كتاب الصلاة

৩. নামাযের অধ্যায়

Chapter 3 · 71 hadith

১. নামাযের প্রতি আহবান

كِتَابُ الصَّلَاةِ<br>بَاب مَا جَاءَ فِي النِّدَاءِ لِلصَّلَاةِ

146

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَرَادَ أَنْ يَتَّخِذَ خَشَبَتَيْنِ يُضْرَبُ بِهِمَا لِيَجْتَمِعَ النَّاسُ لِلصَّلَاةِ فَأُرِيَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ الْأَنْصَارِيُّ ثُمَّ مِنْ بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ خَشَبَتَيْنِ فِي النَّوْمِ فَقَالَ إِنَّ هَاتَيْنِ لَنَحْوٌ مِمَّا يُرِيدُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقِيلَ أَلَا تُؤَذِّنُونَ لِلصَّلَاةِ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ لَهُ ذَلِكَ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْأَذَانِ

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ আনসারী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুইটি কাঠ তৈয়ার করাইবার মনস্থ করিয়াছিলেন, যেন একটির দ্বারা অপরটির উপর আঘাত করিয়া ধ্বনি সৃষ্টি করিয়া মানুষকে নামাযের জামাতের উদ্দেশ্যে একত্র করা যায়। অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ আনসারী আল খাযরাজী (রাযিঃ) স্বপ্নে দুইটি কাঠ দেখিতে পাইয়া বলিলেনঃ এই দুইটি অনুরূপ কাঠই যেরূপ কাঠ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তৈয়ার করাইতে চাহিয়াছেন। তারপর তাহাকে বলা হইলঃ তোমরা নামাযের জন্য আযান দাও না কেন? ঘুম হইতে জাগার পর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সমীপে উপস্থিত হইয়া তাহার স্বপ্নের কথা আরয করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আযানের জন্য হুকুম দিলেন।

147

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ " .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ২. আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যখন তোমরা আযান শোন তখন মুয়াযযিনের অনুরূপ তোমরাও বল।

148

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الأَوَّلِ ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلاَّ أَنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لاَسْتَهَمُوا وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي التَّهْجِيرِ لاَسْتَبَقُوا إِلَيْهِ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي الْعَتَمَةِ وَالصُّبْحِ لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৩. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ মানুষ যদি জানিত আযান ও প্রথম কাতারে কী (বরকত ও মঙ্গল) রহিয়াছে, তবে উহা পাইবার জন্য লটারী ছাড়া উপায় না থাকিলে তাহারা উহার জন্য লটারী করিত। আর যদি তাহারা জানিত দ্ধিপ্রহরের নামাযে (যোহর ও জুম’আয়) প্রথম সময়ে গমনে কী রহিয়াছে তবে তাহার দিকে দ্রুতগতিতে ধাবিত হইত। আর তাহারা যদি জানিত ইশা ও ফজরের নামাযে কী রহিয়াছে তাহা হইলে উভয় নামাযের জন্য অবশ্যই আসিত, এমনকি হামাগুড়ি দিয়াও।

149

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْقُوبَ عَنْ أَبِيهِ وَإِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ أَنَّهُمَا سَمِعَا أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا ثُوِّبَ بِالصَّلَاةِ فَلَا تَأْتُوهَا وَأَنْتُمْ تَسْعَوْنَ وَأْتُوهَا وَعَلَيْكُمْ السَّكِينَةُ فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا فَإِنَّ أَحَدَكُمْ فِي صَلَاةٍ مَا كَانَ يَعْمِدُ إِلَى الصَّلَاةِ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৪. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যখন নামাযের ইকামত বলা হয় তখন তাড়াহুড়া না কুরিয়া ধীরে সুস্থে আসিবে। অতঃপর জামাতের সঙ্গে যতখানি পাইবে উহা পড়িয়া অবশিষ্ট নামায নিজে নিজে পূরণ করবে। কেননা তোমাদের কেউ নামাযের উদ্দেশ্যে বাহির হইলে তাহাকে নামাযে গণ্য করা হয়।
150

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ الْأَنْصَارِيِّ ثُمَّ الْمَازِنِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ قَالَ لَهُ إِنِّي أَرَاكَ تُحِبُّ الْغَنَمَ وَالْبَادِيَةَ فَإِذَا كُنْتَ فِي غَنَمِكَ أَوْ بَادِيَتِكَ فَأَذَّنْتَ بِالصَّلَاةِ فَارْفَعْ صَوْتَكَ بِالنِّدَاءِ فَإِنَّهُ لَا يَسْمَعُ مَدَى صَوْتِ الْمُؤَذِّنِ جِنٌّ وَلَا إِنْسٌ وَلَا شَيْءٌ إِلَّا شَهِدَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৫. আব্দুর রহমান ইবনে আবি সাসা’আ’ আনসারী মাযনী (রাহঃ) কর্তৃক তাহার পিতা হইতে বর্ণিত, আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) তাহাকে উদ্দেশ্য করিয়া বলিয়াছেনঃ আমি দেখিতেছি তুমি মাঠ ও বকরীকে ভালবাস। তুমি যখন তোমার বকরীর সঙ্গে থাক অথবা মাঠে থাক এবং নামাযের জন্য আযান দাও তবে তারস্বরে আযান দিও। কারণ আযানের স্বর মানুষ, জিন এবং অন্য যে কেউ শুনিতে পায়, সে মুয়াযযিনের জন্য কিয়ামত দিবসে সাক্ষ্য দিবে।

আবু সাঈদ (রাযিঃ) বলিয়াছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হইতে অনুরূপ শুনিয়াছি।
151

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا نُودِيَ لِلصَّلاَةِ أَدْبَرَ الشَّيْطَانُ لَهُ ضُرَاطٌ حَتَّى لاَ يَسْمَعَ النِّدَاءَ فَإِذَا قُضِيَ النِّدَاءُ أَقْبَلَ حَتَّى إِذَا ثُوِّبَ بِالصَّلاَةِ أَدْبَرَ حَتَّى إِذَا قُضِيَ التَّثْوِيبُ أَقْبَلَ حَتَّى يَخْطِرَ بَيْنَ الْمَرْءِ وَنَفْسِهِ يَقُولُ اذْكُرْ كَذَا اذْكُرْ كَذَا لِمَا لَمْ يَكُنْ يَذْكُرُ حَتَّى يَظَلَّ الرَّجُلُ إِنْ يَدْرِي كَمْ صَلَّى " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৬. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ নামাযের জন্য আযান দেওয়ার সময় শয়তান সশব্দে বায়ু ছাড়িতে ছাড়িতে পালায়, যেন সে আযানের শব্দ না শোনে। আযান শেষ হইলে সে আবার আসে। ইকামত আরম্ভ হইলে আবার পলায়ন করে। ইকামত বলা শেষ হইলে পুনরায় উপস্থিত হয় এবং ওয়াসওয়াসা ঢালিয়া নামাযী ব্যক্তি ও তাহার অভীষ্ট লক্ষ্যের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে; যে সকল বিষয় তাহার স্মরণ ছিল না সেই সবের প্রতি আকৃষ্ট করিয়া সে বলিতে থাকেঃ অমুক বিষয় স্মরণ কর, অমুক বিষয় স্মরণ কর। ফলে সেই ব্যক্তি কত রাক'আত নামায পড়িয়াছে উহা পর্যন্ত ভুলিয়া যায়।

152
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي حَازِمِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ أَنَّهُ قَالَ سَاعَتَانِ يُفْتَحُ لَهُمَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَقَلَّ دَاعٍ تُرَدُّ عَلَيْهِ دَعْوَتُهُ حَضْرَةُ النِّدَاءِ لِلصَّلَاةِ وَالصَّفُّ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
وَسُئِلَ مَالِك عَنْ النِّدَاءِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ هَلْ يَكُونُ قَبْلَ أَنْ يَحِلَّ الْوَقْتُ فَقَالَ لَا يَكُونُ إِلَّا بَعْدَ أَنْ تَزُولَ الشَّمْسُ وَسُئِلَ مَالِك عَنْ تَثْنِيَةِ الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ وَمَتَى يَجِبُ الْقِيَامُ عَلَى النَّاسِ حِينَ تُقَامُ الصَّلَاةُ فَقَالَ لَمْ يَبْلُغْنِي فِي النِّدَاءِ وَالْإِقَامَةِ إِلَّا مَا أَدْرَكْتُ النَّاسَ عَلَيْهِ فَأَمَّا الْإِقَامَةُ فَإِنَّهَا لَا تُثَنَّى وَذَلِكَ الَّذِي لَمْ يَزَلْ عَلَيْهِ أَهْلُ الْعِلْمِ بِبَلَدِنَا وَأَمَّا قِيَامُ النَّاسِ حِينَ تُقَامُ الصَّلَاةُ فَإِنِّي لَمْ أَسْمَعْ فِي ذَلِكَ بِحَدٍّ يُقَامُ لَهُ إِلَّا أَنِّي أَرَى ذَلِكَ [ ص: 68 ] عَلَى قَدْرِ طَاقَةِ النَّاسِ فَإِنَّ مِنْهُمْ الثَّقِيلَ وَالْخَفِيفَ وَلَا يَسْتَطِيعُونَ أَنْ يَكُونُوا كَرَجُلٍ وَاحِدٍ وَسُئِلَ مَالِك عَنْ قَوْمٍ حُضُورٍ أَرَادُوا أَنْ يَجْمَعُوا الْمَكْتُوبَةَ فَأَرَادُوا أَنْ يُقِيمُوا وَلَا يُؤَذِّنُوا قَالَ مَالِك ذَلِكَ مُجْزِئٌ عَنْهُمْ وَإِنَّمَا يَجِبُ النِّدَاءُ فِي مَسَاجِدِ الْجَمَاعَاتِ الَّتِي تُجْمَعُ فِيهَا الصَّلَاةُ وَسُئِلَ مَالِك عَنْ تَسْلِيمِ الْمُؤَذِّنِ عَلَى الْإِمَامِ وَدُعَائِهِ إِيَّاهُ لِلصَّلَاةِ وَمَنْ أَوَّلُ مَنْ سُلِّمَ عَلَيْهِ فَقَالَ لَمْ يَبْلُغْنِي أَنَّ التَّسْلِيمَ كَانَ فِي الزَّمَانِ الْأَوَّلِ قَالَ يَحْيَى وَسُئِلَ مَالِك عَنْ مُؤَذِّنٍ أَذَّنَ لِقَوْمٍ ثُمَّ انْتَظَرَ هَلْ يَأْتِيهِ أَحَدٌ فَلَمْ يَأْتِهِ أَحَدٌ فَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَصَلَّى وَحْدَهُ ثُمَّ جَاءَ النَّاسُ بَعْدَ أَنْ فَرَغَ أَيُعِيدُ الصَّلَاةَ مَعَهُمْ قَالَ لَا يُعِيدُ الصَّلَاةَ وَمَنْ جَاءَ بَعْدَ انْصِرَافِهِ فَلْيُصَلِّ لِنَفْسِهِ وَحْدَهُ قَالَ يَحْيَى وَسُئِلَ مَالِك عَنْ مُؤَذِّنٍ أَذَّنَ لِقَوْمٍ ثُمَّ تَنَفَّلَ فَأَرَادُوا أَنْ يُصَلُّوا بِإِقَامَةِ غَيْرِهِ فَقَالَ لَا بَأْسَ بِذَلِكَ إِقَامَتُهُ وَإِقَامَةُ غَيْرِهِ سَوَاءٌ قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك لَمْ تَزَلْ الصُّبْحُ يُنَادَى لَهَا قَبْلَ الْفَجْرِ فَأَمَّا غَيْرُهَا مِنْ الصَّلَوَاتِ فَإِنَّا لَمْ نَرَهَا يُنَادَى لَهَا إِلَّا بَعْدَ أَنْ يَحِلَّ وَقْتُهَا

