كتاب الطب

২৩. রোগব্যধি ও চিকিৎসা-তাদবীর

Chapter 23 · 70 hadith

১. রোগীর চিকিৎসা সম্পর্কে।

باب فِي الرَّجُلِ يَتَدَاوَى

3815

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاَقَةَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ شَرِيكٍ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابُهُ كَأَنَّمَا عَلَى رُءُوسِهِمُ الطَّيْرُ فَسَلَّمْتُ ثُمَّ قَعَدْتُ فَجَاءَ الأَعْرَابُ مِنْ هَا هُنَا وَهَا هُنَا فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَتَدَاوَى فَقَالَ " تَدَاوَوْا فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَمْ يَضَعْ دَاءً إِلاَّ وَضَعَ لَهُ دَوَاءً غَيْرَ دَاءٍ وَاحِدٍ الْهَرَمُ " .

Narrator: উসামা ইবনে শরীক (রাঃ)

৩৮১৫. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ...... উসামা ইবনে শারীক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি নবী (ﷺ) এর নিকট এমন সময় আসি, যখন তাঁর সাহাবীগণ তাঁর চারপাশে এমন ভাবে বসে ছিল, যেন তাঁদের মাথার উপর পাখি বসে আছে (অর্থাৎ শান্তভাবে)। এরপর আমি সালাম করি এবং বসে পড়ি। এ সময় আরবের লোকেরা এদিক-সেদিক থেকে সেখানে সমবেত হয় এবং তারা বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি চিকিৎসা করাব? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তোমরা রোগের চিকিৎসা করাবে। কেননা, আল্লাহ তাআলা এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেন নি, যার চিকিৎসার জন্য ঔষধের ব্যবস্থা রাখেন নি; তবে বার্ধক্য এমন একটি রোগ যার কোন চিকিৎসা নেই।

২. রোগীর খাদ্য গ্রহণে সতর্কতা সম্পর্কে।

باب فِي الْحِمْيَةِ

3816

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، وَأَبُو عَامِرٍ - وَهَذَا لَفْظُ أَبِي عَامِرٍ - عَنْ فُلَيْحِ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ صَعْصَعَةَ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ، عَنْ أُمِّ الْمُنْذِرِ بِنْتِ قَيْسٍ الأَنْصَارِيَّةِ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهُ عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ وَعَلِيٌّ نَاقِهٌ وَلَنَا دَوَالِي مُعَلَّقَةٌ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْكُلُ مِنْهَا وَقَامَ عَلِيٌّ لِيَأْكُلَ فَطَفِقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِعَلِيٍّ " مَهْ إِنَّكَ نَاقِهٌ " . حَتَّى كَفَّ عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ . قَالَتْ وَصَنَعْتُ شَعِيرًا وَسِلْقًا فَجِئْتُ بِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا عَلِيُّ أَصِبْ مِنْ هَذَا فَهُوَ أَنْفَعُ لَكَ " .

Narrator: উম্মে মুনযির (রাঃ)

৩৮১৬. হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ..... উম্মু মুনযার বিনতে কায়স আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট আসেন এবং সে সময় তাঁর সঙ্গে আলী (রাযিঃ)-ও ছিলেন, যিনি অসুস্থতার কারণে দুর্বল ছিলেন। আমাদের নিকট খেজুরের কাঁদি টানানো ছিল।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে তা থেকে খেজুর খেতে থাকেন। তখন আলী (রাযিঃ) খেজুর খাওয়ার জন্য দাড়ালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হে আলী! তুমি এখনো দুর্বল, কাজেই তুমি খেজুর খাওয়া হতে বিরত থাক। এ কথা শুনে আলী (রাযিঃ) তা খাওয়া হতে বিরত থাকেন।

উম্মু মুনযার (রাযিঃ) বলেনঃ এরপর আমি যব ও বীটচিনি দিয়ে খাদ্য প্রস্তুত করে তাঁর সামনে পেশ করি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী (রাযিঃ) কে বলেনঃ হে আলী তুমি এটা খেতে পার এটা তোমার জন্য উপকারী।

৩. শিংগা লাগান সম্পর্কে।

باب فِي الْحِجَامَةِ

3817

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنْ كَانَ فِي شَىْءٍ مِمَّا تَدَاوَيْتُمْ بِهِ خَيْرٌ فَالْحِجَامَةُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮১৭. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা যে সমস্ত বস্তু দিয়ে চিকিৎসা কর, তাঁর মধ্যে শিংগা লাগানো উত্তম।

3818

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْوَزِيرِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ حَسَّانَ - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الْمَوَالِي، حَدَّثَنَا فَائِدٌ، مَوْلَى عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي رَافِعٍ عَنْ مَوْلاَهُ، عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي رَافِعٍ عَنْ جَدَّتِهِ، سَلْمَى خَادِمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ مَا كَانَ أَحَدٌ يَشْتَكِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَعًا فِي رَأْسِهِ إِلاَّ قَالَ " احْتَجِمْ " . وَلاَ وَجَعًا فِي رِجْلَيْهِ إِلاَّ قَالَ " اخْضِبْهُمَا " .

Narrator: সালমা উম্মু রাফি' (রাঃ)

৩৮১৮. মুহাম্মাদ ইবনে ওযীর দিমাশকী (রাহঃ) .... সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পরিচারিকা ছিলেন। তিনি বলেনঃ যখন কেউ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট মাথা ব্যাথার কথা বলতো, তখন তিনি তাকে বলতেনঃ তুমি শিংগা লাগাও। আর যখন কেউ পায়ে ব্যথার কথা বলতো, তখন তিনি তাকে বলতেনঃ তোমার দু’পায়ে মেহেদীর রং লাগাও।

৪. শিংগা লাগাবার স্থান সম্পর্কে।

باب فِي مَوْضِعِ الْحِجَامَةِ

3819

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، وَكَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ ابْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي كَبْشَةَ الأَنْمَارِيِّ، - قَالَ كَثِيرٌ إِنَّهُ حَدَّثَهُ - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَحْتَجِمُ عَلَى هَامَتِهِ وَبَيْنَ كَتِفَيْهِ وَهُوَ يَقُولُ " مَنْ أَهْرَاقَ مِنْ هَذِهِ الدِّمَاءِ فَلاَ يَضُرُّهُ أَنْ لاَ يَتَدَاوَى بِشَىْءٍ لِشَىْءٍ " .

Narrator: আবু কাবশা আনমারী (রাঃ)

৩৮১৯. আব্দুর রহমান ইবনে ইবরাহীম .... আবু কাবশা আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) তাঁর মাথার সিঁথিতে এবং দুই কাঁধের মাঝখানে শিংগা লাগাতেন এবং বলতেনঃ যে ব্যক্তি এসব স্থান থেকে দূষিত রক্ত বের করে ফেলবে, সে কোন রোগের জন্য অন্য চিকিৎসা না করলেও তাঁর কোন ক্ষতি হবে না।

3820

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، - يَعْنِي ابْنَ حَازِمٍ - حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ ثَلاَثًا فِي الأَخْدَعَيْنِ وَالْكَاهِلِ . قَالَ مَعْمَرٌ احْتَجَمْتُ فَذَهَبَ عَقْلِي حَتَّى كُنْتُ أُلَقَّنُ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ فِي صَلاَتِي . وَكَانَ احْتَجَمَ عَلَى هَامَتِهِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৮২০. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী (ﷺ) তাঁর ঘাড়ে ও দুই কাঁধে তিনবার শিংগা লাগান। মা’মার (রাহঃ) বলেনঃ একবার আমি শিংগা লাগাই; ফলে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এ সময় নামাযের মধ্যে সূরা ফাতিহা অন্যের সাহায্য নিয়ে পড়াতাম।

৫. কোন দিন শিংগা লাগান ভাল।

باب مَتَى تُسْتَحَبُّ الْحِجَامَةُ

3821

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُمَحِيُّ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنِ احْتَجَمَ لِسَبْعَ عَشْرَةَ وَتِسْعَ عَشْرَةَ وَإِحْدَى وَعِشْرِينَ كَانَ شِفَاءً مِنْ كُلِّ دَاءٍ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮২১. আবু তাওবা রাবী’ ইবনে নাফি (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি (চন্দ্র মাসের) সতের, একুশ ও উনত্রিশ তারিখে শিংগা লাগাবে, তাঁর জন্য সমস্ত প্রকার রোগ মুক্তির কারণ হবে।

3822

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرَةَ، بَكَّارُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَخْبَرَتْنِي عَمَّتِي، كَبْشَةُ بِنْتُ أَبِي بَكْرَةَ - وَقَالَ غَيْرُ مُوسَى كَيِّسَةُ بِنْتُ أَبِي بَكْرَةَ - أَنَّ أَبَاهَا، كَانَ يَنْهَى أَهْلَهُ عَنِ الْحِجَامَةِ، يَوْمَ الثُّلاَثَاءِ وَيَزْعُمُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ يَوْمَ الثُّلاَثَاءِ يَوْمُ الدَّمِ وَفِيهِ سَاعَةٌ لاَ يَرْقَأُ .

Narrator: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৩৮২২. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাঁর পিতা তাঁর পরিবার পরিজনদিগকে মঙ্গলবারের দিন শিংগা লাগাতে নিষেধ করতেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এরূপ বর্ণনা করতেন যে, মঙ্গলবারের দিন হলো শরীরে রক্তের ধারা পরিবর্তনের দিন এবং এ দিনের মধ্যে এরূপ বিশেষ একটি সময় আছে, যখন রক্ত বন্ধ হয় না।

৬. শিরা কেটে রক্ত-মোক্ষণ করা ও শিংগা লাগানোর স্থান সম্পর্কে।

باب فِي قَطْعِ الْعِرْقِ وَمَوْضِعِ الْحَجْمِ

3823

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ بَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى أُبَىٍّ طَبِيبًا فَقَطَعَ مِنْهُ عِرْقًا .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৮২৩. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) উবাই ইবনে কা’বের নিকট এমন একজন চিকিৎসক প্রেরণ করেন, যিনি তাঁর একটি শিরা কেটে রক্ত-মোক্ষণ করেন।

3824

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ عَلَى وَرِكِهِ مِنْ وَثْءٍ كَانَ بِهِ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৮২৪. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর পায়ের নলিতে আঘাত লাগার কারণে সেখানে শিংগা লাগান।

৭. লোহা গরম করে শরীরে দাগ দেওয়া।

باب فِي الْكَىِّ

3825

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْكَىِّ فَاكْتَوَيْنَا فَمَا أَفْلَحْنَ وَلاَ أَنْجَحْنَ .

