كتاب الأشربة

২১. (হালাল-হারাম) পানীয়ের অধ্যায়

Chapter 21 · 66 hadith

৪২৯. মদ হারাম হওয়া সম্পর্কে।

باب فِي تَحْرِيمِ الْخَمْرِ

3628

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبُو حَيَّانَ، حَدَّثَنِي الشَّعْبِيُّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، قَالَ نَزَلَ تَحْرِيمُ الْخَمْرِ يَوْمَ نَزَلَ وَهِيَ مِنْ خَمْسَةِ أَشْيَاءَ مِنَ الْعِنَبِ وَالتَّمْرِ وَالْعَسَلِ وَالْحِنْطَةِ وَالشَّعِيرِ وَالْخَمْرُ مَا خَامَرَ الْعَقْلَ وَثَلاَثٌ وَدِدْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يُفَارِقْنَا حَتَّى يَعْهَدَ إِلَيْنَا فِيهِنَّ عَهْدًا نَنْتَهِي إِلَيْهِ الْجَدُّ وَالْكَلاَلَةُ وَأَبْوَابٌ مِنْ أَبْوَابِ الرِّبَا .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৩৬২৮. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন মদ হারাম হওয়ার হুকুম নাযিল হয়, তখন পাঁচটি জিনিস দিয়ে মদ তৈরী করা হতো। যেমন--(১) আংগুর, (২) খেজুর, (৩) মধু, (৪) গম এবং (৫) যব থেকে। আর মদ হলো ঐ জিনিস, যা মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধিকে তিরোহিত করে। আর আমি চাইতাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেন ততদিন আমাদের থেকে পৃথক না হন, যতদিন না তিনটি জিনিসের হুকুম সম্পর্কে আমরা তাঁর সর্বশেষ সিদ্ধান্ত পাই। আর তা হলোঃ দাদার প্রাপ্য অংশ, উত্তরাধিকারহীন পরিত্যক্ত সস্পওির অবস্থা এবং সুদের যাবতীয় মামলা।

3629

حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ مُوسَى الْخُتَّلِيُّ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ لَمَّا نَزَلَ تَحْرِيمُ الْخَمْرِ قَالَ عُمَرُ اللَّهُمَّ بَيِّنْ لَنَا فِي الْخَمْرِ بَيَانًا شِفَاءً فَنَزَلَتِ الآيَةُ الَّتِي فِي الْبَقَرَةِ ( يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ ) الآيَةَ قَالَ فَدُعِيَ عُمَرُ فَقُرِئَتْ عَلَيْهِ قَالَ اللَّهُمَّ بَيِّنْ لَنَا فِي الْخَمْرِ بَيَانًا شِفَاءً فَنَزَلَتِ الآيَةُ الَّتِي فِي النِّسَاءِ ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَقْرَبُوا الصَّلاَةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى ) فَكَانَ مُنَادِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ يُنَادِي أَلاَ لاَ يَقْرَبَنَّ الصَّلاَةَ سَكْرَانُ فَدُعِيَ عُمَرُ فَقُرِئَتْ عَلَيْهِ فَقَالَ اللَّهُمَّ بَيِّنْ لَنَا فِي الْخَمْرِ بَيَانًا شِفَاءً فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ ) قَالَ عُمَرُ انْتَهَيْنَا .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৩৬২৯. আব্বাদ ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন মদ হারাম হওয়ার হুকুম নাযিল হয়, তখন উমর (রাযিঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য মদের হুকুম স্পষ্টরূপে বর্ণনা করুন। তখন এ আয়াত নাযিল হয়, যা সূরা বাকারাতে আছেঃ লোকেরা আপনার নিকট মদ ও জুয়ার হুকুম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি তাদের বলে দিন যে, এ দুটিতে আছে বড় গুনাহ ......... আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

এরপর উমর (রাযিঃ)-কে ডাকা হয় এবং আয়াতটি তাঁকে শোনান হয়। তখন তিনি বলেনঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য মদের হুকুম স্পষ্ট করে বলে দিন। তখন সূরা নিসার এ আয়াত নাযিল হয়ঃ ওহে যারা ঈমান এনেছ, তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাযের নিকটবর্তী হয়ো না।

এরপর নামাযের ইকামত শুরু হওয়ার আগেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আহবানকারী এরূপ ঘোষণা করতেন যে, কোন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি যেন নামাযে শরীক না হয়। পরে উমর (রাযিঃ)-কে ডেকে এ আয়াত শোনান হয়। তখন তিনি বলেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমাদের জন্য মদের হুকুম স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিন। এরপর এ আয়াত নাযিল হয়ঃ নিশ্চয় মদ এবং জুয়া ইত্যাদি এরূপ জঘন্য শয়তানী আমল, যা দ্বারা শয়তান মানুষের মধ্যে দুশমনী সৃষ্টি করে এবং এর দ্বারা আল্লাহর যিকির হতে বিরত রাখে। তবু কি তোমরা ফিরে আসবে না? তখন উমর (রাযিঃ) বলেনঃ আমরা ফিরে আসলাম।
3630

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الأَنْصَارِ دَعَاهُ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ فَسَقَاهُمَا قَبْلَ أَنْ تُحَرَّمَ الْخَمْرُ فَأَمَّهُمْ عَلِيٌّ فِي الْمَغْرِبِ فَقَرَأَ ( قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ) فَخَلَطَ فِيهَا فَنَزَلَتْ ( لاَ تَقْرَبُوا الصَّلاَةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ ) .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩৬৩০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক আনসার সাহাবী তাঁকে ও আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ)-কে দাওয়াত দিয়ে শরাব পান করান। আর এ ছিল শরাব হারাম হওয়ার আগের ঘটনা। এরপর আলী (রাযিঃ) মাগরিবের নামাযে তাদের ইমামতি করেন এবং সূরা কাফিরুন পাঠ করেন, যাতে তিনি ভুল করে ফেলেন। তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাযের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তোমরা তা অনুধাবন করতে সক্ষম হয় যে, তোমরা কী বলছো। (নিসাঃ ৪৩)

3631

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تَقْرَبُوا الصَّلاَةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى ) وَ ( يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ ) نَسَخَتْهُمَا الَّتِي فِي الْمَائِدَةِ ( إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنْصَابُ ) الآيَةَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৩১. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরআনের এ আয়াতদ্বয়ঃ (১) ওহে যারা ঈমান এনেছ, তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাযের নিকটবর্তী হয়ো না, এবং (২) তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে মদ ও জুয়া সম্পর্কে। আপনি বলুনঃ এ দু’টি ভয়ংকর গুনাহের কাজ এবং মানুষের কিছু উপকারও এতে রয়েছে। এ দু’টি আয়াতের হুকুমকে সূরা মায়িদার এ আয়াতঃ নিশ্চয় মদ, জুয়া ইত্যাদি এরূপ জঘণ্য শয়তানী কাজ, যা দ্বারা শয়তান মানুষের মধ্যে দুশমনী সৃষ্টি করে ......... আয়াতের শেষ পর্যন্তঃ রহিত করে দিয়েছে।

3632

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كُنْتُ سَاقِيَ الْقَوْمِ حَيْثُ حُرِّمَتِ الْخَمْرُ فِي مَنْزِلِ أَبِي طَلْحَةَ وَمَا شَرَابُنَا يَوْمَئِذٍ إِلاَّ الْفَضِيخُ فَدَخَلَ عَلَيْنَا رَجُلٌ فَقَالَ إِنَّ الْخَمْرَ قَدْ حُرِّمَتْ وَنَادَى مُنَادِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْنَا هَذَا مُنَادِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৬৩২. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন শরাব হারাম হয়, তখন আমি আবু তালহা (রাযিঃ)-এর ঘরে লোকদের শরাব পান করাচ্ছিলাম। এ সময় আমাদের শরাব ছিল পচা খেজুর রসের নেশাযুক্ত তাড়ি। এ সময় আমাদের কাছে একজন এসে বলেঃ শরাব হারাম হয়ে গেছে এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঘোষকও এরূপ ঘোষণা দিচ্ছিল। তখন আমরা বলিঃ ইনি তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘোষক।

৪৩০. মদ তৈরীর জন্য আংগুর নিংড়ানো সম্পর্কে।

باب الْعِنَبِ يُعْصَرُ لِلْخَمْرِ

3633

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِي عَلْقَمَةَ، مَوْلاَهُمْ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْغَافِقِيِّ أَنَّهُمَا سَمِعَا ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَعَنَ اللَّهُ الْخَمْرَ وَشَارِبَهَا وَسَاقِيَهَا وَبَائِعَهَا وَمُبْتَاعَهَا وَعَاصِرَهَا وَمُعْتَصِرَهَا وَحَامِلَهَا وَالْمَحْمُولَةَ إِلَيْهِ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৬৩৩. উসমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর লানত শরাবের উপর, তা পানকারীর উপর, যে পান করায় তার উপর, যে বিক্রি করে তার উপর, যে তা খরিদ করে তার উপর, যে তা নিংড়ায় এবং যার নির্দেশে নিংড়ায় তার উপর, আর যে ব্যক্তি তা বহন করে এবং যার জন্য বহন করে, সকলের উপর।

৪৩১. শরাবের সির্কা বানানো সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي الْخَمْرِ تُخَلَّلُ

3634

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ أَبِي هُبَيْرَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ أَبَا طَلْحَةَ، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَيْتَامٍ وَرِثُوا خَمْرًا قَالَ " أَهْرِقْهَا " . قَالَ أَفَلاَ أَجْعَلُهَا خَلاًّ قَالَ " لاَ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৬৩৪. যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আবু তালহা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ঐ সমস্ত ইয়াতীম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, যারা মীরাছ হিসাবে শরাব পেয়েছিল। তিনি বলেনঃ শরাব ঢেলে ফেলে দাও। তখন আবু তালহা (রাযিঃ) আবার জিজ্ঞাসা করেনঃ আমি কি এ দিয়ে সির্কা বানাব না? তিনি বলেনঃ না।

৪৩২. কোন কোন জিনিস থেকে শরাব তৈরী হয়।

باب الْخَمْرِ مِمَّا هُوَ

3635

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ مِنَ الْعِنَبِ خَمْرًا وَإِنَّ مِنَ التَّمْرِ خَمْرًا وَإِنَّ مِنَ الْعَسَلِ خَمْرًا وَإِنَّ مِنَ الْبُرِّ خَمْرًا وَإِنَّ مِنَ الشَّعِيرِ خَمْرًا " .