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৭. সাহল ইবনে সা’দ সায়েদী (রাযিঃ) বর্ণনা করিয়াছেনঃ দুইটি মুহূর্ত এইরূপ আছে সেই সময় অসমানের দরওয়াজা খোলা হয় এবং সেই মুহূর্তদ্বয়ে প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কুচিৎ ফেরত দেওয়া হয়; নামাযের আযানের মুহুর্ত এবং আল্লাহর পথে জিহাদের কাতার ঠিক করার মুহুর্ত।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ মালিক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইলঃ জুম’আর দিন সময়ের পূর্বে আযান দেওয়া যায় কি? তিনি উত্তর দিলেনঃ না, যায় না। সূর্য পশ্চিম দিকে ঝুঁকিবার পরই আযানের সময় হয়।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বর্ণনা করিয়াছেন- মালিক (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইল আযান ও ইকামত-এর (বাক্যগুলি) দুই দুইবার বলা সম্পর্কে এবং ইকামতের সময় মানুষের কোন সময় দাঁড়াইতে হইবে সেই সম্পর্কে। তিনি উত্তর দিলেনঃ আযান ও ইকামতের বিষয় আমি লোকজনকে যে পর্যায়ে পাইয়াছি উহার চাইতে অধিক কিছু আমার নিকট পৌছে নাই। ইকামত অবশ্য দুই দুইবার বলিতে নাই। আমাদের শহরের (মদীনা) বিজ্ঞ আলিমগণ এই মতই পোষণ করিতেন। ইকামতের সময় দাঁড়াইবার সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন সীমা আমি জ্ঞাত নই। তবে আমার মতে উহা অনেকটা লোকের শক্তি-সামর্থ্যের উপর নির্ভর করে। কারণ সব লোক এক রকমের নয়; তাহাদের মধ্যে সবল ও দুর্বল সকল প্রকারের লোকই থাকে।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, মালিক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইলঃ যাহারা প্রবাসী নহে বরং মুকীম (স্বদেশে বা বিদেশে শরীয়তসম্মত স্থায়ী বসবাসকারী) তাহারা ফরয নামায জামাত সহকারে আযান ছাড়া শুধু ইকামত বলিয়া পড়িতে চাহিলে-এই বিষয়ে আপনার মত কি? তিনি বলিলেনঃ কেবল ইকামত বলিলেও চলিবে। কেননা আযান ওয়াজিব হয় সেই সব মসজিদের জন্য যেসব মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয় এবং লোকজনকে নামাযের জন্য আহবান করা হয়।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, মুয়াযযিন কর্তৃক ইমামকে সালাম দেওয়া, নামাযের জন্য তাহাকে আহবান করা এবং সর্বপ্রথম কোন আমীরের প্রতি এইরূপ করা হইয়াছিল- এই বিষয়ে মালিক (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইলে তিনি বলিলেনঃ এইরূপ সালাম দেওয়ার রীতি প্রথম যুগে ছিল বলিয়া আমি অবগত নই।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, মুয়াযযিন আযান দিয়া অপেক্ষা করিল, কিন্তু নামায পড়িতে কেউ আসিল না। অতএব, সে ইকামত বলিয়া একা একাই নামায পড়িল। নামায সমাপ্ত হইলে কিছু লোক আসিল। এক্ষণে সে কি পুনরায় আগন্তুকদের সঙ্গে নামায পড়িবে? মালিক (রাহঃ)-এর নিকট এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হইলে তিনি বলিলেনঃ না, পরে যাহারা আসিবে তাহারা পৃথক পৃথকভাবে নামায পড়িবে।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, মালিক (রাহঃ) জিজ্ঞাসিত হইলেনঃ মুয়াৰ্যযিন আযান দিবার পর নফল নামায শুরু করিল। লোকজন আসিয়া অন্যের দ্বারা ইকামত বলাইয়া জামাতসহকারে নামায পড়িতে ইচ্ছা করিল, এইরূপ করা চলে কি? তিনি উত্তর দিলেন, যায়, ইহা বৈধ। ইকামত বলার ব্যাপারে মুয়াযযিন এবং অন্য ব্যক্তি এক সমান।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ ফজরের আযান প্রায়ই সুবহে-সাদিক-এর আগে দেওয়া হইত। কিন্তু অন্যসব নামাযের আযান আমাদের মতে সময় হওয়ার পর ছাড়া দেওয়া হইত না।
153
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ الْمُؤَذِّنَ جَاءَ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ يُؤْذِنُهُ لِصَلَاةِ الصُّبْحِ فَوَجَدَهُ نَائِمًا فَقَالَ الصَّلَاةُ خَيْرٌ مِنْ النَّوْمِ فَأَمَرَهُ عُمَرُ أَنْ يَجْعَلَهَا فِي نِدَاءِ الصُّبْحِ
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ مَا أَعْرِفُ شَيْئًا مِمَّا أَدْرَكْتُ عَلَيْهِ النَّاسَ إِلاَّ النِّدَاءَ بِالصَّلاَةِ .

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৮. মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেন, তাহার নিকট সংবাদ পৌছিয়াছে যে, ফজরের নামাযের সংবাদ দেওয়ার জন্য মুয়াযযিন উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-এর নিকট আসিলেন এবং তাহাকে নিদ্রিত পাইয়া বলিলেন-
الصَّلاَةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ
উমর (রাযিঃ) শুনিয়া বাক্যটিকে ফজরের আযানের অন্তর্ভুক্ত করিবার নির্দেশ দিলেন।

মালিক (রাহঃ)-এর চাচা আবু সুহায়ল ইবনে মালিক (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, তিনি বলিয়াছেনঃ লোকদিগকে (পূর্বযুগে) যেইরূপ পাইয়াছি, এখন নামাযের আযান ব্যতীত আর অন্য কিছুই সেইরূপ দেখিতেছি না।
154

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، سَمِعَ الإِقَامَةَ، وَهُوَ بِالْبَقِيعِ فَأَسْرَعَ الْمَشْىَ إِلَى الْمَسْجِدِ .

Narrator: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৯. নাফি (রাহঃ) বর্ণনা করিয়াছেন- আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) ইকামত শুনিয়া ‘বকী’ নামক স্থান হইতে মসজিদের দিকে ত্বরিত ধাবিত হইয়াছিলেন।

২. সফরে আযান দেওয়া এবং ওযু ছাড়া আযান দেওয়া

بَاب النِّدَاءِ فِي السَّفَرِ وَعَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ

155

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ أَذَّنَ بِالصَّلَاةِ فِي لَيْلَةٍ ذَاتِ بَرْدٍ وَرِيحٍ فَقَالَ أَلَا صَلُّوا فِي الرِّحَالِ ثُمَّ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُ الْمُؤَذِّنَ إِذَا كَانَتْ لَيْلَةٌ بَارِدَةٌ ذَاتُ مَطَرٍ يَقُولُ أَلَا صَلُّوا فِي الرِّحَالِ

Narrator: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১০. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, এক শীতল রজনীতে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) আযান দিতে নির্দেশ দিলেন। আযানের পর বললেনঃ (أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ)-তোমরা নিজ নিজ আবাসে নামায পড়। তারপর তিনি বলিলেনঃ শীতল ও বর্ষনশীলা রজনীতে (أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ) বলিবার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুয়াযযিনকে নির্দেশ দিতেন।

156

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ لَا يَزِيدُ عَلَى الْإِقَامَةِ فِي السَّفَرِ إِلَّا فِي الصُّبْحِ فَإِنَّهُ كَانَ يُنَادِي فِيهَا وَيُقِيمُ وَكَانَ يَقُولُ إِنَّمَا الْأَذَانُ لِلْإِمَامِ الَّذِي يَجْتَمِعُ النَّاسُ إِلَيْهِ

Narrator: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১১. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) সফরে শুধু ইকামত বলিতেন। অবশ্য ফজরের সময় আযান ও ইকামত উভয়ের ব্যবস্থা করা হইত। তিনি বলিতেনঃ আযান বলিতে হয় সেই ইমামের বেলায় যাহার সহিত নামায পড়িবার উদ্দেশ্যে লোকজন একত্রিত হয়।
157

وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، أَنَّ أَبَاهُ، قَالَ لَهُ إِذَا كُنْتَ فِي سَفَرٍ فَإِنْ شِئْتَ أَنْ تُؤَذِّنَ وَتُقِيمَ فَعَلْتَ وَإِنْ شِئْتَ فَأَقِمْ وَلاَ تُؤَذِّنْ . قَالَ يَحْيَى سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ لاَ بَأْسَ أَنْ يُؤَذِّنَ الرَّجُلُ وَهُوَ رَاكِبٌ .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১২. হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার পিতা বলিয়াছেনঃ তুমি সফরে থাকিলে ইচ্ছা করিলে আযান ও ইকামত দুইটিই বলিতে পার, আর যদি চাও, আযান না দিয়া কেবল ইকামতও বলিতে পার।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আমি মালিক (রাহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, আরোহী’ আযান দিলে কোন দোষ নাই।
158

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ مَنْ صَلَّى بِأَرْضٍ فَلَاةٍ صَلَّى عَنْ يَمِينِهِ مَلَكٌ وَعَنْ شِمَالِهِ مَلَكٌ فَإِذَا أَذَّنَ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ أَوْ أَقَامَ صَلَّى وَرَاءَهُ مِنْ الْمَلَائِكَةِ أَمْثَالُ الْجِبَالِ

Narrator: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৩. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি মাঠে নামায পড়ে তাহার ডানে একজন ও বামে একজন ফিরিশতা নামাযে দাঁড়ান। আর যদি সে আযান ও ইকামত দিয়া নামায পড়ে তবে তাহার পিছনে পাহাড় পরিমাণ (বহু) ফিরিশতা নামাযে শামিল হন।

৩. আযানের পর সাহরী খাওয়া

بَاب قَدْرِ السُّحُورِ مِنْ النِّدَاءِ

159

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ بِلَالًا يُنَادِي بِلَيْلٍ فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُنَادِيَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১৪. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ বিলাল রাত্রি থাকিতে আযান দেয়। অতএব ইবনে উম্মি-মাকতুম আযান না দেওয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার করিতে পার।

160

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ بِلَالًا يُنَادِي بِلَيْلٍ فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُنَادِيَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ قَالَ وَكَانَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ رَجُلًا أَعْمَى لَا يُنَادِي حَتَّى يُقَالَ لَهُ أَصْبَحْتَ أَصْبَحْتَ

Narrator: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৫. সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ বিলাল রাত (অবশিষ্ট থাকিতে) আযান দেয়। অতঃপর তোমরা পানাহার করিতে থাক যতক্ষণ ইবনে উম্মি মাকতুম আযান না দেয়।

তিনি (রেওয়ায়ত বর্ণনাকারী) বলিয়াছেনঃ ইবনে উম্মি মাকতুম ছিলেন অন্ধ ব্যক্তি। তাহার উদ্দেশ্যে أَصْبَحْتَ أَصْبَحْتَ (ভোর হইয়াছে, ভোর হইয়াছে) না বলা পর্যন্ত তিনি আযান দিতেন না।

৪. নামাযের আরম্ভ

بَاب افْتِتَاحِ الصَّلَاةِ

161

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ الرُّكُوعِ رَفَعَهُمَا كَذَلِكَ أَيْضًا وَقَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ وَكَانَ لَا يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي السُّجُودِ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১৬. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আরম্ভ করার সময় উভয় হাত কাঁধ বরাবর তুলিতেন এবং যখন রুকু হইতে মাথা তুলিতেন তখনও দুই হাত অনুরূপভাবে তুলিতেন এবং বলতেন (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ) অবশ্য সিজদার সময় তিনি হাত উঠাইতেন না।

162

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكَبِّرُ فِي الصَّلَاةِ كُلَّمَا خَفَضَ وَرَفَعَ، فَلَمْ تَزَلْ تِلْكَ صَلَاتَهُ حَتَّى لَقِيَ اللَّهَ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ১৭. আলী ইবনে হুসায়ন আলী ইবনে আবি তালিব (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযের মধ্যে যখন নীচের দিক ঝুঁকিতেন ও মাথা উপরে তুলিতেন তখন তকবীর (আল্লাহু আকবার) বলতেন। তিনি আল্লাহর সহিত মিলিত হওয়া পর্যন্ত এইভাবে নামায পড়িয়াছেন।

163

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي الصَّلَاةِ

Narrator: সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৮. সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযে দুই হাত উপরে উঠাইতেন।
164

