أبواب السفر

৬. সফর-মুসাফিরের অধ্যায়

অধ্যায় ৬ · ৭৩ টি হাদীস

সফরকালে কসর করা।

باب مَا جَاءَ فِي التَّقْصِيرِ فِي السَّفَرِ

৫৪৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْحَكَمِ الْوَرَّاقُ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَافَرْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ فَكَانُوا يُصَلُّونَ الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ لاَ يُصَلُّونَ قَبْلَهَا وَلاَ بَعْدَهَا . وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ لَوْ كُنْتُ مُصَلِّيًا قَبْلَهَا أَوْ بَعْدَهَا لأَتْمَمْتُهَا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَنَسٍ وَعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ وَعَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ سُلَيْمٍ مِثْلَ هَذَا . قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ رَجُلٍ مِنْ آلِ سُرَاقَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَطِيَّةَ الْعَوْفِيِّ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَطَوَّعُ فِي السَّفَرِ قَبْلَ الصَّلاَةِ وَبَعْدَهَا . وَقَدْ صَحَّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَقْصُرُ فِي السَّفَرِ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ صَدْرًا مِنْ خِلاَفَتِهِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا كَانَتْ تُتِمُّ الصَّلاَةَ فِي السَّفَرِ . وَالْعَمَلُ عَلَى مَا رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابِهِ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ إِلاَّ أَنَّ الشَّافِعِيَّ يَقُولُ التَّقْصِيرُ رُخْصَةٌ لَهُ فِي السَّفَرِ فَإِنْ أَتَمَّ الصَّلاَةَ أَجْزَأَ عَنْهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪৪. আব্দুল ওয়াহ্হাব ইবনে আব্দিল হাকাম আল-ওয়াররাক আল-বাগদাদী (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: আমি রাসূল (ﷺ), আবু বকর, উমর ও উসমান (রাযিঃ) এর সঙ্গে সফর করেছি। তাঁরা যোহর ও আসরের নামায দু’রাকআত করে আদায় করতেন। এর পূর্বে বা পরে কোন নামায আদায় করতেন না। আব্দুল্লাহ (ইবনে উমর) বলেনঃ যদি এর পূর্বে বা পরে কোন নামাযই আদায় করতাম তবে তা তো এই নামাযই পূরা আদায় করতাম। - ইবনে মাজাহ ১০৭১, বুখারি ও মুসলিম

এই বিষয়ে উমর, আলী, ইবনে আব্বাস, আনাস, ইমরান, ইবনে হুসাইন ও আয়িশা (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে উমর (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-গারীব। ইয়াহয়া ইবনে সুলায়ম ছাড়া অন্য কোন সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত আছে বলে আমরা জানি না। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আল-সুরাকার জনৈক ব্যক্তি ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রেও বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ আতিয়্যা আল-আওফী ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (ﷺ) সফর অবস্থায়ও নামাযের পূর্বে ও পরে নফল আদায় করতেন। সহীহ সনদে প্রমাণিত আছে যে, রাসূল (ﷺ) সফরে কসর করতেন।* আবু বকর, উমর এবং উসমান (রাযিঃ)-ও তাঁদের খিলাফতের শুরুতে কসর আদায় করেছেন। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিম এই হাদীস অনুসারে আমল করার অভিমত দিয়েছেন। আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি সফর অবস্থায় ও পূর্ণ নামায আদায় করতেন। রাসূল (ﷺ)ও সাহাবীগণ থেকে যা বর্ণিত আছে সে অনুসারেই তো আমল করা হবে। এ হল ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। তবে ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেনঃ সফরে কসর আদায় করা হল আল্লাহ প্রদত্ত একটি সুযোগ কিন্তু পুরো নামায আদায় করলেও জায়েয হবে।**

*قصر অর্থ হ্রস্ব করা। চার রাকআত বিশিষ্ট নামাযসমূহ দু'রাকআত করে আদায় করা।

**মাম আযম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর অভিমত হ'ল সফরে কসর করা ওয়াজিব। উমর ও আলী (রাযিঃ) সহ বহু সাহাবীরও এই মত
৫৪৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ الْقُرَشِيُّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، قَالَ سُئِلَ عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ عَنْ صَلاَةِ الْمُسَافِرِ، فَقَالَ حَجَجْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَحَجَجْتُ مَعَ أَبِي بَكْرٍ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَمَعَ عُمَرَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَمَعَ عُثْمَانَ سِتَّ سِنِينَ مِنْ خِلاَفَتِهِ أَوْ ثَمَانِيَ سِنِينَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৫৪৫. আহমদ ইবনে মানী (রাহঃ) ..... আবু নযরা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, একবার ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) কে মুসাফিরের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি তখন বললেনঃ আমি রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে হজ্জ করেছি, তিনি দু’রাকআত নামায আদায় করেছেন। আবু বকর (রাযিঃ)-এর সঙ্গেও হজ্জ করেছি, তিনিও দু’রাকআত করে নামায আদায় করেছেন। উমর (রাযিঃ)-এর সঙ্গেও হজ্জ করেছি তিনিও দু’রাকআত করে নামায আদায় করেছেন। উসমান (রাযিঃ)-এর সঙ্গে ও তাঁর খিলাফতের ছয় বছর (বর্ণনান্তরে আট বছর) হজ্জ করেছি, তিনিও দু’রাকআত করে নামায আদায় করেছেন।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৫৪৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، وَإِبْرَاهِيمَ بْنِ مَيْسَرَةَ، سَمِعَا أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ صَلَّيْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ بِالْمَدِينَةِ أَرْبَعًا وَبِذِي الْحُلَيْفَةِ الْعَصْرَ رَكْعَتَيْنِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৬. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ আমরা মদীনায় রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে যোহরের নামায চার রাকআত আদায় করেছি আর যুল হুলাইফায় আসরের নামায দু’রাকআত আদায় করেছি। - বুখারি ও মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি সহীহ।
৫৪৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ زَاذَانَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى مَكَّةَ لاَ يَخَافُ إِلاَّ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৪৭. কুতায়বা (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (ﷺ) মদীনা থেকে মক্কার দিকে যাত্রা করলেন। সেই সময় আল্লাহ রাববুল আলামীন ব্যতিরেকে আর কারো ভীতি তাঁর ছিল না, এতদসত্ত্বেও তিনি দু’রাকআত কসর নামায আদায় করেছেন।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

কত দিন কসর নামায আদায় করা হবে।

باب مَا جَاءَ فِي كَمْ تُقْصَرُ الصَّلاَةُ

৫৪৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ الْحَضْرَمِيُّ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى مَكَّةَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ . قَالَ قُلْتُ لأَنَسٍ كَمْ أَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ قَالَ عَشْرًا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَجَابِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ أَقَامَ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ تِسْعَ عَشْرَةَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَنَحْنُ إِذَا أَقَمْنَا مَا بَيْنَنَا وَبَيْنَ تِسْعَ عَشْرَةَ صَلَّيْنَا رَكْعَتَيْنِ وَإِنْ زِدْنَا عَلَى ذَلِكَ أَتْمَمْنَا الصَّلاَةَ . وَرُوِيَ عَنْ عَلِيٍّ أَنَّهُ قَالَ مَنْ أَقَامَ عَشَرَةَ أَيَّامٍ أَتَمَّ الصَّلاَةَ . وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ قَالَ مَنْ أَقَامَ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا أَتَمَّ الصَّلاَةَ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ . وَرُوِيَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ قَالَ إِذَا أَقَامَ أَرْبَعًا صَلَّى أَرْبَعًا . وَرَوَى عَنْهُ ذَلِكَ قَتَادَةُ وَعَطَاءٌ الْخُرَاسَانِيُّ . وَرَوَى عَنْهُ دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ خِلاَفَ هَذَا . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ بَعْدُ فِي ذَلِكَ فَأَمَّا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَأَهْلُ الْكُوفَةِ فَذَهَبُوا إِلَى تَوْقِيتِ خَمْسَ عَشْرَةَ وَقَالُوا إِذَا أَجْمَعَ عَلَى إِقَامَةِ خَمْسَ عَشْرَةَ أَتَمَّ الصَّلاَةَ . وَقَالَ الأَوْزَاعِيُّ إِذَا أَجْمَعَ عَلَى إِقَامَةِ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ أَتَمَّ الصَّلاَةَ . وَقَالَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ إِذَا أَجْمَعَ عَلَى إِقَامَةِ أَرْبَعَةٍ أَتَمَّ الصَّلاَةَ . وَأَمَّا إِسْحَاقُ فَرَأَى أَقْوَى الْمَذَاهِبِ فِيهِ حَدِيثَ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لأَنَّهُ رَوَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ تَأَوَّلَهُ بَعْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَجْمَعَ عَلَى إِقَامَةِ تِسْعَ عَشْرَةَ أَتَمَّ الصَّلاَةَ . ثُمَّ أَجْمَعَ أَهْلُ الْعِلْمِ عَلَى أَنَّ الْمُسَافِرَ يَقْصُرُ مَا لَمْ يُجْمِعْ إِقَامَةً وَإِنْ أَتَى عَلَيْهِ سِنُونَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৮. আহমদ ইবনে মানী (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, আমরা রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে মদীনা থেকে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হই। তখন তিনি দু’রাকআত করে নামায আদায় করেছেন। আনাস (রাযিঃ)-কে বললামঃ রাসূল (ﷺ) কতদিন মক্কায় অবস্থান করেছিলেন? তিনি বললেনঃ দশ দিন। - ইবনে মাজাহ ১০৭৭, বুখারি ও মুসলিম

এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস ও জাবির (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ আনাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (ﷺ) তাঁর কোন এক সফরে উনিশ দিন পর্যন্ত অবস্থান করেন এবং দু‘রাকআত হিসেবে নামায আদায় করেন। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ আমরা যদি কোথাও দিনের ভেতর অবস্থান করি তবে দু’রাকআত করে নামায আদায় করি। আর এর বেশী অবস্থান করলে পুরো নামায আদায় করি।

আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ কেউ যদি দশ দিন অবস্থান করে, তবে তাকে পুরো নামায আদায় করতে হবে। ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ কেউ যদি কোন স্থানে পনের দিন অবস্থান করে, তবে তাকে পুরা নামায আদায় করতে হবে। তার বরাতে বার দিনের কথাও বর্ণিত আছে। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ যদি কেউ কোন স্থানে চার দিন অবস্থান করে তবে তাকে চার রাকআত আদায় করতে হবে। কাতাদা এবং আতা আল-খুরাসানী (রাহঃ) তার বরাতে উক্ত কথা বর্ণনা করেছেন। কিন্তু দাউদ ইবনে আবী হিনদ (রাহঃ) তার বরাতে ভিন্নরূপে বক্তব্যও বর্ণনা করেছেন।

এই বিষয়ে ফকীহ আলিমগণেরও মতবিরোধ রয়েছে। সুফিয়ান সাওরী এবং কূফাবাসী আলিমগণ পনের দিন সময়ে অবস্থানের অভিমতটি গ্রহণ করেছেন। তারা বলেনঃ কেউ যদি কোন স্থানে পনের দিন অবস্থানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তবে তাকে পুরা নামায আদায় করতে হবে। ইমাম আওযাঈ (রাহঃ) বলেনঃ যদি কেউ কোন স্থানে বার দিন অবস্থানের সিদ্ধান্ত নিলে পুরা নামায আদায় করতে হবে। ইমাম মালিক, শাফিঈ ও আহমদ (রাহঃ) বলেনঃ চার দিন অবস্থানের সিদ্ধান্ত নিলে পুরা নামায আদায় করতে হবে।

ইমাম ইসহাক (রাহঃ) এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর হাদীসটিকে সবচেয়ে শক্তিশালী অভিমত বলে মনে করেন। কারণ, একে তো তিনি এতদ্বিষয়ে রাসূল (ﷺ) থেকে একটি রিওয়ায়াতও উল্লেখ করেছেন, দ্বিতীয়ত রাসূল (ﷺ)-এর ইন্‌তিকালের পর এতদনুসারে তিনি ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। বলেছেনঃ উনিশ দিন অবস্থানের সিদ্ধান্ত করলে নামায পুরা আদায় করতে হবে। আলিমগণ এই বিষয়ে একমত যে, যতদিন পর্যন্ত ইকামতের সিদ্ধান্ত না নিবে, ততদিন একজন মুসাফির কসর আদায় করবে। যদিও এভাবে বহু বছর কেটে যায়।
৫৪৯

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ سَافَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَفَرًا فَصَلَّى تِسْعَةَ عَشَرَ يَوْمًا رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنٍ . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَنَحْنُ نُصَلِّي فِيمَا بَيْنَنَا وَبَيْنَ تِسْعَ عَشْرَةَ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ فَإِذَا أَقَمْنَا أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ صَلَّيْنَا أَرْبَعًا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৪৯. হান্নাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূল (ﷺ) এক সফরে বের হলেন এবং উনিশ দিন পর্যন্ত দু’রাকআত করে নামায আদায় করেছেন। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমরাও উনিশদিন পর্যন্ত দু’রাকআত করে নামায আদায় করতাম। এর বেশী যদি আমরা অবস্থান করতাম তবে চার রাকআত নামায আদায় করতাম। - ইবনে মাজাহ ১০৭৫, বুখারি

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি গারীব-হাসান-সহীহ।

সফরে নফল নামায আদায় করা।

باب مَا جَاءَ فِي التَّطَوُّعِ فِي السَّفَرِ

৫৫০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ أَبِي بُسْرَةَ الْغِفَارِيِّ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَمَانِيَةَ عَشَرَ سَفَرًا فَمَا رَأَيْتُهُ تَرَكَ الرَّكْعَتَيْنِ إِذَا زَاغَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ الظُّهْرِ . وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ الْبَرَاءِ حَدِيثٌ غَرِيبٌ . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْهُ فَلَمْ يَعْرِفْهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ وَلَمْ يَعْرِفِ اسْمَ أَبِي بُسْرَةَ الْغِفَارِيِّ وَرَآهُ حَسَنًا . وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَتَطَوَّعُ فِي السَّفَرِ قَبْلَ الصَّلاَةِ وَلاَ بَعْدَهَا . وَرُوِيَ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَتَطَوَّعُ فِي السَّفَرِ . ثُمَّ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ بَعْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَرَأَى بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَتَطَوَّعَ الرَّجُلُ فِي السَّفَرِ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَلَمْ تَرَ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ يُصَلَّى قَبْلَهَا وَلاَ بَعْدَهَا . وَمَعْنَى مَنْ لَمْ يَتَطَوَّعْ فِي السَّفَرِ قَبُولُ الرُّخْصَةِ وَمَنْ تَطَوَّعَ فَلَهُ فِي ذَلِكَ فَضْلٌ كَثِيرٌ . وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ يَخْتَارُونَ التَّطَوُّعَ فِي السَّفَرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৫৫০. কুতায়বা (রাহঃ) ...... বারা ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আমি আঠারবার রাসূল (ﷺ) এর সাথে সফরে ছিলাম। সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ার পর যোহরের পূর্বে দু’রাকআত (নফল) নামায পরিত্যাগ করতে আমি কখনও তাঁকে দেখিনি।

এই বিষয়ে ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ বারা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি গারীব। এই বিষয়ে মুহাম্মাদ আল-বুখারী (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি লাঈস ইবনে সা’দ -এর রিওয়ায়াত ছাড়া এটি সম্পর্কে কিছু জানেন না। এমনিভাবে আবু বুসরা আল-গিফারীর নামও তিনি জানেন না। তবে তিনি তাকে ভাল মনে করেন। ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (ﷺ) সফর অবস্থায় নামাযের পূর্বে বা পরে নফল আদায় করতেন না। আবার তাঁর বরাতে একথাও বর্ণিত আছে যে, নবী (ﷺ) সফর অবস্থায়ও নফল নামায আদায় করতেন।

