كتاب الزكاة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم

৭. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত যাকাত অধ্যায়

অধ্যায় ৭ · ৬৫ টি হাদীস

যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতির জন্য কঠোর শাস্তি।

باب مَا جَاءَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَنْعِ الزَّكَاةِ مِنَ التَّشْدِيدِ .

৬১৭

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ التَّمِيمِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ جِئْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ جَالِسٌ فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ . قَالَ فَرَآنِي مُقْبِلاً فَقَالَ " هُمُ الأَخْسَرُونَ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . قَالَ فَقُلْتُ مَا لِي لَعَلَّهُ أُنْزِلَ فِيَّ شَيْءٌ . قَالَ قُلْتُ مَنْ هُمْ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هُمُ الأَكْثَرُونَ إِلاَّ مَنْ قَالَ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا " . فَحَثَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَعَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ . ثُمَّ قَالَ " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لاَ يَمُوتُ رَجُلٌ فَيَدَعُ إِبِلاً أَوْ بَقَرًا لَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهَا إِلاَّ جَاءَتْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْظَمَ مَا كَانَتْ وَأَسْمَنَهُ تَطَؤُهُ بِأَخْفَافِهَا وَتَنْطَحُهُ بِقُرُونِهَا كُلَّمَا نَفِدَتْ أُخْرَاهَا عَادَتْ عَلَيْهِ أُولاَهَا حَتَّى يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ مِثْلُهُ . وَعَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضى الله عنه قَالَ لُعِنَ مَانِعُ الصَّدَقَةِ . وَعَنْ قَبِيصَةَ بْنِ هُلْبٍ عَنْ أَبِيهِ وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي ذَرٍّ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَاسْمُ أَبِي ذَرٍّ جُنْدُبُ بْنُ السَّكَنِ وَيُقَالُ ابْنُ جُنَادَةَ . حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُنِيرٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ عَنْ حَكِيمِ بْنِ الدَّيْلَمِ عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ مُزَاحِمٍ قَالَ الأَكْثَرُونَ أَصْحَابُ عَشَرَةِ آلاَفٍ . قَالَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُنِيرٍ مَرْوَزِيٌّ رَجُلٌ صَالِحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৬১৭. হান্নাদ ইবনুস্ সারী আত্-তামীমী আল্- কূফী (রাহঃ) ........ আবু যর্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে এলাম, এই সময় তিনি কাবা শরীফের ছায়ায় উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি আমাকে সামনে দেখে বলতে লাগলেনঃ কাবার রবের কসম! কিয়ামতের দিন এরাই হবে অধিকতর ক্ষতিগ্রস্ত। আবু যর্ (রাযিঃ) বলেন , আমি মনে মনে ভাবলাম, কী হল আমার, আমার ব্যাপারে হয়ত কিছু নাযিল হয়েছে। যা হোক আমি বললাম, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান হউক, এরা কারা? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ এরা হল অধীক সম্পদের অধিকারী ব্যক্তিগণ, কিন্তু যারা এরূপ করে তারা ছাড়া। এরপর তিনি সামনে ডানে বামে দুই হাতে অঞ্জলী ভরে ইশারা করে দেখালেন। তিনি আরো বললেনঃ কসম সে সত্তার যার হাতে আমার প্রাণ! কোন ব্যক্তি যদি উট বা গরু রেখে মারা যায় আর এগুলোর যাকাত আদায় না করে যায় তবে সেগুলো কিয়ামতের দিন আরো বেশী মোটা-তাজা হয়ে আসবে এবং ঐ ব্যক্তিকে পায়ের খুরে দলিত করবে এবং শিং দিয়ে গুতোতে থাকবে। যখনই শেষেরটির কাজ শেষ হবে, তখনই প্রথমটি আবার শুরু করবে। সব মানুষের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এরূপই চলতে থাকবে।

এই বিষয়ে আবু হুয়ারার (রাযিঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। আলী ইবনে তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, যাকাত অস্বীকারকরীকে লা‘নত করা হয়েছে। কাবীসা ইবনে হুলব তদীয় পিতা হুলবের বরাতে এবং জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেন, আবু যর্ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবু যর্ (রাযিঃ) এর নাম হল, জুনদাব ইবনুস সাকান। কেই কেউ বলেন, ইবনে জুনাদা। আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুনীর (রাহঃ) যাহ্হাক ইবনে মুযাহিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, অধিক সম্পদশালী হল তারা যাদের কাছে দশ হাজার (বা তকোধিক দিরহাম) আছে। আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুনীর মারওয়াযী একজন সৎব্যক্তি।

যাকাত আদায় করে দিলে তোমার (সম্পদ) উপর যা কর্তব্য ছিল তা তুমি পূর্ণ করলে।

باب مَا جَاءَ إِذَا أَدَّيْتَ الزَّكَاةَ فَقَدْ قَضَيْتَ مَا عَلَيْكَ .

৬১৮

حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ الشَّيْبَانِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ دَرَّاجٍ، عَنِ ابْنِ حُجَيْرَةَ، هُوَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حُجَيْرَةَ الْمِصْرِيُّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَدَّيْتَ زَكَاةَ مَالِكَ فَقَدْ قَضَيْتَ مَا عَلَيْكَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ أَنَّهُ ذَكَرَ الزَّكَاةَ . فَقَالَ رَجَلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ عَلَىَّ غَيْرُهَا فَقَالَ " لاَ إِلاَّ أَنْ تَتَطَوَّعَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬১৮. উমর ইবনে হাফস আশ্-শায়বানী আল্-বসরী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তুমি যখন তোমার সম্পদের যাকাত আদায় করে দিলে তখন তোমার উপর যা কর্তব্য ছিল তা পূরণ করে দিলে।

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান গরীব। একাধিক সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি যাকাতের আলোচনা করছিলেন। তখন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এ ছাড়া আমার উপর আরো কিছু কর্তব্য আছে কি? তিনি বললেনঃ না তবে তুমি যদি নফল কিছু করতে চাও (তা হল ভিন্ন ব্যাপার)।
৬১৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كُنَّا نَتَمَنَّى أَنْ يَأْتِيَ، الأَعْرَابِيُّ الْعَاقِلُ فَيَسْأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ عِنْدَهُ فَبَيْنَا نَحْنُ عَلَى ذَلِكَ إِذْ أَتَاهُ أَعْرَابِيٌّ فَجَثَا بَيْنَ يَدَىِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّ رَسُولَكَ أَتَانَا فَزَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَكَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ " . قَالَ فَبِالَّذِي رَفَعَ السَّمَاءَ وَبَسَطَ الأَرْضَ وَنَصَبَ الْجِبَالَ آللَّهُ أَرْسَلَكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ " . قَالَ فَإِنَّ رَسُولَكَ زَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ عَلَيْنَا خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ " . قَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ " . قَالَ فَإِنَّ رَسُولَكَ زَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ عَلَيْنَا صَوْمَ شَهْرٍ فِي السَّنَةِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " صَدَقَ " . قَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ " . قَالَ فَإِنَّ رَسُولَكَ زَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ عَلَيْنَا فِي أَمْوَالِنَا الزَّكَاةَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " صَدَقَ " . قَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ " . قَالَ فَإِنَّ رَسُولَكَ زَعَمَ لَنَا أَنَّكَ تَزْعُمُ أَنَّ عَلَيْنَا الْحَجَّ إِلَى الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ " . قَالَ فَبِالَّذِي أَرْسَلَكَ آللَّهُ أَمَرَكَ بِهَذَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ " . فَقَالَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لاَ أَدَعُ مِنْهُنَّ شَيْئًا وَلاَ أُجَاوِزُهُنَّ . ثُمَّ وَثَبَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنْ صَدَقَ الأَعْرَابِيُّ دَخَلَ الْجَنَّةَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَقُولُ قَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِقْهُ هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّ الْقِرَاءَةَ عَلَى الْعَالِمِ وَالْعَرْضَ عَلَيْهِ جَائِزٌ مِثْلُ السَّمَاعِ . وَاحْتَجَّ بِأَنَّ الأَعْرَابِيَّ عَرَضَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَقَرَّ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১৯. মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কামনা করতাম যদি কোন বুদ্ধিমান গ্রামবাসী আসত এবং আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর খেদমতে উপবিষ্ট অবস্থায় যদি সেটাকে কোন বিষয় প্রশ্ন করত। যাহোক, আমরা সেদিন এই অবস্থায় ছিলাম। হঠাৎ এক গ্রামবাসী আরব সেখানে এসে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সামনে হ্যাঁট মুড়ে বসল। বলল, হে মুহাম্মাদ! আপনার দূত আমাদের কাছে এসেছে; এবং আমাদের বলেছে যে, আপনি নাকি বলেন যে, আল্লাহ আপনাকে রাসূল হিসাবে পাঠিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি বলল, কসম সে সত্তার যিনি আকাশকে করেছেন সুঠাম, যমীনকে করেছেন বিস্তৃত, পাহাড় সমূহকে করেছেন দণ্ডায়মান, সত্যই কি আল্লাহ আপনাকে প্রেরণ করেছেন? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ।

লোকটি বলল, আপনার দূত আমাদের আরো বলেছে যে, আপনি নাকি বলেন, আমাদের উপর রাত-দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামায অবশ্য কর্তব্যরূপে নির্ধারণ করেছেন? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি বলল কসম সে সত্তার যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন! আল্লাহই কি আপনাকে এই বিষয়ে নিদের্শ দিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ।

লোকটি বলল, আপনার দূত আমাদের আরো বলেছে যে, আপনি নাকি বলেন, বছরে এক মাস (রমযান) আমাদের জন্য রোযা পালন করা কর্তব্য? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ সত্য বলেছে। লোকটি বলল, কসম সে সত্তার যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন! আল্লাহ কি আপনাকে এই বিষয়ে নিদের্শ দিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ।

লোকটি বলল, আপনার দূত আমাদের বলেছে যে, আপনি নাকি বলেন যে, আমাদের সম্পদে নির্ধারিত যাকাত রয়েছে? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ সত্য বলেছে। লোকটি বলল, কসম সে সত্তার যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন! আল্লাহই কি আপনাকে এই বিষয়ে নিদের্শ দিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ।

লোকটি বলল, আপনার দূত আমাদের আরো আপনি নাকি বলেন আমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ যেতে সক্ষম তার জন্য বায়তুল্লাহর হজ্জ করা কর্তব্য? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি বলল, কসম সে সত্তার যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন! আল্লাহই কি আপনাকে এই বিষয়ে নিদের্শ দিয়েছেন? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি বললঃ কসম সে সত্তার যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন! আমি এগুলোর একটিকেও পরিত্যাগ করব না। আর এগুলোর সীমাও অতিক্রম করব না। এরপর লোকটি দ্রুত উঠে চলে গেল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ এই গ্রামবাসী লোকটি যদি সত্য বলে থাকে তবে সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। - বুখারি ও মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেন এই হাদীসটি হাসান ও এই সূত্রে গরীব। অন্য সূত্রে ও আনাস (রাযিঃ) থেকে এটি বর্ণিত আছে। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী (রাহঃ) কে বলতে শুনেছি যে, কতক হাদীস বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন, এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, উস্তাদের নিকট পাঠকরা ও উপস্থাপন তার নিকট থেকে শ্রবণ করার ন্যায় গ্রহণযোগ্য। কেননা, উক্ত গ্রামবাসী নবী (ﷺ) এর কাছে উপস্থাপন করেন এবং নবী (ﷺ) এর স্বীকৃতি দেন।

স্বর্ণ ও রৌপ্যের যাকাত।

باب مَا جَاءَ فِي زَكَاةِ الذَّهَبِ وَالْوَرِقِ .

৬২০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ عَفَوْتُ عَنْ صَدَقَةِ الْخَيْلِ وَالرَّقِيقِ فَهَاتُوا صَدَقَةَ الرِّقَةِ مِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا دِرْهَمًا وَلَيْسَ فِي تِسْعِينَ وَمِائَةٍ شَيْءٌ فَإِذَا بَلَغَتْ مِائَتَيْنِ فَفِيهَا خَمْسَةُ الدَّرَاهِمِ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ وَعَمْرِو بْنِ حَزْمٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ الأَعْمَشُ وَأَبُو عَوَانَةَ وَغَيْرُهُمَا عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ عَنْ عَلِيٍّ وَرَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ عُيَيْنَةَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ كِلاَهُمَا عِنْدِي صَحِيحٌ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ رُوِيَ عَنْهُمَا جَمِيعًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৬২০. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে শাওয়ারিব (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ ঘোড়া ও ক্রীসদাসের ক্ষেত্রে যাকাত মাফ করে দিলাম। তোমরা প্রতি চল্লিশ দিরহাম (রৌপ্য মুদ্রায়) এক দিরহাম হিসাবে রৌপ্যের যাকাত দিবে। একশ নব্বই দিরহামেও আমার (বায়তুল মালের) কিছু পাওনা নাই। কিন্তু দু'শ দিরহাম পরিমাণ হলে এতে পাঁচ দিরহাম (২.৫%) যাকাত ধার্য হবে। - ইবনে মাজাহ ১৭৯০

এই বিষয়ে আবু বকর সিদ্দীক ও আমর ইবনে হাযম (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেন, আমাশ ও আবু আওয়ানা প্রমুখ এই হাদীসটি আবু ইসহাক-আসিম ইবনে যামযা, আলী (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী (রাহঃ) কে এই হাদীসটি হারিস, আলী (রাযিঃ) সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী (রাহঃ) কে এই হাদীসটি সম্পর্কে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, আমার মতে আবু ইসহাক থেকে উভয় সনদই সহীহ্। কারণ, সম্ভাবনা আছে যে, তিনি (আসিম ও হারিস) উভয়ের নিকট থেকেই এটির রিওয়ায়াত করেছেন।

উট ও ছাগলের যাকাত।

باب مَا جَاءَ فِي زَكَاةِ الإِبِلِ وَالْغَنَمِ .

৬২১

حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ الْبَغْدَادِيُّ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَرَوِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ كَامِلٍ الْمَرْوَزِيُّ الْمَعْنَى، وَاحِدٌ، قَالُوا حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَتَبَ كِتَابَ الصَّدَقَةِ فَلَمْ يُخْرِجْهُ إِلَى عُمَّالِهِ حَتَّى قُبِضَ فَقَرَنَهُ بِسَيْفِهِ فَلَمَّا قُبِضَ عَمِلَ بِهِ أَبُو بَكْرٍ حَتَّى قُبِضَ وَعُمَرُ حَتَّى قُبِضَ وَكَانَ فِيهِ " فِي خَمْسٍ مِنَ الإِبِلِ شَاةٌ وَفِي عَشْرٍ شَاتَانِ وَفِي خَمْسَ عَشْرَةَ ثَلاَثُ شِيَاهٍ وَفِي عِشْرِينَ أَرْبَعُ شِيَاهٍ وَفِي خَمْسٍ وَعِشْرِينَ بِنْتُ مَخَاضٍ إِلَى خَمْسٍ وَثَلاَثِينَ فَإِذَا زَادَتْ فَفِيهَا ابْنَةُ لَبُونٍ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَإِذَا زَادَتْ فَفِيهَا حِقَّةٌ إِلَى سِتِّينَ فَإِذَا زَادَتْ فَفِيهَا جَذَعَةٌ إِلَى خَمْسٍ وَسَبْعِينَ فَإِذَا زَادَتْ فَفِيهَا ابْنَتَا لَبُونٍ إِلَى تِسْعِينَ فَإِذَا زَادَتْ فَفِيهَا حِقَّتَانِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ وَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ ابْنَةُ لَبُونٍ . وَفِي الشَّاءِ فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ شَاةً شَاةٌ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ فَشَاتَانِ إِلَى مِائَتَيْنِ فَإِذَا زَادَتْ فَثَلاَثُ شِيَاهٍ إِلَى ثَلاَثِمِائَةِ شَاةٍ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى ثَلاَثِمِائَةِ شَاةٍ فَفِي كُلِّ مِائَةِ شَاةٍ شَاةٌ ثُمَّ لَيْسَ فِيهَا شَيْءٌ حَتَّى تَبْلُغَ أَرْبَعَمِائَةٍ وَلاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ مَخَافَةَ الصَّدَقَةِ وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بِالسَّوِيَّةِ وَلاَ يُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلاَ ذَاتُ عَيْبٍ " . وَقَالَ الزُّهْرِيُّ إِذَا جَاءَ الْمُصَدِّقُ قَسَّمَ الشَّاءَ أَثْلاَثًا ثُلُثٌ خِيَارٌ وَثُلُثٌ أَوْسَاطٌ وَثُلُثٌ شِرَارٌ وَأَخَذَ الْمُصَدِّقُ مِنَ الْوَسَطِ . وَلَمْ يَذْكُرِ الزُّهْرِيُّ الْبَقَرَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ وَبَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ . وَأَبِي ذَرٍّ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ عَامَّةِ الْفُقَهَاءِ . وَقَدْ رَوَى يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ هَذَا الْحَدِيثَ وَلَمْ يَرْفَعُوهُ وَإِنَّمَا رَفَعَهُ سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬২১. যিয়াদ ইবনে আইয়ুব আল-বাগদাদী, ইবরাহীম ইবনে আব্দু্ল্লাহ আল- হিরাবী ও মুহাম্মাদ ইবনে কামিল আল-মারওয়াযী (রাহঃ) ..... সালিম তদীয় পিতা ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাদ্‌কা-যাকাত সম্পর্কিত একটি পত্র তৈরী করেন এবং সেটি তলোয়ারের সাথে মিলিয়ে সংরক্ষিত করে রাখেন। ইন্‌তিকাল পর্যন্ত আর তিনি তা বের করে আনেননি। যাকাত সংগ্রহকারী কর্মকর্তাদের জন্য সেটি প্রেরণ করতে পারেননি। তাঁর ইন্‌তিকালের পর আবু বকর (রাযিঃ) ও তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত এবং উমর (রাযিঃ) ও তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত এতদ্ অনুসারে আমল করেছেন।

