أبواب السير عن رسول الله صلى الله عليه وسلم

২১. নবীজী ﷺ থেকে বর্ণিত জিহাদের বিধানাবলী

অধ্যায় ২১ · ৭১ টি হাদীস

যুদ্ধের পূর্বে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া।

باب مَا جَاءَ فِي الدَّعْوَةِ قَبْلَ الْقِتَالِ

১৫৪৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، أَنَّ جَيْشًا، مِنْ جُيُوشِ الْمُسْلِمِينَ كَانَ أَمِيرَهُمْ سَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ حَاصَرُوا قَصْرًا مِنْ قُصُورِ فَارِسَ فَقَالُوا يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَلاَ نَنْهَدُ إِلَيْهِمْ قَالَ دَعُونِي أَدْعُهُمْ كَمَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْعُوهُمْ . فَأَتَاهُمْ سَلْمَانُ فَقَالَ لَهُمْ إِنَّمَا أَنَا رَجُلٌ مِنْكُمْ فَارِسِيٌّ تَرَوْنَ الْعَرَبَ يُطِيعُونَنِي فَإِنْ أَسْلَمْتُمْ فَلَكُمْ مِثْلُ الَّذِي لَنَا وَعَلَيْكُمْ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْنَا وَإِنْ أَبَيْتُمْ إِلاَّ دِينَكُمْ تَرَكْنَاكُمْ عَلَيْهِ وَأَعْطُونَا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَأَنْتُمْ صَاغِرُونَ . قَالَ وَرَطَنَ إِلَيْهِمْ بِالْفَارِسِيَّةِ وَأَنْتُمْ غَيْرُ مَحْمُودِينَ . وَإِنْ أَبَيْتُمْ نَابَذْنَاكُمْ عَلَى سَوَاءٍ . قَالُوا مَا نَحْنُ بِالَّذِي نُعْطِي الْجِزْيَةَ وَلَكِنَّا نُقَاتِلُكُمْ . فَقَالُوا يَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَلاَ نَنْهَدُ إِلَيْهِمْ قَالَ لاَ . فَدَعَاهُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ إِلَى مِثْلِ هَذَا ثُمَّ قَالَ انْهَدُوا إِلَيْهِمْ . قَالَ فَنَهَدْنَا إِلَيْهِمْ فَفَتَحْنَا ذَلِكَ الْقَصْرَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ بُرَيْدَةَ وَالنُّعْمَانِ بْنِ مُقَرِّنٍ وَابْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ . وَحَدِيثُ سَلْمَانَ حَدِيثٌ حَسَنٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ . وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ أَبُو الْبَخْتَرِيِّ لَمْ يُدْرِكْ سَلْمَانَ لأَنَّهُ لَمْ يُدْرِكْ عَلِيًّا وَسَلْمَانُ مَاتَ قَبْلَ عَلِيٍّ . وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى هَذَا وَرَأَوْا أَنْ يُدْعَوْا قَبْلَ الْقِتَالِ وَهُوَ قَوْلُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ قَالَ إِنْ تُقُدِّمَ إِلَيْهِمْ فِي الدَّعْوَةِ فَحَسَنٌ يَكُونُ ذَلِكَ أَهْيَبَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ دِعْوَةَ الْيَوْمَ . وَقَالَ أَحْمَدُ لاَ أَعْرِفُ الْيَوْمَ أَحَدًا يُدْعَى . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ لاَ يُقَاتَلُ الْعَدُوُّ حَتَّى يُدْعَوْا إِلاَّ أَنْ يَعْجَلُوا عَنْ ذَلِكَ فَإِنْ لَمْ يَفْعَلْ فَقَدْ بَلَغَتْهُمُ الدَّعْوَةُ .

১৫৫৪। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আব্দুল বাখতারী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সালমান ফারসী (রাযিঃ)-এর নেতৃত্বে একটি মুসলিম বাহিনী পারস্যের একটি কিল্লা অবরোধ করেছিল। মুসলিম বাহিনীর সদস্যরা বলল, হে আবু আব্দুল্লাহ,[১] আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে হামলা চালাব না? তিনি বললেন, আমাকে ছেড়ে দাও, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে যেমন দাওয়াত দিতে শুনেছি তেমনিভাবে আমি এদেরকে (ইসলামের) দাওয়াত দিব। এরপর সালমান (রাযিঃ) এদের (শত্রুদের) কাছে এলেন এবং বললেন, আমি তোমাদের মতই এক ফারসী বংশ উদ্ভুত লোক। তোমরা দেখছ আরবরা আমার আনুগত্য করছে।

তোমরা যদি ইসলাম গ্রহণ কর তবে আমাদের যা (হক) আছে তোমাদেরও তা-ই হবে। আর আমাদের উপর যা প্রযোজ্য হয় তোমাদের উপরও তা প্রযোজ্য হবে। তোমরা যদি তোমাদের দ্বীন ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাও তবে আমরা তোমাদের ধর্মের উপরই তোমাদের থাকতে দেব। তোমরা আমাদের আনুগত্য স্বীকার করে আমাদেরকে সহস্তে জিযইয়া দিবে। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি এদের সাথে ফারসীতেও আলাপ করলেন। তিনি বললেন, এমতাবস্থায় তোমরা প্রশংসিত হবে না। তা-ও যদি তোমরা অস্বীকার কর তবে সমানভাবে আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা দিচ্ছি। তারা বলল, আমরা তোমাদের জিযইয়া প্রদান করব না বরং তোমাদের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করব।

মুসলিম বাহিনীর লোকেরা বলল, হে আবু আব্দুল্লাহ, আমরা কি এদের বিরুদ্ধে হামলা করব না? তিনি বললেন, না। বর্ণনাকারী বলেন, এই ভাবে তিনি তাদেরকে তিন দিন পর্যন্ত দাওয়াত দিলেন। এরপর বললেন, এবার তোমরা এদের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা কর। সেমতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে হামলা করলাম এবং ঐ কিল্লাটি জয় করে নিলাম।



এই বিষয়ে বুরায়দা, নু‘মান ইবনে মুকাররিন, ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। সালমান (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান। আতা ইবনে সাইব (রাহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। মুহাম্মাদ বুখারী (রাহঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আবুল বাখতারী (রাহঃ) সালমান (রাযিঃ) তো আলী (রাযিঃ)-এর পূর্বে ইন্তিকাল করেছেন। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম এই হাদীসানুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের মত প্রকাশ করেছেন। তারা যুদ্ধের পূর্বে ইসলামের প্রতি দাওয়াত প্রদান করতে হবে বলে মনে করেন। এ হল ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) এর অভিমত। তিনি বলেন, দাওয়াতের ক্ষেত্রে যদি অগ্রবর্তী হওয়া যায় তবে তা ভাল এবং তা তাদের মধ্যে অধিকতর ভীতি সঞ্চারক হবে। কতক আলিম বলেন, বর্তমান যুগে আর দাওয়াতের প্রয়োজন নেই। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, ইসলামের দাওয়াত প্রদান না করা পর্যন্ত শত্রুদের সঙ্গে যুদ্ধ করা যাবে না। কিন্তু যদি তা না করে তাতেও কোন দোষ নেই। কেননা দাওয়াত তো ইতিমধ্যে তাদের কাছে পৌছে গেছেই।

[১] সালমান ফারসী (রাযিঃ)-এর উপনাম।

শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ

باب

১৫৪৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الْعَدَنِيُّ الْمَكِّيُّ، - وَيُكْنَى بِأَبِي عَبْدِ اللَّهِ الرَّجُلُ الصَّالِحُ هُوَ ابْنُ أَبِي عُمَرَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ نَوْفَلِ بْنِ مُسَاحِقٍ عَنِ ابْنِ عِصَامٍ الْمُزَنِيِّ عَنْ أَبِيهِ وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا بَعَثَ جَيْشًا أَوْ سَرِيَّةً يَقُولُ لَهُمْ " إِذَا رَأَيْتُمْ مَسْجِدًا أَوْ سَمِعْتُمْ مُؤَذِّنًا فَلاَ تَقْتُلُوا أَحَدًا " . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَهُوَ حَدِيثُ ابْنِ عُيَيْنَةَ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৫৫৫। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া আদানী মক্কী তার উপনাম আবু আব্দুল্লাহ, তিনি ছিলেন একজন সৎ লোক। তিনি হলেন, ইবনে আবী উমর (রাহঃ) ......... ইমাম মুযানী তিনি ছিলেন সাহাবী ((রাযিঃ)) থেকে তার পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোন বাহিনীকে অভিযানে প্রেরণ করতেন তখন তাদের বলতেন, তোমরা যদি কোথাও মসজিদ দেখতে পাও বা কোন মুয়াযযিনের আযান শুনতে পাও তবে সেখানকার কাউকে হত্যা করবে না। আবু দাউদ ৪৫৪

এ হাদীসটি হাসান-গারীব। এটি হল ইবনে উয়াইনা (রাহঃ)-এর রিওয়ায়াত।

রাতে বা অতর্কিত আক্রমণ করা।

باب مَا جَاءَ فِي الْبَيَاتِ وَالْغَارَاتِ

১৫৫০

حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ خَرَجَ إِلَى خَيْبَرَ أَتَاهَا لَيْلاً وَكَانَ إِذَا جَاءَ قَوْمًا بِلَيْلٍ لَمْ يُغِرْ عَلَيْهِمْ حَتَّى يُصْبِحَ فَلَمَّا أَصْبَحَ خَرَجَتْ يَهُودُ بِمَسَاحِيهِمْ وَمَكَاتِلِهِمْ فَلَمَّا رَأَوْهُ قَالُوا مُحَمَّدٌ وَافَقَ وَاللَّهِ مُحَمَّدٌ الْخَمِيسَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذَرِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৫৫৬। আনসারী (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বরের অভিযানে বের হলে রাতে এসে সেখানে পৌছেন। তিনি কোথাও রাতে এলে সকাল না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে অতর্কিত আক্রমণ করতেন না। যা হোক, সকালে খায়বরের ইয়াহুদীরা তাদের কোদাল ঝুড়িসহ (কাজের উদ্দেশ্যে) বের হল। যখন তারা তাঁকে দেখল তখন বলতে লাগল, মুহাম্মাদ, আল্লাহর কসম মুহাম্মাদ তার বিরাট পূর্ণাঙ্গ বাহিনী নিয়ে এসে গেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আল্লাহ আকবর, খায়বর বিনষ্ট হয়ে গেল, আমরা যখন কোন শত্রু সম্প্রদায়ের অঙ্গণে অবতরণ করি তখন যাদের সতর্ক করা হয়েছিল কতই না মন্দ হয় তাদের সেই ভোর। নাসাঈ

১৫৫১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا ظَهَرَ عَلَى قَوْمٍ أَقَامَ بِعَرْصَتِهِمْ ثَلاَثًا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَحَدِيثُ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَخَّصَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الْغَارَةِ بِاللَّيْلِ وَأَنْ يَبِيتُوا وَكَرِهَهُ بَعْضُهُمْ . وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ لاَ بَأْسَ أَنْ يُبَيَّتَ الْعَدُوُّ لَيْلاً . وَمَعْنَى قَوْلِهِ وَافَقَ مُحَمَّدٌ الْخَمِيسَ يَعْنِي بِهِ الْجَيْشَ .

বর্ণনাকারী: আবূ তালহা আনসারী (রাঃ)

১৫৫৭। কুতায়বা ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু তালহা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) যখন কোন সম্প্রদায়ের উপর বিজয় লাভ করতেন তখন তাদের অঞ্চলে তিন দিন অবস্থান করতেন। আবু দাউদ ২৪১৪, নাসাঈ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। হুমায়স-আনাস (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত হাদীসটিও (১৫৫৬ নং) হাসান-সহীহ। কতক আলিম রাতে অতর্কিত আক্রমণের অবকাশ রেখেছেন। আর কতক আলিম এটিকে মাকরূহ বা নিন্দনীয় বলে মনে করেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) বলেন, রাত্রে শত্রুর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনায় কোন অসুবিধা নেই।

وَافَقَ مُحَمَّدٌ الْخَمِيسَ অর্থ হলঃ মুহাম্মাদ তার পূর্ণ বাহিনী সহ।

শত্রু অঞ্চল জ্বালিয়ে দেওয়া এবং তা ধ্বংস করা।

باب فِي التَّحْرِيقِ وَالتَّخْرِيبِ

১৫৫২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَرَّقَ نَخْلَ بَنِي النَّضِيرِ وَقَطَعَ وَهِيَ الْبُوَيْرَةُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ : (مَا قَطَعْتُمْ مِنْ لِينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَلِيُخْزِيَ الْفَاسِقِينَ) . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ ذَهَبَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا وَلَمْ يَرَوْا بَأْسًا بِقَطْعِ الأَشْجَارِ وَتَخْرِيبِ الْحُصُونِ . وَكَرِهَ بَعْضُهُمْ ذَلِكَ وَهُوَ قَوْلُ الأَوْزَاعِيِّ . قَالَ الأَوْزَاعِيُّ وَنَهَى أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ يَزِيدَ أَنْ يَقْطَعَ شَجَرًا مُثْمِرًا أَوْ يُخَرِّبَ عَامِرًا وَعَمِلَ بِذَلِكَ الْمُسْلِمُونَ بَعْدَهُ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ لاَ بَأْسَ بِالتَّحْرِيقِ فِي أَرْضِ الْعَدُوِّ وَقَطْعِ الأَشْجَارِ وَالثِّمَارِ . وَقَالَ أَحْمَدُ وَقَدْ تَكُونُ فِي مَوَاضِعَ لاَ يَجِدُونَ مِنْهُ بُدًّا فَأَمَّا بِالْعَبَثِ فَلاَ تُحَرَّقُ . وَقَالَ إِسْحَاقُ التَّحْرِيقُ سُنَّةٌ إِذَا كَانَ أَنْكَى فِيهِمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৫৫৮। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বনু নাযির গোত্রের বুওয়ায়রার খেজুর বাগান জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন এবং গাছগুলি কেটে ফেলেছিলেন। এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা নাযিল করেনঃ

مَا قَطَعْتُمْ مِنْ لِينَةٍ أَوْ تَرَكْتُمُوهَا قَائِمَةً عَلَى أُصُولِهَا فَبِإِذْنِ اللَّهِ وَلِيُخْزِيَ الْفَاسِقِينَ

তোমরা যে গাছগুলি কেটেছ বা যেগুলি কান্ডের উপর ছেড়ে রেখে দিয়েছ তা তো আল্লাহরই অনুমতিক্রমে; আর এ জন্য যে, আল্লাহ ফাসিকদেরকে লাঞ্চিত করবেন। [৫৯ঃ ৫]

ইবনে মাজাহ ২৮৪৪, নাসাঈ

এ বিষয়ে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণের এক সম্প্রদায় এ মত অবলম্বন করেছেন। যুদ্ধে বৃক্ষকর্তণ এবং কেল্লা ধ্বংস করায় কোন দোষ আছে বলে তারা মনে করেন না। কতক আলিম তা অপছন্দনীয় বলে মত প্রকাশ করেছেন। এ হল ইমাম আওযাঈ-এর অভিমত। তিনি বলেন, ফলন্ত বৃক্ষ কর্তণ করতে বা আবাদী ধ্বংস করতে আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) নিষেধ করেছেন। শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, শত্রুর সম্পত্তি জ্বালানো এবং তাদের বৃক্ষ ও ফল কর্তন করায় কোন দোষ নেই। আহমাদ (রাহঃ) বলেন, এ ছাড়া যদি কোন উপায় না থাকে এমন স্থানে তা করা যাবে। প্রয়োজন ছাড়া জ্বালাও-পোড়াও করা যাবে না। ইসহাক (রাহঃ) বলেন, শত্রু প্রতি যদি আঘাত বেশী হয় তবে আগুন লাগান সুন্নত বলে বিবেচিত হবে।

গনিমত প্রসঙ্গে

باب مَا جَاءَ فِي الْغَنِيمَةِ

১৫৫৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ سَيَّارٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ اللَّهَ فَضَّلَنِي عَلَى الأَنْبِيَاءِ أَوْ قَالَ أُمَّتِي عَلَى الأُمَمِ وَأَحَلَّ لَنَا الْغَنَائِمَ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَأَبِي ذَرٍّ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَأَبِي مُوسَى وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي أُمَامَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَسَيَّارٌ هَذَا يُقَالُ لَهُ سَيَّارٌ مَوْلَى بَنِي مُعَاوِيَةَ . وَرَوَى عَنْهُ سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَحِيرٍ وَغَيْرُ وَاحِدٍ .