Narrator: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

৩৬৩৫. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... নু’মান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আংগুরের রস, কিশমিশ, খেজুর, মধু, গম এবং যব হতে শরাব তৈরী হয়।

3636

حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ أَبُو غَسَّانَ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى الْفُضَيْلِ بْنِ مَيْسَرَةَ عَنْ أَبِي حَرِيزٍ، أَنَّ عَامِرًا، حَدَّثَهُ أَنَّ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ الْخَمْرَ مِنَ الْعَصِيرِ وَالزَّبِيبِ وَالتَّمْرِ وَالْحِنْطَةِ وَالشَّعِيرِ وَالذُّرَةِ وَإِنِّي أَنْهَاكُمْ عَنْ كُلِّ مُسْكِرٍ " .

Narrator: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

৩৬৩৬. মালিক ইবনে আব্দিল ওয়াহিদ (রাহঃ) ..... নু’মান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এরূপ বলতে শুনেছিঃ আংগুরের রস, কিশমিশ, খেজুর, গম এবং যব হতে শরাব তৈরী হয়। আমি তোমাদের সব ধরনের নেশার দ্রব্য ব্যবহার করতে নিষেধ করছি।

3637

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْخَمْرُ مِنْ هَاتَيْنِ الشَّجَرَتَيْنِ النَّخْلَةِ وَالْعِنَبَةِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: " اسْمُ أَبِي كَثِيرٍ الْغُبَرِيِّ يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غُفَيْلَةَ السَّحْمِيِّ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: أُذَيْنَةُ وَالصَّوَابُ غُفَيْلَةُ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৬৩৭. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ শরাব এ দুটি গাছ থেকে তৈরী হয়, যথাঃ খেজুর ও আঙ্গুর গাছ।

৪৩৩. নেশার বস্তু ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে।

باب النَّهْىِ عَنِ الْمُسْكِرِ

3638

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، - فِي آخَرِينَ - قَالُوا حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ - عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ وَمَنْ مَاتَ وَهُوَ يَشْرَبُ الْخَمْرَ يُدْمِنُهَا لَمْ يَشْرَبْهَا فِي الآخِرَةِ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৬৩৮. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক নেশার বস্তু হলো শরাব এবং প্রত্যেক নেশার বস্তু হারাম। কাজেই, যে ব্যক্তি শরাব পান করতে করতে মারা যাবে, আখিরাতে তাকে বেহেশতী শরাব পান করানো হবে না।[১]

[১] অর্থাৎ শরাব খোরের মৃত্যু কাফিরের মত হবে। কাজেই সে বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না বিধায় বেহেশতী শরাব হতে সে বঞ্চিত হবে। (অনুবাদক)
3639

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُمَرَ الصَّنْعَانِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ، يَقُولُ عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كُلُّ مُخَمِّرٍ خَمْرٌ وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ وَمَنْ شَرِبَ مُسْكِرًا بُخِسَتْ صَلاَتُهُ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا فَإِنْ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَإِنْ عَادَ الرَّابِعَةَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يَسْقِيَهُ مِنْ طِينَةِ الْخَبَالِ " . قِيلَ وَمَا طِينَةُ الْخَبَالِ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " صَدِيدُ أَهْلِ النَّارِ وَمَنْ سَقَاهُ صَغِيرًا لاَ يَعْرِفُ حَلاَلَهُ مِنْ حَرَامِهِ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يَسْقِيَهُ مِنْ طِينَةِ الْخَبَالِ "

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৩৯. মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক বুদ্ধি-জ্ঞান বিনষ্টকারী বস্তু হলো শরাব। আর প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই হারাম। কাজেই, যে শরাব পান করে, তার চল্লিশ দিনের নামাযের (সাওয়াব) কম হয়ে যায়। এরপর যদি সে তওবা করে, তবে আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। এভাবে যদি সে চতুর্থবারও শরাব পান করে, তখন আল্লাহর জন্য এটি অপরিহার্য হয়ে দাঁড়ায় যে, তিনি তাকে ’তীনাতুল খাবাল’ পান করাবেন। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়ঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! ’তীনাতুল খাবাল’ কি? তিনি বলেনঃ জাহান্নামবাসীদের পুঁজ। একই ভাবে, যে ব্যক্তি কোন কম বয়েসী বাচ্চাকে, যে হালাল-হারাম সম্পর্কে কিছুই জানে না, শরাব পান করায়, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে জাহান্নামীদের পুঁজ পান করাবেন।

3640

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنْ دَاوُدَ بْنِ بَكْرِ بْنِ أَبِي الْفُرَاتِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا أَسْكَرَ كَثِيرُهُ فَقَلِيلُهُ حَرَامٌ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৬৪০. কুতায়বা (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যা অধিক পরিমাণে পান করলে নেশার সৃষ্টি হয়, তা অল্প পরিমাণে পান করাও হারাম।

3641

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْبِتْعِ فَقَالَ " كُلُّ شَرَابٍ أَسْكَرَ فَهُوَ حَرَامٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَرَأْتُ عَلَى يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ الْجُرْجُسِيِّ حَدَّثَكُمْ مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ عَنِ الزُّبَيْدِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ بِهَذَا الْحَدِيثِ بِإِسْنَادِهِ زَادَ وَالْبِتْعُ نَبِيذُ الْعَسَلِ كَانَ أَهْلُ الْيَمَنِ يَشْرَبُونَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يَقُولُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مَا كَانَ أَثْبَتَهُ مَا كَانَ فِيهِمْ مِثْلُهُ يَعْنِي فِي أَهْلِ حِمْصَ يَعْنِي الْجُرْجُسِيَّ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬৪১. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে মধুর তৈরী শরাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তিনি বলেনঃ যে শরাব পানে নেশার সৃষ্টি হয়, তা হারাম।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ যুহরী (রাহঃ) এ হাদীসটি উপরোক্ত সনদে বর্ণনা প্রসঙ্গে এতটুকু বৃদ্ধি করেছেন যে, ’মধুর তৈরী শরাবকে বিতউ’ বলা হয়। যা ইয়ামানের অধিবাসীরা পান করতো।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) আরো বলেনঃ আমি ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, ইয়াযীদ ইবনে আব্দ রাব্বিহি জারজাসী, যিনি এ হাদীসের বর্ণনাকারী, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তিনি দৃঢ়চিত্তের অধিকারী এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন। হিমসের অধিবাসীদের মধ্যে তাঁর ন্যায় আর কেউ-ই ছিলেন না, অর্থাৎ জারজাসীর ন্যায়।
3642

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ - عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مَرْثَدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْيَزَنِيِّ، عَنْ دَيْلَمٍ الْحِمْيَرِيِّ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا بِأَرْضٍ بَارِدَةٍ نُعَالِجُ فِيهَا عَمَلاً شَدِيدًا وَإِنَّا نَتَّخِذُ شَرَابًا مِنْ هَذَا الْقَمْحِ نَتَقَوَّى بِهِ عَلَى أَعْمَالِنَا وَعَلَى بَرْدِ بِلاَدِنَا . قَالَ " هَلْ يُسْكِرُ " . قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ " فَاجْتَنِبُوهُ " . قَالَ قُلْتُ فَإِنَّ النَّاسَ غَيْرُ تَارِكِيهِ . قَالَ " فَإِنْ لَمْ يَتْرُكُوهُ فَقَاتِلُوهُمْ " .

Narrator: বিবিধ

৩৬৪২. হান্নাদ (রাহঃ) ..... দায়লাম হিমইয়ারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা এমন এক ঠাণ্ডা এলাকায় বসবাস করি, যেখানে আমার শ্রমসাধ্য কাজ করতে হয়। ঠাণ্ডা দূর করার জন্য এবং কষ্ট ও শ্রমে হারানো প্রাণশক্তি ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা সেখানে গমের তৈরী শরাব ব্যবহার করি, (এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কি?) তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তাতে কি নেশার সৃষ্টি হয়? আমি বলিঃ হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ তোমরা তা পরিহার করবে। দায়লাম হিময়ারী (রাযিঃ) বলেন, তখন আমি বলি যে, লোকেরা তো তা পরিত্যাগকারী নয়। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ যদি লোকেরা তা পরিত্যাগ না করে, তবে তুমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে, (যাতে তারা তা পরিত্যাগ করতে বাধ্য হয়।)

3643

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ شَرَابٍ مِنَ الْعَسَلِ فَقَالَ " ذَاكَ الْبِتْعُ " . قُلْتُ وَيُنْتَبَذُ مِنَ الشَّعِيرِ وَالذُّرَةِ . فَقَالَ " ذَاكَ الْمِزْرُ " . ثُمَّ قَالَ " أَخْبِرْ قَوْمَكَ أَنَّ كُلَّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ " .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৩৬৪৩. ওয়াহাব ইবনে বাকীয়্যা (রাহঃ) ..... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী (ﷺ)কে মধুর তৈরী শরাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ এটাই তো বিত-উ এরপর আমি জিজ্ঞাসা করিঃ লোকেরা তো যব ও ভুট্টার শরাব তৈরী করে? তখন তিনি বলেনঃ এ তো মীযর। এরপর তিনি বলেনঃ তুমি তোমার কওমের লোকদের জানিয়ে দেবে যে, প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই হারাম।

