أبواب صفة الجنة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم

৩৮. রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণিত জান্নাতের বিবরণ

অধ্যায় ৩৮ · ৫০ টি হাদীস

জান্নাতের গাছের বিবরণ।

بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَةِ شَجَرِ الْجَنَّةِ

২৫২৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَشَجَرَةً يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلِّهَا مِائَةَ سَنَةٍ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَأَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫২৫. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ জান্নাতে এমন গাছ আছে যে, এর ছায়ায় একজন আরোহী একশ’ বছর পর্যন্তও চলতে পারবে। - বুখারি
এ বিষয়ে আনাস ও আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি সহীহ।
২৫২৪

حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الدُّورِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ فِرَاسٍ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فِي الْجَنَّةِ شَجَرَةٌ يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلِّهَا مِائَةَ عَامٍ لاَ يَقْطَعُهَا وَقَالَ ذَلِكَ الظِّلُّ الْمَمْدُودُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৫২৬. আব্বাস ইবনে মুহাম্মাদ আদদুরী (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতের এমন গাছ আছে যে, কোন আরোহী এর ছায়ায় যদি একশ’ বছরও চলে তবুও তবে তা শেষ করতে পারবে না। তিনি আরো বলেনঃ এ-ই হল (কুরআনে উল্লেখিত) الظِّلُّ الْمَمْدُودُ দীর্ঘ ছায়া। - বুখারি ও মুসলিম

২৫২৫

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْفُرَاتِ الْقَزَّازُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا فِي الْجَنَّةِ شَجَرَةٌ إِلاَّ وَسَاقُهَا مِنْ ذَهَبٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫২৭. আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতে যে সব গাছ আছে সেগুলোর কাণ্ড হল স্বর্ণের।

আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন হাদীসটি হাসান-গারীব।

জান্নাতের বিবরণ ও এর নিআমতসমূহ

بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَةِ الجَنَّةِ وَنَعِيمِهَا

২৫২৬

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ حَمْزَةَ الزَّيَّاتِ، عَنْ زِيَادٍ الطَّائِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَنَا إِذَا كُنَّا عِنْدَكَ رَقَّتْ قُلُوبُنَا وَزَهِدْنَا فِي الدُّنْيَا وَكُنَّا مِنْ أَهْلِ الآخِرَةِ فَإِذَا خَرَجْنَا مِنْ عِنْدِكَ فَآنَسْنَا أَهَالِيَنَا وَشَمَمْنَا أَوْلاَدَنَا أَنْكَرْنَا أَنْفُسَنَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ أَنَّكُمْ تَكُونُونَ إِذَا خَرَجْتُمْ مِنْ عِنْدِي كُنْتُمْ عَلَى حَالِكُمْ ذَلِكَ لَزَارَتْكُمُ الْمَلاَئِكَةُ فِي بُيُوتِكُمْ وَلَوْ لَمْ تُذْنِبُوا لَجَاءَ اللَّهُ بِخَلْقٍ جَدِيدٍ كَىْ يُذْنِبُوا فَيَغْفِرَ لَهُمْ " . قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مِمَّ خُلِقَ الْخَلْقُ قَالَ " مِنَ الْمَاءِ " . قُلْنَا الْجَنَّةُ مَا بِنَاؤُهَا قَالَ " لَبِنَةٌ مِنْ فِضَّةٍ وَلَبِنَةٌ مِنْ ذَهَبٍ وَمِلاَطُهَا الْمِسْكُ الأَذْفَرُ وَحَصْبَاؤُهَا اللُّؤْلُؤُ وَالْيَاقُوتُ وَتُرْبَتُهَا الزَّعْفَرَانُ مَنْ يَدْخُلْهَا يَنْعَمْ وَلاَ يَبْأَسْ وَيُخَلَّدْ وَلاَ يَمُوتْ لاَ تَبْلَى ثِيَابُهُمْ وَلاَ يَفْنَى شَبَابُهُمْ " . ثُمَّ قَالَ " ثَلاَثَةٌ لاَ تُرَدُّ دَعْوَتُهُمُ الإِمَامُ الْعَادِلُ وَالصَّائِمُ حِينَ يُفْطِرُ وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ يَرْفَعُهَا فَوْقَ الْغَمَامِ وَتُفَتَّحُ لَهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَيَقُولُ الرَّبُّ عَزَّ وَجَلَّ وَعِزَّتِي لأَنْصُرَنَّكِ وَلَوْ بَعْدَ حِينٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لَيْسَ إِسْنَادُهُ بِذَاكَ الْقَوِيِّ وَلَيْسَ هُوَ عِنْدِي بِمُتَّصِلٍ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ بِإِسْنَادٍ آخَرَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫২৮. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের একি অবস্থা যে, যখন আপনার কাছে থাকি তখন আমাদের হৃদয় কোমল হয় এবং আমরা দুনিয়া বিমুখ হয়ে পড়ি। আর আমরা হয়ে যাই আখিরাতের লোকের ন্যায়। কিন্তু যখন আপনার এখান থেকে বের হয়ে গিয়ে পরিবার-পরিজনদের সাথে মেলামেশা করি এবং সন্তান-সন্ততিদের সোহাগ করি তখন আমাদের মনকে অন্য রকম পাই।

রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ যখন তোমরা আমার নিকট থেকে বেরিয়ে যাও তখনও যদি তোমরা সে অবস্থায় থাকতে তবে ফিরিশতাগণ তোমাদের ঘরে এসে তোমাদের যিয়ারত করতেন। তোমাদের যদি গুনাহ্ সংঘটিত না হত তবে আল্লাহ্ তাআলা নতুন এক জাতি সৃষ্টি করতেন যেন তারা গুনাহ্ করে আর তিনি তাদের মাফ করেন।

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্, কিসের থেকে এই সৃষ্টিকুলের সৃষ্টি? তিনি বললেনঃ পানি থেকে। আমি বললাম, জান্নাতের নির্মাণ কি দিয়ে?

তিনি বললেনঃ এর একটি ইট হল রূপার আর একটি হল সোনার। এর গাঁথুনী হল সুগন্ধ ময় মিশকের। এর নুড়িগুলো হল মাটির ও ইয়াকুতের, মাটি হল যাফরানের। যে ব্যক্তি এতে প্রবেশ করবে সে নিআমত ও সুখ ভোগ করবে, কষ্ট পাবে না কখনও। সদাসর্বদা থাকবে, মৃত্যু হবে না কখনও। তাদের পরিচ্ছদ কখনও পুরাতন হবে না, আর তাদের যৌবন কখনও শেষ হবে না।

এরপর তিনি বললেনঃ তিন ব্যক্তি এমন যে তাদের দুআ কখনও প্রত্যাখ্যান করা হয় না: ন্যায়পরায়ণ শাসনকর্তা, রোযাদার যখন সে ইফতার করে এবং মজলুমের দুআ। যা মেঘের উপরও তুলে নেয়া হয় এবং আসমানের সব দরজা এর জন্য খুলে দেওয়া হয়, আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ আমার ইযযতের কসম, কিছুকাল পরে হলেও অবশ্যই আমি তোমাকে সাহায্য করব।

এ হাদীসটির সনদ তত শক্তিশালী নয়। আমার মতে এটি মুত্তাসিল নয়। এটি অন্য এক সনদেও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে।

জান্নাতের বালাখানার বিবরণ।

بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَةِ غُرَفِ الجَنَّةِ

২৫২৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَغُرَفًا يُرَى ظُهُورُهَا مِنْ بُطُونِهَا وَبُطُونُهَا مِنْ ظُهُورِهَا " . فَقَامَ إِلَيْهِ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ لِمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " هِيَ لِمَنْ أَطَابَ الْكَلاَمَ وَأَطْعَمَ الطَّعَامَ وَأَدَامَ الصِّيَامَ وَصَلَّى لِلَّهِ بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَقَدْ تَكَلَّمَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ هَذَا مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ وَهُوَ كُوفِيٌّ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ الْقُرَشِيُّ مَدَنِيٌّ وَهُوَ أَثْبَتُ مِنْ هَذَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৫২৯. আলী ইবনে ইবনে হুজুর (রাহঃ) ...... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতে এমন বালাখানা রয়েছে যে, এর ভেতর থেকে বাহির এবং বাহির থেকে ভেতর দেখা যাবে। তখন এক মরুবাসী আরব উঠে দাঁড়াল, বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এটি কার জন্য?

তিনি বললেনঃ এটি হবে ঐ ব্যক্তির জন্য যে ব্যক্তি ভাল কথা বলে, লোকদের খাদ্য খাওয়ায়, সর্বদা রোযা পালন করে এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে থাকে তখন আল্লাহর জন্যই রাতে উঠে নামায (তাহাজ্জুদ) আদায় করে।

এ হাদীসটি গারীব। কোন কোন হাদীস বিশেষজ্ঞ এ হাদীসের রাবী আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাক (রাহঃ) এর স্মরণ শক্তির ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন। ইনি হলেন কুফার বাসিন্দা। আর আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাক কুরাশী মাদানী (রাহঃ) এর তুলনায় অধিক নির্ভরযোগ্য।
২৫২৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ أَبُو عَبْدِ الصَّمَدِ الْعَمِّيُّ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ جَنَّتَيْنِ آنِيَتُهُمَا وَمَا فِيهِمَا مِنْ فِضَّةٍ وَجَنَّتَيْنِ آنِيَتُهُمَا وَمَا فِيهِمَا مِنْ ذَهَبٍ وَمَا بَيْنَ الْقَوْمِ وَبَيْنَ أَنْ يَنْظُرُوا إِلَى رَبِّهِمْ إِلاَّ رِدَاءُ الْكِبْرِيَاءِ عَلَى وَجْهِهِ فِي جَنَّةِ عَدْنٍ " .
وَبِهَذَا الإِسْنَادِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَخَيْمَةً مِنْ دُرَّةٍ مُجَوَّفَةٍ عَرْضُهَا سِتُّونَ مِيلاً فِي كُلِّ زَاوِيَةٍ مِنْهَا أَهْلٌ مَا يَرَوْنَ الآخَرِينَ يَطُوفُ عَلَيْهِمُ الْمُؤْمِنُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ اسْمُهُ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ حَبِيبٍ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي مُوسَى قَالَ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ لاَ يُعْرَفُ اسْمُهُ . وَأَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَيْسٍ وَأَبُو مَالِكٍ الأَشْعَرِيُّ اسْمُهُ سَعْدُ بْنُ طَارِقِ بْنِ أَشْيَمَ .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

২৫৩০. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... আবু বকর ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে কায়স তার পিতা আব্দুল্লাহ্ ইবনে কায়স (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতের দু’টো বাগিচা হবে রূপার। এ দুটোর পাত্রগুলো এবং যা কিছু আছে সবই হবে রূপার। আর দুটো বাগিচা হবে সোনার। এ দু’টোর পাত্রগুলো এবং যা কিছু আছে সবই হবে সোনার। জান্নাতে আদনে জান্নাতবাসী সম্প্রদায় এবং তাদের প্রভুর দর্শনের মাঝে প্রভুর চেহারার উপর কিবরিয়াঈ (মহাপরাক্রমশীল গৌরবের) চাদর ভিন্ন আর কোন হিজাব থাকবে না।- ইবনে মাজাহ, বুখারি ও মুসলিম।

এ সনদে নবী (ﷺ) থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেনঃ জান্নাতের মাঝে অভ্যন্তর শূন্য একটি মোতির দ্বারা নির্মিত তাঁবু হবে। যার প্রস্থ হবে ষাট মাইল। এর প্রত্যেক কোণে থাকবে পরিবার। অন্যরা তাকে দেখতে পাবে না। মু’মিনরা তাদের (স্ব স্ব জনের) কাছে আসা যাওয়া করবে। -

বুখারি, মুসলিম

এ হাদীসটি সহীহ। রাবী আবু ইমরান জওনী (রাহঃ) এর নাম হল আব্দুল মালিক ইবনে হাবীব। আবু বরক ইবনে মুসা (রাহঃ) সম্পর্কে আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) বলেনঃ তাঁর নাম জানা নেই। আবু মুসা আশ’আরী (রাযিঃ)-এর নাম হল আব্দুল্লাহ্ ইবনে কায়স। আর আবু মালিক আশ’আরীর নাম হল সা’দ ইবনে তারিক ইবনে আশয়াম।

জান্নাতের স্তরের বিবরণ।

بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَةِ دَرَجَاتِ الجَنَّةِ

২৫২৯

حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُحَادَةَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فِي الْجَنَّةِ مِائَةُ دَرَجَةٍ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ مِائَةُ عَامٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৩১. আব্বাস আম্বারী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতে একশ’টি স্তর বিদ্যামান। প্রতিটি স্তরের মাঝে রয়েছে একশ’ বছরের দূরত্বের ব্যবধান।

(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-গারীব।
২৫৩০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ الْبَصْرِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ وَصَلَّى الصَّلَوَاتِ وَحَجَّ الْبَيْتَ لاَ أَدْرِي أَذَكَرَ الزَّكَاةَ أَمْ لاَ إِلاَّ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يَغْفِرَ لَهُ إِنْ هَاجَرَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ مَكَثَ بِأَرْضِهِ الَّتِي وُلِدَ بِهَا " . قَالَ مُعَاذٌ أَلاَ أُخْبِرُ بِهَذَا النَّاسَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ذَرِ النَّاسَ يَعْمَلُونَ فَإِنَّ فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ وَالْفِرْدَوْسُ أَعْلَى الْجَنَّةِ وَأَوْسَطُهَا وَفَوْقَ ذَلِكَ عَرْشُ الرَّحْمَنِ وَمِنْهَا تُفَجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَسَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ وَهَذَا عِنْدِي أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ هَمَّامٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ . وَعَطَاءٌ لَمْ يُدْرِكْ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ وَمُعَاذٌ قَدِيمُ الْمَوْتِ مَاتَ فِي خِلاَفَةِ عُمَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

২৫৩২. কুতায়বা ও আহমদ ইবনে আব্দা-যাববী (রাহঃ) ...... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমযানের রোযা পালন করেছে, নামায আদায় করেছে, বায়তুল্লাহর হজ্জ আদায় করেছে, আতা (রাহঃ) বলেন, মুআয (রাযিঃ) যাকাতের কথাও উল্লেখ করেছিলেন কি না জানি না। সে ব্যক্তি আল্লাহর পথে হিজরত করুক বা যেখানে জন্মগ্রহণ করেছে সেই মাটিতেই বসা থাকুক আল্লাহর উপর হক হল তাকে মাফ করে দেওয়া। মুআয (রাযিঃ) বললেনঃ লোকদের কি এ কথার খবর দিব না?

রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ লোকদেরকে আমল করতে দাও। কেননা, জান্নাতে একশ’টি স্তর রয়েছে। প্রতি দুই স্তরের মধ্যে আসমান ও যমীনের দূরত্বের মত দূরত্ব বিদ্যমান। জান্নাতুল ফিরদাওস হল সর্বোচ্চ এবং সর্বোত্তম জান্নাত। এর উপর হল রহমানুর রাহীমের আরশ। সেখান থেকেই জান্নাতের নহরগুলো প্রবাহিত হচ্ছে। সুতরাং তোমরা যখন আল্লাহর কাছে সাওয়ালকরবে তখন তাঁর কাছে জান্নাতুল ফিরদাওসের প্রার্থনা জানাবে।

এ হাদীসটি হিশাম ইবনে সা’দ-যায়দ ইবনে আসলাম-আতা ইবনে ইয়াসার-মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) সূত্রে এরূপই বর্ণিত হয়েছে। হাম্মাম-যায়দ ইবনে আসলাম-আতা ইবনে ইয়াসার-উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটির তুলনায় আমার মতে এ হাদীসটি অধিক সহীহ। আতা (রাহঃ) মুআয (রাযিঃ)-এর সাক্ষাত পাননি। মুআয বহু আগেই উমর (রাযিঃ) এর খিলাফত আমলে ইনতিকাল করেন।
২৫৩১
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فِي الْجَنَّةِ مِائَةُ دَرَجَةٍ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ وَالْفِرْدَوْسُ أَعْلاَهَا دَرَجَةً وَمِنْهَا تُفَجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ الأَرْبَعَةُ وَمِنْ فَوْقِهَا يَكُونُ الْعَرْشُ فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَسَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ " .
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

২৫৩৩. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ....... উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতে একশ’টি স্তর রয়েছে। প্রতি দুই স্তরের মাঝের দূরত্ব হল আসমান ও যমীনের দূরত্বের মত। জান্নাতুল ফিরদাওস হল এর সর্বোচ্চ স্তর। এ থেকেই জান্নাতের চারটি নহর প্রবাহিত হয়। এর উপরে হল আরশ। তোমরা যখন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে করবে তখন তাঁর কাছে জান্নাতুল ফিরদাওসের প্রার্থনা জানাবে।

আহমদ ইবনে মানী‘ (রাহঃ) ......... যায়দ ইবনে আসলাম (রাহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
২৫৩২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ دَرَّاجٍ أَبِي السَّمْحِ، عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ لَوْ أَنَّ الْعَالَمِينَ اجْتَمَعُوا فِي إِحْدَاهُنَّ لَوَسِعَتْهُمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৫৩৪. কুতায়বা (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতের স্তর হল একশ’টি। সকল বিশ্ব যদি এর একটিতে একত্র হয় তবে তা-ও গুণজায়েশ হয়ে যাবে।

হাদীসটি গারীব।

জান্নাতবাসীদের স্ত্রীগণের বিবরণ।

بَابٌ فِي صِفَةِ نِسَاءِ أَهْلِ الجَنَّةِ

২৫৩৩
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا فَرْوَةُ بْنُ أَبِي الْمَغْرَاءِ، أَخْبَرَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْمَرْأَةَ مِنْ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ لَيُرَى بَيَاضُ سَاقِهَا مِنْ وَرَاءِ سَبْعِينَ حُلَّةً حَتَّى يُرَى مُخُّهَا وَذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ يَقُولُ: (كَأََنَّهُنَّ الْيَاقُوتُ وَالْمَرْجَانُ ) فَأَمَّا الْيَاقُوتُ فَإِنَّهُ حَجَرٌ لَوْ أَدْخَلْتَ فِيهِ سِلْكًا ثُمَّ اسْتَصْفَيْتَهُ لأُرِيتَهُ مِنْ وَرَائِهِ " .
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৫৩৫. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতবাসীদের স্ত্রীদের (সৌন্দর্য এমন হবে যে) সত্তর জোড়া কাপড়ের ভেতর থেকেও তাদের পায়ের নলার শুভ্রতা পরিদৃষ্ট হবে, এমন কি হাড্ডির মগজ পর্যন্ত দেখা যাবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ كَأََنَّهُنَّ الْيَاقُوتُ وَالْمَرْجَانُ তারা যেন ইয়াকুত ও মারজানের মত। (আর রহমান ৫৫ঃ ৫৮) ইয়াকুত হল এমন এক পাথর যে, এর ভিতরে যদি একটি সূতা ঢুকাতে পার এবং এটিকে পরিষ্কার ঝকঝকে করে নাও তবে এর ভিতর থেকেও ঐ সূতাটি পরিদৃষ্ট হবে।

২৫৩৪

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ . وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ عَبِيدَةَ بْنِ حُمَيْدٍ وَهَكَذَا رَوَى جَرِيرٌ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ وَلَمْ يَرْفَعُوهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৫৩৬. হান্নাদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে এটি মারফূ’ নয়। (দেখুন পূর্বের হাদীস)

এটি আবীদা ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) এর রিওয়ায়াত থেকে অধিকতর সহীহ। জারীর প্রমুখ রাবীগণ (রাহঃ)-ও আতা ইবনে সাইব (রাহঃ) থেকে এরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। তাঁরা এটিকে মারফু’ রূপে রিওয়ায়াত করেননি।
২৫৩৫

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ فُضَيْلِ بْنِ مَرْزُوقٍ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ أَوَّلَ زُمْرَةٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْءُ وُجُوهِهِمْ عَلَى مِثْلِ ضَوْءِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ وَالزُّمْرَةُ الثَّانِيَةُ عَلَى مِثْلِ أَحْسَنِ كَوْكَبٍ دُرِّيٍّ فِي السَّمَاءِ لِكُلِّ رَجُلٍ مِنْهُمْ زَوْجَتَانِ عَلَى كُلِّ زَوْجَةٍ سَبْعُونَ حُلَّةً يُرَى مُخُّ سَاقِهَا مِنْ وَرَائِهَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৫৩৭. সুফিয়ান ইবনে ওয়াকী’ (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন প্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবেন তাঁরা হবেন পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বল; দ্বিতীয় যে দলটি প্রবেশ করবেন তাঁরা হবেন আকাশের সুন্দরতম উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত। প্রত্যেকের দু’জন করে স্ত্রী হবে। প্রত্যেক স্ত্রীর গায়ে সত্তর জোড়া করে পোশাক থাকবে। এর ভিতর থেকেও তাদের পায়ের নলার হাড্ডির মগজ পরিদৃষ্ট হবে।

(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান।

জান্নাতবাসীগণের সঙ্গমের বিবরণ।

بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَةِ جِمَاعِ أَهْلِ الجَنَّةِ

২৫৩৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، عَنْ عِمْرَانَ الْقَطَّانِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يُعْطَى الْمُؤْمِنُ فِي الْجَنَّةِ قُوَّةَ كَذَا وَكَذَا مِنَ الْجِمَاعِ " . قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوَيُطِيقُ ذَلِكَ قَالَ " يُعْطَى قُوَّةَ مِائَةٍ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عِمْرَانَ الْقَطَّانِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৫৩৮. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ও মাহমুদ ইবনে গায়লান .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতে প্রত্যেক মুমিনকে এত এত সঙ্গম শক্তি দেওয়া হবে। বলা হয়ঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তা করতে সক্ষম হবে কি? তিনি বললেনঃ তাকে তো একশ’ জনের শক্তি দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে যায়দ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি সহীহ-গারীব। ইমরান আল কাত্তান (রাহঃ) ছাড়া কাতাদা ......... আনাস (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াত হিসাবে এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।

জান্নাতবাসীদের গুণাবলী।

بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَةِ أَهْلِ الجَنَّةِ

২৫৩৭

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَوَّلُ زُمْرَةٍ تَلِجُ الْجَنَّةَ صُورَتُهُمْ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ لاَ يَبْصُقُونَ فِيهَا وَلاَ يَمْتَخِطُونَ وَلاَ يَتَغَوَّطُونَ آنِيَتُهُمْ فِيهَا الذَّهَبُ وَأَمْشَاطُهُمْ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَمَجَامِرُهُمْ مِنَ الأَلُوَّةِ وَرَشْحُهُمُ الْمِسْكُ وَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ زَوْجَتَانِ يُرَى مُخُّ سُوقِهِمَا مِنْ وَرَاءِ اللَّحْمِ مِنَ الْحُسْنِ لاَ اخْتِلاَفَ بَيْنَهُمْ وَلاَ تَبَاغُضَ قُلُوبُهُمْ قَلْبُ رَجُلٍ وَاحِدٍ يُسَبِّحُونَ اللَّهَ بُكْرَةً وَعَشِيًّا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَالأَلُوَّةُ هُوَ الْعُودُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৩৯. সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মত। তারা সেখানে থুথুও ফেলবে না, তাদের নাকের ময়লাও ঝাড়তে হবে না এবং পেশাব পায়খানাও করতে হবে না। তাদের থালা-বাসন হবে সোনার। আর চিরুনীগুলোও হবে সোনা ও রূপার। আগর কাঠের তারা ধূপ নিবেন। তাদের ঘামও হবে মিশকের মত। তাদের প্রত্যেকেরই দু’জন করে স্ত্রী হবে। সৌন্দর্যের কারণে গোশতের ভেতর থেকেও তাদের পায়ের নলার হাড্ডির মগজ পরিদৃষ্টি হবে। সেখানে তাদের পরস্পর কোন মতবিরোধ ও হিংসা থাকবে না। সকলের হৃদয় হবে যেন একজনেরই হৃদয়। সকাল-বিকাল আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করবে তারা। বুখারি, মুসলিম

এ হাদীসটি সহীহ।
২৫৩৮

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَوْ أَنَّ مَا يُقِلُّ ظُفُرٌ مِمَّا فِي الْجَنَّةِ بَدَا لَتَزَخْرَفَتْ لَهُ مَا بَيْنَ خَوَافِقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَلَوْ أَنَّ رَجُلاً مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ اطَّلَعَ فَبَدَا أَسَاوِرُهُ لَطَمَسَ ضَوْءَ الشَّمْسِ كَمَا تَطْمِسُ الشَّمْسُ ضَوْءَ النُّجُومِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ بِهَذَا الإِسْنَادِ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ لَهِيعَةَ . وَقَدْ رَوَى يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ وَقَالَ عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

২৫৪০. সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ..... সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতে যা আছে এর থেকে একটি নখ যা উঠাতে পারে এতটুকু পরিমাণ জিনিসও যদি (লোকদের সামনে) প্রকাশ পেত তা হলে আকাশ ও পৃথিবীর সব দিক সুসজ্জিত হয়ে যেত। জান্নাতেবাসীদের কেউ যদি পৃথিবীর দিকে উঁকি দিত এবং তার কংকন যদি প্রতিভাত হত তাহলে সূর্যের আলো যেমন তারার আলোকে স্নান করে দেয় তেমনিভাবে তা সূর্যের আলোকেও স্নান করে দিত।

এ হাদীসটি গারীব। ইবনে লাহী’আ (রাহঃ) এর রিওয়ায়াত ছাড়া এ সনদে এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব (রাহঃ) এ হাদীসটিকে ইয়াযীদ ইবনে আবী হাবীব (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি সনদে উমর (আমিরের সূত্রে) ইবনে সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাযিঃ) কর্তৃক নবী (ﷺ) থেকে উল্লেখ করেছেন।

জান্নাতীদের পোশাক-পরিচ্ছদ।

بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَةِ ثِيَابِ أَهْلِ الجَنَّةِ

২৫৩৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَأَبُو هِشَامٍ الرِّفَاعِيُّ قَالاَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَامِرٍ الأَحْوَلِ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَهْلُ الْجَنَّةِ جُرْدٌ مُرْدٌ كُحْلٌ لاَ يَفْنَى شَبَابُهُمْ وَلاَ تَبْلَى ثِيَابُهُمْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৪১. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার ও আবু হিশাম রিফাঈ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতীগণ লোমহীন ও শ্মশ্রুহীন এবং আয়ত কাজল টানা চোখ বিশিষ্ট হবেন। তাঁদের যৌবন শেষ হবে না কখনও এবং তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ পুরনো হবে না কখনও।