রাসূল (ﷺ)-এর পর বিষয়টি সম্পর্কে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। কতক সাহাবী সফর অবস্থায়ও নফল নামায আদায়ের সপক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। এ হল ইমাম আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ) এরও অভিমত। আর একদল আলিম সফর অবস্থায় নামাযের পূর্বে বা পরে কোন নফল আদায় করতে হবে বলে মনে করেন না। তবে সফরে নফল আদায় না করা অর্থ হল না পড়ার এই সুযোগকে গ্রহণ করা। কিন্তু কেউ যদি এই অবস্থায়ও নফল আদায় করে তবে তার জন্য প্রভূত ফযীলত রয়েছে। অধিকাংশ আলিমের অভিমত এ-ই যে, তারা সফর অবস্থায় নফল আদায় করা পছন্দনীয় বলে মনে করেন।
৫৫১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الْحَجَّاجِ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ فِي السَّفَرِ رَكْعَتَيْنِ وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رَوَاهُ ابْنُ أَبِي لَيْلَى عَنْ عَطِيَّةَ وَنَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৫১. আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ সফরে রাসূল (ﷺ) এর সঙ্গে যোহর দু’রাকআত আদায় করেছি এবং এরপর আরো দু’রাকআত (নফল) নামায আদায় করেছি।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান। ইবনে আবী লায়লা (রাহঃ)-ও এটিকে আতিয়্যা ও নাফি ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
৫৫২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ، - يَعْنِي الْكُوفِيَّ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ هَاشِمٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَطِيَّةَ، وَنَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ فَصَلَّيْتُ مَعَهُ فِي الْحَضَرِ الظُّهْرَ أَرْبَعًا وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ وَصَلَّيْتُ مَعَهُ فِي السَّفَرِ الظُّهْرَ رَكْعَتَيْنِ وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ وَالْعَصْرَ رَكْعَتَيْنِ وَلَمْ يُصَلِّ بَعْدَهَا شَيْئًا وَالْمَغْرِبَ فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ سَوَاءً ثَلاَثَ رَكَعَاتٍ لاَ تَنْقُصُ فِي الْحَضَرِ وَلاَ فِي السَّفَرِ وَهِيَ وِتْرُ النَّهَارِ وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . سَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ مَا رَوَى ابْنُ أَبِي لَيْلَى حَدِيثًا أَعْجَبَ إِلَىَّ مِنْ هَذَا وَلاَ أَرْوِي عَنْهُ شَيْئًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৫২. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদা আল-মুহারিবী (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমি রাসূল (ﷺ) এর সঙ্গে সফর ও মুকীম সর্বাবস্থায় নামায আদায় করেছি। মুকীম অবস্থায় যোহরের নামায চার রাকআত এবং এরপর (সুন্নত) দু’রাকআত আদায় করেছি; কিন্তু সফর অবস্থায় যোহর দু’রাকআত এবং এরপর (সুন্নত) দু’রাকআত আদায় করেছি। এমনিভাবে আসরও দু’রাকআত আদায় করেছি, তবে এরপর আর কোন (সুন্নত বা নফল) নামায আদায় করিনি। মাগরিবের নামায সফর ও মুকীম সর্বাবস্থায়ই এক বরাবর, সব সময় তা তিন রাকআতই, সফর বা মুকীম কোন অবস্থায় এতে হ্রাস-বৃদ্ধি হয় না। এ হল দিনের বিতর। এরপর রয়েছে দু’রাকআত (সুন্নত)।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান। মুহাম্মাদ আল-বুখারী (রাহঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, ইবনে আবী লায়লা (রাহঃ) এর চেয়েও অধিক পছন্দনীয় কোন রিওয়ায়াত আমাকে শুনাননি।

দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করা।

باب مَا جَاءَ فِي الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ

৫৫৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، هُوَ عَامِرُ بْنُ وَاثِلَةَ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ إِذَا ارْتَحَلَ قَبْلَ زَيْغِ الشَّمْسِ أَخَّرَ الظُّهْرَ إِلَى أَنْ يَجْمَعَهَا إِلَى الْعَصْرِ فَيُصَلِّيهِمَا جَمِيعًا وَإِذَا ارْتَحَلَ بَعْدَ زَيْغِ الشَّمْسِ عَجَّلَ الْعَصْرَ إِلَى الظُّهْرِ وَصَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا ثُمَّ سَارَ وَكَانَ إِذَا ارْتَحَلَ قَبْلَ الْمَغْرِبِ أَخَّرَ الْمَغْرِبَ حَتَّى يُصَلِّيَهَا مَعَ الْعِشَاءِ وَإِذَا ارْتَحَلَ بَعْدَ الْمَغْرِبِ عَجَّلَ الْعِشَاءَ فَصَلاَّهَا مَعَ الْمَغْرِبِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَابْنِ عُمَرَ وَأَنَسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعَائِشَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَالصَّحِيحُ عَنْ أُسَامَةَ . وَرَوَى عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ عَنْ قُتَيْبَةَ هَذَا الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৫৫৩. কুতায়বা (রাহঃ) ...... মু’আয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তাবুক যুদ্ধের সফরকালে রাসূল (ﷺ) সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ার আগে যাত্রা করতেন তবে যোহরের নামায বিলম্ব করে আসরের সঙ্গে মিলিয়ে দিতেন এবং উভয় নামায একত্রে আদায় করতেন। আর সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়ার পর যাত্রা করলে আসরের নামায যোহরের ওয়াক্তে এগিয়ে নিয়ে আসতেন এবং যোহর ও আসর একসঙ্গে আদায় করতেন। এরপর গণ্তব্য স্থানের দিকে চলতেন। এমনিভাবে তিনি যদি মাগরিবের পূর্বে যাত্রা করতেন তবে মাগরিবের নামায বিলম্ব করতেন এবং তা এশার সঙ্গে একসাথে আদায় করতেন। আর যদি মাগরিবের পর যাত্রা করতেন তবে এশার নামায ত্বরাম্বিত করতেন এবং তা মাগরিবের সঙ্গে আদায় করতেন।

এই বিষয়ে আলী, ইবনে উমর, আনাস, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, আয়িশা, ইবনে আব্বাস, উসামা ইবনে যায়দ এবং জাবির (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ উসামা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি সহীহ। আলী ইবনুল মাদীনী (রাহঃ)-ও এই হাদীসটি আহমদ ইবনে হাম্বল কুতায়বা সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
৫৫৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا اللُّؤْلُؤِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الأَعْيَنُ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، بِهَذَا الْحَدِيثِ يَعْنِي حَدِيثَ مُعَاذٍ . وَحَدِيثُ مُعَاذٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ تَفَرَّدَ بِهِ قُتَيْبَةُ لاَ نَعْرِفُ أَحَدًا رَوَاهُ عَنِ اللَّيْثِ غَيْرَهُ . وَحَدِيثُ اللَّيْثِ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَنْ مُعَاذٍ حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَالْمَعْرُوفُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ حَدِيثُ مُعَاذٍ مِنْ حَدِيثِ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَنْ مُعَاذٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم جَمَعَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَبَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ . رَوَاهُ قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَمَالِكٌ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ . وَبِهَذَا الْحَدِيثِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ . وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ يَقُولاَنِ لاَ بَأْسَ أَنْ يَجْمَعَ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ فِي السَّفَرِ فِي وَقْتِ إِحْدَاهُمَا .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৫৫৪. আব্দুস সামাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ..... মু’আয (রাযিঃ) থেকে এই হাদীসটি বর্ণিত। মু’য়ায (রাযিঃ) বর্ণিত রিওয়ায়াতটি হাসান-গারীব। এটির বর্ণনা কুতায়বা এককভাবে লাঈস সূত্রে। তিনি ব্যতীত আর রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। ইয়াযীদ ইবনে আবী হাবীব আবুত্ তুফায়ল ......... মু’আয (রাযিঃ) সূত্রে হাদীসটি গারীব। হাদীস বিশারদের নিকট প্রসিদ্ধ রিওয়ায়াত হল এই যে, আবুয যুবাইর আবুত্ তুফায়ল মু’আয (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (ﷺ) তাবুক যুদ্ধে সফরে যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করেছেন। কুররা ইবনে খালিদ, সুফিয়ান সাওরী, মালিক এবং আরো অনেকে আবুয্ যুবাইর মক্কী (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ) প্রমুখ এই হাদীস অনুযায়ী অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেন, সফরে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে একই ওয়াক্তে আদায় করায় কোন দোষ নেই।

৫৫৫

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ اسْتُغِيثَ عَلَى بَعْضِ أَهْلِهِ فَجَدَّ بِهِ السَّيْرُ فَأَخَّرَ الْمَغْرِبَ حَتَّى غَابَ الشَّفَقُ ثُمَّ نَزَلَ فَجَمَعَ بَيْنَهُمَا ثُمَّ أَخْبَرَهُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ إِذَا جَدَّ بِهِ السَّيْرُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَحَدِيثُ اللَّيْثِ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৫৫. হান্নাদ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার তাঁর পরিবারের জনৈক সদস্যের বিপদে সাড়া দিতে গিয়ে তাঁকে দ্রুত সফরে যেতে হয়েছিল। তখন তিনি মাগরিবের নামায আদায় করতে এত বিলম্ব করলেন যে, শাফক (সূর্যাস্তের পরবর্তী লালিমা) অস্তমিত হয়ে গেল। পরে তিনি সওয়ারী থেকে নেমে এশা ও মাগীরব একত্রে মিলিয়ে আদায় করলেন এবং বললেনঃ রাসূল (ﷺ) এর যখন সফরে তাড়াহুড়া থাকত, তখন এইরূপ করতেন।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইয়াযীদ সূত্রে লাঈস (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসটিও হাসান-সহীহ।

সালাতুল ইস্তিসকা।

باب مَا جَاءَ فِي صَلاَةِ الاِسْتِسْقَاءِ

৫৫৬

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَمِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ بِالنَّاسِ يَسْتَسْقِي فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَتَيْنِ جَهَرَ بِالْقِرَاءَةِ فِيهِمَا وَحَوَّلَ رِدَاءَهُ وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَاسْتَسْقَى وَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَنَسٍ وَآبِي اللَّحْمِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَعَلَى هَذَا الْعَمَلُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَعَمُّ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ الْمَازِنِيُّ .

বর্ণনাকারী: আব্বাদ ইবনে তামীম (রহঃ)

৫৫৬. ইয়াহয়া ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... আব্বাদ ইবনে তামীম তার চাচা আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ ইবনে আসিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূল (ﷺ) লোকজন সহ ইস্তিসকার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং তদের নিয়ে দু’রাকআত নামায আদায় করলেন। এতে তিনি সশব্দে কিরাআত পাঠ করেছিলেন। পরে তিনি তার চাঁদর উল্টিয়ে পরলেন ও দুই হাত তুলে কিবলামুখী হয়ে ইস্তিস্কার (বৃষ্টির জন্য) দুআ করলেন। - ইবনে মাজাহ ১২৬৭, বুখারি ও মুসলিম

এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস, আবু হুরায়রা, আনাস এবং আবিল লাহম (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল করার অভিমত গ্রহণ করেছেন। ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাকেরও এই অভিমত। আব্বাস ইবনে তামীমের চাচার নাম হল আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ ইবনে আসিম আল-মাযিনী।
৫৫৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عُمَيْرٍ، مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ عَنْ آبِي اللَّحْمِ، أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ أَحْجَارِ الزَّيْتِ يَسْتَسْقِي وَهُوَ مُقْنِعٌ بِكَفَّيْهِ يَدْعُو . قَالَ أَبُو عِيسَى كَذَا قَالَ قُتَيْبَةُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ عَنْ آبِي اللَّحْمِ وَلاَ نَعْرِفُ لَهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ هَذَا الْحَدِيثَ الْوَاحِدَ وَعُمَيْرٌ مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ قَدْ رَوَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَحَادِيثَ وَلَهُ صُحْبَةٌ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৫৫৭. কুতায়বা (রাহঃ) .... আবিল লাহম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি (মদীনার) আহজারুয্ যায়ত নামক স্থানে রাসূল (ﷺ)-কে ইস্তিসকা আদায় করতে দেখেছেন। তিনি তখন তাঁর দু’হাত তুলে দুআ করছিলেন।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ কুতায়বা (রাহঃ) এই হাদীসটিকে আবীল্ লাহম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত বলে উল্লেখ করেছেন। রাসূল (ﷺ) থেকে তাঁর এই একটি রিওয়ায়াত ছাড়া অন্য কোন রিওয়ায়াত আছে বলে আমরা জানি না। এই আবুল লাহম (রাযিঃ)-এর মাওলা বা আযাদকৃত দাস উমায়র (রাযিঃ) এর বরাতে রাসূল (ﷺ)-এর কিছু হাদীস বর্ণিত আছে। তিনিও সাহাবী ছিলেন।
৫৫৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ إِسْحَاقَ، وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كِنَانَةَ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَرْسَلَنِي الْوَلِيدُ بْنُ عُقْبَةَ وَهُوَ أَمِيرُ الْمَدِينَةِ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَسْأَلُهُ عَنِ اسْتِسْقَاءِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَتَيْتُهُ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ مُتَبَذِّلاً مُتَوَاضِعًا مُتَضَرِّعًا حَتَّى أَتَى الْمُصَلَّى فَلَمْ يَخْطُبْ خُطْبَتَكُمْ هَذِهِ وَلَكِنْ لَمْ يَزَلْ فِي الدُّعَاءِ وَالتَّضَرُّعِ وَالتَّكْبِيرِ وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَمَا كَانَ يُصَلِّي فِي الْعِيدِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৫৮. কুতায়বা (রাহঃ) .... ইসহাক ইবনে আব্দিল্লাহ ইবনে কিনানা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ মদীনার আমীর ওয়ালীদ ইবনে উকবা আমাকে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর কাছে রাসূল (ﷺ) এর ইস্তিসকা সম্পর্কে জানতে পাঠিয়েছিলেন। আমি তার নিকট এসে তা জানতে চাইলে তিনি বললেনঃ রাসূল (ﷺ) এই উদ্দেশ্যে অতি সাধারণ বেশে, বিনীত ভঙ্গীতে, রোনাযারীর সাথে ঘর থেকে বের হতেন, নামায গাহে আসতেন। তোমাদের মত এই ধরনের খুতবা দিতেন না; বরং দুআ, রোনাযারী ও তাকবীর-এ ব্যস্ত থাকতেন। ঈদের নামাযের মত দুই রাকআত (ইস্তিসকার)-নামায আদায় করতেন। - ইবনে মাজাহ ১২৬৬

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৫৫৯

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كِنَانَةَ، عَنْ أَبِيهِ، فَذَكَرَ نَحْوَهُ وَزَادَ فِيهِ مُتَخَشِّعًا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ قَالَ يُصَلِّي صَلاَةَ الاِسْتِسْقَاءِ نَحْوَ صَلاَةِ الْعِيدَيْنِ يُكَبِّرُ فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى سَبْعًا وَفِي الثَّانِيَةِ خَمْسًا وَاحْتَجَّ بِحَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرُوِيَ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ أَنَّهُ قَالَ لاَ يُكَبِّرُ فِي صَلاَةِ الاِسْتِسْقَاءِ كَمَا يُكَبِّرُ فِي صَلاَةِ الْعِيدَيْنِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে কিনানা (রহঃ)

৫৫৯. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে কিনানাহ্ (রাহঃ) অনূরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি এতে مُتَخَشِّعًا (খুশূ-খুযূ সহকারে)-শব্দটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ)-এর অভিমতও এইরূপ। তিনি বলেন, সালাতুল ঈদায়নের মত ইস্তিস্কা-এর নামায আদায় করা হবে। এতে প্রথম রাকআতে সাতবার এবং দ্বিতীয় রাকআতে পাঁচবার তাকবীর বলা হবে। তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি প্রমাণ হিসাবে পেশ করেন। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, সালাতুল ঈদায়নের তাকবীরের মত সালাতুল ইসতিসকায় কোন তাকবীর নেই।

