كتاب العتق والولاء

৩৮. আযাদ করা এবং স্বত্বাধিকার প্রসঙ্গে

Chapter 38 · 25 hadith

১. যে ব্যক্তি গোলাম বা বাঁদীর মধ্যে তাহার নির্ধারিত অংশকে আযাদ করে তাহার মাসআলা

بَاب مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي مَمْلُوكٍ

1498
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي عَبْدٍ فَكَانَ لَهُ مَالٌ يَبْلُغُ ثَمَنَ الْعَبْدِ قُوِّمَ عَلَيْهِ قِيمَةَ الْعَدْلِ فَأَعْطَى شُرَكَاءَهُ حِصَصَهُمْ وَعَتَقَ عَلَيْهِ الْعَبْدُ وَإِلَّا فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ
قَالَ مَالِك وَالْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا فِي الْعَبْدِ يُعْتِقُ سَيِّدُهُ مِنْهُ شِقْصًا ثُلُثَهُ أَوْ رُبُعَهُ أَوْ نِصْفَهُ أَوْ سَهْمًا مِنْ الْأَسْهُمِ بَعْدَ مَوْتِهِ أَنَّهُ لَا يَعْتِقُ مِنْهُ إِلَّا مَا أَعْتَقَ سَيِّدُهُ وَسَمَّى مِنْ ذَلِكَ الشِّقْصِ وَذَلِكَ أَنَّ عَتَاقَةَ ذَلِكَ الشِّقْصِ إِنَّمَا وَجَبَتْ وَكَانَتْ بَعْدَ وَفَاةِ الْمَيِّتِ وَأَنَّ سَيِّدَهُ كَانَ مُخَيَّرًا فِي ذَلِكَ مَا عَاشَ فَلَمَّا وَقَعَ الْعِتْقُ لِلْعَبْدِ عَلَى سَيِّدِهِ الْمُوصِي لَمْ يَكُنْ لِلْمُوصِي إِلَّا مَا أَخَذَ مِنْ مَالِهِ وَلَمْ يَعْتِقْ مَا بَقِيَ مِنْ الْعَبْدِ لِأَنَّ مَالَهُ قَدْ صَارَ لِغَيْرِهِ فَكَيْفَ يَعْتِقُ مَا بَقِيَ مِنْ الْعَبْدِ عَلَى قَوْمٍ آخَرِينَ لَيْسُوا هُمْ ابْتَدَءُوا الْعَتَاقَةَ وَلَا أَثْبَتُوهَا وَلَا لَهُمْ الْوَلَاءُ وَلَا يَثْبُتُ لَهُمْ وَإِنَّمَا صَنَعَ ذَلِكَ الْمَيِّتُ هُوَ الَّذِي أَعْتَقَ وَأُثْبِتَ لَهُ الْوَلَاءُ فَلَا يُحْمَلُ ذَلِكَ فِي مَالِ غَيْرِهِ إِلَّا أَنْ يُوصِيَ بِأَنْ يَعْتِقَ مَا بَقِيَ مِنْهُ فِي مَالِهِ فَإِنَّ ذَلِكَ لَازِمٌ لِشُرَكَائِهِ وَوَرَثَتِهِ وَلَيْسَ لِشُرَكَائِهِ أَنْ يَأْبَوْا ذَلِكَ عَلَيْهِ وَهُوَ فِي ثُلُثِ مَالِ الْمَيِّتِ لِأَنَّهُ لَيْسَ عَلَى وَرَثَتِهِ فِي ذَلِكَ ضَرَرٌ قَالَ مَالِك وَلَوْ أَعْتَقَ رَجُلٌ ثُلُثَ عَبْدِهِ وَهُوَ مَرِيضٌ فَبَتَّ عِتْقَهُ عَتَقَ عَلَيْهِ كُلُّهُ فِي ثُلُثِهِ وَذَلِكَ أَنَّهُ لَيْسَ بِمَنْزِلَةِ الرَّجُلِ يُعْتِقُ ثُلُثَ عَبْدِهِ بَعْدَ مَوْتِهِ لِأَنَّ الَّذِي يُعْتِقُ ثُلُثَ عَبْدِهِ بَعْدَ مَوْتِهِ لَوْ عَاشَ رَجَعَ فِيهِ وَلَمْ يَنْفُذْ عِتْقُهُ وَأَنَّ الْعَبْدَ الَّذِي يَبِتُّ سَيِّدُهُ عِتْقَ ثُلُثِهِ فِي مَرَضِهِ يَعْتِقُ عَلَيْهِ كُلُّهُ إِنْ عَاشَ وَإِنْ مَاتَ عَتَقَ عَلَيْهِ فِي ثُلُثِهِ وَذَلِكَ أَنَّ أَمْرَ الْمَيِّتِ جَائِزٌ فِي ثُلُثِهِ كَمَا أَنَّ أَمْرَ الصَّحِيحِ جَائِزٌ فِي مَالِهِ كُلِّهِ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি গোলামের মধ্যে তাহার নির্ধারিত অংশকে আযাদ করিয়া দেয় এবং তাহার রহিয়াছে মাল (সঙ্গতি) যাহা গোলামের মূল্য পরিমাণ হইবে, তবে তাহার উদ্দেশ্যে ন্যায়সঙ্গতভাবে মূল্য নিরূপণ করা হইবে, অতঃপর শরীকদিগকে তাহাদের স্ব-স্ব অংশ দেওয়া হইবে এবং তাহার পক্ষ হইতে গোলাম আযাদ হইয়া যাইবে। নতুবা [অর্থাৎ গোলামের মূল্য পরিমাণ অর্থ আযাদী প্রদানকারীর নিকট থাকিলে] যতটুকুর সে স্বত্বাধিকারী উহার সেই অংশ আযাদ হইয়াছে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ গোলামের ব্যাপারে আমাদের নিকট যাহা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত মত তাহা হইতেছে এই যে গোলামের কর্তা তাহার গোলামের এক-তৃতীয়াংশ অথবা এক-চতুর্থাংশ অথবা অর্ধেক অথবা অংশ হইতে যে কোন অংশ আযাদ করিয়াছে তাহার মৃত্যুর পর [অর্থাৎ জীবিতাবস্থায় বলিয়াছে যে তাহার মৃত্যুর পর গোলামের সেই অংশ আযাদ হইবে]। তবে কর্তা যতটুকু আযাদ করিয়াছে এবং যেই পরিমাণ অংশ নির্দিষ্ট করিয়াছে গোলাম-এর সেই পরিমাণ অংশই আযাদ হইবে। কারণ এই নির্ধারিত পরিমাণ বা অংশের আযাদী ওয়াজিব হইয়াছে কর্তার মৃত্যুর পর। পক্ষান্তরে তাহার কর্তা জীবিত থাকিতে এই ব্যাপারে তাহার ইখতিয়ার ছিল। অর্থ দ্বারা ক্রয় করিয়া অবশিষ্ট অংশ আযাদ করার ইখতিয়ারও তাহার ছিল। যখন ওসীয়াতকারী কর্তার ওসীয়্যত অনুসারে গোলাম মুক্তিপ্রাপ্ত হইয়াছে, তবে ওসীয়াতকারীর অধিকার শুধু সেই অংশে, যেই অংশ তিনি আযাদ করার জন্য নির্দিষ্ট করিয়াছেন, কারণ ঐ নির্ধারিত অংশ তাহার নিজস্ব সম্পদ। কাজেই গোলামের অবশিষ্ট অংশ আযাদ হয় নাই। কারণ তাহার মালে এখন অন্যের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। তবে অবশিষ্ট অংশ অন্যান্য লোকের পক্ষ হইতে কিরূপে আযাদ করা হইবে? যাহারা প্রথম আযাদ করে নাই, যাহারা উহাকে স্বীকৃতি প্রদান করে নাই, আর যাহারা স্বত্বেরও অধিকারী নহে ও স্বত্ব তাহদের জন্য প্রমাণিতও হয় নাই। ইহা করিয়াছেন মৃত ব্যক্তি — সেই আযাদ করিয়াছে স্বত্বাধিকার ও তাহার জন্য নির্ধারিত হইয়াছে। কাজেই অন্য কাহারো মালের উপর এই (গোলামের বাকী অংশ আযাদ করার) বোঝা চাপাইয়া দেওয়া হইবে না। অবশ্য সে যদি গোলামের অবশিষ্ট অংশ তাহার মাল হইতে আযাদ করার জন্য ওসীয়্যত করিয়া থাকে, তবে তাহার শরীক ও ওয়ারীসানদের উপর উহা জরুরী হইবে। শরীকগণ ইহা অস্বীকার করিতে পারবে না। ইহা প্রযোজ্য হইবে মৃত ব্যক্তির এক-তৃতীয়াংশ মাল হইতে। কারণ ইহাতে ওয়ারিসানদের কোন ক্ষতি নাই।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি কোন ব্যক্তি পীড়িত অবস্থায় তাহার গোলামের এক-তৃতীয়াংশ আযাদ করে এবং সে আযাদ করিয়াছে পরিষ্কারভাবে। তবে সে ক্রীতদাসের সম্পূর্ণ আযাদ হইবে তাহার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ হইতে। কারণ এই ব্যক্তি সেই ব্যক্তির মতো নহে, যে তাহার মৃত্যুর পর ক্রীতদাসের এক-তৃতীয়াংশ আযাদ করিয়াছে, কারণ সে ব্যক্তি মৃত্যুর পর ক্রীতদাসের এক-তৃতীয়াংশ আযাদ করিতেছে, সে জীবিত থাকিলে উহা হইতে ফিরিয়া যাইতে পারে, আযাদী কার্যকর নাও করিতে পারে। [ইহা হইতেছে ওসীয়্যত, ওসীয়্যাতে রুজু করার ইখতিয়ার থাকে অর্থাৎ ওসীয়্যত হইতে প্রত্যাবর্তনের স্বাধীনতা থাকে।]

আর যে ক্রীতদাসের কর্তা পীড়িতাবস্থায় উহার এক-তৃতীয়াংশ আষাদ করিয়াছে পরিষ্কাররূপে, সে জীবিত থাকিলে গোলাম পূর্ণ আযাদী লাভ করবে, আর মৃত্যু হইলে তাহার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ হইতে তাহাকে আযাদ করা হইবে। ইহার কারণ এই যে, মৃত ব্যক্তির হুকুম বৈধ হয় তাহার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশে, যেমন সুস্থ ব্যক্তির হুকুম বৈধ হইবে তাহার সম্পূর্ণ সম্পদের মধ্যে।

২. আযাদী প্রদানে শর্তারোপ করা

باب الشَّرْطِ فِي الْعِتْقِ

1499

قَالَ مَالِك مَنْ أَعْتَقَ عَبْدًا لَهُ فَبَتَّ عِتْقَهُ حَتَّى تَجُوزَ شَهَادَتُهُ وَتَتِمَّ حُرِّيَّتُهُ وَيَثْبُتَ مِيرَاثُهُ فَلَيْسَ لِسَيِّدِهِ أَنْ يَشْتَرِطَ عَلَيْهِ مِثْلَ مَا يَشْتَرِطُ عَلَى عَبْدِهِ مِنْ مَالٍ أَوْ خِدْمَةٍ وَلَا يَحْمِلَ عَلَيْهِ شَيْئًا مِنْ الرِّقِّ لِأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي عَبْدٍ قُوِّمَ عَلَيْهِ قِيمَةَ الْعَدْلِ فَأَعْطَى شُرَكَاءَهُ حِصَصَهُمْ وَعَتَقَ عَلَيْهِ الْعَبْدُ قَالَ مَالِك فَهُوَ إِذَا كَانَ لَهُ الْعَبْدُ خَالِصًا أَحَقُّ بِاسْتِكْمَالِ عَتَاقَتِهِ وَلَا يَخْلِطُهَا بِشَيْءٍ مِنْ الرِّقِّ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি তাহার দাসকে আযাদ করিয়াছে এবং পরিষ্কারভাবে আযাদ করিয়াছে। যেমন সে ক্রীতদাসের সাক্ষ্য বৈধ হয়, তাহার স্বত্বাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এবং তাহার মর্যাদা পূর্ণতা লাভ করে, তবে গোলামের উপর যেরূপ শর্তারোপ করা হয় তাহার কর্তা তাহার উপর অনুরূপ কোন শর্তারোপ করিতে পারবে না এবং উহার উপর গোলামির কোন কিছু চাপাইতেও পারবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি তাহার অংশ আযাদ করিয়াছে গোলাম হইতে তাহার উপর সেই গোলামের (অবশিষ্ট অংশের) মূল্য ধার্য করা হইবে। তারপর শরীকদিগকে তাহাদের অংশ প্রদান করা হইবে, তাহার পক্ষে গোলাম আযাদ হইয়া যাইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি গোলামে অন্য কাহারো অংশ না থাকে, তবে আযাদী পূর্ণ করার জন্য তিনি অধিক হকদার হইবেন এবং সেই আযাদীতে কোন প্রকার দাসত্ব মিশ্রিত থাকিবে না।

৩. যে লোক ক্রীতদাস বা ক্রীতদাসী আযাদ করিয়াছে, উহা ব্যতীত তাহার অন্য কোন মাল নাই তাহার বিবরণ

باب مَنْ أَعْتَقَ رَقِيقًا لَا يَمْلِكُ مَالًا غَيْرَهُمْ

1500

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ وَعَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ عَنْ الْحَسَنِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ أَنَّ رَجُلًا فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْتَقَ عَبِيدًا لَهُ سِتَّةً عِنْدَ مَوْتِهِ فَأَسْهَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَهُمْ فَأَعْتَقَ ثُلُثَ تِلْكَ الْعَبِيدِ قَالَ مَالِك وَبَلَغَنِي أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ لِذَلِكَ الرَّجُلِ مَالٌ غَيْرُهُمْ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৩. হাসান ইবনে আবিল-হাসান বসরী ও মুহাম্মাদ ইবনে শিরন (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি মৃত্যুর সময় তাহার ছয়জন ক্রীতদাসকে আযাদ করিল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাহাদের মধ্যে (নির্বাচনের উদ্দেশ্যে) লটারির ব্যবস্থা করিলেন এবং (লটারির মাধ্যমে) সেই ক্রীতদাসদের মধ্য হইতে এক-তৃতীয়াংশ (অর্থাৎ দুইজন) আযাদ করা হইল।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমার নিকট এই মর্মে রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সেই ব্যক্তির নিকট ক্রীতদাস হাড়া জন্য মাল ছিল না।
1501

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ رَجُلًا فِي إِمَارَةِ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ أَعْتَقَ رَقِيقًا لَهُ كُلَّهُمْ جَمِيعًا وَلَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ غَيْرُهُمْ فَأَمَرَ أَبَانُ بْنُ عُثْمَانَ بِتِلْكَ الرَّقِيقِ فَقُسِمَتْ أَثْلَاثًا ثُمَّ أَسْهَمَ عَلَى أَيِّهِمْ يَخْرُجُ سَهْمُ الْمَيِّتِ فَيَعْتِقُونَ فَوَقَعَ السَّهْمُ عَلَى أَحَدِ الْأَثْلَاثِ فَعَتَقَ الثُّلُثُ الَّذِي وَقَعَ عَلَيْهِ السَّهْمُ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৪. রবিয়া ইবনে আব্দির রহমান (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আবান ইবনে উসমান (রাহঃ) এর শাসনকালে এক ব্যক্তি তাহার সব কয়টি গোলামকে আযাদ করিয়া দিল, তাহার আর কোন মাল ছিল না সেই ক্রীতদাসগুলি ছাড়া। আবান ইবন উসমানের নির্দেশে সব ক্রীতদাসকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হইল। তারপর লটারি দেওয়া হইল মৃত ব্যক্তির অংশ বেই ভাগে বাহির হইবে সেই ভাগের ক্রীতদাসদিগকে আযাদ করা হইবে, তিন অংশের মধ্য হইতে এক অংশের উপর লটারি উঠিল, ফলে যেই এক-তৃতীয়াংশের উপর লটারি উঠিল সে অংশ আযাদ হইল।

৪. ক্রীতদাস আযাদ হইলে তাহার মাল কাহার প্রাপ্য হইবে তাহার মাসআলা

باب الْقَضَاءِ فِي مَالِ الْعَبْدِ إِذَا عَتَقَ

1502
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ مَضَتْ السُّنَّةُ أَنَّ الْعَبْدَ إِذَا أُعْتِقَ تَبِعَهُ مَالُهُ
قَالَ مَالِك وَمِمَّا يُبَيِّنُ ذَلِكَ أَنَّ الْعَبْدَ إِذَا أُعْتِقَ تَبِعَهُ مَالُهُ أَنَّ الْمُكَاتَبَ إِذَا كُوتِبَ تَبِعَهُ مَالُهُ وَإِنْ لَمْ يَشْتَرِطْهُ الْمُكَاتِبُ وَذَلِكَ أَنَّ عَقْدَ الْكِتَابَةِ هُوَ عَقْدُ الْوَلَاءِ إِذَا تَمَّ ذَلِكَ وَلَيْسَ مَالُ الْعَبْدِ وَالْمُكَاتَبِ بِمَنْزِلَةِ مَا كَانَ لَهُمَا مِنْ وَلَدٍ إِنَّمَا أَوْلَادُهُمَا بِمَنْزِلَةِ رِقَابِهِمَا لَيْسُوا بِمَنْزِلَةِ أَمْوَالِهِمَا لِأَنَّ السُّنَّةَ الَّتِي لَا اخْتِلَافَ فِيهَا أَنَّ الْعَبْدَ إِذَا عَتَقَ تَبِعَهُ مَالُهُ وَلَمْ يَتْبَعْهُ وَلَدُهُ وَأَنَّ الْمُكَاتَبَ إِذَا كُوتِبَ تَبِعَهُ مَالُهُ وَلَمْ يَتْبَعْهُ وَلَدُهُ قَالَ مَالِك وَمِمَّا يُبَيِّنُ ذَلِكَ أَيْضًا أَنَّ الْعَبْدَ وَالْمُكَاتَبَ إِذَا أَفْلَسَا أُخِذَتْ أَمْوَالُهُمَا وَأُمَّهَاتُ أَوْلَادِهِمَا وَلَمْ تُؤْخَذْ أَوْلَادُهُمَا لِأَنَّهُمْ لَيْسُوا بِأَمْوَالٍ لَهُمَا قَالَ مَالِك وَمِمَّا يُبَيِّنُ ذَلِكَ أَيْضًا أَنَّ الْعَبْدَ إِذَا بِيعَ وَاشْتَرَطَ الَّذِي ابْتَاعَهُ مَالَهُ لَمْ يَدْخُلْ وَلَدُهُ فِي مَالِهِ قَالَ مَالِك وَمِمَّا يُبَيِّنُ ذَلِكَ أَيْضًا أَنَّ الْعَبْدَ إِذَا جَرَحَ أُخِذَ هُوَ وَمَالُهُ وَلَمْ يُؤْخَذْ وَلَدُهُ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫. মালিক (রাহঃ) ইবনে শিহাব (রাহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন, ইহা প্রচলিত সুন্নত (নিয়ম) যে, ক্রীতদাস আযাদ হইলে মাল তাহার পশ্চাদগামী হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আরও স্পষ্ট করিয়া এই দৃষ্টান্তটি বলা যায় যে, ক্রীতদাস আযাদ হইলে তাহার মালও তাহার সাথে থাকিবে, কারণ মুকাতাব (যাহাকে মালের বিনিময়ে আযাদী প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে)-কে (মালের বিনিময়ে) আযাদীর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইলে তবে শর্ত না করিলেও মাল তাহারই থাকিবে। ইহা এইজন্য যে, কিতাবতের কার্য পূর্ণতা লাভ করিলে (অর্থাৎ অর্থ আদায় করিলে) উহা হুবহু স্বত্বাধিকার (ولاء) এর চুক্তির মতো গণ্য হইবে, যেমন ক্রীতদাসকে আযাদ করিয়া দিলে সে স্বত্বাধিকার লাভ করে তদ্রূপ বদলে কিতাবত (আযাদীর জন্য নির্ধারিত অর্থ) আদায় করিলে ক্রীতদাস (مكاتب) আযাদ হইয়া যায় এবং তাহার সম্পদের স্বত্বাধিকারী সে নিজেই হইবে। আর ক্রীতদাস ও মুকাতাব-এর সম্পদ তাহদের সন্তান-সন্ততির মতো নহে, কারণ তাহাদের সন্তানগণ তাহাদেরই মতো (কর্তাগণ উহাদের মালিক বটে) উহারা তাহাদের সম্পদের মতো নহে অর্থাৎ সম্পদের মতো ক্রীতদাস ও মুকাতাব দাস সন্তানদের মালিক হইবে না। কারণ নিয়ম এই, যেই নিয়মে কোন দ্বিমত নাই অর্থাৎ ক্রীতদাস আযাদ হইলে তাহার মাল তাহার পশ্চাদানুসরণ করিবে, কিন্তু সন্তান তাহার পশ্চাদগামী হইবে না। আর মুকাতাব-এর সহিত যখন কিতাবত করা হয়, তখন তাহার মালও তাহার পশ্চাদানুসরণ করিবে, কিন্তু তাহার সন্তান তাহার পশ্চাদগামী হইবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যাহা ইহাকে আরও স্পষ্ট করে তাহা হইল, ক্রীতদাস ও মুকাতাব তাহারা উভয়ে দেউলিয়া হইলে তাহাদের সম্পদ ও তাহাদের উম্মে ওয়ালাদগণকে গ্রহণ করা হইবে কিন্তু তাহাদের সন্তানগণকে বিনিময়ে গ্রহণ করা হইবে না। কারণ সন্তান তাহদের মাল নহে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আর একটি নজীর ইহাকে স্পষ্ট করিয়া তোলে। তাহা হইল, যদি ক্রীতদাসকে এই শর্তে বিক্রয় করা হয় যে তাহার মাল ক্রেতা পাইবে, তবে ক্রীতদাসের সন্তান মালের অন্তর্ভুক্ত হইবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আরও যে নজীর ইহাকে স্পষ্ট করে তাহা হইল এই যে, ক্রীতদাস কাহাকেও জখম করিলে, ক্রীতদাস ও উহার মাল বিনিময়ে লওয়া হইবে, কিন্তু (বিনিময়ে) সন্তানকে গ্রহণ করা হইবে না।

৫. উম্মাহাতুল-আওলাদ* এর আযাদী এবং এ সম্পর্কিত বিবিধ হুকুম

باب عِتْقِ أُمَّهَاتِ الْأَوْلَادِ وَجَامِعِ الْقَضَاءِ فِي الْعَتَاقَةِ

1503

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ أَيُّمَا وَلِيدَةٍ وَلَدَتْ مِنْ سَيِّدِهَا فَإِنَّهُ لَا يَبِيعُهَا وَلَا يَهَبُهَا وَلَا يُوَرِّثُهَا وَهُوَ يَسْتَمْتِعُ بِهَا فَإِذَا مَاتَ فَهِيَ حُرَّةٌ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৬. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) বলিয়াছেন, যেই ক্রীতদাসী তাহার কর্তার ঔরসে সন্তান জন্মাইয়াছে, সে কর্তা উহাকে বিক্রয় করিতে পারিবে না, আর পারিবে না উহাকে দান করিতে, উহার স্বত্বাধিকারও লাভ করিবে না, সে উহার দ্বারা উপকৃত হইবে, যখন কর্তার মৃত্যু হইবে ক্রীতদাসী তখন আযাদ হইবে।

৫. উম্মাহাতুল-আওলাদ এর আযাদী এবং এ সম্পর্কিত বিবিধ হুকুম

باب عِتْقِ أُمَّهَاتِ الْأَوْلَادِ وَجَامِعِ الْقَضَاءِ فِي الْعَتَاقَةِ

1504

وَحَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَتَتْهُ وَلِيدَةٌ قَدْ ضَرَبَهَا سَيِّدُهَا بِنَارٍ أَوْ أَصَابَهَا بِهَا فَأَعْتَقَهَا قَالَ مَالِك الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا أَنَّهُ لَا تَجُوزُ عَتَاقَةُ رَجُلٍ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ يُحِيطُ بِمَالِهِ وَأَنَّهُ لَا تَجُوزُ عَتَاقَةُ الْغُلَامِ حَتَّى يَحْتَلِمَ أَوْ يَبْلُغَ مَبْلَغَ الْمُحْتَلِمِ وَأَنَّهُ لَا تَجُوزُ عَتَاقَةُ الْمُوَلَّى عَلَيْهِ فِي مَالِهِ وَإِنْ بَلَغَ الْحُلُمَ حَتَّى يَلِيَ مَالَهُ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭. মালিক (রাহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-এর নিকট জনৈকা ক্রীতদাসী আসিল, যাহাকে তাহার কর্তা আগুন দ্বারা জখম করিয়াছে অথবা তাহার শরীরে আগুন লাগাইয়াছে। উমর (রাযিঃ) উহাকে আযাদ করিয়া দিলেন (অর্থাৎ আযাদ করিয়া দেওয়ার জন্য কর্তাকে নির্দেশ দিলেন।)

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট পছন্দনীয় হুকুম এই যে, যে ব্যক্তির উপর ঋণ আছে এবং ঋণ তাহার সমস্ত মাল ঘিরিয়া রাখিয়াছে সে ব্যক্তির পক্ষে (ক্রীতদাস বা ক্রীতদাসীকে) আযাদ করা বৈধ নহে। বালক যতক্ষণ বালেগ না হয় অথবা বালেগ পুরুষের সমপর্যায়ে না পৌছে, ততক্ষণ তাহার পক্ষে গোলাম আযাদ করা বৈধ হইবে না, যে ব্যক্তির মালের উপর মুতাওয়াল্লী নিযুক্ত করা হইয়াছে (এবং তাহাকে কার্য পরিচালনা হইতে বিরত রাখা হইয়াছে) সে বালিগ (সাবালক) হইলেও গোলাম আযাদ করিতে পরিবে না, যাবত সে নিজ সম্পদের পরিচালক না হইবে।

৬. পূর্বে যাহার উপর দাসমুক্তি ওয়াজিব হইয়াছে তাহার জন্য কি ধরনের দাস মুক্ত করা - জায়েয তাহার বর্ণনা

باب مَا يَجُوزُ مِنْ الْعِتْقِ فِي الرِّقَابِ الْوَاجِبَةِ

1505

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ هِلَالِ بْنِ أُسَامَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْحَكَمِ أَنَّهُ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ جَارِيَةً لِي كَانَتْ تَرْعَى غَنَمًا لِي فَجِئْتُهَا وَقَدْ فُقِدَتْ شَاةٌ مِنْ الْغَنَمِ فَسَأَلْتُهَا عَنْهَا فَقَالَتْ أَكَلَهَا الذِّئْبُ فَأَسِفْتُ عَلَيْهَا وَكُنْتُ مِنْ بَنِي آدَمَ فَلَطَمْتُ وَجْهَهَا وَعَلَيَّ رَقَبَةٌ أَفَأُعْتِقُهَا فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيْنَ اللَّهُ فَقَالَتْ فِي السَّمَاءِ فَقَالَ مَنْ أَنَا فَقَالَتْ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْتِقْهَا

Narrator: আতা ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৮. আতা ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) উমর ইবনে হাকাম* (রাযিঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হইলাম। আমি বলিলাম, ইয়া-রাসূলাল্লাহ! আমার এক ক্রীতদাসী আমার ছাগপাল চরাইতেছিল। একদিন আমি তাহার নিকট গেলাম এবং জানিতে পারিলাম সে একটি বকরী হারাইয়া ফেলিয়াছে। আমি তাহাকে বকরীর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিলাম। সে বলিল, উহাকে বাঘে খাইয়া ফেলিয়াছে। আমি উহার জন্য দুঃখিত হইলাম, আর আমি আদম সন্তানের একজন (আমার রাগ হইল)। তাই আমি ক্রীতদাসীর মুখের উপর চড় মারিলাম। আমার উপর (পূর্বে) একটি দাস বা দাসী আযাদ করা জরুরী ছিল, এখন আমি উহাকে (ক্রীতদাসীকে) আযাদ করিব কি? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উহাকে (ক্রীতদাসীকে) জিজ্ঞাসা করিলেন, আল্লাহ কোথায়? সে বলিল, উর্ধ্বলোকে। তিনি [রাসূল সাল্লাল্লাহু আলয়হি ওয়া সাল্লাম] বললেন, আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রাসূল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলয়হি ওয়া সাল্লাম বলিলেনঃ ইহাকে আযাদ করিয়া দাও।

1506

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَجُلًا مِنْ الْأَنْصَارِ جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِجَارِيَةٍ لَهُ سَوْدَاءَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ عَلَيَّ رَقَبَةً مُؤْمِنَةً فَإِنْ كُنْتَ تَرَاهَا مُؤْمِنَةً أُعْتِقُهَا فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَشْهَدِينَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ قَالَتْ نَعَمْ قَالَ أَتَشْهَدِينَ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ قَالَتْ نَعَمْ قَالَ أَتُوقِنِينَ بِالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ قَالَتْ نَعَمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْتِقْهَا

Narrator: উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৯. ওবায়দুল্লাহ্ ইবনে আব্দিল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে মাসউদ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আনসারের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট তাহার একটি কালো বর্ণের ক্রীতদাসীকে লইয়া উপস্থিত হইল এবং বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার উপর একটি ঈমানদার ক্রীতদাসী আযাদ করা ওয়াজিব হইয়াছে, তবে আমি এই ক্রীতদাসীটিকে আযাদ করিতে পারি কি? আপনি যদি ইহাকে ঈমানদার মনে করেন তবে আমি তাহাকে আযাদ করিব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উহাকে (উদ্দেশ্য করিয়া) বলিলেন, আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নাই (لا اله الا الله) তুমি কি ইহার সাক্ষ্য দাও। সে বলিল, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেনঃ মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল (محمد رسول الله) তুমি এই সাক্ষ্য দাও কি? সে বলিল, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ (মৃত্যুর পর) পুনরুত্থানে তুমি বিশ্বাস কর কি? সে বলিল, হ্যাঁ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেন, তুমি ইহাকে মুক্তি দাও।

1507

وَحَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ الْمَقْبُرِيِّ أَنَّهُ قَالَ سُئِلَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَنْ الرَّجُلِ تَكُونُ عَلَيْهِ رَقَبَةٌ هَلْ يُعْتِقُ فِيهَا ابْنَ زِنًا فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ نَعَمْ ذَلِكَ يُجْزِئُ عَنْهُ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ১০. মাকবুরী (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যাহার উপর দাস বা দাসীর আযাদ করা ওয়াজিব হইয়াছে। প্রশ্নটি হইল, সে ব্যক্তি জারজ সন্তান আযাদ করিতে পারিবে কি ? আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলিলেন, হ্যাঁ, উহা তাহার জন্য যথেষ্ট হইবে।

1508

وَحَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ الْأَنْصَارِيِّ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ الرَّجُلِ تَكُونُ عَلَيْهِ رَقَبَةٌ هَلْ يَجُوزُ لَهُ أَنْ يُعْتِقَ وَلَدَ زِنًا قَالَ نَعَمْ ذَلِكَ يُجْزِئُ عَنْهُ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১১. মালিক (রাহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে ফুযাল ইবনে উবায়দ আনসারী (রাযিঃ) হইতে, তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীদের একজন। তাহার নিকট প্রশ্ন করা হইল এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যাহার উপর রাকাবা (গোলাম বা বাঁদী) আযাদ করা ওয়াজিব, তাহার পক্ষে জারজ সন্তান আযাদ করা জায়েয হইবে কি? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ, উহা তাহার পক্ষে যথেষ্ট হইবে।

৭. আযাদ করা ওয়াজিব এমন দাস-দাসীকে কি কি কারণে বা শর্তে আযাদ করা বৈধ হয় না

باب مَا لَا يَجُوزُ مِنْ الْعِتْقِ فِي الرِّقَابِ الْوَاجِبَةِ

1509

حَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ سُئِلَ عَنْ الرَّقَبَةِ الْوَاجِبَةِ هَلْ تُشْتَرَى بِشَرْطٍ فَقَالَ لَا قَالَ مَالِك وَذَلِكَ أَحْسَنُ مَا سَمِعْتُ فِي الرِّقَابِ الْوَاجِبَةِ أَنَّهُ لَا يَشْتَرِيهَا الَّذِي يُعْتِقُهَا فِيمَا وَجَبَ عَلَيْهِ بِشَرْطٍ عَلَى أَنْ يُعْتِقَهَا لِأَنَّهُ إِذَا فَعَلَ ذَلِكَ فَلَيْسَتْ بِرَقَبَةٍ تَامَّةٍ لِأَنَّهُ يَضَعُ مِنْ ثَمَنِهَا لِلَّذِي يَشْتَرِطُ مِنْ عِتْقِهَا قَالَ مَالِك وَلَا بَأْسَ أَنْ يَشْتَرِيَ الرَّقَبَةَ فِي التَّطَوُّعِ وَيَشْتَرِطَ أَنْ يُعْتِقَهَا قَالَ مَالِك إِنَّ أَحْسَنَ مَا سُمِعَ فِي الرِّقَابِ الْوَاجِبَةِ أَنَّهُ لَا يَجُوزُ أَنْ يُعْتَقَ فِيهَا نَصْرَانِيٌّ وَلَا يَهُودِيٌّ وَلَا يُعْتَقُ فِيهَا مُكَاتَبٌ وَلَا مُدَبَّرٌ وَلَا أُمُّ وَلَدٍ وَلَا مُعْتَقٌ إِلَى سِنِينَ وَلَا أَعْمَى وَلَا بَأْسَ أَنْ يُعْتَقَ النَّصْرَانِيُّ وَالْيَهُودِيُّ وَالْمَجُوسِيُّ تَطَوُّعًا لِأَنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ فِي كِتَابِهِ فَإِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً فَالْمَنُّ الْعَتَاقَةُ قَالَ مَالِك فَأَمَّا الرِّقَابُ الْوَاجِبَةُ الَّتِي ذَكَرَ اللَّهُ فِي الْكِتَابِ فَإِنَّهُ لَا يُعْتَقُ فِيهَا إِلَّا رَقَبَةٌ مُؤْمِنَةٌ قَالَ مَالِك وَكَذَلِكَ فِي إِطْعَامِ الْمَسَاكِينِ فِي الْكَفَّارَاتِ لَا يَنْبَغِي أَنْ يُطْعَمَ فِيهَا إِلَّا الْمُسْلِمُونَ وَلَا يُطْعَمُ فِيهَا أَحَدٌ عَلَى غَيْرِ دِينِ الْإِسْلَامِ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১২. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল, যেই ক্রীতদাসকে আযাদ করা ওয়াজিব হইয়াছে উহাকে (ক্রেতা কর্তৃক আযাদ করার) শর্তে ক্রয় কম যায় কি? তিনি বলিলেন, না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ রাকাবা ওয়াজিব [ক্রীতদাস বা দাসীকে কোন ব্যাপারে আবাদ করা ওয়াজিব হইলে উহাকে রাকাবা-ই ওয়াজিবা’ বলা হয়। যেমন মান্নত এবং কাফফারাতে গোলাম আযাদ করা ওয়াজিব হয়] সম্বন্ধে যাহা আমি শুনিয়াছি (তন্মধ্যে) সর্বাপেক্ষা সুন্দরতম (এই যে,) ’রাকাবা-ই ওয়াজিবা’-কে যে আযাদ করিবে, সে আযাদী দেওয়ার শর্ত করিয়া ক্রয় করিবে না। কারণ এইরূপ শর্ত করিলে ঐ রাকাবা’ পূর্ণ রাকাবা হইবে না, কেননা যে এইরূপ শর্ত করিবে তাহার উদ্দেশ্যে বিক্রেতা মূল্য কমাইয়া দিবে (কাজেই রাকাবা অসম্পূর্ণ থাকিবে)।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ নফল নিয়্যত আযাদ করার জন্য গোলাম ক্রয় করিতে যাইয়া আযাদ করিবে বলিয়া শর্ত করিয়া ক্রয় করাতে কোন দোষ নাই।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ রিকাবে-ওয়াজিবা সম্পর্কে সবচাইতে সুন্দর যাহা আমি শুনিয়াছি, (তাহা হইল এই), উহাতে নাসূরানী অথবা ইহুদী গোলাম আযাদ করা যাইবে না। মাকাতাব (যে ক্রীতদাসকে অন্য কিছুর বিনিময়ে আযাদ করিবে বলিয়া ঠিক করা হইয়াছে) ও মুদাব্বর (কর্তার মৃত্যুর পর যে ক্রীতদাস আযাদ)-কে অথবা যাহাকে কয়েক বৎসরের জন্য আযাদ করা হইয়াছে উহাকে আযাদ করা যাইবে না (আরও আযাদ করা যাইবে না) উম্মু ওয়ালাদকে এবং অন্ধকেও না, তবে নফল রূপে নসরানী, ইহুদী ও মজুসীকে আযাদ করাতে কোন দোষ নাই। কারণ আল্লাহ তাআলা কিতাবে বলিয়াছেনঃ (فَإِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً) এখানে মান্না (مَنَّ) হইতেছে আযাদ করা।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ওয়াজিবরূপে যে ব্যাপারে ক্রীতদাসকে আযাদ করা হয়, যাহার উল্লেখ আল্লাহু তাআলা কিতাবে বর্ণনা করিয়াছেন, সেই সকল ব্যাপারে মু’মিন ‘রাকাবা’-কেই আযাদ করিতে হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ কাফফারাতে মিসকীনদিগকে ভোজ দেওয়াতে মুসলমান মিসকীন ছাড়া অন্য কাহাকেও ভোজ দেওয়া ঠিক নহে, এই ব্যাপারে কোন অমুসলিমকে খাওয়াইবে না।

৮. মৃত ব্যক্তির পক্ষ হইতে জীবিত প্যক্তির দাসদাসী আযাদ করা

باب عِتْقِ الْحَيِّ عَنْ الْمَيِّتِ

1510

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ أُمَّهُ أَرَادَتْ أَنْ تُوصِيَ ثُمَّ أَخَّرَتْ ذَلِكَ إِلَى أَنْ تُصْبِحَ فَهَلَكَتْ وَقَدْ كَانَتْ هَمَّتْ بِأَنْ تُعْتِقَ فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فَقُلْتُ لِلْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَيَنْفَعُهَا أَنْ أُعْتِقَ عَنْهَا فَقَالَ الْقَاسِمُ إِنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أُمِّي هَلَكَتْ فَهَلْ يَنْفَعُهَا أَنْ أُعْتِقَ عَنْهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ

Narrator: সা'দ ইবনে উবাদা (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১৩. আব্দুর রহমান ইবনে আবি আমরা আনসারী (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার মাতা কিছু ওসীয়াত করার ইচ্ছা করিয়াছিলেন, পরে ভোর হওয়া পর্যন্ত উহাতে বিলম্ব করিলেন, অতঃপর ওসীয়াত করার পূর্বেই তাহার মৃত্যু হয়, তিনি (গোলাম বা বাঁদী) আযাদ করার সংকল্প করিয়াছিলেন। আব্দুর রহমান বলেনঃ আমি কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ)-কে বলিলাম, তাহার পক্ষ হইতে আমি আযাদ করিলে ইহা তাহার উপকার করিবে কি? কাসিম বলিলেনঃ সা’দ ইবনে উবাদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আরয করিলেন, আমার মাতার মৃত্যু হইয়াছে, আমি তাহার পক্ষ হইতে গোলাম আযাদ করিলে ইহা তাহার উপকার করিবে কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেন, হ্যাঁ।

1511

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ قَالَ تُوُفِّيَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ فِي نَوْمٍ نَامَهُ فَأَعْتَقَتْ عَنْهُ عَائِشَةُ زَوْجُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رِقَابًا كَثِيرَةً قَالَ مَالِك وَهَذَا أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَيَّ فِي ذَلِكَ

Narrator: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৪. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ আব্দুর রহমান ইবনে আবী বকর (রাহঃ)-এর আকস্মিক ওফাত হয় তাহার নিদ্রাতে। নবী (ﷺ)-এর পত্নী আয়েশা (রাযিঃ) তাহার পক্ষ হইতে অনেকগুলো দাস-দাসী আযাদ করেন।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে যাহা শুনিয়াছি তন্মধ্যে ইহা আমার নিকট উত্তম।

৯. দাস-দাসী আযাদ করার ফযীলত এবং নিষিদ্ধ যৌন সঙ্গমকারিণী ও অবৈধ সন্তানকে আষাদ করা প্রসঙ্গে

باب فَضْلِ عِتْقِ الرِّقَابِ وَعِتْقِ الزَّانِيَةِ وَابْنِ الزِّنَا

1512

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ الرِّقَابِ أَيُّهَا أَفْضَلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَغْلَاهَا ثَمَنًا وَأَنْفَسُهَا عِنْدَ أَهْلِهَا

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ১৫. নবী করীম (ﷺ)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট প্রশ্ন কর হইল, যেসব ব্যাপারে দাস-দাসী আযাদ করা ওয়াজিব উহাতে কোন প্রকার দাস-দাসী (আযাদ করা) উত্তম।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেন, যাহার মূল্য বেশী এবং যাহারা কর্তাদের (এবং তাহাদের পরিজনের) নিকট মনোরম ও আদরণীয়।
1513

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ أَعْتَقَ وَلَدَ زِنًا وَأُمَّهُ

Narrator: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৬. নাফি (রাহঃ) আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি অবৈধ সন্তান ও তাহার মাতাকে আযাদ করিয়াছেন।

১০. যে আযাদ করিবে অভিভাবকত্ব ও উত্তরাধিকার তাহারই জন্য হইবে

باب مَصِيرِ الْوَلَاءِ لِمَنْ أَعْتَقَ

1514

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ جَاءَتْ بَرِيرَةُ فَقَالَتْ إِنِّي كَاتَبْتُ أَهْلِي عَلَى تِسْعِ أَوَاقٍ فِي كُلِّ عَامٍ أُوقِيَّةٌ فَأَعِينِينِي فَقَالَتْ عَائِشَةُ إِنْ أَحَبَّ أَهْلُكِ أَنْ أَعُدَّهَا لَهُمْ عَنْكِ عَدَدْتُهَا وَيَكُونَ لِي وَلَاؤُكِ فَعَلْتُ فَذَهَبَتْ بَرِيرَةُ إِلَى أَهْلِهَا فَقَالَتْ لَهُمْ ذَلِكَ فَأَبَوْا عَلَيْهَا فَجَاءَتْ مِنْ عِنْدِ أَهْلِهَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ فَقَالَتْ لِعَائِشَةَ إِنِّي قَدْ عَرَضْتُ عَلَيْهِمْ ذَلِكَ فَأَبَوْا عَلَيَّ إِلَّا أَنْ يَكُونَ الْوَلَاءُ لَهُمْ فَسَمِعَ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهَا فَأَخْبَرَتْهُ عَائِشَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُذِيهَا وَاشْتَرِطِي لَهُمْ الْوَلَاءَ فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ فَفَعَلَتْ عَائِشَةُ ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّاسِ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَمَا بَالُ رِجَالٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَا كَانَ مِنْ شَرْطٍ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَهُوَ بَاطِلٌ وَإِنْ كَانَ مِائَةَ شَرْطٍ قَضَاءُ اللَّهِ أَحَقُّ وَشَرْطُ اللَّهِ أَوْثَقُ وَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ১৭. নবী করীম (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) বলিয়াছেন, বারীরা (রাযিঃ) (তাহার নিকট) আসিয়া বলিলেন, আমি আমার কর্তাদের সহিত প্রতি বৎসর এক উকীয়া (এক উকীয়াতে চল্লিশ দিরহাম হয়- আওজাস) হিসাবে (সর্বমোট) নয় উকীয়ার বিনিময়ে মুকাতাবত (আযাদী লাভের কথা ঠিক) করিয়াছি। আপনি আমাকে এই ব্যাপারে সাহায্য করুন। আয়েশা (রাযিঃ) বলিলেন যদি তোমার কর্তারা পছন্দ করেন যে, আমি উহার ব্যবস্থা করি তবে উহা (আদায়) করিব আর তোমার অভিতাবকত্ব আমার জন্য হইবে। বারীরা তাহার কর্তাদের নিকট গেলেন এবং এই বিষয়ে তাহাদিগকে অবহিত করিলেন। তাহারা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করিলেন। বারীরা তাহার কর্তাদের নিকট হইতে যখন (ফিরিয়া) আসিলেন তখন (আয়েশার গৃহে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বসা ছিলেন। বারীরা আয়েশা (রাযিঃ)-কে বলিলেনঃ আমি তাহাদের নিকট সেই কথা পেশ করিয়াছিলাম। তাহারা ইহা অস্বীকার করিয়াছে। কিন্তু যদি অভিভাবত্ব তাহাদের জন্য হয় (তবে তাহারা রাজী)।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইহা শুনিলেন। অতঃপর তাহাকে (আয়েশাকে) জিজ্ঞাসা করিলেন। আয়েশা ব্যাপারটি তাহাকে জানাইলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (ইহা শুনিয়া) বলিলেন, তুমি বারীরাকে (মূল্য পরিশোধ করিয়া) গ্রহণ কর এবং তাহাদের জন্য (অভিভাবকত্বের) শর্ত মানিয়া লও, (কিন্তু উহা যেহেতু অবৈধ তাই স্বত্ব তাহারা পাইবে না)। অভিভাবকত্ব হইবে যে আযাদ করিবে তাহার। তারপর আয়েশা (রাযিঃ) উহা করিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) লোকের (সাহাবীদের) মধ্যে কিছু বলার জন্য দাঁড়াইলেন। অতঃপর আল্লাহর হামদ ও সানা বর্ণনা করিলেন, তারপর বলিলেনঃ কিছু লোকের অবস্থা কি? তাহারা এমন সব শর্ত আরোপ করে যাহা আল্লাহর কিতাবে নাই, আর যেই সকল শর্ত আল্লাহর কিতাবে নাই, উহা বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে। যদিও শর্তাশর্তও হইয়া থাকে। আল্লাহর হুকুমই গ্রহণযোগ্য, আল্লাহর শর্ত অতি দৃঢ়। (জানিয়া রাখুন) অভিভাবকত্ব তাহারই হইবে যে আযাদ করিবে।
1515

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ أَرَادَتْ أَنْ تَشْتَرِيَ جَارِيَةً تُعْتِقُهَا فَقَالَ أَهْلُهَا نَبِيعُكِهَا عَلَى أَنَّ وَلَاءَهَا لَنَا فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَا يَمْنَعَنَّكِ ذَلِكَ فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১৮. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, আয়েশা উম্মুল মু’মিনীন (রাযিঃ) জনৈকা ক্রীতদাসীকে খরিদ করিয়া আযাদ করার ইচ্ছা করিলেন। ক্রীতদাসীর কর্তারা বলিল আমরা উহাকে আপনার নিকট এই শর্তে বিক্রয় করিতে পারি যে, উহার অভিভাবকত্ব (ولاء) আমাদের জন্য থাকিবে। আয়েশা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ইহা উল্লেখ করিলেন। তিনি বলিলেন এই শর্তারোপ যেন তোমাকে (উহাকে ক্রয় করিয়া আযাদ করিতে) বারণ না করে। অভিভাবকত্ব (ولاء) উহারই হইবে, যে আযাদ করিবে।

1516

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ بَرِيرَةَ جَاءَتْ تَسْتَعِينُ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ فَقَالَتْ عَائِشَةُ إِنْ أَحَبَّ أَهْلُكِ أَنْ أَصُبَّ لَهُمْ ثَمَنَكِ صَبَّةً وَاحِدَةً وَأُعْتِقَكِ فَعَلْتُ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ بَرِيرَةُ لِأَهْلِهَا فَقَالُوا لَا إِلَّا أَنْ يَكُونَ لَنَا وَلَاؤُكِ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ فَزَعَمَتْ عَمْرَةُ أَنَّ عَائِشَةَ ذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اشْتَرِيهَا وَأَعْتِقِيهَا فَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ

Narrator: আমরাহ বিনতে আব্দুর রহমান (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৯. আমরা বিনতে আব্দির রহমান (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, বারীরা আসিলেন উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাযিঃ)-এর নিকট সাহায্য চাহিতে। আয়েশা (রাযিঃ) বলিলেন যদি তোমার কর্তারা পছন্দ করে যে আমি তাহাদিগকে একবারে মূল্য পরিশোধ করিব এবং তোমাকে আযাদ করিয়া দিব তবে আমি উহা করিব। বারীরা কর্তাদের নিকট ইহা পেশ করিলেন। তাহারা বলিল, আমরা ইহাতে রাজী নহি, তবে যদি তোমার অভিভাবকত্ব আমাদের জন্য থাকে।

মালিক (রাহঃ) বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) বলিয়াছেন, আমরা ধারণা করেন যে, আয়েশা (রাযিঃ) ইহা উল্লেখ করিয়াছেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেন, তুমি বরীরাকে খরিদ কর এবং তাহাকে আযাদ করিয়া দাও, অভিভাবকত্ব অবশ্য তাহারই জন্য থাকিবে যে আযাদ করিবে।
1517
وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ بَيْعِ الْوَلَاءِ وَعَنْ هِبَتِهِ
قَالَ مَالِك فِي الْعَبْدِ يَبْتَاعُ نَفْسَهُ مِنْ سَيِّدِهِ عَلَى أَنَّهُ يُوَالِي مَنْ شَاءَ إِنَّ ذَلِكَ لَا يَجُوزُ وَإِنَّمَا الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ وَلَوْ أَنَّ رَجُلًا أَذِنَ لِمَوْلَاهُ أَنْ يُوَالِيَ مَنْ شَاءَ مَا جَازَ ذَلِكَ لِأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْوَلَاءُ لِمَنْ أَعْتَقَ وَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الْوَلَاءِ وَعَنْ هِبَتِهِ فَإِذَا جَازَ لِسَيِّدِهِ أَنْ يَشْتَرِطَ ذَلِكَ لَهُ وَأَنْ يَأْذَنَ لَهُ أَنْ يُوَالِيَ مَنْ شَاءَ فَتِلْكَ الْهِبَةُ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ২০. আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) অভিভাবকত্ব বিক্রি ও দান করিতে নিষেধ করিয়াছেন।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে ক্রীতদাস নিজেকেক্রয় করিয়া লয় আপন কর্তা হইতে এই শর্তে যে, সে যাহাকে চায় তাহাকে অভিভাবকত্ব প্রদান করবে। ইহা জায়েয হইবে না। অভিভাবকত্ব তাহার জন্য হইবে, যে আযাদ করিবে। আর যদি কোন ব্যক্তি নিজের মুক্তিপ্রাপ্ত ত্রীতদাসকে যাহাকে ইচ্ছা তাহাকে অভিভাবকত্ব প্রদানের অনুমতি দিয়াছে তবে ইহা বৈধ হইবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন অভিভাবকত্ব তাহারই হইবে যে আযাদ করিবে এবং তিনি স্বত্বাধিকার বিক্রয় ও দান করিতে নিষেধ করিয়াছেন। যদি কর্তার পক্ষে ক্রীতদাসের জন্য এইরূপ শর্ত করা বৈধ হয় অথবা সে ক্রীতদাসকে অনুমতি দেয় যে, সে যাহাকে ইচ্ছা অভিভাবকত্ব প্রদান করিবে, তবে ইহা দান (هبة ) করা হইল।

১১. ক্রীতদাস কর্তৃক অভিভাৱকত্ব টানিয়া লওয়া যখন উহাকে আযাদ করা হয়

باب جَرِّ الْعَبْدِ الْوَلَاءَ إِذَا أُعْتِقَ

1518
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ الزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ اشْتَرَى عَبْدًا فَأَعْتَقَهُ وَلِذَلِكَ الْعَبْدِ بَنُونَ مِنْ امْرَأَةٍ حُرَّةٍ فَلَمَّا أَعْتَقَهُ الزُّبَيْرُ قَالَ هُمْ مَوَالِيَّ وَقَالَ مَوَالِي أُمِّهِمْ بَلْ هُمْ مَوَالِينَا فَاخْتَصَمُوا إِلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَقَضَى عُثْمَانُ لِلزُّبَيْرِ بِوَلَائِهِمْ
وَحَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ سُئِلَ عَنْ عَبْدٍ لَهُ وَلَدٌ مِنْ امْرَأَةٍ حُرَّةٍ لِمَنْ وَلَاؤُهُمْ فَقَالَ سَعِيدٌ إِنْ مَاتَ أَبُوهُمْ وَهُوَ عَبْدٌ لَمْ يُعْتَقْ فَوَلَاؤُهُمْ لِمَوَالِي أُمِّهِمْ قَالَ مَالِك وَمَثَلُ ذَلِكَ وَلَدُ الْمُلَاعَنَةِ مِنْ الْمَوَالِي يُنْسَبُ إِلَى مَوَالِي أُمِّهِ فَيَكُونُونَ هُمْ مَوَالِيَهُ إِنْ مَاتَ وَرِثُوهُ وَإِنْ جَرَّ جَرِيرَةً عَقَلُوا عَنْهُ فَإِنْ اعْتَرَفَ بِهِ أَبُوهُ أُلْحِقَ بِهِ وَصَارَ وَلَاؤُهُ إِلَى مَوَالِي أَبِيهِ وَكَانَ مِيرَاثُهُ لَهُمْ وَعَقْلُهُ عَلَيْهِمْ وَيُجْلَدُ أَبُوهُ الْحَدَّ قَالَ مَالِك وَكَذَلِكَ الْمَرْأَةُ الْمُلَاعِنَةُ مِنْ الْعَرَبِ إِذَا اعْتَرَفَ زَوْجُهَا الَّذِي لَاعَنَهَا بِوَلَدِهَا صَارَ بِمِثْلِ هَذِهِ الْمَنْزِلَةِ إِلَّا أَنَّ بَقِيَّةَ مِيرَاثِهِ بَعْدَ مِيرَاثِ أُمِّهِ وَإِخْوَتِهِ لِأُمِّهِ لِعَامَّةِ الْمُسْلِمِينَ مَا لَمْ يُلْحَقْ بِأَبِيهِ وَإِنَّمَا وَرَّثَ وَلَدُ الْمُلَاعَنَةِ الْمُوَالَاةَ مَوَالِيَ أُمِّهِ قَبْلَ أَنْ يَعْتَرِفَ بِهِ أَبُوهُ لِأَنَّهُ لَمْ يَكُنْ لَهُ نَسَبٌ وَلَا عَصَبَةٌ فَلَمَّا ثَبَتَ نَسَبُهُ صَارَ إِلَى عَصَبَتِهِ قَالَ مَالِك الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا فِي وَلَدِ الْعَبْدِ مِنْ امْرَأَةٍ حُرَّةٍ وَأَبُو الْعَبْدِ حُرٌّ أَنَّ الْجَدَّ أَبَا الْعَبْدِ يَجُرُّ وَلَاءَ وَلَدِ ابْنِهِ الْأَحْرَارِ مِنْ امْرَأَةٍ حُرَّةٍ يَرِثُهُمْ مَا دَامَ أَبُوهُمْ عَبْدًا فَإِنْ عَتَقَ أَبُوهُمْ رَجَعَ الْوَلَاءُ إِلَى مَوَالِيهِ وَإِنْ مَاتَ وَهُوَ عَبْدٌ كَانَ الْمِيرَاثُ وَالْوَلَاءُ لِلْجَدِّ وَإِنْ الْعَبْدُ كَانَ لَهُ ابْنَانِ حُرَّانِ فَمَاتَ أَحَدُهُمَا وَأَبُوهُ عَبْدٌ جَرَّ الْجَدُّ أَبُو الْأَبِ الْوَلَاءَ وَالْمِيرَاثَ قَالَ مَالِك فِي الْأَمَةِ تُعْتَقُ وَهِيَ حَامِلٌ وَزَوْجُهَا مَمْلُوكٌ ثُمَّ يَعْتِقُ زَوْجُهَا قَبْلَ أَنْ تَضَعَ حَمْلَهَا أَوْ بَعْدَمَا تَضَعُ إِنَّ وَلَاءَ مَا كَانَ فِي بَطْنِهَا لِلَّذِي أَعْتَقَ أُمَّهُ لِأَنَّ ذَلِكَ الْوَلَدَ قَدْ كَانَ أَصَابَهُ الرِّقُّ قَبْلَ أَنْ تُعْتَقَ أُمُّهُ وَلَيْسَ هُوَ بِمَنْزِلَةِ الَّذِي تَحْمِلُ بِهِ أُمُّهُ بَعْدَ الْعَتَاقَةِ لِأَنَّ الَّذِي تَحْمِلُ بِهِ أُمُّهُ بَعْدَ الْعَتَاقَةِ إِذَا عَتَقَ أَبُوهُ جَرَّ وَلَاءَهُ قَالَ مَالِك فِي الْعَبْدِ يَسْتَأْذِنُ سَيِّدَهُ أَنْ يُعْتِقَ عَبْدًا لَهُ فَيَأْذَنَ لَهُ سَيِّدُهُ إِنَّ وَلَاءَ الْعَبْدِ الْمُعْتَقِ لِسَيِّدِ الْعَبْدِ لَا يَرْجِعُ وَلَاؤُهُ لِسَيِّدِهِ الَّذِي أَعْتَقَهُ وَإِنْ عَتَقَ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ২১. রবী’আ ইবনে আব্দির রহমান (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রাযিঃ) জনৈক ক্রীতদাসকে খরিদ করিয়া উহাকে আযাদ করিয়াছিলেন। সেই ক্রীতদাসের কয়েকটি ছেলে ছিল আযাদ স্ত্রীর ঔরসের। যুবাইর (রাযিঃ) যখন উহাকে আযাদ করিলেন তখন তিনি বলিলেন, ইহারা আমার মাওয়ালী। [موالى আযাদী প্রদান সূত্রে ইহাদের উপর আমার অভিভাবকত্ব উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে -তাই ইহারা এখন আমার অধীনস্থ ও অধিকারভুক্ত। অন্যদিকে এই সন্তানদের জননীকে যাহারা আযাদ করিয়াছিলেন।* তাহারা বলিলেনঃ ইহারা আমাদের অধিকারভুক্ত (موالى)]। অতঃপর তাহারা বিবাদ লইয়া উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ)-এর নিকট গেলেন। উসমান (রাযিঃ) উহাদের অভিভাবকত্ব- এর ফয়সালা দিলেন যুবাইরের পক্ষে।

মালিক (রাহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করা হইল জনৈক ক্রীতদাসী সম্বন্ধে, যাহার কয়েকটি ছেলে রহিয়াছে আযাদ স্ত্রীর ঔরসে। উহাদের স্বত্বাধিকার কাহার জন্য হইবে। সাঈদ বললেন, যদি আযাদী না পাওয়া অবস্থায় উহাদের পিতার মৃত্যু হয় তবে উহাদের অভিভাবকত্ব হইবে তাহাদের মাতার মাওলাদের (আযাদী দাতার) জন্য।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তদ্রূপ অনারব মুসলিম লিআনকারী (লিআনকারী অধ্যায়) স্ত্রীলোকের সন্তান ও তাহার (সন্তানের মাতা) মাওলার দিকে সম্পর্কিত হইবে। তাই মাতার কর্তারা এই ছেলের মাওলা হইবে। যদি সে মারা যায় তবে তাহারা উহার মীরাস লাভ করিবে। সে কোন অপরাধ করিলে তাহারা উহার পক্ষ হইতে খেসারত বা ক্ষতিপূরণ দিবে। আর উহার পিতা যদি উহার নসব স্বীকার করিয়া লয় তবে উহাকে পিতার দিকে সম্পর্কিত করা হইবে। এবং উহার স্বত্বাধিকার তাহার পিতার অভিভাবকত্ব (موالى) লাভ করিবে। তাহার মীরাসও উহাদের জন্য হইবে, আর তাহার অপরাধের খেসারতও হইবে উহাদের উপর এবং (স্বীকারোক্তির পর) ছেলের পিতাকে (অপবাদের শাস্তিতে) বেত্ৰাঘাত করা হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তদ্রূপ আরব লিআনকারী স্ত্রীলোকের স্বামী যে স্ত্রীকে সন্তানের ব্যাপারে অপবাদ দিয়াছে সে যদি উহার ছেলের নসব (জন্মসূত্র) স্বীকার করে তবে সে ছেলে ঐ রূপ মর্যাদাই লাভ করিবে। কিন্তু (পার্থক্য এই থাকিবে যে,) এই ছেলের মাতা ও ভগ্নীদের মীরাস বরাদ্দের পর অবশিষ্ট মীরাস যদি তাহার পিতার সহিত সে যুক্ত না হয় তবে সাধারণ মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত হইবে।

পক্ষান্তরে লিআনকারী স্ত্রীলোকের ছেলের মীরাস তাহার অর্থাৎ মাতার মাওলারা লাভ করিবে পিতা কর্তৃক ছেলের নসব স্বীকার করার পূর্ব পর্যন্ত। কারণ এই ছেলের নসব (জন্মসূত্র) নাই, ফলে তাহার কোন عصبته অর্থাৎ মীরাস লাভ করে এমন কোন আত্মীয়-স্বজন নাই। আর যদি নসব প্রমাণিত হয় তবে তাহার মীরাস আসাবাগণ হইবে ।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট ইজমাঈ (اجماعى) সর্বজনগৃহীত যাহাতে কোন ইখতিলাফ নাই— মাসআলা হইল এই, ক্রীতদাসের পুত্ৰগণ আযাদ স্ত্রীর ঔরসের হইলেও ক্রীতদাসের পিতা আযাদ হইলে, তবে পুত্রদের বড় বাপ অৰ্থাৎ দাদা স্বীয় ছেলের এমন পুত্রদের (নাতির) যাহারা আযাদ এবং আযাদ মাতার গর্ভে যাহাদের জন্ম, তাহাদের মীরাস লাভ করিবে, যতদিন পিতা ক্রীতদাস থাকে ততদিন। যদি তাহাদের পিতা আযাদ হইয়া যায় তবে পিতার মাওলাগণ অভিভাবকত্ব লাভ করিবে। আর যদি ক্রীতদাস থাকিতেই তাহার মৃত্যু হয় তবে মীরাস অধিকার (ولاء) দাদার জন্য থাকিবে। আর যদি ক্রীতদাস পিতার আযাদ দুই পুত্র থাকে এবং উহাদের একজন মারা যায় তাহাদের পিতা গোলাম থাকা অবস্থায় তবে পুত্রের বড় বাপ-দাদা মীরাস ও অভিভাবকত্ব (ولاء) দুইটিই লাভ করিবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ অন্তঃসত্ত্ব অবস্থায় যে ক্রীতদাসীকে আযাদ করা হইল এবং তাহার স্বামী তখনও (অন্যের) দাস। অতঃপর সন্তান প্রসবের পূর্বে অথবা পরে তাহার স্বামীকে আযাদ করা হয় তবে পেটে যাহা ছিল উহার অর্থাৎ সন্তানের অভিভাবকত্ব যে তাহার জননীকে আযাদ করিয়াছে সে-ই লাভ করিবে। কারণ এই সন্তান তাহার মাতাকে আযাদী দেওয়ার পূর্বের, ফলে দাসত্ব তাহাকে স্পর্শ করিয়াছে। সে ঐ সন্তানতুল্য মর্যাদার অধিকারী নহে যাহাকে তাহার জননী গর্ভে ধারণ করিয়াছে আযাদী লাভের পরে। কারণ আযাদী লাভের পর জননী সেই সন্তান গর্ভে ধারণ করিয়াছে। সেই সন্তানের পিতা তাহার অভিভাবকত্ব প্রাপ্ত হইবে, যদি পিতাকে আযাদ করা হইয়া থাকে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যে ক্রীতদাস গোলাম আযাদ করার জন্য তাহার কর্তার অনুমতি প্রার্থনা করিয়াছে, কর্তা তাহাকে অনুমতি দিয়াছে তবে আযাদীপ্রাপ্ত ক্রীতদাসের অভিভাবকত্ব এই ক্রীতদাসের কর্তা লাভ করিবে, এই (আযাদীপ্রাপ্ত) ক্রীতদাসের অভিভাবকত্ব ও উত্তরাধিকার তাহার কর্তা যে তাহাকে আযাদ করিয়াছে সে পাইবে না, যদিও সে (পরে) আযাদী লাভ করিয়া থাকে।

১২. মিত্রতার (ولاء) কারণে মীরাস লাভ করা

باب مِيرَاثِ الْوَلَاءِ

1519

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ الْعَاصِيَ بْنَ هِشَامٍ هَلَكَ وَتَرَكَ بَنِينَ لَهُ ثَلَاثَةً اثْنَانِ لِأُمٍّ وَرَجُلٌ لِعَلَّةٍ فَهَلَكَ أَحَدُ اللَّذَيْنِ لِأُمٍّ وَتَرَكَ مَالًا وَمَوَالِيَ فَوَرِثَهُ أَخُوهُ لِأَبِيهِ وَأُمِّهِ مَالَهُ وَوَلَاءَهُ مَوَالِيهِ ثُمَّ هَلَكَ الَّذِي وَرِثَ الْمَالَ وَوَلَاءَ الْمَوَالِي وَتَرَكَ ابْنَهُ وَأَخَاهُ لِأَبِيهِ فَقَالَ ابْنُهُ قَدْ أَحْرَزْتُ مَا كَانَ أَبِي أَحْرَزَ مِنْ الْمَالِ وَوَلَاءِ الْمَوَالِي وَقَالَ أَخُوهُ لَيْسَ كَذَلِكَ إِنَّمَا أَحْرَزْتَ الْمَالَ وَأَمَّا وَلَاءُ الْمَوَالِي فَلَا أَرَأَيْتَ لَوْ هَلَكَ أَخِي الْيَوْمَ أَلَسْتُ أَرِثُهُ أَنَا فَاخْتَصَمَا إِلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَقَضَى لِأَخِيهِ بِوَلَاءِ الْمَوَالِي

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ২২. আব্দুল মালিক ইবনে আবী বকর ইবনে আব্দির রহমান তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি আব্দুল মালিক-এর নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, আসী (عاصى) ইবনে হিশাম পরলোকগমন করেন এবং তিনি রাখিয়া যান তাহার তিন পুত্র, দুইজন (তাহদের মধ্যে) সহোদর ও একজন ছিল বৈমাত্রেয় ভ্রাতা। পরে সহোদরদ্বয়ের একজনের মৃত্যু হয়। সে রাখিয়া যায় সম্পদ ও মাওয়ালী (موالى - যে সকল ক্রীতদাসকে মুক্তি দিয়াছে, সেই সব ক্রীতদাস মুক্তিদাতার মাওয়ালী) তাহার সহোদর ভাই তাহার সম্পদ ও মাওয়ালীদের অভিভাবকত্বের (مولاء) উত্তরাধিকারী হইল। অতঃপর যিনি সম্পদ ও অভিভাবকত্বের উত্তরাধিকার লাভ করবেন তিনি মৃত্যুবরণ করিলেন এবং রাখিয়া গেলেন পুত্র ও বৈমাত্রেয় ভ্রাতা; তাহার পুত্র বলিলঃ আমার পিতা যে সম্পদ ও অভিভাবকত্বের (ولاء) মালিক হইয়াছিলেন (বর্তমানে) আমি সেই সবের উত্তরাধিকারী হইয়াছি। তাহার ভাই (অর্থাৎ পুত্রের চাচা) বলিল, এইরূপ নহে। তুমি সম্পদের উত্তরাধিকারী হইয়াছ। কিন্তু মাওয়ালীদের ( موالى) অভিভাবকত্বের (ولاء) উত্তরাধিকারী তুমি নহে। তুমি কি ভাবিয়া দেখ না যদি আমার ভাই আজ পরলোকগমন করিত, আমি কি উহার উত্তরাধিকারী হইতাম না? অতঃপর তাহারা উভয়ে বিবাদ লইয়া উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হইল। তিনি [উসমান (রাযিঃ)] মাওয়ালীগণের ( موالى) স্বত্বাধিরার তাহার ভাইকে প্রদান করিলেন।

1520

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَبُوهُ أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا عِنْدَ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ فَاخْتَصَمَ إِلَيْهِ نَفَرٌ مِنْ جُهَيْنَةَ وَنَفَرٌ مِنْ بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ وَكَانَتْ امْرَأَةٌ مِنْ جُهَيْنَةَ عِنْدَ رَجُلٍ مِنْ بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ يُقَالُ لَهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ كُلَيْبٍ فَمَاتَتْ الْمَرْأَةُ وَتَرَكَتْ مَالًا وَمَوَالِيَ فَوَرِثَهَا ابْنُهَا وَزَوْجُهَا ثُمَّ مَاتَ ابْنُهَا فَقَالَ وَرَثَتُهُ لَنَا وَلَاءُ الْمَوَالِي قَدْ كَانَ ابْنُهَا أَحْرَزَهُ فَقَالَ الْجُهَنِيُّونَ لَيْسَ كَذَلِكَ إِنَّمَا هُمْ مَوَالِي صَاحِبَتِنَا فَإِذَا مَاتَ وَلَدُهَا فَلَنَا وَلَاؤُهُمْ وَنَحْنُ نَرِثُهُمْ فَقَضَى أَبَانُ بْنُ عُثْمَانَ لِلْجُهَنِيِّينَ بِوَلَاءِ الْمَوَالِي

Narrator: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

রেওয়ায়ত ২৩. আব্দুল্লাহ ইবনে আবী বকর ইবনে হাযম (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার পিতা তাহার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি আবান ইবনে উসমান (রাযিঃ)-এর নিকট বসা ছিলেন (এমন সময়) জুহাইনা (গোত্রের) কিছু লোক এবং বনী হারিস ইবনে খাযরাজ (গোত্রের) কিছু লোক বিবাদ লইয়া তাহার নিকট আসিল। আর জুহাইনা গোত্রের জনৈকা নারী বনী ইবনে খাযরাজ-এর এক ব্যক্তির স্ত্রী ছিল, তাহাকে বলা হইত ইবরাহীম ইবনে কুলাইব। (তাহার) স্ত্রী মারা যায় এবং রাখিয়া যায় ধন-সম্পদ ও আযাদ করা ক্রীতদাস ( موالى ) উহার মীরাস পাইল তাহার স্বামী ও পুত্র। অতঃপর স্ত্রীলোকটির পুত্রটি মারা গেল। তখন স্বামীটি বলিল, মাওয়ালীগণের স্বত্বাধিকার আমার প্রাপ্য। কারণ তাহার পুত্র (উত্তরাধিকারসূত্রে) উহার মালিক হইয়াছে। জুহাইনীয়া গোত্রের লোকেরা বলিল, এইরূপ নহে। উহার (আযাদী প্রাপ্ত ক্রীতদাসগণ) হইতেছে আমাদের (গোত্রের) স্ত্রীলোকের ক্রীতদাস। [موالى যাহাদিগকে এই স্ত্রীলোক আযাদ করিয়াছে] তাহার পুত্র যখন মারা গেল তবে এই মাওয়ালীগণের স্বত্বাধিকার আমরাই পাইব। আমরা উহাদের মীরাস লাভ করিব। সব শুনিয়া আবান ইবনে উসমান (রাহঃ) মাওয়ালীগণের অভিভাবকত্ব (ولاء)প্রদান করিলেন জুহাইনীয়দের জন্য।

1521

وَحَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ قَالَ فِي رَجُلٍ هَلَكَ وَتَرَكَ بَنِينَ لَهُ ثَلَاثَةً وَتَرَكَ مَوَالِيَ أَعْتَقَهُمْ هُوَ عَتَاقَةً ثُمَّ إِنَّ الرَّجُلَيْنِ مِنْ بَنِيهِ هَلَكَا وَتَرَكَا أَوْلَادًا فَقَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ يَرِثُ الْمَوَالِيَ الْبَاقِي مِنْ الثَّلَاثَةِ فَإِذَا هَلَكَ هُوَ فَوَلَدُهُ وَوَلَدُ إِخْوَتِهِ فِي وَلَاءِ الْمَوَالِي شَرَعٌ سَوَاءٌ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২৪. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) বলিয়াছেন সেই ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি পরলোকগমন করিয়াছে তিন পুত্র রাখিয়া, আর রাখিয়া গিয়াছে কতিপয় মাওয়ালী (ক্রীতদাস) যাহাদিগকে সে আযাদ করিয়াছে। তারপর তাহার দুই পুত্র মারা যায়। তাহারা উভয়ে রাখিয়া যায় (তাহাদের) সন্তান। সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) বললেন, তাহার তিন পুত্রের মধ্যে জীবিত পুত্র মাওয়ালীগণের অভিভাবকত্ব ও উত্তরাধিকার লাভ করিবে। সেও পরলোকগমন করিলে তখন তাহার সন্তান ও তাহার (মৃত) দুই ভাইয়ের সন্তানগণ মাওয়ালীগণের সম্পদের উত্তরাধিকারের ব্যাপারে বরাবর হকদার হইবে।

১৩. সায়িবা* এর মীরাস এবং ইহুদী ও নসরানী ক্রীতদাসকে যে আযাদ করিয়াছে তাহার অভিভাবকত্ব ও উত্তরাধিকার-এর বর্ণনা

باب مِيرَاثِ السَّائِبَةِ وَوَلَاءِ مَنْ أَعْتَقَ الْيَهُودِيَّ وَالنَّصْرَانِيَّ

1522
وَحَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنْ السَّائِبَةِ قَالَ يُوَالِي مَنْ شَاءَ فَإِنْ مَاتَ وَلَمْ يُوَالِي أَحَدًا فَمِيرَاثُهُ لِلْمُسْلِمِينَ وَعَقْلُهُ عَلَيْهِمْ
قَالَ مَالِك إِنَّ أَحْسَنَ مَا سُمِعَ فِي السَّائِبَةِ أَنَّهُ لَا يُوَالِي أَحَدًا وَأَنَّ مِيرَاثَهُ لِلْمُسْلِمِينَ وَعَقْلَهُ عَلَيْهِمْ قَالَ مَالِك فِي الْيَهُودِيِّ وَالنَّصْرَانِيِّ يُسْلِمُ عَبْدُ أَحَدِهِمَا فَيُعْتِقُهُ قَبْلَ أَنْ يُبَاعَ عَلَيْهِ إِنَّ وَلَاءَ الْعَبْدِ الْمُعْتَقِ لِلْمُسْلِمِينَ وَإِنْ أَسْلَمَ الْيَهُودِيُّ أَوْ النَّصْرَانِيُّ بَعْدَ ذَلِكَ لَمْ يَرْجِعْ إِلَيْهِ الْوَلَاءُ أَبَدًا قَالَ وَلَكِنْ إِذَا أَعْتَقَ الْيَهُودِيُّ أَوْ النَّصْرَانِيُّ عَبْدًا عَلَى دِينِهِمَا ثُمَّ أَسْلَمَ الْمُعْتَقُ قَبْلَ أَنْ يُسْلِمَ الْيَهُودِيُّ أَوْ النَّصْرَانِيُّ الَّذِي أَعْتَقَهُ ثُمَّ أَسْلَمَ الَّذِي أَعْتَقَهُ رَجَعَ إِلَيْهِ الْوَلَاءُ لِأَنَّهُ قَدْ كَانَ ثَبَتَ لَهُ الْوَلَاءُ يَوْمَ أَعْتَقَهُ قَالَ مَالِك وَإِنْ كَانَ لِلْيَهُودِيِّ أَوْ النَّصْرَانِيِّ وَلَدٌ مُسْلِمٌ وَرِثَ مَوَالِيَ أَبِيهِ الْيَهُودِيِّ أَوْ النَّصْرَانِيِّ إِذَا أَسْلَمَ الْمَوْلَى الْمُعْتَقُ قَبْلَ أَنْ يُسْلِمَ الَّذِي أَعْتَقَهُ وَإِنْ كَانَ الْمُعْتَقُ حِينَ أُعْتِقَ مُسْلِمًا لَمْ يَكُنْ لِوَلَدِ النَّصْرَانِيِّ أَوْ الْيَهُودِيِّ الْمُسْلِمَيْنِ مِنْ وَلَاءِ الْعَبْدِ الْمُسْلِمِ شَيْءٌ لِأَنَّهُ لَيْسَ لِلْيَهُودِيِّ وَلَا لِلنَّصْرَانِيِّ وَلَاءٌ فَوَلَاءُ الْعَبْدِ الْمُسْلِمِ لِجَمَاعَةِ الْمُسْلِمِينَ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২৫. মালিক (রাহঃ) ইবনে শিহাব (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করিয়াছেন সায়িবা সম্বন্ধে। তিনি বলিয়াছেন, সে যাহার সহিত ইচ্ছা মিত্রতার বন্ধন ( عقد موالات) করিতে পারে আর যদি তাহার মৃত্যু হয় অথচ সে কাহাকেও ওয়ালী (অভিভাবক) নিযুক্ত করে নাই, তবে তাহার মীরাস হইবে মুসলমানদের জন্য এবং তাহার খেসারতও মুসলমানদের উপর হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ সায়িবা সম্বন্ধে উত্তম যাহা শোনা গিয়াছে তাহা হইল সে কাহারো সহিত মিত্রতার বন্ধনে ( عقد موالات) আব্দ্ধ হইবে না এবং তাহার মীরাস মুসলমানদের জন্য হইবে, আর তাহার খেসারত তাহাদের উপর আসিবে।

ইহুদী ও নসরানী সম্বন্ধে মালিক (রাহঃ) বলেনঃ তাহদের একজনের ক্রীতদাস মুসলমান হইয়াছে এবং তাহার পক্ষ হইতে ক্রীতদাস বিক্রি হওয়ার পূর্বে সে উহাকে আযাদ করিয়া দিয়াছে (এইরূপ) মুক্তিপ্রাপ্ত ক্রীতদাসের অভিভাবকত্ব মুসলমানদের জন্য হইবে। ইহার পর যদি ইহুদী ও নসরানী মুসলমান হয় স্বত্বাধিকার তাহদের দিকে আর ফিরিবে না। মালিক (রাহঃ) বলেন, যদি ইহুদী অথবা নসরানী তাহদের সহধর্মী কোন ক্রীতদাসকে আযাদ করে, তারপর যে ইহুদী অথবা নসরানী ইহাকে আযাদ করিয়াছে তাহার ইসলাম গ্রহণের পূর্বে সেই ক্রীতদাস মুসলমান হয়, তার পর যে আযাদ করিয়াছে সেও মুসলমান হয় তবে অভিভাবকত্ব তাহার দিকে প্রত্যাবর্তন করিবে। কারণ যেই দিন আযাদ করিয়াছিল সেই দিন স্বত্বাধিকার তাহারই প্রাপ্য ছিল।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি ইহুদী অথবা নসরানীর মুসলিম সন্তান থাকে, আর সে (কর্তা) তাহাকে আযাদ করিয়াছে তাহার ইসলাম গ্রহণের পূর্বে যদি আযাদী প্রাপ্ত ক্রীতদাস মুসলমান হইয়া যায়, তবে সে (সন্তান) ইহুদী অথবা নসরানী পিতার আযাদী প্রদত্ত ক্রীতদাসদের মীরাসের অধিকারী হইবে। আর যদি আযাদী প্রাপ্তির সময় ক্রীতদাস মুসলমান ছিল তবে ইহুদী অথবা নসরানীর মুসলিম সন্তানরা মুসলিম ক্রীতদাসের স্বত্বাধিকারের কোন কিছু প্রাপ্য হইবে না। কারণ ইহুদী অথবা নসরানীর জন্য কোন অভিভাবকত্ব নাই। তাই মুসলিম ক্রীতদাসের অভিভাবকত্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রাপ্য হইবে।