كتاب الكلام
৫৬. যাবতীয় কথাবার্তা সম্পর্কিত অধ্যায়
Chapter 56 · 28 hadith
১. খারাপ কথাবার্তা সম্পৰ্কীয় বয়ান
باب مَا يُكْرَهُ مِنْ الْكَلَامِ
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَالَ لِأَخِيهِ كَافِرٌ فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا
Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)
রেওয়ায়ত ১. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, যদি কেহ নিজের কোন ভাইকে কাফের বলে, তবে এতদুভয়ের মধ্যে একজন (নিশ্চয়ই) কাফের হইল।*
وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا سَمِعْتَ الرَّجُلَ يَقُولُ هَلَكَ النَّاسُ فَهُوَ أَهْلَكُهُمْ
Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.
রেওয়ায়ত ২. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, যদি তুমি কাহাকেও এই কথা বলিতে শুনিতে পাও যে, মানুষ ধ্বংস হইয়াছে, তাহা হইলে সে সবচাইতে অধিক ধ্বংস হইয়াছে।*
وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَقُلْ أَحَدُكُمْ يَا خَيْبَةَ الدَّهْرِ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ الدَّهْرُ
Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.
রেওয়ায়ত ৩. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, তোমাদের কেহই যেন দাহরকে (যুগ বা জমানাকে) মন্দ না বলে। কেননা আল্লাহই দাহর (যুগ)।*
وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ لَقِيَ خِنْزِيرًا بِالطَّرِيقِ فَقَالَ لَهُ انْفُذْ بِسَلَامٍ فَقِيلَ لَهُ تَقُولُ هَذَا لِخِنْزِيرٍ فَقَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ إِنِّي أَخَافُ أَنْ أُعَوِّدَ لِسَانِي الْمَنْطِقَ بِالسُّوءِ
Narrator: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)
রেওয়ায়ত ৪. ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, ঈসা ইবনে মরিয়ম (আলাইহিস সালাম)-এর সম্মুখে পথে একটি শূকর আসিল। তিনি তখন বলিলেন, নিরাপদে তুমি চলিয়া যাও। লোকেরা তাহাকে বলিল, আপনি শূকরের সাথে কথা বলিতেছেন? (অথচ ইহা সর্বণিকৃষ্ট অশুচি জীব। ইহাকে তো মারিয়া এবং গালমন্দ দিয়া তাড়াইয়া দেওয়া দরকার!) অতঃপর তিনি বলিলেন, ইহাতে আমার মুখ খারাপ কথায় অভ্যস্ত হইবে বলিয়া আমি ভয় করিতেছি।
২. বুঝিয়া কথা বলা প্রসঙ্গে
بَابُ مَا يُؤْمَرُ بِهِ مِنَ التَّحَفُّظِ فِي الْكَلَامِ
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَلْقَمَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ بِلَالِ بْنِ الْحَارِثِ الْمُزَنِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ رِضْوَانِ اللَّهِ مَا كَانَ يَظُنُّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ يَكْتُبُ اللَّهُ لَهُ بِهَا رِضْوَانَهُ إِلَى يَوْمِ يَلْقَاهُ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مِنْ سَخَطِ اللَّهِ مَا كَانَ يَظُنُّ أَنْ تَبْلُغَ مَا بَلَغَتْ يَكْتُبُ اللَّهُ لَهُ بِهَا سَخَطَهُ إِلَى يَوْمِ يَلْقَاهُ
Narrator: বিলাল ইবনে হারিস (রাঃ)
রেওয়ায়ত ৫. বিলাল ইবনে হারিস মুযানী (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, (অনেক সময়) মানুষ কথা বলে, কিন্তু সেই কথা কোথায় তাহাকে পৌছাইবে, সে তাহা জানে না। অথচ সেই কথার জন্য আল্লাহ তাআলা তাহার জন্য স্বীয় সন্তুষ্টি কিয়ামত পর্যন্ত লিখিয়া দেন। আবার কোন সময় এমন কথা কেহ বলে, সেই কথা কোথায় গিয়া ক্রিয়া করে সে তাহা জানে না, অথচ সেই কথার জন্য আল্লাহ তাআলা তাহার জন্য কিয়ামত পর্যন্ত স্বীয় অসন্তুষ্টি লিখিয়া দেন।*
وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ إِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مَا يُلْقِي لَهَا بَالًا يَهْوِي بِهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مَا يُلْقِي لَهَا بَالًا يَرْفَعُهُ اللَّهُ بِهَا فِي الْجَنَّةِ
Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.
