كتاب القسامة

৪৪. কাসামা (নিহতের ব্যাপারে বিশেষ হলফ করা)

Chapter 44 · 6 hadith

১. প্রথমে ওয়ারিসদের কসম লওয়া হয়

باب تَبْدِئَةِ أَهْلِ الدَّمِ فِي الْقَسَامَةِ

1627

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي لَيْلَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَهْلٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ رِجَالٌ مِنْ كُبَرَاءِ قَوْمِهِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ وَمُحَيِّصَةَ خَرَجَا إِلَى خَيْبَرَ مِنْ جَهْدٍ أَصَابَهُمْ فَأُتِيَ مُحَيِّصَةُ فَأُخْبِرَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ قَدْ قُتِلَ وَطُرِحَ فِي فَقِيرِ بِئْرٍ أَوْ عَيْنٍ فَأَتَى يَهُودَ فَقَالَ أَنْتُمْ وَاللَّهِ قَتَلْتُمُوهُ فَقَالُوا وَاللَّهِ مَا قَتَلْنَاهُ فَأَقْبَلَ حَتَّى قَدِمَ عَلَى قَوْمِهِ فَذَكَرَ لَهُمْ ذَلِكَ ثُمَّ أَقْبَلَ هُوَ وَأَخُوهُ حُوَيِّصَةُ وَهُوَ أَكْبَرُ مِنْهُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ فَذَهَبَ مُحَيِّصَةُ لِيَتَكَلَّمَ وَهُوَ الَّذِي كَانَ بِخَيْبَرَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَبِّرْ كَبِّرْ يُرِيدُ السِّنَّ فَتَكَلَّمَ حُوَيِّصَةُ ثُمَّ تَكَلَّمَ مُحَيِّصَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِمَّا أَنْ يَدُوا صَاحِبَكُمْ وَإِمَّا أَنْ يُؤْذِنُوا بِحَرْبٍ فَكَتَبَ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذَلِكَ فَكَتَبُوا إِنَّا وَاللَّهِ مَا قَتَلْنَاهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِحُوَيِّصَةَ وَمُحَيِّصَةَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ أَتَحْلِفُونَ وَتَسْتَحِقُّونَ دَمَ صَاحِبِكُمْ فَقَالُوا لَا قَالَ أَفَتَحْلِفُ لَكُمْ يَهُودُ قَالُوا لَيْسُوا بِمُسْلِمِينَ فَوَدَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ عِنْدِهِ فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ بِمِائَةِ نَاقَةٍ حَتَّى أُدْخِلَتْ عَلَيْهِمْ الدَّارَ قَالَ سَهْلٌ لَقَدْ رَكَضَتْنِي مِنْهَا نَاقَةٌ حَمْرَاءُ قَالَ مَالِك الْفَقِيرُ هُوَ الْبِئْرُ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ১. সাহল ইবনে আবী হাসমা (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার বংশের কয়েকজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি তাহাকে সংবাদ দিয়াছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে সহল ও মুহায়্যিসা তাহদের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে খায়বরে চলিয়া গিয়াছেন। তথায় মুহায়্যিসার নিকট এক ব্যক্তি আসিয়া বলিল, কেহ আব্দুল্লাহকে হত্যা করিয়া কূপে ফেলিয়া দিয়াছে। ইহা শুনিয়া মুহায়্যিসা খায়বরের ইহুদীদের নিকট যাইয়া বলিল, আল্লাহর কসম! তোমরাই তাহাকে হত্যা করিয়াছ। ইহুদীরা বলিল, আল্লাহর কসম, আমরা তাহাকে হত্যা করি নাই। অতঃপর মুহায়্যিসা নিজের গোত্রের নিকট আসিয়া সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করিল। পরিশেষে মুহায়্যিসা তাহার বড় ভাই হুয়ায়্যিসা ও আব্দুর রহমান ইবনে সহলকে (নিহত ব্যক্তির ভাই) সঙ্গে লইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হইল। মুহায়্যিসা যেহেতু খায়বর গিয়াছিল, তাই সে প্রথম কথা বলিতে ইচ্ছা করিল। কিন্তু রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেনঃ বড়-র প্রতি লক্ষ্য কর (বড় ভাইকে কথা বলিতে দাও)। তাই প্রথমে হুয়ায়্যিসা সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করিয়া শুনাইল। শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেনঃ ইহুদীরা হয় দিয়াত দিবে, না হয় যুদ্ধ করিবে। অতঃপর তিনি এ ব্যাপারে ইহুদীগণকে লিখিলেন, তাহাদের হইতে উত্তর আসিল : আল্লাহর কসম, আমরা হত্যা করি নাই। অতঃপর সকলে ঐ তিন ব্যক্তিকে বলিলঃ তোমরা কসম করিয়া বল যে, ইহুদীরা হত্যা করিয়াছে। তাহা হইলে তোমরা দিয়াতের মালিক হইয়া যাইবে। তাহারা বলিলঃ আমরা তো কসম খাইতে পারি না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেনঃ আচ্ছা, যদি ইহুদী কসম করে যে, তাহারা মারে নাই? তাহারা বলিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্ তাহারা মুসলমান নয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিজের পক্ষ হইতে দিয়াত আদায় করিলেন। সহল বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আমার নিকট আমার বাড়িতে একশত উট পাঠাইলেন। উহাদের মধ্য হইতে একটি লাল উষ্ট্ৰী আমাকে লাথি মারিয়াছিল (আজও আমার উহা স্মরণ আছে)।