Narrator: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৩৮২৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) লোহা গরম করে শরীরে দাগ দিতে নিষেধ করেন। তবুও আমরা দাগ দেওয়ার পর তা আমাদের কোন উপকার আসেনি এবং কোন কাজ হয়নি।

3826

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَوَى سَعْدَ بْنَ مُعَاذٍ مِنْ رَمِيَّتِهِ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৮২৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) সা’দ ইবনে মুআয (রাযিঃ)-কে তাঁর কোন জখমের স্থানে লোহা গরম করে দাগ দিয়েছিলেন।

৮. নাকের মধ্যে ঔষধ প্রয়োগ করা সম্পর্কে।

باب فِي السَّعُوطِ

3827

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَعَطَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৮২৭. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নাকের মধ্যে ঔষধ প্রয়োগ করেন।

৯. শয়তানের নামের মন্ত্র পাঠের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে।

باب فِي النُّشْرَةِ

3828

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا عَقِيلُ بْنُ مَعْقِلٍ، قَالَ سَمِعْتُ وَهْبَ بْنَ مُنَبِّهٍ، يُحَدِّثُ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ النُّشْرَةِ فَقَالَ " هُوَ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৮২৮. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে মন্ত্র পাঠ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ এটি শয়তানের কাজ।

১০. বিষের প্রতিষেধক সম্পর্কে।

باب فِي التِّرْيَاقِ

3829

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا شُرَحْبِيلُ بْنُ يَزِيدَ الْمَعَافِرِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَافِعٍ التَّنُوخِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا أُبَالِي مَا أَتَيْتُ إِنْ أَنَا شَرِبْتُ تِرْيَاقًا أَوْ تَعَلَّقْتُ تَمِيمَةً أَوْ قُلْتُ الشِّعْرَ مِنْ قِبَلِ نَفْسِي " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا كَانَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خَاصَّةً وَقَدْ رَخَّصَ فِيهِ قَوْمٌ يَعْنِي التِّرْيَاقَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩৮২৯. উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, যদি আমি বিষের প্রতিষেধক পান করি, কবজ লটকাই এবং নফসের সন্তুষ্টির জন্য কবিতা আবৃত্তি করি, তবুও আমি এর দ্বারা প্রভাবান্বিত হওয়ার আশঙ্কা করি না, অর্থাৎ তিনি এ সব করা পছন্দ করতেন না।

১১. গর্হিত প্রতিষেধক সম্পর্কে।

باب فِي الأَدْوِيَةِ الْمَكْرُوهَةِ

3830

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَادَةَ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ الدَّاءَ وَالدَّوَاءَ وَجَعَلَ لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءً فَتَدَاوَوْا وَلاَ تَدَاوَوْا بِحَرَامٍ " .

Narrator: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

৩৮৩০. মুহাম্মাদ ইবনে উবাদা (রাহঃ) .... আবু দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ মহান আল্লাহ রোগ এবং ঔষধ নাযিল করেছেন। আর তিনি প্রত্যেক রোগের জন্য ঔষধ সৃষ্টি করেছেন। তাই তোমরা ঔষধ ব্যবহার করবে, তবে হারাম জিনিস দিয়ে ঔষধ ব্যবহার করবে না।

3831

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُثْمَانَ، أَنَّ طَبِيبًا، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ ضِفْدَعٍ يَجْعَلُهَا فِي دَوَاءٍ فَنَهَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ قَتْلِهَا .

Narrator: আব্দুর রহমান ইবনে উসমান (রাঃ)

৩৮৩১. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আব্দুর রহমান ইবনে উছমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা জনৈক চিকিৎসক ব্যাঙকে ঔষধের মধ্যে ব্যবহার করা সম্পর্কে নবী (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করেন। তখন নবী (ﷺ) তাকে ব্যাঙ মারতে নিষেধ করেন।

3832

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الدَّوَاءِ الْخَبِيثِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮৩২. হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হারাম জিনিস দিয়ে তৈরী ঔষধ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।

3833

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَسَا سُمًّا فَسُمُّهُ فِي يَدِهِ يَتَحَسَّاهُ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَالِدًا مُخَلَّدًا فِيهَا أَبَدًا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮৩৩. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিষ পান করবে, কিয়ামতের দিন ঐ বিষের পাত্র তাঁর হাতে থাকবে, যা জাহান্নামের আগুনে গরম করা হবে এবং সে তা সেখানে অনাদিকাল পর্যন্ত পান করতে থাকবে।

3834

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، ذَكَرَ طَارِقَ بْنَ سُوَيْدٍ أَوْ سُوَيْدَ بْنَ طَارِقٍ سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْخَمْرِ فَنَهَاهُ ثُمَّ سَأَلَهُ فَنَهَاهُ فَقَالَ لَهُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّهَا دَوَاءٌ . قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ وَلَكِنَّهَا دَاءٌ " .

Narrator: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৩৮৩৪. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... ওয়ইল ইবনে হুজর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা তারিক ইবনে সুত্তায়েদ অথবা সুওয়ায়েদ ইবনে তারিক নবী (ﷺ)কে শরাব পান করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তা পান করতে নিষেধ করেন। তখন তিনি বলেনঃ হে আল্লাহর নবী! এ তো ঔষধ। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ না এ তো ঔষধ নয়, বরং এটি রোগ, অর্থাৎ রোগ সৃষ্টির কারণ।

১২. আজওয়া খেজুর সম্পর্কে।

باب فِي تَمْرَةِ الْعَجْوَةِ

3835

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ سَعْدٍ، قَالَ مَرِضْتُ مَرَضًا أَتَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعُودُنِي فَوَضَعَ يَدَهُ بَيْنَ ثَدْيَىَّ حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَهَا عَلَى فُؤَادِي فَقَالَ " إِنَّكَ رَجُلٌ مَفْئُودٌ ائْتِ الْحَارِثَ بْنَ كَلَدَةَ أَخَا ثَقِيفٍ فَإِنَّهُ رَجْلٌ يَتَطَبَّبُ فَلْيَأْخُذْ سَبْعَ تَمَرَاتٍ مِنْ عَجْوَةِ الْمَدِينَةِ فَلْيَجَأْهُنَّ بِنَوَاهُنَّ ثُمَّ لِيَلُدَّكَ بِهِنَّ " .

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৩৮৩৫. ইসহাক ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমি পীড়িত হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে দেখার জন্য আসেন। এ সময় তিনি তাঁর হাত আমার বুকের উপর রাখলে আমি তাঁর শৈত্যতা আমার হৃদয়ে অনুভব করি। এরপর তিনি বলেনঃ তুমি হার্টের রুগী। কাজেই তুমি ছাকীফ গোত্রের অধিবাসী হারিছা ইবনে কালদার নিকট যাও। কেননা, সে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। আর সে যেন মদীনার আজওয়া খেজুরের সাতটা খেজুর নিয়ে, তা বীচিসহ চূর্ণ করে তোমার জন্য তা দিয়ে সাতটি বড়ি তৈরী করে দেয়।

3836

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ هَاشِمٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ تَصَبَّحَ سَبْعَ تَمَرَاتِ عَجْوَةٍ لَمْ يَضُرُّهُ ذَلِكَ الْيَوْمَ سَمٌّ وَلاَ سِحْرٌ " .

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৩৮৩৬. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন দিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর দিয়ে নাশতা করবে, সেদিন তাঁর উপর বিষ এবং যাদু কোন কাজ করবে না।

১৩. আঙ্গুল দিয়ে গলা দাবানো সম্পর্কে।

باب فِي الْعِلاَقِ

3837

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَحَامِدُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أُمِّ قَيْسٍ بِنْتِ مِحْصَنٍ، قَالَتْ دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِابْنٍ لِي قَدْ أَعْلَقْتُ عَلَيْهِ مِنَ الْعُذْرَةِ فَقَالَ " عَلاَمَ تَدْغَرْنَ أَوْلاَدَكُنَّ بِهَذَا الْعِلاَقِ عَلَيْكُنَّ بِهَذَا الْعُودِ الْهِنْدِيِّ فَإِنَّ فِيهِ سَبْعَةَ أَشْفِيَةٍ مِنْهَا ذَاتُ الْجَنْبِ يُسْعَطُ مِنَ الْعُذْرَةِ وَيُلَدُّ مِنْ ذَاتِ الْجَنْبِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ يَعْنِي بِالْعُودِ الْقُسْطَ .