এতে ছিল, উটের ক্ষেত্রে পাঁচটিতে একটি, দশটিতে দু’টি, পনেরটিতে তিনটি, বিশটিতে চারটি ছাগল (যাকাত হিসাবে দিতে হয়)। পঁচিশটি থেকে পয়ত্রিশটি পর্যন্ত উটে একটি বিনতে মাখায অর্থাৎ পূর্ণ এক বছর বছসের মাদি উট; এর উর্ধ্বে পয়তাল্লিশটি পর্যন্ত একটি বিনতে লাবুন অর্থাৎ পূর্ণ দু’বছর বয়সের মাদি উট; এর উর্ধ্বে ষাটটি পর্যন্ত একটি হিক্কা অর্থাৎ পূর্ণ তিন বছর বয়সের মাদি উট; এর উর্ধ্বে পঁচাত্তর পর্যন্ত একটি জায়আ’ অর্থাৎ পূর্ণ চার বছর বয়সের একটি মাদি উট (যাকাত হিসাবে দিতে হবে) উটের সংখ্যা আরো বেশী হলে নব্বইটি পর্যন্ত দুটি বিনতে লাবূন, আরো বেশী হলে একশ বিশ পর্যন্ত দুটো হিককা; আর একশ বিশের উর্ধ্বে প্রতি পঞ্চাশে একটি হিক্কা এবং প্রতি চল্লিশে একটি করে বিনতে লাবূন ধার্য হবে।

ছাগলের ক্ষেত্রে একশ বিশটি পর্যন্ত প্রতি চল্লিশটিতে একটি করে ছাগল প্রদান করতে হবে। এর বেশী হলে দু'শ পর্যন্ত দুটো ছাগল। এর বেশী হলে তিনশটি পর্যন্ত তিনটি ছাগল। এর বেশী হলে প্রতি একশটিতে একটি করে ছাগল ধার্য হবে এবং চারশ না হওয়া পর্যন্ত এতে (নতুন) ধার্য হবে না। যাকাতের আশঙ্কায় (বিভিন্ন মালিকানায়) বিচ্ছিন্ন পশুগুলিকে (এক মালিকানাভুক্ত করে) একত্রিত করা যাবে না এবং একত্রিতগুলোকে বিছিন্ন করা যাবে না। দুই শরীকের পশুগুলো (যদি একত্রে) থাকে (আর একজন তা দিয়ে দেয় তবে) অতিরিক্ত অংশ পরস্পর থেকে সমানভাবে ফিরিয়ে নিয়ে আনবে। যাকাতে অতিবৃদ্ধ বা ত্রুটিযুক্ত পশু গ্রহণ করা যাবে না। - ইবনে মাজাহ ১৭৯৮

ইমাম যুহরী (রাহঃ) বলেনঃ যাকাত সংগ্রহকারী কর্মচারী যখন যাকাত সংগ্রহ করতে আসবে, তিনি পশু গুলোকে তিন ভাগে ভাগ করবেন। সর্বোত্তম গুলোর একভাগ, মধ্যম ধরনের পশুগুলোর একভাগ আর নিকৃষ্ট গুলোর জন্য একভাগ। পরে তিনি মধ্যম ধরনের পশুগুলো থেকে যাকাতের অংশ গ্রহণ করবেন। রাবী বলেন, ইমাম যুহরী (রাহঃ) এই রিওয়ায়াতে গরুর কথা উল্লেখ করেননি। এই বিষয়ে আবু বকর সিদ্দীক, বাহয ইবনে হাকীম-পিতা-পিতাসহ (রাযিঃ) থেকে আবু যর্ ও আনাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রাহঃ) বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। সাধারণ ভাবে ফকীহ্গণ এই হাদীসটি অনুসারে অভিমত গ্রহণকরেছেন। ইউনুস ইবনে ইয়াযীদ প্রমুখ যুহরী হতে সালিম (রাহঃ) সূত্রে এই হাদীসটি রিওয়ায়াতে করেছেন। কিন্তু তাঁরা মারফূ হিসাবে তা করেননি। কেবল সুফিয়ান ইবনে হুসাইনই এটিকে মারফূ হিসাবে রিওয়ায়াত করেছেন।

গরুর যাকাত।

باب مَا جَاءَ فِي زَكَاةِ الْبَقَرِ .

৬২২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ، وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ خُصَيْفٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فِي ثَلاَثِينَ مِنَ الْبَقَرِ تَبِيعٌ أَوْ تَبِيعَةٌ وَفِي أَرْبَعِينَ مُسِنَّةٌ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا رَوَاهُ عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ حَرْبٍ عَنْ خُصَيْفٍ وَعَبْدُ السَّلاَمِ ثِقَةٌ حَافِظٌ . وَرَوَى شَرِيكٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ خُصَيْفٍ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ عَنْ أُمِّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ . وَأَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬২২. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ আল মুহারিবীও আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ ত্রিশটি গরুতে একটি পূর্ণ এক বছর বয়স্ক গরু বা গাভী, প্রতি চল্লিশটিতে পূর্ণ দুই বছর বয়স্ক গাভী (যাকাত হিসাবে দিতে হয়)। - ইবনে মাজাহ ১৮০৪

এই বিষয়ে মু’আয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেনঃ খুসায়ফ (রাযিঃ) থেকে ও আব্দুস্ সালাম ইবনে হারব (রাহঃ) এইরূপই বর্ণনা করেছেন। আব্দুস সালাম (রাহঃ) নির্ভরযোগ্য ও (হাদীসের) হাফিয। শারীক এই হাদীসটিকে খুসায়ফ আবু উবাইদা সূত্রে তার পিতা থেকে আব্দুল্লাহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই আবু উবাইদা ইবনে আব্দুল্লাহ তার পিতা থেকে কোন হাদীস শুনেননি।
৬২৩

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ بَعَثَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْيَمَنِ فَأَمَرَنِي أَنْ آخُذَ مِنْ كُلِّ ثَلاَثِينَ بَقَرَةً تَبِيعًا أَوْ تَبِيعَةً وَمِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ مُسِنَّةً وَمِنْ كُلِّ حَالِمٍ دِينَارًا أَوْ عِدْلَهُ مَعَافِرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَرَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ سُفْيَانَ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ مَسْرُوقٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ فَأَمَرَهُ أَنْ يَأْخُذَ . وَهَذَا أَصَحُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৬২৩. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ...... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত।তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে ইয়ামানে প্রেরণ করেন এবং আমাকে নিদের্শে দেন যে, আমি যেন প্রতি ত্রিশটি গরুতে পূর্ণ এক বছরের একটি ষাঁড় বা গাভী এবং প্রতি চল্লিশটিতে পূর্ণ দুই বছরের একটি গাভী (যাকাত হিসাবে) গ্রহণ করি এবং প্রত্যেক বালিগ ব্যক্তির পক্ষ থেকে এক দীনার বা সমপরিমাণ মা’আফিরী কাপড় (জিযয়া হিসাবে) সংগ্রহ করি। - ইবনে মাজাহ ১৮০৩

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন,এই হাদীসটি হাসান। কোন কোন রাবী এই হাদীসটিকে সুফিয়ান, আ’মাশ, আবু ওয়াইল, মাসরূক (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) মু’আয (রাযিঃ) কে ইয়ামান প্রেরণ করেন এবং তাকে নির্দেশ দেন যেন তিনি গ্রহণ করেন। এই রিওয়ায়াতটি অধিকতর সহীহ।
৬২৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ قَالَ سَأَلْتُ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ هَلْ تَذْكُرُ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ شَيْئًا قَالَ لاَ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে মুররা (রাঃ)

৬২৪. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... আমর ইবনে মুররা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু উবাইদা ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি আব্দুল্লাহ থেকে কোন বিষয় স্মরণ রাখেন? তিনি বললেন না।

যাকাত হিসাবে উত্তম মাল সংগ্রহ করা নিষেধ।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ أَخْذِ خِيَارِ الْمَالِ فِي الصَّدَقَةِ .

৬২৫

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَاقَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَيْفِيٍّ، عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ لَهُ " إِنَّكَ تَأْتِي قَوْمًا أَهْلَ كِتَابٍ فَادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ وَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهَا لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ حِجَابٌ " . وَفِي الْبَابِ عَنِ الصُّنَابِحِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو مَعْبَدٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ اسْمُهُ نَافِذٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬২৫. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মু’আয (রাযিঃ) কে ইয়ামানে পাঠালেন। তখন তিনি তাকে বলেনঃ তুমি কিতাবী এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। তুমি প্রথমে তাদের এই কথার সাক্ষ্য দিতে আহবান জানবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি তাঁর রাসূল। তারা যদি এই বিষয়ে তোমার আনুগত্য করে তবে তাদের অবহতি করবে যে, আল্লাহ তাদের উপর দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। তারা যদি এই বিষয়ে তোমার কথা মেনে নেয় তবে তাদের জানাবে যে, আল্লাহ তাআলা তাদের উপর তাদের সম্পদে যাকাত ফরয করেছেন। তা তাদের ধনীদের থেকে সংগ্রহ করা হবে এবং তাদের গরীবদের মধ্যে বন্টন করে দেওয়া হবে। তারা যদি এতে তোমার আনুগত্য করে তবে তুমি তদের উত্তম মাল গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে। আর তুমি মাজলূমের দুআ থেকে বেঁচে থাকবে; কেননা আল্লাহ ও তার মাঝে কোন আড়াল নেই। - ইবনে মাজাহ ১৭৮৩, বুখারি ও মুসলিম

এই বিষয়ে সুনবীহ্ (রাহঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান- সহীহ। রাবী আবু মা’বাদ (রাযিঃ) হলেন ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর আযাদকৃত দাস। তার নাম নাফিয।

ফল, ফসল ও শস্যের যাকাত।

باب مَا جَاءَ فِي صَدَقَةِ الزَّرْعِ وَالتَّمْرِ وَالْحُبُوبِ .

৬২৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَجَابِرٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬২৬. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ পাঁচটি উটের কমে যাকাত নাই, পাঁচ উকিয়া (এক উকিয়া = ৪০ দিরহাম) এর কম রৌপ্য মুদ্রার যাকাত নাই, পাঁচ ওয়াসাক (এক ওয়াসাক = ৬০সা’) এর কম শস্যের যাকাত নাই। - ইবনে মাজাহ ১৭৯৩, বুখারি ও মুসলিম

এই বিষয়ে আবু হুরায়রা, ইবনে উমর, জাবিরও আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
৬২৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، وَشُعْبَةُ، وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ حَدِيثِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْهُ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ . وَالْوَسْقُ سِتُّونَ صَاعًا وَخَمْسَةُ أَوْسُقٍ ثَلاَثُمِائَةِ صَاعٍ وَصَاعُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خَمْسَةُ أَرْطَالٍ وَثُلُثٌ وَصَاعُ أَهْلِ الْكُوفَةِ ثَمَانِيَةُ أَرْطَالٍ . وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ وَالأُوقِيَّةُ أَرْبَعُونَ دِرْهَمًا وَخَمْسُ أَوَاقٍ مِائَتَا دِرْهَمٍ . وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ يَعْنِي لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسٍ مِنَ الإِبِلِ صَدَقَةٌ فَإِذَا بَلَغَتْ خَمْسًا وَعِشْرِينَ مِنَ الإِبِلِ فَفِيهَا بِنْتُ مَخَاضٍ وَفِيمَا دُونَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ مِنَ الإِبِلِ فِي كُلِّ خَمْسٍ مِنَ الإِبِلِ شَاةٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬২৭. মুহাম্মাদ ইবনে বশশার (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে আব্দুল আযীয (রাহঃ) আমর ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু সাঈদ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। তাঁর থেকে একাধিক সূত্রে হাদীস বর্ণিত আছে। আলিমগণের আমলও এ হাদীস অনুযায়ী যে, পাঁচ ওয়াসাকের কম (কৃষিজ ফসলের) ক্ষেত্রে যাকাত নেই। এক ওয়াসাক হল ষাট সা’। সুতরাং পাঁচ ওয়াসাক হল তিনশ সা’। নবী (ﷺ) এর সা এর পরিমাণ ছিল, পাঁচ রতল ও এক রতলের এক তৃতীয়াংশ। কুফাবাসীদের সা এর পরিমাণ হল আট রতল। পাঁচ উকিয়ার কমে রৌপ্যের যাকাত নেই। এক উকিয়া হল চল্লিশ দিরহাম। পাঁচ উকিয়ায় হয় দুইশ দিরহাম। পাঁচ উট থেকে কম হলে যাকাত নেই। পাঁচিশটি উট হলে এতে একটি বিনতে মাখায (এক বছরবয়স্ক মাদী উট) ওয়াজিব হয়। আর পঁচিশটির কমের ক্ষেত্রে প্রতি পাঁচটি উটের উপর একটি বকরী যাকাত আসে।

ঘোড়া ও দাস-দাসীর যাকাত নেই।

باب مَا جَاءَ لَيْسَ فِي الْخَيْلِ وَالرَّقِيقِ صَدَقَةٌ .

৬২৮

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، وَشُعْبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِ فِي فَرَسِهِ وَلاَ فِي عَبْدِهِ صَدَقَةٌ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُ لَيْسَ فِي الْخَيْلِ السَّائِمَةِ صَدَقَةٌ وَلاَ فِي الرَّقِيقِ إِذَا كَانُوا لِلْخِدْمَةِ صَدَقَةٌ إِلاَّ أَنْ يَكُونُوا لِلتِّجَارَةِ فَإِذَا كَانُوا لِلتِّجَارَةِ فَفِي أَثْمَانِهِمُ الزَّكَاةُ إِذَا حَالَ عَلَيْهَا الْحَوْلُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২৮. আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনে আলা ও মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলিমের ঘোড়া ও দাসের উপর কোন যাকাত নেই। - ইবনে মাজাহ ১৮১২, বুখারি ও মুসলিম

এই বিষয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ও আলা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ্। আমিগণের আমল এই হাদীসের অনুযায়ী যে, সাইমা* ঘোড়ার উপর যাকাত নেই। আর খিদমতের জন্যে নিয়োজিত দাস-দাসীদের উপর যাকাত নেই। কিন্তু ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে হলে ভিন্ন কথা। অর্থাৎ ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে হলে, এক বছর পূর্ণ হলে মূল্যের উপর যাকাত ধার্য হবে।

*যে ঘোড়া বছরের অধিকাংশ সময় চারণক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে চরে বেড়ায় তাকে 'সাইমা' বলে।

মধুর যাকাত।

باب مَا جَاءَ فِي زَكَاةِ الْعَسَلِ .

