كتاب الحدود

৩৩. শরীআত বিধিত দন্ডের অধ্যায়

Chapter 33 · 135 hadith

১. মুরতাদের শাস্তির বিধান।

باب الْحُكْمِ فِيمَنِ ارْتَدَّ

4300

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، أَنَّ عَلِيًّا، عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَحْرَقَ نَاسًا ارْتَدُّوا عَنِ الإِسْلاَمِ فَبَلَغَ ذَلِكَ ابْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ لَمْ أَكُنْ لأَحْرِقَهُمْ بِالنَّارِ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تُعَذِّبُوا بِعَذَابِ اللَّهِ " . وَكُنْتُ قَاتِلَهُمْ بِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ " . فَبَلَغَ ذَلِكَ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَقَالَ وَيْحَ ابْنَ عَبَّاسٍ .

Narrator: ইকরিমা (রহঃ)

৪৩০০. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... ইকরিমা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আলী (রাযিঃ) ঐ সব লোকদের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন, যারা মুরতাদ হয়েছিল। এ সংবাদ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-এর নিকট পৌছলে, তিনি বলেনঃ যদি আমি তখন সেখানে উপস্থিত থাকতাম, তবে আমি তাদের আগুনে জ্বালাতে দিতাম না। কেননা, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোময়া আল্লাহ প্রদত্ত শাস্তির (বস্তু) দ্বারা কাউকে শাস্তি দেবে না।

অবশ্য আমি তাদেরকে আল্লাহর রাসূলের নির্দেশ মত হত্যা করতাম। কেননা, তিনি বলেছেনঃ যদি কেউ দ্বীন পরিত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে যায়, তবে তোমরা তাকে হত্যা করবে। আলী (রাযিঃ) ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-এর এ নির্দেশ শুনে বলেনঃ ওয়াহ! ওয়াহ! ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সত্য বলেহছেন। আর ইহাই নবী (ﷺ)-এর নির্দেশ।*

* আলী (রাযিঃ) সম্ভবতঃ বিশেষ কোন কারণে মুরতাদদের জ্বালিয়ে দেন। আর এও হতে পারে যে, এ সময় পর্যন্ত তিনি নবী (ﷺ)-এর এই হাদীসের খবর জানতে পারেননি। - অনুবাদক
4301

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَحِلُّ دَمُ رَجُلٍ مُسْلِمٍ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلاَّ بِإِحْدَى ثَلاَثٍ الثَّيِّبُ الزَّانِي وَالنَّفْسُ بِالنَّفْسِ وَالتَّارِكُ لِدِينِهِ الْمُفَارِقُ لِلْجَمَاعَةِ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪৩০১. আমর ইবনে আওন (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ঐ মুসলমানের রক্ত হালাল নয়, যে এরূপ সাক্ষ্য দেয় যে, “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল”। তবে তিনটি কারণে কোন মুসলমানের রক্ত প্রবাহিত করা হালালঃ

(১) যদি কোন বিবাহিত ব্যক্তি যিনা করে;
(২) যদি কেউ কাউকে হত্যা করে, তবে এর বিনিময়ে হত্যা এবং
(৩) যে ব্যক্তি দীন ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে মুসলমানের জামাআত থেকে বেরিয়ে যায়।
4302

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ الْبَاهِلِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ إِلاَّ بِإِحْدَى ثَلاَثٍ رَجُلٌ زَنَى بَعْدَ إِحْصَانٍ فَإِنَّهُ يُرْجَمُ وَرَجُلٌ خَرَجَ مُحَارِبًا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ فَإِنَّهُ يُقْتَلُ أَوْ يُصْلَبُ أَوْ يُنْفَى مِنَ الأَرْضِ أَوْ يَقْتُلُ نَفْسًا فَيُقْتَلُ بِهَا " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৩০২. মুহাম্মাদ ইবনে সিনান (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মুসলমানের রক্ত হালাল নয়, যে এরূপ সাক্ষ্য প্রদান করে যে, “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল, তবে তিনটি মধ্যে যে কোন একটি কারণে তার রক্ত প্রবাহিত করা হালালঃ

(১) যদি কেউ বিবাহ করার পর যিনা করে, তবে তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হবে;

(২) যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য বের হবে, তাকে হত্যা করা হবে, অথবা শুলী দণ্ড দেওয়া হবে, অথবা দেশ থেকে বের করা হবে এবং

(৩) যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করবে, তার জীবনের বিনিময়ে তাকে হত্যা করা হবে।
4303

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، - قَالَ مُسَدَّدٌ - حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بُرْدَةَ، قَالَ قَالَ أَبُو مُوسَى أَقْبَلْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَعِي رَجُلاَنِ مِنَ الأَشْعَرِيِّينَ أَحَدُهُمَا عَنْ يَمِينِي وَالآخَرُ عَنْ يَسَارِي فَكِلاَهُمَا سَأَلَ الْعَمَلَ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَاكِتٌ فَقَالَ " مَا تَقُولُ يَا أَبَا مُوسَى " . أَوْ " يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ " . قُلْتُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أَطْلَعَانِي عَلَى مَا فِي أَنْفُسِهِمَا وَمَا شَعَرْتُ أَنَّهُمَا يَطْلُبَانِ الْعَمَلَ . قَالَ وَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى سِوَاكِهِ تَحْتَ شَفَتِهِ قَلَصَتْ قَالَ " لَنْ نَسْتَعْمِلَ - أَوْ لاَ نَسْتَعْمِلُ - عَلَى عَمَلِنَا مَنْ أَرَادَهُ وَلَكِنِ اذْهَبْ أَنْتَ يَا أَبَا مُوسَى أَوْ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ " . فَبَعَثَهُ عَلَى الْيَمَنِ ثُمَّ أَتْبَعَهُ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ قَالَ فَلَمَّا قَدِمَ عَلَيْهِ مُعَاذٌ قَالَ انْزِلْ . وَأَلْقَى لَهُ وِسَادَةً فَإِذَا رَجُلٌ عِنْدَهُ مُوثَقٌ قَالَ مَا هَذَا قَالَ هَذَا كَانَ يَهُودِيًّا فَأَسْلَمَ ثُمَّ رَاجَعَ دِينَهُ دِينَ السُّوءِ . قَالَ لاَ أَجْلِسُ حَتَّى يُقْتَلَ قَضَاءُ اللَّهِ وَرَسُولِهِ . قَالَ اجْلِسْ نَعَمْ . قَالَ لاَ أَجْلِسُ حَتَّى يُقْتَلَ قَضَاءُ اللَّهِ وَرَسُولِهِ . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَأَمَرَ بِهِ فَقُتِلَ ثُمَّ تَذَاكَرَا قِيَامَ اللَّيْلِ فَقَالَ أَحَدُهُمَا مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ أَمَّا أَنَا فَأَنَامُ وَأَقُومُ - أَوْ أَقُومُ وَأَنَامُ - وَأَرْجُو فِي نَوْمَتِي مَا أَرْجُو فِي قَوْمَتِي .

Narrator: আবু বুরদা আশআরী (রহঃ)

৪৩০৩. আহমদ ইবনে হাম্বাল (রাহঃ) .... আবু বুরদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) বলেনঃ একদা আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট আগমন করি, যখন আমার সাথে আশআর গোত্রের দুই ব্যক্তি ছিল। তাদের একজন আমার ডানদিকে এবং অপরজন বামদিকে ছিল। তারা উভয়ই কর্মচারী নিযুক্ত হতে চাইলে নবী (ﷺ) চুপ করে থাকেন। এরপর তিনি বলেনঃ হে আবু মুসা, অথবা হে আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স! তুমি কি বল? তখন আমি বলিঃ ঐ জাত-পাকের কসম! যিনি আপনাকে সত্য নবী হিসাবে প্রেরণ করেছেন। এই দুই ব্যক্তি তাদের মনের গোপন ইচ্ছা আমাকে অবহিত করে নি এবং আমি জানতাম না যে, তারা চাকরীর জন্য দরখাস্ত করবে।

আবু মুসা (রাযিঃ) বলেনঃ সে সময় আমি নবী (ﷺ)-এর মিসওয়াকের দিকে তাকাচ্ছিলাম, যা তাঁর ঠোঁটের নীচে ছিল এবং এ কারণে তাঁর ঠোঁটের উপরের দিকে উঠানো ছিল। এরপর তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজ শাসনভার পেতে চায়, আমি তাকে শাসক হিসাবে নিয়োগ করি না। কাজেই হে আবু মুসা, অথবা হে আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স! তুমিই শাসনভার গ্রহণ কর। এরপর তিনি আমাকে ইয়ামানের গভর্নর নিয়োগ করে প্রেরণ করেন। পরে তিনি মু’আয ইবনে জাবাল (রাযিঃ)-কে ইয়ামানের শাসনকর্তা হিসাবে তার স্থলাভিষিক্ত করেন।

আবু মুসা (রাযিঃ) বলেনঃ যখন মু’আয (রাযিঃ) তার কাছে উপস্থিত হন, তখন তিনি তাকে বসার জন্য অনুরোধ করেন এবং তার জন্য একটি বালিশ রেখে দেন। এ সময় মা’আয (রাযিঃ) তার নিকট বন্ধনযুক্ত অবস্থায় এক-ব্যক্তিকে দেখতে পান। তিনি জিজ্ঞাসা করেন এ ব্যক্তি কে? তখন আবু মুসা (রাযিঃ) বলেনঃ এই ব্যক্তি আগে ইয়াহুদী ছিল, পরে সে ইসলাম কবুল করে, এরপর সে ঐ খারাপ ধর্মে প্রত্যাবর্তন করেছে। তখন মু’আয (রাযিঃ) বলেনঃ আমি ততক্ষণ বসবো না, যতক্ষণ না এই ব্যক্তিকে আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশ মত হত্যা করা হয়। তখন আবু মুসা (রাযিঃ) বলেনঃ হ্যাঁ, এরূপই হবে। আপনি বসুন।

তখন মু’আয (রাযিঃ) তিন বার এরূপ বলেনঃ আমি ততক্ষণ বসবো না, যতক্ষণ না এই ব্যক্তিকে আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশ মত হত্যা করা হয়। এরপর আবু মুসা (রাযিঃ) তাকে হত্যার নির্দেশ দেন এবং তা কার্যকর হয়। পরে তাঁরা রাত্রি জাগরণ সম্পর্কে আলোচনা শুরু করেন। তখন তাঁদের একজন, সম্ভবতঃ মু’আয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রাতে ঘুমাই এবং উঠে নামায ও আদায় করি; অথবা আমি রাতে উঠে নামাযও আদায় করি এবং ঘুমাইও। আর আমি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করার জন্য যেরূপ সাওয়াবের আশা করি, ঐরূপ সাওয়াব আমি ঘুমিয়ে থাকাবস্থায়ও আশা করি।
4304

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا الْحِمَّانِيُّ، - يَعْنِي عَبْدَ الْحَمِيدِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، وَبُرَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَدِمَ عَلَىَّ مُعَاذٌ وَأَنَا بِالْيَمَنِ، وَرَجُلٌ، كَانَ يَهُودِيًّا فَأَسْلَمَ فَارْتَدَّ عَنِ الإِسْلاَمِ، فَلَمَّا قَدِمَ مُعَاذٌ قَالَ لاَ أَنْزِلُ عَنْ دَابَّتِي حَتَّى يُقْتَلَ . فَقُتِلَ . قَالَ أَحَدُهُمَا وَكَانَ قَدِ اسْتُتِيبَ قَبْلَ ذَلِكَ .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৪৩০৪. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) .... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যখন ইয়ামানের শাসনকর্তা, তখন মু’আয (রাযিঃ) আমার নিকট আসেন। এ সময় একজন ইয়াহুদী মুসলমান হয়ে, পরে ইসলাম পরিত্যাগ করে। সে সময় মু’আয (রাযিঃ) সেখানে উপস্থিত হয়ে বলেনঃ যতক্ষণ না এ ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়, ততক্ষণ আমি আমার বাহন থেকে অবতরণ করবো না। পরে তাকে হত্যা করা হয়। এই দুই জনের একজন বলেনঃ হত্যার পূর্বে তাকে তাওবা করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

4305

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، حَدَّثَنَا الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ فَأُتِيَ أَبُو مُوسَى بِرَجُلٍ قَدِ ارْتَدَّ عَنِ الإِسْلاَمِ، فَدَعَاهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً أَوْ قَرِيبًا مِنْهَا فَجَاءَ مُعَاذٌ فَدَعَاهُ فَأَبَى فَضُرِبَ عُنُقُهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ لَمْ يَذْكُرْ الاِسْتِتَابَةَ وَرَوَاهُ ابْنُ فُضَيْلٍ عَنِ الشَّيْبَانِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي مُوسَى وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ الاِسْتِتَابَةَ .

Narrator: আবু বুরদা আশআরী (রহঃ)

৪৩০৫. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) .... আবু বুরদা (রাহঃ) এ ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ একদা আবু মুসা (রাযিঃ)-এর নিকট জনৈক মুরতাদ ব্যক্তিকে হাযির করা হয়। তিনি তাকে প্রায় বিশদিন যাবৎ পুনরায় মুসলমান হওয়ার জন্য অনুরোধ করতেন। পরে মু’আয (রাযিঃ)ও সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে দ্বীনের দাওয়াত দেন। কিন্তু সে তা অস্বীকার করলে তাকে হত্যা করা হয়।

4306

حَدَّثَنَا ابْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنِ الْقَاسِمِ، بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ فَلَمْ يَنْزِلْ حَتَّى ضُرِبَ عُنُقُهُ وَمَا اسْتَتَابَهُ .

Narrator: কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রহঃ)

৪৩০৬. ইবনে মা’আয (রাহঃ) .... কাসিম (রাহঃ) হতে উপরোক্ত ঘটনা বর্ণিত হয়েছে যে, মু’আয (রাযিঃ) ততক্ষণ তার বাহন হতে অবতরণ করেন নি, যতক্ষণ না সে ব্যক্তির মস্তক দ্বি-খণ্ডিত করা হয়। আর তাকে তাওবা করতে বলা হয়নি।

4307

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ يَكْتُبُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَزَلَّهُ الشَّيْطَانُ فَلَحِقَ بِالْكُفَّارِ فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُقْتَلَ يَوْمَ الْفَتْحِ فَاسْتَجَارَ لَهُ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ فَأَجَارَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৩০৭. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে সা’দ ইবনে আবু সারাহ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর লেখক ছিলেন। তিনি শয়তানের প্ররোচনায় গুমরাহ হয়ে পুনরায় কাফিরদের সাথে মিলিত হন। পরে মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। এ সময় উছমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) তার নিরাপত্তার জন্য আবেদন পেশ করলে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে নিরাপত্তা প্রদান করেন।

4308

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ زَعَمَ السُّدِّيُّ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدٍ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ فَتْحِ مَكَّةَ اخْتَبَأَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ عِنْدَ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَجَاءَ بِهِ حَتَّى أَوْقَفَهُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ بَايِعْ عَبْدَ اللَّهِ . فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَنَظَرَ إِلَيْهِ ثَلاَثًا كُلُّ ذَلِكَ يَأْبَى فَبَايَعَهُ بَعْدَ ثَلاَثٍ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ " أَمَا كَانَ فِيكُمْ رَجُلٌ رَشِيدٌ يَقُومُ إِلَى هَذَا حَيْثُ رَآنِي كَفَفْتُ يَدِي عَنْ بَيْعَتِهِ فَيَقْتُلَهُ " . فَقَالُوا مَا نَدْرِي يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا فِي نَفْسِكَ أَلاَّ أَوْمَأْتَ إِلَيْنَا بِعَيْنِكَ قَالَ " إِنَّهُ لاَ يَنْبَغِي لِنَبِيٍّ أَنْ تَكُونَ لَهُ خَائِنَةُ الأَعْيُنِ " .

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৪৩০৮. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মক্কা বিজয়ের দিন আব্দুল্লাহ ইবনে আবু সারহ উছমান ইবনে আফফান (রাযিঃ)-এর নিকট আত্মগোপন করেছিল। তিনি তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাযির করে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আব্দুল্লাহকে বায়’আত করান। তখন তিনি তার দিকে তিনবার তাকান এবং তাকে বায়’আত করতে অস্বীকার করেন। পরে তিনি তাকে বায়’আত করাবার পর বলেনঃ তোমাদের মাঝে এমন কোন বুদ্ধিমান লোক কি ছিল না, যে আমাকে তার নিকট হতে বায়’আত গ্রহণের হাত সরিয়ে নিতে দেখে, দাঁড়িয়ে তাকে হত্যা করে ফেলতো? তখন সাহাবীগণ বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনার মনের উদ্দেশ্য বুঝতে পারিনি। যদি আপনি চোখের ইশারায় এরূপ ইঙ্গিত করতেন, তবে ভাল হতো। তখন তিনি বলেনঃ কোন নবীর পক্ষে চোখ দিয়ে এ ধরণের ইঙ্গিত করা উচিত নয়।

4309

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَرِيرٍ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا أَبَقَ الْعَبْدُ إِلَى الشِّرْكِ فَقَدْ حَلَّ دَمُهُ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪৩০৯. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... জাবীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী করীম (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, যখন কোন গোলাম শিরকের প্রতি চলে যায়, (অর্থাৎ আল্লাহকে পরিত্যাগ করে মুরতাদ হয়); তখন তার রক্ত হালাল হয়ে যায়।

২. নবী (ﷺ) এর মর্যাদাহানিকারী ব্যক্তির শাস্তি সম্পর্কে।

باب الْحُكْمِ فِيمَنْ سَبَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم

4310

حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ مُوسَى الْخُتَّلِيُّ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَدَنِيُّ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ عُثْمَانَ الشَّحَّامِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ، أَنَّ أَعْمَى، كَانَتْ لَهُ أُمُّ وَلَدٍ تَشْتُمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَتَقَعُ فِيهِ فَيَنْهَاهَا فَلاَ تَنْتَهِي وَيَزْجُرُهَا فَلاَ تَنْزَجِرُ - قَالَ - فَلَمَّا كَانَتْ ذَاتَ لَيْلَةٍ جَعَلَتْ تَقَعُ فِي النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَتَشْتِمُهُ فَأَخَذَ الْمِغْوَلَ فَوَضَعَهُ فِي بَطْنِهَا وَاتَّكَأَ عَلَيْهَا فَقَتَلَهَا فَوَقَعَ بَيْنَ رِجْلَيْهَا طِفْلٌ فَلَطَخَتْ مَا هُنَاكَ بِالدَّمِ فَلَمَّا أَصْبَحَ ذُكِرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَمَعَ النَّاسَ فَقَالَ " أَنْشُدُ اللَّهَ رَجُلاً فَعَلَ مَا فَعَلَ لِي عَلَيْهِ حَقٌّ إِلاَّ قَامَ " . فَقَامَ الأَعْمَى يَتَخَطَّى النَّاسَ وَهُوَ يَتَزَلْزَلُ حَتَّى قَعَدَ بَيْنَ يَدَىِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَا صَاحِبُهَا كَانَتْ تَشْتِمُكَ وَتَقَعُ فِيكَ فَأَنْهَاهَا فَلاَ تَنْتَهِي وَأَزْجُرُهَا فَلاَ تَنْزَجِرُ وَلِي مِنْهَا ابْنَانِ مِثْلُ اللُّؤْلُؤَتَيْنِ وَكَانَتْ بِي رَفِيقَةً فَلَمَّا كَانَتِ الْبَارِحَةَ جَعَلَتْ تَشْتِمُكَ وَتَقَعُ فِيكَ فَأَخَذْتُ الْمِغْوَلَ فَوَضَعْتُهُ فِي بَطْنِهَا وَاتَّكَأْتُ عَلَيْهَا حَتَّى قَتَلْتُهَا . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ اشْهَدُوا أَنَّ دَمَهَا هَدَرٌ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৩১০. আব্বাদ ইবনে মুসা (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কোন এক অন্ধ ব্যক্তির একটি দাসী ছিল। সে নবী করীম (ﷺ)-এর শানে বেয়াদবিসূচক কথাবার্তা বলতো। সে অন্ধ ব্যক্তি তাকে এরূপ করতে নিষেধ করতো, কিন্তু সে তা মানতো না। সে ব্যক্তি তাকে ধমকাতো, তবু সে তা থেকে বিরত হতো না। এমতাবস্থায় এক রাতে যখন সে দাসী নবী (ﷺ)-এর শানে অমর্যাদাকর কথাবার্তা বলতে থাকে, তখন ঐ অন্ধ ব্যক্তি একটি ছোরা নিয়ে তার পেটে প্রচন্ড আঘাত করে, যার ফলে সে দাসী মারা যায়। এ সময় তার এক ছেলে তার পায়ের উপর এসে পড়ে, আর সে যেখানে বসে ছিল, সে স্থানটি রক্তাপ্লুত হয়ে যায়।

পরদিন সকালে এ ব্যাপারে যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আলোচনা হয়, তখন তিনি সকলকে একত্রিত করে বলেনঃ আমি আল্লাহর নামে শপথ করে এ ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাই এবং ইহা তার জন্য আমার হক স্বরূপ। তাই, যে ব্যক্তি তাকে হত্যা করেছে, সে যেন দাঁড়িয়ে যায়। সে সময় অন্ধ লোকটি লোকদের সারি ভেদ করে প্রকম্পিত অবস্থায় নবী করীম (ﷺ)-এর সামনে গিয়ে বসে পড়ে এবং বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তার হন্তা।

সে আপনার সম্পর্কে কটুক্তি ও গালি-গালাজ করতো। আমি তাকে এরূপ করতে নিষেধ করতাম ও ধমকাতাম। কিন্তু সে তার প্রতি কর্ণপাত করতো না। ঐ দাসী থেকে আমার দু’টি সন্তান আছে, যারা মনি-মুক্তা সদৃশ এবং সেও আমার প্রিয় ছিল। কিন্তু গত রাতে সে যখন পুনরায় আপনার সম্পর্কে কটুক্তি গাল-মন্দ করতে থাকে, তখন আমি আমার উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি এবং ছোরা দিয়ে তার পেটে প্রচন্ড আঘাত করে তাকে হত্যা করি। তখন নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ তোমরা সাক্ষী থাক যে, ঐ দাসীর রক্ত ক্ষতিপূরণের অযোগ্য বা মূল্যহীন।
4311

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ جَرِيرٍ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ يَهُودِيَّةً، كَانَتْ تَشْتِمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَتَقَعُ فِيهِ فَخَنَقَهَا رَجُلٌ حَتَّى مَاتَتْ فَأَبْطَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَمَهَا .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪৩১১. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক ইয়াহুদী নারী নবী করীম (ﷺ)-এর প্রতি কটুক্তি ও গালি-গালাজ করতো। এ কারণে কোন একব্যক্তি শ্বাসরুদ্ধ করে তাকে মেরে ফেলে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ নারীর খুনের বদলা বাতিল বলে ঘোষণা করেন।

4312

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ يُونُسَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ح وَحَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَنُصَيْرُ بْنُ الْفَرَجِ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ زُرَيْعٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُطَرِّفٍ، عَنْ أَبِي بَرْزَةَ، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَتَغَيَّظَ عَلَى رَجُلٍ فَاشْتَدَّ عَلَيْهِ فَقُلْتُ تَأْذَنُ لِي يَا خَلِيفَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَضْرِبُ عُنُقَهُ قَالَ فَأَذْهَبَتْ كَلِمَتِي غَضَبَهُ فَقَامَ فَدَخَلَ فَأَرْسَلَ إِلَىَّ فَقَالَ مَا الَّذِي قُلْتَ آنِفًا قُلْتُ ائْذَنْ لِي أَضْرِبْ عُنُقَهُ . قَالَ أَكُنْتَ فَاعِلاً لَوْ أَمَرْتُكَ قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ لاَ وَاللَّهِ مَا كَانَتْ لِبَشَرٍ بَعْدَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا لَفْظُ يَزِيدَ

Narrator: হযরত আবু বারযা আসলামী রাযি.

৪৩১২. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু বারযা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আবু বকর (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি কোন এক ব্যক্তির প্রতি খুবই রাগান্বিত হলে, আমি তাকে বলিঃ হে আল্লাহর রাসূলের খলীফা। আপনি আমাকে তার হত্যার অনুমতি দিন। আমার এ কথা শুনে তার ক্রোধ প্রশমিত হয় এবং তিনি উঠে তার গৃহে চলে যান।

এরপর তিনি আমাকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি বলেছিলে? তখন আমি বলিঃ আমি আপনার কাছে ঐ ব্যক্তির মস্তক দ্বিখণ্ডিত করার অনুমতি চেয়েছিলাম। তিনি বলেনঃ যদি আমি তোমাকে এরূপ অনুমতি দিতাম, তবে কি তুমি তাকে হত্যা করতে? তখন আমি বলিঃ নিশ্চয়ই। তিনি বলেনঃ আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পর, আর কোন ব্যক্তির জন্য এরূপ করার অধিকার নেই।

৩. আল্লাহ ও রাসূল (ﷺ)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي الْمُحَارِبَةِ

4313

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ قَوْمًا، مِنْ عُكْلٍ - أَوْ قَالَ مِنْ عُرَيْنَةَ - قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاجْتَوَوُا الْمَدِينَةَ فَأَمَرَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِلِقَاحٍ وَأَمَرَهُمْ أَنْ يَشْرَبُوا مِنْ أَبْوَالِهَا وَأَلْبَانِهَا فَانْطَلَقُوا فَلَمَّا صَحُّوا قَتَلُوا رَاعِيَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاسْتَاقُوا النَّعَمَ فَبَلَغَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَبَرُهُمْ مِنْ أَوَّلِ النَّهَارِ فَأَرْسَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي آثَارِهِمْ فَمَا ارْتَفَعَ النَّهَارُ حَتَّى جِيءَ بِهِمْ فَأَمَرَ بِهِمْ فَقُطِعَتْ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ وَسُمِّرَ أَعْيُنُهُمْ وَأُلْقُوا فِي الْحَرَّةِ يَسْتَسْقُونَ فَلاَ يُسْقَوْنَ . قَالَ أَبُو قِلاَبَةَ فَهَؤُلاَءِ قَوْمٌ سَرَقُوا وَقَتَلُوا وَكَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ وَحَارَبُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৩১৩. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, উকল অথবা উরায়না গোত্রের কিছু নও-মুসলিম লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়। কিন্তু মদীনার আবহাওয়া তাঁদের স্বাস্থ্যের প্রতিকূল হওয়ায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের কয়েকটি উট প্রদান করেন এবং সে উটের দুধ ও পেশাব তাদের পান করতে বলেন। এরপর তাঁরা জঙ্গলের কাছে গিয়ে বসবাস করতে থাকে। পরে তারা সুস্থ হলে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পৌঁছলে তিনি তাদের পশ্চাদধাবনের উদ্দেশ্যে একদল লোক প্রেরণ করেন, যারা দুপুরের সময় তাদের বন্দী করে নিয়ে আসে। তখন নবী করীম (ﷺ) তাদের হাত ও পা কেটে ফেলার নির্দেশ দেন। তাদের চোখে গরম সূঁচ ঢুকিয়ে দিতে প্রচন্ড গরমের মধ্যে তাদের ফেলে রাখা হয়। যার ফলে তারা পিপাসার্থ পানি পান করতে চায়, কিন্তু তাদের পানি দেওয়া হয়নি।

রাবী আবু কিলাবা (রাহঃ) বলেনঃ তারা চুরি ও হত্যা করেছিল এবং ঈমান আনার পর মুরতাদ হয়ে আল্লাহ ও রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল।
4314

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ أَيُّوبَ، بِإِسْنَادِهِ بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فِيهِ فَأَمَرَ بِمَسَامِيرَ فَأُحْمِيَتْ فَكَحَلَهُمْ وَقَطَّعَ أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ وَمَا حَسَمَهُمْ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৩১৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু আইয়ুব তার সনদে এরূপ বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম (ﷺ) সূঁচ গরম করার নির্দেশ দেন, যা তাদের চোখে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের হাত-পা কেটে ফেলা হয় এবং তাদের সম্পূর্ণরূপে হত্যা করা হয়নি। (কারণ তারা নবী (ﷺ)-এর রাখালকে এভাবে শাস্তি দিয়ে হত্যা করেছিল।)

4315

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ بْنِ سُفْيَانَ، قَالَ أَخْبَرَنَا ح، وَحَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي كَثِيرٍ - عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فِيهِ فَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي طَلَبِهِمْ قَافَةً فَأُتِيَ بِهِمْ . قَالَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى فِي ذَلِكَ ( إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الأَرْضِ فَسَادًا ) الآيَةَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৩১৫. মুহাম্মাদ ইবনে সাব্বাহ (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) এরূপ বর্ণনা করেন, তবে তিনি আরো বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের পেছনে একদল লোক পাঠান, যারা তাদের বন্দী করে নিয়ে আসে। তখন মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে এ আয়াত নাযিল করেনঃ যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দেশের মধ্যে ফিতনা-ফ্যাসাদ ও অশান্তি সৃষ্টি করে, তাদের শাস্তি হলো-তাদের শূলী দণ্ড দিতে হবে, অথবা তাদের এক পাশের হাত এবং অপর পাশের পা কেটে ফেলতে হবে। (শরীআতের বিধান অনুযায়ী ইহাই চোর, ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের শাস্তি।)

4316

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، وَقَتَادَةُ، وَحُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، ذَكَرَ هَذَا الْحَدِيثَ قَالَ أَنَسٌ فَلَقَدْ رَأَيْتُ أَحَدَهُمْ يَكْدِمُ الأَرْضَ بِفِيهِ عَطَشًا حَتَّى مَاتُوا .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৩১৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ আমি তাদের একজনকে দেখেছিলাম যে, পিপাসার কারণে নিজের মুখ দিয়ে মাটি খুঁড়ছিল। এ অবস্থায় তারা মারা যায়।

4317

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ نَحْوَهُ زَادَ ثُمَّ نَهَى عَنِ الْمُثْلَةِ وَلَمْ يَذْكُرْ مِنْ خِلاَفٍ . وَرَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ وَسَلاَّمِ بْنِ مِسْكِينٍ عَنْ ثَابِتٍ جَمِيعًا عَنْ أَنَسٍ لَمْ يَذْكُرَا مِنْ خِلاَفٍ . وَلَمْ أَجِدْ فِي حَدِيثِ أَحَدٍ قَطَعَ أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ مِنْ خِلاَفٍ . إِلاَّ فِي حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৩১৭. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) এরূপ বর্ণনা করেছেন যে, এ ঘটনার পর নবী করীম (ﷺ) ‘মুছলা’ করতে, (অর্থাৎ হাত-পা কাটতে ও চোখে গরম সূচ ঢুকাতে) নিষেধ করেন।

4318

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، - قَالَ أَحْمَدُ هُوَ يَعْنِي عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ - عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ نَاسًا أَغَارُوا عَلَى إِبِلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَاقُوهَا وَارْتَدُّوا عَنِ الإِسْلاَمِ وَقَتَلُوا رَاعِيَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُؤْمِنًا فَبَعَثَ فِي آثَارِهِمْ فَأُخِذُوا فَقَطَعَ أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ وَسَمَلَ أَعْيُنَهُمْ . قَالَ وَنَزَلَتْ فِيهِمْ آيَةُ الْمُحَارَبَةِ وَهُمُ الَّذِينَ أَخْبَرَ عَنْهُمْ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ الْحَجَّاجَ حِينَ سَأَلَهُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৩১৮. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কিছু লোক মুরতাদ হয়ে নবী (ﷺ)-এর উট লুট করে নিয়ে যায় এবং তার রাখালকেও হত্যা করে, যে মুসলমান ছিল। নবী করীম (ﷺ) তাদের পেছনে একদল লোককে পাঠান, যারা তাদের বন্দী করে নিয়ে আসে তখন তাদের হাত-পা কেটে ফেলা হয় এবং তাদের চোখে গরম সূচ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

রাবী বলনঃ তাদের শানেই উপরোক্ত আয়াত নাযিল হয়। এরপর হাজ্জাজ আনাস (রাযিঃ)-কে উক্ত ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তখন তিনি ঐ সব লোকদের কথা উল্লেখ করেন।
4319

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَجْلاَنِ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا قَطَعَ الَّذِينَ سَرَقُوا لِقَاحَهُ وَسَمَلَ أَعْيُنَهُمْ بِالنَّارِ عَاتَبَهُ اللَّهُ تَعَالَى فِي ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ( إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا ) الآيَةَ .

