كتاب الفتن

৩০. ফিতনাসমূহের বিবরণ ও করণীয়

Chapter 30 · 38 hadith

১. ফিতনা ফাসাদের উল্লেখ এবং এর নিদর্শনাবলী।

باب ذِكْرِ الْفِتَنِ وَدَلاَئِلِهَا

4192

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمًا فَمَا تَرَكَ شَيْئًا يَكُونُ فِي مَقَامِهِ ذَلِكَ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ إِلاَّ حَدَّثَهُ حَفِظَهُ مَنْ حَفِظَهُ وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيَهُ قَدْ عَلِمَهُ أَصْحَابُهُ هَؤُلاَءِ وَإِنَّهُ لَيَكُونُ مِنْهُ الشَّىْءُ فَأَذْكُرُهُ كَمَا يَذْكُرُ الرَّجُلُ وَجْهَ الرَّجُلِ إِذَا غَابَ عَنْهُ ثُمَّ إِذَا رَآهُ عَرَفَهُ .

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৪১৯২. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে কিয়ামত পর্যন্ত যা ঘটবে, সে সব ঘটনার বর্ণনা দেন। যারা তা হিফাজত করেছে, তারা উত্তম কাজ করেছে; আর যারা তা ভুলে গেছে, তারা ভুলেই গেছে। আমার সাথীগণ তা জানে এবং চিনে। যখন তাদের সামনে ঐ ধরনের কিছু সংঘটিত হয়, তখন তাদের তা ঐরূপ স্মরণ আসে, যেরূপ কোন পরিচিত ব্যক্তি বহুদিন অনুপস্থিত থাকার পর তাকে দেখা মাত্রই চিনে ফেলে।

4193

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ فَرُّوخَ، أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، أَخْبَرَنِي ابْنٌ لِقَبِيصَةَ بْنِ ذُؤَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ حُذَيْفَةُ بْنُ الْيَمَانِ وَاللَّهِ مَا أَدْرِي أَنَسِيَ أَصْحَابِي أَمْ تَنَاسَوْا وَاللَّهِ مَا تَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ قَائِدِ فِتْنَةٍ إِلَى أَنْ تَنْقَضِيَ الدُّنْيَا يَبْلُغُ مَنْ مَعَهُ ثَلاَثَمِائَةٍ فَصَاعِدًا إِلاَّ قَدْ سَمَّاهُ لَنَا بِاسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ وَاسْمِ قَبِيلَتِهِ .

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৪১৯৩. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর শপথ! আমি জানি না, আমার সাথীরা ভুলে গেছে কিনা? আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিয়ামত পর্যন্ত ফিতনা সৃষ্টিকারী কোন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করতে বাদ দেননি, যাদের সংখ্যা হবে তিনশ’রও বেশী। তিনি তাদের নাম, তাদের পিতার নাম এবং তাদের গোত্রের নাম আমাদের নিকট উল্লেখ করেন।

4194

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ، عَنْ بَدْرِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَكُونُ فِي هَذِهِ الأُمَّةِ أَرْبَعُ فِتَنٍ فِي آخِرِهَا الْفَنَاءُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪১৯৪. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ এ উম্মতের মধ্যে চারটি বড় ফিতনা সৃষ্টি হবে, এরপর কিয়ামত হবে।

4195

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَعِيدٍ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَالِمٍ، حَدَّثَنِي الْعَلاَءُ بْنُ عُتْبَةَ، عَنْ عُمَيْرِ بْنِ هَانِئٍ الْعَنْسِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يَقُولُ كُنَّا قُعُودًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ الْفِتَنَ فَأَكْثَرَ فِي ذِكْرِهَا حَتَّى ذَكَرَ فِتْنَةَ الأَحْلاَسِ فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا فِتْنَةُ الأَحْلاَسِ قَالَ " هِيَ هَرَبٌ وَحَرْبٌ ثُمَّ فِتْنَةُ السَّرَّاءِ دَخَنُهَا مِنْ تَحْتِ قَدَمَىْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي يَزْعُمُ أَنَّهُ مِنِّي وَلَيْسَ مِنِّي وَإِنَّمَا أَوْلِيَائِيَ الْمُتَّقُونَ ثُمَّ يَصْطَلِحُ النَّاسُ عَلَى رَجُلٍ كَوَرِكٍ عَلَى ضِلَعٍ ثُمَّ فِتْنَةُ الدُّهَيْمَاءِ لاَ تَدَعُ أَحَدًا مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ إِلاَّ لَطَمَتْهُ لَطْمَةً فَإِذَا قِيلَ انْقَضَتْ تَمَادَتْ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا حَتَّى يَصِيرَ النَّاسُ إِلَى فُسْطَاطَيْنِ فُسْطَاطِ إِيمَانٍ لاَ نِفَاقَ فِيهِ وَفُسْطَاطِ نِفَاقٍ لاَ إِيمَانَ فِيهِ فَإِذَا كَانَ ذَاكُمْ فَانْتَظِرُوا الدَّجَّالَ مِنْ يَوْمِهِ أَوْ مِنْ غَدِهِ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১৯৫. ইয়াহয়া ইবনে উছমান (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বসে ছিলাম। এ সময় তিনি ফিতনা সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করেন; এমন কি তিনি ‘ইহলাসের’ ফিতনার কথাও উল্লেখ করেন। এ সময় জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! ‘ইহলাসের’ ফিতনাটা কিরূপ? তিনি বলেনঃ তা হলো-পলায়ন ও ধ্বংস। এরপর তিনি সারা’ ফিতনার কথা উল্লেখ করে বলেনঃ তা এমন এক ব্যক্তির দ্বারা সংঘটিত হবে, যাকে লোকেরা আমার বংশের লোক বলে মনে করবে, কিন্তু আসলে সে আমার বংশের লোক হবে না। কেননা, আমার বন্ধু-বান্ধব তো মুত্তাকী লোকেরাই। এরপর লোকেরা এমন এক ব্যক্তির নেতৃত্বের উপর একমত হবে, যে দুর্বল চিত্ত ও লেংড়া হবে। (তার শাসনকাল দীর্ঘ হবে না।)

এরপর চরম ফিততা প্রকাশ পাবে, যা এ উম্মতের কাউকে এক চড় না দিয়ে ছাড়বে না। এরপর লোকেরা যখন বলাবলি করতে থাকবে যে, ফিতনার সময় শেষ হয়ে গেছে, তখন তা আরো বৃদ্ধি পাবে। তখন এমন অবস্থার সৃষ্টি হবে, সকালে যে মু’মিন থাকবে, সে সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে। এ সময় লোকেরা বিভিন্ন দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করবে। আর মুসলমানরা যে দুর্গে অবস্থান করবে, সেখানে কোন মুনাফিক থাকবে না এবং যেখানে মুনাফিকরা থাকবে, সেখানে কোন মু’মিন লোক থাকবে না। তোমরা যখন এ অবস্থায় পৌঁছবে, তখন দাজ্জাল বের হওয়ার অপেক্ষা করবে-ঐ দিন থেকেই বা পরের দিন।
4196

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ سُبَيْعِ بْنِ خَالِدٍ، قَالَ أَتَيْتُ الْكُوفَةَ فِي زَمَنِ فُتِحَتْ تُسْتَرُ أَجْلُبُ مِنْهَا بِغَالاً فَدَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا صَدْعٌ مِنَ الرِّجَالِ وَإِذَا رَجُلٌ جَالِسٌ تَعْرِفُ إِذَا رَأَيْتَهُ أَنَّهُ مِنْ رِجَالِ أَهْلِ الْحِجَازِ قَالَ قُلْتُ مَنْ هَذَا فَتَجَهَّمَنِي الْقَوْمُ وَقَالُوا أَمَا تَعْرِفُ هَذَا هَذَا حُذَيْفَةُ بْنُ الْيَمَانِ صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ حُذَيْفَةُ إِنَّ النَّاسَ كَانُوا يَسْأَلُونَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْخَيْرِ وَكُنْتُ أَسْأَلُهُ عَنِ الشَّرِّ فَأَحْدَقَهُ الْقَوْمُ بِأَبْصَارِهِمْ فَقَالَ إِنِّي قَدْ أَرَى الَّذِي تُنْكِرُونَ إِنِّي قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ هَذَا الْخَيْرَ الَّذِي أَعْطَانَا اللَّهُ أَيَكُونُ بَعْدَهُ شَرٌّ كَمَا كَانَ قَبْلَهُ قَالَ " نَعَمْ " . قُلْتُ فَمَا الْعِصْمَةُ مِنْ ذَلِكَ قَالَ " السَّيْفُ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ثُمَّ مَاذَا يَكُونُ قَالَ " إِنْ كَانَ لِلَّهِ خَلِيفَةٌ فِي الأَرْضِ فَضَرَبَ ظَهْرَكَ وَأَخَذَ مَالَكَ فَأَطِعْهُ وَإِلاَّ فَمُتْ وَأَنْتَ عَاضٌّ بِجِذْلِ شَجَرَةٍ " . قُلْتُ ثُمَّ مَاذَا قَالَ " ثُمَّ يَخْرُجُ الدَّجَّالُ مَعَهُ نَهْرٌ وَنَارٌ فَمَنْ وَقَعَ فِي نَارِهِ وَجَبَ أَجْرُهُ وَحُطَّ وِزْرُهُ وَمَنْ وَقَعَ فِي نَهْرِهِ وَجَبَ وِزْرُهُ وَحُطَّ أَجْرُهُ " . قَالَ قُلْتُ ثُمَّ مَاذَا قَالَ " ثُمَّ هِيَ قِيَامُ السَّاعَةِ " .

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৪১৯৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... সুবাই’ ইবনে খালিদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন ‘তাসতুর’ নামক স্থান বিজিত হয়, তখন আমি একটি খচ্চর কেনার জন্য কূফায় গমন করি। সেখানে মসজিদে প্রবেশ করে সেখানে কিছু লোককে বসে থাকতে দেখি। আর সেখানে এমন একজনকে বসা দেখতে পাই, যাকে দেখে আমার মনে হয়, লোকটি হিজাযের অধিবাসী। তিনি বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করি, ইনি কে? এরূপ জিজ্ঞাসা করাতে লোকেরা আমার প্রতি বিরক্ত হয়ে বলেঃ তুমি এ ব্যক্তিকে চিন না? ইনি তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবী হুযাইফা ইবনে ইয়ামান (রাযিঃ)।

তখন হুযাইফা (রাযিঃ) বলেনঃ লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কল্যাণ ও মঙ্গলের বিষয়াদী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতো এবং আমি তাঁর নিকট অকল্যাণের বিষয়াদী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম। এ কথা শুনে লোকেরা তাঁর প্রতি বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তাকাতে থাকলে, তিনি বলেনঃ আমার কথা যারা খারাপ মনে করে, আমি তাদের দেখতে পাচ্ছি। এরপর তিনি বলেন, একদা আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! মহান আল্লাহ আমাদের যে কল্যাণ ও মঙ্গল দান করেছেন, এরপর কি আবার খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হবে, যেমন আগে ছিল? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। আমি বলিঃ এর থেকে বাঁচার ব্যবস্থা কি? তিনি বলেনঃ তরবারি। আমি জিজ্ঞাসা করিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এরপর কি হবে? তিনি বলেনঃ এ সময় পৃথিবীতে যদি আল্লাহর কোন প্রতিনিধি থাকে এবং সে যুলুম করে তোমার পিঠ ভেঙ্গে দেয়, তোমার ধন-সম্পদ লুট করে নেয়, তবুও তুমি তার আনুগত্য করবে। আর যদি এরূপ কেউ না থাকে, তবে তুমি জঙ্গলে চলে যাবে এবং গাছের লতা-পাতা খেতে খেতে মরে যাবে।

আমি আরো জিজ্ঞাসা করিঃ এরপর কি হবে? তিনি বলেনঃ এরপর দাজ্জাল বের হবে, যার সাথে নহর ও আগুন থাকবে। যে তার আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে, সে অবশ্যই সাওয়াব পাবে এবং তার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। আর যে তার নহরে নিক্ষিপ্ত হবে, সে অবশ্যই গুনাহগার হবে এবং তার নেকী বরবাদ হবে। রাবী বলেনঃ আমি বললামঃ এরপর কি হবে? তিনি বললেনঃ এরপর কিয়ামত হবে।
4197

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ خَالِدٍ الْيَشْكُرِيِّ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ قُلْتُ بَعْدَ السَّيْفِ قَالَ " بَقِيَّةٌ عَلَى أَقْذَاءٍ وَهُدْنَةٌ عَلَى دَخَنٍ " . ثُمَّ سَاقَ الْحَدِيثَ قَالَ كَانَ قَتَادَةُ يَضَعُهُ عَلَى الرِّدَّةِ الَّتِي فِي زَمَنِ أَبِي بَكْرٍ " عَلَى أَقْذَاءٍ " . يَقُولُ قَذَى . " وَهُدْنَةٌ " . يَقُولُ صُلْحٌ " عَلَى دَخَنٍ " . عَلَى ضَغَائِنَ .

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৪১৯৭. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ...... খালিদ ইবনে ইয়াশকুরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। রাবী হুযাইফা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করিঃ তরবারির পরে কি অবস্থা হবে? (অর্থাৎ তরবারি দিয়ে কাফির মুশরিকদের ধ্বংসের পর কি হবে?) তিনি বলেনঃ এমন লোক অবশিষ্ট থাকবে, যাদের অন্তর ফিতনা-ফ্যাসাদে পরিপূর্ণ থাকবে। এরপর হাদীসের শেষ পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেনঃ কাতাদা (রাহঃ) এ ফিতনাকে ঐ সময়ের ঘটনারূপে উল্লেখ করেন, যা আবু বকর (রাযিঃ)-এর সময় ধর্মত্যাগীদের সাথে অনুষ্ঠিত হয় অর্থাৎ রিদ্দার যুদ্ধ।

4198

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُغِيرَةِ - عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ اللَّيْثِيِّ، قَالَ أَتَيْنَا الْيَشْكُرِيَّ فِي رَهْطٍ مِنْ بَنِي لَيْثٍ فَقَالَ مَنِ الْقَوْمُ فَقُلْنَا بَنُو لَيْثٍ أَتَيْنَاكَ نَسْأَلُكَ عَنْ حَدِيثِ حُذَيْفَةَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ بَعْدَ هَذَا الْخَيْرِ شَرٌّ قَالَ " فِتْنَةٌ وَشَرٌّ " . قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ بَعْدَ هَذَا الشَّرِّ خَيْرٌ قَالَ " يَا حُذَيْفَةُ تَعَلَّمْ كِتَابَ اللَّهِ وَاتَّبِعْ مَا فِيهِ " . ثَلاَثَ مِرَارٍ . قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ بَعْدَ هَذَا الشَّرِّ خَيْرٌ قَالَ " هُدْنَةٌ عَلَى دَخَنٍ وَجَمَاعَةٌ عَلَى أَقْذَاءٍ فِيهَا أَوْ فِيهِمْ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ الْهُدْنَةُ عَلَى الدَّخَنِ مَا هِيَ قَالَ " لاَ تَرْجِعُ قُلُوبُ أَقْوَامٍ عَلَى الَّذِي كَانَتْ عَلَيْهِ " . قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَبَعْدَ هَذَا الْخَيْرِ شَرٌّ قَالَ " فِتْنَةٌ عَمْيَاءُ صَمَّاءُ عَلَيْهَا دُعَاةٌ عَلَى أَبْوَابِ النَّارِ فَإِنْ تَمُتْ يَا حُذَيْفَةُ وَأَنْتَ عَاضٌّ عَلَى جِذْلٍ خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ تَتَّبِعَ أَحَدًا مِنْهُمْ " .