3644

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَالْكُوبَةِ وَالْغُبَيْرَاءِ وَقَالَ " كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৬৪৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) শরাব পান করতে, জুয়া খেলতে, ঢোল বা তবলা বাজাতে এবং ঘরের তৈরী শরাব পান করতে নিষেধ করেছেন। আর বলেছেনঃ প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই হারাম।

3645

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ عَبْدُ رَبِّهِ بْنُ نَافِعٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَمْرٍو الْفُقَيْمِيِّ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ كُلِّ مُسْكِرٍ وَمُفَتِّرٍ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৩৬৪৫. সাঈদ ইবনে মানসুর (রাহঃ) .... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী এবং অলসতা আনয়নকারী বস্তু ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।

3646

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَمُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَهْدِيٌّ، - يَعْنِي ابْنَ مَيْمُونٍ - حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ، - قَالَ مُوسَى هُوَ عَمْرُو بْنُ سَلْمٍ الأَنْصَارِيُّ - عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ وَمَا أَسْكَرَ مِنْهُ الْفَرْقُ فَمِلْءُ الْكَفِّ مِنْهُ حَرَامٌ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬৪৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই হারাম। আর যে বস্তুর অধিক পানে নেশার সৃষ্টি হয় তা এক অঞ্জলীও পান করা হারাম।

৪৩৪. যাযী শরাব সম্পর্কে।

باب فِي الدَّاذِيِّ

3647
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ حَاتِمِ بْنِ حُرَيْثٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ دَخَلَ عَلَيْنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ غَنْمٍ فَتَذَاكَرْنَا الطِّلاَءَ فَقَالَ حَدَّثَنِي أَبُو مَالِكٍ الأَشْعَرِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَيَشْرَبَنَّ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا " .

قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَدَّثَنَا شَيْخٌ، مِنْ أَهْلِ وَاسِطٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مَنْصُورٍ الْحَارِثُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ سَمِعْتُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيَّ، وَسُئِلَ، عَنِ الدَّاذِيِّ، فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لَيَشْرَبَنَّ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي الْخَمْرَ يُسَمُّونَهَا بِغَيْرِ اسْمِهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ الدَّاذِيُّ شَرَابُ الْفَاسِقِينَ

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৩৬৪৭. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... মালিক ইবনে আবু মারয়াম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আব্দুর রহমান ইবনে গানাম (রাযিঃ) আমাদের নিকট আসে। তখন আমরা তাঁর সঙ্গে তিলা[১] সম্পর্কে আলোচনা করি। তিনি বলেন, আমার নিকট আবু মুসা আশ’আরী (রাযিঃ) হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছেনঃ আমার উম্মতের কিছু লোক শরাব পান করবে এবং এর নাম শরাব ছাড়া অন্য কিছু রাখবে।[২]

সুফিয়ান সাওরী (রহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত। একদা তাকে দাযী (দুষ্কৃতকারীদের শরাব) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মাতের একদল লোক অবশ্যই মদ পান করবে এবং তারা এর ভিন্নতর নামকরণ করবে।

[১] আংগুরের রস, যার দুই-তৃতীয়াংশ আগুনে জ্বাল দিয়ে রসঘন করে, এক অংশ বাকী রাখা হয় ।
[২] প্রকৃত প্রস্তাবে তা খারাবই। যা লোকে পান করবে। কিন্তু তারা তাকে শরাব বলবে না। বরং অন্য নামে অভিহিত করবে। যেমন বাংলাদেশে তৈরী বিভিন্ন প্রকারের সঞ্জীবনী সূধা' আসলে এসব মদেরই নামান্তর মাত্র।

৪৩৫. মদের পাত্র সম্পর্কে।

باب فِي الأَوْعِيَةِ

3648

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ حَيَّانَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، وَابْنِ، عَبَّاسٍ قَالاَ نَشْهَدُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الدُّبَّاءِ وَالْحَنْتَمِ وَالْمُزَفَّتِ وَالنَّقِيرِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৬৪৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর এবং ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেনঃ আমরা এরূপ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শরাবের পাত্র দুব্বা, হানতাম, মুযাফফাত এবং নাকীর ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।[১]

[১] চারটি পাত্রের নাম, যা দিয়ে তৎকালে মদ তৈরী করা হতো। দুব্বা-কদুর খোল দিয়ে তৈরী হাতাম-সবুজ লাঘার তৈরী মটকা; মুযাফ্ফাত-শীশার তৈরী বিশেষ ধরনের পাত্র এবং নকীর-কাঠের তৈরী বিশেষ পাত্র। এসব পাত্রে মদ তৈরী করা হতো। (অনুবাদক)
3649

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ يَعْلَى، - يَعْنِي ابْنَ حَكِيمٍ - عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يَقُولُ حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَبِيذَ الْجَرِّ فَخَرَجْتُ فَزِعًا مِنْ قَوْلِهِ حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَبِيذَ الْجَرِّ فَدَخَلْتُ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقُلْتُ أَمَا تَسْمَعُ مَا يَقُولُ ابْنُ عُمَرَ قَالَ وَمَا ذَاكَ قُلْتُ قَالَ حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَبِيذَ الْجَرِّ . قَالَ صَدَقَ حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَبِيذَ الْجَرِّ . قُلْتُ مَا الْجَرُّ قَالَ كُلُّ شَىْءٍ يُصْنَعُ مِنْ مَدَرٍ .

Narrator: সাঈদ ইবনে জুবায়র (রহঃ)

৩৬৪৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাযিঃ) বলেনঃ আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ’নবীজ-জার’-কে হারাম করেছেন। তখন আমি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করিঃ ইবনে উমর (রাযিঃ) কি বলেন, তা কি আপনি শুনেছেন? তিনি বলেনঃতিনি [ইবনে উমর (রাযিঃ)] কী বলেন? তখন আমি বলিঃ তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ’নাবীয-জার’-কে হারাম করেছেন। তখন আমি জিজ্ঞাসা করিঃ ’জার’ শব্দের অর্থ কি? তিনি বলেনঃ ’জার’ ঐ পাত্র, যা মাটি দ্বারা তৈরী করা হয়। (অর্থাৎ মাটির তৈরী মটকা, যার মধ্যে খেজুর, আংগুর ইত্যাদি পঁচিয়ে মদ তৈরী করা হয়।)

3650

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ - وَقَالَ مُسَدَّدٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَهَذَا، حَدِيثُ سُلَيْمَانَ قَالَ - قَدِمَ وَفْدُ عَبْدِ الْقَيْسِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا هَذَا الْحَىَّ مِنْ رَبِيعَةَ قَدْ حَالَ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ كُفَّارُ مُضَرَ وَلَسْنَا نَخْلُصُ إِلَيْكَ إِلاَّ فِي شَهْرٍ حَرَامٍ فَمُرْنَا بِشَىْءٍ نَأْخُذُ بِهِ وَنَدْعُو إِلَيْهِ مَنْ وَرَاءَنَا . قَالَ " آمُرُكُمْ بِأَرْبَعٍ وَأَنْهَاكُمْ عَنْ أَرْبَعٍ الإِيمَانُ بِاللَّهِ وَشَهَادَةُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ " . وَعَقَدَ بِيَدِهِ وَاحِدَةً . وَقَالَ مُسَدَّدٌ الإِيمَانُ بِاللَّهِ ثُمَّ فَسَّرَهَا لَهُمْ شَهَادَةَ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ " وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامُ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ وَأَنْ تُؤَدُّوا الْخُمُسَ مِمَّا غَنِمْتُمْ وَأَنْهَاكُمْ عَنِ الدُّبَّاءِ وَالْحَنْتَمِ وَالْمُزَفَّتِ وَالْمُقَيَّرِ " . وَقَالَ ابْنُ عُبَيْدٍ النَّقِيرِ مَكَانَ الْمُقَيَّرِ . وَقَالَ مُسَدَّدٌ وَالنَّقِيرِ وَالْمُقَيَّرِ وَلَمْ يَذْكُرِ الْمُزَفَّتِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَبُو جَمْرَةَ نَصْرُ بْنُ عِمْرَانَ الضُّبَعِيُّ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৫০. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আব্দুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধিরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলে যে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা রাবীআ গোত্রের লোক, আমাদের ও আপনার মাঝে অন্তরায় সৃষ্টিকারী হল মুযার গোত্রের লোকেরা। সে জন্য আমরা সম্মানিত মাস[১] ব্যতীত আপনার নিকট উপস্থিত হতে পারি না। আপনি আমাদের এমন কিছু নির্দেশ দেন, যা আমরা নিজেরা আমল করবো এবং অন্য লোকদের নিকট তা পৌছে দেব। তিনি বলেনঃ আমি তোমাদের চারটি জিনিসের নির্দেশ দিচ্ছি এবং অপর চারটি জিনিস থেকে নিষেধ করছি। (আমি যা করার নির্দেশ দিচ্ছি, তা),

(১) আল্লাহর প্রতি এরূপ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। এ বলে তিনি তাঁর হাত দিয়ে একের প্রতি ইশারা করেন।

রাবী মুসাদ্দাদ (রাহঃ) বলেনঃ নবী (ﷺ) এরূপ বলেন যে, আল্লাহর উপর ঈমান আনা। এরপর এর ব্যাখ্যায় তাদের বলেনঃ এরূপ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল; (২) নামায কায়েম করা; (৩) যাকাত আদায় করা এবং (৪) গনিমতের মাল হতে এক পঞ্চমাংশ প্রদান করা।