৬২৯

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ التِّنِّيسِيُّ، عَنْ صَدَقَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ مُوسَى بْنِ يَسَارٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فِي الْعَسَلِ فِي كُلِّ عَشَرَةِ أَزُقٍّ زِقٌّ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي سَيَّارَةَ الْمُتَعِيِّ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ فِي إِسْنَادِهِ مَقَالٌ وَلاَ يَصِحُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْبَابِ كَبِيرُ شَيْءٍ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لَيْسَ فِي الْعَسَلِ شَيْءٌ . وَصَدَقَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ لَيْسَ بِحَافِظٍ وَقَدْ خُولِفَ صَدَقَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ فِي رِوَايَةِ هَذَا الْحَدِيثِ عَنْ نَافِعٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬২৯. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া নীসাপুরী (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলূল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রতি দশ মোশক মধুর মধ্যে এক মোশক (যাকাত)। - ইবনে মাজাহ ১৮২৪

এই বিষয়ে আবু হুরায়রা, আবু সায়্যারা আল- মুতাঈ, আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাযিঃ) বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটির সনদে বিতর্ক রয়েছে। এই বিষয়ে নবী (ﷺ) থেকে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু বর্ণনা নেই। অধিকাংশ আলিমের আমল এ অনুযায়ী। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) ও এ মত পোষণ করেন। পক্ষান্তরে, কোন কোন উলামার মতে মধুর উপর কোন কিছু (যাকাত) নেই।
৬৩০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ قَالَ: سَأَلَنِي عُمَرُ بْنُ عَبْدِ العَزِيزِ عَنْ صَدَقَةِ العَسَلِ، قَالَ: قُلْتُ: مَا عِنْدَنَا عَسَلٌ نَتَصَدَّقُ مِنْهُ، وَلَكِنْ أَخْبَرَنَا المُغِيرَةُ بْنُ حَكِيمٍ أَنَّهُ قَالَ: «لَيْسَ فِي العَسَلِ صَدَقَةٌ» ، فَقَالَ عُمَرُ: «عَدْلٌ مَرْضِيٌّ، فَكَتَبَ إِلَى النَّاسِ أَنْ تُوضَعَ» ، يَعْنِي عَنْهُمْ

বর্ণনাকারী: নাফি' ইবনে জুবাইর (রহঃ)

৬৩০ মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... নাফি (রহঃ) বলেন, উমার ইবনে আব্দুল আযীয আমাকে মধুর যাকাত সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। আমি জবাবে বললামঃ (যাকাত দেওয়ার মত) মধু আমাদের কাছে নাই যাতে আমরা যাকাত দিব। কিন্তু মুগীরা ইবনে হাকীম আমাদেরকে জানিয়েছেন যে, মধুতে কোন যাকাত নেই। (একথা শুনে) উমর ইবনে আব্দুল আযীয বললেনঃ তিনি (মুগীরা) ন্যায়পরায়ণ, গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। অতঃপর তিনি নির্দেশ জারী করলেন যে, মধুতে যাকাত আদায় করতে হবে না।

পূর্ণ বছ আবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত বছরের মাঝে প্রাপ্ত সম্পদে যাকাত নেই।

باب مَا جَاءَ لاَ زَكَاةَ عَلَى الْمَالِ الْمُسْتَفَادِ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ

৬৩১

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ صَالِحٍ الطَّلْحِيُّ الْمَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنِ اسْتَفَادَ مَالاً فَلاَ زَكَاةَ عَلَيْهِ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ عِنْدَ رَبِّهِ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ سَرَّاءَ بِنْتِ نَبْهَانَ الْغَنَوِيَّةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৩১. ইয়াহয়া ইবনে মুসা (রাহঃ) ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ইরশাদ করেনঃ যদি বছরের মাঝে কারো সম্পদ লাভ হয়, তবে উক্ত মালিকের নিকট বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে যাকাত নেই। - ইবনে মাজাহ ১৭৯২

এই বিষয়ে সারা বিনতে নাবহান আল-গানাবিয়্যা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
৬৩২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ مَنِ اسْتَفَادَ مَالاً فَلاَ زَكَاةَ فِيهِ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ عِنْدَ رَبِّهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى أَيُّوبُ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ مَوْقُوفًا . وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ ضَعِيفٌ فِي الْحَدِيثِ ضَعَّفَهُ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ وَعَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ وَغَيْرُهُمَا مِنْ أَهْلِ الْحَدِيثِ وَهُوَ كَثِيرُ الْغَلَطِ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنْ لاَ زَكَاةَ فِي الْمَالِ الْمُسْتَفَادِ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ . وَبِهِ يَقُولُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا كَانَ عِنْدَهُ مَالٌ تَجِبُ فِيهِ الزَّكَاةُ فَفِيهِ الزَّكَاةُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ سِوَى الْمَالِ الْمُسْتَفَادِ مَا تَجِبُ فِيهِ الزَّكَاةُ لَمْ يَجِبْ عَلَيْهِ فِي الْمَالِ الْمُسْتَفَادِ زَكَاةٌ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ فَإِنِ اسْتَفَادَ مَالاً قَبْلَ أَنْ يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ فَإِنَّهُ يُزَكِّي الْمَالَ الْمُسْتَفَادَ مَعَ مَالِهِ الَّذِي وَجَبَتْ فِيهِ الزَّكَاةُ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَأَهْلُ الْكُوفَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৩২. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কারো যদি বছরের মাঝে সম্পদ লাভ হয় তবে এই মালিকের নিকট বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাতে যাকাত ধার্য হবে না।

আব্দুর রহমান ইবনে যায়দ ইবনে আসলাম (রাযিঃ) বর্ণিত রিওয়ায়াতটির তুলনায় এই রিওয়ায়াতটি অধিকতর সহীহ্। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আইয়ুব, উবাইদুল্লাহ প্রমুখ এ হাদীসকে নাফি’ (রাহঃ) ইবনে উমর (রাযিঃ) এর সনদে মাউকুফরূপে রিওয়ায়াত করেছেন। আব্দুর রহমান ইবনে যায়দ ইবনে আসলাম হাদীসের ক্ষেত্রে যঈফ। আহমাদ বি্ন হাম্বল, আলী ইবনে আল-মাদীনী (রাযিঃ) প্রমুখ হাদীস বিশারদ তাকে যঈফ বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বহু ভুল করে থাকেন। একাধিক সাহাবী থেকে বর্ণিত আছে যে, পূর্ণ এক বছর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত, বছরের মাঝে প্রাপ্ত সম্পদে যাকাত নেই। এ হল ইমাম মালিক ইবনে আনাস, শাফিঈ, আহমাদ ইবনে হাম্বল ও ইসহাক (রাহঃ) এর অভিমত। কোন কোন আলিম বলেন, যদি কারো কাছে পূর্ব থেকেই যাকাত ধার্য হওয়ার মত পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে বছরের মাঝে প্রাপ্ত এই সম্পদেও যাকাত ধার্য হবে। আর যদি বছরের মাঝে প্রাপ্ত সম্পদ ছাড়া এমন কোন সম্পদ তার না থাকে যতটুকুতে যাকাত ধার্য হতে পারে তবে পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই যদি কারো সম্পদ প্রাপ্তি ঘটে তবে তার যে সমস্ত সম্পদে (পূর্ব থেকেই) যাকাত ছিল সেই সম্পদের সাথে যোগ করে প্রাপ্ত এই সম্পদেরও যাকাত তাকে দিতে হবে। এ হল সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসী আলিমগণের অভিমত।

মুসলিমদের উপর জিযয়া নেই।

باب مَا جَاءَ لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ جِزْيَةٌ

৬৩৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَكْثَمَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ قَابُوسِ بْنِ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَصْلُحُ قِبْلَتَانِ فِي أَرْضٍ وَاحِدَةٍ وَلَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ جِزْيَةٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৩৩. ইয়াহয়া ইবনে আকসাম (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একই দেশে (আরবে) দুই কিবলার সুযোগ পাবে না* আর মুসলমানদের উপর জিযয়া নেই।

*মুসলিম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মাবলম্বী আরবের ভূমিতে থাকতে পারবে না।
৬৩৪

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ قَابُوسَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ . وَفِي الْبَابِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، وَجَدِّ حَرْبِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ الثَّقَفِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ قَدْ رُوِيَ عَنْ قَابُوسِ بْنِ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ عَامَّةِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ النَّصْرَانِيَّ إِذَا أَسْلَمَ وُضِعَتْ عَنْهُ جِزْيَةُ رَقَبَتِهِ . وَقَوْلُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ عُشُورٌ " إِنَّمَا يَعْنِي بِهِ جِزْيَةَ الرَّقَبَةِ وَفِي الْحَدِيثِ مَا يُفَسِّرُ هَذَا حَيْثُ قَالَ " إِنَّمَا الْعُشُورُ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى وَلَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ عُشُورٌ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৬৩৪. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ..... কাবুস (রাহঃ) থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেন।

এই বিষয়ে সাঈদ ইবনে যায়দ এবং হারব ইবনে উবাইদুল্লাহ সাকাফীর পিতামহ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ইসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি কাবুস ইবনে আবু যাবিয়ান তাঁর পিতা আবু যাবিয়ান সূত্রে মুরসালরূপেও বর্ণিত আছে। সাধারণভাবে আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। তাঁরা বলেন, কোন খৃষ্টান ব্যক্তি যদি ইসলাম গ্রহণ করে তবে তার থেকে জিযয়া রহিত হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাণীঃ মুসলিমদের উপর ’’জিযয়া উশর’’ ধার্য হয় না। এখানে ’’জিযয়া উশর’’ অর্থ বা ব্যক্তির উপর ধার্য জিযয়া হাদীসে এই ব্যাখ্যার ইঙ্গিতও বিদ্যমান। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ উশর ধার্য হয় ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের উপর, মুসলিমদের উপর উশর নেই।

অলংকারের যাকাত।

باب مَا جَاءَ فِي زَكَاةِ الْحُلِيِّ

৬৩৫

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ بْنِ الْمُصْطَلِقِ، عَنِ ابْنِ أَخِي، زَيْنَبَ امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ زَيْنَبَ، امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَتْ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ وَلَوْ مِنْ حُلِيِّكُنَّ فَإِنَّكُنَّ أَكْثَرُ أَهْلِ جَهَنَّمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .

বর্ণনাকারী: যায়নাব -ইবনে মাসউদ রাঃ এর স্ত্রী- (রাঃ)

৬৩৫. হান্নাদ .... আব্দুল্লাহর স্ত্রী যায়নাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে খুতবা দিলেন এবং বললেনঃ হে নারী সমাজ! তোমরা সাদ্‌কা দাও, তোমাদের অলংকার থেকে হলেও। কারণ কিয়ামতের দিন জাহান্নামবাসীদের মধ্যে তোমরাই হবে অধিক।

৬৩৬

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ، يُحَدِّثُ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ ابْنِ أَخِي، زَيْنَبَ امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ - عَنْ زَيْنَبَ، - امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي مُعَاوِيَةَ وَأَبُو مُعَاوِيَةَ وَهِمَ فِي حَدِيثِهِ فَقَالَ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنِ ابْنِ أَخِي زَيْنَبَ . وَالصَّحِيحُ إِنَّمَا هُوَ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ ابْنِ أَخِي زَيْنَبَ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ رَأَى فِي الْحُلِيِّ زَكَاةً . وَفِي إِسْنَادِ هَذَا الْحَدِيثِ مَقَالٌ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي ذَلِكَ فَرَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ فِي الْحُلِيِّ زَكَاةَ مَا كَانَ مِنْهُ ذَهَبٌ وَفِضَّةٌ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ . وَقَالَ بَعْضُ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمُ ابْنُ عُمَرَ وَعَائِشَةُ وَجَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَأَنَسُ بْنُ مَالِكٍ لَيْسَ فِي الْحُلِيِّ زَكَاةٌ . وَهَكَذَا رُوِيَ عَنْ بَعْضِ فُقَهَاءِ التَّابِعِينَ وَبِهِ يَقُولُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .

বর্ণনাকারী: যায়নাব -ইবনে মাসউদ রাঃ এর স্ত্রী- (রাঃ)

৬৩৬. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহর স্ত্রী যায়নাব (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাযিঃ) বলেন, আবু মুআবিয়া (রাযিঃ) এর রিওয়ায়াত থেকে এটি অধিকতর সহীহ্। আবু মুআবিয়া তাঁর রিওয়ায়েতে সন্দেহে পতিত হয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমর ইবনে হারিস যায়নাবের ভ্রাতুষ্পুত্র থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। অথচ বিশুদ্ধ হল আমর ইবনে হারিস যায়নাবের ভ্রাতুষ্পুত্র আমর ইবনে শুআয়ব তার পিতামহ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি অলংকারের যাকাতের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তাঁর এই সনদে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কোন কোন সাহাবী ও তাবিঈ বলেন, সোনা ও রূপার অলংকার হলে তার উপর যাকাত রয়েছে। এ হল সুফিয়ান সাওরী এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রাহঃ) এর অভিমত। ইবনে উমর, আয়িশা, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ, আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) সহ কতক সাহাবীর অভিমত হল যে, অলংকারে যাকাত নেই। তাবিঈদের মধ্যে কোন কোন ফকীহ থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে। ইমাম মালিক ইবনে আনাস, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর অভিমতও এ-ই।
৬৩৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ امْرَأَتَيْنِ، أَتَتَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَفِي أَيْدِيهِمَا سُوَارَانِ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ لَهُمَا " أَتُؤَدِّيَانِ زَكَاتَهُ " . قَالَتَا لاَ . قَالَ فَقَالَ لَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَتُحِبَّانِ أَنْ يُسَوِّرَكُمَا اللَّهُ بِسُوَارَيْنِ مِنْ نَارٍ " . قَالَتَا لاَ . قَالَ " فَأَدِّيَا زَكَاتَهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ قَدْ رَوَاهُ الْمُثَنَّى بْنُ الصَّبَّاحِ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ نَحْوَ هَذَا . وَالْمُثَنَّى بْنُ الصَّبَّاحِ وَابْنُ لَهِيعَةَ يُضَعَّفَانِ فِي الْحَدِيثِ وَلاَ يَصِحُّ فِي هَذَا الْبَابِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم شَيْءٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৬৩৭. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আমর ইবনে শুআয়ব তার পিতা-পিতাসহ (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, একবার দুজন মহিলা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে আসে। তাদের হাতে ছিল সোনার দুটি কঙ্কন। তিনি তাদের বললেনঃ তোমরা কি এর যাকাত আদায় করে থাক? তারা বললঃ না। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের বললেনঃ তোমরা কি পছন্দ কর যে, তোমাদের হাতে আল্লাহ তাআলা আগুনের দুটি কঙ্কন পরিয়ে দিবেন? তারা বললঃ না। তিনি বললেনঃ তা হলে তোমরা এর যাকাত দিবে।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, মুসান্না ইবনুস সাববাহ (রাহঃ) এই হাদীসটি আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) এর বরাতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। মুসান্না ইবনে সাববাহ এবং ইবনে লাহীআ উভয় হাদীসের ক্ষেত্রে যঈফ। মোটকথা, এই বিষয়ে নবী (ﷺ) থেকে কোন সহীহ রিওয়ায়াত নেই।

শাক-সবজির যাকাত ।

باب مَا جَاءَ فِي زَكَاةِ الْخُضْرَوَاتِ

৬৩৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُمَارَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ مُعَاذٍ، أَنَّهُ كَتَبَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَسْأَلُهُ عَنِ الْخُضْرَوَاتِ وَهِيَ الْبُقُولُ فَقَالَ " لَيْسَ فِيهَا شَيْءٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى إِسْنَادُ هَذَا الْحَدِيثِ لَيْسَ بِصَحِيحٍ وَلَيْسَ يَصِحُّ فِي هَذَا الْبَابِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم شَيْءٌ وَإِنَّمَا يُرْوَى هَذَا عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ لَيْسَ فِي الْخُضْرَوَاتِ صَدَقَةٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَالْحَسَنُ هُوَ ابْنُ عُمَارَةَ وَهُوَ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ ضَعَّفَهُ شُعْبَةُ وَغَيْرُهُ وَتَرَكَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৬৩৮. আলী ইবনে খাশরাম (রাহঃ) ...... মুআয (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে,তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট শাক-সবজি অর্থাৎ তরিতরকারী (এর যাকাত) সম্পর্কে জানতে চেয়ে পত্র লিখেছেলেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তখন বলেছিলেনঃ এতে কিছু নেই।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটির সনদ সহীহ্ নয়। এই বিষয়ে নবী (ﷺ) থেকে সহীহ্ কিছু বর্ণিত নেই। এই রিওয়ায়াতটি মুসা ইবনে তালহা (রাহঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে মুরসাল হিসাবে বর্ণিত আছে। এই হাদীস অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে যে, শাক- সবজির কোন যাকাত নেই। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, রাবী হাসান হলেন, ইবনে উমরা। হাদীসবেত্তাগণের দৃষ্টিতে তিনি যঈফ। শু’বা (রাহঃ) প্রমূখ তাঁকে যঈফ বলেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রাহঃ) তাকে বর্জন করেছেন।

