كتاب الأقضية

৩৬. বিচার-আদালত সম্পর্কিত অধ্যায়

Chapter 36 · 70 hadith

১. ন্যায়বিচারে উৎসাহ প্রদান

بَاب التَّرْغِيبِ فِي الْقَضَاءِ بِالْحَقِّ

1415

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ وَإِنَّكُمْ تَخْتَصِمُونَ إِلَيَّ فَلَعَلَّ بَعْضَكُمْ أَنْ يَكُونَ أَلْحَنَ بِحُجَّتِهِ مِنْ بَعْضٍ فَأَقْضِيَ لَهُ عَلَى نَحْوِ مَا أَسْمَعُ مِنْهُ فَمَنْ قَضَيْتُ لَهُ بِشَيْءٍ مِنْ حَقِّ أَخِيهِ فَلَا يَأْخُذَنَّ مِنْهُ شَيْئًا فَإِنَّمَا أَقْطَعُ لَهُ قِطْعَةً مِنْ النَّارِ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১. নবী করীম (ﷺ)-এর সহধর্মিণী উম্মে সালামা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেন, আমি একজন মানুষ, তোমরা আমার নিকট ঝগড়া-বিবাদ লইয়া আস। এমনও হইতে পারে যে, একে অপরের তুলনায় অধিক চালাকী ও চাতুরির আশ্রয় লইবে এবং নিজ দাবি প্রমাণিত করিবে এবং আমি তাহার বাহ্যিক প্রমাণের দিকে লক্ষ্য করিয়া তাহার পক্ষে রায় দিয়া দিব। সুতরাং এমতাবস্থায় যদি আমি অপরের হক কাহাকেও দিয়া দেই তবে তাহার জন্য উক্ত বস্তু গ্রহণ করা উচিত নহে। কেননা উহা তাহার জন্য আগুনের টুকরা।

1416

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ اخْتَصَمَ إِلَيْهِ مُسْلِمٌ وَيَهُودِيٌّ فَرَأَى عُمَرُ أَنَّ الْحَقَّ لِلْيَهُودِيِّ فَقَضَى لَهُ فَقَالَ لَهُ الْيَهُودِيُّ وَاللَّهِ لَقَدْ قَضَيْتَ بِالْحَقِّ فَضَرَبَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ بِالدِّرَّةِ ثُمَّ قَالَ وَمَا يُدْرِيكَ فَقَالَ لَهُ الْيَهُودِيُّ إِنَّا نَجِدُ أَنَّهُ لَيْسَ قَاضٍ يَقْضِي بِالْحَقِّ إِلَّا كَانَ عَنْ يَمِينِهِ مَلَكٌ وَعَنْ شِمَالِهِ مَلَكٌ يُسَدِّدَانِهِ وَيُوَفِّقَانِهِ لِلْحَقِّ مَا دَامَ مَعَ الْحَقِّ فَإِذَا تَرَكَ الْحَقَّ عَرَجَا وَتَرَكَاهُ

Narrator: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২. সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, একদা উমর (রাযিঃ)-এর দরবারে এক ইহুদী ও এক মুসলমান কোন বিবাদ লইয়া আসিল। উমর (রাযিঃ) বুঝিতে পারিলেন যে, ইহুদীর দাবি সত্য। তাই ইহুদীর সপক্ষে রায় দিয়া দিলেন। ইহুদী সর্বশেষে বলিল, আল্লাহর কসম, আপনি হক ফায়সালা করিয়াছেন। ইহা শুনিয়া উমর (রাযিঃ) তাহাকে বেত্র দ্বারা আঘাত করিয়া বলিলেন, কিভাবে জানিতে পারিয়াছ যে, এই বিচার হক হইয়াছে? ইহুদী বলিল, আমি আমাদের আসমানী কিতাবে দেখিয়াছি যে, যে বিচারক সত্য ফয়সালা করে তাহার ডান দিকের এবং বাম দিকের কাধে একজন করিয়া ফিরিশতা থাকেন। তাহারা তাহাকে শক্তিশালী রাখে এবং সৎ পথ দেখাইতে থাকে যতক্ষণ সে হকের উপর থাকে। আর যদি সে হককে ছাড়িয়া দেয় তবে ফিরিশতারাও তাহাকে ছাড়িয়া উর্ধ্বজগতে উঠিয়া যায়।

২. সাক্ষ্য প্রদান

بَاب مَا جَاءَ فِي الشَّهَادَاتِ

1417

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ عَنْ أَبِي عَمْرَةَ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِخَيْرِ الشُّهَدَاءِ الَّذِي يَأْتِي بِشَهَادَتِهِ قَبْلَ أَنْ يُسْأَلَهَا أَوْ يُخْبِرُ بِشَهَادَتِهِ قَبْلَ أَنْ يُسْأَلَهَا

Narrator: যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৩. যায়দ ইবনে খালেদ জুহানী (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেন, আমি কি তোমাদিগকে সর্বোত্তম সাক্ষীর কথা বলিব? তাহা হইল, যে জিজ্ঞাসা করার পূর্বেই সাক্ষ্য প্রদান করে অথবা যে সাক্ষ্য প্রদান করে তাহাকে জিজ্ঞাসা করার পূর্বেই।

1418

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ قَالَ قَدِمَ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ فَقَالَ لَقَدْ جِئْتُكَ لِأَمْرٍ مَا لَهُ رَأْسٌ وَلَا ذَنَبٌ فَقَالَ عُمَرُ مَا هُوَ قَالَ شَهَادَاتُ الزُّورِ ظَهَرَتْ بِأَرْضِنَا فَقَالَ عُمَرُ أَوَ قَدْ كَانَ ذَلِكَ قَالَ نَعَمْ فَقَالَ عُمَرُ وَاللَّهِ لَا يُؤْسَرُ رَجُلٌ فِي الْإِسْلَامِ بِغَيْرِ الْعُدُولِ وَحَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ لَا تَجُوزُ شَهَادَةُ خَصْمٍ وَلَا ظَنِينٍ

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ৪. রাবিয়া ইবনে আবি আব্দির রহমান হইতে বর্ণিত যে, উমর (রাযিঃ)-এর দরবারে ইরাক হইতে এক ব্যক্তি আসিয়া বলিল, আমি এমন এক ব্যাপার লইয়া আসিয়াছি যাহার কোন আগ-পাছ কিছুই নাই। উমর (রাযিঃ) বলিলেন, “তাহা কি?” সে বলিল আমাদের দেশে মিথ্যা সাক্ষ্য ছড়াইয়া পড়িয়াছে। উমর (রাযিঃ) বলিলেন, তুমি কি সত্যই বলিতেছ? সে বলিল, হ্যাঁ, তখন উমর (রাযিঃ) বলিলেন, ভবিষ্যতে নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য ব্যতীত কোন মুসলমানকে কয়েদ করা যাইবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ উমর (রাযিঃ) বলেন যে, শক্র এবং দ্বীনের ব্যাপারে দোষারোপ করা হইয়াছে এমন লোকদের সাক্ষ্য জায়েয হইবে না।

৩. অপবাদকারীর সাক্ষ্যের ফয়সালা করা

بَاب الْقَضَاءِ فِي شَهَادَةِ الْمَحْدُودِ

1419
قَالَ يَحْيَى عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ وَغَيْرِهِ أَنَّهُمْ سُئِلُوا عَنْ رَجُلٍ جُلِدَ الْحَدَّ أَتَجُوزُ شَهَادَتُهُ فَقَالُوا نَعَمْ إِذَا ظَهَرَتْ مِنْهُ التَّوْبَةُ وَحَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ شِهَابٍ يُسْأَلُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ مِثْلَ مَا قَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا وَذَلِكَ لِقَوْلِ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَاجْلِدُوهُمْ ثَمَانِينَ جَلْدَةً وَلَا تَقْبَلُوا لَهُمْ شَهَادَةً أَبَدًا وَأُولَئِكَ هُمْ الْفَاسِقُونَ إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَأَصْلَحُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ
قَالَ مَالِك فَالْأَمْرُ الَّذِي لَا اخْتِلَافَ فِيهِ عِنْدَنَا أَنَّ الَّذِي يُجْلَدُ الْحَدَّ ثُمَّ تَابَ وَأَصْلَحَ تَجُوزُ شَهَادَتُهُ وَهُوَ أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَيَّ فِي ذَلِكَ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ)-সহ আরো কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল যে, যে ব্যক্তি অপবাদের দায়ে শাস্তিপ্রাপ্ত তাহার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হইবে কি? তাহারা বলিলেন, হ্যাঁ যখন সে তওবা করিয়াছে বলিয়া জানা যাইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, ইমাম যোহরী (রাহঃ)-কে ঐরূপ প্রশ্ন করা হইয়াছিল। তিনিও সুলায়মান ইবনে ইয়াসারের মতো উত্তর দিয়াছিলেন।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমার মতও অনুরূপ, কেননা আল্লাহ্ তাআলা বলেন যে, যে ব্যক্তি নেককার স্ত্রীলোকের উপর মিথ্যা অপবাদ দেয় এবং চারজন সাক্ষী হাযির করিতে না পারে তবে তাহাদিগকে আশি দোররা মার, অতঃপর কোন সময় তাহার সাক্ষ্য কবুল করিও না, কেননা, ইহারাই পাপাচারী। হ্যাঁ, পরে যাহারা তওবা করিয়া নেয় এবং সংশোধন হইয়া যায় তবে আল্লাহ নিশ্চয়ই ক্ষমাকারী ও দয়াবান। মালিক (রাহঃ) বলেন, এই ব্যাপারে আমাদের নিকট কোন মতভেদ নাই যে, যাহার উপরে অপবাদের শাস্তি হইয়াছে অতঃপর সংশোধন হইয়াছে তাহার সাক্ষ্য গ্রহণ করা যায় এবং আমি যাহা এই ব্যাপারে জানিয়াছি, তাহার মধ্যে ইহাই খুব পছন্দনীয় কথা।

৪. সাক্ষীসহ কসমের সাথে ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ

1420

قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَضَى بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৫. জাফর সাদিক (রাহঃ) তাহার পিতা মুহাম্মাদ (রাহঃ) হইতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাক্ষী ও কসমের উপর ফয়সালা করিয়াছেন।

1421

وَعَنْ مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ كَتَبَ إِلَى عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ وَهُوَ عَامِلٌ عَلَى الْكُوفَةِ أَنْ اقْضِ بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ

Narrator: আবুয যিনাদ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৬. আবু যিনাদ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত যে, উমর ইবনে আব্দিল আযীয (রাহঃ) কুফার শাসনকর্তা আব্দুল হামিদ ইবনে আব্দির রহমানকে লিখিয়া পাঠাইলেন যে, সাক্ষীর সাথে কসম গ্রহণ করিয়া ফয়সালা করিয়া লইতে পার।

1422

وَحَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَسُلَيْمَانَ بْنَ يَسَارٍ سُئِلَا هَلْ يُقْضَى بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ فَقَالَا نَعَمْ قَالَ مَالِك مَضَتْ السُّنَّةُ فِي الْقَضَاءِ بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ الْوَاحِدِ يَحْلِفُ صَاحِبُ الْحَقِّ مَعَ شَاهِدِهِ وَيَسْتَحِقُّ حَقَّهُ فَإِنْ نَكَلَ وَأَبَى أَنْ يَحْلِفَ أُحْلِفَ الْمَطْلُوبُ فَإِنْ حَلَفَ سَقَطَ عَنْهُ ذَلِكَ الْحَقُّ وَإِنْ أَبَى أَنْ يَحْلِفَ ثَبَتَ عَلَيْهِ الْحَقُّ لِصَاحِبِهِ قَالَ مَالِك وَإِنَّمَا يَكُونُ ذَلِكَ فِي الْأَمْوَالِ خَاصَّةً وَلَا يَقَعُ ذَلِكَ فِي شَيْءٍ مِنْ الْحُدُودِ وَلَا فِي نِكَاحٍ وَلَا فِي طَلَاقٍ وَلَا فِي عَتَاقَةٍ وَلَا فِي سَرِقَةٍ وَلَا فِي فِرْيَةٍ فَإِنْ قَالَ قَائِلٌ فَإِنَّ الْعَتَاقَةَ مِنْ الْأَمْوَالِ فَقَدْ أَخْطَأَ لَيْسَ ذَلِكَ عَلَى مَا قَالَ وَلَوْ كَانَ ذَلِكَ عَلَى مَا قَالَ لَحَلَفَ الْعَبْدُ مَعَ شَاهِدِهِ إِذَا جَاءَ بِشَاهِدٍ أَنَّ سَيِّدَهُ أَعْتَقَهُ وَأَنَّ الْعَبْدَ إِذَا جَاءَ بِشَاهِدٍ عَلَى مَالٍ مِنْ الْأَمْوَالِ ادَّعَاهُ حَلَفَ مَعَ شَاهِدِهِ وَاسْتَحَقَّ حَقَّهُ كَمَا يَحْلِفُ الْحُرُّ قَالَ مَالِك فَالسُّنَّةُ عِنْدَنَا أَنَّ الْعَبْدَ إِذَا جَاءَ بِشَاهِدٍ عَلَى عَتَاقَتِهِ اسْتُحْلِفَ سَيِّدُهُ مَا أَعْتَقَهُ وَبَطَلَ ذَلِكَ عَنْهُ قَالَ مَالِك وَكَذَلِكَ السُّنَّةُ عِنْدَنَا أَيْضًا فِي الطَّلَاقِ إِذَا جَاءَتْ الْمَرْأَةُ بِشَاهِدٍ أَنَّ زَوْجَهَا طَلَّقَهَا أُحْلِفَ زَوْجُهَا مَا طَلَّقَهَا فَإِذَا حَلَفَ لَمْ يَقَعْ عَلَيْهِ الطَّلَاقُ قَالَ مَالِك فَسُنَّةُ الطَّلَاقِ وَالْعَتَاقَةِ فِي الشَّاهِدِ الْوَاحِدِ وَاحِدَةٌ إِنَّمَا يَكُونُ الْيَمِينُ عَلَى زَوْجِ الْمَرْأَةِ وَعَلَى سَيِّدِ الْعَبْدِ وَإِنَّمَا الْعَتَاقَةُ حَدٌّ مِنْ الْحُدُودِ لَا تَجُوزُ فِيهَا شَهَادَةُ النِّسَاءِ لِأَنَّهُ إِذَا عَتَقَ الْعَبْدُ ثَبَتَتْ حُرْمَتُهُ وَوَقَعَتْ لَهُ الْحُدُودُ وَوَقَعَتْ عَلَيْهِ وَإِنْ زَنَى وَقَدْ أُحْصِنَ رُجِمَ وَإِنْ قَتَلَ الْعَبْدَ قُتِلَ بِهِ وَثَبَتَ لَهُ الْمِيرَاثُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ مَنْ يُوَارِثُهُ فَإِنْ احْتَجَّ مُحْتَجٌّ فَقَالَ لَوْ أَنَّ رَجُلًا أَعْتَقَ عَبْدَهُ وَجَاءَ رَجُلٌ يَطْلُبُ سَيِّدَ الْعَبْدِ بِدَيْنٍ لَهُ عَلَيْهِ فَشَهِدَ لَهُ عَلَى حَقِّهِ ذَلِكَ رَجُلٌ وَامْرَأَتَانِ فَإِنَّ ذَلِكَ يُثْبِتُ الْحَقَّ عَلَى سَيِّدِ الْعَبْدِ حَتَّى تُرَدَّ بِهِ عَتَاقَتُهُ إِذَا لَمْ يَكُنْ لِسَيِّدِ الْعَبْدِ مَالٌ غَيْرُ الْعَبْدِ يُرِيدُ أَنْ يُجِيزَ بِذَلِكَ شَهَادَةَ النِّسَاءِ فِي الْعَتَاقَةِ فَإِنَّ ذَلِكَ لَيْسَ عَلَى مَا قَالَ وَإِنَّمَا مَثَلُ ذَلِكَ الرَّجُلُ يَعْتِقُ عَبْدَهُ ثُمَّ يَأْتِي طَالِبُ الْحَقِّ عَلَى سَيِّدِهِ بِشَاهِدٍ وَاحِدٍ فَيَحْلِفُ مَعَ شَاهِدِهِ ثُمَّ يَسْتَحِقُّ حَقَّهُ وَتُرَدُّ بِذَلِكَ عَتَاقَةُ الْعَبْدِ أَوْ يَأْتِي الرَّجُلُ قَدْ كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ سَيِّدِ الْعَبْدِ مُخَالَطَةٌ وَمُلَابَسَةٌ فَيَزْعُمُ أَنَّ لَهُ عَلَى سَيِّدِ الْعَبْدِ مَالًا فَيُقَالُ لِسَيِّدِ الْعَبْدِ احْلِفْ مَا عَلَيْكَ مَا ادَّعَى فَإِنْ نَكَلَ وَأَبَى أَنْ يَحْلِفَ حُلِّفَ صَاحِبُ الْحَقِّ وَثَبَتَ حَقُّهُ عَلَى سَيِّدِ الْعَبْدِ فَيَكُونُ ذَلِكَ يَرُدُّ عَتَاقَةَ الْعَبْدِ إِذَا ثَبَتَ الْمَالُ عَلَى سَيِّدِهِ قَالَ وَكَذَلِكَ أَيْضًا الرَّجُلُ يَنْكِحُ الْأَمَةَ فَتَكُونُ امْرَأَتَهُ فَيَأْتِي سَيِّدُ الْأَمَةِ إِلَى الرَّجُلِ الَّذِي تَزَوَّجَهَا فَيَقُولُ ابْتَعْتَ مِنِّي جَارِيَتِي فُلَانَةَ أَنْتَ وَفُلَانٌ بِكَذَا وَكَذَا دِينَارًا فَيُنْكِرُ ذَلِكَ زَوْجُ الْأَمَةِ فَيَأْتِي سَيِّدُ الْأَمَةِ بِرَجُلٍ وَامْرَأَتَيْنِ فَيَشْهَدُونَ عَلَى مَا قَالَ فَيَثْبُتُ بَيْعُهُ وَيَحِقُّ حَقُّهُ وَتَحْرُمُ الْأَمَةُ عَلَى زَوْجِهَا وَيَكُونُ ذَلِكَ فِرَاقًا بَيْنَهُمَا وَشَهَادَةُ النِّسَاءِ لَا تَجُوزُ فِي الطَّلَاقِ قَالَ مَالِك وَمِنْ ذَلِكَ أَيْضًا الرَّجُلُ يَفْتَرِي عَلَى الرَّجُلِ الْحُرِّ فَيَقَعُ عَلَيْهِ الْحَدُّ فَيَأْتِي رَجُلٌ وَامْرَأَتَانِ فَيَشْهَدُونَ أَنَّ الَّذِي افْتُرِيَ عَلَيْهِ عَبْدٌ مَمْلُوكٌ فَيَضَعُ ذَلِكَ الْحَدَّ عَنْ الْمُفْتَرِي بَعْدَ أَنْ وَقَعَ عَلَيْهِ وَشَهَادَةُ النِّسَاءِ لَا تَجُوزُ فِي الْفِرْيَةِ قَالَ مَالِك وَمِمَّا يُشْبِهُ ذَلِكَ أَيْضًا مِمَّا يَفْتَرِقُ فِيهِ الْقَضَاءُ وَمَا مَضَى مِنْ السُّنَّةِ أَنَّ الْمَرْأَتَيْنِ يَشْهَدَانِ عَلَى اسْتِهْلَالِ الصَّبِيِّ فَيَجِبُ بِذَلِكَ مِيرَاثُهُ حَتَّى يَرِثَ وَيَكُونُ مَالُهُ لِمَنْ يَرِثُهُ إِنْ مَاتَ الصَّبِيُّ وَلَيْسَ مَعَ الْمَرْأَتَيْنِ اللَّتَيْنِ شَهِدَتَا رَجُلٌ وَلَا يَمِينٌ وَقَدْ يَكُونُ ذَلِكَ فِي الْأَمْوَالِ الْعِظَامِ مِنْ الذَّهَبِ وَالْوَرِقِ وَالرِّبَاعِ وَالْحَوَائِطِ وَالرَّقِيقِ وَمَا سِوَى ذَلِكَ مِنْ الْأَمْوَالِ وَلَوْ شَهِدَتْ امْرَأَتَانِ عَلَى دِرْهَمٍ وَاحِدٍ أَوْ أَقَلَّ مِنْ ذَلِكَ أَوْ أَكْثَرَ لَمْ تَقْطَعْ شَهَادَتُهُمَا شَيْئًا وَلَمْ تَجُزْ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَعَهُمَا شَاهِدٌ أَوْ يَمِينٌ قَالَ مَالِك وَمِنْ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ لَا تَكُونُ الْيَمِينُ مَعَ الشَّاهِدِ الْوَاحِدِ وَيَحْتَجُّ بِقَوْلِ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى وَقَوْلُهُ الْحَقُّ وَاسْتَشْهِدُوا شَهِيدَيْنِ مِنْ رِجَالِكُمْ فَإِنْ لَمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌ وَامْرَأَتَانِ مِمَّنْ تَرْضَوْنَ مِنْ الشُّهَدَاءِ يَقُولُ فَإِنْ لَمْ يَأْتِ بِرَجُلٍ وَامْرَأَتَيْنِ فَلَا شَيْءَ لَهُ وَلَا يُحَلَّفُ مَعَ شَاهِدِهِ قَالَ مَالِك فَمِنْ الْحُجَّةِ عَلَى مَنْ قَالَ ذَلِكَ الْقَوْلَ أَنْ يُقَالَ لَهُ أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ رَجُلًا ادَّعَى عَلَى رَجُلٍ مَالًا أَلَيْسَ يَحْلِفُ الْمَطْلُوبُ مَا ذَلِكَ الْحَقُّ عَلَيْهِ فَإِنْ حَلَفَ بَطَلَ ذَلِكَ عَنْهُ وَإِنْ نَكَلَ عَنْ الْيَمِينِ حُلِّفَ صَاحِبُ الْحَقِّ إِنَّ حَقَّهُ لَحَقٌّ وَثَبَتَ حَقُّهُ عَلَى صَاحِبِهِ فَهَذَا مَا لَا اخْتِلَافَ فِيهِ عِنْدَ أَحَدٍ مِنْ النَّاسِ وَلَا بِبَلَدٍ مِنْ الْبُلْدَانِ فَبِأَيِّ شَيْءٍ أَخَذَ هَذَا أَوْ فِي أَيِّ مَوْضِعٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ وَجَدَهُ فَإِنْ أَقَرَّ بِهَذَا فَلْيُقْرِرْ بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ ذَلِكَ فِي كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَأَنَّهُ لَيَكْفِي مِنْ ذَلِكَ مَا مَضَى مِنْ السُّنَّةِ وَلَكِنْ الْمَرْءُ قَدْ يُحِبُّ أَنْ يَعْرِفَ وَجْهَ الصَّوَابِ وَمَوْقِعَ الْحُجَّةِ فَفِي هَذَا بَيَانُ مَا أَشْكَلَ مِنْ ذَلِكَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৭. মালিক (রাহঃ) বলেন যে, আবু সালামা ও সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল যে, সাক্ষী ও কসমের দ্বারা ফয়সালা করা যাইবে কি? উত্তরে তাহারা বলিলেন, হ্যাঁ।

