كتاب النكاح

৬. বিবাহ-শাদীর অধ্যায়

Chapter 6 · 130 hadith

৯৬. বিবাহের ব্যাপারে উৎসাহিত করা।

باب التَّحْرِيضِ عَلَى النِّكَاحِ

2042

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ إِنِّي لأَمْشِي مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ بِمِنًى إِذْ لَقِيَهُ عُثْمَانُ فَاسْتَخْلاَهُ فَلَمَّا رَأَى عَبْدُ اللَّهِ أَنْ لَيْسَتْ لَهُ حَاجَةٌ قَالَ لِي تَعَالَ يَا عَلْقَمَةُ فَجِئْتُ فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ أَلاَ نُزَوِّجُكَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ بِجَارِيَةٍ بِكْرٍ لَعَلَّهُ يَرْجِعُ إِلَيْكَ مِنْ نَفْسِكَ مَا كُنْتَ تَعْهَدُ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ لَئِنْ قُلْتَ ذَاكَ لَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ مِنْكُمْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ " .

Narrator: আলকামা ইবনে কায়স নাখঈ (রহঃ)

২০৪২. উসমান ইবনে আবি শাঈবা ....... আলকামা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর সাথে মিনাতে গমনকালে উসমান (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাত হলে তিনি তাঁর নিকট হতে দূরে সরে নির্জন আলাপের জন্য অনুমতি চান। অতঃপর যখন আব্দুল্লাহ্ দেখতে পান যে, তাঁর (বিবাহের) কোন প্রয়োজন নেই, তিনি আমাকে বলেন হে আলকামা! আমার নিকট এসো! আমি তার নিকট এলে উসমান (রাযিঃ) তাকে বলেন, হে আবু আব্দুর রহমান! আমি তোমাকে একটি কুমারী নারীর সাথে বিবাহ দেব না? যাতে তুমি তোমার শারীরিক শক্তি সামর্থ ও বলবীর্য ফিরে পাও? আব্দুল্লাহ্ বলেন, আমি তা এজন্য বলছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, তোমাদের মধ্যে যে বিবাহে সক্ষম, সে যেন অবশ্যই বিবাহ করে। কেননা তা দৃষ্টিকে সংবরণকারী এবং লজ্জাস্থানকে সংরক্ষণকারী। আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিবাহে অসমর্থ, সে যেন অবশ্যই রোযা রাখে। কেননা তা তার জন্য কামস্পৃহা দমনকারী।

৯৭. ধর্মপরায়ণা রমণী বিবাহের নির্দেশ।

باب مَا يُؤْمَرُ بِهِ مِنْ تَزْوِيجِ ذَاتِ الدِّينِ

2043

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ - حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تُنْكَحُ النِّسَاءُ لأَرْبَعٍ لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَلِجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০৪৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ (সাধারণ) রমণীদেরকে চারটি গুণের অধিকারী দেখে বিবাহ করা হয়। যথাঃ (ক) তার ধন-সম্পদ, (খ) বংশমর্যাদা, (গ) তার সৌন্দর্য, (ঘ) তার দ্বীনদারী। তোমরা দ্বীনদার নারীকে বিবাহ করে ধন্য হও, অন্যথায় তোমার উভয় হাত অবশ্যই ধুলায় ধূসরিত হবে। (অর্থাৎ তুমি লাঞ্জিত ও অপমানিত হবে। হাদীসে ধর্মপরায়ণা নারীকে প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে।)।

৯৮. কুমারী নারীকে বিবাহ করা।

باب فِي تَزْوِيجِ الأَبْكَارِ

2044

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، أَخْبَرَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَتَزَوَّجْتَ " . قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ " بِكْرًا أَمْ ثَيِّبًا " . فَقُلْتُ ثَيِّبًا . قَالَ " أَفَلاَ بِكْرٌ تُلاَعِبُهَا وَتُلاَعِبُكَ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২০৪৪. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি বিবাহ করেছ? আমি বলি, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন, সে কি কুমারী, নাকি অকুমারী? আমি বলি, অকুমারী। তিনি বলেন, তুমি কোন কুমারী স্ত্রীলোককে কেন বিবাহ করলে না, যার সাথে তুমি আমোদ-ফুর্তি করতে পারতে এবং সেও তোমার সাথে আমোদ-ফুর্তি করতে পারত?

2045

حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ أَبِي حَفْصَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ امْرَأَتِي لاَ تَمْنَعُ يَدَ لاَمِسٍ . قَالَ " غَرِّبْهَا " . قَالَ أَخَافُ أَنْ تَتْبَعَهَا نَفْسِي . قَالَ " فَاسْتَمْتِعْ بِهَا " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০৪৫. আল্ ফযল ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ পেশ করে যে, আমার স্ত্রী কোন স্পর্শকারীর হাতকে মানা করে না (অর্থাৎ ভাবগতিতে ভ্রষ্টা মনে হয়) তিনি বলেন, তুমি তাকে ত্যাগ করো (অর্থাৎ তালাক দাও)। সে ব্যক্তি বলে, আমি এরূপ আশঙ্কা করি যে, হয়ত আমি তার বিরহে ব্যথিত হব। তিনি বলেন, তুমি তার নিকট হতে ফায়দা গ্রহণ করতে থাক। (ব্যভিচারের কোন প্রমাণ না থাকার কারণে এরূপ বলা হয়েছে)।

2046
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا مُسْتَلِمُ بْنُ سَعِيدِ ابْنُ أُخْتِ، مَنْصُورِ بْنِ زَاذَانَ عَنْ مَنْصُورٍ، - يَعْنِي ابْنَ زَاذَانَ - عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّي أَصَبْتُ امْرَأَةً ذَاتَ حَسَبٍ وَجَمَالٍ وَإِنَّهَا لاَ تَلِدُ أَفَأَتَزَوَّجُهَا قَالَ " لاَ " . ثُمَّ أَتَاهُ الثَّانِيَةَ فَنَهَاهُ ثُمَّ أَتَاهُ الثَّالِثَةَ فَقَالَ " تَزَوَّجُوا الْوَدُودَ الْوَلُودَ فَإِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الأُمَمَ " .
[قَالَ أَبُو دَاوُدَ: حَدَّثنا الحسن بن علي, سمعت يزيد بن هارون يقول: رأيت مستلمًا فكان يقع يمنة ويسرة. قال الحسن بن علي: لم يضع جنبه إلى الأرض أربعين سنة. قَالَ أَبُو دَاوُدَ: مستلم بن سعيد, ابن أخي, أو اب ن أخت, منصور بن زاذان, مكث سبعين يومًا لم يشرب الماء]

Narrator: মা'কিল ইবনে ইয়াসার (রাঃ)

২০৪৬. আহমদ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... মা‘কাল ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলে, আমি এক সুন্দরী এবং সদ্বংশীয়া রমণীর সন্ধান পেয়েছি, কিন্তু সে কোন সন্তান প্রসব করে না (বন্ধ্যা)। আমি কি তাকে বিবাহ করব? তিনি বলেন, না। অতঃপর সে ব্যক্তি দ্বিতীয়বার এসে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে নিষেধ করেন। পরে তৃতীয়বার সে ব্যক্তি এলে তিনি বলেন, তোমরা এমন স্ত্রীলোকদের বিবাহ করবে, যারা স্বামীদের অধিক মহাব্বাত করে এবং অধিক সন্তান প্রসব করে। কেননা আমি (কিয়ামতের দিন) তোমাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে (পূর্ববর্তী উম্মতের উপর) গর্ব প্রকাশ করব।

৯৯. আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ যিনাকার পুরূষ কেবল যিনাকারিণী স্ত্রীলোককে বিবাহ করবে।

باب فِي قَوْلِهِ تَعَالَى { الزَّانِي لاَ يَنْكِحُ إِلاَّ زَانِيَةً }

2047

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّيْمِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الأَخْنَسِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ مَرْثَدَ بْنَ أَبِي مَرْثَدٍ الْغَنَوِيَّ، كَانَ يَحْمِلُ الأُسَارَى بِمَكَّةَ وَكَانَ بِمَكَّةَ بَغِيٌّ يُقَالُ لَهَا عَنَاقُ وَكَانَتْ صَدِيقَتَهُ قَالَ جِئْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْكِحُ عَنَاقَ قَالَ فَسَكَتَ عَنِّي فَنَزَلَتْ ( وَالزَّانِيَةُ لاَ يَنْكِحُهَا إِلاَّ زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ ) فَدَعَانِي فَقَرَأَهَا عَلَىَّ وَقَالَ " لاَ تَنْكِحْهَا " .

Narrator: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

২০৪৭. ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ...... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, মারসাদ ইবনে মারসাদ আল্-গানবী মক্কাতে অন্তরীণ অবস্থায় ছিলেন। আর সে সময় মক্কাতে আনাক্ নাম্নী জনৈক যিনাকারীণী ছিল, যে (জাহিলীয়াতের যুগে) তার বান্ধবী ছিল। তিনি বলেন, তখন আমি নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে হাজির হয়ে আরয করি, হে আল্লাহর রাসুল! আমি কি আনাক-কে বিবাহ করব? তিনি (রাবী) বলেন, তিনি চুপ করে থাকাকালে এই আয়াত নাযিল হয়ঃ ‘‘যিনাকারিণী স্ত্রীলোক, তাকে কোন যিনাকার পুরুষ বা মুশরিক ব্যতীত আর কেউই বিবাহ করবে না।’’ তখন তিনি আমাকে ডেকে আমার সম্মুখে তা তিলাওয়াত করেন। অতঃপর বলেন, তুমি তাকে বিবাহ করো না।

2048

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَأَبُو مَعْمَرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ حَبِيبٍ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَنْكِحُ الزَّانِي الْمَجْلُودُ إِلاَّ مِثْلَهُ " . وَقَالَ أَبُو مَعْمَرٍ حَدَّثَنِي حَبِيبٌ الْمُعَلِّمُ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০৪৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যিনাকার পুরুষ, যিনাকারিণী স্ত্রীলোক ব্যতীত অন্যকে বিবাহ করবে না।

১০০. যে ব্যক্তি তার দাসীকে মুক্ত করার পর তাকে বিবাহ করে।

باب فِي الرَّجُلِ يَعْتِقُ أَمَتَهُ ثُمَّ يَتَزَوَّجُهَا

2049

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْثَرٌ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَعْتَقَ جَارِيَتَهُ وَتَزَوَّجَهَا كَانَ لَهُ أَجْرَانِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০৪৯. হান্নাদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) ও আবু মুসা আল আশআরী (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি তার দাসীকে মুক্ত করার পর তাকে বিবাহ করবে সে দ্বিগুণ সাওয়াবের অধিকারী হবে।

2050

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، وَعَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَعْتَقَ صَفِيَّةَ وَجَعَلَ عِتْقَهَا صَدَاقَهَا .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২০৫০. আমর ইবনে আওন (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) সাফিয়্যাকে মুক্ত করে দেন এবং তাঁর মুক্তিপণকে তাঁর মোহর হিসাবে গণ্য করেন (ও বিবাহ করেন)।

১০১. বংশীয় সম্পর্কের কারণে যা হারাম হয়, তা দুগ্ধ পানের কারণেও হারাম হয়।

باب يَحْرُمُ مِنَ الرَّضَاعَةِ مَا يَحْرُمُ مِنَ النَّسَبِ

2051

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَحْرُمُ مِنَ الرَّضَاعَةِ مَا يَحْرُمُ مِنَ الْوِلاَدَةِ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৫১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, বংশের কারণে যা হারাম হয়, তা দুগ্ধ পানের কারণেও হারাম হয়।

2052

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ، قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ لَكَ فِي أُخْتِي قَالَ " فَأَفْعَلُ مَاذَا " . قَالَتْ فَتَنْكِحُهَا . قَالَ " أُخْتَكِ " . قَالَتْ نَعَمْ . قَالَ " أَوَتُحِبِّينَ ذَاكَ " . قَالَتْ لَسْتُ بِمُخْلِيَةٍ بِكَ وَأَحَبُّ مَنْ شَرَكَنِي فِي خَيْرٍ أُخْتِي . قَالَ " فَإِنَّهَا لاَ تَحِلُّ لِي " . قَالَتْ فَوَاللَّهِ لَقَدْ أُخْبِرْتُ أَنَّكَ تَخْطُبُ دُرَّةَ - أَوْ ذَرَّةَ شَكَّ زُهَيْرٌ - بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ . قَالَ " بِنْتَ أُمِّ سَلَمَةَ " . قَالَتْ نَعَمْ . قَالَ " أَمَا وَاللَّهِ لَوْ لَمْ تَكُنْ رَبِيبَتِي فِي حِجْرِي مَا حَلَّتْ لِي إِنَّهَا ابْنَةُ أَخِي مِنَ الرَّضَاعَةِ أَرْضَعَتْنِي وَأَبَاهَا ثُوَيْبَةُ فَلاَ تَعْرِضْنَ عَلَىَّ بَنَاتِكُنَّ وَلاَ أَخَوَاتِكُنَّ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২০৫২. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ আন নুফায়লী (রাহঃ) ..... উম্মে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমার বোনের ব্যাপারে আপনার প্রয়োজন বা অনুরাগ আছে? তিনি বলেন, সে যা বলেছে যে, আপনি তাকে বিবাহ করুন, তা আমি করতাম। (কিন্তু) তিনি জিজ্ঞাসা করেন, আমি কি তোমার বোনকে বিবাহ করব? তিনি (উম্মে হাবীবা) বলেন, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন, অথবা তুমি কি তা পছন্দ কর? তিনি বলেন, আপনি এ ব্যাপারে একক সিন্ধান্তের অধিকারী নন? তবে আমি আমার বোনের মঙ্গলের ব্যাপারে শরীক হতে পছন্দ করি। (অর্থাৎ সে আপনার স্ত্রী হওয়ার গৌরব লাভ করলে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণের অধিকারী হবে এবং আমি তার জন্য কামনা করি)।

তিনি বলেন, সে আমার জন্য হালাল নয় (কেননা দুই বোনকে একই সঙ্গে স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করা শরীয়ত সম্মত নয়)। তিনি (উম্মে হাবীবা) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি জানতে পেরেছি যে, আপনি নাকি দুররা অথবা যুররা (রাবীর সন্দেহ) যুহাইর বিনতেে আবু সালামাকে বিবাহের জন্য প্রস্তাব পেশ করেছেন? তিনি জিজ্ঞাসা করেন, বিনতে উম্মে সালামা? তিনি বলেন, হ্যাঁ। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! যদি সে আমার ঘরে প্রতিপালিত না হত এবং আমার দুধ-ভাইয়ের কন্যা না হত, তবে সে আমার জন্য হালাল হত। কেননা তার পিতা আবু সালামাকে ও আমাকে সূওয়াইবিয়্যা দুগ্ধপান করিয়েছেন। কাজেই তোমরা তোমাদের বোন ও কন্যাকে আমার (সাথে বিবাহের) জন্য পেশ কর না।[১]

[১] সুওয়াইবিয়্যা নামক দাসীকে নবী করীম (ﷺ)-এর জন্মের সুসংবাদ দানের জন্য তাঁর চাচা আবু লাহাব মুক্ত করে দিয়েছিল। তাই সেই দিন হতে তিনি নবীজীকে স্বীয় দুধ পান করিয়েছিলেন। আর আবু সালামাকেও সে দাসীই দুধ পান করিয়েছিলেন। অতএব, আবু সালামা দুধভাই হওয়ায় তার কন্যার সাথে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর বিবাহ জায়িয ছিল না।

১০২. দুধ সম্পর্কীয় পুরুষ আত্মীয়।

باب فِي لَبَنِ الْفَحْلِ

2053

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ أَفْلَحُ بْنُ أَبِي الْقُعَيْسِ فَاسْتَتَرْتُ مِنْهُ . قَالَ تَسْتَتِرِينَ مِنِّي وَأَنَا عَمُّكِ قَالَتْ قُلْتُ مِنْ أَيْنَ قَالَ أَرْضَعَتْكِ امْرَأَةُ أَخِي . قَالَتْ إِنَّمَا أَرْضَعَتْنِي الْمَرْأَةُ وَلَمْ يُرْضِعْنِي الرَّجُلُ . فَدَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَدَّثْتُهُ فَقَالَ " إِنَّهُ عَمُّكِ فَلْيَلِجْ عَلَيْكِ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৫৩. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট আফলাহ্ ইবনে আবুল কু’আইস (রাযিঃ) প্রবেশ করলে আমি তার নিকট পর্দা করি। তিনি বলেন, তুমি আমার কাছে পর্দা করছ, অথচ আমি তোমার চাচা। তিনি বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কিরূপে আমার চাচা হন? তিনি বললেন, আমার ভাইয়ের স্ত্রী তোমাকে দুধ পান করিয়েছে। তিনি বলেন, আমাকে তো একজন মহিলা দুধ পান করিয়েছে, কোন পুরুষ তো আমাকে দুধ পান করায়নি? এমতাবস্থায় আমার নিকট রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আগমন করলেন। আমি তাঁকে সব খুলে বললাম, তিনি বললেন, হ্যাঁ, সে তোমার চাচা, কাজেই সে তোমার নিকট আসতে পারে।

১০৩. বয়স্ক ব্যক্তির দুধপান সম্পর্কে।

باب فِي رَضَاعَةِ الْكَبِيرِ

2054

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ الْمَعْنَى، وَاحِدٌ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيْهَا وَعِنْدَهَا رَجُلٌ قَالَ حَفْصٌ فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَيْهِ وَتَغَيَّرَ وَجْهُهُ - ثُمَّ اتَّفَقَا - قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ أَخِي مِنَ الرَّضَاعَةِ . فَقَالَ " انْظُرْنَ مَنْ إِخْوَانُكُنَّ فَإِنَّمَا الرَّضَاعَةُ مِنَ الْمَجَاعَةِ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৫৪. হাফস ইবনে উমর ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে একই রকম (শু‘বা ও সাওরী বর্ণিত হাদীসের মত) হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিকট এমন সময় হাজির হন, যখন তাঁর নিকট একজন পুরুষ লোক উপস্থিত ছিল। রাবী হাফস বলেন, এটা তাঁর নিকট খুবই অপছন্দনীয় মনে হয় এবং তাঁর চেহারা মোবারক (রাগের কারণে) পরিবর্তিত হয়। অতঃপর রাবী (হাফস ও মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর) একমত হয়ে বর্ণনা করেন যে, তখন তিনি (আয়িশা) বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! ইনি আমার দুধভাই। তিনি বলেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের সুযোগ দিবে। বস্তুত শিশুকালে একই সঙ্গে দুধপান, যা ক্ষুধা নিবারণ করে এর দ্বারা সম্পর্ক স্থাপিত হয়।

2055

حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ مُطَهِّرٍ، أَنَّ سُلَيْمَانَ بْنَ الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَهُمْ عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنٍ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ لاَ رِضَاعَ إِلاَّ مَا شَدَّ الْعَظْمَ وَأَنْبَتَ اللَّحْمَ . فَقَالَ أَبُو مُوسَى لاَ تَسْأَلُونَا وَهَذَا الْحَبْرُ فِيكُمْ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২০৫৫. আব্দুস সালাম ইবনে মুতাহহার (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুধপান করানোর অর্থই হল (পানকারীর) অস্থি মজবূত করানো এবং গোশত বৃদ্ধি করা। তখন আবু মুসা আল-আশআরী (রাযিঃ) বলেন, আমাদেরকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করো না, বরং এ ব্যাপারে তোমরাই অধিক ওয়াকিফহাল।

2056

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ أَبِي مُوسَى الْهِلاَلِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ وَقَالَ أَنْشَزَ الْعَظْمَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২০৫৬. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ..... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাবী (ওয়াকী) বলেন, এর দ্বারা অস্থি মজবুত করানো হয়।

১০৪. বয়স্ক ( দুধ পানকারী) ব্যক্তির জন্য যা হারাম হয়।

باب فِيمَنْ حَرَّمَ بِهِ

2057

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، حَدَّثَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ أَبَا حُذَيْفَةَ بْنَ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ بْنِ عَبْدِ شَمْسٍ كَانَ تَبَنَّى سَالِمًا وَأَنْكَحَهُ ابْنَةَ أَخِيهِ هِنْدَ بِنْتَ الْوَلِيدِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ وَهُوَ مَوْلًى لاِمْرَأَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ كَمَا تَبَنَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَيْدًا وَكَانَ مَنْ تَبَنَّى رَجُلاً فِي الْجَاهِلِيَّةِ دَعَاهُ النَّاسُ إِلَيْهِ وَوُرِّثَ مِيرَاثَهُ حَتَّى أَنْزَلَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى فِي ذَلِكَ ( ادْعُوهُمْ لآبَائِهِمْ ) إِلَى قَوْلِهِ ( فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ ) فَرُدُّوا إِلَى آبَائِهِمْ فَمَنْ لَمْ يُعْلَمْ لَهُ أَبٌ كَانَ مَوْلًى وَأَخًا فِي الدِّينِ فَجَاءَتْ سَهْلَةُ بِنْتُ سُهَيْلِ بْنِ عَمْرٍو الْقُرَشِيِّ ثُمَّ الْعَامِرِيِّ - وَهِيَ امْرَأَةُ أَبِي حُذَيْفَةَ - فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا نَرَى سَالِمًا وَلَدًا وَكَانَ يَأْوِي مَعِي وَمَعَ أَبِي حُذَيْفَةَ فِي بَيْتٍ وَاحِدٍ وَيَرَانِي فُضْلاً وَقَدْ أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِيهِمْ مَا قَدْ عَلِمْتَ فَكَيْفَ تَرَى فِيهِ فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَرْضِعِيهِ " . فَأَرْضَعَتْهُ خَمْسَ رَضَعَاتٍ فَكَانَ بِمَنْزِلَةِ وَلَدِهَا مِنَ الرَّضَاعَةِ فَبِذَلِكَ كَانَتْ عَائِشَةُ - رضى الله عنها - تَأْمُرُ بَنَاتِ أَخَوَاتِهَا وَبَنَاتِ إِخْوَتِهَا أَنْ يُرْضِعْنَ مَنْ أَحَبَّتْ عَائِشَةُ أَنْ يَرَاهَا وَيَدْخُلَ عَلَيْهَا وَإِنْ كَانَ كَبِيرًا خَمْسَ رَضَعَاتٍ ثُمَّ يَدْخُلَ عَلَيْهَا وَأَبَتْ أُمُّ سَلَمَةَ وَسَائِرُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُدْخِلْنَ عَلَيْهِنَّ بِتِلْكَ الرَّضَاعَةِ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ حَتَّى يَرْضَعَ فِي الْمَهْدِ وَقُلْنَ لِعَائِشَةَ وَاللَّهِ مَا نَدْرِي لَعَلَّهَا كَانَتْ رُخْصَةً مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِسَالِمٍ دُونَ النَّاسِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৫৭. আহমাদ ইবনে সালিহ্ (রাহঃ) .... নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) ও উম্মে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নিশ্চয়ই আবু হুযাইফা ইবনে উতবা ইবনে রাবীআ ইবনে আব্দি শামস সালেমকে পালক পুত্র হিসাবে লালনপালন করেন এবং তার সাথে তার ভ্রাতুষ্পুত্রী হিনদা বিনতুল ওয়ালীদ ইবনে রাবীআর বিবাহ দেন। আর সে ছিল একজন আনসার মহিলার আযাদকৃত গোলাম। যেমন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যায়দকে পালক পুত্র হিসাবে লালনপালন করেন। জাহিলীয়াতের যুগের প্রথা ছিল, কাউকে পালক পুত্র হিসাবে লালন-পালন করা হলে লোকেরা তাকে তার সাথে সম্পর্কিত করে ডাকতো এবং সে তার উত্তরাধিকারীও হতো। অতঃপর কুরআনের এই আয়াত নাযিল হলঃ ‘‘তোমরা তাদের ডাকবে তাদের প্রকৃত পিতার সাথে সম্পর্কিত করে, তারা তোমাদের দীনী ভাই এবং তোমাদের আযাদকৃত গোলাম।’’ কাজেই, তোমরা তাদেরকে তাদের পিতার সহিত সম্পর্কিত করবে। আর যদি কারো পিতৃ পরিচয় জানা না যায়, তবে সে দীনী ভাইও আযাদকৃত হবে।

অতঃপর সাহলা বিনতে সুহাইল ইবনে উমর আল্-কুরাইশী আল্-আমিরী যিনি আবু হুযাইফার স্ত্রী ছিলেন, আগমন করেন এবং বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা সালেমকে আমাদের পুত্র হিসাবে গণ্য করি। আর সে আমার সাথে এবং আবু হুযাইফার সাথে আমাদের ঘরে (আমাদের সন্তান হিসাবে) লালিত পালিত হয়েছে। আর সে আমাকে একই বস্ত্রের মধ্যে দেখেছে। আর আল্লাহ্ তাআলা এদের সম্পর্কে যা নাযিল করেছেন, তা আপনি বিশেষভাবে অবগত। এখন তার সম্পর্কে আপনি কী নির্দেশ দেন?

