أبواب الصوم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم

৮. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত রোযার অধ্যায়

Chapter 8 · 127 hadith

রমযান মাসের ফযীলত।

باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ شَهْرِ رَمَضَانَ

682

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ بْنِ كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ صُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ وَمَرَدَةُ الْجِنِّ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ. وَفُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ فَلَمْ يُغْلَقْ مِنْهَا بَابٌ وَيُنَادِي مُنَادٍ يَا بَاغِيَ الْخَيْرِ أَقْبِلْ وَيَا بَاغِيَ الشَّرِّ أَقْصِرْ وَلِلَّهِ عُتَقَاءُ مِنَ النَّارِ وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَسَلْمَانَ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭৯. আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনে আলা ইবনে কুরায়ব (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রমযান মাসের প্রথম রাতেই শয়তান ও দুষ্ট জ্বীনদের শৃঙখলাবদ্ধ করে ফেলা হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, এর একটি দরজাও তখন আর খোলা হয় না; জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, এর একটি দরজাও আর বন্ধ করা হয় না। আর একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিতে থাকেনঃ হে কল্যাণকামী! অগ্রসর হও। হে পাপাসক্ত! বিরত হও। আর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে জাহান্নাম থেকে বহু লোককে মুক্তি দান। প্রত্যেক রাতেই এরূপ হতে থাকে। - ইবনে মাজাহ ১৬৪২

এ বিষয়ে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ ইবনে মাসউদ ও সালমান (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
683
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، وَالْمُحَارِبِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ وَقَامَهُ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " . هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ الَّذِي رَوَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ رِوَايَةِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي بَكْرٍ .
قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ، فَقَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَوْلَهُ " إِذَا كَانَ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ " . فَذَكَرَ الْحَدِيثَ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَهَذَا أَصَحُّ عِنْدِي مِنْ حَدِيثِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৮০. হান্নাদ (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের আশায় রমযান মাসের রোযা পালন করবে এবং (তারাবীহ্, তাহাজ্জুদ ইত্যাদির জন্য) রাত্রি জাগরণ করে, তার পূর্ববতী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের আশায় লায়লাতুল কাদরের (নামায ইত্যাদির জন্য) রাত্রি জাগরণ করে, তার পূর্ববতী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়। - ইবনে মাজাহ ১৩২৬, বুখারি ও মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু বকর ইবনে আইয়াস (রাহঃ) সূত্রে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি গরীব। আ’মাশ আবু সালিহ (রাহঃ) সনদে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসটি সম্পর্কে আবু বকর এর সূত্র ছাড়া আমরা কিছু জানিনা। আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (বুখারী) কে এ হাদীসটি সম্পকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, হাসান ইবনে রাবী’ আবুল আওয়াস, আমাশ, মুজাহিদ (রাহঃ) থেকে তাঁর বক্তব্য হিসাবে বর্ণিত, রমযান মাসের প্রথম রাতে..... হাদীসের শেষ পর্যন্ত। মুহাম্মাদ (বুখারী) বলেন, আবু বকর ইবনে আইয়াশের তুলনায় আমার নিকট এ সনদটি অধিক সহীহ।

রমযান মাস আগমনের পূর্বক্ষণে রোযা পালন করবে না।

باب مَا جَاءَ لاَ تَقَدَّمُوا الشَّهْرَ بِصَوْمٍ

684

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقَدَّمُوا الشَّهْرَ بِيَوْمٍ وَلاَ بِيَوْمَيْنِ إِلاَّ أَنْ يُوَافِقَ ذَلِكَ صَوْمًا كَانَ يَصُومُهُ أَحَدُكُمْ صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَعُدُّوا ثَلاَثِينَ ثُمَّ أَفْطِرُوا " . رَوَى مَنْصُورُ بْنُ الْمُعْتَمِرِ عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ هَذَا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا أَنْ يَتَعَجَّلَ الرَّجُلُ بِصِيَامٍ قَبْلَ دُخُولِ شَهْرِ رَمَضَانَ لِمَعْنَى رَمَضَانَ وَإِنْ كَانَ رَجُلٌ يَصُومُ صَوْمًا فَوَافَقَ صِيَامُهُ ذَلِكَ فَلاَ بَأْسَ بِهِ عِنْدَهُمْ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৮১. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রমযান মাস আগমনের একদিন বা দুই দিন পূর্ব থেকে তোমরা (নফল) রোযা পালন করবে না। হ্যাঁ, যদি বা তোমাদের কারো পূর্ব (অভ্যাস অনুসারে) রোযা পালনের দিনে পড়ে যায়, তবে সে দিনের রোযা পালন করতে পার। তোমরা চাঁদ দেখে রোযা পালন এবং চাঁদ দেখেই ইফতার করবে (রোযা ছাড়বে)। যদি (২৯ তারিখে) আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে (ফলে তোমরা চাঁদ দেখতে না পাও) তবে সংখ্যা ত্রিশ পূরা করবে এরপর ইফতার করবে। (রোযা ছাড়বে)। - ইবনে মাজাহ ১৬৫০ ও ১৬৫৫, বুখারি, মুসলিম

এ বিষয়ে কতক সাহবী (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ্। হাদীস অনুসার আলিমগণের আমল রয়েছে রমযানের মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রেখে রমযান মাস শুরুর অব্যবহতি পূর্বে রোযা পালন করা মাকরূহ বলে তাঁরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তবে কারো যদি নির্ধারিত কোন দিনে রোযা পালনের পূর্ব অভ্যাস থাকে এবং রমযানের পূর্বের দিন সে দিনে পড়ে তবে এদিনে তার রোযা পালনে তাদের মতে কোন দোষ নাই।
685

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقَدَّمُوا شَهْرَ رَمَضَانَ بِصِيَامٍ قَبْلَهُ بِيَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ رَجُلٌ كَانَ يَصُومُ صَوْمًا فَلْيَصُمْهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৮২. হান্নাদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রমযান মাস শুরুর একদিন বা দুই দিন পূর্বে তোমরা রোযা পালন করবে না। হ্যাঁ, যদি কেউ এমন হয় যে, সে পূর্ব থেকেই এই রোযা পালন করত, তবে সে তা পালন করতে পারে। - ইবনে মাজাহ ১৬৫০, বুখারি ও মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

সন্দেহযুক্ত দিনে রোযা পালন মাকরূহ।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ صَوْمِ يَوْمِ الشَّكِّ

686

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ الْمُلاَئِيِّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ فَأُتِيَ بِشَاةٍ مَصْلِيَّةٍ فَقَالَ كُلُوا . فَتَنَحَّى بَعْضُ الْقَوْمِ فَقَالَ إِنِّي صَائِمٌ . فَقَالَ عَمَّارٌ مَنْ صَامَ الْيَوْمَ الَّذِي يَشُكُّ فِيهِ النَّاسُ فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَمَّارٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِنَ التَّابِعِينَ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ كَرِهُوا أَنْ يَصُومَ الرَّجُلُ الْيَوْمَ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ وَرَأَى أَكْثَرُهُمْ إِنْ صَامَهُ فَكَانَ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ أَنْ يَقْضِيَ يَوْمًا مَكَانَهُ .

Narrator: আম্মার ইবন ইয়াসির আল-'আনযী (রা)

৬৮৩. আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-আশাজ্জ (রাহঃ) ..... সিলা ইবনে যুফার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাযিঃ) এর কাছে ছিলাম। তখন একটি ভূনা বকরী (আহারের জন্য) হাযির করা হয়। তিনি বললেন, সবাই খাও। কিন্তু একজন দূরে সরে বলল, আমি সাঈম-রোযাদার। আম্মার (রাযিঃ) বললেন, যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত দিনে রোযা পালন করল, সে আবুল কাসিম (ﷺ) এর নাফরমানী করল। - ইবনে মাজাহ ১৬৪৫

এই বিষয়ে আবু হুরায়রা ও আনাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আম্মার (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এই হাদীস অনুসারে নবী (ﷺ) এর সাহাবীও তাদের পরবর্তী যুগের তাবিঈদের মধ্য থেকে অধিকাংশ আলিম-এর আমল রয়েছে। সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনে আনাস, আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর অভিমত এ-ই। তাঁরা সন্দেহের দিন রোযা পালন করা মাকরূহ বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। কেউ যদি উক্ত দিনের রোযা পালন করে আর তা যদি রমযান মাসের হয়, অধিকাংশ আলমের মতে, তবুও তাকে এই দিনের স্থলে একদিনের রোযা কাযা করতে হবে।

রমযানের উদ্দেশ্য শা’বানের চাঁদের গণনা।

باب مَا جَاءَ فِي إِحْصَاءِ هِلاَلِ شَعْبَانَ لِرَمَضَانَ

687

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ حَجَّاجٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَحْصُوا هِلاَلَ شَعْبَانَ لِرَمَضَانَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ لاَ نَعْرِفُهُ مِثْلَ هَذَا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُعَاوِيَةَ . وَالصَّحِيحُ مَا رُوِيَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقَدَّمُوا شَهْرَ رَمَضَانَ بِيَوْمٍ وَلاَ يَوْمَيْنِ " . وَهَكَذَا رُوِيَ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوُ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو اللَّيْثِيِّ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৮৪. মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন। তোমরা রমযানের উদ্দেশ্য শা’বানের চাঁদের হিসাব রাখবে।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু মুআবিয়ার সূত্র ছাড়া অন্য কোন সূত্রে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর হাদীসটি এরূপভাবে বর্ণিত হয়েছে বলে আমাদের জানা নাই। সহীহ রিওয়ায়াত হল, মুহাম্মাদ ইবনে আমর আবু সালামা, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত আছে যে নবী (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তোমরা রমযান মাসকে একদিন বা দুইদিন এগিয়ে নিয়ে আসবে না। ইয়াহয়া ইবনে আবু কাসীর, আবু সালামা, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনে আমর লায়সী-এর রিওয়ায়াতে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।

চাঁদ দেখে রোযা পালন করা এবং চাঁদ দেখে তা ভঙ্গ করা।

باب مَا جَاءَ أَنَّ الصَّوْمَ لِرُؤْيَةِ الْهِلاَلِ وَالإِفْطَارَ لَهُ

688

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَصُومُوا قَبْلَ رَمَضَانَ صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ حَالَتْ دُونَهُ غَيَايَةٌ فَأَكْمِلُوا ثَلاَثِينَ يَوْمًا " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي بَكْرَةَ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৮৫. কুতায়বা (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ রমযানের পূর্বে তোমরা রোযা পালন করবে না। রমযানের চাঁদ দেখে রোযা পালন করবে এবং আবার চাঁদ দেখে রোযা ভঙ্গ করবে। যদি মেঘের কারণে আড়াল হয় তবে ত্রিশ দিন পূরণ করবে।

এ বিষয়ে আবু হুরায়রা, আবু বাকরা ও ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এটি তাঁর থেকে একাধিক স্থলে বর্ণিত আছে।

মাস উনত্রিশ দিনেও হয়।

باب مَا جَاءَ أَنَّ الشَّهْرَ يَكُونُ تِسْعًا وَعِشْرِينَ

689

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، أَخْبَرَنِي عِيسَى بْنُ دِينَارٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ بْنِ أَبِي ضِرَارٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ مَا صُمْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تِسْعًا وَعِشْرِينَ أَكْثَرُ مِمَّا صُمْنَا ثَلاَثِينَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعَائِشَةَ وَسَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَابْنِ عُمَرَ وَأَنَسٍ وَجَابِرٍ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَأَبِي بَكْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الشَّهْرُ يَكُونُ تِسْعًا وَعِشْرِينَ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৮৬. আহমাদ বি্ন মানী (রাহঃ) ...... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে যতবার ত্রিশ দিন রোযা পালন করেছি, তদপেক্ষা বেশীবার উনত্রিশ দিন রোযা পালন করেছি। - ইবনে মাজাহ ১৬৫৮

এ বিষয়ে উমর, আবু হুরায়রা, আয়িশা, সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস, ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর, আনাস, জাবির, উম্মে সালামা, আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মাস উনত্রিশ দিনেও হয়।
690

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّهُ قَالَ آلَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ نِسَائِهِ شَهْرًا فَأَقَامَ فِي مَشْرُبَةٍ تِسْعًا وَعِشْرِينَ يَوْمًا قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ آلَيْتَ شَهْرًا فَقَالَ " الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৮৭. আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সহধর্মিনীগণের সঙ্গে এক মাসের ইলা* করেন। তখন তিনি উনত্রিশ দিন গৃহের উপর নিভৃতে কক্ষে অবস্থান করেন। লোকেরা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো একমাসের জন্য ইলা করেছিলন? তিনি বললেনঃ এ মাস উনত্রিশ দিনের।

*নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্ত্রীর কাছে না যাওয়ার কসম করা।

সাক্ষীর উপর ভিক্তি করে রোযা পালন।

باب مَا جَاءَ فِي الصَّوْمِ بِالشَّهَادَةِ

691
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي ثَوْرٍ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّي رَأَيْتُ الْهِلاَلَ . قَالَ " أَتَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَتَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " يَا بِلاَلُ أَذِّنْ فِي النَّاسِ أَنْ يَصُومُوا غَدًا " .

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْجُعْفِيُّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، نَحْوَهُ بِهَذَا الإِسْنَادِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ فِيهِ اخْتِلاَفٌ . وَرَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، وَغَيْرُهُ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً وَأَكْثَرُ أَصْحَابِ سِمَاكٍ رَوَوْا عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا تُقْبَلُ شَهَادَةُ رَجُلٍ وَاحِدٍ فِي الصِّيَامِ . وَبِهِ يَقُولُ ابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَأَهْلُ الْكُوفَةِ . قَالَ إِسْحَاقُ لاَ يُصَامُ إِلاَّ بِشَهَادَةِ رَجُلَيْنِ . وَلَمْ يَخْتَلِفْ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الإِفْطَارِ أَنَّهُ لاَ يُقْبَلُ فِيهِ إِلاَّ شَهَادَةُ رَجُلَيْنِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৮৮. মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক বেদুঈন নবী (ﷺ) কাছে এসে বলল, আমি (রমযানের) চাঁদ দেখেছি, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি এ কথার সাক্ষ্য দাও যে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই? তুমি কি আরো সাক্ষ্য দাও যে মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, হে বিলাল! লোকদের মধ্যে ঘোষণা দিয়ে দাও তারা যেন আগামীকাল রোযা পালন করে। - ইবনে মাজাহ ১৬৫২

আবু কুরায়ব (রাহঃ) ..... সিমাক ইবনে হারব (রাহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটির সনদে মতভেদ রয়েছে। সুফিয়ান সাওরী প্রমূখ এটিকে সিমাক ইবনে হারব, ইকরিমা সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে মুরসালরূপে রিওয়ায়াত করেছেন। সিমাক (রাহঃ) এর অধিকাংশ ছাত্র সিমাক -ইকরিমা সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। অধিকাংশ আলিমের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। তাঁরা বলেন, রোযার ব্যাপারে এক ব্যক্তির সাক্ষ্যই গ্রহণীয়। ইবনু মুবারক, শাফিঈও আহমাদ (রাহঃ) ও কুফাবাসীর বক্তব্য এ-ই। ইসহাক (রাহঃ) বলেন, দুই ব্যক্তির সাক্ষ্য ছাড়া রোযা পালন করা যাবেনা। তবে সিয়ম ভঙ্গের ব্যাপারে আলিমদের মধ্যে মতভেদ নেই যে, দুই ব্যক্তির সাক্ষ্য ছাড়া গ্রহণযোগ্য হবে না।

দুই ঈদের মাস কম হয় না।

باب مَا جَاءَ شَهْرَا عِيدٍ لاَ يَنْقُصَانِ

692

حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " شَهْرَا عِيدٍ لاَ يَنْقُصَانِ رَمَضَانُ وَذُو الْحِجَّةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي بَكْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً . قَالَ أَحْمَدُ مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ " شَهْرَا عِيدٍ لاَ يَنْقُصَانِ " . يَقُولُ لاَ يَنْقُصَانِ مَعًا فِي سَنَةٍ وَاحِدَةٍ شَهْرُ رَمَضَانَ وَذُو الْحِجَّةِ إِنْ نَقَصَ أَحَدُهُمَا تَمَّ الآخَرُ . وَقَالَ إِسْحَاقُ مَعْنَاهُ " لاَ يَنْقُصَانِ " يَقُولُ وَإِنْ كَانَ تِسْعًا وَعِشْرِينَ فَهُوَ تَمَامٌ غَيْرُ نُقْصَانٍ . وَعَلَى مَذْهَبِ إِسْحَاقَ يَكُونُ يَنْقُصُ الشَّهْرَانِ مَعًا فِي سَنَةٍ وَاحِدَةٍ .

Narrator: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৬৯০. ইয়াহয়া ইবনে খালফ বসরী (রাহঃ) ...... আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দুই ঈদের মাস রমাযান ও যুলহিজ্জা (একসঙ্গে) হ্রাস পায় না। - ইবনে মাজাহ ১৬৫৯, বুখারি, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসটি হাসান। এই হাদীসটি আব্দুর রহমান ইবনে আবু বাকরা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে মুরসালরূপে বর্ণিত আছে। ইমাম আহমাদ (রাহঃ) বলেন, দুই ঈদের মাস একসাথে কম হয় না। একটি মাস যদি কম হয় তবে অপরটি পূর্ণ হবে। ইসহাক (রাহঃ) বলেন, কম হবেনা অর্থ হল, মাসটি উনত্রিশ দিনে হলেও এটি পূর্ণ মাস হিসেবে গণ্য। তাতে কোন অপূর্ণতা নেই। ইসহাক (রাহঃ) এর মতানুসারে বুঝা যায়, একই বছরে এই দুই মাস কম হতে পারে।

রমযানের রোযা- এর প্রতি উৎসাহিত করা এবং এর ফযীলত।

باب التَّرْغِيبِ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَمَا جَاءَ فِيهِ مِنَ الْفَضْلِ

693

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَرْمَلَةَ، أَخْبَرَنِي كُرَيْبٌ، أَنَّ أُمَّ الْفَضْلِ بِنْتَ الْحَارِثِ، بَعَثَتْهُ إِلَى مُعَاوِيَةَ بِالشَّامِ . قَالَ فَقَدِمْتُ الشَّامَ فَقَضَيْتُ حَاجَتَهَا وَاسْتُهِلَّ عَلَىَّ هِلاَلُ رَمَضَانَ وَأَنَا بِالشَّامِ فَرَأَيْنَا الْهِلاَلَ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ ثُمَّ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فِي آخِرِ الشَّهْرِ فَسَأَلَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ ثُمَّ ذَكَرَ الْهِلاَلَ فَقَالَ مَتَى رَأَيْتُمُ الْهِلاَلَ فَقُلْتُ رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ . فَقَالَ أَأَنْتَ رَأَيْتَهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ فَقُلْتُ رَآهُ النَّاسُ وَصَامُوا وَصَامَ مُعَاوِيَةُ . قَالَ لَكِنْ رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ السَّبْتِ فَلاَ نَزَالُ نَصُومُ حَتَّى نُكْمِلَ ثَلاَثِينَ يَوْمًا أَوْ نَرَاهُ . فَقُلْتُ أَلاَ تَكْتَفِي بِرُؤْيَةِ مُعَاوِيَةَ وَصِيَامِهِ قَالَ لاَ هَكَذَا أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ لِكُلِّ أَهْلِ بَلَدٍ رُؤْيَتَهُمْ .

Narrator: কুরাইব (রহঃ)

৬৯১. আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ..... কুরায়ব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, উম্মুল ফযল বিনতে হারিস (রাযিঃ) তাকে মুআবিয়া (রাযিঃ) এর নিকট শামে (সিরিয়ায়) প্রেরণ করেছিলেন। কুরায়ব (রাহঃ) বলেন, আমি সিরিয়ায় পৌছে উম্মুল ফযলের কাজ সমাধা করলাম। সিরিয়ায় থাকতে থাকতেই রমযানের চাঁদ দেখা গেল। জুমআর রাতে আমরা চাঁদ দেখলাম। এরপর রমযানের শেষের দিকে আমি মদীনায় এলাম। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) আমাকে (কুশলাদি) জিজ্ঞাসা করার পর চাঁদ দেখা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বললেন, তোমরা কবে চাঁদ দেখেছ? আমি বললাম, জুমআর রাতে আমরা চাঁদ দেখেছি। তিনি বললেন, তুমি নিজে জুমআর রাতে চাঁদ দেখেছ? আমি বললাম লোকেরা দেখেছে এবং তারা নিজেরাও রোযা পালন (শুরু) করেছে, মুআবিয়া (রাযিঃ) ও রোযা পালন করেছেন। তিনি বললেন, কিন্তু আমরা তো তা শনিবার রাতে দেখেছি। সুতরাং আমরা রোযা করতে থাকব ত্রিশ দিন পূরা হওয়া পর্যন্ত অথবা (এর পূর্বে) আমরা চাঁদ না দেখা পর্যন্ত। আমি বললাম, মুআবিয়া (রাযিঃ) এর চাঁদ দেখা এবং তাঁর রোযা পালন করা আপনার জন্য যথেষ্ট নয়? তিনি বললেন, না। বরং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের এভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন। - সহীহ আবু দাউদ ১০২১, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ গরীব। আলিমগণের এ হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে যে, প্রত্যেক শহরবাসীর জন্য তাদের চন্দ্র দর্শনই কার্যকর।

যা দিয়ে ইফতার করা মুস্তাহাব।

باب مَا جَاءَ مَا يُسْتَحَبُّ عَلَيْهِ الإِفْطَارُ

694

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ الْمُقَدَّمِيُّ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ وَجَدَ تَمْرًا فَلْيُفْطِرْ عَلَيْهِ وَمَنْ لاَ فَلْيُفْطِرْ عَلَى مَاءٍ فَإِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ لاَ نَعْلَمُ أَحَدًا رَوَاهُ عَنْ شُعْبَةَ مِثْلَ هَذَا غَيْرَ سَعِيدِ بْنِ عَامِرٍ وَهُوَ حَدِيثٌ غَيْرُ مَحْفُوظٍ وَلاَ نَعْلَمُ لَهُ أَصْلاً مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ عَنْ أَنَسٍ . وَقَدْ رَوَى أَصْحَابُ شُعْبَةَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ عَنِ الرَّبَابِ عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ سَعِيدِ بْنِ عَامِرٍ . وَهَكَذَا رَوَوْا عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ عَنْ سَلْمَانَ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ شُعْبَةُ عَنِ الرَّبَابِ . وَالصَّحِيحُ مَا رَوَاهُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ عُيَيْنَةَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ عَنِ الرَّبَابِ عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ . وَابْنُ عَوْنٍ يَقُولُ عَنْ أُمِّ الرَّائِحِ بِنْتِ صُلَيْعٍ عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ . وَالرَّبَابُ هِيَ أُمُّ الرَّائِحِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৯২. মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে আলী মুকাদ্দামী (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ যদি খেজুর পায় তবে সে তা দিয়ে ইফতার করে। আর তা যদি না পায় তবে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে। কেননা, পানি অতি পবিত্র। - ইবনে মাজাহ ১৬৯৯

এই বিষয়ে সালমান ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আনাস (রাযিঃ) এর এই হাদীসটিকে শু’বা এর সূত্রে সাঈদ ইবনে আমির ছাড়া আর কেই এরূপ রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমাদের জানা নাই। এই হাদীসটি মাহফুয (নির্ভরযোগ্য) নয়। আব্দুল আযীয ইবনে সুহায়ব -আনাস (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত, হাদীস হিসাবে এটির কোন মূল আছে বলে আমরা জানি না। শু’বা এর শাগরিদগণ এই হাদীসটিকে আসিম আহওয়াল, হাফসা বিনতে শীরীন, রাবাব, সালমান ইবনে আমির নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। সাঈদ ইবনে আমিরের রিওয়ায়াতের তুলনায় এটি অধিকতর সহীহ। এমনিভাবে তারা শু’বা, আসিম, হাফসা বিনতে শীরীন, রাবাব, সালমান ইবনে আমির সনদে ও রিওয়ায়াত করেছেন। শু’বা রাবাব এর উল্লেখ করেননি। আর সহীহ হল যা বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান সাওরী , ইবনে উয়ায়না প্রমূখ রাবী আসিম আহওয়াল, হাফসা বিনতে শীরীন, রাবাব, সালমান ইবনে আমির থেকে। রাবী ইবনে আওন (রাযিঃ) তাঁর সনদে উম্মু রাইয়েহ বিনতে সালমান ইবনে আমির (রাযিঃ) উল্লেখ করেছেন। রাবাব-ই হলেন উম্মু রাইয়েহ।
695

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، ح وَحَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، . وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ، عَنِ الرَّبَابِ، عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ الضَّبِّيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَفْطَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى تَمْرٍ " . زَادَ ابْنُ عُيَيْنَةَ " فَإِنَّهُ بَرَكَةٌ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى مَاءٍ فَإِنَّهُ طَهُورٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: সালমান ইবনে আমির যব্বী (রাঃ)

৬৯৩. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ...... সালমান ইবনে আমির যাববী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ যদি ইফতার করে তবে সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। ইবনে উয়াইনা একটি বর্ধিত করেছেন এতে বরকত রয়েছে। কেউ যদি তা না পায় তবে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে। কেননা পানি অতি পবিত্র।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্।
696

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ " كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُفْطِرُ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ عَلَى رُطَبَاتٍ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ رُطَبَاتٌ فَتُمَيْرَاتٍ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تُمَيْرَاتٌ حَسَا حَسَوَاتٍ مِنْ مَاءٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرُوِيَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُفْطِرُ فِي الشِّتَاءِ عَلَى تَمَرَاتٍ وَفِي الصَّيْفِ عَلَى الْمَاءِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৯৪. মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (মাগরিব এর নামায আদায়ের আগেই কিছু তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাজা খেজুর না পেলে কিছু শুকনা খেজুর দিয়ে ইফতার করে নিতেন। আর যদি শুকনা খেজুর না পেতেন তবে কয়েক ঢোক পানি পান করে নিতেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান গরীব। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) আরও বলেন, বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শীতকালে শুকনা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন এবং গ্রীষ্মকালে পানি দিয়ে।

রোযা হল যেদিন তোমরা রোযা পালন কর, ঈদুল ফিতর হল যেদিন তোমরা ইফতার কর, আর ঈদুল আযহা হল যেদিন তোমরা কুরবানী কর।

باب مَا جَاءَ الصَّوْمُ يَوْمَ تَصُومُونَ وَالْفِطْرُ يَوْمَ تُفْطِرُونَ وَالأَضْحَى يَوْمَ تُضَحُّونَ

697

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ مُحَمَّدٍ الأَخْنَسِيِّ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الصَّوْمُ يَوْمَ تَصُومُونَ وَالْفِطْرُ يَوْمَ تُفْطِرُونَ وَالأَضْحَى يَوْمَ تُضَحُّونَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَفَسَّرَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ هَذَا الْحَدِيثَ فَقَالَ إِنَّمَا مَعْنَى هَذَا أَنَّ الصَّوْمَ وَالْفِطْرَ مَعَ الْجَمَاعَةِ وَعُظْمِ النَّاسِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৯৫. মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ রোযা হল যেদিন তোমরা রোযা পালন কর। ঈদুল ফিতর হল যেদিন তোমরা ইফতার কর। আর ঈদুল আযহা হল যেদিন তোমরা কুরবানী কর। - ইবনে মাজাহ ১৬৬০

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান গরীব। কোন কোন আলিম এই হাদীসটির ব্যাখ্যায় বলেন, এর মর্ম হল রোযা ভঙ্গ ও তা পালনে মুসলিম জামাআত ও অধিকাংশ লোকের সঙ্গে শামিল থাকা উচিত।

যখন রাত আসে ও দিন চলে যায় তখন রোযা পালনকারী ইফতার করবে।

باب مَا جَاءَ إِذَا أَقْبَلَ اللَّيْلُ وَأَدْبَرَ النَّهَارُ فَقَدْ أَفْطَرَ الصَّائِمُ

698

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَقْبَلَ اللَّيْلُ وَأَدْبَرَ النَّهَارُ وَغَابَتِ الشَّمْسُ فَقَدْ أَفْطَرْتَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى وَأَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৬৯৬. হারূন ইবনে ইসহাক হামদানী (রাহঃ) ......... উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন রাত আসে ও দিন চলে যায় আর সূর্য অস্তমিত হয় তখন তোমরা ইফতারের সময় হল। - বুখারি, মুসলিম

এই বিষয়ে ইবনে আবু আওফা ও আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, উমর (রাযিঃ) বর্ণিত এ হাদীসটি হাসান সহীহ।

অবিলম্বে ইফতার করা।

باب مَا جَاءَ فِي تَعْجِيلِ الإِفْطَارِ

699

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، ح قَالَ وَأَخْبَرَنَا أَبُو مُصْعَبٍ، قِرَاءَةً عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَعَائِشَةَ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ الَّذِي اخْتَارَهُ أَهْلُ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمُ اسْتَحَبُّوا تَعْجِيلَ الْفِطْرِ . وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৬৯৭. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার ও আবু মুসআব (রাহঃ) ...... সাহাল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ লোকেরা যতদিন অবিলম্বে ইফতার করবে ততদিন তারা কল্যাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।

এই বিষয়ে আবু হুরায়রা, ইবনে আব্বাস, আয়িশাও আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, সাহাল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) বর্ণিত এ হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী (ﷺ) এর সাহাবী ও আলিমগণ তা গ্রহণ করেছেন। তাঁরা (সূর্যাস্তের পর) অবিলম্বে ইফতার করা মুস্তাহাব বলে মনে করেন। এ হল ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর অভিমত।
700

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ قُرَّةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَحَبُّ عِبَادِي إِلَىَّ أَعْجَلُهُمْ فِطْرًا " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৯৮. ইসহাক ইবনে মুসা আনসারী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ আমার কাছে প্রিয়তম বান্দা সে যে অবিলম্বে ইফতার করে।

701

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ، وَأَبُو الْمُغِيرَةِ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .

Narrator: আওযায়ী (রহঃ)

৬৯৯. আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ...... আওযায়ী (রাহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান গরীব।

702

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي عَطِيَّةَ، قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَمَسْرُوقٌ، عَلَى عَائِشَةَ فَقُلْنَا يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ رَجُلاَنِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَحَدُهُمَا يُعَجِّلُ الإِفْطَارَ وَيُعَجِّلُ الصَّلاَةَ وَالآخَرُ يُؤَخِّرُ الإِفْطَارَ وَيُؤَخِّرُ الصَّلاَةَ . قَالَتْ أَيُّهُمَا يُعَجِّلُ الإِفْطَارَ وَيُعَجِّلُ الصَّلاَةَ قُلْنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ . قَالَتْ هَكَذَا صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَالآخَرُ أَبُو مُوسَى . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَأَبُو عَطِيَّةَ اسْمُهُ مَالِكُ بْنُ أَبِي عَامِرٍ الْهَمْدَانِيُّ وَيُقَالُ مَالِكُ بْنُ عَامِرٍ الْهَمْدَانِيُّ وَابْنُ عَامِرٍ أَصَحُّ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭০০. হান্নাদ (রাহঃ) .... আবু আতিয়্যা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ও মাসরূক (রাযিঃ) আয়িশা (রাযিঃ) এর কাছে গিয়ে বললাম, হে উম্মুল মু'মিনীন! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দুই সাহাবীর একজন তো অবিলম্বে ইফতার করেন এবং অবিলম্বে নামায আদায় করেন আর অপরজন বিলম্বে ইফতার করেন এবং বিলম্বে নামায আদায় করেন। তিনি বললেন, তাদের মধ্যে কে অবিলম্বে ইফতার করেন এবং অবিলম্বে নামায আদায় করেন? আমরা বললাম, ইনি হলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুউদ (রাযিঃ) তিনি বললেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করতেন। অপর সাহাবী ছিলেন আবু মুসা (রাযিঃ)। - সহীহ আবু দাউদ ২০৩৯, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। আবু আতিয়্যা (রাহঃ) এর নাম হল মালিক ইবনে আমির হামদানী। মতান্তরে মালিক ইবনে আমির হামদানী। এটাই অধিকতর সহীহ।

বিলম্বে সাহরী খাওয়া।

باب مَا جَاءَ فِي تَأْخِيرِ السُّحُورِ

703

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ تَسَحَّرْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قُمْنَا إِلَى الصَّلاَةِ . قَالَ قُلْتُ كَمْ كَانَ قَدْرُ ذَلِكَ قَالَ قَدْرُ خَمْسِينَ آيَةً .

Narrator: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

৭০১. ইয়াহয়া ইবনে মুসা (রাযিঃ) ..... যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে সাহরী খেলাম, এরপরই নামাযে দাঁড়িয়ে গেলাম। রাবী বলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, এই দুয়ের মাঝে কতটুকু ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত পরিমাণ (তিলাওয়াতের সময়)। - বুখারি ও মুসলিম

704

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ هِشَامٍ، بِنَحْوِهِ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ قَدْرُ قِرَاءَةِ خَمْسِينَ آيَةً . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ حُذَيْفَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ اسْتَحَبُّوا تَأْخِيرَ السُّحُورِ .

Narrator: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৭০২. হান্নাদ (রাহঃ) ........ হিশাম (রাহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এই বর্ণনায় আছে, পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত পরিমাণ। এই বিষয়ে হুযাইফা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ্। এ হল ইমাম (আবু হানীফা), শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। তাঁদের মতে বিলম্বে সাহরী খাওয়া মুস্তাহাব।

ফজরের বিবরণ।

باب مَا جَاءَ فِي بَيَانِ الْفَجْرِ

705

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا مُلاَزِمُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ النُّعْمَانِ، عَنْ قَيْسِ بْنِ طَلْقٍ، حَدَّثَنِي أَبِي طَلْقُ بْنُ عَلِيٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كُلُوا وَاشْرَبُوا وَلاَ يَهِيدَنَّكُمُ السَّاطِعُ الْمُصْعِدُ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَعْتَرِضَ لَكُمُ الأَحْمَرُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ وَأَبِي ذَرٍّ وَسَمُرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ طَلْقِ بْنِ عَلِيٍّ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُ لاَ يَحْرُمُ عَلَى الصَّائِمِ الأَكْلُ وَالشُّرْبُ حَتَّى يَكُونَ الْفَجْرُ الأَحْمَرُ الْمُعْتَرِضُ . وَبِهِ يَقُولُ عَامَّةُ أَهْلِ الْعِلْمِ .

Narrator: হযরত তালক ইবনে আলী রাযি.

৭০৩. হান্নাদ (রাহঃ) .... আবু তালক ইবনে আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা (সাহরীর সময়) পানাহার করতে থাকবে। উর্ধ্বগামী আলোর রশ্মি যেন তোমাদের ঘাবড়িয়ে না দেয়। লালচে আলো ছড়িয়ে পড়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার করতে থাক।

এই বিষয়ে আদী ইবনে হাতিম, আবু যর এবং সামুরা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই সূত্রে তালক ইবনে আলী (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান গরীব। এতদনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে যে, যতক্ষণ ফজরের লালচে আলো প্রস্থে বিস্তৃতি না হয়, ততক্ষণ রোযাদারের জন্য পানাহার হারাম নয়। অধিকাংশ আলিমও এ মত পোষণ করেন।
706

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَيُوسُفُ بْنُ عِيسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ سَوَادَةَ بْنِ حَنْظَلَةَ، هُوَ الْقُشَيْرِيُّ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَمْنَعَنَّكُمْ مِنْ سُحُورِكُمْ أَذَانُ بِلاَلٍ وَلاَ الْفَجْرُ الْمُسْتَطِيلُ وَلَكِنِ الْفَجْرُ الْمُسْتَطِيرُ فِي الأُفُقِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .

Narrator: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৭০৪. হান্নাদ ও ইউসুফ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ...... সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের সাহরী খাওয়া থেকে যেন বাধা না দেয় বিলালের আযান এবং ভোরের দৈর্ঘ্যে প্রকাশিত আলো যতক্ষণ তা দিগন্তে বিস্তৃত না হয়।

ইমাম আবু ঈসা (রাযিঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ্।

রোযা পালনকারীর জন্য গীবত করার বিষয়ে কঠোরতা।

باب مَا جَاءَ فِي التَّشْدِيدِ فِي الْغِيبَةِ لِلصَّائِمِ

707

حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ بِأَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭০৫. আবু মুসা মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাযিঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অন্যায় কথন (গীবাত, মিথ্যা, গালীগালাজ, তুহমত, লা’নত ইত্যাদি) ও তৎবিষয়ে আমল পরিত্যাগ না করে, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। - ইবনে মাজাহ ১৬৮৯, বুখারি

এই বিষয়ে আনাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাযিঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ্।

সাহরী খাওয়ার ফযীলত।

باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ السُّحُورِ

708

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، وَعَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السُّحُورِ بَرَكَةً " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَعَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَالْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ وَعُتْبَةَ بْنِ عَبْدٍ وَأَبِي الدَّرْدَاءِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭০৬. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সাহরী খাও, কেননা সাহরীতে বরকত আছে। - ইবনে মাজাহ ১৬৯২, বুখারি, মুসলিম

এই বিষয়ে আবু হুরায়রা, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ, ইবনে আব্বাস, আমর ইবনে আস, ইরবায ইবনে সরিয়া, উতরা ইবনে আব্দুল্লাহ্ ও আবু দারদা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আনাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ্। নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাদের রোযা ও আহলে কিতাবীদের (ইয়াহুদী ও খৃষ্টান) রোযার মধ্যে পার্থক্য হল সাহরী খাওয়া।
709

وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " فَصْلُ مَا بَيْنَ صِيَامِنَا وَصِيَامِ أَهْلِ الْكِتَابِ أَكْلَةُ السَّحَرِ " . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ مُوسَى بْنِ عَلِيٍّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي قَيْسٍ مَوْلَى عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ . قَالَ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَهْلُ مِصْرَ يَقُولُونَ مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ وَأَهْلُ الْعِرَاقِ يَقُولُونَ مُوسَى بْنُ عُلَىٍّ وَهُوَ مُوسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ اللَّخْمِيُّ .

Narrator: হযরত আমর ইবনুল আস রাযি.

৭০৭. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আমর ইবনে আস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে হাদীসটি বর্ণিত আছে।

এই হাদীসটি হাসান সহীহ্। এই হাদীসটির রাবী মুসা সম্পর্কে মিশরবাসী (মুহাদ্দিসগণ) বলেন, মুসা ইবনে আলী। আর ইরাকবাসী (মুহদ্দিসগণ) বলেন, মুসা ইবনে উলাই। তিনি হলেন, মুসা ইবনে উলাই ইবনে রাবাহ্ লাখমী।

সফরে রোযা পালন পছন্দনীয় নয়।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ

710

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى مَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ كُرَاعَ الْغَمِيمِ وَصَامَ النَّاسُ مَعَهُ فَقِيلَ لَهُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ شَقَّ عَلَيْهِمُ الصِّيَامُ وَإِنَّ النَّاسَ يَنْظُرُونَ فِيمَا فَعَلْتَ . فَدَعَا بِقَدَحٍ مِنْ مَاءٍ بَعْدَ الْعَصْرِ فَشَرِبَ وَالنَّاسُ يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ فَأَفْطَرَ بَعْضُهُمْ وَصَامَ بَعْضُهُمْ فَبَلَغَهُ أَنَّ نَاسًا صَامُوا فَقَالَ " أُولَئِكَ الْعُصَاةُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ كَعْبِ بْنِ عَاصِمٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ " . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ فَرَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنَّ الْفِطْرَ فِي السَّفَرِ أَفْضَلُ حَتَّى رَأَى بَعْضُهُمْ عَلَيْهِ الإِعَادَةَ إِذَا صَامَ فِي السَّفَرِ . وَاخْتَارَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ الْفِطْرَ فِي السَّفَرِ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ إِنْ وَجَدَ قُوَّةً فَصَامَ فَحَسَنٌ وَهُوَ أَفْضَلُ وَإِنْ أَفْطَرَ فَحَسَنٌ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ وَإِنَّمَا مَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ " . وَقَوْلُهُ حِينَ بَلَغَهُ أَنَّ نَاسًا صَامُوا فَقَالَ " أُولَئِكَ الْعُصَاةُ " . فَوَجْهُ هَذَا إِذَا لَمْ يَحْتَمِلْ قَلْبُهُ قَبُولَ رُخْصَةِ اللَّهِ فَأَمَّا مَنْ رَأَى الْفِطْرَ مُبَاحًا وَصَامَ وَقَوِيَ عَلَى ذَلِكَ فَهُوَ أَعْجَبُ إِلَىَّ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৭০৮. কুতায়বা (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (রমযান মাস) মক্কা বিজয় বছরে যখন মক্কার দিকে বের হন, তখন কুরাউল -গামীম নামক স্থানে পৌঁছা পর্যন্ত রোযা পালন করেন। লোকেরা ও তাঁর সঙ্গে রোযা পালন করেন। তখন তাকে বলা হল; লোকদের জন্য রোযা পালন করা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। তারা আপনি কি করেন তার প্রতি তাকিয়ে আছে। তিনি আসরের পর এক পেয়লা পানি চেয়ে আনালেন এবং তা পান করলেন। লোকেরা তখন তাঁর দিকে দেখছিল। তখন কেউ কেউ রোযা ভেঙ্গে ফেলল আর কেউ কেউ রোযাদার রইলো। লোকেরা রোযা পালন করছে এই কথা তাঁর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেনঃ এরা হল নাফরমান।

এই বিষয়ে কা’ব ইবনে আমিস, ইবনে আব্বাস ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, জাবির (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান সহীহ। নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে যে, ‘‘তিনি বলেনঃ সফরে রোযা পালনে নেকী নেই’’।

সফর অবস্থায় রোযা পালন সম্পর্কে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। নবী (ﷺ) এর সাহাবী ও অন্যান্যদের মধ্যে কোন কোন আলিমের মত হল সফরে রোযা পালন করতে হবে। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) সফরে রোযা পালন না করার মত গ্রহণ করেছেন। আর কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেন, সফরে যদি শক্তি থাকে এবং রোযা পালন করে তবে তা ভাল এবং তাই উত্তম। আর যদি রোযা পালন না করে তবে তা-ও ভাল। এ হলো, সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনে আনাস ও আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রাহঃ)-এর অভিমত। ইমাম শাফই (রাহঃ) বলেন, নবী (ﷺ) এর উক্তি ‘‘সফরে রোযা পালন করার কোন নেকী নেই।’’ এবং যখন নবী (ﷺ) এর এই খবর পৌছল যে কিছু সংখ্যক লোক সফরে রোযা পালন করছে। তখন তিনি বললেনঃ ‘‘এরা নাফরমান।’’ এই হাদীস দুটি সে ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য যার অন্তর আল্লাহ প্রদত্ত অবকাশ গ্রহণ করে না। কিন্তু যে ব্যক্তি সফরে রোযা ভঙ্গ করা মুবাহ্ বলে বিশ্বাস করে এবং রোযা পালনে শক্তি থাকায় সে তা পালন করে, তা আমার কাছে পছন্দনীয়।

সফরে রোযা পালনের অবকাশ।

باب مَا جَاءَ مِنَ الرُّخْصَةِ فِي الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ

711

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ حَمْزَةَ بْنَ عَمْرٍو الأَسْلَمِيَّ، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ وَكَانَ يَسْرُدُ الصَّوْمَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَأَبِي الدَّرْدَاءِ وَحَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الأَسْلَمِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ أَنَّ حَمْزَةَ بْنَ عَمْرٍو سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭০৯. হারুন ইবনে ইসহাক হামদানী (রাযিঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হামযা ইবনে আমর আসলামী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সফরে রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আর তিনি লাগাতার রোযা পালন করতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেনঃ তুমি চাইলে রোযা পালন কর আর ইচ্ছা ইফতার কর। - ইবনে মাজাহ ১৬৬২, বুখারি, মুসলিম

এই বিষয়ে আনাস ইবনে মালিক, আবু সাঈদ, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, আবু দারদা এবং ইবনে আমর আসালামী (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আয়িশা (রাযিঃ)-এর বর্ণিত হামযা ইবনে আমর আসলামী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ্।
712

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ أَبِي مَسْلَمَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كُنَّا نُسَافِرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَمَا يَعِيبُ عَلَى الصَّائِمِ صَوْمَهُ وَلاَ عَلَى الْمُفْطِرِ إِفْطَارَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭১০. নসর ইবনে আলী জাহযামী (রাহঃ) .... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে রমযান মাসে সফর করেছি। কিন্তু সফরে রোযা পালন করার কারণে কোন রোযাদারকে কিংবা রোযা ভঙ্গ করার কারণে এবং কোন ইফতারকারীকে কোনরূপ দোষারোপ করা হতো না।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ্।
713

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كُنَّا نُسَافِرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمِنَّا الصَّائِمُ وَمِنَّا الْمُفْطِرُ فَلاَ يَجِدُ الْمُفْطِرُ عَلَى الصَّائِمِ وَلاَ الصَّائِمُ عَلَى الْمُفْطِرِ فَكَانُوا يَرَوْنَ أَنَّهُ مَنْ وَجَدَ قُوَّةً فَصَامَ فَحَسَنٌ وَمَنْ وَجَدَ ضَعْفًا فَأَفْطَرَ فَحَسَنٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭১১. নসর ইবনে আলী (রাযিঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে সফর করতাম। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ থাকতেন রোযাদার আর কেউ কেউ রোযা ভঙ্গকারী। ইফতারকারী রোযাদারের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেনি এবং রোযাদার ইফতার-কারীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেনি। তাঁরা মনে করতেন যে, যখন সে রোযা পালন করছে, সুতরাং তা ভাল আর যে রোযা পালন করছে না তাও ভাল। - মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।

যোদ্ধাদের রোযা ভঙ্গের অনুমতি।

باب مَا جَاءَ فِي الرُّخْصَةِ لِلْمُحَارِبِ فِي الإِفْطَارِ

714

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مَعْمَرِ بْنِ أَبِي حُيَيَّةَ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ سَأَلَهُ عَنِ الصَّوْمِ، فِي السَّفَرِ فَحَدَّثَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ غَزْوَتَيْنِ يَوْمَ بَدْرٍ وَالْفَتْحِ فَأَفْطَرْنَا فِيهِمَا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عُمَرَ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ أَمَرَ بِالْفِطْرِ فِي غَزْوَةٍ غَزَاهَا . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ نَحْوُ هَذَا أَنَّهُ رَخَّصَ فِي الإِفْطَارِ عِنْدَ لِقَاءِ الْعَدُوِّ وَبِهِ يَقُولُ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ .

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৭১২. কুতায়রা (রাযিঃ) ..... মামার ইবনে আবু হুয়াইয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনুল মুসাইয়্যার (রাহঃ) কে সফরে রোযা পালন করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন যে, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে রমযান মাসে বদর ও মক্কা বিজয় যুদ্ধে শামিল ছিলাম। উভয়টিতে আমরা ইফতার করেছি।

এই বিষয়ে আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাযিঃ) বলেন, উমরের এ হাদীসটি সম্পর্কে এই সূত্র ছাড়া আমরা কিছু জানতে পারিনি। আর আবু সাঈদ (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি কোন এক গাযওয়ায় ইফতার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) থেকেও এরূপ বর্ণিত আছে যে, তিনি শত্রুপ সম্মুখীন হওয়া কালে রোযা পালন না করার অনুমতি দিয়েছেন। কোন কোন আলিম এই অভিমত পোষণ করেন।

গর্ভবর্তী ও দুগ্ধদানকারিণীর জন্য রোযা পালন না করার অনুমতি।

باب مَا جَاءَ فِي الرُّخْصَةِ فِي الإِفْطَارِ لِلْحُبْلَى وَالْمُرْضِعِ

715

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَيُوسُفُ بْنُ عِيسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا أَبُو هِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَوَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ قَالَ أَغَارَتْ عَلَيْنَا خَيْلُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدْتُهُ يَتَغَدَّى فَقَالَ " ادْنُ فَكُلْ " . فَقُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ . فَقَالَ " ادْنُ أُحَدِّثْكَ عَنِ الصَّوْمِ أَوِ الصِّيَامِ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ الصَّوْمَ وَشَطْرَ الصَّلاَةِ وَعَنِ الْحَامِلِ أَوِ الْمُرْضِعِ الصَّوْمَ أَوِ الصِّيَامَ " . وَاللَّهِ لَقَدْ قَالَهُمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كِلْتَيْهِمَا أَوْ إِحْدَاهُمَا فَيَا لَهْفَ نَفْسِي أَنْ لاَ أَكُونَ طَعِمْتُ مِنْ طَعَامِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي أُمَيَّةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ الْكَعْبِيِّ حَدِيثٌ حَسَنٌ وَلاَ نَعْرِفُ لأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ هَذَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ الْوَاحِدِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْحَامِلُ وَالْمُرْضِعُ تُفْطِرَانِ وَتَقْضِيَانِ وَتُطْعِمَانِ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ وَمَالِكٌ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ تُفْطِرَانِ وَتُطْعِمَانِ وَلاَ قَضَاءَ عَلَيْهِمَا وَإِنْ شَاءَتَا قَضَتَا وَلاَ إِطْعَامَ عَلَيْهِمَا . وَبِهِ يَقُولُ إِسْحَاقُ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭১৩. আবু কুরায়ব ও ইউসুফ ইবনে ঈসা (রাযিঃ) ..... বানু আব্দুল্লাহ ইবনে কা’ব গোত্রের আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাহিনী আমাদের কবীলায় অকস্মাৎ আক্রমণ করে। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলাম। তখন তিনি তাঁকে সকালের আহারে রত পেলাম। তিনি বললেনঃ কাছে আস এবং খাও। আমি বললাম, আমি তো রোযাদার। তিনি বললেনঃ কাছে আস। তোমাকে আমি রোযা সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছি। আল্লাহ তাআলা মুসাফির থেকে অর্ধেক সালাম মাফ করে দিয়েছেন আর গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারিণী মহিলাদের জন্য রোযা পালন মাফ করে দিয়েছেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই উভয়টির অথবা এর একটির কথা বলেছেন। আমার আপেক্ষ এই যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে আহার করিনি। - ইবনে মাজাহ ১৬৬৭

এই বিষযে আবু উমাইয়া (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাযিঃ) বলেন, আনাস ইবনে মালিক আল-কাবী (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান। এই একটি হাদীস ছাড়া নবী (ﷺ) থেকে আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) এর কোন হাদীস আছে বলে আমাদের জানা নেই। কোন কোন আলিমের এই হাদীস অনুসারে আমল করেছে। আর কোন কোন আলিম বলেন, গর্ভবতী ও দুদ্ধদাকারিনী মহিলাগণ রোযা ভঙ্গ করবে, পরে কাযা আদায় করবে ও মিসকীনদের খাওয়াবে। এ হল সুফিয়ান, মালিক, শফিঈ ও আহমাদ (রাহঃ) এর অভিমত। কোন কোন আলিম বলেন, এরা রোযা ভঙ্গ করবে এবং মিসকীনদের খাওয়াবে। তাদের উপর কাযা নেই। চাইলে কাযা করবে, মিসকীন খাওয়াতে হবে না। এ হল ইমাম ইসহাক (রাহঃ) এর অভিমত।

মৃত ব্যক্তি পক্ষ থেকে রোযা আদায়।

باب مَا جَاءَ فِي الصَّوْمِ عَنِ الْمَيِّتِ

716

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، وَمُسْلِمٍ الْبَطِينِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، وَعَطَاءٍ، وَمُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنَّ أُخْتِي مَاتَتْ وَعَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ . قَالَ " أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَى أُخْتِكِ دَيْنٌ أَكُنْتِ تَقْضِينَهُ " . قَالَتْ نَعَمْ . قَالَ " فَحَقُّ اللَّهِ أَحَقُّ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ بُرَيْدَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭১৪. আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ (রাহঃ) ....... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক মহিলা নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, আমার বোন মারা গেছে, তার একের পর এক দু’মাসের রোযা রয়েছে। নবী (ﷺ) বললেনঃ দেখ তোমার বোনের উপর যদি কোন ঋণ থাকত তবে তুমি তা আদায় করতে কি? মহিলাটি বললেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সুতরাং আল্লাহর হক সর্বাপেক্ষা অগ্রগণ্য। - ইবনে মাজাহ ১৭৫৮, বুখারি ও মুসলিম

এই বিষয়ে বুরায়দা, ইবনে উমর ও আয়িশা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাযিঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ্।
717

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا، يَقُولُ جَوَّدَ أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الأَعْمَشِ، . قَالَ مُحَمَّدٌ وَقَدْ رَوَى غَيْرُ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، مِثْلَ رِوَايَةِ أَبِي خَالِدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَلَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ سَلَمَةَ بْنَ كُهَيْلٍ وَلاَ عَنْ عَطَاءٍ وَلاَ عَنْ مُجَاهِدٍ . وَاسْمُ أَبِي خَالِدٍ سُلَيْمَانُ بْنُ حَيَّانَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭১৫. আবু কুরায়র (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) সূত্রেও এ সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। মুহাম্মাদ (বুখারী) (রাহঃ) বলেন, আবু খালিদ ছাড়া আরো অনেকে আনাস (রাযিঃ) থেকে আবু খালিদের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু মুআবিয়া প্রমুখ রাবী এই হাদীসটিকে আমাশ, মুসলিম ব্যতীত, সাঈদ ইবনে জুবাইর, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাঁরা এতে রাবী সালামা ইবনে কুহায়ল, আতা ও মুজাহিদ (রাহঃ) এর উল্লেখ করেননি।