রেওয়ায়ত ৬. আবু সালেহ সাম্মান (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলিয়াছেন যে, (অনেক সময়) মানুষ চিন্তা না করিয়া কথা বলে, পরিণামে সে জাহান্নামে পতিত হয়; আবার চিন্তা না করিয়া (এমন) কথা কেহ বলে, যাহার ফলে সে বেহেশতে গমন করে।*
৩. অনর্থক কথা বলায় দোষ প্রসঙ্গ
باب مَا يُكْرَهُ مِنْ الْكَلَامِ بِغَيْرِ ذِكْرِ اللَّهِ
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ قَدِمَ رَجُلَانِ مِنْ الْمَشْرِقِ فَخَطَبَا فَعَجِبَ النَّاسُ لِبَيَانِهِمَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِنْ الْبَيَانِ لَسِحْرًا أَوْ قَالَ إِنَّ بَعْضَ الْبَيَانِ لَسِحْرٌ
Narrator: যায়দ ইবনে আসলাম (রহঃ)
রেওয়ায়ত ৭. যায়দ ইবনে আসলম আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, পূর্বদিক হইতে দুইজন লোক আগমন করিল। তাহারা বক্তৃতা দান করিল এবং তাহাদের বক্তৃতায় জনসাধারণ আশ্চর্যান্বিত হইল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, নিঃসন্দেহে কোন কোন বক্তৃতা যাদুর মতো ক্রিয়া করে।
وَحَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ كَانَ يَقُولُ لَا تُكْثِرُوا الْكَلَامَ بِغَيْرِ ذِكْرِ اللَّهِ فَتَقْسُوَ قُلُوبُكُمْ فَإِنَّ الْقَلْبَ الْقَاسِيَ بَعِيدٌ مِنْ اللَّهِ وَلَكِنْ لَا تَعْلَمُونَ وَلَا تَنْظُرُوا فِي ذُنُوبِ النَّاسِ كَأَنَّكُمْ أَرْبَابٌ وَانْظُرُوا فِي ذُنُوبِكُمْ كَأَنَّكُمْ عَبِيدٌ فَإِنَّمَا النَّاسُ مُبْتَلًى وَمُعَافًى فَارْحَمُوا أَهْلَ الْبَلَاءِ وَاحْمَدُوا اللَّهَ عَلَى الْعَافِيَةِ
Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)
রেওয়ায়ত ৮. মালিক (রাহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, ঈসা ইবনে মরিয়ম (আলাইহিস সালাম) বলতেন, আল্লাহর যিক্র ব্যতীত অনর্থক বেশী কথা বলিও না। অন্যথায় তোমাদের অন্তর কঠিন হইয়া যাইবে। আর কঠিন হৃদয়ের ব্যক্তি আল্লাহ হইতে দূরে থাকে, অথচ তোমরা তাহা জান না। আর তোমরা অপরের গুনাহের দিকে (এইভাবে) তাকাইও না যেন তোমরা তাহাদের প্রভু! তোমরা নিজেদের গুনাহের দিকে (এইভাবে) তাকাও, যেন তোমরা গোলাম। কেননা মানুষ অনেক রকমের হয়। কেহ রোগী আর কেহ সুস্থ। অতএব, রোগীদের প্রতি সদয় হও এবং নিজের সুস্থতার জন্য আল্লাহর শোকর আদায় কর।*
وَحَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَتْ تُرْسِلُ إِلَى بَعْضِ أَهْلِهَا بَعْدَ الْعَتَمَةِ فَتَقُولُ أَلَا تُرِيحُونَ الْكُتَّابَ
Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.
রেওয়ায়ত ৯. নবী করীম (ﷺ)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) ইশার নামাযের পর আপনজনদের কাছে বলিয়া পাঠাইতেন যে, লেখক ফিরিশতাদেরকে এখনও আরাম (অবসর) দিবে না?*
৪. গীবত সম্বন্ধীয় বয়ান
بَاب مَا جَاءَ فِي الْغِيبَةِ
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَيَّادٍ أَنَّ الْمُطَّلِبَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبَ الْمَخْزُومِيَّ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا الْغِيبَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تَذْكُرَ مِنْ الْمَرْءِ مَا يَكْرَهُ أَنْ يَسْمَعَ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنْ كَانَ حَقًّا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قُلْتَ بَاطِلًا فَذَلِكَ الْبُهْتَانُ
Narrator: বিবিধ
রেওয়ায়ত ১০. মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ মাখযুমী (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করিল, গীবত কি (বা গীবত কাহাকে বলে)? এতদুত্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেন, কাহারও অবর্তমানে তাহার এমন কথা প্রকাশ করা যাহা সে শুনিলে অসন্তুষ্ট হইবে। অতঃপর লোকটি (আবার) বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কথা যদি সত্য হয় (অর্থাৎ যাহা বলা হইতেছে উহা যদি মিথ্যা না হয়, বরং সত্য হয় তাহা হইলেও কি উহা গীবত হইবে)? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেন, যদি মিথ্যা হয়, (তবে উহাকে গীবত বলা হয় না; বরং) উহা বুহতান (অপবাদ)।*
৫. জিহ্বার গুনাহ প্রসঙ্গে
بَاب مَا جَاءَ فِيمَا يُخَافُ مِنْ اللِّسَانِ
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ وَقَاهُ اللَّهُ شَرَّ اثْنَيْنِ وَلَجَ الْجَنَّةَ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَا تُخْبِرْنَا فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ عَادَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مِثْلَ مَقَالَتِهِ الْأُولَى فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ لَا تُخْبِرْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَ ذَلِكَ أَيْضًا فَقَالَ الرَّجُلُ لَا تُخْبِرْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَ ذَلِكَ أَيْضًا ثُمَّ ذَهَبَ الرَّجُلُ يَقُولُ مِثْلَ مَقَالَتِهِ الْأُولَى فَأَسْكَتَهُ رَجُلٌ إِلَى جَنْبِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ وَقَاهُ اللَّهُ شَرَّ اثْنَيْنِ وَلَجَ الْجَنَّةَ مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ
Narrator: আতা ইবনে ইয়াসার (রহঃ)
রেওয়ায়ত ১১. আতা ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, আল্লাহ তাআলা যাহাকে দুইটি জিনিসের অনিষ্ট হইতে রক্ষা করিবেন সে বেহেশতে যাইবে। (ইহা শুনিয়া) এক ব্যক্তি বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সেই দুইটি জিনিস কি? আপনি কি আমাদেরকে বলিবেন না? অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নীরব হইয়া গেলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেই প্রথম কথার পুনরাবৃত্তি করিলেন। লোকটি আবার বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদেরকে উহা বলিবেন না? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নীরব হইয়া গেলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পুনরায় সেই কথা বলিলেন। লোকটি আবার বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদেরকে বলিবেন না? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবার সেই কথা বলিলেন। লোকটিও সেই একই কথা বলিল (অর্থাৎ আপনি আমাদেরকে উহা বলিবেন না?) অতঃপর লোকটির পার্শ্বে উপবিষ্ট এক ব্যক্তি তাহাকে চুপ করাইল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজেই বলিলেন, “আল্লাহ্ পাক যাহাকে দুইটি জিনিসের অনিষ্ট হইতে রক্ষা করিবেন সে বেহেশতে যাইবে। একটি হইল দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী বস্তু (জিহ্বা), অপরটি হইল দুই রানের মধ্যবর্তী বস্তু (লজ্জাস্থান)। এই কথাটি তিনবার বলিলেন।*
وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ دَخَلَ عَلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ وَهُوَ يَجْبِذُ لِسَانَهُ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ مَهْ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ إِنَّ هَذَا أَوْرَدَنِي الْمَوَارِدَ
Narrator: যায়দ ইবনে আসলাম (রহঃ)
রেওয়ায়ত ১২. যাইদ ইবনে আসলম (রাযিঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ)-এর নিকট গিয়া দেখিলেন যে, আবু বকর (রাযিঃ) স্বীয় জিহ্বা ধরিয়া টানিতেছেন। উমর (রাযিঃ) বলিলেন, রাখুন (অর্থাৎ এই রকম করবেন না), আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন। অতঃপর আবু বকর (রাযিঃ) বলিলেন, এই জিহ্বাই তো আমাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলিয়া দিয়াছে!
৬. একজনকে বাদ দিয়া দুইজন পরম্পরে কানে কানে কথা বলা প্রসঙ্গে
بَاب مَا جَاءَ فِي مُنَاجَاةِ اثْنَيْنِ دُونَ وَاحِدٍ
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ قَالَ كُنْتُ أَنَا وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ عِنْدَ دَارِ خَالِدِ بْنِ عُقْبَةَ الَّتِي بِالسُّوقِ فَجَاءَ رَجُلٌ يُرِيدُ أَنْ يُنَاجِيَهُ وَلَيْسَ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَحَدٌ غَيْرِي وَغَيْرُ الرَّجُلِ الَّذِي يُرِيدُ أَنْ يُنَاجِيَهُ فَدَعَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ رَجُلًا آخَرَ حَتَّى كُنَّا أَرْبَعَةً فَقَالَ لِي وَلِلرَّجُلِ الَّذِي دَعَاهُ اسْتَأْخِرَا شَيْئًا فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ وَاحِدٍ
Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রহঃ)
রেওয়ায়ত ১৩. আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রাহঃ) বলেন, আমি ও আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) খালিদ ইবনে উকবা (রাযিঃ)-এর সেই ঘরের নিকটে ছিলাম যাহা বাজারে অবস্থিত ছিল। ইত্যবসরে এক ব্যক্তি আসিয়া তাহার সহিত কানে কানে কিছু কথা বলিতে ইচ্ছা করিল। আব্দুল্লাহ (ইবনে উমর)-এর সঙ্গে আমি ও সেই ব্যক্তি ব্যতীত, যে তাহার সহিত কানে কানে কথা বলিতে চাহিয়াছিল, আর কেহ ছিল না। অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) অপর এক ব্যক্তিকে ডাকিয়া লইলেন। এখন আমরা চারিজন হইলাম এবং তিনি আমাকে ও সেই ব্যক্তিকে একটু সরিয়া যাইতে বললেন, যাহাকে ডাকিয়া লইয়াছিলেন এবং বলিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট শ্রবণ করিয়াছি, তিনি বলিয়াছেন, দুইজন একজনকে একা ছাড়িয়া কানে কানে কথা বলিবে না। ইহাতে তৃতীয় ব্যক্তি দুঃখিত হয়।
وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا كَانَ ثَلَاثَةٌ فَلَا يَتَنَاجَى اثْنَانِ دُونَ وَاحِدٍ
Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)
রেওয়ায়ত ১৪. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, যদি তিনজন এক সঙ্গে হয়, তবে একজনকে ছাড়িয়া অবশিষ্ট দুইজন কানে কানে কথা বলিবে না।
৭. সত্য মিথ্যা কথা বলা প্রসঙ্গে
بَاب مَا جَاءَ فِي الصِّدْقِ وَالْكَذِبِ
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكْذِبُ امْرَأَتِي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا خَيْرَ فِي الْكَذِبِ فَقَالَ الرَّجُلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعِدُهَا وَأَقُولُ لَهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا جُنَاحَ عَلَيْكَ
Narrator: সাফওয়ান ইবনে সুলায়ম (রাঃ)
রেওয়ায়ত ১৫. সাফওয়ান ইবনে সুলাইম (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এক ব্যক্তি আসিয়া বলিল, আমি আমার স্ত্রীর সাথে মিথ্যা বলিতে পারিব কি? এতদুত্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেন, মিথ্যা কথায় কোন উপকার নাই। লোকটি আবার বলিল, আমি’তাহার সাথে ওয়াদা তো করিতে পারিব যে, আমি তোমাকে এই জিনিস দিব। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, ইহাতে কোন দোষ নাই।*
وَحَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ كَانَ يَقُولُ عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ فَإِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ وَالْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ فَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ وَالْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ أَلَا تَرَى أَنَّهُ يُقَالُ صَدَقَ وَبَرَّ وَكَذَبَ وَفَجَرَ
Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)
রেওয়ায়ত ১৬. মালিক (রাহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে যে, আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলতেন, তোমরা সত্য বলা নিজের উপর ওয়াজিব (অনিবার্য) করিয়া লও। কেননা সত্য কথা নেকীর দিকে পথ প্রদর্শন করে এবং নেকী বেহেশতের পথ সুগম করে। আর তোমরা মিথ্যা বলা হইতে সংযত হও। কেননা মিথ্যা কথা গুনাহর দিকে পথ প্রদর্শন করে এবং গুনাহ দোযখের পথ সুগম করে। তুমি কি শোন নাই, ইহা বলা হয় যে, সত্যই নেকী এবং মিথ্যাই গুনাহ?
وَحَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّهُ قِيلَ لِلُقْمَانَ مَا بَلَغَ بِكَ مَا نَرَى يُرِيدُونَ الْفَضْلَ فَقَالَ لُقْمَانُ صِدْقُ الْحَدِيثِ وَأَدَاءُ الْأَمَانَةِ وَتَرْكُ مَا لَا يَعْنِينِي
Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)
রেওয়ায়ত ১৭. মালিক (রাহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে যে, লুকমান (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট কেহ জিজ্ঞাসা করিল, কিসের কারণে আপনি এই এত বুযুর্গী পাইলেন? লুকমান (আলাইহিস সালাম) বলিলেন, সত্য কথা বলা, আমানতদারী এবং অনর্থক কাজ পরিহার করার কারণে।
وَحَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ كَانَ يَقُولُ لَا يَزَالُ الْعَبْدُ يَكْذِبُ وَتُنْكَتُ فِي قَلْبِهِ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ حَتَّى يَسْوَدَّ قَلْبُهُ كُلُّهُ فَيُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ الْكَاذِبِينَ
Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)
রেওয়ায়ত ১৮. মালিক (রাহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছিয়াছে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলতেন, মানুষ মিথ্যা কথা বলে। শেষ পর্যন্ত তাহার অন্তরে একটা কাল দাগ পড়ে যাহার কারণে গোটা অন্তরই কাল হইয়া যায়। অবশেষে আল্লাহর নিকট তাহার নাম মিথ্যাবাদীদের তালিকায় লিপিবদ্ধ হয়।
وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ أَنَّهُ قَالَ قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيَكُونُ الْمُؤْمِنُ جَبَانًا فَقَالَ نَعَمْ فَقِيلَ لَهُ أَيَكُونُ الْمُؤْمِنُ بَخِيلًا فَقَالَ نَعَمْ فَقِيلَ لَهُ أَيَكُونُ الْمُؤْمِنُ كَذَّابًا فَقَالَ لَا
Narrator: বিবিধ
রেওয়ায়ত ১৯. সফওয়ান ইবনে সুলাইম (রাহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট কেহ জিজ্ঞাসা করিল, মুমিন সাহসহীন বা ভীরু হইতে পারে কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেন, হ্যাঁ। আবার জিজ্ঞাসা করা হইল, মুমিন কৃপণ (বখিল) হইতে পারে কি? বলিলেন, হ্যাঁ। আবার জিজ্ঞাসা করা হইল, মু’মিন মিথ্যাবাদী হইতে পারে কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেন, না।
৮. অপব্যয় ও দোমুখো মানুষ প্রসঙ্গে
بَاب مَا جَاءَ فِي إِضَاعَةِ الْمَالِ وَذِي الْوَجْهَيْنِ
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ يَرْضَى لَكُمْ ثَلَاثًا وَيَسْخَطُ لَكُمْ ثَلَاثًا يَرْضَى لَكُمْ أَنْ تَعْبُدُوهُ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَأَنْ تَعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَأَنْ تَنَاصَحُوا مَنْ وَلَّاهُ اللَّهُ أَمْرَكُمْ وَيَسْخَطُ لَكُمْ قِيلَ وَقَالَ وَإِضَاعَةَ الْمَالِ وَكَثْرَةَ السُّؤَالِ
Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.
রেওয়ায়ত ২০. সুহাইল ইবনে আবী সালেহ (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের তিনটি কাজে সন্তুষ্ট হন এবং তিনটি কাজে অসন্তুষ্ট হন। যেসব কাজে তিনি সন্তুষ্ট হন সেইগুলি হইল, (১) তোমরা তাহারই ইবাদত করিবে এবং তাহার সাথে আর কাহাকেও শরীক করিবে না। (২) আল্লাহর রশি (অর্থাৎ কুরআন) মজবুত করিয়া ধরিবে। (৩) আল্লাহ যাহাকে শাসনের ভার দিয়াছেন তাহাকে নসীহত করবে। যেসব কাজে তিনি অসন্তুষ্ট হন, সেইগুলি হইল : (১) কথা অধিক বলা, (২) অপব্যয় করা, (৩) অধিক যাচনা করা (ভিক্ষা করা)।
وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مِنْ شَرِّ النَّاسِ ذُو الْوَجْهَيْنِ الَّذِي يَأْتِي هَؤُلَاءِ بِوَجْهٍ وَهَؤُلَاءِ بِوَجْهٍ
Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.
রেওয়ায়ত ২১. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, দোমুখো মানুষই নিকৃষ্টতম ব্যক্তি অর্থাৎ যে এক দলের সঙ্গে এক রকম কথা বলে এবং অপর দলের সঙ্গে আরেক রকম কথা বলে।
৯. কয়েকজনের গুনাহের কারণে সকলের ভোগান্তি
بَاب مَا جَاءَ فِي عَذَابِ الْعَامَّةِ بِعَمَلِ الْخَاصَّةِ
حَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَهْلِكُ وَفِينَا الصَّالِحُونَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ إِذَا كَثُرَ الْخَبَثُ
Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)
রেওয়ায়ত ২২. নবী করীম (ﷺ)-এর সহধর্মিণী উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (কিছু সংখ্যক লোকের কৃতকর্মের দরুন আসন্ন বিপদে) আমরা ধ্বংস হইয়া যাইব কি? অথচ আমাদের মধ্যে অনেক নেককার মানুষও আছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেন, হ্যাঁ, গুনাহ যখন অধিক হয়, তখন (উহার শাস্তি সকলকেই ভোগ করিতে হয়)।
وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ أَبِي حَكِيمٍ أَنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ يَقُولُ كَانَ يُقَالُ إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لَا يُعَذِّبُ الْعَامَّةَ بِذَنْبِ الْخَاصَّةِ وَلَكِنْ إِذَا عُمِلَ الْمُنْكَرُ جِهَارًا اسْتَحَقُّوا الْعُقُوبَةَ كُلُّهُمْ
Narrator: উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহঃ)
রেওয়ায়ত ২৩. উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) বলিতেন, বিশেষ লোকের গুনাহের কারণে আল্লাহ তাআলা জনসাধারণকে আযাব দেন না। তবে পাপাচার যদি প্রকাশ্যে হইতে থাকে, তখন সকলেই আযাবের যোগ্য হয়।*
১০. তাকওয়া প্রসঙ্গ
بَاب مَا جَاءَ فِي التُّقَى
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ وَخَرَجْتُ مَعَهُ حَتَّى دَخَلَ حَائِطًا فَسَمِعْتُهُ وَهُوَ يَقُولُ وَبَيْنِي وَبَيْنَهُ جِدَارٌ وَهُوَ فِي جَوْفِ الْحَائِطِ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ بَخٍ بَخٍ وَاللَّهِ لَتَتَّقِيَنَّ اللَّهَ أَوْ لَيُعَذِّبَنَّكَ
Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)
রেওয়ায়ত ২৪. আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) বলেন, আমি উমরের সঙ্গে ছিলাম। তিনি একটি বাগানে গেলেন। আমি ও তাহার মধ্যে বাগানের একটি দেয়াল ছিল। আমি শ্রবণ করিতেছিলাম, তিনি নিজেকেই সম্বোধন করিয়া বলিতেছিলেন, হে উমর! আমীরুল মু’মিনীন বাহবা! হে খাত্তাবের পুত্র, হয় তুমি আল্লাহকে ভয় কর, না হয় তিনি তোমাকে আযাব দিবেন।
قَالَ مَالِك وَبَلَغَنِي أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ كَانَ يَقُولُ أَدْرَكْتُ النَّاسَ وَمَا يَعْجَبُونَ بِالْقَوْلِ قَالَ مَالِك يُرِيدُ بِذَلِكَ الْعَمَلَ إِنَّمَا يُنْظَرُ إِلَى عَمَلِهِ وَلَا يُنْظَرُ إِلَى قَوْلِهِ
Narrator: কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রহঃ)
রেওয়ায়ত ২৫. কাসেম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমি দেখিলাম যে, মানুষ কথায় মোহিত হয় না। মালিক (রাহঃ) বলেন, ইহার অর্থ এই যে, তাহার কাজের (আমলের) দিকে তাকাইতেন, কথার দিকে তাহাদের তেমন দৃষ্টি ছিলনা।
১১. বজ্রপাতের সময় কি পড়িতে হয়
بَاب الْقَوْلِ إِذَا سَمِعْتَ الرَّعْدَ
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّهُ كَانَ إِذَا سَمِعَ الرَّعْدَ تَرَكَ الْحَدِيثَ وَقَالَ سُبْحَانَ الَّذِي يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلَائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ ثُمَّ يَقُولُ إِنَّ هَذَا لَوَعِيدٌ لِأَهْلِ الْأَرْضِ شَدِيدٌ
Narrator: বিবিধ
১২. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পরিত্যক্ত সম্পত্তি
بَاب مَا جَاءَ فِي تَرِكَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّ أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَدْنَ أَنْ يَبْعَثْنَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ فَيَسْأَلْنَهُ مِيرَاثَهُنَّ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ لَهُنَّ عَائِشَةُ أَلَيْسَ قَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا نُورَثُ مَا تَرَكْنَا فَهُوَ صَدَقَةٌ
Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.
রেওয়ায়ত ২৭. মু’মিন জননী আয়েশা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওফাতের পর তাহার বিবিগণ ইচ্ছা করিলেন, উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ)-কে আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ)-এর নিকট পাঠাইয়া রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর পরিত্যক্ত সম্পত্তি দাবি করবেন। অতঃপর আয়েশা (রাযিঃ) তাহাদেরকে বলিলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি এই কথা বলেন নাই আমাদের কেহ ওয়ারিস হয় না, আমরা যাহা কিছু মাল রাখিয়া যাই, উহা সাদ্কায় পরিণত হয়।*
وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَقْتَسِمُ وَرَثَتِي دَنَانِيرَ مَا تَرَكْتُ بَعْدَ نَفَقَةِ نِسَائِي وَمَئُونَةِ عَامِلِي فَهُوَ صَدَقَةٌ
Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.
রেওয়ায়ত ২৮. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, আমার পরে আমার ওয়ারিসগণ আমার সম্পত্তি ভাগ করিবে না। আমি যাহা কিছু রাখিয়া যাইব, উহা হইতে আমার বিবিগণের খাওয়া-পরা ও কর্মচারীর খরচ বাদ দিয়া যাহা অবশিষ্ট থাকিবে, উহা সাদ্কা।