আর আমি তোমাদের নিষেধ করছিঃ (১) কদুর খোল দ্বারা তৈরী পাত্র হতে; (২) সবুজ লাখার তৈরী পাত্র হতে; (৩) শীশার তৈরী বিশেষ পাত্র এবং (৪) কাঠের তৈরী পাত্র ব্যবহার করা হতে।[২]

ইবনে উবাইদ ’মুকীরের’ স্থানে ’নাকীর’ বলেছেন এবং মুসাদ্দাদ ’মুকীর’ এবং ’নাকীর’ বলেছেন, মুযাফফাত বলেন নি। ইমাম আবু দাউদ (রাযিঃ) বলেনঃ আবু জামরার নাম হলো নসর ইবনে ইমরান।

[১] যিল্‌কাদ, যিলহাজ্জ, মুহাররম ও সফর-এ চারটি মাসকে সম্মানিত মাস বলা হয়।
[২] বস্তুত ইসলামের প্রথম যুগেও উক্ত চার ধরনের পাত্রে মদপান করা হতো। এজন্য নবী (সা.) এ চার ধরনের পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেন, যাতে পাত্রের কারণে মদের খেয়াল ও না আসে, যা হারাম হয়ে গিয়েছে। পরবর্তী কালে নবী (সা.) এ পাত্রগুলি ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করেন। কেননা, পাত্রের তো কোন দোষ নেই, তাই সব ধরনের পাত্র ব্যবহার করা যেতে পারে (অনুবাদক)।
3651

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ نُوحِ بْنِ قَيْسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِوَفْدِ عَبْدِ الْقَيْسِ " أَنْهَاكُمْ عَنِ النَّقِيرِ وَالْمُقَيَّرِ وَالْحَنْتَمِ وَالدُّبَّاءِ وَالْمَزَادَةِ الْمَجْبُوبَةِ وَلَكِنِ اشْرَبْ فِي سِقَائِكَ وَأَوْكِهْ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৬৫১. ওয়াহাব ইবনে বাকীয়্যা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আব্দুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধিদের বলেন যে, আমি তোমাদের কাঠের তৈরী পাত্র, শীশার তৈরী পাত্র, লাখার তৈরী পাত্র, কদুর খোল দ্বারা তৈরী পাত্র এবং কর্তিত মশক দ্বারা তৈরী পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করছি। বরং তিনি বলেনঃ মশকের পানি পান করবে এবং তার মুখ বেঁধে রাখবে।

3652

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قِصَّةِ وَفْدِ عَبْدِ الْقَيْسِ قَالُوا فِيمَ نَشْرَبُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عَلَيْكُمْ بِأَسْقِيَةِ الأَدَمِ الَّتِي يُلاَثُ عَلَى أَفْوَاهِهَا " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৫২. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে আব্দুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধিদের সম্পর্কে এরূপ বর্ণিত আছে যে, তারা জিজ্ঞাসা করেছিলঃ হে আল্লাহর নবী! আমরা কোন কোন পাত্রে পান করবো? তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ চামড়ার তৈরী মশক দ্বারা পান করবে, যার মুখ বাঁধা যায়।

3653

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي الْقَمُوصِ، زَيْدِ بْنِ عَلِيٍّ حَدَّثَنِي رَجُلٌ، كَانَ مِنَ الْوَفْدِ الَّذِينَ وَفَدُوا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ عَبْدِ الْقَيْسِ يَحْسِبُ عَوْفٌ أَنَّ اسْمَهُ قَيْسُ بْنُ النُّعْمَانِ فَقَالَ " لاَ تَشْرَبُوا فِي نَقِيرٍ وَلاَ مُزَفَّتٍ وَلاَ دُبَّاءٍ وَلاَ حَنْتَمٍ وَاشْرَبُوا فِي الْجِلْدِ الْمُوكَإِ عَلَيْهِ فَإِنِ اشْتَدَّ فَاكْسِرُوهُ بِالْمَاءِ فَإِنْ أَعْيَاكُمْ فَأَهْرِيقُوهُ " .

Narrator: বিবিধ

৩৬৫৩. ওয়াহাব ইবনে বাকীয়্যা (রাহঃ) ..... আবু কামূস যায়দ ইবনে আলী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আব্দুল কায়স গোত্রের যে প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গিয়েছিল, তাদের একজন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। রাবী আওফ (রাহঃ) বলেনঃ আমার ধারণা, তাঁর নাম ছিল কায়স ইবনে নু’মান। নবী (ﷺ) তাদের বলেনঃ তোমরা কাঠের তৈরী পাত্র, শীশার তৈরী পাত্র, লাখার তৈরী পাত্র এবং কদুর খোলে তৈরী পাত্রে পান করবে না; বরং তোমরা এমন চামড়ার মশকে পান করবে, যার মুখ বাঁধা যায়। আর নাবীযের মধ্যে যদি তীব্রতা আসে, তবে এর সাথে পানি মিশিয়ে এর তীব্রতা হ্রাস করবে। যদি এতেও তার তীব্রতা হ্রাস না পায়, তবে তা ঢেলে ফেলে দেবে।

3654

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ بَذِيمَةَ، حَدَّثَنِي قَيْسُ بْنُ حَبْتَرٍ النَّهْشَلِيُّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ وَفْدَ عَبْدِ الْقَيْسِ، قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ فِيمَ نَشْرَبُ قَالَ " لاَ تَشْرَبُوا فِي الدُّبَّاءِ وَلاَ فِي الْمُزَفَّتِ وَلاَ فِي النَّقِيرِ وَانْتَبِذُوا فِي الأَسْقِيَةِ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَإِنِ اشْتَدَّ فِي الأَسْقِيَةِ قَالَ " فَصُبُّوا عَلَيْهِ الْمَاءَ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ لَهُمْ فِي الثَّالِثَةِ أَوِ الرَّابِعَةِ " أَهْرِيقُوهُ " . ثُمَّ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَىَّ أَوْ حُرِّمَ الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْكُوبَةُ " . قَالَ " وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ " . قَالَ سُفْيَانُ فَسَأَلْتُ عَلِيَّ بْنَ بَذِيمَةَ عَنِ الْكُوبَةِ قَالَ الطَّبْلُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৫৪. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল কায়স গোত্রের লোকেরা জিজ্ঞাসা করেছিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কোন পাত্রে পান করবো? তিনি বলেনঃ তোমরা কদুর খোলে তৈরী পাত্রে, শীশার তৈরী পাত্রে এবং কাঠের তৈরী পাত্রে পান করবে না। বরং তোমরা মশকের মধ্যে নাবীয ভিজিয়ে রাখবে। তখন তাঁরা জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! মশকের মধ্যে ভিজিয়ে রাখার কারণে যদি নাবীযের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়? তিনি বলেনঃ তবে তাতে আরো পানি মিশাবে। পরে তাঁরা আবার এরূপ জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাদের তৃতীয় অথবা চতুর্থবারের জিজ্ঞাসার জবাবে বলেনঃ এমতাবস্থায় তোমরা নাবীয ঢেলে ফেলে দেবে। এরপর নবী (ﷺ) আরো বলেনঃ সব ধরনের নেশা সৃষ্টিকারী বস্তুই হারাম।

রাবী সুফিয়ান (রাহঃ) বলেনঃ আমি আলী ইবনে বুযায়মা (রাযিঃ)-কে কুবা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ কুবার অর্থ হলো-ঢোল, যার দু’মুখ আবৃত অর্থাৎ তবলা।
3655

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ سُمَيْعٍ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ عُمَيْرٍ، عَنْ عَلِيٍّ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ نَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الدُّبَّاءِ وَالْحَنْتَمِ وَالنَّقِيرِ وَالْجِعَةِ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩৬৫৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কদুর খোলে তৈরী পাত্র, লাখার তৈরী পাত্র, কাঠের তৈরী পাত্র এবং যবের তৈরী শরাব পান করতে নিষেধ করেছেন।

3656

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا مُعَرِّفُ بْنُ وَاصِلٍ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَهَيْتُكُمْ عَنْ ثَلاَثٍ وَأَنَا آمُرُكُمْ بِهِنَّ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَزُورُوهَا فَإِنَّ فِي زِيَارَتِهَا تَذْكِرَةً وَنَهَيْتُكُمْ عَنِ الأَشْرِبَةِ أَنْ تَشْرَبُوا إِلاَّ فِي ظُرُوفِ الأَدَمِ فَاشْرَبُوا فِي كُلِّ وِعَاءٍ غَيْرَ أَنْ لاَ تَشْرَبُوا مُسْكِرًا وَنَهَيْتُكُمْ عَنْ لُحُومِ الأَضَاحِي أَنْ تَأْكُلُوهَا بَعْدَ ثَلاَثٍ فَكُلُوا وَاسْتَمْتِعُوا بِهَا فِي أَسْفَارِكُمْ " .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

৩৬৫৬. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ..... ইবনে বুরায়দা (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি তোমাদের তিনটি বস্তু হতে নিষেধ করেছিলাম, এখন আমি তোমাদের সেগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছি। আমি তোমাদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা কবর যিয়ারত করতে পার। কেননা, এর ফলে মৃত্যুর কথা ম্মরণ হয়। আর আমি তোমাদের চামড়ার মশক ব্যতীত অন্য পাত্রে পান করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা নেশা সৃষ্টিকারী বস্তু ছাড়া যে কোন পান-পাত্র ব্যবহার করতে পার। আর আমি তোমাদের তিন দিনের অধিক কুরবানীর গোশত খেতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা যতদিন খুশী তা খেতে পার এবং তোমাদের সফরের সময় এর দ্বারা উপকৃত হতে পার।