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فُضِّلْتُ عَلَى الأَنْبِيَاءِ بِسِتٍّ أُعْطِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَأُحِلَّتْ لِيَ الْغَنَائِمُ وَجُعِلَتْ لِيَ الأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا وَأُرْسِلْتُ إِلَى الْخَلْقِ كَافَّةً وَخُتِمَ بِيَ النَّبِيُّونَ " . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

১৫৫৯। মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ মুহারিবী (রাহঃ) ......... আবু উমামা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাকে নবীগণের উপর মর্যাদা দিয়েছেন। অথবা তিনি বলেছেন, আমার উম্মতকে অপরাপর উম্মতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং তিনি আমাদের জন্য গনিমত হালাল করেছেন।



এ বিষয়ে আলী, আবু যর, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, আবু মুসা ও ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। শুধু উমামা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। বর্ণনাকারী এ সায়্যার হলেন বনু মুআবিয়া-এর আযাতকৃত দাস সায়্যার। তার বরাতে সুলাইমান তায়মী আব্দুল্লাহ ইবনে বাহীর (রাহঃ) প্রমুখ বর্ণনা করেছেন।

আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, অন্যান্য নবীগণের উপর ছয়টি ক্ষেত্রে আমাকে অধিক মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আমাকে ব্যাপক ভাবকে অল্প কথায় প্রকাশ করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে, শত্রুর মনে আযাব প্রভাব সৃষ্টি করে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। আমার জন্য গনিমত সম্পদ হালাল করা হয়েছে। যমীনকে আমার জন্য মসজিদ ও তাহারাতের (পবিত্রতার) উপায় (তায়ম্মুম) হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সমগ্র সৃষ্টির প্রতি আমি প্রেরিত হয়েছি, আমার মাধ্যমে নবীগণের আগমন শেষ করা হয়েছে।

মুসলিম।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

অশ্বের হিস্যা।

باب مَا جَاءَ فِي سَهْمِ الْخَيْلِ

১৫৫৪
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، وَحُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُلَيْمُ بْنُ أَخْضَرَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَسَمَ فِي النَّفَلِ لِلْفَرَسِ بِسَهْمَيْنِ وَلِلرَّجُلِ بِسَهْمٍ .
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُلَيْمِ بْنِ أَخْضَرَ، نَحْوَهُ . وَفِي الْبَابِ عَنْ مُجَمِّعِ بْنِ جَارِيَةَ، وَابْنِ، عَبَّاسٍ وَابْنِ أَبِي عَمْرَةَ عَنْ أَبِيهِ، . وَهَذَا حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالأَوْزَاعِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالُوا لِلْفَارِسِ ثَلاَثَةُ أَسْهُمٍ سَهْمٌ لَهُ وَسَهْمَانِ لِفَرَسِهِ وَلِلرَّاجِلِ سَهْمٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৫৬০। আহমাদ ইবনে আব্দা যাববী ও হুমায়দ ইবনে মাসআদা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গনিমত বা যুদ্ধ সম্পদের অশ্বের জন্য দুই হিস্যা এবং অশ্ব মালিকের জন্য এক হিস্যা করে বণ্টন করেছেন। ইবনে মাজাহ ২৮৫৪, নাসাঈ

মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... সুলাইমান ইবনে আখযার (রাহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে মুজাম্মা‘ ইবনে জারিয়া, ইবনে আব্বাস, ইবনে আবু আমরা তৎপিতা (রাযিঃ) সূত্রেও হাদীস বর্ণিত আছে।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। এ হল সুফিয়ান ছাওরী, আওযাঈ, মালিক ইবনে আনাস, ইবনে মুবারক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। তারা বলেন, অশ্বারোহী সৈন্যের হল তিন হিস্যা তার নিজের আর অশ্বের খাতিরে হল দুই হিস্যা। পদাতিক সৈন্যের হল এক হিস্যা।

সারিয়্যা বা খণ্ড অভিযান।

باب مَا جَاءَ فِي السَّرَايَا

১৫৫৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الأَزْدِيُّ الْبَصْرِيُّ، وَأَبُو عَمَّارٍ وَغَيْرُ وَاحِدٍ قَالُوا حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَيْرُ الصَّحَابَةِ أَرْبَعَةٌ وَخَيْرُ السَّرَايَا أَرْبَعُمِائَةٍ وَخَيْرُ الْجُيُوشِ أَرْبَعَةُ آلاَفٍ وَلاَ يُغْلَبُ اثْنَا عَشَرَ أَلْفًا مِنْ قِلَّةٍ " . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ يُسْنِدُهُ كَبِيرُ أَحَدٍ غَيْرُ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ وَإِنَّمَا رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً . وَقَدْ رَوَاهُ حِبَّانُ بْنُ عَلِيٍّ الْعَنَزِيُّ عَنْ عُقَيْلٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَرَوَاهُ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ عُقَيْلٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৫৬১। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া আযদী, বসরী, আবু আম্মার প্রমুখ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সর্বোত্তম সঙ্গী সংখ্যা হল চার। সর্বোত্তম খণ্ড বাহিনী হল চার শতের। সর্বোত্তম পূর্ণ বাহিনী হল চার হাজারের আর বার হাজার সদস্যের বাহিনী কখনো সংখ্যাল্পতার কারণে পরাজিত হতে পারে না।



এ হাদীসটি হাসান-গারীব। জারীর ইবনে হাজিম ছাড়া বড় কেউ এটিকে মুসনাদ হিসাবে রিওয়ায়াত করেন নি। যুহরী (রাহঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এটি মুরসাল রূপে বর্ণিত আছে। হাব্বান ইবনে আলী আনাযী (রাহঃ) এটিকে উকায়ল-যুহরী-উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দিল্লাহ-ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। লায়ছ ইবনে সা‘দ (রাহঃ) এটিকে উকায়ল-যুহরী সূত্রে-নবী (ﷺ) থেকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন।

ফাই কাকে প্রদান করা হবে?

باب مَا جَاءَ مَنْ يُعْطَى الْفَىْءُ

১৫৫৬
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ، أَنَّ نَجْدَةَ الْحَرُورِيَّ، كَتَبَ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْزُو بِالنِّسَاءِ وَهَلْ كَانَ يَضْرِبُ لَهُنَّ بِسَهْمٍ فَكَتَبَ إِلَيْهِ ابْنُ عَبَّاسٍ كَتَبْتَ إِلَىَّ تَسْأَلُنِي هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْزُو بِالنِّسَاءِ وَكَانَ يَغْزُو بِهِنَّ فَيُدَاوِينَ الْمَرْضَى وَيُحْذَيْنَ مِنَ الْغَنِيمَةِ وَأَمَّا يُسْهِمُ فَلَمْ يَضْرِبْ لَهُنَّ بِسَهْمٍ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَأُمِّ عَطِيَّةَ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ يُسْهَمُ لِلْمَرْأَةِ وَالصَّبِيِّ . وَهُوَ قَوْلُ الأَوْزَاعِيِّ قَالَ الأَوْزَاعِيُّ وَأَسْهَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلصِّبْيَانِ بِخَيْبَرَ وَأَسْهَمَتْ أَئِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ لِكُلِّ مَوْلُودٍ وُلِدَ فِي أَرْضِ الْحَرْبِ .
قَالَ الأَوْزَاعِيُّ وَأَسْهَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلنِّسَاءِ بِخَيْبَرَ وَأَخَذَ بِذَلِكَ الْمُسْلِمُونَ بَعْدَهُ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ بِهَذَا . وَمَعْنَى قَوْلِهِ وَيُحْذَيْنَ مِنَ الْغَنِيمَةِ يَقُولُ يُرْضَخُ لَهُنَّ بِشَيْءٍ مِنَ الْغَنِيمَةِ يُعْطَيْنَ شَيْئًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৫৬২। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইয়াযীদ ইবনে হুরমুয (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-এর নিকট নাজদা হারূরী এই মর্মে জানতে চেয়ে পত্র দিয়েছিল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি মেয়েদের নিয়ে গাযওয়ায় (যুদ্ধে) যেতেন এবং তাদের জন্য কি গনিমতের অংশ নির্ধারণ করতেন? উত্তরে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) লিখলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মেয়েদের নিয়ে গাযওয়া করেছেন কিনা জানতে চেয়ে তুমি আমার কাছে পত্র লিখেছিলে। তিনি তাদের নিয়ে গাযওয়া গিয়েছেন। তারা অসুস্থদের শুশ্রূষা করত। তাদেরকে গনিমত সম্পদ থেকে কিছু দান করা হত। তবে তাদের কোন নির্ধারিত হিস্যা ছিল না। আবু দাউদ ২৪৩৮, মুসলিম

এ বিষয়ে আনাস ও উম্মু আতিয়্যা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। এ হল সুফিয়ান ছাওরী ও শাফিঈ (রাহঃ)-এর অভিমত। কতক আলিম বলেন, মেয়ে ও শিশুদেরকেও হিস্যা দেওয়া হবে। এ হল ইমাম আওযাঈ (রাহঃ)-এর অভিমত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) খায়বরে শিশুদের হিস্যা দিয়েছিলেন। সমর ফ্রন্টে যে শিশুর জন্ম হয় তাদেরও মুসলিমদের ইমাম বা রাষ্ট্র প্রধানগণ হিস্যা দিয়েছেন। আওযাঈ (রাহঃ) আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বরে মহিলাদেরও হিস্যা দিয়েছেন। পরবর্তীতে মুসলিমগণও এই পন্থা অনসরণ করেছেন।

আলী ইবনে খাশরাম (রাহঃ) ......... আওযাঈ (রাহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।يُحْذَيْنَ مِنَ الْغَنِيمَةِ অর্থ হল গনিমত থেকে মহিলাদের সামান্য দান করা যাবে।

গনিমতে গোলামদের জন্যও কি হিস্যা নির্ধারণ করা হবে?

باب هَلْ يُسْهَمُ لِلْعَبْدِ

১৫৫৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عُمَيْرٍ، مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ قَالَ شَهِدْتُ خَيْبَرَ مَعَ سَادَتِي فَكَلَّمُوا فِيَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَعْلَمُوهُ أَنِّي مَمْلُوكٌ . قَالَ فَأَمَرَ بِي فَقُلِّدْتُ السَّيْفَ فَإِذَا أَنَا أَجُرُّهُ فَأَمَرَ لِي بِشَيْءٍ مِنْ خُرْثِيِّ الْمَتَاعِ وَعَرَضْتُ عَلَيْهِ رُقْيَةً كُنْتُ أَرْقِي بِهَا الْمَجَانِينَ فَأَمَرَنِي بِطَرْحِ بَعْضِهَا وَحَبْسِ بَعْضِهَا . وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ لاَ يُسْهَمَ لِلْمَمْلُوكِ وَلَكِنْ يُرْضَخُ لَهُ بِشَيْءٍ . وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .

বর্ণনাকারী: উমায়র (রাঃ)

১৫৬৩। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবুল লাহমের মাওলা বা আযাদকৃত গোলাম উমায়র (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার মালিকদের সঙ্গে খায়বর যুদ্ধে হাযির ছিলাম। তারা আমার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে আলোচনা করল। তারা তাকে বলেছিলেন যে আমি একজন মালিকানা ভুক্ত গোলাম। উমায়র (রাযিঃ) বলেন, তার নির্দেশে আমার গলায় তলওয়ার লটকে দেওয়া হল। আমি তা হেঁচড়ে হেঁচড়ে চলছিলাম। অনন্তর তিনি আমার জন্য গনিমত সম্পদের থেকে সামান্য তৈজশপত্রের কিছু দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমি তার নিকট কিছু মন্ত্র পেশ করেছিলাম। এগুলোর সাহায্যে আমি পাগলদের ঝাড় ফুঁক করতাম। তিনি আমাকে এর কতক বাদ দিতে এবং কতক রাখতে নির্দেশ দিলেন।

আবু দাউদ ২৪৪০

এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন যে, গনিমত সম্পদ গোলামদের কোন নির্ধারতি হিস্যা নেই। তবে সামান্য কিছু তাদের দান করা যাবে। এ হল ছাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত।

যিম্মী নাগরিক মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধে শরীক হলে গনিমত সম্পদে তাদের হিস্যা হবে কি?

باب مَا جَاءَ فِي أَهْلِ الذِّمَّةِ يَغْزُونَ مَعَ الْمُسْلِمِينَ هَلْ يُسْهَمُ لَهُمْ

১৫৫৮
حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ الْفُضَيْلِ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نِيَارٍ الأَسْلَمِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى بَدْرٍ حَتَّى إِذَا كَانَ بِحَرَّةِ الْوَبَرِ لَحِقَهُ رَجُلٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ يَذْكُرُ مِنْهُ جُرْأَةً وَنَجْدَةً فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَلَسْتَ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ " . قَالَ لاَ . قَالَ " ارْجِعْ فَلَنْ أَسْتَعِينَ بِمُشْرِكٍ " . وَفِي الْحَدِيثِ كَلاَمٌ أَكْثَرُ مِنْ هَذَا . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا لاَ يُسْهَمُ لأَهْلِ الذِّمَّةِ وَإِنْ قَاتَلُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ الْعَدُوَّ . وَرَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنْ يُسْهَمَ لَهُمْ إِذَا شَهِدُوا الْقِتَالَ مَعَ الْمُسْلِمِينَ .

وَيُرْوَى عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَسْهَمَ لِقَوْمٍ مِنَ الْيَهُودِ قَاتَلُوا مَعَهُ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عَزْرَةَ بْنِ ثَابِتٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ بِهَذَا . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৬৪। আনসারী (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বদর যাত্রাকলে যখন ‘‘হাররাতুল ওয়াবর’’ নামক স্থানে পৌছলেন তখন জনৈক মুশরিক এসে তাঁর সঙ্গে শামিল হল। সাহসিকতা ও বাহাদুরীতে তার খুব খ্যাতি ছিল। তাকে নবী (ﷺ) বললেন, তুমি কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান রাখ? সে বলল, না, তিনি বললেন, তা হলে ফিরে যাও! আমি কখনো মুশরিকদের সাহায্য নিব না। ইবনে মাজাহ ২৮৩২, মুসলিম

হাদীসটিতে আরো আলোচনা রয়েছে। ইমাম ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। কতক আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। কোন জিম্মী বা মুসলিম দেশের অমুসলিম নাগরিক মুসলিমদের সাথে থেকে শত্রু বিরুদ্ধে যদি যুদ্ধ করে তবু তাদেরকে গনিমত সম্পদ থেকে নির্দিষ্ট হারে হিস্যা প্রদান করা যাবে না। কতক আলিম বলেন, মুসলিমদের সাথে যদি তারা যুদ্ধে হাযির হয় তবে তাদের হিস্যা প্রদান করা হবে।

যুহরী (রাহঃ)-এর বরাতে বর্ণিত আছে যে, নবী (ﷺ) ইয়াহুদীদের একদলকে গনিমতের হিস্যা দিয়েছিলেন যারা তাঁর সঙ্গে যুদ্ধে শরীক হয়েছিল।

কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... যুহরী (রাহঃ) থেকে উক্ত রিওয়ায়াত করেছেন।
১৫৫৯

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا بُرَيْدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ جَدِّهِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نَفَرٍ مِنَ الأَشْعَرِيِّينَ خَيْبَرَ فَأَسْهَمَ لَنَا مَعَ الَّذِينَ افْتَتَحُوهَا . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ، وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالَ الأَوْزَاعِيُّ مَنْ لَحِقَ بِالْمُسْلِمِينَ قَبْلَ أَنْ يُسْهَمَ لِلْخَيْلِ أُسْهِمَ لَهُ . وَبُرَيْدٌ يُكْنَى أَبَا بُرَيْدَةَ وَهُوَ ثِقَةٌ وَرَوَى عَنْهُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَابْنُ عُيَيْنَةَ وَغَيْرُهُمَا .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

১৫৬৫। আবু সাঈদ আশাজ্জ (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আশআরী গোত্রের একদল লোকসহ আমি খায়বরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এলাম। যারা এ এলাকাটি জয় করেছিলেন তাদের সঙ্গে আমাদেরকেও তিনি গনিমতের হিস্যা দিয়েছিলেন। আবু দাউদ ২৪৩৬, নাসাঈ

ইমাম ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। কতক আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। আওযাঈ (রাহঃ) বলেন, মুসলিম বাহিনীর মাঝে গনিমত সম্পদ বণ্টন করার পূর্বে যদি কোন মুসলিম এসে তাদের সঙ্গে শামিল হয় তবে তাকেও তা থেকে হিস্যা প্রদান করা হবে।

মুশরিকদের পাত্র ব্যবহার করা।

باب مَا جَاءَ فِي الاِنْتِفَاعِ بِآنِيَةِ الْمُشْرِكِينَ

১৫৬০
حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَخْزَمَ الطَّائِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو قُتَيْبَةَ، سَلْمُ بْنُ قُتَيْبَةَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيِّ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ قُدُورِ الْمَجُوسِ فَقَالَ " أَنْقُوهَا غَسْلاً وَاطْبُخُوا فِيهَا " . وَنَهَى عَنْ كُلِّ سَبُعٍ وَذِي نَابٍ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ رَوَاهُ أَبُو إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيُّ عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ . وَأَبُو قِلاَبَةَ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ إِنَّمَا رَوَاهُ عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ .

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ حَيْوَةَ بْنِ شُرَيْحٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَبِيعَةَ بْنَ يَزِيدَ الدِّمَشْقِيَّ، يَقُولُ أَخْبَرَنِي أَبُو إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيُّ، عَائِذُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيَّ، يَقُولُ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا بِأَرْضِ قَوْمٍ أَهْلِ كِتَابٍ نَأْكُلُ فِي آنِيَتِهِمْ قَالَ " إِنْ وَجَدْتُمْ غَيْرَ آنِيَتِهِمْ فَلاَ تَأْكُلُوا فِيهَا فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا فَاغْسِلُوهَا وَكُلُوا فِيهَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু ছালাবা আল-খুশানী রাযি.

১৫৬৬। যায়দ ইবনে আখযাম তাঈ (রাহঃ) ......... আবু ছা‘লাবা খুশানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে অগ্নি পূজকদের পাত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন, এগুলো মেজে ধুয়ে পবিত্র করে নিবে এরপর তাতে পাক করবে। তিনি দাঁতাল হিংস্র প্রাণী নিষিদ্ধ করেছেন।

ইবনে মাজাহ ৩২০৭, ৩২৩২, নাসাঈ

হাদীসটি আবু ছা‘লাবা (রাযিঃ) থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে। আবু ইদরীস খাওলানী (রাহঃ)-ও এটিকে আবু ছা‘লাবা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু ছা‘লাবা (রাযিঃ)-এর কাছে আবু কিলাবা (রাহঃ) সরাসরি কিছু শুনেন নি। তিনি এটিকে আসলে আবু আসমা সূত্রে আবু ছা‘লাবা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

হান্নাদ (রাহঃ) ......... আবু ইদরীস আল-খাওলানী আইযুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু ছা‘লাবা খুশানী (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা এমন এক অঞ্চলে থাকি যেখানে কিতাবীদের বাস। আমরা তাদের পাত্রাদিতেও আহার করি। তিনি বললেন, এ ছাড়া অন্য পাত্র যদি পাও তবে আর এগুলোতে আহার করবে না। আর তা যদি না পাও তবে সেগুলো ধুয়ে নিবে এবং তাতে আহার করবে। ইবনে মাজাহ ৩২০৭, নাসাঈ।

ইমাম ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

নাফল বা গনিমতের হিস্যার অতিরিক্ত কিছু প্রদান।

باب مَا جَاءَ فِي النَّفَلِ

১৫৬১
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ أَبِي سَلاَّمٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُنَفِّلُ فِي الْبَدْأَةِ الرُّبُعَ وَفِي الْقُفُولِ الثُّلُثَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ سَعْدٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَحَبِيبِ بْنِ مَسْلَمَةَ وَمَعْنِ بْنِ يَزِيدَ وَابْنِ عُمَرَ وَسَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ . وَحَدِيثُ عُبَادَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ أَبِي سَلاَّمٍ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَنَفَّلَ سَيْفَهُ ذَا الْفَقَارِ يَوْمَ بَدْرٍ وَهُوَ الَّذِي رَأَى فِيهِ الرُّؤْيَا يَوْمَ أُحُدٍ . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ إِنَّمَا نَعْرِفُهُ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ أَبِي الزِّنَادِ . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي النَّفَلِ مِنَ الْخُمُسِ فَقَالَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ لَمْ يَبْلُغْنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَفَّلَ فِي مَغَازِيهِ كُلِّهَا وَقَدْ بَلَغَنِي أَنَّهُ نَفَّلَ فِي بَعْضِهَا وَإِنَّمَا ذَلِكَ عَلَى وَجْهِ الاِجْتِهَادِ مِنَ الإِمَامِ فِي أَوَّلِ الْمَغْنَمِ وَآخِرِهِ . قَالَ ابْنُ مَنْصُورٍ قُلْتُ لأَحْمَدَ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَفَّلَ إِذَا فَصَلَ بِالرُّبُعِ بَعْدَ الْخُمُسِ وَإِذَا قَفَلَ بِالثُّلُثِ بَعْدَ الْخُمُسِ فَقَالَ يُخْرِجُ الْخُمُسَ ثُمَّ يُنَفِّلُ مِمَّا بَقِيَ وَلاَ يُجَاوِزُ هَذَا . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا الْحَدِيثُ عَلَى مَا قَالَ ابْنُ الْمُسَيَّبِ النَّفَلُ مِنَ الْخُمُسِ . قَالَ إِسْحَاقُ كَمَا قَالَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

১৫৬৭। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) আক্রমণের প্রথম ভাগে এক-চতুর্থাংশ এবং ফেরতী হামলা ক্ষেত্রে এক তৃতীয়াংশ নাফল বা অতিরিক্ত প্রদান করতেন।



এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস, হাবীব ইবনে মাসলামা, মা‘ন ইবনে ইয়াযীদ, ইবনে উমর, সালামা ইবনে আকওয়া‘ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। উবাদা (রাযিঃ)-এর হাদীসটি হাসান। হাদীসটি আবু সাল্লাম-জনৈক সাহাবী সূত্রেও বর্ণিত আছে।

হান্নাদ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর যুল ফাকার নামক তলওয়ারটি বদর যুদ্ধে নাফল হিসাবে পেয়েছিলেন। উহুদ যুদ্ধের দিন এটিকে জড়িয়ে তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন।

এই হাদীসটি হাসান-গারীব। ইবনে আবু যিনাদ (রাহঃ) এর হাদীস হিসাবে এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের জানা নাই। খুমুস বা গনিমত সম্পদের একপঞ্চমাংশ থেকে নাফল বা অতিরিক্ত পুরস্কার প্রদানের বিষয়ে আলিমগণের মত বিরোধ রয়েছে। মালিক ইবনে আনাস (রাহঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সবকটি গাযওয়াতে ‘‘নাফল’’ প্রদান করেছেন বলে কোন রিওয়ায়াত আমাদের কাছে পৌছেনি। আমার কাছে যে রিওয়ায়াত পৌছেছে তা হল, তিনি কতক গাযওয়ায় তা দিয়েছেন।

এই বিষয়টি হল শুরু বা শেষ গনিমত হিসাবে ইমাম বা মুসলিম সরকার প্রদানের বিবেচনার উপর নির্ভরশীল। ইবনে মানসুর (রাহঃ) বলেন, আমি আহমাদকে বললাম, এতে তো কোন বিতর্ক নেই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দল থেকে পৃথক হয়ে যুদ্ধে যাত্রার ক্ষেত্রে এক পঞ্চমাংশের পর একচতুর্থাংশ এবং ফেরতীর সময় একপঞ্চমাংশের পর একতৃতীয়াংশ নাফল হিসাবে প্রদান করেছেন। তখন তিনি বললেন, প্রথমে সমস্ত গনিমতের এক পঞ্চমাংশ আলাদা করে নেয়া হবে। তার অবশিষ্টাংশ হতে নাফল প্রদান করা হবে এবং তা এই পরিমাণ অতিক্রম করে যেন না যায়। এই হাদীসটি ইবনুল মুসায়্যোবের কথার উপর প্রযোজ্য য়ে, ‘‘নাফল’’ দেওয়া হবে খুমুস বা একপঞ্চমাংশ থেকে। ইসহাক (রাহঃ)-ও তদ্রূপ কথা বলেছেন।

যে ব্যক্তি কোন শত্রুকে হত্যা করবে তার জন্য হবে নিহত ব্যক্তির অস্ত্র-সস্ত্র ও মাল-সামান।

باب مَا جَاءَ فِيمَنْ قَتَلَ قَتِيلاً فَلَهُ سَلَبُهُ

১৫৬২
حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنٌ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ كَثِيرِ بْنِ أَفْلَحَ، عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ، مَوْلَى أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَتَلَ قَتِيلاً لَهُ عَلَيْهِ بَيِّنَةٌ فَلَهُ سَلَبُهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْحَدِيثِ قِصَّةٌ .
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ، وَخَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ، وَأَنَسٍ، وَسَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو مُحَمَّدٍ هُوَ نَافِعٌ مَوْلَى أَبِي قَتَادَةَ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَهُوَ قَوْلُ الأَوْزَاعِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لِلإِمَامِ أَنْ يُخْرِجَ مِنَ السَّلَبِ الْخُمُسَ . وَقَالَ الثَّوْرِيُّ النَّفَلُ أَنْ يَقُولَ الإِمَامُ مَنْ أَصَابَ شَيْئًا فَهُوَ لَهُ وَمَنْ قَتَلَ قَتِيلاً فَلَهُ سَلَبُهُ فَهُوَ جَائِزٌ وَلَيْسَ فِيهِ الْخُمُسُ . وَقَالَ إِسْحَاقُ السَّلَبُ لِلْقَاتِلِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ شَيْئًا كَثِيرًا فَرَأَى الإِمَامُ أَنْ يُخْرِجَ مِنْهُ الْخُمُسَ كَمَا فَعَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

১৫৬৮। আনসারী (রাহঃ) ......... আবু কাদাতা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি (শত্রু) কাউকে হত্যা করবে আর এ বিষয়ে যদি তার প্রমাণ থাকে তবে তার জন্য হবে নিহত ব্যক্তির অস্ত্র-সস্ত্র ও মাল-সামান। আবু দাউদ ২৪৩, নাসাঈ

হাদীসটিতে আরো কাহিনী রয়েছে। ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) থেকে উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে আওফ ইবনে মালিক, খালিদ ইবনে ওয়ালীদ, আনাস ও সামুরা (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবু মুহাম্মাদ (রাহঃ) হলেন আবু কাতাদা (রাহঃ)-এর আযদকৃত গোলাম নাফি। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। এ হল আওযাঈ, শাফিঈ ও আহমাদ (রাহঃ)-এর অভিমত। কতক আলিম বলেন, ইমাম বা খালীফা সালাব বা নিহত শত্রুর মাল-সামান থেকেও খুমুস বা একপঞ্চমাংশ রাখার ক্ষমতা রাখেন।

ছাওরী (রাহঃ) বলেন, নাফল হল, ইমামের এই মর্মে ঘোষণা প্রদান যে, যুদ্ধে যে যা হস্তগত করবে তা তার এবং যে ব্যক্তি কোন শত্রুকে নিহত করবে তার জন্য নিহত ব্যক্তির মাল-সামান ও অস্ত্র-সস্ত্র। তা জায়েয এবং এতে খুমুস নেই। ইসহাক (রাহঃ) বলেন, সালাব বা নিহত ব্যক্তির মাল-সামান ও অস্ত্রসস্ত্র হবে হত্যাকারীর। কিন্তু সম্পদের পরিমাণ যদি অনেক হয় আর ইমাম যদি মনে করেন তা থেকে খুমুস নিবেন তবে তা পারেন। উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এইরূপ করেছিলেন।

বন্টনের পূর্বে গনিমত লব্ধ সম্পদ বিক্রয় হারাম।

باب فِي كَرَاهِيَةِ بَيْعِ الْمَغَانِمِ حَتَّى تُقْسَمَ

১৫৬৩

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ جَهْضَمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ شِرَاءِ الْمَغَانِمِ حَتَّى تُقْسَمَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৫৬৯। হান্নাদ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বন্টন না হওয়া পর্যন্ত গনিমত সম্পদ ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করেছেন।

এই বিষয়ে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি গারীব।

গর্ভবতী বন্দীনীদের উপর উপগত হওয়া হারাম।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ وَطْءِ الْحَبَالَى مِنَ السَّبَايَا

১৫৬৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ النَّبِيلُ، عَنْ وَهْبٍ أَبِي خَالِدٍ، قَالَ حَدَّثَتْنِي أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ، أَنَّ أَبَاهَا، أَخْبَرَهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ تُوطَأَ السَّبَايَا حَتَّى يَضَعْنَ مَا فِي بُطُونِهِنَّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ رُوَيْفِعِ بْنِ ثَابِتٍ . وَحَدِيثُ عِرْبَاضٍ حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَقَالَ الأَوْزَاعِيُّ إِذَا اشْتَرَى الرَّجُلُ الْجَارِيَةَ مِنَ السَّبْىِ وَهِيَ حَامِلٌ فَقَدْ رُوِيَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّهُ قَالَ لاَ تُوطَأُ حَامِلٌ حَتَّى تَضَعَ . قَالَ الأَوْزَاعِيُّ وَأَمَّا الْحَرَائِرُ فَقَدْ مَضَتِ السُّنَّةُ فِيهِنَّ بِأَنْ أُمِرْنَ بِالْعِدَّةِ . قَالَ حَدَّثَنِي بِذَلِكَ عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ قَالَ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ .

বর্ণনাকারী: ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাঃ)

১৫৭০। মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া আন-নায়সাবূরী (রাহঃ) ......... ইরবায ইবনে সারিয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রসব না হওয়া পর্যন্ত বন্দীনীদের উপর উপগত হওয়া নিষিদ্ধ করেছেন।

এই বিষয়ে রুওয়ায়ফি‘ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইরবায (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি গারীব। আলিমগণ এতদনুসারে আমল করেছেন। আওযাঈ (রাহঃ) বলেন, কেউ যদি কোনি গর্ভবতী বন্দীনী দাসী ক্রয় করে সে বিষয়ে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, সন্তান প্রসব না হওয়া পর্যন্ত তার সঙ্গে উপগত হওয়া যাবে না। আওযাঈ (রাহঃ) আরো বলেছেন, স্বাধীন মহিলাদের ক্ষেত্রে অনুসৃত সুন্নত হল যে তাদেরকে নির্ধারিত ইদ্দত পালনের নির্দেশ প্রদান করা হবে।

মুশরিকদের খাদ্য।

باب مَا جَاءَ فِي طَعَامِ الْمُشْرِكِينَ

১৫৬৫
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، عَنْ شُعْبَةَ، أَخْبَرَنِي سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ قَبِيصَةَ بْنَ هُلْبٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ طَعَامِ النَّصَارَى فَقَالَ " لاَ يَتَخَلَّجَنَّ فِي صَدْرِكَ طَعَامٌ ضَارَعْتَ فِيهِ النَّصْرَانِيَّةَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .
قَالَ أَبُو عِيسَى سَمِعْتُ مَحْمُودًا، وَقَالَ، عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ هُلْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .
قَالَ مَحْمُودٌ وَقَالَ وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ مُرِّيِّ بْنِ قَطَرِيٍّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ الرُّخْصَةِ فِي طَعَامِ أَهْلِ الْكِتَابِ .

বর্ণনাকারী: হুলব (রাঃ)

১৫৭১। মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ......... কাবীসা ইবনে হুলব তৎপিতা হুলব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাসারাদের খাদ্য সম্পর্কে আমি নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, খাদ্যের বিষয়ে (বিনা কারণে) কোন রূপ দ্বিধার শিকার হবে না। এমন করলে তো তুমি খ্রিস্টানদের অনুরূপ হয়ে গেলে। (কারণ, খ্রিস্টানরাই বেশী ছুতছাতের পিছনে পড়ে)।

ইবনে মাজাহ ২৮৩০

এ হাদীসটি হাসান। মাহমুদ (রাহঃ) বলেন, উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা-ইসরাঈল-সিমাক-কাবীসা-তৎপিতা (হুলব) (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। কিতাবীদের খাদ্য জায়েয হওয়া সম্পর্কে আলিমগণ এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন।

নিকট আত্মীয় বন্দীদের বিচ্ছিন্ন করা পছন্দনীয় নয়।

باب فِي كَرَاهِيَةِ التَّفْرِيقِ بَيْنَ السَّبْىِ

১৫৬৬

حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ الشَّيْبَانِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي حُيَىٌّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ وَالِدَةٍ وَوَلَدِهَا فَرَّقَ اللَّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَحِبَّتِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ كَرِهُوا التَّفْرِيقَ بَيْنَ السَّبْىِ بَيْنَ الْوَالِدَةِ وَوَلَدِهَا وَبَيْنَ الْوَلَدِ وَالْوَالِدِ وَبَيْنَ الإِخْوَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

১৫৭২। উমর ইবনে হাবস শায়বানী (রাহঃ) ......... আবু আইয়ুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মা ও সন্তানের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটায় আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার ও তার প্রিয়জনদের মাঝে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করে দিবেন।

এই বিষয়ে আলী (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হাদীসটি হাসান-গারীব। সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ এতদনুসারে আমল করেছেন। তারা বন্দীদের মা ও সন্তানদের মাঝে, সন্তান ও পিতার মাঝে এবং ভাইদের পরস্পর আলাদা করা নিন্দনীয় বলে মত প্রকাশ করেছেন।