Narrator: উম্মে কায়স বিনতে মিহসান (রাঃ)

৩৮৩৭. মুসাদ্দাদ ও হামিদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... উম্মু কায়স বিনতে মিহসান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আমার এক ছেলেকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট হাযির হই; যার গলা (অসুখের কারণে) আমি মালিশ করেছিলাম। তখন তিনি বলেনঃ তোমরা তোমাদের সন্তানদের গলার আসুখে কেন তাদের গলা মালিশ কর? বরং তোমাদের উচিত (এ রোগের জন্য) হিন্দুস্থানের চন্দনকাঠ ব্যবহার করা। কেননা, তাতে সাত ধরনের রোগ ভাল হয়, যার একটি হলো নিউমোনিয়া। গলা-ফুলা রোগে তা নাকের ছিদ্রে ব্যবহার করবে এবং নিউমোনিয়া হলে তা বড়ি বানিয়ে খাবে।

১৪. সুরমা ব্যবহার সম্পর্কে।

باب فِي الأَمْرِ بِالْكُحْلِ

3838

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْبَسُوا مِنْ ثِيَابِكُمُ الْبَيَاضَ فَإِنَّهَا مِنْ خَيْرِ ثِيَابِكُمْ وَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ وَإِنَّ خَيْرَ أَكْحَالِكُمُ الإِثْمِدُ يَجْلُو الْبَصَرَ وَيُنْبِتُ الشَّعْرَ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৮৩৮. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করবে। কেননা, তা তোমাদের জন্য উত্তম। আর তোমরা সাদা কাপড় দিয়ে মৃতদের দাফন করবে এবং তোমাদের জন্য উত্তম সুরমা হলো ইছমাদ। এতে চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং পলকের পশম উৎপন্ন করে।

১৫. বদ নজর সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي الْعَيْنِ

3839

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْعَيْنُ حَقٌّ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮৩৯. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বদ-নজর লাগা একটি সত্য ব্যাপার।

3840

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ كَانَ يُؤْمَرُ الْعَائِنُ فَيَتَوَضَّأُ ثُمَّ يَغْتَسِلُ مِنْهُ الْمَعِينُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৮৪০. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তির বদ-নজর অন্যের উপর লাগতো, তাকে উযু করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হতো। এরপর ঐ পানি দিয়ে তাকে গোসল করানো হতো, যার উপর বদ-নজর লাগতো।

১৬. শিশুর দুধ পানের সময় স্ত্রীর সাথে সঙ্গম না করা সম্পর্কে।

باب فِي الْغَيْلِ

3841

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ بْنِ السَّكَنِ، قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ تَقْتُلُوا أَوْلاَدَكُمْ سِرًّا فَإِنَّ الْغَيْلَ يُدْرِكُ الْفَارِسَ فَيُدَعْثِرُهُ عَنْ فَرَسِهِ " .

Narrator: আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রাঃ)

৩৮৪১. আবু তাওবা (রাহঃ) .... আসমা বিনতে ইয়াযীদ ইবনে সাকান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা তোমাদের সন্তানদের গোপনভাবে হত্যা করো না। কেননা, শিশুদের দুধ পান কালীন সময় স্ত্রীদের সাথে সঙ্গম করলে তারা দুর্বল হয়ে যায়। পরে যখন তারা (বড় হয়ে) ঘোড়ায় চড়ে, তখন তারা ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে যায়।

3842

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنْ جُدَامَةَ الأَسَدِيَّةِ أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَنْهَى عَنِ الْغَيْلَةِ حَتَّى ذُكِّرْتُ أَنَّ الرُّومَ وَفَارِسَ يَفْعَلُونَ ذَلِكَ فَلاَ يَضُرُّ أَوْلاَدَهُمْ " . قَالَ مَالِكٌ الْغَيْلَةُ أَنْ يَمَسَّ الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ وَهِيَ تُرْضِعُ .

Narrator: জুদামা বিনতে ওয়াহব আসাদিয়া (রাঃ)

৩৮৪২. আল-কা’নবী (রাহঃ) .... জুদামা আসদীয় (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এরূপ বলতে শুনেছেনঃ আমি ইচ্ছা করেছিলাম যে, শিশুদের দুধ পানের সময় স্ত্রীদের সাথে সঙ্গম করতে নিষেধ করে দেব। কিন্তু আমি জানতে পেরেছি যে, রোম ও পারস্যের লোকেরা এরূপ করে থাকে এবং এতে তাদের সন্তানদের কোন ক্ষতি হয় না।

ইমাম মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ‘গীলা’ বলা হয় শিশুর দুধ পান কালীন সময়ে স্ত্রীর সাথে সহবাস করা।

১৭. গলায় তাবিজ ব্যবহার সম্পর্কে।

باب فِي تَعْلِيقِ التَّمَائِمِ

3843

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْجَزَّارِ، عَنِ ابْنِ أَخِي، زَيْنَبَ امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ زَيْنَبَ، امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ " . قَالَتْ قُلْتُ لِمَ تَقُولُ هَذَا وَاللَّهِ لَقَدْ كَانَتْ عَيْنِي تَقْذِفُ وَكُنْتُ أَخْتَلِفُ إِلَى فُلاَنٍ الْيَهُودِيِّ يَرْقِينِي فَإِذَا رَقَانِي سَكَنَتْ . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ إِنَّمَا ذَاكِ عَمَلُ الشَّيْطَانِ كَانَ يَنْخَسُهَا بِيَدِهِ فَإِذَا رَقَاهَا كَفَّ عَنْهَا إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكِ أَنْ تَقُولِي كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩৮৪৩. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ মন্ত্র, তাবিজ ও তাওলা* করা শিরক। একথা শুনে যয়নাব (রাযিঃ) বলেনঃ তুমি এ কি বলছ, আল্লাহর শপথ! আমার চোখে ব্যথা হলে আমি একজন ইয়াহুদীর কাছে যেতাম, যে মন্ত্র পাঠের পর আমার চোখে ফুঁ দিলে ব্যথার উপশম হতো।

তখন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেনঃ এতো শয়তানের অপকর্ম ছিল, যে তার হাত দিয়ে চোখে ব্যথা দিত। আর যখন ঐ ইয়াহুদী তাতে ফুঁ দিত, তখন সে বিরত থাকতো। তোমার জন্য তা-ই পাঠ করা উচিত ছিল, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঠ করতেন। আর তা হলোঃ হে মানব জাতির রব! যন্ত্রণা দূর করে দিন, আরোগ্য দান করুন, আপনিই আরোগ্যদাতা, আপনার দেয়া নিরাময়ই যথার্থ নিরাময়, যার পরে আর কোন রোগ বাকী থাকে না।

* তাওলা এক প্রকার যাদু, যা দিয়ে বেগানা স্ত্রী-পুরুষের মধ্যে অবৈধ প্রেম সৃষ্টি করা হয়। নিঃসন্দেহে এটি হারাম কাজ।
3844

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ رُقْيَةَ إِلاَّ مِنْ عَيْنٍ أَوْ حُمَةٍ " .

Narrator: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৩৮৪৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ঝাড়- ফুঁক তো কেবল বদ-নজর এবং বিষাক্ত জীবের (বিষ নষ্ট করার) জন্য।

১৮. ঝাঁড়-ফুক সম্পর্কে।

باب فِي الرُّقَى

3845

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، وَابْنُ السَّرْحِ، - قَالَ أَحْمَدُ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، وَقَالَ ابْنُ السَّرْحِ، - أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مُحَمَّدٍ، - وَقَالَ ابْنُ صَالِحٍ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ ثَابِتِ بْنِ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ - قَالَ أَحْمَدُ - وَهُوَ مَرِيضٌ فَقَالَ " اكْشِفِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ " . عَنْ ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ ثُمَّ أَخَذَ تُرَابًا مِنْ بَطْحَانَ فَجَعَلَهُ فِي قَدَحٍ ثُمَّ نَفَثَ عَلَيْهِ بِمَاءٍ وَصَبَّهُ عَلَيْهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ ابْنُ السَّرْحِ يُوسُفُ بْنُ مُحَمَّدٍ وَهُوَ الصَّوَابُ .

Narrator: বিবিধ

৩৮৪৫. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... ছাবিত ইবনে কায়স ইবনে শামমাস (রাযিঃ) তাঁর পিতা ও দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার তার আসুখের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কাছে যান এবং এরূপ দুআ করেনঃ হে মানুষের রব! আপনি ছাবিত ইবনে কায়সকে রোগমুক্ত করুন। এরপর তিনি বাতহান প্রান্তর থেকে এক মুঠ মাটি নিয়ে তা একটি পাত্রে রাখেন এবং পানিতে ফুঁ দিয়ে ঐ পাত্রে তা ঢেলে দেন। পরে সে পানি তার সমস্ত শরীরে ছিটিয়ে দেওয়া হয়।

3846

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مُعَاوِيَةُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا نَرْقِي فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَرَى فِي ذَلِكَ فَقَالَ " اعْرِضُوا عَلَىَّ رُقَاكُمْ لاَ بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ تَكُنْ شِرْكًا " .

Narrator: আউফ ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৮৪৬. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... আওফ ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা জাহিলী যুগে ঝাড়-ফুঁক করতাম। তখন আমরা বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি একে কিরূপ মনে করেন। তখন তিনি বলেনঃ তোমরা তা আমার সামনে পেশ কর। কেননা যখন মন্ত্রের মধ্যে শিরকের কিছু থাকবে না, তখন তা করাতে কোন ক্ষতি নেই।

3847

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَهْدِيٍّ الْمِصِّيصِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، عَنِ الشِّفَاءِ بِنْتِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا عِنْدَ حَفْصَةَ فَقَالَ لِي " أَلاَ تُعَلِّمِينَ هَذِهِ رُقْيَةَ النَّمْلَةِ كَمَا عَلَّمْتِيهَا الْكِتَابَةَ " .

Narrator: শিফা বিনতে আব্দুল্লাহ (রাঃ)

৩৮৪৭. ইবরাহীম ইবনে মাহদী (রাহঃ) .... শিফা বিনতে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) আমার নিকট আসেন, যখন আমি হাফসা (রাযিঃ)-এর নিকট ছিলাম। তখন তিনি আমাকে বলেনঃ তুমি তাকে কেন নামলা (এক প্রকার রোগ সারার মন্ত্র) শিখাও না, যেমন তুমি তাকে লেখা শিখিয়েছ?

3848

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَتْنِي جَدَّتِي الرَّبَابُ، قَالَتْ سَمِعْتُ سَهْلَ بْنَ حُنَيْفٍ، يَقُولُ مَرَرْنَا بِسَيْلٍ فَدَخَلْتُ فَاغْتَسَلْتُ فِيهِ فَخَرَجْتُ مَحْمُومًا فَنُمِيَ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مُرُوا أَبَا ثَابِتٍ يَتَعَوَّذْ " . قَالَتْ فَقُلْتُ يَا سَيِّدِي وَالرُّقَى صَالِحَةٌ فَقَالَ " لاَ رُقْيَةَ إِلاَّ فِي نَفْسٍ أَوْ حُمَةٍ أَوْ لَدْغَةٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْحُمَةُ مِنَ الْحَيَّاتِ وَمَا يَلْسَعُ .

