كتاب الجمعة

৫. জুমআর অধ্যায়

Chapter 5 · 21 hadith

১. জুম’আ দিবসের গোসল

كِتَابُ الْجُمُعَةِ بَاب الْعَمَلِ فِي غُسْلِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ

220

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ سُمَيٍّ مَوْلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الْأُولَى فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّانِيَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَقَرَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّالِثَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ كَبْشًا أَقْرَنَ وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الرَّابِعَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ دَجَاجَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الْخَامِسَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَيْضَةً فَإِذَا خَرَجَ الْإِمَامُ حَضَرَتْ الْمَلَائِكَةُ يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ১. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি জুম’আর দিন জানাবতের (ফরয) গোসলের মত গোসল করিয়াছে, অতঃপর সূর্য ঢলার পর প্রথম মুহূর্তে (মসজিদের দিকে) চলিয়াছে, সে যেন একটি উট আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে খায়রাত করিয়াছে; আর যে দ্বিতীয় মুহুর্তে একটু পরে চলিয়াছে, সে যেন একটি গাভী খায়রাত করিয়াছে; আর যে তৃতীয় মুহূর্তে আরও পরে চলিয়াছে, সে যেন শিংযুক্ত মেষ খায়রাত করিয়াছে; আর যে চতুর্থ মুহূর্তে অর্থাৎ আরও পরে চলিয়াছে, সে যেন একটি মুরগী খায়রাত করিয়াছে; আর যে পঞ্চম মুহূর্তে চলিয়াছে, সে যেন ডিম খায়রাত করিয়াছে।অতঃপর যখন ইমাম বাহির হন তখন ফিরিশতাগণ হাজির হন, যিক্‌র (খুতবা) শোনার জন্য।

221

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ كَغُسْلِ الْجَنَابَةِ .

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২. মালিক (রাহঃ) সাঈদ ইবনে আবি সাঈদ (রাহঃ) হইতে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলতেন, জুমআর দিনের গোসল জনাবত (ফরয) গোসলের মত, প্রত্যেক বয়স্ক ব্যক্তির উপর ওয়াজিব।

222

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ قَالَ دَخَلَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسْجِدَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَخْطُبُ فَقَالَ عُمَرُ أَيَّةُ سَاعَةٍ هَذِهِ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ انْقَلَبْتُ مِنَ السُّوقِ فَسَمِعْتُ النِّدَاءَ فَمَا زِدْتُ عَلَى أَنْ تَوَضَّأْتُ . فَقَالَ عُمَرُ وَالْوُضُوءَ أَيْضًا وَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْمُرُ بِالْغُسْلِ .

Narrator: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩. সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীগণের একজন (সাহাবী) জুম’আর দিন মসজিদে প্রবেশ করিলেন, উমর (রাযিঃ) খুতবা প্রদান করিতেছিলেন। তিনি [উমর (রাযিঃ)] বলিলেনঃ ইহা কোন সময়? উত্তরে তিনি (প্রবেশকারী সাহাবী) বললেনঃ হে আমিরুল মু’মিনীন, আমি বাজার হইতে ফিরিয়াছি, (ফিরিবার পূর্বেই) আযান শুনিলাম। অতঃপর কেবল ওযু করিয়াছি। (ইহা শুনিয়া) উমর (রাযিঃ) বলিলেনঃ আপনি শুধু ওযু করিয়াছেন? অথচ অবগত আছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গোসলের হুকুম করতেন!

223

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৪. আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, জুম’আর দিনের গোসল প্রত্যেক সাবালক ব্যক্তির উপর ওয়াজিব।

224
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ
قَالَ مَالِك مَنْ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَوَّلَ نَهَارِهِ وَهُوَ يُرِيدُ بِذَلِكَ غُسْلَ الْجُمُعَةِ فَإِنَّ ذَلِكَ الْغُسْلَ لَا يَجْزِي عَنْهُ حَتَّى يَغْتَسِلَ لِرَوَاحِهِ وَذَلِكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ قَالَ مَالِك وَمَنْ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ مُعَجِّلًا أَوْ مُؤَخِّرًا وَهُوَ يَنْوِي بِذَلِكَ غُسْلَ الْجُمُعَةِ فَأَصَابَهُ مَا يَنْقُضُ وُضُوءَهُ فَلَيْسَ عَلَيْهِ إِلَّا الْوُضُوءُ وَغُسْلُهُ ذَلِكَ مُجْزِئٌ عَنْهُ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৫. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, তোমাদের কেউ জুম’আর নামাযে আসিতে ইচ্ছা করিলে সে অবশ্য গোসল করিবে।

মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেন, জুম’আর দিন যে ব্যক্তি দিনের প্রারম্ভে গোসল করিয়াছে, সে ঐ গোসলে জুম’আর গোসলের নিয়ত করিয়াছে, তাহার জন্য সেই গোসল জুম’আর জন্য যথেষ্ট হইবে না যদি না সে জুম’আয় যাওয়ার জন্য পুনরায় গোসল করে*; কারণ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর হাদীসে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফরমাইয়াছেনঃ তোমাদের কেউ জুম’আয় আসার ইচ্ছা করিলে সে অবশ্যই গোসল করিবে।

মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি জুম’আ দিবসে গোসল করিয়াছে, তাড়াতাড়ি অথবা বিলম্বে, সে এই গোসলের দ্বারা জুম’আর গোসলের নিয়ত করিয়াছে; পরে ওযু যাহাতে ভঙ্গ হয় এমন কিছু ঘটিয়াছে তবে তাহার পূর্বেকার গোসল যথেষ্ট হইরে এবং তাহার উপর কেবলমাত্র ওযু ওয়াজিব হইবে।

* হানাফী মতে উক্ত গোসল জুমআর জন্য যথেষ্ট হয়।

২. জুম’আ দিবসে ইমামের খুতবা পাঠ করার সময় চুপ থাকার বিষয়ে যাহা বর্ণিত হইয়াছে

بَاب مَا جَاءَ فِي الْإِنْصَاتِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ

225

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ أَنْصِتْ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَدْ لَغَوْتَ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৬. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ জুম’আর দিন ইমাম যখন খুতবা প্রদান করেন, তুমি তোমার সথীকে (পার্শ্ববর্তী লোক) যদি বল, চুপ থাকুন, তবে তুমি অলাভজনক/অহেতুক কথা বললে।

226

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ أَبِي مَالِكٍ الْقُرَظِيِّ أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُمْ كَانُوا فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ يُصَلُّونَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ حَتَّى يَخْرُجَ عُمَرُ فَإِذَا خَرَجَ عُمَرُ وَجَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَأَذَّنَ الْمُؤَذِّنُونَ قَالَ ثَعْلَبَةُ جَلَسْنَا نَتَحَدَّثُ فَإِذَا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُونَ وَقَامَ عُمَرُ يَخْطُبُ أَنْصَتْنَا فَلَمْ يَتَكَلَّمْ مِنَّا أَحَدٌ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ فَخُرُوجُ الْإِمَامِ يَقْطَعُ الصَّلَاةَ وَكَلَامُهُ يَقْطَعُ الْكَلَامَ

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭. ইবনে শিহাব (রাহঃ) সা’লাবা ইবনে আবি মালিক কুরাজী (রাহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সা’লাবা) তাহার নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-এর খিলাফতকালে জুম’আর দিন তাহারা উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) আগমন করা পর্যন্ত নামায পড়িতেন। উমর (রাযিঃ) আগমন করিতেন এবং মিম্বরে বসিতেন এবং মুয়াযযিনগণ আযান দিতেন। সা’লাবা (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ আমরা তখনও পরস্পর কথাবার্তা বলিতাম, মুয়াযযিনগণ যখন আযান শেষ করিতেন এবং উমর (রাযিঃ) খুতবা পাঠ করার জন্য দাঁড়াইতেন, তখন আমরা চুপ হইয়া যাইতাম। অতঃপর পরে কেউ কোন কথা বলিত না। ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ (ইহাতে বোঝা গেল) ইমামের আগমন নামাযকে নিষিদ্ধ করিয়া দেয় এবং তাহার কালাম (খুতবা) কথাবার্তাকে নিষিদ্ধ করিয়া দেয়।
227

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ أَبِي النَّضْرِ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ كَانَ يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ قَلَّ مَا يَدَعُ ذَلِكَ إِذَا خَطَبَ إِذَا قَامَ الْإِمَامُ يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَاسْتَمِعُوا وَأَنْصِتُوا فَإِنَّ لِلْمُنْصِتِ الَّذِي لَا يَسْمَعُ مِنْ الْحَظِّ مِثْلَ مَا لِلْمُنْصِتِ السَّامِعِ فَإِذَا قَامَتْ الصَّلَاةُ فَاعْدِلُوا الصُّفُوفَ وَحَاذُوا بِالْمَنَاكِبِ فَإِنَّ اعْتِدَالَ الصُّفُوفِ مِنْ تَمَامِ الصَّلَاةِ ثُمَّ لَا يُكَبِّرُ حَتَّى يَأْتِيَهُ رِجَالٌ قَدْ وَكَّلَهُمْ بِتَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ فَيُخْبِرُونَهُ أَنْ قَدْ اسْتَوَتْ فَيُكَبِّرُ

Narrator: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৮. মালিক ইবনে আবি আমীর (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, উসমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) তাহার খুতবায় বলিতেন এবং তিনি যখনই খুতবা দিতেন, তখন প্রায় ইহা বলিতেনঃ জুম’আর দিন ইমাম খুতবার উদ্দেশ্যে যখন দাঁড়ান, তখন তোমরা মনোযোগী হইয়া শুনিবে এবং নীরব থাকিবে। কেননা খুতবা শুনিতে না পাইয়াও যিনি নীরব রহিয়াছেন তাহার জন্য সওয়াব হইবে শুনিতে পাইয়া নীরবতা অবলম্বনকারীর সমান। অতঃপর যখন নামাযের ইকামত বলা হয়, কাতার বরাবর করিয়া লও এবং কাঁধে কাঁধ মিলাইয়া লও। কেননা কাতার বরাবর করা নামাযের পূর্ণতার অংশবিশেষ। তারপর যতক্ষণ কাতার সোজা করার জন্য নিযুক্ত লোকজন আসিয়া ‘সফ’ (কাতার) সোজা হইয়াছে বলিয়া সংবাদ না দিতেন, ততক্ষণ তিনি (নামাযের) তকবীর বলিতেন না।