1628
قَالَ يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ الْأَنْصَارِيَّ وَمُحَيِّصَةَ بْنَ مَسْعُودٍ خَرَجَا إِلَى خَيْبَرَ فَتَفَرَّقَا فِي حَوَائِجِهِمَا فَقُتِلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَهْلٍ فَقَدِمَ مُحَيِّصَةُ فَأَتَى هُوَ وَأَخُوهُ حُوَيِّصَةُ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَهَبَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ لِيَتَكَلَّمَ لِمَكَانِهِ مِنْ أَخِيهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَبِّرْ كَبِّرْ فَتَكَلَّمَ حُوَيِّصَةُ وَمُحَيِّصَةُ فَذَكَرَا شَأْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَهْلٍ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَحْلِفُونَ خَمْسِينَ يَمِينًا وَتَسْتَحِقُّونَ دَمَ صَاحِبِكُمْ أَوْ قَاتِلِكُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ لَمْ نَشْهَدْ وَلَمْ نَحْضُرْ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتُبْرِئُكُمْ يَهُودُ بِخَمْسِينَ يَمِينًا فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ نَقْبَلُ أَيْمَانَ قَوْمٍ كُفَّارٍ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ فَزَعَمَ بُشَيْرُ بْنُ يَسَارٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَدَاهُ مِنْ عِنْدِهِ
قَالَ مَالِك الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا وَالَّذِي سَمِعْتُ مِمَّنْ أَرْضَى فِي الْقَسَامَةِ وَالَّذِي اجْتَمَعَتْ عَلَيْهِ الْأَئِمَّةُ فِي الْقَدِيمِ وَالْحَدِيثِ أَنْ يَبْدَأَ بِالْأَيْمَانِ الْمُدَّعُونَ فِي الْقَسَامَةِ فَيَحْلِفُونَ وَأَنَّ الْقَسَامَةَ لَا تَجِبُ إِلَّا بِأَحَدِ أَمْرَيْنِ إِمَّا أَنْ يَقُولَ الْمَقْتُولُ دَمِي عِنْدَ فُلَانٍ أَوْ يَأْتِيَ وُلَاةُ الدَّمِ بِلَوْثٍ مِنْ بَيِّنَةٍ وَإِنْ لَمْ تَكُنْ قَاطِعَةً عَلَى الَّذِي يُدَّعَى عَلَيْهِ الدَّمُ فَهَذَا يُوجِبُ الْقَسَامَةَ لِلْمُدَّعِينَ الدَّمَ عَلَى مَنْ ادَّعَوْهُ عَلَيْهِ وَلَا تَجِبُ الْقَسَامَةُ عِنْدَنَا إِلَّا بِأَحَدِ هَذَيْنِ الْوَجْهَيْنِ قَالَ مَالِك وَتِلْكَ السُّنَّةُ الَّتِي لَا اخْتِلَافَ فِيهَا عِنْدَنَا وَالَّذِي لَمْ يَزَلْ عَلَيْهِ عَمَلُ النَّاسِ أَنَّ الْمُبَدَّئِينَ بِالْقَسَامَةِ أَهْلُ الدَّمِ وَالَّذِينَ يَدَّعُونَهُ فِي الْعَمْدِ وَالْخَطَإِ قَالَ مَالِك وَقَدْ بَدَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَارِثِيِّينَ فِي قَتْلِ صَاحِبِهِمْ الَّذِي قُتِلَ بِخَيْبَرَ قَالَ مَالِك فَإِنْ حَلَفَ الْمُدَّعُونَ اسْتَحَقُّوا دَمَ صَاحِبِهِمْ وَقَتَلُوا مَنْ حَلَفُوا عَلَيْهِ وَلَا يُقْتَلُ فِي الْقَسَامَةِ إِلَّا وَاحِدٌ لَا يُقْتَلُ فِيهَا اثْنَانِ يَحْلِفُ مِنْ وُلَاةِ الدَّمِ خَمْسُونَ رَجُلًا خَمْسِينَ يَمِينًا فَإِنْ قَلَّ عَدَدُهُمْ أَوْ نَكَلَ بَعْضُهُمْ رُدَّتْ الْأَيْمَانُ عَلَيْهِمْ إِلَّا أَنْ يَنْكُلَ أَحَدٌ مِنْ وُلَاةِ الْمَقْتُولِ وُلَاةِ الدَّمِ الَّذِينَ يَجُوزُ لَهُمْ الْعَفْوُ عَنْهُ فَإِنْ نَكَلَ أَحَدٌ مِنْ أُولَئِكَ فَلَا سَبِيلَ إِلَى الدَّمِ إِذَا نَكَلَ أَحَدٌ مِنْهُمْ قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك وَإِنَّمَا تُرَدُّ الْأَيْمَانُ عَلَى مَنْ بَقِيَ مِنْهُمْ إِذَا نَكَلَ أَحَدٌ مِمَّنْ لَا يَجُوزُ لَهُ عَفْوٌ فَإِنْ نَكَلَ أَحَدٌ مِنْ وُلَاةِ الدَّمِ الَّذِينَ يَجُوزُ لَهُمْ الْعَفْوُ عَنْ الدَّمِ وَإِنْ كَانَ وَاحِدًا فَإِنَّ الْأَيْمَانَ لَا تُرَدُّ عَلَى مَنْ بَقِيَ مِنْ وُلَاةِ الدَّمِ إِذَا نَكَلَ أَحَدٌ مِنْهُمْ عَنْ الْأَيْمَانِ وَلَكِنْ الْأَيْمَانُ إِذَا كَانَ ذَلِكَ تُرَدُّ عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِمْ فَيَحْلِفُ مِنْهُمْ خَمْسُونَ رَجُلًا خَمْسِينَ يَمِينًا فَإِنْ لَمْ يَبْلُغُوا خَمْسِينَ رَجُلًا رُدَّتْ الْأَيْمَانُ عَلَى مَنْ حَلَفَ مِنْهُمْ فَإِنْ لَمْ يُوجَدْ أَحَدٌ يَحْلِفُ إِلَّا الَّذِي ادُّعِيَ عَلَيْهِ حَلَفَ هُوَ خَمْسِينَ يَمِينًا وَبَرِئَ قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك وَإِنَّمَا فُرِقَ بَيْنَ الْقَسَامَةِ فِي الدَّمِ وَالْأَيْمَانِ فِي الْحُقُوقِ أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا دَايَنَ الرَّجُلَ اسْتَثْبَتَ عَلَيْهِ فِي حَقِّهِ وَأَنَّ الرَّجُلَ إِذَا أَرَادَ قَتْلَ الرَّجُلِ لَمْ يَقْتُلْهُ فِي جَمَاعَةٍ مِنْ النَّاسِ وَإِنَّمَا يَلْتَمِسُ الْخَلْوَةَ قَالَ فَلَوْ لَمْ تَكُنِ الْقَسَامَةُ إِلَّا فِيمَا تَثْبُتُ فِيهِ الْبَيِّنَةُ وَلَوْ عُمِلَ فِيهَا كَمَا يُعْمَلُ فِي الْحُقُوقِ هَلَكَتْ الدِّمَاءُ وَاجْتَرَأَ النَّاسُ عَلَيْهَا إِذَا عَرَفُوا الْقَضَاءَ فِيهَا وَلَكِنْ إِنَّمَا جُعِلَتْ الْقَسَامَةُ إِلَى وُلَاةِ الْمَقْتُولِ يُبَدَّءُونَ بِهَا فِيهَا لِيَكُفَّ النَّاسُ عَنْ الدَّمِ وَلِيَحْذَرَ الْقَاتِلُ أَنْ يُؤْخَذَ فِي مِثْلِ ذَلِكَ بِقَوْلِ الْمَقْتُولِ قَالَ يَحْيَى وَقَدْ قَالَ مَالِك فِي الْقَوْمِ يَكُونُ لَهُمْ الْعَدَدُ يُتَّهَمُونَ بِالدَّمِ فَيَرُدُّ وُلَاةُ الْمَقْتُولِ الْأَيْمَانَ عَلَيْهِمْ وَهُمْ نَفَرٌ لَهُمْ عَدَدٌ أَنَّهُ يَحْلِفُ كُلُّ إِنْسَانٍ مِنْهُمْ عَنْ نَفْسِهِ خَمْسِينَ يَمِينًا وَلَا تُقْطَعُ الْأَيْمَانُ عَلَيْهِمْ بِقَدْرِ عَدَدِهِمْ وَلَا يَبْرَءُونَ دُونَ أَنْ يَحْلِفَ كُلُّ إِنْسَانٍ عَنْ نَفْسِهِ خَمْسِينَ يَمِينًا قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ قَالَ وَالْقَسَامَةُ تَصِيرُ إِلَى عَصَبَةِ الْمَقْتُولِ وَهُمْ وُلَاةُ الدَّمِ الَّذِينَ يَقْسِمُونَ عَلَيْهِ وَالَّذِينَ يُقْتَلُ بِقَسَامَتِهِمْ

