أبواب البيوع عن رسول الله ﷺ

১৪. ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের অধ্যায়

Chapter 14 · 117 hadith

সন্দেহজনক বিষয় পরিত্যাগ করা।

باب مَا جَاءَ فِي تَرْكِ الشُّبُهَاتِ

1205
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، أَنْبَأَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهُ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الْحَلاَلُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ وَبَيْنَ ذَلِكَ أُمُورٌ مُشْتَبِهَاتٌ لاَ يَدْرِي كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ أَمِنَ الْحَلاَلِ هِيَ أَمْ مِنَ الْحَرَامِ فَمَنْ تَرَكَهَا اسْتِبْرَاءً لِدِينِهِ وَعِرْضِهِ فَقَدْ سَلِمَ وَمَنْ وَاقَعَ شَيْئًا مِنْهَا يُوشِكُ أَنْ يُوَاقِعَ الْحَرَامَ كَمَا أَنَّهُ مَنْ يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى يُوشِكُ أَنْ يُوَاقِعَهُ أَلاَ وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى أَلاَ وَإِنَّ حِمَى اللَّهِ مَحَارِمُهُ " .
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ .

Narrator: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

১২০৮. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ...... নু’মান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, হালালও স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর উভয়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহজনক বিষয়। অনেকেই জানে না তা হালালের অন্তর্ভূক্ত, না হারামের অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যক্তি স্বীয় দ্বীন ও সম্মান বাঁচাতে গিয়ে তা পরিত্যাগ করল সে নিরাপদ হল। আর যে ব্যক্তি এর কিছু অংশেও নিপতিত হয়, আশঙ্কা হয়, সে হারামে নিপতিত হবে। যেমন, কেউ যদি সংরক্ষিত তৃণভূমির পাশে পশু চরায় তবে আশঙ্কা আছে যে, সে তাতে নিপতিত হবে। সাবধান, প্রত্যেক বাদশাহের সংরক্ষিত এলাকা থাকে। সাবধান, আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হল তাঁর নির্ধারিত হারামসমূহ। - ইবনে মাজাহ, বুখারি, মুসলিম

হান্নাদ (রাহঃ) নু’মান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) সূত্রে উক্ত মর্মে অনুরূপ নবী (ﷺ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। একাধিক রাবী শা’বী- নুমান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

সুদ খাওয়া।

باب مَا جَاءَ فِي أَكْلِ الرِّبَا

1206

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَكَاتِبَهُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَجَابِرٍ وَأَبِي جُحَيْفَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১২০৯. কুতায়বা (রাহঃ) ..... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) সুদখোর সুদ দাতা, এই দুই সাক্ষী ও (এতদ্বিষয়ে) লেখককে লা’নত করেছেন। - ইবনে মাজাহ

এই বিষয়ে উমর, আলী, জাবির এবং আবু জুহায়ম (রাযিঃ) থেকেও অনূরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।

মিথ্যা, অসত্য ইত্যাদি বিষয়ে কঠোরতা।

باب مَا جَاءَ فِي التَّغْلِيظِ فِي الْكَذِبِ وَالزُّورِ وَنَحْوِهِ

1207

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ شُعْبَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْكَبَائِرِ قَالَ " الشِّرْكُ بِاللَّهِ وَعُقُوقُ الْوَالِدَيْنِ وَقَتْلُ النَّفْسِ وَقَوْلُ الزُّورِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَكْرَةَ وَأَيْمَنَ بْنِ خُرَيْمٍ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১২১০. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা সানআনী (রাহঃ) ...... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, কাবীরা গুনাহ সম্পর্কে নবী (ﷺ) বলেছেন, তা হলো আল্লাহর শরীক করা, পিতা-মাতার নাফরমানী করা, কউকে হত্যা করা ও অসত্য কথন। - বুখারি, মুসলিম

এই বিষয়ে আবু বাকরা, আয়মান ইবনে খুরায়ম ও ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আনাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ্-গারীব।

ব্যবসায়ীদের মর্যদা আর নবী (ﷺ) কর্তৃক তাদের নামকরণ।

باب مَا جَاءَ فِي التُّجَّارِ وَتَسْمِيَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِيَّاهُمْ

1208
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي غَرَزَةَ، قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ نُسَمَّى السَّمَاسِرَةَ فَقَالَ " يَا مَعْشَرَ التُّجَّارِ إِنَّ الشَّيْطَانَ وَالإِثْمَ يَحْضُرَانِ الْبَيْعَ فَشُوبُوا بَيْعَكُمْ بِالصَّدَقَةِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ وَرِفَاعَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ قَيْسِ بْنِ أَبِي غَرَزَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . رَوَاهُ مَنْصُورٌ وَالأَعْمَشُ وَحَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي غَرَزَةَ . وَلاَ نَعْرِفُ لِقَيْسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غَيْرَ هَذَا .
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ، وَشَقِيقٌ، هُوَ أَبُو وَائِلٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي غَرَزَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ .

Narrator: কায়স ইবনে আবু গারাযা (রাঃ)

১২১১. হান্নাদ (রাহঃ) ....... কায়স ইবনে আবী গারাযা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে বের হয়ে এলেন। আমাদের ব্যবসায়ীদের ‘‘সামাসিরা’’ (দালাল) নামে অভিহিত করা হত। (কিন্তু তিনি আমাদেরকে সুন্দর নামে অভিহিত করলেন), [আবু দাউদ] এবং তিনি বললেন, হে ব্যবসায়ী সমাজ, ব্যবসা ক্ষেত্রে শয়তান ও পাপ এসে সমুপস্থিত হয়। সুতরাং তোমরা তোমাদেরই ব্যবসায়ে সাদ্‌কা জড়িত কর। - ইবনে মাজাহ

এই বিষয়ে বারা ইবনে আযিব ও রিফাআ (রাযিঃ) থেকেও বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, কায়স ইবনে আবু গারাযা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। মনসুর, আ’মাশ, হাবীব ইবনে আবী ছাবিত প্রমুখ এটিকে আবু ওয়াঈশ-কায়স ইবনে আবু গারাযা (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এটি ছাড়া নবী (ﷺ) থেকে কায়স (রাযিঃ) সূত্রে আর কোন হাদীস আছে বেল আমাদের জানা নাই। হান্নাদ (রাহঃ) কায়স ইবনে আবু গারাযা (রাযিঃ) থেকে উক্ত মর্মে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটি সহীহ।
1209
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " التَّاجِرُ الصَّدُوقُ الأَمِينُ مَعَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ الثَّوْرِيِّ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ . وَأَبُو حَمْزَةَ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَابِرٍ وَهُوَ شَيْخٌ بَصْرِيٌّ .
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১২১২. হান্নাদ (রাহঃ) ...... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী নবী, সিদ্দীক ও শহীদগণের সঙ্গে থাকবে।

সুওয়ায়দ ইবনে মুবারক (রাহঃ) আবু হামযা (রাহঃ) থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণিত আছে। এই হাদীসটি হাসান। ছাওরী-আবু হামযা সূত্র ব্যতীত এ সম্পর্কে আমরা অবহিত নই। আবু হামযা আব্দুল্লাহ ইবনে জাবির একজন বসরাবাসী শায়খ।
1210

حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّهُ خَرَجَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمُصَلَّى فَرَأَى النَّاسَ يَتَبَايَعُونَ فَقَالَ " يَا مَعْشَرَ التُّجَّارِ " . فَاسْتَجَابُوا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَفَعُوا أَعْنَاقَهُمْ وَأَبْصَارَهُمْ إِلَيْهِ فَقَالَ " إِنَّ التُّجَّارَ يُبْعَثُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فُجَّارًا إِلاَّ مَنِ اتَّقَى اللَّهَ وَبَرَّ وَصَدَقَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَيُقَالُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ رِفَاعَةَ أَيْضًا .

Narrator: রিফাআ ইবনে রাফি' যুরাকী (রাঃ)

১২১৩. ইয়াহয়া ইবনে খালফ (রাহঃ) ....... রিফাআ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একবার নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে ‘‘মুসল্লা’’-এর দিকে গেলেন। নবী (ﷺ) দেখলেন, লোকেরা বেচা-কেনা করছে। তখন তিনি বললেন, হে ব্যবসায়ীগণ, তারা সকলেই রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ)-এর প্রতি সাড়া দিল এবং তাদের ঘাড় ও চোখ তুলে তাঁর দিকে তাকাল। তিনি বললেন, ব্যবসায়ীদের কিয়ামতের দিন ফাজির ও পাপীরূপে উত্থিত করা হবে। তবে সে ব্যতীত, যে আল্লাহকে ভয় করেছে, নেক আমল করেছে এবং সত্য অবলম্বন করেছে। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ সনদে ইসমাঈল ইবনে উবাইদ ইবনে রিফাআর স্থলে ইসমাঈল ইবনে উবাইদুল্লাহ্ ইবনে রিফাআ-ও উল্লেখ করা হয়।

কারো পন্য সম্পর্কে তার মিথ্যা কসম করা প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِيمَنْ حَلَفَ عَلَى سِلْعَةٍ كَاذِبًا

1211

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ مُدْرِكٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا زُرْعَةَ بْنَ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، يُحَدِّثُ عَنْ خَرَشَةَ بْنِ الْحُرِّ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " ثَلاَثَةٌ لاَ يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ " . قُلْتُ مَنْ هُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَدْ خَابُوا وَخَسِرُوا فَقَالَ " الْمَنَّانُ وَالْمُسْبِلُ إِزَارَهُ وَالْمُنْفِقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْكَاذِبِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي أُمَامَةَ بْنِ ثَعْلَبَةَ وَعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ وَمَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي ذَرٍّ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

১২১৪. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ...... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, তিন ব্যক্তি এমন যাদের দিকে আল্লাহ্ তাআলা কিয়ামত দিবসে দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের তিনি পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। আমি বললাম এরা কারা? ইয়া রাসূলাল্লাহ্, এরা তো হতাশাগ্রস্থ ও ক্ষতিগ্রস্থ। তিনি বললেন, যে অনুগ্রহ করার করার পর খোটা দেয়; যে ব্যক্তি তার লুঙ্গি গোড়ালীর নীচে ঝুলিয়ে পরিধান করে; আর যে ব্যক্তি মিথ্যা কসমের মাধ্যমে তার পন্যের প্রচার করে। - ইবনে মাজাহ

এই বিষয়ে ইবনে মাসউদ, আবু হুরায়রা, আবু উমামা ইবনে ছা’লাবা, ইমরান ইবনে হুসাইন এবং মা’কিল ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু যর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।

ব্যবসার উদ্দেশ্যে ভোরে বের হওয়া।

باب مَا جَاءَ فِي التَّبْكِيرِ بِالتِّجَارَةِ .

1212

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ حَدِيدٍ، عَنْ صَخْرٍ الْغَامِدِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ بَارِكْ لأُمَّتِي فِي بُكُورِهَا " . قَالَ وَكَانَ إِذَا بَعَثَ سَرِيَّةً أَوْ جَيْشًا بَعَثَهُمْ أَوَّلَ النَّهَارِ وَكَانَ صَخْرٌ رَجُلاً تَاجِرًا وَكَانَ إِذَا بَعَثَ تِجَارَةً بَعَثَهُمْ أَوَّلَ النَّهَارِ فَأَثْرَى وَكَثُرَ مَالُهُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَبُرَيْدَةَ وَأَنَسٍ وَابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَجَابِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ صَخْرٍ الْغَامِدِيِّ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَلاَ نَعْرِفُ لِصَخْرٍ الْغَامِدِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ . وَقَدْ رَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ هَذَا الْحَدِيثَ .

Narrator: সাখর ইবনে ওয়াদাআ গামিদী রাযি.

১২১৫. ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম দাওরাকী (রাহঃ) ...... সাখর গামিদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, হে আল্লাহ্ তুমি আমার উম্মুতের জন্য ভোরের মধ্যে বরকত দান করো। বর্ণনাকারী বলেন, নবী (ﷺ) যখন কোথাও ক্ষুদ্র সেনাদল বা বৃহৎ সৈন্যবাহিনী পাঠাতেন তখন তাদেরকে দিনের প্রথমাংশে পাঠাতেন। সাখর ছিলেন ব্যবসায়ী। তিনি তার ব্যবসায়ীদলকে দিনের শুরুতেই পাঠিয়ে দিতেন। ফলে তিনি ধনবান হন এবং তার সম্পদ প্রচুর বৃদ্ধি পায়।

এই বিষয়ে আলী, ইবনে মাসউদ, বুরায়দা, আনাস, ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস ও জাবির (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, সাখর গামিদী (রাযিঃ) বর্ণিত হাধীসটি হাসান। নবী (ﷺ) থেকে এই হাদীসটি ছাড়া আর কোন হাদীস সাখর গামিদী (রাযিঃ) এর বরাতে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নাই। সুফিয়ান ছাওরী (রাহঃ) এই হাদীসটিকে শু’বা- ইয়া’লা ইবনে আতা (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

নির্ধারিত মেয়াদের শর্তে (বাকীতে) ক্রয়ের অনুমতি প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي الرُّخْصَةِ فِي الشِّرَاءِ إِلَى أَجَلٍ .

1213

حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ، عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، أَخْبَرَنَا عُمَارَةُ بْنُ أَبِي حَفْصَةَ، أَخْبَرَنَا عِكْرِمَةُ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَوْبَانِ قِطْرِيَّانِ غَلِيظَانِ فَكَانَ إِذَا قَعَدَ فَعَرِقَ ثَقُلاَ عَلَيْهِ فَقَدِمَ بَزٌّ مِنَ الشَّامِ لِفُلاَنٍ الْيَهُودِيِّ . فَقُلْتُ لَوْ بَعَثْتَ إِلَيْهِ فَاشْتَرَيْتَ مِنْهُ ثَوْبَيْنِ إِلَى الْمَيْسَرَةِ . فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَقَالَ قَدْ عَلِمْتُ مَا يُرِيدُ إِنَّمَا يُرِيدُ أَنْ يَذْهَبَ بِمَالِي أَوْ بِدَرَاهِمِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَذَبَ قَدْ عَلِمَ أَنِّي مِنْ أَتْقَاهُمْ لِلَّهِ وَآدَاهُمْ لِلأَمَانَةِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَنَسٍ وَأَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَاهُ شُعْبَةُ أَيْضًا عَنْ عُمَارَةَ بْنِ أَبِي حَفْصَةَ . قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ فِرَاسٍ الْبَصْرِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا دَاوُدَ الطَّيَالِسِيَّ يَقُولُ سُئِلَ شُعْبَةُ يَوْمًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ لَسْتُ أُحَدِّثُكُمْ حَتَّى تَقُومُوا إِلَى حَرَمِيِّ بْنِ عُمَارَةَ بْنِ أَبِي حَفْصَةَ فَتُقَبِّلُوا رَأْسَهُ . قَالَ وَحَرَمِيٌّ فِي الْقَوْمِ . قَالَ أَبُو عِيسَى أَىْ إِعْجَابًا بِهَذَا الْحَدِيثِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১২১৬. আবু হাফস আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর লাল নকশাদার দুটি মোটা খসখসে কিতরী কাপড় ছিল। তিনি যখন বসতেন এবং ঘামতেন তখন এ দুটো তাঁর ভারীবোধ, হত। একবার শাম থেকে অমুক এক ইয়াহুদী ব্যবসায়ীর নিকট কিছু কাপড় এল। আমি নবী (ﷺ)-কে বললাম, কাউকে পাঠিয়ে এর কাছ থেকে স্বচ্ছলতার দিন পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করে দুটি কাপড় যদি কিনে আনতেন। তারপর তিনি তার কাছে একজনকে পাঠালেন। কিন্তু ইয়াহুদীটি বলল, তিনি কি চান আমি জানি। তিনি চান আমার মাল কিংবা দিরহামগুলি নিয়ে চলে যেতে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, সে মিথ্যা বলেছে। সে অবশ্য জানে, আমি তাদের মাঝে সর্বাধিক আল্লাহ্ভীরু এবং সর্বাধিক আমানত পরিশোধকারী।

এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস, আনাস ও আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। শু’বা (রাহঃ) ও এটিকে উমরা ইবনে আবু হাফসা (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনে ফিরাস বসরী (রাহঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি আবু দাউদ তায়ালিসী (রাহঃ)-কে বলতে শুনেছেন, শু’বা (রাহঃ)-কে একদিন এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত হারামী ইবনে উমরা-এর কাছে গিয়ে তার শির- চুম্বন না করেছ ততক্ষণ আমি তোমাদের আর এই হাদীস বর্ণনা করব না। রাবী বলেন, হারামীও তখন এই মজলিসে হাযির ছিলেন।
1214

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، وَعُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ تُوُفِّيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَدِرْعُهُ مَرْهُونَةٌ بِعِشْرِينَ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ أَخَذَهُ لأَهْلِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১২১৭. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ইন্‌তিকাল করেন। আর তখন তাঁর বর্মটি বিশ সা’ খাদ্যের বিনিময়ে রাখা ছিল। এই খাদ্য তিনি তাঁর পরিবারের জন্য নিয়েছিলেন। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
1215

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، ح قَالَ مُحَمَّدٌ وَحَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ مَشَيْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِخُبْزِ شَعِيرٍ وَإِهَالَةٍ سَنِخَةٍ وَلَقَدْ رُهِنَ لَهُ دِرْعٌ عِنْدَ يَهُودِيٍّ بِعِشْرِينَ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ أَخَذَهُ لأَهْلِهِ وَلَقَدْ سَمِعْتُهُ ذَاتَ يَوْمٍ يَقُولُ " مَا أَمْسَى فِي آلِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم صَاعُ تَمْرٍ وَلاَ صَاعُ حَبٍّ " . وَإِنَّ عِنْدَهُ يَوْمَئِذٍ لَتِسْعُ نِسْوَةٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১২১৮. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ........ আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যবের রুটি ও কিছু বাসী চর্বি নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট গেলাম তখন তাঁর বর্মটি এক ইয়াহুদীর কাছে বিশ সা’ খাদ্যের বিনিময়ে বন্ধক রাখা ছিল। তা তিনি পরিবারের জন্য এনেছিলেন। একদিন তাঁকে বলতে শুনেছি, মুহাম্মাদ (ﷺ) পরিবারের নিকট কোন সন্ধ্যায় এক সা’ খেজুর বা এক সা’ খাদ্য-শস্য রক্ষিত থাকেনি। অথচ তাঁর কাছে তখন নয়জন স্ত্রী ছিলেন। - ইবনে মাজাহ, বুখারি

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসাছটি হাসান-সহীহ।

শর্তসমূহ লিপিবদ্ধ করা।

باب مَا جَاءَ فِي كِتَابَةِ الشُّرُوطِ .

1216

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، أَخْبَرَنَا عَبَّادُ بْنُ لَيْثٍ، صَاحِبُ الْكَرَابِيسِيِّ الْبَصْرِيُّ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَجِيدِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ قَالَ لِي الْعَدَّاءُ بْنُ خَالِدِ بْنِ هَوْذَةَ أَلاَ أُقْرِئُكَ كِتَابًا كَتَبَهُ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ قُلْتُ بَلَى . فَأَخْرَجَ لِي كِتَابًا " هَذَا مَا اشْتَرَى الْعَدَّاءُ بْنُ خَالِدِ بْنِ هَوْذَةَ مِنْ مُحَمَّدٍ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اشْتَرَى مِنْهُ عَبْدًا أَوْ أَمَةً لاَ دَاءَ وَلاَ غَائِلَةَ وَلاَ خِبْثَةَ بَيْعَ الْمُسْلِمِ الْمُسْلِمَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَبَّادِ بْنِ لَيْثٍ وَقَدْ رَوَى عَنْهُ هَذَا الْحَدِيثَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْحَدِيثِ .

Narrator: বিবিধ

১২১৯. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ....... আব্দুল মাজীদ ইবনে ওয়াহব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক দিন আদ্দা ইবনে খালিদ ইবনে হাওযা (রাযিঃ) আমাকে বললেন, আমাকে যে লিপিখানি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) লিখে দিয়েছিলেন তোমাকে কি তা পড়ে শুনাব? আমি বললাম, অবশ্যই। তখন তিনি আমাকে শোনাবার জন্য একটি লিপি বের করলেন। এতে ছিল, এ হলো মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে আদ্দা ইবনে খালিদ ইবনে হাওযা যা খরীদ করেছেন (এর দলীল)। তিনি তাঁর নিকট থেকে এমন একটি দাস বা দাসী ক্রয় করেছেন, যার মধ্যে কোন দোষ নেই। এটি পলায়ন করে না, এবং তা দুশ্চিরিত্রের অধিকারী নয়। এ হলো এক মুসলিমের সঙ্গে আরেক মুসলিমের ক্রয়-বিক্রয়। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। আব্বাস ইবনে লায়ছের সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা জানি না। একাধিক হাদীস বিশেষজ্ঞ রাবী এটিকে তাঁর বরাতে বর্ণনা করেছেন।

পাল্লা ও পরিমাপ পাত্রের প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي الْمِكْيَالِ وَالْمِيزَانِ .

1217

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَعْقُوبَ الطَّالْقَانِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْوَاسِطِيُّ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَصْحَابِ الْمِكْيَالِ وَالْمِيزَانِ " إِنَّكُمْ قَدْ وُلِّيتُمْ أَمْرَيْنِ هَلَكَتْ فِيهِ الأُمَمُ السَّالِفَةُ قَبْلَكُمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ حُسَيْنِ بْنِ قَيْسٍ . وَحُسَيْنُ بْنُ قَيْسٍ يُضَعَّفُ فِي الْحَدِيثِ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مَوْقُوفًا .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১২২০. সাঈদ ইবনে ইয়াকুব তালকানী (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পাল্লা ও পরিমাপ-পাত্রের মাপে ওজনকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, তোমরা এমন দুই বিষয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত যে, তোমাদের পূর্ববর্তী যুগে অতীত যুগে অতীত হয়ে যাওয়া বহু উম্মত এই দুই বিষয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, হুসাইন ইবনে কায়স (রাহঃ)-এর সূত্র ছাড়া এই হাদীসটির মারফূ’ রিওয়ায়াত সম্পর্কে আমরা জানি না। হাদীসের ক্ষেত্রে হুসাইন ইবনে কায়স যঈফ। এই হাদীসটি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে সহীহ সনদে মউকুফরূপেও বর্ণিত আছে।

নিলামে বিক্রয়।

باب مَا جَاءَ فِي بَيْعِ مَنْ يَزِيدُ

1218

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ شُمَيْطِ بْنِ عَجْلاَنَ، حَدَّثَنَا الأَخْضَرُ بْنُ عَجْلاَنَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الْحَنَفِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَاعَ حِلْسًا وَقَدَحًا وَقَالَ " مَنْ يَشْتَرِي هَذَا الْحِلْسَ وَالْقَدَحَ " . فَقَالَ رَجُلٌ أَخَذْتُهُمَا بِدِرْهَمٍ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ يَزِيدُ عَلَى دِرْهَمٍ مَنْ يَزِيدُ عَلَى دِرْهَمٍ " فَأَعْطَاهُ رَجُلٌ دِرْهَمَيْنِ فَبَاعَهُمَا مِنْهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ الأَخْضَرِ بْنِ عَجْلاَنَ . وَعَبْدُ اللَّهِ الْحَنَفِيُّ الَّذِي رَوَى عَنْ أَنَسٍ هُوَ أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ لَمْ يَرَوْا بَأْسًا بِبَيْعِ مَنْ يَزِيدُ فِي الْغَنَائِمِ وَالْمَوَارِيثِ . وَقَدْ رَوَى الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْحَدِيثِ عَنِ الأَخْضَرِ بْنِ عَجْلاَنَ هَذَا الْحَدِيثَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১২২১. হুমায়দ ইবনে মাসআদা (রাহঃ) ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী(ﷺ) একবার এক খণ্ড (উটের পিঠের) নীচে বিছানোর কাপড় ও কাঠের পেয়ালা বিক্রি করেন। তিনি বলেন, এই কাপড় ও পেয়ালা কে খরীদ করবে? এক ব্যক্তি বলল আমি উভয়টিকে এক দিরহামে নিলাম। নবী (ﷺ) বললেন, এক দিরহামের অধিক কে দিতে পারবে? এক দিরহামের অধিক কে দিতে পারবে? তখন এক ব্যক্তি দুই দিরহাম দিল। অনন্তর তিনি তার কাছেই এ দুটি জিনিস বিক্রি করে দিলেন। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। আখযার ইবনে আজলানের সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা জানি না। আব্দুল্লাহ হানাফী নামক যে রাবী আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি হলেন, আবু বকর হানাফী (রাহঃ)। কতক আলিম এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। গনিমত সম্পদ ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ সকল ক্ষেত্রেই নিলামে ডাকে বিক্রিতে কোন অসুবিধা আছে বলে তাঁরা মনে করেন না। মু’তামির ইবনে সুলাইমান এবং আরো একাধিক এই হাদীসটিকে আখযার ইবনে আজলান (রাহঃ) সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন।

মুদাববার* বিক্রি প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي بَيْعِ الْمُدَبَّرِ

1219

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الأَنْصَارِ دَبَّرَ غُلاَمًا لَهُ فَمَاتَ وَلَمْ يَتْرُكْ مَالاً غَيْرَهُ فَبَاعَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَاشْتَرَاهُ نُعَيْمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ النَّحَّامِ . قَالَ جَابِرٌ عَبْدًا قِبْطِيًّا مَاتَ عَامَ الأَوَّلِ فِي إِمَارَةِ ابْنِ الزُّبَيْرِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ لَمْ يَرَوْا بِبَيْعِ الْمُدَبَّرِ بَأْسًا . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَكَرِهَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ بَيْعَ الْمُدَبَّرِ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكٍ وَالأَوْزَاعِيِّ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১২২২. ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক আনসারী তার একটি গোলামকে মুদাববার বানায়। পরে ঐ ব্যক্তি মারা যায়। কিন্তু এই গোলামটি ছাড়া সে আর কোন সম্পদ রেখে যায়নি। তখন নবী (ﷺ)-একে বিক্রি করে দেন। নুআয়ম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নাহহাম একে খরীদ করেন। জাবির (রাযিঃ) বলেন, এটি ছিল একজন কিবতী গেলাম। সে ইবনুয- যুবাইর এর খিলাফতের প্রথম বছরে মারা যায়। - বুখারি, মুসলিম,

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এটি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিমপর আলিমগণের, এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। তাঁরা মুদাববার বিক্রি করায় কোন দোষ মনে করেন না। এ হলো ইমাম শাফিঈ, আহমাদ (রাহঃ) এর অভিমত। সাহাবী ও অপর একদল আলিম ‘মুদাববার’ বিক্রি করা নাজায়েয বলেন। এ হলো ইমাম সুফিয়ান ছাওরী, মালিক ও আওযাঈ (রাহঃ) এর অভিমত।

* মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত করে দাস আযাদ করা। যেমন, কেউ বলল, আমি মারা গেলে তুমি আযাদ। এই ধরণের আযদকৃত দাসকে "মুদাব্বার" বলা হয়।

বহিরাগত বিক্রেতার সঙ্গে সাক্ষাত নিষিদ্ধ।*

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ تَلَقِّي الْبُيُوعِ

1220

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ نَهَى عَنْ تَلَقِّي الْبُيُوعِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عُمَرَ وَرَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১২২৩. হান্নাদ (রাহঃ) ....... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) স্বল্প মূল্যে ক্রয়ের জন্য বহিরাগত বিক্রেতার সঙ্গে সাক্ষাত নিষিদ্ধ করেছেন। - ইবনে মাজাহ, মুসলিম

এই বিষয়ে আলী, ইবনে আব্বাস, আবু হুরায়রা, আবু সাঈদ, ইবনে উমর এবং নবী (ﷺ)-এর জনৈক সাহাবী (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।

*পন্য মালিক বা তেজারতী কাফেলা শহরে পৌঁছার পূর্বেই শহরের প্রকৃত মূল্য গোপন করে অধিক মুনাফার লোভে পন্য ক্রয় করা। এতে শহরবাসী সাধারণ ক্রেতাদের স্বার্থ বিনষ্ট হয় এবং দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায় বলে শরীয়তে তা নিষেধ করা হয়েছে।

বহিরাগত বিক্রেতার সঙ্গে সাক্ষাত নিষিদ্ধ।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ تَلَقِّي الْبُيُوعِ

1221

حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو الرَّقِّيُّ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يُتَلَقَّى الْجَلَبُ فَإِنْ تَلَقَّاهُ إِنْسَانٌ فَابْتَاعَهُ فَصَاحِبُ السِّلْعَةِ فِيهَا بِالْخِيَارِ إِذَا وَرَدَ السُّوقَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَيُّوبَ وَحَدِيثُ ابْنِ مَسْعُودٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ كَرِهَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ تَلَقِّيَ الْبُيُوعِ وَهُوَ ضَرْبٌ مِنَ الْخَدِيعَةِ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَغَيْرِهِ مِنْ أَصْحَابِنَا .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১২২৪. সালামা ইবনে শাবীব (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী বহিরাগত আমদানী কারকের সঙ্গে সাক্ষাত করা নিষিদ্ধ করেছেন। কেউ যদি পন্য মালিকের সঙ্গে আগাম সাক্ষাত করে একভাবে কোন পন্য খরীদ করে তবে পন্য মালিক বাজারে আসার পর তার পূর্বে বিক্রি ভঙ্গ করার ইখতিয়ার থাকবে। - ইবনে মাজাহ, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আইয়ুব (রাহঃ) সূত্রে বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-গারীব। ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) -এর বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। একদল আলিম বহিরাগত বিক্রেতার সঙ্গে সাক্ষাত অবৈধ বলেছেন। এতো এক ধরনের প্রতারণা। এ হলো ইমাম শাফিঈ ও আমাদের অন্যান্য ইমামগণের অভিমত।

গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসী বিক্রয় করবেনা।

باب مَا جَاءَ لاَ يَبِيعُ حَاضِرٌ لِبَادٍ

1222

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ قُتَيْبَةُ يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَبِيعُ حَاضِرٌ لِبَادٍ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ طَلْحَةَ وَجَابِرٍ وَأَنَسٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَحَكِيمِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ عَنْ أَبِيهِ وَعَمْرِو بْنِ عَوْفٍ الْمُزَنِيِّ جَدِّ كَثِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَرَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১২২৫. কুতায়বা ও আহমাদ ইবনে মানী’ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, শহরবাসী কোন গ্রামবাসীর পক্ষ হয়ে বিক্রি করবে না।* - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

এই বিষয়ে তালহা, আনাস, জাবির, ইবনে আব্বাস, হাকীম ইবনে আবু ইয়াযীদ তৎপিতা আবু ইয়াযীদ, কাছীর ইবনে আব্দুল্লাহর পিতামহ আমর ইবনে আওফ মুযানী এবং নবী (ﷺ)-এর জনৈক সাহাবী (রাযিঃ) থেকেও এই বিষয়ে হাদীস বর্ণিত আছে।

*গ্রামবাসীরাই সাধারণত উৎপাদনকারী হতেন। তাদের সারল্যের সুযোগ নিয়ে কোন কোন শহরবাসী অল্প মূল্য দেখিয়ে তাদেরকে প্রবঞ্চিত করত। বা গ্রামবাসীরা সরাসরি শহরে এসে বিক্রি করলে স্বাভাবিকভাবেই শহরবাসীকে সাধারণভাবে উচ্চ মূল্য দিতে হত না। কিন্তু ফড়িয়া মধ্যসত্তীরা গ্রামবাসীদের থেকে নিয়ে নিজেরা দালালী করে বাজার দর বাড়িয়ে ফেলত। তাই নবী সাধারণভাবে এ থেকে নিষেধ করেছেন।

গ্রামবাসীর পক্ষে শহরবাসী বিক্রয় করবে না।

باب مَا جَاءَ لاَ يَبِيعُ حَاضِرٌ لِبَادٍ

1223

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَبِيعُ حَاضِرٌ لِبَادٍ دَعُوا النَّاسَ يَرْزُقُ اللَّهُ بَعْضَهُمْ مِنْ بَعْضٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَحَدِيثُ جَابِرٍ فِي هَذَا هُوَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ أَيْضًا . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ كَرِهُوا أَنْ يَبِيعَ حَاضِرٌ لِبَادٍ . وَرَخَّصَ بَعْضُهُمْ فِي أَنْ يَشْتَرِيَ حَاضِرٌ لِبَادٍ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ يُكْرَهُ أَنْ يَبِيعَ حَاضِرٌ لِبَادٍ وَإِنْ بَاعَ فَالْبَيْعُ جَائِزٌ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১২২৬. নসর ইবনে আলী ও আহমাদ ইবনে মানী (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, কোন শহরবাসী কোন গ্রামবাসীর পক্ষ হয়ে বিক্রয় করবে না। মানুষকে তাদের স্বাভাবিকতার উপরই ছেড়ে দাও, যেন আল্লাহ্ তাআলা তাদের একের দ্বারা অন্যের রিযিকের ব্যবস্থা করেন। - ইবনে মাজাহ, বুখারি, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান- সহীহ। এই বিষয়ে জাবির (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি ও হাসান-সহীহ। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের এই হাদীসের মর্মানুসারে আমল রয়েছে। তাঁরা কোন গ্রামবাসীর পক্ষ হয়ে শহরবাসীর বিক্রয় করা না-জায়েয বলেন। আবার তাঁদের কেউ কেউ গ্রামবাসীর পক্ষ হয়ে কোন শহরবাসীর কিছু ক্রয় করে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, গ্রামবাসীর পক্ষ হয়ে শহরবাসীর বিক্রয় করা মাকরূহ। তবে যদি বিক্রয় করে দেয় তবে বিক্রয় কার্যকরী হবে।

"মুহাকালা" এবং "মুযাবানা" নিষিদ্ধ।

باب مَا جَاءَ فِي النَّهْىِ عَنِ الْمُحَاقَلَةِ، وَالْمُزَابَنَةِ،

1224

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الإِسْكَنْدَرَانِيُّ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَسَعْدٍ وَجَابِرٍ وَرَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ وَأَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْمُحَاقَلَةُ بَيْعُ الزَّرْعِ بِالْحِنْطَةِ . وَالْمُزَابَنَةُ بَيْعُ الثَّمَرِ عَلَى رُءُوسِ النَّخْلِ بِالتَّمْرِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا بَيْعَ الْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১২২৭. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুহাকালা এবং মুযাবানা থেকে নিষেধ করেছেন।

এই বিষয়ে ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস, যায়দ ইবনে ছাবিত, সা’দ, জাবির, রাফি, ইবনে খাদীজ ও আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। মুহাকালা হল, হস্তস্থিত গমের বিনিময়ে ক্ষেত্রস্থিত শস্য বিক্রয় করা। মুযাবানা হল, শুকনা খেজুরের বিনিময়ে গাছের খেজুর বিক্রি করা। এই হাদীস অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। তাঁরা মুহাকালা ও মুযাবানা জাতীয় বিক্রয় না-জায়েয বলে মতে প্রকাশ করেছেন।
1225
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، أَنَّ زَيْدًا أَبَا عَيَّاشٍ، سَأَلَ سَعْدًا عَنِ الْبَيْضَاءِ، بِالسُّلْتِ فَقَالَ أَيُّهُمَا أَفْضَلُ قَالَ الْبَيْضَاءُ . فَنَهَى عَنْ ذَلِكَ . وَقَالَ سَعْدٌ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُسْأَلُ عَنِ اشْتِرَاءِ التَّمْرِ بِالرُّطَبِ فَقَالَ لِمَنْ حَوْلَهُ " أَيَنْقُصُ الرُّطَبُ إِذَا يَبِسَ " . قَالُوا نَعَمْ . فَنَهَى عَنْ ذَلِكَ .
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ زَيْدٍ أَبِي عَيَّاشٍ، قَالَ سَأَلْنَا سَعْدًا فَذَكَرَ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَصْحَابِنَا .

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

১২২৮. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, যায়দ আবু আয়্যাশ একবার সা’দকে খোসাহীন যবের বিনিময়ে গম বিক্রয় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি বললেন, এই দুটির মাঝে উত্তম কোনটি? আবু আয়্যাশ বললেন, গমই তো উত্তম। তারপর তিনি তা নিষিদ্ধ করে দিলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে তাজা খেজুরের বিনিয়ে শুকনা খেজুর বিক্রি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি পার্শ্ববর্তী লোকদের জিজ্ঞাসা করলেন, তাজা খেজুর শুকালে কি কমে যায়। তারা বলল, হ্যাঁ। তিনি তখন তা নিষেধ করে দিলেন। - ইবনে মাজাহ

হান্নাদ (রাহঃ) সা’দ (রাযিঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এতদনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। এ হলো ইমাম শাফিঈ ও তাঁর অনুসারীদের অভিমত।

গাছের ফল ডাগর ডোগর হওয়ার পূর্বে বিক্রি জায়েয নয়।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ بَيْعِ الثَّمَرَةِ حَتَّى يَبْدُوَ صَلاَحُهَا

1226

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ النَّخْلِ حَتَّى يَزْهُوَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২২৯. আহমদ ইবনে মানী (রাহঃ) ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) গাছের খেজুর লাল বা হলদে না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি নিষেধ করেছেন।

1227

وَبِهَذَا الإِسْنَادِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ السُّنْبُلِ حَتَّى يَبْيَضَّ وَيَأْمَنَ الْعَاهَةَ نَهَى الْبَائِعَ وَالْمُشْتَرِيَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَعَائِشَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَجَابِرٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ كَرِهُوا بَيْعَ الثِّمَارِ قَبْلَ أَنْ يَبْدُوَ صَلاَحُهَا . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২৩০. উক্ত সনদে বর্ণিত আছে যে, নবী (ﷺ) শস্যদানা সাদা ও নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত শীশের শস্য বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই তিনি তা করতে নিষেধ করেছেন।

এই বিষয়ে আনাস, আয়িশা, আবু হুরায়রা, ইবনে আব্বাস, জাবির, আবু সাঈদ ও যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) থেকেও হাদীসটি বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। নবী (ﷺ) এর সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। তারা ফল উপযুক্ত না হওয়ার পূর্বে তা বিক্রি করা জায়েয নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন। এ হলো ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত।
1228

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، وَعَفَّانُ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ الْعِنَبِ حَتَّى يَسْوَدَّ وَعَنْ بَيْعِ الْحَبِّ حَتَّى يَشْتَدَّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১২৩১. হাসান ইবনে আলী খাললাল (রাহঃ) ...... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আঙ্গুর কালচে না হওয়া পর্যন্ত এবং শস্যদানা শক্ত না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। হাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ)-এর সূত্র ছাড়া এটি মারফূ’রূপে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নাই।

কোন জন্তুুর গর্ভস্থ বাচ্চার গর্ভ থেকে ভূমিষ্ট বাচ্চা বিক্রি করা।

باب مَا جَاءَ فِي النَّهْىِ عَنْ بَيْعِ، حَبَلِ الْحَبَلَةِ

1229

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ حَبَلِ الْحَبَلَةِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَحَبَلُ الْحَبَلَةِ نِتَاجُ النِّتَاجِ وَهُوَ بَيْعٌ مَفْسُوخٌ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ مِنْ بُيُوعِ الْغَرَرِ . وَقَدْ رَوَى شُعْبَةُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ . وَرَوَى عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ وَغَيْرُهُ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ وَنَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَهَذَا أَصَحُّ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২৩২. কুতায়বা (রাহঃ) ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) গর্ভস্থ বাচ্চার গর্ভ থেকে ভূমিষ্ট বাচ্চা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। - ইবনে মাজাহ, বুখারি, মুসলিম

এই বিষয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীস অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। ‘হাবালুল হাবালা’-এর অর্থ হলো বাচ্চার বাচ্চা। আলিমগণের মতে এই ধরণের বিক্রি বাতিল। এ হলো প্রবঞ্চনামূলক বিক্রির অন্তর্ভক্ত। শু’বা (রাহঃ) এই হাদীসটিকে আইয়ুব-সাঈদ ইবনে জুবাইর- ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আব্দুল ওয়াহ্হাব ছাকাফী প্রমুখ আইয়ুব-সাঈদ ইবনে জুবাইর ও নাফি- ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এটাই অধিকতর সহীহ।

প্রবঞ্চনামূলক বিক্রি হারাম।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ بَيْعِ الْغَرَرِ

1230

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، أَنْبَأَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الْغَرَرِ وَبَيْعِ الْحَصَاةِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا بَيْعَ الْغَرَرِ . قَالَ الشَّافِعِيُّ وَمِنْ بُيُوعِ الْغَرَرِ بَيْعُ السَّمَكِ فِي الْمَاءِ وَبَيْعُ الْعَبْدِ الآبِقِ وَبَيْعُ الطَّيْرِ فِي السَّمَاءِ وَنَحْوُ ذَلِكَ مِنَ الْبُيُوعِ . وَمَعْنَى بَيْعِ الْحَصَاةِ أَنْ يَقُولَ الْبَائِعُ لِلْمُشْتَرِي إِذَا نَبَذْتُ إِلَيْكَ بِالْحَصَاةِ فَقَدْ وَجَبَ الْبَيْعُ فِيمَا بَيْنِي وَبَيْنَكَ . وَهَذَا شَبِيهٌ بِبَيْعِ الْمُنَابَذَةِ وَكَانَ هَذَا مِنْ بُيُوعِ أَهْلِ الْجَاهِلِيَّةِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১২৩৩. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) প্রবঞ্চনামূলক বিক্রি এবং কংকর নিক্ষেপের* মাধ্যমে বিক্রি নিষেধ করেছেন। - ইবনে মাজাহ, মুসলিম

এই বিষয়ে ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস আবু সাঈদ ও আনাস (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে।। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীস অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। তাঁরা প্রবঞ্চনামূলক বিক্রি নাজায়েয বলে মত প্রকাশ করেছেন। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, পানিতে রেখে মাছ বিক্রি করা, পলাতক গোলাম বিক্রি করা, আকাশের পাখি বিক্রি করা ইত্যাদি হলো প্রবঞ্চনামূলক বিক্রির অন্তর্ভক্ত। 'হাসাত' বিক্রয় হলো, বিক্রেতা ক্রেতাকে বলল, তোমার প্রতি যখন কংকর নিক্ষেপ করব তখন তোমার ও আমার মাঝে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়ে গেছে বলে গণ্য হবে। এই ধরণের বিক্রয় ‘মুনাবাযা’ বিক্রির সদৃশ। এগুলো ছিল জাহিলী আমলের বিক্রির প্রথা।

* জাহিলী যুগে রীতি ছিল যে, বিক্রেতা বলতঃ এই বস্তুগুলোর মধ্যে যেটিতে আমার নিক্ষিপ্ত কংকর পড়বে সেটি তোমার কাছে বিক্রি করলাম। একে 'হাসাত' বলা হয়। বিস্তারিত ফিকহগ্রন্থ সমূহে দেখুন।

একই বিক্রীতে দুই বিক্রি নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي النَّهْىِ عَنْ بَيْعَتَيْنِ، فِي بَيْعَةٍ

1231

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعَتَيْنِ فِي بَيْعَةٍ . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَابْنِ عُمَرَ وَابْنِ مَسْعُودٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَقَدْ فَسَّرَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا بَيْعَتَيْنِ فِي بَيْعَةٍ . أَنْ يَقُولَ أَبِيعُكَ هَذَا الثَّوْبَ بِنَقْدٍ بِعَشَرَةٍ وَبِنَسِيئَةٍ بِعِشْرِينَ وَلاَ يُفَارِقُهُ عَلَى أَحَدِ الْبَيْعَيْنِ فَإِذَا فَارَقَهُ عَلَى أَحَدِهِمَا فَلاَ بَأْسَ إِذَا كَانَتِ الْعُقْدَةُ عَلَى وَاحِدٍ مِنْهُمَا . قَالَ الشَّافِعِيُّ وَمِنْ مَعْنَى نَهْىِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعَتَيْنِ فِي بَيْعَةٍ أَنْ يَقُولَ أَبِيعُكَ دَارِي هَذِهِ بِكَذَا عَلَى أَنْ تَبِيعَنِي غُلاَمَكَ بِكَذَا فَإِذَا وَجَبَ لِي غُلاَمُكَ وَجَبَ لَكَ دَارِي . وَهَذَا يُفَارِقُ عَنْ بَيْعٍ بِغَيْرِ ثَمَنٍ مَعْلُومٍ وَلاَ يَدْرِي كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا عَلَى مَا وَقَعَتْ عَلَيْهِ صَفْقَتُهُ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১২৩৪. হান্নাদ (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-একই বিক্রিতে দুই বিক্রি নিষেধ করেছেন।

এই বিষয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, ইবনে উমর ও ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীস অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। কতক আলিম এই হাদীসটির ভাষ্য করেছেন। তাঁরা বলেন, এক বিক্রিতে দুই বিক্রি শামিল কর’ কথাটির মর্ম হলো, যেমন কোন বিক্রেতা বলল, এই কাপড়টি তোমার কাছে নগদে দশ দিরহাম আর বাকীতে বিশ দিরহামে বিক্রি করলাম। এই দুটো বিক্রির মাঝে সে কিছুর ব্যবধান করল না। কিন্তু যদি একটিকেও সে আলাদা করে নেয় এবং একটি প্রস্তাবের উপর চুক্তি হয়ে যায় তবে এতে কোন দোষ নেই।

ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, নবী (ﷺ) এক বিক্রিতে দুই বিক্রি শামিল নিষিদ্ধ করেছেন। এর উদাহরণ হল, কেউ বলল, আমি তোমার নিকট আমার এই বাড়িটি এত মূল্যে বিক্রি করলাম এই শর্তে যে, তুমি আমার নিকট তোমার গোলামটিকে এত মূল্যে বিক্রি করবে, যখন তোমার গোলাম অনিবার্যভাবে আমার হবে, আমার বাড়িটিও তোমার জন্য অনিবার্য হবে। এ হলো মূল্য নির্ধারণের পূর্বেই বিক্রি চুক্তি থেকে বিচ্চিন্ন হওয়ার শামিল। এদের কেউ জানতে পারলনা যে, কিসের উপর চুক্তি সম্পাদিত হলো। (তাই এটি জায়েয নয়)।

যা অধিকারে নেই তা বিক্রি করা নিষেধ।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ بَيْعِ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ

1232

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَأْتِينِي الرَّجُلُ يَسْأَلُنِي مِنَ الْبَيْعِ مَا لَيْسَ عِنْدِي أَبْتَاعُ لَهُ مِنَ السُّوقِ ثُمَّ أَبِيعُهُ قَالَ " لاَ تَبِعْ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ .

Narrator: হাকীম ইবনে হিযাম (রাঃ)

১২৩৫. কুতায়বা (রাহঃ) ...... হাকীম ইবনে হিযাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আমার কাছে কোন কোন লোক এসে এমন জিনিসও কিনতে চায় যা আমার কাছে নেই। এমতাবস্থায় আমি কি তার জন্য বাজার থেকে কিনে পরে তার নিকট বিক্রি করতে পারি? নবী (ﷺ) বলেছেন, যা তোমার হাতে নেই তা বিক্রি করবে না। এই বিষয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।

1233

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، قَالَ نَهَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَبِيعَ مَا لَيْسَ عِنْدِي . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ قُلْتُ لأَحْمَدَ مَا مَعْنَى نَهَى عَنْ سَلَفٍ وَبَيْعٍ قَالَ أَنْ يَكُونَ يُقْرِضُهُ قَرْضًا ثُمَّ يُبَايِعُهُ عَلَيْهِ بَيْعًا يَزْدَادُ عَلَيْهِ وَيَحْتَمِلُ أَنْ يَكُونَ يُسْلِفُ إِلَيْهِ فِي شَيْءٍ فَيَقُولُ إِنْ لَمْ يَتَهَيَّأْ عِنْدَكَ فَهُوَ بَيْعٌ عَلَيْكَ . قَالَ إِسْحَاقُ يَعْنِي ابْنَ رَاهَوَيْهِ كَمَا قَالَ قُلْتُ لأَحْمَدَ وَعَنْ بَيْعِ مَا لَمْ تَضْمَنْ قَالَ لاَ يَكُونُ عِنْدِي إِلاَّ فِي الطَّعَامِ مَا لَمْ تَقْبِضْ . قَالَ إِسْحَاقُ كَمَا قَالَ فِي كُلِّ مَا يُكَالُ أَوْ يُوزَنُ . قَالَ أَحْمَدُ إِذَا قَالَ أَبِيعُكَ هَذَا الثَّوْبَ وَعَلَىَّ خِيَاطَتُهُ وَقَصَارَتُهُ فَهَذَا مِنْ نَحْوِ شَرْطَيْنِ فِي بَيْعٍ وَإِذَا قَالَ أَبِيعُكَهُ وَعَلَىَّ خِيَاطَتُهُ فَلاَ بَأْسَ بِهِ أَوْ قَالَ أَبِيعُكَهُ وَعَلَىَّ قَصَارَتُهُ فَلاَ بَأْسَ بِهِ إِنَّمَا هُوَ شَرْطٌ وَاحِدٌ . قَالَ إِسْحَاقُ كَمَا قَالَ .

Narrator: হাকীম ইবনে হিযাম (রাঃ)

১২৩৬. কুতায়বা (রাহঃ) ...... হাকীম ইবনে হিযাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যা আমার হাতে নেই তা বিক্রি করতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে নিষেধ করেছেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) বলেন, আমি আহমাদ ইবনে হাম্বাল (রাহঃ)-কে বললাম, ‘একই সঙ্গে ঋণ ও বিক্রয় করা তিনি নিষেধ করেছেন’’-এর অর্থ কি? তিনি বললেন, কাউকে ঋণ প্রদানের পর অতিরিক্ত মূল্যে তার নিকট কিছু বিক্রয় করা। কিংবা এর উদাহরণ এটিও হতে পারে যে, কোন কিছু (রেহেন) রেখে কাউকে কিছু কর্য দিল এবং বলল, যদি ঋণ আদায়ের ব্যবস্থা করতে না পার তবে ঐ জিনিসটি বিক্রীত বলে গণ্য হবে।

ইসহাক (রাহঃ) আরো বলেন, আমি আহমদ (রাহঃ)-কে বললাম, লোকসানের দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত বিক্রয় হয় না’’-এই কথার মর্ম কি? তিনি বললেন, আমার মতে খাদ্য দ্রব্যের ক্ষেত্রেই কেবল এটি প্রযোজ্য। অর্থাৎ হস্তগত না করা পর্যন্ত-এর বিক্রয় জায়েয নয়। ইসহাক (রাহঃ) বলেন, দাড়িপাল্লা বা পাত্র দ্বারা যে সব দ্রব্য ওজন করা হয় সেই সবই এর মধ্যে শামিল।

আহমাদ (রাহঃ) বলেন, যদি কেউ বলে, এই কাপড়টি তোমার নিকট বিক্রয় করলাম আর এটি সেলাই করা এবং ধুয়ে দেওয়া আমার দায়িত্ব। এরূপ করা একই বিক্রয়ে দুই শর্ত করার শামিল। আর যদি বলে, ‘‘এটি আমি তোমার নিকট বিক্রি করলাম, আমার দায়িত্ব″ তবে এতে দোষ নেই। যদি বলে এটি তোমার নিকট বিক্রয় করলাম, আমার দায়িত্ব হলো এটি ধৌত করে দেওয়া’’ তবুও কোন দোষ নাই। কারণ এ হলো একটি শর্ত।
1234

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ أَبِيهِ، حَتَّى ذَكَرَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَحِلُّ سَلَفٌ وَبَيْعٌ وَلاَ شَرْطَانِ فِي بَيْعٍ وَلاَ رِبْحُ مَا لَمْ يُضْمَنْ وَلاَ بَيْعُ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ قَدْ رُوِيَ عَنْهُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ . رَوَى أَيُّوبُ السَّخْتِيَانِيُّ وَأَبُو بِشْرٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عَوْفٌ وَهِشَامُ بْنُ حَسَّانَ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَهَذَا حَدِيثٌ مُرْسَلٌ إِنَّمَا رَوَاهُ ابْنُ سِيرِينَ عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১২৩৭. আহমাদ ইবনে মানী (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, এক সঙ্গে ঋণ ও বিক্রি হালাল নয়। এক বিক্রিতে দুই ধরণের শর্ত করা এবং যিমান’ বা লোকসানের দায়িত্ব না নেয়া পর্যন্ত লাভ জায়েয নয়। আর তোমার হাতে যা নেই তা বিক্রি করাও বৈধ নয়। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ), বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, হাকীম ইবনে হিযাম (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। একাধিক সূত্রে এটি বর্ণিত আছে। আইয়ুব আস-সাখতিয়ানী ও হিশাম ইবনে হাসসান (রাহঃ) এটিকে ইবনে সীরীন- হাকীম ইবনে হিযাম সূত্রে - নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন, এই সনদটি মুরসাল। আসলে সনদটি হলো ইবনে সীরীন (রাহঃ) এটিকে আইয়ুব আস সাখতিয়ানী-ইউসূফ ইবনে মাহাক-হামীক ইবনে হিযাম (রাযিঃ) সূত্রে অনূরূপ রিওয়ায়াত করেছেন।
1235

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، وَعَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخُزَاعِيُّ الْبَصْرِيُّ أَبُو سَهْلٍ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، قَالَ نَهَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَبِيعَ مَا لَيْسَ عِنْدِي . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى وَكِيعٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ . وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ وَرِوَايَةُ عَبْدِ الصَّمَدِ أَصَحُّ . وَقَدْ رَوَى يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ يَعْلَى بْنِ حَكِيمٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِصْمَةَ عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا أَنْ يَبِيعَ الرَّجُلُ مَا لَيْسَ عِنْدَهُ .