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, একজন সাক্ষীর সাথে বাঁদীর কসম গ্রহণের প্রথা পূর্ব হইতে প্রচলিত হইয়া আসিতেছে। সে যদি কসম করে তবে তাহার দাবি প্রমাণিত হইবে। আর যদি সে কসম করিতে ভয় পায় অথবা অস্বীকার করে তবে বিবাদীকে কসম দেওয়া হইবে। যদি বিবাদী কসম করিয়া নেয় তবে ঐ হক (পাওনা) বিবাদীর উপর হইতে এড়াইয়া যাইবে। আর যদি সেও কসম করিতে অস্বীকার করে তবে পুনরায় বাঁদীর দাবি তাহার উপর ন্যস্ত হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, কসমসহ সাক্ষ্য শুধু মালের বেলায় চলিবে, হুদুদ (শরীয়তের শাস্তি), বিবাহ, তালাক, গোলাম আযাদ, চুরি ও অপবাদের মধ্যে চলিবে না। অতঃপর যদি কেহ বলে যে, গোলাম আযাদ মালের মধ্যে শামিল, তবে সে ভুল করিবে। কারণ ব্যাপার অন্য রকম, যদি এমন হইত যে, সে বলিয়াছে তবে গোলাম একজন সাক্ষীসহ হাযির হইলে কসম লইয়া তাহাকে আযাদ করিয়া দেওয়া উচিত ছিল। আর যদি গোলাম একজন সাক্ষী আনে কোন মালের ব্যাপারে যে, সে মালিকের উপর দাবি করে তবে সেই ক্ষেত্রে একজন সাক্ষীসহ কসম লওয়া হইবে এবং তাহার হক প্রমাণিত হইবে। যেমন আযাদ মানুষ হলফ করিলে হয়।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট গ্রহণযোগ্য নিয়ম এই যে, গোলাম যদি তাহার আযাদ হওয়ার সপক্ষে একজন সাক্ষী লইয়া আসে তবে তাহার মনিবকে কসম দেওয়া হইবে যে, তাহার গোলামকে আযাদ করে নাই। তাহা হইলেই গোলামের আযাদী প্রমাণিত হইবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, এই নিয়ম তালাকের ব্যাপারেও। যদি কোন স্ত্রী লোক তালাকের ব্যাপারে একজন সাক্ষী লইয়া আসে তবে স্বামীকেও কসম করানো হইবে। যদি স্বামী তালাক না দেওয়ার উপর কসম করে তবে তালাক প্রমাণিত হইবে না। মালিক (রাহঃ) বলেন যে, এইভাবেই তালাক ও আযাদ-এর সাক্ষ্যের মধ্যে এক সাক্ষী থাকিলে স্বামী ও মনিবকে কসম করানো হইবে। কেননা আযাদ করা (ই’তাক) একটি শরীয়তী সীমারেখার মধ্য হইতে একটি, তাহার মধ্যে স্ত্রীলোকদের সাক্ষ্য জায়েয নাই। কেননা গোলাম আযাদ হইয়া গেলেই তাহার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হইয়া যায় এবং তাহার কারণে শাস্তি অন্যের উপর পতিত হয় এবং অন্যের কারণে শাস্তি তাহার উপর পতিত হয়। সে যদি যিনা করে এবং বিবাহিত হয় তবে তাহাকে রজম (প্রস্তর নিক্ষেপ) করা হইবে। আর যদি সে হত্যা করে তবে তাহার বদলায় তাহাকেও হত্যা করা হইবে এবং তাহার ওয়ারিসগণ মীরাস দাবি করিতে পারিবে। কেহ যদি প্রশ্ন করে যে, যদি কোন মনিব তাহার গোলামকে আযাদ করে এবং কোন ব্যক্তি আসিয়া গোলামের মনিবের নিকট নিজের কর্জ দাবি করে এবং তাহার সপক্ষে একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলাকে সাক্ষীরূপে পেশ করে তবে মনিবের উপর কর্য প্রমাণিত হইয়া যাইবে। আর যদি মনিবের নিকট এই গোলাম ছাড়া আর কোন সম্পদ না থাকে তবে গোলামের আযাদী ভঙ্গ হইয়া যাইবে। ইহার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আযাদীর ব্যাপারে মেয়েদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য। তাহার উত্তর এই যে, এখানে মেয়েদের সাক্ষ্য কর্জ প্রমাণের জন্য গ্রহণযোগ্য। গোলাম আযাদের ব্যাপারে নহে। তাহার উদাহরণ এইরূপ যে, যদি কোন লোক তাহার গোলামকে আযাদ করিয়া দেয়, অতঃপর তাহার পাওনাদারগণ এক সাক্ষী ও কসমের দ্বারা নিজের দাবি প্রমাণিত করে এবং ইহার কারণে গোলামের আযাদী বাতিল করিয়া দেওয়া হইবে। অথবা কেহ গোলামের মনিবের উপর কর্জের দাবি করে এবং সাক্ষী না থাকে তবে মনিব হইতে কসম গ্রহণ করা হইবে। যদি কসম করিতে অস্বীকার করে তবে বাদীর নিকট হইতে কসম লওয়া হইবে এবং কর্জ মনিবের উপর প্রমাণিত হইবে এবং গোলামের আযাদী বাতিল হইবে। এমনিভাবে যদি কেহ কোন দাসীকে বিবাহ করে এবং দাসীর মনিব স্বামীকে বলে যে, তুমি এবং অমুক ব্যক্তি মিলিয়া আমার অমুক দাসীকে এত টাকায় খরিদ করিয়াছ। স্বামী সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করিল। এদিকে মনিব যদি একজন পুরুষ ও দুইজন স্ত্রী লোক সাক্ষীরূপে পেশ করে তবে এই অবস্থাতে বিক্রয় প্রমাণিত হইয়া যাইবে এবং সে হকদার হইয়া যাইবে ও বিবাহ হারাম হইয়া যাইবে এবং বিবাহ ভঙ্গ হইয়া যাইবে। অথচ স্ত্রীলোকের সাক্ষ্য তালাকের ব্যাপারে জায়েয নাই।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ এইরূপভাবে যদি কেহ কোন আযাদ লোকের প্রতি যিনার অপবাদ দেয় তবে তাহার উপর শরীয়তের হুদুদ (শাস্তি) আসিবে। আর যদি একজন পুরুষ ও দুইজন স্ত্রীলোককে সাক্ষীরূপে আনে এবং তাহারা সাক্ষ্য দেয় যে, যাহার উপর অপবাদ দেওয়া হইতেছে সে গোলাম তবে অপবাদকারীর উপর হইতে শাস্তি রহিত হইয়া যাইবে। অথচ স্ত্রীলোকদের সাক্ষ্য অপবাদের মধ্যে চলে না।

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, যাহার মধ্যে বিচার ভিন্নরূপ হয় তাহার উদাহরণ এইরূপ — যেমন দুইজন স্ত্রীলোক সাক্ষ্য দিল যে, এই বাচ্চা জীবিত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হইয়াছে, তাহা হইলে এই বাচ্চার জন্য মীরাস প্রমাণিত হইবে এবং এই সন্তানের উত্তরাধিকার যে সেই মীরাসের মালিক হইবে, যদি সন্তান মৃত্যুবরণ করে এইখানেও দুইজন স্ত্রীলোকের সাথে কোন পুরুষ নাই কিংবা কসমও নাই। কোন সময় মীরাসের মাল অনেক হইয়া থাকে, যেমন স্বর্ণ, রৌপ্য, জমি, বাগান, গোলাম, ইহা ছাড়া অন্যান্য সম্পদ আর যদি একটি দিরহাম অথবা তাহ্যাঁর চাইতেও কম বা অধিক মালের ব্যাপারে দুইজন স্ত্রীলোক সাক্ষ্য প্রদান কবে তবে তাহদের সাক্ষ্যের দ্বারা কোন পরিবর্তন হইবে না এবং কার্যকরীও হইবে না, যতক্ষণ তাহাদের সাথে একজন পুরুষ সাক্ষ্য না থাকিবে অথবা কসম না থাকিবে।

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, কোন কোন লোক বলে যে, একজন সাক্ষীর সাথে কসম প্রয়োজন হয় না এবং দলীলস্বরূপ এই আয়াত পেশ করে, “আল্লাহর কথা সত্য; যদি দুইজন পুরুষ না পাওয়া যায় তবে একজন পুরুষ ও দুইজন স্ত্রীলোককে, যাহারা তোমাদের মনঃপূত হয় সাক্ষী মনোনীত কর।” তাহারা বলে যে,

একজন পুরুষ ও দুইজন স্ত্রীলোক না হইলে তাহাদের জন্য কিছুই নাই। একজন সাক্ষীর সঙ্গে কসমও গ্রহণ করা হয় না।

মালিক (রাহঃ) উত্তরে বলেনঃ যাহারা এরূপ বলে, তাহাদের বলা হইবে যে, তুমি কি দেখ না যে যদি কেহ কাহারো নিকট অর্থ দাবি করে তবে বিবাদীর নিকট হইতে কি কসম লওয়া হয় না? যদি সে কসম করে তবে তাহার উপর দাবিকৃত হক বাতিল হইয়া যায়। আর যদি সে কসম করিতে অস্বীকার করে তবে দাবিদারকে কসম দেওয়া হইবে যে, তাহার দাবি সত্য, তাহা হইলে হক তাহার উপর অবধারিত হইয়া যাইবে। এই মাসআলায় কোন মানুষের মতভেদ নাই, আর কোন দেশের লোকেরও ইহাতে মতভেদ নাই। তবে তোমরা এই কথা কোথা হইতে আনিয়াছ? এবং আল্লাহর কোন কিতাব হইতে সংগ্রহ করিয়াছ? যদি তোমাদের নিকট ইহা জায়েয থাকে তবে একজন সাক্ষীর সাথে কসমের কথাও স্বীকার করিয়া লও। ইহা যদিও কুরআনে নাই, হাদীসে তো আছে। এই ব্যাপারে যেই সমস্ত হাদীস বর্ণিত হইয়াছে তাহাই যথেষ্ট, কিন্তু যদি সত্য কথা পাওয়া যায় তাহা মানিয়া লওয়াই কর্তব্য এবং দলীলের বিষয়গুলি দেখা প্রয়োজন। আল্লাহর ইচ্ছায় কঠিন বিষয় সহজ হইয়া যাইবে।

৫. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি মরিয়া গেলে এবং সেই ব্যক্তির নিকট কেহ ঋণ পাওনা থাকিলে কিংবা অন্য ব্যক্তির উপর সেই মৃত লোকের ঋণ পাওনা থাকিলে এবং উভয় অবস্থায় একজন সাক্ষী থাকিলে

بَاب الْقَضَاءِ فِيمَنْ هَلَكَ وَلَهُ دَيْنٌ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ لَهُ فِيهِ شَاهِدٌ وَاحِدٌ

1423

قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك فِي الرَّجُلِ يَهْلِكُ وَلَهُ دَيْنٌ عَلَيْهِ شَاهِدٌ وَاحِدٌ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ لِلنَّاسِ لَهُمْ فِيهِ شَاهِدٌ وَاحِدٌ فَيَأْبَى وَرَثَتُهُ أَنْ يَحْلِفُوا عَلَى حُقُوقِهِمْ مَعَ شَاهِدِهِمْ قَالَ فَإِنَّ الْغُرَمَاءَ يَحْلِفُونَ وَيَأْخُذُونَ حُقُوقَهُمْ فَإِنْ فَضَلَ فَضْلٌ لَمْ يَكُنْ لِلْوَرَثَةِ مِنْهُ شَيْءٌ وَذَلِكَ أَنَّ الْأَيْمَانَ عُرِضَتْ عَلَيْهِمْ قَبْلُ فَتَرَكُوهَا إِلَّا أَنْ يَقُولُوا لَمْ نَعْلَمْ لِصَاحِبِنَا فَضْلًا وَيُعْلَمُ أَنَّهُمْ إِنَّمَا تَرَكُوا الْأَيْمَانَ مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ فَإِنِّي أَرَى أَنْ يَحْلِفُوا وَيَأْخُذُوا مَا بَقِيَ بَعْدَ دَيْنِهِ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, যদি এমন ব্যক্তি মারা যায়, যে মানুষের কাছে পাওনা আছে এবং পাওনার উপরে একজন মাত্র সাক্ষী আছে। আর উক্ত মৃত ব্যক্তির উপরও অপরের দেনা আছে এবং তাহার উপর একজন সাক্ষী আছে। এই ব্যাপারে তাহার ওয়ারিসগণ তাহাদের হকের উপর যদি হলফ করিতে অস্বীকার করে তবে পাওনাদারগণ হলফ করিয়া তাহাদের পাওনা লইয়া যাইবে। যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে তবে তাহা ওয়ারিসগণ পাইবে না। কারণ তাহার হলফ করিতে অস্বীকার করিয়া তাহাদের স্বীয় হক ছাড়িয়া দিয়াছে। হ্যাঁ, ঐ সময় পাইবে যখন ওয়ারিসগণ বলে যে, আমরা জানিতাম না, যে কৰ্জ হইতে কিছুটা বাঁচিবে। আর বিচারক তাহাদের কথায় বুঝিতে পারে যে, তাহদের কথা সত্য তবে এখন হলফ লইয়া ঐ দেনা পরিশোধের পর সম্পদ হইতে অবশিষ্ট যাহা থাকে তাহা ওয়ারিসগণ লইয়া যাইবে।

৬. দাবির মীমাংসা

بَاب الْقَضَاءِ فِي الدَّعْوَى

1424
قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك عَنْ جَمِيلِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُؤَذِّنِ أَنَّهُ كَانَ يَحْضُرُ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَهُوَ يَقْضِي بَيْنَ النَّاسِ فَإِذَا جَاءَهُ الرَّجُلُ يَدَّعِي عَلَى الرَّجُلِ حَقًّا نَظَرَ فَإِنْ كَانَتْ بَيْنَهُمَا مُخَالَطَةٌ أَوْ مُلَابَسَةٌ أَحْلَفَ الَّذِي ادُّعِيَ عَلَيْهِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ شَيْءٌ مِنْ ذَلِكَ لَمْ يُحَلِّفْهُ
قَالَ مَالِك وَعَلَى ذَلِكَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا أَنَّهُ مَنْ ادَّعَى عَلَى رَجُلٍ بِدَعْوَى نُظِرَ فَإِنْ كَانَتْ بَيْنَهُمَا مُخَالَطَةٌ أَوْ مُلَابَسَةٌ أُحْلِفَ الْمُدَّعَى عَلَيْهِ فَإِنْ حَلَفَ بَطَلَ ذَلِكَ الْحَقُّ عَنْهُ وَإِنْ أَبَى أَنْ يَحْلِفَ وَرَدَّ الْيَمِينَ عَلَى الْمُدَّعِي فَحَلَفَ طَالِبُ الْحَقِّ أَخَذَ حَقَّهُ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৮. জামিল ইবনে আব্দির রহমান (রাহঃ) উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ)-এর দরবারে হাযির হইয়া তাহার বিচার কার্য দেখিতেন। কোন লোক যদি কাহারো প্রতি কোন দাবি করিত তবে ইহার প্রতি খুব লক্ষ্য করিয়া দেখিতেন। অতঃপর যদি বলিতেন যে, তাহাদের মধ্যে (বাদী-বিবাদী) কাজে-কারবারে সমতা ও সামঞ্জস্য আছে, তবে বিবাদীকে কসম করাইতেন, না হয় কসম করাইতেন না।

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, আমাদের কাছেও এই প্রথা যে, যদি কেহ কাহারো প্রতি কিছু দাবি করে তবে দেখিতে হইবে যে, যদি বাদী ও বিবাদীর মধ্যে সম্পর্ক ভাল থাকে এবং তাহারা সমপর্যায়ের হয় তবে বিবাদীকে কসম করাইতে হইবে। যদি সে কসম করে তবে বাদীর দাবি বিবাদী হইতে ছুটিয়া যাইবে। আর যদি বিবাদী কসম করিতে অস্বীকার করে তবে এই কসম বাদীর দিকে ফিরিয়া আসিবে। সুতরাং সেই অবস্থায় কসম করিয়া তাহার দাবি প্রমাণিত করিয়া আদায় করিয়া লইবে।

৭. বালকদের সাক্ষ্যের উপর ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي شَهَادَةِ الصِّبْيَانِ

1425
قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ كَانَ يَقْضِي بِشَهَادَةِ الصِّبْيَانِ فِيمَا بَيْنَهُمْ مِنْ الْجِرَاحِ
قَالَ مَالِك الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا أَنَّ شَهَادَةَ الصِّبْيَانِ تَجُوزُ فِيمَا بَيْنَهُمْ مِنْ الْجِرَاحِ وَلَا تَجُوزُ عَلَى غَيْرِهِمْ وَإِنَّمَا تَجُوزُ شَهَادَتُهُمْ فِيمَا بَيْنَهُمْ مِنْ الْجِرَاحِ وَحْدَهَا لَا تَجُوزُ فِي غَيْرِ ذَلِكَ إِذَا كَانَ ذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يَتَفَرَّقُوا أَوْ يُخَبَّبُوا أَوْ يُعَلَّمُوا فَإِنْ افْتَرَقُوا فَلَا شَهَادَةَ لَهُمْ إِلَّا أَنْ يَكُونُوا قَدْ أَشْهَدُوا الْعُدُولَ عَلَى شَهَادَتِهِمْ قَبْلَ أَنْ يَفْتَرِقُوا

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৯. হিশাম ইবনে উরওয়াহ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত যে, আব্দুল্লাহ্ ইবনে যুবায়র (রাহঃ) বালকদের সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করিয়া তাহাদের মারামারির বিচার করিয়া দিতেন।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট এই হুকুম যে, যদি বালকগণ একে অপরকে আহত করিয়া দেয় তবে তাহাদের সাক্ষ্য বৈধ। ইহা ছাড়া অন্য মামলায় তাহা বৈধ হইবে না। ইহা ঐ সময় হইবে যখন ঝগড়া করিয়া সেখানেই থাকে, অন্যত্র না গিয়া থাকে। যদি অন্যত্র চলিয়া যায় তবে তাহাদের সাক্ষ্য জায়েয নহে। যতক্ষণ না কোন নির্ভরযোগ্য মানুষের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় এবং বালকগণও ঐখানেই থাকে।

৮. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মিম্বরে মিথ্যা কসম করা

بَاب مَا جَاءَ فِي الْحِنْثِ عَلَى مِنْبَرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

1426

قَالَ يَحْيَى حَدَّثَنَا مَالِك عَنْ هَاشِمِ بْنِ هَاشِمِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نِسْطَاسٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ حَلَفَ عَلَى مِنْبَرِي آثِمًا تَبَوَّأَ مَقْعَدَهُ مِنْ النَّارِ

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ১০. জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, আমার মিম্বরে যে মিথ্যা কসম করে সে যেন তাহার স্থান দোযখে বানাইয়া লয়।

1427

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ مَعْبَدِ بْنِ كَعْبٍ السَّلَمِيِّ عَنْ أَخِيهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ اقْتَطَعَ حَقَّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ بِيَمِينِهِ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَأَوْجَبَ لَهُ النَّارَ قَالُوا وَإِنْ كَانَ شَيْئًا يَسِيرًا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ وَإِنْ كَانَ قَضِيبًا مِنْ أَرَاكٍ وَإِنْ كَانَ قَضِيبًا مِنْ أَرَاكٍ وَإِنْ كَانَ قَضِيبًا مِنْ أَرَاكٍ قَالَهَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ

Narrator: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

রেওয়ায়ত ১১. আবু উমামা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম করিয়া কোন মুসলমান ভাইয়ের সম্পদ আত্মসাৎ করে তাহার জন্য আল্লাহ তাআলা বেহেশত হারাম করিয়া দিবেন এবং দোযখ ওয়াজিব করিয়া দিবেন। সাহাবীগণ বলিলেন, যদি সামান্য জিনিসও হয় তবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেন, যদিও পিলু গাছের একটি ডাল হয়, যদিও পিলু গাছের একটি ডাল হয়, যদিও পিলু গাছের একটি ডাল হয়, তিনি এই বাক্যকে তিনবার বলিয়াছেন।

৯. মিম্বরের উপরে কসম করা

بَاب جَامِعِ مَا جَاءَ فِي الْيَمِينِ عَلَى الْمِنْبَرِ

1428

قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا غَطَفَانَ بْنَ طَرِيفٍ الْمُرِّيَّ يَقُولُ اخْتَصَمَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيُّ وَابْنُ مُطِيعٍ فِي دَارٍ كَانَتْ بَيْنَهُمَا إِلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ وَهُوَ أَمِيرٌ عَلَى الْمَدِينَةِ فَقَضَى مَرْوَانُ عَلَى زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ بِالْيَمِينِ عَلَى الْمِنْبَرِ فَقَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ أَحْلِفُ لَهُ مَكَانِي قَالَ فَقَالَ مَرْوَانُ لَا وَاللَّهِ إِلَّا عِنْدَ مَقَاطِعِ الْحُقُوقِ قَالَ فَجَعَلَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ يَحْلِفُ أَنَّ حَقَّهُ لَحَقٌّ وَيَأْبَى أَنْ يَحْلِفَ عَلَى الْمِنْبَرِ قَالَ فَجَعَلَ مَرْوَانُ بْنُ الْحَكَمِ يَعْجَبُ مِنْ ذَلِكَ قَالَ مَالِك لَا أَرَى أَنْ يُحَلَّفَ أَحَدٌ عَلَى الْمِنْبَرِ عَلَى أَقَلَّ مِنْ رُبُعِ دِينَارٍ وَذَلِكَ ثَلَاثَةُ دَرَاهِمَ

Narrator: মারওয়ান ইবনুল হাকাম (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১২. আবু গাতফান (রাহঃ) হইতে বর্ণিত যে, যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ) ও ইবনে মুতী-এর মধ্যে একটি ঘরের ব্যাপারে ঝগড়া হইয়া যায়। অবশেষে তাহারা ইহার বিচার মারওয়ানের নিকট লইয়া গেলেন। সেই সময় তিনি মদীনার শাসনকর্তা ছিলেন। মারওয়ান বলিলেন, যায়দ ইবনে সাবিত মিম্বরের উপর উঠিয়া কসম করিয়া নিক। যায়দ (রাযিঃ) বললেন, আমি আমার স্থানে দাঁড়াইয়া কসম করিয়া লই। মারওয়ান বলিলেন, আল্লাহর কসম, ইহা হইতে পারে না। অন্য লোকেরা যেখানে তাহাদের হকের মীমাংসা করে সেখানেই করিতে হইবে। অতঃপর যায়দ (রাযিঃ) নিজ স্থানে দাঁড়াইয়া বলিতে লাগিলেন, আমি কসম করিয়া বলিতেছি যে, আমার দাবি সত্য, কিন্তু মিম্বরের উপর গিয়া কসম করিতে অস্বীকার করিতে লাগিলেন। মারওয়ান ইহাতে বিক্ষিত হইয়া গেলেন।

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, এক-চতুর্থাংশ দীনারের কম দাবি হইলে মিম্বরের কসম করা জায়েয নাই, উহা তিন দিরহাম।

১০. রেহেনকে বাঁধা দেওয়া নাজায়েয

بَاب مَا لَا يَجُوزُ مِنْ غَلَقِ الرَّهْنِ

1429

قَالَ يَحْيَى حَدَّثَنَا مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَغْلَقُ الرَّهْنُ قَالَ مَالِك وَتَفْسِيرُ ذَلِكَ فِيمَا نُرَى وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَنْ يَرْهَنَ الرَّجُلُ الرَّهْنَ عِنْدَ الرَّجُلِ بِالشَّيْءِ وَفِي الرَّهْنِ فَضْلٌ عَمَّا رُهِنَ بِهِ فَيَقُولُ الرَّاهِنُ لِلْمُرْتَهِنِ إِنْ جِئْتُكَ بِحَقِّكَ إِلَى أَجَلٍ يُسَمِّيهِ لَهُ وَإِلَّا فَالرَّهْنُ لَكَ بِمَا رُهِنَ فِيهِ قَالَ فَهَذَا لَا يَصْلُحُ وَلَا يَحِلُّ وَهَذَا الَّذِي نُهِيَ عَنْهُ وَإِنْ جَاءَ صَاحِبُهُ بِالَّذِي رَهَنَ بِهِ بَعْدَ الْأَجَلِ فَهُوَ لَهُ وَأُرَى هَذَا الشَّرْطَ مُنْفَسِخًا