3657

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي مَنْصُورٌ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمَّا نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الأَوْعِيَةِ قَالَ قَالَتِ الأَنْصَارُ إِنَّهُ لاَ بُدَّ لَنَا . قَالَ " فَلاَ إِذًا " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৬৫৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেন, তখন আনসার সাহাবীরা বলেনঃ এর ব্যবহার তো আমাদের জন্য অপরিহার্য। তখন তিনি বলেনঃ এখন আমি তোমাদের এগুলো ব্যবহার করতে নিষেধ করবো না।

3658

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ زِيَادِ بْنِ فَيَّاضٍ، عَنْ أَبِي عِيَاضٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الأَوْعِيَةَ الدُّبَّاءَ وَالْحَنْتَمَ وَالْمُزَفَّتَ وَالنَّقِيرَ فَقَالَ أَعْرَابِيٌّ إِنَّهُ لاَ ظُرُوفَ لَنَا . فَقَالَ " اشْرَبُوا مَا حَلَّ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৬৫৮. মুহাম্মাদ ইবনে জা’ফর (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লাখার তৈরী পাত্র, রৌগণ কাঠের তৈরী পাত্র এবং কাঠের তৈরী পাত্র সম্পর্কে উল্লেখ করেন, (যার ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিল)। তখন জনৈক আরাবী বলেনঃ এখন তো আমাদের কাছে আর কোন পান-পাত্রই থাকলো না। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তবে তোমরা উক্ত পাত্রে হালাল বস্তু পান করতে পার।

3659

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، - يَعْنِي ابْنَ عَلِيٍّ - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، بِإِسْنَادِهِ قَالَ " اجْتَنِبُوا مَا أَسْكَرَ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৬৫৯. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... শুরায়ক (রাহঃ) উপরোক্ত হাদীসের সনদে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা নেশা সৃষ্টিকারী বস্তু পরিহার করবে।

3660

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ يُنْبَذُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سِقَاءٍ فَإِذَا لَمْ يَجِدُوا سِقَاءً نُبِذَ لَهُ فِي تَوْرٍ مِنْ حِجَارَةٍ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৬৬০. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ...... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য মশকে নাবীয ভিজিয়ে রাখা হতো। আর যদি মশক না পাওয়া যেত, তবে পাথরের কোন বড় পাত্রে তা ভিজানো হতো।

৪৩৬. মিশ্রিত বস্তু সম্পর্কে।

باب فِي الْخَلِيطَيْنِ

3661

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ نَهَى أَنْ يُنْتَبَذَ الزَّبِيبُ وَالتَّمْرُ جَمِيعًا وَنَهَى أَنْ يُنْتَبَذَ الْبُسْرُ وَالرُّطَبُ جَمِيعًا .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৬৬১. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আঙ্গুর এবং খেজুর মিশ্রিত করে ’নাবীয’ তৈরী করতে এবং আধ-পাকা ও পাকা খেজুর মিশ্রিত করে ’নাবীয’ বানাতে নিষেধ করেছেন।

3662

حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ نَهَى عَنْ خَلِيطِ الزَّبِيبِ، وَالتَّمْرِ، وَعَنْ خَلِيطِ الْبُسْرِ، وَالتَّمْرِ، وَعَنْ خَلِيطِ الزَّهْوِ، وَالرُّطَبِ، وَقَالَ، " انْتَبِذُوا كُلَّ وَاحِدٍ عَلَى حِدَةٍ " . قَالَ وَحَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ .

Narrator: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৩৬৬২. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু কাতাদা (রাযিঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আঙ্গুর এবং খেজুর মিশ্রিত করে নাবীয বানাতে, আধা-পাকা এবং শুকনো খেজুর মিশ্রিত করে নাবীয বানাতে এবং অল্প পাকা ও কাঁচা খেজুর মিশিয়ে নাবীয বানাতে নিষেধ করা হয়েছে।

রাবী বলেনঃ আমার নিকট আবু সালামা ইবনে আব্দির রহমান (রাহঃ) আবু কাতাদা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
3663

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَحَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، - عَنْ رَجُلٍ، - قَالَ حَفْصٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَهَى عَنِ الْبَلَحِ وَالتَّمْرِ وَالزَّبِيبِ وَالتَّمْرِ .

Narrator: বিবিধ

৩৬৬৩. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ..... হাফস (রাহঃ) নবী (ﷺ)-এর জনৈক সাহাবী হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) পাকা খেজুর এবং শুকনো খেজুর মিশ্রিত করে ভিজিয়ে (নাবীয বানাতে) নিষেধ করেছেন।

3664

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُمَارَةَ، حَدَّثَتْنِي رَيْطَةُ، عَنْ كَبْشَةَ بِنْتِ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَتْ سَأَلْتُ أُمَّ سَلَمَةَ مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى عَنْهُ قَالَتْ كَانَ يَنْهَانَا أَنْ نَعْجُمَ النَّوَى طَبْخًا أَوْ نَخْلِطَ الزَّبِيبَ وَالتَّمْرَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৩৬৬৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... কাবশা বিনতে আবী মারয়াম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি উম্মে সালামা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, নবী (ﷺ) কোন কোন জিনিস ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন? তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) খেজুর এভাবে পাকাতে নিষেধ করেছেন, যাতে তার আটি বিনষ্ট হয়ে যায় এবং তিনি আঙ্গুর ও খেজুর মিশ্রিত করে ভিজিয়ে (নাবীয বানাতে) নিষেধ করেছেন।

3665

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ امْرَأَةٍ، مِنْ بَنِي أَسَدٍ عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُنْبَذُ لَهُ زَبِيبٌ فَيُلْقِي فِيهِ تَمْرًا وَتَمْرٌ فَيُلْقِي فِيهِ الزَّبِيبَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬৬৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য আঙ্গুরের নাবীয তৈরী করা হতো এবং তাতে খেজুরেও দেওয়া হতো। আর কোন কোন সময় খেজুরের নাবীয তৈরী করা হতো এবং তাতে আঙ্গুর মিশ্রিত করা হতো।

3666

حَدَّثَنَا زَيَادُ بْنُ يَحْيَى الْحَسَّانِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَحْرٍ، حَدَّثَنَا عَتَّابُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْحِمَّانِيُّ، حَدَّثَتْنِي صَفِيَّةُ بِنْتُ عَطِيَّةَ، قَالَتْ دَخَلْتُ مَعَ نِسْوَةٍ مِنْ عَبْدِ الْقَيْسِ عَلَى عَائِشَةَ فَسَأَلْنَاهَا عَنِ التَّمْرِ وَالزَّبِيبِ فَقَالَتْ كُنْتُ آخُذُ قَبْضَةً مِنْ تَمْرٍ وَقَبْضَةً مِنْ زَبِيبٍ فَأُلْقِيهِ فِي إِنَاءٍ فَأَمْرُسُهُ ثُمَّ أَسْقِيهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬৬৬. যিয়াদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ..... সাফিয়্যা বিনতে আতিয়্যা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আব্দুল কায়স গোত্রের কয়েকজন মহিলার সাথে আয়িশা (রাযিঃ)-এর নিকট হাযির হই। এরপর আমরা তাঁর কাছে খেজুর ও আংগুরের তৈরী নাবীয সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ আমি এক মুষ্টি খেজুর ও এক মুষ্টি আংগুর নিয়ে একটি পাত্রে রাখতাম। এরপর তা হাত দিয়ে মিশিয়ে নবী (ﷺ) কে পান করাতাম।

৪৩৭. আধ-পাকা খেজুর দ্বারা নাবীয তৈরী করা।

باب فِي نَبِيذِ الْبُسْرِ

3667

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ، وَعِكْرِمَةَ، أَنَّهُمَا كَانَا يَكْرَهَانِ الْبُسْرَ وَحْدَهُ وَيَأْخُذَانِ ذَلِكَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ . وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَخْشَى أَنْ يَكُونَ الْمُزَّاءَ الَّذِي نُهِيَتْ عَنْهُ عَبْدُ الْقَيْسِ . فَقُلْتُ لِقَتَادَةَ مَا الْمُزَّاءُ قَالَ النَّبِيذُ فِي الْحَنْتَمِ وَالْمُزَفَّتِ .

Narrator: ইকরিমা (রহঃ)

৩৬৬৭. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... জাবির ইবনে যায়দ ও ইকরিমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে আধ-পাকা খেজুর দিয়ে তৈরী নাবীযকে এমতাবস্থায় মাকরুহ মনে করতেন, যখন তা কেবল আধ-পাকা খেজুর দ্বারাই তৈরী করা হতো। আর তাঁরা এটাকে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-এর অভিমত হিসাবে মনে করতেন। কেননা, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেনঃ আমার সন্দেহ হয় যে, যেন তা মুযযাআ না হয়ে যায়, যে সম্পর্কে আব্দুল কায়স গোত্রকে নিষেধ করা হয়েছিল।

(রাবী বলেনঃ) আমি কাতাদা (রাযিঃ)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি যে, মুযযাআ-এর অর্থ কি? তিনি বলেনঃ লাখা এবং রৌগণ (সুগন্ধি) পাত্রে যে নাবীয তৈরী করা হয়, তাকে মুযযাআ বলে।

৪৩৮. নাবীযের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে।

باب فِي صِفَةِ النَّبِيذِ

3668

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ، عَنِ السَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الدَّيْلَمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ عَلِمْتَ مَنْ نَحْنُ وَمِنْ أَيْنَ نَحْنُ فَإِلَى مَنْ نَحْنُ قَالَ " إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ " . فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لَنَا أَعْنَابًا مَا نَصْنَعُ بِهَا قَالَ " زَبِّبُوهَا " . قُلْنَا مَا نَصْنَعُ بِالزَّبِيبِ قَالَ " انْبِذُوهُ عَلَى غَدَائِكُمْ وَاشْرَبُوهُ عَلَى عَشَائِكُمْ وَانْبِذُوهُ عَلَى عَشَائِكُمْ وَاشْرَبُوهُ عَلَى غَدَائِكُمْ وَانْبِذُوهُ فِي الشِّنَانِ وَلاَ تَنْبِذُوهُ فِي الْقُلَلِ فَإِنَّهُ إِذَا تَأَخَّرَ عَنْ عَصْرِهِ صَارَ خَلاًّ " .