বন্দী হত্যা করা বা মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া।

باب مَا جَاءَ فِي قَتْلِ الأُسَارَى وَالْفِدَاءِ

১৫৬৭

حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ أَبِي السَّفَرِ، - وَاسْمُهُ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَمْدَانِيُّ وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ جِبْرَائِيلَ هَبَطَ عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ خَيِّرْهُمْ يَعْنِي أَصْحَابَكَ فِي أُسَارَى بَدْرٍ الْقَتْلَ أَوِ الْفِدَاءَ عَلَى أَنْ يُقْتَلَ مِنْهُمْ قَابِلاً مِثْلُهُمْ . قَالُوا الْفِدَاءَ وَيُقْتَلَ مِنَّا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَأَنَسٍ وَأَبِي بَرْزَةَ وَجُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ الثَّوْرِيِّ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ أَبِي زَائِدَةَ . وَرَوَى أَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامٍ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ عَبِيدَةَ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . وَرَوَى ابْنُ عَوْنٍ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ عَبِيدَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً . وَأَبُو دَاوُدَ الْحَفَرِيُّ اسْمُهُ عُمَرُ بْنُ سَعْدٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৫৭৩। আবু উবাইদা ইবনে আবু সাফার, তাঁর নাম হল আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ হামদানী ও মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর কাছে নেমে এসেছেন এবং বলেছেন, বদরের বন্দীদের বিষয়ে হত্যা বা মুক্তিপণের ক্ষেত্রে শর্ত হল যে, আগামীতে এদের থেকেও উক্ত পরিমাণ লোক নিহত হবে। সাহাবীরা বললেন, আমরা মুক্তিপণই গ্রহণ করলাম, আমাদের থেকে সমসংখ্যক লোক নিহত হলে হবে।



এই বিষয়ে ইবনে মাসউদ, আনাস, আবু বারযা ও জুবাইর ইবনে মুতইম (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ছাওরীর হাদীস হিসাবে এই হাদীসটি হাসান-গারীব। ইবনে আবু যাইদা (রাহঃ) এর বর্ণনা ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের জানা নাই। আবু উসামা (রাহঃ)-ও আলী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবনে আওন (রাহঃ) এটিকে ইবনে সীরীন-উবাইদা-আলী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন। রাবী আবু দাউদ হাফরী (রাহঃ) এর নাম হল উমর ইবনে সা‘দ।
১৫৬৮

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ عَمِّهِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَدَى رَجُلَيْنِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ بِرَجُلٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَعَمُّ أَبِي قِلاَبَةَ هُوَ أَبُو الْمُهَلَّبِ وَاسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو وَيُقَالُ مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو وَأَبُو قِلاَبَةَ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ الْجَرْمِيُّ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنَّ لِلإِمَامِ أَنْ يَمُنَّ عَلَى مَنْ شَاءَ مِنَ الأُسَارَى وَيَقْتُلَ مَنْ شَاءَ مِنْهُمْ وَيَفْدِيَ مَنْ شَاءَ . وَاخْتَارَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْقَتْلَ عَلَى الْفِدَاءِ . وَقَالَ الأَوْزَاعِيُّ بَلَغَنِي أَنَّ هَذِهِ الآيَةَ مَنْسُوخَةٌ قَوْلُهُ تَعَالَى: (فَإِِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً) نَسَخَتْهَا: (وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ ) حَدَّثَنَا بِذَلِكَ هَنَّادٌ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ . قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ قُلْتُ لأَحْمَدَ إِذَا أُسِرَ الأَسِيرُ يُقْتَلُ أَوْ يُفَادَى أَحَبُّ إِلَيْكَ قَالَ إِنْ قَدَرُوا أَنْ يُفَادُوا فَلَيْسَ بِهِ بَأْسٌ وَإِنْ قُتِلَ فَمَا أَعْلَمُ بِهِ بَأْسًا . قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الإِثْخَانُ أَحَبُّ إِلَىَّ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ مَعْرُوفًا فَأَطْمَعُ بِهِ الْكَثِيرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

১৫৭৪। ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) একজন মুশরিকদের বিনিময়ে দুইজন মুসলমানকে ছাড়িয়ে এনেছিলেন।

মুসলিম ৫/৭৮

ইমাম ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। রাবী আবু কিলাবা (রাহঃ) এর চাচা হলে আবু মুহাল্লাব। তার নাম হল আব্দুর রহমান ইবনে আমর। তাকে মুআবিয়া ইবনে আমর বলা হয়। আর আবু কিলাবা (রাহঃ) এর নাম হল আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ আল জারমী (রাহঃ)। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন যে, ইমাম বা সরকার প্রধান যে কোন বন্দীর সম্পর্কে ইচ্ছা করেন তার উপর অনুগ্রহ প্রদর্শন করতে পারেন। তাদের মাঝে যাকে বিবেচনা করেন হত্যা করতে পারেন যাকে ইচ্ছা ফিদয়া নিয়ে ছেড়ে দিতে পারেন। তবে কতক আলিম ফিদয়া-এর তুলনায় হত্যা করার বিধানটিকে অধিকতর গ্রহণীয় বলে মনে করেন।

ইমাম আওযাঈ বলেন, আমার কাছে এই তথ্য পৌছেছে যেفَإِِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً ‘‘এরপর হয়ত অনুকম্পা প্রদর্শন নয়ত মুক্তিপণ’’ (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭ঃ ৪) আয়াতটি মানসূখ হয়ে গেছে।وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ ‘‘এদের যেখানে পাও সেখানেই হত্যা কর’’ (সূরা বাকারা ২ঃ ২৯১) আয়াতের মাধ্যমে উপরোক্ত আয়াতটির বিধান রহিত হয়েছে।

হান্নাদ (রাহঃ) ......... আওযাঈ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইসহাক ইবনে মানসুর (রাহঃ) বলেন, আমি ইমাম আহমাদ (রাহঃ)-কে বললাম বন্দী হলে তাদের কতল করাটা বেশী ভাল মনে করেন না ফিদয়া নেয়া অধিক পছন্দ করেন? তিনি বললেন, ফিদয়ার শক্তি রাখলে তবে তা নিয়ে ছেড়ে দেওয়াতেও কোন দোষ নেই আর যদি হত্যা করা হয় তবে তাতেও কোন দোষ মনে করি না। ইসহাক (রাহঃ) বলেন, রক্ত প্রবাহিত করাই আমার নিকট অধিক প্রিয়। কিন্তু যদি লোকটি প্রসিদ্ধ হয় এবং তার বিষয়ে বহুবিধ আশা করা যায় তবে ভিন্ন কথা।

নারী ও শিশু হত্যা নিষেধ।

باب مَا جَاءَ فِي النَّهْىِ عَنْ قَتْلِ النِّسَاءِ، وَالصِّبْيَانِ،

১৫৬৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ امْرَأَةً وُجِدَتْ فِي بَعْضِ مَغَازِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَقْتُولَةً فَأَنْكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَلِكَ وَنَهَى عَنْ قَتْلِ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ . وَفِي الْبَابِ عَنْ بُرَيْدَةَ وَرَبَاحٍ وَيُقَالُ رِيَاحُ بْنُ الرَّبِيعِ وَالأَسْوَدِ بْنِ سَرِيعٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَالصَّعْبِ بْنِ جَثَّامَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ كَرِهُوا قَتْلَ النِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ . وَرَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي الْبَيَاتِ وَقَتْلِ النِّسَاءِ فِيهِمْ وَالْوِلْدَانِ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ وَرَخَّصَا فِي الْبَيَاتِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৫৭৫। কুতায়বা (রাহঃ) ......... উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কোন এক গাযওয়ায় (অভিযানে) এক মহিলাকে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং নারী ও শিশু হত্যা নিষিদ্ধ করে দেন। ইবনে মাজাহ ২৮৪১, নাসাঈ

এই বিষয়ে বুরায়দা, রাবাহ বলা হয় রাবাহ ইবনে রাবী, আসওয়াদ ইবনে সারী‘, ইবনে আব্বাস, সাব ইবনে জাছছামা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। তারা নারী ও শিশু হত্যা হারাম বলে মত প্রকাশ করেছেন। এ হলো সুফইয়া ছাওরী ও শাফিঈ (রাহঃ) এর অভিমত। কতক আলিম রাত্রে অতর্কিত আক্রমণ এবং এমতাবস্থায় নারী ও শিশু হত্যার অনুমোদন দিয়েছেন। এ হলো আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর অভিমত। তাঁরা উভয়েই রাত্রিতে অতর্কিত হামলা পরিচালনা করার অবকাশ রেখেছেন।
১৫৭০

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي الصَّعْبُ بْنُ جَثَّامَةَ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ خَيْلَنَا أَوْطَأَتْ مِنْ نِسَاءِ الْمُشْرِكِينَ وَأَوْلاَدِهِمْ . قَالَ " هُمْ مِنْ آبَائِهِمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: সা'ব ইবনে জাসসামাহ লায়ছী (রাঃ)

১৫৭৬। নসর ইবনে আলী জাহযামী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, সা‘ব ইবনে জাছছামা (রাযিঃ) বলেছেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমাদের অশ্বারোহী বাহিনী মুশরিকদের মহিলা ও তাদের শিশুদের পদ দলিত করে বসেছে। তিনি বলেন, এরা তাদের পিতা-পিতামহদেরই শামিল। ইবনে মাজাহ ২৮৩৯, নাসাঈ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ

باب

১৫৭১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْثٍ فَقَالَ " إِنْ وَجَدْتُمْ فُلاَنًا وَفُلاَنًا لِرَجُلَيْنِ مِنْ قُرَيْشٍ فَأَحْرِقُوهُمَا بِالنَّارِ " . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ أَرَدْنَا الْخُرُوجَ " إِنِّي كُنْتُ أَمَرْتُكُمْ أَنْ تَحْرِقُوا فُلاَنًا وَفُلاَنًا بِالنَّارِ وَإِنَّ النَّارَ لاَ يُعَذِّبُ بِهَا إِلاَّ اللَّهُ فَإِنْ وَجَدْتُمُوهُمَا فَاقْتُلُوهُمَا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَحَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الأَسْلَمِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ . وَقَدْ ذَكَرَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بَيْنَ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ وَبَيْنَ أَبِي هُرَيْرَةَ رَجُلاً فِي هَذَا الْحَدِيثِ وَرَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ مِثْلَ رِوَايَةِ اللَّيْثِ وَحَدِيثُ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ أَشْبَهُ وَأَصَحُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫৭৭। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে এক অভিযানে প্রেরণ করেন। তখন বলেছিলেন, অমুক অমুক দুই কুরাইশী ব্যক্তিকে যদি পাও তবে এদের আগুনে পুড়িয়ে ফেলবে। পরে আমরা যখন অভিযাত্রায় বের হওয়ার ইচ্ছা করলাম তখন তিনি বললেন, অমুক অমুককে আগুনে জ্বালিয়ে দিতে আমি তোমাদের নির্দেশ দিয়েছিলাম। অথচ আল্লাহ ছাড়া আর কেউ আগুনে শাস্তি দিতে পারেন না। সুতরাং তোমরা যদি এদের দুই জনকে পাও তবে এদের হত্যা করবে।

বুখারী

এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস ও হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। এতদনুসারে আলিমগণ আমল করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রাহঃ) তাঁর সনদে সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) এবং আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-এর মাঝে আরেক ব্যক্তির উল্লেখ করেছেন। একাধিক রাবী এটিকে লাঈস (রাহঃ) এর অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। লাঈস ইবনে সা‘দ (রাহঃ) এর রিওয়ায়াতটিই অধিকতর সামঞ্জস্য এবং সহীহ।

গনিমত সম্পদ আত্মসাৎ করা।

باب مَا جَاءَ فِي الْغُلُولِ

১৫৭২

حَدَّثَنِي أَبُو رَجَاءٍ، قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ " مَنْ مَاتَ وَهُوَ بَرِيءٌ مِنْ ثَلاَثٍ الْكِبْرِ وَالْغُلُولِ وَالدَّيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত ছাওবান (রাঃ)

১৫৭৮। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ছাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ যদি অহংকার, গনিমত সম্পদ আত্মসাত ও ঋণ থেকে মুক্ত হয়ে মারা যায় তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ইবনে মাজাহ ২৪১২

এই বিষয়ে আবু হুরায়রা ও যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
১৫৭৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ فَارَقَ الرُّوحُ الْجَسَدَ وَهُوَ بَرِيءٌ مِنْ ثَلاَثٍ الْكَنْزِ وَالْغُلُولِ وَالدَّيْنِ دَخَلَ الْجَنَّةَ " . هَكَذَا قَالَ سَعِيدٌ الْكَنْزَ وَقَالَ أَبُو عَوَانَةَ فِي حَدِيثِهِ الْكِبْرَ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ مَعْدَانَ وَرِوَايَةُ سَعِيدٍ أَصَحُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত ছাওবান (রাঃ)

১৫৭৯। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ছাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সম্পদ পূঞ্জিভুত করে রাখা, গনিমত সম্পদ আত্মসাদ করা এবং ঋণ এই তিনটি বিষয় থেকে মুক্ত অবস্থায় কারো রূহ যদি দেহ থেকে পৃথক হয় তবে সে জান্নাতে দাখেল হবে।



সাঈদ (রাহঃ) তার বর্ণনায়الْكَنْزَ (বা সম্পদ পূঞ্জিভুত করা) শব্দ আর আবু আওয়ানা তার রিওয়ায়াতেالْكِبْرَ (অহংকার) শব্দের উল্লেখ করেছেন। সাঈদ (রাহঃ)-এর রিওয়ায়াতটি অধিকতর সহীহ।
১৫৭৪

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا سِمَاكٌ أَبُو زُمَيْلٍ الْحَنَفِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فُلاَنًا قَدِ اسْتُشْهِدَ . قَالَ " كَلاَّ قَدْ رَأَيْتُهُ فِي النَّارِ بِعَبَاءَةٍ قَدْ غَلَّهَا قَالَ قُمْ يَا عَلِيُّ فَنَادِ إِنَّهُ لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلاَّ الْمُؤْمِنُونَ ثَلاَثًا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৫৮০। হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ......... উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বলা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ, অমুক ব্যক্তি শহীদ হয়ছে। তিনি বললেন, না, কখনো নয়। আমি তাকে গনিমতের মাল থেকে একটি আবা (এক ধরণের পোশাক) আত্মসাত করার কারণে আগুনে জ্বলতে দেখেছি। তিনি বললেন, হে আলী, দাঁড়াও এবং তিনবার করে ঘোষণা দাও জান্নাতে মু’মিন ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করবে না। মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব

মহিলাদের যুদ্ধে গমন।

باب مَا جَاءَ فِي خُرُوجِ النِّسَاءِ فِي الْحَرْبِ

১৫৭৫

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ الصَّوَّافُ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ الضُّبَعِيُّ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَغْزُو بِأُمِّ سُلَيْمٍ وَنِسْوَةٍ مَعَهَا مِنَ الأَنْصَارِ يَسْقِينَ الْمَاءَ وَيُدَاوِينَ الْجَرْحَى . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنِ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذٍ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৫৮১। বিশর ইবনে হিলাল সাওয়াফ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুদ্ধে যেতেন এবং উম্মে সুলায়ম সহ কতিপয় আনসারী মহিলা তাঁর সাথে থাকতেন। তাঁরা যুদ্ধক্ষেত্রে পানি পান করাতেন এবং আহতদের ঔষধ দিতেন। আবু দাউদ ২২৮৪, মুসলিম

এই বিষয়ে রুবাইয়্যি বিনতে মুআওবিয থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন হাদীসটি হাসান-সহীহ।

মুশরিকদের হাদিয়া গ্রহণ করা।

باب مَا جَاءَ فِي قَبُولِ هَدَايَا الْمُشْرِكِينَ

১৫৭৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ ثُوَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ كِسْرَى أَهْدَى إِلَيْهِ فَقَبِلَ مِنْهُ وَأَنَّ الْمُلُوكَ أَهْدَوْا إِلَيْهِ فَقَبِلَ مِنْهُمْ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَثُوَيْرٌ هُوَ ابْنُ أَبِي فَاخِتَةَ وَأَبُو فَاخِتَةَ اسْمُهُ سَعِيدُ بْنُ عِلاَقَةَ وَثُوَيْرٌ يُكْنَى أَبَا جَهْمٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৫৮২। আলী ইবনে সাঈদ কিনদী (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, ইরান সম্রাট (কিসরা) তার জন্য কিছু হাদিয়া দিয়েছিলেন তিনি তা কবুল করেছিলেন। এমনিভাবে বাদশাহগণ তাকে হাদিয়া দিয়েছেন আর তিনিও তা গ্রহণ করেছেন।



এই বিষয়ে জাবির (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটি হাসান-গারীব। রাবী ছুওয়ায়র (রাহঃ) হলেন, ইবনে আবু ফাকিতা। তার নাম হল সাঈদ ইবনে ‘ইলাকা। ছুওয়ায়র (রাহঃ)-এর উপনাম হল আবু জাহম।

মুশরিকদের হাদিয়া গ্রহণ না করা।

باب فِي كَرَاهِيَةِ هَدَايَا الْمُشْرِكِينَ

১৫৭৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ عِمْرَانَ الْقَطَّانِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، هُوَ ابْنُ الشِّخِّيرِ عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ، أَنَّهُ أَهْدَى لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَدِيَّةً لَهُ أَوْ نَاقَةً فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَسْلَمْتَ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَإِنِّي نُهِيتُ عَنْ زَبْدِ الْمُشْرِكِينَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَمَعْنَى قَوْلِهِ " إِنِّي نُهِيتُ عَنْ زَبْدِ الْمُشْرِكِينَ " . يَعْنِي هَدَايَاهُمْ وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَقْبَلُ مِنَ الْمُشْرِكِينَ هَدَايَاهُمْ وَذُكِرَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ الْكَرَاهِيَةُ وَاحْتُمِلَ أَنْ يَكُونَ هَذَا بَعْدَ مَا كَانَ يَقْبَلُ مِنْهُمْ ثُمَّ نَهَى عَنْ هَدَايَاهُمْ .

বর্ণনাকারী: ইয়ায ইবনে হিমার মুজাশিঈ (রাঃ)

১৫৮৩। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ইয়ায ইবনে হিমার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (ﷺ)-কে কিছু হাদিয়া (বর্ণনান্তরে) একটি উট হাদিয়া দিয়েছিলেন। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি কি ইসলাম গ্রহণ করেছ? তিনি বললেন, না। নবী (ﷺ) বললেন, মুশরিকদের দান গ্রহণ করতে আমাকে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।زَبْدِ الْمُشْرِكِينَ অর্থ মুশরিকদের হাদিয়া, উপঢৌকন। নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি মুশরিকদের হাদিয়া গ্রহণ করতেন। এই হাদীসে তা মাকরূহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ-ও সম্ভাবনা আছে যে, তিনি আগে মুশরিকদের হাদিয়া গ্রহণ করতেন পরে তাদের হাদিয়া গ্রহণ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

শুকরানা সিজদা।

باب مَا جَاءَ فِي سَجْدَةِ الشُّكْرِ

১৫৭৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا بَكَّارُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَتَاهُ أَمْرٌ فَسُرَّ بِهِ فَخَرَّ لِلَّهِ سَاجِدًا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ بَكَّارِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ رَأَوْا سَجْدَةَ الشُّكْرِ . وَبَكَّارُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ مُقَارِبُ الْحَدِيثِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

১৫৮৪। মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ......... আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী (ﷺ) এর কাছে এমন একটি খবর এল যাতে তিনি খুশী হলেন, তখন তিনি সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন।

এ হাদীসটি হাসান-গারীব। বাক্কার ইবনে আব্দুল আযীযের হাদীস হিসাবে এই সূত্র ছাড়া হাদীসটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। অধিকাংশ আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। তাঁরা সিজদা-এ- শুকর জায়েয বলে মনে করেন।

যুদ্ধ প্রসঙ্গে নবী (ﷺ) এর বিশেষ উপদেশ।

باب مَا جَاءَ فِي وَصِيَّتِهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْقِتَالِ

১৫৭৯
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَكْثَمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْمَرْأَةَ لَتَأْخُذُ لِلْقَوْمِ " . يَعْنِي تُجِيرُ عَلَى الْمُسْلِمِينَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ هَانِئٍ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا فَقَالَ هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَكَثِيرُ بْنُ زَيْدٍ قَدْ سَمِعَ مِنَ الْوَلِيدِ بْنِ رَبَاحٍ وَالْوَلِيدُ بْنُ رَبَاحٍ سَمِعَ مِنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَهُوَ مُقَارِبُ الْحَدِيثِ .
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي مُرَّةَ، مَوْلَى عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عَنْ أُمِّ هَانِئٍ، أَنَّهَا قَالَتْ أَجَرْتُ رَجُلَيْنِ مِنْ أَحْمَائِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ أَمَّنَّا مَنْ أَمَّنْتِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَجَازُوا أَمَانَ الْمَرْأَةِ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ أَجَازَا أَمَانَ الْمَرْأَةِ وَالْعَبْدِ . وَأَبُو مُرَّةَ مَوْلَى عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَيُقَالُ لَهُ أَيْضًا مَوْلَى أُمِّ هَانِئٍ وَاسْمُهُ يَزِيدُ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّهُ أَجَازَ أَمَانَ الْعَبْدِ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " ذِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ وَاحِدَةٌ يَسْعَى بِهَا أَدْنَاهُمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَمَعْنَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ مَنْ أَعْطَى الأَمَانَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَهُوَ جِائِزٌ عَلَى كُلِّهِمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫৮৫। ইয়াহয়া ইবনে আকছাম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ নারীরাও সম্প্রদায়ের পক্ষে (অঙ্গীকার) গ্রহণ করতে পারে অর্থাৎ মুসলিমদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও আশ্রয় প্রদান করতে পারে। এই বিষয়ে উম্মে হানী (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণিত আছে।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গরীব।আমি মুহাম্মাদ রহ কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বললেন এই হাদীসটি সহীহ।

আবুল ওয়ালীদ দিমাশকী (রাহঃ) ......... উম্মে হানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার শ্বশুর পক্ষীয় দুই ব্যক্তিকে আমি নিরাপত্তা প্রদান করেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যাকে তুমি নিরাপত্তা প্রদান করেছ আমরাও তাকে নিরাপত্তা দান করলাম। আবু দাউদ ২৪৬৮,

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আলিমগণ এতদনুসারে আমল করেছেন। তাঁরা মহিলা কর্তৃক প্রদত্ত নিরাপত্তা দান গ্রহণীয় বলে মত প্রকাশ করেছেন। এ হলো আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর অভিমত। তাঁরা উভয়ই মহিলা ও গোলাম কর্তৃক প্রদত্ত নিরাপত্তা গ্রহণ করেছেন।

আকিল ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ)-এর মাওলা বা আযাদকৃত গোলাম হলেন আবু মুররা। তিনি উম্মে হানী (রাযিঃ)-এর আযাদকৃত দাস বলেও কথিত আছে। তাঁর নাম হল ইয়াযীদ। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি দাস কর্তৃক নিরাপত্তা দান জায়েয বলে গ্রহণ করেছেন। আলী ইবনে আবু তালিব ও আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, মুসলিমদের যিম্মা-দায়িত্ব এক বরাবর। এ বিষয়ে সাধারণতম লোকটিও প্রয়াস চালাবে। আলিমগণের নিকট হাদীসটির তাৎপর্য হলো মুসলিমদের পক্ষ থেকে এক ব্যক্তিও যদি নিরাপত্তা প্রদান করে তবে সকলের পক্ষ থেকেই তা গণ্য হবে।

বিশ্বাস ঘাতকতা।

باب مَا جَاءَ فِي الْغَدْرِ

১৫৮০

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الْفَيْضِ، قَالَ سَمِعْتُ سُلَيْمَ بْنَ عَامِرٍ، يَقُولُ كَانَ بَيْنَ مُعَاوِيَةَ وَبَيْنَ أَهْلِ الرُّومِ عَهْدٌ وَكَانَ يَسِيرُ فِي بِلاَدِهِمْ حَتَّى إِذَا انْقَضَى الْعَهْدُ أَغَارَ عَلَيْهِمْ فَإِذَا رَجُلٌ عَلَى دَابَّةٍ أَوْ عَلَى فَرَسٍ وَهُوَ يَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَفَاءٌ لاَ غَدْرٌ . وَإِذَا هُوَ عَمْرُو بْنُ عَبَسَةَ فَسَأَلَهُ مُعَاوِيَةُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ كَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ قَوْمٍ عَهْدٌ فَلاَ يَحُلَّنَّ عَهْدًا وَلاَ يَشُدَّنَّهُ حَتَّى يَمْضِيَ أَمَدُهُ أَوْ يَنْبِذَ إِلَيْهِمْ عَلَى سَوَاءٍ " . قَالَ فَرَجَعَ مُعَاوِيَةُ بِالنَّاسِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

১৫৮৬। মাহমুদ ইবনে গাইলান (রাহঃ) ......... সুলায়ম ইবনে আমির (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুআবিয়া (রাযিঃ) ও রোমবাসীদের মধ্যে একটি (মেয়াদী) চুক্তি হয়েছিল। পরে তিনি (তাঁর বাহিনীসহ) তাদের এলাকার নিকটবর্তী স্থানে যেয়ে উপনীত হলেন এবং চুক্তির মেয়াদ যখন শেষ হল তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে অতর্কিত হামলা চালালেন। হঠাৎ শোনা গেল একজন অশ্বারোহী বর্ণনান্তরে ভারবাহী পশুর উপর আরোহী ব্যক্তি বলেছেন, আল্লাহ আকবার, ওয়াদা রক্ষা করতে হবে। ওয়াদা ভঙ্গ করা যাবে না। দেখা গেল তিনি হলেন আমর ইবনে আবাসা (রাযিঃ)। মুআবিয়া (রাযিঃ) তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, কারো যদি কোন সম্প্রদায়ের সাথে চুক্তি থাকে তবে সেই চুক্তি বন্ধন ছিন্ন করা যাবে না এবং তার বিপরীত করা যাবে না যতক্ষণ না এর মেয়াদ শেষ হয় বা সমান সমান ভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না হয়। তখন মুআবিয়া তাঁর বাহিনীসহ ফিরে চলে এলেন।

আবু দাউদ ২৪৬৪

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

কিয়ামতের দিন প্রত্যেক বিশ্বাস হন্তারই একটি পতাকা থাকবে।

باب مَا جَاءَ أَنَّ لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءً يَوْمَ الْقِيَامَةِ

১৫৮১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنِي صَخْرُ بْنُ جُوَيْرِيَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ الْغَادِرَ يُنْصَبُ لَهُ لِوَاءٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ حَدِيثِ سُوَيْدٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لِكُلِّ غَادِرٍ لِوَاءٌ " . فَقَالَ لاَ أَعْرِفُ هَذَا الْحَدِيثَ مَرْفُوعًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৫৮৭। আহমাদ ইবনে মানী (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামতের দিন বিশ্বাস ঘাতকের জন্য পতাকা গাড়া হবে। আবু দাউদ ২৪৬১

এই বিষয়ে আলী, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবু সাঈদ খুদরী ও আনাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

কোন মুসলিমের নির্দেশ কেউ আত্মসমর্পণ করলে।

باب مَا جَاءَ فِي النُّزُولِ عَلَى الْحُكْمِ

১৫৮২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّهُ قَالَ رُمِيَ يَوْمَ الأَحْزَابِ سَعْدُ بْنُ مُعَاذٍ فَقَطَعُوا أَكْحَلَهُ أَوْ أَبْجَلَهُ فَحَسَمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالنَّارِ فَانْتَفَخَتْ يَدُهُ فَتَرَكَهُ فَنَزَفَهُ الدَّمُ فَحَسَمَهُ أُخْرَى فَانْتَفَخَتْ يَدُهُ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ قَالَ اللَّهُمَّ لاَ تُخْرِجْ نَفْسِي حَتَّى تُقِرَّ عَيْنِي مِنْ بَنِي قُرَيْظَةَ . فَاسْتَمْسَكَ عِرْقُهُ فَمَا قَطَرَ قَطْرَةً حَتَّى نَزَلُوا عَلَى حُكْمِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَحَكَمَ أَنْ يُقْتَلَ رِجَالُهُمْ وَيُسْتَحْيَى نِسَاؤُهُمْ يَسْتَعِينُ بِهِنَّ الْمُسْلِمُونَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَصَبْتَ حُكْمَ اللَّهِ فِيهِمْ " . وَكَانُوا أَرْبَعَمِائَةٍ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ قَتْلِهِمُ انْفَتَقَ عِرْقُهُ فَمَاتَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَعَطِيَّةَ الْقُرَظِيِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৫৮৮। কুতায়বা (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধের সময় সা‘দ ইবনে মু’আয (রাযিঃ) তীরের আঘাতে আহত হয়েছিলেন। এতে তাঁর বাহুর প্রধান রগটি কেটে গিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আগুনে সেক দিয়ে তাঁর রক্তক্ষরণ বন্ধ করে দেন। পরে তার হাত ফুলে যায়। তখন তিনি সেক দেওয়া ছেড়ে দেন। পরে পুনরায় রক্তক্ষরণে তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েন। আবার তাকে সেক দিয়ে তার রক্তক্ষরণ বন্ধ করা হয়। তখন পুনরায় তার হাত ফুলে যায়। সা‘দ যখন নিজের এ অবস্থা দেখলেন তখন দুআ করলেন, হে আল্লাহ! (ইয়াহুদী গোত্র) বনু কুরায়যার ব্যাপারে আমার চক্ষু শীতল না করে তুমি আমার প্রাণ হরণ করো না। সঙ্গে সঙ্গে তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়ে যায়। একটি ফোটাও আর তার রক্ত পড়েনি। অবশেষে বনু কুরায়যা তার ফায়সালানুসারে আত্মসমর্পণ করে। এই বিষয়েই তার কাছে ফায়সালার জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল। তখন তিনি ফায়সালা দেন যে, এদের পুরুষদের হত্যা করা হবে। মেয়েদের জীবিত রাখা হবে। তাদের মাধ্যমে মুসলিমরা কাজ নিবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এদের বিষয়ে তুমি ঠিক ঠিক ফায়সালায় উপনীত হয়ে পেরেছ। বনু কুরায়যার পুরুষদের সংখ্যা ছিল চারশ’। এদের হত্যা করা শেষ হলে সা‘দ (রাযিঃ)-এর আঘাতপ্রাপ্ত রগটি পুনরায় ফেটে যায় এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এই বিষয়ে আবু সাঈদ ও আতিয়্যা কুরাযী (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
১৫৮৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو الْوَلِيدِ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اقْتُلُوا شُيُوخَ الْمُشْرِكِينَ وَاسْتَحْيُوا شَرْخَهُمْ " . وَالشَّرْخُ الْغِلْمَانُ الَّذِينَ لَمْ يُنْبِتُوا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ . وَرَوَاهُ الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ عَنْ قَتَادَةَ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

১৫৮৯। আবুল ওয়ালীদ দিমাশকী (রাহঃ) ......... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুশরিকদের শক্তসমর্থ পুরুষদের হত্যা করবে আর বালকদের ছেড়ে দিবে।

হাদীসোক্তالشَّرْخُ অর্থ হল, ঐ সমস্ত বালক যাদের এখনো যৌন লোম উদগত হয়নি।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। হাজ্জাজ ইবনে আরতাত (রাহঃ) এটিকে কাতাদা থেকে অনূরূপ বর্ণনা করেছেন।
১৫৮৪

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَطِيَّةَ الْقُرَظِيِّ، قَالَ عُرِضْنَا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ قُرَيْظَةَ فَكَانَ مَنْ أَنْبَتَ قُتِلَ وَمَنْ لَمْ يُنْبِتْ خُلِّيَ سَبِيلُهُ فَكُنْتُ مِمَّنْ لَمْ يُنْبِتْ فَخُلِّيَ سَبِيلِي . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُمْ يَرَوْنَ الإِنْبَاتَ بُلُوغًا إِنْ لَمْ يُعْرَفِ احْتِلاَمُهُ وَلاَ سِنُّهُ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .

বর্ণনাকারী: আতিয়্যা কুরাযী (রাঃ)

১৫৯০। হান্নাদ (রাহঃ) ......... আতিয়্যা কুরাযী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরায়যা যুদ্ধের সময় আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে পেশ করা হল। তিনি যাদের যৌন লোম উদগত হয়েছিল তিনি তাদের হত্যা করলেন আর যাদের যৌন লোম উদগত হয়নি তাদের ছেড়ে দিলেন। আমি তাদের মধ্যে ছিলাম যাদের যৌন লোম উদগম হয়নি। সুতরাং আমার পথে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হল।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। স্বপ্নদোষ বা বয়স না হলেও যৌন লোম উদগম হলেও একজনকে বালেগ বলে গণ্য করা হবে বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন। এ হল আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর অভিমত।

বন্ধুত্ব চুক্তি।

باب مَا جَاءَ فِي الْحِلْفِ

১৫৮৫

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي خُطْبَتِهِ " أَوْفُوا بِحِلْفِ الْجَاهِلِيَّةِ فَإِنَّهُ لاَ يَزِيدُهُ يَعْنِي الإِسْلاَمَ إِلاَّ شِدَّةً وَلاَ تُحْدِثُوا حِلْفًا فِي الإِسْلاَمِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَأُمِّ سَلَمَةَ وَجُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَقَيْسِ بْنِ عَاصِمٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৫৯১। হুমায়দ ইবনে মাসআদা (রাহঃ) ......... আমর ইবনে শুআয়ব তৎপিতা তৎপিতামহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর এক ভাষণে বলেছেনে, তোমরা জাহিলী যুগের চুক্তিগুলোও (শরীয়তের খেলাফ না হলে) পূরণ করবে। ইসলাম এর দৃঢ়তাই বৃদ্ধি করে। ইসলামে আর নতুন করে এ ধরণের চুক্তি করতে যেয়ো না।

এই বিষয়ে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ, উম্মে সালামা, যুবাইর ইবনে মুত‘ইম, আবু হুরায়রা, ইবনে আব্বাস ও কায়স ইবনে আসিম (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

অগ্নি উপাসক থেকে জিযইয়া গ্রহণ।

باب مَا جَاءَ فِي أَخْذِ الْجِزْيَةِ مِنَ الْمَجُوسِ

১৫৮৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ بَجَالَةَ بْنِ عَبْدَةَ، قَالَ كُنْتُ كَاتِبًا لِجَزْءِ بْنِ مُعَاوِيَةَ عَلَى مَنَاذِرَ فَجَاءَنَا كِتَابُ عُمَرَ انْظُرْ مَجُوسَ مَنْ قِبَلَكَ فَخُذْ مِنْهُمُ الْجِزْيَةَ فَإِنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ أَخْبَرَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ الْجِزْيَةَ مِنْ مَجُوسِ هَجَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ)

১৫৯২। আহমাদ ইবনে মানী (রাহঃ) ......... বাজালা ইবনে আব্দা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মানাযির অঞ্চলে জায ইবনে মুআবিয়া-এর লিপিকার ছিলাম। তখন উমর (রাযিঃ)-এর একটি চিঠি এল, তোমাদের অঞ্চলের অগ্নি উপাসকদের লক্ষ্য কর। এদের থেকে জিযইয়া গ্রহণ করবে। কেননা, আব্দুর রহমান ইবনে আওফ আমাকে অবহিত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাজার এলাকার অগ্নি উপাসকদের কাছ থেকে জিযইয়া গ্রহণ করেছেন। বুখারী

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান।
১৫৮৭

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ بَجَالَةَ، أَنَّ عُمَرَ، كَانَ لاَ يَأْخُذُ الْجِزْيَةَ مِنَ الْمَجُوسِ حَتَّى أَخْبَرَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ الْجِزْيَةَ مِنْ مَجُوسِ هَجَرَ . وَفِي الْحَدِيثِ كَلاَمٌ أَكْثَرُ مِنْ هَذَا . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ)

১৫৯৩। ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... বাজালা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) অগ্নি উপাসকদের কাছ থেকে জিযইয়া গ্রহণ করতেন না। যতদিন না আদুর রহমান ইবনে আওফ তাকে অবহিত করেছেন যে, নবী (ﷺ) হাজার অঞ্চলের অগ্নি উপাসকদের কাছ থেকে জিযইয়া নিয়েছিলেন।

হাদীসটিতে আরো অনেক কথা আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
১৫৮৮

حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ أَبِي كَبْشَةَ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْجِزْيَةَ مِنْ مَجُوسِ الْبَحْرَيْنِ وَأَخَذَهَا عُمَرُ مِنْ فَارِسَ وَأَخَذَهَا عُثْمَانُ مِنَ الْفُرْسِ . وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا فَقَالَ هُوَ مَالِكٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: সাঈব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ)

১৫৯৪। আল হুসাইন ইবনে আবু কাবশা (রাহঃ) ......... সাইব ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাহরাইনের অগ্নি উপাসকদের কাছ থেকে জিযইয়া গ্রহণ করেছেন। উমর (রাযিঃ) পারস্য থেকে তা গ্রহণ করেছেন এবং উসমান (রাযিঃ) ফুরস থেকে তা গ্রহণ করেছেন।

যিম্মীদের সম্পদ থেকে কি কি গ্রহণ করা হালাল?

باب مَا يَحِلُّ مِنْ أَمْوَالِ أَهْلِ الذِّمَّةِ

১৫৮৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَمُرُّ بِقَوْمٍ فَلاَ هُمْ يُضَيِّفُونَا وَلاَ هُمْ يُؤَدُّونَ مَا لَنَا عَلَيْهِمْ مِنَ الْحَقِّ وَلاَ نَحْنُ نَأْخُذُ مِنْهُمْ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ أَبَوْا إِلاَّ أَنْ تَأْخُذُوا كَرْهًا فَخُذُوا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رَوَاهُ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ أَيْضًا . وَإِنَّمَا مَعْنَى هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّهُمْ كَانُوا يَخْرُجُونَ فِي الْغَزْوِ فَيَمُرُّونَ بِقَوْمٍ وَلاَ يَجِدُونَ مِنَ الطَّعَامِ مَا يَشْتَرُونَ بِالثَّمَنِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنْ أَبَوْا أَنْ يَبِيعُوا إِلاَّ أَنْ تَأْخُذُوا كَرْهًا فَخُذُوا " . هَكَذَا رُوِيَ فِي بَعْضِ الْحَدِيثِ مُفَسَّرًا وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضى الله عنه أَنَّهُ كَانَ يَأْمُرُ بِنَحْوِ هَذَا .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

১৫৯৫। কুতায়বা (রাহঃ) ......... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা কিছু সম্প্রদায়ের নিকট দিয়ে পথ অতিবাহিত করি কিন্তু তারা আমাদের আতিথেয়তাও করেন না এবং তাদের উপর আমাদের যে হক তা তারা আদায় করেন না। আমরাও তাদের থেকে বলপ্রয়োগ তা গ্রহণ করতে যাই না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, জোর করে না নিলে যদি তারা না দেয় তবে জোর করেই তা তোমরা আদায় করবে।[১] ইবনে মাজাহ ৩৬৭৬, নাসাঈ

এই হাদীসটি হাসান। লাঈস ইবনে সা‘দ (রাহঃ) এটিকে ইয়াযীদ ইবনে হাবীব (রাহঃ) থেকেও বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসটির তাৎপর্য হলো, মুসলিমরা অভিযানে বের হতেন, তারা তখন যিম্মী সম্প্রদায়ের অঞ্চল অতিক্রম করে যেতেন কিন্তু (অনেক সময়) মূল্য দিয়েও তারা খাদ্য সংগ্রহ করতে পারতেন না। এমতাবস্থায় নবী (ﷺ) বলেছেন, তারা যদি খাদ্য বিক্রি করতেও অস্বীকৃতি জানায় এবং জোর করে না নিলে যদি না দেয় তবে জোর করে হলেও তা সংগ্রহ করবে। কতক হাদীসে এ ধরণের ভাষ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনিও এরূপ নির্দেশ দিতেন।

[১] কেননা মুসলিমদের মেহমানদারী করার শর্তে তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল।

হিজরত।

باب مَا جَاءَ فِي الْهِجْرَةِ

১৫৯০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ الْمُعْتَمِرِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ " لاَ هِجْرَةَ بَعْدَ الْفَتْحِ وَلَكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ وَإِذَا اسْتُنْفِرْتُمْ فَانْفِرُوا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُبْشِيٍّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَاهُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ نَحْوَ هَذَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৫৯৬। আহমাদ ইবনে আব্দা যাববী (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মক্কা বিজয়ের পর আর (মদীনায়) হিজরত নেই। তবে জিহাদ ও এর আকাঙ্ক্ষা বহাল থাকবে। তোমাদেরকে যখন জিহাদে বের হতে আহবান জানানো হয় তোমরা তখন তাতে বের হয়ে পড়বে। ইবনে মাজাহ ২৭৭৩, নাসাঈ, ১৫৯০

এই বিষয়ে আবু সাঈদ, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ও আব্দুল্লাহ ইবনে হাবশী (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। সুফিয়ান ছাওরী (রাহঃ) এটিকে মানসুর ইবনে মু‘তামির (রাহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

নবী (ﷺ) এর বায়আত পদ্ধতি।

باب مَا جَاءَ فِي بَيْعَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

১৫৯১

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأُمَوِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: (لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ ) قَالَ جَابِرٌ بَايَعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَنْ لاَ نَفِرَّ وَلَمْ نُبَايِعْهُ عَلَى الْمَوْتِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ وَابْنِ عُمَرَ وَعُبَادَةَ وَجَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عِيسَى بْنِ يُونُسَ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ قَالَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَلَمْ يُذْكَرْ فِيهِ أَبُو سَلَمَةَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৫৯৭। সাঈদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ উমাবী (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ আল্লাহ অবশ্য মু’মিনদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন যখন তারা আপনার কাছে বায়আত করছিলো বৃক্ষের নীচে (৪৮ঃ ১৮) এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা পলায়ন করব না বলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বায়আত হয়েছিলাম। মৃত্যু-এর শর্তে আমরা বায়আত হইনি। মুসলিম

এই বিষয়ে সালামা ইবনে আকওয়া, ইবনে উমর, উবাদা জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। উক্ত হাদীসটি ঈসা ইবনে ইউনুস-আওযাঈ-ইয়াহয়া ইবনে আবী কাছীর-জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) সূত্রেও বর্ণিত আছে। এতে আবু সালামা (রাযিঃ)-এর উল্লেখ নেই।
১৫৯২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ، قَالَ قُلْتُ لِسَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ عَلَى أَىِّ شَيْءٍ بَايَعْتُمْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ قَالَ عَلَى الْمَوْتِ . هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

১৫৯৮। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইয়াযীদ ইবনে আবী উবাইদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সালামা ইবনুল আকওয়া (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। হুদায়বিয়ার দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে কি বিষয়ে আপনারা বায়আত হয়েছিলেন? তিনি বলেন, মৃত্যু বরণের শর্তে। নাসাঈ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
১৫৯৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كُنَّا نُبَايِعُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ فَيَقُولُ لَنَا " فِيمَا اسْتَطَعْتُمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ كِلاَهُمَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৫৯৯। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... উমর ইবনে (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা শোনা ও আনুগত্যের উপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বায়আত হতাম। তিনি তখন আমাদের বলতেন যতটুকু তোমাদের পক্ষে সম্ভব। আবু দাউদ ২৬০৬, নাসাঈ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই উভয় হাদীসই হাসান-সহীহ।
১৫৯৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمْ نُبَايِعْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمَوْتِ إِنَّمَا بَايَعْنَاهُ عَلَى أَنْ لاَ نَفِرَّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَمَعْنَى كِلاَ الْحَدِيثَيْنِ صَحِيحٌ قَدْ بَايَعَهُ قَوْمٌ مِنْ أَصْحَابِهِ عَلَى الْمَوْتِ وَإِنَّمَا قَالُوا لاَ نَزَالُ بَيْنَ يَدَيْكَ حَتَّى نُقْتَلَ وَبَايَعَهُ آخَرُونَ فَقَالُوا لاَ نَفِرُّ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৬০০। আহমাদ ইবনে মানী‘ (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে মৃত্যুর শর্তে বায়আত হইনি বরং পলায়ন করব না বলে আমরা বায়আত হয়েছিলাম। মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। উপরোক্ত দু’টি হাদীসের মর্মই সঠিক। সাহাবীদের একদল তো মৃত্যুর উপর বায়আত হয়েছিলেন। বলেছিলেন, আপনার সামনে আমরা নিহত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব। অপর এক দল বায়আত হয়েছিলেন এই বলে যে, আমরা পলায়ন করব না।

বায়আত ভঙ্গ করা।

باب مَا جَاءَ فِي نَكْثِ الْبَيْعَةِ

১৫৯৫

حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ثَلاَثَةٌ لاَ يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلاَ يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ رَجُلٌ بَايَعَ إِمَامًا فَإِنْ أَعْطَاهُ وَفَى لَهُ وَإِنْ لَمْ يُعْطِهِ لَمْ يَفِ لَهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬০১। আবু আম্মার (রাহঃ) ......... আবু হুরয়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তিন ধরণের ব্যক্তি এমন যাদের সাথে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন কোন কথা বলবেন না, তাদের সংশোধন করবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণা দায়ক আযাব। এদের একজন হলো এমন ব্যক্তি যে কোন ইমাম বা খলীফার হাতে বায়আত হওয়ার পর তিনি যদি তাকে কিছু দেন তবে তো সে সন্তুষ্ট থাকে আর যদি না দেন তবে আর সে তার ওফাদারী করেনা। ইবনে মাজাহ ২২০৭, নাসাঈ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

গোলামের বায়আত।

باب مَا جَاءَ فِي بَيْعَةِ الْعَبْدِ

১৫৯৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّهُ قَالَ جَاءَ عَبْدٌ فَبَايَعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْهِجْرَةِ وَلاَ يَشْعُرُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ عَبْدٌ فَجَاءَ سَيِّدُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " بِعْنِيهِ " . فَاشْتَرَاهُ بِعَبْدَيْنِ أَسْوَدَيْنِ وَلَمْ يُبَايِعْ أَحَدًا بَعْدُ حَتَّى يَسْأَلَهُ أَعَبْدٌ هُوَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي الزُّبَيْرِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৬০২। কুতায়বা (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, একবার একজন গোলাম এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে হিজরতের উপর বায়আত হন। কিন্তু সে গোলাম বলে সে বুঝতে পারেন নি। পরে এর মালিক এলে নবী (ﷺ) বললেন, একে আমার কাছে বিক্রি করে দাও। অনন্তর তিনি তাকে দু’ইটি কালো গোলামের বিনিময়ে ক্রয় করে নিলেন। এরপর থেকে গোলাম কি না এই কথা জিজ্ঞাসা না করে তিনি কাউকে বায়আত করতেন না।

মুসলিম

এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির (রাযিঃ) বর্ণিত, হাদীসটি হাসান-গারীব-সহীহ। আবুয-যুবাইর (রাহঃ) এর রিওয়ায়াত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।

মহিলাদের বায়আত।

باب مَا جَاءَ فِي بَيْعَةِ النِّسَاءِ

১৫৯৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ، سَمِعَ أُمَيْمَةَ بِنْتَ رُقَيْقَةَ، تَقُولُ بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نِسْوَةٍ فَقَالَ لَنَا " فِيمَا اسْتَطَعْتُنَّ وَأَطَقْتُنَّ " . قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَرْحَمُ بِنَا مِنَّا بِأَنْفُسِنَا . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بَايِعْنَا . قَالَ سُفْيَانُ تَعْنِي صَافِحْنَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا قَوْلِي لِمِائَةِ امْرَأَةٍ كَقَوْلِي لاِمْرَأَةٍ وَاحِدَةٍ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ وَأَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ . وَرَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَغَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ نَحْوَهُ . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ لاَ أَعْرِفُ لأُمَيْمَةَ بِنْتِ رُقَيْقَةَ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ . وَأُمَيْمَةُ امْرَأَةٌ أُخْرَى لَهَا حَدِيثٌ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: উমায়মা বিনতে রুকায়কা (রাঃ)

১৬০৩। কুতায়বা (রাহঃ) ......... উমায়মা বিনতে রুকায়কা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি কতক মহিলাদের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বায়আত হয়েছিলাম। তিনি আমাদের বললেন, যতটুকু তোমরা পারো সক্ষম হও (তদানুসারে কাজগুলি করবে)। আমি বললাম আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের বিষয়ে খোদ আমাদের চেয়েও অধিক দয়ালু। অনন্তর আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাদের বায়আত দিন। বর্ণনাকারী সুফিয়ান বলেন, অর্থাৎ আমাদের হাত ধরে বায়আত করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, একজন মহিলাকে আমার কিছু বলা একশ’ মহিলাকে বলার মতই। ইবনে মাজাহ ২৮৭৪

এই বিষয়ে আয়িশা, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ও আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রাহঃ) এর রিওয়ায়াত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। সুফিয়ান সাওরী, মালিক ইবনে আনাস প্রমুখ (রাহঃ) হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির (রাহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আমি মুহাম্মাদ (বুখারী)-কে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেন, এই হাদীসটি ছাড়া উমায়মা বিনতে রুকায়কার অন্য কোন হাদীস আমার জানা নেই। উমায়মা নামে অন্য এক মহিলা আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যার হাদীস রয়েছে।

বদরী সাহাবীদের সংখ্যা।

باب مَا جَاءَ فِي عِدَّةِ أَصْحَابِ أَهْلِ بَدْرٍ

১৫৯৮

حَدَّثَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ كُنَّا نَتَحَدَّثُ أَنَّ أَصْحَابَ، بَدْرٍ يَوْمَ بَدْرٍ كَعِدَّةِ أَصْحَابِ طَالُوتَ ثَلاَثِمِائَةٍ وَثَلاَثَةَ عَشَرَ رَجُلاً . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رَوَاهُ الثَّوْرِيُّ وَغَيْرُهُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

১৬০৪। ওয়াসিল ইবনে আব্দুল আ‘লা কুফী (রাহঃ) ......... বারা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আলোচনা করতাম যে, বদর যুদ্ধে বদরী সাহাবীদের সংখ্যা (বনু ইসরাঈলের জন্য মনোনীত দ্বীনদার বাদশাহ) তালূতের সঙ্গীদের অনুরূপ ছিল-তিনশ তের। বুখারী

এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ছাওরী প্রমুখ (রাহঃ) এটিকে আবু ইসহাক (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

খুমুস বা গনিমতের এক পঞ্চমাংশ।

باب مَا جَاءَ فِي الْخُمُسِ

১৫৯৯
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ الْمُهَلَّبِيُّ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِوَفْدِ عَبْدِ الْقَيْسِ " آمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا خُمُسَ مَا غَنِمْتُمْ " . قَالَ وَفِي الْحَدِيثِ قِصَّةٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৬০৫। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আব্দে কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দলকে বলেছিলেন, তোমরা যে গনিমত সংগ্রহ কর তা থেকে এক পঞ্চমাংশ (বায়তুল মালে) প্রদান করতে তোমাদের আমি নির্দেশ দিচ্ছি। আবু উবাইদ ৫৯/১, নাসাঈ

হাদীসটিতে আরো কাহিনী রয়েছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

লুন্ঠন করা হারাম।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ النُّهْبَةِ

১৬০০
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَتَقَدَّمَ سَرَعَانُ النَّاسِ فَتَعَجَّلُوا مِنَ الْغَنَائِمِ فَاطَّبَخُوا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أُخْرَى النَّاسِ فَمَرَّ بِالْقُدُورِ فَأَمَرَ بِهَا فَأُكْفِئَتْ ثُمَّ قَسَمَ بَيْنَهُمْ فَعَدَلَ بَعِيرًا بِعَشْرِ شِيَاهٍ .
قَالَ أَبُو عِيسَى وَرَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبَايَةَ، عَنْ جَدِّهِ، رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ أَبِيهِ . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ، مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، . وَهَذَا أَصَحُّ وَعَبَايَةُ بْنُ رِفَاعَةَ سَمِعَ مِنْ، جَدِّهِ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ الْحَكَمِ، وَأَنَسٍ، وَأَبِي، رَيْحَانَةَ وَأَبِي الدَّرْدَاءِ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ وَجَابِرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي أَيُّوبَ .

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

১৬০৬। হান্নাদ (রাহঃ) ......... রাফি‘ ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। তাড়াহুড়াকারীরা আগে চলে গেল এবং গনিমতের বিষয়ে তাড়াহুড়া করল। তার কিছু রান্নাও করে ফেলল। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন পশ্চাৎবর্তী দলে। তিনি রান্নার ডেকচির কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন এগুলোকে ঢেকে ফেলে দিতে নির্দেশ দিলেন। এরপর তাদের মধ্যে গনিমত বণ্টন করে দিলেন এবং এই ক্ষেত্রে একটি উট সমান দশটি ছাগল ধরলেন। ইবনে মাজাহ ৩১৩৭, নাসাঈ

সুফিয়ান ছাওরী এটিকে তৎপিতা-আবায়া-তৎপিতামহ রাফি‘ ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এতে আবায়া-এর পর তৎপিতা রিফায়ার উল্লেখ নেই।

মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ......... সুফিয়ান (রাহঃ) থেকে উক্ত রিওয়ায়াতটি বর্ণিত আছে। এটি অধিকতর সহীহ। আবায়া ইবনে রিফায়া (রাহঃ) সরাসরি তাঁর পিতামহ রাফি‘ ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস শুনেছেন। এই বিষয়ে ছা‘লাবা ইবনে হাকাম, আনাস, আবু রায়হানা, আবুদ দারদা, আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা, যায়দ ইবনে খালিদ, জাবির, আবু হুরায়রা ও আবু আইয়ুব (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।
১৬০১

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنِ انْتَهَبَ فَلَيْسَ مِنَّا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَنَسٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৬০৭। মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি লুন্ঠর করে সে আমাদের (উম্মত ভুক্ত) নয়।

হাদীসটি আনাস (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে হাসান-সহীহ গারীব।

কিতাবীদের সালাম দেওয়া।

باب مَا جَاءَ فِي التَّسْلِيمِ عَلَى أَهْلِ الْكِتَابِ

১৬০২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَبْدَءُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى بِالسَّلاَمِ وَإِذَا لَقِيتُمْ أَحَدَهُمْ فِي الطَّرِيقِ فَاضْطَرُّوهُمْ إِلَى أَضْيَقِهِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَنَسٍ وَأَبِي بَصْرَةَ الْغِفَارِيِّ صَاحِبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬০৮। কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ইয়াহুদী খ্রিষ্টানকে প্রথমেই সালাম দিবে না। এদের কাউকে যদি পথে পাও তবে এর কিনারায় তাদের ঠেলে দেবে। মুসলিম

এই বিষয়ে ইবনে উমর, আনাস, সাহাবী আবু বাসরা গিফারী (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। হাদীসটির তাৎপর্য হলো, ইয়হূদী খৃষ্টানকে প্রথমেই তুমি সালাম দিবে না। কতক আলিম বলেন, এটা অপছন্দনীয় হওয়ার কারণ হলো এতে এদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়, অথচ মুসলিমদের প্রতি নির্দেশ হল এদেরকে লাঞ্চিত করার। এমনিভাবে পথে এদের কারো পাওয়া গেলে তার জন্য পথ ছাড়া হবে না কেননা, এতে তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়।
১৬০৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الْيَهُودَ إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمْ أَحَدُهُمْ فَإِنَّمَا يَقُولُ السَّامُ عَلَيْكُمْ فَقُلْ عَلَيْكَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৬০৯। আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ইয়াহুদীরা যখন তোমাদের কাউকে সালাম দেয় এবং (কৌশলে বলে) ″আসসামু আলাইকুম″ (তোমাদের মৃত্যু হোক) তখন তোমরা বলবে আলাইকা (তোমার উপর হোক)।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

মুশরীকদের মাঝে বসবাস নিন্দনীয়।

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ الْمُقَامِ بَيْنَ أَظْهُرِ الْمُشْرِكِينَ

১৬০৪

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ سَرِيَّةً إِلَى خَثْعَمٍ فَاعْتَصَمَ نَاسٌ بِالسُّجُودِ فَأَسْرَعَ فِيهِمُ الْقَتْلُ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ لَهُمْ بِنِصْفِ الْعَقْلِ وَقَالَ " أَنَا بَرِيءٌ مِنْ كُلِّ مُسْلِمٍ يُقِيمُ بَيْنَ أَظْهُرِ الْمُشْرِكِينَ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلِمَ قَالَ " لاَ تَرَايَا نَارَاهُمَا " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৬১০। হান্নাদ (রাহঃ) ......... জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাছআম গোত্রে একটি বাহিনী প্রেরণ করেন। তখন ঐ গোত্রের একদল লোক সিজদার মাধ্যমে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদেরকে দ্রুত হত্যা করা হয়। নবী (ﷺ) এর কাছে এ খবর পৌছলে তিনি এদের অর্ধেক দিয়াত (রক্তপণ) আদায় করেন এবং বললেন, যে সমস্ত মুসলিম মুশরিকদের মাঝে বসবাস করে আমি তাদের ব্যপারে দায়মুক্ত। সাহাবী বললেন, কি করবো ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বললেন, এতটুকু ব্যাবধান থাকবে যেন পরস্পরের আগুন দৃষ্টিগোচর না হয়।

″ আবু দাউদ ২৩৭৭
১৬০৫

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، مِثْلَ حَدِيثِ أَبِي مُعَاوِيَةَ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ جَرِيرٍ، . وَهَذَا أَصَحُّ . وَفِي الْبَابِ عَنْ سَمُرَةَ، . قَالَ أَبُو عِيسَى وَأَكْثَرُ أَصْحَابِ إِسْمَاعِيلَ قَالُوا عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ سَرِيَّةً وَلَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ عَنْ جَرِيرٍ. وَرَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ الْحَجَّاجِ بْنِ أَرْطَاةَ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ عَنْ قَيْسٍ عَنْ جَرِيرٍ مِثْلَ حَدِيثِ أَبِي مُعَاوِيَةَ قَالَ وَسَمِعْت مُحَمَّدًا يَقُولُ الصَّحِيحُ حَدِيثُ قَيْسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُرْسَلٌ وَرَوَى سَمُرَةُ بْنُ جُنْدَبٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تُسَاكِنُوا الْمُشْرِكِينَ وَلَا تُجَامِعُوهُمْ فَمَنْ سَاكَنَهُمْ أَوْ جَامَعَهُمْ فَهُوَ مِثْلُهُمْ

১৬১১। হান্নাদ (রাহঃ) ......... কায়স ইবনে আবু হাযিম (রাহঃ) থেকে আবু মুআবিয়া (১৬০৭ নং) বর্ণিত হাদীসের বর্ণনা করেছেন। তবে এ সনদে জারীর (রাযিঃ)-এর উল্লেখ নেই। এটি অধিকত সহীহ।

এই বিষয়ে সামুরা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইসমাঈল (রাহঃ) এর অধিকাংশ শারগিদ এটিকে কায়স ইবনে আবু হাযিম থেকে রিওয়ায়াত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক বাহিনী প্রেরণ করেছিলেন। এতে তারা জারীর (রাযিঃ)-এর উল্লেখ করেননি। হাম্মাদ ইবনে সালামা এটিকে হাজ্জাজ ইবনে আরতাত-ইসমাঈল ইবনে আবু খালিদ-কায়স-জারীর (রাযিঃ) সূত্রে আবু মুআবিয়া (রাহঃ) এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আমি মুহাম্মাদ (ইমাম বুখারী)-কে বলতে শুনেছি যে, সহীহ হলো কায়স-নবী (ﷺ) সূত্রে মুরসালরূপে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি। সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা মুশরিকদের সাথে বসবাস করবে না এবং তাদের সাথে একত্রিতও হবে না। যে ব্যক্তি তাদের সাথে বসবাস করবে বা তাদের সাথে মিলিত হবে সে তাদেরই মত।

আরব উপদ্বীপ থেকে ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের বহিস্কার।

باب مَا جَاءَ فِي إِخْرَاجِ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ

১৬০৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَئِنْ عِشْتُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لأُخْرِجَنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৬১২। মুসা ইবনে আব্দুর রহমান কিন্দী (রাহঃ) ......... উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ চাহেত আমি যদি জীবিত থাকি তবে ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদেরকে অবশ্যই জাযীরাতুল আরব (আরব উপদ্বীপ) থেকে বহিস্কার করব।

১৬০৭

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لأُخْرِجَنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ فَلاَ أَتْرُكُ فِيهَا إِلاَّ مُسْلِمًا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৬১৩ হাসান ইবনে আলী খাললাল (রাহঃ) ......... উমর ইবনুল খাত্তব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন, আমি অবশ্যই জাযিরা আরব থেকে থেকে খৃষ্টানদেরকে বের করে দেব। মুসলিম ছাড়া এখানে আর কাউকে বসবাসের জন্য ছেড়ে দিব না।

আবু দাউদ, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

নবী (ﷺ) এর পরিত্যক্ত সম্পদ।

باب مَا جَاءَ فِي تَرِكَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

১৬০৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ جَاءَتْ فَاطِمَةُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَقَالَتْ مَنْ يَرِثُكَ قَالَ أَهْلِي وَوَلَدِي . قَالَتْ فَمَا لِي لاَ أَرِثُ أَبِي فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ نُورَثُ " . وَلَكِنِّي أَعُولُ مَنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعُولُهُ وَأُنْفِقُ عَلَى مَنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُنْفِقُ عَلَيْهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَطَلْحَةَ وَالزُّبَيْرِ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَسَعْدٍ وَعَائِشَةَ . وَحَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ إِنَّمَا أَسْنَدَهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ وَعَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ لاَ أَعْلَمُ أَحَدًا رَوَاهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ إِلاَّ حَمَّادَ بْنَ سَلَمَةَ . وَرَوَى عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ نَحْوَ رِوَايَةِ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬১৪। মুহাম্মাদ ইবনে মুছান্না (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ফাতিমা (রাযিঃ) আবু বকর (রাযিঃ)-এর কাছে এসে বললেন, কে আপনার উত্তরাধিকারী হবে? তিনি বললেন, আমার পরিবার ও সন্তানরা। ফাতিমা (রাযিঃ) বললেন, তাহলে আমি কেন আমার পিতার উত্তরাধিকারী হবো না? তখন আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, ‘আমাদের কেউ ওয়ারিশ হয় না’’। তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যাদের ভরণপোষণ করতেন, আমিও তাদের ভরণ পোষণ করবো, যাদের খোরপোষ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দিতেন আমিও তাদের খোরপোষ দিব।



এই বিষয়ে উমর, তালহা, যুবাইর, আব্দুর রহমান ইবনে আওফ, সা‘দ ও আয়িশা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান এবং এই সূত্রে গারীব। এটি মুহাম্মাদ ইবনে সালামা ও আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আতা-মুহাম্মাদ ইবনে আমর-আবু সালামা-আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে মুসনাদ রূপে বর্ণিত আছে। আমি মুহাম্মাদ (বুখারী) (রাহঃ)-কে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, হাম্মাদ ইবনে সালামা (রাযিঃ) ব্যতীত মুহাম্মাদ ইবনে আমর-আবু সালামা-আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমি জানিনা।
১৬০৯

حَدَّثَنَا بِذَلِكَ، عَلِيُّ بْنُ عِيسَى الْبَغْدَادِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ فَاطِمَةَ، جَاءَتْ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ رضى الله عنهما تَسْأَلُ مِيرَاثَهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالاَ سَمِعْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنِّي لاَ أُورَثُ " . قَالَتْ وَاللَّهِ لاَ أُكَلِّمُكُمَا أَبَدًا . فَمَاتَتْ وَلاَ تُكَلِّمُهُمَا . قَالَ عَلِيُّ بْنُ عِيسَى مَعْنَى لاَ أُكَلِّمُكُمَا تَعْنِي فِي هَذَا الْمِيرَاثِ أَبَدًا أَنْتُمَا صَادِقَانِ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৬১৫। আলী ইবনে ঈসা ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, ফাতিমা (রাযিঃ) আবু বকর ও উমর (রাযিঃ)-এর কাছে এসে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে তার মীরাছ চাইতে। তারা বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমার কেউ ওয়ারছি হয়না। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি আপনাদের সাথে আর কখনো আলোচনা করবো না অর্থাৎ এই মীরাছ সম্পর্কে আপনার উভয়েই সত্যবাদী।

এই হাদীসটি আবু বকর সিদ্দকী (রাযিঃ)-নবী (ﷺ) থেকে অন্য সূত্রেও বর্ণিত আছে।
১৬১০

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، أَخْبَرَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَدَخَلَ عَلَيْهِ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ وَالزُّبَيْرُ بْنُ الْعَوَّامِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ وَسَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ ثُمَّ جَاءَ عَلِيٌّ وَالْعَبَّاسُ يَخْتَصِمَانِ فَقَالَ عُمَرُ لَهُمْ أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَاهُ صَدَقَةٌ " . قَالُوا نَعَمْ . قَالَ عُمَرُ فَلَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَبُو بَكْرٍ أَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَجِئْتَ أَنْتَ وَهَذَا إِلَى أَبِي بَكْرٍ تَطْلُبُ أَنْتَ مِيرَاثَكَ مِنَ ابْنِ أَخِيكَ وَيَطْلُبُ هَذَا مِيرَاثَ امْرَأَتِهِ مِنْ أَبِيهَا فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَاهُ صَدَقَةٌ " . وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّهُ لَصَادِقٌ بَارٌّ رَاشِدٌ تَابِعٌ لِلْحَقِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْحَدِيثِ قِصَّةٌ طَوِيلَةٌ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৬১৬। হাসান ইবনে আলী খাললাল (রাহঃ) ......... মালিক ইবনে আওস ইবনে হাদাছান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-এর কাছে গেলাম। তার কাছে উসমান ইবনে আফফান, যুবাইর ইবনে আওওয়াম, আব্দুর রহমান ইবনে আওফ ও সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ)-ও এলেন। কিছুক্ষণ পর আলী ও আব্বাস (রাযিঃ) বিবাদ মীমাংশার জন্য এলেন। উমর (রাযিঃ) তাঁদের বললেন, যে আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে আসমান ও যমীন প্রতিষ্ঠিত তাঁর কসম দিয়ে তোমাদের বলছি, তোমরা কি জান না যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমাদের কেউ ওয়ারিশ হয়না, আমরা যা রেখে যাই যা সাদ্‌কা হিসাবে গণ্য? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। উমর (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তিকালের পর আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে মুতওয়াল্লী। তখন আপনি এবং ইনি (আলী) আবু বকর (রাযিঃ)-এর কাছে এসেছিলেন। আপনি আপনার ভ্রাতুষ্পুত্রদের মীরাছ দাবী করেছিলেন আর ইনি দাবী করেছিলেন তাঁর স্ত্রীর (ফাতিমা (রাযিঃ))-এর জন্য তাঁর পিতার উত্তরাধিকারত্বের। তখন আবু বকর (রাযিঃ) বলেছিলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলছেন, আমাদের কেউ ওয়ারিশ হয় না। আমরা যা রেখে যাই তা সাদ্‌কা স্বরূপ। আল্লাহ তাআলা জানেন যে তিনি সত্যবাদী, সৎ, সত্যপন্থী, হকের অনুসারী। নাসাঈ

হাদীসটিতে আরো দীর্ঘ বর্ণনা রয়েছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ এবং মালিক ইবনে আনাস (রাযিঃ)-এর রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব।

মক্কা বিজয়ের দিন নবী (ﷺ) বলেছেন, আজকের পরে আর এই নগরে কোন যুদ্ধ করা যাবে না।

باب مَا جَاءَ مَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ " إِنَّ هَذِهِ لاَ تُغْزَى بَعْدَ الْيَوْمِ "

১৬১১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ مَالِكِ بْنِ الْبَرْصَاءِ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ يَقُولُ " لاَ تُغْزَى هَذِهِ بَعْدَ الْيَوْمِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَسُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدٍ وَمُطِيعٍ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَهُوَ حَدِيثُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ عَنِ الشَّعْبِيِّ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِهِ .

বর্ণনাকারী: হারিছ ইবনে মালিক ইবনে বারসা (রাঃ)

১৬১৭ মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... হারিস ইবনে মালিক ইবনে বারসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, আজ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত এই নগরে আর যুদ্ধ কর যাবে না।

এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস, সুলাইমান ইবনে সূরাদ ও মুতী (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। হারিছ ইবনে মালিক (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এটি হলো যাকারিয়্যা ইবনে আবু যাইদা শা‘বী (রাহঃ) সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াত। এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।

যে মুহুর্তে যুদ্ধ করা মুস্তাহাব।

باب مَا جَاءَ فِي السَّاعَةِ الَّتِي يُسْتَحَبُّ فِيهَا الْقِتَالُ

১৬১২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ مُقَرِّنٍ، قَالَ غَزَوْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ أَمْسَكَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَإِذَا طَلَعَتْ قَاتَلَ فَإِذَا انْتَصَفَ النَّهَارُ أَمْسَكَ حَتَّى تَزُولَ الشَّمْسُ فَإِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ قَاتَلَ حَتَّى الْعَصْرِ ثُمَّ أَمْسَكَ حَتَّى يُصَلِّيَ الْعَصْرَ ثُمَّ يُقَاتِلُ . قَالَ وَكَانَ يُقَالُ عِنْدَ ذَلِكَ تَهِيجُ رِيَاحُ النَّصْرِ وَيَدْعُو الْمُؤْمِنُونَ لِجُيُوشِهِمْ فِي صَلاَتِهِمْ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ مُقَرِّنٍ بِإِسْنَادٍ أَوْصَلَ مِنْ هَذَا . وَقَتَادَةُ لَمْ يُدْرِكِ النُّعْمَانَ بْنَ مُقَرِّنٍ وَمَاتَ النُّعْمَانُ بْنُ مُقَرِّنٍ فِي خِلاَفَةِ عُمَرَ .

বর্ণনাকারী: নু'মান ইবনে মুকাররিন (রাঃ)

১৬১৮। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... নু‘মান ইবনে মুকাররিন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে যুদ্ধে শরীক হয়েছি। ফজর হয়ে গেলে সূর্য না উঠা পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতেন। সূর্য উদিত হওয়ার পর তিনি যুদ্ধ করতেন। দিনের ঠিক মধ্যভাগে যুদ্ধ থেকে বিরতি করতেন যতক্ষণ না (সূর্য পশ্চিম দিকে) ঢলে পড়ে। সূর্য (পশ্চিম দিকে) ঢলে পড়লে আসর পর্যন্ত যুদ্ধ করতেন। পরে আসরের নামায পর্যন্ত যুদ্ধ বিরত করতেন। আসরের নামাযের পর আবার লড়াই করতেন। বলা হতো, এই সময় আল্লাহর সাহায্যের হাওয়া প্রবাহিত হয়। মুমিনরা তাদের নামাযে সেনাবাহিনীর জন্য খুব দুআ করতেন।

নু‘মান ইবনে মুকাররিন (রাযিঃ) থেকে এই হাদীসটি আরো অধিক মুত্তাসিল রূপে বর্ণিত আছে। নু‘মান ইবনে মুকাররিন (রাযিঃ)-এর সাক্ষাত কাতাদা (রাহঃ) পান নি। কেননা, উমর (রাযিঃ)-এর খিলাফত কালে নু‘মান (রাযিঃ) মারা গিয়েছেন।
১৬১৩

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ، وَالْحَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ، عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، بَعَثَ النُّعْمَانَ بْنَ مُقَرِّنٍ إِلَى الْهُرْمُزَانِ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ فَقَالَ النُّعْمَانُ بْنُ مُقَرِّنٍ شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ إِذَا لَمْ يُقَاتِلْ أَوَّلَ النَّهَارِ انْتَظَرَ حَتَّى تَزُولَ الشَّمْسُ وَتَهُبَّ الرِّيَاحُ وَيَنْزِلَ النَّصْرُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَعَلْقَمَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ هُوَ أَخُو بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ .

বর্ণনাকারী: মা'কিল ইবনে ইয়াসার (রাঃ)

১৬১৯। হাসান ইবনে আলী খাল্লাল (রাহঃ) ......... মাকিল ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) নু‘মান ইবনে মুকাররিনকে হুরমুযান-এর বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছিলেন। এরপর বর্ণনাকারী হাদীসটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেন। (এতে রয়েছে) নু‘মান ইবনে মুকাররিন (রাযিঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে যুদ্ধে শরীক হয়েছি। তিনি যদি দিনের শুরুতে যুদ্ধ না করতেন তবে অপেক্ষা করতেন। শেষে সূর্য যখন পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ত, হাওয়া প্রবাহিত হত, আল্লাহর নুসরত ও সাহায্য নেমে আসত তখন যুদ্ধ শুরু করতেন। আবু দাউদ ২৩৮৫

এই হাদীসটি হাসান-সহীহ রাবী আলকামা ইবনে আব্দুল্লাহ হলেন বকর ইবনে আব্দুল্লাহ মুযানী (রাহঃ) এর ভাই।

শুভ-অশুভের ধারণা প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي الطِّيَرَةِ وَالْفَأْلِ

১৬১৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الطِّيَرَةُ مِنَ الشِّرْكِ " . وَمَا مِنَّا إِلاَّ وَلَكِنَّ اللَّهَ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكُّلِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَحَابِسٍ التَّمِيمِيِّ وَعَائِشَةَ وَابْنِ عُمَرَ وَسَعْدٍ . وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ وَرَوَى شُعْبَةُ أَيْضًا عَنْ سَلَمَةَ هَذَا الْحَدِيثَ . قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَقُولُ كَانَ سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ يَقُولُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ " وَمَا مِنَّا إِلاَّ وَلَكِنَّ اللَّهَ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكُّلِ " . قَالَ سُلَيْمَانُ هَذَا عِنْدِي قَوْلُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَمَا مِنَّا.

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৬২০। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, শুভ-অশুভে বিশ্বাস হল শিরকের অন্তর্গত আমাদের এমন কেউ নেই যার এই ওয়াসওয়াসা আসে না। তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর উপর তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে তা বিদুরিত করে দেন। , ইবনে মাজাহ ৩৫৩৮

এই বিষয়ে সা‘দ, আবু হুরায়রা, হাবিস তামিমী, আয়িশা ও ইনে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। সালামা ইবনে কুহায়ল (রাহঃ)-এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। শু’বা (রাহঃ)-ও হাদীসটিকে সালামা (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল বুখারী (রাহঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, এই হাদীস প্রসঙ্গে সুলাইমান ইবনে হারব বলতেন,وَمَا مِنَّا إِلاَّ وَلَكِنَّ اللَّهَ يُذْهِبُهُ بِالتَّوَكُّلِ (আমাদের এমন কেউ ......... বিদুরিত করে দেন।) কথাটি আমার মতে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-এর বক্তব্য।
১৬১৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ عَدْوَى وَلاَ طِيَرَةَ وَأُحِبُّ الْفَأْلَ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْفَأْلُ قَالَ " الْكَلِمَةُ الطَّيِّبَةُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৬২১। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সংক্রমনতা কিছু নেই, শুভ-অশুভ কিছু নেই। আমি ‘‘ফাল’’ পছন্দ করি। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ‘‘ফাল’’ কি? তিনি বললেন, শুভ কথা। ইবনে মাজাহ ৩৫৩৭, নাসাঈ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।
১৬১৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُعْجِبُهُ إِذَا خَرَجَ لِحَاجَةٍ أَنْ يَسْمَعَ يَا رَاشِدُ يَا نَجِيحُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৬২২। মুহাম্মাদ ইবনে রাফি‘ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) যখন কোন প্রয়োজনে বের হতেন তখন এই ডাক শুনতে আনন্দ অনুভব করতেন যে, ইয়া রাশিদ (হে সঠিক পথ প্রাপ্ত) ইয়া নাজীহ, (হে সফলকাম)।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।

যুদ্ধ প্রসঙ্গে নবী (ﷺ) এর বিশেষ উপদেশ।

باب مَا جَاءَ فِي وَصِيَّتِهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْقِتَالِ

১৬১৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا بَعَثَ أَمِيرًا عَلَى جَيْشٍ أَوْصَاهُ فِي خَاصَّةِ نَفْسِهِ بِتَقْوَى اللَّهِ وَمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا وَقَالَ " اغْزُوا بِسْمِ اللَّهِ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ قَاتِلُوا مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ وَلاَ تَغُلُّوا وَلاَ تَغْدِرُوا وَلاَ تُمَثِّلُوا وَلاَ تَقْتُلُوا وَلِيدًا فَإِذَا لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى إِحْدَى ثَلاَثِ خِصَالٍ أَوْ خِلاَلٍ أَيَّتَهَا أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمُ ادْعُهُمْ إِلَى الإِسْلاَمِ وَالتَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ وَأَخْبِرْهُمْ إِنْ فَعَلُوا ذَلِكَ فَإِنَّ لَهُمْ مَا لِلْمُهَاجِرِينَ وَعَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُهَاجِرِينَ وَإِنْ أَبَوْا أَنْ يَتَحَوَّلُوا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُوا كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ يَجْرِي عَلَيْهِمْ مَا يَجْرِي عَلَى الأَعْرَابِ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْغَنِيمَةِ وَالْفَىْءِ شَيْءٌ إِلاَّ أَنْ يُجَاهِدُوا فَإِنْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ عَلَيْهِمْ وَقَاتِلْهُمْ وَإِذَا حَاصَرْتَ حِصْنًا فَأَرَادُوكَ أَنْ تَجْعَلَ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ فَلاَ تَجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَلاَ ذِمَّةَ نَبِيِّهِ وَاجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّتَكَ وَذِمَمَ أَصْحَابِكَ لأَنَّكُمْ إِنْ تُخْفِرُوا ذِمَّتَكُمْ وَذِمَمَ أَصْحَابِكُمْ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ رَسُولِهِ وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تُنْزِلَهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ فَلاَ تُنْزِلُوهُمْ وَلَكِنْ أَنْزِلْهُمْ عَلَى حُكْمِكَ فَإِنَّكَ لاَ تَدْرِي أَتُصِيبُ حُكْمَ اللَّهِ فِيهِمْ أَمْ لاَ " . أَوْ نَحْوَ هَذَا . قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ مُقَرِّنٍ . وَحَدِيثُ بُرَيْدَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ وَزَادَ فِيهِ " فَإِنْ أَبَوْا فَخُذْ مِنْهُمُ الْجِزْيَةَ فَإِنْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ عَلَيْهِمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا رَوَاهُ وَكِيعٌ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ سُفْيَانَ، . وَرَوَى غَيْرُ، مُحَمَّدِ بْنِ بَشَّارٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ، وَذَكَرَ، فِيهِ أَمْرَ الْجِزْيَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

১৬২৩। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... সুলাইমান ইবনে বুরায়দা তৎ পিতা বুরায়দা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাউকে কোন বাহিনীর আমির বানিয়ে পাঠানোর সময় তাকে বিশেষ করে নিজের ব্যাপারে তাকওয়া অবলম্বনের এবং সঙ্গী মুসলিমদের কল্যাণ কামনার উপদেশ দিতেন। বলতেন, বিসমিল্লাহ বলে আল্লাহর পথে লড়াই করবে। যারা আল্লাহকে অস্বীকার করেছে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাও। গনিমতের মাল আত্মসাত করবে না। বিশ্বাস ঘাতকতা করবে না। নিহত শত্রুর অঙ্গ-প্রতঙ্গ কেটে বিকৃত করবে না। শিশু হত্যা করবে না। মুশরকি শত্রুদের সম্মুখীন যখন হবে তাদেরকে তিনটি বিষয়ে একটি গ্রহণের আহবান জানাবে। যে কোনটির প্রতি তারা সাড়া দিবে তোমরা তা গ্রহণ করবে এবং তাদের বিষয়ে বিরত থাকবে।

প্রথমে তাদেরকে ইসলামের প্রতি আহবান জানাবে এবং তাদের দেশ থেকে মুহাজিরীনের অঞ্চল (দারুল ইসলাম) হিজরত করতে বলবে। তাদের অবহিত করবে যদি তারা তা করে তবে মুহাজিরগণ যে অধিকার ভোগ করে তারাও তা ভোগ করবে; মুহাজিরগণের উপর যে দায়িত্ব বর্তায় তাদের উপরও সে দায়িত্ব বর্তাবে। যদি তারা স্থান পরিবর্তনে অস্বীকৃতি জানায় তবে তাদের অবহিত করবে যে, তারা মরু অঞ্চলে (গ্রামাঞ্চলে) বসবাসরত সাধারণ মুসলিমদের মত গণ্য হবে। মরুবাসীদের উপর যা প্রযোজ্য হয় তাদের উপরও তা প্রযোজ্য হবে। জিহাদে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ব্যতীরেখে গনিমত ও ফাই সম্পদে তাদের কোন অধিকার থাকবে না।

এই বিষয় গ্রহণ করতেও যদি তারা অস্বীকার করে তবে তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করবে এবং এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে। কোন কেল্লা অবরোধ করলে যদি তারা (কেল্লাবাসী) চায় যে তুমি তাদের আল্লাহর যিম্মা ও তাঁর নবীর যিম্মা দিলে তারা আত্মসমর্পণ করবে তবে তাদেরকে আল্লাহর যিম্মায় ও তাদের রাসূলের যিম্মায় প্রদান করবে না। বরং তাদেরকে তোমার ও তোমার সঙ্গীদের যিম্মায় আত্মসমর্পণ করতে বলবে। কেননা আল্লাহর যিম্মা ও রাসূলের যিম্মায় ত্রুটি অপেক্ষা তোমাদের নিজেদের যিম্মায় ও তোমাদের সঙ্গীদের যিম্মায় অঙ্গীকারে ত্রুটি ঘটা অধিকতর ভাল। যদি কোন কেল্লা অবরোধ কালে কেল্লাবাসীরা আল্লাহর হুকুমের উপর আত্মসমর্পণ করতে চায় তবে তোমরা তা স্বীকার করবে না বরং তোমরা হুকুমে আত্মসমর্পণ করতে বলবে। কেননা তুমি জাননা তাদের বিষয়ে আল্লাহর হুকুম-এ ঠিক পৌছাতে পারবে কিনা। ইবনে মাজাহ ২৮৫৮, মুসলিম

এই বিষয়ে নু‘মান ইবনে মুকাররিন (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। বুরায়দা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।

মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) আলকামা ইবনে মারছাদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এতে আরো আছে যে, তারা যদি (ইসলাম) তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তবে তাদের থেকে জিযইয়া নিবে। তা যদি অস্বীকার করে তবে তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করবে।

ওয়াকী‘ প্রমুখ (রাহঃ) সুফিয়ান (রাহঃ) থেকে তদ্রূপ রিওয়ায়াত করেছেন। মুহাম্মাদ বাশশার ছাড়া অন্যরাও আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী (রাহঃ) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে জিযইয়া-এর কথা উল্লেখ রয়েছে।
১৬১৮
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لاَ يُغِيرُ إِلاَّ عِنْدَ صَلاَةِ الْفَجْرِ فَإِنْ سَمِعَ أَذَانًا أَمْسَكَ وَإِلاَّ أَغَارَ فَاسْتَمَعَ ذَاتَ يَوْمٍ فَسَمِعَ رَجُلاً يَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ . فَقَالَ " عَلَى الْفِطْرَةِ " . فَقَالَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ . فَقَالَ " خَرَجْتَ مِنَ النَّارِ " .
قَالَ الْحَسَنُ وَحَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৬২৪। হাসান ইবনে আলী খাল্লাল (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের সময় ছাড়া অতর্কিত হামলা চালাতেন না। আযানের আওয়ায শুনলে বিরত হয়ে যেতেন। তা না হলে হামলা করতেন। একদিন তিনি (এমতাবস্থায় আযানের শব্দ) শোনার জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে জনৈক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন আল্লাহ আকবর আল্লাহ আকবর। তিনি বললেন দ্বীনে ফিতরাতের উপর এ প্রতিষ্ঠত। লোকটি বলল, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, তিনি বললেন, জাহান্নাম থেকে তুমি নাজাত পেয়ে গেলে। আবু দাউদ ২৩৬৮, মুসলিম

হাসান (রাহঃ) বলেন, ওয়ালীদ-হাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) সূত্র উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।