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ كَانَ يُصَلِّي لَهُمْ فَيُكَبِّرُ كُلَّمَا خَفَضَ وَرَفَعَ فَإِذَا انْصَرَفَ قَالَ وَاللَّهِ إِنِّي لَأَشْبَهُكُمْ بِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

Narrator: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৯. আবি সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাহঃ) বর্ণনা করিয়াছেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) তাহাদের (শিক্ষাদানের) উদ্দেশ্যে নামায পড়িতেন এবং তিনি যতবার নীচের দিকে ঝুঁকিতেন ও মাথা উপরে তুলিতেন ততবার তকবীর (আল্লাহু আকবার) বলতেন। নামায শেষ করার পর তিনি বলিতেনঃ তোমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নামাযের সঙ্গে আমি অধিকতর সামঞ্জস্য-রক্ষাকরী।

165
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يُكَبِّرُ فِي الصَّلاَةِ كُلَّمَا خَفَضَ وَرَفَعَ
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ رَفَعَهُمَا دُونَ ذَلِكَ

Narrator: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২০. সলিম ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) যখন নীচের দিকে ঝুঁকিতেন ও মাথা উপরে তুলিতেন তখন তকবীর বলিতেন।

নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) নামায আরম্ভ করার সময় উভয় হাত কাঁধ বরাবর তুলিতেন। আর যখন রুকৃ হইতে মাথা তুলিতেন তখন দুই হাত কাঁধের একটু নিচ পর্যন্ত তুলিতেন।
166

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ كَانَ يُعَلِّمُهُمْ التَّكْبِيرَ فِي الصَّلَاةِ قَالَ فَكَانَ يَأْمُرُنَا أَنْ نُكَبِّرَ كُلَّمَا خَفَضْنَا وَرَفَعْنَا

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ২১. আবু নঈম ওয়াহব ইবনে কায়সান (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) তাহাদিগকে নামাযের ‘তকবীর শিক্ষা দিতেন। তিনি আরও বর্ণনা করিয়াছেনঃ নীচের দিকে ঝুঁকিবার ও মাথা উপরে তুলিবার সময় ‘তকবীর’ বলার জন্য তিনি [জাবির (রাযিঃ)] আমাদিগকে নির্দেশ দিতেন।

167

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ إِذَا أَدْرَكَ الرَّجُلُ الرَّكْعَةَ فَكَبَّرَ تَكْبِيرَةً وَاحِدَةً أَجْزَأَتْ عَنْهُ تِلْكَ التَّكْبِيرَةُ . قَالَ مَالِكٌ وَذَلِكَ إِذَا نَوَى بِتِلْكَ التَّكْبِيرَةِ افْتِتَاحَ الصَّلاَةِ . وَسُئِلَ مَالِكٌ عَنْ رَجُلٍ دَخَلَ مَعَ الإِمَامِ فَنَسِيَ تَكْبِيرَةَ الاِفْتِتَاحِ وَتَكْبِيرَةَ الرُّكُوعِ حَتَّى صَلَّى رَكْعَةً ثُمَّ ذَكَرَ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ كَبَّرَ تَكْبِيرَةَ الاِفْتِتَاحِ وَلاَ عِنْدَ الرُّكُوعِ وَكَبَّرَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ قَالَ يَبْتَدِئُ صَلاَتَهُ أَحَبُّ إِلَىَّ وَلَوْ سَهَا مَعَ الإِمَامِ عَنْ تَكْبِيرَةِ الاِفْتِتَاحِ وَكَبَّرَ فِي الرُّكُوعِ الأَوَّلِ رَأَيْتُ ذَلِكَ مُجْزِيًا عَنْهُ إِذَا نَوَى بِهَا تَكْبِيرَةَ الاِفْتِتَاحِ . قَالَ مَالِكٌ فِي الَّذِي يُصَلِّي لِنَفْسِهِ فَنَسِيَ تَكْبِيرَةَ الاِفْتِتَاحِ إِنَّهُ يَسْتَأْنِفُ صَلاَتَهُ . وَقَالَ مَالِكٌ فِي إِمَامٍ يَنْسَى تَكْبِيرَةَ الاِفْتِتَاحِ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ صَلاَتِهِ قَالَ أَرَى أَنْ يُعِيدَ وَيُعِيدُ مَنْ خَلْفَهُ الصَّلاَةَ وَإِنْ كَانَ مَنْ خَلْفَهُ قَدْ كَبَّرُوا فَإِنَّهُمْ يُعِيدُونَ .

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২২. মালিক (রাহঃ) ইবনে শিহাব (রাহঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন- তিনি বলিয়াছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি এক রাকআত নামায পায় এবং একবার তকবীর বলে তাহার জন্য ঐ এক ‘তকবীর যথেষ্ট হইবে।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) মালিক (রাহঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন- ঐ এক ‘তকবীরই যথেষ্ট হইবে যদি সে উক্ত তকবীর দ্বারা ‘তকবীর-এ তাহরীমা’-এর নিয়ত করে।
ইয়াহইয়া (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, মালিক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইলঃ এক ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে নামাযে শরীক হইল কিন্তু সে তববীর-এ তাহরীমা’ ও রুকূর ‘তকবীর বলিতে ভুলিয়া গেল। নামায এক রাকআত পড়ার পর তাহার স্মরণ হইল যে, সে ‘তাহরীমা’ ও রুকূর তকবীর বলে নাই। অতঃপর দ্বিতীয় রাকআতে সে তকবীর বলিল। তাহার কি করা উচিত? তিনি উত্তর দিলেন, সেই ব্যক্তির জন্য নামায শুরু হইতে পুনরায় পড়া আমি ভাল মনে করি। আর যদি কোন ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে ‘তকবীর-এ-তাহরীমা’ বলিতে ভুলিয়া যায়, প্রথম রুকূর সময় তকবীর’ বলে, রুকূর তকবীরের সঙ্গে ‘তকবীর-এ-তাহরীমা’রও নিয়ত করে, তবে আমার মতে উক্ত রুকূর ‘তকবীর’ই তাহার জন্য যথেষ্ট হইবে।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি একা একা নামায পড়িতেছে সে ‘তকবীর-এ-তাহরীমা’ ভুলিয়া গেলে তাহাকে নামায পুনরায় পড়িতে হইবে।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ ইমাম যদি ‘তকবীর-এ-তাহরীমা’ বলিতে ভুলিয়া গেলেন এবং নামায সমাপ্ত করিলেন, তবে আমার মতে ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ের নামায পুনরায় পড়া উচিত, এমন কি মুক্তাদীগণ তকবীর বলিয়া থাকিলেও।

৫. মাগরিব ও ইশা-এর কিরাআত

بَاب الْقِرَاءَةِ فِي الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ

168

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَرَأَ بِالطُّورِ فِي الْمَغْرِبِ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ২৩. মুহাম্মাদ ইবনে যুবায়র ইবনে মুতায়িম (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেনঃ আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মাগরিবের নামাযে সূরা (والطُّورِ) পাঠ করতে শুনিয়াছি।

169

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ أُمَّ الْفَضْلِ بِنْتَ الْحَارِثِ سَمِعَتْهُ وَهُوَ يَقْرَأُ وَالْمُرْسَلَاتِ عُرْفًا فَقَالَتْ لَهُ يَا بُنَيَّ لَقَدْ ذَكَّرْتَنِي بِقِرَاءَتِكَ هَذِهِ السُّورَةَ إِنَّهَا لَآخِرُ مَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْرَأُ بِهَا فِي الْمَغْرِبِ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

রেওয়ায়ত ২৪. আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, উম্মুল ফযল বিনতে হারিস (রাযিঃ) তাহাকে সূরা (وَالْمُرْسَلاَتِ عُرْفًا) পাঠ করিতে শুনিয়া বলিয়াছিলেন, হে বৎস! তুমি এই সুরা পাঠ করিয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কথা স্মরণ করাইয়া দিলে। এই সূরাটি সর্বশেষ সূরা যাহা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পবিত্র মুখে মাগরিবের নামাযে পাঠ করিতে আমি শুনিয়াছি।

170

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ مَوْلَى سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ نُسَيٍّ عَنْ قَيْسِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الصُّنَابِحِيِّ قَالَ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فِي خِلَافَةِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَصَلَّيْتُ وَرَاءَهُ الْمَغْرِبَ فَقَرَأَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَسُورَةٍ سُورَةٍ مِنْ قِصَارِ الْمُفَصَّلِ ثُمَّ قَامَ فِي الثَّالِثَةِ فَدَنَوْتُ مِنْهُ حَتَّى إِنَّ ثِيَابِي لَتَكَادُ أَنْ تَمَسَّ ثِيَابَهُ فَسَمِعْتُهُ قَرَأَ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَبِهَذِهِ الْآيَةِ رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ

Narrator: আব্দুল্লাহ সুনাবিহী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ২৫. কায়স ইবনে হারিস (রাহঃ) আবু আব্দুল্লাহ সুনাবিহি (রাযিঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন- তিনি (আবু আব্দুল্লাহ সুনাবিহি) বলিয়াছেনঃ আমি আবু বকর (রাযিঃ)-এর খিলাফতকালে মদীনায় আগমন করিলাম এবং তাহার ইমামতিতে মাগরিবের নামায পড়িলাম। তিনি প্রথম দুই রাক'আতে সূরা ফাতিহার পর (قِصَارِ الْمُفَصَّلِ) (কিসার-ই-মুফাসসাল) হইতে এক রাক'আতে একটি করিয়া সূরা পাঠ করিলেন; তারপর তৃতীয় রাক'আতে দাঁড়াইলেন । আমি তখন তাহার এত নিকটবর্তী ছিলাম যে, আমার কাপড় তাহার কাপড়কে প্রায় স্পর্শ করিতেছিল। সেই সময় আমি তাহাকে সূরা ফাতিহা ও (নীচের) আয়াতটি পাঠ করিতে শুনিয়াছিঃ

(رَبَّنَا لاَ تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ)

অর্থঃ হে আমাদের প্রতিপালক সরলপথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্য-লংঘনপ্রবণ করিও না এবং তোমার নিকট হইতে আমাদিগকে করুণা দাও, তুমিই মহাদাতা। (সূরা আলে ইমরানঃ ৮)
171

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ إِذَا صَلَّى وَحْدَهُ يَقْرَأُ فِي الْأَرْبَعِ جَمِيعًا فِي كُلِّ رَكْعَةٍ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَسُورَةٍ مِنْ الْقُرْآنِ وَكَانَ يَقْرَأُ أَحْيَانًا بِالسُّورَتَيْنِ وَالثَّلَاثِ فِي الرَّكْعَةِ الْوَاحِدَةِ مِنْ صَلَاةِ الْفَرِيضَةِ وَيَقْرَأُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ مِنْ الْمَغْرِبِ كَذَلِكَ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَسُورَةٍ سُورَةٍ

Narrator: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২৬. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) যখন একা নামায পড়িতেন তখন চার রাকআত বিশিষ্ট নামাযের প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহার সঙ্গে একটি সূরা পাঠ করিতেন। আর এমনও হইত যে, ফরয নামাযের এক রাক'আতে দুই-তিনটি সূরা একসাথেও পাঠ করিতেন। আর মাগরিবের নামাযে প্রথম দুই রাক’আতে সূরা ফাতিহার সাথে একটি করিয়া সূরা পড়িতেন।
172

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ أَنَّهُ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعِشَاءَ فَقَرَأَ فِيهَا بِالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

রেওয়ায়ত ২৭. আদী ইবনে সাবিত আনসারী (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, বারা ইবনে আযির (রাযিঃ) বলিয়াছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহিত ইশার নামায পড়িয়ছিলাম। তিনি সেই নামাযে সূরা (والتِّينِ وَالزَّيْتُونِ) পড়িয়ছিলেন।

৬. কিরাআত সম্পৰ্কীয় আহকাম

بَاب الْعَمَلِ فِي الْقِرَاءَةِ

173

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُنَيْنٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ لُبْسِ الْقَسِّيِّ وَعَنْ تَخَتُّمِ الذَّهَبِ وَعَنْ قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ فِي الرُّكُوعِ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ২৮. ইবরাহীম ইবনে আব্দিল্লাহ ইবনে হুনায়ন (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (قَسِّيِّ) ও (معصفر) (পুরুষদিগকে) পরিধান করিতে নিষেধ করিয়াছেন, আরও নিষেধ করিয়াছেন পুরুষদিগকে স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করিতে। রুকূতে কুরআন পাঠ করিতেও তিনি নিষেধ করিয়াছেন। قَسِّيِّ রেখাযুক্ত এক প্রকার রেশমী বস্ত্র এবং (معصفر) হলুদ বর্ণের বস্ত্র।