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৪১৯৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... নসর ইবনে আসিম লায়ছি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা লায়ছ-গোত্রের প্রতিনিধিদের সাথে ইয়াশকুরী (রাহঃ) এর নিকট উপস্থিত হলে, তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমরা কারা? আমরা বলিঃ আমরা লায়ছ গোত্রের লোক। আমরা আপনার কাছে হুযাইফা (রাযিঃ) এর হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য এসেছি। তিনি হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ ভাল অবস্থার পর কি খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হবে? তিনি বলেনঃ ফিতনার সৃষ্টি হবে। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! ফিতনা-ফ্যাসাদের পর পুনরায় কি ভালো অবস্থার সৃষ্টি হবে? তিনি বলেনঃ হে হুযাইফা! আল্লাহর কিতাবের জ্ঞান অর্জন কর এবং এতে যা আছে তার অনুসরণ কর। তিনি তিনবার একথা বলেন।

রাবী হুযাইফা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ খারাপ অবস্থার পর কি আবার ভালো অবস্থার সৃষ্টি হবে? তিনি বলেনঃ هُدْنَةٌ عَلَى دَخَنٍ আর এরা হবে এমন এক জামাআত, যাদের দিল অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে।

রাবী বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করিঃ هُدْنَةٌ عَلَى دَخَنٍ এর অর্থ কি? ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলেনঃ মানুষের অন্তর বা দিল যে অবস্থায় থাকবে, তা থেকে পরিবর্তিত হবে না।

রাবী বলেনঃ তখন আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ ভালো অবস্থার পর কি আবার খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হবে? তিনি বলেনঃ এরপর সর্বগ্রাসী ফিতনার সৃষ্টি হবে, তখন লোকদের আগুনের দরজার দিকে আহবান করা হবে। অতএব হে হুযাইফা! যদি তুমি সে সময় পাও, তবে তাদের কারো আনুগত্য করার চাইতে, তোমার জন্য উচিত হবে জঙ্গলে গিয়ে গাছের শিকড়, ফল-মূল ইত্যাদি খেতে খেতে মারা যাওয়া।
4199

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا أَبُو التَّيَّاحِ، عَنْ صَخْرِ بْنِ بَدْرٍ الْعِجْلِيِّ، عَنْ سُبَيْعِ بْنِ خَالِدٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ عَنْ حُذَيْفَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فَإِنْ لَمْ تَجِدْ يَوْمَئِذٍ خَلِيفَةً فَاهْرَبْ حَتَّى تَمُوتَ فَإِنْ تَمُتْ وَأَنْتَ عَاضٌّ " . وَقَالَ فِي آخِرِهِ قَالَ قُلْتُ فَمَا يَكُونُ بَعْدَ ذَلِكَ قَالَ " لَوْ أَنَّ رَجُلاً نَتَجَ فَرَسًا لَمْ تُنْتَجْ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ " .

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৪১৯৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যদি তুমি সে ফিতনার যুগে কোন খলীফা না পাও, তবে সেখান থেকে পালিয়ে যাবে। যতক্ষণ না তুমি মারা যাবে, ততক্ষণ জঙ্গলে গিয়ে ফল-মূল খেয়ে জীবন-ধারণ করবে।

রাবী হুযাইফা (রাযিঃ) বলেনঃ এরপর আমি জিজ্ঞাসা করিঃ (ইয়া রাসূলাল্লাহ!) তারপর কি হবে? তিনি বলেনঃ এ সময় যদি কেউ তার ঘোড়ার-বাচ্চা প্রসব করাতে চায়, তবে সে ব্যক্তি সে সময়ও পাবে বা, বরং এর মধ্যেই কিয়ামত অনষ্ঠিত হবে।
4200

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ رَبِّ الْكَعْبَةِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ بَايَعَ إِمَامًا فَأَعْطَاهُ صَفْقَةَ يَدِهِ وَثَمَرَةَ قَلْبِهِ فَلْيُطِعْهُ مَا اسْتَطَاعَ فَإِنْ جَاءَ آخَرُ يُنَازِعُهُ فَاضْرِبُوا رَقَبَةَ الآخَرِ " . قُلْتُ أَنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ سَمِعَتْهُ أُذُنَاىَ وَوَعَاهُ قَلْبِي . قُلْتُ هَذَا ابْنُ عَمِّكَ مُعَاوِيَةُ يَأْمُرُنَا أَنْ نَفْعَلَ وَنَفْعَلَ . قَالَ أَطِعْهُ فِي طَاعَةِ اللَّهِ وَاعْصِهِ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪২০০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন ইমামের নিকট বায়আত গ্রহণ করে, তার উচিত, সাধ্যমত তার আনুগত্য করা। এ সময় যদি অন্য কোন নেতা এসে তাঁর সাথে ঝগড়া শুরু করে দেয়, তবে তাকে হত্যা করবে।

রাবী আব্দুর রহমান (রাহঃ) বলেনঃ তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করিঃ তুমি কি ইহা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট থেকে শুনেছ? তিনি বলেনঃ অবশ্যই আমার দু’টি কান তা শ্রবণ করেছে এবং আমার অন্তর তা হিফাজত করেছে।

রাবী বলেন, আমি বলিঃ তোমার এই চাচার ছেলে মুআবিয়া আমাদের এরূপ-এরূপ করতে বলে? (অর্থাৎ সে আলী (রাযিঃ)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বলে।) তিনি বলেনঃ সে যেখানে আল্লাহর আনুগত্য করে, সেখানে তার আনুগত্য করবে এবং সে যেখানে আল্লাহর নাফরমানী করে, সেখানে তার আনুগত্য করবে না।
4201
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ شَيْبَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " وَيْلٌ لِلْعَرَبِ مِنْ شَرٍّ قَدِ اقْتَرَبَ أَفْلَحَ مَنْ كَفَّ يَدَهُ " .

قَالَ أَبُو دَاوُدَ حُدِّثْتُ عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُوشِكُ الْمُسْلِمُونَ أَنْ يُحَاصَرُوا إِلَى الْمَدِينَةِ حَتَّى يَكُونَ أَبْعَدُ مَسَالِحِهِمْ سَلاَحَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২০১. মুহাম্মাদ ইহন ইয়াহয়া (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আরবের ঐ ফিতনার প্রতি আফসোস! যা খুবই নিকটবর্তী। যে ব্যক্তি নিজের হাতকে তা থেকে ফিরিয়ে রাখবে, সে নাজাত পাবে।*

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, ইবনে ওয়াহাব, জারির, উবাইদুল্লাহ নাফি’ (রাহঃ) সূত্রে ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সে সময় অতি নিকটবর্তী, যখন মুসলমানদের মদীনাতে ঘিরে ফেলা হবে, এমনকি সব চাইতে দূরে, সালাহ নামক স্থানে, তাদের পতাকাবাহী নেতা হবে।**

* সম্ভবতঃ এ হাদীসে উছমান (রাযিঃ), আলী (রাযিঃ) ও মুআবিয়া (রাযিঃ)-এর সময়ের ফিতনার প্রতি ইংগিত করা হয়েছে, যা নবী (ﷺ) এর ভবিষ্যদ্বাণীর পর-পরই অনুষ্ঠিত হয়। – (অনুবাদক)

** সালাহ খায়বরের নিকট অবস্থিত একটি স্থানের নাম। সম্ভবতঃ এ অবস্থা হবে দাজ্জাল প্রকাশের সময়। -(অনুবাদক)
4202

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَنْبَسَةَ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ وَسَلاَحُ قَرِيبٌ مِنْ خَيْبَرَ .

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৪২০২. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... যুহরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সালাহ হলো-খায়বরের নিকটবর্তী একটি স্থানের নাম।

4203

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ زَوَى لِيَ الأَرْضَ " . أَوْ قَالَ " إِنَّ رَبِّي زَوَى لِيَ الأَرْضَ فَرَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا وَإِنَّ مُلْكَ أُمَّتِي سَيَبْلُغُ مَا زُوِيَ لِي مِنْهَا وَأُعْطِيتُ الْكَنْزَيْنِ الأَحْمَرَ وَالأَبْيَضَ وَإِنِّي سَأَلْتُ رَبِّي لأُمَّتِي أَنْ لاَ يُهْلِكَهَا بِسَنَةٍ بِعَامَّةٍ وَلاَ يُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ سِوَى أَنْفُسِهِمْ فَيَسْتَبِيحَ بَيْضَتَهُمْ وَإِنَّ رَبِّي قَالَ لِي يَا مُحَمَّدُ إِنِّي إِذَا قَضَيْتُ قَضَاءً فَإِنَّهُ لاَ يُرَدُّ وَلاَ أُهْلِكُهُمْ بِسَنَةٍ بِعَامَّةٍ وَلاَ أُسَلِّطُ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ سِوَى أَنْفُسِهِمْ فَيَسْتَبِيحَ بَيْضَتَهُمْ وَلَوِ اجْتَمَعَ عَلَيْهِمْ مَنْ بَيْنَ أَقْطَارِهَا أَوْ قَالَ بِأَقْطَارِهَا حَتَّى يَكُونَ بَعْضُهُمْ يُهْلِكُ بَعْضًا وَحَتَّى يَكُونَ بَعْضُهُمْ يَسْبِي بَعْضًا وَإِنَّمَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي الأَئِمَّةَ الْمُضِلِّينَ وَإِذَا وُضِعَ السَّيْفُ فِي أُمَّتِي لَمْ يُرْفَعْ عَنْهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَلاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى تَلْحَقَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ وَحَتَّى تَعْبُدَ قَبَائِلُ مِنْ أُمَّتِي الأَوْثَانَ وَإِنَّهُ سَيَكُونُ فِي أُمَّتِي كَذَّابُونَ ثَلاَثُونَ كُلُّهُمْ يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ لاَ نَبِيَّ بَعْدِي وَلاَ تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي عَلَى الْحَقِّ " . قَالَ ابْنُ عِيسَى " ظَاهِرِينَ " . ثُمَّ اتَّفَقَا " لاَ يَضُرُّهُمْ مَنْ خَالَفَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ " .

Narrator: হযরত ছাওবান (রাঃ)

৪২০৩. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) .... ছাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা আমার জন্য যমীনকে সংকুচিত করে দেন। অথবা তিনি বলেনঃ মহান আল্লাহ যমীনকে আমার জন্য ছোট করে দেন। আর এ সময় আমাকে যমীনের পূর্ব ও পশ্চিম দিক দেখানো হয়। আমার উম্মতের হুকুমত অবশ্যই সে পর্যন্ত পৌঁছবে, যা আমাকে দেখানো হয়েছে। আর আমাকে দু’টি ধন-ভাণ্ডার দেওয়া হয়েছে, লাল এবং সাদা অর্থাৎ সোনা ও রূপা। আমি আমার মহান রবের নিকট এরূপ দুআ করি, তিনি যেন আমার উম্মতকে এক সাথে ধ্বংস না করেন এবং তাদের উপর এমন কোন শত্রুকে বিজয়ী না করেন, যে তাদের সমূলে ধ্বংস করবে।

আমার রব আমাকে বলেনঃ হে মহাম্মাদ! আমি যখন কোন হুকুম জারি করে, কখন তা রদ হয় না। তবে আমি তোমার উম্মতকে একই দুর্ভিক্ষের বছর এক সাথে ধ্বংস করবো না এবং তাদের উপর এমন কোন শত্রুকে বিজয় প্রদান করবো না, যে তাদের সমূলে ধ্বংস করবে; তবে তোমার উম্মতের মধ্যে এমন লোক সৃষ্টি হবে, যারা একে অন্যকে ধ্বংস ও বন্দী করবে।

তিনি আরো বলেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে মধ্যেকার গুমরাহকারী নেতাদের ব্যাপারে খুবই ভীত-সন্ত্রস্ত। যখন আমার উম্মতের লোকেরা পরস্পর যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হবে, তখন তা কিয়ামত পর্যন্ত নিরস্ত হবে না। আর কিয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত আনুষ্ঠিত হবে না, যতক্ষণ না আমার উম্মতের সমস্ত গোত্র মুশরিকদের সাথে মিলে যাবে এবং মূর্তিপূজায় লিপ্ত হবে।

তিনি বলেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে ত্রিশ জন ভণ্ড নবীর আবির্ভাব ঘটবে, যাদের প্রত্যেকে নিজেকে নবী হিসাবে দাবী করবে। অথচ আমি-ই শেষ নবী, আমার পরে আর কোন নবির আবির্ভাব ঘটবে না। বস্তুত আমার উম্মতের এক জামাআত সব সময় সত্য ও ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, তাদের বিরোধীপক্ষ তাদের কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। এ অবস্থায় মহান আল্লাহর নির্দেশ অর্থাৎ কিয়ামত এসে যাবে।
4204

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ الطَّائِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنِي أَبِي، - قَالَ ابْنُ عَوْفٍ وَقَرَأْتُ فِي أَصْلِ إِسْمَاعِيلَ - قَالَ حَدَّثَنِي ضَمْضَمٌ، عَنْ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ، - يَعْنِي الأَشْعَرِيَّ - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ أَجَارَكُمْ مِنْ ثَلاَثِ خِلاَلٍ أَنْ لاَ يَدْعُوَ عَلَيْكُمْ نَبِيُّكُمْ فَتَهْلِكُوا جَمِيعًا وَأَنْ لاَ يَظْهَرَ أَهْلُ الْبَاطِلِ عَلَى أَهْلِ الْحَقِّ وَأَنْ لاَ تَجْتَمِعُوا عَلَى ضَلاَلَةٍ " .

Narrator: আবু মালিক আশআরী (রাঃ)

৪২০৪. মুহাম্মাদ ইবনে আওফ (রাহঃ) .... আবু মালিক আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তোমাদের তিন ধরনের ফিতনা থেকে বাঁচিয়েছেন। যথাঃ

১। তোমাদের নবী তোমাদের জন্য বদ-দুআ করবেন না, যাতে তোমরা সবাই এক সাথে হালাক হয়ে যাবে;

২। বাতিলের অনুসারীরা কখনই হকের অনুসারীদের উপর বিজয়ী হতে পারবে না, এবং

৩। তোমরা সবাই এক সাথে গুমরাহ হবে না।
4205

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ نَاجِيَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَدُورُ رَحَى الإِسْلاَمِ لِخَمْسٍ وَثَلاَثِينَ أَوْ سِتٍّ وَثَلاَثِينَ أَوْ سَبْعٍ وَثَلاَثِينَ فَإِنْ يَهْلِكُوا فَسَبِيلُ مَنْ هَلَكَ وَإِنْ يَقُمْ لَهُمْ دِينُهُمْ يَقُمْ لَهُمْ سَبْعِينَ عَامًا " . قَالَ قُلْتُ أَمِمَّا بَقِيَ أَوْ مِمَّا مَضَى قَالَ " مِمَّا مَضَى " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪২০৫. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ইসলামের চাকা পঁয়ত্রিশ, ছত্রিশ বা সাইত্রিশ বছর আবরতিত হবে। এ সময় যদি তারা ধ্বংস হয়, তবে তাদের রাস্তা হবে পূর্ববর্তীদের রাস্তার ন্যায়। আর এ সময় যদি তাদের দীন কায়েম হয়, তবে তা তাদের জন্য সত্তর বছর কায়েম থাকবে। রাবী বলেনঃ এ সময় আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করিঃ এ গণনার শুরু কি অতীত কাল হতে শুরু হবে, না সামনে থেকে? তিনি বলেনঃ এ হিসাবের শুরু অতীত থেকে হবে।*

* এ সময়টি হিজরত থেকে শুরু করে উছমান (রাযিঃ)-এর খিলাফতকাল পর্যন্ত সীমিত। যার পরিমাণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উল্লেখ করেন। - (অনুবাদক)
4206

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، حَدَّثَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَتَقَارَبُ الزَّمَانُ وَيَنْقُصُ الْعِلْمُ وَتَظْهَرُ الْفِتَنُ وَيُلْقَى الشُّحُّ وَيَكْثُرُ الْهَرْجُ " . قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَّةُ هُوَ قَالَ " الْقَتْلُ الْقَتْلُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২০৬. আহমদ ইবনে সালিহ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামত নিকটবর্তী হবে, ‘ইলম (ধর্মীয় জ্ঞান)’ ততই কম হবে এবং ফিতনা প্রকাশ পাবে, লোকজন অধিক কৃপন হবে এবং ‘হারাজ’ বৃদ্ধি পাবে। তখন বলা হয়ঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! হারাজ কি? তিনি বলেন, হত্যা, আর হত্যা।*

* অর্থাৎ কিয়ামতের আগে দুনিয়াতে যুদ্ধ-বিগ্রহ, মারা-মারি, কাটাকাটি, হত্যা-সন্ত্রাস অধিক হারে বৃদ্ধি পাবে। -(অনুবাদক)

২. ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি না করা সম্পর্কে।

باب فِي النَّهْىِ عَنِ السَّعْىِ، فِي الْفِتْنَةِ

4207

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عُثْمَانَ الشَّحَّامِ، قَالَ حَدَّثَنِي مُسْلِمُ بْنُ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهَا سَتَكُونُ فِتْنَةٌ يَكُونُ الْمُضْطَجِعُ فِيهَا خَيْرًا مِنَ الْجَالِسِ وَالْجَالِسُ خَيْرًا مِنَ الْقَائِمِ وَالْقَائِمُ خَيْرًا مِنَ الْمَاشِي وَالْمَاشِي خَيْرًا مِنَ السَّاعِي " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا تَأْمُرُنِي قَالَ " مَنْ كَانَتْ لَهُ إِبِلٌ فَلْيَلْحَقْ بِإِبِلِهِ وَمَنْ كَانَتْ لَهُ غَنَمٌ فَلْيَلْحَقْ بِغَنَمِهِ وَمَنْ كَانَتْ لَهُ أَرْضٌ فَلْيَلْحَقْ بِأَرْضِهِ " . قَالَ فَمَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ شَىْءٌ مِنْ ذَلِكَ قَالَ " فَلْيَعْمِدْ إِلَى سَيْفِهِ فَلْيَضْرِبْ بِحَدِّهِ عَلَى حَرَّةٍ ثُمَّ لِيَنْجُ مَا اسْتَطَاعَ النَّجَاءَ " .

Narrator: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৪২০৭. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... মুসলিম (রাহঃ) তার পিতা আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অদূর ভবিষ্যতে এমন একটি ফিতনা প্রকাশ পাবে, যখন শায়িত ব্যক্তি উপবেশনকারীর চাইতে, উপবেশনকারী দণ্ডায়মান ব্যক্তির চাইতে এবং দণ্ডায়মান ব্যক্তি পথচারীর চাইতে উত্তম হবে।

তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি সে সময়ে আমাদের কি করার নির্দেশ দেন? তিনি বলেনঃ সে সময় যার কাছে উট থাকবে, সে যেন তার উটের সাথে গিয়ে মিশে; যার কাছে বকরী থাকবে, সে যেন তার বকরীর সাথে গিয়ে মিশে এবং যার কোন ক্ষেত থাকবে, সে যেন সেদিকে মনোসংযোগ করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে। তিনি বলেনঃ যার এ সবের কিছুই থাকবে না, তার উচিত হবে, তার তরবারির ধার পাথরের উপর আঘাত করে নষ্ট করে ফেলা এবং যথাসম্ভব সে ফিতনা থেকে বেঁচে থাকা।
4208

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُفَضَّلٌ، عَنْ عَيَّاشٍ، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَشْجَعِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ دَخَلَ عَلَىَّ بَيْتِي وَبَسَطَ يَدَهُ لِيَقْتُلَنِي قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كُنْ كَابْنَىْ آدَمَ " . وَتَلاَ يَزِيدُ ( لَئِنْ بَسَطْتَ إِلَىَّ يَدَكَ ) الآيَةَ .

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৪২০৮. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... সাঈদ ইবনে আবী ওয়াককাস (রাযিঃ) এ হাদীস নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন যদি কেউ আমার ঘরে ঢুকে আমাকে হত্যা করতে চায়, তখন আমি কি করবো?

রাবী বলেনঃ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তুমি আদমের উত্তম সন্তান (হাবিল)-এর মত হবে। এরপর ইয়াযীদ (রাহঃ) এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ (لَئِنْ بَسَطْتَ إِلَىَّ يَدَكَ) অর্থাৎ যদি তুমি আমাকে হত্যার জন্য তোমার হাত আমার দিকে সম্প্রসারিত কর, তবুও আমি তোমাকে হত্যার জন্য আমার হাত বিস্তার করবো না। (৫ঃ ২৮)
4209

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شِهَابُ بْنُ خِرَاشٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ غَزْوَانَ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ رَاشِدٍ الْجَزَرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ وَابِصَةَ الأَسَدِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، وَابِصَةَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فَذَكَرَ بَعْضَ حَدِيثِ أَبِي بَكْرَةَ قَالَ " قَتْلاَهَا كُلُّهُمْ فِي النَّارِ " . قَالَ فِيهِ قُلْتُ مَتَى ذَلِكَ يَا ابْنَ مَسْعُودٍ قَالَ تِلْكَ أَيَّامُ الْهَرْجِ حَيْثُ لاَ يَأْمَنُ الرَّجُلُ جَلِيسَهُ . قُلْتُ فَمَا تَأْمُرُنِي إِنْ أَدْرَكَنِي ذَلِكَ الزَّمَانُ قَالَ تَكُفُّ لِسَانَكَ وَيَدَكَ وَتَكُونُ حِلْسًا مِنْ أَحْلاَسِ بَيْتِكَ . فَلَمَّا قُتِلَ عُثْمَانُ طَارَ قَلْبِي مَطَارَهُ فَرَكِبْتُ حَتَّى أَتَيْتُ دِمَشْقَ فَلَقِيتُ خُرَيْمَ بْنَ فَاتِكٍ فَحَدَّثْتُهُ فَحَلَفَ بِاللَّهِ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ لَسَمِعَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا حَدَّثَنِيهِ ابْنُ مَسْعُودٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪২০৯. আমর ইবনে উছমান (রাহঃ) .... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি। এরপর তিনি আবু বাকরা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করে বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ এ ফিতনায় যারা যারা মারা যাবে, তারা জাহান্নামে যাবে।

রাবী বলেনঃ তখন আমি ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করিঃ এ অবস্থার সৃষ্টি কখন হবে? তিনি বলেনঃ যখন ব্যাপক হত্যা শুরু হবে, এমনকি বন্ধু ও বন্ধুর হাত থেকে রক্ষা পাবে না। আমি বলিঃ যদি আমি সে সময় পাই, তবে আপনি আমাকে কি করতে বলেন? তিনি বলেনঃ তুমি তোমার হাত ও মুখকে নিয়ন্ত্রিত করবে এবং নিজ ঘরে জড়-পদার্থের ন্যায় অবস্থান করবে।

এরপর উছমান (রাযিঃ)-কে যখন শহীদ করা হয়, তখন আমার ধারণা হয় যে, সে ফিতনা শুরু হয়েছে। তখন আমি আমার বাহনে সওয়ার হয়ে দামিশকে চলে যাই এবং সেখানে হুরায়ম ইবনে ফাতিক (রাযিঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করি এবং তাঁর কাছে এ হাদীস বর্ণনা করি। তখন তিনি আল্লাহর নামে শপথ করেন, যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং বলেনঃ আমি ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এরূপ শুনেছি, যেরূপ তুমি ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করলে।
4210

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُحَادَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَرْوَانَ، عَنْ هُزَيْلٍ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ بَيْنَ يَدَىِ السَّاعَةِ فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا وَيُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْقَائِمِ وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي فَكَسِّرُوا قِسِيَّكُمْ وَقَطِّعُوا أَوْتَارَكُمْ وَاضْرِبُوا سُيُوفَكُمْ بِالْحِجَارَةِ فَإِنْ دُخِلَ - يَعْنِي عَلَى أَحَدٍ مِنْكُمْ - فَلْيَكُنْ كَخَيْرِ ابْنَىْ آدَمَ " .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৪২১০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের আগে ফিতনা এরূপ ধারণ করবে, যেরূপ রাতের গভীর আধার। সে সময় লোক সকালে মু’মিন হলে, সন্ধ্যায় কাফিরে পরিণত হবে এবং সন্ধ্যায় মু’মিন হলে, সকালে কাফির হয়ে যাবে। এ সময় উপবেশনকারী দণ্ডায়মান ব্যক্তির চাইতে এবং পদচারী দ্রুতগামী ব্যক্তির চাইতে উত্তম হবে। এ ফিতনার সময় তোমরা তোমাদের তীর-ধনুক ভেঙে ফেলবে এবং তরবারি পাথরের উপর আঘাত করে ভোতা করে ফেলবে। এরপরও যদি কেউ তোমাদের উপর হামলা করতে চায়, তবে সে যেন আদমের উত্তম সন্তান (হাবিল) এর মত হয়।

4211

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ رَقَبَةَ بْنِ مَصْقَلَةَ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ سَمُرَةَ - قَالَ كُنْتُ آخِذًا بِيَدِ ابْنِ عُمَرَ فِي طَرِيقٍ مِنْ طُرُقِ الْمَدِينَةِ إِذْ أَتَى عَلَى رَأْسٍ مَنْصُوبٍ فَقَالَ شَقِيَ قَاتِلُ هَذَا . فَلَمَّا مَضَى قَالَ وَمَا أَرَى هَذَا إِلاَّ قَدْ شَقِيَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ مَشَى إِلَى رَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي لِيَقْتُلَهُ فَلْيَقُلْ هَكَذَا فَالْقَاتِلُ فِي النَّارِ وَالْمَقْتُولُ فِي الْجَنَّةِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الثَّوْرِيُّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سُمَيْرٍ أَوْ سُمَيْرَةَ وَرَوَاهُ لَيْثُ بْنُ أَبِي سُلَيْمٍ عَنْ عَوْنٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سُمَيْرَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ لِي الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ - يَعْنِي بِهَذَا الْحَدِيثِ - عَنْ أَبِي عَوَانَةَ وَقَالَ هُوَ فِي كِتَابِي ابْنُ سَبْرَةَ وَقَالُوا سَمُرَةَ وَقَالُوا سُمَيْرَةَ هَذَا كَلاَمُ أَبِي الْوَلِيدِ .

Narrator: আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা (রাঃ)

৪২১১. আবুল ওয়ালীদ তায়ালিসী (রাহঃ) .... আব্দুর রহমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি মদীনার এক রাস্তায় ইবনে উমর (রাযিঃ) এর হাত ধরে ছিলাম। এ সময় ঝলন্ত একটা মাথা দেখে তিনি বলেনঃ এ ব্যক্তির হন্তা চরম হতভাগ্য! সে স্থান অতিক্রম করার পর তিনি বলেনঃ আমি তো তাকে হতভাগ্য বলে মনে করি। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি আমার কোন উম্মতের কাছে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে যায়, আর সে এরূপ বলে, তবে হত্যাকারী জাহান্নামী হবে এবং নিহত ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে।

4212

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ، عَنِ الْمُشَعَّثِ بْنِ طَرِيفٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَبَا ذَرٍّ " . قُلْتُ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ . فَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ فِيهِ " كَيْفَ أَنْتَ إِذَا أَصَابَ النَّاسَ مَوْتٌ يَكُونُ الْبَيْتُ فِيهِ بِالْوَصِيفِ " . قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ أَوْ قَالَ مَا خَارَ اللَّهُ لِي وَرَسُولُهُ . قَالَ " عَلَيْكَ بِالصَّبْرِ " . أَوْ قَالَ " تَصْبِرُ " . ثُمَّ قَالَ لِي " يَا أَبَا ذَرٍّ " . قُلْتُ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ . قَالَ " كَيْفَ أَنْتَ إِذَا رَأَيْتَ أَحْجَارَ الزَّيْتِ قَدْ غَرِقَتْ بِالدَّمِ " . قُلْتُ مَا خَارَ اللَّهُ لِي وَرَسُولُهُ . قَالَ " عَلَيْكَ بِمَنْ أَنْتَ مِنْهُ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلاَ آخُذُ سَيْفِي وَأَضَعُهُ عَلَى عَاتِقِي قَالَ " شَارَكْتَ الْقَوْمَ إِذًا " . قُلْتُ فَمَا تَأْمُرُنِي قَالَ " تَلْزَمُ بَيْتَكَ " . قُلْتُ فَإِنْ دُخِلَ عَلَىَّ بَيْتِي قَالَ " فَإِنْ خَشِيتَ أَنْ يَبْهَرَكَ شُعَاعُ السَّيْفِ فَأَلْقِ ثَوْبَكَ عَلَى وَجْهِكَ يَبُوءُ بِإِثْمِكَ وَإِثْمِهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَمْ يَذْكُرِ الْمُشَعَّثَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ غَيْرُ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৪২১২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেনঃ হে আবু যর! আমি বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার খিদমতে হাযির। এরপর তিনি হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ তখন নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেন, হে আবু যর! যখন (মড়কের কারণে) বহু লোক মারা যাবে এবং (লোক না থাকার কারণে) একটি গোলামের বিনিময়ে একটি বাড়ি পাওয়া যাবে, তখন তুমি কি করবে? আমি বলিঃ এ ব্যাপারে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সমধিক অভিজ্ঞ; বা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল আমাকে যা নির্দেশ দেন, (আমি তাই করবো)। তিনি বলেনঃ সে সময় তুমি সবর করবে, অথবা তিনি বলেনঃ তুমি সবর কর।

এরপর তিনি বলেনঃ হে আবু যর! আমি বলিঃ আমি আপনার খিদমতে হাযির। তিনি বলেনঃ যখন তুমি আহযার-যায়ত’ নামক স্থানটিকে রক্ত-প্লাবিত দেখবে, তখন কি করবে? আমি বলিঃ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল যা বলেন, আমি তাই করবো। তিনি বলেনঃ তখন তুমি নিজের লোকদের কাছে ফিরে যাবে।

রাবী বলেনঃ এরপর আমি জিজ্ঞাসা করিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে সময় আমি তরবারি নিয়ে তা কি কাঁধে ঝুলিয়ে রাখবো না? তিনি বলেনঃ তবে তো তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

রাবী বলেন, তখন আমি জিজ্ঞাসা করিঃ সে সময় আপনি আমাকে কি করতে বলেন? তিনি বলেনঃ তুমি তোমার ঘরে অবস্থান করবে। আমি বলিঃ তখন যদি হামলা করার জন্য কেউ সেখানে প্রবেশ করে? তিনি বলেনঃ যদি তুমি আক্রমণের আশঙ্কা কর, তবে তোমার মুখ চাদর দিয়ে ঢেকে নেবে (এবং নিহত হয়ে যাবে); ফলে, সে হত্যাকারী তার ও তোমার সমস্ত গুনাহের ভাগী হবে।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ ‘মুশআছ’-কে এ হাদীসে হাম্মাদ ইবনে যায়দ ছাড়া আর কেউ উল্লেখ করেননি।
4213

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، عَنْ أَبِي كَبْشَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا مُوسَى، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُصْبِحُ الرَّجُلُ فِيهَا مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا وَيُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا الْقَاعِدُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْقَائِمِ وَالْقَائِمُ فِيهَا خَيْرٌ مِنَ الْمَاشِي وَالْمَاشِي فِيهَا خَيْرٌ مِنَ السَّاعِي " . قَالُوا فَمَا تَأْمُرُنَا قَالَ " كُونُوا أَحْلاَسَ بُيُوتِكُمْ " .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৪২১৩. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের সামনে রাতের গভীর অন্ধকারের ন্যায় ফিতনা-ফ্যাসাদ সংঘটিত হবে। সে সময় একজন সকালে মুসলমান হবে, সন্ধ্যায় কাফিরে পরিণত হবে এবং সে সময় উপবেশনকারী দণ্ডায়মান ব্যক্তি হতে, দণ্ডায়মান ব্যক্তি চলাফেরাকারী ব্যক্তি হতে এবং চলমান ব্যক্তি দৌড়াদৌড়িকারী ব্যক্তি হতে উত্তম হবে। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেনঃ সে সময় আপনি আমাদের কি করতে বলেন? তিনি বলেনঃ তখন তোমরা তোমাদের ঘরের বিছানার ন্যায় (নির্জীব) হয়ে যাবে।

4214

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ الْمِصِّيصِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ جُبَيْرٍ، حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الأَسْوَدِ، قَالَ ايْمُ اللَّهِ لَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ إِنَّ السَّعِيدَ لَمَنْ جُنِّبَ الْفِتَنَ وَلَمَنِ ابْتُلِيَ فَصَبَرَ فَوَاهًا " .

Narrator: হযরত মিকদাদ ইবনে আমর (রাঃ)

৪২১৪. ইবরাহীম ইবনে হাসান (রাহঃ) ..... মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর শপথ! অবশ্যি আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, ঐ ব্যক্তি নেককার, যে ফিতনা থেকে দূরে থাকে; ঐ ব্যক্তি নেককার, যে ফিতনা থেকে দূরে থাকে, ঐ ব্যক্তি সৌভাগ্যবান যে ফিতনা থেকে দূরে থাকে। আর যে ব্যক্তি ফিতনাগ্রস্ত হওয়ার পর সবর করবে, সে খুবই ভাগ্যবান।

৩. মুখ বন্ধ রাখা সম্পর্কে।

باب فِي كَفِّ اللِّسَانِ

4215

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ خَالِدُ بْنُ أَبِي عِمْرَانَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْبَيْلَمَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " سَتَكُونُ فِتْنَةٌ صَمَّاءُ بَكْمَاءُ عَمْيَاءُ مَنْ أَشْرَفَ لَهَا اسْتَشْرَفَتْ لَهُ وَإِشْرَافُ اللِّسَانِ فِيهَا كَوُقُوعِ السَّيْفِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪২১৫. আব্দুল মালিক ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই মুক, বধির ও অন্ধরূপ ফিতনা প্রকাশ পাবে। যে ব্যক্তি তা দেখবে, সে ফিতনা তাঁর নিকটবর্তী হবে। আর এ সময় মুখ খোলা, তরবারি চালনার ন্যায় হবে (অর্থাৎ তা বিপদের কারণ হবে।)

4216

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنْ رَجُلٍ، يُقَالُ لَهُ زِيَادٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهَا سَتَكُونُ فِتْنَةٌ تَسْتَنْظِفُ الْعَرَبَ قَتْلاَهَا فِي النَّارِ اللِّسَانُ فِيهَا أَشَدُّ مِنْ وَقْعِ السَّيْفِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الثَّوْرِيُّ عَنْ لَيْثٍ عَنْ طَاوُسٍ عَنِ الأَعْجَمِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪২১৬. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই এমন এক ফিতনা-ফ্যসাদ প্রকাশ পাবে, যা গোটা আরবকে ঘিরে ফেলবে। আর এ সময় যারা নিহত হবে, তারা জাহান্নামী। এ সময় মুখ খোলা (বেহুদা কথাবার্তা বলা), তরবারির আঘাতের চাইতেও নিকৃষ্ট হবে।

4217

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ الطَّبَّاعِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْقُدُّوسِ، قَالَ زِيَادٌ سِيمِينْ كُوشْ .

Narrator: বিবিধ

৪২১৭. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল কুদ্দূস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। যিয়াদ (রাহঃ) তাঁর কান সাদা থাকার কারণে ‘সামীনুন-কুশুন’ বলে তাকে আখ্যায়িত করতো।

৪. ফিতনা প্রকাশ পেলে জঙ্গলে চলে যাবে।

باب مَا يُرَخَّصُ فِيهِ مِنَ الْبَدَاوَةِ فِي الْفِتْنَةِ

4218

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُوشِكُ أَنْ يَكُونَ خَيْرُ مَالِ الْمُسْلِمِ غَنَمًا يَتْبَعُ بِهَا شَعَفَ الْجِبَالِ وَمَوَاقِعَ الْقَطْرِ يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الْفِتَنِ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪২১৮. উবাইদুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই মুসলমানদের উত্তম সম্পদ হবে ঐ বকরিসমূহ, যাদের চরানোর জন্য তারা পর্বতের চূড়ায় ও পানির স্থানসমূহে থাকবে এবং এভাবে তারা দীন রক্ষার জন্য ফিতনা থেকে পালিয়ে যাবে।

৫. ফিতনা-ফাসাদের সময় যুদ্ধ বিগ্রহ না করা।

باب فِي النَّهْىِ عَنِ الْقِتَالِ، فِي الْفِتْنَةِ

4219

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، وَيُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ الأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ خَرَجْتُ وَأَنَا أُرِيدُ، - يَعْنِي فِي الْقِتَالِ - فَلَقِيَنِي أَبُو بَكْرَةَ فَقَالَ ارْجِعْ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا تَوَاجَهَ الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَالْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا الْقَاتِلُ فَمَا بَالُ الْمَقْتُولِ قَالَ " إِنَّهُ أَرَادَ قَتْلَ صَاحِبِهِ " .

Narrator: আহনাফ ইবনে কায়স (রহঃ)

৪২১৯. আবু কামিল (রাহঃ) .... আহনাফ ইবনে কায়স (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যুদ্ধের নিয়তে (আলী (রাযিঃ) এর পক্ষে) বের হলে, আমার সাথে আবু বাকরা (রাযিঃ)-এর দেখা হয়। তিনি বলেনঃ তুমি ফিরে যাও। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যখন দু’জন মুসলমান তাদের তরবারি নিয়ে, একজন অপরজনকে মারতে প্রস্তুত হবে, তখন হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে।

তিনি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! হত্যাকারী তো জাহান্নামে যাবে, কিন্তু নিহত ব্যক্তির অপরাধ কি? তিনি বলেনঃ এ জন্য যে, সেও তো তার ভাইকে হত্যা করার ইচ্ছা করেছিল।
4220

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ الْعَسْقَلاَنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ الْحَسَنِ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ مُخْتَصَرًا .

Narrator: হাসান বসরী (রহঃ)

৪২২০. মুহাম্মাদ ইবনে মুতাওয়াককিল (রাহঃ) .... হাসান (রাহঃ) থেকে সংক্ষিপ্তভাবে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

৬. মু’মিন ব্যক্তিকে হত্যা করা জঘন্য অপরাধ।

باب فِي تَعْظِيمِ قَتْلِ الْمُؤْمِنِ

4221

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ دِهْقَانَ، قَالَ كُنَّا فِي غَزْوَةِ الْقُسْطَنْطِينِيَّةِ بِذُلُقْيَةَ فَأَقْبَلَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ فِلَسْطِينَ - مِنْ أَشْرَافِهِمْ وَخِيَارِهِمْ يَعْرِفُونَ ذَلِكَ لَهُ يُقَالُ لَهُ هَانِئُ بْنُ كُلْثُومِ بْنِ شَرِيكٍ الْكِنَانِيُّ - فَسَلَّمَ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي زَكَرِيَّا وَكَانَ يَعْرِفُ لَهُ حَقَّهُ قَالَ لَنَا خَالِدٌ فَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زَكَرِيَّا قَالَ سَمِعْتُ أُمَّ الدَّرْدَاءِ تَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " كُلُّ ذَنْبٍ عَسَى اللَّهُ أَنْ يَغْفِرَهُ إِلاَّ مَنْ مَاتَ مُشْرِكًا أَوْ مُؤْمِنٌ قَتَلَ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا " . فَقَالَ هَانِئُ بْنُ كُلْثُومٍ سَمِعْتُ مَحْمُودَ بْنَ الرَّبِيعِ يُحَدِّثُ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّهُ سَمِعَهُ يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " مَنْ قَتَلَ مُؤْمِنًا فَاعْتَبَطَ بِقَتْلِهِ لَمْ يَقْبَلِ اللَّهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً " . قَالَ لَنَا خَالِدٌ ثُمَّ حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي زَكَرِيَّا عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَزَالُ الْمُؤْمِنُ مُعْنِقًا صَالِحًا مَا لَمْ يُصِبْ دَمًا حَرَامًا فَإِذَا أَصَابَ دَمًا حَرَامًا بَلَّحَ " . وَحَدَّثَ هَانِئُ بْنُ كُلْثُومٍ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ سَوَاءً .

Narrator: উম্মে দারদা (রহঃ)

৪২২১. মুআম্মাল ইবনে ফযল (রাহঃ) .... খালিদ ইবনে দিহকান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা যখন কুসতুনতুনিয়ার যুদ্ধে ‘যালকা’ নামক স্থানে ছিলাম, তখন ফিলিস্তিনের একজন গণ্য-মান্য ব্যক্তি, যাকে সকলে চিনতো এবং তার নাম ছিল ‘হানি ইবনে কুলছূম ইবনে শারীক কিনানী। তিন এসে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু যাকারিয়া (রাযিঃ)-কে সালাম করেন, যার মর্যাদা সম্পর্কে তিনি অবহিত ছিলেন। রাবী বলেনঃ খালিদ (রাহঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে যাকারিয়া (রাহঃ) আমাকে বলেছেনঃ আমি উম্মে দারদা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, যিনি আবু দারদা (রাযিঃ)-কে বলতে শোনেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ মহান আল্লাহ মুশরিক অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি এবং যে মু’মিন অন্য মু’মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, এরা ব্যতীত অন্য সকলের গুনাহ মাফ করবেন।

এরপর হানী ইবনে কুলছূম (রাহঃ) বলেনঃ আমি মাহমুদ ইবনে রাবী’ (রাহঃ)-কে উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন মু’মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে এবং তাকে হত্যা করে খুশী হবে, তার কোন ফরয এবং নফল ইবাদত আল্লাহ কবুল করবেন না।

রাবী বলেনঃ এরপর খালিদ আমাদের বলেন, ইবনে আবু যাকারিয়া (রাহঃ) আবু দারদা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ যতক্ষণ কোন মু’মিন অকারণে কাউকে হত্যা করে না, ততক্ষণ সে নিশ্চিত ও নেককার থাকে। কিন্তু যখন সে কাউকে হত্যা করে, তখন সে নির্ভীক ও জ্ঞান শূন্য হয়ে যায়।

হানী ইবনে কুলছূম (রাহঃ) মাহমুদ ইবনে রাবী’ (রাহঃ) থেকে তিনি উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন।
4222

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُبَارَكٍ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ، أَوْ غَيْرُهُ قَالَ قَالَ خَالِدُ بْنُ دِهْقَانَ سَأَلْتُ يَحْيَى بْنَ يَحْيَى الْغَسَّانِيَّ عَنْ قَوْلِهِ " اعْتَبَطَ بِقَتْلِهِ " . قَالَ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي الْفِتْنَةِ فَيَقْتُلُ أَحَدُهُمْ فَيَرَى أَنَّهُ عَلَى هُدًى لاَ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ - يَعْنِي - مِنْ ذَلِكَ .