Narrator: আবুয যিনাদ (রহঃ)

৪৩১৯. আহমদ ইবনে আমর (রাহঃ) .... আবু যিনাদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উট লুন্ঠনকারী ব্যক্তিদের হাত-পা কেটে ফেলে এবং চোখের মধ্যে গরম শলাকা ঢুকিয়ে শাস্তি দেন, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর উপর অসন্তুষ্ট হয়ে এ আয়াত নাযিল করেনঃ যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং দেশে অশান্তি সৃষ্টি করে, তাদের জন্য এ শাস্তিই যথেষ্ট যে, তাদের হত্যা করবে নয়তো শুলীদণ্ড দেবে।

4320

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا ح، وَحَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ كَانَ هَذَا قَبْلَ أَنْ تَنْزِلَ الْحُدُودُ يَعْنِي حَدِيثَ أَنَسٍ .

Narrator: মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন (রহঃ)

৪৩২০. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (রাহঃ) বলেনঃ উপরোক্ত ঘটনাটি শাস্তি সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হওয়ার পূর্বেকার। অর্থাৎ আনাস (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত ঘটনার পর আয়াতটি নাযিল হয়।

4321

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ( إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِنْ خِلاَفٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الأَرْضِ ) إِلَى قَوْلِهِ ( غَفُورٌ رَحِيمٌ ) نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ فِي الْمُشْرِكِينَ فَمَنْ تَابَ مِنْهُمْ قَبْلَ أَنْ يُقْدَرَ عَلَيْهِ لَمْ يَمْنَعْهُ ذَلِكَ أَنْ يُقَامَ فِيهِ الْحَدُّ الَّذِي أَصَابَهُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৩২১. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর বাণীঃ যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দেশের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করে, তাদের শাস্তি হলো- হয় তাদের হত্যা করবে, নয়তো শূলীদণ্ড দেবে অথবা তাদের এক দিকের হাত এবং অন্য দিকের পা কেটে দেবে .... হতে গাফুরুর রাহীম পর্যন্ত আয়াতটি কাফিরদের শানে নাযিল হয়। আর তাদের মাঝের কোন ব্যক্তি গ্রেফতার হওয়ার আগে যদি তাওবা করে, তবে এ ধরনের তাওবা করার কারণে, শরীআতের যে নির্দেশ তার প্রতি ওয়াজিব হয়ে যায়, তা মাফ হয় না।

৪. শরীআতের বিধান অনুযায়ী শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করা সম্পর্কে।

باب فِي الْحَدِّ يُشْفَعُ فِيهِ

4322

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ الْهَمْدَانِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي ح، وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ قُرَيْشًا، أَهَمَّهُمْ شَأْنُ الْمَرْأَةِ الْمَخْزُومِيَّةِ الَّتِي سَرَقَتْ فَقَالُوا مَنْ يُكَلِّمُ فِيهَا تَعْنِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالُوا وَمَنْ يَجْتَرِئُ إِلاَّ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ حِبُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَلَّمَهُ أُسَامَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أُسَامَةُ أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ " . ثُمَّ قَامَ فَاخْتَطَبَ فَقَالَ " إِنَّمَا هَلَكَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ وَايْمُ اللَّهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৩২২. যায়দ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাখযূমী গোত্রের জনৈক সম্ভ্রান্ত মহিলা চুরি করার অপরাধে অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হওয়ায় কুরাইশ নেতারা চিন্তিত হয়ে পড়েন। তারা এরূপ বলাবলি করে যে, এ ব্যাপারে কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে কথা বলবে? পরে তারা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) যাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুবই স্নেহ করেন, তিনিই এ কাজের উপযুক্ত ব্যক্তি।

এরপর উসামা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) এর নিকট সে মহিলা সম্পর্কে সুপারিশ করলে, তিনি বলেনঃ হে উসামা! তুমি কি আল্লাহ প্রদত্ত শাস্তির বিধানের বিরুদ্ধে সুপারিশ করতে চাও? এরপর তিনি দাঁড়িয়ে বক্তৃতা প্রসঙ্গে বলেন তোমাদের আগের লোকেরা এ জন্যই ধবংস হয়েছে যে, যখন তাদের মধ্যেকার কোন শরীক লোক চুরি করতো, তখন তারা তার উপর শাস্তির বিধান কায়েম করতো। আল্লাহর শপথ। যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কন্যা ফাতিমাও চুরি করতো, তবে আমি তার হাত কেটে দিতাম।
4323

حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ كَانَتِ امْرَأَةٌ مَخْزُومِيَّةٌ تَسْتَعِيرُ الْمَتَاعَ وَتَجْحَدُهُ فَأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِقَطْعِ يَدِهَا وَقَصَّ نَحْوَ حَدِيثِ اللَّيْثِ قَالَ فَقَطَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدَهَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى ابْنُ وَهْبٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ يُونُسَ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَقَالَ فِيهِ كَمَا قَالَ اللَّيْثُ إِنَّ امْرَأَةً سَرَقَتْ فِي عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ الْفَتْحِ . وَرَوَاهُ اللَّيْثُ عَنْ يُونُسَ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ بِإِسْنَادِهِ فَقَالَ اسْتَعَارَتِ امْرَأَةٌ . وَرَوَى مَسْعُودُ بْنُ الأَسْوَدِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا الْخَبَرِ قَالَ سُرِقَتْ قَطِيفَةٌ مِنْ بَيْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ أَبُو الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ امْرَأَةً سَرَقَتْ فَعَاذَتْ بِزَيْنَبَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৩২৩. আব্বাস ইবনে আব্দুল আযীম (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক মাখযূমী নারী এক ব্যক্তির নিকট হতে কিছু মাল ধার নেয়ার পর তা অস্বীকার করে। তখন নবী (ﷺ) হাত কাটার নির্দেশ দেন। রাবী লায়ছের বর্ণনা অনুযায়ী, সে মহিলার হাত কেটে ফেলা হয়।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে ওয়াহাব - ইউনুস হতে, তিনি যুহরী (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে লায়ছের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মক্কা বিজয়কালে চুরি করেছিল।

রারী লায়ছ - ইউনুছ হতে, তিনি শিহাব (রাহঃ) হতে উপরোক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন যে, একজন মহিলা কোন এক ব্যক্তির নিকট হতে কিছু ধার নেয় এবং পরে তা অস্বীকার করে। মাসউদ ইবনে আসওয়াদ (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি সেখানে বর্ণনা করেছেন যে, উক্ত মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর গৃহ হতে একটি চাদর চুরি করেছিল।

রারী আবু যুবাইর (রাহঃ) জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক মহিলা চুরি করার পর যয়নাব বিনতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আশ্রয় গ্রহণ করেছিল।
4324

حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ زَيْدٍ، - نَسَبَهُ جَعْفَرٌ إِلَى سَعِيدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَقِيلُوا ذَوِي الْهَيْئَاتِ عَثَرَاتِهِمْ إِلاَّ الْحُدُودَ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৩২৪. জাফর ইবনে মুসাফির (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সম্রাট ব্যক্তিদের ব্যাপারে শরীয়ত নির্ধারিত বিধান ব্যতীত অন্যান্য ক্রটিবিচ্যূতি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে।

৫. হাকীমের সামনে পেশের আগে অপরাধ ক্ষমা করা প্রসঙ্গে।

باب الْعَفْوِ عَنِ الْحُدُودِ، مَا لَمْ تَبْلُغِ السُّلْطَانَ

4325

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ جُرَيْجٍ، يُحَدِّثُ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَعَافَوُا الْحُدُودَ فِيمَا بَيْنَكُمْ فَمَا بَلَغَنِي مِنْ حَدٍّ فَقَدْ وَجَبَ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৩২৫. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যতক্ষণ পর্যন্ত কোন অপরাধ তোমাদের মাঝে সীমাবন্ধ থাকে, ততক্ষণ তোমরা পরস্পর তা ক্ষমা করে দেও। আর যদি তা আমার নিকট পেশ করা হয়, তবে তার জন্য শরীআত সম্মত শাস্তি প্রদান ওয়াজিব হয়ে যায়।

৬. যথাসম্ভব শাস্তির বিধান গোপন করা।

باب فِي السَّتْرِ عَلَى أَهْلِ الْحُدُودِ

4326

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ نُعَيْمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ مَاعِزًا، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَقَرَّ عِنْدَهُ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ فَأَمَرَ بِرَجْمِهِ وَقَالَ لِهَزَّالٍ " لَوْ سَتَرْتَهُ بِثَوْبِكَ كَانَ خَيْرًا لَكَ " .

Narrator: বিবিধ

৪৩২৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... নুয়াইম তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, মা'ইয (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে চারবার যিনার কথা স্বীকার করেন। যার ফলে তিনি তাকে পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দেন এবং হুযালা (রাযিঃ)-কে বলেনঃ যদি তুমি এ কথা তোমার কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে (অর্থাৎ গোপন রাখতে), তবে তা তোমার জন্য উওম হতো।

4327

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ، أَنَّ هَزَّالاً، أَمَرَ مَاعِزًا أَنْ يَأْتِيَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَيُخْبِرَهُ .

Narrator: মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহঃ)

৪৩২৭. মুহাম্মাদ ইবনে উবাযদ (রাহঃ) .... ইবনে মুনকাদির (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, হুযালা (রাযিঃ) মাইয (রাযিঃ)-কে বলেন, তুমি নবী করীম (ﷺ) এর নিকট গিয়ে তোমার অপকর্মের (যিনার) কথা তাঁকে বল।

৭. হাকীমের সামনে নিজের দোষ স্বীকার করা সম্পর্কে।

باب فِي صَاحِبِ الْحَدِّ يَجِيءُ فَيُقِرُّ

4328

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، حَدَّثَنَا سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ امْرَأَةً، خَرَجَتْ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تُرِيدُ الصَّلاَةَ فَتَلَقَّاهَا رَجُلٌ فَتَجَلَّلَهَا فَقَضَى حَاجَتَهُ مِنْهَا فَصَاحَتْ وَانْطَلَقَ فَمَرَّ عَلَيْهَا رَجُلٌ فَقَالَتْ إِنَّ ذَاكَ فَعَلَ بِي كَذَا وَكَذَا وَمَرَّتْ عِصَابَةٌ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ فَقَالَتْ إِنَّ ذَلِكَ الرَّجُلَ فَعَلَ بِي كَذَا وَكَذَا . فَانْطَلَقُوا فَأَخَذُوا الرَّجُلَ الَّذِي ظَنَّتْ أَنَّهُ وَقَعَ عَلَيْهَا فَأَتَوْهَا بِهِ فَقَالَتْ نَعَمْ هُوَ هَذَا . فَأَتَوْا بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أَمَرَ بِهِ قَامَ صَاحِبُهَا الَّذِي وَقَعَ عَلَيْهَا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَا صَاحِبُهَا . فَقَالَ " اذْهَبِي فَقَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكِ " . وَقَالَ لِلرَّجُلِ قَوْلاً حَسَنًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ يَعْنِي الرَّجُلَ الْمَأْخُوذَ وَقَالَ لِلرَّجُلِ الَّذِي وَقَعَ عَلَيْهَا " ارْجُمُوهُ " . فَقَالَ " لَقَدْ تَابَ تَوْبَةً لَوْ تَابَهَا أَهْلُ الْمَدِينَةِ لَقُبِلَ مِنْهُمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ أَسْبَاطُ بْنُ نَصْرٍ أَيْضًا عَنْ سِمَاكٍ .

Narrator: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৪৩২৮. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... আলকামা তাঁর পিতা ওয়ায়েল (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (ﷺ) এর যামানায় জনৈক মহিলা নামায আদায়ের জন্য গমনকালে পথিমধ্যে তার সাথে একজন পুরুষের দেখা হলে, সে ব্যক্তি জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। সে মহিলা চিৎকার দিলে, তার পাশ দিয়ে গমনকালে জনৈক ব্যক্তি এর কারণ জানতে চায়। তখন সে মহিলা বলেঃ অমুক ব্যক্তি আমার সাথে এরূপ অপকর্ম করেছে। পরে তার পাশ দিয়ে মুহাজিরদের একটি দল গমনকালে সে মহিলা তাদের বলেঃ অমুক ব্যক্তি আমার সাথে এরূপ কাজ করেছে। তারপর তারা গিয়ে এক ব্যক্তিকে ধরে আনে, যার সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল যে, সে-ই এরূপ করেছে। এরপর তারা সে ব্যক্তিকে উক্ত মহিলার কাছে উপস্থিত করলে, সেও বলেঃ হ্যাঁ। এই ব্যক্তিই এ অপকর্ম করেছে।

তখন তাঁরা সে ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে যায়। নবী করীম (ﷺ) যখন সে ব্যক্তির উপর শরীআতের নির্দেশ জারী করার মনস্থ করেন, তখন মহিলার সাথে অপকর্মকারী ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যায় এবং বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি-ই অপকর্ম করেছি। তখন নবী করীম (ﷺ) সে মহিলাকে বলেনঃ তুমি চলে যাও, আল্লাহ তোমার অপরাধ মাফ করে দিয়েছেন। এরপর তিনি সে লোকটির সাথে উত্তম ব্যবহার করেন। তখন সাহাবীগণ নবী করীম (ﷺ) এর নিকট ব্যভিচারী লোকটিকে পাথর মেরে হত্যা করার নির্দেশ প্রদানের জন্য অনুরোধ করলে, তিনি বলেনঃ লোকটি এমন তাওবা করেছে যে, সমস্ত মদীনাবাসী এরূপ তাওবা করলে, তা কবুল হতো।*

* সম্ভবতঃ ঐ ব্যক্তির খাস তাওবা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জ্ঞাত ছিলেন, যা তিনি সাধারণের সামনে গোপন রাখেন। আর এ কারণেই তিনি তার ক্ষমার ঘোষণা প্রদান করেন। - (অনুবাদক)

৮. অপরাধীর অপরাধ স্বীকার সম্পর্কে।

باب فِي التَّلْقِينِ فِي الْحَدِّ

4329

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَبِي الْمُنْذِرِ، مَوْلَى أَبِي ذَرٍّ عَنْ أَبِي أُمَيَّةَ الْمَخْزُومِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِلِصٍّ قَدِ اعْتَرَفَ اعْتِرَافًا وَلَمْ يُوجَدْ مَعَهُ مَتَاعٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا إِخَالُكَ سَرَقْتَ " . قَالَ بَلَى . فَأَعَادَ عَلَيْهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا فَأَمَرَ بِهِ فَقُطِعَ وَجِيءَ بِهِ فَقَالَ " اسْتَغْفِرِ اللَّهَ وَتُبْ إِلَيْهِ " . فَقَالَ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ فَقَالَ " اللَّهُمَّ تُبْ عَلَيْهِ " . ثَلاَثًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ عَنْ هَمَّامٍ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ عَنْ أَبِي أُمَيَّةَ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: আবু উমায়য়া মাখযুমী (রাঃ)

৪৩২৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু উমাইয়্যা মাখযূমী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম (ﷺ) এর নিকট একজন চোরকে উপস্থিত করা হয়, যে চুরির কথা স্বীকার করে। কিন্তু তার কাছে চোরাই মাল পাওয়া যায়নি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমার মনে হয় তুমি চুরি করো নি। তখন সে ব্যক্তি বলেঃ হ্যাঁ, আমি চুরি করেছি। নবী (ﷺ) দুই বা তিনবার এরূপ বলেনঃ এবং সে ব্যক্তিও চুরির কথা স্বীকার করে।

তখন নবী (ﷺ) তার হাত কাটার নির্দেশ দেন এবং তা কার্যকরী হয়। এরপর তাকে নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত করা হলে, তিনি বলেনঃ তুমি তোমার অপরাধের জন্য আল্লাহর নিকট তাওবা কর এবং ক্ষমা চাও। তখন সে ব্যক্তি বলেঃ আমি এ জন্য আল্লাহর নিকট তাওবা ও ইস্তিগফার করছি। তখন নবী করীম (ﷺ) তিনবার এরূপ বলেনঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি এ ব্যক্তির তাওবা কবুল করুন।

৯. কোন ব্যক্তি যদি নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে, কিন্তু উহার নাম না বলে - সে সম্পর্কে।

باب فِي الرَّجُلِ يَعْتَرِفُ بِحَدٍّ وَلاَ يُسَمِّيهِ

4330

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو عَمَّارٍ، حَدَّثَنِي أَبُو أُمَامَةَ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَصَبْتُ حَدًّا فَأَقِمْهُ عَلَىَّ . قَالَ " تَوَضَّأْتَ حِينَ أَقْبَلْتَ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " هَلْ صَلَّيْتَ مَعَنَا حِينَ صَلَّيْنَا " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " اذْهَبْ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَدْ عَفَا عَنْكَ " .

Narrator: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

৪৩৩০. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা কোন এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি শাস্তির উপযুক্ত হয়েছি। আপনি আমাকে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করুন। তখন নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি এখানে আমার আগে উযু করেছ? সে ব্যক্তি বলেঃ হ্যাঁ। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি আমাদের সাথে নামায আদায় করেছ? সে ব্যক্তি বলেঃ হ্যাঁ। তখন নবী (ﷺ) তাকে বলেনঃ তুমি চলে যাও, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে মাফ করে দিয়েছেন।

১০. মারপিট করে অন্যায় সম্পর্কে স্বীকৃতি আদায় করা।

باب فِي الاِمْتِحَانِ بِالضَّرْبِ

4331

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ، حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَرَازِيُّ، أَنَّ قَوْمًا، مِنَ الْكَلاَعِيِّينَ سُرِقَ لَهُمْ مَتَاعٌ فَاتَّهَمُوا أُنَاسًا مِنَ الْحَاكَةِ فَأَتَوُا النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ صَاحِبَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَحَبَسَهُمْ أَيَّامًا ثُمَّ خَلَّى سَبِيلَهُمْ فَأَتَوُا النُّعْمَانَ فَقَالُوا خَلَّيْتَ سَبِيلَهُمْ بِغَيْرِ ضَرْبٍ وَلاَ امْتِحَانٍ . فَقَالَ النُّعْمَانُ مَا شِئْتُمْ إِنْ شِئْتُمْ أَنْ أَضْرِبَهُمْ فَإِنْ خَرَجَ مَتَاعُكُمْ فَذَاكَ وَإِلاَّ أَخَذْتُ مِنْ ظُهُورِكُمْ مِثْلَ مَا أَخَذْتُ مِنْ ظُهُورِهِمْ . فَقَالُوا هَذَا حُكْمُكَ فَقَالَ هَذَا حُكْمُ اللَّهِ وَحُكْمُ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

৪৩৩১. আব্দুল ওয়াহাব ইবনে নাজদা (রাহঃ) .... আযহার ইবনে আব্দুল্লাহ হারাবী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কিলা গোত্রের কিছু লোকের মাল চুরি হয়। তারা কিছু সংখ্যক তাঁতির উপর সন্দেহ করে, তাদের নবী করীম (ﷺ) এর সাহাবী নুমান ইবনে বাশীরের নিকট নিয়ে যায়। তিনি তাদের কিছুদিন অন্তরীণ রাখার পর ছেড়ে দেন।

তখন কিলা গোত্রের লোকেরা তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেঃ আপনি তাদের মারপিট না করে এবং ভালমত যাচাই না করে ছেড়ে দিলেন? তখন নুমান (রাযিঃ) বলেনঃ তোমরা কি বলতে চাও? আমি এ শর্তে তাদের মারপিট করতে পারি যদি তাদের নিকট হতে চুরি যাওয়া মাল বের হয়; অন্যথায় তোমাদেরও এরূপ মারপিট করা হবে। এ কথা শুনে গোত্রের লোকেরা জিজ্ঞাসা করেঃ এ কি আপনার হুকুম? তিনি বলেনঃ এতো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ।

১১. কী পরিমাণ মাল চুরি করলে চোরের হাত কাটা যাবে, সে সম্পর্কে।

باب مَا يُقْطَعُ فِيهِ السَّارِقُ

4332

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْطَعُ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৩৩২. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) এক দীনারের ১/৪ অংশ বা এর অধিক মূল্যের জিনিস চুরি করলে হাত কাটার নির্দেশ দিতেন।*

* দীনার বলা হয় স্বর্ণমুদ্রাকে এবং দিরহাম রৌপ্য মুদ্রাকে। তৎকালে ১২ দিরহাম সমান ছিল - এক দীনার। সে হিসাবে তিন দিরহাম অথাৎ ১/৪ দীনার মূল্যের মাল চুরি করার কারণে নবী করীম (ﷺ) চোরের হাত কাটার নির্দেশ দেন। বর্তমান বিশ্বের মুদ্রামানের দৃষ্টিতে, দীনারের মূল্য স্থির করে - এর ভিত্তিতে শরীআতের হাত-কাটার বিধান চালু করা সম্ভব।
4333

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، وَوَهْبُ بْنُ بَيَانٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا ح، وَحَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، قَالَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، وَعَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تُقْطَعُ يَدُ السَّارِقِ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا " . قَالَ أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ الْقَطْعُ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৩৩৩. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) এক দীনারের ১/৪ অংশ বা এর অধিক মাল চুরি করলে, চোরের হাত কাটা যাবে। রাবী আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) বলেনঃ এক দীনারের ১/৪ অংশ বা এর অধিক চুরি করলে হাত কাটা যাবে।

4334

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَطَعَ فِي مِجَنٍّ ثَمَنُهُ ثَلاَثَةُ دَرَاهِمَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৩৩৪. আহদুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিন দিরহাম মূল্যের ঢাল চুরি করার কারণে এক ব্যক্তির হাত কাটার নির্দেশ দেন।

4335

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ، أَنَّ نَافِعًا، مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ حَدَّثَهُمْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَطَعَ يَدَ رَجُلٍ سَرَقَ تُرْسًا مِنْ صُفَّةِ النِّسَاءِ ثَمَنُهُ ثَلاَثَةُ دَرَاهِمَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৩৩৫. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একজন চোরের হাত কাটেন, যে স্ত্রী লোকদের সারি থেকে তিন দিরহাম মূল্যের একটি ঢাল চুরি করেছিল।

4336

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ أَبِي السَّرِيِّ الْعَسْقَلاَنِيُّ، - وَهَذَا لَفْظُهُ وَهُوَ أَتَمُّ - قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَطَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَ رَجُلٍ فِي مِجَنٍّ قِيمَتُهُ دِينَارٌ أَوْ عَشْرَةُ دَرَاهِمَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ وَسَعْدَانُ بْنُ يَحْيَى عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ بِإِسْنَادِهِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৩৩৬. উছমান ইবনে আবু শায়রা (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি ঢাল চুরির অপরাধে এক ব্যক্তির হাত কাটেন, যার মূল্য ছিল এক দিনার অথবা দশ দিরহাম।

১২. যে সমস্ত জিনিস চুরি করলে হাত কাটা যায় না সে সম্পর্কে।

باب مَا لاَ قَطْعَ فِيهِ

4337

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، أَنَّ عَبْدًا، سَرَقَ وَدِيًّا مِنْ حَائِطِ رَجُلٍ فَغَرَسَهُ فِي حَائِطِ سَيِّدِهِ فَخَرَجَ صَاحِبُ الْوَدِيِّ يَلْتَمِسُ وَدِيَّهُ فَوَجَدَهُ فَاسْتَعْدَى عَلَى الْعَبْدِ مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ وَهُوَ أَمِيرُ الْمَدِينَةِ يَوْمَئِذٍ فَسَجَنَ مَرْوَانُ الْعَبْدَ وَأَرَادَ قَطْعَ يَدِهِ فَانْطَلَقَ سَيِّدُ الْعَبْدِ إِلَى رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَأَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ قَطْعَ فِي ثَمَرٍ وَلاَ كَثَرٍ " . فَقَالَ الرَّجُلُ إِنَّ مَرْوَانَ أَخَذَ غُلاَمِي وَهُوَ يُرِيدُ قَطْعَ يَدِهِ وَأَنَا أُحِبُّ أَنْ تَمْشِيَ مَعِي إِلَيْهِ فَتُخْبِرَهُ بِالَّذِي سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَشَى مَعَهُ رَافِعُ بْنُ خَدِيجٍ حَتَّى أَتَى مَرْوَانَ بْنَ الْحَكَمِ فَقَالَ لَهُ رَافِعٌ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ قَطْعَ فِي ثَمَرٍ وَلاَ كَثَرٍ " . فَأَمَرَ مَرْوَانُ بِالْعَبْدِ فَأُرْسِلَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْكَثَرُ الْجُمَّارُ .

Narrator: মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে হিব্বান (রহঃ)

৪৩৩৭. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে হাব্বান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক গোলাম অন্যের বাগান থেকে একটি চারা চুরি করে নিয়ে তা তার মনিবের বাগানে লাগায়। সে চারার মালিক তা খুঁজে বের করে ঐ গোলামের বিরুদ্ধে মদীনার গভর্নর মারওয়ান ইবনে হাকামের নিকটে মামলা দায়ের করে। তখন মারওয়ান তা বন্দী করে রাখে এবং তার হাত কাটার কথা বলতে থাকে। তখন গোলামের মালিক রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তখন তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, ″ফল, ফলের কাদি বা চারা চুরির অপরাধে হাত কাটা যায় না।″

সে ব্যক্তি বলেঃ মারওয়ান আমার গোলামকে বন্দী করে রেখেছেন এবং তিনি তার হাত কাটার ইচ্ছা করেছেন। কাজেই আমি আশা করি, আপনি আমার সাথে গিয়ে তাঁকে এ সম্পর্কিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাদীস শুনাবেন, যা আপনি তাঁর নিকট হতে শ্রবণ করেছেন। তখন রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) তার সাথে মারওয়ানের নিকট গমন করেন এবং বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, ″ফল, ফলের কাদি ও চারা চুরির কারণে হাত কাটা যায় না।″ এ কথা শুনে মারওয়ান সে গোলামকে মুক্তি প্রদানের নির্দেশ দেন।
4338

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فَجَلَدَهُ مَرْوَانُ جَلَدَاتٍ وَخَلَّى سَبِيلَهُ .