কুসূফ বা সূর্য গ্রহণের নামায।

باب مَا جَاءَ فِي صَلاَةِ الْكُسُوفِ

৫৬০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ صَلَّى فِي كُسُوفٍ فَقَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ قَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ قَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ وَالأُخْرَى مِثْلُهَا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَعَائِشَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَالنُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ وَالْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ وَأَبِي مَسْعُودٍ وَأَبِي بَكْرَةَ وَسَمُرَةَ وَأَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَأَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ وَابْنِ عُمَرَ وَقَبِيصَةَ الْهِلاَلِيِّ وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ وَأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ صَلَّى فِي كُسُوفٍ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فِي أَرْبَعِ سَجَدَاتٍ . وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . قَالَ وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الْقِرَاءَةِ فِي صَلاَةِ الْكُسُوفِ فَرَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ يُسِرَّ بِالْقِرَاءَةِ فِيهَا بِالنَّهَارِ . وَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنْ يَجْهَرَ بِالْقِرَاءَةِ فِيهَا كَنَحْوِ صَلاَةِ الْعِيدَيْنِ وَالْجُمُعَةِ وَبِهِ يَقُولُ مَالِكٌ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ يَرَوْنَ الْجَهْرَ فِيهَا . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ لاَ يَجْهَرُ فِيهَا . وَقَدْ صَحَّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كِلْتَا الرِّوَايَتَيْنِ صَحَّ عَنْهُ أَنَّهُ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فِي أَرْبَعِ سَجَدَاتٍ . وَصَحَّ عَنْهُ أَيْضًا أَنَّهُ صَلَّى سِتَّ رَكَعَاتٍ فِي أَرْبَعِ سَجَدَاتٍ . وَهَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ جَائِزٌ عَلَى قَدْرِ الْكُسُوفِ إِنْ تَطَاوَلَ الْكُسُوفُ فَصَلَّى سِتَّ رَكَعَاتٍ فِي أَرْبَعِ سَجَدَاتٍ فَهُوَ جَائِزٌ وَإِنْ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فِي أَرْبَعِ سَجَدَاتٍ وَأَطَالَ الْقِرَاءَةَ فَهُوَ جَائِزٌ . وَيَرَوْنَ أَصْحَابُنَا أَنْ تُصَلَّى صَلاَةُ الْكُسُوفَ فِي جَمَاعَةٍ فِي كُسُوفِ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৬০. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) কুসূফের নামায আদায় করলেন। এতে তিনি কিরাআত পাঠ এবং রুকূ করলেন। এরপর দুই সিজদা দিলেন। পরবর্তী রাকআতও তদ্রূপভাবে আদায় করলেন। - বুখারি ও মুসলিম

এই বিষয়ে আলী, আয়িশা, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, নু’মান ইবনে বাশীর, মুগীরা ইবনে শু’বা, আবু মাসউদ, আবু বাকরা, সামুরা ইবনে জুনদুব, ইবনে মাসউদ, আসমা বিনতে আবী বকর, ইবনে উমর, কাবীসা আল-হিলালী, জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ, আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা এবং উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, রাসূল (ﷺ) চার সিজদায় চার রাকআত কুসূফ নামায আদায় করেছেন। এ হল ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর বক্তব্য।

সালাতুল কুসূফের কিরাআত সম্পর্কে আলিমদের মতবিরোধ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন, দিনে নামাযের রীতি অনুসারে এতে অনুচ্চ স্বরে কিরাআত পাঠ করা হবে। আর কতক আলিম বলেন, সালাতুল ঈদায়ন ও জুমআর মত এতে কিরাআত পাঠ করতে হবে। এ’হল ইমাম মালিক, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর বক্তব্য। তারা এতে সশব্দে কিরাআত পাঠ করতে হবে বলে মনে করেন। ইমাম শাফিঈ বলেন, এতে সশব্দে কিরাআত হবে না। রাসূল (ﷺ) থেকে উভয় ধরনের রিওয়ায়াত সহীহ সনদে প্রমাণিত আছে। রাসূল (ﷺ) থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত আছে যে, তিনি চার সিজদায় চার রাক’আত কুসূফ নামায আদায় করেছেন।

আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি চার সিজদায় ছয় রাকআত সালাতুল কুসূফ আদায় করেছেন। কুফূফ বা সূর্য গ্রহণের সময়ের পরিমাণ অনুসারে আলিমদের নিকট তদ্রূপ নামায জায়েয আছে। আর যদি কুসূফ চার সিজদায় চার রাক’আত আদায় করে এবং কিরা’আত দীর্ঘ করে তবে তা-ও জায়েজ আছে। আমাদের ইমামগণ সূর্য গ্রহণ হোক বা চন্দ্র গ্রহণ, উভয় নামাযই জামাআতে আদায় করতে হবে বলে মনে করেন।
৫৬১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ خَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالنَّاسِ فَأَطَالَ الْقِرَاءَةَ ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَأَطَالَ الْقِرَاءَةَ وَهِيَ دُونَ الأُولَى ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ وَهُوَ دُونَ الأَوَّلِ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَسَجَدَ ثُمَّ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَبِهَذَا الْحَدِيثِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ يَرَوْنَ صَلاَةَ الْكُسُوفِ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فِي أَرْبَعِ سَجَدَاتٍ . قَالَ الشَّافِعِيُّ يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَنَحْوًا مِنْ سُورَةِ الْبَقَرَةِ سِرًّا إِنْ كَانَ بِالنَّهَارِ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً نَحْوًا مِنْ قِرَاءَتِهِ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ بِتَكْبِيرٍ وَثَبَتَ قَائِمًا كَمَا هُوَ وَقَرَأَ أَيْضًا بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَنَحْوًا مِنْ آلِ عِمْرَانَ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً نَحْوًا مِنْ قِرَاءَتِهِ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ ثُمَّ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ تَامَّتَيْنِ وَيُقِيمُ فِي كُلِّ سَجْدَةٍ نَحْوًا مِمَّا أَقَامَ فِي رُكُوعِهِ ثُمَّ قَامَ فَقَرَأَ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَنَحْوًا مِنْ سُورَةِ النِّسَاءِ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً نَحْوًا مِنْ قِرَاءَتِهِ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ بِتَكْبِيرٍ وَثَبَتَ قَائِمًا ثُمَّ قَرَأَ نَحْوًا مِنْ سُورَةِ الْمَائِدَةِ ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً نَحْوًا مِنْ قِرَاءَتِهِ ثُمَّ رَفَعَ فَقَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ تَشَهَّدَ وَسَلَّمَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৬১. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দিল মালিক ইবনে আবিশ্ শাওয়ারিব (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূল (ﷺ)-এর যুগে সূর্য গ্রহণ দেখা দেয়। তখন তিনি লোকদের নিয়ে নামায আদায় করেছিলেন। এতে তিনি দীর্ঘ কিরাআত তিলাওয়াত করেন, এর পর দীর্ঘ রুকূ করেন। পরে মাথা উঠালেন, পরে দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করেন তবে প্রথমবারের তুলনায় কিছু কম দীর্ঘ পরে মাথা তুললেন এবং সিজদা করলেন। এরপর দ্বিতীয় রাক’আতেও অনুরূপ করলেন। - বুখারি ও মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই হাদীস অনুসারেই শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ) অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তারা সালাতুল কুসূফ (সুর্য গ্রহণ ও চন্দ্র গ্রহণ) চার সিজদায় চার রাক’আতে উম্মুল কুরআন সূরা ফাতিহা এবং দিনের বেলায় (সূর্য গ্রহণের সময়) হলে অনুচ্চ শব্দে সূরাতুল বাকারা পরিমাণ কিরাআত করবে এবং কিরাআতের সমপরিমাণ সময় দীর্ঘ রুকূ করবে। পরে তাকবীর দিয়ে মাথা তুলবে এবং সোজা হয়ে দাঁড়াবে এবং উম্মুল কুরআন সূরাতুল ফাতিহা পাঠ করে আলে-ইমরানের পরিমাণ কিরাআত তিলাওয়াত করবে। পরে কিরাআতের সমপরিমাণ সময় দীর্ঘ রুকূ করবে, পরে মাথা তুলবে বলবে, ‘‘সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ’’ এর পর পূর্ণ দুই সিজদা দিবে এবং রুকূতে যতক্ষণ অবস্থান করেছিল, সিজদায়ও ততক্ষণ অবস্থান করবে। পরে সিজদা থেকে দাঁড়াবে। উম্মুল কুরআন ও সূরাতুন নিসা পরিমাণ কিরাআত করবে। এর পর কিরাআতের সমপরিমাণ সময় দীর্ঘ রুকূ করবে। পরে তাকবীর বলে মাথা তুলবে সোজা হয়ে দাঁড়াবে এবং সূরাতুল মায়িদা পরিমাণ কিরা’আত পাঠ করবে, এরপর কিরাআত পরিমাণ সময় দীর্ঘ রুকূ করবে। অতঃপর মাথা তুলবে। বলবে সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ পরে দুই সিজদা দিবে। এরপর তাশাহ্হুদ পাঠ করবে ও সালাম ফিরাবে।

সালাতুল কুসূফের কিরা’আত।

باب مَا جَاءَ فِي صِفَةِ الْقِرَاءَةِ فِي الْكُسُوفِ

৫৬২

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ عِبَادٍ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، قَالَ صَلَّى بِنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي كُسُوفٍ لاَ نَسْمَعُ لَهُ صَوْتًا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سَمُرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৫৬২. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ..... সামূরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) আমাদের নিয়ে সালাতুল কুসূফ আদায় করেছেন। আমরা তাঁর কিরাআতের আওয়াজ শুনতে পাইনি। - ইবনে মাজাহ ১২৬৪

এই বিষয়ে আয়িশা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণের কতক এতদনুসারে অভিমত গ্রহণ করেছেন। এ হল ইমাম শাফিঈ (রাহঃ)-এরও বক্তব্য।
৫৬৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ صَدَقَةَ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى صَلاَةَ الْكُسُوفِ وَجَهَرَ بِالْقِرَاءَةِ فِيهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرَوَاهُ أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ نَحْوَهُ . وَبِهَذَا الْحَدِيثِ يَقُولُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৬৩. আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আবান (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (ﷺ) সালাতুল কুসূফ আদায় করেছেন। এতে তিনি সশব্দে কিরাআত পাঠ করেছেন। - বুখারি ও মুসলিম,

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবু ইসহাক আল-ফাযারী (রাহঃ)-ও সুফিয়ান ইবনে হুসাইন (রাহঃ)-এর বরাতে উক্তরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম মালিক, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর বক্তব্য এ-ই।

সালাতুল খাওফ।

باب مَا جَاءَ فِي صَلاَةِ الْخَوْفِ

৫৬৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى صَلاَةَ الْخَوْفِ بِإِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ رَكْعَةً وَالطَّائِفَةُ الأُخْرَى مُوَاجِهَةُ الْعَدُوِّ ثُمَّ انْصَرَفُوا فَقَامُوا فِي مَقَامِ أُولَئِكَ وَجَاءَ أُولَئِكَ فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً أُخْرَى ثُمَّ سَلَّمَ عَلَيْهِمْ فَقَامَ هَؤُلاَءِ فَقَضَوْا رَكْعَتَهُمْ وَقَامَ هَؤُلاَءِ فَقَضَوْا رَكْعَتَهُمْ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَى مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ مِثْلَ هَذَا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَحُذَيْفَةَ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَسَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ وَأَبِي عَيَّاشٍ الزُّرَقِيِّ وَاسْمُهُ زَيْدُ بْنُ صَامِتٍ وَأَبِي بَكْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ ذَهَبَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ فِي صَلاَةِ الْخَوْفِ إِلَى حَدِيثِ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ . وَقَالَ أَحْمَدُ قَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَلاَةُ الْخَوْفِ عَلَى أَوْجُهٍ وَمَا أَعْلَمُ فِي هَذَا الْبَابِ إِلاَّ حَدِيثًا صَحِيحًا وَأَخْتَارُ حَدِيثَ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ . وَهَكَذَا قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ ثَبَتَتِ الرِّوَايَاتُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الْخَوْفِ . وَرَأَى أَنَّ كُلَّ مَا رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الْخَوْفِ فَهُوَ جَائِزٌ وَهَذَا عَلَى قَدْرِ الْخَوْفِ . قَالَ إِسْحَاقُ وَلَسْنَا نَخْتَارُ حَدِيثَ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ عَلَى غَيْرِهِ مِنَ الرِّوَايَاتِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৬৪. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দিল মালিক ইবনে আবিশ-শাওয়ারিব (রাহঃ) ...... সালিম তৎপিতা ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) এইভাবে সালাতুল খাওফ আদায় করেছেন যে, (পুরো দলকে দুই ভাগে বিভক্ত করে) এক দলকে নিয়ে এক রাকআত পড়েছেন। এই সময়ে অপর একদল শক্রর সামনে থেকেছেন। এরপর যে দল এক রাকআত নামায আদায় করেছন তারা যে দল শক্রর সামনে রয়েছেন তাদের স্থানে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন আর শক্রর সম্মুখে অবস্থানরত দল নামাযে এসে শরীক হয়েছেন। রাসূল (ﷺ) তাদেরকে নিয়ে অপর এক রাকআত সমাধা করেছেন এবং নিজে সালাম ফিরিয়ে নিয়েছেন (কারণ তাঁর নামায শেষ হয়ে গেছে) এরপর নামায রত দল দাঁড়িয়ে তাদের এক রাকআত পুরা করেছেন এবং শক্রর সম্মুখে যারা অবস্থানরত তারাও দাঁড়িয়ে (অবশিষ্ট) এক রাকআত পুরা করে নিয়েছেন। - বুখারি ও মুসলিম,

ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি (৫৬১ নং) হাসান-সহীহ। মুসা ইবনে উকবা (রাহঃ)-ও এটি নাফি ইবনে উমর রাসূল (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে জাবির, হুসায়ফা, যায়দ ইবনে সাবিত, ইবনে আব্বাস, আবু হুরায়রা, ইবনে মাসউদ, সাহল ইবনে আবু আয়্যাশ আয্ যুরাকী-তাঁর নাম হল যায়দ ইবনে সামিত এবং আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ ইমাম মালিক (রাহঃ) সালাতুল খাওফ-এর ব্যাপারে সাহল ইবনে আবী হাসমা (রাহঃ) বর্ণিত হাদীস অনুসারে পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। এটা ঈমাম শাফিঈ (রাহঃ)-এরও অভিমত।

ইমাম আহমদ (রাহঃ) বলেনঃ রাসূল (ﷺ) থেকে কয়েকভাবে সালাতুল খাওফ আদায়ের পদ্ধতি বর্ণিত আছে।এই বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলো সহীহ বলেই আমি জানি। তবে আমি সাহল ইবনে আবী হাসমা বর্ণিত পদ্ধতিটই গ্রহণ করেছি। ইসহাক ইবনে ইবরাহীমও এইরূপ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ সালাতুল খাওফ সম্পর্কিত রিওয়ায়াতসমূহ সহীহ বলে প্রমাণিত। এই বিষয়ে রাসূল (ﷺ) থেকে যতগুলো পদ্ধতি বর্ণিত আছে, সবগুলোই জায়েয। এই বিভিন্নতা হল খাওফ বা ভীতির পরিমাণের তারতম্য হিসাবে। ইসহাক বলেনঃ আমরা অন্যান্য রিওয়ায়াতসমূহের উপর সাহল আবী হাসমার রিওয়ায়াতটির প্রাধান্য দেই না।
৫৬৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، أَنَّهُ قَالَ فِي صَلاَةِ الْخَوْفِ قَالَ يَقُومُ الإِمَامُ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ وَتَقُومُ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ مَعَهُ وَطَائِفَةٌ مِنْ قِبَلِ الْعَدُوِّ وَوُجُوهُمْ إِلَى الْعَدُوِّ فَيَرْكَعُ بِهِمْ رَكْعَةً وَيَرْكَعُونَ لأَنْفُسِهِمْ رَكْعَةً وَيَسْجُدُونَ لأَنْفُسِهِمْ سَجْدَتَيْنِ فِي مَكَانِهِمْ ثُمَّ يَذْهَبُونَ إِلَى مَقَامِ أُولَئِكَ وَيَجِيءُ أُولَئِكَ فَيَرْكَعُ بِهِمْ رَكْعَةً وَيَسْجُدُ بِهِمْ سَجْدَتَيْنِ فَهِيَ لَهُ ثِنْتَانِ وَلَهُمْ وَاحِدَةٌ ثُمَّ يَرْكَعُونَ رَكْعَةً وَيَسْجُدُونَ سَجْدَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে আবি হাছমা (রাঃ)

৫৬৫. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ....... সাহল ইবনে আবী হাসমা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি সালাতুল খাওফ বিষয়ে বলেনঃ ইমাম কিবলামুখী হয়ে দাঁড়াবেন। তার সাথে একদল মুসল্লী শামিল হবেন। আরেক দল থাকবেন শক্রর সামনে তাদের দিকে মুখ করে। ইমাম তার সঙ্গে শামিল দলকে নিয়ে এক রাকআত আদায় করবেন আর মুসল্লীরা নিজেরা এক রাকআত আদায় করবেন এবং নিজেরা নিজেদের দুই সিজদা দেবেন। এরপর তারা শক্রর সম্মুখে অবস্থানরত দলের স্থানে গিয়ে দাঁড়াবেন এবং ওরা এসে ইমামের সঙ্গে অবস্থান গ্রহণ করবেন। ইমাম তাদের নিয়ে (অবশিষ্ট) এক রাকআত আদায় করবেন ও দুই সিজদা দিবেন। এতে ইমামের হবে পূর্ণ দু’রাকআত আর এই দলের হবে এক রাকআত। সুতরাং এরা রুকূ ও দুই সিজদা দিবেন ও তাদের নামায পূর্ণ করবেন। - ইবনে মাজাহ ১২৫৯, বুখারি ও মুসলিম

৫৬৬

قَالَ أَبُو عِيسَى قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ سَأَلْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ، فَحَدَّثَنِي عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيِّ . وَقَالَ لِي يَحْيَى اكْتُبْهُ إِلَى جَنْبِهِ وَلَسْتُ أَحْفَظُ الْحَدِيثَ وَلَكِنَّهُ مِثْلُ حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . لَمْ يَرْفَعْهُ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ وَهَكَذَا رَوَى أَصْحَابُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيِّ مَوْقُوفًا وَرَفَعَهُ شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে আবি হাছমা (রাঃ)

৫৬৬. (ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেন) মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) বলেনঃ ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) কে আমি এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তখন তিনি আমাকে তা শু’বা আব্দুর রহমান ইবনে আল-কাসিম-পিতা কাসিম-সালিহ ইবনে খাওওয়াত-সাহল ইবনে আবী হাসমা (রাহঃ) সূত্রে মারফূ হিসাবে ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী (রাহঃ)-এর রিওয়ায়াত (৫৬৫ নং)-এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেনঃ এটি (৫৬৬নং)-টির শব্দ পুরোপুরি সংরক্ষণ করতে পারি নাই তবে এটিও ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী (রাহঃ)-এর রিওয়ায়াত (৫৬৫ নং)-টির অনুরূপই।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী (রাহঃ)-এটিকে কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ সূত্রে মারফূ হিসাবে রিওয়ায়াত করেননি। এমনিভাবে ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী (রাহঃ) এর শাগরিদগণও একে মউকুফ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তবে শু’বা (রাহঃ) আব্দুর রহমান ইবনে কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) থেকে এটিকে মারফূ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
৫৬৭

وَرَوَى مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ، عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتٍ، عَمَّنْ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْخَوْفِ فَذَكَرَ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَبِهِ يَقُولُ مَالِكٌ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَرُوِيَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِإِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ رَكْعَةً رَكْعَةً فَكَانَتْ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَانِ وَلَهُمْ رَكْعَةٌ رَكْعَةٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى أَبُو عَيَّاشٍ الزُّرَقِيُّ اسْمُهُ زَيْدُ بْنُ صَامِتٍ .

বর্ণনাকারী: সালিহ ইবনে খাওয়াত (রহঃ)

৫৬৭. মালিক ইবনে আনাস (রাহঃ) ...... সালিহ ইবনে খাওওয়াত (রাহঃ) সূত্রে যিনি রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে সালাতুল খাওফ আদায় করেছেন এমন এক ব্যক্তি থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ) এই হাদীস অনুসারে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। একাধিক রাবী থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী এক-এক দলের সঙ্গে এক-এক রাকআত করে আদায় করেছেন। এতে রাসূল (ﷺ)-এর হয়েছে দু’রাকআত আর মুসল্লীদের হয়েছে এক এক রাক’আত। আবু ঈসা (রাহঃ) বলেনঃ আবু আয়্যাশ আয-যুরাকীর নাম হলো যায়দ ইবনে সামিত।

কুরআনের সিজদা-এ-তিলাওয়াতসমূহ।

باب مَا جَاءَ فِي سُجُودِ الْقُرْآنِ

৫৬৮

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ عُمَرَ الدِّمَشْقِيِّ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ سَجَدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِحْدَى عَشْرَةَ سَجْدَةً مِنْهَا الَّتِي فِي النَّجْمِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

৫৬৮. সুফিয়ান ইবনে ওয়াকী .... আবুদ্ দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে এগারটি তিলাওয়ায়াতের সিজদা আদায় করেছি। এগুলোর একটি হল সূরা আন-নাজম-এর সিজদা। - ইবনে মাজাহ ১০৫৫

৫৬৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ عُمَرَ، وَهُوَ ابْنُ حَيَّانَ الدِّمَشْقِيُّ قَالَ سَمِعْتُ مُخْبِرًا، يُخْبِرُ عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ بِلَفْظِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ سُفْيَانَ بْنِ وَكِيعٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَعَمْرِو بْنِ الْعَاصِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي الدَّرْدَاءِ حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ عَنْ عُمَرَ الدِّمَشْقِيِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

৫৬৯. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ..... আবুদ্ দারদা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ শব্দে বর্ণিত আছে।*

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই রিওয়ায়াতটি সুফিয়ান ইবনে ওয়াকী আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহব (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি (৫৬৮নং) থেকে অধিক সহীহ। এই বিষয়ে আলী, ইবনে আব্বাস, আবু হুরায়রা, ইবনে মাসউদ, যায়দ ইবনে সাবিত ও আমর ইবনে আস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ আবুদ্-দারদা (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি গারীব। সাঈদ ইবনে আবু হিলাল ......... উমর দিমাশকী (রাহঃ)-এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।

* বিভিন্ন সহীহ রিওয়ায়াতের উপর ভিত্তি করে ইমাম আযম আবু হানীফা (রাহঃ) বলেন : কুরআনে সিজদা তিলাওয়াতের সংখ্যা হ'ল চৌদ্দটি।

মহিলাদের মসজিদে গমন।

باب مَا جَاءَ فِي خُرُوجِ النِّسَاءِ إِلَى الْمَسَاجِدِ

৫৭০

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ ابْنِ عُمَرَ فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ايذَنُوا لِلنِّسَاءِ بِاللَّيْلِ إِلَى الْمَسَاجِدِ " . فَقَالَ ابْنُهُ وَاللَّهِ لاَ نَأْذَنُ لَهُنَّ يَتَّخِذْنَهُ دَغَلاً . فَقَالَ فَعَلَ اللَّهُ بِكَ وَفَعَلَ أَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَقُولُ لاَ نَأْذَنُ لَهُنَّ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْنَبَ امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৭০. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) .... মুজাহিদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমরা একদিন ইবনে উমর (রাযিঃ) এর কাছে বসা ছিলাম। তিনি বললেনঃ রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তোমরা মহিলাদেরকে রাতে মসজিদে যেতে অনুমতি দিও। তখন তার ছেলে (বিলাল) বললেনঃ আল্লাহর কসম, আমরা তাদের অনুমতি দিব না। কারণ এটিকে তারা একটা বাহানা বানিয়ে নিবে। এই শুনে ইবনে উমর (রাযিঃ) বললেনঃ আল্লাহ্ তোমার সাথে যা করার করুন। আমি বলছি রাসূল (ﷺ) (অনুমতি দিতে) বলেছেন, আর তুমি বলছ আমরা অনুমতি দিব না। - বুখারি ও মুসলিম

এই বিষয়ে আবু হুরায়রা, আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ এর স্ত্রী যয়নাব এবং যায়দ ইবনে খালিদ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।

মসজিদে থু থু ফেলা মাকরূহ।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الْبُزَاقِ فِي الْمَسْجِدِ

৫৭১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُحَارِبِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كُنْتَ فِي الصَّلاَةِ فَلاَ تَبْزُقْ عَنْ يَمِينِكَ وَلَكِنْ خَلْفَكَ أَوْ تِلْقَاءَ شِمَالِكَ أَوْ تَحْتَ قَدَمِكَ الْيُسْرَى " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عُمَرَ وَأَنَسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ طَارِقٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ . قَالَ وَسَمِعْتُ الْجَارُودَ يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعًا يَقُولُ لَمْ يَكْذِبْ رِبْعِيُّ بْنُ حِرَاشٍ فِي الإِسْلاَمِ كَذْبَةً . قَالَ وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ أَثْبَتُ أَهْلِ الْكُوفَةِ مَنْصُورُ بْنُ الْمُعْتَمِرِ .

বর্ণনাকারী: তারিক মুহারিবী (রাঃ)

৫৭১. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... তারিক ইবনে আব্দিল্লাহ আলি-মুহারিবী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ যখন নামায রত থাকবে তখন তোমরা ডানে থুথু ফেলবে না, (যদি অগত্যা ফেলতেই হয় তবে) তোমার পিছনে বা বামে বা বাম পায়ের নীচে ফেলবে।* - ইবনে মাজাহ ১০২১

এই বিষয়ে আবু সাঈদ, ইবনে উমর, আনাস ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ তারিক (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল গ্রহণের অভিমত দিয়েছেন। আল-জারূদ (রাহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, আমি ওয়াকী (রাহঃ) - কে বলতে শুনেছিঃ রিবঈ ইবনে হিরাশ ইসলামে কোন দিন মিথ্যা বলেন নি। আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী (রাহঃ) বলেন, কূফবাসীদের মধ্যে সবচে বিশ্বস্ত হলেন মনসূর ইবনুল মু’তামির।

* মসজিদের ভিটি বালুর ছিল বলে এককালে অনন্যোপায় অবস্থায় তা জায়েয ছিল। বর্তমানে যদি এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় তবে ফতওয়া হ'ল, রুমালে ফেলবে আর রুমাল যদি না থাকে তবে কাপড়ের এক কোণে ফেলে তা পরে ধুয়ে নিবে।
৫৭২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْبُزَاقُ فِي الْمَسْجِدِ خَطِيئَةٌ وَكَفَّارَتُهَا دَفْنُهَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৭২. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ মসজিদে থুথু ফেলা অপরাধ। আর এর কাফফারা হল তা মুছে ফেলা। - বুখারি ও মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

সূরা ইনশিকাক এবং সূরা আলাক-এর সিজদা।

باب مَا جَاءَ فِي السَّجْدَةِ فِي (اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ) وَ (إِذََا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ ).

৫৭৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى، عَنْ عَطَاءِ بْنِ مِينَاءَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَجَدْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي (اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ) وَ (إِذََا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ )

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৭৩. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমরা রাসূল (ﷺ) এর সঙ্গে اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ (সূরা আলাক) এবং إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ (সূরা ইনশিকাক) সূরায় সিজদা করেছি। - ইবনে মাজাহ ১০৫৮, মুসলিম

৫৭৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، هُوَ ابْنُ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ يَرَوْنَ السُّجُودَ فِي(إِذََا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ ) وَ (اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ ) . وَفِي هَذَا الْحَدِيثِ أَرْبَعَةٌ مِنَ التَّابِعِينَ بَعْضُهُمْ عَنْ بَعْضٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৭৪. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে ভিন্ন সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ আলিম এই হাদীস অনুসারে আমল গ্রহণের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। السَّمَاءُ انْشَقَّتْ এবং اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ সূরাদ্বয়ে সিজদা এ-তিলাওয়াত করতে হবে বলে তারা মনে করেন। এই রিওয়ায়াত (৫৭৪) টিতে চারজন তাবিঈ (ইয়াহহিয়া ইবনে সাঈদ, আবু বকর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে হাযম, উমর ইবনে আব্দিল আযীয, আবু বকর ইবনে আব্দির রহমান ইবনে আল-হারিস ইবনে হিশাম) পরস্পর পরস্পর থেকে বর্ণনা করেছেন।

সূরা আন্-নাজমের সিজ্দা।

باب مَا جَاءَ فِي السَّجْدَةِ فِي النَّجْمِ

৫৭৫

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَزَّازُ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ سَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهَا - يَعْنِي النَّجْمَ - وَالْمُسْلِمُونَ وَالْمُشْرِكُونَ وَالْجِنُّ وَالإِنْسُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ يَرَوْنَ السُّجُودَ فِي سُورَةِ النَّجْمِ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ لَيْسَ فِي الْمُفَصَّلِ سَجْدَةٌ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ . وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ وَبِهِ يَقُولُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৭৫. হারূন ইবনে আব্দিল্লাহ আল-বাযযার আল-রাগদাদী (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) এতে অর্থাৎ সূরা আন্ নাজমে সিজদা করেছেন। তাঁর সঙ্গে মুসলিক, মুশরিক, জ্বীন ও মানুষ (যারা ছিল) সবাই সিজদা করেছে।

এই বিষয়ে ইবনে মাসউদ ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক আলিম এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তারা সূরা আন-নাজমে সিজদা-এ-তিলাওয়াত রয়েছে বলে মনে করেন। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেনঃ আল-মুফসসাল সূরাসমূহে কোন সিজদা নাই। এ হল ইমাম মালিক (রাহঃ) এর বক্তব্য। তবে প্রথমোক্ত অভিমতটি অধিকতর সহীহ। ইমাম সাওরী, ইবনুল মুবারক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ)-ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এই বিষয়ে ইবনে মাসউদ (রাহঃ) ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।

এতে সিজদা নাই বলে যারা মনে করেন।

باب مَا جَاءَ مَنْ لَمْ يَسْجُدْ فِيهِ

৫৭৬

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّجْمَ فَلَمْ يَسْجُدْ فِيهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَتَأَوَّلَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ هَذَا الْحَدِيثَ فَقَالَ إِنَّمَا تَرَكَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم السُّجُودَ لأَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ حِينَ قَرَأَ فَلَمْ يَسْجُدْ لَمْ يَسْجُدِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم . وَقَالُوا السَّجْدَةُ وَاجِبَةٌ عَلَى مَنْ سَمِعَهَا فَلَمْ يُرَخِّصُوا فِي تَرْكِهَا . وَقَالُوا إِنْ سَمِعَ الرَّجُلُ وَهُوَ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ فَإِذَا تَوَضَّأَ سَجَدَ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ وَبِهِ يَقُولُ إِسْحَاقُ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِنَّمَا السَّجْدَةُ عَلَى مَنْ أَرَادَ أَنْ يَسْجُدَ فِيهَا وَالْتَمَسَ فَضْلَهَا وَرَخَّصُوا فِي تَرْكِهَا إِنْ أَرَادَ ذَلِكَ . وَاحْتَجُّوا بِالْحَدِيثِ الْمَرْفُوعِ حَدِيثِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ حَيْثُ قَالَ قَرَأْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم النَّجْمَ فَلَمْ يَسْجُدْ فِيهَا . فَقَالُوا لَوْ كَانَتِ السَّجْدَةُ وَاجِبَةً لَمْ يَتْرُكِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم زَيْدًا حَتَّى كَانَ يَسْجُدُ وَيَسْجُدُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم . وَاحْتَجُّوا بِحَدِيثِ عُمَرَ أَنَّهُ قَرَأَ سَجْدَةً عَلَى الْمِنْبَرِ فَنَزَلَ فَسَجَدَ ثُمَّ قَرَأَهَا فِي الْجُمُعَةِ الثَّانِيَةِ فَتَهَيَّأَ النَّاسُ لِلسُّجُودِ فَقَالَ إِنَّهَا لَمْ تُكْتَبْ عَلَيْنَا إِلاَّ أَنْ نَشَاءَ . فَلَمْ يَسْجُدْ وَلَمْ يَسْجُدُوا . فَذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

৫৭৬. ইয়াহয়া ইবনে মুসা (রাহঃ) ...... যায়দ সাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ)-কে আমি সূরা আন্-নাজম পাঠ করতে শুনেছি। তিনি এতে কোন সিজদা দেননি। - বুখারি ও মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ যায়দ ইবনে সাবিদ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কোন কোন আলিম এই হাদীসটির ব্যাখ্যায় বলেনঃ এখানে রাসূল (ﷺ) সিজদা করেননি, কারণ যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ) তিলাওয়াত করার সময় সিজদা করেন নি। তাই রাসূল (ﷺ)-ও সিজদা করেন নি। আলিমগণ বলেনঃ সিজদার আয়াত তিলাওয়ায়াত করতে যে ব্যক্তি শুনবে, তার উপরও সিজদা করা ওয়াজিব। তারা এই ব্যক্তির জন্যও সিজদা না করার অনুমতি দেন নি। তারা আরো বলেনঃ কারো যদি সিজদার আয়াত শোনার সময় উযু না থাকে তবে সে যখন উযু করে তখন সে সিজদা করবে। এ হল সুফিয়ান সাওরী, কূফাবাসী আলিমগণ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত।

কতক আলিম বলেনঃ কেউ যদি সিজদা করতে চায় এবং ফযীলতের প্রত্যাশী হয়, তবে সে সিজদা করবে। আর যদি সে সিজদা করতে না চায়, তবে তার জন্য তা না করারও অনুমতি রয়েছে (অর্থাৎ তাদের মতে সিজদা তিলাওয়াত ওয়াজিব নয়) তারা যায়দ ইবনে সাবিত বর্ণিত হাদীসটি প্রমাণ হিসাবে পেশ করেন। তিনি বর্ণনা করেনঃ আমি রাসূল (ﷺ)-কে সূরা আন-নাজম তিলাওয়াত করে শুনিয়েছি কিন্তু তিনি এতে সিজদা করেন নি। তাঁরা বলেনঃ সিজদা তিলাওয়াত যদি ওয়াজিব হতো তবে রাসূল (ﷺ) যায়দকে সিজদা না করা পর্যন্ত ছেড়ে দিতেন না এবং তাকে সিজদা করতে নির্দেশ দিতেন এবং তিনি নিজেও সিজদা করতেন।

এই আলিমগণ উমর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটিকে প্রমাণ হিসাবে পেশ করে থাকেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি একবার মিম্বরে (খুতবারত অবস্থায়) সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করেন তখন তিনি নীচে নেমে এসে সিজদা করলেন। পরে দ্বিতীয় জুমআতেও তিনি এটি তিলাওয়াত করেন। তখন লোকজনও সিজদা করার জন্য প্রস্তুত হয়। এতে তিনি বললেনঃ এ আমাদের ফরয করা হয়নি। হ্যাঁ, আমরা যদি চাই তা করতে পারি। যা হোক, এই দিন উমর (রাযিঃ) -ও সিজদা করেন নি এবং লোকজনও সিজদা করলেন না। কতক আলিম এই মতটিই গ্রহণ করেছেন। এ হল ইমাম শাফিঈ ও আহমদ (রাহঃ) এর বক্তব্য।

সূরা সোয়াদ-এর সিজদা।

باب مَا جَاءَ فِي السَّجْدَةِ فِي ص

৫৭৭

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْجُدُ فِي ص . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَلَيْسَتْ مِنْ عَزَائِمِ السُّجُودِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي ذَلِكَ فَرَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنْ يَسْجُدَ فِيهَا . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّهَا تَوْبَةُ نَبِيٍّ وَلَمْ يَرَوُا السُّجُودَ فِيهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৭৭. ইবনে আবী উমর ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমি রাসূল (ﷺ)-কে সূরা সোয়াদ-এ সিজদা করতে দেখেছি। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ এটি জরুরী সিজদার অন্তর্ভূক্ত নয়।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের মধ্যে এই বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কতক আলিম বলেনঃ এতে সিজদা করা হবে। এ হল সূফইয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। আর কতক আলিম বলেনঃ এখানে জনৈক নবী (আলাইহিস সাল্লাম) এর তওবা কবুলের বিবরণ বিধৃত। সুতরাং তারা এতে সিজদা করতে হবে বলে মনে করেন না।

সূরা হজ্জ-এ সিজদা।

باب مَا جَاءَ فِي السَّجْدَةِ فِي الْحَجِّ

৫৭৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ مِشْرَحِ بْنِ هَاعَانَ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فُضِّلَتْ سُورَةُ الْحَجِّ بِأَنَّ فِيهَا سَجْدَتَيْنِ قَالَ " نَعَمْ وَمَنْ لَمْ يَسْجُدْهُمَا فَلاَ يَقْرَأْهُمَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لَيْسَ إِسْنَادُهُ بِذَاكَ الْقَوِيِّ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي هَذَا فَرُوِيَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَابْنِ عُمَرَ أَنَّهُمَا قَالاَ فُضِّلَتْ سُورَةُ الْحَجِّ بِأَنَّ فِيهَا سَجْدَتَيْنِ . وَبِهِ يَقُولُ ابْنُ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَرَأَى بَعْضُهُمْ فِيهَا سَجْدَةً وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكٍ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৫৭৮. কুতায়বা (রাহঃ) ..... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমি রাসূল (ﷺ)-কে বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! সূরা হজ্জকে তো বেশ ফযীলত প্রদান করা হয়েছে। এতে রয়েছে দুটো সিজদা। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কেউ যদি এই দুটো সিজদা না করে সে যেন এই দুই আয়াত তিলাওয়াত না করে।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটির সনদ তত শক্তিশালী নয়। এই বিষয়ে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। উমর ইবনুল খাত্তাব ও ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা বলেছেনঃ সূরা হজ্জকে ফযীলত প্রদান করা হয়েছে; এতে রয়েছে দুটো সিজদা। ইবনে মুবারক, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ)-ও এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কতক আলিম বলেনঃ এতে রয়েছে একটি সিজদা। এ হল সুফিয়ান সাওরী, মালিক ও কূফাবাসী আলিমগণ এর অভিমত।

সিজদা-এ কুরআনের দুআ।

باب مَا يَقُولُ فِي سُجُودِ الْقُرْآنِ

৫৭৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ خُنَيْسٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، قَالَ قَالَ لِي ابْنُ جُرَيْجٍ يَا حَسَنُ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي رَأَيْتُنِي اللَّيْلَةَ وَأَنَا نَائِمٌ كَأَنِّي أُصَلِّي خَلْفَ شَجَرَةٍ فَسَجَدْتُ فَسَجَدَتِ الشَّجَرَةُ لِسُجُودِي فَسَمِعْتُهَا وَهِيَ تَقُولُ اللَّهُمَّ اكْتُبْ لِي بِهَا عِنْدَكَ أَجْرًا وَضَعْ عَنِّي بِهَا وِزْرًا وَاجْعَلْهَا لِي عِنْدَكَ ذُخْرًا وَتَقَبَّلْهَا مِنِّي كَمَا تَقَبَّلْتَهَا مِنْ عَبْدِكَ دَاوُدَ . قَالَ الْحَسَنُ قَالَ لِي ابْنُ جُرَيْجٍ قَالَ لِي جَدُّكَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَقَرَأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَجْدَةً ثُمَّ سَجَدَ . قَالَ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَسَمِعْتُهُ وَهُوَ يَقُولُ مِثْلَ مَا أَخْبَرَهُ الرَّجُلُ عَنْ قَوْلِ الشَّجَرَةِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৭৯. কুতায়বা (রাহঃ) ..... হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদিল্লাহ ইবনে আবী ইয়াযীদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমাকে ইবনে জুরায়জ বললেন, হে হাসান, আমাকে উবাইদুল্লাহ ইবনে আবী ইয়াযীদ (রাহঃ) ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। একবার জনৈক ব্যক্তি রাসূল (ﷺ) এর কাছে এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল। আমি রাতে স্বপ্নে দেখলাম, আমি যেন একটা গাছের পিছনে নামায আদায় করছি। অনন্তর যখন সিজদা (তিলাওয়াত) করলাম, তখন গাছটিও আমার সিজদার সাথে সিজদা করল। আমি এটিকে সিজদায় বলতে শুনলামঃ

اللَّهُمَّ اكْتُبْ لِي بِهَا عِنْدَكَ أَجْرًا وَضَعْ عَنِّي بِهَا وِزْرًا وَاجْعَلْهَا لِي عِنْدَكَ ذُخْرًا وَتَقَبَّلْهَا مِنِّي كَمَا تَقَبَّلْتَهَا مِنْ عَبْدِكَ دَاوُدَ

‘‘হে আল্লাহ! এর মাধ্যমে আপনার নিকট আমার জন্য সাওয়াব লিখে নিন। এর মাধ্যমে আমার পাপ দূরীভূত করুন, এটিকে আমার সঞ্চয় বলে গ্রহণ করুন এবং আমার থেকে এটিকে এভাবে কবুল করুন যেভাবে আপনি আপনার বান্দা দাউদ (আলাইহিস সালাম) থেকে কবুল করেছিলেন।’’

হাসান বলেন যে, আমাকে ইবনে জুরায়জ বললেনঃ আমাকে তোমার পিতামহ বলেছেন যে, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেনঃ রাসূল (ﷺ) সিজদার আয়াতে তিলাওয়াত করলেন, পরে সিজদা দিলেন। তিনি আরো বলেনঃ স্বপ্নে বৃক্ষটির দুআ সম্পর্কে ঐ ব্যক্তি যা বলেছিলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-কে ও সিজদায় উক্তরূপ পাঠ করতে শুনেছি। - ইবনে মাজাহ ১০৫৩

এই বিষয়ে আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর বর্ণিত হাদীসটি গারীব। এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নাই।
৫৮০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي سُجُودِ الْقُرْآنِ بِاللَّيْلِ " سَجَدَ وَجْهِيَ لِلَّذِي خَلَقَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৮০. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (ﷺ) রাতে কুরআন তিলাওয়াতে সিজদায় এ দুই দুআ পড়তেনঃ سَجَدَ وَجْهِيَ لِلَّذِي خَلَقَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ

‘আমার মুখমণ্ডল প্রণত সেই সত্তার উদ্দেশ্যে যিনি তাঁর শক্তিতে তাকে বানিয়েছেন। তার কানও তার চোখ খুলে দিয়েছেন।’’ - সহীহ আবু দাউদ ১২৭৩

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেন : হাদীসটি হাসান-সহীহ।

যদি কারো রাত্রের জন্য নির্ধারিত ইবাদতের কিছু অংশ ফওত হয়ে যায় তবে সে দিনের বেলায় তা পূরণ করবে।

باب مَا ذُكِرَ فِيمَنْ فَاتَهُ حِزْبُهُ مِنَ اللَّيْلِ فَقَضَاهُ بِالنَّهَارِ

৫৮১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو صَفْوَانَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ، أَنَّ السَّائِبَ بْنَ يَزِيدَ، وَعُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَخْبَرَاهُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ نَامَ عَنْ حِزْبِهِ أَوْ عَنْ شَيْءٍ مِنْهُ فَقَرَأَهُ مَا بَيْنَ صَلاَةِ الْفَجْرِ وَصَلاَةِ الظُّهْرِ كُتِبَ لَهُ كَأَنَّمَا قَرَأَهُ مِنَ اللَّيْلِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ وَأَبُو صَفْوَانَ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْمَكِّيُّ وَرَوَى عَنْهُ الْحُمَيْدِيُّ وَكِبَارُ النَّاسِ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৫৮১. কুতায়বা (রাহঃ) ..... উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ কারো যদি রাতের জন্য নির্ধারিত ইবাদত বা এর কিছু অংশ ফওত হয়ে যায়, আর পরে সে যদি সালাতুল ফজর ও সালাতুল যোহরের মাঝে তা আদায় করে নেয়, সে যেন রাত্রেই তা আদায় করল, তদ্রূপ সাওয়াব তার জন্য লিখা হবে। - ইবনে মাজাহ ১৩৪৩, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবু সাফওয়ানের নাম হল আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-মক্কী। হুমায়দী (রাহঃ) এবং আরো বহু প্রবীণ তাবিঈ তাঁর বরাতে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

ইমামের পূর্বে যে মাথা উঠায় তার সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী।

باب مَا جَاءَ مِنَ التَّشْدِيدِ فِي الَّذِي يَرْفَعُ رَأْسَهُ قَبْلَ الإِمَامِ

৫৮২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، وَهُوَ أَبُو الْحَارِثِ الْبَصْرِيُّ ثِقَةٌ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم " أَمَا يَخْشَى الَّذِي يَرْفَعُ رَأْسَهُ قَبْلَ الإِمَامِ أَنْ يُحَوِّلَ اللَّهُ رَأْسَهُ رَأْسَ حِمَارٍ " . قَالَ قُتَيْبَةُ قَالَ حَمَّادٌ قَالَ لِي مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ وَإِنَّمَا قَالَ " أَمَا يَخْشَى " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَمُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ هُوَ بَصْرِيٌّ ثِقَةٌ وَيُكْنَى أَبَا الْحَارِثِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৮২. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইমামের পূর্বে তার মাথা উঠায় সে কি এ কথার ভয় করে না যে, আল্লাহ তার মাথাকে গাধার মাথারূপে পরিবর্তিত করে দিবেন? - ইবনে মাজাহ ৯৬১, বুখারি ও মুসলিম

কুতায়বা (রাহঃ) বলেনঃ হাম্মাদ বলেছেন যে, আমাকে মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ রিওয়ায়াত করেছেন: أَمَا يَخْشَى ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ হলেন বসরী। তিনি নির্ভরযোগ্য রাবী। তাঁর উপনাম হল আবুল হারিস।

নিজে ফরয আদায় করার পর কেউ যদি লোকদের ইমামতি করে

باب مِنْهُ

৫৮৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، كَانَ يُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَغْرِبَ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى قَوْمِهِ فَيَؤُمُّهُمْ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَصْحَابِنَا الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالُوا إِذَا أَمَّ الرَّجُلُ الْقَوْمَ فِي الْمَكْتُوبَةِ وَقَدْ كَانَ صَلاَّهَا قَبْلَ ذَلِكَ أَنَّ صَلاَةَ مَنِ ائْتَمَّ بِهِ جَائِزَةٌ . وَاحْتَجُّوا بِحَدِيثِ جَابِرٍ فِي قِصَّةِ مُعَاذٍ وَهُوَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ جَابِرٍ . وَرُوِيَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ رَجُلٍ دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَالْقَوْمُ فِي صَلاَةِ الْعَصْرِ وَهُوَ يَحْسَبُ أَنَّهَا صَلاَةُ الظُّهْرِ فَائْتَمَّ بِهِمْ قَالَ صَلاَتُهُ جَائِزَةٌ . وَقَدْ قَالَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ إِذَا ائْتَمَّ قَوْمٌ بِإِمَامٍ وَهُوَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهَا الظُّهْرُ فَصَلَّى بِهِمْ وَاقْتَدَوْا بِهِ فَإِنَّ صَلاَةَ الْمُقْتَدِي فَاسِدَةٌ إِذِ اخْتَلَفَ نِيَّةُ الإِمَامِ وَنِيَّةُ الْمَأْمُومِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৫৮৩. কুতায়বা (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, মু’আয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) রাসূল (ﷺ) এর সঙ্গে মাগরিবের নামায আদায় করতেন, পরে স্বীয় কওমের কাছে ফিরে যেতেন এবং তাদের ইমামতি করতেন।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইমাম শাফিঈ, আহমদ, ইসহাক (রাহঃ) প্রমুখ আমাদের ফকীহ আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমলের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেনঃ কোন ব্যক্তি যদি পূর্বে নামায আদায় করে পরে সেই ফরয নামাযের ক্ষেত্রে কোন জামাআতের ইমামতি করে, তবে যারা তার ইক্তিদায় নামায আদায় করবে, তাদের নামায আদায হয়ে যাবে। এই ফকীহগণ মু’আয (রাযিঃ) সম্পর্কে জাবির (রাযিঃ)-এর হাদীসটি প্রমাণ হিসাবে পেশ করেন। এই হাদীসটি সহীহ। একাধিক সূত্রে জাবির (রাযিঃ) থেকে এটির রিওয়ায়াত আছে।

আবু দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, এক ব্যক্তি সমজিদে আসল। এ সময় লোকেরা সালাতুল আসর আদায় করছিল কিন্তু সে এটিকে যোহরের নামায মনে করে ইক্তিদা শুরু করে দিল। এটা কি জায়েয হবে? তিনি উত্তরে বললেনঃ এ ব্যক্তির নামায জায়েয হয়ে যাবে। কুফাবাসী একদল আলিম বলেনঃ কেউ যদি যোহরের নামায আদায় করছে বলে মনে করে এমন এক ইমামের ইক্তিদা করে যিনি আসলে আসরের নামায আদায় করছেন, তবে মুক্তাদির নামায ফাসিদ হয়ে যাবে। কারণ এখানে ইমাম ও মুক্তাদীর নিয়তের মধ্যে বৈপরীত্য বিদ্যমান।

শীত ও গ্রীষ্মে কাপড়ের উপর সিজদা প্রদানের অবকাশ প্রসঙ্গে।

باب مَا ذُكِرَ مِنَ الرُّخْصَةِ فِي السُّجُودِ عَلَى الثَّوْبِ فِي الْحَرِّ وَالْبَرْدِ

৫৮৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنِي غَالِبٌ الْقَطَّانُ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِالظَّهَائِرِ سَجَدْنَا عَلَى ثِيَابِنَا اتِّقَاءَ الْحَرِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَابْنِ عَبَّاسٍ . وَقَدْ رَوَى وَكِيعٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৮৪. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমরা যখন দুপুরের প্রচন্ড গরমে রাসূল (ﷺ)-এর পিছনে যোহরের নামায আদায় করতাম, তখন গরমের তাপ থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে আমাদের কাপড়ের উপর সিজদা করতাম। - ইবনে মাজাহ ১০৩৩, বুখারি ও মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে জাবির ইবনে আব্দিল্লাহ ও ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ওয়াকী (রাহঃ) হাদীসটি খালিদ ইবনে আব্দির রহমান সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

ফজরের নামাযের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে বসে থাকা মুস্তাহাব।

باب ذِكْرِ مَا يُسْتَحَبُّ مِنَ الْجُلُوسِ فِي الْمَسْجِدِ بَعْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ

৫৮৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا صَلَّى الْفَجْرَ قَعَدَ فِي مُصَلاَّهُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

৫৮৫. কুতায়বা (রাহঃ) ...... জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) ফজরের নামায আদায় করে সূর্যোদয় পর্যন্ত তাঁর মুসল্লায় বসে থাকতেন।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
৫৮৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْجُمَحِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو ظِلاَلٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللَّهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ " . قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَامَّةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ عَنْ أَبِي ظِلاَلٍ فَقَالَ هُوَ مُقَارِبُ الْحَدِيثِ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَاسْمُهُ هِلاَلٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৮৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মুআবিয়া আল-জুমহী আল-বসরী (রাহঃ) ...... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জামাআতের সাথে ফজরের নামায আদায় করে সূর্যোদয় পর্যন্ত সেখানে বসে আল্লাহর যিক্‌র করবে এবং এরপর দু’রাকআত নামায আদায় করবে, তার জন্য একটি হজ্জ ও উমরা পালনের সাওয়াব হবে। আনাস (রাযিঃ) বলেনঃ রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ ঐ ব্যক্তির জন্য হজ্জ ও উমরার পরিপূর্ণ সাওয়াব হবে, পরিপূর্ণ সাওয়াব হবে, পরিপূর্ণ সাওয়াব হবে।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-গারীব। আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী (রাহঃ) কে রাবী আবু যিলাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেনঃ ইনি হাদীসের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যের নিকটবর্তী। তিনি আরো বলেনঃ এর নাম হল হিলাল।

নামাযে চোখ ঘুরিয়ে এদিক সেদিক দেখা।

باب مَا ذُكِرَ فِي الاِلْتِفَاتِ فِي الصَّلاَةِ

৫৮৭

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَلْحَظُ فِي الصَّلاَةِ يَمِينًا وَشِمَالاً وَلاَ يَلْوِي عُنُقَهُ خَلْفَ ظَهْرِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَقَدْ خَالَفَ وَكِيعٌ الْفَضْلَ بْنَ مُوسَى فِي رِوَايَتِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৮৭. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) এবং আরো অনেকে ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) নামাযে ডানে-বামে চোখ ঘুরিয়ে দেখতেন।* তবে তিনি পিছনের দিকে ঘাড় ঘুরাতেন না।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি গারীব। ওয়াকী (রাহঃ) এটির রিওয়ায়াতের ক্ষেত্রে রাবী ফয্ল ইবনে মুসার খেলাফ করেছেন।

* সাহাবীগণের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য নফল নামাযে মাঝে মাঝে এরূপ করতেন।
৫৮৮

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ بَعْضِ، أَصْحَابِ عِكْرِمَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَلْحَظُ فِي الصَّلاَةِ . فَذَكَرَ نَحْوَهُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَعَائِشَةَ .

বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)

৫৮৮. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ..... ইকরিমা (রাহঃ) এর জনৈক শাগরিদ থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) নামাযে চোখ ঘুরিয়ে দেখতেন।

এই বিষয়ে আনাস ও আয়িশা (রাযিঃ)আ থেকে হাদীস বর্ণিত আছে।
৫৮৯

حَدَّثَنَا أَبُو حَاتِمٍ، مُسْلِمُ بْنُ حَاتِمٍ الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، قَالَ قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا بُنَىَّ إِيَّاكَ وَالاِلْتِفَاتَ فِي الصَّلاَةِ فَإِنَّ الاِلْتِفَاتَ فِي الصَّلاَةِ هَلَكَةٌ فَإِنْ كَانَ لاَ بُدَّ فَفِي التَّطَوُّعِ لاَ فِي الْفَرِيضَةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৮৯. আবু হাতিম মুসলিম ইবনে হাতিম আল-বসরী (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) আমাকে বললেনঃ প্রিয় বৎস, নামাযে এদিক দেখা থেকে বেঁচে থাক। কারণ নামাযে এদিক সেদিক দেখা ধ্বংসের কারণ। যদি (বিশেষ কোন প্রয়োজনে) এরূপ করতেই হয় তবে তা নফলের ক্ষেত্রে করবে, ফরযের ক্ষেত্রে নয়।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-গারীব।
৫৯০

حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ الاِلْتِفَاتِ فِي الصَّلاَةِ قَالَ " هُوَ اخْتِلاَسٌ يَخْتَلِسُهُ الشَّيْطَانُ مِنْ صَلاَةِ الرَّجُلِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৯০. সালিহ ইবনে আব্দিল্লাহ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমি রাসূল (ﷺ)-কে নামাযে এদিক সেদিক তাকান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেনঃ এ হল এক ধরনের ছোঁ মারা। এতে শয়তান একজনের নামায থেকে কিছু ছোঁ মেরে নিয়ে যায়।*

*অর্থাৎ নামাযের মনোযোগ বিনষ্ট করে দেয়।

কেউ যদি ইমামকে সিজদারত পায় তবে কি করবে।

باب مَا ذُكِرَ فِي الرَّجُلِ يُدْرِكُ الإِمَامَ وَهُوَ سَاجِدٌ كَيْفَ يَصْنَعُ

৫৯১

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُونُسَ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُحَارِبِيُّ، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ أَرْطَاةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هُبَيْرَةَ بْنِ يَرِيمَ، عَنْ عَلِيٍّ، وَعَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالاَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَتَى أَحَدُكُمُ الصَّلاَةَ وَالإِمَامُ عَلَى حَالٍ فَلْيَصْنَعْ كَمَا يَصْنَعُ الإِمَامُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْلَمُ أَحَدًا أَسْنَدَهُ إِلاَّ مَا رُوِيَ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ . قَالُوا إِذَا جَاءَ الرَّجُلُ وَالإِمَامُ سَاجِدٌ فَلْيَسْجُدْ وَلاَ تُجْزِئُهُ تِلْكَ الرَّكْعَةُ إِذَا فَاتَهُ الرُّكُوعُ مَعَ الإِمَامِ وَاخْتَارَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ أَنْ يَسْجُدَ مَعَ الإِمَامِ وَذَكَرَ عَنْ بَعْضِهِمْ فَقَالَ لَعَلَّهُ لاَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ فِي تِلْكَ السَّجْدَةِ حَتَّى يُغْفَرَ لَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৫৯১. হিশাম ইবনে ইউনস আল-কূফী (রাহঃ) ..... মু’আয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি নামাযে শরীক হতে আসে এবং ইমাম যদি (নামাযের) কোন এক অবস্থায় থাকেন তবে সে ইমাম যা করছেন তাই করবে।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি গারীব। এই সনদ ছাড়া অন্য কোন সূত্রে এটি মুসনাদরূপে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নাই। আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল গ্রহণের অভিমত দিয়েছেন। তাঁরা বলেন, ইমামের সিজদার অবস্থায় যদি কেউ জামাআতে শরীক হতে আসে, তবে সেও সিজদায় শরীক হয়ে যাবে। তবে ইমামের সাথে রুকূ না পাওয়ায় বর্তমান রাকআত পাওয়ার ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে না। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রাহঃ) এই রকম ক্ষেত্রে সে ইমামের সঙ্গে সিজদায় শরীক হওয়ার কথা গ্রহণ করেছেন। জনৈক রাবী থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ হয়ত এই সিজদা থেকে মাথা উঠানোর সাথে সাথে তাকে মাফ করে দেওয়া হবে।

নামাযের শুরুতে দাঁড়িয়ে ইমামের অপেক্ষা করা মাকরূহ।

باب كَرَاهِيَةِ أَنْ يَنْتَظِرَ النَّاسُ الإِمَامَ وَهُمْ قِيَامٌ عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلاَةِ

৫৯২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي خَرَجْتُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَحَدِيثُ أَنَسٍ غَيْرُ مَحْفُوظٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي قَتَادَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ كَرِهَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنْ يَنْتَظِرَ النَّاسُ الإِمَامَ وَهُمْ قِيَامٌ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِذَا كَانَ الإِمَامُ فِي الْمَسْجِدِ فَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَإِنَّمَا يَقُومُونَ إِذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ . وَهُوَ قَوْلُ ابْنِ الْمُبَارَكِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৫৯২. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ....... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ নামাযের ইকামত যখন হয় তখন আমাকে বের হতে না দেখা পর্যন্ত তোমরা দাঁড়াবে না।

এই বিষয়ে আনাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। তবে আনাস (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি মাহফূয (সংরক্ষেত) নয়। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ আবু কাতাদা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। একদল সাহাবী ও আলিম দাঁড়িয়ে ইমামের ইন্তিজার (অপেক্ষা) করা মাকরূহ বলে মত প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বলেনঃ ইমাম মসজিদে অবস্থানরত থাকা অবস্থায় যদি নামাযের ইকামত হয় তবে মুআয্‌যিন যখন قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ বলবে, তখন মুসল্লীরা দাঁড়াবে। এ হল ইবনে মুবারক (রাহঃ)-এর অভিমত।

দুআর পূর্বে আল্লাহর সানা ও গুণকীর্তন করা এবং নবীজী (ﷺ)-এর জন্য নামায পাঠ করা।

باب مَا ذُكِرَ فِي الثَّنَاءِ عَلَى اللَّهِ وَالصَّلاَةِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ الدُّعَاءِ

৫৯৩

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنْتُ أُصَلِّي وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ مَعَهُ فَلَمَّا جَلَسْتُ بَدَأْتُ بِالثَّنَاءِ عَلَى اللَّهِ ثُمَّ الصَّلاَةِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ دَعَوْتُ لِنَفْسِي فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " سَلْ تُعْطَهْ سَلْ تُعْطَهْ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا الْحَدِيثُ رَوَاهُ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ آدَمَ مُخْتَصَرًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৫৯৩. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমি নামায আদায় করছিলাম, আবু বকর ও উমর (রাযিঃ) সহ রাসূল (ﷺ)-ও তখন সেখানে ছিলেন। যা হোক, নামায শেষে যখন বসলাম তখন প্রথমে আল্লাহর সানা-সিফাত (গুণকীর্তন) করলাম এবং রাসূল (ﷺ)-এর জন্য সালাম পাঠ করলাম, এরপর আমার নিজের জন্য দুআ করলাম। এই সময় রাসূল (ﷺ) বললেনঃ প্রার্থনা কর, তোমাকে তা দেওয়া হবে, প্রার্থনা কর, তোমাকে তা দেওয়া হবে।

এই বিষয়ে ফাযালা ইবনে উবাইদ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ আব্দু্ল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) এই হাদীসটি ইয়াহয়া ইবনে আদম (রাহঃ) সূত্রে সংক্ষিপ্ত করে বর্ণনা করেছেন।

মসজিদে সুগন্ধি লাগান।

باب مَا ذُكِرَ فِي تَطْيِيبِ الْمَسَاجِدِ

৫৯৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ الْمُؤَدِّبُ الْبَغْدَادِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَامِرُ بْنُ صَالِحٍ الزُّبَيْرِيُّ، هُوَ مِنْ وَلَدِ الزُّبَيْرِ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِبِنَاءِ الْمَسَاجِدِ فِي الدُّورِ وَأَنْ تُنَظَّفَ وَتُطَيَّبَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৯৪. মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম আল-মুতাদ্দাব আল-বাগদাদী আল-বসরী (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) গৃহে মসজিদ বানাতে এবং তা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে ও তাতে সুগন্ধি লাগাতে নির্দেশ দিয়েছেন। - ইবনে মাজাহ ৭৫৯

৫৯৫

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، وَوَكِيعٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا أَصَحُّ مِنَ الْحَدِيثِ الأَوَّلِ .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

৫৯৫. হান্নাদ (রাহঃ) .... উরওয়া (রাহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই রিওয়ায়াতটি প্রথমটির তুলনায় অধিকতর সহীহ।
৫৯৬

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ . قَالَ سُفْيَانُ قَوْلُهُ " بِبِنَاءِ الْمَسَاجِدِ فِي الدُّورِ " . يَعْنِي الْقَبَائِلَ .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

৫৯৬. ইবনে আবী উমর (রাহঃ) ..... উরওয়া (রাহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

সুফিয়ান (রাহঃ) বলেনঃ স্ব স্ব গৃহে মসজিদ নির্মাণ করার অর্থ হল স্ব স্ব কবীলায় মসজিদ নির্মাণ করা।

রাত ও দিনের নামায হল দুই দুই রাকআত করে।

باب مَا جَاءَ أَنَّ صَلاَةَ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مَثْنَى مَثْنَى

৫৯৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ عَلِيٍّ الأَزْدِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مَثْنَى مَثْنَى " . قَالَ أَبُو عِيسَى اخْتَلَفَ أَصْحَابُ شُعْبَةَ فِي حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ فَرَفَعَهُ بَعْضُهُمْ وَأَوْقَفَهُ بَعْضُهُمْ . وَرُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الْعُمَرِيِّ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوُ هَذَا . وَالصَّحِيحُ مَا رُوِيَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى " . وَرَوَى الثِّقَاتُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ صَلاَةَ النَّهَارِ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي بِاللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى وَبِالنَّهَارِ أَرْبَعًا . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي ذَلِكَ فَرَأَى بَعْضُهُمْ أَنَّ صَلاَةَ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مَثْنَى مَثْنَى . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ صَلاَةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى وَرَأَوْا صَلاَةَ التَّطَوُّعِ بِالنَّهَارِ أَرْبَعًا مِثْلَ الأَرْبَعِ قَبْلَ الظُّهْرِ وَغَيْرِهَا مِنْ صَلاَةِ التَّطَوُّعِ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَإِسْحَاقَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৯৭. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) বলেনঃ রাত ও দিনের (নফল) নামায হল দুই দুই রাকআত করে। - ইবনে মাজাহ ১৩২২

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটির সনদে শু’বা-এর শাগরিদদের মতবিরোধ রয়েছে। এটিকে কেউ কেউ মারফূ হিসাবে আর কেউ কেউ মউকুফ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। আব্দুল্লাহ আল-উমরী নাফি ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে রাসূল (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। ‘‘রাতের নামায হল দুই দুই রাকআত করে’’ ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর এই মর্মে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি হল সহীহ রিওয়ায়াত। একাধিক সিকাহ বা নির্ভরযোগ্য রাবী ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে এই হাদীসটির রিওয়ায়াত করেছেন কিন্তু তাঁরা ‘‘দিনের নামায’’ কথাটি উল্লেখ করেন নি।

উবাইদুল্লাহ নাফি (রাহঃ) সূত্রে বর্ণিত আছে যে, ইবনে উমর (রাযিঃ) রাতে দুই রাকআত করে আর দিনে চার রাকআত করে (নফল) নামায আদায় করতেন। এই বিষয়ে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ বলেনঃ রাত ও দিনের (নফল) নামায হল দুই দুই রাকআত করে। এ হল ইমাম শাফিঈ ও আহমদ (রাহঃ)-এর অভিমত। আর কতক আলিম বলেনঃ রাতে নামায দুই দুই রাকআত করে আর দিনের নফল নামায হল চার রাকআত করে। যেমন যোহরের পূর্বে চার রাকআত এবং অন্যান্য নফল নামায। এ হল সুফিয়ান সাওরী, ইবনে মুবারক ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত।

রাসূল (ﷺ) কেমন করে দিনের নফল নামায আদায় করতেন।

باب كَيْفَ كَانَ تَطَوُّعُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِالنَّهَارِ

৫৯৮

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، قَالَ سَأَلْنَا عَلِيًّا عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ النَّهَارِ فَقَالَ إِنَّكُمْ لاَ تُطِيقُونَ ذَاكَ . فَقُلْنَا مَنْ أَطَاقَ ذَاكَ مِنَّا . فَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ مِنْ هَا هُنَا كَهَيْئَتِهَا مِنْ هَا هُنَا عِنْدَ الْعَصْرِ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَإِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ مِنْ هَا هُنَا كَهَيْئَتِهَا مِنْ هَا هُنَا عِنْدَ الظُّهْرِ صَلَّى أَرْبَعًا وَصَلَّى أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ وَقَبْلَ الْعَصْرِ أَرْبَعًا يَفْصِلُ بَيْنَ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ بِالتَّسْلِيمِ عَلَى الْمَلاَئِكَةِ الْمُقَرَّبِينَ وَالنَّبِيِّينَ وَالْمُرْسَلِينَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৫৯৮. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) .... আসিম ইবনে দামরা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেনঃ আমরা আলী (রাযিঃ) কে রাসূল (ﷺ) এর দিনের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেনঃ তোমরা তা পারবে না। আমরা বললামঃ আমাদের মধ্যে যে তা পারবে (সে তা অবলম্বন করবে)। তিনি বললেনঃ সূর্য যখন (পূর্বদিকে) সেইখানে উঠে আসে, যেইখানে আসরের ওয়াক্তে (পশ্চিমদিকে) থাকে, তখন রাসূল (ﷺ) দুই রাকআত (সালাতুল ইশরাক) আদায় করতেন। আর সূর্য যখন (পূর্বদিকে) সেইখানে উঠে আসে। যেইখানে যোহরের ওয়াক্তে (পশ্চিমদিকে) থাকে, তখন তিনি চার রাকআত (সালাতুয্-যুহা) আদায় করতেন। তিনি যোহরের পূর্বে চার রাকআত, পরে দু’রাকআত এবং আসরের পূর্বে চার রাকআত (সুন্নত) নামায আদায় করতেন। আর প্রতি দু’রাকআতের মাঝে আল্লাহর নিকটবর্তী ফিরিশতা, নবী, রাসূল ও তাঁদের অনুসরণকারী মুমিন মুসলিমদের প্রতি সালাম প্রেরণের মাধ্যমে (অর্থাৎ তাশাহ্হুদের মাধ্যমে) ব্যবধান করতেন।

৫৯৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَالَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَحْسَنُ شَيْءٍ رُوِيَ فِي تَطَوُّعِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي النَّهَارِ هَذَا . وَرُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ أَنَّهُ كَانَ يُضَعِّفُ هَذَا الْحَدِيثَ . وَإِنَّمَا ضَعَّفَهُ عِنْدَنَا وَاللَّهُ أَعْلَمُ لأَنَّهُ لاَ يُرْوَى مِثْلُ هَذَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ عَنْ عَلِيٍّ . وَعَاصِمُ بْنُ ضَمْرَةَ هُوَ ثِقَةٌ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ . قَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ قَالَ سُفْيَانُ كُنَّا نَعْرِفُ فَضْلَ حَدِيثِ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ عَلَى حَدِيثِ الْحَارِثِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৫৯৯. মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) বলেনঃ রাসূল (ﷺ)-এর দিনের নফল নামায সম্পর্কে বর্ণিত রিওয়ায়াতসমূহের মধ্যে এই রিওয়ায়াতটিই সবচেয়ে উত্তম। ইবনে মুবারক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি এই রিওয়ায়াতটিকে যঈফ বলে আখ্যায়িত করতেন। আমাদের মতে তাঁর যঈফ বলার কারণ হল এই যে, আসিম ইবনে যামরা আলী (রাযিঃ) সূত্র ব্যতীত আর কোন সূত্রে রাসূল (ﷺ) থেকে এই সদৃশ রিওয়ায়াত বর্ণিত নাই, আল্লাহু আ’লাম (আল্লাহই মূল সত্য সম্পর্কে অবহিত)। আসিম ইবনে যামরা কোন কোন হাদীস বিশারদের মতে সিকাহ বা নির্ভরযোগ্য। আলী ইবনুল মাদীনী বলেনঃ ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান বলেছেন যে, সুফিয়ান (রাহঃ) বলেছেন হারিস-এর রিওয়ায়াতের উপর আসিম ইবনে যামরা-এর রিওয়ায়াতের মর্যাদা আমরা স্বীকার করতাম।

মহিলাদের চাদরে নামায আদায় করা মাকরূহ।

باب فِي كَرَاهِيَةِ الصَّلاَةِ فِي لُحُفِ النِّسَاءِ

৬০০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ أَشْعَثَ، وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يُصَلِّي فِي لُحُفِ نِسَائِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رُخْصَةٌ فِي ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০০. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দিল আ’লা (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে রাসূল (ﷺ) তাঁর সহধর্মিনীগণের চাঁদরে (সাধারণত) নামায আদায় করতেন না।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে রাসূল (ﷺ) থেকে অনুমতি প্রদানের রিওয়ায়াতও রয়েছে।

নফল নামাযরত অবস্থায় হ্যাঁটা ও কাজ করা।

باب ذِكْرِ مَا يَجُوزُ مِنَ الْمَشْىِ وَالْعَمَلِ فِي صَلاَةِ التَّطَوُّعِ

৬০১

حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ بُرْدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جِئْتُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي الْبَيْتِ وَالْبَابُ عَلَيْهِ مُغْلَقٌ فَمَشَى حَتَّى فَتَحَ لِي ثُمَّ رَجَعَ إِلَى مَكَانِهِ . وَوَصَفَتِ الْبَابَ فِي الْقِبْلَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০১. আবু সালামা ইয়াহয়া ইবনে খালাফ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ একবার আমি আসলাম, রাসূল (ﷺ) তখন ঘরে (নফল) নামায আদায় করছিলেন আর দরজা ছিল বন্ধ। সুতরাং তিনি সামনে কিছু হেঁটে এসে আমার জন্য দরজা খুলে দিলেন, এরপর আবার স্বস্থানে ফিরে গেলেন। আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ দরজাটি ছিল কিবলার দিকে।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-গারীব।

এক রাকআতে দুই সূরা পাঠ করা।

باب مَا ذُكِرَ فِي قِرَاءَةِ سُورَتَيْنِ فِي رَكْعَةٍ

৬০২

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ، قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ عَبْدَ اللَّهِ عَنْ هَذَا الْحَرْفِ (غَيرِ آسِنٍ) أَوْ يَاسِنٍ قَالَ كُلَّ الْقُرْآنِ قَرَأْتَ غَيْرَ هَذَا الْحَرْفِ قَالَ نَعَمْ . قَالَ إِنَّ قَوْمًا يَقْرَءُونَهُ يَنْثُرُونَهُ نَثْرَ الدَّقَلِ لاَ يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ إِنِّي لأَعْرِفُ السُّوَرَ النَّظَائِرَ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرِنُ بَيْنَهُنَّ . قَالَ فَأَمَرْنَا عَلْقَمَةَ فَسَأَلَهُ فَقَالَ عِشْرُونَ سُورَةً مِنَ الْمُفَصَّلِ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقْرِنُ بَيْنَ كُلِّ سُورَتَيْنِ فِي رَكْعَةٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬০২. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ...... আবু ওয়াইল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন জনৈক ব্যক্তি একবার আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ শব্দটি غَيْرِ آسِنٍ না يَاسِنٍ? তিনি বললেনঃ এটি ছাড়া কুরআনের সব কিছু কি তুমি পড়ে ফেলেছ? সে বললঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ কোন কোন সম্প্রদায় কুরআন পড়ে এবং রদ্দী খেজুরের মতো ছুঁড়ে ফেলে দেয়। তাদের কণ্ঠ তা অতিক্রম করে না। আমি তো সেই সা’দৃশ্যপূর্ণ সূরাগুলি সম্পর্কে জানি, যেগুলিকে রাসূল (ﷺ) একত্রিত (পাঠ) করতেন। আবু ওয়ায়ল বলেনঃ আমরা আলাকামা (রাহঃ)-কে ঐগুলি সম্পর্কে ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করতে বললাম। তিনি সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বললেনঃ এ হল মুফাসসাল পর্যায়ের বিশটি সূরা। রাসূল (ﷺ) প্রতি রাকআতে এই সূরাসমূহের দুটি দুটি সূরা করে একত্রিত (পাঠ) করতেন।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

মসজিদে হেঁটে যাওয়ার ফযীলত এবং এতে প্রতি কদমে কত বিনিময় লিখা হয়।

باب مَا ذُكِرَ فِي فَضْلِ الْمَشْىِ إِلَى الْمَسْجِدِ وَمَا يُكْتَبُ لَهُ مِنَ الأَجْرِ فِي خُطَاهُ

৬০৩

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، سَمِعَ ذَكْوَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا تَوَضَّأَ الرَّجُلُ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ لاَ يُخْرِجُهُ أَوْ قَالَ لاَ يَنْهَزُهُ إِلاَّ إِيَّاهَا لَمْ يَخْطُ خُطْوَةً إِلاَّ رَفَعَهُ اللَّهُ بِهَا دَرَجَةً أَوْ حَطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةً " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬০৩. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ কেউ যদি উযু করে এবং ভাল করে তা করে, এরপর নামাযের জন্য বের হয়ে যায়, এ ছাড়া তার বের হওয়ার অন্য কোন উদ্দেশ্য না থাকে, তবে এমন কোন কদম সে তুলে না যার মাধ্যমে আল্লাহ্ তাআলা তার দরজা বুলন্দ করেন না বা তার কোন গুনাহ মাফ করেন না। - ইবনে মাজাহ ৭৭৪, বুখারি ও মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

মাগরিবের পরে (নফল) নামায ঘরে পড়া উত্তম।

باب مَا ذُكِرَ فِي الصَّلاَةِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ أَنَّهُ فِي الْبَيْتِ أَفْضَلُ

৬০৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي الْوَزِيرِ الْبَصْرِيُّ، ثِقَةٌ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي مَسْجِدِ بَنِي عَبْدِ الأَشْهَلِ الْمَغْرِبَ فَقَامَ نَاسٌ يَتَنَفَّلُونَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " عَلَيْكُمْ بِهَذِهِ الصَّلاَةِ فِي الْبُيُوتِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَالصَّحِيحُ مَا رُوِيَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ فِي بَيْتِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ عَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الْمَغْرِبَ فَمَا زَالَ يُصَلِّي فِي الْمَسْجِدِ حَتَّى صَلَّى الْعِشَاءَ الآخِرَةَ . فَفِي هَذَا الْحَدِيثِ دِلاَلَةٌ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ فِي الْمَسْجِدِ .

বর্ণনাকারী: কাব ইবনে উজরাহ (রাঃ)

৬০৪. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... কা‘ব ইবনে উজরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) একবার বনু আব্দিল আশহাল মসজিদে মাগরিবের নামায আদায় করেন। অনন্তর লোকেরা (সেখানেই) নফল আদায় করতে দাঁড়িয়ে গেল। তখন রাসূল (ﷺ) বললেনঃ এই নামায (নফল) তোমাদের ঘরেই আদায় করা উচিত। - ইবনে মাজাহ ১১৬৫

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি গারীব। এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নাই। সহীহ রিওয়ায়াত হল সেটি, যেটি উবন উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) তাঁর গৃহে বাদ মাগরিব দুই রাকআত নামায আদায় করতেন। হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, একদিন রাসূল (ﷺ) মাগরিবের নামায আদায় করলেন এবং পরে এশার নামায পর্যন্ত মসজিদেই (নফল) নামায আদায় করতে থাকলেন। এই হাদীসটি দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, রাসূল (ﷺ) বাদ মাগরিব মসজিদে দুই রাকআত (সুন্নত) আদায় করেছেন।

ইসলাম গ্রহণকালে গোসল করা।

باب مَا ذُكِرَ فِي الاِغْتِسَالِ عِنْدَمَا يُسْلِمُ الرَّجُلُ

৬০৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَغَرِّ بْنِ الصَّبَّاحِ، عَنْ خَلِيفَةَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عَاصِمٍ، أَنَّهُ أَسْلَمَ فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَغْتَسِلَ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَسْتَحِبُّونَ لِلرَّجُلِ إِذَا أَسْلَمَ أَنْ يَغْتَسِلَ وَيَغْسِلَ ثِيَابَهُ .

বর্ণনাকারী: কায়স ইবনে আসিম (রাঃ)

৬০৫. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... কায়স ইবনে আসিম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইসলাম গ্রহণ করলে রাসূল (ﷺ) তাঁকে পানি ও বদরী পত্র দিয়ে গোসল করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এই বিষয়ে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান। এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নাই। আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে ফতওয়া গ্রহণ করেছেন। তারা ইসলাম গ্রহণের সময় গোসল করা ও কাপড় ধৌত করা মুস্তাহাব বলে মনে করেন।

শৌচাগারে প্রবেশের সময় বিসমিল্লাহ বলা।

باب مَا ذُكِرَ مِنَ التَّسْمِيَةِ عِنْدَ دُخُولِ الْخَلاَءِ

৬০৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ بَشِيرِ بْنِ سَلْمَانَ، حَدَّثَنَا خَلاَّدٌ الصَّفَّارُ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ النَّصْرِيِّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " سَتْرُ مَا بَيْنَ أَعْيُنِ الْجِنِّ وَعَوْرَاتِ بَنِي آدَمَ إِذَا دَخَلَ أَحَدُهُمُ الْخَلاَءَ أَنْ يَقُولَ بِسْمِ اللَّهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَإِسْنَادُهُ لَيْسَ بِذَاكَ الْقَوِيِّ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَشْيَاءُ فِي هَذَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৬০৬. মুহাম্মাদ ইবনে হুমায়দ আর-রাযী (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ জ্বীনদের চোখ ও আদম সন্তানের লজ্জাস্থানের মাঝে পর্দা হল এই যে, কেউ যখন শৌচাগারে প্রবেশ করবে, তখন সে বলবে ‘‘বিসমিল্লাহ’’। - ইবনে মাজাহ ২৯৭

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি গারীব। এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নাই। এর সনদ তেমন শক্তিশালী নয়। আনাস (রাযিঃ) সূত্রেও রাসূল (ﷺ) থেকে এই বিষয়ে কিছু বর্ণনা আছে।

কিয়ামতের দিন উম্মতের বিশেষ নিদর্শন হবে উযু ও সিজদার চিহ্ন।

باب مَا ذُكِرَ مِنْ سِيمَا هَذِهِ الأُمَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ آثَارِ السُّجُودِ وَالطُّهُورِ

৬০৭

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، أَحْمَدُ بْنُ بَكَّارٍ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ قَالَ صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو أَخْبَرَنِي يَزِيدُ بْنُ خُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ غُرٌّ مِنَ السُّجُودِ مُحَجَّلُونَ مِنَ الْوُضُوءِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর আল-আসলামী রাযি.