Narrator: বিবিধ

৪২২২. আব্দুর রহমান ইবনে আমর (রাহঃ) .... খালিদ ইবনে দিহকান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া গাসসানী (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি اعْتَبَطَ بِقَتْلِهِ এ শব্দের অর্থ কি? তিনি বলেনঃ এর অর্থ হলো- যারা ফিতনার যুগে পরস্পর মারামারি-কাটাকাটি করে এবং তাদের একজন অপরজনকে হত্যা করার পর এরূপ মনে করে যে, সে ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত আছে! আর সে ঐ হত্যার পর তাওবা ইসতিগফারও করে না!

4223

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ مُجَالِدِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّ خَارِجَةَ بْنَ زَيْدٍ، قَالَ سَمِعْتُ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ، فِي هَذَا الْمَكَانِ يَقُولُ أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا ) بَعْدَ الَّتِي فِي الْفُرْقَانِ ( وَالَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ ) بِسِتَّةِ أَشْهُرٍ .

Narrator: খারিজা ইবনে যায়দ ইবনে ছাবিত (রহঃ)

৪২২৩. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... খারিজা ইবনে যায়দ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ)-কে এ স্থানে বলতে শুনেছি। তিনি বলেনঃ এ আয়াতঃ وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمঅর্থাৎ “যে ব্যক্তি কোন মু’মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে, তার শান্তি হলো জাহান্নাম যেখানে সে চিরস্থায়ী হবে”, সূরা ফুরকানের এ আয়াতঃ

وَالَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ

অর্থাৎ “যারা আল্লাহর সাথে অন্য কিছুর শরীক করে না এবং আল্লাহ যাদের হত্যা করতে নিষেধ করেছেন, তাদের হত্যা করে না- তবে হক ব্যতীত”- এর ছয় মাস পর নাযিল হয়।
4224

حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، أَوْ حَدَّثَنِي الْحَكَمُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ لَمَّا نَزَلَتِ الَّتِي فِي الْفُرْقَانِ ( وَالَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ ) قَالَ مُشْرِكُو أَهْلِ مَكَّةَ قَدْ قَتَلْنَا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ وَدَعَوْنَا مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَأَتَيْنَا الْفَوَاحِشَ . فَأَنْزَلَ اللَّهُ ( إِلاَّ مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلاً صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ ) فَهَذِهِ لأُولَئِكَ قَالَ وَأَمَّا الَّتِي فِي النِّسَاءِ ( وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ ) الآيَةُ قَالَ الرَّجُلُ إِذَا عَرَفَ شَرَائِعَ الإِسْلاَمِ ثُمَّ قَتَلَ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ لاَ تَوْبَةَ لَهُ . فَذَكَرْتُ هَذَا لِمُجَاهِدٍ فَقَالَ إِلاَّ مَنْ نَدِمَ .

Narrator: সাঈদ ইবনে জুবায়র (রহঃ)

৪২২৪. ইউসুফ ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে উপরোক্ত আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বলেনঃ যখন সূরা ফুরকানের এ আয়াতঃ যারা আল্লাহর সাথে অন্য কিছুর শরীক করে না এবং অন্য্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করে না”-নাযিল হয়, তখন মক্কার (নও-মুসলিম) মুশরিকরা এরূপ বলতে থাকে যে, আমরা তো আল্লাহর সাথে শরীক করেছি, অন্যায়ভাবে হত্যাও করেছি; এ ছাড়া আমরা আরো অনেক গুনাহ করেছি, (এমতাবস্থায় আমাদের নাজাতের ব্যবস্থা কি?) তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেনঃ “আর যে তাওবা করবে, ঈমান আনবে এবং নেক আমল করবে, আল্লাহ তাদের গুনাহকে নেকীতে পরিবর্তিত করে দেবেন”।

আর সূরা নিসার এ আয়াতঃ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মু’মিনকে হত্যা করবে, সে জাহান্নামে যাবে”, ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে নাযিল হয়, যে ইসলামী শরীআতের হুকুম-আহকাম সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া সত্ত্বেও কোন মু’মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, সে অবশ্যই জাহান্নামে যাবে এবং তার তাওবা কবুল হবে না। রাবী সাঈদ (রাহঃ) বলেনঃ আমি এ সম্পর্কে মুজাহিদ (রাহঃ)-এর সাথে আলোচনা করলে, তিনি বলেনঃ তবে কেউ যদি যথার্থ-লজ্জিত হয়ে তাওবা করে, তবে তা কবুল হবে।
4225

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي يَعْلَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي هَذِهِ الْقِصَّةِ فِي ( الَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ ) أَهْلُ الشِّرْكِ قَالَ وَنَزَلَ ( يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ ) .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪২২৫. আহমদ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এ আয়াতঃ الَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ অর্থাৎ “যারা আল্লাহর সাথে অন্য কিছুর শরীক করে না ...” এর অর্থ ঐসব লোক, যারা শিরক করেছে এবং শিরক করা অবস্থায় অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে; তাদের গুনাহ ঈমান আনার পর এবং তাওবা করার পর মাফ হয়ে যাবে। এর দলীল হলো এ আয়াতঃ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ “বলুনঃ হে আমার বান্দাগণ! যারা তাদের নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছে ...।

4226

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ النُّعْمَانِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ( وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا ) قَالَ مَا نَسَخَهَا شَىْءٌ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪২২৬. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এ আয়াত (وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا) অর্থাৎ “যে ব্যক্তি কোন মু’মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে ...” অন্য কোন আয়াত দ্বারা রহিত হয়নি।

4227

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا أَبُو شِهَابٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، فِي قَوْلِهِ ( وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ ) قَالَ هِيَ جَزَاؤُهُ فَإِنْ شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَتَجَاوَزَ عَنْهُ فَعَلَ .

Narrator: আবু মিজলায (রহঃ)

৪২২৭. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... আবু মাজলায (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এ আয়াতঃ “যে ব্যক্তি কোন মু’মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে, তার ঠিকানা হলো জাহান্নাম”, এর অর্থঃ জাহান্নাম-ই তার প্রাপ্য। তবে আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন, তবে তাকে ক্ষমাও করে দিতে পারেন।

৭. নিহত হওয়ার পরও নাজাতের প্রত্যাশা।

باب مَا يُرْجَى فِي الْقَتْلِ

4228

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، سَلاَّمُ بْنُ سُلَيْمٍ عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ فِتْنَةً فَعَظَّمَ أَمْرَهَا فَقُلْنَا أَوْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ لَئِنْ أَدْرَكَتْنَا هَذِهِ لَتُهْلِكَنَّا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَلاَّ إِنَّ بِحَسْبِكُمُ الْقَتْلُ " . قَالَ سَعِيدٌ فَرَأَيْتُ إِخْوَانِي قُتِلُوا .

Narrator: সাঈদ ইবনে যায়দ (রাঃ)

৪২২৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... সাঈদ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এ সময় তিনি ভয়াবহ একটি ফিতনার কথা উল্লেখ করেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমরা এ সময় জীবিত থাকি, তবে কি তা আমাদের তা ধ্বংস করে দেবে? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ না, এরূপ নয়; বরং সে সময় তোমরা নিহত হলে, তা তোমাদের জন্য যথেষ্ঠ হবে। রাবী সাঈদ (রাহঃ) বলেনঃ এরপর আমি আমার ভাইদের (সে ফিতনায়) নিহত হতে দেখি। (অর্থাৎ নবী (ﷺ) উটের ও সিফফীনের যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত করেন।)

4229

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُمَّتِي هَذِهِ أُمَّةٌ مَرْحُومَةٌ لَيْسَ عَلَيْهَا عَذَابٌ فِي الآخِرَةِ عَذَابُهَا فِي الدُّنْيَا الْفِتَنُ وَالزَّلاَزِلُ وَالْقَتْلُ " .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৪২২৯. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার এ উম্মতের উপর আল্লাহর রহমত আছে। আখিরাতে তারা (স্থায়ী) আযাব ভোগ করবে না। বরং তাদের কাফফারা এভাবে হবে যে, দুনিয়াতে তাদের শাস্তি হবে-ফিতনা, ভূমিকম্প এবং হত্যা।