Narrator: বুশাইর ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২. বুশাইর ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে সহল আনসারী ও মুহায়্যিসা খায়বর গিয়াছিল, তথায় যাইয়া তাহারা জিনজের কাজে ব্যস্ত হইয়া একে অপর হইতে পৃথক হইয়া গেল। আব্দুল্লাহকে কেহ হত্যা করিল। মুহায়্যিসা তাহার ভাই হুয়ায়্যিসা আব্দুর রহমানকে লইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খেদমতে উপস্থিত হইল এবং আব্দুর রহমান স্বীয় ভ্রাতার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট কথা বলিতে চাহিল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ যে বড় তাহার প্রতি লক্ষ্য কর। অতঃপর আব্দুল্লাহর ঘটনা মুহায়্যিসা ও হুয়ায়্যিসা বর্ণনা করিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেনঃ যদি তোমরা পঞ্চাশবার কসম খাইতে পার তবে তোমরা দিয়াত প্রাপ্ত হইবে। তাহারা বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা তো তখন তথায় ছিলাম না, আমরা দেখিও নাই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেনঃ তাহা হইলে ইহুদীরা পঞ্চাশ কসম করিয়া নির্দোষ হইয়া যাইবে। তাহারা বলিলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ, তাহারা তো কাফির! তাহদের কসম কি করিয়া গ্রহণ করা যাইবে? বুশাইর বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিজের পক্ষ হইতে দিয়াত আদায় করিলেন।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট ইহা একটি সর্বস্বীকৃত বিষয়, এ ব্যাপারে অনেক আলিমের নিকটও শ্রবণ করিয়াছে এবং পূর্ব যুগের আর পরবর্তী যুগের ইমামগণও ইহাতে একমত হইয়াছেন যে, কসম লওয়ার ব্যাপারে প্রথমত বাদীপক্ষের নিকট হইতেই কসম লইতে হইবে। বাদিগণই প্রথমত কসম করিবে (যদি তাহারা কসম না করে তবে বিবাদী হইতে কসম লইতে হইবে। যদি তাহারা কসম করে, তবে তাহারা নির্দোষ সাব্যস্ত হইবে)।

নিম্নোক্ত দুইটি কারণের যে কোন একটির জন্যই কসম লওয়া অনিবার্য হয়। প্রথমত মৃত্যুর পূর্বে নিহত ব্যক্তি নিজেই বলিবে, যদি তাহার পক্ষে বলা সম্ভব হয় : আমাকে অমুক ব্যক্তি হত্যা করিয়াছে, ইহা তখনই যখন কোন সাক্ষী না থাকে। দ্বিতীয়ত, নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসগণ যখন কাহারও উপর হত্যার সন্দেহ করে (অথচ কোন সাক্ষী পাওয়া না যায়)। আমাদের নিকট এই দুইটি কারণেই কসম লওয়া অনিবার্য হয়। এতদ্ব্যতীত অন্য কোন কারণে কসম লওয়া অনিবার্য হয় না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট এই সুন্নত সর্বসম্মত এবং ইহার উপর সর্বসাধারণের আমলও রহিয়াছে যে, প্রথমে বাদী পক্ষ হইতেই কসম লইতে হইবে। সেই হত্যা ইচ্ছাকৃত হত্যাই হউক অথবা অনিচ্ছাকৃত হত্যাই হউক।

মালিক (রাহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বনী হারিসের কোন আত্মীয় খায়বরে মারা যাওয়ার পর প্রথমত বনী হারিসকেই কসম করিতে বলিয়াছিলেন।

মালিক (রাহঃ) বলেন, যদি বাদীপক্ষ কসম করে, তবে তাহারা যাহাদের ব্যাপারে কসম করিয়াছে তাহাদিগকে হত্যা করিতে পারবে। কিন্তু এমতাবস্থায় প্রথমে বাদী পক্ষ হইতে পঞ্চাশ কসম লওয়া হইবে। যদি তাহারা পঞ্চাশজন হয় তবে প্রত্যেকে একটি কসম করিবে। আর যাদি তাহারা সংখ্যায় পঞ্চাশ জনের কম হয় অথবা তাহাদের কেহ কসম করিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে, তবে তাহাদের হইতে দুই দুইবার অথবা তিন তিনবার কসম লইয়া পঞ্চাশ পূর্ণ করিতে হইবে। কিন্তু যখন নিহত ব্যক্তির এমন ওয়ারিসগণ যাহাদের হত্যাকারীকে ক্ষমা করার অধিকার আছে, তাহাদের একজনও যদি কসম করিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে তবে এই একজনের কসম করিতে অনিচ্ছা প্রকাশের ফলে কিসাস আর অনিবার্য হইবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেন, নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসগণ যাহাদের ক্ষমা করিবার অধিকার নাই এমন ব্যক্তিদের কেহ কসম করিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করিলেও অবশিষ্ট ব্যক্তিদের হইতে কসম লওয়া হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেন, যাহাদের ক্ষমা করিবার অধিকার রহিয়াছে এমন ওয়ারিসদের একজনও যদি কসম করিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে, তবে অবশিষ্ট ব্যক্তিদের হইতে আর কসম লওয়া হইবে না, বরং এমতাবস্থায় বিবাদীগণ হইতে কসম লইতে হইবে, বিবাদীদের পঞ্চাশজন পঞ্চাশ কসম করিবে। যদি তাহাদের সংখ্যা পঞ্চাশজন হইতে কম হয়, তবে দুই দুইবার, তিন তিন বার করিয়া হইলেও পঞ্চাশ পূর্ণ করিতে হইবে। যদি বিবাদী মাত্র একজন হয়, তবে এই একজন হইতেই পঞ্চাশ কসম লইতে হইবে। যদি এই এক ব্যক্তি পঞ্চাশ কসম করিয়া ফেলে, তবে সে নির্দোষ সাব্যস্ত হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেন, হত্যার বেলায় পঞ্চাশ কসম লওয়া হইয়া থাকে আর অন্যান্য দাবি আদায়ের জন্য শুধু এক কসমই লওয়া হয়। কেননা মানুষ কাহাকেও কাহারও সম্মুখে হত্যা করে না। যদি অন্যান্য দাবির মতো হত্যার বেলায়ও মাত্র একটি কসমই লওয়া হইত তাহা হইলে অনেক হত্যাই বৃথা যাইত এবং মানুষ হত্যার উৎসাহ পাইত। কিন্তু হত্যার কসমের বেলায় প্রথমত বাদী পক্ষ হইতেই কসম লওয়ার প্রথা নির্ধারিত হইয়াছে যেন মানুষ হত্যা করিতে সাহস না করে এবং এই ভাবিয়া ভীত থাকে যে, এ ব্যাপারে তো নিহত ব্যক্তির কথাই ধর্তব্য।

মালিক (রাহঃ) বলেন, যদি কোন একটি পূর্ণ সম্প্রদায়ের উপর হত্যার অভিযোগ আনা হয় যাহাতে অনেক লোক রহিয়াছে, আর নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসগণ তাহাদের নিকট হইতে কসম লইতে ইচ্ছা করে, তাহা হইলে ঐ সমস্ত লোকের প্রত্যেক ব্যক্তি পঞ্চাশটি করিয়া কসম করিবে। সকলে মিলিয়া পঞ্চাশটি কসম করিলে চলিবে না। এ ব্যাপারে আমি ইহাই উত্তম শ্রবণ করিয়াছি।

মালিক (রাহঃ) বলেন, নিহত ব্যক্তির আসাবা যাহারা এই হত্যার হকদার তাহাদেরকেই কসম দেওয়া থাকে আর তাহাদের কসম করার পরই কিসাস লওয়া হয়।

(ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মতে কসমের দ্বারা কিসাস সাব্যস্ত হয় না, শুধু দিয়াত (রক্তপণ) সাব্যস্ত হইয়া থাকে)।

২. নিহত ব্যক্তির কোন কোন ওয়ারিস হইতে কসম লওয়া হইবে

باب مَنْ تَجُوزُ قَسَامَتُهُ فِي الْعَمْدِ مِنْ وُلَاةِ الدَّمِ

1629

قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك الْأَمْرُ الَّذِي لَا اخْتِلَافَ فِيهِ عِنْدَنَا أَنَّهُ لَا يَحْلِفُ فِي الْقَسَامَةِ فِي الْعَمْدِ أَحَدٌ مِنْ النِّسَاءِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ لِلْمَقْتُولِ وُلَاةٌ إِلَّا النِّسَاءُ فَلَيْسَ لِلنِّسَاءِ فِي قَتْلِ الْعَمْدِ قَسَامَةٌ وَلَا عَفْوٌ قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يُقْتَلُ عَمْدًا أَنَّهُ إِذَا قَامَ عَصَبَةُ الْمَقْتُولِ أَوْ مَوَالِيهِ فَقَالُوا نَحْنُ نَحْلِفُ وَنَسْتَحِقُّ دَمَ صَاحِبِنَا فَذَلِكَ لَهُمْ قَالَ مَالِك فَإِنْ أَرَادَ النِّسَاءُ أَنْ يَعْفُونَ عَنْهُ فَلَيْسَ ذَلِكَ لَهُنَّ الْعَصَبَةُ وَالْمَوَالِي أَوْلَى بِذَلِكَ مِنْهُنَّ لِأَنَّهُمْ هُمْ الَّذِينَ اسْتَحَقُّوا الدَّمَ وَحَلَفُوا عَلَيْهِ قَالَ مَالِك وَإِنْ عَفَتْ الْعَصَبَةُ أَوْ الْمَوَالِي بَعْدَ أَنْ يَسْتَحِقُّوا الدَّمَ وَأَبَى النِّسَاءُ وَقُلْنَ لَا نَدَعُ دَمَ صَاحِبِنَا فَهُنَّ أَحَقُّ وَأَوْلَى بِذَلِكَ لِأَنَّ مَنْ أَخَذَ الْقَوَدَ أَحَقُّ مِمَّنْ تَرَكَهُ مِنْ النِّسَاءِ وَالْعَصَبَةِ إِذَا ثَبَتَ الدَّمُ وَوَجَبَ الْقَتْلُ قَالَ مَالِك لَا يُقْسِمُ فِي قَتْلِ الْعَمْدِ مِنْ الْمُدَّعِينَ إِلَّا اثْنَانِ فَصَاعِدًا فَتُرَدُّ الْأَيْمَانُ عَلَيْهِمَا حَتَّى يَحْلِفَا خَمْسِينَ يَمِينًا ثُمَّ قَدْ اسْتَحَقَّا الدَّمَ وَذَلِكَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا قَالَ مَالِك وَإِذَا ضَرَبَ النَّفَرُ الرَّجُلَ حَتَّى يَمُوتَ تَحْتَ أَيْدِيهِمْ قُتِلُوا بِهِ جَمِيعًا فَإِنْ هُوَ مَاتَ بَعْدَ ضَرْبِهِمْ كَانَتْ الْقَسَامَةُ وَإِذَا كَانَتْ الْقَسَامَةُ لَمْ تَكُنْ إِلَّا عَلَى رَجُلٍ وَاحِدٍ وَلَمْ يُقْتَلْ غَيْرُهُ وَلَمْ نَعْلَمْ قَسَامَةً كَانَتْ قَطُّ إِلَّا عَلَى رَجُلٍ وَاحِدٍ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট সর্বসম্মত মাসআলা এই যে, হত্যার কসমে স্ত্রীলোকদের নিকট হইতে কসম লওয়া হইবে না। যদি নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস শুধু স্ত্রীলোকই হয়, তবে ইচ্ছাকৃত হত্যায় না তাহাদের কসম করার অধিকার থাকে, না ক্ষমা করার।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ এক ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হইল, তাহার উত্তরাধিকারী ওয়ারিসগণ বলিলঃ আমরা কসম করিয়া কিসাস লইব। তবে তাহাদের জন্য ইহা বৈধ হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেন, এমতাবস্থায় যদি নারিগণ ক্ষমা করিতে ইচ্ছা করে তবে তাহাদের এই ইচ্ছা করা বৃথা। মালিক (রাহঃ) বলেন, এ ব্যাপারে আসাবা ও ওয়ারিসগণ স্ত্রীগণ অপেক্ষা অগ্রগণ্য। কেননা তাহারা অধিকারী হিসাবে নিহত ব্যক্তির অধিক নিকটবর্তী আর তাহারা কসম করিয়াছে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি আসাবা বা ওয়ারিসগণ কসম করার পর নিজেরাই ক্ষমা করিয়া দেয় আর নারিগণ ক্ষমা না করে, তবে নারিগণের কিসাস লওয়ার অধিকার থাকিবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ইচ্ছাকৃত হত্যায় অন্তত দুইজন বাদী হইতে কসম লইতেই হইবে। তাহাদের হইতে পঞ্চাশ কসম লইয়া কিসাসের আদেশ দেওয়া হইবে।

যরকানী বলেনঃ কিসাস যেরূপ দুইজন সাক্ষীর সাক্ষ্য ব্যতীত সাব্যস্ত হয় না, তদ্রূপ কসমের বেলায়ও দুই অথবা তদুর্ধ বাদী যতক্ষণ পর্যন্ত পঞ্চাশ কসম না করিবে ততক্ষণ পর্যন্ত কিসাসের আদেশ দেওয়া হইবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি কয়েকজন লোক সম্মিলিতভাবে এক ব্যক্তিকে এইভাবে হত্যা করে যে, ঐ ব্যক্তি সকলের আঘাতে তৎক্ষণাৎ মৃত্যুবরণ করে, তাহা হইলে কিসাসে সকলকেই হত্যা করা হইবে। যদি কয়েকদিন পর মারা যায়, তবে কসম লইতে হইবে। আর কসমের দারুন তাহাদের মধ্য হইতে শুধু এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হইবে। কেননা কসমের দ্বারা সর্বদা এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হয় অর্থাৎ এক ব্যক্তিকে তো হত্যা করা হইবে, অবশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যেককে একশত বেত্ৰাঘাত করা হইবে।

৩. অনিচ্ছাকৃত অর্থাৎ ভুলক্রমে হত্যার কসম

باب الْقَسَامَةِ فِي قَتْلِ الْخَطَإِ

1630

قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك الْقَسَامَةُ فِي قَتْلِ الْخَطَإِ يُقْسِمُ الَّذِينَ يَدَّعُونَ الدَّمَ وَيَسْتَحِقُّونَهُ بِقَسَامَتِهِمْ يَحْلِفُونَ خَمْسِينَ يَمِينًا تَكُونُ عَلَى قَسْمِ مَوَارِيثِهِمْ مِنْ الدِّيَةِ فَإِنْ كَانَ فِي الْأَيْمَانِ كُسُورٌ إِذَا قُسِمَتْ بَيْنَهُمْ نُظِرَ إِلَى الَّذِي يَكُونُ عَلَيْهِ أَكْثَرُ تِلْكَ الْأَيْمَانِ إِذَا قُسِمَتْ فَتُجْبَرُ عَلَيْهِ تِلْكَ الْيَمِينُ قَالَ مَالِك فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لِلْمَقْتُولِ وَرَثَةٌ إِلَّا النِّسَاءُ فَإِنَّهُنَّ يَحْلِفْنَ وَيَأْخُذْنَ الدِّيَةَ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ وَارِثٌ إِلَّا رَجُلٌ وَاحِدٌ حَلَفَ خَمْسِينَ يَمِينًا وَأَخَذَ الدِّيَةَ وَإِنَّمَا يَكُونُ ذَلِكَ فِي قَتْلِ الْخَطَإِ وَلَا يَكُونُ فِي قَتْلِ الْعَمْدِ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেন, অনিচ্ছাকৃত হত্যায়ও বাদীপক্ষই প্রথমত কসম করিবে। তাহারা নিজেদের দিয়াতের অংশ অনুপাতে কসম করিবে পঞ্চাশ কসম। যেমন মৃত ব্যক্তির এক ছেলে আর তিন কন্যা রহিয়াছে। এখানে ছেলের দুই অংশ আর তিন কন্যার তিন অংশ - মোট পাঁচ অংশ হইল। পঞ্চাশকে পাঁচ ভাগ করিলে প্রতি অংশে দশ কসম আসিল। যেহেতু ছেলে দুই অংশ পাইবে, অতএব তাহাকে বিশ কসম করিতে হইবে আর প্রত্যেক কন্যা করিবে দশ কসম।

যদি কসমে ভগ্নাংশ আসিয়া পড়ে তাহা হইলে যাহার উপর ভগ্নাংশের অংশ বেশী পড়িবে তাহার অংশেই পূর্ণ কসম বর্তাইবে। যেমন মৃত ব্যক্তি মা ও পিতা রাখিয়া গেল। যেহেতু মা এক তৃতীয়াংশ অংশের মালিক, পঞ্চাশকে তিন ভাগ করিলে ১৬ ভাগ ও দুইতৃতীয়াংশ প্রতি অংশে আসে। যেহেতু দুইতৃতীয়াংশ ভগ্নাংশের বেশী অংশ, অতএব মার অংশে ১৭ কসম আসিবে আর অবশিষ্ট ৩৩ কসম পিতার অংশে পড়িবে।

মালিক (রাহঃ) বলেন, নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস যদি শুধু নারীই হয় তাহা হইলে তাহারাই কসম করিয়া দিয়াত (রক্তপণ) গ্রহণ করিবে।

আর যদি নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস শুধু একজন পুরুষ হয় তবে সে একাই পঞ্চাশ কসম করিয়া দিয়াত গ্রহণ করিবে।

৪. উত্তরাধিকারীর কসম করার ব্যাপারে

باب الْمِيرَاثِ فِي الْقَسَامَةِ

1631

قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك إِذَا قَبِلَ وُلَاةُ الدَّمِ الدِّيَةَ فَهِيَ مَوْرُوثَةٌ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ يَرِثُهَا بَنَاتُ الْمَيِّتِ وَأَخَوَاتُهُ وَمَنْ يَرِثُهُ مِنْ النِّسَاءِ فَإِنْ لَمْ يُحْرِزْ النِّسَاءُ مِيرَاثَهُ كَانَ مَا بَقِيَ مِنْ دِيَتِهِ لِأَوْلَى النَّاسِ بِمِيرَاثِهِ مَعَ النِّسَاءِ قَالَ مَالِك إِذَا قَامَ بَعْضُ وَرَثَةِ الْمَقْتُولِ الَّذِي يُقْتَلُ خَطَأً يُرِيدُ أَنْ يَأْخُذَ مِنْ الدِّيَةِ بِقَدْرِ حَقِّهِ مِنْهَا وَأَصْحَابُهُ غَيَبٌ لَمْ يَأْخُذْ ذَلِكَ وَلَمْ يَسْتَحِقَّ مِنْ الدِّيَةِ شَيْئًا قَلَّ وَلَا كَثُرَ دُونَ أَنْ يَسْتَكْمِلَ الْقَسَامَةَ يَحْلِفُ خَمْسِينَ يَمِينًا فَإِنْ حَلَفَ خَمْسِينَ يَمِينًا اسْتَحَقَّ حِصَّتَهُ مِنْ الدِّيَةِ وَذَلِكَ أَنَّ الدَّمَ لَا يَثْبُتُ إِلَّا بِخَمْسِينَ يَمِينًا وَلَا تَثْبُتُ الدِّيَةُ حَتَّى يَثْبُتَ الدَّمُ فَإِنْ جَاءَ بَعْدَ ذَلِكَ مِنْ الْوَرَثَةِ أَحَدٌ حَلَفَ مِنْ الْخَمْسِينَ يَمِينًا بِقَدْرِ مِيرَاثِهِ مِنْهَا وَأَخَذَ حَقَّهُ حَتَّى يَسْتَكْمِلَ الْوَرَثَةُ حُقُوقَهُمْ إِنْ جَاءَ أَخٌ لِأُمٍّ فَلَهُ السُّدُسُ وَعَلَيْهِ مِنْ الْخَمْسِينَ يَمِينًا السُّدُسُ فَمَنْ حَلَفَ اسْتَحَقَّ مِنْ الدِّيَةِ وَمَنْ نَكَلَ بَطَلَ حَقُّهُ وَإِنْ كَانَ بَعْضُ الْوَرَثَةِ غَائِبًا أَوْ صَبِيًّا لَمْ يَبْلُغْ حَلَفَ الَّذِينَ حَضَرُوا خَمْسِينَ يَمِينًا فَإِنْ جَاءَ الْغَائِبُ بَعْدَ ذَلِكَ أَوْ بَلَغَ الصَّبِيُّ الْحُلُمَ حَلَفَ كُلٌّ مِنْهُمَا يَحْلِفُونَ عَلَى قَدْرِ حُقُوقِهِمْ مِنْ الدِّيَةِ وَعَلَى قَدْرِ مَوَارِيثِهِمْ مِنْهَا قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেন, যদি নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারিগণ দিয়াত (রক্তপণ) গ্রহণ করে তাহা হইলে উহা আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত নিয়মে বন্টন করা হইবে। মৃত ব্যক্তিকে কন্যাগণ, ভাগ্নিগণ এবং যে সমস্ত নারী তাহার উত্তরাধিকারিণী তাহারা অংশ পাইবে। যদি তাহাদের অংশ দেওয়ার পরও কিছু অবশিষ্ট থাকে, তবে উহা নিকটাত্মীয় আসবাবগণ পাইবে।*

মালিক (রাহঃ) বলেন, যদি নিহত ব্যক্তির কোন উত্তরাধিকারী অনুপস্থিত থাকে, আর কেহ কেহ উপস্থিত থাকে, উপস্থিত উত্তরাধিকারিগণ কসম করিয়া নিজেদের অংশ গ্রহণ করিতে ইচ্ছা করে, তবে তাহারা সম্পূর্ণ কসম পূর্ণ করার পূর্বে তাহাদের অংশ গ্রহণ করিতে পারবে না, অবশ্য যদি তাহারা পঞ্চাশ কসম পূর্ণ করে, তবে দিয়াতের অংশ যাহা তাহাদের ভাগে পড়ে উহা তাহারা গ্রহণ করিতে পারিবে। কেননা পঞ্চাশ কসমের পূর্বে তো হত্যাই সাব্যস্ত হয় না, আর হত্যা সাব্যস্ত না হইলে দিয়াতও সাব্যস্ত হয় না, এইরূপ সমস্ত উত্তরাধিকারীর প্রাপ্য অংশ পূর্ণ হইয়া যাইবে। যদি বৈপিত্রেয় ভাই আসে, তবে সে এক তৃতীয়াংশ পাইবে এবং পঞ্চাশ কসমের অংশ হারে কসম করিয়া স্বীয় অংশ গ্রহণ করিবে। যদি সে কসম না করে তবে তাহার অংশ সে পাইবে না। যদি কোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক উত্তরাধিকারী অনুপস্থিত থাকে, তবে উপস্থিত উত্তরাধিকারী হইতে পঞ্চাশ কসম লওয়া হইবে। অতঃপর যদি অনুপস্থিত ব্যক্তি আসিয়া পড়ে তাহা হইতেও তাহার অংশের অনুপাতে কসম লওয়া হইবে। আর যখন অপ্রাপ্তবয়স্ক বালেগ হইয়া যায় তখন সেও স্বীয় অংশ অনুপাতে কসম করিবে। এই ব্যাপারে ইহাই উত্তম সিদ্ধান্ত যাহা আমি শ্রবণ করিয়াছি।

৫. দাসের ব্যাপারে কসম

باب الْقَسَامَةِ فِي الْعَبِيدِ

1632

قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الْعَبِيدِ أَنَّهُ إِذَا أُصِيبَ الْعَبْدُ عَمْدًا أَوْ خَطَأً ثُمَّ جَاءَ سَيِّدُهُ بِشَاهِدٍ حَلَفَ مَعَ شَاهِدِهِ يَمِينًا وَاحِدَةً ثُمَّ كَانَ لَهُ قِيمَةُ عَبْدِهِ وَلَيْسَ فِي الْعَبِيدِ قَسَامَةٌ فِي عَمْدٍ وَلَا خَطَإٍ وَلَمْ أَسْمَعْ أَحَدًا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالَ ذَلِكَ قَالَ مَالِك فَإِنْ قُتِلَ الْعَبْدُ عَبْدًا عَمْدًا أَوْ خَطَأً لَمْ يَكُنْ عَلَى سَيِّدِ الْعَبْدِ الْمَقْتُولِ قَسَامَةٌ وَلَا يَمِينٌ وَلَا يَسْتَحِقُّ سَيِّدُهُ ذَلِكَ إِلَّا بِبَيِّنَةٍ عَادِلَةٍ أَوْ بِشَاهِدٍ فَيَحْلِفُ مَعَ شَاهِدِهِ قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট এই আদেশ রহিয়াছে যে, যদি দাস ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে নিহত হয়, আর তাহার প্রভু একজন সাক্ষী উপস্থিত করে, তবে সে ঐ সাক্ষীর সহিত একটি কসম করিবে। তাহা হইলে সে দাসের মূল্য প্রাপ্ত হইবে।

দাসদের মধ্যে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত হত্যায় কসম নাই। তাহাদের কসম লওয়ার কথা আমি কোন আলিমের নিকট শুনি নাই।

মালিক (রাহঃ) বলেন, যদি দাস ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে নিহত হয়, তাহা হইলে তাহার প্রভুর উপর কোনরূপ কসম অর্পিত হয় না। প্ৰভু তখনই মূল্য প্রাপ্ত হইবে যখন সে এক অথবা দুইজন সাক্ষী উপস্থিত করিয়া নিজেও সাক্ষী হিসাবে এক কসম করিবে।