Narrator: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৩. সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) হইতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, “রেহেনকে বন্ধ করা উচিত নয়।”

মালিক (রাহঃ) বলেন যে ইহার ব্যাখ্যা আমাদের নিকট এই যে, (আল্লাহ্ই ভাল জানেন) এক ব্যক্তি কিছু জিনিস অপর ব্যক্তির নিকট রেহেন রাখিল কোন জিনিসের পরিবর্তে। আর রেহেন-এর বস্তুটি মূল্যবান যে জিনিসের পরিবর্তে রাখা হইয়াছে তাহার চাইতে। অতঃপর রেহেন (গচ্ছিতকারী) মুরতাহেনকে (যাহার নিকট রাখা হইয়াছে) বলিল, আমি যদি নির্দিষ্ট তারিখে আপনার জিনিস লইয়া আসি তবে আমার জিনিস আমাকে দিবেন আর যদি আমি ঐ সময় না আসিতে পারি তবে গচ্ছিত মাল আপনার। এইরূপ করা জায়েয নাই এবং হালালও নহে। ইহাই নিষিদ্ধ করা হইয়াছে। যদি নির্দিষ্ট দিনের পরে ঐ ব্যক্তি আসে তবে রেহেনের বস্তু তাহারই হইবে। আর এই শর্ত বাতিল হইবে।

১১. ফল ও জন্তুর রেহেনের ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي رَهْنِ الثَّمَرِ وَالْحَيَوَانِ

1430

قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ فِيمَنْ رَهَنَ حَائِطًا لَهُ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى فَيَكُونُ ثَمَرُ ذَلِكَ الْحَائِطِ قَبْلَ ذَلِكَ الْأَجَلِ إِنَّ الثَّمَرَ لَيْسَ بِرَهْنٍ مَعَ الْأَصْلِ إِلَّا أَنْ يَكُونَ اشْتَرَطَ ذَلِكَ الْمُرْتَهِنُ فِي رَهْنِهِ وَإِنَّ الرَّجُلَ إِذَا ارْتَهَنَ جَارِيَةً وَهِيَ حَامِلٌ أَوْ حَمَلَتْ بَعْدَ ارْتِهَانِهِ إِيَّاهَا إِنَّ وَلَدَهَا مَعَهَا قَالَ مَالِك وَفُرِقَ بَيْنَ الثَّمَرِ وَبَيْنَ وَلَدِ الْجَارِيَةِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ بَاعَ نَخْلًا قَدْ أُبِّرَتْ فَثَمَرُهَا لِلْبَائِعِ إِلَّا أَنْ يَشْتَرِطَهُ الْمُبْتَاعُ قَالَ وَالْأَمْرُ الَّذِي لَا اخْتِلَافَ فِيهِ عِنْدَنَا أَنَّ مَنْ بَاعَ وَلِيدَةً أَوْ شَيْئًا مِنْ الْحَيَوَانِ وَفِي بَطْنِهَا جَنِينٌ أَنَّ ذَلِكَ الْجَنِينَ لِلْمُشْتَرِي اشْتَرَطَهُ الْمُشْتَرِي أَوْ لَمْ يَشْتَرِطْهُ فَلَيْسَتْ النَّخْلُ مِثْلَ الْحَيَوَانِ وَلَيْسَ الثَّمَرُ مِثْلَ الْجَنِينِ فِي بَطْنِ أُمِّهِ قَالَ مَالِك وَمِمَّا يُبَيِّنُ ذَلِكَ أَيْضًا أَنَّ مِنْ أَمْرِ النَّاسِ أَنْ يَرْهَنَ الرَّجُلُ ثَمَرَ النَّخْلِ وَلَا يَرْهَنُ النَّخْلَ وَلَيْسَ يَرْهَنُ أَحَدٌ مِنْ النَّاسِ جَنِينًا فِي بَطْنِ أُمِّهِ مِنْ الرَّقِيقِ وَلَا مِنْ الدَّوَابِّ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি কোন বাগান নির্দিষ্ট তারিখ পর্যন্ত রেহেন রাখে তবে ঐ বাগানের ফল যাহা রেহেন রাখার পূর্বে হইয়াছে তাহা গাছের সাথে রেহেন ধরা যাইবে না। কিন্তু যদি রেহেনের সময় রেহেন রক্ষক শর্ত করিয়া দিয়া থাকে তবে জায়েয হইবে। আর যদি কোন ব্যক্তি একটি গর্ভবতী বাদী রেহেন রাখিল অথবা রেহেন রাখার পরে সে গর্ভবতী হয় তবে বাচ্চাও সাথে রেহেন ধরা যাইবে। গাছের ফল আর সন্তানের মধ্যে এই ব্যবধান। কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন যে, যদি খেজুর গাছ এই অবস্থায় বিক্রয় করে যে, সেই খেজুর গাছকে তানবীর করিয়াছিল তবে এই খেজুর বিক্রেতারই হইবে। কিন্তু যদি শর্ত করিয়া থাকে তবে ভিন্ন কথা। মালিক (রাহঃ) বলেন যে, আমাদের কাছে ইহা একটি মতভেদহীন মাসআলা। তাহা হইল, যদি কেহ কোন ক্রীতদাসী অথবা জানোয়ার বিক্রয় করে এবং ঐ দাসী কিংবা জানোয়ার গর্ভবতী হয় তবে ঐ বাচ্চা খরিদ্দারের হইবে। খরিদ্দার শর্ত করুক চাই না করুক। সুতরাং জানা গেল যে, খেজুর গাছের হুকুম জানোয়ারের হুকুমের মতো নহে আর ফলের হুকুমও গর্ভাধারের বাচ্চার হুকুমের মতো নহে।

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, এই ব্যাপারে সুস্পষ্ট কথা এই যে মানুষ গাছ ছাড়াও খেজুরকে রেহেন রাখিতে পারে। কিন্তু দাসী বা পশুর বাচ্চা যাহা মাতৃগর্ভে রহিয়াছে তাহাকে কোন মানুষ রেহেন রাখিতে পারে না।

১২. জন্তু রেহেন রাখার ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي الرَّهْنِ مِنْ الْحَيَوَانِ

1431

قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ الْأَمْرُ الَّذِي لَا اخْتِلَافَ فِيهِ عِنْدَنَا فِي الرَّهْنِ أَنَّ مَا كَانَ مِنْ أَمْرٍ يُعْرَفُ هَلَاكُهُ مِنْ أَرْضٍ أَوْ دَارٍ أَوْ حَيَوَانٍ فَهَلَكَ فِي يَدِ الْمُرْتَهِنِ وَعُلِمَ هَلَاكُهُ فَهُوَ مِنْ الرَّاهِنِ وَإِنَّ ذَلِكَ لَا يَنْقُصُ مِنْ حَقِّ الْمُرْتَهِنِ شَيْئًا وَمَا كَانَ مِنْ رَهْنٍ يَهْلِكُ فِي يَدِ الْمُرْتَهِنِ فَلَا يُعْلَمُ هَلَاكُهُ إِلَّا بِقَوْلِهِ فَهُوَ مِنْ الْمُرْتَهِنِ وَهُوَ لِقِيمَتِهِ ضَامِنٌ يُقَالُ لَهُ صِفْهُ فَإِذَا وَصَفَهُ أُحْلِفَ عَلَى صِفَتِهِ وَتَسْمِيَةِ مَالِهِ فِيهِ ثُمَّ يُقَوِّمُهُ أَهْلُ الْبَصَرِ بِذَلِكَ فَإِنْ كَانَ فِيهِ فَضْلٌ عَمَّا سَمَّى فِيهِ الْمُرْتَهِنُ أَخَذَهُ الرَّاهِنُ وَإِنْ كَانَ أَقَلَّ مِمَّا سَمَّى أُحْلِفَ الرَّاهِنُ عَلَى مَا سَمَّى الْمُرْتَهِنُ وَبَطَلَ عَنْهُ الْفَضْلُ الَّذِي سَمَّى الْمُرْتَهِنُ فَوْقَ قِيمَةِ الرَّهْنِ وَإِنْ أَبَى الرَّاهِنُ أَنْ يَحْلِفَ أُعْطِيَ الْمُرْتَهِنُ مَا فَضَلَ بَعْدَ قِيمَةِ الرَّهْنِ فَإِنْ قَالَ الْمُرْتَهِنُ لَا عِلْمَ لِي بِقِيمَةِ الرَّهْنِ حُلِّفَ الرَّاهِنُ عَلَى صِفَةِ الرَّهْنِ وَكَانَ ذَلِكَ لَهُ إِذَا جَاءَ بِالْأَمْرِ الَّذِي لَا يُسْتَنْكَرُ قَالَ مَالِك وَذَلِكَ إِذَا قَبَضَ الْمُرْتَهِنُ الرَّهْنَ وَلَمْ يَضَعْهُ عَلَى يَدَيْ غَيْرِهِ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, আমাদের নিকট ইহা একটি মতবিরোধহীন মাসআলা। তাহা এই; যদি রেহেন রাখা জিনিস এমন হয় যাহা ক্ষতি হইলে বোঝা যায় যেমন জমি, ঘর ও জন্তু। অতঃপর উহা মুরতাহেন (যাহার নিকট রক্ষিত)-এর নিকট নষ্ট হইয়া যায়, তবে মুরতাহেনের প্রাপ্য ইহাতে কমিবে না, বরং ইহা রাহিনের (রেহেন যে দিয়াছে) ক্ষতি হইবে। আর যদি তাহা এমন জিনিস হয় যাহা নষ্ট হইলে শুধু মুরতাহেনের কথায়ই বোঝা যায় (যেমন কাপড়, স্বর্ণ, রূপা) তবে মুরতাহেনের ক্ষতি ধরা যাইবে এবং উহার মূল্যের জন্য সেই দায়ী হইবে। আর যদি রাহেন ও মুরতাহেনের মধ্যে মুল্য সম্বন্ধে ঝগড়া হয় তবে মুরতাহেনকে বলা হইবে যে, কসম করিয়া এ জিনিসের গুণ ও মূল্যের পরিমাণ বর্ণনা কর। যদি সে বর্ণনা করে তবে জ্ঞানী লোকগণ তাহা চিন্তা করিয়া মুরতাহেনের বর্ণনা অনুযায়ী মূল্য ধার্য করবেন। আর যদি মূল্য রাহেনের মূল্য হইতে অধিক হয় তবে রাহেন অধিক মূল্য গ্রহণ করবে। আর যদি উহার মূল্য রাহেনের মূল্য হইতে কম হয় তবে রাহেনকে কসম করানো হইবে। যদি সে কসম করে তবে মুরতাহেন রাহেনের মূল্য হইতে যতদূর বেশী বলিয়াছে তাহা তাহার দায়িত্ব হইতে নামিয়া যাইবে। আর যদি রাহেন কসম না করে তবে ঐ পরিমাণ মূল্য মুরতাহেনকে আদায় করিয়া দিবে। আর যদি মুরতাহেন বলে যে আমি ঐ জিনিসের মূল্য জানি না তবে রাহেনকে ঐ জিনিসের গুণাবলির উপর কসম দেওয়া হইবে, যদি সে কসম করে তবে তাহার বর্ণনা অনুযায়ী ফয়সালা করা হইবে, যদি সে অসঙ্গত কিছু না বলে।

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, ইহা ঐ সময় হইবে যখন জিনিসটি মুরতাহেন নিজ অধিকারে আনয়ন করিয়াছে এবং সে অন্য কাহারো হাতে উহা রাখে নাই।

১৩. দুই ব্যক্তির নিকট রেহেন রাখার ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي الرَّهْنِ يَكُونُ بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ

1432

قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ فِي الرَّجُلَيْنِ يَكُونُ لَهُمَا رَهْنٌ بَيْنَهُمَا فَيَقُومُ أَحَدُهُمَا بِبَيْعِ رَهْنِهِ وَقَدْ كَانَ الْآخَرُ أَنْظَرَهُ بِحَقِّهِ سَنَةً قَالَ إِنْ كَانَ يَقْدِرُ عَلَى أَنْ يُقْسَمَ الرَّهْنُ وَلَا يَنْقُصَ حَقُّ الَّذِي أَنْظَرَهُ بِحَقِّهِ بِيعَ لَهُ نِصْفُ الرَّهْنِ الَّذِي كَانَ بَيْنَهُمَا فَأُوفِيَ حَقَّهُ وَإِنْ خِيفَ أَنْ يَنْقُصَ حَقُّهُ بِيعَ الرَّهْنُ كُلُّهُ فَأُعْطِيَ الَّذِي قَامَ بِبَيْعِ رَهْنِهِ حَقَّهُ مِنْ ذَلِكَ فَإِنْ طَابَتْ نَفْسُ الَّذِي أَنْظَرَهُ بِحَقِّهِ أَنْ يَدْفَعَ نِصْفَ الثَّمَنِ إِلَى الرَّاهِنِ وَإِلَّا حُلِّفَ الْمُرْتَهِنُ أَنَّهُ مَا أَنْظَرَهُ إِلَّا لِيُوقِفَ لِي رَهْنِي عَلَى هَيْئَتِهِ ثُمَّ أُعْطِيَ حَقَّهُ عَاجِلًا قَالَ وَسَمِعْت مَالِك يَقُولُ فِي الْعَبْدِ يَرْهَنُهُ سَيِّدُهُ وَلِلْعَبْدِ مَالٌ إِنَّ مَالَ الْعَبْدِ لَيْسَ بِرَهْنٍ إِلَّا أَنْ يَشْتَرِطَهُ الْمُرْتَهِنُ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি দুইজনের কাছে রেহেন থাকে তাহাদের মধ্যে একজন বলে যে, আমার রেহেন বিক্রয় করিয়া লইয়া যাইব এবং দ্বিতীয়জন তাহাকে এক বৎসরের সময় দেয় তবে যদি ঐ জিনিস এমন হয় যে, অর্ধেক বিক্রয় করিয়া ফেলিলে বাকী অর্ধেক যাহার নিকট আছে তাহার কোন ক্ষতি হইবে না, তবে অর্ধেক বিক্রয় করিয়া তাহার কর্জ আদায় করিয়া দিবে। আর যদি অর্ধেক বিক্রয় করিলে বাকী অর্ধেকের ক্ষতি হয় তবে পূর্ণ জিনিসটিই বিক্রয় করিয়া যে তাগাদা করিতেছিল তাহাকে দিয়া দিবে। আর যে এক বৎসরের সময় দিয়াছিল সে যদি খুশিতে দিতে চায় তবে অর্ধেক পয়সা রাহেনকে দেবে। না হয় তাহাকে কসম দেওয়া হইবে যে আমি তাহাকে এক বৎসরের সময় এইজন্য দিতেছিলাম যেন পূর্ণ রেহেন আমার নিকট থাকে। সে যদি কসম করিয়া নেয় তবে ঐ সময়ই তাহার হক আদায় করিয়া দেওয়া হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি কোন গোলাম রেহেন রাখা হয় তবে গোলামের সাথে যা মাল থাকে তাহা রেহেন ধরা যাইবে না। কিন্তু যদি রেহেন গ্রহীতা শর্ত করিয়া নেয় তবে মালও রেহেন ধরা হইবে।

১৪. রেহেনের বিবিধ প্রকার

بَاب الْقَضَاءِ فِي جَامِعِ الرُّهُونِ

1433

قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ فِيمَنْ ارْتَهَنَ مَتَاعًا فَهَلَكَ الْمَتَاعُ عِنْدَ الْمُرْتَهِنِ وَأَقَرَّ الَّذِي عَلَيْهِ الْحَقُّ بِتَسْمِيَةِ الْحَقِّ وَاجْتَمَعَا عَلَى التَّسْمِيَةِ وَتَدَاعَيَا فِي الرَّهْنِ فَقَالَ الرَّاهِنُ قِيمَتُهُ عِشْرُونَ دِينَارًا وَقَالَ الْمُرْتَهِنُ قِيمَتُهُ عَشَرَةُ دَنَانِيرَ وَالْحَقُّ الَّذِي لِلرَّجُلِ فِيهِ عِشْرُونَ دِينَارًا قَالَ مَالِك يُقَالُ لِلَّذِي بِيَدِهِ الرَّهْنُ صِفْهُ فَإِذَا وَصَفَهُ أُحْلِفَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَقَامَ تِلْكَ الصِّفَةَ أَهْلُ الْمَعْرِفَةِ بِهَا فَإِنْ كَانَتْ الْقِيمَةُ أَكْثَرَ مِمَّا رُهِنَ بِهِ قِيلَ لِلْمُرْتَهِنِ ارْدُدْ إِلَى الرَّاهِنِ بَقِيَّةَ حَقِّهِ وَإِنْ كَانَتْ الْقِيمَةُ أَقَلَّ مِمَّا رُهِنَ بِهِ أَخَذَ الْمُرْتَهِنُ بَقِيَّةَ حَقِّهِ مِنْ الرَّاهِنِ وَإِنْ كَانَتْ الْقِيمَةُ بِقَدْرِ حَقِّهِ فَالرَّهْنُ بِمَا فِيهِ قَالَ يَحْيَى وَسَمِعْت مَالِك يَقُولُ الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الرَّجُلَيْنِ يَخْتَلِفَانِ فِي الرَّهْنِ يَرْهَنُهُ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ فَيَقُولُ الرَّاهِنُ أَرْهَنْتُكَهُ بِعَشَرَةِ دَنَانِيرَ وَيَقُولُ الْمُرْتَهِنُ ارْتَهَنْتُهُ مِنْكَ بِعِشْرِينَ دِينَارًا وَالرَّهْنُ ظَاهِرٌ بِيَدِ الْمُرْتَهِنِ قَالَ يُحَلَّفُ الْمُرْتَهِنُ حَتَّى يُحِيطَ بِقِيمَةِ الرَّهْنِ فَإِنْ كَانَ ذَلِكَ لَا زِيَادَةَ فِيهِ وَلَا نُقْصَانَ عَمَّا حُلِّفَ أَنَّ لَهُ فِيهِ أَخَذَهُ الْمُرْتَهِنُ بِحَقِّهِ وَكَانَ أَوْلَى بِالتَّبْدِئَةِ بِالْيَمِينِ لِقَبْضِهِ الرَّهْنَ وَحِيَازَتِهِ إِيَّاهُ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ رَبُّ الرَّهْنِ أَنْ يُعْطِيَهُ حَقَّهُ الَّذِي حُلِّفَ عَلَيْهِ وَيَأْخُذَ رَهْنَهُ قَالَ وَإِنْ كَانَ الرَّهْنُ أَقَلَّ مِنْ الْعِشْرِينَ الَّتِي سَمَّى أُحْلِفَ الْمُرْتَهِنُ عَلَى الْعِشْرِينَ الَّتِي سَمَّى ثُمَّ يُقَالُ لِلرَّاهِنِ إِمَّا أَنْ تُعْطِيَهُ الَّذِي حَلَفَ عَلَيْهِ وَتَأْخُذَ رَهْنَكَ وَإِمَّا أَنْ تَحْلِفَ عَلَى الَّذِي قُلْتَ أَنَّكَ رَهَنْتَهُ بِهِ وَيَبْطُلُ عَنْكَ مَا زَادَ الْمُرْتَهِنُ عَلَى قِيمَةِ الرَّهْنِ فَإِنْ حَلَفَ الرَّاهِنُ بَطَلَ ذَلِكَ عَنْهُ وَإِنْ لَمْ يَحْلِفْ لَزِمَهُ غُرْمُ مَا حَلَفَ عَلَيْهِ الْمُرْتَهِنُ قَالَ مَالِك فَإِنْ هَلَكَ الرَّهْنُ وَتَنَاكَرَا الْحَقَّ فَقَالَ الَّذِي لَهُ الْحَقُّ كَانَتْ لِي فِيهِ عِشْرُونَ دِينَارًا وَقَالَ الَّذِي عَلَيْهِ الْحَقُّ لَمْ يَكُنْ لَكَ فِيهِ إِلَّا عَشَرَةُ دَنَانِيرَ وَقَالَ الَّذِي لَهُ الْحَقُّ قِيمَةُ الرَّهْنِ عَشَرَةُ دَنَانِيرَ وَقَالَ الَّذِي عَلَيْهِ الْحَقُّ قِيمَتُهُ عِشْرُونَ دِينَارًا قِيلَ لِلَّذِي لَهُ الْحَقُّ صِفْهُ فَإِذَا وَصَفَهُ أُحْلِفَ عَلَى صِفَتِهِ ثُمَّ أَقَامَ تِلْكَ الصِّفَةَ أَهْلُ الْمَعْرِفَةِ بِهَا فَإِنْ كَانَتْ قِيمَةُ الرَّهْنِ أَكْثَرَ مِمَّا ادَّعَى فِيهِ الْمُرْتَهِنُ أُحْلِفَ عَلَى مَا ادَّعَى ثُمَّ يُعْطَى الرَّاهِنُ مَا فَضَلَ مِنْ قِيمَةِ الرَّهْنِ وَإِنْ كَانَتْ قِيمَتُهُ أَقَلَّ مِمَّا يَدَّعِي فِيهِ الْمُرْتَهِنُ أُحْلِفَ عَلَى الَّذِي زَعَمَ أَنَّهُ لَهُ فِيهِ ثُمَّ قَاصَّهُ بِمَا بَلَغَ الرَّهْنُ ثُمَّ أُحْلِفَ الَّذِي عَلَيْهِ الْحَقُّ عَلَى الْفَضْلِ الَّذِي بَقِيَ لِلْمُدَّعَى عَلَيْهِ بَعْدَ مَبْلَغِ ثَمَنِ الرَّهْنِ وَذَلِكَ أَنَّ الَّذِي بِيَدِهِ الرَّهْنُ صَارَ مُدَّعِيًا عَلَى الرَّاهِنِ فَإِنْ حَلَفَ بَطَلَ عَنْهُ بَقِيَّةُ مَا حَلَفَ عَلَيْهِ الْمُرْتَهِنُ مِمَّا ادَّعَى فَوْقَ قِيمَةِ الرَّهْنِ وَإِنْ نَكَلَ لَزِمَهُ مَا بَقِيَ مِنْ حَقِّ الْمُرْتَهِنِ بَعْدَ قِيمَةِ الرَّهْنِ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, যদি কোন বস্তু রেহেন রাখার পর তাহা রেহেন গ্রহীতার নিকট নষ্ট হইয়া যায় এবং রাহেন ও মুরতাহেন উভয়ই রেহেনের বস্তু ও পরিমাণ সম্পর্কে কোন দ্বিমত রাখে না, কিন্তু রেহেনের বস্তুর মূল্যে তাহাদের মতভেদ হয়, যেমন রাহেন বলে যে, তাহার মূল্য বিশ দীনার আর মুরতাহেন বলে যে, তাহার মূল্য দশ দীনার অথচ রেহেনকৃত বস্তুর মূল্য বিশ দীনারই ছিল। এই অবস্থায় রেহেন গ্রহীতাকে বলা হইবে যে, তুমি রেহেনের গুণ বর্ণনা কর। যদি সে বর্ণনা করে তবে তাহাকে এই ব্যাপারে কসমও দেওয়া হইবে। অতঃপর এই ব্যাপারে ওয়াকিফহাল এমন লোক তাহার মূল্য নির্ণয় করবে। যদি নির্ণয় করার মূল্য রেহেনের বস্তুর মূল্যের চাইতে অধিক হয় তবে মুরতাহেনকে বলা হইবে যে, অবশিষ্ট মূল্য রেহেনদাতাকে ফেরত দিয়া দাও। আর যদি সেই নির্ধারিত মূল্য রেহেনের বস্তুর মূল্যের চাইতে কম হয় তবে অবশিষ্ট মূল্য রাহেনকে ফেরত দিতে বলা হইবে। আর যদি সমান হয় তবে আর কোন কথাই থাকিবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, দুইজনের মধ্যে যদি মতভেদ হয় রেহেনদাতা বলে যে, তোমার কাছে উহা আমি দশ দীনার রেহেন রাখিয়াছি, আর রেহেন গ্রহীতা বলে যে, আমি তোমার নিকট হইতে উহা বিশ দীনার প্রদান করার পরিবর্তে গ্রহণ করিয়াছি। আর জিনিস গ্রহীতার নিকট আছে, এই অবস্থায় গ্রহীতাকে কসম দেওয়া হইবে। অতঃপর যদি ঐ অর্থের অংক রেহেনের বস্তুর মূল্যের সমান হয় তবে তো কোন কথাই নাই। আর যদি গ্রহীতার দাবি বিশ দীনার উহা হইতে মূল্য কম হয় তবে রেহেনদাতাকে কসম দেওয়া হইবে। সে মুরতাহেনের হক আদায় করিয়া তাহা (রেহেন বস্তু) গ্রহণ করিতেও পারে, নাও করিতে পারে। উহা দিয়া মুরতাহেন তাহার হক গ্রহণ করিবে। মুরতাহেনকেই প্রথমে কসম দেওয়ান উত্তম, কারণ রেহেনের বস্তুটি তাহার কবজায় আছে।

