أول كتاب الذبائح

১১. জবাইয়ের বিধান

Chapter 11 · 30 hadith

৮৮. কুরবানীর পশুর উপর অনুগ্রহ করা প্রসঙ্গে।

2805

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ، عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ خَصْلَتَانِ سَمِعْتُهُمَا مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ الإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ فَإِذَا قَتَلْتُمْ فَأَحْسِنُوا " . قَالَ غَيْرُ مُسْلِمٍ يَقُولُ " فَأَحْسِنُوا الْقِتْلَةَ وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذَّبْحَ وَلْيُحِدَّ أَحَدُكُمْ شَفْرَتَهُ وَلْيُرِحْ ذَبِيحَتَهُ " .

Narrator: হযরত শাদ্দাদ ইবনে আওস (রাঃ)

২৮০৫. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... শাদ্দাদ ইবনে আওস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ দু‘টি অভ্যাস, যে সম্পর্ক আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে শ্রবণ করেছিঃ ১। আল্লাহ্ তাআলা প্রতিটি জিনিসের প্রতি ইহসান করাকে ফরয করেছেন। অতএব যখন তোমরা (কোন জীব-জন্তুকে) হত্যা করবে, তখন উত্তমরূপে হত্যা করবে। ২। যখন তোমরা (কোন জন্তুকে) যবেহ করবে, তখন উত্তমরূপে যবেহ করবে। তোমাদের উচিত হবে, যবেহের সময় ছুরিকে ধারাল করা এবং কুরবানীর পশুকে (সহজে যবেহ করে) তাকে আরাম দেওয়া।

2806

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ دَخَلْتُ مَعَ أَنَسٍ عَلَى الْحَكَمِ بْنِ أَيُّوبَ فَرَأَى فِتْيَانًا أَوْ غِلْمَانًا قَدْ نَصَبُوا دَجَاجَةً يَرْمُونَهَا فَقَالَ أَنَسٌ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ تُصْبَرَ الْبَهَائِمُ .

Narrator: হিশাম ইবনে যায়দ (রহঃ)

২৮০৬. আবু ওয়ালীদ তায়ালিসী (রাহঃ) .... হিশাম ইবনে যায়দ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আনাস (রাযিঃ) এর সঙ্গে হাকাম ইবনে আইয়ুব (রাযিঃ) এর নিকট গিয়েছিলাম। তখন আমরা সেখানে দেখতে পাই যে, কয়েকজন যুবক অথবা কিশোর একটা মুরগীকে লক্ষ্যস্থল বানিয়ে তার প্রতি তীর নিক্ষেপ করছে। তখন আনাস (রাযিঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জীব-জন্তুকে কষ্ট দিয়ে মারতে নিষেধ করেছেন।

৮৯. মুসাফিরের কুরবানী প্রসঙ্গে।

باب فِي الْمُسَافِرِ يُضَحِّي

2807

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ خَالِدٍ الْخَيَّاطُ، قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ ضَحَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " يَا ثَوْبَانُ أَصْلِحْ لَنَا لَحْمَ هَذِهِ الشَّاةِ " . قَالَ فَمَا زِلْتُ أُطْعِمُهُ مِنْهَا حَتَّى قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ .

Narrator: হযরত ছাওবান (রাঃ)

২৮০৭. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ নুফায়লী (রাহঃ) ..... ছাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সফরের সময় কুরবানী করেন এবং বলেন, হে ছাওবান! তুমি আমাদের জন্য এই বকরীর গোশত পরিষ্কার কর। রাবী [ছাওবান (রাযিঃ)] বলেনঃ আমি সেই গোশত তাঁকে মদীনায় ফিরে আসা পর্যন্ত খাওয়াতে থাকি।

৯০. আহলে কিতাবদের কুরবানী প্রসঙ্গে।

باب فِي ذَبَائِحِ أَهْلِ الْكِتَابِ

2808

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ ( فَكُلُوا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ ) ( وَلاَ تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ ) فَنُسِخَ وَاسْتَثْنَى مِنْ ذَلِكَ فَقَالَ ( وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حِلٌّ لَكُمْ وَطَعَامُكُمْ حِلٌّ لَهُمْ ) .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৮০৮. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ছাবিত মারওয়ারী (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ (আল্লাহর নির্দেশ) যে পশুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ হয়, তা খাও। পক্ষান্তরে যার উপর আল্লাহর নাম নেয়া হয় না, তা খেও না। পরে এ হুকুম বাতিল হয়ে গেছে, অর্থাৎ এর থেকে আহলে কিতাবদের যবেহকৃত পশু আলাদা হয়ে গেছে, তাদের যবেহকৃত পশু হালাল। আল্লাহ্ বলেছেনঃ তাদের খাদ্য, যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে, তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের খাদ্যও তাদের জন্য হালাল।