174

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي حَازِمٍ التَّمَّارِ عَنْ الْبَيَاضِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ عَلَى النَّاسِ وَهُمْ يُصَلُّونَ وَقَدْ عَلَتْ أَصْوَاتُهُمْ بِالْقِرَاءَةِ فَقَالَ إِنَّ الْمُصَلِّيَ يُنَاجِي رَبَّهُ فَلْيَنْظُرْ بِمَا يُنَاجِيهِ بِهِ وَلَا يَجْهَرْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ بِالْقُرْآنِ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ২৯. আবু হাযিম তাম্মার (রাহঃ) কর্তৃক বায়াযী (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদল লোকের কাছে আগমন করিলেন, সেই সময় তাহারা (ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হইয়া) নামায পড়িতেছিলেন এবং উচ্চকণ্ঠে কুরআন পড়িতেছিলেন। ইহা দেখিয়া তিনি বলিলেনঃ নামাযরত ব্যক্তি তাহার প্রতিপালকের সাথে মোনাজাত করে, কাজেই তাহার খেয়াল রাখা উচিত যে, কিরূপে তাহার প্রভুর সহিত আলাপ করিতেছে। আর তোমরা সরবে (নামাযে) কুরআন পাঠে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করিও না।
175

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ قُمْتُ وَرَاءَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ فَكُلُّهُمْ كَانَ لاَ يَقْرَأُ (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ) إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৩০. হুমায়দ-এ তবীল (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) বলিয়াছেনঃ আমি আবু বকর, উমর, উসমান (রাযিঃ)-এর পশ্চাতে (নামাযে) দাঁড়াইয়াছি। তাহাদের কেউই নামায আরম্ভ করার পর (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) সরবে পড়িতেন না।

176

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ كُنَّا نَسْمَعُ قِرَاءَةَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عِنْدَ دَارِ أَبِي جَهْمٍ بِالْبَلاَطِ .

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৩১. আবু সুহায়ল ইবনে মালিক (রাহঃ) কর্তৃক তাহার পিতা হইতে বর্ণিত-তিনি বলিয়াছেনঃ আমরা বলাত (بلاط) নামক স্থানে অবস্থিত আবু জুহায়মের বাড়ি হইতে উমর (রাযিঃ)-এর কিরা’আত শুনিতাম।
177
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا فَاتَهُ شَىْءٌ مِنَ الصَّلاَةِ مَعَ الإِمَامِ فِيمَا جَهَرَ فِيهِ الإِمَامُ بِالْقِرَاءَةِ أَنَّهُ إِذَا سَلَّمَ الإِمَامُ - قَامَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَقَرَأَ لِنَفْسِهِ فِيمَا يَقْضِي وَجَهَرَ .
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ، أَنَّهُ قَالَ كُنْتُ أُصَلِّي إِلَى جَانِبِ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ فَيَغْمِزُنِي فَأَفْتَحُ عَلَيْهِ وَنَحْنُ نُصَلِّي .

Narrator: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩২. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর নিয়ম ছিলঃ যে নামাযে ইমাম সরবে কিরা’আত পড়িতেন সেই নামাযে ইমামের সহিত কিছু অংশ ছুটিয়া গেলে ইমাম সালাম ফিরাইবার পর আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) দাঁড়াইয়া অবশিষ্ট নামায সরবে কিরা’আত সহকারে পড়িতেন।

ইয়াযিদ ইবনে রূমান (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ আমি নাফি’ ইবনে যুবায়র ইবনে মুতায়িম-এর পার্শ্বে দাঁড়াইয়া নামায পড়িতাম। তিনি আমাকে হস্ত দ্বারা যখন চাপ দিতেন অর্থাৎ ইশারা করিতেন তখন আমি তাহাকে কিরা’আত বলিয়া দিতাম, অথচ আমরা উভয়েই তখন নামাযে।

৭. ফজরের কিরা’আত

بَاب الْقِرَاءَةِ فِي الصُّبْحِ

178

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ صَلَّى الصُّبْحَ فَقَرَأَ فِيهَا سُورَةَ الْبَقَرَةِ فِي الرَّكْعَتَيْنِ كِلْتَيْهِمَا

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩৩. হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) ফজরের নামাযে পড়িলেন, তিনি ফজরের উভয় রাক'আতে সূরা বাকারা পাঠ করিলেন।
179

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ يَقُولُ صَلَّيْنَا وَرَاءَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ الصُّبْحَ فَقَرَأَ فِيهَا بِسُورَةِ يُوسُفَ وَسُورَةِ الْحَجِّ قِرَاءَةً بَطِيئَةً فَقُلْتُ وَاللَّهِ إِذًا لَقَدْ كَانَ يَقُومُ حِينَ يَطْلُعُ الْفَجْرُ قَالَ أَجَلْ

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩৪. হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রবী’আ-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ আমরা উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-এর পিছনে ফজরের নামায পড়িয়াছি। তিনি ফজরের নামাযে সূরা ইউসুফ ও সূরা হজ্জ ধীরেসুস্থে পাঠ করিয়াছিলেন। তিনি (হিশাম-এর পিতা) বলিলেনঃ তখন তো ফজর হইয়া যাইত অর্থাৎ চতুর্দিক আলোকিত হইয়া উঠিত। তিনি (আব্দুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রবী’আ) বললেনঃ হ্যাঁ।
180

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ وَرَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَنَّ الْفُرَافِصَةَ بْنَ عُمَيْرٍ الْحَنَفِيَّ قَالَ مَا أَخَذْتُ سُورَةَ يُوسُفَ إِلَّا مِنْ قِرَاءَةِ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ إِيَّاهَا فِي الصُّبْحِ مِنْ كَثْرَةِ مَا كَانَ يُرَدِّدُهَا لَنَا

Narrator: কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩৫. কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, ফারাফিসা ইবনে উমাইর আল-হানাফি (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) ফজরের নামাযে প্রায় সূরা ইউসূফ পাঠ করিতেন। তাহার (পুনঃ পুনঃ) তিলাওয়াত হইতেই আমি উক্ত সূরা কণ্ঠস্থ করিয়াছি।

১. নামাযের প্রতি আহবান

بَاب مَا جَاءَ فِي النِّدَاءِ لِلصَّلَاةِ

181

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَقْرَأُ فِي الصُّبْحِ فِي السَّفَرِ بِالْعَشْرِ السُّوَرِ الْأُوَلِ مِنْ الْمُفَصَّلِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَسُورَةٍ

Narrator: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩৬. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) ফজরের নামাযে ‘মুফাসসাল’ -এর প্রথম দশটি সূরা হইতে পাঠ করিতেন; প্রতি রাক'আতে উম্মুল কুরআন (ফাতিহা) এবং একটি সূরা।

৮. উম্মুল কুরআন প্রসঙ্গ

بَاب مَا جَاءَ فِي أُمِّ الْقُرْآنِ

182

حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْقُوبَ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ، مَوْلَى عَامِرِ بْنِ كُرَيْزٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَادَى أُبَىَّ بْنَ كَعْبٍ وَهُوَ يُصَلِّي فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلاَتِهِ لَحِقَهُ فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ عَلَى يَدِهِ وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يَخْرُجَ مِنْ بَابِ الْمَسْجِدِ فَقَالَ " إِنِّي لأَرْجُو أَنْ لاَ تَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ حَتَّى تَعْلَمَ سُورَةً مَا أَنْزَلَ اللَّهُ فِي التَّوْرَاةِ وَلاَ فِي الإِنْجِيلِ وَلاَ فِي الْقُرْآنِ مِثْلَهَا " . قَالَ أُبَىٌّ فَجَعَلْتُ أُبْطِئُ فِي الْمَشْىِ رَجَاءَ ذَلِكَ ثُمَّ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ السُّورَةَ الَّتِي وَعَدْتَنِي . قَالَ " كَيْفَ تَقْرَأُ إِذَا افْتَتَحْتَ الصَّلاَةَ " . قَالَ فَقَرَأْتُ (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) حَتَّى أَتَيْتُ عَلَى آخِرِهَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هِيَ هَذِهِ السُّورَةُ وَهِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي أُعْطِيتُ " .

Narrator: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৩৭. আলী ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াকুব (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, ’আমির ইবনে কুরায়য’-এর মাওলা আবু সাঈদ (রাহঃ) তাহার নিকট বর্ণনা করিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ)-কে ডাকিলেন, তখন তিনি নামায পড়িতেছিলেন। নামায শেষ করিয়া তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সমীপে হাযির হইলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপন হাত তাহার হাতের উপর রাখিলেন, তখন তিনি (উবাই ইবনে কা’ব) মসজিদের দরজা দিয়া বাহির হইতে চাহিতেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাহাকে বললেন, আমার ইচ্ছা যে, তুমি একটি সূরা জ্ঞাত না হইয়া মসজিদ হইতে বাহির হইবে না। সূরাটি এইরূপ যে, উহার সমতুল্য কোন সূরা তওরীত, ইন্যীল এমন কি খোদ কুরআন শরীফেও অবতীর্ণ হয় নাই। উবাই (রাযিঃ) বলিলেনঃ ইহা শুনিয়া সূরাটি জানিবার বাসনায় আমি ধীরে ধীরে চলিতে লাগিলাম। অতঃপর আমি বলিলামঃ হে আল্লাহর রাসূল! যেই সূরাটি জ্ঞাত করাইবার বিষয় আপনি আমাকে বলিয়াছেন, তাহা কোন সূরা? তিনি বললেন, তুমি নামায আরম্ভ করার পর কিরূপে কিরাআত পড়। উবাই (রাযিঃ) বলেন, আমি সূরা ফাতিহা শেষ পর্যন্ত তাহাকে পড়িয়া শুনাইলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইহাই সেই সূরা। (যে সূরার কথা বলিয়াছিলাম) এ সূরার নামই (السَّبْعُ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ)* যাহা আমাকে প্রদান করা হইয়াছে।

*সাবই-মাসানী-সুরা ফাতিহার সাত আয়াত যাহা পুনঃ পুনঃ আবুত্তি করা হয়। কুরআনুল আযীম অর্থ মহা কুরআন।
183

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ، وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ مَنْ صَلَّى رَكْعَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَلَمْ يُصَلِّ إِلاَّ وَرَاءَ الإِمَامِ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৩৮. আবু নুয়ায়ম ওহব ইবনে কায়সান (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি এমন এক রাক'আত নামায পড়িয়াছে যাহাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করে নাই তাহার নামায হয় নাই, অবশ্য যদি সেই ব্যক্তি ইমামের পশ্চাতে (নামায পড়িয়া) থাকে (তবে তাহার নামায শুদ্ধ হইয়াছে।)

৯. নীরবে যে নামাযে কিরা’আত পড়া হয় সেই নামাযে ইমামের পিছনে কুরআন পড়া

بَاب الْقِرَاءَةِ خَلْفَ الْإِمَامِ فِيمَا لَا يُجْهَرُ فِيهِ بِالْقِرَاءَةِ

184

حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْقُوبَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا السَّائِبِ، مَوْلَى هِشَامِ بْنِ زُهْرَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ صَلَّى صَلاَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهِيَ خِدَاجٌ هِيَ خِدَاجٌ هِيَ خِدَاجٌ غَيْرُ تَمَامٍ " . قَالَ فَقُلْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ إِنِّي أَحْيَانًا أَكُونُ وَرَاءَ الإِمَامِ قَالَ فَغَمَزَ ذِرَاعِي ثُمَّ قَالَ اقْرَأْ بِهَا فِي نَفْسِكَ يَا فَارِسِيُّ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَسَمْتُ الصَّلاَةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ فَنِصْفُهَا لِي وَنِصْفُهَا لِعَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ " . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْرَءُوا يَقُولُ الْعَبْدُ (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) يَقُولُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى حَمِدَنِي عَبْدِي وَيَقُولُ الْعَبْدُ (الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) يَقُولُ اللَّهُ أَثْنَى عَلَىَّ عَبْدِي وَيَقُولُ الْعَبْدُ (مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ) يَقُولُ اللَّهُ مَجَّدَنِي عَبْدِي يَقُولُ الْعَبْدُ (إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ) فَهَذِهِ الآيَةُ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ يَقُولُ الْعَبْدُ (اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ ) فَهَؤُلاَءِ لِعَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ " .

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৩৯. হিশাম ইবনে যোহরার মাওলা’ আবুস সায়িব (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে এইরূপ বর্ণনা করিতে শুনিয়াছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি নামায পড়িয়াছে, কিন্তু সে নামাযে উম্মুল কুরআন পড়ে নাই, তাহার নামায অসম্পূর্ণ, অসম্পূর্ণ, অসম্পূর্ণ।

আবুস সায়িব (রাহঃ) বলিলেনঃ আমি প্রশ্ন করিলাম, হে আবু হুরায়রা (রাযিঃ)! আমি অনেক সময় ইমামের পিছনে (নামায পড়িয়া) থাকি (তখন কিভাবে পড়িব?)। তিনি আমার বাজুতে চিমটি কাটিয়া বলিলেনঃ হে পারস্যের অধিবাসী! তুমি উহা মনে মনে পড়। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলিতে শুনিয়াছিঃ আল্লাহ তাআলা বলিয়াছেন- আমি নামাযকে (সূরা ফাতিহাকে) আমার বান্দা ও আমার মধ্যে আধা-আধি ভাগ করিয়াছি। উহার অর্ধেক আমার, অর্ধেক আমার বান্দার। আর আমার বান্দার জন্য তাহাই যাহা সে চায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ তোমরা পাঠ কর; (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) (বিশ্ব জগতের প্রতিপালক আল্লাহরই প্রাপ্য সমস্ত প্রশংসা), আল্লাহ (ইহার উত্তরে) বলেনঃ আমার বান্দা আমার প্রশংসা করিয়াছে। বান্দা বলে (الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ) (যিনি দয়াময়, পরম দয়ালু) আল্লাহ বলেনঃ আমার বান্দা আমার গুণ বর্ণনা করিয়াছে। বান্দা বলে (مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ) (কর্মফল দিবসের মালিক), আল্লাহ বলেনঃ আমার বান্দা আমার শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করিয়াছে। বান্দা বলে (إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ) (আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি, শুধু তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি), আল্লাহ বলেনঃ এই আয়াতটি আমার ও আমার বান্দার মধ্যে আধা-আধি বিভক্ত। আর আমার বান্দার জন্য তাহাই যাহা সে চায়। বান্দা বলেঃ (اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ) (আমাদিগকে সরলপথ প্রদর্শন কর, যাহাদিগকে তুমি অনুগ্রহ দান করিয়াছ, যাহারা ক্রোধ-নিপতিত নহে, পথভ্রষ্ট নহে।) আল্লাহ্ বলেনঃ এই আয়াতগুলি আমার বান্দারই। (অর্থাৎ এই প্রার্থনা আমার বান্দার পক্ষ হইতে) এবং তাহার জন্য উহা যাহা সে চায়।
185

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ يَقْرَأُ خَلْفَ الإِمَامِ فِيمَا لاَ يَجْهَرُ فِيهِ الإِمَامُ بِالْقِرَاءَةِ .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪০. হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করিয়াছেনঃ ইমাম যে সকল নামাযে নীরবে কিরাআত পড়িতেন সেই নামাযে তিনি ইমামের পিছনে কিরাআত পড়িতেন।
186

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، وَعَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ، كَانَ يَقْرَأُ خَلْفَ الإِمَامِ فِيمَا لاَ يَجْهَرُ فِيهِ الإِمَامُ بِالْقِرَاءَةِ .

Narrator: কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪১. কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) যেসব নামাযে ইমাম কিরাআত সরবে পড়িতেন না সেসব নামাযে ইমামের পিছনে কিরাআত পড়িতেন।
187

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ، أَنَّ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، كَانَ يَقْرَأُ خَلْفَ الإِمَامِ فِيمَا لاَ يَجْهَرُ فِيهِ بِالْقِرَاءَةِ . قَالَ مَالِكٌ وَذَلِكَ أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَىَّ فِي ذَلِكَ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪২. মালিক (রাহঃ) য়াযিদ ইবনে রূমান (রাহঃ) হইতে বর্ণনা করেন; যেসব নামাযে ইমাম সরবে কিরাআত পড়িতেন না সেই সব নামাযে নাফি ইবনে জুবায়র ইবনে মুতয়িম (রাহঃ) ইমামের পিছনে কিরাআত পড়িতেন।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বর্ণনা করিয়াছেন যে, মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেন- এই বিষয়ে আমি যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহাই আমার মনঃপূত।

১০. যাহরী নামাযে ইমামের পিছনে কিরাআত পড়া হইতে বিরত থাকা

بَاب تَرْكِ الْقِرَاءَةِ خَلْفَ الْإِمَامِ فِيمَا جَهَرَ فِيهِ

188

حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ إِذَا سُئِلَ: هَلْ يَقْرَأُ أَحَدٌ خَلْفَ الْإِمَامِ؟ قَالَ: «إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ خَلْفَ الْإِمَامِ فَحَسْبُهُ قِرَاءَةُ الْإِمَامِ، وَإِذَا صَلَّى وَحْدَهُ فَلْيَقْرَأْ» ، قَالَ: وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ «لَا يَقْرَأُ خَلْفَ الْإِمَامِ» قَالَ يَحْيَى: سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ: «الْأَمْرُ عِنْدَنَا أَنْ يَقْرَأَ الرَّجُلُ وَرَاءَ الْإِمَامِ، فِيمَا لَا يَجْهَرُ فِيهِ الْإِمَامُ بِالْقِرَاءَةِ، وَيَتْرُكُ الْقِرَاءَةَ فِيمَا يَجْهَرُ فِيهِ الْإِمَامُ بِالْقِرَاءَةِ»

Narrator: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪৩. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করা হইত, ইমামের পিছনে কেউ কুরআন পাঠ করিবে কি? তিনি বলিতেনঃ তোমাদের কেউ যখন ইমামের পিছনে নামায পড়ে তখন ইমামের কিরাআতই তাহার জন্য যথেষ্ট। আর একা নামায পড়িলে অবশ্য কুরআন পাঠ করিবে। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) নিজেও ইমামের পিছনে কুরআন পাঠ করিতেন না।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বলেনঃ আমি মালিক (রাহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছিঃ আমার মতে যেসব নামাযে ইমাম সরবে কুরআন পাঠ করেন সেসব নামাযে মুক্তাদীগণ কিরাআত হইতে বিরত থাকিবেন। আর যেসব নামাযে ইমাম নীরবে কুরআন পাঠ করেন সেসব নামাযে তাহারা কুরআন পাঠ করিবেন।*

*যেসব নামাযে সরবে কুরআন পাঠ করা হয়, যেমন ফজর মাগরিব, ইশা, জুমুআ ইত্যাদি, সেসব নামাযকে ‘যাহরী’ নামায বলা হয়। আর যে সকল নামাযে নীরবে কিরাআত পড়া হয় সে সকল নামাযকে ‘সিররী’ নামায বলা হয়।
189

وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مالِكٍ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ أُكَيْمَةَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انْصَرَفَ مِنْ صَلَاةٍ جَهَرَ فِيهَا بِالْقِرَاءَةِ، فَقَالَ: «هَلْ قَرَأَ مَعِي مِنْكُمْ أَحَدٌ آنِفًا» ؟ فَقَالَ رَجُلٌ: نَعَمْ. أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي أَقُولُ مَا لِي أُنَازَعُ الْقُرْآنَ» ، فَانْتَهَى النَّاسُ عَنِ الْقِرَاءَةِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فِيمَا جَهَرَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْقِرَاءَةِ، حِينَ سَمِعُوا ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৪৪. ইবনে উকায়মা লায়সী (রাহঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সরবে কুরআন পাঠ করা হইয়াছে এমন একটি নামায সমাপ্ত করিলেন। অতঃপর বললেনঃ তোমাদের কেউ এখন (নামাযে) আমার সাথে কুরআন পড়িয়াছ কি? উত্তরে এক ব্যক্তি বলিলঃ হ্যাঁ, আমি পড়িয়াছিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলিলেনঃ ইহার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেনঃ আমি (মনে মনে) বলিতেছিলাম, আমার কী হইল, কুরআন পাঠে আমার সাথে মুকাবিলা করা হইতেছে কেন! ইহা শুনিয়া লোকেরা (নামাযে ইমামের পিছনে) কুরআন পড়া হইতে বিরত হইলেন। যে নামাযে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সরবে কুরআন পাঠ করিয়াছিলেন, সেইরূপ নামাযেই তিনি (কোন সাহাবী কর্তৃক কুরআন পড়িতে) শুনিয়াছিলেন।

১১. ইমামের পিছনে ’আমীন’ বলা

بَاب مَا جَاءَ فِي التَّأْمِينِ خَلْفَ الْإِمَامِ

190

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أَمَّنَ الْإِمَامُ فَأَمِّنُوا فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ آمِينَ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৪৫. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যখন ইমাম আমীন (امين) বলেন তখন তোমরাও আমীন বল। কেননা যাহার আমীন ফিরিশতাদের আমীন-এর সহিত একত্রে উচ্চারিত হয় তাহার পূর্বের গুনাহ মাফ করা হয়।

ইবনে শিহাব (রাহঃ) (এই হাদীসের একজন রাবী) বলিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিতেন, আমীন।
191

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ سُمَيٍّ مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا قَالَ الْإِمَامُ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ فَقُولُوا آمِينَ فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৪৫. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ ইমাম যখন (غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ) বলিবেন তখন তোমরা আমীন বলিও। যাহার বাক্য ফিরিশতাদের (আমীন) বাক্যের সহিত মিলিত হইবে তাহার পূর্বের গুনাহ মাফ করা হইবে।

192

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا قَالَ أَحَدُكُمْ آمِينَ وَقَالَتْ الْمَلَائِكَةُ فِي السَّمَاءِ آمِينَ فَوَافَقَتْ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৪৬. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যখন তোমাদের কেউ আমীন বলে তখন আসমানের ফিরিশতাগণও আমীন বলেন। ফলে যদি এক আমীন (যাহা তোমাদের কেউ বলিয়াছে) দ্বিতীয় আমীন’-এর সাথে (যাহা ফিরিশতাগণ বলিয়াছেন) মিলিত হয় তবে তাহার পূর্বের সকল গুনাহ্ ক্ষমা করা হয়।

193

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ سُمَيٍّ مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا قَالَ الْإِمَامُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ৪৭. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ ইমাম (سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ) বলিলে তোমরা বলিবে (اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ) কেননা যাহার বাক্য ফিরিশতাদের বাক্যের সহিত মিলিত হয় তাহার পূর্বের পাপসমূহ মাফ করা হয়।

১২. নামাযে বসা প্রসঙ্গ

بَاب الْعَمَلِ فِي الْجُلُوسِ فِي الصَّلَاةِ

194

حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُعَاوِيِّ، أَنَّهُ قَالَ رَآنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَأَنَا أَعْبَثُ بِالْحَصْبَاءِ فِي الصَّلاَةِ فَلَمَّا انْصَرَفْتُ نَهَانِي وَقَالَ اصْنَعْ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ . فَقُلْتُ وَكَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ قَالَ كَانَ إِذَا جَلَسَ فِي الصَّلاَةِ وَضَعَ كَفَّهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى وَقَبَضَ أَصَابِعَهُ كُلَّهَا وَأَشَارَ بِأَصْبُعِهِ الَّتِي تَلِي الإِبْهَامَ وَوَضَعَ كَفَّهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى وَقَالَ هَكَذَا كَانَ يَفْعَلُ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৪৮. মুসলিম ইবনে আবু মারইয়াম (রাহঃ) আলী ইবনে আব্দুর রহমান মূআবী (রাহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) আমাকে দেখিলেন, আমি ছোট ছোট কংকর লইয়া নামাযে খেলিতেছি। আমি নামায পড়িয়া ফিরিলে তিনি আমাকে এইরূপ করিতে নিষেধ করিলেন এবং বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (নামাযে) যেরূপ করিয়াছেন তুমিও সেইরূপ করবে। আমি (আলী ইবনে আব্দুর রহমান) বলিলামঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কিরূপ করিতেন? তিনি (আব্দুল্লাহ ইবনে উমর) বললেনঃ আত্তাহিয়াতু পড়ার জন্য নামাযে যখন বসিতেন, তখন তিনি ডান করতল ডান উরুর উপর রাখিতেন এবং হাতের আঙুলগুলি সংকুচিত করিয়া নিতেন। অতঃপর ইবহাম-এর (ابهام) (বৃদ্ধাঙ্গুলির পার্শ্বপতী আঙুল) দ্বারা ইশারা করিতেন এবং বাম করতলকে বাম উরুর উপর রাখিতেন, তিনি তারপর বলিলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এইরূপই করিতেন।

195

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، وَصَلَّى، إِلَى جَنْبِهِ رَجُلٌ فَلَمَّا جَلَسَ الرَّجُلُ فِي أَرْبَعٍ تَرَبَّعَ وَثَنَى رِجْلَيْهِ فَلَمَّا انْصَرَفَ عَبْدُ اللَّهِ عَابَ ذَلِكَ عَلَيْهِ فَقَالَ الرَّجُلُ فَإِنَّكَ تَفْعَلُ ذَلِكَ . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَإِنِّي أَشْتَكِي

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪৯. আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রাহঃ) আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে শুনিয়াছেন যে, তাহার পার্শ্বে এক ব্যক্তি নামায পড়িলেন। যখন তিনি চার রাক'আতের পর বসিলেন তখন পিড়িতে বসার মত বসিলেন। পা দুইটি বিছাইয়া দিলেন। নামায সমাপ্ত করার পর আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) তাহাকে এইরূপ বসার জন্য দোষারোপ করিলেন। ঐ ব্যক্তি বলিলেনঃ আপনি যে এইরূপভাবে বসেন! আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বললেনঃ আমার রোগ আছে।
196

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ صَدَقَةَ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ حَكِيمٍ، أَنَّهُ رَأَى عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَرْجِعُ فِي سَجْدَتَيْنِ فِي الصَّلاَةِ عَلَى صُدُورِ قَدَمَيْهِ فَلَمَّا انْصَرَفَ ذَكَرَ لَهُ ذَلِكَ فَقَالَ إِنَّهَا لَيْسَتْ سُنَّةَ الصَّلاَةِ وَإِنَّمَا أَفْعَلُ هَذَا مِنْ أَجْلِ أَنِّي أَشْتَكِي

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৫০. মুগীরা ইবনে হাকীম (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে দুই সিজদার মাজখানে তাহার উভয় পায়ের গোড়ালির উপর বসিতে দেখিয়াছেন। নামায শেষ করার পর তাহার নিকট এ বিষয়ে উত্থাপন করা হইলে, তিনি বলিলেনঃ ইহা নামাযের সুন্নত নহে। আমি অসুস্থতার কারণে এইভাবে বসি।

197

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ كَانَ يَرَى عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَتَرَبَّعُ فِي الصَّلَاةِ إِذَا جَلَسَ قَالَ فَفَعَلْتُهُ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ حَدِيثُ السِّنِّ فَنَهَانِي عَبْدُ اللَّهِ وَقَالَ إِنَّمَا سُنَّةُ الصَّلَاةِ أَنْ تَنْصِبَ رِجْلَكَ الْيُمْنَى وَتَثْنِيَ رِجْلَكَ الْيُسْرَى فَقُلْتُ لَهُ فَإِنَّكَ تَفْعَلُ ذَلِكَ فَقَالَ إِنَّ رِجْلَيَّ لَا تَحْمِلَانِي

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৫১. আব্দুর রহমান ইবনে কাসিম (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাহঃ) তাহার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে নামাযে বসাকালে পিড়িতে বসার মত (চার জানু) হইয়া বসিতে দেখিতেন। তিনি আরও বলিয়াছেনঃ আমিও (উহা দেখিয়া) সেইভাবে বসিলাম। তখন আমি তরুণ। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) আমাকে (এইভাবে বসিতে) নিষেধ করিলেন এবং বলিলেনঃ নামাযের সুন্নত হইতেছে ডান পা খাড়া রাখিয়া বাম পা বিছাইয়া দেওয়া। আমি বলিয়া উঠিলামঃ আপনি যে এইরূপ করেন (পিড়িতে বসার মত বসেন)। তিনি বলিলেনঃ আমার পদদ্বয় (বসিবার সময়) আমার ভার বহন করিতে অক্ষম।

198

وَحَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ، أَرَاهُمُ الْجُلُوسَ فِي التَّشَهُّدِ فَنَصَبَ رِجْلَهُ الْيُمْنَى وَثَنَى رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَجَلَسَ عَلَى وَرِكِهِ الأَيْسَرِ وَلَمْ يَجْلِسْ عَلَى قَدَمِهِ ثُمَّ قَالَ أَرَانِي هَذَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ وَحَدَّثَنِي أَنَّ أَبَاهُ كَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ

Narrator: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫২. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) আমাদিগকে আত্তাহিয়্যাতু’ পড়ার সময় বসার নিয়ম দেখাইলেন। তিনি ডান পা খাড়া রাখলেন এবং বাম পা বিছাইয়া দিলেন। পায়ের উপর না বসিয়া বাম নিতম্বের উপর বসিলেন। অতঃপর বলিলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাহঃ) আমাকে বসার এইরূপ পদ্ধতি দেখাইয়াছেন এবং তিনি বলিয়াছেনঃ তাহার পিতা এইরূপ করিতেন।

১৩. তাশাহহুদ

بَاب التَّشَهُّدِ فِي الصَّلَاةِ

199

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ يُعَلِّمُ النَّاسَ التَّشَهُّدَ يَقُولُ قُولُوا التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ الزَّاكِيَاتُ لِلَّهِ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ৫৩. আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল কারী (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-কে মিম্বরে আরোহণ করিয়া লোকদিগকে তাশাহহুদ তালীম দিতে শুনিয়াছেন।

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ الزَّاكِيَاتُ لِلَّهِ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

তিনি বলতেনঃ আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহিয যাকিয়াতু লিল্লাহিত তায়্যিবাতু আসসালাওয়াতু লিল্লাহি আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান্নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকআতুহু আসসালামু আলাইনা ওআলা ইবাদিল্লাহিস সালিহিনা আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রসূলুহু।
200

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ يَتَشَهَّدُ فَيَقُولُ بِسْمِ اللَّهِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ الزَّاكِيَاتُ لِلَّهِ السَّلَامُ عَلَى النَّبِيِّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ شَهِدْتُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ شَهِدْتُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ يَقُولُ هَذَا فِي الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ وَيَدْعُو إِذَا قَضَى تَشَهُّدَهُ بِمَا بَدَا لَهُ فَإِذَا جَلَسَ فِي آخِرِ صَلَاتِهِ تَشَهَّدَ كَذَلِكَ أَيْضًا إِلَّا أَنَّهُ يُقَدِّمُ التَّشَهُّدَ ثُمَّ يَدْعُو بِمَا بَدَا لَهُ فَإِذَا قَضَى تَشَهُّدَهُ وَأَرَادَ أَنْ يُسَلِّمَ قَالَ السَّلَامُ عَلَى النَّبِيِّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ عَنْ يَمِينِهِ ثُمَّ يَرُدُّ عَلَى الْإِمَامِ فَإِنْ سَلَّمَ عَلَيْهِ أَحَدٌ عَنْ يَسَارِهِ رَدَّ عَلَيْهِ

Narrator: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫৪. নাফি (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) তাশাহহুদ এইরূপ পড়িতেনঃ

بِسْمِ اللَّهِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ الزَّاكِيَاتُ لِلَّهِ السَّلاَمُ عَلَى النَّبِيِّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ شَهِدْتُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ شَهِدْتُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ

বিসমিল্লাহি আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি আসসালাওয়াতু লিল্লাহি আযযাকিয়াতু লিল্লাহি, আসসালামু আলাননাবিয়্যি ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকআতুহু আসসালামু আলাইনা ও’আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন। শাহিদতু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু শাহিদতু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্।

প্রথম দুই রাক'আতের পর তিনি উক্ত তাশাহহুদ পাঠ করিতেন। তাশাহহদ পাঠ সমাপ্ত করিয়া তাহার পছন্দমত দুআ পাঠ করিতেন। নামাযের সর্বশেষ রাক'আতে যখন বসিতেন তখনও অনুরূপ তাশাহুহুদ পড়িতেন । অবশ্য তিনি তাশাহহুদ আগে পাঠ করিয়া পরে যাহা ইচ্ছা দুআ পাঠ করিতেন। তারপর তাশাহহুদ পড়ার পর সালাম-এর ইচ্ছা করিলে বলিতেনঃ

السَّلاَمُ عَلَى النَّبِيِّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ

প্রথমে ডান দিকে, তারপর ইমামের প্রতি অর্থাৎ সামনের দিকে সালাম দিতেন। অতঃপর কেউ বাম দিক হইতে সালাম দিলে উহার উত্তর দিতেন।
201

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا كَانَتْ تَقُولُ إِذَا تَشَهَّدَتْ التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ الزَّاكِيَاتُ لِلَّهِ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৫৫. আব্দুর রহমান ইবনে কাসিম (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করিয়াছেন- নবী করীম (ﷺ)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) তাশাহুহুদ পড়ার সময় বলিতেনঃ

التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ الزَّاكِيَاتُ لِلَّهِ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ
202
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانَتْ تَقُولُ إِذَا تَشَهَّدَتِ التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ الزَّاكِيَاتُ لِلَّهِ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ .
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ وَنَافِعًا مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ عَنْ رَجُلٍ دَخَلَ مَعَ الْإِمَامِ فِي الصَّلَاةِ وَقَدْ سَبَقَهُ الْإِمَامُ بِرَكْعَةٍ أَيَتَشَهَّدُ مَعَهُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ وَالْأَرْبَعِ وَإِنْ كَانَ ذَلِكَ لَهُ وِتْرًا فَقَالَا لِيَتَشَهَّدْ مَعَهُ قَالَ مَالِك وَهُوَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا

Narrator: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫৬. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ তাহাকে বলিলেন যে, নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) তাশাহহুদ পড়ার সময় বলিতেনঃ

التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ الزَّاكِيَاتُ لِلَّهِ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ

মালিক (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি ইবনে শিহাব ও নাফি’ (মাওলা ইবনে উমর) (রাহঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিয়াছেনঃ এক ব্যক্তি জামাতে শামিল হইল, ইতিপূর্বে ইমাম এক রাক'আত শেষ করিয়াছেন, সে ইমামের সাথে দ্বিতীয় ও চতুর্থ রাক’আতে তাশাহহুদ পড়িবে কি, যদিও সে তিন রাক’আতই পড়িল? উভয়ে (উত্তরে) বলিলেনঃ হ্যাঁ, সে ইমামের সাথে তাশাহহুদ পড়িবে।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ আমাদের (মদীনাবাসীদের) আমলও অনুরূপ।

১৪. যে ব্যক্তি (রুকূ’ অথবা সিজদা হইতে) ইমামের পূর্বে মাথা উত্তোলন করে তাহার কি করিতে হইবে

بَاب مَا يَفْعَلُ مَنْ رَفَعَ رَأْسَهُ قَبْلَ الْإِمَامِ

203
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَلْقَمَةَ عَنْ مَلِيحِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ السَّعْدِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ الَّذِي يَرْفَعُ رَأْسَهُ وَيَخْفِضُهُ قَبْلَ الْإِمَامِ فَإِنَّمَا نَاصِيَتُهُ بِيَدِ شَيْطَانٍ
قَالَ مَالِك فِيمَنْ سَهَا فَرَفَعَ رَأْسَهُ قَبْلَ الْإِمَامِ فِي رُكُوعٍ أَوْ سُجُودٍ إِنَّ السُّنَّةَ فِي ذَلِكَ أَنْ يَرْجِعَ رَاكِعًا أَوْ سَاجِدًا وَلَا يَنْتَظِرُ الْإِمَامَ وَذَلِكَ خَطَأٌ مِمَّنْ فَعَلَهُ لِأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَلَا تَخْتَلِفُوا عَلَيْهِ وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ الَّذِي يَرْفَعُ رَأْسَهُ وَيَخْفِضُهُ قَبْلَ الْإِمَامِ إِنَّمَا نَاصِيَتُهُ بِيَدِ شَيْطَانٍ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৫৭. মলিহ্ ইবনে আব্দুল্লাহ্ সাদী (রাহঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি ইমামের পূর্বে মাথা তোলে অথবা ঝোঁকায় তাহার কপাল শয়তানের হাতে।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বলেন, মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি ভুলবশত রুকূ-সিজদায় ইমামের পূর্বে মাথা উঠাইয়াছে তাহার বিষয়ে সুন্নাহ বা নিয়ম হইল, সে পুনরায় রুকূ অথবা সিজদায় ফিরিয়া যাইবে। ইহাতে সে ইমামের অপেক্ষা করিবে না। কেননা যে ব্যক্তি ইহা করিয়াছে, সে ভুল করিয়াছে। কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ অনুসরণের জন্যই ইমাম নিযুক্ত করা হইয়াছে। কাজেই তোমরা ইমামের বরখেলাফ করিও না। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি ইমামের পূর্বে মাথা উঠায় অথবা ঝোঁকায় তাহার কপাল শয়তানের হাতে।

১৫. দুই রাক’আত পড়ার পর ভুলবশত কেউ সালাম ফিরাইলে তাহার কি করা কর্তব্য

بَاب مَا يَفْعَلُ مَنْ سَلَّمَ مِنْ رَكْعَتَيْنِ سَاهِيًا

204

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَيُّوبَ بْنِ أَبِي تَمِيمَةَ السَّخْتِيَانِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ انْصَرَفَ مِنَ اثْنَتَيْنِ فَقَالَ لَهُ ذُو الْيَدَيْنِ أَقَصُرَتْ الصَّلَاةُ أَمْ نَسِيتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَدَقَ ذُو الْيَدَيْنِ فَقَالَ النَّاسُ نَعَمْ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ أُخْرَيَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ كَبَّرَ فَسَجَدَ مِثْلَ سُجُودِهِ أَوْ أَطْوَلَ ثُمَّ رَفَعَ ثُمَّ كَبَّرَ فَسَجَدَ مِثْلَ سُجُودِهِ أَوْ أَطْوَلَ ثُمَّ رَفَعَ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৫৮. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (একবার) দুই রাক'আত (পড়িয়া) নামায সমাপ্ত করিলেন, তখন যুল-ইয়াদায়ন (সাহাবী) তাহাকে বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! নামায সংক্ষিপ্ত করা হইয়াছে, না আপনার ভুল হইয়াছে? ইহা শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (উপস্থিত মুসল্লীদের সম্বোধন করিয়া) বলিলেনঃ যুল-ইয়াদায়ন ঠিক বলিয়াছেন কি? লোকেরা বললেনঃ হ্যাঁ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠিলেন এবং শেষের দুই রাক'আত পড়িলেন, তারপর সালাম ফিরাইয়া আল্লাহু আকবার বলিয়া সিজদা করিলেন, পূর্বের মত (সিজদা) অথবা তাহা হইতে দীর্ঘ সিজদা। অতঃপর (পবিত্র) শির উঠাইলেন, পুনরায় তকবীর বলিয়া সিজদায় গেলেন, পূর্বের (সিজদার) মত অথবা উহা হইতে দীর্ঘ সিজদা, অতঃপর (পবিত্র) শির উঠাইলেন।

205

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ مَوْلَى ابْنِ أَبِي أَحْمَدَ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الْعَصْرِ فَسَلَّمَ فِي رَكْعَتَيْنِ فَقَامَ ذُو الْيَدَيْنِ فَقَالَ أَقَصُرَتْ الصَّلَاةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمْ نَسِيتَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلُّ ذَلِكَ لَمْ يَكُنْ فَقَالَ قَدْ كَانَ بَعْضُ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ أَصَدَقَ ذُو الْيَدَيْنِ فَقَالُوا نَعَمْ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَمَّ مَا بَقِيَ مِنْ الصَّلَاةِ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ بَعْدَ التَّسْلِيمِ وَهُوَ جَالِسٌ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৫৯. আবু আহমদ (রাহঃ)-এর পুত্রের মাওলা আবু সুফইয়ান (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (একদা) আসরের নামায পড়িলেন, তিনি (উহাতে) দুই রাক'আতের পর সালাম ফিরাইলেন। যুল-ইয়াদায়ন দাঁড়াইয়া বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল। নামায কমাইয়া দেওয়া হইয়াছে না আপনি ভুলিয়া গিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফরমাইলেন, (আমার মনে হয়) উভয়ের কোনটাই ঘটে নাই। যুল-ইয়াদায়ন বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! একটা কিছু ঘটিয়াছে। (ইহা শোনার পর) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পবিত্র মুখমণ্ডল সাহাবাদের দিকে করিলেন এবং জিজ্ঞাসা করিলেন , যুল-ইয়াদায়ন কি ঠিক বলিতেছেন? উপস্থিত সাহাবা বলিলেনঃ হ্যাঁ। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়াইলেন এবং অবশিষ্ট নামায পূর্ণ করিলেন। তারপর সালামের পর বসা অবস্থায় দুইটি সিজদা করিলেন।

206

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكَعَ رَكْعَتَيْنِ مِنْ إِحْدَى صَلاَتَىِ النَّهَارِ - الظُّهْرِ أَوِ الْعَصْرِ - فَسَلَّمَ مِنَ اثْنَتَيْنِ فَقَالَ لَهُ ذُو الشِّمَالَيْنِ أَقَصُرَتِ الصَّلاَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمْ نَسِيتَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا قَصُرَتِ الصَّلاَةُ وَمَا نَسِيتُ " . فَقَالَ ذُو الشِّمَالَيْنِ قَدْ كَانَ بَعْضُ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى النَّاسِ فَقَالَ " أَصَدَقَ ذُو الْيَدَيْنِ " . فَقَالُوا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَأَتَمَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا بَقِيَ مِنَ الصَّلاَةِ ثُمَّ سَلَّمَ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৬০. আবু বকর ইবনে সুলায়মান ইবনে আবি হাসমা (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দিনের কোন এক নামায- যোহর কিংবা আসরে দুই রাক'আত পড়িয়া সালাম ফিরাইলেন, তখন বনি যোহরা ইবনে কিলাব গোত্রের যুশ-শিমালায়ন (রাযিঃ) নামক জনৈক সাহাবী বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! নামায কি সংক্ষিপ্ত করা হইয়াছে, না আপনি ভুলিয়া গিয়াছেন? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফরমাইলেনঃ নামাযও সংক্ষিপ্ত করা হয় নাই, আমিও ভুলি নাই। যুশ-শিমালায়ন (রাযিঃ) পুনরায় বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (অবশ্যই) কোন একটা হইয়াছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চেহারা মুবারক লোকের দিকে করিলেন এবং বলিলেনঃ যুশ-শিমালায়ন ঠিক বলিয়াছে কি? (উপস্থিত) লোকজন বলিলেনঃ হ্যাঁ। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অবশিষ্ট নামায পূর্ণ করিলেন। অতঃপর সালাম ফিরাইলেন।

207

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَعَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، مِثْلَ ذَلِكَ . قَالَ مَالِكٌ كُلُّ سَهْوٍ كَانَ نُقْصَانًا مِنَ الصَّلاَةِ فَإِنَّ سُجُودَهُ قَبْلَ السَّلاَمِ وَكُلُّ سَهْوٍ كَانَ زِيَادَةً فِي الصَّلاَةِ فَإِنَّ سُجُودَهُ بَعْدَ السَّلاَمِ .

Narrator: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬১. সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) এবং আবি সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) হইতে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বর্ণনা করেন যে, মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ভুলে নামাযে ঘাটতি হয়, উহাতে সালামের পূর্বে সিজদা করিতে হয়। আর যে ভুলে বৃদ্ধি হয় উহাতে সালামের পরে সিজদা করিতে হয়।

১৬. নামাযে সংশয় সৃষ্টি হইলে মুসল্লীর স্মরণ যুমুতাবিক নামায পূর্ণ করা

بَاب إِتْمَامِ الْمُصَلِّي مَا ذَكَرَ إِذَا شَكَّ فِي صَلَاتِهِ

208

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاتِهِ فَلَمْ يَدْرِ كَمْ صَلَّى أَثَلَاثًا أَمْ أَرْبَعًا فَلْيُصَلِّي رَكْعَةً وَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ قَبْلَ التَّسْلِيمِ فَإِنْ كَانَتْ الرَّكْعَةُ الَّتِي صَلَّى خَامِسَةً شَفَعَهَا بِهَاتَيْنِ السَّجْدَتَيْنِ وَإِنْ كَانَتْ رَابِعَةً فَالسَّجْدَتَانِ تَرْغِيمٌ لِلشَّيْطَانِ

Narrator: আতা ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬২. আতা ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফরমাইয়াছেনঃ তোমাদের কেউ যদি নামাযের মধ্যে সন্দেহগ্ৰস্ত হয়, তদ্দরুন তিন রাক'আত পড়িয়াছে না চার রাক'আত পড়িয়াছে তাহা স্মরণ করতে না পারে তবে সে আর এক রাক'আত পড়িবে এবং বসা অবস্থায়ই সালামের পূর্বে দুইটি সিজদা করিবে। যে (এক) রাক’আত সে পড়িয়াছে তাহা যদি পঞ্চম রাক'আত হইয়া থাকে, তবে উক্ত দুই সিজদা (ষষ্ঠ রাক'আতের পরিবর্তে গণ্য করা হইবে এবং) ঐ নামাযকে জোড় নামাযে পরিণত করবে। আর যদি উহা চতুর্থ রাক'আত হয়, তবে দুই সিজদা শয়তানের অপমানের কারণ হইবে।
209

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يَقُولُ إِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَتِهِ فَلْيَتَوَخَّ الَّذِي يَظُنُّ أَنَّهُ نَسِيَ مِنْ صَلاَتِهِ فَلْيُصَلِّهِ ثُمَّ لِيَسْجُدْ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ وَهُوَ جَالِسٌ .

Narrator: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬৩. সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, তোমাদের কেউ নামাযে (কত রাক'আত পড়া হইল সে বিষয়) সন্দেহে লিপ্ত হইলে সে তাহার ধারণা মত কত রাক'আত নামায ভুলিয়া গিয়াছে, উহা স্থির করিবে এবং (সে মত) নামায পড়িবে। তারপর বসা অবস্থায় ভুলের জন্য দুইটি সিজদা করিবে।
210
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَفِيفِ بْنِ عَمْرٍو السَّهْمِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ قَالَ سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَكَعْبَ الأَحْبَارِ عَنِ الَّذِي، يَشُكُّ فِي صَلاَتِهِ فَلاَ يَدْرِي كَمْ صَلَّى أَثَلاَثًا أَمْ أَرْبَعًا فَكِلاَهُمَا قَالَ لِيُصَلِّي رَكْعَةً أُخْرَى ثُمَّ لِيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ .
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا سُئِلَ عَنِ النِّسْيَانِ، فِي الصَّلاَةِ قَالَ لِيَتَوَخَّ أَحَدُكُمُ الَّذِي يَظُنُّ أَنَّهُ نَسِيَ مِنْ صَلاَتِهِ فَلْيُصَلِّهِ .

Narrator: আতা ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬৪. আতা ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ’স (রাযিঃ) এবং কা’ব আল-আহবার (রাহঃ)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করিয়াছি, যে ব্যক্তি নামাযে সংশয়ে লিপ্ত হয়, অতঃপর সে বলিতে পারে না কত রাক'আত পড়িয়াছে - তিন রাক'আত না চারি রাক'আত। তখন তাহারা (উত্তরে) বলিলেন যে, সে আর এক রাক'আত পড়িবে। তারপর বসা অবস্থায়ই দুইটি সিজদা করিবে।

মালিক (রাহঃ) নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে নামাযে ভুলিয়া যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হইলে (উত্তরে) তিনি বলিতেনঃ যে ব্যক্তি মনে করে যে, কিছু নামায ভুলিয়া গিয়াছে সে ভাবিয়া ঠিক করিবে, অতঃপর নামায পড়িয়া লইবে।

১৭. যে ব্যক্তি নামায পূর্ণ করার পর অথবা দুই রাক’আত পড়ার পর দাঁড়াইয়া যায়

بَاب مَنْ قَامَ بَعْدَ الْإِتْمَامِ أَوْ فِي الرَّكْعَتَيْنِ

211

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ بُحَيْنَةَ أَنَّهُ قَالَ صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ فَلَمْ يَجْلِسْ فَقَامَ النَّاسُ مَعَهُ فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ وَنَظَرْنَا تَسْلِيمَهُ كَبَّرَ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ قَبْلَ التَّسْلِيمِ ثُمَّ سَلَّمَ

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক বুহায়না (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৬৫. আব্দুল্লাহ ইবনে বুহায়না (রাযিঃ) বলিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (একবার) আমাদিগকে দুই রাক'আত নামায পড়াইয়া (আত্তাহিয়্যাতু পড়িতে না বসিয়াই) দাঁড়াইয়া গেলেন। মুসল্লীগণ তাহার সহিত দাঁড়াইলেন। তারপর যখন নামায পূর্ণ করিলেন এবং আমরা সালামের অপেক্ষায় রহিলাম তখন তিনি আল্লাহু আকবার’ বলিলেন। অতঃপর সালামের পূর্বে বসা অবস্থায়ই দুইটি সিজদা করিলেন এবং সালাম ফিরাইলেন।

212
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هُرْمُزَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ بُحَيْنَةَ، أَنَّهُ قَالَ صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ فَقَامَ فِي اثْنَتَيْنِ وَلَمْ يَجْلِسْ فِيهِمَا فَلَمَّا قَضَى صَلاَتَهُ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ بَعْدَ ذَلِكَ .
قَالَ مَالِك فِيمَنْ سَهَا فِي صَلَاتِهِ فَقَامَ بَعْدَ إِتْمَامِهِ الْأَرْبَعَ فَقَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنْ رُكُوعِهِ ذَكَرَ أَنَّهُ قَدْ كَانَ أَتَمَّ إِنَّهُ يَرْجِعُ فَيَجْلِسُ وَلَا يَسْجُدُ وَلَوْ سَجَدَ إِحْدَى السَّجْدَتَيْنِ لَمْ أَرَ أَنْ يَسْجُدَ الْأُخْرَى ثُمَّ إِذَا قَضَى صَلَاتَهُ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ بَعْدَ التَّسْلِيمِ

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক বুহায়না (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৬৬. আব্দুল্লাহ ইবনে বুহায়না (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেন, (একবারের ঘটনা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে যোহরের নামায পড়াইলেন, তিনি দুই রাক'আতের পর দাঁড়াইয়া গেলেন এবং (আত্তাহিয়্যাতু পড়ার জন্য) বসিলেন না। যখন তিনি নামায পূর্ণ করিলেন দুইটি সিজদা (সাহু সিজদা) করিলেন, অতঃপর সালাম ফিরাইলেন।

মালিক (রাহঃ) বলেন- যে ব্যক্তি নামাযে ভুল করে এবং চারি রাক'আত পূর্ণ করার পর দাঁড়াইয়া যায়, তারপর কিরাআত সমাপ্ত করিয়া রুকূ করে, রুকু হইতে মাথা তোলার পর তাহার স্মরণ হইল যে, সে নামায পূর্ণ পড়িয়াছিল, তখন সেই ব্যক্তি বসার দিকে প্রত্যাবর্তন করিবে এবং বসিয়া যাইবে। সে তখন আর সিজদায় যাইবে না। আর যদি দুই সিজদার এক সিজদা করিয়া থাকে তবে আমি দ্বিতীয় সিজদা করা সঙ্গত মনে করি না। অতঃপর সে যখন নামায পূর্ণ করিবে তখন দুইটি সিজদা করিবে বসা অবস্থায় সালামের পর।

১৮. নামাযে এরূপ কোন বস্তুর দিকে দেখা যাহা নামায হইতে মনোযোগ হটাইয়া দেয়

بَاب النَّظَرِ فِي الصَّلَاةِ إِلَى مَا يَشْغَلُكَ عَنْهَا

213

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ أَبِي عَلْقَمَةَ عَنْ أُمِّهِ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ أَهْدَى أَبُو جَهْمِ بْنُ حُذَيْفَةَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَمِيصَةً شَامِيَّةً لَهَا عَلَمٌ فَشَهِدَ فِيهَا الصَّلَاةَ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ رُدِّي هَذِهِ الْخَمِيصَةَ إِلَى أبِي جَهْمٍ فَإِنِّي نَظَرْتُ إِلَى عَلَمِهَا فِي الصَّلَاةِ فَكَادَ يَفْتِنُنِي

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ৬৭. আলকামা ইবনে আবি আলকামা (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) বলিয়াছেনঃ আবু জাহম ইবনে হুযায়ফা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে শামী চাদর হাদিয়াস্বরূপ পেশ করিলেন, যাহাতে ফুল, বুটা ইত্যাদি দ্বারা কারুকার্য করা ছিল। উহা পরিধান করিয়া তিনি নামায পড়িলেন। নামায হইতে ফিরিয়া তিনি ফরমাইলেন, এই চাদরখানা আবু জাহম-এর নিকট ফিরাইয়া দাও। কেননা উহার কারুকার্যের দিকে নামাযে আমার দৃষ্টি পতিত হইয়াছে। উহা নামাযের একগ্রতা নষ্ট করিয়া আমাকে ফিতনায় লিপ্ত করিয়াছে।

214

وَحَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَبِسَ خَمِيصَةً شَامِيَّةً لَهَا عَلَمٌ ثُمَّ أَعْطَاهَا أَبَا جَهْمٍ وَأَخَذَ مِنْ أَبِي جَهْمٍ أَنْبِجَانِيَّةً لَهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلِمَ فَقَالَ " إِنِّي نَظَرْتُ إِلَى عَلَمِهَا فِي الصَّلاَةِ

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬৮. হিশাম ইবনে উরওয়াহ্ (রাহঃ) স্বীয় পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (একবার) শামী চাদর পরিধান করিয়াছিলেন। উহাতে ফুল, বুটা দ্বারা কারুকার্য করা ছিল; অতঃপর আবু জাহমকে উহা ফিরাইয়া দিয়া (তৎপরিবর্তে) আবু জাহম হইতে আমবিজানিয়া (মোটা পশমী কাপড়) গ্রহণ করিলেন। ইহার কারণ ব্যাখ্যা করিয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফরমাইলেন, নামাযে ইহার কারুকার্যের প্রতি আমার দৃষ্টি পতিত হইয়াছে।
215

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّ أَبَا طَلْحَةَ الْأَنْصَارِيَّ كَانَ يُصَلِّي فِي حَائِطِهِ فَطَارَ دُبْسِيٌّ فَطَفِقَ يَتَرَدَّدُ يَلْتَمِسُ مَخْرَجًا فَأَعْجَبَهُ ذَلِكَ فَجَعَلَ يُتْبِعُهُ بَصَرَهُ سَاعَةً ثُمَّ رَجَعَ إِلَى صَلَاتِهِ فَإِذَا هُوَ لَا يَدْرِي كَمْ صَلَّى فَقَالَ لَقَدْ أَصَابَتْنِي فِي مَالِي هَذَا فِتْنَةٌ فَجَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ لَهُ الَّذِي أَصَابَهُ فِي حَائِطِهِ مِنْ الْفِتْنَةِ وَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هُوَ صَدَقَةٌ لِلَّهِ فَضَعْهُ حَيْثُ شِئْتَ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৬৯. আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর (রাহঃ) বর্ণনা করেন যে, আবু তালহা আনসারী (রাযিঃ) একবার তাহার এক বাগানে নামায পড়িতেছিলেন। ইতিমধ্যে একটি ছোট পাখি উড়িতে শুরু করিল, (বাগান এত ঘন ছিল যে এই ক্ষুদ্র পাখিটি পথ খুঁজিয়া পাইতেছিল না), তাই পাখিটি এদিক-সেদিক বাহির হওয়ার পথ খুঁজিতে আরম্ভ করিল। এই দৃশ্য তাহার খুব ভাল লাগিল। ফলে তিনি কিছুক্ষণ সেইদিকে তাকাইয়া রহিলেন। তারপর নামাযের দিকে মনোযোগ দিলেন। কিন্তু (অবস্থা এই দাঁড়াইল) তিনি (তখন) স্মরণ করিতে পারিলেন না যে, নামায কত রাক'আত পড়িয়াছেন। তিনি বলিলেনঃ এই মাল আমাকে পরীক্ষায় ফেলিয়াছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে উপস্থিত হইলেন এবং বাগানে তাহার সম্মুখে যে পরীক্ষা উপস্থিত হইয়াছিল উহা বিবৃত করিলেন। তারপর বলিলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! এই মাল আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করিতেছি। আপনি যেখানে পছন্দ করেন উহাকে সেইখানে ব্যয় করুন।
216

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّ رَجُلًا مِنْ الْأَنْصَارِ كَانَ يُصَلِّي فِي حَائِطٍ لَهُ بِالْقُفِّ وَادٍ مِنْ أَوْدِيَةِ الْمَدِينَةِ فِي زَمَانِ الثَّمَرِ وَالنَّخْلُ قَدْ ذُلِّلَتْ فَهِيَ مُطَوَّقَةٌ بِثَمَرِهَا فَنَظَرَ إِلَيْهَا فَأَعْجَبَهُ مَا رَأَى مِنْ ثَمَرِهَا ثُمَّ رَجَعَ إِلَى صَلَاتِهِ فَإِذَا هُوَ لَا يَدْرِي كَمْ صَلَّى فَقَالَ لَقَدْ أَصَابَتْنِي فِي مَالِي هَذَا فِتْنَةٌ فَجَاءَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ خَلِيفَةٌ فَذَكَرَ لَهُ ذَلِكَ وَقَالَ هُوَ صَدَقَةٌ فَاجْعَلْهُ فِي سُبُلِ الْخَيْرِ فَبَاعَهُ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ بِخَمْسِينَ أَلْفًا فَسُمِّيَ ذَلِكَ الْمَالُ الْخَمْسِينَ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৭০. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আবু বকর (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আনসারী এক ব্যক্তি মদীনার উপত্যকাসমূহের মধ্যে কুফ নামক উপত্যকায় তাহার এক বাগানে নামায পড়িতেছিলেন, তখন ছিল (খেজুরের) মওসুম। খেজুরের গাছগুলি খেজুরের ভারে ঝুঁকিয়া পড়িতেছিল। গাছগুলি যেন স্বীয় ফলগুচ্ছের হার পরিহিত। ফলের এ দৃশ্যটি তাহার খুবই মনঃপূত হইল। তাই সেইদিকে চাহিয়া রছিলেন। অতঃপর নামাযের দিকে মনোযোগী হইলেন। কিন্তু তাহার আর স্মরণ হইতেছিল না যে, তিনি কত রাক'আত নামায পড়িয়াছেন। ইহা দেখিয়া তিনি বলিলেন, আমার এই সম্পত্তি আমার জন্য ফিতনারূপে উপস্থিত হইয়াছে। তখন ছিল উসমান (রাযিঃ)-এর খিলাফতকাল। তিনি উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ)-এর নিকট হাজির হইলেন এবং তাহার নিকট ঘটনা বিবৃত করিলেন। তারপর বলিলেনঃ উক্ত সম্পদ আল্লাহর পথে উৎসর্গ করা হইল। ইহাকে সৎকাজে ব্যয় করুন। উসমান (রাযিঃ) উহাকে পঞ্চাশ হাজার (দিরহাম)-এর বিনিময়ে বিক্রি করিলেন। (এই কারণে) উক্ত সম্পত্তির নাম রাখা হইল (খমসিন) বা পঞ্চাশ হাজারী।