Narrator: মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে হিব্বান (রহঃ)

৪৩৩৮. মুহাম্মাদ ইবনে উবাযদ (রাহঃ) .... ইয়াহয়া ইবনে হাব্বান (রাহঃ) এ হাদীসে উল্লেখ করেছেন যে, মাওয়ান সে গোলামকে কয়েকটি বেত্রাঘাত করে ছেড়ে দেন।

4339

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ سُئِلَ عَنِ الثَّمَرِ الْمُعَلَّقِ فَقَالَ " مَنْ أَصَابَ بِفِيهِ مِنْ ذِي حَاجَةٍ غَيْرَ مُتَّخِذٍ خُبْنَةً فَلاَ شَىْءَ عَلَيْهِ وَمَنْ خَرَجَ بِشَىْءٍ مِنْهُ فَعَلَيْهِ غَرَامَةُ مِثْلَيْهِ وَالْعُقُوبَةُ وَمَنْ سَرَقَ مِنْهُ شَيْئًا بَعْدَ أَنْ يُئْوِيَهُ الْجَرِينُ فَبَلَغَ ثَمَنَ الْمِجَنِّ فَعَلَيْهِ الْقَطْعُ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৩৩৯. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আবুদল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বৃক্ষের ফল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ যদি কোন অভাবি লোক তার প্রয়োজন অনুপাতে তা খায় এবং কাপড় ভরে না নেয় তবে এতে দোষের কিছু নেই। আর যদি কেউ কাপড় ভরে নেয়, তবে তার থেকে এর বিনিময় আদায় করতে হবে, বা তাকে সতর্ক করার জন্য কিছু শাস্তিও দিতে হবে। আর কোন ব্যক্তি যদি ফল খাওয়ার পরিবর্তে তা পেড়ে জমা করে (চুরির উদ্দেশ্যে), যার মূল্য একটি ঢালের মূল্যের সমান হয়, তবে এ জন্য অবশ্যই হাত কাটা যাবে।

১৩. ছিনতাই ও আত্মসাৎকারীর শাস্তি সম্পর্কে।

باب الْقَطْعِ فِي الْخُلْسَةِ وَالْخِيَانَةِ

4340
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ قَالَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ عَلَى الْمُنْتَهِبِ قَطْعٌ وَمَنِ انْتَهَبَ نُهْبَةً مَشْهُورَةً فَلَيْسَ مِنَّا " .
وَبِهَذَا الإِسْنَادِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ عَلَى الْخَائِنِ قَطْعٌ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪৩৪০. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ছিনতাইকারীর হাত কাটা যাবে না। আর যে ব্যক্তি অন্যের মাল ছিনতাই করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।

এ সনদে আরো বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ খিয়ানতকারীর হাতও কাটা যাবে না।
4341

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ زَادَ " وَلاَ عَلَى الْمُخْتَلِسِ قَطْعٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَانِ الْحَدِيثَانِ لَمْ يَسْمَعْهُمَا ابْنُ جُرَيْجٍ مِنْ أَبِي الزُّبَيْرِ وَبَلَغَنِي عَنْ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ أَنَّهُ قَالَ إِنَّمَا سَمِعَهُمَا ابْنُ جُرَيْجٍ مِنْ يَاسِينَ الزَّيَّاتِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَدْ رَوَاهُمَا الْمُغِيرَةُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪৩৪১. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, পকেটমারের শাস্তি হাত কাটা নয়। (কেননা সে প্রকাশ্যে মাল চুরি করে।)

১৪. সংরক্ষিত স্থান হতে মাল-চোরের শাস্তি সম্পর্কে।

باب مَنْ سَرَقَ مِنْ حِرْزٍ

4342

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ حَمَّادِ بْنِ طَلْحَةَ، حَدَّثَنَا أَسْبَاطٌ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ حُمَيْدِ ابْنِ أُخْتِ، صَفْوَانَ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ، قَالَ كُنْتُ نَائِمًا فِي الْمَسْجِدِ عَلَى خَمِيصَةٍ لِي ثَمَنُ ثَلاَثِينَ دِرْهَمًا فَجَاءَ رَجُلٌ فَاخْتَلَسَهَا مِنِّي فَأُخِذَ الرَّجُلُ فَأُتِيَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ بِهِ لِيُقْطَعَ . قَالَ فَأَتَيْتُهُ فَقُلْتُ أَنَقْطَعُهُ مِنْ أَجْلِ ثَلاَثِينَ دِرْهَمًا أَنَا أَبِيعُهُ وَأُنْسِئُهُ ثَمَنَهَا قَالَ " فَهَلاَّ كَانَ هَذَا قَبْلَ أَنْ تَأْتِيَنِي بِهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ زَائِدَةُ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ جُعَيْدِ بْنِ جُحَيْرٍ قَالَ نَامَ صَفْوَانُ . وَرَوَاهُ مُجَاهِدٌ وَطَاوُسٌ أَنَّهُ كَانَ نَائِمًا فَجَاءَ سَارِقٌ فَسَرَقَ خَمِيصَةً مِنْ تَحْتِ رَأْسِهِ . وَرَوَاهُ أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ فَاسْتَلَّهُ مِنْ تَحْتِ رَأْسِهِ فَاسْتَيْقَظَ فَصَاحَ بِهِ فَأُخِذَ . وَرَوَاهُ الزُّهْرِيُّ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ فَنَامَ فِي الْمَسْجِدِ وَتَوَسَّدَ رِدَاءَهُ فَجَاءَهُ سَارِقٌ فَأَخَذَ رِدَاءَهُ فَأُخِذَ السَّارِقُ فَجِيءَ بِهِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া (রাঃ)

৪৩৪২. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি মসজিদে আমার চাদর বিছিয়ে শুয়ে ছিলাম, যার মূল্য ছিল ত্রিশ দিরহাম। এক ব্যক্তি এসে আমার থেকে তা ছিনিয়ে নিয়ে যায়, যাকে অপর এক ব্যক্তি ধরে ফেলে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট হাযির করা হলে, তিনি তার হাত কাটার নির্দেশ দেন।

রাবী বলেন, তখন আমি নবী করীম (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলিঃ আপনি কি এর মূল্য ত্রিশ দিরহাম হওয়ার কারণে তার হাত কাটার নির্দেশ দিয়েছেন? আমি তা তার নিকট ঐ মূল্যে বাকী বিক্রি করছি। তখন তিনি বলেনঃ তোমার যদি এরূপ করার ইচ্ছা, তবে তুমি বিষয়টি আমার সামনে পেশ করার আগে করো নি কেন?

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ যায়দা-সিমাক হতে, তিনি জুয়ায়দ ইবনে হুযায়র (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সে সময় সাফওয়ান নিদ্রিত ছিলেন।

রাবী মুজাহিদ ও তাউস (রাহঃ) বর্ণনা করেন যে, সাফওয়ান (রাহঃ) নিদ্রিত থাকাবস্থায় একজন চোর তার মাথার নীচ থেকে তার চাদর নিয়ে যায়।

রাবী আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) বলেনঃ চোর তার মাথার নীচ থেকে চাদর নেয়ার সময় তিনি জাগ্রত হন এবং চিৎকার দেন। তখন অন্য লোক তাকে ধরে ফেলে।

রারী যুহরী (রাহঃ) সাফওয়ারন (রাযিঃ) থেকে, তিনি অবদুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেনঃ সাফওয়ান (রাযিঃ) মসজিদের নীচের চাদরকে বালিশ বানিয়ে তার উপর মাথা রেখে ঘুমাচ্ছিলেন। এ সময় একজন চোর তা চুরি করে নেয়। এরপর তাকে ধরে নবী করীম (ﷺ) এর নিকট হাযির করা হয়।

১৫. কোন জিনিস ধার নিয়ে অস্বীকার করলে শাস্তিস্বরূপ হাত কাটা সম্পর্কে।

باب فِي الْقَطْعِ فِي الْعَارِيَةِ إِذَا جُحِدَتْ

4343

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَمَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، - قَالَ مَخْلَدٌ عَنْ مَعْمَرٍ، - عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ امْرَأَةً، مَخْزُومِيَّةً كَانَتْ تَسْتَعِيرُ الْمَتَاعَ وَتَجْحَدُهُ فَأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِهَا فَقُطِعَتْ يَدُهَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ جُوَيْرِيَةُ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَوْ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ زَادَ فِيهِ وَأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَامَ خَطِيبًا فَقَالَ " هَلْ مِنِ امْرَأَةٍ تَائِبَةٍ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَرَسُولِهِ " . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ وَتِلْكَ شَاهِدَةٌ فَلَمْ تَقُمْ وَلَمْ تَتَكَلَّمْ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ ابْنُ غَنْجٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ قَالَ فِيهِ فَشَهِدَ عَلَيْهَا .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৩৪৩. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মাখযূমী গোত্রের জনৈক মহিলা লোকের নিকট হতে জিনিস ধার নিয়ে পরে তা অস্বীকার করতো। তখন নরী করীম (ﷺ) এর নির্দেশে সে মহিলার হাত কাটা হয়।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ জুয়ায়রিয়া (রাহঃ) নাফি’ (রাহঃ) হতে তিনি ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে অথবা সাফিয়্যা বিনতে আবু উবাইদা (রাযিঃ) হতে বেশী বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়ার পর বলেনঃ কোন মহিলা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে তাওবা করবে কি? তিনি তিনবার এরূপ জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু উক্ত মহিলা সেখানে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কোন কথা বলেনি।
4344

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، عَنِ اللَّيْثِ، قَالَ حَدَّثَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ كَانَ عُرْوَةُ يُحَدِّثُ أَنَّ عَائِشَةَ رضى الله عنها قَالَتِ اسْتَعَارَتِ امْرَأَةٌ - تَعْنِي - حُلِيًّا عَلَى أَلْسِنَةِ أُنَاسٍ يُعْرَفُونَ وَلاَ تُعْرَفُ هِيَ فَبَاعَتْهُ فَأُخِذَتْ فَأُتِيَ بِهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ بِقَطْعِ يَدِهَا وَهِيَ الَّتِي شَفَعَ فِيهَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ وَقَالَ فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا قَالَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৩৪৪. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়্যা (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার কোন এক মহিলা কয়েকজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির মধ্যস্থতায় কিছু অলংকার ধার নেয় এবং পরে তা বিক্রি করে দেয়। পরে তাকে নবী করীম (ﷺ) এর নিকট হাযির করা হলে, তিনি তার হাত কাটার নির্দেশ দেন। উক্ত মহিলা সম্পর্কে উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর নিকট সুপারিশ করেন (যা আগে বর্ণিত হয়েছে)।

4345

حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَتِ امْرَأَةٌ مَخْزُومِيَّةٌ تَسْتَعِيرُ الْمَتَاعَ وَتَجْحَدُهُ فَأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِقَطْعِ يَدِهَا وَقَصَّ نَحْوَ حَدِيثِ قُتَيْبَةَ عَنِ اللَّيْثِ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ زَادَ فَقَطَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدَهَا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৩৪৫. আব্বাস ইবনে আব্দুল আযীম (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাখযূম গোত্রের জনৈক মহিলা অন্যের নিকট হতে জিনিসপত্র ধার নিয়ে পরে তা অস্বীকার করতো। তখন নবী (ﷺ) মহিলার হাত কাটার নির্দেশ প্রদান করেন। এরপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

রারী লায়ছ (রাহঃ) ইবনে শিহাব (রাহঃ) হতে হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে ইহা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, এরপর নবী (ﷺ) সে মহিলার হাত কেটে দেন।

১৬. পাগলের চুরি বা অন্য কোন অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে।

باب فِي الْمَجْنُونِ يَسْرِقُ أَوْ يُصِيبُ حَدًّا

4346

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلاَثَةٍ عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنِ الْمُبْتَلَى حَتَّى يَبْرَأَ وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَكْبَرَ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৩৪৬. উছমান ইবনে আবু শায়রা (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তিন ব্যক্তি হতে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে (অর্থাৎ যাদের ভাল-মন্দ আমল লেখা হয় না)। এরা হলোঃ

(১) নিদ্রিত ব্যক্তি- যতক্ষণ না সে জাগরিত হয়।
(২) পাগল ব্যক্তি- যতক্ষণ না সুস্থ হয় এবং
(৩) নাবালক ছেলে মেয়ে- যতক্ষণ না তারা বয়োঃপ্রাপ্ত হয়।
4347

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أُتِيَ عُمَرُ بِمَجْنُونَةٍ قَدْ زَنَتْ فَاسْتَشَارَ فِيهَا أُنَاسًا فَأَمَرَ بِهَا عُمَرُ أَنْ تُرْجَمَ فَمُرَّ بِهَا عَلَى عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ فَقَالَ مَا شَأْنُ هَذِهِ قَالُوا مَجْنُونَةُ بَنِي فُلاَنٍ زَنَتْ فَأَمَرَ بِهَا عُمَرُ أَنْ تُرْجَمَ . قَالَ فَقَالَ ارْجِعُوا بِهَا ثُمَّ أَتَاهُ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الْقَلَمَ قَدْ رُفِعَ عَنْ ثَلاَثَةٍ عَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَبْرَأَ وَعَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَعْقِلَ قَالَ بَلَى . قَالَ فَمَا بَالُ هَذِهِ تُرْجَمُ قَالَ لاَ شَىْءَ . قَالَ فَأَرْسِلْهَا . قَالَ فَأَرْسَلَهَا . قَالَ فَجَعَلَ يُكَبِّرُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৩৪৭. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একদা উমর (রাযিঃ) এর নিকট একজন পাগলীকে উপস্থিত করা হয়, যে যিনা করেছিল। তিনি সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করে, তাকে পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দেন। এ সময় আলী (রাযিঃ) সেখানে উপস্থিত হয়ে সে মহিলা সম্পর্কে জানতে চান। তখন তাকে বলা হয়ঃ সে অমুক গোত্রের একজন পাগল মাহিলা। সে যিনা করায়, তাকে পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তখন আলী (রাযিঃ) বলেনঃ তাকে ফিরিয়ে আনো।

উক্ত মহিলাকে ফিরিয়ে আনা হলে, আলী (রাযিঃ) উমর (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেনঃ হে আমীরুল মুমিনিন! আপনি কি অবগত নন যে, তিন ধরনের ব্যক্তি হতে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে? তারা হলোঃ (১) পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ হয় (২) নিদ্রিত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয় এবং (৩) নাবালেগ ছেলে মেয়ে যতক্ষণ না তারা বালেগ হয়। তখন উমর (রাযিঃ) বলেনঃ হ্যাঁ। আলী (রাযিঃ) জানতে চান, তবে কেন এই পাগলীকে পাথর মেরে হত্যা করা হচ্ছে? তখন উমর (রাযিঃ) বলেনঃ এখন আর এরূপ করা হবে না। আলী (রাযিঃ) বলেনঃ আপনি তাকে ছেড়ে দিন। তখন উমর (রাযিঃ) তাকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন এবং তাকবীর পাঠ করতে থাকেন।
4348

حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، نَحْوَهُ وَقَالَ أَيْضًا حَتَّى يَعْقِلَ . وَقَالَ وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يُفِيقَ . قَالَ فَجَعَلَ عُمَرُ يُكَبِّرُ .

Narrator: সুলাইমান আ‘মাশ (রহঃ)

৪৩৪৮. ইউসূফ ইবনে মুসা (রাযিঃ) .... আমাশ (রাহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি আরো বলেছেনঃ যতক্ষণ না সে জ্ঞান প্রাপ্ত হয়। আর তিনি পাগল সম্পর্কে বলেনঃ যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পায়। রাবী বলেনঃ একথা শুনে উমর (রাযিঃ) ″আল্লাহু আকবার″ বলেন।

4349

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مِهْرَانَ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مُرَّ عَلَى عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضى الله عنه بِمَعْنَى عُثْمَانَ . قَالَ أَوَمَا تَذْكُرُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلاَثَةٍ عَنِ الْمَجْنُونِ الْمَغْلُوبِ عَلَى عَقْلِهِ حَتَّى يُفِيقَ وَعَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَحْتَلِمَ " . قَالَ صَدَقْتَ قَالَ فَخَلَّى عَنْهَا سَبِيلَهَا .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৩৪৯. ইবনে সারহ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন আলী (রাযিঃ) এ সম্পর্কে জানতে পারেন তখন তিনি উমর (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেনঃ আপনি কি তা ভুলে গেছেন, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে তিন ব্যক্তি হতে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। যথাঃ

(১) পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ হয়
(২) নিদ্রিত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয় এবং
(৩) নাবালেগ ছেলে-মেয়ে যতক্ষণ না তারা বালেগ হয়।

একথা শোনার পর তিনি বলেনঃ আপনি সত্য বলেছেন। পরে তিনি সে মহিলাকে ছেড়ে দেন।
4350

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، - الْمَعْنَى - عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، - قَالَ هَنَّادٌ - الْجَنْبِيِّ قَالَ أُتِيَ عُمَرُ بِامْرَأَةٍ قَدْ فَجَرَتْ فَأَمَرَ بِرَجْمِهَا فَمَرَّ عَلِيٌّ رضى الله عنه فَأَخَذَهَا فَخَلَّى سَبِيلَهَا فَأُخْبِرَ عُمَرُ قَالَ ادْعُوا لِي عَلِيًّا . فَجَاءَ عَلِيٌّ رضى الله عنه فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ لَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلاَثَةٍ عَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَبْلُغَ وَعَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنِ الْمَعْتُوهِ حَتَّى يَبْرَأَ " . وَإِنَّ هَذِهِ مَعْتُوهَةُ بَنِي فُلاَنٍ لَعَلَّ الَّذِي أَتَاهَا أَتَاهَا وَهِيَ فِي بَلاَئِهَا . قَالَ فَقَالَ عُمَرُ لاَ أَدْرِي . فَقَالَ عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ وَأَنَا لاَ أَدْرِي .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪৩৫০. হান্নাদ (রাহঃ) .... আবু জায়বান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উমর (রাযিঃ) এর কাছে এমন একজন মহিলা আসে, যে যিনা করেছিল তিনি তাকে পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দেন। আলী (রাযিঃ) তখন সেখানে উপস্থিত হয়ে, যে মহিলাকে মুক্ত করে দেন। এ খবর উমর (রাযিঃ) এর নিকট পৌছালে তিনি আলী (রাযিঃ)-কে তার কাছে ডেকে পাঠান। তখন আলী (রাযিঃ) বলেনঃ হে আমীরুল মু’মিনিন। আপনি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। তারা হলোঃ নাবলেগ যতদিন না বালেগ হয়; (২) নিদ্রিত ব্যক্তি যতক্ষণ না জাগ্রত হয় এবং (৩) পাগল যতক্ষণ না জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়। মহিলাটি অমুক গোত্রের পাগলিনী। সম্ভবত তার এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে, কেউ তার সাথে যিনা করেছে। তখন উমর (রাযিঃ) বলেনঃ আমি এর কিছুই জানি না। আলী (রাযিঃ)ও বলেনঃ আমিও কিছুই জানি না।

4351

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ عَلِيٍّ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلاَثَةٍ عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَحْتَلِمَ وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَعْقِلَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ جُرَيْجٍ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَلِيٍّ رضى الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم زَادَ فِيهِ " وَالْخَرِفِ " .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪৩৫১. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তিন ব্যক্তি হতে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে। এরা হলোঃ

(১) নিদ্রিত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়;
(২) ছোট শিশু যতক্ষণ না সে বালেগ হয় এবং
(৩) পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ হয়।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ রাবী ইবনে জুবায়হ (রাহঃ) তার বর্ণনায় অতিরিক্ত বলেছেন যে, ঐ বৃদ্ধ-ব্যক্তি যার জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পেয়েছে, সেও এদের অন্তর্ভুক্ত।

১৭. নাবালেগ ছেলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করলে।

باب فِي الْغُلاَمِ يُصِيبُ الْحَدَّ

4352

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عُمَيْرٍ، حَدَّثَنِي عَطِيَّةُ الْقُرَظِيُّ، قَالَ كُنْتُ مِنْ سَبْىِ بَنِي قُرَيْظَةَ فَكَانُوا يَنْظُرُونَ فَمَنْ أَنْبَتَ الشَّعْرَ قُتِلَ وَمَنْ لَمْ يُنْبِتْ لَمْ يُقْتَلْ فَكُنْتُ فِيمَنْ لَمْ يُنْبِتْ .

Narrator: আতিয়্যা কুরাযী (রাঃ)

৪৩৫২. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আতিয়া কুরাযী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি কুরায়যা গোত্রের বন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম, (যাদের হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল). সে সময় লোকেরা তদন্ত করে দেখছিল এবং যাদের নাভীর নীচে চুল উঠেছিল, তাদের হত্যা করা হচ্ছিল। আর আমি তাদের দলভুক্ত ছিলাম, যাদের তখনো নাভীর নীচে পশম উঠেনি। ফলে আমাকে হত্যা করা হয় নি।

4353

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فَكَشَفُوا عَانَتِي فَوَجَدُوهَا لَمْ تَنْبُتْ فَجَعَلُونِي فِي السَّبْىِ .

Narrator: আতিয়্যা কুরাযী (রাঃ)

৪৩৫৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ইবনে উমায়র (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী আরো বলেনঃ এরপর তারা আমার লজ্জাস্থান উলঙ্গ করে দেখে যে, সেখানে কোন পশম গজায়নি। ফলে তারা আমাকে হত্যা না করে বন্দী করে রাখে।

4354

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عُرِضَهُ يَوْمَ أُحُدٍ وَهُوَ ابْنُ أَرْبَعَ عَشْرَةَ سَنَةً فَلَمْ يُجِزْهُ وَعُرِضَهُ يَوْمَ الْخَنْدَقِ وَهُوَ ابْنُ خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً فَأَجَازَهُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৩৫৪. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাকে উহুদের যুদ্ধেব সময় নবী করীম (ﷺ)-এর সামনে হাযির করা হয়, আর এ সময় তার বয়স ছিল মাত্র চৌদ্দ বছর। ফলে তিনি আমাকে যুদ্ধে অংশ গ্রহণের অনুমতি দেননি। এরপর তাকে নবী করীম (ﷺ)-এর সামনে খন্দকের যুদ্ধের সময় উপস্থিত করা হয়; আর এ সময় তার বয়স ছিল পনের বছর। তখন নবী (ﷺ) তাকে যুদ্ধে অংশ গ্রহণের অনুমতি দেন।

4355

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ نَافِعٌ حَدَّثْتُ بِهَذَا الْحَدِيثِ، عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَقَالَ إِنَّ هَذَا الْحَدُّ بَيْنَ الصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৩৫৫. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাবী নাফি (রাহঃ)-উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) হতে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ এ হলো প্রাপ্ত বয়ষ্কদের মাঝের সময়সীমা।

১৮. যুদ্ধের সফরে চুরি করলে হাত কাটা যাবে কি?

باب السَّارِقِ يَسْرِقُ فِي الْغَزْوِ أَيُقْطَعُ

4356

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، عَنْ عَيَّاشِ بْنِ عَبَّاسٍ الْقِتْبَانِيِّ، عَنْ شُيَيْمِ بْنِ بَيْتَانَ، وَيَزِيدَ بْنِ صُبْحٍ الأَصْبَحِيِّ، عَنْ جُنَادَةَ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ، قَالَ كُنَّا مَعَ بُسْرِ بْنِ أَرْطَاةَ فِي الْبَحْرِ فَأُتِيَ بِسَارِقٍ يُقَالُ لَهُ مِصْدَرٌ قَدْ سَرَقَ بُخْتِيَّةً فَقَالَ قَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ تُقْطَعُ الأَيْدِي فِي السَّفَرِ " . وَلَوْلاَ ذَلِكَ لَقَطَعْتُهُ .

Narrator: বিবিধ

৪৩৫৬. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... জুনাদা ইবনে আবু উমাইমা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা বুসর ইবনে আরতাত (রাযিঃ) এর সাথে সমুদ্রের সফরে ছিলাম। তখন তাঁর নিকট ’মিসদার’ নামক একজন চোরকে হাযির করা হয়, যে উট চুরি করেছিল। তখন তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা সফরে থাকাবস্থায় কোন চোরের হাত কাটবে না। যদি অবস্থা এরূপ না হতো, তাহলে অবশ্যই আমি তার হাত কেটে দিতাম।

১৯. কাফন চোরের হাত কাটা সম্পর্কে।

باب فِي قَطْعِ النَّبَّاشِ

4357

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ، عَنِ الْمُشَعَّثِ بْنِ طَرِيفٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَبَا ذَرٍّ " . قُلْتُ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ . فَقَالَ " كَيْفَ أَنْتَ إِذَا أَصَابَ النَّاسَ مَوْتٌ يَكُونُ الْبَيْتُ فِيهِ بِالْوَصِيفِ " . يَعْنِي الْقَبْرَ . قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ أَوْ مَا خَارَ اللَّهُ لِي وَرَسُولُهُ . قَالَ " عَلَيْكَ بِالصَّبْرِ " . أَوْ قَالَ " تَصْبِرُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ حَمَّادُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ يُقْطَعُ النَّبَّاشُ لأَنَّهُ دَخَلَ عَلَى الْمَيِّتِ بَيْتَهُ .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৪৩৫৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেনঃ হে আবু যর! তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি হাযির এবং আপনার নির্দেশের অপেক্ষা করছি। তিনি বলেনঃ তুমি সে সময় কি করবে, যখন ব্যাপকহারে লোক জন মারা যাবে এবং একটি গোলামের বিনিময়ে কবরের স্থান পাওয়া যাবে? তখন আমি বলিঃ এ ব্যাপারে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সমধিক অবহিত। তিনি বলেনঃ এ সময় তুমি সবর করবে, অথবা সবর করা উচিত!

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ রাবী হাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কাফন চোরেরও হাত কাটা যাবে; কেননা সে মৃতের আবাসগৃহে প্রবেশ করে চুরি করে।

২০. যে বার বার চুরি করে, তার শাস্তি সস্পর্কে।

باب فِي السَّارِقِ يَسْرِقُ مِرَارًا

4358

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عَقِيلٍ الْهِلاَلِيُّ، حَدَّثَنَا جَدِّي، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ ثَابِتِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ جِيءَ بِسَارِقٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " اقْتُلُوهُ " . فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا سَرَقَ . فَقَالَ " اقْطَعُوهُ " . قَالَ فَقُطِعَ ثُمَّ جِيءَ بِهِ الثَّانِيَةَ فَقَالَ " اقْتُلُوهُ " . فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا سَرَقَ . فَقَالَ " اقْطَعُوهُ " . قَالَ فَقُطِعَ ثُمَّ جِيءَ بِهِ الثَّالِثَةَ فَقَالَ " اقْتُلُوهُ " . فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا سَرَقَ . قَالَ " اقْطَعُوهُ " . ثُمَّ أُتِيَ بِهِ الرَّابِعَةَ فَقَالَ " اقْتُلُوهُ " . فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا سَرَقَ . قَالَ " اقْطَعُوهُ " . فَأُتِيَ بِهِ الْخَامِسَةَ فَقَالَ " اقْتُلُوهُ " . قَالَ جَابِرٌ فَانْطَلَقْنَا بِهِ فَقَتَلْنَاهُ ثُمَّ اجْتَرَرْنَاهُ فَأَلْقَيْنَاهُ فِي بِئْرٍ وَرَمَيْنَا عَلَيْهِ الْحِجَارَةَ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪৩৫৮. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক চোরকে নবী করীম (ﷺ)-এর সামনে হাযির করা হলে, তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। তখন সাহাবীগণ বলেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! এ লোক তো কেবল চুরি করেছে! তখন তিনি বলেনঃ তবে তার হাত কেটে দাও। তখন সে ব্যক্তির ডান হাত কেটে দেওয়া হয়।

এরপর সে দ্বিতীয়বার চুরি করলে, তাকে নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত করা হয় এবং তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। তখনও সাহাবীগণ বলেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! সে তো কেবল চুরি করেছে। তিনি বলেনঃ তার পা কেটে দাও। তখন তার বাম-পা কেটে ফেলা হয়। এরপর সে ব্যক্তিকে তৃতীয় বার নবী করীম (ﷺ)-এর সামনে পেশ করা হলে, তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। তখন সাহাবীগণ বলেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! সে তো চুরি করেছে।

এরপর তিনি হাত কাটার নির্দেশ দিলে, সে ব্যক্তির বাম-হাত কাটা হয়। পরে সে ব্যক্তিকে চতুর্থবার নবী (ﷺ)-এর সামনে পেশ করা হলে, তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। তখনও সাহাবীগণ বলেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! এ ব্যক্তি তো চুরি করেছে। তখন তিনি পা কাটার নির্দেশ দিলে তার ডান-পা কেটে ফেলা হয়।

এরপর সে ব্যক্তিকে পঞ্চমবারের অপরাধের কারণে নবী (ﷺ)-এর সামনে হাযির করা হলে, তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। জাবির (রাযিঃ) বলেনঃ এরপর আমরা তাকে প্রান্তরে নিয়ে হত্যা করি এবং তার লাশ টেনে কূপের কাছে নিয়ে তাতে নিক্ষেপ করি। পরে তার মৃত দেহের উপর পাথর নিক্ষেপ করি।

২১. চোরের কাটা হাত তার গলায় ঝুলানো সম্পর্কে।

باب فِي السَّارِقِ تُعَلَّقُ يَدُهُ فِي عُنُقِهِ

4359

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَيْرِيزٍ، قَالَ سَأَلْنَا فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ عَنْ تَعْلِيقِ الْيَدِ، فِي الْعُنُقِ لِلسَّارِقِ أَمِنَ السُّنَّةِ هُوَ قَالَ أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِسَارِقٍ فَقُطِعَتْ يَدُهُ ثُمَّ أُمِرَ بِهَا فَعُلِّقَتْ فِي عُنُقِهِ .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে মুহায়রিয (রহঃ)

৪৩৫৯. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে মুহায়রীয (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি ফুযালা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাহঃ)-কে, চোরের হাত কেটে তার গলায় ঝুলানো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেনঃ একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট একজন চোরকে হাযির করা হলে, তার হাত কাটা হয়। এরপর তিনি তার কর্তিত হাত চোরের গালায় ঝুলিয়ে দিতে বলেন।

4360

حَدَّثَنَا مُوسَى، - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ - حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا سَرَقَ الْمَمْلُوكُ فَبِعْهُ وَلَوْ بِنَشٍّ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৩৬০. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কোন গোলাম চুরি করবে, তখন তাকে বিক্রি করে দাও, অর্ধেক মূল্য হলেও।

২২. পাথর মেরে হত্যা করা সম্পর্কে।

باب فِي الرَّجْمِ

4361

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ( وَاللاَّتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِنْ نِسَائِكُمْ فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةً مِنْكُمْ فَإِنْ شَهِدُوا فَأَمْسِكُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ حَتَّى يَتَوَفَّاهُنَّ الْمَوْتُ أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلاً ) وَذَكَرَ الرَّجُلَ بَعْدَ الْمَرْأَةِ ثُمَّ جَمَعَهُمَا فَقَالَ ( وَاللَّذَانِ يَأْتِيَانِهَا مِنْكُمْ فَآذُوهُمَا فَإِنْ تَابَا وَأَصْلَحَا فَأَعْرِضُوا عَنْهُمَا ) فَنَسَخَ ذَلِكَ بِآيَةِ الْجَلْدِ فَقَالَ ( الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ ) .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৩৬১. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ কুরআনের এ আয়াত- ″তোমাদের মাঝে যে সব মহিলারা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তাদের জন্য চারজন সাক্ষী নির্ধারিত কর। যদি তারা সে মহিলার ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার পক্ষে সাক্ষী দেয়, তবে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে ঘরে আব্দ্ধ করে রাখ, অথবা যতক্ষণ না আল্লাহ তার জন্য অন্য কোন ব্যবস্থা করে দেন।″

মহিলাদের পরে পুরুষদের কথা উল্লেখ করার পর, উভয়ের কথা একত্রে কুরআনে এরূপ বর্ণিত হয়েছেঃ তোমাদের মাঝে যে পুরুষ ও মহিলা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তাদের শাস্তি প্রদান কর। আর যদি তারা তাওবা করে এবং ভাল হয়ে যায়, তবে তাদের ক্ষমা কর। এ আয়াতটি দুররার আয়াত নাযিল হওয়ার পর বাতিল হয়ে গেছে। আয়াতটি হলোঃ যিনাকারী পুরুষ ও যিনাকারিণী স্ত্রী লোককে একশতটি বেত্রাদণ্ড প্রদান কর।
4362

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ، حَدَّثَنَا مُوسَى، - (يَعْنِي ابْنَ مَسْعُودٍ) - عَنْ شِبْلٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ السَّبِيلُ الْحَدُّ

Narrator: মুজাহিদ ইবনে জাবর (রহঃ)

৪৩৬২. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... মুজাহিদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ পূর্ববর্তী হাদীসে যে ’সাবীল’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, এর অর্থ হলো- ’হদ’ বা আল্লাহ প্রদত্ত শাস্তির বিধান।

4363

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خُذُوا عَنِّي خُذُوا عَنِّي قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلاً الثَّيِّبُ بِالثَّيِّبِ جَلْدُ مِائَةٍ وَرَمْىٌ بِالْحِجَارَةِ وَالْبِكْرُ بِالْبِكْرِ جَلْدُ مِائَةٍ وَنَفْىُ سَنَةٍ " .