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, যদি রেহেন বিশ দীনার হইতে কম হয় তবে রেহেন গ্রহীতাকে কসম দেওয়া হইবে। অতঃপর রেহেনদাতাকে বলা হইবে যে, তোমার এখন ইচ্ছা বিশ দীনার আদায় করিয়া নিজ বস্তু লইয়া যাইবে অথবা নিজেও কসম করিবে যে, এত অর্থে আমি উহা রেহেন রাখিয়াছিলাম। যদি কসম করিয়া নেয় তবে রেহেনগ্রহীতা রেহেনের বস্তুর চাইতে যতদূর কর্জের কথা অধিক বলিয়াছিল তাহা তাহার জিম্মী হইতে উঠিয়া যাইবে। আর যদি কসম না করে তবে তাহাকে মুরতাহেনের দাবি যাহা তাহা দিতে হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেন, যদি রেহেনের বস্তু নষ্ট হইয়া যায় এবং তাহাদের নিজ নিজ দাবির মধ্যে মতভেদ হইয়া যায় যেমন রেহেনগ্রহীতা বলে যে, রেহেনের অর্থ বিশ দীনার ছিল। আর রেহেনের মূল্য মাত্র দশ দীনার ছিল। পক্ষান্তরে রেহেনদাতা বলে যে, রেহেনের বস্তুর মূল্য বিশ দীনার এবং রেহেনের বাবদে প্রদত্ত অর্থ দশ দীনার ছিল, তবে এই অবস্থায় রেহেন গ্রহীতাকে বলা হইবে যে, তুমি রেহেনের বস্তুর বর্ণনা দাও। অতঃপর অভিজ্ঞ লোকগণ বর্ণনা অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করবে। যদি মূল্য বিশ দীনারের চাইতে অধিক হয় তবে রেহেনগ্রহীতাকে হলফ করাইয়া যতদূর বেশী হয় দাতাকে দেওয়া হইবে। আর যদি বিশ দীনার হইতে কম হয় তবে রেহেন গ্রহীতাকে কসম দেওয়া হইবে। মূল্য যাহা আদায় হইয়াছে তাহা তো গ্রহীতার, আর বাকির জন্য দাতার নিকট হইতে কসম লওয়া হইবে। যদি সে কসম করে তবে গ্রহীতা দাতার নিকট হইতে কিছুই নিতে পারিবে না। আর কসম না করিলে বিশ দীনার হইতে যত কম তত দীনার দাতার দিতে হইবে।

১৫. জন্তুর কেরায়া এবং তাহার উপর অত্যচার করার ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي كِرَاءِ الدَّابَّةِ وَالتَّعَدِّي بِهَا

1434

قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الرَّجُلِ يَسْتَكْرِي الدَّابَّةَ إِلَى الْمَكَانِ الْمُسَمَّى ثُمَّ يَتَعَدَّى ذَلِكَ الْمَكَانَ وَيَتَقَدَّمُ إِنَّ رَبَّ الدَّابَّةِ يُخَيَّرُ فَإِنْ أَحَبَّ أَنْ يَأْخُذَ كِرَاءَ دَابَّتِهِ إِلَى الْمَكَانِ الَّذِي تُعُدِّيَ بِهَا إِلَيْهِ أُعْطِيَ ذَلِكَ وَيَقْبِضُ دَابَّتَهُ وَلَهُ الْكِرَاءُ الْأَوَّلُ وَإِنْ أَحَبَّ رَبُّ الدَّابَّةِ فَلَهُ قِيمَةُ دَابَّتِهِ مِنْ الْمَكَانِ الَّذِي تَعَدَّى مِنْهُ الْمُسْتَكْرِي وَلَهُ الْكِرَاءُ الْأَوَّلُ إِنْ كَانَ اسْتَكْرَى الدَّابَّةَ الْبَدْأَةَ فَإِنْ كَانَ اسْتَكْرَاهَا ذَاهِبًا وَرَاجِعًا ثُمَّ تَعَدَّى حِينَ بَلَغَ الْبَلَدَ الَّذِي اسْتَكْرَى إِلَيْهِ فَإِنَّمَا لِرَبِّ الدَّابَّةِ نِصْفُ الْكِرَاءِ الْأَوَّلِ وَذَلِكَ أَنَّ الْكِرَاءَ نِصْفُهُ فِي الْبَدْأَةِ وَنِصْفُهُ فِي الرَّجْعَةِ فَتَعَدَّى الْمُتَعَدِّي بِالدَّابَّةِ وَلَمْ يَجِبْ عَلَيْهِ إِلَّا نِصْفُ الْكِرَاءِ الْأَوَّلِ وَلَوْ أَنَّ الدَّابَّةَ هَلَكَتْ حِينَ بَلَغَ بِهَا الْبَلَدَ الَّذِي اسْتَكْرَى إِلَيْهِ لَمْ يَكُنْ عَلَى الْمُسْتَكْرِي ضَمَانٌ وَلَمْ يَكُنْ لِلْمُكْرِي إِلَّا نِصْفُ الْكِرَاءِ قَالَ وَعَلَى ذَلِكَ أَمْرُ أَهْلِ التَّعَدِّي وَالْخِلَافِ لِمَا أَخَذُوا الدَّابَّةَ عَلَيْهِ قَالَ وَكَذَلِكَ أَيْضًا مَنْ أَخَذَ مَالًا قِرَاضًا مِنْ صَاحِبِهِ فَقَالَ لَهُ رَبُّ الْمَالِ لَا تَشْتَرِ بِهِ حَيَوَانًا وَلَا سِلَعًا كَذَا وَكَذَا لِسِلَعٍ يُسَمِّيهَا وَيَنْهَاهُ عَنْهَا وَيَكْرَهُ أَنْ يَضَعَ مَالَهُ فِيهَا فَيَشْتَرِي الَّذِي أَخَذَ الْمَالَ الَّذِي نُهِيَ عَنْهُ يُرِيدُ بِذَلِكَ أَنْ يَضْمَنَ الْمَالَ وَيَذْهَبَ بِرِبْحِ صَاحِبِهِ فَإِذَا صَنَعَ ذَلِكَ فَرَبُّ الْمَالِ بِالْخِيَارِ إِنْ أَحَبَّ أَنْ يَدْخُلَ مَعَهُ فِي السِّلْعَةِ عَلَى مَا شَرَطَا بَيْنَهُمَا مِنْ الرِّبْحِ فَعَلَ وَإِنْ أَحَبَّ فَلَهُ رَأْسُ مَالِهِ ضَامِنًا عَلَى الَّذِي أَخَذَ الْمَالَ وَتَعَدَّى قَالَ وَكَذَلِكَ أَيْضًا الرَّجُلُ يُبْضِعُ مَعَهُ الرَّجُلُ بِضَاعَةً فَيَأْمُرُهُ صَاحِبُ الْمَالِ أَنْ يَشْتَرِيَ لَهُ سِلْعَةً بِاسْمِهَا فَيُخَالِفُ فَيَشْتَرِي بِبِضَاعَتِهِ غَيْرَ مَا أَمَرَهُ بِهِ وَيَتَعَدَّى ذَلِكَ فَإِنَّ صَاحِبَ الْبِضَاعَةِ عَلَيْهِ بِالْخِيَارِ إِنْ أَحَبَّ أَنْ يَأْخُذَ مَا اشْتُرِيَ بِمَالِهِ أَخَذَهُ وَإِنْ أَحَبَّ أَنْ يَكُونَ الْمُبْضِعُ مَعَهُ ضَامِنًا لِرَأْسِ مَالِهِ فَذَلِكَ لَهُ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, যদি কেহ কোন জন্তু কেরায়া নেয় কোন স্থান পর্যন্ত, তাহার পর ঐ স্থানের আরো আগে চলিয়া যায় তবে জন্তুর মালিকের ইখতিয়ার আছে, সে যতদূর অগ্রসর হইয়াছে তাহার ভাড়া লইবে অথবা ঐ দিনের যাহা মূল্য হয় এবং ঐ স্থানের ভাড়াসহ ভাড়াটিয়ার নিকট হইতে লইতে পারিবে। যদি শুধু যাওয়ার ভাড়া নির্ধারিত হয়, তবে এই হুকুম, আর যদি ফিরিবার ভাড়ার কথাও থাকে তবে তাহা হইতে অর্ধেক লইবে; কেননা অর্ধেক যাতায়াতের ছিল, আর অর্ধেক ফিরিবার ছিল। অতঃপর যখন ভাড়াটিয়া সীমালংঘন করিল তখন তাঁহার উপর অর্ধেক ভাড়া ওয়াজিব হইয়াছিল। আর যদি আসা-যাওয়ার জন্য জন্তু ভাড়া করিয়া থাকে এবং গণ্তব্য স্থানে যাওয়ার পর জন্তু মরিয়া যায় তবে ভাড়াটিয়ার উপরে কোন জরিমানা করা যাইবে না এবং মালিক শুধু অর্ধেক ভাড়া পাইবে। এমনিভাবে পুঁজিপতি কারবারকে বলিল যে, অমুক মাল খরিদ করিতে পারিবে না যেমন বিশেষ জন্তু। অতঃপর কারবারী মনে করিল যে, খরিদ করিলে আমিই দায়ী হইব এবং যাহা লাভ হইবে সমস্তই আমি আত্মসাৎ করিব। এই মনে করিয়া এ নিষিদ্ধ মালই খরিদ করিল, তবে এখন পুঁজিপতির ইচ্ছা সে তাহার সাথে কারবারে শরীক থাকিয়া লাভের অংশও গ্রহণ করিতে পারে অথবা নিজের আসল পুঁজি ফিরাইয়া নিতে পারে।

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, এইরূপে মাল খরিদ করার ব্যাপারে পুঁজিপতি যদি বলে যে, অমুক বস্তু খরিদ করিও, আর সে অন্য মাল খরিদ করে, তাহা হইলেও পুঁজিপতির ইচ্ছা, যাহা খরিদ করিয়াছে তাহা গ্রহণও করিতে পারে, আবার মাল না লইয়া আসল মূলধন ফেরতও নিতে পারে।

১৬. কোন স্ত্রীলোকের সাথে জবরদস্তি যিনা করিলে তাহার ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي الْمُسْتَكْرَهَةِ مِنْ النِّسَاءِ

1435
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ مَرْوَانَ قَضَى فِي امْرَأَةٍ أُصِيبَتْ مُسْتَكْرَهَةً بِصَدَاقِهَا عَلَى مَنْ فَعَلَ ذَلِكَ بِهَا
قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الرَّجُلِ يَغْتَصِبُ الْمَرْأَةَ بِكْرًا كَانَتْ أَوْ ثَيِّبًا إِنَّهَا إِنْ كَانَتْ حُرَّةً فَعَلَيْهِ صَدَاقُ مِثْلِهَا وَإِنْ كَانَتْ أَمَةً فَعَلَيْهِ مَا نَقَصَ مِنْ ثَمَنِهَا وَالْعُقُوبَةُ فِي ذَلِكَ عَلَى الْمُغْتَصِبِ وَلَا عُقُوبَةَ عَلَى الْمُغْتَصَبَةِ فِي ذَلِكَ كُلِّهِ وَإِنْ كَانَ الْمُغْتَصِبُ عَبْدًا فَذَلِكَ عَلَى سَيِّدِهِ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ أَنْ يُسَلِّمَهُ

Narrator: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৪. ইবনে যুহরী (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান জবরদস্তিভাবে যিনা করান হইয়াছে এমন স্ত্রীলোকের ফয়সালা এই দিয়াছেন: ব্যভিচার যে করিয়াছে ঐ স্ত্রীলোকটিকে মোহর দান করিবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট এই ফয়সালা যে, যদি কেহ কোন স্ত্রীলোকের উপর জবরদস্তি করে, চাই সে কুমারী হউক অথবা অকুমারী, যদি সে স্বাধীন হয় তবে তাহাকে মোহরে মিসাল দেওয়া আবশ্যক।

আর যদি যে দাসী হয় তবে যিনার দ্বারা যে মূল্য কম হইয়াছে তাহা আদায় করিতে হইবে এবং ব্যভিচারীর শাস্তিও সঙ্গে সঙ্গে হইবে এবং উক্ত স্ত্রীলোকের উপর কোন শাস্তিও হইবে না। আর যদি ব্যভিচারী গোলাম হয় তবে মনিবের জরিমানা দিতে হইবে। কিন্তু যদি গোলামকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে দিয়া দেয় তবে ভিন্ন কথা।

১৭. জন্তু অথবা খাদ্য নষ্টের ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي اسْتِهْلَاكِ الْحَيَوَانِ وَالطَّعَامِ وَغَيْرِهِ

1436

قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِيمَنْ اسْتَهْلَكَ شَيْئًا مِنْ الْحَيَوَانِ بِغَيْرِ إِذْنِ صَاحِبِهِ أَنَّ عَلَيْهِ قِيمَتَهُ يَوْمَ اسْتَهْلَكَهُ لَيْسَ عَلَيْهِ أَنْ يُؤْخَذَ بِمِثْلِهِ مِنْ الْحَيَوَانِ وَلَا يَكُونُ لَهُ أَنْ يُعْطِيَ صَاحِبَهُ فِيمَا اسْتَهْلَكَ شَيْئًا مِنْ الْحَيَوَانِ وَلَكِنْ عَلَيْهِ قِيمَتُهُ يَوْمَ اسْتَهْلَكَهُ الْقِيمَةُ أَعْدَلُ ذَلِكَ فِيمَا بَيْنَهُمَا فِي الْحَيَوَانِ وَالْعُرُوضِ قَالَ وَسَمِعْت مَالِك يَقُولُ فِيمَنْ اسْتَهْلَكَ شَيْئًا مِنْ الطَّعَامِ بِغَيْرِ إِذْنِ صَاحِبِهِ فَإِنَّمَا يَرُدُّ عَلَى صَاحِبِهِ مِثْلَ طَعَامِهِ بِمَكِيلَتِهِ مِنْ صِنْفِهِ وَإِنَّمَا الطَّعَامُ بِمَنْزِلَةِ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ إِنَّمَا يَرُدُّ مِنْ الذَّهَبِ الذَّهَبَ وَمِنْ الْفِضَّةِ الْفِضَّةَ وَلَيْسَ الْحَيَوَانُ بِمَنْزِلَةِ الذَّهَبِ فِي ذَلِكَ فَرَقَ بَيْنَ ذَلِكَ السُّنَّةُ وَالْعَمَلُ الْمَعْمُولُ بِهِ قَالَ يَحْيَى وَسَمِعْت مَالِك يَقُولُ إِذَا اسْتُوْدِعَ الرَّجُلُ مَالًا فَابْتَاعَ بِهِ لِنَفْسِهِ وَرَبِحَ فِيهِ فَإِنَّ ذَلِكَ الرِّبْحَ لَهُ لِأَنَّهُ ضَامِنٌ لِلْمَالِ حَتَّى يُؤَدِّيَهُ إِلَى صَاحِبِهِ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, যদি কেহ মালিকের অনুমতি ছাড়া কোন জন্তু নষ্ট করিয়া ফেলে তবে ঐ দিন জন্তুর যা মূল্য হইবে তাহাই ক্ষতিপূরণ হিসাবে দিতে হইবে। এই ধরনের কোন জন্তু মালিককে দিবে তাহা জায়েয নাই। আর এমনিভাবে সব ক্ষেত্রেই জন্তুর মূল্য দিতে হইবে, ঐরূপ জন্তু দিলে চলিবে না। অন্যান্য জিনিসপত্রেরও এই হুকুম। মালিক (রাহঃ) বলেন যে, যদি কেহ কাহারো খাদ্য নষ্ট করে মালিকের হুকুম ছাড়া, তবে ঐ রকম ও ঐ পরিমাণ খাদ্য মালিককে দিতে হইবে, কেননা খাদ্যের উদাহরণ স্বর্ণ চাঁদির মতো। স্বর্ণের পরিবর্তে স্বর্ণ দেওয়া যায়, রূপার পরিবর্তেও রূপা দেওয়া যায়, আর জন্তু স্বর্ণের মতো নহে। কাজেই এই দুইয়ের মধ্যে এতদূর পার্থক্য বিদ্যমান।

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, যদি কোন ব্যক্তি কাহারো নিকট কিছু আমানত রাখে এবং সে ঐ অর্থ বা সম্পদ দ্বারা জিনিসপত্র খরিদ করিয়া লাভবান হয় তবে ঐ লভ্যাংশ আমানত গ্রহণকারীই পাইবে, কেননা এই মালের জামিন সে-ই, যতক্ষণ না আমানতকারীর কাছে ফেরত দেয়।

১৮. ইসলাম ত্যাগ করিলে তাহার ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِيمَنْ ارْتَدَّ عَنْ الْإِسْلَامِ

1437

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ غَيَّرَ دِينَهُ فَاضْرِبُوا عُنُقَهُ وَمَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا نُرَى وَاللَّهُ أَعْلَمُ مَنْ غَيَّرَ دِينَهُ فَاضْرِبُوا عُنُقَهُ أَنَّهُ مَنْ خَرَجَ مِنْ الْإِسْلَامِ إِلَى غَيْرِهِ مِثْلُ الزَّنَادِقَةِ وَأَشْبَاهِهِمْ فَإِنَّ أُولَئِكَ إِذَا ظُهِرَ عَلَيْهِمْ قُتِلُوا وَلَمْ يُسْتَتَابُوا لِأَنَّهُ لَا تُعْرَفُ تَوْبَتُهُمْ وَأَنَّهُمْ كَانُوا يُسِرُّونَ الْكُفْرَ وَيُعْلِنُونَ الْإِسْلَامَ فَلَا أَرَى أَنْ يُسْتَتَابَ هَؤُلَاءِ وَلَا يُقْبَلُ مِنْهُمْ قَوْلُهُمْ وَأَمَّا مَنْ خَرَجَ مِنْ الْإِسْلَامِ إِلَى غَيْرِهِ وَأَظْهَرَ ذَلِكَ فَإِنَّهُ يُسْتَتَابُ فَإِنْ تَابَ وَإِلَّا قُتِلَ وَذَلِكَ لَوْ أَنَّ قَوْمًا كَانُوا عَلَى ذَلِكَ رَأَيْتُ أَنْ يُدْعَوْا إِلَى الْإِسْلَامِ وَيُسْتَتَابُوا فَإِنْ تَابُوا قُبِلَ ذَلِكَ مِنْهُمْ وَإِنْ لَمْ يَتُوبُوا قُتِلُوا وَلَمْ يَعْنِ بِذَلِكَ فِيمَا نُرَى وَاللَّهُ أَعْلَمُ مَنْ خَرَجَ مِنْ الْيَهُودِيَّةِ إِلَى النَّصْرَانِيَّةِ وَلَا مِنْ النَّصْرَانِيَّةِ إِلَى الْيَهُودِيَّةِ وَلَا مَنْ يُغَيِّرُ دِينَهُ مِنْ أَهْلِ الْأَدْيَانِ كُلِّهَا إِلَّا الْإِسْلَامَ فَمَنْ خَرَجَ مِنْ الْإِسْلَامِ إِلَى غَيْرِهِ وَأَظْهَرَ ذَلِكَ فَذَلِكَ الَّذِي عُنِيَ بِهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ

Narrator: যায়দ ইবনে আসলাম (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৫. যায়দ ইবনে আসলাম (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি নিজ দীন (ধর্ম)-কে পরিবর্তন করে তাহার গর্দান উড়াইয়া দাও। মালিক (রাহঃ) বলেন যে, আমার নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কথা-“যে দীন পরিবর্তন করিয়া ফেলে তাহার গর্দান উড়াইয়া দাও”- এর অর্থ এই যে, কোন মুসলমান ইসলাম ধর্ম ছাড়িয়া দেয় ও ধর্মত্যাগী (যিনদীক) বা এই ধরনের কিছু হইয়া যায় তবে তাহদের উপর মুসলমানগণ বিজয়ী হইলে তাহাদিগকে কতল করিয়া দেওয়ার হুকুম। তাহাদিগকে তওবা করারও সময় দেওয়া হইবে না কারণ তাহাদের তওবার কোন মূল্য নাই। যেহেতু তাহাদের অন্তরে কুফর অংকিত হইয়া গিয়াছে, ফলে তাহারা প্রকাশ্যে ইসলাম প্রকাশ করিবে এবং অন্তরে কুফরী করিতে থাকিবে। আর যে ব্যক্তি কোন কারণে ইসলাম হইতে বাহির হইয়া যায় তবে তাহাকে তওবা করাইবে। আর যদি তওবা করিতে অস্বীকার করে তবে হত্যা করিয়া দিবে। আর যদি কোন কাফের অন্য কোন কুফরী ধর্ম গ্রহণ করে যেমন ইহুদী হইতে নাসারা হইয়া গেল তবে সে তাহার দীন পরিবর্তন করিয়াছে বলিয়া এই হাদীস বোঝা যায় না। এই হাদীস দ্বারা একমাত্র ইসলাম হইতে বহিষ্কার হওয়ার হুকুম প্রকাশ পায়।

1438

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ قَدِمَ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَجُلٌ مِنْ قِبَلِ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ فَسَأَلَهُ عَنْ النَّاسِ فَأَخْبَرَهُ ثُمَّ قَالَ لَهُ عُمَرُ هَلْ كَانَ فِيكُمْ مِنْ مُغَرِّبَةِ خَبَرٍ فَقَالَ نَعَمْ رَجُلٌ كَفَرَ بَعْدَ إِسْلَامِهِ قَالَ فَمَا فَعَلْتُمْ بِهِ قَالَ قَرَّبْنَاهُ فَضَرَبْنَا عُنُقَهُ فَقَالَ عُمَرُ أَفَلَا حَبَسْتُمُوهُ ثَلَاثًا وَأَطْعَمْتُمُوهُ كُلَّ يَوْمٍ رَغِيفًا وَاسْتَتَبْتُمُوهُ لَعَلَّهُ يَتُوبُ وَيُرَاجِعُ أَمْرَ اللَّهِ ثُمَّ قَالَ عُمَرُ اللَّهُمَّ إِنِّي لَمْ أَحْضُرْ وَلَمْ آمُرْ وَلَمْ أَرْضَ إِذْ بَلَغَنِي