Narrator: হাকীম ইবনে হিযাম (রাঃ)

১২৩৮. হাসান ইবনে আলী খাল্লাল, আব্দা ইবনে আব্দুল্লাহ ও অন্যেরা (রাহঃ) ...... হাকীম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যা আমার হাতে নেই তা বিক্রি করতে নবী (ﷺ) আমাকে নিষেধ করেছেন।

ওয়াকী’ (রাহঃ) এই হাদীসটিকে ইয়াযীদ ইবনে ইবরাহীম-ইবনে সীরীন-আইয়ুব-হাকীম ইবনে হিযাম (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তবে এই সনদে ইউসূফ ইবনে মাহাক-এর উল্লেখ নেই। আব্দুস-সামাদ (রাহঃ)-এর রিওয়ায়াতটি অধিকতর সহীহ। ইয়াহয়া ইবনে আবী কাছির এই হাদীসটি ইয়া’লা ইবনে হাকীম-ইউসূফ ইবনে মাহাক-আব্দুল্লাহ ইবনে ইসমা-হাকীম ইবনে হিযাম সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। অধিকাংশ আলিমের আমল এই হাদীস অনুসারে রয়েছে। তাঁরা যে জিনিস হাতে নাই তা বিক্রি করা অপছন্দনীয় বলে মত প্রকাশ করেছেন।

"ওয়ালা"* বিক্রি করা ও হেবা করা নিষিদ্ধ।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ بَيْعِ الْوَلاَءِ وَهِبَتِهِ

1236

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، وَشُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ الْوَلاَءِ وَهِبَتِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ . وَقَدْ رَوَى يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ نَهَى عَنْ بَيْعِ الْوَلاَءِ وَهِبَتِهِ . وَهُوَ وَهَمٌ وَهِمَ فِيهِ يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ . وَرَوَى عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ سُلَيْمٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২৩৯. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) ওয়ালা বিক্রি করা এবং তা হেবা করা নিষেধ করেছেন। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার- ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্র ছাড়া এটি এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না। আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। ইয়াহয়া ইবনে সুলায়ম এই হাদীসটিকে উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর-নাফি-ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ‘ওয়ালা’ বিক্রি ও তা হেবা করা নিষেধ করেছেন। কিন্তু এই সনদটিতে বিভ্রান্তি বিদ্যমান। এতে (উবাইদুল্লাহ্ ইবনে উমর ও আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) এর মাঝে নাফি’-এর উল্লেখ করে) ইয়াহয়া ইবনে সুলাইমান ভূল করেছেন। আব্দুল ওয়াহহাব ছাকাফী, আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর প্রমূখ এটিকে উবাইদুল্লাহ্ ইবনে উমর-আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার -ইবনে উমর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি ইয়াহয়া ইবনে সুলায়ম (রাহঃ) এর রিওয়ায়াত থেকে অধিকতর সহীহ।

*ক্রীতদাস আযাদ করার পর মালিকের যে অধিকার থাকে তাকে "ওয়ালা” অধিকার বলে। ওয়ারিসানের ক্রয় তালিকায় মাওলা বা আযাদকর্তাও অন্তর্ভুক্ত।

বাকীতে কোন জন্তুর বিনিময়ে জন্তুু বিক্রি করা।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ بَيْعِ الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ نَسِيئَةً

1237

حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، مُحَمَّدُ بْنُ مُثَنَّى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ نَسِيئَةً . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَجَابِرٍ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سَمُرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَسَمَاعُ الْحَسَنِ مِنْ سَمُرَةَ صَحِيحٌ هَكَذَا قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ وَغَيْرُهُ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ فِي بَيْعِ الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ نَسِيئَةً وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ . وَقَدْ رَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ فِي بَيْعِ الْحَيَوَانِ بِالْحَيَوَانِ نَسِيئَةً وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَإِسْحَاقَ .

Narrator: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

১২৪০. আবু মুসা মুহাম্মাদ ইবনে মুছাননা (রাহঃ) ..... সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বাকীতে কোন জন্তুর বিনিময়ে জন্তু বিক্রি করা নিষেধ করেছেন। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস, জাবির, ও ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। সামুরা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। সামুরা (রাযিঃ) থেকে হাসান (রাহঃ) এর হাদীস শ্রবণও সত্য। আলী ইবনে মাদীনী ও অন্যান্যরাও এরূপ বলেছেন। বাকীতে জন্তুর বিনিময়ে জন্তু বিক্রি করা সম্পর্কে অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের আমল এই হাদীস অনুসারে রয়েছে। এ হলো ইমাম সুফিয়ান ছাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণের অভিমত। ইমাম আহমাদ (রাহঃ) ও এরূপ বক্তব্য প্রদান করেছেন। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম বাকীতে কোন জন্তুর বিনিময়ে কোন জন্তু বিক্রি করার অবকাশ রেখেছেন। এ হলো ইমাম শাফিঈ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত।
1238

حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنِ الْحَجَّاجِ، وَهُوَ ابْنُ أَرْطَاةَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْحَيَوَانُ اثْنَانِ بِوَاحِدٍ لاَ يَصْلُحُ نَسِيئًا وَلاَ بَأْسَ بِهِ يَدًا بِيَدٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১২৪১. আবু আম্মার হুসাইন ইবনে হুরায়ছ (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, এক জন্তুর বিনিময়ে দুটো জন্তু বিক্রি বাকীতে ঠিক নয়, তবে দস্তবদস্ত (নগদ) হলে তাতে কোন দোষ নাই। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

দুটি দাসের বিনিময়ে একটি দাস ক্রয়।

باب مَا جَاءَ فِي شِرَاءِ الْعَبْدِ بِالْعَبْدَيْنِ

1239

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ جَاءَ عَبْدٌ فَبَايَعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْهِجْرَةِ وَلاَ يَشْعُرُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ عَبْدٌ فَجَاءَ سَيِّدُهُ يُرِيدُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " بِعْنِيهِ " . فَاشْتَرَاهُ بِعَبْدَيْنِ أَسْوَدَيْنِ ثُمَّ لَمْ يُبَايِعْ أَحَدًا بَعْدُ حَتَّى يَسْأَلَهُ أَعَبْدٌ هُوَ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُ لاَ بَأْسَ بِعَبْدٍ بِعَبْدَيْنِ يَدًا بِيَدٍ . وَاخْتَلَفُوا فِيهِ إِذَا كَانَ نَسِيئًا .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১২৪২. কুতায়বা (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি দাস নবী (ﷺ) এর কাছে এসে তাঁর কাছে হিজরতের উপর বায়আত হয়। সে যে একজন দাস এই কথা নবী (ﷺ) বুঝতে পারেন নি। অনন্তর এই দাসটির মালিক এসে এটিকে নিয়ে যেতে চাইলে। তখন নবী (ﷺ) তাকে বললেন, এটি আমার কাছে বিক্রি করে দাও। অনন্তর তিনি এটিকে দুজন কাল গোলামের বিনিময়ে কিনে নেন। এরপর থেকে তিনি, গোলাম কি-না এই কথা জিজ্ঞাসা না করে কাউকে বায়আত করতেন না। - মুসলিম

এই বিষয়ে আনাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। এতদনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে যে দস্ত বদস্ত (নগদ) হলে দুজন দাসের বিনিময়ে একজন দাস ক্রয়ে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু বাকীতে হলে তাদের মতবিরোধ রয়েছে।

গমের বিনিময়ে গম ক্রয়ের ক্ষেত্রে সমপরিমাণ হতে হবে। এতে অতিরিক্ত প্রদান হারাম।

باب مَا جَاءَ أَنَّ الْحِنْطَةَ بِالْحِنْطَةِ مِثْلاً بِمِثْلٍ وَكَرَاهِيَةِ التَّفَاضُلِ فِيهِ

1240

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ مِثْلاً بِمِثْلٍ وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ مِثْلاً بِمِثْلٍ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ مِثْلاً بِمِثْلٍ وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ مِثْلاً بِمِثْلٍ وَالْمِلْحُ بِالْمِلْحِ مِثْلاً بِمِثْلٍ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ مِثْلاً بِمِثْلٍ فَمَنْ زَادَ أَوِ ازْدَادَ فَقَدْ أَرْبَى بِيعُوا الذَّهَبَ بِالْفِضَّةِ كَيْفَ شِئْتُمْ يَدًا بِيَدٍ وَبِيعُوا الْبُرَّ بِالتَّمْرِ كَيْفَ شِئْتُمْ يَدًا بِيَدٍ وَبِيعُوا الشَّعِيرَ بِالتَّمْرِ كَيْفَ شِئْتُمْ يَدًا بِيَدٍ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَبِلاَلٍ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عُبَادَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ خَالِدٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ " بِيعُوا الْبُرَّ بِالشَّعِيرِ كَيْفَ شِئْتُمْ يَدًا بِيَدٍ " . وَرَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ خَالِدٍ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ عَنْ عُبَادَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْحَدِيثَ وَزَادَ فِيهِ قَالَ خَالِدٌ قَالَ أَبُو قِلاَبَةَ " بِيعُوا الْبُرَّ بِالشَّعِيرِ كَيْفَ شِئْتُمْ " فَذَكَرَ الْحَدِيثَ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ يَرَوْنَ أَنْ يُبَاعَ الْبُرُّ بِالْبُرِّ إِلاَّ مِثْلاً بِمِثْلٍ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ إِلاَّ مِثْلاً بِمِثْلٍ فَإِذَا اخْتَلَفَ الأَصْنَافُ فَلاَ بَأْسَ أَنْ يُبَاعَ مُتَفَاضِلاً إِذَا كَانَ يَدًا بِيَدٍ . وَهَذَا قَوْلُ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . قَالَ الشَّافِعِيُّ وَالْحُجَّةُ فِي ذَلِكَ قَوْلُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " بِيعُوا الشَّعِيرَ بِالْبُرِّ كَيْفَ شِئْتُمْ يَدًا بِيَدٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ كَرِهَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ تُبَاعَ الْحِنْطَةُ بِالشَّعِيرِ إِلاَّ مِثْلاً بِمِثْلٍ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ .

Narrator: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

১২৪৩. সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ..... উবাদা ইবনুস সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ হলে সমপরিমাণ হতে হবে, রূপা হলে সমপরিমাণ হতে হবে, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর হলে সমপরিমাণ হতে হবে, গমের বিনিময়ে গম হলে সমপরিমাণ হতে হবে, নিমকের বিনিময়ে নিমক হলে সমপরিমাণ হতে হবে, যবের বিনিময়ে যব হলে সমপরিমাণ হতে হবে। এইসব ক্ষেত্রে কেউ অতিরিক্ত দিলে বা অতিরিক্ত চাইলে তা হবে সুদ। তোমার দস্ত বদস্ত (নগদ) হলে রূপার বিনিময়ে স্বর্ণ যেভাবে ইচ্ছা বিক্রয় করতে পারে; দস্ত বদস্ত হলে খেজুরের বিনিময়ে গম যদৃচ্ছা বিক্রি করতে পার; দস্ত বদস্ত হলে খেজুরের বিনিময়ে যব যেভাবে ইচ্ছা বিক্রি করতে পার। - ইবনে মাজাহ, মুসলিম

এই বিষয়ে আবু সাঈদ, আবু হুরায়রা, বিলাল ও আনাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন উবাদা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কোন কোন রাবী এই হাদীসটিকে খালিদ (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। এতে আছে, তোমরা দস্ত বদস্ত হলে যবের বিনিময়ে গম যেভাবে ইচ্ছা বিক্রি করতে পার। কেউ কেউ এই হাদীসটিকে খালিদ- আবু কিলারা- আবুল আশআছ- উবাদা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। এতে অতিরিক্ত আছে যে, খালিদ বলেন, আবু কিলাবা বলেছেন, যবের বিনিময়ে গম হলে যেভাবে ইচ্ছা বিক্রি করতে পার......।

এই হাদীস অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। তারা উভয় দিকে সমপরিমাণ না হওয়া ছাড়া গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব বিক্রি জায়েয বলে মনে করেন না। কিন্তু যদি জাত বিভিন্ন হয় তবে দস্ত বদস্ত হলে অতিরিক্ত প্রদান করায় কোন অসুবিধা আছে বলে মনে করেন না। এ হলো অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের অভিমত। সুফিয়ান ছাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-ও এইমত ব্যক্ত করেছেন। ইমাম শফিঈ (রাহঃ) বলেন, এই বিষয়ে দলীল হলো নবী (ﷺ) এর বাণী, দস্তবদস্ত হলে গমের বিনিময়ে যব যদৃচ্ছ বিক্রি করতে পার। কতক আলিম, যবের বিনিময়ে গমের ক্ষেত্রেও সমপরিমাণ না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি করা হারাম বলে মনে করেন। এ হলো ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রাহঃ) এর অভিমত। কিন্তু প্রথমোক্ত অভিমতটি অধিকতর সহীহ।

(বাট্টায়) মুদ্রা বিনিময়ে।

باب مَا جَاءَ فِي الصَّرْفِ

1241

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، أَخْبَرَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ انْطَلَقْتُ أَنَا وَابْنُ، عُمَرَ إِلَى أَبِي سَعِيدٍ فَحَدَّثَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ سَمِعَتْهُ أُذُنَاىَ هَاتَانِ يَقُولُ " لاَ تَبِيعُوا الذَّهَبَ بِالذَّهَبِ إِلاَّ مِثْلاً بِمِثْلٍ وَالْفِضَّةَ بِالْفِضَّةِ إِلاَّ مِثْلاً بِمِثْلٍ لاَ يُشَفُّ بَعْضُهُ عَلَى بَعْضٍ وَلاَ تَبِيعُوا مِنْهُ غَائِبًا بِنَاجِزٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَهِشَامِ بْنِ عَامِرٍ وَالْبَرَاءِ وَزَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ وَفَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ وَأَبِي بَكْرَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَأَبِي الدَّرْدَاءِ وَبِلاَلٍ . قَالَ وَحَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الرِّبَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ إِلاَّ مَا رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ كَانَ لاَ يَرَى بَأْسًا أَنْ يُبَاعَ الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ مُتَفَاضِلاً وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ مُتَفَاضِلاً إِذَا كَانَ يَدًا بِيَدٍ . وَقَالَ إِنَّمَا الرِّبَا فِي النَّسِيئَةِ . وَكَذَلِكَ رُوِيَ عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِهِ شَيْءٌ مِنْ هَذَا وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ رَجَعَ عَنْ قَوْلِهِ حِينَ حَدَّثَهُ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ أَنَّهُ قَالَ لَيْسَ فِي الصَّرْفِ اخْتِلاَفٌ .

১২৪৪. আহমাদ ইবনে মানী’ (রাহঃ) ...... নাফি’ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও ইবনে উমর (রাযিঃ) আবু সাঈদ (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। তিনি আমাদের হাদীস বর্ণনা করে বলেন, আমার এই দু’কান রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, সমপরিমাণ না হওয়া ব্যতিরেকে তোমরা স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বিক্রি করবে না, সমপরিমাণ না হওয়া ব্যতিরেকে তোমরা রূপার বিনিময়ে রূপার বিক্রি করবে না। কতকের উপর কতক যেন অতিরিক্ত না হয়। আর এর নগদের বদলে বাকী বিক্রি করবে না।

এই বিষয়ে আবু বকর, উমর, উছমান, আবু হুরায়রা হিশাম ইবনে আমির, বারা, যায়দ ইবনে আরকাম, ফাযালা ইবনে উবাইদ, আবু বাকরা, ইবনে উমর, আবুদ দারদা ও বিলাল (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। নবী (ﷺ) থেকে আবু সাঈদ (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। তবে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি দস্তবদস্ত হলে স্বর্ণের বিনিময়ে অতিরিক্ত পরিমাণ স্বর্ণ বা রূপার বিনিময়ে অতিরিক্ত পরিমাণ রূপা বিক্রিতে কোন দোষ আছে মনে করেন না। তিনি বলেন, সুদ হয় বাকীতে বিক্রয়ে। কতক সাহাবী থেকেও এমন ধরণের কিছু বর্ণিত আছে। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, আবু সাঈদ খুদরী তাঁকে এই হাদীসটি বর্ণনা করে শুনালে তিনি তাঁর পূর্বমত প্রত্যাহার করেন। প্রথমোক্ত মতটই অধিকতর সহীহ। এতদনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। এ হলো ইমাম সুফিয়ান ছাওরী, ইবনে মুবারক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসাক (রাহঃ)-এর অভিমত। ইবনে মুবারক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, মুদ্রা বিনিময়ের ক্ষেত্রে কোন মতভেদ নাই।
1242

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كُنْتُ أَبِيعُ الإِبِلَ بِالْبَقِيعِ فَأَبِيعُ بِالدَّنَانِيرِ فَآخُذُ مَكَانَهَا الْوَرِقَ وَأَبِيعُ بِالْوَرِقِ فَآخُذُ مَكَانَهَا الدَّنَانِيرَ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدْتُهُ خَارِجًا مِنْ بَيْتِ حَفْصَةَ فَسَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ " لاَ بَأْسَ بِهِ بِالْقِيمَةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ . وَرَوَى دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ مَوْقُوفًا . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ لاَ بَأْسَ أَنْ يَقْتَضِيَ الذَّهَبَ مِنَ الْوَرِقِ وَالْوَرِقَ مِنَ الذَّهَبِ . وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَدْ كَرِهَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ ذَلِكَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২৪৫. হাসান ইবনে আলী খাল্লাল (রাহঃ) ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বাকীতে উট বিক্রি করতাম। অনেক সময় দীনার বা স্বর্ণমুদ্রায় তা বিক্রি করে তদস্থলে রৌপ্যমুদ্রা আবার রৌপ্য মুদ্রায় বিক্রি করে তদস্তলে দীনার গ্রহণ করতাম। একবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে এলাম। তাঁকে হাফসার ঘর থেকে বের হয়ে আসছেন দেখতে পেলাম। তাঁকে আমি উক্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, এরূপ মূল্য গ্রহণে কোন দোষ নাই। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি সিমাক ইবনে হারব- সাঈদ ইবনে জুবাইর- ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্র ছাড়া মারফূ’রূপে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নাই। দাউদ ইবনে আবী হিনদ এই হাদীসটিকে সাঈদ ইবনে জুবাইর- ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে মাউকুফ রূপে বর্ণনা করেছেন। এই হাদীস অনুসারে কতক আলিমের আমল রয়েছে। তাঁরা স্বর্ণ মুদ্রার স্থলে রৌপ্যমুদ্রা এবং রৌপ্য মুদ্রার স্থলে স্বর্ণমুদ্রা প্রদানে কোন দোষ আছে বলে মনে করেন না। এ হলো ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ এটি অপছন্দনীয় মনে করেছেন।
1243

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ، أَنَّهُ قَالَ أَقْبَلْتُ أَقُولُ مَنْ يَصْطَرِفُ الدَّرَاهِمَ فَقَالَ طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ وَهُوَ عِنْدَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَرِنَا ذَهَبَكَ ثُمَّ ائْتِنَا إِذَا جَاءَ خَادِمُنَا نُعْطِكَ وَرِقَكَ . فَقَالَ عُمَرُ كَلاَّ وَاللَّهِ لَتُعْطِيَنَّهُ وَرِقَهُ أَوْ لَتَرُدَّنَّ إِلَيْهِ ذَهَبَهُ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْوَرِقُ بِالذَّهَبِ رِبًا إِلاَّ هَاءَ وَهَاءَ وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ رِبًا إِلاَّ هَاءَ وَهَاءَ وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ رِبًا إِلاَّ هَاءَ وَهَاءَ وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ رِبًا إِلاَّ هَاءَ وَهَاءَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ . وَمَعْنَى قَوْلِهِ " إِلاَّ هَاءَ وَهَاءَ " يَقُولُ يَدًا بِيَدٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২৪৬. কুতায়বা (রাহঃ) ....... মালিক ইবনে আওস ইবনে হাদছান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘‘কে রৌপ্যমুদ্রা (দিরহাম) বিনিময় করবে’’? এই কথা বলতে বলতে আমি সামনে আসলাম। উমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে তখন তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ্ বসে ছিলেন। তিনি বললেন, তোমার স্বর্ণমুদ্রাগুলো আমাকে দেখাও। পরবর্তীতে তুমি আমার কাছে নিয়ে এসো। আমার খাদিম আসলে আমার রৌপ্যমুদ্রা (দিরহাম)গুলো তোমাকে দিব। উমর (রাযিঃ) বললেন, কখনো নয়, আল্লাহর কসম, হয়ত এখনি তুমি তাকে রৌপ্যমূদ্রাগুলো দিবে নয়ত তার স্বর্ণমুদ্রা তাকে ফিরিয়ে দিবে। কেননা, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, নগদ না হলে স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য বিক্রি করা সুদী কারবার বল গণ্য; নগদ না হলে গমের বদলে গম বিক্রিও সুদ; নগদ না হলে খেজুরের বিনিময়ে খেজুর বিক্রি করাও সুদ। - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ,

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীস অনুসারে আলিমগণ আমল করেছেন। হাদীসোক্ত إِلاَّ هَاءَ وَهَاءَ অর্থ হল নগদ হাতে হাতে বিনিময় করা।

পরাগায়নের পর খেজুরগাছ বিক্রি করা এবং সম্পদাধিকারী দাস বিক্রি করা।

باب مَا جَاءَ فِي ابْتِيَاعِ النَّخْلِ بَعْدَ التَّأْبِيرِ وَالْعَبْدِ وَلَهُ مَالٌ

1244

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنِ ابْتَاعَ نَخْلاً بَعْدَ أَنْ تُؤَبَّرَ فَثَمَرَتُهَا لِلَّذِي بَاعَهَا إِلاَّ أَنْ يَشْتَرِطَ الْمُبْتَاعُ وَمَنِ ابْتَاعَ عَبْدًا وَلَهُ مَالٌ فَمَالُهُ لِلَّذِي بَاعَهُ إِلاَّ أَنْ يَشْتَرِطَ الْمُبْتَاعُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ . وَحَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . هَكَذَا رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " مَنِ ابْتَاعَ نَخْلاً بَعْدَ أَنْ تُؤَبَّرَ فَثَمَرَتُهَا لِلْبَائِعِ إِلاَّ أَنْ يَشْتَرِطَ الْمُبْتَاعُ وَمَنْ بَاعَ عَبْدًا وَلَهُ مَالٌ فَمَالُهُ لِلْبَائِعِ إِلاَّ أَنْ يَشْتَرِطَ الْمُبْتَاعُ " . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ ابْتَاعَ نَخْلاً قَدْ أُبِّرَتْ فَثَمَرَتُهَا لِلْبَائِعِ إِلاَّ أَنْ يَشْتَرِطَ الْمُبْتَاعُ " . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ مَنْ بَاعَ عَبْدًا وَلَهُ مَالٌ فَمَالُهُ لِلْبَائِعِ إِلاَّ أَنْ يَشْتَرِطَ الْمُبْتَاعُ . هَكَذَا رَوَى عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَغَيْرُهُ عَنْ نَافِعٍ الْحَدِيثَيْنِ . وَقَدْ رَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَيْضًا . وَرَوَى عِكْرِمَةُ بْنُ خَالِدٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ حَدِيثِ سَالِمٍ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدِيثُ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَصَحُّ مَا جَاءَ فِي هَذَا الْبَابِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২৪৭. কুতায়বা (রাহঃ) ..... সালিম তার পিতা ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, পরগায়নের পর যদি কেউ খেজুর গাছ বিক্রি করে তবে ক্রেতা নিজের জন্য শর্ত না করলে এর ফল হবে বিক্রেতার। এমনিভাবে কেউ যদি সম্পাধিকারী দাস বিক্রি করে তার ক্রেতা শর্ত না করলে এই দাসের সম্পদ হবে বিক্রেতার। - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

এই বিষয়ে জাবির (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। যুহরী-সালিম- ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এই হাদীসটি একাধিকভাবে বর্ণিত আছে যে, পরাগায়নের পর কেউ যদি খেজুর গাছ ক্রয় করে তবে ক্রেতা নিজের জন্য শর্ত না করলে এর ফল হবে বিক্রেতার। এমনিভাবে কেউ যদি এমন দাস বিক্রি করে যার কিছু সম্পদ আছে তবে ক্রেতা শর্ত না করলে ঐ সম্পদ হবে বিক্রেতার। নাফি -ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রেও নবী (ﷺ) থেকে এটি (কিছু শাব্দিক তারতম্যসহ) বর্ণিত আছে।

এতে আছেمَنِ ابْتَاعَ نَخْلاً قَدْ أُبِّرَتْ নাফি- ইবনে উমর-উমর (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, কেউ যদি এমন দাস বিক্রি করে যার কিছু সম্পদ রয়েছে। নাফি’-এর বরাতে উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর প্রমুখ উক্ত দুটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, কেউ কেউ এই হাদীসটি নাফি’- ইবনে উমর (রাযিঃ)- নবী (ﷺ) থেকে সালিমের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কতক আলিমের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। এ হলো শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) - এরও অভিমত। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল বুখারী (রাহঃ) বলেন, যুহরী- সালিম- তাঁর পিতা ইবনে উমর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর সূত্রটি অধিকতর সহীহ।

ক্রেতা ও বিক্রেতা পৃথক না হওয়া পর্যন্ত উভয়েরই (বিক্রি সম্পাদন করা না করার) ইখতিয়ার থাকে।

باب مَا جَاءَ فِي الْبَيِّعَيْنِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا

1245
حَدَّثَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا أَوْ يَخْتَارَا " . قَالَ فَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا ابْتَاعَ بَيْعًا وَهُوَ قَاعِدٌ قَامَ لِيَجِبَ لَهُ الْبَيْعُ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَاب عَنْ أَبِي بَرْزَةَ وَحَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَسَمُرَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَغَيْرِهِمْ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَقَ وَقَالُوا الْفُرْقَةُ بِالْأَبْدَانِ لَا بِالْكَلَامِ وَقَدْ قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا يَعْنِي الْفُرْقَةَ بِالْكَلَامِ وَالْقَوْلُ الْأَوَّلُ أَصَحُّ لِأَنَّ ابْنَ عُمَرَ هُوَ رَوَى عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَعْنَى مَا رَوَى وَرُوِيَ عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُوجِبَ الْبَيْعَ مَشَى لِيَجِبَ لَهُ وَهَكَذَا رُوِيَ عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الْأَسْلَمِيِّ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২৪৮. ওয়াসিল ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলু্ল্লাহ্ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, ক্রেতা- বিক্রেতা উভয়েরই ইখতিয়ার রয়েছে যতক্ষণ না তারা পৃথক হয়ে যায় বা তারা ক্রয়- বিক্রয় সম্পাদনে সম্পত হয়। নাফি’ বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) যখন কিছু ক্রয় করতেন তখন তিনি বসা থাকলে বিক্রয় অনিবার্য করার জন্য দাঁড়িয়ে যেতেন। - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই বিষয়ে আবু বারযা, হাকীম ইবনে হিযাম, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, সামুরা ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন ইবনে ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। এ হলো, ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। তাঁরা বলেন, এখানে পৃথক হওয়া বলতে শারীরিক পৃথক হওয়া বুঝায়, এর মর্ম বাচনিক পৃথক হওয়া নয়।

কতক আলিম বলেন, ‘‘যতক্ষণ তারা পৃথক না হয়েছে’- এই বাণীর মর্ম হলো বাচনিক পৃথক হওয়া। [অর্থাৎ ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি যদি বাচনিক সম্পাদন হয়ে যায় এবং প্রসঙ্গান্তের হয়ে যায় তবে শারীরিকভাবে আলাদা না হলেও আর ইখতিয়ার থাকবে না। প্রথমোক্ত অভিমতটি অধিকতর সহীহ। কেননা যে ইবনে উমর এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তাঁরই তো এর মর্ম সম্পর্কে অধিক অবহিত থাকার কথা। তারই নিকট থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি যদি বিক্রি অকাট্য করতে চাইতেন তবে তা অনিবার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে কিছু হেটে আসতেন। আবু বারযা (রাযিঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে।
1246

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ صَالِحٍ أَبِي الْخَلِيلِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا فَإِنْ صَدَقَا وَبَيَّنَا بُورِكَ لَهُمَا فِي بَيْعِهِمَا وَإِنْ كَتَمَا وَكَذَبَا مُحِقَتْ بَرَكَةُ بَيْعِهِمَا " . هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَرْزَةَ وَحَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَسَمُرَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ وَقَالُوا الْفُرْقَةُ بِالأَبْدَانِ لاَ بِالْكَلاَمِ . وَقَدْ قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا " . يَعْنِي الْفُرْقَةَ بِالْكَلاَمِ . وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ لأَنَّ ابْنَ عُمَرَ هُوَ رَوَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَعْنَى مَا رَوَى وَرُوِيَ عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُوجِبَ الْبَيْعَ مَشَى لِيَجِبَ لَهُ . وَهَكَذَا رُوِيَ عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الأَسْلَمِيِّ أَنَّ رَجُلَيْنِ اخْتَصَمَا إِلَيْهِ فِي فَرَسٍ بَعْدَ مَا تَبَايَعَا . وَكَانُوا فِي سَفِينَةٍ فَقَالَ لاَ أَرَاكُمَا افْتَرَقْتُمَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا " . وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ وَغَيْرِهِمْ إِلَى أَنَّ الْفُرْقَةَ بِالْكَلاَمِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَهَكَذَا رُوِيَ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ . وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ أَنَّهُ قَالَ كَيْفَ أَرُدُّ هَذَا وَالْحَدِيثُ فِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَحِيحٌ . وَقَوَّى هَذَا الْمَذْهَبَ . وَمَعْنَى قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " إِلاَّ بَيْعَ الْخِيَارِ " . مَعْنَاهُ أَنْ يُخَيِّرَ الْبَائِعُ الْمُشْتَرِيَ بَعْدَ إِيجَابِ الْبَيْعِ فَإِذَا خَيَّرَهُ فَاخْتَارَ الْبَيْعَ فَلَيْسَ لَهُ خِيَارٌ بَعْدَ ذَلِكَ فِي فَسْخِ الْبَيْعِ وَإِنْ لَمْ يَتَفَرَّقَا . هَكَذَا فَسَّرَهُ الشَّافِعِيُّ وَغَيْرُهُ . وَمِمَّا يُقَوِّي قَوْلَ مَنْ يَقُولُ الْفُرْقَةُ بِالأَبْدَانِ لاَ بِالْكَلاَمِ حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হাকীম ইবনে হিযাম (রাঃ)

১২৪৯. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... হাকীম ইবনে হিযাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন। ক্রেতা- বিক্রেতা উভয়েরই ইখতিয়ার থাকে যতক্ষণ না তারা পৃথক হয়ে যায়। তারা উভয়েই যদি সত্য বলে থাকে এবং সব স্পষ্টভাবে বিবৃত করে থাকে তবে তাদের ক্রয়- বিক্রয় বরকতময় করে দেওয়া হয়। আর যদি মিথ্যা বলে এবং কিছু গোপন করে তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয় বরকতহীন করে দেওয়া হয়। -নাসাঈ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন এই হাদীসটি সহীহ। এই বিষয়ে আবু বারযা, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, সামূরা আবু হুরায়রা ও ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি (১২৪৮ নং) হাসান-সহীহ। নবী (ﷺ)-এর সাহাবীদের এবং অপরাপর আলিমদের আমল এর উপর রয়েছে। আবু বারযা আসলামী (রাযিঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে।

একটি ঘোড়া বিক্রি সম্পাদনের পর দুই ব্যক্তি তাঁর নিকট বিবাদ মীমাংশার জন্য আসে। তারা তখন একটি নৌযানে ছিলেন। তিনি বললেন, তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়েছ বলে তো আমি দেখছি না। আর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, ক্রেতা- বিক্রেতা উভয়েরই ইখতিয়ার থাকে যতক্ষণ না তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে। কূফা বসবাসকারী এবং অপর কিছু আলিমের বক্তব্য হলো, বিচ্ছিন্নতার মর্ম এখানে বাচনিক বিচ্ছিন্নতা। এ হলো ইমাম সুফিয়ান ছাওরী (রাহঃ)-এর অভিমত।

ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রাহঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। ইবনে মুবারক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, কেমন করে তার প্রত্যাখ্যান করতে পারি? এই বিষয়ে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত হাদীসটি তো সহীহ। এই মতপন্থাকে তো এই রিওয়ায়াতটি শক্তিশালী করে।

নবী (ﷺ)-এর বাণীإِلاَّ بَيْعَ الْخِيَارِ অর্থ হলো, বিক্রি সম্পাদনের পর বিক্রেতা যদি ক্রেতাকে ইখতিয়ার দেয় এবং এই ইখতিয়ার থাকবে না যদিও তারা বিচ্ছিন্ন না হয়। ইমাম শাফিঈ প্রমুখ (রাহঃ) এই ভাষ্যই প্রদান করেছেন। বিচ্ছিন্ন হওয়ার অর্থ শারীরিক বিচ্ছিন্নতা বাচনিক বিচ্ছিন্নতা নয়’-এই অভিমত যারা ব্যক্ত করেছেন তাদের বক্তব্যকে ইবনে আমর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি শক্তিশালী করে।
1247

أَخْبَرَنَا بِذَلِكَ، قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْبَيِّعَانِ بِالْخِيَارِ مَا لَمْ يَتَفَرَّقَا إِلاَّ أَنْ تَكُونَ صَفْقَةَ خِيَارٍ وَلاَ يَحِلُّ لَهُ أَنْ يُفَارِقَ صَاحِبَهُ خَشْيَةَ أَنْ يَسْتَقِيلَهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَمَعْنَى هَذَا أَنْ يُفَارِقَهُ بَعْدَ الْبَيْعِ خَشْيَةَ أَنْ يَسْتَقِيلَهُ وَلَوْ كَانَتِ الْفُرْقَةُ بِالْكَلاَمِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ خِيَارٌ بَعْدَ الْبَيْعِ لَمْ يَكُنْ لِهَذَا الْحَدِيثِ مَعْنًى حَيْثُ قَالَ صلى الله عليه وسلم " وَلاَ يَحِلُّ لَهُ أَنْ يُفَارِقَهُ خَشْيَةَ أَنْ يَسْتَقِيلَهُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১২৫০. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শুআয়ব তাঁর পিতা তার পিতামহ আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই ইখতিয়ার আছে যতক্ষণ না তারা পৃথক হয়েছে। কিন্তু খিয়ার চুক্তি থাকলে ভিন্ন কথা। সুতরাং ক্রয় বা বিক্রি চুক্তি প্রত্যাহার করে ফেলবে এই আশঙ্কায় এক পক্ষের জন্য তার সঙ্গী থেকে পৃথক হওয়া হালাল নয়।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। এটির মর্ম হলো, বিক্রি বা ক্রয় প্রত্যাহার করে ফেলতে পারে এ আশঙ্কায় পৃথক হওয়া বৈধ নয়। পূথক হওয়ার অর্থ যদি বাচনিক পৃথক হওয়া হয়, তবে বিক্রির পর ইখতিয়ার থাকার বিষয় থাকত না এবং এই হাদীসটিরও কোন অর্থ হত না- যেখানে এ কথা হয়েছে যে, প্রত্যাহার আশঙ্কায় পৃথক হওয়া বৈধ নয়।

শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ।

باب ))

1248

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَهُوَ الْبَجَلِيُّ الْكُوفِيُّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا زُرْعَةَ بْنَ عَمْرِو بْنِ جَرِيرٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَتَفَرَّقَنَّ عَنْ بَيْعٍ إِلاَّ عَنْ تَرَاضٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১২৫১. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, সম্মতি ব্যতিরেকে বিক্রয় সম্পাদন থেকে কেউ পৃথক হবে না।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি গারীব।
1249

حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ الشَّيْبَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَيَّرَ أَعْرَابِيًّا بَعْدَ الْبَيْعِ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১২৫২. আমর ইবনে হাফস মায়বাণী (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) জনৈক বেদুঈনকে বিক্রির পর ইখতিয়ারের অধিকার প্রদান করেছিলেন।

এই হাদীসটি হাসান- গারীব।

ক্রয়-বিক্রয়ে যে প্রতারিত হয়।

باب مَا جَاءَ فِيمَنْ يُخْدَعُ فِي الْبَيْعِ

1250

حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ حَمَّادٍ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَجُلاً، كَانَ فِي عُقْدَتِهِ ضَعْفٌ وَكَانَ يُبَايِعُ وَأَنَّ أَهْلَهُ أَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ احْجُرْ عَلَيْهِ . فَدَعَاهُ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَهَاهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لاَ أَصْبِرُ عَنِ الْبَيْعِ . فَقَالَ " إِذَا بَايَعْتَ فَقُلْ هَاءَ وَهَاءَ وَلاَ خِلاَبَةَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ . وَحَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَقَالُوا يُحْجَرُ عَلَى الرَّجُلِ الْحُرِّ فِي الْبَيْعِ وَالشِّرَاءِ إِذَا كَانَ ضَعِيفَ الْعَقْلِ . وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَلَمْ يَرَ بَعْضُهُمْ أَنْ يُحْجَرَ عَلَى الْحُرِّ الْبَالِغِ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১২৫৩. ইউসূফ ইবনে হাম্মাদ বসরী (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি ছিল যার বিবেক ছিল দুর্বল। সে ক্রয়- বিক্রয় করত। তাঁর পরিবারের লোকেরা নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্, এর উপর (বিকিকিনি থেকে) বিধি নিষেধ আরোপ করুন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে ডেকে আনলেন এবং তাকে (বিকিকিনি করতে) নিষেধ করলেন, ঐ ব্যক্তি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ আমি তো বিকিকিনি না করে ধৈর্য ধারণ করতে পরিনা। তিনি বললেন, যখন বিকিকিনি করবে তখন বলে দিবে, ‘‘নগদ দস্তবদস্ত হতে হবে আর প্রতারণা নেই।’’ - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

এই বিষয়ে ইবনে উমর থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আনাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ-গারীব। কতক আলিমের এতদনুসারে আমল রয়েছে। তাঁরা বলল, কোন স্বাধীন ব্যক্তি যদি দুর্বলচিত্ত হয় তবে তার উপর বিকিকিনি থেকে বিধি নিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। এ হলো ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর অভিমত। কতক আলিম স্বাধীন বালেগ ব্যক্তির উপর বিধি নিষেধ আরোপ করা যায় মনে করেন না।

প্রতারণার উদ্দেশ্যে পশুর ওলানে দুধ জমান প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي الْمُصَرَّاةِ

1251

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَنِ اشْتَرَى مُصَرَّاةً فَهُوَ بِالْخِيَارِ إِذَا حَلَبَهَا إِنْ شَاءَ رَدَّهَا وَرَدَّ مَعَهَا صَاعًا مِنْ تَمْرٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَرَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১২৫৪. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, কেউ যদি ওলানে দুধ জমিয়ে রাখা কোন জন্তু ক্রয় করে তবে দুধ দোহনের পর তার (এটি গ্রহণ করা না করার) ইখতিয়ার থাকবে। ইচ্ছা করলে তখন এটিকে ফেরত দিতে পারবে। আর ফেরত দিলে সঙ্গে এক সা’ খেজুর সহ ফেরত দিবে। - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই বিষয়ে আনাস (রাযিঃ) ও জনৈক সাহাবী (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
1252

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ اشْتَرَى مُصَرَّاةً فَهُوَ بِالْخِيَارِ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فَإِنْ رَدَّهَا رَدَّ مَعَهَا صَاعًا مِنْ طَعَامٍ لاَ سَمْرَاءَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَصْحَابِنَا مِنْهُمُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَمَعْنَى قَوْلِهِ " لاَ سَمْرَاءَ " . يَعْنِي لاَ بُرَّ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১২৫৫. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, কেউ যদি ওলানে দুধ জমাকৃত পশু ক্রয় করে তার তিন দিন পর্যন্ত ইখতিয়ার থাকবে। যদি সে তা ফেরত দেয় তবে এক সা’ খাদ্য সহ ফেরত দিবে যাতে সামরা নেই যাতে সামরা নেই। সামরা নেই অর্থ গম নেই। - মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান- সহীহ। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ, ইসহাক (রাহঃ) সহ আমাদের ইমাম ও উস্তাদগণ এই হাদীসের উপর আমল করেছেন।

বিক্রয়ের সময় জন্তুর পৃষ্ঠারোহনের শর্ত করা প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي اشْتِرَاطِ ظَهْرِ الدَّابَّةِ عِنْدَ الْبَيْعِ

1253

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ زَكَرِيَّا، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ بَاعَ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بَعِيرًا وَاشْتَرَطَ ظَهْرَهُ إِلَى أَهْلِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ جَابِرٍ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ . يَرَوْنَ الشَّرْطَ فِي الْبَيْعِ جَائِزًا إِذَا كَانَ شَرْطًا وَاحِدًا . وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ يَجُوزُ الشَّرْطُ فِي الْبَيْعِ وَلاَ يَتِمُّ الْبَيْعُ إِذَا كَانَ فِيهِ شَرْطٌ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১২৫৬. ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট একটি উট বিক্রি করেছিলেন। তখন তিনি তাতে আরোহণ করে স্বীয় পরিবার (বাড়ি) পর্যন্ত গমনের শর্ত করেছিলেন। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এটি একাধিক সূত্রে জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ এর উপর আমল করেছেন। তারা বিক্রির ক্ষেত্রে যদি একটি মাত্র শর্ত হয় তবে তা করা জায়েয বলে মত প্রকাশ করেছেন। এ হলো ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। কতক আলিম বলেন, বিক্রির ক্ষেত্রে কোনরূপ শর্তারোপ জায়েয নয়। শর্তারোপ করা হলে বিক্রি পূর্ণাঙ্গ হয় না।

বন্ধকরূপে রক্ষিত বস্তু থেকে উপকার গ্রহণ করা।

باب مَا جَاءَ فِي الاِنْتِفَاعِ بِالرَّهْنِ

1254

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَيُوسُفُ بْنُ عِيسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ زَكَرِيَّا، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الظَّهْرُ يُرْكَبُ إِذَا كَانَ مَرْهُونًا وَلَبَنُ الدَّرِّ يُشْرَبُ إِذَا كَانَ مَرْهُونًا وَعَلَى الَّذِي يَرْكَبُ وَيَشْرَبُ نَفَقَتُهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . وَقَدْ رَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مَوْقُوفًا . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لَيْسَ لَهُ أَنْ يَنْتَفِعَ مِنَ الرَّهْنِ بِشَيْءٍ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১২৫৭. আবু কুরায়ব ও ইউসূফ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, বন্ধকরূপে রক্ষিত জন্তুর পিঠে আরোহণ করা যাবে এবং বন্ধকরূপে রক্ষিত জন্তুর দুগ্ধও পান করা যাবে। যে ব্যক্তি আরোহণ করবে বা দুগ্ধপান করবে তার উপর থাকবে জন্তুটির ব্যয়ভার। - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে আমির আশ-শা’বী (রাহঃ) এর সূত্র ব্যতীত এটি মারফু’রূপে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নাই। একাধিক রাবী এটিকে আ’মাশ- আবু সালিহ- আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে মউকুফরূপে রিওয়ায়াত করেছেন। কতক আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। এ হলো ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর অভিমত। কতক আলিম বলেন, বন্ধকরূপে রক্ষিত বস্তু থেকে কোনরূপ উপকার লাভ করা যাবে না। এ হলো জমহুর আলিমগণের অভিমত।

স্বর্ণ ও পুঁতি খচিত মালা ক্রয় করা প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي شِرَاءِ الْقِلاَدَةِ وَفِيهَا ذَهَبٌ وَخَرَزٌ

1255
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي شُجَاعٍ، سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ خَالِدِ بْنِ أَبِي عِمْرَانَ، عَنْ حَنَشٍ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ، قَالَ اشْتَرَيْتُ يَوْمَ خَيْبَرَ قِلاَدَةً بِاثْنَىْ عَشَرَ دِينَارًا فِيهَا ذَهَبٌ وَخَرَزٌ فَفَصَّلْتُهَا فَوَجَدْتُ فِيهَا أَكْثَرَ مِنِ اثْنَىْ عَشَرَ دِينَارًا فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " لاَ تُبَاعُ حَتَّى تُفَصَّلَ " .
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ أَبِي شُجَاعٍ، سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ لَمْ يَرَوْا أَنْ يُبَاعَ السَّيْفُ مُحَلًّى أَوْ مِنْطَقَةٌ مُفَضَّضَةٌ أَوْ مِثْلُ هَذَا بِدَرَاهِمَ حَتَّى يُمَيَّزَ وَيُفَصَّلَ . وَهُوَ قَوْلُ ابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَدْ رَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي ذَلِكَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ .

Narrator: ফাযালা ইবনে উবায়দ (রাঃ)

১২৫৮. কুতায়বা (রাহঃ) ...... ফযলা ইবনে উবাইদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বর যুদ্ধের সময় আমি বার দীনারে একটি মালা ক্রয় করি। এতে স্বর্ণ ও পুতি ছিল। তখন আমি এটির স্বর্ণ ও পুতি আলাদা করি। এতে বার দীনার অপেক্ষা অধিক স্বর্ণ পেলাম। অনন্তর নবী (ﷺ)-এর কাছে তা উল্লেখ করলাম। তিনি তখন বললেন, (স্বর্ণ) আলাদা না করা পর্যন্ত এই ধরণের মালা বিক্রি করা যাবে না।

কুতায়বা (রাহঃ) আবু শুজা, সাঈদ ইবনে ইয়াযিদ (রাহঃ) থেকে এই সনদে অনুরূপ মর্মে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তারা বলেন, রূপা আলাদা না করা পর্যন্ত রৌপ্য খচিত তরবারী বা রৌপ্য খচিত কোমরবন্ধ বা অনুরূপ কোন জিনিস দিরহাম (রৌপ্য মুদ্রা)-এর বিনিময়ে বিক্রি করা যাবে না। এ হলো ইবনে মুবারক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম এই বিষয়ে অবকাশ রেখেছেন।

ওয়ালা (অভিভাবকত্বের) শর্ত করা এবং এই বিষয়ে ভৎর্সনা প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي اشْتِرَاطِ الْوَلاَءِ وَالزَّجْرِ عَنْ ذَلِكَ

1256

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا أَرَادَتْ أَنْ تَشْتَرِيَ، بَرِيرَةَ فَاشْتَرَطُوا الْوَلاَءَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اشْتَرِيهَا فَإِنَّمَا الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْطَى الثَّمَنَ أَوْ لِمَنْ وَلِيَ النِّعْمَةَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ . قَالَ وَمَنْصُورُ بْنُ الْمُعْتَمِرِ يُكْنَى أَبَا عَتَّابٍ . حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْعَطَّارُ الْبَصْرِيُّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ يَقُولُ إِذَا حُدِّثْتَ عَنْ مَنْصُورٍ فَقَدْ مَلأْتَ يَدَكَ مِنَ الْخَيْرِ لاَ تُرِدْ غَيْرَهُ . ثُمَّ قَالَ يَحْيَى مَا أَجِدُ فِي إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ وَمُجَاهِدٍ أَثْبَتَ مِنْ مَنْصُورٍ . قَالَ وَأَخْبَرَنِي مُحَمَّدٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الأَسْوَدِ قَالَ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ مَنْصُورٌ أَثْبَتُ أَهْلِ الْكُوفَةِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১২৫৯. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বারীরাকে ক্রয় করার ইচ্ছা করেছিলেন। তখন তার মালিক পক্ষ (নিজদের জন্য) ওয়ালা’-এর শর্তারোপ করে। নবী (ﷺ) (আয়িশাকে) বললেন, তুমি বারিরাকে কিনে নাও। যে মূল্য পরিশোধ করে (বা যে আযাদ করার নিআমতের অধিকারী হয়েছেন) তারই ‘ওয়ালা’ থাকবে। - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

এই বিষয়ে ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। এতদনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, মানসুর ইবনুল মু’তামিরের কুনিয়াত বা উপনাম হলো আত্তাব’। আবু বকর আত্তার আল-বসরী (রাহঃ) আলী ইবনুল মাদীনী (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) কে বলতে শুনেছি, মানসুর-এর বরাতে যদি তোমাকে কিছু রিওয়ায়াত করা হয় তবে তুমি তোমার হাতকে মঙ্গল ও কল্যাণে ভর্তি করে নিলে। তাছাড়া অন্য কিছুর আর বাসনা করো না। এরপর ইয়াহয়া বললেন, ইবরাহীম নাখঈ ও মুজাহিদ (রাহঃ)-এর রিওয়ায়াতের ক্ষেত্রে মনসুর অপেক্ষা অধিক আস্থাযোগ্য কাউকে আমি পাই নি। মুহাম্মাদ আল-বুখারী (রাহঃ) বর্ণনা করেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল আসওয়াদ বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী বলেছেন, কূফাবাসীদের মধ্যে মনসুর হলেন সব চাইতে নির্ভরযোগ্য।

শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ।

1257

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ حَكِيمَ بْنَ حِزَامٍ يَشْتَرِي لَهُ أُضْحِيَّةً بِدِينَارٍ فَاشْتَرَى أُضْحِيَّةً فَأُرْبِحَ فِيهَا دِينَارًا فَاشْتَرَى أُخْرَى مَكَانَهَا فَجَاءَ بِالأُضْحِيَّةِ وَالدِّينَارِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " ضَحِّ بِالشَّاةِ وَتَصَدَّقْ بِالدِّينَارِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَحَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ لَمْ يَسْمَعْ عِنْدِي مِنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ .

Narrator: হাকীম ইবনে হিযাম (রাঃ)

১২৬০. আবু কুরায়ব (রাহঃ) .... হাকীম ইবনে হিযাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে একবার রাসূল (ﷺ) এক দীনার দিয়ে একটি কুরবানীর পশু খরীদ করার জন্য হাকীম ইবনে হিযামকে প্রেরণ করেন। তিনি একটি কুরবানীর পশু খরীদ করেন এরপর তাতে তার এক দীনার লাভ হয়। তখন তদস্থলে আরেকটি পশু খরীদ করেন এবং দীনার ও একটি কুরবানীর পশুসহ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে এলেন। তখন তিনি বললেন, বকরীটি কুরবানী কর, আর দীনারটি সাদ্‌কা করে দাও।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, হাকীম ইবনে হিযামের এই হাদীসটি সম্পর্কে এই সূত্র ছাড়া আমাদের কিছু জানা নাই। আমার ধরণামতে হাবীব ইবনে আবু ছাবিত (রাহঃ) হাকীম ইবনে হিযাম থেকে কিছু শোনেন নি।
1258
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ، وَهُوَ ابْنُ هِلاَلٍ أَبُو حَبِيبٍ الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنَا هَارُونُ الأَعْوَرُ الْمُقْرِئُ، وَهُوَ ابْنُ مُوسَى الْقَارِئُ حَدَّثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ الْخِرِّيتِ، عَنْ أَبِي لَبِيدٍ، عَنْ عُرْوَةَ الْبَارِقِيِّ، قَالَ دَفَعَ إِلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دِينَارًا لأَشْتَرِيَ لَهُ شَاةً فَاشْتَرَيْتُ لَهُ شَاتَيْنِ فَبِعْتُ إِحْدَاهُمَا بِدِينَارٍ وَجِئْتُ بِالشَّاةِ وَالدِّينَارِ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . فَذَكَرَ لَهُ مَا كَانَ مِنْ أَمْرِهِ فَقَالَ لَهُ " بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي صَفْقَةِ يَمِينِكَ " . فَكَانَ يَخْرُجُ بَعْدَ ذَلِكَ إِلَى كُنَاسَةِ الْكُوفَةِ فَيَرْبَحُ الرِّبْحَ الْعَظِيمَ فَكَانَ مِنْ أَكْثَرِ أَهْلِ الْكُوفَةِ مَالاً .
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الدَّارِمِيُّ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ، هُوَ أَخُو حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ قَالَ حَدَّثَنَا الزُّبَيْرُ بْنُ خِرِّيتٍ، عَنْ أَبِي لَبِيدٍ، فَذَكَرَ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ وَقَالُوا بِهِ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَلَمْ يَأْخُذْ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ بِهَذَا الْحَدِيثِ مِنْهُمُ الشَّافِعِيُّ . وَسَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ أَخُو حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ . وَأَبُو لَبِيدٍ اسْمُهُ لِمَازَةُ بْنُ زَبَّارٍ .