Narrator: ফায়রূয দায়লামী (রাঃ)

৩৬৬৮. ঈসা ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... দায়লামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করি; ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো জানেন, আমরা কারা এবং কোথায় আমরা থাকি, আর কার কাছে এসেছি? তিনি বলেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে এসেছ। তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের ওখানে প্রচুর আংগুর উৎপন্ন হয়, আমরা তা দিয়ে কি করবো? তিনি বলেনঃ তোমরা তা শুকিয়ে রাখবে। এরপর জিজ্ঞাসা করিঃ আমরা আঙ্গুর শুকিয়ে কি করবো? তিনি বলেনঃ তোমরা তা সকালে ভিজিয়ে রেখে সন্ধ্যায় পান করবে এবং সন্ধ্যায় ভিজিয়ে রেখে সকালে পান করবে। আর তা চামড়ার মশক ও কলসীর মধ্যে ভিজাবে না। কেননা, তা চটকাতে বিলম্ব হলে সির্কা হয়ে যাবে।

3669

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أُمِّهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ يُنْبَذُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سِقَاءٍ يُوكَأُ أَعْلاَهُ وَلَهُ عَزْلاَءُ يُنْبَذُ غُدْوَةً فَيَشْرَبُهُ عِشَاءً وَيُنْبَذُ عِشَاءً فَيَشْرَبُهُ غُدْوَةً .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬৬৯. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য এমন মশকে নাবীয তৈরী করা হতো, যার মুখ উপর দিক থেকে বন্ধ করা যেত। আর ঐ মশকের নীচের দিকেও একটি মুখ থাকতো, যা দিয়ে নাবীয পান করা হতো। যে নাবীয সকালে তৈরী করা হতো, তিনি তা সন্ধ্যায় পান করতেন এবং যা সন্ধ্যায় তৈরী করা হতো, তিনি তা সকালে পান করতেন।

3670

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ سَمِعْتُ شَبِيبَ بْنَ عَبْدِ الْمَلِكِ، يُحَدِّثُ عَنْ مُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ، قَالَ حَدَّثَتْنِي عَمَّتِي، عَمْرَةُ عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّهَا كَانَتْ تَنْبِذُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غُدْوَةً فَإِذَا كَانَ مِنَ الْعَشِيِّ فَتَعَشَّى شَرِبَ عَلَى عَشَائِهِ وَإِنْ فَضَلَ شَىْءٌ صَبَبْتُهُ - أَوْ فَرَغْتُهُ - ثُمَّ تَنْبِذُ لَهُ بِاللَّيْلِ فَإِذَا أَصْبَحَ تَغَدَّى فَشَرِبَ عَلَى غَدَائِهِ قَالَتْ نَغْسِلُ السِّقَاءَ غُدْوَةً وَعَشِيَّةً فَقَالَ لَهَا أَبِي مَرَّتَيْنِ فِي يَوْمٍ قَالَتْ نَعَمْ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬৭০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য সকালে নাবীয তৈরী করতেন। এর পর সন্ধ্যা হলে তিনি তা সন্ধ্যায় পান করতেন। আর যা অতিরিক্ত থাকতো, আমি তা ফেলে দিতাম অথবা পাত্র খালি করে ফেলতাম। এরপর রাতে তার জন্য যে নাবীয বানানো হতো, তিনি তা সকাল হলে সকালের নাশতা খাওয়ার পর পান করতেন। তিনি আরো বলেনঃ আমি সকাল-সন্ধ্যায় মশক ধৌত করতাম। রাবী বলেন আমার পিতা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ একদিনে কি দু’বার মশক ধোয়া হতো? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ।

3671

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي عُمَرَ، يَحْيَى الْبَهْرَانِيِّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ يُنْبَذُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الزَّبِيبُ فَيَشْرَبُهُ الْيَوْمَ وَالْغَدَ وَبَعْدَ الْغَدِ إِلَى مَسَاءِ الثَّالِثَةِ ثُمَّ يَأْمُرُ بِهِ فَيُسْقَى الْخَدَمَ أَوْ يُهَرَاقُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ مَعْنَى يُسْقَى الْخَدَمَ يُبَادَرُ بِهِ الْفَسَادُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৭১. মাখলাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ)-এর জন্য কিশমিশের নাবীয তৈরী করা হতো। তিনি তা সমস্ত দিন পান করতেন, পরদিনও পান করতেন এমন কি তার পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তা পান করতেন। এরপর তাঁর নির্দেশে তা খাদিমদেরও পান করানো হতো অথবা তা ঢেলে ফেলে দেওয়া হতো।

৪৩৯. মধুর শরবত পান করা।

باب فِي شَرَابِ الْعَسَلِ

3672

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عُبَيْدَ بْنَ عُمَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تُخْبِرُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَمْكُثُ عِنْدَ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ فَيَشْرَبُ عِنْدَهَا عَسَلاً فَتَوَاصَيْتُ أَنَا وَحَفْصَةُ أَيَّتُنَا مَا دَخَلَ عَلَيْهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلْتَقُلْ إِنِّي أَجِدُ مِنْكَ رِيحَ مَغَافِيرَ فَدَخَلَ عَلَى إِحْدَاهُنَّ فَقَالَتْ لَهُ ذَلِكَ فَقَالَ " بَلْ شَرِبْتُ عَسَلاً عِنْدَ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ وَلَنْ أَعُودَ لَهُ " . فَنَزَلَتْ ( لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ تَبْتَغِي ) إِلَى ( إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ ) لِعَائِشَةَ وَحَفْصَةَ رضى الله عنهما ( وَإِذْ أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ حَدِيثًا ) لِقَوْلِهِ " بَلْ شَرِبْتُ عَسَلاً " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬৭২. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) যখন যয়নাব বিনতে জাহাশ (রাযিঃ)-এর ঘরে অবস্থান করতেন, তখন তিনি সেখানে মধুর শরবত পান করতেন। এরপর আমি এবং হাফসা (রাযিঃ) এরূপ পরামর্শ করি যে, আমাদের মধ্যে যারই কাছে নবী (ﷺ) আসেন, সে যেন বলিঃ আমি আপনার মুখ থেকে মাগাফিরের[১] দুর্গন্ধ অনুভব করছি। এরপর নবী (ﷺ) যখন এদের কারো কাছে উপস্থিত হন, তখন তিনি এরূপ উক্তি করেন। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ আমিতো যয়নাব বিনতে জাহাশের ঘরে মধুর শরবত পান করেছি। এখন থেকে আমি আর তা পান করবো না। তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ ″হে নবী! আপনি কেন হারাম করলেন তা, যা হালাল করেছেন আল্লাহ আপনার জন্য। এর দ্বারা আপনি কি আপনার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি কামনা করেন? নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।″

এরপর আয়িশা এবং হাফসা (রাযিঃ)-এর প্রতি এরূপ নির্দেশ দেওয়া হয় যে, তাঁরা যেন আল্লাহর নিকট তাওবা করেন। অন্যথায় আল্লাহ স্বীয় নবীকে তোমাদের চাইতে উত্তম স্ত্রী প্রদান করতে সক্ষম।

[১] মাগাফির হলো এক ধরনের দুর্গন্ধ যুক্ত গাছের কণা, যা পানিতে গুলে পান করা হয়। নবী (সা.) যে কোন দুগুন্ধকে অপছন্দ করতেন।
3673

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُحِبُّ الْحَلْوَاءَ وَالْعَسَلَ . فَذَكَرَ بَعْضَ هَذَا الْخَبَرِ . وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَشْتَدُّ عَلَيْهِ أَنْ تُوجَدَ مِنْهُ الرِّيحُ . وَفِي الْحَدِيثِ قَالَتْ سَوْدَةُ بَلْ أَكَلْتَ مَغَافِيرَ . قَالَ " بَلْ شَرِبْتُ عَسَلاً سَقَتْنِي حَفْصَةُ " . فَقُلْتُ جَرَسَتْ نَحْلُهُ الْعُرْفُطَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْمَغَافِيرُ مُقْلَةٌ وَهِيَ صَمْغَةٌ . وَجَرَسَتْ رَعَتْ . وَالْعُرْفُطُ نَبْتٌ مِنْ نَبْتِ النَّحْلِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬৭৩. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হালুয়া এবং মধু পছন্দ করতেন। এরপর তিনি হাদীসের কিছু অংশ বর্ণনা করার পর বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটি খুবই অপছন্দ করতেন যে, তাঁর নিকট হতে কোনরূপ দুর্গন্ধ বের হোক।

হাদীসে এরূপ উল্লেখ আছে যে, সাওদা (রাযিঃ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ আপনি মনে হয় মাগাফির খেয়েছেন। তিনি বলেনঃ না, আমি মধু পান করেছি, যা আমাকে হাফসা পান করিয়েছে। তখন আমি বলিঃ মধু-মক্ষিকা উরফাতা[১] চেটেছে, যা দিয়ে তারা মধু তৈরী করে।

[১] একধরনের দুর্গন্ধযুক্ত ঘাস, মধুমক্ষিকা তা থেকেও মধু সংগ্রহ করে থাকে। ফলে সে মধু দুর্গন্ধযুক্ত হয় । (অনুবাদক)