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ১৬. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন যে, আবু মুসা আশ’আরী (রাযিঃ)-এর নিকট হইতে এক ব্যক্তি উমর (রাযিঃ)-এর নিকট আসিল। উমর (রাযিঃ) তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন সেখানের লোকের কি অবস্থা? সে সেখানের অবস্থা বর্ণনা করিল। অতঃপর উমর (রাযিঃ) বললেন, সেখানে কোন নূতন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করার পর আবার কাফের হইয়া গেলে তোমরা তাহাকে কি করিয়াছ? সে বলিল, তাহাকে বন্দী করিয়া শিরোচ্ছেদ করিয়াছি। উমর (রাযিঃ) বললেন, তোমরা যদি তাহাকে তিন দিন পর্যন্ত বন্দী করিয়া রাখিতে আর খাইতে শুধু ১টি রুটি দিতে এবং তওবা করাইতে তবে হয়ত সে তওবা করিত এবং আল্লাহর দ্বীনের দিকে আসিয়া যাইত। অতঃপর উমর (রাযিঃ) বলিলেন, হে আল্লাহ আমি ঐ কাজে শামিল ছিলাম না, মারার হুকুমও দেই নাই, কিংবা তাহার খবর শুনিয়াও খুশী হই নাই।

১৯. কেহ যদি নিজ স্ত্রীর সাথে অপর পুরুষকে দেখে তবে তাহার ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِيمَنْ وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا

1439

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَأَيْتَ إِنْ وَجَدْتُ مَعَ امْرَأَتِي رَجُلًا أَأُمْهِلُهُ حَتَّى آتِيَ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ১৭. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন যে, আমি যদি আমার স্ত্রীর সাথে অপর লোককে দেখি তবে কি তাহাকে সময় দিব যতক্ষণ চারজন সাক্ষী যোগাড় না করিতে পারি? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেন, হ্যাঁ।

1440

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الشَّامِ يُقَالُ لَهُ ابْنُ خَيْبَرِيٍّ وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا فَقَتَلَهُ أَوْ قَتَلَهُمَا مَعًا فَأَشْكَلَ عَلَى مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ الْقَضَاءُ فِيهِ فَكَتَبَ إِلَى أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ يَسْأَلُ لَهُ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ عَنْ ذَلِكَ فَسَأَلَ أَبُو مُوسَى عَنْ ذَلِكَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ إِنَّ هَذَا الشَّيْءَ مَا هُوَ بِأَرْضِي عَزَمْتُ عَلَيْكَ لَتُخْبِرَنِّي فَقَالَ لَهُ أَبُو مُوسَى كَتَبَ إِلَيَّ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ أَنْ أَسْأَلَكَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ عَلِيٌّ أَنَا أَبُو حَسَنٍ إِنْ لَمْ يَأْتِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ فَلْيُعْطَ بِرُمَّتِهِ

Narrator: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

রেওয়ায়ত ১৮. সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব হইতে বর্ণিত একজন সিরিয়াবাসী তাহার স্ত্রীর সাথে অপর একজনকে (লিপ্ত) দেখিতে পাইয়া তাহাকে অথবা দুইজনকে মারিয়া ফেলিল। মু’আবিয়া (রাযিঃ) আবু মুসা আশ আরী (রাযিঃ)-এর নিকট লিখিয়া পাঠাইলেন যে, আলী (রাযিঃ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করিয়া আমাকে জানাও তাহার কি সমাধান? অতঃপর আবু মুসা (রাযিঃ) তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন। তিনি বলেন, এই ঘটনা আমার দেশের বলিয়া মনে হয় না। সত্য করিয়া বল কোন দেশের ঘটনা, আমার মনে হয় তুমি আমাকে পরীক্ষা করিতেছ। আবু মুসা (রাযিঃ) বলিলেন, মু’আবিয়া (রাযিঃ) আমার নিকট লিখিয়া পাঠাইয়াছেন আপনাকে জিজ্ঞাসা করার জন্য; আলী (রাযিঃ) বলিলেন, আমি হইলাম আবুল হাসান (হাসানের পিতা) যদি চার জন সাক্ষী আনিতে পারে তবে যেন তাহাকে উত্তমরূপে বন্দী করা হয়।

২০. হারানো প্রাপ্তির ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي الْمَنْبُوذِ

1441
قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سُنَيْنٍ أَبِي جَمِيلَةَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ أَنَّهُ وَجَدَ مَنْبُوذًا فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ فَجِئْتُ بِهِ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ مَا حَمَلَكَ عَلَى أَخْذِ هَذِهِ النَّسَمَةِ فَقَالَ وَجَدْتُهَا ضَائِعَةً فَأَخَذْتُهَا فَقَالَ لَهُ عَرِيفُهُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّهُ رَجُلٌ صَالِحٌ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ أَكَذَلِكَ قَالَ نَعَمْ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ اذْهَبْ فَهُوَ حُرٌّ وَلَكَ وَلَاؤُهُ وَعَلَيْنَا نَفَقَتُهُ
قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الْمَنْبُوذِ أَنَّهُ حُرٌّ وَأَنَّ وَلَاءَهُ لِلْمُسْلِمِينَ هُمْ يَرِثُونَهُ وَيَعْقِلُونَ عَنْهُ

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ১৯. সুনাইন ইবনে আবী জমিলা (রাহঃ) বনী সুলায়মান বংশোদ্ভূত, তিনি উমর (রাযিঃ)-এর জামানায় একটি শিশু পাইয়াছিলেন। তিনি বলেন যে, তাহাকে আমি উঠাইয়া উমর (রাযিঃ)-এর দরবারে হাযির হইলাম। উমর (রাযিঃ) বলিলেন, তুমি তাহাকে কেন উঠাইয়াছ? তিনি বলিলেন, আমি তাহাকে উঠাইয়া না আনিলে সে ধ্বংস হইয়া যাইত। এমন সময় পরিচিত এক ব্যক্তি বলিল, হে আমিরুল মু’মিনীন, আমি এই ব্যক্তিকে চিনি, সে খুব নেককার লোক। উমর (রাযিঃ) বলিলেন, সত্যই কি সে নেককার? সে বলিল, হ্যাঁ। অতঃপর উমর (রাযিঃ) বলিলেন, তুমি চলিয়া যাও, এই সন্তান আযাদ (মুক্ত), তুমি তাহার অভিভাবকত্ব পাইবে। আর আমরা তাহার খরচাদি বহন করিব।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকট হারানো প্রাপ্ত সন্তান আযাদ। তাহার অভিভাবকত্ব মুসলমানদের জন্য, তাহারাই তাহার উত্তরাধিকারী এবং তাহারাই তাহার পক্ষে হইতে দীয়্যত (ক্ষতিপূরণ) দেবে।

২১. সন্তানকে তাহার পিতার সাথে সংযোগ করা

بَاب الْقَضَاءِ بِإِلْحَاقِ الْوَلَدِ بِأَبِيهِ

1442

قَالَ يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ عُتْبَةُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ عَهِدَ إِلَى أَخِيهِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَنَّ ابْنَ وَلِيدَةِ زَمْعَةَ مِنِّي فَاقْبِضْهُ إِلَيْكَ قَالَتْ فَلَمَّا كَانَ عَامُ الْفَتْحِ أَخَذَهُ سَعْدٌ وَقَالَ ابْنُ أَخِي قَدْ كَانَ عَهِدَ إِلَيَّ فِيهِ فَقَامَ إِلَيْهِ عَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ فَقَالَ أَخِي وَابْنُ وَلِيدَةِ أَبِي وُلِدَ عَلَى فِرَاشِهِ فَتَسَاوَقَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ ابْنُ أَخِي قَدْ كَانَ عَهِدَ إِلَيَّ فِيهِ وَقَالَ عَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ أَخِي وَابْنُ وَلِيدَةِ أَبِي وُلِدَ عَلَى فِرَاشِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ لَكَ يَا عَبْدُ بْنَ زَمْعَةَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ ثُمَّ قَالَ لِسَوْدَةَ بِنْتِ زَمْعَةَ احْتَجِبِي مِنْهُ لِمَا رَأَى مِنْ شَبَهِهِ بِعُتْبَةَ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَتْ فَمَا رَآهَا حَتَّى لَقِيَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ২০. নবী করীম (ﷺ)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেন, উতবা ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) মৃত্যুর সময় তাহার ভাই সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসকে বলিয়া গিয়াছিলেন যে, যামআ’-এর দাসীর সন্তান আমার, তুমি তাহাকে লইয়া আসিও। আয়েশা (রাযিঃ) বলেন যে, মক্কা বিজয়ের দিন সা’দ ঐ সন্তানকে আনিলেন ও গ্রহণ করিলেন এবং তিনি বলিলেন, সে আমার ভাই-এর সন্তান। তিনি আমাকে মৃত্যুর সময় অঙ্গীকার করাইয়াছিলেন। এইদিকে আব্দ ইবনে যামআ (রাযিঃ) বলিলেন, সে আমার ভাই এবং আমার পিতার দাসীর ছেলে ও আমার পিতার ঘরে জন্মগ্রহণ করিয়াছে। অবশেষে দুইজন বিতর্ক করিয়া রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট আসিলেন। সা’দ বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ সে আমার ভাইয়ের সন্তান, মৃত্যুকালে আমার ভাই আমাকে অঙ্গীকার করাইয়া গিয়াছিল। অতঃপর আব্দ ইবনে যামআ’ বলিলেন, আমার ভাই আমার পিতার দাসীর গর্ভে ও আমার পিতার ঘরে জন্মগ্রহণ করিয়াছে। তাহার পর সব শুনিয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেন, ‘হে আব্দ ইবনে যামআ’, সে তোমারই ভাই, সে তোমারই কাছে থাকিবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেন, সন্তান তাহার মাতার স্বামীর অথবা মনিবেরই হইয়া থাকে আর ব্যভিচারীর জন্য প্রস্তরই নির্ধারিত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাওদা বিনুত যামআকে বলেন, হে সাওদা! এই সন্তান হইতে পর্দা কর, কেননা তাহার আকৃতি উৎবার সদৃশ। অতঃপর সে আর সাওদাকে তাহার মৃত্যু পর্যন্ত দেখে নাই।

1443

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهَادِي عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ أَنَّ امْرَأَةً هَلَكَ عَنْهَا زَوْجُهَا فَاعْتَدَّتْ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ثُمَّ تَزَوَّجَتْ حِينَ حَلَّتْ فَمَكَثَتْ عِنْدَ زَوْجِهَا أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَنِصْفَ شَهْرٍ ثُمَّ وَلَدَتْ وَلَدًا تَامًّا فَجَاءَ زَوْجُهَا إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَدَعَا عُمَرُ نِسْوَةً مِنْ نِسَاءِ الْجَاهِلِيَّةِ قُدَمَاءَ فَسَأَلَهُنَّ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَتْ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ أَنَا أُخْبِرُكَ عَنْ هَذِهِ الْمَرْأَةِ هَلَكَ عَنْهَا زَوْجُهَا حِينَ حَمَلَتْ مِنْهُ فَأُهْرِيقَتْ عَلَيْهِ الدِّمَاءُ فَحَشَّ وَلَدُهَا فِي بَطْنِهَا فَلَمَّا أَصَابَهَا زَوْجُهَا الَّذِي نَكَحَهَا وَأَصَابَ الْوَلَدَ الْمَاءُ تَحَرَّكَ الْوَلَدُ فِي بَطْنِهَا وَكَبِرَ فَصَدَّقَهَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا وَقَالَ عُمَرُ أَمَا إِنَّهُ لَمْ يَبْلُغْنِي عَنْكُمَا إِلَّا خَيْرٌ وَأَلْحَقَ الْوَلَدَ بِالْأَوَّلِ

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ২১. আব্দুল্লাহ ইবনে আবী উমাইয়া (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত যে, এক স্ত্রীলোকের স্বামীর ইন্‌তিকাল হয়। অতঃপর চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করার পর অন্য একজনের নিকট তাহার বিবাহ হয়। বিবাহের পর সেই স্বামীর নিকট সাড়ে চার মাস অতিবাহিত করার পর তাহার একটি পূর্ণাঙ্গ সন্তান ভূমিষ্ঠ হইল। অতঃপর তাহার স্বামী উমর (রাযিঃ)-এর নিকট আসিয়া সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করিল। উমর (রাযিঃ) অন্ধকার যুগের কয়েকজন বৃদ্ধা স্ত্রীলোককে ডাকাইলেন এবং তাহাদিগকে এই সম্বন্ধে প্রশ্ন করিলেন। তখন তাহাদের একজন বলিল, আমি আপনাকে তাহার বৃত্তান্ত বলিতেছি। এই স্ত্রীলোকটি তাহার মৃত স্বামী হইতে গর্ভবতী হইয়াছিল। সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় তাহার রক্তস্রাব হইল, ইহাতে সন্তান শুকাইয়া যায়। অতঃপর দ্বিতীয় বিবাহের পর স্বামী তাহার সহিত সংগত হওয়ায় সন্তানের উপর পুরুষের বীর্য পতিত হয়। ইহাতে সন্তান নড়াচড়া করে এবং বড় হইতে থাকে। অতঃপর উমর (রাযিঃ) তাহাদের কথা সত্য বলিয়া মানিলেন এবং বিবাহ ভঙ্গ করিয়া দিলেন এবং বলিলেন যে, তোমাদের সম্বন্ধে কোন খারাপ কথা আমি শুনি নাই। অতঃপর সন্তানটি প্রথম স্বামীর ঔরসজাত বলিয়া সিদ্ধান্ত দিলেন।

1444

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَانَ يُلِيطُ أَوْلَادَ الْجَاهِلِيَّةِ بِمَنْ ادَّعَاهُمْ فِي الْإِسْلَامِ فَأَتَى رَجُلَانِ كِلَاهُمَا يَدَّعِي وَلَدَ امْرَأَةٍ فَدَعَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَائِفًا فَنَظَرَ إِلَيْهِمَا فَقَالَ الْقَائِفُ لَقَدْ اشْتَرَكَا فِيهِ فَضَرَبَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ بِالدِّرَّةِ ثُمَّ دَعَا الْمَرْأَةَ فَقَالَ أَخْبِرِينِي خَبَرَكِ فَقَالَتْ كَانَ هَذَا لِأَحَدِ الرَّجُلَيْنِ يَأْتِينِي وَهِيَ فِي إِبِلٍ لِأَهْلِهَا فَلَا يُفَارِقُهَا حَتَّى يَظُنَّ وَتَظُنَّ أَنَّهُ قَدْ اسْتَمَرَّ بِهَا حَبَلٌ ثُمَّ انْصَرَفَ عَنْهَا فَأُهْرِيقَتْ عَلَيْهِ دِمَاءٌ ثُمَّ خَلَفَ عَلَيْهَا هَذَا تَعْنِي الْآخَرَ فَلَا أَدْرِي مِنْ أَيِّهِمَا هُوَ قَالَ فَكَبَّرَ الْقَائِفُ فَقَالَ عُمَرُ لِلْغُلَامِ وَالِ أَيَّهُمَا شِئْتَ

Narrator: সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২২. সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর (রাযিঃ) অন্ধকার যুগের সন্তানকে যদি কেহ ইসলামের যুগে দাবি করিত তবে তাহার সাথে মিলাইয়া দিতেন। একবার দুইজন লোক একটি সন্তানকে নিজের বলিয়া দাবি করে। অতঃপর উমর (রাযিঃ) কেয়াফাবিদকে (লক্ষণ দেখিয়া পরিচয় নির্ণয়কারী) ডাকিয়া পাঠাইলেন। কেয়াফাবিশারদ সন্তানকে দেখিয়া বলিল, সন্তান দুইজনেরই। অতঃপর উমর (রাযিঃ) তাহাকে দোররা দ্বারা আঘাত করিলেন। তাহার পর সম্ভানের মাতাকে ডাকাইয়া বলিলেন তোমার বৃত্তান্ত খুলিয়া বল। সে একজনের দিকে ইঙ্গিত করিয়া বলিল যে, সে আমার নিকট আসা-যাওয়া করিত এবং আমি আমার বাড়ির উটের ঘরের কাছে থাকিতাম। ঐ সময়ে সে আমার সাথে সঙ্গম করিত। অতঃপর সে যখন ধারণা করিতে পারিল যে, আমি গর্ভবতী হইয়াছি তখন সে আর কাছে আসিত না, আর আমার রক্তস্রাব দেখা যাইত। তারপর এই দ্বিতীয়জন তাহার পর আমার নিকট আসিল। সেও আমার সহিত সঙ্গম করিল। এখন আমি জানি না, এই সন্তান দুইজনের মধ্য হইতে কাহার। ইহা শুনিয়া কেয়াফাবিদ খুশিতে আল্লাহু আকবার (আল্লাহ্ মহান) বলিয়া উঠিল। অতঃপর উমর (রাযিঃ) সন্তানকে বলিলেন, যাহার সাথে খুশি তুমি যাইতে পার।

1445

وَحَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ أَوْ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ قَضَى أَحَدُهُمَا فِي امْرَأَةٍ غَرَّتْ رَجُلًا بِنَفْسِهَا وَذَكَرَتْ أَنَّهَا حُرَّةٌ فَتَزَوَّجَهَا فَوَلَدَتْ لَهُ أَوْلَادًا فَقَضَى أَنْ يَفْدِيَ وَلَدَهُ بِمِثْلِهِمْ قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ وَالْقِيمَةُ أَعْدَلُ فِي هَذَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২৩. মালিক (রাহঃ) বলেন যে, উমর (রাযিঃ) অথবা উসমান (রাযিঃ) এই দুইজনের মধ্যে একজন এক স্ত্রীলোকের ফয়সালা করিয়াছিলেন। সেই স্ত্রীলোকটি ধোঁকা দিয়া একজনকে বলিল, আমি আযাদ এবং তাহার সহিত বিবাহ বন্ধনে আব্দ্ধ হইল। অতঃপর তাহাদের সন্তান হইয়াছিল। ফয়সালা দেওয়া হইয়াছিল, স্বামী তাহার সন্তানের মতো বালক-বালিকা স্ত্রীলোকটির মনিবকে দিবে এবং নিজের সন্তান মুক্ত করিয়া লইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেন, এই স্থানে মূল্য দান করিয়া দেওয়াই উত্তম।

২২. যে সন্তানকে পিতার সাথে মিলানো হইয়াছে তাহার মীরাসের ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي مِيرَاثِ الْوَلَدِ الْمُسْتَلْحَقِ

1446

قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا فِي الرَّجُلِ يَهْلِكُ وَلَهُ بَنُونَ فَيَقُولُ أَحَدُهُمْ قَدْ أَقَرَّ أَبِي أَنَّ فُلَانًا ابْنُهُ إِنَّ ذَلِكَ النَّسَبَ لَا يَثْبُتُ بِشَهَادَةِ إِنْسَانٍ وَاحِدٍ وَلَا يَجُوزُ إِقْرَارُ الَّذِي أَقَرَّ إِلَّا عَلَى نَفْسِهِ فِي حِصَّتِهِ مِنْ مَالِ أَبِيهِ يُعْطَى الَّذِي شَهِدَ لَهُ قَدْرَ مَا يُصِيبُهُ مِنْ الْمَالِ الَّذِي بِيَدِهِ قَالَ مَالِك وَتَفْسِيرُ ذَلِكَ أَنْ يَهْلِكَ الرَّجُلُ وَيَتْرُكَ ابْنَيْنِ لَهُ وَيَتْرُكَ سِتَّ مِائَةِ دِينَارٍ فَيَأْخُذُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا ثَلَاثَ مِائَةِ دِينَارٍ ثُمَّ يَشْهَدُ أَحَدُهُمَا أَنَّ أَبَاهُ الْهَالِكَ أَقَرَّ أَنَّ فُلَانًا ابْنُهُ فَيَكُونُ عَلَى الَّذِي شَهِدَ لِلَّذِي اسْتُلْحِقَ مِائَةُ دِينَارٍ وَذَلِكَ نِصْفُ مِيرَاثِ الْمُسْتَلْحَقِ لَوْ لَحِقَ وَلَوْ أَقَرَّ لَهُ الْآخَرُ أَخَذَ الْمِائَةَ الْأُخْرَى فَاسْتَكْمَلَ حَقَّهُ وَثَبَتَ نَسَبُهُ وَهُوَ أَيْضًا بِمَنْزِلَةِ الْمَرْأَةِ تُقِرُّ بِالدَّيْنِ عَلَى أَبِيهَا أَوْ عَلَى زَوْجِهَا وَيُنْكِرُ ذَلِكَ الْوَرَثَةُ فَعَلَيْهَا أَنْ تَدْفَعَ إِلَى الَّذِي أَقَرَّتْ لَهُ بِالدَّيْنِ قَدْرَ الَّذِي يُصِيبُهَا مِنْ ذَلِكَ الدَّيْنِ لَوْ ثَبَتَ عَلَى الْوَرَثَةِ كُلِّهِمْ إِنْ كَانَتْ امْرَأَةً وَرِثَتْ الثُّمُنَ دَفَعَتْ إِلَى الْغَرِيمِ ثُمُنَ دَيْنِهِ وَإِنْ كَانَتْ ابْنَةً وَرِثَتْ النِّصْفَ دَفَعَتْ إِلَى الْغَرِيمِ نِصْفَ دَيْنِهِ عَلَى حِسَابِ هَذَا يَدْفَعُ إِلَيْهِ مَنْ أَقَرَّ لَهُ مِنْ النِّسَاءِ قَالَ مَالِك وَإِنْ شَهِدَ رَجُلٌ عَلَى مِثْلِ مَا شَهِدَتْ بِهِ الْمَرْأَةُ أَنَّ لِفُلَانٍ عَلَى أَبِيهِ دَيْنًا أُحْلِفَ صَاحِبُ الدَّيْنِ مَعَ شَهَادَةِ شَاهِدِهِ وَأُعْطِيَ الْغَرِيمُ حَقَّهُ كُلَّهُ وَلَيْسَ هَذَا بِمَنْزِلَةِ الْمَرْأَةِ لِأَنَّ الرَّجُلَ تَجُوزُ شَهَادَتُهُ وَيَكُونُ عَلَى صَاحِبِ الدَّيْنِ مَعَ شَهَادَةِ شَاهِدِهِ أَنْ يَحْلِفَ وَيَأْخُذَ حَقَّهُ كُلَّهُ فَإِنْ لَمْ يَحْلِفْ أَخَذَ مِنْ مِيرَاثِ الَّذِي أَقَرَّ لَهُ قَدْرَ مَا يُصِيبُهُ مِنْ ذَلِكَ الدَّيْنِ لِأَنَّهُ أَقَرَّ بِحَقِّهِ وَأَنْكَرَ الْوَرَثَةُ وَجَازَ عَلَيْهِ إِقْرَارُهُ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমার নিকট ইহা একটি সর্বসম্মত মাসআলা। কোন ব্যক্তি মারা যাওয়ার সময় কয়েকটি সন্তান রাখিয়া গেল। তাহাদের মধ্য হইতে কেহ বলিল, আমার পিতা বলিয়া গিয়াছেন অমুক ব্যক্তি আমার ছেলে। এই অবস্থায় একজনের সাক্ষ্যে পুত্রের সম্পর্ক প্রমাণিত হইবে না এবং সম্পত্তিও সে পাইবে না। তবে যে ছেলে স্বীকার করিয়াছে তাহার অংশ হইতে সে অংশ পাইবে।

