أبواب الطلاق واللعان عن رسول الله ﷺ

১৩. তালাক - লি'আনের অধ্যায়

অধ্যায় ১৩ · ৩০ টি হাদীস

সুন্নাহ অনুযায়ী তালাক।

باب مَا جَاءَ فِي طَلاَقِ السُّنَّةِ

১১৭৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنْ رَجُلٍ، طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَقَالَ هَلْ تَعْرِفُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ فَإِنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ فَسَأَلَ عُمَرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهُ أَنْ يُرَاجِعَهَا . قَالَ قُلْتُ فَيُعْتَدُّ بِتِلْكَ التَّطْلِيقَةِ قَالَ فَمَهْ أَرَأَيْتَ إِنْ عَجَزَ وَاسْتَحْمَقَ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১১৭৬. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... ইউনুস ইবনে জুবাইর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, কেউ যদি হায়য অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দেয় সেই সম্পর্কে ইবনে উমর (রাযিঃ) কে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, তুমি কি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর কে চেন? সে তার স্ত্রীকে হায়যপ্রাপ্ত অবস্থায় তালাক দিয়েছিল। তখন উমর (রাযিঃ) নবী (ﷺ)-কে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে উক্ত স্ত্রীর সঙ্গে রাজ’আত* করার নির্দেশ দেন। ইউনুস ইবনে জুবাইর বলেন, আমি বললাম, সে তালাকটিকে গণনা করা হবে কি? তিনি বললেনঃ থাম। তুমি কি মনে কর কোন ব্যক্তি যদি অক্ষম হয়ে পড়ে বা বোকামী করে (তবে কি তার তালাক বাতিল হয়ে যাবে)? - ইবনে মাজাহ, বুখারি, মুসলিম

*স্ত্রীর সহিত পুনঃ দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন।
১১৭৬

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، مَوْلَى آلِ طَلْحَةَ عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ فِي الْحَيْضِ فَسَأَلَ عُمَرُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا ثُمَّ لْيُطَلِّقْهَا طَاهِرًا أَوْ حَامِلاً " . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَكَذَلِكَ حَدِيثُ سَالِمٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنَّ طَلاَقَ السُّنَّةِ أَنْ يُطَلِّقَهَا طَاهِرًا مِنْ غَيْرِ جِمَاعٍ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنْ طَلَّقَهَا ثَلاَثًا وَهِيَ طَاهِرٌ فَإِنَّهُ يَكُونُ لِلسُّنَّةِ أَيْضًا . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ لاَ تَكُونُ ثَلاَثًا لِلسُّنَّةِ إِلاَّ أَنْ يُطَلِّقَهَا وَاحِدَةً وَاحِدَةً . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَإِسْحَاقَ . وَقَالُوا فِي طَلاَقِ الْحَامِلِ يُطَلِّقُهَا مَتَى شَاءَ . وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ يُطَلِّقُهَا عِنْدَ كُلِّ شَهْرٍ تَطْلِيقَةً .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১১৭৭. হান্নাদ (রাহঃ) .... সালিম তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর স্ত্রীকে হায়য অবস্থায় তালাক দিয়েছিলেন। উমর (রাযিঃ) এই সম্পর্কে নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, তাকে স্ত্রীর সঙ্গে রাজ’আত করার নির্দেশ দাও। এরপর যেন সে তার স্ত্রীকে পাক অবস্থায় বা গর্ভাবস্থায় তালাক দেয়। - ইবনে মাজাহ, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে ইউনুস ইবনে জুবাইর বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইবনে উমর থেকে সালিম (রাযিঃ) বর্ণিত রিওয়ায়াতটিও তদ্রূপ। ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ)-এর এই হাদীসটি একাধিক সনদে বর্ণিত আছে। সাহাবী ও অন্যান্য আলিমদের মধ্যে এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে যে, সুন্নত তালাক হল সঙ্গম ব্যতীত পবিত্রতার কালে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া। কেউ কেউ বলেন, তহুর অবস্থায় যদি কেউ তিন তালাক দিয়ে দেয় তবুও তা সুন্নত তালাক হবে। এ হলো ইমাম শাফিঈ ও আহমাদ (রাহঃ) এর অভিমত। কোন কোন আলিম বলেন, একত্রে তিন তালাক সুন্নত তালাক হবে না, যদি না তা এক এক করে (তিন তহুরে) দেওয়া হয়। এ হল ইমাম ছাওরী ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। গর্ভাবস্থায় তালাক দেওয়া সম্পর্কে আলিমগণ বলেন যে, স্বামী (প্রয়োজনে) যখন ইচ্ছা তাকে তালাক দিতে পারে। এ হলো ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ) এর অভিমত। কোন কোন আলিম বলেন, গর্ভাবস্থায় প্রতি মাসে একটি তালাক দিবে।

কেউ যদি স্ত্রীকে "আলবাত্তা" (অকাট্য) শব্দে তালাক দেয়।

باب مَا جَاءَ فِي الرَّجُلِ يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ الْبَتَّةَ

১১৭৭

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ رُكَانَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي طَلَّقْتُ امْرَأَتِي الْبَتَّةَ . فَقَالَ " مَا أَرَدْتَ بِهَا " . قُلْتُ وَاحِدَةً . قَالَ " وَاللَّهِ " . قُلْتُ وَاللَّهِ . قَالَ " فَهُوَ مَا أَرَدْتَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَقَالَ فِيهِ اضْطِرَابٌ . وَيُرْوَى عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رُكَانَةَ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ ثَلاَثًا . - وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ فِي طَلاَقِ الْبَتَّةِ فَرُوِيَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّهُ جَعَلَ الْبَتَّةَ وَاحِدَةً وَرُوِيَ عَنْ عَلِيٍّ أَنَّهُ جَعَلَهَا ثَلاَثًا . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِيهِ نِيَّةُ الرَّجُلِ إِنْ نَوَى وَاحِدَةً فَوَاحِدَةٌ وَإِنْ نَوَى ثَلاَثًا فَثَلاَثٌ وَإِنْ نَوَى ثِنْتَيْنِ لَمْ تَكُنْ إِلاَّ وَاحِدَةً . وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ . وَقَالَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ فِي الْبَتَّةِ إِنْ كَانَ قَدْ دَخَلَ بِهَا فَهِيَ ثَلاَثُ تَطْلِيقَاتٍ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ إِنْ نَوَى وَاحِدَةً فَوَاحِدَةٌ يَمْلِكُ الرَّجْعَةَ وَإِنْ نَوَى ثِنْتَيْنِ فَثِنْتَانِ وَإِنْ نَوَى ثَلاَثًا فَثَلاَثٌ .

বর্ণনাকারী: রুকানা (রাঃ)

১১৭৮. হান্নাদ (রাহঃ) ....... রুকানা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আমার স্ত্রীকে আল-বাত্তা’ শব্দে তালাক দিয়েছি। তিনি বললেনঃ এতে তুমি কয় তালাকের নিয়ত করেছ? আমি বললামঃ এক তালাকের। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম? আমি বললামঃ আল্লাহর কসম। তিনি বললেনঃ তবে তুমি যা নিয়ত করেছ তাই। - ইবনে মাজাহ

এই হাদীসটি এই সূত্র ছাড়া আমরা অবহিত নয়। সাহাবী ও অপরাপর আলিমদের মধ্যে আলবাত্তা শব্দে তালাক সম্পর্কে মতবিরোধ রয়েছে। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি আলবাত্তা তালাককে এক তালাক বলে গণ্য করেছেন। পক্ষান্তরে আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি এটিকে তিন তালাক বলে গণ্য করেছেন। কোন কোন আলিম বলেন, এতে স্বামীর নিয়ত গ্রহণীয়। সে যদি একের নিয়ত করে তবে এক হবে আর তিনের নিয়ত করলে তিন হবে। কিন্তু দুইয়ের নিয়ত করলে একই হবে। এ হলো ইমাম ছাওরী ও কুফাবাসী আলিমগণের অভিমত। ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রাহঃ) বলেন, যে স্ত্রীকে আল-বাত্তা’ শব্দে তালাক দেওয়া হয়েছে তার সাথে সঙ্গম হয়ে থাকলে তা তিন তালাক বলে গণ্য হবে। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, যদি সে এক তালাকের নিয়ত করে তবে এক তালাক রাজঈ হবে এবং সে আবার তাকে ফিরিয়ে আনতে পারবে। আর দুই তালাকের নিয়ত করলে দুই-ই হবে এবং তিনের নিয়ত করলে তিন-ই হবে।

তোমার ব্যাপার তোমার হাতে বলা প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي أَمْرُكِ بِيَدِكِ

১১৭৮
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ نَصْرِ بْنِ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ قُلْتُ لأَيُّوبَ هَلْ عَلِمْتَ أَنَّ أَحَدًا قَالَ فِي أَمْرُكِ بِيَدِكِ أَنَّهَا ثَلاَثٌ إِلاَّ الْحَسَنَ فَقَالَ لاَ إِلاَّ الْحَسَنَ . ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ غَفْرًا إِلاَّ مَا حَدَّثَنِي قَتَادَةُ عَنْ كَثِيرٍ مَوْلَى ابْنِ سَمُرَةَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " ثَلاَثٌ " . قَالَ أَيُّوبُ فَلَقِيتُ كَثِيرًا - مَوْلَى ابْنِ سَمُرَةَ فَسَأَلْتُهُ فَلَمْ يَعْرِفْهُ فَرَجَعْتُ إِلَى قَتَادَةَ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ نَسِيَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ سُلَيْمَانَ بْنِ حَرْبٍ عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ .
وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ، فَقَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، بِهَذَا وَإِنَّمَا هُوَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، مَوْقُوفٌ . وَلَمْ يُعْرَفْ حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ مَرْفُوعًا . وَكَانَ عَلِيُّ بْنُ نَصْرٍ حَافِظًا صَاحِبَ حَدِيثٍ . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي أَمْرُكِ بِيَدِكِ فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ مِنْهُمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ هِيَ وَاحِدَةٌ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ التَّابِعِينَ وَمَنْ بَعْدَهُمْ . وَقَالَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ وَزَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ الْقَضَاءُ مَا قَضَتْ . وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا جَعَلَ أَمْرَهَا بِيَدِهَا وَطَلَّقَتْ نَفْسَهَا ثَلاَثًا وَأَنْكَرَ الزَّوْجُ وَقَالَ لَمْ أَجْعَلْ أَمْرَهَا بِيَدِهَا إِلاَّ فِي وَاحِدَةٍ اسْتُحْلِفَ الزَّوْجُ وَكَانَ الْقَوْلُ قَوْلَهُ مَعَ يَمِينِهِ . وَذَهَبَ سُفْيَانُ وَأَهْلُ الْكُوفَةِ إِلَى قَوْلِ عُمَرَ وَعَبْدِ اللَّهِ . وَأَمَّا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ فَقَالَ الْقَضَاءُ مَا قَضَتْ . وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ . وَأَمَّا إِسْحَاقُ فَذَهَبَ إِلَى قَوْلِ ابْنِ عُمَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১১৭৯. আলী ইবনে নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ..... হাম্মাদ ইবনে যায়দ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আইয়ুব (রাহঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি হাসান ব্যতীত অন্য কাউকে জানেন যে, ‘‘তোমার ব্যাপার তোমার হাতে’’ বললে তা তিন তালাক বলে তিনি গণ্য করেছেন? তিনি বললেন, না। কেবল হাসানই (এমত পোষন করেন)। আল্লাহ্ ক্ষমা করুন, কাতাদা (রাহঃ) আমাকে বনু সামূরার আযাদকৃত দাস কাছীর-আবু সালামা-আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, এতে তিন তালাক বলে গণ্য হবে। আইয়ুব বলেন, পরে আমি ইবনে সামূরার আযাদকৃত দাস কাছীরের সঙ্গে সাক্ষাত করি এবং এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। কিন্তু তিনি এটি চিনতে পারেননি। অনন্তর কাতাদার কাছে এসে এই সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলে তিনি বললেন, কাছীর এটি ভুলে গেছেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি গারীব। সুলাইমান ইবনে হারব-হাম্মাদ ইবনে যায়দ ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে আমরা তা অবহিত হই নি। আমি মুহাম্মাদ (আল-বুখারী) (রাহঃ)-কে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, সুলাইমান ইবনে হারব এটিকে হাম্মাদ ইবনে যায়দ (রাহঃ) থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। এটি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে মউকুফ হিসেবে বর্ণিত আছে। তিনি এটিকে আবু হুরায়রা (রা্) থেকে মারফূ’ হিসেবে জানেননা। রাবী আলী ইবনে নসর ছিলেন, হাদীস বিশারদ এবং হাফিজুল হাদীস। ‘‘তোমার ব্যাপার তোমার হাতে’’ স্ত্রীকে এই কথা বললে কি হবে এতদ্বিষয়ে নবী (ﷺ) এর সাহাবীদের মধ্যে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। উমর ইবনুল খাত্তাব ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) সহ কতক সাহাবী বলেন, এতে এক তালাক গণ্য হবে। এ হলো তাবিঈন ও পরবর্তী যুগের অন্যান্য আলিমগেদর অভিমত।

উছমান ইবনে আফফান ও যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) বলেন, স্ত্রী যা নিয়ত করবে তার উপর ফায়সালা হবে। ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেছেন যদি কেউ তার স্ত্রীকে তার ব্যাপার তার হাতেই ন্যস্ত করে দেয় এমতাবস্থায় সে নিজেকে তিন তালাক দিয়ে দেয় এবং স্বামী যদি তা স্বীকার না করে বরং বলে আমি তার হাতে মাত্র এক তালাকের অধিকার ন্যস্ত করেছিলাম তবে স্বামীর নিকট থেকে কসম লওয়া হবে। এই বিষয়ে কসম সহ স্বামীর কথাই গ্রহণীয় হবে। ইমাম সুফিয়ান ও কূফাবাসী ফকীহগণ এই বিষয়ে উমর ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর মতামত গ্রহণ করেছেন। ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রাহঃ) বলেন, স্ত্রী যা করবে তার উপরই ফায়সালা হবে। ইমাম আহমদ (রাহঃ) এরও এ অভিমত। আর ইমাম ইসহাক (রাহঃ) ইবনে উমর (রাযিঃ) এর মত গ্রহণ করেছেন।

ইখতিয়ার দান প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي الْخِيَارِ

১১৭৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ خَيَّرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاخْتَرْنَاهُ أَفَكَانَ طَلاَقًا؟
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، بِمِثْلِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الْخِيَارِ فَرُوِيَ عَنْ عُمَرَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّهُمَا قَالاَ إِنِ اخْتَارَتْ نَفْسَهَا فَوَاحِدَةٌ بَائِنَةٌ . وَرُوِيَ عَنْهُمَا أَنَّهُمَا قَالاَ أَيْضًا وَاحِدَةٌ يَمْلِكُ الرَّجْعَةَ وَإِنِ اخْتَارَتْ زَوْجَهَا فَلاَ شَىْءَ . وَرُوِيَ عَنْ عَلِيٍّ أَنَّهُ قَالَ إِنِ اخْتَارَتْ نَفْسَهَا فَوَاحِدَةٌ بَائِنَةٌ وَإِنِ اخْتَارَتْ زَوْجَهَا فَوَاحِدَةٌ يَمْلِكُ الرَّجْعَةَ . وَقَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ إِنِ اخْتَارَتْ زَوْجَهَا فَوَاحِدَةٌ وَإِنِ اخْتَارَتْ نَفْسَهَا فَثَلاَثٌ . وَذَهَبَ أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ وَالْفِقْهِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ بَعْدَهُمْ فِي هَذَا الْبَابِ إِلَى قَوْلِ عُمَرَ وَعَبْدِ اللَّهِ وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ وَأَمَّا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ فَذَهَبَ إِلَى قَوْلِ عَلِيٍّ رضى الله عنه .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১১৮০. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের ইখতিয়ার দিয়েছিলেন। অনন্তর আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কেই গ্রহণ করলাম। এতে কি তালাক হয়ে গেল? - ইবনে মাজাহ

মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) আয়িশা (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। স্ত্রীকে ইখতিয়ার প্রদানের বিষয়ে আলিমগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। উমর ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা বলেছেন, এমতাবস্থায় স্ত্রী যদি (স্বামীকে গ্রহণ না করে) নিজেকে গ্রহণ করে তবে এক তালাক বাইন প্রযোজ্য হবে। তাঁদের থেকে এ-ও বর্ণিত আছে যে, তারা বলেছেন, এমতাবস্থায় এক তালাক হবে। স্বামীর রাজআতের অধিকার থাকবে। আর যদি স্বামীকে গ্রহণ করে তবে কিছুই আরোপিত হবে না। আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, এমতাবস্থায় স্ত্রী যদি নিজেকে গ্রহণ করে তবে এক তালাক বাইন হবে আর যদি স্বামীকে গ্রহণ করে তবে এক তালাক হবে কিন্তু (ইদ্দতের মাঝে) রাজ’আত করার অধিকার স্বামীর থাকবে। যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) বলেছেন, যদি স্ত্রী স্বামীকে গ্রহণ তবে এক তালাক আর যদি নিজেকে গ্রহণ করে তবে তিন তালাক আরোপিত হবে। অধিকাংশ ফকীহ সাহাবী ও পরবর্তী যুগের আলিমগণ এই বিষয়ে উমর ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর বক্তব্য অনুসারে অভিমত গ্রহণ করেছেন। এ হলো সুফিয়ান ছাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণের অভিমত। পক্ষান্তরে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল (রাহঃ) এই বিষয়ে আলী (রাযিঃ) এর মত গ্রহণ করেছেন।

তিন তালাক প্রাপ্তা স্ত্রী (স্বামীর পক্ষ থেকে ) বাসস্থান পাবে না, খোরপোষও পাবে না।

باب مَا جَاءَ فِي الْمُطَلَّقَةِ ثَلاَثًا لاَ سُكْنَى لَهَا وَلاَ نَفَقَةَ

১১৮০
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ قَالَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ قَيْسٍ طَلَّقَنِي زَوْجِي ثَلاَثًا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ سُكْنَى لَكِ وَلاَ نَفَقَةَ " . قَالَ مُغِيرَةُ فَذَكَرْتُهُ لإِبْرَاهِيمَ فَقَالَ قَالَ عُمَرُ لاَ نَدَعُ كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّنَا صلى الله عليه وسلم لِقَوْلِ امْرَأَةٍ لاَ نَدْرِي أَحَفِظَتْ أَمْ نَسِيَتْ . وَكَانَ عُمَرُ يَجْعَلُ لَهَا السُّكْنَى وَالنَّفَقَةَ .
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَنْبَأَنَا حُصَيْنٌ، وَإِسْمَاعِيلُ، وَمُجَالِدٌ، قَالَ هُشَيْمٌ وَحَدَّثَنَا دَاوُدُ، أَيْضًا عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ فَسَأَلْتُهَا عَنْ قَضَاءِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيهَا فَقَالَتْ طَلَّقَهَا زَوْجُهَا الْبَتَّةَ فَخَاصَمَتْهُ فِي السُّكْنَى وَالنَّفَقَةِ فَلَمْ يَجْعَلْ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سُكْنَى وَلاَ نَفَقَةً . وَفِي حَدِيثِ دَاوُدَ قَالَتْ وَأَمَرَنِي أَنْ أَعْتَدَّ فِي بَيْتِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَهُوَ قَوْلُ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْهُمُ الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ وَعَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ وَالشَّعْبِيُّ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالُوا لَيْسَ لِلْمُطَلَّقَةِ سُكْنَى وَلاَ نَفَقَةٌ إِذَا لَمْ يَمْلِكْ زَوْجُهَا الرَّجْعَةَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ عُمَرُ وَعَبْدُ اللَّهِ إِنَّ الْمُطَلَّقَةَ ثَلاَثًا لَهَا السُّكْنَى وَالنَّفَقَةُ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لَهَا السُّكْنَى وَلاَ نَفَقَةَ لَهَا . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَاللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ وَالشَّافِعِيِّ . وَقَالَ الشَّافِعِيُّ إِنَّمَا جَعَلْنَا لَهَا السُّكْنَى بِكِتَابِ اللَّهِ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: (لاَ تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلاَ يَخْرُجْنَ إِلاَّ أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ ) قَالُوا هُوَ الْبَذَاءُ أَنْ تَبْذُوَ عَلَى أَهْلِهَا . وَاعْتَلَّ بِأَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ قَيْسٍ لَمْ يَجْعَلْ لَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم السُّكْنَى لِمَا كَانَتْ تَبْذُو عَلَى أَهْلِهَا . قَالَ الشَّافِعِيُّ وَلاَ نَفَقَةَ لَهَا لِحَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي قِصَّةِ حَدِيثِ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ .

বর্ণনাকারী: ফাতিমা বিনতে কায়স (রাঃ)

১১৮১. হান্নাদ (রাহঃ) ..... শা’বী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) বলেছেন, নবী (ﷺ) এর যুগে আমাকে আমার স্বামী তিন তালাক দিয়েছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছিলেন, তোমার জন্য বাসবাসের ঘরও নেই এবং খোরপোষও নেই। রাবী মুগীরা বলেন, আমি ইবরাহীমের নিকট এই রিওয়ায়াতটি উল্লেখ করলে তিনি বললেন, এই বিষয়ে উমর (রাযিঃ) বলেছেন, একজন মহিলার কথায় এই ক্ষেত্রে আমরা আল্লাহর কিতাব ও নবীজীর সুন্নাহ পরিত্যাগ করতে পারি না। জানিনা এই মহিলা যথাযথভাবে স্মরণ রাখতে পেরেছে না ভুলে গিয়েছে। উমর (রাযিঃ) এই ক্ষেত্রে স্ত্রীর জন্য জন্য বাসস্থান ও খোরপোষ সাব্যস্ত করেছেন।

আহমদ ইবনে মানী’ (রাহঃ) শা’বী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম এবং তাঁর বিষয়ে নবী (ﷺ) কি ফায়সালা দিয়েছিলেন সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন যে, তাঁর স্বামী তাঁকে চূড়ান্ত (তিন) তালাক দিলে তিনি (ইদ্দতকালে) বাসস্থান ও খোরপোষ প্রদানের জন্য দাবী জানান। কিন্তু নবী (ﷺ) তার জন্য বাসস্থান ও খোরপোষের ফায়সালা দেননি। আবু দাউদ (রাহঃ)-এর বর্ণনায় আছে যে, ফাতিমা (রাযিঃ) বলেছেন, নবী (ﷺ) আমাকে ইবনে উম্মি মাকতূমের গৃহে ইদ্দত পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। হাসান বসরী, আতা ইবনে আবু রাবাহ, শা’বী (রাহঃ) সহ কতক আলিম এই অভিমত পোষণ করেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ) এরও অভিমত তা-ই। তাঁরা বলেন স্বামী যদি তালাকের পর ইদ্দতের মধ্যে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার মালিক না থাকেন তবে এই ধরণের তালাক প্রাপ্তা স্ত্রী (স্বামীর পক্ষ থেকে ইদ্দতকালে) বাসস্থান ও খোরপোষ পাবে না। উমর ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) সহ কতক ফকীহ সাহাবী বলেন, তিন তালাক প্রাপ্তা স্ত্রী (ইদ্দতকালে) বাসস্থান ও খোরপোষ পাবে। এ হলো সুফিয়ান ছাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণের অভিমত। কতক আলিম বলেন, সে (ইদ্দতকালে) বাসস্থান পাবে কিন্তু খোরপোষ পাবে না। এ হলো ইমাম মালিক ইবনে আনাস, লায়ছ ইবনে সা’দ ও শাফিঈ (রাহঃ)-এর অভিমত।

ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ

لاَ تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلاَ يَخْرُجْنَ إِلاَّ أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ

তাদের ঘর থেকে বের করে দিবে না এবং তারাও বের হবে না। যে পর্যন্ত না সুষ্পষ্ট কোন অশ্লীলতায় তারা লিপ্ত হয়। (সূরা তালাক ৬৫:১)

এই আয়াতের কারণে আমরা এই ধরনের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীদের জন্য বাসস্থানের অধিকারের অভিমত প্রদান করি। আলিমগণ বলেন, এখানে فَاحِشَةٍ (অশ্লীলতা) এর অর্থ হলো অশ্লীল কথাবার্তা অর্থাৎ সে তার পরিবারের লোকদের সাথে গালিগালাজ করে। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ)-এর মতে ফাতিফা বিনতে কায়স (রাযিঃ)-কে নবী (ﷺ) কর্তৃক বাসস্থানের সুযোগ না দেওয়ার কারণ হলো ফাতিমা পরিবারের লোকদের সঙ্গে কটূভাষী ছিলেন। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) বলেন, কিন্তু এই (তিন তালাকপ্রাপ্ত) মহিলার মহিলার জন্য (ইদ্দতকালে) খোরপোষের বিধান না দেওয়ার কারণ হলো ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ)-এর ঘটনা সম্পর্কিত এ হাদীসটি।

বিবাহের পূর্বে তালাক নেই।

باب مَا جَاءَ لاَ طَلاَقَ قَبْلَ النِّكَاحِ

১১৮১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا عَامِرٌ الأَحْوَلُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ نَذْرَ لاِبْنِ آدَمَ فِيمَا لاَ يَمْلِكُ وَلاَ عِتْقَ لَهُ فِيمَا لاَ يَمْلِكُ وَلاَ طَلاَقَ لَهُ فِيمَا لاَ يَمْلِكُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَمُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ وَجَابِرٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَعَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَهُوَ أَحْسَنُ شَيْءٍ رُوِيَ فِي هَذَا الْبَابِ . وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ رُوِيَ ذَلِكَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَسَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَالْحَسَنِ وَسَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ وَعَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ وَشُرَيْحٍ وَجَابِرِ بْنِ زَيْدٍ وَغَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ فُقَهَاءِ التَّابِعِينَ وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ . وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّهُ قَالَ فِي الْمَنْصُوبَةِ إِنَّهَا تَطْلُقُ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ وَالشَّعْبِيِّ وَغَيْرِهِمَا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّهُمْ قَالُوا إِذَا وَقَّتَ نُزِّلَ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ أَنَّهُ إِذَا سَمَّى امْرَأَةً بِعَيْنِهَا أَوْ وَقَّتَ وَقْتًا أَوْ قَالَ إِنْ تَزَوَّجْتُ مِنْ كُورَةِ كَذَا فَإِنَّهُ إِنْ تَزَوَّجَ فَإِنَّهَا تَطْلُقُ . وَأَمَّا ابْنُ الْمُبَارَكِ فَشَدَّدَ فِي هَذَا الْبَابِ وَقَالَ إِنْ فَعَلَ لاَ أَقُولُ هِيَ حَرَامٌ . وَقَالَ أَحْمَدُ إِنْ تَزَوَّجَ لاَ آمُرُهُ أَنْ يُفَارِقَ امْرَأَتَهُ . وَقَالَ إِسْحَاقُ أَنَا أُجِيزُ فِي الْمَنْصُوبَةِ لِحَدِيثِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَإِنْ تَزَوَّجَهَا لاَ أَقُولُ تَحْرُمُ عَلَيْهِ امْرَأَتُهُ . وَوَسَّعَ إِسْحَاقُ فِي غَيْرِ الْمَنْصُوبَةِ . وَذُكِرَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ رَجُلٍ حَلَفَ بِالطَّلاَقِ أَنَّهُ لاَ يَتَزَوَّجُ ثُمَّ بَدَا لَهُ أَنْ يَتَزَوَّجَ هَلْ لَهُ رُخْصَةٌ بِأَنْ يَأْخُذَ بِقَوْلِ الْفُقَهَاءِ الَّذِينَ رَخَّصُوا فِي هَذَا فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ إِنْ كَانَ يَرَى هَذَا الْقَوْلَ حَقًّا مِنْ قَبْلِ أَنْ يُبْتَلَى بِهَذِهِ الْمَسْأَلَةِ فَلَهُ أَنْ يَأْخُذَ بِقَوْلِهِمْ فَأَمَّا مَنْ لَمْ يَرْضَ بِهَذَا فَلَمَّا ابْتُلِيَ أَحَبَّ أَنْ يَأْخُذَ بِقَوْلِهِمْ فَلاَ أَرَى لَهُ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১১৮২. আহমাদ ইবনে মানী’ (রাহঃ) ...... আমর ইবনে শুআয়ব তাঁর পিতা তাঁর পিতামহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, যে বস্তু স্বীয় মালিকানায় নেই সেই বস্তুতে আদম সন্তানের মান্নত হয় না। যে (দাস) স্বীয় মালিকানায় নেই তাকে আযাদ করা যায় না। যে (স্ত্রীলোক) স্বীয় অধিকারে নেই তাকে তালাক দেওয়া যায় না। - ইবনে মাজাহ

এই বিষয়ে আলী, মুআয, জাবির, ইবনে আব্বাস ও আয়িশা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এই বিষয়ে বর্ণিত হাদীস সমূহের মাঝে এই রিওয়ায়াতটই সর্বোত্তম। এ হলো অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের অভিমত। আলী ইবনে আবী তালিব, ইবনে আব্বাস, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) ও সাঈদ ইবনুল মুসায়্যাব, হাসান, সাঈদ ইবনে জুবাইর, আলী ইবনে হুসাইন, শুরায়হ, জাবির ইবনে যায়দ (রাহঃ) প্রমূখ একাধিক সাহাবী ও ফকীহ তাবিঈ থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। ইমাম শাফিঈ (রাহঃ)-এর বক্তব্যও এ-ই।

ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, নির্দিষ্ট মহিলাকে বিবাহ সাপেক্ষে তালাক বললে তালাক পড়বে। ইবরাহীম নাখঈ, শা’বী (রাহঃ) প্রমূখ আলিমদের সূত্রে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা বলেছেন, যদি কোন সময় নির্ধারিত করে তালাক উচ্চারণ করে (আর সে সময়ের ভিতর ঐ মহিলাকে বিবাহ করে) তবে তালাক পড়বে। এ হলো সুফিয়ান ছাওরী ও মালিক ইবনে আনাস (রাহঃ)-এর অভিমত। তাঁরা বলেন, যদি নির্দিষ্ট কোন স্ত্রীলোকের নাম নেয় বা সময় নির্ধারণ করে কিংবা বলে, অমুক স্থানের মেয়েটি বিয়ে করলে সে তালাক এবং এরপর যদি তাকে বিয়ে করে তবে তালাক হয়ে যাবে।

ইবনে মুবারক (রাহঃ) এই বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, এমতাবস্থায় সে যদি বিবাহ করে তবে আমি বলিনা যে, ঐ মহিলা তার জন্য হারাম হয়ে গেল। ইমাম আহমাদ (রাহঃ) বলেন, এমতাবস্থায় সে যদি বিয়ে করে ফেলে তবে আমি তার স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করতে বলব না। ইমাম ইসহাক (রাহঃ) বলেন, ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর রিওয়ায়াত অনুসারে নির্দিষ্ট মহিলার ক্ষেত্রে আমি তালাকের বিধান প্রয়োগ করার পক্ষপাতি; কিন্তু কেউ যদি বিয়ে করেই ফেলে তবে ঐ স্ত্রীলোক তার জন্য হারাম হয়ে গেছে বলে বলি না। আর অনির্দিষ্ট মহিলার ক্ষেত্রে ইসহাক (রাহঃ) আরও উদার মতামত অবলম্বন করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক থেকে উল্লেখ করা হয় যে, তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, এক ব্যক্তি কসম করে যে, বিবাহ করবে না। করলে (স্ত্রী) তালাক হয়ে যাবে। পরে তার বিবাহ করার মত হয়। এমতাবস্থায় সে কি এই বিষয়ে যে ফকীহ বিবাহের অবকাশ রেখেছেন তাদের মত অবলম্বন করে বিবাহ করতে পারবে? ইবনে মুবারক বললেন, এই বিষয়ে কার্যকর হওয়ার পূর্ব থেকে যদি এই ফকীহদের মত সত্য বলে বিশ্বাস করে থাকে তবে এখন সে তাদের মত অবলম্বন করতে পারবে। কিন্তু পূর্ব থেকে যদি কেউ এই মতে সন্তুষ্ট না থাকে বরং এই বিষয়ে নিপতিত হওয়ার পর যদি ঐ ফকিহগণের মত গ্রহণ করতে চায় তবে আমার মতে সে আর তাঁদের মত গ্রহণ করতে পারবে না।

দাসীদের তালাকের সীমা দুই তালাক।

باب مَا جَاءَ أَنَّ طَلاَقَ الأَمَةِ تَطْلِيقَتَانِ

১১৮২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ حَدَّثَنِي مُظَاهِرُ بْنُ أَسْلَمَ، قَالَ حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " طَلاَقُ الأَمَةِ تَطْلِيقَتَانِ وَعِدَّتُهَا حَيْضَتَانِ " .
قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى وَحَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، أَنْبَأَنَا مُظَاهِرٌ، بِهَذَا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ مُظَاهِرِ بْنِ أَسْلَمَ وَمُظَاهِرٌ لاَ نَعْرِفُ لَهُ فِي الْعِلْمِ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১১৮৩. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া নীসাপুরী (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, দাসীদের তালাকের সীমা হল দুই তালাক আর তাদের ইদ্দত হলো দুই হায়য। - ইবনে মাজাহ

মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) বলেন, আবু আসিম সরাসরি মুজাহের থেকেও এ হাদীস বর্ণনা করেন। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই বিষয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আয়িশা (রাযিঃ) বর্ণিত এই হাদীসটি গারীব। মুজাহির ইবনে আসলাম ছাড়া আর কারো সূত্রে এটি মারফূরূপে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই। হাদীস শাস্ত্রে মুজাহির সূত্রে এটি ছাড়া অন্য কোন হাদীস আমাদের জানা নেই। সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। এ হলো ইমাম সুফিয়ান ছাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত।

কেউ যদি মনে মনে স্ত্রীকে তালাক দেয়।

باب مَا جَاءَ فِيمَنْ يُحَدِّثُ نَفْسَهُ بِطَلاَقِ امْرَأَتِهِ

১১৮৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَجَاوَزَ اللَّهُ لأُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَكَلَّمْ بِهِ أَوْ تَعْمَلْ بِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا حَدَّثَ نَفْسَهُ بِالطَّلاَقِ لَمْ يَكُنْ شَيْءٌ حَتَّى يَتَكَلَّمَ بِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১১৮৪. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ্ তাআলা আমার উম্মতের মনোকথন ক্ষমা করে দিয়েছেন যতক্ষণ না তারা তা উচ্চারণ করেছেন বা আমলে রূপায়িত করেছে। - ইবনে মাজাহ, বুখারি, মুসলিম

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এ হাদীস অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে। তাঁরা বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না একজন তালাকের কথা মুখে উচ্চারণ করেছে ততক্ষণ মনে মনে তালাকের কথা বললেও তাতে কিছুই হবে না।

যথার্থভাবে বা কৌতুকার্থে ’তালাক’ উচ্চারণ করা।

باب مَا جَاءَ فِي الْجِدِّ وَالْهَزْلِ فِي الطَّلاَقِ

১১৮৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَرْدَكَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ مَاهَكَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ثَلاَثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ النِّكَاحُ وَالطَّلاَقُ وَالرَّجْعَةُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ هُوَ ابْنُ حَبِيبِ بْنِ أَرْدَكَ الْمَدَنِيُّ وَابْنُ مَاهَكَ هُوَ عِنْدِي يُوسُفُ بْنُ مَاهَكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১১৮৫. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, তিনটি বিষয় এমন যেগুলির যথার্থ তো যথার্থই এমনকি সেগুলোর কৌতুকের ব্যবহারও যথার্থ: বিবাহ, তালাক, রাজআত। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের আমল এ হাদীস অনুসারে রয়েছে। রাবী আব্দুর রহমান হলেন ইবনে হাবীব ইবনে আদরাক আল-মাদানী। আমার মতে (এই সনদের) ইবনে মাহাক হলেন ইউসূফ ইবনে মাহাক।

খুলা তালাক।*

باب مَا جَاءَ فِي الْخُلْعِ

১১৮৫
حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، أَنْبَأَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ سُفْيَانَ، أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَهُوَ مَوْلَى آلِ طَلْحَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ بْنِ عَفْرَاءَ، أَنَّهَا اخْتَلَعَتْ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم - أَوْ أُمِرَتْ - أَنْ تَعْتَدَّ بِحَيْضَةٍ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ الرُّبَيِّعِ الصَّحِيحُ أَنَّهَا أُمِرَتْ أَنْ تَعْتَدَّ بِحَيْضَةٍ .

أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْبَغْدَادِيُّ، أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ بَحْرٍ، أَنْبَأَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ امْرَأَةَ، ثَابِتِ بْنِ قَيْسٍ اخْتَلَعَتْ مِنْ زَوْجِهَا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَعْتَدَّ بِحَيْضَةٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي عِدَّةِ الْمُخْتَلِعَةِ فَقَالَ أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ إِنَّ عِدَّةَ الْمُخْتَلِعَةِ عِدَّةُ الْمُطَلَّقَةِ ثَلاَثُ حِيَضٍ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ إِنَّ عِدَّةَ الْمُخْتَلِعَةِ حَيْضَةٌ . قَالَ إِسْحَاقُ وَإِنْ ذَهَبَ ذَاهِبٌ إِلَى هَذَا فَهُوَ مَذْهَبٌ قَوِيٌّ .

বর্ণনাকারী: রুবায়্যি‘ বিনতে মুআওয়্যিয (রাঃ)

১১৮৬. মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ..... রুবায়্যি’ বিনতে মুআওবিয ইবনে আফরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর যুগে ‘খুলা’ করেছিলেন। তখন নবী (ﷺ) তা কার্যকরী করেন এবং তাঁকে এক হায়য দ্বারা ইদ্দত পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়। - ইবনে মাজাহ

এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) রুবায়্যি’ বিনতে মু’আওবিয-এর হাদীস সম্পর্কে বলেন যে, তাকে এক হায়য দ্বারা ইদ্দত পালনের নির্দেশই সহীহ।

*মোহর বা অন্য কিছুর বিনিময়ে তালাক গ্রহণ করা।


মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহীম বাগদাদী (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ছাবিত ইবনে কায়স-এর স্ত্রী নবী (ﷺ) এর আমলে তার স্বামী থেকে ‘খুলা’ তালাক গ্রহণ করেছিলেন। তখন নবী (ﷺ) তাকে এক হায়য সময় ইদ্দত পালন করতে নির্দেশ প্রদান করেছিলেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। খুলাপ্রাপ্তা মহিলার ইদ্দত সম্পর্কে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেন, তালাকপ্রাপ্তা মহিলাদের ইদ্দতের অনুরূপই হলো খুলা প্রাপ্তা মহিলাদের ইদ্দত। এ হলো সুফিয়ান ছাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণের অভিমত। আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ) এরও বক্তব্য এ-ই। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেন, খুলাপ্রাপ্তা মহিলার ইদ্দত হলো এক হায়য। ইসহাক (রাহঃ) বলেন, কেউ যদি এ মাযহাব গ্রহণ করে, তবে তা একটি মযবুত মাযহাব।

খুলা তালাক দাবীকারিনী।

باب مَا جَاءَ فِي الْمُخْتَلِعَاتِ

১১৮৬
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا مُزَاحِمُ بْنُ ذَوَّادِ بْنِ عُلْبَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ أَبِي الْخَطَّابِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ، عَنْ ثَوْبَانَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمُخْتَلِعَاتُ هُنَّ الْمُنَافِقَاتُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِالْقَوِيِّ .
وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " أَيُّمَا امْرَأَةٍ اخْتَلَعَتْ مِنْ زَوْجِهَا مِنْ غَيْرِ بَأْسٍ لَمْ تَرِحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ "
১১৮৮. আবু কুরায়ব (রাহঃ) ..... ছাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, খুলা তালাক দাবীকারিনী হলো মুনাফিক।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি গারীব। এটির সনদ শক্তিশালী নয়। নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি ইরশাদ করেছেন কোনরূপ কষ্টে পতিত না হওয়া ব্যতিরেকে যে মহিলা তার স্বামী থেকে খুলা তালাক নেয় সে জান্নাতের গন্ধ ও পাবে না।
১১৮৭

أَنْبَأَنَا بِذَلِكَ بُنْدَارٌ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ أَنْبَأَنَا أَيُّوبُ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ عَمَّنْ حَدَّثَهُ عَنْ ثَوْبَانَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا طَلاَقًا مِنْ غَيْرِ بَأْسٍ فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْجَنَّةِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَيُرْوَى هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ عَنْ ثَوْبَانَ . وَرَوَاهُ بَعْضُهُمْ عَنْ أَيُّوبَ بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَرْفَعْهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত ছাওবান (রাঃ)

১১৮৯. বুনদার (রাহঃ) ...... ছাওবান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, কোনরূপ কষ্টের সম্মুখীন না হয়ে যে মহিলা তার স্বামীর নিকট তালাক চায় তার জন্য জান্নাতের গন্ধ ও হারাম। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। এই হাদীসটি আইয়ুব-আবু কিলাবা- আবু আসমা-ছাওবান (রাযিঃ) সূত্রেও বর্ণিত আছে। কেউ কেউ আইয়ুব (রাহঃ) থেকে এই সনদে এটি রিওয়ায়াত করেছেন। তবে তারা এটি মারফূ’ হিসেবে করেন নি।

স্ত্রীদের সঙ্গে উদার ব্যবহার করা।

باب مَا جَاءَ فِي مُدَارَاةِ النِّسَاءِ

১১৮৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَخِي ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَمِّهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الْمَرْأَةَ كَالضِّلَعِ إِنْ ذَهَبْتَ تُقِيمُهَا كَسَرْتَهَا وَإِنْ تَرَكْتَهَا اسْتَمْتَعْتَ بِهَا عَلَى عِوَجٍ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ وَسَمُرَةَ وَعَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الوَجْهِ، وَإِسْنَادُهُ جَيِّدٌ»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১১৯০. আব্দুল্লাহ ইবনে আবু যিয়াদ (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মহিলারা হলো পাজরের হাড়ের ন্যায়। যদি তাকে তুমি সোজা করতে যাও তবে তুমি তা ভেঙ্গে ফেলবে। আর স্বাভাবিক ভাবে ছেড়ে রাখলে বক্রতাসহই তার থেকে তুমি উপকার ভোগ করতে পারবে। - বুখারি, মুসলিম