Narrator: হযরত সাহল ইবনে হুনায়ফ রাযি.

৩৮৪৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... সাহল ইবনে হুনায়ফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার আমি এক নদী অতিক্রমকালে তাতে গোসল করি। গোসলের পর জ্বরভাব দেখা দেয়। এ খবর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বলেনঃ তোমরা আবু ছাবিতকে শয়তান হতে (আল্লাহর নিকট) পানাহ চেয়ে বল। সে বলে, তখন আমি বলিঃ হে আমার নেতা! মন্ত্র কি উপকারী? তিনি বলেনঃ মন্ত্র তো কেবল বদ-নজর, সাপের দংশন ও বিচ্ছুর কামড়ের জন্য।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ হুমা হল এক প্রকারের বিষধর সাপ এবং তার দংশন।
3849

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، ح وَحَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ ذَرِيحٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، - قَالَ الْعَبَّاسُ - عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ رُقْيَةَ إِلاَّ مِنْ عَيْنٍ أَوْ حُمَةٍ أَوْ دَمٍ يَرْقَأُ " . لَمْ يَذْكُرِ الْعَبَّاسُ الْعَيْنَ وَهَذَا لَفْظُ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৮৪৯. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মন্ত্র তো কেবল বদ-নজর বিষধর জন্তুর দংশন ও রক্ত প্রবাহের জন্য উপকারী।

১৯. ঝাড়-ফুকের দুআ সম্পর্কে।

باب كَيْفَ الرُّقَى

3850

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، قَالَ قَالَ أَنَسٌ - يَعْنِي - لِثَابِتٍ أَلاَ أَرْقِيكَ بِرُقْيَةِ رَسُولِ اللَّهِ قَالَ بَلَى . قَالَ فَقَالَ " اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ مُذْهِبَ الْبَاسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لاَ شَافِيَ إِلاَّ أَنْتَ اشْفِهِ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৮৫০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) একদা ছাবিত (রাযিঃ)-কে বলেনঃ আমি কি তোমার কাছে ঐ দুআটি পাঠ করবো না, যা পাঠ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রোগীদের উপর দম করতেন? তিনি বলেনঃ আবশ্যই। তখন আনাস (রাযিঃ) নিম্নক্ত দুআটি পাঠ করেনঃ

اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ مُذْهِبَ الْبَاسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لاَ شَافِيَ إِلاَّ أَنْتَ اشْفِهِ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا

অর্থাৎ, হে আল্লাহ, মানুষের রব! যন্ত্রণা দূরকারী! রোগমুক্তি দিন, রোগমুক্তির মালিক একমাত্র আপনিই। এমন রোগমুক্তি দিন যাতে কোন রোগই অবশিষ্ট না থাকে।
3851

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُصَيْفَةَ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ السُّلَمِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرٍ أَخْبَرَهُ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ، أَنَّهُ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ عُثْمَانُ وَبِي وَجَعٌ قَدْ كَادَ يُهْلِكُنِي قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " امْسَحْهُ بِيَمِينِكَ سَبْعَ مَرَّاتٍ وَقُلْ أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ " . قَالَ فَفَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَذْهَبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مَا كَانَ بِي فَلَمْ أَزَلْ آمُرُ بِهِ أَهْلِي وَغَيْرَهُمْ .

Narrator: উসমান ইবনে আবুল আস ছাকাফী (রাঃ)

৩৮৫১. আব্দুল্লাহ কা’নবী (রাহঃ) .... উছমান ইবনে আবুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে তার পেটের ব্যথার কথা বলেন। উছমান (রাযিঃ) বলেনঃ ব্যথায় আমাকে অস্থির করে তুলেছে। রাবী বলেনঃ তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি তোমার ব্যথার স্থানকে ডান হাত দিয়ে সাতবার মাসাহ কর এবং বলঃ আউযু বি-ইযযাতিল্লাহি ওয়া কুদরাতিহি মিন শাররিমা- আজিদু।

রাবী উছমান (রাযিঃ) বলেনঃ আমি এ রূপ করার সাথে সাথেই আল্লাহ আমার কষ্ট দূর করে দেন। এরপর থেকে আমি আমার পরিবার-পরিজন ও অন্যান্যদেরকে এরূপ করার নির্দেশ দেই।
3852

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ زِيَادِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ، عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنِ اشْتَكَى مِنْكُمْ شَيْئًا أَوِ اشْتَكَاهُ أَخٌ لَهُ فَلْيَقُلْ رَبُّنَا اللَّهُ الَّذِي فِي السَّمَاءِ تَقَدَّسَ اسْمُكَ أَمْرُكَ فِي السَّمَاءِ وَالأَرْضِ كَمَا رَحْمَتُكَ فِي السَّمَاءِ فَاجْعَلْ رَحْمَتَكَ فِي الأَرْضِ اغْفِرْ لَنَا حُوبَنَا وَخَطَايَانَا أَنْتَ رَبُّ الطَّيِّبِينَ أَنْزِلْ رَحْمَةً مِنْ رَحْمَتِكَ وَشِفَاءً مِنْ شِفَائِكَ عَلَى هَذَا الْوَجَعِ فَيَبْرَأُ " .

Narrator: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

৩৮৫২. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... আবু দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কেউ যদি পীড়িত হয়, অথবা তোমাদের কোন ভাই অসুখের কথা বলে, তবে বলবে: “রাব্বুনাল্লাহু আল্লাজী ফিস সামায়ে তাকাদ্দাসা ইসমুকা, আমরুকা ফিস সামায়ে ওয়াল আরদে, কামা রাহমাতুকা ফিস সামায়ে, ফাজআল রাহমাতাকা ফিল আরদে ইগফির লানা হুবানা ওয়া খাতায়ানা আনতা রাব্বুত-তায়্যিবীন, আনযিল রাহমাতাম মিন রাহমাতিকা ওয়া শিফায়ান মিন শিফায়েকা আলা হাজাল ওয়াজা’ই।″ ফায়াবরাউ অর্থাৎ সে অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যাবে।

3853

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُعَلِّمُهُمْ مِنَ الْفَزَعِ كَلِمَاتٍ " أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ " . وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو يُعَلِّمُهُنَّ مَنْ عَقَلَ مِنْ بَنِيهِ وَمَنْ لَمْ يَعْقِلْ كَتَبَهُ فَأَعْلَقَهُ عَلَيْهِ .

Narrator: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

৩৮৫৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আমর ইবনে শুআয়েব (রাহঃ) তার পিতা ও দাদা থেকে বর্ণিত করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের বিপদের সময় এ দুআ পড়তে বলতেনঃ আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতে মিন গাযাবিহি ওয়া শাররি ইবাহিদি ওয়া মিন হামাযাতিশ শায়াতিনে ওয়া আই- ইয়াহ দুরূনী।

আর আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) তার বয়স্ক ছেলে মেয়েদের এ দুআ শিখিয়ে দিতেন এবং ছোট বাচ্চাদের গলায় তাবিজ বানিয়ে ঝুলিয়ে দিতেন।
3854

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُرَيْجٍ الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدٍ، قَالَ رَأَيْتُ أَثَرَ ضَرْبَةٍ فِي سَاقِ سَلَمَةَ فَقُلْتُ مَا هَذِهِ قَالَ أَصَابَتْنِي يَوْمَ خَيْبَرَ فَقَالَ النَّاسُ أُصِيبَ سَلَمَةُ فَأُتِيَ بِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَفَثَ فِيَّ ثَلاَثَ نَفَثَاتٍ فَمَا اشْتَكَيْتُهَا حَتَّى السَّاعَةِ .

Narrator: ইয়াযীদ ইবনে আবু উবায়দ (রহঃ)

৩৮৫৪. আহমদ ইবনে আবু সূরায়হ (রাহঃ) .... ইয়াযীদ ইবনে আবু উবাইদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সালামার পায়ের গোছায় একটি মারাত্মক ক্ষতচিহ্ন দেখে তার কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ এটি খায়বরের যুদ্ধের আঘাতের চিহ্ন, যা দেখে লোকেরা বলাবলি করছিল যে, সালামার জীবনের আশা খুবই কম। এরপর আমাকে নবী (ﷺ) এর নিকট হাযির করা হয়। তিনি তিন বার কিছু পড়ে এতে ফুঁ দেন। যারফলে, আমি এতে আজ পর্যন্ত আর কোন ব্যথা অনুভব করিনি।

3855

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ - عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِلإِنْسَانِ إِذَا اشْتَكَى يَقُولُ بِرِيقِهِ ثُمَّ قَالَ بِهِ فِي التُّرَابِ " تُرْبَةُ أَرْضِنَا بِرِيقَةِ بَعْضِنَا يُشْفَى سَقِيمُنَا بِإِذْنِ رَبِّنَا " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৮৫৫. যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন কোন অসুস্থ ব্যক্তি নবী (ﷺ) নিকট হাযির হয়ে কোন অসুখের কথা বলতো, তখন তিনি নিজের থুথু নিয়ে তাতে মাটি লাগিয়ে বলতেনঃ (تُرْبَةُ أَرْضِنَا بِرِيقَةِ بَعْضِنَا يُشْفَى سَقِيمُنَا بِإِذْنِ رَبِّنَا)।

3856

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ زَكَرِيَّا، قَالَ حَدَّثَنِي عَامِرٌ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ الصَّلْتِ التَّمِيمِيِّ، عَنْ عَمِّهِ، أَنَّهُ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَسْلَمَ ثُمَّ أَقْبَلَ رَاجِعًا مِنْ عِنْدِهِ فَمَرَّ عَلَى قَوْمٍ عِنْدَهُمْ رَجُلٌ مَجْنُونٌ مُوثَقٌ بِالْحَدِيدِ فَقَالَ أَهْلُهُ إِنَّا حُدِّثْنَا أَنَّ صَاحِبَكُمْ هَذَا قَدْ جَاءَ بِخَيْرٍ فَهَلْ عِنْدَكَ شَىْءٌ تُدَاوِيهِ فَرَقَيْتُهُ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَبَرَأَ فَأَعْطُونِي مِائَةَ شَاةٍ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ " هَلْ إِلاَّ هَذَا " . وَقَالَ مُسَدَّدٌ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ " هَلْ قُلْتَ غَيْرَ هَذَا " . قُلْتُ لاَ . قَالَ " خُذْهَا فَلَعَمْرِي لَمَنْ أَكَلَ بِرُقْيَةِ بَاطِلٍ لَقَدْ أَكَلْتَ بِرُقْيَةِ حَقٍّ " .