2809

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، حَدَّثَنَا سِمَاكٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ ( وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ ) يَقُولُونَ مَا ذَبَحَ اللَّهُ فَلاَ تَأْكُلُوا وَمَا ذَبَحْتُمْ أَنْتُمْ فَكُلُوا فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( وَلاَ تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ ) .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৮০৯. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর বাণীঃ (وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَائِهِمْ) অর্থাৎ নিশ্চয় শয়তান তার বন্ধুদের অন্তরে একথা নিক্ষেপ করে-’’ এই আয়াতের শানে-নুযূলে তিনি বলেনঃ লোকেরা এরূপে বলে যে, যা আল্লাহ্ কর্তৃক যবেহকৃত (অর্থাৎ যে জন্তু মারা গেছে), তাকে তোমরা ভক্ষণ করবে না। আর যা তোমরা নিজেরা যবেহ কর, তা তোমরা ভক্ষণ কর। অতঃপর আল্লাহ্ এ আয়াত নাযিল করেনঃ (وَلاَ تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ) অর্থাৎ ‘‘যে পশুর উপর কুরবানীর সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয় না, তোমরা তা ভক্ষণ কর না।

2810

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَتِ الْيَهُودُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا نَأْكُلُ مِمَّا قَتَلْنَا وَلاَ نَأْكُلُ مِمَّا قَتَلَ اللَّهُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ ( وَلاَ تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ ) إِلَى آخِرِ الآيَةِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৮১০. উছমান ইবনে আবী শায়বা (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা ইয়াহুদীরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট হাযির হয়ে বলে, আমরা তো সে পশুকে ভক্ষণ করি, যাকে আমরা হত্যা করি। আর আমরা তাকে ভক্ষণ করি না, যাকে আল্লাহ হত্যা করেন। তখন আল্লাহ্ তাআলা এই আয়াত নাযিল করেনঃ

وَلاَ تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ

‘‘ঐ পশুকে তোমরা ভক্ষণ করবে না, যার উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়নি।

৯১. আরবদের গৌরব প্রকাশের নিমিত্ত হত্যাকৃত পশুর গোশত ভক্ষণ করা।

باب مَا جَاءَ فِي أَكْلِ مُعَاقَرَةِ الأَعْرَابِ

2811

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ مَسْعَدَةَ، عَنْ عَوْفٍ، عَنْ أَبِي رَيْحَانَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَكْلِ مُعَاقَرَةِ الأَعْرَابِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ اسْمُ أَبِي رَيْحَانَةَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَطَرٍ وَغُنْدَرٌ أَوْقَفَهُ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৮১১. হারূন ইবনে আব্দিল্লাহ্ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ঐ সমস্ত পশুর গোশত ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন, যাকে আরবের লোকেরা নিজেদের মাঝে গৌরব ও অহংকার প্রকাশের নিমিত্ত হত্যা করে থাকে।

৯২. সাদা পাথর দিয়ে যবেহ করা প্রসঙ্গে।

باب فِي الذَّبِيحَةِ بِالْمَرْوَةِ

2812

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَلْقَى الْعَدُوَّ غَدًا وَلَيْسَ مَعَنَا مُدًى أَفَنَذْبَحُ بِالْمَرْوَةِ وَشِقَّةِ الْعَصَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَرِنْ أَوْ أَعْجِلْ مَا أَنْهَرَ الدَّمَ وَذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ فَكُلُوا مَا لَمْ يَكُنْ سِنًّا أَوْ ظُفْرًا وَسَأُحَدِّثُكُمْ عَنْ ذَلِكَ أَمَّا السِّنُّ فَعَظْمٌ وَأَمَّا الظُّفْرُ فَمُدَى الْحَبَشَةِ " . وَتَقَدَّمَ بِهِ سَرَعَانٌ مِنَ النَّاسِ فَتَعَجَّلُوا فَأَصَابُوا مِنَ الْغَنَائِمِ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي آخِرِ النَّاسِ فَنَصَبُوا قُدُورًا فَمَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْقُدُورِ فَأَمَرَ بِهَا فَأُكْفِئَتْ وَقَسَمَ بَيْنَهُمْ فَعَدَلَ بَعِيرًا بِعَشْرِ شِيَاهٍ وَنَدَّ بَعِيرٌ مِنْ إِبِلِ الْقَوْمِ وَلَمْ يَكُنْ مَعَهُمْ خَيْلٌ فَرَمَاهُ رَجُلٌ بِسَهْمٍ فَحَبَسَهُ اللَّهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ لِهَذِهِ الْبَهَائِمِ أَوَابِدَ كَأَوَابِدِ الْوَحْشِ فَمَا فَعَلَ مِنْهَا هَذَا فَافْعَلُوا بِهِ مِثْلَ هَذَا " .