রোযার কাফ্ফারা।

باب مَا جَاءَ فِي الْكَفَّارَةِ فِي الصَّوْمِ

718

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْثَرُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامُ شَهْرٍ فَلْيُطْعِمْ عَنْهُ مَكَانَ كُلِّ يَوْمٍ مِسْكِينًا " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَالصَّحِيحُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ مَوْقُوفٌ قَوْلُهُ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي هَذَا الْبَابِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ يُصَامُ عَنِ الْمَيِّتِ . وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ قَالاَ إِذَا كَانَ عَلَى الْمَيِّتِ نَذْرُ صِيَامٍ يَصُومُ عَنْهُ وَإِذَا كَانَ عَلَيْهِ قَضَاءُ رَمَضَانَ أَطْعَمَ عَنْهُ . وَقَالَ مَالِكٌ وَسُفْيَانُ وَالشَّافِعِيُّ لاَ يَصُومُ أَحَدٌ عَنْ أَحَدٍ . قَالَ وَأَشْعَثُ هُوَ ابْنُ سَوَّارٍ . وَمُحَمَّدٌ هُوَ عِنْدِي ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭১৬. কুতায়বা (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ যদি তার রমযানের রোযা রেখে মারা যায় তবে তার পক্ষ থেকে প্রতি দিনের রোযার জন্য একজন করে মিসকীনকে যেন আহার করানো হয়। - ইবনে মাজাহ ১৭৫৭

ইমাম আবু ঈসা (রাযিঃ) বলেন, এই সনদ ছাড়া ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি মারফু রূপে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নাই। ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে তাঁর উক্তি হিসাবে মাউকুফরূপে বর্ণনাটি সহীহ্। এই বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে রোযা আদায় করা যায়। এ হল ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। তাঁরা বলেন, মৃত ব্যক্তির উপর যদি মান্নত হিসাবে কোন রোযা থাকে তবে তার পক্ষ থেকে রোযা আদায় করা যাবে। আর যদি তার দায়িত্বে রমযান মাসের কাযা থেকে থাকে তবে তার পক্ষ থেকে মিসকীনদের আহার করাবে। ইমাম মালিক, সুফিয়ান ও শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, একজন আরেকজনের পক্ষ থেকে রোযা পালন করতে পারবে না। রাবী আশআস হলেন, ইবনে সওয়ার আর মুহাম্মাদ হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবু লায়লা।

রোযাদারের অনিচ্ছাকৃত বমি।

باب مَا جَاءَ فِي الصَّائِمِ يَذْرَعُهُ الْقَىْءُ

719

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ثَلاَثٌ لاَ يُفْطِرْنَ الصَّائِمَ الْحِجَامَةُ وَالْقَىْءُ وَالاِحْتِلاَمُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ حَدِيثٌ غَيْرُ مَحْفُوظٍ . وَقَدْ رَوَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ وَغَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ مُرْسَلاً . وَلَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ . وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ يُضَعَّفُ فِي الْحَدِيثِ . قَالَ سَمِعْتُ أَبَا دَاوُدَ السِّجْزِيَّ يَقُولُ سَأَلْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ فَقَالَ أَخُوهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ لاَ بَأْسَ بِهِ . قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَذْكُرُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمَدِينِيِّ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ ثِقَةٌ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ ضَعِيفٌ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَلاَ أَرْوِي عَنْهُ شَيْئًا .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭১৭. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ মুহারিবী (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তিনটি বিষয় রোযাদারের রোযা ভঙ্গ হয় না। (১) সিঙ্গা লাগান (২) বমি এবং (৩) স্বপ্নদোষ।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত এই রিওয়ায়াতটি নির্ভরযোগ্য নয়। আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ ইবনে আসলাম, আব্দুল আযীয ইবনে মুহাম্মাদ প্রমূখ এই হাদীসটিকে যায়দ ইবনে আসলাম (রাহঃ) থেকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। এতে তারা আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) এর উল্লেখ করেননি। আব্দুর রহমান ইবনে যায়দ ইবনে আসলাম হাদীস বর্ণনায় যইফ। আবু দাউদ সিজাযী (রাহঃ) কে বলতে শুনেছি, আমি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল (রাহঃ) কে আব্দুর রহমান ইবনে যায়দ ইবনে আসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, তিনি বললেন, তার ভাই আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ সম্বন্ধে কোন দোষ নাই। মুহাম্মাদ (বুখারী) (রাহঃ) কে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে তিনি বলেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ ইবনে আসলাম হলেন নির্ভরযোগ্য। আর আব্দুর রহমান ইবনে যায়দ ইবনে আসলাম হলেন যইফ। মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমি তার থেকে কি কিছুই রিওয়ায়াত করব না।

(রোযাদার অবস্থায়) যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে বমি করে।

باب مَا جَاءَ فِيمَنِ اسْتَقَاءَ عَمْدًا

720

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ ذَرَعَهُ الْقَىْءُ فَلَيْسَ عَلَيْهِ قَضَاءٌ وَمَنِ اسْتَقَاءَ عَمْدًا فَلْيَقْضِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ وَثَوْبَانَ وَفَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ هِشَامٍ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عِيسَى بْنِ يُونُسَ . وَقَالَ مُحَمَّدٌ لاَ أَرَاهُ مَحْفُوظًا . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلاَ يَصِحُّ إِسْنَادُهُ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ وَثَوْبَانَ وَفَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَاءَ فَأَفْطَرَ . وَإِنَّمَا مَعْنَى هَذَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ صَائِمًا مُتَطَوِّعًا فَقَاءَ فَضَعُفَ فَأَفْطَرَ لِذَلِكَ . هَكَذَا رُوِيَ فِي بَعْضِ الْحَدِيثِ مُفَسَّرًا . وَالْعَمَلُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ الصَّائِمَ إِذَا ذَرَعَهُ الْقَىْءُ فَلاَ قَضَاءَ عَلَيْهِ وَإِذَا اسْتَقَاءَ عَمْدًا فَلْيَقْضِ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১৮. আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কারো (রোযাকালে) অনিচ্ছকৃত বমি হলে তাকে কাযা করতে হবে না। কিন্তু কেউ যদি ইচ্ছাকৃত বমি করে তবে সে কাযা করবে। - ইবনে মাজাহ ১৬৭৬

এই বিষয়ে আবু দারদা, সাওবান ও ফাযালা ইবনে উবাইদ (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসটি হাসান গরীব। ঈসা ইবনে ইউনুসের বরাত ছাড়া, হিশাম ইবনে সীরীন, আবু হুরায়রা সূত্রে এই হাদীসটি বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নাই। মুহাম্মাদ (বুখারী) (রাহঃ) বলেন, ঈসা ইবনে ইউনুসকে আমি বারী হিসাবে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করি না। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, নবী (ﷺ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর বর্ণিত হাদীসটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। কিন্তু এর সনদগুলো সহীহ নয়।

আবুদ দারদা, সাওবান ও ফাযালা ইবনু উবাইদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী (ﷺ) একবার (রোযা কালে) বমি করলেন এবং রোযা ছেড়ে দিলেন।এ হাদীসটির র্মম হল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নফল রোযা পালন করছিলেন। বমি হওয়ার পর দুর্বল হয়ে পড়লে তিনি রোযা ভেঙ্গে ফেলেন। কোন কোন হাদীসে এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত রয়েছে। নবী (ﷺ) থেকে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত এই হাদীস অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে যে, রোযাদারের অনিচ্ছাকৃত বমি হলে তার কোন কাযা নেই। কিন্তু ইচ্ছা করে বমি করলে সে কাযা করবে। এ হলো শাফিঈ, সুফিয়ান সাওরী, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর অভিমত।

রোযাদার যদি ভুলে কিছু খান বা পান করেন।

باب مَا جَاءَ فِي الصَّائِمِ يَأْكُلُ أَوْ يَشْرَبُ نَاسِيًا

721

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ حَجَّاجِ بْنِ أَرْطَاةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَكَلَ أَوْ شَرِبَ نَاسِيًا فَلاَ يُفْطِرْ فَإِنَّمَا هُوَ رِزْقٌ رَزَقَهُ اللَّهُ " .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭১৯. আবু সাঈদ আশাজ্জ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ যদি (রোযা কালে) ভুলবশতঃ কিছু খায় বা পান করে তবে সে রোযা ভঙ্গ করবেন না। কেননা, এ হলো রিয্ক যা আল্লাহ তাআলা তাকে দিয়েছেন। - ইবনে মাজাহ ১৬৭৩, নাসাঈ

722

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عَوْفٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، وَخِلاَسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ أَوْ نَحْوَهُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَأُمِّ إِسْحَاقَ الْغَنَوِيَّةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ إِذَا أَكَلَ فِي رَمَضَانَ نَاسِيًا فَعَلَيْهِ الْقَضَاءُ . وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭২০. আবু সাঈদ (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন।

এই বিষয়ে আবু সাঈদ ও উম্মু ইসহাক আলগানবিয়্যা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান সহীহ্। অধিকাংশ আলিমের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ) এরও অভিমত। মালিক ইবনে আনাস (রাহঃ) বলেন, রমযানে কেউ যদি ভুলে খেয়ে ফেলে তবে তাকে তা কাযা করতে হবে। কিন্তু প্রথমোক্ত অভিমতটিই অধিকতর বিশুদ্ধ।

যদি কেউ স্বেচ্ছায় রোযা ভঙ্গ করে।

باب مَا جَاءَ فِي الإِفْطَارِ مُتَعَمِّدًا

723

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُطَوِّسِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ رُخْصَةٍ وَلاَ مَرَضٍ لَمْ يَقْضِ عَنْهُ صَوْمُ الدَّهْرِ كُلِّهِ وَإِنْ صَامَهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ أَبُو الْمُطَوِّسِ اسْمُهُ يَزِيدُ بْنُ الْمُطَوِّسِ وَلاَ أَعْرِفُ لَهُ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭২১. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোনরূপ অনুমোদিত কারণ বা রোগ ব্যতিরেকে কেউ যদি রমযানের রোযা ভঙ্গ করে তবে একজন সারা জীবন রোযা পালন করলেও তার কাযা আদায় হবে না। - ইবনে মাজাহ ১৬৭২

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই সূত্র ব্যতিত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানিনা, মুহাম্মাদ বুখারী (রাহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, রাবী আবুল মুতাওবিস (রাহঃ) এর নাম হলো ইয়াযিদ ইবনে মুতাওবিস। এই হাদীস ছাড়া তার আর কোন রিওয়ায়াত আছে বলে আমাদের জানা নেই।

রমযানের রোযা ভঙ্গ করার কাফফারা।

باب مَا جَاءَ فِي كَفَّارَةِ الْفِطْرِ فِي رَمَضَانَ

724

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، وَأَبُو عَمَّارٍ وَالْمَعْنَى وَاحِدٌ وَاللَّفْظُ لَفْظُ أَبِي عَمَّارٍ قَالاَ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكْتُ . قَالَ " وَمَا أَهْلَكَكَ " . قَالَ وَقَعْتُ عَلَى امْرَأَتِي فِي رَمَضَانَ . قَالَ " هَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تُعْتِقَ رَقَبَةً " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَهَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تَصُومَ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَهَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تُطْعِمَ سِتِّينَ مِسْكِينًا " . قَالَ لاَ . قَالَ " اجْلِسْ " . فَجَلَسَ فَأُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِعَرَقٍ فِيهِ تَمْرٌ - وَالْعَرَقُ الْمِكْتَلُ الضَّخْمُ قَالَ " تَصَدَّقْ بِهِ " . فَقَالَ مَا بَيْنَ لاَبَتَيْهَا أَحَدٌ أَفْقَرَ مِنَّا . قَالَ فَضَحِكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ أَنْيَابُهُ . قَالَ " فَخُذْهُ فَأَطْعِمْهُ أَهْلَكَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي مَنْ أَفْطَرَ فِي رَمَضَانَ مُتَعَمِّدًا مِنْ جِمَاعٍ وَأَمَّا مَنْ أَفْطَرَ مُتَعَمِّدًا مِنْ أَكْلٍ أَوْ شُرْبٍ فَإِنَّ أَهْلَ الْعِلْمِ قَدِ اخْتَلَفُوا فِي ذَلِكَ فَقَالَ بَعْضُهُمْ عَلَيْهِ الْقَضَاءُ وَالْكَفَّارَةُ . وَشَبَّهُوا الأَكْلَ وَالشُّرْبَ بِالْجِمَاعِ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ عَلَيْهِ الْقَضَاءُ وَلاَ كَفَّارَةَ عَلَيْهِ لأَنَّهُ إِنَّمَا ذُكِرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْكَفَّارَةُ فِي الْجِمَاعِ وَلَمْ تُذْكَرْ عَنْهُ فِي الأَكْلِ وَالشُّرْبِ . وَقَالُوا لاَ يُشْبِهُ الأَكْلُ وَالشُّرْبُ الْجِمَاعَ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ وَقَوْلُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِلرَّجُلِ الَّذِي أَفْطَرَ فَتَصَدَّقَ عَلَيْهِ " خُذْهُ فَأَطْعِمْهُ أَهْلَكَ " . يَحْتَمِلُ هَذَا مَعَانِيَ يَحْتَمِلُ أَنْ تَكُونَ الْكَفَّارَةُ عَلَى مَنْ قَدَرَ عَلَيْهَا وَهَذَا رَجُلٌ لَمْ يَقْدِرْ عَلَى الْكَفَّارَةِ فَلَمَّا أَعْطَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا وَمَلَكَهُ فَقَالَ الرَّجُلُ مَا أَحَدٌ أَفْقَرَ إِلَيْهِ مِنَّا . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " خُذْهُ فَأَطْعِمْهُ أَهْلَكَ " . لأَنَّ الْكَفَّارَةَ إِنَّمَا تَكُونُ بَعْدَ الْفَضْلِ عَنْ قُوتِهِ . وَاخْتَارَ الشَّافِعِيُّ لِمَنْ كَانَ عَلَى مِثْلِ هَذَا الْحَالِ أَنْ يَأْكُلَهُ وَتَكُونَ الْكَفَّارَةُ عَلَيْهِ دَيْنًا فَمَتَى مَا مَلَكَ يَوْمًا مَا كَفَّرَ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭২২. নসর ইবনে আলী জাহযামী ও আবু আম্মার (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেনঃ কিসে তোমাকে ধ্বংস করলো? লোকটি বলল, রমযানে আমি স্ত্রী সঙ্গম করেছি। তিনি বললেন, তুমি কি একটি গোলাম আযাদ করতে সক্ষম? লোকটি বলল, না। তিনি বললেন, তুমি কি লাগাতার দুই মাস রোযা পালনে সমর্থ? লোকটি বলল, না। তিনি বললেন, ষাটজন মিসকিনকে আহার করাতে সক্ষম? লোকটি বলল, না। তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি বসো। লোকটি বসে রইলো। তারপর নবী (ﷺ) এর কাছে এক আরক খেজুর এলো। আরক’ হল বড় থলে বা টুকরি। তিনি লোকটিকে বললেন, এগুলো নিয়ে সাদ্‌কা করে দাও। লোকটি বলল, মদীনার দুই প্রান্তের মাঝে আমার চাইতে অভাবগ্রস্ত আর কেউ নেই। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, তিনি শুনে হেসে উঠলেন, এমন কি তার চোয়ালের দাঁত প্রকাশ পেল। তিনি বললেন, তুমি নিয়ে নাও তোমার পরিবারবর্গকে আহার করাও। - ইবনে মাজাহ ১৬৭১, বুখারি ও মুসলিম

এই বিষয়ে ইবনে উমর, আয়িশা ও আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। যে ব্যক্তি রমযান মাসে ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সঙ্গম দ্বারা রোযা ভঙ্গ করে তার ব্যাপারে এই হাদীস অনুসারে উলামায়ে কিরামদের আমল রয়েছে। কিন্তু কেউ যদি পানাহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা ভেঙ্গে ফেলে তবে তার বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন, তাকে কাযা ও কাফফারা উভয় আদায় করতে হবে। তারা পানাহারকে স্ত্রী সঙ্গমের সাথে সা’দৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করেন। এ হলো সুফিয়ান সাওরী, ইবনে মুবারক ও ইসহাক এর অভিমত।

কোন কোন আলিম বলেন, তাকে কাযা করতে হবে। কিন্তু কাফফারা দিতে হবেনা। কারণ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে স্ত্রী সঙ্গমের ক্ষেত্রেই কাফফারা উল্লেখ রয়েছে। পানাহারের ক্ষেত্রে এর উল্লেখ নেই। তারা বলেন, স্ত্রী সঙ্গমের সাথে পানাহারের সা’দৃশ্য নেই। এ হলো, ইমাম শাফিঈ ও আহমাদ (রাহঃ) এর অভিমত।

ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, রোযা ভঙ্গকারী ব্যক্তিকে নবী (ﷺ) উক্ত সাদ্‌কা করে দিয়েছিলেন; তার উক্তি নাও, তোমার পরিবারবর্গকে তার আহার করাও, বিভিন্নার্থ বহন করে। হতে পারে যে, কাফফারা তো যে সক্ষম তার দিতে হয়। এই ব্যক্তি তখন কাফফারা দিতে সক্ষম ছিল না। পরে নবী (ﷺ) যখন তাকে কিছু দিলেন আর সে তার মালিক হয়ে গেল তখন সে বলল, এ এলাকায় আমাদের চাইতে বেশী অভাবগ্রস্ত আর কেউ নাই। নবী (ﷺ) বললেন, নিয়ে যাও এবং তোমার পরিবারবর্গকে আহার করাও। কেননা, জীবন ধারণের মত পরিমাণ খাদ্যের অতিরিক্ত যা হয় তা কাফফারা হয়। যার অবস্থা এই ব্যক্তির ন্যায় তার সম্পর্কে ইমাম শাফেঈর মত হলো, সে ঐ মাল ভোগ করতে পারে। আর কাফফারা তার রোযা থেকে যাবে। যেদিন সে মালিক হবে সেদিন সে কাফফারা দিবে।

রোযা পালনকারীর মিস্ওয়াক করা।

باب مَا جَاءَ فِي السِّوَاكِ لِلصَّائِمِ

725

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَا لاَ أُحْصِي يَتَسَوَّكُ وَهُوَ صَائِمٌ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ يَرَوْنَ بِالسِّوَاكِ لِلصَّائِمِ بَأْسًا إِلاَّ أَنَّ بَعْضَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا السِّوَاكَ لِلصَّائِمِ بِالْعُودِ الرَّطْبِ وَكَرِهُوا لَهُ السِّوَاكَ آخِرَ النَّهَارِ وَلَمْ يَرَ الشَّافِعِيُّ بِالسِّوَاكِ بَأْسًا أَوَّلَ النَّهَارِ وَلاَ آخِرَهُ وَكَرِهَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ السِّوَاكَ آخِرَ النَّهَارِ .

Narrator: আমির ইবনে রবীআ (রাঃ)

৭২৩. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... আমির ইবনে রাবীআ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে রোযা অবস্থায় এতবার মিস্ওয়াক করতে দেখেছি, যার সংখ্যা আমি গণনা করতে পারিনা।

এই বিষয়ে আয়িশা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আমির ইবনে রাবীআ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। এই হাদীস অনুমারে আলিমগণের আমল রয়েছে। তারা রোযা পালনকারীর জন্য মিস্ওয়াক করার কোন অসুবিধা আছে বলে মনে করেন না। তবে কতক আলেম কাঁচা ডাল দিয়ে মিস্ওয়াক করা এবং দিনের শেষভাগে মিস্ওয়াক করা মাকরূহ বলে মনে করেন। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) দিনের শুরু বা শেষ কোন ভাগেই মিস্ওয়াক করার কোন দোষ আছে বলে মনে করেন না। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) দিনের শেষভাগে মিস্ওয়াক করা মাকরূহ মনে করেন।

রোযা অবস্থায় সুরমা ব্যবহার।

باب مَا جَاءَ فِي الْكُحْلِ لِلصَّائِمِ

726

حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ وَاصِلٍ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَطِيَّةَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاتِكَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ اشْتَكَتْ عَيْنِي أَفَأَكْتَحِلُ وَأَنَا صَائِمٌ قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي رَافِعٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ لَيْسَ إِسْنَادُهُ بِالْقَوِيِّ وَلاَ يَصِحُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْبَابِ شَيْءٌ . وَأَبُو عَاتِكَةَ يُضَعَّفُ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الْكُحْلِ لِلصَّائِمِ فَكَرِهَهُ بَعْضُهُمْ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَرَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الْكُحْلِ لِلصَّائِمِ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭২৪. আব্দুল আ‘লা ইবনে ওয়াসিল আল-কুফী (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, আমার চোখ দু‘টিতে কষ্ট পাচ্ছি। আমি রোযাদার অবস্থায় তাতে সুরমা ব্যবহার করতে পারি কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।

এই বিষয়ে আবু রাফি (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আনাস (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটির সনদ শক্তিশালী নয়। এই বিষয়ে নবী (ﷺ) থেকে সহীহ কিছু বর্ণিত নাই। রাবী আবু আতিকাকে যঈফ বলা হয়। রোযা অবস্থায় সুরমা ব্যবহার করার বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মাকরূহ মনে করেন। এ হল সুফিয়ান, ইবনে মুবারক, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর অভিমত। কতক আলিম রোযা অবস্থায় সুরমা ব্যবহারের অনুমতি দেন। এ হল ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) এর অভিমত।

রোযা অবস্থায় (নিজ স্ত্রীকে) চুম্বন করা।

باب مَا جَاءَ فِي الْقُبْلَةِ لِلصَّائِمِ

727

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَقُتَيْبَةُ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاَقَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُقَبِّلُ فِي شَهْرِ الصَّوْمِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَحَفْصَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَنَسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ فِي الْقُبْلَةِ لِلصَّائِمِ فَرَخَّصَ بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْقُبْلَةِ لِلشَّيْخِ وَلَمْ يُرَخِّصُوا لِلشَّابِّ مَخَافَةَ أَنْ لاَ يَسْلَمَ لَهُ صَوْمُهُ وَالْمُبَاشَرَةُ عِنْدَهُمْ أَشَدُّ . وَقَدْ قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْقُبْلَةُ تَنْقُصُ الأَجْرَ وَلاَ تُفْطِرُ الصَّائِمَ . وَرَأَوْا أَنَّ لِلصَّائِمِ إِذَا مَلَكَ نَفْسَهُ أَنْ يُقَبِّلَ وَإِذَا لَمْ يَأْمَنْ عَلَى نَفْسِهِ تَرَكَ الْقُبْلَةَ لِيَسْلَمَ لَهُ صَوْمُهُ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭২৫. হান্নাদ ও কুতায়রা (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) রোযার মাসে তাকে (রোযা অবস্থায়) চুম্বন করতেন। - ইবনে মাজাহ ১৬৮৩, বুখারি, মুসলিম

এই বিষয়ে উমর ইবনে খাত্তাব, হাফসা, আবু সাঈদ, উম্মে সালামা, ইবনে আব্বাস, আনাস ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। রোযাদারের চুম্বন করা বিষয়ে নবী (ﷺ) এর আহলে ইলম সাহাবী ও আলিমদের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন সাহাবী বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এর অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু যুবকদের ক্ষেত্রে এর অনুমতি দেননি; এই আশঙ্কায় যে, এতে হয়ত বা এরা তাদের রোযা হিফাজত করতে পারবে না। আর স্ত্রী আলিঙ্গণ করার বিষয়টি তাদের মতে আরো মারাত্মক। কোন কোন আলিম বলেন, চুম্বনে সাওয়াব কমে যায়, কিন্তু রোযা ভঙ্গ হবে না। তারা মনে করেন; রোযাদার ব্যক্তি নিজের নফসের উপর নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হলে চুম্বন করতে পারে। আর যদি তার নফসের ব্যাপারে আস্থা না থাকে তবে সে তা পরিত্যাগ করবে; যাতে রোযার হিফাযত হয়। এ হলো সুফিয়ান সাওরী ও শাফিঈ (রাহঃ) এর অভিমত। (ইমাম আবু হানিফা (রাহ;) এরও এই মত)।

রোযা অবস্থায় আলিঙ্গণ করা।

باب مَا جَاءَ فِي مُبَاشَرَةِ الصَّائِمِ

728

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي مَيْسَرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُبَاشِرُنِي وَهُوَ صَائِمٌ وَكَانَ أَمْلَكَكُمْ لإِرْبِهِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭২৬. ইবনে আবী উমর (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রোযা অবস্থান আমাকে আলিঙ্গণ করেছেন। তবে তিনি নিজের উপর নিয়ন্ত্রনে তোমাদের তুলনায় অনেক বেশী সমর্থ ছিলেন। - ইবনে মাজাহ ১৬৮৪, বুখারি ও মুসলিম

729

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُ وَيُبَاشِرُ وَهُوَ صَائِمٌ وَكَانَ أَمْلَكَكُمْ لإِرْبِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو مَيْسَرَةَ اسْمُهُ عَمْرُو بْنُ شُرَحْبِيلَ . وَمَعْنَى لإِرْبِهِ لِنَفْسِهِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭২৭. হান্নাদ (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রোযাদার অবস্থায় চুম্বন করতেন এবং আলিঙ্গণ করতেন। আর তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রনে তোমাদের চেয়ে বেশী সক্ষম ছিলেন। - ইবনে মাজাহ ১৬৭৮, বুখারি ও মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ। রাবী আবু মায়সারা (রাহঃ) এর নাম হলো আমর ইবনে শুরাহবীল। হাদীসোক্ত لإِرْبِهِ শব্দ অর্থ হল ‘তার নিজের উপর’।

রাত্রি থেকে সংকল্প না করলে রোযা হয়না।

باب مَا جَاءَ لاَ صِيَامَ لِمَنْ لَمْ يَعْزِمْ مِنَ اللَّيْلِ

730

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ لَمْ يُجْمِعِ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ فَلاَ صِيَامَ لَهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ حَفْصَةَ حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَوْلُهُ وَهُوَ أَصَحُّ وَهَكَذَا أَيْضًا رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ الزُّهْرِيِّ مَوْقُوفًا وَلاَ نَعْلَمُ أَحَدًا رَفَعَهُ إِلاَّ يَحْيَى بْنَ أَيُّوبَ . وَإِنَّمَا مَعْنَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ صِيَامَ لِمَنْ لَمْ يُجْمِعِ الصِّيَامَ قَبْلَ طُلُوعِ الْفَجْرِ فِي رَمَضَانَ أَوْ فِي قَضَاءِ رَمَضَانَ أَوْ فِي صِيَامِ نَذْرٍ إِذَا لَمْ يَنْوِهِ مِنَ اللَّيْلِ لَمْ يُجْزِهِ وَأَمَّا صِيَامُ التَّطَوُّعِ فَمُبَاحٌ لَهُ أَنْ يَنْوِيَهُ بَعْدَ مَا أَصْبَحَ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

৭২৮. ইসহাক ইবনে মানসুর (রাহঃ) ...... হাফসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ফজরের পূর্বেই যে ব্যক্তি রোযার সিদ্ধান্ত না নেয় তার রোযাই নেই। - ইবনে মাজাহ ১৭০০

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই সূত্র ছাড়া হাফসা (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটির মারফু হওয়া সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। নাফি‘ থেকে ইবনে উমর (রাযিঃ) এর উক্তি হিসাবে এই হাদীসটি বর্ণিত আছে। আর এটাই অধিকতর সহীহ। কোন কোন আলিমের মতে এই হাদীসটির অর্থ হল, রমযানের রোযা বা কাযা বা মানতের রোযা হলে রাত থেকে অর্থাৎ ফজর উদিত হওয়ার পূর্বেই যদি কেউ নিয়াত না করে তবে তার রোযা হবে না। কিন্তু নফল রোযার ক্ষেত্রে ভোর হওয়ার পর নিয়াত করা তার জন্য মুবাহ ও জায়েয। এ হল ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত।

নফল রোযা পালনকারীর ইফতার করে ফেলা।

باب مَا جَاءَ فِي إِفْطَارِ الصَّائِمِ الْمُتَطَوِّعِ

731

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنِ ابْنِ أُمِّ هَانِئٍ، عَنْ أُمِّ هَانِئٍ، قَالَتْ كُنْتُ قَاعِدَةً عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأُتِيَ بِشَرَابٍ فَشَرِبَ مِنْهُ ثُمَّ نَاوَلَنِي فَشَرِبْتُ مِنْهُ فَقُلْتُ إِنِّي أَذْنَبْتُ فَاسْتَغْفِرْ لِي . فَقَالَ " وَمَا ذَاكِ " . قَالَتْ كُنْتُ صَائِمَةً فَأَفْطَرْتُ . فَقَالَ " أَمِنْ قَضَاءٍ كُنْتِ تَقْضِينَهُ " . قَالَتْ لاَ . قَالَ " فَلاَ يَضُرُّكِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَعَائِشَةَ .

Narrator: উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব (রাঃ)

৭২৯. কুতারায় (রাহঃ) ..... উম্মে হানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর কাছে বসা ছিলাম। তখন তাঁর নিকট কিছু শরবত এল। তিনি এ থেকে পান করলেন। এরপর আমাকে তা দিলেন। আমিও তা থেকে কিছু পান করলাম। তারপর আমি বললাম, আমি তো অপরাধ করে ফেলেছি। আপনি আমার ক্ষমার জন্য দু'আ করুন। তিনি বললেনঃ তা কী? বললাম, আমি তো রোযাদার ছিলাম, তা ভেঙ্গে ফেলেছি। তিনি বললেন, তুমি কি কোনা কাযা আদায় করছিলে? তিনি বললেন, না তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তা হলে এতে তোমার কোন ক্ষতি হবে না।

732

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ كُنْتُ أَسْمَعُ سِمَاكَ بْنَ حَرْبٍ يَقُولُ أَحَدُ ابْنَىْ أُمِّ هَانِئٍ حَدَّثَنِي فَلَقِيتُ، أَنَا أَفْضَلَهُمَا، وَكَانَ، اسْمُهُ جَعْدَةَ وَكَانَتْ أُمُّ هَانِئٍ جَدَّتَهُ فَحَدَّثَنِي عَنْ جَدَّتِهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيْهَا فَدَعَى بِشَرَابٍ فَشَرِبَ ثُمَّ نَاوَلَهَا فَشَرِبَتْ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمَا إِنِّي كُنْتُ صَائِمَةً . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الصَّائِمُ الْمُتَطَوِّعُ أَمِينُ نَفْسِهِ إِنْ شَاءَ صَامَ وَإِنْ شَاءَ أَفْطَرَ " . قَالَ شُعْبَةُ فَقُلْتُ لَهُ أَأَنْتَ سَمِعْتَ هَذَا مِنْ أُمِّ هَانِئٍ قَالَ لاَ أَخْبَرَنِي أَبُو صَالِحٍ وَأَهْلُنَا عَنْ أُمِّ هَانِئٍ . وَرَوَى حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ فَقَالَ عَنْ هَارُونَ ابْنِ بِنْتِ أُمِّ هَانِئٍ عَنْ أُمِّ هَانِئٍ . وَرِوَايَةُ شُعْبَةَ أَحْسَنُ . هَكَذَا حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ عَنْ أَبِي دَاوُدَ فَقَالَ " أَمِينُ نَفْسِهِ " . وَحَدَّثَنَا غَيْرُ مَحْمُودٍ عَنْ أَبِي دَاوُدَ فَقَالَ " أَمِيرُ نَفْسِهِ أَوْ أَمِينُ نَفْسِهِ " . عَلَى الشَّكِّ وَهَكَذَا رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ شُعْبَةَ " أَمِينُ أَوْ أَمِيرُ نَفْسِهِ " عَلَى الشَّكِّ . قَالَ وَحَدِيثُ أُمِّ هَانِئٍ فِي إِسْنَادِهِ مَقَالٌ . وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنَّ الصَّائِمَ الْمُتَطَوِّعَ إِذَا أَفْطَرَ فَلاَ قَضَاءَ عَلَيْهِ إِلاَّ أَنْ يُحِبَّ أَنْ يَقْضِيَهُ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ وَالشَّافِعِيِّ .

Narrator: উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব (রাঃ)

৭৩০. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাযিঃ) ..... উম্মে হানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূল্লুাহ (ﷺ) তাঁর ঘরে আসেন এবং পানি নিয়ে আনতে ডাকলেন। তিনি তা থেকে পান করলেন, তারপর উম্মে হানীকে দিলেন; তিনিও পান করলেন। পরে উম্মে হানী (রাযিঃ) বললেন- ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো রোযা পালনকারী ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, নফল রোযা পালনকারী নিজের আমানতদার; ইচ্ছা করলে রোযা পালন করতে পারে আর ইচ্ছা করলে তা ভঙ্গও করতে পারে।

(রাবী) শুবা বলেন যে, আমি জা’দাকে বললাম, আপনি নিজে উম্মে হানী (রাযিঃ) থেকে এই হাদীসটি শুনেছেন? তিনি বললেন, না। আবু সালীহ ও আমাদের পরিবারের লোকজন উম্মে হানী (রাযিঃ) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ ইবনে সালামা এই হাদীসটিকে সিমাক- উম্মে হানী দৌহিত্র হারুন -উম্মে হানী (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। শু’বা-এর রিওয়ায়াতটি অধিক হাসান। মাহমুদ ইবনে গায়লান এটিকে আবু দাউদ সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি এতে বলেছেন امين نفسه ‘‘রোযা পালনকারী নিজেই নিজের আমানতদার’ মাহমুদ ছাড়া অন্যান্য রাবীগণ আবু দাউদ সূত্রে সন্দেহ পোষণ করেন রিওয়ায়াত করেছেন او امين نفسه، أمير نفسه ‘‘রোযা পালনকারী নিজেই নিজের উপর ক্ষমতাবান অথবা নিজেই নিজেদের আমানতদার’। শুবা (রাহঃ) থেকে ও তদ্রূপ দ্বিধার সঙ্গে একাধিক সূত্রে أمير او امين نفسه রূপে বর্ণিত আছে। উম্মে হানী (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটির সনদ সম্পর্কে বিরূপ বক্তব্য রয়েছে। নবী (ﷺ) এর আহলে ইলম কোন কোন সাহাবী ও অন্যান্য আলিমদের এ হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে যে, নফল রোযা পালনকারী যদি তা ভঙ্গ করে ফেলে তবে তার উপর কাযা নেই। তবে ইচ্ছা করলে (মুস্তাহাব হিসাবে) কাযা আদায় করতে পারে। এ হলো সুফিয়ানী সাওরী, আহমাদ, ইসহাক ও শাফিঈ (রাযিঃ) এর অভিমত।

ভোর থেকে নফল রোযা পালন করা।

باب صِيَامِ الْمُتَطَوِّعِ بِغَيْرِ تَبْيِيتٍ

733

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ عَمَّتِهِ، عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا فَقَالَ " هَلْ عِنْدَكُمْ شَيْءٌ " . قَالَتْ قُلْتُ لاَ . قَالَ " فَإِنِّي صَائِمٌ " .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৩১. হান্নাদ (রাহঃ) ...... উম্মুল মু‘মিনীন আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে এলেন এবং বললেনঃ তোমার কাছে খাওয়ার মত কিছু আছে কি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তা হলে আমি রোযা পালন করছি।

734

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَأْتِينِي فَيَقُولُ " أَعِنْدَكِ غَدَاءٌ " . فَأَقُولُ لاَ . فَيَقُولُ " إِنِّي صَائِمٌ " . قَالَتْ فَأَتَانِي يَوْمًا فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ قَدْ أُهْدِيَتْ لَنَا هَدِيَّةٌ . قَالَ " وَمَا هِيَ " . قَالَتْ قُلْتُ حَيْسٌ . قَالَ " أَمَا إِنِّي قَدْ أَصْبَحْتُ صَائِمًا " . قَالَتْ ثُمَّ أَكَلَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৩২. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ..... উম্মুল মু‘মিনীন আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তো তোমার কাছে আসতেন এবং বলতেনঃ তোমার কাছে (সকালের) খাবার কিছু আছে কি? আমি বলতাম, না। তখন তিনি বলতেন, তাহলে আমি রোযা পালন করছি। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, এমনিভাবে তিনি একদিন এলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কাছে কিছু হাদিয়া এসেছে। তিনি বললেন, তা কি? আমি বললাম, হায়স (ঘি, পনির ও খেজুর মিশ্রিত এক প্রকার খাদ্য)। তিনি বললেন, সকাল থেকে তো রোযা পালন করছিলাম। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, এরপর তিনি তা আহার করলেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান।

নফল রোযা পালনকারী যদি তার রোযা ভেঙ্গে ফেলে তবে তার উপর তা কাযা করা ওয়াজিব।

باب مَا جَاءَ فِي إِيجَابِ الْقَضَاءِ عَلَيْهِ

735
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَنَا وَحَفْصَةُ، صَائِمَتَيْنِ فَعُرِضَ لَنَا طَعَامٌ اشْتَهَيْنَاهُ فَأَكَلْنَا مِنْهُ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَدَرَتْنِي إِلَيْهِ حَفْصَةُ وَكَانَتِ ابْنَةَ أَبِيهَا فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا صَائِمَتَيْنِ فَعُرِضَ لَنَا طَعَامٌ اشْتَهَيْنَاهُ فَأَكَلْنَا مِنْهُ . قَالَ " اقْضِيَا يَوْمًا آخَرَ مَكَانَهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى صَالِحُ بْنُ أَبِي الأَخْضَرِ وَمُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَفْصَةَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ مِثْلَ هَذَا . وَرَوَاهُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَمَعْمَرٌ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَزِيَادُ بْنُ سَعْدٍ وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنَ الْحُفَّاظِ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَائِشَةَ مُرْسَلاً . وَلَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ عَنْ عُرْوَةَ وَهَذَا أَصَحُّ .
لأَنَّهُ رُوِيَ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ سَأَلْتُ الزُّهْرِيَّ قُلْتُ لَهُ أَحَدَّثَكَ عُرْوَةُ عَنْ عَائِشَةَ قَالَ لَمْ أَسْمَعْ مِنْ عُرْوَةَ فِي هَذَا شَيْئًا وَلَكِنِّي سَمِعْتُ فِي خِلاَفَةِ سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ مِنْ نَاسٍ عَنْ بَعْضِ مَنْ سَأَلَ عَائِشَةَ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ عَلِيُّ بْنُ عِيسَى بْنِ يَزِيدَ الْبَغْدَادِيُّ حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ . وَقَدْ ذَهَبَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ فَرَأَوْا عَلَيْهِ الْقَضَاءَ إِذَا أَفْطَرَ وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৩৩. আহমাদ ইবনে মানী (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আর হাফসা (রাযিঃ) উভয়েই একবার রোযা পালন করছিলাম। আমাদের সামনে খুবই লোভনীয় খাবার এলো, আমরা তা থেকে খেয়ে নিলাম। তারপরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এলে হাফসা (রাযিঃ) আমার আগেই তাঁর সামনে উপস্থিত হলেন। আর তিনি ছিলেন তার বাপের বেটি (পিতা, উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এর মত সাহসী) কাজেই বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা দুজন রোযাদার ছিলাম। এমন সময় আমাদের সামনে লোভনীয় খাবার এলে; আমরা তা খেয়ে ফেললাম। তিনি বললেন, তোমরা উভয়ে এর স্থলে আরেক দিন রোযা পালন করবে।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, সালিহ্ ইবনে আবুল আখদার ও মুহাম্মাদ ইবনে আবু হাফস (রাহঃ) এই হাদীসটিকে যুহরী (রাহঃ), উরওয়া, আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মালিক ইবনে আনাস, মা‘মার, উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর, যিয়াদ ইবনে সা’দ (রাহঃ) প্রমূখ হাফিযুল হাদীস যুহরী (রাহঃ) সূত্রে আয়িশা (রাযিঃ) থেকে মুরসাল হিসেবে এই হাদীসটি রিওয়ায়াত করেছেন। এতে তাঁরা উরওয়ার নাম উল্লেখ করেননি। আর এটিই অধিকতর সহীহ। কেননা, ইবনে জুরাউজ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আমি যুহরীকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনার নিকট আয়িশা (রাযিঃ) এর বরাতে উরওয়া কিছু রিওয়ায়াত করেছেন কি? তিনি বললেন, এই বিষয়ে আমি উরওয়া থেকে কিছু শুনিনি। তবে সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিকের খিলাফতকালে এ হাদীস সম্পর্কে আয়িশা (রাযিঃ) এর কাছে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তাদের কারো কাছ থেকে কিছু লোকের মাধ্যমে আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রে এটি আমি শুনেছি। এই হাদীসটি আমাদের কাছে বর্ণনা করেন, আলী ইবনে ঈসা ইবনে ইয়াযীদ বাগদাদী রাওহ ইবনে উবাইদা ইবনে জুরায়জ (রাহঃ) শেষ পর্যন্ত। কতক সাহাবী ও অপরাপর একদল আলিম এই হাদীস অনুসারে আমলের মত গ্রহণ করেছেন। নফল রোযা ভঙ্গ করলে কাযা করতে হবে বলে তাঁরা মনে করেন। এ হল ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রাযিঃ) এর অভিমত।

শাবানকে রমযানের সঙ্গে মিলিত করা।

باب مَا جَاءَ فِي وِصَالِ شَعْبَانَ بِرَمَضَانَ

736

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ إِلاَّ شَعْبَانَ وَرَمَضَانَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أُمِّ سَلَمَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৭৩৪. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে শা‘বান ও রমযান ব্যতীত দুই মাস লাগাতার রোযা করতে দেখিনি। - ইবনে মাজাহ ১৬৪৮

737
وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ، أَيْضًا عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي شَهْرٍ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ كَانَ يَصُومُهُ إِلاَّ قَلِيلاً بَلْ كَانَ يَصُومُهُ كُلَّهُ .

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ . وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ أَنَّهُ قَالَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ هُوَ جَائِزٌ فِي كَلاَمِ الْعَرَبِ إِذَا صَامَ أَكْثَرَ الشَّهْرِ أَنْ يُقَالَ صَامَ الشَّهْرَ كُلَّهُ وَيُقَالُ قَامَ فُلاَنٌ لَيْلَهُ أَجْمَعَ . وَلَعَلَّهُ تَعَشَّى وَاشْتَغَلَ بِبَعْضِ أَمْرِهِ . كَأَنَّ ابْنَ الْمُبَارَكِ قَدْ رَأَى كِلاَ الْحَدِيثَيْنِ مُتَّفِقَيْنِ يَقُولُ إِنَّمَا مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّهُ كَانَ يَصُومُ أَكْثَرَ الشَّهْرِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى سَالِمٌ أَبُو النَّضْرِ وَغَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَائِشَةَ نَحْوَ رِوَايَةِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

এই বিষয়ে আয়িশা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, উম্ম সালামা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। এই হাদীসটি আবু সালামা, আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রেও বর্ণিত আছে। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, শা‘বান মাসের মত আর কোন মাসে এত অধিক (নফল) রোযা পালন করতে আমি নবী (ﷺ) কে দেখিনি। এ মাসের কিছু অংশ ব্যতীত পুরো মাসটাই বলতে কি সারা মাসটাই তিনি (নফল) রোযা পালন করতেন।

৭৩৫. হান্নাদ (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।

ইবনে মুবারক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি এই হাদীস প্রসঙ্গে বলেন, কেউ যদি মাসের অধিকাংশ দিন রোযা পালন করে তবে আরবী বাগধারা অনুসারে সারা মাসই রোযা পালন করেছে বলা বৈধ। বলা হয় অমুক ব্যক্তি সারারাত দাড়িয়ে নামায আদায় করেছে। অথচ হতে পারে সে রাতের আহারে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজেও তার কিছু সময় ব্যয় করেছে। এ প্রেক্ষিতে ইবনে মুবারক (রাহঃ) মনে করেন, হাদীস দু‘টি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, এ হাদীসের অর্থ হলো এই যে, তিনি (শাবান) মাসের অধিকাংশ দিন রোযা পালন করতেন। সালিম আবুন নযর (রাহঃ) প্রমখ এই হাদীসটিকে আবু সালামা-আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনে আমর (রাহঃ) অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

রমযানের সম্মানার্থে শা’বানের শেষ অর্ধাংশে রোযা পালন অপছন্দনীয়।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الصَّوْمِ فِي النِّصْفِ الثَّانِي مِنْ شَعْبَانَ لِحَالِ رَمَضَانَ .

738

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا بَقِيَ نِصْفٌ مِنْ شَعْبَانَ فَلاَ تَصُومُوا " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ عَلَى هَذَا اللَّفْظِ . وَمَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ يَكُونَ الرَّجُلُ مُفْطِرًا فَإِذَا بَقِيَ مِنْ شَعْبَانَ شَيْءٌ أَخَذَ فِي الصَّوْمِ لِحَالِ شَهْرِ رَمَضَانَ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَا يُشْبِهُ قَوْلَهُمْ حَيْثُ قَالَ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقَدَّمُوا شَهْرَ رَمَضَانَ بِصِيَامٍ إِلاَّ أَنْ يُوَافِقَ ذَلِكَ صَوْمًا كَانَ يَصُومُهُ أَحَدُكُمْ " . وَقَدْ دَلَّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّمَا الْكَرَاهِيَةُ عَلَى مَنْ يَتَعَمَّدُ الصِّيَامَ لِحَالِ رَمَضَانَ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৩৬. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, শা‘বানের অর্ধাংশ যখন বাকী থাকে তখন আর তোমরা রোযা পালন করবেনা। - ইবনে মাজাহ ১৬৫১

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। এই সূত্র ছাড়া এই শব্দে অন্য রিওয়ায়াতে আছে কি না আমাদের জানা নেই। কোন কোন আলিম বলেন, এই হাদীস সে ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য সে সাধারণত রোযা পালন করছেনা; কিন্তু শাবানের কিছু দিন অবশিষ্ঠ থাকতেই মাহে রমযানের সম্মানার্থে রোযা পালন করা শুরু করে দেয়। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর বরাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, রোযা পালন করে তোমরা রমযানকে এগিয়ে নিবেনা। তবে তোমাদের কারো নির্ধারিত রোযা পালনের দিনগুলো কোন রোযার সঙ্গে এই দিনের রোযার মিল পড়ে গেলে ভিন্ন কথা। এই হাদীসটির দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কেউ রমযানের সম্মানার্থে ইচ্ছা করে রোযা পালন করা মাকরূহ।

মধ্য শা’বান রাত্রির ফযিলত।

باب مَا جَاءَ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ

739

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ فَقَدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةً فَخَرَجْتُ فَإِذَا هُوَ بِالْبَقِيعِ فَقَالَ " أَكُنْتِ تَخَافِينَ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْكِ وَرَسُولُهُ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي ظَنَنْتُ أَنَّكَ أَتَيْتَ بَعْضَ نِسَائِكَ . فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَنْزِلُ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَغْفِرُ لأَكْثَرَ مِنْ عَدَدِ شَعْرِ غَنَمِ كَلْبٍ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ الْحَجَّاجِ . وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يُضَعِّفُ هَذَا الْحَدِيثَ وَقَالَ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عُرْوَةَ وَالْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৩৭. আহমদ ইবনে মানী (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে না পেয়ে ঘর থেকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়লাম। হঠাৎ তাকে বাকী গোরস্তানে যেয়ে পেলাম। তিনি আমাকে বললেন, তুমি কি আশঙ্কা করো আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল তোমার উপর কোন অন্যায় করবেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার অন্য কোন স্ত্রী কাছে চলে গিয়েছেন বলে আমার ধারণা হয়েছিল। তিনি বলেন, শোন, আল্লাহ তাআলার মধ্য শাবানের রাত্রিতে দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে নেমে আসেন। অনন্তর বনু কালব গোত্রের বকরী পালের লোমের সংখ্যার চেয়েও অধিক সংখ্যক লোককে তিনি ক্ষমা করে দেন। - ইবনে মাজাহ ১৩৮৯

ইমাম ঈসা (রাহঃ) বলেন, হাজ্জাজের বরাতে এই সূত্রটি ছাড়া আয়িশা (রাযিঃ) এর হাদীসটি সম্পর্কে কোন কিছু আমাদের জানা নাই। এই হাদীসটিকে দুর্বল বলতে আমি মুহাম্মাদ আল-বুখারীকে শুনেছি। তিনি বলেন, রাবী ইয়াহয়া ইবনে আবু কাসীর উরওয়া (রাহঃ) থেকে কোন রিওয়ায়াত শোনেননি। মুহাম্মাদ আল-বুখারী বলেন, এমনিভাবে হাজ্জাজ ইয়াহয়া ইবনে আবু কাসীরের নিকট থেকে কিছুই শোনেননি।

মুহাররাম মাসের রোযা পালন।

باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ الْمُحَرَّمِ

740

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ صِيَامِ شَهْرِ رَمَضَانَ شَهْرُ اللَّهِ الْمُحَرَّمُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৩৮. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, রমযান মাসের রোযার পর সবচে ফযিলতের রোযা হলো আল্লাহর মাস মুহাররামের রোযা। - ইবনে মাজাহ ১৭৪২, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান।
741

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ سَأَلَهُ رَجُلٌ فَقَالَ أَىُّ شَهْرٍ تَأْمُرُنِي أَنْ أَصُومَ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ قَالَ لَهُ مَا سَمِعْتُ أَحَدًا يَسْأَلُ عَنْ هَذَا إِلاَّ رَجُلاً سَمِعْتُهُ يَسْأَلُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا قَاعِدٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ شَهْرٍ تَأْمُرُنِي أَنْ أَصُومَ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ قَالَ " إِنْ كُنْتَ صَائِمًا بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ فَصُمِ الْمُحَرَّمَ فَإِنَّهُ شَهْرُ اللَّهِ فِيهِ يَوْمٌ تَابَ اللَّهُ فِيهِ عَلَى قَوْمٍ وَيَتُوبُ فِيهِ عَلَى قَوْمٍ آخَرِينَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৭৩৯. আলী ইবনে হুজুর (রাহঃ) ....... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, একবার জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, রমযান মাসের পর কোন রোযা পালন করতে আপনি আমাকে নির্দেশ দেন? তখন তিনি তাকে বললেন, এই বিষয়ে প্রশ্ন করতে এক ব্যক্তি ছাড়া কাউকে আমি শুনিনি। একবার আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। এই সময় জনৈক ব্যক্তি এসে তাকে প্রশ্ন করে বলল হে আল্লাহর রাসূল! রমযান মাসের পর আর কোন মাসের রোযা পালন করতে আপনি আমাকে নির্দেশ দেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, রমযান মাসের পর তুমি যদি আরো কোন রোযা রাখতে চাও তবে মুহাররামের রোযা পালন করো। কেননা, এই মাসটি হলো আল্লাহর মাস। এতে এমন একটি দিন আছে যে দিন আল্লাহ তাআলা এক সম্প্রদায়ের তওবা কবুল করেছিলেন এবং আগামীতেও তিনি আরেক সম্প্রদায়ের তওবা এই দিনে কবুল করবেন।

ইমাম ঈসা (রাহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান-গরীব।

জুমআর দিনের রোযা পালন।

باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ

742

حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ دِينَارٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، وَطَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ مِنْ غُرَّةِ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَقَلَّمَا كَانَ يُفْطِرُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَقَدِ اسْتَحَبَّ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ صِيَامَ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَإِنَّمَا يُكْرَهُ أَنْ يَصُومَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ لاَ يَصُومُ قَبْلَهُ وَلاَ بَعْدَهُ . قَالَ وَرَوَى شُعْبَةُ عَنْ عَاصِمٍ هَذَا الْحَدِيثَ وَلَمْ يَرْفَعْهُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৭৪০. কাসিম ইবনে দীনার (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যেক মাসের শুরুতে তিন দিন রোযা পালন করতেন। আর জুমআর দিন খুব কমই তিনি রোযা ছাড়া অতিবাহিত করতেন।

এই বিষয়ে ইবনে উমর ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-গরীব। আলিমগণের এক দল জুমআ বারের রোযা পালন মুস্তাহাব বলে অভিহিত দিয়েছেন। তবে জুমআর আগের বা পর দিনের রোযা পালন না করে কেবল জুমআর দিনের রোযা মাকরূহ। শু‘বা (রাহঃ)ও এই হাদীসটি আসিম (রাহঃ) এর বরাতে বর্ণনা করেছেন। তবে এটিকে মারফু‘ হিসাবে উল্লেখ করেননি।

কেবল জুমআ বারের রোযা পালন মাকরূহ।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ صَوْمِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَحْدَهُ

743

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَصُومُ أَحَدُكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِلاَّ أَنْ يَصُومَ قَبْلَهُ أَوْ يَصُومَ بَعْدَهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَجَابِرٍ وَجُنَادَةَ الأَزْدِيِّ وَجُوَيْرِيَةَ وَأَنَسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَكْرَهُونَ لِلرَّجُلِ أَنْ يَخْتَصَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ بِصِيَامٍ لاَ يَصُومُ قَبْلَهُ وَلاَ بَعْدَهُ . وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৪১. হান্নাদ (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আগের দিন বা পরের দিন রোযা না রেখে তোমাদের কেউ যেন কেবল জুমআর দিনের রোযা পালন না করে। - ইবনে মাজাহ ১৭২৩, বুখারি, মুসলিম

এই বিষয়ে আলী, জাবির, জুনাদা আল-আযদী, জুওয়ায়রা, আনাস এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান সহীহ। এই হাদীস অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। তাঁরা আগের দিনে বা পরের দিনের রোযা শামিল না করে কেবল জুমআ বারের রোযা পালন মাকরূহ বলে মনে করেন। এ হল ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর বক্তব্য।

শনিবারের রোযা পালন।

باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ يَوْمِ السَّبْتِ

744

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حَبِيبٍ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ، عَنْ أُخْتِهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَصُومُوا يَوْمَ السَّبْتِ إِلاَّ فِيمَا افْتَرَضَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ أَحَدُكُمْ إِلاَّ لِحَاءَ عِنَبَةٍ أَوْ عُودَ شَجَرَةٍ فَلْيَمْضُغْهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَمَعْنَى كَرَاهَتِهِ فِي هَذَا أَنْ يَخُصَّ الرَّجُلُ يَوْمَ السَّبْتِ بِصِيَامٍ لأَنَّ الْيَهُودَ تُعَظِّمُ يَوْمَ السَّبْتِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর আল-আসলামী রাযি.

৭৪২. হুমায়দা ইবনে মাসআদা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে বুসরের বোন থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ফরয রোযা ব্যতীত শনিবার তোমরা কোন রোযা পালন করবেনা। যদি তোমাদের কেউ আঙ্গুরের খোশা বা গাছের ডাল ছাড়া আর কিছু না পায় তবে তাই যেন সে চিবিয়ে নেয়। - ইবনে মাজাহ ১৭২৬

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। নিষিদ্ধ হওয়ার হেতু কেবল শনিবারের দিনকে রোযার জন্য নির্দিষ্ট করা। কেননা ইহূদীদের নিকট শনিবারের দিন বিশেষ মর্যাদার।

সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযা পালন ।

باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ يَوْمِ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ

745

حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ، عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ الْفَلاَّسُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ رَبِيعَةَ الْجُرَشِيِّ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَحَرَّى صَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ حَفْصَةَ وَأَبِي قَتَادَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৪৩. আবু হাফসা আমর ইবনে আলী আল- ফাল্লাস (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সোম ও বৃহস্পতিবারের রোযার প্রতি খুবই খেয়াল রাখতেন। - ইবনে মাজাহ ১৭৩৯

এই বিষয়ে হাফসা আবু কাতাদা, আবু হুরায়রা ও উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি এই সূত্রে হাসান-গারীব।
746

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، وَمُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ مِنَ الشَّهْرِ السَّبْتَ وَالأَحَدَ وَالاِثْنَيْنِ وَمِنَ الشَّهْرِ الآخَرِ الثُّلاَثَاءَ وَالأَرْبِعَاءَ وَالْخَمِيسَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَرَوَى عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ سُفْيَانَ وَلَمْ يَرْفَعْهُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৪৪. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাসের শনি, রবি ও সোমবার রোযা পালন করতেন। আর অপর মাসের মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার রোযা পালন করতেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী এই হাদীসটি সুফিয়ান (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এটিকে মারফু করেন নি।
747

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تُعْرَضُ الأَعْمَالُ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ فَأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৪৫. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমল পেশ করা হয়। সুতরাং আমি ভালবাসি রোযাদার অবস্থায় আমার আমলসমূহ পেশ করা হয়।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই বিষয়ে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-গারীব।

বুধ ও বৃহস্পতিবার রোযা পালন।

باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ يَوْمِ الأَرْبِعَاءِ وَالْخَمِيسِ

748

حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَرِيرِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مَدُّويَهْ، قَالاَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ سَلْمَانَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ الْقُرَشِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَأَلْتُ أَوْ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صِيَامِ الدَّهْرِ فَقَالَ " إِنَّ لأَهْلِكَ عَلَيْكَ حَقًّا صُمْ رَمَضَانَ وَالَّذِي يَلِيهِ وَكُلَّ أَرْبِعَاءٍ وَخَمِيسٍ فَإِذًا أَنْتَ قَدْ صُمْتَ الدَّهْرَ وَأَفْطَرْتَ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ مُسْلِمٍ الْقُرَشِيِّ حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَرَوَى بَعْضُهُمْ عَنْ هَارُونَ بْنِ سَلْمَانَ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ .

Narrator: উবাইদুল্লাহ ইবন মুসলীম রহঃ

৭৪৬. হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ আল-জারীরী ও মুহাম্মাদ ইবনে মাদদুওয়া (রাহঃ) ...... ওবায়দুল্লাহ আল-মুসলিম আল-করাশী তৎ পিতা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমিই নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম বা তাকে কেউ সিয়ামুদ-দাহর অর্থ্যাৎ সারা বছর রোযা পালন করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল। তিনি বললেন, তোমার উপর অবশ্যই তোমার পরিবারের হক রয়েছে। এরপর তিনি বললেন, রমযান এবং পরবর্তী মাস ও প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার রোযা পালন করতে থাক। এতে তোমার সিয়ামুদ-দাহরও হবে এবং ইফতার বা বিনা সিয়ামে দিন কাটানোর অবকাশও হবে।

এই বিষয়ে আয়িশা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, মুসলিম আল-কুরাশী বর্ণিত এই হাদীসটি গারীব। কেউ কেউ এটিকে হারূন ইবনে সালমান মুসলিম ইবনে উবাইদুল্লাহ তৎপিতা উবাইদুল্লাহ (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

আরাফা দিবসের রোযা পালনের ফযিলত।

باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ صَوْمِ عَرَفَةَ

749

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي قَتَادَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدِ اسْتَحَبَّ أَهْلُ الْعِلْمِ صِيَامَ يَوْمِ عَرَفَةَ إِلاَّ بِعَرَفَةَ .

Narrator: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৭৪৭. কুতয়াবা ও আহমাদ ইবনে আব্দা আদ-দাববী (রাহঃ) ...... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছনঃ আরাফা দিবসের রোযা সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে, তিনি এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী বছর এবং পরবর্তী বছরের গুনাহসমূহের কাফফারা করে দিবেন। - ইবনে মাজাহ ১৭৩০, মুসলিম

এই বিষয়ে আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু কাতাদা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। আলিমগণ আরাফায় অবস্থান রত ব্যক্তিদের ছাড়া বাকীদের জন্য আরাফা দিবসের রোযা পালন মুস্তাহাব বলে অভিমত দিয়েছেন।

আরাফা অবস্থানরত অবস্থায় সে দিনের রোযা পালন পছন্দনীয় নয়।

باب كَرَاهِيَةِ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ بِعَرَفَةَ

750

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَفْطَرَ بِعَرَفَةَ وَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ أُمُّ الْفَضْلِ بِلَبَنٍ فَشَرِبَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَأُمِّ الْفَضْلِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ حَجَجْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَصُمْهُ يَعْنِي يَوْمَ عَرَفَةَ وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ فَلَمْ يَصُمْهُ وَمَعَ عُمَرَ فَلَمْ يَصُمْهُ وَمَعَ عُثْمَانَ فَلَمْ يَصُمْهُ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ يَسْتَحِبُّونَ الإِفْطَارَ بِعَرَفَةَ لِيَتَقَوَّى بِهِ الرَّجُلُ عَلَى الدُّعَاءِ وَقَدْ صَامَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ يَوْمَ عَرَفَةَ بِعَرَفَةَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭৪৮. আহমাদ ইবনে মানী (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) আরাফার দিন রোযা অবস্থায় ছিলেন। উম্মুল ফযল (রাযিঃ) সেদিন তাঁকে কিছু দুধ পাঠিয়েছিলেন। তিনি তা পান করেন।

এই বিষয়ে আবু হুরায়রা, ইবনে উমর উম্মুল ফযল (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর সঙ্গে হজ্জ করেছি তিনিও কিন্তু আরাফার দিন রোযা পালন করেননি; আবু বকর (রাযিঃ) এর সঙ্গেও হজ্জ করেছি তিনিও সে দিনের রোযা করেন নি। উমর (রাযিঃ) এর সঙ্গেও হজ্জ করেছি তিনিও সে দিনের রোযা পালন করেন নি। অধিকাংশ আলিম এই হাদীস অনুসারে আমলের অভিমত গ্রহণ করেছেন। তাঁরা দুআর ক্ষেত্রে শক্তিলাভের উদ্দেশ্যে আরাফার দিন রোযা পালন না করা মুস্তাহাব বলে মনে করেন। কোন কোন আলিম আরাফায় অবস্থানকালে সে দিনের রোযা পালন করেছেন।
751

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سُئِلَ ابْنُ عُمَرَ عَنْ صَوْمِ، يَوْمِ عَرَفَةَ بِعَرَفَةَ فَقَالَ حَجَجْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَصُمْهُ وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ فَلَمْ يَصُمْهُ وَمَعَ عُمَرَ فَلَمْ يَصُمْهُ وَمَعَ عُثْمَانَ فَلَمْ يَصُمْهُ . وَأَنَا لاَ أَصُومُهُ وَلاَ آمُرُ بِهِ وَلاَ أَنْهَى عَنْهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ رَجُلٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ . وَأَبُو نَجِيحٍ اسْمُهُ يَسَارٌ.

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭৪৯. আহমাদ ইবনে মানী ও আলী ইবনে হুজুর (রাহঃ) ...... আবু নাজীহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) কে আরাফার দিনে রোযা পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন, আমি নবী (ﷺ) এর সাথে হজ্জ করেছি, তিনি সে দিন রোযা পালন করেননি; আবু বকর (রাযিঃ) এর সঙ্গেও হজ্জ পালন করেছি তিনিও ঐ রোযা পালন করেননি; উমর (রাযিঃ) এর সঙ্গেও হজ্জ করেছি তিনিও ঐ রোযা পালন করেননি; উসমান (রাযিঃ) এর সঙ্গেও হজ্জ করেছি তিনিও ঐ রোযা পালন করেননি। আমি নিজেও এই রোযা পালন করিনা এবং তা কাউকে পালন করতে বলিও না এবং নিষেধও করিনা।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। আবু নাজীহ এর নাম হল ইয়াসার। তিনি ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে হাদীস শুনেছেন। এই হাদীসটি ইবনে আবু নাজীহ তৎপিতা আবু নাজীহ জনৈক ব্যক্তি ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।

আশূরা দিবসের রোযা পালনে উৎসাহিত করা।

باب مَا جَاءَ فِي الْحَثِّ عَلَى صَوْمِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ

752

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَمُحَمَّدِ بْنِ صَيْفِيٍّ وَسَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ وَهِنْدِ بْنِ أَسْمَاءَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَالرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ بْنِ عَفْرَاءَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَلَمَةَ الْخُزَاعِيِّ عَنْ عَمِّهِ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ ذَكَرُوا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ حَثَّ عَلَى صِيَامِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ . قَالَ أَبُو عِيسَى لاَ نَعْلَمُ فِي شَيْءٍ مِنَ الرِّوَايَاتِ أَنَّهُ قَالَ " صِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ كَفَّارَةُ سَنَةٍ " . إِلاَّ فِي حَدِيثِ أَبِي قَتَادَةَ . وَبِحَدِيثِ أَبِي قَتَادَةَ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .

Narrator: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৭৫০. কুতায়বা ও আহমাদ ইবনে আব্দ আয-যাববী (রাহঃ) .... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, আশূরা দিবসের রোযা সম্পর্কে আমি আল্লাহর নিকট আশা করি যে, এর মাধ্যমে, তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের (গুনাহর) কাফফারা করে দিবেন। - ইবনে মাজাহ ১৭৩৮, মুসলিম

এই বিষয়ে আলী, মুহাম্মাদ ইবনে সায়ফী, সালামা ইবনে আকওয়া, হিন্দ ইবনে আসমা, ইবনে আব্বাস, রুবাই বিনতে মুআওবিয ইবনে আফরা, আব্দুর রহমান ইবনে সালামা আল-খুযাঈ তৎ চাচার বরাতে এবং আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) প্রমূখ নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আশূরা দিবসের রোযা পালন করতে উৎসাহিত করেছেন। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু কাতাদা (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি ছাড়া অন্য কোন রিওয়ায়াতে আশূরা দিবসের রোযা পালন এক বছরের কাফফারা স্বরূপ এই কথা উল্লেখ হয়েছে বলে আমাদের জানা নাই। আবু কাতাদা (রাযিঃ) এর হাদীস অনুসারেই ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

আশূরা দিবসের রোযা পালন না করার অবকাশ।

باب مَا جَاءَ فِي الرُّخْصَةِ فِي تَرْكِ صَوْمِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ

753

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ عَاشُورَاءُ يَوْمًا تَصُومُهُ قُرَيْشٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُهُ فَلَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ صَامَهُ وَأَمَرَ النَّاسَ بِصِيَامِهِ فَلَمَّا افْتُرِضَ رَمَضَانُ كَانَ رَمَضَانُ هُوَ الْفَرِيضَةَ وَتَرَكَ عَاشُورَاءَ فَمَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ . وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَقَيْسِ بْنِ سَعْدٍ وَجَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَمُعَاوِيَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَالْعَمَلُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى حَدِيثِ عَائِشَةَ وَهُوَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ لاَ يَرَوْنَ صِيَامَ يَوْمِ عَاشُورَاءَ وَاجِبًا إِلاَّ مَنْ رَغِبَ فِي صِيَامِهِ لِمَا ذُكِرَ فِيهِ مِنَ الْفَضْلِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৫১. হারূন ইবনে ইসহাক আল-হামদানী (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আশূরা ছিল এমন একটি দিন যে দিন কুরাইশরা জাহিলী যুগেও রোযা পালন করত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (হিজরতের পূর্বে) সে দিন রোযা পালন করতেন। মদীনায় আসার পরও তিনি এই দিন রোযা পালন করেছেন এবং লোকদেরকেও রোযা পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। রমযানের রোযা পালন ফরয হওয়ার পর রমযানই ফরয হিসাবে রয়ে গেল আর আশূরার রোযা (ফরয হিসাবে) রইল না। ফলে যার ইচ্ছা এই দিনের রোযা পালন করতে পারে আর যার ইচ্ছা তা ছাড়তেও পারে।

এই বিষয়ে ইবনে মাসউদ, কায়স ইবনে সা’দ, জাবির ইবনে সামুরা, ইবনে উমর ও মুআবিয়া (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আলিমগণ আয়িশা (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীস আমল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। এই হাদীস সহীহ। তাঁর আশূরা দিবসের রোযা ওয়াজিব বলে মনে করেন না। কিন্তু কারো যদি এই দিনের রোযা পালনের আগ্রহ হয় তবে ভিন্ন কথা। কারণ এই দিনের রোযা পালনের বিষয়ে বহু ফযীলতের উল্লেখ রয়েছে।

আশূরা কোন দিন?

باب مَا جَاءَ عَاشُورَاءُ أَىُّ يَوْمٍ هُوَ

754

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ حَاجِبِ بْنِ عُمَرَ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ الأَعْرَجِ، قَالَ انْتَهَيْتُ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ وَهُوَ مُتَوَسِّدٌ رِدَاءَهُ فِي زَمْزَمَ فَقُلْتُ أَخْبِرْنِي عَنْ يَوْمِ عَاشُورَاءَ أَىُّ يَوْمٍ هُوَ أَصُومُهُ فَقَالَ إِذَا رَأَيْتَ هِلاَلَ الْمُحَرَّمِ فَاعْدُدْ ثُمَّ أَصْبِحْ مِنَ التَّاسِعِ صَائِمًا . قَالَ فَقُلْتُ أَهَكَذَا كَانَ يَصُومُهُ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭৫২. হান্নাদ ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ...... হাকাম ইবনে আ‘রাজ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। তিনি তখন যমযমের কাছে তাঁর চাঁদরকে বালিশের মত করে টেক লাগানো অবস্থায় ছিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আশূরা সম্পর্কে আমাকে বলুন তো, কোন দিন আমি এর রোযা পালন করবো? তিনি বললেন, মুহাররমের চাঁদ যখন দেখবে তখন থেকেই দিন গুণতে থাকবে। পরে নবম তারিখ ভোর থেকে রোযা পালন করবে। আমি বললাম (ﷺ) এভাবেই তা পালন করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

755

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِصَوْمِ عَاشُورَاءَ يَوْمَ الْعَاشِرِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ فَقَالَ بَعْضُهُمْ يَوْمُ التَّاسِعِ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ يَوْمُ الْعَاشِرِ . وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ صُومُوا التَّاسِعَ وَالْعَاشِرَ وَخَالِفُوا الْيَهُودَ . وَبِهَذَا الْحَدِيثِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭৫৩. কুতায়বা (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দশম তারিখ আশূরার রোযা পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আশূরা দিবস সম্পর্কে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এ হলো নবম তারিখ। আর অপর একদল বলেন, এ হলো দশম তারিখ। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, নবম ও দশম তোমরা রোযা পালন করবেন এবং ইয়াহুদীদের বিরুদ্ধাচারণ করবে। ইমাম শাফেঈ, আহমাদ ও ইসহাক এই হাদীস অনুসারে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

যিলহজ্জ মাসের (প্রথম) দশকে রোযা পালন।

باب مَا جَاءَ فِي صِيَامِ الْعَشْرِ

756

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَائِمًا فِي الْعَشْرِ قَطُّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا رَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنِ الأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ . وَرَوَى الثَّوْرِيُّ وَغَيْرُهُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يُرَ صَائِمًا فِي الْعَشْرِ . وَرَوَى أَبُو الأَحْوَصِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَائِشَةَ . وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنِ الأَسْوَدِ . وَقَدِ اخْتَلَفُوا عَلَى مَنْصُورٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ وَرِوَايَةُ الأَعْمَشِ أَصَحُّ وَأَوْصَلُ إِسْنَادًا . قَالَ وَسَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعًا يَقُولُ الأَعْمَشُ أَحْفَظُ لإِسْنَادِ إِبْرَاهِيمَ مِنْ مَنْصُورٍ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৫৪. হান্নাদ (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ) কে কখনও (যিলহজ্জ মাসের) দশ দিন রোযা পালন করতে দেখিনি**। - ইবনে মাজাহ ১৭২৯, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, একাধিক রাবী এই হাদীসটিকে আমাশ ইবরাহীম আসওয়াদ আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রে এইরূপ বর্ণনা করেছেন। সাওরী প্রমূখ রাবী এই হাদীসটিকে মানসুর ইবরাহীম সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) কে এই দশ দিন কখনও রোযা পালন অবস্থায় দেখা যায়নি। আবুল আহওয়াস (রাহঃ) এই হাদীসটিকে মানসুর ইবরাহীম আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি এতে রাবী আসওয়াদ (রাহঃ) এর উল্লেখ করেননি। মনসুর পরবর্তী রাবীগণ এই হাদীসের সনদের ক্ষেত্রে উক্ত মতবিরোধ করেছেন। এই সনদসমূহের মধ্যে আ‘মাশ (রাহঃ) এর রিওয়ায়াতটই অধিকতর সহীহ এবং সনদ হিসাবে মুত্তাসিল। আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আবান (রাহঃ) বলেন, আমি ওয়াকী (রাহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, ইবরাহীম-মানসুর সনদের ক্ষেত্রে আমাশ হলেন অধিক সংরক্ষক।

যিলহজ্জ মাসের দশ দিনের আমলের ফযীলত।

باب مَا جَاءَ فِي الْعَمَلِ فِي أَيَّامِ الْعَشْرِ

757

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ، هُوَ الْبَطِينُ وَهُوَ ابْنُ عِمْرَانَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهِنَّ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ الْعَشْرِ " . فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلاَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَلاَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلاَّ رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ " . وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَجَابِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭৫৫. হান্নাদ (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, এমন কোন দিন নাই যে দিনসমূহের নেক আমল আল্লাহর নিকট যিলহজ্জ মাসের এই দশ দিনের নেক আমল অপেক্ষা অধীক প্রিয়। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর পথে জিহাদও কি তদপেক্ষা প্রিয় নয়? রাসূল (ﷺ) বললেনঃ না। আল্লাহর পথে জিহাদও তদপেক্ষা অধীক প্রিয় নয়। তবে কোন ব্যক্তি যদি জান-মাল নিয়ে আল্লাহর পথে বের হয়ে যায় এবং দুটির কিছু নিয়ে আর ফিরে না আসতে পারে তার কথা স্বতন্ত্র। - ইবনে মাজাহ ১৭২৭, বুখারি

এই বিষয়ে ইবনে উমর, আবু হুরায়রা, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ও জাবির (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-গারীব-সহীহ।

যিলহজ্জ মাসের (প্রথম) দশকে রোযা পালন।

باب مَا جَاءَ فِي صِيَامِ الْعَشْرِ

758

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مَسْعُودُ بْنُ وَاصِلٍ، عَنْ نَهَّاسِ بْنِ قَهْمٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا مِنْ أَيَّامٍ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ أَنْ يُتَعَبَّدَ لَهُ فِيهَا مِنْ عَشْرِ ذِي الْحِجَّةِ يَعْدِلُ صِيَامُ كُلِّ يَوْمٍ مِنْهَا بِصِيَامِ سَنَةٍ وَقِيَامُ كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْهَا بِقِيَامِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ مَسْعُودِ بْنِ وَاصِلٍ عَنِ النَّهَّاسِ . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَلَمْ يَعْرِفْهُ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ مِثْلَ هَذَا . وَقَالَ قَدْ رُوِيَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً شَيْءٌ مِنْ هَذَا . وَقَدْ تَكَلَّمَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ فِي نَهَّاسِ بْنِ قَهْمٍ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৫৬. আবু বকর ইবনে নাফি আল বসরী (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল (ﷺ) বলেন, এমন কোন দিন নাই যে দিনসমূহের ইবাদত আল্লাহর নিকট যিলহজ্জ মাসের দশ দিনের ইবাদত অপেক্ষা অধিক প্রিয়। এর প্রতিটি দিনের রোযা এক বছরের রোযার সমতুল্য। এর প্রতিটি রাতের ইবাদত লায়লাতুল কাদরের ইবাদতের সমতুল্য। - ইবনে মাজাহ ১৭২৮

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। রাবী মাসউদ ইবনে ওয়াসিল-নাহ্হাস সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানিনা। মুহাম্মাদ আল-বুখারী (রাহঃ) কে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনিও এই সূত্র ছাড়া অনুরূপ কিছু পরিচয় দিতে পারেন নি। তিনি বলেন, কাতাদা-সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব (রাহঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে উক্ত হাদীসের কিছু অংশ মুরসাল রিওয়ায়াতে বর্ণিত আছে। ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) নাহ্হাস ইবনে কাহম এর স্মৃতিশক্তির সমালোচনা করেছেন।

শাউয়ালের ছয় দিন রোযা পালন।

باب مَا جَاءَ فِي صِيَامِ سِتَّةِ أَيَّامٍ مِنْ شَوَّالٍ

759

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ فَذَلِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَثَوْبَانَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي أَيُّوبَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدِ اسْتَحَبَّ قَوْمٌ صِيَامَ سِتَّةِ أَيَّامٍ مِنْ شَوَّالٍ بِهَذَا الْحَدِيثِ . قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ هُوَ حَسَنٌ هُوَ مِثْلُ صِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ . قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ وَيُرْوَى فِي بَعْضِ الْحَدِيثِ " وَيُلْحَقُ هَذَا الصِّيَامُ بِرَمَضَانَ " . وَاخْتَارَ ابْنُ الْمُبَارَكِ أَنْ تَكُونَ سِتَّةَ أَيَّامٍ فِي أَوَّلِ الشَّهْرِ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ أَنَّهُ قَالَ إِنْ صَامَ سِتَّةَ أَيَّامٍ مِنْ شَوَّالٍ مُتَفَرِّقًا فَهُوَ جَائِزٌ . قَالَ وَقَدْ رَوَى عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ وَسَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَذَا . وَرَوَى شُعْبَةُ عَنْ وَرْقَاءَ بْنِ عُمَرَ عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ هَذَا الْحَدِيثَ . وَسَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ هُوَ أَخُو يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيِّ وَقَدْ تَكَلَّمَ بَعْضُ أَهْلِ الْحَدِيثِ فِي سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ . حَدَّثَنَا هَنَّادٌ قَالَ أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ عَنْ إِسْرَائِيلَ أَبِي مُوسَى عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ قَالَ كَانَ إِذَا ذُكِرَ عِنْدَهُ صِيَامُ سِتَّةِ أَيَّامٍ مِنْ شَوَّالٍ فَيَقُولُ وَاللَّهِ لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ بِصِيَامِ هَذَا الشَّهْرِ عَنِ السَّنَةِ كُلِّهَا .

Narrator: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

৭৫৭. আহমাদ ইবনে মানী (রাহঃ) ..... আবু আইয়ুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ যদি রমযানের রোযা পালন করে এবং পরে এর অনবর্তীতে শাউয়ালের ছয় দিন রোযা পালন করে তবে সে যেন সারা বছরই রোযা পালন করল। - ইবনে মাজাহ ১৭১৬, মুসলিম

এই বিষয়ে জাবির, আবু হুরায়রা এবং সাওবান (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু আইয়ুব (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীসটির উপর ভিত্তি করে একদল আলিম শাউয়ালের ছয় দিন রোযা পালন মুস্তাহাব বলে মনে করেন। ইবনে মুবারক (রাহঃ) বলেন, প্রতি মাসে তিন দিন রোযা পালনের মত এটি ভাল আমল। তিনি আরও বলেন, কতক হাদীসে বর্ণিত আছে যে, এই রোযাকে রমযানের রোযার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। ইবনে মুবারক (রাহঃ) মাসের শুরুর দিকে এই ছয় দিনের রোযা পালন অধিক পছন্দীয় বলে গ্রহণ করেছেন। ইবনে মুবারক থেকে এ-ও বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন, শাওয়ালের মাসের ভিন্ন ভিন্ন দিনে রাখা ও জায়েয আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, রাবী আব্দুল আযীয ইবনে মুহাম্মাদ এই হাদীসটিকে সাফওয়ান ইবনে সুলায়ম ও সা’দ ইবনে সাঈদ সূত্রে উমর ইবনে সাবিত- আবু আইয়ুব (রাযিঃ) সনদে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। শুবা (রাহঃ) এই রিওয়ায়াতটি ওয়ারাকা ইবনে উমর সা’দ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই সা’দ ইবনে সাঈদ হলেন ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী (রাযিঃ) এর ভাই। তাঁর স্মরণশক্তি সম্পর্কে কতক হাদীস বিশেষজ্ঞ সমালোচনা করেছেন।

প্রতিমাসে তিন দিন রোযা পালন করা।

باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ

760

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ أَبِي الرَّبِيعِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ عَهِدَ إِلَىَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَةً أَنْ لاَ أَنَامَ إِلاَّ عَلَى وِتْرٍ وَصَوْمَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَأَنْ أُصَلِّيَ الضُّحَى .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৫৮ কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তিনটি ওসীয়্যাত করেছেন। বিতর (নামায আদায় না করে যেন নিদ্রাগমন না করি। প্রতি মাসে যেন তিন দিন রোযা পালন করি আর যেন চাশতের নামায আদায় করি।

761

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَامٍ، يُحَدِّثُ عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا ذَرٍّ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَبَا ذَرٍّ إِذَا صُمْتَ مِنَ الشَّهْرِ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فَصُمْ ثَلاَثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَقُرَّةَ بْنِ إِيَاسٍ الْمُزَنِيِّ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي عَقْرَبٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَعَائِشَةَ وَقَتَادَةَ بْنِ مِلْحَانَ وَعُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِي وَجَرِيرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي ذَرٍّ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ فِي بَعْضِ الْحَدِيثِ أَنَّ " مَنْ صَامَ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ كَانَ كَمَنْ صَامَ الدَّهْرَ " .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৭৫৯. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) .... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেছিলেন, হে আবু যর! প্রতি মাসে যদি তিন দিন রোযা পালন করতে চাও তবে তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখের রোযা পালন করো।

এই বিষয়ে আবু কাতাদা, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, কররা ইবনে ইয়াস আল-মুযানী, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবু আকরাব, ইবনে আব্বাস, আয়িশা, কাতাদা ইবনে মিলহান, উসমান ইবনে আবুল আসী ও জারীর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু যর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। কতক হাদীসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা পালন করে সে যেন সারা বছর রোযা পালন করল।
762

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَامَ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فَذَلِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ " . فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ تَصْدِيقَ ذَلِكَ فِي كِتَابِهِ : (مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا ) . الْيَوْمُ بِعَشَرَةِ أَيَّامٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رَوَى شُعْبَةُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي شِمْرٍ وَأَبِي التَّيَّاحِ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৭৬০. হান্নাদ (রাহঃ) ...... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ যদি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা পালন করে তবে তা যেন সারা বছরই রোযা পালন করা হলো। এর সমর্থনে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে আয়াত নাযিল করলেনঃ مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا (অর্থ) কেউ যদি একটি নেক কাজ করে তবে তার প্রতিদান হলো এর দশগুণ। সুতরাং এক দিন দশ দিনের সমান।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, শুবা (রাহঃ) এই হাদীসটি আবুত তায়্যাহ (রাহঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
763

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ، قَالَ سَمِعْتُ مُعَاذَةَ، قَالَتْ قُلْتُ لِعَائِشَةَ أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ قَالَتْ نَعَمْ . قُلْتُ مِنْ أَيِّهِ كَانَ يَصُومُ قَالَتْ كَانَ لاَ يُبَالِي مِنْ أَيِّهِ صَامَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ وَيَزِيدُ الرِّشْكُ هُوَ يَزِيدُ الضُّبَعِيُّ وَهُوَ يَزِيدُ بْنُ الْقَاسِمِ وَهُوَ الْقَسَّامُ وَالرِّشْكُ هُوَ الْقَسَّامُ بِلُغَةِ أَهْلِ الْبَصْرَةِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৬১. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ...... মুআযাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন আয়িশা (রাযিঃ) কে বললাম, রাসূল (ﷺ) কি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা পালন করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। বললাম, কোন তারিখ তিনি এই রোযা পালন করতেন? তিনি বললেন, কোন তিন দিন এই রোযা পালন করবেন এই বিষয়ে তিনি কোন পরওয়া করতেন না। - ইবনে মাজাহ ১৭০৮, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীস হাসান-সহীহ। রাবী ইয়াযীদ আর-রিশক হলেন, ইয়াযীদ আয-যুবাঈ আর ইনিই ইয়াযীদ আল-কাসিম। ইনি ছিলেন বন্টনকারী। বসরাবাসীদের ভাষায় রিশক অর্থ হলো বন্টনকারী।

রোযার ফযীলত।

باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الصَّوْمِ

764

حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى الْقَزَّازُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ رَبَّكُمْ يَقُولُ كُلُّ حَسَنَةٍ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ وَالصَّوْمُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ الصَّوْمُ جُنَّةٌ مِنَ النَّارِ وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ وَإِنْ جَهِلَ عَلَى أَحَدِكُمْ جَاهِلٌ وَهُوَ صَائِمٌ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ وَسَهْلِ بْنِ سَعْدٍ وَكَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ وَسَلاَمَةَ بْنِ قَيْصَرٍ وَبَشِيرِ ابْنِ الْخَصَاصِيَةِ . وَاسْمُ بَشِيرٍ زَحْمُ بْنُ مَعْبَدٍ وَالْخَصَاصِيَةُ هِيَ أُمُّهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৬২. ইমরান ইবনে মুসা আল-কাযযায (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের রব বলেছেন, প্রতিটি নেক কাজের প্রতিদান হলো দশগুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত। রোযা হলো আমারই জন্য। সুতরাং আমি নিজে এর প্রতিদান দিব। রোযা হলো জাহান্নাম থেকে ঢাল স্বরূপ। রোযা পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশক আম্বরের গন্ধের চেয়েও অধিক পছন্দনীয়। রোযা পালন অবস্থায় কোন জাহিল (মূর্খ) যদি তোমাদের কারো সাথে মূর্খতা প্রদর্শন করে তবে সে যেন বলে আমি তো রোযা পালন করছি।

এই বিষয়ে মুআয ইবনে জাবাল, সাহল ইবনে সা’দ, কাব ইবনে উজরা, সালামা ইবনে কায়সার বাশীর ইবনুল খাসাসিয়্যা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। বাশীর (রাযিঃ) এর নাম হল যাহম ইবনে মাবাদ। খাসাসিয়্যা হলেন তাঁর মাতা। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি এই সূত্রে হাসান-গারীব।
765

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَبَابًا يُدْعَى الرَّيَّانَ يُدْعَى لَهُ الصَّائِمُونَ فَمَنْ كَانَ مِنَ الصَّائِمِينَ دَخَلَهُ وَمَنْ دَخَلَهُ لَمْ يَظْمَأْ أَبَدًا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৭৬৩. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে; একে ‘‘রায়্যান’’ নামে অভিহিত করা হয়। এই দরজা দিয়ে রোযা পালনকারীদের ডাকা হবে। যারা রোযা পালনকারী তারা এই দরজা দিয়ে (জান্নাতে) প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি এতে প্রবেশ করবে সে কখনও তৃষ্ণার্ত হবে না। - ইবনে মাজাহ ১৬৪০

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
766

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ حِينَ يُفْطِرُ وَفَرْحَةٌ حِينَ يَلْقَى رَبَّهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৬৪. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, সায়েমের জন্য দু‘টি আনন্দ। একটি আনন্দ হলো যখন সে ইফতার করে; আরেকটি হলো যখন সে তার রবের সঙ্গে সাক্ষাত করবে। - ইবনে মাজাহ ১৬৩৮, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

সারা বছর রোযা পালন করা।

باب مَا جَاءَ فِي صَوْمِ الدَّهْرِ

767

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ بِمَنْ صَامَ الدَّهْرَ قَالَ " لاَ صَامَ وَلاَ أَفْطَرَ " . أَوْ " لَمْ يَصُمْ وَلَمْ يُفْطِرْ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ وَعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ وَأَبِي مُوسَى . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي قَتَادَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ كَرِهَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ صِيَامَ الدَّهْرِ وَأَجَازَهُ قَوْمٌ آخَرُونَ وَقَالُوا إِنَّمَا يَكُونُ صِيَامُ الدَّهْرِ إِذَا لَمْ يُفْطِرْ يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ الأَضْحَى وَأَيَّامِ التَّشْرِيقِ فَمَنْ أَفْطَرَ هَذِهِ الأَيَّامَ فَقَدْ خَرَجَ مِنْ حَدِّ الْكَرَاهِيَةِ وَلاَ يَكُونُ قَدْ صَامَ الدَّهْرَ كُلَّهُ . هَكَذَا رُوِيَ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ . وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ نَحْوًا مِنْ هَذَا وَقَالاَ لاَ يَجِبُ أَنْ يُفْطِرَ أَيَّامًا غَيْرَ هَذِهِ الْخَمْسَةِ الأَيَّامِ الَّتِي نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْهَا يَوْمِ الْفِطْرِ وَيَوْمِ الأَضْحَى وَأَيَّامَ التَّشْرِيقِ .

Narrator: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৭৬৫. কুতায়বা ও আহমাদ ইবনে আব্দা (রাহঃ) ...... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূল (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল যে ব্যক্তি সারা বছর রোযা পালন করবে তার কেমন হবে? তিনি বললেন তার রোযা হলো না, ইফতারও হলো না।

এই বিষয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, আব্দুল্লাহ ইবনু-শিখখীর, ইমরান ইবনে হুসাইন ও আবু মুসা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু কাতাদা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। আলিমগণের একদল সাওমুদ্দাহর অর্থ্যাৎ সারা বছর রোযা পালন করা মাকরূহ বলে মনে করেন। তাঁরা বলেন, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা ও আইয়্যামে তাশরীকের দিনগুলোতে যদি কেউ রোযা পালন করে তবে তা হবে রোযাুদ্দাহার। এই দিনগুলোতে যে রোযা পালন করবেনা সে উপরোক্ত নিষিদ্ধ সীমা থেকে বের হয়ে যাবে এবং সে রোযাুদ্দাহার পালনকারী রূপে গণ্য হবে না। ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রাহঃ) থেকে এই ধরণের অভিমত বর্ণিত আছে। ইমাম শাফেঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এরও বক্তব্য অনুরূপ। তাঁরা বলেন, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং আইয়্যামে তাশরীক এই যে পাঁচটি দিন রোযা পালন করতে রাসুল (ﷺ) নিষেধ করেছেন। সেই পাঁচটি দিন ছাড়া অন্য কোন দিনের রোযা পরিত্যাগ করা ওয়াজিব নয়।

একাধারে রোযা পালন করা।

باب مَا جَاءَ فِي سَرْدِ الصَّوْمِ

768

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنْ صِيَامِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ صَامَ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَفْطَرَ . قَالَتْ وَمَا صَامَ رَسُولُ اللَّهُ صلى الله عليه وسلم شَهْرًا كَامِلاً إِلاَّ رَمَضَانَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৬৬. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ) কে নবী (ﷺ) এর রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, রাসূল (ﷺ) এই ভাবে রোযা পালন করতেন যে এমনকি আমরা বলতাম, তিনি তো রোযা পালন করে যাচ্ছেন। আবার রোযা পালন থেকে যখন বিরত থাকতেন তখন আমরা বলতে থাকতাম তিনি বুঝি আর রোযা পালন করবেনই না। রমযান ছাড়া রাসূল (ﷺ) আর কোন (পূর্ণ) মাসেই রোযা পালন করেননি। - ইবনে মাজাহ ১৭১০, বুখারি ও মুসলিম

এই বিষয়ে আনাস ও ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
769

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ صَوْمِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم قَالَ كَانَ يَصُومُ مِنَ الشَّهْرِ حَتَّى نَرَى أَنَّهُ لاَ يُرِيدُ أَنْ يُفْطِرَ مِنْهُ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَرَى أَنَّهُ لاَ يُرِيدُ أَنْ يَصُومَ مِنْهُ شَيْئًا وَكُنْتَ لاَ تَشَاءُ أَنْ تَرَاهُ مِنَ اللَّيْلِ مُصَلِّيًا إِلاَّ رَأَيْتَهُ مُصَلِّيًا وَلاَ نَائِمًا إِلاَّ رَأَيْتَهُ نَائِمًا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭৬৭. আলী ইবনে হুজুর (রাযিঃ) ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাকে একবার নবী (ﷺ) এর রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, প্রতি মাসে তিনি যখন রোযা পালন করতে থাকতেন তখন মনে হত যে বুঝি আর রোযা ছাড়ার কোন ইচ্ছা নাই। এভাবে যখন তিনি রোযা ছাড়তেন তখন মনে হত তাঁর বুঝি আর এই মাসের রোযা পালনের ইচ্ছা নাই। তাকে যদি তুমি রাত্রে নামায রত অবস্থায় ছাড়া দেখতে না চাইতে তবে সে অবস্থায়ই দেখতে পেতে আর যদি নিদ্রারত অবস্থায় ছাড়া দেখতে না চাইতে তবে সে অবস্থায়ই দেখতে পেতে। - বুখারি ১৯৭২, মুসলিম ৩/১৬২

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন,এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
770

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرٍ، وَسُفْيَانَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي الْعَبَّاسِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفْضَلُ الصَّوْمِ صَوْمُ أَخِي دَاوُدَ كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا وَلاَ يَفِرُّ إِذَا لاَقَى " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو الْعَبَّاسِ هُوَ الشَّاعِرُ الْمَكِّيُّ الأَعْمَى وَاسْمُهُ السَّائِبُ بْنُ فَرُّوخَ . قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ أَفْضَلُ الصِّيَامِ أَنْ تَصُومَ يَوْمًا وَتُفْطِرَ يَوْمًا . وَيُقَالُ هَذَا هُوَ أَشَدُّ الصِّيَامِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৭৬৮. হান্নাদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সর্বোত্তম রোযা হলো আমার ভাই দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর রোযা। তিনি একদিন রোযা পালন করতেন এবং একদিন তা ছাড়তেন। আর (যুদ্ধে শত্রুর) সম্মুখীন হলে তিনি যেখান থেকে পলায়ন করতেন না। - বুখারি ও মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবুল আব্বাস ছিলেন মক্কার কবি ও অন্ধ ব্যক্তি। তাঁর নাম হলো সাঈদ ইবনে ফাররুখ। কতক আলিম বলেন, সর্বোত্তম রোযা হলো একদিন রোযা পালন করা এবং একদিন তা ছেড়ে দেওয়া। বলা হয় এই ধরণের রোযা হলো কঠিন।

ঈদুল ফিতর ও কুরবানীর ঈদে রোযা পালন করা হারাম।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الصَّوْمِ يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ النَّحْرِ

771

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ، مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ قَالَ شَهِدْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فِي يَوْمِ النَّحْرِ بَدَأَ بِالصَّلاَةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى عَنْ صَوْمِ هَذَيْنِ الْيَوْمَيْنِ أَمَّا يَوْمُ الْفِطْرِ فَفِطْرُكُمْ مِنْ صَوْمِكُمْ وَعِيدٌ لِلْمُسْلِمِينَ وَأَمَّا يَوْمُ الأَضْحَى فَكُلُوا مِنْ لُحُومِ نُسُكِكُمْ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو عُبَيْدٍ مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ اسْمُهُ سَعْدٌ وَيُقَالُ لَهُ مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَزْهَرَ أَيْضًا وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَزْهَرَ هُوَ ابْنُ عَمِّ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ .

Narrator: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ)

৭৬৯. মুহাম্মাদ আব্দুল মালিক ইবনে আবুশ শাওয়াবির (রাহঃ) .... আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) এর আযাদকৃত দাস আবু উবাইদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরবানীর দিন আমি উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) কে দেখেছি যে, তিনি খুতবা প্রদানের আগে প্রথমে নামায আদায় করলেন। এরপর বললেন, আমি রাসূল (ﷺ) কে এই দুই ঈদের দিন রোযা পালন নিষেধ করতে শুনেছি। ঈদুল ফিতরের দিন হল তো তোমাদের রোযা ভঙ্গের দিন এবং মুসলিমের ঈদের দিন। ইহা আযহার দিন সেদিন তোমরা তোমাদের কুরবানীর গোশত আহার করবে। - ইবনে মাজাহ ১৭২২, বুখারি ও মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি সহীহ। আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) এর মাওলা বা আযাদকৃত দাস আবু ওবায়দের নাম হলো সা’দ। তাকে আব্দুর রহমান আযহার এ মাওলাও বলা হয়। আব্দুর রহমান ইবনে আযহার হলেন, আব্দুর রহমান আওফ (রাযিঃ) এর চাচাত ভাই।
772

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صِيَامَيْنِ يَوْمِ الأَضْحَى وَيَوْمِ الْفِطْرِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَعَائِشَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَعَمْرُو بْنُ يَحْيَى هُوَ ابْنُ عُمَارَةَ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ الْمَازِنِيُّ الْمَدَنِيُّ وَهُوَ ثِقَةٌ رَوَى عَنْهُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَشُعْبَةُ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭৭০. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুই দিনের রোযা থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন। ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিন। - ইবনে মাজাহ ১৭২১, বুখারি, মুসলিম

এই বিষয়ে উমর, আলী, আয়িশা, আবু হুরায়রা, উকবা ইবনে আমির ও আনাস (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু সাঈদ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এতদনুসারে আমল করেছেন। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, বারী আমর ইবনে ইয়াহয়া হলেন ইবনে উমরা ইবনে আবুল হাসান আল-মাযীনী। তিনি ছিকাহ। তার থেকে সুফিয়ান সাওরী ও শু‘বা (রাহঃ) ও মালিক ইবনে আনাস (রাহঃ) বর্ণনা করেছেন।

আয়্যামে তাশরীক এ রোযা পালন হারাম।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الصَّوْمِ فِي أَيَّامِ التَّشْرِيقِ

773

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُلَىٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَوْمُ عَرَفَةَ وَيَوْمُ النَّحْرِ وَأَيَّامُ التَّشْرِيقِ عِيدُنَا أَهْلَ الإِسْلاَمِ وَهِيَ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَسَعْدٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَجَابِرٍ وَنُبَيْشَةَ وَبِشْرِ بْنِ سُحَيْمٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُذَافَةَ وَأَنَسٍ وَحَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الأَسْلَمِيِّ وَكَعْبِ بْنِ مَالِكٍ وَعَائِشَةَ وَعَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَكْرَهُونَ الصِّيَامَ أَيَّامَ التَّشْرِيقِ إِلاَّ أَنَّ قَوْمًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ رَخَّصُوا لِلْمُتَمَتِّعِ إِذَا لَمْ يَجِدْ هَدْيًا وَلَمْ يَصُمْ فِي الْعَشْرِ أَنْ يَصُومَ أَيَّامَ التَّشْرِيقِ . وَبِهِ يَقُولُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَأَهْلُ الْعِرَاقِ يَقُولُونَ مُوسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ وَأَهْلُ مِصْرَ يَقُولُونَ مُوسَى بْنُ عُلَىٍّ . وَقَالَ سَمِعْتُ قُتَيْبَةُ يَقُولُ سَمِعْتُ اللَّيْثَ بْنَ سَعْدٍ يَقُولُ قَالَ مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ لاَ أَجْعَلُ أَحَدًا فِي حِلٍّ صَغَّرَ اسْمَ أَبِي .

Narrator: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৭৭১. হান্নাদ (রাহঃ) ..... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আরাফার দিন, কুরবানীর দিন এবং আইয়্যামে তাশরীক হলো আমরা মুসলিম জনগণের ঈদের দিন। এ দিনগুলো হলো পানাহারের দিন।

এই বিষয়ে আলী, সা’দ, আবু হুরায়রা, জাবির, নুবায়শা বিশর ইবনে সুহায়ম, আব্দুল্লাহ ইবনে হুযাইফা, আনাস, হামযা ইবনে আমর আল-আসলামী, কাব ইবনে মালিক, আয়িশা, আমর ইবনে আস ও আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এতদনুসারে আমল করেছেন। তারা আয়্যামে তাশরীকের রোযা হারাম বলে মনে করেন। কিন্তু সাহাবী ও অন্যান্য আলিমগণের তামাত্তু হজ্জ পালনকারীর জন্য এই দিনগুলোর রোযা পালনের অবকাশ দিয়েছেন। শর্ত হয় যদি সে হাদী না পায় এবং প্রথম দশ দিনের মধ্যে সে যদি রোযা পালন করতে না পেরে থাকে তবে তাদের মতে সে আইয়্যামে তাশরীকে ঐ রোযা পালন করতে পারবে। ইমাম মালিক ইবনে আনাস, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এই মত ব্যক্ত করেছেন। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইরাকবাসী মুহাদ্দীছগণ বলেন, মুসা ইবনে আলী ইবনে রাবাহ। মিসরবাসীগণ বলেন, মুসা ইবনে আলী এবং আবু ঈসা (রাহঃ) আরও বলেন, আমি কুতায়বাকে বলতে শুনেছি তিনি বলতে শুনেছেন যে, মুসা ইবনে আলী বলেছেন, আমার পিতার নাম তাসগীর (উলাই) রূপে উচ্চারণ কারো হালাল মনে করি না।

রোযা পালনকারীর জন্য শিংগা লাগান মাকরূহ।

باب كَرَاهِيَةِ الْحِجَامَةِ لِلصَّائِمِ

774

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ النَّيْسَابُورِيُّ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، وَيَحْيَى بْنُ مُوسَى، قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَارِظٍ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَسَعْدٍ وَشَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ وَثَوْبَانَ وَأُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ وَعَائِشَةَ وَمَعْقِلِ بْنِ سِنَانٍ وَيُقَالُ ابْنُ يَسَارٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي مُوسَى وَبِلاَلٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَذُكِرَ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ أَنَّهُ قَالَ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثُ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ . وَذُكِرَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَالَ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثُ ثَوْبَانَ وَشَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ لأَنَّ يَحْيَى بْنَ أَبِي كَثِيرٍ رَوَى عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ الْحَدِيثَيْنِ جَمِيعًا حَدِيثَ ثَوْبَانَ وَحَدِيثَ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ . وَقَدْ كَرِهَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمُ الْحِجَامَةَ لِلصَّائِمِ حَتَّى أَنَّ بَعْضَ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ بِاللَّيْلِ مِنْهُمْ أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ وَابْنُ عُمَرَ وَبِهَذَا يَقُولُ ابْنُ الْمُبَارَكِ . قَالَ أَبُو عِيسَى سَمِعْتُ إِسْحَاقَ بْنَ مَنْصُورٍ يَقُولُ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ مَنِ احْتَجَمَ وَهُوَ صَائِمٌ فَعَلَيْهِ الْقَضَاءُ . قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ وَهَكَذَا قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ . وَقَالَ أَبُو عِيسَى وَأَخْبَرَنِي الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ قَالَ قَالَ الشَّافِعِيُّ قَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ احْتَجَمَ وَهُوَ صَائِمٌ وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ " . وَلاَ أَعْلَمُ وَاحِدًا مِنْ هَذَيْنِ الْحَدِيثَيْنِ ثَابِتًا وَلَوْ تَوَقَّى رَجُلٌ الْحِجَامَةَ وَهُوَ صَائِمٌ كَانَ أَحَبَّ إِلَىَّ وَلَوِ احْتَجَمَ صَائِمٌ لَمْ أَرَ ذَلِكَ أَنْ يُفْطِرَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا كَانَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ بِبَغْدَادَ وَأَمَّا بِمِصْرَ فَمَالَ إِلَى الرُّخْصَةِ وَلَمْ يَرَ بِالْحِجَامَةِ لِلصَّائِمِ بَأْسًا وَاحْتَجَّ بِأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَهُوَ مُحْرِمٌ صَائِمٌ .