228

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، رَأَى رَجُلَيْنِ يَتَحَدَّثَانِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَحَصَبَهُمَا أَنِ اصْمُتَا

Narrator: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৯. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) দুই ব্যক্তিকে আলাপরত দেখিলেন, তখন জুম’আর দিন এবং ইমাম খুতবা প্রদান করিতেছিলেন। ইহা দেখিয়া তিনি উভয়ের দিকে কাঁকর নিক্ষেপ করিলেন, এই মর্মে— তোমরা চুপ হইয়া যাও।
229
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَجُلاً، عَطَسَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ فَشَمَّتَهُ إِنْسَانٌ إِلَى جَنْبِهِ فَسَأَلَ عَنْ ذَلِكَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ فَنَهَاهُ عَنْ ذَلِكَ وَقَالَ لاَ تَعُدْ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنِ الْكَلاَمِ، يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِذَا نَزَلَ الإِمَامُ عَنِ الْمِنْبَرِ، قَبْلَ أَنْ يُكَبِّرَ، . فَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ لاَ بَأْسَ بِذَلِكَ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১০. মালিক (রাহঃ)-এর নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, (একবার) জুম’আর দিন এক ব্যক্তি হাঁচি দিয়াছে, তখন ইমাম খুতবা পড়িতেছিলেন, তাহার পার্শ্ববর্তী এক ব্যক্তি হাঁচির উত্তরে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলিল, তখন সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) ইহার কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন। অতঃপর তাহাকে নিষেধ করিলেন এবং ভবিষ্যতে এইরূপ না করার জন্য বলিয়া দিলেন।

মালিক (রাহঃ) বলেন, জুম’আর দিন (তাকবীর বলার পূর্বে) যখন ইমাম মিম্বর হইতে অবতরণ করেন, তখন কথা বলা সম্পর্কে তিনি ইবনে শিহাব (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করিলেন (উত্তরে) ইবনে শিহাব (রাহঃ) বললেনঃ ইহাতে কোন দোষ নাই।

৩. যে ব্যক্তি জুম’আর দিনে এক রাক’আত পায় তাহার কি করা কর্তব্য

بَاب مَا جَاءَ فِيمَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً يَوْمَ الْجُمُعَةِ

230
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ مَنْ أَدْرَكَ مِنْ صَلَاةِ الْجُمُعَةِ رَكْعَةً فَلْيُصَلِّ إِلَيْهَا أُخْرَى قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَهِيَ السُّنَّةُ
قَالَ مَالِك وَعَلَى ذَلِكَ أَدْرَكْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ بِبَلَدِنَا وَذَلِكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَدْرَكَ مِنْ الصَّلَاةِ رَكْعَةً فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلَاةَ قَالَ مَالِك فِي الَّذِي يُصِيبُهُ زِحَامٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَيَرْكَعُ وَلَا يَقْدِرُ عَلَى أَنْ يَسْجُدَ حَتَّى يَقُومَ الْإِمَامُ أَوْ يَفْرُغَ الْإِمَامُ مِنْ صَلَاتِهِ أَنَّهُ إِنْ قَدَرَ عَلَى أَنْ يَسْجُدَ إِنْ كَانَ قَدْ رَكَعَ فَلْيَسْجُدْ إِذَا قَامَ النَّاسُ وَإِنْ لَمْ يَقْدِرْ عَلَى أَنْ يَسْجُدَ حَتَّى يَفْرُغَ الْإِمَامُ مِنْ صَلَاتِهِ فَإِنَّهُ أَحَبُّ إِلَيَّ أَنْ يَبْتَدِئَ صَلَاتَهُ ظُهْرًا أَرْبَعًا

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১১. মালিক (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলিলেনঃ যে ব্যক্তি জুম’আর নামায এক রাক'আত পাইল, সে উক্ত রাক'আতের সহিত আর এক রাক'আত মিলাইয়া লইবে। মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলিয়াছেন, এইরূপ করাই সুন্নত।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বলেনঃ মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেন, আমি আমাদের শহরের (অর্থাৎ মদীনা) উলামার অভিমতও অনুরূপ পাইয়াছি; তাহা এই- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি নামাযের এক রাক'আত পাইয়াছে, সে (পূর্ণ) নামায পাইয়াছে।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বর্ণনা করেন, মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি জুম’আর দিন অত্যধিক ভিড়ের সম্মুখীন হয় এবং রুকু করে, অতঃপর ইমাম (সিজদা হইতে) দাঁড়াইবার পর অথবা নামায সমাপ্ত করার পর সিজদা করিতে সক্ষম হয়, তাহার হুকুম হইল- সে যদি সিজদা করিতে সক্ষম হয় তবে সিজদা করার পর মুসল্লীগণ দাঁড়াইয়া গেলে তখন সে সিজদা করিবে, আর যদি ইমাম কর্তৃক নামায শেষ করার পূর্বে সে সিজদা করিতে না পারে, তবে আমার মতে যোহরের চারি রাক’আত আরম্ভ করাই তাহার পক্ষে শ্রেয়।

৪. জুম’আর দিনে যাহার নকসীর হয় তাহার সম্পর্কে যাহা বর্ণিত হইয়াছে

بَاب مَا جَاءَ فِيمَنْ رَعَفَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ

231

قَالَ مَالِك مَنْ رَعَفَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ فَخَرَجَ فَلَمْ يَرْجِعْ حَتَّى فَرَغَ الْإِمَامُ مِنْ صَلَاتِهِ فَإِنَّهُ يُصَلِّي أَرْبَعًا قَالَ مَالِك فِي الَّذِي يَرْكَعُ رَكْعَةً مَعَ الْإِمَامِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ثُمَّ يَرْعُفُ فَيَخْرُجُ فَيَأْتِي وَقَدْ صَلَّى الْإِمَامُ الرَّكْعَتَيْنِ كِلْتَيْهِمَا أَنَّهُ يَبْنِي بِرَكْعَةٍ أُخْرَى مَا لَمْ يَتَكَلَّمْ قَالَ مَالِك لَيْسَ عَلَى مَنْ رَعَفَ أَوْ أَصَابَهُ أَمْرٌ لَا بُدَّ لَهُ مِنْ الْخُرُوجِ أَنْ يَسْتَأْذِنَ الْإِمَامَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১২. ইয়াহইয়া (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ জুম’আর দিন ইমামের খুতবা প্রদানের সময় যাহার নকসীর** হইয়াছে, তারপর সে (মসজিদ হইতে) বাহির হইয়া গিয়াছে এবং সে প্রত্যাগমন করিয়াছে এমন সময় যখন ইমাম নামায সমাপ্ত করিয়াছেন, তবে সে চার রাক'আত পড়িবে।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বলেন- মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি জুম’আর দিন ইমামের সহিত এক রাক'আত পড়ে, তারপর তার নকসীর হয়, (সে কারণে) সে বাহির হইয়া যায়, অতঃপর ইমাম কর্তৃক দুই রাক'আত সমাপ্ত করার পর সে ফিরিয়া আসে তবে সেই ব্যক্তি আর এক রাক'আত পড়িয়া নিবে, যদি কোন কথা না বলিয়া থাকে।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বলেন- মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেন ; যাহার নকসীর হইয়াছে অথবা মসজিদ হইতে বাহির হওয়ার জন্য কোন কারণ উপস্থিত হইয়াছে, তবে তাহাকে বাহির হওয়ার জন্য ইমামের অনুমতি গ্রহণ করিতে হইবে না।

** গরমের প্রকোপ বা অন্য কোন কারণে নাক দিয়া যে রক্ত প্রবাহিত হয়, উহাকে নাকসীর বলা হয়।

৫. জুম’আর দিন সা’ঈ বা চেষ্টা করা সম্পর্কে যাহা বর্ণিত হইয়াছে

بَاب مَا جَاءَ فِي السَّعْيِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ

232
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنْ قَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ فَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ كَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَقْرَؤُهَا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَامْضُوا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ
قَالَ مَالِك وَإِنَّمَا السَّعْيُ فِي كِتَابِ اللَّهِ الْعَمَلُ وَالْفِعْلُ يَقُولُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى وَإِذَا تَوَلَّى سَعَى فِي الْأَرْضِ وَقَالَ تَعَالَى وَأَمَّا مَنْ جَاءَكَ يَسْعَى وَهُوَ يَخْشَى وَقَالَ ثُمَّ أَدْبَرَ يَسْعَى وَقَالَ إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّى قَالَ مَالِك فَلَيْسَ السَّعْيُ الَّذِي ذَكَرَ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ بِالسَّعْيِ عَلَى الْأَقْدَامِ وَلَا الْاشْتِدَادَ وَإِنَّمَا عَنَى الْعَمَلَ وَالْفِعْلَ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৩. মালিক (রহঃ) বলেনঃ তিনি ইবনে শিহাব (রহঃ)-কে আল্লাহ্ পাকের এই বাণী সম্পর্কে প্রশ্ন করিয়াছেনঃ[1]

(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلاَةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ)

ইবনে শিহাব (রহঃ) বলিয়াছেনঃ উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) উক্ত আয়াতকে এইরূপ পড়িতেন,

(إِذَا نُودِيَ لِلصَّلاَةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَامْضُوا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ)

যখন জুম’আর নামাযের আযান দেওয়া হয় তখন খুতবা ও নামাযের জন্য গমন কর।

ইয়াহুইয়া (রহঃ) বলেন- মালিক (রহঃ) বলিয়াছেনঃ কিতাবুল্লাহতে উল্লিখিত সাঈ’-এর অর্থ হইল আমল ও কাজ (দৃষ্টান্তস্বরূপ তিনি উল্লেখ করিয়াছেন যেমন) আল্লাহ পাক ইরশাদ করিয়াছেনঃ[2] (وَإِذَا تَوَلَّى سَعَى فِي الأَرْضِ) আরও ইরশাদ করা হইয়াছেঃ[3] (وَأَمَّا مَنْ جَاءَكَ يَسْعَى وَهُوَ يَخْشَى) আরও ইরশাদ করিয়াছেনঃ[4] (ثُمَّ أَدْبَرَ يَسْعَى) ইরশাদ করা হইয়াছেঃ[5] (إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّى)

ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেনঃ মালিক (রহঃ) বলিয়াছেন, আল্লাহ্ তাআলা স্বীয় কিতাবে যে সাঈ’-এর কথা উল্লেখ করিয়াছেন তাহা দ্বারা পায়ে দৌড়ান, দ্রুত গমন অথবা হ্যাঁটা উদ্দেশ্য নহে উদ্দেশ্য হইতেছে কাজ ও বাস্তবায়ন ।

[1] হে মুমিনগণ! জুম'আর দিনে যখন সালাতের জন্য আহবান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও। (৬২ঃ ৯)

[2] যখন সে প্রস্থান করে তখন সে পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টির এবং শস্যক্ষেত্রে ও জীব-জন্তুর বংশ নিপাতের চেষ্টা করে। (২ঃ ২০৫)

[3] অন্যপক্ষে যে তোমার নিকট ছুটিয়া আসে, আর সে সশংকচিত্ত। (৮০ঃ ৮, ৯)

[4] অতঃপর সে পশ্চাত ফিরিয়া প্রতিবিধানে সচেষ্ট হইল। (৭৯ঃ ২২)

[5] অবশ্যই তোমাদের কর্ম-প্রচেষ্টা বিভিন্ন প্রকৃতির। (৯২ঃ ৪)

৬. জুম’আর দিন প্রবাসে ইমাম কোন গ্রামে পদার্পণ করিলে

بَاب مَا جَاءَ فِي الْإِمَامِ يَنْزِلُ بِقَرْيَةٍ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِي السَّفَرِ

233

قَالَ مَالِك إِذَا نَزَلَ الْإِمَامُ بِقَرْيَةٍ تَجِبُ فِيهَا الْجُمُعَةُ وَالْإِمَامُ مُسَافِرٌ فَخَطَبَ وَجَمَّعَ بِهِمْ فَإِنَّ أَهْلَ تِلْكَ الْقَرْيَةِ وَغَيْرَهُمْ يُجَمِّعُونَ مَعَهُ قَالَ مَالِك وَإِنْ جَمَّعَ الْإِمَامُ وَهُوَ مُسَافِرٌ بِقَرْيَةٍ لَا تَجِبُ فِيهَا الْجُمُعَةُ فَلَا جُمُعَةَ لَهُ وَلَا لِأَهْلِ تِلْكَ الْقَرْيَةِ وَلَا لِمَنْ جَمَّعَ مَعَهُمْ مِنْ غَيْرِهِمْ وَلْيُتَمِّمْ أَهْلُ تِلْكَ الْقَرْيَةِ وَغَيْرُهُمْ مِمَّنْ لَيْسَ بِمُسَافِرٍ الصَّلَاةَ قَالَ مَالِك وَلَا جُمُعَةَ عَلَى مُسَافِرٍ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৪. ইয়াহইয়া (রাহঃ) বলেনঃ মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ ইমাম যদি সফরে এমন কোন লোকালয়ে অবতরণ করেন, যে লোকালয়ের নিবাসীদের উপর জুম’আ ওয়াজিব হয়, তারপর তিনি সেইখানে খুতবা প্রদান করেন এবং লোকালয়ের লোকজনকে লইয়া জুম’আ কায়েম করেন, তবে সেই জনপদের এবং তাহাদের বাহিরের লোকজন সেই ইমামের সহিত জুম’আ’ আদায় করিবে।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বলেনঃ মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেন, যদি মুসাফির ইমাম এইরূপ জনপদে জুম’আ কায়েম করেন, যেই জনপদে জুম’আ ওয়াজিব নহে, তবে সেই ইমাম, উক্ত জনপদের বাসিন্দাগণ এবং উহার বাহিরের লোকজন যাহাদের সহিত তিনি জুম’আ পড়িয়াছেন, কাহারও জুম’আ’ আদায় হইবে না। সেই লোকালয়ের লোকজন এবং অন্যান্যের (মুসল্লীদের) মধ্যে যাহারা মুসাফির নহেন তাহারা তাহাদের নামায পুরা পড়িবেন।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বলেনঃ মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেন, মুসাফিরের উপর জুম’আ ওয়াজিব নহে।

৭. জুম’আ দিবসের (দুআ কবুলিয়তের) মুহূর্তটির বর্ণনা

بَاب مَا جَاءَ فِي السَّاعَةِ الَّتِي فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ

234

حَدَّثَنِي يَحْيَى، عَنْ مَالِكٍ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَكَرَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فَقَالَ: «فِيهِ سَاعَةٌ لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ، وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي، يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا، إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ» ، وَأَشَارَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ، يُقَلِّلُهَا

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ১৫. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জুম’আ দিবসের উল্লেখ করলেন, (সেই প্রসঙ্গে) তিনি বলিয়াছেনঃ এই দিবসে এমন এক মুহূর্ত রহিয়াছে কোন মুসলিম বান্দা নামাযে দণ্ডায়মান অবস্থায়, সেই মুহূর্তটির সদ্ব্যবহার করিলে তখন যদি সে আল্লাহ তাআলা হইতে কোন বস্তুর সওয়াল করে, তবে আল্লাহ তাহাকে সেই বস্তু প্রদান করবেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় হস্ত দ্বারা ইঙ্গিত করিলেন সেই সময়টির স্বল্পতা বুঝাইবার জন্য।

235

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهَادِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ خَرَجْتُ إِلَى الطُّورِ فَلَقِيتُ كَعْبَ الْأَحْبَارِ فَجَلَسْتُ مَعَهُ فَحَدَّثَنِي عَنْ التَّوْرَاةِ وَحَدَّثْتُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَانَ فِيمَا حَدَّثْتُهُ أَنْ قُلْتُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ أُهْبِطَ مِنْ الْجَنَّةِ وَفِيهِ تِيبَ عَلَيْهِ وَفِيهِ مَاتَ وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ وَمَا مِنْ دَابَّةٍ إِلَّا وَهِيَ مُصِيخَةٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ مِنْ حِينِ تُصْبِحُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ شَفَقًا مِنْ السَّاعَةِ إِلَّا الْجِنَّ وَالْإِنْسَ وَفِيهِ سَاعَةٌ لَا يُصَادِفُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ قَالَ كَعْبٌ ذَلِكَ فِي كُلِّ سَنَةٍ يَوْمٌ فَقُلْتُ بَلْ فِي كُلِّ جُمُعَةٍ فَقَرَأَ كَعْبٌ التَّوْرَاةَ فَقَالَ صَدَقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَلَقِيتُ بَصْرَةَ بْنَ أَبِي بَصْرَةَ الْغِفَارِيَّ فَقَالَ مِنْ أَيْنَ أَقْبَلْتَ فَقُلْتُ مِنْ الطُّورِ فَقَالَ لَوْ أَدْرَكْتُكَ قَبْلَ أَنْ تَخْرُجَ إِلَيْهِ مَا خَرَجْتَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا تُعْمَلُ الْمَطِيُّ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ إِلَى الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَإِلَى مَسْجِدِي هَذَا وَإِلَى مَسْجِدِ إِيلِيَاءَ أَوْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ يَشُكُّ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ ثُمَّ لَقِيتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَلَامٍ فَحَدَّثْتُهُ بِمَجْلِسِي مَعَ كَعْبِ الْأَحْبَارِ وَمَا حَدَّثْتُهُ بِهِ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَقُلْتُ قَالَ كَعْبٌ ذَلِكَ فِي كُلِّ سَنَةٍ يَوْمٌ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ كَذَبَ كَعْبٌ فَقُلْتُ ثُمَّ قَرَأَ كَعْبٌ التَّوْرَاةَ فَقَالَ بَلْ هِيَ فِي كُلِّ جُمُعَةٍ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ صَدَقَ كَعْبٌ ثُمَّ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ قَدْ عَلِمْتُ أَيَّةَ سَاعَةٍ هِيَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَقُلْتَ لَهُ أَخْبِرْنِي بِهَا وَلَا تَضَنَّ عَلَيَّ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ هِيَ آخِرُ سَاعَةٍ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَقُلْتُ وَكَيْفَ تَكُونُ آخِرَ سَاعَةٍ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُصَادِفُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ يُصَلِّي وَتِلْكَ السَّاعَةُ سَاعَةٌ لَا يُصَلَّى فِيهَا فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ أَلَمْ يَقُلْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ جَلَسَ مَجْلِسًا يَنْتَظِرُ الصَّلَاةَ فَهُوَ فِي صَلَاةٍ حَتَّى يُصَلِّيَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَقُلْتُ بَلَى قَالَ فَهُوَ ذَلِكَ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ১৬. আবু সালামা ইবনে আব্দির রহমান (রাহঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণনা করেন- তিনি বলিয়াছেনঃ আমি (সিনাই) পর্বতের দিকে গমন করিলাম, সেখানে কা’ব আহবার (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাত করিলাম এবং তাহার সাথে বসিলাম। তারপর তিনি তাওরাত হইতে আমার নিকট বর্ণনা করিলেন, আমি তাহাকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর হাদীস বর্ণনা করিলাম। আমি তাহার নিকট যাহা বর্ণনা করিলাম তাহাতে ইহাও ছিল যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফরমাইয়াছেন- দিবসগুলির (মধ্যে যাহাতে সূর্যের উদয় হয়) জুম’আর দিনই সর্বোত্তম। সেইদিনই আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করা হইয়াছে, সেইদিনই তাঁহাকে (জান্নাত হইতে) বাহির করা হইয়াছে, সেই দিবসেই তাহার প্রতি ক্ষমা প্রদর্শন করা হইয়াছে, সেই দিবসেই তিনি মৃত্যুবরণ করিয়াছেন এবং সেই (জুম’আর) দিনেই কিয়ামত অনুষ্ঠিত হইবে। এমন কোন প্রাণী নাই, যে প্রাণী জুম’আর দিন ভোরবেলা হইতে সূর্যোদয় পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ভয়ে চিৎকার না করে। সেই দিবসে একটি মুহূর্ত রহিয়াছে কোন মুসলিম বান্দা সেই মুহূর্তটিতে নামায পড়া অবস্থায় আল্লাহর নিকট কোন বস্তুর প্রার্থনা করিলে অবশ্যই তিনি তাহাকে উহা প্রদান করিবেন। কাব বলিলেনঃ ইহা প্রতি বৎসরে একদিন। তখন আমি বলিলামঃ বরং প্রতি জুম’আয়। অতঃপর কাব তাওরাত পাঠ করিলেন এবং বলিলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঠিক বলিয়াছেন।

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলিলেনঃ আমি অতঃপর বসরায় ইবনে আবি বাসরা গিফারীর সাথে সাক্ষাত করিলাম। তিনি বলিলেনঃ কোথা হইতে আগমন করিলে? (উত্তরে) আমি বলিলামঃ তুর’ হইতে। তারপর তিনি বলিলেনঃ সেখানে গমনের পূর্বে যদি আমি তোমাকে পাইতাম, তবে তোমার যাওয়াই হইত না। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, তিনটি মসজিদ ব্যতীত (অন্য কোন স্থানের জন্য) সওয়ারীর আয়োজন করা যায় না- (১) মসজিদুল হারাম, কাবাগৃহ, (২) আমার এই মসজিদ ও (৩) মসজিদ ইলিয়া বা বায়তুল মুকাদ্দাস। বর্ণনাকারী সংশয় প্রকাশ করিয়াছেন- (অর্থাৎ তৃতীয়টি) তিনি ইলিয়ার মসজিদ অথবা বায়তুল মুকাদ্দাস বলিয়াছেনঃ (ইলিয়া শহরেই বায়তুল মুকাদ্দাস অবস্থিত)।

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলিয়াছেনঃ অতঃপর আমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে সালাম (রাযিঃ)-এর সহিত মিলিত হইলাম এবং কা’ব আহবার এর সাথে আমার বৈঠকের কথা বর্ণনা করিলাম, আর জুম’আর দিন সম্পর্কে যে হাদীস তাহার নিকট বর্ণনা করিয়াছি উহাও বলিলাম। (কথা প্রসঙ্গে) আমি বলিলাম, কাব বলিয়াছেন- ইহা (কবুলিয়াতের মুহূর্ত) বৎসরে একদিন। (ইহা শুনিয়া) আব্দুল্লাহ্ ইবনে সালাম (রাযিঃ) বলিলেনঃ কা’ব ঠিক বলেন নাই। অতঃপর আমি বলিলামঃ কা’ব (রাযিঃ) তাওরাত পাঠ করিয়া বলিলেন, হ্যাঁ, উহা প্রতি জুম’আর দিন। আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ) বলিলেনঃ কা’ব (এইবার) সত্য বলিয়াছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করিলেনঃ সেই মুহুর্তটি কোন মুহূর্ত তুমি জান কি? আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলিলেনঃ আমি তাহাকে বলিলামঃ আপনি আমাকে সেই মুহুর্তটির কথা বলিয়া দিন। এই বিষয়ে আপনি কৃপণতা করবেন না। অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ) বললেনঃ ইহা জুম’আর দিনের শেষ সময়। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলিলেনঃ আমি বলিলাম, উহা জুম’আ দিবসের শেষ মুহুর্তে কিরূপে হইতে পারে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেন, “নামাযের হালতে কোন মুসলিম বান্দা উক্ত মুহুর্তের সাক্ষাত লাভ করিলে.....” অথচ দিবসের শেষ মুহূর্তে নামায পড়া যায় না। তারপর আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ) বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কি (ইহা) বলেন নাই, যে ব্যক্তি কোন স্থানে বসিয়া নামাযের অপেক্ষা করিবে সে যেমন নামাযেই রহিয়াছে, যতক্ষণ সে নামায সমাপ্ত না করে? আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি বলিলাম, হ্যাঁ। তিনি বলিলেনঃ তবে উহা তাহাই।

৮. জুম’আর দিনের পোশাক-পরিচ্ছদ, ঘাড়ের উপর দিয়া যাতায়াত করা, ইমামের দিকে মুখ করিয়া বসা সম্পৰ্কীয় আহকাম

بَاب الْهَيْئَةِ وَتَخَطِّي الرِّقَابِ وَاسْتِقْبَالِ الْإِمَامِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ

236
حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا عَلَى أَحَدِكُمْ لَوْ اتَّخَذَ ثَوْبَيْنِ لِجُمُعَتِهِ سِوَى ثَوْبَيْ مَهْنَتِهِ
وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ لَا يَرُوحُ إِلَى الْجُمُعَةِ إِلَّا ادَّهَنَ وَتَطَيَّبَ إِلَّا أَنْ يَكُونَ حَرَامًا

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৭. মালিক (রাহঃ) ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, তাহার নিকট রেওয়ায়ত পৌছিয়াছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ তোমাদের কেউ তাহার নিত্যব্যবহার্য কাপড় ব্যতীত জুম’আর জন্য দুইটি কাপড় তৈয়ার করিয়া রাখিলে ইহাতে কোন দোষ নাই।

নাফি (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, ইহরাম অবস্থায় না থাকিলে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) তেল ও খুশবু না লাগাইয়া জুম’আয় গমন করিতেন না।
237

حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ عَمَّنْ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ لَأَنْ يُصَلِّيَ أَحَدُكُمْ بِظَهْرِ الْحَرَّةِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَقْعُدَ حَتَّى إِذَا قَامَ الْإِمَامُ يَخْطُبُ جَاءَ يَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَالَ مَالِك السُّنَّةُ عِنْدَنَا أَنْ يَسْتَقْبِلَ النَّاسُ الْإِمَامَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَخْطُبَ مَنْ كَانَ مِنْهُمْ يَلِي الْقِبْلَةَ وَغَيْرَهَا

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ১৮. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আবি বকর ইবনে হাযম (রাহঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণনাকারী জনৈক রাবী হইতে বর্ণনা করেন- তিনি (আবু হুরায়রা) বলতেনঃ তোমাদের কাহারও যাহরুল হাররা তে নামায পড়া ইহা হইতে ভাল যে, সে বসিয়া থাকিবে অর্থাৎ সময় থাকিতে নামাযের জন্য মসজিদে যাইবে না। অতঃপর ইমাম যখন জুম’আর দিন খুতবা দিতে দাঁড়াইবেন তখন (তাড়াহুড়া করিয়া যাওয়ার সময়) সে মানুষের ঘাড়ে পা রাখিয়া যাইবে।

ইয়াহইয়া (রাহঃ) বলেন, মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেনঃ ইমাম যে সময় খুতবা পাঠ করিতে ইচ্ছা করেন সে সময় লোকজনের ইমামের দিকে মুখ করিয়া বসাটাই আমাদের নিকট সুন্নত, তাহাদের মধ্যে যাহারা কিবলার দিকে মুখ করিয়া আছে অথবা যাহারা কিবলার দিকে মুখ করিয়া বসে নাই, সকলেই ইমামের দিকে মুখ করিবে।

৯. জুম’আর নামাযে কিরা’আত, হাঁটু উঠাইয়া নিতম্বের উপর বসা এবং কোন প্রকার ওযর ব্যতীত জুম’আ না পড়া সম্পর্কীয় আহকাম

بَاب الْقِرَاءَةِ فِي صَلَاةِ الْجُمُعَةِ وَالْاحْتِبَاءِ وَمَنْ تَرَكَهَا مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ

238

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ سَعِيدٍ الْمَازِنِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ الضَّحَّاكَ بْنَ قَيْسٍ سَأَلَ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ مَاذَا كَانَ يَقْرَأُ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ عَلَى إِثْرِ سُورَةِ الْجُمُعَةِ قَالَ كَانَ يَقْرَأُ هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ

Narrator: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

রেওয়ায়ত ১৯. যাহহাক ইবনে কায়স (রাহঃ) নুমান ইবনে বশীর (রাযিঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করিয়াছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জুম’আর দিন সূরা জুম’আর পর কোন সূরা তিলাওয়াত করিতেন? তিনি বললেনঃ (هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ) পাঠ করতেন।

239

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ قَالَ مَالِك لَا أَدْرِي أَعَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمْ لَا أَنَّهُ قَالَ مَنْ تَرَكَ الْجُمُعَةَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ وَلَا عِلَّةٍ طَبَعَ اللَّهُ عَلَى قَلْبِهِ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২০. মালিক (রাহঃ) সাফওয়ান ইবনে সুলায়ম (রাহঃ) হইতে বর্ণনা করেন- মালিক (রাহঃ) বলিয়াছেন, সাফওয়ান (রাহঃ) ইহা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হইতে বর্ণনা করিয়াছেন কিনা তাহা আমার জানা নাই। সাফওয়ান (রাহঃ) বলিয়াছেন, কোন প্রকার ওযর অথবা রোগ ছাড়া যে ব্যক্তি তিন দফা জুম’আ পড়ে নাই, আল্লাহ্ তাহার হৃদয়ে মোহর ছাপ মারিয়া দিবেন।

৯. জুম’আর নামাযে কিরা’আত, হাঁটু উঠাইয়া পাছার উপর বসা এবং কোন প্রকার ওযর ব্যতীত জুম’আ না পড়া সম্পর্কীয় আহকাম

بَاب الْقِرَاءَةِ فِي صَلَاةِ الْجُمُعَةِ وَالْاحْتِبَاءِ وَمَنْ تَرَكَهَا مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ

240

وَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَ خُطْبَتَيْنِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَجَلَسَ بَيْنَهُمَا

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ২১. জাফর ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুম’আর দিন দুই খুতবা প্রদান করিয়াছেন এবং দুই খুতবার মাঝখানে বসিয়াছেন।