(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান-গারীব।
২৫৪০

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ دَرَّاجٍ أَبِي السَّمْحِ، عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي قَوْلِهِ: (وَفُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ) قَالَ " ارْتِفَاعُهَا لَكَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ مَسِيرَةَ خَمْسِمِائَةِ سَنَةٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ رِشْدِينَ بْنِ سَعْدٍ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي تَفْسِيرِ هَذَا الْحَدِيثِ إِنَّ مَعْنَاهُ الْفُرُشَ فِي الدَّرَجَاتِ وَبَيْنَ الدَّرَجَاتِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৫৪২. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) وَفُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ (‘‘সুউচ্চ বিছানা সমূহ’’ - সূরা ওয়াকিআ ৪২ঃ ৩৪) সম্পর্কে বলেছেনঃ এর উচ্চতা হল আসমান ও যমীনের দূরত্বের ন্যায় আর তা হল পাঁচশ’ বছরের পথ।

এ হাদীসটি গারীব। রিশদীন ইবনে সা’দ (রাহঃ) -এর রিওয়ায়াত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। কোন কোন আলিম এ হাদীসটির ব্যাখ্যায় বলেছেন : এ বিছানাসমূহ হল জান্নাতের বিভিন্ন স্তরে বিছানো। আর ঐ স্তরসমূহের মাঝে দূরত্ব হল আসমান ও যমীনের দূরত্বের মত।

জান্নাতের ফল।

بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَةِ ثِمَارِ أَهْلِ الجَنَّةِ

২৫৪১

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ وَذُكِرَ لَهُ سِدْرَةُ الْمُنْتَهَى قَالَ " يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلِّ الْفَنَنِ مِنْهَا مِائَةَ سَنَةٍ أَوْ يَسْتَظِلُّ بِظِلِّهَا مِائَةُ رَاكِبٍ شَكَّ يَحْيَى فِيهَا فَرَاشُ الذَّهَبِ كَأَنَّ ثَمَرَهَا الْقِلاَلُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

২৫৪৩. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ...... আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -কে ’‘সিদরাতুল মুন্তাহা’’ সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ এর একটি ডালের ছায়ায় কোন আরোহী একশ’ বছর চলতে পারবে অথবা বলেছেন এর ছায়ায় একশ’ জন আরোহী ছায়া গ্রহণ করতে পারবে। এতে সোনার বহু পতঙ্গ রয়েছে। এর ফলগুলো যেন (এক একটা) মটকার মত (বড়)।

(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-গারীব।

জান্নাতের পাখি।

بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَةِ طَيْرِ الجَنَّةِ

২৫৪২

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا الْكَوْثَرُ قَالَ " ذَاكَ نَهْرٌ أَعْطَانِيهِ اللَّهُ يَعْنِي فِي الْجَنَّةِ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ فِيهَا طَيْرٌ أَعْنَاقُهَا كَأَعْنَاقِ الْجُزُرِ " . قَالَ عُمَرُ إِنَّ هَذِهِ لَنَاعِمَةٌ . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَكَلَتُهَا أَنْعَمُ مِنْهَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ هُوَ ابْنُ أَخِي ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُسْلِمٍ قَدْ رَوَى عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৫৪৪. আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কাউসার কি তিনি বললেনঃ এটি একটি নহর, যা আল্লাহ্ তাআলা আমাকে জান্নাতে দান করবেন। তা দুধ অপেক্ষা সাদা এবং মধু থেকেও সুমিষ্ট। এর মাঝে রয়েছে বহু পাখি। এগুলোর গর্দান হবে উটের র্গদানের মত। উমর (রাযিঃ) বললেন, এগুলো তো খুব মোটা-তাজা হবে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ এগুলোর আহারকারীরা আরো সুখী হবে।

এ হাদীসটি হাসান-গারীব। রাবী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুসলিম হলেন ইবনে শিহাব যুহরী (রাহঃ) এর ভ্রাতুষ্পুত্র।

জান্নাতের ঘোড়ার বিবরণ।

بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَةِ خَيْلِ الجَنَّةِ

২৫৪৩
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ فِي الْجَنَّةِ مِنْ خَيْلٍ قَالَ " إِنِ اللَّهُ أَدْخَلَكَ الْجَنَّةَ فَلاَ تَشَاءُ أَنْ تُحْمَلَ فِيهَا عَلَى فَرَسٍ مِنْ يَاقُوتَةٍ حَمْرَاءَ يَطِيرُ بِكَ فِي الْجَنَّةِ حَيْثُ شِئْتَ إِلاَّ فَعَلْتَ " . قَالَ وَسَأَلَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ فِي الْجَنَّةِ مِنْ إِبِلٍ قَالَ فَلَمْ يَقُلْ لَهُ مِثْلَ مَا قَالَ لِصَاحِبِهِ قَالَ " إِنْ يُدْخِلْكَ اللَّهُ الْجَنَّةَ يَكُنْ لَكَ فِيهَا مَا اشْتَهَتْ نَفْسُكَ وَلَذَّتْ عَيْنُكَ " .
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ الْمَسْعُودِيِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

২৫৪৫. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ..... সুলাইমান ইবনে বুরায়দা তৎপিতা বুরায়দা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! জান্নাতে কি ঘোড়া থাকবে? তিনি বললেনঃ তোমাকে যদি আল্লাহ তাআলা জান্নাতে দাখিল করেন তখন তুমি যদি চাও যে, তোমাকে একটি লাল রংের ইয়াকুত দ্বারা নির্মিত ঘোড়ায় সওয়ার করিয়ে জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা সেখানে তা উড়ে বেড়াবে তবে অবশ্যই তা করতে পারবে।

রাবী বলেন, অপর ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! জান্নাতে কি উট থাকবে? বুরায়দা (রাযিঃ) বলেনঃ নবী (ﷺ) তাঁর সঙ্গী ব্যক্তিকে যে উত্তর দিয়েছিলেন এই ব্যক্তিকে সেইভাবে বলেননি। একে বললেনঃ আল্লাহ্ তাআলা যদি তোমাকে জান্নাতে দাখিল করেন তবে সেখানে তোমার মন যা চায়, তোমার চোখে যা উপভোগ্য হবে সেই সবকিছুই তুমি পাবে।

সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান ইবনে সাবিত (রাহঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে উক্ত মর্মে অনুরূপ বর্ণিত আছে। এটি মাসউদী (রাহঃ) এর রিওয়ায়াত (উপরিউক্ত) অপেক্ষা অধিক সহীহ।
২৫৪৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَمُرَةَ الأَحْمَسِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ وَاصِلٍ، هُوَ ابْنُ السَّائِبِ عَنْ أَبِي سَوْرَةَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُحِبُّ الْخَيْلَ أَفِي الْجَنَّةِ خَيْلٌ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ أُدْخِلْتَ الْجَنَّةَ أُتِيتَ بِفَرَسٍ مِنْ يَاقُوتَةٍ لَهُ جَنَاحَانِ فَحُمِلْتَ عَلَيْهِ ثُمَّ طَارَ بِكَ حَيْثُ شِئْتَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لَيْسَ إِسْنَادُهُ بِالْقَوِيِّ وَلاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ أَبِي أَيُّوبَ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَأَبُو سَوْرَةَ هُوَ ابْنُ أَخِي أَبِي أَيُّوبَ يُضَعَّفُ فِي الْحَدِيثِ ضَعَّفَهُ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ جِدًّا قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَقُولُ أَبُو سَوْرَةَ هَذَا مُنْكَرُ الْحَدِيثِ يَرْوِي مَنَاكِيرَ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ لاَ يُتَابَعُ عَلَيْهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

২৫৪৬. মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে সামুরা আহমাসী (রাহঃ) ...... আবু আইয়ুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একবার জনৈক মরুবারী আরব নবী (ﷺ) এর কাছে এল। বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি ঘোড়া ভালবাসি। জান্নাতে ঘোড়া থাকবে কি? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ তোমাকে যদি জান্নাতে দাখিল করা হয় তবে ইয়াকূতের একটি ঘোড়া তোমার কাছে আনা হবে। এর দুটো পাখা হবে। এতে তোমাকে সওয়ার করানো হবে। এরপর তুমি যেখানে চাইবে সেখানেই তোমাকে নিয়ে সেটি উড়ে বেড়াবে।

এ হাদীসটির সনদ তত শক্তিশালী নয়। এই সূত্র ছাড়া আবু আইয়ুব (রাযিঃ)-এর হাদীস হিসাবে এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। আবু সাওরা (রাহঃ) হলেন আবু আইয়ুব (রাযিঃ)-এর ভ্রাতুষ্পত্র। হাদীস রিওয়ায়াতের ক্ষেত্রে তিনি যঈফ। ইয়াহয়া ইবনে মাঈন (রাহঃ) তাঁকে অত্যন্ত যঈফ বলে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল বুখারী (রাহঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ এই আবু সাওরা হাদীসের ক্ষেত্রে মুনকার। আবু আইয়ুব (রাযিঃ) থেকে বহু মুনকার হাদীস বর্ণনা করে থাকেন যেগুলোর কোন মুতাবা’ বা সমর্থনকারী রিওয়ায়াত নেই।

জান্নাতীদের বয়স।

بَابُ مَا جَاءَ فِي سِنِّ أَهْلِ الجَنَّةِ

২৫৪৫

حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، مُحَمَّدُ بْنُ فِرَاسٍ الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ أَبُو الْعَوَّامِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ جُرْدًا مُرْدًا مُكَحَّلِينَ أَبْنَاءَ ثَلاَثِينَ أَوْ ثَلاَثٍ وَثَلاَثِينَ سَنَةً " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَبَعْضُ أَصْحَابِ قَتَادَةَ رَوَوْا هَذَا عَنْ قَتَادَةَ مُرْسَلاً وَلَمْ يُسْنِدُوهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

২৫৪৭. আবু হুরায়রা মুহাম্মাদ ইবনে ফিরাস বসরী (রাহঃ) ..... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ জান্নাতীরা লোমহীন, শ্মশ্রুহীন, কাজলটানা চোখ বিশিষ্ট ত্রিশ বা তেত্রিশ বছরের যুবকরূপে জান্নাতে দাখিল হবে।

হাদীসটি হাসান-গারীব। কাতাদা (রাহঃ)-এর কোন কোন শিষ্য এ হাদীসটিকে কাতাদা (রাহঃ) থেকে মুরসালরূপে রিওয়ায়াত করেছেন। তাঁরা এটিকে মুসনাদ রূপে বর্ণনা করেন নি।

জান্নাতীদের কাতার।

بَابُ مَا جَاءَ فِي صَفِّ أَهْلِ الجَنَّةِ

২৫৪৬

حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ يَزِيدَ الطَّحَّانُ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ ضِرَارِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَهْلُ الْجَنَّةِ عِشْرُونَ وَمِائَةُ صَفٍّ ثَمَانُونَ مِنْهَا مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ وَأَرْبَعُونَ مِنْ سَائِرِ الأُمَمِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ وَحَدِيثُ أَبِي سِنَانٍ عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ حَسَنٌ . وَأَبُو سِنَانٍ اسْمُهُ ضِرَارُ بْنُ مُرَّةَ وَأَبُو سِنَانٍ الشَّيْبَانِيُّ اسْمُهُ سَعِيدُ بْنُ سِنَانٍ وَهُوَ بَصْرِيٌّ وَأَبُو سِنَانٍ الشَّامِيُّ اسْمُهُ عِيسَى بْنُ سِنَانٍ هُوَ الْقَسْمَلِيُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

২৫৪৮. হুসাইন ইবনে ইয়াযীদ তাহসান কূফী (রাহঃ) ......... ইবনে বুরায়দা তার পিতা বুরায়দা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতীদের একশ’ বিশ কাতার হবে। এর মধ্যে আশি কাতার হবে এই উম্মতের আর বাকী সব উম্মত মিলিয়ে হবে চল্লিশ কাতার। - ইবনে মাজাহ

হাদীসটি হাসান। এ হাদীসটি আলকামা ইবনে মারছাদ-সুলাইমান ইবনে বুরায়দা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে মুরসাল রূপেও বর্ণিত আছে। কোন রাবী "সুলাইমান ইবনে বুরায়দা-তৎপিতা থেকে’’ বলে উল্লেখ করেছেন। মুহারিব ইবনে দিছার (রাহঃ) থেকে আবু সিনান (রাহঃ) এর রিওয়ায়াতটি হাসান। আবু সিনান (রাহঃ) এর নাম হল দিরার ইবনে মুররা। আবু সিনান (রাহঃ) এর নাম হল সাঈদ ইবনে সিনান। ইনি হলেন বসরী। আবু সিনান শামী (রাহঃ) এর নাম হল ঈসা ইবনে সিনান। ইতি হলেন কাসমালী।
২৫৪৭