Narrator: উরওয়া ইবনে আবু জা'দ বারিকী (রাঃ)

১২৬১. আহমাদ ইবনে সাঈদ দারিমী (রাহঃ) ...... উরওয়া বারিকী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর জন্য একটি বকরী খরীদ করার জন্য আমাকে একটি দীনার দেন। আমি এ দিয়ে তাঁর জন্য দুটি বকরী খরীদ করি এবং একটি এক দীনারে বিক্রি করে দেই। আর একটি বকরী ও এক দীনার নিয়ে নবী (ﷺ)এর কাছে আসি। অনন্তর উরওয়া বারিকী (রাযিঃ) তাঁর কাছে পূরা বিষয়টি বিবৃত করেন। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, আল্লাহ্ তোমার ডান হাতের চুক্তিতে (ব্যবসায়ে) বরকত দিন। পরবর্তীতে আল-বারিকী (রাযিঃ) কূফার কুনাসায় চলে যান। সেখানে যথেষ্ট লাভ করেন। তিনি কুফার সবচাইতে ধনী হয়েছিলেন।

আহমাদ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) আবু লাবীদ (রাহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। কতক আলিম এই হাদীস অনুসারে মত ও অবলম্বন করেছেন এবং তদনাসারে অভিমত প্রকাশ করেছেন। এ হলো ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) সহ অপর কতক আলিম এতদনুসারে আমল করেন নি। রাবী সাঈদ ইবনে যায়দ হলেন হাম্মাদ ইবনে যায়দ (রাহঃ) এর ভাই। আর আবু লাবীদ (রাহঃ) এর নাম হলো লিমাযা ইবনে যাইয়াদ।

মুকতাবের নিকট যদি আদায় করার মত কেন কিছু থাকে।

باب مَا جَاءَ فِي الْمُكَاتَبِ إِذَا كَانَ عِنْدَهُ مَا يُؤَدِّي

1259

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَصَابَ الْمُكَاتَبُ حَدًّا أَوْ مِيرَاثًا وَرِثَ بِحِسَابِ مَا عَتَقَ مِنْهُ " . وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " يُؤَدِّي الْمُكَاتَبُ بِحِصَّةِ مَا أَدَّى دِيَةَ حُرٍّ وَمَا بَقِيَ دِيَةَ عَبْدٍ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَهَكَذَا رَوَى يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَرَوَى خَالِدٌ الْحَذَّاءُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ عَلِيٍّ قَوْلَهُ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ . وَقَالَ أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمُ الْمُكَاتَبُ عَبْدٌ مَا بَقِيَ عَلَيْهِ دِرْهَمٌ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১২৬২. হারূন ইবনে অব্দুল্লাহ্ বাযযায (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন। কোন মুকাতাব* দাসের যদি রক্তপণের অর্থ বা উত্তরাধিকারী হওয়ার মত কোন কিছু থাকে তবে আযাদ হওয়ার হার অনুসারে সে ঐ বস্তুর ওয়ারিছ ও মালিক হবে। নবী (ﷺ) বলেছেন, মুকাতাব তার চুক্তির যতটুকু পরিমাণ আদায় করেছে সে পরিমাণ অনুসারে স্বাধীন ব্যক্তির দিয়াত (রক্তপণ) এবং যে পরিমাণ বাকী রয়েছে সে পরিমাণ অনুসারে গোলামের দিয়াত আদায় করবে।

এই বিষয়ে উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। ইয়াহয়া ইবনে আবু কাছীর (রাহঃ)-ও এটিকে ইকরিমা-ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। খালিদ হায্যা (রাহঃ) এটিকে ইকরিমার বরাতে আলী (রাযিঃ)-এর বক্তব্য হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ এতদনুসরে অভিমত প্রদান করেছেন। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের অভিমত হলো, একটি দিরহাম অবশিষ্ট থাকা পর্যন্তও মুকাতাব দাস বলে গণ্য। এ হলো ইমাম, সুফিয়ান ছাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত।

*যে দাস কিছু বিনিময়ের মাধ্যমে মালিকের সঙ্গে আযাদ হওয়ার চুক্তি করে সে দাসকে 'মুকাতাব' বলে।
1260

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ يَقُولُ " مَنْ كَاتَبَ عَبْدَهُ عَلَى مِائَةِ أُوقِيَّةٍ فَأَدَّاهَا إِلاَّ عَشْرَ أَوَاقٍ أَوْ قَالَ عَشَرَةَ دَرَاهِمَ ثُمَّ عَجَزَ فَهُوَ رَقِيقٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنَّ الْمُكَاتَبَ عَبْدٌ مَا بَقِيَ عَلَيْهِ شَيْءٌ مِنْ كِتَابَتِهِ . وَقَدْ رَوَى الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ نَحْوَهُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১২৬৩. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শুআয়ব তার পিতা, তার পিতামহ আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে খুতবায় বলতে শুনেছি যে, কেউ যদি একশত উকিয়া মুদ্রার বিনিময়ে তার দাসের সঙ্গে ‘‘কিতাবাত’’ চুক্তি করে আর সেই দাস যদি দশ উকিয়া ছাড়া বাকী অর্থ আদায় করে দেওয়ার পর অর্থ আদায়ে অপারগ হয় তবে তবে সে গোলাম বলেই গণ্য হবে। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। তার বলেন, কিতাবাত চুক্তির সামান্য অংশ বাকী থাকা পর্যন্ত মুকাতাব দাস বলেই গণ্য হবে। হাজ্জাজ ইবনে আরতাত (রাহঃ) এটিকে আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) থেকে অনূরূপ রিওয়ায়াত করেছেন।
1261

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ نَبْهَانَ، مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَانَ عِنْدَ مُكَاتَبِ إِحْدَاكُنَّ مَا يُؤَدِّي فَلْتَحْتَجِبْ مِنْهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَمَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى التَّوَرُّعِ وَقَالُوا لاَ يُعْتَقُ الْمُكَاتَبُ وَإِنْ كَانَ عِنْدَهُ مَا يُؤَدِّي حَتَّى يُؤَدِّيَ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

১২৬৪. সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান মাখযূমী (রাহঃ) .... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কারো মুকাতাবের কাছে যদি আদায় করার মত সম্পদ থাকে তবে তার থেকে সে যেন সে পরিমাণ আদায় করে। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ হাদীসের তাৎপর্য সম্পর্কে আলিমগণ বলেন, এটির সম্পর্ক হলো তাকওয়া ও সাবধানতার সাথে তাঁরা বলেন, মুকাতাবের কাছে আদায় করার মত সম্পদ থাকলেও যতক্ষণ না চুক্তি মুতাবিক সাকুল্য অর্থ সে আদায় করবে ততক্ষণ সে আযাদ হবে না।

দেউলিয়া ঘোষিত ব্যক্তির নিকট কোন পাওনাদার ঠিক তারই জিনিসটি পেলে।

باب مَا جَاءَ إِذَا أَفْلَسَ لِلرَّجُلِ غَرِيمٌ فَيَجِدُ عِنْدَهُ مَتَاعَهُ

1262

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " أَيُّمَا امْرِئٍ أَفْلَسَ وَوَجَدَ رَجُلٌ سِلْعَتَهُ عِنْدَهُ بِعَيْنِهَا فَهُوَ أَوْلَى بِهَا مِنْ غَيْرِهِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ سَمُرَةَ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ هُوَ أُسْوَةُ الْغُرَمَاءِ . وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ الْكُوفَةِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১২৬৫. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, কোন ব্যক্তি যদি দেউলিয়া হয়ে যায় আর তার নিকট যদি কোন ব্যক্তি ঠিক তারই জিনিসটি পেয়ে যায় তবে এতে অন্যের চাইতে সেই অধিক হকদার। - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

এই বিষয়ে সামুরা ও ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ হাদীস অনুসারে কতক আলিমের আমল রয়েছে। এ হলো ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। আর কোন কোন আলিম বলেন, এতে সে অন্যান্য পাওনাদারের সঙ্গে সম অধিকারী হবে। এ হলো কুফাবাসী আলিমগণের অভিমত।

মুসলিম ব্যক্তি কর্তৃক বিক্রির জন্য মদ জিম্মীর কাছে অর্পন করা নিষিদ্ধ।

باب مَا جَاءَ فِي النَّهْىِ لِلْمُسْلِمِ أَنْ يَدْفَعَ إِلَى الذِّمِّيِّ الْخَمْرَ يَبِيعُهَا لَهُ

1263

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ أَبِي الْوَدَّاكِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ كَانَ عِنْدَنَا خَمْرٌ لِيَتِيمٍ فَلَمَّا نَزَلَتِ الْمَائِدَةُ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْهُ وَقُلْتُ إِنَّهُ لِيَتِيمٍ . فَقَالَ " أَهْرِيقُوهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوُ هَذَا . وَقَالَ بِهَذَا بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ وَكَرِهُوا أَنْ تُتَّخَذَ الْخَمْرُ خَلاًّ وَإِنَّمَا كُرِهَ مِنْ ذَلِكَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَنْ يَكُونَ الْمُسْلِمُ فِي بَيْتِهِ خَمْرٌ حَتَّى يَصِيرَ خَلاًّ . وَرَخَّصَ بَعْضُهُمْ فِي خَلِّ الْخَمْرِ إِذَا وُجِدَ قَدْ صَارَ خَلاًّ . أَبُو الْوَدَّاكِ اسْمُهُ جَبْرُ بْنُ نَوْفٍ .

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১২৬৬. আলী ইবনে খাশরাম (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমাদের কাছে জনৈক ইয়াতীমের কিছু মদ ছিল। সূরা মাইদার (মদ নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত) আয়াত নাযিল হলে এ বিষয়ে আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলাম। বললাম, এ মদ হলো জনৈক ইয়াতীমের সম্পদ। তিনি বললেন, তা ঢেলে ফেলে দাও।

এই বিষয়ে আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকেও হাদীস রয়েছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু সাঈদ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। একাধিক সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

কোন কোন আলিম এ হাদীস অনুসারে মত পোষণ করেছেন। তাঁরা মদকে সিরকায় পরিণত করা না জায়েয বলে মত প্রকাশ করেছেন। এ যে কোন মুসলিমের ঘরে মদ থাকা অবস্থায় সিরকায় পরিণত হয়ে যাওয়াটাও না-জায়েয বলে মনে করেছেন। কতক আলিম মদ যদি সিরকারূপে রূপান্তরিত হয়ে যায়, তবে এই মদের সিরকাকে জায়েয মনে করেছেন।

শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ

باب

1264

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا طَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ، عَنْ شَرِيكٍ، وَقَيْسٍ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَدِّ الأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ وَلاَ تَخُنْ مَنْ خَانَكَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا الْحَدِيثِ وَقَالُوا إِذَا كَانَ لِلرَّجُلِ عَلَى آخَرَ شَيْءٌ فَذَهَبَ بِهِ فَوَقَعَ لَهُ عِنْدَهُ شَيْءٌ فَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَحْبِسَ عَنْهُ بِقَدْرِ مَا ذَهَبَ لَهُ عَلَيْهِ . وَرَخَّصَ فِيهِ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ التَّابِعِينَ . وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَقَالَ إِنْ كَانَ لَهُ عَلَيْهِ دَرَاهِمُ فَوَقَعَ لَهُ عِنْدَهُ دَنَانِيرُ فَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَحْبِسَ بِمَكَانِ دَرَاهِمِهِ إِلاَّ أَنْ يَقَعَ عِنْدَهُ لَهُ دَرَاهِمُ فَلَهُ حِينَئِذٍ أَنْ يَحْبِسَ مِنْ دَرَاهِمِهِ بِقَدْرِ مَا لَهُ عَلَيْهِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১২৬৭. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যে তোমার নিকট আমানত রেখেছে তুমি তার নিকট সেই আমানত আদায় করে দাও। আর তোমার সঙ্গে যে খিয়ানত করেছে তার সাথে তুমি খিয়ানত করবে না।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। এই হাদীস মুতাবিক কোন কোন আলিম মত পোষণ করেছেন। তার বলেন, কোন ব্যক্তির যদি অপর কারো নিকট কিছু থাকে আর সে যদি তা আত্মসাৎ করে এবং পরে যদি তার কোন জিনিস ঐ পাওনাদার ব্যক্তির হাতে পড়ে তার যে পরিমাণ জিনিস সে আত্মসাৎ করেছে সে পরিমাণ আটকে রাখার অধিকার তার নেই।

তাবিঈনের কেউ কেউ পাওনাদার ব্যক্তির জন্য এর অনুমতি দিয়েছেন। এ হলো সুফিয়ান ছাওরী (রাহঃ)-এর অভিমত। তবে তিনি বলেন, কারো যদি দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা) পাওনা হয় আ তার হাতে যদি খাতকেরীনার (স্বর্ণ মুদ্রা) এসে যায় তবে তার পক্ষে দিরহামের স্থানে এই দীনার আটকে রাখার অধিকার নেই। কিন্তু তার হাতে যদি খাতকের কিছু দিরহাম আসে তবে সে তার পাওনা দিরহামের পরিমাণ আটকে রেখে নিজের পাওনা আদায় করে নিতে পারবে।

আরিয়া বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যে গৃহীত বস্তু অবশ্যই ফিরিয়ে দিতে হবে।

باب مَا جَاءَ فِي أَنَّ الْعَارِيَةَ مُؤَدَّاةٌ

1265

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ " الْعَارِيَةُ مُؤَدَّاةٌ وَالزَّعِيمُ غَارِمٌ وَالدَّيْنُ مَقْضِيٌّ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ سَمُرَةَ وَصَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ وَأَنَسٍ . قَالَ وَحَدِيثُ أَبِي أُمَامَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَيْضًا مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ .

Narrator: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

১২৬৮. হান্নাদ ও আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) .... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের বছরে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে তাঁর খুতবায় বলতে শুনেছি যে, আরিয়া তার মালিকের নিকট ফিরিয়ে দিতে হবে, যামিনদার প্রাপ্য পরিশোধের যিম্মাদার হবে, আর ঋণ অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। - ইবনে মাজাহ

এই বিষয়ে সামূরা, সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া ও আনাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু উমামা (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-গারীব। এ সূত্র ছাড়াও আবু উমামা (রাযিঃ)-এর বরাতে নবী থেকে এ হাদীসটি বর্ণিত আছে।
1266

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " عَلَى الْيَدِ مَا أَخَذَتْ حَتَّى تُؤَدِّيَ " . قَالَ قَتَادَةُ ثُمَّ نَسِيَ الْحَسَنُ فَقَالَ هُوَ أَمِينُكَ لاَ ضَمَانَ عَلَيْهِ . يَعْنِي الْعَارِيَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ إِلَى هَذَا وَقَالُوا يَضْمَنُ صَاحِبُ الْعَارِيَةِ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ لَيْسَ عَلَى صَاحِبِ الْعَارِيَةِ ضَمَانٌ إِلاَّ أَنْ يُخَالِفَ . وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ وَبِهِ يَقُولُ إِسْحَاقُ .

Narrator: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

১২৬৯. মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ..... সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, হাতে যা গ্রহণ কররো যতক্ষণ না সে তা প্রকৃত মালিকের নিকট আদায় করে দিবে ততক্ষণ এর দায়িত্ব তার উপর থেকে যাবে। বর্ণনাকারী কাতাদা বলেন, পরবর্তীতে হাসান (রাহঃ) এই হাদীসটির বিষয় ভুলে যান। ফলে তিনি বলেন, সে তোমার আমানতদার সুতরাং তার উপর এর অর্থাৎ আরিয়ার ক্ষতিপূরণ নেই। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম এ হাদীসের মর্ম অনুযায়ী মত পোষণ করেছেন। তাঁরা বলেন, আরিয়া’ গ্রহণকারী ব্যক্তির (জিনিসটি নষ্ট হলে) যামিন হবে। এ হলো ইমাম শাফিঈ ও আহমাদ (রাহঃ)-এর অভিমত। কোন কোন সাহাবী ও আলিম বলেন, আরিয়া গ্রহণকারী ব্যক্তি যদি শর্ত খেলাফ না করে তবে তার উপর কোন যিমান আসবে না। এ হলো ইমাম সুফিয়ান ছাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণের অভিমত। ইসহাক (রাহঃ)-এর বক্তব্যও এ-ই।

ইহতিকার বা মজুদদারী করা।

باب مَا جَاءَ فِي الاِحْتِكَارِ

1267

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ مَعْمَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَضْلَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يَحْتَكِرُ إِلاَّ خَاطِئٌ " . فَقُلْتُ لِسَعِيدٍ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ إِنَّكَ تَحْتَكِرُ . قَالَ وَمَعْمَرٌ قَدْ كَانَ يَحْتَكِرُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَإِنَّمَا رُوِيَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ كَانَ يَحْتَكِرُ الزَّيْتَ وَالْحِنْطَةَ وَنَحْوَ هَذَا . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَأَبِي أُمَامَةَ وَابْنِ عُمَرَ . وَحَدِيثُ مَعْمَرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا احْتِكَارَ الطَّعَامِ . وَرَخَّصَ بَعْضُهُمْ فِي الاِحْتِكَارِ فِي غَيْرِ الطَّعَامِ . وَقَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ لاَ بَأْسَ بِالاِحْتِكَارِ فِي الْقُطْنِ وَالسَّخْتِيَانِ وَنَحْوِ ذَلِكَ .

Narrator: মা’মার ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নাযলা (রাঃ)

১২৭০. ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ..... মা’মার ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে নাযলা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, পাপচারী ব্যতিরেকে কেউ মওযুদদারী করে না। রাবী মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম বলেন, আমি সাঈদ-কে বললাম, হে আবু মুহাম্মাদ, আপনি তো মওজুদ করেন? তিনি বললেন, মা’মারও মওজুদ করতেন।* সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি তৈল ও বৃক্ষ - পত্র- ঘাস এবং অনুরূপ দ্রব্য মওজুদ করতেন। - ইবনে মাজাহ, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই বিষয়ে উমর, আলী, আবু উমামা ও ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। মামার (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তারা খাদ্যদ্রব্য মওজূদ করা পছন্দ করেন নি। কেউ কেউ খাদ্যদ্রব্য ছাড়া অন্য জিনিস মওজূদ রাখার অনুমতি দিয়েছেন। ইবনে মুবারক বলেন, তুলা ভেড়ার চামড়া এবং অনুরূপ দ্রব্য রাখায় কোন দোষ নাই।

* খাদ্যদ্রব্য ব্যতীত।

মুহাফ্ফালাত বা স্তনে দুগ্ধ জমিয়ে রেখে পশু বিক্রি করা।

باب مَا جَاءَ فِي بَيْعِ الْمُحَفَّلاَتِ

1268

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَسْتَقْبِلُوا السُّوقَ وَلاَ تُحَفِّلُوا وَلاَ يُنَفِّقْ بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . وَحَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا بَيْعَ الْمُحَفَّلَةِ وَهِيَ الْمُصَرَّاةُ لاَ يَحْلُبُهَا صَاحِبُهَا أَيَّامًا أَوْ نَحْوَ ذَلِكَ لِيَجْتَمِعَ اللَّبَنُ فِي ضَرْعِهَا فَيَغْتَرَّ بِهَا الْمُشْتَرِي . وَهَذَا ضَرْبٌ مِنَ الْخَدِيعَةِ وَالْغَرَرِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১২৭১. হান্নাদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, বাজারে পৌঁছার পূর্বেই (স্বল্পমূল্যে ক্রয়ের জন্য) তেজারতী কাফেলার সাক্ষাত করবে না, পশুর স্তনে দুধ জমিয়ে রাখবে না, কেউ অন্যের পন্য চালানোর জন্য অপচেষ্টা করবে না। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ বিষয়ে ইবনে মাসউদ ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।

ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এতদনুসারে আমল করেছেন। তারা মুহাফফালা বা স্থানে দুগ্ধ জমিয়ে সেই পশু বিক্রি করা না জায়েয বলেছেন। মুহাফফালাই হলো মুসাররাত-কয়েকদিন পর্যন্ত মালিক দুগ্ধবর্তী পশুর দুধ দোহন করা থেকে বিরত থাকে যাতে এর স্তনে দুধ জমা হয়ে যায়। যেন ক্রেতা ধোঁকায় পড়ে যায়। এ হলো এক ধরণের প্রবঞ্চনা ও ধোঁকাবাজী।

কোন মুসলিমের সম্পদ গ্রাস করার জন্য মিথ্যা শপথ করা।

باب مَا جَاءَ فِي الْيَمِينِ الْفَاجِرَةِ يُقْتَطَعُ بِهَا مَالُ الْمُسْلِمِ

1269

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ وَهُوَ فِيهَا فَاجِرٌ لِيَقْتَطِعَ بِهَا مَالَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ " . فَقَالَ الأَشْعَثُ بْنُ قَيْسٍ فِيَّ وَاللَّهِ لَقَدْ كَانَ ذَلِكَ كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَ رَجُلٍ مِنَ الْيَهُودِ أَرْضٌ فَجَحَدَنِي فَقَدَّمْتُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلَكَ بَيِّنَةٌ " . قُلْتُ لاَ . فَقَالَ لِلْيَهُودِيِّ " احْلِفْ " . فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذًا يَحْلِفَ فَيَذْهَبَ بِمَالِي . فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: (إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً ) . إِلَى آخِرِ الآيَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ وَأَبِي مُوسَى وَأَبِي أُمَامَةَ بْنِ ثَعْلَبَةَ الأَنْصَارِيِّ وَعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ . وَحَدِيثُ ابْنِ مَسْعُودٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১২৭২. হান্নাদ (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিম ব্যক্তির সম্পদ গ্রাস করার উদ্দেশ্যে কেউ যদি মিথ্যা শপথ করে তবে সে আল্লাহ্ তাআলার কাছে এভাবে উপস্থিত হবে যে, তিনি তার উপর ক্রোধাম্বিত থাকবেন। সাহাবী আশআছ ইবনে কায়স (রাযিঃ) বলেছেন, আল্লাহর কসম, এই বিষয়টি আমার ক্ষেত্রেই ঘটেছিল। আমার ও জনৈক ইয়াহুদীর একখণ্ড যমীন ছিল। কিন্তু সে আমার হক অস্বীকার করে বসে। তখন তাকে নিয়ে আমি নবী (ﷺ)-এর কাছে পেশ করে দেই। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে বললেন, তোমার কি কোন সাক্ষী আছে? আমি বল্লাম, না। তখন তিনি ইয়াহুদীকে বললেন, তুমি কসম খাও। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ তা হলে তো সে কসম করেই বসবে আর আমার সম্পদ গ্রাস করবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তাআলা নাযিল করলেনঃ إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلاً

যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজদের কসমকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে। (আল-ইমরান ৩ঃ৭৭) - ইবনে মাজাহ

এ বিষয়ে ওয়াইল ইবনে হুজর, আবু মুসা, আবু উমামা ইবনে ছা’লাবা আনসারী ও ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।

ক্রেতা-বিক্রেতায় যখন মতবিরোধ ঘটে।

باب مَا جَاءَ إِذَا اخْتَلَفَ الْبَيِّعَانِ

1270

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا اخْتَلَفَ الْبَيِّعَانِ فَالْقَوْلُ قَوْلُ الْبَائِعِ وَالْمُبْتَاعُ بِالْخِيَارِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ مُرْسَلٌ عَوْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ لَمْ يُدْرِكِ ابْنَ مَسْعُودٍ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَذَا الْحَدِيثُ أَيْضًا وَهُوَ مُرْسَلٌ أَيْضًا . قَالَ أَبُو عِيسَى قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ قُلْتُ لأَحْمَدَ إِذَا اخْتَلَفَ الْبَيِّعَانِ وَلَمْ تَكُنْ بَيِّنَةٌ قَالَ الْقَوْلُ مَا قَالَ رَبُّ السِّلْعَةِ أَوْ يَتَرَادَّانِ . قَالَ إِسْحَاقُ كَمَا قَالَ وَكُلُّ مَنْ كَانَ الْقَوْلُ قَوْلَهُ فَعَلَيْهِ الْيَمِينُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا رُوِيَ عَنْ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ التَّابِعِينَ مِنْهُمْ شُرَيْحٌ وَغَيْرُهُ نَحْوُ هَذَا .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১২৭৩. কুতায়বা (রাহঃ) ...... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, ক্রেতা এবং বিক্রেতার মাঝে মতবিরোধ হলে বিক্রেতার কথাই গ্রহণীয়, আর ক্রেতার থাকবে (গ্রহণ করা না করার) ইখতিয়ার।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি মুরসাল। রাবী আওন ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-এর যুগ পান নি। কাসিম ইবনে আব্দুর রহমানের বরাতে ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) নবী (ﷺ) সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত আছে। কিন্তু তাও মুরসাল। ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) বলেন, আমি আহমাদ (রাহঃ) -কে বললাম, ক্রেতা এবং বিক্রেতার মাঝে যদি মতবিরোধ হয় আর কোন সাক্ষী যদি না থাকে (তার কি করা হবে?) তিনি বললেন, পণ্য-মালিকের কথাই গ্রহণীয় হবে বা তারা উভয়ে এ লেন-দেন প্রত্যাহার করবে। ইসহাক (রাহঃ)-ও তদ্রূপ কথা বলেছেন। যার কথা গ্রহণীয় সব ক্ষেত্রেই তার উপর কসম আরোপিত হবে। শুরায়হ (রাহঃ) সহ কোন কোন তাবিঈ থেকেও অনুরূপ অভিমত বর্ণিত আছে।

অতিরিক্ত পানি বিক্রি করা।

باب مَا جَاءَ فِي بَيْعِ فَضْلِ الْمَاءِ

1271

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعَطَّارُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي الْمِنْهَالِ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ عَبْدٍ الْمُزَنِيِّ، قَالَ نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الْمَاءِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَبُهَيْسَةَ عَنْ أَبِيهَا وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعَائِشَةَ وَأَنَسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ إِيَاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُمْ كَرِهُوا بَيْعَ الْمَاءِ . وَهُوَ قَوْلُ ابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَدْ رَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي بَيْعِ الْمَاءِ . مِنْهُمُ الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ .

Narrator: ইয়াস ইবনে আবদ মুযানী (রাঃ)

১২৭৪. কুতায়বা (রাহঃ) ...... ইয়াস ইবনে আব্দ আল-মুযানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) পানি বিক্রয় করা নিষেধ করেছেন। - ইবনে মাজাহ

এই বিষয়ে জাবির, বুহায়সা তৎপিতার বরাতে, আবু হুরায়রা, আয়িশা, আনাস ও আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইয়াস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ আলিম- এর অভিমত এই হাদীস অনুসারে। তারা পানি বিক্রি করা নাজায়েয বলেছেন। এ হলো ইবনে মুবারক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। হাসান বসরী (রাহঃ) সহ কতক আলিম পানি বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন।
1272

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يُمْنَعُ فَضْلُ الْمَاءِ لِيُمْنَعَ بِهِ الْكَلأُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو الْمِنْهَالِ اسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُطْعِمٍ كُوفِيٌّ وَهُوَ الَّذِي رَوَى عَنْهُ حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ . وَأَبُو الْمِنْهَالِ سَيَّارُ بْنُ سَلاَمَةَ بَصْرِيٌّ صَاحِبُ أَبِي بَرْزَةَ الأَسْلَمِيِّ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১২৭৫. কুতায়বা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, ঘাস থেকে বঞ্চিত রাখার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত পানি থেকে বাধা প্রদান করা যাবে না। - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবুল মিনহালের নাম হলো আব্দুর রহমান ইবনে মুতইম। তিনি ছিলেন কুফাবাসী, তাঁর বরাতেই হাবীব ইবনে আবু ছাবিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর আবুল মিনহাল সায়্যার ইবনে সালামা হলেন বসরাবাসী, তিনি ছিলেন আবু বারযা আসলামীর সঙ্গী ও শাগরিদ।

নর পশুর প্রজননের বিনিময়ে গ্রহণ হারাম।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ عَسْبِ الْفَحْلِ

1273

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، وَأَبُو عَمَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَكَمِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ عَسْبِ الْفَحْلِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَنَسٍ وَأَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَقَدْ رَخَّصَ بَعْضُهُمْ فِي قَبُولِ الْكَرَامَةِ عَلَى ذَلِكَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২৭৬. আহমাদ ইবনে মানী’ ও আবু আম্মার (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) পুং পশুর প্রজননের বিনিময়ে গ্রহণ নিষেধ করেছেন। - বুখারি

এই বিষয়ে আবু হুরায়রা, আনাস, আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কোন কোন আলিম এই হাদীস অনুযায়ী মত পোষণ করেন। কতক আলিম এতদবিষয়ে (শর্ত না করে) সম্মানী গ্রহণের অবকাশ রেখেছেন।
1274

حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخُزَاعِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ حُمَيْدٍ الرُّؤَاسِيِّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ كِلاَبٍ سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ عَسْبِ الْفَحْلِ فَنَهَاهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نُطْرِقُ الْفَحْلَ فَنُكْرَمُ . فَرَخَّصَ لَهُ فِي الْكَرَامَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ حُمَيْدٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১২৭৭. আব্দা ইবনে আব্দুল্লাহ্ খুযাঈ বসরী (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, কিলাব গোত্রের জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে পুং (পুরুষ) পশুর প্রজননের বিনিময় গ্রহণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল। তখন তিনি তা নিষেধ করে দেন। সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা পুং (পুরুষ) পশুর প্রজননের বিনিময়ে হাদীয়া হিসাবে (অনেক সময়) সম্মানী নেই। তখন তিনি সম্মানী গ্রহণের অনুমতি দেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান-গারীব। ইবরাহীম ইবনে হুমায়দ-হিশাম ইবনে উরওয়া (রাহঃ) সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।

কুকুরের মূল্য।

باب مَا جَاءَ فِي ثَمَنِ الْكَلْبِ

1275

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَارِظٍ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كَسْبُ الْحَجَّامِ خَبِيثٌ وَمَهْرُ الْبَغِيِّ خَبِيثٌ وَثَمَنُ الْكَلْبِ خَبِيثٌ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي مَسْعُودٍ وَجَابِرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَابْنِ عُمَرَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ رَافِعٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا ثَمَنَ الْكَلْبِ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَدْ رَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي ثَمَنِ كَلْبِ الصَّيْدِ .

Narrator: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

১২৭৮. মুহাম্মাদ ইবনে রাফি (রাহঃ) .... রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, শিঙ্গা লাগানোর পারিশ্রমিক ঘৃণ্য, ব্যভিচারের উপার্জন ঘৃণ্য, কুকুর-বিক্রি-মূল্য ঘৃণ্য। - মুসলিম

এ বিষয়ে উমর, ইবনে মাসউদ, আবু মাসউদ, জাবির, আবু হুরায়রা, ইবনে আব্বাস, ইবনে উমর ও আব্দুল্লাহ্ ইবনে জা’ফার (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, রাফি, (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ আলিমের এ হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। তাঁরা কুকুর বিক্রিয় মূল্য হারাম বলে মত প্রকাশ করেছেন। এ হলো ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। কতক আলিম শিকারী কুকুরের মূল্য গ্রহণের ব্যাপারে অনুমতি দিয়েছেন।
1276

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، ح وَحَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيُّ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ وَمَهْرِ الْبَغِيِّ وَحُلْوَانِ الْكَاهِنِ . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

১২৭৯. কুতায়বা (রাহঃ) ...... সা’ঈদ ইবনে আব্দুর রহমান মাখযূমী ও আরো একাধিক রাবী (রাহঃ) আবু মাসউদ আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কুকুর বিক্রয় মূল্য, ব্যভিচারীনীর ব্যভিচারের উপার্জন এবং গণকের গণনার বিনিময় নিষেধ করেছেন। - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।

শিঙ্গা লাগানোর পারিশ্রমিক।

باب مَا جَاءَ فِي كَسْبِ الْحَجَّامِ

1277

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ مُحَيِّصَةَ، أَخِي بَنِي حَارِثَةَ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ اسْتَأْذَنَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي إِجَارَةِ الْحَجَّامِ فَنَهَاهُ عَنْهَا فَلَمْ يَزَلْ يَسْأَلُهُ وَيَسْتَأْذِنُهُ حَتَّى قَالَ " اعْلِفْهُ نَاضِحَكَ وَأَطْعِمْهُ رَقِيقَكَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ وَأَبِي جُحَيْفَةَ وَجَابِرٍ وَالسَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ مُحَيِّصَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ . وَقَالَ أَحْمَدُ إِنْ سَأَلَنِي حَجَّامٌ نَهَيْتُهُ وَآخُذُ بِهَذَا الْحَدِيثِ .

Narrator: বিবিধ

১২৮০. কুতায়বা (রাহঃ) .... ইবনে মুহায়্যাসা তৎপিতা মুহায়্যাসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট শিঙ্গা লাগানোর পারিশ্রামিক সম্পর্কে অনুমতি চেয়েছিলেন। তিনি তা নিষেধ করে দেন। কিন্তু তিনি বার বার তাঁর কাছে সেই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন এবং সে বিষয়ে অনুমতি প্রার্থনা করতে লাগলেন। শেষে নবী (ﷺ) বললেন, তা দিয়ে তোমার পানি সেচার উটকে ঘাস খেতে দাও আর তা তোমার গোলামকে কেতে দাও। - ইবনে মাজাহ

এ বিষয়ে রাফি’ ইবনে খাদীজ, আবু জুহায়ফা, জাবির ও সাঈব ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, মুহায়্যাসা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। ইমাম আহমাদ (রাহঃ) বলেছেন, কোন শিঙ্গাওয়ালা যদি আমার কাছে (এ পেশা সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করে তবে আমি তাকে এ থেকে নিষেধ করব এবং আমলের জন্য এ হাদীসটি অবলম্বন করব।

শিঙ্গা লাগানোর উপার্জন সম্পর্কে অনুমতি।

باب مَا جَاءَ فِي الرُّخْصَةِ فِي كَسْبِ الْحَجَّامِ

1278

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، قَالَ سُئِلَ أَنَسٌ عَنْ كَسْبِ الْحَجَّامِ، فَقَالَ أَنَسٌ احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَحَجَمَهُ أَبُو طَيْبَةَ فَأَمَرَ لَهُ بِصَاعَيْنِ مِنْ طَعَامٍ وَكَلَّمَ أَهْلَهُ فَوَضَعُوا عَنْهُ مِنْ خَرَاجِهِ وَقَالَ " إِنَّ أَفْضَلَ مَا تَدَاوَيْتُمْ بِهِ الْحِجَامَةُ " . أَوْ " إِنَّ مِنْ أَمْثَلِ دَوَائِكُمُ الْحِجَامَةَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ فِي كَسْبِ الْحَجَّامِ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১২৮১. আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ..... হুমায়দ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আনাস (রাযিঃ) কে শিঙ্গাওয়ালার উপার্জন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন আনাস (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিজে শিঙ্গা লাগিয়েছিলেন। তাঁকে আবু তায়বা শিঙ্গা লাগিয়েছিল। তিনি তাকে দুই সা’ পরিমাণ খাদ্য প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এবং তার মালিকদের কাছে তৎকর্তুক দৈনিক দেয় মজুরী সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন। ফলে তারা তার দেয় মজুরীর হার কামিয়ে দিয়েছিল। তিনি বলেছেন, তোমাদের সর্বোত্তম চিকিৎসা হলো শিঙ্গা লাগানো।

এই বিষয়ে আলী, ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আনাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম শিঙ্গাওয়ালার পারিশ্রমিকের অনুমতি দিয়েছেন। এ হলো [ইমাম আবু হানিফা ও] ইমাম শাফিঈ (রাহঃ)-এর অভিমত।

কুকুর ও বিড়াল বিক্রয় মূল্য মাকরূহ।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ ثَمَنِ الْكَلْبِ وَالسِّنَّوْرِ

1279

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، وَعَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، قَالاَ أَنْبَأَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ وَالسِّنَّوْرِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ فِي إِسْنَادِهِ اضْطِرَابٌ وَلاَ يَصِحُّ فِي ثَمَنِ السِّنَّوْرِ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ بَعْضِ أَصْحَابِهِ عَنْ جَابِرٍ . وَاضْطَرَبُوا عَلَى الأَعْمَشِ فِي رِوَايَةِ هَذَا الْحَدِيثِ . وَقَدْ كَرِهَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ ثَمَنَ الْهِرِّ وَرَخَّصَ فِيهِ بَعْضُهُمْ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَرَوَى ابْنُ فُضَيْلٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১২৮২. আলী ইবনে হুজর ও আলী ইবনে খাশরাম (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কুকুর ও বিড়ালের বিক্রয় মূল্য নিষেধ করেছেন। - ইবনে মাজাহ, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটির সনদে ইযতিরাব বিদ্যমান। এ হাদীসটি আ’মাশ থেকে তাঁর কোন কোন উস্তাদ সূত্রে জাবির (রাযিঃ) সনদে ও বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটির রিওয়ায়াতের ক্ষেত্রে রাবীগণ আ’মাশের পর্যায়ে এসে ইযতিরাব করেছেন। আলিমের একদল বিড়াল বিক্রয় মূল্য মাকরূহ বলে মত প্রকাশ করেছেন। আর কতক আলিম এই ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছেন। এ হলো আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। ইবনে ফুযায়ল এ হাদীসটিকে অন্যভাবে আ’মাশ-আবু হাযিম- আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-নবী (ﷺ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
1280

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ زَيْدٍ الصَّنْعَانِيُّ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَكْلِ الْهِرِّ وَثَمَنِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَعُمَرُ بْنُ زَيْدٍ لاَ نَعْرِفُ كَبِيرَ أَحَدٍ رَوَى عَنْهُ غَيْرَ عَبْدِ الرَّزَّاقِ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১২৮৩. ইয়াহয়া ইবনে মুসা (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বিড়াল আহার করা ও এর মূল্য ভোগ করা নিষেধ করেছেন। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান-গারীব। আব্দুর রাযযাক ছাড়া উমর ইবনে যায়দ থেকে বড় কেউ কিছু রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমাদের জানা নেই।

শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ।

باب

1281

أَخْبَرَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَزِّمِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ نَهَى عَنْ ثَمَنِ الْكَلْبِ، إِلاَّ كَلْبَ الصَّيْدِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ يَصِحُّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَأَبُو الْمُهَزِّمِ اسْمُهُ يَزِيدُ بْنُ سُفْيَانَ وَتَكَلَّمَ فِيهِ شُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ وَضَعَّفَهُ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوُ هَذَا وَلاَ يَصِحُّ إِسْنَادُهُ أَيْضًا .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১২৮৪. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন, কুকুর বিক্রয় মূল্য নিষেধ করা হয়েছে। তবে শিকারী কুকুরের মূল্য নিষিদ্ধ নয়।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, হাদীসটি এ সূত্রে সহীহ নয়। রাবী আবুল মুহাযযিম-এর নাম হল ইয়াযীদ ইবনে সুফিয়ান। হাদীসবিদ শু’বা ইবনুল হাজ্জাজ (রাহঃ) তার সমালোচনায় কথা বলেছেন। জাবির (রাযিঃ) নবী (ﷺ) সূত্রেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। এটির সনদও সহীহ নয়।

গায়িকা দাসী বিক্রি নিষিদ্ধ।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ بَيْعِ الْمُغَنِّيَاتِ

1282

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، أَخْبَرَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زَحْرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَبِيعُوا الْقَيْنَاتِ وَلاَ تَشْتَرُوهُنَّ وَلاَ تُعَلِّمُوهُنَّ وَلاَ خَيْرَ فِي تِجَارَةٍ فِيهِنَّ وَثَمَنُهُنَّ حَرَامٌ فِي مِثْلِ هَذَا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ : ( وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ ) إِلَى آخِرِ الآيَةِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي أُمَامَةَ إِنَّمَا نَعْرِفُهُ مِثْلَ هَذَا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَقَدْ تَكَلَّمَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ وَضَعَّفَهُ وَهُوَ شَامِيٌّ .

Narrator: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

১২৮৫. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, গায়িকা দাসী বিক্রি করবে না। এবং কিনবেও না। তাদের গান শিক্ষা দিবে না। এদের ব্যবসায়ে কোন কল্যাণ নাই। এদের মূল্য হারাম। এদের মত লোকদের ব্যাপারেই এই আয়াত নাযিল হয়েছেঃ

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ

মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞতা বশতঃ আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য অসার বাক্য ক্রয় করে এবং আল্লাহর পথকে ঠাট্রা-বিদ্রূপ করে। ওরা তারাই, যাদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি। (সূরা লুকমান ৩১ঃ৬)

এই বিষয়ে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু উমামা (রাযিঃ) বির্ণত হাদীসটি সম্পর্কে আমরা এ সূত্রেই অনুরূপভাবে জানি। আলী ইবনে ইয়াযীদ সম্পর্কে কতক হাদীস বিশেষজ্ঞও সমালোচনা করেছেন এবং তাকে যঈফ বলেছেন। ইনি হলেন সিরীয়াবাসী।

বিক্রি করতে গিয়ে আপন দুই ভাই বা মা ও সন্তানের মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করা জায়েয নয়।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الْفَرْقِ بَيْنَ الأَخَوَيْنِ أَوْ بَيْنَ الْوَالِدَةِ وَوَلَدِهَا فِي الْبَيْعِ

1283

حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ الشَّيْبَانِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي حُيَىُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الْوَالِدَةِ وَوَلَدِهَا فَرَّقَ اللَّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَحِبَّتِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .

Narrator: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

১২৮৬. উমর ইবনে হাফস আশ শায়বানী (রাহঃ) ...... আবু আইয়ুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মা ও তার সন্তানের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাবে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার ও তার প্রিয়জনের মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে দিবেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান- গারীব।
1284

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ قَزَعَةَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنِ الْحَجَّاجِ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ أَبِي شَبِيبٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ وَهَبَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غُلاَمَيْنِ أَخَوَيْنِ فَبِعْتُ أَحَدَهُمَا فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا عَلِيُّ مَا فَعَلَ غُلاَمُكَ " . فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ " رُدَّهُ رُدَّهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَقَدْ كَرِهَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمُ التَّفْرِيقَ بَيْنَ السَّبْىِ فِي الْبَيْعِ وَيُكْرَهُ أَنْ يُفَرَّقَ بَيْنَ الْوَالِدَةِ وَوَلَدِهَا وَبَيْنَ الْوَالِدِ وَالْوَلَدِ وَبَيْنَ الإِخْوَةِ وَالأَخَوَاتِ فِي الْبَيْعِ . وَرَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي التَّفْرِيقِ بَيْنَ الْمُوَلَّدَاتِ الَّذِينَ وُلِدُوا فِي أَرْضِ الإِسْلاَمِ . وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ . وَرُوِيَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ أَنَّهُ فَرَّقَ بَيْنَ وَالِدَةٍ وَوَلَدِهَا فِي الْبَيْعِ فَقِيلَ لَهُ فِي ذَلِكَ فَقَالَ إِنِّي قَدِ اسْتَأْذَنْتُهَا بِذَلِكَ فَرَضِيَتْ .

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১২৮৭. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ...... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে দুটি গোলাম দান করেছিলেন। এরা ছিল আপন দু’ ভাই। অনন্তর একটিকে আমি বিক্রি করে ফেলি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে আলী তোমার গোলামের কী ঘটেছে? আমি তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলাম। তিনি বললেন, এটিকে ফিরিয়ে আন, এটিকে ফিরিয়ে আন। - ইবনে মাজাহ

কতক আলিম দারুল ইসলামে যারা জন্মগ্রহণ করেছে সে সন্তানদের আলাদা করার অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু প্রথমোক্ত মতটই অধিকতর সহীহ। ইবরাহীম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বিক্রয় করতে গিয়ে মা ও তার সন্তানের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে বললেন, আমি এ বিষয়ে তার মার অনুমতি চেয়েছিলাম। সে এতে সম্মতি দিয়েছে।

কোন গোলাম ক্রয় করে দৈনিক দেয় মজুরী বিনিময়ে তাকে কাজে নিয়োগ করার পর যদি তাতে দোষ ধরা পড়ে।

باب مَا جَاءَ فِيمَنْ يَشْتَرِي الْعَبْدَ وَيَسْتَغِلُّهُ ثُمَّ يَجِدُ بِهِ عَيْبًا

1285

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، وَأَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ مَخْلَدِ بْنِ خُفَافٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَضَى أَنَّ الْخَرَاجَ بِالضَّمَانِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ .

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১২৮৮. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফায়সালা দিয়েছেন, ক্ষতির দায়িত্ব হিসাবে ফায়দা ভোগের অধিকার হয়। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। একাধিক সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত আছে। আলিমগণের এ হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে।

মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ।

باب النَّهْىِ عَنِ الْبَيْعِ، فِي الْمَسْجِدِ

1286
حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ الْمُقَدَّمِيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَضَى أَنَّ الْخَرَاجَ بِالضَّمَانِ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى اسْتَغْرَبَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ حَدِيثِ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ . قُلْتُ تَرَاهُ تَدْلِيسًا قَالَ لاَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ الزَّنْجِيُّ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ وَرَوَاهُ جَرِيرٌ عَنْ هِشَامٍ أَيْضًا . وَحَدِيثُ جَرِيرٍ يُقَالُ تَدْلِيسٌ دَلَّسَ فِيهِ جَرِيرٌ . لَمْ يَسْمَعْهُ مِنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ . وَتَفْسِيرُ الْخَرَاجِ بِالضَّمَانِ هُوَ الرَّجُلُ يَشْتَرِي الْعَبْدَ فَيَسْتَغِلُّهُ ثُمَّ يَجِدُ بِهِ عَيْبًا فَيَرُدُّهُ عَلَى الْبَائِعِ فَالْغَلَّةُ لِلْمُشْتَرِي لأَنَّ الْعَبْدَ لَوْ هَلَكَ هَلَكَ مِنْ مَالِ الْمُشْتَرِي . وَنَحْوُ هَذَا مِنَ الْمَسَائِلِ يَكُونُ فِيهِ الْخَرَاجُ بِالضَّمَانِ .
قَالَ أَبُو عِيسَى اسْتَغْرَبَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ حَدِيثِ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ قُلْتُ تَرَاهُ تَدْلِيسًا قَالَ لَا

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১২৮৯. আবু সালামা ইয়াহয়া ইবনে খালাফ (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) ফায়সালা দিয়েছেন, ক্ষতির দায়িত্ব হিসাবে ফায়দা ভোগের অধিকার হয়।

এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। হিশাম ইবনে উরওয়া-এর সনদ হিসাবে গারীব। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, উমর ইবনে আলী (রাহঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল এটিকে গারীব বলে মনে করেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আপনি কি এটিকে তাদলীস মনে করেন? তিনি বললেন, না। মুসলিম ইবনে খালিদ আয্-যানজী (রাহঃ) এ হাদীসটিকে হিশাম ইবনে উরওয়া থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। জারীরও এটিকে হিশাম থেকে বর্ণনা করেছেন। বলা হয় জারীরের রিওয়ায়াতটিতে ‘তাদলীস’ বিদ্যমান। এতে জারীরই তাদলীস করেছেন। তিনি এটিকে সরাসরি হিশাম থেকে শুনেন নি।

‘‘ক্ষতির দায়িত্ব হিসাবে ফায়দা ভোগের অধিকার হয়’’-কথাটির ভাষ্য হলো যেমন, কেউ যদি গোলাম ক্রয় করে তাকে দৈনিক দেয় মজুরির ভিত্তিতে কাজে নিয়োগ করে, এরপর তাতে দোষ পরিলক্ষিত হয়, তবে বিক্রেতার নিকট তা ফেরত দিতে পারবে। কিন্তু (তৎসময়ে) গোলামের মাধ্যমে লব্ধ আয় হবে ক্রেতার। কারণ, (ক্ষতির ঝুকি ছিল ক্রেতার) তৎসময়ে গোলামটি যদি (কোন কারণে) ধ্বংস হত তবে ক্রেতার সম্পদ হিসাবে তা হত। এ ধরনের আরো মাসআলা-মাসায়েলের ক্ষেত্রে কথাটি প্রযোজ্য।

ফল-উদ্যানের পাশ দিয়ে গমনকারীর জন্য উক্ত বাগানের ফল আহারের অনুমতি প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي الرُّخْصَةِ فِي أَكْلِ الثَّمَرَةِ لِلْمَارِّ بِهَا

1287

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ دَخَلَ حَائِطًا فَلْيَأْكُلْ وَلاَ يَتَّخِذْ خُبْنَةً " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعَبَّادِ بْنِ شُرَحْبِيلَ وَرَافِعِ بْنِ عَمْرٍو وَعُمَيْرٍ مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ سُلَيْمٍ . وَقَدْ رَخَّصَ فِيهِ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لاِبْنِ السَّبِيلِ فِي أَكْلِ الثِّمَارِ وَكَرِهَهُ بَعْضُهُمْ إِلاَّ بِالثَّمَنِ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২৯০. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে আবুশ-মাওয়ারিব (রাহঃ) ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, কেউ যদি কোন বাগানে প্রবেশ করে তবে সে তা থেকে (কিছু) আহার করতে পারে কিন্তু কোঁচড় ভর্তি যেন না করে। - ইবনে মাজাহ

এই বিষয়ে আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর, আববাদ ইবনে শুরাহবীল, রাফী, ইবনে আমর, আবুল লাহমের মাওলা উমায়র ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি গারীব। ইয়াহয়া ইবনে সুলায়মের সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না। কতক আলিম মুসাফিরের জন্য বাগানের ফলাহারের অনুমতি দিয়েছেন। অপর কতক আলিম মূল্য পরিশোধ ব্যতিরেকে এ ফল খাওয়া জায়েয নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন।
1288

حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ الْخُزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ صَالِحِ بْنِ أَبِي جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَافِعِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ كُنْتُ أَرْمِي نَخْلَ الأَنْصَارِ فَأَخَذُونِي فَذَهَبُوا بِي إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " يَا رَافِعُ لِمَ تَرْمِي نَخْلَهُمْ " . قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ الْجُوعُ . قَالَ " لاَ تَرْمِ وَكُلْ مَا وَقَعَ أَشْبَعَكَ اللَّهُ وَأَرْوَاكَ " . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .

Narrator: রাফি' ইবনে আমর গিফারী (রাঃ)

১২৯১. আবু আম্মার হুসাইন ইবনে হুরায়ছ আল-খুযাঈ (রাহঃ) .... রাফি’ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি আনসারীদের খেজুর গাছে ঢিল ছূঁড়ে বেড়াতাম। তাঁরা আমাকে ধরে নবী (ﷺ)-এর কাছে নিয়ে গেলেন। তিনি বললেন, হে রাফি, তুমি তাঁদের খেজুর গাছে ঢিল ছুঁড় কেন? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্, ক্ষুধা। তিনি বললেন, তুমি ঢিল ছুঁড়বে না, নীচে যা পড়বে তা-ই খেয়ে নিবে। আল্লাহ্ তোমার পেট ভরে দিন ও তোমাকে পরিতৃপ্ত করে দিন। - ইবনে মাজাহ

এ হাদীসটি হাসান-গারীব।
1289

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنِ الثَّمَرِ الْمُعَلَّقِ فَقَالَ " مَنْ أَصَابَ مِنْهُ مِنْ ذِي حَاجَةٍ غَيْرَ مُتَّخِذٍ خُبْنَةً فَلاَ شَىْءَ عَلَيْهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১২৯২. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শুআয়ব তাঁর পিতা, তাঁর পিতামহ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, গাছে ঝুলন্ত ফল সম্পর্কে নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন তিনি বললেন, কোঁচড় ভর্তি করে নিয়ে যাওয়ার জন্য নয় বরং কোন অভাবী যদি এ থেকে কিছু গ্রহণ করে তবে তাতে কোন দোষ নাই।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান।

বিক্রি চুক্তি থেকে অনির্ধারিত পরিমাণ অংশ বাদ দেওয়া।

باب مَا جَاءَ فِي النَّهْىِ عَنِ الثُّنْيَا،

1290

حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ الْبَغْدَادِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، قَالَ أَخْبَرَنِي سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةِ وَالْمُخَابَرَةِ وَالثُّنْيَا إِلاَّ أَنْ تُعْلَمَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১২৯৩. যিয়াদ ইবনে আইয়ুব বাগদাদী (রাহঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিষেধ করেছেন মুহাকালা অর্থাৎ ঘরে সংগৃহীত শস্যের বিনিময়ে ক্ষেত্রস্থ শস্য বিক্রি করা, মুযাবানা অর্থাৎ কর্তিত ফলের বিনিময়ে বৃক্ষে বিদ্যমান ফল বিক্রি করা, মুখাবারা অর্থাৎ ভাগ-চাষ করা এবং ‘ছুনইয়া’ অর্থাৎ বিক্রি চুক্তি থেকে অনির্ধারিত অংশ বাদ দেওয়া। কিন্তু পরিমাণ নির্ধারিত থাকলে তাতে দোষ নাই।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইউনুস ইবনে উবাইদ-আতা-জাবির (রাযিঃ) সূত্রে হাদীসটি গারীব।

পূর্ণ হস্থগত করার পূর্বে খাদ্যদ্রব্য বিক্রি নিষেধ।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ بَيْعِ الطَّعَامِ حَتَّى يَسْتَوْفِيَهُ

1291

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ ابْتَاعَ طَعَامًا فَلاَ يَبِعْهُ حَتَّى يَسْتَوْفِيَهُ " . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَأَحْسِبُ كُلَّ شَيْءٍ مِثْلَهُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَابْنِ عُمَرَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا بَيْعَ الطَّعَامِ حَتَّى يَقْبِضَهُ الْمُشْتَرِي . وَقَدْ رَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِيمَنِ ابْتَاعَ شَيْئًا مِمَّا لاَ يُكَالُ وَلاَ يُوزَنُ مِمَّا لاَ يُؤْكَلُ وَلاَ يُشْرَبُ أَنْ يَبِيعَهُ قَبْلَ أَنْ يَسْتَوْفِيَهُ . وَإِنَّمَا التَّشْدِيدُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الطَّعَامِ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১২৯৪. কুতায়বা (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, কেউ যদি খাদ্য ক্রয় করে তবে হস্থগত করার পূর্বে যেন তা বিক্রি না করে। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমার ধারণা অন্যান্য সব জিনিসের বিধানই এরূপ। - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

এ বিষয়ে জাবির ও ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ আলিম এ হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। ক্রেতা কর্তৃক হস্থগত না করা পর্যন্ত খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করা জায়েয নয় বলে তাঁরা মনে করেন। কেউ যদি এমন দ্রব্য ক্রয় করে যা ওজন বা মাপপাত্র দ্বারা পরিমাপ করা হয় না কিংবা আহার বা পান করা হয়না তবে সে সব জিনিসের ক্ষেত্রে হস্তগত করার পূর্বেই বিক্রি করা সম্পর্কে কতক, আলিম অনুমতি দিয়েছেন। আলিমগণের মতে এ বিষয়ে কঠোরতা হল খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে। এ হলো ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত।

আপনি (দ্বীনী) ভাইয়ের বিক্রির উপর বিক্রি প্রস্তাব প্রদান নিষেধ।

باب مَا جَاءَ فِي النَّهْىِ عَنِ الْبَيْعِ، عَلَى بَيْعِ أَخِيهِ

1292

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَبِيعُ بَعْضُكُمْ عَلَى بَيْعِ بَعْضٍ وَلاَ يَخْطُبُ بَعْضُكُمْ عَلَى خِطْبَةِ بَعْضٍ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَسَمُرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لاَ يَسُومُ الرَّجُلُ عَلَى سَوْمِ أَخِيهِ " . وَمَعْنَى الْبَيْعِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ هُوَ السَّوْمُ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২৯৫. কুতায়বা (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমরা একজন অপরজনের বিক্রির উপর বিক্রয় প্রস্তাব দিবে না এবং একজন অপরজনের বিবাহ প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব দিবে না। - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

এ বিষয়ে আবু হুরায়রা ও সামুরা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, একজন অপরজনের বিক্রয় প্রস্তাবের উপর বিক্রয় প্রস্তাব দিবে না। কোন কোন আলিম বলেন, এই হাদীসটি بيع বা বিক্রয় শব্দ দ্বারা سوم বা প্রস্তাবকে বুঝান হয়েছে।

মদ বিক্রি করা এবং তৎ সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা।

باب مَا جَاءَ فِي بَيْعِ الْخَمْرِ وَالنَّهْىِ عَنْ ذَلِكَ

1293

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ سَمِعْتُ لَيْثًا، يُحَدِّثُ عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّهُ قَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ إِنِّي اشْتَرَيْتُ خَمْرًا لأَيْتَامٍ فِي حِجْرِي . قَالَ " أَهْرِقِ الْخَمْرَ وَاكْسِرِ الدِّنَانَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَعَائِشَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَابْنِ عُمَرَ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي طَلْحَةَ رَوَى الثَّوْرِيُّ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ السُّدِّيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ أَبَا طَلْحَةَ كَانَ عِنْدَهُ . وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ اللَّيْثِ .

Narrator: আবূ তালহা আনসারী (রাঃ)

১২৯৬. হুমায়দ ইবনে মাসআদা (রাহঃ) ..... আবু তালহা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একদিন বললেন, হে আল্লাহর নবী! আমার তত্ত্বাবধানে লালিত কিছু ইয়াতীমের জন্য মদ কিনেছিলাম। তিনি বললেন, মদ ঢেলে ফেলে দাও এবং এর মটকাগুলো ভেঙ্গে দাও।

এই বিষয়ে জাবির, আয়িশা, আবু সাঈদ, ইবনে মাসউদ, ইবনে উমর ও আনাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ছাওরী এ হাদীসটি সুদ্দী- ইয়াহয়া ইবনে আব্বাদ- আনাস (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এটি লায়ছ বর্ণিত হাদীস থেকে অধিকতর সহীহ।

মদ সিরকায় রূপান্তরিত করা নিষেধ।

باب النَّهْىِ أَنْ يُتَّخَذَ الْخَمْرُ خَلاًّ

1294

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَيُتَّخَذُ الْخَمْرُ خَلاًّ قَالَ " لاَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১২৯৭. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল মদ কি সিরকায় রূপান্তরিত করা যাবে? তিনি বললেন, না। - মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
1295

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُنِيرٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عَاصِمٍ، عَنْ شَبِيبِ بْنِ بِشْرٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْخَمْرِ عَشَرَةً عَاصِرَهَا وَمُعْتَصِرَهَا وَشَارِبَهَا وَحَامِلَهَا وَالْمَحْمُولَةَ إِلَيْهِ وَسَاقِيَهَا وَبَائِعَهَا وَآكِلَ ثَمَنِهَا وَالْمُشْتَرِيَ لَهَا وَالْمُشْتَرَاةَ لَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَنَسٍ . وَقَدْ رُوِيَ نَحْوُ هَذَا عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১২৯৮. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুনীর (রাহঃ) ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদ সম্পর্কে দশ শ্রেণীর লোককে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) লা’নত করেছেন-মদ প্রস্তুতকারী, যে মদ প্রস্তুত করতে বলে, তা পানকারী, তা বহনকারী, যার জন্য বহন করা হয়, যে তা পান করায়, বিক্রয়কারী, এর মূল্য গ্রহণকারী, যে মদ ক্রয় করে এবং যার জন্য ক্রয় করা হয়। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আনাস (রাযিঃ) এর রিওয়ায়াত অনুযায়ী এ হাদীসটি গারীব। ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসউদ ও ইবনে উমর (রাযিঃ) এর বরাতেও নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

মালিকের অনুমতি ব্যতীত পশু পালের দুধ দোহন।

باب مَا جَاءَ فِي احْتِلاَبِ الْمَوَاشِي بِغَيْرِ إِذْنِ الأَرْبَابِ

1296

حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَتَى أَحَدُكُمْ عَلَى مَاشِيَةٍ فَإِنْ كَانَ فِيهَا صَاحِبُهَا فَلْيَسْتَأْذِنْهُ فَإِنْ أَذِنَ لَهُ فَلْيَحْتَلِبْ وَلْيَشْرَبْ وَلاَ يَحْمِلْ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهَا أَحَدٌ فَلْيُصَوِّتْ ثَلاَثًا فَإِنْ أَجَابَهُ أَحَدٌ فَلْيَسْتَأْذِنْهُ فَإِنْ لَمْ يُجِبْهُ أَحَدٌ فَلْيَحْتَلِبْ وَلْيَشْرَبْ وَلاَ يَحْمِلْ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَأَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سَمُرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ سَمَاعُ الْحَسَنِ مِنْ سَمُرَةَ صَحِيحٌ . وَقَدْ تَكَلَّمَ بَعْضُ أَهْلِ الْحَدِيثِ فِي رِوَايَةِ الْحَسَنِ عَنْ سَمُرَةَ وَقَالُوا إِنَّمَا يُحَدِّثُ عَنْ صَحِيفَةِ سَمُرَةَ .

Narrator: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

১২৯৯. আবু সালামা ইয়াহয়া ইবনে খারাফ (রাহঃ) ...... সামুরা ইবনে জুন্দুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমরা যখন কোন পশুদলের কাছে আসবে সেখানে যদি এর মালিককে পাও তবে তার অনুমতি নিয়ে নিবে। সে অনুমতি দিলে তোমরা তা দোহন করতে পারবে, দুধ পান করতে পারবে। সেখানে যদি কেউ না থাকে তবে তিনবার আওয়াজ দিবে। কেউ যদি সাড়া দেয় তবে তার অনুমতি নিয়ে নিবে। আর কেউ যদি সাড়া না দেয় তবে তা দোহন করে দুধ পান করে নিবে। কিন্তু সঙ্গে নিবে না। - ইবনে মাজাহ

এ বিষয়ে উমর ও আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, সামুরা (রাযিঃ) থেকে হাসান (রাহঃ) এর রিওয়ায়াত শ্রবণ সহীহ। কোন কোন হাদীস বিশারদ সামুরা (রাযিঃ) থেকে হাসান (রাহঃ) এর রিওয়ায়াতের সমালোচনা মূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁরা বলেন, তিনি মূলতঃ সামুরা (রাযিঃ) এর পান্ডুলিপি থেকে রিওয়ায়াত করেছেন।

মৃত জন্তুর চামড়া এবং মূর্তি বিক্রি করা।

باب مَا جَاءَ فِي بَيْعِ جُلُودِ الْمَيْتَةِ وَالأَصْنَامِ

1297

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَامَ الْفَتْحِ وَهُوَ بِمَكَّةَ يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ حَرَّمَ بَيْعَ الْخَمْرِ وَالْمَيْتَةِ وَالْخِنْزِيرِ وَالأَصْنَامِ " . فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ شُحُومَ الْمَيْتَةِ فَإِنَّهُ يُطْلَى بِهَا السُّفُنُ وَيُدْهَنُ بِهَا الْجُلُودُ وَيَسْتَصْبِحُ بِهَا النَّاسُ قَالَ " لاَ هُوَ حَرَامٌ " . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ ذَلِكَ " قَاتَلَ اللَّهُ الْيَهُودَ إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَيْهِمُ الشُّحُومَ فَأَجْمَلُوهُ ثُمَّ بَاعُوهُ فَأَكَلُوا ثَمَنَهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৩০০. কুতায়বা (রাহঃ) ...... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি মক্কা বিজয়ের সময় তথায় অবস্থান কালে নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল মদ, মূর্দা, শুকর ও মূর্তি হারাম করেছেন। বলা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্, মুর্দার চর্বি কি আপনি বৈধ মনে করেন? এ দিয়ে তো জলযানে লেপ দেওয়া হয়, চামড়ায় তৈলাক্ত করা হয় এবং লোকেরা বাতি জ্বালায়। তিনি বললেন, না (আমি তা বৈধ মনে করিনা, বরং) তা হারাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ প্রসঙ্গে বললেন, আল্লাহ্ তাআলা ইয়াহুদীদের ধ্বংস করুন। আল্লাহ্ তাআলা তাদের জন্য চর্বি হারাম করেছিলেন। কিন্তু তারা তা গালিয়ে বিক্রি করেছে এবং এর মূল্য ভোগ করেছে। - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

এ বিষয়ে উমর, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, জাবির (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান- সহীহ। আলিমগণের এতনুসারে আমল রয়েছে।

হেবা প্রত্যাহার করা ঘৃণ্য।

باب مَا جَاءَ فِي الرُّجُوعِ فِي الْهِبَةِ

1298

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رضى الله عنهما أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ لَنَا مَثَلُ السَّوْءِ الْعَائِدُ فِي هِبَتِهِ كَالْكَلْبِ يَعُودُ فِي قَيْئِهِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لاَ يَحِلُّ لأَحَدٍ أَنْ يُعْطِيَ عَطِيَّةً فَيَرْجِعَ فِيهَا إِلاَّ الْوَالِدَ فِيمَا يُعْطِي وَلَدَهُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৩০১. আহমাদ ইবনে আব্দা যাববী (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, আমাদের মন্দ উদাহরণ স্থাপন করা সমীচীন নয়। যে হেবা করে তা প্রত্যাহার করে সে কুকুরের মত, যে কুকুর বমি করে তা পুনরায় খায়। - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

এ বিষয়ে ইবনে উমর (রাযিঃ) -এর বরাতে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, পিতা তার সন্তানকে যা দেয়, সে ক্ষেত্রে ব্যতীত কাউকে কিছু দান করে তা ফিরিয়ে নেয়া হালাল নয়।
1299

حَدَّثَنَا بِذَلِكَ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ أَنَّهُ سَمِعَ طَاوُسًا يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ يَرْفَعَانِ الْحَدِيثَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ رضى الله عنهما حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ قَالُوا مَنْ وَهَبَ هِبَةً لِذِي رَحِمٍ مَحْرَمٍ فَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَرْجِعَ فِيهَا وَمَنْ وَهَبَ هِبَةً لِغَيْرِ ذِي رَحِمٍ مَحْرَمٍ فَلَهُ أَنْ يَرْجِعَ فِيهَا مَا لَمْ يُثَبْ مِنْهَا . وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ لاَ يَحِلُّ لأَحَدٍ أَنْ يُعْطِيَ عَطِيَّةً فَيَرْجِعَ فِيهَا إِلاَّ الْوَالِدَ فِيمَا يُعْطِي وَلَدَهُ . وَاحْتَجَّ الشَّافِعِيُّ بِحَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَحِلُّ لأَحَدٍ أَنْ يُعْطِيَ عَطِيَّةً فَيَرْجِعَ فِيهَا إِلاَّ الْوَالِدَ فِيمَا يُعْطِي وَلَدَهُ " .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৩০২. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কোন কোন সাহাবী ও অপরাপর কোন কোন আলিমের এ অনুসারে আমল রয়েছে। তার বলেন, কেউ যদি তার রেহেম সম্পর্কিত আত্মীয় ছাড়া অন্য কাউকে যদি কিছু হেবা করে তবে সে এর বদলায় কিছু না পেয়ে থাকলে তার হেবা প্রত্যাহার করতে পারবে। এ হলো ইমাম ছাওরী (রাহঃ)-এর অভিমত। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, পিতা তার সন্তানকে যা দেয় সে ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কারো জন্য হালাল নয় কাউকে কিছু দান করে তা ফিরিয়ে আনা। তিনি আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি প্রমাণ হিসাবে পেশ করেন। নবী (ﷺ) বলেন, পিতা তার সন্তানকে যা দেয় সে ক্ষেত্রে ছাড়া কাউকে কিছু দান করে তা ফিরিয়ে নেয়া হালাল নয়।

আরায়া ও এতদসম্পর্কিত অনুমতি প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي الْعَرَايَا وَالرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ

1300

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةِ إِلاَّ أَنَّهُ قَدْ أَذِنَ لأَهْلِ الْعَرَايَا أَنْ يَبِيعُوهَا بِمِثْلِ خَرْصِهَا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَجَابِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ هَكَذَا رَوَى مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ هَذَا الْحَدِيثَ . وَرَوَى أَيُّوبُ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةِ . وَبِهَذَا الإِسْنَادِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ رَخَّصَ فِي الْعَرَايَا . وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ .

Narrator: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

১৩০৩. হান্নাদ (রাহঃ) ...... যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মুহাকালা (অর্থাৎ কর্তিত শস্যের বিনিময়ে ক্ষেতের বর্তমান শস্য অনুমানে পরিমাণ নির্ধারণ করে বিক্রি করা) মুযাবানা (অর্থাৎ কর্তিত ফলের বিনিময়ে বৃক্ষে থাকা বিদ্যমান ফল অনুমানে পরিমাণ নির্ধারণ করে বিক্রি করা) নিষেধ করেছেন। তবে তিনি আরায়া* এর অধিকারীকে অনুমানে পরিমাণ নির্ধারণ করে বিক্রি করার অনুমতি দিয়েছেন। - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

এ বিষয়ে আবু হুরায়রা ও জাবির (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। রাবী মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রাহঃ) এ হাদীসটিকে যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) সূত্রে এ ভাবেই বর্ণনা করেছেন। আইয়ুব, উবাইদুল্লাহ্ ইবনে উমর এবং মালিক ইবনে আনাস (রাহঃ) ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) পাঁচ ওয়াসাক পরিমাণের (প্রায় সাতাশ মণ) কমে আরায়া’-এর অনুমতি দিয়েছেন। এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রাহঃ) এর রিওয়ায়াতটি থেকে অধিকতর সহীহ।

* আরায়া’ হল, খেজুর বা অন্য কিছুর বাগানের অধিকারী কোন ব্যক্তি তার বাগানের একটা দুটা গাছের ফল কোন গরীব ব্যক্তিকে ভোগ করার জন্য দান করল। কিন্তু এ গরীব লোকটির বারবার বাগানে আসা তার অপছন্দনীয়। তাই সে বলল, উক্ত গাছসমূহের সম পরিমান ফল সে তাকে দিয়ে দিবে। এখানে যদিও অনুমানের ভিত্তিতে গাছের ফলের পরিমাণ নির্ধারণ করা হচ্ছে তবুও তা জায়েয। কেননা এটা আসলে ক্রয়-বিক্রয়ের আওতায় পরে না। কেননা মুলত: দানকারীই হচ্ছে এ খেজুরের মালিক। সে ইচ্ছা করলে গাছ থেকে ফল তুলেও দিতে পারে। ইচ্ছা করলে নিজের কাছ থেকেও সে তা দিতে পারে।
1301
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، مَوْلَى ابْنِ أَبِي أَحْمَدَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَخَّصَ فِي بَيْعِ الْعَرَايَا فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ أَوْ كَذَا .
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ حُصَيْنٍ، نَحْوَهُ . وَرُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ، عَنْ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَرْخَصَ فِي بَيْعِ الْعَرَايَا فِي خَمْسَةِ أَوْسُقٍ أَوْ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩০৪. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, ওয়াসাকের কম পরিমাণে নবী (ﷺ)‘ আরায়া’ জাতীয় বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন।

কুতায়বা- মালিক-দাউদ ইবনে হুসাইন (রাহঃ) সূত্রেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি মালিক (রাহঃ) থেকে এরূপভাবে বর্ণিত আছে যে, নবী (ﷺ) পাঁচ ওয়াসাক (বা বর্ণনাকরী বলেছেন, পাঁচ ওয়াসাকের কমে) আরায়া বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন।
1302

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْخَصَ فِي بَيْعِ الْعَرَايَا بِخَرْصِهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْهُمُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ وَقَالُوا إِنَّ الْعَرَايَا مُسْتَثْنَاةٌ مِنْ جُمْلَةِ نَهْىِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ نَهَى عَنِ الْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةِ وَاحْتَجُّوا بِحَدِيثِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَحَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ وَقَالُوا لَهُ أَنْ يَشْتَرِيَ مَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ . وَمَعْنَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَرَادَ التَّوْسِعَةَ عَلَيْهِمْ فِي هَذَا لأَنَّهُمْ شَكَوْا إِلَيْهِ وَقَالُوا لاَ نَجِدُ مَا نَشْتَرِي مِنَ الثَّمَرِ إِلاَّ بِالتَّمْرِ فَرَخَّصَ لَهُمْ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ أَنْ يَشْتَرُوهَا فَيَأْكُلُوهَا رُطَبًا .

Narrator: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

১৩০৫. কুতায়বা (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আরায়া’ ক্ষেত্রে তদনুমানে (অর্থাৎ গাছের খেজুরের পরিমাণ অনুমানের ভিত্তিতে নির্ধারণ করে) বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটিও হাসান-সহীহ। শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) সহ কতক আলিম এতদনুসারে আমল করার অভিমত দিয়েছেন। তাঁরা বলেন, নবী (ﷺ) কর্তৃক মুহাকালা ও মুযাবানা জাতীয় বিক্রি নিষিদ্ধ করা সম্বলিত নির্দেশ থেকে আরায়া’ বিষয়টি ব্যতিক্রম। তারা এ বিষয়ে যায়দ ইবনে ছাবিত ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি দলীলরূপে পেশ করেন। তাঁরা আরো বলেন, পাঁচ ওয়াসাকের কম পরিমাণ ক্ষেত্রে তা ক্রয় করতে হবে।

কতক আলিমের মতে এই বিধানটির তাৎপর্য হলো নবী (ﷺ) এর মাধ্যমে গরীব সাহাবীদেরকে অবকাশ দিতে চেয়েছেন। কারণ, তারা তাঁর কাছে আবেদন করে বলেছিল, শুকনা খেজুর ছাড়া তাজা খেজুর কিনার বিনিময়ে দেওয়ার মত আমাদের কিছু নাই (অথচ তাজা খেজুর খেতেও আমাদের মন চায়)। তখন নবী (ﷺ) পাঁচ ওয়াসাকের কমে এ ভাবে (আরায়া ভিত্তিতে) তা ক্রয় করার অনুমতি দেন, তারা যাতে তাজা খেজুর আহার করতে পারে।

শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ।

باب مِنْهُ

1303

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا بُشَيْرُ بْنُ يَسَارٍ، مَوْلَى بَنِي حَارِثَةَ أَنَّ رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ، وَسَهْلَ بْنَ أَبِي حَثْمَةَ، حَدَّثَاهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ الْمُزَابَنَةِ الثَّمَرِ بِالتَّمْرِ إِلاَّ لأَصْحَابِ الْعَرَايَا فَإِنَّهُ قَدْ أَذِنَ لَهُمْ وَعَنْ بَيْعِ الْعِنَبِ بِالزَّبِيبِ وَعَنْ كُلِّ ثَمَرٍ بِخَرْصِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .

Narrator: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

১৩০৬. হাসান ইবনে আলী আল-খাললাল (রাহঃ) ..... রাফি’ ইবনে খাদীজ ও সাহল ইবনে আবু হাছমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আরায়া’ এর বিনিময়কারী-রা ব্যতীত মুযাবানা- শুকনা খেজুরের বদলে বৃক্ষে বিদ্যমাণ তাজা খেজুর বিক্রি করা নিষেধ করেছেন, তিনি ‘আরায়া’’ বিষয়টির অবশ্য তাদের জন্য অনুমতি দিয়েছেন। এমনিভাবে তিনি কিশমিশ (শুকনা আঙ্গুর)-এর বিনিময়ে তাজা আঙ্গুর বিক্রি করা এবং সব জাতীয় ফল তদনুমানে বিক্রি করা নিষেধ করেছেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ সূত্রে গারীব।

'নাজশ’ বা ক্রয়ের উদ্দেশ্যে নয় কেবল মাত্র মূল্য বাড়াবার উদ্দেশ্যে দর দাম জায়েজ নয়।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ النَّجْشِ فِي الْبُيُوعِ

1304

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ قُتَيْبَةُ يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَنَاجَشُوا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ . كَرِهُوا النَّجْشَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَالنَّجْشُ أَنْ يَأْتِيَ الرَّجُلُ الَّذِي يَفْصِلُ السِّلْعَةَ إِلَى صَاحِبِ السِّلْعَةِ فَيَسْتَامُ بِأَكْثَرَ مِمَّا تَسْوَى وَذَلِكَ عِنْدَمَا يَحْضُرُهُ الْمُشْتَرِي يُرِيدُ أَنْ يَغْتَرَّ الْمُشْتَرِي بِهِ وَلَيْسَ مِنْ رَأْيِهِ الشِّرَاءُ إِنَّمَا يُرِيدُ أَنْ يَخْدَعَ الْمُشْتَرِيَ بِمَا يَسْتَامُ وَهَذَا ضَرْبٌ مِنَ الْخَدِيعَةِ . قَالَ الشَّافِعِيُّ وَإِنْ نَجَشَ رَجُلٌ فَالنَّاجِشُ آثِمٌ فِيمَا يَصْنَعُ وَالْبَيْعُ جَائِزٌ لأَنَّ الْبَائِعَ غَيْرُ النَّاجِشِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩০৭. কুতায়বা ও আহমাদ ইবনে মানী (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা ‘‘নাজশ’’ (ক্রেতাকে প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে দর) করবে না। - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

এ বিষয়ে ইবনে উমর ও আনাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণের এতদনুসারে আমল রয়েছে। তাঁরা ‘‘নাজশ’’ জায়েয নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, নাজশ হলো এক ব্যক্তি এসে ক্রেতার সম্মুখে পন্য-মালিককে পন্য দেখিয়ে তা সমমূল্যের অতিরিক্ত মূল্যের প্রস্তাব দেয়। তার উদ্দেশ্য হলো, এতে ক্রেতা যেন প্রতারিত হয়। অথচ এই দর করার বেলায় তার নিজের ইচ্ছা নেই তা কিনার বরং তার উদ্দেশ্য হলো, তার মূল্য-প্রস্তাব শুনে ক্রেতা যেন ধোঁকায় পড়ে। এ বিষয়টিও হলো এক প্রকার প্রতারণা। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, নাজশ অবলম্বনকারী ব্যক্তি তার ক্রিয়া-কলাপের জন্য পাপী বলে গণ্য হবে তবে এ বিক্রি বৈধ হবে। কেননা, মূল বিক্রেতা তো নাজশকারী নয়।

ওজনের ক্ষেত্রে কিছু বাড়তী দেওয়া।

باب مَا جَاءَ فِي الرُّجْحَانِ فِي الْوَزْنِ

1305

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ جَلَبْتُ أَنَا وَمَخْرَفَةُ الْعَبْدِيُّ، بَزًّا مِنْ هَجَرَ فَجَاءَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَسَاوَمَنَا بِسَرَاوِيلَ وَعِنْدِي وَزَّانٌ يَزِنُ بِالأَجْرِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلْوَزَّانِ " زِنْ وَأَرْجِحْ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سُوَيْدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَهْلُ الْعِلْمِ يَسْتَحِبُّونَ الرُّجْحَانَ فِي الْوَزْنِ . وَرَوَى شُعْبَةُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ سِمَاكٍ فَقَالَ عَنْ أَبِي صَفْوَانَ وَذَكَرَ الْحَدِيثَ .

Narrator: সুওয়াইদ ইবনে কায়স (রাঃ)

১৩০৮. হান্নাদ ও মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) .... সুওয়ায়দ ইবনে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি এবং মাখরামা আব্দী ‘হাজার’ থেকে কিছু কাপড় আমদানী করি। নবী (ﷺ) আমাদের কাছে এলেন এবং একটি পাজামা ক্রয়ের দর স্থির করলেন। আমার কাছে একজন ওজনকারী ছিল। সে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ওজন করে দিত। নবী (ﷺ) এ ওজনকারীকে বললেন, (মূল্য) ওজন করো এবং বাড়িয়ে দাও। - ইবনে মাজাহ

এ বিষয়ে জাবির ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, সুওয়ায়দ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ ওজনে কিছু বাড়িয়ে দেওয়া মুস্তাহাব বলে মনে করেন। শু’বা এ হাদীসটিকে সিমাক (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি এ সনদে সিমাকের পর আবু সাফওয়ান-এর উল্লেখ করেছেন।

অভাবগ্রস্থকে অবকাশ প্রদান এবং তার সঙ্গে নম্র আচরণ করা।

باب مَا جَاءَ فِي إِنْظَارِ الْمُعْسِرِ وَالرِّفْقِ بِهِ

1306

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرَّازِيُّ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِرًا أَوْ وَضَعَ لَهُ أَظَلَّهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَحْتَ ظِلِّ عَرْشِهِ يَوْمَ لاَ ظِلَّ إِلاَّ ظِلُّهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي الْيَسَرِ وَأَبِي قَتَادَةَ وَحُذَيْفَةَ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَعُبَادَةَ وَجَابِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩০৯. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, কোন ব্যক্তি যদি কোন অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে অবকাশ দেয় বা তার নিকট পাওনা মাফ করে দেয় আল্লাহ্ তাআলা কিয়ামতের দিন তাঁর আরশের ছায়ায় তাকে ছায়া দিবেন। সে দিন আল্লাহর ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না।

এ বিষয়ে আবুল ইয়াসর, আবু কাতাদা, হুযাইফা, ইবনে মাসউদ ও উবাদা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ সূত্রে গারীব।
1307

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " حُوسِبَ رَجُلٌ مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَلَمْ يُوجَدْ لَهُ مِنَ الْخَيْرِ شَيْءٌ إِلاَّ أَنَّهُ كَانَ رَجُلاً مُوسِرًا وَكَانَ يُخَالِطُ النَّاسَ وَكَانَ يَأْمُرُ غِلْمَانَهُ أَنْ يَتَجَاوَزُوا عَنِ الْمُعْسِرِ فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ نَحْنُ أَحَقُّ بِذَلِكَ مِنْهُ تَجَاوَزُوا عَنْهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

১৩১০. হান্নাদ (রাহঃ) ....... আবু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী যুগের জনৈক ব্যক্তির ব্যক্তির হিসাব নেয়া হয়। কিন্তু তার কোন ভাল আমল পাওয়া গেল না। তবে সে ছিল একজন স্বচ্ছল ব্যক্তি। সে মানুষের সঙ্গে লেন-দেন করত। আর সে অভাবীদের মাফ করে দিতে তার গোলামদের নির্দেশ দিত। তখন আল্লাহ্ তাআলা বললেন, মাফ করার বিষয়ে তার চাইতে আমিই অধিক হকদার। সুতরাং একে মাফ করে দাও। - মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।

ধনী ব্যক্তির টালবাহানা করা যুলম।

باب مَا جَاءَ فِي مَطْلِ الْغَنِيِّ أَنَّهُ ظُلْمٌ

1308

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ وَإِذَا أُتْبِعَ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِيٍّ فَلْيَتْبَعْ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَالشَّرِيدِ بْنِ سُوَيْدٍ الثَّقَفِيِّ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩১১. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, ধনী ব্যক্তির টাল-বাহানা করা যুলুম। তোমাদের মধ্যে কোন স্বচ্ছল ব্যক্তির উপর যদি কিছু (হাওয়ালা করা) হয় তবে সে যেন তা গ্রহণ করে। - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

এ বিষয়ে ইবনে উমর, শারীদ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
1309

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَرَوِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَطْلُ الْغَنِيِّ ظُلْمٌ وَإِذَا أُحِلْتَ عَلَى مَلِيءٍ فَاتْبَعْهُ وَلاَ تَبِعْ بَيْعَتَيْنِ فِي بَيْعَةٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَمَعْنَاهُ أَنَّهُ إِذَا أُحِيلَ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِيٍّ فَلْيَتْبَعْ . فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا أُحِيلَ الرَّجُلُ عَلَى مَلِيٍّ فَاحْتَالَهُ فَقَدْ بَرِئَ الْمُحِيلُ وَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَرْجِعَ عَلَى الْمُحِيلِ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا تَوِيَ مَالُ هَذَا بِإِفْلاَسِ الْمُحَالِ عَلَيْهِ فَلَهُ أَنْ يَرْجِعَ عَلَى الأَوَّلِ . وَاحْتَجُّوا بِقَوْلِ عُثْمَانَ وَغَيْرِهِ حِينَ قَالُوا لَيْسَ عَلَى مَالِ مُسْلِمٍ تَوًى . قَالَ إِسْحَاقُ مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ " لَيْسَ عَلَى مَالِ مُسْلِمٍ تَوًى " . هَذَا إِذَا أُحِيلَ الرَّجُلُ عَلَى آخَرَ وَهُوَ يَرَى أَنَّهُ مَلِيٌّ فَإِذَا هُوَ مُعْدِمٌ فَلَيْسَ عَلَى مَالِ مُسْلِمٍ تَوًى .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৩১২. ইবরাহীম ইবনে আব্দুল্লাহ্ আল হারাবী (রাহঃ) ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, ধনী ব্যক্তির টাল-বাহানা করা যুলম। স্বচ্ছল অবস্থায় যখন তোমার উপর কিছু হাওয়ালা করা হবে তখন তুমি তা গ্রহণ করবে। আর এক কেনাবেচার মধ্যে দুই কেনাবেচা করবে না

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। হাদীসটির মর্ম হলো, স্বচ্ছল ব্যক্তির উপর (কারো ঋণ ইত্যাদি) হাওয়ালা করা হলো সে যেন তা মেনে নেয়। কতক আলিম বলেন, কোন ব্যক্তি যদি (ঋণ ইত্যাদি) কারো উপর হাওয়ালা করে আর সে ব্যক্তি তা মেনে নেয় তবে হাওয়ালাকারী ব্যক্তি দায়িত্বমুক্ত হয়ে যাবে। এবং হাওয়ালা গ্রহিতা আর হাওয়ালাকারীর উপর তা প্রত্যার্পন করতে পারবে না। এ হলো ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত।

কতক আলিম বলেন, যদি যার উপর হাওয়ালা করা হয়েছে, সে দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় তার মাল বিনষ্ট হয়ে যায় তবে হাওয়ালা গ্রহিতা প্রথম ব্যক্তি অর্থাৎ হাওয়ালাকারীর নিকট প্রত্যাবর্তন করবে। তাঁরা উছমান (রাযিঃ) প্রমুখের এ বক্তব্য প্রমাণ হিসাবে পেশ করেন যে, ‘‘মুসলিমের সম্পদ বিনষ্ট হতে পারে না।’’ ইসহাক (রাহঃ) বলেন, ‘‘মুসলিমের সম্পদ বিনষ্ট হতে পারে না’’ -এ বক্তব্যটির মর্ম হলো, কাউকে স্বচ্ছল মনে করে কেউ তার উপর কিছু হাওয়ালা করল, পরে দেখা গেল যে, সে নি:স্ব, এমতাবস্থায় মুসলিমের সম্পদ বিনষ্ট হতে পারে না (বরং হাওয়ালাকারীর নিজেরই তা আদায় করতে হবে)।

মুলামাসা ও মুনাবাযা।

باب مَا جَاءَ فِي الْمُلاَمَسَةِ وَالْمُنَابَذَةِ

1310

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الْمُنَابَذَةِ وَالْمُلاَمَسَةِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَمَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ أَنْ يَقُولَ إِذَا نَبَذْتُ إِلَيْكَ الشَّىْءَ فَقَدْ وَجَبَ الْبَيْعُ بَيْنِي وَبَيْنَكَ . وَالْمُلاَمَسَةُ أَنْ يَقُولَ إِذَا لَمَسْتَ الشَّىْءَ فَقَدْ وَجَبَ الْبَيْعُ وَإِنْ كَانَ لاَ يَرَى مِنْهُ شَيْئًا مِثْلَ مَا يَكُونُ فِي الْجِرَابِ أَوْ غَيْرِ ذَلِكَ وَإِنَّمَا كَانَ هَذَا مِنْ بُيُوعِ أَهْلِ الْجَاهِلِيَّةِ فَنَهَى عَنْ ذَلِكَ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩১৩. আবু কুরায়ব ও মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুনাবাযা ও মুলামাসা পদ্ধতিতে বিক্রয় নিষেধ করেছেন। - নাসাঈ

এ বিষয়ে আবু সাঈদ ও ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ হাদীসটির মর্ম হলো, বিক্রেতা বলল, তোমার দিকে যখন এ জিনিসটি ছুড়ে মারব, তখন তোমার ও আমার মাঝে বিক্রয় কার্য অনিবার্যভাবে সম্পাদন হলো বলে গণ্য হবে। একে বলা হয় ‘মুনাবাযা’। আর মুলামাসা হলো, বিক্রেতা বলল, যখন জিনিসটি ছুয়ে ফেলবে তখনই বিক্রয় কার্য অনিবার্য হয়ে যাবে। অথচ থলে বা এই জাতীয় কোন কিছুর ভিতরে বিক্রিত বস্তুটি থাকায়। (বিক্রিত বস্তুর) কিছুই সে দেখে নাই, এগুলো ছিল জাহিলী যুগের ক্রয়-বিক্রয়। তাই এগুলো নবী (ﷺ) নিষেধ করেছেন।

খাদ্য-শস্য ও ফল-ফলাদি আগাম বিক্রি করা।

باب مَا جَاءَ فِي السَّلَفِ فِي الطَّعَامِ وَالثَّمَرِ

1311

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي الْمِنْهَالِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَهُمْ يُسْلِفُونَ فِي الثَّمَرِ فَقَالَ " مَنْ أَسْلَفَ فَلْيُسْلِفْ فِي كَيْلٍ مَعْلُومٍ وَوَزْنٍ مَعْلُومٍ إِلَى أَجَلٍ مَعْلُومٍ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَجَازُوا السَّلَفَ فِي الطَّعَامِ وَالثِّيَابِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِمَّا يُعْرَفُ حَدُّهُ وَصِفَتُهُ وَاخْتَلَفُوا فِي السَّلَمِ فِي الْحَيَوَانِ فَرَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمُ السَّلَمَ فِي الْحَيَوَانِ جَائِزًا . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَكَرِهَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمُ السَّلَمَ فِي الْحَيَوَانِ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ . أَبُو الْمِنْهَالِ اسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُطْعِمٍ .

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৩১৪. আহমাদ ইবনে মানী’ (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মদীনায় হিজরত করে এলেন তখন মদীনাবাসীরা ফল আগাম বিক্রি (সালাফ) করত। তিনি বললেন, কেউ যদি আগাম বিক্রি করতে চায় তবে সে যেন নির্ধারিত পরিমাপ পাত্রে নির্ধারিত ওজন ও নির্ধারিত মেয়াদ হিসাবে তা করে। - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

এ বিষয়ে ইবনে আবু আওফা ও আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ এতদনুসারে আমল করেছেন। তারা খাদ্যদ্রব্য, কাপড়-চোপড় ইত্যাদি যে সমস্ত জিনিসের পরিমাণ ও গুণাগুণ নির্ধারণ করা যায় সে সমস্ত দ্রব্য ও জিনিসের আগাম (সালাফ) বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন, পশুর ক্রয় বিক্রয়ে সালাফ পদ্ধতি (বা আগাম) অবলম্বন করার বিষয়ে তাদের মতবিরোধ রয়েছে। কতক ফকীহ সাহাবী ও অপরাপর আলিম পশুর ক্ষেত্রেও আগাম বিক্রি বৈধ রাখেন। এ হলো ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসাহক (রাহঃ)-এর অভিমত। আর কোন কোন ফকীহ্ সাহাবী ও অপরাপর আলিম পশুর ক্ষেত্রে সালাফ বা আগাম বিক্রি করা না জায়েয বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন। এ হলো ইমাম সুফিয়ান ছাওরী ও কুফাবাসী আলিমগণের অভিমত।

শরীকানা ভুমির কোন শরীক যদি তার হিস্যা বিক্রি করতে চায়।

باب مَا جَاءَ فِي أَرْضِ الْمُشْتَرَكِ يُرِيدُ بَعْضُهُمْ بَيْعَ نَصِيبِهِ

1312

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ الْيَشْكُرِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ كَانَ لَهُ شَرِيكٌ فِي حَائِطٍ فَلاَ يَبِيعُ نَصِيبَهُ مِنْ ذَلِكَ حَتَّى يَعْرِضَهُ عَلَى شَرِيكِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ إِسْنَادُهُ لَيْسَ بِمُتَّصِلٍ . سَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ سُلَيْمَانُ الْيَشْكُرِيُّ يُقَالُ إِنَّهُ مَاتَ فِي حَيَاةِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ . قَالَ وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْهُ قَتَادَةُ وَلاَ أَبُو بِشْرٍ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَلاَ نَعْرِفُ لأَحَدٍ مِنْهُمْ سَمَاعًا مِنْ سُلَيْمَانَ الْيَشْكُرِيِّ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ فَلَعَلَّهُ سَمِعَ مِنْهُ فِي حَيَاةِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ . قَالَ وَإِنَّمَا يُحَدِّثُ قَتَادَةُ عَنْ صَحِيفَةِ سُلَيْمَانَ الْيَشْكُرِيِّ وَكَانَ لَهُ كِتَابٌ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ . حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْعَطَّارُ عَبْدُ الْقُدُّوسِ قَالَ قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ ذَهَبُوا بِصَحِيفَةِ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ إِلَى الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ فَأَخَذَهَا أَوْ قَالَ فَرَوَاهَا وَذَهَبُوا بِهَا إِلَى قَتَادَةَ فَرَوَاهَا وَأَتَوْنِي بِهَا فَلَمْ أَرْوِهَا . يَقُولُ رَدَدْتُهَا .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৩১৫. আলী ইবনে খাশরাম (রাহঃ) ...... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, কোন বাগানে যদি কোন শরীক থাকে তবে শরীকের কাছে প্রস্তাব পেশ না করা পর্যন্ত সে যেন তার হিস্যা বিক্রি না করে। - মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটির সনদ মুত্তাসল নয়। মুহাম্মাদ আল বুখারী (রাহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) এর জীবদ্দশায়ই সুলাইমান ইয়াশকুরী মারা যান বলে বলা হয়। তাঁর নিকট থেকে কাতাদা এবং আবু বিশর কিছু শুনেন নি। মুহাম্মাদ আরো বলেন, আমর ইবনে দীনার ছাড়া এরা কেউ সুলাইমান আল-ইয়াশকুরী (রাহঃ) থেকে কিছু শুনেছেন বলে আমরা জানি না। আমর ইবনে দীনার (রাহঃ) মুলত সুলাইমান ইয়াশকুরী (রাহঃ)-এর পাণ্ডুলিপি থেকে রিওয়ায়াত করেন। তাঁর নিকট জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত একটি কিতাব ছিল।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু বকর আত্তার (রাহঃ) আলী ইবনুল মাদীনী থেকে রিওয়ায়াত করেছেন যে, আলী ইবনুল মাদীনী (রাহঃ) বলেন, ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ বলেছেন যে, সুলাইমান আত-তায়মী বলেছেন, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) এর পুস্তিকাটি নিয়ে তারা (হাদীস বর্ণনাকারীরা) হাসান বসরী-(রাহঃ) এর কাছে গেলে তিনি তা গ্রহণ করেছেন; তারা তা নিয়ে কাতাদা (রাহঃ)-এর কাছে গেলে তিনিও তা রিওয়ায়াত করেছেন, অনন্তর তারা আমার কাছে এলো কিন্তু আমি তা রিওয়ায়াত করি না।

মুখাবারা ও মুআওয়ামা।

باب مَا جَاءَ فِي الْمُخَابَرَةِ وَالْمُعَاوَمَةِ

1313

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْمُحَاقَلَةِ وَالْمُزَابَنَةِ وَالْمُخَابَرَةِ وَالْمُعَاوَمَةِ وَرَخَّصَ فِي الْعَرَايَا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৩১৬. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) মুহাকালা মুযাবানা, মুখাবারা এবং মুআওয়ামা* থেকে আমাদের নিষেধ করেছেন। তবে আরায়া’-এর অনুমতি দিয়েছেন। - মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।

* মুআওয়ামা- অংকুরত হওয়ার পূর্বেই দু’বছর বা তিনবছর বা ততোধিক সময়ের জন্য বাগানের ফল বিক্রি করে দেওয়া।

তাসয়ীর।

باب مَا جَاءَ فِي التَّسْعِيرِ

1314

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، وَثَابِتٍ، وَحُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ غَلاَ السِّعْرُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ سَعِّرْ لَنَا . فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمُسَعِّرُ الْقَابِضُ الْبَاسِطُ الرَّزَّاقُ وَإِنِّي لأَرْجُو أَنْ أَلْقَى رَبِّي وَلَيْسَ أَحَدٌ مِنْكُمْ يَطْلُبُنِي بِمَظْلَمَةٍ فِي دَمٍ وَلاَ مَالٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৩১৭. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, একবার নবী (ﷺ) এর যুগে দ্রব্য মূল্য বেড়ে যায়। লোকেরা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্, আমাদের জন্য মূল্য বেঁধে দিন। তিনি বললেন, আল্লাহই মূলত দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকারী, রিযিক সংকীর্ণকর্তা, প্রশস্ত কর্তা, রিযিকদাতা। আমি আমার রবের সঙ্গে এভাবে সাক্ষাতের আশা রাখি যে, তোমাদের কারো যেন আমার বিরুদ্ধে রক্ত বা সম্পদ কোন ক্ষেত্রে কোনরূপ দাবী না থাকে। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।

ক্রয়-বিক্রয়ে খিয়ানত ও প্রতারণা করা।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الْغِشِّ فِي الْبُيُوعِ

1315

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ عَلَى صُبْرَةٍ مِنْ طَعَامٍ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِيهَا فَنَالَتْ أَصَابِعُهُ بَلَلاً فَقَالَ " يَا صَاحِبَ الطَّعَامِ مَا هَذَا " . قَالَ أَصَابَتْهُ السَّمَاءُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " أَفَلاَ جَعَلْتَهُ فَوْقَ الطَّعَامِ حَتَّى يَرَاهُ النَّاسُ " . ثُمَّ قَالَ " مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنَّا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَبِي الْحَمْرَاءِ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَبُرَيْدَةَ وَأَبِي بُرْدَةَ بْنِ نِيَارٍ وَحُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا الْغِشَّ وَقَالُوا الْغِشُّ حَرَامٌ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩১৮. আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ....... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একবার খাদ্যদ্রব্যের একটি স্তূপের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি তাতে হাত ঢুকিয়ে দিলেন। তাঁর হাতে আর্দ্রতা অনুভব হলো, বললেন, হে খাদ্য বেপারী, একি? সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ্, এতে বৃষ্টি পানি লেগেছিল। তিনি বললেন, সমস্ত খাদ্যের উপরে তা রাখলে না কেন? তা হলে লোকে তা দেখতে পেত। অতঃপর তিনি বললেন, যে ব্যক্তি প্রতারণা করে সে আমাদের অন্তর্ভূক্ত নয়। - ইবনে মাজাহ

এ বিষয়ে ইবনে উমর, আবুল হামরা, ইবনে আব্বাস, বুরায়দা, আবু বুরদা ইবনে নিয়ার ও হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণের এতদনুসারে আমল রয়েছে। তাঁরা প্রতারণা অপছন্দ করেছেন। তাঁরা বলেন, প্রতারণা করা হারাম।

উট বা অন্য কোন প্রাণী করজ হিসাবে গ্রহণ করা।

باب مَا جَاءَ فِي اسْتِقْرَاضِ الْبَعِيرِ أَوِ الشَّىْءِ مِنَ الْحَيَوَانِ أَوِ السِّنِّ

1316

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ اسْتَقْرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سِنًّا فَأَعْطَاهُ سِنًّا خَيْرًا مِنْ سِنِّهِ وَقَالَ " خِيَارُكُمْ أَحَاسِنُكُمْ قَضَاءً " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي رَافِعٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَاهُ شُعْبَةُ وَسُفْيَانُ عَنْ سَلَمَةَ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ لَمْ يَرَوْا بِاسْتِقْرَاضِ السِّنِّ بَأْسًا مِنَ الإِبِلِ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَكَرِهَ بَعْضُهُمْ ذَلِكَ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩১৯. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ....... আবু হুরায়রা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একটি নিদিষ্ট বয়সের উট ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। অনন্তর তিনি তার উটটি থেকে আরও ভাল একটি উট আদায় করলেন এবং বললেন, তোমাদের মধ্যে ভাল সেই ব্যক্তি, যে ব্যক্তি পরিশোধের ব্যাপারে উত্তম।

এ বিষয়ে আবু রাফি’ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। শু’বা ও সুফিয়ান (রাহঃ) এটিকে সালামা (রাহঃ)-এর বরাতে বর্ণনা করেছেন। কোন কোন আলিমের এতদনুসারে আমল রয়েছে। তাঁদের মতে নির্দিষ্ট বয়সের উট ঋণ গ্রহণে অসুবিধা নাই। এ হলো ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। কতক আলিম এটিকে অপছন্দনীয় বলে মত প্রকাশ করেছেন।
1317
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، تَقَاضَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَغْلَظَ لَهُ فَهَمَّ بِهِ أَصْحَابُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " دَعُوهُ فَإِنَّ لِصَاحِبِ الْحَقِّ مَقَالاً " ثُمَّ قَالَ " اشْتَرُوا لَهُ بَعِيرًا فَأَعْطُوهُ إِيَّاهُ " . فَطَلَبُوهُ فَلَمْ يَجِدُوا إِلاَّ سِنًّا أَفْضَلَ مِنْ سِنِّهِ . فَقَالَ " اشْتَرُوهُ فَأَعْطُوهُ إِيَّاهُ فَإِنَّ خَيْرَكُمْ أَحْسَنُكُمْ قَضَاءً " .
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩২০. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ....... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে তাগাদা দিতে গিয়ে খুবই কঠোরতা প্রদর্শন করছিল। ফলে সাহাবীগণ তাকে কিছু শিক্ষা দিতে ইচ্ছা করেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, ছেড়ে দাও একে; কেননা, হকওয়ালার কথা বলার অধিকার আছে। আরো বললেন, তার জন্য একটি উট খরীদ করে নিয়ে আস এবং সেটি তাকে দিয়ে দাও। সাহাবীগণ তালাশ করেও লোকটির উটের চাইতে ভাল উট ছাড়া কিছু পেলেন না। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, তা-ই কিনে নিয়ে এস, এবং সেটিই তাকে দিয়ে দাও। কেননা তোমাদের মাঝে ভাল সেই যে পরিশোধের ব্যাপারে উত্তম।

মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) সালামা ইবনে কুহায়ল (রাহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
1318

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ اسْتَسْلَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَكْرًا فَجَاءَتْهُ إِبِلٌ مِنَ الصَّدَقَةِ . قَالَ أَبُو رَافِعٍ فَأَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَقْضِيَ الرَّجُلَ بَكْرَهُ . فَقُلْتُ لاَ أَجِدُ فِي الإِبِلِ إِلاَّ جَمَلاً خِيَارًا رَبَاعِيًّا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَعْطِهِ إِيَّاهُ فَإِنَّ خِيَارَ النَّاسِ أَحْسَنُهُمْ قَضَاءً " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

Narrator: আবু রাফি' (রাঃ)

১৩২১. আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ....... রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর আযাদকৃত দাস আবু রাফি (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একবার একটি উট ঋণ নিয়েছিলেন। অনন্তর তাঁর হাতে সাদ্‌কার কিছু উট আসে। আবু রাফি’ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সে ব্যক্তির জওয়ান উটটি আদায় করে দিতে নির্দেশ দিলেন। আমি বললাম, এ গুলির মাঝে ছয় বছর বয়সী পছন্দনীয় উট ছাড়া তাকে আদায় করার মত আর কোন উট তো পাচ্ছি না। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, তা-ই তাকে দিয়ে দাও। কেননা, সর্বোত্তম ব্যক্তি হলো সেই ব্যক্তি যে ব্যক্তি পরিশোধের ব্যাপারে উত্তম। - ইবনে মাজাহ, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান-সহীহ।
1319

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرَّازِيُّ، عَنْ مُغِيرَةَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ سَمْحَ الْبَيْعِ سَمْحَ الشِّرَاءِ سَمْحَ الْقَضَاءِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَقَدْ رَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ يُونُسَ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩২২. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, আল্লাহ্ তাআলা বিক্রয়ে উদারতা, ক্রয়ে উদারতা, তাগাদার ক্ষেত্রেও উদারতা ভালবাসেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি গারীব। কেউ কেউ এ হাদীসটিকে ইউনুস-সাঈদ আল মাকবুরী- আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
1320

حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " غَفَرَ اللَّهُ لِرَجُلٍ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانَ سَهْلاً إِذَا بَاعَ سَهْلاً إِذَا اشْتَرَى سَهْلاً إِذَا اقْتَضَى " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৩২৩. আব্বাস আদ্দূরী (রাহঃ) ...... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী যুগের এক ব্যক্তিকে আল্লাহ্ তাআলা মাফ করে দিয়েছেন। সে বিক্রির ক্ষেত্রে ছিল উদার-কোমল, ক্রয়ের ক্ষেত্রে ছিল উদার, তাগাদার ক্ষেত্রেও ছিল উদার। - ইবনে মাজাহ, বুখারি

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ হাদীসটি সহীহ-হাসান। এ সূত্রে গারীব।

মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ।

باب النَّهْىِ عَنِ الْبَيْعِ، فِي الْمَسْجِدِ

1321

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا عَارِمٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ خُصَيْفَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا رَأَيْتُمْ مَنْ يَبِيعُ أَوْ يَبْتَاعُ فِي الْمَسْجِدِ فَقُولُوا لاَ أَرْبَحَ اللَّهُ تِجَارَتَكَ وَإِذَا رَأَيْتُمْ مَنْ يَنْشُدُ فِيهِ ضَالَّةً فَقُولُوا لاَ رَدَّ اللَّهُ عَلَيْكَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا الْبَيْعَ وَالشِّرَاءَ فِي الْمَسْجِدِ . وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَدْ رَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الْبَيْعِ وَالشِّرَاءِ فِي الْمَسْجِدِ .

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩২৪. হাসান ইবনে আলী আল-খাল্লাল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, তোমরা কাউকে যখন সমজিদে বেচতে বা কিনতে দেখবে তখন বলবে, আল্লাহ্ তোমার এ তেজারত (ব্যাবসা) লাভজনক না করুন। কাউকে যখন দেখবে সে মসজিদে কোন জিনিস হারানোর ঘোষণা দিচ্ছে তখন বলবে, আল্লাহ্ তোমার জিনিসটি ফেরত না দিন’।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-গারীব। আলিমগণের এতদনুসারে আমল রয়েছে। তাঁরা মসাজিদে ক্রয়-বিক্রয় অপছন্দনীয় বলে মত প্রকাশ করেছেন। এ হলো ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর অভিমত। কতক আলিম মসজিদে ক্রয়-বিক্রয়ের অনুমতি দিয়েছেন।