মালিক (রাহঃ) ইহার ব্যাখ্যায় বলিয়াছেন যে, এক ব্যক্তি দুই ছেলে রাখিয়া মারা গেল এবং ছয়শত দীনার রাখিয়া গেল। দুই ছেলে এখান হইতে তিনশত করিয়া পাইল। তাহার পর এক ছেলে বলিল আমাদের মৃত পিতা বলিয়াছিলেন যে, ঐ ব্যক্তি তাহার ছেলে। তখন সে স্বীকার করিল তাহার তিনশত দীনার হইতে একশত দীনার সেই ব্যক্তি পাইবে, কেননা, সে মৃত ব্যক্তির ছেলে হিসাবে এই অর্ধেক অংশ পাইবে। অর্থাৎ সে ছেলে প্রমাণিত হইলে দুইশত দীনার পাইত, এখন একশত দীনার পাইয়াছে। আর যদি দ্বিতীয় ছেলেও স্বীকার করে তবে তাহার নিকট হইতেও একশত পাইবে এবং তাহার হক পূর্ণ হইবে এবং তাহার বংশও মৃত ব্যক্তি হইতে প্রমাণিত হইল। তাহার আর একটি উদাহরণ এই : কোন স্ত্রীলোক তাহার পিতা অথবা স্বামীর ঋণের কথা স্বীকার করে আর অন্যান্য অংশীদার অস্বীকার করে, এ অবস্থায় সে নিজ অংশ অনুপাতে নিজ হইতে কর্জ আদায় করিবে। স্ত্রীলোকটি যদি এক-অষ্টমাংশ পায় তবে ঋণেরও এক-অষ্টমাংশ আদায় করিবে, আর যদি পিতার সম্পত্তি অর্ধেক পায় তবে ঋণেরও অর্ধাংশ আদায় করিবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি কোন পুরুষ ঋণের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয় যেমন স্ত্রীলোকটি স্বীকার করিয়াছে, যথা এই মৃতের নিকট তাহার এই পরিমাণ পাওনা আছে তবে ঋণদাতার নিকট হইতে কসম গ্রহণ করা হইবে এবং ঋণদাতার পূর্ণ কর্জ শোধ করা হইবে। কেননা এই ব্যাপার স্ত্রীলোকটির ব্যাপারের মতো নয়, কেননা পুরুষের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য। আর যদি কৰ্জদার কসম না করে, তবে যে স্বীকার করিয়াছে শুধু তাহার নিবাস হইতে কর্জদারকে দেওয়া হইবে তাহার হিস্যা অনুযায়ী।

২৩. উম্মে ওয়ালদের ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي أُمَّهَاتِ الْأَوْلَادِ

1447

قَالَ يَحْيَى قَالَ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ مَا بَالُ رِجَالٍ يَطَئُونَ وَلَائِدَهُمْ ثُمَّ يَعْزِلُوهُنَّ لَا تَأْتِينِي وَلِيدَةٌ يَعْتَرِفُ سَيِّدُهَا أَنْ قَدْ أَلَمَّ بِهَا إِلَّا أَلْحَقْتُ بِهِ وَلَدَهَا فَاعْزِلُوا بَعْدُ أَوْ اتْرُكُوا

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ২৪. ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, উমর (রাযিঃ) বলেন যে, লোকদের হইল কি, তাহারা দাসীদের সাথে সহবাস করে এবং আযল* করে। ভবিষ্যতে যদি কোন দাসী আমার নিকট আসে এবং তাহার মনিব তাহার সাথে সঙ্গম করার স্বীকারোক্তি করে তবে আমি ঐ সন্তানকে মনিবের সাথে মিলিত করিয়া দিব, এখন তোমরা চাই আযল কর, চাই আযল না কর।

1448
وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ نَافِعٍ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ أَبِي عُبَيْدٍ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ مَا بَالُ رِجَالٍ يَطَئُونَ وَلَائِدَهُمْ ثُمَّ يَدَعُوهُنَّ يَخْرُجْنَ لَا تَأْتِينِي وَلِيدَةٌ يَعْتَرِفُ سَيِّدُهَا أَنْ قَدْ أَلَمَّ بِهَا إِلَّا قَدْ أَلْحَقْتُ بِهِ وَلَدَهَا فَأَرْسِلُوهُنَّ بَعْدُ أَوْ أَمْسِكُوهُنَّ
قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِي أُمِّ الْوَلَدِ إِذَا جَنَتْ جِنَايَةً ضَمِنَ سَيِّدُهَا مَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ قِيمَتِهَا وَلَيْسَ لَهُ أَنْ يُسَلِّمَهَا وَلَيْسَ عَلَيْهِ أَنْ يَحْمِلَ مِنْ جِنَايَتِهَا أَكْثَرَ مِنْ قِيمَتِهَا

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ২৫. সফিয়া বিনতে আবী উবায়দ (রাহঃ) হইত বর্ণিত, উমর (রাযিঃ) বলেন, মানুষের হইল কি? তাহারা দাসীর সাথে সহবাস করে। অতঃপর তাহাকে ছাড়িয়া দেয়। এখন হইতে যদি এমন কোন দাসী আমার নিকট আসে যাহার মনিব তাহার সাথে সঙ্গম করার স্বীকারোক্তি করে তবে সন্তানের বংশ তাহার সাথে জুড়িয়া দিব। এখন তোমরা তাহাকে ছাড়িয়া দাও, চাই রাখিয়া দাও।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ এই ব্যাপারে আমার মত এই যে, যদি কোন দাসী ক্ষতিকর কার্য করে তবে তাহার ক্ষতিপূরণ তাহার মনিব আদায় করিবে। দাসীকে ক্ষতির পরিবর্তে দেওয়া যাইবে না। কিন্তু যদি জরিমানা তাহার মূল্যের চাইতে বেশী হয় তবে তাহা ভিন্ন কথা।

২৪. পতিত জমিকে আবাদ করার ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي عِمَارَةِ الْمَوَاتِ

1449

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيِّتَةً فَهِيَ لَهُ وَلَيْسَ لِعِرْقٍ ظَالِمٍ حَقٌّ قَالَ مَالِك وَالْعِرْقُ الظَّالِمُ كُلُّ مَا احْتُفِرَ أَوْ أُخِذَ أَوْ غُرِسَ بِغَيْرِ حَقٍّ

Narrator: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

রেওয়ায়ত ২৬. উরওয়া ইবনে যুবায়র (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, যদি কেহ কোন পতিত জমি আবাদ করে তবে উহা তাহারই হইবে। উহাতে কোন জালিমের অধিকার নাই।

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, জালিমের দখল বলিতে বোঝায় যে, জবরদস্তি কোন জমিতে গর্ত খনন, কিংবা গাছ লাগান, অথবা অন্য উপায়ে কজা করা। অথচ উহাতে তাহার কোন হক (অধিকার) নাই।
1450

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيِّتَةً فَهِيَ لَهُ قَالَ مَالِك وَعَلَى ذَلِكَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

রেওয়ায়ত ২৭. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, উমর (রাযিঃ) বলিয়াছেন, যদি কেহ অনাবাদী জমি আবাদ করে তাহা তাহারই হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ আমাদের নিকটও এই হুকুম।

২৫. পানির ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي الْمِيَاهِ

1451

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي سَيْلِ مَهْزُورٍ وَمُذَيْنِبٍ يُمْسَكُ حَتَّى الْكَعْبَيْنِ ثُمَّ يُرْسِلُ الْأَعْلَى عَلَى الْأَسْفَلِ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ২৮. আব্দুল্লাহ ইবনে আবী বকর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ), মাহযুর ও মুযায়ানব নামক দুইটি খাল সম্বন্ধে বলিয়াছেন যে, যাহার ক্ষেত খাল সংলগ্ন সে যেন টাখনু (পায়ের গোড়ালি) পর্যন্ত পানি রাখিয়া নিম্ন এলাকার ক্ষেতসমূহের জন্য পানি ছাড়িয়া দেয়।

1452

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يُمْنَعُ فَضْلُ الْمَاءِ لِيُمْنَعَ بِهِ الْكَلَأُ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ২৯. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন, দরকারের চাইতে অধিক পানি বন্ধ রাখা উচিত নহে, কেননা তাহার ফলে উক্ত এলাকায় ঘাস জন্মানও বন্ধ হইয়া যাইবে।

1453

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ أَبِي الرِّجَالِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أُمِّهِ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يُمْنَعُ نَقْعُ بِئْرٍ

Narrator: আমরাহ বিনতে আব্দুর রহমান (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩০. আমরাহ বিনতে আব্দির রহমান (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিয়াছেন যে, কূপের অবশিষ্ট পানি হইতে মানুষকে নিষেধ করা উচিত নহে।

২৬. উপকার সাধন-এর লক্ষ্যে ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي الْمَرْفِقِ

1454

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ

Narrator: ইয়াহয়া ইবনে উমারা মাযিনী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩১. ইয়াহইয়া মাযেনী (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেন যে, নিজের স্বার্থে অন্যের ক্ষতি করিবে না, তদ্রূপ পরস্পর কাহারও ক্ষতি করিবে না।

1455

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَمْنَعُ أَحَدُكُمْ جَارَهُ خَشَبَةً يَغْرِزُهَا فِي جِدَارِهِ ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ مَا لِي أَرَاكُمْ عَنْهَا مُعْرِضِينَ وَاللَّهِ لَأَرْمِيَنَّ بِهَا بَيْنَ أَكْتَافِكُمْ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

রেওয়ায়ত ৩২. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেন, কোন মুসলমানের পক্ষে তাহার প্রতিবেশীকে স্বীয় ঘরের দেওয়ালে কোন কাঠ গাড়িতে নিষেধ করা উচিত হইবে না। অতঃপর আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন যে, ব্যাপার কি, এই হাদীস শোনার পর তাহাদিগকে মুখ ফিরাইয়া রাখিতে দেখি কেন? আল্লাহর কসম, আমি এই হাদীস তোমাদের স্কন্ধের উপর ফেলিব অর্থাৎ খুব প্রচার করিব।

1456

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ الضَّحَّاكَ بْنَ خَلِيفَةَ سَاقَ خَلِيجًا لَهُ مِنْ الْعُرَيْضِ فَأَرَادَ أَنْ يَمُرَّ بِهِ فِي أَرْضِ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْلَمَةَ فَأَبَى مُحَمَّدٌ فَقَالَ لَهُ الضَّحَّاكُ لِمَ تَمْنَعُنِي وَهُوَ لَكَ مَنْفَعَةٌ تَشْرَبُ بِهِ أَوَّلًا وَآخِرًا وَلَا يَضُرُّكَ فَأَبَى مُحَمَّدٌ فَكَلَّمَ فِيهِ الضَّحَّاكُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَدَعَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ مُحَمَّدَ بْنَ مَسْلَمَةَ فَأَمَرَهُ أَنْ يُخَلِّيَ سَبِيلَهُ فَقَالَ مُحَمَّدٌ لَا فَقَالَ عُمَرُ لِمَ تَمْنَعُ أَخَاكَ مَا يَنْفَعُهُ وَهُوَ لَكَ نَافِعٌ تَسْقِي بِهِ أَوَّلًا وَآخِرًا وَهُوَ لَا يَضُرُّكَ فَقَالَ مُحَمَّدٌ لَا وَاللَّهِ فَقَالَ عُمَرُ وَاللَّهِ لَيَمُرَّنَّ بِهِ وَلَوْ عَلَى بَطْنِكَ فَأَمَرَهُ عُمَرُ أَنْ يَمُرَّ بِهِ فَفَعَلَ الضَّحَّاكُ

Narrator: ইয়াহয়া ইবনে উমারা মাযিনী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩৩. ইয়াহইয়া মাযেনী (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, যাহহাক ইবনে খলীফা, আরীট নামক স্থান হইতে একটি ছোট খাল কাটিয়া আনিলেন এবং মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা (রাযিঃ) এর জমির উপর দিয়া লইয়া যাইবেন বলিয়া মনস্থ করিলেন। কিন্তু তিনি তাহাতে অসম্মতি জানাইলেন। যাহহাক (রাযিঃ) বলিলেন, আপনি নিষেধ করিতেছেন কেন? তাহাতে আপনার জমিরও উপকার সাধিত হইবে, আপনি প্রথম হইতে শেষ পর্যন্ত জমিতে পানি সেচ করিতে পারবেন। আপনার কোন অসুবিধাই হইবে না। কিন্তু ইবনে মাসলামা (রাযিঃ) কিছুতেই সম্মত হইতেছেন না দেখিয়া যাহহাক (রাযিঃ) উমর (রাযিঃ)-এর সাথে আলাপ করিলেন। উমর (রাযিঃ) ইবনে মাসলামাকে ডাকাইয়া বলিলেন, তুমি খালটি তোমার জমির উপর দিয়া লইয়া যাইতে দাও। ইবনে মাসলামা (রাযিঃ) বলিলেন, আল্লাহর কসম, এইরূপ হইবে না। উমর (রাহঃ) বলিলেন, তুমি কেন নিষেধ করিতেছ? ইহার দ্বারা তোমার ভাইয়ের ও তোমার উপকার হইবে। তুমিও তোমার জমিতে পানি সেচ করিতে পারিবে অথচ তোমার কোন ক্ষতিই হইবে না। মুহাম্মাদ ইবনে মাসলাম (রাযিঃ) বলিলেন, আল্লাহর কসম, তাহা হইবে না। উমর (রাযিঃ) বলিলেন, আল্লাহর কসম, খাল প্রবাহিত করা হইবে যদিও তোমার পেটের ভিতর দিয়া হয়। অতঃপর উমর (রাযিঃ) ইবনে মাসলামার জমির উপর দিয়া খাল খননের নির্দেশ দিলেন। যাহহাক (রাযিঃ) তাহাই করিলেন।

1457

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ كَانَ فِي حَائِطِ جَدِّهِ رَبِيعٌ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ فَأَرَادَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ أَنْ يُحَوِّلَهُ إِلَى نَاحِيَةٍ مِنْ الْحَائِطِ هِيَ أَقْرَبُ إِلَى أَرْضِهِ فَمَنَعَهُ صَاحِبُ الْحَائِطِ فَكَلَّمَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فِي ذَلِكَ فَقَضَى لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ بِتَحْوِيلِهِ

Narrator: ইয়াহয়া ইবনে উমারা মাযিনী (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩৪. ইয়াহইয়া ইবনে মাযেনী (রাযিঃ) বলেনঃ আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ)-এর একটি ছোট খাল আমার দাদার জমির উপর দিয়া প্রবাহিত হইতেছিল। আব্দুর রহমান (রাযিঃ) চাহিলেন যেন খালটি অন্যত্র দিয়া প্রবাহিত হয়, যেন তাহার জমির নিকটবর্তী হয়। অতঃপর আমার দাদা নিষেধ করিলেন। আব্দুর রহমান (রাযিঃ) উমর (রাযিঃ)-এর নিকট এই বিষয়ে আলাপ করিলেন। উমর (রাযিঃ) পরে তাহাকে অনুমতি দান করিলেন।

২৭. সম্পদ বন্টনের ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي قَسْمِ الْأَمْوَالِ

1458

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ الدِّيلِيِّ أَنَّهُ قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَيُّمَا دَارٍ أَوْ أَرْضٍ قُسِمَتْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَهِيَ عَلَى قَسْمِ الْجَاهِلِيَّةِ وَأَيُّمَا دَارٍ أَوْ أَرْضٍ أَدْرَكَهَا الْإِسْلَامُ وَلَمْ تُقْسَمْ فَهِيَ عَلَى قَسْمِ الْإِسْلَامِ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৩৫. সওর ইবনে যায়দ দীলী (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাম আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন, যেকোন ঘর অথবা জমি অন্ধকার যুগে বন্টন করা হইয়াছে তাহা ঐ অনুযায়ীই থাকিবে। আর যেকোন ঘর অথবা জমি আজ পর্যন্ত বন্টন হয় নাই উহা ইসলামী বিধান অনুযায়ী বন্টিত হইবে।

1459

قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ فِيمَنْ هَلَكَ وَتَرَكَ أَمْوَالًا بِالْعَالِيَةِ وَالسَّافِلَةِ إِنَّ الْبَعْلَ لَا يُقْسَمُ مَعَ النَّضْحِ إِلَّا أَنْ يَرْضَى أَهْلُهُ بِذَلِكَ وَإِنَّ الْبَعْلَ يُقْسَمُ مَعَ الْعَيْنِ إِذَا كَانَ يُشْبِهُهَا وَأَنَّ الْأَمْوَالَ إِذَا كَانَتْ بِأَرْضٍ وَاحِدَةٍ الَّذِي بَيْنَهُمَا مُتَقَارِبٌ أَنَّهُ يُقَامُ كُلُّ مَالٍ مِنْهَا ثُمَّ يُقْسَمُ بَيْنَهُمْ وَالْمَسَاكِنُ وَالدُّورُ بِهَذِهِ الْمَنْزِلَةِ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৩৬. মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি কেহ মারা যায় এবং তাহার উঁচু-নীচু অনেক জমি থাকে, তবে যে জমিতে বৃষ্টির পানি দ্বারা ফসল হয় তাহা কূপের পানি দ্বারা যে জমিতে ফসল হয় তাহার সঙ্গে সমভাবে বন্টন হইবে না। অবশ্য সকল অংশীদার রাযী হইলে তবে জায়েয হইবে। আর বৃষ্টির পানি দ্বারা ফসল হয় এমন জমির নিম্ন জমির সাথে বন্টন হইতে পারে। এইরূপে যদি তাহার আরো সম্পদ থাকে এবং সকলই একই রকম দেখায় তবে প্রত্যেকের মূল্য নির্ধারিত করিয়া এক সাথেই বন্টন করবে। ঘর ও বাড়ির একই হুকুম।

২৮. নিজে নিজে বিচরণকারী জন্তু ও রাখালের তত্ত্বাবধানে বিচরণকারী জন্তুর ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي الضَّوَارِي وَالْحَرِيسَةِ

1460

حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ حَرَامِ بْنِ سَعْدِ بْنِ مُحَيِّصَةَ أَنَّ نَاقَةً لِلْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ دَخَلَتْ حَائِطَ رَجُلٍ فَأَفْسَدَتْ فِيهِ فَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ عَلَى أَهْلِ الْحَوَائِطِ حِفْظَهَا بِالنَّهَارِ وَأَنَّ مَا أَفْسَدَتْ الْمَوَاشِي بِاللَّيْلِ ضَامِنٌ عَلَى أَهْلِهَا

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৩৭. হারাম ইবনে সা’দ ইবনে মুহায়্যিসা (রাহঃ) ছইত বর্ণিত, বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ)-এর উট কাহারো বাগানে ঢুকিয়া ফসলের খুব ক্ষতি করে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেন, দিনের বেলায় বাগান হেফাজত করার জিম্মাদার বাগানের মালিক, রাত্রিকালে যদি জন্তু বাগানে ঢুকে ও ক্ষতি করে তবে জন্তুর মালিক তাহার ক্ষতি পূরণের জিম্মাদার হইবে।

1461
وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَاطِبٍ أَنَّ رَقِيقًا لِحَاطِبٍ سَرَقُوا نَاقَةً لِرَجُلٍ مِنْ مُزَيْنَةَ فَانْتَحَرُوهَا فَرُفِعَ ذَلِكَ إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَأَمَرَ عُمَرُ كَثِيرَ بْنَ الصَّلْتِ أَنْ يَقْطَعَ أَيْدِيَهُمْ ثُمَّ قَالَ عُمَرُ أَرَاكَ تُجِيعُهُمْ ثُمَّ قَالَ عُمَرُ وَاللَّهِ لَأُغَرِّمَنَّكَ غُرْمًا يَشُقُّ عَلَيْكَ ثُمَّ قَالَ لِلْمُزَنِيِّ كَمْ ثَمَنُ نَاقَتِكَ فَقَالَ الْمُزَنِيُّ قَدْ كُنْتُ وَاللَّهِ أَمْنَعُهَا مِنْ أَرْبَعِ مِائَةِ دِرْهَمٍ فَقَالَ عُمَرُ أَعْطِهِ ثَمَانَ مِائَةِ دِرْهَمٍ
قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ وَلَيْسَ عَلَى هَذَا الْعَمَلُ عِنْدَنَا فِي تَضْعِيفِ الْقِيمَةِ وَلَكِنْ مَضَى أَمْرُ النَّاسِ عِنْدَنَا عَلَى أَنَّهُ إِنَّمَا يَغْرَمُ الرَّجُلُ قِيمَةَ الْبَعِيرِ أَوْ الدَّابَّةِ يَوْمَ يَأْخُذُهَا

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ৩৮. ইয়াহয়া ইবনে আব্দির রহমান (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, একদা হাতিব (রাযিঃ)-এর এক ক্রীতদাস কাহারো উট চুরি করিয়া জবাই করিয়া ফেলে। ইহার মামলা উমর (রাযিঃ)-এর দরবারে গেলে তিনি কাসীর ইবনে সলত (রাযিঃ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, ঐ ক্রীতদাসের হাত কাটিয়া ফেল। অতঃপর তিনি হাতিব (রাযিঃ)-এর দিকে তাকাইয়া বলিলেন, আমার মনে হয় যে, তুমি ক্রীতদাসদিগকে অনাহারে রাখ, আল্লাহর কসম, আমি ইহার জন্য তোমার এমন জরিমানা করিব যাহা তোমার জন্য খুব ভারী হইবে। তাহার পর উটের মালিককে উটের মূল্য সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করিলেন। সে বলিল, ইহার মূল্য চারিশত দিরহাম। উমর (রাযিঃ) তাহাকে আরও চারশত দিরহাম, মোট আটশত দিরহাম দিতে বলিলেন।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ইহাদিগের উপর আমাদের আমল নাই কিন্তু আমাদের আমল এই কথার উপর যে, যেদিন উট খরিদ করা হইয়াছে সে দিনের মূল্য দিতে হইবে।

২৯. জন্তুকে নির্যাতনের ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِيمَنْ أَصَابَ شَيْئًا مِنْ الْبَهَائِمِ

1462

قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِيمَنْ أَصَابَ شَيْئًا مِنْ الْبَهَائِمِ إِنَّ عَلَى الَّذِي أَصَابَهَا قَدْرَ مَا نَقَصَ مِنْ ثَمَنِهَا قَالَ يَحْيَى وَسَمِعْت مَالِك يَقُولُ فِي الْجَمَلِ يَصُولُ عَلَى الرَّجُلِ فَيَخَافُهُ عَلَى نَفْسِهِ فَيَقْتُلُهُ أَوْ يَعْقِرُهُ فَإِنَّهُ إِنْ كَانَتْ لَهُ بَيِّنَةٌ عَلَى أَنَّهُ أَرَادَهُ وَصَالَ عَلَيْهِ فَلَا غُرْمَ عَلَيْهِ وَإِنْ لَمْ تَقُمْ لَهُ بَيِّنَةٌ إِلَّا مَقَالَتُهُ فَهُوَ ضَامِنٌ لِلْجَمَلِ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি কেহ কোন জন্তুকে নির্যাতন করে তবে যদি ঐ জন্তুর মূল্যের ক্ষতি হয় তবে জরিমানাস্বরূপ তাহাই দিতে হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি কোন উট কাহারো উপর আক্রমণ করে এবং সে জান বাঁচানোর জন্য উটকে মারিয়া ফেলে অথবা জখম করে এবং এই হামলার কোন সাক্ষীও তাহার নিকট থাকে তবে তাহার উপর জরিমানা হইবে না। অন্যথায় উটের জরিমানা তাহাকে দিতে হইবে।