৬০৭. আবুল ওয়ালীদ আদ্-দিমাশকী (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ কিয়ামতের দিন সিজদার কারণে আমার উম্মত উজ্জ্বল চেহারাবিশিষ্ট এবং উযুর কারণে উজ্জ্বল হাত-পা বিশিষ্ট হবে।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রাযিঃ) এর হাদীস হিসাবে এই সনদে এটি গারীব।

উযুতে ডানদিকে অবলম্বন করা মুস্তাহাব।

باب ما يُسْتَحَبُّ مِنَ التَّيَمُّنِ فِي الطُّهُورِ

৬০৮

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُحِبُّ التَّيَمُّنَ فِي طُهُورِهِ إِذَا تَطَهَّرَ وَفِي تَرَجُّلِهِ إِذَا تَرَجَّلَ وَفِي انْتِعَالِهِ إِذَا انْتَعَلَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو الشَّعْثَاءِ اسْمُهُ سُلَيْمُ بْنُ أَسْوَدَ الْمُحَارِبِيُّ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৮. হান্নাদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) ডান দিক অবলম্বন করা ভালবাসতেন- যখন উযু করতেন তখন উযুর ক্ষেত্রে, যখন চিরুনী বরতেন তখন চিরুনী করার ক্ষেত্রে, যখন জুতা পরতেন তখন জুতা পরার ক্ষেত্রে (তা পছন্দ করতেন)। - ইবনে মাজাহ ৪০১, বুখারি ও মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবুশ-শা’সা (রাহঃ)-এর নাম হল সুলায়ম ইবনে আসওয়দ আল-মুহারিবী।

কততুকু পানি উযুর জন্য যথেষ্ট।

باب قَدْرِ مَا يُجْزِئُ مِنَ الْمَاءِ فِي الْوُضُوءِ

৬০৯

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى، عَنِ ابْنِ جَبْرٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يُجْزِئُ فِي الْوُضُوءِ رِطْلاَنِ مِنْ مَاءٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ شَرِيكٍ عَلَى هَذَا اللَّفْظِ . وَرَوَى شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَبْرٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَوَضَّأُ بِالْمَكُّوكِ وَيَغْتَسِلُ بِخَمْسَةِ مَكَاكِيَّ . وَرُوِيَ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَبْرٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَوَضَّأُ بِالْمُدِّ وَيَغْتَسِلُ بِالصَّاعِ . وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ شَرِيكٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬০৯. হান্নাদ (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) বলেনঃ উযুর জন্য দুই রতল* পরিমাণ পানই যথেষ্ট। - ইবনে মাজাহ ২৭০

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি গারীব। এই শব্দে রাবী শারীক ছাড়া অন্য কোন সনদে এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নাই। শু’বা (রাহঃ) আব্দিল্লাহ ইবনে আব্দিল্লাহ ইবনে জাবের সূত্রে আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (ﷺ) এক মাককূক* পরিমাণ পানি দিযে উযু এবং পাঁচ মাককূক** পরিমাণ পানি দিয়ে গোসল করতেন। সুফিয়ান সাওরী (রাহঃ) আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) এক মুদ্ পরিমাণ পানি দিয়ে উযু এবং এক সা’ পরিমাণ পানি দিয়ে গোসল করতেন। এই হাদীসটি শারীক-এর হাদীস অপেক্ষা অধিকতর সহীহ।

*৫৬৪ গ্রাম

**এক ধরণের পাত্র। এতে বর্ণনাভেদে এক সা' বা অর্ধ সা' পরিমাণ বস্তু ধরে।

দুগ্ধপোষ্য ছেলের পেশাব (পাক করার জন্য) পানি ছিঁটিয়ে দেওয়া।

باب مَا ذُكِرَ فِي نَضْحِ بَوْلِ الْغُلاَمِ الرَّضِيعِ

৬১০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي حَرْبِ بْنِ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضى الله عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي بَوْلِ الْغُلاَمِ الرَّضِيعِ " يُنْضَحُ بَوْلُ الْغُلاَمِ وَيُغْسَلُ بَوْلُ الْجَارِيَةِ " . قَالَ قَتَادَةُ وَهَذَا مَا لَمْ يَطْعَمَا فَإِذَا طَعِمَا غُسِلاَ جَمِيعًا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . رَفَعَ هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ قَتَادَةَ وَأَوْقَفَهُ سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ وَلَمْ يَرْفَعْهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৬১০. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... আলী ইবনে আবী তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) দুগ্ধপোষ্য শিশুর প্রস্রাব (পাক করা) সম্পর্কে বলেছেনঃ ছেলে শিশুর প্রস্রাবে পানি ছিটিয়ে দেওয়া হবে আর মেয়ে শিশুদের প্রস্রাব ধুতে হবে। কাতাদা (রাযিঃ) বলেনঃ এই পার্থক্য বিবেচ্য হবে যতদিন তারা (প্রচলিত) খাদ্য প্রহণের উপযুক্ত না হবে, ততদিন। আর যখন তারা খাদ্য গ্রহণযোগ্য হয়ে যাবে, তখন উভয়ের প্রস্রাবই ধুতে হবে। - ইবনে মাজাহ ৫২৫

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। কাতাদা (রাহঃ) সূত্রে রাবী হিশাম আদ্-দাস্তাওয়াঈ এটিকে মারফূ’ হিসাবে এবং তাঁরই সূত্রে সাঈদ ইবনে আবী আরূবা মউকুফ হিসাবে রিওয়ায়াত করেছেন। পরবর্তীজন মারফূ’রূপে বর্ণনা করেন নি।

সূরা মায়িদা অবতীর্ণ হওয়ার পর মোজার উপর নবীজীর মাসাহ সংক্রান্ত বিবরণ

باب مَا ذُكِرَ فِي مَسْحِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ نُزُولِ الْمَائِدَة *

৬১১
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ مُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، قَالَ: رَأَيْتُ جَرِيرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ،قَالَ: فَقُلْتُ لَهُ فِي ذَلِكَ، فَقَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ فَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ فَقُلْتُ لَهُ: أَقَبْلَ الْمَائِدَةِ أَمْ بَعْدَ الْمَائِدَةِ، قَالَ: مَا أَسْلَمْتُ إِلاَّ بَعْدَ الْمَائِدَةِ.**

* هذا الباب بحديثيه ورد في طبعة العلامة أحمد شاكر، وحذفه الدكتور بشار من طبعته.

** قال الدكتور بشار: أضاف العلامة أحمد شاكر، بعد هذا، بابا من نسخة السندي، ساق فيه طريقين لحديث جرير بن عبد الله، في المسح على الخفين، احتلا الرقمين (611 و612) ، وقد تقدم هذا الحديث برقم (94) ، وصرح العلامة بأن هذا الباب لم يرد في شيء من النسخ، وهو كذلك، فالصواب حذفه، لأن الترمذي لم يذكره في هذا الموضع، ولا أشار إلى ذلك أحد ممن نقل عنه.
- قلنا: إسناد محمد بن حميد، عن نعيم، لم يرد في "تحفة الأحوذي"، ولا في "تحفة الأشراف"، ولم يذكر المزي، في "تهذيب الكمال" أن نعيم بن ميسرة يروي عن خالد، وهذا دليل على أن هذا الإسناد ساقط من جميع نسخ "سنن الترمذي".

বর্ণনাকারী: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

কুতাইবা............শাহর ইবন হাওশাব থেকে বর্ণিত,আমি জারীর ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) কে ওযু করতে ও মোজার উপর মসাহ করতে দেখলাম। ও তাকে এ বিষয়ে সিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে ওযু করতে ও মোজার উপর মাসাহ করতে দেখেছি। আমি তাকে বললাম, এটা কি সূরা মায়িদাহ অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে না পরে? তিনি বললেনঃ আমি তো মায়িদাহ অবতীর্ণ হওয়ার পরেই মুসলিম হয়েছি।

৬১২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ الرَّازِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ مَيْسَرَةَ النَّحْوِيُّ، عَنْ خَالِدِ بْنِ زِيَادٍ نَحْوَهُ.
قَالَ أَبُو عِيسَى: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ، لاَ نَعْرِفُهُ مِثْلَ هَذَا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ مُقَاتِلِ بْنِ حَيَّانَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ. **

* هذا الباب بحديثيه ورد في طبعة العلامة أحمد شاكر، وحذفه الدكتور بشار من طبعته.

** قال الدكتور بشار: أضاف العلامة أحمد شاكر، بعد هذا، بابًا من نسخة السندي، ساق فيه طريقين لحديث جرير بن عبد الله، في الْمسح على الخفين، احتَلا الرقمين (611 و612) ، وقد تقدم هذا الحديث برقم (94) ، وصرَّح العلامة بأن هذا الباب لم يَرِدْ في شيءٍ من النُّسَخ، وهو كذلك، فالصواب حذفه، لأن الترمذي لم يذكره في هذا الْموضع، ولا أشار إلى ذلك أحدٌ ممن نقل عنه.
- قلنا: إسناد مُحَمد بن حُمَيْد، عن نُعَيْم، لم يَرِد في "تحفة الأَحْوَذِي"، ولا في "تحفة الأشراف"، ولم يذكر الْمِزِّي، في "تهذيب الكمال" أن نُعَيْم بن مَيْسَرَة يَرْوِي عن خالد، وهذا دليلٌ على أن هذا الإسناد ساقطٌ من جميع نسخ "سنن التِّرْمِذِي".

বর্ণনাকারী: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

খালিদ ইবন যিয়াদ থেকে অপর একটি সূত্রেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই সূত্রে হাদীসটি গারীব। শাহর ইবন হাওশাব থেকে মুকাতিল ছাড়া অন্য কোন সূত্রে হাদীসটি জানতে পারিনি।

যার উপর গোসল করা ফরয সে যদি উযু করে নেয় তবে তার জন্য খাদ্য গ্রহণ ও নিদ্রা গমনের অনুমতি রয়েছে।

باب مَا ذُكِرَ فِي الرُّخْصَةِ لِلْجُنُبِ فِي الأَكْلِ وَالنَّوْمِ إِذَا تَوَضَّأَ

৬১৩

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَطَاءٍ الْخُرَاسَانِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، عَنْ عَمَّارٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَخَّصَ لِلْجُنُبِ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْكُلَ أَوْ يَشْرَبَ أَوْ يَنَامَ أَنْ يَتَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلاَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: আম্মার ইবন ইয়াসির আল-'আনযী (রা)

৬১৩. হান্নাদ (রাহঃ) ..... আম্মার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) জুনুবী (যার উপর গোসল ফরয) ব্যক্তির জন্য অবকাশ দিয়েছেন। সে যদি আহার করতে বা পান করতে বা নিদ্রাগমন করতে চায়, তবে সে নামাযের উযুর মত উযু করে নিবে।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

নামাযের ফযীলত।

باب مَا ذُكِرَ فِي فَضْلِ الصَّلاَةِ

৬১৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ الْقَطَوَانِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا غَالِبٌ أَبُو بِشْرٍ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ عَائِذٍ الطَّائِيِّ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُعِيذُكَ بِاللَّهِ يَا كَعْبُ بْنَ عُجْرَةَ مِنْ أُمَرَاءَ يَكُونُونَ مِنْ بَعْدِي فَمَنْ غَشِيَ أَبْوَابَهُمْ فَصَدَّقَهُمْ فِي كَذِبِهِمْ وَأَعَانَهُمْ عَلَى ظُلْمِهِمْ فَلَيْسَ مِنِّي وَلَسْتُ مِنْهُ وَلاَ يَرِدُ عَلَىَّ الْحَوْضَ وَمَنْ غَشِيَ أَبْوَابَهُمْ أَوْ لَمْ يَغْشَ فَلَمْ يُصَدِّقْهُمْ فِي كَذِبِهِمْ وَلَمْ يُعِنْهُمْ عَلَى ظُلْمِهِمْ فَهُوَ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ وَسَيَرِدُ عَلَىَّ الْحَوْضَ يَا كَعْبُ بْنَ عُجْرَةَ الصَّلاَةُ بُرْهَانٌ وَالصَّوْمُ جُنَّةٌ حَصِينَةٌ وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ . يَا كَعْبُ بْنَ عُجْرَةَ إِنَّهُ لاَ يَرْبُو لَحْمٌ نَبَتَ مِنْ سُحْتٍ إِلاَّ كَانَتِ النَّارُ أَوْلَى بِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُوسَى . وَأَيُّوبُ بْنُ عَائِذٍ الطَّائِيُّ يُضَعَّفُ وَيُقَالُ كَانَ يَرَى رَأْىَ الإِرْجَاءِ . وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَلَمْ يَعْرِفْهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُوسَى وَاسْتَغْرَبَهُ جِدًّا .

বর্ণনাকারী: কাব ইবনে উজরাহ (রাঃ)

৬১৪. আব্দুল্লাহ ইবনে আবী যিয়াদ (রাহঃ) ..... কা’ব ইবনে উজরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ আমাকে একদিন রাসূল (ﷺ) বললেনঃ হে কা’ব ইবনে উজরা, আমার পরে কিছু আমীর হবে তাদের (অমঙ্গল) থেকে আমি তোমাকে আল্লাহর আশ্রয়ে দিচ্ছি। যে ব্যক্তি তাদের দরজায় যাবে এবং তাদের মিথ্যাচারে তাদের সমর্থন দিবে, তাদের যুলুমে তাদের সহযোগিতা করবে, তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমার সঙ্গেও তার কোন সম্পর্ক নেই। সে হাওযে কাউসারে পানি পান করতে আমার নিকট আসতে পারবে না। আর যে ব্যক্তি তাদের দরজায় যাবে না এবং তাদের মিথ্যাচারে তাদের সমর্থন করবে না, তাদের যুলমে তাদের সহযোগিতা করবে না, সে আমার এবং আমি তার। অবশ্যই সে হাওযে কাউসারে পানি পান করতে আমার নিকট আসবে। হে কা’ব ইবনে উজরা, নামায হল দলীল, রোযা হল রক্ষাকারী বর্ম, পানি যেমন আগুন নিভিয়ে দেয়, তেমনি দান-সাদ্‌কাও গুনাহসমূহ দূরীভূত করে দেয়। হে কা’ব ইবনে উজরা, হারাম খেয়ে যে গোশতের বৃদ্ধি ঘটেছে, জাহান্নামই হল তার যোগ্য।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নাই। রাবী আইয়ুব ইবনে আয়েব যঈফ। তিনি মুরজি’আ-পন্থি ছিলেন বলেও কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুহাম্মাদ আল-বুখারী (রাহঃ)-কে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা-এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে কিছু জানেন না। তিনি এই সনদটি অত্যন্ত গারীব বলে অভিহিত করেছেন।
৬১৫

وَقَالَ مُحَمَّدٌ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُوسَى، عَنْ غَالِبٍ، بِهَذَا .

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন (রহঃ)

৬১৫. মুহাম্মাদ (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে নুমাইর উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা গালিব সূত্রে এটি আমার নিকট বর্ণিত হয়েছে।

এই বিষয়ে আর একটি অনুচ্ছেদ।

باب مِنْهُ

৬১৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكِنْدِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، أَخْبَرَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي سُلَيْمُ بْنُ عَامِرٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَقَالَ " اتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ وَصَلُّوا خَمْسَكُمْ وَصُومُوا شَهْرَكُمْ وَأَدُّوا زَكَاةَ أَمْوَالِكُمْ وَأَطِيعُوا ذَا أَمْرِكُمْ تَدْخُلُوا جَنَّةَ رَبِّكُمْ " . قَالَ فَقُلْتُ لأَبِي أُمَامَةَ مُنْذُ كَمْ سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَذَا الْحَدِيثَ قَالَ سَمِعْتُهُ وَأَنَا ابْنُ ثَلاَثِينَ سَنَةً . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

৬১৬. মুসা ইবনে আব্দি্র রহমান আল-কূফী (রাহঃ) ...... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ)-কে আমি বিদায় হজ্জের খুতবায় বলতে শুনেছিঃ তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে, তিনি তো তোমাদের রব। তোমরা পাঁচ ওয়ক্ত নামায আদায় করবে, তোমরা রমযান মাসের রোযা পালন করবে, তোমাদের সম্পদের যাকাত দিবে, তোমাদের শাসনকর্তাদের আনুগত্য করবে, তা হলে তোমরা তোমাদের প্রভূর জান্নাতে দাখিল হতে পারবে। রাবী বলেনঃ আমি আবু উমামা (রাযিঃ) কে বললামঃ কতদিন আগে আপনি এই হাদীসটি শুনেছেন? তিনি বললেনঃ আমার বয়স যখন ত্রিশ বছর তখন আমি এই হাদীসটি শুনেছিলাম।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেনঃ এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।