নদী-নালার পানি সিঞ্চনে যা উৎপাদিত হয় তার যাকাত।

باب مَا جَاءَ فِي الصَّدَقَةِ فِيمَا يُسْقَى بِالأَنْهَارِ وَغَيْرِهِ

৬৩৯

حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْمَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي ذُبَابٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، وَبُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فِيمَا سَقَتِ السَّمَاءُ وَالْعُيُونُ الْعُشْرُ وَفِيمَا سُقِيَ بِالنَّضْحِ نِصْفُ الْعُشْرِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَابْنِ عُمَرَ وَجَابِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ وَبُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً . وَكَأَنَّ هَذَا أَصَحُّ . وَقَدْ صَحَّ حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْبَابِ وَعَلَيْهِ الْعَمَلُ عِنْدَ عَامَّةِ الْفُقَهَاءِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৩৯. আবু মুসা আল-আনসারী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, রাসলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ বৃষ্টি ও ঝর্ণার পানি দিয়ে যা উৎপাদিত হয় তাতে হল উশর (দশ ভাগের এক ভাগ) এবং সেচের মাধ্যমে যা উৎপাদিত হয় তাতে হল নিসফ উশর (বিশ ভাগের এক ভাগ)।

এই বিষয়ে আনাস ইবনে মালিক, ইবনে উমর ও জাবির (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি বুকায়র ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আশাজ্জ এবং সুলাইমান ইবনে ইয়াসার ও বুসর ইবনে সাঈদ (রাহঃ) এর বরাতে নবী (ﷺ) থেকে মুরসাল হিসাবে বর্ণিত আছে। এই হাদীসটি অধিকতর সহীহ্। এই বিষয়ে ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রেও নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীস বর্ণিত আছে। অধিকাংশ ফকীহগণের আমল এই হাদীসের অনুসারে রয়েছে।
৬৪০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ سَنَّ فِيمَا سَقَتِ السَّمَاءُ وَالْعُيُونُ أَوْ كَانَ عَثَرِيًّا الْعُشْرُ وَفِيمَا سُقِيَ بِالنَّضْحِ نِصْفُ الْعُشْرِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৪০. আহমাদ ইবনে হাসান (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বৃষ্টির, ঝর্ণার বা নালার পানি দ্বারা যা উৎপাদিত হয় তার উপর উশর’ ধার্য করেছেন। আর সেচের মাধ্যমে যা উৎপাদিত হয় তার উপর ‘নিসফ’ উশর। - ইবনে মাজাহ ১৮১৭, বুখারি ও মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ্।

ইয়াতীমের সম্পদে যাকাত।

باب مَا جَاءَ فِي زَكَاةِ مَالِ الْيَتِيمِ

৬৪১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الْمُثَنَّى بْنِ الصَّبَّاحِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ النَّاسَ فَقَالَ " أَلاَ مَنْ وَلِيَ يَتِيمًا لَهُ مَالٌ فَلْيَتَّجِرْ فِيهِ وَلاَ يَتْرُكْهُ حَتَّى تَأْكُلَهُ الصَّدَقَةُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَإِنَّمَا رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَفِي إِسْنَادِهِ مَقَالٌ لأَنَّ الْمُثَنَّى بْنَ الصَّبَّاحِ يُضَعَّفُ فِي الْحَدِيثِ . وَرَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ . فَذَكَرَ هَذَا الْحَدِيثَ . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي هَذَا الْبَابِ فَرَأَى غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي مَالِ الْيَتِيمِ زَكَاةً . مِنْهُمْ عُمَرُ وَعَلِيٌّ وَعَائِشَةُ وَابْنُ عُمَرَ وَبِهِ يَقُولُ مَالِكٌ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ لَيْسَ فِي مَالِ الْيَتِيمِ زَكَاةٌ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ . وَعَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ هُوَ ابْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَشُعَيْبٌ قَدْ سَمِعَ مِنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . وَقَدْ تَكَلَّمَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ فِي حَدِيثِ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ وَقَالَ هُوَ عِنْدَنَا وَاهٍ . وَمَنْ ضَعَّفَهُ فَإِنَّمَا ضَعَّفَهُ مِنْ قِبَلِ أَنَّهُ يُحَدِّثُ مِنْ صَحِيفَةِ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَأَمَّا أَكْثَرُ أَهْلِ الْحَدِيثِ فَيَحْتَجُّونَ بِحَدِيثِ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ وَيُثْبِتُونَهُ مِنْهُمْ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ وَغَيْرُهُمَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৬৪১. মুহাম্মাদ ইসমাঈল (রাহঃ) .... আমর ইবনে শুআয়ব তৎপিতা পিতামহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, একদিন নবী (ﷺ) খুতবা দিলেন। তাতে বললেনঃ শুনে রাখ! কেউ যদি কোন ইয়াতীমের সম্পদের মুতাওয়াল্লী হয়, সে যেন তার ব্যবসায়ে নিয়োগ করে। যাকাত দিতে দিতে তা শেষ হয়ে এই অবস্থায় যেন ছেড়ে না রাখে।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই সনদে হাদীসটি বর্ণিত আছে, কিন্তু এর সনদ সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে। কেননা মুসান্না ইবনুস সাববাহ হাদীসে যঈফ। কেউ কেউ হাদীসটি আমর ইবনে শুআয়ব থেকে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। উমর, আলী, আয়িশা, ইবনে উমর (রাযিঃ) সহ কতক সাহাবী ইয়াতীমের সম্পদে যাকাত ধার্য হয় বলে মত পোষণ করেন। ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাযিঃ) এর বক্তব্য এ-ই। আলিমদের একদল বলেন, ইয়াতীমের সম্পদে যাকাত নেই। এ হল সুফিয়ান সাওরী ও আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রাহঃ)-এর অভিমত।

আমর ইবনে শুআয়বের বংশ তালিকা হলো ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনে আস (রাযিঃ)। শু’আয়ব তাঁর পিতামহ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে হাদীস শুনেছেন। আমর ইবনে শুআয়ব (রাযিঃ) এর রিওয়ায়াতগুলো সম্পর্কে ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের মতে এগুলো হলো ভিত্তিহীন। যা হোক তাঁকে যঈফ বলার কারণ হলো, তিনি তার পিতামহ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) এর সহীফা (পান্ডুলিপি) থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন (সরাসরি শুনে নয়)। তবে ইমাম আহমাদ, ইসহাক প্রমুখ সহ অধিকাংশ হাদীস বিশারদ আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ)-এর হাদীস প্রামাণ্য হিসাবে গ্রহণ করে থাকেন এবং তারা সেগুলো নির্ভরযোগ্য বলে মনে করেন।

বোবা জন্তুর আঘাতের কোন দায়-দায়িত্ব নেই এবং খনিজ সম্পদের উপর এক পঞ্চামাংশ ওয়াজিব।

باب مَا جَاءَ أَنَّ الْعَجْمَاءَ جُرْحُهَا جُبَارٌ وَفِي الرِّكَازِ الْخُمُسُ

৬৪২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْعَجْمَاءُ جُرْحُهَا جُبَارٌ وَالْمَعْدِنُ جُبَارٌ وَالْبِئْرُ جُبَارٌ وَفِي الرِّكَازِ الْخُمْسُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ وَعَمْرِو بْنِ عَوْفٍ الْمُزَنِيِّ وَجَابِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৪২. কুতায়বা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বোবা জন্তুর আঘাতের কোন দায়-দায়িত্ব নেই, খনির উপরও কোন দায়-দায়িত্ব নেই, কূপেরও কোন দায়-দায়িত্ব নেই। আর কোন গুপ্ত সম্পদের উপর এক পঞ্চমাংশ। - ইবনে মাজাহ ২৬৭৩, বুখারি ও মুসলিম

এই বিষয়ে আনাস ইবনে মালিক, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, উবাইদা ইবনে সামিত, আমর ইবনে আওফ আল্ মুয়ানী ও জাবির (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ্।

(যাকাতের জন্য) ফসলাদির অনুমান করা।

باب مَا جَاءَ فِي الْخَرْصِ

৬৪৩

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي خُبَيْبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مَسْعُودِ بْنِ نِيَارٍ، يَقُولُ جَاءَ سَهْلُ بْنُ أَبِي حَثْمَةَ إِلَى مَجْلِسِنَا فَحَدَّثَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " إِذَا خَرَصْتُمْ فَخُذُوا وَدَعُوا الثُّلُثَ فَإِنْ لَمْ تَدَعُوا الثُّلُثَ فَدَعُوا الرُّبُعَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَعَتَّابِ بْنِ أَسِيدٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَالْعَمَلُ عَلَى حَدِيثِ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الْخَرْصِ وَبِحَدِيثِ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَالْخَرْصُ إِذَا أَدْرَكَتِ الثِّمَارُ مِنَ الرُّطَبِ وَالْعِنَبِ مِمَّا فِيهِ الزَّكَاةُ بَعَثَ السُّلْطَانُ خَارِصًا يَخْرُصُ عَلَيْهِمْ . وَالْخَرْصُ أَنْ يَنْظُرَ مَنْ يُبْصِرُ ذَلِكَ فَيَقُولُ يَخْرُجُ مِنْ هَذَا مِنَ الزَّبِيبِ كَذَا وَكَذَا وَمِنَ التَّمْرِ كَذَا وَكَذَا فَيُحْصَى عَلَيْهِمْ وَيَنْظُرُ مَبْلَغَ الْعُشْرِ مِنْ ذَلِكَ فَيُثْبِتُ عَلَيْهِمْ ثُمَّ يُخَلِّي بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ الثِّمَارِ فَيَصْنَعُونَ مَا أَحَبُّوا فَإِذَا أَدْرَكَتِ الثِّمَارُ أُخِذَ مِنْهُمُ الْعُشْرُ . هَكَذَا فَسَّرَهُ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهَذَا يَقُولُ مَالِكٌ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে আবি হাছমা (রাঃ)

৬৪৩. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে মাসউদ ইবনে নিয়ার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহল ইবনে আবু হাসমা (রাযিঃ) একবার আমাদের বৈঠকে আসেন এবং হাদীস বর্ণনা করলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ তোমরা (যাকাত আদায়কারী) যদি ফসলাদির অনুমান কর তবে সে মতে (যাকাত) গ্রহণ করবে এবং (যাকাত পরিমাণ থেকেও) এক তৃতীয়াংশ পরিমাণ (যাকাত দাতার জন্য) ছেড়ে দিবে। যদি এক তৃতীয়াংশ না ছাড় তবে এক চতুর্থাংশ ছেড়ে দিবে।

এই বিষয়ে আয়িশা, আততাব ইবনে আসীদ এবং ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ফসলাদির অনুমানের ব্যাপারে সাহল ইবনে আবু হাসমা (রাযিঃ)-এর হাদীস অনুসারে অধিকাংশ ইমাম আমল করা অভিমত দিয়েছেন। ইমাম ইসহাক ও আহমাদ (রাহঃ)-এর বক্তব্যও এ-ই। খারস বা অনুমান হয়, কাঁচা খেজুর ও আঙ্গুর ইত্যাদি যে সমস্ত ফলে যাকাত ধার্য হয়, তা যখন পরিপক্ক হয়ে উঠে, তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন অনুমানকারী প্রেরণ করা হবে এবং তিনি কৃষকের ফসলাদির অনুমান করবেন। একজন বিশেষজ্ঞ বাগানের প্রতি বিশ্লেষণধর্মী দৃষ্টি নিক্ষেপ করবেন এবং বললেন, এ থেকে এত পরিমাণ কিসমিস বা এত পরিমাণ খেজুর উৎপাদিত হতে পারে। তখন একটা পরিমাণ ধার্য করা হবে তারপর এর মধ্যে উশর এর পরিমাণ কি হতে পারে তৎপ্রতি লক্ষ্য করে মালিকদের উপর নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। তারপর ফল ও বাগানের মালিকদেরকে ছেড়ে দেওয়া হবে এবং তারা এতে যা ইচ্ছা করবে তা করতে পারবে। পরে ফল যখন পেকে যাবে তখন তা থেকে ঐ হিসাব উশর সংগ্রহ করা হবে। এ ভাবেই কোন কোন আলিম ’‘খারস’-এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর বক্তব্য এ-ই
৬৪৪
حَدَّثَنَا أَبُو عَمْرٍو، مُسْلِمُ بْنُ عَمْرٍو الْحَذَّاءُ الْمَدَنِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ الصَّائِغُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ صَالِحٍ التَّمَّارِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَتَّابِ بْنِ أَسِيدٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَبْعَثُ عَلَى النَّاسِ مَنْ يَخْرُصُ عَلَيْهِمْ كُرُومَهُمْ وَثِمَارَهُمْ .
وَبِهَذَا الإِسْنَادِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي زَكَاةِ الْكُرُومِ " إِنَّهَا تُخْرَصُ كَمَا يُخْرَصُ النَّخْلُ ثُمَّ تُؤَدَّى زَكَاتُهُ زَبِيبًا كَمَا تُؤَدَّى زَكَاةُ النَّخْلِ تَمْرًا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَقَدْ رَوَى ابْنُ جُرَيْجٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ . وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ حَدِيثُ ابْنِ جُرَيْجٍ غَيْرُ مَحْفُوظٍ وَحَدِيثُ ابْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عَتَّابِ بْنِ أَسِيدٍ أَثْبَتُ وَأَصَحُّ .

বর্ণনাকারী: আত্তাব বিন উসাইদ (রাঃ)

৬৪৪. আবু আমর মুসলিম ইবনে আমর হায্যা মাদানী (রাহঃ) ...... আততাব ইবনে আসীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) লোকদের কাছে এমন সব ব্যক্তি প্রেরণ করতেন যারা তাদের আঙ্গুর ও উৎপাদিত ফলের পরিমাণ নির্ণয় করতেন। এই সনদে আরো বর্ণিত আছে যে, নবী (ﷺ) আঙ্গুরের যাকাত প্রসঙ্গে বলেছেনঃ খেজুর ফল যেমন নির্ণয় করা হয় তেমনি আঙ্গুর নির্ণয় করা হবে। এরপর খেজুর থেকে যেমন শুকনো খেজুর যাকাত হিসাব প্রদান করা হয়, তেমনি এ থেকেও যাকাত হিসাব কিসমিস আদায় করা হবে।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গরীব। ইবনে জুরায়জ এই রিওয়ায়াতটি ইবনে শিহাব, উরওয়া ও আয়িশা (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আমি ইমাম মুহাম্মাদ (বুখারী) (রাহঃ)-কে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ইবনে জুবায়জ-এর রিওয়ায়াতটি মাহফুজ বা সংরক্ষিত নয়। সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) আততাব ইবনে আসীদ (রাযিঃ) সনদে বর্ণিত হাদীসটি অধিকতর সহীহ্।

ন্যায়ভাবে যাকাত সংগ্রহকারী।

باب مَا جَاءَ فِي الْعَامِلِ عَلَى الصَّدَقَةِ بِالْحَقِّ

৬৪৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الْعَامِلُ عَلَى الصَّدَقَةِ بِالْحَقِّ كَالْغَازِي فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى بَيْتِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَيَزِيدُ بْنُ عِيَاضٍ ضَعِيفٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ . وَحَدِيثُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ أَصَحُّ .

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

৬৪৫. আহমাদ ইবনে মানী এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, বাড়িতে ফিরে না আসা পর্যন্ত আল্লাহর পথে যুদ্ধরত ব্যক্তির যে মর্যাদা, ন্যায়ভাবে যাকাত সংগ্রহকারী ব্যক্তিরও সেই মর্যদা রয়েছে। - ইবনে মাজাহ ১৮০৯

ইমাম আবু ঈসা (রাযিঃ) বলেন, রাফি ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ্। রাবী ইয়াজিদ ইবনে ইয়াদ হাদীস বিশারদগণের দৃষ্টিতে যঈফ। মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রাহঃ)-এর রিওয়ায়াতটি অধিকতর সহীহ্।

যাকাত সংগ্রহের ক্ষেত্রে সীমালংঘনকারী।

باب مَا جَاءَ فِي الْمُعْتَدِي فِي الصَّدَقَةِ

৬৪৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْمُعْتَدِي فِي الصَّدَقَةِ كَمَانِعِهَا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَنَسٍ حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَقَدْ تَكَلَّمَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ فِي سَعْدِ بْنِ سِنَانٍ . وَهَكَذَا يَقُولُ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ سِنَانٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ . وَيَقُولُ عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ وَابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ سِنَانِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَنَسٍ . قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ وَالصَّحِيحُ سِنَانُ بْنُ سَعْدٍ . وَقَوْلُهُ " الْمُعْتَدِي فِي الصَّدَقَةِ كَمَانِعِهَا " يَقُولُ عَلَى الْمُعْتَدِي مِنَ الإِثْمِ كَمَا عَلَى الْمَانِعِ إِذَا مَنَعَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৪৬. কুতায়বা (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যাকাত সংগ্রহে সীমালংঘনকারী হল যাকাত প্রদানে বাধাদানকারীর মত। - ইবনে মাজাহ ১৮০৮

এই বিষয়ে উমর, উম্মু সালাম ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আনাস (রাযিঃ) থেকে এ সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি গরীব। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) সা’দ ইবনে সিনানের সামালোচনা করেছেন। লাঈস ইবনে সা’দ (রাহঃ) এইরূপ বর্ণনা করেন, ইয়াযীদ ইবনে আবু হাবীব, সা’দ ইবনে সিনান সূত্রে আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আমি মুহাম্মাদ (বুখারী) (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, (সা’দ ইবনে সিনান নয়) সঠিক হল সিনান ইবনে সা’দ। আর এই হাদীস ’’যাকাত সংগ্রহতে সীমালংঘনকারী হল যাকাত প্রদানে বাধাদানকারীর মত’’ এর অর্থ হল বাধাদান করার কারণে বাধাদানকারীর যে গুনাহ হয়, তেমনি এ ক্ষেত্রে সীমালংঘনকারীও তদ্রূপ গুনাহ্গার হয়।

যাকাত আদায়কারীর সন্তুষ্টি।

باب مَا جَاءَ فِي رِضَا الْمُصَدِّقِ

৬৪৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَرِيرٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَتَاكُمُ الْمُصَدِّقُ فَلاَ يُفَارِقَنَّكُمْ إِلاَّ عَنْ رِضًا " .

বর্ণনাকারী: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

৬৪৭. আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ..... জারীর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যাকাত আদায়কারী কর্মচারী তোমাদের নিকট যদি আসে তবে তারা তোমাদের নিকট থেকে যেন সন্তুষ্ট হয়ে যায়। - ইবনে মাজাহ ১৮০২

৬৪৮

حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ دَاوُدَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَرِيرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ دَاوُدَ عَنِ الشَّعْبِيِّ، أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ مُجَالِدٍ . وَقَدْ ضَعَّفَ مُجَالِدًا بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ كَثِيرُ الْغَلَطِ .

বর্ণনাকারী: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

৬৪৮. আবু আম্মার হুসাইন ইবনে হুরাইস (রাহঃ) ..... জারীর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, দাউদ শা’বী সনদে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি মুজালিদ সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াত থেকে অধিকতর সহীহ্। কোন কোন আলিম মুজালিদকে যঈফ (দুর্বল) বলেছেন। তিনি বেশীরভাগ ভুল করে থাকেন। -

ধনীদের থেকে যাকাত গ্রহণ করা হবে এবং দরিদ্রদের মধ্যে তা বন্টন করে দেওয়া হবে।

باب مَا جَاءَ أَنَّ الصَّدَقَةَ تُؤْخَذُ مِنَ الأَغْنِيَاءِ فَتُرَدُّ فِي الْفُقَرَاءِ

৬৪৯

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَدِمَ عَلَيْنَا مُصَدِّقُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذَ الصَّدَقَةَ مِنْ أَغْنِيَائِنَا فَجَعَلَهَا فِي فُقَرَائِنَا وَكُنْتُ غُلاَمًا يَتِيمًا فَأَعْطَانِي مِنْهَا قَلُوصًا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي جُحَيْفَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু জুহাইফা (রাঃ)

৬৪৯. আলি ইবনে সাঈদ আল-কিন্দী কুফী (রাহঃ) ...... আবু জুহায়ফা তাঁর পিতা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের কাছে নবী (ﷺ) কর্তৃক নিযুক্ত যাকাত আদায়কারী এলেন। তিনি আমাদের ধনীদের নিকট থেকে সাদ্‌কা (যাকাত) আদায় করে আমাদের দরিদ্রদের মাঝেই তা বন্টন করে দিলেন। আমি ছিলাম এক ইয়াতীম বালক। আমাকেও তিনি একটি তাজা উটনী দিলেন। এ বিষয়ে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।

ইমাম আবু ঈসা (রাযিঃ) বলেন, আবু জুহায়ফা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসটি হাসান গরীব।

যাদের জন্য যাকাত হালাল।

باب مَا جَاءَ مَنْ تَحِلُّ لَهُ الزَّكَاةُ

৬৫০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، - قَالَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، وَقَالَ، عَلِيٌّ أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، وَالْمَعْنَى، وَاحِدٌ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَأَلَ النَّاسَ وَلَهُ مَا يُغْنِيهِ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَسْأَلَتُهُ فِي وَجْهِهِ خُمُوشٌ أَوْ خُدُوشٌ أَوْ كُدُوحٌ " . قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا يُغْنِيهِ قَالَ " خَمْسُونَ دِرْهَمًا أَوْ قِيمَتُهَا مِنَ الذَّهَبِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ مَسْعُودٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ تَكَلَّمَ شُعْبَةُ فِي حَكِيمِ بْنِ جُبَيْرٍ مِنْ أَجْلِ هَذَا الْحَدِيثِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৫০. কুতায়বা ও আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কারো কাছে যদি প্রয়োজন মিটাবার মত কিছু থাকে এতদসত্ত্বেও সে লোকের কাছে ভিক্ষা চায় তবে কিয়ামতের দিন সে এভাবে উপস্থিত হবে যে যাঞ্ছার কারণে তার চেহারায় খামচানোর বা মারের বা আঘাতের ক্ষত চিহ্ন থাকবে। বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ) কী পরিমাণ সম্পদের কারণে একজন অমুখাপেক্ষী হবে? তিনি বললেনঃ পঞ্চাশ দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা) বা সে পরিমাণ মূল্যের স্বর্ণ।

এ বিষয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস্ বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাযিঃ) বলেন, ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। এ রিওয়ায়াতটির কারণে শু’বা (রাযিঃ) রাবী হাকীম ইবনে জুবাইর-এর সমালোচনা করছেন।
৬৫১

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ جُبَيْرٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ . فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ صَاحِبُ شُعْبَةَ لَوْ غَيْرُ حَكِيمٍ حَدَّثَ بِهَذَا الْحَدِيثِ . فَقَالَ لَهُ سُفْيَانُ وَمَا لِحَكِيمٍ لاَ يُحَدِّثُ عَنْهُ شُعْبَةُ قَالَ نَعَمْ . قَالَ سُفْيَانُ سَمِعْتُ زُبَيْدًا يُحَدِّثُ بِهَذَا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَصْحَابِنَا وَبِهِ يَقُولُ الثَّوْرِيُّ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . قَالُوا إِذَا كَانَ عِنْدَ الرَّجُلِ خَمْسُونَ دِرْهَمًا لَمْ تَحِلَّ لَهُ الصَّدَقَةُ . قَالَ وَلَمْ يَذْهَبْ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى حَدِيثِ حَكِيمِ بْنِ جُبَيْرٍ وَوَسَّعُوا فِي هَذَا وَقَالُوا إِذَا كَانَ عِنْدَهُ خَمْسُونَ دِرْهَمًا أَوْ أَكْثَرُ وَهُوَ مُحْتَاجٌ فَلَهُ أَنْ يَأْخُذَ مِنَ الزَّكَاةِ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَغَيْرِهِ مِنْ أَهْلِ الْفِقْهِ وَالْعِلْمِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৬৫১. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ...... এই হাদীসটি ইয়াহয়া ইবনে আদম (রাহঃ) সুফিয়ান (রাহঃ) সূত্রে হাকীম, ইবনে জুবাইর থেকে রিওয়ায়াত করেছেন। শু’বা (রাহঃ)-এর অন্যতম ছাত্র আব্দুল্লাহ্ ইবনে উসমান (রাহঃ) সুফিয়ান (রাহঃ)-কে বললেন, হাকীম ছাড়া অন্য কেউ হাদীসটি রিওয়ায়াত করত? তখন সুফিয়ান (রাহঃ) বললেন, হাকীমের কী হয়েছে, শু’বা কি তাঁর বরাতে হাদীস বর্ণনা করেন না? আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান (রাহঃ) বললেন, হ্যাঁ। সুফিয়ান (রাহঃ) বললেন, আমি যুবায়দ (রাহঃ)-কে এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ)-এর বরাতে রিওয়ায়াত করতে শুনেছি।

আমাদের কোন কোন আলিমদের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। সুফিয়ান সাওরী, আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুবারক, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)ও এ মত পোষণ করেন। তাঁরা বলেন, যদি কারো কাছে পঞ্চাশ দিরহাম পরিমাণ অর্থ থাকে তবে তার জন্য আমল করেননি। এ বিষয তাঁরা আরো সুযোগ রেখেছেন। তাঁরা বলেন, কারো নিকট পঞ্চাশ বা ততোধিক পরিমাণ দিরহাম থাকা সত্ত্বেও সে যদি অভাবগ্রস্থ হয়, তবে তার জন্য যাকাত গ্রহণ হালাল। এ হল ইমাম শাফিঈ প্রমুখ ফিকহবিদ আলিমের অভিমত।*

*হানাফী মতে নিসাব পরিমাণ অর্থ যার নেই তার জন্য যাকাত গ্রহণ হালাল।

কার জন্য সাদ্‌কা হালাল নয়?

باب مَا جَاءَ مَنْ لاَ تَحِلُّ لَهُ الصَّدَقَةُ

৬৫২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ سَعِيدٍ، ح وَحَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ رَيْحَانَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ وَلاَ لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَحُبْشِيِّ بْنِ جُنَادَةَ وَقَبِيصَةَ بْنِ مُخَارِقٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رَوَى شُعْبَةُ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ هَذَا الْحَدِيثَ بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَرْفَعْهُ . وَقَدْ رُوِيَ فِي غَيْرِ هَذَا الْحَدِيثِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَحِلُّ الْمَسْأَلَةُ لِغَنِيٍّ وَلاَ لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ " . وَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ قَوِيًّا مُحْتَاجًا وَلَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ شَيْءٌ فَتُصُدِّقَ عَلَيْهِ أَجْزَأَ عَنِ الْمُتَصَدِّقِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَوَجْهُ هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى الْمَسْأَلَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৬৫২. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার এবং মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ধনী ও সুস্থ-সবল ব্যক্তির জন্য সাদ্‌কা গ্রহণ হালাল নয়।

এ বিষয়ে আবু হুরায়রা, হুবশী ইবনে জুনাদা এবং কাসীদা ইবনে মুখারিক (রাযিঃ) থেকেও বর্ণিত হাদীস আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান শু’বা (রাহঃ) এ হাদীসটি উক্ত সনেদ সা’দ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এটিকে ‘মারফূ’ হিসাবে উল্লেখ করেননি। এ হাদীসটি ছাড়া অন্যান্য সূত্রেও নবী ((ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে যে, ধনী এবং সুস্থ-সবল ব্যক্তির জন্য সাওয়ালকরা হালাল নয়। সুস্থ-সবল কোন ব্যক্তি যদি অভাবগ্রস্ত হয় এবং তার কাছে কিছুই না থাকে, তবে যাকাত-সাদ্‌কা প্রদান করা হলে আলিমগণের মতে আদায়কারী পক্ষে যথেষ্ট বিবেচিত হবে। কোন কোন আলিমগণের অভিমত হল, হাদীসটি কেবল ভিক্ষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
৬৫৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، عَنْ حُبْشِيِّ بْنِ جُنَادَةَ السَّلُولِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَهُوَ وَاقِفٌ بِعَرَفَةَ أَتَاهُ أَعْرَابِيٌّ فَأَخَذَ بِطَرَفِ رِدَائِهِ فَسَأَلَهُ إِيَّاهُ فَأَعْطَاهُ وَذَهَبَ فَعِنْدَ ذَلِكَ حَرُمَتِ الْمَسْأَلَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لاَ تَحِلُّ لِغَنِيٍّ وَلاَ لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ إِلاَّ لِذِي فَقْرٍ مُدْقِعٍ أَوْ غُرْمٍ مُفْظِعٍ وَمَنْ سَأَلَ النَّاسَ لِيُثْرِيَ بِهِ مَالَهُ كَانَ خُمُوشًا فِي وَجْهِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَرَضْفًا يَأْكُلُهُ مِنْ جَهَنَّمَ فَمَنْ شَاءَ فَلْيُقِلَّ وَمَنْ شَاءَ فَلْيُكْثِرْ " .

বর্ণনাকারী: হুবশী ইবনে জুনাদা (রাঃ)

৬৫৩. আলী ইবনে সাঈদ আল-কিন্দী (রাহঃ) ..... হুবশী ইবনে জুনাদা সালূলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বিদায় হজ্জের সময় বলতে শুনেছি। তিনি তখন আরাফায় উকুফ অবস্থায় ছিলেন। এক বেদুঈন তাঁর কাছে এল এবং চাঁদরের এক কোণ ধরে তাঁর নিকট কিছু যাঞ্ছা করল। তিনি তাকে কিছু দিলেন, লোকটি চলে গেল। আর তখনই ভিক্ষাবৃত্তি হারাম করে দেওয়া হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কোন ধনী এবং সুস্থবান ব্যক্তির জন্য ভিক্ষাবৃত্তি হালাল নয়। তবে চরম দরিদ্র কিংবা দায়ভারে অতিষ্ট ব্যক্তির জন্য জায়েয আছে। অর্থ সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে যদি কেউ ভিক্ষা করে তবে কিয়ামতে দিন সে তার চেহারা খামচানো অবস্থায় ও সে খাবে জাহান্নামের উত্তপ্ত পাথর। এখন যার ইচ্ছা তা কম করুক কিংবা যার ইচ্ছা বেশী করুক।

৬৫৪

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ سُلَيْمَانَ، نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৬৫৪. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ..... আব্দুর রহীম ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) থেকে অনূরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ সূত্রের এ হাদীসটি গারীব।

দায়গ্রস্ত ও অন্যান্য যাদের জন্য সাদ্‌কা হালাল।

باب مَا جَاءَ مَنْ تَحِلُّ لَهُ الصَّدَقَةُ مِنَ الْغَارِمِينَ وَغَيْرِهِمْ

৬৫৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ أُصِيبَ رَجُلٌ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ثِمَارٍ ابْتَاعَهَا فَكَثُرَ دَيْنُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَصَدَّقُوا عَلَيْهِ " . فَتَصَدَّقَ النَّاسُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَبْلُغْ ذَلِكَ وَفَاءَ دَيْنِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِغُرَمَائِهِ " خُذُوا مَا وَجَدْتُمْ وَلَيْسَ لَكُمْ إِلاَّ ذَلِكَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَجُوَيْرِيَةَ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬৫৫. কুতায়বা (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে জনৈক ব্যক্তি কিছু ফল (খেজুর) কিনে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তার অনেক ঋণ হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (সাহাবীদের) বললেনঃ তোমরা তাকে সাদ্‌কা দাও। লোকেরা তাকে সাদ্‌কা দিল। কিন্তু তা তার ঋণ আদায়ের পরিমাণ হল না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার পাওনাদারদের বললেনঃ যা পেয়েছ নিয়ে নাও। এ ছাড়া তোমাদের (বর্তমানে) আর কিছু নেই। - ইবনে মাজাহ ২৩৫৬, মুসলিম

এ বিষয়ে আয়িশা, জুওয়ায়রিয়া ও আনাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু সাঈদের এ হাদীসটি হাসান সহীহ্।

নবী (ﷺ) তাঁর আহলে বায়ত এবং তাঁর আযাদকৃতদের জন্য সাদ্‌কা নিষিদ্ধ।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الصَّدَقَةِ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَهْلِ بَيْتِهِ وَمَوَالِيهِ

৬৫৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَيُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ الضُّبَعِيُّ السَّدُوسِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أُتِيَ بِشَيْءٍ سَأَلَ " أَصَدَقَةٌ هِيَ أَمْ هَدِيَّةٌ " . فَإِنْ قَالُوا صَدَقَةٌ لَمْ يَأْكُلْ وَإِنْ قَالُوا هَدِيَّةٌ أَكَلَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ سَلْمَانَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَنَسٍ وَالْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ وَأَبِي عَمِيرَةَ جَدُّ مُعَرَّفِ بْنِ وَاصِلٍ وَاسْمُهُ رُشَيْدُ بْنُ مَالِكٍ وَمَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَأَبِي رَافِعٍ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَلْقَمَةَ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ أَيْضًا عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَقِيلٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَجَدُّ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ اسْمُهُ مُعَاوِيَةُ بْنُ حَيْدَةَ الْقُشَيْرِيُّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .

বর্ণনাকারী: বাহয ইবনে হাকীম (রহঃ)

৬৫৬. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... বাহয্ ইবনে হাকীম তাঁর পিতা-পিতাসহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কোন কিছু আনা হলে তিনি জিজ্ঞাসা করতেন এ কি সাদ্‌কা না হাদিয়া? যদি লোকেরা বলত সাদ্‌কা তবে তিনি তা নিজে খেতেন না। আর যদি বলত হাদিয়া, তবে তিনি খেতেন।

এই বিষয়ে সালমান, আবু হুরায়রা, আনাস, হাসান ইবনে আলী, আবু উমায়র (ইনি হলেন মুআররাফ ইবনে ওয়াসিল, তাঁর নাম হল রুশায়দ ইবনু মালিক), মায়মুন ইবনে মিহরান, ইবনে আব্বাস, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, আবু রাফিও আব্দুর রহমান ইবনে আলকামা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটি আব্দুর রহমান ইবনে আলকামা আব্দুর রহমান ইবনে আবু আকীল সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে। বাহয্ ইবনে হাকীম (রাহঃ) এর পিতামহের নাম হল মুআবিয়া ইবনে হায়দা আল-কুশায়রী (রাহঃ) ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, বাহয্ হাকীম বর্ণিত হাদীসটি হাসান-গরীব।
৬৫৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، رضى الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ رَجُلاً مِنْ بَنِي مَخْزُومٍ عَلَى الصَّدَقَةِ فَقَالَ لأَبِي رَافِعٍ اصْحَبْنِي كَيْمَا تُصِيبَ مِنْهَا . فَقَالَ لاَ . حَتَّى آتِيَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَسْأَلَهُ . فَانْطَلَقَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ فَقَالَ " إِنَّ الصَّدَقَةَ لاَ تَحِلُّ لَنَا وَإِنَّ مَوَالِيَ الْقَوْمِ مِنْ أَنْفُسِهِمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو رَافِعٍ مَوْلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم اسْمُهُ أَسْلَمُ وَابْنُ أَبِي رَافِعٍ هُوَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي رَافِعٍ كَاتِبُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضى الله عنه .

বর্ণনাকারী: আবু রাফি' (রাঃ)

৬৫৭. মুহাম্মাদ ইবনে মুসন্না (রাহঃ) ..... আবু রাফি (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক বার , রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বনু মাখযূম গোত্রের এক ব্যক্তিকে সাদ্‌কা উসূলের দায়িত্ব দিয়ে প্রেরণ করেন। ঐ ব্যক্তি আবু রাফিকে বললেন, আপনিও আমার সঙ্গে চলুন। এ থেকে আপনিও কিছু অংশ পেতে পারেন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে দিয়ে এই বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত আমি তোমার সঙ্গ হতে পারি না। তারপর তিনি নবী (ﷺ) এর কছে গেলেন এবং এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন এই সাদ্‌কা আমাদের জন্য হালাল নয়। কোন সম্প্রদায়ের মাওলাগণ (আযাদকৃতগণ) সেই সম্প্রদায়ের লোক বলেই গণ্য।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবু রাফি (রাযিঃ) হলেন, নবী (ﷺ) এর মাওলা (আযাদকৃত), তাঁর নাম আসলাম। তাঁর পুত্র হলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবু রাফি। ইনি ছিলেন আলী (রাযিঃ) এর কাতিব (লেখক)।

নিকট আত্মীয়দের সাদ্‌কা দেওয়া।

باب مَا جَاءَ فِي الصَّدَقَةِ عَلَى ذِي الْقَرَابَةِ

৬৫৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ، عَنِ الرَّبَابِ، عَنْ عَمِّهَا، سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَفْطَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى تَمْرٍ فَإِنَّهُ بَرَكَةٌ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ تَمْرًا فَالْمَاءُ فَإِنَّهُ طَهُورٌ " . وَقَالَ " الصَّدَقَةُ عَلَى الْمِسْكِينِ صَدَقَةٌ وَهِيَ عَلَى ذِي الرَّحِمِ ثِنْتَانِ صَدَقَةٌ وَصِلَةٌ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ زَيْنَبَ امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَجَابِرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَالرَّبَابُ هِيَ أُمُّ الرَّائِحِ بِنْتُ صُلَيْعٍ . وَهَكَذَا رَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ عَنِ الرَّبَابِ عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا الْحَدِيثِ . وَرَوَى شُعْبَةُ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ . وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنِ الرَّبَابِ . وَحَدِيثُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ عُيَيْنَةَ أَصَحُّ . وَهَكَذَا رَوَى ابْنُ عَوْنٍ وَهِشَامُ بْنُ حَسَّانَ عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ عَنِ الرَّبَابِ عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ .

বর্ণনাকারী: সালমান ইবনে আমির যব্বী (রাঃ)

৬৫৫. কুতায়বা (রাহঃ) ...... সালমান ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকেও বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ইফতার করে তখন সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে, কারণ এতে রয়েছে বরকত। খেজুর না পেলে পানি দিয়ে যেন ইফতার করো। কারণ তা পবিত্র।

তিনি আরা বলেনঃ মিসকীনকে সাদ্‌কা দিলে তা কেবল সাদ্‌কাই, আর আত্মীয়কে দিলে তাতে রয়েছে দু‘টি সাওয়াব। একটি সাদ্‌কা এবং আরেকটি আত্মীয়তা রক্ষা। - ইবনে মাজাহ ১৮৪৪

এই বিষয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর স্ত্রী যায়নাব, জাবির এবং আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, সালমান ইবনে আমির (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান। রাবী রাবাব (রাহঃ) হলেন, সুলাইর কন্যা উম্মুর রায়েহ। এমনিভাবে সুফিয়ান সাওরী (রাহঃ) ও সালমান ইবনে আমির (রাযিঃ) সূত্রে ও নবী (ﷺ) থেকে উক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর শু’বা (রাহঃ) সালমান ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু সনদে তিনি রাবী রাবাব-এর নাম উল্লেখ করেননি। সুফিয়ান সাওরী এবং ইবনে উআয়না (রাহঃ) এর রিওয়ায়াতটি অধিকত সহীহ। ইবনে আওন এবং হিসাম ইবনে হাসসান (রাহঃ) ও অনুরূপভাবে হাফসা বিনতে সিরীন, রাবাব (রাহঃ) সালমান ইবনে আমির (রাযিঃ) সূত্রে এটির বর্ণনা করেছেন।

যাকাত ছাড়াও ধন-সম্পদের হক রয়েছে।

باب مَا جَاءَ أَنَّ فِي الْمَالِ حَقًّا سِوَى الزَّكَاةِ

৬৫৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مَدُّويَهْ، حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، قَالَتْ سَأَلْتُ أَوْ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الزَّكَاةِ فَقَالَ " إِنَّ فِي الْمَالِ لَحَقًّا سِوَى الزَّكَاةِ " . ثُمَّ تَلاَ هَذِهِ الآيَةَ الَّتِي فِي الْبَقَرَةِ ( لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ ) الآيَةَ .

বর্ণনাকারী: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৬৫৬. মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মাদ্দুবিয়া (রাহঃ) ...... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নিজেই অথবা অন্য কেউ নবী (ﷺ) কে যাকাত সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল। তিনি বললেনঃ যাকাত ছাড়াও ধন-সম্পদে অবশ্যই আরো হক রয়েছে। তারপর তিনি সূরা বাকারার এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন। (অর্থ)- কোন পূণ্য নেই তোমাদের মুখ ফিরানোতে ......... শেষ পর্যন্ত (২:১৭৭) - ইবনে মাজাহ ১৭৮৯

৬৬০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الطُّفَيْلِ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ فِي الْمَالِ حَقًّا سِوَى الزَّكَاةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ إِسْنَادُهُ لَيْسَ بِذَاكَ . وَأَبُو حَمْزَةَ مَيْمُونٌ الأَعْوَرُ يُضَعَّفُ . وَرَوَى بَيَانٌ وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ سَالِمٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ هَذَا الْحَدِيثَ قَوْلَهُ وَهَذَا أَصَحُّ .

বর্ণনাকারী: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

৬৫৭. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ..... ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী বলেছেনঃ ধন-সম্পদের যাকাত ছাড়া আরো হক রয়েছে।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটির সনদ তেমন (শক্তিশালী) নয়। রাবী আবু হামযা মায়মুন আওআরকে যঈফ বলা হয়। বায়ান ও ইসমাঈল ইবনে সালিম (রাহঃ) এ হাদীস শা’বী (রাহঃ) থেকে তাঁর বক্তব্যরূপে বর্ণনা করেছেন। আর এটি অধিকতর সহীহ্।

সাদ্‌কার ফযীলত।

باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الصَّدَقَةِ

৬৬১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا تَصَدَّقَ أَحَدٌ بِصَدَقَةٍ مِنْ طَيِّبٍ وَلاَ يَقْبَلُ اللَّهُ إِلاَّ الطَّيِّبَ إِلاَّ أَخَذَهَا الرَّحْمَنُ بِيَمِينِهِ وَإِنْ كَانَتْ تَمْرَةً تَرْبُو فِي كَفِّ الرَّحْمَنِ حَتَّى تَكُونَ أَعْظَمَ مِنَ الْجَبَلِ كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ أَوْ فَصِيلَهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَعَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ وَأَنَسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى وَحَارِثَةَ بْنِ وَهْبٍ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَبُرَيْدَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৫৮. কুতায়বা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন হালাল ও পবিত্র মাল থেকে সাদ্‌কা দেয় আর আল্লাহ্ তো পবিত্র ও হালাল ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না। তখন দয়াময় তাঁর ডান হাতে তা গ্রহণ করেন। একটি খেজুর দান হলেও তা দয়াময়ের হাতের তালুতে বৃদ্ধি পেতে থাকে, এমনকি তা পাহাড় থেকে বিরাট হয়, যেমন তোমাদের তত্ত্বাবধানে তোমাদের ঘোড়া বা গাভীর বাচ্চা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

এই বিষয়ে আয়িশা, আদী ইবনে হাতিম, আনাস, আব্দুল্লাহ্ ইবনে আবু আওফা, হারিসা ইবনে ওয়াহাব, আব্দুর রহমান ইবনে আওফ এবং বুয়ায়দা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ্।
৬৬২
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ الصَّدَقَةَ وَيَأْخُذُهَا بِيَمِينِهِ فَيُرَبِّيهَا لأَحَدِكُمْ كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ مُهْرَهُ حَتَّى إِنَّ اللُّقْمَةَ لَتَصِيرُ مِثْلَ أُحُدٍ " . وَتَصْدِيقُ ذَلِكَ فِي كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ (وهُوَ الَّذِي يَقبَلُ التَّوبَةَ عَنْ عِبَادِهِ ) ويَأْخُذُ الصَّدَقَاتِ (يَمْحَقُ الله الرَّبَا ويُرْبِي الصَّدَقَاتِ).
قَالَ أَبُو عِيسَى: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.
وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوُ هَذَا. وَقَدْ قَالَ غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي هَذَا الْحَدِيثِ وَمَا يُشْبِهُ هَذَا مِنَ الرِّوَايَاتِ مِنَ الصِّفَاتِ وَنُزُولِ الرَّبِّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا قَالُوا قَدْ تَثْبُتُ الرِّوَايَاتُ فِي هَذَا وَيُؤْمَنُ بِهَا وَلاَ يُتَوَهَّمُ وَلاَ يُقَالُ كَيْفَ هَكَذَا رُوِيَ عَنْ مَالِكٍ وَسُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ أَنَّهُمْ قَالُوا فِي هَذِهِ الأَحَادِيثِ أَمِرُّوهَا بِلاَ كَيْفٍ. وَهَكَذَا قَوْلُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ. وَأَمَّا الْجَهْمِيَّةُ فَأَنْكَرَتْ هَذِهِ الرِّوَايَاتِ وَقَالُوا هَذَا تَشْبِيهٌ. وَقَدْ ذَكَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي غَيْرِ مَوْضِعٍ مِنْ كِتَابِهِ الْيَدَ وَالسَّمْعَ وَالْبَصَرَ فَتَأَوَّلَتِ الْجَهْمِيَّةُ هَذِهِ الآيَاتِ فَفَسَّرُوهَا عَلَى غَيْرِ مَا فَسَّرَ أَهْلُ الْعِلْمِ وَقَالُوا إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَخْلُقْ آدَمَ بِيَدِهِ. وَقَالُوا إِنَّ مَعْنَى الْيَدِ هَاهُنَا الْقُوَّةُ. وَقَالَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ إِنَّمَا يَكُونُ التَّشْبِيهُ إِذَا قَالَ يَدٌ كَيَدٍ أَوْ مِثْلُ يَدٍ أَوْ سَمْعٌ كَسَمْعٍ أَوْ مِثْلُ سَمْعٍ. فَإِذَا قَالَ سَمْعٌ كَسَمْعٍ أَوْ مِثْلُ سَمْعٍ فَهَذَا التَّشْبِيهُ وَأَمَّا إِذَا قَالَ كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى يَدٌ وَسَمْعٌ وَبَصَرٌ وَلاَ يَقُولُ كَيْفَ وَلاَ يَقُولُ مِثْلُ سَمْعٍ وَلاَ كَسَمْعٍ فَهَذَا لاَ يَكُونُ تَشْبِيهًا وَهُوَ كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى فِي كِتَابِهِ: (لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ).

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৫৯. আবু কুবায়ব মুহাম্মাদ ইবনে আ’লা (রাযিঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ্ অবশ্যই সাদ্‌কা কবুল করেন। আর তিনি তা তাঁর ডান হাতে গ্রহণ করেন এবং তোমাদের জন্য লালন করতে থাকেন, যেমন তোমাদের কেউ বাচ্চা লালন করে; এমনকি একটি লুকমা (পরিমাণ দান) উহুদ পাহাড়ের সমান হয়ে যায়। এ বিষয়ে কিতাবুল্লাহর সমর্থন রয়েছে। ইরশাদ হলোঃ (অর্থ) ’’তিনি বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং সাদ্‌কা গ্রহণ করেন।’’ (৯: ১০৪)। (অর্থ ) আল্লাহ্ সুদ নিশ্চিহ্ন করেন এবং সাদ্‌কা বর্ধিত করেন’’। (২: ২৭৬)।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, হাদীসটি সহীহ্। আয়িশা (রাযিঃ) এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীস এবং আরো এই ধরণের যে সমস্ত হাদীসে আল্লাহর সিফাত বা প্রত্যেক রাতে পৃথিবীর নিকটবর্তী আকাশে আল্লাহ তাআলার অবতরণ সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে। যে সকল হাদীস সম্পর্কে একাধিক বিশেষজ্ঞ আলিমের বক্তব্য হল যে, এই ধরণের রিওয়ায়াত সমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত। এগুলো সম্পর্কে বিশ্বাস রাখতে হবে। এই সব বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করা যাবে না এবং তা কি ধরণের সে সম্পর্কেও প্রশ্ন করা যাবে না। ইমাম মালিক ইবনে আনাস, সুফিয়ান ইবনে উআয়না, আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রাহঃ) প্রমুখ ইমামদের থেকে এই ধরণের বক্তব্য বর্ণিত আছে। এই ধরণের হাদীসগুলো সম্পর্কে তাঁরা বলেন, কি ধরণের? সে প্রশ্ন না তুলে যেভাবে উল্লিখিত হয়েছে সেভাবেই তা মেনে নাও। আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের আলিমগণ এ অভিমতই পোষণ করেন।

কিন্তু জাহামীয়্যা সম্প্রদায় এই সমস্ত রিওয়ায়াত অস্বীকার করেন; তারা বলে, এগুলো তো হল উপমাবোধক। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাব কুরআন মাজিদে বিভিন্ন স্থানে اليد (হাত) السمع (কর্ণ) البصر (চক্ষু) ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করেছেন। জাহমিয়্যা সম্প্রদায় এই আয়াতসমূহের রূপক অর্থ করে থাকে এবং আলিমদের ব্যাখ্যার বিপরীত এগুলোর ব্যাখ্যা করে থাকে। তারা বলে যে, আল্লাহ্ তাআলা আদম (আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর হাত দিয়ে বানাননি। তারা বলে এখানে ‘হাত’ অর্থ হল ‘শক্তি’। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) বলেন, যদি (মানুষের) হাতের মত (আল্লাহর) হাত বা হাতের অনুরূপ হাত কিংবা (মানুষের) কানের মত (আল্লাহর) কান বা কানের অনুরূপ বলা হত তবে তা আল্লাহর সঙ্গে (সৃষ্টি বিষয়ের) উপমা প্রদান বলে গণ্য হত। কিন্তু আল্লাহ্ যখন বলেনيد (হাত)سمع কর্ণ,بصر চক্ষু, তখন তা সা’দৃশ্য বলে বিবেচিত হয় না। কারণ এখানে এর রকম বা অনুরূপ বা মত এই কথা বলা হয়নি। এটি এমন, যেমন আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে ইরশাদ করেছেনঃ কোন কিছুই তাঁর সাদৃশ্য নয়; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
৬৬৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ مُوسَى، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَىُّ الصَّوْمِ أَفْضَلُ بَعْدَ رَمَضَانَ فَقَالَ " شَعْبَانُ لِتَعْظِيمِ رَمَضَانَ " . قِيلَ فَأَىُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ قَالَ " صَدَقَةٌ فِي رَمَضَانَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَصَدَقَةُ بْنُ مُوسَى لَيْسَ عِنْدَهُمْ بِذَاكَ الْقَوِيِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৬০. মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করা হল, রমযানের পর সবচে ফযীলতের রোযা কোনটি? তিনি বললেন, রমযানের সন্মানার্থে শা’বান (রোযা পালন করা)। প্রশ্নকারী বললেন, কোন সাদ্‌কা সবচেয়ে ফযীলতের? তিনি বললেনঃ রমযান মাসের সাদ্‌কা।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি গরীব। রাবী সাদ্‌কা ইবনে মুসা হাদীসবেত্তাগণের নিকট তেমন নির্ভযোগ্য নয়।
৬৬৪

حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ الْعَمِّيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِيسَى الْخَزَّازُ الْبَصْرِيُّ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الصَّدَقَةَ لَتُطْفِئُ غَضَبَ الرَّبِّ وَتَدْفَعُ مِيتَةَ السُّوءِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৬১. উকবা ইবনে মুকয়াম আম্মী আল-বসরী ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সাদ্‌কা অবশ্যই রবের (আল্লাহ্ তাআলার) ক্রোধ প্রশমিত করে এবং অপমৃত্যু রোধ করে।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, হাদীসটি এই সূত্রে গারীব।

যাঞ্ছাকারীর হক।

باب مَا جَاءَ فِي حَقِّ السَّائِلِ

৬৬৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ بُجَيْدٍ، عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ بُجَيْدٍ، - وَكَانَتْ مِمَّنْ بَايَعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - أَنَّهَا قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْمِسْكِينَ لَيَقُومُ عَلَى بَابِي فَمَا أَجِدُ لَهُ شَيْئًا أُعْطِيهِ إِيَّاهُ . فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ لَمْ تَجِدِي شَيْئًا تُعْطِينَهُ إِيَّاهُ إِلاَّ ظِلْفًا مُحْرَقًا فَادْفَعِيهِ إِلَيْهِ فِي يَدِهِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي أُمَامَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أُمِّ بُجَيْدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে বুজাইদ (রাঃ)

৬৬২. কুতায়বা (রাযিঃ) ....... আব্দুর রহমান ইবনে বুজায়দ তাঁর দাদী (রাযিঃ) হতে যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বায়’আত করেছেন তাঁর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মিসকীন আমার দরজায় দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু আমি তাঁকে দেয়ার মত কিছু পাইনা। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ তাকে দেওয়ার মত যদি আগুনে পোড়া ক্ষুর ব্যতিত অন্য কিছু না পাও তাহলে তাই তার হাতে তুলে দাও।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এ বিষয়ে আলী, হুসাইন ইবনে আলী, আবু হুরায়রা ও আবু আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, উম্মে বুজায়দা বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ্।

মুআল্লাফাতুল কুলুবদের প্রদান করা।

باب مَا جَاءَ فِي إِعْطَاءِ الْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ

৬৬৬

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ، قَالَ أَعْطَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ حُنَيْنٍ وَإِنَّهُ لأَبْغَضُ الْخَلْقِ إِلَىَّ فَمَا زَالَ يُعْطِينِي حَتَّى إِنَّهُ لأَحَبُّ الْخَلْقِ إِلَىَّ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ بِهَذَا أَوْ شِبْهِهِ فِي الْمُذَاكَرَةِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ صَفْوَانَ رَوَاهُ مَعْمَرٌ وَغَيْرُهُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّ صَفْوَانَ بْنَ أُمَيَّةَ قَالَ أَعْطَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَكَأَنَّ هَذَا الْحَدِيثَ أَصَحُّ وَأَشْبَهُ إِنَّمَا هُوَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ أَنَّ صَفْوَانَ . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي إِعْطَاءِ الْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ فَرَأَى أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ لاَ يُعْطَوْا . وَقَالُوا إِنَّمَا كَانُوا قَوْمًا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَأَلَّفُهُمْ عَلَى الإِسْلاَمِ حَتَّى أَسْلَمُوا . وَلَمْ يَرَوْا أَنْ يُعْطَوُا الْيَوْمَ مِنَ الزَّكَاةِ عَلَى مِثْلِ هَذَا الْمَعْنَى وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ وَغَيْرِهِمْ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ مَنْ كَانَ الْيَوْمَ عَلَى مِثْلِ حَالِ هَؤُلاَءِ وَرَأَى الإِمَامُ أَنْ يَتَأَلَّفَهُمْ عَلَى الإِسْلاَمِ فَأَعْطَاهُمْ جَازَ ذَلِكَ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ .

বর্ণনাকারী: সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া (রাঃ)

৬৬৩. হাসান ইবনে আলী খাল্লাল (রাহঃ) ..... সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুনায়ন যুদ্ধের সময় আমাকে দান করেন। তিনি (মুহাম্মাদ) (ﷺ) ছিলেন আমার নিকট সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণ্য ব্যক্তি। কিন্তু তিনি আমাকে দান করতে থাকলেন, এমনকি আমার কাছে হয়ে গেলেন সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ) আমাকে এইরূপ বা এর মতই রিওয়ায়াত করেছেন। এই বিষয়ে আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, সাফওয়ান (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি মা’মার (রাহঃ) প্রমুখ রাবী যুহরী, সাঈদ ইবনুল মুস্যাইয়াব (রাহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে দিলেন......। এই সূত্রটি যেন অধিকতর সহীহ্ ও গ্রহণযোগ্য। অর্থাৎ সাঈদ ইবনে মুস্যাইয়াব (রাহঃ) (এরপর) عن صفوان এর স্থলে ان صفوان ابىامية অধিক বিশুদ্ধ।

মুআল্লাফাতুল কুলুব*-কে যাকাত প্রদান করা সম্পর্কে আলিমদের মতবিরোধ রয়েছে। অধিকাংশ আলিমের অভিমত হল (বর্তমান) আর তাদের যাকাত দেওয়া হবে না তাঁরা বলেন, এরা ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর যুগের একদল লোক। ইসলাম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তাদের হৃদয় আকর্ষণ কল্পে তিনি তাদের দান করতেন। ফলে তারা ইসলাম গ্রহণ করে নেয়। বর্তমান যুগে এই উদ্দেশ্য যাকাত প্রদান করা হবেনা বলে তাঁরা মত প্রকাশ করেছেন। সুফিয়ান সাওরী, কুফাবাসী ফকীহ্ প্রমীখ উলামার অভিমত এই। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) ও এই মত পোষণ করেন। কোন কোন আলিম বলেন, এই ক্ষেত্রে বর্তমানেও যদি কারো অবস্থা ওদের মত হয় আর মুসলিম রাষ্ট্রপ্রধান যদি ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য তাদের যাকাত প্রদান করেন তবে তা জায়েয হবে। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) এর এই অভিমত।

*যাদেরকে হৃদয় আকৃষ্ট উদ্দেশ্যে দান করা হয়।

সাদ্‌কাদাতা যদি তার সাদ্‌কাকৃত সম্পদের ওয়ারিস হয়।

باب مَا جَاءَ فِي الْمُتَصَدِّقِ يَرِثُ صَدَقَتَهُ

৬৬৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ أَتَتْهُ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ تَصَدَّقْتُ عَلَى أُمِّي بِجَارِيَةٍ وَإِنَّهَا مَاتَتْ . قَالَ " وَجَبَ أَجْرُكِ وَرَدَّهَا عَلَيْكِ الْمِيرَاثُ " . قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا كَانَ عَلَيْهَا صَوْمُ شَهْرٍ أَفَأَصُومُ عَنْهَا قَالَ " صُومِي عَنْهَا " . قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا لَمْ تَحُجَّ قَطُّ أَفَأَحُجُّ عَنْهَا قَالَ " نَعَمْ حُجِّي عَنْهَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَلاَ يُعْرَفُ هَذَا مِنْ حَدِيثِ بُرَيْدَةَ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَطَاءٍ ثِقَةٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ ثُمَّ وَرِثَهَا حَلَّتْ لَهُ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّمَا الصَّدَقَةُ شَيْءٌ جَعَلَهَا لِلَّهِ فَإِذَا وَرِثَهَا فَيَجِبُ أَنْ يَصْرِفَهَا فِي مِثْلِهِ . وَرَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَزُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَطَاءٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

৬৬৪. আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদা তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট বসাছিলাম। এমন সময় তাঁর কাছে এক মহিলা এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আমার মাকে একটি দাসী সাদ্‌কা করেছিলাম। তিনি এখন ইন্‌তিকাল করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমার সাওয়াব তো সাব্যস্ত হয়ে গেছে। আর মীরাস একে তোমার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে। মহিলাটি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার মায়ের উপর এক মাসের রোযা ছিল। আমি কি তার পক্ষ থেকে সে রোযা আদায় করতে পারি? তিনি বললেন, তার পক্ষ থেকে তুমি রোযা পালন করতে পার। মহিলাটি বলল, মা তো কোন হজ্জ করেননি। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ পালন করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করে নাও। - ইবনে মাজাহ ১৭৫৯, ২৩৯৪, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ্। বুরায়দা (রাযিঃ)-এর হাদীসটি এ সূত্র ছাড়া জানা যায় না। রাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আতা হাদীস বিশারদগণের দৃষ্টিতে নির্ভরযোগ্য। অধিকাংশ আলিমের এই হাদীস অনুসারে আমল হয়েছে। কোন ব্যক্তি যদি কিচু সাদ্‌কা করে, পরে আবার সে জিনিসটির যদি যে ওয়ারিস হয় তবে তা তার জন্য হালাল। কোন কোন আলিম বলেন, সাদ্‌কা তো হল এমন বিষয় যা আল্লাহর জন্য দিয়ে দিয়েছে। সুতরাং কেউ যদি মালের ওয়ারিস হয় তবে অনুরূপ কোন খাতে ব্যয় করে দেওয়া ওয়াজিব। সুফিয়ান সাওরী ও যুহাইর (রাহঃ) ও এই হাদীসটি আব্দুল্লাহ ইবনে আতা (রাযিঃ) এর সূত্রে রিওয়ায়াত করেছেন।

সাদ্‌কা ফিরিয়ে নেয়া নিষিদ্ধ।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الْعَوْدِ فِي الصَّدَقَةِ

৬৬৮

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، أَنَّهُ حَمَلَ عَلَى فَرَسٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ رَآهَا تُبَاعُ فَأَرَادَ أَنْ يَشْتَرِيَهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَعُدْ فِي صَدَقَتِكَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৬৫. হারূন ইবনে ইসহাক হামদানী (রাযিঃ) ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর পথে একটি ঘোড়া একজনকে দান করেছিলেন। পরে সেটি বিক্রি হতে দেখে তিনি কিনে নিতে ইচ্ছা করলেন। তখন নবী (ﷺ) তাঁকে বললেনঃ তোমার সাদ্‌কা তুমি ফিরিয়ে নিও না। - ইবনে মাজাহ ২৩৯০, বুখারি ও মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ্। অধিকাংশ আলিম এর আমল এই হাদীসের উপর।

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সাদ্‌কা করা।

باب مَا جَاءَ فِي الصَّدَقَةِ عَنِ الْمَيِّتِ

৬৬৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ أَفَيَنْفَعُهَا إِنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ فَإِنَّ لِي مَخْرَفًا فَأُشْهِدُكَ أَنِّي قَدْ تَصَدَّقْتُ بِهِ عَنْهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَبِهِ يَقُولُ أَهْلُ الْعِلْمِ . يَقُولُونَ لَيْسَ شَيْءٌ يَصِلُ إِلَى الْمَيِّتِ إِلاَّ الصَّدَقَةُ وَالدُّعَاءُ . وَقَدْ رَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً . قَالَ وَمَعْنَى قَوْلِهِ إِنَّ لِي مَخْرَفًا . يَعْنِي بُسْتَانًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৬৬. আহমাদ ইবনে মানী (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, জনৈক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার মা ইন্‌তিকাল করেছেন। আমি যদি তাঁর পক্ষ থেকে সাদ্‌কা করি তবে তা কি তার কোন উপকারে আসবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। লোকটি বলল, আমার একটি বাগান আছে। আপনাকে সাক্ষী করে এটিকে আমি তার পক্ষ থেকে সাদ্‌কা করে দিলাম।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। আলিমগণ এ অনুসারেই মত ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা বলেন, সাদ্‌কা এবং দুআ ছাড়া মৃত ব্যক্তির নিকট কিছুই পৌছায় না। কেউ কেউ এই হাদীসটি আমর ইবনে দীনার থেকে ইকরিমা সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে মুরসাল হিসাবে রিওয়ায়াত করেছেন। مخرفا অর্থ ফল বাগান।

স্বামীর ঘর থেকে স্ত্রীর ব্যয় করা।

باب مَا جَاءَ فِي نَفَقَةِ الْمَرْأَةِ مِنْ بَيْتِ زَوْجِهَا

৬৭০

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا شُرَحْبِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ الْخَوْلاَنِيُّ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي خُطْبَتِهِ عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ يَقُولُ " لاَ تُنْفِقُ امْرَأَةٌ شَيْئًا مِنْ بَيْتِ زَوْجِهَا إِلاَّ بِإِذْنِ زَوْجِهَا " . قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلاَ الطَّعَامُ قَالَ " ذَاكَ أَفْضَلُ أَمْوَالِنَا " . وَفِي الْبَابِ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ وَأَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي أُمَامَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

৬৬৭. হান্নাদ (রাহঃ) ....... আবু উমামা বাহিলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের বছর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তাঁর ভাষণে বলতে শুনেছি যে, স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেখে কোন মহিলা তার ঘরের কোন জিনিস ব্যয় করবে না। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! খাদ্য দ্রব্যও না? তিনি বললেনঃ এ তো আমাদের উৎকৃষ্ট মাল। - ইবনে মাজাহ ২২৯৫

এই বিষয়ে সা’দ ইবনে আবু ওযাক্কাস আসমা বিনতে আবু বকর, আবু হুরায়রা, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর এবং আয়িশা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ)বলেন, আবু উমামা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান।
৬৭১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ، يُحَدِّثُ عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " إِذَا تَصَدَّقَتِ الْمَرْأَةُ مِنْ بَيْتِ زَوْجِهَا كَانَ لَهَا بِهِ أَجْرٌ وَلِلزَّوْجِ مِثْلُ ذَلِكَ وَلِلْخَازِنِ مِثْلُ ذَلِكَ وَلاَ يَنْقُصُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ مِنْ أَجْرِ صَاحِبِهِ شَيْئًا لَهُ بِمَا كَسَبَ وَلَهَا بِمَا أَنْفَقَتْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৬৮. মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ কোন মহিলা তার স্বামীর ঘর থেকে সাদ্‌কা করলে এতে তার সাওয়াব হয় আর স্বামীরও অনুরূপ সাওয়াব। আর খাজাঞ্চীরও হয় অনুরূপ সাওয়াব। এদের কেউ কারো সাওয়াব কমাতে পারবে না। স্বামী সাওয়াব পাবে কামাই করার আর স্ত্রী সাওয়াব পাবে তা (আল্লাহর পথে) ব্যয় করার। - ইবনে মাজাহ ২২৯৪, বুখারি ও মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাযিঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান।
৬৭২