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَنْبَأَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ مَيْمُونٍ، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي قُبَّةٍ نَحْوًا مِنْ أَرْبَعِينَ فَقَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَتَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا رُبُعَ أَهْلِ الْجَنَّةِ " . قَالُوا نَعَمْ . قَالَ " أَتَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا ثُلُثَ أَهْلِ الْجَنَّةِ " . قَالُوا نَعَمْ . قَالَ " أَتَرْضَوْنَ أَنْ تَكُونُوا شَطْرَ أَهْلِ الْجَنَّةِ إِنَّ الْجَنَّةَ لاَ يَدْخُلُهَا إِلاَّ نَفْسٌ مُسْلِمَةٌ مَا أَنْتُمْ فِي الشِّرْكِ إِلاَّ كَالشَّعْرَةِ الْبَيْضَاءِ فِي جِلْدِ الثَّوْرِ الأَسْوَدِ أَوْ كَالشَّعْرَةِ السَّوْدَاءِ فِي جِلْدِ الثَّوْرِ الأَحْمَرِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَفِي الْبَابِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৫৪৯. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ..... অবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা প্রায় চল্লিশ জন লোক নবী (ﷺ) এর সঙ্গে একটি তাঁবুতে ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে বললেনঃ তোমরা জান্নাতীদের এক-চতুর্থাংশ হলে কি তোমরা সন্তুষ্ট আছে? উপস্থিত সাহাবীরা বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান্নাতীদের অধ্যেক হলে সন্তুষ্ট আছ? মুসলিম প্রাণ ছাড়া কেউ জান্নাতে দাখিল হতে পারবে না। মুশরিকদের তুলনায় তোমরা হলে একটি কাল ষাঁড়ের চামড়ায় কতগুলো সাদা লোমের মত বা একটি লাল ষাঁড়ের চামড়ায় গুটি কয়েক কাল লোমের মত।

ইবনে মাজাহ, বুখারি ও মুসলিম

হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে ইমরান ইবনে হুসাইন ও আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।

জান্নাতের দরজাসমূহের বিবরণ।

بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَةِ أَبْوَابِ الجَنَّةِ

২৫৪৮

حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى الْقَزَّازُ، عَنْ خَالِدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَابُ أُمَّتِي الَّذِي يَدْخُلُونَ مِنْهُ الْجَنَّةَ عَرْضُهُ مَسِيرَةُ الرَّاكِبِ الْجَوَادَ ثَلاَثًا ثُمَّ إِنَّهُمْ لَيُضْغَطُونَ عَلَيْهِ حَتَّى تَكَادُ مَنَاكِبُهُمْ تَزُولُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ . قَالَ سَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَلَمْ يَعْرِفْهُ وَقَالَ لِخَالِدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ مَنَاكِيرُ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৫৫০. ফযল ইবনে সাব্বাহ বাগদাদী (রাহঃ) ...... সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ্ তৎপিতা আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার উম্মত জান্নাতের যে দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে সেটির প্রস্থ হল অত্যন্ত দ্রুত গতিসম্পন্ন অশ্বারোহীর তিন দিনের পথ। এরপরও এত ভিড় হবে যে, এর চাপে তাদের কাঁধ চেপটে ছিড়ে যাবে বলে মনে হবে।

আবু ঈসা (রাহঃ) বলে, হাদীসটি গারীব। আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল বুখারী (রাহঃ) -কে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম; কিন্তু তিনি এটি চিনতে পারলেন না। তিনি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) থেকে খালিদ ইবনে আবু বকর বহু মুনকার হাদীস রিওয়ায়াত করে থাকেন বলে উল্লেখ করলেন।

জান্নাতের বাজার।

بَابُ مَا جَاءَ فِي سُوقِ الجَنَّةِ

২৫৪৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ حَبِيبِ بْنِ أَبِي الْعِشْرِينَ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ لَقِيَ أَبَا هُرَيْرَةَ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَسْأَلُ اللَّهَ أَنْ يَجْمَعَ، بَيْنِي وَبَيْنَكَ فِي سُوقِ الْجَنَّةِ . فَقَالَ سَعِيدٌ أَفِيهَا سُوقٌ قَالَ نَعَمْ أَخْبَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ إِذَا دَخَلُوهَا نَزَلُوا فِيهَا بِفَضْلِ أَعْمَالِهِمْ ثُمَّ يُؤْذَنُ فِي مِقْدَارِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ مِنْ أَيَّامِ الدُّنْيَا فَيَزُورُونَ رَبَّهُمْ وَيُبْرِزُ لَهُمْ عَرْشَهُ وَيَتَبَدَّى لَهُمْ فِي رَوْضَةٍ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ فَتُوضَعُ لَهُمْ مَنَابِرُ مِنْ نُورٍ وَمَنَابِرُ مِنْ لُؤْلُؤٍ وَمَنَابِرُ مِنْ يَاقُوتٍ وَمَنَابِرُ مِنْ زَبَرْجَدٍ وَمَنَابِرُ مِنْ ذَهَبٍ وَمَنَابِرُ مِنْ فِضَّةٍ وَيَجْلِسُ أَدْنَاهُمْ وَمَا فِيهِمْ مِنْ دَنِيٍّ عَلَى كُثْبَانِ الْمِسْكِ وَالْكَافُورِ وَمَا يُرَوْنَ أَنَّ أَصْحَابَ الْكَرَاسِيِّ بِأَفْضَلَ مِنْهُمْ مَجْلِسًا " . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَهَلْ نَرَى رَبَّنَا قَالَ " نَعَمْ قَالَ هَلْ تَتَمَارَوْنَ فِي رُؤْيَةِ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ " . قُلْنَا لاَ . قَالَ " كَذَلِكَ لاَ تَتَمَارَوْنَ فِي رُؤْيَةِ رَبِّكُمْ وَلاَ يَبْقَى فِي ذَلِكَ الْمَجْلِسِ رَجُلٌ إِلاَّ حَاضَرَهُ اللَّهُ مُحَاضَرَةً حَتَّى يَقُولَ لِلرَّجُلِ مِنْهُمْ يَا فُلاَنُ ابْنَ فُلاَنٍ أَتَذْكُرُ يَوْمَ قُلْتَ كَذَا وَكَذَا فَيُذَكِّرُهُ بِبَعْضِ غَدَرَاتِهِ فِي الدُّنْيَا فَيَقُولُ يَا رَبِّ أَفَلَمْ تَغْفِرْ لِي فَيَقُولُ بَلَى فَبِسِعَةِ مَغْفِرَتِي بَلَغْتَ مَنْزِلَتَكَ هَذِهِ . فَبَيْنَمَا هُمْ عَلَى ذَلِكَ غَشِيَتْهُمْ سَحَابَةٌ مِنْ فَوْقِهِمْ فَأَمْطَرَتْ عَلَيْهِمْ طِيبًا لَمْ يَجِدُوا مِثْلَ رِيحِهِ شَيْئًا قَطُّ وَيَقُولُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى قُومُوا إِلَى مَا أَعْدَدْتُ لَكُمْ مِنَ الْكَرَامَةِ فَخُذُوا مَا اشْتَهَيْتُمْ . قَالَ فَنَأْتِي سُوقًا قَدْ حَفَّتْ بِهِ الْمَلاَئِكَةُ فِيهِ مَا لَمْ تَنْظُرِ الْعُيُونُ إِلَى مِثْلِهِ وَلَمْ تَسْمَعِ الآذَانُ وَلَمْ يَخْطُرْ عَلَى الْقُلُوبِ فَيُحْمَلُ لَنَا مَا اشْتَهَيْنَا لَيْسَ يُبَاعُ فِيهَا وَلاَ يُشْتَرَى وَفِي ذَلِكَ السُّوقِ يَلْقَى أَهْلُ الْجَنَّةِ بَعْضُهُمْ بَعْضًا قَالَ فَيُقْبِلُ الرَّجُلُ ذُو الْمَنْزِلَةِ الْمُرْتَفِعَةِ فَيَلْقَى مَنْ هُوَ دُونَهُ وَمَا فِيهِمْ دَنِيٌّ فَيَرُوعُهُ مَا يَرَى عَلَيْهِ مِنَ اللِّبَاسِ فَمَا يَنْقَضِي آخِرُ حَدِيثِهِ حَتَّى يَتَخَيَّلَ إِلَيْهِ مَا هُوَ أَحْسَنُ مِنْهُ وَذَلِكَ أَنَّهُ لاَ يَنْبَغِي لأَحَدٍ أَنْ يَحْزَنَ فِيهَا ثُمَّ نَنْصَرِفُ إِلَى مَنَازِلِنَا فَتَتَلَقَّانَا أَزْوَاجُنَا فَيَقُلْنَ مَرْحَبًا وَأَهْلاً لَقَدْ جِئْتَ وَإِنَّ بِكَ مِنَ الْجَمَالِ أَفْضَلَ مِمَّا فَارَقْتَنَا عَلَيْهِ . فَنَقُولُ إِنَّا جَالَسْنَا الْيَوْمَ رَبَّنَا الْجَبَّارَ وَيَحِقُّنَا أَنْ نَنْقَلِبَ بِمِثْلِ مَا انْقَلَبْنَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَقَدْ رَوَى سُوَيْدُ بْنُ عَمْرٍو عَنِ الأَوْزَاعِيِّ شَيْئًا مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৫১. মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একদিন আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাত করলে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বললেনঃ আল্লাহুর কাছে দুআ করি তিনি যেন আমাকে এবং তোমাকে জান্নাতের বাজারে একত্রিত করেন। সাঈদ বললেনঃ সেখানে কি বাজারও হবে?

তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে অবহিত করেছেন যে, জান্নাতীগণ জান্নাতে দাখিল হওয়ার পর নিজ নিজ আমলের আধিক্য অনুসারে বাসস্থানে অবতরণ করবে। পরে দুনিয়ার দিন হিসাবে প্রতি জুমআ বারের পরিমাণ অনুসারে তাদের (যিয়ারতের) অনুমতি দেওয়া হবে, তারা তাদের পরওয়ারদিগারের যিয়ারতে আসবে। তাদের জন্য তাঁর আরশ প্রকাশ করা হবে, জান্নাতের উদ্যানসমূহের একটিতে তাদের সম্মুখে পরওয়ারদিগারের তাজাল্লীর প্রকাশ ঘটবে। তাদের জন্য নূরের মিম্বর, মোতির মিম্বর, ইয়াকুতের মিম্বর, যাবারজাদের মিম্বর, স্বর্ণের মিম্বর, রূপার মিম্বর স্থাপন করা হবে। তাদের সবচেয়ে’ কম দরজার যিনি- তিনিও মিশক আম্বর ও কাফূরের স্তুপে উপবেশন করবেন। তবে জান্নাতের কেউ-ই হীন নন। সিংহাসন ওয়ালাদেরকে তারা নিজেদের চেয়ে আসনের দিক দিয়ে অধিক মর্যাদাবান বলে ভাববে না।

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আমাদের পরওয়ারদিগারের দর্শন পাব? তিনি বললেনঃ হ্যা। সূর্য বা পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে কি তোমাদের মাঝে কোন সন্দেহের সৃষ্টি হয়? আমরা বললামঃ না। তিনি বললেনঃ তেমনিভাবে তোমাদের পরওয়ারদিগারের দীদারেও কোন সন্দেহ ঘটবে না। ঐ মজলিসে এমন কোন ব্যক্তি বাকী থাকবে না যার সঙ্গে আল্লাহ্ তাআলার কথোপকথন না হবে।

এমনকি তাদের জনৈক ব্যক্তিকে তিনি বললেনঃ হে অমুকের ছেলে অমুক, অমুক দিন তুমি অমুক অমুক কথা বলেছিলে তা কি মনে পড়ে? দুনিয়ার যিন্দেগীর কিছু অপরাধমূলক আচরণের কথা তাকে তিনি স্মরণ করিয়ে দিবেন। তখন সেই ব্যক্তি বলবেঃ হে রব, আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেন নাই কি? তিনি বললেনঃ অবশ্যই আমার উদার মাগফিরাতের বদৌলতেই তো তুমি এই অবস্থানে এসে পৌঁছেছ। এই অবস্থায় হঠাৎ তাদের উপর দিয়ে এক খণ্ড মেঘ এসে তাদের ঢেকে ফেলবে। সেই মেঘ থেকে তাদের উপর সুগন্ধি বারি বর্ষিত হবে। এমন সুগন্ধ তারা কোন দিন কিছুতে পায় নাই।

আমাদের রব বলবেনঃ তোমাদের সম্মানে মেহমানদারীতে যা আমি তোমাদের জন্য তৈরী করেছি সে দিকে উঠে এস এবং যা মন চায় তা তুলে নাও। আমরা তখন বেহেশতী বিপণিতে আসব। ফিরিশতারা তা ঘিরে রাখবেন। তাতে এমন সব জিনিস থাকবে চক্ষু সেইরূপ কিছু দেখেনি কোন দিন, কান কোন দিন যা শোনেনি, মনে কোন ধারণাও হয়নি। আমাদের যা যা মন চাইবে সবই তুলে দেওয়া হবে আমাদের। সেখানে কেনাবেচা হবে না কিছুর। এই বিপণি বিতানেই জান্নাতীদের পরস্পর সাক্ষাত হবে। তিনি আরো বলেনঃ একজন উচ্চ মর্যাদার অধিকারী জান্নাতী ব্যক্তির হয়ত তার চেয়ে নিম্ন স্তরের কোন জান্নাতীর সঙ্গে সাক্ষাত হবে। জান্নাতীদের মধ্যে অবশ্য নিকৃষ্ট কেউ নেই। তখন তার গায়ের পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে সে বিহ্বল হয়ে যাবে। অপরজন তার কথা শেষ করতেও পারবে না; এদিকে তার ধারণা হবে যা, তারটিই অধিক সুন্দর। কেননা, সেখানে কারো দুঃখিত হওয়ার অবকাশ নেই।

