাম কবুল করেন, তখন নবী (ﷺ) তাঁকে তাঁর হিসসা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

রাবী আব্দুল আযীয এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেনঃ তিনি তখন ইসলাম কবুল করেন, যখন ইসলামে তরবারির আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
2914

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَالَّذِينَ، آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَالَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يُهَاجِرُوا فَكَانَ الأَعْرَابِيُّ لاَ يَرِثُ الْمُهَاجِرَ وَلاَ يَرِثُهُ الْمُهَاجِرُ فَنَسَخَتْهَا فَقَالَ ( وَأُولُو الأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ )

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৯১৪. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি এই আয়াত সম্পর্কে বলেনঃ (وَالَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَالَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يُهَاجِرُوا) অর্থাৎ ″যারা ঈমান এনেছে এবং হিজরত করেছে, তারা একে অপরের ওয়ারিছ হবে। পক্ষান্তরে, যারা ঈমানে এনেছে, কিন্তু হিজরত করেনি, তোমরা তাদের ওয়ারিছ হবে না, যতক্ষণ না তারা হিজরত করে।″ এ সময় যে মুসলমানরা কোন কাফিরের দেশে অবস্থান করত, তারা মুহাজিরদের ওয়ারিছ হতো না এবং মুহাজিরগণও তাদের উত্তরাধিকারী হতো না। পরে যখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (وَأُولُو الأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلَى بِبَعْضٍ) অর্থাৎ নিকট আত্মীয়রাই একে অন্যের সম্পওির অধিক হকদার, তখন আগের আয়াতের হুকুম বাতিল হয়ে যায়।

১৩৭. শপথ গ্রহণ সম্পর্কে।

باب فِي الْحِلْفِ

2915

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، وَابْنُ، نُمَيْرٍ وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ زَكَرِيَّا، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ حِلْفَ فِي الإِسْلاَمِ وَأَيُّمَا حِلْفٍ كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ لَمْ يَزِدْهُ الإِسْلاَمُ إِلاَّ شِدَّةً " .

Narrator: জুবায়র ইবনে মুতঈম (রাঃ)

২৯১৫. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... জুবাইর ইবনে মুত’ইম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইসলামে জাহিলী যুগের শপথের কোন মূল্য নেই। আর জাহিলী যুগের শপথের মাঝে উত্তম কথার ব্যাপারে যে ওয়াদা ও অঙ্গীকার ছিল, ইসলাম তাকে আরো মযবূত করে দিয়েছে।

2916

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ حَالَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ فِي دَارِنَا . فَقِيلَ لَهُ أَلَيْسَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ حِلْفَ فِي الإِسْلاَمِ " . فَقَالَ حَالَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ فِي دَارِنَا . مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا

Narrator: আসিম আল আহওয়াল (রহঃ)

২৯১৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আসিম আহওয়াল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাযিঃ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের দেশে (মদীনাতে) আনসার ও মুহাজিরদের মাঝে সৌভ্রাত্র স্থাপন করে দেন। তখন আনাস (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি এরূপ নির্দেশ দেননি যে, ইসলামে জাহিলী যুগের ওয়াদা-অঙ্গীকারের কোন মূল্য নেই? তখন তিনি (আনাস) দুই বা তিনবার বলেনঃ আমাদের দেশে (মদীনাতে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসার ও মুহাজিরদের মাঝে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক স্থাপন করে দেন।

১৩৮. স্বামীর দিয়াত বা রক্তপণে স্ত্রীর মীরাছ সম্পর্কে।

باب فِي الْمَرْأَةِ تَرِثُ مِنْ دِيَةِ زَوْجِهَا

2917

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، قَالَ كَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَقُولُ الدِّيَةُ لِلْعَاقِلَةِ وَلاَ تَرِثُ الْمَرْأَةُ مِنْ دِيَةِ زَوْجِهَا شَيْئًا حَتَّى قَالَ لَهُ الضَّحَّاكُ بْنُ سُفْيَانَ كَتَبَ إِلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أُوَرِّثَ امْرَأَةَ أَشْيَمَ الضِّبَابِيِّ مِنْ دِيَةِ زَوْجِهَا . فَرَجَعَ عُمَرُ . قَالَ أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ بِهَذَا الْحَدِيثِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدٍ وَقَالَ فِيهِ وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم اسْتَعْمَلَهُ عَلَى الأَعْرَابِ .

Narrator: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

২৯১৭. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... সা’ঈদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এরূপ বলতেন যে, দিয়্যাত বা রক্তপণে বংশের লোকদের হিসসা আছে। আর স্ত্রী স্বামীর দিয়্যাতের মালের কিছুই পাবে না। তখন যাহহাক ইবনে সুফিয়ান তাঁকে বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে এরূপ লিখিত নির্দেশ পাঠান যে, আমি যেন আশ’আম যুবাবীর স্ত্রীকে তার স্বামীর দিয়্যাত হতে মীরাছ প্রদান করি। তখন উমর (রাযিঃ) তাঁর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন।