أبواب الإيمان عن رسول الله صلى الله عليه وسلم

৪০. ঈমানের অধ্যায়

Chapter 40 · 39 hadith

’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ এর স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত আমি লড়াই করতে আদিষ্ট হয়েছি।

باب مَا جَاءَ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

2606

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَإِذَا قَالُوهَا مَنَعُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إِلاَّ بِحَقِّهَا وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬০৭. হান্নাদ (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যতদিন ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ না বলবে ততদিন আমি লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আদিষ্ট হয়েছি। যখন তারা এ কথার স্বীকৃতি দিবে আমার থেকে তাদের রক্ত (জান) ও সম্পদ নিরাপদ হয়ে যাবে। তবে শরীয়ত সম্মত কারণ থাকলে ভিন্ন কথা। আর তাদের হিসাব তো আল্লাহর কাছে। - ইবনে মাজাহ, বুখারি ও মুসলিম

এ বিষয়ে জাবির, আবু সাঈদ ও ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ।
2607

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاسْتُخْلِفَ أَبُو بَكْرٍ بَعْدَهُ كَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَبِ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لأَبِي بَكْرٍ كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَمَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلاَّ بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَاللَّهِ لأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الزَّكَاةِ وَالصَّلاَةِ فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عِقَالاً كَانُوا يُؤَدُّونَهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهِ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ رَأَيْتُ أَنَّ اللَّهَ قَدْ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ لِلْقِتَالِ فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَهَكَذَا رَوَى شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . وَرَوَى عِمْرَانُ الْقَطَّانُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِي بَكْرٍ وَهُوَ حَدِيثٌ خَطَأٌ وَقَدْ خُولِفَ عِمْرَانُ فِي رِوَايَتِهِ عَنْ مَعْمَرٍ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬০৮. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর যখন ইনতিকাল হল আর তাঁর পর আবু বকর (রাযিঃ)কে যখন খলিফা নির্বাচিত করা হল তখন আরবের কিছু লোক কাফির হয়ে গেল। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) আবু বকর (রাযিঃ)-কে বললেনঃ আপনি লোকদের বিরূদ্ধে* কিরূপে যুদ্ধ করবেন, অথচ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এ কথা স্বীকার না করা পর্যন্ত লোকদের বিরূদ্ধে লড়াই করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি। যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ এ কথা স্বীকার করল, সে আমার থেকে তার জান ও মালের নিরাপত্তা পেল। তবে শরীয়ত সম্মত কারণ থাকলে ভিন্ন কথা। তার হিসাব তো আল্লাহর কাছে।

আবু বকর (রাযিঃ) বললেনঃ আল্লাহর কসম, আমি সেই ব্যক্তির বিরূদ্ধে অবশ্যই লড়াই করব, যে নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে। কেননা, যাকাত হল মালের হক। আল্লাহর কসম, যদি তারা আমার কাছে একটি উটের রশি দিতেও অস্বীকার করে যা তারা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে (যাকাত হিসাবে) দিত তবুও এই অস্বীকৃতির দরুন আমি অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেনঃ আল্লাহর কসম, আমি তো দেখছি আল্লাহ্ তাআলা আবু বকর (রাযিঃ) এর বক্ষকে যুদ্ধের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছেন। সুতরাং আমিও উপলব্ধি করলাম যে, এ-ই হক। - আবু দাউদ, বুখারি ও মুসলিম

হাদীসটি হাসান-সহীহ। শুআয়ব ইবনে আবু হামযা (রাহঃ) এটিকে যুহরী-উবাইদুল্লাহ্ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে উৎবা-আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমরান কাত্তান (রাহঃ) হাদীসটি মা’মার-যুহরী-আনাস ইবনে মালিক-আবু বকর (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। মা’মার থেকে বর্ণিত রিওয়ায়াতের মধ্যে রাবী ইমরান (রাহঃ) এর ব্যাপারে বিরোধিতা রয়েছে।

* তখন আরবের কিছু সংখ্যক লোক মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল আর কিছু যাকাত দিতে অস্বীকার করেছিল। উমর (রাযিঃ) এর জিজ্ঞাসা ছিল যারা যাকাত দিতে অস্বীকার করে অথচ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলে তাদের বিরুদ্ধে কি জিহাদ করা যাবে?

আমি লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এ কথা স্বীকার করে এবং নামায কায়েম করে।

باب مَا جَاءَ فِي قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " أُمِرْتُ بِقِتَالِهِمْ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَيُقِيمُوا الصَّلاَةَ "

2608

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَعْقُوبَ الطَّالْقَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَأَنْ يَسْتَقْبِلُوا قِبْلَتَنَا وَيَأْكُلُوا ذَبِيحَتَنَا وَأَنْ يُصَلُّوا صَلاَتَنَا فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ حُرِّمَتْ عَلَيْنَا دِمَاؤُهُمْ وَأَمْوَالُهُمْ إِلاَّ بِحَقِّهَا لَهُمْ مَا لِلْمُسْلِمِينَ وَعَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُسْلِمِينَ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَقَدْ رَوَاهُ يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ عَنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ نَحْوَ هَذَا .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৬০৯. সাঈদ ইবনে ইয়াকুব তালাকানী (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, আমি লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই আর মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং তারা আমাদের কিবলার অনুসরণ করে, আমাদের যবেহকৃত জীবের গোশত আহার করে, আমাদের নামাযের ন্যায় নামায আদায় করে। যদি তারা তা করে তা হলে আমাদের জন্য তাদের রক্ত ও সম্পদ হারাম। তবে শরীয়ত সম্মত কারণ থাকলে ভিন্ন কথা। অন্যান্য মুসলিমদের যা প্রাপ্য তাদেরও তা-ই হবে প্রাপ্য। অন্য মুসলিমদের উপর যে দায়িত্ব বর্তায় তাদের উপরও তা-ই বর্তাবে।

- আবু দাউদ, বুখারি

এই বিষয়ে মুআয ইবনে জাবাল ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-হাসান-সহীহ এই সূত্রে গারীব। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব হুমায়দ (রাহঃ) সূত্রে আনাস (রাযিঃ) থেকে হাদীসটি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইসলাম পাঁচটি বুনিয়াদের উপর প্রতিষ্ঠিত।

باب مَا جَاءَ بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ

2609
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ سُعَيْرِ بْنِ الْخِمْسِ التَّمِيمِيِّ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامُ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ وَصَوْمُ رَمَضَانَ وَحَجُّ الْبَيْتِ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوُ هَذَا . وَسُعَيْرُ بْنُ الْخِمْسِ ثِقَةٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ .
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ الْجُمَحِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ الْمَخْزُومِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৬১০. ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ ইসলাম পাঁচটি বুনিয়াদের উপর প্রতিষ্ঠিত। এই কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল, নামায কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের রোযা পালন করা, বায়তুল্লাহর হজ্জ করা।

এই বিষয়ে জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) অনুরূপ বর্ণিত আছে। হাদীসবিদগণের কাছে সুআয়র ইবনে খিমস ছিকাহ বা নির্ভরযোগ্য রাবী বলে গণ্য। আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

(আবু ঈসা বলেন) এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) কর্তৃক নবী (ﷺ)-কে ঈমান ও ইসলামের পরিচয় প্রদান।

باب مَا جَاءَ فِي وَصْفِ جِبْرِيلَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الإِيمَانَ وَالإِسْلاَمَ

2610
حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ الْخُزَاعِيُّ، أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، عَنْ كَهْمَسِ بْنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمُرَ، قَالَ أَوَّلُ مَنْ تَكَلَّمَ فِي الْقَدَرِ مَعْبَدٌ الْجُهَنِيُّ قَالَ فَخَرَجْتُ أَنَا وَحُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيُّ حَتَّى أَتَيْنَا الْمَدِينَةَ فَقُلْنَا لَوْ لَقِينَا رَجُلاً مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلْنَاهُ عَمَّا أَحْدَثَ هَؤُلاَءِ الْقَوْمُ . قَالَ فَلَقِينَاهُ يَعْنِي عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ وَهُوَ خَارِجٌ مِنَ الْمَسْجِدِ قَالَ فَاكْتَنَفْتُهُ أَنَا وَصَاحِبِي قَالَ فَظَنَنْتُ أَنَّ صَاحِبِي سَيَكِلُ الْكَلاَمَ إِلَىَّ فَقُلْتُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِنَّ قَوْمًا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ وَيَتَقَفَّرُونَ الْعِلْمَ وَيَزْعُمُونَ أَنْ لاَ قَدَرَ وَأَنَّ الأَمْرَ أُنُفٌ قَالَ فَإِذَا لَقِيتَ أُولَئِكَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنِّي مِنْهُمْ بَرِيءٌ وَأَنَّهُمْ مِنِّي بُرَآءُ وَالَّذِي يَحْلِفُ بِهِ عَبْدُ اللَّهِ لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا قُبِلَ ذَلِكَ مِنْهُ حَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ . قَالَ ثُمَّ أَنْشَأَ يُحَدِّثُ فَقَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَ رَجُلٌ شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعَرِ لاَ يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ وَلاَ يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ حَتَّى أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَلْزَقَ رُكْبَتَهُ بِرُكْبَتِهِ ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ مَا الإِيمَانُ قَالَ " أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ " . قَالَ فَمَا الإِسْلاَمُ قَالَ " شَهَادَةُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَإِقَامُ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ وَحَجُّ الْبَيْتِ وَصَوْمُ رَمَضَانَ " . قَالَ فَمَا الإِحْسَانُ قَالَ " أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنَّكَ إِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ " . قَالَ فِي كُلِّ ذَلِكَ يَقُولُ لَهُ صَدَقْتَ . قَالَ فَتَعَجَّبْنَا مِنْهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ . قَالَ فَمَتَى السَّاعَةُ قَالَ " مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ " . قَالَ فَمَا أَمَارَتُهَا قَالَ أَنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّتَهَا وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ أَصْحَابَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ " . قَالَ عُمَرُ فَلَقِيَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ ذَلِكَ بِثَلاَثٍ فَقَالَ " يَا عُمَرُ هَلْ تَدْرِي مَنِ السَّائِلُ ذَاكَ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ مَعَالِمَ دِينِكُمْ " .
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ، عَنْ كَهْمَسٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ . وَفِي الْبَابِ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ قَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ نَحْوُ هَذَا عَنْ عُمَرَ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالصَّحِيحُ هُوَ ابْنُ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৬১১. আবু আম্মার হুসাইন ইবনে হুরায়ছ খুযাঈ (রাহঃ) ......... ইয়াহয়া ইবনে ইয়া’মুর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সর্বপ্রথম মা’বাদ জুহানী 'কাদর মতবাদ'’* সম্পর্কে কথা বলেন। ইয়াহয়া (রাহঃ) বলেনঃ একবার আমি এবং হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান হিমায়ারী (হজ্জ বা উমরার উদ্দেশ্যে) বের হলাম। শেষে আমরা মদীনায় আসলাম। আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলাম যে, যদি নবী (ﷺ) এর কোন সাহাবীর সাক্ষাত পেতাম তবে এসব লোক যে নতুন মতবাদ প্রকাশ করছে সে বিষয়ে তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করতাম। (সৌভাগ্যক্রমে) আমরা তাঁর অর্থাৎ আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) (রাযিঃ)-এর সাক্ষাত পেলাম। তিনি তখন মসজিদে নববী থেকে বের হচ্ছিলেন। আমি এবং আমার সঙ্গী গিয়ে তাঁর পাশে পাশে চললাম। (আমার ধারণা হয় যে, আমার সঙ্গী কথা বলার ভার আমার উপরই ন্যস্ত করবেন। তাই) আমি আরম্ভ করলামঃ হে আবু আব্দুর রহমান! (আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) এর উপনাম) একদল লোক এমন আছে যারা কুরআন পাঠ করে, ইলম র্চচা করে বটে কিন্তু তারা মনে করে তাকদীর বলতে কিছুই নেই। সবকিছু তাৎক্ষণিক ভাবে ঘটে।

তিনি বললেনঃ এদের সঙ্গে তোমার যখন সাক্ষাত হবে তখন বলে দিবে যে, তাদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই এবং তারাও আমার সঙ্গে সম্পর্কহীন। যে সত্তার নামে আব্দুল্লাহ্ কসম করে সেই সত্তার (আল্লাহ্ তাআলা) কসম তাদের কেউ যদি উহূদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও আল্লাহর পথে ব্যয় করে তবুও তাকদীরের ভাল-মন্দ আল্লাহর থেকেই হয় এই কথার উপর ঈমান না আনা পর্যন্ত তার কিছুই কবুল করা হবে না।

ইয়াহয়া বলেনঃ এরপর তিনি হাদীস বর্ণনা করতে শুরু করলেন। বললেনঃ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেছেন, আমরা একদিন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট হাযির হলাম। এমন হয় এক লোক এসে হাযির হল, তাঁর কাপড় ছিল সাদা ধবধবে আর চুল ছিল কাল কুচকুচে। তার মধ্যে সফরের কোন চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছিল না। কিন্তু আমাদের কেউই তাঁকে চিনতে পারছিল না। তিনি নবী (ﷺ) এর কাছে এলেন এবং নিজের দুই হাঁটু নবী (ﷺ) এর দুই হাঁটুর সঙ্গে লাগিয়ে বসে পড়লেন। তারপর বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! ঈমান কি?

নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি আল্লাহর উপর, তাঁর ফিরিশতা, কিতাব, রাসূলগণ এবং শেষ দিন ও তাকদীরের ভাল-মন্দ তাঁর পক্ষ থেকে ই হয় সেই কথার উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে।

লোকটি বললেনঃ ইসলাম কি?

তিনি বললেনঃ এই কথার সাক্ষ্য প্রদান যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল, নামায কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, বায়তুল্লাহর হজ্জ করা, রমযানের রোযা পালন করা।

লোকটি বললেনঃ ইহসান কি?

তিনি বললেনঃ এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে প্রত্যক্ষ করছ। যদি তুমি তাঁকে না-ও দেখ তবে তিনি তো তোমাকে দেখছেন।

উমর (রাযিঃ) বলেনঃ এই লোকটি প্রতিটি বিষয়েই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলছিল, ’আপনি ঠিক বলেছেন’। লোকটির এই আচরণে আমরা বিস্মিত বোধ করছিলাম যে, তিনিই প্রশ্ন করছেন আবার তিনিই তা সত্যায়িত করছেন!

লোকটি বললেনঃ কিয়ামত কবে হবে?

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এই বিষয়ে প্রশ্নকর্তা অপেক্ষা জিজ্ঞাসিত জন অধিক অবহিত নন।

লোকটি বললেনঃ এর আলামত কি?

তিনি বললেনঃ তা হল, দাসী তার প্রভুর জননী হবে। আর খালি পা, খালি দেহ, দরিদ্র মেষ পালকদেরকে বিরাট বিরাট অট্রালিকার প্রতিযোগিতায় গর্বিত দেখতে পাবে।

উমর (রাযিঃ) বলেন, এর তিন দিন পর নবী (ﷺ) এর সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়। তখন তিনি বললেনঃ হে উমর! তুমি কি জান এই প্রশ্নকারী কে? তিনি জিবরাঈল। তিনি তোমাদের দ্বীনী বিষয়ে শিক্ষা দিতে এসেছিলেন। -ইবনে মাজাহ, মুসলিম

আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) কাহমাস ইবনে হাসান (রাহঃ) থেকে এই সনদে ই উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) কাহমাস (রাহঃ) থেকে এই সনদে উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ্, আনাস ইবনে মালিক ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।

হাদীসটি সহীহ-হাসান। একাধিক সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি ইবনে উমর ......... নবী (ﷺ) সূত্রেও বর্ণিত আছে। ইবনে উমর ......... উমর ......... নবী (ﷺ) সনদটিই হল সহীহ।

* তাকদীর অস্বীকার করা বিষয়ক মতবাদ।

ঈমানের সঙ্গে ফরয কাজসমূহকে সম্পর্কিত করা।

باب مَا جَاءَ فِي إِضَافَةِ الْفَرَائِضِ إِلَى الإِيمَانِ

2611
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ الْمُهَلَّبِيُّ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَدِمَ وَفْدُ عَبْدِ الْقَيْسِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا إِنَّا هَذَا الْحَىَّ مِنْ رَبِيعَةَ وَلَسْنَا نَصِلُ إِلَيْكَ إِلاَّ فِي أَشْهُرِ الْحَرَامِ فَمُرْنَا بِشَيْءٍ نَأْخُذُهُ عَنْكَ وَنَدْعُو إِلَيْهِ مَنْ وَرَاءَنَا . فَقَالَ " آمُرُكُمْ بِأَرْبَعٍ الإِيمَانِ بِاللَّهِ ثُمَّ فَسَّرَهَا لَهُمْ شَهَادَةَ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامَ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءَ الزَّكَاةِ وَأَنْ تُؤَدُّوا خُمْسَ مَا غَنِمْتُمْ " .
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَأَبُو جَمْرَةَ الضُّبَعِيُّ اسْمُهُ نَصْرُ بْنُ عِمْرَانَ . وَقَدْ رَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ أَبِي جَمْرَةَ أَيْضًا وَزَادَ فِيهِ أَتَدْرُونَ مَا الإِيمَانُ شَهَادَةُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ وَذَكَرَ الْحَدِيثَ . سَمِعْتُ قُتَيْبَةَ بْنَ سَعِيدٍ يَقُولُ مَا رَأَيْتُ مِثْلَ هَؤُلاَءِ الأَشْرَافِ الأَرْبَعَةِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَاللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ وَعَبَّادِ بْنِ عَبَّادٍ الْمُهَلَّبِيِّ وَعَبْدِ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيِّ . قَالَ قُتَيْبَةُ كُنَّا نَرْضَى أَنْ نَرْجِعَ مِنْ عِنْدِ عَبَّادٍ كُلَّ يَوْمٍ بِحَدِيثَيْنِ وَعَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ هُوَ مِنْ وَلَدِ الْمُهَلَّبِ بْنِ أَبِي صُفْرَةَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৬১২. কুতায়বা (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল কায়স গোত্রের এক প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে এলো। তারা বললঃ আমরা রাবীআ গোত্রের লোক। শাহরুল হারাম* ছাড়া আমরা আপনার কাছে আসতে পারি না। সুতরাং আমাদেরকে এমন কাজের আদেশ দিন যা আমরা নিজেরাও ধারণ করতে পারি এবং যারা আমাদেরকেও সেগুলোর দাওয়াত দিতে পারি।

তিনি বললেনঃ তোমাদের চারটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি। এরপর তিনি এর বিবরণ দিয়ে বললেনঃ এই কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই আর আমি আল্লাহর রাসূর, নামায কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, আর তোমরা গণিমত হিসাবে যা লাভ কর এর পাঁচ ভাগের এক ভাগ প্রদান করবে। - মুসলিম

কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবু জামরা আয-যুবাঈ (রাহঃ) এর নাম হল নসর ইবনে ইমরান। শু’বা (রাহঃ)-ও আবু জামরা (রাহঃ) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এতে আরো, তোমরা কি জান, ঈমান কি? এই কথার সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই আর আমি আল্লাহর রাসূল। এরপর তিনি পুরো হাদীসটির উল্লেখ করেন।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেন, আমি কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, এই চার জন উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ফকীহের মত কাউকে আমি দেখিনি- মালিক ইবনে আনাস, লায়ছ ইবনে সা’দ, আব্বাদ মুহাল্লাবী এবং আব্দুল ওয়াহহাব ছাকাফী (রাহঃ)। কুতায়বা (রাহঃ) আরো বলেন, আমরা এতে সন্তুষ্ট যে, আব্বাদ ইবনে আব্বাদ (রাহঃ) এর নিকট থেকে প্রতিদিন দু’টো হাদীস সংগ্রহ করে ফিরে আসব। আব্বাস ইবনে আব্বাদ (রাহঃ) হলেন মুহাল্লাব ইবনে আবু সুফরা-এর বংশের একজন।

* আশ-শাহরুল হারাম-সম্মানিত নিষিদ্ধ মাসসমূহ যুলকাদ, যুলহাজ্জ, মুহররম, রজব এই চারটি মাসে রক্তপাত ও যুদ্ধ নিষিদ্ধ কাল। জাহিলী যুগের কাফিররাও তা মেনে চলত।

ঈমানের পরিপূর্ণতা এবং এর হ্রাস-বৃদ্ধি।

باب مَا جَاءَ فِي اسْتِكْمَالِ الإِيمَانِ وَزِيَادَتِهِ وَنُقْصَانِهِ

2612

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ مِنْ أَكْمَلِ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا وَأَلْطَفُهُمْ بِأَهْلِهِ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَلاَ نَعْرِفُ لأَبِي قِلاَبَةَ سَمَاعًا مِنْ عَائِشَةَ . وَقَدْ رَوَى أَبُو قِلاَبَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ رَضِيعٌ لِعَائِشَةَ عَنْ عَائِشَةَ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ وَأَبُو قِلاَبَةَ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ الْجَرْمِيُّ . حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ قَالَ ذَكَرَ أَيُّوبُ السَّخْتِيَانِيُّ أَبَا قِلاَبَةَ فَقَالَ كَانَ وَاللَّهِ مِنَ الْفُقَهَاءِ ذَوِي الأَلْبَابِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৬১৩. আহমদ ইবনে মানী’ আল-বাগদাদী (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ ঈমানের দিক থেকে পরিপূর্ণ মু’মিন ব্যক্তি হল সে ব্যক্তি যার আখলাক ও চরিত্র সুন্দর এবং যে ব্যক্তি স্বীয় পরিবারের প্রতি অধিক দয়ার্দ্র।

এই বিষয়ে আবু হুরায়রা ও আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান। আবু কিলাবা (রাহঃ) আয়িশা (রাযিঃ) থেকে সরাসরি হাদীস শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই। আবু কিলাবা (রাহঃ) আয়িশা (রাযিঃ) এর দুধ ভাই আব্দুল্লাহ্ ইবনে ইয়াযীদ-এর বরাতে আয়িশা (রাযিঃ) থেকে অন্যান্য হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। আবু কিলাবা (রাহঃ) এর নাম হল আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়দ আল-জারমী (রাহঃ)।

ইবনে আবু উমর (রাহঃ) বর্ণনা করেন যে, সুফিয়ান ইবনে উওয়ায়না (রাহঃ) বলেন, আইয়ুব আস-সিখতিয়ানী (রাহঃ) আবু কিলাবা (রাহঃ) এর আলোচনার প্রসঙ্গে বলেছেন। আল্লাহর কসম, তিনি ছিলেন, প্রজ্ঞাবান ফকীহগণের একজন।
2613

حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، هُرَيْمُ بْنُ مِسْعَرٍ الأَزْدِيُّ التِّرْمِذِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ النَّاسَ فَوَعَظَهُمْ ثُمَّ قَالَ " يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ فَإِنَّكُنَّ أَكْثَرُ أَهْلِ النَّارِ " . فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ وَلِمَ ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " لِكَثْرَةِ لَعْنِكُنَّ " . يَعْنِي وَكُفْرَكُنَّ الْعَشِيرَ . قَالَ " وَمَا رَأَيْتُ مِنْ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينٍ أَغْلَبَ لِذَوِي الأَلْبَابِ وَذَوِي الرَّأْىِ مِنْكُنَّ " . قَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ وَمَا نُقْصَانُ دِينِهَا وَعَقْلِهَا قَالَ " شَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ مِنْكُنَّ بِشَهَادَةِ رَجُلٍ وَنُقْصَانُ دِينِكُنَّ الْحَيْضَةُ تَمْكُثُ إِحْدَاكُنَّ الثَّلاَثَ وَالأَرْبَعَ لاَ تُصَلِّي " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ حَسَنٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬১৪. আবু আব্দুল্লাহ্ হুরায়ম ইবনে মিসআর আযদী তিরমিযী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জনসমক্ষে ভাষণ দিলেন এবং নসীহত করলেনঃ হে নারী সম্প্রদায়! তোমরা সাদ্‌কা কর। কেননা, জাহান্নামের অধিকাংশ বাসিন্দা হলে তোমরা। তখন তাদের মধ্য থেকে জনৈক মহিলা বললেনঃ তা কেন? হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ তোমাদের মাঝে অভিসম্পাতের আধিক্যহেতু, অর্থাৎ তোমাদের জীবন সঙ্গীর অনুগ্রহ অঙ্গীকার করার দরুন।

তিনি আরো বললেনঃ মেধা ও দ্বীনের দিক থেকে কম হওয়া সত্ত্বেও প্রজ্ঞাবান এবং বিবেচনার অধিকারীদের উপর প্রবল হতে তোমাদের চেয়ে বেশী পারং্গম আর কাউকে আমি দেখিনি। জনৈক মহিলা বললেনঃ তাদের মেধা ও দ্বীনের ঘাটতি কি? তিনি বললেনঃ তোমাদের দুই জন মহিলার সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাখ্যের সমান। আর তোমাদের দ্বীনের ঘাটতি হল হায়য। সে অবস্থায় তোমাদের একজন তিন দিন-চার দিন অতিবাহিত করে অথচ সে কোন নামায আদায় করতে পারে না। - মুসলিম

এই বিষয়ে আবু সাঈদ ও ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।

হাদীসটি হাসান-সহীহ।
2614
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ بَابًا فَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ وَأَرْفَعُهَا قَوْلُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَهَكَذَا رَوَى سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ .
وَرَوَى عُمَارَةُ بْنُ غَزِيَّةَ، هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الإِيمَانُ أَرْبَعَةٌ وَسِتُّونَ بَابًا " . قَالَ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬১৫. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ঈমানের দরজা হল সত্তর এবং আরো কিছু। এর সর্বনিম্ন দরজা হল পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্ত দূর করা আর সর্বোচ্চ হল 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ স্বীকার করা।

হাদীসটি হাসান-সহীহ। সুহাঈল ইবনে আবু সালিহ (রাহঃ) এটিকে আব্দুল্লাহ্ ইবনে দীনার-আবু সালিহ-আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে এরূপ বর্ণনা করেছেন। উমরা ইবনে গাযীয়্যা (রাহঃ) হাদীসটি আবু সালিহ-আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। নবী (ﷺ) বলেনঃ ঈমানের হল চৌষট্টিটি দরজা। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

লজ্জা হল ঈমানের অঙ্গ।

باب مَا جَاءَ أَنَّ الْحَيَاءَ مِنَ الإِيمَانِ

2615

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، - الْمَعْنَى وَاحِدٌ قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِرَجُلٍ وَهُوَ يَعِظُ أَخَاهُ فِي الْحَيَاءِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْحَيَاءُ مِنَ الإِيمَانِ " . قَالَ أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ فِي حَدِيثِهِ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ رَجُلاً يَعِظُ أَخَاهُ فِي الْحَيَاءِ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي بَكْرَةَ وَأَبِي أُمَامَةَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৬১৬. ইবনে আবু উমর ও আহমদ ইবনে মানী (রাহঃ) ..... সালিম তৎপিতা ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জনৈক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে ব্যক্তি তার এক ভাইকে লজ্জা সম্পর্কে নসীহত করছিল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ লজ্জা ঈমানের অঙ্গ।

ইবনে মাজাহ, বুখারি ও মুসলিম

আহমদ ইবনে মানী’ (রাহঃ) এর বর্ণনায় আছে যে, নবী (ﷺ) জনৈক ব্যক্তিকে তার ভাইকে লজ্জা সম্পর্কে নসীহত করতে শুনতে পেলেন। হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।

নামাযের মর্যাদা

باب مَا جَاءَ فِي حُرْمَةِ الصَّلاَةِ

2616

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الصَّنْعَانِيُّ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَأَصْبَحْتُ يَوْمًا قَرِيبًا مِنْهُ وَنَحْنُ نَسِيرُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي بِعَمَلٍ يُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ وَيُبَاعِدُنِي مِنَ النَّارِ . قَالَ " لَقَدْ سَأَلْتَنِي عَنْ عَظِيمٍ وَإِنَّهُ لَيَسِيرٌ عَلَى مَنْ يَسَّرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ تَعْبُدُ اللَّهَ وَلاَ تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمُ الصَّلاَةَ وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ وَتَصُومُ رَمَضَانَ وَتَحُجُّ الْبَيْتَ " . ثُمَّ قَالَ " أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى أَبْوَابِ الْخَيْرِ الصَّوْمُ جُنَّةٌ وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ وَصَلاَةُ الرَّجُلِ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ " . قَالَ ثُمَّ تَلاََ: ( تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ ) حَتَّى بَلَغَ: (يَعْمَلُونَ) ثُمَّ قَالَ " أَلاَ أُخْبِرُكَ بِرَأْسِ الأَمْرِ كُلِّهِ وَعَمُودِهِ وَذِرْوَةِ سَنَامِهِ " . قُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " رَأْسُ الأَمْرِ الإِسْلاَمُ وَعَمُودُهُ الصَّلاَةُ وَذِرْوَةُ سَنَامِهِ الْجِهَادُ " . ثُمَّ قَالَ " أَلاَ أُخْبِرُكَ بِمَلاَكِ ذَلِكَ كُلِّهِ " . قُلْتُ بَلَى يَا نَبِيَّ اللَّهِ قَالَ فَأَخَذَ بِلِسَانِهِ قَالَ " كُفَّ عَلَيْكَ هَذَا " . فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَإِنَّا لَمُؤَاخَذُونَ بِمَا نَتَكَلَّمُ بِهِ فَقَالَ " ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ يَا مُعَاذُ وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ أَوْ عَلَى مَنَاخِرِهِمْ إِلاَّ حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

২৬১৭. ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ...... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি একবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। একদিন চলার সময় আমি তাঁর নিকটবর্তী হয়ে গেলাম। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল সম্পর্কে অবহিত করুন যা আমাকে জান্নাতে দাখিল করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দিবে।

তিনি বললেনঃ তুমি তো বিরাট একটা বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করলে। তবে আল্লাহ্ তাআলা যার জন্য তা সহজ করে দেন তার জন্য বিষয়টি অবশ্য সহজ। আল্লাহর ইবাদত করবে, তার সঙ্গে কোন কিছু শরীক করবে না। নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমযানের রোযা পালন করবে, বায়তুল্লাহর হজ্জ করবে।

এরপর তিনি বললেনঃ সব কল্যাণের দ্বার সম্পর্কে কি আমি তোমাকে দিক-নির্দেশনা দিব? রোযা হল ঢালস্বরূপ, পানি যেমন আগুন নিভিয়ে দেয় তেমনি সাদ্‌কা ও গুনাহসমূহকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়, আর হল মধ্য রাতের নামায।

এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেনঃ তারা (মু’মিনরা গভীর রাতে) শয্যা ত্যাগ করে তাদের পরওয়ারদিগারকে ডাকে আশায় ও আশঙ্কায় এবং আমি তাদের যে রিযক দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। কেউই জানে না তাদের জন্য নয়ন সুখকর কী লূকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ। (সাজদা ৩২ঃ ১৬-১৭)

তারপর বললেনঃ তোমাকে এই সব কিছুর মাথা ও বুনিয়াদ এবং সর্বোচ্চ শীর্ষদেশ স্বরূপ আমল সম্পর্কে অবহিত করব কি?

এরপর বললেনঃ অবশ্যই, ইয়া রাসূলাল্লাহ্!

তিনি বললেনঃ সব কিছুর মাথা হল ইসলাম, বুনিয়াদ হল নামায আর সর্বোচ্চ শীর্ষ হল জিহাদ।

এরপর বললেনঃ এ সব কিছুর মূল পুঁজি সম্পর্কে তোমাকে অবহিত করব কি?

আমি বললামঃ অবশ্যই, ইয়া রাসূলাল্লাহ্!

তিনি তাঁর জিহ্বা ধরে বললেনঃ এটিকে সংযত রাখ।

আমি বললামঃ হে আল্লাহর নবী, আমরা যে কথাবর্তা বলি সেই কারণেও কি আমাদের পাকড়াও করা হবে?

তিনি বললেনঃ তোমাদের মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক,* হে মু’আয! লোকদের অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ্ত হওয়ার জন্য এই যবানের কামাই ছাড়া আর কি কিছু আছে নাকি?

- ইবনে মাজাহ

(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।

* একটি বাক রীতি। কোন কথার গুরুত্ব বুঝাতে এবং শ্রোতার মনোযোগ আকর্ষণার্থে এই বাক-ভঙ্গিমা ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
2617

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ دَرَّاجٍ أَبِي السَّمْحِ، عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّجُلَ يَتَعَاهَدُ الْمَسْجِدَ فَاشْهَدُوا لَهُ بِالإِيمَانِ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ: (إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلاَةَ وَآتَى الزَّكَاةَ) " . الآيَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ حَسَنٌ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৬১৮. ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ...... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কাউকে যদি মসজিদের প্রতি মনোযোগী ও অধিক আসা যাওয়া করতে দেখতে পাও তবে তার ঈমানের সাক্ষ্য দিতে পার। কেননা আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেনঃ

إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلاَةَ وَآتَى الزَّكَاةَ

তারাই তো আল্লাহর মসজিদসমূহের আবাদ ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে যারা আল্লাহ্ ও আখিরাত দিবসে ঈমান আনে এবং নামায কায়েম করে। যাকাত দেয়... (তওবা ৯ঃ১৮)

হাদীসটি হাসান-গারিব।

নামায পরিত্যাগ করা।

باب مَا جَاءَ فِي تَرْكِ الصَّلاَةِ

2618

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بَيْنَ الْكُفْرِ وَالإِيمَانِ تَرْكُ الصَّلاَةِ " .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৬১৯. কুতায়বা (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ঈমান ও কুফরের ব্যবধান হল নামায পরিত্যাগ করা। - ইবনে মাজাহ, মুসলিম

2619

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ وَقَالَ " بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ أَوِ الْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلاَةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَأَبُو سُفْيَانَ اسْمُهُ طَلْحَةُ بْنُ نَافِعٍ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৬২০. হান্নাদ (রাহঃ) ..... আ’মাশ (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ বান্দা ও শিরক বা কুফরের মাঝে ব্যবধান হল নামায পরিত্যাগ করা।

এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবু সুফিয়ান (রাহঃ) এর নাম হল তালহা ইবনে নাফি‘।
2620

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَيْنَ الْعَبْدِ وَبَيْنَ الْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلاَةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَأَبُو الزُّبَيْرِ اسْمُهُ مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمِ بْنِ تَدْرُسَ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৬২১. হান্নাদ (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ বান্দা ও কুফরের মাঝে ব্যবধান হল নামায পরিত্যাগ করা। - মুসলিম

হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবু যুবাইর (রাহঃ) এর নাম হল মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম ইবনে তাদরুস।
2621

حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، وَيُوسُفُ بْنُ عِيسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ أَبِيهِ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلاَةُ فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .

Narrator: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

২৬২২. আবু আম্মার হুসাইন ইবনে হুরায়স ও ইউসুফ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ......... হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ (রাহঃ) থেকে (অনুরূপ) বর্ণিত আছে। আবু আম্মার ও মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) আলী ইবনে হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ ......... তৎপিতা হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ (রাহঃ) সূত্রে বর্ণিত আছে।

মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে হাসান শাকীকী ও মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) আব্দুল্লাহ্ ইবনে বুরায়দা তৎপিতা বুরায়দা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ (মুনাফিকদের জান-মাল রক্ষার জন্য) তাদের ও আমাদের মাঝে চুক্তির শর্ত হল নামায। যে ব্যক্তি নামায পরিত্যাগ করল সে কুফরী করল।

- ইবনে মাজাহ

এই বিষয়ে আনাস ও ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।
2622

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ الْعُقَيْلِيِّ، قَالَ كَانَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم لاَ يَرَوْنَ شَيْئًا مِنَ الأَعْمَالِ تَرْكُهُ كُفْرٌ غَيْرَ الصَّلاَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى سَمِعْتُ أَبَا مُصْعَبٍ الْمَدَنِيَّ يَقُولُ مَنْ قَالَ الإِيمَانُ قَوْلٌ يُسْتَتَابُ فَإِنْ تَابَ وَإِلاَّ ضُرِبَتْ عُنُقُهُ .

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক (রহঃ)

২৬২৩. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে শাকীক উকায়লী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (ﷺ) এর সাহাবীগণ নামায ছাড়া অন্য কোন আমল পরিত্যাগ করা কুফরী বলে মনে করতেন না।

শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ।

باب

2623

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " ذَاقَ طَعْمَ الإِيمَانِ مَنْ رَضِيَ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ)

২৬২৪. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসাবে, মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে নবী হিসাবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিল সে ঈমানের স্বাদ পেল। - মুসলিম

(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান সহীহ।
2624

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " ثَلاَثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ بِهِنَّ طَعْمَ الإِيمَانِ مَنْ كَانَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا وَأَنْ يُحِبَّ الْمَرْءَ لاَ يُحِبُّهُ إِلاَّ لِلَّهِ وَأَنْ يَكْرَهَ أَنْ يَعُودَ فِي الْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنْقَذَهُ اللَّهُ مِنْهُ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النَّارِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رَوَاهُ قَتَادَةُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৬২৫. ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ তিনটি গুণ যার মধ্যে বিদ্যমান সে ঈমানের স্বাদ পায়। যার কাছে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল অন্য সব কিছু থেকে অধিক প্রিয়, যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই একজনকে ভালবাসে এবং সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ্ তাআলা কুফর থেকে মুক্তি দেওয়ার পর সেই দিকে ফিরে যাওয়াকে তেমনিভাবে ঘৃণা করে যেমনিভাবে আগুনে নিক্ষেপ্ত হওয়াকে সে ঘৃণা করে। - ইবনে মাজাহ, বুখারি ও মুসলিম

হাদীসটি হাসান-সহীহ। কাতাদা (রাহঃ) এটি আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

ব্যভিচারী ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত থাকা অবস্থায় মু’মিন থাকে না।

باب مَا جَاءَ لاَ يَزْنِي الزَّانِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ

2625

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلاَ يَسْرِقُ السَّارِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَكِنِ التَّوْبَةُ مَعْرُوضَةٌ " . وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَعَائِشَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . - وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا زَنَى الْعَبْدُ خَرَجَ مِنْهُ الإِيمَانُ فَكَانَ فَوْقَ رَأْسِهِ كَالظُّلَّةِ فَإِذَا خَرَجَ مِنْ ذَلِكَ الْعَمَلِ عَادَ إِلَيْهِ الإِيمَانُ " . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ أَنَّهُ قَالَ فِي هَذَا خَرَجَ مِنَ الإِيمَانِ إِلَى الإِسْلاَمِ . وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ فِي الزِّنَا وَالسَّرِقَةِ " مَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَأُقِيمَ عَلَيْهِ الْحَدُّ فَهُوَ كَفَّارَةُ ذَنْبِهِ وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَسَتَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَهُوَ إِلَى اللَّهِ إِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَإِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُ " . رَوَى ذَلِكَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَعُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ وَخُزَيْمَةُ بْنُ ثَابِتٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬২৬. আহমদ ইবনে মানী‘ (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ ব্যভিচারী ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত থাকা অবস্থায় মু’মিন থাকে না। চোর চুরি করা অবস্থায় মু‘মিন থাকে না, তবে তখনও তওবার অবকাশ থাকে। - ইবনে মাজাহ, বুখারি ও মুসলিম।

এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস, আয়িশা এবং আব্দুল্লাহ্ ইবনে আবু আওফা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ কোন বান্দা যখন যিনা করে তখন তার ভিতর থেকে ঈমান বের হয়ে যায় এবং যেন ছায়ার মত তার মাথার উপর অবস্থান করে। এই দুষ্কর্ম থেকে যখন সেই ব্যক্তি সরে আসে তখন পুনর্বার ঈমান তার কাছে ফিরে আসে।

আবু জা’ফর মুহাম্মাদ ইবনে আলী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ এই সব ক্ষেত্রে ঈমানের স্তর থেকে বেরিয়ে ইসলামের স্তরে সে চলে আসে।

একাধিক সূত্রে যিনা ও চুরি প্রসঙ্গে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে যে, কেউ যদি এই সব পাপ কর্মে লিপ্ত হয় এবং তার উপর হদ প্রতিষ্ঠা করা হয়ে গিয়ে থাকে তবে তা-ই এই ব্যক্তির গুনাহের জন্য কাফফারা বলে গণ্য হবে। আর কেউ যদি এই সব গুনাহে আপতিত হয় আর আল্লাহ তাআলা তা গোপন রাখেন তবে তা আল্লাহর উপরই ন্যস্ত। ইচ্ছা করলে কিয়ামতের দিন তাকে আযাবও দিতে পারেন আর ইচ্ছা করলে মাফও করে দিতে পারেন।

- বুখারি ও মুসলিম

আলী ইবনে আবু তালিব, উবাদা ইবনে সামিত ও খুযায়মা ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে উক্ত মর্মের হাদীস বর্ণিত আছে।
2626

حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ أَبِي السَّفَرِ، - وَاسْمُهُ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَمْدَانِيُّ الْكُوفِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ أَصَابَ حَدًّا فَعُجِّلَ عُقُوبَتُهُ فِي الدُّنْيَا فَاللَّهُ أَعْدَلُ مِنْ أَنْ يُثَنِّيَ عَلَى عَبْدِهِ الْعُقُوبَةَ فِي الآخِرَةِ وَمَنْ أَصَابَ حَدًّا فَسَتَرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَفَا عَنْهُ فَاللَّهُ أَكْرَمُ مِنْ أَنْ يَعُودَ فِي شَيْءٍ قَدْ عَفَا عَنْهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ . وَهَذَا قَوْلُ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ نَعْلَمُ أَحَدًا كَفَّرَ أَحَدًا بِالزِّنَا أَوِ السَّرِقَةِ وَشُرْبِ الْخَمْرِ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৬২৭. আবু উবাইদা ইবনে আবু আবু সাফার (রাহঃ) ...... আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কেউ যদি (হদ প্রয়োগ হওয়ার মত) গুনাহে লিপ্ত হয় এবং দুনিয়াতেই তার শাস্তি হয়ে যায় তবে আখিরাতে দ্বিতীয়বার তাঁর এই বান্দাকে শাস্তি প্রদানের বিষয়ে আল্লাহ্ তাআলা তো বেশী ন্যায়নিষ্ঠ। (সুতরাং তিনি তাকে পুনর্বার শাস্তি দিবেন না।) আর কেউ যদি হদ প্রয়োগের শাস্তিযোগ্য গুনাহে লিপ্ত হয় আর আল্লাহ্ তাআলা তার বিষয়টি গোপন করে রাখেন এবং তাকে মাফ করে দেন। তবে মাফ করে দেওয়ার পর পুনরায় সেই বিষয়ে শাস্তি প্রদানের বিষয়ে আল্লাহ্ তাআলা তো আরো অধিক দয়াবান। (সুতরাং তাঁর ক্ষমা পরায়ণতার জন্য তিনি তাকে শাস্তি দিবেন না)। - ইবনে মাজাহ

হাদীসটি হাসান-গারীব। আলিমগণের অভিমতও এ-ই। যিনা, চুরি ও মদ্যপানের কারণে কাউকে কেউ কাফির ফতওয়া দিয়েছেন বলে আমরা জানি না।

প্রকৃত মুসলিম হল সেই ব্যক্তি যার যবান ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ।

باب مَا جَاءَ فِي أَنَّ الْمُسْلِمَ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ

2627
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالْمُؤْمِنُ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَى دِمَائِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
وَيُرْوَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ سُئِلَ أَىُّ الْمُسْلِمِينَ أَفْضَلُ قَالَ " مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ."
وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَأَبِي مُوسَى وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬২৮. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ (প্রকৃত) মুসলিম হল সেই ব্যক্তি যার যবান ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে। আর (প্রকৃত) মু’মিন হল সেই ব্যক্তি লোকেরা তাদের জান ও মালের বিষয়ে যে ব্যক্তির উপর আস্থা রাখতে পারে।

নবী (ﷺ) থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মুসলিমদের মধ্যে সর্বোত্তম কে? তিনি বললেনঃ যার যবান ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে।
2628

حَدَّثَنَا بِذَلِكَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ بُرَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ جَدِّهِ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ أَىُّ الْمُسْلِمِينَ أَفْضَلُ قَالَ " مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

২৬২৯. ইবরাহীম ইবনে সাঈদ জাওহারী (রাহঃ) ..... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, মুসলিমদের মধ্যে উত্তম কে? তিনি বললেনঃ যার যবান ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ। - বুখারি ও মুসলিম

আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত রিওয়ায়াত হিসাবে হাদীসটি সহীহ, গারীব। এই বিষয়ে জাবির, আবু মুসা এবং আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।

শুরুতে ইসলাম ছিল অপরিচিত, অচিরেই তা পুনরায় অপরিচিতের মত হয়ে যাবে।

باب مَا جَاءَ أَنَّ الإِسْلاَمَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ غَرِيبًا

2629

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الإِسْلاَمَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ غَرِيبًا كَمَا بَدَأَ فَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ سَعْدٍ وَابْنِ عُمَرَ وَجَابِرٍ وَأَنَسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ مَسْعُودٍ إِنَّمَا نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ عَنِ الأَعْمَشِ وَأَبُو الأَحْوَصِ اسْمُهُ عَوْفُ بْنُ مَالِكِ بْنِ نَضْلَةَ الْجُشَمِيُّ تَفَرَّدَ بِهِ حَفْصٌ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৬৩০. আবুল আহওয়াস (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ ইসলামের শুরু হয়েছে অপরিচিত অবস্থায়। অচিরেই তা পুনরায় শুরু অবস্থার মত হয়ে যাবে অপরিচিত। সুতরাং এইরূপ অপরিচিত অবস্থায়ও যারা ইসলামের উপর কায়েম থাকে তাদের জন্য সুসংবাদ। - ইবনে মাজাহ, মুসলিম

এই বিষয়ে সা’দ ইবনে উমর, জাবির, আনাস ও আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে হাদীসটি হাসান সহীহ-গারীব। হাফস ইবনে গিয়াছ-আ’মাশ (রাহঃ) সূত্রে রিওয়ায়াত হিসাবেই কেবল এটিকে আমরা জানি। এই হাদীসটির রিওয়ায়াত ক্ষেত্রে হাফস একা - সহযোগীহীন। আবুল আহওয়াস (রাহঃ) এর নাম আওফ ইবনে মালিক ইবনে নাযলা জুশামী।
2630

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، حَدَّثَنِي كَثِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَوْفِ بْنِ زَيْدِ بْنِ مِلْحَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الدِّينَ لَيَأْرِزُ إِلَى الْحِجَازِ كَمَا تَأْرِزُ الْحَيَّةُ إِلَى جُحْرِهَا وَلَيَعْقِلَنَّ الدِّينُ مِنَ الْحِجَازِ مَعْقِلَ الأُرْوِيَّةِ مِنْ رَأْسِ الْجَبَلِ إِنَّ الدِّينَ بَدَأَ غَرِيبًا وَيَرْجِعُ غَرِيبًا فَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ الَّذِينَ يُصْلِحُونَ مَا أَفْسَدَ النَّاسُ مِنْ بَعْدِي مِنْ سُنَّتِي " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: আমর ইবনে আওফ (রাঃ)

২৬৩১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ...... কাছীর ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনে আওফ ইবনে কায়েস ইবনে মিলহা তৎপিতা আব্দুল্লাহ্ সূত্রে তৎপিতামহ আমর ইবনে আওফ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ সাপ যেমন সংকুচিত হয়ে আপন গর্তের দিকে প্রত্যাবর্তন করে তদ্রূপ দ্বীন ইসলামও একদিন সংকুচিত হয়ে হিজাযে ফিরে আসবে এবং পাহাড়ী বকরী যেমন পাহাড়ের চূড়ায় মজবুত আশ্রয় গ্রহণ করে তেমনি দ্বীনও হিজাযে তার মজবুত আশ্রয় নিবে। দ্বীন শুরুতে ছিল অপরিচিত। অচিরেই তা আবার অপরিচিত অবস্থায় ফিরে আসবে। সুতরাং সে অবস্থায় ইসলামে আঁকড়ে ধরে থাকা সেসব লোকদের জন্য সুসংবাদ যারা আমার পরে মানুষদের দ্বারা বিকৃত হওয়া আমার সুন্নতকে পুনরুজ্জীবিত করে।

(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান।

মুনাফিকের আলামত।

باب مَا جَاءَ فِي عَلاَمَةِ الْمُنَافِقِ

2631
حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ، عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلاَثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ الْعَلاَءِ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَأَنَسٍ وَجَابِرٍ .
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ وَأَبُو سُهَيْلٍ هُوَ عَمُّ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَاسْمُهُ نَافِعُ بْنُ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ الأَصْبَحِيُّ الْخَوْلاَنِيُّ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬৩২. আবু হাফস ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মুনাফিকের আলামত হল তিনটি; কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে, তার কছে আমানত রাখা হলে সে খিয়ানত করে। - বুখারি ও মুসলিম

আলা (রাহঃ) এর রিওয়ায়াত হিসাবে হাদীসটি হাসান-গারীব। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে একাধিকভাবে এই মর্মে হাদীস বর্ণিত আছে। এই বিষয়ে আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ, আনাস ও জাবির (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবু সুহাঈল (রাহঃ) হলেন মালিক ইবনে আনাস (রাহঃ) এর পিতৃব্য। তাঁর নাম হল নাফি ইবনে মালিক ইবনে আবু আমির খাওলানী আসবাহী (রাহঃ)।
2632
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ كَانَ مُنَافِقًا وَإِنْ كَانَتْ خَصْلَةٌ مِنْهُنَّ فِيهِ كَانَتْ فِيهِ خَصْلَةٌ مِنَ النِّفَاقِ حَتَّى يَدَعَهَا مَنْ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَإِنَّمَا مَعْنَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ نِفَاقُ الْعَمَلِ وَإِنَّمَا كَانَ نِفَاقُ التَّكْذِيبِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَكَذَا رُوِيَ عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ شَيْئًا مِنْ هَذَا أَنَّهُ قَالَ النِّفَاقُ نِفَاقَانِ نِفَاقُ الْعَمَلِ وَنِفَاقُ التَّكْذِيبِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৬৩৩. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ চারটি বিষয় যার মধ্যে বিদ্যমান সে মুনাফিক। এর একটি যার মধ্যে থাকে তার মধ্যেও মুনাফিকের একটি বৈশিষ্ট্য থাকে যতক্ষণ না সে তা পরিত্যাগ করে। যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে এর খেলাফ করে, যখন বিবাদ করে তখন অশ্লীল গালিগালাজ করে, যখন চুক্তি করে তখন বিশ্বাসঘাতকতা করে।

এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণের নিকট এই হাদীসটির মর্ম হল আমলী-মুনাফিকী। ইসলাম অস্বীকার করার অর্থাৎ আকিদাগত মুনাফিকী ছিল রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর যুগে। হাসান বসরী (রাহঃ) থেকেও অনুরূপ ব্যাখ্যা বর্ণিত আছে। হাসান ইবনে আলী খাল্লাল (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুররা (রাহঃ) থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন: এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
2633

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ أَبِي النُّعْمَانِ، عَنْ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا وَعَدَ الرَّجُلُ وَيَنْوِي أَنْ يَفِيَ بِهِ فَلَمْ يَفِ بِهِ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِالْقَوِيِّ . عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى ثِقَةٌ وَلاَ يُعْرَفُ أَبُو النُّعْمَانِ وَلاَ أَبُو وَقَّاصٍ وَهُمَا مَجْهُولاَنِ .

Narrator: হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রাঃ)

২৬৩৪. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... যায়দ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি ওয়াদা করার সময় যদি তা পূরণের নিয়ত রাখে কিন্তু পরে (কোন বিশেষ অসুবিধার কারণে) তা পূরণ করতে না পারে তবে এতে তার অপরাধ হবে না।

(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি গারীব। এর সনদ শাক্তিশালী নয়। আলী ইবনে আব্দুল আ’লা ছিকাহ বা নির্ভরযোগ্য রাবী। কিন্তু আবু নু’মান ও অজ্ঞাত (মাজহূল) ব্যক্তি এবং আবু ওয়াক্কাসও অজ্ঞাত ব্যক্তি।

মুসলমানকে গালিগালাজ করা গুনাহ।

باب مَا جَاءَ سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ

2634

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَزِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَكِيمِ بْنُ مَنْصُورٍ الْوَاسِطِيُّ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قِتَالُ الْمُسْلِمِ أَخَاهُ كُفْرٌ وَسِبَابُهُ فُسُوقٌ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ سَعْدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ مَسْعُودٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৬৩৫. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে বাযী (রাহঃ) ...... আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মুসলিম কর্তৃক তার (অপর মুসলিম) ভাইয়ের সাথে লড়াই করা কুফরী এবং তাকে গালিগালাজ করা গুনাহ। - বুখারি ও মুসলিম

এই বিষয়ে সা’দ ও আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুগাফ্ফাল (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে একাধিক ভাবে এটি বর্ণিত আছে।
2635

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ زُبَيْدٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " سِبَابُ الْمُسْلِمِ فُسُوقٌ وَقِتَالُهُ كُفْرٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَمَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ قِتَالُهُ كُفْرٌ لَيْسَ بِهِ كُفْرًا مِثْلَ الاِرْتِدَادِ عَنِ الإِسْلاَمِ وَالْحُجَّةُ فِي ذَلِكَ مَا رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " مَنْ قُتِلَ مُتَعَمَّدًا فَأَوْلِيَاءُ الْمَقْتُولِ بِالْخِيَارِ إِنْ شَاءُوا قَتَلُوا وَإِنْ شَاءُوا عَفَوْا " . وَلَوْ كَانَ الْقَتْلُ كُفْرًا لَوَجَبَ الْقَتْلُ وَلَمْ يَصِحَّ الْعَفْوُ وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَطَاوُسٍ وَعَطَاءٍ وَغَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا كُفْرٌ دُونَ كُفْرٍ وَفُسُوقٌ دُونَ فُسُوقٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৬৩৬. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলিমকে গালিগালাজ করা পাপ আর তার বিরুদ্ধে লড়াই করা কুফরী। - বুখারি ও মুসলিম

(আবু ঈসা বলেন) এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

কেউ যদি তার মুসলিম ভাইকে কুফরের অপবাদ দেয়।

باب مَا جَاءَ فِيمَنْ رَمَى أَخَاهُ بِكُفْرٍ

2636

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْرَقُ، عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ الضَّحَّاكِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ عَلَى الْعَبْدِ نَذْرٌ فِيمَا لاَ يَمْلِكُ وَلاَعِنُ الْمُؤْمِنِ كَقَاتِلِهِ وَمَنْ قَذَفَ مُؤْمِنًا بِكُفْرٍ فَهُوَ كَقَاتِلِهِ وَمَنْ قَتَلَ نَفْسَهُ بِشَيْءٍ عَذَّبَهُ اللَّهُ بِمَا قَتَلَ بِهِ نَفْسَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: ছাবিত ইবনে যাহহাক (রাঃ)

২৬৩৭. আহমদ ইবনে মানী’ (রাহঃ) ..... ছাবিত ইবনে যাহহাক (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ যে জিনিসের মালিকানা বান্দার নেই উক্ত বস্তুর মান্নত করলে বান্দার উপর সে মান্নত বর্তায় না। মু’মিনকে লা’নতকারী তার হত্যাকারীর মত। যে ব্যক্তি কোন মু’মিনকে কুফরের অপবাদ দেয় সে-ও তার হত্যাকারীর মত। যে ব্যক্তি যে জিনিসের দ্বারা আত্মহত্যা করবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তাআলা সেই জিনিস দিয়েই তাকে আযাব দিবেন। - ইবনে মাজাহ

এই বিষয়ে আবু যর ও ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
2637

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَيُّمَا رَجُلٍ قَالَ لأَخِيهِ كَافِرٌ فَقَدْ بَاءَ بِهِ أَحَدُهُمَا " . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ . وَمَعْنَى قَوْلِهِ بَاءَ يَعْنِي أَقَرَّ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৬৩৮. কুতায়বা (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি যদি তার ভাইকে কাফির বলে আখ্যায়িত করে তবে সে সেই কুফরীর কথা তাদের উভয়ের কোন একজনের উপর বর্তাবে। - মুসলিম

হাদীসটি হাসান-সহীহ।

’আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই’-এ কথার সাক্ষ্য দিয়ে যে ব্যক্তি মারা যায়।

باب مَا جَاءَ فِيمَنْ يَمُوتُ وَهُوَ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ

2638

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ، عَنِ الصُّنَابِحِيِّ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّهُ قَالَ دَخَلْتُ عَلَيْهِ وَهُوَ فِي الْمَوْتِ فَبَكَيْتُ فَقَالَ مَهْلاً لِمَ تَبْكِي فَوَاللَّهِ لَئِنِ اسْتُشْهِدْتُ لأَشْهَدَنَّ لَكَ وَلَئِنْ شُفِّعْتُ لأَشْفَعَنَّ لَكَ وَلَئِنِ اسْتَطَعْتُ لأَنْفَعَنَّكَ ثُمَّ قَالَ وَاللَّهِ مَا مِنْ حَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَكُمْ فِيهِ خَيْرٌ إِلاَّ حَدَّثْتُكُمُوهُ إِلاَّ حَدِيثًا وَاحِدًا وَسَوْفَ أُحَدِّثُكُمُوهُ الْيَوْمَ وَقَدْ أُحِيطَ بِنَفْسِي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ شَهِدَ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ النَّارَ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ وَعَلِيٍّ وَطَلْحَةَ وَجَابِرٍ وَابْنِ عُمَرَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ . قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي عُمَرَ يَقُولُ سَمِعْتُ ابْنَ عُيَيْنَةَ يَقُولُ مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلاَنَ كَانَ ثِقَةً مَأْمُونًا فِي الْحَدِيثِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَالصُّنَابِحِيُّ هُوَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُسَيْلَةَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ الزُّهْرِيِّ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ " . فَقَالَ إِنَّمَا كَانَ هَذَا فِي أَوَّلِ الإِسْلاَمِ قَبْلَ نُزُولِ الْفَرَائِضِ وَالأَمْرِ وَالنَّهْىِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَوَجْهُ هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ أَهْلَ التَّوْحِيدِ سَيَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَإِنْ عُذِّبُوا بِالنَّارِ بِذُنُوبِهِمْ فَإِنَّهُمْ لاَ يُخَلَّدُونَ فِي النَّارِ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي ذَرٍّ وَعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " سَيَخْرُجُ قَوْمٌ مِنَ النَّارِ مِنْ أَهْلِ التَّوْحِيدِ وَيَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ " . هَكَذَا رُوِيَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ وَإِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ وَغَيْرِ وَاحِدٍ مِنَ التَّابِعِينَ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي تَفْسِيرِ هَذِهِ الآيَةَِ: (رُبَمَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ كَانُوا مُسْلِمِينَ) قَالُوا إِذَا أُخْرِجَ أَهْلُ التَّوْحِيدِ مِنَ النَّارِ وَأُدْخِلُوا الْجَنَّةَ يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ كَانُوا مُسْلِمِينَ .

Narrator: আব্দুল্লাহ সুনাবিহী (রাঃ)

২৬৩৯. কুতায়বা (রাহঃ) ......... সুনাবিহী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি উবাদা ইবনুল সামিত (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। তার তখন মৃত্যু কষ্ট হচ্ছিল। আমি (তাঁর অবস্থা দেখে) কেঁদে ফেললাম। তিনি বললেনঃ থাম, কাঁদছ কেন? আল্লাহর কসম, যদি আমাকে (আখিরাতে) সাক্ষী মানা হয় তবে অবশ্যই তোমার পক্ষে আমি সাক্ষ্য দিব। যদি আমাকে সুপারিশের অনুমতি দেওয়া হয় তবে অবশ্যই তোমার জন্য সুপারিশ করব। যদি আমি সক্ষম হই তবে অবশ্যই তোমার উাপকার করব।

এরপর তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ কসম, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট থেকে যত হাদীস আমি শুনেছি এবং যাতে ছিল তোমাদের জন্য কল্যাণ নিহিত সে সবের কোন হাদীসও এমন নেই যা আমি তোমাদের বর্ণনা করিনি। তবে একটি হাদীস ছিল বাকী যা আজ তোমাদের আমি এমন অবস্থায় বর্ণনা করতে যাচ্ছি যে, চতুর্দিক থেকে মৃত্যু আমাকে বেষ্টন করে নিয়েছে। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি এই কথার সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন মা’বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ্ তাআলা তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেন। - মুসলিম

এই বিষয়ে আবু বকর, উমর, উসমান, আলী তালহা, জাবির ইবনে উমর, যায়দ ইবনে খালিদ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। সুনাবিহী (রাহঃ) হলেন আব্দুর রহমান ইবনে উসায়লা আবু আব্দুল্লাহ্। হাদীসটি হাসান-সহীহ। তবে এই সূত্রে গারীব।

যুহরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী (ﷺ) এর বাণী "যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ছাড়া মা’বুদ নাই, এ কথা স্বীকার করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’’- সম্পর্কে তাকে (যুহরী) জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেনঃ এটি ছিল ইসলামের শুরুতে যখন ফরয, আদেশ, নিষেধ ইত্যাদি বিধি-বিধান নাযিল হয়নি তখনকার যুগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

কোন কোন আলিম এই হাদীসটির মর্ম প্রসঙ্গে বলেন যে, তওহীদে বিশ্বাসীরা অবশ্য একদিন জান্নাতে প্রবেশ করবে। যদিও গুনাহের দরুন তাদেরকে জাহান্নামে শাস্তি দেওয়া হবে। তারা তাদের জাহান্নামে সব সময়ের জন্য অবস্থান করতে হবে না।

ইবনে মাসউদ, আবু যর, ইমরান ইবনে হুসাইন, জাবিন ইবনে আব্দুল্লাহ্, ইবনে আব্বাস, আবু সাঈদ খুদরী ও আনাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেনঃ তাওহীদে বিশ্বাসী এক দল লোক জাহান্নাম থেকে বের হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে।

(رُبَمَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ كَانُوا مُسْلِمِينَ) কখনও কখনও কাফিররা আকঙ্ক্ষা করবে যে, তারা যদি মুসলিম হত। (হিজর ১৫ : ২) আয়াতটির তাফসীরেও সাঈদ জুবাইর, ইবরাহীম নাখঈ প্রমূখ তাবিঈন (রাহঃ) থেকে এরূপ অভিমত বর্ণিত আছে। তাঁরা বলেছেনঃ তাওহীদে বিশ্বাসীগণকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনা এবং তাদের জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে তখন কাফিররা আকাঙ্ক্ষা করবে যে, হায় তারা যদি মুসলিম হত।
2639
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ لَيْثِ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي عَامِرُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَعَافِرِيِّ، ثُمَّ الْحُبُلِيِّ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ سَيُخَلِّصُ رَجُلاً مِنْ أُمَّتِي عَلَى رُءُوسِ الْخَلاَئِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَنْشُرُ عَلَيْهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ سِجِلاًّ كُلُّ سِجِلٍّ مِثْلُ مَدِّ الْبَصَرِ ثُمَّ يَقُولُ أَتُنْكِرُ مِنْ هَذَا شَيْئًا أَظَلَمَكَ كَتَبَتِي الْحَافِظُونَ فَيَقُولُ لاَ يَا رَبِّ . فَيَقُولُ أَفَلَكَ عُذْرٌ فَيَقُولُ لاَ يَا رَبِّ . فَيَقُولُ بَلَى إِنَّ لَكَ عِنْدَنَا حَسَنَةً فَإِنَّهُ لاَ ظُلْمَ عَلَيْكَ الْيَوْمَ فَتَخْرُجُ بِطَاقَةٌ فِيهَا أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فَيَقُولُ احْضُرْ وَزْنَكَ فَيَقُولُ يَا رَبِّ مَا هَذِهِ الْبِطَاقَةُ مَعَ هَذِهِ السِّجِلاَّتِ فَقَالَ إِنَّكَ لاَ تُظْلَمُ . قَالَ فَتُوضَعُ السِّجِلاَّتُ فِي كِفَّةٍ وَالْبِطَاقَةُ فِي كِفَّةٍ فَطَاشَتِ السِّجِلاَّتُ وَثَقُلَتِ الْبِطَاقَةُ فَلاَ يَثْقُلُ مَعَ اسْمِ اللَّهِ شَيْءٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عَامِرِ بْنِ يَحْيَى، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৬৪০. সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ্ তাআলা কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের এক ব্যক্তিকে সমস্ত সৃষ্টির সম্মুখে আলাদা করে এনে হাযির করবেন। তার সামনে নিরানব্বইটি (আমলের) নিবন্ধন খাতা খুলে দিবেন। এক একটি নিবন্ধন খাতা হবে যতদূর দৃষ্টি যায় ততদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। এরপর তিনি তাকে বললেনঃ এর একটি কিছুও কি অস্বীকার করতে পার? আমার সংরক্ষণকারী লিপিকারগণ (কিরামান কাতিবীন) কি তোমার উপর কোন যুলুম করেছে?

লোকটি বলবেঃ না, হে আমার পরওয়ারদিগার।

আল্লাহ্ তাআলা বলবেন, তোমার কিছু বলার আছে কি? লোকটি বলবেঃ না, হে পরওয়ারদিগার।

তিনি বলবেনঃ হ্যাঁ, আমার কাছে তোমার একটি নেকী আছে। আজ তো তোমার উপর কোন যুলুম হবে না।

তখন একটি ছোট্ট কাগজের টুকরা বের করা হবে। এতে আছে ’আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু’ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, কোন ইলাহা নেই আল্লাহ্ ছাড়া আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল।

আল্লাহ্ তাআলা বলবেনঃ চল, এর ওজনের ক্ষেত্রে হাযির হও। লোকটি বলবেঃ ওহে আমার রব, এই একটি ছোট্ট টুকরা আর এতগুলো নিবন্ধন খাতা। কোথায় কি?

তিনি বলবেনঃ তোমার উপর অবশ্যই কোন যুলুম করা হবে না।

অনন্তর সবগুলো নিবন্ধন খাতা এক পাল্লায় রাখা হবে আর ছোট্র সেই টুকরাটিকে আরেক পাল্লায় রাখা হবে। (আল্লাহর কি মহিমা) সবগুলো দপ্তর (ওজনে) হালকা হয়ে যাবে আর ছোট্ট টুকরাটিই হয়ে পড়বে ভারী। আল্লাহর নামের মুকাবেলায় কোন জিনিসই ভারী হবে না। - ইবনে মাজাহ

হাদীসটি হাসান-গারীব। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আমির ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) থেকে এই সনদে উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

البِطاقة টুকরা, খণ্ড।

এই উম্মতের অনৈক্য।

باب مَا جَاءَ فِي افْتِرَاقِ هَذِهِ الأُمَّةِ

2640

حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ أَبُو عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَفَرَّقَتِ الْيَهُودُ عَلَى إِحْدَى وَسَبْعِينَ أَوِ اثْنَتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً وَالنَّصَارَى مِثْلَ ذَلِكَ وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً " . وَفِي الْبَابِ عَنْ سَعْدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعَوْفِ بْنِ مَالِكٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৬৪১. হুসাইন ইবনে হুরায়ছ আবু আম্মার (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়াহুদীরা বিভক্ত হয়েছে, একাত্তর দলে (কিংবা বলেছেন, বাহাত্তর দলে), খৃষ্টানরাও অনুরূপ সংখ্যায় বিভক্ত হয়েছে। আর আমার উম্মতরা বিভক্ত হবে তিহাত্তর দলে। - ইবনে মাজাহ

এই বিষয়ে সা’দ, আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর, আওফ ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।
2641

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمَ الإِفْرِيقِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِي مَا أَتَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ حَتَّى إِنْ كَانَ مِنْهُمْ مَنْ أَتَى أُمَّهُ عَلاَنِيَةً لَكَانَ فِي أُمَّتِي مَنْ يَصْنَعُ ذَلِكَ وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلاَّ مِلَّةً وَاحِدَةً قَالُوا وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ مُفَسَّرٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِثْلَ هَذَا إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৬৪২. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ বনু ইসরাঈলের যে অবস্থা এসেছিল আমার উম্মতরাও ঠিক তাদেরই অবস্থায় পতিত হবে। এমনকি তাদের কেউ যদি প্রকাশ্যে তার মার সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে থাকে তবে আমার উম্মতেরও কেউ তাতে লিপ্ত হবে। বনু ইসরাঈলরা তো বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে আর আমার উম্মতরা বিভক্ত হবে তিহাত্তর দলে। এদের একটি দল ছাড়া সব দলই হবে জাহান্নামী। সাহাবীগণ (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! এরা কোন দল? তিনি বললেনঃ আমি এবং আমার সাহাবীরা যার উপর প্রতিষ্ঠিত।

এই হাদীসটি হাসান-গারীব ও স্ব ব্যাখ্যাত। এই সূত্র ছাড়া এই ধরনের কোন রিওয়ায়াত আমাদের জানা নেই।
2642

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي عَمْرٍو السَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الدَّيْلَمِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ خَلَقَ خَلْقَهُ فِي ظُلْمَةٍ فَأَلْقَى عَلَيْهِمْ مِنْ نُورِهِ فَمَنْ أَصَابَهُ مِنْ ذَلِكَ النُّورِ اهْتَدَى وَمَنْ أَخْطَأَهُ ضَلَّ فَلِذَلِكَ أَقُولُ جَفَّ الْقَلَمُ عَلَى عِلْمِ اللَّهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৬৪৩. হাসান ইবনে আরাফা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ্ তাআলা তার মাখলুককে আঁধারে সৃষ্টি করেছেন। পরে তাদের উপর তিনি তাঁর নূরের তাজাল্লি বিচ্ছুরিত করেন। যে ব্যক্তি এই নূর থেকে কিছু অংশ পেয়েছে সে-ই হিদায়াত পায় আর যে তা পায় নি সে পথভ্রষ্ট হয়। তাই আমি বলিঃ আল্লাহর ইলম হিসাবেই কলম (তকদীরের লিখন) শুকিয়ে গেছে।

(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান।
2643

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَتَدْرِي مَا حَقُّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ " . قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ " فَإِنَّ حَقَّهُ عَلَيْهِمْ أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلاَ يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا " . قَالَ " فَتَدْرِي مَا حَقُّهُمْ عَلَيْهِ إِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ " . قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ " أَنْ لاَ يُعَذِّبَهُمْ " . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ .

Narrator: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

২৬৪৪. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ...... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তুমি কি জান বান্দার উপর আল্লাহর কি হক?

আমি বললামঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন।

তিনি বললেনঃ তাদের উপর আল্লাহর হক হল যে, তারা তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে শরীক করবে না কিছুই।

তিনি আবার বললেনঃ তুমি কি জান, বান্দারা যখন তা করবে তখন আল্লাহর উপর তাদের কি হক হবে?

আমি বললামঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল ভাল জানেন।

তিনি বললেনঃ তখন তিনি আর তাদের শাস্তি দিবেন না।

- ইবনে মাজাহ, বুখারী ও মুসলিম

এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) থেকে একাধিক সূত্রে এটি বর্ণিত আছে।
2644

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، وَعَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، وَالأَعْمَشِ، كُلُّهُمْ سَمِعُوا زَيْدَ بْنَ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَتَانِي جِبْرِيلُ فَبَشَّرَنِي فَأَخْبَرَنِي أَنَّهُ مَنْ مَاتَ لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ " . قُلْتُ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২৬৪৫. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ..... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার কাছে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) এলেন এবং এই সুসংবাদ দিলেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছু শরীক না করে মারা যাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

আমি বললামঃ যদি সে যিনা করে, চুরি করে তবুও?

তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। - বুখারি ও মুসলিম

হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে আবুদ্ দারদা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।