এরপর আমরা নিজ নিজ আবাসে ফিরে আসব। স্ত্রীগণ এসে অভ্যর্থনা জানাবে। বলবে, মারহাবা ওয়া আহলান- স্বাগতম শুভেচ্ছা। আমাদের নিকট থেকে যখন গিয়েছিলেন সে সময়ের তুলনায় এখন আপনারা আরো সুন্দর হয়ে ফিরে এসেছেন। তখন আমরা বলব, আমরা তো আজ মহাপরাক্রমশালী আমাদের প্রভুর মজলিসে বসেছি। তাই যেরূপে ফিরে এসেছি সেরূপে ফিরে আসাই তো আমাদের জন্য স্বাভাবিক। ইবনে মাজাহ

হাদীসটি গারীব। এই সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
২৫৫০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، وَهَنَّادٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَسُوقًا مَا فِيهَا شِرَاءٌ وَلاَ بَيْعٌ إِلاَّ الصُّوَرَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ فَإِذَا اشْتَهَى الرَّجُلُ صُورَةً دَخَلَ فِيهَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৫৫২. আহমদ ইবনে মানী’ ও হান্নাদ (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতে একটি বিপণি রয়েছে। সেখানে নারী-পুরুষের প্রতিকৃতি ছাড়া আর কিছুর কেনা-বেচা হবে না। যখনই কোন ব্যক্তির কোন প্রতিকৃতি মন চাইবে সঙ্গে সঙ্গে সে সেই আকৃতি পেয়ে যাবে।

(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি গারীব।

আল্লাহ পাকের দীদার।

بَابُ مَا جَاءَ فِي رُؤْيَةِ الرَّبِّ تَبَارَكَ وَتَعَالَى

২৫৫১

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيِّ، قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَنَظَرَ إِلَى الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ فَقَالَ " إِنَّكُمْ سَتُعْرَضُونَ عَلَى رَبِّكُمْ فَتَرَوْنَهُ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لاَ تُضَامُونَ فِي رُؤْيَتِهِ فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لاَ تُغْلَبُوا عَلَى صَلاَةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَصَلاَةٍ قَبْلَ غُرُوبِهَا فَافْعَلُوا " . ثُمَّ قَرَأََ: (سَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُوبِ ) قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

২৫৫৩. হান্নাদ (রাহঃ) .... জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ্ বাজালী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নবী (ﷺ) এর কাছে বসা ছিলাম। তিনি সেই রাতের পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকালেন। বললেনঃ তোমাদেরকে অচিরেই তোমাদের পরওয়ারদিগারের সামনে পেশ করা হবে। আজকের এই চাঁদটি যেমন তোমরা দেখছ এবং তা দেখায় যেমন তোমাদের মধ্যে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়নি তেমনি তোমরা তোমাদের রবকে নির্বিঘ্নে দর্শন করতে পারবে। সূর্যোদয়ের পূর্বের (ফজরের) নামায এবং সূর্যাস্তের পূর্বের (আসরের) নামায তোমরা আদায় করে নিবে। এরপর তিনি পাঠ করলেনঃ

سَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُوبِ

″তোমরা পরওয়ারদিগারের প্রশংসা পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে।″ [সূরা কাফঃ ৩৯]
- ইবনে মাজাহ, বুখারি ও মুসলিম

(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।
২৫৫২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ صُهَيْبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي قَوْلِه: (لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ) قَالَ " إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ نَادَى مُنَادٍ إِنَّ لَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ مَوْعِدًا . قَالُوا أَلَمْ يُبَيِّضْ وُجُوهَنَا وَيُنَجِّنَا مِنَ النَّارِ وَيُدْخِلْنَا الْجَنَّةَ قَالُوا بَلَى . قَالَ فَيُكْشَفُ الْحِجَابُ قَالَ فَوَاللَّهِ مَا أَعْطَاهُمْ شَيْئًا أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنَ النَّظَرِ إِلَيْهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ إِنَّمَا أَسْنَدَهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ وَرَفَعَهُ . وَرَوَى سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ وَحَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى قَوْلَهُ .

বর্ণনাকারী: সুহায়ব রূমী (রাঃ)

২৫৫৪. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... সুহায়ব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, (لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ) যারা নেক কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে নেক বদলা এবং আরো বেশী (ইউনুস ১০ঃ ২৬) সম্পর্কে নবী (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতীগণ যখন জান্নাতে দাখিল হয়ে যাবে তখন এক আহবানকারী হেঁকে বলবেঃ আল্লাহর কাছে তোমাদের জন্য আরো ওয়াদা রয়েছে।

জান্নাতীরা বলবেঃ তিনি কি আমাদের চেহারা সমুজ্জ্বল করে দেন নি? আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে নাজাত দেন নি এবং জান্নাতে দাখিল করেন নি? আহবানকারী বলবেঃ অবশ্যই। অনন্তর (আল্লাহর দীদারের জন্য) পর্দা তুলে দেওয়া হবে। আল্লাহর কসম, আল্লাহর দীদার অপেক্ষা প্রিয় আর কোন জিনিস তিনি তাদের দিবেন না। - ইবনে মাজাহ, মুসলিম

হাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) এই হাদীসটিকে মুসনাদ ও মারফু’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। সুলাইমান ইবনে মুগীরা হাদীসটিকে ছাবিত বুনানী আব্দুর রহমান ইবনে আবু লায়লা (রাহঃ) সূত্রে ইবনে আবী লায়লা (রাহঃ) এর বক্তব্য হিসাবে রিওয়ায়াত করেছেন।

এই বিষয়ে আর একটি অনুচ্ছেদ।

بَابٌ مِنْهُ

২৫৫৩
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنِي شَبَابَةُ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ ثُوَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ أَدْنَى أَهْلِ الْجَنَّةِ مَنْزِلَةً لَمَنْ يَنْظُرُ إِلَى جِنَانِهِ وَأَزْوَاجِهِ وَنَعِيمِهِ وَخَدَمِهِ وَسُرُرِهِ مَسِيرَةَ أَلْفِ سَنَةٍ وَأَكْرَمَهُمْ عَلَى اللَّهِ مَنْ يَنْظُرُ إِلَى وَجْهِهِ غُدْوَةً وَعَشِيَّةً " . ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: (وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ * إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ) . قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ ثُوَيْرٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ مَرْفُوعٌ . وَرَوَاهُ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبْجَرَ عَنْ ثُوَيْرٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ مَوْقُوفٌ .
وَرَوَى عُبَيْدُ اللَّهِ الأَشْجَعِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ ثُوَيْرٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَوْلَهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ أَبُو كُرَيْبٍ، مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ الأَشْجَعِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ ثُوَيْرٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، نَحْوَهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৫৫৫. আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ সর্বনিম্ন দরজার জান্নাতীর উদ্যান, স্ত্রী, নিআমত, সেবক ও সিংহাসনসমূহ যে দেখতে চাইবে তার জন্য তা হাজার বছরের পথ। আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদার জান্নাতী হল যে জান্নাতী সকাল-বিকাল তাঁর চেহারার দীদার লাভ করবে।

এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তিলাওয়ায়ত করলেনঃ(وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ * إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ) সেদিন অনেক মুখমণ্ডল হবে উজ্জ্বল। তারা তাদের পরওয়ারদিগারের প্রতি তাকিয়ে থাকবে (কিয়ামা ৭৫ঃ ২৩)

একাধিক সূত্রে হাদীসটি ইসমাঈল-ছুওয়ায়র-ইবনে উমর (রাযিঃ) সনদে মারফূরূপে বর্ণিত আছে। আব্দুল মালিক ইবনে আবজার (রাহঃ) এটিকে সুফিয়ান-ছুওয়ায়র-মুজাহিদ-ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর উক্তি হিসাবে বর্ণনা করেছেন। তিনিও এটিকে এটিকে মারফূ’ হিসেবে বর্ণনা করেননি। আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে, কিন্তু তা মারফুরূপে তিনি বর্ণনা করেন নি।
২৫৫৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ نُوحٍ الْحِمَّانِيُّ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ وَتُضَامُّونَ فِي رُؤْيَةِ الشَّمْسِ " . قَالُوا لاَ . قَالَ " فَإِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ الْقَمَرَ لَيْلَةَ الْبَدْرِ لاَ تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ . وَهَكَذَا رَوَى يَحْيَى بْنُ عِيسَى الرَّمْلِيُّ وَغَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَرَوَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَحَدِيثُ ابْنِ إِدْرِيسَ عَنِ الأَعْمَشِ غَيْرُ مَحْفُوظٍ وَحَدِيثُ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَصَحُّ وَهَكَذَا رَوَاهُ سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ مِثْلُ هَذَا الْحَدِيثِ وَهُوَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৫৬. মুহাম্মাদ ইবনে তারীফ কূফী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে তোমাদের কি কোন হুড়োহুড়ি হয়? সূর্য দেখতে কি তোমাদের কোন হুটোপুটি হয়? সাহাবীগণ বললেনঃ না। তিনি বললেনঃ তোমরা অচিরেই তোমাদের রবকে তেমনি দেখতে পাবে যেমনি পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে পাও, তা দেখতে তোমাদের মাঝে কোন হুড়োহুড়ি হয় না। - ইবনে মাজাহ, বুখারি ও মুসলিম

হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব। ইয়াহয়া ইবনে ঈসা রামলী প্রমুখ (রাহঃ) আ’মাশ-আবু সালিহ-আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। আব্দুল্লাহ্ ইবনে ইদরীস এটি আ‘মাশ-আবু সালিহ-আবু সাঈদ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে ইদরীস-আ’মাশ (রাহঃ) সূত্রের রিওয়ায়াতটি মাহফুজ বা সংরক্ষিত নয়। আবু সালিহ-আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি অধিক সহীহ। সুহাঈল ইবনে আবু সালিহ-তৎপিতা আবু সালিহ-আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। আবু সাঈদ (রাযিঃ) সূত্রে অন্যভাবেও অনুরূপ হাদীস নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে। এই হাদীসটিও সহীহ।

শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ।

بَابٌ

২৫৫৫

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ لأَهْلِ الْجَنَّةِ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ . فَيَقُولُونَ لَبَّيْكَ رَبَّنَا وَسَعْدَيْكَ . فَيَقُولُ هَلْ رَضِيتُمْ فَيَقُولُونَ مَا لَنَا لاَ نَرْضَى وَقَدْ أَعْطَيْتَنَا مَا لَمْ تُعْطِ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ . فَيَقُولُ أَنَا أُعْطِيكُمْ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ . قَالُوا وَأَىُّ شَيْءٍ أَفْضَلُ مِنْ ذَلِكَ قَالَ أُحِلُّ عَلَيْكُمْ رِضْوَانِي فَلاَ أَسْخَطُ عَلَيْكُمْ أَبَدًا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৫৫৭. সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তাআলা জান্নাতীদেরকে ডাক দিয়ে বলবেন, ওহে জান্নাতীগণ! তারা বলবেঃ লাব্বাইকা রাব্বানা ওয়া সাদায়কা - হে আমাদের পরওয়ারদিগার আমরা হাযির, তোমার খেদমতে হাযিরীই আমাদের নেকবখতী। আল্লাহ্ বলবেনঃ এর চেয়েও উত্তম বস্ত আমি তোমাদের দিব। তারা বলবেঃ এর চেয়েও উত্তম আর কি জিনিস হবে? তিনি বলবেনঃ তোমাদের উপর আমার সন্তুুষ্টি ঢেলে দিলাম, আমি আর কখনো তোমাদের প্রতি নারাজ হব না। - বুখারি ও মুসলিম

(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।

বালাখানাসমূহে জান্নাতীদের পরস্পর অবলোকন।

بَابُ مَا جَاءَ فِي تَرَائِي أَهْلِ الجَنَّةِ فِي الغُرَفِ

২৫৫৬

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ لَيَتَرَاءَوْنَ فِي الْغُرْفَةِ كَمَا تَتَرَاءَوْنَ الْكَوْكَبَ الشَّرْقِيَّ أَوِ الْكَوْكَبَ الْغَرْبِيَّ الْغَارِبَ فِي الأُفُقِ أَوِ الطَّالِعَ فِي تَفَاضُلِ الدَّرَجَاتِ " . فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أُولَئِكَ النَّبِيُّونَ . قَالَ " بَلَى وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ وَأَقْوَامٌ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَصَدَّقُوا الْمُرْسَلِينَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৫৮. সুওয়ায়দ ইবনে নসর (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতীরা মর্যদার তারতম্যের প্রেক্ষিতে একজন আরেকজনকে বালাখানাসমূহে অবলোকন করবে, যেমন তোমরা অস্তাচলে বা উদয়াচলে পূর্ব বা পশ্চিমের তারা অবলোকন করে থাকে। সাহাবীরা বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তাঁরা তো নবীগণই হবেন? তিনি বললেনঃ অবশ্যই, যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম; আর হল সেই সম্প্রদায় যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান এনেছে এবং সকল রাসূলকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে। - বুখারি ও মুসলিম

(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।

জান্নাতী ও জাহান্নামীদের (স্ব স্ব স্থানে) চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান।

بَابُ مَا جَاءَ فِي خُلُودِ أَهْلِ الجَنَّةِ وَأَهْلِ النَّارِ

২৫৫৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَجْمَعُ اللَّهُ النَّاسَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ ثُمَّ يَطَّلِعُ عَلَيْهِمْ رَبُّ الْعَالَمِينَ فَيَقُولُ أَلاَ يَتْبَعُ كُلُّ إِنْسَانٍ مَا كَانُوا يَعْبُدُونَهُ . فَيُمَثَّلُ لِصَاحِبِ الصَّلِيبِ صَلِيبُهُ وَلِصَاحِبِ التَّصَاوِيرِ تَصَاوِيرُهُ وَلِصَاحِبِ النَّارِ نَارُهُ فَيَتْبَعُونَ مَا كَانُوا يَعْبُدُونَ وَيَبْقَى الْمُسْلِمُونَ فَيَطَّلِعُ عَلَيْهِمْ رَبُّ الْعَالَمِينَ فَيَقُولُ أَلاَ تَتَّبِعُونَ النَّاسَ فَيَقُولُونَ نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْكَ نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْكَ اللَّهُ رَبُّنَا هَذَا مَكَانُنَا حَتَّى نَرَى رَبَّنَا . وَهُوَ يَأْمُرُهُمْ وَيُثَبِّتُهُمْ ثُمَّ يَتَوَارَى ثُمَّ يَطَّلِعُ فَيَقُولُ أَلاَ تَتَّبِعُونَ النَّاسَ فَيَقُولُونَ نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْكَ نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْكَ اللَّهُ رَبُّنَا وَهَذَا مَكَانُنَا حَتَّى نَرَى رَبَّنَا . وَهُوَ يَأْمُرُهُمْ وَيُثَبِّتُهُمْ " . قَالُوا وَهَلْ نَرَاهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " وَهَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ " . قَالُوا لاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " فَإِنَّكُمْ لاَ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ تِلْكَ السَّاعَةَ ثُمَّ يَتَوَارَى ثُمَّ يَطَّلِعُ فَيُعَرِّفُهُمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَقُولُ أَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّبِعُونِي . فَيَقُومُ الْمُسْلِمُونَ وَيُوضَعُ الصِّرَاطُ فَيَمُرُّونَ عَلَيْهِ مِثْلَ جِيَادِ الْخَيْلِ وَالرِّكَابِ وَقَوْلُهُمْ عَلَيْهِ سَلِّمْ سَلِّمْ . وَيَبْقَى أَهْلُ النَّارِ فَيُطْرَحُ مِنْهُمْ فِيهَا فَوْجٌ ثُمَّ يُقَالُ هَلِ امْتَلأْتِ فَتَقُولُ هَلْ مِنْ مَزِيدٍ . ثُمَّ يُطْرَحُ فِيهَا فَوْجٌ فَيُقَالُ هَلِ امْتَلأْتِ . فَتَقُولُ هَلْ مِنْ مَزِيدٍ . حَتَّى إِذَا أُوعِبُوا فِيهَا وَضَعَ الرَّحْمَنُ قَدَمَهُ فِيهَا وَأُزْوِيَ بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ ثُمَّ قَالَ قَطْ قَالَتْ قَطْ قَطْ فَإِذَا أَدْخَلَ اللَّهُ أَهْلَ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ وَأَهْلَ النَّارِ النَّارَ قَالَ أُتِيَ بِالْمَوْتِ مُلَبَّبًا فَيُوقَفُ عَلَى السُّورِ الَّذِي بَيْنَ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَأَهْلِ النَّارِ ثُمَّ يُقَالُ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ . فَيَطَّلِعُونَ خَائِفِينَ ثُمَّ يُقَالُ يَا أَهْلَ النَّارِ . فَيَطَّلِعُونَ مُسْتَبْشِرِينَ يَرْجُونَ الشَّفَاعَةَ فَيُقَالُ لأَهْلِ الْجَنَّةِ وَأَهْلِ النَّارِ هَلْ تَعْرِفُونَ هَذَا فَيَقُولُونَ هَؤُلاَءِ وَهَؤُلاَءِ قَدْ عَرَفْنَاهُ هُوَ الْمَوْتُ الَّذِي وُكِّلَ بِنَا . فَيُضْجَعُ فَيُذْبَحُ ذَبْحًا عَلَى السُّورِ الَّذِي بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ ثُمَّ يُقَالُ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ خُلُودٌ لاَ مَوْتَ وَيَا أَهْلَ النَّارِ خُلُودٌ لاَ مَوْتَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . - وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رِوَايَاتٌ كَثِيرَةٌ مِثْلُ هَذَا مَا يُذْكَرُ فِيهِ أَمْرُ الرُّؤْيَةِ أَنَّ النَّاسَ يَرَوْنَ رَبَّهُمْ وَذِكْرُ الْقَدَمِ وَمَا أَشْبَهَ هَذِهِ الأَشْيَاءَ وَالْمَذْهَبُ فِي هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ الأَئِمَّةِ مِثْلِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَابْنِ عُيَيْنَةَ وَوَكِيعٍ وَغَيْرِهِمْ أَنَّهُمْ رَوَوْا هَذِهِ الأَشْيَاءَ ثُمَّ قَالُوا تُرْوَى هَذِهِ الأَحَادِيثُ وَنُؤْمِنُ بِهَا وَلاَ يُقَالُ كَيْفَ وَهَذَا الَّذِي اخْتَارَهُ أَهْلُ الْحَدِيثِ أَنْ تُرْوَى هَذِهِ الأَشْيَاءُ كَمَا جَاءَتْ وَيُؤْمَنُ بِهَا وَلاَ تُفَسَّرُ وَلاَ تُتَوَهَّمُ وَلاَ يُقَالُ كَيْفَ وَهَذَا أَمْرُ أَهْلِ الْعِلْمِ الَّذِي اخْتَارُوهُ وَذَهَبُوا إِلَيْهِ . وَمَعْنَى قَوْلِهِ فِي الْحَدِيثِ " فَيُعَرِّفُهُمْ نَفْسَهُ " . يَعْنِي يَتَجَلَّى لَهُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৫৯. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ কিয়ামতে আল্লাহ্ তাআলা সব মানূষকে একই ময়দানে জমায়েত করবেন। এরপর আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাদের সম্মুখে নিজেকে প্রকাশ করবেন। বলবেনঃ শোন, (পৃথিবীতে) যে যার অনুসরণ করে চলতো আজ সে তারই অনুসরণ করে চলবে। এরপর ক্রুশ অনুসারীদের জন্য ক্রুশ, মূর্তী পূজকদের জন্য তাদের মূর্তিসমূহ, অগ্নি উপাসকদের জন্য অগ্নি উপস্থাপিত হবে এবং প্রত্যেকেই স্ব স্ব মা’বুদের পেছনে চলবে। অবশেষে কেবল মুসলিমরাই অবশিষ্ট থাকবে। তখন রাব্বুল আলামীন তাদের সামনে প্রকাশিত হবেন। বলবেনঃ তোমরা অন্যান্য লোকদের অনুসরণ করলে না কেন?

মুসলিমরা বলবেঃ নাউযুবিল্লাহ্, আল্লাহর কাছে আমরা পানাহ চাই, আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। আল্লাহ্ই আমাদের রব। আমাদের রবকে না দেখা পর্যন্ত এখানেই আমরা অবস্থান করব। তখন তিনিই তাদের নির্দেশ দিবেন এবং সুদৃঢ় রাখবেন। এরপর তিনি অন্তরালে চলে যাবেন। আবার তিনি প্রকাশিত হবেন। বলবেনঃ তোমরা অন্যান্য লোকদের অনূসরণ করলে না কেন? তারা বলবেঃ নাউযুবিল্লাহ্, আল্লাহর কাছে আমরা পানাহ চাই, আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। আল্লাহ্ই আমাদের রব। আমাদের রবকে না দেখা পর্যন্ত এখানেই আমরা অবস্থান করব। তখন তিনিই তাদের নির্দেশ দিবেন এবং সুদৃঢ় রাখবেন।

সাহাবীগণ বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমরা কি তাঁকে দেখব? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে কি তোমাদের একজন আরেকজনকে কষ্ট দিতে হয়? তাঁরা বললেনঃ না, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বললেনঃ ঐ সময় তাঁকে দেখতেও তোমাদের কোন ধাক্কাধাক্কি হবে না।

অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা অন্তরালে চলে যাবেন। পরে আবার প্রকাশিত হবেন এবং নিজের পরিচয় জ্ঞাপন করবেন। বলবেনঃ আমিই তোমাদের রব। আমার পেছনে তোমরা চল। মুসলিমরা উঠে দাঁড়াবে। পুলসিরাত স্থাপন করা হবে। এর উপর দিয়ে দ্রুতগামী অশ্ব ও উটের ন্যায় তারা অতিক্রম করে যাবে। তাদের ধ্বনি হবে’‘সাল্লিম সাল্লিম’’ রক্ষা কর, রক্ষা কর। জাহান্নামীরা বাকী থেকে যাবে। তাদের এক বিরাট বাহিনীকে এতে নিক্ষেপ করা হবে। পরে জাহান্নামকে বলা হবে, তোর পেট ভরেছে কি? জাহান্নাম বলবেঃ আরো আছে কি? এরপর এতে আরো একদল নিক্ষেপ করা হবে। বলা হবেঃ তোর ভরেছে কি? জাহান্নাম বলবেঃ আরো আছে কি?

এরপর এতে আরো একদল নিক্ষেপ করা হবে। বলা হবেঃ তোর ভরেছে কি? জাহান্নাম বলবেঃ আরো আছে কি? যখন তাতে সব কিছু ভরা শেষ হয়ে যাবে তখন দয়াময় রহমান তাতে তাঁর পা স্থাপন করবেন। এটি পরস্পর সংকুচিত হয়ে যাবে। পরে তিনি বলবেনঃ হলো তো। জাহান্নাম বলবঃ কাত কাত - হয়েছে হয়েছে।

আল্লাহ্ তাআলা জান্নাতীদেরকে জান্নাতে এবং জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে দাখিল করে দিবেন। তখন মওতকে গলায় কাপড় বেঁধে টেনে নিয়ে আসা হবে এবং জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসীদের মাঝে অবস্থিত প্রাচীরে সেটিকে রাখা হবে। পরে ডাক দেয়া হবে। হে জান্নাতবাসীগণ! তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে নিজ নিজ আবাস থেকে বের হয়ে আসবে। পরে ডাক দেয়া হবে, হে জাহান্নামবাসীগণ! তারা শাফাআতের আশায় আশান্বিত হয়ে খুশীতে নিজ নিজ আবাস থেকে বের হয়ে আসবে। যা হোক, পরে জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসীদের বলা হবেঃ তোমরা এটাকে চিন?

এরা ওরা সবাই বলবেঃ আমরা একে চিনেছি। এ-ই হল মৃত্যু যা আমাদের উপর ন্যস্ত করে দেওয়া হয়েছে। পরে এটি শোয়ানো হবে এবং ঐ প্রাচীরের উপর এটিকে যবেহ করে দেওয়া হবে। এরপর বলা হবেঃ হে জান্নাতবাসীগণ! অনন্তকালের জন্য হল তোমাদের এই জান্নাত, মৃত্যু নেই আর। হে জাহান্নামবাসীগণ! অনন্তকালের জন্য হল তোমাদের এই জাহান্নাম, মৃত্যু নেই আর। - বুখারি ও মুসলিম

হাদীসটি হাসান-সহীহ। নবী (ﷺ) থেকে এইরূপ বহু রিওয়ায়াত বর্ণিত আছে যেগুলোতে দীদারের বিষয় অর্থাৎ মানুষের তাদের পরওয়ারদিগারকে দেখবে এবং (আল্লাহর) পা বা এরূপ কিছু বিষয়ের উল্লেখ আছে। এই বিষয়ে সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা, ইবনে মুবারক, ওয়াকী‘ (রাহঃ) ইমামগণের মত হল যে, তারা এই ধরনের বিষয়াবলীর রিওয়ায়াত করেন। তাঁরা বলেনঃ এই ধরনের হাদীসসমূহ বর্ণনা করা যাবে আর এতদ্বিষয়েও আমরা ঈমানও রাখি কিন্তু এগুলো কেমন তা বলা সম্ভব নয়। হাদীস বিশেষজ্ঞগণও এই মত গ্রহণ করেছেন যে, এই ধরনের বিষয় সম্বলিত হাদীস যেভাবে বর্ণিত হয়ে এসেছে সেইভাবেই রিওয়ায়াত করা যাবে। এতদ্বিষয়ে ঈমান রাখতে হবে তবে এর ব্যাখ্যা দেওয়া যাবে না, এই বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করা যাবে না কিন্তু কেমন তা বলা যাবে না। বিশেষজ্ঞ আলিমগণ এই মতই গ্রহণ করেছেন। হাদীসোক্ত فَيُعَرِّفُهُمْ نَفْسَهُ কথাটির মর্ম হল, আল্লাহ্ তাআলা তাদের সম্মুখে স্বীয় তাজাল্লী জাহির করবেন।
২৫৫৮

حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ وَكِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ فُضَيْلِ بْنِ مَرْزُوقٍ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، يَرْفَعُهُ قَالَ " إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ أُتِيَ بِالْمَوْتِ كَالْكَبْشِ الأَمْلَحِ فَيُوقَفُ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ فَيُذْبَحُ وَهُمْ يَنْظُرُونَ فَلَوْ أَنَّ أَحَدًا مَاتَ فَرَحًا لَمَاتَ أَهْلُ الْجَنَّةِ وَلَوْ أَنَّ أَحَدًا مَاتَ حَزَنًا لَمَاتَ أَهْلُ النَّارِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৫৬০. সুফিয়ান ইবনে ওয়াকী‘ (রাহঃ) ....... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে মারফূ’ রূপে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে সাদা-কালো মিশ্রিত রংের মেষের ন্যায় উপস্থিত করা হবে এবং জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে দাঁড় করান হবে। পরে এটিকে যবেহ করা হবে আর তারা সকলে তা দেখতে থাকবে। কেউ যদি আনন্দে মারা যেত তবে জান্নাতবাসীরা (তা দেখে খুশীতে) অবশ্যই মারা যেত। আর দুঃখে যদি কেউ মারা যেত তবে জাহান্নামীরা (তা দেখে দুঃখে) অবশ্যই মারা যেত। - বুখারি ও মুসলিম

আবু ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ।

জান্নাতকে কষ্টকর বিষয় দ্বারা বেষ্টন করা হয়েছে আর জাহান্নামকে বেষ্টন করা হয়েছে প্রবৃত্তি দ্বারা।

بَابُ مَا جَاءَ حُفَّتِ الجَنَّةُ بِالمَكَارِهِ وَحُفَّتِ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ

২৫৫৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، وَثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " حُفَّتِ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ وَحُفَّتِ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৫৬১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতকে কষ্টকর বিষয় দ্বারা বেষ্টন করা হয়েছে আর জাহান্নামকে বেষ্টন করা হয়েছে প্রবৃত্তি দ্বারা। - মুসলিম

(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি এই সূত্রে হাসান-গারীব-সহীহ।
২৫৬০

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَمَّا خَلَقَ اللَّهُ الْجَنَّةَ وَالنَّارَ أَرْسَلَ جِبْرِيلَ إِلَى الْجَنَّةِ فَقَالَ انْظُرْ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعْدَدْتُ لأَهْلِهَا فِيهَا قَالَ فَجَاءَهَا وَنَظَرَ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعَدَّ اللَّهُ لأَهْلِهَا فِيهَا قَالَ فَرَجَعَ إِلَيْهِ قَالَ فَوَعِزَّتِكَ لاَ يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ إِلاَّ دَخَلَهَا . فَأَمَرَ بِهَا فَحُفَّتْ بِالْمَكَارِهِ فَقَالَ ارْجِعْ إِلَيْهَا فَانْظُرْ إِلَى مَا أَعْدَدْتُ لأَهْلِهَا فِيهَا قَالَ فَرَجَعَ إِلَيْهَا فَإِذَا هِيَ قَدْ حُفَّتْ بِالْمَكَارِهِ فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خِفْتُ أَنْ لاَ يَدْخُلَهَا أَحَدٌ . قَالَ اذْهَبْ إِلَى النَّارِ فَانْظُرْ إِلَيْهَا وَإِلَى مَا أَعْدَدْتُ لأَهْلِهَا فِيهَا . فَإِذَا هِيَ يَرْكَبُ بَعْضُهَا بَعْضًا فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَقَالَ وَعِزَّتِكَ لاَ يَسْمَعُ بِهَا أَحَدٌ فَيَدْخُلُهَا . فَأَمَرَ بِهَا فَحُفَّتْ بِالشَّهَوَاتِ فَقَالَ ارْجِعْ إِلَيْهَا . فَرَجَعَ إِلَيْهَا فَقَالَ وَعِزَّتِكَ لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ لاَ يَنْجُوَ مِنْهَا أَحَدٌ إِلاَّ دَخَلَهَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৬২. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তাআলা যখন জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) কে জান্নাতে পাঠালেন এবং বললেনঃ যাও তা এবং তার অধিবাসীদের জন্য তাতে যা প্রস্তুত করে রেখেছি তা পরিদর্শন করে এস।

এরপর তিনি জান্নাতে গেলেন। তা এবং তাতে এর অধিবাসীদের জন্য আল্লাহ্ তাআলা যা প্রস্তুত করে রেখেছেন তা পরিদর্শন করে তাঁর কাছে ফিরে এসে বললেনঃ আপনার ইযযত ও সম্মানের কসম, যে কেউ এর কথা শুনবে তাতে দাখিল হওয়ার প্রয়াস পাবে।

এরপর আল্লাহ্ তাআলা নির্দেশ দিলেন। ফলে জান্নাতকে কষ্টকর জিনিস দ্বারা বেষ্টন করে দেওয়া হল। পরে তিনি তাকে বললেনঃ আবার সেখানে ফিরে যাও এবং জান্নাত ও তাতে এর অধিবাসীদের জন্য কি (নিআমত) প্রস্তুত করে রেখেছি তা পরিদর্শন করে এস।

জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) সেখানে ফিরে গেলেন, দেখলেন যে, কষ্টকর বিষয় দ্বারা তা বেষ্টিত। তিনি আবার আল্লাহর কাছে ফিরে আসলেন এবং বললেনঃ আপনার ইযযতের কসম, আমার আশঙ্কা হয় যে, কেউ এতে প্রবেশ করতে পারবে না।

আল্লাহ্ তাআলা বলবেনঃ জাহান্নামের দিকে যাও। তা এবং তার অধিবাসীর জন্য এতে কি (ভীষণ শাস্তি) তৈরী করে রেখেছি তা দেখে আস। তিনি গিয়ে দেখেন যে, এর এক অংশ অপর অংশের উপর চড়াও হচ্ছে। তিনি আল্লাহর কাছে ফিরে আসলেন। বললেনঃ আপনার ইযযতের কসম, এর কথা শুনলে তাতে প্রবেশ করবে এমন কেউ হবে না।

অনন্তর তিনি নির্দেশ দিলেন ফলে জাহান্নামকে প্রবৃত্তির খাহিশাত দ্বারা বেষ্টন করে দেওয়া হল। এরপর আল্লাহ্ তাআলা জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে বললেনঃ আবার সেখানে ফিরে যাও। তিনি আবার সেখানে ফিরে গেলেন (এবং তা দেখে এসে) বললেনঃ আপনার ইযযতের কসম, আমার আশঙ্কা হয় যে, কেউ এ থেকে বাঁচতে পারবে না, বরং সবাই এতে দাখিল হয়ে পড়বে।

(আবু ঈসা বলেন)হাদীসটি হাসান-সহীহ।

জান্নাত ও জাহান্নামের বিতর্ক।

بَابُ مَا جَاءَ فِي احْتِجَاجِ الجَنَّةِ وَالنَّارِ

২৫৬১

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " احْتَجَّتِ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَقَالَتِ الْجَنَّةُ يَدْخُلُنِي الضُّعَفَاءُ وَالْمَسَاكِينُ . وَقَالَتِ النَّارُ يَدْخُلُنِي الْجَبَّارُونَ وَالْمُتَكَبِّرُونَ . فَقَالَ لِلنَّارِ أَنْتِ عَذَابِي أَنْتَقِمُ بِكِ مِمَّنْ شِئْتُ . وَقَالَ لِلْجَنَّةِ أَنْتِ رَحْمَتِي أَرْحَمُ بِكِ مَنْ شِئْتُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৬৩. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাত ও জাহান্নাম বিতর্কে প্রবৃত্ত হল, জান্নাত বললঃ আমার মাঝে দুর্বল ও দরিদ্ররা প্রবেশ করবে। জাহান্নাম বললঃ আমার এখানে প্রবেশ করবে পরাক্রমশালী এবং অহঙ্কারীরা।

আল্লাহ্ তাআলা জাহান্নামকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তুমি আমার শাস্তির স্থান, যার সম্পর্কে আমার ইচ্ছা তোমার মাধ্যমে আমি তার প্রতিশোধ নিব। আর জান্নাতকে লক্ষ্য করে বললেনঃ তুমি আমার রহমতের স্থান, তোমার মাধ্যমে আমি যাকে ইচ্ছা রহম করব।

(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।

সর্বনিম্ন জান্নাতীর মর্যাদা।

بَابُ مَا جَاءَ مَا لأَدْنَى أَهْلِ الجَنَّةِ مِنَ الكَرَامَةِ

২৫৬২
حَدَّثَنَا سُوَيْدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ دَرَّاجٍ، عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَدْنَى أَهْلِ الْجَنَّةِ الَّذِي لَهُ ثَمَانُونَ أَلْفَ خَادِمٍ وَاثْنَتَانِ وَسَبْعُونَ زَوْجَةً وَتُنْصَبُ لَهُ قُبَّةٌ مِنْ لُؤْلُؤٍ وَزَبَرْجَدٍ وَيَاقُوتٍ كَمَا بَيْنَ الْجَابِيَةِ إِلَى صَنْعَاءَ " .
وَبِهَذَا الإِسْنَادِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ مَاتَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ مِنْ صَغِيرٍ أَوْ كَبِيرٍ يُرَدُّونَ بَنِي ثَلاَثِينَ فِي الْجَنَّةِ لاَ يَزِيدُونَ عَلَيْهَا أَبَدًا وَكَذَلِكَ أَهْلُ النَّارِ " . وَبِهَذَا الإِسْنَادِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ عَلَيْهِمُ التِّيجَانَ إِنَّ أَدْنَى لُؤْلُؤَةٍ مِنْهَا لَتُضِيءُ مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ رِشْدِينَ بْنِ سَعْدٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৫৬৪. সুওয়াদ ইবনে নসর (রাহঃ) ...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতীদের মাঝে সর্বনিম্ন যে তারও হবে আশি হাজার সেবক, বাহাত্তর হাজার সঙ্গিনী। মোতী, যবরজদ এবং ইয়াকূত পাথরে নির্মিত জাবিয়া থেকে সান’আ পর্যন্ত দূরত্বের ন্যায় বিস্তৃত এক বিরাট গম্বুজ বিশিষ্ট প্রাসাদ তার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হবে।

এই সনদেই নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ ছোট বা বড় যে বয়সেই মারা যাক না কেন জান্নাতে গিয়ে তার বয়স হবে ত্রিশ। কখনও তাদের বয়স বাড়বে না। জাহান্নামীদেরও অবস্থা তদ্রূপ হবে। এই সনদে নবী (ﷺ) থেকে আরো বর্ণিত যে, তিনি বলেন জান্নাতীদের যে তাজ হবে এর সবচে নিম্নমানের মোতীটির ছটাও পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে যা কিছু সব কিছু উজ্জ্বল করে ফেলবে। হাদীসটি গারীব। রিশদীন ইবনে সা’দ (রাহঃ) এর রিওয়ায়াত ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।
২৫৬৩

حَدَّثَنَا بُنْدَارٌ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ عَامِرٍ الأَحْوَلِ، عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ النَّاجِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْمُؤْمِنُ إِذَا اشْتَهَى الْوَلَدَ فِي الْجَنَّةِ كَانَ حَمْلُهُ وَوَضْعُهُ وَسِنُّهُ فِي سَاعَةٍ كَمَا يَشْتَهِي " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي هَذَا فَقَالَ بَعْضُهُمْ فِي الْجَنَّةِ جِمَاعٌ وَلاَ يَكُونُ وَلَدٌ . هَكَذَا رُوِيَ عَنْ طَاوُسٍ وَمُجَاهِدٍ وَإِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ . وَقَالَ مُحَمَّدٌ قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ فِي حَدِيثِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا اشْتَهَى الْمُؤْمِنُ الْوَلَدَ فِي الْجَنَّةِ كَانَ فِي سَاعَةٍ وَاحِدَةٍ كَمَا يَشْتَهِي " . وَلَكِنْ لاَ يَشْتَهِي . قَالَ مُحَمَّدٌ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي رَزِينٍ الْعُقَيْلِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ لاَ يَكُونُ لَهُمْ فِيهَا وَلَدٌ " . وَأَبُو الصِّدِّيقِ النَّاجِيُّ اسْمُهُ بَكْرُ بْنُ عَمْرٍو وَيُقَالُ بَكْرُ بْنُ قَيْسٍ أَيْضًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৫৬৫. বুনদার (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মু’মিন যদি জান্নাতে সন্তান কামনা করে তাবে তার কামনা অনুসারে সন্তানের গর্ভ, জন্ম ও বয়সের পূর্ণতা প্রাপ্তি সবকিছু এক মুহূর্তেই সংঘটিত হবে।

হাদীস হাসান-গারীব। আলিমগণের এই বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কোন কোন আলিম বলেন, জান্নাতে স্ত্রীসঙ্গম হবে বটে কিন্তু কোন সন্তান হবে না। তাউস, মুজাহিদ ও ইবরাহীম নাখঈ (রাহঃ) থেকেও এইরূপ মত বর্ণিত আছে।

মুহাম্মাদ [ইমাম বুখারী (রাহঃ)] বলেছেনঃ ’‘মুমিন যখন জান্নাতে সন্তান কামনা করবে তখন তার কামনা হিসেবে এক মুহূর্তে তা ঘটবে’’ - এই হাদীসটির প্রসঙ্গে ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) বলেছেনঃ তবে মু’মিন এই ধরনের কিছু কামনা করবে না। মুহাম্মাদ [ইমাম বুখারী (রাহঃ)] বলেনঃ আবু রাযীন উকায়লী সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত যে, জান্নাতে জান্নাতবাসীদের কোন সন্তান হবে না।

রাবী আবু সিদ্দীক নাজী (রাহঃ) এর নাম হল বকর ইবনে আমর। বলা হয় বকর ইবনে কায়স।

আয়তলোচনা (ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট) হুরদের আলাপ-আলোচনা।

بَابُ مَا جَاءَ فِي كَلاَمِ الحُورِ العِينِ

২৫৬৪

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَمُجْتَمَعًا لِلْحُورِ الْعِينِ يُرَفِّعْنَ بِأَصْوَاتٍ لَمْ يَسْمَعِ الْخَلاَئِقُ مِثْلَهَا قَالَ يَقُلْنَ نَحْنُ الْخَالِدَاتُ فَلاَ نَبِيدُ وَنَحْنُ النَّاعِمَاتُ فَلاَ نَبْأَسُ وَنَحْنُ الرَّاضِيَاتُ فَلاَ نَسْخَطُ طُوبَى لِمَنْ كَانَ لَنَا وَكُنَّا لَهُ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَلِيٍّ حَدِيثٌ غَرِيبٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

২৫৬৬. হান্নাদ ও আহমদ ইবনে মানী’ (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতে আয়তলোচনা (ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট) হুরদের একটি সম্মেলন গৃহ রয়েছে। সেখানে তারা এমন সুরে গান গায় যে, সৃষ্টির কেউ কখনও এমন সুর শুনেনি। তারা বলেঃ আমরা অনন্ত সঙ্গিনী আমাদের ধ্বংস নেই; আমরা হামেশা সুখে–সানন্দে থাকিব, কখনও দুঃখ-দুশ্চিন্তায় পতিত হইব না। আমরা (আমাদের মালিকদের প্রতি) তুষ্ট, অসন্তুষ্টি নেই আমাদের; মুবারক সেই ব্যক্তি যারা আমাদের এবং আমরা যাদের।

এই বিষয়ে আবু হুরায়রা, আবু সাঈদ ও আনাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আলী (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি গারীব।

আয়তলোচনা হুরদের আলাপ-আলোচনা।

بَابُ مَا جَاءَ فِي كَلاَمِ الحُورِ العِينِ

২৫৬৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، عَنْ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، فِي قَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ: {فَهُمْ فِي رَوْضَةٍ [ص:697] يُحْبَرُونَ} [الروم: 15] قَالَ: «السَّمَّاعُ» وَمَعْنَى السَّمَّاعِ مِثْلَ مَا وَرَدَ فِي الحَدِيثِ أَنَّ الحُورَ العِينَ يُرَفِّعْنَ بِأَصْوَاتِهِنَّ "

মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ইয়াহইয়া ইবনু কাসীর (রহঃ) হতে আল্লাহ তাআলার বাণী, “তারা তো বাগানের মধ্যে আনন্দিত থাকবে" (রূমঃ ১৫) আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ তারা গান শুনবে।

শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ।

بَابٌ

২৫৬৬

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الْيَقْظَانِ، عَنْ زَاذَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ثَلاَثَةٌ عَلَى كُثْبَانِ الْمِسْكِ - أُرَاهُ قَالَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَغْبِطُهُمُ الأَوَّلُونَ وَالآخِرُونَ رَجُلٌ يُنَادِي بِالصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ وَرَجُلٌ يَؤُمُّ قَوْمًا وَهُمْ بِهِ رَاضُونَ وَعَبْدٌ أَدَّى حَقَّ اللَّهِ وَحَقَّ مَوَالِيهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ . وَأَبُو الْيَقْظَانِ اسْمُهُ عُثْمَانُ بْنُ عُمَيْرٍ وَيُقَالُ ابْنُ قَيْسٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৫৬৭. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তিন ধরনের লোক কিয়ামতের দিন মিশকে আম্বরের টিলার উপর অবস্থান করবে। প্রথম এবং শেষ সব যুগের মানুষই তাদের অবস্থা দেখে ঈর্ষা পোষণ করবে। একজন হল যে ব্যক্তি প্রতিটি রাত দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের জন্য আহবান করে। (অপরজন হল) যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের ইমামতি করে এবং তারা তার উপর সন্তুষ্ট। (তৃতীয় জন হল) যে গোলাম আল্লাহর হকও সম্পাদন করে এবং তার মালিকের হকও সম্পাদন করে।

হাদীসটি হাসান-গরীব। সুফিয়ান ছাওরী (রাহঃ) এর সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই। আবুল ইয়াকযান (রাহঃ) এর নাম হল উছমান ইবনে উমায়র। ইবনে কায়স বলেও কথিত আছে।
২৫৬৭

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، يَرْفَعُهُ قَالَ " ثَلاَثَةٌ يُحِبُّهُمُ اللَّهُ رَجُلٌ قَامَ مِنَ اللَّيْلِ يَتْلُو كِتَابَ اللَّهِ وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ صَدَقَةً بِيَمِينِهِ يُخْفِيهَا أُرَاهُ قَالَ مِنْ شِمَالِهِ وَرَجُلٌ كَانَ فِي سَرِيَّةٍ فَانْهَزَمَ أَصْحَابُهُ فَاسْتَقْبَلَ الْعَدُوَّ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَهُوَ غَيْرُ مَحْفُوظٍ . وَالصَّحِيحُ مَا رَوَى شُعْبَةُ وَغَيْرُهُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ ظَبْيَانَ عَنْ أَبِي ذَرٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَأَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ كَثِيرُ الْغَلَطِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৫৬৮. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে মারফু’রূপে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, তিন ব্যক্তি এমন যাদেরকে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ্ তাআলা ভালবাসেনঃ যে ব্যক্তি রাতে নামাযে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, যে ব্যক্তি (এমন) গোপনে আল্লাহর পথে ডান হাতে দান-খয়রাত করে যে, বাম হাতও তা টের পায় না এবং যে ব্যক্তি কোন যুদ্ধভিযান দলে শরীক হয় আর তার সঙ্গী-সাথীরা হেরে যাওয়ার পরও সে শত্রু সম্মুখে অগ্রসর হয়।

হাদীসটি গারীব। এই সূত্রে এটি সংরক্ষিত নয়। সহীহ রিওয়ায়াত হল যেটি শু’বা (রাহঃ) প্রমূখ মনসুর-রিবঈ ইবনে খিরাশ-যায়দ ইবনে যাবয়ান-আবু যাবর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। রাবী আবু বকর ইবনে আয়্যাশ রিওয়ায়াতের ক্ষেত্রে অনেক ভুল করে থাকেন।
২৫৬৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ، قَالَ سَمِعْتُ رِبْعِيَّ بْنَ حِرَاشٍ، يُحَدِّثُ عَنْ زَيْدِ بْنِ ظَبْيَانَ، يَرْفَعُهُ إِلَى أَبِي ذَرٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " ثَلاَثَةٌ يُحِبُّهُمُ اللَّهُ وَثَلاَثَةٌ يَبْغَضُهُمُ اللَّهُ فَأَمَّا الَّذِينَ يُحِبُّهُمُ اللَّهُ فَرَجُلٌ أَتَى قَوْمًا فَسَأَلَهُمْ بِاللَّهِ وَلَمْ يَسْأَلْهُمْ بِقَرَابَةٍ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُمْ فَمَنَعُوهُ فَتَخَلَّفَ رَجُلٌ بِأَعْقَابِهِمْ فَأَعْطَاهُ سِرًّا لاَ يَعْلَمُ بِعَطِيَّتِهِ إِلاَّ اللَّهُ وَالَّذِي أَعْطَاهُ وَقَوْمٌ سَارُوا لَيْلَتَهُمْ حَتَّى إِذَا كَانَ النَّوْمُ أَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِمَّا يُعْدَلُ بِهِ نَزَلُوا فَوَضَعُوا رُءُوسَهُمْ فَقَامَ أَحَدُهُمْ يَتَمَلَّقُنِي وَيَتْلُو آيَاتِي وَرَجُلٌ كَانَ فِي سَرِيَّةٍ فَلَقِيَ الْعَدُوَّ فَهُزِمُوا وَأَقْبَلَ بِصَدْرِهِ حَتَّى يُقْتَلَ أَوْ يُفْتَحَ لَهُ . وَالثَّلاَثَةُ الَّذِينَ يَبْغَضُهُمُ اللَّهُ الشَّيْخُ الزَّانِي وَالْفَقِيرُ الْمُخْتَالُ وَالْغَنِيُّ الظَّلُومُ " .
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، عَنْ شُعْبَةَ، نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَهَكَذَا رَوَى شَيْبَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، نَحْوَ هَذَا وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

২৫৬৯. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার, মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ..... আবু যর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিন ব্যক্তি এমন যাদেরকে আল্লাহ্ তাআলা ভালবাসেন আর তিন ব্যক্তি যে কোন সম্প্রদায়ের নিকট এসে কোন আত্মীয়তার ওসীলায় নয় বরং আল্লাহর ওয়াস্তে কিছু প্রার্থনা করে কিন্তু তারা তাকে ফিরিয়ে দেয়। তখন তাদের মাঝ থেকে এক ব্যক্তি তাদের পেছনে ফেলে উঠে দাঁড়ায় এবং ঐ প্রার্থী ব্যক্তিকে এমন গোপনে কিছু দান করে যে, আল্লাহ্ তাআলা এবং যাকে দিয়েছে সে ছাড়া আর কেউ এই দান সম্পর্কে কিছু জানে না। (অপর এক ব্যক্তি হল) এক সম্প্রদায় রাতের সফরে চলেছে। শেষে নিদ্রা যখন তাদের সবচে প্রিয় বস্তু হয়ে দাঁড়ায় আর তারা (বালিশে) তাদের মাথা রেখে দেয় তখন এক ব্যক্তি নামাযে দাঁড়ায় এবং আমার হুযুরে (সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য) কাকুতি-মিনতি ও রোনাযারী করে আর আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে। (আরেক জন হল) এক ব্যক্তি কোন এক যুদ্ধাভিযানে শরীক হয়ে শক্রর সম্মুখীন হয় এবং হেরে যায়। কিন্তু এমতাবস্তায়ও সেই ব্যক্তি শহীদ বা বিজয় লাভ না হওয়া পর্যন্ত বুক পেতে সামনে অগ্রসর হতে থাকে। পক্ষান্তরে যে তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ্ তাআলা ঘৃণা করেন তারা হলঃ বৃদ্ধ ব্যভিচারী, অহঙ্কারী ভিক্ষুক ও অত্যাচারী ধনী।

মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ......... শু’বা (রাহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি সহীহ। শায়বান (রাহঃ) মনসূর (রাহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এটি আবু বকর ইবনে আয়্যাশ (রাহঃ)-এর রিওয়ায়াত থেকে অধিক সহীহ।
২৫৬৯

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جَدِّهِ، حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُوشِكُ الْفُرَاتُ يَحْسِرُ عَنْ كَنْزٍ مِنْ ذَهَبٍ فَمَنْ حَضَرَهُ فَلاَ يَأْخُذْ مِنْهُ شَيْئًا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৭০. আবু সাঈদ আশাজ্জ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ অচিরেই ফুরাত নদী তার গোপন স্বর্ণ-ভন্ডার পানি অপসৃত করে প্রকাশ করে দিবে। যে ব্যক্তি তখন সেখানে হাযির থাকবে সে যেন তা থেকে কিছুই গ্রহণ না করে। - বুখারি ও মুসলিম

হাদীসটি হাসান-সহীহ।
২৫৭০

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ " يَحْسِرُ عَنْ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৫৭১. আবু সাঈদ আশাজ্জ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে এতে إِلاَّ أَنَّهُ এর স্থলে’ جَبَلٍ مِنْ ذَهَبٍ (স্বর্ণের পাহাড়) উল্লেখ হয়েছে।- বুখারি ও মুসলিম

(আবু ঈসা বলেন) হাদীসটি হাসান-সহীহ।

জান্নাতের নহরসমূহ।

بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَةِ أَنْهَارِ الجَنَّةِ

২৫৭১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَحْرَ الْمَاءِ وَبَحْرَ الْعَسَلِ وَبَحْرَ اللَّبَنِ وَبَحْرَ الْخَمْرِ ثُمَّ تُشَقَّقُ الأَنْهَارُ بَعْدُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَحَكِيمُ بْنُ مُعَاوِيَةَ هُوَ وَالِدُ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ وَالْجُرَيْرِيُّ يُكْنَى أَبَا مَسْعُودٍ وَاسْمُهُ سَعِيدُ بْنُ إِيَاسٍ .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

২৫৭২. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... মুআবিয়া (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জান্নাতে পানির সাগর, মধুর সাগর, দুধের সাগর ও শরাবের সাগর রয়েছে। এগুলো থেকে পরে আরো নহরের শাখা-প্রশাখা বের হবে।

হাদীসটি হাসান-সহীহ। হাকীম ইবনে মুআবিয়া হলেন বাহয ইবনে হাকীম (রাহঃ) এর পিতা।
২৫৭২

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الْجَنَّةَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ الْجَنَّةُ اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ . وَمَنِ اسْتَجَارَ مِنَ النَّارِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ قَالَتِ النَّارُ اللَّهُمَّ أَجِرْهُ مِنَ النَّارِ " . قَالَ هَكَذَا رَوَى يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ مَوْقُوفًا أَيْضًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৫৭৩. হান্নাদ (রাহঃ) ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি যদি আল্লাহর কাছে তিনবার জান্নাতের দুআ করে তবে জান্নাত তখন বলে, ’হে আল্লাহ্! একে জান্নাতে দাখিল করে দাও।’ আর কোন ব্যক্তি যদি জাহান্নাম থেকে তিনবার পানাহ চায় তবে জাহান্নাম বলে, ’হে আল্লাহ্! একে জাহান্নাম থেকে পানাহ দিয়ে দাও।’

ইউনুস (রাহঃ) এ হাদীসটিকে আবু ইসহাক (রাহঃ) থেকে বুরায়দ ইবনে আবু মারয়াম-আনাস (রাযিঃ) সনদে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবু ইসহাক-বুরায়দ ইবনে আবু মারয়াম-আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে তাঁর উক্তি হিসাবেও এটি বর্ণিত আছে।