كتاب الطلاق

৭. তালাক - ডিভোর্স অধ্যায়

Chapter 7 · 135 hadith

১৪৫. যে ব্যক্তি কোন স্ত্রীলোককে তার স্বামীর বিরূদ্ধে প্ররোচিত করে।

باب فِيمَنْ خَبَّبَ امْرَأَةً عَلَى زَوْجِهَا

2172

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ رُزَيْقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمُرَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ مِنَّا مَنْ خَبَّبَ امْرَأَةً عَلَى زَوْجِهَا أَوْ عَبْدًا عَلَى سَيِّدِهِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৭২. আল্ হাসান ইবনে আলী .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে কোন স্ত্রীলোককে তার স্বামীর বিরূদ্ধে এবং কোন দাসকে তার মনিবের বিরূদ্ধে প্ররোচিত করে।

১৪৬. ঐ স্ত্রীলোক যে তার স্বামীর নিকট তার অন্য স্ত্রীকে তালাক দেয়ার জন্য বলে।

باب فِي الْمَرْأَةِ تَسْأَلُ زَوْجَهَا طَلاَقَ امْرَأَةٍ لَهُ

2173

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَسْأَلِ الْمَرْأَةُ طَلاَقَ أُخْتِهَا لِتَسْتَفْرِغَ صَحْفَتَهَا وَلْتَنْكِحْ فَإِنَّمَا لَهَا مَا قُدِّرَ لَهَا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৭৩. আল কা‘নবী .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, কোন স্ত্রীলোক যেন নিজের স্বার্থ ও সুবিধার জন্য তার ভগ্নির তালাক কামনা না করে, নিজে তার সাথে বিবাহবদ্ধ হওয়ারা জন্য। কেননা, তার জন্য তা-ই যা তার তাকদীরে আছে।

১৪৭. তালাক একটি গর্হিত কাজ।

باب فِي كَرَاهِيَةِ الطَّلاَقِ

2174

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا مُعَرِّفٌ، عَنْ مُحَارِبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا أَحَلَّ اللَّهُ شَيْئًا أَبْغَضَ إِلَيْهِ مِنَ الطَّلاَقِ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১৭৪. আহমদ ইবনে ইউনুস ..... মুহারিব (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ্ তাআলার নিকট হালাল বিষয়সমূহের মধ্যে তালাকের চাইতে অধিক নিকৃষ্ট বস্তু আর কিছুই নেই।

2175

حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ مُعَرِّفِ بْنِ وَاصِلٍ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَبْغَضُ الْحَلاَلِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى الطَّلاَقُ " .

২১৭৫. কাসীর ইবনে উবাইদ ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ্ তাআলার নিকট নিকৃষ্টতম হালাল বস্তু হল তালাক।

১৪৮. সুন্নত তরীকায় তালাক।

باب فِي طَلاَقِ السُّنَّةِ

2176

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ لْيُمْسِكْهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ ثُمَّ تَطْهُرَ ثُمَّ إِنْ شَاءَ أَمْسَكَ بَعْدَ ذَلِكَ وَإِنْ شَاءَ طَلَّقَ قَبْلَ أَنْ يَمَسَّ فَتِلْكَ الْعِدَّةُ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ أَنْ تُطَلَّقَ لَهَا النِّسَاءُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১৭৬. আল্ কা‘নবী ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে, তাঁর স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তালাক প্রদান করেন। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তুমি তাকে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে বল এবং হায়য হতে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাকে নিজের কাছে রাখতে বল। এরপর সে (মহিলা) পুনরায় হায়যা এবং পুনরায় হায়য হতে পবিত্র হলে সে তাকে চাইলে রাখতেও পারে এবং যদি চায় তাকে তালাক দিতে পারে, এই তালাক অবশ্য তার সাথে সহবাসের পূর্বে পবিত্রতাবস্থায় দিতে হবে। আর এ ইদ্দত (সময়সীমা) আল্লাহ্ তাআলা মহিলাদের তালাক প্রদানের জন্য নির্ধারিত করেছেন।

2177

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، طَلَّقَ امْرَأَةً لَهُ وَهِيَ حَائِضٌ تَطْلِيقَةً بِمَعْنَى حَدِيثِ مَالِكٍ .

Narrator: নাফি‘ (রহঃ)

২১৭৭. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ...... নাফে’ (রাহঃ) হতে বর্ণিত যে, ইবনে উমর (রাযিঃ) তার স্ত্রীকে ঋতুবতী অবস্থায় তালাক প্রদান করেন। এরপর রাবী কর্তৃক মালিক বর্ণিত উপরোক্ত হাদীসের অর্থে বর্ণিত হয়েছে।

2178

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، مَوْلَى آلِ طَلْحَةَ عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَذَكَرَ ذَلِكَ عُمَرُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ لْيُطَلِّقْهَا إِذَا طَهُرَتْ أَوْ وَهِيَ حَامِلٌ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১৭৮. উসমান ইবনে আবি শাঈবা ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি তার স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তালাক দেন। তখন উমর (রাযিঃ) এতদসম্পর্কে নবী করীম (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তুমি তাকে (ইবনে উমরকে) তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে বলো। এরপর সে যখন (হায়য হতে) পবিত্র হয়, কিংবা সে গর্ভবতী হয়, তখন যেন তাকে তালাক দেয়।

2179

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَذَكَرَ ذَلِكَ عُمَرُ لِرَسُولِ صلى الله عليه وسلم فَتَغَيَّظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ لْيُمْسِكْهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ فَتَطْهُرَ ثُمَّ إِنْ شَاءَ طَلَّقَهَا طَاهِرًا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّ فَذَلِكَ الطَّلاَقُ لِلْعِدَّةِ كَمَا أَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ " .

Narrator: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

২১৭৯. আহমদ ইবনে সালিহ ..... সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তালাক দেন। তখন উমর (রাযিঃ) এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি রাগান্বিত হন এবং বলেন, তুমি তাকে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে বলো। অতঃপর যতক্ষণ না সে হায়য হতে পবিত্র হয়, ততক্ষণ নিজের নিকট রাখতে বলো। অতঃপর পুনরায় সে ঋতুবতী হয়ে পাবিত্র হলে, সে ইচ্ছা করলে তাকে সহবাসের পূর্বে পবিত্রাবস্থায় তালাক প্রদান করতে পারে। আর এ তালাক (পবিত্রবস্থায়) ইদ্দতের জন্য, যেরূপ আল্লাহ্ তাআলা নির্দেশ করেছেন।

2180

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ جُبَيْرٍ، أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ عُمَرَ فَقَالَ كَمْ طَلَّقْتَ امْرَأَتَكَ فَقَالَ وَاحِدَةً .

Narrator: মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন (রহঃ)

২১৮০. আল্ কা‘নবী আল্ হাসান ইবনে আলী ...... ইবনে সীরীন (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইউনুস ইবনে জুবাইর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, একদা তিনি ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি আপনার স্ত্রীকে কয়টি তালাক প্রদান করেছেন? তিনি বলেন, একটি।

2181

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ جُبَيْرٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ قُلْتُ رَجُلٌ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ . قَالَ تَعْرِفُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ فَإِنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ . فَأَتَى عُمَرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ فَقَالَ " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ لْيُطَلِّقْهَا فِي قُبُلِ عِدَّتِهَا " . قَالَ قُلْتُ فَيُعْتَدُّ بِهَا قَالَ فَمَهْ أَرَأَيْتَ إِنْ عَجَزَ وَاسْتَحْمَقَ

Narrator: মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন (রহঃ)

২১৮১. আল্ কা-নবী ..... মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইউনুস ইবনে জুবাইর আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, একদা আমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি। এক ব্যক্তি হায়য অবস্থায় তার স্ত্রীকে তালাক প্রদান করেছে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি ইবনে উমরকে চেন? আমি বলি, হ্যাঁ। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) তার স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তালাক প্রদান করে। তখন উমর (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে তাকে এতদসম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেন, তাকে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে বলো। এরপর সে যেন তাকে তার হায়য আসার পূর্বে তালাক প্রদান করে। তখন আমি বলি, এটা হতে কি তার ইদ্দত গণনা করতে হবে? তখন জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ। আর সে যদি এরূপ করতে অপারগ হয়, তবে সে আহমকের মত কাজ করবে।

2182

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَيْمَنَ، مَوْلَى عُرْوَةَ يَسْأَلُ ابْنَ عُمَرَ وَأَبُو الزُّبَيْرِ يَسْمَعُ قَالَ كَيْفَ تَرَى فِي رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ حَائِضًا قَالَ طَلَّقَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَ عُمَرُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَرَدَّهَا عَلَىَّ وَلَمْ يَرَهَا شَيْئًا وَقَالَ " إِذَا طَهُرَتْ فَلْيُطَلِّقْ أَوْ لِيُمْسِكْ " . قَالَ ابْنُ عُمَرَ وَقَرَأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ( يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ ) فِي قُبُلِ عِدَّتِهِنَّ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ يُونُسُ بْنُ جُبَيْرٍ وَأَنَسُ بْنُ سِيرِينَ وَسَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ وَزَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ وَأَبُو الزُّبَيْرِ وَمَنْصُورٌ عَنْ أَبِي وَائِلٍ مَعْنَاهُمْ كُلُّهُمْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُ أَنْ يُرَاجِعَهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ إِنْ شَاءَ طَلَّقَ وَإِنْ شَاءَ أَمْسَكَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ سَالِمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَمَّا رِوَايَةُ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ وَنَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُ أَنْ يُرَاجِعَهَا حَتَّى تَطْهُرَ ثُمَّ تَحِيضَ ثُمَّ تَطْهُرَ ثُمَّ إِنْ شَاءَ طَلَّقَ وَإِنْ شَاءَ أَمْسَكَ وَرُوِيَ عَنْ عَطَاءٍ الْخُرَاسَانِيِّ عَنِ الْحَسَنِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ نَحْوُ رِوَايَةِ نَافِعٍ وَالزُّهْرِيِّ وَالأَحَادِيثُ كُلُّهَا عَلَى خِلاَفِ مَا قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২১৮২. আহমাদ ইবনে সালিহ্ ...... আব্দুর রাযযাক (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে ইবনে জুবাইর আবু জুবাইর হতে খবর দিয়েছেন। তিনি আব্দুর রহমান আয়মনকে যিনি উরওয়ার আযাদকৃত গোলাম ছিলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করতে শুনেন এবং আবু যুবাইরও তা শ্রবণ করেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তালাক দেয়, সে ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর যুগে তাঁর স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তালাক দেয়। উমর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তখন তিনি আমাকে পুনরায় তাকে (স্ত্রীকে) গ্রহণ করার নির্দেশ দেন এবং বলেন, এত দোষের কিছু নেই। অতঃপর তিনি বলেন, তাকে পুনঃগ্রহণের পর যখন সে পবিত্র হবে, তখন তাকে তালাক দিবে বা তোমার নিকট রাখবে। অতঃপর ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, তখন নবী করীম (ﷺ) এ আয়াত পাঠ করেনঃ ‘‘হে নবী! যখন তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের তালাক দিবে, তখন তাদের উদ্দত (গণনার সীমা) আসার পূর্বে তালাক দিবে।

১৪৯. তিন তালাক প্রদানের পর পুনঃ গ্রহণ বাতিল হওয়া।

باب نَسْخِ الْمُرَاجَعَةِ بَعْدَ التَّطْلِيقَاتِ الثَّلاَثِ

2183

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ، أَنَّ جَعْفَرَ بْنَ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَهُمْ عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ، سُئِلَ عَنِ الرَّجُلِ، يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ ثُمَّ يَقَعُ بِهَا وَلَمْ يُشْهِدْ عَلَى طَلاَقِهَا وَلاَ عَلَى رَجْعَتِهَا فَقَالَ طَلَّقْتَ لِغَيْرِ سُنَّةٍ . وَرَاجَعْتَ لِغَيْرِ سُنَّةٍ أَشْهِدْ عَلَى طَلاَقِهَا وَعَلَى رَجْعَتِهَا وَلاَ تَعُدْ .

Narrator: মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ (রহঃ)

২১৮৩. বিশর ইবনে হিলাল ...... মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইমরান ইবনে হুসাইন এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হন যে তার স্ত্রীকে তালাকে রিজ‘ঈ প্রদান করে, এরপর সে তার সাথে সহবাস করে। আর তার তালাক প্রদান ও পুনঃগ্রহণের সময় কাউকে সাক্ষী রাখেনি। তিনি বলেন, তুমি তাকে সুন্নত তরীকার বিপরীতে তালাক প্রদান করেছ এবং সুন্নতের বিপরীতে পুনঃগ্রহণ করেছ। (আর জেনে রাখ) তাকে তালাক প্রদানের সময় এবং পুনঃগ্রহণের সময় সাক্ষী রাখবে (এটাই সুন্নত তরীকা)। আর তালাক দেওয়ার পর পুনরায় তার কাছেও যাবে না, পুনঃগ্রহণও করবে না।

2184

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ( وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلاَثَةَ قُرُوءٍ وَلاَ يَحِلُّ لَهُنَّ أَنْ يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ ) الآيَةَ وَذَلِكَ أَنَّ الرَّجُلَ كَانَ إِذَا طَلَّقَ امْرَأَتَهُ فَهُوَ أَحَقُّ بِرَجْعَتِهَا وَإِنْ طَلَّقَهَا ثَلاَثًا فَنُسِخَ ذَلِكَ وَقَالَ ( الطَّلاَقُ مَرَّتَانِ ) .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৮৪. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ আল মারওযাযী .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ) ‘‘তালাকপ্রাপ্তা মহিলাগণকে নিজ গৃহে তিন হায়য পর্যন্ত আব্দ্ধ রাখবে। আর তাদের জন্য আল্লাহ্ তাআলা তাদের গর্ভে যা সৃষ্টি করেছেন, তা গোপন রাখা বৈধ নহে’’ (আর এ আয়াত নাযিলে উদ্দেশ্য হল) যখন কোন লোক তার স্ত্রীকে ইতিপূর্বে তালাক প্রদান করতো, তখন সে তাকে পুনঃগ্রহণের অধিক হকদার হতো; যদিও সে তাকে তিন তালাক প্রদান করতো। এরপর এ আয়াতটি, পরবর্তী আয়াতের দ্বারা মানসূখ (রহিত) হয়। এরপর তিনি তিলিাওয়াত করেনঃ (অর্থ) ‘‘তালাক দু‘ধরনের ......... আয়াতের শেষ পর্যন্ত।’’ অর্থাৎ ১. তালাকে রিজ‘ঈ: এক বা দু‘তালাক দেয়ার পর ফেরত নেয়া চলে। ২. তালাকে মুগালালাযাঃ তিন তালাক দেয়ার পর পুনঃগ্রহণ চলে না।

১৫০. গোলামের তালাক প্রদানের নিয়ম।

باب فِي سُنَّةِ طَلاَقِ الْعَبْدِ

2185

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ مُعَتِّبٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا حَسَنٍ مَوْلَى بَنِي نَوْفَلٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، اسْتَفْتَى ابْنَ عَبَّاسٍ فِي مَمْلُوكٍ كَانَتْ تَحْتَهُ مَمْلُوكَةٌ فَطَلَّقَهَا تَطْلِيقَتَيْنِ ثُمَّ عَتَقَا بَعْدَ ذَلِكَ هَلْ يَصْلُحُ لَهُ أَنْ يَخْطُبَهَا قَالَ نَعَمْ قَضَى بِذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৮৫.যুহাইর ইবনে হারব ..... বনী নাওফলের আযাদকৃত গোলাম আবু হাসান বলেন, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে এমন একজন দাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, যার অধীনে একজন দাসী স্ত্রী ছিল। আর সে তাকে দু‘তালাক প্রদান করেছিল। এরপর তারা উভয়েই আযাদ হয়। এমতাবস্থায় দাসীটি কি তাকে পুনরায় বিবাহ করতে পারবে? তিনি বলেন, হ্যাঁ, পারবে। কেননা, এতদসম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ ফয়সালা প্রদান করেছেন।

2186

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنَا عَلِيٌّ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ بِلاَ إِخْبَارٍ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ بَقِيَتْ لَكَ وَاحِدَةٌ قَضَى بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: سَمِعْت أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ قَالَ: قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ: قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ، لِمَعْمَرٍ: «مَنْ أَبُو الْحَسَنِ هَذَا؟ لَقَدْ تَحَمَّلَ صَخْرَةً عَظِيمَةً» ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «أَبُو الْحَسَنِ هَذَا رَوَى، عَنْهُ الزُّهْرِيُّ» ، قَالَ الزُّهْرِيُّ: «وَكَانَ مِنَ الْفُقَهَاءِ رَوَى الزُّهْرِيُّ، عَنْ أَبِي الْحَسَنِ أَحَادِيثَ» ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «أَبُو الْحَسَنِ مَعْرُوفٌ، وَلَيْسَ الْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৮৬. মুহাম্মাদ ইবনে আল্ মুসান্না ...... আলী (রাযিঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের সনদে ও অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, তোমার জন্য একটি তালাক বাকী ছিল। আর এর জন্যই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ ফায়সালা দিয়েছেন। (অর্থাৎ মুক্ত হওয়ার পর তুমি তিন তালাক পর্যন্ত দেয়ার অধিকারী হয়েছ। এখন বাকী তালাকটি না দিয়ে ফেরত গ্রহণের সুযোগ তোমার রয়েছে।)
2187

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَسْعُودٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ مُظَاهِرٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " طَلاَقُ الأَمَةِ تَطْلِيقَتَانِ وَقُرْؤُهَا حَيْضَتَانِ " . قَالَ أَبُو عَاصِمٍ حَدَّثَنِي مُظَاهِرٌ حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ " وَعِدَّتُهَا حَيْضَتَانِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهُوَ حَدِيثٌ مَجْهُولٌ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৮৭. মুহাম্মাদ ইবনে মাসউদ ...... আয়িশা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, দাসীর জন্য তালাক হল দু‘টি এবং তার ইদ্দতের সময় হল দু’ হায়য পর্যন্ত।

আবু আসিম আয়িশা (রাযিঃ) হতে এবং তিনি নবী করীম (ﷺ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি অতিরিক্ত বলেন, তার ইদ্দত হল দু’ হায়য।

১৫১. বিবাহের পূর্বে তালাক।

باب فِي الطَّلاَقِ قَبْلَ النِّكَاحِ

2188

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ، قَالاَ حَدَّثَنَا مَطَرٌ الْوَرَّاقُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ طَلاَقَ إِلاَّ فِيمَا تَمْلِكُ وَلاَ عِتْقَ إِلاَّ فِيمَا تَمْلِكُ وَلاَ بَيْعَ إِلاَّ فِيمَا تَمْلِكُ " . زَادَ ابْنُ الصَّبَّاحِ " وَلاَ وَفَاءَ نَذْرٍ إِلاَّ فِيمَا تَمْلِكُ " .

Narrator: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

২১৮৮. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম ..... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ স্ত্রীর অধিকারী হওয়া ব্যতীত তালাক হয় না। কোন দাস-দাসীর মালিক হওয়া ব্যতীত তাদের আযাদ করা যায় না। আর কোন জিনিস-পত্রের মালিক হওয়া ছাড়া উহা বিক্রি করা যায় না। রাবী ইবনে আল্ সাব্বাহ অতিরিক্ত বর্ণনা করেন, কোন মালিক হওয়া ব্যতীত উহার মান্নত করা যায় না।

2189

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ زَادَ " مَنْ حَلَفَ عَلَى مَعْصِيَةٍ فَلاَ يَمِينَ لَهُ وَمَنْ حَلَفَ عَلَى قَطِيعَةِ رَحِمٍ فَلاَ يَمِينَ لَهُ " .

Narrator: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

২১৮৯. মুহাম্মাদ ইবনে আল্ আলা ...... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের সনদ ও অর্থে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি (মুহাম্মাদ) ইহা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, যদি কেহ কোনরূপ গুনাহের কাজের জন্য শপথ করে, তবে উহা তার জন্য আদায় করা প্রয়োজনীয় নয়, আর যে ব্যক্তি আত্মীয়তা ছিন্ন করার জন্য শপথ (হলফ) করে, তার শপথও পালনীয় নয়।

2190

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ الْمَخْزُومِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي هَذَا الْخَبَرِ زَادَ " وَلاَ نَذْرَ إِلاَّ فِيمَا ابْتُغِيَ بِهِ وَجْهُ اللَّهِ تَعَالَى ذِكْرُهُ " .

Narrator: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

২১৯০. ইবনে আল্ সারহ ...... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে, তিনি নবী করীম (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী ইবনে আল্ সারহ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, কেবল আল্লাহ্ তাআলার ইবাদত সংক্রান্ত মান্নত ছাড়া অপর কোন মান্নতই হয় না।

১৫২. রাগান্বিত অবস্থায় তালাক দেয়া।

باب الطَّلاَقِ عَلَى غَيْظٍ

2191

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ الزُّهْرِيُّ، أَنَّ يَعْقُوبَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَهُمْ قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ الْحِمْصِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ الَّذِي، كَانَ يَسْكُنُ إِيلْيَا قَالَ خَرَجْتُ مَعَ عَدِيِّ بْنِ عَدِيٍّ الْكِنْدِيِّ حَتَّى قَدِمْنَا مَكَّةَ فَبَعَثَنِي إِلَى صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ وَكَانَتْ قَدْ حَفِظَتْ مِنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سَمِعْتُ عَائِشَةَ تَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ طَلاَقَ وَلاَ عَتَاقَ فِي غَلاَقٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْغِلاَقُ أَظُنُّهُ فِي الْغَضَبِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৯১. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে সা‘দ আল যুহরী ..... মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ ইবনে আবু সালিহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত, যিনি (সিরিয়ার) ইলিয়া নামক স্থানে বসবাস করতেন। তিনি বলেন, আমি সিরিয়া হতে আদী ইবনে আদী আল কিনদীর সাথে বের হই। এরপর আমরা মক্কায় উপনীত হলে, আমাকে সাফিয়্যা বিনতে শায়বার নিকট তিনি প্রেরণ করেন। যিনি আয়িশা (রাযিঃ) হতে এ হাদীসটি সংগ্রহ করেন। রাবী বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ গিলাক অবস্থায় কোন তালাক হয় না বা দাস মুক্ত করা যায় না।

১৫৩. হাসি-ঠাট্টাচ্ছলে তালাক প্রদান।

باب الطَّلاَقِ عَلَى الْهَزْلِ

2192

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَبِيبٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنِ ابْنِ مَاهَكَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " ثَلاَثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ النِّكَاحُ وَالطَّلاَقُ وَالرَّجْعَةُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৯২. আল্ কা‘নবী ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তিনটি বিষয় এমন রয়েছে যা মনেপ্রাণে করা হোক অথবা ঠাট্টাচ্ছলে করা হোক, তা কার্যকর হবে।
তাহলোঃ বিবাহ, তালাক ও তালাক প্রত্যাহার।

১৫৪. তিন তালাক প্রদানের পর পুনঃগ্রহণ বাতিল হওয়া সম্পর্কে অবশিষ্ট হাদীস।

2193

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي بَعْضُ بَنِي أَبِي رَافِعٍ، مَوْلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنْ عِكْرِمَةَ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ طَلَّقَ عَبْدُ يَزِيدَ - أَبُو رُكَانَةَ وَإِخْوَتِهِ - أُمَّ رُكَانَةَ وَنَكَحَ امْرَأَةً مِنْ مُزَيْنَةَ فَجَاءَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ مَا يُغْنِي عَنِّي إِلاَّ كَمَا تُغْنِي هَذِهِ الشَّعْرَةُ . لِشَعْرَةٍ أَخَذَتْهَا مِنْ رَأْسِهَا فَفَرِّقْ بَيْنِي وَبَيْنَهُ فَأَخَذَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَمِيَّةٌ فَدَعَا بِرُكَانَةَ وَإِخْوَتِهِ ثُمَّ قَالَ لِجُلَسَائِهِ " أَتَرَوْنَ فُلاَنًا يُشْبِهُ مِنْهُ كَذَا وَكَذَا مِنْ عَبْدِ يَزِيدَ وَفُلاَنًا يُشْبِهُ مِنْهُ - كَذَا وَكَذَا " . قَالُوا نَعَمْ . قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِعَبْدِ يَزِيدَ " طَلِّقْهَا " . فَفَعَلَ ثُمَّ قَالَ " رَاجِعِ امْرَأَتَكَ أُمَّ رُكَانَةَ وَإِخْوَتِهِ " . فَقَالَ إِنِّي طَلَّقْتُهَا ثَلاَثًا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " قَدْ عَلِمْتُ رَاجِعْهَا " . وَتَلاَ ( يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ ) . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدِيثُ نَافِعِ بْنِ عُجَيْرٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ بْنِ رُكَانَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رُكَانَةَ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ الْبَتَّةَ فَرَدَّهَا إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَصَحُّ لأَنَّ وَلَدَ الرَّجُلِ وَأَهْلَهُ أَعْلَمُ بِهِ أَنَّ رُكَانَةَ إِنَّمَا طَلَّقَ امْرَأَتَهُ الْبَتَّةَ فَجَعَلَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَاحِدَةً .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৯৩. আহমদ ইবনে সালিহ্ ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রুকানার পিতা আব্দ ইয়াযীদ উম্মে রুকানাকে তালাক প্রদান করেন এবং মুযায়না গোত্রের জনৈক স্ত্রীলোককে বিবাহ করেন। সেই মহিলা নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলে, সে সহবাসে অক্ষম, যেমন আমার মাথার চুল অন্য চুলের কোন উপকারে আসে না। কাজেই আপনি তার ও আমার মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিন। এটা শুনে নবী করীম (ﷺ) রাগান্বিত হন এবং তিনি রুকানা ও তার ভাইদিগকে আহবান করেন। এরপর তিনি সেখানে উপস্থিত করে সাথীদের সম্বোধন করে বলেন, তোমরা লক্ষ্য করে দেখ যে, এদের মধ্যে অমুক অমুকের বিশেষ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাদের পিতা আব্দ ইয়াযীদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সঙ্গে কি মিল খাচ্ছে না? তখন তারা বলেন, হ্যাঁ।

নবী করীম (ﷺ) আব্দ ইয়াযীদকে বলেন, তুমি তাকে তালাক দিয়ে দাও। তিনি তাকে তালাক দিলেন। এরপর তিনি তাকে নির্দেশ দেন যে, তুমি উম্মে রুকানাকে পুনরায় গ্রহণ কর। তখন তিনি বলেন, আমি তো তাকে তিন তালাক প্রদান করেছি, হে আল্লাহর রাসুল! তখন তিনি বলেন আমি তোমার তালাক প্রদানের কথা অবগত আছি। তুমি তাকে পুনরায় গ্রহণ কর। এরপর তিনি কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করেন, হে নবী! যখন তোমাদের স্ত্রীদের তালাক প্রদান করবে, তখন তাদেরকে ইদ্দত পালনের জন্য তালাক দিবে।
2194

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ فَجَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ إِنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا . قَالَ فَسَكَتَ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ رَادُّهَا إِلَيْهِ . ثُمَّ قَالَ يَنْطَلِقُ أَحَدُكُمْ فَيَرْكَبُ الْحَمُوقَةَ ثُمَّ يَقُولُ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ وَإِنَّ اللَّهَ قَالَ ( وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا ) وَإِنَّكَ لَمْ تَتَّقِ اللَّهَ فَلَمْ أَجِدْ لَكَ مَخْرَجًا عَصَيْتَ رَبَّكَ وَبَانَتْ مِنْكَ امْرَأَتُكَ وَإِنَّ اللَّهَ قَالَ ( يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَطَلِّقُوهُنَّ ) فِي قُبُلِ عِدَّتِهِنَّ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ حُمَيْدٌ الأَعْرَجُ وَغَيْرُهُ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَرَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَيُّوبُ وَابْنُ جُرَيْجٍ جَمِيعًا عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَرَوَاهُ ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ رَافِعٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَرَوَاهُ الأَعْمَشُ عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحَارِثِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ كُلُّهُمْ قَالُوا فِي الطَّلاَقِ الثَّلاَثِ إِنَّهُ أَجَازَهَا قَالَ وَبَانَتْ مِنْكَ نَحْوَ حَدِيثِ إِسْمَاعِيلَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَثِيرٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ إِذَا قَالَ " أَنْتِ طَالِقٌ ثَلاَثًا " . بِفَمٍ وَاحِدٍ فَهِيَ وَاحِدَةٌ وَرَوَاهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ هَذَا قَوْلُهُ لَمْ يَذْكُرِ ابْنَ عَبَّاسٍ وَجَعَلَهُ قَوْلَ عِكْرِمَةَ .