Narrator: খারিজা ইবনুস সালত (রহঃ) -তার চাচা (রাঃ) থেকে-

৩৮৫৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... খারিজা ইবনে সালত তামীমী (রাযিঃ) তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট হাযির হয়ে ইসলাম কবুল করেন। তিনি সেখান থেকে ফেরার সময় এমন এক কওমের নিকট উপস্থিত হন, যেখানে একটি পাগল শিকলে বাঁধা ছিল। তখন তার স্বজনরা তাকে বলেঃ আমরা শুনেছি তোমাদের এক সাথী (নবী (ﷺ)) অনেক ভাল জিনিস নিয়ে এসেছেন; তোমার কাছে এর কিছু আছে কি, যা দিয়ে তুমি এর চিকিৎসা করতে পার? তখন আমি সূরা ফাতিহা পড়ে দম করায় সে ভাল হয়ে যায়। তখন তারা সন্তুষ্ট হয়ে আমাকে একশত বকরী প্রদান করে।

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ ঘটনা বর্ণনা করি। তখন তিনি বলেন, তুমি কি এ সূরাই পড়েছিলে? রাবী মুসাদাদ্দ (রাহঃ) অন্যখানে বর্ণনা করেন, নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি এ সূরা ব্যতীত অন্য কিছু পড়েছিলে? আমি বলিঃ না। তখন তিনি তাঁর জীবনের শপথ দিয়ে বলেনঃ তুমি ইহা গ্রহণ কর, লোকেরা তো মিথ্যা মন্ত্র পাঠ করে রুজী রোজগার করে খায়, আর তুমি তো সত্য দুআ পাঠ করে খাচ্ছ।
3857

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَجُلاً، مِنْ أَسْلَمَ قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لُدِغْتُ اللَّيْلَةَ فَلَمْ أَنَمْ حَتَّى أَصْبَحْتُ . قَالَ " مَاذَا " . قَالَ عَقْرَبٌ . قَالَ " أَمَا إِنَّكَ لَوْ قُلْتَ حِينَ أَمْسَيْتَ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ تَضُرَّكَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ " .

Narrator: সুহায়ল ইবনে আবু সালিহ (রহঃ)

৩৮৫৭. আহমদ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) .... সুহাঈল ইবনে আবু সালিহ (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমি আসলাম গোত্রে এক ব্যক্তিকে এরূপ বলতে শুনেছি যে, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিকট বসেছিলাম। তখন তাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাতে আমাকে কিছুতে দংশন করেছিল, ফলে আমি সারা রাত ঘুমাতে পরিনি। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ উহা কি ছিল? সাহাবী বলেনঃ বিচ্ছু। তখন তিনি (নবী (ﷺ)) বলেনঃ যদি তুমি সন্ধ্যার সময় এটি পাঠ করতে, তবে আল্লাহ চাইলে কোন কিছু তোমার ক্ষতি করতে পারতো না। দুআটি হলোঃ আউযু বি-কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা-খালাকা।’’

3858

حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنِي الزُّبَيْدِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ طَارِقٍ، - يَعْنِي ابْنَ مُخَاشِنٍ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِلَدِيغٍ لَدَغَتْهُ عَقْرَبٌ قَالَ فَقَالَ " لَوْ قَالَ أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ يُلْدَغْ " . أَوْ " لَمْ تَضُرَّهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮৫৮. হাইওয়া ইবনে শুরায়হ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) এর নিকট এমন এক ব্যক্তিকে আনা হল, যাকে বিচ্ছু দংশন করেছিল। তখন তিনি বলেন, যদি সে এ দুআটি পাঠ করতো, তবে তাকে দংশন করতো না বা ক্ষতি করতো না। দুআটি হলোঃ আউযু বি-কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা-খালাকা।’’

3859

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَهْطًا، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم انْطَلَقُوا فِي سَفْرَةٍ سَافَرُوهَا فَنَزَلُوا بِحَىٍّ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّ سَيِّدَنَا لُدِغَ فَهَلْ عِنْدَ أَحَدٍ مِنْكُمْ شَىْءٌ يَنْفَعُ صَاحِبَنَا فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ نَعَمْ وَاللَّهِ إِنِّي لأَرْقِي وَلَكِنِ اسْتَضَفْنَاكُمْ فَأَبَيْتُمْ أَنْ تُضَيِّفُونَا مَا أَنَا بِرَاقٍ حَتَّى تَجْعَلُوا لِي جُعْلاً . فَجَعَلُوا لَهُ قَطِيعًا مِنَ الشَّاءِ فَأَتَاهُ فَقَرَأَ عَلَيْهِ أُمَّ الْكِتَابِ وَيَتْفُلُ حَتَّى بَرَأَ كَأَنَّمَا أُنْشِطَ مِنْ عِقَالٍ . قَالَ فَأَوْفَاهُمْ جُعْلَهُمُ الَّذِي صَالَحُوهُمْ عَلَيْهِ فَقَالُوا اقْتَسِمُوا . فَقَالَ الَّذِي رَقَى لاَ تَفْعَلُوا حَتَّى نَأْتِيَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَسْتَأْمِرَهُ . فَغَدَوْا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرُوا لَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مِنْ أَيْنَ عَلِمْتُمْ أَنَّهَا رُقْيَةٌ أَحْسَنْتُمُ اقْتَسِمُوا وَاضْرِبُوا لِي مَعَكُمْ بِسَهْمٍ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৩৮৫৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু সাইদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী (ﷺ) এর একদল সাহাবী সফরে গমনকালে আরবের এক সম্প্রদায়ের নিকট অবস্থান করেন। তখন সে সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি বলেঃ আমাদের নেতাকে একটি বিষাক্ত জন্তুতে দংশন করেছে, তোমাদের মধ্যে কারো কাছে এমন কিছু আছে কি? যা আমাদের নেতার উপকারে আসে। তখন সাহাবীগণের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলেনঃ হ্যাঁ আল্লাহর শপথ! আমি ঝাঁড়-ফুক করে থাকি। কিন্তু ব্যাপার হলো, আমরা তোমাদের মেহমান হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তোমরা তাতে রাযী হওনি। কাজেই, আমি ততক্ষণ ঝাঁড়-ফুক করবো না, যতক্ষণ না তোমরা আমার এ কাজের জন্য পারিশ্রমিক নির্ধারণ করবে। তখন তারা তাঁকে একপাল বকরী প্রদানের অঙ্গীকার করে।

তখন তিনি সে ব্যক্তির কাছে উপস্থিত হয়ে সূরা ফাতিহা পাঠ করেন এবং দংশিত স্থানে থুথু দেন। ফলে, সে ব্যক্তি এমনই সুস্থ হয়ে উঠে, যেন সে বন্ধন মুক্ত হয়ে যায়। রাবী বলেনঃ তখন তারা যে বিনিময় নির্ধারণ করেছিল, তা আদায় করে দেয়। এ সময় সাহাবীগণ পরস্পর বলেনঃ এগুলো ভাগ-বণ্টন করে নিন। তখন ঝাঁড়-ফুককারী সাহাবী বলেনঃ এখন বণ্টন করবেন না, যতক্ষণ না আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তার নিকট জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ তোমরা ঐ সূরা দিয়ে ঝাঁড়-ফুক করার উপকারিতা কিরূপ জানলে? তোমরা খুবই ভাল কাজ করেছ। তোমরা বণ্টন নেও এবং তোমাদের সাথে আমার জন্যও এক ভাগ রেখে দাও।
3860

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي السَّفَرِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ الصَّلْتِ التَّمِيمِيِّ، عَنْ عَمِّهِ، قَالَ أَقْبَلْنَا مِنْ عِنْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَيْنَا عَلَى حَىٍّ مِنَ الْعَرَبِ فَقَالُوا إِنَّا أُنْبِئْنَا أَنَّكُمْ جِئْتُمْ مِنْ عِنْدِ هَذَا الرَّجُلِ بِخَيْرٍ فَهَلْ عِنْدَكُمْ مِنْ دَوَاءٍ أَوْ رُقْيَةٍ فَإِنَّ عِنْدَنَا مَعْتُوهًا فِي الْقُيُودِ قَالَ فَقُلْنَا نَعَمْ . قَالَ فَجَاءُوا بِمَعْتُوهٍ فِي الْقُيُودِ - قَالَ - فَقَرَأْتُ عَلَيْهِ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ غُدْوَةً وَعَشِيَّةً كُلَّمَا خَتَمْتُهَا أَجْمَعُ بُزَاقِي ثُمَّ أَتْفُلُ فَكَأَنَّمَا نُشِطَ مِنْ عِقَالٍ قَالَ فَأَعْطَوْنِي جُعْلاً فَقُلْتُ لاَ حَتَّى أَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " كُلْ فَلَعَمْرِي مَنْ أَكَلَ بِرُقْيَةِ بَاطِلٍ لَقَدْ أَكَلْتَ بِرُقْيَةِ حَقٍّ " .

Narrator: খারিজা ইবনুস সালত (রহঃ) -তার চাচা (রাঃ) থেকে-

৩৮৬০. উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) .... খারিজা ইবনে সালত তামিমী (রাহঃ) তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট হতে বিদায় নেয়ার পর আরবের একটি সম্প্রদায়ের নিকট উপস্থিত হই। তারা বলেঃ আমরা শুনেছি, তোমরা ঐ ব্যক্তির (নবী (ﷺ)) থেকে উত্তম কিছু নিয়ে এসেছ। তোমাদের কাছে কোন ঔষধ-পত্র বা দুআর ব্যবস্থা আছে কি? কেননা, আমাদের কাছে শিকলে বাঁধা অবস্থায় একজন পাগল আছে। রাবী বলেন, আমরা বললাম হ্যাঁ।

রাবী বলেনঃ তখন তারা সে শৃঙ্খলিত পাগল ব্যক্তিকে নিয়ে আসে। রাবী বলেনঃ আমি তিন দিন সকাল-সন্ধ্যা সূরা ফাতিহা পড়ে, মুখে থুথু জমা করে, তার প্রতি নিক্ষেপ করি। রাবী বলেনঃ ফলে সে এমন সুস্থ হয়ে যায়, যেন সে বন্ধন মুক্ত হয়। রাবী বলেনঃ তারা আমাকে এর বিনিময় প্রদান করে। তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলেন, তুমি তা গ্রহণ কর এবং খাও। আমার জীবনের শপথ! লোকেরা তো মিথ্যা মন্ত্র-তন্ত্র পড়ে বিনিময় গ্রহণ করে খায়, আর তুমি তো সত্য দুআ পড়ে তার বিনিময় গ্রহণ করে খাচ্ছ।
3861

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي السَّفَرِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ الصَّلْتِ، عَنْ عَمِّهِ، أَنَّهُ مَرَّ - قَالَ - فَرَقَاهُ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ غُدْوَةً وَعَشِيَّةً كُلَّمَا خَتَمَهَا جَمَعَ بُزَاقَهُ ثُمَّ تَفَلَ فَكَأَنَّمَا أُنْشِطَ مِنْ عِقَالٍ فَأَعْطَوْهُ شَيْئًا فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ ذَكَرَ مَعْنَى حَدِيثِ مُسَدَّدٍ .

Narrator: খারিজা ইবনুস সালত (রহঃ) -তার চাচা (রাঃ) থেকে-

৩৮৬১. উবাইদুল্লাহ ইবনে মু’আয (রাহঃ) .... খারিজা ইবনে সালত (রাযিঃ) তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ তিনি তার (পাগলের) উপর তিন-দিন সকাল-সন্ধ্যা সূরা ফাতিহা পাঠ করেন এবং প্রতিবার তা পাঠের পর মুখের সঞ্চিত থুথু তার উপর নিক্ষেপ করেন। ফলে, সে ভাল হয়ে যায়, অর্থাৎ বন্ধন মুক্ত হয়ে যায়। তখন তারা তাকে বকরী প্রদান করে। এরপর তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। পরে রাবী মুসাদ্দাদ (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিনা করেন।

3862

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا اشْتَكَى يَقْرَأُ فِي نَفْسِهِ بِالْمُعَوِّذَاتِ وَيَنْفُثُ فَلَمَّا اشْتَدَّ وَجَعُهُ كُنْتُ أَقْرَأُ عَلَيْهِ وَأَمْسَحُ عَلَيْهِ بِيَدِهِ رَجَاءَ بَرَكَتِهَا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৮৬২. কা’নবী .... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখনই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অসুস্থ হয়ে পড়তেন। তখনই তিনি সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করে স্বীয় শরীর মুবারক দম করতেন। এরপর যখন তাঁর অসুখ খুবই বৃদ্ধি পায়, তখন আমি তা পাঠ করে, তাঁর হাত দিয়ে তাঁর শরীর বরকতের উদ্দেশ্যে মাসাহ করে দিতাম।

২০. মোটা হওয়া সম্পর্কে।

باب فِي السُّمْنَةِ

3863

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا نُوحُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ سَيَّارٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ أَرَادَتْ أُمِّي أَنْ تُسَمِّنِّي لِدُخُولِي عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ أَقْبَلْ عَلَيْهَا بِشَىْءٍ مِمَّا تُرِيدُ حَتَّى أَطْعَمَتْنِي الْقِثَّاءَ بِالرُّطَبِ فَسَمِنْتُ عَلَيْهِ كَأَحْسَنِ السِّمَنِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৩৮৬৩. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার মা আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গৃহে পাঠানোর উদ্ধেশ্যে, তাড়াতাড়ি মোটা করে তোলার ইচ্ছা করেন। এ জন্য তিনি অনেক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। পরে তিনি আমাকে তাজা খেজুরের সাথে শশা খাওয়াতে থাকলে আমি দ্রুত হৃষ্ট-পুষ্ট হয়ে উঠি।

২১. গণক সম্পর্কে।

باب فِي الْكَاهِنِ

3864

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ حَكِيمٍ الأَثْرَمِ، عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَتَى كَاهِنًا " . قَالَ مُوسَى فِي حَدِيثِهِ " فَصَدَّقَهُ بِمَا يَقُولُ " . ثُمَّ اتَّفَقَا " أَوْ أَتَى امْرَأَةً " . قَالَ مُسَدَّدٌ " امْرَأَتَهُ حَائِضًا أَوْ أَتَى امْرَأَةً " . قَالَ مُسَدَّدٌ " امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا فَقَدْ بَرِئَ مِمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى مُحَمَّدٍ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮৬৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকট যায়; রাবী মুসা বলেনঃ আর সে ব্যক্তি তার কথায় বিশ্বাস করে; অথবা সে তাঁর স্ত্রীর নিকট গমন করে। রাবী মুসাদ্দাদ (রাহঃ) বলেনঃ অথবা সে তার স্ত্রীর পশ্চাদদ্বারে সঙ্গম করে; সে যেন আল্লাহ তাআলা কর্তৃক মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর নাযিলকৃত দীন হতে মুক্ত (অর্থাৎ গুমরাহ) হলো।

২২. জ্যোর্তিবিজ্ঞান সম্পর্কে।

باب فِي النُّجُومِ

3865

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُسَدَّدٌ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الأَخْنَسِ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنِ اقْتَبَسَ عِلْمًا مِنَ النُّجُومِ اقْتَبَسَ شُعْبَةً مِنَ السِّحْرِ زَادَ مَا زَادَ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৮৬৫. আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি জ্যোর্তিবিজ্ঞান সম্পর্কে কিছু জ্ঞান লাভ করে, সে যেন যাদু বিদ্যার কিছু শিক্ষা লাভ করে। আর সে ব্যক্তি তা যত বেশী চর্চা করবে, ততই তার যাদু বিদ্যার চর্চা হবে।

3866

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّهُ قَالَ صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الصُّبْحِ بِالْحُدَيْبِيَةِ فِي إِثْرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ " هَلْ تَدْرُونَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ " . قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ " قَالَ أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ فَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِي كَافِرٌ بِالْكَوْكَبِ وَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا فَذَلِكَ كَافِرٌ بِي مُؤْمِنٌ بِالْكَوْكَبِ " .

Narrator: যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাঃ)

৩৮৬৬. কা’নবী (রাহঃ) .... যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুদায়বিয়াতে আমাদের সঙ্গে ফজরের নামায আদায় করেন। তখন রাত্রিতে কিছু বৃষ্টি হওয়ার চিহ্ন বাকী ছিল। নামায শেষে তিনি লোকদের বলেনঃ তোমরা কি জান, তোমাদের রব কি বলেছেন? সাহাবীগণ বলেনঃ এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন, ফজরের সময় আমার কিছু বান্দা মু’মিন এবং কিছু সংখ্যক কাফির হয়ে গেছে। যারা এরূপ বলেছেঃ আমরা আল্লাহর রহমত ও বরকতে পানি পেয়েছি, তারা তারা তো আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং তারার প্রভাবের প্রতি অবিশ্বাসী। পক্ষান্তরে যারা এরূপ বলেছেঃ অমুক অমুক তারার প্রভাবে বৃষ্টি হয়েছে, তাঁরা আমার অস্বীকারকারী এবং তারার প্রতি বিশ্বাসী।

২৩. মাটিতে দাগকাটা এবং পাখির ডাক ও উড়ার দ্বারা যাত্রা শুভ-অশুভ নির্ণয় করা সম্পর্কে।

باب فِي الْخَطِّ وَزَجْرِ الطَّيْرِ

3867

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَوْفٌ، حَدَّثَنَا حَيَّانُ، - قَالَ غَيْرُ مُسَدَّدٍ حَيَّانُ بْنُ الْعَلاَءِ - حَدَّثَنَا قَطَنُ بْنُ قَبِيصَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الْعِيَافَةُ وَالطِّيَرَةُ وَالطَّرْقُ مِنَ الْجِبْتِ " . الطَّرْقُ الزَّجْرُ وَالْعِيَافَةُ الْخَطُّ .

Narrator: কাবীসা ইবনে হুলব (রহঃ)

৩৮৬৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... কাবীসা (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, জ্যোতিষীদের মাটিতে দাগ কেটে যাত্রা শুভ-অশুভ নির্ধারণের কথায় বিশ্বাস করা, ভাল-মন্দ নির্ণয়ের জন্য লটারীর ব্যবস্থা করা, কুফরী রসম-রিওয়াজের অন্তর্ভুক্ত।

3868

حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، قَالَ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ عَوْفٌ الْعِيَافَةُ زَجْرُ الطَّيْرِ وَالطَّرْقُ الْخَطُّ يُخَطُّ فِي الأَرْضِ .

Narrator: মুহাম্মাদ ইবনে জাফর (রহঃ)

৩৮৬৮. ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... মুহাম্মাদ ইবনে জা’ফর (রাহঃ) থেকে বর্ণনা। তিনি বলেনঃ আওফুল-ইয়াফা’ হলো- ভাল-মন্দ নির্ধারণের জন্য পাখি উড়িয়ে দেওয়া এবং ‘তুরুক’ হলো- জ্যোতিষীদের মাটিতে দাগ কেটে শুভ-অশুভ নির্ণয়ের প্রথা।

২৪. পাখির দ্বারা শুভ-অশুভের ফাল নির্ধারণ সম্পর্কে।

باب فِي الطِّيَرَةِ

3869

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ عَاَصِمٍ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الطِّيَرَةُ شِرْكٌ الطِّيَرَةُ شِرْكٌ " . ثَلاَثًا " وَمَا مِنَّا إِلاَّ وَلَكِنَّ اللَّهَ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكُّلِ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৩৮৬৯. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিনবার বলেনঃ পাখির শুভ-অশুভ নির্ণয় করা শিরক। এ ব্যাপারে যদি কারো মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়, তবে তা মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি তাওয়াক্কুলের কারণে দূর করে দেবেন।

3870

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ الْحَجَّاجِ الصَّوَّافِ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمِنَّا رِجَالٌ يَخُطُّونَ . قَالَ " كَانَ نَبِيٌّ مِنَ الأَنْبِيَاءِ يَخُطُّ فَمَنْ وَافَقَ خَطَّهُ فَذَاكَ " .

Narrator: মুআবিয়া ইবনুল হাকাম (রাঃ)

৩৮৭০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... মুআবিয়া ইবনে হাকাম সুলামী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের মাঝে কিছু লোক আছে, যারা দাগ কেটে ফাল নির্ণয় করে থাকে, (তাদের ব্যাপারে আপনার অভিমত কি?) তিনি বলেনঃ নবীগণের মধ্যে একজন নবী এরূপ করতেন। যার দাগ কাটা তাঁর অনুরূপ, সে সত্যের অনুসারী।

3871

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ الْعَسْقَلاَنِيُّ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ عَدْوَى وَلاَ طِيَرَةَ وَلاَ صَفَرَ وَلاَ هَامَةَ " . فَقَالَ أَعْرَابِيٌّ مَا بَالُ الإِبِلِ تَكُونُ فِي الرَّمْلِ كَأَنَّهَا الظِّبَاءُ فَيُخَالِطُهَا الْبَعِيرُ الأَجْرَبُ فَيُجْرِبُهَا قَالَ " فَمَنْ أَعْدَى الأَوَّلَ " . قَالَ مَعْمَرٌ قَالَ الزُّهْرِيُّ فَحَدَّثَنِي رَجُلٌ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يُورِدَنَّ مُمْرِضٌ عَلَى مُصِحٍّ " . قَالَ فَرَاجَعَهُ الرَّجُلُ فَقَالَ أَلَيْسَ قَدْ حَدَّثْتَنَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ عَدْوَى وَلاَ صَفَرَ وَلاَ هَامَةَ " . قَالَ لَمْ أُحَدِّثْكُمُوهُ . قَالَ الزُّهْرِيُّ قَالَ أَبُو سَلَمَةَ قَدْ حَدَّثَ بِهِ وَمَا سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ نَسِيَ حَدِيثًا قَطُّ غَيْرَهُ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮৭১. মুহাম্মাদ ইবনে মুতাওয়াক্কিল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন রোগ ছোঁয়াচে নয়, কোন বস্তুতে শুভ-অশুভের কোন প্রভাব নেই, না সফর মাস অমঙ্গলের মাস এবং না কোন মৃতের খুলিতে পেঁচার প্রভাব আছে। তখন জনৈক আরাবী বলেনঃ যদি এরূপ অবস্থা হয়, তবে মরুভূমির উটদের ব্যাপার কি? যারা হরিণের মত সুস্থ হয়, পরে যখন তাদের সাথে কোন খোস-পাঁচড়া উট মিলিত হয়, তবে সবই ঐ রোগে আক্রান্ত হয়। নবী (ﷺ) বলেনঃ তবে প্রথম উটটি কিরূপে খোস-পাঁচড়া বিশিষ্ট হয়?

রাবী মুআম্মার(রাহঃ) বলেন, ইমাম যুহরী বলেছেনঃ আমার নিকট এক ব্যক্তি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেন, যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শোনেনঃ অসুস্থ উটকে সুস্থ উটের সাথে পানি পান করানোর জন্য আনা যাবে না। ঐ ব্যক্তি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর কাছে গিয়ে বলেনঃ আপনি কি এ হাদীস আমাদের কাছে বর্ণনা করেন নি যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন রোগ ছোঁয়াচে নয়, সফর মাসে অমঙ্গলের মাস নয়, আর না মৃতের খুলিতে পেঁচার প্রভাব আছে? তিনি (আবু হুরায়রা) বলেনঃ আমি তো এরূপ হাদীস বর্ণনা করিনি।

ইমাম যুহরী (রাহঃ) বলেনঃ হাদিছটি আবু সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। অথচ হাদীসটি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নিজেই বর্ণনা করেন, (কিন্তু পরে তিনি তা ভুলে যান)। রাবী বলেনঃ আমি এ হাদীস ছাড়া আর কোন হাদীস সম্পর্কে শুনিনি যে, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) ভুলে গেছেন।
3872

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ عَدْوَى وَلاَ هَامَةَ وَلاَ نَوْءَ وَلاَ صَفَرَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮৭২. কা’নবী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন রোগই ছোঁয়াচে নয়, না মৃতের খুলিতে পেঁচা থাকে, আর না দেউ-দানব রাস্তা ভুলিয়ে দেয় এবং না সফর মাস অমঙ্গলের।

3873
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ الْبَرْقِيِّ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْحَكَمِ، حَدَّثَهُمْ قَالَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي ابْنُ عَجْلاَنَ، حَدَّثَنِي الْقَعْقَاعُ بْنُ حَكِيمٍ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مِقْسَمٍ، وَزَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ غُولَ " .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ قُرِئَ عَلَى الْحَارِثِ بْنِ مِسْكِينٍ وَأَنَا شَاهِدٌ، أَخْبَرَكُمْ أَشْهَبُ، قَالَ سُئِلَ مَالِكٌ عَنْ قَوْلِهِ " لاَ صَفَرَ " . قَالَ إِنَّ أَهْلَ الْجَاهِلِيَّةِ كَانُوا يُحِلُّونَ صَفَرَ يُحِلُّونَهُ عَامًا وَيُحَرِّمُونَهُ عَامًا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ صَفَرَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮৭৩. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রাহীম (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ভূত-প্রেত মানুষকে কষ্ট দিতে সক্ষম নয়।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, ইমাম মালিক (রাহঃ)-কে (لاَ صَفَرَ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ জাহিলী যুগে লোকেরা কখনও সফর মাসকে হালাল সাব্যস্ত করতো, আবার কখনো হারাম সাব্যস্ত করতো, (নিজেদের সুবিধার জন্য)। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ না, সফর এমন কোন মাস নয়, যেরূপ তোমরা ধারণা কর।
3874

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ عَدْوَى وَلاَ طِيَرَةَ وَيُعْجِبُنِي الْفَأْلُ الصَّالِحُ وَالْفَأْلُ الصَّالِحُ الْكَلِمَةُ الْحَسَنَةُ " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৮৭৪. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন রোগ ছোঁয়াচে নয় এবং শুভ-অশুভ নির্ণয়ের কোন বাস্তবতা নেই। অবশ্য আমার কাছে ভাল ‘ফাল’ গ্রহণ করা ভাল মনে হয়, আর ‘নেক ফাল’ হলো সুন্দর কথা।

3875

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، قَالَ قُلْتُ لِمُحَمَّدٍ - يَعْنِي ابْنَ رَاشِدٍ - قَوْلُهُ " هَامَ " . قَالَ كَانَتِ الْجَاهِلِيَّةُ تَقُولُ لَيْسَ أَحَدٌ يَمُوتُ فَيُدْفَنُ إِلاَّ خَرَجَ مِنْ قَبْرِهِ هَامَةٌ . قُلْتُ فَقَوْلُهُ صَفَرَ . قَالَ سَمِعْتُ أَنَّ أَهْلَ الْجَاهِلِيَّةِ يَسْتَشْئِمُونَ بِصَفَرَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ صَفَرَ " . قَالَ مُحَمَّدٌ وَقَدْ سَمِعْنَا مَنْ يَقُولُ هُوَ وَجَعٌ يَأْخُذُ فِي الْبَطْنِ فَكَانُوا يَقُولُونَ هُوَ يُعْدِي فَقَالَ " لاَ صَفَرَ " .

Narrator: বিবিধ

৩৮৭৫. মুহাম্মাদ ইবনে মুসাফফা (রাহঃ) .... রাবীআ’ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি মুহাম্মাদ ইবনে রাশিদ (রাযিঃ কে জিজ্ঞাসা করি যে, নবী (ﷺ)-এর কথা ‘হাম’ শব্দের অর্থ কি? তিনি বলেন, জাহিলী যুগে লোকেরা এরূপ মনে করতো যে, মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর তার আত্মা পেঁচার রূপ ধারণ করতো। এরপর আমি জিজ্ঞাসা করি, নবী (ﷺ) এর ‘সফর’ শব্দের অর্থ কি? তিনি বলেন, জাহিলী যুগে লোকেরা সফর মাসকে অমঙ্গলের মাস হিসাবে বিবেচনা করতো, এজন্য নবী (ﷺ) বলেনঃ না, সফর মাস এরূপ নয়।

মুহাম্মাদ ইবনে রাশেদ বলেনঃ আমরা শুনেছি, কোন কোন লোক এরূপ বলতো যে, সফর মাসে এক ধরনের পেটের ব্যথা হতো, যে জন্য তারা বলতো, এটি ছোঁয়াচে রোগ। এ কারণে নবী (ﷺ) বলেনঃ না, সফর মাস এরূপ নয়, যেরূপ তোমরা ধারণা কর।
3876

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ كَلِمَةً فَأَعْجَبَتْهُ فَقَالَ " أَخَذْنَا فَأْلَكَ مِنْ فِيكَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৩৮৭৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা নবী (ﷺ) এমন একটি কথা শোনেন, যা তাঁর কাছে ভাল মনে হয়। তখন তিনি বলেনঃ আমরা তোমার মুখ হতে তোমার ‘ফাল’ জানতে পেরেছি, (অর্থাৎ তোমর কথার মধ্যেই মঙ্গল নিহিত আছে)

3877

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ يَقُولُ النَّاسُ الصَّفَرُ وَجَعٌ يَأْخُذُ فِي الْبَطْنِ . قُلْتُ فَمَا الْهَامَةُ قَالَ يَقُولُ النَّاسُ الْهَامَةُ الَّتِي تَصْرُخُ هَامَةُ النَّاسِ وَلَيْسَتْ بِهَامَةِ الإِنْسَانِ إِنَّمَا هِيَ دَابَّةٌ .

Narrator: আতা ইবনে আবী রাবাহ (রহঃ)

৩৮৭৭. ইয়াহয়া ইবনে খালফ (রাহঃ) .... আতা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (জাহিলী যুগে) লোকেরা এরূপ বলাবলি করতো যে, ‘সফর’ হলো পেট ব্যথা, (অর্থাৎ এ মাসে সাধারণতঃ পেট ব্যথার অসুখ হয়।)

রাবী ইবনে জারীহ (রাহঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম ‘হামা’ কি? তিনি বলেনঃ লোকেরা বলতো ‘হামা’ হলো মৃত ব্যক্তির আত্মা। কিন্তু তা মৃত ব্যক্তির আত্মা নয়, বরং তা হলো একটি প্রাণী, যাকে লোকেরা পেঁচা বলে থাকে।
3878

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ الْمَعْنَى قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ عَامِرٍ، - قَالَ أَحْمَدُ الْقُرَشِيُّ - قَالَ ذُكِرَتِ الطِّيَرَةُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَحْسَنُهَا الْفَأْلُ وَلاَ تَرُدُّ مُسْلِمًا فَإِذَا رَأَى أَحَدُكُمْ مَا يَكْرَهُ فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ لاَ يَأْتِي بِالْحَسَنَاتِ إِلاَّ أَنْتَ وَلاَ يَدْفَعُ السَّيِّئَاتِ إِلاَّ أَنْتَ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِكَ " .

Narrator: বিবিধ

৩৮৭৮. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আহমদ কারাশী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট শুভ-অশুভ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেনঃ সব চাইতে উত্তম শুভ-অশুভ নির্ণয়ের মাধ্যম হলো ‘ফাল’। কিন্তু এর কারণে কোন মুসলমানের জন্য (নিজের কাজ থেকে) বিরত থাকা উচিৎ নয়। বস্তুতঃ তোমরা যখন কোন অপ্রিয় জিনিস দেখবে, তখন এ দুআ পাঠ করবেঃ আল্লাহুম্মা লা-য়াতী বিল হাসানাতে ইল্লা আনতা, ওয়ালা য়াদফাউস সাইয়্যেয়াতে ইল্লা আনতা, ওয়ালা হওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিকা।

3879

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَتَطَيَّرُ مِنْ شَىْءٍ وَكَانَ إِذَا بَعَثَ عَامِلاً سَأَلَ عَنِ اسْمِهِ فَإِذَا أَعْجَبَهُ اسْمُهُ فَرِحَ بِهِ وَرُئِيَ بِشْرُ ذَلِكَ فِي وَجْهِهِ وَإِنْ كَرِهَ اسْمَهُ رُئِيَ كَرَاهِيَةُ ذَلِكَ فِي وَجْهِهِ وَإِذَا دَخَلَ قَرْيَةً سَأَلَ عَنِ اسْمِهَا فَإِنْ أَعْجَبَهُ اسْمُهَا فَرِحَ بِهَا وَرُئِيَ بِشْرُ ذَلِكَ فِي وَجْهِهِ وَإِنْ كَرِهَ اسْمَهَا رُئِيَ كَرَاهِيَةُ ذَلِكَ فِي وَجْهِهِ .

Narrator: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

৩৮৭৯. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... বুরায়দা (রাযিঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) কোন জিনিসের দ্বারা অশুভ নির্ণয় করতেন না। আর তিনি যখন কাউকে শাসনকর্তা হিসাবে নিেয়াগ করতেন, তখন তিনি তার নাম জিজ্ঞাসা করতেন। যদি তিনি তাঁর নাম শুনে সন্তুষ্ট হতেন, তখন এর চিহ্ন তাঁর চেহারায় ফুটে উঠতো। আর যদি সে ব্যক্তির নাম তাঁর কাছে খারাপ মনে হতো, তবে এর নিদর্শন ও তাঁর চেহারায় দেখা যেতো। তিনি যখন কোন শহরে প্রবেশ করতেন, তখন তিনি নাম জিজ্ঞাসা করতেন। যদি ঐ শহরের নাম তাঁর পছন্দ হতো, তবে তিনি তাতে সন্তোষ প্রকাশ করতেন, আর যদি সে স্থানের নাম তাঁর কাছে অপ্রিয় মনে হতো, তবে তাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টির লক্ষণ প্রকাশ পেত।

3880

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنِي يَحْيَى، أَنَّ الْحَضْرَمِيَّ بْنَ لاَحِقٍ، حَدَّثَهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " لاَ هَامَةَ وَلاَ عَدْوَى وَلاَ طِيَرَةَ وَإِنْ تَكُنِ الطِّيَرَةُ فِي شَىْءٍ فَفِي الْفَرَسِ وَالْمَرْأَةِ وَالدَّارِ " .

Narrator: সা'দ ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৮৮০. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... সা’দ ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ বলতেনঃ মৃত ব্যক্তির প্রেতাত্মার কোন অস্তিত্ব নেই, কোন রোগ ছোঁয়াচে নয় এবং (কাজ কর্মে) শুভ-অশুভের কিছু নেই। অবশ্য শুভ-অশুভ যদি কোন জিনিসের মধ্যে থাকে, তবে তার অস্তিত্ব তিনটি জিনিসের মধ্যে আছে। যথাঃ ঘোড়া, স্ত্রী লোক এবং ঘর-বাড়ীতে।

3881

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حَمْزَةَ، وَسَالِمِ، ابْنَىْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الشُّؤْمُ فِي الدَّارِ وَالْمَرْأَةِ وَالْفَرَسِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قُرِئَ عَلَى الْحَارِثِ بْنِ مِسْكِينٍ وَأَنَا شَاهِدٌ أَخْبَرَكَ ابْنُ الْقَاسِمِ قَالَ سُئِلَ مَالِكٌ عَنِ الشُّؤْمِ فِي الْفَرَسِ وَالدَّارِ قَالَ كَمْ مِنْ دَارٍ سَكَنَهَا نَاسٌ فَهَلَكُوا ثُمَّ سَكَنَهَا آخَرُونَ فَهَلَكُوا فَهَذَا تَفْسِيرُهُ فِيمَا نَرَى وَاللَّهُ أَعْلَمُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৩৮৮১. কা’নবী (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তিনটি জিনিসের মধ্যে শুভ-অশুভ রয়েছে, ঘোড়া, স্ত্রী লোক এবং বসবাসে ঘর-বাড়ীতে।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ একদা ইমাম মালিক (রাহঃ)-কে ঘোড়া এবং গৃহের অমঙ্গলের বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ অনেক ঘর এমন আছে যেখানে লোক বসবাস করেছে, পরে ধ্বংস হয়ে গেছে; আর অন্য লোকেরা সেখানে বসবাস করার পরও ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘরের অমঙ্গল এরূপ। আল্লাহ অধিক অবগত।
3882

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، وَعَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَحِيرٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَنْ، سَمِعَ فَرْوَةَ بْنَ مُسَيْكٍ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرْضٌ عِنْدَنَا يُقَالُ لَهَا أَرْضُ أَبْيَنَ هِيَ أَرْضُ رِيفِنَا وَمِيرَتِنَا وَإِنَّهَا وَبِئَةٌ أَوْ قَالَ وَبَاؤُهَا شَدِيدٌ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " دَعْهَا عَنْكَ فَإِنَّ مِنَ الْقَرَفِ التَّلَفَ " .

Narrator: ফারওয়া ইবনে মুসাইক মুরাদী (রাঃ)

৩৮৮২. মাখাল্লাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... ফারওয়া ইবনে মুসায়ক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি বলি ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার নিকট এক খণ্ড যমীন আছে, যা সব সময় (তৃণলতায়) আচ্ছন্ন থাকে এবং এর শিলা খুবই শক্ত। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি তা পরিত্যাগ কর; কেননা এরূপ নিরস স্থানে বসবাসকারী লোকের ধ্বংস প্রাপ্ত হয়ে থাকে।

3883

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا فِي دَارٍ كَثِيرٌ فِيهَا عَدَدُنَا وَكَثِيرٌ فِيهَا أَمْوَالُنَا فَتَحَوَّلْنَا إِلَى دَارٍ أُخْرَى فَقَلَّ فِيهَا عَدَدُنَا وَقَلَّتْ فِيهَا أَمْوَالُنَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ذَرُوهَا ذَمِيمَةً " .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৮৮৩. হাসান ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা এমন এক গৃহে বসবাস করতাম, যেখানে আমাদের ধন-জন অধিক ছিল। পরে আমরা অন্য এক স্থানে বসবাস শুরু করায় আমাদের ধন-জন কমে গেছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ঐ ঘর ভাল নয়, তোমরা তা পরিত্যাগ কর।

3884

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا مُفَضَّلُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ الشَّهِيدِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ بِيَدِ مَجْذُومٍ فَوَضَعَهَا مَعَهُ فِي الْقَصْعَةِ وَقَالَ " كُلْ ثِقَةً بِاللَّهِ وَتَوَكُّلاً عَلَيْهِ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৮৮৪. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন একজন কুষ্ঠ-রোগীর হাত ধরে নিজের যান-বাহনের সফর সঙ্গী করেন এবং বলেনঃ তুমি আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা এবং ভরসা রাখ।