৪৪০. নাবীয যদি জোশ মেরে উঠে, তবে তা পান করা সম্পর্কে।

باب فِي النَّبِيذِ إِذَا غَلِيَ

3674

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ وَاقِدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ عَلِمْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَصُومُ فَتَحَيَّنْتُ فِطْرَهُ بِنَبِيذٍ صَنَعْتُهُ فِي دُبَّاءٍ ثُمَّ أَتَيْتُهُ بِهِ فَإِذَا هُوَ يَنِشُّ فَقَالَ " اضْرِبْ بِهَذَا الْحَائِطَ فَإِنَّ هَذَا شَرَابُ مَنْ لاَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৬৭৪. হিসাম ইবনে আম্মার (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জানতাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অধিকাংশ সময় রোযা রাখতেন। সুতরাং তিনি যেদিন রোযা রাখেননি, আমি সেদিনের প্রতি খেয়াল রাখি এবং কদুর খোলে তৈরী পাত্রে নাবীয নিয়ে তাঁর নিকট উপস্থিত হই, যা আমি আগে থেকেই তাঁর জন্য প্রস্তুত করে রাখি। হঠাৎ তা জোশ মেরে উঠে। তখন তিনি বলেনঃ তুমি একে দেওয়ালের দিকে নিক্ষেপ কর। কেননা, এতো ঐ সব লোকের শরাব, যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে না।

৪৪১. দাঁড়ান অবস্থায় পানি পান করা।

باب فِي الشُّرْبِ قَائِمًا

3675

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يَشْرَبَ الرَّجُلُ قَائِمًا .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৬৭৫. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে, পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।

3676

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مِسْعَرِ بْنِ كِدَامٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنِ النَّزَّالِ بْنِ سَبْرَةَ، أَنَّ عَلِيًّا، دَعَا بِمَاءٍ فَشَرِبَهُ وَهُوَ قَائِمٌ ثُمَّ قَالَ إِنَّ رِجَالاً يَكْرَهُ أَحَدُهُمْ أَنْ يَفْعَلَ هَذَا وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُ مِثْلَ مَا رَأَيْتُمُونِي أَفْعَلُهُ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৩৬৭৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... নাযাল ইবনে সাবুরা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আলী (রাযিঃ) পানি চান এবং তা দাঁড়িয়ে পান করেন। এরপর তিনি বলেনঃ কিছু লোক একে খারাপ কাজ বলে মনে করে, অথচ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এভাবে পানি পান করতে দেখেছি, যেভাবে তোমরা আমাকে পানি পান করতে দেখলে।[১]

[১] সম্ভবতঃ কোন প্রয়োজনে নবী (সা.) দাঁড়িয়ে পানি পান করেছিলেন। অথবা তা এরূপ পানি ছিল, যা দাঁড়ান অবস্থায় পান করাতে ছওয়াব রয়েছে। যেমন-যমযমের পানি, উযুর পানি। অথবা ব্যাপারটি নবী (সা.)-এর জন্য খাস ছিল, যা অন্যের বেলায় প্রযোজ্য নয়।

৪৪২. মশকে মুখ লাগিয়ে পানি পান করা।

باب الشَّرَابِ مِنْ فِي السِّقَاءِ

3677

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الشُّرْبِ مِنْ فِي السِّقَاءِ وَعَنْ رُكُوبِ الْجَلاَّلَةِ وَالْمُجَثَّمَةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْجَلاَّلَةُ الَّتِي تَأْكُلُ الْعَذِرَةَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৭৭. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মশকের মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতেন, অপবিত্র বস্তু ভক্ষণকারী জানোয়ারের পিঠে আরোহণ করতে এবং তীর খাওয়া পশুর গোশত ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন।[১]

[১] অর্থাৎ ঐ পশুর গোশত, যে তীরের আঘাতে মারা গেছে এবং তা যবাহ করা হয়নি। এরূপ পশুর গোশত খাওয়া
হালাল নয়। (অনুবাদক)

৪৪৩. মশকের মুখ বাঁকা করে পানি পান করা।

باب فِي اخْتِنَاثِ الأَسْقِيَةِ

3678

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ اخْتِنَاثِ الأَسْقِيَةِ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৬৭৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... আবু সা’ঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মশকের মুখ বাঁকা করে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।

3679

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ عِيسَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، - رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ - عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَعَا بِإِدَاوَةٍ يَوْمَ أُحُدٍ فَقَالَ " اخْنُثْ فَمَ الإِدَاوَةِ " . ثُمَّ شَرِبَ مِنْ فِيهَا .

Narrator: বিবিধ

৩৬৭৯. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ আনসারী (রাযিঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উহুদের যুদ্ধের দিন একটি পান-পাত্র আনতে বলেন। এরপর তিনি বলেনঃ এর মুখটি বাঁকা কর। এরপর তিনি তাতে মুখ লাগিয়ে পানি পান করেন।[১]

[১] তিনি (ﷺ) যুদ্ধের সময় প্রয়োজনের তাগিদে এভাবে পানি পান করেন। এতে বুঝা যায় যে, এরূপে পানি পান করা
হারাম নায়। (অনুবাদক)

৪৪৪. ভাঙ্গা পাত্রের ছিদ্রপথে পানি পান করা।

باب فِي الشُّرْبِ مِنْ ثُلْمَةِ الْقَدَحِ

3680

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي قُرَّةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الشُّرْبِ مِنْ ثُلْمَةِ الْقَدَحِ وَأَنْ يُنْفَخَ فِي الشَّرَابِ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৬৮০. আহমদ ইকন সালিহ (রাযিঃ) ...... আবু সা’ঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাত্রের ছিদ্রপথে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।

৪৪৫. সোনা ও রূপার পাত্রে পানি পান করা।

باب فِي الشُّرْبِ فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ

3681

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ كَانَ حُذَيْفَةُ بِالْمَدَائِنِ فَاسْتَسْقَى فَأَتَاهُ دِهْقَانٌ بِإِنَاءٍ مِنْ فِضَّةٍ فَرَمَاهُ بِهِ وَقَالَ إِنِّي لَمْ أَرْمِهِ بِهِ إِلاَّ أَنِّي قَدْ نَهَيْتُهُ فَلَمْ يَنْتَهِ وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْحَرِيرِ وَالدِّيبَاجِ وَعَنِ الشُّرْبِ فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَقَالَ " هِيَ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا وَلَكُمْ فِي الآخِرَةِ " .

Narrator: আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা (রহঃ)

৩৬৮১. হাফস ইবনে উমর (রাযিঃ) ..... ইবনে আবী লায়লা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হুযাইফা (রাযিঃ) মাদায়েনে ছিলেন। তিনি পানি চাইলে জনৈক গ্রাম্য লোক একটি রূপার পাত্রে তাঁর জন্য পানি আনে। তিনি তা দূরে নিক্ষেপ করে বলেনঃ আমি এটি এজন্য দূরে নিক্ষেপ করেছি যে, আমি এ ব্যক্তিকে এরূপ করতে (এর আগে) নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু সে আমার নিষেধ শোনেনি। বস্তুত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রেশমী কাপড়, দীবাজের তৈরী কাপড়[১] পরিধান করতে এবং রূপার পাত্রে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেনঃ এগুলো দুনিয়াতে কাফিরদের ব্যবহারের জন্য এবং তোমরা এগুলো আখিরাতে পাবে।

[১] দীবায হলো এক ধরনের মোটা রেশমী কাপড়, যা পুরুষদের জন্য ব্যবাহর করা জায়েয নয় । (অনুবাদক)

৪৪৬. জানোয়ারের মত পানিতে মুখ লাগিয়ে পান করা।

باب فِي الْكَرْعِ

3682

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي فُلَيْحٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ دَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَرَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِهِ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ وَهُوَ يُحَوِّلُ الْمَاءَ فِي حَائِطِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ كَانَ عِنْدَكَ مَاءٌ بَاتَ هَذِهِ اللَّيْلَةَ فِي شَنٍّ وَإِلاَّ كَرَعْنَا " . قَالَ بَلْ عِنْدِي مَاءٌ بَاتَ فِي شَنٍّ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৬৮২. উসমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) জনৈক সাহাবীর সঙ্গে একজন আনসারের নিকট গমন করেন, যিনি তাঁর বাগানে পানি দিচ্ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যদি তোমার কাছে পুরাতন সূরাহীতে রাতের ঠাণ্ডা পানি থাকে (তবে ভাল), নয়তো আমি মুখ লাগিয়ে নহরের পানি পান করবো। তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, আমার কাছে পুরাতন সূরাহীতে রাতের পানি আছে।

৪৪৭. সাকী[১] নিজে কখন পানি পান করবে।

باب فِي السَّاقِي مَتَى يَشْرَبُ

3683

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي الْمُخْتَارِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " سَاقِيَ الْقَوْمِ آخِرُهُمْ شُرْبًا " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

৩৬৮৩. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আওফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ লোকদের যে পানি পান করায়, তার উচিত সবার শেষে পানি পান করা।

[১] যে ব্যক্তি অন্য লোকদের পানি পান করায়, তাকে 'সাকী' বলা হয়। (অনুবাদক)

৪৪৭. সাকী নিজে কখন পানি পান করবে।

باب فِي السَّاقِي مَتَى يَشْرَبُ

3684

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِلَبَنٍ قَدْ شِيبَ بِمَاءٍ وَعَنْ يَمِينِهِ أَعْرَابِيٌّ وَعَنْ يَسَارِهِ أَبُو بَكْرٍ فَشَرِبَ ثُمَّ أَعْطَى الأَعْرَابِيَّ وَقَالَ " الأَيْمَنَ فَالأَيْمَنَ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৬৮৪. কা’নবী (রাহঃ) ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) এর জন্য দুধ আনা হয়, যাতে পানি মিশানো ছিল। তখন তাঁর ডান দিকে জনৈক মরুবাসী বেদুঈন বসা ছিল এবং বাম দিকে ছিলেন আবু বকর (রাযিঃ)। তিনি দুধ পান করে (বাকী দুধ) উক্ত বেদুঈনকে দিয়ে বলেনঃ ডান দিক, ডান দিকে দাও।

3685

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِي عِصَامٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا شَرِبَ تَنَفَّسَ ثَلاَثًا وَقَالَ " هُوَ أَهْنَأُ وَأَمْرَأُ وَأَبْرَأُ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৬৮৫. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) তিন দমে পানি পান করতেন এবং বলতেনঃ এভাবে পানি পান করলে তৃষ্ণা উত্তমরূপে নিবারিত হয়, খাদ্য অধিক হযম হয় এবং স্বাস্থ্য ভাল থাকে।

৪৪৮. পানীয় দ্রব্যে ফুঁ দেওয়া সম্পর্কে।

باب فِي النَّفْخِ فِي الشَّرَابِ

3686

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُتَنَفَّسَ فِي الإِنَاءِ أَوْ يُنْفَخَ فِيهِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৮৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাত্রের মধ্যে শ্বাস ফেলতে এবং তাতে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন।

3687

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ، - مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ - قَالَ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَبِي فَنَزَلَ عَلَيْهِ فَقَدَّمَ إِلَيْهِ طَعَامًا فَذَكَرَ حَيْسًا أَتَاهُ بِهِ ثُمَّ أَتَاهُ بِشَرَابٍ فَشَرِبَ فَنَاوَلَ مَنْ عَلَى يَمِينِهِ وَأَكَلَ تَمْرًا فَجَعَلَ يُلْقِي النَّوَى عَلَى ظَهْرِ أُصْبَعَيْهِ السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى فَلَمَّا قَامَ قَامَ أَبِي فَأَخَذَ بِلِجَامِ دَابَّتِهِ فَقَالَ ادْعُ اللَّهَ لِي . فَقَالَ " اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর আল-আসলামী রাযি.

৩৬৮৭. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যিনি বনু সুলায়মের অন্তর্ভুক্তি ছিলেন। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার পিতার নিকট আগমন করেন। তিনি তাঁর সামনে খাবার পেশ করলে, তিনি হায়সার কথা বলাতে, তাও তাঁর সামনে হাযির করেন। এরপর তিনি নবী (ﷺ) এর সামনে শরবত পেশ করেন, যা তিনি পান করেন এবং অবশিষ্ট পানীয় ডান দিকে অবস্থানকারী ব্যক্তিকে দেন। পরে তিনি খেজুর খেয়ে তার আটি তর্জনী এবং মধ্যমা আঙ্গুলের উপর রাখেন। অবশেষে তিনি চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দাঁড়ালে, আমার পিতাও দাঁড়ান এবং তিনি তাঁর বাহনের লাগাম ধরে বলেনঃ আপনি আমার জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করুন। তখন তিনি বলেনঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি তাদের যে রিযিক দিয়েছেন তাতে বরকত দান করুন। আপনি তাদের ক্ষমা করুন এবং তাদের উপর রহম করুন।

৪৪৯. দুধ পানের পর যা বলতে হবে।

باب مَا يَقُولُ إِذَا شَرِبَ اللَّبَنَ

3688

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ - ح وَحَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ حَرْمَلَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كُنْتُ فِي بَيْتِ مَيْمُونَةَ فَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ فَجَاءُوا بِضَبَّيْنِ مَشْوِيَّيْنِ عَلَى ثُمَامَتَيْنِ فَتَبَزَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ خَالِدٌ إِخَالُكَ تَقْذُرُهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " أَجَلْ " . ثُمَّ أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِلَبَنٍ فَشَرِبَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ طَعَامًا فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَأَطْعِمْنَا خَيْرًا مِنْهُ . وَإِذَا سُقِيَ لَبَنًا فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَزِدْنَا مِنْهُ . فَإِنَّهُ لَيْسَ شَىْءٌ يُجْزِئُ مِنَ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ إِلاَّ اللَّبَنُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا لَفْظُ مُسَدَّدٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৬৮৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি মায়মুনা (রাযিঃ)-এর ঘরে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে প্রবেশ করেন এবং তাঁর সঙ্গী ছিলেন খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ)। তখন কিছু লোক দুটি দব্ব (অনেকটা গুইসাপের মত দেখতে) ভুনা করে দুটি কাঠের উপর রেখে তাঁর সামনে পেশ করে, যা দেখে তিনি থুথু নিক্ষেপ করেন।

তখন খালিদ (রাযিঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, হ্যাঁ, আমি তা খেতে ঘৃণা করি। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য দুধ আনা হয় এবং তিনি তা পান করেন। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন কোন খাদ্য খাবে, তখন সে যেন বলেঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি এ খাদ্যে আমাদের জন্য বরকত দিন এবং আমাদের এর চাইতে উত্তম খাদ্য প্রদান করুন।

(তিনি আরো বলেনঃ) আর তোমাদের কেউ যখন দুধ পান করবে, তখন সে যেন বলেঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি এ দুধের মধ্যে আমাদের জন্য বরকত দিন এবং আমাদের এর চাইতে অধিক প্রদান করুন।

৪৫০. পাত্র ঢেকে রাখা সস্পর্কে।

باب فِي إِيكَاءِ الآنِيَةِ

3689

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَغْلِقْ بَابَكَ وَاذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لاَ يَفْتَحُ بَابًا مُغْلَقًا وَأَطْفِ مِصْبَاحَكَ وَاذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ وَخَمِّرْ إِنَاءَكَ وَلَوْ بِعُودٍ تَعْرُضُهُ عَلَيْهِ وَاذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ وَأَوْكِ سِقَاءَكَ وَاذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৬৮৯. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তুমি তোমার ঘরের দরজা আল্লাহর নাম নিয়ে (অর্থাৎ ’বিসমিল্লাহ’ বলে) বন্ধ করবে। কেননা, এভাবে দরজা বন্ধ করলে শয়তান তা খুলতে পারে না। আর আল্লাহর নাম নিয়ে বাতি নিভাবে এবং স্বীয় পাত্রের মুখ ঢেকে রাখবে, যদিও তা একখণ্ড কাঠ দিয়েও হয়। আর তুমি আল্লাহর নাম নিয়ে তোমার মশকের মুখ বন্ধ করবে।

3690

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْخَبَرِ وَلَيْسَ بِتَمَامِهِ قَالَ " فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لاَ يَفْتَحُ بَابًا غَلَقًا وَلاَ يَحُلُّ وِكَاءً وَلاَ يَكْشِفُ إِنَاءً وَإِنَّ الْفُوَيْسِقَةَ تُضْرِمُ عَلَى النَّاسِ بَيْتَهُمْ " . أَوْ " بُيُوتَهُمْ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৬৯০. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে উপরোক্ত হাদীসটি সম্পূর্ণভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না, সে বন্ধ মশকের মুখও খুলতে পারে না এবং সে পাত্রের মুখও খুলতে সক্ষম হয় না। (আর তোমরা এজন্য বাতি নিভিয়ে রাখবে যে,) অধিকাংশ সময় ইঁদুর লোকের ঘর জ্বালানোর কারণ হয়ে থাকে।

3691

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَفُضَيْلُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ السُّكَّرِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ شِنْظِيرٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، رَفَعَهُ قَالَ " وَاكْفِتُوا صِبْيَانَكُمْ عِنْدَ الْعِشَاءِ " . وَقَالَ مُسَدَّدٌ " عِنْدَ الْمَسَاءِ " " فَإِنَّ لِلْجِنِّ انْتِشَارًا وَخَطْفَةً " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৬৯১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমাদের ইশার সময়, রাবী মুসাদ্দাদ (রাহঃ)-এর বর্ণসা অনুযায়ী, সন্ধ্যার সময় তোমাদের বাচ্চাদেরকে হিফাযত করবে। কেননা, জিনরা এ সময় ছড়িয়ে পড়ে এবং ছোট বাচ্চাদের খোঁচা দেয়।

3692

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَسْقَى فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ أَلاَ نَسْقِيكَ نَبِيذًا قَالَ " بَلَى " . قَالَ فَخَرَجَ الرَّجُلُ يَشْتَدُّ فَجَاءَ بِقَدَحٍ فِيهِ نَبِيذٌ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَلاَّ خَمَّرْتَهُ وَلَوْ أَنْ تَعْرِضَ عَلَيْهِ عُودًا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ الأَصْمَعِيُّ تَعْرُضُهُ عَلَيْهِ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৬৯২. উসমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। সে সময় তিনি পানি চাইলে কওমের জনৈক ব্যক্তি বলেনঃ আমরা কি আপনাকে নাবীয পান করাবো না? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। তখন এক ব্যক্তি দৌড়ে চলে যায় এবং একটি পেয়ালায় নাবীয নিয়ে আসে। এসময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তুমি পাত্রটি ঢেকে আনলে না কেন? তুমি যদি এর উপর এক খণ্ড কাঠও রাখতে, তবে ভাল হতো।

3693

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُسْتَعْذَبُ لَهُ الْمَاءُ مِنْ بُيُوتِ السُّقْيَا . قَالَ قُتَيْبَةُ عَيْنٌ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الْمَدِينَةِ يَوْمَانِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৬৯৩. সা’ঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ)-এর জন্য ’সুকিয়া’ নামক কুয়া হতে পানি আনা হতো।

রাবী কুতায়বা (রাহঃ) বলেনঃ সুকিয়া হলো একটি কুয়ার নাম, যা মদীনা থেকে দুদিনের দূরত্বে অবস্থিত।