Narrator: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

২৮১২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... রাফি’ ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আগামীকাল আমাদের শত্রুদের সাথে মুকাবিলা করব। কিন্তু আমাদের সঙ্গে কোন ছুরি নেই। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ দেখ অথবা জলদি কর যাতে রক্ত প্রবাহিত হয় এবং যে পশু যবেহর সময় তার উপর আল্লাহ নাম উচ্চারিত হয়, সেটি ভক্ষণ কর, সে যবেহর হাতিয়ার যেন নখ ও দাঁত না হয়। আমি এর কারণ তোমাদের কাছে বর্ণনা করছি। কেননা, দাঁত সে তো একটি হাড় এবং নখ হলো হাবশীদের ছুরি।

অতঃপর সেনাবহিনীর কিছু লোক ত্বরিত (আক্রমণের জন্য) অগ্রসর হয় এবং গনিমতের মাল লুটে নেয়। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) লোকদের (বাহিনীর) শেষাংশে অবস্থান করছিলেন। লোকেরা রন্ধনের জন্য ডেগ চাপিয়ে দেয়। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ঐ ডেগের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তাঁর নির্দেশে ঐ ডেগগুলি উল্টিয়ে দেওয়া হয় এবং গনিমতের মাল তাদের মাঝে বণ্টন করে দেন।

একটি উটকে দশটি বকরীর সমান হিসাবে মূল্যায়ন করা হয়। সে সময় কোন এক ব্যক্তির একটি উট পালিয়ে যায় কিন্তু তাদের কাছে কোন ঘোড়া না থাকায় (যাতে সওয়ার হয়ে উটকে ধরতে পারে) তাদের মধ্যকার জনৈক ব্যক্তি (পলায়নপর) উটটির প্রতি তার তীর নিক্ষেপ করে; যাতে আল্লাহ্ উটটিকে থামিয়ে দেন। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ এই চতুষ্পদ জন্তুর মাঝে এমন পলায়নপর পশুও আছে, যেমন জংলী পশুদের মাঝেও আছে। কাজেই এই পশুদের মধ্য হতে যে এরূপ পলায়ন করবে, তোমরা সেটির সাথে এরূপ আচরণ করবে।
2813

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَنَّ عَبْدَ الْوَاحِدِ بْنَ زِيَادٍ، وَحَمَّادًا، حَدَّثَاهُمْ - الْمَعْنَى، وَاحِدٌ، - عَنْ عَاصِمٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ صَفْوَانَ، أَوْ صَفْوَانَ بْنِ مُحَمَّدٍ قَالَ اصَّدْتُ أَرْنَبَيْنِ فَذَبَحْتُهُمَا بِمَرْوَةٍ فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْهُمَا فَأَمَرَنِي بِأَكْلِهِمَا .

Narrator: মুহাম্মাদ ইবনে সাফওয়ান (রাঃ)

২৮১৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনে সাফওয়ান অথবা সাফওয়ান ইবনে মুহাম্মাদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি দুটি খরগোশ শিকার করি, অতঃপর আমি সে দু‘টিকে সাদা পাথর দ্বারা যবেহ করি। পরে আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তখন তিনি আমাকে তা ভক্ষণ করার অনুমতি দেন।

2814

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي حَارِثَةَ أَنَّهُ كَانَ يَرْعَى لِقْحَةً بِشِعْبٍ مِنْ شِعَابِ أُحُدٍ فَأَخَذَهَا الْمَوْتُ فَلَمْ يَجِدْ شَيْئًا يَنْحَرُهَا بِهِ فَأَخَذَ وَتَدًا فَوَجَأَ بِهِ فِي لَبَّتِهَا حَتَّى أُهْرِيقَ دَمُهَا ثُمَّ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ بِذَلِكَ فَأَمَرَهُ بِأَكْلِهَا .

Narrator: আতা ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

২৮১৪. কুতায়বা ইবনে সা‘ঈদ (রাহঃ) ..... আতা ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) হারিছ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি হতে বর্ণনা করেছেন। সে ব্যক্তি উহুদ পর্বতের একটি গিরিতে উট চরাচ্ছিল। হঠাৎ উটটি মরার মত অবস্থায় এসে পড়ে, কিন্তু কারো কাছে এমন কিছু ছিল না, যা দিয়ে সে সেটিকে যবেহ করতে পারে। অবশেষে সে ব্যক্তি একটি লোহার পেরেক নিয়ে তার সূচালো মুখ দিয়ে উটের বুকে আঘাত করে। ফলে সেখান হতে রক্ত প্রবাহিত হয়। পরে সে ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট হাযির হয়ে তাঁকে এ খবর দেয়। তখন তিনি তাকে তার গোশত ভক্ষণের অনুমতি দেন।

2815

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ مُرِّيِّ بْنِ قَطَرِيٍّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ أَحَدُنَا أَصَابَ صَيْدًا وَلَيْسَ مَعَهُ سِكِّينٌ أَيَذْبَحُ بِالْمَرْوَةِ وَشِقَّةِ الْعَصَا فَقَالَ " أَمْرِرِ الدَّمَ بِمَا شِئْتَ وَاذْكُرِ اسْمَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " .

Narrator: হযরত আদী ইবনে হাতিম (রাঃ)

২৮১৫. মুসা ইবনে ইসমা‘ঈল (রাহঃ) ..... আদী ইবনে হাতিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি জিজ্ঞাসা করি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি বলুন, যদি আমাদের কেউ শিকার করে, কিন্তু তার কাছে (যবেহের জন্য) কোন ছুরি না থাকে। এমতাবস্থায় সে সাদা ধারালো পাথর অথবা খণ্ডিত কাষ্ঠখণ্ড দিয়ে কি সেটিকে যবেহ করতে পারে? তখন তিনি বলেনঃ আল্লাহর নাম নিয়ে যা দিয়ে পার রক্ত প্রবাহিত কর।

৯৩. বন্য পশুকে কোন কিছু নিক্ষেপ করে যবেহ্ করা প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي ذَبِيحَةِ الْمُتَرَدِّيَةِ

2816

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي الْعُشَرَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمَا تَكُونُ الذَّكَاةُ إِلاَّ مِنَ اللَّبَّةِ أَوِ الْحَلْقِ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ طَعَنْتَ فِي فَخِذِهَا لأَجْزَأَ عَنْكَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا لاَ يَصْلُحُ إِلاَّ فِي الْمُتَرَدِّيَةِ وَالْمُتَوَحِّشِ .

Narrator: আবুল উশারা' ↦ তার পিতা (রাঃ) থেকে

২৮১৬. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... আবুল উশরা (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। একদা তিনি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যবেহ কি কেবল গলা এবং সিনায় করতে হবে? রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ যদি তুমি তার রানে বল্লমের আঘাত কর, তবে তা ভক্ষণ করা তোমার জন্য বৈধ হবে।

৯৪. উত্তমরূপে যবেহ করা প্রসঙ্গে।

باب فِي الْمُبَالَغَةِ فِي الذَّبْحِ

2817

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، وَالْحَسَنُ بْنُ عِيسَى، مَوْلَى ابْنِ الْمُبَارَكِ عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، - زَادَ ابْنُ عِيسَى - وَأَبِي هُرَيْرَةَ قَالاَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ شَرِيطَةِ الشَّيْطَانِ . زَادَ ابْنُ عِيسَى فِي حَدِيثِهِ وَهِيَ الَّتِي تُذْبَحُ فَيُقْطَعُ الْجِلْدُ وَلاَ تُفْرَى الأَوْدَاجُ ثُمَّ تُتْرَكُ حَتَّى تَمُوتَ .[قال أبو داود: هذا يقال له: عمرو بن برق, نزل عكرمة على أبيه باليمن, كان معمر إذا حدث أهل البصرة قال لهم: عمرو بن عبد الله, وإذا حدث أهل اليمن لا يسميه]

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৮১৭. হান্নাদ ইবনে সারী ও হাসান ইবনে ‘ঈসা (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেনঃ রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) ‘শারীতাতে শয়তান’ হতে নিষেধ করেছেন।

রাবী ইবনে ঈসা (রাহঃ) তাঁর বর্ণিত হাদীসে এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, ‘শারীতাতে শয়তানের’ অর্থ হলোঃ কোন পশুকে যবেহের সময় কেবল তার উপরের চামড়া কেটে ছেড়ে দেওয়া এবং রগ কর্তন না করা। ফলে সে (অধিক কষ্ট পেয়ে) এ অবস্থায় মারা যায়।

৯৫. গর্ভস্থ বাচ্চা যবেহ করা প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي ذَكَاةِ الْجَنِينِ

2818

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ أَبِي الْوَدَّاكِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْجَنِينِ فَقَالَ " كُلُوهُ إِنْ شِئْتُمْ " . وَقَالَ مُسَدَّدٌ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ نَنْحَرُ النَّاقَةَ وَنَذْبَحُ الْبَقَرَةَ وَالشَّاةَ فَنَجِدُ فِي بَطْنِهَا الْجَنِينَ أَنُلْقِيهِ أَمْ نَأْكُلُهُ قَالَ " كُلُوهُ إِنْ شِئْتُمْ فَإِنَّ ذَكَاتَهُ ذَكَاةُ أُمِّهِ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৮১৮. কা‘নবী (রাহঃ) ...... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে কুরবানীর পশুর গর্ভস্থিত বাচ্চা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ যদি তোমরা চাও, তবে তা খেতে পার।