Narrator: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

৭৭২. মুহাম্মাদ ইবনে রাফি আন-নায়সাবূরী, মাহমুদ ইবনে গায়লান ও ইয়াহয়া ইবনে মুসা (রাহঃ) .... রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি শিংগা লাগায় এবং যাকে শিংগা লাগানো হয় উভয়ের রোযাই বিনষ্ট হয়ে গেল। - ইবনে মাজাহ ১৬৭৯-১৬৮১

এই বিষয়ে সা’দ, আলী, শাদ্দাদ ইবনে আওস, সাওবান, উসামা ইবনে যায়দ, আয়িশা, মাকিল ইবনে ইয়াসার, আবু হুরায়রা, ইবনে আব্বাস, আবু মুসা ও বিলাল (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আহমাদ ইবনে হাম্বাল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, এই বিষয়ে সবচেয়ে সহীহ হাদীস আল রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীস এবং আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস। তিনি বলেন, সাওবান ও শাদ্দাদ ইবনে আওস (রাযিঃ) কর্তৃক এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীসটি অধিকতর সহীহ।

ইয়াহয়া ইবনে আবু কাসীর (রাহঃ) আবু কিলাবা (রাযিঃ) থেকে দুটো হাদীসই রিওয়ায়াত করেছেন। আর এই উভয়টই হল সাওবান ও শাদ্দাদ ইবনে আওসের দুটো হাদীস। সাহাবী ও পরবর্তী আলিমদর একদল রোযা পালনকারীর জন্য শিংগা লাগান মাকরূহ বলে মনে করেন। এমন কি কতক সাহাবী যেমন আবু মুসা আল-আশআরী ও ইবনে উমর (রাযিঃ) রাত্রিতে শিংগা লাগাতেন। ইবনে মুবারক ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আমি ইসহাক ইবনে মনসুরকে বলতে শুনেছি যে, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী বলেছেন, রোযারত অবস্থায় যদি কেউ শিংগা লাগায় তবে তাকে তা কাযা করতে হবে। ইসহাক ইবনে মানসুর বলেন, আহমাদ ইবনে হাম্বাল, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন যে, নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি রোযা অবস্থায়ও শিংগা লাগিয়েছেন, আর তাঁর থেকে এ-ও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি শিংগা লাগায় এবং যাকে শিংগা লাগানো হয় তাদের উভয়ের রোযাই বিনষ্ট হয়ে গেল। এই রিওয়ায়াতদ্বয়ের একটিও সঠিক বলে আমার জানা নাই। রোযা অবস্থায় কেউ যদি শিংগা পালন থেকে বেঁচে থাকে তবে তা আমার মতে অধিক পছন্দনীয়। আর কেউ যদি শিংগা লাগায় তবে এতে তার রোযা ভেঙ্গে গেল বলে আমি মনে করি না। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ ছিল বাগদাদ থাকা অবস্থায় ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) এর বক্তব্য। কিন্তু মিসরে গমনের পর তিনি এই বিষয়ে অনুমতি প্রদানের অভিমতের প্রতি ঝুঁকে পড়েন এবং রোযা অবস্থায় শিংগা লাগানোতে কোনরূপ দোষ আছে বলে আর তিনি মনে করেননি। এ বিষয়ে তিনি দলীল হিসাবে বলেন যে, বিদায় হচ্ছে নবী (ﷺ) রোযা এবং ইহরাম অবস্থায় শিংগা লাগিয়েছেন।

এই বিষয়ে অবকাশ প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ مِنَ الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ

775

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُحْرِمٌ صَائِمٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَهَكَذَا رَوَى وُهَيْبٌ نَحْوَ رِوَايَةِ عَبْدِ الْوَارِثِ . وَرَوَى إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ مُرْسَلاً وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭৭৩. বিশর ইবনে হিলাল আল-বসরী (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইহরাম এবং রোযা অবস্থায়ও শিংগা লাগিয়েছেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি সহীহ।
776

حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ الشَّهِيدِ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ وَهُوَ صَائِمٌ . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭৭৪. আবু মুসা মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) রোযা অবস্থায় শিংগা লাগিয়েছেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই সনদে হাদীসটি হাসান-গারীব।
777

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ فِيمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ وَهُوَ مُحْرِمٌ صَائِمٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَجَابِرٍ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ وَلَمْ يَرَوْا بِالْحِجَامَةِ لِلصَّائِمِ بَأْسًا . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيِّ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭৭৫. আহমাদ ইবনে মানী (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মক্কা ও মদীনার মাঝে ইহরাম এবং রোযা অবস্থায় শিংগা লাগিয়েছেন।

এই বিষয়ে আবু সাঈদ, জাবির ও আনাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক সাহাবী ও আলিম এই হাদীস অনুসারে অভিমত গ্রহণ করেছেন। তাঁরা রোযা পালনকারীর জন্য শিংগা লাগানোতে কোন দোষ আছে বলে মনে করেন না। এ হল ইমাম সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনে আনাস ও শাফেঈ (রাহঃ) এর অভিমত।

সাওমে বিসাল না জায়িজ।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الْوِصَالِ لِلصَّائِمِ

778

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، وَخَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُوَاصِلُوا " . قَالُوا فَإِنَّكَ تُوَاصِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " إِنِّي لَسْتُ كَأَحَدِكُمْ إِنَّ رَبِّي يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِي " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعَائِشَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَجَابِرٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَبَشِيرِ ابْنِ الْخَصَاصِيَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا الْوِصَالَ فِي الصِّيَامِ . وَرُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّهُ كَانَ يُوَاصِلُ الأَيَّامَ وَلاَ يُفْطِرُ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭৭৬. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন তোমরা সাওমে বিসাল করবে না। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো সাওমে বিসাল পালন করেন। তিনি বললেন, আমি তো তোমাদের কারো মত নই। আমার রব আমাকে আহার দেন এবং আপনাকে পান করান। - বুখারি

এই বিষয়ে আলী, আবু হুরায়রা, আয়িশা, ইবনে উমর, জাবির, আবু সাঈদ এবং বাশীর ইবনে খাসাসিয়্যা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আনাস (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক আলিম এই হাদীস অনুসারে আমল গ্রহণ করেছেন। তারা সাওমে বিসাল অপছন্দনীয় বলে মত ব্যক্ত করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি একাধিক দিন সাওমে বিসাল করতেন; মাঝে ইফতার করতেন না।

কারো জুনুবী (ফরয গোসল) অবস্থায় যদি ফজর হয়ে যায় আর তার যদি রোযা পালনের ইচ্ছা থাকে।

باب مَا جَاءَ فِي الْجُنُبِ يُدْرِكُهُ الْفَجْرُ وَهُوَ يُرِيدُ الصَّوْمَ

779

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، قَالَ أَخْبَرَتْنِي عَائِشَةُ، وَأُمُّ سَلَمَةَ زَوْجَا النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُدْرِكُهُ الْفَجْرُ وَهُوَ جُنُبٌ مِنْ أَهْلِهِ ثُمَّ يَغْتَسِلُ فَيَصُومُ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَدْ قَالَ قَوْمٌ مِنَ التَّابِعِينَ إِذَا أَصْبَحَ جُنُبًا يَقْضِي ذَلِكَ الْيَوْمَ . وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৭৭. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আবু বকর ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হারিস ইবনে হিশাস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সহধর্মিণী আয়িশা ও উম্মে সালামা (রাযিঃ) আমাকে অবহিত করেছেন। কোন কোন সময় জুনুবী অবস্থায় নবী (ﷺ) এর ফজর হয়ে যেত। এরপর তিনি গোসল করতেন এবং রোযা পালন করতেন। - ইবনে মাজাহ ১৭০৩, বুখারি ও মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আয়িশা ও উম্মে সালামা (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিম এই হাদীস অনুসারে আমল গ্রহণ করেছেন। এ হল সুফিয়ান, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। তাবিঈগণের একদল বলেন, জুনুবী অবস্থায় যদি ফজর হয়ে যায় তবে তাকে এই দিনের কাযা করতে হবে। তবে প্রথমোক্ত অভিমতটিই অধিকতর বিশুদ্ধ।

রোযা অবস্থায় দাওয়াত কবুল করা।

باب مَا جَاءَ فِي إِجَابَةِ الصَّائِمِ الدَّعْوَةَ

780

حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَوَاءٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ إِلَى طَعَامٍ فَلْيُجِبْ فَإِنْ كَانَ صَائِمًا فَلْيُصَلِّ " . يَعْنِي الدُّعَاءَ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৭৮. আযহার ইবনে মারওয়ান আল-বসরী (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, যদি তোমাদের কাউকে আহারের দাওয়াত দেওয়া হয় তবে সে যেন তা কবুল করে। যদি রোযা পালনকারী হয় তবে সে (দাওয়াতকারীর জন্য) দুআ করবে। - ইবনে মাজাহ ১৭৫০, মুসলিম

781

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ وَهُوَ صَائِمٌ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَكِلاَ الْحَدِيثَيْنِ فِي هَذَا الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৭৯. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি তোমাদের কাউকে রোযা অবস্থায় দাওয়াত করা হয় তবে সে যেন বলে আমি রোযাদার।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই বিষয়ে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত উভয় হাদীসটি হাসান -সহীহ্।

স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে মহিলাদের (নফল) রোযা পালন মাকরূহ।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ صَوْمِ الْمَرْأَةِ إِلاَّ بِإِذْنِ زَوْجِهَا

782

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَنَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَصُومُ الْمَرْأَةُ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ يَوْمًا مِنْ غَيْرِ شَهْرِ رَمَضَانَ إِلاَّ بِإِذْنِهِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৮০. কুতায়বা ও নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমযান মাসের বাইরে স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া কোন মহিলা যেন রোযা পালন না করে। - ইবনে মাজাহ ১৭৬১, নাসাঈ

এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস ও আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত হাদীস আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসটি হাসান- সহীহ্। হাদীসটি আবুয যিনাদ (রাহঃ) থেকেও মুসা ইবনে আবু উসমান তৎপিতা আবু উসমান (রাহঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে।

রমযানের রোযার কাযা পালন ক্ষেত্রে বিলম্ব করা।

باب مَا جَاءَ فِي تَأْخِيرِ قَضَاءِ رَمَضَانَ

783

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ السُّدِّيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الْبَهِيِّ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا كُنْتُ أَقْضِي مَا يَكُونُ عَلَىَّ مِنْ رَمَضَانَ إِلاَّ فِي شَعْبَانَ حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ وَقَدْ رَوَى يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَائِشَةَ نَحْوَ هَذَا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৮১. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এমন কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্‌তিকাল পর্যন্ত রমযানের যে সব রোযা আমার কাযা হত (হায়যের কারণে) সেগুলো শা'বান ছাড়া আদায় করতে পারতাম না। - বুখারি, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাযিঃ) বলেন, এই হাদীস হাসান-সহীহ্। ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রাহঃ) হাদীসটিকে আবু সালামা-আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

রোযা পালনরত ব্যক্তির নিকট পানাহার হলে তার ফযীলত।

باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الصَّائِمِ إِذَا أُكِلَ عِنْدَهُ

784

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ لَيْلَى، عَنْ مَوْلاَتِهَا، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الصَّائِمُ إِذَا أَكَلَ عِنْدَهُ الْمَفَاطِيرُ صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلاَئِكَةُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى شُعْبَةُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ لَيْلَى عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ عُمَارَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .

Narrator: উম্মে উমারা বিনতে কা’ব (রাঃ)

৭৮২. আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) .... লায়লা সূত্রে তাঁর আযাদকারিনী মহিলা (উম্মু উমরা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিন বলেন, রোযা পালন করছেন এমন ব্যক্তিরা যদি রোযা পালনরত কোন ব্যক্তির কাছে আহার করে তবে ফিরিশতাগণ তাঁর (রোযা পালনরত ব্যক্তির) জন্য দুআ করেন। - ইবনে মাজাহ ১৭৪৮

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, শু’বা এই হাদীসটিকে হাবিব ইবনে যায়দ ......... তৎ পিতামহী উম্মু উমরা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
785

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ سَمِعْتُ مَوْلاَةً، لَنَا يُقَالُ لَهَا لَيْلَى تُحَدِّثُ عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ عُمَارَةَ بِنْتِ كَعْبٍ الأَنْصَارِيَّةِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيْهَا فَقَدَّمَتْ إِلَيْهِ طَعَامًا فَقَالَ " كُلِي " . فَقَالَتْ إِنِّي صَائِمَةٌ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الصَّائِمَ تُصَلِّي عَلَيْهِ الْمَلاَئِكَةُ إِذَا أُكِلَ عِنْدَهُ حَتَّى يَفْرُغُوا " . وَرُبَّمَا قَالَ " حَتَّى يَشْبَعُوا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَهُوَ أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ شَرِيكٍ .

Narrator: উম্মে উমারা বিনতে কা’ব (রাঃ)

৭৮৩. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ...... হাবীব ইবনে যায়দ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের জনৈকা আযাদকৃত দাসী লায়লাকে উম্মু উমরা বিনতে কা’ব আল আনসারিয়্যা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী (ﷺ) একবার তাঁর বাড়ি এলেন। তখন তিনি নবী (ﷺ) এর সামনে খাবার পেশ করলেন। নবিজী তাকে বললেন, তুমি খাও। তিনি বললেন আমি তো রোযাদার। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, রোযাদারের নিকট যদি কেউ খায় তবে খাবার শেষ না করা পর্যন্ত ফিরিশতাগণ রোযাদারের জন্য দুআ করতে থাকেন। নবী (ﷺ) কোন কোন সময় حَتَّى يَفْرُغُوا এর স্থলে حَتَّى يَشْبَعُوا বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।
786

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ مَوْلاَةٍ، لَهُمْ يُقَالُ لَهَا لَيْلَى عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ عُمَارَةَ بِنْتِ كَعْبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ " حَتَّى يَفْرُغُوا أَوْ يَشْبَعُوا " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَأُمُّ عُمَارَةَ هِيَ جَدَّةُ حَبِيبِ بْنِ زَيْدٍ الأَنْصَارِيِّ .

Narrator: উম্মে উমারা বিনতে কা’ব (রাঃ)

৭৮৪. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... উম্মু উমরা বিনতে কা’ব (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে। তবে এই রিওয়ায়াতে حتى يفرغوا اويشبعوا শব্দসমূহের উল্লেখ নাই।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, উম্মু উমরা (রাযিঃ) হলেন হাবীব ইবনে যায়দ আল-আনসারী (রাহঃ)-এর পিতামহী।

ঋতুবতী মহিলার রোযা কাযা করতে হবে, নামায কাযা করতে হবে না।

باب مَا جَاءَ فِي قَضَاءِ الْحَائِضِ الصِّيَامَ دُونَ الصَّلاَةِ

787

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ عُبَيْدَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنَّا نَحِيضُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ نَطْهُرُ فَيَأْمُرُنَا بِقَضَاءِ الصِّيَامِ وَلاَ يَأْمُرُنَا بِقَضَاءِ الصَّلاَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ مُعَاذَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَيْضًا . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ نَعْلَمُ بَيْنَهُمُ اخْتِلاَفًا أَنَّ الْحَائِضَ تَقْضِي الصِّيَامَ وَلاَ تَقْضِي الصَّلاَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَعُبَيْدَةُ هُوَ ابْنُ مُعَتِّبٍ الضَّبِّيُّ الْكُوفِيُّ يُكْنَى أَبَا عَبْدِ الْكَرِيمِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৮৫. আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে আমরা হায়য এর পর যখন পবিত্র হতাম তখন তিনি আমাদের রোযা কাযা পালন করতে নির্দেশ দিতেন। নামায কাযা করতে বলতেন না। - ইবনে মাজাহ ৬৩১, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীস হাসান। এটি মুআযা -আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রেও বর্ণিত আছে। আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তাঁদের মাঝে এই বিষয়ে কোন মতিবিরোধ আছে বলে আমরা জানি না যে, হায়য বিশিষ্ট মহিলা রোযা কাযা পালন করবে; নামায কাযা করবে না। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, রাবী উবাইদা হলেন, ইবনে মুআততির আয-যাববী আল- কুফী। তাঁর উপনাম হল আবু আব্দুল করীম।

রোযাদারের জন্য নাকে পানি দেয়ার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা মাকরূহ।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ مُبَالَغَةِ الاِسْتِنْشَاقِ لِلصَّائِمِ

788

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْحَكَمِ الْبَغْدَادِيُّ الْوَرَّاقُ، وَأَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَاصِمَ بْنَ لَقِيطِ بْنِ صَبْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي عَنِ الْوُضُوءِ، . قَالَ " أَسْبِغِ الْوُضُوءَ وَخَلِّلْ بَيْنَ الأَصَابِعِ وَبَالِغْ فِي الاِسْتِنْشَاقِ إِلاَّ أَنْ تَكُونَ صَائِمًا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ كَرِهَ أَهْلُ الْعِلْمِ السَّعُوطَ لِلصَّائِمِ وَرَأَوْا أَنَّ ذَلِكَ يُفْطِرُهُ وَفِي الْباب مَا يُقَوِّي قَوْلَهُمْ .

Narrator: লাকীত ইবনে সাবরাহ (রাঃ)

৭৮৬. আব্দুল ওয়াহ্হাব ইবনে আব্দুল হাকাম বাগদাদী আল-ওয়াররাক ও আবু আম্মার হুসাইন ইবনে হুরায়স (রাহঃ) ........ লাকীত ইবনে সাবরা তাঁর পিতা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে উযু সম্পর্কে জ্ঞাত করুন। তিনি বললেন, উযু পরিপূর্ণভাবে করবে। আঙ্গুলসমূহের মাঝে খিলাল করবে। খুব উত্তমরূপে নাকে পানি ব্যবহার করবে, তবে রোযারত থাকলে ভিন্ন কথা। - ইবনে মাজাহ ৪০৭

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ্। আলিমগণ রোযা পালনকারীর জন্য নাক দিয়ে ঔষধ টানা নিষেধ করেছেন। তাঁদের মতে এতে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। হাদীসের বিষয়বস্তু তাঁদের এই বক্তব্যকে সমর্থন করে।

কেউ যদি কোন কওমের মেহমান হয় তবে যেন সে তাদের অনুমতি ব্যতিরেকে (নফল) রোযা পালন না করে।

باب مَا جَاءَ فِيمَنْ نَزَلَ بِقَوْمٍ فَلاَ يَصُومُ إِلاَّ بِإِذْنِهِمْ

789

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُعَاذٍ الْعَقَدِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ وَاقِدٍ الْكُوفِيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ نَزَلَ عَلَى قَوْمٍ فَلاَ يَصُومَنَّ تَطَوُّعًا إِلاَّ بِإِذْنِهِمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ لاَ نَعْرِفُ أَحَدًا مِنَ الثِّقَاتِ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ . وَقَدْ رَوَى مُوسَى بْنُ دَاوُدَ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الْمَدِينِيِّ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوًا مِنْ هَذَا . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ ضَعِيفٌ أَيْضًا . وَأَبُو بَكْرٍ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ وَأَبُو بَكْرٍ الْمَدَنِيُّ الَّذِي رَوَى عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ اسْمُهُ الْفَضْلُ بْنُ مُبَشِّرٍ وَهُوَ أَوْثَقُ مِنْ هَذَا وَأَقْدَمُ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৮৭. বিশর ইবনে মুআয আকদী বসরী (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কেউ যদি কোন কওমের মেহমান হয়, তবে সে যেন তাদের অনুমতি ব্যতিরেকে (নফল) রোযা পালন না করে। - ইবনে মাজাহ ১৭৬৩

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি মুনকার। হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) থেকে এই হাদীসটি রিওয়ায়াত কোন নির্ভরযোগ্য রাবী বলেছেন বলে আমরা জানি না। মুসা ইবনে দাউদ আবু বকর মাদানী হিশাম ইবনে উরওয়া তৎপিতা উরওয়া আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে অনুরূপ এক রেওয়ায়াত বর্ণনা করেছেন। এই রেওয়ায়াতটিও যঈফ। আবু বকরের হাদীসটি বিশেষজ্ঞদের কাছে দুর্বল। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে আবু বকর আল-মাদানী উপনামের যে রাবী হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন তাঁর নাম হল আল-ফযল ইবনে মুবাশশির। তিনি এই আবু বকর আল-মাদানী থেকে অধিক নির্ভরযোগ্য ও অগ্রগণ্য।

ই’তিকাফ।

باب مَا جَاءَ فِي الاِعْتِكَافِ

790

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَعُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ وَأَبِي لَيْلَى وَأَبِي سَعِيدٍ وَأَنَسٍ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ وَعَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৮৮. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা ও আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) তাঁর ইন্‌তিকাল পর্যন্ত রমযানের শেষ দশদিন ই‘তিকাফ করতেন। - বুখারি, মুসলিম

এই বিষয়ে উবাই ইবনে কা‘বা, আবু লায়লা, আবু সাঈদ, আনাস ও ইবনে উমর থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা ও আয়িশা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।
791

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ أَنْ يَعْتَكِفَ صَلَّى الْفَجْرَ ثُمَّ دَخَلَ فِي مُعْتَكَفِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً . رَوَاهُ مَالِكٌ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرَةَ مُرْسَلاً . وَرَوَاهُ الأَوْزَاعِيُّ وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ يَقُولُونَ إِذَا أَرَادَ الرَّجُلُ أَنْ يَعْتَكِفَ صَلَّى الْفَجْرَ ثُمَّ دَخَلَ فِي مُعْتَكَفِهِ . وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ وَإِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَعْتَكِفَ فَلْتَغِبْ لَهُ الشَّمْسُ مِنَ اللَّيْلَةِ الَّتِي يُرِيدُ أَنْ يَعْتَكِفَ فِيهَا مِنَ الْغَدِ وَقَدْ قَعَدَ فِي مُعْتَكَفِهِ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৮৯. হান্নাদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন ইতিকাফের ইচ্ছা করতেন তখন ফযরের নামায আদায় করে পরে ই‘তিকাফ স্থলে প্রবেশ করতেন। - ইবনে মাজাহ ১৭৭১, বুখারি ও মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আমরা সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে মুরসালরূপে রেওয়ায়েত করেছেন। আর এই হাদীসটি আওযায়ী ও সুফিয়ান সাওরী ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ - আমরা আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। এই হাদীস অনুসারে কোন কোন আলিমের আমল রয়েছে। তাঁরা বলেন, যখন কেউ ইতিকাফের ইচ্ছা করে, তখন সে ফজরের নামায আদায়ের পর যেন ইতিকাফের স্থানে প্রবেশ করে। ইতিকাফ করতে চাইলে, যে দিন থেকে ইতিকাফ আরম্ভ করতে ইচ্ছুক তার আগের তার আগের রাত্রির সন্ধ্যার সূর্য ডোবার আগে যে সে অবস্থান গ্রহণ করে নেয়। এ হলো সুফিয়ান সাওরী ও মালিক ইবনে আনাস (রাহঃ) এর বক্তব্য।

লায়লাতুল ক্বদর।

باب مَا جَاءَ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ

792

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُجَاوِرُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ وَيَقُولُ " تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَأُبَىٍّ وَجَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَابْنِ عُمَرَ وَالْفَلَتَانِ بْنِ عَاصِمٍ وَأَنَسٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُنَيْسٍ وَأَبِي بَكْرَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَبِلاَلٍ وَعُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَوْلُهَا يُجَاوِرُ يَعْنِي يَعْتَكِفُ . وَأَكْثَرُ الرِّوَايَاتِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ فِي كُلِّ وِتْرٍ " . وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ أَنَّهَا لَيْلَةُ إِحْدَى وَعِشْرِينَ وَلَيْلَةُ ثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ وَخَمْسٍ وَعِشْرِينَ وَسَبْعٍ وَعِشْرِينَ وَتِسْعٍ وَعِشْرِينَ وَآخِرُ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى قَالَ الشَّافِعِيُّ كَأَنَّ هَذَا عِنْدِي وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُجِيبُ عَلَى نَحْوِ مَا يُسْأَلُ عَنْهُ يُقَالُ لَهُ نَلْتَمِسُهَا فِي لَيْلَةِ كَذَا فَيَقُولُ الْتَمِسُوهَا فِي لَيْلَةِ كَذَا . قَالَ الشَّافِعِيُّ وَأَقْوَى الرِّوَايَاتِ عِنْدِي فِيهَا لَيْلَةُ إِحْدَى وَعِشْرِينَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّهُ كَانَ يَحْلِفُ أَنَّهَا لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ . وَيَقُولُ أَخْبَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعَلاَمَتِهَا فَعَدَدْنَا وَحَفِظْنَا . وَرُوِيَ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ أَنَّهُ قَالَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ تَنْتَقِلُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ بِهَذَا .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৯০. হারূন ইবনে ইসহাক হামদানী (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) রমযানের শেষ দশদিন মসজিদে অবস্থান করতেন। বলতেন, তোমরা রমযানের শেষ দশদিন লায়লাতুল ক্বদর অনুসন্ধান করে। - বুখারি ও মুসলিম

এই বিষয়ে উমর, উবাই ইবনে কাব, জাবির ইবনে সামুরা, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ, ইবনে উমর, ফালাতান ইবনে আসিম, আনাস, আবু সাঈদ, আব্দুল্লাহ ইবনে উনায়স, আবু বাকরা, ইবনে আব্বাস, বিলাল ও উবাদা ইবনে সাবিত (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। তাঁর এই রিওয়ায়াতে উল্লেখিত শব্দ يحاور অর্থ তিনি ই‘তিকাফ করতেন। এই ক্ষেত্রে অধিকাংশ রিওয়ায়াতের শব্দ হল, তোমরা শেষ দশ দিনের প্রত্যেক বেজোড় রাতে লায়লাতুল ক্বদর তালাশ করো। রাসূল (ﷺ) থেকে লায়লাতুল ক্বদর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তা হল একুশ, তেইশ, পঁচিশ, সাতাশ, উনত্রিশ এবং রমযানের শেষ রাত।

ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, আমার মতে এই ক্ষেত্রে রাসূল (ﷺ) সে ভাবেই উত্তর দিয়েছেন যে ভাবে তার নিকট জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। যেমন হয়ত কেউ তার নিকট জিজ্ঞাসা করেছে, আমরা কি অমুক তারিখে তা অন্বেষন করবো? তিনি উত্তরে বলেছেন, তা অমুক তারিখে তোমরা তালাশ কর। ইমাম শাফেঈ (রাহঃ) বলেন বলেন, এই বিষয়ে আমার কাছে সব চাইতে শক্তিশালী রিওয়ায়াত হল একুশ তারিখ সম্পর্কিত রিওয়ায়াতটি। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি কসম করে বলতেন যে, এ হল সাতাশ তারিখের রাত; এবং তিনি বলতেন, রাসূল (ﷺ) আমাদের এর আলামত জানিয়েছেন। তা আমরা গণনা করে দেখেছি এবং স্মরণ রেখেছি। আবু কিলাবা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, শেষ দশকের মাঝে লায়লাতুল ক্বদর আবর্তিত হতে থাকে। এই বক্তব্যটি আব্দুর রাযযাক-মামার-আইয়ুব আবু কিলাবা (রাযিঃ) থেকে আব্দ ইবনে হুমায়দ বর্ণনা করেছেন।
793

حَدَّثَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، قَالَ قُلْتُ لأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّى عَلِمْتَ أَبَا الْمُنْذِرِ أَنَّهَا لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ قَالَ بَلَى أَخْبَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَنَّهَا لَيْلَةٌ صَبِيحَتُهَا تَطْلُعُ الشَّمْسُ لَيْسَ لَهَا شُعَاعٌ " . فَعَدَدْنَا وَحَفِظْنَا وَاللَّهِ لَقَدْ عَلِمَ ابْنُ مَسْعُودٍ أَنَّهَا فِي رَمَضَانَ وَأَنَّهَا لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ وَلَكِنْ كَرِهَ أَنْ يُخْبِرَكُمْ فَتَتَّكِلُوا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

৭৯১. ওয়াসিল ইবনে আব্দুল আ‘লা কূফী (রাহঃ) .... যির (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) কে বললাম, হে আবু মুনযির! এ যে সাতাশের রাত এ কথা আপনি কোথা থেকে জানলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ অবশ্যই। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, এটি হল এমন রাত যার পরবর্তী সকালে সূর্য উদিত হয় এমনভাবে যে তার আলোকরশ্মি থাকে না। তা আমরা গণনা করে রেখেছি এবং স্মরণও রেখেছি। আল্লাহর কসম! ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) একথা জানেন যে, রাতটি হল রমযানের এবং তা সাতাশেরই রাত। কিন্তু তিনি তোমাদের তা জানাতে পছন্দ করেননি, পাছে তোমরা এর উপর ভরসা করে বসে থাকে। - আবু দাউদ, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদসটি হাসান-সহীহ।
794

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا عُيَيْنَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، ذُكِرَتْ لَيْلَةُ الْقَدْرِ عِنْدَ أَبِي بَكْرَةَ فَقَالَ مَا أَنَا بِمُلْتَمِسِهَا، لِشَيْءٍ سَمِعْتُهُ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ فَإِنِّي سَمِعْتُهُ يَقُولُ " الْتَمِسُوهَا فِي تِسْعٍ يَبْقَيْنَ أَوْ فِي سَبْعٍ يَبْقَيْنَ أَوْ فِي خَمْسٍ يَبْقَيْنَ أَوْ فِي ثَلاَثٍ أَوْ آخِرِ لَيْلَةٍ " . قَالَ وَكَانَ أَبُو بَكْرَةَ يُصَلِّي فِي الْعِشْرِينَ مِنْ رَمَضَانَ كَصَلاَتِهِ فِي سَائِرِ السَّنَةِ فَإِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ اجْتَهَدَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: অজ্ঞাত সাহাবী

৭৯২. হুমায়দা ইবনে মাসআদা (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু বাকরা (রাযিঃ) এর কাছে একবার লায়লাতুল ক্বদর সম্পর্কে আলোচনা হল। তিনি বললেন, আমি লায়লাতুল ক্বদর রমযানের শেষ দশ দিন ছাড়া অন্য কোন রাতে অনুসন্ধান করব না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছ থেকে একটি বাণী শোনার কারণে তাকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা এ রাতটিকে রমযানের নয় দিন বাকী থাকতে বা সাতদিন বাকী থাকতে বা পাঁচ দিন বাকী থাকতে, তিন দিন বাকী থাকতে বা এর শেষ রাতে অণ্বেষন কর। রাবী বলেন, আবু বাকরা (রাযিঃ) রমযানের বিশ দিন পর্যন্ত অন্যান্য সুন্নতের মতই নামায আদায় করতেন। কিন্তু শেষ দশ দিনের ক্ষেত্রে খুবই প্রয়াস চালাতেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

এই বিষয়ে আরো একটি অনুচ্ছেদ।

باب مِنْهُ

795

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هُبَيْرَةَ بْنِ يَرِيمَ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُوقِظُ أَهْلَهُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৭৯৩. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) তাঁর পরিবারের লোকদেরকে রমযানের শেষ দশ দিন জাগাতেন। - ইবনে মাজাহ, বুখারি, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
796

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَجْتَهِدُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مَا لاَ يَجْتَهِدُ فِي غَيْرِهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৯৪. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমযানের শেষ দশ দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেরূপ প্রচেষ্টা চালাতেন অন্যান্য সময়ে সেরূপ প্রচেষ্টা চালাতেন না। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

শীতকালের রোযা।

باب مَا جَاءَ فِي الصَّوْمِ فِي الشِّتَاءِ

797

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ نُمَيْرِ بْنِ عَرِيبٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْغَنِيمَةُ الْبَارِدَةُ الصَّوْمُ فِي الشِّتَاءِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ مُرْسَلٌ . عَامِرُ بْنُ مَسْعُودٍ لَمْ يُدْرِكِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ وَالِدُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَامِرٍ الْقُرَشِيِّ الَّذِي رَوَى عَنْهُ شُعْبَةُ وَالثَّوْرِيُّ .