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا الْمُؤَمَّلُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَعْطَتِ الْمَرْأَةُ مِنْ بَيْتِ زَوْجِهَا بِطِيبِ نَفْسٍ غَيْرَ مُفْسِدَةٍ كَانَ لَهَا مِثْلُ أَجْرِهِ لَهَا مَا نَوَتْ حَسَنًا وَلِلْخَازِنِ مِثْلُ ذَلِكَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِي وَائِلٍ وَعَمْرُو بْنُ مُرَّةَ لاَ يَذْكُرُ فِي حَدِيثِهِ عَنْ مَسْرُوقٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৬৯. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কোন মহিলা তার স্বামীর ঘর থেকে মন্দ অভিপ্রায় না নিয়ে সন্তুষ্ট চিত্তে কিছু দান করে, তখন তার জন্য রয়েছে তার স্বামীর সমান সাওয়াব। স্ত্রী এই সাওয়াব পারে তার ভাল নিয়তের জন্য। এমনিভাবে খাজাঞ্চীও সে পরিমাণ সাওয়াব পাবে।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ্। আমর ইবনে মুরবা থেকে বর্ণিত রিওয়ায়াত থেকে এই হাদীসটি অধিকতর সহীহ্। আমর ইবনে মুরবা তাঁর সনদে মাসরূক-এর নাম উল্লেখ করেননি।

সাদ্‌কাতুল ফিতর।

باب مَا جَاءَ فِي صَدَقَةِ الْفِطْرِ

৬৭৩

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كُنَّا نُخْرِجُ زَكَاةَ الْفِطْرِ إِذْ كَانَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - صَاعًا مِنْ طَعَامٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ أَوْ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ فَلَمْ نَزَلْ نُخْرِجُهُ حَتَّى قَدِمَ مُعَاوِيَةُ الْمَدِينَةَ فَتَكَلَّمَ فَكَانَ فِيمَا كَلَّمَ بِهِ النَّاسَ إِنِّي لأَرَى مُدَّيْنِ مِنْ سَمْرَاءِ الشَّامِ تَعْدِلُ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ . قَالَ فَأَخَذَ النَّاسُ بِذَلِكَ . قَالَ أَبُو سَعِيدٍ فَلاَ أَزَالُ أُخْرِجُهُ كَمَا كُنْتُ أُخْرِجُهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ يَرَوْنَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ صَاعًا . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ صَاعٌ إِلاَّ مِنَ الْبُرِّ فَإِنَّهُ يُجْزِئُ نِصْفُ صَاعٍ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ يَرَوْنَ نِصْفَ صَاعٍ مِنْ بُرٍّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬৭০. মাহমুদ ইবনে গায়লা (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আমাদের মাঝে ছিলেন, তখন আমরা সাদাকাতুল ফিতর হিসাবে (মাথা পিছু) এক সা পরিমাণ খাদ্য বা এক সা পরিমাণ যব বা কে সা পরিমাণ খেজুর বা এক সা’ পরিমাণ কিসমিস বা এক সা পরিমাণ পনির আদায় করতাম। এ ভাবেই আমরা সাদ্‌কা আদায় করছিলাম। অবশেষে একবার মুআবিয়া (রাযিঃ) (তাঁর খিলাফত কালে) মদীনায় এলেন এবং (বিভিন্ন বিষয়) লোকদের সঙ্গে আলোচনা করলেন। তাঁর আলোচনার মধ্যে এ-ও ছিল যে, তিনি বললেন, শামের (সিরিয়ার) দুই মুদ পরিমাণ গম এক সা পরিমাণ খেজুরের সমান বলে আমার মনে হয়। লোকেরা তাঁর এই সিদ্ধান্ত মেনে নেন। আবু সাঈদ (রাযিঃ) বলেন, কিন্তু আমি এর পূর্বে থেকে এই বিষয়ে যা আদায় করতাম পরেও সেই ভাবেই আদায় করতে থাকব। - ইবনে মাজাহ ১৮২৯, বুখারি ও মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ্। এ হাদীস অনুসারে কোন কোন আলিমের আমল রয়েছে। তাঁরা প্রতিটি জিনিসের ক্ষেত্রে এক সা পরিমাণ (ফিতরা) দিতে হবে বলে মনে করেন। এ হল ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। সাহাবী এবং অপরাপর কতক আলিম বলেন, গম ছাড়া অন্যান্য জিনিস থেকে এক সা আর গম থেকে অর্ধ সাই যথেষ্ট। এ হল সুফিয়ান সাওরী, ইবনে মুবারক এবং কুফাবাসী আলিমগণের বক্তব্য। তাঁরা গমের ক্ষেত্রে অর্ধ সা বলে মনে করেন।
৬৭৪

حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ نُوحٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ مُنَادِيًا فِي فِجَاجِ مَكَّةَ " أَلاَ إِنَّ صَدَقَةَ الْفِطْرِ وَاجِبَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ صَغِيرٍ أَوْ كَبِيرٍ مُدَّانِ مِنْ قَمْحٍ أَوْ سِوَاهُ صَاعٌ مِنْ طَعَامٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَرَوَى عُمَرُ بْنُ هَارُونَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ وَقَالَ عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ مِينَاءَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ بَعْضَ هَذَا الْحَدِيثِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৬৭১. উকবা ইবনে মুকরাম বসরী (রাহঃ) ...... আমর ইবনে শুআয়ব তাঁর পিতা-পিতামহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মক্কার পথে পথে ঘোষণা দেওয়ার জন্য লোক পাঠিয়েছিলেন যে, জেনে রাখ মুসলিম নর-নারী, আযাদ-গোলাম, বড়-ছোট প্রত্যেকের উপর দুই মুদ গম বা অন্যান্য খাদ্যের ক্ষেত্রে এক সা পরিমাণ সাদ্‌কাতুল ফিতর প্রদান করা ওয়াজিব।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি গরীব হাসান।
৬৭৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَدَقَةَ الْفِطْرِ عَلَى الذَّكَرِ وَالأُنْثَى وَالْحُرِّ وَالْمَمْلُوكِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ . قَالَ فَعَدَلَ النَّاسُ إِلَى نِصْفِ صَاعٍ مِنْ بُرٍّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَجَدِّ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي ذُبَابٍ وَثَعْلَبَةَ بْنِ أَبِي صُعَيْرٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৭২. কুতায়বা (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নর-নারী আযাদ-গোলাম, বড়-ছোট প্রত্যেকের উপর সাদ্‌কাতুল ফিতর হিসাবে এক সা পরিমাণ খেজুর বা এক সা পরিমাণ যব প্রদান অবশ্য কর্তব্য হিসাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। রাবী বলেন, পরে লোকেরা গম আধা সা পরিমাণ এর সমান বলে মেনে নিয়েছে। - ইবনে মাজাহ ১৮২৫, বুখারি

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ্। এই বিষয়ে আবু সাঈদ, ইবনে আব্বাস, হারিস ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে যুবার-এর পিতামহ, সালারা ইবনে আবু শুআয়র এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
৬৭৬

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَضَ زَكَاةَ الْفِطْرِ مِنْ رَمَضَانَ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ عَلَى كُلِّ حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى مِنَ الْمُسْلِمِينَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرَوَى مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ حَدِيثِ أَيُّوبَ وَزَادَ فِيهِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ . وَرَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ نَافِعٍ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي هَذَا فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِذَا كَانَ لِلرَّجُلِ عَبِيدٌ غَيْرُ مُسْلِمِينَ لَمْ يُؤَدِّ عَنْهُمْ صَدَقَةَ الْفِطْرِ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ يُؤَدِّي عَنْهُمْ وَإِنْ كَانُوا غَيْرَ مُسْلِمِينَ . وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَإِسْحَاقَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৭৩. ইসহাক ইবনে মুসা আনসারী (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আযাদ-গোলাম, নর-নারী প্রত্যেক মুসলিমের উপর রমযানের সাদ্‌কাতুল ফিতর হিসাবে এক সা খেজুর বা এক সা যব ফরয বলে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। - ইবনে মাজাহ ১৮২৬, বুখারি, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান সহীহ্। মালিক (রাহঃ) নাফি, ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে আইয়্যুব-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে من المسلمين শব্দটি অতিরিক্ত রয়েছে। আরো অনেকে নাফি (রাহঃ) থেকে এটির রিওয়ায়াত করেছেন। কিন্তু তারা من المسلمين শব্দের উল্লেখ করেননি। এই বিষয়ে আলিমগণের মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, যদি কারো অমুসলিম দাস-দাসী থাকে তবে তাদের পক্ষ থেকে তাকে সাদ্‌কাতুল ফিতর আদায় করতে হবে না। এ হল ইমাম মালিক, শাফিঈ ও আহমাদ (রাহঃ) এর অভিমত। আবার কেউ কেউ বলেন, তারা অমুসলিম হলেও তাদের পক্ষ থেকে (মালিককে) ফিতরা আদায় করতে হবে। এ হল ইমাম সাওরী, ইবনে মুবারক ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত।

নামাযের পূর্বেই ফিতরা আদায় করা।

باب مَا جَاءَ فِي تَقْدِيمِهَا قَبْلَ الصَّلاَةِ

৬৭৭

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ عَمْرِو بْنِ مُسْلِمٍ أَبُو عَمْرٍو الْحَذَّاءُ الْمَدَنِيُّ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ الصَّائِغُ، عَنِ ابْنِ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْمُرُ بِإِخْرَاجِ الزَّكَاةِ قَبْلَ الْغُدُوِّ لِلصَّلاَةِ يَوْمَ الْفِطْرِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ . وَهُوَ الَّذِي يَسْتَحِبُّهُ أَهْلُ الْعِلْمِ أَنْ يُخْرِجَ الرَّجُلُ صَدَقَةَ الْفِطْرِ قَبْلَ الْغُدُوِّ إِلَى الصَّلاَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৭৪. মুসলিম ইবনে আমর ইবনে মুসলিম, আবু আমর হায্যা আল-মাদানী (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল ফিতরের দিন নামাযের উদ্দেশ্যে অতি ভোরে রওয়ানা হওয়ার আগেই (যাকাত-ফিতরা) আদায় করে দিতে নির্দেশ দিতেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ্ গরীব। আলিমগণের অভিমত যে, ঈদের নামাযের উদ্দেশ্যে ভোরে বের হওয়ার পূর্বেই সাদ্‌কাতুল ফিতর আদায় করা মুস্তাহাব।

যাকাত আদায়ের ত্বরাণ্বিত করা।

باب مَا جَاءَ فِي تَعْجِيلِ الزَّكَاةِ

৬৭৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، عَنْ حُجَيَّةَ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ الْعَبَّاسَ، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ تَعْجِيلِ صَدَقَتِهِ قَبْلَ أَنْ تَحِلَّ فَرَخَّصَ لَهُ فِي ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৬৭৫. আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমা (রাহঃ) ...... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আব্বাস (রাযিঃ) সময় আসার আগে যাকাত আদায় ত্বরান্বিত করা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি তাঁকে এতে অনুমতি দিলেন। - ইবনে মাজাহ ১৭৯৫

৬৭৯

حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ دِينَارٍ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ جَحْلٍ، عَنْ حُجْرٍ الْعَدَوِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِعُمَرَ " إِنَّا قَدْ أَخَذْنَا زَكَاةَ الْعَبَّاسِ عَامَ الأَوَّلِ لِلْعَامِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى لاَ أَعْرِفُ حَدِيثَ تَعْجِيلِ الزَّكَاةِ مِنْ حَدِيثِ إِسْرَائِيلَ عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ دِينَارٍ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَحَدِيثُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ زَكَرِيَّا عَنِ الْحَجَّاجِ عِنْدِي أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ إِسْرَائِيلَ عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ دِينَارٍ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي تَعْجِيلِ الزَّكَاةِ قَبْلَ مَحِلِّهَا فَرَأَى طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ لاَ يُعَجِّلَهَا . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ قَالَ أَحَبُّ إِلَىَّ أَنْ لاَ يُعَجِّلَهَا . وَقَالَ أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِنْ عَجَّلَهَا قَبْلَ مَحِلِّهَا أَجْزَأَتْ عَنْهُ . وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৬৭৬. কাসিম ইবনে দীনার কুফী (রাহঃ) ...... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উমর (রাযিঃ) কে বলেছিলেনঃ আমরা বছরের প্রথমেই আব্বাস-এর এই বছরের যাকাতও নিয়ে নিয়েছি।

এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, অগ্রিম যাকাত প্রদান সম্পর্কে ইসরাঈল-হাজ্জাজ ইবনে দীনার বর্ণিত এই হাদীসটি, এ ছাড়া আর কোন সূত্রে বর্ণিত আছে বলে জানিনা। ইসরাঈল- হাজ্জাজ ইবনে দীনার তুলনায় ইসমাঈল ইবনে যাকারিয়া সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি আমার নিকট অধিকতর সহীহ্। এটি হাকাম ইবনে উতায়বা-এর বরাতে নবী (ﷺ) থেকে মুরসালরূপেও বর্ণিত আছে। যাকাত আদায়ের সময হওয়ার আগেই অগ্রিম যাকাত প্রদান করা সম্পর্কে আলিমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একদল আলিম অগ্রিম প্রদান না করাই আমার নিকট মুস্তাহাব। অধিকাংশ আলিম বলেন, যাকাত ধার্য হওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই যদি যাকাত অগ্রিম দিয়ে দেওয়া হয়, তবে তা হয়ে যাবে। এ হল ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)- এর অভিমত।

ভিক্ষা করা নিষিদ্ধ।

باب مَا جَاءَ فِي النَّهْىِ عَنِ الْمَسْأَلَةِ

৬৮০

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ بَيَانِ بْنِ بِشْرٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لأَنْ يَغْدُوَ أَحَدُكُمْ فَيَحْتَطِبَ عَلَى ظَهْرِهِ فَيَتَصَدَّقَ مِنْهُ فَيَسْتَغْنِيَ بِهِ عَنِ النَّاسِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَسْأَلَ رَجُلاً أَعْطَاهُ أَوْ مَنَعَهُ ذَلِكَ فَإِنَّ الْيَدَ الْعُلْيَا أَفْضَلُ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَالزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ وَعَطِيَّةَ السَّعْدِيِّ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَمَسْعُودِ بْنِ عَمْرٍو وَابْنِ عَبَّاسٍ وَثَوْبَانَ وَزِيَادِ بْنِ الْحَارِثِ الصُّدَائِيِّ وَأَنَسٍ وَحُبْشِيِّ بْنِ جُنَادَةَ وَقَبِيصَةَ بْنِ مُخَارِقٍ وَسَمُرَةَ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ يُسْتَغْرَبُ مِنْ حَدِيثِ بَيَانٍ عَنْ قَيْسٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭৭. হান্নাদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের কেউ ভোরে বের হয়ে যাবে এবং লাকড়ী কুড়িয়ে পিঠে বয়ে আনবে আর তা থেকে সাদ্‌কা করবে এবং লোকদের (সামনে হাত পাতা) থেকে অভাবমুক্ত থাকবে, এ তার জন্য এর চাইতে উত্তম যে, সে কারো কাছে সাওয়ালকরবে, যে তাকে দিতেও পারে, নাও দিতে পারে। অবশ্যই উপরের হাত (দাতার হাত) নীচের হাত থেকে উত্তম। আর পরিবারে যাদের দায়িত্ব তোমার উপর ন্যস্ত (খরচের বেলায়) তাদের থেকে তুমি শুরু করবে।

এই বিষয়ে হাকীম ইবনে হিযাম, আবু সাঈদ খুদরী, যুবাইর ইবনে আওওয়াম, আতিয়্যা আত্-সা’দী, আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ, মাসউদ ইবনে আমর, ইবনে আব্বাস, সাওবান, যিয়াদ ইবনে হারিস সুদাঈ, আনাস, হুবশী ইবনে জুনাদা, কাবীসা ইবনে মুখারিক, সামুরা এবং ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান সহীহ্ গরীব। বায়ান-এর কায়স (রাহঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি গরীব বলে মনে করা হয়েছে।
৬৮১

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا وَكِيِعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الْمَسْأَلَةَ كَدٌّ يَكُدُّ بِهَا الرَّجُلُ وَجْهَهُ إِلاَّ أَنْ يَسْأَلَ الرَّجُلُ سُلْطَانًا أَوْ فِي أَمْرٍ لاَ بُدَّ مِنْهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৬৭৮. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ..... সামুরা ইবনে জুনদুর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ যাঞ্ছা হল একটি হীন শ্রান্তিকর কাজ: এর দ্বারা মানুষ তার চেহারাকেই শ্রান্ত করে ফেলে। তবে শাসকের নিকট কিছু দাবী করা বা এমন অবস্থায় চাওয়া যা ছাড়া গত্যন্তর নেই, তা হল ভিন্ন কথা।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ্।