৩০. কর্মচারীদিগকে মজুরী দানের ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِيمَا يُعْطَى الْعُمَّالُ

1463

قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ فِيمَنْ دَفَعَ إِلَى الْغَسَّالِ ثَوْبًا يَصْبُغُهُ فَصَبَغَهُ فَقَالَ صَاحِبُ الثَّوْبِ لَمْ آمُرْكَ بِهَذَا الصِّبْغِ وَقَالَ الْغَسَّالُ بَلْ أَنْتَ أَمَرْتَنِي بِذَلِكَ فَإِنَّ الْغَسَّالَ مُصَدَّقٌ فِي ذَلِكَ وَالْخَيَّاطُ مِثْلُ ذَلِكَ وَالصَّائِغُ مِثْلُ ذَلِكَ وَيَحْلِفُونَ عَلَى ذَلِكَ إِلَّا أَنْ يَأْتُوا بِأَمْرٍ لَا يُسْتَعْمَلُونَ فِي مِثْلِهِ فَلَا يَجُوزُ قَوْلُهُمْ فِي ذَلِكَ وَلْيَحْلِفْ صَاحِبُ الثَّوْبِ فَإِنْ رَدَّهَا وَأَبَى أَنْ يَحْلِفَ حُلِّفَ الصَّبَّاغُ قَالَ وَسَمِعْت مَالِك يَقُولُ فِي الصَّبَّاغِ يُدْفَعُ إِلَيْهِ الثَّوْبُ فَيُخْطِئُ بِهِ فَيَدْفَعُهُ إِلَى رَجُلٍ آخَرَ حَتَّى يَلْبَسَهُ الَّذِي أَعْطَاهُ إِيَّاهُ إِنَّهُ لَا غُرْمَ عَلَى الَّذِي لَبِسَهُ وَيَغْرَمُ الْغَسَّالُ لِصَاحِبِ الثَّوْبِ وَذَلِكَ إِذَا لَبِسَ الثَّوْبَ الَّذِي دُفِعَ إِلَيْهِ عَلَى غَيْرِ مَعْرِفَةٍ بِأَنَّهُ لَيْسَ لَهُ فَإِنْ لَبِسَهُ وَهُوَ يَعْرِفُ أَنَّهُ لَيْسَ ثَوْبَهُ فَهُوَ ضَامِنٌ لَهُ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি কেহ কোন কাপড় রঞ্জককে রংাইবার জন্য দেয় এবং রংও লাগায়, আর কাপড়ওয়ালা বলে যে, আমি এমন রং দিতে বলি নাই। কিন্তু রঞ্জক বলে যে, আমাকে এই রং দিতেই বলিয়াছিলেন, তবে এই ব্যাপারে আমাদের নিকট রঞ্জকের কথা সত্য বলিয়া ধরা যাইবে। আর এই ধরনের ব্যাপারে দর্জি ও স্বর্ণকারের কথাও সত্য বলিয়া ধরা যাইবে। কিন্তু সকলকে হলফ (কসম) করিতে হইবে। হ্যাঁ, যদি তাহারা এমন কথা বলে সাধারণত যাহার প্রমাণ নাই, কিংবা এমন রং ব্যবহার করিয়াছে যাহা নিয়ম অনুযায়ী করা হয় না, তবে তাহাদের কথা গ্রহণযোগ্য হইবে না। এই ক্ষেত্রে কাপড়ের মালিককে কসম করানো হইবে। অতঃপর সে যদি কসম করিতে অস্বীকার করে, তবে কারিগরদের নিকট হইতে কসম নেওয়া হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেন, কেহ কোন কাপড় রঞ্জককে দেয়। রঞ্জক কাপড়টি অন্য একজনকে পরিধান করিতে দেয় - তবে রঞ্জক কাপড়ের জরিমানা দিবে। পরিধানকারীর জরিমানা হইবে না। ইহা তখন হইবে যখন পরিধানকারী জানে না যে, ইহা অন্যের কাপড়। আর যদি অন্যের কাপড় জানিয়াই পরিধান করিয়া থাকে তবে তাহারই জরিমানা হইবে।

৩১. হাওয়ালা ও জিম্মাদারী

بَاب الْقَضَاءِ فِي الْحَمَالَةِ وَالْحِوَلِ

1464

قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الرَّجُلِ يُحِيلُ الرَّجُلَ عَلَى الرَّجُلِ بِدَيْنٍ لَهُ عَلَيْهِ أَنَّهُ إِنْ أَفْلَسَ الَّذِي أُحِيلَ عَلَيْهِ أَوْ مَاتَ فَلَمْ يَدَعْ وَفَاءً فَلَيْسَ لِلْمُحْتَالِ عَلَى الَّذِي أَحَالَهُ شَيْءٌ وَأَنَّهُ لَا يَرْجِعُ عَلَى صَاحِبِهِ الْأَوَّلِ قَالَ مَالِك وَهَذَا الْأَمْرُ الَّذِي لَا اخْتِلَافَ فِيهِ عِنْدَنَا قَالَ مَالِك فَأَمَّا الرَّجُلُ يَتَحَمَّلُ لَهُ الرَّجُلُ بِدَيْنٍ لَهُ عَلَى رَجُلٍ آخَرَ ثُمَّ يَهْلِكُ الْمُتَحَمِّلُ أَوْ يُفْلِسُ فَإِنَّ الَّذِي تُحُمِّلَ لَهُ يَرْجِعُ عَلَى غَرِيمِهِ الْأَوَّلِ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি কেহ নিজ কর্জকে কাহারও জিম্মায় তাহার সম্মতিতে চাপাইয়া দেয়, অতঃপর জিম্মাদার দরিদ্র হইয়া যায় অথবা সম্পদহীন হইয়া মারা যায়, তবে পাওনাদার যে জিম্মা দান করিয়াছে তাহার নিকট অর্থাৎ খাতকের নিকট পাওনা চাহিতে পারিবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ এই ব্যাপারে আমাদের নিকট কোন মতভেদ নাই। তবে যদি কেহ অন্যের জিম্মাদার হয় আর সে সম্পদহীন অবস্থায় মারা যায় কিংবা গরীব হইয়া যায় তবে পাওনাদাররা কর্জ গ্রহীতার কাছে চাহিতে পারিবে।

৩২. কাপড় খরিদের পরে দোষ দেখা গেলে

بَاب الْقَضَاءِ فِيمَنْ ابْتَاعَ ثَوْبًا وَبِهِ عَيْبٌ

1465

قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ إِذَا ابْتَاعَ الرَّجُلُ ثَوْبًا وَبِهِ عَيْبٌ مِنْ حَرْقٍ أَوْ غَيْرِهِ قَدْ عَلِمَهُ الْبَائِعُ فَشُهِدَ عَلَيْهِ بِذَلِكَ أَوْ أَقَرَّ بِهِ فَأَحْدَثَ فِيهِ الَّذِي ابْتَاعَهُ حَدَثًا مِنْ تَقْطِيعٍ يُنَقِّصُ ثَمَنَ الثَّوْبِ ثُمَّ عَلِمَ الْمُبْتَاعُ بِالْعَيْبِ فَهُوَ رَدٌّ عَلَى الْبَائِعِ وَلَيْسَ عَلَى الَّذِي ابْتَاعَهُ غُرْمٌ فِي تَقْطِيعِهِ إِيَّاهُ قَالَ وَإِنْ ابْتَاعَ رَجُلٌ ثَوْبًا وَبِهِ عَيْبٌ مِنْ حَرْقٍ أَوْ عَوَارٍ فَزَعَمَ الَّذِي بَاعَهُ أَنَّهُ لَمْ يَعْلَمْ بِذَلِكَ وَقَدْ قَطَعَ الثَّوْبَ الَّذِي ابْتَاعَهُ أَوْ صَبَغَهُ فَالْمُبْتَاعُ بِالْخِيَارِ إِنْ شَاءَ أَنْ يُوضَعَ عَنْهُ قَدْرُ مَا نَقَصَ الْحَرْقُ أَوْ الْعَوَارُ مِنْ ثَمَنِ الثَّوْبِ وَيُمْسِكُ الثَّوْبَ فَعَلَ وَإِنْ شَاءَ أَنْ يَغْرَمَ مَا نَقَصَ التَّقْطِيعُ أَوْ الصِّبْغُ مِنْ ثَمَنِ الثَّوْبِ وَيَرُدُّهُ فَعَلَ وَهُوَ فِي ذَلِكَ بِالْخِيَارِ فَإِنْ كَانَ الْمُبْتَاعُ قَدْ صَبَغَ الثَّوْبَ صِبْغًا يَزِيدُ فِي ثَمَنِهِ فَالْمُبْتَاعُ بِالْخِيَارِ إِنْ شَاءَ أَنْ يُوضَعَ عَنْهُ قَدْرُ مَا نَقَصَ الْعَيْبُ مِنْ ثَمَنِ الثَّوْبِ وَإِنْ شَاءَ أَنْ يَكُونَ شَرِيكًا لِلَّذِي بَاعَهُ الثَّوْبَ فَعَلَ وَيُنْظَرُ كَمْ ثَمَنُ الثَّوْبِ وَفِيهِ الْحَرْقُ أَوْ الْعَوَارُ فَإِنْ كَانَ ثَمَنُهُ عَشَرَةَ دَرَاهِمَ وَثَمَنُ مَا زَادَ فِيهِ الصِّبْغُ خَمْسَةَ دَرَاهِمَ كَانَا شَرِيكَيْنِ فِي الثَّوْبِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا بِقَدْرِ حِصَّتِهِ فَعَلَى حِسَابِ هَذَا يَكُونُ مَا زَادَ الصِّبْغُ فِي ثَمَنِ الثَّوْبِ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যখন কোন ব্যক্তি কাপড় খরিদ করার পর দোষ দেখে যেমন ফাটা বা অন্য কিছু এবং খরিদ্দার বিক্রেতাকে এই ব্যাপারে অবগত করায়, অতঃপর সেই ব্যাপারে সাক্ষী উপস্থিত করে ক্রেতা অথবা বিক্রেতা স্বীকার করে, তৎপর ক্রেতা যদি কাপড়ের মধ্যে কোন পরিবর্তন করিয়া থাকে যেমন কাপড় কাটিয়া ফেলে, যাহার ফলে কাপড়ের মূল্য কমিয়া যায় এবং সেই অবস্থায় বিক্রেতাকে কাপড়ের দোষ সম্বন্ধে অবহিত করা হয় তবে তাহা বিক্রেতা ফেরত নেবে এবং খরিদ্দারের উপর কাপড় কাটার জন্য জরিমানা হইবে।

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, যদি কেহ কাপড় খরিদ করিয়া পরে দোষ দেখিতে পায় যেমন কাপড়ে ফাটা অথবা কাটা এবং বিক্রেতা বলে যে, কাপড়ের দোষ সম্বন্ধে আমার জানা ছিল না। কিন্তু এদিকে খরিদ্দার কাপড় কাটিয়া ফেলিয়াছে অথবা রংাইয়া ফেলিয়াছে তবে খরিদ্দারের ইখতিয়ার আছে, সে কাপড় রাখিয়া দোষের সমপরিমাণ মূল্য বিক্রেতার নিকট হইতে ফেরত নেবে অথবা কাপড় ফেরত দিয়া বিক্রেতাকে ঐ পরিমাণ মূল্য ফেরত দেবে, কাপড় কাটার দরুন যতদূর মূল্য কমিয়াছে অথবা রংানোর জন্য যতদূর মূল্য কমিয়াছে। আর যদি খরিদ্দার কাপড়ে এমন রং দিয়া থাকে যাহার দ্বারা কাপড়ের মূল্য অধিক হইয়া গিয়াছে তবেও খরিদ্দারের ইখতিয়ার সে ইচ্ছা করিলে দোষের মূল্য বিক্রেতার নিকট হইতে লইয়া কাপড় রাখিয়া দেবে অথবা বিক্রেতার শরীক হইবে। এখন দেখিতে হইবে যে, দোষের দরুন কাপড়ের মূল্য কতদূর হয়, যেমন কাপড় ″দশ দিরহাম″-এর ছিল এবং রংানোর কারণে “পাচ দিরহাম” মূল্য বৃদ্ধি হইয়াছে, এখন দুইজনেই কাপড়ে শরীক হইবে নিজ অংশ হিসাবে। যখন কাপড় বিক্রয় হইবে তখন যাহার যাহার অংশানুপাতে মূল্য ভাগ করিয়া লইয়া যাইবে।

৩৩. কেমন হেবা নাজায়েয

بَاب مَا لَا يَجُوزُ مِنْ النُّحْلِ

1466

حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ أَنَّهُمَا حَدَّثَاهُ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ أَنَّهُ قَالَ إِنَّ أَبَاهُ بَشِيرًا أَتَى بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنِّي نَحَلْتُ ابْنِي هَذَا غُلَامًا كَانَ لِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكُلَّ وَلَدِكَ نَحَلْتَهُ مِثْلَ هَذَا فَقَالَ لَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَارْتَجِعْهُ

Narrator: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

রেওয়ায়ত ৩৯. নুমান ইবনে বশীর (রাযিঃ) বলেন, তাহার পিতা বশীর (রাযিঃ) তাহাকে একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়া গেলেন এবং বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমার এই ছেলেকে আমার একটি গোলাম হেবা করিয়াছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেন, তুমি কি তোমার প্রত্যেকটি ছেলেকেই এইরূপ হেবা করিয়াছ? তিনি বলিলেন, না। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেন, তাহা হইলে হেবা (দান) ফিরাইয়া নাও।

1467

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا قَالَتْ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ كَانَ نَحَلَهَا جَادَّ عِشْرِينَ وَسْقًا مِنْ مَالِهِ بِالْغَابَةِ فَلَمَّا حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ قَالَ وَاللَّهِ يَا بُنَيَّةُ مَا مِنْ النَّاسِ أَحَدٌ أَحَبُّ إِلَيَّ غِنًى بَعْدِي مِنْكِ وَلَا أَعَزُّ عَلَيَّ فَقْرًا بَعْدِي مِنْكِ وَإِنِّي كُنْتُ نَحَلْتُكِ جَادَّ عِشْرِينَ وَسْقًا فَلَوْ كُنْتِ جَدَدْتِيهِ وَاحْتَزْتِيهِ كَانَ لَكِ وَإِنَّمَا هُوَ الْيَوْمَ مَالُ وَارِثٍ وَإِنَّمَا هُمَا أَخَوَاكِ وَأُخْتَاكِ فَاقْتَسِمُوهُ عَلَى كِتَابِ اللَّهِ قَالَتْ عَائِشَةُ فَقُلْتُ يَا أَبَتِ وَاللَّهِ لَوْ كَانَ كَذَا وَكَذَا لَتَرَكْتُهُ إِنَّمَا هِيَ أَسْمَاءُ فَمَنْ الْأُخْرَى فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ ذُو بَطْنِ بِنْتِ خَارِجَةَ أُرَاهَا جَارِيَةً

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ৪০. নবী করীম (ﷺ)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আবু বকর (রাযিঃ) গাবা নামক স্থানের বাগানের কিছু খেজুর গাছ আমাকে দান করিলেন। যাহার মধ্যে বিশ ওসক খেজুর উৎপন্ন হইত। অতঃপর ইন্তিকালের সময় বলিতে লাগিলেন, হে কন্যা। আল্লাহর কসম, আমার পরে তোমা হইতে সচ্ছল কেহ থাকুক আমি তাহা পছন্দ করি না, আর তুমি দরিদ্র থাক তাহাও আমার সবচাইতে বেশী অপছন্দ। আমি তোমাকে এমন খেজুর গাছ দিয়াছিলাম যাহার মধ্যে বিশ ওসক খেজুর জন্মে। তুমি যদি তাহা দখলে রাখিতে এবং ফল সংগ্ৰহ করিতে থাকিতে তবে তাহা তোমার সম্পদ হইয়া যাইত। এখন তো তাহা ওয়ারিসদের সম্পত্তি। ওয়ারিস তোমার দুই ভাই ও দুই বোন, সুতরাং উহাকে আল্লাহর কিতাব অনুসারে বন্টন করিও। আয়েশা (রাযিঃ) বলিলেন, হে আব্বাজান যত বড় সম্পদই হউক না কেন, আমি তাহা ছাড়িয়া দিতাম, কিন্তু আমার তো বোন শুধু একজন আসমা (রাযিঃ), অন্য জন কে? তিনি উত্তরে বলিলেন, (আমার স্ত্রী) বিনত খারেজা গর্ভবতী, তাহার গর্ভে যে সন্তান আছে আমার ধারণ তাহা মেয়েই হইবে।

1468

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ مَا بَالُ رِجَالٍ يَنْحَلُونَ أَبْنَاءَهُمْ نُحْلًا ثُمَّ يُمْسِكُونَهَا فَإِنْ مَاتَ ابْنُ أَحَدِهِمْ قَالَ مَا لِي بِيَدِي لَمْ أُعْطِهِ أَحَدًا وَإِنْ مَاتَ هُوَ قَالَ هُوَ لِابْنِي قَدْ كُنْتُ أَعْطَيْتُهُ إِيَّاهُ مَنْ نَحَلَ نِحْلَةً فَلَمْ يَحُزْهَا الَّذِي نُحِلَهَا حَتَّى يَكُونَ إِنْ مَاتَ لِوَرَثَتِهِ فَهِيَ بَاطِلٌ

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ৪১. আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল কারী (রাহঃ) হইতে বর্ণিত উমর (রাযিঃ) বলিয়াছেন যে, মানুষের হইল কি? তাহারা নিজ পুত্র-সন্তানদের জন্য হেবা করে। অতঃপর তাহা নিজেই নিজ দখলে রাখিতে চায়, যদি ছেলে মারা যায় তবে বলে যে, আমার সম্পদ আমারই দখলে আছে, আমি কাহাকেও দান করি নাই, আর যদি নিজে মারা যায় তবে বলিয়া যায় যে, ইহা আমার ছেলেরই, আমি তাহাকে দান করিয়াছি। যদি কোন হেবা করার পরে তাহা চালু না করে এবং ছেলে ওয়ারিসসূত্রে মালিক হয় তবে তাহা বাতিল হইয়া যায়।

৩৪. কেমন দান জায়েয

بَاب مَا لَا يَجُوزُ مِنْ الْعَطِيَّةِ

1469

قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِيمَنْ أَعْطَى أَحَدًا عَطِيَّةً لَا يُرِيدُ ثَوَابَهَا فَأَشْهَدَ عَلَيْهَا فَإِنَّهَا ثَابِتَةٌ لِلَّذِي أُعْطِيَهَا إِلَّا أَنْ يَمُوتَ الْمُعْطِي قَبْلَ أَنْ يَقْبِضَهَا الَّذِي أُعْطِيَهَا قَالَ وَإِنْ أَرَادَ الْمُعْطِي إِمْسَاكَهَا بَعْدَ أَنْ أَشْهَدَ عَلَيْهَا فَلَيْسَ ذَلِكَ لَهُ إِذَا قَامَ عَلَيْهِ بِهَا صَاحِبُهَا أَخَذَهَا قَالَ مَالِك وَمَنْ أَعْطَى عَطِيَّةً ثُمَّ نَكَلَ الَّذِي أَعْطَاهَا فَجَاءَ الَّذِي أُعْطِيَهَا بِشَاهِدٍ يَشْهَدُ لَهُ أَنَّهُ أَعْطَاهُ ذَلِكَ عَرْضًا كَانَ أَوْ ذَهَبًا أَوْ وَرِقًا أَوْ حَيَوَانًا أُحْلِفَ الَّذِي أُعْطِيَ مَعَ شَهَادَةِ شَاهِدِهِ فَإِنْ أَبَى الَّذِي أُعْطِيَ أَنْ يَحْلِفَ حُلِّفَ الْمُعْطِي وَإِنْ أَبَى أَنْ يَحْلِفَ أَيْضًا أَدَّى إِلَى الْمُعْطَى مَا ادَّعَى عَلَيْهِ إِذَا كَانَ لَهُ شَاهِدٌ وَاحِدٌ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ شَاهِدٌ فَلَا شَيْءَ لَهُ قَالَ مَالِك مَنْ أَعْطَى عَطِيَّةً لَا يُرِيدُ ثَوَابَهَا ثُمَّ مَاتَ الْمُعْطَى فَوَرَثَتُهُ بِمَنْزِلَتِهِ وَإِنْ مَاتَ الْمُعْطِي قَبْلَ أَنْ يَقْبِضَ الْمُعْطَى عَطِيَّتَهُ فَلَا شَيْءَ لَهُ وَذَلِكَ أَنَّهُ أُعْطِيَ عَطَاءً لَمْ يَقْبِضْهُ فَإِنْ أَرَادَ الْمُعْطِي أَنْ يُمْسِكَهَا وَقَدْ أَشْهَدَ عَلَيْهَا حِينَ أَعْطَاهَا فَلَيْسَ ذَلِكَ لَهُ إِذَا قَامَ صَاحِبُهَا أَخَذَهَا

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি কেহ কাহাকেও কোন জিনিস সওয়াবের জন্য দেয় এবং তাহার বিনিময়ে গ্রহণ না করে তাহার উপর সাক্ষীও থাকে তবে তাহা প্রচলিত হইবে। কিন্তু যদি দানকারী মারা যায় উক্ত জিনিস যাহাকে দিয়াছে সে হস্তগত করার পূর্বে, তবে তাহা প্রমাণিত হইবে না। আর যদি দানকারী দান করার পর নিজে রাখিতে চায় তবে ইহা না-জায়েয। যাহাকে দিয়াছে সে ইহা জবরদস্তি গ্রহণ করিতে পারিবে।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি কেহ কাহাকেও কোন জিনিস দান করে, অতঃপর তাহা অস্বীকার করে আর যাহাকে দেওয়া হইয়াছে সে একজন সাক্ষীও আনে, যে ইহা দান করিবার সময় সে সাক্ষী ছিল। চাই উহা জিনিসপত্র, স্বর্ণ, রৌপ্য অথবা জানোয়ারই হউক। তবে একজন সাক্ষীর সাথে তাহার কসমও করিতে হইবে। যদি সে কসম করিতে অস্বীকার করে তবে দাতাকে কসম করানো হইবে। যদি সেও অস্বীকার করে তবে ঐ জিনিস তাহাকে দিতে হইবে যখন তাহার কাছে একজন সাক্ষী থাকিবে। আর যদি একজন সাক্ষীও না থাকে তবে দাবিদারের দাবি গ্রহণযোগ্য হইবে না এবং সে কোন জিনিসই পাইবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি কেহ কোন জিনিস সওয়াবের নিয়াতে দেয়, পরে যাহাকে দিয়াছে সে হস্তগত করার পূর্বেই মরিয়া যায় তবে তাহার ওয়ারিসগণ স্থলাভিষিক্ত হইবে। আর যদি হস্তগত করার পূর্বে দাতা মারা যায় তবে তাহার কিছু মিলিবে না। কেননা হস্তগত না হওয়ার কারণে তাহা বাতিল হইয়া গেল। আর যদি দাতা দানের পরে নিজের দখলে রাখে এবং হেবা করার সপক্ষে সাক্ষীও থাকে তবে যাহাকে দান করা হইয়াছে সে তাহা দখল করিতে পারিবে।

৩৫. হেবার ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي الْهِبَةِ

1470
حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ دَاوُدَ بْنِ الْحُصَيْنِ عَنْ أَبِي غَطَفَانَ بْنِ طَرِيفٍ الْمُرِّيِّ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ مَنْ وَهَبَ هِبَةً لِصِلَةِ رَحِمٍ أَوْ عَلَى وَجْهِ صَدَقَةٍ فَإِنَّهُ لَا يَرْجِعُ فِيهَا وَمَنْ وَهَبَ هِبَةً يَرَى أَنَّهُ إِنَّمَا أَرَادَ بِهَا الثَّوَابَ فَهُوَ عَلَى هِبَتِهِ يَرْجِعُ فِيهَا إِذَا لَمْ يُرْضَ مِنْهَا
قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا أَنَّ الْهِبَةَ إِذَا تَغَيَّرَتْ عِنْدَ الْمَوْهُوبِ لَهُ لِلثَّوَابِ بِزِيَادَةٍ أَوْ نُقْصَانٍ فَإِنَّ عَلَى الْمَوْهُوبِ لَهُ أَنْ يُعْطِيَ صَاحِبَهَا قِيمَتَهَا يَوْمَ قَبَضَهَا

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ৪২. আবু গাতফান (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর (রাযিঃ) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি আত্মীয়তা রক্ষার জন্য অথবা দানস্বরূপ হেবা করে সে ঐ হেবা আর ফিরাইয়া আনিতে পারিবে না। আর যদি কোন বিনিময়ের আশায় হেবা করে তবে তাহা ফিরাইতে পারিবে যখন তাহাদের সাথে মনোমালিন্য হয়।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ইহা আমাদের নিকট সর্বসম্মত বিষয় যে, যদি কেহ কোন জিনিস বিনিময়ের আশায় হেবা করে আর ঐ জিনিসের কোন ক্ষতি হয় তবে যাহাকে দিয়াছে তাহার গ্রহণ করার দিন যে দাম ছিল তাহা তাহাকে আদায় করিতে হইবে।

৩৬. দান করিয়া ফিরাইয়া নেয়া

بَاب الْاعْتِصَارِ فِي الصَّدَقَةِ

1471

قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ الْأَمْرُ عِنْدَنَا الَّذِي لَا اخْتِلَافَ فِيهِ أَنَّ كُلَّ مَنْ تَصَدَّقَ عَلَى ابْنِهِ بِصَدَقَةٍ قَبَضَهَا الِابْنُ أَوْ كَانَ فِي حَجْرِ أَبِيهِ فَأَشْهَدَ لَهُ عَلَى صَدَقَتِهِ فَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَعْتَصِرَ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ لِأَنَّهُ لَا يَرْجِعُ فِي شَيْءٍ مِنْ الصَّدَقَةِ قَالَ وَسَمِعْت مَالِك يَقُولُ الْأَمْرُ الْمُجْتَمَعُ عَلَيْهِ عِنْدَنَا فِيمَنْ نَحَلَ وَلَدَهُ نُحْلًا أَوْ أَعْطَاهُ عَطَاءً لَيْسَ بِصَدَقَةٍ إِنَّ لَهُ أَنْ يَعْتَصِرَ ذَلِكَ مَا لَمْ يَسْتَحْدِثْ الْوَلَدُ دَيْنًا يُدَايِنُهُ النَّاسُ بِهِ وَيَأْمَنُونَهُ عَلَيْهِ مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ الْعَطَاءِ الَّذِي أَعْطَاهُ أَبُوهُ فَلَيْسَ لِأَبِيهِ أَنْ يَعْتَصِرَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا بَعْدَ أَنْ تَكُونَ عَلَيْهِ الدُّيُونُ أَوْ يُعْطِي الرَّجُلُ ابْنَهُ أَوْ ابْنَتَهُ فَتَنْكِحُ الْمَرْأَةُ الرَّجُلَ وَإِنَّمَا تَنْكِحُهُ لِغِنَاهُ وَلِلْمَالِ الَّذِي أَعْطَاهُ أَبُوهُ فَيُرِيدُ أَنْ يَعْتَصِرَ ذَلِكَ الْأَبُ أَوْ يَتَزَوَّجُ الرَّجُلُ الْمَرْأَةَ قَدْ نَحَلَهَا أَبُوهَا النُّحْلَ إِنَّمَا يَتَزَوَّجُهَا وَيَرْفَعُ فِي صِدَاقِهَا لِغِنَاهَا وَمَالِهَا وَمَا أَعْطَاهَا أَبُوهَا ثُمَّ يَقُولُ الْأَبُ أَنَا أَعْتَصِرُ ذَلِكَ فَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَعْتَصِرَ مِنْ ابْنِهِ وَلَا مِنْ ابْنَتِهِ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ إِذَا كَانَ عَلَى مَا وَصَفْتُ لَكَ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ ইহা আমাদের নিকট সর্বসম্মত বিষয় যে, যদি পিতা ছেলেকে কিছু দান করে এবং ছেলে তাহা হস্তগত করে অথবা ছেলে এখনও বালক, পিতার আশ্রয়ে আছে। আর পিতা এই সাদ্‌কার উপর সাক্ষীও রাখিয়াছে তবে পিতা এই দান আর ফিরাইয়া নিতে পারিবে না, কেননা সাদ্‌কা ফেরত নেওয়া জায়েয নাই ।

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, ইহা আমাদের সর্বসম্মত বিষয় যে, যদি কোন ব্যক্তি তাহার সন্তানকে কিছু দেয়, কিন্তু তাহা দান হিসাবে নয়। তবে তাহা ফিরাইয়া নিতে পারে। অবশ্য যদি ছেলে এই দান করা সম্পত্তির উপর ভরসা করিয়া ঋণ গ্রহণ কবে এবং এই দানের উপর নির্ভর করিয়া মানুষের সহিত কায়-কারবার করিতে থাকে তবে সে সময়ে উহা ফেরত লইতে পারিবে না।

মালিক (রাহঃ) বলেনঃ যদি কেহ তাহার মেয়েকে কিছু দান করে কিংবা ছেলেকে দান করে এবং কোন লোক তাহার কন্যা ঐ ছেলের সাথে বিবাহ দেয় যে, সে খুব ধনী হইয়াছে অথবা কোন মানুষ তাহার ছেলেকে ঐ মেয়ের সাথে বিবাহ দেয় এইজন্য যে, সে ঐ দানের কারণে ধনী হইয়াছে তবে পিতা এই দান ফেরত লইতে পারিবে না। হ্যাঁ, যদি উপরিউক্ত ভরসা না করে তবে জায়েয আছে।

৩৭. মৃত্যু পর্যন্ত দানের ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي الْعُمْرَى

1472

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَيُّمَا رَجُلٍ أُعْمِرَ عُمْرَى لَهُ وَلِعَقِبِهِ فَإِنَّهَا لِلَّذِي يُعْطَاهَا لَا تَرْجِعُ إِلَى الَّذِي أَعْطَاهَا أَبَدًا لِأَنَّهُ أَعْطَى عَطَاءً وَقَعَتْ فِيهِ الْمَوَارِيثُ

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৪৩. জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি কাহারো জন্য অথবা তাহার ওয়ারিসগণের জন্য কোন জিনিস মৃত্যু পর্যন্ত দান করে তবে উহা যাহাদিগকে দান করিয়াছে তাহাদের জন্য হইবে। দানকারীর নিকট উহা ফিরিয়া আসিতে পারে না। ইহা ওয়ারিসীর যোগ্য দান।

1473
وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ أَنَّهُ سَمِعَ مَكْحُولًا الدِّمَشْقِيَّ يَسْأَلُ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ عَنْ الْعُمْرَى وَمَا يَقُولُ النَّاسُ فِيهَا فَقَالَ الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ مَا أَدْرَكْتُ النَّاسَ إِلَّا وَهُمْ عَلَى شُرُوطِهِمْ فِي أَمْوَالِهِمْ وَفِيمَا أُعْطُوا
قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ وَعَلَى ذَلِكَ الْأَمْرُ عِنْدَنَا أَنَّ الْعُمْرَى تَرْجِعُ إِلَى الَّذِي أَعْمَرَهَا إِذَا لَمْ يَقُلْ هِيَ لَكَ وَلِعَقِبِكَ

Narrator: বিবিধ

রেওয়ায়ত ৪৪. আব্দুর রহমান ইবনে কাসিম (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি মাকহুল দামেশকীকে কাসিম ইবনে মুহাম্মাদের নিকট মৃত্যু পর্যন্ত দান সম্বন্ধে প্রশ্ন করিতে শুনিয়াছেন অর্থাৎ এই ব্যাপারে মানুষের কি মতামত তাহা জানিতে চাহিয়াছেন। তখন কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমি তো মানুষদিগকে নিজ সম্পদের মধ্যেও নিজ দানের ব্যাপারে নিজ নিজ শর্ত পূর্ণ করিতে দেখিয়াছি।

1474

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ وَرِثَ مِنْ حَفْصَةَ بِنْتِ عُمَرَ دَارَهَا قَالَ وَكَانَتْ حَفْصَةُ قَدْ أَسْكَنَتْ بِنْتَ زَيْدِ بْنِ الْخَطَّابِ مَا عَاشَتْ فَلَمَّا تُوُفِّيَتْ بِنْتُ زَيْدٍ قَبَضَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْمَسْكَنَ وَرَأَى أَنَّهُ لَهُ

Narrator: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪৫. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, ইবনে উমর (রাযিঃ) হাফসা বিনতে উমরের একটি গৃহের ওয়ারিস হইলেন। তিনি ঐ গৃহ যায়দ ইবনে খাত্তাবের কন্যাকে আজীবন থাকার জন্য দিয়াছিলেন। অতঃপর যখন যায়দের কন্যার মৃত্যু হইল তখন ইবনে উমর (রাযিঃ) উহা দখল করিলেন এবং তিনি উহাকে নিজস্ব মনে করিতেন।

৩৮. লুকতা অর্থাৎ কোথাও পাওয়া জিনিসের ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي اللُّقَطَةِ

1475

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ يَزِيدَ مَوْلَى الْمُنْبَعِثِ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ أَنَّهُ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهُ عَنْ اللُّقَطَةِ فَقَالَ اعْرِفْ عِفَاصَهَا وَوِكَاءَهَا ثُمَّ عَرِّفْهَا سَنَةً فَإِنْ جَاءَ صَاحِبُهَا وَإِلَّا فَشَأْنَكَ بِهَا قَالَ فَضَالَّةُ الْغَنَمِ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ هِيَ لَكَ أَوْ لِأَخِيكَ أَوْ لِلذِّئْبِ قَالَ فَضَالَّةُ الْإِبِلِ قَالَ مَا لَكَ وَلَهَا مَعَهَا سِقَاؤُهَا وَحِذَاؤُهَا تَرِدُ الْمَاءَ وَتَأْكُلُ الشَّجَرَ حَتَّى يَلْقَاهَا رَبُّهَا

Narrator: যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৪৬. যায়দ ইবনে খালেদ জুহানী (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসিয়া কোথাও পাওয়া জিনিস সম্বন্ধে প্রশ্ন করিলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলিলেন, তাহার পাত্রটি চিনিয়া রাখ এবং তাহার বন্ধনও চিনিয়া রাখ, অতঃপর এক বৎসর পর্যন্ত মানুষের কাছে ঘোষণা করিতে থাক। যদি মালিক পাওয়া যায় তবে ফেরত দিয়া দাও; অন্যথায় তুমি নিজে ব্যবহার করিতে পার। সে বলিল, যদি ছাড়া ছাগল পাওয়া যায় তবুও। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেন, তাহা তোমার অথবা তোমার ভাইয়ের কিংবা বাঘের হইবে। সে পুনরায় জিজ্ঞাসা করিল, যদি ছাড়া উট পাওয়া যায় তবে কি করিব? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, সে উটের সাথে তোমার কি সম্পর্ক তাহার সাথে পান করার মতো পানি আছে এবং তাহার পা আছে যেখানে খুশী পানি পান করিয়া লইবে। গাছের পাতা খাইবে। শেষ পর্যন্ত তাহার মালিক উহা পাইয়া ফেলিবে।

1476

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَدْرٍ الْجُهَنِيِّ أَنَّ أَبَاهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ نَزَلَ مَنْزِلَ قَوْمٍ بِطَرِيقِ الشَّامِ فَوَجَدَ صُرَّةً فِيهَا ثَمَانُونَ دِينَارًا فَذَكَرَهَا لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ عَرِّفْهَا عَلَى أَبْوَابِ الْمَسَاجِدِ وَاذْكُرْهَا لِكُلِّ مَنْ يَأْتِي مِنْ الشَّأْمِ سَنَةً فَإِذَا مَضَتْ السَّنَةُ فَشَأْنَكَ بِهَا

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

রেওয়ায়ত ৪৭. মুয়াবিয়া ইবনে আব্দুল্লাহ জুহানী (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, তাহার পিতা বলিয়াছেন যে, তিনি সিরিয়ার পথে এক মঞ্জিলে একটি তোড়া পাইলেন। তাহাতে আশিটি দীনার ছিল। তিনি ইহা উমর (রাযিঃ)-এর নিকট বর্ণনা করিলেন। উমর (রাযিঃ) বলিলেন, ইহাকে মসজিদসমূহের দরজায় ঘোষণা কর। আর যাহারা সিরিয়া হইতে আসে তাহাদিগকে এক বৎসর পর্যন্ত জিজ্ঞাসা কর। যদি এক বৎসর অতিবাহিত হয় তাহা হইলে তখন তোমার ইচ্ছা।

1477

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ نَافِعٍ أَنَّ رَجُلًا وَجَدَ لُقَطَةً فَجَاءَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَقَالَ لَهُ إِنِّي وَجَدْتُ لُقَطَةً فَمَاذَا تَرَى فِيهَا فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ عَرِّفْهَا قَالَ قَدْ فَعَلْتُ قَالَ زِدْ قَالَ قَدْ فَعَلْتُ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ لَا آمُرُكَ أَنْ تَأْكُلَهَا وَلَوْ شِئْتَ لَمْ تَأْخُذْهَا

Narrator: নাফি‘ (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪৮. নাফি’ (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাস্তায় কিছু পাইল। সে উহা লইয়া ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর নিকট আসিয়া বলিল, আমি একটি জিনিস পাইয়াছি, এই ব্যাপারে আপনার মত কি? আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) তাহাকে বললেন, তাহা প্রচার কর। সে বলিল, আমি তাহা করিয়াছি। ইবনে উমর (রাযিঃ) বললেন, পুনরায় ঘোষণা কর। সে বলিল, তাহাও করিয়াছি। ইবনে উমর (রাযিঃ) বলিলেন, আমি তোমাকে ব্যবহার করিতে বলিব না। তুমি উহা নাও উঠাইতে পারিতে।

৩৯. গোলাম যদি কোন জিনিস পাওয়ার পর খরচ করিয়া ফেলে তবে তাহার ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي اسْتِهْلَاكِ الْعَبْدِ اللُّقَطَةَ

1478

قَالَ يَحْيَى سَمِعْت مَالِك يَقُولُ الْأَمْرُ عِنْدَنَا فِي الْعَبْدِ يَجِدُ اللُّقَطَةَ فَيَسْتَهْلِكُهَا قَبْلَ أَنْ تَبْلُغَ الْأَجَلَ الَّذِي أُجِّلَ فِي اللُّقَطَةِ وَذَلِكَ سَنَةٌ أَنَّهَا فِي رَقَبَتِهِ إِمَّا أَنْ يُعْطِيَ سَيِّدُهُ ثَمَنَ مَا اسْتَهْلَكَ غُلَامُهُ وَإِمَّا أَنْ يُسَلِّمَ إِلَيْهِمْ غُلَامَهُ وَإِنْ أَمْسَكَهَا حَتَّى يَأْتِيَ الْأَجَلُ الَّذِي أُجِّلَ فِي اللُّقَطَةِ ثُمَّ اسْتَهْلَكَهَا كَانَتْ دَيْنًا عَلَيْهِ يُتْبَعُ بِهِ وَلَمْ تَكُنْ فِي رَقَبَتِهِ وَلَمْ يَكُنْ عَلَى سَيِّدِهِ فِيهَا شَيْءٌ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

মালিক (রাহঃ) বলেন যে, আমাদের নিকট এই হুকুম যে, যদি কোন গোলাম কোন জিনিস পায় এবং এক বৎসর প্রচার করার পূর্বেই তাহা খরচ করিয়া ফেলে তবে তাহা তাহার গর্দানেই থাকিবে, যদি তাহার মালিক আসে তবে তাহা মনিবকে আদায় করিতে হইবে। অথবা গোলামকে মালিকের হাওয়ালা করিবে। আর যদি ক্রীতদাস উহাকে সময় অতিবাহিত হওয়ার পর খরচ করে তবে তাহা তাহার দায়িত্বে কর্জ থাকিবে। সে যখন আযাদ হইবে তখন মালিক তাহা লইয়া লইবে, এখন কিছুই ক্রীতদাস হইতে নিতে পারবে না, মনিবের নিকট হইতেও নিতে পারিবে না।

৪০. হারানো জন্তুর ফয়সালা

بَاب الْقَضَاءِ فِي الضَّوَالِّ

1479

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ أَنَّ ثَابِتَ بْنَ الضَّحَّاكِ الْأَنْصَارِيَّ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ وَجَدَ بَعِيرًا بِالْحَرَّةِ فَعَقَلَهُ ثُمَّ ذَكَرَهُ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَأَمَرَهُ عُمَرُ أَنْ يُعَرِّفَهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ فَقَالَ لَهُ ثَابِتٌ إِنَّهُ قَدْ شَغَلَنِي عَنْ ضَيْعَتِي فَقَالَ لَهُ عُمَرُ أَرْسِلْهُ حَيْثُ وَجَدْتَهُ

Narrator: সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৪৯. সুলায়মান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, সাবিত ইবনে যাহহাক আনসারী (রাযিঃ) হাররা নামক স্থানে একটি উট পাইয়া রশি দ্বারা বাঁধিয়া দিলেন। তাহার পর উমর (রাযিঃ)-কে বললেন, উমর (রাযিঃ) বললেন, তুমি তিনবার উহা প্রচার কর। সাবিত (রাযিঃ) বললেন, আমি তাহার ঝামেলায় পড়িয়া আমার জমির খবর লইতে পারি নাই। উমর (রাযিঃ) বলিলেন, তাহা হইলে যেখানে উটটি পাইয়াছ সেখানে ছাড়িয়া দিয়া আস।

1480

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ وَهُوَ مُسْنِدٌ ظَهْرَهُ إِلَى الْكَعْبَةِ مَنْ أَخَذَ ضَالَّةً فَهُوَ ضَالٌّ

Narrator: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫০. সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, উমর (রাযিঃ) কাবা শরীফের দেওয়ালে পৃষ্ঠদেশ লাগাইয়া বসিয়াছিলেন। এই অবস্থায় বলিলেন, যে হারানো বস্তু ধরে সে নিজেই গোমরাহ (পথভ্রষ্ট)।

1481

وَحَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ شِهَابٍ يَقُولُ كَانَتْ ضَوَالُّ الْإِبِلِ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ إِبِلًا مُؤَبَّلَةً تَنَاتَجُ لَا يَمَسُّهَا أَحَدٌ حَتَّى إِذَا كَانَ زَمَانُ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَمَرَ بِتَعْرِيفِهَا ثُمَّ تُبَاعُ فَإِذَا جَاءَ صَاحِبُهَا أُعْطِيَ ثَمَنَهَا

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫১. মালিক (রাহঃ) ইবনে শিহাব যুহরী (রাহঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছেন উমর (রাযিঃ)-এর যুগে যে হারানো উট পাওয়া যাইত উহাকে ঐভাবেই ছাড়িয়া দেওয়া হইত। তাহার বাচ্চা জন্ম হইলেও কেহই স্পর্শ করিত না। অতঃপর উসমান (রাযিঃ)-এর যুগ আসিল। তিনি ঐরূপ উটকে প্রচার করার পর বিক্রয় করিয়া তাহার মূল্য বায়তুল মালে জমা করার হুকুম দিলেন। অতঃপর যখন মালিক আসিবে তখন ঐ পয়সা মালিকের সোপর্দ করিয়া দেওয়া হইবে।

৪১. জীবিতদের দান মৃতদের পক্ষে

بَاب صَدَقَةِ الْحَيِّ عَنْ الْمَيِّتِ

1482

حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّهُ قَالَ خَرَجَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ فَحَضَرَتْ أُمَّهُ الْوَفَاةُ بِالْمَدِينَةِ فَقِيلَ لَهَا أَوْصِي فَقَالَتْ فِيمَ أُوصِي إِنَّمَا الْمَالُ مَالُ سَعْدٍ فَتُوُفِّيَتْ قَبْلَ أَنْ يَقْدَمَ سَعْدٌ فَلَمَّا قَدِمَ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ ذُكِرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ يَنْفَعُهَا أَنْ أَتَصَدَّقَ عَنْهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ فَقَالَ سَعْدٌ حَائِطُ كَذَا وَكَذَا صَدَقَةٌ عَنْهَا لِحَائِطٍ سَمَّاهُ

Narrator: সা'দ ইবনে উবাদা (রাঃ)

রেওয়ায়ত ৫২. সাঈদ ইবনে আমর (রাহঃ) হইতে বর্ণিত, সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) কোন যুদ্ধের মধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে রওয়ানা হইলেন। এদিকে মদীনায় তাহার মাতার মৃত্যুর সময় উপস্থিত। মানুষ তাহার মাতাকে ওসীয়াত করিতে বলিলে উত্তর দিলেন যে, কি ওসীয়্যত করিব? সমস্ত সম্পত্তি তো সা’দেরই। অবশেষে সা’দ (রাযিঃ) বাড়িতে ফিরার পূর্বে তিনি মারা যান। সা’দ (রাযিঃ) বাড়িতে আসিলে এই ঘটনা বর্ণনা করা হইল। অতঃপর সা’দ (রাযিঃ) বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি সাদ্‌কা করিলে আমার মাতার কোন উপকার হইবে কি? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেন, হ্যাঁ। অতঃপর সা’দ (রাযিঃ) বললেন, এই এই বাগান আমার আম্মাজানের পক্ষ হইতে দান করিতেছি।

1483

وَحَدَّثَنِي مَالِك عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا وَأُرَاهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ أَفَأَتَصَدَّقُ عَنْهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

রেওয়ায়ত ৫৩. নবী করীম (ﷺ)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলিলঃ আমার আম্মাজান হঠাৎ ইন্তিকাল করেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যদি তিনি কথা বলার সুযোগ পাইতেন তবে নিশ্চয়ই দান-খয়রাত করিতেন। এখন আমি তাহার পক্ষ হইতে দান করিতে পারিব কি? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেন, “হ্যাঁ, পারিবে।”

1484

وَحَدَّثَنِي مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَجُلًا مِنْ الْأَنْصَارِ مِنْ بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ تَصَدَّقَ عَلَى أَبَوَيْهِ بِصَدَقَةٍ فَهَلَكَا فَوَرِثَ ابْنُهُمَا الْمَالَ وَهُوَ نَخْلٌ فَسَأَلَ عَنْ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ قَدْ أُجِرْتَ فِي صَدَقَتِكَ وَخُذْهَا بِمِيرَاثِكَ

Narrator: মালিক ইবনে আনাস (রহঃ)

রেওয়ায়ত ৫৪. মালিক (রাহঃ) বলেন যে, এক আনসার ব্যক্তি নিজ পিতামাতাকে কিছু দান করিল, অতঃপর মাতাপিতার ইন্তিকালের পরে সে-ই তাহাদের ওয়ারিস হইল। সে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে এই বিষয় জিজ্ঞাসা করিলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিলেন, তোমার সাদ্‌কার সওয়াব তুমি পাইয়াছ, এখন ওয়ারিস হিসাবে আবার গ্রহণ কর।