Narrator: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

৪৩৬৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার কাছ থেকে শিখে নাও, আমার কাছ থেকে শিখে নাও, আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য সাবীল বা পথ নির্ধারিত করে দিয়েছেন। যদি বিবাহিত পুরুষ-বিবাহিতা স্ত্রীর সাথে যিনা করে, তবে তাদের শাস্তি হলো-একশত বেত্রাদণ্ড এবং পাথর মেরে হত্যা। আর যদি অবিবাহিত পুরুষ-কোন অবিবাহিতা স্ত্রীর সাথে যিনা করে, তবে তাদের শাস্তি হলো-একশত বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য দেশ থেকে বহিষ্কার।

4364
حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ بْنِ سُفْيَانَ، قَالاَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الْحَسَنِ، بِإِسْنَادِ يَحْيَى وَمَعْنَاهُ قَالاَ " جَلْدُ مِائَةٍ وَالرَّجْمُ "

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ الطَّائِيُّ، حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ رَوْحِ بْنِ خُلَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدٍ، - يَعْنِي الْوَهْبِيَّ - حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دَلْهَمٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبَّقِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ نَاسٌ لِسَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ يَا أَبَا ثَابِتٍ قَدْ نَزَلَتِ الْحُدُودُ لَوْ أَنَّكَ وَجَدْتَ مَعَ امْرَأَتِكَ رَجُلاً كَيْفَ كُنْتَ صَانِعًا قَالَ كُنْتُ ضَارِبَهُمَا بِالسَّيْفِ حَتَّى يَسْكُتَا أَفَأَنَا أَذْهَبُ فَأَجْمَعُ أَرْبَعَةَ شُهَدَاءَ فَإِلَى ذَلِكَ قَدْ قَضَى الْحَاجَةَ ‏.‏ فَانْطَلَقُوا فَاجْتَمَعُوا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَمْ تَرَ إِلَى أَبِي ثَابِتٍ قَالَ كَذَا وَكَذَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ كَفَى بِالسَّيْفِ شَاهِدًا ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ لاَ لاَ أَخَافُ أَنْ يَتَتَايَعَ فِيهَا السَّكْرَانُ وَالْغَيْرَانُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى وَكِيعٌ أَوَّلَ هَذَا الْحَدِيثِ عَنِ الْفَضْلِ بْنِ دَلْهَمٍ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ حُرَيْثٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبَّقِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ وَإِنَّمَا هَذَا إِسْنَادُ حَدِيثِ ابْنِ الْمُحَبَّقِ أَنَّ رَجُلاً وَقَعَ عَلَى جَارِيَةِ امْرَأَتِهِ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْفَضْلُ بْنُ دَلْهَمٍ لَيْسَ بِالْحَافِظِ كَانَ قَصَّابًا بِوَاسِطَ ‏.‏

Narrator: হাসান বসরী (রহঃ)

৪৩৬৪. ওয়াহাব ইবনে বাকীয়্যা (রাহঃ) .... হাসান (রাহঃ) থেকে উপরোক্ত হাদীসের সনদে ও অর্থে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেনঃ যিনাকারী পুরুষ ও মহিলার শাস্তি হলো একশত বেত্রাদণ্ড এবং পাথর মেরে হত্যা।

উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) থেকে নবী (ﷺ) সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। লোকজন সা’দ ইবনু উবাদাহ (রাঃ)-কে বললো, হে সাবিতের পিতা! হাদ্দ সংক্রান্ত আয়াত নাযিল হয়েছে। অতএব আপনি যদি আপনার স্ত্রীর সঙ্গে কোনো পুরুষ লোককে দেখতে পান তাহলে আপনি কি করবেন? তিনি বলেন, আমি তরবারির আঘাতে উভয়কে নিস্তব্ধ করে দিতাম। আমি কি যাবো এবং চারজন সাক্ষী একত্র করবো, আর এ সুযোগে তারা তাদের অপকর্ম সেরে নিবে?

অতএব তারা গিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট একত্র হয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি সাবিতের পিতাকে দেখেননি, তিনি এই এই কথা বলেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তরবারিই যথেষ্ট সাক্ষী। অতঃপর তিনি বলেন, না না, আমি আশঙ্কা করি যে, কোনো উন্মত্ত ও আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন লোকই এ পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারে। আরেক বর্ণনায় রয়েছেঃ এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর ক্রীতদাসীর সঙ্গে সংগমে লিপ্ত হয়।’ ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, আল-ফাদল ইবনু দালহাম হাদীসের হাফিয নন। তিনি ওয়াসিত অঞ্চলের কসাই ছিলেন।
4365

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ عُمَرَ، - يَعْنِي ابْنَ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه خَطَبَ فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ بَعَثَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بِالْحَقِّ وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ الْكِتَابَ فَكَانَ فِيمَا أَنْزَلَ عَلَيْهِ آيَةُ الرَّجْمِ فَقَرَأْنَاهَا وَوَعَيْنَاهَا وَرَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَجَمْنَا مِنْ بَعْدِهِ وَإِنِّي خَشِيتُ - إِنْ طَالَ بِالنَّاسِ الزَّمَانُ - أَنْ يَقُولَ قَائِلٌ مَا نَجِدُ آيَةَ الرَّجْمِ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَيَضِلُّوا بِتَرْكِ فَرِيضَةٍ أَنْزَلَهَا اللَّهُ تَعَالَى فَالرَّجْمُ حَقٌّ عَلَى مَنْ زَنَى مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ إِذَا كَانَ مُحْصَنًا إِذَا قَامَتِ الْبَيِّنَةُ أَوْ كَانَ حَمْلٌ أَوِ اعْتِرَافٌ وَايْمُ اللَّهِ لَوْلاَ أَنْ يَقُولَ النَّاسُ زَادَ عُمَرُ فِي كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ لَكَتَبْتُهَا .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৩৬৫. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) খুতবা দেওয়ার সময় বলেন যে, মহান আল্লাহ মুহাম্মাদ (ﷺ)কে সত্য নবী হিসাবে প্রেরণ করেন এবং তাঁর উপর কিতাবও নাযিল করেন, যাতে রজমের নির্দেশ আছে। আমরা তা তিলাওয়াত করে ভালভাবে মুখস্থ করেছি।

স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রজম করেছেন এবং তাঁর পরে আমরাও রজম করেছি। এখন আমার সন্দেহ হচ্ছে যে, দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার কারণে হয়তো কেউ এরূপ বলবেঃ আমরা আল্লাহর কিতাবে রজম সম্পর্কে কোন নির্দেশ পাই না। ফলে তারা আল্লাহর একটি ফরয নির্দেশ পরিত্যাগ করার কারণে গুমরাহ হয়ে যাবে।

এরপর তিনি বলেনঃ যে সব নর-নারী যিনায় লিপ্ত হয়, তাদের জন্য রজমের নির্দেশ আছে; যদি সে বিবাহিত হয়, যদি সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়, অথবা গর্ভবতী হয়, অথবা সে নিজে তা স্বীকার করে। আল্লাহর শপথ! যদি লোকেরা এরূপ বলাবলি না করতো যে, উমর আল্লাহর কিতাবে অতিরিক্ত যোগ করেছে, তবে আমি রজমের আয়াত লিখে দিতাম।
4366

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ نُعَيْمِ بْنِ هَزَّالٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ مَاعِزُ بْنُ مَالِكٍ يَتِيمًا فِي حِجْرِ أَبِي . فَأَصَابَ جَارِيَةً مِنَ الْحَىِّ فَقَالَ لَهُ أَبِي ائْتِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبِرْهُ بِمَا صَنَعْتَ لَعَلَّهُ يَسْتَغْفِرُ لَكَ وَإِنَّمَا يُرِيدُ بِذَلِكَ رَجَاءَ أَنْ يَكُونَ لَهُ مَخْرَجًا فَأَتَاهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي زَنَيْتُ فَأَقِمْ عَلَىَّ كِتَابَ اللَّهِ . فَأَعْرَضَ عَنْهُ فَعَادَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي زَنَيْتُ فَأَقِمْ عَلَىَّ كِتَابَ اللَّهِ . حَتَّى قَالَهَا أَرْبَعَ مِرَارٍ . قَالَ صلى الله عليه وسلم " إِنَّكَ قَدْ قُلْتَهَا أَرْبَعَ مَرَّاتٍ فَبِمَنْ " . قَالَ بِفُلاَنَةَ . قَالَ " هَلْ ضَاجَعْتَهَا " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " هَلْ بَاشَرْتَهَا " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " هَلْ جَامَعْتَهَا " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ فَأَمَرَ بِهِ أَنْ يُرْجَمَ فَأُخْرِجَ بِهِ إِلَى الْحَرَّةِ . فَلَمَّا رُجِمَ فَوَجَدَ مَسَّ الْحِجَارَةِ جَزِعَ فَخَرَجَ يَشْتَدُّ فَلَقِيَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُنَيْسٍ وَقَدْ عَجَزَ أَصْحَابُهُ فَنَزَعَ لَهُ بِوَظِيفِ بَعِيرٍ فَرَمَاهُ بِهِ فَقَتَلَهُ ثُمَّ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " هَلاَّ تَرَكْتُمُوهُ لَعَلَّهُ أَنْ يَتُوبَ فَيَتُوبَ اللَّهُ عَلَيْهِ " .

Narrator: আব্দুল্লাহ বিন উনাইস (রাঃ)

৪৩৬৬. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) .... ইয়াযীদ ইবনে নুআয়েম ইবনে হুযাল (রাহঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ মা’ইয ইবনে মালিক ইয়াতীম ছিলেন এবং তিনি আমার পিতার নিকট লালিত-পালিত হন। একদা তিনি মহল্লার একটি মেয়ের সাথে ব্যভিচার করেন। তখন আমার পিতা তাকে বলেনঃ তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট যাও এবং অবস্থা সম্পর্কে তাঁকে অবহিত কর। সম্ভবতঃ তিনি তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন-তোমার অপকর্মের জন্য। আর তার এরূপ বলার উদ্দেশ্য এই ছিল যে, যাতে মা’ইযের নাজাতের কোন ব্যবস্থা হয়ে যায়।

এরপর মা’ইয (রাযিঃ) তাঁর নিকট যান এবং বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যিনা করেছি, আপনি আমার উপর আল্লাহর কিতাবের হুকুম কার্যকরী করুন। একথা শুনে নবী (ﷺ) তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তিনি দ্বিতীয়বার বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যিনা করেছি, আপনি আমার উপর আল্লাহর কিতাবের হুকুম কার্যকরী করুন। এ ভাবে তিনি চারবার তার ক্রটির কথা স্বীকার করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তুমি তো চারবার তোমার দোষের কথা স্বীকার করেছ। এখন বলঃ তুমি কার সাথে যিনা করেছ? তখন তিনি বলেনঃ অমুক মেয়ের সাথে।

তখন নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি তার সাথে শয়ন করেছিলে? মা’ইয বলেনঃ হ্যাঁ। নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি কি তার সাথে মিলিত হয়েছিলে? মা’ইয বলেনঃ হ্যাঁ। এরপর নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি তার সাথে সঙ্গম করেছিলে? মা’ইয বলেনঃ হ্যাঁ। এ সব শুনে নবী (ﷺ) তাকে রজম বা পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দেন।

তাকে হাররা নামক স্থানে নেয়া হয় এবং পাথর মারা শুরু হলে ভয়ে অস্থির হয়ে তিনি পালাতে থাকেন। এ সময় আব্দুল্লাহ ইবনে উনায়স তাকে কাবু করে ফেলেন। তাঁর সঙ্গী ক্লান্ত হয়ে পড়ায়, তিনি উটের খুর দিয়ে তাকে আঘাত করে হত্যা করেন। এরপর তিনি নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে এ ঘটনা বর্ণনা করলে, তিনি বলেনঃ তোমরা তাকে কেন ছেড়ে দিলে না? সে হয়তো খালিস তাওবা করতো এবং আল্লাহ তাকে মাফ করে দিত।
4367

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، قَالَ ذَكَرْتُ لِعَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ قِصَّةَ مَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ فَقَالَ لِي حَدَّثَنِي حَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ حَدَّثَنِي ذَلِكَ، مِنْ قَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَهَلاَّ تَرَكْتُمُوهُ " . مَنْ شِئْتُمْ مِنْ رِجَالِ أَسْلَمَ مِمَّنْ لاَ أَتَّهِمُ . قَالَ وَلَمْ أَعْرِفْ هَذَا الْحَدِيثَ قَالَ فَجِئْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ فَقُلْتُ إِنَّ رِجَالاً مِنْ أَسْلَمَ يُحَدِّثُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُمْ حِينَ ذَكَرُوا لَهُ جَزَعَ مَاعِزٍ مِنَ الْحِجَارَةِ حِينَ أَصَابَتْهُ " أَلاَّ تَرَكْتُمُوهُ " . وَمَا أَعْرِفُ الْحَدِيثَ قَالَ يَا ابْنَ أَخِي أَنَا أَعْلَمُ النَّاسِ بِهَذَا الْحَدِيثِ كُنْتُ فِيمَنْ رَجَمَ الرَّجُلَ إِنَّا لَمَّا خَرَجْنَا بِهِ فَرَجَمْنَاهُ فَوَجَدَ مَسَّ الْحِجَارَةِ صَرَخَ بِنَا يَا قَوْمِ رُدُّونِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنَّ قَوْمِي قَتَلُونِي وَغَرُّونِي مِنْ نَفْسِي وَأَخْبَرُونِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَيْرُ قَاتِلِي فَلَمْ نَنْزِعْ عَنْهُ حَتَّى قَتَلْنَاهُ فَلَمَّا رَجَعْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَخْبَرْنَاهُ قَالَ " فَهَلاَّ تَرَكْتُمُوهُ وَجِئْتُمُونِي بِهِ " . لِيَسْتَثْبِتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهُ فَأَمَّا لِتَرْكِ حَدٍّ فَلاَ قَالَ فَعَرَفْتُ وَجْهَ الْحَدِيثِ .

Narrator: মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রহঃ)

৪৩৬৭. উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর (রাহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আসিম ইবনে আমর ইবনে কাতাদা (রাহঃ)-এর নিকট মা’ইয ইবনে মালিক (রাযিঃ)-এর ঘটনা বর্ণনা করি। তখন তিনি বলেনঃ হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) আমার নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ হাদীস বর্ণনা করেন যে, তোমরা আসলামের লোকদের মধ্য হতে তাকে পরিত্যাগ করনি। আমি অবশ্য এ জন্য তাদের দোষারোপ করি না।

রাবী বলেনঃ আমি হাদীসের এ অর্থ বুঝতে না পারায় জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ)-এর নিকট যাই এবং বলিঃ আসলাম গোত্রের কোন কোন লোক এ হাদীস বর্ণনা করে যে, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে মা’ইযের পাথরের আঘাত প্রাপ্তির, তার ভীতি-জনক অবস্থার কথা বর্ণনা করা হয়, তখন তিনি বলেনঃ তোমরা তাকে কেন ছেড়ে দিলে না? আমি এ হাদীসের অর্থ বুঝতে অক্ষম।

তখন জাবির (রাযিঃ) বলেনঃ হে প্রিয় ভ্রাতুষ্পুত্র! আমি এ হাদীস সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ এবং মা’ইযের রজমকারীদের মাঝে আমি অন্যতম। এরপর তিনি বলেনঃ আমরা তাকে ময়দানে নিয়ে যখন পাথর মারা শুরু করি, তখন সে স্থির হয়ে চিৎকার করে বলে যে, হে জনগণ! তোমরা আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ফিরিয়ে নিয়ে চল। কেননা আমার গোত্রের লোকেরা আমাকে মেরে ফেলার জন্য ধোঁকাবাজী করেছে। তারা আমাকে বলেছিলঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে হত্যার নির্দেশ দেবেন না। কিন্তু তার এ কথার প্রতি আমরা কর্ণপাত না করে, তাকে হত্যা করে ফেলি।

আমরা ফিরে এসে এ সম্পর্কে নবী (ﷺ)-কে অবহিত করলে তিনি বলেনঃ তোমরা তাকে কেন ছেড়ে দিলে না এবং কেন আমার কাছে আনলে না? যাতে তিনি তাকে শাস্তি কবুল করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। কাজেই, নবী (ﷺ)-এর এ নির্দেশ শাস্তি মাফ করার জন্য ছিল না। এরপর রাবী মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রাহঃ) বলেনঃ এখন আমি সঠিকভাবে হাদীসের অর্থ বুঝতে পারলাম।
4368

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي الْحَذَّاءَ - عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ مَاعِزَ بْنَ مَالِكٍ، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّهُ زَنَى . فَأَعْرَضَ عَنْهُ فَأَعَادَ عَلَيْهِ مِرَارًا فَأَعْرَضَ عَنْهُ فَسَأَلَ قَوْمَهُ " أَمَجْنُونٌ هُوَ " . قَالُوا لَيْسَ بِهِ بَأْسٌ . قَالَ " أَفَعَلْتَ بِهَا " . قَالَ نَعَمْ . فَأَمَرَ بِهِ أَنْ يُرْجَمَ فَانْطُلِقَ بِهِ فَرُجِمَ وَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৩৬৮. আবু কামিল (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মা’ইয ইবনে মালিক (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেঃ সে যিনা করেছে। তখন নবী (ﷺ) তাঁর মুখ ফিরিয়ে নেন। এ ভাবে মা’ইয (রাযিঃ) কয়েক বার এরূপ স্বীকারোক্তি করতে থাকলে নবী (ﷺ)ও তাঁর মুখ ফিরিয়ে নিতে থাকেন। অবশেষে তিনি লোকদের জিজ্ঞাসা করেনঃ লোকটা কি পাগল? তারা বলেনঃ না, এ ধরনের কোন লক্ষণ তার মধ্যে নেই। তখন নবী (ﷺ) মা’ইয (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি সে মহিলার সাথে যিনা করেছ? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। তখন নবী (ﷺ) পাথর মেরে তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। এরপর লোকেরা তাকে ময়দানে নিয়ে পাথর মেরে হত্যা করে। তাঁর জানাযার নামায আদায় করা হয়নি।

4369

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ رَأَيْتُ مَاعِزَ بْنَ مَالِكٍ حِينَ جِيءَ بِهِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً قَصِيرًا أَعْضَلَ لَيْسَ عَلَيْهِ رِدَاءٌ فَشَهِدَ عَلَى نَفْسِهِ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ أَنَّهُ قَدْ زَنَى . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَلَعَلَّكَ قَبَّلْتَهَا " . قَالَ لاَ وَاللَّهِ إِنَّهُ قَدْ زَنَى الآخِرُ . قَالَ فَرَجَمَهُ ثُمَّ خَطَبَ فَقَالَ " أَلاَ كُلَّمَا نَفَرْنَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ خَلَفَ أَحَدُهُمْ لَهُ نَبِيبٌ كَنَبِيبِ التَّيْسِ يَمْنَحُ إِحْدَاهُنَّ الْكُثْبَةَ أَمَا إِنَّ اللَّهَ إِنْ يُمَكِّنِّي مِنْ أَحَدٍ مِنْهُمْ إِلاَّ نَكَلْتُهُ عَنْهُنَّ " .

Narrator: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

৪৩৬৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মা’ইয ইবনে মালিক (রাযিঃ)-কে তখন দেখি, যখন তাকে নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত করা হয়। তিনি খর্বাকৃতি বিশিষ্ট স্থুল দেহী লোক ছিলেন এবং সে সময় তার দেহে কোন চাদর ছিল না। তিনি চারবার এরূপ স্বীকারোক্তি করেন যে, আমি যিনা করেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সম্ভবতঃ তুমি তাকে চুম্বন করেছ। মা’ইয (রাযিঃ) বলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি যিনা করেছি। তখন নবী (ﷺ) পাথর মেরে তাকে হত্যার নির্দেশ দেন।

এরপর নবী (ﷺ) খুতবা দেওয়ার সময় বলেনঃ যখন আমরা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের উদ্দেশ্যে সফর করি, তখন কাফিলার পেছনে তদারককারী এক ব্যক্তি থাকে, যে বকরীর মত শব্দ করে এবং সুযোগমত কোন মহিলার সাথে শয়তানী চক্রান্তের ফলে যিনায় লিপ্ত হয়। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা শুনে রাখ, যদি মহান আল্লাহ আমাকে শক্তি দান করেন, তবে আমি ঐ ব্যক্তিকে মহিলাদের সাথে অপকর্মে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত রাখবো।
4370

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ، بِهَذَا الْحَدِيثِ وَالأَوَّلُ أَتَمُّ قَالَ فَرَدَّهُ مَرَّتَيْنِ . قَالَ سِمَاكٌ فَحَدَّثْتُ بِهِ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ فَقَالَ إِنَّهُ رَدَّهُ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ .

Narrator: সিমাক ইবনে হারব (রহঃ)

৪৩৭০. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) .... সিমাক (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস শ্রবণ করেছি কিন্তু প্রথম হাদীসটি সম্পূর্ণ। রাবী বলেনঃ নবী (ﷺ) দু’বার মা’ইযের কথাকে প্রত্যাখ্যান করেন।

রাবী সিমাক (রাহঃ) বলেনঃ সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাযিঃ) এ হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন যে, নবী করীম (ﷺ) মা’ইয (রাযিঃ) এর স্বীকারোক্তিকে চারবার প্রত্যাখ্যান করেন।
4371

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْغَنِيِّ بْنُ أَبِي عَقِيلٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - قَالَ قَالَ شُعْبَةُ فَسَأَلْتُ سِمَاكًا عَنِ الْكُثْبَةِ فَقَالَ اللَّبَنُ الْقَلِيلُ .

Narrator: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৪৩৭১. আব্দুল গণী (রাহঃ) .... শুবা (রাহঃ) বলেনঃ আমি রাবী সিমাক (রাহঃ) কে ’কুছবা’ শব্দের অর্থ জিজ্ঞাসা করি। তখন তিনি বলেনঃ ’কুছবা’ শব্দের অর্থ হলো অল্প দুধ, অর্থাৎ মনি বা বীর্য, (যা সহবাসকালে নির্গত হয়)।

4372

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِمَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ " أَحَقٌّ مَا بَلَغَنِي عَنْكَ " . قَالَ وَمَا بَلَغَكَ عَنِّي قَالَ " بَلَغَنِي عَنْكَ أَنَّكَ وَقَعْتَ عَلَى جَارِيَةِ بَنِي فُلاَنٍ " . قَالَ نَعَمْ . فَشَهِدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ فَأَمَرَ بِهِ فَرُجِمَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৩৭২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মা’ইয ইবনে মালিক (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার সম্পর্কে আমাকে যা বলা হয়েছে, তা কি সত্য? তিনি বলেনঃ আপনি আমার সম্পর্কে কি জেনেছেন? নবী (ﷺ) বলেনঃ আমি জানতে পেরেছি তুমি অমুক গোত্রের জনৈক দাসীর সাথে যিনা করেছ। মা’ইয (রাযিঃ) বলেনঃ হ্যাঁ; এ ভাবে তিনি চারবার স্বীকারোক্তি করলে নবী (ﷺ) তাকে পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দেন।

4373

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَ مَاعِزُ بْنُ مَالِكٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَاعْتَرَفَ بِالزِّنَا مَرَّتَيْنِ فَطَرَدَهُ ثُمَّ جَاءَ فَاعْتَرَفَ بِالزِّنَا مَرَّتَيْنِ فَقَالَ " شَهِدْتَ عَلَى نَفْسِكَ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ اذْهَبُوا بِهِ فَارْجُمُوهُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৩৭৩. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা মা’ইয ইবনে মালিক (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে দু’বার যিনায় লিপ্ত হওয়ার কথা স্বীকার করলে, তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর মা’ইয (রাযিঃ) পুনরায় নবী (ﷺ) এর কাছে এসে দু’বার যিনার কথা স্বীকার করেন। তখন তিনি বলেনঃ তুমি নিজেই চারবার যিনার কথা স্বীকার করেছ। তখন তিনি সাহাবীদের বলেনঃ তোমরা একে নিয়ে যাও এবং পাথর মেরে হত্যা কর।

4374

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، حَدَّثَنِي يَعْلَى، عَنْ عِكْرِمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ح وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ وَعُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ قَالاَ حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ سَمِعْتُ يَعْلَى بْنَ حَكِيمٍ يُحَدِّثُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِمَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ " لَعَلَّكَ قَبَّلْتَ أَوْ غَمَزْتَ أَوْ نَظَرْتَ " . قَالَ لاَ . قَالَ " أَفَنِكْتَهَا " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ فَعِنْدَ ذَلِكَ أَمَرَ بِرَجْمِهِ . وَلَمْ يَذْكُرْ مُوسَى عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَهَذَا لَفْظُ وَهْبٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৩৭৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) মা’ইয ইবনে মালিক (রাযিঃ)-কে বলেনঃ সন্তবতঃ তুমি তাকে চুম্বন করেছ, নয়তো স্পর্শ করেছ, অথবা তার দিকে খারাপ দৃষ্টিতে তাকিয়েছ। তখন মা’ইয (রাযিঃ) বলেনঃ না। নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ তবে কি তুমি তার সাথে সঙ্গম করেছ। তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। এ কথা শুনে নবী (ﷺ) তাকে পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দেন। রাবী মুসা ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে এরূপ বর্ণনা করেননি বরং রাবী ওয়াহাব নিজেই এরূপ বর্ণনা করেছেন।

4375
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الصَّامِتِ ابْنَ عَمِّ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ جَاءَ الأَسْلَمِيُّ إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَشَهِدَ عَلَى نَفْسِهِ أَنَّهُ أَصَابَ امْرَأَةً حَرَامًا أَرْبَعَ مَرَّاتٍ كُلُّ ذَلِكَ يُعْرِضُ عَنْهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَقْبَلَ فِي الْخَامِسَةِ فَقَالَ " أَنِكْتَهَا " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " حَتَّى غَابَ ذَلِكَ مِنْكَ فِي ذَلِكَ مِنْهَا " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " كَمَا يَغِيبُ الْمِرْوَدُ فِي الْمُكْحُلَةِ وَالرِّشَاءُ فِي الْبِئْرِ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " فَهَلْ تَدْرِي مَا الزِّنَا " . قَالَ نَعَمْ أَتَيْتُ مِنْهَا حَرَامًا مَا يَأْتِي الرَّجُلُ مِنِ امْرَأَتِهِ حَلاَلاً . قَالَ " فَمَا تُرِيدُ بِهَذَا الْقَوْلِ " . قَالَ أُرِيدُ أَنْ تُطَهِّرَنِي . فَأَمَرَ بِهِ فَرُجِمَ فَسَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَجُلَيْنِ مِنْ أَصْحَابِهِ يَقُولُ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ انْظُرْ إِلَى هَذَا الَّذِي سَتَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَلَمْ تَدَعْهُ نَفْسُهُ حَتَّى رُجِمَ رَجْمَ الْكَلْبِ . فَسَكَتَ عَنْهُمَا ثُمَّ سَارَ سَاعَةً حَتَّى مَرَّ بِجِيفَةِ حِمَارٍ شَائِلٍ بِرِجْلِهِ فَقَالَ " أَيْنَ فُلاَنٌ وَفُلاَنٌ " . فَقَالاَ نَحْنُ ذَانِ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " انْزِلاَ فَكُلاَ مِنْ جِيفَةِ هَذَا الْحِمَارِ " . فَقَالاَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَنْ يَأْكُلُ مِنْ هَذَا قَالَ " فَمَا نِلْتُمَا مِنْ عِرْضِ أَخِيكُمَا آنِفًا أَشَدُّ مِنْ أَكْلٍ مِنْهُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهُ الآنَ لَفِي أَنْهَارِ الْجَنَّةِ يَنْقَمِسُ فِيهَا " .

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنِ ابْنِ عَمِّ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، بِنَحْوِهِ زَادَ وَاخْتَلَفُوا فَقَالَ بَعْضُهُمْ رُبِطَ إِلَى شَجَرَةٍ وَقَالَ بَعْضُهُمْ وَقَفَ ‏.‏

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৩৭৫. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে স্বীকার করে যে, সে হারামভাবে একজন মহিলার সাথে যিনা করেছে, আর সে ব্যক্তি চারবার এরূপ স্বীকারোক্তি করে। কিন্তু নবী (ﷺ) প্রতিবারই তার কথা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর সে ব্যক্তি পঞ্চমবারের মত স্বীকারোক্তি করার জন্য হাযির হলে, নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি তার সাথে সঙ্গম করেছ? তখন সে বলেঃ হ্যাঁ। তখন নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার গুপ্তাঙ্গ কি তার গুপ্তাঙ্গের মধ্যে অদৃশ্য হয়েছিল? সে বলেঃ হ্যাঁ। তখন নবী (ﷺ) তাকে আবার জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার গুপ্তাঙ্গ কি তার গুপ্তাঙ্গের মধ্যে এরূপ অদৃশ্য হয়েছিল, যেমন সুরমা দানির মধ্যে তার শলাকা বা কূপের মধ্যে রশি অদৃশ্য হয়ে যায়? তখন সে ব্যক্তি বলেঃ হ্যাঁ।

তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি কি জান, যিনা কী? সে বলেঃ যেরূপ কেউ হালাল ভাবে তার স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে, আমি এরূপই হারামভাবে তার সাথে সঙ্গম করেছি। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ এখন তুমি কিসের ইচ্ছা পোষণ কর? সে ব্যক্তি বলেঃ আমি আশা করি, আপনি আমাকে পবিত্র করবেন। এরপর নবী করীম (ﷺ) তাকে ’রজম’ করার নির্দেশ দিলে, তা কার্যকরী করা হয়।

এরপর নবী (ﷺ) তাঁর দু’জন সাহাবীকে এরূপ বলতে শোনেন, যাদের একজন এরূপ বলছিল; আল্লাহ তাআলা তার গুনাহকে গোপন রেখেছিলেন, কিন্তু সে ব্যক্তি নিজে তা প্রকাশ করায় কুকুরের মত মৃত্যুবরণ করলো। একথা শুনে নবী (ﷺ) চুপ থাকেন। এরপর সামনে কিছু দূর গমনের পর তিনি দেখতে পান যে, একটি মৃত গাধা পড়ে আছে, যার পা উপরের দিকে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ অমুক, অমুক ব্যক্তি কোথায়?

তখন তারা দু’জন সেখানে হাযির হয়ে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা উপস্থিত। তখন তিনি তাদের বলেনঃ এসো এবং তোমরা এ মৃত গাধার গোশত ভক্ষণ কর। তখন তারা দু’জন বলেঃ হে আল্লাহর নবী! ইহা কে ভক্ষণ করে থাকে? তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা তোমাদের ভাইয়ের ক্রটি যেভাবে আলেচনা করেছ, তা এই মরা গাধার গোশত খাওয়ার চাইতেও গুরুতর! আল্লাহর শপথ! যার নিয়ন্ত্রণে আমার জীবন; তোমরা শুনে নাও! মা’ইয (রাযিঃ) এখন জান্নাতের নহরে গোসল করছে।

আবু হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত। এতে আরো রয়েছেঃ হাসান ইবনু আলী বলেন, বর্ণনাকারী বিভিন্ন শব্দে হাদীসটি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। কেউ বলেছেন, লোকজন মাঈযকে গাছের সঙ্গে বেঁধেছিল আবার কেউ বলেছেন, তাকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল।
4376

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ الْعَسْقَلاَنِيُّ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ أَسْلَمَ جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاعْتَرَفَ بِالزِّنَا فَأَعْرَضَ عَنْهُ ثُمَّ اعْتَرَفَ فَأَعْرَضَ عَنْهُ حَتَّى شَهِدَ عَلَى نَفْسِهِ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَبِكَ جُنُونٌ " . قَالَ لاَ . قَالَ " أَحْصَنْتَ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ فَأَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَ فِي الْمُصَلَّى فَلَمَّا أَذْلَقَتْهُ الْحِجَارَةُ فَرَّ فَأُدْرِكَ فَرُجِمَ حَتَّى مَاتَ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَيْرًا وَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْهِ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪৩৭৬. মুহাম্মাদ ইবনে মুতাওয়াককিল (রাহঃ) ...... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট হাযির হয়ে যিনার কথা স্বীকার করে। তখন তিনি তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। সে ব্যক্তি আবার যিনার কথা স্বীকার করলে, তিনি আবার মুখ ফিরিয়ে নেন। এভাবে সে ব্যক্তি চারবার যিনার কথা স্বীকার করলে, নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি পাগল হয়ে গেছ? সে বললঃ না। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি বিবাহিত? সে বলেঃ হ্যাঁ।

রাবী বলেনঃ এরপর নবী (ﷺ)-এর নির্দেশে সে ব্যক্তিকে ঈদের ময়দানে নিয়ে, পাথর মেরে হত্যা করা হয়। পাথর মারা শুরু হলে সে পালাবার চেষ্টা করে। কিন্তু তাকে পাঁকড়াও করে, পাথর মেরে হত্যা করা হয়। নবী করীম (ﷺ) সে ব্যক্তির প্রশংসা করেন, কিন্তু তিনি তার জানাযার নামায পড়াননি।
4377

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ - ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ زَكَرِيَّا، - وَهَذَا لَفْظُهُ - عَنْ دَاوُدَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ لَمَّا أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِرَجْمِ مَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ خَرَجْنَا بِهِ إِلَى الْبَقِيعِ فَوَاللَّهِ مَا أَوْثَقْنَاهُ وَلاَ حَفَرْنَا لَهُ وَلَكِنَّهُ قَامَ لَنَا . - قَالَ أَبُو كَامِلٍ قَالَ - فَرَمَيْنَاهُ بِالْعِظَامِ وَالْمَدَرِ وَالْخَزَفِ فَاشْتَدَّ وَاشْتَدَدْنَا خَلْفَهُ حَتَّى أَتَى عُرْضَ الْحَرَّةِ فَانْتَصَبَ لَنَا فَرَمَيْنَاهُ بِجَلاَمِيدِ الْحَرَّةِ حَتَّى سَكَتَ - قَالَ - فَمَا اسْتَغْفَرَ لَهُ وَلاَ سَبَّهُ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪৩৭৭. আবু কামিল (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন নবী করীম (ﷺ) মা’ইয ইবনে মালিক (রাযিঃ)-কে পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দেন, তখন আমরা তাকে নিয়ে ময়দানে গমন করি। আল্লাহর শপথ! এ সময় আমরা তাকে বাঁধি নাই এবং তার জন্য কোন গর্তও খুদি নাই, বরং তিনি আমাদের সামনে এসে দাঁড়ান।

রাবী আবু কামিল (রাহঃ) বলেনঃ তখন আমরা তার প্রতি প্রচণ্ডভাবে হ্যাঁড়, পাথর ও ঢিলা নিক্ষেপ করতে থাকি। আঘাতের প্রচণ্ডতায় তিনি পালাতে চাইলে, আমরা তার পশ্চাদধাবন করি। তিনি হুররা নামক স্থানে পৌছে দণ্ডায়মান হলে, আমরা সেখানকার বড় বড় পাথর তার প্রতি নিক্ষেপ করতে থাকি। ফলে তিনি মারা যান। রাবী বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) তার জন্য কোন ইস্তিগফার করেননি এবং তাকে খারাপও বলেননি।
4378

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَلَيْسَ بِتَمَامِهِ قَالَ ذَهَبُوا يَسُبُّونَهُ فَنَهَاهُمْ قَالَ ذَهَبُوا يَسْتَغْفِرُونَ لَهُ فَنَهَاهُمْ قَالَ " هُوَ رَجُلٌ أَصَابَ ذَنْبًا حَسِيبُهُ اللَّهُ " .

Narrator: আবু নাযরা (রহঃ)

৪৩৭৮. মুআম্মাল ইবনে হিশাম (রাহঃ) ..... আবু নযরা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হন। এরপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, তবে তা অসম্পূর্ণ।

রাবী বলেনঃ লোকেরা তার সম্পর্কে ভাল-মন্দ বলতে থাকলে নবী (ﷺ) তা থেকে নিষেধ করেন। আর লোকেরা তার মাগফিরাতের জন্য দুআ করতে থাকলে তিনি তাতে বাঁধা দেন এবং বলেনঃ সে এমন এক ব্যক্তি, যার দ্বারা একটি অপকর্ম অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। তার জন্য আল্লাহ-ই যথেষ্ট।
4379

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَعْلَى بْنِ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ غَيْلاَنَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اسْتَنْكَهَ مَاعِزًا .

Narrator: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

৪৩৭৯. মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর (রাহঃ) .... বুরায়দা (রাযিঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (ﷺ) মা’ইয ইবনে মালিক (রাযিঃ)-এর মুখ শুকে দেখেছিলেন, তিনি মদ পান করেছেন কিনা-তা নিশ্চিত হবার জন্য।

4380

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ الأَهْوَازِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا بَشِيرُ بْنُ الْمُهَاجِرِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ نَتَحَدَّثُ أَنَّ الْغَامِدِيَّةَ وَمَاعِزَ بْنَ مَالِكٍ لَوْ رَجَعَا بَعْدَ اعْتِرَافِهِمَا أَوْ قَالَ لَوْ لَمْ يَرْجِعَا بَعْدَ اعْتِرَافِهِمَا لَمْ يَطْلُبْهُمَا وَإِنَّمَا رَجَمَهُمَا عِنْدَ الرَّابِعَةِ .

Narrator: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

৪৩৮০. আহমদ ইবনে ইসহাক (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রাহঃ) তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীগণ এরূপ বলাবলি করতাম যে, গামিদ গোত্রের যিনাকারিণী মহিলা এবং মা’ইয ইবনে মালিক (রাযিঃ) যদি যিনার কথা স্বীকার করার পর অস্বীকার করতো, অথবা প্রথমবার স্বীকার করার পর, আর যদি স্বীকার না করতো; তবে নবী (ﷺ) তাদের ’রজমের’ শাস্তি প্রদান করতেন না। কিন্তু তারা চতুর্থবার যিনার কথা স্বীকার করায়, তাদের পাথর মেরে হত্যা করা হয়।

4381

حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ صُبَيْحٍ، قَالَ عَبْدَةُ أَخْبَرَنَا حَرَمِيُّ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُلاَثَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، أَنَّ خَالِدَ بْنَ اللَّجْلاَجِ، حَدَّثَهُ أَنَّ اللَّجْلاَجَ أَبَاهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، كَانَ قَاعِدًا يَعْتَمِلُ فِي السُّوقِ فَمَرَّتِ امْرَأَةٌ تَحْمِلُ صَبِيًّا فَثَارَ النَّاسُ مَعَهَا وَثُرْتُ فِيمَنْ ثَارَ فَانْتَهَيْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَقُولُ " مَنْ أَبُو هَذَا مَعَكِ " . فَسَكَتَتْ فَقَالَ شَابٌّ حَذْوَهَا أَنَا أَبُوهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَأَقْبَلَ عَلَيْهَا فَقَالَ " مَنْ أَبُو هَذَا مَعَكِ " . قَالَ الْفَتَى أَنَا أَبُوهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَنَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى بَعْضِ مَنْ حَوْلَهُ يَسْأَلُهُمْ عَنْهُ فَقَالُوا مَا عَلِمْنَا إِلاَّ خَيْرًا . فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَحْصَنْتَ " . قَالَ نَعَمْ . فَأَمَرَ بِهِ فَرُجِمَ . قَالَ فَخَرَجْنَا بِهِ فَحَفَرْنَا لَهُ حَتَّى أَمْكَنَّا ثُمَّ رَمَيْنَاهُ بِالْحِجَارَةِ حَتَّى هَدَأَ فَجَاءَ رَجُلٌ يَسْأَلُ عَنِ الْمَرْجُومِ فَانْطَلَقْنَا بِهِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْنَا هَذَا جَاءَ يَسْأَلُ عَنِ الْخَبِيثِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَهُوَ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ " . فَإِذَا هُوَ أَبُوهُ فَأَعَنَّاهُ عَلَى غُسْلِهِ وَتَكْفِينِهِ وَدَفْنِهِ وَمَا أَدْرِي قَالَ وَالصَّلاَةِ عَلَيْهِ أَمْ لاَ . وَهَذَا حَدِيثُ عَبْدَةَ وَهُوَ أَتَمُّ .

Narrator: বিবিধ

৪৩৮১. আব্দা ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ..... লাজলাজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা তিনি বাজারে বসে কাজ করতে থাকাবস্থায় দেখতে পান যে, একজন মহিলা একটি বাচ্চা কোলে নিয়ে যাচ্ছে। তাকে দেখে লোকজন দাঁড়িয়ে যায় এবং আমিও দাঁড়িয়ে যাই। পরে আমরা সবাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হই। তখন নবী (ﷺ) সে মহিলাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ এই বাচ্চাটির পিতা কে? সে মহিলা চুপ করে থাকলে, তার সামনের একজন পুরুষ লোক বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এর পিতা। তখন নবী (ﷺ) পুনরায় সে মহিলাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ এ ছেলেটির পিতা কে? তখনও সে যুবক লোকটি বলেঃ আমি তার পিতা।

তখন নবী (ﷺ) তার নিকটবর্তী এক ব্যক্তির প্রতি দৃষ্টিপাত করে, তার কাছে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেনঃ আমরা তো তাকে ভাল বলেই জানতাম। তখন নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি বিবাহিত? সে বলেঃ হ্যাঁ। এরপর নবী (ﷺ) এর নির্দেশে সে লোককে পাথর মেরে হত্যা করা হয়।

রাবী বলেনঃ তখন আমরা তাকে সাথে নিয়ে বের হই এবং একটি গর্ত খুদে, তাকে তার মধ্যে আব্দ্ধ করে, তার প্রতি পাথর মারা শুরু করি; ফলে সে মারা যায়। তখন এক ব্যক্তি তার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতে সেখানে আসলে আমরা তাকে নবী (ﷺ)-এর কাছে নিয়ে যাই এবং বলিঃ এই লোকটি ঐ খাবীছ লোক সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ সে খাবীছ নয়, বরং পবিত্র। আল্লাহ তাআলার নিকট ঐ লোকটির মর্যাদা মিশক-আম্বর থেকেও অধিক। আর এই লোকটি ওর পিতা। আমরা তাকে মা’ইযের গোসল ও কাফন-দাফনে সহযোগিতা করি। রাবী বলেনঃ আমার স্মরণ নেই যে, তিনি এরূপ বলেছিলেন কিনা, এরপর তিনি তার নামাযে সহযোগিতা করেন।
4382

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ، ح وَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَاصِمٍ الأَنْطَاكِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، جَمِيعًا قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - قَالَ هِشَامٌ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الشُّعَيْثِيُّ - عَنْ مَسْلَمَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْجُهَنِيِّ، عَنْ خَالِدِ بْنِ اللَّجْلاَجِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِبَعْضِ هَذَا الْحَدِيثِ .

Narrator: বিবিধ

৪৩৮২. হিশাম ইবনে আম্মার (রাহঃ) .... খালিদ লাজলাজ (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি নবী করীম (ﷺ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ কিছু বর্ণনা করেছেন।

২৩. জুহায়না গোত্রের মহিলা সম্পর্কে, যাকে নবী (ﷺ) পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দেন ।

باب الْمَرْأَةِ الَّتِي أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِرَجْمِهَا مِنْ جُهَيْنَةَ

4383

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا ح، وَحَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، - الْمَعْنَى - قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَجُلاً، زَنَى بِامْرَأَةٍ فَأَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَجُلِدَ الْحَدَّ ثُمَّ أُخْبِرَ أَنَّهُ مُحْصَنٌ فَأَمَرَ بِهِ فَرُجِمَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ الْبُرْسَانِيُّ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ مَوْقُوفًا عَلَى جَابِرٍ . وَرَوَاهُ أَبُو عَاصِمٍ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ بِنَحْوِ ابْنِ وَهْبٍ لَمْ يَذْكُرِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ رَجُلاً زَنَى فَلَمْ يَعْلَمْ بِإِحْصَانِهِ فَجُلِدَ ثُمَّ عَلِمَ بِإِحْصَانِهِ فَرُجِمَ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪৩৮৩. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি একজন মহিলার সাথে যিনা করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বেত্রাদণ্ড প্রদানের নির্দেশ দেন। এরপর যখন তিনি জানতে পারেন যে, লোকটি বিবাহিত, তখন তিনি তাকে পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দেন।

২২. পাথর মেরে হত্যা করা সম্পর্কে।

باب فِي الرَّجْمِ

4384

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ أَبُو يَحْيَى الْبَزَّازُ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَجُلاً، زَنَى بِامْرَأَةٍ فَلَمْ يَعْلَمْ بِإِحْصَانِهِ فَجُلِدَ ثُمَّ عَلِمَ بِإِحْصَانِهِ فَرُجِمَ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪৩৮৪. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহীম (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি একজন মহিলার সাথে যিনা করে। এ সময় লোকটি বিবাহিত কিনা তা জানা যায়নি, কাজেই তাকে বেত্রাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর যখন জানা যায় যে, লোকটি বিবাহিত, তখন তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হয়।

২৩. জুহায়না গোত্রের মহিলা সম্পর্কে, যাকে নবী (ﷺ) পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দেন ।

باب الْمَرْأَةِ الَّتِي أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِرَجْمِهَا مِنْ جُهَيْنَةَ

4385

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّ هِشَامًا الدَّسْتَوَائِيَّ، وَأَبَانَ بْنَ يَزِيدَ، حَدَّثَاهُمُ - الْمَعْنَى، - عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ امْرَأَةً، - قَالَ فِي حَدِيثِ أَبَانَ مِنْ جُهَيْنَةَ - أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنَّهَا زَنَتْ وَهِيَ حُبْلَى . فَدَعَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَلِيًّا لَهَا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَحْسِنْ إِلَيْهَا فَإِذَا وَضَعَتْ فَجِئْ بِهَا " . فَلَمَّا أَنْ وَضَعَتْ جَاءَ بِهَا فَأَمَرَ بِهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَشُكَّتْ عَلَيْهَا ثِيَابُهَا ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فَرُجِمَتْ ثُمَّ أَمَرَهُمْ فَصَلَّوْا عَلَيْهَا فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ تُصَلِّي عَلَيْهَا وَقَدْ زَنَتْ قَالَ " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ تَابَتْ تَوْبَةً لَوْ قُسِّمَتْ بَيْنَ سَبْعِينَ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ لَوَسِعَتْهُمْ وَهَلْ وَجَدْتَ أَفْضَلَ مِنْ أَنْ جَادَتْ بِنَفْسِهَا " . لَمْ يَقُلْ عَنْ أَبَانَ فَشُكَّتْ عَلَيْهَا ثِيَابُهَا .

Narrator: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৪৩৮৫. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জুহায়না গোত্রের জনৈক মহিলা নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলে যে, সে যিনা করেছে এবং সে গর্ভবতী। তখন নবী (ﷺ) তার অভিভাবকদের ডেকে বলেনঃ তোমরা একে ভালভাবে দেখাশুনা করবে, আর যখন সে বাচ্চা প্রসব করবে, তখন তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে। এরপর সে মহিলা সন্তান প্রসব করলে, তার অতিভাবাকারা তাকে নবী (ﷺ)-এর নিকট হাযির করে। তখন তিনি তার শরীরে ভালভাবে কাপড় পেঁচিয়ে, তাকে পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দেন।

তাকে পাথর মেরে হত্যা করার পর নবী করীম (ﷺ) সাহাবীগণকে তার জানাযার নামাযে শরীকে হতে নির্দেশ দিলে-জানাযার নামায পড়া হয়। তখন উমর (রাযিঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কি তার জানাযার নামায পড়ব, অথচ সে যিনা করেছে? তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহর শপথ! যার নিয়ন্ত্রণে আমার জীবন; সে মহিলা এমন তাওবা করেছে, যদি তা মদীনার সত্তর জন পাপী ব্যক্তির জন্য ভাগ করে দেওয়া হয়, তবে তা যথেষ্ট হবে। এর চাইতে উত্তম আর কি হতে পারে যে, সে তো তার জীবনটাই উৎসর্গ করে দিয়েছে! রাবী আবানের বর্ণনায় এর উল্লেখ নেই যে, তার শরীরে কাপড় পেঁচিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
4386

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْوَزِيرِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، قَالَ فَشُكَّتْ عَلَيْهَا ثِيَابُهَا . يَعْنِي فَشُدَّتْ .

Narrator: আওযায়ী (রহঃ)

৪৩৮৬. মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াযীর (রাহঃ) ..... আওযায়ী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তার শরীরে কাপড় পেঁচিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, (যাতে তার সতর উলঙ্গ না হয়ে যায়।)

4387

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ الْمُهَاجِرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ امْرَأَةً، - يَعْنِي مِنْ غَامِدَ - أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنِّي قَدْ فَجَرْتُ . فَقَالَ " ارْجِعِي " . فَرَجَعَتْ فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ أَتَتْهُ فَقَالَتْ لَعَلَّكَ أَنْ تَرُدَّنِي كَمَا رَدَدْتَ مَاعِزَ بْنَ مَالِكٍ فَوَاللَّهِ إِنِّي لَحُبْلَى . فَقَالَ لَهَا " ارْجِعِي " . فَرَجَعَتْ فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ أَتَتْهُ فَقَالَ لَهَا " ارْجِعِي حَتَّى تَلِدِي " . فَرَجَعَتْ فَلَمَّا وَلَدَتْ أَتَتْهُ بِالصَّبِيِّ فَقَالَتْ هَذَا قَدْ وَلَدْتُهُ . فَقَالَ لَهَا " ارْجِعِي فَأَرْضِعِيهِ حَتَّى تَفْطِمِيهِ " . فَجَاءَتْ بِهِ وَقَدْ فَطَمَتْهُ وَفِي يَدِهِ شَىْءٌ يَأْكُلُهُ فَأَمَرَ بِالصَّبِيِّ فَدُفِعَ إِلَى رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَأَمَرَ بِهَا فَحُفِرَ لَهَا وَأَمَرَ بِهَا فَرُجِمَتْ وَكَانَ خَالِدٌ فِيمَنْ يَرْجُمُهَا فَرَجَمَهَا بِحَجَرٍ فَوَقَعَتْ قَطْرَةٌ مِنْ دَمِهَا عَلَى وَجْنَتِهِ فَسَبَّهَا فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَهْلاً يَا خَالِدُ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ تَابَتْ تَوْبَةً لَوْ تَابَهَا صَاحِبُ مَكْسٍ لَغُفِرَ لَهُ " . وَأَمَرَ بِهَا فَصُلِّيَ عَلَيْهَا فَدُفِنَتْ .

Narrator: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

৪৩৮৭. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... বুরাযদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ গামেদ গোত্রের জনৈক মহিলা নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলেঃ আমি তো যিনা করেছি। তখন তিনি বলেনঃ তুমি ফিরে যাও। এরপর সে মহিলা চলে যায়, কিন্তু পরদিন আবার নবী (ﷺ) এর নিকট হাযির হয়ে বলেঃ সম্ভবত আপনি আমাকে সেরূপ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। আল্লাহর শপথ! আমি তো গর্ভবতী। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি ফিরে যাও। সে মহিলা ফিরে যায়, কিন্তু পরদিন সকালে সে আবার নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি তোমার সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত ফিরে যাও।

এরপর সে চলে যায় এবং সন্তান প্রসবের পর নব-জাতককে নিয়ে তার নিকট হাযির হয় এবং বলেঃ আমি একে প্রসব করেছি। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি ফিরে যাও এবং এ সন্তানকে ততদিন দুধপান করাও, যতদিন সে দুধ না ছাড়ে। এরপর সে মহিলা চলে যায় এবং দুধ ছাড়াবার পর পুনরায় তার সন্তানকে নিয়ে নবী (ﷺ)-এর কাছে হাযির হয়। এ সময় তার সন্তানের হাতে কিছু খাবার ছিল, যা সে খাচ্ছিল। তখন তিনি সে সন্তানকে কোন মুসলমানের হাতে সোপর্দ করার নির্দেশ দেন এবং সে মহিলাকে ’রজম’ করার হুকুম দেন। তখন একটি গর্ত খুদে তাকে সেখানে পাথর মেরে হত্যা করা হয়।

খালিদ (রাযিঃ) সে মহিলার রজমের সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি তাকে পাথর দিয়ে আঘাত করায়, সে মহিলার দেহের রক্তের ছিটে তার মুখের উপর এসে পড়ে, যাতে তিনি রাগান্বিত হয়ে সে মহিলা সম্পর্কে কটুক্তি করেন। তখন নবী (ﷺ) তাকে বলেনঃ হে খালিদ! তুমি চুপ থাক। আল্লাহর শপথ! যার নিয়ন্ত্রণে আমার জীবন; এ মহিলা এমন তাওবা করেছে; যদি কোন জালিম ব্যক্তি এরূপ তাওবা করে, তবে তার সমস্ত গুনাহ মার্জিত হবে। এরপর নবী (ﷺ)-এর নির্দেশে সে মহিলার জানাযার নামায আদায়ের পর তাকে দাফন করা হয়।
4388
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، عَنْ زَكَرِيَّا أَبِي عِمْرَانَ، قَالَ سَمِعْتُ شَيْخًا، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجَمَ امْرَأَةً فَحُفِرَ لَهَا إِلَى الثَّنْدُوَةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَفْهَمَنِي رَجُلٌ عَنْ عُثْمَانَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ الْغَسَّانِيُّ جُهَيْنَةُ وَغَامِدٌ وَبَارِقٌ وَاحِدٌ .

قَالَ أَبُو دَاوُدَ حُدِّثْتُ عَنْ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ سُلَيْمٍ، بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ زَادَ ثُمَّ رَمَاهَا بِحَصَاةٍ مِثْلَ الْحُمُّصَةِ ثُمَّ قَالَ " ارْمُوا وَاتَّقُوا الْوَجْهَ " . فَلَمَّا طَفِئَتْ أَخْرَجَهَا فَصَلَّى عَلَيْهَا وَقَالَ فِي التَّوْبَةِ نَحْوَ حَدِيثِ بُرَيْدَةَ .