Narrator: মুজাহিদ ইবনে জাবর (রহঃ)

২১৯৪. হুমায়দ ইবনে মাসআদা .... মুজাহিদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে বলে যে, সে তার স্ত্রীকে তিন তালাক প্রদান করেছে। তখন তিনি চুপ করে থাকেন, যাতে আমার মনে হয়, তিনি (ইবনে আব্বাস) তাকে ঐ স্ত্রী পুনরায় গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিবেন। এরপর তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর বলেন, তোমাদের কেউ যেন এখান থেকে গমনপূর্বক আহমকের মত কাজ না করে এবং বলে, হে ইবনে আব্বাস! হে ইবনে আব্বাস! আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেছেনঃ ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ কে ভয় করে, তার জন্য পরিত্রাণের কোন পথ দেখছি না। তুমি তোমার রবের নাফরমানী করেছ এবং তোমার স্ত্রীকে তোমার নিকট হতে পৃথক করে দিয়েছ। অথচ আল্লাহ্ তাআলার নির্দেশঃ ‘‘হে নবী! যখন তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের তালাক দিবে, তখন তাদের ইদ্দতের মধ্যে তাদের তালাক দিবে।

2195

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، - وَهَذَا حَدِيثُ أَحْمَدَ - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، وَمُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِيَاسٍ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، وَأَبَا، هُرَيْرَةَ وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ سُئِلُوا عَنِ الْبِكْرِ، يُطَلِّقُهَا زَوْجُهَا ثَلاَثًا فَكُلُّهُمْ قَالُوا لاَ تَحِلُّ لَهُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى مَالِكٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ أَنَّهُ شَهِدَ هَذِهِ الْقِصَّةَ حِينَ جَاءَ مُحَمَّدُ بْنُ إِيَاسِ بْنِ الْبُكَيْرِ إِلَى ابْنِ الزُّبَيْرِ وَعَاصِمِ بْنِ عُمَرَ فَسَأَلَهُمَا عَنْ ذَلِكَ فَقَالاَ اذْهَبْ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ فَإِنِّي تَرَكْتُهُمَا عِنْدَ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - ثُمَّ سَاقَ هَذَا الْخَبَرَ ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: " وَقَوْلُ ابْنِ عَبَّاسٍ هُوَ: أَنَّ الطَّلَاقَ الثَّلَاثَ تَبِينُ مِنْ زَوْجِهَا مَدْخُولًا بِهَا، وَغَيْرَ مَدْخُولٍ بِهَا، لَا تَحِلُّ لَهُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ، هَذَا مِثْلُ خَبَرِ الصَّرْفِ، قَالَ فِيهِ: ثُمَّ إِنَّهُ رَجَعَ عَنْهُ يَعْنِي ابْنَ عَبَّاسٍ "

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৯৫. আহমদ ইবনে সালিহ্ ..... মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াস (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবনে আব্বাস, আবু হুরায়রা ও আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিঃ)-কে ঐ কুমারী স্ত্রীলোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, যাকে তার স্বামী তিন তালাক প্রদান করেছে। এর জবাবে তাঁরা সকলেই বলেন, ঐ স্ত্রী তার জন্য ততক্ষণ হালাল হবে না, যতক্ষণ না তাকে অন্য স্বামীর সাথে বিবাহ দেয়া হয়।

2196

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ غَيْرِ، وَاحِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، أَنَّ رَجُلاً، يُقَالُ لَهُ أَبُو الصَّهْبَاءِ كَانَ كَثِيرَ السُّؤَالِ لاِبْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الرَّجُلَ كَانَ إِذَا طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا جَعَلُوهَا وَاحِدَةً عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وَصَدْرًا مِنْ إِمَارَةِ عُمَرَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ بَلَى كَانَ الرَّجُلُ إِذَا طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا جَعَلُوهَا وَاحِدَةً عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وَصَدْرًا مِنْ إِمَارَةِ عُمَرَ فَلَمَّا رَأَى النَّاسَ قَدْ تَتَابَعُوا فِيهَا قَالَ أَجِيزُوهُنَّ عَلَيْهِمْ .

Narrator: তাউস ইবনে কায়সান (রহঃ)

২১৯৬. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান ..... তাউস (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু সাহবা নামক জনৈক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট অধিক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতেন। একদা সে বলে, আপনি কি এ ব্যাপার সম্পর্কে অবহিত আছেন যে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে সহবাসের পূর্বে তাকে তিন তালাক প্রদান করে, একে তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে এবং উমর (রাযিঃ) এর যুগে এক তালাক হিসাবে গণ্য করতো? ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, হ্যাঁ। যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে সহবাসের পূর্বে তাকে তিন তালাক প্রদান করতো; তাঁরা একে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু বকর (রাযিঃ) উমর (রাযিঃ) এর খিলাফতের প্রথম দিকে, এক তালাক গণ্য করতো। এরপর তিনি (উমর) যখন দেখেন যে, মানুষ অধিক হারে তিন তালাক দিচ্ছে তখন তিনি বলেন, এতে তাদের উপর তিন তালাক বর্তাবে।

2197

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ أَبَا الصَّهْبَاءِ، قَالَ لاِبْنِ عَبَّاسٍ أَتَعْلَمُ إِنَّمَا كَانَتِ الثَّلاَثُ تُجْعَلُ وَاحِدَةً عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وَثَلاَثًا مِنْ إِمَارَةِ عُمَرَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ نَعَمْ .

Narrator: তাউস ইবনে কায়সান (রহঃ)

২১৯৭. আহমদ ইবনে সালিহ ...... একদা আবুস সাহবা (রাযিঃ) ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কি অবগত আছেন যে, নবী করীম (ﷺ) এর যুগে, আবু বকর (রাযিঃ) এর যুগে এবং উমর (রাযিঃ) এর খিলাফতের তিন বছর কাল পর্যন্ত তিন তালাক কে এক তালাক গণ্য করা হতো? ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, হ্যাঁ।

১৫৫. যে শব্দের দ্বারা তালাকের ইচ্ছা বোঝায় তা এবং নিয়ত।

باب فِيمَا عُنِيَ بِهِ الطَّلاَقُ وَالنِّيَّاتُ

2198

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ اللَّيْثِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ " .

Narrator: আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস লায়ছী (রহঃ)

২১৯৮. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর ..... আলকামা ইবনে ওয়াক্কাস আল্ লায়সী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ সমস্ত কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।আর প্রত্যেক ব্যক্তি যে কাজের জন্য যে নিয়ত করে, তা তদ্রূপ হয়ে থাকে। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও রাসূলের সন্তুষ্টির জন্য হিজরত করে, তার হিজরত আল্লাহ্ ও রাসূলের জন্য হয়। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার কিছু লাভের উদ্দেশ্যে হিজরত করে বা কোন স্ত্রীলোককে বিবাহের উদ্দেশ্যে হিজরত করে, এমতাবস্থায় সে যে নিয়তে হিজরত করে, সে তা-ই প্রাপ্ত হবে।

2199

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ كَعْبٍ، - وَكَانَ قَائِدَ كَعْبٍ مِنْ بَنِيهِ حِينَ عَمِيَ - قَالَ سَمِعْتُ كَعْبَ بْنَ مَالِكٍفَسَاقَ قِصَّتَهُ فِي تَبُوكَ قَالَ حَتَّى إِذَا مَضَتْ أَرْبَعُونَ مِنَ الْخَمْسِينَ إِذَا رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْتِي فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُكَ أَنْ تَعْتَزِلَ امْرَأَتَكَ . قَالَ فَقُلْتُ أُطَلِّقُهَا أَمْ مَاذَا أَفْعَلُ قَالَ لاَ بَلِ اعْتَزِلْهَا فَلاَ تَقْرَبَنَّهَا . فَقُلْتُ لاِمْرَأَتِي الْحَقِي بِأَهْلِكِ فَكُونِي عِنْدَهُمْ حَتَّى يَقْضِيَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ فِي هَذَا الأَمْرِ .

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

২১৯৯. আহমদ ইবনে আমর ...... ইবনে শিহাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে কা‘ব মালিক (রাযিঃ) বলেছেন। আর কা‘ব (রাযিঃ) যখন অন্ধ হয়ে যান, তখন তাঁর গোত্রের লোকেরা তাঁকে নিয়ে চলাফেরা করতো। রাবী বলেন,আমি কা‘ব ইবনে মালিককে বলতে শুনেছি। এরপর তাবুকের ঘটনা সম্পর্কে বিধৃত হয়েছে। তিনি বলেন, এরপর যখন পঞ্চাশ দিনের মধ্যে চল্লিশ দিন অতিবাহিত হয়, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর দূত আমার নিকট আগমন করেন এবং বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আপনাকে আপনার স্ত্রীর নিকট হতে দূরে অবস্থান করতে বলেছেন। তখন তিনি (কা‘ব) জিজ্ঞাসা করেন, আমি কি তাকে তালাক দিব, না কি রাখব? দূত বলেন, না, (তালাক দিবেন না) বরং তার নিকট হতে দূরে থাকুন এবং তার সাথে সহবাস করবেন না। এতদশ্রবণে আমি আমার স্ত্রীকে বলি, তুমি তোমার (পিতার) পরিবারের নিকট গমন করো এবং তাদের সাথে অবস্থান করো, যতক্ষণ না আল্লাহ্ তাআলা এ ব্যাপার সম্পর্কে ফায়সালা প্রদান করেন।

১৫৬. যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ইখতিয়ার (ক্ষমতা) দেয়, তবে এতে তালাক হবে কিনা।

باب فِي الْخِيَارِ

2200

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَيَّرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاخْتَرْنَاهُ فَلَمْ يَعُدَّ ذَلِكَ شَيْئًا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২০০. মুসাদ্দাদ ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এক সময় আমাদের তালাকের ইখতিয়ার প্রদান করেন। তখন আমরা তাঁর নির্দেশ পালন করি এবং তালাকের ইখতিয়ার সম্পর্কে কিছু ঘটেনি। (অর্থাৎ কেউই তালাক গ্রহণ করেননি, বরং নবীজীর স্ত্রী হিসাবে থাকাই পছন্দ করেছেন।)

১৫৭. যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীকে বলে, ’’তোমার ব্যাপার তোমার হাতে’’।

باب فِي أَمْرُكِ بِيَدِكِ

2201

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ قُلْتُ لأَيُّوبَ هَلْ تَعْلَمُ أَحَدًا قَالَ بِقَوْلِ الْحَسَنِ فِي أَمْرُكِ بِيَدِكِ . قَالَ لاَ إِلاَّ شَىْءٌ حَدَّثَنَاهُ قَتَادَةُ عَنْ كَثِيرٍ مَوْلَى ابْنِ سَمُرَةَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ قَالَ أَيُّوبُ فَقَدِمَ عَلَيْنَا كَثِيرٌ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ مَا حَدَّثْتُ بِهَذَا قَطُّ فَذَكَرْتُهُ لِقَتَادَةَ فَقَالَ بَلَى وَلَكِنَّهُ نَسِيَ .

Narrator: হাম্মাদ ইবনে যায়দ (রহঃ)

২২০১. আল্ হাসান আলী ..... হাম্মাদ ইবনে যায়দ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আইয়ুবকে বলি, তোমরা কি হাসান বর্ণিত ঐ হাদীসটি সম্পর্কে কেউ জ্ঞাত আছ? তোমার ব্যাপার তোমার হাতে? তিনি বলেন, না। তবে কাতাদা ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী করীম (ﷺ) হতে এরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

2202

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، فِي أَمْرُكِ بِيَدِكِ . قَالَ ثَلاَثٌ .

Narrator: হাসান বসরী (রহঃ)

২২০২. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম ..... হাসান (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘‘তোমার ব্যাপার তোমার হাতে’’ এর দ্বারা তিন তালাকের নিয়ত করলে, তিন তালাক বর্তাবে।

১৫৮. যদি কেউ স্বীয় স্ত্রীকে ’আলবাত্তাতা’ (অবশ্যই তালাক দিলাম বা এক শব্দে তিন তালাক দিলাম বলে) তালাক প্রদান করে।

باب فِي الْبَتَّةِ

2203

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ خَالِدٍ الْكَلْبِيُّ أَبُو ثَوْرٍ، - فِي آخَرِينَ - قَالُوا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيُّ، حَدَّثَنِي عَمِّي، مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ شَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ نَافِعِ بْنِ عُجَيْرِ بْنِ عَبْدِ يَزِيدَ بْنِ رُكَانَةَ، أَنَّ رُكَانَةَ بْنَ عَبْدِ يَزِيدَ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ سُهَيْمَةَ الْبَتَّةَ فَأَخْبَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ وَقَالَ وَاللَّهِ مَا أَرَدْتُ إِلاَّ وَاحِدَةً . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَاللَّهِ مَا أَرَدْتَ إِلاَّ وَاحِدَةً " . فَقَالَ رُكَانَةُ وَاللَّهِ مَا أَرَدْتُ إِلاَّ وَاحِدَةً . فَرَدَّهَا إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَطَلَّقَهَا الثَّانِيَةَ فِي زَمَانِ عُمَرَ وَالثَّالِثَةَ فِي زَمَانِ عُثْمَانَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَوَّلُهُ لَفْظُ إِبْرَاهِيمَ وَآخِرُهُ لَفْظُ ابْنِ السَّرْحِ .

Narrator: নাফি' ইবনে জুবাইর (রহঃ)

২২০৩. ইবনে আল্ সারহ্ ..... নাফি’ ইবনে উজায়র ইবনে আব্দ ইয়াযীদ ইবনে রুকানা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রুকানা ইবনে আব্দ ইয়াযীদ তাঁর স্ত্রী সুহায়মাকে আলবাত্তাতা’ শব্দের দ্বারা তালাক প্রদান করে। তখন এতদসম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে অবহিত করা হয়। তখন তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি এর দ্বারা এক তালাকের ইচ্ছা করি। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, আল্লাহর শপথ, তুমি কি এর দ্বারা এক তালাকের ইচ্ছা করেছ? তখন জবাবে রুকানা বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি এর দ্বারা এক তালাকের ইচ্ছা করি। এতদশ্রবণে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে স্বীয় স্ত্রী পুনরায় গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন। অতঃপর তিনি (উমর) (রাযিঃ) এর খিলাফতকালে তাকে দ্বিতীয় তালাক দেন এবং তৃতীয় তালাক প্রদান করেন উসমান (রাযিঃ) এর খিলাফতকালে।

2204

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ النَّسَائِيُّ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَهُمْ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِدْرِيسَ، حَدَّثَنِي عَمِّي، مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ عَنِ ابْنِ السَّائِبِ، عَنْ نَافِعِ بْنِ عُجَيْرٍ، عَنْ رُكَانَةَ بْنِ عَبْدِ يَزِيدَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ .

Narrator: রুকানা (রাঃ)

২২০৪. মুহাম্মাদ ইবনে ইউনুস ...... রুকানা ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে পূবোর্ক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

2205

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ بْنِ رُكَانَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ الْبَتَّةَ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مَا أَرَدْتَ " . قَالَ وَاحِدَةً . قَالَ " آللَّهِ " . قَالَ آللَّهِ . قَالَ " هُوَ عَلَى مَا أَرَدْتَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ جُرَيْجٍ أَنَّ رُكَانَةَ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا لأَنَّهُمْ أَهْلُ بَيْتِهِ وَهُمْ أَعْلَمُ بِهِ وَحَدِيثُ ابْنِ جُرَيْجٍ رَوَاهُ عَنْ بَعْضِ بَنِي أَبِي رَافِعٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ .

Narrator: রুকানা (রাঃ)

২২০৫ . সুলাইমান ইবনে দাউদ ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আলী ইবনে ইয়াযীদ ইবনে রুকানা তার পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর স্ত্রীকে আলবাত্তাতা’ শব্দের দ্বরা তালাক প্রদান করেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হলে, তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, এর দ্বারা তুমি কী ইচ্ছা করেছ? তিনি বলেন, এক তালাকের ইচ্ছা করেছি। তখন তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! তিনিও বলেন, আল্লাহর শপথ! অতঃপর বললেন তুমি যা নিয়ত করেছ তাই।

১৫৯. যদি কেউ মনে মনে স্ত্রীকে তালাক দেয়।

باب فِي الْوَسْوَسَةِ بِالطَّلاَقِ

2206

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لأُمَّتِي عَمَّا لَمْ تَتَكَلَّمْ بِهِ أَوْ تَعْمَلْ بِهِ وَبِمَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২০৬. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তাআলা আমার উম্মতের অন্তরে যা উদয় হয়, উহা যতক্ষণ না সে মুখে বলে ও কাজে বাস্তবায়িত করে তা মার্জনা করেছেন। (অর্থাৎ মুখে কিছু না বলে মনে তালাকের ধারণা পোষণ করলে তালাক হয় না।)।

১৬০. ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে, যে স্বীয় স্ত্রীকে বলে, হে আমার ভগ্নি!

باب فِي الرَّجُلِ يَقُولُ لاِمْرَأَتِهِ يَا أُخْتِي

2207

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، وَخَالِدٌ الطَّحَّانُ، - الْمَعْنَى - كُلُّهُمْ عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيِّ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ لاِمْرَأَتِهِ يَا أُخَيَّةُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُخْتُكَ هِيَ " . فَكَرِهَ ذَلِكَ وَنَهَى عَنْهُ .

Narrator: বিবিধ

২২০৭. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আবু তামীমা আল্ হুজায়মী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হে আমার ভগ্নি বলে সন্বোধন করে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করেন, সে কি তোমার (সত্যই) ভগ্নি? তিনি তা অপছন্দ করেন এবং তাকে এরূপ বলতে নিষেধ করেন।

2208

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ، - يَعْنِي ابْنَ حَرْبٍ - عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ قَوْمِهِ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ رَجُلاً، يَقُولُ لاِمْرَأَتِهِ " يَا أُخَيَّةُ " . فَنَهَاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُخْتَارِ عَنْ خَالِدٍ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَرَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ خَالِدٍ عَنْ رَجُلٍ عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: বিবিধ

২২০৮. মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম ...... আবু তামীমা (রাহঃ) তার গোত্রের এক ব্যক্তি হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) কোন এক ব্যক্তিকে তার স্ত্রীকে ‘হে আমার ভগ্নি’ সন্বোধন করতে শুনে তাকে এরূপ করতে নিষেধ করেন।

2209

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " أَنَّ إِبْرَاهِيمَ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكْذِبْ قَطُّ إِلاَّ ثَلاَثًا ثِنْتَانِ فِي ذَاتِ اللَّهِ تَعَالَى قَوْلُهُ ( إِنِّي سَقِيمٌ ) وَقَوْلُهُ ( بَلْ فَعَلَهُ كَبِيرُهُمْ هَذَا ) وَبَيْنَمَا هُوَ يَسِيرُ فِي أَرْضِ جَبَّارٍ مِنَ الْجَبَابِرَةِ إِذْ نَزَلَ مَنْزِلاً فَأُتِيَ الْجَبَّارُ فَقِيلَ لَهُ إِنَّهُ نَزَلَ هَا هُنَا رَجُلٌ مَعَهُ امْرَأَةٌ هِيَ أَحْسَنُ النَّاسِ قَالَ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَسَأَلَهُ عَنْهَا فَقَالَ إِنَّهَا أُخْتِي . فَلَمَّا رَجَعَ إِلَيْهَا قَالَ إِنَّ هَذَا سَأَلَنِي عَنْكِ فَأَنْبَأْتُهُ أَنَّكِ أُخْتِي وَإِنَّهُ لَيْسَ الْيَوْمَ مُسْلِمٌ غَيْرِي وَغَيْرُكِ وَإِنَّكِ أُخْتِي فِي كِتَابِ اللَّهِ فَلاَ تُكَذِّبِينِي عِنْدَهُ " . وَسَاقَ الْحَدِيثَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْخَبَرَ شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنِ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২০৯. মুহাম্মাদ ইবনে আল্ মুসান্না .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইরবরাহীম (আলাইহিস সালাম) তিনবার (আপাত) মিথ্যা বলেছিলেন। যার দুটি ছিল আল্লাহ্ তাআলার সত্ত্বা সম্পর্কে। যেমনঃ তাঁর কথাঃ আমি পিড়ীত এবং তাঁর কথা: বরং এদের বড়টাই (মূর্তি) তা করেছে। আর তিনি যখন অত্যাচারী শাসকদের মধ্যে কোন এক অত্যাচারী রাজার ভিতর দিয়ে গমন করেছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি (তাঁর স্ত্রী সারা সহ) যখন কোন এক স্থানে অবতরণ করেন; তখন ঐ অত্যাচারী রাজার জনৈক ব্যক্তি সেখানে আসে। এরপর সে তাকে (রাজাকে) গিয়ে বলে, এখানে এক ব্যক্তি এসেছে যার সাথে সুন্দরী রমণী আছে। এরপর তিনি বলেন, তখন সে (অত্যাচারী রাজা) তাঁর (ইবরাহীমের) নিকট একজন অনুচর পাঠিয়ে দেয়।

তখন তিনি তাঁর নিকট উপস্থিত হলে, সে তাঁর (সারার) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যে, সে কে? জবাবে তিনি বলেন, সে আমার ভগ্নি। অতঃপর তিনি (ইবরাহীম) তাঁর (সারার) নিকট ফিরে এসে বলেন, এই ব্যক্তি আমাকে তোমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছে; আমি তাকে বলেছি, তুমি আমার ভগ্নি। আর অবস্থা এই যে, বর্তমান দুনিয়াতে তুমি এবং আমি ব্যতীত আর কোন মুসলিম নেই। আর আল্লাহ কিতাব অনুযায়ী তুমি আমার বোন। কাজেই, আমি তোমার সম্পর্কে তার নিকট মিথ্যা বলেছি এরূপ মনে করবে না। এরূপে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

১৬১. যিহার।

باب فِي الظِّهَارِ

2210

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، - قَالَ ابْنُ الْعَلاَءِ ابْنِ عَلْقَمَةَ بْنِ عَيَّاشٍ - عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ صَخْرٍ، - قَالَ ابْنُ الْعَلاَءِ الْبَيَاضِيِّ - قَالَ كُنْتُ امْرَأً أُصِيبُ مِنَ النِّسَاءِ مَا لاَ يُصِيبُ غَيْرِي فَلَمَّا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ خِفْتُ أَنْ أُصِيبَ مِنَ امْرَأَتِي شَيْئًا يُتَابَعُ بِي حَتَّى أُصْبِحَ فَظَاهَرْتُ مِنْهَا حَتَّى يَنْسَلِخَ شَهْرُ رَمَضَانَ فَبَيْنَمَا هِيَ تَخْدُمُنِي ذَاتَ لَيْلَةٍ إِذْ تَكَشَّفَ لِي مِنْهَا شَىْءٌ فَلَمْ أَلْبَثْ أَنْ نَزَوْتُ عَلَيْهَا فَلَمَّا أَصْبَحْتُ خَرَجْتُ إِلَى قَوْمِي فَأَخْبَرْتُهُمُ الْخَبَرَ وَقُلْتُ امْشُوا مَعِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالُوا لاَ وَاللَّهِ . فَانْطَلَقْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ " أَنْتَ بِذَاكَ يَا سَلَمَةُ " . قُلْتُ أَنَا بِذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَرَّتَيْنِ وَأَنَا صَابِرٌ لأَمْرِ اللَّهِ فَاحْكُمْ فِيَّ مَا أَرَاكَ اللَّهُ قَالَ " حَرِّرْ رَقَبَةً " . قُلْتُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أَمْلِكُ رَقَبَةً غَيْرَهَا وَضَرَبْتُ صَفْحَةَ رَقَبَتِي قَالَ " فَصُمْ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ " . قَالَ وَهَلْ أُصِبْتُ الَّذِي أُصِبْتُ إِلاَّ مِنَ الصِّيَامِ قَالَ " فَأَطْعِمْ وَسْقًا مِنْ تَمْرٍ بَيْنَ سِتِّينَ مِسْكِينًا " . قُلْتُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَقَدْ بِتْنَا وَحْشَيْنِ مَا لَنَا طَعَامٌ قَالَ " فَانْطَلِقْ إِلَى صَاحِبِ صَدَقَةِ بَنِي زُرَيْقٍ فَلْيَدْفَعْهَا إِلَيْكَ فَأَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا وَسْقًا مِنْ تَمْرٍ وَكُلْ أَنْتَ وَعِيَالُكَ بَقِيَّتَهَا " . فَرَجَعْتُ إِلَى قَوْمِي فَقُلْتُ وَجَدْتُ عِنْدَكُمُ الضِّيقَ وَسُوءَ الرَّأْىِ وَوَجَدْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم السَّعَةَ وَحُسْنَ الرَّأْىِ وَقَدْ أَمَرَنِي - أَوْ أَمَرَ لِي - بِصَدَقَتِكُمْ زَادَ ابْنُ الْعَلاَءِ قَالَ ابْنُ إِدْرِيسَ بَيَاضَةُ بَطْنٌ مِنْ بَنِي زُرَيْقٍ .

Narrator: সালামা ইবনে সাখর বায়াযী (রাঃ)

২২১০. উসমান ইবনে আবি শাঈবা .... সালামা ইবনে সাখার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনুল আলা আল্-বায়াদবী বলেছেন, স্ত্রীদের সাথে সহবাসে আমি খু্বই সক্ষম ছিলাম। আর আমার মতো সহবাসে সামর্থ ব্যক্তি আর কেউ ছিল না। এরপর মাহে রমযান সমাগত হওয়াতে আমার আশঙ্কা হয় যে, হয়ত আমি সকাল বেলাতেও আমার স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হতে পারি। তখন আমি তার সাথে যিহার করি এবং এমতাবস্থায় মাহে রমযান প্রায় শেষ পর্যায়ে পোঁছে। কিন্তু একদা রাতে সে আমার খিদমতের সময়, তার সৌন্দর্য আমার সম্মুখে উন্মোচিত হওয়ায় আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে অসমর্থ হই এবং তার সাথে সহবাস করি। এরপর সকালবেলা আমার কওমের লোকদের নিকট গমন করি এবং তাদের এ ঘটনা ব্যক্ত করি তাদেরকে বলিঃ তোমরা আমার সাথে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট চলো এবং তাঁকে সব খুলে বলি।

তিনি জিজ্ঞাসা করেন, হে সালামা! তুমি কি এরূপ কাণ্ড করেছ? আমি বলি, হে আল্লাহর রাসুল! আমি এরূপই করেছি এবং তা দু‘বার বলি। আর এমতাবস্থায় আমি আল্লাহ্ তাআলা নির্দেশের প্রতি ধৈয্য ধারণ করি। এখন আল্লাহ্ যা বলেছেন, এখন সে হিসাবে আমার উপর হুকুম জারী করুন। তিনি বলেন, তুমি একজন দাসী মুক্ত করো। আমি বলি, ঐ আল্লাহর শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, এ ব্যতীত আমার আর কোন দাসী নেই এবং এই বলে আমি তার শরীর স্পর্শ করি। তিনি বলেন, তবে তুমি দু’ মাস একাধারে রোযা রাখো। সে বলে, রোযার মধ্যে আমি যে মুসীবতে পড়েছি, হয়ত সেরূপ মুসীবতে আবার পড়তে পারি। তিনি বলেন,এমতাবস্থায় তুমি ষাটজন মিসকীনকে তৃপ্তি সহকারে খুরমা খাওয়াও। সে বলে, ঐ আল্লাহ শপথ! যিনি আপনাকে সত্য নবী হিসাবে প্রেরণ করেছেন, আমরা (স্ত্রী, পরিবার) তো রাতে খালি পেটে উপোস করি, আর আমাদের কোনো খাবরই নেই।

তিনি বলেন, তুমি বনী যারীক গোত্রের সাদ্‌কা আদায়কারী ব্যক্তির নিকট গমন করো, সে তোমাকে খুরমা প্রদান করবে। আর তার দ্বারা তুমি ষাটজন মিসকীনকে তৃপ্তি সহকারে খাওয়াবে এবং তুমি ও তোমার পরিজনবর্গও বাকি অংশ খাবে। তখন আমি আমার কওমের নিকট ফিরে এসে বলি, আমি তোমাদের নিকট সংকীর্ণতা ও খারাপ ব্যবহার পেয়েছি এবং আমি নবী করীম (ﷺ) এর নিকট উদারতা, ভাল ব্যবহার পেয়েছি। তিনি আমাকে তোমাদের সাদ্‌কার মাল গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। রাবী ইবনুল আলা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে ইদরীস বলেছেন, বায়দা বনী যুরাইক গোত্রের একটি শাখা।
2211

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مَعْمَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْظَلَةَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ، عَنْ خُوَيْلَةَ بِنْتِ مَالِكِ بْنِ ثَعْلَبَةَ، قَالَتْ ظَاهَرَ مِنِّي زَوْجِي أَوْسُ بْنُ الصَّامِتِ فَجِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَشْكُو إِلَيْهِ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُجَادِلُنِي فِيهِ وَيَقُولُ " اتَّقِي اللَّهَ فَإِنَّهُ ابْنُ عَمِّكِ " . فَمَا بَرِحْتُ حَتَّى نَزَلَ الْقُرْآنُ ( قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا ) إِلَى الْفَرْضِ فَقَالَ " يُعْتِقُ رَقَبَةً " . قَالَتْ لاَ يَجِدُ قَالَ " فَيَصُومُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ " . قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ شَيْخٌ كَبِيرٌ مَا بِهِ مِنْ صِيَامٍ . قَالَ " فَلْيُطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا " . قَالَتْ مَا عِنْدَهُ مِنْ شَىْءٍ يَتَصَدَّقُ بِهِ قَالَتْ فَأُتِيَ سَاعَتَئِذٍ بِعَرَقٍ مِنْ تَمْرٍ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَإِنِّي أُعِينُهُ بِعَرَقٍ آخَرَ . قَالَ " قَدْ أَحْسَنْتِ اذْهَبِي فَأَطْعِمِي بِهَا عَنْهُ سِتِّينَ مِسْكِينًا وَارْجِعِي إِلَى ابْنِ عَمِّكِ " . قَالَ وَالْعَرَقُ سِتُّونَ صَاعًا قَالَ أَبُو دَاوُدَ فِي هَذَا إِنَّهَا كَفَّرَتْ عَنْهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ تَسْتَأْمِرَهُ . وَقَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا أَخُو عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ .

Narrator: বিবিধ

২২১১. আল্ হাসান ইবনে আলী ..... খুওয়ায়লা বিনতে মালিক ইবনে সা’লাবা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার সাথে আমার স্বামী আওস ইবনুস সামিত (রাযিঃ) যিহার করে। আমি এ সম্পর্কে অভিযোগ পেশের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট গমন করি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ ব্যাপারে আমার সাথে বচসা করেন এবং বলেন, তুমি আল্লাহকে ভয় করো, সে তো তোমার চাচার ছেলে। এরপর আমার বেরিয়ে আসার সাথে সাথেই কুরআনের এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (অর্থ) ‘আল্লাহ্ তাআলা ঐ মহিলার কথা শ্রবণ করেছেন, যে তার স্বামী সম্পর্কে তোমার সাথে ঝগড়া করছে ......... এখান থেকে কাফফারা (প্রদান) পর্যন্ত আয়াত নাযিল হয়।

তিনি বলেন, সে যেন একটি দাস আযাদ করে। তখন সে (মহিলা) বলে, তাঁর কোন দাস নেই। তিনি বলেন, সে যেন একাধারে দু’ মাস রোযা রাখে। সে (মহিলা) বলে, হে আল্লাহর রাসুল! সে তো খুবই বৃদ্ধ। তার রোযা রাখার সামর্থ নাই। তিনি বলেন, সে যেন ষাটজন মিসকীনকে খানা খাওয়ায়। সে (মহিলা) বলে, তার নিকট সাদ্‌কা (কাফফারা) দেওয়ার মত কিছুই নেই। সে (মহিলা) বলে, সে সময় তাঁর নিকট থলে ভর্তি খুরমা আসে, যাতে এক ইরক পরিমাণ খুরমা ছিল। তিনি তা তাকে প্রদান করেন। সে বলে, হে আল্লাহর রাসুল! কাফফারার জন্য দেয়া বাকি আরো এক ইরক পরিমাণ খুরমা দিতে সে অপারগ। তিনি বলেন, তুমি খুব ভালই বলেছ। তুমি এর দ্বারাই ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াও এবং তুমি তোমার চাচাত ভাইয়ের নিকট ফিরে যাও। রাবী বলেন, এক ইরক হল ষাট সা’ এর সমান।
2212

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى أَبُو الأَصْبَغِ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ وَالْعَرَقُ مِكْتَلٌ يَسَعُ ثَلاَثِينَ صَاعًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ آدَمَ .

Narrator: বিবিধ

২২১২. আল্ হাসান ইবনে আলী .... ইবনে ইসহাক (রাহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের সনদে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে তাঁর মতে ইরক হলো তিরিশ সা’ এর সমান।

2213

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ يَعْنِي بِالْعَرَقِ زَنْبِيلاً يَأْخُذُ خَمْسَةَ عَشَرَ صَاعًا .

Narrator: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

২২১৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আরাক এমন একটি থলে, যা পনের সা‘য়ের সামান ধারণ করে।

2214
حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، وَعَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، بِهَذَا الْخَبَرِ قَالَ فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِتَمْرٍ فَأَعْطَاهُ إِيَّاهُ وَهُوَ قَرِيبٌ مِنْ خَمْسَةَ عَشَرَ صَاعًا قَالَ " تَصَدَّقْ بِهَذَا " . قَالَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَى أَفْقَرَ مِنِّي وَمِنْ أَهْلِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كُلْهُ أَنْتَ وَأَهْلُكَ " .

قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَرَأْتُ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ وَزِيرٍ الْمِصْرِيِّ قُلْتُ لَهُ حَدَّثَكُمْ بِشْرُ بْنُ بَكْرٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا عَطَاءٌ، عَنْ أَوْسٍ، أَخِي عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَعْطَاهُ خَمْسَةَ عَشَرَ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ إِطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِينًا ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَعَطَاءٌ لَمْ يُدْرِكْ أَوْسًا وَهُوَ مِنْ أَهْلِ بَدْرٍ قَدِيمُ الْمَوْتِ وَالْحَدِيثُ مُرْسَلٌ وَإِنَّمَا رَوَوْهُ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ عَنْ عَطَاءٍ أَنَّ أَوْسًا ‏.‏

Narrator: সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

২২১৪. ইবনে আল সারহ্ ..... সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, তখন রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এর খিদমতে কিছু খেজুর এলে তিনি তা তাকে দান করেন, যার পরিমাণ ছিল পনের সা’ এর মতো। তিনি বলেন, তুমি এটা সাদ্‌কা করে দাও। তিনি (সালামা) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি ও আমার পরিবারের চাইতে নিঃস্ব আর কেউই নেই। রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, তুমি ও তোমার পরিবারের লোকেরা তা খাও।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াযীর আল-মিসরী থেকে উবাদাহ ইবনুস সামিতের ভাই আওস (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, ষাটজন মিসকীনকে খাওয়ানোর জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ ব্যক্তিকে পনের সা’ যব দিলেন। ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, বর্ণনাকারী ’আতা’র সাথে আওসের সাক্ষাৎ ঘটেনি। কারণ ’আওস’ (রাযিঃ) বদরী সাহাবী, তিনি অনেক আগেই মারা গেছেন। সুতরাং হাদীসটি মুরসাল।
2215

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، أَنَّ جَمِيلَةَ، كَانَتْ تَحْتَ أَوْسِ بْنِ الصَّامِتِ وَكَانَ رَجُلاً بِهِ لَمَمٌ فَكَانَ إِذَا اشْتَدَّ لَمَمُهُ ظَاهَرَ مِنَ امْرَأَتِهِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى فِيهِ كَفَّارَةَ الظِّهَارِ .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

২২১৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাওলা (রাযিঃ) আওস ইবনে সামিতের স্ত্রী ছিল। আর সে ছিল পাগল প্রকৃতির পুরুষ। এমতাবস্থায় পাগলামী বৃদ্ধি পাওয়ায়, সে তার স্ত্রী হতে যিহার করে। তখন আল্লাহ্ তাআলা এ ব্যাপারে যিহারের কাফফারার আয়াত নাযিল করেন।

2216

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، مِثْلَهُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২১৬. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ্ ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

2217
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الطَّالْقَانِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، أَنَّ رَجُلاً، ظَاهَرَ مِنَ امْرَأَتِهِ ثُمَّ وَاقَعَهَا قَبْلَ أَنْ يُكَفِّرَ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ " مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ " . قَالَ رَأَيْتُ بَيَاضَ سَاقَيْهَا فِي الْقَمَرِ . قَالَ " فَاعْتَزِلْهَا حَتَّى تُكَفِّرَ عَنْكَ " .

حَدَّثَنَا الزَّعْفَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، أَنَّ رَجُلاً، ظَاهَرَ مِنَ امْرَأَتِهِ فَرَأَى بَرِيقَ سَاقِهَا فِي الْقَمَرِ فَوَقَعَ عَلَيْهَا فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهُ أَنْ يُكَفِّرَ

Narrator: ইকরিমা (রহঃ)

২২১৭. ইসহাক ইবনে ইসমাঈল .... ইকরিমা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে যিহার করার পর কাফফারা দেওয়ার পূর্বে তার সাথে সহবাস করে। সে ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে হাযির হয়ে তাঁকে এতদসম্পর্কে অবহিত করে। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তোমাকে এরূপ করতে কিসে উদ্বুদ্ধ করেছে? সে ব্যক্তি বলে, চন্দ্রলোকে তার স্ত্রীর পায়ের গোছাদ্বয়। তিনি বলেন, তুমি (যিহারের) কাফফারা না দেওয়া পর্যন্ত তার নিকট হতে দূরে অবস্থান কর।

ইকরিমা (রাহঃ) সূত্রে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে যিহার করলো। সে চাঁদের আলোয় স্ত্রীর উরুর উজ্জলতা দেখতে পেয়ে তার সাথে সঙ্গম করে। অতঃপর সে নবী (ﷺ)-এর নিকট এলে তিনি তাকে কাফফারাহ দেয়ার নির্দেশ দেন।
2218

حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرِ السَّاقَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২১৮. যিয়াদ ইবনে আইয়ুব ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু সেখানে পায়ের গোছার কথা উল্লেখ নেই।

2219
حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، أَنَّ عَبْدَ الْعَزِيزِ بْنَ الْمُخْتَارِ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، حَدَّثَنِي مُحَدِّثٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ حَدِيثِ سُفْيَانَ .

قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عِيسَى، يُحَدِّثُ بِهِ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ سَمِعْتُ الْحَكَمَ بْنَ أَبَانَ، يُحَدِّثُ بِهَذَا الْحَدِيثِ وَلَمْ يَذْكُرِ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ عَنْ عِكْرِمَةَقَالَ أَبُو دَاوُدَ كَتَبَ إِلَىَّ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ قَالَ أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، بِمَعْنَاهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: ইকরিমা (রহঃ)

২২১৯. আবু কামিল ...... ইকরিমা (রাহঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, ইকরিমা (রাহঃ) ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী করীম (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

১৬২. খুল্’আ তালাক।

باب فِي الْخُلْعِ

2220

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا طَلاَقًا فِي غَيْرِ مَا بَأْسٍ فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْجَنَّةِ " .

Narrator: হযরত ছাওবান (রাঃ)

২২২০. সুলাইমান ইবনে হারব ..... সাওবান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ কোন স্ত্রীলোক যদি অহেতুক তার স্বামীর নিকট তালাক চায়, তবে তার জন্য জান্নাতের ঘ্রাণ লাভও হারাম হয়ে যায়।

2221

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ زُرَارَةَ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ عَنْ حَبِيبَةَ بِنْتِ سَهْلٍ الأَنْصَارِيَّةِ، أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ ثَابِتِ بْنِ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ وَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى الصُّبْحِ فَوَجَدَ حَبِيبَةَ بِنْتَ سَهْلٍ عِنْدَ بَابِهِ فِي الْغَلَسِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ هَذِهِ " . فَقَالَتْ أَنَا حَبِيبَةُ بِنْتُ سَهْلٍ . قَالَ " مَا شَأْنُكِ " . قَالَتْ لاَ أَنَا وَلاَ ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ . لِزَوْجِهَا فَلَمَّا جَاءَ ثَابِتُ بْنُ قَيْسٍ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذِهِ حَبِيبَةُ بِنْتُ سَهْلٍ " . وَذَكَرَتْ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَذْكُرَ وَقَالَتْ حَبِيبَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كُلُّ مَا أَعْطَانِي عِنْدِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ " خُذْ مِنْهَا " . فَأَخَذَ مِنْهَا وَجَلَسَتْ هِيَ فِي أَهْلِهَا .

Narrator: হাবীবা বিনতে সাহল (রাঃ)

২২২১. আল্ কা-নবী ..... হাবীবা বিনতে সাহাল আনসারীয়্যাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। আর তিনি ছিলেন, সাবিত ইবনে কায়স ইবনে শামমাসের স্ত্রী। একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফজরের নামায আদায়ের জন্য বের হন। তখন তিনি হাবীবা বিনতে সাহালকে হালকা অন্ধকারের মধ্যে তাঁর দরজার নিকট দণ্ডায়মান দেখতে পান। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ কে? সে বলে, আমি হাবীবা বিনতে সাহাল। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার কী হয়েছে? এ সময় এখানে কেন? সে বলে সাবিত ইবনে কায়সের সাথে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

এরপর সাবিত ইবনে কায়স, আগমন করলে, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) তাকে বলেন, এ তো হাবীবা বিনতে সাহাল। এরপর সে যা বলেছিল পুনরায় সব খুলে বলে। হাবীবা বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! সে আমাকে যা প্রদান করেছে, তা আমার সাথেই আছে। (ফেরত নিতে পারে) রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) সাবিত ইবনে কায়সকে বলেন, তুমি তার নিকট হতে তা গ্রহণ করো। সে (সাবিত) তার নিকট হতে সব গ্রহণ করে এবং হাবীবা তার পিত্রালয়ে গিয়ে অবস্থান করে।
2222

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو السَّدُوسِيُّ الْمَدِينِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ سَهْلٍ، كَانَتْ عِنْدَ ثَابِتِ بْنِ قَيْسِ بْنِ شَمَّاسٍ فَضَرَبَهَا فَكَسَرَ بَعْضَهَا فَأَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ الصُّبْحِ فَاشْتَكَتْهُ إِلَيْهِ فَدَعَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثَابِتًا فَقَالَ " خُذْ بَعْضَ مَالِهَا وَفَارِقْهَا " . فَقَالَ وَيَصْلُحُ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ فَإِنِّي أَصْدَقْتُهَا حَدِيقَتَيْنِ وَهُمَا بِيَدِهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " خُذْهُمَا فَفَارِقْهَا " . فَفَعَلَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২২২. মুহাম্মাদ ইবনে মুআম্মার ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবা বিনতে সাহাল (রাযিঃ) সাবিত ইবনে কায়স ইবনে শামমাসের স্ত্রী ছিলেন। সে তাকে মারধর করলে তার শরীররে কোনো অঙ্গ ভেঙ্গে আয়। সে (হাবীবা) ফজরের নামাযের পর নবী করীম (ﷺ) এর নিকট আসে এবং সাবিতের বিরূদ্ধে তাঁর নিকট অভিযোগ করে। নবী করীম (ﷺ) সাবিতকে ডাকেন এবং বলেন, তুমি তোমার প্রদত্ত মোহরের মাল গ্রহণ করো এবং তাকে ত্যাগ করো। সে (সাবিত) জিজ্ঞাসা করে, হে আল্লাহর রাসুল! তা কি উত্তম হবে? তিনি বলেন, হ্যাঁ। তখন সে বলে, আমি তাকে তার মোহর স্বরূপ দু‘টি বাগান প্রদান করেছিলাম এবং সে এখন তার মালিক, নবী করীম (ﷺ) বলেন, তুমি তা গ্রহণ করো এবং তাকে ত্যাগ করো। সে (সাবিত) এরূপই করে।

2223

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ بَحْرٍ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ امْرَأَةَ، ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ اخْتَلَعَتْ مِنْهُ فَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عِدَّتَهَا حَيْضَةً . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا الْحَدِيثُ رَوَاهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২২৩. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহীম ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাবিত ইবনে কায়সের স্ত্রী তার নিকট হতে খুলা তালাক গ্রহণ করে। নবী করীম (ﷺ) তার ইদ্দতের সময় একটি হায়য নির্ধারণ করেন।

2224

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ عِدَّةُ الْمُخْتَلِعَةِ حَيْضَةٌ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২২২৪. আল্ কা‘নবী .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খুলা তালাকপ্রাপ্তা মহিলার ইদ্দত হলো এক হায়য মাত্র।

১৬৩. আযাদকৃত দাসী যদি কোনো স্বাধীন ব্যক্তি বা ক্রীতদাসের হয়, তবে তার বিবাহ ঠিক রাখা বা বাতিল করা।

باب فِي الْمَمْلُوكَةِ تَعْتِقُ وَهِيَ تَحْتَ حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ

2225

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ مُغِيثًا، كَانَ عَبْدًا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اشْفَعْ لِي إِلَيْهَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا بَرِيرَةُ اتَّقِي اللَّهَ فَإِنَّهُ زَوْجُكِ وَأَبُو وَلَدِكِ " . فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَأْمُرُنِي بِذَلِكَ قَالَ " لاَ إِنَّمَا أَنَا شَافِعٌ " . فَكَانَ دُمُوعُهُ تَسِيلُ عَلَى خَدِّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلْعَبَّاسِ " أَلاَ تَعْجَبُ مِنْ حُبِّ مُغِيثٍ بَرِيرَةَ وَبُغْضِهَا إِيَّاهُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২২৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুগীস একজন ক্রীতদাস ছিল (আর সে ছিল বারীরার স্বামী) সে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! আপনি তাকে (বারীরাকে) আমার জন্য একটু সুপারিশ করুন! রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) তাকে বলেন, হে বারীরা! তুমি আল্লাহকে ভয় করো। আর সে তোমার স্বামী এবং তোমার সন্তানদের পিতা (কাজেই তোমার জন্য বিচ্ছিন্ন হওয়া উচিত হবে না)। সে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি কি আমাকে তার সাথে থাকতে নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বলেন, না, বরং আমি একজন সুপারিশকারী। এ সময় মুগীসের অশ্রু গড়িয়ে তাঁর গণ্ডদেশে পড়তে থাকলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আব্বাস (রাযিঃ)-কে বলেন, তুমি কি বারীরার প্রতি মুগীসের ভালবাসা এবং মুগীসের প্রতি বারীরার ক্রোধ দেখে আশ্চর্য হবে না?

2226

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ زَوْجَ، بَرِيرَةَ كَانَ عَبْدًا أَسْوَدَ يُسَمَّى مُغِيثًا فَخَيَّرَهَا - يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - وَأَمَرَهَا أَنْ تَعْتَدَّ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২২৬. উসমান ইবনে আবি শাঈবা .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরার স্বামী ছিল একজন হাবশী ক্রীতদাস. যার নাম ছিল মুগীস। নবী করীম (ﷺ) তাকে (বারীরাকে) তার স্বামীকে পরিত্যাগ করার ইখতিয়ার প্রদান করেন এবং তাকে ইদ্দত গণনার নির্দেশ দেন।

2227

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، فِي قِصَّةِ بَرِيرَةَ قَالَتْ كَانَ زَوْجُهَا عَبْدًا فَخَيَّرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاخْتَارَتْ نَفْسَهَا وَلَوْ كَانَ حُرًّا لَمْ يُخَيِّرْهَا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২২৭. উসমান ইবনে আবি শাঈবা বারীরার ঘটনা সম্পর্কে বলেন, তার স্বামী ছিল ক্র্যীতদাস। নবী করীম (ﷺ) তাকে ইখতিয়ার (ইচ্ছাধিকার) প্রদান করেন; সে সেচ্ছায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আর যদি সে (বারীরার স্বামী) আযাদ হতো তবে তার ইখতিয়ার থাকতো না।

2228

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَالْوَلِيدُ بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ بَرِيرَةَ، خَيَّرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ زَوْجُهَا عَبْدًا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২২৮. উসমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বারীরাকে ইখতিয়ার (ইচ্ছাধিকার) প্রদান করেন; এমতাবস্থায় যে, তার স্বামী ছিল ক্রীতদাস।

১৬৪. যারা বলেন, (মুগীস) স্বাধীন ছিল।

باب مَنْ قَالَ كَانَ حُرًّا

2229

حَدَّثَنَا ابْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ زَوْجَ، بَرِيرَةَ كَانَ حُرًّا حِينَ أُعْتِقَتْ وَأَنَّهَا خُيِّرَتْ فَقَالَتْ مَا أُحِبُّ أَنْ أَكُونَ مَعَهُ وَإِنَّ لِي كَذَا وَكَذَا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২২৯. ইবনে কাসির ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরার স্বামী (মুগিস) আযাদ ব্যক্তি ছিল,যখন সেও মুক্ত হয়, আর তাকে ইখতিয়ার প্রদান করা হলে সে বলে, আমি তার (স্বামীর) সাথে থাকতে পছন্দ করিনা। আর আমার অসুবিধা এরূপ সেরূপ।

১৬৫. স্বেচ্ছায় বিচ্ছেদ ঘটানোর সময়সীমা।

باب حَتَّى مَتَى يَكُونُ لَهَا الْخِيَارُ

2230

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، وَعَنْ أَبَانَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، وَعَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ بَرِيرَةَ، أُعْتِقَتْ وَهِيَ عِنْدَ مُغِيثٍ - عَبْدٍ لآلِ أَبِي أَحْمَدَ - فَخَيَّرَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ لَهَا " إِنْ قَرِبَكِ فَلاَ خِيَارَ لَكِ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২৩০. আব্দুল আযীয ইবনে ইয়াহয়া ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরা সে সময় মুক্ত হয়, যখন সে আবু আহমদ গোত্রের ক্রীতদাস মুগীসের স্ত্রী ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে ইখতিয়ার প্রদান করে বলেন, এখন যদি সে তোমার সাথে সহবাস করে, তবে তোমার ইখতিয়ার বাতিল হয়ে যাবে।

১৬৬. বিবাহেত দাস- দাসীকে একত্রে মুক্ত করা হলে স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটানোর ইখতিয়ার।

باب فِي الْمَمْلُوكَيْنِ يُعْتَقَانِ مَعًا هَلْ تُخَيَّرُ امْرَأَتُهُ

2231

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَنَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَوْهَبٍ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا أَرَادَتْ أَنْ تَعْتِقَ، مَمْلُوكَيْنِ لَهَا زَوْجٌ قَالَ فَسَأَلَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَأَمَرَهَا أَنْ تَبْدَأَ بِالرَّجُلِ قَبْلَ الْمَرْأَةِ . قَالَ نَصْرٌ أَخْبَرَنِي أَبُو عَلِيٍّ الْحَنَفِيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২৩১. যুহাইর ইবনে হারব ও নসর ইবনে আলী ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি তাঁর দু‘জন দাস-দাসীকে আযাদ করার ইচ্ছা করেন, যারা পরস্পরে বিবাহিত ছিল। রাবী (কাসিম) বলেন, তিনি নবী করীম (ﷺ)কে এতদসম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি তাঁকে প্রথমে দাস (পুরুষ) কে ও পরে দাসীকে আযাদ করার নির্দেশ দেন। (কারণ প্রথমে দাসীকে মুক্ত করা হলে দাসের সাথে তার বিবাহে বিচ্ছেদ ঘটানোর অধিকার সে হয়ত প্রয়োগ করতে পারে। কিন্তু পুরুষকে মুক্ত করলে এ আশঙ্কা থাকে না)।

১৬৭. যখন স্বামী - স্ত্রীর একজন ইসলাম কবুল করে।

باب إِذَا أَسْلَمَ أَحَدُ الزَّوْجَيْنِ

2232

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ مُسْلِمًا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ جَاءَتِ امْرَأَتُهُ مُسْلِمَةً بَعْدَهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا قَدْ كَانَتْ أَسْلَمَتْ مَعِي . فَرَدَّهَا عَلَيْهِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২৩২. উসমান ইবনে আবি শাঈবা .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর যুগে প্রথমে এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে, পরে তার স্ত্রী ইসলাম কবুল করে। সে ব্যক্তি বলে, হে আল্লাহর রাসুল! সে তো আমার সাথেই ইসলাম কবুল করেছে। তিনি তাকে (স্ত্রীকে) তার নিকট ফিরিয়ে দেন।

2233

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنِي أَبُو أَحْمَدَ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَسْلَمَتِ امْرَأَةٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَزَوَّجَتْ فَجَاءَ زَوْجُهَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي قَدْ كُنْتُ أَسْلَمْتُ وَعَلِمَتْ بِإِسْلاَمِي فَانْتَزَعَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ زَوْجِهَا الآخَرِ وَرَدَّهَا إِلَى زَوْجِهَا الأَوَّلِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২৩৩. নসর ইবনে আলী .......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর যুগে জনৈকা মহিলা ইসলাম গ্রহণ করে। এরপর সে (মদীনাতে) একজনকে বিবাহ করে। এরপর তার (পূর্বের ) স্বামী নবী করীম (ﷺ) এর নিকট আগমন করে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি তো ইসলাম কবুল করেছি। আর আপনি আমার ইসলাম কবুল করা সম্পর্কে অবহিত আছেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উক্ত মহিলাকে, তার পরবর্তী স্বামীর নিকট হতে নিয়ে প্রথম স্বামীর নিকট প্রদান করেন।

১৬৮. স্ত্রীর ইসলাম গ্রহণের পর যদি স্বামীও ইসলাম কবুল করে, এমতাবস্থায় কতদিন পরে স্ত্রীকে স্বামীর নিকট ফিরিয়ে দেয়া যাবে।

باب إِلَى مَتَى تُرَدُّ عَلَيْهِ امْرَأَتُهُ إِذَا أَسْلَمَ بَعْدَهَا

2234

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ يَعْنِي ابْنَ الْفَضْلِ، ح وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - الْمَعْنَى - كُلُّهُمْ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ رَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ابْنَتَهُ زَيْنَبَ عَلَى أَبِي الْعَاصِي بِالنِّكَاحِ الأَوَّلِ لَمْ يُحْدِثْ شَيْئًا . قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو فِي حَدِيثِهِ بَعْدَ سِتِّ سِنِينَ وَقَالَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ بَعْدَ سَنَتَيْنِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২৩৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ আল্ নুফায়লী .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর কন্যা যায়নাবকে (তার স্বামী) আবুল আসের নিকট প্রথম বিবাহের সূত্রে ফিরিয়ে দেন এবং এ জন্য নতুন কোন মোহর ধার্য করেননি। রাবী মুহাম্মাদ ইবনে আমর তাঁর হাদীসে বলেন, (এ প্রত্যাবর্তন ছিল) ছয় বছর পর। তবে হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ) বলেন, দু‘বছর পর (ঐ পর্যন্ত যায়নাবের অপর কোন বিবাহ হয়নি।)

১৬৯. ইসলাম গ্রহণের পর যদি কারো নিকট চারের অধিক স্ত্রী থাকে।

باب فِي مَنْ أَسْلَمَ وَعِنْدَهُ نِسَاءٌ أَكْثَرُ مِنْ أَرْبَعٍ

2235

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، ح وَحَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ حُمَيْضَةَ بْنِ الشَّمَرْدَلِ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ قَيْسٍ، - قَالَ مُسَدَّدٌ ابْنِ عُمَيْرَةَ . وَقَالَ وَهْبٌ الأَسَدِيِّ - قَالَ أَسْلَمْتُ وَعِنْدِي ثَمَانُ نِسْوَةٍ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اخْتَرْ مِنْهُنَّ أَرْبَعًا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدَّثَنَا بِهِ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ بِهَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ قَيْسُ بْنُ الْحَارِثِ مَكَانَ الْحَارِثِ بْنِ قَيْسٍ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ هَذَا الصَّوَابُ . يَعْنِي قَيْسَ بْنَ الْحَارِثِ .

Narrator: বিবিধ

২২৩৫. মুসাদ্দাদ ..... ওয়াহব আল্-আসাদী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যখন ইসলাম কবুল করি তখন আমার আটজন স্ত্রী ছিল। তিনি বলেন, আমি এ সম্পর্কে নবী করীম (ﷺ)কে অবহিত করলে তিনি বলেন, তুমি এদের মধ্যে চারজনকে গ্রহণ করো।

2236

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَاضِي الْكُوفَةِ عَنْ عِيسَى بْنِ الْمُخْتَارِ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ حُمَيْضَةَ بْنِ الشَّمَرْدَلِ، عَنْ قَيْسِ بْنِ الْحَارِثِ، بِمَعْنَاهُ .

Narrator: বিবিধ

২২৩৬. আহমাদ ইবরাহীম ..... কায়স ইবনে আল্-হারিস (রাযিঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

2237

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ أَيُّوبَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي وَهْبٍ الْجَيْشَانِيِّ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ فَيْرُوزَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَسْلَمْتُ وَتَحْتِي أُخْتَانِ . قَالَ " طَلِّقْ أَيَّتَهُمَا شِئْتَ " .

Narrator: ফায়রূয দায়লামী (রাঃ)

২২৩৭. ইয়াহয়া ইবনে মু‘ঈন ..... আদ দাহহাক ইবনে ফায়রুয তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা আমি বলি, হে আল্লাহর রাসুল! আমি ইসলাম কবুল করেছি এবং দুই বোন একই সঙ্গে আমার স্ত্রী হিসাবে আছে। তিনি বলেন, এদের মধ্যে যাকে খুশি তুমি তালাক প্রদান করো।

১৭০. যখন পিতা- মাতার একজন ইসলাম কবুল করে, তখন সন্তান কার হবে।

باب إِذَا أَسْلَمَ أَحَدُ الأَبَوَيْنِ مَعَ مَنْ يَكُونُ الْوَلَدُ

2238

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، رَافِعِ بْنِ سِنَانٍ أَنَّهُ أَسْلَمَ وَأَبَتِ امْرَأَتُهُ أَنْ تُسْلِمَ فَأَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتِ ابْنَتِي وَهِيَ فَطِيمٌ أَوْ شِبْهُهُ وَقَالَ رَافِعٌ ابْنَتِي . فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اقْعُدْ نَاحِيَةً " . وَقَالَ لَهَا " اقْعُدِي نَاحِيَةً " . قَالَ وَأَقْعَدَ الصَّبِيَّةَ بَيْنَهُمَا ثُمَّ قَالَ " ادْعُوَاهَا " . فَمَالَتِ الصَّبِيَّةُ إِلَى أُمِّهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ اهْدِهَا " . فَمَالَتِ الصَّبِيَّةُ إِلَى أَبِيهَا فَأَخَذَهَا .

Narrator: বিবিধ

২২৩৮. ইবরাহীম ইবনে মুসা ..... আব্দুল হামীদ ইবনে জা‘ফর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমার দাদা রাফি’ ইবনে সিনান (রাহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেও তাঁর স্ত্রী ইসলাম কবুল করতে অস্বীকার করে। তখন সে (তার স্ত্রী) নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলে, সে আমার কন্যা সন্তান! আর সে আমারই মতো। অপর পক্ষে রাফি’ দাবি করেন, সে আমার কন্যা! নবী করীম (ﷺ) তাকে এক পার্শ্বে এবং তার স্ত্রীকে অপর পার্শ্বে বসতে বলেন এবং কন্যা সন্তানটিকে তাদের মাঝখানে বসিয়ে দেন। এরপর তিনি বলেন, এখন তোমরা উভয়ে তাকে আহবান করো। কন্যাটি তার মাতার প্রতি আকৃষ্ট হলে, নবী করীম (ﷺ) বলেন, ইয়া আল্লাহ্! তুমি একে (কন্যাকে) হিদায়াত দান করো। তখন সে তার পিতার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে এবং সে (রাফি‘) তাকে গ্রহণ করে।

১৭১. লিআন।[১]

باب فِي اللِّعَانِ

2239

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عُوَيْمِرَ بْنَ أَشْقَرَ الْعَجْلاَنِيَّ جَاءَ إِلَى عَاصِمِ بْنِ عَدِيٍّ فَقَالَ لَهُ يَا عَاصِمُ أَرَأَيْتَ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ سَلْ لِي يَا عَاصِمُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ . فَسَأَلَ عَاصِمٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسَائِلَ وَعَابَهَا حَتَّى كَبُرَ عَلَى عَاصِمٍ مَا سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَجَعَ عَاصِمٌ إِلَى أَهْلِهِ جَاءَهُ عُوَيْمِرٌ فَقَالَ لَهُ يَا عَاصِمُ مَاذَا قَالَ لَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عَاصِمٌ لَمْ تَأْتِنِي بِخَيْرٍ قَدْ كَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسْأَلَةَ الَّتِي سَأَلْتُهُ عَنْهَا . فَقَالَ عُوَيْمِرٌ وَاللَّهِ لاَ أَنْتَهِي حَتَّى أَسْأَلَهُ عَنْهَا . فَأَقْبَلَ عُوَيْمِرٌ حَتَّى أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ وَسَطَ النَّاسِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً أَيَقْتُلُهُ فَتَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ أُنْزِلَ فِيكَ وَفِي صَاحِبَتِكَ قُرْآنٌ فَاذْهَبْ فَأْتِ بِهَا " . قَالَ سَهْلٌ فَتَلاَعَنَا وَأَنَا مَعَ النَّاسِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا فَرَغَا قَالَ عُوَيْمِرٌ كَذَبْتُ عَلَيْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَمْسَكْتُهَا . فَطَلَّقَهَا عُوَيْمِرٌ ثَلاَثًا قَبْلَ أَنْ يَأْمُرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَكَانَتْ تِلْكَ سُنَّةَ الْمُتَلاَعِنَيْنِ .

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

২২৩৯. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা আল্ কা‘নবী ..... ইবনে শিহাব (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহল ইবনে সা‘দ আস সাঈদী তাকে খবর দিয়েছেন যে, উওয়াইমির ইবনে আশকার আল্ আজলানী (রাযিঃ) আসিম ইবনে আদীর নিকট আগমন করেন এবং বলেন, হে আসিম! আমাকে বলুন, যদি কেউ স্ত্রীর সাথে কোন অপরিচিত লোককে এক বিছানায় দেখে সে কি তাকে হত্যা করবে? আর কিসাস্ (বদলা) হিসাবে কি তোমরা তাকে হত্যা করবে নাকি করবে না? তুমি এ সম্পর্কে আমার জন্য হে আসিম! রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে একটু জিজ্ঞাসা করো।

আসিম এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করলে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তা শুনে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং তাকে দোষারোপ করেন। এমনকি আসিম রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) হতে যা শ্রবণ করেন তা তার জন্য খুবই ভয়ানক মনে হয়। এরপর আসিম তার পরিবার-পরিজনের নিকট প্রত্যাবর্তন করলে উওয়াইমির তাঁর নিকট গমন করেন এবং বলেন, হে আসিম! রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তোমাকে কী বলেছেন? আসিম বলেন, তুমি আমার নিকট কোনো ভাল বিষয় নিয়ে আগমন করোনি। আমি ঐ মহিলা সম্পর্কে রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) কে যে প্রশ্ন করেছিলাম তাতে তিনি অসুন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

এতদশ্রবণে উয়াইমির বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি তার (মহিলার) সম্পর্কে এ প্রশ্নটি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত ক্ষান্ত হবো না। উওয়াইমের এমন সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট গমন করেন, যখন তিনি মানুষের মাঝে উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি কেউ তার স্ত্রীর সাথে অপরিচিত কোনো লোক পায়, তবে এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? সে কি তাকে হত্যা করবে? আর এজন্য কি তাকে কিসাস্ হিসাবে হত্যা করবেন? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, আল্লাহ্ তাআলা তোমার ও তোমার স্ত্রীর জন্য কুরআন (আয়াত) নাযিল করেছেন। তুমি যাও এবং তাকে (স্ত্রীকে) নিয়ে এসো।

রাবী সাহল বলেন, তারা উভয়ে একে অপরের প্রতি শপথ করে ব্যভিচারের দোষারোপ করতে থাকে এবং আমিও অন্যান্য লোকদের সাথে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট ছিলাম। তারপর তারা যখন অভিসম্পাত ও দোষারোপ করা হতে বিরত হয়, তখন উয়াইমির বলে, যদি এখন আমি তাকে আমার নিকট রাখি, তবে ইয়া রাসুলাল্লাহ্! তার ব্যাপারে আমি লোকদের নিকট মিথ্যুক প্রতিপন্ন হবো। উওয়াইমির নবী করীম (ﷺ) এর অনুমতি প্রদানের পূর্বে তাকে (স্ত্রীকে) তিন তালাক প্রদান করেন। রাবী ইবনে শিহাব বলেন, আর তাদের মধ্যকার এ বিচ্ছেদ, শপথ করে ব্যভিচারের অপবাদকারীদের জন্য সুন্নত স্বরূপ হয়ে যায়। (কারণ, এতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর মৌন সম্মতি ছিল।

[১] স্বামী যদি স্ত্রীর বিরুদ্ধে যিনার অভিযোগ আনে এবং এর অনুকূলে কোন সাক্ষ্য প্রমাণ না থাকে তবে স্বামী-স্ত্রী উভয়কে আদালতের সামনে সূরা নূর-এ বর্ণিত বিশেষ পন্থায় পাঁচবার হলফ করতে হয়। আইনের পরিভাষায় একে লি'আন বলে

১৭১. লিআন।

باب فِي اللِّعَانِ

2240

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي عَبَّاسُ بْنُ سَهْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِعَاصِمِ بْنِ عَدِيٍّ " أَمْسِكِ الْمَرْأَةَ عِنْدَكَ حَتَّى تَلِدَ " .

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

২২৪০. আব্দুল আযীয ইবনে ইয়াহয়া ....... আব্বাস ইবনে সাহল (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম (ﷺ) আসিম ইবনে আদীকে বলেন, তুমি তাকে তোমার নিকট রাখ, যতদিন না সে সন্তান প্রসব করে।

2241

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ حَضَرْتُ لِعَانَهُمَا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا ابْنُ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً . وَسَاقَ الْحَدِيثَ قَالَ فِيهِ ثُمَّ خَرَجَتْ حَامِلاً فَكَانَ الْوَلَدُ يُدْعَى إِلَى أُمِّهِ .

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

২২৪১. আহমদ ইবনে সাহিল ..... সাহল ইবনে সা’দ আল্ সাঈদী বলেন, তাদের (উয়াইমির ও তার স্ত্রীর) লিআনের বিষয়টি যখন রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এর খিদমতে পেশ করা হয়, তখন আমি পনের বছরের যুবক ছিলাম। এরপর (রাবী ইউনুস বর্ণিত) হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তিনি (ইউনুস) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, এরপর সে গর্ভবতী হওয়া প্রকাশ পায়। আর যে সন্তান সে প্রসব করে তাকে তার মাতার সাথে সম্পর্কিত করা হয়, (পিতার সাথে নয়)।

2242

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْوَرَكَانِيُّ، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ، - يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، فِي خَبَرِ الْمُتَلاَعِنَيْنِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَبْصِرُوهَا فَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَدْعَجَ الْعَيْنَيْنِ عَظِيمَ الأَلْيَتَيْنِ فَلاَ أُرَاهُ إِلاَّ قَدْ صَدَقَ وَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أُحَيْمِرَ كَأَنَّهُ وَحَرَةٌ فَلاَ أُرَاهُ إِلاَّ كَاذِبًا " . قَالَ فَجَاءَتْ بِهِ عَلَى النَّعْتِ الْمَكْرُوهِ .

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

২২৪২. মুহাম্মাদ ইবনে জা‘ফর ..... সাহল ইবনে সা’দ (রাহঃ) হতে, লিআন সম্পর্কিত হাদীসটি বর্ণনা হয়েছে। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) সব কিছু শ্রবনের পর ইরশাদ করেন, উক্ত মহিলার দিকে তোমার দৃষ্টি রাখ; যদি সে কালোবর্ণ চক্ষুবিশিষ্ট এবং পৃষ্ঠে ও রানে অধিক গোশতবিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে, যেন সে তারই অংশ; তবে আমার ধারণায় সে (উয়াইমির) মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন হবে। তিনি (সাহল) বলেন, এরপর সে এমন সন্তান প্রসব করে, যাতে উওয়াইমের সত্যবাদী হিসাবে প্রতিপন্ন হয়, (এবং সে মহিলা মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন হয়)।

2243

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، بِهَذَا الْخَبَرِ قَالَ فَكَانَ يُدْعَى - يَعْنِي الْوَلَدَ - لأُمِّهِ .

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

২২৪৩. মাহমুদ ইবনে খালিদ ..... সাহল ইবনে সা‘দ আস সাঈদী (রাযিঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রাবী যুহরী (রাহঃ) বলেন, এরপর সে সন্তানকে তার মাতার সাথে সম্পর্কিত করে ডাকা হতো।

2244

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْفِهْرِيِّ، وَغَيْرِهِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، فِي هَذَا الْخَبَرِ قَالَ فَطَلَّقَهَا ثَلاَثَ تَطْلِيقَاتٍ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَنْفَذَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ مَا صُنِعَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سُنَّةً . قَالَ سَهْلٌ حَضَرْتُ هَذَا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَضَتِ السُّنَّةُ بَعْدُ فِي الْمُتَلاَعِنَيْنِ أَنْ يُفَرَّقَ بَيْنَهُمَا ثُمَّ لاَ يَجْتَمِعَانِ أَبَدًا .

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

২২৪৪. আহমদ ইবনে আমর ইবনে সারহ্ .... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, তখন সে (উয়াইমির) তাকে রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এর সম্মুখেই তিন তালাক প্রদান করে। আর রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) তাকে তালাক হিসাবে গণ্য করেন। আর সে নবী করীম (ﷺ)-এর খিদমতে এরূপ করাতে তা সুন্নতরূপে পরিগণিত হয়। রাবী সাহল বলেন, তা (লিআনের ব্যাপারটি) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হওয়াতে তা পরস্পর ব্যভিচারের দোষারোপকারীদের জন্য সুন্নত হিসাবে পরিগণিত হয় যে, তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে হবে এবং আর কখনও তাদেরকে একত্রিত করা যাবে না।

2245

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَوَهْبُ بْنُ بَيَانٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، وَعَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ مُسَدَّدٌ قَالَ شَهِدْتُ الْمُتَلاَعِنَيْنِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا ابْنُ خَمْسَ عَشْرَةَ فَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ تَلاَعَنَا . وَتَمَّ حَدِيثُ مُسَدَّدٍ . وَقَالَ الآخَرُونَ إِنَّهُ شَهِدَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَرَّقَ بَيْنَ الْمُتَلاَعِنَيْنِ فَقَالَ الرَّجُلُ كَذَبْتُ عَلَيْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَمْسَكْتُهَا - لَمْ يَقُلْ بَعْضُهُمْ عَلَيْهَا - قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَمْ يُتَابِعِ ابْنَ عُيَيْنَةَ أَحَدٌ عَلَى أَنَّهُ فَرَّقَ بَيْنَ الْمُتَلاَعِنَيْنِ .

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

২২৪৫. মুসাদ্দাদ সূত্রে মিলিত সনদে ..... সাহল ইবনে সা‘দ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। রাবী মুসাদ্দাদ তার হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (সাহল) বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এর যুগে দু‘জন পরস্পর অভিসম্পাত ও দোষারোপকারীর ব্যাপারটা যখন উপস্থাপিত হয়, তখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম এবং এ সময় আমার বয়স ছিল পনর বছর। এরপর তারা শপথ করে পরস্পর অভিসম্পাত ও যিনার দোষারোপ করার পর রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেন। এরূপে মুসাদ্দাদ বর্ণিত হাদীসের বর্ণনা সমাপ্ত হয়েছে। আর অন্যের (সাহলের) বর্ণনা এই যে, তিনি নবী করীম (ﷺ)কে তাদের পরস্পরের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে দেখেন। তখন ঐ ব্যক্তি (উওয়াইমির) বলেন, যদি আমি তাকে আমার নিকট রাখি, তবে লোকদের নিকট আমি মিথ্যাবাদী বিবেচিত হব। তবে কোনো কোনো শায়খ,عَلَيْهَا শব্দটির উল্লেখ করেননি।

2246

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، فِي هَذَا الْحَدِيثِ وَكَانَتْ حَامِلاً فَأَنْكَرَ حَمْلَهَا فَكَانَ ابْنُهَا يُدْعَى إِلَيْهَا ثُمَّ جَرَتِ السُّنَّةُ فِي الْمِيرَاثِ أَنْ يَرِثَهَا وَتَرِثَ مِنْهُ مَا فَرَضَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهَا .

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

২২৪৬. সুলাইমান ইবনে দাউদ আল্ উতাকী ..... সাহল ইবনে সা‘দ (রাযিঃ) হতে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আর সে (মহিলা) ছিল গর্ভবতী, যা সে অপছন্দ করতো। আর তার ভূমিষ্ট সন্তানকে, তার (মহিলার) দিকে সম্পর্কিত করা হতো। এরপর মীরাসে (উত্তরাধিকার আইনে) এটা সুন্নত হিসাবে নির্ধারিত হয় যে, সে সন্তান তার মায়ের সম্পত্তির এবং মাতা তার (সন্তানের) সম্পত্তির ওয়ারিস হবে। আর তা ঐ হিসাবে, যা আল্লাহ্ তাআলা নির্ধারিত করেছেন।

2247

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ إِنَّا لَلَيْلَةُ جُمْعَةٍ فِي الْمَسْجِدِ إِذْ دَخَلَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ لَوْ أَنَّ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً فَتَكَلَّمَ بِهِ جَلَدْتُمُوهُ أَوْ قَتَلَ قَتَلْتُمُوهُ فَإِنْ سَكَتَ سَكَتَ عَلَى غَيْظٍ وَاللَّهِ لأَسْأَلَنَّ عَنْهُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ فَقَالَ لَوْ أَنَّ رَجُلاً وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلاً فَتَكَلَّمَ بِهِ جَلَدْتُمُوهُ أَوْ قَتَلَ قَتَلْتُمُوهُ أَوْ سَكَتَ سَكَتَ عَلَى غَيْظٍ . فَقَالَ " اللَّهُمَّ افْتَحْ " . وَجَعَلَ يَدْعُو فَنَزَلَتْ آيَةُ اللِّعَانِ ( وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلاَّ أَنْفُسُهُمْ ) هَذِهِ الآيَةُ فَابْتُلِيَ بِهِ ذَلِكَ الرَّجُلُ مِنْ بَيْنِ النَّاسِ فَجَاءَ هُوَ وَامْرَأَتُهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَلاَعَنَا فَشَهِدَ الرَّجُلُ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ ثُمَّ لَعَنَ الْخَامِسَةَ عَلَيْهِ إِنْ كَانَ مِنَ الْكَاذِبِينَ قَالَ فَذَهَبَتْ لِتَلْتَعِنَ فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَهْ " . فَأَبَتْ فَفَعَلَتْ فَلَمَّا أَدْبَرَا قَالَ " لَعَلَّهَا أَنْ تَجِيءَ بِهِ أَسْوَدَ جَعْدًا " . فَجَاءَتْ بِهِ أَسْوَدَ جَعْدًا .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২২৪৭. উসমান ইবনে আবি শাঈবা .... আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক জুমআর রাতে আমি মসজিদে উপস্থিত ছিলাম। তখন সেখানে জনৈক আনসার প্রবেশ করে এবং বলে, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর নিকট কোন অপরিচিত ব্যক্তিকে অবৈধ কর্মে লিপ্ত দেখে, এরপর সে তা ব্যক্ত করে, তবে এজন্য কি তোমরা তাকে (মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে) তার উপর হদ্ (শারীআতের শাস্তি বিধান) প্রয়োগ করবে? অথবা তাকে (যিনাকারীকে) হত্যা করার অভিযোগে, তাকেও হত্যা করবে? আর যদি সে এ ব্যাপারে চুপ থাকে, তবে সে গযবের উপর চুপ থাকবে। আল্লাহর শপথ! আমি এ ব্যাপারে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করবো।

পরদিন সে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করে, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে কোন ব্যক্তিকে অবৈধ কাজে (যিনায়) লিপ্ত অবস্থায় দেখে, আর সে যদি এ সম্পর্কে কিছু বলে, তখন কি তাকে (মিথ্যা দোষারোপ করার অভিযোগে) শাস্তি দেওয়া হবে? অথবা সে যদি তাকে হত্যা করে তবে হত্যার অভিযোগে কিসাস হিসাবে কি তাকেও হত্যা করা হবে? আর সে যদি এ ব্যাপারে চুপ থাকে, তবে সে গযবের উপরে চুপ থাকবে। তিনি বলেনঃ ইয়া আল্লাহ্! এ ব্যাপারে কী হুকুম আমাকে জ্ঞাত করুন। এরূপ তিনি দুআ করতে থাকেন। তখন লিআন সম্পর্কীয় আয়াতটি নাযিল হয়ঃ ‘‘যারা তাদের স্ত্রীদের ব্যাপারে যিনার দোষারোপ করে, আর এ ব্যাপারে তারা নিজেরা ব্যতীত কোন সাক্ষ্যদাতা না থাকে’’ ......... আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

তখন লোকদের মধ্য হতে সে ব্যক্তিকে এ ব্যাপারে পরীক্ষা করা হয়। সে ব্যক্তি ও তার স্ত্রী রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর খিদমতে হাযির হয় এবং একে অপরকে হলফ করিয়ে দোষারোপ করে অভিসম্পাত দিতে থাকে। তখন সে ব্যক্তি চারবার আল্লাহকে সাক্ষী রেখে সাক্ষ্য প্রদান করে যে, সে সত্যবাদীদের অন্তর্ভূক্ত, এরপর পঞ্চমবারে সে নিজের উপরই অভিসম্পাত করে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয়। রাবী বলেন, এরপর সেই মহিলা শপথ করে অভিসম্পাত করতে গেলে, নবী করীম (ﷺ) তাকে ধমক দিয়ে তা করা হতে বিরত থাকতে বলেন। কিন্তু সে তা মানতে অস্বীকার করে এবং অভিসম্পাত করে। এরপর সে যখন প্রত্যাবর্তন করতে থাকে, তখন তিনি বলেনঃ অবশ্যই সে একটি কালোকায় স্থুলদেহী সন্তান প্রসব করবে। (কারণ, যার সাথে সে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে এ সন্তান গর্ভে ধারণ করেছে, তার দৈহিক রূপ ও আকার এরূপই ছিল)।
2248

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ هِلاَلَ بْنَ أُمَيَّةَ، قَذَفَ امْرَأَتَهُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِشَرِيكِ بْنِ سَحْمَاءَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " الْبَيِّنَةَ أَوْ حَدٌّ فِي ظَهْرِكَ " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَا رَأَى أَحَدُنَا رَجُلاً عَلَى امْرَأَتِهِ يَلْتَمِسُ الْبَيِّنَةَ فَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الْبَيِّنَةَ وَإِلاَّ فَحَدٌّ فِي ظَهْرِكَ " . فَقَالَ هِلاَلٌ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ نَبِيًّا إِنِّي لَصَادِقٌ وَلَيُنْزِلَنَّ اللَّهُ فِي أَمْرِي مَا يُبَرِّئُ ظَهْرِي مِنَ الْحَدِّ فَنَزَلَتْ ( وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلاَّ أَنْفُسُهُمْ ) فَقَرَأَ حَتَّى بَلَغَ ( مِنَ الصَّادِقِينَ ) فَانْصَرَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَرْسَلَ إِلَيْهِمَا فَجَاءَا فَقَامَ هِلاَلُ بْنُ أُمَيَّةَ فَشَهِدَ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " اللَّهُ يَعْلَمُ أَنَّ أَحَدَكُمَا كَاذِبٌ فَهَلْ مِنْكُمَا مِنْ تَائِبٍ " . ثُمَّ قَامَتْ فَشَهِدَتْ فَلَمَّا كَانَ عِنْدَ الْخَامِسَةِ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ وَقَالُوا لَهَا إِنَّهَا مُوجِبَةٌ . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَتَلَكَّأَتْ وَنَكَصَتْ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهَا سَتَرْجِعُ فَقَالَتْ لاَ أَفْضَحُ قَوْمِي سَائِرَ الْيَوْمِ . فَمَضَتْ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَبْصِرُوهَا فَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَكْحَلَ الْعَيْنَيْنِ سَابِغَ الأَلْيَتَيْنِ خَدَلَّجَ السَّاقَيْنِ فَهُوَ لِشَرِيكِ بْنِ سَحْمَاءَ " . فَجَاءَتْ بِهِ كَذَلِكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَوْلاَ مَا مَضَى مِنْ كِتَابِ اللَّهِ لَكَانَ لِي وَلَهَا شَأْنٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا مِمَّا تَفَرَّدَ بِهِ أَهْلُ الْمَدِينَةِ حَدِيثُ ابْنِ بَشَّارٍ حَدِيثُ هِلاَلٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২৪৮. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হিলাল বিন উমাইয়া, তার স্ত্রীর সাথে শুরায়ক ইবনে সাহমর অবৈধ প্রণয় সম্পর্কে নবী করীম (ﷺ) এর নিকট অভিযোগ করে। নবী করীম (ﷺ) তাকে বলেন, তুমি এ সম্পর্কে প্রমাণ পেশ করো, নতুবা তোমার উপর হদ্ কায়েম করা হবে। সে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যখন আমাদের কেউ স্বচক্ষে তার স্ত্রীকে এরূপ কাজে লিপ্ত দেখে, সেখানেও কী সাক্ষীর প্রয়োজন? নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ তুমি সাক্ষী পেশ করো, নতুবা মিথ্যা দোপষারোপের অভিযোগে তোমার উপর হদ্ (শাস্তি) কায়েম করা হবে।

হিলাল (রাযিঃ) বলেন, যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, তাঁর শপথ করে বলছি, নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাআলা আমার ব্যাপারে এমন আয়াত নাযিল করবেন, যা আমার পৃষ্ঠকে শাস্তি হতে রক্ষা করবে। তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (অর্থ) ‘‘যারা তাদের স্ত্রীদের উপরে যিনার দোষারোপ করে, এ ব্যাপারে তারা নিজেরা ব্যতীত আর কোন সাক্ষী না থাকে ......... হতেمِنَ الصَّادِقِينَ (বা তারাই সত্যবাদী) পর্যন্ত তিলাওয়াত করেন।

নবী করীম (ﷺ) প্রত্যাবর্তন করেন এবং জনৈক ব্যক্তিকে তাদের ডাকার জন্য নির্দেশ দেন। তারা উভয়ে সেখানে উপস্থিত হলে, হিলাল ইবনে উমাইয়া দণ্ডায়মান হন এবং সাক্ষ্য প্রদান করেন। নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ্ই অবগত, নিশ্চয় তোমাদের দু‘জনের মধ্যে একজন মিথ্যাবাদী। কাজেই তোমাদের মধ্যে কেউ তাওবাকারী আছ কি? সে যখন পঞ্চমবার সাক্ষ্য প্রদান করে, তখন বলে, তার (নিজের) উপর আল্লাহর গযব (অভিসম্পাত), যদি সে ( তার স্বামী) সত্যবাদীদের অর্ন্তভুক্ত হয়।

আর তখন তারা তাকে (মহিলাকে) পঞ্চমবার সাক্ষ্য প্রদানের পরিণতি হিসাবে সতর্ক করে বলেন, অবশ্যই এটা আল্লাহর গযবকে নির্দিষ্ট করবে। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, এটা শুনে সে থমকে দাঁড়ায় এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়, যাতে আমরা ধারণা করি যে, নিশ্চয়ই সে এহেন অভিশাপের সাক্ষ্য প্রদান হতে বিরত থাকবে। কিন্তু পরক্ষণেই সে বলে, না আমি আমার বংশের কলঙ্ক হব না। সে মহিলা শপথ করে সাক্ষ্য প্রদান করে। নবী করীম (ﷺ) বলেন, তোমরা এর দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখবে। যদি সে সুরমারঞ্জিত ভ্রু এবং স্থুলগোছা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে, তবে তা হবে শুরায়ক ইবনে সাহমের ঔরসজাত সন্তান। সে মহিলা তদ্রূপ সন্তান প্রসব করলে নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ যদি এ ব্যাপারে নির্দিষ্টভাবে কুরআনের নির্দেশ না আসত, তবে আমার ও তার (মহিলার) মধ্যকার ফায়সালার ব্যাপারটি সংকটজনক হতো।
2249

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ الشَّعِيرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ رَجُلاً حِينَ أَمَرَ الْمُتَلاَعِنَيْنِ أَنْ يَتَلاَعَنَا أَنْ يَضَعَ يَدَهُ عَلَى فِيهِ عِنْدَ الْخَامِسَةِ يَقُولُ إِنَّهَا مُوجِبَةٌ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২৪৯. মুখাল্লাদ ইবনে খালিদ ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) তাঁর জনৈক সাহাবীকে নির্দেশ প্রদান করেন, যখন তিনি পরস্পর অভিসম্পাতকারীদ্বয়কে পরস্পর অভিসম্পাত করার জন্য বলেছিলেন, যেনঅভিসম্পাতকারী পঞ্চমবার অভিসম্পাত করার সময় তার মুখে হাত রেখে বলেঃ নিশ্চয় এত (সে মিথ্যাবাদী হলে) শাস্তি অবধারিত হবে।[১]

[১] লিআন শব্দটি লা'নত (অর্থাৎ অভিসম্পাত) হতে উদ্ভূত। স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করলে সাক্ষী প্রমাণ না থাকলে নিজের সাক্ষী নিজেই শপথ করে প্রদান করতে হয়। এর বিধান হল ঃ প্রত্যেকে প্রথমে চারবার শপথ করে নিজে সত্য বলার সাফাই সাক্ষ্য দিবে আর পঞ্চমবারে শপথ করে বলবে যে, আমি যদি মিথ্যা বলে থাকি তবে যেন আমার উপর আল্লাহর গযব নাযিল হয়। এরূপে উভয়ের সাফাই সাক্ষ্য প্রদানের পর আপনাআপনি বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে যায়। বিচারককে বিবাহ বিচ্ছেদের রায় দান করতে হয়। অন্যথায় অপরাধী স্বীয় অপরাধ স্বীকার করলে ও সাফাই সাক্ষ্য দানে বিরত থাকলে সে শরী'আতের বিধান মতে শান্তি পাওয়ার যোগ্য হয়। অপরাধের মাত্রানুপাতে শাস্তির বিধানকে শরী'আতের পরিভাষায় হদ বলা হয় ।
2250

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَ هِلاَلُ بْنُ أُمَيَّةَ وَهُوَ أَحَدُ الثَّلاَثَةِ الَّذِينَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ فَجَاءَ مِنْ أَرْضِهِ عَشِيًّا فَوَجَدَ عِنْدَ أَهْلِهِ رَجُلاً فَرَأَى بِعَيْنَيْهِ وَسَمِعَ بِأُذُنَيْهِ فَلَمْ يَهِجْهُ حَتَّى أَصْبَحَ ثُمَّ غَدَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي جِئْتُ أَهْلِي عِشَاءً فَوَجَدْتُ عِنْدَهُمْ رَجُلاً فَرَأَيْتُ بِعَيْنِي وَسَمِعْتُ بِأُذُنِي فَكَرِهَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا جَاءَ بِهِ وَاشْتَدَّ عَلَيْهِ فَنَزَلَتْ ( وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلاَّ أَنْفُسُهُمْ فَشَهَادَةُ أَحَدِهِمْ ) الآيَتَيْنِ كِلْتَيْهِمَا فَسُرِّيَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَبْشِرْ يَا هِلاَلُ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَكَ فَرَجًا وَمَخْرَجًا " . قَالَ هِلاَلٌ قَدْ كُنْتُ أَرْجُو ذَلِكَ مِنْ رَبِّي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَرْسِلُوا إِلَيْهَا " . فَجَاءَتْ فَتَلاَ عَلَيْهِمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَذَكَّرَهُمَا وَأَخْبَرَهُمَا أَنَّ عَذَابَ الآخِرَةِ أَشَدُّ مِنْ عَذَابِ الدُّنْيَا فَقَالَ هِلاَلٌ وَاللَّهِ لَقَدْ صَدَقْتُ عَلَيْهَا فَقَالَتْ قَدْ كَذَبَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَعِنُوا بَيْنَهُمَا " . فَقِيلَ لِهِلاَلٍ اشْهَدْ . فَشَهِدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ فَلَمَّا كَانَتِ الْخَامِسَةُ قِيلَ لَهُ يَا هِلاَلُ اتَّقِ اللَّهَ فَإِنَّ عَذَابَ الدُّنْيَا أَهْوَنُ مِنْ عَذَابِ الآخِرَةِ وَإِنَّ هَذِهِ الْمُوجِبَةُ الَّتِي تُوجِبُ عَلَيْكَ الْعَذَابَ . فَقَالَ وَاللَّهِ لاَ يُعَذِّبُنِي اللَّهُ عَلَيْهَا كَمَا لَمْ يَجْلِدْنِي عَلَيْهَا . فَشَهِدَ الْخَامِسَةَ أَنَّ لَعْنَةَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِنْ كَانَ مِنَ الْكَاذِبِينَ ثُمَّ قِيلَ لَهَا اشْهَدِي . فَشَهِدَتْ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ فَلَمَّا كَانَتِ الْخَامِسَةُ قِيلَ لَهَا اتَّقِي اللَّهَ فَإِنَّ عَذَابَ الدُّنْيَا أَهْوَنُ مِنْ عَذَابِ الآخِرَةِ وَإِنَّ هَذِهِ الْمُوجِبَةُ الَّتِي تُوجِبُ عَلَيْكِ الْعَذَابَ . فَتَلَكَّأَتْ سَاعَةً ثُمَّ قَالَتْ وَاللَّهِ لاَ أَفْضَحُ قَوْمِي فَشَهِدَتِ الْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ فَفَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمَا وَقَضَى أَنْ لاَ يُدْعَى وَلَدُهَا لأَبٍ وَلاَ تُرْمَى وَلاَ يُرْمَى وَلَدُهَا وَمَنْ رَمَاهَا أَوْ رَمَى وَلَدَهَا فَعَلَيْهِ الْحَدُّ وَقَضَى أَنْ لاَ بَيْتَ لَهَا عَلَيْهِ وَلاَ قُوتَ مِنْ أَجْلِ أَنَّهُمَا يَتَفَرَّقَانِ مِنْ غَيْرِ طَلاَقٍ وَلاَ مُتَوَفَّى عَنْهَا وَقَالَ " إِنْ جَاءَتْ بِهِ أُصَيْهِبَ أُرَيْصِحَ أُثَيْبِجَ حَمْشَ السَّاقَيْنِ فَهُوَ لِهِلاَلٍ وَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَوْرَقَ جَعْدًا جُمَالِيًّا خَدَلَّجَ السَّاقَيْنِ سَابِغَ الأَلْيَتَيْنِ فَهُوَ لِلَّذِي رُمِيَتْ بِهِ فَجَاءَتْ بِهِ أَوْرَقَ جَعْدًا جُمَالِيًّا خَدَلَّجَ السَّاقَيْنِ سَابِغَ الأَلْيَتَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْلاَ الأَيْمَانُ لَكَانَ لِي وَلَهَا شَأْنٌ " . قَالَ عِكْرِمَةُ فَكَانَ بَعْدَ ذَلِكَ أَمِيرًا عَلَى مُضَرَ وَمَا يُدْعَى لأَبٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২৫০. আল্ হাসান ইবনে আলী .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হিলাল ইবনে উমাইয়্যা, যিনি ঐ ব্যক্তির একজন ছিলেন, (যারা অকারণে তাবুক যুদ্ধে গমন করনেনি, যার ফলে অপরাধী সাব্যস্ত হন এবং কান্নাকাটির পর) আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল কনে। একদা তিনি তার খামার হতে রাতে প্রত্যাবর্তনের পর তার স্ত্রীর সাথে এক ব্যক্তিকে (শুরায়ক ইবনে সাহমকে) যিনায় লিপ্ত দেখতে পান এবং তার দু’কর্ণে তাদের কথোপকথন শ্রবণ করেন। কিন্তু তিনি এতদসত্ত্বেও কোনরূপ বাড়াবাড়ি না করে রাতযাপন করেন।

সকালবেলা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর খিদমতে হাযির হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি রাতে আমার স্ত্রীর নিকট গমনপূর্বক তার সাথে এক ব্যক্তিকে (ব্যভিচারে লিপ্তবস্থায়) আমার স্বচক্ষে অবলোকন করি এবং তার কথাও আমি স্বকর্ণে শ্রবণ করি। এতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং তার নিকট ইহা খুবই গুরুতর মনে হয়। তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (অর্থ) ‘‘যারা তাদের স্ত্রীদের ব্যাপারে যিনার দোষারোপ করে, আর এব্যাপারে (স্ত্রী ব্যভিচারের) তাদের কোন সাক্ষী থাকে না নিজে ব্যতীত’’ ......... আয়াতের শেষ পর্যন্ত নাযিল হয়।

আর ঐ সময় রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এর উপর ওহী নাযিল হওয়াকালীন সময়ের কাঠিন্যতা প্রকাশ পায়। এরপর তিনি বলেনঃ হে হিলাল! তুমি সুসংবাদ গ্রহণ কর। আল্লাহ্ তাআলা তোমার ব্যাপারে স্বস্তির বিধান জারি করেছেন। তখন হিলাল (রাযিঃ) বলেন, আমি আমার রবের নিকট এ রকম কিছুর প্রত্যাশা করেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ তাকে এখানে নিয়ে এসো! তখন সে (হিলালের স্ত্রী) সেখানে আসে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের (উভয়ের) সম্মুখে ঐ আয়াত তিলাওয়াত করেন এবং বলেন, আখিরাতের আযাব দুনিয়ার আযাবের চাইতে ভয়াবহ।

হিলাল (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি তার (স্ত্রীর) ব্যাপারে যা বলছি, সত্য বলছি। তার স্ত্রী বলে, সে মিথ্যা বলছে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের বলেন, তোমরা তাদের পরস্পরের মধ্যে লিআন করতে বল। হিলালকে বলা হয়, তুমি সাক্ষ্য প্রদান কর। তিনি আল্লাহর শপথপূর্বক চারবার বলেন যে, তিনি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত। এরপর তিনি পঞ্চমবারের জন্য সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত হলে তাঁকে বলা হয়, তুমি আল্লাহকে ভয় করো। কেননা, আখিরাতের আযাবের চেয়ে দুনিয়ার আযাব খুবই নগণ্য। আর এ সাক্ষ্য (পঞ্চমবারের) তোমার শাস্তিকে অবধারিত করবে (যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও)।

তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! তিনি আমাকে এজন্য শাস্তি প্রদান করবেন না, যেমন তিনি তার সম্পর্কে বলাতে আমাকে শাস্তি প্রদান করনেনি। অতঃপর তিনি পঞ্চমবারের শাস্তি প্রদানের সময় বলেন, যদি সে (নিজে) মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভূক্ত হয়, তবে তার উপর আল্লাহর লা‘নত (যেন বর্ষিত হয়)। এরপর তার স্ত্রীকে সাক্ষ্য প্রদান করতে বলা হলে, সে চারবার আল্লাহ নামে এরূপ সাক্ষ্য প্রদান করে যে, সে (তার স্বামী) মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভূক্ত। এরপর সে পঞ্চমবার শপথবাক্য উচ্চারণের জন্য প্রস্তুত হলে তাকে বলা হয়, তুমি আল্লাহকে ভয় করো এবং (জেনে রাখ) আখিরাতের আযাবের তুলনায় দুনিয়ার আযাব খুবই নগণ্য। আর এটা তোমার জন্য শাস্তিকে অবধারিত করবে।

এতদশ্রবণে সে ক্ষণকালের জন্য থেমে যায় এবং পরে বলে, আমি আমার কওমের লোকদের হেয় করব না। এরপর সে পঞ্চমবারের মতো সাক্ষ্য প্রদানের সময় বলে, তার (নিজের) উপর আল্লাহর গযব (যেন লালায়িত হয়), যদি সে (তার স্বামী) সত্যবাদীদের অন্তর্ভূক্ত হয়। অতঃপর রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেন এবং ফায়সালা দেন যে, তার গর্ভস্থিত সন্তান যেন তার পিতার সাথে সম্পর্কিত না করা হয়। আর সেই মহিলাকে যেন যিনাকারী হিসাবে এবং তার সন্তানকে যেন ব্যভিচারের ফসল হিসাবে আখ্যায়িত করা না হয়। আর যে ব্যক্তি তাকে (মহিলাকে) ব্যভিচারীর দোষারোপ করবে অথবা তার সন্তানের প্রতি এরূপ দোষারোপ করবে তার উপর হদ (শরীআতের শাস্তি বিধান) জারি করা হবে। আর তিনি এরূপ সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেন যে, তার উপর (স্বামীর) ঐ মহিলার থাকার জন্য এবং ভরণ পোষণের জন্য কোনরূপ দায়-দায়িত্ব বর্তাবে না। কেননা, তারা তালাক ব্যতীত উভয়েই বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

আর সে (স্বামী) তার প্রতি দৃষ্টিপাতও করতে পারবেনা। এরপর তিনি বলেনঃ সে যদি স্থুল (পায়ের) গোছাবিশিষ্ট, লাল চুল বিশিষ্ট (যার উপরিভাগ কালো) এবং হালকা পাতলা গড়নের সন্তান প্রসব করে তবে তা হবে হিলালের সন্তান। অপর পক্ষে, সে যদি স্বাস্থ্যবান, মোটাতাজা সন্তান প্রসব করে, তবে তার গর্ভজাত সন্তান হবে, যার প্রতি দোষারোপ করা হয়েছে। সে (মহিলা) মোটাতাজা, স্বাস্থ্যবান একটি সন্তান প্রসব করল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ যদি সে আল্লাহর নামে সাক্ষ্য প্রদান না করতো, তবে তার ও আমার মধ্যকার ফায়সালার ব্যাপারটি অন্যরকম হতো। রাবী ইকরিমা বলেন, পরবর্তীকালে সে (সন্তান) মুদের গোত্রের আমীর হয়। কিন্তু তাকে তার পিতার সাথে সম্পর্কিত করা হতো না।
2251

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ سَمِعَ عَمْرٌو، سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ يَقُولُ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلْمُتَلاَعِنَيْنِ " حِسَابُكُمَا عَلَى اللَّهِ أَحَدُكُمَا كَاذِبٌ لاَ سَبِيلَ لَكَ عَلَيْهَا " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَالِي . قَالَ " لاَ مَالَ لَكَ إِنْ كُنْتَ صَدَقْتَ عَلَيْهَا فَهُوَ بِمَا اسْتَحْلَلْتَ مِنْ فَرْجِهَا وَإِنْ كُنْتَ كَذَبْتَ عَلَيْهَا فَذَلِكَ أَبْعَدُ لَكَ " .

Narrator: হযরত আবু সা'ঈদ ইবনুল মু'আল্লা রাযি.

২২৫১. আহমাদ ইবনে হাম্বল ..... আমর ইবনে সাঈদ ইবনে জুবাইর বলেন, আমি ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ব্যভিচারের পরস্পর অভিসম্পাতকারীদের সম্পর্কে ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের হিসাব আল্লাহর উপর ন্যস্ত। আর অবশ্যই তোমাদের দুজনের মধ্যে একজন মিথ্যাবাদী। আর তোমার তার (স্ত্রীর) উপর কোন অধিকার নেই। তখন সে (স্বামী) জিজ্ঞাসা করে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার প্রদত্ত মালের (মোহর) বিষয় কী? তিনি বলেনঃ যদি তুমি তার ব্যাপারে সত্য কথাও বলে থাকো, তবুও তোমার দেয়া মাল (মোহর) তুমি ফেরত পাবে না আর তা এজন্য যে, তুমি তার যৌনাঙ্গ এর বিনিময়ে হালাল করেছিলে। আর যদি তুমি তার সম্পর্কে মিথ্যা বলে থাকো তবে তো এ সম্পর্কে কোন কথাই ওঠতে পারে না।

2252

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ قُلْتُ لاِبْنِ عُمَرَ رَجُلٌ قَذَفَ امْرَأَتَهُ . قَالَ فَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَخَوَىْ بَنِي الْعَجْلاَنِ وَقَالَ " اللَّهُ يَعْلَمُ أَنَّ أَحَدَكُمَا كَاذِبٌ . فَهَلْ مِنْكُمَا تَائِبٌ " . يُرَدِّدُهَا ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَأَبَيَا فَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا .

Narrator: সাঈদ ইবনে জুবায়র (রহঃ)

২২৫২. আহমাদ ইবনে হাম্বল .... সাঈদ ইবনে জুবাইর বলেন, আমি ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে বলি, যদি কেউ তার স্ত্রীর উপর মিথ্যে দোষারোপ করে, তবে কি তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতে হবে? তিনি বলেন, রাসুলুল্লহ (ﷺ) বনী আজলান গোত্রস্থিত আমার ভাই ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেন। এরপর তিনি বলেন, আল্লাহ সবই অবগত। তবে নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে একজন মিথ্যেবাদী, কাজেই তোমাদের দু’জনের মধ্যে কেউ তওবকরী আছে কি? এরূপ তিনি তিনবার উচ্চারণ করলেন। এরপর তারা উভয়ে এরূপ করতে অস্বীকার করলে তিনি তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেন।

2253

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً، لاَعَنَ امْرَأَتَهُ فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَانْتَفَى مِنْ وَلَدِهَا فَفَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمَا وَأَلْحَقَ الْوَلَدَ بِالْمَرْأَةِ ، وَقَالَ يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، فِي حَدِيثِ اللِّعَانِ وَأَنْكَرَ حَمْلَهَا فَكَانَ ابْنُهَا يُدْعَى إِلَيْهَا

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২২৫৩. আল্ কা‘নবী ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর যুগে জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রী সম্পর্কে লিআন করে এবং স্ত্রীর গর্ভস্থিত সন্তানকে তার ঔরসজাত নয় বলে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেন এবং সন্তানের সম্পর্ক মায়ের সাথে স্থির করেন।

১৭২. সন্তানের উপর সন্দেহ পোষণ করা।

باب إِذَا شَكَّ فِي الْوَلَدِ

2254

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ بَنِي فَزَارَةَ فَقَالَ إِنَّ امْرَأَتِي جَاءَتْ بِوَلَدٍ أَسْوَدَ فَقَالَ " هَلْ لَكَ مِنْ إِبِلٍ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " مَا أَلْوَانُهَا " . قَالَ حُمْرٌ قَالَ " فَهَلْ فِيهَا مِنْ أَوْرَقَ " . قَالَ إِنَّ فِيهَا لَوُرْقًا . قَالَ " فَأَنَّى تُرَاهُ " . قَالَ عَسَى أَنْ يَكُونَ نَزَعَهُ عِرْقٌ . قَالَ " وَهَذَا عَسَى أَنْ يَكُونَ نَزَعَهُ عِرْقٌ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৫৪. ইবনে আবু খালফ ..... আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা বনু ফাযারা গোত্রের জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলেন, আমার স্ত্রী কালোবর্ণের একটি সন্তান প্রসব করেছে (যাকে আমার সন্তান হিসাবে আমি অস্বীকার ও সন্দেহ করি)। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তোমার কি কোন উট আছে? সে বলে, হ্যাঁ, আছে। পুনরায় তিনি জিজ্ঞাসা করেন, এর রং কিরূপ? সে বলে, প্রায় লাল বর্ণের। তিনি পুনরায় তাকে জিজ্ঞাসা করেন, আচ্ছা, এর মধ্যে কাল রংয়ের কিছু পশম আছে কি? সে বলে, হ্যাঁ, এর দেহে অনেক কাল পশমও আছে। তিনি বলেন, আচ্ছা তা কোথা হতে এলো? সে বলে, হয়ত তা তার বংশের কারণে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, এ সন্তানও হয়ত তার আসল বংশের প্রভাবে এরূপ হয়েছে।

2255

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ قَالَ وَهُوَ حِينَئِذٍ يُعَرِّضُ بِأَنْ يَنْفِيَهُ .

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

২২৫৫. হাসান ইবনে আলী ..... ইমাম যুহরী (রাহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের সনদ ও অর্থে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে মা‘মার অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, ঐ ব্যক্তি তখনও তার ঔরসজাত সন্তান হিসাবে তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করতো।

2256

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ امْرَأَتِي وَلَدَتْ غُلاَمًا أَسْوَدَ وَإِنِّي أُنْكِرُهُ . فَذَكَرَ مَعْنَاهُ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৫৬. আহমাদ ইবনে সালিহ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক বেদুঈন নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে এসে বলে, আমার স্ত্রী একটি কাল রং বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করেছে, আর আমি তাকে অস্বীকার করি (যে, সে আমার ঔরসজাত নয়)। এরপর রাবী ইউনুস, পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থে হাদীস বর্ণনা করেন।

১৭৩. ঔরসজাত সন্তান গ্রহণে অস্বীকৃতির ভয়ংকর পরিণতি।

باب التَّغْلِيظِ فِي الاِنْتِفَاءِ

2257

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ حِينَ نَزَلَتْ آيَةُ الْمُتَلاَعِنَيْنِ " أَيُّمَا امْرَأَةٍ أَدْخَلَتْ عَلَى قَوْمٍ مَنْ لَيْسَ مِنْهُمْ فَلَيْسَتْ مِنَ اللَّهِ فِي شَىْءٍ وَلَنْ يُدْخِلَهَا اللَّهُ جَنَّتَهُ وَأَيُّمَا رَجُلٍ جَحَدَ وَلَدَهُ وَهُوَ يَنْظُرُ إِلَيْهِ احْتَجَبَ اللَّهُ مِنْهُ وَفَضَحَهُ عَلَى رُءُوسِ الأَوَّلِينَ وَالآخِرِينَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৫৭. আহমদ ইবনে সালহ্ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ)কে ইরশাদ করতে শুনেছেন, যখন পরস্পর অভিসম্পাতকারীদের সম্পর্কে আয়াত নাযিল হয়ঃ যে স্ত্রীলোক কোন কওমের মধ্যে প্রবেশ করায় (এমন সন্তান) যা তাদের নয়; (অর্থাৎ অন্যের সাথে ব্যভিচারের ফলে গর্ভবতী হয়); সে আল্লাহর রহমত প্রাপ্ত হবে না এবং আল্লাহ্ তাকে কখনই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। আর যে ব্যক্তি তার ঔরসজাত সন্তানকে অস্বীকার করে, অথচ সে (সন্তান) তার দিকেই চেয়ে থাকে; আল্লাহ্ তাআলা তাকেও তাঁর রহমত হতে বঞ্চিত করবেন এবং তাকে (কিয়ামতের দিন) পূর্বাপর সমস্ত মাখলুকের সম্মুখে অপমানিত করবেন।

১৭৪. জারজ সন্তানের দাবি।

باب فِي ادِّعَاءِ وَلَدِ الزِّنَا

2258

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، عَنْ سَلْمٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي الذَّيَّالِ - حَدَّثَنِي بَعْضُ، أَصْحَابِنَا عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ مُسَاعَاةَ فِي الإِسْلاَمِ مَنْ سَاعَى فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَدْ لَحِقَ بِعَصَبَتِهِ وَمَنِ ادَّعَى وَلَدًا مِنْ غَيْرِ رِشْدَةٍ فَلاَ يَرِثُ وَلاَ يُورَثُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২৫৮. ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ ইসলামের মধ্যে ব্যভিচারের কোন স্থান নেই। জাহিলীয়াতের যুগে যারা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে, এর ফলে সৃষ্ট সন্তানেরা তাদের সাথে সম্পর্কিত হবে। যে ব্যক্তি ব্যভিচারের কারণে সৃষ্ট সন্তানের দাবি করবে, সে তার ওয়ারিস হবে না এবং সে সন্তানও তার উত্তরাধিকারী হতে পারবে না।

2259

حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ، ح وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ، - وَهُوَ أَشْبَعُ - عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَضَى أَنَّ كُلَّ مُسْتَلْحَقٍ اسْتُلْحِقَ بَعْدَ أَبِيهِ الَّذِي يُدْعَى لَهُ ادَّعَاهُ وَرَثَتُهُ فَقَضَى أَنَّ كُلَّ مَنْ كَانَ مِنْ أَمَةٍ يَمْلِكُهَا يَوْمَ أَصَابَهَا فَقَدْ لَحِقَ بِمَنِ اسْتَلْحَقَهُ وَلَيْسَ لَهُ مِمَّا قُسِمَ قَبْلَهُ مِنَ الْمِيرَاثِ شَىْءٌ وَمَا أَدْرَكَ مِنْ مِيرَاثٍ لَمْ يُقْسَمْ فَلَهُ نَصِيبُهُ وَلاَ يُلْحَقُ إِذَا كَانَ أَبُوهُ الَّذِي يُدْعَى لَهُ أَنْكَرَهُ وَإِنْ كَانَ مِنْ أَمَةٍ لَمْ يَمْلِكْهَا أَوْ مِنْ حُرَّةٍ عَاهَرَ بِهَا فَإِنَّهُ لاَ يُلْحَقُ بِهِ وَلاَ يَرِثُ وَإِنْ كَانَ الَّذِي يُدْعَى لَهُ هُوَ ادَّعَاهُ فَهُوَ وَلَدُ زِنْيَةٍ مِنْ حُرَّةٍ كَانَ أَوْ أَمَةٍ .

Narrator: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

২২৫৯. শায়বান ইবনে ফাররুখ .... আমর ইবনে শুআয়ব তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি নবী করীম (ﷺ) ইসলামের প্রথম যুগে ফায়সালা করতেন যে, প্রত্যেক উত্তরাধিকারী, তার পিতার মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে, যাকে সে তার উত্তরাধিকারী হিসাবে স্বীকার করে। আর তিনি এরূপ ফায়সালা করতেন, যে ব্যক্তির কোন দাসীর গর্ভে সন্তান লাভ করবে, সে তার (সন্তানের) মালিক হবে তার সাথে সহবাসের দিন হতে। আর সে তারই সাথে সম্পর্কিত হবে, যদি সে তাকে জীবিতাবস্থায় অস্বীকার না করে। (আর যদি তাকে অস্বীকার করে) এমতাবস্থায় সে তার সম্পত্তির ওয়ারিস হবে না।

আর বণ্টনের পূর্বে সে যে সম্পদের উত্তরাধিকারী হবে, তা তারই প্রাপ্য। আর সে (সন্তান) যার সাথে সম্পর্কিত হয়, সে যদি তাকে (সন্তান হিসাবে গ্রহণ করতে) অস্বীকার করে তবে সে সম্পত্তি পাবে না। আর যদি সে সন্তান কোন দাসীর হয়, যার সে মালিক নয় অথবা কোন স্বাধীন স্ত্রীলোকের, যার সাথে সে যিনা করে; এমতাবস্থায় সে তার ওয়ারিস হবে না এবং তার পরিত্যক্ত সম্পদও পাবে না। আর যাকে তার সাথে সম্পর্কিত করা হয়, আর সেও সম্পর্কিত হয়— সে ব্যভিচারের ফলে সৃষ্ট (সন্তান), চাই সে দাসীর গর্ভেই হোক বা স্বাধীন স্ত্রীলোকের গর্ভে।
2260

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رَاشِدٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ زَادَ وَهُوَ وَلَدُ زِنًا لأَهْلِ أُمِّهِ مَنْ كَانُوا حُرَّةً أَوْ أَمَةً وَذَلِكَ فِيمَا اسْتُلْحِقَ فِي أَوَّلِ الإِسْلاَمِ فَمَا اقْتُسِمَ مِنْ مَالٍ قَبْلَ الإِسْلاَمِ فَقَدْ مَضَى .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২২৬০. মাহমুদ ইবনে খালিদ ..... মুহাম্মাদ ইবনে রাশেদ হতে পূর্বোক্ত হাদীসের সনদে ও অর্থে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে রাবী খালিদ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, সে ব্যভিচারের কারণে সৃষ্ট মায়ের কারণে সন্তান হবে, চাই সে দাসী হোক বা স্বাধীন স্ত্রীলোক। আর এরূপ নির্দেশ ছিল ইসলামের প্রাথমিক যুগে। আর ইসলাম পূর্বে যে মাল বণ্টিত হয়েছে, তা তো গত হয়ে গেছে।

১৭৫. রেখা বিশেষজ্ঞ।

باب فِي الْقَافَةِ

2261

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، - الْمَعْنَى - وَابْنُ السَّرْحِ قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مُسَدَّدٌ وَابْنُ السَّرْحِ يَوْمًا مَسْرُورًا وَقَالَ عُثْمَانُ يُعْرَفُ أَسَارِيرُ وَجْهِهِ فَقَالَ " أَىْ عَائِشَةُ أَلَمْ تَرَىْ أَنَّ مُجَزِّزًا الْمُدْلِجِيَّ رَأَى زَيْدًا وَأُسَامَةَ قَدْ غَطَّيَا رُءُوسَهُمَا بِقَطِيفَةٍ وَبَدَتْ أَقْدَامُهُمَا فَقَالَ إِنَّ هَذِهِ الأَقْدَامَ بَعْضُهَا مِنْ بَعْضٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَانَ أُسَامَةُ أَسْوَدَ وَكَانَ زَيْدٌ أَبْيَضَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২৬১. মুসাদ্দাদ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার নিকট প্রবেশ করেন, রাবী মুসাদ্দাদ ও ইবনে সারহ্ বলেন, সন্তুষ্টচিত্তে। রাবী উসমান বলেন, তাঁর চেহারায় সন্তুষ্টির আভা প্রকাশ পেয়েছিল। এরপর তিনি বলেনঃ হে আয়িশা! তুমি কি দেখনি, মুজরায় মুদলেজী দেখতে পেল যে, যায়দ ও উসামা (রাযিঃ) তাদের মস্তক চাদর দিয়ে আবৃত করে রেখেছেন; আর তাদের উভয়ের পা ছিল খোলা, তখন সে বলল, নিশ্চয়ই এ পাগুলো, একে অপরের থেকে। (অর্থাৎ এদের মধ্যে রক্ত সম্পর্ক রয়েছে।

2262

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ قَالَ تَبْرُقُ أَسَارِيرُ وَجْهِهِ ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «وَأَسَارِيرُ وَجْهِهِ لَمْ يَحْفَظْهُ ابْنُ عُيَيْنَةَ» ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: " أَسَارِيرُ وَجْهِهِ هُوَ تَدْلِيسٌ مِنْ ابْنِ عُيَيْنَةَ، لَمْ يَسْمَعْهُ مِنَ الزُّهْرِيِّ إِنَّمَا سَمِعَ الْأَسَارِيرَ مِنْ غَيْرِهِ، قَالَ: وَالْأَسَارِيرُ فِي حَدِيثِ اللَّيْثِ، وَغَيْرِهِ "، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَسَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ صَالِحٍ، يَقُولُ: «كَانَ أُسَامَةُ أَسْوَدَ شَدِيدَ السَّوَادِ مِثْلَ الْقَارِ، وَكَانَ زَيْدٌ أَبْيَضَ مِثْلَ الْقُطْنِ»

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

২২৬২. কুতায়বা ..... ইবনে শিহাব হতে পূর্বোক্ত হাদীসের সনদে ও অর্থে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁর চেহারায় সন্তুষ্টির ভাব প্রকাশ ছিল।

2263

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ الأَجْلَحِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْخَلِيلِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْيَمَنِ فَقَالَ إِنَّ ثَلاَثَةَ نَفَرٍ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ أَتَوْا عَلِيًّا يَخْتَصِمُونَ إِلَيْهِ فِي وَلَدٍ وَقَدْ وَقَعُوا عَلَى امْرَأَةٍ فِي طُهْرٍ وَاحِدٍ فَقَالَ لاِثْنَيْنِ مِنْهُمَا طِيبَا بِالْوَلَدِ لِهَذَا . فَغَلَيَا ثُمَّ قَالَ لاِثْنَيْنِ طِيبَا بِالْوَلَدِ لِهَذَا . فَغَلَبَا ثُمَّ قَالَ لاِثْنَيْنِ طِيبَا بِالْوَلَدِ لِهَذَا . فَغَلَبَا فَقَالَ أَنْتُمْ شُرَكَاءُ مُتَشَاكِسُونَ إِنِّي مُقْرِعٌ بَيْنَكُمْ فَمَنْ قُرِعَ فَلَهُ الْوَلَدُ وَعَلَيْهِ لِصَاحِبَيْهِ ثُلُثَا الدِّيَةِ . فَأَقْرَعَ بَيْنَهُمْ فَجَعَلَهُ لِمَنْ قُرِعَ فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ أَضْرَاسُهُ أَوْ نَوَاجِذُهُ .

Narrator: হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রাঃ)

২২৬৩. মুসাদ্দাদ .... যায়দ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে উপবিষ্ট ছিলাম। তখন ইয়ামান হতে জনৈক ব্যক্তি আগমন করে এবং বলে, ইয়ামানের তিন ব্যক্তি আলী (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে একটি সন্তানের (মালিকানা) সম্পর্কে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়, যারা একটি স্ত্রীলোকের সাথে একই তুহুরে[১] উপগত হয়। তিনি (আলী) বলেন, বেশ তাহলে সন্তানটি তোমাদের দু‘জনের। এ সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তারা অস্বীকৃতি জানায়। তিনি (আলী) বলেন, তোমরা পরস্পর ঝগড়াকারী, কাজেই আমি তোমাদের মধ্যে লটারীর ব্যবস্থা করব। আর লটারীতে যার নাম ওঠবে, সে সন্তানের পিতা সাব্যস্থ হবে। আর সে ব্যক্তিকে অপর দু‘ব্যক্তির জন্য দু‘তৃতীয়াংশ ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রদান করতে হবে। এরপর তিনি তাদের মধ্যে লটারীর ব্যবস্থা করেন এবং লটারীতে যার নাম আসে, তাকে তিনি সন্তান প্রদান করেন। এতদশ্রবণে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এত জোরে হেসে ওঠেন যে, তাঁর সম্মুখের ও পার্শ্ববর্তী দাঁতসমূহ প্রকাশিত হয়।

[১] দুই হায়যের মধ্যবর্তী সময়কে এক ‘তহুর’ বা পবিত্রকাল বলা হয়।
2264

حَدَّثَنَا خُشَيْشُ بْنُ أَصْرَمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا الثَّوْرِيُّ، عَنْ صَالِحٍ الْهَمْدَانِيِّ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَبْدِ خَيْرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ أُتِيَ عَلِيٌّ - رضى الله عنه - بِثَلاَثَةٍ وَهُوَ بِالْيَمَنِ وَقَعُوا عَلَى امْرَأَةٍ فِي طُهْرٍ وَاحِدٍ فَسَأَلَ اثْنَيْنِ أَتُقِرَّانِ لِهَذَا بِالْوَلَدِ قَالاَ لاَ . حَتَّى سَأَلَهُمْ جَمِيعًا فَجَعَلَ كُلَّمَا سَأَلَ اثْنَيْنِ قَالاَ لاَ . فَأَقْرَعَ بَيْنَهُمْ فَأَلْحَقَ الْوَلَدَ بِالَّذِي صَارَتْ عَلَيْهِ الْقُرْعَةُ وَجَعَلَ عَلَيْهِ ثُلُثَىِ الدِّيَةِ قَالَ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ .

Narrator: হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রাঃ)

২২৬৪. হাশীশ্ ইবনে আসরাম .... যায়দ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আলী (রাযিঃ) এর নিকট ইয়ামানের তিন ব্যক্তি আগমন করে, যারা একই তুহরের মধ্যে জনৈকা স্ত্রীলোকের সাথে সহবাস করে। তিনি তাদের দু‘জনকে বলেন, আমি এ সন্তানকে তৃতীয় ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত করেছি। তারা উভয়ে তা মানতে অস্বীকার করে, বরং তারা সকলে তাকে স্বীয় ঔরসজাত সন্তাস হিসাবে দাবি করে। তিনি বলেন, তবে তা তোমাদের দু‘জনের সন্তান। তিনি সে সন্তানকে তার জন্য নির্ধারিত করেন এবং সে ব্যক্তির উপর দু‘তৃতীয়ংংশ ক্ষতিপূরণ হিসাবে ধার্য করেন। এ ঘটনা নবী করীম (ﷺ) এর নিকট বর্ণনা করা হলে তিনি এত জোরে হাসেন যে, তাঁর সম্মুখদিকের দাঁত দেখা যায়।

2265

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَلَمَةَ، سَمِعَ الشَّعْبِيَّ، عَنِ الْخَلِيلِ، أَوِ ابْنِ الْخَلِيلِ قَالَ أُتِيَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ - رضى الله عنه - فِي امْرَأَةٍ وَلَدَتْ مِنْ ثَلاَثٍ نَحْوَهُ لَمْ يَذْكُرِ الْيَمَنَ وَلاَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَلاَ قَوْلَهُ طِيبَا بِالْوَلَدِ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২২৬৫. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে মুআয .... খলীল অথবা ইবনে খলীল (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রাযিঃ) এর নিকট একটি স্ত্রীলোকের ব্যাপারে পেশ করা হয়, যে তিনজন পুরুয়ের সাথে সহবাসের ফলে সন্তান প্রসব করে। এরপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আর তিনি ইয়ামান ও নবী করীম (ﷺ) সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ করেননি এবং তিনিطِيبَا بِالْوَلَدِ শব্দটিরও উল্লেখ করেননি।

১৭৬. জাহিলীয়াতের যুগে বিভিন্ন ধরণের বিবাহ।

باب فِي وُجُوهِ النِّكَاحِ الَّتِي كَانَ يَتَنَاكَحُ بِهَا أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ

2266

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ النِّكَاحَ كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ عَلَى أَرْبَعَةِ أَنْحَاءٍ فَنِكَاحٌ مِنْهَا نِكَاحُ النَّاسِ الْيَوْمَ يَخْطُبُ الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ وَلِيَّتَهُ فَيُصْدِقُهَا ثُمَّ يَنْكِحُهَا وَنِكَاحٌ آخَرُ كَانَ الرَّجُلُ يَقُولُ لاِمْرَأَتِهِ إِذَا طَهُرَتْ مِنْ طَمْثِهَا أَرْسِلِي إِلَى فُلاَنٍ فَاسْتَبْضِعِي مِنْهُ وَيَعْتَزِلُهَا زَوْجُهَا وَلاَ يَمَسُّهَا أَبَدًا حَتَّى يَتَبَيَّنَ حَمْلُهَا مِنْ ذَلِكَ الرَّجُلِ الَّذِي تَسْتَبْضِعُ مِنْهُ فَإِذَا تَبَيَّنَ حَمْلُهَا أَصَابَهَا زَوْجُهَا إِنْ أَحَبَّ وَإِنَّمَا يَفْعَلُ ذَلِكَ رَغْبَةً فِي نَجَابَةِ الْوَلَدِ فَكَانَ هَذَا النِّكَاحُ يُسَمَّى نِكَاحَ الاِسْتِبْضَاعِ وَنِكَاحٌ آخَرُ يَجْتَمِعُ الرَّهْطُ دُونَ الْعَشَرَةِ فَيَدْخُلُونَ عَلَى الْمَرْأَةِ كُلُّهُمْ يُصِيبُهَا فَإِذَا حَمَلَتْ وَوَضَعَتْ وَمَرَّ لَيَالٍ بَعْدَ أَنْ تَضَعَ حَمْلَهَا أَرْسَلَتْ إِلَيْهِمْ فَلَمْ يَسْتَطِعْ رَجُلٌ مِنْهُمْ أَنْ يَمْتَنِعَ حَتَّى يَجْتَمِعُوا عِنْدَهَا فَتَقُولُ لَهُمْ قَدْ عَرَفْتُمُ الَّذِي كَانَ مِنْ أَمْرِكُمْ وَقَدْ وَلَدْتُ وَهُوَ ابْنُكَ يَا فُلاَنُ فَتُسَمِّي مَنْ أَحَبَّتْ مِنْهُمْ بِاسْمِهِ فَيُلْحَقُ بِهِ وَلَدُهَا وَنِكَاحٌ رَابِعٌ يَجْتَمِعُ النَّاسُ الْكَثِيرُ فَيَدْخُلُونَ عَلَى الْمَرْأَةِ لاَ تَمْتَنِعُ مِمَّنْ جَاءَهَا وَهُنَّ الْبَغَايَا كُنَّ يَنْصِبْنَ عَلَى أَبْوَابِهِنَّ رَايَاتٍ يَكُنَّ عَلَمًا لِمَنْ أَرَادَهُنَّ دَخَلَ عَلَيْهِنَّ فَإِذَا حَمَلَتْ فَوَضَعَتْ حَمْلَهَا جُمِعُوا لَهَا وَدَعَوْا لَهُمُ الْقَافَةَ ثُمَّ أَلْحَقُوا وَلَدَهَا بِالَّذِي يَرَوْنَ فَالْتَاطَهُ وَدُعِيَ ابْنَهُ لاَ يَمْتَنِعُ مِنْ ذَلِكَ فَلَمَّا بَعَثَ اللَّهُ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم هَدَمَ نِكَاحَ أَهْلِ الْجَاهِلِيَّةِ كُلَّهُ إِلاَّ نِكَاحَ أَهْلِ الإِسْلاَمِ الْيَوْمَ .

Narrator: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

২২৬৬. আহমদ ইবনে সালিহ্ .... উরওয়া ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) তাঁকে বলেছেন, জাহিলীয়াতের যুগে চার বিবাহ চালু ছিল। এর মধ্যে এক ধরণের বিবাহ এরূপ ছিল, যেমন আজকালের বিবাহ। বিবাহ ইচ্ছুক পুরুষ পাত্রীর পুরুষ অভিভাবকের নিকট বিবাহের প্রস্তাব করতো। এপর সে এর মোহর নির্ধারণ করতো এবং পরে তাকে (স্ত্রীলোককে) মোহর দিয়ে বিবাহ করতো।

আর দ্বিতীয় প্রকারের বিবাহ ছিল, যখন কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে বলত, যখন তুমি তোমার হায়য হতে পবিত্র হবে, তখন তুমি অমুক ব্যক্তির নিকট গমন করে তার সাথে সহবাস করবে। এ সময় তার স্বামী তার নিকট হতে দূরে সরে থাকত, যতক্ষণ না সে ঐ ব্যক্তির সাথে সহবাসের ফলে সন্তান-সম্ভবা হতো, ততক্ষণ সে তার সাথে সহবাস করতো না। আর যখন সে গর্ভবতী হতো, তখন স্বামী তার সাথে ইচ্ছা হলে সহবাস করতো। আর এরূপ করা হতো সন্তানের বিশেষ বৈশিষ্ট নিরূপনের জন্য। এ বিবাহকে নিকাহে ইস্তিবযা বলা হতো।

আর তৃতীয় প্রকারের বিবাহ ছিল, অনধিক দশজন পুরূষ একজন স্ত্রীলোককে বিবাহ করতো আর তারা সকলেই পর্যায়করমে তার সাথে সহবাস করতো। এরপর সে গর্ভবতী হয়ে সন্তান প্রসবের পর কিছুদিন অতিবাহিত হলে, সে সকলকে তার নিকট আসার জন্য পত্র প্রেরণ করতো, যা প্রাপ্তির পর তারা সকলেই সেখানে আসতে বাধ্য হতো। এরপর তারা সকলে সমবেত হলে, সে নারী বলতো, তোমরা তোমাদের কর্ম সম্পর্কে অবশ্যই অবগত আছ, যার ফলে আমি এ সন্তান প্রসব করেছি। তখন সে তাদের মধ্য হতে তার পছন্দমত একজনের নাম ধরে সম্বোধন করে বলতো, হে অমুক! এ তোমার সন্তান। তখন সে তার সাথে ঐ সন্তানকে সম্পর্কিত করতো।

আর চতুর্থ প্রকারের বিবাহ ছিল, বহু লোক একত্রিত হয়ে পর্যায়করমে একটি মহিলার নিকট গমন করতো। আর যে কেউ তার নিকট সহবাসের উদ্দেশ্যে গমন করতো, সে কাউকে বাধা প্রদান করতো না। আর এ ধরণের মহিলারা ছিল বেশ্যা। এরা তাদের স্ব-স্ব গৃহের দরজার উপর নিশান লাগিয়ে রাখত, যা তাদের জন্য নিদর্শন স্বরূপ ছিল। যে কেউ তাদের নিকট গমন করে তাদের সাথে সহবাসে করতে পারত। এরপর সে গর্ভবতী হওয়ার পর, সন্তান প্রসবের পরে তাদের সকলকে তাদের নিকট একত্রিত করতো এবং তাদের নিকট হতে সাযুজ্যতা দাবি করতো। এরপর সে তার সন্তানকে ঐ ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত করতো, যার সাথে সন্তানের সামঞ্জস্যতা পরিদৃষ্ট হতো। আর তাকে তার সন্তান হিসাবে ডাকা হতো এবং সে ব্যক্তি এতে নিষেধ করতো না। এরপর আল্লাহ্ তাআলা যখন মুহাম্মাদ (ﷺ)কে রাসূল হিসাবে প্রেরণ করেন, তখন তিনি জাহিলীয়াতের যুগে প্রচলিত ঐসব বিবাহ প্রথাকে বাতিল ঘোষণা করেন। আর বর্তমানে ইসলামের অনুসারীদের জন্য যে বিবাহ পদ্ধতি চালু আছে, তিনি তা বলবৎ করেন।

১৭৭. বিছানা যার, সন্তান তার।

باب الْوَلَدِ لِلْفِرَاشِ

2267

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، اخْتَصَمَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ وَعَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ابْنِ أَمَةِ زَمْعَةَ فَقَالَ سَعْدٌ أَوْصَانِي أَخِي عُتْبَةُ إِذَا قَدِمْتُ مَكَّةَ أَنْ أَنْظُرَ إِلَى ابْنِ أَمَةِ زَمْعَةَ فَأَقْبِضَهُ فَإِنَّهُ ابْنُهُ . وَقَالَ عَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ أَخِي ابْنُ أَمَةِ أَبِي وُلِدَ عَلَى فِرَاشِ أَبِي . فَرَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَبَهًا بَيِّنًا بِعُتْبَةَ فَقَالَ " الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ وَاحْتَجِبِي عَنْهُ يَا سَوْدَةُ " . زَادَ مُسَدَّدٌ فِي حَدِيثِهِ وَقَالَ " هُوَ أَخُوكَ يَا عَبْدُ " . .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২২৬৭. সাঈদ ইবনে মনসুর ও মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সা‘দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস ও আব্দ ইবনে যাম্আ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকটে উপস্থিত হয়ে যামআর দাসীর পুত্র আব্দুর রহমান সম্পর্কে ঝগড়া শুরু করেন। সা‘দ বলেন, আমার ভ্রাতা উতবা আমাকে এ মর্মে ওসীয়ত করেছেন যে, যখন আমি মক্কায় আসি তখন আমি যেন অবশ্যই যাম্আর দাসী পুত্রের দিকে খেয়াল রাখি। তখন তিনি তাকে ধরে ফেলেন, কেননা সে ছিল তাঁর ভাই উতবার পুত্র।

অপরপক্ষে আব ইবনে যাম্আ বলেন, সে (আব্দুর রহগমান) আমার ভাই। কেননা সে আমার পিতার (ঔরসজাত) দাসী-পুত্র, যে আমার পিতার বিছানায় জন্ম নিয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উতবার সাথে তার স্পষ্ট মিল আছে দেখে বলেনঃ সন্তান হলো যার বিছানায় জন্ম নিয়েছে তার এবং যিনাকারীর জন্য প্রস্তর। আর তিনি বলেন, হে সাওদা! তুমি তার থেকে পর্দা করো। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) তাঁর হাদীসে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, নবীজী(ﷺ) বলেছেনঃ হে আব্দা! সে তোমার ভাই।
2268

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فُلاَنًا ابْنِي عَاهَرْتُ بِأُمِّهِ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ دِعْوَةَ فِي الإِسْلاَمِ ذَهَبَ أَمْرُ الْجَاهِلِيَّةِ الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ " .

Narrator: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

২২৬৮. যুহায়ব ইবনে হারব ...... আমর ইবনে শুআয়ব তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন যে, একদা একব্যক্তি দণ্ডায়মান হয়ে বলে, হে আল্লাহর রাসুল! অমুক ব্যক্তি আমার সন্তান। কেননা, জাহিলীয়াতের যুগে আমি তার মায়ের সাথে যিনা করেছিলাম। এতদশ্রবণে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ ইসলাম-যুগে এরূপ কোন আহবান করা উচিত নয়। জাহিলীয়াত যুগের কাজকর্ম শেষ হয়ে গেছে। এখন সন্তান যার বিছানায় জন্ম নিয়েছে, তার। আর যিনাকারীর জন্য প্রস্তর (অর্থাৎ বঞ্চনা, সে পিতৃত্ব হতেও বঞ্চিত আর উত্তরাধিকার হতেও বঞ্চিত)।

2269

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ أَبُو يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ سَعْدٍ، مَوْلَى الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ - رضى الله عنه - عَنْ رَبَاحٍ، قَالَ زَوَّجَنِي أَهْلِي أَمَةً لَهُمْ رُومِيَّةً فَوَقَعْتُ عَلَيْهَا فَوَلَدَتْ غُلاَمًا أَسْوَدَ مِثْلِي فَسَمَّيْتُهُ عَبْدَ اللَّهِ ثُمَّ وَقَعْتُ عَلَيْهَا فَوَلَدَتْ غُلاَمًا أَسْوَدَ مِثْلِي فَسَمَّيْتُهُ عُبَيْدَ اللَّهِ ثُمَّ طَبَنَ لَهَا غُلاَمٌ لأَهْلِي رُومِيٌّ يُقَالُ لَهُ يُوحَنَّهْ فَرَاطَنَهَا بِلِسَانِهِ فَوَلَدَتْ غُلاَمًا كَأَنَّهُ وَزَغَةٌ مِنَ الْوَزَغَاتِ فَقُلْتُ لَهَا مَا هَذَا فَقَالَتْ هَذَا لِيُوحَنَّهْ . فَرَفَعْنَا إِلَى عُثْمَانَ أَحْسِبُهُ قَالَ مَهْدِيٌّ قَالَ فَسَأَلَهُمَا فَاعْتَرَفَا فَقَالَ لَهُمَا أَتَرْضَيَانِ أَنْ أَقْضِيَ بَيْنَكُمَا بِقَضَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى أَنَّ الْوَلَدَ لِلْفِرَاشِ . وَأَحْسِبُهُ قَالَ فَجَلَدَهَا وَجَلَدَهُ وَكَانَا مَمْلُوكَيْنِ .

Narrator: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

২২৬৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... রাবাহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে আমার পরিবার পরিজনেরা তাদের একটি রোম দেশীয় দাসীর সাথে বিবাহ দেয়। এরপর আমি তার সাথে সহবাস করলে সে আমার ন্যায় একটি কালোকায় পুত্র সন্তান প্রসব করে। আমি তার নাম রাখি আব্দুল্লাহ্! এরপর আমি তার সাথে পুনরায় সহবাস করলে সে আমার মতো আরো একটি কালোকায় পুত্র সন্তান প্রসব করে। আমি তার নাম রাখি উবাইদুল্লাহ্! এরপর তাকে আমার গোত্রের ইউহান্না নামক জনৈক গোলাম ফুঁসলিয়ে তার সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে, যার ভাষা ছিল দুর্বোধ্য। এরপর তার সাথে অবৈধ মিলনের ফলে সে যে সন্তান প্রসব করে, সে ছিল ঐ গোলামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমি তাকে (দাসীকে) জিজ্ঞাসা করি, ব্যাপার কি? সে স্বীকার করে যে, এটা ইউহান্নার ঔরসজাত সন্তান। এ ব্যাপারটি আমি উসমানের নিকট পেশ করি। রাবী মাহদী বলেন, তিনি (উসমান) তাদের উভয়কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তারা এর (ব্যভিচারের) সত্যতা স্বীকার করে। তিনি (উসমান) তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, তোমরা কি এতে রাযী আছ যে, আমি তোমাদের উভয়ের ব্যাপারে ঐরূপ ফায়সালা করব, যেরূপ রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) ফায়সালা করতেন? আর এ ধরণের ব্যাপারে রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) ফায়সালা করতেন যে, সন্তান ঐ ব্যক্তির, যে বিছানার মালিক, (অর্থাৎ স্বামীর জন্য)। রাবী বলেন, আমার ধারণা, এরপর তিনি সেই দাসী ও দাসকে, যারা আযাদকৃত ছিল দোররা মারার ব্যাস্থা করেন।

১৭৮. সন্তানের অধিক হক্দার কে?

باب مَنْ أَحَقُّ بِالْوَلَدِ

2270

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ السُّلَمِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو، - يَعْنِي الأَوْزَاعِيَّ - حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ امْرَأَةً، قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنِي هَذَا كَانَ بَطْنِي لَهُ وِعَاءً وَثَدْيِي لَهُ سِقَاءً وَحِجْرِي لَهُ حِوَاءً وَإِنَّ أَبَاهُ طَلَّقَنِي وَأَرَادَ أَنْ يَنْتَزِعَهُ مِنِّي فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَنْتِ أَحَقُّ بِهِ مَا لَمْ تَنْكِحِي " . .

Narrator: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

২২৭০. মাহমুদ ইবনে খালিদ আস সালমী ..... আমর ইবনে শুআয়ব তাঁর পিতা হতে, তিনি তার দাদা আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, একদা জনৈক স্ত্রীলোক বলে, হে আল্লাহর রাসুল! এ সন্তানটি আমার গর্ভজাত আর সে আমার স্তনের দুগ্ধ পান করছে এবং আমার কোল-ই তার আশ্রয়স্থল। আর তার পিতা আমাকে তালাক দিয়েছে এবং সে একে আমার নিকট হতে ছিনিয়ে নিতে চাচ্ছে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে বলেন, তুমি যতদিন না পুনরায় বিবাহ করবে, ততদিন তুমি তার অধিক হকদার।

2271

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، وَأَبُو عَاصِمٍ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي زِيَادٌ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أُسَامَةَ، أَنَّ أَبَا مَيْمُونَةَ، سَلْمَى - مَوْلًى مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ رَجُلَ صِدْقٍ - قَالَ بَيْنَمَا أَنَا جَالِسٌ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ جَاءَتْهُ امْرَأَةٌ فَارِسِيَّةٌ مَعَهَا ابْنٌ لَهَا فَادَّعَيَاهُ وَقَدْ طَلَّقَهَا زَوْجُهَا فَقَالَتْ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ - وَرَطَنَتْ لَهُ بِالْفَارِسِيَّةِ - زَوْجِي يُرِيدُ أَنْ يَذْهَبَ بِابْنِي فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ اسْتَهِمَا عَلَيْهِ وَرَطَنَ لَهَا بِذَلِكَ فَجَاءَ زَوْجُهَا فَقَالَ مَنْ يُحَاقُّنِي فِي وَلَدِي فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ اللَّهُمَّ إِنِّي لاَ أَقُولُ هَذَا إِلاَّ أَنِّي سَمِعْتُ امْرَأَةً جَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا قَاعِدٌ عِنْدَهُ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ زَوْجِي يُرِيدُ أَنْ يَذْهَبَ بِابْنِي وَقَدْ سَقَانِي مِنْ بِئْرِ أَبِي عِنَبَةَ وَقَدْ نَفَعَنِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اسْتَهِمَا عَلَيْهِ " . فَقَالَ زَوْجُهَا مَنْ يُحَاقُّنِي فِي وَلَدِي فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " هَذَا أَبُوكَ وَهَذِهِ أُمُّكَ فَخُذْ بِيَدِ أَيِّهِمَا شِئْتَ " . فَأَخَذَ بِيَدِ أُمِّهِ فَانْطَلَقَتْ بِهِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২২৭১. আল্ হাসান ইবনে আলী ..... হিলাল ইবনে উসামা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু মায়মুনা সালমা যিনি মদীনার কোন এক সত্যবাদী ব্যক্তির আযাদকৃত গোলাম ছিলেন। তিনি বলেন, একদা আমি যখন আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন সেখানে পারস্য দেশীয় জনৈক স্ত্রীলোক, তার সাথে একটি পুত্র নিয়ে আগমন করে; যাকে (পুত্র সন্তানকে) সে এবং তার স্বামী, যে তাকে তালাক দিয়েছিল, সন্তান হিসাবে দাবি করতে থাকে। এরপর সে (মহিলা) ফরাসী ভাষায় বলে, হে আবু হুরায়রা! আমার স্বামী আমার পুত্রকে নিয়ে যেতে চায়। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, তোমরা উভয়ে এর (সন্তানের) ব্যাপারে লটারী করো। এরপর তিনি (আবু হুরায়রা) যখন তার নিকট জবাবের প্রত্যাশ্যায় ছিলেন, তখন তার স্বামী সেখানে আগমন করে এবং বলে, আমার পুত্রের ব্যাপারে কে আমার সাথে ঝগড়া করতে চায়?

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, ইয়া আল্লাহ! আমি এ সম্পর্কে যা শুনেছি, তা ব্যতীত অধিক কিছু বলব না। একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপবিষ্ট থাকাকালে জনৈক মহিলাকে তাঁর নিকট এসে বলতে শুনিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার স্বামী আমার সন্তানকে নিয়ে যেতে চায়। আর অবস্থা এই যে, সে (সন্তান) আমাকে আবু উকবার কূপ হতে এনে পানি পান করায় এবং সে আমার অন্যান্য খিদমতও করে। নবী করীম (ﷺ) বলেন, এদের উভয়ের মধ্যে সন্তানের ব্যাপারে লটারীর ব্যাবস্থা করো। তখন তার স্বামী বলে, আমার থেকে আমার সন্তানকে কে ছিনিয়ে নিতে চায়? তখন নবী করীম (ﷺ) সে সন্তানকে সম্বোধন করে বলেন, এ তোমার পিতা এবং এ তোমার মাতা। তুমি এদের মধ্যে যার হস্ত খুশি ধারণ করো। তখন সে (সন্তান) তা মাতার হস্ত ধারণ করলে তাকে নিয়ে সে (মাতা) চলে যায়।
2272

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ عُجَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ خَرَجَ زَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ إِلَى مَكَّةَ فَقَدِمَ بِابْنَةِ حَمْزَةَ فَقَالَ جَعْفَرٌ أَنَا آخُذُهَا أَنَا أَحَقُّ بِهَا ابْنَةُ عَمِّي وَعِنْدِي خَالَتُهَا وَإِنَّمَا الْخَالَةُ أُمٌّ . فَقَالَ عَلِيٌّ أَنَا أَحَقُّ بِهَا ابْنَةُ عَمِّي وَعِنْدِي ابْنَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ أَحَقُّ بِهَا . فَقَالَ زَيْدٌ أَنَا أَحَقُّ بِهَا أَنَا خَرَجْتُ إِلَيْهَا وَسَافَرْتُ وَقَدِمْتُ بِهَا . فَخَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ حَدِيثًا قَالَ " وَأَمَّا الْجَارِيَةُ فَأَقْضِي بِهَا لِجَعْفَرٍ تَكُونُ مَعَ خَالَتِهَا وَإِنَّمَا الْخَالَةُ أُمٌّ " . .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২২৭২. আল্ আব্বাস ইবনে আব্দুল আযীম ...... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়দ ইবনে হারিস মক্কা অভিমুখে রওয়ানা হন। এরপর তিনি মক্কা হতে হামযার কন্যাকে নিয়ে (মাওকিফের দিকে) রওয়ানা হলে জা‘ফর ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) বলেন, আমি এর (লালন-পালনের) অধিক হকদার, কেননা সে আমার চাচার মেয়ে এবং আমার স্ত্রী হল তার খালা। আর খালা হল মায়ের সমতুল্য। তখন আলী (রাযিঃ) বলেন, আমি এর অধিক হকদার। কেননা সে আমার চাচার মেয়ে। আর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কন্যা (ফাতিমা) আমার স্ত্রী। আর সেও (ফাতিমা) তার (লালন-পালনের) অধিক হকদার। যায়দ (রাযিঃ) বলেন, আমি এর অধিক হকদার। কেননা, আমি তার-ই জন্য বের হয়েছি এবং সফর শেষে মাওকিফে উপনীত হয়েছি। এমন সময় নবী করীম (ﷺ) বের হলে তাঁর নিকট এ সমস্যা পেশ করা হয়। তখন তিনি সে মেয়ে সম্পর্কে এরূপ ফায়সালা দেন যে, সে জা‘ফরের সাথে অবস্থান করবে। আর এমতাবস্থায় সে তার খালার সাথে অবস্থান করতে পারে। বস্তুত খালা তো মায়েরই মতো।

2273

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي فَرْوَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، بِهَذَا الْخَبَرِ وَلَيْسَ بِتَمَامِهِ قَالَ وَقَضَى بِهَا لِجَعْفَرٍ وَقَالَ " إِنَّ خَالَتَهَا عِنْدَهُ " .

Narrator: আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা (রহঃ)

২২৭৩. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ...... আব্দুর রহমান ইবনে আবু লায়লা (রাহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এতে ঘটনার সম্পূর্ণ বর্ণনা নেই। রাবী বলেন, তখন তিনি তাঁর সম্পর্কে এরূপ সিদ্ধান্ত প্রদান করেন যে, সে জা‘ফরের সাথে অবস্থান করবে। কেননা তার খালা তার (জা‘ফরের) নিকটে আছে।

2274

حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ مُوسَى، أَنَّ إِسْمَاعِيلَ بْنَ جَعْفَرٍ، حَدَّثَهُمْ عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هَانِئٍ، وَهُبَيْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ لَمَّا خَرَجْنَا مِنْ مَكَّةَ تَبِعَتْنَا بِنْتُ حَمْزَةَ تُنَادِي يَا عَمِّ يَا عَمِّ . فَتَنَاوَلَهَا عَلِيٌّ فَأَخَذَ بِيَدِهَا وَقَالَ دُونَكِ بِنْتَ عَمِّكِ . فَحَمَلَتْهَا فَقَصَّ الْخَبَرَ قَالَ وَقَالَ جَعْفَرٌ ابْنَةُ عَمِّي وَخَالَتُهَا تَحْتِي . فَقَضَى بِهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِخَالَتِهَا وَقَالَ " الْخَالَةُ بِمَنْزِلَةِ الأُمِّ " .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২২৭৪. আব্বাস ইবনে মুসা ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমরা মক্কা হতে বের হই, তখন হামযার কন্যা আমাদের অনুসরণ করে এবং বলতে থাকে, হে চাচা! হে চাচা! তখন আলী (রাযিঃ) তাকে, তার হস্ত ধারণপূর্বক গ্রহণ করেন এবং ফাতিমা (রাযিঃ)-কে বলেন, তুমি একে গ্রহণ করো! কেননা, সে তো তোমার চাচার কন্যা। তখন তিনি (ফাতিমা) তার হস্ত ধারণ করেন। এরূপে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, অপর পক্ষে জা‘ফর (রাযিঃ) বলেন, সে তো আমার চাচার মেয়ে এবং তার খালা আমার স্ত্রী। তখন নবী করীম (ﷺ) তাকে (হামযার কন্যাকে) তার খালার (নিকট থাকার) ফায়সালা প্রদান করেন। তিনি আরো বলেন, খালা মায়ের সমতুল্য।

১৭৯. তালাকপ্রাপ্তা রমণীর ইদ্দত।

باب فِي عِدَّةِ الْمُطَلَّقَةِ

2275

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْبَهْرَانِيُّ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ مُهَاجِرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ بْنِ السَّكَنِ الأَنْصَارِيَّةِ، أَنَّهَا طُلِّقَتْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَكُنْ لِلْمُطَلَّقَةِ عِدَّةٌ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ حِينَ طُلِّقَتْ أَسْمَاءُ بِالْعِدَّةِ لِلطَّلاَقِ فَكَانَتْ أَوَّلَ مَنْ أُنْزِلَتْ فِيهَا الْعِدَّةُ لِلْمُطَلَّقَاتِ .

Narrator: আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রাঃ)

২২৭৫. সুলাইমান ইবনে আব্দুল হামীদ বাহরানী .......... আসমা বিনতে ইয়াযীদ ইবনে আল - সাকান আল আনসারীয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর যুগে তালাকপ্রাপ্তা হন, আর সে সময় তালাকপ্রাপ্তা রমণীর জন্য ইদ্দত পালনের কোন প্রয়োজন ছিল না। এরপর আল্লাহ্ তাআলা আসমার তালাক প্রাপ্তির পর ইদ্দত সম্পর্কিয় আয়াত নাযিল করেন। আর তিনিই ছিলেন সর্বপ্রথম মহিলা, যার সম্পর্কে তালাকপ্রাপ্তা মহিলাদের জন্য ইদ্দত পাল প্রয়োজন এ আয়াত নাযিল হয়।

১৮০. তালাকপ্রাপ্তা মহিলাদের ইদ্দত পালন রহিত হওয়া।

باب فِي نَسْخِ مَا اسْتُثْنِيَ بِهِ مِنْ عِدَّةِ الْمُطَلَّقَاتِ

2276

حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ( وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلاَثَةَ قُرُوءٍ ) . وَقَالَ ( وَاللاَّئِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِنْ نِسَائِكُمْ إِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلاَثَةُ أَشْهُرٍ ) فَنُسِخَ مِنْ ذَلِكَ وَقَالَ ( وَإِنْ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ ) ( فَمَا لَكُمْ عَلَيْهِنَّ مِنْ عِدَّةٍ تَعْتَدُّونَهَا ) .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২৭৬. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ আল মারূযী .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তালাকপ্রাপ্তা মহিলাগণ তিন হায়য পর্যন্ত নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রিত রাখবে (অন্য কারো সাথে বিবাহ হতে)। তিনি আরো বলেন, তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা তাদের হায়য হতে নিরাশ হয়েছে। (অর্থাৎ যাদের বন্ধ হয়ে গেছে।) তাদের ইদ্দতের সময়সীমা হল তিন মাস। আর পরবর্তী আয়াতের দ্বারা পূরববর্তী আয়াতের নির্দেশ রহিত (বা সংশোধিত) হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যদি তোমরা তাদেরকে (স্ত্রীদেরকে) তাদের সাথে সহবাসের পূর্বে তালাক প্রদান করো, তবে তজ্জন্য তাদের উপর তালাকের কারণে কোন ইদ্দত পালনের প্রয়োজন নেই।

১৮১. তালাক প্রদানের পর স্ত্রীকে পুনঃ গ্রহণ।

باب فِي الْمُرَاجَعَةِ

2277

حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الزُّبَيْرِ الْعَسْكَرِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ صَالِحِ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَلَّقَ حَفْصَةَ ثُمَّ رَاجَعَهَا .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২৭৭. সাহল ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যুবাইর আসকারী ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) ও উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম (ﷺ) হা্ফসা (রাযিঃ)-কে তালাক প্রদান করেন। এরপর তিনি তাঁকে পুনরায় স্বীয় স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করেন।

১৮২. তালাকে বায়েনপ্রাপ্তা মহিলার খোরপোষ।

باب فِي نَفَقَةِ الْمَبْتُوتَةِ

2278

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، مَوْلَى الأَسْوَدِ بْنِ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، أَنَّ أَبَا عَمْرِو بْنَ حَفْصٍ، طَلَّقَهَا الْبَتَّةَ وَهُوَ غَائِبٌ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا وَكِيلَهُ بِشَعِيرٍ فَتَسَخَّطَتْهُ فَقَالَ وَاللَّهِ مَا لَكِ عَلَيْنَا مِنْ شَىْءٍ . فَجَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ لَهَا " لَيْسَ لَكِ عَلَيْهِ نَفَقَةٌ " . وَأَمَرَهَا أَنْ تَعْتَدَّ فِي بَيْتِ أُمِّ شَرِيكٍ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ تِلْكَ امْرَأَةٌ يَغْشَاهَا أَصْحَابِي اعْتَدِّي فِي بَيْتِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَإِنَّهُ رَجُلٌ أَعْمَى تَضَعِينَ ثِيَابَكِ وَإِذَا حَلَلْتِ فَآذِنِينِي " . قَالَتْ فَلَمَّا حَلَلْتُ ذَكَرْتُ لَهُ أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ وَأَبَا جَهْمٍ خَطَبَانِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَّا أَبُو جَهْمٍ فَلاَ يَضَعُ عَصَاهُ عَنْ عَاتِقِهِ وَأَمَّا مُعَاوِيَةُ فَصُعْلُوكٌ لاَ مَالَ لَهُ انْكِحِي أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ " . قَالَتْ فَكَرِهْتُهُ ثُمَّ قَالَ " انْكِحِي أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ . فَنَكَحْتُهُ فَجَعَلَ اللَّهُ تَعَالَى فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا وَاغْتَبَطْتُ بِهِ .

Narrator: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

২২৭৮. আল্ কা‘নবী ..... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আবু আমর ইবনে হাফস তাকে তিন তালাক বায়েন প্রদান করেন এমতাবস্থায় যে, তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। এরপর তিনি তার উকিল মারফত তার (ফাতিমার) নিকট কিছু আটা প্রেরণ করেন, যাতে তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আল্লার শপথ! এর অধিক তোমার কিছুই আমার নিকট পাওনা নেই। তিনি রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে এ সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, তার নিকট তোমার কিছুই পাওনা নেই। এরপর তিনি তাকে উম্মে শুরায়কের ঘরে অবস্থানপূর্বক তার ইদ্দত পূর্ণ করার নির্দেশ দেন।

এরপর তিনি বলেন, এ স্ত্রীলোকটি তার অধিক খরচের দ্বারা আমার সাহাবীকে ঢেকে ফেলেছে। তুমি উম্মে মাকতুমের ঘরে অবস্থান কর, আর সে হল একজন অন্ধ লোক, কাজেই সে তোমাকে দেখবে না। এরপর তুমি যখন তোমার ইদ্দত পূর্ণ করবে, তখন আমাকে এ সম্পর্কে খবর দিবে। তিনি বলেন, এরপর আমি আমার ইদ্দত পূর্ণ করে তাঁকে এ সম্পর্কে অবহিত করি এবং বলি যে, মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান ও আবু জাহাম উভয়ে আমার নিকট আমাকে বিবাহের উদ্দেশ্যে পয়গাম পাঠিয়েছে।

রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, আবু জাহাম তো তার কাঁধ হতে লাঠি সরায় না (অর্থাৎ অধিক মারধরকারী)। আর মুআবিয়া সে তো ফকীর এবং তার কোন মাল নেই। তুমি বরং উসামা ইবনে যায়দকে বিবাহ করো। তিনি বলেন, তা আমার নিকট অপছন্দনীয় মনে হয়। তিনি পুনরায় বলেন, তুমি উসামা ইবনে যায়দকে বিবাহ করো। এরপর তিনি তাকে বিবাহ করেন। এরপর আল্লাহ্ তাআলা তার জন্য এতে এত মঙ্গল প্রদান করেন, যা অন্যের জন্য ঈর্ষার বস্তুত পরিনত হয়।
2279

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ الْعَطَّارُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ قَيْسٍ، حَدَّثَتْهُ أَنَّ أَبَا حَفْصِ بْنَ الْمُغِيرَةِ طَلَّقَهَا ثَلاَثًا وَسَاقَ الْحَدِيثَ فِيهِ وَأَنَّ خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ وَنَفَرًا مِنْ بَنِي مَخْزُومٍ أَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنَّ أَبَا حَفْصِ بْنَ الْمُغِيرَةِ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا وَإِنَّهُ تَرَكَ لَهَا نَفَقَةً يَسِيرَةً فَقَالَ " لاَ نَفَقَةَ لَهَا " . وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَحَدِيثُ مَالِكٍ أَتَمُّ .

Narrator: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

২২৭৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) বলেন, ফাতিমা বিনতে কায়স তাকে বলেছেন যে, আবু হাফস ইবনে মুগীরা (তার স্বামী) তাকে তিন তালাক (বায়েন) প্রদান করেন। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তখন খালিদ ইবনে ওয়ালীদ এবং বনু মাখযূম গোত্রের কিছু লোক নবী করীম (ﷺ) এর নিকট আসে এবং বলে, হে আ্ল্লাহর নবী! নিশ্চয়ই আবু হাফস ইবনে মুগীরা তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে এবং তার জন্য সামান্য খোরপোষ দিয়েছে। এতদশ্রবণে তিনি বলেন, তার জন্য কোন খোরপোষ নেই। এরপর হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে (ইয়াহয়া হতে বর্ণিত) রাবী মালিকের হাদীস অধিক সম্পূর্ণ।

2280

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو، عَنْ يَحْيَى، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَتْنِي فَاطِمَةُ بِنْتُ قَيْسٍ، أَنَّ أَبَا عَمْرِو بْنَ حَفْصٍ الْمَخْزُومِيَّ، طَلَّقَهَا ثَلاَثًا وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَخَبَرَ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ قَالَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَتْ لَهَا نَفَقَةٌ وَلاَ مَسْكَنٌ " . قَالَ فِيهِ وَأَرْسَلَ إِلَيْهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ لاَ تَسْبِقِينِي بِنَفْسِكِ .

Narrator: খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ)

২২৮০. মাহমুদ ইবনে খালিদ ..... ইয়াহয়া (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আবু সালামা হতে, তিনি ফাতিমা বিনতে কায়স হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবু আমর ইবনে হাফস আল্ মাখযূমী (রাযিঃ) তাকে তিন তাক দেন। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ আছে যে, রাবী বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেন, তার (ফাতিমার) নিকট এই খবর প্রেরণ করেন যে, সে যেন আমার সাথে পরামর্শের পূর্বে কারও সাথে বিবাহ বন্ধনে আব্দ্ধ না হয়।

2281

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، أَنَّ إِسْمَاعِيلَ بْنَ جَعْفَرٍ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، قَالَتْ كُنْتُ عِنْدَ رَجُلٍ مِنْ بَنِي مَخْزُومٍ فَطَلَّقَنِي الْبَتَّةَ ثُمَّ سَاقَ نَحْوَ حَدِيثِ مَالِكٍ قَالَ فِيهِ " وَلاَ تَفُوتِينِي بِنَفْسِكِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ الشَّعْبِيُّ وَالْبَهِيُّ وَعَطَاءٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَاصِمٍ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي الْجَهْمِ كُلُّهُمْ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ أَنَّ زَوْجَهَا طَلَّقَهَا ثَلاَثًا .

Narrator: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

২২৮১. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ..... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বনী মাখযূম গোত্রের জনৈক ব্যক্তির স্ত্রী ছিলাম। তবে সেখানে এরূপ উল্লেখ আছে যে, সে যেন কারও নিকট বিবাহের পয়গাম প্রেরণ না করে।

2282

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، أَنَّ زَوْجَهَا، طَلَّقَهَا ثَلاَثًا فَلَمْ يَجْعَلْ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم نَفَقَةً وَلاَ سُكْنَى .

Narrator: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

২২৮২. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর ...... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তার স্বামী তাকে তিন তালাক প্রদান করেন। তখন নবী করীম (ﷺ) তার থাকার ও খোরপোষের জন্য কিছুই নির্ধারিত করেননি।

2283

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا، كَانَتْ عِنْدَ أَبِي حَفْصِ بْنِ الْمُغِيرَةِ وَأَنَّ أَبَا حَفْصِ بْنَ الْمُغِيرَةِ طَلَّقَهَا آخِرَ ثَلاَثِ تَطْلِيقَاتٍ فَزَعَمَتْ أَنَّهَا جَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَفْتَتْهُ فِي خُرُوجِهَا مِنْ بَيْتِهَا فَأَمَرَهَا أَنْ تَنْتَقِلَ إِلَى ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ الأَعْمَى فَأَبَى مَرْوَانُ أَنْ يُصَدِّقَ حَدِيثَ فَاطِمَةَ فِي خُرُوجِ الْمُطَلَّقَةِ مِنْ بَيْتِهَا . قَالَ عُرْوَةُ وَأَنْكَرَتْ عَائِشَةُ - رضى الله عنها - عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ صَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ وَابْنُ جُرَيْجٍ وَشُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ كُلُّهُمْ عَنِ الزُّهْرِيِّ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَشُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ وَاسْمُ أَبِي حَمْزَةَ دِينَارٌ وَهُوَ مَوْلَى زِيَادٍ .

Narrator: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

২২৮৩. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ ..... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি আবু হাফস ইবনে আল-মুগীরার স্ত্রী ছিলেন। এরপর আবু হাফস ইবনে আল-মুগীরা তাকে তিন তালাক (বায়েন) দেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে তার ঘর হতে বহির্গত হওয়া সম্পর্কে ফাতওয়া জিজ্ঞাসা করেন। তিনি তাকে ইবনে উম্মে মাকতুমের ঘরে (যিনি অন্ধ ছিলেন) গিয়ে থাকার নির্দেশ দেন। রাবী মারওয়ান ইবনে হাকাম, তালকপ্রাপ্তা মহিলার জন্য তার ঘর হতে বহিষ্কার সম্পর্কিত ফাতিমা বর্ণিত হাদীসটিকে সত্য বলে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন। রাবী উরওয়া বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) ও ফাতিমা বিনতে কায়সের হাদীসকে অস্বীকার করেছেন।

2284

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ أَرْسَلَ مَرْوَانُ إِلَى فَاطِمَةَ فَسَأَلَهَا فَأَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا كَانَتْ عِنْدَ أَبِي حَفْصٍ وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَمَّرَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ - يَعْنِي عَلَى بَعْضِ الْيَمَنِ - فَخَرَجَ مَعَهُ زَوْجُهَا فَبَعَثَ إِلَيْهَا بِتَطْلِيقَةٍ كَانَتْ بَقِيَتْ لَهَا وَأَمَرَ عَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ وَالْحَارِثَ بْنَ هِشَامٍ أَنْ يُنْفِقَا عَلَيْهَا فَقَالاَ وَاللَّهِ مَا لَهَا نَفَقَةٌ إِلاَّ أَنْ تَكُونَ حَامِلاً . فَأَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لاَ نَفَقَةَ لَكِ إِلاَّ أَنْ تَكُونِي حَامِلاً " . وَاسْتَأْذَنَتْهُ فِي الاِنْتِقَالِ فَأَذِنَ لَهَا فَقَالَتْ أَيْنَ أَنْتَقِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " عِنْدَ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ " . وَكَانَ أَعْمَى تَضَعُ ثِيَابَهَا عِنْدَهُ وَلاَ يُبْصِرُهَا فَلَمْ تَزَلْ هُنَاكَ حَتَّى مَضَتْ عِدَّتُهَا فَأَنْكَحَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أُسَامَةَ فَرَجَعَ قَبِيصَةُ إِلَى مَرْوَانَ فَأَخْبَرَهُ بِذَلِكَ فَقَالَ مَرْوَانُ لَمْ نَسْمَعْ هَذَا الْحَدِيثَ إِلاَّ مِنَ امْرَأَةٍ فَسَنَأْخُذُ بِالْعِصْمَةِ الَّتِي وَجَدْنَا النَّاسَ عَلَيْهَا فَقَالَتْ فَاطِمَةُ حِينَ بَلَغَهَا ذَلِكَ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ كِتَابُ اللَّهِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى ( فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ ) حَتَّى ( لاَ تَدْرِي لَعَلَّ اللَّهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَلِكَ أَمْرًا ) قَالَتْ فَأَىُّ أَمْرٍ يَحْدُثُ بَعْدَ الثَّلاَثِ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ يُونُسُ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَأَمَّا الزُّبَيْدِيُّ فَرَوَى الْحَدِيثَيْنِ جَمِيعًا حَدِيثَ عُبَيْدِ اللَّهِ بِمَعْنَى مَعْمَرٍ وَحَدِيثَ أَبِي سَلَمَةَ بِمَعْنَى عُقَيْلٍ وَرَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنِ الزُّهْرِيِّ أَنَّ قَبِيصَةَ بْنَ ذُؤَيْبٍ حَدَّثَهُ بِمَعْنًى دَلَّ عَلَى خَبَرِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ حِينَ قَالَ فَرَجَعَ قَبِيصَةُ إِلَى مَرْوَانَ فَأَخْبَرَهُ بِذَلِكَ .

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

২২৮৪. মুখাল্লাদ ইবনে খালিদ ..... ইমাম যুহরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আব্দুল্লাহ্ হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মারওয়ান ফাতিমার নিকট কিছু জিজ্ঞাসা করার জন্য প্রেরিত হন। তিনি তাকে অবহিত করেন যে, তিনি আবু হাফসের স্ত্রী ছিলেন। নবী করীম (ﷺ) আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ)-কে ইয়ামানের কোন এক অঞ্চলের আমীর হিসাবে প্রেরণ করেন। আর এ সময় তার (ফাতিমার) স্বামী (আবু হাফস)ও তাঁর সাথে সেখানে গমন করে। এরপর সে তাকে (তৃতীয়) তালাক প্রদান করে, যা (তিন তালাকের মধ্যে) অবশিষ্ট ছিল। এরপর সে আয়্যাশ ইবনে আবু রাবীআ এবং হারিস ইবনে হিশামকে তার খোরপোষ প্রদানের জন্য অনুরোধ করে। তারা বলে, আল্লাহর শপথ! সে গর্ভবতী না হলে, তার জন্য কোন খোরপোষ নেই। সে তাঁর নিকট হতে তার স্বামীর ঘর হতে বের হওয়ার জন্য অনুমতি চাইলে তিনি তাকে অনুমতি প্রদান করেন।

এরপর সে জিজ্ঞাসা করে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কোথায় যাব? রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, তুমি ইবনে উম্মে মাকতুমের ঘরে গমন করো, কেননা সে অন্ধ। কাজেই তুমি যদি তার নিকট তোমার কাপড় খুলেও রাখ, তবুও সে খেদতে পাবে না (অর্থাৎ সে তোমার ব্যাপারে কিছুই জানতে পারবে না)। এরপর সে তার নিকট অবস্থানকালে তার ইদ্দত অতিক্রান্ত হয়। অবশেষে নবী করীম (ﷺ) তাকে উসামার সাথে বিবাহ দেন। কাবীসা মারওয়ানের নিকট প্রত্যাবর্তন করে এ সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন।

মারওয়ান বলেন, আমি এ হাদীসটি মাত্র একজন মহিলা ব্যতীত আর কারো হতে শ্রবণ করিনি। কাজেই তার পবিত্রতা সম্পর্কে যারা জানে তাদের নিকট হতে খোঁজ-খবর সংগ্রহ করবো। ফাতিমা তার (মারওয়ানের) এ বক্তব্য শ্রবণের পর বলেন, আমার ও তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব আছে। ‘‘তোমরা তাদেরকে, তাদের ইদ্দতের (অতিক্রান্ত হওয়ার) জন্য তালাক প্রদান করো। এমনকি তোমরা অবহিত নও যে, এরপর আল্লাহ্ কোনো কিছুর সৃষ্টি করবেন। ফাতিমা বলেন, তিনি হায়য অতিক্রান্ত হওয়ার পর আর কী সৃষ্টি হতে পারে? (অর্থাৎ সন্তান-সম্ভবা হওয়ার কোন কারণই থাকে না।)।

১৮৩. যারা ফাতিমার বর্ণিত হাদীসকে অস্বীকার করে।

باب مَنْ أَنْكَرَ ذَلِكَ عَلَى فَاطِمَةَ

2285

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنِي أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ رُزَيْقٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ كُنْتُ فِي الْمَسْجِدِ الْجَامِعِ مَعَ الأَسْوَدِ فَقَالَ أَتَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ قَيْسٍ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه - فَقَالَ مَا كُنَّا لِنَدَعَ كِتَابَ رَبِّنَا وَسُنَّةَ نَبِيِّنَا صلى الله عليه وسلم لِقَوْلِ امْرَأَةٍ لاَ نَدْرِي أَحَفِظَتْ ذَلِكَ أَمْ لاَ .

Narrator: আবু ইসহাক সাবিঈ (রহঃ)

২২৮৫. নসর ইবনে আলী ..... আবু ইসহাক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা (কুফার) জামে মসজিদে আসওয়াদের সাথে (উপবিষ্ট) ছিলাম। তিনি বলেন, এরপর ফাতিমা বিনতেে কায়স উমর ইবনুল খাত্তব (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ সম্পর্কে অবহিত করলে তিনি বলেন, আমরা আমাদের রবের কিতাব (কুরআন) ও আমাদের রাসূলের সুন্নতকে একজন মহিলার বক্তব্য অনুসারে পরিত্যাগ করতে পারি না। যে সম্পর্কে আমি জ্ঞাত নই যে, সে সঠিকভাবে উহা (হাদীস) হিফাযত করেছে কিনা?

2286

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ لَقَدْ عَابَتْ ذَلِكَ عَائِشَةُ - رضى الله عنها - أَشَدَّ الْعَيْبِ يَعْنِي حَدِيثَ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ وَقَالَتْ إِنَّ فَاطِمَةَ كَانَتْ فِي مَكَانٍ وَحْشٍ فَخِيفَ عَلَى نَاحِيَتِهَا فَلِذَلِكَ رَخَّصَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

২২৮৬. সুলাইমান ইবনে দাউদ ..... হিশাম ইবনে উরওয়া তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) ফাতিমা বিনতে কায়স বর্ণিত হাদীসকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, ফাতিমা একটি ভীতিপ্রদ স্থানে বসবাস করতেন, আর তিনি এর আশেপাশের ভীতি সংকুল পরিবেশের জন্য শংকিত ছিলেন। এমতাবস্থায় রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) তাকে এরুপ অনুমতি প্রদান করেন।

2287

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ قِيلَ لِعَائِشَةَ أَلَمْ تَرَىْ إِلَى قَوْلِ فَاطِمَةَ قَالَتْ أَمَا إِنَّهُ لاَ خَيْرَ لَهَا فِي ذِكْرِ ذَلِكَ .

Narrator: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

২২৮৭. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর ..... উরওয়া ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাযিঃ)-কে বলা হয় যে, ফাতিমা বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বলেন, তার জন্য এ হাদীস বর্ণনা করা কল্যাণকর নয় (কেননা, মানুষ এতে ভুলে পতিত হতে পারে)।

2288

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، فِي خُرُوجِ فَاطِمَةَ قَالَ إِنَّمَا كَانَ ذَلِكَ مِنْ سُوءِ الْخُلُقِ .

Narrator: সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

২২৮৮. হারূন ইবনে যায়দ ...... সুলাইমান ইবনে ইয়াসার হতে ফাতিমার বহিস্কৃত হওয়ার হাদীস সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, তার এ বহিস্কার ছিল তার বদঅভ্যাসের পরিণতিস্বরূপ।

2289

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، وَسُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَهُمَا يَذْكُرَانِ، أَنَّ يَحْيَى بْنَ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ، طَلَّقَ بِنْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَكَمِ الْبَتَّةَ فَانْتَقَلَهَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ فَأَرْسَلَتْ عَائِشَةُ - رضى الله عنها - إِلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ وَهُوَ أَمِيرُ الْمَدِينَةِ فَقَالَتْ لَهُ اتَّقِ اللَّهَ وَارْدُدِ الْمَرْأَةَ إِلَى بَيْتِهَا . فَقَالَ مَرْوَانُ فِي حَدِيثِ سُلَيْمَانَ إِنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ غَلَبَنِي . وَقَالَ مَرْوَانُ فِي حَدِيثِ الْقَاسِمِ أَوَمَا بَلَغَكِ شَأْنُ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ فَقَالَتْ عَائِشَةُ لاَ يَضُرُّكَ أَنْ لاَ تَذْكُرَ حَدِيثَ فَاطِمَةَ . فَقَالَ مَرْوَانُ إِنْ كَانَ بِكِ الشَّرُّ فَحَسْبُكِ مَا كَانَ بَيْنَ هَذَيْنِ مِنَ الشَّرِّ .

Narrator: কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রহঃ)

২২৮৯. আল্ কা‘নবী .... কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ ও সুলাইমান ইবনে ইয়াসার হতে বর্ণিত। তিনি তাদের নিকট হতে শ্রবণ করেছেন যে, ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ ইবনুল আস আব্দুর রহমান ইবনে আল-হাকামের কন্যাকে তালাক (বায়েন) প্রদান করেন। (তার পিতা) আব্দুর রহমান তাকে স্বামীর বাড়ী হতে নিয়ে আসেন। আয়িশা (রাযিঃ) তাকে মারওয়ানের নিকট প্রেরণ করেন, যিনি (মুআবিয়ার পক্ষ হতে) মদীনার গভর্নর ছিলেন। এরপর তিনি তাকে বলেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং এ মহিলাকে তার ঘরে অবস্থান করতে দাও। মারওয়ান বলেন, আব্দুর রহমান এ ব্যাপারে আমার উপর প্রভাব বিস্তার করেছে। এরপর মারওয়ান রাবী কাসিম বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে বলেন, ফাতিমা বিনতে কায়স বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি তাকে বলেন, তুমি যদি ফাতিমা বর্ণিত হাদীস বর্ণনা না করো, তবে তাতে দোষের কিছু নেই। মারওয়ান বলেন, যদি আপনি (ফাতিমা ও তার স্বামীর মধ্যকার ব্যাপারটি) কোন খারাপ কাজের পরিণতি হিসাবে মনে করেন, তবে তা আপনার জন্য যথেষ্ট হবে যে এ ব্যাপারটিকেও (উমরা ও তার স্বামীর মধ্যকার ব্যাপার) আপনি তদ্রূপ মনে করবেন।

2290

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، حَدَّثَنَا مَيْمُونُ بْنُ مِهْرَانَ، قَالَ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَدُفِعْتُ إِلَى سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ فَقُلْتُ فَاطِمَةُ بِنْتُ قَيْسٍ طُلِّقَتْ فَخَرَجَتْ مِنْ بَيْتِهَا فَقَالَ سَعِيدٌ تِلْكَ امْرَأَةٌ فَتَنَتِ النَّاسَ إِنَّهَا كَانَتْ لَسِنَةً فَوُضِعَتْ عَلَى يَدَىِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ الأَعْمَى .

Narrator: মাইমুন ইবনে মিহরান (রহঃ)

২২৯০. আহমদ ইবনে ইউনুস ..... মায়মুন ইবনে মিহরান (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদীনায় আগমন করি এবং সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাবের নিকট উপস্থিত হয়ে বলি, ফাতিমা বিনতে কায়সকে তালাক দেয়া হয়েছে এবং তাকে তার ঘর হতে বহিস্কার করা হয়েছে। সাঈদ বলেন, সে স্ত্রীলোক তো মানুষকে বিপদে ফেলেছে আর সে মুখোরা রমণী। এরপর তাকে অন্ধ ইবনে উম্মে মাকতুমের হস্তে সোর্পদ করা হয়।

১৮৪. বায়েন তালাকপ্রাপ্তা রমণীর ইদ্দতকালীন সময়ে দিনের বেলায় বাইরে যাওয়া।

باب فِي الْمَبْتُوتَةِ تَخْرُجُ بِالنَّهَارِ

2291

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ طُلِّقَتْ خَالَتِي ثَلاَثًا فَخَرَجَتْ تَجُدُّ نَخْلاً لَهَا فَلَقِيَهَا رَجُلٌ فَنَهَاهَا فَأَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ لَهَا " اخْرُجِي فَجُدِّي نَخْلَكِ لَعَلَّكِ أَنْ تَصَدَّقِي مِنْهُ أَوْ تَفْعَلِي خَيْرًا " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২২৯১. আহমদ ইবনে হাম্বল ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খালাকে তিন তালাক (বায়েন) প্রদান করা হয়। এরপর তিনি খেজুর কর্তনের জন্য গমন করলে জনৈক ব্যক্তির সাথে তার সাক্ষাত হয়, যিনি তাকে (ইদ্দতের সময়ে) ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করেন। তিনি নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হন এবং এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি তাকে বলেন, তুমি বের হও এবং খেজুর কর্তন করো। আর তা হতে কিছু সাদ্‌কা করবে অথবা ভাল কাজ করবে।

১৮৫. মীরাস ফরয হওয়ার পর স্ত্রীর জন্য মৃত স্বামীর খোরপোষ বাতিল হওয়া।

باب نَسْخِ مَتَاعِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا بِمَا فُرِضَ لَهَا مِنَ الْمِيرَاثِ

2292

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، ( وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا وَصِيَّةً لأَزْوَاجِهِمْ مَتَاعًا إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ ) فَنُسِخَ ذَلِكَ بِآيَةِ الْمِيرَاثِ بِمَا فُرِضَ لَهُنَّ مِنَ الرُّبُعِ وَالثُّمُنِ وَنُسِخَ أَجَلُ الْحَوْلِ بِأَنْ جُعِلَ أَجَلُهَا أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২৯২. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল মারওয়াযী ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ ‘‘তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং তাদের স্ত্রীদের ছেড়ে যায় এরূপ অসীয়াত করে যে, তাদের এক বছর ঘর হতে বহিস্কার না করে খোরপোষ দিতে হবে।’’ এ আয়াতটি মীরাসের আয়াত নাযিলের কারণে মানসূখ বা রহিত হয়ে যায়। সেখানে তাদের এক চতুর্থাুংশ এবং এক অষ্টমাংশ ফরয করা হয়। আর এক বছরের সময়সীমা বাতিল হয় এ জন্য যে, তাদের ইদ্দতের সময়সীমা চার মাস দশদিন নির্ধারিত হয়।

১৮৬. মৃত স্বামীর জন্য স্ত্রীর শোক প্রকাশ।

باب إِحْدَادِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا

2293

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ بِهَذِهِ الأَحَادِيثِ الثَّلاَثَةِ، قَالَتْ زَيْنَبُ دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ حَبِيبَةَ حِينَ تُوُفِّيَ أَبُوهَا أَبُو سُفْيَانَ فَدَعَتْ بِطِيبٍ فِيهِ صُفْرَةٌ خَلُوقٌ أَوْ غَيْرُهُ فَدَهَنَتْ مِنْهُ جَارِيَةً ثُمَّ مَسَّتْ بِعَارِضَيْهَا ثُمَّ قَالَتْ وَاللَّهِ مَا لِي بِالطِّيبِ مِنْ حَاجَةٍ غَيْرَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا " . قَالَتْ زَيْنَبُ وَدَخَلْتُ عَلَى زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ حِينَ تُوُفِّيَ أَخُوهَا فَدَعَتْ بِطِيبٍ فَمَسَّتْ مِنْهُ ثُمَّ قَالَتْ وَاللَّهِ مَا لِي بِالطِّيبِ مِنْ حَاجَةٍ غَيْرَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا " . قَالَتْ زَيْنَبُ وَسَمِعْتُ أُمِّي أُمَّ سَلَمَةَ تَقُولُ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنَتِي تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا وَقَدِ اشْتَكَتْ عَيْنَهَا أَفَنَكْحُلُهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ " . مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا كُلُّ ذَلِكَ يَقُولُ " لاَ " . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا هِيَ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرٌ وَقَدْ كَانَتْ إِحْدَاكُنَّ فِي الْجَاهِلِيَّةِ تَرْمِي بِالْبَعْرَةِ عَلَى رَأْسِ الْحَوْلِ " . قَالَ حُمَيْدٌ فَقُلْتُ لِزَيْنَبَ وَمَا تَرْمِي بِالْبَعْرَةِ عَلَى رَأْسِ الْحَوْلِ فَقَالَتْ زَيْنَبُ كَانَتِ الْمَرْأَةُ إِذَا تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا دَخَلَتْ حِفْشًا وَلَبِسَتْ شَرَّ ثِيَابِهَا وَلَمْ تَمَسَّ طِيبًا وَلاَ شَيْئًا حَتَّى تَمُرَّ بِهَا سَنَةٌ ثُمَّ تُؤْتَى بِدَابَّةٍ حِمَارٍ أَوْ شَاةٍ أَوْ طَائِرٍ فَتَفْتَضُّ بِهِ فَقَلَّمَا تَفْتَضُّ بِشَىْءٍ إِلاَّ مَاتَ ثُمَّ تَخْرُجُ فَتُعْطَى بَعْرَةً فَتَرْمِي بِهَا ثُمَّ تُرَاجِعُ بَعْدُ مَا شَاءَتْ مِنْ طِيبٍ أَوْ غَيْرِهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْحِفْشُ بَيْتٌ صَغِيرٌ .

Narrator: যায়নাব বিনতে আবু সালামা (রাঃ)

২২৯৩. আল্ কা‘নবী .... যায়নাব বিনতে আবু সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তাকে (হামিদ ইবনে রাফি‘) এ তিনটি হাদীস সম্পর্কে খবর দিয়েছেন। যায়নাব (রাযিঃ) বলেন, একদা আমি উম্মে হাবীবার নিকট গমন করি। আর এ সময় তার পিতা আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এ সময় তিনি হলুদ রং বিশিষ্ট সুগন্ধি তেল অথবা অন্য কিছুর জন্য আহবান করেন। তদ্দরা একজন দাসী তাঁর কেশে তেল মেখে দেয়। এরপর তিনি চেহারায় তেল মর্দন করেন। অবশেষে তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহারের আমার কোন প্রয়োজন নেই; তবে আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে ইরশাদ করতে শুনেছিঃ যে সমস্ত মহিলা আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, তাদের জন্য মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে তিন রাতের অধিক শোক প্রকাশ করা হালাল নয়। তবে স্বামীদের জন্য চারমাস দশদিন শোক প্রকাশ করবে।

যায়নাব বিনতে আবু সালামা (রাযিঃ) আরো বলেন, একদা আমি যায়নাব বিনতে জাহশের নিকট উপস্থিত হই এবং এ সময় তার ভাই মৃত্যুবরণ করে। তিনি সুগন্ধি দ্রব্য চান এবং তা ব্যবহার করেন। এরপর বলেন, আমার সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহারের কোন প্রয়োজন নেই, তবে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে মিম্বরের উপর ইরশাদ করতে শুনেছি, যে সমস্ত মহিলা আল্লাহ্ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, তাদের জন্য কোন মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে তিন রাতের অধিক শোক প্রকাশ করা বৈধ নয়। অবশ্য তারা স্বামীদের জন্য চার মাস দশ দিন শোক প্রকাশ করবে।

যায়নাব বিনতে আবু সালামা (রাযিঃ) আরো বর্ণনা করেন, আমি আমার মাতা উম্মে সালামাকে বলতে শুনেছি, একদা জনৈকা রমণী রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট এসে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার কন্যার স্বামী মৃত্যুবরণ করেছে এবং তার চক্ষু অভিযোগ করছে। কাজেই আমি কি তাকে পুনরায় বিবাহ দিব? রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) দু‘বার বা তিনবার বলেন, না। আর তিনি এ ‘না’ শব্দটি নিষেধাজ্ঞার জন্য ব্যবহার করেন। এরপর রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, বরং তার জন্য ইদ্দতের সময়সীমা হল চার মাস দশ দিন। আর জাহিলীয়াতের যুগে তোমাদের স্ত্রীকে (যাদের স্বামী মারা যেত) বু‘রাতে এক বছরের জন্য নিক্ষেপ করা হতো।

রাবী হামিদ বলেন, তখন আমি যায়নাবকে জিজ্ঞসা করি, বু‘রাতে এক বছরের জন্য নিক্ষেপের অর্থ কী? যায়নাব (রাযিঃ) বলেন, যখন কোন স্ত্রীলোকের স্বামী মারা যেত, তখন সে একটি কুঁড়ে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করতো, খারাপ কাপড় পরিধান করতো এবং সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহার করতো না। আর এরূপে এক বছর কাটিয়ে দিত। এরপর তার নিকট কোন প্রাণী যেমন গাধা, বকরী অথবা পক্ষী আনা হতো এবং উহা তার শরীর স্পর্শ করতো, তবে খুব কমই এমন হতো যে, জন্তুটি জীবিত থাকত, বরং অধিকাংশই মরে যেত। তারপর তাকে বের করে এনে জন্তুুর একটি বিষ্ঠা দেয়া হতো, সে উহা নিক্ষেপ করতো। তারপর ইদ্দতান্তে সে সে স্থান হতে বের হয়ে আসতো। এরপর সে হালাল হতো এবং তার খুশিমতো সুগন্ধি দ্রব্য ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারত।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন,حفش (হাফস) হল ছোট ঘর বা কুঁড়ে ঘর।

১৮৭. যার স্বামী মৃত্যুবরণ করেছে তার ঘর হতে বের হওয়া।

باب فِي الْمُتَوَفَّى عَنْهَا تَنْتَقِلُ

2294

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، عَنْ عَمَّتِهِ، زَيْنَبَ بِنْتِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ أَنَّ الْفُرَيْعَةَ بِنْتَ مَالِكِ بْنِ سِنَانٍ، - وَهِيَ أُخْتُ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ - أَخْبَرَتْهَا أَنَّهَا، جَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَسْأَلُهُ أَنْ تَرْجِعَ إِلَى أَهْلِهَا فِي بَنِي خُدْرَةَ فَإِنَّ زَوْجَهَا خَرَجَ فِي طَلَبِ أَعْبُدٍ لَهُ أَبَقُوا حَتَّى إِذَا كَانُوا بِطَرَفِ الْقَدُّومِ لَحِقَهُمْ فَقَتَلُوهُ فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَرْجِعَ إِلَى أَهْلِي فَإِنِّي لَمْ يَتْرُكْنِي فِي مَسْكَنٍ يَمْلِكُهُ وَلاَ نَفَقَةٍ . قَالَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ " . قَالَتْ فَخَرَجْتُ حَتَّى إِذَا كُنْتُ فِي الْحُجْرَةِ أَوْ فِي الْمَسْجِدِ دَعَانِي أَوْ أَمَرَ بِي فَدُعِيتُ لَهُ فَقَالَ " كَيْفَ قُلْتِ " . فَرَدَدْتُ عَلَيْهِ الْقِصَّةَ الَّتِي ذَكَرْتُ مِنْ شَأْنِ زَوْجِي قَالَتْ فَقَالَ " امْكُثِي فِي بَيْتِكِ حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ " . قَالَتْ فَاعْتَدَدْتُ فِيهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا . قَالَتْ فَلَمَّا كَانَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ أَرْسَلَ إِلَىَّ فَسَأَلَنِي عَنْ ذَلِكَ فَأَخْبَرْتُهُ فَاتَّبَعَهُ وَقَضَى بِهِ .

Narrator: কাব ইবনে উজরাহ (রাঃ)

২২৯৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা আল কা‘নবী ...... সা‘দ ইবনে ইসহাক ইবনে কা‘ব উজরা তার ফুফু যায়নাব বিনতে কা‘ব ইবনে উজরা হতে বর্ণনা করেছেন যে, ফারী’আহ বিনতে মালিক ইবনে সিনান, যিনি আবু সাঈদ আল- খুদরী (রাযিঃ) এর বোন ছিলেন, তাকে বলেছেন যে, একদা তিনি রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে তার গোত্র বনী খাদরাতে প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করেন। কেননা, তার স্বামী পলায়নপর গোলামদের অনুসন্ধানে বের হলে, তিনি তাদেরকে কুদুম নামক স্থানে দেখতে পান। এরপর তারা (গোলামেরা) তাকে হত্যা করে। এমতাবস্থায় আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে নিজ পরিবারে নিকট ফিরে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। কেননা, সে তার ঘরে আমার জন্য খোরপোষের কোন ব্যবস্থা রেখে যায়নি।

রাবী বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ হ্যাঁ। রাবী বলেন, এরপর আমি তাঁর নিকট হতে বের হয়ে, হুজরা কিংবা (রাবীর সন্দেহ) মসজিদের মধ্যেই ছিলাম। এমতাবস্থায় তিনি আমাকে ডাকেন অথবা (রাবীর সন্দেহ) ডাকার জন্য নির্দেশ দেন। এরপর আমি তাঁর নিকট ফিরে গেলে, তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কী বলেছিলে? আমি পুনরায় তাঁর নিকট আমার স্বামীর ব্যাপারটি বর্ণনা করি। রাবী বলেন, এতদশ্রবণে তিনি বলেনঃ তোমার ইদ্দত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তুমি তোমার (স্বামীর) ঘরে অবস্থান করবে। রাবী বলেন, এরপর আমি সেখানে চারমাস দশদিন অতিবাহিত করি। রাবী বলেন, উসমান (রাযিঃ) এর খিলাফত কালে, তিনি এ হাদীসটি আমার নিকট হতে শ্রবণের উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তিকে পাঠান। সে আমার নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে আমি তাকে সে সম্পর্কে অবহিত করি। আর তিনি উসমান (রাযিঃ) এর অনুসরণ করেন এবং ঐ অনুসারে ফায়সালাও দিতেন।

১৮৮. স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীগৃহ পরিত্যাগ পূর্বক অন্যত্র গমন।

باب مَنْ رَأَى التَّحَوُّلَ

2295

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مَسْعُودٍ، حَدَّثَنَا شِبْلٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، قَالَ قَالَ عَطَاءٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ نَسَخَتْ هَذِهِ الآيَةُ عِدَّتَهَا عِنْدَ أَهْلِهِ فَتَعْتَدُّ حَيْثُ شَاءَتْ وَهُوَ قَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى ( غَيْرَ إِخْرَاجٍ ) قَالَ عَطَاءٌ إِنْ شَاءَتِ اعْتَدَّتْ عِنْدَ أَهْلِهِ وَسَكَنَتْ فِي وَصِيَّتِهَا وَإِنْ شَاءَتْ خَرَجَتْ لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ( فَإِنْ خَرَجْنَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ ) قَالَ عَطَاءٌ ثُمَّ جَاءَ الْمِيرَاثُ فَنَسَخَ السُّكْنَى تَعْتَدُّ حَيْثُ شَاءَتْ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২২৯৫. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ আয়াতটি মানসূখ হয়ে গিয়েছে, যেখানে উল্লেখ আছে যে, সে তার ইদ্দত তার পরিবারের নিকট পুরা করবে। এরপ নাযিল হয়ঃ ‘‘সে ইদ্দত যেখানে খুশি পুরা করবে’’ এবং তা হল আল্লাহর বাণী, ‘‘বহিস্কার না হয়ে ।’’ (বাকারাঃ ২৪০) রাবী আতা বলেন, যদি সে ইচ্ছা করে, তবে সে তার স্বামীর পরিবারের সাথে অবস্থান করতে পারে, আর যদি সে ইচ্ছা করে, তবে সেখান হতে বের হতে পারে। যেমন আল্লাহর বাণীঃ আর যদি তারা বের হয়ে যায়, তবে এত তোমাদের কোন গুনাহ্ নেই, তাদের কৃত কাজের ব্যাপারে। রাবী আতা বলেন, এরপর মীরাসের আয়াত নাযিল হওয়ার ফলে তাদের অবস্থানকালে নির্দেশ বাতিল হয় এবং যেখানে খুশি ইদ্দত পালনের জন্য থাকতে পারে বলে নির্দেশ দেয়া হয়।

১৮৯. ইদ্দত পালনকারী মহিলা ইদ্দতের সময় কি কি কাজ হতে বিরত থাকবে।

باب فِيمَا تَجْتَنِبُهُ الْمُعْتَدَّةُ فِي عِدَّتِهَا

2296

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَرَّاحِ الْقُهُسْتَانِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ بَكْرٍ - السَّهْمِيِّ عَنْ هِشَامٍ، - وَهَذَا لَفْظُ ابْنِ الْجَرَّاحِ - عَنْ حَفْصَةَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تُحِدُّ الْمَرْأَةُ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ فَإِنَّهَا تُحِدُّ عَلَيْهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا لاَ تَلْبَسُ ثَوْبًا مَصْبُوغًا إِلاَّ ثَوْبَ عَصْبٍ وَلاَ تَكْتَحِلُ وَلاَ تَمَسُّ طِيبًا إِلاَّ أَدْنَى طُهْرَتِهَا إِذَا طَهُرَتْ مِنْ مَحِيضِهَا بِنُبْذَةٍ مِنْ قُسْطٍ أَوْ أَظْفَارٍ " . قَالَ يَعْقُوبُ مَكَانَ عَصْبٍ " إِلاَّ مَغْسُولاً " . وَزَادَ يَعْقُوبُ " وَلاَ تَخْتَضِبُ " .

Narrator: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

২২৯৬. ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম দাওরিকী ..... উম্মে আতীয়্যা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করছেন, কোন স্ত্রীলোক স্বামী ব্যতীত অন্য কারো মৃত্যুতে তিন দিনের অধিক শোক প্রকাশ করবে না। অবশ্য স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশদিন শোক পালন করবে। আর এ সময় কোন রংিন কাপড় পরিধান করবে না, সাদা কাপড় ছাড়া। আর সুরমা ব্যবহার করবে না এবং কোনরূপ সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহার করবে না। অবশ্য হায়য হতে পবিত্র হওয়ার পর সামান্য সুগন্ধি বস্তু ব্যবহার করতে পারে। রাবী ইয়াকুব আসব’ শব্দের পরিবর্তে ‘মাগসূলান’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। রাবী ইয়াকুব আরো বর্ণনা করেছেন যে, সে কোনরূপ খিযাব লাগাতে পারবে না।

2297

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَمَالِكُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمِسْمَعِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ وَلَيْسَ فِي تَمَامِ حَدِيثِهِمَا . قَالَ الْمِسْمَعِيُّ قَالَ يَزِيدُ وَلاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ قَالَ فِيهِ " وَلاَ تَخْتَضِبُ " . وَزَادَ فِيهِ هَارُونُ " وَلاَ تَلْبَسُ ثَوْبًا مَصْبُوغًا إِلاَّ ثَوْبَ عَصْبٍ " .

Narrator: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

২২৯৭. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ ..... উম্মে আতিয়্যা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

2298

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، حَدَّثَنِي بُدَيْلٌ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا لاَ تَلْبَسُ الْمُعَصْفَرَ مِنَ الثِّيَابِ وَلاَ الْمُمَشَّقَةَ وَلاَ الْحُلِيَّ وَلاَ تَخْتَضِبُ وَلاَ تَكْتَحِلُ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২২৯৮. যুহাইর ইবনে হারব .... নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী উম্মে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে স্ত্রীলোকের স্বামী মৃত্যুবরণ করে সে যেন ইদ্দতকালীন সময়ে রংিন এবং কারুকার্যমণ্ডিত কাপড় ও অলংকার পরিধান না করে। আর সে যেন খিযাব ও সুরমা ব্যবহার না করে।

2299

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مَخْرَمَةُ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ الْمُغِيرَةَ بْنَ الضَّحَّاكِ، يَقُولُ أَخْبَرَتْنِي أُمُّ حَكِيمٍ بِنْتُ أُسَيْدٍ، عَنْ أُمِّهَا، أَنَّ زَوْجَهَا، تُوُفِّيَ وَكَانَتْ تَشْتَكِي عَيْنَيْهَا فَتَكْتَحِلُ بِالْجَلاَءِ - قَالَ أَحْمَدُ الصَّوَابُ بِكُحْلِ الْجَلاَءِ - فَأَرْسَلَتْ مَوْلاَةً لَهَا إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ فَسَأَلَتْهَا عَنْ كُحْلِ الْجَلاَءِ فَقَالَتْ لاَ تَكْتَحِلِي بِهِ إِلاَّ مِنْ أَمْرٍ لاَ بُدَّ مِنْهُ يَشْتَدُّ عَلَيْكِ فَتَكْتَحِلِينَ بِاللَّيْلِ وَتَمْسَحِينَهُ بِالنَّهَارِ . ثُمَّ قَالَتْ عِنْدَ ذَلِكَ أُمُّ سَلَمَةَ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ تُوُفِّيَ أَبُو سَلَمَةَ وَقَدْ جَعَلْتُ عَلَى عَيْنِي صَبِرًا فَقَالَ " مَا هَذَا يَا أُمَّ سَلَمَةَ " . فَقُلْتُ إِنَّمَا هُوَ صَبِرٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَيْسَ فِيهِ طِيبٌ . قَالَ " إِنَّهُ يَشُبُّ الْوَجْهَ فَلاَ تَجْعَلِيهِ إِلاَّ بِاللَّيْلِ وَتَنْزِعِينَهُ بِالنَّهَارِ وَلاَ تَمْتَشِطِي بِالطِّيبِ وَلاَ بِالْحِنَّاءِ فَإِنَّهُ خِضَابٌ " . قَالَتْ قُلْتُ بِأَىِّ شَىْءٍ أَمْتَشِطُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " بِالسِّدْرِ تُغَلِّفِينَ بِهِ رَأْسَكِ " .

Narrator: উম্মে হাকীম বিনতে উসায়দ (রহঃ)

২২৯৯. আহমদ ইবনে সাহিল ..... উম্মে হাকীম বিনতে উসায়দ তাঁর মাতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর স্বামী মৃত্যুবরণ করে, এ সময় তার চোখে অসুখ থাকায় আসমাদ’ নামীয় সুরমা ব্যবহার করেন। রাবী আহমাদ বলেন, উত্তম হল জালা নামীয় সুরমা। এরপর তিনি তাঁর জনৈক আযাদকৃত গোলামকে উম্মে সালামার নিকট জালা নামীয় সুরমা ব্যবহার সম্পর্কে জানার জন্য প্রেরণ করেন। তিনি বলেন, একান্ত প্রয়োজন এবং কঠিন অবস্থা ব্যতীত তুমি এই সুরমা ব্যবহার করবে না। আর এমতাবস্থায় তুমি তা রাতে ব্যবহার করবে এবং দিনের বেলায় মুছে ফেলবে। এ প্রসঙ্গে উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেন, যখন আবু সালামা (রাযিঃ) ইনতিকাল করেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার নিকট আগমন করেন। আর এই সময় আমি আমার চোখে সুবর নামক বৃক্ষের রস নিংড়িয়ে ব্যবহার করি।

তিনি জিজ্ঞাসা করেন, হে উম্মে সালামা! এটা কী? আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এটা সু্বর এবং এতে কোন সুবাস নেই। তিনি বলেন, তা চেহারাকে রঞ্জিত করে। কাজেই তুমি রাতে ব্যতীত তা ব্যবহার করো না এবং দিনে তা মুছে ফেলবে। আর তুমি সুগন্ধি দ্রব্য দ্বারা চিরুনী করবে না এবং মেহেদীও ব্যবহার করবে না, কেননা তা খিযাব স্বরূপ। রাবী বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কোন বস্তু দ্বারা চিরুনী করবো? তিনি বলেন, তুমি কুলের পাতা ব্যবহার করবে এবং একে গেলাফের ন্যায় তোমার মাথায় রাখবে। (অর্থাৎ শোক প্রকাশের নিদর্শন স্বরূপ রংিন জামা কাপড় ব্যবহার ও প্রসাধনী গ্রহণে বিরত থাকবে।)

১৯০. গর্ভবতী মহিলার ইদ্দত।

باب فِي عِدَّةِ الْحَامِلِ

2300

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ أَبَاهُ، كَتَبَ إِلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَرْقَمِ الزُّهْرِيِّ يَأْمُرُهُ أَنْ يَدْخُلَ، عَلَى سُبَيْعَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ الأَسْلَمِيَّةِ فَيَسْأَلَهَا عَنْ حَدِيثِهَا وَعَمَّا قَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ اسْتَفْتَتْهُ فَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ يُخْبِرُهُ أَنَّ سُبَيْعَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ سَعْدِ ابْنِ خَوْلَةَ - وَهُوَ مِنْ بَنِي عَامِرِ بْنِ لُؤَىٍّ وَهُوَ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا - فَتُوُفِّيَ عَنْهَا فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَهِيَ حَامِلٌ فَلَمْ تَنْشَبْ أَنْ وَضَعَتْ حَمْلَهَا بَعْدَ وَفَاتِهِ فَلَمَّا تَعَلَّتْ مِنْ نِفَاسِهَا تَجَمَّلَتْ لِلْخُطَّابِ فَدَخَلَ عَلَيْهَا أَبُو السَّنَابِلِ بْنُ بَعْكَكٍ - رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ - فَقَالَ لَهَا مَا لِي أَرَاكِ مُتَجَمِّلَةً لَعَلَّكِ تَرْتَجِينَ النِّكَاحَ إِنَّكِ وَاللَّهِ مَا أَنْتِ بِنَاكِحٍ حَتَّى تَمُرَّ عَلَيْكِ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرٌ . قَالَتْ سُبَيْعَةُ فَلَمَّا قَالَ لِي ذَلِكَ جَمَعْتُ عَلَىَّ ثِيَابِي حِينَ أَمْسَيْتُ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ فَأَفْتَانِي بِأَنِّي قَدْ حَلَلْتُ حِينَ وَضَعْتُ حَمْلِي وَأَمَرَنِي بِالتَّزْوِيجِ إِنْ بَدَا لِي . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَلاَ أَرَى بَأْسًا أَنْ تَتَزَوَّجَ حِينَ وَضَعَتْ وَإِنْ كَانَتْ فِي دَمِهَا غَيْرَ أَنَّهُ لاَ يَقْرَبُهَا زَوْجُهَا حَتَّى تَطْهُرَ .

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

২৩০০. সুলাইমান ইবনে দাউদ আল্ মোহরী .... ইবনে শিহাব যু্হরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উবাইদুল্লাহ্ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে উতবা তাঁকে বলেছেন যে, তাঁর পিতা উমর ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে আরকাম আয যুহরীর নিকট এ মর্মে পত্র লেখেন, যেন তিনি তাকে সুবাইয়া বিনতে আল হারিস আল্ আসলামীর নিকট গিয়ে তাঁর পক্ষ হতে বর্ণিত হাদীসটির ঘটনা শ্রবণ করতে নির্দেশ দেন। আর তাঁকে রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) তখন কী বলেছেন, যখন তিনি তাঁর নিকট একটি ফাতওয়া জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তা জানার জন্য পাঠান। উমর ইবনে আব্দুল্লাহ্ জবাবে আমাকে লেখেন যে, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উতবা তাঁকে বলেছেন, সুবাইয়া তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সা’দ ইবনে খাওলার স্ত্রী ছিলেন, যিনি বনী আমের লুয়ী গোত্রের লোক ছিলেন। আর তিনি বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী (সাহাবী) ছিলেন এবং তিনি বিদায় হজ্জের সময় মৃত্যুবরণ করেন, যখন তিনি (সুবাইয়া) গর্ভবতী ছিলেন। আর তাঁর মৃত্যুর পরপরই তিনি সন্তান প্রসব করেন। এরপর নিফসের রক্ত হতে পবিত্রতা হাসিলের পর তিনি বিবাহের পয়গাম প্রেরণের জন্য নিজেকে সুসজ্জিত করেন।

এ সময় তাঁর নিকট আবু সানাবিল ইবনে বা‘কা, যিনি বনী আব্দুদ্-দার গোত্রের লোক ছিলেন, এসে বলেন, আমি তোমাকে সুসজ্জিত অবস্থায় দেখেছি, মনে হয় তুমি পুনঃবিবাহের ইচ্ছা করছ? আল্লাহর শপথ! তুমি ততক্ষণ পুণঃবিবাহ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তুমি তোমার (মৃত স্বামীর) ইদ্দতকাল চার মাস দশদিন পূর্ণ না কর। সুবাইয়া বলেন, তার এরূপ উক্তি শ্রবণের পর, আমি রাতে কাপড়-চোপড় পরিধান করে রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট গমন করি এবং এ সম্পর্কে তাঁকে জ্ঞিাসা করি। তিনি এরূপ ফাতওয়া দেন যে, আমি তখনই হালাল হয়েছি, যখন আমি সন্তান প্রসব করেছি। এরপর তিনি আমাকে প্রয়োজনে বিবাহ করার নির্দেশ দেন। রাবী ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলেন, যদি সে এখন বিবাহ করে, তবে আমি এতে দোষের কিছু দেখি না; যখন সে তার সন্তান প্রসব করেছে। আর এখনও যদি তার নিফাসের রক্ত থাকে, এতেও বিবাহ বন্ধনে কোন বিপত্তি নেই। অবশ্য সে তা হতে পবিত্রতা হাসিলের পর তার স্বামীর সাথে সহবাস করতে পারবে। (অর্থাৎ গর্ভবতীর ইদ্দত সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত। প্রসবের পর তার ইদ্দত শেষ হয়ে যায়।)
2301

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، - قَالَ عُثْمَانُ حَدَّثَنَا وَقَالَ ابْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا - أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ مَنْ شَاءَ لاَعَنْتُهُ لأُنْزِلَتْ سُورَةُ النِّسَاءِ الْقُصْرَى بَعْدَ الأَرْبَعَةِ الأَشْهُرِ وَعَشْرًا .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৩০১. উসমান ইবনে আবি শাঈবা ও মুহাম্মাদ ইবনে আলা ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি লিআন (পরস্পর অভিসম্পাত) করতে চায়, আমি তার সাথে তা করতে প্রস্তুত। আল্লাহ শপথ! সূরা নিসা, যা তালাকের সূরা হিসাবেও পরিচিত, (স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর ইদ্দত সীমা) ″চার মাস দশ দিন″ এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর নাযিল হয়।

১৯১. উম্মে ওলাদের[১] ইদ্দত।

باب فِي عِدَّةِ أُمِّ الْوَلَدِ

2302

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ جَعْفَرٍ، حَدَّثَهُمْ ح، وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ مَطَرٍ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ لاَ تَلْبِسُوا عَلَيْنَا سُنَّتَهُ - قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى سُنَّةَ نَبِيِّنَا - صلى الله عليه وسلم عِدَّةُ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرٌ . يَعْنِي أُمَّ الْوَلَدِ .

Narrator: হযরত আমর ইবনুল আস রাযি.

২৩০২. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ..... আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা আমাদের উপর তাঁর সুন্নতকে মিশ্রিত করো না। রাবী বলেন,سُنَّةَ نَبِيِّنَا আমাদের নবীর সুন্নতকে। অর্থাৎ উম্মে ওলাদের ইদ্দত হল, যখন তার স্বামী (বা মনিব) মৃত্যুবরণ করে- চার মাস দশ দিন।

[১] উম্মে ওলাদঃ ঐ দাসীকে বলা হয়, যে তার মনিবের সাথে সহবাসের ফলে গর্ভবতী হয় বা অন্য কারো সাথে বিবাহ বন্ধনে আব্দ্ধ হওয়ার কারণে গর্ভবতী হয়। সে সন্তানের মাতা হিসাবে পরিচিতা হয় ।

১৯২. তালাক বায়েনপ্রাপ্তা রমণী ততক্ষণ তার স্বামীর নিকট ফিরে যেতে পারবে না; যতক্ষণ না অন্য কোন স্বামী তাকে স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করে।

باب الْمَبْتُوتَةِ لاَ يَرْجِعُ إِلَيْهَا زَوْجُهَا حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ

2303

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ - يَعْنِي ثَلاَثًا - فَتَزَوَّجَتْ زَوْجًا غَيْرَهُ فَدَخَلَ بِهَا ثُمَّ طَلَّقَهَا قَبْلَ أَنْ يُوَاقِعَهَا أَتَحِلُّ لِزَوْجِهَا الأَوَّلِ قَالَتْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَحِلُّ لِلأَوَّلِ حَتَّى تَذُوقَ عُسَيْلَةَ الآخَرِ وَيَذُوقَ عُسَيْلَتَهَا " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩০৩. মুসাদ্দাদ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ)কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, যে তার স্ত্রীকে তিন তালাক (বায়েন) প্রদান করে। এরপর সে (মহিলা) অপর একজনের আথে বিবাহ বন্ধনে আব্দ্ধ হয় এবং তার সাথে নির্জনবাসও করে। এরপর তার সাথে সহবাসের পূর্বে তাকে তালাক প্রদান করে। এ মহিলা কি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে? তিনি (আয়িশা) বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ ঐ মহিলা ততক্ষণ র্পন্ত প্রথম স্বামীর জন্য (পুনরায় গ্রহণ করা) হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে দ্বিতীয় সবামীর সহবাস সুখ ভোগ করে এবং সে ব্যক্তিও (দ্বিতীয় স্বামী) তার সাথে দৈহিক মিলনের সুখানুভব করে।

১৯৩. যিনার ভয়াবহতা।

باب فِي تَعْظِيمِ الزِّنَا

2304

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ الذَّنْبِ أَعْظَمُ قَالَ " أَنْ تَجْعَلَ لِلَّهِ نِدًّا وَهُوَ خَلَقَكَ " . قَالَ فَقُلْتُ ثُمَّ أَىٌّ قَالَ " أَنْ تَقْتُلَ وَلَدَكَ مَخَافَةَ أَنْ يَأْكُلَ مَعَكَ " . قَالَ قُلْتُ ثُمَّ أَىٌّ قَالَ " أَنْ تُزَانِيَ حَلِيلَةَ جَارِكَ " . قَالَ وَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى تَصْدِيقَ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ( وَالَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَلاَ يَزْنُونَ ) الآيَةَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৩০৪. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাস্উদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সবচাইতে বড় গুনাহ্ কোনটি? তিনি বলেন, যদি তুমি তোমার রবের সাথে শরীক করো, আর অবস্থা এই যে, তিনি তোমার স্রষ্টা। তিনি বলেন এরপর আমি জিজ্ঞাসা করি, এরপর কোনটি? তিনি বলেন, তুমি যদি তোমার সন্তানকে এই ভয়ে হত্যা করো যে, সে তোমার সাথে খাবে। তিনি বলেন, এরপর কোনটি? তিনি বলেন, যদি তুমি তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে যিনা করো। এরপর তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) এর বক্তব্যবের সত্যতা প্রতিপাদনে কুরআনের এ আয়াত নাযিল হয়েছেঃ (অর্থ) ‘‘যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহকে আহবান করে না, আর তারা হত্যার অধিকার ব্যতীত কোন জীবকে হত্যা করে না এবং যিনায় লিপ্ত হয় না’’ ......... আয়াতের শেষ পর্যন্ত।

2305

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ حَجَّاجٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ جَاءَتْ مُسَيْكَةُ لِبَعْضِ الأَنْصَارِ فَقَالَتْ إِنَّ سَيِّدِي يُكْرِهُنِي عَلَى الْبِغَاءِ فَنَزَلَ فِي ذَلِكَ ( وَلاَ تُكْرِهُوا فَتَيَاتِكُمْ عَلَى الْبِغَاءِ ) .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৩০৫. আহমাদ ইবনে ইবরাহীম .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন একজন আনসার সাহাবীর মুসায়কা নামক দাসী নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ পেশ করে যে, তার মনিব তাকে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার জন্য বাধ্য করেছে। তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (অর্থ) ‘‘তোমাদের দাসীদেরকে যিনায় লিপ্ত হওয়ার জন্য বাধ্য করোনা।’’

2306

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، عَنْ أَبِيهِ، ( وَمَنْ يُكْرِهْهُنَّ فَإِنَّ اللَّهَ مِنْ بَعْدِ إِكْرَاهِهِنَّ غَفُورٌ رَحِيمٌ ) قَالَ قَالَ سَعِيدُ بْنُ أَبِي الْحَسَنِ غَفُورٌ لَهُنَّ الْمُكْرَهَاتِ .

Narrator: সাঈদ ইবনে আবুল হাসান (রহঃ)

২৩০৬. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে মুআয মু‘তামির থেকে এবং তিনি তার পিতা হতে (কুরআনের এ আয়াত) বর্ণনা করেছেন যে, ‘আর তাদের মধ্যে যারা অপছন্দনীয় কাজ করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তার এ অপছন্দনীয় কাজের পরেও মার্জনাকারী, অনুগ্রহশীল।’’ রাবী বলেন, সাঈদ ইবনে আবুল হাসান বলেন, যারা বাধ্য হয়ে অপকর্ম করে, সেই সমস্ত নারীদের জন্য আল্লাহ্ মার্জনাকারী।