মুসাদ্দাদ (রাহঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা উট যবেহ করি, গাভী যবেহ করি এবং বকরী যবেহের পর অনেক সময় তাদের গর্ভে মৃত বাচ্চা দেখতে পাই, আমরা কি তা ফেলে দেব, না ভক্ষণ করব? তিনি বলেনঃ যদি তোমরা চাও, তবে তা খেতে পার। কেননা ঐ বাচ্চার মাতার যবেহ, ঐ বাচ্চার যবেহর মত, (অর্থাৎ মাতার যবেহে বাচ্চাও যবেহ হয়ে যায়)।
2819

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ رَاهَوَيْهِ، حَدَّثَنَا عَتَّابُ بْنُ بَشِيرٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ الْقَدَّاحُ الْمَكِّيُّ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " ذَكَاةُ الْجَنِينِ ذَكَاةُ أُمِّهِ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৮১৯. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে ফারিস (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ্ (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ পেটের বাচ্চার যবেহ, সেটির মাতার যবেহ দ্বারাই হয়ে যায়।

৯৬. যবেহ সময় বিসমিল্লাহ্ বলা হয়েছে কিনা তা জানা না থাকলে , সে গোশত খাওয়া প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي أَكْلِ اللَّحْمِ لاَ يُدْرَى أَذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ أَمْ لاَ

2820

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، ح وَحَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَيَّانَ، وَمُحَاضِرٌ، - الْمَعْنَى - عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، وَلَمْ يَذْكُرَا عَنْ حَمَّادٍ، وَمَالِكٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ قَوْمًا حَدِيثُو عَهْدٍ بِالْجَاهِلِيَّةِ يَأْتُونَنَا بِلُحْمَانٍ لاَ نَدْرِي أَذَكَرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا أَمْ لَمْ يَذْكُرُوا أَفَنَأْكُلُ مِنْهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " سَمُّوا اللَّهَ وَكُلُوا " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮২০. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তাঁরা (সাহাবীরা) জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কওমের লোকেরা জাহিলীয়াতের যুগের খুবই নিকটবর্তী (অর্থাৎ তারা কেবলই ইসলাম কবুল করেছে)। তারা আমাদের কাছে গোশত নিয়ে আসে, অথচ আমরা জানি না,, তারা যবেহের সময় ঐ পশুর উপর ‘বিসমিল্লাহ্’ পাঠ করেছে কিনা? আমরা কি এ গোশত থেকে ভক্ষণ করব? তখন রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা ‘বিসমিল্লাহ্’ বলে তা ভক্ষণ কর।

৯৭. রজব মাসে কুরবানী করা প্রসঙ্গে।

باب فِي الْعَتِيرَةِ

2821

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، ح وَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ بِشْرِ بْنِ الْمُفَضَّلِ، - الْمَعْنَى - حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، قَالَ قَالَ نُبَيْشَةُ نَادَى رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّا كُنَّا نَعْتِرُ عَتِيرَةً فِي الْجَاهِلِيَّةِ فِي رَجَبٍ فَمَا تَأْمُرُنَا قَالَ " اذْبَحُوا لِلَّهِ فِي أَىِّ شَهْرٍ كَانَ وَبَرُّوا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَأَطْعِمُوا " . قَالَ إِنَّا كُنَّا نُفْرِعُ فَرَعًا فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَمَا تَأْمُرُنَا قَالَ " فِي كُلِّ سَائِمَةٍ فَرَعٌ تَغْذُوهُ مَاشِيَتُكَ حَتَّى إِذَا اسْتَحْمَلَ " . قَالَ نَصْرٌ " اسْتَحْمَلَ لِلْحَجِيجِ ذَبَحْتَهُ فَتَصَدَّقْتَ بِلَحْمِهِ " . قَالَ خَالِدٌ أَحْسَبُهُ قَالَ " عَلَى ابْنِ السَّبِيلِ فَإِنَّ ذَلِكَ خَيْرٌ " . قَالَ خَالِدٌ قُلْتُ لأَبِي قِلاَبَةَ كَمِ السَّائِمَةُ قَالَ مِائَةٌ .