এই বিষয়ে আবু যর, সামূরা ও আয়িশা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি এই সূত্রে হাসান-সহীহ-গারীব। এর সনদও উত্তম।

পিতা যদি কাউকে তার স্ত্রীকে তালাক দিতে বলে।

باب مَا جَاءَ فِي الرَّجُلِ يَسْأَلُهُ أَبُوهُ أَنْ يُطَلِّقَ زَوْجَتَهُ

১১৮৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، أَنْبَأَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَتْ تَحْتِي امْرَأَةٌ أُحِبُّهَا وَكَانَ أَبِي يَكْرَهُهَا فَأَمَرَنِي أَبِي أَنْ أُطَلِّقَهَا فَأَبَيْتُ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ طَلِّقِ امْرَأَتَكَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ إِنَّمَا نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১১৯১. আহমদ ইবনে মানী’ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমার এক স্ত্রী ছিল। তাকে আমি ভালবাসতাম। কিন্তু আমার পিতা তাকে অপছন্দ করতেন। তাই তিনি আমাকে আমার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু আমি তা করতে অস্বীকার করি। পরে আমি বিষয়টি নবী (ﷺ)-এর কাছে উল্লেখ করি। তিনি বলেন, হে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, তোমার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দাও। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। এটির সঙ্গে আমরা কেবল ইবনে আবী যিব-এর সনদেই পরিচিত।

কোন মহিলা যেন তার (আরেক দীনী) ভগ্নীর তালাক প্রার্থনা না করে।

باب مَا جَاءَ لاَ تَسْأَلُ الْمَرْأَةُ طَلاَقَ أُخْتِهَا

১১৯০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَسْأَلُ الْمَرْأَةُ طَلاَقَ أُخْتِهَا لِتَكْتَفِئَ مَا فِي إِنَائِهَا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১১৯২. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, কোন মহিলা যেন পেয়ালার সবটুকু জিনিস কাছে টেনে নেয়ার উদ্দেশ্যে তার অপর এক ভগ্নীর (সতীনের) তালাক না চায়। - আবু দাউদ

এই বিষয়ে উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।

বুদ্ধিভ্রষ্ট ব্যক্তির তালাক।

باب مَا جَاءَ فِي طَلاَقِ الْمَعْتُوهِ

১১৯১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، أَنْبَأَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ الْمَخْزُومِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كُلُّ طَلاَقٍ جَائِزٌ إِلاَّ طَلاَقَ الْمَعْتُوهِ الْمَغْلُوبِ عَلَى عَقْلِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ مَرْفُوعًا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ عَطَاءِ بْنِ عَجْلاَنَ . وَعَطَاءُ بْنُ عَجْلاَنَ ضَعِيفٌ ذَاهِبُ الْحَدِيثِ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنَّ طَلاَقَ الْمَعْتُوهِ الْمَغْلُوبِ عَلَى عَقْلِهِ لاَ يَجُوزُ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ مَعْتُوهًا يُفِيقُ الأَحْيَانَ فَيُطَلِّقُ فِي حَالِ إِفَاقَتِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১১৯৩. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আ’লা (রাহঃ) ....... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, সকলের তালাকই প্রযোজ্য কিন্তু মাতুহ অর্থাৎ যে ব্যক্তি বুদ্ধি ভ্রষ্ট তার তালাক প্রযোজ্য নয়।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, আতা ইবনে আজলান-এর সনদ ছাড়া এই হাদীসটি মারফূ’রূপে বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নাই। আর আতা ইবনে আজলান হলেন যঈফ। হাদীস বিস্মৃতির শিকার। সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। তাঁরা বলেন, মা’তূহের অর্থাৎ বুদ্ধিভ্রষ্ট লোকের তালাক কার্যকর নয়। কিন্তু যদি মা’তূহ এমন হয় যে, মাঝে মাঝে তার বুদ্ধি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, তবে তার সুস্থতার সময়ের তালাক কার্যকর হবে।

শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ

১১৯২
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ شَبِيبٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّاسُ وَالرَّجُلُ يُطَلِّقُ امْرَأَتَهُ مَا شَاءَ أَنْ يُطَلِّقَهَا وَهِيَ امْرَأَتُهُ إِذَا ارْتَجَعَهَا وَهِيَ فِي الْعِدَّةِ وَإِنْ طَلَّقَهَا مِائَةَ مَرَّةٍ أَوْ أَكْثَرَ حَتَّى قَالَ رَجُلٌ لاِمْرَأَتِهِ وَاللَّهِ لاَ أُطَلِّقُكِ فَتَبِينِي مِنِّي وَلاَ آوِيكِ أَبَدًا . قَالَتْ وَكَيْفَ ذَاكَ قَالَ أُطَلِّقُكِ فَكُلَّمَا هَمَّتْ عِدَّتُكِ أَنْ تَنْقَضِيَ رَاجَعْتُكِ . فَذَهَبَتِ الْمَرْأَةُ حَتَّى دَخَلَتْ عَلَى عَائِشَةَ فَأَخْبَرَتْهَا فَسَكَتَتْ عَائِشَةُ حَتَّى جَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَتْهُ فَسَكَتَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى نَزَلَ الْقُرْآنُ : ( الطَّلاَقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ ) قَالَتْ عَائِشَةُ فَاسْتَأْنَفَ النَّاسُ الطَّلاَقَ مُسْتَقْبَلاً مَنْ كَانَ طَلَّقَ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ طَلَّقَ .
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، نَحْوَ هَذَا الْحَدِيثِ بِمَعْنَاهُ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ يَعْلَى بْنِ شَبِيبٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১১৯৪. কুতায়বা (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকদের অবস্থা এমন ছিল যে, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে যেমন ইচ্ছা তালাক দিয়ে দিত। যদি একশ বা ততোধিক তালাকও দিত তবুও ইদ্দতের ভিতর ফিরিয়ে আনলে এই মহিলা তার স্ত্রী হিসাবেই গণ্য হতো। এমনটি একবার জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল, আল্লাহর কসম, তোমাকে আমি এমনভাবে তালাক দিব না যে, তুমি আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাও, আর কখনো তোমাকে আশ্রয় দিব না। মহিলা বলল, কেমন করে? স্বামী বলল, তোমাকে তালাক দিব আর যখনই তোমার ইদ্দত শেষ হওয়ার উপক্রম হবে তখন আমি তোমার সহিত রাজআত করে নিব। উক্ত মহিলা তখন আয়িশা (রাযিঃ) -এর কাছে গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করল। আয়িশা (রাযিঃ) তা শুনে চুপ রইলেন। অবশেষে নবী (ﷺ) আসলে তাঁকে তিনি ঘটনাটি জানালেন। তা শুনে নবী (ﷺ)চুপ করে রইলেন। এরপর কুরআনের আয়াত নাযিল হলোঃ الطَّلاَقُ مَرَّتَانِ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ

এই তালাক দুইবার, অনন্তর স্ত্রীকে বিধিমত রেখে দিবে অথবা সদয়ভাবে মুক্ত করে দিবে। [সূরা বাকারা ২ঃ২২৫) আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, এরপর লোকেরা, যারা তালাক দিয়েছিল বা তালাক দেয়নি সবাই পরবর্তীতে নতুন করে এ তালাকের অীধকার প্রাপ্ত হলো।

আবু কুরায়ব মুহাম্মাদ ইবনে আলা (রাহঃ) উরওয়া (রাহঃ) থেকে উক্ত মর্মে এই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তবে এই রিওয়ায়াতে আয়িশা (রাযিঃ) -এর উল্লেখ নেই। এই রিওয়ায়াতটি ইয়া’লা ইবনে শাবীব (রাহঃ) এর রিওয়ায়াত থেকে অধিকতর সহীহ।

গর্ভবর্তী মহিলার স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তান ভুমিষ্ট হলে।

باب مَا جَاءَ فِي الْحَامِلِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا تَضَعُ

১১৯৩
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِي السَّنَابِلِ بْنِ بَعْكَكٍ، قَالَ وَضَعَتْ سُبَيْعَةُ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِثَلاَثَةٍ وَعِشْرِينَ أَوْ خَمْسَةٍ وَعِشْرِينَ يَوْمًا فَلَمَّا تَعَلَّتْ تَشَوَّفَتْ لِلنِّكَاحِ فَأُنْكِرَ عَلَيْهَا ذَلِكَ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنْ تَفْعَلْ فَقَدْ حَلَّ أَجَلُهَا " .
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، نَحْوَهُ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي السَّنَابِلِ حَدِيثٌ مَشْهُورٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَلاَ نَعْرِفُ لِلأَسْوَدِ سَمَاعًا مِنْ أَبِي السَّنَابِلِ . وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ لاَ أَعْرِفُ أَنَّ أَبَا السَّنَابِلِ عَاشَ بَعْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنَّ الْحَامِلَ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا إِذَا وَضَعَتْ فَقَدْ حَلَّ التَّزْوِيجُ لَهَا وَإِنْ لَمْ تَكُنِ انْقَضَتْ عِدَّتُهَا . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ تَعْتَدُّ آخِرَ الأَجَلَيْنِ . وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ .

বর্ণনাকারী: আবুস সানাবিল (রাঃ)

১১৯৫. আহমাদ ইবনে মানী’ (রাহঃ) ...... আবুস সানাবিল ইবনে বা’কাক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, স্বামীর ওফাতের তেইশ দিন বা পঁচিশ দিন পর সুবাইআ সন্তান প্রসব করে। নিফাস থেকে পাক হওয়ার পর সে বিয়ের আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু তার এই আগ্রহ কেউ কেউ না পছন্দ করেন। নবী (ﷺ)-এর নিকট বিষয়টি উত্থাপন করা হলে তিনি বললেন, তার ইদ্দত পূর্ণ হয়ে গেছে। - ইবনে মাজাহ

আহমাদ ইবনে মানী’ (রাহঃ) মনসুর (রাহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। এই বিষয়ে উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবুস-সানাবিল (রাযিঃ) এর হাদীসটি এই সূত্রে মাশহুর। আবুস-সানাবিল (রাযিঃ) থেকে আসওয়াদ (রাহঃ) কিছু শুনেছেন বলে আমাদের জানা নেই। মুহাম্মাদ (আল-বুখারী) (রাহঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, নবী-এর ওয়াফাতের পরও আবুস-সানাবিল (রাযিঃ) যে জীবিত ছিলেন তা আমি জানি না। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের আমল এই হাদীস অনুসারে রয়েছে যে, গর্ভবর্তী মহিলার স্বামী মারা যাওয়ার পর যদি সে সন্তান প্রসব করে তবে তার জন্য বিবাহ করা হালাল। যদিও তার (চার মাসের) ইদ্দত পূর্ণ না হয়। এ হলো সুফিয়ান ছাওরী, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেন, এই মহিলা শেষের মুদ্দত পালন করবে। প্রথমোক্ত অভিমতটই অধিকতর সহীহ।
১১৯৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، وَابْنَ، عَبَّاسٍ وَأَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ تَذَاكَرُوا الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا الْحَامِلَ تَضَعُ عِنْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ تَعْتَدُّ آخِرَ الأَجَلَيْنِ . وَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ بَلْ تَحِلُّ حِينَ تَضَعُ . وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَا مَعَ ابْنِ أَخِي يَعْنِي أَبَا سَلَمَةَ فَأَرْسَلُوا إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ قَدْ وَضَعَتْ سُبَيْعَةُ الأَسْلَمِيَّةُ بَعْدَ وَفَاةِ زَوْجِهَا بِيَسِيرٍ فَاسْتَفْتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا أَنْ تَتَزَوَّجَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১১৯৬. কুতায়বা (রাহঃ) ...... সুলাইমান ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আবু হুরায়রা, ইবনে আব্বাস এবং আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রাযিঃ) যে গর্ভবর্তী মহিলা স্বামীর ওয়াফাতের অব্যবহিত পর সন্তান প্রসব করে তার সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। ইবনে আব্বাস বললেন, দুটো মুদ্দতের শেষেরটি দ্বারা ইদ্দত পালন করবে। আবু সালামা বললেন, যখনই সন্তান প্রসব করবে তখনই তার জন্য বিবাহ হালাল। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বললেন, আমি আমার ভ্রাতুষ্পুত্র অর্থাৎ আবু সালামার সঙ্গে আছি। অনন্তুর তারা এই প্রসঙ্গে [জানার জন্য] নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিনী উম্মে সালামা (রাযিঃ)-এর কাছে লোক পাঠান। তিনি বললেন, স্বামীর মৃত্যুর সামান্য দিন পরই সুবাই’আ আল-আসলামিয়্যা সন্তান প্রসব করে। তখন সে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট নিজ সম্পর্কে ফতওয়া জিজ্ঞাসা করে। তখন তিনি তাকে বিবাহ করতে পারে বলে জানালেন।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।

মৃত স্বামীর স্ত্রীর ইদ্দত।

باب مَا جَاءَ فِي عِدَّةِ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا

১১৯৫
حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى، أَنْبَأَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ بِهَذِهِ الأَحَادِيثِ الثَّلاَثَةِ،

قَالَ قَالَتْ زَيْنَبُ دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ حَبِيبَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ تُوُفِّيَ أَبُوهَا أَبُو سُفْيَانَ بْنُ حَرْبٍ فَدَعَتْ بِطِيبٍ فِيهِ صُفْرَةُ خَلُوقٍ أَوْ غَيْرُهُ فَدَهَنَتْ بِهِ جَارِيَةً ثُمَّ مَسَّتْ بِعَارِضَيْهَا ثُمَّ قَالَتْ وَاللَّهِ مَا لِي بِالطِّيبِ مِنْ حَاجَةٍ غَيْرَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا " .
১১৯৭. আনসারী (রাহঃ) ..... হুমায়দ ইবনে নাফে’ থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে যায়নার বিনতে আবু সালামা (রাহঃ) এই তিনটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।

যায়নাব (রাযিঃ) বলেছেন, নবী (ﷺ) এর সহ ধর্মিনী উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) এর পিতা আবু সুফিয়ান ইবনে হারব (রাযিঃ) এর ইন্‌তিকালের পর আমি তাঁর কাছে গেলাম। তিনি ডেকে সুগন্ধি আনলেন। এতে হলদে রং এর জাফরানী বা এ জাতীয় আতর ছিল। তিনি একটি বালিকার গায়ে তা লাগালেন। এরপরে স্বীয় গণ্ডদ্বায়ে তা লাগালেন। তারপর বললেন, আমার এই সুগন্ধি ব্যবহারের কোন প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ্ ও শেষদিনে ঈমান রাখে তার পক্ষে হালাল নয় কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিনদিনের অধিক শোক পালন করা। তবে স্বামীর জন্য চারমাস দশ দিন। - আবু দাউদ, বুখারি, মুসলিম
১১৯৬

قَالَتْ زَيْنَبُ فَدَخَلْتُ عَلَى زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ حِينَ تُوُفِّيَ أَخُوهَا فَدَعَتْ بِطِيبٍ فَمَسَّتْ مِنْهُ ثُمَّ قَالَتْ وَاللَّهِ مَا لِي فِي الطِّيبِ مِنْ حَاجَةٍ غَيْرَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا " .

১১৯৯. যায়নাব (রাযিঃ) বলেন, যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাযিঃ)-এর ভ্রাতা মারা যাওয়ার পর আমি তাঁর কাছে গেলাম। তিনি সুগন্ধি আনলেন এবং তা লাগালেন। পরে বললেন, আল্লাহর কসম, আমার সুগন্ধি ব্যবহারের কোন প্রয়োজন ছিল না। তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ্ ও শেষ দিনে ঈমান রাখে তার পক্ষে হালাল নয় কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন রাত্রির অধক শোক পালন করা। তবে স্বামীর জন্য চার মাস দশ দিন।

১১৯৭

قَالَتْ زَيْنَبُ وَسَمِعْتُ أُمِّي أُمَّ سَلَمَةَ، تَقُولُ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنَتِي تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا وَقَدِ اشْتَكَتْ عَيْنَيْهَا أَفَنَكْحَلُهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ " مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ كُلُّ ذَلِكَ يَقُولُ " لاَ " . ثُمَّ قَالَ " إِنَّمَا هِيَ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا وَقَدْ كَانَتْ إِحْدَاكُنَّ فِي الْجَاهِلِيَّةِ تَرْمِي بِالْبَعْرَةِ عَلَى رَأْسِ الْحَوْلِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ فُرَيْعَةَ بِنْتِ مَالِكٍ أُخْتِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَحَفْصَةَ بِنْتِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ زَيْنَبَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . - وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ أَنَّ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا تَتَّقِي فِي عِدَّتِهَا الطِّيبَ وَالزِّينَةَ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

১২০০. যায়নাব (রাযিঃ) বলেন, আমার মা উম্মে সালামা (রাযিঃ)কে বলতে শুনেছি যে, জনৈকা মহিলা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার কন্যার স্বামী মারা গেছে। বর্তমানে তার চোখ রোগক্রান্ত। আমরা কি তাকে সুরমা ব্যবহার করাতে পারি? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, না। বর্ণনাকারী বলেন, দুবার বা তিনবার যতবারই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে অনুমতির কথা বলা হল, ততবারই তিনি বললেন, না। এরপর তিনি বললেন, এ তো হলো মাত্র চার মাস দশ দিন। অথচ জাহিলী আমলে এজন্য তোমরা বৎসরান্তে উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করতে।*

এই বিষয়ে আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) এর ভগ্নী ফুরায়’আ বিনতে মালিক সিনান ও হাফসা বিনতে উমর (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, যায়নাব (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের আমল এই হাদীস অনুসারে রয়েছে যে, যে মহিলার স্বামী মারা গেছে সে ইদ্দত পালনের সময় সুগন্ধি ও সাজ-সজ্জা থেকে বিরত থাকবে। এ হলো ইমাম সুফিয়ান ছাওরী, মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত।

*জাহিলী আমলে কোন মহিলার স্বামী মারা গেলে রীতি ছিল যে, তাকে একটি সংকীর্ণ ঘরে একাকী থাকতে হত এবং ভাল পোশাক-পরিচ্ছদ ও সুগন্ধি কিছুই ব্যবহার করতে পারত না। এভাবে একবছর অতিবাহিত হলে গাধা বা বকরীর মাধ্যমে তার ভাঙ্গ ছোয়ান হত। পরে ঐ ঘর থেকে বের হত এবং তার হাতে উটের বিষ্ঠা প্রদান করা হত। আর সে তা নিক্ষেপ করে ইন্দত থেকে মুক্ত হত। ইসলাম এই ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সহজ, মানুষের স্বভাবানুগ বিধান দিয়েছে। এখানে এদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

কাফ্ফারা প্রদানের পূর্বে জিহারকারীর সঙ্গত হওয়া প্রসঙ্গে।

باب مَا جَاءَ فِي الْمُظَاهِرِ يُوَاقِعُ قَبْلَ أَنْ يُكَفِّرَ

১১৯৮

حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ صَخْرٍ الْبَيَاضِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمُظَاهِرِ يُوَاقِعُ قَبْلَ أَنْ يُكَفِّرَ قَالَ " كَفَّارَةٌ وَاحِدَةٌ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِذَا وَاقَعَهَا قَبْلَ أَنْ يُكَفِّرَ فَعَلَيْهِ كَفَّارَتَانِ . وَهُوَ قَوْلُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ .

১২০১. আবু সাঈদ আশাজ্জ (রাহঃ) ...... সালামা ইবনে সাখর বায়াযী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) জিহারের* কাফফারা প্রদানের পূর্বে সংগত হওয়া প্রসঙ্গে বলেছেন। (এমতাবস্থায়ও) এর জন্য একই কাফফারা।

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-গারীব। এই হাদীস অনুসারে অধিকাংশ আলিমের আমল রয়েছে। এ হলো ইমাম সুফিয়ান ছাওরী, মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। কতক আলিম বলেন, কাফফারা প্রদানের পূর্বেই যদি কেউ স্ত্রীর সহিত সঙ্গত হয় তবে তাকে দুই কাফফারা দিতে হবে। এ হলো আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী (রাহঃ) এর অভিমত।

* স্ত্রীকে মা বা বিয়ে করা হারাম এমন কারো সঙ্গে তুলনা করে তাকে হারাম করা। এমতাবস্থায় কাফ্ফারা না দেওয়া পর্যন্ত সঙ্গত হওয়া হারাম। বিস্তারিত ফিক্হ গ্রন্থসমূহে দেখুন।
১১৯৯

أَنْبَأَنَا أَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، أَنْبَأَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَدْ ظَاهَرَ مِنِ امْرَأَتِهِ فَوَقَعَ عَلَيْهَا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي قَدْ ظَاهَرْتُ مِنْ زَوْجَتِي فَوَقَعْتُ عَلَيْهَا قَبْلَ أَنْ أُكَفِّرَ . فَقَالَ " وَمَا حَمَلَكَ عَلَى ذَلِكَ يَرْحَمُكَ اللَّهُ " . قَالَ رَأَيْتُ خُلْخَالَهَا فِي ضَوْءِ الْقَمَرِ . قَالَ " فَلاَ تَقْرَبْهَا حَتَّى تَفْعَلَ مَا أَمَرَكَ اللَّهُ بِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ صَحِيحٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১২০২. আবু আম্মার হুসাইন ইবনে হুরায়ছ (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি জিহার করার পর তার স্ত্রীর সাথে সঙ্গত হল। এপর সে নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে জিহার করেছিলাম। কিন্তু কাফফারা প্রদানের পূর্বেই তার সঙ্গে সঙ্গত হয়েছি। তিনি বললেন, আল্লাহ্ তোমার প্রতি রহম করুন। এতে লিপ্ত হতে কিসে তোমাকে উদ্বুদ্ধ করল? সে বলল, চাঁদের আলোতে তার পায়ের খাড়ুর প্রতি দৃষ্টি পড়ে যায়। (ফলে......)। তিনি বললেন, আল্লাহ্ তোমাকে (কাফফারার) যে নির্দেশ দিয়েছেন তা সমাধান না করে আর স্ত্রীর কাছেও যেওনা। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।

জিহারের কাফফারা।

باب مَا جَاءَ فِي كَفَّارَةِ الظِّهَارِ

১২০০

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَنْبَأَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْخَزَّازُ، أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، أَنْبَأَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، أَنْبَأَنَا أَبُو سَلَمَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، أَنَّ سَلْمَانَ بْنَ صَخْرٍ الأَنْصَارِيَّ، أَحَدَ بَنِي بَيَاضَةَ جَعَلَ امْرَأَتَهُ عَلَيْهِ كَظَهْرِ أُمِّهِ حَتَّى يَمْضِيَ رَمَضَانُ فَلَمَّا مَضَى نِصْفٌ مِنْ رَمَضَانَ وَقَعَ عَلَيْهَا لَيْلاً فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَعْتِقْ رَقَبَةً " . قَالَ لاَ أَجِدُهَا . قَالَ " فَصُمْ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ " . قَالَ لاَ أَسْتَطِيعُ . قَالَ " أَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا " . قَالَ لاَ أَجِدُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِفَرْوَةَ بْنِ عَمْرٍو " أَعْطِهِ ذَلِكَ الْعَرَقَ " . وَهُوَ مِكْتَلٌ يَأْخُذُ خَمْسَةَ عَشَرَ صَاعًا أَوْ سِتَّةَ عَشَرَ صَاعًا فَقَالَ " أَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ . يُقَالُ سَلْمَانُ بْنُ صَخْرٍ وَيُقَالُ سَلَمَةُ بْنُ صَخْرٍ الْبَيَاضِيُّ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي كَفَّارَةِ الظِّهَارِ .

১২০৩. ইসহাক ইবনে মনসুর (রাহঃ) ..... আবু সালামা ও মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, বনু বায়যার জনৈক ব্যক্তি সালমান ইবনে সাখর আনসারী স্ত্রীকে তার মায়ের পিঠের সঙ্গে তুলনা করে (জিহার করে)। এমতাবস্থায় রমযান অতিবাহিত হচ্ছিল। রমাযানের অর্ধেক হলে পর একরাতে ঐ ব্যক্তি তার উক্ত স্ত্রীর সাথে সঙ্গত হয়। অনন্তর সে রাসূলুল্লা্হ (ﷺ)-এর কাছে এসে ঐ ঘটনা বিবৃত করে। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে বললেন, একটি গোলাম আযাদ করে দাও। সে বলল, আমার তা নেই। তিনি বললেন, একনাগাড়ে দুই মাস রোযা পালন কর। সে বলল, আমি তা করতে সমর্থ নই। তিনি বললেন, ষাটজন মিসকীনকে আহার্য দাও। সে বলল, তারও সামর্থ আমার নই। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ফারওয়া ইবনে আমর (রাযিঃ) কে বললেন, ষাট জন মিসকীনের খাদ্য প্রদান করার জন্য এই ‘আরাকটি’’ (পনের সা বা ষোল সা খাদ্য ধরে এমন পাত্র), লোকটিকে দিয়ে দাও। - ইবনে মাজাহ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান। বলা হয়, ইনি সালমান ইবনে সাখর (রাযিঃ) বলা হয়, সালামা ইবনে সাখর বায়যী। জিহারের কাফফারার ক্ষেত্রে এই হাদীস অনুসারে আলিমগণের আমল রয়েছে।

ঈলা।

باب مَا جَاءَ فِي الإِيلاَءِ

১২০১

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ قَزَعَةَ الْبَصْرِيُّ، أَنْبَأَنَا مَسْلَمَةُ بْنُ عَلْقَمَةَ، أَنْبَأَنَا دَاوُدُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ آلَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ نِسَائِهِ وَحَرَّمَ فَجَعَلَ الْحَرَامَ حَلاَلاً وَجَعَلَ فِي الْيَمِينِ كَفَّارَةً . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَأَبِي مُوسَى . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ مَسْلَمَةَ بْنِ عَلْقَمَةَ عَنْ دَاوُدَ رَوَاهُ عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ وَغَيْرُهُ عَنْ دَاوُدَ عَنِ الشَّعْبِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم . مُرْسَلاً . وَلَيْسَ فِيهِ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ مَسْلَمَةَ بْنِ عَلْقَمَةَ . وَالإِيلاَءُ هُوَ أَنْ يَحْلِفَ الرَّجُلُ أَنْ لاَ يَقْرُبَ امْرَأَتَهُ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ فَأَكْثَرَ . وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِيهِ إِذَا مَضَتْ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ فَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ إِذَا مَضَتْ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ يُوقَفُ فَإِمَّا أَنْ يَفِيءَ وَإِمَّا أَنْ يُطَلِّقَ . وَهُوَ قَوْلُ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ إِذَا مَضَتْ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ فَهِيَ تَطْلِيقَةٌ بَائِنَةٌ . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১২০৪. হাসান ইবনে কাযাআ বসরী (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের সঙ্গে ঈলা করেছিলেন। আর একটি হালাল বিষয়কে (নিজের জন্য) হারাম কসম করে ফেলেছিলেন। আর তিনি এই কসমের কারণে কাফফারা প্রদান করেছিলেন।

এই বিষয়ে আবু মুসা ও আনাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। মাসলামা ইবনে আলকামা-দাউদ সূত্রে বর্ণিত এই রিওয়ায়াতটি আলী ইবনে মুসহির প্রমূখ দাউদ-শাবী সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। এই সনদে মাসরূক-আয়িশা (রাযিঃ)-এর উল্লেখ নাই। এটি মাসলামা ইবনে আলকামা (রাহঃ) এর সূত্র থেকে অধিকতর সহীহ। ঈলা হল চার মাস বা ততোধিক স্ত্রী গমন না করার কসম করা। এমতাবস্থায় চার মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে বিধান কি হবে? সে সম্পর্কে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেন, এমতাবস্থায় চার মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে তাওয়াক-কূফ’ করা হবে। ইচ্ছা করলে সে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারবে বা ইচ্ছা করতে তালাক দিতে পারবে। এ হলো মালিক ইবনে আনাস, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম বলেন, যদি চার মাস অতিবাহিত হয়ে যায় তবে এক তালাক বাইন আপতিত হবে। এ হলো সুফিয়ান সাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণের অভিমত।

লিআন।*

باب مَا جَاءَ فِي اللِّعَانِ

১২০২

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ سُئِلْتُ عَنِ الْمُتَلاَعِنَيْنِ، فِي إِمَارَةِ مُصْعَبِ بْنِ الزُّبَيْرِ أَيُفَرَّقُ بَيْنَهُمَا فَمَا دَرَيْتُ مَا أَقُولُ فَقُمْتُ مَكَانِي إِلَى مَنْزِلِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ اسْتَأْذَنْتُ عَلَيْهِ فَقِيلَ لِي إِنَّهُ قَائِلٌ . فَسَمِعَ كَلاَمِي فَقَالَ ابْنُ جُبَيْرٍ ادْخُلْ مَا جَاءَ بِكَ إِلاَّ حَاجَةٌ . قَالَ فَدَخَلْتُ فَإِذَا هُوَ مُفْتَرِشٌ بَرْدَعَةَ رَحْلٍ لَهُ . فَقُلْتُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُتَلاَعِنَانِ أَيُفَرَّقُ بَيْنَهُمَا قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ نَعَمْ إِنَّ أَوَّلَ مَنْ سَأَلَ عَنْ ذَلِكَ فُلاَنُ بْنُ فُلاَنٍ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ أَحَدَنَا رَأَى امْرَأَتَهُ عَلَى فَاحِشَةٍ كَيْفَ يَصْنَعُ إِنْ تَكَلَّمَ تَكَلَّمَ بِأَمْرٍ عَظِيمٍ وَإِنْ سَكَتَ سَكَتَ عَلَى أَمْرٍ عَظِيمٍ . قَالَ فَسَكَتَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يُجِبْهُ فَلَمَّا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ الَّذِي سَأَلْتُكَ عَنْهُ قَدِ ابْتُلِيتُ بِهِ . فَأَنْزَلَ اللَّهُ هَذِهِ الآيَاتِ الَّتِي فِي سُورَةِ النُّور : (وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلاَّ أَنْفُسُهُمْ ) حَتَّى خَتَمَ الآيَاتِ فَدَعَا الرَّجُلَ فَتَلاَ الآيَاتِ عَلَيْهِ وَوَعَظَهُ وَذَكَّرَهُ وَأَخْبَرَهُ أَنَّ عَذَابَ الدُّنْيَا أَهْوَنُ مِنْ عَذَابِ الآخِرَةِ . فَقَالَ لاَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا كَذَبْتُ عَلَيْهَا . ثُمَّ ثَنَّى بِالْمَرْأَةِ فَوَعَظَهَا وَذَكَّرَهَا وَأَخْبَرَهَا أَنَّ عَذَابَ الدُّنْيَا أَهْوَنُ مِنْ عَذَابِ الآخِرَةِ فَقَالَتْ لاَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا صَدَقَ . قَالَ فَبَدَأَ بِالرَّجُلِ فَشَهِدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَةَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِنْ كَانَ مِنَ الْكَاذِبِينَ . ثُمَّ ثَنَّى بِالْمَرْأَةِ فَشَهِدَتْ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ . ثُمَّ فَرَّقَ بَيْنَهُمَا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَحُذَيْفَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২০৫. হান্নাদ (রাহঃ) ...... সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, মুসআব ইবনে যুবাইর যখন (ইরাক অঞ্চলের) আমীর তখন আমাকে লিআনকারী স্বামী-স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু এই বিষয়ে কি বলব তা আমার জনা ছিল না। তাই আমি আমার ঘর থেকে উঠে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) এর বাড়িতে গেলাম এবং তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলাম। আমাকে বলা হল যে, তিনি দুপুরের বিশ্রাম নিচ্ছেন। এই সময় তিনি (নিজে ভিতর থেকে) আমার কথা শুনে বললেন, ইবনে জুবাইর, ভিতরে এসো। কোন প্রয়োজন ছাড়া অন্য কিছু তোমাকে এখানে নিয়ে আসেনি। ইবনে জুবাইর বলেন, আমি ভিতরে প্রবেশ করলাম। (দেখলাম) তিনি উটের পিঠে ব্যবহৃত আসেনের একটি কাপড়ের টুকরায় শুয়ে আছেন। আমি বললাম, হে আবু আব্দুর রহমান, লিআনকারী স্বামী-স্ত্রীর একজনকে আরেকজন থেকে কি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে? তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ্, হ্যাঁ।

এই বিষয়ে অমুকের ছেলে অমুক সর্বপ্রথম জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলেছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্, কি বলেন, কেউ যদি তার স্ত্রীকে অপকর্মে দেখতে পায় তবে সে কি করবে? যদি সে এই বিষয়ে কথা বলে তবুও ভীষণ এক বিষয়ে সে কথা বলল। আর চুপ থাকলেও তো সে মারাত্মক এক বিষয়ে চুপ রইল। ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, (এই কথা শুনে) নবী (ﷺ) চুপ করে রইলেন, তাকে কোন জবাব দিলেন না। এই ঘটনার পর ঐ সাহাবী আবার নবী (ﷺ)-এর কাছে এলেন। বললেন, যে বিষয়ে আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম সে বিষয়ে আমিই নিপতিত। তখন আল্লাহ্ তাআলা সূরা নূরের এই আয়াত নাযিল করেনঃ وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلاَّ أَنْفُسُهُمْ - আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নাই ......আয়াতের শেষ পর্যন্ত। পঞ্চমবার বলবে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার উপর নেমে আসবে আল্লাহর লা’নত। আর স্ত্রীর শাস্তি রহিত হবে যদি সে চারবার আল্লাহর নামে কসম করে সাক্ষ্য দেয় যে তার স্বামী অবশ্যই মিথ্যাবাদী। এবং পঞ্চমবারে বলে, তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার নিজের উপর নেমে আসবে আল্লাহর গযব। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমাদের কেউ অব্যাহতি পেতে না। নিশ্চয় আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, প্রজ্ঞাময়। [সূরা নূর ২৪ : ৬-১০]

অনন্তর তিনি ঐ ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং আয়াতগুলো তাকে তিলাওয়াত করে শোনালেন, তাকে নছীহত করে বুঝালেন এবং জানালেন যে, দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের আযাবের তুলনায় সহজতর। সে বলল, না, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন। আমি আমার স্ত্রী সম্পর্কে মিথ্যা বলিনি। এরপর তিনি মহিলাটির দিকে ফিরলেন এবং তাকে নসীহত করলেন ও উপদেশ দিলেন। আর তাকে জানালেন, দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের আযাবের তুলনায় সহজতর। মহিলাটি বলল, না, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য সহ প্রেরণ করেছেন। সে সত্য বলেনি। রাবী বলেন অতঃপর নবী (ﷺ) পুরুষটিকে দিয়ে শুরু করলেন। সে চারবার আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দিল যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী। পঞ্চমবারে বলল, সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহর লা’নত। এরপর নবী (ﷺ) মহিলাটির প্রতি ফিরলেন। মহিলাটিও চারবার আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দিল যে, পুরুষটি মিথ্যা বলেছে। পঞ্চমবারে বলল, পুরুষটি যদি সত্যবাদী হয়ে থাকে তবে তার নিজের উপর আল্লাহর গযব নেমে আসবে। অতঃপর নবী (ﷺ) তাদের উভয়কে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন। - আবু দাউদ , মুসলিম

এই বিষয়ে সাহল ইবনে সা’দ, ইবনে আব্বাস, হুযাইফা, ও ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ।

* কেউ যদি স্বীয় স্ত্রীর প্রতি ব্যভিচারের সন্দেহ করে তবে কাজীর দরবারে বিশেষ এক প্রক্রিয়ায় মিথ্যাবাদী হলে নিজের উপর লা'নত করে বিবাহ বিচ্ছেদের বিধানকে লিআন বলে। বিস্তারিত ফিক্হ গ্রন্থসমূহের ‘লিআন' অধ্যায়ে দেখুন।

লিআন।

باب مَا جَاءَ فِي اللِّعَانِ

১২০৩

أَنْبَأَنَا قُتَيْبَةُ، أَنْبَأَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ لاَعَنَ رَجُلٌ امْرَأَتَهُ وَفَرَّقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَهُمَا وَأَلْحَقَ الْوَلَدَ بِالأُمِّ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২০৬. কুতায়বা (রাহঃ) ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে ‘‘লিআন’’ করে। নবী (ﷺ) তাদের উভয়কে বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং সন্তানটিকে মায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেন। - ইবনে মাজাহ, নাসাঈ

ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।। এর উপরই আলিমগণের আমল রয়েছে।

যার স্বামী মারা গেছে সেই মহিলা কোথায় ইদ্দত পালন করবে?

باب مَا جَاءَ أَيْنَ تَعْتَدُّ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا

১২০৪
حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، أَنْبَأَنَا مَعْنٌ، أَنْبَأَنَا مَالِكٌ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، عَنْ عَمَّتِهِ، زَيْنَبَ بِنْتِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ أَنَّ الْفُرَيْعَةَ بِنْتَ مَالِكِ بْنِ سِنَانٍ، وَهِيَ أُخْتُ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَخْبَرَتْهَا أَنَّهَا، جَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَسْأَلُهُ أَنْ تَرْجِعَ إِلَى أَهْلِهَا فِي بَنِي خُدْرَةَ وَأَنَّ زَوْجَهَا خَرَجَ فِي طَلَبِ أَعْبُدٍ لَهُ أَبَقُوا حَتَّى إِذَا كَانَ بِطَرَفِ الْقَدُومِ لَحِقَهُمْ فَقَتَلُوهُ . قَالَتْ فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَرْجِعَ إِلَى أَهْلِي فَإِنَّ زَوْجِي لَمْ يَتْرُكْ لِي مَسْكَنًا يَمْلِكُهُ وَلاَ نَفَقَةً . قَالَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَعَمْ " . قَالَتْ فَانْصَرَفْتُ حَتَّى إِذَا كُنْتُ فِي الْحُجْرَةِ أَوْ فِي الْمَسْجِدِ نَادَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ أَمَرَ بِي فَنُودِيتُ لَهُ فَقَالَ " كَيْفَ قُلْتِ " . قَالَتْ فَرَدَدْتُ عَلَيْهِ الْقِصَّةَ الَّتِي ذَكَرْتُ لَهُ مِنْ شَأْنِ زَوْجِي قَالَ " امْكُثِي فِي بَيْتِكِ حَتَّى يَبْلُغَ الْكِتَابُ أَجَلَهُ " . قَالَتْ فَاعْتَدَدْتُ فِيهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا . قَالَتْ فَلَمَّا كَانَ عُثْمَانُ أَرْسَلَ إِلَىَّ فَسَأَلَنِي عَنْ ذَلِكَ فَأَخْبَرْتُهُ فَاتَّبَعَهُ وَقَضَى بِهِ .
أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، أَنْبَأَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، أَنْبَأَنَا سَعْدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، فَذَكَرَ نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ لَمْ يَرَوْا لِلْمُعْتَدَّةِ أَنْ تَنْتَقِلَ مِنْ بَيْتِ زَوْجِهَا حَتَّى تَنْقَضِيَ عِدَّتُهَا . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ لِلْمَرْأَةِ أَنْ تَعْتَدَّ حَيْثُ شَاءَتْ وَإِنْ لَمْ تَعْتَدَّ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১২০৭. আনসারী (রাহঃ) ...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) এর ভগ্নি ফুরায়’আ বিনতে মালিক ইবনে সিনান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বনু খুদরায় তার স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়ায়ার বিষয়ে নবী (ﷺ)-এর নিকট জিজ্ঞাসা করতে এসেছিলেন। তার স্বামী তার কতকগুলি পলাতক গোলামের খোঁজে বের হয়েছিলেন। তারাফুল কুদুম নামক স্থানে তাঁদের সঙ্গে তার সাক্ষাত হয়। সেখানে তাঁরা তাকে মেরে ফেলে। ফুরায়’আ বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে আমার স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। কারণ, স্বামী আমার জন্য এমন কোন বাসস্থান রেখে যাননি, যা তার মালিকানায় ছিল এবং কোন খোরপোষের ব্যবস্থাও ছিল না। নবী (ﷺ) (অনুমতি সূচক) হ্যাঁ বললেন। অনন্তর আমি ফিরে চললাম। আমি তখনও হুজরায়ই ছিলাম, অথবা মসজিদে ছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে ডাকলেন এবং (পুনরায়) বর্ণনা করার আদেশ করলেন। আমি আমার স্বামী সম্পর্কে যা বলেছিলাম সম্পূর্ণ ঘটনা আবার বললাম।

তিনি বললেন, ইদ্দত পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তুমি তোমার পূর্ব গৃহেই অবস্থান করবে। অনন্তর আমি সেখানেই চারমাস দশ দিন ইদ্দত পালন করি। পরে উছমান (রাযিঃ) যখন খলীফা হলেন, তখন আমার নিকট লোক পাঠিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলেন। আমি তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলাম। অনন্তর তিনি এর অনুসরণ করেছেন এবং এতদনুসারেই ফায়সালা দিয়েছেন। - ইবনে মাজাহ

মুহম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) সা’দ ইবনে ইসহাক ইবনে কা’ব ইবনে উজরা (রাহঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণের এই হাদীস অনুসারে আমল রয়েছে। তাঁরা ইদ্দত অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত স্বামীর ঘর থেকে ইদ্দত পালনকারিনী মহিলার চলে যাওয়ার অনুমতি দেন না। এ হলো ইমাম সুফিয়ান ছাওরী, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রাহঃ)-এর অভিমত। কতক সাহাবী ও অপরাপর কিছু আলিম বলেন, ঐ মহিলা স্বামীর ঘর ছাড়াও যেখানে ইচ্ছা ইদ্দত পালন করতে পারবে। ইমাম আবু ঈসা (রাহঃ) বলেন, প্রথমোক্ত মতটি অধিকতর সহীহ।