নবী করীম (ﷺ) তাকে বলেন, তাকে পাঁচবার তোমার দুধ পান করাও তাতে তুমি তার দুধ-মাতা হিসাবে পরিগণিত হবে। অতঃপর তিনি তাকে পাঁচবার দুধ পান করান এবং তিনি তার দুধ মা হিসাবে গণ্য হন। এই কারণেই আয়িশা (রাযিঃ) তাঁর বোনের ও ভাইয়ের মেয়েদের ও ছেলেদেরকে পাঁচবার দুধ পান করাতে নির্দেশ দিতেন যারা তাকে ভালবাসতেন, যাতে তিনি তাদের সাথে দেখা করতে পারেন।

কিন্তু উম্মে সালামা (রাযিঃ) ও নবী করীম (ﷺ) এর অন্যান্য স্ত্রীগণ এ বয়সে দুগ্ধ পানকারীগণকে নিজেদের নিকট উপস্থিত হতে বাধা দিতেন, বরং তারা ছোট বেলার দুধ পান করাকেই প্রাধান্য দিতেন (বয়স্ক ব্যক্তির নয়)। আর আমরা আয়িশা (রাযিঃ) সম্পর্কে বলতাম, আল্লাহর শপথ! আমাদের জানা নেই, সম্ভবত এটা (সালেমের ব্যাপারটি) নবী করীম (ﷺ) এর তরফ হতে বিশেষভাবে অনুমদিত ছিল, যা অন্যদের জন্য নয়।

১০৫. পাঁচবারের কম দুধপানে হুরমাত [১] প্রতিষ্ঠিত হবে কি?

باب هَلْ يُحَرِّمُ مَا دُونَ خَمْسِ رَضَعَاتٍ

2058

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ فِيمَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مِنَ الْقُرْآنِ عَشْرُ رَضَعَاتٍ يُحَرِّمْنَ ثُمَّ نُسِخْنَ بِخَمْسٍ مَعْلُومَاتٍ يُحَرِّمْنَ فَتُوُفِّيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُنَّ مِمَّا يُقْرَأُ مِنَ الْقُرْآنِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৫৮. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তাআলা কুরআনে যা অবতীর্ণ করেছেন, তাতে দশবার দুগ্ধ পান করা হলে হুরমাত (বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম) প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর পাঁচবার দুধ পান করানো হুরমাতের (বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম) জন্য নির্ধারিত হয় এবং পূর্বোক্ত নির্দেশ মানসূখ (রহিত) হয়। অতঃপর নবী করীম (ﷺ) ইন্তিকাল করেন এবং এর শুধু কিরা’আত (পঠন) অবশিষ্ট থাকে।

[১] হারাম।

১০৫. পাঁচবারের কম দুধপানে হুরমাত প্রতিষ্ঠিত হবে কি?

باب هَلْ يُحَرِّمُ مَا دُونَ خَمْسِ رَضَعَاتٍ

2059

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُحَرِّمُ الْمَصَّةُ وَلاَ الْمَصَّتَانِ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৫৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, একবার বা দু‘বার দুধ চোষার কারণে হুরমাত (বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম) প্রতিষ্ঠিত হয় না।

১০৬. দুগ্ধপান ত্যাগের সময় বিনিময় প্রদান।

باب فِي الرَّضْخِ عِنْدَ الْفِصَالِ

2060

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَجَّاجِ بْنِ حَجَّاجٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا يُذْهِبُ عَنِّي مَذَمَّةَ الرَّضَاعَةِ قَالَ " الْغُرَّةُ الْعَبْدُ أَوِ الأَمَةُ " . قَالَ النُّفَيْلِيُّ حَجَّاجُ بْنُ حَجَّاجٍ الأَسْلَمِيُّ وَهَذَا لَفْظُهُ .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

২০৬০. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ ..... হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) তাঁর পিতা হাজ্জাজ ইবনে হাজ্জাজ (রাহঃ) হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার উপর দুগ্ধ পানের জন্য হক (দেয়) কি? তিনি বলেন, আল-গুররা অর্থাৎ দাস অথবা দাসী (দিতে হবে)।

১০৭. যে সমস্ত স্ত্রীলোককে একত্রে বিবাহ করা হারাম।

باب مَا يُكْرَهُ أَنْ يُجْمَعَ بَيْنَهُنَّ مِنَ النِّسَاءِ

2061

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ عَلَى عَمَّتِهَا وَلاَ الْعَمَّةُ عَلَى بِنْتِ أَخِيهَا وَلاَ الْمَرْأَةُ عَلَى خَالَتِهَا وَلاَ الْخَالَةُ عَلَى بِنْتِ أُخْتِهَا وَلاَ تُنْكَحُ الْكُبْرَى عَلَى الصُّغْرَى وَلاَ الصُّغْرَى عَلَى الْكُبْرَى " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০৬১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাহমুদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, তোমরা কোন স্ত্রীলোককে তার ফুফুর সাথে অথবা তার ভাইয়ের মেয়ের সাথে একত্রে বিবাহ করবে না। আর কোন স্ত্রীলোককে তার খালার সাথে অথবা খালাকে তার বোনের সাথে একত্রে বিবাহ করবে না। আর তোমরা বড় (বোন) কে, ছোট (বোনের) উপর এবং ছোট (বোন) কে বড় (বোনের) উপর বিবাহ করবে না (অর্থাৎ দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করবে না)।

2062

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي قَبِيصَةُ بْنُ ذُؤَيْبٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُجْمَعَ بَيْنَ الْمَرْأَةِ وَخَالَتِهَا وَبَيْنَ الْمَرْأَةِ وَعَمَّتِهَا .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০৬২. আহমদ ইবনে সালিহ্ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কোন স্ত্রীলোকের সাথে তার খালা ও ফুফুকে এবং দু‘জন খালা এবং ফুফকে একত্রে বিবাহ করতে নিষেধ করেছেন।

2063

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا خَطَّابُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ خُصَيْفٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَرِهَ أَنْ يُجْمَعَ بَيْنَ الْعَمَّةِ وَالْخَالَةِ وَبَيْنَ الْخَالَتَيْنِ وَالْعَمَّتَيْنِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০৬৩. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কোন স্ত্রী লোকের সাথে তার খালা ও ফুফুকে এবং দুজন খালা ফুফুকে একত্রে বিবাহ করতে নিষেধ করেছেন।

2064

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنْ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ( وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ ) قَالَتْ يَا ابْنَ أُخْتِي هِيَ الْيَتِيمَةُ تَكُونُ فِي حِجْرِ وَلِيِّهَا فَتُشَارِكُهُ فِي مَالِهِ فَيُعْجِبُهُ مَالُهَا وَجَمَالُهَا فَيُرِيدُ أَنْ يَتَزَوَّجَهَا بِغَيْرِ أَنْ يُقْسِطَ فِي صَدَاقِهَا فَيُعْطِيَهَا مِثْلَ مَا يُعْطِيهَا غَيْرُهُ فَنُهُوا أَنْ يَنْكِحُوهُنَّ إِلاَّ أَنْ يُقْسِطُوا لَهُنَّ وَيَبْلُغُوا بِهِنَّ أَعْلَى سُنَّتِهِنَّ مِنَ الصَّدَاقِ وَأُمِرُوا أَنْ يَنْكِحُوا مَا طَابَ لَهُمْ مِنَ النِّسَاءِ سِوَاهُنَّ . قَالَ عُرْوَةُ قَالَتْ عَائِشَةُ ثُمَّ إِنَّ النَّاسَ اسْتَفْتَوْا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ هَذِهِ الآيَةِ فِيهِنَّ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِيهِنَّ وَمَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ فِي يَتَامَى النِّسَاءِ اللاَّتِي لاَ تُؤْتُونَهُنَّ مَا كُتِبَ لَهُنَّ وَتَرْغَبُونَ أَنْ تَنْكِحُوهُنَّ ) قَالَتْ وَالَّذِي ذَكَرَ اللَّهُ أَنَّهُ يُتْلَى عَلَيْهِمْ فِي الْكِتَابِ الآيَةُ الأُولَى الَّتِي قَالَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى ( وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ ) قَالَتْ عَائِشَةُ وَقَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فِي الآيَةِ الآخِرَةِ ( وَتَرْغَبُونَ أَنْ تَنْكِحُوهُنَّ ) هِيَ رَغْبَةُ أَحَدِكُمْ عَنْ يَتِيمَتِهِ الَّتِي تَكُونُ فِي حِجْرِهِ حِينَ تَكُونُ قَلِيلَةَ الْمَالِ وَالْجَمَالِ فَنُهُوا أَنْ يَنْكِحُوا مَا رَغِبُوا فِي مَالِهَا وَجَمَالِهَا مِنْ يَتَامَى النِّسَاءِ إِلاَّ بِالْقِسْطِ مِنْ أَجْلِ رَغْبَتِهِمْ عَنْهُنَّ . قَالَ يُونُسُ وَقَالَ رَبِيعَةُ فِي قَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ( وَإِنْ خِفْتُمْ أَنْ لاَ تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى ) قَالَ يَقُولُ اتْرُكُوهُنَّ إِنْ خِفْتُمْ فَقَدْ أَحْلَلْتُ لَكُمْ أَرْبَعًا .

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

২০৬৪. আহমদ ইবনে উমর (রাহঃ) ...... ইবনে শিহাব (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে উরওয়া ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বলেছেন যে, একদা তিনি নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ)-কে এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। ‘আর যদি তোমরা ইয়াতীমদের মধ্যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না বলে আশঙ্কা কর, তবে তোমরা (ইয়াতীম ব্যতীত) অন্য যে কোন স্ত্রীলোকদের খুশীমত বিবাহ কর।’’

তিনি (আয়িশা) বলেন, হে আমার বোনের পুত্র! ঐ ইয়াতীমরা (স্ত্রীগণ) তার মুরুব্বীর গৃহে অবস্থান করে এবং তার মালের অংশীদার হয়। অতঃপর সে ব্যক্তি তার সম্পদ ও সৌন্দর্য দর্শনে অভিভূত হয়। তখন তার ওলী (অভিভাবক) তার প্রতি ইনসাফ প্রদর্শন না করে তাকে বিবাহ করতে চায় এবং সে অন্য স্ত্রীলোককে যা দিতে চায়, তার চাইতে তাকে কম (মোহর) দিতে ইচ্ছা করে। কাজেই এদের সঙ্গে ইনসাফের সাথে ব্যবহার করা উচিত এবং তাদের উচিত প্রাপ্য (মোহর) প্রদান করা দরকার। তারা ব্যতীত অন্য যে কোন পছন্দনীয় স্ত্রীলোককে (যে কোন মোহরে) বিবাহ করতে পারবে।

রাবী উরওয়া (রাহঃ) বলেন, অয়েশা (রাযিঃ) বলেছেন, অতঃপর লোকেরা উপরোক্ত আয়াত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করতে থাকলে পরবর্তীকালে আল্লাহ্ তাআলা এই আয়াতটি নাযিল করেনঃ আর তারা আপনাকে স্ত্রীলোকদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করছে। আপনি বলুন! আল্লাহ্ ইহাদের ব্যাপারে সমাধান দিয়েছেন। ‘আর ইয়াতীম মহিলাদের ব্যাপারে কুরআনের মধ্যে তোমাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা হল, তাদের জন্য যে মোহর নির্ধারিত, তা তোমরা প্রদান কর না, অথচ তোমরা তাদের বিবাহ করতে পছন্দ কর।’’

তিনি (আয়িশা) বলেন, আর আল্লাহ্ তাদের সম্পর্কে প্রথম আয়াতে (কুরআনে) যা বর্ণনা করেছেন, তা হল, যদি তোমরা ইয়তীম স্ত্রীলোকদের মধ্যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না বলে আশঙ্কা কর, তবে তোমাদের খুশীমত তোমরা অন্য স্ত্রীদেরকে বিবাহ কর। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহ্ তাআলা কর্তৃক বর্ণিত দ্বিতীয় আয়াতে যা বলা হয়েছে, তা হল, আর তোমরা তাদেরকে বিবাহ করতে পছন্দ কর, এই পছন্দ তোমাদের কারোও ঐ ইয়াতীম সম্পর্কে, যে তোমাদের তত্ত্বাবধানে থাকে এবং তার ধন সম্পদ এবং সৌন্দর্য কম থাকে। কাজেই ইয়াতীমদের মাল ও সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাদেরকে বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে, বরং ইনসাফের সাথে তাদের প্রতি স্বতঃস্ফুর্তভাবে আকর্ষিত হতে বলা হয়েছে।
2065

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ الدُّؤَلِيُّ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ عَلِيَّ بْنَ الْحُسَيْنِ حَدَّثَهُ أَنَّهُمْ، حِينَ قَدِمُوا الْمَدِينَةَ مِنْ عِنْدِ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ مَقْتَلَ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ - رضى الله عنهما - لَقِيَهُ الْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ فَقَالَ لَهُ هَلْ لَكَ إِلَىَّ مِنْ حَاجَةٍ تَأْمُرُنِي بِهَا قَالَ فَقُلْتُ لَهُ لاَ . قَالَ هَلْ أَنْتَ مُعْطِيَّ سَيْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يَغْلِبَكَ الْقَوْمُ عَلَيْهِ وَايْمُ اللَّهِ لَئِنْ أَعْطَيْتَنِيهِ لاَ يُخْلَصُ إِلَيْهِ أَبَدًا حَتَّى يَبْلُغَ إِلَى نَفْسِي إِنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ - رضى الله عنه - خَطَبَ بِنْتَ أَبِي جَهْلٍ عَلَى فَاطِمَةَ - رضى الله عنها - فَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَخْطُبُ النَّاسَ فِي ذَلِكَ عَلَى مِنْبَرِهِ هَذَا وَأَنَا يَوْمَئِذٍ مُحْتَلِمٌ فَقَالَ " إِنَّ فَاطِمَةَ مِنِّي وَأَنَا أَتَخَوَّفُ أَنْ تُفْتَنَ فِي دِينِهَا " . قَالَ ثُمَّ ذَكَرَ صِهْرًا لَهُ مِنْ بَنِي عَبْدِ شَمْسٍ فَأَثْنَى عَلَيْهِ فِي مُصَاهَرَتِهِ إِيَّاهُ فَأَحْسَنَ قَالَ " حَدَّثَنِي فَصَدَقَنِي وَوَعَدَنِي فَوَفَّى لِي وَإِنِّي لَسْتُ أُحَرِّمُ حَلاَلاً وَلاَ أُحِلُّ حَرَامًا وَلَكِنْ وَاللَّهِ لاَ تَجْتَمِعُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ وَبِنْتُ عَدُوِّ اللَّهِ مَكَانًا وَاحِدًا أَبَدًا " .

Narrator: আলী ইবনে হুসাইন যাইনুল আবিদীন (রহঃ)

২০৬৫. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... আলী ইবনে হুসাইন (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁরা যখন হুসাইন ইবনে আলী (রাযিঃ) এর শাহাদাতের সময়, ইয়াযীদ ইবনে মুআবিয়ার নিকট হতে মদীনায় আসেন; তখন তাঁর সাথে আল্-মুসাও্ওয়ার ইবনে মাখরামার সাক্ষাত হয়। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনার কি আমার নিকট কোন প্রয়োজন আছে, যা সম্পদনের জন্য আপনি আমাকে নির্দেশ দিবেন? তিনি (আলী) বলেন, না। তখন তিনি (মুসাও্ওয়ার) বলেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর তরবারিটি আমাকে দান করবেন? কেননা আমার আশঙ্কা হয়, হয়ত লোকেরা তা আপনার নিকট হতে কেড়ে নিবে। আল আল্লাহর শপথ! যদি আপনি তা আমাকে প্রদান করেন, আমার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তা কেউই নিতে পারবে না।

(রাবী কিরমানী বলেন) আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) ফাতিমা (রাযিঃ) এর জীবদ্দশায় আবু জেহেলের কন্যা বিবাহের উদ্দেশ্যে পয়গাম প্রেরণ করেন। এই সময় আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদানের সময় এ সম্পর্কে বলতে শুনি, আর এই সময় আমি সাবালক ছিলাম। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই ফাতিমা আমার দেহের একটি অংশ। আর আমি এরূপ আশঙ্কা করি যে, সে এর ফলে ঈর্ষানলে জ্বলতে থাকবে। (কেননা এটাই মেয়েদের স্বভাব) অতঃপর তিনি বণী আব্দুস শামসের সাথে তাঁর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন এবং তাদের সদ্ব্যবহারের কথাও তিনি বিশেষভাবে বলেন। অতঃপর, তিনি বলেন, তারা আমার সাথে যা বলেছিল, তা সত্যে পরিণত করেছিল এবং আমার সাথে যে ওয়াদা করেছিল, তা পূর্ণ করেছিল। আর আমি এমন ব্যক্তি নই যে, কোনো হালাল-কে হারাম করতে পারি বা হারাম-কে হালাল করতে পারি। (বরং আল্লাহর হুকুম ব্যতীত আমার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব নয়।) আল্লাহর শপথ! আল্লাহর রাসূলের কন্যা এবং আল্লাহর দুশমনের কন্যা একই ঘরে কখনো একত্রিত হতে পারে না।
2066

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، بِهَذَا الْخَبَرِ قَالَ فَسَكَتَ عَلِيٌّ عَنْ ذَلِكَ النِّكَاحِ

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মুলায়কা (রহঃ)

২০৬৬. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ...... ইবনে আবু মূলায়কা পূর্বোক্ত হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, রাবী মুসাও্ওযার বলেছেন, তখন আলী (রাযিঃ) ঐ বিবাহের সংকল্প ত্যাগ করেন।

2067

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، - الْمَعْنَى - قَالَ أَحْمَدُ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ الْقُرَشِيُّ التَّيْمِيُّ، أَنَّ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ " إِنَّ بَنِي هِشَامِ بْنِ الْمُغِيرَةِ اسْتَأْذَنُونِي أَنْ يُنْكِحُوا ابْنَتَهُمْ مِنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ فَلاَ آذَنُ ثُمَّ لاَ آذَنُ ثُمَّ لاَ آذَنُ إِلاَّ أَنْ يُرِيدَ ابْنُ أَبِي طَالِبٍ أَنْ يُطَلِّقَ ابْنَتِي وَيَنْكِحَ ابْنَتَهُمْ فَإِنَّمَا ابْنَتِي بَضْعَةٌ مِنِّي يُرِيبُنِي مَا أَرَابَهَا وَيُؤْذِينِي مَا آذَاهَا " . وَالإِخْبَارُ فِي حَدِيثِ أَحْمَدَ .

Narrator: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ)

২০৬৭. আহমদ ইবনে ইউনুস ..... আল্ মুসাওওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছিঃ নিশ্চয়ই বনী হিশাম ইবনে মুগীরা (আবু জেহেলের চাচা) তাদের কন্যাকে আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) এর সাথে বিবাহ দেয়ার জন্য অনুমতি চাচ্ছে। তাদের এ ব্যাপারে অনুমতি নাই, অনুমতি নাই, অনুমতি নাই। অবশ্য যদি (আলী) ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) আমার কন্যাকে তালাক দেয়, তবে সে তাদের কন্যা গ্রহণ করতে পারে। কেননা, আমার কন্যা আমারই অংশ। আর তাকে যা সংশয়ে ফেলে তা আমাকেও সংশয়ে ফেলবে এবং তাকে যা কষ্ট দিবে তা আমাকেও ব্যথিত করবে। আর হাদীসের এই অংশটি আহমদ হতে বর্ণিত।

১০৮. মুত’আ [১] বা ভোগ - বিবাহ।

باب فِي نِكَاحِ الْمُتْعَةِ

2068

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَتَذَاكَرْنَا مُتْعَةَ النِّسَاءِ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ رَبِيعُ بْنُ سَبْرَةَ أَشْهَدُ عَلَى أَبِي أَنَّهُ حَدَّثَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْهَا فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ .

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

২০৬৮. মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ ..... যুহরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি উমর ইবনে আব্দুল আযীযের নিকট উপস্থিত ছিলাম। এই সময় মুতআ বিবাহ সম্পর্কে পরস্পর আলোচনা করতে থাকাকালে জনৈক ব্যক্তি, যার নাম ছিল রাবীআ ইবনে সাবুরা তিনি বলেন, আমি যখন আমার পিতার নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদায় হজ্জের সময় এরূপ করতে (মুত্আ বিবাহ) নিষেধ করেন।

[১] যদি কোনো লোক কোনো স্ত্রীলোককে ক্ষণস্থায়ী ভোগের জন্য বিবাহ করে এরূপ বিবাহকে মুতাআ বিবাহ বলে। নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট দুই কালের জন্যও হতে পারে। কাল নির্দিষ্ট থাকলে একে নিকাহে মুয়াক্কাত বলে।

১০৮. মুত’আ বা ভোগ - বিবাহ।

باب فِي نِكَاحِ الْمُتْعَةِ

2069

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ رَبِيعِ بْنِ سَبْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَرَّمَ مُتْعَةَ النِّسَاءِ .

Narrator: রবী ইবনে সাবরা জুহানী (রহঃ)

২০৬৯. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ..... রাবীআ ইবনে সাবুরা তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুত্আ বিবাহ হারাম করেছেন।

১০৯. মোহর নির্ধারণ ব্যতীত এক বিবাহের পরিবর্তে অন্য বিবাহ।

باب فِي الشِّغَارِ

2070

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، كِلاَهُمَا عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الشِّغَارِ . زَادَ مُسَدَّدٌ فِي حَدِيثِهِ قُلْتُ لِنَافِعٍ مَا الشِّغَارُ قَالَ يَنْكِحُ ابْنَةَ الرَّجُلِ وَيُنْكِحُهُ ابْنَتَهُ بِغَيْرِ صَدَاقٍ وَيَنْكِحُ أُخْتَ الرَّجُلِ وَيُنْكِحُهُ أُخْتَهُ بِغَيْرِ صَدَاقٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২০৭০. আল কা‘নবী ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শিগার [১] করতে নিষেধ করেছেন। রাবী মুসাদ্দাদ তার বর্ণিত হাদীসে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আমি নাফি‘কে জিজ্ঞাসা করি, শিগার কী? তিনি বলেন, কেউ যদি কারো মেয়েকে বিবাহ করে এই শর্তে যে, সে তার মেয়েকে এর পরিবর্তে তার নিকট বিবাহ দিবে মোহর নির্ধারণ ব্যতীত। কিংবা কেউ যদি কারো বোন বিবাহ করে, আর সেও তার সাথে নিজের বোন বিবাহ দেয় মোহর ব্যতীত। (অর্থাৎ একের বিবাহের পরিবর্তে বিনা মোহরের অপরের বিবাহ সম্পাদনকে শিগার বলে। অন্ধকারযুগে আরবে এরূপ বিবাহ প্রচলিত ছিল)।

[১] শিগার বলা হয়, এরূপ শর্তে বিবাহ-শাদী করা যে, তুমি আমার বোনকে বিবাহ করবে এবং আমি তোমার বোনকে বিবাহ করব মাহর ছাড়া। আরবে অন্ধকার যুগে এরূপ বিবাহ প্রচলিত ছিল। ইসলামে তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে
2071

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ هُرْمُزَ الأَعْرَجُ، أَنَّ الْعَبَّاسَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْعَبَّاسِ، أَنْكَحَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْحَكَمِ ابْنَتَهُ وَأَنْكَحَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ ابْنَتَهُ وَكَانَا جَعَلاَ صَدَاقًا فَكَتَبَ مُعَاوِيَةُ إِلَى مَرْوَانَ يَأْمُرُهُ بِالتَّفْرِيقِ بَيْنَهُمَا وَقَالَ فِي كِتَابِهِ هَذَا الشِّغَارُ الَّذِي نَهَى عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

২০৭১. মুহামাদ ইবনে ইয়াহিয়া .... ইবনে ইসহাক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমার নিকট আব্দুর রহমান ইবনে হুরমুজ আল-আ’রাজ বলেছেন যে, আব্বাস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস আব্দুর রহমান ইবনে হাকামের সাথে তারঁ কন্যা বিবাহ দেন এবং তারা এ বিয়েতে কোন মোহর ধার্য করেন নাই। তখন মুআবিয়া (রাযিঃ) মারওয়ানকে এ মর্মে নির্দেশ দেন যে, সে যেন উভয়ের বিবাহ বিচ্ছিন্ন করে দেয়এবং তিনি (মুআবিয়া) তার পত্রে উল্লেখ করেন যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শিগার নিষেধ করেছেন।

১১০. তাহলীল বা হালাল করা।

باب فِي التَّحْلِيلِ

2072

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ، عَنْ عَامِرٍ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، رضى الله عنه - قَالَ إِسْمَاعِيلُ وَأُرَاهُ قَدْ رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَعَنَ اللَّهُ الْمُحَلِّلَ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ " .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২০৭২. আহমাদ ইবনে ইউনুস .... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইসমাঈল বলেছেন, আমার ধারণা যে, তিনি নবী করীম (ﷺ) হতে মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিবাহ করে, সে এবং যে স্বামী তালাক দেওয়ার পর পুনরায় গ্রহণের ইচ্ছায় তাকে অন্যের নিকট বিবাহ দিয়ে তার জন্য হালাল করে লয়, তারা উভয়েই অভিশপ্ত।

2073

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ عَامِرٍ، عَنِ الْحَارِثِ الأَعْوَرِ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَرَأَيْنَا أَنَّهُ عَلِيٌّ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২০৭৩. ওয়াহব ইবনে বাকীয়্যা ..... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জনৈক সাহাবী হতে বর্ণিত। রাবী শা‘বী (রাহঃ) বলেন, আমাদের ধারণা, তিনি হলেন আলী (রাযিঃ), যিনি নবী করীম (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

১১১. মনিবের অনুমতি ব্যতীত কোন ক্রীতদাসের বিবাহ করা।

باب فِي نِكَاحِ الْعَبْدِ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهِ

2074

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، - وَهَذَا لَفْظُ إِسْنَادِهِ - وَكِلاَهُمَا عَنْ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيُّمَا عَبْدٍ تَزَوَّجَ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهِ فَهُوَ عَاهِرٌ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২০৭৪. আহমাদ ইবনে হাম্বল ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যদি কোন ক্রীতদাস তার মনিবের বিনানুমতিতে বিবাহ করে তবে সে যিনাকারী হবে।

2075

حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو قُتَيْبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا نَكَحَ الْعَبْدُ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوْلاَهُ فَنِكَاحُهُ بَاطِلٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا الْحَدِيثُ ضَعِيفٌ وَهُوَ مَوْقُوفٌ وَهُوَ قَوْلُ ابْنِ عُمَرَ رضى الله عنهما .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২০৭৫. উকবা ইবনে মুকাররম .... ইবনে উমর (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন, যদি কোন গোলাম তার মনিবের অনুমতি ব্যতীত কাউকে বিবাহ করে, তবে তার বিবাহ বাতিল গণ্য হবে।

১১২. এক ব্যক্তির বিবাহের প্রস্তবের উপর অন্য ব্যক্তির বিবাহের প্রস্তাব দেয়া মাকরূহ্।

باب فِي كَرَاهِيَةِ أَنْ يَخْطُبَ الرَّجُلُ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ

2076

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَخْطُبُ الرَّجُلُ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০৭৬. আহমাদ ইবনে আমর ইবনে সারাহ্ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, কোন ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়।

2077

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَخْطُبُ أَحَدُكُمْ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ وَلاَ يَبِيعُ عَلَى بَيْعِ أَخِيهِ إِلاَّ بِإِذْنِهِ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০৭৭. আহমাদ ইবনে আমর ইবনে সারাহ্ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কোন ব্যক্তি যেন তার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। আর কেউ যেন তার ভাইয়ের ক্রয়ের সময়ে ক্রয় না করে। অবশ্য সে যদি অনুমতি দেয় তবে সেটা আলাদা ব্যাপার।

১১৩. বিবাহের উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তির পাত্রী দেখা।

باب فِي الرَّجُلِ يَنْظُرُ إِلَى الْمَرْأَةِ وَهُوَ يُرِيدُ تَزْوِيجَهَا

2078

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنْ وَاقِدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ - عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ الْمَرْأَةَ فَإِنِ اسْتَطَاعَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى مَا يَدْعُوهُ إِلَى نِكَاحِهَا فَلْيَفْعَلْ " . قَالَ فَخَطَبْتُ جَارِيَةً فَكُنْتُ أَتَخَبَّأُ لَهَا حَتَّى رَأَيْتُ مِنْهَا مَا دَعَانِي إِلَى نِكَاحِهَا وَتَزَوُّجِهَا فَتَزَوَّجْتُهَا .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২০৭৮. মুসাদ্দাদ ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ যখন কোন স্ত্রীলোককে বিবাহের উদ্দেশ্যে পয়গাম পাঠাবে, তখন যদি তার পক্ষে সম্ভব হয়, তবে সে যেন তার বংশ, মাল ও সৌন্দর্য ইত্যাদি দর্শন করে, যা তাকে বিবাহে উৎসাহ দেয়। রাবী বলেন, অতঃপর আমি জনৈক কুমারীকে বিবাহের জন্য প্রস্তাব দেই এবং আমি গোপনে তাকে দর্শন করি, এমনকি তার চেহারাও দেখি, যা আমাকে তার সাথে বিবাহে প্রলুব্ধ করে। অতঃপর আমি তাকে বিবাহ করি।

১১৪. ওলী বা অভিভাবক।

باب فِي الْوَلِيِّ

2079

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ " . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ " فَإِنْ دَخَلَ بِهَا فَالْمَهْرُ لَهَا بِمَا أَصَابَ مِنْهَا فَإِنْ تَشَاجَرُوا فَالسُّلْطَانُ وَلِيُّ مَنْ لاَ وَلِيَّ لَهُ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৭৯. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যদি কোন স্ত্রীলোক তার অভিভাকের অনুমতি ব্যতীত কাউকে বিবাহ করে তবে তার বিবাহ বাতিল (পরিত্যাক্ত) হবে। আর তিনি এই উক্তিটি তিনবার উচ্চারণ করেন। আর সে যদি তার সাথে সহবাস করে তবে ঐ সহবাসের কারণে তাকে পূর্ণ মোহর প্রদান করতে হবে। আর উভয় পক্ষের অভিভাবাকারা যদি এ সম্পর্কে মতবিরোধ করে তখন দেশের সরকার তার অভিভাবক হবে। কেননা, যার কোন অভিভাবক নাই, দেশের সরকারই তার অভিভাবক।

2080

حَدَّثَنِي الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ جَعْفَرٍ، - يَعْنِي ابْنَ رَبِيعَةَ - عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ جَعْفَرٌ لَمْ يَسْمَعْ مِنَ الزُّهْرِيِّ كَتَبَ إِلَيْهِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২০৮০. আল কা‘নবী ..... আয়িশা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, জা‘ফর যুহরী (রাহঃ) থেকে হাদীস শুনেননি, বরং যু্হরী তাকে লিখিয়েছিলেন।

2081

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ بْنِ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ الْحَدَّادُ، عَنْ يُونُسَ، وَإِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِيٍّ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هُوَ يُونُسُ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ وَإِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ .

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

২০৮১. মুহাম্মাদ ইবনে কুৃদামা ..... আবু মুসা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, ওলী ব্যতীত কোন বিবাহই হতে পারে না।

2082

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ، أَنَّهَا كَانَتْ عِنْدَ ابْنِ جَحْشٍ فَهَلَكَ عَنْهَا - وَكَانَ فِيمَنْ هَاجَرَ إِلَى أَرْضِ الْحَبَشَةِ - فَزَوَّجَهَا النَّجَاشِيُّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ عِنْدَهُمْ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে হাবীবা (রাঃ)

২০৮২. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ..... উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ইবনে জাহশের (উবাইদুল্লাহর) স্ত্রী ছিলেন। তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং এই সময় হা্বশাতে যাঁরা হিজরত করেন, তিনি তাঁদের সাথে ছিলেন। তখন হা্বশার বাদশাহ্ নাজ্জাশী তাঁকে তাঁদের নিকট থাকাবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথে বিবাহ দেন।

১১৫. স্ত্রীলোকদের বিবাহে বাধা প্রদান।

باب فِي الْعَضْلِ

2083

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي أَبُو عَامِرٍ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، حَدَّثَنِي مَعْقِلُ بْنُ يَسَارٍ، قَالَ كَانَتْ لِي أُخْتٌ تُخْطَبُ إِلَىَّ فَأَتَانِي ابْنُ عَمٍّ لِي فَأَنْكَحْتُهَا إِيَّاهُ ثُمَّ طَلَّقَهَا طَلاَقًا لَهُ رَجْعَةٌ ثُمَّ تَرَكَهَا حَتَّى انْقَضَتْ عِدَّتُهَا فَلَمَّا خُطِبَتْ إِلَىَّ أَتَانِي يَخْطُبُهَا فَقُلْتُ لاَ وَاللَّهِ لاَ أُنْكِحُهَا أَبَدًا . قَالَ فَفِيَّ نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ أَنْ يَنْكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ ) الآيَةَ . قَالَ فَكَفَّرْتُ عَنْ يَمِينِي فَأَنْكَحْتُهَا إِيَّاهُ .

Narrator: মা'কিল ইবনে ইয়াসার (রাঃ)

২০৮৩. মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না .... মা‘কাল ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার একটি ভগ্নি ছিল, যার বিবাহ সম্পর্কে আমার নিকট পয়গাম আসত। অতঃপর আমার চাচাত ভাইয়ের তরফ হতে প্রস্তাব আসলে, আমি তাকে তার সাথে বিবাহ দেই। অতঃপর সে তাকে তালাকে রাজ‘ঈ প্রদান করে এবং পরে তাকে (রুজআত না করে) পরিত্যাগ করে। এমতাবস্থায় তার ইদ্দতও পূর্ণ হয়। অতঃপর যখন অপর একজন তাকে বিবাহের জন্য প্রস্তাব দেয়, তখন সে (আমার চাচাত ভাই) আমার নিকট এসে পুনরায় তাকে বিবাহ করার প্রস্তাব পেশ করে এবং এতে বাধা প্রদান করে। আমি বলি, আল্লাহর শপথ! আমি আর কখনোও তোমার সাথে তার বিবাহ দেব না। রাবী (মা‘কাল) বলেন, তখন আমার সম্পর্কেই এ আয়াত নাযিল হয়ঃ ‘‘যখন তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের তালাক দাও, আর সে তার ইদ্দতও পূর্ণ করে, তখন তোমরা তাদেরকে অন্য স্বামী গ্রহণে বাধা প্রদান করো না।’’ রাবী বলেন, অতঃপর আমি আমার শপথ ত্যাগ করি এবং তাকে (বোনকে) পুনরায় তার সাথে বিবাহ দেই।

১১৬. যদি কোন স্ত্রীলোককে দু’জন ওলী দু’জায়গায় বিবাহ দেয়।

باب إِذَا أَنْكَحَ الْوَلِيَّانِ

2084

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - الْمَعْنَى - عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَيُّمَا امْرَأَةٍ زَوَّجَهَا وَلِيَّانِ فَهِيَ لِلأَوَّلِ مِنْهُمَا وَأَيُّمَا رَجُلٍ بَاعَ بَيْعًا مِنْ رَجُلَيْنِ فَهُوَ لِلأَوَّلِ مِنْهُمَا " .

Narrator: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

২০৮৪. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম ..... সামুরা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, যদি কোন স্ত্রীলোককে দু‘জন সমমানের ওলী (দুই ব্যক্তির সাথে) বিবাহ দেয় তবে ঐ দুই ব্যক্তির মধ্যে যার সাথে প্রথমে বিবাহ হবে, সে তার স্ত্রী হবে। আর যদি কেউ কোন বস্তুকে দু‘ব্যক্তির নিকট বিক্রি করে, এমতাবস্থায় প্রথমে যার নিকট বিক্রি করবে সে-ই তার মালিক হবে।

১১৭. আল্লাহর বাণী : তোমাদের জন্য এটা হালাল নয় যে, তোমরা জোরপূরবক কোন মহিলার মালিক হবে। আর তোমরা তাদের অন্যের সাথে বিবাহে বাধা দিবে না।

باب قَوْلِهِ تَعَالَى { لاَ يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا وَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ }

2085

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، - قَالَ الشَّيْبَانِيُّ وَذَكَرَهُ عَطَاءٌ أَبُو الْحَسَنِ السُّوَائِيُّ وَلاَ أَظُنُّهُ إِلاَّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، - فِي هَذِهِ الآيَةِ ( لاَ يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا وَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ ) قَالَ كَانَ الرَّجُلُ إِذَا مَاتَ كَانَ أَوْلِيَاؤُهُ أَحَقَّ بِامْرَأَتِهِ مِنْ وَلِيِّ نَفْسِهَا إِنْ شَاءَ بَعْضُهُمْ زَوَّجَهَا أَوْ زَوَّجُوهَا وَإِنْ شَاءُوا لَمْ يُزَوِّجُوهَا فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ فِي ذَلِكَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০৮৫. আহমাদ ইবনে মানী’ .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এই আয়াত সম্পর্কে ‘‘তোমাদের জন্য হালাল নয় যে, তোমরা জোরপূর্বক কোন মহিলার মালিক হবে। আর তোমরা তাদের বাধা দিবে না’’ বলেছেন, (জাহিলীয়াতের যুগে) যখন কোন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করতো, তখন তার অভিভাবকগণ তার স্ত্রীর ব্যাপারে স্ত্রীর অভিভাবকদের চাইতে অধিক হকদার ছিল। কাজেই তাদের কেউ যদি তাকে বিবাহ করতে ইচ্ছা করতো, তবে সে তা করতো; আর যদি তাকে বিবাহ করতে অনীহা প্রকাশ করতো, তবে তাকে আটকে রাখত এবং অন্যের সাথে বিবাহ করতে দিত না। তখন আল্লাহ্ তাআলা এতদসম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা জারী করে এই আয়াত নাযিল করেন। (এতে নারীর অধিকারে হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করা হয়)।

2086

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ( لاَ يَحِلُّ لَكُمْ أَنْ تَرِثُوا النِّسَاءَ كَرْهًا وَلاَ تَعْضُلُوهُنَّ لِتَذْهَبُوا بِبَعْضِ مَا آتَيْتُمُوهُنَّ إِلاَّ أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ ) وَذَلِكَ أَنَّ الرَّجُلَ كَانَ يَرِثُ امْرَأَةَ ذِي قَرَابَتِهِ فَيَعْضُلُهَا حَتَّى تَمُوتَ أَوْ تَرُدَّ إِلَيْهِ صَدَاقَهَا فَأَحْكَمَ اللَّهُ عَنْ ذَلِكَ وَنَهَى عَنْ ذَلِكَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০৮৬. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাবিত আল মারওয়াযী .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘‘তোমাদের জন্য এটা বৈধ নয় যে, তোমরা জোরপূর্বক কোন মহিলার মালিক হবে। আর তোমরা তাদের অন্যের সাথে বিবাহ প্রদান করবে না এই আশঙ্কায় যে, তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ, তা চলে যাবে। তবে তারা যদি প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তবে সে আলাদা ব্যাপার।’’ আর এই আয়াতটি নাযিলের কারণ হল, (অন্ধকার যুগে) পুরুষেরা তাদের নিকটাত্মীয়দের মৃত্যুর পর, তদের স্ত্রীদেরও মালিক হত এবং মৃত্যুবরণ না করা পর্যন্ত তাকে অন্যের সাথে বিবাহ মানা করত অথবা সে (স্ত্রীলোক) তার প্রাপ্য মোহর ঐ ব্যক্তিকে প্রদান করত। আল্লাহ্ তাআলা উক্ত আয়াতে এরূপ করতে নিষেধ করেছেন।

2087

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ شَبُّويَةَ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ، عَنْ عِيسَى بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، مَوْلَى عُمَرَ عَنِ الضَّحَّاكِ، بِمَعْنَاهُ قَالَ فَوَعَظَ اللَّهُ ذَلِكَ .

Narrator: বিবিধ

২০৮৭. আহমদ ..... যিহাক (রাযিঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা এতদসম্পর্কে নসীহত প্রদান করেছেন।

১১৮. মেয়েদের নিকট বিবাহের ব্যাপারে অনুমতি চাওয়া।

باب فِي الاِسْتِئْمَارِ

2088

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تُنْكَحُ الثَّيِّبُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ وَلاَ الْبِكْرُ إِلاَّ بِإِذْنِهَا " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا إِذْنُهَا قَالَ " أَنْ تَسْكُتَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০৮৮. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, কোন সাইয়্যেবা মহিলাকে তার অনুমতি ব্যততি এবং কুমারী মেয়েকে তার স্বীকারোক্তি ব্যতীত বিবাহ প্রদান করবে না। তখন তারা (সাহাবীগণ) জিজ্ঞাসা করেন, কুমারীর স্বীকারোক্তির স্বরূপ কী? তিনি বলেন, সে যদি চুপ করে থাকে তবে তা-ই তার জন্য স্বীকারোক্তি।

2089

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - الْمَعْنَى - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تُسْتَأْمَرُ الْيَتِيمَةُ فِي نَفْسِهَا فَإِنْ سَكَتَتْ فَهُوَ إِذْنُهَا وَإِنْ أَبَتْ فَلاَ جَوَازَ عَلَيْهَا " . وَالإِخْبَارُ فِي حَدِيثِ يَزِيدَ . قال أبو داود: وكذلك رواه أبو خالد سليمانُ بنُ حيّان ومعاذُ بن معاذ، عن محمد بن عمرو. ورواه أبو عمرو ذكوانُ، عن عائشة، قالت: يا رسولَ الله، إن البكر تستحيي أن تَتكَلَّمَ، قال: "سُكاتُها إقرارُها

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০৮৯. আবু কামিল .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা প্রাপ্ত বা অপ্রাপ্ত বয়স্কা ইয়াতীম (মা-বাপ হারা) মেয়ের বিবাহে স্বীকারোক্তি গ্রহণ করবে। আর সে যদি চুপ করে থাকে, তবে তা-ই তার জন্য স্বীকারোক্তি। আর সে যদি বিবাহে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে, তবে তার উপর কোন যুলুম করবে না। রাবী ইয়াযীদ বর্ণিত হাদীসে ইখতিয়ার (ইচ্ছা) শব্দটি উল্লেখ আছে।

2090

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، بِهَذَا الْحَدِيثِ بِإِسْنَادِهِ زَادَ فِيهِ قَالَ " فَإِنْ بَكَتْ أَوْ سَكَتَتْ " . زَادَ " بَكَتْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَلَيْسَ " بَكَتْ " . بِمَحْفُوظٍ وَهُوَ وَهَمٌ فِي الْحَدِيثِ الْوَهَمُ مِنِ ابْنِ إِدْرِيسَ «أَوْ مِنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَلاَء»

Narrator: মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আতা (রহঃ)

২০৯০. মুহাম্মাদ ইবনে আল্-আলা ..... মুহাম্মাদ ইবনে আমর (রাহঃ) পূর্বোক্ত হাদীসের সনদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, যদি সে ক্রন্দন করে বা চুপ থাকে। এখানে بَكَتْ (সে ক্রন্দন করে) শব্দটি অতিরিক্ত।

2091

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، حَدَّثَنِي الثِّقَةُ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " آمِرُوا النِّسَاءَ فِي بَنَاتِهِنَّ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২০৯১. উসমান ইবনে আবি শাঈবা ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, তোমরা মেয়েদের সাথে তাদের বিবাহের ব্যাপারে পরামর্শ করবে।

১১৯. যদি কোন পিতা তার বালিগা কুমারী মেয়েকে তার বিনা অনুমতিতে বিবাহ দেয়।

باب فِي الْبِكْرِ يُزَوِّجُهَا أَبُوهَا وَلاَ يَسْتَأْمِرُهَا

2092

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ جَارِيَةً، بِكْرًا أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَتْ أَنَّ أَبَاهَا زَوَّجَهَا وَهِيَ كَارِهَةٌ فَخَيَّرَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০৯২. উসমান ইবনে উবাইদ ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈকা কুমারী (প্রাপ্ত বয়স্কয়া) মেয়ে নবী (ﷺ) এর খিদমাতে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ পেশ করে যে, তার পিতা তাকে এমন এক ব্যক্তির সাথে বিবাহ দিয়েছে, যে তার অপছন্দ। নবী (ﷺ) এ ব্যাপারে তাকে ইখতিয়ার প্রদান করেন। (সে রাখতেও পারে অথবা বিচ্ছেদও ঘটাতে পারে।)

2093

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَمْ يَذْكُرِ ابْنَ عَبَّاسٍ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ النَّاسُ مُرْسَلاً مَعْرُوفٌ .

Narrator: ইকরিমা (রহঃ)

২০৯৩. উসমান ইবনে উবাইদ ..... ইকরিমা (রাহঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

১২০. সাইয়্যেবা।[১]

باب فِي الثَّيِّبِ

2094

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالاَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ تُسْتَأْذَنُ فِي نَفْسِهَا وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا " . وَهَذَا لَفْظُ الْقَعْنَبِيِّ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০৯৪. আহমদ ইবনে ইউনুস ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ সাইয়্যেবা স্ত্রীলোক (নিজের বিবাহের ব্যাপারে) ওলীর চাইতে নিজেই বেশী হকদার। আর বালিগা কুমারী মেয়েদের (বিবাহের সময়) অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে এবং তার অনুমতি হল চুপ করে থাকা। আর এই শব্দটি রাবী আল কা‘নবী কর্তৃক বর্ণিত।

[১] সাইয়্যেবা এমন স্ত্রীলোককে বলা হয়, যার স্বামী নাই অর্থাৎ বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা রমনী ।

১২০. সাইয়্যেবা।

باب فِي الثَّيِّبِ

2095

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ قَالَ " الثَّيِّبُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ يَسْتَأْمِرُهَا أَبُوهَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ " أَبُوهَا " . لَيْسَ بِمَحْفُوظٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০৯৫. আহমাদ ইবনে হাম্বল ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে ফযল (রাহঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের সনদ ও অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেন, সাইয়্যেবা স্ত্রীলোক (নিজের বিবাহের ব্যাপারে) ওলীর চাইতে নিজেই বেশী হকদার। আর বালিগা কুমারী মেয়ের (বিবাহের সময়) তার পিতা যেন তার অনুমতি গ্রহণ করে।

2096

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ لِلْوَلِيِّ مَعَ الثَّيِّبِ أَمْرٌ وَالْيَتِيمَةُ تُسْتَأْمَرُ وَصَمْتُهَا إِقْرَارُهَا " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২০৯৬. আল্ হাসান ইবনে আলী ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, সাইয়্যেবা স্ত্রীলোকের (বিবাহের ব্যাপারে) ওলীর করণীয় কিছুই নাই। তবে (প্রাপ্তবয়স্কা) ইয়াতীম কুমারী মেয়ের (বিবাহের সময় তার) অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। আর তার চুপ থাকাই তার অনুমতিস্বরূপ।

2097

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَمُجَمِّعٍ، ابْنَىْ يَزِيدَ الأَنْصَارِيَّيْنِ عَنْ خَنْسَاءَ بِنْتِ خِدَامٍ الأَنْصَارِيَّةِ، أَنَّ أَبَاهَا، زَوَّجَهَا وَهِيَ ثَيِّبٌ فَكَرِهَتْ ذَلِكَ فَجَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَرَدَّ نِكَاحَهَا .

Narrator: খানসা বিনতে খিযাম (রাঃ)

২০৯৭. আল্ কা‘নবী ...... খানসাআ বিনতে খিদাম আল আনসারীয়্যাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁর পিতা (খিদাম) তাঁকে এমন সময় বিবাহ প্রদান করেন, যখন তিনি সাইয়্যেবা ছিলেন। কিন্তু তিনি তা (ঐ বিবাহ) অপছন্দ করেন। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে তার পিতার বিরূদ্ধে অভিযোগ পেশ করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার বিবাহ বাতিল ঘোষণা করেন।

১২১. কুফু বা সমকক্ষতা।

باب فِي الأَكْفَاءِ

2098

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ أَبَا هِنْدٍ، حَجَمَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي الْيَافُوخِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " يَا بَنِي بَيَاضَةَ أَنْكِحُوا أَبَا هِنْدٍ وَانْكِحُوا إِلَيْهِ " . قَالَ " وَإِنْ كَانَ فِي شَىْءٍ مِمَّا تَدَاوَوْنَ بِهِ خَيْرٌ فَالْحِجَامَةُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২০৯৮. আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে গিয়াস ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবু হিন্দ নবী করীম (ﷺ) এর মস্তকের তালুতে শিংগা লাগাল। নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ হে বনী বায়দা! তোমরা আবু হিন্দের মেয়েদের বিবাহ করবে এবং তার সাথে (বা তার সন্তানদের সাথে) তোমাদের ছেলেমেয়েদের বিবাহ দিবে। এরপর তিনি বলেন, উত্তমরূপে চিকিৎসার বিষয়সমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ শিংগা লাগানো।

১২২. কারো জন্মের পূর্বে বিবাহ দেয়া।

باب فِي تَزْوِيجِ مَنْ لَمْ يُولَدْ

2099

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ مِقْسَمٍ الثَّقَفِيُّ، - مِنْ أَهْلِ الطَّائِفِ - حَدَّثَتْنِي سَارَّةُ بِنْتُ مِقْسَمٍ، أَنَّهَا سَمِعَتْ مَيْمُونَةَ بِنْتَ كَرْدَمٍ، قَالَتْ خَرَجْتُ مَعَ أَبِي فِي حَجَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَدَنَا إِلَيْهِ أَبِي وَهُوَ عَلَى نَاقَةٍ لَهُ فَوَقَفَ لَهُ وَاسْتَمَعَ مِنْهُ وَمَعَهُ دِرَّةٌ كَدِرَّةِ الْكُتَّابِ فَسَمِعْتُ الأَعْرَابَ وَالنَّاسَ وَهُمْ يَقُولُونَ الطَّبْطَبِيَّةَ الطَّبْطَبِيَّةَ الطَّبْطَبِيَّةَ فَدَنَا إِلَيْهِ أَبِي فَأَخَذَ بِقَدَمِهِ فَأَقَرَّ لَهُ وَوَقَفَ عَلَيْهِ وَاسْتَمَعَ مِنْهُ فَقَالَ إِنِّي حَضَرْتُ جَيْشَ عِثْرَانَ - قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى جَيْشَ غِثْرَانَ - فَقَالَ طَارِقُ بْنُ الْمُرَقَّعِ مَنْ يُعْطِينِي رُمْحًا بِثَوَابِهِ قُلْتُ وَمَا ثَوَابُهُ قَالَ أُزَوِّجُهُ أَوَّلَ بِنْتٍ تَكُونُ لِي . فَأَعْطَيْتُهُ رُمْحِي ثُمَّ غِبْتُ عَنْهُ حَتَّى عَلِمْتُ أَنَّهُ قَدْ وُلِدَ لَهُ جَارِيَةٌ وَبَلَغَتْ ثُمَّ جِئْتُهُ فَقُلْتُ لَهُ أَهْلِي جَهِّزْهُنَّ إِلَىَّ . فَحَلَفَ أَنْ لاَ يَفْعَلَ حَتَّى أُصْدِقَهُ صَدَاقًا جَدِيدًا غَيْرَ الَّذِي كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ وَحَلَفْتُ لاَ أُصْدِقُ غَيْرَ الَّذِي أَعْطَيْتُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَبِقَرْنِ أَىِّ النِّسَاءِ هِيَ الْيَوْمَ " . قَالَ قَدْ رَأَتِ الْقَتِيرَ . قَالَ " أَرَى أَنْ تَتْرُكَهَا " . قَالَ فَرَاعَنِي ذَلِكَ وَنَظَرْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ مِنِّي قَالَ " لاَ تَأْثَمُ وَلاَ يَأْثَمُ صَاحِبُكَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْقَتِيرُ الشَّيْبُ .

Narrator: বিবিধ

২০৯৯. আ্ল হাসান ইবনে আলী ...... সারা বিনতে মুকাসসাম (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মায়মুনা বিনতে কারদামকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর বিদায় হজ্জের বছর, আমি আমার পিতার সাথে বের হই। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে স্বচক্ষে দেখি। ঐ সময় তিনি তাঁর উটের উপর সওয়ার ছিলেন এবং তাঁর হাতে ছিল একটি দুররা (লাঠি), যেমন ছেলেদের শিক্ষার জন্য (যেরূপ) লাঠি ব্যাবহৃত হয়। তখন আমি আরবদের ও অন্যান্য লোকদের বলতে শুনিঃ আল্-তাবতাবিয়া আল-তাবতাবিয়া, আল্-তাবতাবিয়া।[১]

এরপর আমার পিতা তাঁর নিকটবর্তী হয়ে তাঁর কদম মোবারক জড়িয়ে ধরেন এবং তাঁর রিসালাতের সত্যতা স্বীকার করেন। এরপর তাঁর নিকট অবস্থান করেন এবং তাঁর নিকট হতে হাদীস শ্রবণ করেন এবং বলেন, আমি উসরান অভিযানে হাজির ছিলাম। রাবী ইবনে মুসান্না বলেন, তা (অন্ধকার যুগের) একটি যুদ্ধ ছিল। তখন তারিক ইবনে আল্-মুরাক্কা বলেন, আমাকে এর বিনিময়ে কে একটি বর্শা প্রদান করবে? আমি বলি, ঐ বিনিময়টা কী? আমার যে কন্যা সন্তানের প্রথম জন্ম হবে বিনিময়ে আমি তাকে তার নিকট বিবাহ দিব। আমি তাকে আমার বর্শাটি প্রদান করলাম।

এরপর আমি তার নিকট হতে চলে যাই। পরে আমি শুনতে পাই যে, তার একটি কন্যা সন্তান ভূমিষ্ট হয়েছে এবং সে বালিগা (সাবালক) হয়েছে। এরপর আমি তার নিকট উপস্থিত হই এবং বলি, আমার বউকে আমার জন্য সাজিয়ে দিন। তখন সে এ বলে শপথ করেন যে, অতিরিক্ত কিছু মোহর না দিলে তাকে দেওয়া হবে না। তখন আমিও বিনিময়ে চুক্তির অতিরিক্ত মোহর না দেওয়ার অঙ্গীকার করি এবং বর্শা দানের বিনিময়েই তাকে পেতে চাই। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, সে আজকের মহিলা। বোধ হয় সে তোমার বার্ধক্য দেখেছে। তিনি বলেন, আমার ইচ্ছা তুমি তাকে পরিত্যাগ কর, তিনি (কারদাম) বলেন, আমি তখন শপথের কারণে ভীত হয়ে পড়ি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দিকে দৃষ্টিপাত করি। এরপর তিনি আমাকে ভীত সন্ত্রস্ত দেখে বলেন, এতে তুমি এবং তোমার সাথী কেউ (শপথ ভঙ্গের কারণে) পাপী হবে না।

[১] লাঠির দ্বারা আঘাতের ফলে যে আওয়াজ বা শব্দ সৃস্টি হয়, তাকে তাবতাবিয়া বলে।
2100

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَيْسَرَةَ، أَنَّ خَالَتَهُ، أَخْبَرَتْهُ عَنِ امْرَأَةٍ، قَالَتْ هِيَ مُصَدَّقَةٌ امْرَأَةُ صِدْقٍ قَالَتْ بَيْنَا أَبِي فِي غَزَاةٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذْ رَمِضُوا فَقَالَ رَجُلٌ مَنْ يُعْطِينِي نَعْلَيْهِ وَأُنْكِحُهُ أَوَّلَ بِنْتٍ تُولَدُ لِي فَخَلَعَ أَبِي نَعْلَيْهِ فَأَلْقَاهُمَا إِلَيْهِ فَوُلِدَتْ لَهُ جَارِيَةٌ فَبَلَغَتْ وَذَكَرَ نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ قِصَّةَ الْقَتِيرِ .

Narrator: অজ্ঞাত সাহাবী

২১০০. আহমদ ইবনে সালিহ ..... জনৈকা মহিলা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহিলীয়াতের যুগে আমার পিতা কোন এক যুদ্ধে শরীক হন এবং তা প্রচন্ডরূপে ধারণ করে। তখন জনৈক ব্যক্তি বলে, কে আমাকে একজোড়া জুতা প্রদান করবে? আর (এর বিনিময়ে) আমি তার নিকট আমার প্রথমা মেয়ের জন্ম হলে বিবাহ দিব। তখন আমার পিতা তার পায়ের জুতা খুলে তাকে প্রদান করেন। এরপর তার একটি কন্যা সন্তান ভূমিষ্ট হয়ে বালিগা হয়। এরপর রাবী উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। এই বর্ণনায় বার্ধক্যের কথার উল্লেখ নেই।

১২৩. মোহর নির্ধারণ।

باب الصَّدَاقِ

2101

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - عَنْ صَدَاقِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ ثِنْتَا عَشْرَةَ أُوقِيَّةً وَنَشٌّ . فَقُلْتُ وَمَا نَشٌّ قَالَتْ نِصْفُ أُوقِيَّةٍ .

Narrator: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

২১০১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ ...... আবু সালামা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রীদের মোহর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এর পরিমাণ হল বারো উকিয়া এবং এক নশ। আমি জিজ্ঞাসা করি, ‘নশ’ কী? তিনি বলেন, এর পরিমাণ হল অর্ধ-উকিয়া।[১]

[১] এক উকিয়ার পরিমাণ হল চল্লিশ দিরহাম। কাজেই বারো উকীয়া ও এক নশের সর্বমোট পরিমাণ হল : ৪০ × ১২ + ২০ = ৫০০ শত দিরহাম।

১১৩. বিবাহের উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তির পাত্রী দেখা।

باب فِي الرَّجُلِ يَنْظُرُ إِلَى الْمَرْأَةِ وَهُوَ يُرِيدُ تَزْوِيجَهَا

2102

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي الْعَجْفَاءِ السُّلَمِيِّ، قَالَ خَطَبَنَا عُمَرُ رَحِمَهُ اللَّهُ فَقَالَ أَلاَ لاَ تُغَالُوا بِصُدُقِ النِّسَاءِ فَإِنَّهَا لَوْ كَانَتْ مَكْرُمَةً فِي الدُّنْيَا أَوْ تَقْوَى عِنْدَ اللَّهِ لَكَانَ أَوْلاَكُمْ بِهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَا أَصْدَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم امْرَأَةً مِنْ نِسَائِهِ وَلاَ أُصْدِقَتِ امْرَأَةٌ مِنْ بَنَاتِهِ أَكْثَرَ مِنْ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২১০২. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ ..... আবু আল-আজফা আস সুলামী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) খুতবা প্রদানের সময় বলেন, তোমরা (স্ত্রীদের) মোহর নির্ধারণের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করবে না। যদি তা দুনিয়াতে সম্মানের বস্তু হত অথবা আল্লাহর নিকট তাকওয়ার বস্তু হত, তবে তা পাওয়ার যোগ্যতম ব্যক্তি হতেন নবী করীম (ﷺ)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের এবং তাঁর কোন কন্যাদের জন্য বারো উকীয়ার অধিক পরিমাণ মোহর ধার্য করেননি।

১২৩. মোহর নির্ধারণ।

باب الصَّدَاقِ

2103

حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ، أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ جَحْشٍ فَمَاتَ بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ فَزَوَّجَهَا النَّجَاشِيُّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَمْهَرَهَا عنه أَرْبَعَةَ آلاَفٍ وَبَعَثَ بِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ شُرَحْبِيلَ ابْنِ حَسَنَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَسَنَةُ هِيَ أُمُّهُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে হাবীবা (রাঃ)

২১০৩. হাজ্জাজ ইবনে আবু ইয়াকুব সাকাফী ..... উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ছিলেন আব্দুল্লাহ্ ইবনে জাহাশের স্ত্রী। তিনি হাবশাতে ইন্তিকাল করেন। এরপর (হাবশার বাদশাহ) নাজ্জাশী তাঁকে নবী করীম (ﷺ) এর সাথে বিবাহ দেন এবং তাঁর (নাজ্জাশী) নিজের পক্ষ হতে মোহর স্বরূপ চার হাজার দিরহাম আদায় করেন এবং তা সহ তাঁকে (উম্মে হাবীবাকে) শুরাহবীল ইবনে হাসানার সাথে তা প্রেরণ করেন।

2104

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ بَزِيعٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَنَّ النَّجَاشِيَّ، زَوَّجَ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ أَبِي سُفْيَانَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى صَدَاقٍ أَرْبَعَةِ آلاَفِ دِرْهَمٍ وَكَتَبَ بِذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَبِلَ .

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

২১০৪. মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম ইবনে বাযী’ ..... যুহরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাজ্জাশী উম্মে হাবীবা বিনতে আবু সুফয়িানকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বিবাহ দেন এবং এই জন্য চার হাজার দিরহাম মোহর ধার্য করেন। এরপর তিনি (নাজ্জাশী) এতদসম্পর্কে একটি পত্র রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে লিখে সবই তাঁকে অবহিত করেন, যা তিনি কবুল করেন।[১]

[১] উপরোক্ত হাদীসের আলোকে জানা যায় যে, ৫০০ দিরহামের অতিরিক্ত মাহর ধার্য করা হলে এতে কোন দোষ নেই।

১২৪. মোহরের সর্বনিম্ন হার।

باب قِلَّةِ الْمَهْرِ

2105

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، وَحُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ وَعَلَيْهِ رَدْعُ زَعْفَرَانٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَهْيَمْ " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ تَزَوَّجْتُ امْرَأَةً . قَالَ " مَا أَصْدَقْتَهَا " . قَالَ وَزْنَ نَوَاةٍ مِنْ ذَهَبٍ . قَالَ " أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ " . «النواة خمسة دراهم. والنش عشرون. والأوقية أربعون».

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২১০৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ)-কে একটি হলুদ রং বিশিষ্ট চাদর পরিহিত দেখেন। এরপর নবী করীম (ﷺ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, ব্যাপার কী? তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি (আনসার) এক মহিলাকে বিবাহ করেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি তার জন্য কী পরিমাণ মোহর ধার্য করেছ? তিনি বলেন, এক নাওয়া [১] পরিমাণ স্বর্ণ। তিনি বলেন, তুমি ওয়ালীমা কর, যদি একটি বকরীর দ্বারও হয়।

[১] পাঁচ দিরহামের পরিমাণ।

১২৪.মোহরের সর্বনিম্ন হার।

باب قِلَّةِ الْمَهْرِ

2106

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ جِبْرِيلَ الْبَغْدَادِيُّ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ، أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ مُسْلِمِ بْنِ رُومَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَعْطَى فِي صَدَاقِ امْرَأَةٍ مِلْءَ كَفَّيْهِ سَوِيقًا أَوْ تَمْرًا فَقَدِ اسْتَحَلَّ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ صَالِحِ بْنِ رُومَانَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ مَوْقُوفًا وَرَوَاهُ أَبُو عَاصِمٍ عَنْ صَالِحِ بْنِ رُومَانَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ كُنَّا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَسْتَمْتِعُ بِالْقُبْضَةِ مِنَ الطَّعَامِ عَلَى مَعْنَى الْمُتْعَةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ عَلَى مَعْنَى أَبِي عَاصِمٍ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২১০৬. ইসহাক ইবনে জিবরাঈল বাগদাদী ....... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেনঃ যদি কেউ তার স্ত্রীর মোহর হিসাবে দু‘অঙ্গুলি পূর্ণ (আজলা) আটা বা খেজুর প্রদান করে, তবে তা- ই তার জন্য যথেষ্ট।

জাবির (রাযিঃ) অপর একটি হাদীসে বর্ণনা করেন যে, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে বিবাহের মোহর হিসাবে খাদ্যের সামান্য অংশ প্রদান করে তার নিকট হতে ফায়দা গ্রহণ করতাম।

১২৫. কোন কাজকে মোহর ধার্য করে বিবাহ প্রদান।

باب فِي التَّزْوِيجِ عَلَى الْعَمَلِ يُعْمَلُ

2107

حَدَّثَنِي الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي حَازِمِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَاءَتْهُ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي قَدْ وَهَبْتُ نَفْسِي لَكَ . فَقَامَتْ قِيَامًا طَوِيلاً فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ زَوِّجْنِيهَا إِنْ لَمْ يَكُنْ لَكَ بِهَا حَاجَةٌ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ عِنْدَكَ مِنْ شَىْءٍ تُصْدِقُهَا إِيَّاهُ " . فَقَالَ مَا عِنْدِي إِلاَّ إِزَارِي هَذَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّكَ إِنْ أَعْطَيْتَهَا إِزَارَكَ جَلَسْتَ وَلاَ إِزَارَ لَكَ فَالْتَمِسْ شَيْئًا " . قَالَ لاَ أَجِدُ شَيْئًا . قَالَ " فَالْتَمِسْ وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ " . فَالْتَمَسَ فَلَمْ يَجِدْ شَيْئًا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَهَلْ مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ شَىْءٌ " . قَالَ نَعَمْ سُورَةُ كَذَا وَسُورَةُ كَذَا . لِسُوَرٍ سَمَّاهَا . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ زَوَّجْتُكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ " .

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

২১০৭. আল্- কা‘নবী ...... সাহল ইবনে সা‘দ আল সা‘ইদী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে জনৈকা রমণী উপস্থিত হয়ে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আমাকে আপনার নিকট বিবাহের (উদ্দেশ্যে) সমর্পণ করছি। এরপর সে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। তখন জনৈক (আনসার) ব্যক্তি দণ্ডায়মান হয় এবং বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তাকে আমার সাথে বিবাহ দিন, যদি তাতে আপনার কোন প্রয়োজন না থাকে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমার নিকট এমন কিছু আছে কি, যদ্বারা তুমি তার মোহর আদায় করতে পার? সে বলে, আমার সাথে এই ইজার (পায়জামা) ব্যতীত দেওয়ার মত কিছুই নেই।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যখন তোমার নিকট ইজার ব্যতীত দেওয়ার মত আর কিছুই নেই, তখন অন্য কিছু দেওয়ার জন্য অনুসন্ধান কর। সে বলে, আমি দেওয়ার মত কিছুই পাচ্ছি না। তিনি বলেন, যদি একটি লোহার আংটিও হয়, তবুও তা দেওয়ার চেষ্টা কর। এরপর এর সন্ধান করে আমি ব্যর্থ হই। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমার নিকট কুরআনের কিছু আছে কি? সে বলে, হ্যাঁ, কুরআনের অমুক সূরাদ্বয় (আমার মুখস্ত আছে)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেন, তুমি কুরআনের যতটুকু মুখস্ত পার আমি তার বিনিময়ে তোমাকে তার সাথে বিবাহ দিলাম।
2108

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَفْصِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي أَبِي حَفْصُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ الْحَجَّاجِ الْبَاهِلِيِّ، عَنْ عِسْلٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، نَحْوَ هَذِهِ الْقِصَّةِ لَمْ يَذْكُرِ الإِزَارَ وَالْخَاتَمَ فَقَالَ " مَا تَحْفَظُ مِنَ الْقُرْآنِ " . قَالَ سُورَةَ الْبَقَرَةِ أَوِ الَّتِي تَلِيهَا . قَالَ " فَقُمْ فَعَلِّمْهَا عِشْرِينَ آيَةً وَهِيَ امْرَأَتُكَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১০৮. আহমদ ইবনে হাফস ইবনে আব্দুল্লাহ্ ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আর তিনি ইজার ও লোহার আংটির কথা উল্লেখ করেননি। বরং তিনি বলেন, তুমি কুরআনের কী হিফজ করেছ? সে বলে, সূরাতুল বাকারা এবং এর পরবর্তী সূরা। তিনি বলেন, তুমি তাকে এর বিশ আয়াত পারিমাণ শিক্ষা দাও, আর (এর বিনিময়ে) সে তোমার স্ত্রী হবে।

2109

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَبِي الزَّرْقَاءِ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ، عَنْ مَكْحُولٍ، نَحْوَ خَبَرِ سَهْلٍ قَالَ وَكَانَ مَكْحُولٌ يَقُولُ لَيْسَ ذَلِكَ لأَحَدٍ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: মাকহুল শামী (রহঃ)

২১০৯. হারূন ইবনে যায়দ ইবনে আবু যরকা ..... মাকহুল (রাহঃ) সাহল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেন, মাকহুল বলতেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পরে এরূপ বিবাহ (মোহর ব্যতীত) আর বৈধ নয়।

১২৬. যে ব্যক্তি মোহর নির্ধারণ ব্যতীত বিবাহ করে মৃত্যুবরণ করে।

باب فِيمَنْ تَزَوَّجَ وَلَمْ يُسَمِّ صَدَاقًا حَتَّى مَاتَ

2110

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ فِرَاسٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، فِي رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً فَمَاتَ عَنْهَا وَلَمْ يَدْخُلْ بِهَا وَلَمْ يَفْرِضْ لَهَا الصَّدَاقَ فَقَالَ لَهَا الصَّدَاقُ كَامِلاً وَعَلَيْهَا الْعِدَّةُ وَلَهَا الْمِيرَاثُ . فَقَالَ مَعْقِلُ بْنُ سِنَانٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى بِهِ فِي بِرْوَعَ بِنْتِ وَاشِقٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২১১০. উসমান ইবনে আবু শায়রা ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে, সে একজন মহিলাকে বিবাহ করার পর মৃত্যুবরণ করে। আর সে তার সাথে সহবাসও করেনি এবং তার জন্য কোন মোহরও ধার্য করেনি। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, তাকে পূর্ণ মোহর দিতে হবে, তাকে পূর্ণ ইদ্দত পালন করতে হবে এবং সে তার মৃত স্বামীর পরিত্যাক্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারিণীও হবে। রাবী মা‘কিল ইবনে সিনান বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বিরওয়া বিনতে ওয়ারিশ সম্পর্কে এরূপ ফায়সালা দিতে শুনেছি।

2111

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، وَابْنُ، مَهْدِيٍّ عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، وَسَاقَ، عُثْمَانُ مِثْلَهُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২১১১. উসমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

2112

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ خِلاَسٍ، وَأَبِي، حَسَّانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، أُتِيَ فِي رَجُلٍ بِهَذَا الْخَبَرِ قَالَ فَاخْتَلَفُوا إِلَيْهِ شَهْرًا أَوْ قَالَ مَرَّاتٍ قَالَ فَإِنِّي أَقُولُ فِيهَا إِنَّ لَهَا صَدَاقًا كَصَدَاقِ نِسَائِهَا لاَ وَكْسَ وَلاَ شَطَطَ وَإِنَّ لَهَا الْمِيرَاثَ وَعَلَيْهَا الْعِدَّةُ فَإِنْ يَكُ صَوَابًا فَمِنَ اللَّهِ وَإِنْ يَكُنْ خَطَأً فَمِنِّي وَمِنَ الشَّيْطَانِ وَاللَّهُ وَرَسُولُهُ بَرِيئَانِ . فَقَامَ نَاسٌ مِنْ أَشْجَعَ فِيهِمُ الْجَرَّاحُ وَأَبُو سِنَانٍ فَقَالُوا يَا ابْنَ مَسْعُودٍ نَحْنُ نَشْهَدُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَاهَا فِينَا فِي بِرْوَعَ بِنْتِ وَاشِقٍ وَإِنَّ زَوْجَهَا هِلاَلُ بْنُ مُرَّةَ الأَشْجَعِيُّ كَمَا قَضَيْتَ . قَالَ فَفَرِحَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ فَرَحًا شَدِيدًا حِينَ وَافَقَ قَضَاؤُهُ قَضَاءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২১১২. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে উমর আব্দুল্লাহ্ ইবনে উতবা ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর নিকট জনৈক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে পূর্বোক্ত হাদীসে বর্ণিত ঘটনা সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করে। রাবী বলেন, লোকেরা এ ব্যাপারে একমাস ব্যাপী মতবিরোধ করে কিংবা (রাবীর সন্দেহ) একবার মতভেদ করে। তিনি (ইবনে মাসউদ) বলেন, এ ব্যাপারে আমার বক্তব্য এই যে, তার মোহর ঐরূপ ধার্য করতে হবে, যেরূপ মোহর ঐ পরিবারের মেয়েদের জন্য ধার্য করা হয় এবং এতে কোনরূপ কমবেশী করা যাবে না। আর সে মীরাসের অধিকারীও হবে এবং তাকে ইদ্দতও পালন করতে হবে। আর এ সিদ্ধান্ত যদি সঠিক হয়, তবে তা আল্লার পক্ষ হতে , আর যদি ভুল হয় তবে তা আমার পক্ষ হতে এবং শয়তানের পক্ষ হতে। আর আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল (ﷺ) এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত।

তখন আশজায়ী গোত্রের কিছু লোক দণ্ডায়মান হয়, যার মধ্যে আল্ জাররাহ্ ও আবু সিনান ছিলেন। তাঁরা সকলে বলেন, হে ইবনে মাসউদ! আমরা সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের মধ্যে বিরওয়া’ বিনতে ওয়াশিকের সম্পর্কে এরূপ সিন্ধান্ত প্রদান করেন, তার স্বামী হিলাল ইবনে মুররা আল আশজা‘য়ীর ব্যাপারে যেমন আপনি ফায়সালা দিলেন। রাবী বলেন, এতদশ্রবণে আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) যারপরনাই খুশি হন। কেননা, তাঁর ফায়সালা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর প্রদত্ত সিন্ধান্তের অনুরূপ হয়েছিল।
2113

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ الذُّهْلِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، - قَالَ مُحَمَّدٌ - حَدَّثَنَا أَبُو الأَصْبَغِ الْجَزَرِيُّ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحِيمِ، خَالِدِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مَرْثَدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِرَجُلٍ " أَتَرْضَى أَنْ أُزَوِّجَكَ فُلاَنَةَ " . قَالَ نَعَمْ . وَقَالَ لِلْمَرْأَةِ " أَتَرْضِينَ أَنْ أُزَوِّجَكِ فُلاَنًا " . قَالَتْ نَعَمْ . فَزَوَّجَ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ فَدَخَلَ بِهَا الرَّجُلُ وَلَمْ يَفْرِضْ لَهَا صَدَاقًا وَلَمْ يُعْطِهَا شَيْئًا وَكَانَ مِمَّنْ شَهِدَ الْحُدَيْبِيَةَ وَكَانَ مَنْ شَهِدَ الْحُدَيْبِيَةَ لَهُ سَهْمٌ بِخَيْبَرَ فَلَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَوَّجَنِي فُلاَنَةَ وَلَمْ أَفْرِضْ لَهَا صَدَاقًا وَلَمْ أُعْطِهَا شَيْئًا وَإِنِّي أُشْهِدُكُمْ أَنِّي أَعْطَيْتُهَا مِنْ صَدَاقِهَا سَهْمِي بِخَيْبَرَ فَأَخَذَتْ سَهْمًا فَبَاعَتْهُ بِمِائَةِ أَلْفٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَزَادَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ - وَحَدِيثُهُ أَتَمُّ - فِي أَوَّلِ الْحَدِيثِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَيْرُ النِّكَاحِ أَيْسَرُهُ " . وَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلرَّجُلِ ثُمَّ سَاقَ مَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ يُخَافُ أَنْ يَكُونَ هَذَا الْحَدِيثُ مُلْزَقًا لأَنَّ الأَمْرَ عَلَى غَيْرِ هَذَا .

Narrator: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

২১১৩. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে ফারিস যাহলী ..... উকবা ইবনে আমের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) জনৈক ব্যক্তিকে বলেন, আমি তোমার সাথে অমুক মহিলাকে বিবাহ দিতে চাই, তুমি কী এতে রাযী আছ? সে বলে হ্যাঁ। তিনি তাদের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন করে দেন। এরপর সে ব্যক্তি সে মহিলার সাথে সহবাস করে এবং তার জন্য কোন মোহর ধার্য করেনি। আর তাকে নগদ কিছু (মোহর বাবদ) প্রদানও করে নাই। আর ইনি সে ব্যক্তি ছিলেন, যিনি হুদায়বিয়াতে উপস্থিত ছিলেন এবং এদের জন্য খায়বর বিজয়ের (যুদ্ধলব্ধ) সম্পদের অংশও ছিল।

এরপর এই ব্যক্তির মৃত্যুর সময় হলে সে বলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অমুক মহিলার সাথে আমার বিবাহ দেন এবং তার জন্য কোন মোহর ধার্য করেননি। আর আমিও তাকে কিছু প্রদান করিনি। এখন আমি আপনাদের সম্মুখে এরূপ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি আমার অংশে খায়বর যুদ্ধে প্রাপ্ত গনিমতের মাল তাকে প্রদান করেছি। এরপর সে মহিলা তার অংশ গ্রহণ করে এবং তা এক হাজার দিরহামে বিক্রয় করে।

১২৭. বিবাহের খুতবা।

باب فِي خُطْبَةِ النِّكَاحِ

2114

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، فِي خُطْبَةِ الْحَاجَةِ فِي النِّكَاحِ وَغَيْرِهِ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২১১৪. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ বিবাহ ইত্যাদি অনুষ্ঠানের সময় খুতবা প্রয়োজন আছে।

2115

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ - الْمَعْنَى - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ وَأَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ عَلَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خُطْبَةَ الْحَاجَةِ " إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا مَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلاَ هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ( اتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا ) ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوتُنَّ إِلاَّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ ) ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا ) . لَمْ يَقُلْ مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ إِنَّ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২১১৫. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান আল আনবারী .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে বিবাহ ইত্যাদি অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনে পাঠের জন্য খুতবা শিক্ষা দিয়েছেন। যা হলোঃ
(অর্থ) সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর কাছেই সাহায্য চাই, এবং তাঁর নিকটই ক্ষমা প্রার্থনা করি। এবং তাঁর নিকট অন্তরের কুমন্ত্রণা থেকে পানাহ্ চাই, যাকে আল্লাহ্ পথ প্রদর্শন করেন তাকে গোমরাহ্ করার কেউ নেই। আর আল্লাহ্ যাকে গোমরাহ্ করেন তাকে পথ প্রদর্শনের কেউ নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল।

হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞা কর এবং সতর্ক থাক জ্ঞাতিবন্ধন সম্পর্কে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণদৃষ্টি রাখেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যথোপযুক্তভাবে ভয় করার মত এবং মুসলিম না হয়ে তোমরা মৃত্যুবরণ করো না।

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বলো, (তবে আল্লাহ্) তোমাদের কর্ম সংশোধোন করবেন এবং তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, অবশ্যই সে বিরাট সাফল্য লাভ করবে।
রাবী মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান তাঁর বর্ণনাতে ‘‘ইন্না’’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। (অর্থাৎ আল্-‘‘হামদুলিল্লাহি’’ বলে খুতবা আরম্ভ করেছেন)।
2116

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ، عَنْ أَبِي عِيَاضٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا تَشَهَّدَ ذَكَرَ نَحْوَهُ وَقَالَ بَعْدَ قَوْلِهِ " وَرَسُولُهُ " . " أَرْسَلَهُ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا بَيْنَ يَدَىِ السَّاعَةِ مَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ رَشَدَ وَمَنْ يَعْصِهِمَا فَإِنَّهُ لاَ يَضُرُّ إِلاَّ نَفْسَهُ وَلاَ يَضُرُّ اللَّهَ شَيْئًا " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২১১৬. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার .... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বিবাহের খুতবা প্রদান করতেন। এরপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, (অর্থ) তিনি তাঁর রাসূলকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসাবে কিয়ামত পর্যন্ত। যে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করল সে সুপথ পেল। আর যে ব্যক্তি তাঁদের উভয়ের আনুগত্য করল না সে নিজের ক্ষতি করল এবং সে আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

2117
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا بَدَلُ بْنُ الْمُحَبَّرِ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْعَلاَءِ ابْنِ أَخِي، شُعَيْبٍ الرَّازِيِّ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ قَالَ خَطَبْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أُمَامَةَ بِنْتَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَأَنْكَحَنِي مِنْ غَيْرِ أَنْ يَتَشَهَّدَ .
\ «قال لنا أبو عيسى: بلغنا أن أبا داود قيل له: أيجوز هذا؟ قال: نعم, وفي هذا أحاديث عن النبي صلى الله عليه وسلم»

Narrator: অজ্ঞাত সাহাবী

২১১৭. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার ...... বনী সুলাইমান গোত্রের জনৈক ব্যক্তি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমামাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিবের ব্যাপারে নবী করীম (ﷺ) এর নিকট প্রস্তাব দিলে তিনি আমাকে খুতবা পাঠ ব্যতীত বিবাহ দিয়ে দেন।

১২৮. অপ্রাপ্ত বয়স্কা মেয়েদের বিবাহ প্রদান।

باب فِي تَزْوِيجِ الصِّغَارِ

2118

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَبُو كَامِلٍ قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ تَزَوَّجَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا بِنْتُ سَبْعٍ - قَالَ سُلَيْمَانُ أَوْ سِتٍّ - وَدَخَلَ بِي وَأَنَا بِنْتُ تِسْعٍ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১১৮. সুলাইমান ইবনে হারব ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আমার পিতা) আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে যখন বিবাহ দেন, তখন আমি মাত্র সাত বছর বয়সের কন্যা ছিলাম। রাবী সুলাইমান বলেন, অথবা ছয় বছর বয়সের কন্যা ছিলাম। আর তিনি আমার সাথে বাসর করেন, আমার নয় বছর বয়সের সময়ে।

১২৯. কুমারী মহিলা বিবাহ করলে, তার সাথে কতদিন অবস্থান করতে হবে।

باب فِي الْمَقَامِ عِنْدَ الْبِكْرِ

2119

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا تَزَوَّجَ أُمَّ سَلَمَةَ أَقَامَ عِنْدَهَا ثَلاَثًا ثُمَّ قَالَ " لَيْسَ بِكِ عَلَى أَهْلِكِ هَوَانٌ إِنْ شِئْتِ سَبَّعْتُ لَكِ وَإِنْ سَبَّعْتُ لَكِ سَبَّعْتُ لِنِسَائِي " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২১১৯. যুহাইর ইবনে হারব .... উম্মূল মু‘মিনীন উম্মে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন উম্মে সালামাকে বিবাহ করেন, তখন তাঁর নিকট তিন রাত অবস্থান করেন। এরপর তিনি বলেন, এটা তোমার জন্য আমার পক্ষ হতে কম নয়, অবশ্য যদি তুমি চাও তবে আমি তোমার সাথে সাত রাত অবস্থান করব। আর আমি যদি তোমার সাথে সাত রাত অবস্থান করি, তখন আমার অন্যান্য স্ত্রীদের সাথেও আমাকে (সমতা রক্ষার্থে) সাত রাত অতিবাহিত করতে হবে।

2120

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، عَنْ هُشَيْمٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ لَمَّا أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَفِيَّةَ أَقَامَ عِنْدَهَا ثَلاَثًا . زَادَ عُثْمَانُ وَكَانَتْ ثَيِّبًا . وَقَالَ حَدَّثَنِي هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ أَخْبَرَنَا أَنَسٌ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২১২০. ওয়াহব ইবনে বাকীয়্যা, উসমান আবু শায়রা .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সাফিয়্যা (রাযিঃ)-কে বিবাহ করেন, তখন তিনি তাঁর সাথে তিন রাত অতিবাহিত করেন। রাবী উসমান অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, এই সময় তিনি (সাফিয়্যা) সাইয়্যেবা ছিলেন।

2121

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، وَإِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ إِذَا تَزَوَّجَ الْبِكْرَ عَلَى الثَّيِّبِ أَقَامَ عِنْدَهَا سَبْعًا . وَإِذَا تَزَوَّجَ الثَّيِّبَ أَقَامَ عِنْدَهَا ثَلاَثًا . وَلَوْ قُلْتُ إِنَّهُ رَفَعَهُ لَصَدَقْتُ وَلَكِنَّهُ قَالَ السُّنَّةُ كَذَلِكَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২১২১. উসমান ইবনে আবি শাঈবা ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি কোন ব্যক্তি কোন কুমারী স্ত্রীলোককে সায়্যেবা মহিলার বর্তমানে বিবাহ করবে, তখন তার সাথে সাত রজনী যাপন করবে। আর যখন কুমারীর বর্তমানে সাইয়্যেবাকে বিবাহ করবে তখন তার সাথে তিনরাত যাপন করবে। রাবী কিলাবা বলেন, যদি আমি বলি, তিনি (আনাস) এটা মারফু‘ হাদীস হিসাবে বর্ণনা করেছেন, তবে তা সঠিক হবে, বরং তিনি বলেছেন, এরূপই সুন্নত।

১৩০. যদি কেউ তার স্ত্রীকে কিছু দেওয়ার পূর্বে তার সাথে সহবাস করতে চায়।

باب فِي الرَّجُلِ يَدْخُلُ بِامْرَأَتِهِ قَبْلَ أَنْ يُنْقِدَهَا

2122

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الطَّالْقَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا تَزَوَّجَ عَلِيٌّ فَاطِمَةَ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَعْطِهَا شَيْئًا " . قَالَ مَا عِنْدِي شَىْءٌ . قَالَ " أَيْنَ دِرْعُكَ الْحُطَمِيَّةُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১২২. ইসহাক ইবনে ইসমাঈল তালেকানী ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আলী (রাযিঃ) ফাতিমা (রাযিঃ)-কে বিবাহ করেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বলেন, তুমি তাঁকে (ফাতিমাকে) কিছু প্রদান কর। তিনি (আলী) বলেন, আমার নিকট কিছু নাই। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তোমার হাতামীয়া লৌহ বর্মটি কোথায়? (তা প্রদান করে সহবাস করতে পার)।

2123

حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو حَيْوَةَ، عَنْ شُعَيْبٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي حَمْزَةَ - حَدَّثَنِي غَيْلاَنُ بْنُ أَنَسٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلاَمُ لَمَّا تَزَوَّجَ فَاطِمَةَ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَرَادَ أَنْ يَدْخُلَ بِهَا فَمَنَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى يُعْطِيَهَا شَيْئًا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَيْسَ لِي شَىْءٌ . فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَعْطِهَا دِرْعَكَ " . فَأَعْطَاهَا دِرْعَهُ ثُمَّ دَخَلَ بِهَا .

Narrator: অজ্ঞাত সাহাবী

২১২৩. কাসীর ইবনে উবাইদ আল হিলসী ...... রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর জনৈক সাহাবী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আলী (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কন্যাকে বিবাহ করেন, তখন তিনি তাঁর (ফাতিমার) সাথে সহবাস করতে ইচ্ছা করেন (নগদে কিছু দেওয়ার আগে)। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এতে বাধা দান করে আলী (রাযিঃ)-কে কিছু নগদ মোহর আদায় করতে বলেন। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার দেওয়ার মত কিছুই নেই। নবী করীম (ﷺ) তাঁকে বলেন, তুমি তাঁকে তোমার লৌহবর্মটি প্রদান কর। তখন তিনি তাঁকে তা প্রদানের পর তাঁর সাথে সহবাস করেন।

2124

حَدَّثَنَا كَثِيرٌ، - يَعْنِي ابْنَ عُبَيْدٍ - حَدَّثَنَا أَبُو حَيْوَةَ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنْ غَيْلاَنَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، مِثْلَهُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১২৪. কাসীর ইবনে উবাইদ ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতেও পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

2125

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّارُ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ طَلْحَةَ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أُدْخِلَ امْرَأَةً عَلَى زَوْجِهَا قَبْلَ أَنْ يُعْطِيَهَا شَيْئًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ خَيْثَمَةُ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عَائِشَةَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১২৫. মুহাম্মাদ ইবনে সাব্বাহ্ আল বাযযায ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমি যেন কোন মহিলাকে তার স্বামী কর্তৃক কিছু দেওয়ার অনুমতি প্রদান করি।

2126

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ الْبُرْسَانِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيُّمَا امْرَأَةٍ نُكِحَتْ عَلَى صَدَاقٍ أَوْ حِبَاءٍ أَوْ عِدَةٍ قَبْلَ عِصْمَةِ النِّكَاحِ فَهُوَ لَهَا وَمَا كَانَ بَعْدَ عِصْمَةِ النِّكَاحِ فَهُوَ لِمَنْ أُعْطِيَهُ وَأَحَقُّ مَا أُكْرِمَ عَلَيْهِ الرَّجُلُ ابْنَتُهُ أَوْ أُخْتُهُ " .

Narrator: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

২১২৬. মুহাম্মাদ ইবনে মা‘মার ...... আমর ইবনে শুআয়ব তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে সমস্ত স্ত্রীলোকদেরকে তাদের বিবাহের মোহরের পূর্বে মোহর হিসাবে, দান হিসাবে বা অন্য কোন প্রকারে পাত্র পক্ষ হতে কিছু দেয়া হয়, তা সে স্ত্রীলোকের জন্যই। আর বিবাহ বন্ধনের পরে যা কিছু দেয়া হয়, তা যাকে দেয়া হয় তার জন্য। আর বিবাহ উপলক্ষে পিতা তার মেয়ের বিবাহে এবং ভাই তার বোনের বিবাহে সম্মানজনক কোন উপঢৌকন প্রদানের অধিকতর যোগ্য।

১৩১. দম্পতির জন্য দুআ করা।

باب مَا يُقَالُ لِلْمُتَزَوِّجِ

2127

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا رَفَّأَ الإِنْسَانَ إِذَا تَزَوَّجَ قَالَ " بَارَكَ اللَّهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১২৭. কুতায়বা ইবনে সাঈদ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) কোন মানুষের জন্য তার বিবাহের সময় এরূপ দুআ করতেন। তিনি বলতেনঃ (অর্থাৎ) আল্লাহ্ তোমার মঙ্গল সাধন করুন, তোমাকে উন্নতি দিন এবং তোমাদের উভয়ের মধ্যে সৎকাজে সহযোগিতা রাখুন।

১৩২. যদি কেউ কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করার পর গর্ভবতী পায়।

باب فِي الرَّجُلِ يَتَزَوَّجُ الْمَرْأَةَ فَيَجِدُهَا حُبْلَى

2128

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ أَبِي السَّرِيِّ، - الْمَعْنَى - قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ رَجُلٍ، مِنَ الأَنْصَارِ - قَالَ ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَقُلْ مِنَ الأَنْصَارِ ثُمَّ اتَّفَقُوا - يُقَالُ لَهُ بَصْرَةُ قَالَ تَزَوَّجْتُ امْرَأَةً بِكْرًا فِي سِتْرِهَا فَدَخَلْتُ عَلَيْهَا فَإِذَا هِيَ حُبْلَى فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَهَا الصَّدَاقُ بِمَا اسْتَحْلَلْتَ مِنْ فَرْجِهَا وَالْوَلَدُ عَبْدٌ لَكَ فَإِذَا وَلَدَتْ " . قَالَ الْحَسَنُ " فَاجْلِدْهَا " . وَقَالَ ابْنُ أَبِي السَّرِيِّ " فَاجْلِدُوهَا " . أَوْ قَالَ " فَحُدُّوهَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ قَتَادَةُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ وَرَوَاهُ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ نُعَيْمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَعَطَاءٌ الْخُرَاسَانِيُّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَرْسَلُوهُ كُلُّهُمْ . وَفِي حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ أَنَّ بَصْرَةَ بْنَ أَكْثَمَ نَكَحَ امْرَأَةً وَكُلُّهُمْ قَالَ فِي حَدِيثِهِ جَعَلَ الْوَلَدَ عَبْدًا لَهُ .

Narrator: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

২১২৮. মাখলাদ ইবনে খালিদ .... সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব জনৈক আনসার হতে বর্ণনা করেছেন। রাবী ইবনে আল-সারী নবী করীম (ﷺ) এর জনৈক সাহাবী হতে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি আনসার হতে উল্লেখ করেন নি। এরপর সকল রাবী একত্রে বাসরা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি এমন একজন নারীকে বিবাহ করি, যে বাহ্যত কুমারী ছিল। এরপর আমি তার সাথে সহবাস করতে গিয়ে তাকে গর্ভবতী দেখতে পাই। তখন নবী করীম (ﷺ) বলেন, তুমি তার গুপ্তাঙ্গ ব্যবহার করার ফলে তোমার উপর তার মোহর ওয়াজিব হয়েছে। আর ঐ গর্ভস্ত সন্তান (যা ব্যভিচারের ফসল) তোমার খাদিম। আর যখন সে সন্তান প্রসব করবে, রাবী হাসান বলেন, তখন তাকে দুররা মারবে। অথবা রাবী বলেন, তার উপর হদ্ (শরীআতের শাস্তির বিধান) কায়েম করবে।

১৩২. যদি কেউ কোন স্ত্রীরোককে বিবাহ করার পর গর্ভবতী পায়।

باب فِي الرَّجُلِ يَتَزَوَّجُ الْمَرْأَةَ فَيَجِدُهَا حُبْلَى

2129

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُبَارَكِ - عَنْ يَحْيَى، عَنْ يَزِيدَ بْنِ نُعَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ رَجُلاً، يُقَالُ لَهُ بَصْرَةُ بْنُ أَكْثَمَ نَكَحَ امْرَأَةً فَذَكَرَ مَعْنَاهُ . وَزَادَ وَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا . وَحَدِيثُ ابْنِ جُرَيْجٍ أَتَمُّ .

Narrator: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

২১২৯. মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না .... সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি, যার নাম ছিল বাসরা ইবনে আকসাম, তিনি এক মহিলাকে বিবাহ করেন। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের উভয়ের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ করা হয়। আর রাবী ইবনে জুরায়জ বর্ণিত হাদীসটি পরিপূর্ণ।

১৩৩. একাধিক স্ত্রীর মধ্যে ইনসাফভিওিক বণ্টন।

باب فِي الْقَسْمِ بَيْنَ النِّسَاءِ

2130

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ كَانَتْ لَهُ امْرَأَتَانِ فَمَالَ إِلَى إِحْدَاهُمَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّهُ مَائِلٌ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৩০.আবুল ওয়ালদি আত্ তায়ালিসী ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, যার দু‘জন স্ত্রী আছে আর সে তার মধ্যে একজনের প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়ে, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন অর্ধাঙ্গ অবস্থায় আসবে।

১৩৩. একাধিক স্ত্রীর মধ্যে ইনসাফভিওিক বণ্টন।

باب فِي الْقَسْمِ بَيْنَ النِّسَاءِ

2131

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْخَطْمِيِّ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْسِمُ فَيَعْدِلُ وَيَقُولُ " اللَّهُمَّ هَذَا قَسْمِي فِيمَا أَمْلِكُ فَلاَ تَلُمْنِي فِيمَا تَمْلِكُ وَلاَ أَمْلِكُ " . يَعْنِي الْقَلْبَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৩১. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে ইনসাফভিত্তিক (সব কিছুই) বণ্টন করতেন এবং বলতেন, হে আল্লাহ্! আমার পক্ষে যা সম্ভব, আমি তা করছি। আর আপনি যার মালিক (অন্তরের) এবং আমি নই, সে ব্যাপারে আমাকে দোষারোপ করবেন না।

2132

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي الزِّنَادِ - عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ يَا ابْنَ أُخْتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يُفَضِّلُ بَعْضَنَا عَلَى بَعْضٍ فِي الْقَسْمِ مِنْ مُكْثِهِ عِنْدَنَا وَكَانَ قَلَّ يَوْمٌ إِلاَّ وَهُوَ يَطُوفُ عَلَيْنَا جَمِيعًا فَيَدْنُو مِنْ كُلِّ امْرَأَةٍ مِنْ غَيْرِ مَسِيسٍ حَتَّى يَبْلُغَ إِلَى الَّتِي هُوَ يَوْمُهَا فَيَبِيتُ عِنْدَهَا وَلْقَدْ قَالَتْ سَوْدَةُ بِنْتُ زَمْعَةَ حِينَ أَسَنَّتْ وَفَرِقَتْ أَنْ يُفَارِقَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَا رَسُولَ اللَّهِ يَوْمِي لِعَائِشَةَ . فَقَبِلَ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا قَالَتْ نَقُولُ فِي ذَلِكَ أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى وَفِي أَشْبَاهِهَا أُرَاهُ قَالَ ( وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُوزًا ) .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

২১৩২. আহমাদ ইবনে উইনুস ...... হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, হে আমার বোনের পুত্র! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কারো উপর কাউকে ফযীলত (শ্রেষ্ঠত্ব) প্রদান করতেন না, আমাদের সাথে অবস্থানের ব্যাপারে। আর এরূপ দিন খুব কমই হত, যেদিন তিনি আমাদের সকলের নিকট আসতেন না এবং সহবাস ব্যতীত তিনি সকল স্ত্রীর সাথে খোশালাপ করতেন। এরপর যেদিন যার সাথে রাত্রিবাসের পালা পড়ত, সেদিন তিনি তার সাথে রাতযাপন করতেন।

আর সাওদা বিনতে যামআর বয়স যখন অধিক বৃদ্ধি পায় এবং তিনি এ ভয়ে ভীত হন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে ত্যাগ করবেন, তখন তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আমার পালার দিনটি আয়িশার জন্য দান করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার পক্ষ হতে তা কবুল করেন। তখন আল্লাহ্ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ যদি কোন স্ত্রীলোক তার স্বামীকে তার দিক হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার আশঙ্কা করে ...। (নিসাঃ ১২৮)
2133

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ مُعَاذَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتَأْذِنُنَا إِذَا كَانَ فِي يَوْمِ الْمَرْأَةِ مِنَّا بَعْدَ مَا نَزَلَتْ ( تُرْجِي مَنْ تَشَاءُ مِنْهُنَّ وَتُؤْوِي إِلَيْكَ مَنْ تَشَاءُ ) قَالَتْ مُعَاذَةُ فَقُلْتُ لَهَا مَا كُنْتِ تَقُولِينَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كُنْتُ أَقُولُ إِنْ كَانَ ذَلِكَ إِلَىَّ لَمْ أُوثِرْ أَحَدًا عَلَى نَفْسِي .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৩৩. ইয়াহয়া ইবনে মুঈন ও মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের প্রত্যেকের নিকট অবস্থানের দিন অনুমতি চাইতেন। এরপর এ আয়াত নাযিল হয়ঃ তুমি তাদের মধ্যে যার সাথে ইচ্ছা (অবস্থান) করতে পার এবং যাকে ইচ্ছা তোমার নিকট রাখতে পার। মুআযা বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি, আপনারা তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে কী বলতেন? তিনি বলেন, আমি বলতাম, যদি তা আমার জন্য হয়, তবে আমি কাউকেও আমার উপর অগ্রাধিকার দিব না।

2134

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا مَرْحُومُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْعَطَّارُ، حَدَّثَنِي أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ بَابَنُوسَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ إِلَى النِّسَاءِ - تَعْنِي فِي مَرَضِهِ - فَاجْتَمَعْنَ فَقَالَ " إِنِّي لاَ أَسْتَطِيعُ أَنْ أَدُورَ بَيْنَكُنَّ فَإِنْ رَأَيْتُنَّ أَنْ تَأْذَنَّ لِيَ فَأَكُونَ عِنْدَ عَائِشَةَ فَعَلْتُنَّ " . فَأَذِنَّ لَهُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৩৪. মুসাদ্দাদ ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর মৃত্যুকালীন রোগের সময় তাঁর সকল স্ত্রীকে আহবান করেন। আমরা সকলে একত্রিত হলে তিনি বলেন, (বর্তমানে) তোমাদের সকলের সাথে ঘুরে ঘুরে (পালাক্রমে) অবস্থানের ক্ষমতা আমার নেই। কাজেই তোমরা সকলে যদি অনুমতি দাও, তবে আমি (অসুস্থতার) দিনগুলো আয়িশার নিকট কাটাতে চাই। তখন সকলেই তাঁকে অনুমতি প্রদান করেন।

১৩৩. একাধিক স্ত্রীর মধ্যে ইনসাফভিওিক বণ্টন।

باب فِي الْقَسْمِ بَيْنَ النِّسَاءِ

2135

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَهُ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ سَفَرًا أَقْرَعَ بَيْنَ نِسَائِهِ فَأَيَّتُهُنَّ خَرَجَ سَهْمُهَا خَرَجَ بِهَا مَعَهُ وَكَانَ يَقْسِمُ لِكُلِّ امْرَأَةٍ مِنْهُنَّ يَوْمَهَا وَلَيْلَتَهَا غَيْرَ أَنَّ سَوْدَةَ بِنْتَ زَمْعَةَ وَهَبَتْ يَوْمَهَا لِعَائِشَةَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৩৫. আহমদ ইবনে আমর ইবনে সারহ্ ..... নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোথাও সফরের ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে (সাথে নেয়ার জন্য) লটারী করতেন। এরপর যার নাম লটারীতে আসত, তিনি তাঁকে সঙ্গে নিতেন। আর তিনি তাঁর প্রত্যেক স্ত্রীর জন্য একটি দিন ও রাত নির্ধারিত করতেন। অবশ্য সাওদা বিনতে যামআ ব্যতীত, কেননা, তিনি (বার্ধক্যের কারণে) তাঁর পালার দিনটি আয়িশার জন্য দান করেছিলেন।

১৩৪. স্ত্রীর বাড়ীতে সহাবস্থানের শর্তে বিবাহ করলে তাকে অন্যত্র নেয়া যায় কিনা।

باب فِي الرَّجُلِ يَشْتَرِطُ لَهَا دَارَهَا

2136

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، أَخْبَرَنِي اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " إِنَّ أَحَقَّ الشُّرُوطِ أَنْ تُوفُوا بِهِ مَا اسْتَحْلَلْتُمْ بِهِ الْفُرُوجَ " .

Narrator: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

২১৩৬.ঈসা ইবনে হাম্মাদ ..... উকবা ইবনে আমের (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেনঃ ঐ শর্তই উত্তম, যা তোমরা পূর্ণরূপে পালন করতে পার, আর যদ্বারা তোমাদের জন্য স্ত্রী অঙ্গ ব্যবহার হালাল হয়।

১৩৫. স্ত্রীর উপর স্বামীর হক (অধিকার)।

باب فِي حَقِّ الزَّوْجِ عَلَى الْمَرْأَةِ

2137

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ أَتَيْتُ الْحِيرَةَ فَرَأَيْتُهُمْ يَسْجُدُونَ لِمَرْزُبَانٍ لَهُمْ فَقُلْتُ رَسُولُ اللَّهِ أَحَقُّ أَنْ يُسْجَدَ لَهُ قَالَ فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ إِنِّي أَتَيْتُ الْحِيرَةَ فَرَأَيْتُهُمْ يَسْجُدُونَ لِمَرْزُبَانٍ لَهُمْ فَأَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَحَقُّ أَنْ نَسْجُدَ لَكَ . قَالَ " أَرَأَيْتَ لَوْ مَرَرْتَ بِقَبْرِي أَكُنْتَ تَسْجُدُ لَهُ " . قَالَ قُلْتُ لاَ . قَالَ " فَلاَ تَفْعَلُوا لَوْ كُنْتُ آمِرًا أَحَدًا أَنْ يَسْجُدَ لأَحَدٍ لأَمَرْتُ النِّسَاءَ أَنْ يَسْجُدْنَ لأَزْوَاجِهِنَّ لِمَا جَعَلَ اللَّهُ لَهُمْ عَلَيْهِنَّ مِنَ الْحَقِّ " .

Narrator: কায়স ইবন সা'দ আনসারী (রাঃ)

২১৩৭. আমর ইবনে আওন .... কায়স ইবনে সা‘দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হিরা শহরে আগমন করে সেখানকার লোকদেরকে মারযুবানকে সিজদা করতে দেখি। আমি (মনে মনে) বলি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ই তো সিজদার অধিকতর হকদার। তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলি, আমি হিরাতে গমন করে সেখানকার লোকদেরকে মারযুবানকে সিজদা করতে দেখেছি। আর হে আল্লাহর রাসুল! আপনিতো এর অধিক হকদার যে, আমরা আপনাকে সিজদা করি? তিনি বলেন, তুমি বল, যদি (আমার ইন্‌তিকালের পর) তুমি আমার কবরের পাশ দিয়ে গমন কর, তবে কি তুমি সেখানে সিজদা করবে? তিনি বলেন, আমি বললাম, না। তিনি বলেন, তোমরা সেরূপ করবে না। আর যদি আমি কাউকে সিজদা করতে বলতাম, তবে আমি স্ত্রীলোকদেরকে তাদের স্বামীদেরকে সিজদা করতে বলতাম। আর তা এইজন্য যে, আল্লাহ্ তাআলা তাদেরকে (স্বামীকে) তাদের (স্ত্রীদের) উপর হক প্রদান করেছেন।

2138

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا دَعَا الرَّجُلُ امْرَأَتَهُ إِلَى فِرَاشِهِ فَأَبَتْ فَلَمْ تَأْتِهِ فَبَاتَ غَضْبَانَ عَلَيْهَا لَعَنَتْهَا الْمَلاَئِكَةُ حَتَّى تُصْبِحَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৩৮. মুহাম্মাদ ইবনে আমর ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যখন কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তার বিছানায় (সহবাসের জন্য) আহবান করে, আর সে (স্ত্রী) তার নিকট গমন না করে, যার ফলে সে (স্বামী) রাগান্বিত অবস্থায় রাত কাটায়, ঐ স্ত্রীলোকের উপর ফিরিশতাগণ সকাল পর্যন্ত অভিসম্পাত করতে থাকেন।

১৩৬. স্বামীর উপর স্ত্রীর অধিকার।

باب فِي حَقِّ الْمَرْأَةِ عَلَى زَوْجِهَا

2139
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو قَزَعَةَ الْبَاهِلِيُّ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ مُعَاوِيَةَ الْقُشَيْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا حَقُّ زَوْجَةِ أَحَدِنَا عَلَيْهِ قَالَ " أَنْ تُطْعِمَهَا إِذَا طَعِمْتَ وَتَكْسُوَهَا إِذَا اكْتَسَيْتَ - أَوِ اكْتَسَبْتَ - وَلاَ تَضْرِبِ الْوَجْهَ وَلاَ تُقَبِّحْ وَلاَ تَهْجُرْ إِلاَّ فِي الْبَيْتِ " .
«قالَ أَبُو دَاوُدَ: وَلاَ تُقَبِّحْ أَنْ تَقُولَ: قَبَّحَكِ اللهُ»

Narrator: হযরত মুআবিয়া ইবনে হায়দা রাযি.

২১৩৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... হাকীম ইবনে মুআবিয়া (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করি, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের কারও উপর তার স্ত্রীর হক কী? তিনি বলেন, যা তুমি খাবে তাকেও (স্ত্রী) খাওয়াবে, আর তুমি যা পরিধান করবে তাকেও তা পরিধান করাবে। আর তার (স্ত্রী) চেহারার উপর মারবে না এবং তাকে গালাগাল করবে না। আর তাকে ঘর হতে বের করে দিবে না।

2140

حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ نِسَاؤُنَا مَا نَأْتِي مِنْهُنَّ وَمَا نَذَرُ قَالَ " ائْتِ حَرْثَكَ أَنَّى شِئْتَ وَأَطْعِمْهَا إِذَا طَعِمْتَ وَاكْسُهَا إِذَا اكْتَسَيْتَ وَلاَ تُقَبِّحِ الْوَجْهَ وَلاَ تَضْرِبْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى شُعْبَةُ " تُطْعِمُهَا إِذَا طَعِمْتَ وَتَكْسُوهَا إِذَا اكْتَسَيْتَ " .

Narrator: হযরত মুআবিয়া ইবনে হায়দা রাযি.

২১৪০. ইবনে বাশশার ......... হাকীম ইবনে মুআবিয়া (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি বলি, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আমাদের স্ত্রীদের সাথে কোথায় কিরূপে সহবাস করব এবং কোথায় করব না? তিনি বলেন, তুমি তোমার ক্ষেত্রে যেরূপে ইচ্ছা গমন করত পার। আর যখন তুমি খাবে, তখন তাকেও খেতে দিবে। আর যখন তুমি যা পরিধান করবে, তখন তাকেও তা পরিধান করাবে এবং তাকে গালমন্দ করবে না ও মারধর করবে না।

2141

أَخْبَرَنِي أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ الْمُهَلَّبِيُّ النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَزِينٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ دَاوُدَ الْوَرَّاقِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، مُعَاوِيَةَ الْقُشَيْرِيِّ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَقُلْتُ مَا تَقُولُ فِي نِسَائِنَا قَالَ " أَطْعِمُوهُنَّ مِمَّا تَأْكُلُونَ وَاكْسُوهُنَّ مِمَّا تَكْتَسُونَ وَلاَ تَضْرِبُوهُنَّ وَلاَ تُقَبِّحُوهُنَّ " .

Narrator: মুআবিয়া ইবনে কুররা (রহঃ) -তার পিতা রাঃ থেকে-

২১৪১. আহমাদ ইবনে ইউসুফ মুহাল্লাবী আল নীশাপুরী ..... সাঈদ ইবনে হাকীম তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা মুআবিয়া আল কুশায়রী (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, আপনি আমাদের স্ত্রীর হক সম্পর্কে কী নির্দেশ দেন? তিনি বলেন, তোমরা যা খাবে, তাদেরকেও তা খেতে দিবে। আর তোমরা যা পরিধান করবে, তাদেরকেও তা পরিধান করাবে এবং তোমরা তাদেরকে মারধর করবে না ও গালমন্দ দিবে না।

১৩৭. স্ত্রীদের মারধর করা।

باب فِي ضَرْبِ النِّسَاءِ

2142

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي حُرَّةَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ عَمِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فَإِنْ خِفْتُمْ نُشُوزَهُنَّ فَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ " . قَالَ حَمَّادٌ يَعْنِي النِّكَاحَ .

Narrator: বিবিধ

২১৪২. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আবু হাররা আর রাকাশী তার চাচা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন যে, যদি তোমরা স্ত্রীদের পক্ষ হতে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর, তবে তোমরা তাদের বিছানা পৃথক করে দিবে। রাবী হাম্মাদ বলেন, অর্থাৎ তাদের সাথে সহবাস পরিত্যাগ করবে।

2143
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي خَلَفٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، - قَالَ ابْنُ السَّرْحِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ - عَنْ إِيَاسِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي ذُبَابٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَضْرِبُوا إِمَاءَ اللَّهِ " . فَجَاءَ عُمَرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ذَئِرْنَ النِّسَاءُ عَلَى أَزْوَاجِهِنَّ . فَرَخَّصَ فِي ضَرْبِهِنَّ فَأَطَافَ بِآلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نِسَاءٌ كَثِيرٌ يَشْكُونَ أَزْوَاجَهُنَّ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَقَدْ طَافَ بِآلِ مُحَمَّدٍ نِسَاءٌ كَثِيرٌ يَشْكُونَ أَزْوَاجَهُنَّ لَيْسَ أُولَئِكَ بِخِيَارِكُمْ " .
«قال لنا أبو داود: هو عبد الله بن عبد الله»

Narrator: হযরত ইয়াস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু যুবাব (রাঃ)

২১৪৩. ইবনে আবু খালফ ও আহমাদ ইবনে আমর ইবনে সারহ্ .... ইয়াস ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে আবু যুবাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, তোমরা আল্লাহর দাসীদেরকে প্রহার করবে না। তখন উমর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলেন, স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের সাথে অবাধ্যতা করছে। তখন তিনি তাদেরকে হালকা মারধর করতে অনুমতি প্রদান করেন।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর পরিবারের নিকট অনেক মহিলা এসে তাদের স্বামীদের সম্পর্কে অভিযোগ পেশ করে। তখন নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ মুহাম্মাদের পরিবারের নিকট অসংখ্য মহিলা এসে তাদের স্বামীদের ব্যাপারে অভিযোগ পেশ করছে। যারা তাদের স্ত্রীদের মেরেছে তারা তোমাদের মধ্যে উত্তম নয়।
2144

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأَوْدِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُسْلِيِّ، عَنِ الأَشْعَثِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يُسْأَلُ الرَّجُلُ فِيمَا ضَرَبَ امْرَأَتَهُ " .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২১৪৪. যুহাইর ইবনে হারব ...... উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, কোন ব্যক্তিকে (দুনিয়াতে) তার স্ত্রীকে মারধর করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না।

১৩৮. যে ব্যাপারে চক্ষু অবনত রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়।

باب مَا يُؤْمَرُ بِهِ مِنْ غَضِّ الْبَصَرِ

2145

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ جَرِيرٍ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ نَظْرَةِ الْفَجْأَةِ فَقَالَ " اصْرِفْ بَصَرَكَ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২১৪৫. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর ...... জাবীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে হঠাৎ কোন অপরিচিত স্ত্রীলোকের প্রতি দৃষ্টিপাত করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন, তুমি তোমার দৃষ্টিকে (তৎক্ষণাৎ) ফিরিয়ে নিবে।

2146

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى الْفَزَارِيُّ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي رَبِيعَةَ الإِيَادِيِّ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِعَلِيٍّ " يَا عَلِيُّ لاَ تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّ لَكَ الأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الآخِرَةُ " .

Narrator: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

২১৪৬. ইসমাঈল ইবনে মুসা আল ফাযারী .... আবু বুরায়দা (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী (রাযিঃ)-কে বলেন, হে আলী! তোমার প্রথম দৃষ্টিপাতকে (বেগানা স্ত্রীলোকের প্রতি অনিচ্ছা সত্বে হয়েছে) তোমার দ্বিতীয় দৃষ্টি (যা ইচ্ছাকৃত) যেন অনুসরণ না করে। কেননা, প্রথমবার দৃষ্টিপাত তোমার জন্য জায়েয, আর দ্বিতীয়বার (ইচ্ছাকৃতভাবে) দৃষ্টিপাত করা তেমার জন্য বৈধ নয়।

2147

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُبَاشِرُ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ لِتَنْعَتَهَا لِزَوْجِهَا كَأَنَّمَا يَنْظُرُ إِلَيْهَا " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২১৪৭. মুসাদ্দাদ .... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, কোন স্ত্রীলোক যেন অপর কোন স্ত্রীলোকের খালি শরীর স্পর্শ না করে, যাতে তার শরীরের কমনীয়তা ও লাবণ্যতা সম্পর্কে তার স্বামীর নিকট বর্ণনা করতে পারে। যার ফলে তার স্বামী তাকে দেখার জন্য আকৃষ্ট হতে পারে।

2148

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَأَى امْرَأَةً فَدَخَلَ عَلَى زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ فَقَضَى حَاجَتَهُ مِنْهَا ثُمَّ خَرَجَ إِلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ لَهُمْ " إِنَّ الْمَرْأَةَ تُقْبِلُ فِي صُورَةِ شَيْطَانٍ فَمَنْ وَجَدَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَلْيَأْتِ أَهْلَهُ فَإِنَّهُ يُضْمِرُ مَا فِي نَفْسِهِ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২১৪৮. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম ...... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম (ﷺ) অপরিচিতা স্ত্রীলোককে দেখতে পান। অতঃপর তিনি (তাঁর স্ত্রী) যায়নাব বিনতে জাহশের নিকট গমন করেন এবং তাঁর দ্বারা নিজের কামনা পূর্ণ করেন। অতঃপর তিনি তাঁর সাহাবীদের নিকট গমন করে তাদেরকে বলেন, নিশ্চয়ই মহিলারা শয়তানের ন্যায়, পুরুষের মনের মধ্যে ওয়াস্ওয়াসার (ধোঁকার) সৃষ্টি করে। আর যে ব্যক্তি এই অবস্থায় পতিত হবে, সে যেন তার স্ত্রীর নিকট গমন করে এবং (তার সাথে সহবাসের দ্বারা) তার অন্তরের সৃষ্ট দুর্বলতা যেন দূরীভূত করে।

2149

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ ثَوْرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مَا رَأَيْتُ شَيْئًا أَشْبَهَ بِاللَّمَمِ مِمَّا قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ عَلَى ابْنِ آدَمَ حَظَّهُ مِنَ الزِّنَا أَدْرَكَ ذَلِكَ لاَ مَحَالَةَ فَزِنَا الْعَيْنَيْنِ النَّظَرُ وَزِنَا اللِّسَانِ الْمَنْطِقُ وَالنَّفْسُ تَمَنَّى وَتَشْتَهِي وَالْفَرْجُ يُصَدِّقُ ذَلِكَ وَيُكَذِّبُهُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৪৯. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত (হাদীসের চাইতে) অধিক সগীরা গুনাহ্ সম্পর্কিত হাদীস নাই। তিনি নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ্ তাআলা আদম সন্তানের জন্য যিনার একটি অংশ নির্ধারণ করেছেন, আর সে তা অবশ্যই করবে। আর চক্ষুর যিনা হল দৃষ্টিপাত করা, মুখের যিনা হল অশোভন উক্তি, আর নফসের যিনা হল (যিনার) ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা করা। আর সবশেষে গুপ্তাঙ্গ তা সত্য বা মিথ্যায় পরিণত করে।

2150

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لِكُلِّ ابْنِ آدَمَ حَظُّهُ مِنَ الزِّنَا " . بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ " وَالْيَدَانِ تَزْنِيَانِ فَزِنَاهُمَا الْبَطْشُ وَالرِّجْلاَنِ تَزْنِيَانِ فَزِنَاهُمَا الْمَشْىُ وَالْفَمُ يَزْنِي فَزِنَاهُ الْقُبَلُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৫০. মুসা ইবনে ইসমাঈল ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, প্রত্যেক আদম সন্তানের জন্য যিনার একটি অংশ আছে। অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী আরো উল্লেখ করেছেন যে, দুই হাতও যিনা করে, আর তা হল কোন অপরিচিত স্ত্রীকে স্পর্শ করা। আর দুই পা-ও যিনা করে এবং তা হল যিনার স্থানে গমন করা। আর মুখও যিনা করে এবং তা হল (কোন অপিরিচিতা স্ত্রীকে) চুম্বন করা।

2151

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ " وَالأُذُنُ زِنَاهَا الاِسْتِمَاعُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৫১. কুতায়বা ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাবী আরো বলেন, কানের যিনা হলো, (যৌন উদ্দীপক) কথাবার্তা শ্রবণ করা।

১৩৯. বন্দী স্ত্রীলোকের সাথে সহবাস করা।

باب فِي وَطْءِ السَّبَايَا

2152

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ صَالِحٍ أَبِي الْخَلِيلِ، عَنْ أَبِي عَلْقَمَةَ الْهَاشِمِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ يَوْمَ حُنَيْنٍ بَعْثًا إِلَى أَوْطَاسٍ فَلَقُوا عَدُوَّهُمْ فَقَاتَلُوهُمْ فَظَهَرُوا عَلَيْهِمْ وَأَصَابُوا لَهُمْ سَبَايَا فَكَأَنَّ أُنَاسًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَحَرَّجُوا مِنْ غِشْيَانِهِنَّ مِنْ أَجْلِ أَزْوَاجِهِنَّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى فِي ذَلِكَ ( وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ النِّسَاءِ إِلاَّ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ) أَىْ فَهُنَّ لَهُمْ حَلاَلٌ إِذَا انْقَضَتْ عِدَّتُهُنَّ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২১৫২. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে উমর ইবনে মায়সার ...... আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুনায়নের যুদ্ধের সময় আওতাস্ নামক স্থানে একটি সৈন্যদল প্রেরণ করেন। তারা তাদের শত্রুদের সাথে মুকাবিলা করে তাদেরকে হত্যা করে এবং তাদের উপর বিজয়ী হয়। আর এই সময় তারা কয়েদী হিসাবে (হাওয়াযেন গোত্রের) কিছু মহিলাকে বন্দী করে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কিছু সাহাবী তাদের সাথে অনধিকারভাবে সহবাস করা গুনাহ মনে করে, কেননা তাদের মুশরিক স্বামীরা তখন বন্দী ছিল। তখন আল্লাহ্ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ (অর্থ) যে সমস্ত স্ত্রীলোকদের স্বামী আছে তারা তোমাদের জন্য হারাম। তবে যারা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী অর্থাৎ যেসব মহিলা যুদ্ধবন্দী হিসাবে তোমাদের আয়ত্বে আসবে তারা ইদ্দত (হায়যের) পূর্ণ করার পর তোমাদের জন্য হালাল।

2153

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مِسْكِينٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي غَزْوَةٍ فَرَأَى امْرَأَةً مُجِحًّا فَقَالَ " لَعَلَّ صَاحِبَهَا أَلَمَّ بِهَا " . قَالُوا نَعَمْ . فَقَالَ " لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَلْعَنَهُ لَعْنَةً تَدْخُلُ مَعَهُ فِي قَبْرِهِ كَيْفَ يُوَرِّثُهُ وَهُوَ لاَ يَحِلُّ لَهُ وَكَيْفَ يَسْتَخْدِمُهُ وَهُوَ لاَ يَحِلُّ لَهُ " .

Narrator: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

২১৫৩. আন নুফায়লী ...... আবু দারদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক যুদ্ধে গমন করেন। অতঃপর তিনি জনৈক সন্তানসম্ভবা দাসীকে দেখেন। তিনি বলেন, সম্ভবতঃ এর মালিক এর সাথে সহবাস করেছে। উপস্থিত সাহাবীগণ বলেন, হ্যাঁ। আমি তার জন্য বদ দুআ করতে ইচ্ছা করেছি, যা তার সাথে কবরে প্রবেশ করবে। উক্ত সন্তান কিরূপে তার উত্তরাধিকার হবে? তা তার জন্য বৈধ নয়। আর সে তার (সন্তানের) নিকট হতে কিরূপে খিদমত আশা করবে? তা তার জন্য হালাল নয়।

2154

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ قَيْسِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي الْوَدَّاكِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَرَفَعَهُ، أَنَّهُ قَالَ فِي سَبَايَا أَوْطَاسٍ " لاَ تُوطَأُ حَامِلٌ حَتَّى تَضَعَ وَلاَ غَيْرُ ذَاتِ حَمْلٍ حَتَّى تَحِيضَ حَيْضَةً " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৫৪. আমর ইবনে আওন ...... আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ কোন গর্ভবতী বন্দিনীর সাথে তার সন্তান প্রসবের আগে এবং কোন রমণীর সাথে তার হায়য হতে পবিত্র হওয়ার পূর্বে সহবাস করবে না।

2155

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي مَرْزُوقٍ، عَنْ حَنَشٍ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ رُوَيْفِعِ بْنِ ثَابِتٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ قَامَ فِينَا خَطِيبًا قَالَ أَمَا إِنِّي لاَ أَقُولُ لَكُمْ إِلاَّ مَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ يَوْمَ حُنَيْنٍ قَالَ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ يَسْقِيَ مَاءَهُ زَرْعَ غَيْرِهِ " . يَعْنِي إِتْيَانَ الْحَبَالَى " وَلاَ يَحِلُّ لاِمْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ يَقَعَ عَلَى امْرَأَةٍ مِنَ السَّبْىِ حَتَّى يَسْتَبْرِئَهَا وَلاَ يَحِلُّ لاِمْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ يَبِيعَ مَغْنَمًا حَتَّى يُقْسَمَ " .

Narrator: রুওয়াইফি' ইবনে ছাবিত (রাঃ)

২১৫৫. আন- নুফায়লী ..... রুওয়াইফি’ ইবনে সাবিত আল আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তিনি (রুওয়াইফি’) আমাদের মধ্যে খুতবা প্রদানের সময় দণ্ডায়মান হয়ে বলেন, আমি তোমাদেরকে তা-ই বলব, যা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি। তিনি হুনায়নের (যুদ্ধের) সময় বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ্ এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনেছে, সে যেন অন্যের খেতে পানি সেচ না করে অর্থাৎ অন্যের গর্ভবতী কোন নারীর সাথে সহবাস না করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনেছে, তার জন্য কোন বন্দিনী গর্ভবতী নারীর সাথে সহবাস করা বৈধ নয়, যতক্ষণ সে সন্তান প্রসব করে পবিত্র না হয়। আরো বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তাআলা ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, তার জন্য গনিমতের মাল বণ্টনের আগে বিক্রয় করা হালাল নয়।

2156

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ " حَتَّى يَسْتَبْرِئَهَا بِحَيْضَةٍ " . زَادَ فِيهِ ( بِحَيْضَةٍ وَهُوَ وَهَمٌ مِنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، وَهُوَ صَحِيحٌ فِي حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ زَادَ ) " وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلاَ يَرْكَبْ دَابَّةً مِنْ فَىْءِ الْمُسْلِمِينَ حَتَّى إِذَا أَعْجَفَهَا رَدَّهَا فِيهِ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلاَ يَلْبَسْ ثَوْبًا مِنْ فَىْءِ الْمُسْلِمِينَ حَتَّى إِذَا أَخْلَقَهُ رَدَّهُ فِيهِ " .قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْحَيْضَةُ لَيْسَتْ بِمَحْفُوظَةٍ, [وهو وهم من أبي معاوية]

Narrator: রুওয়াইফি' ইবনে ছাবিত (রাঃ)

২১৫৬. সাঈদ ইবনে মনসুর ...... ইবনে ইসহাক (রাহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর তিনি বলেন, যতক্ষণ না সে (বন্দিনী স্ত্রী) তার হায়য হতে সম্পূর্ণ মুক্ত (পবিত্র) হয়। অতঃপর তিনি (রাবী) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে তার জন্য মুসলমানদের প্রাপ্ত কোন গনিমতের পশুর উপর সওয়ার হওয়া হালাল নয়; যে তাকে দুর্বল করে ফেরত দিবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও কিয়ামতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন মুসলমানদের গনিমতের কাপড় পরিধান না করে, এমনভাবে যে, সে তা পুরাতন করে ফেরত দেয়।

১৪০. সহবাস সম্পর্কীয় অন্যান্য হাদীস।

باب فِي جَامِعِ النِّكَاحِ

2157

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، - يَعْنِي سُلَيْمَانَ بْنَ حَيَّانَ - عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا تَزَوَّجَ أَحَدُكُمُ امْرَأَةً أَوِ اشْتَرَى خَادِمًا فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَمِنْ شَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ وَإِذَا اشْتَرَى بَعِيرًا فَلْيَأْخُذْ بِذِرْوَةِ سَنَامِهِ وَلْيَقُلْ مِثْلَ ذَلِكَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ زَادَ أَبُو سَعِيدٍ " ثُمَّ لْيَأْخُذْ بِنَاصِيَتِهَا وَلْيَدْعُ بِالْبَرَكَةِ " . فِي الْمَرْأَةِ وَالْخَادِمِ .

Narrator: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

২১৫৭. উসমান ইবনে আবি শাঈবা ও আব্দুল্লাহ্ ইবনে সাঈদ ...... আমর ইবনে শু‘য়াইব তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে তিনি নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইরশাদ করেনঃ যখন তোমাদের কেউ কোন রমণীকে বিবাহ করে অথবা কোনো দাস খরিদ করে, তখন সে যেন বলে, হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট এর উত্তম স্বভাব ও সৎ চরিত্রের জন্য দুআ করছি এবং এর মন্দ স্বভাব ও অনিষ্টতা হতে তোমার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। আর যখন কেউ কোন উট খরিদ করে তখন সে যেন এর ঝুঁটি স্পর্শ করে এরূপ বলে।

2158

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْتِيَ أَهْلَهُ قَالَ بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا ثُمَّ قُدِّرَ أَنْ يَكُونَ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ فِي ذَلِكَ لَمْ يَضُرَّهُ شَيْطَانٌ أَبَدًا " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৫৮. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করতে মনস্থ করে, তখন সে যেন বলে, (অর্থ) আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ্! শয়তান থেকে বাঁচাও এবং যে রিযিক তুমি আমাদের দিয়েছ, তা শয়তান থেকে পবিত্র রাখ। অতঃপর তাদের মিলনের ফলে যদি কোন সন্তান জন্মগ্রহণ করে, শয়তান তার কখনই কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

2159

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ مُخَلَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَلْعُونٌ مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২১৫৯. হান্নাদ ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর পশ্চদদ্বারে সহবাস করে সে অভিশপ্ত।

2160

حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرًا، يَقُولُ إِنَّ الْيَهُودَ يَقُولُونَ إِذَا جَامَعَ الرَّجُلُ أَهْلَهُ فِي فَرْجِهَا مِنْ وَرَائِهَا كَانَ وَلَدُهُ أَحْوَلَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى ( نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ ) .

Narrator: মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রহঃ)

২১৬০. ইবনে বাশশার ...... মুহাম্মাদ ইবনে আল্ মুনকাদির (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, ইয়াহুদীরা বলত, যখন কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে পশ্চাত দিক হতে তার যৌনাঙ্গে সহবাস করে তখন যে সন্তান জন্মগ্রহণ করে, সে টেরা হয়। তখন আল্লাহ্ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ ‘‘তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য ক্ষেত স্বরূপ। কাজেই, তোমরা তোমাদের ক্ষেত্রে যেরূপে ইচ্ছা সেরূপে গিয়ে ফসল উৎপাদন কর।’’ [বাকারাঃ ২২৩]

2161

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى أَبُو الأَصْبَغِ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبَانَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ إِنَّ ابْنَ عُمَرَ - وَاللَّهُ يَغْفِرُ لَهُ - أَوْهَمَ إِنَّمَا كَانَ هَذَا الْحَىُّ مِنَ الأَنْصَارِ - وَهُمْ أَهْلُ وَثَنٍ - مَعَ هَذَا الْحَىِّ مِنْ يَهُودَ - وَهُمْ أَهْلُ كِتَابٍ - وَكَانُوا يَرَوْنَ لَهُمْ فَضْلاً عَلَيْهِمْ فِي الْعِلْمِ فَكَانُوا يَقْتَدُونَ بِكَثِيرٍ مِنْ فِعْلِهِمْ وَكَانَ مِنْ أَمْرِ أَهْلِ الْكِتَابِ أَنْ لاَ يَأْتُوا النِّسَاءَ إِلاَّ عَلَى حَرْفٍ وَذَلِكَ أَسْتَرُ مَا تَكُونُ الْمَرْأَةُ فَكَانَ هَذَا الْحَىُّ مِنَ الأَنْصَارِ قَدْ أَخَذُوا بِذَلِكَ مِنْ فِعْلِهِمْ وَكَانَ هَذَا الْحَىُّ مِنْ قُرَيْشٍ يَشْرَحُونَ النِّسَاءَ شَرْحًا مُنْكَرًا وَيَتَلَذَّذُونَ مِنْهُنَّ مُقْبِلاَتٍ وَمُدْبِرَاتٍ وَمُسْتَلْقِيَاتٍ فَلَمَّا قَدِمَ الْمُهَاجِرُونَ الْمَدِينَةَ تَزَوَّجَ رَجُلٌ مِنْهُمُ امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ فَذَهَبَ يَصْنَعُ بِهَا ذَلِكَ فَأَنْكَرَتْهُ عَلَيْهِ وَقَالَتْ إِنَّمَا كُنَّا نُؤْتَى عَلَى حَرْفٍ فَاصْنَعْ ذَلِكَ وَإِلاَّ فَاجْتَنِبْنِي حَتَّى شَرِيَ أَمْرُهُمَا فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ ) أَىْ مُقْبِلاَتٍ وَمُدْبِرَاتٍ وَمُسْتَلْقِيَاتٍ يَعْنِي بِذَلِكَ مَوْضِعَ الْوَلَدِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৬১. আব্দুল আযীয ইবনে ইয়াহয়া ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই ইবনে উমর, আল্লাহ্ তাঁকে বা তাঁদেরকে মার্জনা করুন- বলেছেনঃ জাহিলীয়াতের যুগে আনসারগণ দেব দেবীর পূজার্চনা করতো এবং ইয়াহুদীদের সাথে অবস্থান করতো। তারা (ইয়াহুদীরা) আহলে কিতাব ছিল এবং সেজন্য তারা (ইয়াহুদীরা) আনসারদের উপর জ্ঞানের দিক দিয়ে তাদের শ্যেষ্ঠত্ব দেখাত। আর তাঁরা (আনসারগণ) অনেক ব্যাপারে তাদের (ইয়াহুদীদের) অনুসরণ করতো। আর আহলে কিতাবদের নিয়ম ছিল যে, তাঁরা তাদের স্ত্রীদের সাথে বিভিন্ন অবস্থায় সহবাস করত। আর এটাই ছিল স্ত্রীদের সাথে সহবাসের নিয়ম। আর আনসারদের এই গোত্রটি তাদের নিকট হতে এই নিয়মটি গ্রহণ করে। আর কুরাইশদের এই গোত্রটি, তাদের স্ত্রীদের সাথে বিভিন্ন অবস্থায় সহবাস করতো, এমনকি তারা তাদের স্ত্রীদের সাথে সামনাসামনি, পশ্চাতদিক দিয়ে ও চিৎ হয়ে শায়িত অবস্থায় সহবাস করতো।

অতঃপর তারা যখন মুহাজির অবস্থায় মদীনাতে আগমন করে, তখন তাদের কোন এক ব্যক্তি আনসারদের জনৈকা মহিলাকে বিবাহ করে। তখন সে তার সাথে ঐ প্রক্রিয়ার সহবাস করতে গেলে উক্ত মহিলা তাকে ঐরূপে সঙ্গম করতে বাঁধা দেয় এবং বলে, আমাদের এখানকার সহবাসের একটি নিয়ম, কাজেই তুমি সেই নিয়মে আমার সাথে সঙ্গম করো, অন্যথায় আমার নিকট হতে দূরে সরে যাও। অতঃপর তাদের এই ব্যাপারটি জটিলতর হলে এতদসম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে অবহিত করা হয়। তখন আল্লাহ তাআলা এই আয়াতটি নাযিল করেনঃ তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য ক্ষেত স্বরূপ। কাজেই তোমরা তোমাদের ক্ষেতে যেরূপে ইচ্ছা গমন কর, চাই তো সম্মুখ দিক দিয়ে হোক কিংবা চিৎ হয়ে শায়িত অবস্থায় হোক, অর্থাৎ যে কোন অবস্থাতেই হোক না কেন, যৌনাঙ্গে সহবাস করবে।

১৪১. ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সহবাস বা মিলন।

باب فِي إِتْيَانِ الْحَائِضِ وَمُبَاشَرَتِهَا

2162

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ الْيَهُودَ، كَانَتْ إِذَا حَاضَتْ مِنْهُمُ امْرَأَةٌ أَخْرَجُوهَا مِنَ الْبَيْتِ وَلَمْ يُؤَاكِلُوهَا وَلَمْ يُشَارِبُوهَا وَلَمْ يُجَامِعُوهَا فِي الْبَيْتِ فَسُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ( يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ ) إِلَى آخِرِ الآيَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " جَامِعُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ وَاصْنَعُوا كُلَّ شَىْءٍ غَيْرَ النِّكَاحِ " . فَقَالَتِ الْيَهُودُ مَا يُرِيدُ هَذَا الرَّجُلُ أَنْ يَدَعَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِنَا إِلاَّ خَالَفَنَا فِيهِ . فَجَاءَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ وَعَبَّادُ بْنُ بِشْرٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْيَهُودَ تَقُولُ كَذَا وَكَذَا أَفَلاَ نَنْكِحُهُنَّ فِي الْمَحِيضِ فَتَمَعَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى ظَنَنَّا أَنْ قَدْ وَجِدَ عَلَيْهِمَا فَخَرَجَا فَاسْتَقْبَلَتْهُمَا هَدِيَّةٌ مِنْ لَبَنٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَعَثَ فِي آثَارِهِمَا فَسَقَاهُمَا فَظَنَنَّا أَنَّهُ لَمْ يَجِدْ عَلَيْهِمَا .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২১৬২. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন ইয়াহুদীদের স্ত্রীলোকের ঋতুবতী হতো, তখন তারা তাদেরকে ঘর হতে বের করে দিত এবং তাদের সাথে খানাপিনা করতো না। এমনকি তারা তাদের সাথে একই ঘরে অবস্থানও করতো না। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করা হলে আল্লাহ্ তাআলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ ‘‘তারা আপনাকে হায়যওয়ালী স্ত্রীদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলুন, তা অপবিত্র বস্তু। কাজেই হায়যকালীর সময়ে তোমরা তাদের সাথে একই ঘরে বসবাস করবে এবং সঙ্গম ব্যতীত আর সবই করবে।″ তখন ইয়াহুদীরা বলে, এই লোকটি তো আমাদের নিয়মের ব্যতিক্রম করছে।

অতঃপর উসায়দ ইবনে হুযায়র ও আব্বাস ইবনে বিশর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলে, হে আল্লাহর রাসুল! ইয়াহুদীরা এইরূপ সমালোচনা করেছে। আমরা কী স্ত্রীদের সাথে ঋতুবতী থাকাকালীন সময়ে সহবাস করব না? এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চেহারা মোবারক পরিবর্তিত হয়ে যায়। আমরা ধারণা করি যে, তিনি তাঁদের উভয়ের উপর রাগান্বিত হয়েছেন। অতঃপর তারা কিছু দুধ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে হাদিয়া স্বরূপ প্রেরণ করে। তখন তিনি তাদেরকে ডেকে পাঠান। অতঃপর এতে আমরা ধারণা করি যে, তিনি তাঁদের উপর রাগান্বিত হননি।
2163

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ جَابِرِ بْنِ صُبْحٍ، قَالَ سَمِعْتُ خِلاَسًا الْهَجَرِيَّ، قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - تَقُولُ كُنْتُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم نَبِيتُ فِي الشِّعَارِ الْوَاحِدِ وَأَنَا حَائِضٌ طَامِثٌ فَإِنْ أَصَابَهُ مِنِّي شَىْءٌ غَسَلَ مَكَانَهُ وَلَمْ يَعْدُهُ وَإِنْ أَصَابَ - تَعْنِي ثَوْبَهُ - مِنْهُ شَىْءٌ غَسَلَ مَكَانَهُ وَلَمْ يَعْدُهُ وَصَلَّى فِيهِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২১৬৩. মুসাদ্দাদ ..... খালাস হাজরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার ঋতুকালীন সময়ে একই চাদরের নীচে শয়ন করতাম। অতঃপর তাঁর শরীর মোবারকে যদি কিছু (রক্ত) লাগত, তবে তিনি তা ধুয়ে ফেলতেন। আর যদি তার কাপড়ে কিছু (রক্ত) লাগত, তবে তিনি সে স্থান ধুয়ে ফেলতেন। আর তিনি তা পরিবর্তন না করে, তা পরা অবস্থায় নামায আদায় করতেন।

2164

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَفْصٌ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ خَالَتِهِ، مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُبَاشِرَ امْرَأَةً مِنْ نِسَائِهِ وَهِيَ حَائِضٌ أَمَرَهَا أَنْ تَتَّزِرَ ثُمَّ يُبَاشِرُهَا .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ (রহঃ)

২১৬৪. মুহাম্মাদ ইবনে আল আলা ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে শাদ্দাদ (রাহঃ) তাঁর খালা মায়মুনা বিনতে আল্ হারিস (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তাঁর কোন ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে শয়ন করতেন, তখন তিনি তাঁকে ইযার (পায়জামা) পরিধান করতে বলতেন। অতঃপর তিনি তাঁর সাথে রাতযাপন করতেন।

১৪২. ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে সঙ্গমের কাফ্ফারা।

باب فِي كَفَّارَةِ مَنْ أَتَى حَائِضًا

2165

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، - غَيْرُهُ عَنْ سَعِيدٍ، - حَدَّثَنِي الْحَكَمُ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الَّذِي يَأْتِي امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ قَالَ " يَتَصَدَّقُ بِدِينَارٍ أَوْ بِنِصْفِ دِينَارٍ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৬৫. মুসাদ্দাদ ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন, যদি কেউ হায়য থাকাকালীন সময়ে তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে, তবে সে যেন এক দীনার অথবা অর্ধ দীনার সাদ্‌কা করে।

2166

حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ مُطَهَّرٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، - يَعْنِي ابْنَ سُلَيْمَانَ - عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحَكَمِ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَبِي الْحَسَنِ الْجَزَرِيِّ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ إِذَا أَصَابَهَا فِي الدَّمِ فَدِينَارٌ وَإِذَا أَصَابَهَا فِي انْقِطَاعِ الدَّمِ فَنِصْفُ دِينَارٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২১৬৬. আব্দুস সালাম ইবনে মুতাহহার .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি কেউ তার স্ত্রীর সাথে হায়যের রক্ত প্রবাহকালীন সময়ে সঙ্গম করে তবে তাকে এক দীনার এবং রক্ত না থাকাকালীন সময়ে সঙ্গম করে তবে অর্ধ দীনার সাদ্‌কা প্রদান করতে হবে।

১৪৩. আয্ল।[১]

باب مَا جَاءَ فِي الْعَزْلِ

2167

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الطَّالْقَانِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ قَزَعَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، ذُكِرَ ذَلِكَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم - يَعْنِي الْعَزْلَ - قَالَ " فَلِمَ يَفْعَلُ أَحَدُكُمْ " . وَلَمْ يَقُلْ فَلاَ يَفْعَلْ أَحَدُكُمْ " فَإِنَّهُ لَيْسَتْ مِنْ نَفْسٍ مَخْلُوقَةٍ إِلاَّ اللَّهُ خَالِقُهَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَزَعَةُ مَوْلَى زِيَادٍ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২১৬৭. ইসহাক ইবনে ইসমাঈল তালেকানী ..... আবু সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এতদসম্পর্কে অর্থাৎ আযল’ সম্পর্কে নবী করীম (ﷺ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যেন এরূপ না করে। আর তিনি এরূপ বলেন নাই যে, তোমাদের কেউই এরূপ করবে না। কেননা, যে ব্যক্তি তা করে, সে কিছুই সৃষ্টির অধিকান রাখে না, বরং আল্লাহ্ তাআলাই এর স্রষ্টা।

[১] সহবাসের সময় চরম উত্তেজনার মুহুর্তে স্ত্রীর যৌনাঙ্গে বীর্যপাত না করে বাইরে বীর্যপাত করাকে আযল (الْعَزْلِ) বলে।

১৪৩. আয্ল।

باب مَا جَاءَ فِي الْعَزْلِ

2168

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، حَدَّثَهُ أَنَّ رِفَاعَةَ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي جَارِيَةً وَأَنَا أَعْزِلُ عَنْهَا وَأَنَا أَكْرَهُ أَنْ تَحْمِلَ وَأَنَا أُرِيدُ مَا يُرِيدُ الرِّجَالُ وَإِنَّ الْيَهُودَ تُحَدِّثُ أَنَّ الْعَزْلَ مَوْءُودَةُ الصُّغْرَى . قَالَ " كَذَبَتْ يَهُودُ لَوْ أَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَخْلُقَهُ مَا اسْتَطَعْتَ أَنْ تَصْرِفَهُ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২১৬৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল ...... আবু সাঈদ আল্ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করে, হে আল্লাহর রাসূল! আমার একটি দাসী আছে, আর আমি তার সাথে সহবাসের সময় আযল’ করি। কেননা আমি এটা অপছন্দ করি যে, সে গর্ভবতী হোক এবং আমি তাকে বিক্রয় করতেও ইচ্ছা রাখি। আর ইয়াহুদীরা আযলকে জায়েয মনে করে না বরং তাদের মতে এটা ছোট গর্ভপাত। এটা শুনে তিনি বলেন, ইয়াহুদীরা মিথ্যা বলেছে, এবং আল্লাহ্ তাআলা যাকে সৃষ্টি করতে চান, কেউই তার আগমনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে না।

2169

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ، قَالَ دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَرَأَيْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ فَجَلَسْتُ إِلَيْهِ فَسَأَلْتُهُ عَنِ الْعَزْلِ، فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ بَنِي الْمُصْطَلِقِ فَأَصَبْنَا سَبْيًا مِنْ سَبْىِ الْعَرَبِ فَاشْتَهَيْنَا النِّسَاءَ وَاشْتَدَّتْ عَلَيْنَا الْعُزْبَةُ وَأَحْبَبْنَا الْفِدَاءَ فَأَرَدْنَا أَنْ نَعْزِلَ ثُمَّ قُلْنَا نَعْزِلُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ أَظْهُرِنَا قَبْلَ أَنْ نَسْأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَسَأَلْنَاهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ " مَا عَلَيْكُمْ أَنْ لاَ تَفْعَلُوا مَا مِنْ نَسَمَةٍ كَائِنَةٍ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلاَّ وَهِيَ كَائِنَةٌ " .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে মুহায়রিয (রহঃ)

২১৬৯. আল্ কা‘নবী ....... ইবনে মুহায়রীয হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মসজিদে (নববীতে) প্রবেশ করে, সেখানে আবু সাঈদ আবু খুদরী (রাযিঃ)-কে দেখতে পাই। আমি তার নিকট উপবেশন করে তাকে আযল’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। আবু সাঈদ (রাযিঃ) বলেন, আমি বনু মুস্তালিকের যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বের হই। তখন আমাদের হাতে আরবের (বনু মুস্তালিক গোত্রের) কিছু মহিলা বন্দী হয়। ঐ সময় আমরা স্ত্রীদের নিকট হতে দূরে থাকায় আমাদের কামস্পৃহা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু আমরা তাদের (মহিলাদের) অধিক মূল্য প্রাপ্তির জন্যও লালায়িত ছিলাম। তখন আমরা (তাদের সাথে সহবাসকালে) আযল করার সিন্ধান্ত গ্রহণ করি। অতঃপর আমরা বলি, আমরা আযল’ করব, অথচ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তো আমাদের সঙ্গেই আছেন, তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করছি না কেন? অতঃপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ যদি তোমরা তা কর, তবে তাতে দোষের কিছু নেই। (তবে জেনে রাখ!) কিয়ামত পর্যন্ত যারা সৃষ্টি হওয়ার, তাঁরা সৃষ্টি হবেই (প্রতিরোধের ক্ষমতা কারো নাই)।

2170

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ لِي جَارِيَةً أَطُوفُ عَلَيْهَا وَأَنَا أَكْرَهُ أَنْ تَحْمِلَ . فَقَالَ " اعْزِلْ عَنْهَا إِنْ شِئْتَ فَإِنَّهُ سَيَأْتِيهَا مَا قُدِّرَ لَهَا " . قَالَ فَلَبِثَ الرَّجُلُ ثُمَّ أَتَاهُ فَقَالَ إِنَّ الْجَارِيَةَ قَدْ حَمَلَتْ . قَالَ " قَدْ أَخْبَرْتُكَ أَنَّهُ سَيَأْتِيهَا مَا قُدِّرَ لَهَا " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২১৭০. উসমান ইবনে আবি শাঈবা .... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসারদের মধ্য হতে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করে, আমার একটি দাসী আছে, যার সাথে আমি সহবাসও করি। কিন্তু সে গর্ভবতী হোক তা আমি পছন্দ করি না। তিনি বলেনঃ তুমি ইচ্ছা করলে তার সাথে আযল করতে পার। তবে জেনে রাখ! তার ভাগ্যে যা নির্ধারিত তা হবেই। রাবী বলেন, তখন সেই ব্যক্তি কিছুদিন পর পুনরায় তাঁর নিকট এসে বলে, আমার দাসী গর্ভবতী হয়েছে। তখন তিনি বলেন, আমি তো এ ব্যাপারে তোমাকে আগেই বলেছিলাম যে, তার জন্য আল্লাহ্ তাআলা যা নির্ধারিত করেছেন, তা অবশ্যই প্রকাশ পাবে।

১৪৪. কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে মিলনের পর তা অন্য ব্যক্তির নিকট বিবৃত করার অপরাধ।

باب مَا يُكْرَهُ مِنْ ذِكْرِ الرَّجُلِ مَا يَكُونُ مِنْ إِصَابَةِ أَهْلِهِ

2171

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرٌ، حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ، ح وَحَدَّثَنَا مُؤَمَّلٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، ح وَحَدَّثَنَا مُوسَى، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، كُلُّهُمْ عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، حَدَّثَنِي شَيْخٌ، مِنْ طُفَاوَةَ قَالَ تَثَوَّيْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ بِالْمَدِينَةِ فَلَمْ أَرَ رَجُلاً مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَشَدَّ تَشْمِيرًا وَلاَ أَقْوَمَ عَلَى ضَيْفٍ مِنْهُ فَبَيْنَمَا أَنَا عِنْدَهُ يَوْمًا وَهُوَ عَلَى سَرِيرٍ لَهُ وَمَعَهُ كِيسٌ فِيهِ حَصًى أَوْ نَوًى - وَأَسْفَلُ مِنْهُ جَارِيَةٌ لَهُ سَوْدَاءُ - وَهُوَ يُسَبِّحُ بِهَا حَتَّى إِذَا أَنْفَدَ مَا فِي الْكِيسِ أَلْقَاهُ إِلَيْهَا فَجَمَعَتْهُ فَأَعَادَتْهُ فِي الْكِيسِ فَدَفَعَتْهُ إِلَيْهِ فَقَالَ أَلاَ أُحَدِّثُكَ عَنِّي وَعَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ قُلْتُ بَلَى . قَالَ بَيْنَا أَنَا أُوعَكُ فِي الْمَسْجِدِ إِذْ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى دَخَلَ الْمَسْجِدَ . فَقَالَ " مَنْ أَحَسَّ الْفَتَى الدَّوْسِيَّ " . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ . فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ هُوَ ذَا يُوعَكُ فِي جَانِبِ الْمَسْجِدِ فَأَقْبَلَ يَمْشِي حَتَّى انْتَهَى إِلَىَّ فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَىَّ فَقَالَ لِي مَعْرُوفًا فَنَهَضْتُ فَانْطَلَقَ يَمْشِي حَتَّى أَتَى مَقَامَهُ الَّذِي يُصَلِّي فِيهِ فَأَقْبَلَ عَلَيْهِمْ وَمَعَهُ صَفَّانِ مِنْ رِجَالٍ وَصَفٌّ مِنْ نِسَاءٍ أَوْ صَفَّانِ مِنْ نِسَاءٍ وَصَفٌّ مِنْ رِجَالٍ فَقَالَ " إِنْ أَنْسَانِي الشَّيْطَانُ شَيْئًا مِنْ صَلاَتِي فَلْيُسَبِّحِ الْقَوْمُ وَلْيُصَفِّقِ النِّسَاءُ " . قَالَ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَنْسَ مِنْ صَلاَتِهِ شَيْئًا . فَقَالَ " مَجَالِسَكُمْ مَجَالِسَكُمْ " . زَادَ مُوسَى " هَا هُنَا " . ثُمَّ حَمِدَ اللَّهَ تَعَالَى وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ " أَمَّا بَعْدُ " . ثُمَّ اتَّفَقُوا ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى الرِّجَالِ فَقَالَ " هَلْ مِنْكُمُ الرَّجُلُ إِذَا أَتَى أَهْلَهُ فَأَغْلَقَ عَلَيْهِ بَابَهُ وَأَلْقَى عَلَيْهِ سِتْرَهُ وَاسْتَتَرَ بِسِتْرِ اللَّهِ " . قَالُوا نَعَمْ . قَالَ " ثُمَّ يَجْلِسُ بَعْدَ ذَلِكَ فَيَقُولُ فَعَلْتُ كَذَا فَعَلْتُ كَذَا " . قَالَ فَسَكَتُوا قَالَ فَأَقْبَلَ عَلَى النِّسَاءِ فَقَالَ " هَلْ مِنْكُنَّ مَنْ تُحَدِّثُ " . فَسَكَتْنَ فَجَثَتْ فَتَاةٌ - قَالَ مُؤَمَّلٌ فِي حَدِيثِهِ فَتَاةٌ كَعَابٌ - عَلَى إِحْدَى رُكْبَتَيْهَا وَتَطَاوَلَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيَرَاهَا وَيَسْمَعَ كَلاَمَهَا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُمْ لَيَتَحَدَّثُونَ وَإِنَّهُنَّ لَيَتَحَدَّثْنَهْ فَقَالَ " هَلْ تَدْرُونَ مَا مَثَلُ ذَلِكَ " . فَقَالَ " إِنَّمَا ذَلِكَ مَثَلُ شَيْطَانَةٍ لَقِيَتْ شَيْطَانًا فِي السِّكَّةِ فَقَضَى مِنْهَا حَاجَتَهُ وَالنَّاسُ يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ أَلاَ وَإِنَّ طِيبَ الرِّجَالِ مَا ظَهَرَ رِيحُهُ وَلَمْ يَظْهَرْ لَوْنُهُ أَلاَ إِنَّ طِيبَ النِّسَاءِ مَا ظَهَرَ لَوْنُهُ وَلَمْ يَظْهَرْ رِيحُهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ مِنْ هَا هُنَا حَفِظْتُهُ عَنْ مُؤَمَّلٍ وَمُوسَى " أَلاَ لاَ يُفْضِيَنَّ رَجُلٌ إِلَى رَجُلٍ وَلاَ امْرَأَةٌ إِلَى امْرَأَةٍ إِلاَّ إِلَى وَلَدٍ أَوْ وَالِدٍ " . وَذَكَرَ ثَالِثَةً فَأُنْسِيتُهَا وَهُوَ فِي حَدِيثِ مُسَدَّدٍ وَلَكِنِّي لَمْ أُتْقِنْهُ كَمَا أُحِبُّ وَقَالَ مُوسَى حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنِ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنِ الطُّفَاوِيِّ .

Narrator: আবু নাযরা (রহঃ)

২১৭১. মুসাদ্দাদ, মুআম্মাল ও মুসা ....... আবু নযরা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাফাওত নামক স্থানের জনৈক শায়খ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা মদীনাতে অবস্থানকালে আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর মেহমান হই। আর এ সময় নবী করীম (ﷺ) এর সাহাবীদের মধ্যে আর কাউকে তাঁর চাইতে অধিক ইবাদতকারী ও অতিথিপরায়ন দেখিনি। তাঁর সাথে অবস্থানকালে একদিন আমি তাঁকে খাটের উপর দেখি, যখন তাঁর সাথে একটি পাথর বা খেজুর ভর্তি থলে ছিল। আর তাঁর খাটের নীচে ছিল একটি কালোবর্ণ দাসী। এরপর তিনি তার গণনা সমাপ্ত করে যা থলের মধ্যে ছিল থলেটি ক্রীতদাসীর প্রতি নিক্ষেপ করেন। অতঃপর সে তা কুড়িয়ে আবার তাঁর নিকট প্রদান করে। তখন তিনি বলেন, আমি কি তোমাকে আমার ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পক্ষ হতে কিছু বর্ণনা করব? তিনি বলেন, হ্যাঁ।

তিনি বলেন, একদা আমি কঠিন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মসজিদের এক কোনায় শুয়ে ছিলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে মসজিদে প্রবেশ করেন এবং তিনবার জিজ্ঞাসা করেন, তোমাদের কেউ কি আবু হুরায়রাকে দেখেছ? জনৈক ব্যক্তি বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি তো কঠিন জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মসজিদের এক পার্শে (শায়িত) আছেন? এতদশ্রবণে তিনি হেঁটে আমার নিকট আসেন এবং তাঁর হাত মোবারক আমার শরীরের উপর রাখেন। এরপর তিনি আমার সাথে খোশালাপ করেন। এরপর আমি উঠে বসি। অতঃপর তিনি নামায আদায়ের স্থানে গমন করেন।

তিনি লোকদের নিকট গমন করেন এমন সময় তাঁর সাথে পুরুষদের দু’টি কাতার এবং মহিলাদের একটি কাতার ছিল। অথবা মহিলাদের দুটি এবং পুরুষদের একটি কাতার ছিল। এরপর তিনি বলেন, নিশ্চয়ই শয়তান আমাকে আমার নামায হতে কিছু ভুলিয়ে দিয়েছে। কাজেই (নামাযের মধ্যে ভুলের সময়) পুরূষেরা যেন তাসবীহ পাঠ করে এবং মহিলারা যেন হতের তালু বাজায় (অর্থাৎ হাতে তালি দেয়)।

রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আদায় করেন এবং তিনি তার নামাযে আর কোন ভুল করেননি। এরপর (নামায শেষে) তিনি বলেন, তোমরা স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান কর। রাবী মুসা এখানে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, অতঃপর তিনি আল্লাহ্ তাআলার হামদ ও সানা পেশ করেন এবং বলেন। অতঃপর সমস্ত রাবী একমত হয়ে বর্ণনা করেন যে, তখন তিনি লোকদের প্রতি মুখ ফিরিয়ে বলেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যখন সে তার স্ত্রীর নিকট গমন করে, তখন সে দরজা বন্ধ করে এবং নিজের উপর একটি পর্দা টানে এবং আল্লাহ্ তাআলার নির্দেশ মত (স্ত্রীর সাথে মিলন পর্বে যা করে) তা গোপন করে? সাহাবীগণ বলেন, হ্যাঁ। তিনি বলেন, এরপর এই লোকটি (স্ত্রীর সাথে মিলন শেষে) উঠে গিয়ে (অন্যের নিকট) বলে, আমি এটা করেছি, আমি এরূপ করেছি?

রাবী বলেন, এতদশ্রবণে সকলে নিশ্চুপ হয়ে যায়। অতঃপর জনৈক যুবতী রমণী তার পায়ের পাতার উপর ভর করে, গর্দান উঁচু করে এজন্য বসে যে, যাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে দেখতে পান এবং তার কথা শুনতে পান। এরপর সে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! পুরূষেরা এরূপ বলে এবং মহিলারাও। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তোমরা কি অবগত আছ, এটা কিসের সাদৃশ? এরপর তিনি নিজে বলেন, এর উদাহরণ ঐ শয়তানের, যে একজন স্ত্রী শয়তানের নিকট গমন করে, এরপর সে তার নিকট হতে নিজের প্রয়োজন পূর্ণ করে (অর্থাৎ সহবাস করে) আর লোকেরা স্বচক্ষে তা অবলোকন করে। জেনে রাখ! পুরুষের জন্য ঐ আতর ব্যবহার করা উচিত, যার সুগন্ধি অধিক; কিন্তু রং অপ্রকাশ্য। সাবধান! মহিলাদের এরূপ আতর ব্যবহার করা উচিত, যার রং প্রকাশ্য, কিন্তু সুগন্ধি অপ্রকাশ্য।