Narrator: নুবায়শাহ হুযালী (রাঃ)

২৮২১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... নুবায়শা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি উচ্চকন্ঠে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞসা করে, আমরা জাহিলীয়াতের যুগে রজব মাসে আতীরা’ করতাম। এখন এ সম্পর্কে আমাদের কি নির্দেশ দেন? তখন তিনি বলেনঃ তোমরা আল্লাহর জন্য যে কোন মাসে কুরবানী করতে পার। তোমরা আল্লাহর নির্দেশের অনুসরণ কর এবং অন্যকে খানা খাওয়াও।

অতঃপর সে ব্যক্তি আবার জিজ্ঞাসা করেঃ আমরা তো জাহিলীয়াতের যুগে ফারাআ’ করতাম (অর্থাৎ পশুর প্রথম বাচ্চা মূর্তির নামে যবেহ্ করতাম)। এখন এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তিনি বলেনঃ বিচরণকারী প্রত্যেক পশুর মাঝেই ফারাআ আছে। তোমরা তোমাদের পশুদের খাদ্য দিয়ে থাক, এমন কি তারা হাজীদের বহনে সক্ষম হবে, তখন তুমি তাকে যবেহ্ করবে এবং তার গোশত সাদ্‌কা করে দেবে।

রাবী খালিদ (রাহঃ) বলেনঃ আমি মনে করি, মুসাফিরদের জন্য এটি উত্তম। রাবী খালিদ (রাহঃ) পুনরায় বলেনঃ আমি আবু কিলাবকে জিজ্ঞাসা করেছিলামঃ কয়টি পশুর জন্য এ হুকুম? তিনি বলেনঃ একশতটির জন্য (অর্থাৎ একশতটি পশুর মধ্যে একটা আল্লাহর নামে যবেহ্ করে দান করবে।)
2822

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ فَرَعَ وَلاَ عَتِيرَةَ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৮২২. আহমদ ইবনে আব্দা (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ইসলামে ফারাআ’ ও আতীরা’ কিছুই নেই।

2823

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ، قَالَ الْفَرَعُ أَوَّلُ النِّتَاجِ كَانَ يُنْتَجُ لَهُمْ فَيَذْبَحُونَهُ .

Narrator: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

২৮২৩. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... সা‘ঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। ফারাআ’ হলো পশুর ঐ প্রথম বাচ্চা, যা তাদের নিকট ভূমিষ্ট হতো এবং তারা তাকে (দেবতার) উদ্দেশ্যে কুরবানী করতো।

2824

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ كُلِّ خَمْسِينَ شَاةً شَاةٌ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ بَعْضُهُمُ الْفَرَعُ أَوَّلُ مَا تُنْتَجُ الإِبِلُ كَانُوا يَذْبَحُونَهُ لِطَوَاغِيتِهِمْ ثُمَّ يَأْكُلُونَهُ وَيُلْقَى جِلْدُهُ عَلَى الشَّجَرِ وَالْعَتِيرَةُ فِي الْعَشْرِ الأُوَلِ مِنْ رَجَبٍ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৮২৪. মুসা ইব ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের প্রতি পঞ্চাশটি বকরী হতে একটি বকরী (মুসাফির ও গরীবের জন্য) যবেহ্ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

৯৮. আকিকা সম্পর্কে।

باب فِي الْعَقِيقَةِ

2825

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ حَبِيبَةَ بِنْتِ مَيْسَرَةَ، عَنْ أُمِّ كُرْزٍ الْكَعْبِيَّةِ، قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " عَنِ الْغُلاَمِ شَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ قَالَ مُكَافِئَتَانِ أَىْ مُسْتَوِيَتَانِ أَوْ مُقَارِبَتَانِ .

Narrator: উম্মে কুরয (রাঃ)

২৮২৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... উম্মু কুরয্ কা‘বিয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ)কে এরূপ বলতে শুনেছি, ছেলের জন্য দু‘টি একই ধরণের বকরী এবং মেয়ের জন্য একটি বকরী দিয়ে আকীকা দেওয়া যথেষ্ট হবে।

আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ আমি ইমাম আহমদ (রাহঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, ‘মুকাফিআতানে ’অর্থ হলোঃ দু‘টি এক ধরনের হবে অথবা সে দুটি একই বয়সের হবে।
2826

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سِبَاعِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أُمِّ كُرْزٍ، قَالَتْ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " أَقِرُّوا الطَّيْرَ عَلَى مَكِنَاتِهَا " . قَالَتْ وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ " عَنِ الْغُلاَمِ شَاتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ لاَ يَضُرُّكُمْ أَذُكْرَانًا كُنَّ أَمْ إِنَاثًا " .

Narrator: উম্মে কুরয (রাঃ)

২৮২৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... উম্মু কুরয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, তোমরা পাখিদের তাদের বাসায় থাকতে দেবে (তাড়িয়ে দেবে না)।

রাবী উম্মু কুরয (রাযিঃ) আরো বলেনঃ আমি তাঁকে এরূপ বলতে শুনেছি, ছেলের (আকীকার জন্য) দু‘টি বকরী এবং মেয়ের জন্য একটি বকরী যবেহ্ করতে হবে। আর এতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই, চাই বকরী নর হোক কিংবা মাদী।
2827

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، عَنْ سِبَاعِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أُمِّ كُرْزٍ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عَنِ الْغُلاَمِ شَاتَانِ مِثْلاَنِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا هُوَ الْحَدِيثُ وَحَدِيثُ سُفْيَانَ وَهَمٌ .

Narrator: উম্মে কুরয (রাঃ)

২৮২৭. মুসাদ্দাদ ..... উম্মু কুরয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ছেলের আকিকার জন্য সমান-সমান দুটি বকরী এবং মেয়ের আকিকার জন্য একটা বকরী কুরবানী করাই যথেষ্ট।

2828

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كُلُّ غُلاَمٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ السَّابِعِ وَيُحْلَقُ رَأْسُهُ وَيُدَمَّى " . فَكَانَ قَتَادَةُ إِذَا سُئِلَ عَنِ الدَّمِ كَيْفَ يُصْنَعُ بِهِ قَالَ إِذَا ذَبَحْتَ الْعَقِيقَةَ أَخَذْتَ مِنْهَا صُوفَةً وَاسْتَقْبَلْتَ بِهِ أَوْدَاجَهَا ثُمَّ تُوضَعُ عَلَى يَافُوخِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَسِيلَ عَلَى رَأْسِهِ مِثْلُ الْخَيْطِ ثُمَّ يُغْسَلُ رَأْسُهُ بَعْدُ وَيُحْلَقُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا وَهَمٌ مِنْ هَمَّامٍ " وَيُدَمَّى " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ خُولِفَ هَمَّامٌ فِي هَذَا الْكَلاَمِ وَهُوَ وَهَمٌ مِنْ هَمَّامٍ وَإِنَّمَا قَالُوا " يُسَمَّى " . فَقَالَ هَمَّامٌ " يُدَمَّى " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَلَيْسَ يُؤْخَذُ بِهَذَا .

Narrator: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

২৮২৮. হাফস ইবনে উমর নামরী (রাহঃ) ..... সামুরা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক শিশু আকীকার বিনিময়ে বন্ধকস্বরূপ থাকে। কাজেই তার পক্ষ হতে (জন্মের) সপ্তম দিনে কুরবানী করতে হবে এবং মাথা মুণ্ডন করতে হবে, আর কুরবানীর রক্ত তার মাথায় লাগাতে হবে।

অতঃপর কাতাদা (রাযিঃ)-কে রক্ত লাগান সম্পর্কে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়, রক্ত কিরূপে লাগাতে হবে? তিনি বলেনঃ যখন আকীকার পশু কুরবানী করা হবে, তখন তার কিছু লোম নিয়ে কাটা-শিরার সামনে রাখতে হবে এবং সেগুলো রক্তে প্রবাহিত হয়। পরে তার মাথা ধুয়ে ফেলে মাথা মুণ্ডন করতে হবে।
2829

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كُلُّ غُلاَمٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ وَيُحْلَقُ وَيُسَمَّى " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَيُسَمَّى أَصَحُّ كَذَا قَالَ سَلاَّمُ بْنُ أَبِي مُطِيعٍ عَنْ قَتَادَةَ وَإِيَاسُ بْنُ دَغْفَلٍ وَأَشْعَثُ عَنِ الْحَسَنِ . قَالَ: «وَيُسَمَّى» . وَرَوَاهُ أَشْعَثُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَيُسَمَّى»

Narrator: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

২৮২৯. ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ...... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক শিশু তার আকীকার বিনিময়ে (আল্লাহর নিকট) বন্ধকস্বরূপ থাকে। কাজেই সপ্তম দিনে তার পক্ষ হতে কুরবানী করবে এবং তার মাথা মুণ্ডন করে নাম রাখবে।

2830

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ، عَنِ الرَّبَابِ، عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ الضَّبِّيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَعَ الْغُلاَمِ عَقِيقَتُهُ فَأَهْرِيقُوا عَنْهُ دَمًا وَأَمِيطُوا عَنْهُ الأَذَى " .

Narrator: সালমান ইবনে আমির যব্বী (রাঃ)

২৮৩০. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) .... সালমান ইবনে আমির যাব্বী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ পুত্র সন্তান জন্ম নিলে তার আকীকা করা সুন্নত। কাজেই তার পক্ষ হতে রক্ত প্রবাহিত করবে (অর্থাৎ আকীকার জন্তু কুরবানী করবে) এবং তার থেকে দুঃখ-কষ্ট বিদূরিত করবে (অর্থাৎ তার মাথা মুণ্ডন করে দেবে)।

2831

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ إِمَاطَةُ الأَذَى حَلْقُ الرَّأْسِ .