৭৯৫. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... আমির ইবনে মাসউদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, শীতকালের রোযা হল অনায়াশলব্ধ গনিমত সম্পদের মত।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি মুরসাল। কারণ, আমির ইবনে মাসউদের রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে সাক্ষাত লাভ ঘটেনি। তিনি হলেন ইবরাহীম ইবনে আমির আল-কুরাশীর পিতা। যার থেকে শু‘বা ও সাওরী (রাহঃ) রিওয়ায়াত করেছেন।

و على الذين يطيقونه الاية প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي (وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ)

798

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ يَزِيدَ، مَوْلَى سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ : (وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ) كَانَ مَنْ أَرَادَ مِنَّا أَنْ يُفْطِرَ وَيَفْتَدِيَ حَتَّى نَزَلَتِ الآيَةُ الَّتِي بَعْدَهَا فَنَسَخَتْهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ . وَيَزِيدُ هُوَ ابْنُ أَبِي عُبَيْدٍ مَوْلَى سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ .

৭৯৬. কুতায়বা (রাহঃ) .... সালামা ইবনে আকওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ - যারা রোযা পালনে অক্ষম তারা একজন মিসকীনের আহার দিবে ফিদয়া হিসাবে যখন উক্ত আয়াতটি নাযিল হল তখন আমাদের যার ইচ্ছা রোযা পালন না করে ফিদয়া দিয়ে দিত। শেষে এর পরবর্তী আয়াত فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ এর অর্থ হল- তোমাদের যে জন রমযানের এই মাস পায় সে যেন রোযা পালন করে নাযিল হলে উপরোক্ত আয়াতের বিধান রহিত হয়ে যায়। - বুখারি, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। রাবী ইয়াযীদ হলেন, ইবনে আবু উবাইদ সালামা ইবনে আকওয়া (রাযিঃ) এর আযাদকৃত দাস।

কেউ যদি আহার করার পর সফরের উদ্দেশ্যে বের হয়।

باب مَا جَاءَ فِيمَنْ أَكَلَ ثُمَّ خَرَجَ يُرِيدُ سَفَرًا

799

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، أَنَّهُ قَالَ أَتَيْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ فِي رَمَضَانَ وَهُوَ يُرِيدُ سَفَرًا وَقَدْ رُحِلَتْ لَهُ رَاحِلَتُهُ وَلَبِسَ ثِيَابَ السَّفَرِ فَدَعَا بِطَعَامٍ فَأَكَلَ فَقُلْتُ لَهُ سُنَّةٌ قَالَ سُنَّةٌ . ثُمَّ رَكِبَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭৯৭. কুতায়বা (রাহঃ) ...... মুহাম্মাদ ইবনে কা‘ব (রাহঃ) বলেন, আমি এক রমযানে আনাস (রাযিঃ) এর কাছে এলাম। তিনি তখন সফরের ইচ্ছা করছিলেন। আমি তাঁর সফরের উটটিকে হাওদা বেঁধে দিলাম। তিনি সফরের পোশাক পরে নিলেন এবং খাবার নিয়ে আসতে বললেন। অনন্তর তিনি তা আহার করলেন। আমি বললাম, এ কি সুন্নত? তিনি বললেন, সুন্নত। এরপর সওয়ার হয়ে গেলেন।

800

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ أَتَيْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ فِي رَمَضَانَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ هُوَ ابْنُ أَبِي كَثِيرٍ هُوَ مَدِينِيٌّ ثِقَةٌ وَهُوَ أَخُو إِسْمَاعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ . وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ هُوَ ابْنُ نَجِيحٍ وَالِدُ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمَدِينِيِّ وَكَانَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ يُضَعِّفُهُ . وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ وَقَالُوا لِلْمُسَافِرِ أَنْ يُفْطِرَ فِي بَيْتِهِ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ وَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَقْصُرَ الصَّلاَةَ حَتَّى يَخْرُجَ مِنْ جِدَارِ الْمَدِينَةِ أَوِ الْقَرْيَةِ . وَهُوَ قَوْلُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيِّ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭৯৮. মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... মুহাম্মাদ ইবনে কাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস (রাযিঃ) এর কাছে রমযানে এলাম। এরপর উক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। রাবী মুহাম্মাদ ইবনে জাফর হলেন, ইবনে আবু কাসীর মাদীনী নির্ভরযোগ্য রাবী। তিনি ইসমাঈল ইবনে জাফর (রাহঃ) এর ভাই। আর আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর হলেন ইবনে নাজীহ; আলী ইবনে মাদীনী (রাহঃ) এর পিতা। ইয়াহয়া ইবনে মাঈন (রাহঃ) তাকে যঈফ বলেছেন। কোন কোন আলিম এই হাদীস অনুসারে মত ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা বলেন মুসাফির ব্যক্তি সফরের উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হওয়ার পূর্বে রোযা ভঙ্গ করতে পারবে।* তবে যতক্ষণ সে তার গ্রাম বা নগর প্রাচীর অতিক্রম না করেছে ততক্ষণ নামায কসর করতে পারবে না। এ হল ইসহাক ইবনে ইবরাহীম হানযালীর বক্তব্য।

*ইমাম আবু হানিফা (রাহঃ) সহ অধিকাংশ আলিম সফরে বের না হওয়া পর্যন্ত তা জায়েয রাখেন না।

রোযা পালনকারীর তোহফা।

باب مَا جَاءَ فِي تُحْفَةِ الصَّائِمِ

801

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ طَرِيفٍ، عَنْ عُمَيْرِ بْنِ مَأْمُونٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ " تُحْفَةُ الصَّائِمِ الدُّهْنُ وَالْمِجْمَرُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لَيْسَ إِسْنَادُهُ بِذَاكَ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ سَعْدِ بْنِ طَرِيفٍ . وَسَعْدُ بْنُ طَرِيفٍ يُضَعَّفُ وَيُقَالُ عُمَيْرُ بْنُ مَأْمُومٍ أَيْضًا .

Narrator: হাসান ইবনে আলী (রাঃ)

৭৯৯. আহমাদ ইবনে মানী (রাহঃ) ...... হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, রোযা পালনকারীর জন্য তুহফা হল তৈল ও মিজমার (ধূনা বা লোবান জাতীয় সুগন্ধি)।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি গারীব; এর সনদটি তেমন নয়। রাবী সা’দ ইবনে তারীফ ছাড়া আর কোন ক্ষেত্রে এটি সম্পর্কে আমরা অবহিত নই। সা’দকে যঈফ গণ্য করা হয় এবং রাবী উমায়র ইবনে মামূনকে উমায়র ইবনে মামূমও বলা হয়।

ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা কখন হয়।

باب مَا جَاءَ فِي الْفِطْرِ وَالأَضْحَى مَتَى يَكُونُ

802

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْيَمَانِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْفِطْرُ يَوْمَ يُفْطِرُ النَّاسُ وَالأَضْحَى يَوْمَ يُضَحِّي النَّاسُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى سَأَلْتُ مُحَمَّدًا قُلْتُ لَهُ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ سَمِعَ مِنْ عَائِشَةَ قَالَ نَعَمْ يَقُولُ فِي حَدِيثِهِ سَمِعْتُ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৮০০. ইয়াহয়া ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ঈদুল ফিতর হল যে দিন লোকেরা রোযা ভঙ্গ করে আর ঈদুল আযহা হল লোকেরা যেদিন কুরবানী দেয়। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আমি মুহাম্মাদ (রাহঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, রাবী মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির কি আয়িশা (রাযিঃ) এর কাছে হাদীস শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তাঁর হাদীসে তিনি আয়িশা (রাযিঃ) এর কাছে শুনেছি উল্লেখ করে থাকেন। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, হাদীসটি এই সূত্রে হাসান-গারীব-সহীহ।

ইতিকাফ ছেড়ে বের হয়ে পড়লে।

باب مَا جَاءَ فِي الاِعْتِكَافِ إِذَا خَرَجَ مِنْهُ

803

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، قَالَ أَنْبَأَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعْتَكِفُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ فَلَمْ يَعْتَكِفْ عَامًا فَلَمَّا كَانَ فِي الْعَامِ الْمُقْبِلِ اعْتَكَفَ عِشْرِينَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الْمُعْتَكِفِ إِذَا قَطَعَ اعْتِكَافَهُ قَبْلَ أَنْ يُتِمَّهُ عَلَى مَا نَوَى فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا نَقَضَ اعْتِكَافَهُ وَجَبَ عَلَيْهِ الْقَضَاءُ . وَاحْتَجُّوا بِالْحَدِيثِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مِنِ اعْتِكَافِهِ فَاعْتَكَفَ عَشْرًا مِنْ شَوَّالٍ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ نَذْرُ اعْتِكَافٍ أَوْ شَيْءٌ أَوْجَبَهُ عَلَى نَفْسِهِ وَكَانَ مُتَطَوِّعًا فَخَرَجَ فَلَيْسَ عَلَيْهِ أَنْ يَقْضِيَ إِلاَّ أَنْ يُحِبَّ ذَلِكَ اخْتِيَارًا مِنْهُ وَلاَ يَجِبُ ذَلِكَ عَلَيْهِ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ . قَالَ الشَّافِعِيُّ فَكُلُّ عَمَلٍ لَكَ أَنْ لاَ تَدْخُلَ فِيهِ فَإِذَا دَخَلْتَ فِيهِ فَخَرَجْتَ مِنْهُ فَلَيْسَ عَلَيْكَ أَنْ تَقْضِيَ إِلاَّ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৮০১. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী(ﷺ) রমযানের শেষ দশ দিন ই‘তিকাফ করতেন। কিন্তু এক বছর তিনি ইতিকাফ করতে পারেননি। ফলে পরবর্তী বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেন। - আবু দাউদ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-গারীব-সহীহ। নিয়ত অনুসারে ইতিকাফ পূর্ণ করার পূর্বেই ইতিকাফ ছেড়ে দেওয়া সম্পর্কে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। যদি সে নিয়ত অনুসারে পূর্ণ করার আগেই ইতিকাফ ছেড়ে দেয়, আলিম বলেন, সে যদি তার ইতিকাফ ভঙ্গ করে তবে তার কাযা ওয়াজিব। তারা এই হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করেন যে, নবী (ﷺ) ইতিকাফ ছেড়ে বের হয়ে পড়েছিলেন, পরে শাওয়ালের দশ দিন ইতিকাফ করে। এ হল মালিক (রাহঃ) এর বক্তব্য। কোন কোন আলিম বলেন, যদি মান্নত বা নিজেরে জন্য অবশ্য কর্তব্য হিসাবে নির্ধারণকৃত ইতিকাফ না হয়ে থাকে এবং সে নফল ইতিকাফ আদায়কারী হয়ে থাকে তবে এমতাবস্থায় ইতিকাফ ছেড়ে বের হয়ে গেলে তার উপর ওয়াজিব নয় যে সে কাযা করবে। তবে যদি সে স্বেচ্ছায় কাযা করতে পছন্দ করে, তা ভিন্ন কথা। কিন্তু তা তার উপর ওয়াজিব নয়। এ হল ইমাম শাফেঈ (রাহঃ) এর অভিমত। ইমাম শাফেই (রাহঃ) বলেন, যে আমল তোমর জন্য ওয়াজিব নয় এমন কোন আমল যদি তুমি করতে শুরু কর আর পূর্ণ না করে তা ছেড়ে দাও তা হলে হজ্জ ও উমরা ছাড়া আর কোন আমলের কাযা করা তোমার উপর ওয়াজিব নয়। এই বিষয়ে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।

ইতিকাফকারী প্রয়োজনে বের হতে পারে কি না?

باب الْمُعْتَكِفُ يَخْرُجُ لِحَاجَتِهِ أَمْ لاَ

804

حَدَّثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ الْمَدَنِيُّ، قِرَاءَةً عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، وَعَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اعْتَكَفَ أَدْنَى إِلَىَّ رَأْسَهُ فَأُرَجِّلُهُ وَكَانَ لاَ يَدْخُلُ الْبَيْتَ إِلاَّ لِحَاجَةِ الإِنْسَانِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . هَكَذَا رَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ وَعَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ . وَرَوَاهُ بَعْضُهُمْ عَنْ مَالِكٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ . وَالصَّحِيحُ عَنْ عُرْوَةَ وَعَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৮০২. আবু মুসআব মাদানী (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন ইতিকাফে বসতেন, তিনি তাঁর মাথা আমার দিকে ঝুঁকিয়ে দিতেন আর আমি তা আঁচড়িয়ে দিতাম। তিনি মানবীয় প্রয়োজন ছাড়া ঘরে প্রবেশ করতেন না। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীসটিকে একাধিক রাবী মালিক ইবনে আনাস ইবনে শিহাব উরওয়া-আমরা-আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে উরওয়া ও আমরা-আয়িশা (রাযিঃ) এর সনদে বর্ণনা করেছেন।
805

حَدَّثَنَا بِذَلِكَ، قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، وَعَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا اعْتَكَفَ الرَّجُلُ أَنْ لاَ يَخْرُجَ مِنِ اعْتِكَافِهِ إِلاَّ لِحَاجَةِ الإِنْسَانِ وَاجْتَمَعُوا عَلَى هَذَا أَنَّهُ يَخْرُجُ لِقَضَاءِ حَاجَتِهِ لِلْغَائِطِ وَالْبَوْلِ . ثُمَّ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي عِيَادَةِ الْمَرِيضِ وَشُهُودِ الْجُمُعَةِ وَالْجَنَازَةِ لِلْمُعْتَكِفِ فَرَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنْ يَعُودَ الْمَرِيضَ وَيُشَيِّعَ الْجَنَازَةَ وَيَشْهَدَ الْجُمُعَةَ إِذَا اشْتَرَطَ ذَلِكَ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ لَيْسَ لَهُ أَنْ يَفْعَلَ شَيْئًا مِنْ هَذَا وَرَأَوْا لِلْمُعْتَكِفِ إِذَا كَانَ فِي مِصْرٍ يُجَمَّعُ فِيهِ أَنْ لاَ يَعْتَكِفَ إِلاَّ فِي مَسْجِدِ الْجَامِعِ لأَنَّهُمْ كَرِهُوا الْخُرُوجَ لَهُ مِنْ مُعْتَكَفِهِ إِلَى الْجُمُعَةِ وَلَمْ يَرَوْا لَهُ أَنْ يَتْرُكَ الْجُمُعَةَ فَقَالُوا لاَ يَعْتَكِفُ إِلاَّ فِي مَسْجِدِ الْجَامِعِ حَتَّى لاَ يَحْتَاجُ إِلَى أَنْ يَخْرُجَ مِنْ مُعْتَكَفِهِ لِغَيْرِ قَضَاءِ حَاجَةِ الإِنْسَانِ لأَنَّ خُرُوجَهُ لِغَيْرِ قَضَاءِ حَاجَةِ الإِنْسَانِ قَطْعٌ عِنْدَهُمْ لِلاِعْتِكَافِ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ . وَقَالَ أَحْمَدُ لاَ يَعُودُ الْمَرِيضَ وَلاَ يَتْبَعُ الْجَنَازَةَ عَلَى حَدِيثِ عَائِشَةَ . وَقَالَ إِسْحَاقُ إِنِ اشْتَرَطَ ذَلِكَ فَلَهُ أَنْ يَتْبَعَ الْجَنَازَةَ وَيَعُودَ الْمَرِيضَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৮০৩. কুতায়বা (রাহঃ) আমাকে উক্ত রিওয়ায়াতটি লাঈস (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

আলিমগণের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে যে, ইতিকাফকারী ব্যক্তি মানবীয় প্রয়োজনে সে অবশ্যই বের হতে পারবে। তবে রোগী দেখা, জুমআ ও জানাযার নামাযে ইতিকাফরত ব্যক্তি হাযির হতে পারবে কিনা এ-ই বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন সাহাবী ও অপরাপর আলিমের মত হল, যদি ইতিকাফের সময় শর্ত করে থাকে তবে সে রোগী দেখতে, জানাযা অনুসরণ করতে এবং জুমআর নামাযে হাযির হতে পারবে। এ হল ইমাম সুফিয়ান সাওরী ও ইবনে মুবারক (রাহঃ) এর অভিমত।

কোন কোন আলিম বলেন, উল্লিখিত কোন কাজ সে করতে পারবে না। ইতিকাফকারী ব্যক্তি যদি এমন শহরে বাস করে যেখানে জুমআর নামায হয় সেখানে সে জামি’ মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও ইতিকাফ করবে না। তাঁরা ইতিকাফস্থল ছেড়ে জুমআর জন্য বের হওয়াও পছন্দ করেন না। আবার জুমআ পরিত্যাগ করাও জায়িজ বলে মনে করেন না। সুতরাং তারা বলেন, জামি মসজিদ ছাড়া ইতিকাফ করবে না যাতে মানবীয় প্রয়োজন ছাড়া ইতিকাফস্থল থেকে বের হওয়ার প্রয়োজন না পড়ে। কেননা মানবী প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়া তাদের মতে ইতিকাফ ভঙ্গের কারণ হিসাবে গণ্য। এ হল ইমাম মালিক ও শাফেঈ (রাহঃ) এর অভিমত।

ইমাম আহমাদ (রাহঃ) বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) এর হাদীসের আলোকে সে রোগী দেখতে ও জানাযায় শরীক হতে বের হতে পারবে না। ইমাম ইসহাক (রাহঃ) বলেন, যদি সে পূর্বেই এই বিষয়ে নিজে নিজে শর্ত করে নেয় তবে সে জানাযায় শরীক হতে ও রোগীকে দেখতে যেতে পারবে।

রমযান মাসের কিয়াম।

باب مَا جَاءَ فِي قِيَامِ شَهْرِ رَمَضَانَ

806

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفُضَيْلِ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُرَشِيِّ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ صُمْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يُصَلِّ بِنَا حَتَّى بَقِيَ سَبْعٌ مِنَ الشَّهْرِ فَقَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ ثُمَّ لَمْ يَقُمْ بِنَا فِي السَّادِسَةِ وَقَامَ بِنَا فِي الْخَامِسَةِ حَتَّى ذَهَبَ شَطْرُ اللَّيْلِ فَقُلْنَا لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ نَفَّلْتَنَا بَقِيَّةَ لَيْلَتِنَا هَذِهِ فَقَالَ " إِنَّهُ مَنْ قَامَ مَعَ الإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ كُتِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ " . ثُمَّ لَمْ يُصَلِّ بِنَا حَتَّى بَقِيَ ثَلاَثٌ مِنَ الشَّهْرِ وَصَلَّى بِنَا فِي الثَّالِثَةِ وَدَعَا أَهْلَهُ وَنِسَاءَهُ فَقَامَ بِنَا حَتَّى تَخَوَّفْنَا الْفَلاَحَ . قُلْتُ لَهُ وَمَا الْفَلاَحُ قَالَ السُّحُورُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ فَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يُصَلِّيَ إِحْدَى وَأَرْبَعِينَ رَكْعَةً مَعَ الْوِتْرِ . وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ الْمَدِينَةِ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَهُمْ بِالْمَدِينَةِ . وَأَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى مَا رُوِيَ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَغَيْرِهِمَا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عِشْرِينَ رَكْعَةً . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ وَهَكَذَا أَدْرَكْتُ بِبَلَدِنَا بِمَكَّةَ يُصَلُّونَ عِشْرِينَ رَكْعَةً . وَقَالَ أَحْمَدُ رُوِيَ فِي هَذَا أَلْوَانٌ . وَلَمْ يَقْضِ فِيهِ بِشَيْءٍ . وَقَالَ إِسْحَاقُ بَلْ نَخْتَارُ إِحْدَى وَأَرْبَعِينَ رَكْعَةً عَلَى مَا رُوِيَ عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ . وَاخْتَارَ ابْنُ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ الصَّلاَةَ مَعَ الإِمَامِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ . وَاخْتَارَ الشَّافِعِيُّ أَنْ يُصَلِّيَ الرَّجُلُ وَحْدَهُ إِذَا كَانَ قَارِئًا . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَالنُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৮০৪. হান্নাদ (রাহঃ) ...... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) এর সঙ্গে আমরা রোযা পালন করেছি। তিনি রমযান মাসে আমাদের নিয়ে (নফল) নামায আদায় করেননি। অবশেষে সাত দিন বাকী থাকতে তিনি আমাদের নিয়ে নামায দাঁড়ালেন। এমনকি রাতের এক তৃতীয়াংশ এতে অতিবাহিত হয়ে গেল। এরপর আর ষষ্ঠ রাত আমাদের নিয়ে নামাযে দাড়ালেন না। কিন্তু প্রথম রাত থাকতে আবার আমাদের নিয়ে নামাযে দাড়ালেন। এমকি এতে অর্ধেক রাত অতিবাহিত হয়ে গেল। আমরা তাঁকে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের অবশিষ্ট রাতটিও যদি নফল আদায় করে অতিবাহিত করে দিতেন। তিনি বললেন, কেউ যদি ইমামের সঙ্গে (ফরয) নামাযে দাঁড়ায় এবং ইমামের শেষ করা পর্যন্ত তাঁর সাথে দাড়ায় তবে তার জন্য সারারাত (নফল) নামায আদায়ের সাওয়াব লেখা হয়।

এরপর তিন মাসের তিন রাত অবশিষ্ঠ থাকা পর্যন্ত আমাদের নিয়ে নামাযে দাড়ালেন না। তৃতীয় (২৭শে) রাত থাকতে আবার তিনি আমাদের নিয়ে নামাযে দাড়ালেন। এই রাত তিনি তাঁর পরিজন ও স্ত্রীগণকেও ডেকে তুললেন। অনন্তর তিনি এত দীর্ঘক্ষণ নামায আদায় করলেন যে আমাদের ফালাহ এর ব্যাপারে এর আশঙ্কা সৃষ্টি হয়ে গেল। রাবী জুবাইর ইবনে নুফায়র (রাহঃ) বলেন যে, আমি আবু বকর (রাযিঃ) কে বললামঃ ফালাহ কি? তিনি বললেন, সাহরী খাওয়া। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। রমযানের কিয়াম সম্পর্কে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন, বিতরসহ এর রাকআত সংখ্যা একচল্লিশ। এ হল মদীনাবাসীদের অভিমত এবং মদীনা বাসীদেরও এইরূপ আমল রয়েছে। অধিকাংশ আলিমের অভিমত আলী ও উমর (রাযিঃ) প্রমূখ সাহাবায় কিরাম থেকে বর্ণিত রিওয়ায়াত অনুযায়ী রাক'আত সংখ্যা হল বিশ। সুফিয়ান সাওরী, ইবনে মুবারক ও শাফেঈ (রাহঃ) এর অভিমত। ইমাম শাফেঈ (রাহঃ) বলেন, আমাদের নগর মক্কায়ও এই ধরণের আমল দেখেছি। তাঁরা বিশ রাকআত নামায আদায় করেন। আহমাদ (রাহঃ) বলেন, এই বিষয়ে বিভিন্ন ধরণের রিওয়ায়াত বর্ণিত আছে। তিনি এই ক্ষেত্রে কোন সিদ্ধান্ত দেননি। ইসহাক বলেন, উবাই ইবনে কাব (রাহঃ) এর রিওয়ায়াতের আদেশে আমরা এক চল্লিশ রাকআতের অভিমতটি গ্রহণ করি। ইবনে মুবারক, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) রমযান মাসে ইমামের সঙ্গে নামায আদায় করা পছন্দীয় বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। হাফিজুল কুরআন হলে তার জন্য একা নামায আদায় করা উত্তম বলে ইমাম শাফেঈ (রাহঃ) অভিমত দিয়েছেন।

রোযাদারকে ইফতার করানোর ফযীলত।

باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا

807

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ غَيْرَ أَنَّهُ لاَ يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الصَّائِمِ شَيْئًا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাঃ)

৮০৫. হান্নাদ (রাহঃ) ...... যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, কেউ যদি কোন রোযাদারকে ইফতার করায় তবে তার জন্যও অনুরূপ (রোযার) সাওয়াব হবে। কিন্তু এতে রোযা পালনকারীর সাওয়াবে কোন ঘাটতি হবে না। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ্।

রমযানের রোযা- এর প্রতি উৎসাহিত করা এবং এর ফযীলত।

باب التَّرْغِيبِ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَمَا جَاءَ فِيهِ مِنَ الْفَضْلِ

808

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُرَغِّبُ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ بِعَزِيمَةٍ وَيَقُولُ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " . فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ ثُمَّ كَانَ الأَمْرُ كَذَلِكَ فِي خِلاَفَةِ أَبِي بَكْرٍ وَصَدْرًا مِنْ خِلاَفَةِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَلَى ذَلِكَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ أَيْضًا عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ عن النبي قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح.

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮০৬. আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযান মাসের কিয়াম সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করতেন। তবে তা বাধ্যতামূলক বলে নির্দেশ দেননি। তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং সাওয়াবের আশা নিয়ে রমযান মাসের কিয়াম করবে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে। বিষয়টি এভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ইন্‌তিকাল পর্যন্ত চলতে থাকে। পরে আবু বকর (রাযিঃ) এর খিলাফত এবং উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-এর খিলাফাতের প্রথম দিকেও বিষয়টি তদ্রূপই ছিল। - আবু দাউদ, নাসাঈ

এই বিষয়ে আয়িশা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটি সহীহ্। এই হাদীসটি যুহরী-উরওয়া-আয়িশা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে।