كتاب القرآن

১৫. কুরআনে কারীম সংশ্লিষ্ট

Chapter 15 · 50 hadith

১. কুরআন স্পর্শ করার জন্য ওযুর নির্দেশ

بَاب الْأَمْرِ بِالْوُضُوءِ لِمَنْ مَسَّ الْقُرْآنَ

456
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ أَنَّ فِي الْكِتَابِ الَّذِي كَتَبَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَمْرِو بْنِ حَزْمٍ أَنْ لَا يَمَسَّ الْقُرْآنَ إِلَّا طَاهِرٌ
قَالَ مَالِك وَلَا يَحْمِلُ أَحَدٌ الْمُصْحَفَ بِعِلَاقَتِهِ وَلَا عَلَى وِسَادَةٍ إِلَّا وَهُوَ طَاهِرٌ وَلَوْ جَازَ ذَلِكَ لَحُمِلَ فِي خَبِيئَتِهِ وَلَمْ يُكْرَهْ ذَلِكَ لِأَنْ يَكُونَ فِي يَدَيْ الَّذِي يَحْمِلُهُ شَيْءٌ يُدَنِّسُ بِهِ الْمُصْحَفَ وَلَكِنْ إِنَّمَا كُرِهَ ذَلِكَ لِمَنْ يَحْمِلُهُ وَهُوَ غَيْرُ طَاهِرٍ إِكْرَامًا لِلْقُرْآنِ وَتَعْظِيمًا لَهُ قَالَ مَالِك أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي هَذِهِ الْآيَةِ لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ إِنَّمَا هِيَ بِمَنْزِلَةِ هَذِهِ الْآيَةِ الَّتِي فِي عَبَسَ وَتَوَلَّى قَوْلُ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى كَلَّا إِنَّهَا تَذْكِرَةٌ فَمَنْ شَاءَ ذَكَرَهُ فِي صُحُفٍ مُكَرَّمَةٍ مَرْفُوعَةٍ مُطَهَّرَةٍ بِأَيْدِي سَفَرَةٍ كِرَامٍ بَرَرَةٍ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ১. আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে হাযম (রাহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ’আমর ইবনে হাযমের নিকট যে পত্র লিখিয়াছিলেন উহাতে ইহাও লিখিত ছিল যে, পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কুরআনকে যেন কেউ স্পর্শ না করে।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বলেন, মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ কুরআনকে জুযবদান-এর ফিতা ধরিয়া অথবা বালিশের উপর রাখিয়া যেন উত্তোলন না করে, তবে পবিত্রাবস্থায়। যদি উহা (ফিতা ধরিয়া এবং বালিশের উপর কুরআন রাখিয়া ওযু ছাড়া স্পর্শ করা) জায়েয হইত, তবে জিলদকেও পবিত্রতা ছাড়া স্পর্শ করা যাইত। আর ইহা এই কারণে মাকরূহ করা হয় নাই যে, যে ব্যক্তি কুরআন উঠাইতেছে তাহার হাতে এমন কোন জিনিস আছে যদ্বারা ইহা অপরিষ্কার হইয়া যাইবে। অপবিত্র অবস্থায় উহা উঠান মাকরূহ, এই হুকুম করা হইয়াছে কুরআনের তাযীম ও সম্মানার্থে।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বলেন- মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ (لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ) এই আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে সর্বোত্তম যাহা আমি শুনিয়াছি তাহা হইল যেইরূপ সূরা আবাসা’তে ইরশাদ করা হইয়াছে (كَلَّا إِنَّهَا تَذْكِرَةٌ فَمَن شَاءَ ذَكَرَهُ فِي صُحُفٍ مُّكَرَّمَةٍ مَّرْفُوعَةٍ مُّطَهَّرَةٍ)


*যাহারা পূত-পবিত্র তাহারা ব্যতীত অন্য কেহ তাহা স্পর্শ করে না (সূরা ওয়াকিয়াহঃ ৭৯)
**এই প্রকার আচরণ অনুচিত, ইহা উপদেশবাণী; যে ইচ্ছা করিবে সে ইহা স্মরণ রাখিবে। উহা আছে মহান, উন্নত মর্যাদাসম্পন্ন, পবিত্র গ্রন্থে, মহান, পূতচরিত্র লিপিকারদের হস্তে। (সূরা আবাসাঃ ১১-১৪)

২. ওযু ব্যতীত কুরআন পাঠ করার অনুমতি

بَاب الرُّخْصَةِ فِي قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ

457

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَيُّوبَ بْنِ أَبِي تَمِيمَةَ السَّخْتِيَانِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَانَ فِي قَوْمٍ وَهُمْ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ فَذَهَبَ لِحَاجَتِهِ ثُمَّ رَجَعَ وَهُوَ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَتَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَلَسْتَ عَلَى وُضُوءٍ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ مَنْ أَفْتَاكَ بِهَذَا أَمُسَيْلِمَةُ

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ২. এক সময় উমর (রাযিঃ) এমন এক সম্প্রদায়ের মধ্যে ছিলেন, যাহারা কুরআন পাঠ করিতেছিলেন, (ইতিমধ্যে) তিনি প্ৰস্ৰাব-পায়খানার আবশ্যকে গমন করিলেন, পুনরায় প্রত্যাবর্তন করিলেন এবং কুরআন পাঠ করিতে শুরু করিলেন। (ইহা দেখিয়া) এক ব্যক্তি তাহাকে বলিলঃ হে আমিরুল মু’মিনীন! আপনি (কুরআন) পাঠ করিতেছেন অথচ আপনি বে-ওযু। তখন উমর (রাযিঃ) বললেনঃ এইরূপ ফতওয়া কে দিয়াছে? মুসায়লামা কি?

৩. তাহযিবুল কুরআন (বিশেষ সময়ে পড়ার জন্য কুরআনের অংশ নির্দিষ্ট করা অর্থাৎ ওযীফাস্বরূপ পাঠ করা

بَاب مَا جَاءَ فِي تَحْزِيبِ الْقُرْآنِ

458

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ مَنْ فَاتَهُ حِزْبُهُ مِنْ اللَّيْلِ فَقَرَأَهُ حِينَ تَزُولُ الشَّمْسُ إِلَى صَلَاةِ الظُّهْرِ فَإِنَّهُ لَمْ يَفُتْهُ أَوْ كَأَنَّهُ أَدْرَكَهُ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৩. আব্দুর রহমান ইবনে আব্দিল কারী (রাহঃ) হইতে আ’রজ (রাহঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেনঃ উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) বলেন, যাহার রাত্রের (নির্দিষ্ট তিলাওয়াতের) অংশ ছুটিয়া যায়, সে উহা যোহরের নামাযের পূর্ব পর্যন্ত (সময়ে) পড়িয়া লইবে; তবে তাহার সে ওযীফা যেন ছুটে নাই (রবী বলেন) অথবা তিনি বলিয়াছেন, সে যেন উহা পূর্ণ করিয়াছে।

459

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ قَالَ كُنْتُ أَنَا وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ جَالِسَيْنِ فَدَعَا مُحَمَّدٌ رَجُلًا فَقَالَ أَخْبِرْنِي بِالَّذِي سَمِعْتَ مِنْ أَبِيكَ فَقَالَ الرَّجُلُ أَخْبَرَنِي أَبِي أَنَّهُ أَتَى زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ فَقَالَ لَهُ كَيْفَ تَرَى فِي قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ فِي سَبْعٍ فَقَالَ زَيْدٌ حَسَنٌ وَلَأَنْ أَقْرَأَهُ فِي نِصْفٍ أَوْ عَشْرٍ أَحَبُّ إِلَيَّ وَسَلْنِي لِمَ ذَاكَ قَالَ فَإِنِّي أَسْأَلُكَ قَالَ زَيْدٌ لِكَيْ أَتَدَبَّرَهُ وَأَقِفَ عَلَيْهِ

Narrator: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) বলেনঃ আমি ও মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হাব্বান (রাহঃ) (এক জায়গায়) বসা ছিলাম। তারপর মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া এক ব্যক্তিকে ডাকিলেন এবং বলিলেন, আপনার পিতা হইতে যাহা শুনিয়াছেন তাহা আমার নিকট বলুন। সেই ব্যক্তি বলিলেন, আমাকে আমার পিতা বলিয়াছেন- তিনি একবার যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ)-এর নিকট গেলেন; তারপর তাহাকে বলিলেনঃ সাত দিনে কুরআন পাঠ (খতম) করা সম্বন্ধে আপনি কি মনে করেন? (উত্তরে) যায়দ (রাযিঃ) বলিলেনঃ ভাল। কিন্তু পনর অথবা বিশ দিনে পাঠ (শেষ) করা আমার নিকট অতি পছন্দনীয়। আর তুমি ইহার কারণ কি জানিতে চাহিলে শোন (তিনি বলিলেন), ইহা এইজন্য যে, (কুরআনকে) থামিয়া থামিয়া পড়িলে আমি কুরআনের মর্ম বোঝার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করিতে পারিব।

৪. কুরআন সম্পৰ্কীয় বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي الْقُرْآنِ

460

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ عَلَى غَيْرِ مَا أَقْرَؤُهَا وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقْرَأَنِيهَا فَكِدْتُ أَنْ أَعْجَلَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَمْهَلْتُهُ حَتَّى انْصَرَفَ ثُمَّ لَبَّبْتُهُ بِرِدَائِهِ فَجِئْتُ بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي سَمِعْتُ هَذَا يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ عَلَى غَيْرِ مَا أَقْرَأْتَنِيهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْسِلْهُ ثُمَّ قَالَ اقْرَأْ يَا هِشَامُ فَقَرَأَ الْقِرَاءَةَ الَّتِي سَمِعْتُهُ يَقْرَأُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَكَذَا أُنْزِلَتْ ثُمَّ قَالَ لِي اقْرَأْ فَقَرَأْتُهَا فَقَالَ هَكَذَا أُنْزِلَتْ إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ أُنْزِلَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ৫. আব্দুর রহমান ইবনে আব্দিল কারী (রাহঃ) বলেনঃ আমি উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি হিশাম ইবনে হাকিম ইবনে হিযামকে সূরা আল-ফুরকান আমি যেইরূপ পড়িয়া থাকি উহার ভিন্নরূপ পড়িতে শুনিলাম। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে সেই সূরাটি পড়াইয়াছেন। (আমি ক্রোধে) তাঁহাকে ধরিবার উপক্রম করিয়াছিলাম। কিন্তু নামায সমাপ্ত করা পর্যন্ত তাহাকে আমি সময় দিলাম। অতঃপর তাহার চাদর দ্বারা আমি তাহাকে পেচাইয়া লইলাম। পরে তাহাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে নিয়া আসিলাম এবং আরয করিলামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সূরায়ে আল-ফুরকান আপনি আমাকে যেরূপ পড়াইয়াছেন, আমি ইহাকে উহার ভিন্নরূপ পড়িতে শুনিয়াছি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেনঃ তুমি তাঁহাকে ছাড়িয়া দাও। অতঃপর তাহাকে বললেনঃ তুমি পাঠ কর। তারপর আমি যেরূপ কিরাআত পড়িতে তাহাকে শুনিয়াছি সেই কিরাআতই তিনি পড়িলেন। (এই কিরাআত শুনিয়া) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেন, এইরূপ অবতীর্ণ করা হইয়াছে। অতঃপর আমাকে (উদ্দেশ্য করিয়া) বলিলেনঃ তুমি পড়। আমি উহা (ফুরকান) পাঠ করিলাম। তিনি বলিলেনঃ এইরূপ অবতীর্ণ করা হইয়াছে এবং কুরআন সাত অক্ষরের উপর নাযিল হইয়াছে, ফলে তোমরা তাহা হইতে যেইটি সহজ হয় সেইটি পাঠ কর।

461

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّمَا مَثَلُ صَاحِبِ الْقُرْآنِ كَمَثَلِ صَاحِبِ الْإِبِلِ الْمُعَقَّلَةِ إِنْ عَاهَدَ عَلَيْهَا أَمْسَكَهَا وَإِنْ أَطْلَقَهَا ذَهَبَتْ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৬. আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ কুরআনওয়ালা রশিতে বাধা উটওয়ালার মত; যদি উহাকে তদারক করে, তবে নিয়ন্ত্রণে রাখিতে পারবে; আর যদি উহাকে ছাড়িয়া দেয়, তবে উহা চলিয়া যাইবে।

462

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ الْحَارِثَ بْنَ هِشَامٍ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ يَأْتِيكَ الْوَحْيُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْيَانًا يَأْتِينِي فِي مِثْلِ صَلْصَلَةِ الْجَرَسِ وَهُوَ أَشَدُّهُ عَلَيَّ فَيَفْصِمُ عَنِّي وَقَدْ وَعَيْتُ مَا قَالَ وَأَحْيَانًا يَتَمَثَّلُ لِي الْمَلَكُ رَجُلًا فَيُكَلِّمُنِي فَأَعِي مَا يَقُولُ قَالَتْ عَائِشَةُ وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ يَنْزِلُ عَلَيْهِ فِي الْيَوْمِ الشَّدِيدِ الْبَرْدِ فَيَفْصِمُ عَنْهُ وَإِنَّ جَبِينَهُ لَيَتَفَصَّدُ عَرَقًا

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ৭. নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, (একবার) হারিস ইবনে হিশাম (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) এর নিকট প্রশ্ন করলেন, আপনার নিকট ওহী কিরূপে আসে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (উত্তরে) বলিলেনঃ কখনও কখনও আমার নিকট (ওহী) আসে ঘন্টাধ্বনির মত, এই (প্রকারে অবতীর্ণ) ওহী আমার উপর অতি কঠিন হয়। তারপর আমা হইতে (এই অবস্থার) অবসান হয়, (এই দিকে) তিনি যাহা বলিয়াছেন আমি তাহা হিফাযত করিয়াছি। আর কোন কোন সময় ফিরিশতা কোন ব্যক্তির রূপ ধারণ করিয়া আমার নিকট আসেন এবং আমার সঙ্গে কথা বলেনঃ তিনি যাহা বলেন আমি উহা হিফাযত করি।

আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি অবশ্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখিয়াছি প্রচণ্ড শীতের দিনে তাহার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হইতেছে। অতঃপর সেই অবস্থার অবসান হইয়াছে, তখন তাহার ললাট হইতে ঘাম টপকাইতেছে।
463

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ أُنْزِلَتْ عَبَسَ وَتَوَلَّى فِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَعَلَ يَقُولُ يَا مُحَمَّدُ اسْتَدْنِينِي وَعِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ مِنْ عُظَمَاءِ الْمُشْرِكِينَ فَجَعَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْرِضُ عَنْهُ وَيُقْبِلُ عَلَى الْآخَرِ وَيَقُولُ يَا أَبَا فُلَانٍ هَلْ تَرَى بِمَا أَقُولُ بَأْسًا فَيَقُولُ لَا وَالدِّمَاءِ مَا أَرَى بِمَا تَقُولُ بَأْسًا فَأُنْزِلَتْ عَبَسَ وَتَوَلَّى أَنْ جَاءَهُ الْأَعْمَى

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৮. হিশাম ইবনে উরওয়াহ (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন- তিনি বলিয়াছেন, সূরা আবাসা অবতীর্ণ করা হইয়াছে আব্দুল্লাহ্ ইবনে উম্মে মাকতুম (রাযিঃ)-এর শানে। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসিয়া বলিতে লাগিলেনঃ হে মুহাম্মাদ! আমাকে আপনার নিকট বসিতে দিন, সেই সময় নবী করীম (ﷺ) এর নিকট মুশরিকগণের নেতাদের একজন বড় নেতা উপস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাহা ইহতে মনোযোগ ফিরাইয়া সেই নেতা ব্যক্তির দিকে মনোনিবেশ করিলেন এবং বলিতেছিলেনঃ হে আবু ফুলান (অমুকের পিতা), আমি যাহা বলি উহাতে কোন ক্রটি দেখিয়াছ কি? (উত্তরে) সে বলিতেছিলঃ মূর্তির কসম, না, আপনি যাহা বলেন উহাতে কোন প্রকার ক্রটি দেখিতেছি না। অতঃপর এই সূরা* عَبَسَ وَتَوَلَّى أَنْ جَاءَهُ الْأَعْمَى অবতীর্ণ হয়।

*সে ভ্রূকুঞ্চিত করিল এবং মুখ ফিরাইয়া লইল; কারণ তাহার নিকট এক অন্ধ আসিল। ৮০:১২
464

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَسِيرُ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَسِيرُ مَعَهُ لَيْلًا فَسَأَلَهُ عُمَرُ عَنْ شَيْءٍ فَلَمْ يُجِبْهُ ثُمَّ سَأَلَهُ فَلَمْ يُجِبْهُ ثُمَّ سَأَلَهُ فَلَمْ يُجِبْهُ فَقَالَ عُمَرُ ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ عُمَرُ نَزَرْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ كُلُّ ذَلِكَ لَا يُجِيبُكَ قَالَ عُمَرُ فَحَرَّكْتُ بَعِيرِي حَتَّى إِذَا كُنْتُ أَمَامَ النَّاسِ وَخَشِيتُ أَنْ يُنْزَلَ فِيَّ قُرْآنٌ فَمَا نَشِبْتُ أَنْ سَمِعْتُ صَارِخًا يَصْرُخُ بِي قَالَ فَقُلْتُ لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ يَكُونَ نَزَلَ فِيَّ قُرْآنٌ قَالَ فَجِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ لَقَدْ أُنْزِلَتْ عَلَيَّ هَذِهِ اللَّيْلَةَ سُورَةٌ لَهِيَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ ثُمَّ قَرَأَ إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا

Narrator: যায়দ ইবনে আসলাম (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৯. যায়দ ইবনে আসলাম (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাহার সফরসমূহের কোন এক সফরে পথ চলিতেছিলেন। রাত্রে উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-ও তাহার সঙ্গে চলিতেছিলেন। তখন উমর (রাযিঃ) কোন বিষয়ে তাহাকে প্রশ্ন করিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাহাকে কোন উত্তর দিলেন না। উমর (রাযিঃ) পুনরায় সওয়াল করিলেন। কিন্তু তিনি উহার জবাব দিলেন না। অতঃপর তাহার নিকট (উমর) আবার সওয়াল করিলেন, কিন্তু (এইবারও) তিনি উহার জবাব দিলেন না। তখন উমর (রাযিঃ) (মনে মনে) বলিলেন, উমর, তোমার মাতা তোমাকে হারাইয়া ফেলুন (এবং কাঁদিতে থাকুন অর্থাৎ তোমার সর্বনাশ)। তুমি বিনয় সহকারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট সওয়াল করিলে, আর তিনি তোমাকে কোন জবাব দিলেন না।

উমর (রাযিঃ) বলেনঃ তারপর আমার উটকে আমি চালিত করিলাম, এমন কি আমি লোকের আগে আগে চলিয়া গেলাম। আমি আশঙ্কা করিলাম আমার বিষয়ে কুরআন অবতীর্ণ হইতে পারে। তারপর আমি (বেশীক্ষণ) অবস্থান করি নাই, (হঠাৎ) এক উচ্চঃস্বরে আহবানকারী আমাকে ডাকিতেছিল। তিনি (উমর) বলেনঃ আমি আশঙ্কা করিতেছিলাম আমার বিষয়ে হয় তো কুরআন নাযিল হইয়াছে। (উমর) বলেন, অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট আসিলাম এবং সালাম করিলাম। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ অবশ্য এই রাত্রে আমার উপর একটি সূরা অবতীর্ণ হইয়াছে। নিঃসন্দেহে সেই সূরাটি আমার নিকট অধিক প্রিয়, সেই সব বস্তু অপেক্ষা যাহার উপর সূর্য উদিত হইয়াছে। অতঃপর তিনি পাঠ করিলেন (إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُّبِينًا) এই সূরাটি।*

*আমরা তোমাদের জন্য অবধারিত করিলাম প্রকাশ্য বিজয় ৷ ৪৮ঃ১
465

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَخْرُجُ فِيكُمْ قَوْمٌ تَحْقِرُونَ صَلَاتَكُمْ مَعَ صَلَاتِهِمْ وَصِيَامَكُمْ مَعَ صِيَامِهِمْ وَأَعْمَالَكُمْ مَعَ أَعْمَالِهِمْ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ وَلَا يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنْ الدِّينِ مُرُوقَ السَّهْمِ مِنْ الرَّمِيَّةِ تَنْظُرُ فِي النَّصْلِ فَلَا تَرَى شَيْئًا وَتَنْظُرُ فِي الْقِدْحِ فَلَا تَرَى شَيْئًا وَتَنْظُرُ فِي الرِّيشِ فَلَا تَرَى شَيْئًا وَتَتَمَارَى فِي الْفُوقِ

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১০. আবু সাইদ খুদরী (রাযিঃ) বলেন- আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলিতে শুনিয়াছিঃ তোমাদের মধ্যে এক সম্প্রদায় বাহির হইবে যাহারা তুচ্ছ মনে করিবে তোমাদের নামাযকে তাহাদের নামাযের মুকাবিলায় এবং তোমাদের রোযাসমূহকে তাহদের রোযার মুকাবিলায় এবং তোমাদের আমলসমূহকে তাহদের আমলসমূহের মুকাবিলায়। তাহারা কুরআন পাঠ করিবে কিন্তু কুরআন তাহাদের গলদেশের নীচে যাইবে না। তাহারা ধর্ম হইতে এমনভাবে বাহির হইয়া যাইবে, যেমন তীর শিকারকে ভেদ করিয়া বাহির হইয়া যায়। তীরের ফলা দেখিবে, তাহাতেও কোন কিছু দেখিবে না; তীরের লাকড়ি দেখিবে, সেখানেও কিছু দেখিতে পাইবে না; পালকের প্রতি লক্ষ করিবে, পালকেও কিছু দেখিবে না; ধনুকের ছিলার দিকে দেখিবে, সেখানে কিছু রক্ত লাগিয়াছে কিনা সন্দেহ করবে।

466

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ مَكَثَ عَلَى سُورَةِ الْبَقَرَةِ ثَمَانِيَ سِنِينَ يَتَعَلَّمُهَا

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১১. মালিক (রাহঃ) বলেন, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) সূরা বাকারা শিক্ষা করিতে আট বৎসর অতিবাহিত করিয়াছেন।

৫. কুরআনের সিজদাসমূহ

بَاب مَا جَاءَ فِي سُجُودِ الْقُرْآنِ

467

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ مَوْلَى الْأَسْوَدِ بْنِ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَرَأَ لَهُمْ إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ فَسَجَدَ فِيهَا فَلَمَّا انْصَرَفَ أَخْبَرَهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَجَدَ فِيهَا

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ১২. আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) তাঁহাদের উদ্দেশ্যে* (إِذَا السَّمَاءُ انشَقَّتْ) পাঠ করিলেন এবং এই সূরায় সিজদা করিলেন। তিনি নামায সমাপ্ত করিলে পর তাহাদিগকে জানাইলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই সূরায় সিজদা করিয়াছেন।

*সূরা ইনশিকাক, ৮৪
468

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ مِصْرَ أَخْبَرَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَرَأَ سُورَةَ الْحَجِّ فَسَجَدَ فِيهَا سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ قَالَ إِنَّ هَذِهِ السُّورَةَ فُضِّلَتْ بِسَجْدَتَيْنِ

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ১৩. মিসরের বাসিন্দাদের একজন নাফি (রাহঃ)-কে বলিয়াছেন যে, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) একবার সূরা হজ্জ পাঠ করিলেন এবং তিনি এই সূরায় দুইটি সিজদা করিলেন। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ নিশ্চয় এই সূরাকে দুইটি সিজদা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হইয়াছে।

469

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ يَسْجُدُ فِي سُورَةِ الْحَجِّ سَجْدَتَيْنِ

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে দীনার (রাহঃ) বলেন- আমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে সূরা-এ হজ্জে দুইটি সিজদা করিতে দেখিয়াছি।

470

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ الْأَعْرَجِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَرَأَ بِالنَّجْمِ إِذَا هَوَى فَسَجَدَ فِيهَا ثُمَّ قَامَ فَقَرَأَ بِسُورَةٍ أُخْرَى

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ১৫. আরজ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) (وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَىٰ) (সূরাটি) পাঠ করলেন এবং উহাতে সিজদা করিলেন। তিনি দাঁড়াইলেন এবং অন্য একটি সূরা পাঠ করিলেন।

*সূরা আন-নাজমঃ৫৩
471
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَرَأَ سَجْدَةً وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَنَزَلَ فَسَجَدَ وَسَجَدَ النَّاسُ مَعَهُ ثُمَّ قَرَأَهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ الْأُخْرَى فَتَهَيَّأَ النَّاسُ لِلسُّجُودِ فَقَالَ عَلَى رِسْلِكُمْ إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَكْتُبْهَا عَلَيْنَا إِلَّا أَنْ نَشَاءَ فَلَمْ يَسْجُدْ وَمَنَعَهُمْ أَنْ يَسْجُدُوا قَالَ مَالِك لَيْسَ الْعَمَلُ عَلَى أَنْ يَنْزِلَ الْإِمَامُ إِذَا قَرَأَ السَّجْدَةَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَيَسْجُدَ
قَالَ مَالِك الْأَمْرُ عِنْدَنَا أَنَّ عَزَائِمَ سُجُودِ الْقُرْآنِ إِحْدَى عَشْرَةَ سَجْدَةً لَيْسَ فِي الْمُفَصَّلِ مِنْهَا شَيْءٌ قَالَ مَالِك لَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ يَقْرَأُ مِنْ سُجُودِ الْقُرْآنِ شَيْئًا بَعْدَ صَلَاةِ الصُّبْحِ وَلَا بَعْدَ صَلَاةِ الْعَصْرِ وَذَلِكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَعَنْ الصَّلَاةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَالسَّجْدَةُ مِنْ الصَّلَاةِ فَلَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يَقْرَأَ سَجْدَةً فِي تَيْنِكَ السَّاعَتَيْنِ سُئِلَ مَالِك عَمَّنْ قَرَأَ سَجْدَةً وَامْرَأَةٌ حَائِضٌ تَسْمَعُ هَلْ لَهَا أَنْ تَسْجُدَ قَالَ مَالِك لَا يَسْجُدُ الرَّجُلُ وَلَا الْمَرْأَةُ إِلَّا وَهُمَا طَاهِرَانِ وَسُئِلَ عَنْ امْرَأَةٍ قَرَأَتْ سَجْدَةً وَرَجُلٌ مَعَهَا يَسْمَعُ أَعَلَيْهِ أَنْ يَسْجُدَ مَعَهَا قَالَ مَالِك لَيْسَ عَلَيْهِ أَنْ يَسْجُدَ مَعَهَا إِنَّمَا تَجِبُ السَّجْدَةُ عَلَى الْقَوْمِ يَكُونُونَ مَعَ الرَّجُلِ فَيَأْتَمُّونَ بِهِ فَيَقْرَأُ السَّجْدَةَ فَيَسْجُدُونَ مَعَهُ وَلَيْسَ عَلَى مَنْ سَمِعَ سَجْدَةً مِنْ إِنْسَانٍ يَقْرَؤُهَا لَيْسَ لَهُ بِإِمَامٍ أَنْ يَسْجُدَ تِلْكَ السَّجْدَةَ

Narrator: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৬. উরওয়াহ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত- উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) একটি সিজদার আয়াত পাঠ করিলেন জুম’আ দিবসে। আর তিনি ছিলেন মিম্বরের উপর। অতঃপর তিনি অবতরণ করিলেন এবং সিজদা করিলেন এবং তাহার সঙ্গে লোকেরাও সিজদা করিলেন।

পরবর্তী জুম’আয় তিনি সেই সূরা পাঠ করিলেন। লোকেরা সিজদার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করিতে লাগিলেন। উমর (রাযিঃ) তখন বলিলেনঃ আপনারা অপেক্ষা করুন। আল্লাহ্ তাআলা আমাদের উপর সিজদা ফরয করেন নাই, তবে আমরা যদি ইচ্ছা করি তা স্বতন্ত্র কথা! (ইহা শুনিয়া) তাহারা আর সিজদা করিলেন না। তিনি তাহাদিগকে সিজদা হইতে বিরত রাখিলেন।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ সিজদার আয়াত মিম্বরের উপর পাঠ করিলে, ইমামের মিম্বর হইতে অবতরণ করিয়া সিজদা করার প্রতি (আমাদের) আমল নাই (অর্থাৎ মিম্বর হইতে অবতরণ জরুরী নহে)।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের অভিমত এই যে, কুরআন শরীফে সিজদাসমূহের মধ্যে তাকিদী সিজদা হইতেছে এগারটি। ইহাদের একটিও মুফাসসালাতে নাই।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ সুজুদুল কুরআন (কুরআনের সিজদাসমূহ) হইতে কোন সিজদার আয়াত ফজরের নামাযের এবং আসরের নামাযের পর পাঠ করা কাহারও পক্ষে উচিত নহে। কারণ ফজরের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর (সূর্য) অস্ত যাওয়া পর্যন্ত নামায পড়িতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করিয়াছেন। আর সিজদাও নামাযে গণ্য, কাজেই কাহারও পক্ষে উচিত নহে যে, সেই দুই সময়ে কোন সিজদার আয়াত পাঠ করা।

মালিক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইয়াছে ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে যিনি একটি সিজদার আয়াত পাঠ করিয়াছেন, আর একজন ঋতুবতী মহিলা উহা শুনিল। তবে সেই মহিলা কি সিজদা করিবে? (উত্তরে) মালিক (রাহঃ) বলিলেনঃ পুরুষ বা নারী, পবিত্রাবস্থা ব্যতীত সিজদা করিবে না।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বলেন, মালিক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হয় একজন মহিলা সম্পর্কে যিনি সিজদার আয়াত পাঠ করিয়াছেন, অন্য এক ব্যক্তি তাহা শুনিতেছে। সেই ব্যক্তির জন্য সিজদা করা জরুরী কি? (উত্তরে) মালিক (রাহঃ) বলেনঃ সিজদা করা এই ব্যক্তির জন্য জরুরী নহে। সিজদা ওয়াজিব হয় সেই লোকের উপর যেসব লোক কোন ব্যক্তির সাথে নামাযে শরীক থাকেন এবং তাহার পিছনে ইক্তিদা করেন। অতঃপর তাহাদের ইমাম সিজদার আয়াত পাঠ করিলে তাহারাও তাহার সহিত সিজদা করিবেন। আর যে ব্যক্তি সিজদার আয়াত শুনিয়াছে কোন লোকের মুখে (যিনি উহা পাঠ করিতেছেন), কিন্তু সেই ব্যক্তি এই লোকের ইমাম নহেন, তাহার জন্য এই সিজদা জরুরী নহে।

৬. সূরা মূলক ও সূরা ইখলাস পাঠ করা প্রসঙ্গ

بَاب مَا جَاءَ فِي قِرَاءَةِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ وَتَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ

472

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ رَجُلًا يَقْرَأُ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ يُرَدِّدُهَا فَلَمَّا أَصْبَحَ غَدَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ وَكَأَنَّ الرَّجُلَ يَتَقَالُّهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهَا لَتَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১৭. আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত- তিনি এক ব্যক্তিকে, قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ পাঠ করিতে শুনিলেন। সে বারবার উহা পাঠ করিতেছিল। ফজরে যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর খেদমতে হাযির হইলেন, তখন তাহার নিকট এই বিষয় উল্লেখ করিলেন- (আবু সাইদ খুদরী) এই সূরা (পাঠ করা)-কে সাধারণ আমল মনে করিতেছিলেন। (ইহা শুনিয়া) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেনঃ আমার প্রাণ যাহার হাতে তাহার শপথ, নিশ্চয় এই সূরাটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান মর্যাদা রাখে।

473

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ حُنَيْنٍ مَوْلَى آلِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ أَقْبَلْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَمِعَ رَجُلًا يَقْرَأُ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَبَتْ فَسَأَلْتُهُ مَاذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ الْجَنَّةُ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَأَرَدْتُ أَنْ أَذْهَبَ إِلَيْهِ فَأُبَشِّرَهُ ثُمَّ فَرِقْتُ أَنْ يَفُوتَنِي الْغَدَاءُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَآثَرْتُ الْغَدَاءَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ ذَهَبْتُ إِلَى الرَّجُلِ فَوَجَدْتُهُ قَدْ ذَهَبَ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ১৮. আল-ই-যায়দ ইবনে খাত্তাবের মাওলা ওবায়দ ইবনে হুনায়ন (রাহঃ) বলেন- আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছিঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথে আগমন করিলাম, তিনি এক ব্যক্তিকে قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ পড়িতে শুনিলেন। (ইহা শুনিয়) তিনি বললেনঃ وَجَبَتْ (ওয়াজিব হইয়াছে)। তখন আমি তাঁহাকে প্রশ্ন করলামঃ مَاذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ (হে আল্লাহর রসূল, কি ওয়াজিব হইয়াছে)? তিনি বলিলেনঃ জান্নাত। (রাবী) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলিয়াছেনঃ (তারপর) আমি ইচ্ছা করিলাম, সেই ব্যক্তির নিকট যাই এবং তাঁহাকে শুভ সংবাদ শুনাইয়া দেই। কিন্তু আমার আশঙ্কা হইল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে প্রাতঃকালীন আহার ছুটিয়া যাইবে । তাই আমি প্রাতঃকালীন আহার গ্রহণকে অগ্রাধিকার প্রদান করিলাম। অতঃপর সেই ব্যক্তির নিকট গেলাম, কিন্তু তখন তিনি (সে স্থান হইতে) প্রস্থান করিয়াছেন।

474

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ وَأَنَّ تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ تُجَادِلُ عَنْ صَاحِبِهَا

Narrator: হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৯. হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাহঃ) খবর দিয়াছেন ইবনে শিহাব (রাহঃ)-কে قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ আর تَبَارَكَ الَّذِي উহার (পাঠকারী) সাথীর পক্ষে ঝগড়া করবে।

৭. আল্লাহর যিক্‌রের বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي ذِكْرِ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى

475

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ سُمَيٍّ مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ كَانَتْ لَهُ عَدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ وَكُتِبَتْ لَهُ مِائَةُ حَسَنَةٍ وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِائَةُ سَيِّئَةٍ وَكَانَتْ لَهُ حِرْزًا مِنْ الشَّيْطَانِ يَوْمَهُ ذَلِكَ حَتَّى يُمْسِيَ وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ إِلَّا أَحَدٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ২০. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি (لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ) এই দু'আটি দৈনিক একশত বার পাঠ করিবে, ইহা তাঁহার জন্য দশটি গোলাম আযাদ করার সমতুল্য হইবে- তাহার জন্য একশত নেকী হইবে এবং তাহার (আমলনামা) হইতে একশত গুনাহ মিটাইয়া দেওয়া হইবে আর সেইদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত ইহা তাহার জন্য শয়তান হইতে রক্ষাকবচ হইবে; আর সে যে আমল পেশ করিয়াছে অন্য কেউ উহা হইতে শ্রেষ্ঠ কোন আমল পেশ করে নাই একমাত্র সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে ব্যক্তি (তাহার) এই আমল অপেক্ষা অধিক আমল করিয়াছ।

476

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ سُمَيٍّ مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ عَنْهُ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ২১. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি (سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ) দৈনিক একশত বার পাঠ করবে তাহার পাপসমূহ মাফ করিয়া দেওয়া হইবে, যদি উহা সাগরের ফেনার পরিমাণও হয়।

477

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ مَوْلَى سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ مَنْ سَبَّحَ دُبُرَ كُلِّ صَلَاةٍ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَكَبَّرَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَحَمِدَ ثَلَاثًا وَثَلَاثِينَ وَخَتَمَ الْمِائَةَ بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ غُفِرَتْ ذُنُوبُهُ وَلَوْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ২২. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, যে ব্যক্তি প্রতি নামাযের শেষে বলিবে- سُبْحَانَ اللَّهِ (সুবহানাল্লাহ) তেত্রিশ বার,
الحمد لله (আলহামদুলিল্লাহ) তেত্রিশ বার এবং الله اكبر (আল্লাহু আকবার) তেত্রিশ বার আর একশত পূর্ণ করবে এই দুআ দিয়ে (لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ) তাহার গুনাহ মাফ করা হইবে, যদিও উহা সাগরের ফেনা পরিমাণও হয়।
478

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عُمَارَةَ بْنِ صَيَّادٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ فِي الْبَاقِيَاتِ الصَّالِحَاتِ إِنَّهَا قَوْلُ الْعَبْدِ اللَّهُ أَكْبَرُ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

Narrator: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২৩. উমরা ইবনে সাইয়্যাদ (রাহঃ) সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেনঃ ‘বাকিয়াতুস সালিহাত’ (যাহা কুরআনে উল্লেখ করা হইয়াছে) সম্পর্কে বলিয়াছেনঃ (اللَّهُ أَكْبَرُ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ) হইতেছে বাকিয়াতুস সালিহাত।

479

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زِيَادِ بْنِ أَبِي زِيَادٍ أَنَّهُ قَالَ قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِخَيْرِ أَعْمَالِكُمْ وَأَرْفَعِهَا فِي دَرَجَاتِكُمْ وَأَزْكَاهَا عِنْدَ مَلِيكِكُمْ وَخَيْرٍ لَكُمْ مِنْ إِعْطَاءِ الذَّهَبِ وَالْوَرِقِ وَخَيْرٍ لَكُمْ مِنْ أَنْ تَلْقَوْا عَدُوَّكُمْ فَتَضْرِبُوا أَعْنَاقَهُمْ وَيَضْرِبُوا أَعْنَاقَكُمْ قَالُوا بَلَى قَالَ ذِكْرُ اللَّهِ تَعَالَى قَالَ زِيَادُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ وَقَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ مَا عَمِلَ ابْنُ آدَمَ مِنْ عَمَلٍ أَنْجَى لَهُ مِنْ عَذَابِ اللَّهِ مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ

Narrator: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

রেওয়ায়ত ২৪. আবুদ্দারদা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি কি তোমাদিগকে সংবাদ দিব না তোমাদের আমলসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম আমলের, যাহা তোমাদিগকে সর্বাপেক্ষা উচ্চ মর্যাদায় সমাসীনকারী এবং তোমাদের প্রভুর নিকট সর্বাপেক্ষা পবিত্র, সেই আমলের আর (যাহা) তোমাদের জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্য দান করা হইতে উত্তম এবং তাহা উত্তম তোমাদের জন্য ইহা হইতে যে, তোমরা তোমাদের শক্রর সাথে যুদ্ধ কর, ফলে তাহারা তোমাদেরকে হত্যা করে এবং তোমরা তাহদের গর্দান কাট। উপস্থিত (লোকেরা) বললেন, হ্যাঁ, বলুন। তিনি বললেন, এই আমল হইতেছে- ذِكْرُ اللَّهِ (আল্লাহর যিক্‌র)।

যিয়াদ ইবনে আবি যিয়াদ (রাহঃ) বলেনঃ আবু আব্দুর রহমান মুআয ইবনে জবল (রাযিঃ) বলিয়াছেনঃ আল্লাহর যিক্‌র অপেক্ষা আযাব হইতে অধিক নাজাত প্রদানকারী কোন আমল আদম সত্তান সম্পাদন করে নাই ।
480

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُجْمِرِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى الزُّرَقِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ أَنَّهُ قَالَ كُنَّا يَوْمًا نُصَلِّي وَرَاءَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا رَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأْسَهُ مِنْ الرَّكْعَةِ وَقَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ قَالَ رَجُلٌ وَرَاءَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ الْمُتَكَلِّمُ آنِفًا فَقَالَ الرَّجُلُ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ رَأَيْتُ بِضْعَةً وَثَلَاثِينَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا أَيُّهُمْ يَكْتُبُهُنَّ أَوَّلُ

Narrator: রিফাআ ইবনে রাফি' যুরাকী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ২৫. রিফায়া ইবনে রাফি’ (রাযিঃ) বলেনঃ আমরা একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে নামায পড়িতেছিলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকু হইতে মাথা উঠাইলেন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলিলেন, তাহার পশ্চাতে এক ব্যক্তি বলিল, رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন নামায সমাপ্ত করিলেন, তখন বলিলেনঃ এখন মুতাকাল্লিম (তসবীহ পাঠকারী) কে ছিল? সেই ব্যক্তি বলিলঃ আমি, ইয়া রাসূলাল্লাহ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেনঃ আমি অবশ্য ত্ৰিশোর্ধ ফিরিশতাকে দেখিয়াছি, তাহদের মধ্যে ইহাকে সর্বপ্রথম কে লিপিবদ্ধ করিবেন, এই লইয়া তাহারা খুব তাড়াহুড়া করিতেছেন।

৮. দুআ প্রসঙ্গ

بَاب مَا جَاءَ فِي الدُّعَاءِ

481

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِكُلِّ نَبِيٍّ دَعْوَةٌ يَدْعُو بِهَا فَأُرِيدُ أَنْ أَخْتَبِئَ دَعْوَتِي شَفَاعَةً لِأُمَّتِي فِي الْآخِرَةِ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ২৬. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ প্রত্যেক নবীর জন্য একটি (মকবুল) দুআ রহিয়াছে, যেই দুআ তিনি করিয়া থাকেন। আমি ইচ্ছা করিয়াছি আমার (জন্য নির্ধারিত) দুআটি গোপন রাখিবার আখিরাতে আমার উম্মতের সুপারিশের উদ্দেশ্যে।

482

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَدْعُو فَيَقُولُ اللَّهُمَّ فَالِقَ الْإِصْبَاحِ وَجَاعِلَ اللَّيْلِ سَكَنًا وَالشَّمْسِ وَالْقَمَرِ حُسْبَانًا اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ وَأَغْنِنِي مِنْ الْفَقْرِ وَأَمْتِعْنِي بِسَمْعِي وَبَصَرِي وَقُوَّتِي فِي سَبِيلِكَ

Narrator: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২৭. ইয়াহইয়া ইবনে সাইদ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার নিকট খবর পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দুআ করিতে বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ فَالِقَ الإِصْبَاحِ وَجَاعِلَ اللَّيْلِ سَكَنًا وَالشَّمْسِ وَالْقَمَرِ حُسْبَانًا اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ *وَأَغْنِنِي مِنَ الْفَقْرِ وَأَمْتِعْنِي بِسَمْعِي وَبَصَرِي وَقُوَّتِي فِي سَبِيلِكَ

*হে আল্লাহ তুমি উষার উন্মেষ ঘটাও, রাত্রকে বিশ্রামের জন্য নির্ধারিত করিয়াছ, গণনার জন্য সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করিয়াছ, আমার ঋণ শোধ করিয়া দাও, আমাকে অভাবমুক্ত কর; আমার দৃষ্টিশক্তি শ্রবণশক্তি, এবং তোমার পথে জিহাদ করার শক্তি দ্বারা আমাকে উপকৃত কর।
483

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَقُلْ أَحَدُكُمْ إِذَا دَعَا اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي إِنْ شِئْتَ لِيَعْزِمْ الْمَسْأَلَةَ فَإِنَّهُ لَا مُكْرِهَ لَهُ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ২৮. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেন, তোমাদের কেউ দুআ করার সময় এইরূপ যেন না বলে, اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي إِنْ شِئْتَ অর্থাৎ হে আল্লাহ, আপনি ইচ্ছা করিলে আমাকে ক্ষমা করুন, অনুগ্রহ করুন। বরং দৃঢ় প্রত্যয় নিয়া দুআ করিবে, কারণ আল্লাহকে বাধা করিবার মত কেউ নাই।

484

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ مَوْلَى ابْنِ أَزْهَرَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يُسْتَجَابُ لِأَحَدِكُمْ مَا لَمْ يَعْجَلْ فَيَقُولُ قَدْ دَعَوْتُ فَلَمْ يُسْتَجَبْ لِي

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ২৯. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম বলিয়াছেনঃ তোমাদের এক ব্যক্তির দুআ কবুল করা হয় (যখন দুআ করে) যদি সে তাড়াতাড়ি না করে। সে বলেঃ আমি দুআ করিয়াছিলাম, কিন্তু আমার দুআ কবুল করা হইল না।

485

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْأَغَرِّ وَعَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الْآخِرُ فَيَقُولُ مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৩০. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম বলিয়াছেনঃ আমাদের প্রভু মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ্ অবতরণ করেন প্রতি রাত্রে দুনিয়ার আসমানে, যখন রাত্রির শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে। অতঃপর বলেনঃ কে (আছে এমন) আমাকে ডাকিবে? আমি তাহার ডাকে সাড়া দিব। কে (আছে এমন) আমার নিকট সওয়াল করিবে? আমি তাহাকে দান করিব। কে (আছে এমন) ক্ষমা প্রার্থনা করিবে? আমি তাহাকে ক্ষমা করিয়া দিব।

486

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ أَنَّ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ قَالَتْ كُنْتُ نَائِمَةً إِلَى جَنْبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَفَقَدْتُهُ مِنْ اللَّيْلِ فَلَمَسْتُهُ بِيَدِي فَوَضَعْتُ يَدِي عَلَى قَدَمَيْهِ وَهُوَ سَاجِدٌ يَقُولُ أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَبِكَ مِنْكَ لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ৩১. উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পার্শ্বে (একবার) নিদ্রিত ছিলাম। রাত্রির এক অংশে আমি তাহাকে হারাইয়া ফেলিলাম। তারপর (সন্ধান করিতে করিতে এক পর্যায়ে) আমার হাত দ্বারা তাহাকে স্পর্শ করলাম এবং আমি আমার হাত তাঁহার উভয় কদমের উপর স্থাপন করিলাম। তিনি তখন সিজদায় ছিলেন এবং বলিতেছিলেনঃ

أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَبِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ *أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ

*অর্থাৎ, আমি আপনার ক্রোধ হইতে আপনার সন্তুষ্টির, আপনার আযাব হইতে আপনার ক্ষমার শরণ লইতেছি। আপনার শরণ লইতেছি আপনার দ্বারা আপনারই পক্ষ হইতে। আপনার প্রশংসার উপযুক্ত হক আমি আদায় করিতে পারিব না। আপনি সেইরূপ যেরূপ আপনি স্বয়ং নিজের সত্তার প্রশংসা করিয়াছেন।
487

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زِيَادِ بْنِ أَبِي زِيَادٍ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كَرِيزٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَفْضَلُ الدُّعَاءِ دُعَاءُ يَوْمِ عَرَفَةَ وَأَفْضَلُ مَا قُلْتُ أَنَا وَالنَّبِيُّونَ مِنْ قَبْلِي لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৩২. তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ্ ইবনে কুরায়য (রাহঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ দুআর মধ্যে সর্বোত্তম দুআ হইল আরাফাতের দিবসের দুআ, আর উত্তম যাহা আমি ও আমার পূর্ববর্তী নবীগণ বলিয়াছেন, তাহা হইতেছে, (لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ)।

488

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ عَنْ طَاوُسٍ الْيَمَانِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُعَلِّمُهُمْ هَذَا الدُّعَاءَ كَمَا يُعَلِّمُهُمْ السُّورَةَ مِنْ الْقُرْآنِ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

রেওয়ায়ত ৩৩. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাহাদিগকে (নিম্নে বর্ণিত) এই দুআটি কুরআনের সূরা যেরূপ শিক্ষা দিতেন সেইরূপ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ

অর্থাৎ, হে আল্লাহ। আমি জাহান্নামের আযাব হইতে, কবরের আযাব হইতে, মসীহ দাজ্জালের ফিতনা হইতে, জীবিত এবং মৃতের ফিতনা হইতে আপনার শরণ লইতেছি।
489

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ عَنْ طَاوُسٍ الْيَمَانِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ يَقُولُ اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيَّامُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ أَنْتَ الْحَقُّ وَقَوْلُكَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ الْحَقُّ وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَأَخَّرْتُ وَأَسْرَرْتُ وَأَعْلَنْتُ أَنْتَ إِلَهِي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

রেওয়ায়ত ৩৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মধ্য রাত্রে যখন (তাহাজ্জুদ) নামাযের জন্য দাঁড়াইতেন, তখন বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيَّامُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ أَنْتَ الْحَقُّ وَقَوْلُكَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ الْحَقُّ وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَأَخَّرْتُ وَأَسْرَرْتُ وَأَعْلَنْتُ أَنْتَ إِلَهِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ


অর্থাৎ, হে আল্লাহ! হামদ আপনারই জন্য, আপনি আসমান ও যমীনের জ্যোতি, আপনারই জন্য হামদ, আপনি আসমান ও যমীনের রক্ষক, আপনারই জন্য হামদ, আসমান ও যমীনের এবং এতদুভয়ে যাহা কিছু আছে সকলেরই প্ৰভু আপনি। আপনি সত্য, আপনার বাণী সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আপনার সাক্ষাত সত্য, জান্নাত ও দোযখ সত্য, কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ! আপনার প্রতি আমি অনুগত হইয়াছি, আপনার প্রতি ঈমান আনিয়াছি এবং আপনার উপরই তাওয়াক্কুল করিয়াছি, আপনার দিকেই রুজু করিয়াছি, আপনার জন্যই আপনার শক্ৰদের সহিত বিবাদ করিয়াছি এবং আপনারই নিকট বিচার প্রার্থনা করিয়াছি, তাই আমাকে ক্ষমা করিয়া দিন- আমার পূর্বের ও পরের পাপসমূহ, আমার গোপন ও প্রকাশ্যে কৃত অপরাধসমূহ। আপনিই আমার মা’বুদ আপনি ব্যতীত অন্য কোন মা’বুদ নাই।
490

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَابِرِ بْنِ عَتِيكٍ أَنَّهُ قَالَ جَاءَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فِي بَنِي مُعَاوِيَةَ وَهِيَ قَرْيَةٌ مِنْ قُرَى الْأَنْصَارِ فَقَالَ هَلْ تَدْرُونَ أَيْنَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ مَسْجِدِكُمْ هَذَا فَقُلْتُ لَهُ نَعَمْ وَأَشَرْتُ لَهُ إِلَى نَاحِيَةٍ مِنْهُ فَقَالَ هَلْ تَدْرِي مَا الثَّلَاثُ الَّتِي دَعَا بِهِنَّ فِيهِ فَقُلْتُ نَعَمْ قَالَ فَأَخْبِرْنِي بِهِنَّ فَقُلْتُ دَعَا بِأَنْ لَا يُظْهِرَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ غَيْرِهِمْ وَلَا يُهْلِكَهُمْ بِالسِّنِينَ فَأُعْطِيَهُمَا وَدَعَا بِأَنْ لَا يَجْعَلَ بَأْسَهُمْ بَيْنَهُمْ فَمُنِعَهَا قَالَ صَدَقْتَ قَالَ ابْنُ عُمَرَ فَلَنْ يَزَالَ الْهَرْجُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৩৫. আব্দুল্লাহ্ ইবনে জাবির ইবনে আতিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) আসিলেন বনু মুআবিয়াতে— ইহা আনসারগণ অধ্যুষিত একটি লোকালয়। তিনি বলিলেন, তোমাদের মসজিদের কোন স্থানে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নামায পড়িয়াছেন, তোমরা তাহা অবগত আছ কি? আমি তাহাকে বলিলামঃ হ্যাঁ এবং সেই মসজিদের এক কিনারার দিকে ইশারা করিলাম। তারপর তিনি আমাকে বলিলেনঃ তুমি জান কি সেই তিনটি দুআ কি ছিল যাহা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সেই স্থানে করিয়াছিলেন? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, তবে আমাকে সেই দুআগুলির খবর দাও। অতঃপর আমি বলিলামঃ তিনি দুআ করিয়াছেন- (১) যেন তাহাদের উপর অমুসলিম শক্রকে বিজয়ী না করা হয়। (২) আর দুর্ভিক্ষ দ্বারা যেন তাহাদিগকে ধ্বংস করা না হয়। এই দুইটি তাহাকে প্রদান করা হইয়াছে। তিনি আরও দুআ করিয়াছেন, (৩) তাহাদের ধ্বংস তাহাদের পরস্পরের হানাহানি দ্বারা যেন না হয়। কিন্তু তাহার এই দুআ মঞ্জুর করা হয় নাই। তিনি বলিলেনঃ তুমি ঠিক বলিয়াছ। আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) বললেনঃ তবে পরস্পরের কলহ বরাবর থাকিবে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত।

491

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ مَا مِنْ دَاعٍ يَدْعُو إِلَّا كَانَ بَيْنَ إِحْدَى ثَلَاثٍ إِمَّا أَنْ يُسْتَجَابَ لَهُ وَإِمَّا أَنْ يُدَّخَرَ لَهُ وَإِمَّا أَنْ يُكَفَّرَ عَنْهُ

Narrator: যায়দ ইবনে আসলাম (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩৬. যায়দ ইবনে আসলাম (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, যে কোন ব্যক্তি দুআ করে, সে তিনটির একটি অবশ্যই পাইবে; হয় তো তাহার দুআ কবুল করা হইবে, অথবা প্রার্থিত বস্তু তাহার জন্য সঞ্চিত রাখা হইবে, অথবা এই দুআ তাহার গুনাহের কাফফারা হইবে।

৯. দুআর নিয়ম

بَاب الْعَمَلِ فِي الدُّعَاءِ

492

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ قَالَ رَآنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَأَنَا أَدْعُو وَأُشِيرُ بِأُصْبُعَيْنِ صَبْعٍ مِنْ كُلِّ يَدٍ فَنَهَانِي

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩৭. আব্দুল্লাহ্ ইবনে দীনার (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) আমাকে দেখিলেন যখন আমি দুআ করিতেছিলাম এবং ইশারা করিতেছিলাম দুই আঙুল দ্বারা, (প্রতি হাতের এক আঙুল দিয়া)। তিনি এরূপ করিতে আমাকে নিষেধ করিলেন।

493

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ كَانَ يَقُولُ إِنَّ الرَّجُلَ لَيُرْفَعُ بِدُعَاءِ وَلَدِهِ مِنْ بَعْدِهِ وَقَالَ بِيَدَيْهِ نَحْوَ السَّمَاءِ فَرَفَعَهُمَا

Narrator: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩৮. সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) বলতেন- নিঃসন্দেহে লোকের দরজা বুলন্দ করা হয় তাহার মৃত্যুর পর তাহার সন্তানের দুআর কারণে। আর তিনি তাহার হাত দ্বারা আসমানের দিকে ইশারা করিয়া উভয় হাত উপরে উঠাইলেন।

494
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ إِنَّمَا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا فِي الدُّعَاءِ
قَالَ يَحْيَى وَسُئِلَ مَالِك عَنْ الدُّعَاءِ فِي الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ فَقَالَ لَا بَأْسَ بِالدُّعَاءِ فِيهَا

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩৯. হিশাম ইবনে উরওয়াহ (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেন- (وَلاَ تَجْهَرْ بِصَلاَتِكَ وَلاَ تُخَافِتْ بِهَا وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلاً) [সূরা ইসরাঃ ১১০] আয়াতটি দু'আ সম্মন্ধেই নাযিল করা হইয়াছে।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বলেন- মালিক (রাহঃ)-কে ফরয নামাযে দুআ পাঠ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, ফরয নামাযে দুআ করাতে কোন ক্ষতি নাই।
495

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَدْعُو فَيَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ وَإِذَا أَرَدْتَ فِي النَّاسِ فِتْنَةً فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ غَيْرَ مَفْتُونٍ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪০. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট খবর পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুআ করিতেন ও বলিতেনঃ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ وَإِذَا أَرَدْتَ فِي النَّاسِ فِتْنَةً فَاقْبِضْنِي إِلَيْكَ غَيْرَ مَفْتُونٍ

অর্থাৎ, হে প্ৰভু! আমি যেন ভাল কাজ করি ও মন্দকে পরিত্যাগ করিতে পারি এবং মিসকিনদের ভালবাসিতে পারি, সেই তওফিক আপনার নিকট হইতে সাওয়াল করিতেছি, আর যখন লোকদিগকে পরীক্ষায় ফেলিতে ইচ্ছা করেন তখন আমাকে গোলযোগমুক্ত অবস্থায় আপনার নিকট গ্রহণ করিয়া লইবেন।
496

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ دَاعٍ يَدْعُو إِلَى هُدًى إِلَّا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ مَنْ اتَّبَعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا وَمَا مِنْ دَاعٍ يَدْعُو إِلَى ضَلَالَةٍ إِلَّا كَانَ عَلَيْهِ مِثْلُ أَوْزَارِهِمْ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْئًا

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪১. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট খবর পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফরমাইয়াছেনঃ যেকোন আহবানকারী হিদায়াতের দিকে আহবান করিবে তবে তাহাকে তাহার অনুসরণকারীদের সমান পুণ্য দেওয়া হইবে। অনুসরণকারীদের পুণ্য হইতে বিন্দুমাত্র কম করা হইবে না। আর যেকোন আহবানকারী পথভ্রষ্টতার দিকে আহবান করিবে, তবে তাহার উপর অনুসরণকারীদের পাপসমূহের সমান পাপ বৰ্তাইবে। তাহাতে অনুসরণকারীদের পাপসমূহের এতটুকুও কম করা হইবে না।
497

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنْ أَئِمَّةِ الْمُتَّقِينَ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪২. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) দুআ করিয়াছেন, (اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنْ أَئِمَّةِ الْمُتَّقِينَ) অর্থাৎ হে প্ৰভু! আমাকে আদর্শ মুত্তাকিনদের অন্তর্ভুক্ত কর।
498

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ أَبَا الدَّرْدَاءِ كَانَ يَقُومُ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ فَيَقُولُ نَامَتْ الْعُيُونُ وَغَارَتْ النُّجُومُ وَأَنْتَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪৩. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট খবর পৌছিয়াছে যে, আবুদ্দারদা (রাযিঃ) যখন মধ্যরাত্রে নামাযে দাঁড়াইতেন তখন বলিতেনঃ (نَامَتِ الْعُيُونُ وَغَارَتِ النُّجُومُ وَأَنْتَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ) অর্থাৎ চক্ষুসমূহ ঘুমাইয়াছে, নক্ষত্ররাজি অস্ত গিয়াছে এবং তুমি চিরঞ্জীব, চিরন্তন, স্বাধিষ্ঠ ।

১০. ফজর ও আসরের পর নামায নিষিদ্ধ হওয়া

بَاب النَّهْيِ عَنْ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصُّبْحِ وَبَعْدَ الْعَصْرِ

499

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الصُّنَابِحِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الشَّمْسَ تَطْلُعُ وَمَعَهَا قَرْنُ الشَّيْطَانِ فَإِذَا ارْتَفَعَتْ فَارَقَهَا ثُمَّ إِذَا اسْتَوَتْ قَارَنَهَا فَإِذَا زَالَتْ فَارَقَهَا فَإِذَا دَنَتْ لِلْغُرُوبِ قَارَنَهَا فَإِذَا غَرَبَتْ فَارَقَهَا وَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الصَّلَاةِ فِي تِلْكَ السَّاعَاتِ

Narrator: আব্দুল্লাহ সুনাবিহী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৪৪. আব্দুল্লাহ্ সুনাবিহি (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেন, নিশ্চয়ই সূর্য উদিত হয় এবং উহার সাথে শয়তানের শিং থাকে। অতঃপর যখন সূর্য উর্ধ্বে উঠে তখন শিং সূর্য হইতে পৃথক হইয়া যায়। ইহার পর সূর্য যখন বরাবর হয়, তখন উহা শয়তানের শিং-এর সহিত মিলিত হয়। ইহার পর যখন সূর্য হেলিয়া যায়, তখন উহা পৃথক হইয়া যায়। সূর্য যখন অস্তমিত হওয়ার সময় হয়, তখন উহা সূর্যের সহিত মিলিত হয়। অতঃপর যখন অস্তমিত হয়, তখন উহাকে ছাড়িয়া দেয়। এই সময়গুলিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায পড়িতে নিষেধ করিয়াছেন।
500

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا بَدَا حَاجِبُ الشَّمْسِ فَأَخِّرُوا الصَّلَاةَ حَتَّى تَبْرُزَ وَإِذَا غَابَ حَاجِبُ الشَّمْسِ فَأَخِّرُوا الصَّلَاةَ حَتَّى تَغِيبَ

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪৫. হিশাম ইবনে উরওয়াহ্ (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, যখন সূর্যের উপর দিকের অংশ উদিত হয় তখন তোমরা নামায বিলম্বে পড়িও, সূর্য পরিষ্কারভাবে ওঠা পর্যন্ত। আর যখন সূর্য অস্ত যায় তখন নামাযকে পিছাইয়া দাও উহা অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত।
501

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ دَخَلْنَا عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ بَعْدَ الظُّهْرِ فَقَامَ يُصَلِّي الْعَصْرَ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ ذَكَرْنَا تَعْجِيلَ الصَّلَاةِ أَوْ ذَكَرَهَا فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ تِلْكَ صَلَاةُ الْمُنَافِقِينَ تِلْكَ صَلَاةُ الْمُنَافِقِينَ تِلْكَ صَلَاةُ الْمُنَافِقِينَ يَجْلِسُ أَحَدُهُمْ حَتَّى إِذَا اصْفَرَّتْ الشَّمْسُ وَكَانَتْ بَيْنَ قَرْنَيْ الشَّيْطَانِ أَوْ عَلَى قَرْنِ الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَ أَرْبَعًا لَا يَذْكُرُ اللَّهَ فِيهَا إِلَّا قَلِيلًا

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৪৬. আলী ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) বলেনঃ আমরা যোহরের পর আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)-এর নিকট প্রবেশ করিলাম, তিনি আসর পড়িতে দাঁড়াইলেন। যখন তিনি নামায সমাপ্ত করিলেন, তখন নামাযে তাড়াতাড়ি করার বিষয় উল্লেখ করিলাম অথবা তিনি উল্লেখ করিলেন। অতঃপর তিনি বলিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলিতে শুনিয়াছি- উহা মুনাফিকদের নামায, উহা মুনাফিকদের নামায, উহা মুনাফিকদের নামায। তাহাদের একজন বসিয়া থাকে। যখন সূর্য হলুদ বর্ণের হইয়া যায় এবং উহা মিলিত হয় শয়তানের শিংয়ের সাথে। সে উঠে এবং চারটি ঠোকর মারে। উহাতে আল্লাহকে স্মরণ করে অতি অল্প।

502

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَتَحَرَّ أَحَدُكُمْ فَيُصَلِّيَ عِنْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَلَا عِنْدَ غُرُوبِهَا

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৪৭. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, তোমাদের কেউ যেন সূর্য উদয়ের সময় এবং অস্ত যাওয়ার সময় নামায পড়ার ইচ্ছা না করে।

503

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الصَّلَاةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَعَنْ الصَّلَاةِ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৪৮. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আসরের পর সূর্য অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত নামায পড়িতে নিষেধ করিয়াছেন আর ফজরের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত নামায পড়িতে নিষেধ করিয়াছেন।

504

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَانَ يَقُولُ لَا تَحَرَّوْا بِصَلَاتِكُمْ طُلُوعَ الشَّمْسِ وَلَا غُرُوبَهَا فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَطْلُعُ قَرْنَاهُ مَعَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَيَغْرُبَانِ مَعَ غُرُوبِهَا وَكَانَ يَضْرِبُ النَّاسَ عَلَى تِلْكَ الصَّلَاةِ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৪৯. আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত- উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) বলিতেনঃ তোমরা সূর্য উদয় এবং অস্ত যাওয়ার সময় তোমাদের নামায আদায় করার ইচ্ছা করিও না। কারণ শয়তান তাহার শিং দুইটি বাহির করে সূর্য উদয়ের সাথে এবং উভয়কে (শিং) অস্তমিত করে সূর্যাস্তের সাথে। আর তিনি [উমর (রাযিঃ)] লোকদিগকে এই (সময়) নামায পড়ার কারণে প্রহার করিতেন।
505

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ أَنَّهُ رَأَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَضْرِبُ الْمُنْكَدِرَ فِي الصَّلَاةِ بَعْدَ الْعَصْرِ

Narrator: সাঈব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৫০. সায়িব ইবনে ইয়াযিদ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত- তিনি উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-কে দেখিয়াছেন যে, তিনি [উমর (রাযিঃ)] আসরের পর নামায পড়ার কারণে মুনকাদির (রাহঃ)-কে প্রহার করিতেছেন।