Narrator: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৪৩৮৮. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম (ﷺ) একজন মহিলার রজম করেন, তখন তার জন্য বুক পর্যন্ত গর্ত খোঁড়া হয়।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ হাদীসটি আব্দুস সামাদ ইবনে আব্দুল ওয়াবেছ সূত্রে যাকারিয়া ইবনে সুলায়ম এরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে এরূপ অতিরিক্ত বর্ণিত আছে যে, এরপর নবী (ﷺ) সে মহিলার প্রতি বুটের ন্যায় একটি পাথর নিক্ষেপ করে বলেনঃ তোমরা তার মুখকে বাদ দিয়ে পাথর নিক্ষেপ কর। সে মহিলা মারা গেলে নবী (ﷺ) তার লাশকে গর্ত থেকে বের করিয়ে-তার জন্য জানাযার নামায আদায় করেন।
4389

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ أَنَّ رَجُلَيْنِ اخْتَصَمَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَحَدُهُمَا يَا رَسُولَ اللَّهِ اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ . وَقَالَ الآخَرُ وَكَانَ أَفْقَهَهُمَا أَجَلْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَاقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ وَائْذَنْ لِي أَنْ أَتَكَلَّمَ . قَالَ " تَكَلَّمْ " . قَالَ إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى هَذَا - وَالْعَسِيفُ الأَجِيرُ - فَزَنَى بِامْرَأَتِهِ فَأَخْبَرُونِي أَنَّمَا عَلَى ابْنِي الرَّجْمَ فَافْتَدَيْتُ مِنْهُ بِمِائَةِ شَاةٍ وَبِجَارِيَةٍ لِي ثُمَّ إِنِّي سَأَلْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ فَأَخْبَرُونِي أَنَّمَا عَلَى ابْنِي جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ وَإِنَّمَا الرَّجْمُ عَلَى امْرَأَتِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللَّهِ أَمَّا غَنَمُكَ وَجَارِيَتُكَ فَرَدٌّ إِلَيْكَ " . وَجَلَدَ ابْنَهُ مِائَةً وَغَرَّبَهُ عَامًا وَأَمَرَ أُنَيْسًا الأَسْلَمِيَّ أَنْ يَأْتِيَ امْرَأَةَ الآخَرِ فَإِنِ اعْتَرَفَتْ رَجَمَهَا فَاعْتَرَفَتْ فَرَجَمَهَا .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৩৮৯. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা ও যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেনঃ একদা দুই ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে মোকদ্দমা দায়ের করে। তাদের একজন বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করে দেন। তাদের মধ্যেকার দ্বিতীয় ব্যক্তি, যে অধিক জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান ছিল; সেও বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের মাঝের ব্যাপারটি আল্লাহর বিধান অনুযায়ী ফায়সালা করে দেন। আর এ সম্পর্কে আমাকে কিছু বলার অনুমতি দেন।

তখন তিনি বলেনঃ তুমি বল। তখন সে ব্যক্তি বলে যে, ব্যাপার হলোঃ আমার ছেলে এ লোকের চাকর ছিল, যে মজুরীর বিনিময়ে তার কাজ করতো। আর সে ঐ লোকের স্ত্রীর সাথে যিনা করেছে। তখন তারা আমার কাছে এরূপ খবর দেয় যে আমার ছেলের উপর রজমের দণ্ড অর্পিত হয়েছে। তখন আমি তার পক্ষে একশত বকরী ও একটি দাসী ফিদয়া স্বরূপ প্রদান করেছি। এরপর আমি জ্ঞানী ব্যক্তিদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে, তারা আমাকে বলেছেঃ আমার ছেলের শাস্তি হলো-একশত বেত্রাদণ্ড এবং এক বছরের জন্য দেশ থেকে বহিষ্কার। আর ঐ স্ত্রীলোককে পাথর মেরে হত্যা করতে হবে।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তুমি শুনে রাখ, আল্লাহর শপথ! যার নিয়ন্ত্রণে আমার জীবন; আমি তোমাদের মধ্যেকার বিবাদের ফায়সালা আল্লাহর কিতাব অনুসারে করে দেব; আর তা হলোঃ তোমার বকরী এবং দাসী তোমাকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। তার ছেলের শাস্তি হলো-একশত বেত্রাদণ্ড ও এক বছরের জন্য দেশ থেকে বহিষ্কার। এরপর তিনি উনায়ম আসলামী (রাযিঃ)-কে বলেনঃ দ্বিতীয় ব্যক্তির স্ত্রীকে নিয়ে এসো, যদি সে যিনার কথা স্বীকার করে, তবে তাকে রজম করবে। তখন সে মহিলা যিনার কথা স্বীকার করলে, তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হয়।

২৪. ইয়াহুদী নারী-পুরুষের রজম সম্পর্কে।

باب فِي رَجْمِ الْيَهُودِيَّيْنِ

4390
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ إِنَّ الْيَهُودَ جَاءُوا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرُوا لَهُ أَنَّ رَجُلاً مِنْهُمْ وَامْرَأَةً زَنَيَا فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا تَجِدُونَ فِي التَّوْرَاةِ فِي شَأْنِ الزِّنَا " . فَقَالُوا نَفْضَحُهُمْ وَيُجْلَدُونَ . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلاَمٍ كَذَبْتُمْ إِنَّ فِيهَا الرَّجْمَ . فَأَتَوْا بِالتَّوْرَاةِ فَنَشَرُوهَا فَجَعَلَ أَحَدُهُمْ يَدَهُ عَلَى آيَةِ الرَّجْمِ ثُمَّ جَعَلَ يَقْرَأُ مَا قَبْلَهَا وَمَا بَعْدَهَا فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلاَمٍ ارْفَعْ يَدَكَ . فَرَفَعَهَا فَإِذَا فِيهَا آيَةُ الرَّجْمِ فَقَالُوا صَدَقَ يَا مُحَمَّدُ فِيهَا آيَةُ الرَّجْمِ . فَأَمَرَ بِهِمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَا . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَرَأَيْتُ الرَّجُلَ يَحْنِي عَلَى الْمَرْأَةِ يَقِيهَا الْحِجَارَةَ .

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ مَرُّوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَهُودِيٍّ قَدْ حُمِّمَ وَجْهُهُ وَهُوَ يُطَافُ بِهِ فَنَاشَدَهُمْ مَا حَدُّ الزَّانِي فِي كِتَابِهِمْ قَالَ فَأَحَالُوهُ عَلَى رَجُلٍ مِنْهُمْ فَنَشَدَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَا حَدُّ الزَّانِي فِي كِتَابِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ الرَّجْمُ وَلَكِنْ ظَهَرَ الزِّنَا فِي أَشْرَافِنَا فَكَرِهْنَا أَنْ يُتْرَكَ الشَّرِيفُ وَيُقَامَ عَلَى مَنْ دُونَهُ فَوَضَعْنَا هَذَا عَنَّا ‏.‏ فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرُجِمَ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ اللَّهُمَّ إِنِّي أَوَّلُ مَنْ أَحْيَا مَا أَمَاتُوا مِنْ كِتَابِكَ ‏"‏ ‏.‏

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৩৯০. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা ইয়াহুদীরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলেঃ তাদের মধ্যেকার একজন পুরুষ ও একজন নারী যিনা করেছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমরা যিনা সম্পর্কে তাওরাতে কি নির্দেশ পাও? তারা বলেঃ আমরা তো ব্যভিচারীদের অসম্মানিত করি এবং বেত্রাদণ্ড দেই। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ) বলেনঃ তোমরা মিথ্যা বলছো। তাওরাতে রজমের হুকুম আছে। তখন তারা তাওরাত এনে, তা পড়তে শুরু করলে, এক ব্যক্তি রজমের আয়াতের উপর তার হাত রাখে এবং এর সামনের ও পেছনের আয়াত পড়তে থাকে।

তখন আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ) তাকে বলেনঃ তুমি তোমার হতে উঠাও। সে তার হাত উঠালে, সেখানে রজমের আয়াত দেখা যায়। তখন তারা বলেঃ হে মুহাম্মাদ! আপনি সত্য বলেছেন। এতে রজমের আয়াত আছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে ইয়াহুদী নর-নারীকে পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ দিলে, তা কার্যকর করা হয়। রাবী আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেনঃ সে সময় আমি দেখেছি, পুরুষ লোকটি মহিলাকে পাথরের আঘাত থেকে রক্ষা করার জন্য তাকে আড়াল করে দাঁড়াচ্ছিল।

আল-বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা কালিমা মাখা মুখ বিশিষ্ট এক ইয়াহুদীকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাকে জনসমক্ষে ঘুরানো হচ্ছিল। তিনি তাদের কসম দিয়ে বলেন, তাদের কিতাবে যেনাকারীর হাদ্দ কি? বর্ণনাকারী বলেন, তারা তাঁকে তাদের মধ্যকার একজনকে দেখিয়ে দিলো। নবী (ﷺ) তাকে প্রশ্ন করেনঃ তোমাদের কিতাবে যেনাকারীর হাদ্দ ঘটলে তাদের শাস্তি থেকে রেহাই দেয়া এবং অন্যদের শাস্তি দেয়া আমরা পছন্দ করলাম না। অতএব আমরা উপরোক্ত শাস্তি বাতিল করে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দিলে অপরাধীকে রজম করা হয়। অতঃপর তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! তারা তোমার কিতাবের যে অংশের মৃত্যু ঘটিয়েছিল আমিই প্রথম তা পুনর্জীবিত করলাম।
4391

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ مُرَّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَهُودِيٍّ مُحَمَّمٍ مَجْلُودٍ فَدَعَاهُمْ فَقَالَ " هَكَذَا تَجِدُونَ حَدَّ الزَّانِي " . فَقَالُوا نَعَمْ . فَدَعَا رَجُلاً مِنْ عُلَمَائِهِمْ قَالَ لَهُ " نَشَدْتُكَ بِاللَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلَى مُوسَى هَكَذَا تَجِدُونَ حَدَّ الزَّانِي فِي كِتَابِكُمْ " . فَقَالَ اللَّهُمَّ لاَ وَلَوْلاَ أَنَّكَ نَشَدْتَنِي بِهَذَا لَمْ أُخْبِرْكَ نَجِدُ حَدَّ الزَّانِي فِي كِتَابِنَا الرَّجْمَ وَلَكِنَّهُ كَثُرَ فِي أَشْرَافِنَا فَكُنَّا إِذَا أَخَذْنَا الرَّجُلَ الشَّرِيفَ تَرَكْنَاهُ وَإِذَا أَخَذْنَا الرَّجُلَ الضَّعِيفَ أَقَمْنَا عَلَيْهِ الْحَدَّ فَقُلْنَا تَعَالَوْا فَنَجْتَمِعَ عَلَى شَىْءٍ نُقِيمُهُ عَلَى الشَّرِيفِ وَالْوَضِيعِ فَاجْتَمَعْنَا عَلَى التَّحْمِيمِ وَالْجَلْدِ وَتَرَكْنَا الرَّجْمَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ إِنِّي أَوَّلُ مَنْ أَحْيَا أَمْرَكَ إِذْ أَمَاتُوهُ " . فَأَمَرَ بِهِ فَرُجِمَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لاَ يَحْزُنْكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ ) إِلَى قَوْلِهِ ( يَقُولُونَ إِنْ أُوتِيتُمْ هَذَا فَخُذُوهُ وَإِنْ لَمْ تُؤْتَوْهُ فَاحْذَرُوا ) إِلَى قَوْلِهِ ( وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ ) فِي الْيَهُودِ إِلَى قَوْلِهِ ( وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ ) فِي الْيَهُودِ إِلَى قَوْلِهِ ( وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ ) قَالَ هِيَ فِي الْكُفَّارِ كُلُّهَا يَعْنِي هَذِهِ الآيَةَ .

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৪৩৯১. মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) ..... বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে দিয়ে একজন ইয়াহুদী যাচ্ছিল, যার মুখে কাল দাগ দেয়া হয়েছিল। তখন তিনি তাদের ডেকে বলেনঃ তোমরা কি যিনাকারীর শাস্তি তাওরাত এরূপ পেয়েছ? তারা বলেঃ হ্যাঁ। তখন নবী (ﷺ) তাদের একজন আলিমকে ডাকেন এবং বলেনঃ আমি তোমাকে আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, যিনি মুসার উপর তাওরাত নাযিল করেন। তোমরা কি তোমাদের ধর্মগ্রন্থ তাওরাতে যিনার শাস্তি এরূপ পেয়েছ? তখন সে ব্যক্তি বলেঃ না, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আপনি আমাকে এরূপ কঠিন শপথ প্রদান না করতেন, তবে তা আমি আপনার কাছে প্রকাশ করতাম না।

আমরা আমাদের ধর্মগ্রন্থে যিনার শাস্তি রজম পাই। কিন্তু যখন আমাদের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যিনার প্রচলন অধিক হয়ে যায়, তখন কোন শরীফ লোক এজন্য দোষী সাব্যস্ত হলে আমরা তাকে ছেড়ে দেই এবং কোন দুর্বল লোক যিনা করলে তার উপর শরীআতের নির্দেশিত শাস্তি প্রদান করি। আমরা সর্বসম্মতভাবে এরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি যে, আমরা নিজেরাই এমন একটি হদ বা শাস্তি নির্ধারণ করে নেই, যা শরীফ ও দুর্বল ব্যক্তিদের উপর একইভাবে প্রয়োগ করা যায়। তখন আমরা মুখে কাল দাগ ও বেত্রাদণ্ডের ব্যবস্থা নির্ধারণ করি এবং রজমের ব্যবস্থা পরিহার করি।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ইয়া আল্লাহ! তারা যখন তোমার নির্দেশ পরিত্যাগ করেছে, তখন সর্বপ্রথম আমিই তা জারী করব। তিনি তখন সে ব্যক্তির উপর রজমের হুকুম জারী করলে তা কার্যকরী করা হয়। তখন আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ হে রাসূল! তারা যেন আপনাকে কষ্ট না দেয়, যারা কাফির হওয়ার কারণে জলদি করে .... যারা আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফায়সালা করে না, তারা কাফির। এ নির্দেশ ইয়াহুদীদের সম্পর্কে। এরপর আল্লাহর বাণীঃ যারা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করে না, তারা জালিম। এ আয়াতও ইয়াহুদীদের সম্পর্কে নাযিল হয়। তারপর আল্লাহর এ বাণীঃ যারা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফায়সালা করে না, তারা ফাসিক। এ আয়াত সব ধরনের কাফিরদের সম্পর্কে নাযিল হয়।
4392

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ أَسْلَمَ، حَدَّثَهُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ أَتَى نَفَرٌ مِنْ يَهُودَ فَدَعَوْا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْقُفِّ فَأَتَاهُمْ فِي بَيْتِ الْمِدْرَاسِ فَقَالُوا يَا أَبَا الْقَاسِمِ إِنَّ رَجُلاً مِنَّا زَنَى بِامْرَأَةٍ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ فَوَضَعُوا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وِسَادَةً فَجَلَسَ عَلَيْهَا ثُمَّ قَالَ " ائْتُونِي بِالتَّوْرَاةِ " . فَأُتِيَ بِهَا فَنَزَعَ الْوِسَادَةَ مِنْ تَحْتِهِ فَوَضَعَ التَّوْرَاةَ عَلَيْهَا ثُمَّ قَالَ " آمَنْتُ بِكِ وَبِمَنْ أَنْزَلَكِ " . ثُمَّ قَالَ " ائْتُونِي بِأَعْلَمِكُمْ " . فَأُتِيَ بِفَتًى شَابٍّ ثُمَّ ذَكَرَ قِصَّةَ الرَّجْمِ نَحْوَ حَدِيثِ مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৩৯২. আহমদ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা ইয়াহুদীদের একটি দল এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ’কুফ’ নামক স্থানে ডেকে নিয়ে যায়। তিনি তাদের সাথে সেখানকার এক মাদ্রাসায় গেলে তারা বলেঃ হে আবুল কাসিম! আমাদের এক ব্যক্তি একজন মহিলার সাথে যিনা করেছে, আপনি সে সম্পর্কে তাদের মাঝে ফায়সাল দেন। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য একটি বালিশ রেখে দেয়, তিনি তাঁর উপর বসে বলেনঃ তোমরা আমার কাছে তাওরাত নিয়ে এসো। তাঁর কাছে তাওরাত আনা হলে, তিনি বালিশ নিয়ে তার উপর তাওরাত রাখেন। এরপর তিনি বলেনঃ আমি তোমার উপর এবং তোমার নাযিলকারীর উপর ঈমান রাখি। তারপর তিনি বলেনঃ তোমাদের মাঝে যে ব্যক্তি সব চাইতে জ্ঞানী, তাকে ডাক। তখন একজন যুবক আলিম (আব্দুল্লাহ ইবনে সুরিয়া) কে ডাকা হয়। পরে রজম সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে; যেরূপ রাবী মালিক-নাফি (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

4393

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنَا رَجُلٌ، مِنْ مُزَيْنَةَ ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، قَالَ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ سَمِعْتُ رَجُلاً، مِنْ مُزَيْنَةَ مِمَّنْ يَتَّبِعُ الْعِلْمَ وَيَعِيهِ - ثُمَّ اتَّفَقَا - وَنَحْنُ عِنْدَ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ فَحَدَّثَنَا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - وَهَذَا حَدِيثُ مَعْمَرٍ وَهُوَ أَتَمُّ - قَالَ زَنَى رَجُلٌ مِنَ الْيَهُودِ وَامْرَأَةٌ فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ اذْهَبُوا بِنَا إِلَى هَذَا النَّبِيِّ فَإِنَّهُ نَبِيٌّ بُعِثَ بِالتَّخْفِيفِ فَإِنْ أَفْتَانَا بِفُتْيَا دُونَ الرَّجْمِ قَبِلْنَاهَا وَاحْتَجَجْنَا بِهَا عِنْدَ اللَّهِ قُلْنَا فُتْيَا نَبِيٍّ مِنْ أَنْبِيَائِكَ - قَالَ - فَأَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ جَالِسٌ فِي الْمَسْجِدِ فِي أَصْحَابِهِ فَقَالُوا يَا أَبَا الْقَاسِمِ مَا تَرَى فِي رَجُلٍ وَامْرَأَةٍ زَنَيَا فَلَمْ يُكَلِّمْهُمْ كَلِمَةً حَتَّى أَتَى بَيْتَ مِدْرَاسِهِمْ فَقَامَ عَلَى الْبَابِ فَقَالَ " أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ التَّوْرَاةَ عَلَى مُوسَى مَا تَجِدُونَ فِي التَّوْرَاةِ عَلَى مَنْ زَنَى إِذَا أُحْصِنَ " . قَالُوا يُحَمَّمُ وَيُجَبَّهُ وَيُجْلَدُ - وَالتَّجْبِيَةُ أَنْ يُحْمَلَ الزَّانِيَانِ عَلَى حِمَارٍ وَتُقَابَلَ أَقْفِيَتُهُمَا وَيُطَافَ بِهِمَا - قَالَ وَسَكَتَ شَابٌّ مِنْهُمْ فَلَمَّا رَآهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَكَتَ أَلَظَّ بِهِ النِّشْدَةَ فَقَالَ اللَّهُمَّ إِذْ نَشَدْتَنَا فَإِنَّا نَجِدُ فِي التَّوْرَاةِ الرَّجْمَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " فَمَا أَوَّلُ مَا ارْتَخَصْتُمْ أَمْرَ اللَّهِ " . قَالَ زَنَى ذُو قَرَابَةٍ مَعَ مَلِكٍ مِنْ مُلُوكِنَا فَأَخَّرَ عَنْهُ الرَّجْمَ ثُمَّ زَنَى رَجُلٌ فِي أُسْرَةٍ مِنَ النَّاسِ فَأَرَادَ رَجْمَهُ فَحَالَ قَوْمُهُ دُونَهُ وَقَالُوا لاَ يُرْجَمُ صَاحِبُنَا حَتَّى تَجِيءَ بِصَاحِبِكَ فَتَرْجُمَهُ فَاصْطَلَحُوا عَلَى هَذِهِ الْعُقُوبَةِ بَيْنَهُمْ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " فَإِنِّي أَحْكُمُ بِمَا فِي التَّوْرَاةِ " . فَأَمَرَ بِهِمَا فَرُجِمَا . قَالَ الزُّهْرِيُّ فَبَلَغَنَا أَنَّ هَذِهِ الآيَةَ نَزَلَتْ فِيهِمْ ( إِنَّا أَنْزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا ) كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৩৯৩. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইয়াহুদীদের থেকে একজন পুরুষ ও একজন নারী ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। তখন তারা একজন অপর জনকে বলেঃ চল আমরা এদের নিয়ে এই নবীর কাছে যাই; কেননা, তাকে শরীআতের হালকা নির্দেশসহ পাঠানো হয়েছে। কাজেই, তিনি যদি আমাদের ব্যাপারে রজমের চাইতে নীচু পর্যায়ের কোন নির্দেশ দেন, তবে আমরা তা মেনে নেব। আর এটি আমাদের জন্য আল্লাহ তাআলার নিকট একটি উজ্জ্বল নিদর্শনস্বরূপ হবে যে, আমরা তাক (আল্লাহকে) বলবোঃ এতো তোমার নবীদের মধ্য হতে এক নবীর নির্দেশ।

রাবী বলেনঃ তখন তারা নবী করীম (ﷺ) এর নিকট আসে এবং তিনি তাঁর সাহাবীদের সাথে তখন মসজিদে বসেছিলেন। তারা বলেঃ হে আবুল কাসিম! যে সমস্ত নারী-পুরুষ যিনা করে এদের ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? তিনি তাদের সাথে কোন কথা না বলে, তাদের এক মাদ্রাসায় গমন করেন এবং এর দরজায় দাঁড়িয়ে বলেনঃ আমি তোমাদের আল্লাহর নামের শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, যিনি মুসার উপর তাওরাত নাযিল করেছেন; তোমরা যিনা সম্পর্কে তাকে কিরূপ নির্দেশ দেখতে পাও, যদি সে ব্যক্তি বিবাহিত হয়? তখন তারা বলেঃ আমাদের নিকট তার শাস্তি হলোঃ তার মুখে কাল দাগ দেওয়া, অসম্মানিত করা এবং বেত্রাঘাত করা। আর এভাবে অপমান করা যে, যিনাকারীদের গাধার পিঠে, তার পিছনের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসিয়ে দিয়ে, লোকদের মাঝে ঘুরানো।

রাবী বলেনঃ এ সময় ইয়াহুদীদের এক যুবক চুপ করে বসে থাকে। নবী (ﷺ) তাকে চুপ থাকতে দেখে, তাকে আল্লাহর নামের শপথ দিয়ে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তখন সে যুবক বলেঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি যখন আমাকে আল্লাহর নামের শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করছেন, তখন আমি বলতে বাধ্য যে, তাওরাতের মধ্যে যিনার শাস্তি হলো রজম। তখন নবী করীম (ﷺ) জিজ্ঞাসা করে, কিরূপে তা পরিবর্তন করলে? তখন সে বলেঃ আমাদের জনৈক বাদশাহ তার একজন নিকটাত্মীয় যিনা করায়, তিনি তাকে রজম করেন নি।

এরপর একজন সাধারণ লোক যিনা করলে, বাদশাহ তাকে রজম করার ইচ্ছা করেন। তখন সে লোকের সম্প্রদায়ের লোকেরা উপস্থিত হয়ে এরূপ দাবী করে যে, যতক্ষণ না বাদশাহ তার নিকটাত্মীয়কে এনে আমাদের সামনে পাথর মেরে হত্যা করবে; ততক্ষণ আমরা আমাদের সম্প্রদায়ের লোককে রজম করতে দেব না। যখন তারা এরূপ শাস্তিদানে (মুখে কাল দাগ ইত্যাদি) একমত হয়ে সমস্যার সমাধান করে। তখন নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ আমি তোমাদের ব্যাপারে তাওরাতের হুকুম অনুযায়ী ফায়সালা দিচ্ছি। তিনি সে দু’জনের ব্যাপারে রজমের হুকুম দিলে, তা কার্যকর করা হয়।

রাবী যুহরী (রাহঃ) বলেনঃ আমি জানতে পেরেছি যে, এ আয়াত তাদের সম্পর্কে নাযিল হয়ঃ আমি তাওরাত নাযিল করেছি, যাতে হিদায়াত ও নূর আছে। আর ঐ সব নবীরা তাওরাতের নির্দেশ মত ফায়সালা করে থাকে, যারা আল্লাহর অনুগত। নবী করীম (ﷺ)ও ঐ সমস্ত নবীদের অন্যতম ছিলেন।
4394

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى أَبُو الأَصْبَغِ الْحَرَّانِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ رَجُلاً، مِنْ مُزَيْنَةَ يُحَدِّثُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ زَنَى رَجُلٌ وَامْرَأَةٌ مِنَ الْيَهُودِ وَقَدْ أُحْصِنَا حِينَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَقَدْ كَانَ الرَّجْمُ مَكْتُوبًا عَلَيْهِمْ فِي التَّوْرَاةِ فَتَرَكُوهُ وَأَخَذُوا بِالتَّجْبِيَةِ يُضْرَبُ مِائَةً بِحَبْلٍ مَطْلِيٍّ بِقَارٍ وَيُحْمَلُ عَلَى حِمَارٍ وَجْهُهُ مِمَّا يَلِي دُبُرَ الْحِمَارِ فَاجْتَمَعَ أَحْبَارٌ مِنْ أَحْبَارِهِمْ فَبَعَثُوا قَوْمًا آخَرِينَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا سَلُوهُ عَنْ حَدِّ الزَّانِي . وَسَاقَ الْحَدِيثَ قَالَ فِيهِ قَالَ وَلَمْ يَكُونُوا مِنْ أَهْلِ دِينِهِ فَيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ فَخُيِّرَ فِي ذَلِكَ قَالَ ( فَإِنْ جَاءُوكَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ ) .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৩৯৪. আব্দুল আযীয ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ইয়াহুদীদের একজন নারী ও একজন পুরুষ যিনা করে, আর তারা ছিল বিবাহিত। এর ঘটনা তখনকার, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সবেমাত্র হিজরত করে মদীনায় আসেন এবং তাওরাতের ও ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের শাস্তির বিধান ছিল পাথর মেরে হত্যা করা। কিন্তু তারা এ নির্দেশ অমান্য করে, যিনাকারীদের জন্য শাস্তি স্বরূপ একশত বেত্রাঘাত এবং গাধার পিঠে উল্টোমুখী বসিয়ে নগর পরিক্রমার মাধ্যমে অপমান করাকে নির্দিষ্ট করে নেয়।

ইয়াহুদীদের কিছু সংখ্যক আলিম একত্র হয়ে, একদল লোককে এ সম্পর্কে অবহিত হওয়ার উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পাঠায়। এরপর পূর্ববর্তী হাদীস অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে রাবী বলেনঃ যেহেতু ইয়াহুদীরা তাঁর অনুসারী ছিল না, এ জন্য আল্লাহ তাঁকে এমন ইখতিয়ার দেন যে, যদি তারা আপনার কাছে কোন ব্যাপারে ফায়সালার জন্য আসে, তবে আপনি সে ব্যাপারে ফায়সালা দিতে পারেন এবং না-ও দিতে পারেন। যদি আপনি তাদের ব্যাপারে কোন ফায়সালা দেন, তবে তা যেন ইনসাফ-ভিত্তিক হয়। কেননা, আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালবাসেন।
4395

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى الْبَلْخِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، قَالَ مُجَالِدٌ أَخْبَرَنَا عَنْ عَامِرٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ جَاءَتِ الْيَهُودُ بِرَجُلٍ وَامْرَأَةٍ مِنْهُمْ زَنَيَا فَقَالَ ائْتُونِي بِأَعْلَمِ رَجُلَيْنِ مِنْكُمْ فَأَتَوْهُ بِابْنَىْ صُورِيَا فَنَشَدَهُمَا " كَيْفَ تَجِدَانِ أَمْرَ هَذَيْنِ فِي التَّوْرَاةِ " . قَالاَ نَجِدُ فِي التَّوْرَاةِ إِذَا شَهِدَ أَرْبَعَةٌ أَنَّهُمْ رَأَوْا ذَكَرَهُ فِي فَرْجِهَا مِثْلَ الْمِيلِ فِي الْمُكْحُلَةِ رُجِمَا . قَالَ " فَمَا يَمْنَعُكُمَا أَنْ تَرْجُمُوهُمَا " . قَالاَ ذَهَبَ سُلْطَانُنَا فَكَرِهْنَا الْقَتْلَ فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالشُّهُودِ فَجَاءُوا بِأَرْبَعَةٍ فَشَهِدُوا أَنَّهُمْ رَأَوْا ذَكَرَهُ فِي فَرْجِهَا مِثْلَ الْمِيلِ فِي الْمُكْحُلَةِ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِرَجْمِهِمَا .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪৩৯৫. ইয়াহয়া ইবনে মুসা (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা ইয়াহুদীরা দু’জন যিনাকার নারী-পুরষকে (নবী (ﷺ)-এর নিকট) নিয়ে আসে। তখন তিনি তাদের বলেনঃ তোমরা তোমাদের দু’জন আলিমকে আনো। তখন তারা বিখ্যাত ইয়াহুদী আলিম সুরিয়ার দু’পুত্রকে নিয়ে আসে। তখন তিনি তাদেরকে আল্লাহর শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমরা দু’জন এ দুই ব্যক্তি সম্পর্কে তাওরাতে কিরূপ নির্দেশ পেয়েছে? তারা বলেঃ আমরা তাওরাতে এরূপ নির্দেশ পেয়েছি যে, যখন চার ব্যক্তি এরূপ সাক্ষ্য দিবে আমরা পুরুষের পুরুষাঙ্গটি স্ত্রীলোকের যোনীতে এরূপ প্রবেশ করতে দেখেছি, যেরূপ যেরূপ সুরমাদানীর মধ্যে এর শলাকা প্রবেশ করে। এরূপ সাক্ষ্য পাওয়ার পর তাদের রজম করা হয়।

তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ এমতাবস্থায় কিসে তোমাদের এ দু’ব্যক্তিকে পাথর মেরে হত্যা করতে বাঁধা দিচ্ছে? তারা দু’জন বলেঃ আমাদের বাদশাহী চলে গেছে, কাজেই আমরা এরূপ নির্দেশ পালন করতে পছন্দ করি না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাক্ষী আনার জন্য নির্দেশ দিলে, তারা চারজন সাক্ষী নিয়ে আসে। আর তারা এরূপ সাক্ষ্য দেয় যে, তারা পুরুষ লোকটির লিঙ্গ স্ত্রীলোকটির যোনীতে এভাবে প্রবেশ করতে দেখেছে, যেভাবে সুরমাদানীর মধ্যে এর শলাকা প্রবেশ করে। তখন নবী (ﷺ) তাদেরকে পাথর মেরে হত্যার নির্দেশ প্রদান করেন।
4396
حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ هُشَيْمٍ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، وَالشَّعْبِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ لَمْ يَذْكُرْ فَدَعَا بِالشُّهُودِ فَشَهِدُوا .

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ هُشَيْمٍ، عَنِ ابْنِ شُبْرُمَةَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، بِنَحْوٍ مِنْهُ ‏.‏

Narrator: শা‘বী (রহঃ)

৪৩৯৬. ওয়াহাব ইবনে বাকীয়া (রাহঃ) .... ইবরাহীম ও শা’বী নবী করীম (ﷺ) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে সেখানে এর উল্লেখ নেই যে, নবী (ﷺ) তাদের ডাকলে- তারা সাক্ষ্য প্রদান করে।

আশ-শা’বী (রহঃ) সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত।
4396

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَسَنٍ الْمِصِّيصِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا الزُّبَيْرِ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ رَجَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً مِنَ الْيَهُودِ وَامْرَأَةً زَنَيَا ‏.‏

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, একজোড়া ইয়াহুদী নারী-পুরুষ যেনা করলে নবী (ﷺ) তাদের রজম করার নির্দেশ দেন।

২৫. যদি কোন পুরুষ মুহরিম নারীর সাথে যিনা করে।

باب فِي الرَّجُلِ يَزْنِي بِحَرِيمِهِ

4397

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُطَرِّفٌ، عَنْ أَبِي الْجَهْمِ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ بَيْنَا أَنَا أَطُوفُ، عَلَى إِبِلٍ لِي ضَلَّتْ إِذْ أَقْبَلَ رَكْبٌ أَوْ فَوَارِسُ مَعَهُمْ لِوَاءٌ فَجَعَلَ الأَعْرَابُ يُطِيفُونَ بِي لِمَنْزِلَتِي مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ أَتَوْا قُبَّةً فَاسْتَخْرَجُوا مِنْهَا رَجُلاً فَضَرَبُوا عُنُقَهُ فَسَأَلْتُ عَنْهُ فَذَكَرُوا أَنَّهُ أَعْرَسَ بِامْرَأَةِ أَبِيهِ .

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৪৩৯৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার একটা উট হারিয়ে গেলে আমি তা অনুসন্ধান করতে থাকি। এ সময় কয়েকজন অশ্বারোহী আসে, যাদের কাছে পতাকা ছিল। নবী করীম (ﷺ) এর সাথে আমার নিকট সম্পর্ক আছে মনে করে কয়েকজন আরবী আমার চারপাশে ঘুরাঘুরি করতে থাকে। এরপর তারা একটি গম্বুজের কাছে যায় এবং সেখান থেকে এক ব্যক্তিকে বের করে এনে তার শিরশ্ছেদ করে। আমি এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা বলে, সে তার সৎ-মাকে বিয়ে করেছিল।

২৫. যদি কোন পুরুষ-মুহরিম নারীর সাথে যিনা করে।

باب فِي الرَّجُلِ يَزْنِي بِحَرِيمِهِ

4398

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ قُسَيْطٍ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْبَرَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ لَقِيتُ عَمِّي وَمَعَهُ رَايَةٌ فَقُلْتُ لَهُ أَيْنَ تُرِيدُ قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى رَجُلٍ نَكَحَ امْرَأَةَ أَبِيهِ فَأَمَرَنِي أَنْ أَضْرِبَ عُنُقَهُ وَآخُذَ مَالَهُ .

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৪৩৯৮. আমর ইবনে কুসায়ত (রাহঃ) .... বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার চাচার সাথে সাক্ষাত করি, যার হাতে একটি পতাকা ছিল। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করিঃ আপনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এমন এক ব্যক্তির কাছে পাঠাচ্ছেন, যে তার সৎ-মাকে বিয়ে করেছে। তিনি আমাকে তার শিরশ্ছেদ করতে এবং তার ধন-সম্পদ নিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

২৬. স্ত্রীর দাসীর সাথে যিনা করলে তার শাস্তি সম্পর্কে।

باب فِي الرَّجُلِ يَزْنِي بِجَارِيَةِ امْرَأَتِهِ

4399

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ خَالِدِ بْنِ عُرْفُطَةَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ، أَنَّ رَجُلاً، يُقَالُ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حُنَيْنٍ وَقَعَ عَلَى جَارِيَةِ امْرَأَتِهِ فَرُفِعَ إِلَى النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ وَهُوَ أَمِيرٌ عَلَى الْكُوفَةِ فَقَالَ لأَقْضِيَنَّ فِيكَ بِقَضِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنْ كَانَتْ أَحَلَّتْهَا لَكَ جَلَدْتُكَ مِائَةً وَإِنْ لَمْ تَكُنْ أَحَلَّتْهَا لَكَ رَجَمْتُكَ بِالْحِجَارَةِ . فَوَجَدُوهُ قَدْ أَحَلَّتْهَا لَهُ فَجَلَدَهُ مِائَةً . قَالَ قَتَادَةُ كَتَبْتُ إِلَى حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ فَكَتَبَ إِلَىَّ بِهَذَا .

Narrator: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

৪৩৯৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... হাবীব ইবনে সালিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক ব্যক্তি, যাকে আব্দুর রহমান ইবনে হুনায়ন বলা হতো, সে তার স্ত্রীর দাসীর সাথে যিনা করে। তখন এ ব্যাপারটি কূফার শাসনকর্তা নু’মান ইবনে বশীরের গোচরে আনা হয়। তিনি বলেনঃ আমি তোমার ব্যাপারে সেভাবে ফায়সালা করবো, যেভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফায়সালা করেছিলেন।

যদি তোমার স্ত্রী তোমার জন্য এ দাসীকে হালাল করে থাকে তবুও আমি তোমাকে একশত বেত্রাঘাত করবো। আর যদি সে তাকে তোমার জন্য হালাল না করে থাকে, তবে আমি তোমাকে রজম করবো অর্থাৎ পাথর মেরে হত্যা করবো। তদন্তের পর জানা যায় যে, তার স্ত্রী তার জন্য সে দাসীকে হালাল করেছিল। এরপর নু’মান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) তাকে একশত বেত্রাদণ্ডের নির্দেশ প্রদান করেন। রাবী কাতাদা (রাহঃ) বলেনঃ আমি এ সম্পর্কে জানার জন্য হাবীব ইবনে সালিমের নিকট পত্র লিখলে, তিনি আমার নিকট এ হাদীসটি লিখে পাঠিয়ে দেন।
4400

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ عُرْفُطَةَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الرَّجُلِ يَأْتِي جَارِيَةَ امْرَأَتِهِ قَالَ " إِنْ كَانَتْ أَحَلَّتْهَا لَهُ جُلِدَ مِائَةً وَإِنْ لَمْ تَكُنْ أَحَلَّتْهَا لَهُ رَجَمْتُهُ " .

Narrator: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

৪৪০০. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... নু’মান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) সে ব্যক্তির ব্যাপারে, যে তার স্ত্রীর দাসীর সাথে যিনা করেছিল, এরূপ নির্দেশ দেন যে, যদি তার স্ত্রী তার জন্য সে দাসীকে হালাল করে দেয়, তবে তাকে একশো বেত্রাদণ্ড প্রদান করতে হবে; অন্যথায় তাকে পাথর মেরে হত্যা করতে হবে।

4401

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ حُرَيْثٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبَّقِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى فِي رَجُلٍ وَقَعَ عَلَى جَارِيَةِ امْرَأَتِهِ إِنْ كَانَ اسْتَكْرَهَهَا فَهِيَ حُرَّةٌ وَعَلَيْهِ لِسَيِّدَتِهَا مِثْلُهَا فَإِنْ كَانَتْ طَاوَعَتْهُ فَهِيَ لَهُ وَعَلَيْهِ لِسَيِّدَتِهَا مِثْلُهَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ وَعَمْرُو بْنُ دِينَارٍ وَمَنْصُورُ بْنُ زَاذَانَ وَسَلاَّمٌ عَنِ الْحَسَنِ هَذَا الْحَدِيثَ بِمَعْنَاهُ لَمْ يَذْكُرْ يُونُسُ وَمَنْصُورٌ قَبِيصَةَ .

Narrator: সালামা ইবনে মুহাব্বাক (রাঃ)

৪৪০১. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... সালামা ইবনে মুহাব্বাক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন এক ব্যক্তির ব্যাপারে ফায়সালা দেন, যে তার স্ত্রীর দাসীর সাথে যিনা করেছিল। তিনি বলেনঃ যদি সে ব্যক্তি ঐ দাসীর সাথে বল প্রয়োগ করে যিনা করে থাকে, তবে সে দাসী আযাদ হয়ে যাবে এবং এর বিনিময়ে তার মালিককে একটি দাসী প্রদান করতে হবে। আর যদি সে স্বেচ্ছায় তার সাথে যিনা করে থাকে- তার স্ত্রীকে অনুরূপ একটি দাসী দিতে হবে।

4402

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ الدِّرْهَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبَّقِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ وَإِنْ كَانَتْ طَاوَعَتْهُ فَهِيَ حُرَّةٌ وَمِثْلُهَا مِنْ مَالِهِ لِسَيِّدَتِهَا .

Narrator: সালামা ইবনে মুহাব্বাক (রাঃ)

৪৪০২. আলী ইবনে হুসাইন (রাহঃ) ..... সালামা ইবনে মুহাব্বাক (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে সেখানে এরূপ বর্ণিত আছে যে, যদি সে দাসী ইচ্ছাকৃত ভাবে সঙ্গম করায়, তবে সে আযাদ হয়ে যাবে, আর ঐ ব্যক্তির মাল থেকে দাসীর মূল্য সে মনিব স্ত্রীলোককে দিতে হবে।

২৭. সমকামিতার শাস্তি সম্পর্কে।

باب فِيمَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ

4403

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ وَجَدْتُمُوهُ يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ فَاقْتُلُوا الْفَاعِلَ وَالْمَفْعُولَ بِهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو مِثْلَهُ وَرَوَاهُ عَبَّادُ بْنُ مَنْصُورٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَفَعَهُ وَرَوَاهُ ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَفَعَهُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৪০৩. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা যখন কাউকে লূতের কওমের মত কাজে (সমকামে) লিপ্ত দেখবে, তখন এর কর্তা এবং যার সাথে এরূপ করা হবে, উভয়কে হত্যা করবে।

4404

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ رَاهَوَيْهِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ خُثَيْمٍ، قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ، وَمُجَاهِدًا، يُحَدِّثَانِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي الْبِكْرِ يُوجَدُ عَلَى اللُّوطِيَّةِ قَالَ يُرْجَمُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৪০৪. ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যদি অবিবাহিত ব্যক্তি সমকামিতার সময় ধরা পড়ে, তবে তাকে পাথর মেরে হত্যা করতে হবে।

২৮. পশুর সাথে সঙ্গম করলে তার শাস্তি সস্পর্কে।

باب فِيمَنْ أَتَى بَهِيمَةً

4405

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَتَى بَهِيمَةً فَاقْتُلُوهُ وَاقْتُلُوهَا مَعَهُ " . قَالَ قُلْتُ لَهُ مَا شَأْنُ الْبَهِيمَةِ قَالَ مَا أُرَاهُ إِلاَّ قَالَ ذَلِكَ أَنَّهُ كَرِهَ أَنْ يُؤْكَلَ لَحْمُهَا وَقَدْ عُمِلَ بِهَا ذَلِكَ الْعَمَلُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৪০৫. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কেউ কোন পশুর সাথে সঙ্গম করে, তবে তাকে হত্যা করবে এবং সে পশুকেও তার সাথে হত্যা করবে। রাবী বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিঃ পশুর অপরাধ কি? তিনি বলেনঃ আমার মনে হয়, তিনি সে পশুর গোশত খাওয়া ভাল মনে করেননি, যার সাথে কেউ এরূপ কুকর্ম করে।

4406

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، أَنَّ شَرِيكًا، وَأَبَا الأَحْوَصِ، وَأَبَا، بَكْرِ بْنَ عَيَّاشٍ حَدَّثُوهُمْ عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي رَزِينٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَيْسَ عَلَى الَّذِي يَأْتِي الْبَهِيمَةَ حَدٌّ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَذَا قَالَ عَطَاءٌ وَقَالَ الْحَكَمُ أَرَى أَنْ يُجْلَدَ وَلاَ يَبْلُغَ بِهِ الْحَدَّ . وَقَالَ الْحَسَنُ هُوَ بِمَنْزِلَةِ الزَّانِي . قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَدِيثُ عَاصِمٍ يُضَعِّفُ حَدِيثَ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৪০৬. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ পশুর সাথে সঙ্গমকারীর কোন শাস্তি নেই।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ আতা (রাহঃ)ও এরূপ বর্ণনা করেছেন। আর হাকাম (রাহঃ) বলেনঃ আমার মতে তাকে চাবুক মারতে হবে, তবে সমকামীদের চাইতে তার বেত্রাদণ্ডের সাজা কিছু কম হতে হবে। রাবী হাসান (রাহঃ) বলেনঃ সে ব্যক্তির শাস্তি যিনাকারীর ন্যায়। আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ আসিম (রাহঃ) বর্ণিত হাদীস, আমর ইবনে আবু আমর (রাহঃ) এর হাদীসকে দুর্বল করে দেয়।

২৯. পুরুষ যিনার কথা স্বীকার করলে এবং স্ত্রীলোক তা অস্বীকার করলে - কি হুকুম হবে?

باب إِذَا أَقَرَّ الرَّجُلُ بِالزِّنَا وَلَمْ تُقِرَّ الْمَرْأَةُ

4407

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا طَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَجُلاً أَتَاهُ فَأَقَرَّ عِنْدَهُ أَنَّهُ زَنَى بِامْرَأَةٍ سَمَّاهَا لَهُ فَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَرْأَةِ فَسَأَلَهَا عَنْ ذَلِكَ فَأَنْكَرَتْ أَنْ تَكُونَ زَنَتْ فَجَلَدَهُ الْحَدَّ وَتَرَكَهَا .

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৪৪০৭. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে স্বীকার করে যে, সে অমুক মহিলার সাথে যিনা করেছে, সে তার নামও উল্লেখ করে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে মহিলাকে এনে সে ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করলে, সে তা অস্বীকার করে। তখন নবী (ﷺ) সে ব্যক্তিকে বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দেন এবং সে মহিলাকে ছেড়ে দেন।

4408

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ هَارُونَ الْبُرْدِيُّ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ فَيَّاضٍ الأَبْنَاوِيِّ، عَنْ خَلاَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ بَكْرِ بْنِ لَيْثٍ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَقَرَّ أَنَّهُ زَنَى بِامْرَأَةٍ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ فَجَلَدَهُ مِائَةً وَكَانَ بِكْرًا ثُمَّ سَأَلَهُ الْبَيِّنَةَ عَلَى الْمَرْأَةِ فَقَالَتْ كَذَبَ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَجَلَدَهُ حَدَّ الْفِرْيَةِ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৪০৮. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বকর ইবনে লায়ছ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে চারবার স্বীকার করে যে, সে অমুক মহিলার সাথে যিনা করেছে। সে ব্যক্তি অবিবাহিত থাকার কারণে তাকে একশো বেত্রাদণ্ড প্রদান করা হয়। এরপর নবী (ﷺ) সে মহিলাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ, সে মিথ্যা বলেছে। তখন সে ব্যক্তিকে মিথ্যা তোহমত দেয়ার কারণে আশিটি দোররা মারা হয়।

৩০. কোন ব্যক্তি কোন স্ত্রীলোকের সাথে সহবাস ব্যতীত আর সব কিছু করলে এবং ধরা পড়ার আগে তাওবা করলে - এর হুকুম কি?

باب فِي الرَّجُلِ يُصِيبُ مِنَ الْمَرْأَةِ دُونَ الْجِمَاعِ فَيَتُوبُ قَبْلَ أَنْ يَأْخُذَهُ الإِمَامُ

4409

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا سِمَاكٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالأَسْوَدِ، قَالاَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّي عَالَجْتُ امْرَأَةً مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ فَأَصَبْتُ مِنْهَا مَا دُونَ أَنْ أَمَسَّهَا فَأَنَا هَذَا فَأَقِمْ عَلَىَّ مَا شِئْتَ . فَقَالَ عُمَرُ قَدْ سَتَرَ اللَّهُ عَلَيْكَ لَوْ سَتَرْتَ عَلَى نَفْسِكَ . فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا فَانْطَلَقَ الرَّجُلُ فَأَتْبَعَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً فَدَعَاهُ فَتَلاَ عَلَيْهِ ( وَأَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَىِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ ) إِلَى آخِرِ الآيَةِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَهُ خَاصَّةً أَمْ لِلنَّاسِ كَافَّةً فَقَالَ " بَلْ لِلنَّاسِ كَافَّةً " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪৪০৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর নিকট এসে বলে যে, মদীনার পার্শ্ববর্তী এলাকায় আমার সাথে একজন মহিলার দেখা হলে আমি তার সাথে সঙ্গম ব্যতীত আর সবই করেছি। এখন আমি আপনার কাছে উপস্থিত আপনি যা ইচ্ছা করেন, সে শাস্তি আমাকে দেন। তখন উমর (রাযিঃ) বলেনঃ আল্লাহ তোমার ব্যাপারটি গোপন রেখেছিলেন, যদি তুমি তা গোপন রাখতে! নবী করীম (ﷺ) এর কোন উত্তর দেননি।

এরপর লোকটি চলে গেলে নবী (ﷺ) তাকে ডেকে আনার জন্য এক ব্যক্তিকে পাঠান। তাকে ডেকে আনার পর নবী (ﷺ) এ আয়াত তিলাওয়াত করে শোনানঃ তুমি দিনের দু’অংশে (ফজর, যোহর ও আসর) এবং রাতের আঁধারে (মাগরিব ও ঈশার) নামায আদায় করবে। কেননা, ভাল কাজ মন্দ কাজকে বিনষ্ট করে দেয়। তখন উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ নির্দেশ কি এ ব্যক্তির জন্য খাস, না সকলের জন্য? তিনি বলেনঃ বরং এ নির্দেশ সর্বকালের সব লোকের জন্য।

৩১. অবিবাহিতা দাসী যিনা করলে - তার শাস্তি সম্পর্কে।

باب فِي الأَمَةِ تَزْنِي وَلَمْ تُحْصَنْ

4410

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنِ الأَمَةِ إِذَا زَنَتْ وَلَمْ تُحْصَنْ قَالَ " إِنْ زَنَتْ فَاجْلِدُوهَا ثُمَّ إِنْ زَنَتْ فَاجْلِدُوهَا ثُمَّ إِنْ زَنَتْ فَاجْلِدُوهَا ثُمَّ إِنْ زَنَتْ فَبِيعُوهَا وَلَوْ بِضَفِيرٍ " . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ لاَ أَدْرِي فِي الثَّالِثَةِ أَوِ الرَّابِعَةِ وَالضَّفِيرُ الْحَبْلُ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৪১০. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা ও যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জনৈকা দাসী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, যে যিনা করেছে; কিন্তু সে অবিবাহিতা। নবী (ﷺ) বলেনঃ যদি সে যিনা করে, তবে তাকে বেত্রাঘাত করবে। যদি সে আবার যিনা করে, তবে আবার তাকে বেত্রাঘাত করবে। এরপর ও যদি সে যিনা করে, তবে তাকে বিক্রি করে দেবে, যদি তা সামান্য রশির বিনিময়েও হয়। রাবী ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলেনঃ নবী (ﷺ) তৃতীয়বার না চতুর্থবার যিনা করার পর তাকে বিক্রি করতে বলেন, তা আমার জানা নেই।

4411

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا زَنَتْ أَمَةُ أَحَدِكُمْ فَلْيَحُدَّهَا وَلاَ يُعَيِّرْهَا ثَلاَثَ مِرَارٍ فَإِنْ عَادَتْ فِي الرَّابِعَةِ فَلْيَجْلِدْهَا وَلْيَبِعْهَا بِضَفِيرٍ أَوْ بِحَبْلٍ مِنْ شَعْرٍ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৪১১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যদি তোমাদের কারো দাসী যিনা করে, তবে তোমরা তাকে শাস্তি দেবে, কেবল ধমক দিয়ে ছেড়ে দেবে না এরূপ তিনবার করবে। আর যদি সে চতুর্থবার যিনা করে, তবে বেত্রাঘাত করার পর তাকে বিক্রি করে দেবে; যদিও তা সামান্য চুলের রশির বিনিময়েও হয়।

4412

حَدَّثَنَا ابْنُ نُفَيْلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فِي كُلِّ مَرَّةٍ " فَلْيَضْرِبْهَا كِتَابُ اللَّهِ وَلاَ يُثَرِّبْ عَلَيْهَا " . وَقَالَ فِي الرَّابِعَةِ " فَإِنْ عَادَتْ فَلْيَضْرِبْهَا كِتَابُ اللَّهِ ثُمَّ لْيَبِعْهَا وَلَوْ بِحَبْلٍ مِنْ شَعْرٍ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৪১২. ইবনে নুফায়ল (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ যিনাকারিণী দাসীকে প্রত্যেকবার আল্লাহর কিতাবের বিধান অনুযায়ী শাস্তি দিতে হবে। কেবল মাত্র ধমক দিয়ে ছেড়ে দেয়া যাবে না। তিনি বলেনঃ যদি সে চতুর্থবার যিনা করে, তবে তাকে আল্লাহর কিতাবের বিধান অনুযায়ী শাস্তি দেয়ার পর বিক্রি করে দেবে; যদিও তা একগুচ্ছ চুলের রশির বিনিময়েও হয়।*

* দাসীদের আল্লাহর কিতাবের বিধান অনুসারে শাস্তি দেয়ার অর্থ হলোঃ তাকে পঞ্চাশটি বেত্রাঘাত করতে হবে। কেননা, আযাদ মহিলাদের মুকাবিলায় তাদের হক যেমন অর্ধেক, তেমনি শাস্তির ব্যাপারেও অর্ধেক। এটাই শরীআতের বিধান। - (অনুবাদক)

৩২. অসুস্থ ব্যক্তির উপর হদ লাগানো সম্পর্কে।

باب فِي إِقَامَةِ الْحَدِّ عَلَى الْمَرِيضِ

4413

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو أُمَامَةَ بْنُ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ بَعْضُ، أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الأَنْصَارِ أَنَّهُ اشْتَكَى رَجُلٌ مِنْهُمْ حَتَّى أُضْنِيَ فَعَادَ جِلْدَةً عَلَى عَظْمٍ فَدَخَلَتْ عَلَيْهِ جَارِيَةٌ لِبَعْضِهِمْ فَهَشَّ لَهَا فَوَقَعَ عَلَيْهَا فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ رِجَالُ قَوْمِهِ يَعُودُونَهُ أَخْبَرَهُمْ بِذَلِكَ وَقَالَ اسْتَفْتُوا لِي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنِّي قَدْ وَقَعْتُ عَلَى جَارِيَةٍ دَخَلَتْ عَلَىَّ . فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالُوا مَا رَأَيْنَا بِأَحَدٍ مِنَ النَّاسِ مِنَ الضُّرِّ مِثْلَ الَّذِي هُوَ بِهِ لَوْ حَمَلْنَاهُ إِلَيْكَ لَتَفَسَّخَتْ عِظَامُهُ مَا هُوَ إِلاَّ جِلْدٌ عَلَى عَظْمٍ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَأْخُذُوا لَهُ مِائَةَ شِمْرَاخٍ فَيَضْرِبُوهُ بِهَا ضَرْبَةً وَاحِدَةً .

Narrator: হযরত সাহল ইবনে হুনায়ফ রাযি.

৪৪১৩. আহমদ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... সাহল ইবনে হুনায়ফ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জনৈক আনসার সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের এক ব্যক্তি অসুস্থতা হেতু অস্থি-চর্মসার হয়ে পড়ে। এ সময় তার কাছে একজন দাসী গেলে, সে উত্তেজিত হয় এবং তার সাথে যিনা করে। এরপর লোকেরা যখন সেবার জন্য তার কাছে উপস্থিত হয়, তখন সে তাদের সে কুকর্ম সম্পর্কে অবহিত করে। সে বলেঃ তোমরা আমার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করবে। আমি তো একজন দাসীর সাথে যিনা করেছি, যে আমার কাছে এসেছে। তারা ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট পেশ করার পর বলেঃ আমরা আজ পর্যন্ত এ ধরনের কোন জীর্ণকায় রোগগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেখিনি। যদি আমরা তাকে আপনার কাছে নিয়ে আসি, তবে নিশ্চয়ই তার অস্থি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। কেননা, তার দেহটা কেবলমাত্র অস্থি-চর্মসার। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা গাছ থেকে একশো ছোট ডাল সংগ্রহ করে আনো এবং তা দিয়ে তাকে একবার আঘাত কর।

4414

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ أَبِي جَمِيلَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه قَالَ فَجَرَتْ جَارِيَةٌ لآلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " يَا عَلِيُّ انْطَلِقْ فَأَقِمْ عَلَيْهَا الْحَدَّ " . فَانْطَلَقْتُ فَإِذَا بِهَا دَمٌ يَسِيلُ لَمْ يَنْقَطِعْ فَأَتَيْتُهُ فَقَالَ " يَا عَلِيُّ أَفَرَغْتَ " . قُلْتُ أَتَيْتُهَا وَدَمُهَا يَسِيلُ . فَقَالَ " دَعْهَا حَتَّى يَنْقَطِعَ دَمُهَا ثُمَّ أَقِمْ عَلَيْهَا الْحَدَّ وَأَقِيمُوا الْحُدُودَ عَلَى مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ أَبُو الأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى وَرَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الأَعْلَى فَقَالَ فِيهِ " لاَ تَضْرِبْهَا حَتَّى تَضَعَ " . وَالأَوَّلُ أَصَحُّ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪৪১৪. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পরিবারের মধ্যে হতে কারো একটি দাসী যিনা করলে, তিনি বলেনঃ হে আলী! তুমি তাকে নিয়ে যাও এবং তার উপর হদ কায়েম কর। তখন আমি তার কাছে উপস্থিত হয়ে দেখতে পাই যে, তার রজঃস্রাব হচ্ছে এবং তা বন্ধ হচ্ছে না। তখন আমি নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলে, তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আলী! তুমি কি তাকে শাস্তি দিয়েছ? তখন আমি বলঃ আমি তার কাছে গিয়ে দেখতে পাই যে তার রজঃস্রাব হচ্ছে। তিনি বলেনঃ তুমি তার রক্ত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা কর, এরপর তাকে শাস্তি দেবে। তিনি আরো বলেনঃ তোমরা তোমাদের দাসীদের উপর হদ কায়েম করবে, (যদি তারা যিনা করে)।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ আবুল আহওয়াস - আব্দুল আলা (রাহঃ) থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন। আর শু’বা (রাহঃ) - আব্দুল আলা (রাহঃ) থেকে যা বর্ণনা করেছেন, তাতে রয়েছেঃ যতদিন সে সন্তান প্রসব না করে, ততদিন তাকে মারবে না। রাবী বলেনঃ প্রথম বর্ণনাটি সঠিক।

৩৩. অপবাদের শাস্তি সম্পর্কে।

باب فِي حَدِّ الْقَذْفِ

4415

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ الثَّقَفِيُّ، وَمَالِكُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْمِسْمَعِيُّ، - وَهَذَا حَدِيثُهُ - أَنَّ ابْنَ أَبِي عَدِيٍّ، حَدَّثَهُمْ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ لَمَّا نَزَلَ عُذْرِي قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ فَذَكَرَ ذَاكَ وَتَلاَ - تَعْنِي الْقُرْآنَ - فَلَمَّا نَزَلَ مِنَ الْمِنْبَرِ أَمَرَ بِالرَّجُلَيْنِ وَالْمَرْأَةِ فَضُرِبُوا حَدَّهُمْ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৪১৫. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন আমার পবিত্রতা সম্পর্কে কুরআনের আয়াত নাযিল হয়, তখন নবী করীম (ﷺ) মিম্বরের উপর উঠে, আমার পবিত্রতার কথা ঘোষণা করে, এ আয়াত তিলাওয়াত করেন, (যা অপবাদকারীদের সম্পর্কে নাযিল হয়)। এরপর তিনি মিম্বর থেকে নেমে দু’জন পুরুষ (মিসতাহ ও হাসসান ইবনে ছাবিত) ও একজন স্ত্রীলোক (হামনা বিনতে জাহাশ) এর উপর হদের বিধান জারী করেন। তখন লোকেরা তাদের উপর তা কায়েম করে।

4416

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، بِهَذَا الْحَدِيثِ لَمْ يَذْكُرْ عَائِشَةَ قَالَ فَأَمَرَ بِرَجُلَيْنِ وَامْرَأَةٍ مِمَّنْ تَكَلَّمَ بِالْفَاحِشَةِ حَسَّانَ بْنِ ثَابِتٍ وَمِسْطَحِ بْنِ أُثَاثَةَ . قَالَ النُّفَيْلِيُّ وَيَقُولُونَ الْمَرْأَةُ حَمْنَةُ بِنْتُ جَحْشٍ .