Narrator: হাসান বসরী (রহঃ)

২৮৩১. আবু দাউদ (রাহঃ) .... হাসান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ দুঃখ-কষ্ট বিদূরিত করার অর্থ হলো, তার মাথা মুণ্ডন করে দেওয়া।

2832

حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَقَّ عَنِ الْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ كَبْشًا كَبْشًا .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৮৩২. আবু মা‘মার আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হাসান (রাযিঃ) ও হুসাইন (রাযিঃ) এর পক্ষ হতে একটি করে দুম্বা তাদের আকীকায় কুরবানী করেন।

2833

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ قَيْسٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ - يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو - عَنْ دَاوُدَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ أُرَاهُ عَنْ جَدِّهِ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْعَقِيقَةِ فَقَالَ " لاَ يُحِبُّ اللَّهُ الْعُقُوقَ " . كَأَنَّهُ كَرِهَ الاِسْمَ وَقَالَ " مَنْ وُلِدَ لَهُ وَلَدٌ فَأَحَبَّ أَنْ يَنْسُكَ عَنْهُ فَلْيَنْسُكْ عَنِ الْغُلاَمِ شَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ " . وَسُئِلَ عَنِ الْفَرَعِ قَالَ " وَالْفَرَعُ حَقٌّ وَأَنْ تَتْرُكُوهُ حَتَّى يَكُونَ بَكْرًا شُغْزُبًّا ابْنَ مَخَاضٍ أَوِ ابْنَ لَبُونٍ فَتُعْطِيَهُ أَرْمَلَةً أَوْ تَحْمِلَ عَلَيْهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَذْبَحَهُ فَيَلْزَقَ لَحْمُهُ بِوَبَرِهِ وَتُكْفِئَ إِنَاءَكَ وَتُوَلِّهَ نَاقَتَكَ " .

Narrator: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

২৮৩৩. কা‘নবী (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে আকীকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ উকূক (মাতাপিতার নাফরমানী করা)-কে পছন্দ করেন না। কেননা তিনি উকুক শব্দটিকে পছন্দ করেননি।

রাবী বলেন, যার কোন শিশু সন্তান জন্ম নেয়, আর সে তার পক্ষ হতে কুরবানী করতে চায়, তবে তার উচিত হবে পুত্র সন্তানের জন্য দু’টি একই ধরনের বকরী এবং কন্যা সন্তানের পক্ষে একটি বকরী কুরবানী করা।

অতঃপর তাঁকে ফারাআ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি বলেনঃ ফারাআ তো জায়েয এবং বৈধ (যদি তা আল্লাহর নামের উপর করা হয়)। কিন্তু ঐ শিশু সন্তানকে এতদিন ছেড়ে রাখা, যাতে ঐ উটটি এক বা দু‘বছরের হয়ে যায়। অতঃপর তোমরা সেটিকে নিঃস্ব, সম্বলহীন ব্যক্তিদের দিয়ে দেবে অথবা মুজাহিদদের বাহনের উদ্দেশ্যে আল্লাহর ওয়াস্তে দিয়ে দেবে। এটা তা থেকে উত্তম যে, তোমরা সেটিকে এমন অবস্থায় কুরবানী করবে যে, এর পশমগুলি তার চামড়ার সাথে লেপ্টে থাকবে। এভাবে তোমাদের পাত্রগুলি উপুড় করে দেবে এবং নিজেদের উটদের পাগল বানিয়ে দেবে; (কেননা, ছোট্ট বাচ্চা যবেহের ফলে মায়ের কষ্ট হয় এবং সে পাগলপারা হয়ে ওঠে।)
2834

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي بُرَيْدَةَ، يَقُولُ كُنَّا فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا وُلِدَ لأَحَدِنَا غُلاَمٌ ذَبَحَ شَاةً وَلَطَخَ رَأْسَهُ بِدَمِهَا فَلَمَّا جَاءَ اللَّهُ بِالإِسْلاَمِ كُنَّا نَذْبَحُ شَاةً وَنَحْلِقُ رَأْسَهُ وَنَلْطَخُهُ بِزَعْفَرَانٍ .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

২৮৩৪. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ছাবিত (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে বুরায়দা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবু বুরায়দা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, জাহিলীয়াতের যুগে যখন আমাদের কারও পুত্র সন্তান জন্ম নিত, তখন বকরী যবেহ করা হতো এবং ঐ পশুর রক্ত সে সন্তানের মাথায় লাগানো হত। অতঃপর আল্লাহ্ যখন দীন-ইসলাম প্রেরণ করেন, তখন আমরা বকরী যবেহ্ করতাম, সন্তানের মাথা মুণ্ডন করতাম এবং তাতে যাফরান লাগিয়ে দিতাম।