Narrator: মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রহঃ)

৪৪১৬. নুফায়লী (রাহঃ) .... মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রাহঃ) থেকে এরূপ বর্ণিত আছে। কিন্তু সেখানে আয়িশা (রাযিঃ)-এর কথা উল্লেখ নেই। রাবী বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) দু’জন পুরুষ ও একজন স্ত্রীলোকের উপর শাস্তির বিধান জারী করেন, যারা দুর্নাম রটনায় অংশ গ্রহণ করেছিল। এদের মধ্যে ছিলেন হাসসান ইবনে ছাবিত এবং মিসতাহ ইবনে আছাছা (রাযিঃ)। নুফায়লী (রাহঃ) বলেনঃ লোকেরা যে মহিলার কথা বলতো, তিনি ছিলেন-হামনা বিনতে জাহাশ (রাযিঃ)।

৩৪. মদপানের শাস্তি সম্পর্কে।

باب الْحَدِّ فِي الْخَمْرِ

4417

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، - وَهَذَا حَدِيثُهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ رُكَانَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَقِتْ فِي الْخَمْرِ حَدًّا . وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ شَرِبَ رَجُلٌ فَسَكِرَ فَلُقِيَ يَمِيلُ فِي الْفَجِّ فَانْطُلِقَ بِهِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا حَاذَى بِدَارِ الْعَبَّاسِ انْفَلَتَ فَدَخَلَ عَلَى الْعَبَّاسِ فَالْتَزَمَهُ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَضَحِكَ وَقَالَ " أَفَعَلَهَا " . وَلَمْ يَأْمُرْ فِيهِ بِشَىْءٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا مِمَّا تَفَرَّدَ بِهِ أَهْلُ الْمَدِينَةِ حَدِيثُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ هَذَا .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৪১৭. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) মদের ব্যাপারে কোন শাস্তি নির্ধারণ করেননি। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তি মদ খেয়ে নেশাগ্রস্ত হয়ে টলমল পদে চলতে শুরু করলে, লোকেরা তাকে ধরে নবী (ﷺ)-এর কাছে নিয়ে যেতে চাইলে; সে যখন আব্বাস (রাযিঃ)-এর বাড়ীর কাছে পৌছে, তখন হঠাৎ পালিয়ে আব্বাস (রাযিঃ)-এর ঘরে প্রবেশ করে এবং আত্মগোপন করার জন্য দেওয়ালের সাথে মিশে যায়। ব্যাপারটি নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট বর্ণনা করা হলে, তিনি হাসেন এবং বলেনঃ সে কি এরূপ করেছে? এরপর তিনি তার সম্পর্কে কিছুই বলেননি।

4418

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو ضَمْرَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِرَجُلٍ قَدْ شَرِبَ فَقَالَ " اضْرِبُوهُ " . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَمِنَّا الضَّارِبُ بِيَدِهِ وَالضَّارِبُ بِنَعْلِهِ وَالضَّارِبُ بِثَوْبِهِ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ أَخْزَاكَ اللَّهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقُولُوا هَكَذَا لاَ تُعِينُوا عَلَيْهِ الشَّيْطَانَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৪১৮. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে একজন মদ পানকারী ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হয়। তিনি বলেনঃ তোমরা তাকে প্রহার কর।

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেনঃ তখন আমাদের থেকে কেউ তাকে হাত দিয়ে, কেউ জুতা দিয়ে, কেউ কাপড় দিয়ে তাকে মারতে থাকে। মারার পর কেউ বলেনঃ আল্লাহ তোমাকে অসম্মানিত করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা এরূপ বলো না। তার উপর প্রাধান্য বিস্তারে শয়তানের সাহায্য করো না।
4419

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ أَبِي نَاجِيَةَ الإِسْكَنْدَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَحَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، وَابْنُ، لَهِيعَةَ عَنِ ابْنِ الْهَادِ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ قَالَ فِيهِ بَعْدَ الضَّرْبِ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَصْحَابِهِ " بَكِّتُوهُ " . فَأَقْبَلُوا عَلَيْهِ يَقُولُونَ مَا اتَّقَيْتَ اللَّهَ مَا خَشِيتَ اللَّهَ وَمَا اسْتَحَيْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ أَرْسَلُوهُ وَقَالَ فِي آخِرِهِ " وَلَكِنْ قُولُوا اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ " . وَبَعْضُهُمْ يَزِيدُ الْكَلِمَةَ وَنَحْوَهَا .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৪১৯. মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... ইবনে হাদ উপরোক্ত হাদীসের সনদ ও অর্থে হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ সে ব্যক্তিকে মারধর করার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের বলেন যে, তোমরা তাকে ধমক দিয়ে ছেড়ে দাও। তখন তাঁরা এরূপ বলতে থাকে যে, তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্যও লজ্জিত হওনি! এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি এ হাদীসের শেষে বলেনঃ তোমরা বরং বল যে, আপনি তাকে মাফ করে দেন; ইয়া আল্লাহ! আপনি তার উপর রহম করুন। অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ এ ধরনের আরো কিছু কথার উল্লেখ করেছেন।

4420

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ هِشَامٍ، - الْمَعْنَى - عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم جَلَدَ فِي الْخَمْرِ بِالْجَرِيدِ وَالنِّعَالِ وَجَلَدَ أَبُو بَكْرٍ رضى الله عنه أَرْبَعِينَ فَلَمَّا وَلِيَ عُمَرُ دَعَا النَّاسَ فَقَالَ لَهُمْ إِنَّ النَّاسَ قَدْ دَنَوْا مِنَ الرِّيفِ - وَقَالَ مُسَدَّدٌ مِنَ الْقُرَى وَالرِّيفِ - فَمَا تَرَوْنَ فِي حَدِّ الْخَمْرِ فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ نَرَى أَنْ تَجْعَلَهُ كَأَخَفِّ الْحُدُودِ . فَجَلَدَ فِيهِ ثَمَانِينَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ جَلَدَ بِالْجَرِيدِ وَالنِّعَالِ أَرْبَعِينَ . وَرَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ضَرَبَ بِجَرِيدَتَيْنِ نَحْوَ الأَرْبَعِينَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৪২০. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ...... আনাস ইবনে মালিক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) মদ পানকারীদের খেজুরের ডাল ও জুতা দিয়ে শাস্তি দিতেন। আবু বকর (রাযিঃ) মদ পানকারীদের চল্লিশ কোড়া (চাবুক) মারতেন। এরপর উমর (রাযিঃ)-এর খিলাফতকালে তিনি লোকদের ডেকে বলেনঃ বর্তমানে লোকেরা খেজুর বাগানের নিকটবর্তী যমীনে বসবাস করে, (অর্থাৎ তারা অধিকহারে মদপান করছে), তাই তাদের ব্যাপারে আপনাদের অভিমত কি? তখন আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) তাঁকে বলেনঃ তাদের ব্যাপারে আপনি হালকা ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা করুন। তখন আশিটি কোড়া মারার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে আবু আরূবা (রাহঃ) কাতাদা (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (ﷺ) মদ পানকারীদের খেজুরের ডাল ও জুতা দিয়ে চল্লিশবার মারতেন। রাবী শু’বা (রাহঃ) কাতাদা (রাযিঃ) থেকে, তিনি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, মদ পানকারীদের দু’টি খেজুরের ডাল দিয়ে চল্লিশ বার মারতে হবে। (এতে ৮০টি বেত্রাঘাত হবে)।
4421

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، وَمُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ الْمُخْتَارِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ الدَّانَاجُ، حَدَّثَنِي حُضَيْنُ بْنُ الْمُنْذِرِ الرَّقَاشِيُّ، - هُوَ أَبُو سَاسَانَ - قَالَ شَهِدْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ وَأُتِيَ بِالْوَلِيدِ بْنِ عُقْبَةَ فَشَهِدَ عَلَيْهِ حُمْرَانُ وَرَجُلٌ آخَرُ فَشَهِدَ أَحَدُهُمَا أَنَّهُ رَآهُ شَرِبَهَا - يَعْنِي الْخَمْرَ - وَشَهِدَ الآخَرُ أَنَّهُ رَآهُ يَتَقَيَّأُهَا فَقَالَ عُثْمَانُ إِنَّهُ لَمْ يَتَقَيَّأْهَا حَتَّى شَرِبَهَا . فَقَالَ لِعَلِيٍّ رضى الله عنه أَقِمْ عَلَيْهِ الْحَدَّ . فَقَالَ عَلِيٌّ لِلْحَسَنِ أَقِمْ عَلَيْهِ الْحَدَّ . فَقَالَ الْحَسَنُ وَلِّ حَارَّهَا مَنْ تَوَلَّى قَارَّهَا . فَقَالَ عَلِيٌّ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ أَقِمْ عَلَيْهِ الْحَدَّ . قَالَ فَأَخَذَ السَّوْطَ فَجَلَدَهُ وَعَلِيٌّ يَعُدُّ فَلَمَّا بَلَغَ أَرْبَعِينَ قَالَ حَسْبُكَ جَلَدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعِينَ - أَحْسِبُهُ قَالَ - وَجَلَدَ أَبُو بَكْرٍ أَرْبَعِينَ وَعُمَرُ ثَمَانِينَ وَكُلٌّ سُنَّةٌ وَهَذَا أَحَبُّ إِلَىَّ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪৪২১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... হুসাইন ইবনে মুনযির রুকাশী (রাহঃ), যিনি আবু সাসান নামে পরিচিত- থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি উছমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন সেখানে ওয়ালীদ ইবনে উকাবা (রাযিঃ)-কে উপস্থিত করা হয়। এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে হুমরান (রাযিঃ) ও অপর এক ব্যক্তি এরূপ সাক্ষ্য দেয় যে, সে তাকে মদ পান করতে দেখেছে। অপর ব্যক্তি বলেঃ সে তাকে মদ বমি করতে দেখেছে। তখন উছমান (রাযিঃ) বলেনঃ সে মদ না পান করলে, কিভাবে মদ বমি করবে? এরপর তিনি আলী (রাযিঃ)-কে তার উপর হদ কায়েম করার নির্দেশ দেন।

তখন আলী (রাযিঃ) হাসান (রাযিঃ)-কে বলেনঃ যারা শাসন কাজের দায়িত্বে নিযুক্ত, তাদের উচিত এ দায়িত্ব পালন করা। তখন আলী (রাযিঃ) আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রাযিঃ)-কে নির্দেশ দেন, তার উপর হদ কায়েম করার জন্য। তখন তিনি কোড়া নিয়ে তাকে মারা শুরু করেন এবং আলী (রাযিঃ) তা শুনতে থাকেন। চল্লিশ কোড়া মারা শেষ হলে, আলী (রাযিঃ) বলেনঃ থাম, নবী করীম (ﷺ) মদ পানকারীকে চল্লিশ কোড়া মারতেন। কাজেই, তার জন্য ইহাই যথেষ্ট। তিনি আরো বলেনঃ আবু বকর (রাযিঃ) মদ পানকারীকে চল্লিশ কোড়া মারতেন। কিন্তু উমর (রাযিঃ) আশিটি কোড়া মারার প্রচলন করেন। আর এ সবই সুন্নত তরীকা। তবে আমার কাছে এটিই অধিক প্রিয়।
4422

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنِ الدَّانَاجِ، عَنْ حُضَيْنِ بْنِ الْمُنْذِرِ، عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه قَالَ جَلَدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْخَمْرِ وَأَبُو بَكْرٍ أَرْبَعِينَ وَكَمَّلَهَا عُمَرُ ثَمَانِينَ وَكُلٌّ سُنَّةٌ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ الأَصْمَعِيُّ وَلِّ حَارَّهَا مَنْ تَوَلَّى قَارَّهَا وَلِّ شَدِيدَهَا مَنْ تَوَلَّى هَيِّنَهَا .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪৪২২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাযিঃ) মদ পানকারীকে চল্লিশ বার কোড়া মারার শাস্তি দিতেন। আর উমর (রাযিঃ) তা আশিতে পূর্ণ করেন। এ সবই সুন্নত।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃوَلِّ حَارَّهَا مَنْ تَوَلَّى قَارَّهَا এ বাক্যের অর্থ হলোঃ যে ব্যক্তি খিলাফতের সুখ-শান্তি ভোগ করবে, সে-ই এর কঠিন দায়িত্ব পালন করবে।

৩৫. বার বার মদ পানকারীর শাস্তি সম্পর্কে।

باب إِذَا تَتَابَعَ فِي شُرْبِ الْخَمْرِ

4423

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، ذَكْوَانَ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا شَرِبُوا الْخَمْرَ فَاجْلِدُوهُمْ ثُمَّ إِنْ شَرِبُوا فَاجْلِدُوهُمْ ثُمَّ إِنْ شَرِبُوا فَاجْلِدُوهُمْ ثُمَّ إِنْ شَرِبُوا فَاقْتُلُوهُمْ " .

Narrator: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

৪৪২৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কেউ মদ পান করে, তবে তাকে কোড়া মারবে। সে যদি আবার মদ পান করে, তবে তাকে কোড়া মারবে। এরপরও যদি মদ পান করে, পুনরায় তাকে কোড়া মারবে। তারপরও যদি মদ খায় (চতুর্থবার), তবে তাকে হত্যা করবে।

4424

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بِهَذَا الْمَعْنَى قَالَ وَأَحْسِبُهُ قَالَ فِي الْخَامِسَةِ " إِنْ شَرِبَهَا فَاقْتُلُوهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا فِي حَدِيثِ أَبِي غُطَيْفٍ فِي الْخَامِسَةِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৪২৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ বলেছেন।

4425

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَاصِمٍ الأَنْطَاكِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا سَكِرَ فَاجْلِدُوهُ ثُمَّ إِنْ سَكِرَ فَاجْلِدُوهُ ثُمَّ إِنْ سَكِرَ فَاجْلِدُوهُ فَإِنْ عَادَ الرَّابِعَةَ فَاقْتُلُوهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا حَدِيثُ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا شَرِبَ الْخَمْرَ فَاجْلِدُوهُ فَإِنْ عَادَ الرَّابِعَةَ فَاقْتُلُوهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا حَدِيثُ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " إِنْ شَرِبُوا الرَّابِعَةَ فَاقْتُلُوهُمْ " . وَكَذَا حَدِيثُ ابْنِ أَبِي نُعْمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَذَا حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالشَّرِيدِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَفِي حَدِيثِ الْجَدَلِيِّ عَنْ مُعَاوِيَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فَإِنْ عَادَ فِي الثَّالِثَةِ أَوِ الرَّابِعَةِ فَاقْتُلُوهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৪২৫. নসর ইবনে আসিম (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কেউ মদ পান করে মাতাল হয়, তবে তাকে কোড়া মারবে। সে মদ খেয়ে যদি আবার মাতাল হয়, তবে তাকে আবার চাবুক মারবে। সে যদি পুনরায় মদ খেয়ে মাতাল হয়, তবে তাকে আবারও কোড়া মারবে। আর সে যদি চতুর্থবার মদ খেয়ে মাতাল হয়, তবে তখন তাকে হত্যা করবে।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) তিনি বলেনঃ আমর ইবনে আবু সালাম (রাহঃ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেনঃ যদি কেউ মদ পান করে, তবে তাকে চাবুক মারবে। যদি এভাবে সে চতুর্থবার মদ পান করে, তবে তাকে হত্যা করবে।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ সুহাঈল (রাহঃ) আবু সালিহ হতে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেনঃ যদি চতুর্থবার মদ পান করে, তোমরা তাকে হত্যা করবে।

এভাবে আবু নুঈম (রাহঃ) ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে, নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। রাবী শরীদ (রাহঃ)-ও নবী করীম (ﷺ) হতেও এরূপ বর্ণনা করেছেন।

রাবী জাদালী (রাহঃ) মুআবিয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, যদি সে ব্যক্তি তৃতীয় বা চতুর্থবার মদ পান করে, তবে তোমরা তাকে হত্যা করবে।
4426

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ الزُّهْرِيُّ أَخْبَرَنَا عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ فَاجْلِدُوهُ فَإِنْ عَادَ فَاجْلِدُوهُ فَإِنْ عَادَ فَاجْلِدُوهُ فَإِنْ عَادَ فِي الثَّالِثَةِ أَوِ الرَّابِعَةِ فَاقْتُلُوهُ " . فَأُتِيَ بِرَجُلٍ قَدْ شَرِبَ فَجَلَدَهُ ثُمَّ أُتِيَ بِهِ فَجَلَدَهُ ثُمَّ أُتِيَ بِهِ فَجَلَدَهُ ثُمَّ أُتِيَ بِهِ فَجَلَدَهُ وَرَفَعَ الْقَتْلَ فَكَانَتْ رُخْصَةً . قَالَ سُفْيَانُ حَدَّثَ الزُّهْرِيُّ بِهَذَا الْحَدِيثِ وَعِنْدَهُ مَنْصُورُ بْنُ الْمُعْتَمِرِ وَمُخَوَّلُ بْنُ رَاشِدٍ فَقَالَ لَهُمَا كُونَا وَافِدَىْ أَهْلِ الْعِرَاقِ بِهَذَا الْحَدِيثِ .

Narrator: কাবীসা ইবন যুআয়ব (রহঃ)

৪৪২৬. আহমদ ইবনে আব্দা (রাহঃ) ..... কাবীসা ইবনে যুওয়াইব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কেউ মদ পান করে, তবে তাকে চাবুক মারবে। যদি সে আবার মদ পান করে, তবে তাকে আবার চাবুক মারবে। এরপর সে যদি তৃতীয় বা চতুর্থবার মদ পান করে, তবে তাকে হত্যা করবে। পরে একজন মদ পানকারীকে নবী করীম (ﷺ) এর নিকট পেশ করা হলে, তিনি তাকে কোড়ার শাস্তি দেন। তাকে পুনরায় আনা হলে তিনি পুনরায় তাকে ঐরূপ শাস্তি দেন। এরপর তাকে তৃতীয়বার নবী করীম (ﷺ)-এর কাছে পেশ করা হলে, তিনি তাকে চাবুক মেরে শাস্তি দেন। পরে তাকে চতুর্থবার হাযির করা হলে, নবী করীম (ﷺ) তাকে চাবুক মারেন এবং সে সময় হতে হত্যার নির্দেশ মউকুফ হয়ে যায়, যা পূর্বে কার্যকর ছিল।

4427

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى الْفَزَارِيُّ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنْ عُمَيْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه قَالَ لاَ أَدِي - أَوْ مَا كُنْتُ لأَدِيَ - مَنْ أَقَمْتُ عَلَيْهِ حَدًّا إِلاَّ شَارِبَ الْخَمْرِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَسُنَّ فِيهِ شَيْئًا إِنَّمَا هُوَ شَىْءٌ قُلْنَاهُ نَحْنُ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪৪২৭. ইসমাঈল ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যার উপর হদ কায়েম করবো, (ফলে সে মারা যাবে); তার দিয়াত বা রক্তপণ আমি দেব না। কেননা, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদ পানকারীদের ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বলেননি। এ ব্যাপারে শাস্তির যে বিধান প্রচলিত আছে, তা আমাদের দ্বারা নির্ধারিত।

4428

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ الْمِصْرِيُّ ابْنُ أَخِي، رِشْدِينَ بْنِ سَعْدٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، حَدَّثَهُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَزْهَرَ، قَالَ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الآنَ وَهُوَ فِي الرِّحَالِ يَلْتَمِسُ رَحْلَ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ أُتِيَ بِرَجُلٍ قَدْ شَرِبَ الْخَمْرَ فَقَالَ لِلنَّاسِ " اضْرِبُوهُ " . فَمِنْهُمْ مَنْ ضَرَبَهُ بِالنِّعَالِ وَمِنْهُمْ مَنْ ضَرَبَهُ بِالْعَصَا وَمِنْهُمْ مَنْ ضَرَبَهُ بِالْمِيتَخَةِ - قَالَ ابْنُ وَهْبٍ الْجَرِيدَةُ الرَّطْبَةُ - ثُمَّ أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تُرَابًا مِنَ الأَرْضِ فَرَمَى بِهِ فِي وَجْهِهِ .

Narrator: খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ)

৪৪২৮. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে আযহার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমার সামনে সেই দৃশ্যটি এখনও স্পষ্ট, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর বাহনে আরোহণ করে খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাযিঃ)-এর বাহন তালাশ করছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তিকে নবী করীম (ﷺ)-এর সামনে আনা হয়, যে মদ পান করেছিল। তখন তিনি লোকদের বলেনঃ তোমরা তাকে প্রহার কর। একথা শুনে কেউ তাকে জুতা দিয়ে, কেউ তাকে লাঠি দিয়ে এবং কেউ খেজুরের ডাল দিয়ে তাকে প্রহার করতে থাকে।

রাবী ইবনে ওয়াহাব (রাহঃ) বলেনঃ লোকেরা তাকে পাতাবিহীন খেজুরের ডাল দিয়ে প্রহার করে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক মুষ্টি মাটি নিয়ে সে ব্যক্তির মুখে নিক্ষেপ করেন।
4429
حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، قَالَ وَجَدْتُ فِي كِتَابِ خَالِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ عَنْ عُقَيْلٍ أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَزْهَرِ أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِشَارِبٍ وَهُوَ بِحُنَيْنٍ فَحَثَى فِي وَجْهِهِ التُّرَابَ ثُمَّ أَمَرَ أَصْحَابَهُ فَضَرَبُوهُ بِنِعَالِهِمْ وَمَا كَانَ فِي أَيْدِيهِمْ حَتَّى قَالَ لَهُمُ " ارْفَعُوا " . فَرَفَعُوا فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ جَلَدَ أَبُو بَكْرٍ فِي الْخَمْرِ أَرْبَعِينَ ثُمَّ جَلَدَ عُمَرُ أَرْبَعِينَ صَدْرًا مِنْ إِمَارَتِهِ ثُمَّ جَلَدَ ثَمَانِينَ فِي آخِرِ خِلاَفَتِهِ ثُمَّ جَلَدَ عُثْمَانُ الْحَدَّيْنِ كِلَيْهِمَا ثَمَانِينَ وَأَرْبَعِينَ ثُمَّ أَثْبَتَ مُعَاوِيَةُ الْحَدَّ ثَمَانِينَ .

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَزْهَرَ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَدَاةَ الْفَتْحِ وَأَنَا غُلاَمٌ شَابٌّ يَتَخَلَّلُ النَّاسَ يَسْأَلُ عَنْ مَنْزِلِ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ فَأُتِيَ بِشَارِبٍ فَأَمَرَهُمْ فَضَرَبُوهُ بِمَا فِي أَيْدِيهِمْ فَمِنْهُمْ مَنْ ضَرَبَهُ بِالسَّوْطِ وَمِنْهُمْ مَنْ ضَرَبَهُ بِعَصًا وَمِنْهُمْ مَنْ ضَرَبَهُ بِنَعْلِهِ وَحَثَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم التُّرَابَ فَلَمَّا كَانَ أَبُو بَكْرٍ أُتِيَ بِشَارِبٍ فَسَأَلَهُمْ عَنْ ضَرْبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الَّذِي ضَرَبَهُ فَحَزَرُوهُ أَرْبَعِينَ فَضَرَبَ أَبُو بَكْرٍ أَرْبَعِينَ فَلَمَّا كَانَ عُمَرُ كَتَبَ إِلَيْهِ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ إِنَّ النَّاسَ قَدِ انْهَمَكُوا فِي الشُّرْبِ وَتَحَاقَرُوا الْحَدَّ وَالْعُقُوبَةَ ‏.‏ قَالَ هُمْ عِنْدَكَ فَسَلْهُمْ ‏.‏ وَعِنْدَهُ الْمُهَاجِرُونَ الأَوَّلُونَ فَسَأَلَهُمْ فَأَجْمَعُوا عَلَى أَنْ يَضْرِبَ ثَمَانِينَ ‏.‏ قَالَ وَقَالَ عَلِيٌّ إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا شَرِبَ افْتَرَى فَأَرَى أَنْ يَجْعَلَهُ كَحَدِّ الْفِرْيَةِ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَدْخَلَ عُقَيْلُ بْنُ خَالِدٍ بَيْنَ الزُّهْرِيِّ وَبَيْنَ ابْنِ الأَزْهَرِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَزْهَرِ عَنْ أَبِيهِ ‏.‏

Narrator: বিবিধ

৪৪২৯. ইবনে সারুহ (রাহঃ) .... আব্দুর রহমান ইবনে আযহার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে একজন মদ পানকারী ব্যক্তিকে হাযির করা হয়, যখন তিনি হুনায়নে অবস্থান করছিলেন। তিনি মুখের উপর এক মুষ্টি মাটি নিক্ষেপ করেন এবং তাঁর সাহাবীগণকে নির্দেশ দেন তাকে মারধর করার জন্য। তখন তাঁরা তাকে মারধর করে। এরপর তিনি যখন বলেনঃ মারপিট বন্ধ কর; তখন তারা তা থেকে বিরত হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তিকালের পর, আবু বকর (রাযিঃ) মদ পানকারীদের চল্লিশ কোড়া মারতেন। উমর (রাযিঃ) তাঁর খিলাফতের প্রথম দিকে চল্লিশ দোররা মারতেন, পরে তাঁর খিলাফতের শেষের দিকে আশি দোররা মারতেন। উছমান (রাযিঃ) তাঁর আমলে কখনো চল্লিশ এবং কখনো আশি দোররা মারতেন। অবশেষে মুআবিয়া (রাযিঃ) তাঁর শাসনামলে আশি দোররা নির্ধারিত করেন।

আব্দুর রহমান ইবনু আযহার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কা বিজয়ের দিন সকালবেলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জনতার ভীড়ের মধ্যে পদব্রজে খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ)-এর শিবিরের সন্ধান করতে দেখি। আমি তখন উঠতি বয়সের যুবক। তাঁর নিকট এক মদ্যপায়ীকে উপস্থিত করা হলে তাঁর নির্দেশে লোকজন তাকে তাদের হাতের নিকট সহজলভ্য জিনিস দ্বারা প্রহার করে। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার প্রতি ধূলা নিক্ষেপ করেন। আবু বকর (রাঃ)-এর সময় এক মদপায়ীকে উপস্থিত করা হলে তিনি লোকজনকে প্রশ্ন করেন যে, নবী (ﷺ) উক্ত ব্যক্তিকে কয়টি বেত্রাঘাত করেছেন?

তারা চল্লিশ বার বেত্রাঘাতের কথা উল্লেখ করে। অতএব আবু বকর (রাঃ) চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেন। উমার (রাঃ) খলীফাহ হলে খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ) তাকে লিখে পাঠান যে, লোকজন মাদক গ্রহণের নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করছে এবং হাদ্দ ও শাস্তির ভয়কে পরোয়া করছে না। উমার (রাঃ) বলেন, আপনার নিকট যারা আছে তাদের প্রশ্ন করুন। তার সঙ্গে ছিলেন সর্বাগ্রে ইসলাম গ্রহণকারী মুহাজিরগণ। তিনি তাদের নিকট প্রশ্ন করলে তারা আশিটি বেত্রাঘাত সম্পর্কে ঐকমত্য হন। বর্ণনাকারী বলেন, ’আলী (রাঃ) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি মাদক গ্রহণ করলে সে মিথ্যা কথা বলে। অতএব আমি মনে করি, তাকে মিথ্যা বলার শাস্তির মতই শাস্তি দেয়া উচিত।

৩৬. মসজিদে শাস্তি প্রদান করা সম্পর্কে।

باب فِي إِقَامَةِ الْحَدِّ فِي الْمَسْجِدِ

4430

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ، - يَعْنِي ابْنَ خَالِدٍ - حَدَّثَنَا الشُّعَيْثِيُّ، عَنْ زُفَرَ بْنِ وَثِيمَةَ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، أَنَّهُ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُسْتَقَادَ فِي الْمَسْجِدِ وَأَنْ تُنْشَدَ فِيهِ الأَشْعَارُ وَأَنْ تُقَامَ فِيهِ الْحُدُودُ .

Narrator: হাকীম ইবনে হিযাম (রাঃ)

৪৪৩০. হিশাম ইবনে আম্মার (রাহঃ) ..... হাকীম ইবনে হিযাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদের মধ্যে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে, কবিতা পাঠ করতে এবং শাস্তি প্রদান করতে নিষেধ করেছেন।

৩৭. শাস্তি প্রদানের সময় মুখের উপর মারা সম্পর্কে।

باب فِي ضَرْبِ الْوَجْهِ فِي الْحَدِّ

4431

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عُمَرَ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي سَلَمَةَ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا ضَرَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَتَّقِ الْوَجْهَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৪৩১. আবু কামিল (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যখন তোমাদের কেউ অন্য কাউকে শাস্তি প্রদান করে, তখন সে যেন তার চেহারার উপর আঘাত না করে।

৩৮. শাস্তি সম্পর্কে।

باب فِي التَّعْزِيرِ

4432

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يُجْلَدُ فَوْقَ عَشْرِ جَلَدَاتٍ إِلاَّ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .

Narrator: আবু বুরদা ইবনে নিয়ার আনসারী (রাঃ)

৪৪৩২. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আবু বুরদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি ব্যতীত, অন্য কোন শাস্তি, দশ কোড়ার বেশী প্রদান করা যাবে না।

4433

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، أَنَّ بُكَيْرَ بْنَ الأَشَجِّ، حَدَّثَهُ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ جَابِرٍ، أَنَّ أَبَاهُ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا بُرْدَةَ الأَنْصَارِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فَذَكَرَ مَعْنَاهُ .

Narrator: আবু বুরদা ইবনে নিয়ার আনসারী (রাঃ)

৪৪৩৩. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... আবু বুরদা আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি।