كتاب الصلاة

২. নামাযের অধ্যায়

অধ্যায় ২ · ১১৬৫ টি হাদীস

১. নামায ফরয হওয়ার বর্ণনা।

باب فرض الصَّلاَةِ

৩৯১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَمِّهِ أَبِي سُهَيْلِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ طَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ، يَقُولُ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَهْلِ نَجْدٍ ثَائِرَ الرَّأْسِ يُسْمَعُ دَوِيُّ صَوْتِهِ وَلاَ يُفْقَهُ مَا يَقُولُ حَتَّى دَنَا فَإِذَا هُوَ يَسْأَلُ عَنِ الإِسْلاَمِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَمْسُ صَلَوَاتٍ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ " . قَالَ هَلْ عَلَىَّ غَيْرُهُنَّ قَالَ " لاَ إِلاَّ أَنْ تَطَّوَّعَ " . قَالَ وَذَكَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صِيَامَ شَهْرِ رَمَضَانَ قَالَ هَلْ عَلَىَّ غَيْرُهُ قَالَ " لاَ إِلاَّ أَنْ تَطَّوَّعَ " . قَالَ وَذَكَرَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّدَقَةَ . قَالَ فَهَلْ عَلَىَّ غَيْرُهَا قَالَ " لاَ إِلاَّ أَنْ تَطَّوَّعَ " . فَأَدْبَرَ الرَّجُلُ وَهُوَ يَقُولُ وَاللَّهِ لاَ أَزِيدُ عَلَى هَذَا وَلاَ أَنْقُصُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفْلَحَ إِنْ صَدَقَ " .

বর্ণনাকারী: তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাঃ)

৩৯১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা .... তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ্ (রাযিঃ) বলেন, একদা নজদের জনৈক অধিবাসী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খেদমতে এমতাবস্থায় আগমন করে যে, তার মাথার চুল ছিল উষ্ক-খুষ্ক, তার মুখে বিড়বিড় শব্দ শোনা যাচ্ছিল এবং তার কথাগুলি ছিল অস্পট। এমতাবস্থায় সে নবী (ﷺ) এর নিকটবর্তী হয়ে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। জবাবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ দিবা রাত্রির মধ্যে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা ফরয। তখন সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে, তা ছাড়া তাঁর কিছু করণীয় আছে কি? জবাবে নবী (ﷺ) বলেনঃ না, যদি তুমি অতিরিক্ত (নফল) কিছু আদায় কর।

রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর নিকট রমযানের রোযার কথা উল্লেখ করেন। তখন সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে, এ ছাড়া অধিক কিছু করণীয় আছে কি? জবাবে নবী (ﷺ) বলেনঃ না, কিন্তু যদি তুমি অতিরিক্ত কিছু কর।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জন্য সাদকার (যাকাত) কথা উল্লেখ করেন। তখন সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে, এ ছাড়া অতিরিক্ত কিছু দিতে হবে কি? জবাবে তিনি বলেন, না; তবে যদি তুমি অতিরিক্ত কিছু দান কর।

অতঃপর লোকটি প্রত্যাবর্তনের সময় বললঃ আল্লাহর শপথ! আমি এর চেয়েে বেশী বা কম করব না। এতদশ্রবণে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ লোকটি যদি তার কথায় সত্য হয়, তবে সে অবশ্যই কামিয়াব (কৃতকার্য) হল।
৩৯২

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَدَنِيُّ، عَنْ أَبِي سُهَيْلٍ، نَافِعِ بْنِ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ بِإِسْنَادِهِ بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ " أَفْلَحَ وَأَبِيهِ إِنْ صَدَقَ دَخَلَ الْجَنَّةَ وَأَبِيهِ إِنْ صَدَقَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৩৯২. সুলাইমান ইবনে দাউদ .... আবু সুহায়েল নাফে ইবনে মালিক থেকে পূর্বোক্ত হাদীসের সনদ পরস্পরায় অনুরূপ বর্ণিত আছে। নবী (ﷺ) বলেন, তার পিতার শপথ! সে যদি সত্যবাদী হয় তবে অবশ্যই সফলকাম হবে। তার পিতার শপথ! সে যদি সত্যবাদী হয় তবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আল মুওয়াত্তা - ইমাম মালিক রহঃ

২. নামাযের ওয়াক্তসমূহ সম্পর্কে

باب الْمَوَاقِيتِ

৩৯৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ فُلاَنِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ هُوَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ عَيَّاشِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ - عَنْ حَكِيمِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَّنِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ عِنْدَ الْبَيْتِ مَرَّتَيْنِ فَصَلَّى بِيَ الظُّهْرَ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ وَكَانَتْ قَدْرَ الشِّرَاكِ وَصَلَّى بِيَ الْعَصْرَ حِينَ كَانَ ظِلُّهُ مِثْلَهُ وَصَلَّى بِيَ - يَعْنِي الْمَغْرِبَ - حِينَ أَفْطَرَ الصَّائِمُ وَصَلَّى بِيَ الْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ وَصَلَّى بِيَ الْفَجْرَ حِينَ حَرُمَ الطَّعَامُ وَالشَّرَابُ عَلَى الصَّائِمِ فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ صَلَّى بِيَ الظُّهْرَ حِينَ كَانَ ظِلُّهُ مِثْلَهُ وَصَلَّى بِيَ الْعَصْرَ حِينَ كَانَ ظِلُّهُ مِثْلَيْهِ وَصَلَّى بِيَ الْمَغْرِبَ حِينَ أَفْطَرَ الصَّائِمُ وَصَلَّى بِيَ الْعِشَاءَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ وَصَلَّى بِيَ الْفَجْرَ فَأَسْفَرَ ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَىَّ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ هَذَا وَقْتُ الأَنْبِيَاءِ مِنْ قَبْلِكَ وَالْوَقْتُ مَا بَيْنَ هَذَيْنِ الْوَقْتَيْنِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৩৯৩. মুসাদ্দাদ ইবনে মুসারহাদ ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) বায়তুল্লাহ্ শরীফের নিকটে দুইবার আমার নামাযে ইমামতি করেছেন। প্রথমবার তিনি আমাকে নিয়ে যোহরের নামায আদায় করেন, যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে সামান্য ঢলে পড়েছিল এবং সেন্ডেলের এক ফিতা পরিমাণ সামান্য ছায়া বায়তুল্লাহর পূর্ব দিকে দেখা দিয়েছিল।

অতঃপর তিনি আমাকে নিয়ে আসরের নামায আদায় করেন যখন প্রত্যেক বস্তুর ছায়া তাঁর সম পরিমাণ হয়। পরে তিনি আমাকে নিয়ে মাগরিবের নামায আদায় করেন, যখন রোযাদার ইফতার করে। অতঃপর তিনি আমাকে নিয়ে রাতের এক-তৃতীয়াংশে এশার নামায আদায় করেন। পরে তিনি আমাকে নিয়ে ফজরের নামায ঐ সময় আদায় করেন-যখন দিগন্ত উজ্জ্বল হয়ে যায়। অতঃপর তিনি (জিবরাঈল) আমাকে লক্ষ্য করে বলেনঃ ইয়া মুহাম্মাদ! আপনার পূর্ববর্তী আম্বিয়াদের জন্য এটাই নামাযের নির্ধারিত সময় এবং এই সময়ের মাঝখানেই নামাযের সময়।*

* এতে বুঝা যায় যে, নামায আদায়ের নিয়ম পদ্ধতি এবং প্রত্যেক নামাযের জন্য নির্ধারিত সময় ইত্যাদি আল্লাহ পাকের নির্দেশে হযরত জিবরাঈল (আ) কর্তৃক মহনবী (স)-কে জামাআতের সাথে ব্যবহারিকভাবে শিক্ষা দান করা হয়েছিল। এ হতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের প্রথম ও শেষ সময় নির্ধারিত হয়েছে যা সারা দুনিয়ায় মুসলমানগণ অনুসরণ করে থাকে। জামাআতের সাথে নামায আদায়ের গুরুত্বও এ দ্বারা প্রমাণিত হয়। —(অনুবাদক)

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

৩৯৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ اللَّيْثِيِّ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ كَانَ قَاعِدًا عَلَى الْمِنْبَرِ فَأَخَّرَ الْعَصْرَ شَيْئًا فَقَالَ لَهُ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَمَا إِنَّ جِبْرِيلَ صلى الله عليه وسلم قَدْ أَخْبَرَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم بِوَقْتِ الصَّلاَةِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ اعْلَمْ مَا تَقُولُ . فَقَالَ عُرْوَةُ سَمِعْتُ بَشِيرَ بْنَ أَبِي مَسْعُودٍ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " نَزَلَ جِبْرِيلُ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَنِي بِوَقْتِ الصَّلاَةِ فَصَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ " . يَحْسُبُ بِأَصَابِعِهِ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ حِينَ تَزُولُ الشَّمْسُ وَرُبَّمَا أَخَّرَهَا حِينَ يَشْتَدُّ الْحَرُّ وَرَأَيْتُهُ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ بَيْضَاءُ قَبْلَ أَنْ تَدْخُلَهَا الصُّفْرَةُ فَيَنْصَرِفُ الرَّجُلُ مِنَ الصَّلاَةِ فَيَأْتِي ذَا الْحُلَيْفَةِ قَبْلَ غُرُوبِ الشَّمْسِ وَيُصَلِّي الْمَغْرِبَ حِينَ تَسْقُطُ الشَّمْسُ وَيُصَلِّي الْعِشَاءَ حِينَ يَسْوَدُّ الأُفُقُ وَرُبَّمَا أَخَّرَهَا حَتَّى يَجْتَمِعَ النَّاسُ وَصَلَّى الصُّبْحَ مَرَّةً بِغَلَسٍ ثُمَّ صَلَّى مَرَّةً أُخْرَى فَأَسْفَرَ بِهَا ثُمَّ كَانَتْ صَلاَتُهُ بَعْدَ ذَلِكَ التَّغْلِيسَ حَتَّى مَاتَ وَلَمْ يَعُدْ إِلَى أَنْ يُسْفِرَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الزُّهْرِيِّ مَعْمَرٌ وَمَالِكٌ وَابْنُ عُيَيْنَةَ وَشُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ وَغَيْرُهُمْ لَمْ يَذْكُرُوا الْوَقْتَ الَّذِي صَلَّى فِيهِ وَلَمْ يُفَسِّرُوهُ وَكَذَلِكَ أَيْضًا رَوَاهُ هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ وَحَبِيبُ بْنُ أَبِي مَرْزُوقٍ عَنْ عُرْوَةَ نَحْوَ رِوَايَةِ مَعْمَرٍ وَأَصْحَابِهِ إِلاَّ أَنَّ حَبِيبًا لَمْ يَذْكُرْ بَشِيرًا وَرَوَى وَهْبُ بْنُ كَيْسَانَ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقْتَ الْمَغْرِبِ قَالَ ثُمَّ جَاءَهُ لِلْمَغْرِبِ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ - يَعْنِي مِنَ الْغَدِ - وَقْتًا وَاحِدًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ثُمَّ صَلَّى بِيَ الْمَغْرِبَ يَعْنِي مِنَ الْغَدِ وَقْتًا وَاحِدًا وَكَذَلِكَ رُوِيَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ مِنْ حَدِيثِ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

৩৯৪. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা ..... উসামা ইবনে যায়দ আল-লায়ছী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে শিহাব তাকে জানিয়েছেন যে, একদা উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) মিম্বরে বসে (রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকায়) আসরের নামাযে (নামায আদায়ে) কিছু বিলম্ব করেন। তখন উরওয়া ইবনুস যুবায়ের (রাহঃ) তাকে বলেন, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) মুহাম্মাদ (ﷺ)কে নামাযের সময় সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

তখন উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) বলেন, তুমি যা বলছ তা আমি জানি। তখন উরওয়া বলেন, আমি বশীর ইবনে আবু মাসউদকে বলতে শুনেছি, আমি আবু মাসউদ আনসারী (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) এসে আমাকে নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে অবগত করেছেন। তিনি তাঁর অঙ্গুলী গণনা করে বলেন, আমি তাঁর (জিবরাঈল) সাথে একে একে পাঁচ ওয়াক্তে নামায আদায় করেছি।

রাবী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে যোহরের নামায সূর্য একটু পশ্চিম দিকে হেলে যাওয়ার পর পড়তে দেখেছি এবং প্রখর গরমের দিনে তিনি কখনও একই বিলম্ব করেও পড়েছেন। আমি তাকে আসরের নামায সূর্য উপরে উজ্জ্বল বর্ণ থাকা অবস্থায় আদায় করতে দেখেছি- সূর্যের কিরণে হলুদ রং প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে। কোন ব্যক্তি অসেরের নামায আদায় করে সূর্যাস্তের পূর্বেই ‘যুল হুলাইফা’* নামক স্থানে পৌছে যেত।

অতঃপর তিনি সূর্যাস্তের পরপরই মাগরিবের নামায আদায় করতেন। পরে তিনি এশার নামায ঐ সময় আদায় করতেন যখন পশ্চিমাকাশে কালোবর্ণে আচ্ছাদিত হত এবং কখনও কখনও মানুষের একত্রিত হওয়ার জন্য বিলম্ব করতেন। তিনি একবার ফজরের নামায অন্ধকার থাকতেই আদায় করেন এবং পরের বার দিগন্ত উজ্জ্বল হওয়ার পর সূর্যোদয়ের পূর্বক্ষণে আদায় করেন। তিনি তাঁর ইন্‌তিকালের পূর্ব পর্যন্ত পুনরায় আর কখনও অপেক্ষা করেন নাই।

*মদিনা হতে 'যুল হুলাইফা' নামক স্থানের দূরত্ব ৬ মাইল। - অনুবাদক

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৩৯৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا بَدْرُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي مُوسَى، عَنْ أَبِي مُوسَى، أَنَّ سَائِلاً، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ شَيْئًا حَتَّى أَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ لِلْفَجْرِ حِينَ انْشَقَّ الْفَجْرُ فَصَلَّى حِينَ كَانَ الرَّجُلُ لاَ يَعْرِفُ وَجْهَ صَاحِبِهِ أَوْ إِنَّ الرَّجُلَ لاَ يَعْرِفُ مَنْ إِلَى جَنْبِهِ ثُمَّ أَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ الظُّهْرَ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ حَتَّى قَالَ الْقَائِلُ انْتَصَفَ النَّهَارُ . وَهُوَ أَعْلَمُ ثُمَّ أَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ مُرْتَفِعَةٌ وَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ الْمَغْرِبَ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ وَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ الْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ صَلَّى الْفَجْرَ وَانْصَرَفَ فَقُلْنَا أَطَلَعَتِ الشَّمْسُ فَأَقَامَ الظُّهْرَ فِي وَقْتِ الْعَصْرِ الَّذِي كَانَ قَبْلَهُ وَصَلَّى الْعَصْرَ وَقَدِ اصْفَرَّتِ الشَّمْسُ - أَوْ قَالَ أَمْسَى - وَصَلَّى الْمَغْرِبَ قَبْلَ أَنْ يَغِيبَ الشَّفَقُ وَصَلَّى الْعِشَاءَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ ثُمَّ قَالَ " أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ وَقْتِ الصَّلاَةِ الْوَقْتُ فِيمَا بَيْنَ هَذَيْنِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَغْرِبِ بِنَحْوِ هَذَا قَالَ ثُمَّ صَلَّى الْعِشَاءَ قَالَ بَعْضُهُمْ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِلَى شَطْرِهِ . وَكَذَلِكَ رَوَاهُ ابْنُ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৩৯৫. মুসাদ্দাদ ..... আবু মুসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। এক প্রশ্নকারী নবী (ﷺ)কে নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তিনি তাকে কোন জবাব না দিয়ে বিলাল (রাযিঃ)-কে সুবহে-সাদিকের সময় ফজরের নামাযের জন্য ইকামত দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং ফজরের নামায এমন সময় আদায় করেন যখন কোন মুসল্লী তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিকে (অন্ধকার থাকার ফলে) ভালভাবে চিনতে পারত না। অতঃপর তিনি সূর্য পশ্চিম দিকে সামান্য হেলার পরপরই অর্থাৎ দ্বিপ্রহরের সময় বিলাল (রাযিঃ)-কে যোহরের নামাযের জন্য ইকামত প্রদানের নির্দেশ দেন যখন কেবল দিনের অর্ধেক হয়েছে। অতঃপর সূর্য যখন উর্ধ্বাকাশে উজ্জ্বল দেখা যাচ্ছিল সে সময় তিনি বিলালকে আসরের নামাযের ইকামত দেয়ার নির্দেশ দিলে তিনি ইকামত দেন। অতঃপর সূর্যাস্তের পরপরই তিনি বেলাল (রাযিঃ)-কে মাগরিবের নামাযের জন্য ইকামত দিতে বললে তিনি ইকামত দেন।

অতঃপর পশ্চিমাকাশের শাফাক* স্তিমিত হওয়ার পর তিনি বিলাল (রাযিঃ)-কে এশার নামাযের ইকামত দিতে বললে- তিনি ইকামত দেন। পরের দিন সকালে ফজরের নামায আদায় করে যখন আমরা প্রত্যাবর্তন করছিলাম, তখন আমরা বলি সূর্য উদয় হয়েছে না কি, অর্থাৎ ফজরের নামায সুর্যোদয়ের কিছু পূর্বে সমাপ্ত হয়েছে। পূর্ববর্তী দিন তিনি যে সময় আসরের নামায আদায় করেছিলেন- এদিন সেই সময় যোহরের নামায আদায় করেন, (অর্থাৎ যোহরের সর্বশেষ ও আসরের প্রারম্ভিক সময়ে)। অতঃপর পশ্চিমাকাশের সূর্য যখন হলুদ বর্ণ ধারণ করে তখন তিনি আসরের নামায আদায় করেন, এবং সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশের শাফাক স্তিমিত হওয়ার কিছু পূর্বে তিনি মাগরিবের নামায আদায় করেন; এবং এশার নামায রাতের এক-তৃতীয়াংশ অংশ অতিবাহিত হওয়ার পর আদায় করেন।

অতঃপর তিনি বলেনঃ নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে প্রশ্নকারী ব্যক্তি কোথায়? পূর্ববর্তী দিন ও পরের দিনে যে যে সময়ে নামায আদায় করা হয়েছে- তার মাঝেই রয়েছে (প্রারম্ভিক ও শেষ সময়) নামাযের ওয়াক্ত।

* পূর্ব দিগন্তে সুবহে সাদেক উদয় হওয়ার সাথে সাথে ফজরের নামাযের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং সূর্য উদিত হওয়া শুরু হওয়ার সাথে সাথে তা শেষ হয়ে যায়। সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ার সাথে সাথে যোহরের নামাযের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং কোন বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ (মূল ছায়া বাদে) হওয়ার সাথে সাথে তা শেষ হয়ে যায় এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়ে যায়। কিন্তু অন্যান্য মাযহাব মতে কোন বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে যোহরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায় এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়ে যায়। সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত আসরের নামাযের ওয়াক্ত অবশিষ্ট থাকে। সূর্যাস্তের সাথে সাথে মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং শাফাক অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত তা অবশিষ্ট থাকে। ইমাম শাফিঈ এবং অধিকাংশ আলেমের মতে, সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে যে লাল আভা দেখা দেয় তাকে শাফাক বলে। ইমাম আবু হানীফার প্রসিদ্ধ মতে লাল আভা দূরীভূত হওয়ার পর যে শুদ্ৰতা উদিত হয় তাকে শাফাক বলে। এশার নামাযের ওয়াক্ত শাফাক অন্তর্হিত হওয়ার পর থেকে সঠিক মত অনুযায়ী সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকে।

মুস্তাহাব ওয়াক্ত
শাফিঈ মাযহাব মতে প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাযে জলদি করা, অর্থাৎ ওয়াক্তের প্রথম ভাগে নামায আদায় করা মুস্তাহাব। কিন্তু হানাফী মাযহাবে ঋতুর পরিবর্তনের সাথে সাথে কোন কোন নামায ওয়াক্তের প্রথম ভাগে পড়া মুস্তাহাব এবং কোন কোন নামায একটু বিলম্বে পড়া মুস্তাহাব। যেমন, গ্রীষ্মকালে যোহরের নামাম বিলম্বে পড়ার নির্দেশ রয়েছে। রসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ "যোহরের নামায ঠাণ্ডা করে আদায় কর। কেননা গরমের তীব্রতা দোযখের নিঃশ্বাস বিশেষ"। কিন্তু শীতকালে এই নামায প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব। আসরের নামায সূর্যালোক ঝলসে যাওয়ার পূর্বে আদায় করা মুস্তাহাব। সূর্যালোক ঝলসে যাওয়ার সাথে সাথে আসরের মাকরূহ (অপছন্দনীয়) ওয়াক্ত শুরু হয়ে যায়। সমস্ত ইমামদের মতে যে কোন ঋতুতে মাগরিবের নামায় প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব। অতএব সূর্য ডুবে যাওয়ার সাথে সাথেই মাগরিবের নামায আদায় করা উচিৎ। কেননা এই নামাযের ওয়াক্ত খুবই সংকীণ।

রাতের এক-তৃতীয়াংশ সময় পর্যন্ত এশার নামায বিলম্ব করা মুস্তাহাব। অর্ধেক রাত অতিবাহিত হওয়ার পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত এশার নামায় বিলম্ব করা মাকরূহ। বেতের নামাযের ওয়াক্ত এশার নামাযের পরপরই শুরু হয় এবং সুবহে সাদেকের পূর্ব পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকে। কিন্তু শেষ রাতে বেতের পড়া মুস্তাহাব। তবে যে ব্যক্তি শেষ রাতে জাগতে পারবে না বলে আশংকা করছে সে শোয়ার পূর্বেই বেতের পড়ে নেবে।

ইমাম আবু হানীফা ও সাহেবাইনের মতে রাতের অন্ধকার দূরীভূত করে ফজরের নামায পড়া মুস্তাহাব। কেননা রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "ফজরের নামায আলোকিত করে পড়, কেননা এর মধ্যেই তোমাদের জন্য অধিক পুরুষ্কার রয়েছে।" (ইমাম আবু হানীফার দুই সাথী ইমাম মুহাম্মাদ ও ইমাম আবু ইউসুফকে ফিকাহবিদদের পরিভাষায় 'সাহেবাইন' বলা হয়)। কিন্তু ইমাম শাফিঈ ও অপরাপর ইমামদের মতে অন্ধকার বাকী থাকতেই ফজরের নামায পড়া মুস্তাহাব। তাঁরা নিজেদের মতের সমর্থনে হযরত আয়েশা (রাযিঃ) বর্ণিত হাদীস গ্রহণ করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অন্ধকার থাকতেই ফজরের নামায় পড়তেন।

হানাফী এবং শাফিঈ মাযহাবের মত অনুযায়ী যোহরের নামাযের ওয়াক্তই জুমআর নামাযের ওয়াক্ত। মালেকী মাযহাব মতে, যোহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর থেকে মাগরিবের নামাযের এতটা পূর্ব পর্যন্ত জুমুআর ওয়াক্ত থাকে যাতে সূর্যাস্তের পূর্বেই খুতবা এবং নামায শেষ করা যেতে পারে। হাম্বলী মাযহাব মতে, সকালের সূর্য কিছুটা উপরে উঠার পর থেকে আসরের পূর্ব পর্যন্ত জুমআর ওয়াক্ত বাকী থাকে। তবে পশ্চিমাকাশে সূর্য ঢলে যাওয়ার পূর্বে তাঁদের মতে জুমআর নামায পড়া কেবল জায়েয, কিন্তু পশ্চিম আকাশে সূর্য ঢলে পড়ার পর জুমআর নামায পড়া ওয়াজিব এবং মুস্তাহাব।

মাকরূহ ও নিষিদ্ধ ওয়াক্ত
ফজরের ফরজ নামাযের পর থেকে সূর্য উঠার পূর্ব পর্যন্ত এবং আসরের ফরজ নামাযের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত নামায পড়া মারুরূহ। তবে কারো ফরজ নামাযের কাযা থাকলে সে তা এ সময়ে পড়ে নিতে পারে, বরং পড়ে নিবে। সূর্য উঠার ঠিক দিপ্রহরে এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় যে কোন নামায পড়া নিষিদ্ধ- (ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর আল-মুওয়াত্তা গ্রন্থের বাংলা সংস্করণ থেকে)।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৯৬

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، سَمِعَ أَبَا أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " وَقْتُ الظُّهْرِ مَا لَمْ تَحْضُرِ الْعَصْرُ وَوَقْتُ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ وَوَقْتُ الْمَغْرِبِ مَا لَمْ يَسْقُطْ فَوْرُ الشَّفَقِ وَوَقْتُ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ وَوَقْتُ صَلاَةِ الْفَجْرِ مَا لَمْ تَطْلُعِ الشَّمْسُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৩৯৬. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে মুআয ..... আব্দুল্লাহ্ আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ আসরের নামাযের সময় আরম্ভের পূর্ব পর্যন্ত যোহরের নামাযের সময় অবশিষ্ট থাকে এবং সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করার পূর্ব পর্যন্ত আসরের নামাযের সময় থাকে। মাগরিবের নামাযের সময়সীমা হল পশ্চিম আকাশের শাফাক অস্তমিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। এশার নামাযের ওয়াক্ত রাতের অর্ধেক সময় পর্যন্ত, এবং সূর্য উঠার পূর্ব পর্যন্ত হল ফজরের নামাযের সময়।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

৩. নবী করিম (ﷺ) কর্তৃক নামায আদায়ের সময় এবং তিনি কিভাবে তা আদায় করতেন?

باب فِي وَقْتِ صَلاَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَيْفَ كَانَ يُصَلِّيهَا

৩৯৭

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، - وَهُوَ ابْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ - قَالَ - سَأَلْنَا جَابِرًا عَنْ وَقْتِ، صَلاَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ كَانَ يُصَلِّي الظُّهْرَ بِالْهَاجِرَةِ وَالْعَصْرَ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ وَالْمَغْرِبَ إِذَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَالْعِشَاءَ إِذَا كَثُرَ النَّاسُ عَجَّلَ وَإِذَا قَلُّوا أَخَّرَ وَالصُّبْحَ بِغَلَسٍ .

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে হাসান ইবনে আলী (রহঃ)

৩৯৭. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম .... মুহাম্মাদ ইবনে আমর বলেন, আমরা জাবের (রাযিঃ)-কে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নামায আদায়ের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। জবাবে তিনি (জাবের) বলেন, নবী (ﷺ) যোহরের নামায দ্বিপ্রহরের পরপরই, আসরের নামায সূর্য উপরে থাকতেই এবং মাগরিবের নামায সূর্যাস্তের পরপরই আদায় করতেন। তিনি এশার নামায জনসমাগম অধিক হলে (অর্থাৎ সকলে জামাআতে উপস্থিত হলে) তাড়াতাড়ি আদায় করতেন এবং জনগণের উপস্থিতি কম হলে বিলম্ব করতেন, এবং অন্ধকার থাকতেই ফজরের নামায আদায় করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৩৯৮

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي الْمِنْهَالِ، عَنْ أَبِي بَرْزَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الظُّهْرَ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ وَيُصَلِّي الْعَصْرَ وَإِنَّ أَحَدَنَا لَيَذْهَبُ إِلَى أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَيَرْجِعُ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ وَنَسِيتُ الْمَغْرِبَ وَكَانَ لاَ يُبَالِي تَأْخِيرَ الْعِشَاءِ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ . قَالَ ثُمَّ قَالَ إِلَى شَطْرِ اللَّيْلِ . قَالَ وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا وَكَانَ يُصَلِّي الصُّبْحَ وَمَا يَعْرِفُ أَحَدُنَا جَلِيسَهُ الَّذِي كَانَ يَعْرِفُهُ وَكَانَ يَقْرَأُ فِيهَا مِنَ السِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বারযা আসলামী রাযি.

৩৯৮. হাফস ইবনে উমর .... আবু বারযা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়লে নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম যোহরের নামায আদায় করতেন এবং শেষপ্রান্তে যাওয়ার পর ফিরে আসা পর্যন্ত সূর্য অবশিষ্ট থাকত। রাবী বলেন, আমি মাগরিবের নামাযের সময়ের কথা ভুলে গিয়েছি এবং নবী (ﷺ) এশার নামায আদায়ের জন্য রাতের এক-তৃতীয়াশ পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন। রাবী অন্য এক বর্ণনায় বলেন, রাতের অর্ধেক সময় পর্যন্ত। নবী (ﷺ) এশার নামায আদায়ের পূর্বে ঘুমালে এবং পরে বাক্যালাপ অপছন্দ করতেন। অতঃপর তিনি ফজরের নামায এমন সময় আদায় করতেন যে, পরিচিত ব্যক্তি পার্শ্বে উপবিষ্ট থাকিলে তাকে চেনা যেত না। তিনি ফজরের নামাযে ৬০ হতে ১০০ আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪. যোহরের নামাযের ওয়াক্ত।

باب وَقْتِ صَلاَةِ الظُّهْرِ

৩৯৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحَارِثِ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنْتُ أُصَلِّي الظُّهْرَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَآخُذُ قَبْضَةً مِنَ الْحَصَى لِتَبْرُدَ فِي كَفِّي أَضَعُهَا لِجَبْهَتِي أَسْجُدُ عَلَيْهَا لِشِدَّةِ الْحَرِّ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৩৯৯. আহমদ ইবনে হাম্বল ..... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে যোহরের নামায আদায় করতাম। তিনি এক মুষ্টি পাথরের নুড়ি আমার হাতে দেন ঠাণ্ডা হওয়ার জন্য যেন আমি অত্যধিক গরমের কারণে তা আমার সিজদার স্থানে রেখে তার উপর সিজদা করতে পারি।*

* নামায আদায়ের স্থান যদি অধিক গরম বা ঠাণ্ডা হয়, তবে তা হতে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে কাপড় অথবা অন্য কোন বস্তু সেখানে রেখে তার উপর দাঁড়ানো বা সিজদা করা জায়েয। -(অনুবাদক)

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৪০০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، سَعْدِ بْنِ طَارِقٍ عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُدْرِكٍ، عَنِ الأَسْوَدِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، قَالَ كَانَتْ قَدْرُ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّيْفِ ثَلاَثَةَ أَقْدَامٍ إِلَى خَمْسَةِ أَقْدَامٍ وَفِي الشِّتَاءِ خَمْسَةَ أَقْدَامٍ إِلَى سَبْعَةِ أَقْدَامٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪০০. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, গরমের সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যোহরের নামায তিন হতে পাঁচ কদমের মধ্যের সময়ে এবং শীতকালে পাঁচ হতে সাত কদমের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করতেন।*

* "ছায়ায়ে-আসলী" বা 'আসল ছায়া' বলা হয়- ঠিক দ্বিপ্রহরে প্রত্যেক ব্যক্তি বা বস্তুর ছায়া যতটুকু দীর্ঘায়িত হয়- তাকে। স্থান-কাল ও ঋতুচক্রের পরিবর্তনের ফলে 'ছায়ায়ে আসলীর' পরিবর্তন হয়ে থাকে। হানাফী মায্হাব অনুযায়ী যোহরের নামাযের সর্বশেষ সময় প্রত্যেক বস্তুর আসল ছায়া বাদে যখন তার ছায়া দ্বিগুণ হবে সে সময় পর্যন্ত। – (অনুবাদক)

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৪০১

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي أَبُو الْحَسَنِ، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَبُو الْحَسَنِ هُوَ مُهَاجِرٌ - قَالَ سَمِعْتُ زَيْدَ بْنَ وَهْبٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا ذَرٍّ، يَقُولُ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَرَادَ الْمُؤَذِّنُ أَنْ يُؤَذِّنَ الظُّهْرَ فَقَالَ " أَبْرِدْ " . ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يُؤَذِّنَ فَقَالَ " أَبْرِدْ " . مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا حَتَّى رَأَيْنَا فَىْءَ التُّلُولِ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ فَإِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৪০১. আবুল ওয়ালীদ আত-তায়ালিসী .... আবু যর (রাযিঃ) বলেন, আমরা নবী (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। মুয়াযযিন যোহরের নামাযের আযান দিতে প্রস্তুত হলে তিনি বলেনঃ ঠাণ্ডা হতে দাও (অর্থাৎ রোদের প্রখরতা একটু নিস্তেজ হোক)। কিছুক্ষণ পর মুয়াযযিন পুনরায় আযান দিতে চাইলে তিনি আবার বলেন, ঠাণ্ডা হতে দাও।

রাবী বলেন, নবী (ﷺ) একথা দুই অথবা তিনবার বলেন। এমতাবস্থায় যোহরের নামাযের সময় প্রায় শেষ বলে প্রতিয়মান হল। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ ‘নিশ্চয়ই প্রচন্ড গরম জাহান্নামের প্রচন্ড তাপের অংশ বিশেষ।’ অতএব যখন অত্যধিক গরম পড়বে তখন যোহরের নামায বিলম্বে আদায় করবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪০২

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ الْهَمْدَانِيُّ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ الثَّقَفِيُّ، أَنَّ اللَّيْثَ، حَدَّثَهُمْ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا عَنِ الصَّلاَةِ " . قَالَ ابْنُ مَوْهَبٍ " بِالصَّلاَةِ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪০২. য়াযীদ ইবনে খালিদ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন অত্যধিক গরম পড়বে তখন যোহরের নামায বিলম্বে আদায় করবে। কেননা নিশ্চয়ই অত্যধিক গরম জাহান্নামের প্রচন্ড তাপের অংশ বিশেষ।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, আল মুওয়াত্তা - ইমাম মালিক রহঃ

৪০৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، أَنَّ بِلاَلاً، كَانَ يُؤَذِّنُ الظُّهْرَ إِذَا دَحَضَتِ الشَّمْسُ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

৪০৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... জাবের ইবনে সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। সূর্য যখন পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ত তখন বিলাল (রাযিঃ) যোহরের নামাযের আযান দিতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৫. আসরের নামাযের ওয়াক্ত।

باب فِي وَقْتِ صَلاَةِ الْعَصْرِ

৪০৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ مُرْتَفِعَةٌ حَيَّةٌ وَيَذْهَبُ الذَّاهِبُ إِلَى الْعَوَالِي وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪০৪. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ..... আনাস্ ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আসরের নামায এমন সময় আদায় করতেন যখন সূর্য উপরে উজ্জ্বল অবস্থায় থাকত এবং কোন ব্যক্তি নামায শেষে আওয়ালীয়ে মদীনা’* বা মদীনার উচ্চ শহরতলীতে যাওয়ার পরেও সূর্য উপরে দেখতে পেত।

* আওয়ালী হল মদীনার পার্শ্ববর্তী শহরতলীতে অবস্থিত একটি গ্রামের নাম। মদীনা হতে এর নিকটতম দূরত্ব হল দুই মাইল এবং শেষ প্রান্তের দূরত্ব হল আট মাইল। -(অনুবাদক)

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৪০৫

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ وَالْعَوَالِي عَلَى مِيلَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةٍ . قَالَ وَأَحْسَبُهُ قَالَ أَوْ أَرْبَعَةٍ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

৪০৫. আল-হাসান ইবনে আলী ......... ইমাম যুহরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আওয়ালী’ নামক শহরতলীর দুরত্ব মদীনা হতে ২ অথবা ৩ মাইল। রাবী বলেন, সন্তবতঃ ইমাম ঐ স্থানের দুরত্ব চার মাইলও বলেছেন।

৪০৬

حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ خَيْثَمَةَ، قَالَ حَيَاتُهَا أَنْ تَجِدَ، حَرَّهَا .

বর্ণনাকারী: খায়ছামা ইবনে আব্দুর রহমান (রহঃ)

৪০৬. ইউসুফ্ ইবনে মুসা .... খায়সামা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূর্য জীবিত থাকার অর্থ তার উষ্ণতা অবশিষ্ট থাকা বা অনুভব করা।

৪০৭

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ عُرْوَةُ وَلَقَدْ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا قَبْلَ أَنْ تَظْهَرَ .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

৪০৭. আল-কানবী ..... উরওয়া (রাহঃ) বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) আমাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এমন সময় আসরের নামায আদায় করতেন যখন সূর্যের রশ্মি তাঁর ঘরের মধ্যে থাকত এবং তা দেওয়ালে উঠার পূর্বে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, আল মুওয়াত্তা - ইমাম মালিক রহঃ

৪০৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي الْوَزِيرِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْيَمَامِيُّ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ شَيْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَلِيِّ بْنِ شَيْبَانَ قَالَ قَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ فَكَانَ يُؤَخِّرُ الْعَصْرَ مَا دَامَتِ الشَّمْسُ بَيْضَاءَ نَقِيَّةً .

বর্ণনাকারী: আলী ইবনে শায়বান (রাঃ)

৪০৮. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ..... ইয়যীদ থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট মদীনাতে আগমন করি এ সময় তিনি আসরের নামায সূর্যের রং উজ্জ্বল থাকাবস্থায় (সূর্যের রং পরিবর্তিত হওয়ার পূর্বে) আদায় করতেন।*

* হানাফী মাযহাবের মতানুযায়ী প্রত্যেক বস্তুর 'আসল ছায়া' বাদে-যখন তার ছায়া দ্বিগুণ হয় তখন আসরের নামাযের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত এই নামায আদায় করা যায়। তবে সূর্যের রং যদি পরিবর্তিত হয়ে যায়, তখন মাকরূহ সময় এসে যায়। কোন কারণবশতঃ কেউ যদি আসরের নামায যথাসময়ে আদায় করছে অপারগ হয়, তবে ঐ ব্যক্তির জন্য ঐ দিনের আসরের নামায (কাযা না করে) সূর্যাস্তের সময়েও আদায় করা জায়েয। -(অনুবাদক)

৬. মধ্যবর্তী নামায (সালাতুল উসতা)।

৪০৯

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، وَيَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ عَبِيدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ " حَبَسُونَا عَنْ صَلاَةِ الْوُسْطَى صَلاَةِ الْعَصْرِ مَلأَ اللَّهُ بُيُوتَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪০৯. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) খন্দকের যুদ্ধের সময় বলেনঃ তারা (ইহুদী কাফেররা) আমাদেরকে মধ্যবর্তী নামায অর্থাৎ আসরের নামায হতে বিরত রেখেছ। আল্লাহ্ তাআলা তাদের ঘরবাড়ী ও কবরসমূহ আগুনে পরিপূর্ণ করুন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪১০

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي يُونُسَ، مَوْلَى عَائِشَةَ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا - أَنَّهُ قَالَ أَمَرَتْنِي عَائِشَةُ أَنْ أَكْتُبَ لَهَا مُصْحَفًا وَقَالَتْ إِذَا بَلَغْتَ هَذِهِ الآيَةَ فَآذِنِّي ( حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى ) فَلَمَّا بَلَغْتُهَا آذَنْتُهَا فَأَمْلَتْ عَلَىَّ ( حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَصَلاَةِ الْعَصْرِ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ ) ثُمَّ قَالَتْ عَائِشَةُ سَمِعْتُهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪১০. আল-কানবী ..... আবু ইউনুস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) আমাকে নির্দেশ দেন যে, আমি যেন তাঁর জন্য কুরআন লিপিবদ্ধ করি। আয়িশা (রাযিঃ) আরো বলেন, যখন তুমি এই আয়াতে পৌঁছবে তখন আমাকে অবহিত করবে এবং আমার অনুমতি চাইবে আয়াত হলঃ তোমরা নামায-সমূহের সংরক্ষণ কর, বিশেষতঃ মধ্যবর্তী নামযসমূহের (সূরা বাকারাঃ ২৩৮)।

রাবী বলেন, অতঃপর আমি উক্ত আয়াত লিপিবদ্ধ করার সময় তাকে অবহিত করে অনুমতি প্রার্থনা করি। আয়িশা (রাযিঃ) আমাকে তা এইরূপে লেখার নির্দেশ দেনঃ “তোমরা নামাযসমূহের হেফাজত কর, বিশেষভাবে মধ্যবর্তী নামাযের এবং আসরের নামাযের এবং আল্লাহর অনুগত হয়ে দাড়াও।” অতঃপর আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট তা শুনেছি।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪১১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ أَبِي حَكِيمٍ، قَالَ سَمِعْتُ الزِّبْرِقَانَ، يُحَدِّثُ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الظُّهْرَ بِالْهَاجِرَةِ وَلَمْ يَكُنْ يُصَلِّي صَلاَةً أَشَدَّ عَلَى أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا فَنَزَلَتْ ( حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى ) وَقَالَ " إِنَّ قَبْلَهَا صَلاَتَيْنِ وَبَعْدَهَا صَلاَتَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

৪১১. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না .... যায়দ ইবনে ছাবেত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুসুল্লাহ (ﷺ) সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে যাওয়ার পর যোহরের নামায প্রচন্ড গরম থাকাবস্থায় আদায় করতেন। সাহাবীদের জন্য এই নামাযের চাইতে কষ্টদায়ক (প্রচন্ড গরমের কারণে) অন্য কোন নামায ছিল না। অতঃপর এই আয়াত নাযিল হয়ঃ “তোমরা নামাযসমূহের হেফাযত কর, বিশেষভাবে মধ্যবর্তী নামাযের”। তিনি বলেন, এর পূর্বে দুই ওয়াক্ত ও পরে দুই ওয়াক্তের নামায আছে।

৭. যে ব্যক্তি (সূর্যাস্তের পূর্বে) এক রাকআত নামায পড়তে পারবে, সে যেন পুরা নামায পেয়ে গেল।

৪১২

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنِي ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الْعَصْرِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ وَمَنْ أَدْرَكَ مِنَ الْفَجْرِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪১২. আল-হাসান-ইবনুর-রাবী .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের নামাযের এক রাকআত আদায় করতে সক্ষম হয়েছে- সে যেন পুরা নামায (ওয়াক্তের মধ্যে) আদায় করল (এবং তা কাযা গণ্য হবে না)। অপরপক্ষে যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের নামাযের এক রাকআত আদায় করতে পারল সে যেন পুরা নামাযই (ওয়াক্ত থাকতেই) আদায় করল।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮. সূর্যের রং হলুদ বর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত আসরের নামায আদায়ে বিলম্ব করা সম্পর্কে।

৪১৩

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ قَالَ دَخَلْنَا عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ بَعْدَ الظُّهْرِ فَقَامَ يُصَلِّي الْعَصْرَ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلاَتِهِ ذَكَرْنَا تَعْجِيلَ الصَّلاَةِ أَوْ ذَكَرَهَا فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " تِلْكَ صَلاَةُ الْمُنَافِقِينَ تِلْكَ صَلاَةُ الْمُنَافِقِينَ تِلْكَ صَلاَةُ الْمُنَافِقِينَ يَجْلِسُ أَحَدُهُمْ حَتَّى إِذَا اصْفَرَّتِ الشَّمْسُ فَكَانَتْ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ أَوْ عَلَى قَرْنَىِ الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَ أَرْبَعًا لاَ يَذْكُرُ اللَّهَ فِيهَا إِلاَّ قَلِيلاً " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪১৩. আল্-কানবী .... আল-আলা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা যোহরের নামায আদায়ের পর আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) এর নিকট গিয়ে দেখলাম তিনি আসরের নামায আদায় করছেন। তাঁর নামায সমাপ্তির পর আমরা তাকে বললাম, নামায বেশী আগে আদায় করা হয়েছে। অথবা (আনাস) নিজেই নামায আগে আদায়ের কারণ বর্ণনা করেন। অতঃপর তিনি (আনাস) বলেন, এটা মুনাফিকদের নামায, এটা মুনাফিকদের নামায, এটা মুনাফিকদের নামায। এদের কেউ বসে থাকে অতঃপর সূর্যের রং যখন হলুদ বর্ণ ধারণ করে এবং তা শয়তানের উভয় শিংয়ের উপর অবস্থান করে (সূর্য অস্তগামী হয়) তখন সে নামায আদায় করার জন্য দণ্ডায়মান হয়ে চারটি ঠোকর দিয়ে থাকে (অতি দ্রুত নামায সম্পন্ন করে, যাতে রুকু-সিজদা ঠিক মত আদায় হয় না) এবং সে ঐ নামাযের মধ্যে আল্লাহ্ তাআলার যিক্‌র অতি সামান্যই করে থাকে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, আল মুওয়াত্তা - ইমাম মালিক রহঃ

৯. আসরের নামায পরিত্যাগকারী সম্পর্কে।

৪১৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الَّذِي تَفُوتُهُ صَلاَةُ الْعَصْرِ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ " أُتِرَ " . وَاخْتُلِفَ عَلَى أَيُّوبَ فِيهِ وَقَالَ الزُّهْرِيُّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " وُتِرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪১৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আসরের নামায হারাল (পড়ল না) সে যেন তার পরিবার-পরিজন ও ধনসস্পদ সব থেকে বঞ্চিত হল।

৪১৫

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ قَالَ أَبُو عَمْرٍو يَعْنِي الأَوْزَاعِيَّ وَذَلِكَ أَنْ تَرَى، مَا عَلَى الأَرْضِ مِنَ الشَّمْسِ صَفْرَاءَ .

বর্ণনাকারী: আওযায়ী (রহঃ)

৪১৫. মাহমুদ ইবনে খালিদ ..... আবু আমর আল্-আওযাঈ (রাহঃ) বলেছেন, আসরের নামাযের সর্বশেষ সময় হল যখন সূর্যের হলুদ রং জমীনে প্রতিভাত হতে দেখা যায় (এরপর মাকরূহ সময় শুরু হয়)।

১০. মাগরিবের নামাযের ওয়াক্ত।

باب فِي وَقْتِ الْمَغْرِبِ

৪১৬

حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي الْمَغْرِبَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ نَرْمِي فَيَرَى أَحَدُنَا مَوْضِعَ نَبْلِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪১৬. দাউদ ইবনে শাবীব ..... আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ)-এর সাথে মাগরিবের নামায পড়তাম। অতঃপর আমরা তীর নিক্ষেপ করতাম। তা পতিত হওয়ার স্থান আমাদের যে কেউ দেখতে পেত।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৪১৭

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عِيسَى، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الْمَغْرِبَ سَاعَةَ تَغْرُبُ الشَّمْسُ إِذَا غَابَ حَاجِبُهَا .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

৪১৭. আমর ইবনে আলী ..... সালামা ইবনুল আক্ওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) অস্তগামী সূর্যের উপরের অংশ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পরপরই মাগরিবের নামায আদায় করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪১৮

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مَرْثَدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمَّا قَدِمَ عَلَيْنَا أَبُو أَيُّوبَ غَازِيًا وَعُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ يَوْمَئِذٍ عَلَى مِصْرَ فَأَخَّرَ الْمَغْرِبَ فَقَامَ إِلَيْهِ أَبُو أَيُّوبَ فَقَالَ لَهُ مَا هَذِهِ الصَّلاَةُ يَا عُقْبَةُ فَقَالَ شُغِلْنَا . قَالَ أَمَا سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ تَزَالُ أُمَّتِي بِخَيْرٍ - أَوْ قَالَ عَلَى الْفِطْرَةِ - مَا لَمْ يُؤَخِّرُوا الْمَغْرِبَ إِلَى أَنْ تَشْتَبِكَ النُّجُومُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৪১৮. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে উমর ..... মারছাদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আবু আইয়ুব (রাযিঃ) গাযী (সৈনিক) হিসাবে মিসরে আসেন উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) সেখানকার গভর্নর ছিলেন। উকবা (রাযিঃ) একদা মাগরিবের নামায আদায়ে বিলম্ব করলে তিনি (আবু আইয়ুব) দাঁড়িয়ে বলেন, হে উকবা! এ কেমন নামায? উকবা (রাযিঃ) ওযর পেশ করে বলেন, আমরা অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম। আবু আইয়ুব (রাযিঃ) দাড়িঁয়ে তাঁর সামনে বলেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেন নিঃ আমার উম্মতগণ ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে অথবা আসল অবস্থায় থাকবে যতদিন তারা মাগরিবের নামায নক্ষত্ররাজী আলোক বিকিরণ করবার আগেই আদায় করবে।

১১. এশার নামাযের ওয়াক্ত।

باب فِي وَقْتِ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ

৪১৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ أَنَا أَعْلَمُ النَّاسِ، بِوَقْتِ هَذِهِ الصَّلاَةِ صَلاَةِ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّيهَا لِسُقُوطِ الْقَمَرِ لِثَالِثَةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

৪১৯. মুসাদ্দাদ ..... নোমান ইবনে বশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এশার নামাযের ওয়াক্ত সম্পর্কে অন্যদের তুলনায় অধিক অবগত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এই নামায তৃতীয়ার চাঁদ অস্তমিত হওয়া পরিমাণ সময়ের পর আদায় করতেন।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৪২০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ مَكَثْنَا ذَاتَ لَيْلَةٍ نَنْتَظِرُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِصَلاَةِ الْعِشَاءِ فَخَرَجَ إِلَيْنَا حِينَ ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ أَوْ بَعْدَهُ فَلاَ نَدْرِي أَشَىْءٌ شَغَلَهُ أَمْ غَيْرُ ذَلِكَ فَقَالَ حِينَ خَرَجَ " أَتَنْتَظِرُونَ هَذِهِ الصَّلاَةَ لَوْلاَ أَنْ تَثْقُلَ عَلَى أُمَّتِي لَصَلَّيْتُ بِهِمْ هَذِهِ السَّاعَةَ " . ثُمَّ أَمَرَ الْمُؤَذِّنَ فَأَقَامَ الصَّلاَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪২০. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা এশার নামায আদায়ের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর আসার অপেক্ষায় ছিলাম। তিনি রাতের এক-তৃতীয়াংশ অথবা আরো কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আগমন করেন। তিনি কি কারণে বিলম্ব করেন তা আমরা অবগত ছিলাম না। তিনি এসে বলেনঃ তোমরা কি এই নামাযের প্রতীক্ষায় ছিলে? যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টদায়ক না হত, তবে আমি প্রত্যহ এশার নামায এই সময়ে আদায় করতাম। অতঃপর তিনি মুয়াযযিনকে ইকামত দেয়ার নির্দেশ দেন এবং তিনি সকলকে নিয়ে নামায আদায় করেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৪২১

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا حَرِيزٌ، عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ حُمَيْدٍ السَّكُونِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، يَقُولُ ارْتَقَبْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الْعَتَمَةِ فَأَخَّرَ حَتَّى ظَنَّ الظَّانُّ أَنَّهُ لَيْسَ بِخَارِجٍ وَالْقَائِلُ مِنَّا يَقُولُ صَلَّى فَإِنَّا لَكَذَلِكَ حَتَّى خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا لَهُ كَمَا قَالُوا فَقَالَ لَهُمْ " أَعْتِمُوا بِهَذِهِ الصَّلاَةِ فَإِنَّكُمْ قَدْ فُضِّلْتُمْ بِهَا عَلَى سَائِرِ الأُمَمِ وَلَمْ تُصَلِّهَا أُمَّةٌ قَبْلَكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৪২১. আমর ইবনে উছমান ..... আসেম (রাহঃ) থেকে মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা এশার নামায আদায়ের জন্য নবী (ﷺ)-এর প্রতীক্ষায় ছিলাম। তিনি সেদিন এত বিলম্ব করেন যে, ধারণাকারীর নিকট এরূপ প্রতীয়মান হয় যে, তিনি আদৌ বের হবেন না। আমাদের কেউ কেউ এরূপ মন্তব্য করল যে, হয়ত তিনি ঘরেই নামায আদায় করেছেন।

আমরা যখন এরূপ অবস্থায় ছিলাম, তখন নবী (ﷺ) বের হলেন। তখন সাহাবায়ে কিরাম যা বলাবলি করছিলেন নবী (ﷺ)-কে তাই বলেন। নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা এই নামায বিলম্বে আদায় করবে। কেননা এই নামাযের কারণেই অন্যান্য উম্মতগণের উপরে তোমাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত। ইতিপূর্বে কোন নবীর উাম্মাত এই নামায আদায় করে নি।
৪২২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ صَلَّيْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْعَتَمَةِ فَلَمْ يَخْرُجْ حَتَّى مَضَى نَحْوٌ مِنْ شَطْرِ اللَّيْلِ فَقَالَ " خُذُوا مَقَاعِدَكُمْ " . فَأَخَذْنَا مَقَاعِدَنَا فَقَالَ " إِنَّ النَّاسَ قَدْ صَلَّوْا وَأَخَذُوا مَضَاجِعَهُمْ وَإِنَّكُمْ لَنْ تَزَالُوا فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرْتُمُ الصَّلاَةَ وَلَوْلاَ ضَعْفُ الضَّعِيفِ وَسَقَمُ السَّقِيمِ لأَخَّرْتُ هَذِهِ الصَّلاَةَ إِلَى شَطْرِ اللَّيْلِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪২২. মুসাদ্দাদ ...... আবু সাঈদ আল্-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে এশার নামায আদায় করি সেদিন আনুমানিক তিনি অর্ধ-রাত অতিবহিত হওয়ার পর এশার নামায আদায় করতে আসেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ তোমরা স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান কর। অতএব আমরা নিজেদের স্থানে বসে থাকি। অতঃপর তিনি বলেনঃ অনেকেই এশার নামায আদায় করে শুয়ে পড়েছে। তোমরা যতক্ষণ এই নামাযের জন্য অপেক্ষা করেছ, ততক্ষণ তোমরা নামায আদায়কারী হিসাবে পরিগণিত হয়েছ। যদি দুর্বলের দুর্বলতা ও রোগীর রোগগ্রস্ততার আশঙ্কা না থাকত, তবে আমি এই নামায আদায়ের জন্য অর্ধ-রজনী পর্যন্ত বিলম্ব করতাম।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১২. ফজরের নামাযের ওয়াক্ত।

باب فِي وَقْتِ الصُّبْحِ

৪২৩

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيُصَلِّي الصُّبْحَ فَيَنْصَرِفُ النِّسَاءُ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ مَا يُعْرَفْنَ مِنَ الْغَلَسِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪২৩. আল্-কানবী ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এমন সময় ফজরের নামায পড়তেন যে, মহিলারা চাঁদর গায়ে দিয়ে প্রত্যাবর্তন করত এবং অন্ধকারের কারণে তাদের চেনা যেত না।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪২৪

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ بْنِ النُّعْمَانِ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَصْبِحُوا بِالصُّبْحِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لأُجُورِكُمْ " . أَوْ " أَعْظَمُ لِلأَجْرِ " .

বর্ণনাকারী: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

৪২৪. ইসহাক .... রাফে ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা পূর্ব দিগন্ত পরিষ্কার হওয়ার পর ফজরের নামায আদায় করবে; কেননা এর মধ্যে তোমাদের জন্য উত্তম বিনিময় রয়েছে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৩. নামাযসমুহের হিফাযত সম্পর্কে।

باب فِي الْمُحَافَظَةِ عَلَى وَقْتِ الصَّلَوَاتِ

৪২৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ هَارُونَ - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُطَرِّفٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصُّنَابِحِيِّ، قَالَ زَعَمَ أَبُو مُحَمَّدٍ أَنَّ الْوِتْرَ، وَاجِبٌ، فَقَالَ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ كَذَبَ أَبُو مُحَمَّدٍ أَشْهَدُ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " خَمْسُ صَلَوَاتٍ افْتَرَضَهُنَّ اللَّهُ تَعَالَى مَنْ أَحْسَنَ وُضُوءَهُنَّ وَصَلاَّهُنَّ لِوَقْتِهِنَّ وَأَتَمَّ رُكُوعَهُنَّ وَخُشُوعَهُنَّ كَانَ لَهُ عَلَى اللَّهِ عَهْدٌ أَنْ يَغْفِرَ لَهُ وَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ فَلَيْسَ لَهُ عَلَى اللَّهِ عَهْدٌ إِنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُ وَإِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

৪২৫. মুহাম্মাদ ইবনে হারব ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনুস-সুনাবিহী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু মুহাম্মাদের মতানুযায়ী বেতেরের নামায ওয়াজিব (ফরয)। উবাদা ইবনুস-সামিত (রাযিঃ) বলেন, আবু মুহাম্মাদের ধারণা সঠিক নয়। আমি এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন পাঁচ ওয়াক্তের নামায ফরয করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযু করে নির্ধারিত সময়ে বিনয়ের সাথে নামায আদায় করবে-তার জন্য আল্লাহর প্রতিশ্রুতি রয়েছে যে, আল্লাহ্ তার সমস্ত পাপ মাফ করবেন। অপরপক্ষে যারা এরূপ করবে না তাদের জন্য আল্লাহর কোন অঙ্গীকার নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাদের ক্ষমা করবেন অন্যথায় শাস্তি দেবেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ, আল মুওয়াত্তা - ইমাম মালিক রহঃ

৪২৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخُزَاعِيُّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ غَنَّامٍ، عَنْ بَعْضِ، أُمَّهَاتِهِ عَنْ أُمِّ فَرْوَةَ، قَالَتْ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَىُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ " الصَّلاَةُ فِي أَوَّلِ وَقْتِهَا " . قَالَ الْخُزَاعِيُّ فِي حَدِيثِهِ عَنْ عَمَّةٍ لَهُ يُقَالُ لَهَا أُمُّ فَرْوَةَ قَدْ بَايَعَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ .

বর্ণনাকারী: উম্মে ফারওয়া (রাঃ)

৪২৬. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ..... উম্মে ফারওয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে উত্তম আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ ওয়াক্তের প্রথম ভাগে নামায আদায় করা সর্বোত্তম কাজ।

আল-খুযাঈ তাঁর হাদীসে বলেন, তাঁর ফুফু উম্মে ফারওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট বাই’আত হয়েছিলেন।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪২৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عُمَارَةَ بْنِ رُؤَيْبَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَأَلَهُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ فَقَالَ أَخْبِرْنِي مَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ يَلِجُ النَّارَ رَجُلٌ صَلَّى قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ " . قَالَ أَنْتَ سَمِعْتَهُ مِنْهُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ . قَالَ نَعَمْ . كُلَّ ذَلِكَ يَقُولُ سَمِعَتْهُ أُذُنَاىَ وَوَعَاهُ قَلْبِي . فَقَالَ الرَّجُلُ وَأَنَا سَمِعْتُهُ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: উমারা ইবনে রুআইবা ছাকাফী (রাঃ)

৪২৮. মুসাদ্দাদ .... আবু বকর ইবনে উমরা থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁকে বসরার এক লোক প্রশ্ন করে, আপনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে যা শুনেছেন তা আমাকে কিছু বলুন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে নামায (ফজর ও আসর) আদায় করবে সে দোযখে প্রবেশ করবে না।

তখন তিনি বলেন, আপনি কি তা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে শুনেছেন? এরূপ উক্তি তিনি তিনবার করেন। জবাবে উমরা (রাযিঃ) বলেনঃ হ্যাঁ, এর সবটাই আমি আমার দুই কানে শুনেছি এবং অন্তরের সাথে হিফাজত করেছি। তখন ঐ ব্যক্তি (সাহাবী) বলেন, আমিও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি।
৪২৮

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي حَرْبِ بْنِ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ فَضَالَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ عَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ فِيمَا عَلَّمَنِي " وَحَافِظْ عَلَى الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ " . قَالَ قُلْتُ إِنَّ هَذِهِ سَاعَاتٌ لِي فِيهَا أَشْغَالٌ فَمُرْنِي بِأَمْرٍ جَامِعٍ إِذَا أَنَا فَعَلْتُهُ أَجْزَأَ عَنِّي فَقَالَ " حَافِظْ عَلَى الْعَصْرَيْنِ " . وَمَا كَانَتْ مِنْ لُغَتِنَا فَقُلْتُ وَمَا الْعَصْرَانِ فَقَالَ " صَلاَةٌ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَصَلاَةٌ قَبْلَ غُرُوبِهَا " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪২৭. আমর ইবনে আওন .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে ফাদালা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে শরীআতের হুকুম-আহকাম সম্পর্কে শিক্ষা দেন। তিনি আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছিলেন তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিলঃ পাঁচ ওয়াক্তের নামাযের হিফাযত সঠিকভাবে করবে। আমি বলি, এই সময়ে আমি কর্মব্যস্ত থাকি। অতএব আমাকে এমন একটি পরিপূর্ণ বিষয়ের শিক্ষা দিন যা আমল করলে আমার অন্য কিছু করার প্রয়োজন হবে না। তিনি বলেনঃ তুমি দু’টি আসরের (সময়ের) হিফাযত কর। রাবী বলেন, তা আমাদের পরিভাষায় না থাকায় আমি তাঁকে দু’টি আসর কি সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ সূর্যোদয়ের পূর্বের নামায এবং সূর্যাস্তের পূর্বের নামায (অর্থাৎ ফজর ও আসরের নামায) সঠিক সময়ে আদায় করবে।*

* নবী করীম (ﷺ) উক্ত সাহাবীকে ফজর ও আসরের নামায তার প্রথম ওয়াক্তে আদায় করার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দেন এবং অন্যান্য নামায তার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদায় করতে বলেন। সাধারণত দেখা যায় যে, ফজর ও আসরের নামায আদায় করতে মানুষ বেশী অবহেলা করে। কেননা ফজরের সময় লোকেরা ঘুমের মধ্যে থাকে এবং আসরের সময় কর্মব্যস্ত থাকে। সেজন্য উক্ত দুই ওয়াক্তের নামাযের জন্য তিনি অধিক তাকিদ করেছেন। – (অনুবাদক)

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৪২৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَنَفِيُّ، عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا عِمْرَانُ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، وَأَبَانُ، كِلاَهُمَا عَنْ خُلَيْدٍ الْعَصَرِيِّ، عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَمْسٌ مَنْ جَاءَ بِهِنَّ مَعَ إِيمَانٍ دَخَلَ الْجَنَّةَ مَنْ حَافَظَ عَلَى الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ عَلَى وُضُوئِهِنَّ وَرُكُوعِهِنَّ وَسُجُودِهِنَّ وَمَوَاقِيتِهِنَّ وَصَامَ رَمَضَانَ وَحَجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً وَأَعْطَى الزَّكَاةَ طَيِّبَةً بِهَا نَفْسُهُ وَأَدَّى الأَمَانَةَ " . قَالُوا يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ وَمَا أَدَاءُ الأَمَانَةِ قَالَ الْغُسْلُ مِنَ الْجَنَابَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

৪২৯. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ..... আবুদ-দারদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পাঁচটি জিনিস ঈমানের সাথে সস্পাদন করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামায তার উযু ও রুকু-সিজদা সহকারে এবং ওয়াক্ত মত আদায় করবে, রমযানের রোযা রাখবে, সামর্থ থাকলে বাইতুল্লাহর হজ্জ করবে, মনকে পবিত্র করার উদ্দেশ্যে যাকাত দিবে এবং আমানত আদায় করবে। লোকেরা বলল, হে আবুদ-দারদা! আমানত আদায়ের অর্থ কি? তিনি বলেন, নাপাকীর গোসল।

৪৩০

حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ ضُبَارَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلِيكٍ الأَلْهَانِيِّ، أَخْبَرَنِي ابْنُ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ، قَالَ قَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ إِنَّ أَبَا قَتَادَةَ بْنَ رِبْعِيٍّ أَخْبَرَهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَالَ اللَّهُ تَعَالَى إِنِّي فَرَضْتُ عَلَى أُمَّتِكَ خَمْسَ صَلَوَاتٍ وَعَهِدْتُ عِنْدِي عَهْدًا أَنَّهُ مَنْ جَاءَ يُحَافِظُ عَلَيْهِنَّ لِوَقْتِهِنَّ أَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَمْ يُحَافِظْ عَلَيْهِنَّ فَلاَ عَهْدَ لَهُ عِنْدِي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৪৩০. হায়ওয়াত ইবনে শুরায়হ্ আল-মিসরী ..... আবু কাতাদা ইবনে রিবঈ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মহান আল্লাহ্ বলেন, নিশ্চিত আমি আপনার উম্মতের উপর পাচঁ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছি এবং আমি নিজের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিঃ যে ব্যক্তি তা সঠিক ওয়াক্তসমূহে আদায় করবে; আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। আর যে ব্যক্তি তার হেফাজত করে না; তার জন্য আমার পক্ষ থেকে কোন প্রতিশ্রুতি নেই।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৪. ইমাম নামাযে বিলম্ব করলে।

باب إِذَا أَخَّرَ الإِمَامُ الصَّلاَةَ عَنِ الْوَقْتِ

৪৩১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ، - يَعْنِي الْجَوْنِيَّ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَبَا ذَرٍّ كَيْفَ أَنْتَ إِذَا كَانَتْ عَلَيْكَ أُمَرَاءُ يُمِيتُونَ الصَّلاَةَ " . أَوْ قَالَ " يُؤَخِّرُونَ الصَّلاَةَ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَا تَأْمُرُنِي قَالَ " صَلِّ الصَّلاَةَ لِوَقْتِهَا فَإِنْ أَدْرَكْتَهَا مَعَهُمْ فَصَلِّهَا فَإِنَّهَا لَكَ نَافِلَةٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৪৩১. মুসাদ্দাদ .... আবু যর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আবু যর! যখন শাসকগগ নামায আদায়ে বিলম্ব করবে-তখন তুমি কি করবে? জবাবে আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এ ব্যাপারে আমার জন্য আপনার নির্দেশ কি? তিনি বলেনঃ তুমি নির্ধারিত সময়ে একাকী নামায আদায় করবে। অতঃপর যদি তুমি ঐ ওয়াক্তের নামায তাদেরকে জামাআতে আদায় করতে দেখ, তবে তুমিও তাদের সাথে জামাআতে শামিল হবে এবং তা তোমার জন্য নফল হবে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৩২

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، دُحَيْمٌ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي حَسَّانُ، - يَعْنِي ابْنَ عَطِيَّةَ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ الأَوْدِيِّ، قَالَ قَدِمَ عَلَيْنَا مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ الْيَمَنَ رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْنَا - قَالَ - فَسَمِعْتُ تَكْبِيرَهُ مَعَ الْفَجْرِ رَجُلٌ أَجَشُّ الصَّوْتِ - قَالَ - فَأُلْقِيَتْ عَلَيْهِ مَحَبَّتِي فَمَا فَارَقْتُهُ حَتَّى دَفَنْتُهُ بِالشَّامِ مَيْتًا ثُمَّ نَظَرْتُ إِلَى أَفْقَهِ النَّاسِ بَعْدَهُ فَأَتَيْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ فَلَزِمْتُهُ حَتَّى مَاتَ فَقَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَيْفَ بِكُمْ إِذَا أَتَتْ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ يُصَلُّونَ الصَّلاَةَ لِغَيْرِ مِيقَاتِهَا " . قُلْتُ فَمَا تَأْمُرُنِي إِنْ أَدْرَكَنِي ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " صَلِّ الصَّلاَةَ لِمِيقَاتِهَا وَاجْعَلْ صَلاَتَكَ مَعَهُمْ سُبْحَةً " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনু মায়মূন (রহঃ)

৪৩২. আব্দুর রহমান ইবনে ইবরাহীম ..... আমর ইবনে মায়মুন (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর প্রতিনিধি হিসাবে আমাদের নিকট ইয়ামানে আগমন করেন। ফজরের নামাযে তাঁর কন্ঠস্বর বড় ছিল। এবং তাঁর সাথে আমার প্রগাঢ় মহব্বত সৃষ্টি হওয়ায় আমি তাঁর সাথে অবস্থান করতাম। অতঃপর শামদেশে তিনি ইন্‌তিকাল করলে আমি তাঁকে সেখানে দাফন করি তাঁর ইন্‌তিকালের পর আমি অপর একজন জ্ঞান তাপস সাহাবীর অন্বেষণে বের হয়ে ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-র খিদমতে হাযির হই এবং তাঁর ইন্‌তিকাল পর্যন্ত তাঁর সাথে অবস্থান করি।

একদা ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে বলেনঃ যখন শাসকবর্গ বিলম্বে নামায আদায় করবে তখন তুমি কি করবে? আমি বলি- ইয়া রাসূল্লাল্লাহ্ এমতাবস্থায় আপনি আমাকে কি করার নির্দেশ দেন? তিনি বলেনঃ তুমি নির্ধারিত সময়ে একাকী নামায আদায় করবে। অতঃপর তাদের সাথে জামাআতে আদায়কৃত নামায পুনরায় নফল হিসাবে আদায় করবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৪৩৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ بْنِ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ أَبِي الْمُثَنَّى، عَنِ ابْنِ أُخْتِ، عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، - الْمَعْنَى - عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ أَبِي الْمُثَنَّى الْحِمْصِيِّ، عَنْ أَبِي أُبَىِّ ابْنِ امْرَأَةِ، عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهَا سَتَكُونُ عَلَيْكُمْ بَعْدِي أُمَرَاءُ تَشْغَلُهُمْ أَشْيَاءُ عَنِ الصَّلاَةِ لِوَقْتِهَا حَتَّى يَذْهَبَ وَقْتُهَا فَصَلُّوا الصَّلاَةَ لِوَقْتِهَا " . فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُصَلِّي مَعَهُمْ قَالَ " نَعَمْ إِنْ شِئْتَ " . وَقَالَ سُفْيَانُ إِنْ أَدْرَكْتُهَا مَعَهُمْ أَأُصَلِّي مَعَهُمْ قَالَ " نَعَمْ إِنْ شِئْتَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

৪৩৩. মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা .... উবাদা ইবনুস সামিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার ইন্‌তিকালের পর এমন এক সময় আসবে যখন শাসকগণ নির্ধারিত (মুস্তাহাব) সময়ে নামায আদায়ে বিলম্ব করবে এমনকি মুস্তাহাব সময় শেষ হয়ে যাবে। কাজেই এসময় তুমি একাকী হলেও নির্ধারিত সময়ে নামায আদায় করে নিবে। তখন এক ব্যক্তি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি পরে তাদের সাথে আবার নামায আদায় করব? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, করতে পার যদি তুমি ইচ্ছা কর।

সূত্র: আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

৪৩৪

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو هَاشِمٍ، - يَعْنِي الزَّعْفَرَانِيَّ - حَدَّثَنِي صَالِحُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ وَقَّاصٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَكُونُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ مِنْ بَعْدِي يُؤَخِّرُونَ الصَّلاَةَ فَهِيَ لَكُمْ وَهِيَ عَلَيْهِمْ فَصَلُّوا مَعَهُمْ مَا صَلَّوُا الْقِبْلَةَ " .

বর্ণনাকারী: কাবীসা ইবনে ওয়াক্কাস (রাঃ)

৪৩৪. আবুল ওয়ালীদ ..... কাবীসা ইবনে ওয়াক্কাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার পরে এমন এক সময় আসবে যখন আমীরগণ যথা সময়ে নামায আদায়ে বিলম্ব করবে। এটা তোমাদের জন্য উপকারী, কিন্ত তাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তোমরা তাদের সাথে একত্রে ততদিন নামায আদায় করবে যতদিন তাঁরা কিবলামুখী হয়ে নামায পড়বে অর্থাৎ মুসলমান থাকবে।

১৫. নামাযের সময় ঘুমিয়ে থাকলে বা ভুলে গেলে কি করতে হবে?

باب فِي مَنْ نَامَ عَنِ الصَّلاَةِ، أَوْ نَسِيَهَا

৪৩৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَفَلَ مِنْ غَزْوَةِ خَيْبَرَ فَسَارَ لَيْلَةً حَتَّى إِذَا أَدْرَكَنَا الْكَرَى عَرَّسَ وَقَالَ لِبِلاَلٍ " اكْلأْ لَنَا اللَّيْلَ " . قَالَ فَغَلَبَتْ بِلاَلاً عَيْنَاهُ وَهُوَ مُسْتَنِدٌ إِلَى رَاحِلَتِهِ فَلَمْ يَسْتَيْقِظِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَلاَ بِلاَلٌ وَلاَ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ حَتَّى إِذَا ضَرَبَتْهُمُ الشَّمْسُ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوَّلَهُمُ اسْتِيقَاظًا فَفَزِعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " يَا بِلاَلُ " . فَقَالَ أَخَذَ بِنَفْسِي الَّذِي أَخَذَ بِنَفْسِكَ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَاقْتَادُوا رَوَاحِلَهُمْ شَيْئًا ثُمَّ تَوَضَّأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ لَهُمُ الصَّلاَةَ وَصَلَّى بِهِمُ الصُّبْحَ فَلَمَّا قَضَى الصَّلاَةَ قَالَ " مَنْ نَسِيَ صَلاَةً فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ ( أَقِمِ الصَّلاَةَ لِلذِّكْرَى ) " . قَالَ يُونُسُ وَكَانَ ابْنُ شِهَابٍ يَقْرَؤُهَا كَذَلِكَ . قَالَ أَحْمَدُ قَالَ عَنْبَسَةُ - يَعْنِي عَنْ يُونُسَ - فِي هَذَا الْحَدِيثِ لِذِكْرِي . وَقَالَ أَحْمَدُ الْكَرَى النُّعَاسُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৩৫. আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) খায়বরের যুদ্ধ হতে প্রত্যাবর্তনের সময় এক রাতে যাত্রা অব্যাহত রাখেন। আমরা নিদ্রালু হয়ে পড়ায় তিনি রাতের শেযভাগে বিশ্রামের উদ্দেশ্যে বাহন হতে অবতরণ করেন এবং বিলাল (রাযিঃ)-কে বলেনঃ তুমি জেগে থাক এবং রাতের দিকে খেয়াল রাখ। অতঃপর বিলাল (রাযিঃ)-ও নিদ্রাকআতর হয়ে পড়েন এবং তিনি নিজের উটের সাথে হেলান দেয়া অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়েন। এমতাবস্থায় নবী (ﷺ), বিলাল (রাযিঃ) এবং সহগামী সাহাবীদের কেউই জাগরিত হন নাই যতক্ষণ না সূর্যের তাপ তাদেরকে স্পর্শ করে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)ই সর্বপ্রথম ঘুম হতে জাগরিত হন এবং অস্থির হয়ে পড়েন।

অতঃপর তিনি বিলাল (রাযিঃ)-কে বলেনঃ হে বিলাল! জবাবে বিলাল (রাযিঃ) ওযর পেশ করে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক। যে মহান সত্তা আপনার জীবন ধরে রেখেছিলেন সেই মহান সত্বা আমার জীবনও ধরে রেখেছিলেন। অতঃপর তারা উক্ত স্থান পরিত্যাগ করে কিছু দূর যাওয়ার পর নবী (ﷺ) উযু করেন এবং বিলাল (রাযিঃ)-কে নামাযের ইকামত দিতে বলেন। তিনি সকলকে নিয়ে নামায আদায় করেন।* নামায শেষে নবী (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি নামায (আদায় করতে) ভুলে যাবে সে যেন স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে তা আদায় করে।** কেননা আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেনঃ “তোমরা আমার স্মরণের জন্য নামায কায়েম কর”।

* উল্লেখিত হাদীসে কেবলমাত্র ইকামতের কথা বর্ণিত হয়েছে। অবশ্য অন্য হাদীসে উল্লেখ আছে যে, নবী করীম (ﷺ) বিলাল (রাযিঃ)-কে প্রথমে আযান ও পরে ইকামতের আদেশ দেন। – (অনুবাদক)

** রাতে ঘুমিয়ে থাকার পর সকালে কেউ যদি এমন সময় ঘুম হতে জাগ্রত হয়, যখন সূর্য উঠতে থাকে তখন নামায আদায় করা হারাম। কেননা অন্য হাদীসে আছে- সূর্যোদয়, ঠিক দ্বি-প্রহর ও সূর্যাস্তের সময় নামায পড়া নিষিদ্ধ। -(অনুবাদক)

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৩৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، فِي هَذَا الْخَبَرِ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَحَوَّلُوا عَنْ مَكَانِكُمُ الَّذِي أَصَابَتْكُمْ فِيهِ الْغَفْلَةُ " . قَالَ فَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَذَّنَ وَأَقَامَ وَصَلَّى . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ مَالِكٌ وَسُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ وَالأَوْزَاعِيُّ وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ وَابْنِ إِسْحَاقَ لَمْ يَذْكُرْ أَحَدٌ مِنْهُمُ الأَذَانَ فِي حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ هَذَا وَلَمْ يُسْنِدْهُ مِنْهُمُ إِلاَّ الأَوْزَاعِيُّ وَأَبَانُ الْعَطَّارُ عَنْ مَعْمَرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৩৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) পূর্বোক্ত হাদীসের বর্ণনা পরস্পরায় বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ যে স্থানে তোমরা গাফলতিতে নিমজ্জিত হয়েছ সে স্থান ত্যাগ কর। রাবী বলেন, উক্ত স্থান ত্যাগের পর অন্য স্থানে পৌছে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বিলাল (রাযিঃ)-কে নির্দেশ দেওয়ায় তিনি আযান ও ইকামত দেন এবং তিনি সকলকে নিয়ে নামায আদায় করেন।

৪৩৭

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ الأَنْصَارِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو قَتَادَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي سَفَرٍ لَهُ فَمَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمِلْتُ مَعَهُ فَقَالَ " انْظُرْ " . فَقُلْتُ هَذَا رَاكِبٌ هَذَانِ رَاكِبَانِ هَؤُلاَءِ ثَلاَثَةٌ حَتَّى صِرْنَا سَبْعَةً . فَقَالَ " احْفَظُوا عَلَيْنَا صَلاَتَنَا " . يَعْنِي صَلاَةَ الْفَجْرِ فَضُرِبَ عَلَى آذَانِهِمْ فَمَا أَيْقَظَهُمْ إِلاَّ حَرُّ الشَّمْسِ فَقَامُوا فَسَارُوا هُنَيَّةً ثُمَّ نَزَلُوا فَتَوَضَّئُوا وَأَذَّنَ بِلاَلٌ فَصَلَّوْا رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ ثُمَّ صَلَّوُا الْفَجْرَ وَرَكِبُوا فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ قَدْ فَرَّطْنَا فِي صَلاَتِنَا . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهُ لاَ تَفْرِيطَ فِي النَّوْمِ إِنَّمَا التَّفْرِيطُ فِي الْيَقَظَةِ فَإِذَا سَهَا أَحَدُكُمْ عَنْ صَلاَةٍ فَلْيُصَلِّهَا حِينَ يَذْكُرُهَا وَمِنَ الْغَدِ لِلْوَقْتِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৪৩৭. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আবু কাতাদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এক সফরে ছিলেন। তিনি একদিকে মনোনিবেশ করলেন এবং আমিও তাঁর সাথে মনোনিবেশ করলাম। অতঃপর তিনি বলেনঃ লক্ষ্য কর। তখন আমি বলি এই একজন আরোহী, এই দুইজন আরোহী, এই তিনজন আরোহী- এইরূপে আমরা গণনায় সাত পর্যন্ত পৌছাই। অতঃপর নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা আমাদের ফজরের নামাযের প্রতি দৃষ্টি রাখ। অতঃপর রাবী বলেন যে, তাদের কান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল (সকলে ঘুমিয়ে পড়েছিল) এবং রৌদ্রের তাপ গায়ে লাগার পূর্বে কেউই ঘুম হতে উঠতে পারেন নি। ঘুম হতে বেলা উঠার পর জাগ্রত হয়ে তারা উক্ত স্থান ত্যাগ করে সামান্য দূর যাওয়ার পর অবতরণ করে উযু করেন।

অতঃপর বিলাল (রাযিঃ) আযান দেওয়ার পর তারা প্রথমে ফজরের দুই রাকআত সুন্নত, অতঃপর দুই রাকআত ফরয নামায আদায় করে উক্ত স্থান ত্যাগ করেন। অতঃপর তাঁরা পরস্পর বলাবলি করতে থাকেন, আমরা নির্ধারিত সময়ে নামায আদায় না করে গুনাহগার হয়েছি। এতদশ্রবণে নবী (ﷺ) বলেনঃ অনিচ্ছাকৃত ভাবে নির্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে কেউ যদি নামায কাযা করে তবে তা অন্যায় নহে। অবশ্য জাগ্রত থাকাবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে নামায কাযা করলে অন্যায় হবে। অতএব তোমাদের কেউ যখন নামায আদায়ের কথা ভুলে যায়, সে যেন স্মরণ হওয়া মাত্রই তা আদায় করে এবং পরবর্তী দিন উক্ত সময়ের নামাযটি তার নির্ধারিত সময়ে যেন আদায় করে।*

* উপরোক্ত হাদীসে জানা যায় যে, কোন ব্যক্তির নামায কাযা হলে স্মরণ হওয়া মাত্রই তা আদায় করতে হবে এবং পরের দিন ঐ নামাযের জন্য নির্দ্ধরিত সময়ে আদায় করার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে যেন পুনরায় তা কাযা না হয়।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৩৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ سُمَيْرٍ، قَالَ قَدِمَ عَلَيْنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَبَاحٍ الأَنْصَارِيُّ مِنَ الْمَدِينَةِ وَكَانَتِ الأَنْصَارُ تُفَقِّهُهُ - فَحَدَّثَنَا قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو قَتَادَةَ الأَنْصَارِيُّ فَارِسُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَيْشَ الأُمَرَاءِ بِهَذِهِ الْقِصَّةِ . قَالَ فَلَمْ تُوقِظْنَا إِلاَّ الشَّمْسُ طَالِعَةً فَقُمْنَا وَهِلِينَ لِصَلاَتِنَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " رُوَيْدًا رُوَيْدًا " . حَتَّى إِذَا تَعَالَتِ الشَّمْسُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ كَانَ مِنْكُمْ يَرْكَعُ رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ فَلْيَرْكَعْهُمَا " . فَقَامَ مَنْ كَانَ يَرْكَعُهُمَا وَمَنْ لَمْ يَكُنْ يَرْكَعُهُمَا فَرَكَعَهُمَا ثُمَّ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُنَادَى بِالصَّلاَةِ فَنُودِيَ بِهَا فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى بِنَا فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " أَلاَ إِنَّا نَحْمَدُ اللَّهَ أَنَّا لَمْ نَكُنْ فِي شَىْءٍ مِنْ أُمُورِ الدُّنْيَا يَشْغَلُنَا عَنْ صَلاَتِنَا وَلَكِنَّ أَرْوَاحَنَا كَانَتْ بِيَدِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَأَرْسَلَهَا أَنَّى شَاءَ فَمَنْ أَدْرَكَ مِنْكُمْ صَلاَةَ الْغَدَاةِ مِنْ غَدٍ صَالِحًا فَلْيَقْضِ مَعَهَا مِثْلَهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৪৩৮. আলী ইবনে নসর .... খালিদ ইবনে সুমাইর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে রাবাহ্ আনসারী (রাযিঃ) মদীনা হতে আমাদের নিকট আগমন করেন। মদীনার আনসারগগ তাঁকে একজন বিশিষ্ট ফকীহ (ফিকাহ্ তত্ত্ববিদ আলেম) হিসাবে গণ্য করতেন। রাবী বলেন, আব্দুল্লাহ্ আনসারী (রাযিঃ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেন যে, আবু কাতাদা আল্-আনসারী (রাযিঃ) যিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর ঘোড়া রক্ষক ছিলেন- তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুতার যুদ্ধে সৈন্য প্রেরণ করেন ......... পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ।

রাবী বলেন, সূর্যের রশ্মি আমাদের শরীর স্পর্শ করার পর আমরা ঘুম হতে জগ্রত হই। ঐ সময় আমরা আমাদের নামাযের জন্য অস্থির হয়ে পড়ি। নবী (ﷺ) বললেন, এ স্থান ত্যাগ কর, ত্যাগ কর। তাঁরা ঐ স্থান ত্যাগ করে যাওয়ার পর যখন কিছুটা উপরে উঠল তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যারা সফরের সময় ফজরের নামাযের দুই রাকআত সুন্নত আদায়ে অভ্যস্ত-তারা যেন তা আদায় করে নেয়। অতঃপর উপস্থিত সাহাবাগণ ফজরের দুই রাকআত (সুন্নত) আদায় করেন। অতঃপর নবী (ﷺ) আযান দেওয়ার নির্দেশ দেন। আযানের পর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের ফজরের দুই রাকআত ফরয নামায আদায় করেন।

নামায আদায়ের পর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের সম্বোধন করে বলেনঃ তোমরা জেনে রাখ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। দুনিয়ার কোন কাজকর্ম আমাদের এই নামায আদায় করা হতে বিরত রাখেনি, বরং আমাদের আত্মাসমূহ আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে ছিল। অতঃপর তাঁর ইচ্ছানুযায়ী তা আমাদের নিকট ফেরত পাঠিয়েছেন। তোমাদের কেউ যখন আগামী দিনের ফজরের নামায ঠিক সময়ে পাবে তবে সে যেন এ ওয়াক্তের সাথে এই কাযা নামাযটিও আদায় করে।
৪৩৯

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، فِي هَذَا الْخَبَرِ قَالَ فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ قَبَضَ أَرْوَاحَكُمْ حَيْثُ شَاءَ وَرَدَّهَا حَيْثُ شَاءَ قُمْ فَأَذِّنْ بِالصَّلاَةِ " . فَقَامُوا فَتَطَهَّرُوا حَتَّى إِذَا ارْتَفَعَتِ الشَّمْسُ قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى بِالنَّاسِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৪৩৯. আমর ইবনে আওন .... আবু কাতাদা (রাযিঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। রাবী বলেন, অতঃপর নবী (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ আল্লাহ্ তাআলা তোমাদের আত্মাগুলিকে যতক্ষণ ইচ্ছা স্বীয় নিয়ন্ত্রণে রাখেন, অতঃপর তা ফিরিয়ে দেন। অতঃপর তিনি ঐ স্থান ত্যাগের নির্দেশ দেন। অতঃপর তিনি বিলাল (রাযিঃ)-কে আযান দিতে বলায় তিনি আযান দিলে সকলে উযু করেন। ইতিমধ্যে সূর্য উপরে উঠে যায় এবং নবী (ﷺ) সাহাবীদের নিয়ে ঐ নামায আদায় করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৪৪০

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْثَرٌ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ قَالَ فَتَوَضَّأَ حِينَ ارْتَفَعَتِ الشَّمْسُ فَصَلَّى بِهِمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৪৪০. হান্নাদ .... আবু কাতাদা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট থেকে ...পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ। রাবী বলেন, সূর্য কিছু উপরে উঠার পর সকলে উযু করে নামায আদায় করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৪৪১

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، - وَهُوَ الطَّيَالِسِيُّ - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُغِيرَةِ - عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ فِي النَّوْمِ تَفْرِيطٌ إِنَّمَا التَّفْرِيطُ فِي الْيَقَظَةِ أَنْ تُؤَخَّرَ صَلاَةٌ حَتَّى يَدْخُلَ وَقْتُ أُخْرَى " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৪৪১. আল-আব্বাস আল-আনবারী .... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ ঘুমের কারণে নামায কাযা হলে অন্যায় নয়, বরং জাগ্রত অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে নামায এত বিলম্বে আদায় করা অন্যায়, যাতে অন্য ওয়াক্ত উপনীত হয়।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৪২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ نَسِيَ صَلاَةً فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا لاَ كَفَّارَةَ لَهَا إِلاَّ ذَلِكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৪২. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর .... আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি নামায আদায়ের কথা ভুলে যায় সে যেন স্মরণ হওয়া মাত্রই তা আদায় করে। কাযা নামাযের কাফফারা হল তা আদায় করা।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৪৩

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي مَسِيرٍ لَهُ فَنَامُوا عَنْ صَلاَةِ الْفَجْرِ فَاسْتَيْقَظُوا بِحَرِّ الشَّمْسِ فَارْتَفَعُوا قَلِيلاً حَتَّى اسْتَقَلَّتِ الشَّمْسُ ثُمَّ أَمَرَ مُؤَذِّنًا فَأَذَّنَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَقَامَ ثُمَّ صَلَّى الْفَجْرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৪৪৩. ওয়াহব ইবনে বাকিয়্যা ..... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এক দীর্ঘ সফর হতে প্রত্যাবর্তনের সময় ফজরের নামাযের ওয়াক্তে সকলে নিদ্রাচ্ছন্ন থাকেন। তাঁরা সূর্যোত্তাপ শরীরে লাগার পর জাগ্রত হন। অতঃপর স্থান ত্যাগ করে কিছু দূরে যাওয়ার পর সূর্য কিছু উপরে উঠলে তিনি মুয়াযযিনকে আযান দেওয়ার নির্দেশ দেন। মুয়াযযিন আযান দিলে তাঁরা প্রথমে ফজরের দু’রাকআত সুন্নত নামায আদায় করেন এবং ইকামতের পর ফরয নামায আদায় করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৪৪৪

حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، - وَهَذَا لَفْظُ عَبَّاسٍ - أَنَّ عَبْدَ، اللَّهِ بْنَ يَزِيدَ حَدَّثَهُمْ عَنْ حَيْوَةَ بْنِ شُرَيْحٍ عَنْ عَيَّاشِ بْنِ عَبَّاسٍ - يَعْنِي الْقِتْبَانِيَّ - أَنَّ كُلَيْبَ بْنَ صُبْحٍ حَدَّثَهُمْ أَنَّ الزِّبْرِقَانَ حَدَّثَهُ عَنْ عَمِّهِ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّةَ الضَّمْرِيِّ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ فَنَامَ عَنِ الصُّبْحِ حَتَّى طَلَعَتِ الشَّمْسُ فَاسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " تَنَحُّوا عَنْ هَذَا الْمَكَانِ " . قَالَ ثُمَّ أَمَرَ بِلاَلاً فَأَذَّنَ ثُمَّ تَوَضَّئُوا وَصَلَّوْا رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ ثُمَّ أَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ الصَّلاَةَ فَصَلَّى بِهِمْ صَلاَةَ الصُّبْحِ " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে উমাইয়্যা যামরী (রাঃ)

৪৪৪. আব্বাস আল-আনবারী .... আমর ইবনে উমাইয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা কোন এক সফরে নবী (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। তিনি ফজরের নামাযের সময় ঘুমে কাতর ছিলেন। সূর্যোদয়ের পর ঘুম থেকে জাগরিত হয়ে সাহাবীদের উক্ত স্থান ত্যাগের নির্দেশ দেন। অতঃপর তিনি অন্য এক স্থানে উপনীত হয়ে বিলাল (রাযিঃ)-কে আযান দিতে বলেন। তিনি আযান দিলে সাহাবীগণ উযু করে দু’রাকআত সুন্নত নামায আদায় করেন। অতঃপর বিলাল (রাযিঃ)-কে ইকামতের নির্দেশ দিলে তিনি ইকামত দেন। নবী (ﷺ) সকলকে নিয়ে ফজরের ফরয নামায আদায় করেন।

৪৪৫

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - حَدَّثَنَا حَرِيزٌ، ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ أَبِي الْوَزِيرِ، حَدَّثَنَا مُبَشِّرٌ، - يَعْنِي الْحَلَبِيَّ - حَدَّثَنَا حَرِيزٌ، - يَعْنِي ابْنَ عُثْمَانَ - حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ ذِي، مِخْبَرٍ الْحَبَشِيِّ وَكَانَ يَخْدُمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْخَبَرِ قَالَ فَتَوَضَّأَ - يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - وُضُوءًا لَمْ يَلْثَ مِنْهُ التُّرَابُ ثُمَّ أَمَرَ بِلاَلاً فَأَذَّنَ ثُمَّ قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ غَيْرَ عَجِلٍ ثُمَّ قَالَ لِبِلاَلٍ " أَقِمِ الصَّلاَةَ " . ثُمَّ صَلَّى الْفَرْضَ وَهُوَ غَيْرُ عَجِلٍ . قَالَ عَنْ حَجَّاجٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ صُلَيْحٍ حَدَّثَنِي ذُو مِخْبَرٍ رَجُلٌ مِنَ الْحَبَشَةِ وَقَالَ عُبَيْدٌ يَزِيدُ بْنُ صَالِحٍ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪৪৫. ইবরাহীম ..... যু-মিখবার আল-হাবশী (নাজ্জাশীর ভ্রাতাষ্পুত্র) হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ)-এর খিদমত করতেন। পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা পূর্বক বলেন, নবী (ﷺ) নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে উযু করেন। অতঃপর তিনি বিলাল (রাযিঃ)-কে নির্দেশ দিলে তিনি আযান দেন। নবী (ﷺ) দণ্ডায়মান হয়ে শান্তভাবে দুই রাকআত ফজরের সুন্নত নামায আদায় করেন। অতঃপর বিলাল (রাযিঃ)-কে ইকামত দিতে বলেন। তিনি ইকামত দিলে নবী (ﷺ) সাহাবীদের নিয়ে ধীরস্থিরভাবে ফজরের দু’রাকআত ফরয নামায আদায় করেন।

৪৪৬

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنْ حَرِيزٍ، - يَعْنِي ابْنَ عُثْمَانَ - عَنْ يَزِيدَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ ذِي، مِخْبَرِ بْنِ أَخِي النَّجَاشِيِّ فِي هَذَا الْخَبَرِ قَالَ فَأَذَّنَ وَهُوَ غَيْرُ عَجِلٍ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪৪৬. মুআম্মাল .... যু-মিখবার হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তিনি বলেন, অতঃপর বিলাল (রাযিঃ) ধীরস্থিরভাবে আযান দেন।

৪৪৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ جَامِعِ بْنِ شَدَّادٍ، سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي عَلْقَمَةَ، سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، قَالَ أَقْبَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ يَكْلَؤُنَا " . فَقَالَ بِلاَلٌ أَنَا . فَنَامُوا حَتَّى طَلَعَتِ الشَّمْسُ فَاسْتَيْقَظَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " افْعَلُوا كَمَا كُنْتُمْ تَفْعَلُونَ " . قَالَ فَفَعَلْنَا . قَالَ " فَكَذَلِكَ فَافْعَلُوا لِمَنْ نَامَ أَوْ نَسِيَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৪৪৭. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাস্উদ (রাযিঃ) বলেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সফরসঙ্গী ছিলাম। ঐ সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ আমাদের পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব কে গ্রহণ করবে? তখন বিলাল (রাযিঃ) বলেন, আমি। অতঃপর সকলে ঘুমিয়ে পড়েন এমনকি সূর্যোদয়ের পর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ঘুম হতে জাগরিত হয়ে বলেনঃ তোমরা ঐরূপ কর যেরূপ তোমরা করতে- অর্থাৎ সুর্যোদয়ের পূর্বে তোমরা যেরূপ এই নামায আদায় করতে এখনও সেভাবে তা আদায় কর।

রাবী বলেন, অতঃপর আমরা নবী (ﷺ)-এর নির্দেশ মোতাবেক উযু করে আযান, ইকামত ও জামাআতের সাথে নামায আদায় করি। অতঃপর নবী (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি নামায আদায় করতে ভুলে যাবে বা ঘুমিয়ে থাকার ফলে আদায় করতে পারবে না; সে যেন তার কাযা এইরূপে আদায় করে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৬. মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গে।

باب فِي بِنَاءِ الْمَسَاجِدِ

৪৪৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ بْنِ سُفْيَانَ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ أَبِي فَزَارَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا أُمِرْتُ بِتَشْيِيدِ الْمَسَاجِدِ " . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَتُزَخْرِفُنَّهَا كَمَا زَخْرَفَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৪৮. মুহাম্মাদ ইবনুস-সাব্বাহ্ .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ আমাকে বেশী উঁচু করে মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দেয়া হয় নি। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, তোমরা মসজিদ এমনভাবে কারুকার্য করবে যেমনটি ইহুদী ও নাসারারা নিজ নিজ উপাসনালয় নকশা ও কারুকার্য মণ্ডিত করে থাকে।

৪৪৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخُزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسٍ، وَقَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَتَبَاهَى النَّاسُ فِي الْمَسَاجِدِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৪৯. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ আল-খূযাঈ .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ লোকেরা মসজিদে পরস্পরের মধ্যে (নির্মাণ ও কারুকার্য নিয়ে) গর্ব না করা পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৪৫০

حَدَّثَنَا رَجَاءُ بْنُ الْمُرَجَّى، حَدَّثَنَا أَبُو هَمَّامٍ الدَّلاَّلُ، مُحَمَّدُ بْنُ مُحَبَّبٍ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيَاضٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُ أَنْ يَجْعَلَ مَسْجِدَ الطَّائِفِ حَيْثُ كَانَ طَوَاغِيتُهُمْ .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আবুল আস ছাকাফী (রাঃ)

৪৫০. রাজাআ ইবনুল-মুরাজ্জা .... উছমান ইবনে আবুল আস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তাঁকে তায়েফের ঐ স্থানে মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দান করেন, যেখানে মুর্তি পূজারীদের মূর্তিঘর ছিল।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৪৫১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، وَمُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، - وَهُوَ أَتَمُّ - قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا نَافِعٌ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ الْمَسْجِدَ كَانَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَبْنِيًّا بِاللَّبِنِ وَالْجَرِيدِ - قَالَ مُجَاهِدٌ وَعَمَدُهُ مِنْ خَشَبِ النَّخْلِ - فَلَمْ يَزِدْ فِيهِ أَبُو بَكْرٍ شَيْئًا وَزَادَ فِيهِ عُمَرُ وَبَنَاهُ عَلَى بِنَائِهِ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِاللَّبِنِ وَالْجَرِيدِ وَأَعَادَ عَمَدَهُ - قَالَ مُجَاهِدٌ عُمُدَهُ خَشَبًا - وَغَيَّرَهُ عُثْمَانُ فَزَادَ فِيهِ زِيَادَةً كَثِيرَةً وَبَنَى جِدَارَهُ بِالْحِجَارَةِ الْمَنْقُوشَةِ وَالْقَصَّةِ وَجَعَلَ عَمَدَهُ مِنْ حِجَارَةٍ مَنْقُوشَةٍ وَسَقَّفَهُ بِالسَّاجِ . قَالَ مُجَاهِدٌ وَسَقْفُهُ السَّاجُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْقَصَّةُ الْجِصُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৫১. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে মসজিদে নববী ইটের দ্বারা তৈরী ছিল এবং তার ছাদ ছিল খেজুর গাছের ডাল ও গুড়ির দ্বারা তৈরী। মুজাহিদ বলেন, তার স্তম্ভগুলি ছিল শুকনা খেজুর গাছের। আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) তাতে কোন পরিবর্তন-পরিবর্ধন করেন নি। উমর (রাযিঃ) তাঁর শাসনামলে তা কিছুটা প্রশস্ত করেন; কিন্তু তাঁর মূল ভিত্তি ছিল রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর যুগে কাঁচা ইটের তৈরী দেওয়াল ও খেজুর পাতার ছাউনীতে। তিনি স্তম্ভগুলি পরিবর্তন করেন, কিন্তু মূল বুনিয়াদের মধ্যে কোন পরিবর্তন করেন নি।

মুজাহিদ (রাহঃ) বলেন, তার স্তম্ভগুলি ছিল শুকনা খেজুর গাছের। উছমান (রাযিঃ) এর সময় তিনি তার পরিবর্তন-পরিবর্ধন করে তা অনেক প্রশস্ত করেন। তিনি কাঁচা ইটের পরিবর্তে নকশা খচিত প্রস্তর ও চুনা দ্বারা তার দেওয়াল নির্মাণ করেন এবং তার স্তম্ভগুলিও নকশা খচিত পাথর দ্বারা নির্মাণ করেন। তিনি সেগুন কাঠ দ্বারা (যা হিন্দুস্থানে পাওয়া যায়) এর ছাদ নির্মাণ করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ

৪৫২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ فِرَاسٍ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ مَسْجِدَ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم كَانَتْ سَوَارِيهِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ جُذُوعِ النَّخْلِ أَعْلاَهُ مُظَلَّلٌ بِجَرِيدِ النَّخْلِ ثُمَّ إِنَّهَا نَخِرَتْ فِي خِلاَفَةِ أَبِي بَكْرٍ فَبَنَاهَا بِجُذُوعِ النَّخْلِ وَبِجَرِيدِ النَّخْلِ ثُمَّ إِنَّهَا نَخِرَتْ فِي خِلاَفَةِ عُثْمَانَ فَبَنَاهَا بِالآجُرِّ فَلَمْ تَزَلْ ثَابِتَةً حَتَّى الآنَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৫২. মুহাম্মাদ ইবনে হাতেম ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ)-এর সময় মসজিদে নববীর ছাদ ছিল খেজুর পাতার তৈরী এবং আড়া ছিল খেজুরের গাছের। আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) এর যামানায় তা পুরাতন ও বিনষ্ট হওয়ায় তিনি তা পূর্বের ন্যায় খেজুরের গাছ ও পাতার দ্বারা পুনরায় নির্মাণ করেন। অতঃপর উছমান (রাযিঃ) এর শাসনামলে তা বিনষ্ট হওয়ায় তিনি তা পাকা ইট ও প্রস্তর দ্বারা নির্মাণ করেন। এখনও তা অক্ষত অবস্থায় বিরাজিত।

৪৫৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ فَنَزَلَ فِي عُلْوِ الْمَدِينَةِ فِي حَىٍّ يُقَالُ لَهُمْ بَنُو عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ فَأَقَامَ فِيهِمْ أَرْبَعَ عَشَرَةَ لَيْلَةً ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَى بَنِي النَّجَّارِ فَجَاءُوا مُتَقَلِّدِينَ سُيُوفَهُمْ - فَقَالَ أَنَسٌ - فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى رَاحِلَتِهِ وَأَبُو بَكْرٍ رِدْفَهُ وَمَلأُ بَنِي النَّجَّارِ حَوْلَهُ حَتَّى أَلْقَى بِفِنَاءِ أَبِي أَيُّوبَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي حَيْثُ أَدْرَكَتْهُ الصَّلاَةُ وَيُصَلِّي فِي مَرَابِضِ الْغَنَمِ وَإِنَّهُ أَمَرَ بِبِنَاءِ الْمَسْجِدِ فَأَرْسَلَ إِلَى بَنِي النَّجَّارِ فَقَالَ " يَا بَنِي النَّجَّارِ ثَامِنُونِي بِحَائِطِكُمْ هَذَا " . فَقَالُوا وَاللَّهِ لاَ نَطْلُبُ ثَمَنَهُ إِلاَّ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ . قَالَ أَنَسٌ وَكَانَ فِيهِ مَا أَقُولُ لَكُمْ كَانَتْ فِيهِ قُبُورُ الْمُشْرِكِينَ وَكَانَتْ فِيهِ خِرَبٌ وَكَانَ فِيهِ نَخْلٌ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِقُبُورِ الْمُشْرِكِينَ فَنُبِشَتْ وَبِالْخِرَبِ فَسُوِّيَتْ وَبِالنَّخْلِ فَقُطِعَ فَصَفُّوا النَّخْلَ قِبْلَةَ الْمَسْجِدِ وَجَعَلُوا عِضَادَتَيْهِ حِجَارَةً وَجَعَلُوا يَنْقُلُونَ الصَّخْرَ وَهُمْ يَرْتَجِزُونَ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَعَهُمْ وَهُوَ يَقُولُ اللَّهُمَّ لاَ خَيْرَ إِلاَّ خَيْرُ الآخِرَهْ فَانْصُرِ الأَنْصَارَ وَالْمُهَاجِرَهْ

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৫৩. মুসাদ্দাদ .... আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মদীনায় আগমনের পর আওআলীয়ে-মদীনায় আমর ইবনে আওফ গোত্রে অবতরণ করেন এবং তথায় ১৪ দিন অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি বনু নাজ্জার গোত্রে যাওয়ার উদ্দেশ্যে খবর পাঠান। তারা নবী (ﷺ) এর সম্মানার্থে গলদেশে তরবারি ঝুলিয়ে সেখানে আসেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, আমি যেন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বাহনে আরোহিত অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি এবং আবু বকর (রাযিঃ) তখন তাঁর পশ্চাতে আরোহিত ছিলেন। বনু নাজ্জার গোত্রের নেতৃবৃন্দ তাঁর চারদিকে ছিল। তিনি আবু আইয়ুব (রাযিঃ) এর বাড়ির আঙ্গিনায় এসে অবতরণ করেন।

রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যেখানেই নামাযের ওয়াক্ত হত সেখানেই নামায আদায় করতেন। এমনকি তিনি বকরী রাখার স্থানেও নামায আদায় করতেন। তিনি মসজিদ নির্মাণের জন্য আদিষ্ট হলে বনু নাজ্জার গোভ্রের নিকট এ সংবাদ প্রেরণ করেন এবং বলেন, হে বনু নাজ্জার। তোমরা মসজিদ নির্মাণের জন্য এই বাগানটি আমার নিকট বিক্রি কর। তাঁরা বলেন, আমরা বিনিময় একমাত্র আল্লাহর নিকটেই কামনা করি। আনাস (রাযিঃ) বলেন, তাতে যা ছিল- সে ব্যাপারে আমি এখনই তোমাদের জ্ঞাত করাচ্ছি। ঐ স্থানে ছিল মুশরিকদের কবর, পুরাতন ধ্বংসস্তুপ ও খেজুর গাছ।

রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুশরিকদের কবর হতে তাদের গলিত হাড্ডি ইত্যাদি অন্যত্র নিক্ষেপের নির্দেশ দিলে তা ফেলে দেয়া হয়, ভূমি সমতল করা হয় এবং খেজুর গাছগুলি কেটে ফেলা হয়। অতঃপর মসজিদের দক্ষিণ দিকের খেজুর গাছগুলি সুবিন্যস্তভাবে রাখা হয় এবং দরজার চৌকাঠ ছিল পাথরের তৈরী। মসজিদ তৈরীর জন্য পাথর আনার সময় নবী (ﷺ)ও সাহাবীদের সাথে একত্রে কাজ করার সময় নিম্নোক্ত কবিতা পাঠ করেনঃ

اللَّهُمَّ لاَ خَيْرَ إِلاَّ خَيْرُ الآخِرَهْ فَانْصُرِ الأَنْصَارَ وَالْمُهَاجِرَهْ

“ইয়া আল্লাহ! আখেরাতে কল্যাণই আমাদের কাম্য। আপনি আনসার ও মুহাজিরদের সাহায্য করুন”।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৪৫৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ مَوْضِعُ الْمَسْجِدِ حَائِطًا لِبَنِي النَّجَّارِ فِيهِ حَرْثٌ وَنَخْلٌ وَقُبُورُ الْمُشْرِكِينَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ثَامِنُونِي بِهِ " . فَقَالُوا لاَ نَبْغِي بِهِ ثَمَنًا . فَقُطِعَ النَّخْلُ وَسُوِّيَ الْحَرْثُ وَنُبِشَ قُبُورُ الْمُشْرِكِينَ وَسَاقَ الْحَدِيثَ وَقَالَ " فَاغْفِرْ " . مَكَانَ " فَانْصُرْ " . قَالَ مُوسَى وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بِنَحْوِهِ وَكَانَ عَبْدُ الْوَارِثِ يَقُولُ خِرَبٌ وَزَعَمَ عَبْدُ الْوَارِثِ أَنَّهُ أَفَادَ حَمَّادًا هَذَا الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৫৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদে নববীর স্থানটুকু বনু নাজ্জার গোত্রের বাগান ছিল। তথায় তাদের কৃষিক্ষেত্র, খেজুর বাগান ও মুশরিকদের কবর ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের নিকট মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে তা বিক্রির প্রস্তাব দিলে তাঁরা বলেন- আমরা তা বিক্রি করতে চাই না (বরং দান করব)। তখন ঐ স্থানের খেজুর গাছগুলি কাটা হয়, ভূমি সমতল করা হয় এবং মুশ্রিকদের। কবর খুঁড়ে তাদের গলিত অস্থিগুলি অন্যত্র সরিরে ফেলা হয়। অতঃপর রাবী পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী এই হাদীসের মধ্যে “ফানসুর” শব্দের পরিবর্তে “ফাগফির” শব্দটির উল্লেখ করেছেন (অর্থ আপনি আনসার আর মুহাজিরদের ক্ষমা করুন)।

১৭. পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ নির্মাণ সম্পর্কে।

باب اتِّخَاذِ الْمَسَاجِدِ فِي الدُّورِ

৪৫৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِبِنَاءِ الْمَسَاجِدِ فِي الدُّورِ وَأَنْ تُنَظَّفَ وَتُطَيَّبَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৪৫৫. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দেন এবং তা পবিত্র, সুগন্ধিযুক্ত ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখারও নির্দেশ দেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৫৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ حَسَّانَ - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سَعْدِ بْنِ سَمُرَةَ، حَدَّثَنِي خُبَيْبُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، سُلَيْمَانَ بْنِ سَمُرَةَ عَنْ أَبِيهِ، سَمُرَةَ أَنَّهُ كَتَبَ إِلَى ابْنِهِ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْمُرُنَا بِالْمَسَاجِدِ أَنْ نَصْنَعَهَا فِي دِيَارِنَا وَنُصْلِحَ صَنْعَتَهَا وَنُطَهِّرَهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৪৫৬. মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ .... সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর পুত্রদের নিকট এই মর্মে পত্র লিখেন যে, রাসুলূল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তা ঠিক ভাবে তৈরী করে পরিষ্কার রাখারও নির্দেশ দিয়ছেন।

১৮. মসজিদে আলো বাতির ব্যাবস্থা করা সম্পর্কে।

باب فِي السُّرُجِ فِي الْمَسَاجِدِ

৪৫৭

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مِسْكِينٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ زِيَادِ بْنِ أَبِي سَوْدَةَ، عَنْ مَيْمُونَةَ، مَوْلاَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفْتِنَا فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ فَقَالَ " ائْتُوهُ فَصَلُّوا فِيهِ " . - وَكَانَتِ الْبِلاَدُ إِذْ ذَاكَ حَرْبًا - فَإِنْ لَمْ تَأْتُوهُ وَتُصَلُّوا فِيهِ فَابْعَثُوا بِزَيْتٍ يُسْرَجُ فِي قَنَادِيلِهِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত মাইমুনা (রাঃ)

৪৫৭. আন্-নুফায়লী ..... মহানবী (ﷺ)-এর আযাদকৃত দাসী মায়মুনা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! বায়তুল মুকাদ্দাসের মধ্যে নামায আদায় করা এবং যিয়ারতের জন্য সফর করা সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা সেখানে গিয়ে নামায আদায় করতে পার। তখন উক্ত শহর ছিল শক্রদের দখলে। এজন্য নবী (ﷺ) বলেনঃ যদি তোমরা সেখানে গিয়ে নামায আদায়ের সুযোগ না পাও তবে বাতি জালানোর জন্য (যায়তুন) তৈল পাঠিয়ে দাও।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৯. মসজিদের কংকর সম্পর্কে।

باب فِي حَصَى الْمَسْجِدِ

৪৫৮

حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ تَمَّامِ بْنِ بَزِيعٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ سُلَيْمٍ الْبَاهِلِيُّ، عَنْ أَبِي الْوَلِيدِ، سَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنِ الْحَصَى الَّذِي، فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ مُطِرْنَا ذَاتَ لَيْلَةٍ فَأَصْبَحَتِ الأَرْضُ مُبْتَلَّةً فَجَعَلَ الرَّجُلُ يَأْتِي بِالْحَصَى فِي ثَوْبِهِ فَيَبْسُطُهُ تَحْتَهُ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةَ قَالَ " مَا أَحْسَنَ هَذَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৫৮. সাহল ইবনে তাম্মাম ..... আবুল ওয়ালীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে মসজিদে নববীর ছোট ছোট প্রস্তর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি তিনি বলেন, একদা রাতে বৃষ্টি হওয়ায় মসজিদে নববীর অঙ্গণ ভিজে স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যায়। তখন এক ব্যক্তি তার কাপড়ে পাথরের টুকরা বহন করে এনে স্ব (দণ্ডায়মানের) স্থানে রাখতে থাকে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নামাযের পর বলেনঃ কত উত্তম কাজ করেছে সে।

৪৫৯

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَوَكِيعٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، قَالَ كَانَ يُقَالُ إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا أَخْرَجَ الْحَصَى مِنَ الْمَسْجِدِ يُنَاشِدُهُ .

বর্ণনাকারী: আবু সালিহ সাম্মান (রহঃ)

৪৫৯. উছমান ইবনে আবি শাঈবা .... আবু সালেহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এরূপ বলা হত যে, যখন কোন ব্যক্তি মসজিদ হতে পাথরের টুকরা বাইরে নিয়ে যায়, তখন কংকর তাকে শপথ দেয় (আর বলে, আমাকে বাইরে নিয়ে যেও না)।

৪৬০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ أَبُو بَكْرٍ، - يَعْنِي الصَّاغَانِيَّ - حَدَّثَنَا أَبُو بَدْرٍ، شُجَاعُ بْنُ الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، حَدَّثَنَا أَبُو حَصِينٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - قَالَ أَبُو بَدْرٍ - أُرَاهُ قَدْ رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْحَصَاةَ لَتُنَاشِدُ الَّذِي يُخْرِجُهَا مِنَ الْمَسْجِدِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৬০. মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। (অধস্তন রাবী) আবু বদর শুজা ইবনুল ওয়ালীদ (রাহঃ) বলেন, শরীক এ হাদীসের সনদ নবী (ﷺ) পর্যন্ত উন্নীত করেছেন। মহানবী (ﷺ) বলেনঃ মসজিদের প্রস্তর টুকরাগুলি সেই ব্যক্তিকে আল্লাহর নামে শপথ দেয়- যে তাদেরকে মসজিদ থেকে বাইরে বের করে।

২০. মসজিদ ঝাড়ু দেওয়া সম্পর্কে।

باب فِي كَنْسِ الْمَسْجِدِ

৪৬১

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَبْدِ الْحَكَمِ الْخَزَّازُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَجِيدِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عُرِضَتْ عَلَىَّ أُجُورُ أُمَّتِي حَتَّى الْقَذَاةُ يُخْرِجُهَا الرَّجُلُ مِنَ الْمَسْجِدِ وَعُرِضَتْ عَلَىَّ ذُنُوبُ أُمَّتِي فَلَمْ أَرَ ذَنْبًا أَعْظَمَ مِنْ سُورَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ أَوْ آيَةٍ أُوتِيَهَا رَجُلٌ ثُمَّ نَسِيَهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৬১. আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুল হাকাম ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ আমার উম্মতের কাজের বিনিময় (সাওয়াব) আমাকে দেখান হয়েছে- এমনকি মসজিদের সামান্য ময়লা পরিস্কারকারীর সাওয়াবও। অপরপক্ষে আমার উম্মতের গুনাহসমূহও আমাকে দেখান হয়েছে। নবী (ﷺ) বলেনঃ আমি এ থেকে অধিক বড় কোন গুনাহ্ দেখিনি যে, কোন ব্যক্তি কুরআনের কোন আয়াত অথবা সূরা মুখস্ত করবার পর তা ভুলে গেছে।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২১. মহিলাদের পুরুষদের হতে পৃথক পথে মসজিদে প্রবেশ সম্পর্কে।

باب فِي اعْتِزَالِ النِّسَاءِ فِي الْمَسَاجِدِ عَنِ الرِّجَالِ

৪৬২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، وَأَبُو مَعْمَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ تَرَكْنَا هَذَا الْبَابَ لِلنِّسَاءِ " . قَالَ نَافِعٌ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ ابْنُ عُمَرَ حَتَّى مَاتَ . وَقَالَ غَيْرُ عَبْدِ الْوَارِثِ قَالَ عُمَرُ وَهُوَ أَصَحُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৬২. আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর ও আবু মামার .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি এই দরজাটি কেবলমাত্র মহিলাদের প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট করা হত (তবে উত্তমই হত)। নাফে বলেন, অতঃপর ইবনে উমর (রাযিঃ) উক্ত দরজা দিয়ে তার ইন্‌তিকালের পূর্ব পর্যন্ত কোনদিন প্রবেশ করেননি। আব্দুল ওয়ারিছ ব্যতীত অন্যদের বর্ণনায় ইবনে উমর (রাযিঃ) এর পারিবর্তে উমর (রাযিঃ) এর উল্লেখ আছে এবং এটাই সঠিক।

৪৬৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ بْنِ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه - فَذَكَرَهُ بِمَعْنَاهُ وَهُوَ أَصَحُّ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

৪৬৩. মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা .... নাফে হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেছেন ......... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ এবং এটাই সঠিক।

৪৬৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ - حَدَّثَنَا بَكْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُضَرَ - عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، كَانَ يَنْهَى أَنْ يُدْخَلَ، مِنْ بَابِ النِّسَاءِ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

৪৬৪. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ..... নাফে (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) পুরুষদেরকে মহিলাদের দরজা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে নিষেধ করতেন।

২২. মসজিদে প্রবেশকালে পড়ার দুআ।

باب فِيمَا يَقُولُهُ الرَّجُلُ عِنْدَ دُخُولِهِ الْمَسْجِدَ

৪৬৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي الدَّرَاوَرْدِيَّ - عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ سُوَيْدٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حُمَيْدٍ، أَوْ أَبَا أُسَيْدٍ الأَنْصَارِيَّ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلْيُسَلِّمْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ لْيَقُلِ اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ فَإِذَا خَرَجَ فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ " .

বর্ণনাকারী: আবু হুমায়দ সায়িদী (রাঃ)

৪৬৫. মুহাম্মাদ ইবনে উছমান .... আবু হুমায়েদ (রাযিঃ) অথবা আবু উসায়েদ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ কালে সর্বপ্রথম নবী (ﷺ)-এর উপর সালাম, পাঠাবে, অতঃপর এই দুআ পড়বে, (اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ) “আল্লাহুম্মাফ তাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা” “ইয়া আল্লাহ! আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দাও”। অতঃপর যখন কেউ মসজিদ হতে বের হবে তখন এই দুআ পাঠ করবেঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ “আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকা মিন ফাদলিক” “ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার করুণা কামনা করি”

৪৬৬

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ بِشْرِ بْنِ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ حَيْوَةَ بْنِ شُرَيْحٍ، قَالَ لَقِيتُ عُقْبَةَ بْنَ مُسْلِمٍ فَقُلْتُ لَهُ بَلَغَنِي أَنَّكَ حَدَّثْتَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ إِذَا دَخَلَ الْمَسْجِدَ قَالَ " أَعُوذُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ " . قَالَ أَقَطُّ قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ فَإِذَا قَالَ ذَلِكَ قَالَ الشَّيْطَانُ حُفِظَ مِنِّي سَائِرَ الْيَوْمِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৬৬. ইসমাঈল ইবনে বিশর ..... হায়ওয়াত ইবনে শুরায়হ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উকবা ইবনে মুসলিমের সাথে সাক্ষাত করে তাঁকে বলি, আমি জানতে পেরেছি যে, আপনার নিকট আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) হতে হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি (নবী) যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন বলতেনঃ

أَعُوذُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

“আমি মহান আল্লাহর নিকট তাঁর করুণাসিক্ত জাত ও চির পরাক্রমাশালী শক্তির মাধ্যমে-অনিষ্টকারী শয়তান হতে আত্মরক্ষার জন্য সাহায্য প্রার্থনা করছি।”

উকবা (রাযিঃ) বলেন, এখানেই কি হাদীসের শেষ? আমি বললাম, হ্যাঁ! তখন উকবা বলেন, যখন কেউ এই দুআ পাঠ করে তখন শয়তান বলে, এই ব্যক্তি আজ সারা দিনের জন্য আমার অনিষ্ট হতে রক্ষা পেল।

২৩. মসজিদে প্রবেশের পর নামায আদায় সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي الصَّلاَةِ عِنْدَ دُخُولِ الْمَسْجِدِ

৪৬৭

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلْيُصَلِّ سَجْدَتَيْنِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَجْلِسَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৪৬৭. আল্-কানবী ..... আবু কাতাদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে পৌছে বসার পূর্বেই যেন দুই রাকআত (তাহিয়্যাতুল-মসজিদ) নামায আদায় করে।*

* মসজিদে প্রবেশ করলেই বসার পূর্বে দুই রাকআত নামায (তাহিয়্যাতুল মসজিদ) পড়ে নেবে- তা যে কোন সময় প্রবেশ করুক না কেন। এই নির্দেশ শুধুমাত্র জুমুআর দিনের জন্য নির্দিষ্ট নয়। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ইবন হাম্বল, ইসহাক, হাসান বসরী ও মাহূল (রাহঃ)-এর মতে ইমামের খুতবা চলাকালীন সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলেও বসার পূর্বে ঐ নামায পড়ে নেবে। পক্ষান্তরে ইব্‌ন সীরীন, আতা ইব্‌ন আব রাবাহ, ইবরাহীম নাখঈ, সুফিয়ান ছাওরী, মালেক, আবু হানীফা ও তাঁর সহচরগণ বলেন যে, ইমামের খুতবা চলাকালীন মসজিদে প্রবেশ করলে ঐ নামায না পড়ে বরং বসে যাবে এবং খুতবা শুনবে। তাদের মতে খুতবা শুনা ওয়াজিব এবং ঐ নামায হল নফল। তাই নফলের উপর ওয়াজিবকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৬৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عُمَيْسٍ، عُتْبَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي زُرَيْقٍ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ زَادَ " ثُمَّ لْيَقْعُدْ بَعْدُ إِنْ شَاءَ أَوْ لِيَذْهَبْ لِحَاجَتِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৪৬৮. মুসাদ্দাদ ..... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে অপর সনদে নবী (ﷺ)-এর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। এই বর্ণনায় আরও আছ... “অতঃপর সে ইচ্ছা করলে বসতে পারে বা নিজের প্রয়োজনে বাইরে চলেও যেতে পারে।”

২৪. মসজিদে বসে থাকার ফযীলত।

باب فِي فَضْلِ الْقُعُودِ فِي الْمَسْجِدِ

৪৬৯

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمَلاَئِكَةُ تُصَلِّي عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ فِي مُصَلاَّهُ الَّذِي صَلَّى فِيهِ مَا لَمْ يُحْدِثْ أَوْ يَقُمِ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৬৯। আল-কানবী ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ ফিরিশতাগণ তোমাদের কারো জন্য ততক্ষণ দুআ করতে থাকে যতক্ষণ তোমাদের কেউ জায়নামাযে নামাযের অপেক্ষায় বসে থাকে এবং তার উযু নষ্ট না হয় বা সে ব্যক্তি ঐ স্থান ত্যাগ না করে। ফিরিশতাদের দুআ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ “ইয়া আল্লাহ্! আপনি তাকে ক্ষমা করুন। ইয়া আল্লাহ্! আপনি তার প্রতি সদয় হোন”।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৭০

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَزَالُ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَةٍ مَا كَانَتِ الصَّلاَةُ تَحْبِسُهُ لاَ يَمْنَعُهُ أَنْ يَنْقَلِبَ إِلَى أَهْلِهِ إِلاَّ الصَّلاَةُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৭০. আল্-কানবী ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করতেনঃ তোমাদের কেউ যতক্ষণ মসজিদে নামাযের জন্য অপেক্ষা করবে, ততক্ষণ সে নামাযী হিসেবে পরিগণিত হবে- একমাত্র নামাযই যদি তাকে ঘরে তার পরিবার পরিজনের নিকট প্রত্যাবর্তনে বাধা দিয়ে থাকে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৪৭১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَزَالُ الْعَبْدُ فِي صَلاَةٍ مَا كَانَ فِي مُصَلاَّهُ يَنْتَظِرُ الصَّلاَةَ تَقُولُ الْمَلاَئِكَةُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ حَتَّى يَنْصَرِفَ أَوْ يُحْدِثَ " . فَقِيلَ مَا يُحْدِثُ قَالَ يَفْسُو أَوْ يَضْرِطُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৭১. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যতক্ষণ কোন বান্দা মসজিদে নামাযের জন্য অপেক্ষা করবে, ততক্ষণ সে নামাযী হিসেবে গণ্য হবে। ঐ ব্যক্তির উযু নষ্ট না হওয়া বা ঘরে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত ফিরিশতারা তার জন্য এইরূপ দুআ করতে থাকেঃ “ইয়া আল্লাহ্! তাকে মাফ করে দাও। ইয়া আল্লাহ্! তাঁর উপর তোমার রহমত নাযিল কর।”

আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে ″হাদাছুন″ এর অর্থ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, যদি পায়খানার রাস্তা দিয়ে আস্তে বায়ু নির্গত হয়।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৪৭২

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي الْعَاتِكَةِ الأَزْدِيُّ، عَنْ عُمَيْرِ بْنِ هَانِئٍ الْعَنْسِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَتَى الْمَسْجِدَ لِشَىْءٍ فَهُوَ حَظُّهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৭২. হিশাম ইবনে আম্মার .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি মসজিদে যে উদ্দেশ্যে আসবে তার জন্য তদ্রূপ (বিনিময়) রয়েছে।

২৫. মসজিদের মধ্যে হারানো প্রাপ্তির ঘোষণা দেয়া মাকরূহ।

باب فِي كَرَاهِيَةِ إِنْشَادِ الضَّالَّةِ فِي الْمَسْجِدِ

৪৭৩

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْجُشَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، - يَعْنِي ابْنَ شُرَيْحٍ - قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الأَسْوَدِ، - يَعْنِي مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ - يَقُولُ أَخْبَرَنِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، مَوْلَى شَدَّادٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ سَمِعَ رَجُلاً يَنْشُدُ ضَالَّةً فِي الْمَسْجِدِ فَلْيَقُلْ لاَ أَدَّاهَا اللَّهُ إِلَيْكَ فَإِنَّ الْمَسَاجِدَ لَمْ تُبْنَ لِهَذَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৭৩. আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর আল-জুশামী .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি মসজিদের মধ্যে কাউকে চিৎকার করে হারানো জিনিস তালাশ করতে শুনে সে যেন বলে, আল্লাহ্ তোমাকে তোমার ঐ জিনিস ফিরিয়ে না দিন। কেননা মসজিদ এইজন্য নির্মাণ করা হয়নি।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২৬. মসজিদে থুথু ফেলা মাকরূহ।

باب فِي كَرَاهِيَةِ الْبُزَاقِ فِي الْمَسْجِدِ

৪৭৪

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، وَشُعْبَةُ، وَأَبَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " التَّفْلُ فِي الْمَسْجِدِ خَطِيئَةٌ وَكَفَّارَتُهُ أَنْ تُوَارِيَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৭৪. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মসজিদে থুথু ফেলা গুনাহর কাজ এবং এর কাফফারা হল তা ঢেকে ফেলা।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৪৭৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْبُزَاقُ فِي الْمَسْجِدِ خَطِيئَةٌ وَكَفَّارَتُهَا دَفْنُهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৭৫. মুসাদ্দাদ .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মসজিদে থুথু ফেলা গুনাহর কাজ এবং তার কাফফারা হল, মাটির মধ্যে তা দাফন করা

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৭৬

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ - عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " النُّخَاعَةُ فِي الْمَسْجِدِ " . فَذَكَرَ مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৭৬. আবু কামেল .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ মসজিদের মধ্যে কফ অথবা শ্লেষ্মা ফেলা ...পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

৪৭৭

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مَوْدُودٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي حَدْرَدٍ الأَسْلَمِيِّ، سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ دَخَلَ هَذَا الْمَسْجِدَ فَبَزَقَ فِيهِ أَوْ تَنَخَّمَ فَلْيَحْفِرْ فَلْيَدْفِنْهُ فَإِنْ لَمْ يَفْعَلْ فَلْيَبْزُقْ فِي ثَوْبِهِ ثُمَّ لْيَخْرُجْ بِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৭৭. আল-কানবী ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এই মসজিদে নববীতে প্রবেশের পর এর মধ্যে শ্লেষ্মা অথবা কফ ফেলবে- সে যেন তা মাটির মধ্যে দাফন করে দেয়। যদি এরূপ করা সন্তব না হয়, তবে সে যেন তার কাপড়ে থুথু ফেলে, অতঃপর তা বাইরে নিয়ে যায়।

৪৭৮

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيٍّ، عَنْ طَارِقِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُحَارِبِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا قَامَ الرَّجُلُ إِلَى الصَّلاَةِ - أَوْ إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلاَ يَبْزُقْ أَمَامَهُ وَلاَ عَنْ يَمِينِهِ وَلَكِنْ عَنْ تِلْقَاءِ يَسَارِهِ إِنْ كَانَ فَارِغًا أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ الْيُسْرَى ثُمَّ لْيَقُلْ بِهِ " .

বর্ণনাকারী: তারিক মুহারিবী (রাঃ)

৪৭৮. হান্নাদ ..... তারিক ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন যখন তোমাদের কেউ নামাযে দাঁড়ায় অথবা নামায আদায় করতে থাকে, তখন সে যেন তার সম্মুখে অথবা ডান দিকে থুথু না ফেলে, বরং থুথু ফেলার একান্ত প্রয়োজন হলে বাম দিকের কাপড়ে ফেলবে, যদি সেদিকে কোন লোক না থাকে। যদি বাম দিকে কোন লোক থাকে তবে বাম পায়ের নীচে ফেলবে। অতঃপর তা মুছে ফেলবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৭৯

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ يَوْمًا إِذْ رَأَى نُخَامَةً فِي قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ فَتَغَيَّظَ عَلَى النَّاسِ ثُمَّ حَكَّهَا قَالَ وَأَحْسِبُهُ قَالَ فَدَعَا بِزَعْفَرَانٍ فَلَطَّخَهُ بِهِ وَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ قِبَلَ وَجْهِ أَحَدِكُمْ إِذَا صَلَّى فَلاَ يَبْزُقْ بَيْنَ يَدَيْهِ ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: رَوَاهُ إِسْمَاعِيلُ، وَعَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، وَمَالِكٍ، وَعُبَيْدِ اللَّهِ، وَمُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعٍ، نَحْوَ حَمَّادٍ، إِلَّا أَنَّهُ لَمْ يَذْكُرُوا الزَّعْفَرَانَ، وَرَوَاهُ مَعْمَرٌ، عَنْ أَيُّوبَ، وَأَثْبَتَ الزَّعْفَرَانَ فِيهِ، وَذَكَرَ يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ الْخَلُوقَ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৪৭৯. সুলাইমান ইবনে দাউদ ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সম্মুখে থাকাকালীন তিনি খুতবা দেওয়ার সময় দেখতে পান যে, মসজিদের কিবলার দেওয়ালের দিকে শ্লেষ্মা পড়ে আছে এতে তিনি উপস্থিত লোকদের উপর রাগান্বিত হন এবং পরে তা মুছে ফেলে।

রাবী বলেন, আমার ধারণামতে তৎপর নবী (ﷺ) জাফরান আনিয়ে ঐ জায়গায় ছিটিয়ে দেন এবং বলেনঃ যখন কোন ব্যক্তি নামায আদায় করতে থাকে তখন আল্লাহ তাআলা তার সামনে থাকেন। কাজেই নামাযের সময় কেউ যেন সম্মুখে থুথু না ফেলে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৪৮০

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَرَبِيٍّ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُحِبُّ الْعَرَاجِينَ وَلاَ يَزَالُ فِي يَدِهِ مِنْهَا فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ فَرَأَى نُخَامَةً فِي قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ فَحَكَّهَا ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ مُغْضَبًا فَقَالَ " أَيَسُرُّ أَحَدَكُمْ أَنْ يُبْصَقَ فِي وَجْهِهِ إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ فَإِنَّمَا يَسْتَقْبِلُ رَبَّهُ جَلَّ وَعَزَّ وَالْمَلَكُ عَنْ يَمِينِهِ فَلاَ يَتْفُلْ عَنْ يَمِينِهِ وَلاَ فِي قِبْلَتِهِ وَلْيَبْصُقْ عَنْ يَسَارِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ فَإِنْ عَجِلَ بِهِ أَمْرٌ فَلْيَقُلْ هَكَذَا " . وَوَصَفَ لَنَا ابْنُ عَجْلاَنَ ذَلِكَ أَنْ يَتْفُلَ فِي ثَوْبِهِ ثُمَّ يَرُدَّ بَعْضَهُ عَلَى بَعْضٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪৮০. ইয়াহয়া ইবনে হাবীব ..... আবু সাঈদ আল্-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) খেজুর গুচ্ছের মূল পছন্দ করতেন এবং এর একটি অংশ প্রায়ই তাঁর হাতে থাকত। একদা তিনি মসজিদে প্রবেশ করে তার কিব্লার দেওয়ালের দিকে শ্লেষ্মা দেখতে পান এবং তিনি তা মুছে ফেলেন। অতঃপর তিনি সমবেত লোকদের প্রতি রাগান্বিত হয়ে বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কারো চেহারায় থুথু দিলে সে কি সন্তুষ্ট হবে? যখন তোমাদের কেউ নামাযের জন্য কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ায় তখন সে যেন মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের সম্মুখে দাঁড়ায় এবং ফিরিশতারা তার ডানদিকে অবস্থান করে।

অতএব সে যেন ডান দিকে বা কিবলার দিকে থুথু না ফেলে। বরং সে যেন বাম সিকে অথবা পায়ের নীচে থুথু ফেলে। যদি থুথু ফেলার একান্তই প্রয়োজন হয় তবে এইরূপে থুথু ফেলবে রাবী বলেন, ইবনে আজলান, আমাদেরকে নামাযের মধ্যে থুথু ফেলার পদ্ধতি বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, তোমরা কাপড়ের মধ্যে থুথু ফেলে ঐ স্থান কচলাবে (অর্থাৎ কাপড়ের উক্ত স্থান অন্য স্থানের কাপড়ের সাথে মিশ্রিত করবে)।
৪৮১

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْفَضْلِ السِّجِسْتَانِيُّ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدِّمَشْقِيَّانِ، بِهَذَا الْحَدِيثِ - وَهَذَا لَفْظُ يَحْيَى بْنِ الْفَضْلِ السِّجِسْتَانِيِّ - قَالُوا حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ مُجَاهِدٍ أَبُو حَزْرَةَ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَتَيْنَا جَابِرًا - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ اللَّهِ - وَهُوَ فِي مَسْجِدِهِ فَقَالَ أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَسْجِدِنَا هَذَا وَفِي يَدِهِ عُرْجُونُ ابْنِ طَابٍ فَنَظَرَ فَرَأَى فِي قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ نُخَامَةً فَأَقْبَلَ عَلَيْهَا فَحَتَّهَا بِالْعُرْجُونِ ثُمَّ قَالَ " أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنْ يُعْرِضَ اللَّهُ عَنْهُ بِوَجْهِهِ " . ثُمَّ قَالَ " إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا قَامَ يُصَلِّي فَإِنَّ اللَّهَ قِبَلَ وَجْهِهِ فَلاَ يَبْصُقَنَّ قِبَلَ وَجْهِهِ وَلاَ عَنْ يَمِينِهِ وَلْيَبْزُقْ عَنْ يَسَارِهِ تَحْتَ رِجْلِهِ الْيُسْرَى فَإِنْ عَجِلَتْ بِهِ بَادِرَةٌ فَلْيَقُلْ بِثَوْبِهِ هَكَذَا " . وَوَضَعَهُ عَلَى فِيهِ ثُمَّ دَلَكَهُ ثُمَّ قَالَ " أَرُونِي عَبِيرًا " . فَقَامَ فَتًى مِنَ الْحَىِّ يَشْتَدُّ إِلَى أَهْلِهِ فَجَاءَ بِخَلُوقٍ فِي رَاحَتِهِ فَأَخَذَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلَهُ عَلَى رَأْسِ الْعُرْجُونِ ثُمَّ لَطَخَ بِهِ عَلَى أَثَرِ النُّخَامَةِ . قَالَ جَابِرٌ فَمِنْ هُنَاكَ جَعَلْتُمُ الْخَلُوقَ فِي مَسَاجِدِكُمْ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৪৮১. ইয়াহয়া ইবনুল ফাদল ..... উবাদা ইবনুল ওয়ালীদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মসজিদে জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাত করতে আসি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) খেজুর গুচ্ছের মূল হাতে নিয়ে মসজিদে আসেন। তিনি মসজিদে কিবলার দিকে শ্লেষ্মা দেখতে পেয়ে তথায় গিয়ে তা গুচ্ছের মূল দ্বারা খুচিঁয়ে উঠিয়ে ফেলেন। অতঃপর বলেনঃ তোমাদের মধ্যে কে পছন্দ করে যে, আল্লাহ্ তাঁর দিক হতে মুখ ফিরিয়ে নিন? তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন আল্লাহ্ পাক তার সামনে থাকেন। কাজেই নিজের সামনের দিকে ও ডান দিকে কেউ যেন নিক্ষেপ না করে, বরং প্রয়োজন হলে বাম দিকে বা পায়ের নীচে যেন থুথু ফেলে। হঠাৎ যদি শ্লেষ্মা নির্গত হয় তবে সে যেন তা কাপড়ের মধ্যে ফেলে এবং পরে তা ঘষে ফেলে।

অতঃপর নবী (ﷺ) আবীর জাতীয় সুগন্ধি বা জাফরান আনতে বলেন। অতএব এক যুবক দ্রুত স্বীয় ঘরে সুগন্ধি দ্রব্য আনলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা নিয়ে গুচ্ছের কান্ডের মাথায় লাগিয়ে উক্ত স্থানে ঘষে দেন। জাবের (রাযিঃ) বলেন, এরূপেই মসজিদে আতর বা সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহারের প্রচলন হয়েছে।
৪৮২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ بَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ الْجُذَامِيِّ، عَنْ صَالِحِ بْنِ خَيْوَانَ، عَنْ أَبِي سَهْلَةَ السَّائِبِ بْنِ خَلاَّدٍ، - قَالَ أَحْمَدُ - مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَجُلاً أَمَّ قَوْمًا فَبَصَقَ فِي الْقِبْلَةِ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْظُرُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ فَرَغَ " لاَ يُصَلِّي لَكُمْ " . فَأَرَادَ بَعْدَ ذَلِكَ أَنْ يُصَلِّيَ لَهُمْ فَمَنَعُوهُ وَأَخْبَرُوهُ بِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " نَعَمْ " . وَحَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ " إِنَّكَ آذَيْتَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪৮২. আহমদ ইবনে সালেহ্ ...... আবু সাহলা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। ইমাম আহমদ (রাহঃ) বলেন, তিনি নবী (ﷺ)-এর সাহাবী ছিলেন। একদা জনৈক ব্যক্তি লোকদের ইমামতি করার সময় কি্বলার দিক থুথু নিক্ষেপ করে। তা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) অবলোকন করেন। সে নামায হতে অবসর হলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ সে তোমাদের নামায পড়ায়নি।

অতঃপর সেই ব্যক্তি তাদেরকে নিয়ে পুনরায় নামায আদায় করার ইচ্ছা করে। তারা তাকে ইমামতি করতে নিষেধ করে এবং তাকে নবী (ﷺ) এর কথা অবহিত করে। অতঃপর ঐ ব্যক্তি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জ্ঞাত করলে তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, (তোমার ইমামতিতে নামায দুরস্ত হয়নি)। রাবী বলেন, আমার ধারণা নবী (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তুমি আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলকে কষ্ট দিয়েছ।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৪৮৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا سَعِيدٌ الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي الْعَلاَءِ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُصَلِّي فَبَزَقَ تَحْتَ قَدَمِهِ الْيُسْرَى .

বর্ণনাকারী: মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ (রহঃ)

৪৮৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... মুতাররিফ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খিদমতে আগমন করে তাকে নামাযে রত অবস্থায় পাই তখন তিনি তাঁর বাম পায়ের নীচে থুথু ফেলেন।

৪৮৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، بِمَعْنَاهُ زَادَ ثُمَّ دَلَكَهُ بِنَعْلِهِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪৮৪. মুসাদ্দাদ ..... আবুল আলা (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত ......... উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। তাতে আরও আছে, অতঃপর তিনি তাঁর পায়ের জুতা দ্বারা তা ঘর্ষণ করেন।

৪৮৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْفَرَجُ بْنُ فَضَالَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ رَأَيْتُ وَاثِلَةَ بْنَ الأَسْقَعِ فِي مَسْجِدِ دِمَشْقَ بَصَقَ عَلَى الْبُورِيِّ ثُمَّ مَسَحَهُ بِرِجْلِهِ فَقِيلَ لَهُ لِمَ فَعَلْتَ هَذَا قَالَ لأَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪৮৫. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ...... আবু সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রাযিঃ)-কে আমি দামিশকের মসজিদে চাটাইয়ের উপর থুথু ফেলতে দেখি অতঃপর তিনি তাঁর পা দ্বারা তা মুছে ফেলেন। তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে এরূপ করতে দেখেছি।

২৭. মুশরিকদের মসজিদে প্রবেশ সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي الْمُشْرِكِ يَدْخُلُ الْمَسْجِدَ

৪৮৬

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ دَخَلَ رَجُلٌ عَلَى جَمَلٍ فَأَنَاخَهُ فِي الْمَسْجِدِ ثُمَّ عَقَلَهُ ثُمَّ قَالَ أَيُّكُمْ مُحَمَّدٌ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُتَّكِئٌ بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِمْ فَقُلْنَا لَهُ هَذَا الأَبْيَضُ الْمُتَّكِئُ . فَقَالَ الرَّجُلُ يَا ابْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ . فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " قَدْ أَجَبْتُكَ " . فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ يَا مُحَمَّدُ إِنِّي سَائِلُكَ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৪৮৬. ঈসা ইবনে হাম্মাদ ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক (অমুসলিম) ব্যক্তি উটে আরোহণ করে মসজিদে নববীর নিকট আগমন করে তার দরজায় উটটি বেঁধে জিজ্ঞাসা করে যে, “আপনাদের মধ্যে মুহাম্মাদ কে? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবীদের মধ্যেই হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। আমরা তাকে বলি, “ইনি, যিনি শুভ্র চেহারা বিশিষ্ট-হেলান দিয়ে বসে আছেন।” তখন আগন্তুক ব্যক্তিটি বলে, “হে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান!” জবাবে নবী (ﷺ) বলেন, হ্যাঁ, আমি তোমার কথা শুনেছি। তখন সে বলে, “ইয়া মুহাম্মাদ! আমি আপনার নিকট জিজ্ঞাসা করতে চাই ......... এইরূপে হাদীসের শেষ পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৪৮৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ نُوَيْفِعٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بَعَثَ بَنُو سَعْدِ بْنِ بَكْرٍ ضِمَامَ بْنَ ثَعْلَبَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَدِمَ عَلَيْهِ فَأَنَاخَ بَعِيرَهُ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ ثُمَّ عَقَلَهُ ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ قَالَ فَقَالَ أَيُّكُمُ ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ " . قَالَ يَا ابْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৮৭. মুহাম্মাদ ইবনে আমর ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনু সা’দ গোত্রের লোকেরা দিমাম ইবনে ছা’লাবাকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট প্রেরণ করে। ঐ ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে তার উট মসজিদের দরজায় বেঁধে মসজিদে প্রবেশ করে। অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

রাবী বলেন, অতঃপর আগন্তুক জিজ্ঞাসা করে যে, “তোমাদের মধ্যে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান কে?” রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ “আমি আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান!” অতঃপর পূর্ণ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।
৪৮৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنَا رَجُلٌ، مِنْ مُزَيْنَةَ وَنَحْنُ عِنْدَ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ الْيَهُودُ أَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ جَالِسٌ فِي الْمَسْجِدِ فِي أَصْحَابِهِ فَقَالُوا يَا أَبَا الْقَاسِمِ فِي رَجُلٍ وَامْرَأَةٍ زَنَيَا مِنْهُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৪৮৮. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতিপয় ইহুদী রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট এমন সময় আগমন করে-যখন সাহাবীগণের মধ্যে মসজিদে নববীতে বসা ছিলেন। তাঁরা বলে, হে আবুল কাসিম! আমাদের এক স্ত্রী লোক ও পুরুষ লোক পরস্পর ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছে।

২৮. যেসব স্থানে নামায পড়া নিষেধ।

باب فِي الْمَوَاضِعِ الَّتِي لاَ تَجُوزُ فِيهَا الصَّلاَةُ

৪৮৯

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " جُعِلَتْ لِيَ الأَرْضُ طَهُورًا وَمَسْجِدًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৪৮৯. উছমান .... আবু যর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার জন্য সমগ্র জমীন পবিত্র এবং নামাযের স্থান বানানো হয়েছে।

৪৯০

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، وَيَحْيَى بْنُ أَزْهَرَ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ سَعْدٍ الْمُرَادِيِّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ الْغِفَارِيِّ، أَنَّ عَلِيًّا، - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - مَرَّ بِبَابِلَ وَهُوَ يَسِيرُ فَجَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ يُؤَذِّنُ بِصَلاَةِ الْعَصْرِ فَلَمَّا بَرَزَ مِنْهَا أَمَرَ الْمُؤَذِّنَ فَأَقَامَ الصَّلاَةَ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ إِنَّ حَبِيبِي صلى الله عليه وسلم نَهَانِي أَنْ أُصَلِّيَ فِي الْمَقْبُرَةِ وَنَهَانِي أَنْ أُصَلِّيَ فِي أَرْضِ بَابِلَ فَإِنَّهَا مَلْعُونَةٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪৯০. সুলাইমান ইবনে দাউদ .... আবু সালেহ্ আল-গিফারী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। একদা আলী (রাযিঃ) বাবেল শহরে যান। তিনি সেখানে সফর করার সময় মুয়াযযিন এসে আসরের নামাযের আযান দেয়ার অনুমতি চায়। তিনি ঐ শহর ত্যাগ করে বাইরে এসে মুয়াযযিনকে ইকামতের নির্দেশ দিলে সে ইকামত দেয়। অতঃপর নামায শেষে তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদেরকে কবরস্থানে নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি বাবেল শহরেও নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন। কেননা ঐটা অতিশপ্ত স্থান।

৪৯১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَزْهَرَ، وَابْنُ، لَهِيعَةَ عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ الْغِفَارِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ، بِمَعْنَى سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ قَالَ فَلَمَّا خَرَجَ . مَكَانَ فَلَمَّا بَرَزَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৪৯১. আহমদ ইবনে সালেহ .... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাবী বলেন ......... সুলাইমান ইবনে দাউদের সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে এই বর্ণনায় (فَلَمَّا بَرَزَ) “ফাল্লাম্মা বারাযা” এর স্থানে (فَلَمَّا خَرَجَ) “ফাল্লাম্মা খারাজা”-এর উল্লেখ আছ।

৪৯২

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - وَقَالَ مُوسَى فِي حَدِيثِهِ فِيمَا يَحْسَبُ عَمْرٌو - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الأَرْضُ كُلُّهَا مَسْجِدٌ إِلاَّ الْحَمَّامَ وَالْمَقْبُرَةَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৪৯২. মুসা ইবনে ইসমাঈল ...... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ গোসলখানা ও কবরস্থান ব্যতীত সমস্ত জমীনই মসজিদ হিসাবে গণ্য (অর্থাৎ যে কোন স্থানে নামায পড়া যায়)।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২৯. উটের আস্তাবলে নামায পড়া নিষেধ।

باب النَّهْىِ عَنِ الصَّلاَةِ، فِي مَبَارِكِ الإِبِلِ

৪৯৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّازِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّلاَةِ فِي مَبَارِكِ الإِبِلِ فَقَالَ " لاَ تُصَلُّوا فِي مَبَارِكِ الإِبِلِ فَإِنَّهَا مِنَ الشَّيَاطِينِ " . وَسُئِلَ عَنِ الصَّلاَةِ فِي مَرَابِضِ الْغَنَمِ فَقَالَ " صَلُّوا فِيهَا فَإِنَّهَا بَرَكَةٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৪৯৩. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আল-বারাআ ইবনে আযেব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে উটের আস্তাবলে নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ তোমরা উটের আস্তাবলে নামায পড়বে না। কেননা তা শয়তানের আড্ডা স্থান। অতঃপর তাকে বকরী বাঁধার স্থানে নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ তোমরা সেখানে নামায পড়তে পার; কেননা তা বরকতময় স্থান।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩০. বালকদের কখন থেকে নামায পড়ার নির্দেশ দিতে হবে।

باب مَتَى يُؤْمَرُ الْغُلاَمُ بِالصَّلاَةِ

৪৯৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، - يَعْنِي ابْنَ الطَّبَّاعِ - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ الرَّبِيعِ بْنِ سَبْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مُرُوا الصَّبِيَّ بِالصَّلاَةِ إِذَا بَلَغَ سَبْعَ سِنِينَ وَإِذَا بَلَغَ عَشْرَ سِنِينَ فَاضْرِبُوهُ عَلَيْهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত সাবরাহ ইবন্ মা'বাদ রাযি.

৪৯৪. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা .... আব্দুল মালিক থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা এবং তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের সন্তানদের বয়স যখন সাত বছর হয়, তখন তাদেরকে নামায পড়ার নির্দেশ দাও এবং যখন তাদের বয়স দশ বছর হবে তখন নামায না পড়লে এজন্য তাদের শাস্তি দাও।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

৪৯৫

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، - يَعْنِي الْيَشْكُرِيَّ - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ سَوَّارٍ أَبِي حَمْزَةَ، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهُوَ سَوَّارُ بْنُ دَاوُدَ أَبُو حَمْزَةَ الْمُزَنِيُّ الصَّيْرَفِيُّ - عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مُرُوا أَوْلاَدَكُمْ بِالصَّلاَةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرِ سِنِينَ وَفَرِّقُوا بَيْنَهُمْ فِي الْمَضَاجِعِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৪৯৫. মুআম্মাল ইবনে হিশাম ..... আমর ইবনে শুআয়েব (রাহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা এবং দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের সন্তানরা সাত বছরে উপনীত হবে, তখন তাদেরকে নামায পড়ার নির্দেশ দেবে এবং তাদের বয়স যখন দশ বছর হবে তখন নামায না পড়লে এজন্য তাদেরকে মারপিট কর এবং তাদের (ছেলে-মেয়েদের) বিছানা পৃথক করে দিবে।

৪৯৬

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنِي دَاوُدُ بْنُ سَوَّارٍ الْمُزَنِيُّ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ وَزَادَ " وَإِذَا زَوَّجَ أَحَدُكُمْ خَادِمَهُ عَبْدَهُ أَوْ أَجِيرَهُ فَلاَ يَنْظُرْ إِلَى مَا دُونَ السُّرَّةِ وَفَوْقَ الرُّكْبَةِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهِمَ وَكِيعٌ فِي اسْمِهِ وَرَوَى عَنْهُ أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ هَذَا الْحَدِيثَ فَقَالَ حَدَّثَنَا أَبُو حَمْزَةَ سَوَّارٌ الصَّيْرَفِيُّ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪৯৬. যুহায়ের ইবনে হারব .... দাউদের সূত্রে হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। এই সূত্রে আরও আছেঃ তোমাদের কেউ যখন তার বাঁদীকে-দাসের সাথে বিয়ে দিবে তখন থেকে সে তার (দাসীর) নাভির নিম্নাংশ থেকে হাটুর উপরাংশ পর্যন্ত স্থানের প্রতি দৃষ্টিপাত করবে না।

৪৯৭

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي مُعَاذُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خُبَيْبٍ الْجُهَنِيُّ، قَالَ دَخَلْنَا عَلَيْهِ فَقَالَ لاِمْرَأَتِهِ مَتَى يُصَلِّي الصَّبِيُّ فَقَالَتْ كَانَ رَجُلٌ مِنَّا يَذْكُرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ " إِذَا عَرَفَ يَمِينَهُ مِنْ شِمَالِهِ فَمُرُوهُ بِالصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: মুআয ইবনে আব্দুল্লাহ (রহঃ)

৪৯৭. সুলাইমান ইবনে দাউদ .... হিশাম ইবনে সা’দ (রাহঃ) থেকে মুআয ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে হাবীব আল-জুহানী (রাহঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা মুআয ইবনে আব্দুল্লাহর নিকট উপস্থিত হলাম। এ সময় তিনি তাঁর স্ত্রীকে প্রশ্ন করেন যে, ছোট ছেলে-মেয়েদেরকে কখন নামায পড়ার নির্দেশ দিতে হবে? মহিলা বলেন, আমাদের একজন পুরুষ ব্যক্তি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেনঃ যখন ছোট ছেলে-মেয়েরা তাদের ডান ও বাম হাতের পার্থক্য নির্ণয়ে সক্ষম হবে তখন থেকে তাদেরকে নামায পড়ার নির্দেশ দিবে।

৩১. আযানের সুচানা।

باب بَدْءِ الأَذَانِ

৪৯৮

حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ مُوسَى الْخُتَّلِيُّ، وَزِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، - وَحَدِيثُ عَبَّادٍ أَتَمُّ - قَالاَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، - قَالَ زِيَادٌ أَخْبَرَنَا أَبُو بِشْرٍ، - عَنْ أَبِي عُمَيْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ عُمُومَةٍ، لَهُ مِنَ الأَنْصَارِ قَالَ اهْتَمَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِلصَّلاَةِ كَيْفَ يَجْمَعُ النَّاسَ لَهَا فَقِيلَ لَهُ انْصِبْ رَايَةً عِنْدَ حُضُورِ الصَّلاَةِ فَإِذَا رَأَوْهَا آذَنَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا فَلَمْ يُعْجِبْهُ ذَلِكَ قَالَ فَذُكِرَ لَهُ الْقُنْعُ - يَعْنِي الشَّبُّورَ - وَقَالَ زِيَادٌ شَبُّورَ الْيَهُودِ فَلَمْ يُعْجِبْهُ ذَلِكَ وَقَالَ " هُوَ مِنْ أَمْرِ الْيَهُودِ " . قَالَ فَذُكِرَ لَهُ النَّاقُوسُ فَقَالَ " هُوَ مِنْ أَمْرِ النَّصَارَى " . فَانْصَرَفَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ وَهُوَ مُهْتَمٌّ لِهَمِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأُرِيَ الأَذَانَ فِي مَنَامِهِ - قَالَ - فَغَدَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لَبَيْنَ نَائِمٍ وَيَقْظَانَ إِذْ أَتَانِي آتٍ فَأَرَانِي الأَذَانَ . قَالَ وَكَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه - قَدْ رَآهُ قَبْلَ ذَلِكَ فَكَتَمَهُ عِشْرِينَ يَوْمًا - قَالَ - ثُمَّ أَخْبَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَهُ " مَا مَنَعَكَ أَنْ تُخْبِرَنِي " . فَقَالَ سَبَقَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ فَاسْتَحْيَيْتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا بِلاَلُ قُمْ فَانْظُرْ مَا يَأْمُرُكَ بِهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ فَافْعَلْهُ " . قَالَ فَأَذَّنَ بِلاَلٌ . قَالَ أَبُو بِشْرٍ فَأَخْبَرَنِي أَبُو عُمَيْرٍ أَنَّ الأَنْصَارَ تَزْعُمُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدٍ لَوْلاَ أَنَّهُ كَانَ يَوْمَئِذٍ مَرِيضًا لَجَعَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُؤَذِّنًا .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৪৯৮. আব্বাদ ইবনে মুসা ..... আবু উমায়ের ইবনে আনাস থেকে কোন একজন আনসার সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এজন্য চিন্তিত ও অস্থির হয়ে পড়েন যে, লোকদেরকে নামাযের জন্য কিরূপে একত্রিত করা যায়। কেউ কেউ পরামর্শ দেন যে, নামাযের সময় হলে ঝান্ডা উড়িয়ে দেওয়া হোক। যখন লোকেরা তা দেখবে তখন একে অন্যকে নামাযের জন্য ডেকে আনবে। কিন্তু তা নবী (ﷺ)-এর মনপুতঃ হয়নি। অতঃপর কেউ এরূপ প্রস্তাব করে যে, শিংগা ফুঁকা হোক। যিয়াদ বলেন, শিংগা ছিল ইহুদীদের ধর্মীয় প্রতীক। কাজেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা অপছন্দ করেন। রাবী বলেন, অতঃপর একজন ‘নাকুস’ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। রাবী বলেন, উপাসনার সময় ঘণ্টাধ্বনি করা ছিল নাসারাদের রীতি। এজন্য নবী (ﷺ) তাও অপছন্দ করেন। অতঃপর কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই সেদিনের বৈঠক শেষ হয় এবং সকলে নিজ নিজ আবাসে ফিরে যায়।

আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) ও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) চিন্তিত থাকার কারণে ব্যথিত হৃদয়ে স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করেন। অতঃপর তাঁকে স্বপ্নের মাধ্যমে আযানের নিয়ম শিক্ষা দেয়া হয়। বর্ণনাকারী বলেন, পরদিন ভোরে তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খিদমতে হাযির হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি (ফিরিশতা) আমার নিকট এসে আমাকে আযান দেয়ার পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছে। রাবী বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) ইতিপূর্বে ঠিক একই রকম স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু তিনি তা বিশ দিন পর্যন্ত প্রকাশ না করে গোপন রাখেন বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি তা নবী (ﷺ)-এর খিদমতে প্রকাশ করেন।

তখন নবী (ﷺ) তাকে (উমরকে) বলেনঃ এ সম্পর্কে পূর্বে আমাকে জ্ঞাত করতে তোমায় কিসে বাঁধা দিয়েছিল? উমর (রাযিঃ) লজ্জা বিনম্র কণ্ঠে বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) এ ব্যাপারে অগ্রবর্তীর ভুমিকা পালন করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিলাল (রাযিঃ)-কে নির্দেশ দেন উঠ এবং আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়দ যেরূপে বলে তুমিও তদ্রূপ (উচ্চ কণ্ঠে) বল! এইরূপে বিলাল (রাযিঃ) ইসলামের সর্বপ্রথম আযান ধ্বনি উচ্চারণ করেন। আবু বিশর বলেন, আবু উমায়ের আমাকে এরূপ বলেছেন যে, সম্ভবতঃ যদি এ সময় আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) রোগগ্রস্ত না থাকতেন তবে রাসূলুল্লাহ সালুল্লাহ্ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকেই মুয়াযযিন নিযুক্ত করতেন।

৩২. আযানের নিয়ম সম্পর্কে।

باب كَيْفَ الأَذَانُ

৪৯৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الطُّوسِيُّ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ لَمَّا أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالنَّاقُوسِ يُعْمَلُ لِيُضْرَبَ بِهِ لِلنَّاسِ لِجَمْعِ الصَّلاَةِ طَافَ بِي وَأَنَا نَائِمٌ رَجُلٌ يَحْمِلُ نَاقُوسًا فِي يَدِهِ فَقُلْتُ يَا عَبْدَ اللَّهِ أَتَبِيعُ النَّاقُوسَ قَالَ وَمَا تَصْنَعُ بِهِ فَقُلْتُ نَدْعُو بِهِ إِلَى الصَّلاَةِ . قَالَ أَفَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى مَا هُوَ خَيْرٌ مِنْ ذَلِكَ فَقُلْتُ لَهُ بَلَى . قَالَ فَقَالَ تَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ قَالَ ثُمَّ اسْتَأْخَرَ عَنِّي غَيْرَ بَعِيدٍ ثُمَّ قَالَ وَتَقُولُ إِذَا أَقَمْتَ الصَّلاَةَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَلَمَّا أَصْبَحْتُ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرْتُهُ بِمَا رَأَيْتُ فَقَالَ " إِنَّهَا لَرُؤْيَا حَقٌّ إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَقُمْ مَعَ بِلاَلٍ فَأَلْقِ عَلَيْهِ مَا رَأَيْتَ فَلْيُؤَذِّنْ بِهِ فَإِنَّهُ أَنْدَى صَوْتًا مِنْكَ " . فَقُمْتُ مَعَ بِلاَلٍ فَجَعَلْتُ أُلْقِيهِ عَلَيْهِ وَيُؤَذِّنُ بِهِ - قَالَ - فَسَمِعَ ذَلِكَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَهُوَ فِي بَيْتِهِ فَخَرَجَ يَجُرُّ رِدَاءَهُ وَيَقُولُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُ مِثْلَ مَا رَأَى . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَلِلَّهِ الْحَمْدُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَكَذَا رِوَايَةُ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ وَقَالَ فِيهِ ابْنُ إِسْحَاقَ عَنِ الزُّهْرِيِّ " اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ " . وَقَالَ مَعْمَرٌ وَيُونُسُ عَنِ الزُّهْرِيِّ فِيهِ " اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ " . لَمْ يُثَنِّيَا .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ আনসারী (রাঃ)

৪৯৯. মুহাম্মাদ ইবনে মনসুর .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) শিংগা ধ্বনি করে লোকদের নামাযের জন্য একত্র করার নির্দেশ প্রদান করেন তখন একদা আমি স্বপ্নে দেখি যে, এক ব্যক্তি শিংগা হাতে নিয়ে যাচ্ছে। আমি তাকে বলি, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি কি শিংগা বিক্রয় বরবে? সে বলে, তুমি শিংগা দিয়ে কি করবে? আমি বলি, আমি তার সাহায্যে নামাযের জামাআতে লোকদের ডাকব। সে বলল, আমি কি এর উত্তম কোন সন্ধান তোমাকে দেব না? আমি বলি, হ্যাঁ। রাবী বলেন, তখন সে বলল, তুমি এইরূপ শব্দ উচ্চারণ করবেঃ

“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশ্হাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্; হাইয়া আলাস্-সালাহ্, হাইয়া আলাস্-সালাহ্, হাইয়া আলাল-ফালাহ্, হাইয়া আলাল-ফালাহ্, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্।”

রাবী রলেন! অতঃপর ঐ স্থান হতে ঐ ব্যক্তি একটু দুরে সরে গিয়ে দাঁড়ায় এবং বলে- তুমি যখন নামায পড়তে দাঁড়াবে তখন বলবেঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্; হাইয়া আলাস্-সালাহ্; হাইয়া আলাল-ফালাহ্; কাদ কামাতিস্ সালাহ্; কাদ কামাতিস্-সালাহ্, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্”। অতঃপর ভোর বেলা আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খিদমতে হাযির হয়ে তাঁর নিকট আমার স্বপ্নের বর্ণনা করি। নবী (ﷺ) বলেন এটা অবশ্যই সত্য স্বপ্ন। অতঃপর তিনি বলেনঃ তুমি বিলালকে ডেকে তোমার সাথে নাও এবং তুমি যেরূপ স্বপ্ন দেখেছ- তদ্রূপ তাকে শিক্ষা দাও যাতে সে (বিলাল) ঐরূপে-আযান দিতে পারে। কেননা তাঁর কন্ঠস্বর তোমার স্বরের চাইতে অধিক উচ্চ।

অতঃপর আমি বিলাল (রাযিঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে দাঁড়াই এবং তাকে আযানের শব্দগুলি শিক্ষা দিতে থাকি এবং তিনি উচ্চারণ পূর্বক আযান দিতে থাকেন। বিলালের এই আযান ধ্বনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) নিজ আবাসে বসে শুনতে পান। তা শুনে উমর (রাযিঃ) এত দ্রুত পদে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খিদ্মতে আগমন করেন যে, তাঁর গায়ের চাঁদর মাটিতে হেচঁড়িয়ে যাচ্ছিলো। তিনি নবী (ﷺ)-এর নিকটে উপস্থিত হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ! যে মহান সত্তা আপনাকে সত্য নবী হিসাবে প্রেরণ করেছেন, আমিও ঐরূপ স্বপ্ন দেখেছি যেরূপ অন্যরা দেখেছে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৫০০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا الْحَارِثُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي مَحْذُورَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلِّمْنِي سُنَّةَ الأَذَانِ . قَالَ فَمَسَحَ مُقَدَّمَ رَأْسِي وَقَالَ " تَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ تَرْفَعُ بِهَا صَوْتَكَ ثُمَّ تَقُولُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ تَخْفِضُ بِهَا صَوْتَكَ ثُمَّ تَرْفَعُ صَوْتَكَ بِالشَّهَادَةِ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ فَإِنْ كَانَ صَلاَةَ الصُّبْحِ قُلْتَ الصَّلاَةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ الصَّلاَةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ " .

বর্ণনাকারী: আবু মাহযুরা (রাঃ)

৫০০. মুসাদ্দাদ ..... মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে আবু মাহযুরা থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা এবং দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাবী বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলি, আমাকে আযানের নিয়ম-পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষা দিন। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি আমার মাথার সম্মুখভাগে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেনঃ তুমি বলবেঃ আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকরার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, তা উচ্চ স্বরে বলবে। অতঃপর আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্ বলার সময় গলার স্বর নীচু করবে।

অতঃপর উচ্চ কন্ঠে বলবেঃ আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্, অতঃপর বলবেঃ হাইয়া আলাস্-সালাহ্, হাইয়া আলাস্-সলাহ্; হাইয়া আলাল-ফালাহ্, হাইয়া আলাল-ফালাহ্। অতঃপর ফজরের নামাযের আযানের সময় বলবেঃ আস্-সালাতু খাইরুম্ মিনান্ নাওম, আস্-সালাতু খাইরুম্ মিনান্ নাওম অতঃপর বলবেঃ আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫০১

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُثْمَانُ بْنُ السَّائِبِ، أَخْبَرَنِي أَبِي وَأُمُّ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي مَحْذُورَةَ، عَنْ أَبِي مَحْذُورَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا الْخَبَرِ وَفِيهِ " الصَّلاَةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ الصَّلاَةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ فِي الأُولَى مِنَ الصُّبْحِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدِيثُ مُسَدَّدٍ أَبْيَنُ قَالَ فِيهِ قَالَ وَعَلَّمَنِي الإِقَامَةَ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ " اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ " . وَقَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ " وَإِذَا أَقَمْتَ الصَّلاَةَ فَقُلْهَا مَرَّتَيْنِ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ أَسَمِعْتَ " . قَالَ فَكَانَ أَبُو مَحْذُورَةَ لاَ يَجُزُّ نَاصِيَتَهُ وَلاَ يَفْرِقُهَا لأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ عَلَيْهَا .

বর্ণনাকারী: আবু মাহযুরা (রাঃ)

৫০১. আল্-হাসান ইবনে আলী ...... আবু মাহযূরা (রাযিঃ) থেকে এই সনদে নবী (ﷺ)-এর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। এই হাদীসের মধ্যে আস্-সালাতু খাইরুম মিনান্ নাওম, সালাতু খাইরুম মিনান্ নাওম”- ফজরের প্রথম আযানের মধ্যে বর্ণিত।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫০২

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، وَسَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ، وَحَجَّاجٌ، - وَالْمَعْنَى وَاحِدٌ - قَالُوا حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا عَامِرٌ الأَحْوَلُ، حَدَّثَنِي مَكْحُولٌ، أَنَّ ابْنَ مُحَيْرِيزٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا مَحْذُورَةَ حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَّمَهُ الأَذَانَ تِسْعَ عَشْرَةَ كَلِمَةً وَالإِقَامَةَ سَبْعَ عَشْرَةَ كَلِمَةً الأَذَانُ " اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَالإِقَامَةُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ " . كَذَا فِي كِتَابِهِ فِي حَدِيثِ أَبِي مَحْذُورَةَ .

বর্ণনাকারী: আবু মাহযুরা (রাঃ)

৫০২. আল্-হাসান ইবনে আলী ..... ইবনে মুহায়রিয (রাহঃ) আবু মাহযূরা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁকে উনিশ শব্দে আযান এবং সতের শব্দে ইকামত শিক্ষা দিয়েছেন। আযানের শব্দগুলি নিম্নরূপঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্; আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদদার রাসূলুল্লাহ্; হাইয়া আলাস্-সালাহ্, হাইয়া আলাস্-সালাহ্, হাইয়া আলাল-ফালাহ্, হাইয়া আলাল-ফালাহ্, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্।”

আর ইকামতের শব্দগুলি হলঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্, হাইয়া আলাস্-সালাহ্; হাইয়া আলাস্-সালাহ্; হাইয়া আলাল-ফালাহ্; হাইয়া আলাল-ফালাহ্; কাদ কামাতিস্ সালাহ্; কাদ কামাতিস্-সালাহ্, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্”। আবু মাহযূরা (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত। হাদীসটি তাঁর নিকট রক্ষিত কিতাবে এভাবে উল্লেখ আছে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৫০৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي مَحْذُورَةَ، - يَعْنِي عَبْدَ الْعَزِيزِ - عَنِ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ، عَنْ أَبِي مَحْذُورَةَ، قَالَ أَلْقَى عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم التَّأْذِينَ هُوَ بِنَفْسِهِ فَقَالَ " قُلِ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ - مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ - قَالَ ثُمَّ ارْجِعْ فَمُدَّ مِنْ صَوْتِكَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ " .

বর্ণনাকারী: আবু মাহযুরা (রাঃ)

৫০৩. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার .... আবু মাহযূরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে আযানের নিম্নোক্ত শব্দণ্ডলি শিক্ষা দেন। তিনি আমাকে বলেনঃ তুমি বল, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্। অতঃপর তিনি বলেনঃ তোমার কন্ঠস্বর দীর্ঘায়িত করে পুনরায় বলঃ আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্; হাইয়া আলাস্-সালাহ্, হাইয়া আলাস্-সালাহ্, হাইয়া আলাল-ফালাহ্, হাইয়া আলাল-ফালাহ্, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্।”

৫০৪

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي مَحْذُورَةَ، قَالَ سَمِعْتُ جَدِّي عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ أَبِي مَحْذُورَةَ، يَذْكُرُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا مَحْذُورَةَ، يَقُولُ أَلْقَى عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الأَذَانَ حَرْفًا حَرْفًا " اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ " . قَالَ وَكَانَ يَقُولُ فِي الْفَجْرِ الصَّلاَةُ خَيْرٌ مِنَ النَّوْمِ .

বর্ণনাকারী: আবু মাহযুরা (রাঃ)

৫০৪. আন-নুফায়লী ...... আবু মাহযূরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে আযানের নিম্নোক্ত শব্দগুলি একটি একটি করে শিক্ষা দেনঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্; আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্; আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্; হাইয়া আলাস্-সালাহ্, হাইয়া আলাস্-সালাহ্, হাইয়া আলাল-ফালাহ্, হাইয়া আলাল-ফালাহ্, রাবী বলেন, ফজরের নামাযে এরূপ বলতেন, আস্- সালাতু খাইরুম মিনান্ নাওম।”

৫০৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ الإِسْكَنْدَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا زِيَادٌ، - يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ - عَنْ نَافِعِ بْنِ عُمَرَ، - يَعْنِي الْجُمَحِيَّ - عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي مَحْذُورَةَ، أَخْبَرَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَيْرِيزٍ الْجُمَحِيِّ، عَنْ أَبِي مَحْذُورَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَّمَهُ الأَذَانَ يَقُولُ " اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ " . ثُمَّ ذَكَرَ مِثْلَ أَذَانِ حَدِيثِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ وَمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَفِي حَدِيثِ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ أَبِي مَحْذُورَةَ قُلْتُ حَدِّثْنِي عَنْ أَذَانِ أَبِيكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ فَقَالَ " اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ " . قَطُّ وَكَذَلِكَ حَدِيثُ جَعْفَرِ بْنِ سُلَيْمَانَ عَنِ ابْنِ أَبِي مَحْذُورَةَ عَنْ عَمِّهِ عَنْ جَدِّهِ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ " ثُمَّ تَرَجَّعْ فَتَرَفَّعْ صَوْتَكَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ " .

বর্ণনাকারী: আবু মাহযুরা (রাঃ)

৫০৫. মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ .... আবু মাহযূরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহ্ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে আযান শিক্ষা দেন। তিনি বলতেনঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্, অতঃপর হাদীসের অবশিষ্ট অংশ আব্দুল মালিকের সূত্রে বর্ণিত ইবনে জুরাজের হাদীসের অনুরূপ।

মালেক ইবনে দীনার (রাহঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ আছে যে, তিনি বলেছেন, আমি ইবনে আবু মাহযূরাকে বলি- আপনার পিতা-রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে যেরূপ আযান শিক্ষা করেন- তা আমার নিকট বর্ণনা করুন। তখন তিনি বলেন, “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, এইরূপে আযানের শেষ পর্যন্ত। জাফর ইবনে সুলাইমানের হাদীসেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি তাঁর হাদীসে এরূপ উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহু আকরার, আল্লাহু আকবার, শব্দাটি উচ্চস্বরে দীর্ঘায়িত করে বলবে।
৫০৬

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي لَيْلَى، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي لَيْلَى، قَالَ أُحِيلَتِ الصَّلاَةُ ثَلاَثَةَ أَحْوَالٍ - قَالَ - وَحَدَّثَنَا أَصْحَابُنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَقَدْ أَعْجَبَنِي أَنْ تَكُونَ صَلاَةُ الْمُسْلِمِينَ - أَوْ قَالَ الْمُؤْمِنِينَ - وَاحِدَةً حَتَّى لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَبُثَّ رِجَالاً فِي الدُّورِ يُنَادُونَ النَّاسَ بِحِينِ الصَّلاَةِ وَحَتَّى هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ رِجَالاً يَقُومُونَ عَلَى الآطَامِ يُنَادُونَ الْمُسْلِمِينَ بِحِينِ الصَّلاَةِ حَتَّى نَقَسُوا أَوْ كَادُوا أَنْ يَنْقُسُوا " . قَالَ فَجَاءَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لَمَّا رَجَعْتُ - لِمَا رَأَيْتُ مِنَ اهْتِمَامِكَ - رَأَيْتُ رَجُلاً كَأَنَّ عَلَيْهِ ثَوْبَيْنِ أَخْضَرَيْنِ فَقَامَ عَلَى الْمَسْجِدِ فَأَذَّنَ ثُمَّ قَعَدَ قَعْدَةً ثُمَّ قَامَ فَقَالَ مِثْلَهَا إِلاَّ أَنَّهُ يَقُولُ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ وَلَوْلاَ أَنْ يَقُولَ النَّاسُ - قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى أَنْ تَقُولُوا - لَقُلْتُ إِنِّي كُنْتُ يَقْظَانًا غَيْرَ نَائِمٍ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى " لَقَدْ أَرَاكَ اللَّهُ خَيْرًا " . وَلَمْ يَقُلْ عَمْرٌو " لَقَدْ أَرَاكَ اللَّهُ خَيْرًا فَمُرْ بِلاَلاً فَلْيُؤَذِّنْ " . قَالَ فَقَالَ عُمَرُ أَمَا إِنِّي قَدْ رَأَيْتُ مِثْلَ الَّذِي رَأَى وَلَكِنِّي لَمَّا سُبِقْتُ اسْتَحْيَيْتُ . قَالَ وَحَدَّثَنَا أَصْحَابُنَا قَالَ وَكَانَ الرَّجُلُ إِذَا جَاءَ يَسْأَلُ فَيُخْبَرُ بِمَا سُبِقَ مِنْ صَلاَتِهِ وَإِنَّهُمْ قَامُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ بَيْنِ قَائِمٍ وَرَاكِعٍ وَقَاعِدٍ وَمُصَلٍّ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى قَالَ عَمْرٌو وَحَدَّثَنِي بِهَا حُصَيْنٌ عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى حَتَّى جَاءَ مُعَاذٌ . قَالَ شُعْبَةُ وَقَدْ سَمِعْتُهَا مِنْ حُصَيْنٍ فَقَالَ لاَ أَرَاهُ عَلَى حَالٍ إِلَى قَوْلِهِ كَذَلِكَ فَافْعَلُوا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ ثُمَّ رَجَعْتُ إِلَى حَدِيثِ عَمْرِو بْنِ مَرْزُوقٍ قَالَ فَجَاءَ مُعَاذٌ فَأَشَارُوا إِلَيْهِ - قَالَ شُعْبَةُ وَهَذِهِ سَمِعْتُهَا مِنْ حُصَيْنٍ - قَالَ فَقَالَ مُعَاذٌ لاَ أَرَاهُ عَلَى حَالٍ إِلاَّ كُنْتُ عَلَيْهَا . قَالَ فَقَالَ إِنَّ مُعَاذًا قَدْ سَنَّ لَكُمْ سُنَّةً كَذَلِكَ فَافْعَلُوا . قَالَ وَحَدَّثَنَا أَصْحَابُنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ أَمَرَهُمْ بِصِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ ثُمَّ أُنْزِلَ رَمَضَانُ وَكَانُوا قَوْمًا لَمْ يَتَعَوَّدُوا الصِّيَامَ وَكَانَ الصِّيَامُ عَلَيْهِمْ شَدِيدًا فَكَانَ مَنْ لَمْ يَصُمْ أَطْعَمَ مِسْكِينًا فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ) فَكَانَتِ الرُّخْصَةُ لِلْمَرِيضِ وَالْمُسَافِرِ فَأُمِرُوا بِالصِّيَامِ . قَالَ وَحَدَّثَنَا أَصْحَابُنَا قَالَ وَكَانَ الرَّجُلُ إِذَا أَفْطَرَ فَنَامَ قَبْلَ أَنْ يَأْكُلَ لَمْ يَأْكُلْ حَتَّى يُصْبِحَ . قَالَ فَجَاءَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَأَرَادَ امْرَأَتَهُ فَقَالَتْ إِنِّي قَدْ نِمْتُ فَظَنَّ أَنَّهَا تَعْتَلُّ فَأَتَاهَا فَجَاءَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَأَرَادَ الطَّعَامَ فَقَالُوا حَتَّى نُسَخِّنَ لَكَ شَيْئًا فَنَامَ فَلَمَّا أَصْبَحُوا أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ هَذِهِ الآيَةُ ( أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ ) .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা (রহঃ)

৫০৬. আমর ইবনে মারযূক .... ইবনে আবু লায়লা (রাহঃ) বলেন, নামাযের ব্যাপারে (কিবলার) পরিবর্তন তিনবার সাধিত হয়েছে। রাবী বলেন, আমাদের সাথীরা বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ মুসলমানগণ একত্রিত হয়ে জামাআতে নামায আদায় করায় আমি খুবই আনন্দিত হয়েছি। আমি প্রথমাবস্থায় এরূপ চিন্তা করি যে, লোকদের নামাযের আহবানের জন্য বাড়ীতে বাড়ীতে কিছু লোক প্রেরণ করি আমি এরূপও ইরাদা করি যে, লোকদেরকে জামাআতে আনার জন্য কিছু সংখ্যক লোককে (মহল্লার) উঁচু স্থানে উঠিয়ে দিব, যারা তাদেরকে নামাযের জন্য আহবান করবে, অথবা তারা শিংগা ধ্বনির মাধ্যমে লোকদেরকে জামাআতে আহবান করার চিন্তাও করেছিল।

রাবী বলেন, এমতাবস্থায় আনসারদের মধ্য হতে একজন এসে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! লোকদেরকে জামাআতে-হাযির করার ব্যাপারে আপনাকে উৎকণ্ঠিত দেখার পর রাতে আমি স্বপ্নে দেখি যে এক ব্যক্তি দুটি হলুদ বর্ণের কাপড় পরিধাণ করে মসজিদের সম্মুখে আযান দিচ্ছেন। আযান শেযে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর তিনি ইকামত দেন এবং এখানে তিনি আযানের শব্দের সাথে “কাদ কামাতিস-সালাহ” শব্দটি যোগ করেন। অতঃপর তিনি বলেন- মানুষের মিথ্যা অপবাদের ভয় যদি আমার না থাকত তবে নিশ্চয়ই আমি বলতাম, আমি তা জাগ্রত অবস্থায় দেখেছি- স্বপ্নে নয়।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ্ তাআলা তোমাকে উত্তম স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তুমি বিলালকে নির্দেশ দাও যেন সে আযান দেয়। তখন উমর (রাযিঃ) বলেন, আমিও ইতিপূর্বে তার অনুরূপ স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু আমার আগেই অনুরূপ স্বপ্নের কথা ব্যক্ত হওয়ার কারণে আমি তা প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করি। রাবী বলেন, ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে যখন নামাযের হুকুম-আহকাম পরির্ণভাবে নাযিল হয় নাই তখন সাহাবায়ে কিরামদের মধ্য হতে যারা নামায আরম্ভের পরে আসতেন তারা জিজ্ঞাসা করতেন- নামাযের কতটুকু আদায় করা হয়েছে। অতঃপর তাদের অবহিত করা হত। যারা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে প্রথম হতে নামাযে শরীক হতেন তারা এক অবস্থায় থাকতেন এবং যারা পরে আসতেন তাদের কেউ দাঁড়ান, বসা বা রুকুর অবস্থায় থাকতেন।

ইবনুল মুছান্না, আমর, হুসায়েন, ইবনে আবু লায়লা হতে বর্ণনা করেছেন যে, একদা মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) জামাআত শুরু হওয়ার পর মসজিদে আসেন। শোবা- হুসায়েন হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি তাকে এক অবস্হায় দেখতে পাই নাই- হতে, অনুরূপভাবে তোমরা কর ......... পর্যন্ত বর্ণনা করেন। ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, অতঃপর আমি আমরের হাদীস বর্ণনা করি রাবী বলেন, মুআয (রাযিঃ) মসজিদে আগমনের পর উপস্থিত সাহাবীগণ তাকে ইশরা করে বলেন ...।

শোবা বলেন, আমি হুসায়েনের নিকট শুনেছি, মুআয (রাযিঃ) বলেন, আমি তাকে নামাযের মধ্যে যে অবস্থায় পাই সে অবস্থায় তাঁর সাথে নামায আরম্ভ করব। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বলেনঃ মুআয তোমাদের জন্য একটি উত্তম সুন্নত সৃষ্টি করেছে (অর্থাৎ সর্বপ্রথম ইমামের সাথে কিরূপে নামায আদায় করতে হয়, তা ভালভাবে দেখিয়েছেন। তিনি নবী (ﷺ) এর সাথে প্রাপ্ত নামায জামাআতে আদায়ের পর অবশিষ্ট নামায পরে আদায় করেন)। অতঃপর নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরাও এরূপ করবে। রাবী বলেন, আমাদের সাথীরা বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর মদীনায় আসার পর তাদেরকে প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখার নির্দেশ দেন। অতঃপর রমযানের রোযার আয়াত নাযিল হয় সাহাবীদের ইতিপূর্বে রোযা রাখার অভ্যাস না থাকায় তা তাঁদের জন্য খুবই কষ্টকর হয়।

অতঃপর যারা রোযা রাখতে অক্ষম তাঁরা মিসকীনদের আহার করাতেন। অতঃপর এই আয়াত নাযিল হয়ঃ(فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ) “তোমাদের মধ্যে যারা রমযান মাস পাবে তারা যেন অবশ্যই রোযা রাখে।” মুসাফির ও রোগগ্রস্ত ব্যক্তির জন্যই কেবলমাত্র রমযান মাসের রোযা না রাখার অনুমতি ছিল (কিন্তু অন্য সময়ে এর কাযা আদায় করতে হত)। এভাবে তাদেরকে রমযানের রোযা রাখার নির্দেশ দেয়া হয় ইসলামের প্রথম যুগে রোযার নিয়ম এইরূপ ছিল যে, ইফতারের পর খাওয়ার পূর্বে কোন ব্যক্তি যদি কোন কারণ বশত ঘুমিয়ে পড়ত তবে তার জন্য পরের দিন সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত কোনরূপ খাদ্য গ্রহণ নাজায়েয ছিল।

এক রাতে উমর (রাযিঃ) তাঁর স্ত্রীর নিকট সহবাসের ইচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি বলেন, আমি তো ঘুমিয়ে ছিলাম। তখন উমর (রাযিঃ) এরূপ ধারণা করেন যে, তাঁর স্ত্রী মিথ্যা বাহানা করে তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর সাথে সঙ্গম করেন। অপরপক্ষে একজন আনসার সাহাবী ঘরে ফিরে খাদ্য চাইলে তাঁর পরিবারের লোকেরা বলেন, ধৈর্য ধরুন, আমরা খাবার প্রস্তুত করে আনছি। ইত্যবসরে তিনি না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন পরের দিন ভোরে এই আয়াত নাযিল হয়ঃ (أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ) “রমযান মাসের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের বিবিদের সাথে সঙ্গম হালাল করা হয়ছে।”
৫০৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، عَنْ أَبِي دَاوُدَ، ح وَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ الْمُهَاجِرِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنِ الْمَسْعُودِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ أُحِيلَتِ الصَّلاَةُ ثَلاَثَةَ أَحْوَالٍ وَأُحِيلَ الصِّيَامُ ثَلاَثَةَ أَحْوَالٍ وَسَاقَ نَصْرٌ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ وَاقْتَصَّ ابْنُ الْمُثَنَّى مِنْهُ قِصَّةَ صَلاَتِهِمْ نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ قَطُّ قَالَ الْحَالُ الثَّالِثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَصَلَّى - يَعْنِي نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ - ثَلاَثَةَ عَشَرَ شَهْرًا فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى هَذِهِ الآيَةَ ( قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ ) فَوَجَّهَهُ اللَّهُ تَعَالَى إِلَى الْكَعْبَةِ . وَتَمَّ حَدِيثُهُ وَسَمَّى نَصْرٌ صَاحِبَ الرُّؤْيَا قَالَ فَجَاءَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ وَقَالَ فِيهِ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ مَرَّتَيْنِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ مَرَّتَيْنِ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ثُمَّ أَمْهَلَ هُنَيَّةً ثُمَّ قَامَ فَقَالَ مِثْلَهَا إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ زَادَ بَعْدَ مَا قَالَ " حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ " . قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَقِّنْهَا بِلاَلاً " . فَأَذَّنَ بِهَا بِلاَلٌ وَقَالَ فِي الصَّوْمِ قَالَ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَصُومُ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَيَصُومُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ( كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنَ قَبْلِكُمْ ) إِلَى قَوْلِهِ ( طَعَامُ مِسْكِينٍ ) فَكَانَ مَنْ شَاءَ أَنْ يَصُومَ صَامَ وَمَنْ شَاءَ أَنْ يُفْطِرَ وَيُطْعِمَ كُلَّ يَوْمٍ مِسْكِينًا أَجْزَأَهُ ذَلِكَ وَهَذَا حَوْلٌ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ( شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ ) إِلَى ( أَيَّامٍ أُخَرَ ) فَثَبَتَ الصِّيَامُ عَلَى مَنْ شَهِدَ الشَّهْرَ وَعَلَى الْمُسَافِرِ أَنْ يَقْضِيَ وَثَبَتَ الطَّعَامُ لِلشَّيْخِ الْكَبِيرِ وَالْعَجُوزِ اللَّذَيْنِ لاَ يَسْتَطِيعَانِ الصَّوْمَ وَجَاءَ صِرْمَةُ وَقَدْ عَمِلَ يَوْمَهُ وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৫০৭. ইবনুল মুসান্না .... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামাযের ব্যাপারে কিবলার পরিবর্তন তিনবার সাধিত হয়েছে এবং রোযার ব্যাপারে নিয়ম পদ্ধতিও তিনবার পরিবর্তিত হয়েছে। রাবী নসর এ সম্পর্কে একটি বিস্তারিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইবনুল মুছান্না তা সংক্ষিপ্তাকারে নামাযের ব্যাপারে এরূপ বর্ণনা করেছেন, মুসলমানদের কিব্লা ছিল বায়তুল মুকাদ্দাস। রাবী বলেন, তৃতীয় অবস্থা এই যে, নবী (ﷺ) মদীনায় আসার পর দীর্ঘ তের মাস বায়তুল মুকাদ্দেসের দিকে মুখ ফিরিয়ে নামায আদায় করেন। অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা এই আয়াত নামিল করেনঃ “আমি তোমাকে তোমার চেহারা সব সময় আকাশের প্রতি ফিরান অবস্থায় অবলোকন করছি। এমতাবস্থায় আমি তোমাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দিব যা তুমি পছন্দ কর। এখন তুমি তোমার চেহারা মসজিদুল হারামের দিকে ফিরাও এবং অতঃপর তোমরা যেখানেই অবস্থান কর- তোমাদের চেহারা ঐ স্থানের দিকে ফিরাও।” অতএব আল্লাহ্ পাক তাকে কাবার দিকে ফিরিয়ে দেন। এভাবে তাঁর বর্ণনা শেষ হয়েছে।

অতঃপর আনসার গোত্রীয় সাহাবী আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) আগমন করেন। তিনি কিবলামুখী হয়ে বলেনঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (২ বার), আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্ (২ বার), হাইয়া আলাস্-সালাহ্ (২ বার), হাইয়া আলাল-ফালাহ্ (২ বার), আল্লাহু আকবার (২ বার), লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ (১ বার), অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ পরে আযানের শব্দগুলির পুনরাবৃত্তি করেন এবং তন্মধ্যে হাইয়া আলাল-ফালাহ্ শব্দটির পরে দুইবার - কাদ্ কামাতিস-সালাহ” ঝক্যটি উচ্চারণ করেন। রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) -কে বলেন তুমি বিলালকে এর তালকীন (শিক্ষা) দাও।

অতঃপর বিলাল (রাযিঃ) উক্ত শব্দ দ্বারা আযান দেন। অতঃপর রাবী রোযা সম্পর্কে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) প্রতি মাসে তিনদিন করে এবং আশূরার রোযা রাখতেন। অতঃপর এই আয়াত নাযিল হয়ঃ “তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর ফরয করা হয়েছিল- যেন তোমরা খোদাভীরু হও। নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য। তোমাদের মধ্যে কেউ যদি সফরে থাকে বা রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ে- তবে পরবর্তী সময়ে তাকে এর কাযা আদায় করতে হবে। এবং যারা রোযা রাখতে অক্ষম তারা প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে ফিদ্য়া হিসেবে একজন মিস্কীনকে খাদ্য দান করবে”-(সূরা বাকারাঃ ১৮৪)।”

অতঃপর যারা ইচছা করত রোযা রাখত এবং যারা ইচ্ছা করত রোযার পরিবর্তে প্রত্যহ একজন মিসকিনকে খাদ্য প্রদান করলেই চলত। অতঃপর এই হুকুম পরিবর্তিত হয় এবং আল্লাহ্ তাআলার তরফ হতে এই আয়াত নাযিল হয়ঃ “রমযান মাসেই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে যা মানুষের দিশারী এবং হিদায়াতের নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্যকারী। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রমযান মাস পাবে সে যেন অবশ্যই ঐ মাসে রোষা রাখে। আর যারা সফরে থাকবে বা রোগগ্রস্ত হবে তারা পরবর্তী সময়ে তার কাযা আদায় করবে”- (সূরা বাকারাঃ ১৮৫)।

এই আয়াত দ্বারা রোযার মাস প্রাপ্ত ব্যক্তির উপর রোযা রাখা ফরয করা হয়েছে। মুসাফিরকে পরে রোযার কাযা আদায় করতে হবে। অক্ষম ব্যক্তি- যারা রোযা রাখতে অক্ষম তারা রোযার পরিবর্তে মিসকিনকে প্রত্যহ খাদ্যদান করবে।

৩৩. ইকামতের বর্ণনা।

باب فِي الإِقَامَةِ

৫০৮

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْمُبَارَكِ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ عَطِيَّةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، جَمِيعًا عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ أُمِرَ بِلاَلٌ أَنْ يَشْفَعَ، الأَذَانَ وَيُوتِرَ الإِقَامَةَ . زَادَ حَمَّادٌ فِي حَدِيثِهِ إِلاَّ الإِقَامَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫০৮. সুলাইমান ইবনে হারব ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাযিঃ)-কে আযান জোড় শব্দে এবং ইকামত বেজোড় শব্দে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। হাম্মাদ তাঁর হাদীসে আরও বর্ণনা করেছেন যে, কাদ কামাতিস্-সালাহ্ শব্দটি দু’বার বলবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫০৯

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسٍ، مِثْلَ حَدِيثِ وُهَيْبٍ . قَالَ إِسْمَاعِيلُ فَحَدَّثْتُ بِهِ، أَيُّوبَ فَقَالَ إِلاَّ الإِقَامَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫০৯. হুমায়েদ ইবনে মাস্আদা ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। উহায়বের সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। ইসমাঈল বলেন, আমি এই হাদীস আইয়ুবের নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন, কিন্তু কাদ্ কামাতিস্-সালাহ্ বাক্যটি দু’বার তাতে বলতে হবে।

৫১০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، سَمِعْتُ أَبَا جَعْفَرٍ، يُحَدِّثُ عَنْ مُسْلِمٍ أَبِي الْمُثَنَّى، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ إِنَّمَا كَانَ الأَذَانُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ وَالإِقَامَةُ مَرَّةً مَرَّةً غَيْرَ أَنَّهُ يَقُولُ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ فَإِذَا سَمِعْنَا الإِقَامَةَ تَوَضَّأْنَا ثُمَّ خَرَجْنَا إِلَى الصَّلاَةِ . قَالَ شُعْبَةُ وَلَمْ أَسْمَعْ مِنْ أَبِي جَعْفَرٍ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫১০. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময়ে আযানের শব্দ দুবার করে এবং ইকামতের শব্দ একবার করে বলা হত। কিন্তু ইকামতের মধ্যে ‘কাদ্ কামাতিস্-সালাহ্’ শব্দটি দু’বার বলা হত। আমরা মুয়াযযিনের ইকামত শুনে উযু করতে যেতাম অতঃপর নামায আদায় করতে যেতাম।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৫১১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، - يَعْنِي الْعَقَدِيَّ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، مُؤَذِّنِ مَسْجِدِ الْعُرْيَانِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الْمُثَنَّى، مُؤَذِّنَ مَسْجِدِ الأَكْبَرِ يَقُولُ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، وَسَاقَ الْحَدِيثَ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫১১. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ..... মসজিদুল-উরইয়ান (কূফায় অবস্থিত মসজিদ)-এর মুয়াযযিন আবু জাফর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কূফার বড় মসজিদের মুয়াযযিন আবুল মুছান্নাকে বলতে শুনেছিঃ আমি ইবনে উমর (রাযিঃ) এর সূত্রে শুনেছি ......... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

৩৪. একজনে আযান এবং অন্যজনে ইকামত দেয়া।

باب فِي الرَّجُلِ يُؤَذِّنُ وَيُقِيمُ آخَرُ

৫১২

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَمِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ أَرَادَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي الأَذَانِ أَشْيَاءَ لَمْ يَصْنَعْ مِنْهَا شَيْئًا قَالَ فَأُرِيَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ الأَذَانَ فِي الْمَنَامِ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ " أَلْقِهِ عَلَى بِلاَلٍ " . فَأَلْقَاهُ عَلَيْهِ فَأَذَّنَ بِلاَلٌ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ أَنَا رَأَيْتُهُ وَأَنَا كُنْتُ أُرِيدُهُ قَالَ " فَأَقِمْ أَنْتَ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ আনসারী (রাঃ)

৫১২. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ..... মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ থেকে তাঁর চাচা আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিভিন্ন জিনিসের মাধ্যমে আযান প্রথা চালু করা সম্পর্কে চিন্তা করছিলেন। কিন্তু বিশেষ কারণে এর কোনটিই গৃহীত হয়নি। আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়দ (রাযিঃ)-কে স্বপ্নযোগে আযানের শব্দ জ্ঞাত করা হয়। অতঃপর তিনি নবী (ﷺ)-এর খিদমতে হাযির হয়ে স্বপ্নের বৃত্তান্ত প্রকাশ করেন। তিনি বলেনঃ তুমি তা বিলালকে শিক্ষা দাও। অতঃপর তিনি তা বিলালকে শিখানোর পর তিনি (বিলাল) আযান দেন। অতঃপর আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) বলেন, যেহেতু আযান সস্পর্কিত স্বপ্নটি আমিই দেখেছি, কাজেই আমি স্বয়ং আযান দিতে ইরাদা করেছিলাম। নবী (ﷺ) তাকে বলেন, তুমি ইকামত দাও।

৫১৩

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، - شَيْخٌ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مِنَ الأَنْصَارِ - قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُحَمَّدٍ قَالَ كَانَ جَدِّي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ يُحَدِّثُ بِهَذَا الْخَبَرِ قَالَ فَأَقَامَ جَدِّي .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ আনসারী (রাঃ)

৫১৩. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে উমর .... মুহাম্মাদ ইবনে আমর বলেন, আমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদকে বলতে শুনেছি- আমার দাদা আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) পূর্বোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করতেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমার দাদা ইকামত দেন।

৩৫. মুয়াযযিনই ইকামত দিবে।

৫১৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ غَانِمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادٍ، - يَعْنِي الإِفْرِيقِيَّ - أَنَّهُ سَمِعَ زِيَادَ بْنَ نُعَيْمٍ الْحَضْرَمِيَّ، أَنَّهُ سَمِعَ زِيَادَ بْنَ الْحَارِثِ الصُّدَائِيَّ، قَالَ لَمَّا كَانَ أَوَّلُ أَذَانِ الصُّبْحِ أَمَرَنِي - يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - فَأَذَّنْتُ فَجَعَلْتُ أَقُولُ أُقِيمُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَجَعَلَ يَنْظُرُ إِلَى نَاحِيَةِ الْمَشْرِقِ إِلَى الْفَجْرِ فَيَقُولُ " لاَ " . حَتَّى إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ نَزَلَ فَبَرَزَ ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَىَّ وَقَدْ تَلاَحَقَ أَصْحَابُهُ - يَعْنِي فَتَوَضَّأَ - فَأَرَادَ بِلاَلٌ أَنْ يُقِيمَ فَقَالَ لَهُ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ أَخَا صُدَاءٍ هُوَ أَذَّنَ وَمَنْ أَذَّنَ فَهُوَ يُقِيمُ " . قَالَ فَأَقَمْتُ .

বর্ণনাকারী: যিয়াদ ইবনে হারিছ সুদাঈ (রাঃ)

৫১৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা ..... যিয়াদ ইবনুল হারিছ আস-সুদাঈ (রাযিঃ) বলেন, যখন আযানের প্রথম সময় উপনীত হয়, তখন নবী (ﷺ) আযানের নির্দেশ দিলে আমি আযান দেই। অতঃপর আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি ইকামত দিব কি? তখন নবী (ﷺ) পূর্বদিগন্তের দিকে লক্ষ্য করে বলেনঃ না। অতঃপর পূর্বাকাশ পরিস্কার হওয়ার পর তিনি তাঁর বাহন হতে অবতরণ করেন। অতঃপর তিনি পেশাব করে আমার নিকট আসেন যখন সাহাবায়ে কিরাম তাঁর চারপাশে উপস্থিত ছিলেন। অতঃপর তিনি উযু করেন। এ সময় বিলাল (রাযিঃ) ইকামত দিতে চাইলে নবী (ﷺ) তাকে নিষেধ করে বলেনঃ তোমার ভাই যিয়াদ আস-সুদাঈ আযান দিয়েছে এবং (নিয়ম এই যে,) যে ব্যক্তি আযান দিবে- সেই ইকামত দেওয়ার অধিকারী। রাবী বলেন, অতঃপর আমি ইকামত দেই।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৬. উচ্চস্বরে আযান দেওয়া সুন্নত।

باب رَفْعِ الصَّوْتِ بِالأَذَانِ

৫১৫

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي يَحْيَى، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمُؤَذِّنُ يُغْفَرُ لَهُ مَدَى صَوْتِهِ وَيَشْهَدُ لَهُ كُلُّ رَطْبٍ وَيَابِسٍ وَشَاهِدُ الصَّلاَةِ يُكْتَبُ لَهُ خَمْسٌ وَعِشْرُونَ صَلاَةً وَيُكَفَّرُ عَنْهُ مَا بَيْنَهُمَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫১৫. হাফস ইবনে উমর .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ মুয়াযযিনের আযানের ধ্বনি যতদূর পৌছাবে তাকে ততদুর ক্ষমা করা হবে। তার জন্য কিয়ামতের দিন সমস্ত তাজা ও শুষ্ক বস্তু সাক্ষী দেবে এবং যে ব্যক্তি আযান শুনার পর জামাআতে নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে হাযির হবে, সে ব্যক্তি পঁচিশ গুণ অধিক সাওয়াবের অধিকারী হবে এবং দুই নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে কৃত যাবতীয় (সগীরাহ) গুনাহগুলি ক্ষমা করা হবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৫১৬

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا نُودِيَ بِالصَّلاَةِ أَدْبَرَ الشَّيْطَانُ وَلَهُ ضُرَاطٌ حَتَّى لاَ يَسْمَعَ التَّأْذِينَ فَإِذَا قُضِيَ النِّدَاءُ أَقْبَلَ حَتَّى إِذَا ثُوِّبَ بِالصَّلاَةِ أَدْبَرَ حَتَّى إِذَا قُضِيَ التَّثْوِيبُ أَقْبَلَ حَتَّى يَخْطِرَ بَيْنَ الْمَرْءِ وَنَفْسِهِ وَيَقُولَ اذْكُرْ كَذَا اذْكُرْ كَذَا لِمَا لَمْ يَكُنْ يَذْكُرُ حَتَّى يَضِلَّ الرَّجُلُ إِنْ يَدْرِي كَمْ صَلَّى " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫১৬. আল-কানবী ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাতে আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যখন নামাযের আযান দেয়া হয় তখন শয়তান এত দ্রুত পলায়ন করে যে, তার পিছনের রাস্তা দিয়ে বায়ু নির্গত হতে থাকে এবং সে এতদূরে চলে যায়, যেখানে আযানের ধ্বনি পৌছায় না। শয়তান ঐ স্থানে আযান সমাপ্তির পর পুনরায় আগমন করে। পুনঃ সে ইকামতের শেযে প্রত্যাবর্তন করে। অতঃপর সে নামাযীর অন্তরে ওস্ওয়াসার (সন্দেহের) সৃষ্টি করে এবং তাকে এমন জিনিসের স্মরণ করিয়ে দেয়, যা সে ভুলে গিয়েছিল। অনেক সময় নামাযী কত রাকআত নামায আদায় করেছে তাতেও সে সন্দেহের উদ্রেক করে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৩৭. নামাযের সময় নির্ধারণে মুয়াযযিনের দায়িত্ব।

باب مَا يَجِبُ عَلَى الْمُؤَذِّنِ مِنْ تَعَاهُدِ الْوَقْتِ

৫১৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الإِمَامُ ضَامِنٌ وَالْمُؤَذِّنُ مُؤْتَمَنٌ اللَّهُمَّ أَرْشِدِ الأَئِمَّةَ وَاغْفِرْ لِلْمُؤَذِّنِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫১৭. আহমদ ইবনে হাম্বল .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ মসজিদের ইমাম হলো মুসল্লীদের জন্য যিম্মাদার এবং মুয়াযযিন আমানতদার স্বরূপ। ইয়া আল্লাহ্! তুমি ইমামদের সৎপথ প্রদর্শন কর এবং ক্ষমা কর।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫১৮

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ نُبِّئْتُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ، - قَالَ وَلاَ أُرَانِي إِلاَّ قَدْ سَمِعْتُهُ مِنْهُ، - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫১৮. আল-হাসান ইবনে আলী ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন ......... অতঃপর রাবী পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৩৮. মিনারের উপর উঠে আযান দেওয়া সম্পর্কে।

باب الأَذَانِ فَوْقَ الْمَنَارَةِ

৫১৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنِ امْرَأَةٍ، مِنْ بَنِي النَّجَّارِ قَالَتْ كَانَ بَيْتِي مِنْ أَطْوَلِ بَيْتٍ حَوْلَ الْمَسْجِدِ وَكَانَ بِلاَلٌ يُؤَذِّنُ عَلَيْهِ الْفَجْرَ فَيَأْتِي بِسَحَرٍ فَيَجْلِسُ عَلَى الْبَيْتِ يَنْظُرُ إِلَى الْفَجْرِ فَإِذَا رَآهُ تَمَطَّى ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَحْمَدُكَ وَأَسْتَعِينُكَ عَلَى قُرَيْشٍ أَنْ يُقِيمُوا دِينَكَ قَالَتْ ثُمَّ يُؤَذِّنُ قَالَتْ وَاللَّهِ مَا عَلِمْتُهُ كَانَ تَرَكَهَا لَيْلَةً وَاحِدَةً تَعْنِي هَذِهِ الْكَلِمَاتِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৫১৯. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ..... নাজ্জার গোত্রের এক মহিলা সাহাবী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদে নববীর নিকটবর্তী ঘরসমূহের মধ্যে আমার বাড়ী ছিল সুউচ্চ। বিলাল (রাযিঃ) সেখানে উঠে ফজরের আযান দিতেন। তিনি সাহরীর শেষ সময়ে আগমন করে ঐ ছাদের উপর বসে সুবহে সাদকের অপেক্ষা করতেন। অতঃপর ভোর হয়েছে দেখার পর তিনি সোজা হয়ে দাঁড়াতেন এবং বলতেন, ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার প্রশংসা করি ও সাহায্য কামনা করি এজন্য যে, আপনি কুরাইশদেরকে দ্বীন ইসলাম কায়েমের তৌফিক দান করুন। রাবী বলেন, অতঃপর বিলাল (রাযিঃ) আযান দিতেন। রাবী আরো বলেন, আল্লাহর শপথ! বিলাল (রাযিঃ) ঐ দুআ পাঠ কোন রাতেই বাদ দিয়েছেন বলে আমার জানা নাই।

৩৯. মুয়াযযিনের আযানের সময় ঘূর্ণন সম্পর্কে।

باب فِي الْمُؤَذِّنِ يَسْتَدِيرُ فِي أَذَانِهِ

৫২০

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا قَيْسٌ يَعْنِي ابْنَ الرَّبِيعِ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، جَمِيعًا عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ وَهُوَ فِي قُبَّةٍ حَمْرَاءَ مِنْ أَدَمٍ فَخَرَجَ بِلاَلٌ فَأَذَّنَ فَكُنْتُ أَتَتَبَّعُ فَمَهُ هَا هُنَا وَهَا هُنَا . قَالَ ثُمَّ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ حُلَّةٌ حَمْرَاءُ بُرُودٌ يَمَانِيَةٌ قِطْرِيٌّ . وَقَالَ مُوسَى قَالَ رَأَيْتُ بِلاَلاً خَرَجَ إِلَى الأَبْطَحِ فَأَذَّنَ فَلَمَّا بَلَغَ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ . لَوَى عُنُقَهُ يَمِينًا وَشِمَالاً وَلَمْ يَسْتَدِرْ ثُمَّ دَخَلَ فَأَخْرَجَ الْعَنَزَةَ وَسَاقَ حَدِيثَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু জুহাইফা (রাঃ)

৫২০. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আওন ইবনে আবু জুহায়ফা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি। বলেন, আমি মক্কাতে নবী (ﷺ)-এর খিদমতে আগমন করি ঐ সময় তিনি একটি চামড়ার তৈরী লাল তাবুর মধ্যে অবস্থান করছিলেন। ঐ সময় বিলাল (রাযিঃ) বের হয়ে আযান দেওয়ার সময় যেরূপ তাঁর মুখমণ্ডল এদিক ওদিক ঘুরিয়েছিলেন- আমিও তদ্রূপ ঘুরাচ্ছিলাম।

রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এমন অবস্থায় বাইরে আসেন যে, তাঁর গায়ে একটি ইয়ামানী ডোরা কাটা চাঁদর ছিল। রাবী মুসা বলেন, আমি বিলাল (রাযিঃ)-কে আবতাহ্ নামক স্থানের দিকে বাইরে গিয়ে আযান দিতে দেখেছি। তিনি যখন হাইয়া আলাস-সালাহ্ ও হাইয়া আলাল-ফালাহ্ শব্দদ্বয়ে পৌছান-তখন তিনি তাঁর কাঁধ ডান ও বাম দিকে ফিরান কিন্তু শরীর ঘুরান নাই। অতঃপর তিনি তাবুর মধ্যে প্রবেশ করেন এবং ছোট একটি তীর বের করেন ......... এইরূপে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪০. আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দু'আ করা সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي الدُّعَاءِ بَيْنَ الأَذَانِ وَالإِقَامَةِ

৫২১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زَيْدٍ الْعَمِّيِّ، عَنْ أَبِي إِيَاسٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يُرَدُّ الدُّعَاءُ بَيْنَ الأَذَانِ وَالإِقَامَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫২১. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে কৃত দুআ কখনই প্রত্যাখ্যাত হয় না।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪১. মুয়াযযিনের আযানের জবাবে যা বলতে হয়।

باب مَا يَقُولُ إِذَا سَمِعَ الْمُؤَذِّنَ

৫২২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৫২২. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা .... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমরা আযান শুনবে তখন মুয়াযযিনের উচ্চারিত শব্দের অনুরূপ উচ্চারণ করবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫২৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، وَحَيْوَةَ، وَسَعِيدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا سَمِعْتُمُ الْمُؤَذِّنَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُولُ ثُمَّ صَلُّوا عَلَىَّ فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَىَّ صَلاَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا ثُمَّ سَلُوا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لِيَ الْوَسِيلَةَ فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الْجَنَّةِ لاَ تَنْبَغِي إِلاَّ لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ تَعَالَى وَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ فَمَنْ سَأَلَ اللَّهَ لِيَ الْوَسِيلَةَ حَلَّتْ عَلَيْهِ الشَّفَاعَةُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৫২৩. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ)কে বলতে শুনেছেনঃ যখন তোমরা মুয়াযযিনকে আযান দিতে শুনবে তখন সে যেরূপ বলে- তোমরাও তদ্রূপ বলবে। অতঃপর তোমরা (আযান শেষে) আমার প্রতি দরূদ পাঠ করবে। কেননা যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে- আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তার উপর দশটি রহমত নাযিল করবেন। অতঃপর তোমরা আল্লাহর নিকট আমার জন্য ওসীলা প্রার্থনা কর এবং ওসীলা হল জান্নাতের একটি বিশেষ স্থান। আল্লাহ্ তাআলার একজন বিশিষ্ট বান্দা ঐ স্থানের অধিকারী হবেন এবং আমি আশা করি আমিই সেই বান্দা। অতঃপর যে ব্যক্তি আমার জন্য ওসীলার দুআ করবে তাঁর জন্য শাফা’আত করা আমার উপর ওয়াজিব হবে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫২৪

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ حُيَىٍّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي الْحُبُلِيَّ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْمُؤَذِّنِينَ يَفْضُلُونَنَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قُلْ كَمَا يَقُولُونَ فَإِذَا انْتَهَيْتَ فَسَلْ تُعْطَهْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৫২৪. ইবনুস সারহ্ .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! মুয়াযযিনরা তো আমাদের উপর ফযীলত প্রাপ্ত হচ্ছে। আমরা কিভাবে তাদের সমান সাওয়াব পাব? তিনি বলেনঃ মুয়াযযিনরা যেরূপ বলে-তুমিও তদ্রূপ বলবে। অতঃপর যখন আযান শেয করবে, তখন আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করলে তোমার দু‘আ কবুল করা হবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৫২৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ الْحُكَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ الْمُؤَذِّنَ وَأَنَا أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولاً وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا غُفِرَ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৫২৫. কুতায়বা ইবনে সাঈদ .... সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের আযান শুনার পর বলবেঃ “আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু, রাদীতু বিল্লাহে রবান ওয়া বি-মুহাম্মাদিন রাসূলান ওয়া বিল-ইসলামে দ্বীনান” তার সমস্ত (সগীরা) ণ্ডনাহ্ মাফ হয়ে যাবে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫২৬

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا سَمِعَ الْمُؤَذِّنَ يَتَشَهَّدُ قَالَ " وَأَنَا وَأَنَا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫২৬. ইবরাহীম ইবনে মাহ্দী .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মুয়াযযিনকে শাহাদাত ধ্বনি দিতে শুনতেন তখন তিনি বলতেন, আমিও অনুরূপ সাক্ষ্য দিচ্ছি।

৫২৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَهْضَمٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسَافٍ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ فَقَالَ أَحَدُكُمُ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ فَإِذَا قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ . قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ . فَإِذَا قَالَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ قَالَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ثُمَّ قَالَ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ قَالَ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ ثُمَّ قَالَ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ قَالَ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ ثُمَّ قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ ثُمَّ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مِنْ قَلْبِهِ دَخَلَ الْجَنَّةَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৫২৭. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না ..... উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন মুয়াযযিন আযানের সময় আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার বলবে, তখন তোমরাও আল্লাহু আকবার বলবে। অতঃপর মুয়াযযিন যখন আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলবে তখন তোমরাও আশহাদু আল্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলবে। অতঃপর মুয়াযযিন যখন আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্ বলবে- তখন তোমরাও আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্ বলবে। অতঃপর মুয়াযযিন যখন হাইয়া আলাস্ সালাহ্ বলবে তখন তোমরা বলবে, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্। অতঃপর মুয়াযযিন যখন হাইয়া আলাল ফালাহ্ বলবে তখন তোমরা বলবে লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্। অতঃপর মুয়াযযিন যখন আল্লাহু আকবার বলবে তখন তোমরা আল্লাহু আকবার বলবে। অতঃপর মুয়াযযিন যখন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলবে, তখন তোমরাও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলবে। তোমরা যদি আন্তরিকভাবে এরূপ বল তবে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৪২. ইকামতের জবাবে যা বলতে হবে।

باب مَا يَقُولُ إِذَا سَمِعَ الإِقَامَةَ

৫২৮

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ ثَابِتٍ، حَدَّثَنِي رَجُلٌ، مِنْ أَهْلِ الشَّامِ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَوْ عَنْ بَعْضِ، أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ بِلاَلاً أَخَذَ فِي الإِقَامَةِ فَلَمَّا أَنْ قَالَ قَدْ قَامَتِ الصَّلاَةُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَقَامَهَا اللَّهُ وَأَدَامَهَا " . وَقَالَ فِي سَائِرِ الإِقَامَةِ كَنَحْوِ حَدِيثِ عُمَرَ - رضى الله عنه - فِي الأَذَانِ .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

৫২৮. সুলাইমান ইবনে দাউদ ..... শাহর ইবনে হাওসাব থেকে আবু উমামা (রাযিঃ) অথবা নবী (ﷺ) এর অন্য কোন সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। বিলাল (রাযিঃ) ইকামত দেওয়ার সময় যখন কাদ কামাতিস সালাহ্ বললেন তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, আকামাহাল্লাহু ওয়া আদমাহা। নবী (ﷺ) ইকামতের অপরাপর শব্দগুলির জবাবে উমর (রাযিঃ) বর্ণিত আযানের অনুরূপ শব্দগুলি উচ্চারণ করলেন।

৪৩. আযানের সময়ের দু'আ সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي الدُّعَاءِ عِنْدَ الأَذَانِ

৫২৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ النِّدَاءَ اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلاَةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ إِلاَّ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৫২৯. আহমদ ইবনে হাম্বল ..... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ আযান শুনার পর যে ব্যক্তি নিম্নোক্ত দুআ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন সে অবশ্যই শাফা’আত লাভের যোগ্য হবে। দুআটি এইঃ “আল্লাহুম্মা রবা হা-যিহিদ্ দাওয়াতিত তাম্মাতি ওয়াস্ নামাযিল কায়েমাতি আতে মুহাম্মাদানিল্ ওসীলাতা ওয়াল্ ফাদীলাহ্ ওয়াবআছহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাযী ওয়াদতাহু”।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৪৪. মাগরিবের আযানের সময়ে দু'আ।

باب مَا يَقُولُ عِنْدَ أَذَانِ الْمَغْرِبِ

৫৩০

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ إِهَابٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ الْعَدَنِيُّ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ مَعْنٍ، حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ أَبِي كَثِيرٍ، مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ عَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَقُولَ عِنْدَ أَذَانِ الْمَغْرِبِ " اللَّهُمَّ إِنَّ هَذَا إِقْبَالُ لَيْلِكَ وَإِدْبَارُ نَهَارِكَ وَأَصْوَاتُ دُعَاتِكَ فَاغْفِرْ لِي " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৫৩০. মুআম্মাল ইবনে ইহাব .... উম্মে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে মাগরিবের নামাযের আযানের পর পড়ার জন্য নিম্নোক্ত দুআ শিক্ষা দিয়েছেনঃ “আল্লাহুম্মা ইন্না হাযা ইকবালু লায়লিকা ও ইদবারু নাহারিকা ওয়া আসওয়াতু দুআইকা ফাগফিরলী।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৫. আযানের পরিবর্তে বিনিময় গ্রহণ সম্পর্কে।

باب أَخْذِ الأَجْرِ عَلَى التَّأْذِينِ

৫৩১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا سَعِيدٌ الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي الْعَلاَءِ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ، قَالَ قُلْتُ وَقَالَ مُوسَى فِي مَوْضِعٍ آخَرَ إِنَّ عُثْمَانَ بْنَ أَبِي الْعَاصِ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اجْعَلْنِي إِمَامَ قَوْمِي . قَالَ " أَنْتَ إِمَامُهُمْ وَاقْتَدِ بِأَضْعَفِهِمْ وَاتَّخِذْ مُؤَذِّنًا لاَ يَأْخُذُ عَلَى أَذَانِهِ أَجْرًا " .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আবুল আস ছাকাফী (রাঃ)

৫৩১. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... উছমান ইবনে আবুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট বললাম, আমাকে আমার গোত্রের ইমাম নিযুক্ত করুন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ তোমাকে তাদের ইমাম নিযুক্ত করা হল। তুমি দুর্বল ব্যক্তিদের প্রতি অবশ্যই খেয়াল রাখবে এবং এমন এক ব্যক্তি কে মুয়াযযিন নিযুক্ত করবে, যে আযানের কোনরূপ বিনিময় গ্রহণ করবে না।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৬. ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্বে আযান দেওয়া।

باب فِي الأَذَانِ قَبْلَ دُخُولِ الْوَقْتِ

৫৩২

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَدَاوُدُ بْنُ شَبِيبٍ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ بِلاَلاً، أَذَّنَ قَبْلَ طُلُوعِ الْفَجْرِ فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَرْجِعَ فَيُنَادِيَ " أَلاَ إِنَّ الْعَبْدَ قَدْ نَامَ أَلاَ إِنَّ الْعَبْدَ قَدْ نَامَ " . زَادَ مُوسَى فَرَجَعَ فَنَادَى أَلاَ إِنَّ الْعَبْدَ نَامَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا الْحَدِيثُ لَمْ يَرْوِهِ عَنْ أَيُّوبَ إِلاَّ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৩২. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাযিঃ) ফজরের নামাযের আযান সুবহে সা’দিকের পূর্বেই দিলেন। নবী (ﷺ) তাকে পুনর্বার আযান দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি তা পুনরায় দিলেন। প্রকাশ থাকে যে, বিলাল (রাযিঃ) ঘুমের কারণে যথাসময়ে আযান দিতে সক্ষম হতেন না। রাবী মুসার বর্ণনায় আরো আছে, অতঃপর বিলাল (রাযিঃ) পুনর্বার আযান দিলেন। জেনে রাখ! মানুষেরা এ সময়ে ঘুমে বিভোর থাকে।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫৩৩

حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، عَنْ مُؤَذِّنٍ، لِعُمَرَ يُقَالُ لَهُ مَسْرُوحٌ أَذَّنَ قَبْلَ الصُّبْحِ فَأَمَرَهُ عُمَرُ فَذَكَرَ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَدْ رَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ أَوْ غَيْرِهِ أَنَّ مُؤَذِّنًا لِعُمَرَ يُقَالُ لَهُ مَسْرُوحٌ أَوْ غَيْرُهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ الدَّرَاوَرْدِيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ لِعُمَرَ مُؤَذِّنٌ يُقَالُ لَهُ مَسْعُودٌ وَذَكَرَ نَحْوَهُ وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৫৩৩. আইয়ুব ইবনে মানসুর .... উমর (রাযিঃ) এর মুয়াযযিন মাসরূহ হতে বর্ণিত। তিনি সুবহে সা’দিকের পূর্বে আযান দিলে উমর (রাযিঃ) তাকে পুনরায় আযান দেওয়ার নির্দেশ দেন।

৫৩৪

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، عَنْ شَدَّادٍ، مَوْلَى عِيَاضِ بْنِ عَامِرٍ عَنْ بِلاَلٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ " لاَ تُؤَذِّنْ حَتَّى يَسْتَبِينَ لَكَ الْفَجْرُ هَكَذَا " . وَمَدَّ يَدَيْهِ عَرْضًا قَالَ أَبُو دَاوُدَ شَدَّادٌ مَوْلَى عِيَاضٍ لَمْ يُدْرِكْ بِلاَلاً .

বর্ণনাকারী: বিলাল ইবনে রাবাহ (রাঃ)

৫৩৪. যুহায়ের ইবনে হারব .... বিলাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে বলেনঃ দিগন্তে ফজরের আলো স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তুমি আযান দিবে না এই বলে তিনি স্বীয় হস্তদ্বয় উত্তর ও দক্ষিণ দিকে প্রসারিত করেন।

৪৭. অন্ধ ব্যক্তির আযান দেয়া।

باب الأَذَانِ لِلأَعْمَى

৫৩৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، وَسَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ ابْنَ أُمِّ مَكْتُومٍ، كَانَ مُؤَذِّنًا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ أَعْمَى .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৩৫. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উম্মে মাকতুম (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর মুয়াযযিন ছিলেন এবং তিনি জন্মান্ধ ছিলেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৪৮. আযানের পর মসজিদ হতে চলে যাওয়া সম্পর্কে।

باب الْخُرُوجِ مِنَ الْمَسْجِدِ بَعْدَ الأَذَانِ

৫৩৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْمُهَاجِرِ، عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، قَالَ كُنَّا مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ فِي الْمَسْجِدِ فَخَرَجَ رَجُلٌ حِينَ أَذَّنَ الْمُؤَذِّنُ لِلْعَصْرِ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَمَّا هَذَا فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ عَلَيْهِ السَّلاَمُ .

বর্ণনাকারী: আবুশ শা‘সা (রহঃ)

৫৩৬. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর ......... আবুশ শাছাআ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর সাথে মসজিদে নববীতে উপস্থিত ছিলাম। আসরের নামাযের আযানের পর এক ব্যক্তি মসজিদ হতে বের হয়ে যায়। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, এই ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর বিরুদ্ধাচরণ করল।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৪৯. ইমামের জন্য মুয়াযযিনের অপেক্ষা করা।

باب فِي الْمُؤَذِّنِ يَنْتَظِرُ الإِمَامَ

৫৩৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ بِلاَلٌ يُؤَذِّنُ ثُمَّ يُمْهِلُ فَإِذَا رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَدْ خَرَجَ أَقَامَ الصَّلاَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

৫৩৭. উছ্মান ইবনে আবি শাঈবা .... জাবের ইবনে সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাযিঃ) আযান দেয়ার পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেন এবং যখন তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে নামাযের জন্য বের হয়ে আসতে দেখতেন তখন ইকামত দিতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৫০. আযানের পর পুনরায় আহবান করা।

باب فِي التَّثْوِيبِ

৫৩৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى الْقَتَّاتُ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ كُنْتُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ فَثَوَّبَ رَجُلٌ فِي الظُّهْرِ أَوِ الْعَصْرِ قَالَ اخْرُجْ بِنَا فَإِنَّ هَذِهِ بِدْعَةٌ .

বর্ণনাকারী: মুজাহিদ ইবনে জাবর (রহঃ)

৫৩৮. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর .... মুজাহিদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা-আমি ইবনে উমর (রাযিঃ) এর সাথে ছিলাম। এক ব্যক্তি যোহর অথবা আসর নামাযের আযানের পর তাছবীব (আযানের পর পুনঃ পুনঃ আহবান) করায় তিনি বলেন, তুমি আমাদের দল হতে বের হয়ে যাও, কেননা এটা বিদ্আত।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

৫১. নামাযের ইকামত হওয়ার পরও ইমামের আসার অপেক্ষায় বসে থাকা।

باب فِي الصَّلاَةِ تُقَامُ وَلَمْ يَأْتِ الإِمَامُ يَنْتَظِرُونَهُ قُعُودًا

৫৩৯

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَكَذَا رَوَاهُ أَيُّوبُ وَحَجَّاجٌ الصَّوَّافُ عَنْ يَحْيَى . وَهِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ قَالَ كَتَبَ إِلَىَّ يَحْيَى . وَرَوَاهُ مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلاَّمٍ وَعَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ يَحْيَى وَقَالاَ فِيهِ " حَتَّى تَرَوْنِي وَعَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৫৩৯. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম .... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ যখন নামাযের ইকামত দেয়া হয় তখন তোমরা আমাকে না দেখা পর্যন্ত দণ্ডায়মান হয়ো না। অন্য এক বর্ণনায় আছে যে আমাকে না দেখা পর্যন্ত তোমরা দাঁড়িও, না বরং তোমরা এ সময় বিশ্রাম কর।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫৪০

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عِيسَى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ يَحْيَى، بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ قَالَ " حَتَّى تَرَوْنِي قَدْ خَرَجْتُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَمْ يَذْكُرْ " قَدْ خَرَجْتُ " . إِلاَّ مَعْمَرٌ . وَرَوَاهُ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ مَعْمَرٍ لَمْ يَقُلْ فِيهِ " قَدْ خَرَجْتُ " .

বর্ণনাকারী: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

৫৪০. ইবরাহীম ইবনে মুসা ..... ইয়াহয়া (রাহঃ)-এর সনদ সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছ। তিনি (নবী (ﷺ)) বলেন, তোমরা যে পর্যন্ত আমাকে বের হতে না দেখ ততক্ষণ দাঁড়িও না।

৫৪১

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ قَالَ أَبُو عَمْرٍو ح وَحَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، - وَهَذَا لَفْظُهُ - عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ الصَّلاَةَ، كَانَتْ تُقَامُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيَأْخُذُ النَّاسُ مَقَامَهُمْ قَبْلَ أَنْ يَأْخُذَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৪১. মাহমুদ ইবনে খালিদ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুয়াযযিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর আগমন বার্তা স্বরূপ উচ্চস্বরে ইকামত দিতেন অতঃপর নবী (ﷺ) স্বীয় স্থানে আসন গ্রহণ করার পূর্বেই মুসল্লীরা কাতারবদ্ধ হয়ে যেত।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৫৪২

حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ حُمَيْدٍ، قَالَ سَأَلْتُ ثَابِتًا الْبُنَانِيَّ عَنِ الرَّجُلِ، يَتَكَلَّمُ بَعْدَ مَا تُقَامُ الصَّلاَةُ فَحَدَّثَنِي عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَعَرَضَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَحَبَسَهُ بَعْدَ مَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ .

বর্ণনাকারী: হুমাইদ আত তাবীল (রহঃ)

৫৪২. হুসায়েন ইবনে মুআয .... হুমায়েদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ছাবিত আল্-বানানীকে। জিজ্ঞাসা করি, ইকামত দেওয়ার পর যদি কোন ব্যক্তি কথা বলে (তবে এর হুকুম কি)। তিনি আনাস (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত একটি হাদীসের উল্লেখ করে আমাকে বলেন, একদা নামাযের জন্য ইকামত হওয়ার পর এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট আসে এবং তাঁকে ব্যস্ত রাখে (অর্থাৎ তার সাথে কথা বলতে থাকে)।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৫৪৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سُوَيْدِ بْنِ مَنْجُوفٍ السَّدُوسِيُّ، حَدَّثَنَا عَوْنُ بْنُ كَهْمَسٍ، عَنْ أَبِيهِ، كَهْمَسٍ قَالَ قُمْنَا إِلَى الصَّلاَةِ بِمِنًى وَالإِمَامُ لَمْ يَخْرُجْ فَقَعَدَ بَعْضُنَا فَقَالَ لِي شَيْخٌ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ مَا يُقْعِدُكَ قُلْتُ ابْنُ بُرَيْدَةَ . قَالَ هَذَا السُّمُودُ . فَقَالَ لِي الشَّيْخُ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْسَجَةَ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ كُنَّا نَقُومُ فِي الصُّفُوفِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَوِيلاً قَبْلَ أَنْ يُكَبِّرَ قَالَ وَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الَّذِينَ يَلُونَ الصُّفُوفَ الأُوَلَ وَمَا مِنْ خَطْوَةٍ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ مِنْ خَطْوَةٍ يَمْشِيهَا يَصِلُ بِهَا صَفًّا " .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৫৪৩. আহমদ ইবনে আলী .... আওস ইবনে কাহমাস থেকে তাঁর পিতা কাহমাস (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মিনায় নামাযের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এমতাবস্থায় ইমামের হাযির হতে বিলম্ব হওয়ায় আমাদের কেউ কেউ বসে গেল। কুফার একজন শায়খ আমাকে প্রশ্ন করেন, আপনি কেন বসলেন? আমি বললাম, ইবনে বুরায়দা বলেন, এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা নিষ্প্রয়োজন। তখন কুফার শায়েখ আমাকে বলেন, আব্দুর রহমান ইবনে আওসাজা (রাহঃ) বারাআ ইবনে আযিব (রাযিঃ) এর সূত্রে আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সময়ে ইকামত বলার পূর্বেই কাঁতাররবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যেতাম। রাবী বলেন, মহান আল্লাহ ও ফিরিশতা মন্ডলী ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন, যারা প্রথম হতে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে এবং আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম পদক্ষেপ হচ্ছে যে পদক্ষেপ দ্বারা মানুষেরা কাতারবদ্ধ হয়ে নামায আদায় করে বা নামাযের জন্য অপেক্ষা করে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৫৪৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَجِيٌّ فِي جَانِبِ الْمَسْجِدِ فَمَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ حَتَّى نَامَ الْقَوْمُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৪. মুসাদ্দাদ ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এশার নামাযের ইকামত হওয়ার পরেও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মসজিদের পাশে এক ব্যক্তির সাথে গোপন পরামর্শে ব্যস্ত থাকেন। অতঃপর তিনি ফিরে এসে দেখেন যে, মুসল্লীরা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৫৪৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ الْجَوْهَرِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ سَالِمٍ أَبِي النَّضْرِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ تُقَامُ الصَّلاَةُ فِي الْمَسْجِدِ إِذَا رَآهُمْ قَلِيلاً جَلَسَ لَمْ يُصَلِّ وَإِذَا رَآهُمْ جَمَاعَةً صَلَّى .

বর্ণনাকারী: সালিম আবুন নযর (রহঃ)

৫৪৫. আব্দুল্লাহ্ ইবনে ইসহাক ..... সালিম আবুন-নাদর থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুয়াযযিন ইকামত দেয়ার পরেও মুসল্লীদের কম উপস্থিতির কারণে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদের আগমন অপেক্ষায় বসে থাকতেন এবং যখন তিনি মুসল্লীর সংখ্যা অধিক দেখতেন তখন ইকামতের সাথে সাথেই নামায আদায় করতেন।

৫৪৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، - رضى الله عنه - مِثْلَ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৫৪৬. আব্দুল্লাহ ইবনে ইসহাক .... আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

৫২. জামাআত পরিত্যাগের কঠোর পরিণতি সম্পর্কে।

باب فِي التَّشْدِيدِ فِي تَرْكِ الْجَمَاعَةِ

৫৪৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، حَدَّثَنَا السَّائِبُ بْنُ حُبَيْشٍ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ الْيَعْمُرِيِّ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنْ ثَلاَثَةٍ فِي قَرْيَةٍ وَلاَ بَدْوٍ لاَ تُقَامُ فِيهِمُ الصَّلاَةُ إِلاَّ قَدِ اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ فَعَلَيْكَ بِالْجَمَاعَةِ فَإِنَّمَا يَأْكُلُ الذِّئْبُ الْقَاصِيَةَ " . قَالَ زَائِدَةُ قَالَ السَّائِبُ يَعْنِي بِالْجَمَاعَةِ الصَّلاَةَ فِي الْجَمَاعَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

৫৪৭. আহমদ ইবনে ইউনুস ..... আবুদ-দারদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ যখন কোন গ্রামে বা বনজঙ্গলে তিনজন লোক একত্রিত হয় এবং জামাআতে নামায আদায় না করে, তখন শয়তান তাদের উপর প্রভুত্ব বিস্তার করে। অতএব (তোমরা) অবশ্যই জামাআতের সাথে নামায আদায় কর। কেননা দলচ্যুত বকরীকে নেকড়ে বাঘে ভক্ষণ করে থাকে।

রাবী আস-সায়েব বলেন, এখানে জামাআত অর্থ জামাআতের সাথে নামায আদায় করা।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৫৪৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِالصَّلاَةِ فَتُقَامَ ثُمَّ آمُرَ رَجُلاً فَيُصَلِّيَ بِالنَّاسِ ثُمَّ أَنْطَلِقَ مَعِي بِرِجَالٍ مَعَهُمْ حُزَمٌ مِنْ حَطَبٍ إِلَى قَوْمٍ لاَ يَشْهَدُونَ الصَّلاَةَ فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهُمْ بِالنَّارِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৪৮. উছমান ইবনে আবি শাঈবা .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ আমার ইচ্ছা হয় যে, লোকদেরকে জামাআতের সাথে নামায আদায়ের নির্দেশ দেই এবং তাদের জন্য একজন ইমাম নিযুক্ত করি। অতঃপর আমি কাষ্ঠ বহনকারী একটি দল আমার সাথে নিয়ে ঐ লোকদের নিকট যাই যারা জামাআতে শরীক হয়নি। অতঃপর তাদের ঘর-বাড়ি জালিয়ে দেই।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫৪৯

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمَلِيحِ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ الأَصَمِّ، سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ فِتْيَتِي فَيَجْمَعُوا حُزَمًا مِنْ حَطَبٍ ثُمَّ آتِيَ قَوْمًا يُصَلُّونَ فِي بُيُوتِهِمْ لَيْسَتْ بِهِمْ عِلَّةٌ فَأُحَرِّقُهَا عَلَيْهِمْ " . قُلْتُ لِيَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ يَا أَبَا عَوْفٍ الْجُمُعَةَ عَنَى أَوْ غَيْرَهَا قَالَ صُمَّتَا أُذُنَاىَ إِنْ لَمْ أَكُنْ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَأْثِرُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا ذَكَرَ جُمُعَةً وَلاَ غَيْرَهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৪৯. আন-নুফায়লী ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি কিছু সংখ্যক যুবককে কাষ্ঠ সংগ্রহের নির্দেশ দেই। অতঃপর যারা বিনা কারণে নামাযের জামাআতে অনুপস্থিত থাকে তাদের ঘর-বাড়ি জালিয়ে ভষ্মিভূত করে দেই।

রাবী বলেন, আমি ইয়াযীদ ইবনে আসিমকে জিজ্ঞাসা করি, হে আবু আওফ! এ দ্বারা কি কেবলমাত্র জুমআর জামাআতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? বলেন, তা আমি সঠিকভাবে জ্ঞাত নই। কেননা আবু হুরায়রা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে জুমআ অথবা অন্য কোন নামাযের জন্য নির্দিষ্ট ভাবে বলতে শুনিনি (অতএব এ দ্বারা স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে, পাঁচ ওয়াক্তের নামাযের জন্য জামাআতে হাযির হওয়া কর্তব্য।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫৫০

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبَّادٍ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الْمَسْعُودِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ حَافِظُوا عَلَى هَؤُلاَءِ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ فَإِنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى وَإِنَّ اللَّهَ شَرَعَ لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم سُنَنَ الْهُدَى وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلاَّ مُنَافِقٌ بَيِّنُ النِّفَاقِ وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يُقَامَ فِي الصَّفِّ وَمَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلاَّ وَلَهُ مَسْجِدٌ فِي بَيْتِهِ وَلَوْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ وَتَرَكْتُمْ مَسَاجِدَكُمْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم لَكَفَرْتُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৫৫০. হারূন ইবনে আবাদ .... আব্দুল্লাহ ইবনে মাস্উদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা এই পাঁচ ওয়াক্তের নামায ঠিকভাবে আযানের সাথে হেফাযত কর। কেননা এই নামাযসমূহ হিদায়াতের অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ্ নবী (ﷺ)-এর জন্য তা ফরয ও হিদায়াতের বাহন হিসেবে নির্ধারিত করেছেন। রাবী বলেন, আমরা তো দেখেছি যে, প্রকাশ্য মুনাফিকরা ব্যতীত জামাআতে কেউই অনুপস্থিত থাকত না। আমরা আরো দেখেছি যে, দুর্বল ও অক্ষম ব্যক্তি দু’জনের উপর ভর করে মসজিদে এসে জামাআতে নামায আদায়ের জন্য কাতারবদ্ধ হত। তোমাদের প্রত্যেকের (সুন্নত ও নফল) নামায আদায়ের জন্য নিজ নিজ ঘরে নামাযের স্থান আছে যদি তোমরা মসজিদ ত্যাগ করে নিজ নিজ আবাসে ফরয নামায আদায় কর তবে তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নত ত্যাগকারী হিসেবে বিবেচিত হবে। আর যদি তোমরা তোমাদের নবীর সুন্নত পরিহার কর তবে অবশ্যই তোমরা পথভ্রষ্ট হবে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৫৫১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ أَبِي جَنَابٍ، عَنْ مَغْرَاءٍ الْعَبْدِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَمِعَ الْمُنَادِيَ فَلَمْ يَمْنَعْهُ مِنَ اتِّبَاعِهِ عُذْرٌ " . قَالُوا وَمَا الْعُذْرُ قَالَ خَوْفٌ أَوْ مَرَضٌ " لَمْ تُقْبَلْ مِنْهُ الصَّلاَةُ الَّتِي صَلَّى " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: رَوَى عَنْ مَغْرَاءَ أَبُو إِسْحَاقَ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৫১. কুতায়বা .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের আযান শুনে বিনা কারণে মসজিদে উপস্থিত হয়ে জামাআতে নামায আদায় করবে না তার অনত্র আদায়কৃত নামায আল্লাহর নিকটে কবুল হবে না (অর্থাৎ তার নামাযকে পরিপূর্ণ নামায হিসেবে গণ্য করা হবে না)। সাহাবীরা ওযর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যদি কেউ ভয়ভীতি ও অসুস্থতার কারণে জামাআতে হাযির হতে অক্ষম হয় তবে তার জন্য বাড়ীতে নামায পড়া দুষণীয় নয়।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৫৫২

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ، عَنْ أَبِي رَزِينٍ، عَنِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ، أَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي رَجُلٌ ضَرِيرُ الْبَصَرِ شَاسِعُ الدَّارِ وَلِي قَائِدٌ لاَ يُلاَئِمُنِي فَهَلْ لِي رُخْصَةٌ أَنْ أُصَلِّيَ فِي بَيْتِي قَالَ " هَلْ تَسْمَعُ النِّدَاءَ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " لاَ أَجِدُ لَكَ رُخْصَةً " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রাঃ)

৫৫২. সুলাইমান ইবনে হারব .... ইবনে উম্মে মাকতুম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি অন্ধ তদুপরি মসজিদও আমার ঘর হতে অনেক দূরে, কিন্তু আমাকে মসজিদে আনা নেয়ার জন্য লোক আছে। এমতাবস্থায় আমি কি ঘরে (ফরয) নামায আদায় করতে পারি? নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি আযান শুনতে পাও? আমি বলি, হ্যাঁ। নবী (ﷺ) বলেনঃ আমি তোমার জন্য (জামাআত) থেকে অব্যাহতির কোন কারণ পাচ্ছি না।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৫৫৩

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَبِي الزَّرْقَاءِ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَابِسٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْمَدِينَةَ كَثِيرَةُ الْهَوَامِّ وَالسِّبَاعِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَتَسْمَعُ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ حَىَّ عَلَى الْفَلاَحِ فَحَىَّ هَلاَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا رَوَاهُ الْقَاسِمُ الْجَرْمِيُّ عَنْ سُفْيَانَ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রাঃ)

৫৫৩. হারূন ইবনে যায়দ ..... ইবনে উম্মে মাকতুম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ মদীনা শহরে অনেক বিষাক্ত ও হিংস্র প্রাণী আছে যার দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে এমতাবস্থায় জামাআতে হাযির হওয়ার ব্যাপারে আমার করণীয় কি? তিনি বলেনঃ তুমি কি আযানের হাইয়া আলাস-সালাহ্ ও হাইয়া আলাল-ফালাহ্ শুনতে পাও? আমি বলি হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ তুমি তার জবাব দাও (জামাআতে হাযির হও)।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৫৩. জামাআতে নামায আদায়ের ফযিলত।

باب فِي فَضْلِ صَلاَةِ الْجَمَاعَةِ

৫৫৪

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَصِيرٍ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا الصُّبْحَ فَقَالَ " أَشَاهِدٌ فُلاَنٌ " . قَالُوا لاَ . قَالَ " أَشَاهِدٌ فُلاَنٌ " . قَالُوا لاَ . قَالَ " إِنَّ هَاتَيْنِ الصَّلاَتَيْنِ أَثْقَلُ الصَّلَوَاتِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ وَلَوْ تَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لأَتَيْتُمُوهُمَا وَلَوْ حَبْوًا عَلَى الرُّكَبِ وَإِنَّ الصَّفَّ الأَوَّلَ عَلَى مِثْلِ صَفِّ الْمَلاَئِكَةِ وَلَوْ عَلِمْتُمْ مَا فَضِيلَتُهُ لاَبْتَدَرْتُمُوهُ وَإِنَّ صَلاَةَ الرَّجُلِ مَعَ الرَّجُلِ أَزْكَى مِنْ صَلاَتِهِ وَحْدَهُ وَصَلاَتُهُ مَعَ الرَّجُلَيْنِ أَزْكَى مِنْ صَلاَتِهِ مَعَ الرَّجُلِ وَمَا كَثُرَ فَهُوَ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

৫৫৪. হাফস ইবনে উমর ..... উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের সাথে ফজরের নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ অমুক ব্যক্তি কি জামাআতে হাযির হয়েছে? সাহাবীরা বলেন, না। অতঃপর তিনি বলেনঃ অমুক ব্যক্তি কি নামাযে উপস্থিত হয়েছে? তারা বলেন, না। তিনি বলেনঃ এই দুই সময়ের (ফজর ও এশার) নামায আদায় করা মুনাফিকদের জন্য কষ্টকর। যদি তোমরা এই দুই ওয়াক্তের নামাযের ফযীলাত সম্পর্কে অবহিত থাকতে, তবে অবশ্যই তোমরা এই দুই সময়ে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও জামাআতে হাযির হতে এবং জামাআতের প্রথম লাইনটি ফিরিশতাদের কাতারের অনুরূপ। যদি তোমরা এর ফযীলত সম্পর্কে অবগত থাকতে তবে তোমরা প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর জন্য অবশ্যই প্রতিযোগিতা করতে। নিশ্চয়ই মানুষের একাকী নামায হতে দুইজনের একত্রে নামায আদায় করা অধিক উত্তম এবং দুইজনের একত্রে নামায অপেক্ষা তিনজনের একত্রে নামায আদায় করা আরও অধিক উত্তম। এর অধিক জামাআতে যতই লোক বেশী হবে, ততই তা মহান আল্লাহর নিকট অধিক পছ্ন্দনীয়।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৫৫৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي سَهْلٍ، - يَعْنِي عُثْمَانَ بْنَ حَكِيمٍ - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي عَمْرَةَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ كَقِيَامِ نِصْفِ لَيْلَةٍ وَمَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ وَالْفَجْرَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ كَقِيَامِ لَيْلَةٍ " .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

৫৫৫. আহমদ ইবনে হাম্বল .... উছমান ইবনে আফফান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন যে ব্যক্তি এশার নামায জামাতের সাথে আদায় করল সে যেন অর্ধ রাত দাঁড়িয়ে ইবাদত করল। আর যে ব্যক্তি ফজর ও এশার নামায জামাআতে আদায় করল সে যেন সারা রাতব্যাপী ইবাদতে মশগুল থাকল।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫৪. পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার ফযিলত।

باب مَا جَاءَ فِي فَضْلِ الْمَشْىِ إِلَى الصَّلاَةِ

৫৫৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الأَبْعَدُ فَالأَبْعَدُ مِنَ الْمَسْجِدِ أَعْظَمُ أَجْرًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৫৬. মুসাদ্দাদ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মসজিদ হতে যার অবস্থান (বাসস্থান) যত দূরে সে তত অধিক সাওয়াবের অধিকারী।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৫৫৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، أَنَّ أَبَا عُثْمَانَ، حَدَّثَهُ عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ كَانَ رَجُلٌ لاَ أَعْلَمُ أَحَدًا مِنَ النَّاسِ مِمَّنْ يُصَلِّي الْقِبْلَةَ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ أَبْعَدَ مَنْزِلاً مِنَ الْمَسْجِدِ مِنْ ذَلِكَ الرَّجُلِ وَكَانَ لاَ تُخْطِئُهُ صَلاَةٌ فِي الْمَسْجِدِ فَقُلْتُ لَوِ اشْتَرَيْتَ حِمَارًا تَرْكَبُهُ فِي الرَّمْضَاءِ وَالظُّلْمَةِ . فَقَالَ مَا أُحِبُّ أَنَّ مَنْزِلِي إِلَى جَنْبِ الْمَسْجِدِ فَنُمِيَ الْحَدِيثُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ عَنْ قَوْلِهِ ذَلِكَ فَقَالَ أَرَدْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ يُكْتَبَ لِي إِقْبَالِي إِلَى الْمَسْجِدِ وَرُجُوعِي إِلَى أَهْلِي إِذَا رَجَعْتُ . فَقَالَ " أَعْطَاكَ اللَّهُ ذَلِكَ كُلَّهُ أَنْطَاكَ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ مَا احْتَسَبْتَ كُلَّهُ أَجْمَعَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

৫৫৭. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ আন নুফায়লী .... উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনার জনৈক মুসলিম ব্যক্তি, যার বাসস্থান ছিল মসজিদে নববী হতে সবচাইতে দূরে এবং সব সময়ই পদব্রজে মসজিদে নববীতে এসে নামায পড়তেন। একদা আমি তাকে অনুরোধ করি যে, যদি আপনি একটি গাধা খরিদ করতেন তবে তার পিঠে আরোহণ করে প্রচন্ড গরম ও অন্ধকার রাতে সহজে যাতায়াত করতে পারতেন। জবাবে ঐ ব্যক্তি বলেন, আমার নিকট আদৌ পছন্দনীয় নয় যে, আমার বাসস্থান মসজিদের নিকটবর্তী হোক।

অতঃপর এই সষ্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে অবহিত করা হলে তিনি তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার কামনা এই যে, (আমার বাড়ী যেহেতু মসজিদ হতে দূরে সেহেতু) যাতায়াতের জনা অদিক পদক্ষেপের বিনিময়ে আমি অধিক সাওয়াব প্রাপ্ত হব। নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি যে সাওয়াবের কামনা করছ মহান আল্লাহ্ তা তোমাকে দান করেছেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৫৫৮

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ مُتَطَهِّرًا إِلَى صَلاَةٍ مَكْتُوبَةٍ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْحَاجِّ الْمُحْرِمِ وَمَنْ خَرَجَ إِلَى تَسْبِيحِ الضُّحَى لاَ يُنْصِبُهُ إِلاَّ إِيَّاهُ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْمُعْتَمِرِ وَصَلاَةٌ عَلَى أَثَرِ صَلاَةٍ لاَ لَغْوَ بَيْنَهُمَا كِتَابٌ فِي عِلِّيِّينَ " .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

৫৫৮. আবু তাওবা .... আবু উমামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি উযু করে ফরয নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে যায়, সে ইহরামধারী হাজীর অনুরূপ সাওয়াব প্রাপ্ত হবে। অপর পক্ষে যে ব্যক্তি কেবলমাত্র চাশতের নামায আদায়ের জন্য মসজিদে যায় সে উমরাহকারীর ন্যায় সাওয়াব প্রাপ্ত হবে। যে ব্যক্তি এক ওয়াক্ত নামায আদায়ের পর হতে পরের ওয়াক্ত নামায আদায় করাকালীন সময়ের মধ্যে কোনরূপ বেহুদা কাজ ও কথাবার্তায় লিপ্ত না হয়, তার আমলনামা সপ্তাকাশে লিপিবদ্ধ হবে, অর্থাৎ সে উচ্চমর্যাদার অধিকারী হবে।

৫৫৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صَلاَةُ الرَّجُلِ فِي جَمَاعَةٍ تَزِيدُ عَلَى صَلاَتِهِ فِي بَيْتِهِ وَصَلاَتِهِ فِي سُوقِهِ خَمْسًا وَعِشْرِينَ دَرَجَةً وَذَلِكَ بِأَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ وَأَتَى الْمَسْجِدَ لاَ يُرِيدُ إِلاَّ الصَّلاَةَ وَلاَ يَنْهَزُهُ إِلاَّ الصَّلاَةُ لَمْ يَخْطُ خَطْوَةً إِلاَّ رُفِعَ لَهُ بِهَا دَرَجَةٌ وَحُطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةٌ حَتَّى يَدْخُلَ الْمَسْجِدَ فَإِذَا دَخَلَ الْمَسْجِدَ كَانَ فِي صَلاَةٍ مَا كَانَتِ الصَّلاَةُ هِيَ تَحْبِسُهُ وَالْمَلاَئِكَةُ يُصَلُّونَ عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ فِي مَجْلِسِهِ الَّذِي صَلَّى فِيهِ يَقُولُونَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ اللَّهُمَّ تُبْ عَلَيْهِ مَا لَمْ يُؤْذِ فِيهِ أَوْ يُحْدِثْ فِيهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৫৯. মুসাদ্দাদ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, কোন ব্যক্তি জামাআতের সাথে নামায আদায় করলে বাড়ীতে এবং বাজারে একাকী নামায আদায় করা অপেক্ষা তা পঁচিশ গুণ শ্রেয়। তা এই কারণে যে, যখন কোন ব্যক্তি উত্তমরূপে উযু করে শুধু নামাযের উদ্দেশ্যেই মসজিদে যায় তার প্রতি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার মর্যাদা বৃদ্ধি এবং গুনাহ্ মাফ হয়ে থাকে যতক্ষণ না সে মসজিদে প্রবেশ করে।

অতঃপর সে ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশের পর যতক্ষণ সেখানে নামাযের জন্য অবস্থান করবে ততক্ষণ তাকে নামাযী হিসাবে গণ্য করা হবে। ঐ ব্যক্তি যতক্ষণ মসজিদে অবস্থান করবে ততক্ষণ ফিরিশতারা তার জন্য দুআ করবে। দুআটি এইরূপঃ “ইয়া আল্লাহ্! তুমি তাকে ক্ষমা করা ইয়া আল্লাহ্! তুমি তার উপর রহমত বর্ষণ কর। ইয়া আল্লাহ্! তুমি তার তওবা কবুল করা।” ঐ ব্যক্তির জন্য ফিরিশতারা ততক্ষণ-পর্যন্ত ঐরূপ দুআ করতে থাকবে যতক্ষণ সে কাউকেও কষ্ট না দেয় অথবা তার উযু নষ্ট না হয়।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৫৬০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الصَّلاَةُ فِي جَمَاعَةٍ تَعْدِلُ خَمْسًا وَعِشْرِينَ صَلاَةً فَإِذَا صَلاَّهَا فِي فَلاَةٍ فَأَتَمَّ رُكُوعَهَا وَسُجُودَهَا بَلَغَتْ خَمْسِينَ صَلاَةً " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ فِي الْحَدِيثِ " صَلاَةُ الرَّجُلِ فِي الْفَلاَةِ تُضَاعَفُ عَلَى صَلاَتِهِ فِي الْجَمَاعَةِ " . وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৫৬০. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ...... আবু সাঈদ আল্-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জামাআতের সাথে এক ওয়াক্তের নামায একাকী পঁচিশ ওয়াক্ত নামায (আদায়ের) সমতুল্য। যখন কোন ব্যক্তি মাঠে বা বন-ভূমিতে সঠিকভাবে রুকু-সিজদা সহকারে নামায আদায় করবে, তখন সে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাযের সমান সাওয়াব পাবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৫৫. অন্ধকারের মধ্যে মসজিদে যাওয়ার ফযিলত।

باب مَا جَاءَ فِي الْمَشْىِ إِلَى الصَّلاَةِ فِي الظُّلَمِ

৫৬১

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ الْحَدَّادُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَبُو سُلَيْمَانَ الْكَحَّالُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَوْسٍ، عَنْ بُرَيْدَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بَشِّرِ الْمَشَّائِينَ فِي الظُّلَمِ إِلَى الْمَسَاجِدِ بِالنُّورِ التَّامِّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

৫৬১. ইয়াহয়া ইবনে মুঈন ..... বুরায়দা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ যারা অন্ধকার রজনীতে মসজিদে হাযির হয়ে জামাআতে নামায আদায় করে, তাদেরকে কিয়ামতের দিনের পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫৬. উযু করে নামাযের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাওয়ার নিয়মকানুন।

باب مَا جَاءَ فِي الْهَدْىِ فِي الْمَشْىِ إِلَى الصَّلاَةِ

৫৬২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، أَنَّ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ عَمْرٍو، حَدَّثَهُمْ عَنْ دَاوُدَ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ حَدَّثَنِي سَعْدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، حَدَّثَنِي أَبُو ثُمَامَةَ الْحَنَّاطُ، أَنَّ كَعْبَ بْنَ عُجْرَةَ، أَدْرَكَهُ وَهُوَ يُرِيدُ الْمَسْجِدَ أَدْرَكَ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ قَالَ فَوَجَدَنِي وَأَنَا مُشَبِّكٌ بِيَدَىَّ فَنَهَانِي عَنْ ذَلِكَ وَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ خَرَجَ عَامِدًا إِلَى الْمَسْجِدِ فَلاَ يُشَبِّكَنَّ يَدَيْهِ فَإِنَّهُ فِي صَلاَةٍ " .

বর্ণনাকারী: কাব ইবনে উজরাহ (রাঃ)

৫৬২. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান .... আবু ছুমামা আল-হান্নাত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদে গমনকালে কাব ইবনে উজরা (রাযিঃ) এর সাথে পথিমধ্যে তাঁর সাক্ষাত হয়। রাবী বলেন, তখন আমি আমার হাতের অঙ্গুলি মটকাচ্ছিলাম। তিনি আমাকে ঐরূপ করতে নিষেধ করে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন যখন তোমাদের কেউ উত্তমরূপে উযু করার পর মসজিদে গমনের ইচ্ছা করে, সে যেন তার হাতের অঙ্গুলী না মটকায়, কেননা ঐ ব্যক্তিকে তখন নামাযী হিসেবে গণ্য করা হয়।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫৬৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُعَاذِ بْنِ عَبَّادٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ مَعْبَدِ بْنِ هُرْمُزَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، قَالَ حَضَرَ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ الْمَوْتُ فَقَالَ إِنِّي مُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا مَا أُحَدِّثُكُمُوهُ إِلاَّ احْتِسَابًا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ لَمْ يَرْفَعْ قَدَمَهُ الْيُمْنَى إِلاَّ كَتَبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ حَسَنَةً وَلَمْ يَضَعْ قَدَمَهُ الْيُسْرَى إِلاَّ حَطَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَنْهُ سَيِّئَةً فَلْيُقَرِّبْ أَحَدُكُمْ أَوْ لِيُبَعِّدْ فَإِنْ أَتَى الْمَسْجِدَ فَصَلَّى فِي جَمَاعَةٍ غُفِرَ لَهُ فَإِنْ أَتَى الْمَسْجِدَ وَقَدْ صَلَّوْا بَعْضًا وَبَقِيَ بَعْضٌ صَلَّى مَا أَدْرَكَ وَأَتَمَّ مَا بَقِيَ كَانَ كَذَلِكَ فَإِنْ أَتَى الْمَسْجِدَ وَقَدْ صَلَّوْا فَأَتَمَّ الصَّلاَةَ كَانَ كَذَلِكَ " .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

৫৬৩. মুহাম্মাদ ইবনে মূআয ইবনে আব্বাদ আল-আনবারী ..... সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক আনসার সাহবীর মৃত্যু উপস্থিত হল তিনি বলেন, আমি তোমাদের নিকট একটি হাদীস একমাত্র আল্লাহ্ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই বর্ণনা করতে চাই। অতঃপর তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি তোমাদের কেউ যখন ভালভাবে উযু করে নামাযের জন্য রওয়ানা হয়, তখন সে তার ডান পা উঠানোর সাথে সাথেই তার আমলনামায় একটি নেকী লিখিত হয়। অতঃপর তার বাম পা ফেলার সাথে সাথেই তার একটি গুনাহ্ মার্জিত হয়। এখন যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে, সে তার আবাসস্থান মসজিদের নিকটে বা দূরে করতে পারে।

অতঃপর ঐ ব্যক্তি মসজিদে আগমনের পর জামাআতের সাথে নামায আদায় করলে তার সমস্ত (সগীরা) গুনাহ্ মাফ হবে। ঐ ব্যক্তি মসজিদে পৌছতে পৌছতে ইমাম যদি কিছু অংশ আদায় করে ফেলে, তখন সে ইমামের সাথে বাকী নামায আদায়ের পর ইমাম যা পূর্বে আদায় করেছে তা পূর্ণ করবে। কিন্তু সাওয়াবের ব্যাপারে ঐ ব্যক্তি পূর্ণ নামায প্রাপ্ত ব্যক্তির অনুরূপ হবে। ঐ ব্যক্তি মসজিদে আগমনের পর যদি দেখে যে, ইমাম তার নামায শেষ করে ফেলেছে, তখন সে একাকী নামায আদায় করল। তবুও তাকে ক্ষমা করা হবে।

৩৭৩. আশ্রয় প্রার্থনা করা।

باب فِي الاِسْتِعَاذَةِ

৫৬৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنْ مُحَمَّدٍ، - يَعْنِي ابْنَ طَحْلاَءَ - عَنْ مُحْصِنِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عَوْفِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ رَاحَ فَوَجَدَ النَّاسَ قَدْ صَلَّوْا أَعْطَاهُ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ مِثْلَ أَجْرِ مَنْ صَلاَّهَا وَحَضَرَهَا لاَ يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أَجْرِهِمْ شَيْئًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৬৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযু করার পর মসজিদে গিয়ে দেখতে পায় যে, নামাযের জামাআত শেষ হয়ে গিয়েছে- মহান আল্লাহ্ ঐ ব্যক্তিকেও তাদের অনুরূপ সাওয়াব প্রদান করবেন যারা মসজিদে হাযির হয়ে জামাআতের সাথে পুরা নামায আদায় করেছে। তাতে জামাআতে নামায আদায়কারীদের সাওয়াব কম হবে না।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৫৮. মহিলাদের মসজিদে যাতায়াত সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي خُرُوجِ النِّسَاءِ إِلَى الْمَسْجِدِ

৫৬৫

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ مَسَاجِدَ اللَّهِ وَلَكِنْ لِيَخْرُجْنَ وَهُنَّ تَفِلاَتٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৬৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর বান্দীদের (স্ত্রীলোকদের) আল্লাহর মসজিদে যাতায়াতে নিষেধ কর না। কিন্তু খুশবু ব্যবহার না করে তারা মসাজিদে যাবে।*

* মহিলাদের মসজিদে যাওয়া সাধারণতঃ জায়েয। বিশেষত এশা ও ফজরের জামাআতে শরীক হওয়ার জন্য তাদের মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু ফিতনা-ফাসাদের আশংকায় সচরাচর মহিলাদের মসজিদে না যাওয়াই উত্তম।
৫৬৬

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ مَسَاجِدَ اللَّهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৬৬. সুলাইমান ইবনে হারব ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন তোমরা আল্লাহর বান্দীদের (স্ত্রীলোকদের) আল্লাহর মসজিদসমূহে যাতায়াতে বাধা দিও না।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৫৬৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا الْعَوَّامُ بْنُ حَوْشَبٍ، حَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَمْنَعُوا نِسَاءَكُمُ الْمَسَاجِدَ وَبُيُوتُهُنَّ خَيْرٌ لَهُنَّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৬৭. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের মসজিদ সমূহে যাতায়াতের বাধা দিও না। কিন্তু তাদের ঘরসমূহই তাদের (নামাযের জন্য)-উত্তম স্থান।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৫৬৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " ائْذَنُوا لِلنِّسَاءِ إِلَى الْمَسَاجِدِ بِاللَّيْلِ " . فَقَالَ ابْنٌ لَهُ وَاللَّهِ لاَ نَأْذَنُ لَهُنَّ فَيَتَّخِذْنَهُ دَغَلاً وَاللَّهِ لاَ نَأْذَنُ لَهُنَّ . قَالَ فَسَبَّهُ وَغَضِبَ وَقَالَ أَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ائْذَنُوا لَهُنَّ " . وَتَقُولُ لاَ نَأْذَنُ لَهُنَّ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৬৮. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের রাতের বেলায় মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দাও। তখন তাঁর এক পুত্র (বিলাল) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি তাদের রাতের বেলায় মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দেব না। কেননা এতে তারা ফিতনা-ফাসাদ লিপ্ত হতে পারে। আল্লাহর শপথ। আমি তাদেরকে কিছুতেই অনুমতি দেব না।

রাবী মুজাহিদ (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) তাঁর উপর রাগান্বিত হন এবং তাকে গালাগলি করেন আর বলেন, আমি বলছি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দাও, আর তুমি বলছ, আমি কোন মতেই তাদের অনুমতি দিব না।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫৯. মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার ব্যাপারে কঠোরতা সম্পর্কে।

باب التَّشْدِيدِ فِي ذَلِكَ

৫৬৯

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ لَوْ أَدْرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا أَحْدَثَ النِّسَاءُ لَمَنَعَهُنَّ الْمَسْجِدَ كَمَا مُنِعَهُ نِسَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ . قَالَ يَحْيَى فَقُلْتُ لِعَمْرَةَ أَمُنِعَهُ نِسَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ قَالَتْ نَعَمْ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৬৯. আল্-কানবী ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বর্তমান মহিলাদের আচার-আচরণ যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বচক্ষে দেখতে পেতেন তবে অবশ্যই তিনি তাদের মসজিদে যেতে নিষেধ করতেন- যেরূপ বনী ইসরাঈলের স্ত্রীলোকদের মসজিদে যাওয়া নিষেধ করা হয়েছিল।

রাবী ইয়াহয়া বলেন, তখন আমি রাবী আমরাকে জিজ্ঞাসা করি, বনী ইসরাঈলের স্ত্রীলোকদের কি মসজিদে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল? তিনি বলেন, হ্যাঁ।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৫৭০

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، أَنَّ عَمْرَو بْنَ عَاصِمٍ، حَدَّثَهُمْ قَالَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُوَرِّقٍ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةُ الْمَرْأَةِ فِي بَيْتِهَا أَفْضَلُ مِنْ صَلاَتِهَا فِي حُجْرَتِهَا وَصَلاَتُهَا فِي مَخْدَعِهَا أَفْضَلُ مِنْ صَلاَتِهَا فِي بَيْتِهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৫৭০. ইবনে মূছান্না .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাস্উদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ মহিলাদের ঘরে নামায আদায় করা বৈঠকখানায় নামায আদায় করার চাইতে উত্তম এবং মহিলাদের সাধারণ থাকার ঘরে নামায আদায় করার চেয়ে গোপন প্রকোষ্ঠে নামায আদায় করা অধিক উত্তম।

৫৭১

حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ تَرَكْنَا هَذَا الْبَابَ لِلنِّسَاءِ " . قَالَ نَافِعٌ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ ابْنُ عُمَرَ حَتَّى مَاتَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ وَهَذَا أَصَحُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৭১. আবু মামার .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি আমরা মসজিদে নববীর এই দরজাটি মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট করে দিতাম (তবে খুবই উত্তম হত)। রাবী নাফে বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) তার ইন্‌তিকালের পূর্ব পর্যন্ত এই দরজা দিয়ে এ কারণে আর কোন দিন প্রবেশ করেন নি।

৬০. দৌড়ে নামাযের জন্য যাওয়া।

باب السَّعْىِ إِلَى الصَّلاَةِ

৫৭২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ تَأْتُوهَا تَسْعَوْنَ وَأْتُوهَا تَمْشُونَ وَعَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَذَا قَالَ الزُّبَيْدِيُّ وَابْنُ أَبِي ذِئْبٍ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ وَمَعْمَرٌ وَشُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ " وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا " . وَقَالَ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَحْدَهُ " فَاقْضُوا " . وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَجَعْفَرُ بْنُ رَبِيعَةَ عَنِ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ " فَأَتِمُّوا " . وَابْنُ مَسْعُودٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو قَتَادَةَ وَأَنَسٌ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كُلُّهُمْ قَالُوا " فَأَتِمُّوا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৭২. আহমদ ইবনে সালেহ্ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ যখন নামাযের জন্য ইকামত দেয়া হয় তখন তার জন্য (জামাআতে শরীক হওয়ার জন্য) তোমরা শান্ত ও স্বাভাবিক গতিতে হেটে যাও, দৌঁড়িয়ে যেয়ো না। অতঃপর তোমরা ইমামের সাথে যা পাও (যত রাকআত নামায পাও) তা আদায় কর এবং যা না পাও তা পরে পূরণ কর।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫৭৩

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " ائْتُوا الصَّلاَةَ وَعَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ فَصَلُّوا مَا أَدْرَكْتُمْ وَاقْضُوا مَا سَبَقَكُمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا قَالَ ابْنُ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ " وَلْيَقْضِ " . وَكَذَا أَبُو رَافِعٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبُو ذَرٍّ رُوِيَ عَنْهُ " فَأَتِمُّوا وَاقْضُوا " . وَاخْتُلِفَ عَنْهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৭৩. আবুল ওয়ালীদ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা শান্তির সাথে নামাযের জন্য আস। অতঃপর তোমরা ইমামের সাথে যা পাবে তা আদায় করবে এবং যা না পাবে তা পরে পূর্ণ করবে। এছাড়া অন্যান্য বর্ণনায় সামান্য শাব্দিক পার্থক্য সহকারে এরূপই বিবৃত হয়েছে।

৬১. একই নামায দুইবার একই মসজিদে জামাআতে আদায় করা।

باب فِي الْجَمْعِ فِي الْمَسْجِدِ مَرَّتَيْنِ

৫৭৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ سُلَيْمَانَ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبْصَرَ رَجُلاً يُصَلِّي وَحْدَهُ فَقَالَ " أَلاَ رَجُلٌ يَتَصَدَّقُ عَلَى هَذَا فَيُصَلِّيَ مَعَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৫৭৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আবু সাঈদ আল্-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে (জামাআতের পর) একাকী নামায আদায় করতে দেখে বলেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই কি- যে এই ব্যক্তিকে সাদ্‌কা দিয়ে তার সাথে একত্রে নামায পড়তে পারে?

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৬২. ঘরে একাকী নামায আদায়ের পর মসজিদে গিয়ে জামাআত পেলে তাতে শরীক হবে।

باب فِيمَنْ صَلَّى فِي مَنْزِلِهِ ثُمَّ أَدْرَكَ الْجَمَاعَةَ يُصَلِّي مَعَهُمْ

৫৭৫

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي يَعْلَى بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِأَنَّهُ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ غُلاَمٌ شَابٌّ فَلَمَّا صَلَّى إِذَا رَجُلاَنِ لَمْ يُصَلِّيَا فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ فَدَعَا بِهِمَا فَجِيءَ بِهِمَا تُرْعَدُ فَرَائِصُهُمَا فَقَالَ " مَا مَنَعَكُمَا أَنْ تُصَلِّيَا مَعَنَا " . قَالاَ قَدْ صَلَّيْنَا فِي رِحَالِنَا . فَقَالَ " لاَ تَفْعَلُوا إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فِي رَحْلِهِ ثُمَّ أَدْرَكَ الإِمَامَ وَلَمْ يُصَلِّ فَلْيُصَلِّ مَعَهُ فَإِنَّهَا لَهُ نَافِلَةٌ " .

বর্ণনাকারী: ইয়াযীদ ইবনে আসওয়াদ (রাঃ)

৫৭৫. হাফস ইবনে উমর ..... জাবের ইবনে ইয়াযীদ ইবনুল আসওয়াদ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। একদা যৌবনের প্রারম্ভে তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে জামাআতে নামায আদায় করেন। নামায শেষে দেখা যায় যে, দুই ব্যক্তি জামাআতে শরীক না হয়ে মসজিদের কোনায় বসে আছ। তখন তাদেরকে ডাকা হলে তারা নবী (ﷺ) এর খিদমতে ভীত প্রকম্পিত অবস্থায় হাযির হয়।

অতঃপর তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করেনঃ আমাদের সাথে নামায আদায় করতে কিসে তোমাদের বাধা দিয়েছে? তারা বলে, আমরা আমাদের ঘরে নামায আদায় করেছি। তিনি বলেনঃ তোমরা এইরূপ করবে না, বরং কেউ ঘরে নামায আদায়ের পর মসজিদে ইমামকে নামাযরত পেলে তার সাথে শরীক হয়ে নামায আদায় করবে এবং তা তার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫৭৬

حَدَّثَنَا ابْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الصُّبْحَ بِمِنًى بِمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: ইয়াযীদ ইবনে আসওয়াদ (রাঃ)

৫৭৬. ইবনে মুআয .... জাবের ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মিনাতে নবী (ﷺ)-এর সাথে ফজরের নামায আদায় করি ......... হাদীসের অবশিষ্টাংশ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

৫৭৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ نُوحِ بْنِ صَعْصَعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ جِئْتُ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلاَةِ فَجَلَسْتُ وَلَمْ أَدْخُلْ مَعَهُمْ فِي الصَّلاَةِ - قَالَ - فَانْصَرَفَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَأَى يَزِيدَ جَالِسًا فَقَالَ " أَلَمْ تُسْلِمْ يَا يَزِيدُ " . قَالَ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ أَسْلَمْتُ . قَالَ " فَمَا مَنَعَكَ أَنْ تَدْخُلَ مَعَ النَّاسِ فِي صَلاَتِهِمْ " . قَالَ إِنِّي كُنْتُ قَدْ صَلَّيْتُ فِي مَنْزِلِي وَأَنَا أَحْسِبُ أَنْ قَدْ صَلَّيْتُمْ . فَقَالَ " إِذَا جِئْتَ إِلَى الصَّلاَةِ فَوَجَدْتَ النَّاسَ فَصَلِّ مَعَهُمْ وَإِنْ كُنْتَ قَدْ صَلَّيْتَ تَكُنْ لَكَ نَافِلَةً وَهَذِهِ مَكْتُوبَةً " .

বর্ণনাকারী: ইয়াযীদ ইবনে আমের (রাঃ)

৫৭৭. কুতায়বা ..... ইয়াযীদ ইবনে আমের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খিদমতে হাযির হয়ে তাকে নামাযে রত পাই। আমি তাদের সাথে নামাযে শরীক না হয়ে বসে থাকি। রাবী বলেন, অতঃপর নবী (ﷺ) নামাযান্তে আমাদের প্রতি লক্ষ্য করে দেখেন যে, ইয়াযীদ বসে আছেন। তখন নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে ইয়াযীদ! তুমি কি ইসলাম কবুল কর নাই? আমি বলি- হ্যাঁ! হে আল্লাহর রাসূল! আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। তখন তিনি বলেনঃ তবে কিসে তোমাকে লোকদের সাথে জামাআতে শরীক হতে বাধা দিয়েছে? আমি বলি, আমার ধারণা ছিল যে, মসজিদের জামাআত সমাপ্ত হয়েছে, সে কারণে আমি বাড়িতে একাকী নামায আদায় করে এসেছি। তখন তিনি বলেনঃ যখন তুমি মসজিদে এসে লোকদের জামাআতে নামায আদায় করতে দেখবে, তখন তাদের সাথে তুমিও নামায পড়বে এবং তা তোমার জন্য নফল হবে এবং আগে পড়া নামায ফরয হিসাবে গণ্য হবে।

৫৭৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى ابْنِ وَهْبٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ بُكَيْرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَفِيفَ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْمُسَيَّبِ، يَقُولُ حَدَّثَنِي رَجُلٌ، مِنْ بَنِي أَسَدِ بْنِ خُزَيْمَةَ أَنَّهُ سَأَلَ أَبَا أَيُّوبَ الأَنْصَارِيَّ فَقَالَ يُصَلِّي أَحَدُنَا فِي مَنْزِلِهِ الصَّلاَةَ ثُمَّ يَأْتِي الْمَسْجِدَ وَتُقَامُ الصَّلاَةُ فَأُصَلِّي مَعَهُمْ فَأَجِدُ فِي نَفْسِي مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا . فَقَالَ أَبُو أَيُّوبَ سَأَلْنَا عَنْ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " ذَلِكَ لَهُ سَهْمُ جَمْعٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

৫৭৮. আহমদ ইবনে সালেহ্ ..... বনু আসাদ ইবনে খুযাইমা গোত্রের এক ব্যক্তি আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, আমাদের কেউ ঘরে একাকী নামায আদায়ের পর মসজিদে এসে দেখতে পায় যে, সেখানে জামাআত শুরু হয়েছে। এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তি জামাআতে শরীক হয়ে নামায আদায় করতে পারবে কিনা- এ ব্যাপারে আমি সন্দীহান। আবু আইয়ুব (রাযিঃ) বলেন, এ ব্যাপারে আমি নবী (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলেনঃ সে ঐ জামাআতে শরীক হলে সাওয়াব প্রাপ্ত হবে।

৬৩. জামাআতে নামায আদায়ের পর অন্যত্রে গিয়ে জামাআত পেলে তাতে শরীক হবে কি?

باب إِذَا صَلَّى ثُمَّ أَدْرَكَ جَمَاعَةً أَيُعِيدُ

৫৭৯

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، - يَعْنِي مَوْلَى مَيْمُونَةَ - قَالَ أَتَيْتُ ابْنَ عُمَرَ عَلَى الْبَلاَطِ وَهُمْ يُصَلُّونَ فَقُلْتُ أَلاَ تُصَلِّي مَعَهُمْ قَالَ قَدْ صَلَّيْتُ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ تُصَلُّوا صَلاَةً فِي يَوْمٍ مَرَّتَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৭৯. আবু কামিল .... সুলাইমান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে মদীনার নিকটবর্তী বিলাত নামক স্থানে আসি। আমি তাদেরকে নামাযে রত পাই। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কেন তাদের তাদের সাথে নামায আদায় করছেন না? তিনি বলেন, আমি ইতিপূর্বে জামাআতে নামায আদায় করেছি। আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা একই ফরয নামায একই দিনে দু’বার আদায় করো না (অর্থাৎ একই নামায ফরয হিসেবে দু’বার আদায় করা যাবে না, বরং পরবর্তী নামাযটি নফল হিসাবে আদায় করা যেতে পারে)।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৬৪. ইমামতির ফযিলত সম্পর্কে।

باب فِي جِمَاعِ الإِمَامَةِ وَفَضْلِهَا

৫৮০

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَرْمَلَةَ، عَنْ أَبِي عَلِيٍّ الْهَمْدَانِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ أَمَّ النَّاسَ فَأَصَابَ الْوَقْتَ فَلَهُ وَلَهُمْ وَمَنِ انْتَقَصَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعَلَيْهِ وَلاَ عَلَيْهِمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৫৮০. সুলাইমান ইবনে দাউদ ..... উকবা ইবনে আমের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি সঠিক সময়ে লোকদের নিয়ে জামাআতে নামায আদায় করছে, এজন্য সে (ইমাম) নিজে এবং মুক্তাদীগণ পরিপূর্ণ সাওয়াবের অধিকারী হবে। অপরপক্ষে যদি কোন সময় ইমাম সঠিক সময়ে নামায আদায় না করে তবে এজন্য সে দায়ী হবে কিন্তু মুক্তাদীগণ পরিপূর্ণ সাওয়াবের অধিকারী হবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬৫. ইমামতি করতে একে অপরের সাথে ঝগড়া করবে না।

باب فِي كَرَاهِيَةِ التَّدَافُعِ عَلَى الإِمَامَةِ

৫৮১

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبَّادٍ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، حَدَّثَتْنِي طَلْحَةُ أُمُّ غُرَابٍ، عَنْ عَقِيلَةَ، - امْرَأَةٌ مِنْ بَنِي فَزَارَةَ مَوْلاَةٌ لَهُمْ - عَنْ سَلاَمَةَ بِنْتِ الْحُرِّ، أُخْتِ خَرَشَةَ بْنِ الْحُرِّ الْفَزَارِيِّ قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ يَتَدَافَعَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ لاَ يَجِدُونَ إِمَامًا يُصَلِّي بِهِمْ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৫৮১. হারূন ইবনে আরাদ ..... সালামা বিনতেল হুর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের নিদর্শনাবলীর মধ্যে এও একটি যে, যখন মসজিদের মুসল্লীগণ সকলেই নামাযের জন্য ইমামতি করতে রাযী না হওয়ায় পরিস্থিতি এমন হবে যে, কাউকেও ইমামতি করার যোগ্য হিসেবে পাওয়া যাবে না (আখেরী যামানায় তা লোকদের অজ্ঞতার কারণে হবে)।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬৬. ইমামতির জন্য যোগ্য ব্যক্তি সম্পর্কে।

باب مَنْ أَحَقُّ بِالإِمَامَةِ

৫৮২

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ رَجَاءٍ، سَمِعْتُ أَوْسَ بْنَ ضَمْعَجٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْبَدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللَّهِ وَأَقْدَمُهُمْ قِرَاءَةً فَإِنْ كَانُوا فِي الْقِرَاءَةِ سَوَاءً فَلْيَؤُمَّهُمْ أَقْدَمُهُمْ هِجْرَةً فَإِنْ كَانُوا فِي الْهِجْرَةِ سَوَاءً فَلْيَؤُمَّهُمْ أَكْبَرُهُمْ سِنًّا وَلاَ يُؤَمُّ الرَّجُلُ فِي بَيْتِهِ وَلاَ فِي سُلْطَانِهِ وَلاَ يُجْلَسُ عَلَى تَكْرِمَتِهِ إِلاَّ بِإِذْنِهِ " . قَالَ شُعْبَةُ فَقُلْتُ لإِسْمَاعِيلَ مَا تَكْرِمَتُهُ قَالَ فِرَاشُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

৫৮২. আবুল ওয়ালীদ ...... আবু মাসউদ আল-বদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ উপস্থিত লোকদের মধ্যে আল্লাহর কিতাব (তার কিরাআত) সম্পর্কে সর্বাধিক অভিজ্ঞ ব্যক্তি তাদের ইমামতি করবে। যদি এ বিষয়ে সকলে সমান যোগ্যতার অধিকারী হয়, তবে যিনি প্রথম হিজরতকারী ব্যক্তি তিনি ইমাম হবেন। যদি তাতেও সকলে সমান হয়, তবে যিনি অধিক বয়স্ক হবেন তিনিই ইমামতি করবেন। কোন ব্যক্তি যেন অন্য কোন স্থানে অথবা অন্যের আধিপত্যের স্থানে ইমামতি না করে। কারো জন্য নির্ধারিত আসনে তার অনুমতি ব্যতিরেকে যেন আসন গ্রহণ না করে। অর্থাৎ ইমাম বা অন্য কারো জন্য নির্ধারিত বিছানায় যেন না বসে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৫৮৩

حَدَّثَنَا ابْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فِيهِ " وَلاَ يَؤُمُّ الرَّجُلُ الرَّجُلَ فِي سُلْطَانِهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَذَا قَالَ يَحْيَى الْقَطَّانُ عَنْ شُعْبَةَ " أَقْدَمُهُمْ قِرَاءَةً " .

বর্ণনাকারী: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৫৮৩. ইবনে মুআয ..... শোবা (রাহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তাঁর বর্ণনায় আরও আছেঃ অন্যের ইমামতির স্থানে অনুমতি ব্যতীত যেন ইমামতি না করে। ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, ইয়াহয়া-শোবা হতে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন যে, ইমামতির জন্য যোগ্যতম হল কুরআন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি।

৫৮৪

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَجَاءٍ، عَنْ أَوْسِ بْنِ ضَمْعَجٍ الْحَضْرَمِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ " فَإِنْ كَانُوا فِي الْقِرَاءَةِ سَوَاءً فَأَعْلَمُهُمْ بِالسُّنَّةِ فَإِنْ كَانُوا فِي السُّنَّةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ هِجْرَةً " . وَلَمْ يَقُلْ " فَأَقْدَمُهُمْ قِرَاءَةً " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: رَوَاهُ حَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: «وَلَا تَقْعُدْ عَلَى تَكْرِمَةِ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِهِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

৫৮৪. আল-হাসান ইবনে আলী ...... আবু মাসউদ (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি (নবী (ﷺ)) বলেনঃ যদি সকলে কিরাআতের মধ্যে সমান হয় তবে যে ব্যক্তি সুন্নাহ্ (হাদীস) সম্পর্কে বেশী অভিজ্ঞ সেই ইমামতি করবে, এতেও যদি সকলে সমান হয় তবে প্রথম হিজরতকারী ব্যক্তি ইমামতি করবে। এই হাদীসে “ফাআকদামুহুম কিরাআতান” শব্দের উল্লেখ নাই।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৫৮৫

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سَلِمَةَ، قَالَ كُنَّا بِحَاضِرٍ يَمُرُّ بِنَا النَّاسُ إِذَا أَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَكَانُوا إِذَا رَجَعُوا مَرُّوا بِنَا فَأَخْبَرُونَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ كَذَا وَكَذَا وَكُنْتُ غُلاَمًا حَافِظًا فَحَفِظْتُ مِنْ ذَلِكَ قُرْآنًا كَثِيرًا فَانْطَلَقَ أَبِي وَافِدًا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي نَفَرٍ مِنْ قَوْمِهِ فَعَلَّمَهُمُ الصَّلاَةَ فَقَالَ " يَؤُمُّكُمْ أَقْرَؤُكُمْ " . وَكُنْتُ أَقْرَأَهُمْ لِمَا كُنْتُ أَحْفَظُ فَقَدَّمُونِي فَكُنْتُ أَؤُمُّهُمْ وَعَلَىَّ بُرْدَةٌ لِي صَغِيرَةٌ صَفْرَاءُ فَكُنْتُ إِذَا سَجَدْتُ تَكَشَّفَتْ عَنِّي فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنَ النِّسَاءِ وَارُوا عَنَّا عَوْرَةَ قَارِئِكُمْ . فَاشْتَرَوْا لِي قَمِيصًا عُمَانِيًّا فَمَا فَرِحْتُ بِشَىْءٍ بَعْدَ الإِسْلاَمِ فَرَحِي بِهِ فَكُنْتُ أَؤُمُّهُمْ وَأَنَا ابْنُ سَبْعِ سِنِينَ أَوْ ثَمَانِ سِنِينَ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে সালামাহ (রাঃ)

৫৮৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল ...... আমর ইবনে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা লোকজনের সমবেত কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় এক প্রতিনিধি দল নবী (ﷺ)-এর নিকট আগমন করে। তাঁরা প্রত্যাবর্তনের সময় আমাদের পাশ দিয়ে গমনকালে বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এইরূপ বলেছেন। রাবী বলেন, এ সময় আমার বয়স কম ছিল এবং স্মরণশক্তি ছিল প্রখর। ফলে এ সময়ে আমি কুরআনের অনেকাংশ কন্ঠস্থ করে ফেলি।

রাবী বলেন, একদা আমার পিতা তাঁর গোত্রের প্রতিনিধি হিসেবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট যান। তখন তিনি তাদেরকে নামাযের নিয়ম-কানুন শিক্ষা দেন এবং এ কথাও বলেন যে, তোমাদের মধ্যে যার অধিক কুরআন মুখস্ত আছে- সে যেন ইমামতি করে। আমি অধিক কুরআন মুখস্থকারী ও বিশুদ্ধরূপে পাঠকারী হিসেবে তারা আমাকেই ইমামতির দায়িত্ব প্রদান করেন।

অতঃপর আমি তাদের ইমামতি করতে থাকি। এ সময় আমার গায়ে হলুদ বর্ণের একটি ছোট চাঁদর ছিল। নামাযের সময় যখন আমি সিজদায় যেতাম তখন তা খুলে যেত। মহিলাদের মধ্যে একজন বলেন, তোমরা তোমাদের ইমামের সতর ঢাকার ব্যবস্থা কর। অতঃপর তারা আমার জন্য একটি ইয়ামান দেশীয় জামা খরিদ করেন; যার ফলে ইসলাম গ্রহণের পর আমি এর চাইতে অধিক খুশী আর হই নাই। আমি এমন সময় হতে তাদের ইমামতি করতে আরম্ভ করি যখন আমার বয়স ছিল মাত্র ৭ বা ৮ বছর।*

* ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মতানুযায়ী ফরয নামাযের জন্য নাবালকের ইমামতি জায়েয নয়। এটা ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের ঘটনা, যখন শরীআতের হুকুম-আহকাম পরিপূর্ণভাবে নাযিল হয়নি। - (অনুবাদক)

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৫৮৬

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سَلِمَةَ، بِهَذَا الْخَبَرِ قَالَ فَكُنْتُ أَؤُمُّهُمْ فِي بُرْدَةٍ مُوصَلَةٍ فِيهَا فَتْقٌ فَكُنْتُ إِذَا سَجَدْتُ خَرَجَتِ اسْتِي .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে সালামাহ (রাঃ)

৫৮৬. আন-নুফায়লী ....... আমর ইবনে সালামা (রাযিঃ) হতে এই হাদীসটি বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি আমার সম্প্রদায়ের ইমামতি করতাম একটি চাঁদর পরিধাণ করে। যা ফাটা ও তালিযুক্ত ছিল। এমতাবস্থায় যখন আমি সিজদায় যেতাম তখন আমার পশ্চাৎদেশ অনাবৃত হয়ে যেত।

৫৮৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرِ بْنِ حَبِيبٍ الْجَرْمِيِّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ سَلِمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُمْ وَفَدُوا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أَرَادُوا أَنْ يَنْصَرِفُوا قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ يَؤُمُّنَا قَالَ " أَكْثَرُكُمْ جَمْعًا لِلْقُرْآنِ " . أَوْ " أَخْذًا لِلْقُرْآنِ " . قَالَ فَلَمْ يَكُنْ أَحَدٌ مِنَ الْقَوْمِ جَمَعَ مَا جَمَعْتُهُ - قَالَ - فَقَدَّمُونِي وَأَنَا غُلاَمٌ وَعَلَىَّ شَمْلَةٌ لِي فَمَا شَهِدْتُ مَجْمَعًا مِنْ جَرْمٍ إِلاَّ كُنْتُ إِمَامَهُمْ وَكُنْتُ أُصَلِّي عَلَى جَنَائِزِهِمْ إِلَى يَوْمِي هَذَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ مِسْعَرِ بْنِ حَبِيبٍ الْجَرْمِيِّ عَنْ عَمْرِو بْنِ سَلِمَةَ قَالَ لَمَّا وَفَدَ قَوْمِي إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَقُلْ عَنْ أَبِيهِ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে সালামাহ (রাঃ)

৫৮৭. কুতায়বা ..... আমর ইবনে সালামা (রাযিঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তাঁরা প্রতিনিধি হিসাবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হন। তাঁরা সেখান হতে প্রত্যাবর্তনের সময় বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের নামাযে কে ইমামতি করবে? তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কুরআন সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ বা অধিক জ্ঞানী- সে ইমামতি করবে।

রাবী বলেন, এ সময় আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে কুরআন সম্পর্কে আমিই অধিক অভিজ্ঞ ছিলাম। তাই তারা আমাকে ইমাম নিযুক্ত করেন, কিন্তু তখন আমার বয়স ছিল খুবই কম। তখন আমার পরনে একটি ছোট চাঁদর থাকত এবং বয়সের স্বল্পতা হেতু আমি তাদের সাথে উঠাবসা না করলেও আমি তাদের জামাআতে ইমামতি করতাম এবং জানাযার নামাযও পড়াতাম।
৫৮৮

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا أَنَسٌ يَعْنِي ابْنَ عِيَاضٍ، ح وَحَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ خَالِدٍ الْجُهَنِيُّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ لَمَّا قَدِمَ الْمُهَاجِرُونَ الأَوَّلُونَ نَزَلُوا الْعَصْبَةَ قَبْلَ مَقْدَمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ يَؤُمُّهُمْ سَالِمٌ مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ وَكَانَ أَكْثَرَهُمْ قُرْآنًا . زَادَ الْهَيْثَمُ وَفِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الأَسَدِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৮৮. আল-কানবী .... নাফে (রাহঃ) ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মুহাজিরদের প্রথম দলটি যখন কুবার নিকটবর্তী আসবাহ নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর আগেই অবতরণ করেন-তখন তাঁদের ইমামতি করতেন সালেম (রাযিঃ), যিনি ছিলেন আবু হুযাইফা (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম। তাদের মধ্যে তিনিই ছিলেন কুরআন সম্পর্কে সমধিক অভিজ্ঞ।

রাবী হাইছামের বর্ণনায় আরও আছেঃ ঐ দলে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) এবং আবু সালামা ইবনে আব্দুল আসাদ প্রমুখ বিশিষ্ট সাহাবীরাও ছিলেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ

৫৮৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا مَسْلَمَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ، - الْمَعْنَى وَاحِدٌ - عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ أَوْ لِصَاحِبٍ لَهُ " إِذَا حَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَأَذِّنَا ثُمَّ أَقِيمَا ثُمَّ لْيَؤُمَّكُمَا أَكْبَرُكُمَا " . وَفِي حَدِيثِ مَسْلَمَةَ قَالَ وَكُنَّا يَوْمَئِذٍ مُتَقَارِبَيْنِ فِي الْعِلْمِ . وَقَالَ فِي حَدِيثِ إِسْمَاعِيلَ قَالَ خَالِدٌ قُلْتُ لأَبِي قِلاَبَةَ فَأَيْنَ الْقُرْآنُ قَالَ إِنَّهُمَا كَانَا مُتَقَارِبَيْنِ .

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে হুওয়াইরিস (রাঃ)

৫৮৯. মুসাদ্দাদ ..... মালিক ইবনে হুয়ায়রিছ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী (ﷺ) তাকে অথবা তাঁর সাথীকে বলেনঃ নামাযের সময় উপস্থিত হলে আযান ও ইকামতের পর তোমাদের মধ্যেকার বয়স্ক ব্যক্তি নামাযে ইমামতি করবে। রাবী মাসলামার হাদীসে উল্লেখ আছে যে, ঐ সময় আমরা সকলেই প্রায় সমান ইলমের অধিকারী ছিলাম।

ইসমাঈল হতে বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ আছে যে, রাবী খালিদ বলেন, তখন আমি আবু কিলাবাকে বলি, ‘কুরআনে অধিক অভিজ্ঞ’ এ শব্দটি কেন উল্লেখ করা হয় নাই? তিনি বলেন, মালিক ও তাঁর সাথী উভয়ই কুরআনে সম-জ্ঞানের অধিকারী থাকায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরআনের কথা এখানে উল্লেখ করেন নাই (বরং বয়সের কথা বলেছেন)।
৫৯০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عِيسَى الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِيُؤَذِّنْ لَكُمْ خِيَارُكُمْ وَلْيَؤُمَّكُمْ قُرَّاؤُكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৯০. উছমান ইবনে আবি শাঈবা .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেঃ তোমাদের মধ্যেকার উত্তম ব্যক্তি যেন আযান দেয় এবং বিশুদ্ধরূপে কুরআন পাঠকারী যেন তোমাদের ইমামতি করে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬৭. মহিলাদের ইমামতি করা সম্পর্কে।

باب إِمَامَةِ النِّسَاءِ

৫৯১

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جُمَيْعٍ، قَالَ حَدَّثَتْنِي جَدَّتِي، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ خَلاَّدٍ الأَنْصَارِيُّ، عَنْ أُمِّ وَرَقَةَ بِنْتِ نَوْفَلٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا غَزَا بَدْرًا قَالَتْ قُلْتُ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ائْذَنْ لِي فِي الْغَزْوِ مَعَكَ أُمَرِّضُ مَرْضَاكُمْ لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَرْزُقَنِي شَهَادَةً . قَالَ " قِرِّي فِي بَيْتِكِ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَرْزُقُكِ الشَّهَادَةَ " . قَالَ فَكَانَتْ تُسَمَّى الشَّهِيدَةَ . قَالَ وَكَانَتْ قَدْ قَرَأَتِ الْقُرْآنَ فَاسْتَأْذَنَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَنْ تَتَّخِذَ فِي دَارِهَا مُؤَذِّنًا فَأَذِنَ لَهَا قَالَ وَكَانَتْ دَبَّرَتْ غُلاَمًا لَهَا وَجَارِيَةً فَقَامَا إِلَيْهَا بِاللَّيْلِ فَغَمَّاهَا بِقَطِيفَةٍ لَهَا حَتَّى مَاتَتْ وَذَهَبَا فَأَصْبَحَ عُمَرُ فَقَامَ فِي النَّاسِ فَقَالَ مَنْ كَانَ عِنْدَهُ مِنْ هَذَيْنِ عِلْمٌ أَوْ مَنْ رَآهُمَا فَلْيَجِئْ بِهِمَا فَأَمَرَ بِهِمَا فَصُلِبَا فَكَانَا أَوَّلَ مَصْلُوبٍ بِالْمَدِينَةِ .

বর্ণনাকারী: উম্মে ওয়ারাকা (রাঃ)

৫৯১. উছমান ইবনে আবি শাঈবা .... উম্মে ওয়ারাকা বিনতে নাওফাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদরের যুদ্ধের সময় আমি নবী (ﷺ) (ﷺ)কে বলি- ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাকে এই যুদ্ধে অংশ গ্রহণের অনুমতি দান করুন, যাতে আমি যুদ্ধাহত সেনাদের সেবা শুশ্রূষা করার সময় শাহাদাত বরণ করতে পারি। জবাবে তিনি বলেনঃ তুমি স্বগৃহে অবস্থান কর। আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন তোমাকে শাহাদাত নসীব করবেন।

রাবী বলেন, এজন্য তাকে শহীদ আখ্যায়িত করা হত। রাবী আরও বলেন, তিনি কুরআন সম্পর্কে বিশেষ অভিজ্ঞ ছিলেন। একদা তিনি নবী (ﷺ)-এর নিকট আরয করেন যে, তার ঘরে আযানের জন্য যেন একজন মুয়াযযিন নিযুক্ত করা হয় (মহিলাদের জামাআত কায়েমের উদ্দেশ্যে)।

(তার শাহাদাত বরণের ঘটনা এই যে) তিনি তার এক দাস ও এক দাসীকে এই চুক্তিতে আযাদ করেন যে, আমার মৃত্যুর পর তোমরা আযাদ হবে। একদা রাতে তারা (দাস-দাসী) তাদেরকে চাঁদর দিয়ে আবৃত করে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে এবং পালিয়ে চলে যায়। পরদিন সকালে উমর (রাযিঃ) তাকে মৃত অবস্থায় দেখে সকলের নিকট বলেন, তার নিকট যে দাস-দাসী থাকত তাদের সম্পর্কে তোমাদের যে ব্যক্তি অবগত আছে সে যেন তাদেরকে আমার নিকট হাযির করে। (অতঃপর উপস্থিত করা হলে তারা তাকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করে) তখন তাদেরকে শূলিবিদ্ধ করে হত্যা করা হয় এবং মদীনাতে এটাই শূলিবিদ্ধ করে মৃত্যুদন্ডের সর্বপ্রথম ঘটনা।
৫৯২

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ حَمَّادٍ الْحَضْرَمِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ جُمَيْعٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ خَلاَّدٍ، عَنْ أُمِّ وَرَقَةَ بِنْتِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، بِهَذَا الْحَدِيثِ وَالأَوَّلُ أَتَمُّ قَالَ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَزُورُهَا فِي بَيْتِهَا وَجَعَلَ لَهَا مُؤَذِّنًا يُؤَذِّنُ لَهَا وَأَمَرَهَا أَنْ تَؤُمَّ أَهْلَ دَارِهَا . قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فَأَنَا رَأَيْتُ مُؤَذِّنَهَا شَيْخًا كَبِيرًا .

বর্ণনাকারী: উম্মে ওয়ারাকা (রাঃ)

৫৯২. আল-হাসান ইবনে হাম্মাদ আল-হাদরামী .... উম্মে ওয়ারাকা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কখনও কখনও তাকে দেখার জন্য তার বাড়ীতে যেতেন। তিনি তার জন্য একজন মুয়াযযিনও নিযুক্ত করেন। সে তাঁর বাড়িতে আযান দিত এবং নবী (ﷺ) তাকে স্বগৃহে মহিলাদের নামাযে ইমামতি করার নির্দেশ দেন। রাবী আব্দুর রহমান বলেন, আমি তার জন্য বয়ঃবৃদ্ধ মুয়াযযিনকে দেখেছি।

৬৮. মুক্তাদীদের নারাযিতে ইমামতি করা নিষেধ।

باب الرَّجُلِ يَؤُمُّ الْقَوْمَ وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ

৫৯৩

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ غَانِمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ عَبْدٍ الْمَعَافِرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " ثَلاَثَةٌ لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ مِنْهُمْ صَلاَةً مَنْ تَقَدَّمَ قَوْمًا وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ وَرَجُلٌ أَتَى الصَّلاَةَ دِبَارًا " . وَالدِّبَارُ أَنْ يَأْتِيَهَا بَعْدَ أَنْ تَفُوتَهُ " وَرَجُلٌ اعْتَبَدَ مُحَرَّرَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৫৯৩. আল-কানবী ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ আল্লাহ্ তাআলা তিন ব্যক্তির নামায কবুল করেন না। যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের ইমামতি করে, অথচ মুক্তাদীরা তার উপর অসন্তুষ্ট। যে ব্যক্তি নামাযের সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নামায আদায় করে। যে ব্যক্তি স্বাধীন মহিলা অথবা পুরুষ লোককে ক্রীতদাসী বা দাস বানায়।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬৯. সৎ এবং অসৎ লোকের ইমামতি সম্পর্কে।

باب إِمَامَةِ الْبَرِّ وَالْفَاجِرِ

৫৯৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الصَّلاَةُ الْمَكْتُوبَةُ وَاجِبَةٌ خَلْفَ كُلِّ مُسْلِمٍ بَرًّا كَانَ أَوْ فَاجِرًا وَإِنْ عَمِلَ الْكَبَائِرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৯৪. আহমদ ইবনে সালেহ্ ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যে কোন মুসলমান ইমামের পেছনে (জামাআতে) ফরয নামাযসমূহ আদায় করা বাধ্যতামূলক, চাই সে (ইমাম) সৎ হোক অথবা অসৎ; এমনকি সে কবীরা গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়ে থাকলেও।

৭০. অন্ধ ব্যক্তির ইমামতি করা সম্পর্কে।

باب إِمَامَةِ الأَعْمَى

৫৯৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعَنْبَرِيُّ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ الْقَطَّانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اسْتَخْلَفَ ابْنَ أُمِّ مَكْتُومٍ يَؤُمُّ النَّاسَ وَهُوَ أَعْمَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৯৫. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) জিহাদে গমনকালে ইবনে উম্মে মাকতুম (রাযিঃ)-কে নিজের স্থালাভিষিক্ত নিয়োগ করেন। তিনি লোকদের ইমামতি করতেন। অথচ তিনি ছিলেন জন্মান্ধ।

৩৭৩. আশ্রয় প্রার্থনা করা।

باب فِي الاِسْتِعَاذَةِ

৫৯৬

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، عَنْ بُدَيْلٍ، حَدَّثَنِي أَبُو عَطِيَّةَ، مَوْلًى مِنَّا قَالَ كَانَ مَالِكُ بْنُ حُوَيْرِثٍ يَأْتِينَا إِلَى مُصَلاَّنَا هَذَا فَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَقُلْنَا لَهُ تَقَدَّمْ فَصَلِّهْ . فَقَالَ لَنَا قَدِّمُوا رَجُلاً مِنْكُمْ يُصَلِّي بِكُمْ وَسَأُحَدِّثُكُمْ لِمَ لاَ أُصَلِّي بِكُمْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ زَارَ قَوْمًا فَلاَ يَؤُمَّهُمْ وَلْيَؤُمَّهُمْ رَجُلٌ مِنْهُمْ " .

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে হুওয়াইরিস (রাঃ)

৫৯৬. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম .... বুদায়েল থেকে আবু আতিয়্যার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মালিক ইবনে হুয়ায়রিছ (রাযিঃ) আমাদের মসজিদে আগমন করেন। তখন নামাযের ইকামত দেওয়া হলে আমরা তাকে ইমামতি করার জন্য অনুরোধ করি। তিনি আমাদের বলেন, তোমাদের মধ্য হতে এক জনকে ইমামতি করতে বল। আমি ইমামতি না করার কারণ তোমাদের নিকট বর্ণনা করব। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের নিকট তাদের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে গমন করবে সে যেন তাদের ইমামতি না করে, বরং তাদের মধ্য হতে কেউ যেন তাদের ইমামতি করে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৭২. ইমামের মুক্তাদীর তুলনায় উঁচু স্থানে দণ্ডায়মান হয়ে নামায আদায় করা সম্পর্কে।

باب الإِمَامِ يَقُومُ مَكَانًا أَرْفَعَ مِنْ مَكَانِ الْقَوْمِ

৫৯৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ الْفُرَاتِ أَبُو مَسْعُودٍ الرَّازِيُّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْلَى، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هَمَّامٍ، أَنَّ حُذَيْفَةَ أَمَّ النَّاسَ، بِالْمَدَائِنِ عَلَى دُكَّانٍ فَأَخَذَ أَبُو مَسْعُودٍ بِقَمِيصِهِ فَجَبَذَهُ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلاَتِهِ قَالَ أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّهُمْ كَانُوا يُنْهَوْنَ عَنْ ذَلِكَ قَالَ بَلَى قَدْ ذَكَرْتُ حِينَ مَدَدْتَنِي .

বর্ণনাকারী: হাম্মাম ইবনু হারিস (রহঃ)

৫৯৭. আহমদ ইবনে সিনান ..... হাম্মাম হতে বর্ণিত। হুযাইফা (রাযিঃ) মাদায়েন নামক স্থানে একটি দোকানের উপর দাড়িয়ে লোকদের ইমামতি করেন। তখন আবু মাসউদ (রাযিঃ) তিনি নামায শেষে বলেন, তুমি কি একথা জান না যে, লোকদেরকে উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে ইমামতি করতে নিষেধ করা হয়েছে? জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ আপনি যখন আমার জামা ধরে টান দেন তখন তা আমার স্মরণ হয়।

৫৯৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو خَالِدٍ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ الأَنْصَارِيِّ، حَدَّثَنِي رَجُلٌ، أَنَّهُ كَانَ مَعَ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ بِالْمَدَائِنِ فَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَتَقَدَّمَ عَمَّارٌ وَقَامَ عَلَى دُكَّانٍ يُصَلِّي وَالنَّاسُ أَسْفَلَ مِنْهُ فَتَقَدَّمَ حُذَيْفَةُ فَأَخَذَ عَلَى يَدَيْهِ فَاتَّبَعَهُ عَمَّارٌ حَتَّى أَنْزَلَهُ حُذَيْفَةُ فَلَمَّا فَرَغَ عَمَّارٌ مِنْ صَلاَتِهِ قَالَ لَهُ حُذَيْفَةُ أَلَمْ تَسْمَعْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا أَمَّ الرَّجُلُ الْقَوْمَ فَلاَ يَقُمْ فِي مَكَانٍ أَرْفَعَ مِنْ مَقَامِهِمْ " . أَوْ نَحْوَ ذَلِكَ قَالَ عَمَّارٌ لِذَلِكَ اتَّبَعْتُكَ حِينَ أَخَذْتَ عَلَى يَدَىَّ .

বর্ণনাকারী: আদী ইবনে ছাবিত (রহঃ)

৫৯৮. আহমদ ইবনে ইবরাহীম ...... আদী ইবনে ছাবেত (রাহঃ) জনৈক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, একদা আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাযিঃ) এর সাথে মাদায়েনে ছিলেন। নামাযের জন্য ইকামত দেয়া হলে আম্মার (রাযিঃ) একটি দোকানের উপর (উচু স্থান) দাঁড়িয়ে নামাযে ইমামতি করতে যান, মুক্তাদীরা নিচু স্থানে দণ্ডায়মান ছিলেন। হুযাইফা (রাযিঃ) অগ্রসর হয়ে আম্মার (রাযিঃ) এর হাত ধরে তাকে নীচে নামিয়ে আনেন। আম্মার (রাযিঃ) নামায শেষ করলে হুযাইফা (রাযিঃ) তাকে বলেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেননিঃ যখন কোন ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের ইমামতি করবে, সে যেন সমাগত মুসল্লী হতে কোন উচু স্থানে দণ্ডায়মান না হয়? তখন আম্মার (রাযিঃ) বলেন, ঐ সময় হাদীসটি আমার স্মরণে আসায় আমি আপনার হস্ত ধারণের অনুসরণ করে নীচে নেমে আসি।

৭৩. কোন ব্যক্তির একবার নামায আদায়ের পর ঐ নামাযে পুনরায় তার ইমামতি সম্পর্কে।

باب إِمَامَةِ مَنْ يُصَلِّي بِقَوْمٍ وَقَدْ صَلَّى تِلْكَ الصَّلاَةَ

৫৯৯

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مِقْسَمٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، كَانَ يُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ ثُمَّ يَأْتِي قَوْمَهُ فَيُصَلِّي بِهِمْ تِلْكَ الصَّلاَةَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৫৯৯. উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর ..... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে এশার নামায আদায়ের পর স্বীয় সম্প্রদায়ে ফিরে গিয়ে পুনরায় তাদের ঐ এশার নামাযে ইমামতি করতেন।

৬০০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ إِنَّ مُعَاذًا كَانَ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يَرْجِعُ فَيَؤُمُّ قَوْمَهُ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬০০. মুসাদ্দাদ .... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয (রাযিঃ) নবী (ﷺ)-এর সাথে (এশার নামায) আদায় করে স্বীয় গোত্রে ফিরে গিয়ে পুনরায় ঐ নামাযে নিজ গোত্রের লোকদের ইমামতি করতেন।*

* ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) ও ইমাম মালিক (রাহঃ)-এর মতে, একবার নামায আদায়ের পর পুনরায় ঐ নামাযের ইমামতি করা জায়েয নয়। - (অনুবাদক)

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৭৪. বসে ইমামতি করা সম্পর্কে।

باب الإِمَامِ يُصَلِّي مِنْ قُعُودٍ

৬০১

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكِبَ فَرَسًا فَصُرِعَ عَنْهُ فَجُحِشَ شِقُّهُ الأَيْمَنُ فَصَلَّى صَلاَةً مِنَ الصَّلَوَاتِ وَهُوَ قَاعِدٌ وَصَلَّيْنَا وَرَاءَهُ قُعُودًا فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا أَجْمَعُونَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬০১. আল-কানবী ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘোড়ায় অরোহণ করেন। তিনি তার পিঠ থেকে পড়ে যাওয়ায় তার দেহের ডান পার্শ্বে ব্যথা পান। এমতাবস্থায় বসে নামাযে ইমামতি করেন এবং আমরাও তার পিছনে বসে নামায আদায় করি। নামায শেষে নবী (ﷺ) বলেন ইমামকে এজন্যই করা হয়েছে যে, তার অনুসরণ করা হয়। অতএব ইমাম যখন দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবে তখন তোমরাও দণ্ডায়মান হবে। অতঃপর ইমাম যখন রুকু করবে তখন তোমরাও রুকু করবে এবং ইমাম যখন মস্তক উত্তোলন করবে তোমরাও মস্তক উঠাবে। অতঃপর ইমাম যখন “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলবে, তখন তোমরা বলবে, রবানা ওয়া লাকাল হামদ।” ইমাম যখন বসে নামায আদায় করবে, তখন তোমরাও বসে নামায আদায় করবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৬০২

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، وَوَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ رَكِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَسًا بِالْمَدِينَةِ فَصَرَعَهُ عَلَى جِذْمِ نَخْلَةٍ فَانْفَكَّتْ قَدَمُهُ فَأَتَيْنَاهُ نَعُودُهُ فَوَجَدْنَاهُ فِي مَشْرَبَةٍ لِعَائِشَةَ يُسَبِّحُ جَالِسًا قَالَ فَقُمْنَا خَلْفَهُ فَسَكَتَ عَنَّا ثُمَّ أَتَيْنَاهُ مَرَّةً أُخْرَى نَعُودُهُ فَصَلَّى الْمَكْتُوبَةَ جَالِسًا فَقُمْنَا خَلْفَهُ فَأَشَارَ إِلَيْنَا فَقَعَدْنَا . قَالَ فَلَمَّا قَضَى الصَّلاَةَ قَالَ " إِذَا صَلَّى الإِمَامُ جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا وَإِذَا صَلَّى الإِمَامُ قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا وَلاَ تَفْعَلُوا كَمَا يَفْعَلُ أَهْلُ فَارِسَ بِعُظَمَائِهَا " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬০২. উছমান ইবনে আবি শাঈবা .... জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মদীনাতে অশ্ব আরোহণের পর তার পিঠ হতে খেজুর কাঠের উপর পড়ে গিয়ে তিনি পায়ে আঘাত পান। অতঃপর আমরা তাদেরকে দেখতে এসে আয়িশা (রাযিঃ) এর ঘরে তাসবীহ পাঠরত অবস্থায় পাই। রাবী বলেন, আমরা তার পেছনে দাঁড়াই, কিন্তু তাতে তিনি বাধা দেননি। অতঃপর আমরা পুনরায় তাদেরকে দেখতে এসে তাদেরকে ফরয নামায বসা অবস্থায় আদায় করতে দেখি। আমরা তার পেছনে দাঁড়ালে তিনি আমাদেরকে বসার জন্য ইশারা করায় আমরা বসে যাই। অতঃপর তিনি নামায শেষে বলেন, যখন ইমাম বসে নামায আদায় করবে-তখন তোমরাও বসবে এবং ইমাম যখন দাঁড়িযে নামায আদায় করবে তখন তোমরাও দাঁড়াবে এবং পারস্যের আধিবাসীরা তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সম্মুখে যেমন দাঁড়িয়ে থাকে তোমরা তদ্রূপ করবে না।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬০৩

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - الْمَعْنَى - عَنْ وُهَيْبٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَلاَ تُكَبِّرُوا حَتَّى يُكَبِّرَ وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَلاَ تَرْكَعُوا حَتَّى يَرْكَعَ وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ " . قَالَ مُسْلِمٌ " وَلَكَ الْحَمْدُ " . " وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا وَلاَ تَسْجُدُوا حَتَّى يَسْجُدَ وَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا وَإِذَا صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا أَجْمَعُونَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ " اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ " . أَفْهَمَنِي بَعْضُ أَصْحَابِنَا عَنْ سُلَيْمَانَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬০৩. সুলাইমান ইবনে হারব .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ ইমাম এজন্যই নিয়োজিত করা হয় যে, অন্যরা তার অনুসরণ করবে। যখন ইমাম তাকবীর বলে, তখন তেমরাও তাকবীর বলবে। যতক্ষণ সে তাকবীর না বলবে ততক্ষণ তোমরাও বলবে না। অতঃপর ইমাম যখন রুকু করে, তখন তোমরাও রুকূ করবে এবং সে রুকূতে যাওয়ার পূর্বে তোমরা রুকূতে যাবে না। অতঃপর ইমাম যখন সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলবে তখন তোমরা “আল্লাহুম্মা রবানা লাকাল হামদ” বলবে।

মুসলিম ইবনে ইবরাহীম বলেন, “ওয়ালাকাল হামদ” বলবে। যখন ইমাম সিজদা করবে তখন তোমরা সিজদা করবে এবং তিনি সিজদায় যাওয়ার পূর্বে তোমরা সিজদায় যেও না। আর ইমাম যখন দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবে তখন তোমরাও ঐরূপ করবে এবং যখন ইমাম বসে নামায আদায় করবে তখন তোমরাও সকলে বসে নামায পড়বে।*

* ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) ও ইমাম শাফিঈ (রাহঃ)-এর মতে ইমাম কোন কারণ বশতঃ বসে নামায আদায় করলেও মুকতাদীরা দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবে। অন্যান্য হাদীসের বর্ণনা থেকে তা প্রমাণিত। - (অনুবাদক)
৬০৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ آدَمَ الْمَصِّيصِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ " . بِهَذَا الْخَبَرِ زَادَ " وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذِهِ الزِّيَادَةُ " وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا " . لَيْسَتْ بِمَحْفُوظَةٍ الْوَهَمُ عِنْدَنَا مِنْ أَبِي خَالِدٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬০৪. মুহাম্মাদ ইবনে আদম ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ ইমাম এ জন্য নিযুক্ত করা হয় যে, অন্যেরা তার অনুসরণ করবে। অতঃপর রাবী পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছন। তবে এটুকু অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, যখন ইমাম কিরাআত পাঠ করবে তখন তোমরা চুপ থাকবে”।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬০৫

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِهِ وَهُوَ جَالِسٌ فَصَلَّى وَرَاءَهُ قَوْمٌ قِيَامًا فَأَشَارَ إِلَيْهِمْ أَنِ اجْلِسُوا فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬০৫. আল-কানবী ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার ঘরে বসে নামায আদায় করার সময় অন্যেরা তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছিল। অতঃপর তিনি তাদেরকে ইশারায় বসার নির্দেশ দেন। নামায শেষে তিনি বলেনঃ ইমাম এজন্যই নিযুক্ত করা হয় যে, অন্যেরা তার অনুসরণ করবে। যখন ইমাম রুকূ করবে তখন তোমরাও রুকূ করবে এবং ইমাম যখন মাথা উত্তোলন করবে তখন তোমরাও মাথা উঠাবে। ইমাম যখন বসে নামায আদায় করবে, তখন তোমরাও বসে নামায পড়বে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৬০৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَيَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ، - الْمَعْنَى - أَنَّ اللَّيْثَ، حَدَّثَهُمْ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ اشْتَكَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّيْنَا وَرَاءَهُ وَهُوَ قَاعِدٌ وَأَبُو بَكْرٍ يُكَبِّرُ لِيُسْمِعَ النَّاسَ تَكْبِيرَهُ ثُمَّ سَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬০৬. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ..... জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) অসুস্থ অবস্থায় বসে নামায পড়ার সময় আমরা তাঁর পিছনে নামায আদায় করি আর আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) মুক্তাদীদের শুনিয়ে উচ্চস্বরে তাকবীর বলেন ...অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬০৭

حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا زَيْدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْحُبَابِ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي حُصَيْنٌ، مِنْ وَلَدِ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ عَنْ أُسَيْدِ بْنِ حُضَيْرٍ، أَنَّهُ كَانَ يَؤُمُّهُمْ - قَالَ - فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعُودُهُ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ إِمَامَنَا مَرِيضٌ . فَقَالَ " إِذَا صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هذا الْحَدِيثُ لَيْسَ بِمُتَّصِلٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত উসায়দ ইবনে হুযায়র রাযি.

৬০৭. আব্দা ইবনে আব্দুল্লাহ্ ...... উসায়েদ ইবনে হুদায়ের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি লোকদের নামাযে ইমামতি করতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে (অসুস্থ হলে দেখতে আসেন) তখন লোকেরা তাকে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমাদের ইমাম অসুস্থ। তখন তিনি বলেনঃ যখন ইমাম বসে নামায পড়বে তখন তোমরাও বসে নামায পড়বে।

৭৪. দুই ব্যক্তি একত্রে নামায আদায়ের সময়- কিরূপে দাঁড়াবে?

باب الرَّجُلَيْنِ يَؤُمُّ أَحَدُهُمَا صَاحِبَهُ كَيْفَ يَقُومَانِ

৬০৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَى أُمِّ حَرَامٍ فَأَتَوْهُ بِسَمْنٍ وَتَمْرٍ فَقَالَ " رُدُّوا هَذَا فِي وِعَائِهِ وَهَذَا فِي سِقَائِهِ فَإِنِّي صَائِمٌ " . ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى بِنَا رَكْعَتَيْنِ تَطَوُّعًا فَقَامَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ وَأُمُّ حَرَامٍ خَلْفَنَا . قَالَ ثَابِتٌ وَلاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ قَالَ أَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ عَلَى بِسَاطٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬০৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল ...... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উম্মে হারাম (রাযিঃ) এর নিকট আগমন করেন। তখন তারা তাঁর সম্মুখে খাওয়ার জন্য ঘি ও খেজুর হাযির করেন। নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা ঘি ও খেজুর স্ব-স্ব পাত্রে রাখ, কেননা আমি রোযাদার। অতঃপর তিনি আমাদেরকে নিয়ে দুই রাকআত নফল, নামায আদায় করেন। তখন উম্মে সুলায়ম (রাযিঃ) ও উম্মে হারাম (রাযিঃ) আমাদের পেছনে দাঁড়ান। রাবী ছাবেত বলেন, যথা সম্ভব আমার মনে পড়ে তিনি (আনাস) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর ডান পাশে একই বিছানায় আমাকে দাঁড় করান।

৬০৯

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُخْتَارِ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَنَسٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَّهُ وَامْرَأَةً مِنْهُمْ فَجَعَلَهُ عَنْ يَمِينِهِ وَالْمَرْأَةَ خَلْفَ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬০৯. হাফস ইবনে উমর .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ও একজন মহিলার ইমামতি করেন। তিনি তাকে তাঁর পাশে এবং ঐ মহিলাকে আনাসের পেছনে দাঁড় করান।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬১০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بِتُّ فِي بَيْتِ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ اللَّيْلِ فَأَطْلَقَ الْقِرْبَةَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ أَوْكَأَ الْقِرْبَةَ ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ فَقُمْتُ فَتَوَضَّأْتُ كَمَا تَوَضَّأَ ثُمَّ جِئْتُ فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَأَخَذَنِي بِيَمِينِهِ فَأَدَارَنِي مِنْ وَرَائِهِ فَأَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ فَصَلَّيْتُ مَعَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬১০. মুসাদ্দাদ .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা ময়মুনা (রাযিঃ) এর ঘরে রাত যাপন করি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুম থেকে জাগরিত হয়ে পানির মশক খুলে উযু করেন। অতঃপর তিনি মুশকের মুখ বন্ধ করে নামাযে রত হন। তখন আমি উঠে তাঁর ন্যায় উযু করে তাঁর বাম পাশে নামাযের জন্য দাঁড়াই। তিনি আমার ডান হাত ধরে তাঁর পিছন দিক দিয়ে নিয়ে আমাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করান। এ অবস্থায় আমি তাঁর সাথে নামায আদায় করি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬১১

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي هَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ فَأَخَذَ بِرَأْسِي أَوْ بِذُؤَابَتِي فَأَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬১১. আমর ইবনে আওন ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে এই সনদেও উপরোক্ত হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমার মাথার উপরিভাগের বা সম্মুখের চুল ধরে আমাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করান।

৭৫. যখন মুক্তাদীর সংখ্যা তিনজন হবে তখন তারা কিরূপে দাঁড়াবে?

باب إِذَا كَانُوا ثَلاَثَةً كَيْفَ يَقُومُونَ

৬১২

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ جَدَّتَهُ، مُلَيْكَةَ دَعَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِطَعَامٍ صَنَعَتْهُ فَأَكَلَ مِنْهُ ثُمَّ قَالَ " قُومُوا فَلأُصَلِّيَ لَكُمْ " . قَالَ أَنَسٌ فَقُمْتُ إِلَى حَصِيرٍ لَنَا قَدِ اسْوَدَّ مِنْ طُولِ مَا لُبِسَ فَنَضَحْتُهُ بِمَاءٍ فَقَامَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَصَفَفْتُ أَنَا وَالْيَتِيمُ وَرَاءَهُ وَالْعَجُوزُ مِنْ وَرَائِنَا فَصَلَّى لَنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ انْصَرَفَ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬১২. আল্-কানবী ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তাঁর দাদী মুলায়কা (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর জন্য খাদ্য খাওয়ার জন্য দাওয়াত করেন। তিনি তা খাওয়ার পর বলেনঃ তোমরা এসো! আমি তোমাদের নিয়ে নামায পড়ব। আনাস (রাযিঃ) বলেন, তখন আমি আমাদের অনেক দিনের ব্যবহারে কালে দাগযুক্ত একটি চাটাইয়ের দিকে উঠে যাই এবং পানি দিয়ে তা পরিষ্কার করি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উপর দাঁড়ান। আমি ও আমার ছোট ভাই তাঁর পেছনে দণ্ডায়মান হই এবং বৃদ্ধা মহিলা (মুলায়কা) আমাদের পিছনে দাঁড়ান। তিনি আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে দুই রাকআত নামায আদায়ের পর প্রস্থান করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬১৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ هَارُونَ بْنِ عَنْتَرَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ اسْتَأْذَنَ عَلْقَمَةُ وَالأَسْوَدُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ وَقَدْ كُنَّا أَطَلْنَا الْقُعُودَ عَلَى بَابِهِ فَخَرَجَتِ الْجَارِيَةُ فَاسْتَأْذَنَتْ لَهُمَا فَأَذِنَ لَهُمَا ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى بَيْنِي وَبَيْنَهُ ثُمَّ قَالَ هَكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَلَ .

বর্ণনাকারী: আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ নাখঈ (রহঃ)

৬১৩. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আব্দুর রহমান ইবনুল-আসওয়াদ (রাযিঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলকামা ও আসওয়াদ (রাহঃ) আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর খেদমতে উপস্থিতির জন্য দরখাস্ত করেন। তাঁর খেদমতে প্রবেশর জন্য আমরা অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছিলাম। এমতাবস্থায় জনৈক দাসী ঘর হতে বের হয়ে তাদেরকে দেখে (পুনরায় ঘরে প্রবেশ করত) তাদের জন্য অনুমতি চায়। তিনি উভয়কে তেতরে প্রবেশের অনুমতি দেন। অতঃপর তিনি (ইবনে মাসউদ) আমার ও আলকামার মাঝখানে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে এরূপ করতে দেখেছি।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৭৬. সালাম ফিরানর পর ইমামের (মুক্তাদিদের দিকে) ঘুরে বসা।

باب الإِمَامِ يَنْحَرِفُ بَعْدَ التَّسْلِيمِ

৬১৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي يَعْلَى بْنُ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ إِذَا انْصَرَفَ انْحَرَفَ .

বর্ণনাকারী: ইয়াযীদ ইবনে আসওয়াদ (রাঃ)

৬১৪. মুসাদ্দাদ ..... জাবের ইবনে ইয়াযীদ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর পিছনে নামায আদায় করতাম। তিনি নামায শেষে মুসল্লীদের দিক ফিরে বসতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৬১৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ الْبَرَاءِ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحْبَبْنَا أَنْ نَكُونَ عَنْ يَمِينِهِ فَيُقْبِلُ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৬১৫. মুহাম্মাদ ইবনে রাফে ...... বারাআ ইবনে আযেব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে নামায আদায় করে তাঁর ডানদিকে থাকতে পছন্দ করতাম। তিনি নামাযান্তে আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন।*

*নামায শেষে সালামের পর ইমামের ডান অথবা বাম দিকে মুক্তাদীদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসা সুন্নত। এটা যে নামাযের ফরযের পর সুন্নত নাই যথা ফজর ও আসর নামাযে প্রযোজ্য। -(অনুবাদক)

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৭৭. ইমামের স্বীয় স্থানে দাঁড়িয়ে নফল নামায পড়া।

باب الإِمَامِ يَتَطَوَّعُ فِي مَكَانِهِ

৬১৬

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنَا عَطَاءٌ الْخُرَاسَانِيُّ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يُصَلِّي الإِمَامُ فِي الْمَوْضِعِ الَّذِي صَلَّى فِيهِ حَتَّى يَتَحَوَّلَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ عَطَاءٌ الْخُرَاسَانِيُّ لَمْ يُدْرِكِ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

৬১৬. আবু তাওবা .... মুগীরা ইবনে শোবা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ ইমাম যে স্থানে দাঁড়িয়ে ফরয নামায আদায় করেছে, সেখান হতে স্থানান্তরিত না হয়ে সে যেন অন্য নামায না পড়ে।

৭৮. নামাযের শেষ রাকআতে মাথা উঠানোর ইমামের উযু নষ্ট হলে।

باب الإِمَامِ يُحْدِثُ بَعْدَ مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنْ آخِرِ الرَّكْعَةِ

৬১৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ رَافِعٍ، وَبَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قَضَى الإِمَامُ الصَّلاَةَ وَقَعَدَ فَأَحْدَثَ قَبْلَ أَنْ يَتَكَلَّمَ فَقَدْ تَمَّتْ صَلاَتُهُ وَمَنْ كَانَ خَلْفَهُ مِمَّنْ أَتَمَّ الصَّلاَةَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৬১৭. আহমদ ইবনে ইউনুস ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ যখন ইমাম নামাযের শেষ পর্যায়ে তাশাহ্‌হুদের পরিমাণ সময় বসার পর তার উযু নষ্ট হবে। তিনি কোন কথা (সালাম) বলার পূর্বে- এমতাবস্থায় নামায আদায় হয়ে যাবে এবং মুক্তাদীদের নামাযও পূর্ণ হয়ে যাবে- যারা ইমামের সাথে পুরা নামায পেয়েছে।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৭৯. নামাযের হারামকারী (সূচনা) ও হালালকারী (সমাপ্তি) জিনিসের বর্ণনা।

باب فِي تَحْرِيمِ الصَّلاَةِ وَتَحْلِيلِهَا

৬১৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ ابْنِ عَقِيلٍ، عَنْ مُحَمَّدِ ابْنِ الْحَنَفِيَّةِ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مِفْتَاحُ الصَّلاَةِ الطُّهُورُ وَتَحْرِيمُهَا التَّكْبِيرُ وَتَحْلِيلُهَا التَّسْلِيمُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৬১৮. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ পবিত্রতা নামাযের চাবী স্বরূপ, তাকবীর হল তার নামাযের জন্য সমস্ত বিষয়কে হারামকারী এবং সালাম হল তার জন্য সমস্ত বিষয়কে হালালকারী।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮০. মুক্তাদীদের ইমামের অনুসরণ করা সম্পর্কে।

باب مَا يُؤْمَرُ بِهِ الْمَأْمُومُ مِنَ اتِّبَاعِ الإِمَامِ

৬১৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُبَادِرُونِي بِرُكُوعٍ وَلاَ بِسُجُودٍ فَإِنَّهُ مَهْمَا أَسْبِقْكُمْ بِهِ إِذَا رَكَعْتُ تُدْرِكُونِي بِهِ إِذَا رَفَعْتُ إِنِّي قَدْ بَدَّنْتُ " .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

৬১৯. মুসাদ্দাদ .... মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তোমরা আমার পূর্বে রুকূ-সিজদা করবে না। যখন আমি তোমাদের পূর্বে রুকূ করব অথবা তা থেকে মাথা উঠাব- তখন তোমরা আমার অনুসরণ করবে। এখন আমি কিছুটা মোটা হয়ে গেছি।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬২০

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ يَزِيدَ الْخَطْمِيَّ، يَخْطُبُ النَّاسَ قَالَ حَدَّثَنَا الْبَرَاءُ، - وَهُوَ غَيْرُ كَذُوبٍ - أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا رَفَعُوا رُءُوسَهُمْ مِنَ الرُّكُوعِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَامُوا قِيَامًا فَإِذَا رَأَوْهُ قَدْ سَجَدَ سَجَدُوا .

বর্ণনাকারী: আবু ইসহাক সাবিঈ (রহঃ)

৬২০. হাফস ইবনে উমর .... আবু ইসহাক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ)-কে খুতবা দিতে শুনলম। তিনি বলেন, আল-বারাআ (রাযিঃ) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি অসত্য বলেননি। তিনি বলেছেন, তারা (সাহাবীরা) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে নামায আদায়কালে রুকূ হতে মাথা উঠিয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়াতেন। অতঃপর তারা যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে সিজদা করতে দেখতেন তখন তারাও সিজদায় যেতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৬২১

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَهَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبَانَ بْنِ تَغْلِبَ، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا الْكُوفِيُّونَ، أَبَانُ وَغَيْرُهُ - عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلاَ يَحْنُو أَحَدٌ مِنَّا ظَهْرَهُ حَتَّى يَرَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَضَعُ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৬২১. যুহায়ের ইবনে হারব্ ..... আল-বারাআ ইবনে আযেব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমরা রাসূলুল্লহ্ (ﷺ)-এর সাথে নামায আদায় করতাম। যে পর্যন্ত নবী (ﷺ)-কে রুকূতে না দেখতাম, ততক্ষণ আমাদের কেউ রুকুতে- যাওয়ার জন্য তার পৃষ্ঠদেশ বাঁকা করত না।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৬২২

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، - يَعْنِي الْفَزَارِيَّ - عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ يَزِيدَ، يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ حَدَّثَنِي الْبَرَاءُ، أَنَّهُمْ كَانُوا يُصَلُّونَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا رَكَعَ رَكَعُوا وَإِذَا قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . لَمْ نَزَلْ قِيَامًا حَتَّى يَرَوْهُ قَدْ وَضَعَ جَبْهَتَهُ بِالأَرْضِ ثُمَّ يَتَّبِعُونَهُ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: মুহারিব ইবনে দিছার (রহঃ)

৬২২. আর-রাবী ইবনে নাফে ..... মুহারিব ইবনে দিছার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে ইয়াযীদকে মিনারের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি, আমার নিকট বারাআ ইবনে আযেব (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা নবী (ﷺ)-এর সাথে নামায আদায় করতেন। যখন তিনি রুকূ করতেন তখন তারাও রুকূ করতেন এবং তিনি ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’- বলার পর সিজদায় না যাওয়া পর্যন্ত তারা দাঁড়িয়ে থাকতেন। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর অনুসরণ করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৮১. ইমামের পূর্বে রুকু সিজদায় যাওয়া সম্পর্কে সতর্কবাণী।

باب التَّشْدِيدِ فِيمَنْ يَرْفَعُ قَبْلَ الإِمَامِ أَوْ يَضَعُ قَبْلَهُ

৬২৩

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَا يَخْشَى - أَوْ أَلاَ يَخْشَى - أَحَدُكُمْ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ وَالإِمَامُ سَاجِدٌ أَنْ يُحَوِّلَ اللَّهُ رَأْسَهُ رَأْسَ حِمَارٍ أَوْ صُورَتَهُ صُورَةَ حِمَارٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২৩. হাফস ইবনে উমর .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, ইমাম সিজদায় থাকা অবস্থায় তোমাদের কেউ মস্তক উত্তোলন করতে কেন ভয় করে না যে, যদি আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তার মাথাকে গাধার মাথায় অথবা তার অবয়বকে গাধার আকৃতিতে রপান্তরিত করে দেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮২. ইমামের পূর্বে উঠে চলে যাওয়া সম্পর্কে।

باب فِيمَنْ يَنْصَرِفُ قَبْلَ الإِمَامِ

৬২৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ بُغَيْلٍ الْمُرْهِبِيُّ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنِ الْمُخْتَارِ بْنِ فُلْفُلٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَضَّهُمْ عَلَى الصَّلاَةِ وَنَهَاهُمْ أَنْ يَنْصَرِفُوا قَبْلَ انْصِرَافِهِ مِنَ الصَّلاَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬২৪. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা ....... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) (ﷺ) তাদেরকে জামাআতে নামাযের জন্য উৎসাহ প্রদান করতেন এবং ইমামের পূর্বে চলে যেতে নিষেধ করতেন।

৮৩. কয়খানি কাপড় পরিধান করে নামায পড়া জায়েজ।

باب جِمَاعِ أَثْوَابِ مَا يُصَلَّى فِيهِ

৬২৫

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنِ الصَّلاَةِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَوَلِكُلِّكُمْ ثَوْبَانِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২৫. আল-কানবী ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে এক কাপড়ে নামায আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি বলেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের কি দুইটি করে কাপড় আছে?

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬২৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يُصَلِّ أَحَدُكُمْ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ لَيْسَ عَلَى مَنْكِبَيْهِ مِنْهُ شَىْءٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২৬. মসাদ্দাদ ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন বাহুদ্বয় খোলা রেখে এক বস্ত্রে নামায না পড়ে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ

৬২৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - الْمَعْنَى - عَنْ هِشَامِ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فِي ثَوْبٍ فَلْيُخَالِفْ بِطَرَفَيْهِ عَلَى عَاتِقَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২৭. মুসাদ্দাদ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ কোন বস্ত্র পরিধান করে নামায পড়বে তখন সে যেন তার আচল কাঁধের উপর বিপরীতমুখী করে রাখে (যাতে কাঁধ ঢাকা থাকে)।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ

৬২৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ مُلْتَحِفًا مُخَالِفًا بَيْنَ طَرَفَيْهِ عَلَى مَنْكِبَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনে আবূ সালামা রাযি.

৬২৮. কুতায়বা .... উমর ইবনে আবু সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে একটি মাত্র বস্ত্র পরিধান করে নামায পড়তে দেখেছি। এই সময় তিনি তাঁর বস্ত্রটি উভয় কাঁধের উপর বিপরীতমুখী করে জড়িয়ে রাখেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৬২৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا مُلاَزِمُ بْنُ عَمْرٍو الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَدْرٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ طَلْقٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَدِمْنَا عَلَى نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَا تَرَى فِي الصَّلاَةِ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ قَالَ فَأَطْلَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِزَارَهُ طَارَقَ بِهِ رِدَاءَهُ فَاشْتَمَلَ بِهِمَا ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى بِنَا نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أَنْ قَضَى الصَّلاَةَ قَالَ " أَوَكُلُّكُمْ يَجِدُ ثَوْبَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: কায়স ইবনে তলক (রহঃ)

৬২৯. মুসাদ্দাদ ..... কায়েস ইবনে তালক থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর খেদমতে উপস্থিত হলাম। সেখানে এক ব্যক্তি এসে তাঁকে বলেন, হে আল্লাহর নবী! এক বস্ত্রে নামায আদায় করা সম্পর্কে আপনার কি অভিমত? রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর পরিধেয় বস্ত্র এক করে নিলেন (একটি বস্ত্র খুলে অন্য একটি বস্ত্রের উপর পরিধান করেন)। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে আমাদের নামায পড়ান। নামায শেষে তিনি বলেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের দুটি করে বস্ত্রের সংস্থান আছে কি?

৮৪. কাঁধে কাপড় গিরা দিয়ে কোন ব্যক্তির নামায আদায় সম্পর্কে।

باب الرَّجُلِ يَعْقِدُ الثَّوْبَ فِي قَفَاهُ ثُمَّ يُصَلِّي

৬৩০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ الرِّجَالَ عَاقِدِي أُزُرِهِمْ فِي أَعْنَاقِهِمْ مِنْ ضِيقِ الأُزُرِ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلاَةِ كَأَمْثَالِ الصِّبْيَانِ فَقَالَ قَائِلٌ يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ لاَ تَرْفَعْنَ رُءُوسَكُنَّ حَتَّى يَرْفَعَ الرِّجَالُ .

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৬৩০. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান .... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি লোকদেরকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর পশ্চাতে নামায আদায়ের সময় তাদের সংকীর্ণ ইজারের (পায়জামার) কারণে তা বালকদের মত কাঁধে গিরা দিয়ে নামায আদায় করতে দেখি। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি বলে, হে সমবেত মহিলারা! পুরুষেরা সিজদা হতে মাথা উত্তোলনের পূর্বে তোমরা তোমাদের মাথা তুলবে না।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৮৫. এক বস্ত্র পরিধান করে নামায আদায় করা - যার একাংশ অন্যের উপর থাকে।

باب الرَّجُلِ يُصَلِّي فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ بَعْضُهُ عَلَى غَيْرِهِ

৬৩১

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ بَعْضُهُ عَلَىَّ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৩১. আবুল-ওয়ালীদ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) একটি বস্ত্র পরিধান করে নামায আদায় করেন যার একাংশ আমার গায়ের উপর ছিল।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৮৬. একটি জামা পরিধান করে নামায করা।

باب فِي الرَّجُلِ يُصَلِّي فِي قَمِيصٍ وَاحِدٍ

৬৩২

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنْ مُوسَى بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي رَجُلٌ أَصِيدُ أَفَأُصَلِّي فِي الْقَمِيصِ الْوَاحِدِ قَالَ " نَعَمْ وَازْرُرْهُ وَلَوْ بِشَوْكَةٍ " .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

৬৩২. আল্-কানবী .... সালামা ইবনুল আকওয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন শিকারী। আমি কি একটি মাত্র জামা পরিধান করে নামায আদায় করতে পারি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তবে তা বেঁধে নাও অন্তত একটি কাঁটা দ্বারা হলেও।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৬৩৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ بَزِيعٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي حَوْمَلٍ الْعَامِرِيِّ، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَذَا قَالَ وَالصَّوَابُ أَبُو حَرْمَلٍ عَنْ - مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَمَّنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ فِي قَمِيصٍ لَيْسَ عَلَيْهِ رِدَاءٌ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ إِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي قَمِيصٍ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রাঃ)

৬৩৩. মুহাম্মাদ ইবনে হাতেম ...... মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) চাঁদর ব্যতীত কেবলমাত্র একটি জামা পরিধান করে আমাদের নামাযের ইমামতি করেন এবং তার উপর চাঁদর ছিল না। নামায শেষে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে একটি মাত্র জামা পরিধান করে নামায আদায় করতে দেখেছি।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৮৭. পরিধেয় বস্ত্র যদি সংকীর্ণ হয়।

باب إِذَا كَانَ الثَّوْبُ ضَيِّقًا

৬৩৪

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدِّمَشْقِيُّ، وَيَحْيَى بْنُ الْفَضْلِ السِّجِسْتَانِيُّ، قَالُوا حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ - حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ مُجَاهِدٍ أَبُو حَزْرَةَ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ أَتَيْنَا جَابِرًا - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ اللَّهِ - قَالَ سِرْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةٍ فَقَامَ يُصَلِّي وَكَانَتْ عَلَىَّ بُرْدَةٌ ذَهَبْتُ أُخَالِفُ بَيْنَ طَرَفَيْهَا فَلَمْ تَبْلُغْ لِي وَكَانَتْ لَهَا ذَبَاذِبُ فَنَكَسْتُهَا ثُمَّ خَالَفْتُ بَيْنَ طَرَفَيْهَا ثُمَّ تَوَاقَصْتُ عَلَيْهَا لاَ تَسْقُطُ ثُمَّ جِئْتُ حَتَّى قُمْتُ عَنْ يَسَارِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخَذَ بِيَدِي فَأَدَارَنِي حَتَّى أَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ فَجَاءَ ابْنُ صَخْرٍ حَتَّى قَامَ عَنْ يَسَارِهِ فَأَخَذَنَا بِيَدَيْهِ جَمِيعًا حَتَّى أَقَامَنَا خَلْفَهُ قَالَ وَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْمُقُنِي وَأَنَا لاَ أَشْعُرُ ثُمَّ فَطِنْتُ بِهِ فَأَشَارَ إِلَىَّ أَنْ أَتَّزِرَ بِهَا فَلَمَّا فَرَغَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَا جَابِرُ " . قَالَ قُلْتُ لَبَّيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " إِذَا كَانَ وَاسِعًا فَخَالِفْ بَيْنَ طَرَفَيْهِ وَإِذَا كَانَ ضَيِّقًا فَاشْدُدْهُ عَلَى حِقْوِكَ " .

বর্ণনাকারী: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

৬৩৪. হিশাম ইবনে আম্মার .... উবাদা ওয়ালীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে কোন এক যুদ্ধে যাই। তিনি নামায পড়ার জন্য দণ্ডায়মান হন। এ সময় আমার গায়ে একটি ছোট চাঁদর ছিল। আমি তা আমার কাঁধের দুই পাশে রাখার জন্য চেষ্টা করি, কিন্তু তা ছোট থাকায় কাঁধ পর্যন্ত পৌছেনি। আমার চাঁদরের লম্বা আচল ছিল, আমি সামান্য নত হয়ে ঐ আচলদ্বয় (কাঁধের) উপর এমনভাবে বেধে দেই, যাতে তা সরে না পড়তে পারে। অতঃপর এ অবস্থায় আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাম পাশে গিয়ে নামাযে দাঁড়াই। তিনি আমার হাত ধরে ঘুরিয়ে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করান। এ সময় ইবনে সাখর (রাহঃ) এসে তাঁর বাম পাশে দাঁড়ান।

অতঃপর তিনি নিজের দুই হাত আমাদের উভয়কে ধরে তাঁর পিছনে দাঁড় করান। রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকান, কিন্তু আমি এর অর্থ বুঝতে সক্ষম হই নাই, পরে আমি হৃদয়ংগম করতে পারি। তখন আমার প্রতি ইশারা করে বলেনঃ তোমার চাঁদর কোমরের সাথে ভাল করে বাঁধ। অতঃপর নামাযান্তে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ হে জাবের! আমি বলি- লাব্বাইকা, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি বলেনঃ যখন তোমার চাদর বড় হবে তখন তা তুমি তোমার কাঁধের দুই পাশে জড়িয়ে রাখবে। আর যখন তা ছোট হবে তখন তা কোমরের সাথে শক্তভাবে বেধে রাখবে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৮৮. নামাযের মধ্যে কাপড় ঝুলিয়ে রাখা।

باب الإِسْبَالِ فِي الصَّلاَةِ

৬৩৫

حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ أَخْزَمَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ أَبِي عَوَانَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ أَسْبَلَ إِزَارَهُ فِي صَلاَتِهِ خُيَلاَءَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي حِلٍّ وَلاَ حَرَامٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا جَمَاعَةٌ عَنْ عَاصِمٍ مَوْقُوفًا عَلَى ابْنِ مَسْعُودٍ مِنْهُمْ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ وَحَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ وَأَبُو الأَحْوَصِ وَأَبُو مُعَاوِيَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৩৫. যায়দ ইবনে আখযাম ...... ইবনে মাস্উদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি নামাযের মধ্যে অহংকার করে স্বীয় পরিধেয় বস্ত্র (লুঙ্গী, জামা, পাজামা বা প্যান্ট গোছার নীচে পর্যন্ত) ঝুলিয়ে রাখে, ঐ ব্যক্তির ভাল বা মন্দের ব্যপারে আল্লাহ্ তাআলার কোন দায়িত্ব নেই (তার জন্য জান্নাত হালাল করবেন না এবং দোযখ হারাম করবেন না, অথবা তার গুনাহ্ মাফ করবেন না এবং তাকে খারাপ কাজ থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন না)।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৬৩৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ بَيْنَمَا رَجُلٌ يُصَلِّي مُسْبِلاً إِزَارَهُ إِذْ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اذْهَبْ فَتَوَضَّأْ " . فَذَهَبَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ جَاءَ ثُمَّ قَالَ " اذْهَبْ فَتَوَضَّأْ " . فَذَهَبَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَكَ أَمَرْتَهُ أَنَّ يَتَوَضَّأَ فَقَالَ " إِنَّهُ كَانَ يُصَلِّي وَهُوَ مُسْبِلٌ إِزَارَهُ وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لاَ يَقْبَلُ صَلاَةَ رَجُلٍ مُسْبِلٍ إِزَارَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৩৬. মুসা ইসমাঈল ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কোন এক ব্যক্তি তার পাজামা (টাখনু গিরার নীচ পর্যন্ত) ঝুলিয়ে নামায পড়ছিল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে বলেনঃ তুমি যাও উযু করে আস, সে গিয়ে উযু করে ফিরে আসে। তিনি তাকে পুনরায় গিয়ে উযু করে আসার নির্দেশ দেন। সে পুনরায় উযু করে আসলে উপস্থিত এক ব্যক্তি তাকে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি তাকে (উযু থাকাবস্থায়) কেন পুনরায় উযু করার নির্দেশ দেন? তিনি বলেনঃ এই ব্যক্তি কাপড় ঝুলিয়ে নামায পড়ছিল এবং আল্লাহ্ তাআলা এরূপ ব্যক্তিদের নামায আদৌ কবুল করেন না।

৮৯. ছোট বস্ত্র কোমরে বেঁধে নামায আদায় করা সম্পর্কে।

باب مَنْ قَالَ يَتَّزِرُ بِهِ إِذَا كَانَ ضَيِّقًا

৬৩৭

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْ قَالَ قَالَ عُمَرُ رضى الله عنه " إِذَا كَانَ لأَحَدِكُمْ ثَوْبَانِ فَلْيُصَلِّ فِيهِمَا فَإِنْ لَمْ يَكُنْ إِلاَّ ثَوْبٌ وَاحِدٌ فَلْيَتَّزِرْ بِهِ وَلاَ يَشْتَمِلِ اشْتِمَالَ الْيَهُودِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৩৭. সুলাইমান .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হয় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন অথবা উমর (রাযিঃ) বলেছেনঃ তোমাদের কারো যখন দুঁটি বস্ত্র থাকবে- তখন তা পরিধাণ করে নামায আদায় করবে। অপরপক্ষে যদি একটি বস্ত্র থাকে, তবে তা কোমরে বেঁধে নামায আদায় করবে এবং ইহুদিদের মত যেন পরিধান না করে।

৬৩৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ الذُّهْلِيُّ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو تُمَيْلَةَ، يَحْيَى بْنُ وَاضِحٍ حَدَّثَنَا أَبُو الْمُنِيبِ، عُبَيْدُ اللَّهِ الْعَتَكِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُصَلَّى فِي لِحَافٍ لاَ يَتَوَشَّحُ بِهِ وَالآخَرُ أَنْ يُصَلَّى فِي سَرَاوِيلَ وَلَيْسَ عَلَيْكَ رِدَاءٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

৬৩৮. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ...... আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রাযিঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এক বস্ত্র পরিধাণ করে নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন- যা শরীর আবৃত করে না। অপরপক্ষে তিনি চাদর বিহীন অবস্থায় কেবলমাত্র পাজামা পরিধান করে নামায আদায় করতেও নিষেধ করেছেন।

৯০. মহিলারা কয়টি বস্ত্র পরিধান করে নামায পরবে।

باب فِي كَمْ تُصَلِّي الْمَرْأَةُ

৬৩৯

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدِ بْنِ قُنْفُذٍ، عَنْ أُمِّهِ، أَنَّهَا سَأَلَتْ أُمَّ سَلَمَةَ مَاذَا تُصَلِّي فِيهِ الْمَرْأَةُ مِنَ الثِّيَابِ فَقَالَتْ تُصَلِّي فِي الْخِمَارِ وَالدِّرْعِ السَّابِغِ الَّذِي يُغَيِّبُ ظُهُورَ قَدَمَيْهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৬৩৯. আল্-কানবী ..... মুহাম্মাদ ইবনে কুনফুয থেকে তাঁর মাতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি উম্মে সালামা (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করেন যে, স্ত্রী লোকেরা কি কি বস্ত্র পরিধাণ করে নামায পড়বে? তিনি বলেন, ওড়না এবং জামা পরিধান করে, যা দ্বারা পায়ের পাতাও ঢেকে যায়।

সূত্র: আল মুওয়াত্তা - ইমাম মালিক রহঃ

৬৪০

حَدَّثَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ دِينَارٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّهَا سَأَلَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَتُصَلِّي الْمَرْأَةُ فِي دِرْعٍ وَخِمَارٍ لَيْسَ عَلَيْهَا إِزَارٌ قَالَ " إِذَا كَانَ الدِّرْعُ سَابِغًا يُغَطِّي ظُهُورَ قَدَمَيْهَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَبَكْرُ بْنُ مُضَرَ وَحَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ وَابْنُ أَبِي ذِئْبٍ وَابْنُ إِسْحَاقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أُمِّهِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ لَمْ يَذْكُرْ أَحَدٌ مِنْهُمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَصَرُوا بِهِ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ رضى الله عنها .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৬৪০. মুজাহিদ ইবনে মুসা ..... উম্মে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করেন যে, মহিলারা পাজামা পরিধান ব্যতীত কেবলমাত্র ওড়না ও চাদর পরিধান করে নামায পড়তে পারে কি? তিনি বলেনঃ যখন চাদর বা জামা এতটা লম্বা হবে, যাতে পায়ের পাতা ঢেকে যায়- এরূপ কাপড় পরে নামায পড়তে পারবে।

৯১. মহিলারা ওড়না ছাড়া নামায আদায় করা সম্পর্কে।

باب الْمَرْأَةِ تُصَلِّي بِغَيْرِ خِمَارٍ

৬৪১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ الْحَارِثِ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ صَلاَةَ حَائِضٍ إِلاَّ بِخِمَارٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ سَعِيدٌ - يَعْنِي ابْنَ أَبِي عَرُوبَةَ - عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৪১. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ প্রাপ্ত বয়সী মহিলারা ওড়না ছাড়া নামায আদায় করলে তা আল্লাহর নিকটে কবুল হবে না।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, আল মুওয়াত্তা - ইমাম মালিক রহঃ

৬৪২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، أَنَّ عَائِشَةَ، نَزَلَتْ عَلَى صَفِيَّةَ أُمِّ طَلْحَةَ الطَّلَحَاتِ فَرَأَتْ بَنَاتٍ لَهَا فَقَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ وَفِي حُجْرَتِي جَارِيَةٌ فَأَلْقَى لِي حِقْوَهُ وَقَالَ " شُقِّيهِ بِشَقَّتَيْنِ فَأَعْطِي هَذِهِ نِصْفًا وَالْفَتَاةَ الَّتِي عِنْدَ أُمِّ سَلَمَةَ نِصْفًا فَإِنِّي لاَ أُرَاهَا إِلاَّ قَدْ حَاضَتْ أَوْ لاَ أُرَاهُمَا إِلاَّ قَدْ حَاضَتَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ هِشَامٌ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ .

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন (রহঃ)

৬৪২. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ .... মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) সাফিয়্যা বিনতে হারিছ-এর বাড়ীতে যান। তিনি সেখানে তাঁর প্রাপ্ত বয়স্কা মেয়েদের দেখতে পেয়ে বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমার কামরায় প্রবেশ করেন যখন সেখানে একটি মেয়ে ছিল। তখন তিনি তাঁর কোমরবন্ধ আমার দিকে নিক্ষেপ করে বলেনঃ এটা দুই টুকরা করে এর একাংশ এই মেয়েকে দাও এবং অপরাংশ উম্মে সালামার নিকটস্থ মেয়েকে দান কর। কেননা আমি দেখছি তারা প্রাপ্ত বয়স্কা হয়েছে।

৯২. নামাযের সময় লম্বা কাপড় পরিধান সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي السَّدْلِ فِي الصَّلاَةِ

৬৪৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ ذَكْوَانَ، عَنْ سُلَيْمَانَ الأَحْوَلِ، عَنْ عَطَاءٍ، - قَالَ إِبْرَاهِيمُ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ السَّدْلِ فِي الصَّلاَةِ وَأَنْ يُغَطِّيَ الرَّجُلُ فَاهُ ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: رَوَاهُ عِسْلٌ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم «نَهَى عَنِ السَّدْلِ فِي الصَّلَاةِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৪৩. মুহাম্মাদ ইবনুল-আলা .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মৃত্তিকাস্পর্শী লম্বা কাপড় পরিধান করে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন এবং নামাযের সময় মুখ ঢাকতেও নিষেধ করেছেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৬৪৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ الطَّبَّاعِ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَكْثَرُ مَا رَأَيْتُ عَطَاءً يُصَلِّي سَادِلاً . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا يُضَعِّفُ ذَلِكَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: ইবনে জুরাইজ (রহঃ)

৬৪৪. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ......... ইবনে জুরায়েজ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আতা (রাহঃ)-কে অধিকাংশ সময় লম্বা বস্ত্র পরিধান করে নামায পড়তে দেখেছি।

৯৩. মহিলাদের দেহের সাথে সম্পৃক্ত কাপড়ে নামায পড়া।

باب الصَّلاَةِ فِي شُعُرِ النِّسَاءِ

৬৪৫

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَشْعَثُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، - يَعْنِي ابْنَ سِيرِينَ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يُصَلِّي فِي شُعُرِنَا أَوْ لُحُفِنَا . قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ شَكَّ أَبِي .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৪৫. উবাইদুলাহ ইবনে মুআয ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের শরীরের সাথে সম্পৃক্ত কাপড়ে বা লেপে নামায পড়তেন না।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৯৪. খোঁপা বাঁধা অবস্থায় পুরুষের নামায পড়া সম্পর্কে।

باب الرَّجُلِ يُصَلِّي عَاقِصًا شَعْرَهُ

৬৪৬

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَبِي عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ رَأَى أَبَا رَافِعٍ مَوْلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ عَلَيْهِمَا السَّلاَمُ وَهُوَ يُصَلِّي قَائِمًا وَقَدْ غَرَزَ ضُفُرَهُ فِي قَفَاهُ فَحَلَّهَا أَبُو رَافِعٍ فَالْتَفَتَ حَسَنٌ إِلَيْهِ مُغْضَبًا فَقَالَ أَبُو رَافِعٍ أَقْبِلْ عَلَى صَلاَتِكَ وَلاَ تَغْضَبْ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " ذَلِكَ كِفْلُ الشَّيْطَانِ " . يَعْنِي مَقْعَدَ الشَّيْطَانِ يَعْنِي مَغْرِزَ ضُفُرِهِ .

বর্ণনাকারী: হাসান ইবনে আলী (রাঃ)

৬৪৬. আল্-হাসান ইবনে আলী ...... সাঈদ ইবনে আবু সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি দেখতে পান যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মুক্তদাস আবু রাফে-হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ) এর পাশ দিয়ে গমন করেন। এ সময় হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ) চুল বাধা অবস্থায় (মাথার উপরাংশে) নামাযে রত ছিলেন। আবু রাফে (রাযিঃ) ঐ খোপা খুলে দেন। ফলে হাসান (রাযিঃ) তাঁর প্রতি রাগান্বিত হয়ে দৃষ্টিপাত করলে আবু রাফে বলেন, আপনি আপনার নামায আগে সমাপ্ত করুন, রাগান্বিত হবেন না। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি এটা শয়তানের আসন অর্থাৎ পুরুষের মাথার উপরিভাগে চুলের খোঁপা বাধলে তা শয়তানের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৬৪৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّ بُكَيْرًا، حَدَّثَهُ أَنَّ كُرَيْبًا مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ حَدَّثَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ رَأَى عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَارِثِ يُصَلِّي وَرَأْسُهُ مَعْقُوصٌ مِنْ وَرَائِهِ فَقَامَ وَرَاءَهُ فَجَعَلَ يَحُلُّهُ وَأَقَرَّ لَهُ الآخَرُ فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ مَا لَكَ وَرَأْسِي قَالَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّمَا مَثَلُ هَذَا مَثَلُ الَّذِي يُصَلِّي وَهُوَ مَكْتُوفٌ " .

বর্ণনাকারী: কুরাইব (রহঃ)

৬৪৭. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা ..... কুবায়েব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিছকে মাথার পেছনে চুল বাঁধা অবস্থায় নামায পড়তে দেখেন। তিনি (ইবনে আব্বাস) তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে তাঁর চুলের বাধন খুলতে থাকেন এবং তিনি নিশ্চুপ থাকেন। নামাযান্তে তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর সামনে এসে বলেন, আপনি আমার মাথার সাথে এরূপ আচরণ কেন করলেন? তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি এভাবে পশ্চাতে চুল বেঁধে নামায আদায় করা পশ্চাত দিকে হাত বাঁধা অবস্থায় নামায পড়ার অনুরূপ।*

* নামায আদায়ের সময় নামাযীর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহর দরবারে সিজদায় নত হয়ে থাকে। এ সময় চুল বাঁধা থাকার কারণে তা সিজদায় যেতে পারে না বলে তাকে হাত বাঁধার সাথে তুলনা করা হয়েছে।- (অনুবাদক)

৯৫. জুতা পরিহিত অবস্থায় নামায পড়া।

باب الصَّلاَةِ فِي النَّعْلِ

৬৪৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنِ ابْنِ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي يَوْمَ الْفَتْحِ وَوَضَعَ نَعْلَيْهِ عَنْ يَسَارِهِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনুস সাঈব (রাঃ)

৬৪৮. মুসাদ্দাদ .... আব্দুল্লাহ্ ইবনুস-সাইব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে তাঁর জুতা মোবারক তাঁর বাম পাশে রেখে নামায আদায় করতে দেখেছি।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৬৪৯

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، وَأَبُو عَاصِمٍ قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ، يَقُولُ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ سُفْيَانَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُسَيَّبِ الْعَابِدِيُّ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصُّبْحَ بِمَكَّةَ فَاسْتَفْتَحَ سُورَةَ الْمُؤْمِنِينَ حَتَّى إِذَا جَاءَ ذِكْرُ مُوسَى وَهَارُونَ - أَوْ ذِكْرُ مُوسَى وَعِيسَى ابْنُ عَبَّادٍ يَشُكُّ أَوِ اخْتَلَفُوا - أَخَذَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُعْلَةٌ فَحَذَفَ فَرَكَعَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ السَّائِبِ حَاضِرٌ لِذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনুস সাঈব (রাঃ)

৬৪৯. আল-হাসান ইবনে আলী ..... আব্দুল্লাহ ইবনুস-সাইব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন ফজরের নামায আদায়ের সময় সূরা মুমিনুন পড়া শুর করেন। যখন মুসা (আলাইহিস সালাম) ও হারুন (আলাইহিস সালাম)-এর অথবা মুসা এবং ঈসা (আলাইহিস সালাম) প্রসঙ্গ তিলাওয়াত করার সময় (রাবী সন্দেহ বশতঃ এইরূপে বর্ণনা করেছেন) তার হাঁচি আসে। তিনি কিরাআত বন্ধ করে রুকুতে যান। আব্দুল্লাহ ইবনুস সাইব (রাযিঃ) এই সময় উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ

৬৫০

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي نَعَامَةَ السَّعْدِيِّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بِأَصْحَابِهِ إِذْ خَلَعَ نَعْلَيْهِ فَوَضَعَهُمَا عَنْ يَسَارِهِ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ الْقَوْمُ أَلْقَوْا نِعَالَهُمْ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَتَهُ قَالَ " مَا حَمَلَكُمْ عَلَى إِلْقَائِكُمْ نِعَالَكُمْ " . قَالُوا رَأَيْنَاكَ أَلْقَيْتَ نَعْلَيْكَ فَأَلْقَيْنَا نِعَالَنَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ جِبْرِيلَ صلى الله عليه وسلم أَتَانِي فَأَخْبَرَنِي أَنَّ فِيهِمَا قَذَرًا " . وَقَالَ " إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْمَسْجِدِ فَلْيَنْظُرْ فَإِنْ رَأَى فِي نَعْلَيْهِ قَذَرًا أَوْ أَذًى فَلْيَمْسَحْهُ وَلْيُصَلِّ فِيهِمَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬৫০. মুসা ইবনে ইসমাঈল ...... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাহাবীদের সহ নামায পড়ছিলেন। এ সময় হঠাৎ তিনি তাঁর কদম মোবারক হতে জুতা খুলে বাম পাশে রাখেন। তা দেখে সাহাবীরাও তাদের জুতা খুলে ফেলেন। নামায শেষে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন তোমাদের জুতা খোলার কারণ কি? তারা বলেন, আপনাকে জুতা খুলতে দেখে আমরাও খুলেছি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) এসে আমাকে জ্ঞাত করেন যে, আমার জুতাদ্বয়ে নাপাক লেগে আছে তিনি আরো বলেনঃ যখন তোমাদের কেউ মসজিদে আসবে তখন সে যেন তার জুতা পরীক্ষা করে। যদি তাতে নাপাকি লেগে থাকে তবে তা পরিষ্কার করার পর তা পরিধান করে নামায পড়বে।

৬৫১

حَدَّثَنَا مُوسَى، - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ - حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، حَدَّثَنِي بَكْرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا قَالَ " فِيهِمَا خَبَثًا " . قَالَ فِي الْمَوْضِعَيْنِ " خَبَثًا " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৬৫১. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... বকর ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাহঃ) উপরোক্ত হাদীসটি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এই হাদীসের উভয় স্থানে ‘কাযার’ (নাপাক) শব্দের পরিবর্তে “খাবাছ” (নাপাক) শব্দের উল্লেখ করেছেন।

৬৫২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ مَيْمُونٍ الرَّمْلِيِّ، عَنْ يَعْلَى بْنِ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَالِفُوا الْيَهُودَ فَإِنَّهُمْ لاَ يُصَلُّونَ فِي نِعَالِهِمْ وَلاَ خِفَافِهِمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত শাদ্দাদ ইবনে আওস (রাঃ)

৬৫২. কুতায়বা ইবনে সাঈদ .... ইয়ালা ইবনে শাদ্দাদ ইবনে আওস থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তোমরা ইহুদীদের বিরুদ্ধাচরণ কর। তারা জুতা ও মোজা পরিধান করে নামায আদায় করে না।

৬৫৩

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي حَافِيًا وَمُنْتَعِلاً .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

৬৫৩. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম ..... আমর ইবনে শুআয়েব থেকে তাঁর পিতার সূত্রে এবং তিনি তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে কোন সময় খালি পায়ে এবং কোন সময় জুতা পরিহিত অবস্থায় নামায পড়তে দেখেছি।

৯৬. মুসুল্লী জুতা খুলে তা কোথায় রাখবে।

باب الْمُصَلِّي إِذَا خَلَعَ نَعْلَيْهِ أَيْنَ يَضَعُهُمَا

৬৫৪

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ رُسْتُمَ أَبُو عَامِرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلاَ يَضَعْ نَعْلَيْهِ عَنْ يَمِينِهِ وَلاَ عَنْ يَسَارِهِ فَتَكُونَ عَنْ يَمِينِ غَيْرِهِ إِلاَّ أَنْ لاَ يَكُونَ عَنْ يَسَارِهِ أَحَدٌ وَلْيَضَعْهُمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৫৪. আল-হাসান .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন নামায আদায়ের সময় তার জুতা ডান অথবা বামদিকে না রাখে। অবশ্য তার বামদিকে যদি কোন লোক না থাকে তবে সেখানে রাখতে পারে। তবে জুতাদ্বয় স্বীয় পদদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানে রাখাই বাঞ্চনীয়।

৬৫৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، وَشُعَيْبُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَخَلَعَ نَعْلَيْهِ فَلاَ يُؤْذِ بِهِمَا أَحَدًا لِيَجْعَلْهُمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَوْ لِيُصَلِّ فِيهِمَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৫৫. আব্দুল ওয়াহহাব .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে-বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ যেন নামায আদায়ের সময় তার জুতা খুলে এমন স্থানে না রাখে যাতে অন্যের অসুবিধা হয়, বরং জুতা খুলে স্বীয় পদদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানে রাখবে অথবা তা পরিধান করেই নামায পড়বে।

৯৭. ছোট চাটাইয়ের উপর নামায পড়া।

باب الصَّلاَةِ عَلَى الْخُمْرَةِ

৬৫৬

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ، حَدَّثَتْنِي مَيْمُونَةُ بِنْتُ الْحَارِثِ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَأَنَا حِذَاءَهُ وَأَنَا حَائِضٌ وَرُبَّمَا أَصَابَنِي ثَوْبُهُ إِذَا سَجَدَ وَكَانَ يُصَلِّي عَلَى الْخُمْرَةِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত মাইমুনা (রাঃ)

৬৫৬. আমর ইবনে আওন .... মায়মুনা বিনতেল-হারিস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কোন কোন সময় নামায আদায়কালে আমি হায়য অবস্থায় তাঁর পাশে থাকতাম এবং কখনও কখনও সিজদার সময় তাঁর বস্ত্র আমার শরীর স্পর্শ করত। তিনি খেজুর পাতার চাটাইরের উপর নামায আদায় করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৯৮. চাটাইয়ের উপর নামায পড়া।

باب الصَّلاَةِ عَلَى الْحَصِيرِ

৬৫৭

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي رَجُلٌ ضَخْمٌ - وَكَانَ ضَخْمًا - لاَ أَسْتَطِيعُ أَنْ أُصَلِّيَ مَعَكَ - وَصَنَعَ لَهُ طَعَامًا وَدَعَاهُ إِلَى بَيْتِهِ - فَصَلِّ حَتَّى أَرَاكَ كَيْفَ تُصَلِّي فَأَقْتَدِيَ بِكَ . فَنَضَحُوا لَهُ طَرَفَ حَصِيرٍ كَانَ لَهُمْ فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ . قَالَ فُلاَنُ بْنُ الْجَارُودِ لأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَكَانَ يُصَلِّي الضُّحَى قَالَ لَمْ أَرَهُ صَلَّى إِلاَّ يَوْمَئِذٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৫৭. উবাইদুল্লাহ ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক আনসার সাহাবী বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি স্থুলদেহী, সে কারণে জামাআতে শরীক হয়ে আপনার সাথে নামায আদায় করতে সক্ষম নই। একদা ঐ ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য খাবার প্রস্তুত করে তাকে দাওয়াত দেন যে আপনি আমার ঘরে উপস্থিত হয়ে নামায আদায় করবেন। অতঃপর ঐরূপ ভাবে নামায আদায়ে ভবিষ্যতে আমি আপনার অনুসরণ করব। অতঃপর গৃহবাসীরা তাদের মাদুরের এক অংশ ধৌত করার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উপর দুই রাকআত নামায আদায় করেন। ফুলান ইবনুল জারূদ (রাহঃ) আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) চাশতের নামায আদায় করতেন কি? জবাবে তিনি বলেন, আমি উপরোক্ত দিন ব্যতীত তাকে আর কোন দিন ঐ নামায পড়তে দেখি নাই।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ

৬৫৮

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الْمُثَنَّى بْنُ سَعِيدٍ الذَّرَّاعُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَزُورُ أُمَّ سُلَيْمٍ فَتُدْرِكُهُ الصَّلاَةُ أَحْيَانًا فَيُصَلِّي عَلَى بِسَاطٍ لَنَا وَهُوَ حَصِيرٌ نَنْضَحُهُ بِالْمَاءِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৫৮. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) মাঝে মাঝে উম্মে সুলায়ম (রাযিঃ)-কে দেখতে যেতেন এবং সেখানে কখনও কখনও নামাযের ওয়াক্ত হয়ে গেলে আমাদের মাদুরের উপর নামায পড়তেন। মাদুরটি ছিল খেজুর পাতার এবং তা উম্মে সুলায়ম (রাযিঃ) পানি দ্বারা ধৌত করে দিতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৬৫৯

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، - بِمَعْنَى الإِسْنَادِ وَالْحَدِيثِ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، عَنْ يُونُسَ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي عَوْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي عَلَى الْحَصِيرِ وَالْفَرْوَةِ الْمَدْبُوغَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

৬৫৯. উবাইদুল্লাহ ..... মুগীরা ইবনে শোবা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খেজুর পাতার চাটাই এবং প্রক্রিয়াজাত চামড়ার উপর নামায পড়তেন।

৯৯. কাপড়ের উপর সিজদা করা।

باب الرَّجُلِ يَسْجُدُ عَلَى ثَوْبِهِ

৬৬০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا بِشْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُفَضَّلِ - حَدَّثَنَا غَالِبٌ الْقَطَّانُ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شِدَّةِ الْحَرِّ فَإِذَا لَمْ يَسْتَطِعْ أَحَدُنَا أَنْ يُمَكِّنَ وَجْهَهُ مِنَ الأَرْضِ بَسَطَ ثَوْبَهُ فَسَجَدَ عَلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৬০. আহমদ ইবনে হাম্বল ..... আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা প্রচন্ড গরমের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে নামায পড়তাম। আমাদের কেউ তাপদাহের কারণে যখন মাটিতে সিজদা করতে অক্ষম হত তখন সেখানে কাপড় বিছিয়ে তার উপর সিজদা করত।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১০০. কাতার সোজা করা।

باب تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ

৬৬১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، قَالَ سَأَلْتُ سُلَيْمَانَ الأَعْمَشَ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، فِي الصُّفُوفِ الْمُقَدَّمَةِ فَحَدَّثَنَا عَنِ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ طَرْفَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ تَصُفُّونَ كَمَا تَصُفُّ الْمَلاَئِكَةُ عِنْدَ رَبِّهِمْ جَلَّ وَعَزَّ " . قُلْنَا وَكَيْفَ تَصُفُّ الْمَلاَئِكَةُ عِنْدَ رَبِّهِمْ قَالَ " يُتِمُّونَ الصُّفُوفَ الْمُقَدَّمَةَ وَيَتَرَاصُّونَ فِي الصَّفِّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

৬৬১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ ..... জাবের ইবনে সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ ফিরিশতারা তাদের প্রতিপালকের নিকটে যেরূপ সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান হয়ে থাকে তোমরা ঐরূপ কর না কেন? আমরা জিজ্ঞাসা করি, ফিরিশতারা তাদের প্রতিপালকের নিকটে কিরূপে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়? তিনি বলেনঃ তারা সর্বাগ্রে প্রথম কাতার পূরণ করে, অতঃপর পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় কাতার ইত্যাদি পূর্ণ করে এবং তারা কাতারে দণ্ডায়মান হওয়ার সময় পরস্পর মিলে দাঁড়ায়।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬৬২

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ أَبِي الْقَاسِمِ الْجَدَلِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، يَقُولُ أَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى النَّاسِ بِوَجْهِهِ فَقَالَ " أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ " . ثَلاَثًا " وَاللَّهِ لَتُقِيمُنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ " . قَالَ فَرَأَيْتُ الرَّجُلَ يُلْزِقُ مَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِ صَاحِبِهِ وَرُكْبَتَهُ بِرُكْبَةِ صَاحِبِهِ وَكَعْبَهُ بِكَعْبِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

৬৬২. উছমান ইবনে আবি শাঈবা .... নুমান ইবনে বশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সমবেত ব্যক্তিদের নিকট উপস্থিত হয়ে তিনবার বলেনঃ তোমরা তোমাদের কাতার সোজা কর। আল্লাহর শপথ! তোমরা কাতার সোজা করে দণ্ডায়মান হবে, অন্যথায় আল্লাহ্ তাআলা তোমাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি করবেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমি মুসল্লীদেরকে পরস্পর কাঁধে কাঁধ, পায়ে পা এবং গোড়ালির সাথে গোড়ালি মিলিয়ে দাঁড়াতে দেখেছি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৬৬৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُسَوِّينَا فِي الصُّفُوفِ كَمَا يُقَوَّمُ الْقِدْحُ حَتَّى إِذَا ظَنَّ أَنْ قَدْ أَخَذْنَا ذَلِكَ عَنْهُ وَفَقِهْنَا أَقْبَلَ ذَاتَ يَوْمٍ بِوَجْهِهِ إِذَا رَجُلٌ مُنْتَبِذٌ بِصَدْرِهِ فَقَالَ " لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

৬৬৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... নু’মান ইবনে বশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে তীরের মত সোজা করে কাতারবদ্ধ করতেন। অতঃপর আমরা তাঁর নিকট হতে তা পূর্ণভাবে শিখবার পর একদা তিনি আগমন করে এক ব্যক্তিকে কাতারচ্যুত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি বলেনঃ তোমরা কাতার সোজা করে দাঁড়াবে। অন্যথায় আল্লাহ্ তাআলা তোমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে দেবেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৬৬৪

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، وَأَبُو عَاصِمِ بْنِ جَوَّاسٍ الْحَنَفِيُّ عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ طَلْحَةَ الْيَامِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْسَجَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَخَلَّلُ الصَّفَّ مِنْ نَاحِيَةٍ إِلَى نَاحِيَةٍ يَمْسَحُ صُدُورَنَا وَمَنَاكِبَنَا وَيَقُولُ " لاَ تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ " . وَكَانَ يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصُّفُوفِ الأُوَلِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৬৬৪. হান্নাদ ইবনুস সারী .... বারাআ ইবনে আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নামাযের কাতারের এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্তে গিয়ে আমাদের পায়ের গোড়ালি ও বক্ষসমূহ হাতের দ্বারা সোজা করে দিতেন এবং বলতেনঃ তোমাদের কাতার বাঁকা করো না। যদি এরূপ কর তবে তোমাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হবে। আরো বলতেনঃ মহান আল্লাহ্ এবং তাঁর ফিরিশতাগণ প্রথম কাতারসমূহের উপর রহমত বর্ষণ করে থাকেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৬৬৫

حَدَّثَنَا ابْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا حَاتِمٌ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي صَغِيرَةَ - عَنْ سِمَاكٍ، قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُسَوِّي صُفُوفَنَا إِذَا قُمْنَا لِلصَّلاَةِ فَإِذَا اسْتَوَيْنَا كَبَّرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

৬৬৫. উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয .... নু’মান ইবনে বশীর (রাযিঃ) বলেন, আমরা যখন নামাযে দণ্ডায়মান হতাম তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাতারসমূহ সোজা করে দিতেন। অতঃপর আমরা কাতার সোজা করে দাঁড়ালে তাকবীর (তাহরীমা) বলতেন।

৬৬৬

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْغَافِقِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، - وَحَدِيثُ ابْنِ وَهْبٍ أَتَمُّ - عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، - قَالَ قُتَيْبَةُ عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، عَنْ أَبِي شَجَرَةَ، لَمْ يَذْكُرِ ابْنَ عُمَرَ - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَقِيمُوا الصُّفُوفَ وَحَاذُوا بَيْنَ الْمَنَاكِبِ وَسُدُّوا الْخَلَلَ وَلِينُوا بِأَيْدِي إِخْوَانِكُمْ " . لَمْ يَقُلْ عِيسَى " بِأَيْدِي إِخْوَانِكُمْ " . " وَلاَ تَذَرُوا فُرُجَاتٍ لِلشَّيْطَانِ وَمَنْ وَصَلَ صَفًّا وَصَلَهُ اللَّهُ وَمَنْ قَطَعَ صَفًّا قَطَعَهُ اللَّهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَبُو شَجَرَةَ كَثِيرُ بْنُ مُرَّةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَمَعْنَى " وَلِينُوا بِأَيْدِي إِخْوَانِكُمْ " . إِذَا جَاءَ رَجُلٌ إِلَى الصَّفِّ فَذَهَبَ يَدْخُلُ فِيهِ فَيَنْبَغِي أَنْ يُلَيِّنَ لَهُ كُلُّ رَجُلٍ مَنْكِبَيْهِ حَتَّى يَدْخُلَ فِي الصَّفِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৬৬. ঈসা ইবনে ইবরাহীম ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা নামাযের সময় কাতারগুলো সোজা কর, পরস্পর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও, উভয়ের মাঝখানে ফাঁক বন্ধ কর এবং তোমাদের ভাইদের হাতে নরম হয়ে যাও। রাবী ঈসা তাঁর বর্ণনায় “বি-আইদী ইখওয়ানিকুম” বাক্যাংশ উল্লেখ করেন নাই। তিনি আরো বলেনঃ তোমরা কাতারের মধ্যে শয়তানের দণ্ডায়মান হওয়ার জন্য ফাঁক রাখবে না। যারা কাতারের মধ্যে পরস্পর মিলিত হয়ে দাঁড়াবে আল্লাহ্ তাদেরকে তাঁর রহমতের অন্তর্ভূক্ত করবেন। অপরপক্ষে যে ব্যক্তি কাতারে মিলিত হয়ে দাঁড়াবে না আল্লাহ্ তাকে তাঁর রহমত হতে বঞ্চিত করবেন।

৬৬৭

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " رُصُّوا صُفُوفَكُمْ وَقَارِبُوا بَيْنَهَا وَحَاذُوا بِالأَعْنَاقِ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأَرَى الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصَّفِّ كَأَنَّهَا الْحَذَفُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৬৭. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কাতারের মধ্যে পরস্পর মিলে মিশে দাঁড়াও। এক কাতার অপর কাতারের নিকটে কর এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও। যার হাতে আমার জীবন, তাঁর শপথ! আমি শয়তানকে নামাযের কাতারের মধ্যে বকরীর ন্যায় প্রবেশ করতে দেখেছি।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৬৬৮

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " سَوُّوا صُفُوفَكُمْ فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصَّفِّ مِنْ تَمَامِ الصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৬৮. আবুল ওয়ালীদ .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা তোমাদের কাতারসমূহ সোজা ও সমান কর। কেননা নামাযের পরিপূর্ণতা ও সৌন্দর্য কাতার সোজা করে দাঁড়ানোর মধ্যেই নিহিত।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬৬৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ ثَابِتِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ السَّائِبِ، صَاحِبِ الْمَقْصُورَةِ قَالَ صَلَّيْتُ إِلَى جَنْبِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ يَوْمًا فَقَالَ هَلْ تَدْرِي لِمَ صُنِعَ هَذَا الْعُودُ فَقُلْتُ لاَ وَاللَّهِ . قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَضَعُ يَدَهُ عَلَيْهِ فَيَقُولُ " اسْتَوُوا وَعَدِّلُوا صُفُوفَكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৬৯. কুতায়বা .... মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) এর পাশে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করি। তিনি আমাকে বলেন, তুমি কি জান মসজিদে নববীতে কেন এই কাঠটি রাখা হয়েছে? আমি আল্লাহর শপথ করে বলি, আমি জানি না। তিনি (আনাস) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এই কাঠ হাতে নিয়ে বলতেনঃ তোমরা বরাবর হয়ে যাও এবং কাতারসমূহ সোজা কর।

৬৭০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ الأَسْوَدِ، حَدَّثَنَا مُصْعَبُ بْنُ ثَابِتٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ أَنَسٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ أَخَذَهُ بِيَمِينِهِ ثُمَّ الْتَفَتَ فَقَالَ " اعْتَدِلُوا سَوُّوا صُفُوفَكُمْ " . ثُمَّ أَخَذَهُ بِيَسَارِهِ فَقَالَ " اعْتَدِلُوا سَوُّوا صُفُوفَكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৭০. মুসাদ্দাদ .... আনাস (রাযিঃ) হতে এই সূত্রেও পূর্বোক্ত হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নামাযের সময় এই কাঠ খণ্ডটি ডান হাতে নিয়ে বলতেনঃ তোমরা তোমাদের কাতার সোজা করা অতঃপর তিনি তা বাম হাতে নিয়ে কাতারের বাম দিকের লোকদের বলতেনঃ তোমরা সোজা হও এবং কাতারসমূহ সোজা করে দাঁড়াও।
৬৭১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، - يَعْنِي ابْنَ عَطَاءٍ - عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَتِمُّوا الصَّفَّ الْمُقَدَّمَ ثُمَّ الَّذِي يَلِيهِ فَمَا كَانَ مِنْ نَقْصٍ فَلْيَكُنْ فِي الصَّفِّ الْمُؤَخَّرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৭১. মুসাদ্দাদ ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা সর্বাগ্রে প্রথম কাতার পূর্ণ কর, অতঃপর পর্যায়ক্রমে পরবর্তী কাতারগুলো পূর্ণ কর। যদি কোন কাতার অসম্পূর্ণ থাকে তবে তা অবশ্যই সর্বশেষ কাতার হবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৬৭২

حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ يَحْيَى بْنِ ثَوْبَانَ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمِّي، عُمَارَةُ بْنُ ثَوْبَانَ عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خِيَارُكُمْ أَلْيَنُكُمْ مَنَاكِبَ فِي الصَّلاَةِ " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: جَعْفَرُ بْنُ يَحْيَى مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৭২. ইবনে বাশশার ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ নামাযের কাতারে দাঁড়াবার সময় যে ব্যক্তি নিজের কাঁধ বেশী নরম করে দেবে সেই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।

১০১. খামসমূহের মাঝখানে কাতার বাঁধা।

باب الصُّفُوفِ بَيْنَ السَّوَارِي

৬৭৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ هَانِئٍ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ مَحْمُودٍ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَدُفِعْنَا إِلَى السَّوَارِي فَتَقَدَّمْنَا وَتَأَخَّرْنَا فَقَالَ أَنَسٌ كُنَّا نَتَّقِي هَذَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৭৩. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার .... আব্দুল হামীদ ইবনে মাহমুদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) এর সাথে জুমআর নামায আদায় করি অধিক ভীড়ের কারণে আমরা স্তম্ভের নিকটে সরে যেতে বাধ্য হই। ফলে আমরা আগে পিছে হয়ে যাই। অতঃপর আনাস (রাযিঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর যুগে দুই স্তম্ভের মধ্যবর্তী স্থানে দণ্ডায়মান হওয়া হতে বিরত থাকতাম।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১০২. ইমামের নিকটতম স্থানে দাঁড়ানো মুস্তাহাব এবং তার থেকে দূরে থাকা অপছন্দনীয়।

باب مَنْ يُسْتَحَبُّ أَنْ يَلِيَ الإِمَامَ فِي الصَّفِّ وَكَرَاهِيَةِ التَّأَخُّرِ

৬৭৪

حَدَّثَنَا ابْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنِي سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِيَلِنِي مِنْكُمْ أُولُو الأَحْلاَمِ وَالنُّهَى ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৭৪. ইবনে কাছীর ..... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যেকার আলেম ও জ্ঞানী ব্যক্তিরা যেন আমার নিকটবর্তী স্থানে দাঁড়ায়। অতঃপর পর্যায়ক্রমে জ্ঞানে ও বুদ্ধিমত্তায় তাদের নিকটতম লোকেরা দাঁড়াবে, অতঃপর এদের নিকটতম লোকেরা।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬৭৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ . وَزَادَ " وَلاَ تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ وَإِيَّاكُمْ وَهَيْشَاتِ الأَسْوَاقِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬৭৫. মুসাদ্দাদ ..... আব্দুল্লাহ ইবনে মাস্উদ (রাযিঃ) থেকে এই সনদেও নবী (ﷺ)-এর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি আরও বলেছেনঃ তোমরা কাতার বাঁকা করে দাঁড়িও না। যদি এরূপ কর তবে তোমাদের অন্তরের মধ্যে বিভেদ হবে। সাবধান! তোমরা মসজিদের মধ্যে বাজারের স্থানের ন্যায় হৈ-হুল্লোড় করবে না।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৬৭৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى مَيَامِنِ الصُّفُوفِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৭৬. উছমান ইবনে আবি শাঈবা .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ এবং তাঁর ফিরিশতাগণ কাতারের ডান দিকের মুসল্লীদের উপর রহমত বর্ষণ করে থাকেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১০৩. কাতারে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের দাঁড়ানোর স্থান।

باب مُقَامِ الصِّبْيَانِ مِنَ الصَّفِّ

৬৭৭

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ شَاذَانَ، حَدَّثَنَا عَيَّاشٌ الرَّقَّامُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا بُدَيْلٌ، حَدَّثَنَا شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، قَالَ قَالَ أَبُو مَالِكٍ الأَشْعَرِيُّ أَلاَ أُحَدِّثُكُمْ بِصَلاَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَأَقَامَ الصَّلاَةَ وَصَفَّ الرِّجَالَ وَصَفَّ خَلْفَهُمُ الْغِلْمَانَ ثُمَّ صَلَّى بِهِمْ فَذَكَرَ صَلاَتَهُ ثُمَّ قَالَ هَكَذَا صَلاَةُ قَالَ عَبْدُ الأَعْلَى لاَ أَحْسَبُهُ إِلاَّ قَالَ " صَلاَةُ أُمَّتِي " .

বর্ণনাকারী: আবু মালিক আশআরী (রাঃ)

৬৭৭. ঈসা ইবনে শাযান ..... আবু মালিক আল-আশআরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কি তোমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নামায সম্পর্কে বর্ণনা করব না? অতঃপর তিনি নামাযে দাঁড়ান এবং প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষেরা কাতারবদ্ধ হন। অতঃপর অপ্রাপ্ত বয়স্করা তাদের পেছনে দাঁড়ায়। অতঃপর তিনি তাদের সাথে নিয়ে নামায পড়েন।

অতঃপর রাবী রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নামায সম্পর্কে বর্ণনা দেন। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা এইরূপে নামায আদায় করবে। রাবী আব্দুল আলা বলেন, আমার ধারণা অনুযায়ী কুররা ইবনে খালিদ বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ আমার উম্মত এইরূপে নামায আদায় করবে।

১০৪. মহিলাদের কাতার এবং তারা প্রথম কাতারে দাঁড়াবে না।

باب صَفِّ النِّسَاءِ وَكَرَاهِيَةِ التَّأَخُّرِ عَنِ الصَّفِّ الأَوَّلِ

৬৭৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَيْرُ صُفُوفِ الرِّجَالِ أَوَّلُهَا وَشَرُّهَا آخِرُهَا وَخَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا وَشَرُّهَا أَوَّلُهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৭৮. মুহাম্মাদ ইবনুস সাবাহ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ পুরুষদের প্রথম কাতার হল সর্বোত্তম এবং শেষ কাতার হল নিকৃষ্টতম। অপরপক্ষে মহিলাদের জন্য সর্বশেষ কাতারই হল সর্বোত্তম এবং প্রথম কাতার হল নিকৃষ্টতম।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৬৭৯

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَزَالُ قَوْمٌ يَتَأَخَّرُونَ عَنِ الصَّفِّ الأَوَّلِ حَتَّى يُؤَخِّرَهُمُ اللَّهُ فِي النَّارِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৭৯. ইয়াহয়া ইবনে মুইন .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার যে সমস্ত উম্মত প্রথম কাতারে দাঁড়াতে গড়িমসি করে, আল্লাহ্ তাআলা তাদেরকে দোজখে সবচেয়ে পেছনে রাখবেন।
৬৮০

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخُزَاعِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَشْهَبِ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى فِي أَصْحَابِهِ تَأَخُّرًا فَقَالَ لَهُمْ " تَقَدَّمُوا فَائْتَمُّوا بِي وَلْيَأْتَمَّ بِكُمْ مَنْ بَعْدَكُمْ وَلاَ يَزَالُ قَوْمٌ يَتَأَخَّرُونَ حَتَّى يُؤَخِّرَهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬৮০. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদেরকে প্রথম কাতেরে গিয়ে দাঁড়াতে দেরী করতে দেখে বলেনঃ তোমরা প্রথম কাতারে এসো এবং আমার অনুসরণ কর। অতঃপর পরবর্তী লোকেরাও তোমাদের অনুসরণ করবে। এক শ্রেণীর লোক সবসময় সামনের কাতার থেকে পেছনে থাকবে। মহান আল্লাহ্ও তাদেরকে পেছনে ফেলে রাখবেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১০৫. কাতারের সামনে ইমামের দাঁড়ানোর স্থান।

باب مُقَامِ الإِمَامِ مِنَ الصَّفِّ

৬৮১

حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ بَشِيرِ بْنِ خَلاَّدٍ، عَنْ أُمِّهِ، أَنَّهَا دَخَلَتْ عَلَى مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ فَسَمِعَتْهُ يَقُولُ حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَسِّطُوا الإِمَامَ وَسُدُّوا الْخَلَلَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৮১. জাফর ইবনে মুসাফির ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ ইমামকে কাতারের সামনে মধ্যবর্তী স্থানে দাঁড় করাও এবং কাঁতারের মধ্যেকার ফাঁক বন্ধ কর।

১০৬. যে ব্যক্তি কাতারের পিছনে একাকী দাঁড়িয়ে নামায পড়ে।

باب الرَّجُلِ يُصَلِّي وَحْدَهُ خَلْفَ الصَّفِّ

৬৮২

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَحَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ رَاشِدٍ، عَنْ وَابِصَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى رَجُلاً يُصَلِّي خَلْفَ الصَّفِّ وَحْدَهُ فَأَمَرَهُ أَنْ يُعِيدَ - قَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ - الصَّلاَةَ .

বর্ণনাকারী: ওয়াবিসা ইবনে মা’বাদ জুহানী (রাঃ)

৬৮২. সুলাইমান ইবনে হারব্ ..... ওয়াবিসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে কাতারের পিছনে একাকী দাঁড়িয়ে নামায পড়তে দেখেন। তিনি তাকে পুনরায় নামায পড়ার নির্দেশ দেন।*

* কাতারের পেছনে একাকী দাঁড়িয়ে নামায পড়লে- ইমাম আহমাদ (রাহঃ)-এর মতে নামায় ফাসেদ হয়ে যাবে। এবং তা পুনবার পড়তে হবে। কিন্তু ইমাম আবু হানীফা, মালেক ও শাফিঈ (রাহঃ)-এর মতে নামায জায়েয হবে, কিন্তু এভাবে দাঁড়িয়ে নামায পড়া মাকরূহ। তাদের মতে পুনরায় নামাযের নির্দেশ মুস্তাহাব পর্যায়ের।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১০৭. (ইমামকে রুকুতে দেখে) কাতারে না পৌঁছেই রুকুতে যাওয়া।

باب الرَّجُلِ يَرْكَعُ دُونَ الصَّفِّ

৬৮৩

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، أَنَّ يَزِيدَ بْنَ زُرَيْعٍ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ زِيَادٍ الأَعْلَمِ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، أَنَّ أَبَا بَكْرَةَ، حَدَّثَ أَنَّهُ، دَخَلَ الْمَسْجِدَ وَنَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَاكِعٌ - قَالَ - فَرَكَعْتُ دُونَ الصَّفِّ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا وَلاَ تَعُدْ " .

বর্ণনাকারী: হাসান বসরী (রহঃ)

৬৮৩. হুমায়দ ইবনে মাসআদা .... আল-হাসান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু বাকরা (রাযিঃ) বলেছেন। একদা তিনি মসজিদে প্রবেশ করে নবী (ﷺ)কে রুকূ অবস্থায় পান। রাবী বলেন, তখন আমি কাতারে না পৌছেই রুকূতে যাই। নামাযান্তে নবী (ﷺ) বলেনঃ ইবাদাতের প্রতি আল্লাহ তোমার আগ্রহ আরো বৃদ্ধি করুন। তুমি পুনর্বার এরূপ করবে না।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৬৮৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا زِيَادٌ الأَعْلَمُ، عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّ أَبَا بَكْرَةَ، جَاءَ وَرَسُولُ اللَّهِ رَاكِعٌ فَرَكَعَ دُونَ الصَّفِّ ثُمَّ مَشَى إِلَى الصَّفِّ فَلَمَّا قَضَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَلاَتَهُ قَالَ " أَيُّكُمُ الَّذِي رَكَعَ دُونَ الصَّفِّ ثُمَّ مَشَى إِلَى الصَّفِّ " . فَقَالَ أَبُو بَكْرَةَ أَنَا . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا وَلاَ تَعُدْ "، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: زِيَادٌ الْأَعْلَمُ زِيَادُ بْنُ فُلَانِ بْنِ قُرَّةَ وَهُوَ ابْنُ خَالَةِ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৬৮৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আবু বাকরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি মসজিদে এসে নবী (ﷺ)কে রুকূতে দেখে কাতারে শামিল না হয়েই রুকূতে যান। শেষে তিনি কাতারে গিয়ে শামিল হন। নামাযান্তে নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কোন ব্যক্তি কাতারে শামিল হওয়ার পূর্বে রুকূ করেছে, অতঃপর সে কাতারে শামিল হয়েছে? আবু বাকরা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি। নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ্ ইবাদাতের প্রতি তোমার আগ্রহ করুন! তুমি পুনর্বার এরূপ করবে না।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১০৮. নামাযের সময় কিরূপ সুতরা বা আড় ব্যবহার করবে।

باب مَا يَسْتُرُ الْمُصَلِّي

৬৮৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ طَلْحَةَ، عَنْ أَبِيهِ، طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا جَعَلْتَ بَيْنَ يَدَيْكَ مِثْلَ مُؤَخَّرَةِ الرَّحْلِ فَلاَ يَضُرُّكَ مَنْ مَرَّ بَيْنَ يَدَيْكَ " .

বর্ণনাকারী: তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাঃ)

৬৮৫. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর আল-আব্দী ..... তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ যদি তুমি (খোলা স্থানে নামায পড়ার সময়) উটের পিঠের হাওদার পিছন দিকের কাঠের অনুরূপ একটি কাঠ তোমার সম্মুখে রাখ-তবে তোমার সম্মুখ কেউ যাতায়াত করলে তোমার নামাযের কোন ক্ষতি হবে না।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬৮৬

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ آخِرَةُ الرَّحْلِ ذِرَاعٌ فَمَا فَوْقَهُ .

বর্ণনাকারী: আতা ইবনে আবী রাবাহ (রহঃ)

৬৮৬. আল্-হাসান ইবনে আলী ..... আতা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাওদার পিছনের কাঠ এক হাত বা তার চেয়ে কিছুটা লম্বা হয়ে থাকে।
৬৮৭

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا خَرَجَ يَوْمَ الْعِيدِ أَمَرَ بِالْحَرْبَةِ فَتُوضَعَ بَيْنَ يَدَيْهِ فَيُصَلِّي إِلَيْهَا وَالنَّاسُ وَرَاءَهُ وَكَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ فِي السَّفَرِ فَمِنْ ثَمَّ اتَّخَذَهَا الأُمَرَاءُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৮৭. আল-হাসান ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদের নামায আদায়ের জন্য যখন বের হতেন, তখন তিনি “হিরবাহ” বা ছোট বল্লম (বা এর অনুরূপ কিছু) সঙ্গে নেয়ার নির্দেশ দিতেন। এটা তাঁর সম্মুখে স্থাপন করা হত এবং সেদিক ফিরে নামায পড়তেন এবং এ সময় সাহাবীরা তাঁর পিছনে থাকতেন। সফরের সময়ও এইরূপ করতেন। এজন্য শাসকগণ তখন থেকে নিজেদের সাথে বর্শা রাখতেন।

৬৮৮

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِهِمْ بِالْبَطْحَاءِ وَبَيْنَ يَدَيْهِ عَنَزَةٌ الظُّهْرَ رَكْعَتَيْنِ وَالْعَصْرَ رَكْعَتَيْنِ يَمُرُّ خَلْفَ الْعَنَزَةِ الْمَرْأَةُ وَالْحِمَارُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু জুহাইফা (রাঃ)

৬৮৮. হাফস ইবনে উমর ..... আওফ ইবনে আবু জুহায়ফা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তাদের সাথে আল-বাতহা নামক প্রান্তরে নামায আদায় করেন। এই সময় তাঁর সম্মুখভাগে একটি বর্শা প্রতিষ্ঠিত ছিল। ঐদিন তিনি যোহর ও আসরের নামায দুই দুই রাকআত করে আদায় করেন। এই সুতরার অপর পাশ দিয়ে মহিলা ও গাধা অতিক্রম করত।*

* খালি জায়্গায় বা মাঠে নামায পড়ার সময় নামাযীর সম্মুখে সিজদার স্থানের একটু সামনে অন্ততঃ এক হা উঁচু একটি কাঠি, লাঠি বা অনুরূপ কোন বস্তু আড় রেখে নামায আদায় করতে হয়। ঐ কাঠি বা বস্তুকে সুতরা বলা হয়। - (অনুবাদক)

১০৯. সুতরা দেওয়ার মত লাঠি না পেলে মাটিতে রেখা টানা।

باب الْخَطِّ إِذَا لَمْ يَجِدْ عَصًا

৬৮৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ، حَدَّثَنِي أَبُو عَمْرِو بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حُرَيْثٍ، أَنَّهُ سَمِعَ جَدَّهُ، حُرَيْثًا يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَجْعَلْ تِلْقَاءَ وَجْهِهِ شَيْئًا فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَلْيَنْصِبْ عَصًا فَإِنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ عَصًا فَلْيَخْطُطْ خَطًّا ثُمَّ لاَ يَضُرُّهُ مَا مَرَّ أَمَامَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৮৯. মুসাদ্দাদ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ (কোন খোলা স্থানে) নামায আদায় করবে, তখন সে যেন সুতরা হিসাবে তার সামনে কিছু স্থাপন করে। যদি না পায় তবে সে যেন একটি লাঠি তার সামনে স্থাপন করে। যদি তার সাথে লাঠি না থাকে, তবে সে যেন তার সামনের মাটিতে দাগ টেনে নেয়। অতঃপর কেউ তার সম্মুখভাগ দিয়ে যাতায়াত করলে তার কোন ক্ষতি হবে না।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬৯০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، - يَعْنِي ابْنَ الْمَدِينِيِّ - عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ أَبِي مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، عَنْ جَدِّهِ، حُرَيْثٍ - رَجُلٍ مِنْ بَنِي عُذْرَةَ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ أَبِي الْقَاسِمِ، صلى الله عليه وسلم قَالَ فَذَكَرَ حَدِيثَ الْخَطِّ . قَالَ سُفْيَانُ لَمْ نَجِدْ شَيْئًا نَشُدُّ بِهِ هَذَا الْحَدِيثَ وَلَمْ يَجِئْ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . قَالَ قُلْتُ لِسُفْيَانَ إِنَّهُمْ يَخْتَلِفُونُ فِيهِ فَتَفَكَّرَ سَاعَةً ثُمَّ قَالَ مَا أَحْفَظُ إِلاَّ أَبَا مُحَمَّدِ بْنَ عَمْرٍو قَالَ سُفْيَانُ قَدِمَ هَا هُنَا رَجُلٌ بَعْدَ مَا مَاتَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ فَطَلَبَ هَذَا الشَّيْخَ أَبَا مُحَمَّدٍ حَتَّى وَجَدَهُ فَسَأَلَهُ عَنْهُ فَخَلَطَ عَلَيْهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَسَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ سُئِلَ عَنْ وَصْفِ الْخَطِّ غَيْرَ مَرَّةٍ فَقَالَ هَكَذَا عَرْضًا مِثْلَ الْهِلاَلِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَسَمِعْتُ مُسَدَّدًا قَالَ قَالَ ابْنُ دَاوُدَ الْخَطُّ بِالطُّولِ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: " وسَمِعْت أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَل وَصَفَ الْخَطَّ غَيْرَ مَرَّةٍ فَقَالَ: هَكَذَا يَعْنِي بِالْعَرْضِ حَوْرًا دَوْرًا مِثْلَ الْهِلَالِ يَعْنِي مُنْعَطِفًا "

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৯০. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) হতে মাটিতে দাগ দেওয়া সম্পর্কিত হাদীসটি বর্ণনা করেন। সুফিয়ান বলেন, এ হাদীসকে শক্তিশালী প্রামাণ করার মত কোন দলীল আমি পাইনি। হাদীসটি কেবলমাত্র উপরোক্ত সনদ সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে। রাবী আলী ইবনুল মাদিনী বলেন, আমি সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসা করলাম, লোকেরা তার নাম সম্পর্কে মতানৈক্য প্রকাশ করেছে। এতদশ্রবণে তিনি কিছুক্ষণ চিন্তার পর বলেন, আমার জানা মতে তার নাম আবু মুহাম্মাদ ইবনে আমর। সুফিয়ান বলেন, ইসমাঈল উমাইয়ার ইন্‌তিকালের পর কুফা হতে জনৈক ব্যক্তি এসে আবু মুহাম্মাদের সন্ধান করে তাকে পেয়ে যান। তিনি তাকে মাটিতে দাগ দেওয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করেন। তখন তিনি এর সঠিক কোন জবাব দিতে সক্ষম হন নাই।

৬৯১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ رَأَيْتُ شَرِيكًا صَلَّى بِنَا فِي جَنَازَةٍ الْعَصْرَ فَوَضَعَ قَلَنْسُوَتَهُ بَيْنَ يَدَيْهِ - يَعْنِي - فِي فَرِيضَةٍ حَضَرَتْ .

বর্ণনাকারী: সুফয়ান বিন উয়াইনা (রহঃ)

৬৯১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ .... সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শারীক (রাহঃ)-কে দেখেছি, তিনি এক জানাযায় হাযির হয়ে আমাদের সাথে আসরের নামায পড়েন তিনি (সুতরা স্বরূপ) নিজের টুপি সামনে রাখেন।

১১০. জন্তুযান সামনে রেখে নামায পড়া।

باب الصَّلاَةِ إِلَى الرَّاحِلَةِ

৬৯২

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَوَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، وَابْنُ أَبِي خَلَفٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، - قَالَ عُثْمَانُ - حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي إِلَى بَعِيرِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৯২. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তাঁর উটের দিকে মুখ করে নামায পড়তেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১১১. নামায পড়ার সময় সুতরা কোন জিনিসের বিপরীতে স্থাপন করবে।

باب إِذَا صَلَّى إِلَى سَارِيَةٍ أَوْ نَحْوِهَا أَيْنَ يَجْعَلُهَا مِنْهُ

৬৯৩

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ الْوَلِيدُ بْنُ كَامِلٍ، عَنِ الْمُهَلَّبِ بْنِ حُجْرٍ الْبَهْرَانِيِّ، عَنْ ضُبَاعَةَ بِنْتِ الْمِقْدَادِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهَا، قَالَ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي إِلَى عُودٍ وَلاَ عَمُودٍ وَلاَ شَجَرَةٍ إِلاَّ جَعَلَهُ عَلَى حَاجِبِهِ الأَيْمَنِ أَوِ الأَيْسَرِ وَلاَ يَصْمُدُ لَهُ صَمْدًا .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৬৯৩. মাহমুদ ইবনে খালিদ আদ-দিমাশকী ..... দুবাআ বিনতেল মিকদাদ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (মিকদাদ) বলেন, আমি কখনও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে সরাসরি স্বীয় সম্মুখে কাঠ, খুটি অথবা গাছ রেখে নামায পড়তেন। তখন তিনি তা নিজের ডান বা বাম পাশে রেখে নামায পড়তেন এবং নিজের দুই চোখ বরাবর স্থাপন করতেন না (যাতে মূর্তি পূজার সাথে সাদৃশ্য না হয়)।

১১২. বাক্যালাপে রত এবং ঘুমন্ত ব্যক্তিদের সামনে রেখে নামায পড়া।

باب الصَّلاَةِ إِلَى الْمُتَحَدِّثِينَ وَالنِّيَامِ

৬৯৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَيْمَنَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَعْقُوبَ بْنِ إِسْحَاقَ، عَمَّنْ حَدَّثَهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ، قَالَ قُلْتُ لَهُ - يَعْنِي لِعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تُصَلُّوا خَلْفَ النَّائِمِ وَلاَ الْمُتَحَدِّثِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬৯৪. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা আল-কানবী .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা ঘুমন্ত ব্যক্তি ও আলাপে রত ব্যক্তিদের সামনে রেখে নামায পড় না।*

* জনৈক রাবী দুর্বল ও অনির্ভরযোগ্য হওয়ায় মুহাদ্দিছগণের নিকট এই হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়। তাছাড়া মহানবী (ﷺ) ঘুমন্ত ব্যক্তিকে সামনে রেখে নামায পড়েছেন- তা হাদীস থেকে প্রমাণিত।

১১৩. সুতরার নিকটবর্তী হয়ে দাঁড়ানো।

باب الدُّنُوِّ مِنَ السُّتْرَةِ

৬৯৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ بْنِ سُفْيَانَ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَحَامِدُ بْنُ يَحْيَى، وَابْنُ السَّرْحِ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ إِلَى سُتْرَةٍ فَلْيَدْنُ مِنْهَا لاَ يَقْطَعُ الشَّيْطَانُ عَلَيْهِ صَلاَتَهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ وَاقِدُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ صَفْوَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَهْلٍ عَنْ أَبِيهِ أَوْ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَهْلٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ بَعْضُهُمْ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ وَاخْتُلِفَ فِي إِسْنَادِهِ .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে আবি হাছমা (রাঃ)

৬৯৫. মুহাম্মাদ ইবনুনুস-সাব্বাহ ..... সাহল ইবনে আবু হাছমা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন সুতরা স্থাপন করে নামায পড়ে তখন সে যেন তার নিকটবর্তী হয়ে দাঁড়ায়- যাতে শয়তান তার নামাযের মধ্যে কোনরূপ কুমন্ত্রণা দিতে না পারে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৬৯৬

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، وَالنُّفَيْلِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ سَهْلٍ، قَالَ وَكَانَ بَيْنَ مُقَامِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ مَمَرُّ عَنْزٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْخَبَرُ لِلنُّفَيْلِيِّ .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে আবি হাছমা (রাঃ)

৬৯৬. আল্-কানবী ও আন-নুফায়লী ..... সাহল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-এর দাঁড়ানোর স্থান ও কিবলার দেওয়ালের মাঝখানে একাটি বকরী অতিক্রম করার মত ফাঁক থাকত।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১১৪. নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীকে বাধা দেয়া।

باب مَا يُؤْمَرُ الْمُصَلِّي أَنْ يَدْرَأَ عَنِ الْمَمَرِّ بَيْنَ يَدَيْهِ

৬৯৭

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ يُصَلِّي فَلاَ يَدَعْ أَحَدًا يَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ وَلْيَدْرَأْهُ مَا اسْتَطَاعَ فَإِنْ أَبَى فَلْيُقَاتِلْهُ فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَانٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬৯৭. আল-কানবী ..... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ নামাযে রত অবস্থায় তার সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীকে যথাসাধ্য বাধা দিবে। যদি সে বাধা উপেক্ষা করে তবে তার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। কারণ সে একটা শয়তান।*

* ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) ও অধিকাংশ আলেমের মতে নামাযীর সম্মুখ দিয়ে গমন করা নিন্দনীয়। তবে নামাযরত ব্যক্তি গমনকারীর সাথে ঝগড়া-বিবাদ না করে বরং চুপ থাকাই বাঞ্ছনীয়। – (অনুবাদক)

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৬৯৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيُصَلِّ إِلَى سُتْرَةٍ وَلْيَدْنُ مِنْهَا " . ثُمَّ سَاقَ مَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬৯৮. মুহাম্মাদ ইবনুল-আলা ...... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ নামায পড়ার সময় যেন সুতরার নিকটবর্তী স্থানে দাঁড়ায়। অতঃপর রাবী পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থের (হাদীস) বর্ণনা করেছেন।
৬৯৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُرَيْجٍ الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، أَخْبَرَنَا مَسَرَّةُ بْنُ مَعْبَدٍ اللَّخْمِيُّ، - لَقِيتُهُ بِالْكُوفَةِ - قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو عُبَيْدٍ، حَاجِبُ سُلَيْمَانَ قَالَ رَأَيْتُ عَطَاءَ بْنَ يَزِيدَ اللَّيْثِيَّ قَائِمًا يُصَلِّي فَذَهَبْتُ أَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ فَرَدَّنِي ثُمَّ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ لاَ يَحُولَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ قِبْلَتِهِ أَحَدٌ فَلْيَفْعَلْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৬৯৯. আহমদ ইবনে আবু শুরায়হ (সুরায়জ) আর-রাযী ..... আবু উবাইেদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আতা ইবনে ইয়াযীদকে দাঁড়িয়ে নামায পড়তে দেখি। আমি তাঁর সামনে দিয়ে অতিক্রমকালে তিনি আমাকে বাধা দিয়ে বলেন, আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্যে যে নামাযী এরূপ ক্ষমতা রাখে যে, সে তার ও কিবলার মাঝখান দিয়ে কোন ব্যক্তিকে যেতে দেবে না- তবে সে যেন তাই করে।

৭০০

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُغِيرَةِ - عَنْ حُمَيْدٍ، - يَعْنِي ابْنَ هِلاَلٍ - قَالَ قَالَ أَبُو صَالِحٍ أُحَدِّثُكَ عَمَّا رَأَيْتُ مِنْ أَبِي سَعِيدٍ وَسَمِعْتُهُ مِنْهُ، دَخَلَ أَبُو سَعِيدٍ عَلَى مَرْوَانَ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ إِلَى شَىْءٍ يَسْتُرُهُ مِنَ النَّاسِ فَأَرَادَ أَحَدٌ أَنْ يَجْتَازَ بَيْنَ يَدَيْهِ فَلْيَدْفَعْ فِي نَحْرِهِ فَإِنْ أَبَى فَلْيُقَاتِلْهُ فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَانٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: قَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ: يَمُرُّ الرَّجُلُ يَتَبَخْتَرُ بَيْنَ يَدَيَّ وَأَنَا أُصَلِّي فَأَمْنَعُهُ وَيَمُرُّ الضَّعِيفُ فَلَا أَمْنَعُهُ

বর্ণনাকারী: আবু সালিহ সাম্মান (রহঃ)

৭০০. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আবু সালেহ্ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু সাঈদ (রাযিঃ) হতে আমি যা শুনেছি ও দেখেছি তা তোমার নিকট বর্ণনা করব। আবু সাঈদ (রাযিঃ) মারওয়ানের নিকট তিনি গেলে বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যখন কোন বস্তু সামনে রেখে নামাযে রত হয়, তখন তা তার জন্য পর্দা হিসাবে গণ্য হয়। এমতাবস্থায় যদি কোন ব্যক্তি তার সামনে অতিক্রম করতে চায়, তবে সে যেন তাকে ইশারায় বাধা দেয়। অতিক্রমকারী যদি ইশারার প্রতি ভ্রক্ষেপ না করে তবে সে যেন তার সাথে যুদ্ধ করে। কেননা সে একটা শয়তান।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১১৫. নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করা নিষেধ।

باب مَا يُنْهَى عَنْهُ مِنَ الْمُرُورِ بَيْنَ يَدَىِ الْمُصَلِّي

৭০১

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ خَالِدٍ الْجُهَنِيَّ، أَرْسَلَهُ إِلَى أَبِي جُهَيْمٍ يَسْأَلُهُ مَاذَا سَمِعَ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَارِّ بَيْنَ يَدَىِ الْمُصَلِّي فَقَالَ أَبُو جُهَيْمٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ يَعْلَمُ الْمَارُّ بَيْنَ يَدَىِ الْمُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ لَكَانَ أَنْ يَقِفَ أَرْبَعِينَ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ " . قَالَ أَبُو النَّضْرِ لاَ أَدْرِي قَالَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا أَوْ سَنَةً .

বর্ণনাকারী: বুসর ইবনে সাঈদ (রহঃ)

৭০১. আল্-কানবী .... বুসর ইবনে সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা যায়দ ইবনে খালিদ আল-জুহানী (রাযিঃ) তাকে আবু জুহায়েম (রাযিঃ) এর নিকট এইজন্য প্রেরণ করেন যে, তিনি যেন তাকে জিজ্ঞাসা করেন- রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নামাযীর সম্মুখভাগ দিয়ে গমনকারীর সম্পর্কে কি বলেছেন?

আবু জুহায়েম (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ নামাযীর সম্মুখভাগ দিয়ে গমনকারী যদি তার গুনাহ সম্পর্কে অবগত থাকত, তবে সে নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার পরিবর্তে সেখানে চল্লিশ (বছর) পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে ভাল মনে করত।

রাবী আবু নাদর বলেন, বর্ণনাকারী (বুসর) চল্লিশ দিন, বা মাস অথবা বছর বলেছেন- তা আমি অবগত নই।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১১৬. যে জিনিসের কারণে নামায নষ্ট হয়।

باب مَا يَقْطَعُ الصَّلاَةَ

৭০২

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ مُطَهَّرٍ، وَابْنُ، كَثِيرٍ - الْمَعْنَى - أَنَّ سُلَيْمَانَ بْنَ الْمُغِيرَةِ، أَخْبَرَهُمْ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، - قَالَ حَفْصٌ - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالاَ عَنْ سُلَيْمَانَ قَالَ أَبُو ذَرٍّ " يَقْطَعُ صَلاَةَ الرَّجُلِ - إِذَا لَمْ يَكُنْ بَيْنَ يَدَيْهِ قِيدُ آخِرَةِ الرَّحْلِ الْحِمَارُ وَالْكَلْبُ الأَسْوَدُ وَالْمَرْأَةُ " . فَقُلْتُ مَا بَالُ الأَسْوَدِ مِنَ الأَحْمَرِ مِنَ الأَصْفَرِ مِنَ الأَبْيَضِ فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِي سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا سَأَلْتَنِي فَقَالَ " الْكَلْبُ الأَسْوَدُ شَيْطَانٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৭০২. হাফস ইবনে উমর ..... আবু যর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ নামায নষ্ট করে দেয় অথবা নামাযীর নামায ঐ সময় নষ্ট হয়-যখন তার সামনে উটের পিঠের হাওদার পিছন ভাগের কাঠের মতো কোন কিছু না থাকে (অর্থাৎ সুতরা না থাকে) এবং তার সামনে দিয়ে গাধা, কাল কুকুর এবং স্ত্রীলোক গমন করে।

রাবী বলেন, আমি বললাম, কালো কুকুরের কি বিশেষত্ব আছে? যদি লাল, হলুদ ও সাদা রংয়ের হয় তবে কি হবে? তিনি বলেন, হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি যেরূপ আমাকে প্রশ্ল করলে, আমিও তদ্রূপ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করেছলাম। তিনি বলেনঃ কাল কুকুর হল শয়তান।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৭০৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ زَيْدٍ، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، - رَفَعَهُ شُعْبَةُ - قَالَ " يَقْطَعُ الصَّلاَةَ الْمَرْأَةُ الْحَائِضُ وَالْكَلْبُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَفَهُ سَعِيدٌ وَهِشَامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭০৩. মুসাদ্দাদ ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঋতুবতী মহিলা ও কুকুর নামাযীর সম্মুখ দিয়ে গমন করলে তার নামায নষ্ট হয়ে যায়।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৭০৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مُعَاذٌ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَحْسَبُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ إِلَى غَيْرِ سُتْرَةٍ فَإِنَّهُ يَقْطَعُ صَلاَتَهُ الْكَلْبُ وَالْحِمَارُ وَالْخِنْزِيرُ وَالْيَهُودِيُّ وَالْمَجُوسِيُّ وَالْمَرْأَةُ وَيُجْزِئُ عَنْهُ إِذَا مَرُّوا بَيْنَ يَدَيْهِ عَلَى قَذْفَةٍ بِحَجَرٍ " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «فِي نَفْسِي مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ شَيْءٌ كُنْتُ أُذَاكِرُ بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَغَيْرَهُ فَلَمْ أَرَ أَحَدًا جَاءَ بِهِ عَنْ هِشَامٍ وَلَا يَعْرِفُهُ، وَلَمْ أَرَ أَحَدًا يُحَدِّثُ بِهِ عَنْ هِشَامٍ وَأَحْسَبُ الْوَهْمَ مِنَ ابْنِ أَبِي سَمِينَةَ يَعْنِي مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ الْبَصْرِيَّ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ، وَالْمُنْكَرُ فِيهِ ذِكْرُ الْمَجُوسِيِّ، وَفِيهِ عَلَى قَذْفَةٍ بِحَجَرٍ، وَذِكْرُ الْخِنْزِيرِ، وَفِيهِ [ص:188] نَكَارَةٌ» ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «وَلَمْ أَسْمَعْ هَذَا الْحَدِيثَ إِلَّا مِنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي سَمِينَةَ وَأَحْسَبُهُ وَهِمَ لِأَنَّهُ كَانَ يُحَدِّثُنَا مِنْ حِفْظِهِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭০৪. মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন যখন তোমাদের কেউ সুতরা বিহীন অবস্থায় নামায আদায় করে এবং এমতাবস্থায় তার সামনে গাধা, শুকর, ইহুদী, অগ্নি উপাসক, এবং স্ত্রীলোক গমন করলে, তার নামায নষ্ট হয়ে যায়। অপরপক্ষে, প্রস্তর নিক্ষেপের সীমানার বাইরে দিয়ে গমন করলে তাতে নামাযীর নামাযের কোন ক্ষতি হবে না।

৭০৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ مَوْلًى، لِيَزِيدَ بْنِ نِمْرَانَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ نِمْرَانَ، قَالَ رَأَيْتُ رَجُلاً بِتَبُوكَ مُقْعَدًا فَقَالَ مَرَرْتُ بَيْنَ يَدَىِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا عَلَى حِمَارٍ وَهُوَ يُصَلِّي فَقَالَ " اللَّهُمَّ اقْطَعْ أَثَرَهُ " . فَمَا مَشَيْتُ عَلَيْهَا بَعْدُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৭০৫. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান ........... ইয়াযীদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন তাবুক নামক স্হানে আমি এক খোড়া ব্যক্তিকে দেখতে পাই তখন ঐ ব্যক্তি বলে, একদা নবী (ﷺ) নামায আদায়কালে আমি গাধার পিঠে আরোহণ পূর্বক তাঁর সম্মুখ দিয়ে গমন করি তখন তিনি বলেনঃ ইয়া আল্লাহ্! তার চলৎশক্তি রহিত করুন। এরপর থেকে আমার চলার শক্তি রহিত হয়ে যায়।

৭০৬

حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ يَعْنِي الْمَذْحِجِيَّ، حَدَّثَنَا أَبُو حَيْوَةَ، عَنْ سَعِيدٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ زَادَ فَقَالَ " قَطَعَ صَلاَتَنَا قَطَعَ اللَّهُ أَثَرَهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ أَبُو مُسْهِرٍ عَنْ سَعِيدٍ قَالَ فِيهِ " قَطَعَ صَلاَتَنَا " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৭০৬. কাছীর ইবনে উবাইেদ ..... সাঈদ হতে পূর্ববর্তী হাদীসের সূত্রে ও অর্থে এই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তবে তাতে আরও আছে, নবী (ﷺ) বলেনঃ সে আমাদের নামায নষ্ট করেছে কাজেই আল্লাহ্ তার চলৎশক্তি রহিত করুন।
৭০৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، ح حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مُعَاوِيَةُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ غَزْوَانَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ نَزَلَ بِتَبُوكَ وَهُوَ حَاجٌّ فَإِذَا رَجُلٌ مُقْعَدٌ فَسَأَلَهُ عَنْ أَمْرِهِ فَقَالَ لَهُ سَأُحَدِّثُكَ حَدِيثًا فَلاَ تُحَدِّثْ بِهِ مَا سَمِعْتَ أَنِّي حَىٌّ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَزَلَ بِتَبُوكَ إِلَى نَخْلَةٍ فَقَالَ " هَذِهِ قِبْلَتُنَا " . ثُمَّ صَلَّى إِلَيْهَا فَأَقْبَلْتُ وَأَنَا غُلاَمٌ أَسْعَى حَتَّى مَرَرْتُ بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا فَقَالَ " قَطَعَ صَلاَتَنَا قَطَعَ اللَّهُ أَثَرَهُ " . فَمَا قُمْتُ عَلَيْهَا إِلَى يَوْمِي هَذَا .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৭০৭. আহমদ ইবনে সাঈদ ..... সাঈদ ইবনে গাযওয়ান থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি হজ্জব্রত পালনের উদ্দেশ্যে গমনকালে তাবুকে অবতরণ করেন। সেখানে তিনি এক খোঁড়া ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে তার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। ঐ ব্যক্তি বলে, আমি তোমার নিকট এমন একটি বিষয়ের অবতারণা করব যা অন্যের নিকট প্রকাশের যোগ্য নয়। অতঃপর সে বলে, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাবুক একটি খেজুর গাছের নিকট অবতরণের পর বলেনঃ এটা আমাদের জন্য কিবলা বা সুতরা স্বরূপ। অতঃপর তিনি সেদিকে মুখ করে নামায আদায় করেন। তখন আমার বয়স কম থাকায় আমি তাঁর ও খেজুর গাছের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে দৌড়িয়ে যাই। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ সে আমাদের নামায নষ্ট করেছে, কাজেই আল্লাহ্ তার চলার শক্তি রহিত করুক। অতঃপর আমি আজ পর্যন্ত আর দাঁড়াতে সক্ষম হই নি।

১১৭. ইমামের সুতরা মুক্তাদীর জন্য যথেষ্ট।

باب سُتْرَةُ الإِمَامِ سُتْرَةُ مَنْ خَلْفَهُ

৭০৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ الْغَازِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ هَبَطْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ ثَنِيَّةِ أَذَاخِرَ فَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ - يَعْنِي - فَصَلَّى إِلَى جِدَارٍ فَاتَّخَذَهُ قِبْلَةً وَنَحْنُ خَلْفَهُ فَجَاءَتْ بَهْمَةٌ تَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ فَمَا زَالَ يُدَارِئُهَا حَتَّى لَصِقَ بَطْنُهُ بِالْجِدَارِ وَمَرَّتْ مِنْ وَرَائِهِ . أَوْ كَمَا قَالَ مُسَدَّدٌ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

৭০৮. মুসাদ্দাদ ..... আমর ইবনে শুআয়েব থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা এবং পিতার দাদা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে (মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী) আযাখির উপত্যকায় অবতরণ করি নামাযের সময় উপনীত হলে তিনি একটি দেওয়ালের নিকটবর্তী হয়ে তা সুতরা হিসেবে ধরে নামায আদায় করেন। এ সময় একটি চতুষ্পদ শুকর শাবক তাঁর সম্মুখ দিয়ে যেতে চাইলে তিনি তাকে এমনভাবে বাধা দেন যে, তাঁর পেট দেওয়ালের সাথে লেগে যায়। অতঃপর শাবকটি তাঁর পেছন দিক দিয়ে (অথবা দেওয়ালের অপর পাশ দিয়ে) যায়।

৭০৯

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَحَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْجَزَّارِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي فَذَهَبَ جَدْىٌ يَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ فَجَعَلَ يَتَّقِيهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭০৯. সুলাইমান ইবনে হারব্ ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নামায আদায়কালে একটি বকরীর বাচ্চা তাঁর সম্মুখ দিয়ে যেতে চাইলে তিনি তাকে বাঁধা দেন।

১১৮. মহিলারা নামাযের সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে নামায নষ্ট না হওয়ার বর্ণনা।

باب مَنْ قَالَ الْمَرْأَةُ لاَ تَقْطَعُ الصَّلاَةَ

৭১০

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ بَيْنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ - قَالَ شُعْبَةُ أَحْسَبُهَا قَالَتْ - وَأَنَا حَائِضٌ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الزُّهْرِيُّ وَعَطَاءٌ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ حَفْصٍ وَهِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ وَعِرَاكُ بْنُ مَالِكٍ وَأَبُو الأَسْوَدِ وَتَمِيمُ بْنُ سَلَمَةَ كُلُّهُمْ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ وَإِبْرَاهِيمُ عَنِ الأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ وَأَبُو الضُّحَى عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ وَالْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ وَأَبُو سَلَمَةَ عَنْ عَائِشَةَ لَمْ يَذْكُرُوا " وَأَنَا حَائِضٌ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭১০. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) নামায পড়াকালে আমি তাঁর ও বিছানার মাঝখানে ছিলাম। শো’বার বর্ণনায় আছে, সন্তবতঃ আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, এ সময় আমি ঋতুবতী ছিলাম। এ হাদীস আয়িশা (রাযিঃ) হতে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, এবং কোন কোন বর্ণনায় “আমি ঋতুবতী ছিলাম” এক কথার উল্লেখ নেই।
৭১১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي صَلاَتَهُ مِنَ اللَّيْلِ وَهِيَ مُعْتَرِضَةٌ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ رَاقِدَةً عَلَى الْفِرَاشِ الَّذِي يَرْقُدُ عَلَيْهِ حَتَّى إِذَا أَرَادَ أَنْ يُوتِرَ أَيْقَظَهَا فَأَوْتَرَتْ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭১১. আহমদ ইবনে ইউনুস .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রাতে নামায পাঠকালে (আয়িশা) তাঁর বিছানায় নবী (ﷺ) ও কিবলার মধ্যবর্তী স্থানে ঘুমিয়ে থাকতেন।* অতঃপর যখন বিতরের নামায আদায়ের সংকল্প করতেন, তখন তাকে জাগ্রত করলে- তিনি বিতরের নামায পড়তেন।

* নবী (ﷺ) আয়েশা (রাযিঃ)-এর সাথে যে হুজরায় বসবাস করতেন তা এত সংকীর্ণ ছিল যে, দুইজনের শয়ন স্থান ব্যতীত সেখানে অতিরিক্ত কোন জায়গা ছিল না। ফলে তিনি এইরূপে নামায আদায় করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৭১২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ سَمِعْتُ الْقَاسِمَ، يُحَدِّثُ عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ بِئْسَمَا عَدَلْتُمُونَا بِالْحِمَارِ وَالْكَلْبِ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَأَنَا مُعْتَرِضَةٌ بَيْنَ يَدَيْهِ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَسْجُدَ غَمَزَ رِجْلِي فَضَمَمْتُهَا إِلَىَّ ثُمَّ يَسْجُدُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭১২. মুসাদ্দাদ ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এটা খুবই পরিতাপের বিষয় যে, তোমরা নামায নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে আমাদেরকে গাঁধা ও কুকুরের পর্যায়ভূক্ত করেছ। পক্ষান্তরে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এরূপ অবস্থায় নামায আদায় করতে দেখেছি যে, আমি তার সম্মুখে শুয়ে থাকতাম, তখন তিনি আমার পায়ে খোঁচা দিলে আমি পা টেনে নিতাম এবং তিনি সিজদায় যেতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৭১৩

حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ النَّضْرِ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ كُنْتُ أَكُونُ نَائِمَةً وَرِجْلاَىَ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَسْجُدَ ضَرَبَ رِجْلَىَّ فَقَبَضْتُهُمَا فَسَجَدَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭১৩. আসিম ইবনুন-নাদর ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে নফল নামায পড়াকালে- নিদ্রিত অবস্থায় আমার পদযুগল তাঁর সম্মুখে থাকত। অতঃপর তিনি যখন সিজদায় যাওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি আমার পায়ে খোঁচা দিতেন এবং আমি পা সরিয়ে নেয়ার পর তিনি সিজদা করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৭১৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، ح قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ وَهَذَا لَفْظُهُ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتْ كُنْتُ أَنَامُ وَأَنَا مُعْتَرِضَةٌ، فِي قِبْلَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَيُصَلِّي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَمَامَهُ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يُوتِرَ . زَادَ عُثْمَانُ غَمَزَنِي ثُمَّ اتَّفَقَا فَقَالَ " تَنَحَّىْ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭১৪. উছমান ইবনে আবি শাঈবা .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রাতে নফল নামায পাঠকালে আমি তার সামনে কিবলার দিকে শুয়ে থাকতাম। অতঃপর যখন তিনি বিতরের নামায পড়ার ইচ্ছা করতেন তখন তিনি আমাকে পা সরানোর জন্য খোঁচা দিতেন।

রাবী উছমানের বর্ণনায় “খোঁচা দেয়া” শব্দটি উল্লেখ আছে।

১১৯. নামাযীর সামনে দিয়ে গাধা অতিক্রম করলে নামাযের কোন ক্ষতি হয় না।

باب مَنْ قَالَ الْحِمَارُ لاَ يَقْطَعُ الصَّلاَةَ

৭১৫

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جِئْتُ عَلَى حِمَارٍ ح وَحَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَقْبَلْتُ رَاكِبًا عَلَى أَتَانٍ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ، قَدْ نَاهَزْتُ الاِحْتِلاَمَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بِالنَّاسِ بِمِنًى فَمَرَرْتُ بَيْنَ يَدَىْ بَعْضِ الصَّفِّ فَنَزَلْتُ فَأَرْسَلْتُ الأَتَانَ تَرْتَعُ وَدَخَلْتُ فِي الصَّفِّ فَلَمْ يُنْكِرْ ذَلِكَ أَحَدٌ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا لَفْظُ الْقَعْنَبِيِّ وَهُوَ أَتَمُّ . قَالَ مَالِكٌ وَأَنَا أَرَى ذَلِكَ وَاسِعًا إِذَا قَامَتِ الصَّلاَةُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭১৫. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার কাছাকাছি সময়ে একদিন গাধীর পিঠে আরোহণ করে মিনায় যাই যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সেখানে নামাযের ইমামতি করছিলেন। তখন আমি নামাযীদের কাতারের সামনে দিয়ে অতিক্রম করি আমি আমার গাধীকে বিচরণের জন্য ছেড়ে দিয়ে নামাযের কাতারে শামিল হই। এ সময় কেউই আমাকে এ কাজের জন্য নিষেধ করেনি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৭১৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْجَزَّارِ، عَنْ أَبِي الصَّهْبَاءِ، قَالَ تَذَاكَرْنَا مَا يَقْطَعُ الصَّلاَةَ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ فَقَالَ جِئْتُ أَنَا وَغُلاَمٌ مِنْ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَلَى حِمَارٍ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فَنَزَلَ وَنَزَلْتُ وَتَرَكْنَا الْحِمَارَ أَمَامَ الصَّفِّ فَمَا بَالاَهُ وَجَاءَتْ جَارِيَتَانِ مِنْ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَدَخَلَتَا بَيْنَ الصَّفِّ فَمَا بَالَى ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭১৬. মুসাদ্দাদ .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি এবং বনী আব্দুল মুত্তালিবের এক যুবক গাধার পিঠে আরোহণ করে ঐ স্থানে গমন করি যেখানে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নামাযের ইমামতি করছিলেন। আমরা আমাদের গাধাকে বিচরণের জন্য কাতারের সামনে ছেড়ে দেই এবং তাতে তিনি কোন আপত্তি করেন নি। এ সময় সেখানে বনী আব্দুল মুত্তালিবের দুই যুবতী এসে নামাযের কাতারের মধ্যে প্রবেশ করে এবং তাতেও তিনি কোন আপত্তি করেন নি।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৭১৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَدَاوُدُ بْنُ مِخْرَاقٍ الْفِرْيَابِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ بِإِسْنَادِهِ قَالَ فَجَاءَتْ جَارِيَتَانِ مِنْ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ اقْتَتَلَتَا فَأَخَذَهُمَا - قَالَ عُثْمَانُ فَفَرَّعَ بَيْنَهُمَا وَقَالَ دَاوُدُ - فَنَزَعَ إِحْدَاهُمَا مِنَ الأُخْرَى فَمَا بَالَى ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: মানসুর ইবনে মু'তামির (রহঃ)

৭১৭. উছমান ইবনে আবি শাঈবা .... মানসুর হতে একই সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, এ সময় সেখানে বনী আব্দুল মুত্তালিবের দুই যুবতী ঝগড়া রত অবস্হায় এসে উপস্থিত হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের ধরে ফেলেন অথবা পৃথক করে দেন এবং এরূপ করা দূষনীয় মনে করেননি।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১২০. নামাযীর সামনে দিয়ে কুকুর গেলে নামাযের ক্ষতি হয় না।

باب مَنْ قَالَ الْكَلْبُ لاَ يَقْطَعُ الصَّلاَةَ

৭১৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عَبَّاسِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ فِي بَادِيَةٍ لَنَا وَمَعَهُ عَبَّاسٌ فَصَلَّى فِي صَحْرَاءَ لَيْسَ بَيْنَ يَدَيْهِ سُتْرَةٌ وَحِمَارَةٌ لَنَا وَكَلْبَةٌ تَعْبَثَانِ بَيْنَ يَدَيْهِ فَمَا بَالَى ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: ফযল ইবনে আব্বাস (রাঃ)

৭১৮. আব্দুল মালিক ইবনে শুআয়ব ..... আল-ফাদল-ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের নিকট আসেন। আমরা তখন আমাদের জঙ্গলে ছিলাম। আব্বাস (রাযিঃ)-ও তাঁর সাথে ছিলেন। অতঃপর ঐ জঙ্গলে সুতরাবিহীন অবস্থায় নামায পড়েন যখন তাঁর সামনে আমাদের গাধা ও কুকুর দৌড়দৌড়ি করছিল কিন্তু এটাকে তিনি আপত্তিকর মনে করেন নি।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১২১. কোন কিছুই সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে নামায নষ্ট হয় না।

باب مَنْ قَالَ لاَ يَقْطَعُ الصَّلاَةَ شَىْءٌ

৭১৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ أَبِي الْوَدَّاكِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَقْطَعُ الصَّلاَةَ شَىْءٌ وَادْرَءُوا مَا اسْتَطَعْتُمْ فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَانٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭১৯. মুহাম্মাদ ইবনুল-আলা ..... আবু সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ কোন নামাযীর সম্মুখ দিয়ে যাওয়ার কারণে নামাযের কোন ক্ষতি হয় না, তবে তোমরা সাধ্যানুযায়ী এরূপ করতে বাধা দেবে। কেননা (নামাযীর সামনে দিয়ে) গমনকারী একটা শয়তান।

৭২০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا مُجَالِدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَدَّاكِ، قَالَ مَرَّ شَابٌّ مِنْ قُرَيْشٍ بَيْنَ يَدَىْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَهُوَ يُصَلِّي فَدَفَعَهُ ثُمَّ عَادَ فَدَفَعَهُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ إِنَّ الصَّلاَةَ لاَ يَقْطَعُهَا شَىْءٌ وَلَكِنْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ادْرَءُوا مَا اسْتَطَعْتُمْ فَإِنَّهُ شَيْطَانٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ إِذَا تَنَازَعَ الْخَبَرَانِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نُظِرَ إِلَى مَا عَمِلَ بِهِ أَصْحَابُهُ مِنْ بَعْدِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭২০. মুসাদ্দাদদ ..... আবুল-ওয়াদ্দাক বলেন, আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) নামায আদায়ের সময় তার সামনে দিয়ে এক ব্যক্তি গমন করতে চাইলে তিনি তাকে বাধা দেন। পুনঃ ঐ ব্যক্তি যেতে চাইলে তিনি আবারও তাকে বাধা দেন। এইরূপে তিনি তিন বার তাকে বাধা দেন। অতঃপর তিনি নামায শেষে বলেন, (নামাযের সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী) কোন কিছুই নামায নষ্ট করতে পারে না। তবে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ নামাযের সামনে দিয়ে গমনকারীকে তোমরা যথাসম্ভব বাধা দিবে। কেননা সে একটি শয়তান।

১২২. রাফউল ইয়াদাইন (নামাযের মধ্যে উভয় হাত উপরে উঠানো)

باب رَفْعِ الْيَدَيْنِ فِي الصَّلاَةِ

৭২১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَفْتَحَ الصَّلاَةَ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ وَبَعْدَ مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ - وَقَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ . وَأَكْثَرُ مَا كَانَ يَقُولُ وَبَعْدَ مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ - وَلاَ يَرْفَعُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭২১. আহমদ ইবনে হাম্বল .... সালেম থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে নামায আরম্ভ করার সময় তার দুহাত স্বীয় কাঁধ পর্যন্ত উঠাতে দেখেছি। অনুরূপভাবে এবং রুকূ করার সময় এবং রুকূ হতে মাথা উঠানোর পরও তাকে হাত উঠাতে দেখেছি। কিন্তু তিনি দুই সিজদার মাঝে হাত উঠাতেন না।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৭২২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنَا الزُّبَيْدِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى تَكُونَا حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ ثُمَّ كَبَّرَ وَهُمَا كَذَلِكَ فَيَرْكَعُ ثُمَّ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْفَعَ صُلْبَهُ رَفَعَهُمَا حَتَّى تَكُونَا حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ ثُمَّ قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ وَلاَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي السُّجُودِ وَيَرْفَعُهُمَا فِي كُلِّ تَكْبِيرَةٍ يُكَبِّرُهَا قَبْلَ الرُّكُوعِ حَتَّى تَنْقَضِيَ صَلاَتُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭২২. ইবনুল মুসাফফা আল-হিমসী ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নামাযে দাঁড়ানোর সময় নিজের দুই হাত কান পর্যন্ত উঠাতেন। তাকবীর বলে রুকুতে যেতেন এবং দুই হাতের উপরে তুলতেন। রুকূ হতে উঠার সময়ও স্বীয় উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়ে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলতেন। তিনি সিজদার মধ্যে হাত উঠাতেন না এবং প্রত্যেক রুকূর জন্য তাকবীর বলার সময় হাত উঠাতেন এবং এইরূপে নামায শেষ করতেন।

৭২৩

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ الْجُشَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ كُنْتُ غُلاَمًا لاَ أَعْقِلُ صَلاَةَ أَبِي قَالَ فَحَدَّثَنِي وَائِلُ بْنُ عَلْقَمَةَ عَنْ أَبِي وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ إِذَا كَبَّرَ رَفَعَ يَدَيْهِ - قَالَ - ثُمَّ الْتَحَفَ ثُمَّ أَخَذَ شِمَالَهُ بِيَمِينِهِ وَأَدْخَلَ يَدَيْهِ فِي ثَوْبِهِ قَالَ فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ أَخْرَجَ يَدَيْهِ ثُمَّ رَفَعَهُمَا وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ رَفَعَ يَدَيْهِ ثُمَّ سَجَدَ وَوَضَعَ وَجْهَهُ بَيْنَ كَفَّيْهِ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ أَيْضًا رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى فَرَغَ مِنْ صَلاَتِهِ . قَالَ مُحَمَّدٌ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلْحَسَنِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ فَقَالَ هِيَ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَلَهُ مَنْ فَعَلَهُ وَتَرَكَهُ مَنْ تَرَكَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ هَمَّامٌ عَنِ ابْنِ جُحَادَةَ لَمْ يَذْكُرِ الرَّفْعَ مَعَ الرَّفْعِ مِنَ السُّجُودِ .

বর্ণনাকারী: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৭২৩. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে উমর ..... আবু ওয়ায়েল ইবনে হূজর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে নামায আদায় করি তাকবীর বলার সময় নিজের দুই হাত উঠাতেন, পরে তিনি তার হাত কাপড়ের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরতেন। রাবী বলেন, অতঃপর যখন রুকূর ইরাদা করেন, তখন স্বীয় হাত দু’খানা বের করে উপরে উঠাতেন। তিনি রুকু হতে মাথা উঠানোর সময়ও দুই হাত উপরে উঠান। অতঃপর তিনি সিজদায় যান এবং স্বীয় চেহারা দুই হাতের তালুর মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপন করেন। অতঃপর তিনি সিজদা হতে মাথা উঠাবার সময়ও স্বীয় হাত দুইখানা উত্তোলন করেন। এভাবে তিনি তাঁর নামায শেষ করেন। রাবী মুহাম্মাদ বলেন, এ সম্পর্কে আমি হাসান ইবনে আবুল হাসানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এমনি ছিল রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামায আদায়ের নিয়ম। যে ব্যক্তি এর অনুসরণ করেছে, সে তো করেছে এবং যে ব্যক্তি তা ত্যাগ করেছে- সে তো তা ত্যাগ করেছে।

৭২৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ النَّخَعِيِّ، عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ أَبْصَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حِينَ قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى كَانَتَا بِحِيَالِ مَنْكِبَيْهِ وَحَاذَى بِإِبْهَامَيْهِ أُذُنَيْهِ ثُمَّ كَبَّرَ .

বর্ণনাকারী: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৭২৫. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আব্দুল জব্বার ইবনে ওয়ায়েল থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তাঁর পিতা নবী (ﷺ) নামাযে দণ্ডায়মান হয়ে স্বীয় হস্তদ্বয় কাঁধ পর্যন্ত এবং বৃদ্ধাগুলিদ্বয় কান পর্যন্ত উঠিয়ে তাকবীর বলতে দেখেছেন।

৭২৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ زُرَيْعٍ - حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ وَائِلٍ، حَدَّثَنِي أَهْلُ، بَيْتِي عَنْ أَبِي أَنَّهُ، حَدَّثَهُمْ أَنَّهُ، رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْفَعُ يَدَيْهِ مَعَ التَّكْبِيرَةِ .

বর্ণনাকারী: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৭২৪. মুসাদ্দাদ ....... আব্দুল জব্বার ইবনে ওয়ায়েল বলেন, আমার পরিবারের লোকেরা আমার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আমার পিতা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে তাকবীর বলার সময় দুই হাত উঠাতে দেখেছেন।

৭২৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ قُلْتُ لأَنْظُرَنَّ إِلَى صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ يُصَلِّي قَالَ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ فَكَبَّرَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى حَاذَتَا أُذُنَيْهِ ثُمَّ أَخَذَ شِمَالَهُ بِيَمِينِهِ فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ رَفَعَهُمَا مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ وَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ رَفَعَهُمَا مِثْلَ ذَلِكَ فَلَمَّا سَجَدَ وَضَعَ رَأْسَهُ بِذَلِكَ الْمَنْزِلِ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ ثُمَّ جَلَسَ فَافْتَرَشَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى وَحَدَّ مِرْفَقَهُ الأَيْمَنَ عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى وَقَبَضَ ثِنْتَيْنِ وَحَلَّقَ حَلْقَةً وَرَأَيْتُهُ يَقُولُ هَكَذَا . وَحَلَّقَ بِشْرٌ الإِبْهَامَ وَالْوُسْطَى وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ .

বর্ণনাকারী: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৭২৬. মুসাদ্দাদ ..... ওয়ায়েল ইবনে হুজর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামায পড়ার নিয়ম দেখাব। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে তাকবীর বলে নিজের উভয় হাত কান পর্যন্ত উত্তোলন করেন। অতঃপর তিনি স্বীয় বাম হাত ডান হাত দিয়ে ধরেন এবং রুকূ করার সময় উভয় হাত ঐরূপ উত্তোলন করেন। অতঃপর তিনি তাঁর দুই হাত দুই হাটুর উপর রাখেন। রুকূ হতে মাথা উঠাবার সময় তিনি উভয় হাত তদ্রূপ উত্তোলন করেন। অতঃপর তিনি সিজদায় স্বীয় মাথা দুই হাতের মধ্যবর্তী স্থানে রাখেন এবং বাম পা বিছিয়ে বসেন। অতঃপর তিনি তাঁর বাম হাত বাম রানের উপর এবং ডান হাত ডান রানের উপর বিচ্ছিন্নভাবে রাখেন। পরে তিনি স্বীয় ডান হাতের কনিষ্ঠ ও অনামিকা অঙ্গুলিদ্বয় আব্দ্ধ করে রাখেন এবং মধ্যমা ও বৃদ্ধাংগুলি বৃত্তাকার করেন এবং শাহাদাত অঙ্গুলি (তর্জনী) দ্বারা ইাশারা করেন।

আমি তাদেরকে এভাবে বলতে দেখেছি। আর বিশর নিজের মধ্যমা ও বৃদ্ধাগুলি দ্বারা বৃত্ত করেন এবং তর্জনী দ্বারা ইশারা করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৭২৭

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ قَالَ فِيهِ ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى ظَهْرِ كَفِّهِ الْيُسْرَى وَالرُّسْغِ وَالسَّاعِدِ وَقَالَ فِيهِ ثُمَّ جِئْتُ بَعْدَ ذَلِكَ فِي زَمَانٍ فِيهِ بَرْدٌ شَدِيدٌ فَرَأَيْتُ النَّاسَ عَلَيْهِمْ جُلُّ الثِّيَابِ تَحَرَّكُ أَيْدِيهِمْ تَحْتَ الثِّيَابِ .

বর্ণনাকারী: আসিম ইবনে কুলাইব (রহঃ)

৭২৭. আল-হাসান ইবনে আলী ..... আসেম থেকে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) স্বীয় ডান হাত দ্বারা বাম হাতের কব্জি ও এর জোরে আকড়িয়ে ধরেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমি কিছুদিন পর সেখানে গিয়ে দেখতে পাই যে, সাহাবায়ে কিরাম অত্যধিক শীতের কারণে শরীর আবৃত করে রেখেছেন। এবং তাদের হাতগুলো স্ব-স্ব কাপড়ের মধ্যে নড়াচড়া করছে।

৭২৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حِينَ افْتَتَحَ الصَّلاَةَ رَفَعَ يَدَيْهِ حِيَالَ أُذُنَيْهِ - قَالَ - ثُمَّ أَتَيْتُهُمْ فَرَأَيْتُهُمْ يَرْفَعُونَ أَيْدِيَهُمْ إِلَى صُدُورِهُمْ فِي افْتِتَاحِ الصَّلاَةِ وَعَلَيْهِمْ بَرَانِسُ وَأَكْسِيَةٌ .

বর্ণনাকারী: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৭২৮. উছমান ইবনে আবি শাঈবা .... ওয়ায়েল ইবনে হুজর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে নামায শুরুর সময় স্বীয় হস্তদ্বয় নিজের কান পর্যন্ত উঠাতে দেখেছি। রাবী বলেন, কিছু দিন পর আমি পুনরায় সেখানে গিয়ে দেখি যে, সাহাবায়ে কিরাম নামায আরম্ভের সময় তাদের হাতগুলি বুক পর্যন্ত উঠাচ্ছেন। এ সময় তাদের শরীর কোট ও অন্যান্য কাপড় দ্বারা আবৃত ছিল।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১২৩. নামায শুরু করার বর্ণনা।

باب افْتِتَاحِ الصَّلاَةِ

৭২৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي الشِّتَاءِ فَرَأَيْتُ أَصْحَابَهُ يَرْفَعُونَ أَيْدِيَهُمْ فِي ثِيَابِهِمْ فِي الصَّلاَةِ .

বর্ণনাকারী: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৭২৯. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান .... ওয়ায়েল ইবনে হুজর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শীতের সময় নবী (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হই। এ সময় আমি দেখি যে, তাঁর সাহাবীগণ নামাযের মধ্যে তাদের কাপড়ের ভিতর থেকে নিজ নিজ হাত উত্তোলন করছিলেন।
৭৩০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - وَهَذَا حَدِيثُ أَحْمَدَ قَالَ - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حُمَيْدٍ السَّاعِدِيَّ، فِي عَشْرَةٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ أَبُو قَتَادَةَ قَالَ أَبُو حُمَيْدٍ أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالُوا فَلِمَ فَوَاللَّهِ مَا كُنْتَ بِأَكْثَرِنَا لَهُ تَبَعًا وَلاَ أَقْدَمَنَا لَهُ صُحْبَةً . قَالَ بَلَى . قَالُوا فَاعْرِضْ . قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ ثُمَّ يُكَبِّرُ حَتَّى يَقِرَّ كُلُّ عَظْمٍ فِي مَوْضِعِهِ مُعْتَدِلاً ثُمَّ يَقْرَأُ ثُمَّ يُكَبِّرُ فَيَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ ثُمَّ يَرْكَعُ وَيَضَعُ رَاحَتَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ ثُمَّ يَعْتَدِلُ فَلاَ يَصُبُّ رَأْسَهُ وَلاَ يُقْنِعُ ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ فَيَقُولُ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . ثُمَّ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ مُعْتَدِلاً ثُمَّ يَقُولُ " اللَّهُ أَكْبَرُ " . ثُمَّ يَهْوِي إِلَى الأَرْضِ فَيُجَافِي يَدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ وَيَثْنِي رِجْلَهُ الْيُسْرَى فَيَقْعُدُ عَلَيْهَا وَيَفْتَحُ أَصَابِعَ رِجْلَيْهِ إِذَا سَجَدَ وَيَسْجُدُ ثُمَّ يَقُولُ " اللَّهُ أَكْبَرُ " . وَيَرْفَعُ رَأْسَهُ وَيَثْنِي رِجْلَهُ الْيُسْرَى فَيَقْعُدُ عَلَيْهَا حَتَّى يَرْجِعَ كُلُّ عَظْمٍ إِلَى مَوْضِعِهِ ثُمَّ يَصْنَعُ فِي الأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ إِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ كَمَا كَبَّرَ عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلاَةِ ثُمَّ يَصْنَعُ ذَلِكَ فِي بَقِيَّةِ صَلاَتِهِ حَتَّى إِذَا كَانَتِ السَّجْدَةُ الَّتِي فِيهَا التَّسْلِيمُ أَخَّرَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَقَعَدَ مُتَوَرِّكًا عَلَى شِقِّهِ الأَيْسَرِ . قَالُوا صَدَقْتَ هَكَذَا كَانَ يُصَلِّي صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আতা (রহঃ)

৭৩০. আহমদ ইবনে হাম্বল .... মুহাম্মাদ ইবনে আমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু হুমায়েদ আস-সাইদী (রাযিঃ)-কে দশজন সাহাবীর উপস্থিতিতে যাদের মধ্যে আবু কাতাদা (রাযিঃ)-ও ছিলেন- বলতে শুনেছিঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নামায সম্পর্কে আপনাদের চেয়ে সমধিক অবগত আছি। তাঁরা বলেন, তা কিরূপে? আল্লাহর শপথ! আপনি তাঁর অনুসরণের ও সাহচর্যের দিক দিয়ে আমাদের চাইতে অধিক অগ্রগামী নন। তিনি বলেন, হ্যাঁ। অতঃপর তারা বলেন, এখন আপনি আপনার বক্তব্য পেশ করুন। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নামাযে দাঁড়াতেন তখন তিনি, তাঁর হস্তদ্বয় কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়ে আল্লাহু আকবার বলে পূর্ণরূপে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। তিনি কিরাআত পাঠের পর তাকবীর বলে রুকূতে যাওয়ার সময় আল্লাহু আকবার বলে নিজের উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। রুকূতে গিয়ে তিনি দুই হাতের তালু দ্বারা হাঁটুদ্বয় মজবুতভাবে ধরতেন।

অতঃপর তিনি এমনভাবে রুকু করতেন যে, তাঁর মাথা পিঠের সাথে সমান্তরাল থাকত। অতঃপর তিনি মাথা উঠিয়ে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলে স্বীয় উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। পুনরায় আল্লাহু আকবার বলে তিনি সিজদায় গিয়ে উভয় বাহু স্বীয় পাজরের পাশ হতে দূরে সরিয়ে রাখতেন। অতঃপর সিজদা হতে মাথা উঠিয়ে বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসতেন এবং সিজদার সময় পায়ের আঙ্গুলগুলি নরম করে কিবলামুখী করে রাখতেন। তিনি আল্লাহু আকবার বলে (দ্বিতীয়) সিজদা হতে উঠে বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর সোজা হয়ে বসতেন। অতঃপর তিনি সর্বশেষ রাকআতে স্বীয় বাম পা ডান দিকে বের করে দিয়ে বাম পাশের পাছার উপর ভর করে বসতেন। তখন তারা সকলে বলেন, হ্যাঁ, আপনি ঠিক বলেছেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এই রূপেই নামায আদায় করতেন।*

* ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ)-এর মতানুযায়ী নামাযের মধ্যে তাকবীরে তাহরীমা ব্যতীত আর কোথাও হাত উঠাতে হবে না এবং তাঁর মতের স্বপক্ষে বহু সহীহ হাদীস বর্ণিত আছে। অপর পক্ষে, ইমাম শাফিঈ ও অন্যান্যদের মতে নামাযের মধ্যে তাকবীর তাহরীমা এবং অন্যান্য স্থানেও হাত উঠাতে হবে। - অনুবাদক
৭৩১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي حَبِيبٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو الْعَامِرِيِّ، قَالَ كُنْتُ فِي مَجْلِسٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَذَاكَرُوا صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ فَذَكَرَ بَعْضَ هَذَا الْحَدِيثِ وَقَالَ فَإِذَا رَكَعَ أَمْكَنَ كَفَّيْهِ مِنْ رُكْبَتَيْهِ وَفَرَّجَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ ثُمَّ هَصَرَ ظَهْرَهُ غَيْرَ مُقْنِعٍ رَأْسَهُ وَلاَ صَافِحٍ بِخَدِّهِ وَقَالَ فَإِذَا قَعَدَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ قَعَدَ عَلَى بَطْنِ قَدَمِهِ الْيُسْرَى وَنَصَبَ الْيُمْنَى فَإِذَا كَانَ فِي الرَّابِعَةِ أَفْضَى بِوَرِكِهِ الْيُسْرَى إِلَى الأَرْضِ وَأَخْرَجَ قَدَمَيْهِ مِنْ نَاحِيَةٍ وَاحِدَةٍ .

বর্ণনাকারী: আবু হুমায়দ সায়িদী (রাঃ)

৭৩১. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ..... মুসাদ্দাদ ইবনে আমার আল-আমিরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাহাবায়ে কিরামের মজলিসে উপস্থিত থাকাকালে সেখানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামায সম্পর্কে আলোচনা হয়। তখন আবু হুমায়েদ (রাযিঃ) বলেন অতঃপর রাবী পূর্বোক্ত হাদীসটির কিছু অংশ বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যখন তিনি রুকূ করতেন তখন তাঁর হাতের তালু দ্বারা হাঁটু মজবুতভাবে ধরতেন এবং হাতের আঙ্গুলগুলি পরস্পর বিচ্ছিন্ন রাখতেন এবং এ সময় তিনি স্বীয় মাথা পিঠের সমান্তরালে রাখতেন। রাবী বলেন, অতঃপর যখন তিনি দুই রাকআত নামায আদায়ের পর বসতেন, তখন বাম পায়ের উপর বসতেন এবং ডান পায়ের পাতা দাঁড় করিয়ে রাখতেন। অতঃপর তিনি যখন চতুর্থ রাকআতের পর বসতেন, তখন তিনি নিজের উভয় পা ডান দিকে বের করে দিতেন এবং বাম পাশের নিতম্বের উপর ভর দিয়ে বসতেন।

৭৩২

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيِّ، وَيَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، نَحْوَ هَذَا قَالَ فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَ يَدَيْهِ غَيْرَ مُفْتَرِشٍ وَلاَ قَابِضِهِمَا وَاسْتَقْبَلَ بِأَطْرَافِ أَصَابِعِهِ الْقِبْلَةَ .

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আতা (রহঃ)

৭৩২. ঈসা ইবনে ইবরাহীম আল-মিসরী .... মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আতা হতে হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, তিনি সিজদার সময় স্বীয় হস্তদ্বয় বিছানার মত বিছিয়ে দিতেন না এবং শরীরের সাথে একেবারে মিলিয়েও রাখতেন না, বরং মাঝামাঝি অবস্থায় রাখতেন এবং পায়ের আঙ্গুলগুলি কিবলামুখী করে রাখতেন।

৭৩৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَدْرٍ، حَدَّثَنِي زُهَيْرٌ أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الْحُرِّ، حَدَّثَنِي عِيسَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، أَحَدِ بَنِي مَالِكٍ عَنْ عَبَّاسٍ، - أَوْ عَيَّاشِ - بْنِ سَهْلٍ السَّاعِدِيِّ أَنَّهُ كَانَ فِي مَجْلِسٍ فِيهِ أَبُوهُ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَفِي الْمَجْلِسِ أَبُو هُرَيْرَةَ وَأَبُو حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ وَأَبُو أُسَيْدٍ بِهَذَا الْخَبَرِ يَزِيدُ أَوْ يَنْقُصُ قَالَ فِيهِ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ - يَعْنِي مِنَ الرُّكُوعِ - فَقَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ " . وَرَفَعَ يَدَيْهِ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُ أَكْبَرُ " . فَسَجَدَ فَانْتَصَبَ عَلَى كَفَّيْهِ وَرُكْبَتَيْهِ وَصُدُورِ قَدَمَيْهِ وَهُوَ سَاجِدٌ ثُمَّ كَبَّرَ فَجَلَسَ فَتَوَرَّكَ وَنَصَبَ قَدَمَهُ الأُخْرَى ثُمَّ كَبَّرَ فَسَجَدَ ثُمَّ كَبَّرَ فَقَامَ وَلَمْ يَتَوَرَّكْ ثُمَّ سَاقَ الْحَدِيثَ قَالَ ثُمَّ جَلَسَ بَعْدَ الرَّكْعَتَيْنِ حَتَّى إِذَا هُوَ أَرَادَ أَنْ يَنْهَضَ لِلْقِيَامِ قَامَ بِتَكْبِيرَةٍ ثُمَّ رَكَعَ الرَّكْعَتَيْنِ الأُخْرَيَيْنِ وَلَمْ يَذْكُرِ التَّوَرُّكَ فِي التَّشَهُّدِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৭৩৩. আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে ইবরাহীম ...... আব্বাস (রাহঃ) অথবা আইয়াশ ইবনে সাহল (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি সাহাবীদের এক মজলিসে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে তাঁর পিতা এবং আবু হুরায়রা (রাযিঃ), আবু হুমায়েদ আস-সাইদী এবং আবু উসায়েদ (রাযিঃ)-ও উপস্থিত ছিলেন। এই সূত্রে উপোরোক্ত হাদীস কিছুটা হ্রাসবৃদ্ধি সহ বর্ণিত আছে। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি (নবী) রুকূ হতে মাথা উঠিয়ে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ আল্লাহুম্মা রবানা লাকাল হামদ” বলে স্বীয় হস্তদ্বয় উপরে উঠাতেন।

অতঃপর তিনি আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যেতেন এবং হাতের তালু, হাঁটু ও পায়ের পাতার উপর ভর করে সিজদা করতেন। অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে তিনি নিতম্বের উপর ভর করে বসতেন এবং অপর পা-খানি সোজা করে রাখতেন। অতঃপর তাকবীর বলে সিজদা করতেন এবং পুনরায় তাকবীর বলে সিজদা হতে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। তিনি এ সময় আর বসতেন না।

এইরূপে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি (নবী (ﷺ)) দুই রাকআতের পর বসে যখন দাঁড়াতে ইচ্ছা করতেন, তখন আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়াতেন এবং এইভাবে নামাযের শেষের দুই রাকআত সম্পন্ন করতেন। এই বর্ণনায় শেষ বৈঠকেও বাম পাশের পাছার উপর বসার কথা উল্লেখ নাই।
৭৩৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو، أَخْبَرَنِي فُلَيْحٌ، حَدَّثَنِي عَبَّاسُ بْنُ سَهْلٍ، قَالَ اجْتَمَعَ أَبُو حُمَيْدٍ وَأَبُو أُسَيْدٍ وَسَهْلُ بْنُ سَعْدٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ فَذَكَرُوا صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ بَعْضَ هَذَا قَالَ ثُمَّ رَكَعَ فَوَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ كَأَنَّهُ قَابِضٌ عَلَيْهِمَا وَوَتَّرَ يَدَيْهِ فَتَجَافَى عَنْ جَنْبَيْهِ قَالَ ثُمَّ سَجَدَ فَأَمْكَنَ أَنْفَهُ وَجَبْهَتَهُ وَنَحَّى يَدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ وَوَضَعَ كَفَّيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ حَتَّى رَجَعَ كُلُّ عَظْمٍ فِي مَوْضِعِهِ حَتَّى فَرَغَ ثُمَّ جَلَسَ فَافْتَرَشَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَأَقْبَلَ بِصَدْرِ الْيُمْنَى عَلَى قِبْلَتِهِ وَوَضَعَ كَفَّهُ الْيُمْنَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُمْنَى وَكَفَّهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى وَأَشَارَ بِأُصْبُعِهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عُتْبَةُ بْنُ أَبِي حَكِيمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ سَهْلٍ لَمْ يَذْكُرِ التَّوَرُّكَ وَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ فُلَيْحٍ وَذَكَرَ الْحَسَنُ بْنُ الْحُرِّ نَحْوَ جِلْسَةِ حَدِيثِ فُلَيْحٍ وَعُتْبَةَ .

বর্ণনাকারী: আবু হুমায়দ সায়িদী (রাঃ)

৭৩৪. আহমদ ইবনে হাম্বল ..... আব্বাস হাম্বল সাহল বলেন, আবু হুমায়েদ, আবু উসায়েদ, সাহল ইবনে সা’দ এবং মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা (রাযিঃ) কোন এক মজলিসে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নামায আদায়ের ধরণ সম্পর্কে আলোচনা করেন। এ সময় আবু হুমায়েদ (রাযিঃ) বলেন, আমি তোমাদের চাইতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামায সম্পর্কে অধিক অবহিত। অতঃপর কিছু অংশ এখানে বর্ণনা করা হল। রাবী বলেন, অতঃপর নবী (ﷺ) রুকূ করার সময় স্বীয় হস্ত দ্বারা হাঁটু শক্তভাবে আটকিয়ে ধরতেন। অতঃপর তিনি স্বীয় হস্তদ্বয় তাঁর পার্শদেশ থেকে বিছিন্ন করে রাখতেন।

রাবী বলেন, অতঃপর তিনি সিজদার সময় নাক ও কপাল মাটির সাথে মিলিয়ে রাখেন এবং হস্তদ্বয় পাশ হতে দূরে সরিয়ে রাখেন। অতঃপর তিনি এমনভাবে মাথা উঠাতেন যে, শরীরের সমস্ত সংযোগ স্থান স্ব-স্ব স্থানে স্থাপিত হত। অতঃপর বসে তিনি তাঁর বাম পা বিছিয়ে দিতেন এবং ডান পায়ের সম্মুখ ভাগ কিবলামুখী করে রাখতেন এবং ডান হাতের তালু ডান পায়ের উরুর উপর রাখতেন এবং বাম হাত বাম পায়ের উপর এবং তাশাহ্‌হুদ পাঠের সময় শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন।
৭৩৫

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنِي عُتْبَةُ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِيسَى، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ سَهْلٍ السَّاعِدِيِّ، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ وَإِذَا سَجَدَ فَرَّجَ بَيْنَ فَخِذَيْهِ غَيْرَ حَامِلٍ بَطْنَهُ عَلَى شَىْءٍ مِنْ فَخِذَيْهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ الْمُبَارَكِ أَخْبَرَنَا فُلَيْحٌ سَمِعْتُ عَبَّاسَ بْنَ سَهْلٍ يُحَدِّثُ فَلَمْ أَحْفَظْهُ فَحَدَّثَنِيهِ أُرَاهُ ذَكَرَ عِيسَى بْنَ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ سَمِعَهُ مِنْ عَبَّاسِ بْنِ سَهْلٍ قَالَ حَضَرْتُ أَبَا حُمَيْدٍ السَّاعِدِيَّ، بِهَذَا الْحَدِيثِ،

বর্ণনাকারী: আবু হুমায়দ সায়িদী (রাঃ)

৭৩৫. আমর ইবনে উছমান ...... আবু হুমায়েদ (রাযিঃ) হতে পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, যখন তিনি সিজদা করতেন, তখন স্বীয় পেট রান হতে বিচ্ছিন্ন রাখতেন।

৭৩৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ، عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فَلَمَّا سَجَدَ وَقَعَتَا رُكْبَتَاهُ إِلَى الأَرْضِ قَبْلَ أَنْ تَقَعَ كَفَّاهُ - قَالَ - فَلَمَّا سَجَدَ وَضَعَ جَبْهَتَهُ بَيْنَ كَفَّيْهِ وَجَافَى عَنْ إِبْطَيْهِ . قَالَ حَجَّاجٌ وَقَالَ هَمَّامٌ وَحَدَّثَنَا شَقِيقٌ حَدَّثَنِي عَاصِمُ بْنُ كُلَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ هَذَا وَفِي حَدِيثِ أَحَدِهِمَا - وَأَكْبَرُ عِلْمِي أَنَّهُ حَدِيثُ مُحَمَّدِ بْنِ جُحَادَةَ - وَإِذَا نَهَضَ نَهَضَ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَاعْتَمَدَ عَلَى فَخِذَيْهِ .

বর্ণনাকারী: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৭৩৬. মুহাম্মাদ ইবনে মামার ..... আব্দুল জব্বার তাঁর পিতা ওয়ায়েল (রাযিঃ) হতে এবং তিনি নবী (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেন, যখন তিনি সিজদা করতেন, তখন তিনি যমীনের উপর হাত রাখার আগে স্বীয় হাঁটু স্থাপন করতেন। যখন তিনি সিজাদাহ করতেন, তখন স্বীয় দুই হাতের তালুর মধ্যবর্তী স্থানে কপাল রাখতেন এবং হস্তদ্বয় বগল হতে দুরে সরিয়ে রাখতেন।

আসেম ইবনে কুলায়েব তাঁর পিতা হতে এবং তিনি নবী (ﷺ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেন, যথা সম্ভব মুহাম্মাদ ইবনে জাহাদার বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, যখন তিনি দাঁড়াতেন তখন রান ও হাঁটুর উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেন।
৭৩৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ فِطْرٍ، عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرْفَعُ إِبْهَامَيْهِ فِي الصَّلاَةِ إِلَى شَحْمَةِ أُذُنَيْهِ .

বর্ণনাকারী: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৭৩৭. মুসাদ্দাদ .... আব্দুল জারীর ইবনে ওয়ায়েল থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে তাকবীর বলার সময় তাঁর উভয় হাতের বৃদ্ধাংগুলী কানের নিম্নভাগ পর্যন্ত উঠাতে দেখেছি।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৭৩৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَبَّرَ لِلصَّلاَةِ جَعَلَ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا رَكَعَ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ وَإِذَا رَفَعَ لِلسُّجُودِ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ وَإِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ فَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৩৮. আব্দুল মালিক ইবনে শুআয়ব ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন নামাযের জন্য তাকবীরে তাহরীমা বলতেন, তখন স্বীয় উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উত্তোলন করতেন। অতঃপর রুকূতে গমনকালে এবং রুকূ হতে সোজা হবার সময়ও দুই হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন এবং দুই রাকআতের পর যখন দণ্ডায়মান হতেন, তখনও হাত উত্তোলন করতেন।
৭৩৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ أَبِي هُبَيْرَةَ، عَنْ مَيْمُونٍ الْمَكِّيِّ، أَنَّهُ رَأَى عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ وَصَلَّى بِهِمْ يُشِيرُ بِكَفَّيْهِ حِينَ يَقُومُ وَحِينَ يَرْكَعُ وَحِينَ يَسْجُدُ وَحِينَ يَنْهَضُ لِلْقِيَامِ فَيَقُومُ فَيُشِيرُ بِيَدَيْهِ فَانْطَلَقْتُ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَقُلْتُ إِنِّي رَأَيْتُ ابْنَ الزُّبَيْرِ صَلَّى صَلاَةً لَمْ أَرَ أَحَدًا يُصَلِّيهَا فَوَصَفْتُ لَهُ هَذِهِ الإِشَارَةَ فَقَالَ إِنْ أَحْبَبْتَ أَنْ تَنْظُرَ إِلَى صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاقْتَدِ بِصَلاَةِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭৩৯. কুতায়বা ইবনে সাঈদ .... মায়মুন আল-মক্কী হতে বর্ণিত। তিনি আব্দুল্লাহ্ ইবনুয যুবাইর (রাযিঃ)-কে তাদের নামায পড়াতে দেখেন। তিনি দাঁড়ানোর সময় রুকূ হতে সোজা হওয়ার সময় এবং দণ্ডায়মান হওয়ার সময় তাঁর উভয় হাত উত্তোলন করতেন। অতঃপর আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট গিয়ে তাকে ইবনুয যুবায়েরের নামায সম্পর্কে বলি যে, এইরূপে হাত তুলে নামায আদায় করতে আর কাকেও দেখিনি। তখন তিনি বলেন, যদি তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামায আদায়ের পদ্ধতি অবলোকন করতে চাও, তবে ইবনুয যুবায়েরের নামাযের অনুসরণ কর।

সূত্র: আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

৭৪০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ كَثِيرٍ، - يَعْنِي السَّعْدِيَّ - قَالَ صَلَّى إِلَى جَنْبِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ طَاوُسٍ فِي مَسْجِدِ الْخَيْفِ فَكَانَ إِذَا سَجَدَ السَّجْدَةَ الأُولَى فَرَفَعَ رَأْسَهُ مِنْهَا رَفَعَ يَدَيْهِ تِلْقَاءَ وَجْهِهِ فَأَنْكَرْتُ ذَلِكَ فَقُلْتُ لِوُهَيْبِ بْنِ خَالِدٍ فَقَالَ لَهُ وُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ تَصْنَعُ شَيْئًا لَمْ أَرَ أَحَدًا يَصْنَعُهُ فَقَالَ ابْنُ طَاوُسٍ رَأَيْتُ أَبِي يَصْنَعُهُ وَقَالَ أَبِي رَأَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَصْنَعُهُ وَلاَ أَعْلَمُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭৪০. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ...... নাদর ইবনে কাছীর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে তাউস (রাহঃ) খায়েফের মসজিদে আমার পাশে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করেন। তিনি প্রথম সিজদায় গেলেন, অতঃপর সিজদা থেকে মাথা উঠানোকালে মুখমণ্ডল বরাবর উভয় হাত উত্তোলন করলেন। তা আমার নিকট অপছন্দনীয় লাগলে আমি উহায়েব ইবনে খালিদকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি উহায়েব (রাহঃ) আব্দুল্লাহকে বলেন, তুমি এমন একটি কাজ করেছ, যা আমি ইতিপূর্বে আর কাউকে করতে দেখিনি। আব্দুল্লাহ্ ইবনে তাউস (রাহঃ) বলেন, আমি আমার পিতাকে এরূপ করতে দেখিছি এবং আমার পিতা বলেছেন, আমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে এরূপ করতে দেখেছি। আমি নিশ্চিত জানি যে, তিনি আরো বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করতেন।

৭৪১

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ إِذَا دَخَلَ فِي الصَّلاَةِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَإِذَا رَكَعَ وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ وَإِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ رَفَعَ يَدَيْهِ وَيَرْفَعُ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الصَّحِيحُ قَوْلُ ابْنِ عُمَرَ وَلَيْسَ بِمَرْفُوعٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى بَقِيَّةُ أَوَّلَهُ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ وَأَسْنَدَهُ وَرَوَاهُ الثَّقَفِيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ أَوْقَفَهُ عَلَى ابْنِ عُمَرَ وَقَالَ فِيهِ وَإِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ يَرْفَعُهُمَا إِلَى ثَدْيَيْهِ وَهَذَا هُوَ الصَّحِيحُ . قال أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ وَمَالِكٌ وَأَيُّوبُ وَابْنُ جُرَيْجٍ مَوْقُوفًا وَأَسْنَدَهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ وَحْدَهُ عَنْ أَيُّوبَ وَلَمْ يَذْكُرْ أَيُّوبُ وَمَالِكٌ الرَّفْعَ إِذَا قَامَ مِنَ السَّجْدَتَيْنِ وَذَكَرَهُ اللَّيْثُ فِي حَدِيثِهِ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ فِيهِ قُلْتُ لِنَافِعٍ أَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَجْعَلُ الأُولَى أَرْفَعَهُنَّ قَالَ لاَ سَوَاءً . قُلْتُ أَشِرْ لِي . فَأَشَارَ إِلَى الثَّدْيَيْنِ أَوْ أَسْفَلَ مِنْ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

৭৪১. নসর ইবনে আলী ..... নাফে (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন তিনি তাকবীর বলে দুই হাত উপরের দিকে উঠাতেন। অতঃপর তিনি রুকূ হতে মাথা তোলার সময় “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলতেন। অতঃপর তিনি দুই রাকআত নামায শেষ করার পর যখন দাঁড়াতেন তখন তিনি উভয় হাত উত্তোলন করতেন এবং এই বর্ণনা সূত্র রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) পর্যন্ত পৌছেছেন (অর্থাৎ হাদীসটি মারফু)।

৭৪২

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ إِذَا ابْتَدَأَ الصَّلاَةَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ رَفَعَهُمَا دُونَ ذَلِكَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَمْ يَذْكُرْ رَفْعَهُمَا دُونَ ذَلِكَ أَحَدٌ غَيْرُ مَالِكٍ فِيمَا أَعْلَمُ

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

৭৪২. আল-কানবী ..... নাফে (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) নামায আরম্ভের প্রাক্কালে স্বীয় হস্তদ্বয় কাঁধ পর্যন্ত উত্তোলন করলেন। তিনি রুকূ হতে মাথা উঠাবার সময় হস্তদ্বয়কে একটু কম উপরে উঠাতেন।

১২৪. দুই রাকআত শেষে উঠার সময় দুই হাত উত্তোলন (রাফউল ইয়াদাইন) সম্পর্কে।

৭৪৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৭৪৩. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন নামাযের দুই রাকআত আদায়ের পর দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর বলে উভয় হাত উত্তোলন করতেন।

৭৪৪

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْهَاشِمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ بْنِ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، - رضى الله عنه - عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَيَصْنَعُ مِثْلَ ذَلِكَ إِذَا قَضَى قِرَاءَتَهُ وَأَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ وَيَصْنَعُهُ إِذَا رَفَعَ مِنَ الرُّكُوعِ وَلاَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي شَىْءٍ مِنْ صَلاَتِهِ وَهُوَ قَاعِدٌ وَإِذَا قَامَ مِنَ السَّجْدَتَيْنِ رَفَعَ يَدَيْهِ كَذَلِكَ وَكَبَّرَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ فِي حَدِيثِ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ حِينَ وَصَفَ صَلاَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى يُحَاذِيَ بِهِمَا مَنْكِبَيْهِ كَمَا كَبَّرَ عِنْدَ افْتِتَاحِ الصَّلاَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৭৪৪. আল-হাসান ইবনে আলী ..... আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ফরয নামাযে দাঁড়াতেন, তখন তাকবীর বলে স্বীয় হস্তদ্বয় কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন এবং কিরাআত শেষ করার পর রুকূতে গমনকালে এবং রুকূ হতে উঠবার সময় অনুরূপ করতেন। তিনি বসে নামায পড়াকালে এরূপ হাত তুলতেন না। যখন সিজদার পর দণ্ডায়মান হতেন, তখন হাত উঠিয়ে তাকবীর বলতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৭৪৫

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ نَصْرِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِذَا كَبَّرَ وَإِذَا رَكَعَ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ حَتَّى يَبْلُغَ بِهِمَا فُرُوعَ أُذُنَيْهِ .

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে হুওয়াইরিস (রাঃ)

৭৪৫। হাফস ইবনে উমর ..... মালিক ইবনুল-হুয়ায়রিছ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় হাত উঠাতে দেখেছি। আমি তাকে রুকূতে গমনকালে এবং তা হতে উঠার সময় স্বীয় হস্তদ্বয় কানের উপরিভাগ পর্যন্ত উঠাতে দেখেছি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৭৪৬

حَدَّثَنَا ابْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مَرْوَانَ، حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ الْمَعْنَى - عَنْ عِمْرَانَ، عَنْ لاَحِقٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، قَالَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ لَوْ كُنْتُ قُدَّامَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَرَأَيْتُ إِبْطَيْهِ . زَادَ ابْنُ مُعَاذٍ قَالَ يَقُولُ لاَحِقٌ أَلاَ تَرَى أَنَّهُ فِي الصَّلاَةِ وَلاَ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَكُونَ قُدَّامَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَزَادَ مُوسَى يَعْنِي إِذَا كَبَّرَ رَفَعَ يَدَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৪৬. ইবনে মুআয .... বশীর ইবনে নাহীক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেছেন, যদি আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সামনে থাকতাম, তবে তাঁর বগল দেখতে পেতাম (অর্থাৎ তিনি হাত এতটা পৃথক রাখতেন)।

ইবনে মুআয তাঁর হাদীসে আরো উল্লেখ করেছেন যে, রাবী নাহীক বলেন, তুমি কি দেখ না আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নামাযে রত থাকায় নবী (ﷺ) এর সম্মুখে গমন করতে পারেন না। রাবী মুসা তাঁর বর্ণিত হাদীসে আরও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাকবীর বলার সময় দুই হাত উঠাতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৭৪৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ عَلَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةَ فَكَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ فَلَمَّا رَكَعَ طَبَّقَ يَدَيْهِ بَيْنَ رُكْبَتَيْهِ قَالَ فَبَلَغَ ذَلِكَ سَعْدًا فَقَالَ صَدَقَ أَخِي قَدْ كُنَّا نَفْعَلُ هَذَا ثُمَّ أُمِرْنَا بِهَذَا يَعْنِي الإِمْسَاكَ عَلَى الرُّكْبَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: আলকামা ইবনে কায়স নাখঈ (রহঃ)

৭৪৭. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আলকামা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে নামায পড়ার নিয়ম শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় স্বীয় দুই হাত উত্তোলন করেন। তিনি রুকূ করার সময় উভয় হাত একত্রিত করে দুই হাটুর মধ্যখানে রাখেন। এই খবর সা’দ (রাযিঃ) এর নিকট পৌছলে তিনি বলেন, আমার ভাই (ইবনে মাসউদ) সত্য বলেছেন। পূর্বে আমরা এরূপ করতাম। অতঃপর আমাদেরকে এরূপ করা হতে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১২৫. রুকুর সময় হাত না উঠানোর বর্ণনা।

باب مَنْ لَمْ يَذْكُرِ الرَّفْعَ عِنْدَ الرُّكُوعِ

৭৪৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَاصِمٍ، - يَعْنِي ابْنَ كُلَيْبٍ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ أَلاَ أُصَلِّي بِكُمْ صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَصَلَّى فَلَمْ يَرْفَعْ يَدَيْهِ إِلاَّ مَرَّةً . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا مُخْتَصَرٌ مِنْ حَدِيثٍ طَوِيلٍ وَلَيْسَ هُوَ بِصَحِيحٍ عَلَى هَذَا اللَّفْظِ .

বর্ণনাকারী: আলকামা ইবনে কায়স নাখঈ (রহঃ)

৭৪৮. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আলকামা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, আমি কি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামায সম্পর্কে শিক্ষা দেব না? রাবী বলেন, অতঃপর তিনি নামায আদায়কালে মাত্র একবার হাত উত্তোলন করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৭৪৯

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، وَخَالِدُ بْنُ عَمْرٍو، وَأَبُو حُذَيْفَةَ قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، بِإِسْنَادِهِ بِهَذَا قَالَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ فِي أَوَّلِ مَرَّةٍ وَقَالَ بَعْضُهُمْ مَرَّةً وَاحِدَةً .

বর্ণনাকারী: সুফয়ান ছাওরী (রহঃ)

৭৪৯. আল-হাসান ইবনে আলী ..... সুফিয়ান (রাহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসটি এই সনদে বর্ণিত। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি কেবলমাত্র প্রথম বার (তাকবীরে তাহরীমা পাঠের সময়) হাত উত্তোলন করেন। কতক রাবী বলেন, তিনি শুধুমাত্র একবার হাত উঠান।

৭৫০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلاَةَ رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَى قَرِيبٍ مِنْ أُذُنَيْهِ ثُمَّ لاَ يَعُودُ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৭৫০. মুহাম্মাদ ইবনুস- সাব্বাহ আল-বাযযার ..... বারাআ ইবনে আযেব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামায আরম্ভের সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কেবলমাত্র একবার কানের নিকট পর্যন্ত হাত উঠাতেন। অতঃপর তিনি আর হাত উঠাতেন না।
৭৫১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ يَزِيدَ، نَحْوَ حَدِيثِ شَرِيكٍ لَمْ يَقُلْ ثُمَّ لاَ يَعُودُ . قَالَ سُفْيَانُ قَالَ لَنَا بِالْكُوفَةِ بَعْدُ ثُمَّ لاَ يَعُودُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى هَذَا الْحَدِيثَ هُشَيْمٌ وَخَالِدٌ وَابْنُ إِدْرِيسَ عَنْ يَزِيدَ لَمْ يَذْكُرُوا ثُمَّ لاَ يَعُودُ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৭৫১. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আয-যুহরী ..... ইয়াযীদ হতে এই সূত্রে শরীকের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসে ثُمَّ لاَ يَعُودُ “ছুম্মা লা ইয়াউদু” (তিনি পুনবার হাত তুলতেন না) শব্দটির উল্লেখ নেই। সুফিয়ান বলেন, অতঃপর রাবী (ইয়াযীদ) আমাদের নিকট কুফা শহরে ثُمَّ لاَ يَعُودُ “ছুম্মা লা ইয়াউদু” শব্দটির উল্লেখ করেন।

৭৫২

حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ أَخِيهِ، عِيسَى عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَفَعَ يَدَيْهِ حِينَ افْتَتَحَ الصَّلاَةَ ثُمَّ لَمْ يَرْفَعْهُمَا حَتَّى انْصَرَفَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا الْحَدِيثُ لَيْسَ بِصَحِيحٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৭৫২. হুসাইন আব্দুর রহমান ..... বারাআ আযিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় তার হস্তদ্বয় উত্তোলন করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি নামাযের শেষ পর্যন্ত আর কখনও স্বীয় হস্তদ্বয় (একবারের অধিক) উত্তোলন করেন নি।

৭৫৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ سَمْعَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ فِي الصَّلاَةِ رَفَعَ يَدَيْهِ مَدًّا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৫৩. মুসাদ্দাদ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আরম্ভ করতেন, তখন তিনি স্বীয় হস্তদ্বয় উপরের দিকে প্রসারিত করে উঠাতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২৬. নামাযের সময় বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা।

باب وَضْعِ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى فِي الصَّلاَةِ

৭৫৪

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ زُرْعَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ الزُّبَيْرِ، يَقُولُ صَفُّ الْقَدَمَيْنِ وَوَضْعُ الْيَدِ عَلَى الْيَدِ مِنَ السُّنَّةِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৭৫৪. নসর ইবনে আলী ..... আব্দুর রহমান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যুবায়ের (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, নামাযের সময় দুই পা সমান রাখা এবং এক হাতের উপর অন্য হাত রাখা সুন্নত।

৭৫৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ الرَّيَّانِ، عَنْ هُشَيْمِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ أَبِي زَيْنَبَ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي فَوَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى الْيُمْنَى فَرَآهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৭৫৫. মুহাম্মাদ ইবনে বাককার .... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি ডান হাতের উপর বাম হাত রেখে নামায পড়ছিলেন। নবী (ﷺ) তা দেখতে পেয়ে তাঁর বাম হাতের উপর ডান হাত রেখে দেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৭৫৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَحْبُوبٍ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ، أَنَّ عَلِيًّا، - رضى الله عنه - قَالَ السُّنَّةُ وَضْعُ الْكَفِّ عَلَى الْكَفِّ فِي الصَّلاَةِ تَحْتَ السُّرَّةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু জুহাইফা (রাঃ)

৭৫৬. মুহাম্মাদ ইবনে মাহবুব ..... আবু জুহাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। আলী (রাযিঃ) বলেন, নামাযে রত অবস্থায় নাভির নীচে বাম হাতের তালুর উপর ডান হাতের তালু রাখা সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত।

৭৫৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ، - يَعْنِي ابْنَ أَعْيَنَ - عَنْ أَبِي بَدْرٍ، عَنْ أَبِي طَالُوتَ عَبْدِ السَّلاَمِ، عَنِ ابْنِ جَرِيرٍ الضَّبِّيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ عَلِيًّا - رضى الله عنه - يُمْسِكُ شِمَالَهُ بِيَمِينِهِ عَلَى الرُّسْغِ فَوْقَ السُّرَّةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرُوِيَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ فَوْقَ السُّرَّةِ . وَقَالَ أَبُو مِجْلَزٍ تَحْتَ السُّرَّةِ . وَرُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَلَيْسَ بِالْقَوِيِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৭৫৭. মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা ..... ইবনে জুরাইজ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি আলী (রাযিঃ)-কে নামাযে নাভির উপরে ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরে রাখতে দেখেছি।

৩৭৩. নামাযের সময় বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা।

بَابُ وَضْعِ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى فِي الصَّلَاةِ

৭৫৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ الْكُوفِيِّ، عَنْ سَيَّارٍ أَبِي الْحَكَمِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، قَالَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَخْذُ الأَكُفِّ عَلَى الأَكُفِّ فِي الصَّلاَةِ تَحْتَ السُّرَّةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ يُضَعِّفُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ إِسْحَاقَ الْكُوفِيَّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৫৮. মুসাদ্দাদ ..... আবু ওয়ায়েল থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেছেন, আমি নামাযে নাভির নীচে (বাম) হাতের উপর (ডান) হাত রাখি।

১২৬. নামাযের সময় বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা।

باب وَضْعِ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى فِي الصَّلاَةِ

৭৫৯
حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ، - يَعْنِي ابْنَ حُمَيْدٍ - عَنْ ثَوْرٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، عَنْ طَاوُسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَضَعُ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى ثُمَّ يَشُدُّ بَيْنَهُمَا عَلَى صَدْرِهِ وَهُوَ فِي الصَّلاَةِ .
(هذا الحديث مرسل وليس في النسخ الأخرى من السنن ولا هو في رواية اللؤلؤي المشتهرة المقبولة وقد عزاه المزي الى المراسيل لأبي داود لا الى سننه).
والحديث فيه برقم 33 - حدثنا أبو توبة، حدثنا الهيثم، عن ثور، عن سليمان بن موسى، عن طاوس، قال: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يضع يده اليمنى على يده اليسرى ثم يشد بهما على صدره وهو في الصلاة» -

বর্ণনাকারী: তাউস ইবনে কায়সান (রহঃ)

৭৫৯. আবু তাওবা ..... তাউস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযরত অবস্থায় ডান হাত বাম হাতের উপর স্থাপন করে তা নিজের বুকের উপর বেঁধে রাখতেন।

১২৭. যে দু'আ পড়ে নামায আরম্ভ করবে।

باب مَا يُسْتَفْتَحُ بِهِ الصَّلاَةُ مِنَ الدُّعَاءِ

৭৬০

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَمِّهِ الْمَاجِشُونِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، - رضى الله عنه - قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ كَبَّرَ ثُمَّ قَالَ " وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفًا مُسْلِمًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ اللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لاَ إِلَهَ لِي إِلاَّ أَنْتَ أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِي وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا إِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ وَاهْدِنِي لأَحْسَنِ الأَخْلاَقِ لاَ يَهْدِي لأَحْسَنِهَا إِلاَّ أَنْتَ وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا لاَ يَصْرِفُ سَيِّئَهَا إِلاَّ أَنْتَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ " . وَإِذَا رَكَعَ قَالَ " اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ خَشَعَ لَكَ سَمْعِي وَبَصَرِي وَمُخِّي وَعِظَامِي وَعَصَبِي " . وَإِذَا رَفَعَ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمِلْءَ مَا بَيْنَهُمَا وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ " . وَإِذَا سَجَدَ قَالَ " اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَصَوَّرَهُ فَأَحْسَنَ صُورَتَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ وَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ " . وَإِذَا سَلَّمَ مِنَ الصَّلاَةِ قَالَ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَسْرَفْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَالْمُؤَخِّرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৭৬০. উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয ...... আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নামাযের তাকবীরে তাহরীমা বলার পর নিম্নোক্ত দুআ পড়তেনঃ

وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفًا مُسْلِمًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ اللَّهُمَّ أَنْتَ الْمَلِكُ لاَ إِلَهَ لِي إِلاَّ أَنْتَ أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ ظَلَمْتُ نَفْسِي وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبِي جَمِيعًا إِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ وَاهْدِنِي لأَحْسَنِ الأَخْلاَقِ لاَ يَهْدِي لأَحْسَنِهَا إِلاَّ أَنْتَ وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا لاَ يَصْرِفُ سَيِّئَهَا إِلاَّ أَنْتَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ

(“ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী ফাতারাস্ সাঁমাওয়াতি ওয়াল আরদা হানীফাও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না নামাযী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়ায়া ওয়া মামাতী লিল্লাহি রবিল আলামীন। লা শারীকা লাহু ওয়া বিযালিকা উমিরতু ওয়া আনা আওয়ালুল মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা আনতাল মালিকু ল ইল্লাহা ইল্লা আনতা, আনতা রবী ওয়া আনা আব্দুকা। যালামতু নফসী ওয়াতারাফতু বিযামবী ফাগফিরলী যুনুবী জামীআন। লা ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আনতা ওয়াহদিনী লি-আহসানিল আখলাক। লা ইয়াহদিনী লি-আহসানিহা ইল্লা আনতা ওয়াসরিফ আন্নী সাইয়েআহা, লা ইয়াসরিফু সাইয়িআহা ইল্লা আনতা। লাব্বাইকা ওয়া সাদাইকা ওয়াল-খায়রু কূলুহু ফী ইয়াদাইকা, ওয়াশ শাররু লাইসা ইলাইকা আনা বিকা ওয়া ইলাইকা তাবারাকতা ওয়া তাআলাইতা আসতাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইকা।”)

অতঃপর তিনি যখন রুকূ করতেন তখন এই দুআ পড়তেনঃ

اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ خَشَعَ لَكَ سَمْعِي وَبَصَرِي وَمُخِّي وَعِظَامِي وَعَصَبِي

(“আল্লাহুম্মা লাকা রাকআতু ওয়া বিকা আমানতু ওয়া লাকা আছলামতু, খাসাআ লাকা সামঈ ওয়া বাসারী ওয়া মুখখী ওয়া ইযামী ওয়া আসাবী।” )

অতঃপর তিনি যখন রুকূ হতে মাথা উঠাতেন তখন এই দুআ পড়তেনঃ

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمِلْءَ مَا بَيْنَهُمَا وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ

(“সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, রবানা ওয়া লাকাল হামদ মিলউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়াল মিলউ মা বায়নাহুমা ওয়া মিলউ মা শি’তা মিন শায়ইন বা’দু।”)

অতঃপর তিনি যখন সিজদা করতেন, তখন এই দুআ পড়তেনঃ

اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَلَكَ أَسْلَمْتُ سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَصَوَّرَهُ فَأَحْسَنَ صُورَتَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ وَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ

(“আল্লাহুম্মা লাকা সাজাদতু ওয়া বিকা আমানতু ওয়া লাকা আসলামতু। সাজাদা ওয়াজাহিয়া লিল্লাযী খালাকাহু ওয়া সওয়ারাহু ফাআ্সানা সূরাতাহু ওয়া শাক্কা সামআহু ওয়া বাসারাহু ওয়া তাবারাকাল্লাহু আহসানুল খালিকীন।”)

অতঃপর নামাযের সালাম ফিরাইবার পর তিনি এই দুআ পাঠ করতেনঃ

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَسْرَفْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَالْمُؤَخِّرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ

(“আল্লাহুম্মাগফিরলী মা কাদ্দামতু ওয়ামা আখখারতু, ওয়ামা আসরারতু ওয়ামা আলানতু ওয়ামা আসরাফতু ওয়ামা আনতা আলামু বিহী মিন্নী। আনতাল মুকাদ্দিমু ওয়াল মুআখখিরু লা ইল্লাহা ইল্লা আনতা)

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৭৬১

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْهَاشِمِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ بْنِ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ كَبَّرَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَذْوَ مَنْكِبَيْهِ وَيَصْنَعُ مِثْلَ ذَلِكَ إِذَا قَضَى قِرَاءَتَهُ وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ وَيَصْنَعُهُ إِذَا رَفَعَ مِنَ الرُّكُوعِ وَلاَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي شَىْءٍ مِنْ صَلاَتِهِ وَهُوَ قَاعِدٌ وَإِذَا قَامَ مِنَ السَّجْدَتَيْنِ رَفَعَ يَدَيْهِ كَذَلِكَ وَكَبَّرَ وَدَعَا نَحْوَ حَدِيثِ عَبْدِ الْعَزِيزِ فِي الدُّعَاءِ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ الشَّىْءَ وَلَمْ يَذْكُرْ " وَالْخَيْرُ كُلُّهُ فِي يَدَيْكَ وَالشَّرُّ لَيْسَ إِلَيْكَ " . وَزَادَ فِيهِ وَيَقُولُ عِنْدَ انْصِرَافِهِ مِنَ الصَّلاَةِ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَأَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَأَعْلَنْتُ أَنْتَ إِلَهِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৭৬১. আল-হাসান ইবনে আলী ..... আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন ফরয নামাযের জন্য দণ্ডায়মান হতেন তখন তাকবীরে তাহরীমা বলে উভয় হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। কিরাআত পড়ার পর রুকূতে যাওয়ার সময় এবং রুকূ হতে উঠার সময়ও তিনি অনুরূপ করতেন (কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠাতেন)। বসা অবস্থায় তিনি হাত উঠাতেন না। তিনি দুটি সিজদা করার পর (দুই রাকআত শেষ করার পর) উঠার সময় অনুরূপভাবে হাত উঠাতেন এবং তাকবীর বলে পূর্ববর্তী হাদীসে উল্লেখিত দু'আ পাঠ করতেন।

এই হাদীসের মধ্যে দু'আয় কিছুটা কম-বেশী আছে এবং “ওয়াল-খায়রু কুল্লুহু ফী ইয়াদাইকা ওয়াশ-শাররু লাঈসা ইলাইকা”- বাক্যটির উল্লেখ নাই। রাবী আব্দুর রহমান এই হাদীসে আরও উল্লেখ করেছেন যে, নামায শেষে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَأَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَأَعْلَنْتُ أَنْتَ إِلَهِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ

(আল্লাহুমাগফিরলী মা কাদ্দামতু ওয়া আখখারতু ওয়া আসরারতু ওয়া আলানতু আনতা ইলাহী লা ইলাহা ইল্লা আনতা।)
৭৬২

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا شُرَيْحُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنِي شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، قَالَ قَالَ لِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ وَابْنُ أَبِي فَرْوَةَ وَغَيْرُهُمَا مِنْ فُقَهَاءِ أَهْلِ الْمَدِينَةِ فَإِذَا قُلْتَ أَنْتَ ذَاكَ فَقُلْ " وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ " . يَعْنِي قَوْلَهُ " وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৭৬২. আমর ইবনে উছমান .... শোআইব ইবনে আবু হামযা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনুল মুনকাদির, ইবনে আবু ফারওয়া এবং মদীনার অপরাপর ফকীহগণ আমাকে বলেছেন যে, উপরোক্ত দুআটি পাঠের সময় তুমি “ওয়া আনা আওয়ালুল-মুসলিমীন-এর স্থলে “ওয়া আনা মিনাল-মুসলিমীন” বলবে।
৭৬৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادٌ، عَنْ قَتَادَةَ، وَثَابِتٍ، وَحُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ إِلَى الصَّلاَةِ وَقَدْ حَفَزَهُ النَّفَسُ فَقَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَتَهُ قَالَ " أَيُّكُمُ الْمُتَكَلِّمُ بِالْكَلِمَاتِ فَإِنَّهُ لَمْ يَقُلْ بَأْسًا " . فَقَالَ الرَّجُلُ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ جِئْتُ وَقَدْ حَفَزَنِي النَّفَسُ فَقُلْتُهَا . فَقَالَ " لَقَدْ رَأَيْتُ اثْنَىْ عَشَرَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا أَيُّهُمْ يَرْفَعُهَا " . وَزَادَ حُمَيْدٌ فِيهِ " وَإِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ فَلْيَمْشِ نَحْوَ مَا كَانَ يَمْشِي فَلْيُصَلِّ مَا أَدْرَكَهُ وَلْيَقْضِ مَا سَبَقَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭৬৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দ্রুত গতিতে মসজিদে আগমনের ফলে খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সে বলল, ″আল্লাহু আকবার আলহামদু লিল্লাহি হামদান কাছীরান তাইয়েবান মুবারাকান ফীহ্।″ নামায শেষে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি এই দুআ পাঠ করেছে? ঐ ব্যক্তি খারাপ কিছু বলে নাই।

তখন ঐ ব্যক্তি বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মসজিদে আগমনের পর ক্লান্ত হয়ে আমি এই দুআ পাঠ করি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ আমি দেখতে পাই যে, বারজন ফিরিশতা প্রতিযোগীতামূলকভাবে উক্ত দুআ সর্বাগ্রে অল্লাহ তাআলার নিকটে নেয়ার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়েছে।

রাবী হুমায়েদের বর্ণানায় আরও আছে যে, মসজিদে জামাআতে নামায আদায়ের সময় প্রত্যেক মুসল্লীর জন্য স্বাভাবিক পদক্ষেপে আগমন করা উচিত। অতঃপর সে ব্যক্তি ইমামের সাথে নামাযের যে অংশ প্রাপ্ত হয় তা আদায়ের পর যদি নামাযের কিছু অংশ ছুটে গিয়ে থাকে, তা ইমামের সালাম ফিরানোর পর একাকী আদায় করবে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৭৬৪

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَاصِمٍ الْعَنَزِيِّ، عَنِ ابْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي صَلاَةً قَالَ عَمْرٌو لاَ أَدْرِي أَىَّ صَلاَةٍ هِيَ فَقَالَ " اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلاً " . ثَلاَثًا " أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ مِنْ نَفْخِهِ وَنَفْثِهِ وَهَمْزِهِ " . قَالَ نَفْثُهُ الشِّعْرُ وَنَفْخُهُ الْكِبْرُ وَهَمْزُهُ الْمُوتَةُ .

বর্ণনাকারী: জুবায়র ইবনে মুতঈম (রাঃ)

৭৬৪. আমর ইবনে মারযুক .... ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতইম থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে নামায আদায় করতে দেখেন। রাবী আমর বলেন, এটা ফরয অথবা নফল নামায ছিল কি না তা আমি জানি না। এ সময় তিনি বলেনঃ আল্লাহু আকবার কাবীরান, আল্লাহু আকবার কাবীরান, আল্লাহু আকবার কাবীরান, আলহামদুলিল্লাহি কাছীরান, আলহামদুলিল্লাহি কাছীরান ওয়া সুবহানাল্লাহে বুকরাতাও ওয়া আসীলা (তিনবার বলেন), আউযু বিল্লাহে মিনাশ-শায়তানির রাজীমে মিন নাফাখিহি ওয়া নাফাসিহি ওয়া হামাযিহি (অর্থাৎ শয়তানের অহংকার, কবিতা ও কুমন্ত্রণা)।

৭৬৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي التَّطَوُّعِ ذَكَرَ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: নাফি' ইবনে জুবাইর (রহঃ)

৭৬৫. মুসাদ্দাদ ..... নাফে ইবনে জুবায়ের থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)কে নফল নামায আদায়কালে বলতে শুনেছি ......... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৭৬৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، أَخْبَرَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، أَخْبَرَنِي أَزْهَرُ بْنُ سَعِيدٍ الْحَرَازِيُّ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ حُمَيْدٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ بِأَىِّ شَىْءٍ كَانَ يَفْتَتِحُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قِيَامَ اللَّيْلِ فَقَالَتْ لَقَدْ سَأَلْتَنِي عَنْ شَىْءٍ مَا سَأَلَنِي عَنْهُ أَحَدٌ قَبْلَكَ كَانَ إِذَا قَامَ كَبَّرَ عَشْرًا وَحَمِدَ اللَّهَ عَشْرًا وَسَبَّحَ عَشْرًا وَهَلَّلَ عَشْرًا وَاسْتَغْفَرَ عَشْرًا وَقَالَ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي وَعَافِنِي " . وَيَتَعَوَّذُ مِنْ ضِيقِ الْمَقَامِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ خَالِدُ بْنُ مَعْدَانَ عَنْ رَبِيعَةَ الْجُرَشِيِّ عَنْ عَائِشَةَ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৬৬. মুহাম্মাদ ইবনে রাফে ......... আসিম ইবনে হুমাইদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রাতের নামায কিরূপে আরম্ভ করতেন? তিনি বলেন, তুমি আমাকে এমন একটি প্রশ্ন করেছ যা ইতিপূর্বে আমাকে আর কেউ করেনি। অতঃপর বলেন, নামাযে দণ্ডায়মান হয়ে সর্বপ্রথম আল্লাহু আকবার দশবার, আলহামদু লিল্লাহি দশবার, সুবহানাল্লাহ্ দশবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু দশবার, আস্তাগফিরুল্লাহ দশবার পাঠ করতেন। অতঃপর এই দুআটি পাঠ করতেনঃ “আল্লাহুম্মাগফির লী ওয়াহদিনী ওয়ারযুকনী, ওয়া আফিনী” এবং কিয়ামতের দিনের সংকীর্ণ স্থান হতে আল্লাহর নিকট নাজাত কামনা করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৭৬৭

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، سَأَلْتُ عَائِشَةَ بِأَىِّ شَىْءٍ كَانَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْتَتِحُ صَلاَتَهُ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ قَالَتْ كَانَ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ يَفْتَتِحُ صَلاَتَهُ " اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَافِيلَ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ أَنْتَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাঃ)

৭৬৭. ইবনুল মুছান্না ..... আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে নামায আদায় করাকালে কোন দুআটি পড়তেন? তিনি বলেন, যখন তিনি রাতে তাহাজ্জুদ নামায আদায়ের জন্য উঠতেন, তখন এই দুআ পাঠ করতেনঃ “আল্লাহুম্মা রবা জিবরাঈল ওয়া মীকাঈল ওয়া ইসরাফীল ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা, আলিমুল গায়বি ওয়াশ শাহাদাতে, আনতা তাহকুমু বাইনা ইবাদিকা ফীমা কানূ ফীহে ইয়াখতালিফুন। ইহদিনী লিমাখতুলিফা ফীহে মিনাল হাককি বি-ইযনিকা, ইন্নাকা আনতা তাহদী মান তাশাউ ইলা সিরাতিম মুসতাকীম।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৭৬৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو نُوحٍ، قُرَادٌ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، بِإِسْنَادِهِ بِلاَ إِخْبَارٍ وَمَعْنَاهُ قَالَ كَانَ إِذَا قَامَ بِاللَّيْلِ كَبَّرَ وَيَقُولُ .

বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)

৭৬৮. মুহাম্মাদ ইবনে রাফে .... ইকরিমা উপরোক্তভাবে ভিন্ন শব্দে ও অর্থে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন নামাযে দাঁড়াতেন, তখন আল্লাহ্ আকবার উচ্চারণ করতেন এবং বলতেন...

৭৬৯

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، قَالَ لاَ بَأْسَ بِالدُّعَاءِ فِي الصَّلاَةِ فِي أَوَّلِهِ وَأَوْسَطِهِ وَفِي آخِرِهِ فِي الْفَرِيضَةِ وَغَيْرِهَا .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৭৬৯. আল-কানবী ..... মালেক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফরয অথবা নফল নামাযের প্রথমে মাঝে বা শেষে যে কোন সময়ে দুআ পাঠ করা যায়।
৭৭০

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُجْمِرِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ الزُّرَقِيِّ، قَالَ كُنَّا يَوْمًا نُصَلِّي وَرَاءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . قَالَ رَجُلٌ وَرَاءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ الْمُتَكَلِّمُ بِهَا آنِفًا " . فَقَالَ الرَّجُلُ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَقَدْ رَأَيْتُ بِضْعَةً وَثَلاَثِينَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا أَيُّهُمْ يَكْتُبُهَا أَوَّلَ " .

বর্ণনাকারী: রিফাআ ইবনে রাফি' যুরাকী (রাঃ)

৭৭০. আল-কানবী ..... রিফাআ ইবনে রাফে আয-যুরাকী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে নামায আদায় করি তিনি যখন রুকূ হতে মাথা উঠিয়ে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলেন, তখন এক ব্যক্তি বলে উঠেন-“আল্লাহুম্মা রবানা ওয়া লাকাল হামদ, হামদান কাছীরান তাইয়েবান মুবারাকান ফীহ”।

নামাযান্তে রাসূলুল্লহ্ (ﷺ) বলেনঃ এই দুআ পাঠকারী কে? ঐ ব্যক্তি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি তিরিশেরও অধিক ফিরিশতাকে তা সবাগ্রে লিপিবদ্ধ করার জন্য প্রতিযোগিতা করতে দেখেছি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৭৭১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاَةِ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ يَقُولُ " اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيَّامُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ أَنْتَ الْحَقُّ وَقَوْلُكَ الْحَقُّ وَوَعْدُكَ الْحَقُّ وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ وَالْجَنَّةُ حَقٌّ وَالنَّارُ حَقٌّ وَالسَّاعَةُ حَقٌّ اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ وَبِكَ خَاصَمْتُ وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَأَخَّرْتُ وَأَسْرَرْتُ وَأَعْلَنْتُ أَنْتَ إِلَهِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭৭১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মধ্য রাতে যখন তাহাজ্জুদের নামাযে দণ্ডায়মান হতেন, তখন বলতেনঃ

“আল্লাহুম্মা লাকাল-হামদু আনতা নুরুস-সামাওয়াতি ওয়াল-আরদি, ওয়া লাকাল-হামদু, আনতা কাইয়্যামুস-সামাওয়াতি ওয়াল-আরদি, ওয়া লাকাল-হামদু আনতা রবুস-সামাওয়াতি ওয়াল-আরদি, ওয়া মান ফীহিন্না, আনতাল হাক্কু, ওয়া কাওলুকাল-হাক্কু, ওয়া ওয়াদুকাল-হাক্কু, ওয়া লিকাউকা হাক্কুন, ওয়াল জান্নাতু হাক্কুন, ওয়ান-নারু হাক্কুন, ওয়াস-সা’আতু হাক্কুন। আল্লাহুম্মা লাকা আসলামতু ওয়া বিকা আমানতু ওয়া আলাইকা তাওয়াককালতু ওয়া ইলাইকা আনাবতু ওয়া বিকা খাসামতু, ওয়া ইলাইকা হাকামতু ফাগফির লী মা কাদ্দামতু ওয়া আখখারতু ওয়া আসরারতু ওয়া আ’লানতু, আনতা ইলাহী, লা ইলাহা ইল্লা আনতা।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৭৭২

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُسْلِمٍ، أَنَّ قَيْسَ بْنَ سَعْدٍ، حَدَّثَهُ قَالَ حَدَّثَنَا طَاوُسٌ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي التَّهَجُّدِ يَقُولُ بَعْدَ مَا يَقُولُ " اللَّهُ أَكْبَرُ " . ثُمَّ ذَكَرَ مَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭৭২. আবু কামিল .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রাতে তাহাজ্জুদের নামায আদায়ের সময় আল্লাহু আকবার বলার পর বলতেন, ......... পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ।
৭৭৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَسَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، نَحْوَهُ قَالَ قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا رِفَاعَةُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ عَمِّ، أَبِيهِ مُعَاذِ بْنِ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَلَّيْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَطَسَ رِفَاعَةُ لَمْ يَقُلْ قُتَيْبَةُ رِفَاعَةُ فَقُلْتُ الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ مُبَارَكًا عَلَيْهِ كَمَا يُحِبُّ رَبُّنَا وَيَرْضَى فَلَمَّا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم انْصَرَفَ فَقَالَ " مَنِ الْمُتَكَلِّمُ فِي الصَّلاَةِ " . ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ مَالِكٍ وَأَتَمَّ مِنْهُ .

বর্ণনাকারী: মুআয ইবনে রিফাআ যুরাকী (রহঃ)

৭৭৩. কুতায়বা ইবনে সাঈদ .... মুআয ইবনে রিফাআ ইবনে রাফে থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পশ্চাতে নামায আদায় করি। এমন সময় রিফাআ হাঁচি দিয়ে বলেন, আলহামুদুলিল্লাহি হামদান কাছীরান তাইয়েবান মুবারাকান ফীহি মুবারাকান আলাইহি কামা ইয়ুহিব্বু রবুনা ওয়া ইয়ারদা। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নামাযান্তে বলেনঃ নামাযের মধ্যে এইরূপ উক্তি কে করেছে? হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা রাবী মালিক বর্ণিত পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ।

৭৭৪

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ عَطَسَ شَابٌّ مِنَ الأَنْصَارِ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي الصَّلاَةِ فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ حَتَّى يَرْضَى رَبُّنَا وَبَعْدَ مَا يَرْضَى مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ الْقَائِلُ الْكَلِمَةَ " . قَالَ فَسَكَتَ الشَّابُّ ثُمَّ قَالَ " مَنِ الْقَائِلُ الْكَلِمَةَ فَإِنَّهُ لَمْ يَقُلْ بَأْسًا " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَا قُلْتُهَا لَمْ أُرِدْ بِهَا إِلاَّ خَيْرًا . قَالَ " مَا تَنَاهَتْ دُونَ عَرْشِ الرَّحْمَنِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى " .

বর্ণনাকারী: আমির ইবনে রবীআ (রাঃ)

৭৭৪. আল-আব্বাস ইবনে আব্দুল আযীম .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমের থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা অনসার গোত্রের কোন এক যুবক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিছনে নামায আদায় করার সময় হাঁচি দেয় এবং বলে, আলহামদুলিল্লাহি হামদান কাছীরান তাইয়েবান মুবারাকান ফীহি হাত্তা ইয়ারদা রবুনা ওয়া বা’দুমা ইয়ারদা মিন আমরিদ-দুনয়া ওয়াল-আখিরাহ।”

নামায শেষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এই উক্তি কে করেছে? তখন যুবকটি নীরব থাকে। নবী (ﷺ) পুনরায় বলেনঃ এই কথাগুলি কে বলেছে? সে তো কোন খারাপ উক্তি করেনি। তখন যুবকটি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি এইরূপ বলেছি এবং আমি কল্যাণ লাভের উদ্দেশ্যেই এরূপ বলেছি। তিনি বলেনঃ এ কথা কোথাও অপেক্ষা করেনি, বরং মহিমান্বিত দয়াময় আল্লাহর আরশে পৌঁছে গেছে।

১২৮. যারা বলেন, সুবহানাকা আল্লাহুম্মা বলে নামায শুরু করবে।

باب مَنْ رَأَى الاِسْتِفْتَاحَ بِسُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ

৭৭৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ مُطَهَّرٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَلِيٍّ الرِّفَاعِيِّ، عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ النَّاجِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ كَبَّرَ ثُمَّ يَقُولُ " سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ " . ثُمَّ يَقُولُ " لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ " . ثَلاَثًا ثُمَّ يَقُولُ " اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا " . ثَلاَثًا " أَعُوذُ بِاللَّهِ السَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ مِنْ هَمْزِهِ وَنَفْخِهِ وَنَفْثِهِ " . ثُمَّ يَقْرَأُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا الْحَدِيثُ يَقُولُونَ هُوَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَلِيٍّ عَنِ الْحَسَنِ مُرْسَلاً الْوَهَمُ مِنْ جَعْفَرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৭৭৫. আব্দুস সালাম ইবনে মুতাহহার .... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন রাত্রিকালে নামায আদায় করার জন্য দণ্ডায়মান হতেন, তখন তাকবীর তাহরীমা বলার পর এই দুআ পাঠ করতেনঃ “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গায়রুকা।” অতঃপর তিনি তিনবার “লা ইল্লাহা ইল্লাল্লাহ” বলতেন এবং “আল্লাহু আকবার কাবীরান” তিনবার বলার পর “আউযুবিল্লাহিস সামীইল-আযীম মিনাস শাইতানের রাজীম মিন হামযিহি ওয়া নাফখিহি ওয়া নাফছিহি” বলতেন, অতঃপর কিরাআত পাঠ করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৭৭৬

حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا طَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ حَرْبٍ الْمُلاَئِيُّ، عَنْ بُدَيْلِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَفْتَحَ الصَّلاَةَ قَالَ " سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا الْحَدِيثُ لَيْسَ بِالْمَشْهُورِ عَنْ عَبْدِ السَّلاَمِ بْنِ حَرْبٍ لَمْ يَرْوِهِ إِلاَّ طَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ وَقَدْ رَوَى قِصَّةَ الصَّلاَةِ عَنْ بُدَيْلٍ جَمَاعَةٌ لَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ شَيْئًا مِنْ هَذَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৭৬. হুসায়েন ইবনে ঈসা ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন নামায আরম্ভ করতেন তখন এই দুআ পাঠ করতেনঃ “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গায়রুকা।”

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২৯. নামাযের প্রারম্ভে চুপ থাকার বর্ণনা।

باب السَّكْتَةِ عِنْدَ الاِفْتِتَاحِ

৭৭৭

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ قَالَ سَمُرَةُ حَفِظْتُ سَكْتَتَيْنِ فِي الصَّلاَةِ سَكْتَةً إِذَا كَبَّرَ الإِمَامُ حَتَّى يَقْرَأَ وَسَكْتَةً إِذَا فَرَغَ مِنْ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَةٍ عِنْدَ الرُّكُوعِ قَالَ فَأَنْكَرَ ذَلِكَ عَلَيْهِ عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ قَالَ فَكَتَبُوا فِي ذَلِكَ إِلَى الْمَدِينَةِ إِلَى أُبَىٍّ فَصَدَّقَ سَمُرَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَذَا قَالَ حُمَيْدٌ فِي هَذَا الْحَدِيثِ وَسَكْتَةً إِذَا فَرَغَ مِنَ الْقِرَاءَةِ .

বর্ণনাকারী: হাসান বসরী (রহঃ)

৭৭৭. ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম .... আল-হাসান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সামূরা (রাযিঃ) বলেন, নামাযের মধ্যে যে দুই স্থানে চুপ থাকতে হয় তা আমি স্মরণ রেখেছি। প্রথমত হল যখন তাকবীরে তাহরীমা বলে তখন হতে কিরাআত শুরু করা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয়ত ইমাম সূরা ফাতিহা ও কিরাআত পাঠের পর রুকূতে যাওয়ার পূর্বে। ইমরান ইবনে হুসায়েন (রাযিঃ) এ কথা মেনে নিতে অস্বীকার করলে তারা মদীনায় উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) এর নিকট এ সম্পর্কে জানার জন্য পত্র লেখেন। তিনি সামুরা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি সমর্থন করেন।

৭৭৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ خَلاَّدٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَسْكُتُ سَكْتَتَيْنِ إِذَا اسْتَفْتَحَ وَإِذَا فَرَغَ مِنَ الْقِرَاءَةِ كُلِّهَا . فَذَكَرَ مَعْنَى حَدِيثِ يُونُسَ .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৭৭৮. আবু বকর ইবনে খাল্লাদ ..... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নামায পাঠকালে দুটি স্থানে ক্ষণিক চুপ থাকতেন। যখন তাকবীরে তাহরীমা বলতেন এবং যখন তিনি কিরাআত সমাপ্ত করতেন ......... অতঃপর রাবী ইউনুস হতে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।

৭৭৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّ سَمُرَةَ بْنَ جُنْدُبٍ، وَعِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ، تَذَاكَرَا فَحَدَّثَ سَمُرَةُ بْنُ جُنْدُبٍ، أَنَّهُ حَفِظَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَكْتَتَيْنِ سَكْتَةً إِذَا كَبَّرَ وَسَكْتَةً إِذَا فَرَغَ مِنْ قِرَاءَةِ ( غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ ) فَحَفِظَ ذَلِكَ سَمُرَةُ وَأَنْكَرَ عَلَيْهِ عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ فَكَتَبَا فِي ذَلِكَ إِلَى أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ وَكَانَ فِي كِتَابِهِ إِلَيْهِمَا أَوْ فِي رَدِّهِ عَلَيْهِمَا أَنَّ سَمُرَةَ قَدْ حَفِظَ .

বর্ণনাকারী: হাসান বসরী (রহঃ)

৭৭৯. মুসাদ্দাদ ..... আল-হাসান (রাহঃ) হতে বর্ণিত। সামুরা ইবনে জুনদুব ও ইমরান ইবনে হুসায়েন (রাযিঃ) পরস্পর আলোচনা প্রসঙ্গে সামুরা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাহল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে নামাযের মধ্যে যে দুই স্থানে নিশ্চুপ থাকতে হয় তা শিখেছেন। তার প্রথমটি হল তাকবীরে তাহরীমা বলার পর এবং দ্বিতীয় স্থানটি হল “গায়রিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন” পাঠের পর। যসিও সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) একথা স্মরণ রাখেন কিন্তু ইমরান ইবনে হুসায়েন (রাযিঃ) তা অস্বীকার করায় তারা উভয়ে যৌথ ভাবে এসম্পর্কে উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) এর নিকট পত্র লেখেন। তিনি তাদের পত্রের জবাবে জানান যে, সামুরা (রাযিঃ) এ হাদীস সঠিকভাবে স্মরণ রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

৭৮০

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، بِهَذَا قَالَ عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، قَالَ سَكْتَتَانِ حَفِظْتُهُمَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ فِيهِ قَالَ سَعِيدٌ قُلْنَا لِقَتَادَةَ مَا هَاتَانِ السَّكْتَتَانِ قَالَ إِذَا دَخَلَ فِي صَلاَتِهِ وَإِذَا فَرَغَ مِنَ الْقِرَاءَةِ ثُمَّ قَالَ بَعْدُ وَإِذَا قَالَ ( غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৭৮০. ইবনুল মুছান্না ..... সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামাযের মধ্যে যে দুই স্থানে চুপ থাকতে হয়, এতদসম্পর্কীয় জ্ঞান আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হতে আহরণ করেছি। অতঃপর রাবী সাঈদ বলেন, আমরা এ বিষয়ে কাতাদা (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, যখন কেউ নামায আরম্ভ করবে এবং কিরাআত শেষ করবে তখন নিশ্চুপ থাকবে। পুনরায় তিনি বলেন, (কিরাআত শেষের অর্থ হল) যখন কেউ গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লিন বলবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৭৮১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عُمَارَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، عَنْ عُمَارَةَ، - الْمَعْنَى - عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَبَّرَ فِي الصَّلاَةِ سَكَتَ بَيْنَ التَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ فَقُلْتُ لَهُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَرَأَيْتَ سُكُوتَكَ بَيْنَ التَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ أَخْبِرْنِي مَا تَقُولُ . قَالَ " اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ أَنْقِنِي مِنْ خَطَايَاىَ كَالثَّوْبِ الأَبْيَضِ مِنَ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৮১. আহমদ ইবনে আবু গুআয়ব ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকবীরে তাহরীমা ও কিরাআত পাঠের মধ্যবর্তী সময়ে কিছুক্ষণ চুপ থাকতেন। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মাতাপিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আপনি তাকবীরে তাহরীমা ও কিরাআত পাঠের পূর্বে কেন চুপ থাকেন- তা আমাকে অবহিত করুন।

তিনি বলেন, (তখন আমি) চুপে চুপে এই দুআ পাঠ করিঃ আল্লাহুম্মা বায়েদ বায়নী ওয়া বায়না খাতায়ায়া কামা বায়েদতা বায়নাল-মাশরিকে ওয়াল মাগরিবে আল্লাহুম্মা আনকেনী মিন খাতায়ায়া কাছ-ছাওবিল আবয়াদি মিনাদ-দানাসে আল্লাহুম্মা আগসিলনী বিছ-ছালজে ওয়াল-মায়ে ওয়াল-বারদি”।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৩০. উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহ না বলার বিবরণ।

باب مَنْ لَمْ يَرَ الْجَهْرَ بِـ { بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ }

৭৮২

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ كَانُوا يَفْتَتِحُونَ الْقِرَاءَةَ بِـ ( الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭৮২. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ), আবু বকর (রাযিঃ), উমর (রাযিঃ) ও উছমান (রাযিঃ) “আলহামদু লিল্লাহি রবিল আলামীন” হতে কিরাআত পাঠ শুরু করতেন।*

* যাঁরা বিসমিল্লাহ চুপে চুপে পাঠ করার পক্ষপাতী তাঁরা এ হাদীস নিজেদের মতের সমর্থনে পেশ করেন। আনাস (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত অপর হাদীসে আছে- তিনি বলেনঃ আমি মহানবী (ﷺ)-এর পেছনে এবং আবু বাক্র, উমর ও উছমান (রাযিঃ)-এর পেছনে নামায পড়েছি। আমি তাদের কাউকে “বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম” উচ্চস্বরে পড়তে শুনিনি।
৭৮৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ بُدَيْلِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْتَتِحُ الصَّلاَةَ بِالتَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةَ بِـ ( الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ) وَكَانَ إِذَا رَكَعَ لَمْ يُشْخِصْ رَأْسَهُ وَلَمْ يُصَوِّبْهُ وَلَكِنْ بَيْنَ ذَلِكَ وَكَانَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ لَمْ يَسْجُدْ حَتَّى يَسْتَوِيَ قَائِمًا وَكَانَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ لَمْ يَسْجُدْ حَتَّى يَسْتَوِيَ قَاعِدًا وَكَانَ يَقُولُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ " التَّحِيَّاتُ " . وَكَانَ إِذَا جَلَسَ يَفْرِشُ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَيَنْصِبُ رِجْلَهُ الْيُمْنَى وَكَانَ يَنْهَى عَنْ عَقِبِ الشَّيْطَانِ وَعَنْ فِرْشَةِ السَّبُعِ وَكَانَ يَخْتِمُ الصَّلاَةَ بِالتَّسْلِيمِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৮৩. মুসাদ্দাদ ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকবীরে তাহরীমা বলে নামায আরম্ভ করতেন এবং আলহামদু লিল্লাহি রবীল আলামীন বলে কিরাআত শুরু করতেন। তিনি রুকুর সময় স্বীয় মাথা উচুঁ করেও রাখতেন না এবং নীচু করেও রাখতেন না, বরং পিঠের সমান্তরাল করে রাখতেন। অতঃপর তিনি রুকূ হতে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর আগে সিজদায় যেতেন না এবং এক সিজদা করার পর সোজা হয়ে বসার পূর্বে দ্বিতীয় সিজদা করতেন না। তিনি প্রত্যেক দুই রাকআত নামায আদায়ের পর তাশাহ্‌হুদ, পাঠ করতেন। অতঃপর তিনি যখন বসতেন, তখন বাম পা বিছিয়ে দিতেন এবং ডান পা খাড়া করে রাখতেন। তিনি শয়তানের মত উপবেশন করা তথা উভয় গোড়ালীর উপর পাছা রেখে বসতে নিষেধ করতেন এবং চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় (অর্থাৎ দুই হাত মাটির সাথে বিছিয়ে দিয়ে) সিজদা করতে নিষেধ করতেন। অতঃপর তিনি আস-সালামু আলাইকুম বলে নামায শেষ করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৭৮৪

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ الْمُخْتَارِ بْنِ فُلْفُلٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُنْزِلَتْ عَلَىَّ آنِفًا سُورَةٌ " . فَقَرَأَ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ( إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ ) حَتَّى خَتَمَهَا . قَالَ " هَلْ تَدْرُونَ مَا الْكَوْثَرُ " . قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ " فَإِنَّهُ نَهْرٌ وَعَدَنِيهِ رَبِّي فِي الْجَنَّةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৭৮৪. হান্নাদ ইবনুস সারী ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ এখনই আমার উপর একটি সূরা নাযিল হয়েছে। অতঃপর তিনি পাঠ করেনঃ বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম, ইন্না আ’তায়না কাল কাউসার ......... তিনি সূরাটির শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করেন। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা কি জান কাউসার কি? তারা বলেন, আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূল এ ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত। তিনি বলেনঃ এটি একটি নহর, যা আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন জান্নাতের মধ্যে আমাকে দান করবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৭৮৫

حَدَّثَنَا قَطَنُ بْنُ نُسَيْرٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الأَعْرَجُ الْمَكِّيُّ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، وَذَكَرَ الإِفْكَ، قَالَتْ جَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَشَفَ عَنْ وَجْهِهِ وَقَالَ " أَعُوذُ بِالسَّمِيعِ الْعَلِيمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ ( إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالإِفْكِ عُصْبَةٌ مِنْكُمْ ) " . الآيَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ قَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ جَمَاعَةٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ لَمْ يَذْكُرُوا هَذَا الْكَلاَمَ عَلَى هَذَا الشَّرْحِ وَأَخَافُ أَنْ يَكُونَ أَمْرُ الاِسْتِعَاذَةِ مِنْ كَلاَمِ حُمَيْدٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৭৮৫. কুতন ইবনে নুসায়র ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ইফক (মিথ্যা অপবাদ)-এর ঘটনা উল্লেখ পূর্বক বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বসা ছিলেন। তিনি মুখ খোলেন এবং বলেনঃ আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম, ″ইন্নাল্লাযীনা জাউ বিল-ইফকে উসবাতুম মিনকুম” আয়াতের শেষ পর্যন্ত পাঠ করেন। অর্থাৎ “যারা মিথ্যা অপবাদ প্রচার করে বেড়াচ্ছে তারা তোমাদের মধ্যেরই লোক।”

১৩১. উচ্চস্বরে বিসমিল্লাহ পাঠ করার বর্ণনা।

باب مَنْ جَهَرَ بِهَا

৭৮৬

أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ عَوْفٍ، عَنْ يَزِيدَ الْفَارِسِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، قَالَ قُلْتُ لِعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ مَا حَمَلَكُمْ أَنْ عَمَدْتُمْ، إِلَى بَرَاءَةَ وَهِيَ مِنَ الْمِئِينَ وَإِلَى الأَنْفَالِ وَهِيَ مِنَ الْمَثَانِي فَجَعَلْتُمُوهُمَا فِي السَّبْعِ الطُّوَلِ وَلَمْ تَكْتُبُوا بَيْنَهُمَا سَطْرَ ( بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ) قَالَ عُثْمَانُ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِمَّا يَنْزِلُ عَلَيْهِ الآيَاتُ فَيَدْعُو بَعْضَ مَنْ كَانَ يَكْتُبُ لَهُ وَيَقُولُ لَهُ " ضَعْ هَذِهِ الآيَةَ فِي السُّورَةِ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا كَذَا وَكَذَا " . وَتَنْزِلُ عَلَيْهِ الآيَةُ وَالآيَتَانِ فَيَقُولُ مِثْلَ ذَلِكَ وَكَانَتِ الأَنْفَالُ مِنْ أَوَّلِ مَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ بِالْمَدِينَةِ وَكَانَتْ بَرَاءَةُ مِنْ آخِرِ مَا نَزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ وَكَانَتْ قِصَّتُهَا شَبِيهَةً بِقِصَّتِهَا فَظَنَنْتُ أَنَّهَا مِنْهَا فَمِنْ هُنَاكَ وَضَعْتُهُمَا فِي السَّبْعِ الطُّوَلِ وَلَمْ أَكْتُبْ بَيْنَهُمَا سَطْرَ ( بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭৮৬. আমর ইবনে আওন ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উছমান (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, আপনারা সূরা বারাআত-কে সূরা আনফালের অন্তর্ভূক্ত করে আল-কুরআনের সাবউল মাছানী (সাতটি সূরা)-এর মধ্যে কিরূপে পরিগণিত করেন এবং উভয় সূরার মধ্যস্থলে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম কেন লিখেন নাই? অথচ বারাআত সূরাটি মিইন-এর অন্তর্ভুক্ত (অর্থাৎ যাতে ১০০-র অধিক আয়াত আছে এবং বারাআতে ১২৯ আয়াত আছে)। অপরপক্ষে সূরা আনফাল মাছানীর অন্তর্ভুক্ত (কেননা এতে ১০০-এর কম অর্থাৎ ৭৫ টি আয়াত আছে)।

উছমান (রাযিঃ) বলেন, নবী (ﷺ)-এর উপর যখনই কোন আয়াত নাযিল হত, তখন তিনি ওহী লেখক সাহাবীদের ডেকে বলতেনঃ এই আয়াত অমুক সূরার অমুক স্থানে সন্নিবেশীত কর যার মধ্যে এই এই বিষয় আলোচিত হয়েছে। অতঃপর তাঁর উপর যখন একটি বা দুটি আয়াত নাযিল হত, তখনও তিনি ঐরূপ বলতেন।

সূরা আল্-আনফাল নবী (ﷺ)-এর উপর মদীনায় আসার পরপরই নাযিলকৃত সূরা সমূহের অন্যতম এবং সূরা বারাআত অবতীর্ণ হয় কুরআন নাযিলের সমাপ্তিকালে। কিন্তু সূরা আনফালে বর্ণিত ঘটনাবলীর সঙ্গে সূরা বারাআতে বর্ণিত ঘটনাবলীর সঙ্গে সূরা বারাআতে বর্ণিত ঘটনাবলীর সাদৃশ্য রয়েছে। কাজেই আমি মনে মনে স্থির করি যে, এটি সূরা আনফালের অন্তর্ভুক্ত। এজন্য আমি দুটি সূরাকে একত্রে সাবউত-তিওয়াল-এর অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং এ কারণেই এই দুইটি সূরার মাঝখানে বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম লিপিবদ্ধ করি নি।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৭৮৭

حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، - يَعْنِي ابْنَ مُعَاوِيَةَ - أَخْبَرَنَا عَوْفٌ الأَعْرَابِيُّ، عَنْ يَزِيدَ الْفَارِسِيِّ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ، بِمَعْنَاهُ قَالَ فِيهِ فَقُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يُبَيِّنْ لَنَا أَنَّهَا مِنْهَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ الشَّعْبِيُّ وَأَبُو مَالِكٍ وَقَتَادَةُ وَثَابِتُ بْنُ عُمَارَةَ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكْتُبْ ( بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ) حَتَّى نَزَلَتْ سُورَةُ النَّمْلِ هَذَا مَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭৮৭. যিয়াদ ইবনে আইয়ুব ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে এই সূত্রেও পৃর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের মধ্য হতে বিদায় নিয়েছ। কিন্তু তিনি সূরা বারাআত সূরা আনফালের অন্তর্ভুক্ত কিনা- এ সম্পর্কে পরিস্কারভাবে কিছুই বলেননি।

৭৮৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، وَابْنُ السَّرْحِ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، - قَالَ قُتَيْبَةُ فِيهِ - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لاَ يَعْرِفُ فَصْلَ السُّورَةِ حَتَّى تُنَزَّلَ عَلَيْهِ ( بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ) . وَهَذَا لَفْظُ ابْنِ السَّرْحِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৭৮৮. কুতায়বা ইবনে সাঈদ .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ)-এর উপর বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম নাযিল না হওয়া পর্যন্ত কোন সূরার শুরু চিহ্নিত করতে পারতেন না। হাদীসের এই পাঠ ইবনুস সারহ-এর।

১৩২. কোন অনিবার্য কারণ বশতঃ নামায সংক্ষিপ্ত করা।

باب تَخْفِيفِ الصَّلاَةِ لِلأَمْرِ يَحْدُثُ

৭৮৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، وَبِشْرُ بْنُ بَكْرٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لأَقُومُ إِلَى الصَّلاَةِ وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ أُطَوِّلَ فِيهَا فَأَسْمَعُ بُكَاءَ الصَّبِيِّ فَأَتَجَوَّزُ كَرَاهِيَةَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمِّهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৭৮৯. আব্দুর রহমান ইবনে ইবরাহীম ......... আব্দুল্লাহ ইবনে আবু কাতাদা (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি কখনও কখনও নামায দীর্ঘায়িত করার ইরাদা করি কিন্তু কোন ছোট বাচ্চার ক্রন্দন ধ্বনি শুনে তার মাতার কষ্টের কথা চিন্তা করে নামায সংক্ষিপ্ত করি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৩৩. নামাযের জন্য ক্ষতিকারক বিষয় সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي نُقْصَانِ الصَّلاَةِ

৭৯০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ بَكْرٍ، - يَعْنِي ابْنَ مُضَرَ - عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَنَمَةَ الْمُزَنِيِّ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ الرَّجُلَ لَيَنْصَرِفُ وَمَا كُتِبَ لَهُ إِلاَّ عُشْرُ صَلاَتِهِ تُسْعُهَا ثُمُنُهَا سُبُعُهَا سُدُسُهَا خُمُسُهَا رُبُعُهَا ثُلُثُهَا نِصْفُهَا " .

বর্ণনাকারী: আম্মার ইবন ইয়াসির আল-'আনযী (রা)

৭৯০. কুতায়বা ইবনে সাঈদ .... আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি এমন অনেক লোক আছে যারা নামায পড়ে কিন্তু তাদের নামায পুরোপুরি কবুল না হওয়ায় পরিপূর্ণ সাওয়াব প্রাপ্ত হয় না। বরং তাদের কেউ ১০ ভাগের ১ ভাগ, ৯ ভাগের ১ ভাগ, ৮ ভাগের ১ ভাগ, ৭ ভাগের ১ ভাগ, ৬ ভাগের ১ ভাগ, ৫ ভাগের ১ ভাগ, ৪ ভাগের ১ ভাগ, তিনের-একাংশ বা অর্ধাংশ সাওয়াব প্রাপ্ত হয়ে থাকে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৩৪. নামায সংক্ষিপ্ত করা সম্পর্কে।

باب فِي تَخْفِيفِ الصَّلاَةِ

৭৯১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، سَمِعَهُ مِنْ، جَابِرٍ قَالَ كَانَ مُعَاذٌ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يَرْجِعُ فَيَؤُمُّنَا - قَالَ مَرَّةً ثُمَّ يَرْجِعُ فَيُصَلِّي بِقَوْمِهِ - فَأَخَّرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةً الصَّلاَةَ - وَقَالَ مَرَّةً الْعِشَاءَ - فَصَلَّى مُعَاذٌ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ جَاءَ يَؤُمُّ قَوْمَهُ فَقَرَأَ الْبَقَرَةَ فَاعْتَزَلَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ فَصَلَّى فَقِيلَ نَافَقْتَ يَا فُلاَنُ . فَقَالَ مَا نَافَقْتُ . فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ مُعَاذًا يُصَلِّي مَعَكَ ثُمَّ يَرْجِعُ فَيَؤُمُّنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنَّمَا نَحْنُ أَصْحَابُ نَوَاضِحَ وَنَعْمَلُ بِأَيْدِينَا وَإِنَّهُ جَاءَ يَؤُمُّنَا فَقَرَأَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ . فَقَالَ " يَا مُعَاذُ أَفَتَّانٌ أَنْتَ أَفَتَّانٌ أَنْتَ اقْرَأْ بِكَذَا اقْرَأْ بِكَذَا " . قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ بِـ ( سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى ) ( وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى ) فَذَكَرْنَا لِعَمْرٍو فَقَالَ أُرَاهُ قَدْ ذَكَرَهُ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৭৯১. আহমদ ইবনে হাম্বল .... জাবের (রাযিঃ) বলেন, মুআয (রাযিঃ) মসজিদে নববীতে নবী (ﷺ)-এর সাথে নামায আদায়ের পর স্বীয় সম্প্রদায়ে প্রত্যাবর্তন করে আমাদের নামাযে ইমামতি করতেন। রাবী পুনরায় বলেন, নবী (ﷺ) এর সাথে নামায আদায়ের পর তিনি স্বীয় কওমের নিকট ফিরে এসে তাদের নামাযে ইমামতি করতেন। একদা রাতে-এশার নামায পড়তে নবী (ﷺ) বিলম্ব করেন। সেদিনও মুআয (রাযিঃ) নবী (ﷺ)-এর সাথে এশার নাময পড়ে ফিরে গিয়ে স্বীয় কওমের ইমামতি করেন এবং এই নামাযে তিনি সূরা আল-বাক্কারা তিলাওয়াত শুরু করেন। ঐ সময় এক ব্যক্তি জামাআত হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকী নামায পড়ে। তাকে বলা হল, হে অমুক তুমি কি মুনাফিক হয়ে গেছ? জবাবে সে বলল, আমি মুনাফিক নই।

অতঃপর সেই ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! মুআয (রাযিঃ) আপনার সাথে নামায পড়ার পর প্রত্যাবর্তন করে আমাদের নামাযের ইমামতি করেন। আমরা মেহনতী কৃষিজীবি লোক এবং নিজেরাই ক্ষেতের কাজকর্ম করে থাকি। অপরপক্ষে মুআয (রাযিঃ) আমাদের নামাযে ইমামতি করার সময় সূরা বাক্কারার ন্যায় দীর্ঘ সূরা পাঠ করে থাকেন। তখন নবী (ﷺ) মুআয (রাযিঃ)-কে সম্বোধন করে বলেনঃ হে মুআয! তুমি কি লোকদেরকে ফিতনার মধ্যে নিক্ষেপ করতে চাও (দুইবার)? তিনি আরো বলেনঃ তুমি নামাযে অমুক অমুক সূরা পাঠ কর। আবুয-যুবারের বলেন, সূরা আল-আ'লার ন্যায় ছোট ছোট সূরা পাঠ করবে।
৭৯২

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا طَالِبُ بْنُ حَبِيبٍ، سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ جَابِرٍ، يُحَدِّثُ عَنْ حَزْمِ بْنِ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، أَنَّهُ أَتَى مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ وَهُوَ يُصَلِّي بِقَوْمٍ صَلاَةَ الْمَغْرِبِ فِي هَذَا الْخَبَرِ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا مُعَاذُ لاَ تَكُنْ فَتَّانًا فَإِنَّهُ يُصَلِّي وَرَاءَكَ الْكَبِيرُ وَالضَّعِيفُ وَذُو الْحَاجَةِ وَالْمُسَافِرُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৭৯২. মুসা ইবনে ইসমাঈল ...... হাযম ইবনে উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) এর নিকট আসেন। তখন তিনি মাগরিবের নামাযে ইমামতি করছিলেন। রাবী এ হাদীসে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুআয (রাযিঃ)-কে ডেকে বলেনঃ হে মুআয! তুমি ফিতনা সৃষ্টিকারী হয়ো না। জেনে রাখ! তোমার পেছনে অক্ষম, বৃদ্ধ, মুসাফির ও কাজে ব্যস্ত লোকেরা নামায পড়ে থাকে।

৭৯৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ بَعْضِ، أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِرَجُلٍ " كَيْفَ تَقُولُ فِي الصَّلاَةِ " . قَالَ أَتَشَهَّدُ وَأَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ أَمَا إِنِّي لاَ أُحْسِنُ دَنْدَنَتَكَ وَلاَ دَنْدَنَةَ مُعَاذٍ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " حَوْلَهَا نُدَنْدِنُ " .

বর্ণনাকারী: আবু সালিহ সাম্মান (রহঃ)

৭৯৩. উছ্মান ইবনে আবি শাঈবা .... আবু সালেহ্ (রাহঃ) থেকে নবী (ﷺ)-এর কোন এক সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে বলেনঃ তুমি শেষ বৈঠকে কিরূপ দুআ পাঠ করে থাক? লোকটি বলেন, আমি তাশাহ্‌হুদ (আত্তাহিয়াতু লিল্লাহি) পড়ে থাকি, অতঃপর বলি- আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা জান্নাতা ওয়া আউযুবিকা মিনান-নার। কিন্তু আমি আপনার ও মুআয (রাযিঃ) এর অস্পষ্ট শব্দ বুঝতে সক্ষম হই না। নবী (ﷺ) বলেনঃ আমিও বেহেশত ও দোযখের আশেপাশে ঘুরে থাকি।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৭৯৪

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلاَنَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مِقْسَمٍ، عَنْ جَابِرٍ، ذَكَرَ قِصَّةَ مُعَاذٍ قَالَ وَقَالَ - يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لِلْفَتَى - " كَيْفَ تَصْنَعُ يَا ابْنَ أَخِي إِذَا صَلَّيْتَ " . قَالَ أَقْرَأُ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَأَسْأَلُ اللَّهَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِهِ مِنَ النَّارِ وَإِنِّي لاَ أَدْرِي مَا دَنْدَنَتُكَ وَلاَ دَنْدَنَةُ مُعَاذٍ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي وَمُعَاذٌ حَوْلَ هَاتَيْنِ " . أَوْ نَحْوَ هَذَا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৭৯৪. ইয়াহয়া ইবনে হাবীব .... জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি মুআয (রাযিঃ) এর ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, নবী (ﷺ) এক যুবককে বলেনঃ হে ভ্রাতুষ্পত্র! তুমি নামাযের মধ্যে কি পাঠ কর? সে বলে, আমি সূরা ফাতিহা পাঠ করি এবং আল্লাহর নিকট বেহেশতের কামনা করি এবং দোযখ থেকে আশ্রয় প্রার্খনা করি। আমি আপনার ও মুআযের অস্পষ্ট শব্দ বুঝতে পারি না। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ আমি এবং মুআযও তার আশেপাশে ঘুরে থাকি, অথবা অনুরূপ কিছু বলেছেন।

৭৯৫

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ لِلنَّاسِ فَلْيُخَفِّفْ فَإِنَّ فِيهِمُ الضَّعِيفَ وَالسَّقِيمَ وَالْكَبِيرَ وَإِذَا صَلَّى لِنَفْسِهِ فَلْيُطَوِّلْ مَا شَاءَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৯৫. আল-কানবী .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন নামাযের ইমামতি করবে, সে যেন সংক্ষেপে নামায আদায় করে। কেননা মুক্তাদীদের মধ্যে দুর্বল, রোগগ্রস্ত ও বৃদ্ধ লোকেরা-ও থাকে। আর যখন কেউ একাকী নামায পড়ে তখন সে স্বীয় ইচ্ছানুযায়ী নামায দীর্ঘায়িত করতে পারে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৭৯৬

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ لِلنَّاسِ فَلْيُخَفِّفْ فَإِنَّ فِيهِمُ السَّقِيمَ وَالشَّيْخَ الْكَبِيرَ وَذَا الْحَاجَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৭৯৬. আল-হাসান ইবনে আলী .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন নামাযে ইমামতি করে, তখন সে যেন নামায সংক্ষেপ করে। কেননা জামাআতে দূর্বল, রোগগ্রস্ত ও কর্মজীবি লোকেরাও শরীক হয়ে থাকে।

১৩৫. যোহরের নামাযের কিরাত সম্পর্কে।

باب مَا جَاءَ فِي الْقِرَاءَةِ فِي الظُّهْرِ

৭৯৭

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ، وَعُمَارَةَ بْنِ مَيْمُونٍ، وَحَبِيبٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ فِي كُلِّ صَلاَةٍ يُقْرَأُ فَمَا أَسْمَعَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسْمَعْنَاكُمْ وَمَا أَخْفَى عَلَيْنَا أَخْفَيْنَا عَلَيْكُمْ .

বর্ণনাকারী: আতা ইবনে আবী রাবাহ (রহঃ)

৭৯৭. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আতা ইবনে আবু রাবাহ থেকে বর্ণিত। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, নবী (ﷺ) প্রত্যেক নামাযেই কিরাআত পাঠ করতে হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেসব নামাযে আমাদের শুনিয়ে সশব্দে কিরাআত পাঠ করেছেন, আমরাও তোমাদেরকে ঐরূপ কিরাআত পাঠ করে শুনাই এবং তিনি যেসব নামাযে নীরবে কিরাআত পাঠ করেছেন, আমরাও তাতে নিঃশব্দে কিরাআত পাঠ করে থাকি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৭৯৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ هِشَامِ بْنِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنِ الْحَجَّاجِ، - وَهَذَا لَفْظُهُ - عَنْ يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، - قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى وَأَبِي سَلَمَةَ ثُمَّ اتَّفَقَا - عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بِنَا فَيَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسُورَتَيْنِ وَيُسْمِعُنَا الآيَةَ أَحْيَانًا وَكَانَ يُطَوِّلُ الرَّكْعَةَ الأُولَى مِنَ الظُّهْرِ وَيُقَصِّرُ الثَّانِيَةَ وَكَذَلِكَ فِي الصُّبْحِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَمْ يَذْكُرْ مُسَدَّدٌ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَسُورَةً .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৭৯৮. মুসাদ্দাদ ও ইবনুল-মুছান্না .... আবু কাতাদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের নামাযের ইমামতি করতেন। অতঃপর তিনি যোহর ও আসরের নামায আদায়কালে তার প্রথম দুই রাকআতে সূরা ফাতিহা এবং অপর দুটি সূরা পাঠ করতেন। তিনি কখনও কখনও আমাদের শুনিয়ে আয়াত পাঠ করতেন। তিনি যোহরের নামাযের প্রথম রাকআত একটু দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকআত সংক্ষেপ করতেন। তিনি ফজরের নামাযও অনুরূপভাবে আদায় করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৭৯৯

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، وَأَبَانُ بْنُ يَزِيدَ الْعَطَّارُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، بِبَعْضِ هَذَا وَزَادَ فِي الأُخْرَيَيْنِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ . وَزَادَ عَنْ هَمَّامٍ قَالَ وَكَانَ يُطَوِّلُ فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى مَا لاَ يُطَوِّلُ فِي الثَّانِيَةِ وَهَكَذَا فِي صَلاَةِ الْعَصْرِ وَهَكَذَا فِي صَلاَةِ الْغَدَاةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৭৯৯. আল-হাসান ইবনে আলী ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আবু কাতাদা তাঁর পিতার সূত্রে পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। সেখানে তিনি আরও বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) নামাযের শেষ দুই রাকআতে কেবলমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন। রাবী হাম্মামের বর্ণনায় আরও আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) দ্বিতীয় রাকআতের চাইতে প্রথম রাকআত একটু দীর্ঘ করতেন। তিনি ফজর ও আসরের নামাযেও অনুরূপ করতেন।

৮০০

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ فَظَنَنَّا أَنَّهُ يُرِيدُ بِذَلِكَ أَنْ يُدْرِكَ النَّاسُ الرَّكْعَةَ الأُولَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৮০০. আল-হাসান ইবনে আলী .... আব্দুল্লাহ ইবনে আবু কাতাদা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সম্ভবতঃ নবী (ﷺ) জামাআতে অধিক লোকের শরীক হওয়ার সুযোগ প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রথম রাকআত দীর্ঘ করতেন।

৮০১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، قَالَ قُلْنَا لِخَبَّابٍ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ قَالَ نَعَمْ . قُلْنَا بِمَ كُنْتُمْ تَعْرِفُونَ ذَاكَ قَالَ بِاضْطِرَابِ لِحْيَتِهِ .

বর্ণনাকারী: আবু মা‘মার (রহঃ)

৮০১. মুসাদ্দাদ ..... আবু মামার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খাব্বাব (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যোহর ও আসরের নামাযে কিরাআত পাঠ করতেন কি? তিনি বলেন, হ্যাঁ, পাঠ করতেন। আমরা তাকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করি, আপনারা কিরূপে তা অবগত হতেন? তিনি বলেন, আমরা তাঁর দাড়ি মোবারক আন্দোলিত হতে দেখতাম।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৮০২

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُومُ فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى مِنْ صَلاَةِ الظُّهْرِ حَتَّى لاَ يَسْمَعَ وَقْعَ قَدَمٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

৮০২. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) যোহরের নামাযের প্রথম রাকআতে এত দীর্ঘ সময় দড়াতেন যে, কারো (আসার) পদধ্বনি শোনা যেত না।

১৩৬. শেষের দুই রাকআত সংক্ষেপ করা সম্পর্কে।

باب تَخْفِيفِ الأُخْرَيَيْنِ

৮০৩

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ أَبِي عَوْنٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ قَالَ عُمَرُ لِسَعْدٍ قَدْ شَكَاكَ النَّاسُ فِي كُلِّ شَىْءٍ حَتَّى فِي الصَّلاَةِ . قَالَ أَمَّا أَنَا فَأَمُدُّ فِي الأُولَيَيْنِ وَأَحْذِفُ فِي الأُخْرَيَيْنِ وَلاَ آلُو مَا اقْتَدَيْتُ بِهِ مِنْ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ ذَاكَ الظَّنُّ بِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

৮০৩. হাফস ইবনে উমর ..... জাবের ইবনে সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) সা’দ (রাযিঃ)-কে বলেন, জনসাধারণ আপনার বিরুদ্ধে প্রতিটি ব্যাপারে অতিযোগ করেছে, এমনকি আপনার নামায সম্পর্কেও। সা’দ (রাযিঃ) বলেন, আমি নামাযের প্রথম রাকআতে কিরাআত দীর্ঘ এবং শেষ দুই রাকআতে কেবলমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করে থকি। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর পেছনে যেরূপ নামায পড়েছি, তার কোন ব্যতিক্রম করিনি। উমর (রাযিঃ) বলেন, আমিও আপনার সম্পর্কে এরূপ ধারণা পোষণ করে থাকি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৮০৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، - يَعْنِي النُّفَيْلِيَّ - حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا مَنْصُورٌ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ الْهُجَيْمِيِّ، عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ النَّاجِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ حَزَرْنَا قِيَامَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فَحَزَرْنَا قِيَامَهُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ قَدْرَ ثَلاَثِينَ آيَةً قَدْرَ ( الم * تَنْزِيلُ ) السَّجْدَةِ وَحَزَرْنَا قِيَامَهُ فِي الأُخْرَيَيْنِ عَلَى النِّصْفِ مِنْ ذَلِكَ وَحَزَرْنَا قِيَامَهُ فِي الأُولَيَيْنِ مِنَ الْعَصْرِ عَلَى قَدْرِ الأُخْرَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ وَحَزَرْنَا قِيَامَهُ فِي الأُخْرَيَيْنِ مِنَ الْعَصْرِ عَلَى النِّصْفِ مِنْ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৮০৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ ..... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যোহর ও আসরের নামাযে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন, আমরা তা নির্ণয় করেছি। আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহগ করি যে, তিনি যোহরের নামাযের প্রথম দুই রাকআতে ৩০ আয়াত পাঠ করার পরিমাণ সময় দাঁড়াতেন- যেমন সূরা “আলিফ-লাম মীম আস্-সিজদা” ইত্যাদি এবং শেষ দুই রাকআতে তিনি প্রথম দুই রাকআতের চাইতে অর্ধেক পরিমাণ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন। তিনি যোহরের শেষ দুই রাকআতে যতক্ষণ দাঁড়াতেন- আসরের প্রথম দুই রাকআতেও ততক্ষণ দণ্ডায়মান থাকতেন। তিনি আসরের শেষ দুই রাকআতে তার প্রথম দুই রাকআতের অর্ধেক পরিমাণ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৩৭. যোহর ও আসর নামাযের কিরাআতের পরিমাণ।

باب قَدْرِ الْقِرَاءَةِ فِي صَلاَةِ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ

৮০৫

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ بِالسَّمَاءِ وَالطَّارِقِ وَالسَّمَاءِ ذَاتِ الْبُرُوجِ وَنَحْوِهِمَا مِنَ السُّوَرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

৮০৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... জাবের ইবনে সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যোহর ও আসরের নামাযে সূরা “ওয়াস-সামায়ে ওয়াত-তারিক” এবং “ওয়াস-সামায়ে যাতিল-বুরূজ”-এর অনুরূপ সূরা পাঠ করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮০৬

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكٍ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَحَضَتِ الشَّمْسُ صَلَّى الظُّهْرَ وَقَرَأَ بِنَحْوِ مِنْ ( وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى ) وَالْعَصْرَ كَذَلِكَ وَالصَّلَوَاتِ كَذَلِكَ إِلاَّ الصُّبْحَ فَإِنَّهُ كَانَ يُطِيلُهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

৮০৬. উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয .... জাবের ইবনে সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সূর্য পশ্চিম দিগন্তে হেলে পড়ত, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যোহরের নামায পড়তেন এবং নামাযে সূরা “ওয়াল-লায়লি ইযা ইয়াগশা”-এর অনুরূপ সূরা পাঠ করতেন। তিনি আসর ও অন্যন্য নামাযে একইরূপ (দৈর্ঘ্যের সূরা) পাঠ করতেন। তবে ফজরের নামাযে তিনি লম্বা সূরা পাঠ করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৮০৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، وَيَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، وَهُشَيْمٌ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أُمَيَّةَ، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَجَدَ فِي صَلاَةِ الظُّهْرِ ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ فَرَأَيْنَا أَنَّهُ قَرَأَ تَنْزِيلَ السَّجْدَةِ . قَالَ ابْنُ عِيسَى لَمْ يَذْكُرْ أُمَيَّةَ أَحَدٌ إِلاَّ مُعْتَمِرٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৮০৭. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যোহরের নামাযে তিলাওয়াতের সিজদা পাঠ করে দণ্ডায়মান হন, অতঃপর তিনি রুকূ করেন। আমরা তাকে সূরা “তানযীল আস-সিজদা” পাঠ করতে দেখেছি। ইবনে ঈসা, বলেন, এই হাদীস কেউই উমাইয়্যা হতে বর্ণনা করেন নি, বরং মু’তামির হতে বর্ণিত হয়েছে।
৮০৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ مُوسَى بْنِ سَالِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فِي شَبَابٍ مِنْ بَنِي هَاشِمٍ فَقُلْنَا لِشَابٍّ مِنَّا سَلِ ابْنَ عَبَّاسٍ أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فَقَالَ لاَ لاَ . فَقِيلَ لَهُ فَلَعَلَّهُ كَانَ يَقْرَأُ فِي نَفْسِهِ . فَقَالَ خَمْشًا هَذِهِ شَرٌّ مِنَ الأُولَى كَانَ عَبْدًا مَأْمُورًا بَلَّغَ مَا أُرْسِلَ بِهِ وَمَا اخْتَصَّنَا دُونَ النَّاسِ بِشَىْءٍ إِلاَّ بِثَلاَثِ خِصَالٍ أَمَرَنَا أَنْ نُسْبِغَ الْوُضُوءَ وَأَنْ لاَ نَأْكُلَ الصَّدَقَةَ وَأَنْ لاَ نُنْزِيَ الْحِمَارَ عَلَى الْفَرَسِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৮০৮. মুসাদ্দাদ .... আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইদুল্লাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি হাশিম গোত্রীয় কয়েকজন যুবকের সাথে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট যাই। তখন আমি আমাদের মধ্য হতে জনৈক যুবককে বলি যে, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করুন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যোহরে ও আসরের নামাযে কিরাআত পাঠ করতেন কি? ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, না। তাকে কেউ বললেন যে, যথা সম্ভব নবী (ﷺ) আস্তে আস্তে কিরাআত পাঠ করতেন। তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, আস্তে কিরাআত পাঠ করার চেয়ে কিরাআত পাঠ না করাই উত্তম। তিনি আল্লাহর পক্ষ হতে নির্দেশিত ব্যক্তি ছিলেন, তাঁর নিকট অবতীর্ণ বিষয়বস্তু অকপটে তিনি প্রচার করেছেন। তিনটি বিষয়ে আমরা অন্যদের চেয়ে সম্পূর্ণ পৃথক। প্রথমতঃ আমাদেরকে পরিপূর্ণভাবে উযু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয়তঃ সাদ্‌কার মাল গ্রহণ ও ভক্ষণ আমাদের জন্য হারাম। তৃতীয়তঃ জন্তুর সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে গাধাকে ঘোড়ার সাথে সঙ্গম করালে আমাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮০৯

حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لاَ أَدْرِي أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ أَمْ لاَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৮০৯. যিয়াদ ইবনে আইয়ুব .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যোহর ও আসরের নামাযে কিরাআত পাঠ করতেন কিনা তা আমি জানি না।

সূত্র: আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

১৩৮. মাগরিবের নামাযে কিরা’আত পাঠের পরিমাণ।

باب قَدْرِ الْقِرَاءَةِ فِي الْمَغْرِبِ

৮১০

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ أُمَّ الْفَضْلِ بِنْتَ الْحَارِثِ، سَمِعَتْهُ وَهُوَ، يَقْرَأُ ( وَالْمُرْسَلاَتِ عُرْفًا ) فَقَالَتْ يَا بُنَىَّ لَقَدْ ذَكَّرْتَنِي بِقِرَاءَتِكَ هَذِهِ السُّورَةَ إِنَّهَا لآخِرُ مَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ بِهَا فِي الْمَغْرِبِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৮১০. আল-কানবী .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা উম্মুল ফাদল বিনতেল হারিছ (রাযিঃ) তাকে (ইবনে আব্বাসকে) وَالْمُرْسَلاَتِ عُرْفًا শীর্ষক সূরা তিলাওয়াত করতে শুনে বলেন, হে বৎস! এই সূরা তিলাওয়াত করে আমাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছ যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে সর্বশেষ মাগরিবের নামাযে এই সূরা তিলাওয়াত করতে শুনেছি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮১১

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ بِالطُّورِ فِي الْمَغْرِبِ .

বর্ণনাকারী: জুবায়র ইবনে মুতঈম (রাঃ)

৮১১. আল-কানবী .... জুবাইর ইবনে মুতইম (রাযিঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে মাগরিবের নামযে সূরা তুর তিলাওয়াত করতে শুনেছি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৮১২

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ، قَالَ قَالَ لِي زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ مَا لَكَ تَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِقِصَارِ الْمُفَصَّلِ وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِطُولَى الطُّولَيَيْنِ قَالَ قُلْتُ مَا طُولَى الطُّولَيَيْنِ قَالَ الأَعْرَافُ وَالأُخْرَى الأَنْعَامُ . قَالَ وَسَأَلْتُ أَنَا ابْنَ أَبِي مُلَيْكَةَ فَقَالَ لِي مِنْ قِبَلِ نَفْسِهِ الْمَائِدَةُ وَالأَعْرَافُ .

বর্ণনাকারী: মারওয়ান ইবনুল হাকাম (রহঃ)

৮১২. আল-হাসান ইবনে আলী .... মারওয়ান ইবনুল-হাকাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) আমাকে জিজ্ঞাসা করেন তুমি মাগরিবের নামাযে “কিসারে মুফাসসাল”* পাঠ কর কেন? অথচ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে মাগরিবের নামাযে দুইটি দীর্ঘ সূরা পড়তে শুনেছি। তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি, এই দীর্ঘ সূরা দুইটি কি কি? তিনি বলেন, সূরা আ’রাফ ও সূরা আন’আম। অতঃপর আমি (ইবনে জুরাইজ) এ ব্যাপারে ইবনে আবু মুলায়কাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি নিজের পক্ষ থেকে বলেন, দীর্ঘ সূরা দুইটি হলঃ সূরা আল-মায়েদাহ্ ও সূরা আল-আ’রাফ।

* কিসারে মুফাস্‌সাল হলঃ পবিত্র কুরআনের ২৬তম পারার সূরা হুজুরাত হতে ৩০ নং পারার শেষ সূরা আন-নাস পর্যন্ত ছোট ছোট সূরাগুলি। এই সকল সূরাতে একটিকে অপরটি হতে পৃথক করার জন্য ঘন ঘন বিসমিল্লাহ ব্যবহৃত হয়েছে বলে একে কিসারে মুফাস্সাল বলা হয়।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৩৯. মাগরিবের নামাযে কিরাআত সংক্ষিপ্ত করা সম্পর্কে।

باب مَنْ رَأَى التَّخْفِيفَ فِيهَا

৮১৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، أَنَّ أَبَاهُ، كَانَ يَقْرَأُ فِي صَلاَةِ الْمَغْرِبِ بِنَحْوِ مَا تَقْرَءُونَ ( وَالْعَادِيَاتِ ) وَنَحْوِهَا مِنَ السُّوَرِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ ذَاكَ مَنْسُوخٌ وَهَذَا أَصَحُّ .

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে উরওয়া (রহঃ)

৮১৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... হিশাম ইবনে উরওয়া হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা মাগরিবের নামাযে তোমাদের মত সূরা আল-আদিয়াত এবং এর সম পরিমাণের দীর্ঘ সূরা পাঠ করতেন।

৮১৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ السَّرْخَسِيُّ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْحَاقَ، يُحَدِّثُ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّهُ قَالَ مَا مِنَ الْمُفَصَّلِ سُورَةٌ صَغِيرَةٌ وَلاَ كَبِيرَةٌ إِلاَّ وَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَؤُمُّ النَّاسَ بِهَا فِي الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

৮১৪. আহমদ ইবনে সাঈদ আস-সারখাসী ..... আমর ইবনে শুআয়ব থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে ফরয নামাযের ইমামতির সময়- মুফাসসালের ছোট-বড় সব সূরাই পাঠ করতে শুনেছি (সূরা হুজুরাত হতে কুরআনের সর্বশেষ সূরা পর্যন্ত- সূরা গুলিকে মুফাসসাল বলা হয়)।

৮১৫

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا قُرَّةُ، عَنِ النَّزَّالِ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، أَنَّهُ صَلَّى خَلْفَ ابْنِ مَسْعُودٍ الْمَغْرِبَ فَقَرَأَ بِـ ( قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ) .

বর্ণনাকারী: আবু উসমান নাহদী (রহঃ)

৮১৫. উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয ..... আবু উছমান আন-নাহদী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর পিছনে মাগরিবের নামায আদায় করেন। তিনি সূরা ইখলাস পাঠ করেন।

১৪০. যে ব্যক্তি একই সূরা উভয় রাকআতে পাঠ করে।

باب الرَّجُلِ يُعِيدُ سُورَةً وَاحِدَةً فِي الرَّكْعَتَيْنِ

৮১৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنِ ابْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْجُهَنِيِّ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ جُهَيْنَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الصُّبْحِ ( إِذَا زُلْزِلَتِ الأَرْضُ ) فِي الرَّكْعَتَيْنِ كِلْتَيْهِمَا فَلاَ أَدْرِي أَنَسِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمْ قَرَأَ ذَلِكَ عَمْدًا .

বর্ণনাকারী: মুআয ইবনে আব্দুল্লাহ (রহঃ)

৮১৬. আহমদ ইবনে সালেহ ..... মুআয ইবনে আবব্দুল্লাহ আল-জুহানী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুহায়না গোত্রের এক ব্যক্তি তাকে জানান যে, তিনি নবী (ﷺ)কে ফজরের নামাযের উভয় রাকআতে সূরা (إِذَا زُلْزِلَتِ الأَرْضُ) পড়তে শুনেছেন। তিনি আরো বলেন, আমি জানি না রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভুল বশত এরূপ করেছিলেন না ইচ্ছাকৃতভাবে তা পড়েছিলেন।

১৪১. ফজরের নামাযের কিরা’আত সম্পর্কে।

باب الْقِرَاءَةِ فِي الْفَجْرِ

৮১৭

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، - يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ - عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أَصْبَغَ، مَوْلَى عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ حُرَيْثٍ، قَالَ كَأَنِّي أَسْمَعُ صَوْتَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي صَلاَةِ الْغَدَاةِ ( فَلاَ أُقْسِمُ بِالْخُنَّسِ * الْجَوَارِ الْكُنَّسِ ) .

বর্ণনাকারী: আমর ইবন হুরায়স (রাঃ)

৮১৭. ইবরাহীম ইবনে মুসা .... আমর ইবনে হুরায়েছ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যেন শুনতে পাচ্ছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ফজরের নামাযে সূরা (তাকবীর) পাঠ করার শব্দ।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৪২. কোন ব্যক্তি নামাযে (সূরা ফাতিহা অথবা) কিরাত পাঠ ত্যাগ করলে।

باب مَنْ تَرَكَ الْقِرَاءَةَ فِي صَلاَتِهِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ

৮১৮

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ أُمِرْنَا أَنْ نَقْرَأَ، بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَمَا تَيَسَّرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৮১৮. আবুল ওয়ালীদ ..... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, আমরা যেন নামাযের মধ্যে সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে আল-কুরআনের সহজপাঠ্য কোন আয়াত পাঠ করি।

৮১৯

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مَيْمُونٍ الْبَصْرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ النَّهْدِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اخْرُجْ فَنَادِ فِي الْمَدِينَةِ أَنَّهُ لاَ صَلاَةَ إِلاَّ بِقُرْآنٍ وَلَوْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَمَا زَادَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮১৯. ইবরাহীম ইবনে মুসা .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে নির্দেশ দেনঃ তুমি মদীনার রাস্তায় বের হয়ে ঘোষণা দাও যে, কুরআন পাঠ ব্যতীত নামাযই শুদ্ধ হয় না; অন্তত সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে সংক্ষিপ্ত কোন সূরা বা আায়াত অবশ্যই মিলাতে হবে।

৮২০

حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أُنَادِيَ أَنَّهُ لاَ صَلاَةَ إِلاَّ بِقِرَاءَةِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَمَا زَادَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮২০. ইবনে বাশশার .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে নির্দেশ দেন যে, আমি যেন ঘোষণা করে দেই যে, সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে আল-কুরআনের কিছু অংশ (সূরা বা আয়াত) না মিলালে কিছুতেই নামায বিশুদ্ধ হবে না।

৮২১

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا السَّائِبِ، مَوْلَى هِشَامِ بْنِ زُهْرَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَلَّى صَلاَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهِيَ خِدَاجٌ فَهِيَ خِدَاجٌ فَهِيَ خِدَاجٌ غَيْرُ تَمَامٍ " . قَالَ فَقُلْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ إِنِّي أَكُونُ أَحْيَانًا وَرَاءَ الإِمَامِ . قَالَ فَغَمَزَ ذِرَاعِي وَقَالَ اقْرَأْ بِهَا يَا فَارِسِيُّ فِي نَفْسِكَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " قَالَ اللَّهُ تَعَالَى قَسَمْتُ الصَّلاَةَ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي نِصْفَيْنِ فَنِصْفُهَا لِي وَنِصْفُهَا لِعَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ " . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْرَءُوا يَقُولُ الْعَبْدُ ( الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ) يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ حَمِدَنِي عَبْدِي يَقُولُ الْعَبْدُ ( الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ) يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَثْنَى عَلَىَّ عَبْدِي يَقُولُ الْعَبْدُ ( مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ ) يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مَجَّدَنِي عَبْدِي يَقُولُ الْعَبْدُ ( إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ) يَقُولُ اللَّهُ وَهَذِهِ بَيْنِي وَبَيْنَ عَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ يَقُولُ الْعَبْدُ ( اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ * صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ ) يَقُولُ اللَّهُ فَهَؤُلاَءِ لِعَبْدِي وَلِعَبْدِي مَا سَأَلَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮২১. আল-কানবী ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করে না তার নামায ক্রটিপূর্ণ, তার নামায ক্রটিপুর্ণ, তার নামায ক্রটিপূর্ণ, অসম্পূর্ণ। রাবী বলেন, পরবর্তীকালে আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি যে, আমি যখন ইমামের পিছনে থাকি, তখন সূরা ফাতিহা পাঠ করব কি? তিনি আমার বাহু চাপ দিয়ে বলেন, হে ফারসী! তখন তুমি তোমার মনে মনে তা পাঠ করবে। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি মহান আল্লাহ বলেন, আমি নামাযকে (অর্থাৎ সূরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মধ্যে বিভক্ত করেছি। এর অর্ধেক আমার জন্য এবং বাকী অর্ধেক আমার বান্দার জন্য এবং আমার বান্দা আমার নিকট যা কামনা করে, তাই তাকে দেয়া হয়।

রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা সূরা ফাতিহা পাঠ কর। আল্লাহ্ তাআলা বলেন, যখন আমার বান্দা বলেঃ আলহামদু লিল্লাহি রবিল আলামিন, তখন আল্লাহ্ বলেনঃ আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। অতঃপর বান্দা যখন বলেঃ আর-রহমানির রাহীম, তখন আল্লাহ্ বলেনঃ আমার বান্দা আমার গুণগান করেছে। বান্দা যখন বলেঃ মালিকি ইয়াওমিদ্দীন, তখন আল্লাহ্ বলেনঃ আমার বান্দা আমার সম্মান প্রদর্শন করেছে। অতঃপর যখন বান্দা বলেঃ ইয়াকা’নাবুদু ওয়া ইয়াকা’নাস্তাইন, তখন আল্লাহ্ বলেন, এটা আমার ও আমার বান্দার মধ্যে সীমিত এবং আমার বান্দা যা প্রার্থনা করল, তাই তাকে দেয়া হয়। অতঃপর বান্দা যখনই “ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকীম, সীরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহিম, গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন” বলে তখন আল্লাহ্ বলেন, এ সমস্তই আমার বান্দার জন্য এবং আমার বান্দা যা কিছু প্রার্থনা করেছে- তাও প্রাপ্ত হবে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮২২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ السَّرْحِ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَصَاعِدًا " . قَالَ سُفْيَانُ لِمَنْ يُصَلِّي وَحْدَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

৮২২. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ..... উবাদা ইবনুস-সামিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। এই হাদীসের সনদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পর্যন্ত পৌছেছে। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা এবং তার সাথে অতিরিক্ত কিছু পাঠ না করবে, তার নামায পূর্ণাঙ্গ হবে না।

রাবী বলেন, এই নির্দেশ কেবলমাত্র একাকী নামায পাঠকারীর বেলায় প্রযোজ্য।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

৮২৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ كُنَّا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ فَقَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَثَقُلَتْ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةُ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ " لَعَلَّكُمْ تَقْرَءُونَ خَلْفَ إِمَامِكُمْ " . قُلْنَا نَعَمْ هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " لاَ تَفْعَلُوا إِلاَّ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَإِنَّهُ لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

৮২৩. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ .... উবাদা ইবনুস সামিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে ফজরের নামাযের জামাআতে শরীক ছিলাম। নামাযে কুরআন পাঠের সময় তার পাঠ তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। নামায শেষে তিনি বলেন, সম্ভবতঃ তোমরা ইমামের পিছনে কিরাআত পাঠ করেছ। আমরা বলি, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন তিনি বলেন, তোমরা সূরা ফাতিহা ব্যতীত অন্য কিছু পাঠ করবে না। কেননা যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পড়বে না, তার নামায হবে না।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

৮২৪

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنِي زَيْدُ بْنُ وَاقِدٍ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ نَافِعٌ أَبْطَأَ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ عَنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ، فَأَقَامَ أَبُو نُعَيْمٍ الْمُؤَذِّنُ الصَّلاَةَ فَصَلَّى أَبُو نُعَيْمٍ بِالنَّاسِ وَأَقْبَلَ عُبَادَةُ وَأَنَا مَعَهُ، حَتَّى صَفَفْنَا خَلْفَ أَبِي نُعَيْمٍ وَأَبُو نُعَيْمٍ يَجْهَرُ بِالْقِرَاءَةِ فَجَعَلَ عُبَادَةُ يَقْرَأُ بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَلَمَّا انْصَرَفَ قُلْتُ لِعُبَادَةَ سَمِعْتُكَ تَقْرَأُ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَأَبُو نُعَيْمٍ يَجْهَرُ قَالَ أَجَلْ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْضَ الصَّلَوَاتِ الَّتِي يَجْهَرُ فِيهَا بِالْقِرَاءَةِ قَالَ فَالْتَبَسَتْ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةُ فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ وَقَالَ " هَلْ تَقْرَءُونَ إِذَا جَهَرْتُ بِالْقِرَاءَةِ " . فَقَالَ بَعْضُنَا إِنَّا نَصْنَعُ ذَلِكَ . قَالَ " فَلاَ وَأَنَا أَقُولُ مَا لِي يُنَازَعُنِي الْقُرْآنُ فَلاَ تَقْرَءُوا بِشَىْءٍ مِنَ الْقُرْآنِ إِذَا جَهَرْتُ إِلاَّ بِأُمِّ الْقُرْآنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

৮২৪. আর-রবী ইবনে সুলাইমান ..... নাফে ইবনে মাহমুদ হতে বর্ণিত। নাফে বলেন, একদা উবাদা ইবনুস সামিত (রাযিঃ) বিলম্বে ফজরের নামাযের জামাআতে উপস্থিত হন। এমতাবস্থায় মুয়াযযিন আবু নুআয়েম (রাহঃ) তাকবীর বলে লোকদের নামায আরম্ভ করেন। তখন আমি এবং উবাদা ইবনুস সামিত (রাযিঃ) উপস্থিত হয়ে আবু নুআয়েমের পিছনে ইক্তিদা করি। এই সময় আবু নুআয়েম উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করছিলেন এবং উবাদা (রাযিঃ) সূরা ফাতিহা পাঠ করেন। নামাযান্তে আমি উবাদা (রাযিঃ)-কে বলিঃ ইমাম আবু নুআয়েম যখন উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করছিলেন, তখন আমি আপনাকেও সূরা ফাতিহা পড়তে শুনি, এর হেতু কি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, আমি পাঠ করেছি।

একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কোন এক ওয়াক্তের নামাযে আমাদের ইমামতি করেন, যার মধ্যে উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করতে হয়। রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কিরাআত পাঠের সময় আটকে যান। অতঃপর নামাযান্তে সমবেত মুসল্লীদের লক্ষ্য করে বলেনঃ আমি যখন উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করছিলাম। তখন তোমরাও কি কিরাআত পাঠ করেছ? জবাবে আমাদের কেউ বলেন, হ্যাঁ আমরাও কিরাআত পাঠ করেছি। তখন তিনি বলেন, এইরূপ আর কখনও করবে না। তিনি আরো বলেন, কিরাআত পাঠের সময় যখন আমি আটকে যাই তখন আমি এইরূপ চিন্তা করি যে, আমার কুরআন পাঠে কিসে বা কে বাধার সৃষ্টি করছে? অতএব আমি নামাযের মধ্যে উচ্চস্বরে যখন কিরা’আত পাঠ করি, তখন তোমরা সূরা ফাতিহা ব্যতীত অন্য কিছু পাঠ করবে না।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৮২৫

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَهْلٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ ابْنِ جَابِرٍ، وَسَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْعَلاَءِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ عُبَادَةَ، نَحْوَ حَدِيثِ الرَّبِيعِ بْنِ سُلَيْمَانَ قَالُوا فَكَانَ مَكْحُولٌ يَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ وَالصُّبْحِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ سِرًّا . قَالَ مَكْحُولٌ اقْرَأْ بِهَا فِيمَا جَهَرَ بِهِ الإِمَامُ إِذَا قَرَأَ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَسَكَتَ سِرًّا فَإِنْ لَمْ يَسْكُتِ اقْرَأْ بِهَا قَبْلَهُ وَمَعَهُ وَبَعْدَهُ لاَ تَتْرُكْهَا عَلَى حَالٍ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৮২৫. আলী ইবনে সাহল আর-রামলী ......... ইবনে জাবের, সাঈদ ইবনে আব্দুল আযীয এবং আব্দুল্লাহ্ ইবনুল আলা হতে বর্ণিত। তারা মাকহূল হতে, তিনি উবাদা (রাযিঃ) হতে আর-রবী ইবনে সুলাইমানের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন, মাকহূল মাগরিব, এশা ও ফজরের নামাযে (ইমামের পিছনে নীরবে প্রত্যেক রাকআতেই সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন।

মাকহূল (রাহঃ) বলেনঃ ইমাম যে নামাযের মধ্যে উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করেন এবং থামেন তখন নিঃশব্দে সূরা ফাতিহা পাঠ কর। অপরপক্ষে ইমাম যদি কিরাআত পাঠ করেন, এমতাবস্থায় তুমি হয় ইমামের আগে, পরে বা সাথে সূরা ফাতিহা পাঠ কর এবং তা পাঠ করা কখনও ত্যাগ কর না।

১৪৩. যে নামাযের মধ্যে চুপে চুপে কিরা’আত তাতে সূরা ফাতিহা পাঠ সম্পর্কে।

باب مَنْ رَأَى الْقِرَاءَةَ إِذَا لَمْ يَجْهَرْ

৮২৬

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ أُكَيْمَةَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم انْصَرَفَ مِنْ صَلاَةٍ جَهَرَ فِيهَا بِالْقِرَاءَةِ فَقَالَ " هَلْ قَرَأَ مَعِي أَحَدٌ مِنْكُمْ آنِفًا " . فَقَالَ رَجُلٌ نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " إِنِّي أَقُولُ مَا لِي أُنَازَعُ الْقُرْآنَ " . قَالَ فَانْتَهَى النَّاسُ عَنِ الْقِرَاءَةِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا جَهَرَ فِيهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالْقِرَاءَةِ مِنَ الصَّلَوَاتِ حِينَ سَمِعُوا ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى حَدِيثَ ابْنِ أُكَيْمَةَ هَذَا مَعْمَرٌ وَيُونُسُ وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَلَى مَعْنَى مَالِكٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮২৬. আল-কানবী ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠের মাধ্যমে নামায আদায়ের পর জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমাদের কেউ এখন আমার সাথে (নামাযের মধ্যে) কিরাআত পাঠ করেছে কি? জবাবে এক ব্যক্তি বলেন হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ এজন্যই আমার কুরআন পাঠের সময় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এরূপ শোনার পর সাহাবায়ে কিরাম উচ্চস্বরে কিরাআত পঠিত নামাযে তাঁর পিছনে কিরাআত পাঠ করা হতে বিরত থাকেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮২৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَأَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ، وَابْنُ السَّرْحِ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، سَمِعْتُ ابْنَ أُكَيْمَةَ، يُحَدِّثُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةً نَظُنُّ أَنَّهَا الصُّبْحُ بِمَعْنَاهُ إِلَى قَوْلِهِ " مَا لِي أُنَازَعُ الْقُرْآنَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ مُسَدَّدٌ فِي حَدِيثِهِ قَالَ مَعْمَرٌ فَانْتَهَى النَّاسُ عَنِ الْقِرَاءَةِ فِيمَا جَهَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ ابْنُ السَّرْحِ فِي حَدِيثِهِ قَالَ مَعْمَرٌ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَانْتَهَى النَّاسُ . وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ مِنْ بَيْنِهِمْ قَالَ سُفْيَانُ وَتَكَلَّمَ الزُّهْرِيُّ بِكَلِمَةٍ لَمْ أَسْمَعْهَا فَقَالَ مَعْمَرٌ إِنَّهُ قَالَ فَانْتَهَى النَّاسُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَانْتَهَى حَدِيثُهُ إِلَى قَوْلِهِ " مَا لِي أُنَازَعُ الْقُرْآنَ " . وَرَوَاهُ الأَوْزَاعِيُّ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ فِيهِ قَالَ الزُّهْرِيُّ فَاتَّعَظَ الْمُسْلِمُونَ بِذَلِكَ فَلَمْ يَكُونُوا يَقْرَءُونَ مَعَهُ فِيمَا يَجْهَرُ بِهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ قَالَ قَوْلُهُ فَانْتَهَى النَّاسُ . مِنْ كَلاَمِ الزُّهْرِيِّ .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)

৮২৭. মুসাদ্দাদ ..... সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিয়ে নামায আদায় করেন। সম্ভবতঃ তা ফজরের নামায হবে। অতঃপর হাদীসটি পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং কুরআন পাঠে কিসে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে’ এই পর্যন্ত বর্ণনা করেন।

১৪৪. যে নামাযে কিরা’আত উচ্চস্বরে পঠিত হয় না, তাতে মুক্তাদিদের কিরা’আত পাঠ সম্পর্কে।

৮২৮

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، - الْمَعْنَى - عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ فَجَاءَ رَجُلٌ فَقَرَأَ خَلْفَهُ ( سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى ) فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ " أَيُّكُمْ قَرَأَ " . قَالُوا رَجُلٌ . قَالَ " قَدْ عَرَفْتُ أَنَّ بَعْضَكُمْ خَالَجَنِيهَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ أَبُو الْوَلِيدِ فِي حَدِيثِهِ قَالَ شُعْبَةُ فَقُلْتُ لِقَتَادَةَ أَلَيْسَ قَوْلُ سَعِيدٍ أَنْصِتْ لِلْقُرْآنِ قَالَ ذَاكَ إِذَا جَهَرَ بِهِ . وَقَالَ ابْنُ كَثِيرٍ فِي حَدِيثِهِ قَالَ قُلْتُ لِقَتَادَةَ كَأَنَّهُ كَرِهَهُ . قَالَ لَوْ كَرِهَهُ نَهَى عَنْهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৮২৮. আবুল ওয়ালীদ ও মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর .... ইমরান ইবনে হুসাইয়েন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) যোহরের নামায পড়াচ্ছিলেন। এক ব্যক্তি এসে তাঁর পিছনে ইক্তিদা করে সূরা “সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা” পাঠ করে। নামায শেষে নবী (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেন, তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি সূরা পাঠ করেছে? জবাবে তারা বলেন, এক ব্যক্তি। তখন তিনি বলেন, আমি বুঝতে পেরেছি তোমাদের মধ্যে কোন লোক নামাযের মধ্যে আমাকে অহেতুক জটিলতা ও দুশ্চিন্তায় ফেলে।

৮২৯

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِهِمُ الظُّهْرَ فَلَمَّا انْفَتَلَ قَالَ " أَيُّكُمْ قَرَأَ بِـ ( سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى ) " . فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا . فَقَالَ " عَلِمْتُ أَنَّ بَعْضَكُمْ خَالَجَنِيهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৮২৯. ইবনুল মুছান্না ..... ইমরান ইবনে হুসায়েন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী (ﷺ) তাদের সাথে জামাআতে নামায আদায়ের পর বলেন, তোমাদের কে সূরা “সাব্বিহিসমা রাব্বিকা আ'লা” পাঠ করেছে? জবাবে এক ব্যক্তি বলেন, আমি। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ আমি বুঝতে পেরেছি যে, তোমাদের কেউ নামাযের মধ্যে আমাকে কুরআন পাঠে জটিলতায় ফেলেছে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৪৫. নিরক্ষর ও অনারব* লোকদের কিরা’আতের পরিমাণ।

باب مَا يُجْزِئُ الأُمِّيَّ وَالأَعْجَمِيَّ مِنَ الْقِرَاءَةِ

৮৩০

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ حُمَيْدٍ الأَعْرَجِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ نَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَفِينَا الأَعْرَابِيُّ وَالأَعْجَمِيُّ فَقَالَ " اقْرَءُوا فَكُلٌّ حَسَنٌ وَسَيَجِيءُ أَقْوَامٌ يُقِيمُونَهُ كَمَا يُقَامُ الْقِدْحُ يَتَعَجَّلُونَهُ وَلاَ يَتَأَجَّلُونَهُ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৮৩০. ওয়াহব ইবনে বাকিয়্যা ..... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা যখন আমরা কিরাআত পাঠে মগ্ন ছিলাম, তখন হঠাৎ সেখানে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আগমন করেন এবং এ সময় আমাদের মধ্যে আরব বেদুইন ও অনারব লোকেরা ছিল। তিনি বলেনঃ তোমরা পাঠ কর, সকলেই উত্তম। কেননা অদুর ভবিষ্যতে এমন সম্প্রদায় নির্গত হবে, যারা কুরআনকে তীরের মত ঠিক করবে (অর্থাৎ তাজবীদ নিয়ে অত্যন্ত বাড়াবাড়ি করবে), তা দ্রুত গতিতে পাঠ করবে, ধীরস্থিরভাবে পড়বে না।**

* সাধারণতঃ সমস্ত লোকদের আজমী বলা হয়, যারা আরব এলাকার বাইরে বসবাস করে এবং আরবী যাদের মাতৃভাষা নয়। আজমী শব্দের আভিধানিক অর্থ হল- মুক্ত। আরবরা অহংকার হেতু অনারব (আরব জগতের বাইরের) লোকদের আজমী বলত। - (অনুবাদক)

** অর্থাৎ নবী করীম (ﷺ) আখেরী যামানার এক শ্রেণীর কুরআন পাঠকদের সম্পর্কে এরূপ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, যারা হিদায়াতের পরিবর্তে স্বীয় যশ, মান ও খ্যাতির জন্য কুরআন পাঠ করবে। এতে তাদের উদ্দেশ্য হবে দুনিয়ার ফায়দা হাসিল করা, আখিরাতের কল্যণ লাভের জন্য তারা সচেষ্ট হবে না।

১৪৫. নিরক্ষর ও অনারব লোকদের কিরা’আতের পরিমাণ।

باب مَا يُجْزِئُ الأُمِّيَّ وَالأَعْجَمِيَّ مِنَ الْقِرَاءَةِ

৮৩১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، وَابْنُ، لَهِيعَةَ عَنْ بَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ، عَنْ وَفَاءِ بْنِ شُرَيْحٍ الصَّدَفِيِّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا وَنَحْنُ نَقْتَرِئُ فَقَالَ " الْحَمْدُ لِلَّهِ كِتَابُ اللَّهِ وَاحِدٌ وَفِيكُمُ الأَحْمَرُ وَفِيكُمُ الأَبْيَضُ وَفِيكُمُ الأَسْوَدُ اقْرَءُوهُ قَبْلَ أَنْ يَقْرَأَهُ أَقْوَامٌ يُقِيمُونَهُ كَمَا يُقَوَّمُ السَّهْمُ يَتَعَجَّلُ أَجْرَهُ وَلاَ يَتَأَجَّلُهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৮৩১. আহমদ ইবনে সালেহ্ ..... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন আমরা কিরাআত পাঠ করাকালীন নবী (ﷺ) উপস্থিত হয়ে বলেনঃ আলহামুদুলিল্লাহ! আল্লাহর কিতাব একই এবং তোমাদের কেউ লাল, কেউ সাদা এবং কেউ কাল রংের। তোমরা ঐ সম্প্রদায়ের আবির্ভাবের পূর্বে কিরাআত পাঠ কর যারা কুরআনকে তীরের ন্যায় দৃঢ় করবে। তারা কুরআন পাঠের (বিনিময় দুনিয়াতে পেতে) তাড়াহুড়া করবে এবং (আখিরাতের) অপেক্ষা করবে না।

৮৩২

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ أَبِي خَالِدٍ الدَّالاَنِيِّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ السَّكْسَكِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّي لاَ أَسْتَطِيعُ أَنْ آخُذَ مِنَ الْقُرْآنِ شَيْئًا فَعَلِّمْنِي مَا يُجْزِئُنِي مِنْهُ . قَالَ " قُلْ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَمَا لِي قَالَ " قُلِ اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي وَارْزُقْنِي وَعَافِنِي وَاهْدِنِي " . فَلَمَّا قَامَ قَالَ هَكَذَا بِيَدِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَّا هَذَا فَقَدْ مَلأَ يَدَهُ مِنَ الْخَيْرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

৮৩২. উছমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আবু আওফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বলেন, আমি কুরআন মুখস্থ করে রাখতে পারি না। অতএব আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন যা কুরআন এর পরিবর্তে যথেষ্ট হবে। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি বলবেঃ সুবহানাল্লাহ্, আলহামদু লিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। তখন ঐ ব্যক্তি বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা তো আল্লাহর জন্য- আমার জন্য কি? জবাবে নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি বল, আল্লাহুম্মা ইরহামনী, ওয়ারযুকনী, ওয়া আফিনী ওয়াহদিনী। অতঃপর রাবী বলেনঃ ঐ ব্যক্তি ঐগুলি হাতের অঙ্গুলিতে গণনা করেন। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ এই ব্যক্তি উত্তম বস্তু দ্বারা তার হাত পরিপূর্ণ করেছে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৮৩৩

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، - يَعْنِي الْفَزَارِيَّ - عَنْ حُمَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي التَّطَوُّعَ نَدْعُو قِيَامًا وَقُعُودًا وَنُسَبِّحُ رُكُوعًا وَسُجُودًا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৮৩৩. আবু তাওবা ...... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা নফল নামায আদায় করার সময় দাঁড়ানো ও বসা অবস্থায় দুআ পাঠ করতাম এবং রুকু ও সিজদার সময় তাসবীহ পাঠ করতাম।
৮৩৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، مِثْلَهُ لَمْ يَذْكُرِ التَّطَوُّعَ قَالَ كَانَ الْحَسَنُ يَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ إِمَامًا أَوْ خَلْفَ إِمَامٍ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ وَيُسَبِّحُ وَيُكَبِّرُ وَيُهَلِّلُ قَدْرَ ق وَالذَّارِيَاتِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৮৩৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... হাম্মাদ-হুমায়েদ হতে পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে সেখানে নফল নামাযের কথা উল্লেখ নাই। তিনি (হুমায়েদ) বলেনঃ হাসান যোহর ও আসরের নামাযে- ইমাম অথবা মুক্তাদী- উভয় অবস্থাতেই সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন এবং তিনি উক্ত নামাযের মধ্যে তাসবীহ, তাহলীল ও তাকবীর পাঠ করতেন সূরা কাফ ও যারিয়াত পাঠের অনুরূপ সময় পর্যন্ত।

১৪৬. নামাযের মধ্যে পূর্ণ তাকবীর পাঠ সম্পর্কে।

باب تَمَامِ التَّكْبِيرِ

৮৩৫

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ مُطَرِّفٍ، قَالَ صَلَّيْتُ أَنَا وَعِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ، خَلْفَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ - رضى الله عنه - فَكَانَ إِذَا سَجَدَ كَبَّرَ وَإِذَا رَكَعَ كَبَّرَ وَإِذَا نَهَضَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ كَبَّرَ فَلَمَّا انْصَرَفْنَا أَخَذَ عِمْرَانُ بِيَدِي وَقَالَ لَقَدْ صَلَّى هَذَا قِبَلَ أَوْ قَالَ لَقَدْ صَلَّى بِنَا هَذَا قِبَلَ صَلاَةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ (রহঃ)

৮৩৫. সুলাইমান ইবনে হারব ..... মুতাররিফ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি ও ইমরান ইবনে হুসায়েন (রাযিঃ) আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) এর পশ্চাতে নামায আদায় করি তিনি সিজদা ও রুকুতে গমনকালে তাকবীর বলতেন এবং তিনি দুই রাকআত নামায সম্পন্ন করে উঠার সময় তাকবীর বলতেন। নামাযান্তে ফিরে আসার সময় ইমরান (রাযিঃ) আমার হাত ধরে বলেনঃ ইতিপূর্বে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিয়ে যেরূপে নামায আদায় করেছেন, তিনিও সে নিয়মে নামায পড়লেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৮৩৬

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبِي وَبَقِيَّةُ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَأَبُو سَلَمَةَ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، كَانَ يُكَبِّرُ فِي كُلِّ صَلاَةٍ مِنَ الْمَكْتُوبَةِ وَغَيْرِهَا يُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْكَعُ ثُمَّ يَقُولُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ثُمَّ يَقُولُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ قَبْلَ أَنْ يَسْجُدَ ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ حِينَ يَهْوِي سَاجِدًا ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَسْجُدُ ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ مِنَ الْجُلُوسِ فِي اثْنَتَيْنِ فَيَفْعَلُ ذَلِكَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ حَتَّى يَفْرُغَ مِنَ الصَّلاَةِ ثُمَّ يَقُولُ حِينَ يَنْصَرِفُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأَقْرَبُكُمْ شَبَهًا بِصَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنْ كَانَتْ هَذِهِ لَصَلاَتُهُ حَتَّى فَارَقَ الدُّنْيَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا الْكَلاَمُ الأَخِيرُ يَجْعَلُهُ مَالِكٌ وَالزُّبَيْدِيُّ وَغَيْرُهُمَا عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ وَوَافَقَ عَبْدُ الأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ شُعَيْبَ بْنَ أَبِي حَمْزَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রাঃ)

৮৩৬. আমর ইবনে উছমান ..... আবু বকর ইবনে আব্দুর রহমান এবং আবু সালামা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তারা বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) ফরয ও অন্যান্য নামায আদায়ের সময় দাঁড়ানো ও রুকূ করাকালে তাকবীর বলতেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলার পর “রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ” বলতেন সিজদায় যাওয়ার পূর্বে। অতঃপর সিজদায় যেতে “আল্লাহু আকবার” বলতেন। সিজদা হতে মাথা উত্তোলন এবং পুনরায় সিজদায় গমনকালে তিনি তাকবীর বলতেন, অতঃপর সিজদা হতে মাথা উঠাবার সময় তাকবীর বলতেন। দ্বিতীয় রাকআতের বৈঠক হতে দণ্ডায়মান হবার সময়ও তিনি “আল্লাহু আকবার” বলতেন। প্রত্যেক রাকআতেই “আল্লাহু আকবার” বলতেন। নামাযান্তে তিনি বলতেনঃ আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার জীবন! তোমাদের তুলনায় আমার নামায রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নামাযের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি (ﷺ) দুনিয়া হতে বিদায় গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত এরূপে নামায আদায় করেন।

৮৩৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، وَابْنُ الْمُثَنَّى، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عِمْرَانَ، - قَالَ ابْنُ بَشَّارٍ الشَّامِيِّ وَقَالَ أَبُو دَاوُدَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْعَسْقَلاَنِيُّ - عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ لاَ يُتِمُّ التَّكْبِيرَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ مَعْنَاهُ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ وَأَرَادَ أَنْ يَسْجُدَ لَمْ يُكَبِّرْ وَإِذَا قَامَ مِنَ السُّجُودِ لَمْ يُكَبِّرْ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাঃ)

৮৩৭. মুহাম্মাদ ইবনে বাশ্শার .... আব্দুর রহমান ইবনে আবযা থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাথে নামায আদায় করেন। তিনি তাকবীর পূর্ণভাবে বলেননি। ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ এর অর্থ এই যে, তিনি (নবী (ﷺ)) রুকু হতে মাথা উঠিয়ে যখন সিজদায় যাওয়ার ইচ্ছা করতেন তখন পূর্ণরূপে তাকবীর উচ্চারণ করতেন না। তিনি সিজদা হতে দাঁড়াবার সময়ও পূর্ণররূপে তাকবীর উচ্চারণ করতেন না।

১৪৭. সিজদার সময় হাত রাখার পূর্বে হাঁটু রাখার বর্ণনা।

باب كَيْفَ يَضَعُ رُكْبَتَيْهِ قَبْلَ يَدَيْهِ

৮৩৮

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَحُسَيْنُ بْنُ عِيسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِذَا سَجَدَ وَضَعَ رُكْبَتَيْهِ قَبْلَ يَدَيْهِ وَإِذَا نَهَضَ رَفَعَ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ .

বর্ণনাকারী: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৮৩৮. আল-হাসান ইবনে আলী ..... ওয়ায়েল ইবনে হুজর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ)-কে নামায পড়াকালে সিজদায় যাওয়ার সময় (মাটিতে) হাতের পূর্বে হাঁটু রাখতে দেখেছি। তিনি সিজদা হতে দাঁড়াবার সময় হাঁটুর পূর্বে হাত উঠাতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৮৩৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُحَادَةَ، عَنْ عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ حَدِيثَ الصَّلاَةِ قَالَ فَلَمَّا سَجَدَ وَقَعَتَا رُكْبَتَاهُ إِلَى الأَرْضِ قَبْلَ أَنْ تَقَعَ كَفَّاهُ . قَالَ هَمَّامٌ وَحَدَّثَنَا شَقِيقٌ قَالَ حَدَّثَنِي عَاصِمُ بْنُ كُلَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ هَذَا وَفِي حَدِيثِ أَحَدِهِمَا - وَأَكْبَرُ عِلْمِي أَنَّهُ فِي حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ جُحَادَةَ - وَإِذَا نَهَضَ نَهَضَ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَاعْتَمَدَ عَلَى فَخِذِهِ .

বর্ণনাকারী: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৮৩৯. মুহাম্মাদ ইবনে মামার ..... আব্দুল জব্বার ইবনে ওয়ায়েল থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ)-এর নামায সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) সিজদায় যেতে তার হস্তদ্বয় মাটিতে রাখার পূর্বে হাটুদ্বয় মাটিতে স্থিরভাবে রাখতেন। রাবী হাম্মাম (রাহঃ) শাকীকের সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আসিম ইবনে কুলায়েব তার পিতার সূত্রে, তিনি নবী (ﷺ) হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। বর্ণিত রাবীদ্বয়ের মধ্যে আমার জানামতে সম্ভবতঃ মুহাম্মাদ ইবনে জুহাদার বর্ণিত হাদীসে আছে যে, তিনি (নবী (ﷺ)) যখন সিজদার পর দাঁড়াতেন তখন তিনি হাঁটু ও রানের উপর ভর করে দাঁড়াতেন।

৮৪০

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَسَنٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا سَجَدَ أَحَدُكُمْ فَلاَ يَبْرُكْ كَمَا يَبْرُكُ الْبَعِيرُ وَلْيَضَعْ يَدَيْهِ قَبْلَ رُكْبَتَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৪০. সাঈদ ইবনে মনসুর ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা সিজদা করার সময় উটের ন্যায় বসবে না এবং সিজদায় যেতে মাটিতে হাঁটু রাখার পূর্বে হাত রাখবে।

৮৪১

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَسَنٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَتِهِ فَيَبْرُكُ كَمَا يَبْرُكُ الْجَمَلُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৪১. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কিছু লোক নামাযের মধ্যে উটের বসার ন্যায় বসে।

১৪৮. প্রথম ও তৃতীয় রাকআতের পর দাঁড়ানোর নিয়ম।

باب النُّهُوضِ فِي الْفَرْدِ

৮৪২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ - عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، قَالَ جَاءَنَا أَبُو سُلَيْمَانَ مَالِكُ بْنُ الْحُوَيْرِثِ إِلَى مَسْجِدِنَا فَقَالَ وَاللَّهِ إِنِّي لأُصَلِّي بِكُمْ وَمَا أُرِيدُ الصَّلاَةَ وَلَكِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُرِيَكُمْ كَيْفَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي . قَالَ قُلْتُ لأَبِي قِلاَبَةَ كَيْفَ صَلَّى قَالَ مِثْلَ صَلاَةِ شَيْخِنَا هَذَا يَعْنِي عَمْرَو بْنَ سَلِمَةَ إِمَامَهُمْ وَذَكَرَ أَنَّهُ كَانَ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السَّجْدَةِ الآخِرَةِ فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى قَعَدَ ثُمَّ قَامَ .

বর্ণনাকারী: আবু কিলাবা (রহঃ)

৮৪২. মুসাদ্দাদ ..... আবু কিলাবা হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আবু সুলাইমান মালিক ইবনুল হুআয়রিছ (রাযিঃ) আমাদের মসজিদে এসে বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি নামায আদায়ের মাধ্যমে তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে পদ্ধতিতে নামায আদায় করতেন তা প্রদর্শন করতে চাই। রাবী বলেনঃ অতঃপর আমি আবু কিলাবাকে বলি, তিনি কিভাবে নামায আদায় করতেন? জবাবে তিনি বলেনঃ আমাদের শায়েখ আমর ইবনে সালামা (রাহঃ) এর নামাযের ন্যায়, যিনি তাদের ইমাম ছিলেন। বর্ণনা প্রসঙ্গে রাবী আরো বলেছেনঃ তিনি যখন প্রথম রাকআতের শেষ সিজদা হতে মাথা উঠাতেন তখন একটু বসে অতঃপর দণ্ডায়মান হতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৮৪৩

حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، قَالَ جَاءَنَا أَبُو سُلَيْمَانَ مَالِكُ بْنُ الْحُوَيْرِثِ إِلَى مَسْجِدِنَا فَقَالَ وَاللَّهِ إِنِّي لأُصَلِّي وَمَا أُرِيدُ الصَّلاَةَ وَلَكِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُرِيَكُمْ كَيْفَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي . قَالَ فَقَعَدَ فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى حِينَ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السَّجْدَةِ الآخِرَةِ .

বর্ণনাকারী: আবু কিলাবা (রহঃ)

৮৪৩. যিয়াদ ইবনে আইয়ুব .... আবু কিলাবা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু সুলাইমান মালিক ইবনুল-হুআয়রিছ (রাযিঃ) একদা আমাদের মসজিদে আগমন করে বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদেরকে নামায আদায়ের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে যেভাবে নামায আদায় করতে দেখেছি তা প্রদর্শন করতে চাই। রাবী বলেনঃ অতঃপর তিনি প্রথম রাকআতের দ্বিতীয় সিজদা হতে মাথা উত্তোলন করে একটু বসেন।

৮৪৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ فِي وِتْرٍ مِنْ صَلاَتِهِ لَمْ يَنْهَضْ حَتَّى يَسْتَوِيَ قَاعِدًا .

বর্ণনাকারী: মালিক ইবনে হুওয়াইরিস (রাঃ)

৮৪৪. মুসাদ্দাদ ..... মালিক ইবনুল হুআয়রিছ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূল (ﷺ)কে তার নামাযের বেজোড় রাকাতগুলোতে দ্বিতীয় সাজদা হতে ওঠে সামান্য বসে তারপর দাঁড়াতে দেখেছেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৪৯. দুই সিজদার মাঝখানে বসা।

باب الإِقْعَاءِ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ

৮৪৫

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ طَاوُسًا، يَقُولُ قُلْنَا لاِبْنِ عَبَّاسٍ فِي الإِقْعَاءِ عَلَى الْقَدَمَيْنِ فِي السُّجُودِ . فَقَالَ هِيَ السُّنَّةُ . قَالَ قُلْنَا إِنَّا لَنَرَاهُ جَفَاءً بِالرَّجُلِ . فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ هِيَ سُنَّةُ نَبِيِّكَ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: ইবনে জুরাইজ (রহঃ)

৮৪৫. ইয়াহয়া ইবনে মুঈন ..... ইবনে জুরায়েজ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু জুবায়ের-তাউস হতে শ্রবণ করে আমাকে বলেছেনঃ আমরা ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময়ে ইকআ (গোড়ালির উপর পাছা রেখে বসা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। জবাবে তিনি বলেনঃ তা সুন্নত। অতঃপর আমরা বলি যে, এইরূপ বসাকে আমরা ব্যক্তির জন্য অশোভনীয় ও কষ্টকর মনে করি। জবাবে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ এটা তোমার নবীর সুন্নত।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

১৫০. রুকু থেকে মাথা উত্তোলনের সময় যা বলবে।

باب مَا يَقُولُ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ

৮৪৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ وَوَكِيعٌ وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ كُلُّهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ الْحَسَنِ، سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ يَقُولُ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَشُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ عَنْ عُبَيْدٍ أَبِي الْحَسَنِ بِهَذَا الْحَدِيثِ لَيْسَ فِيهِ بَعْدَ الرُّكُوعِ . قَالَ سُفْيَانُ لَقِينَا الشَّيْخَ عُبَيْدًا أَبَا الْحَسَنِ بَعْدُ فَلَمْ يَقُلْ فِيهِ بَعْدَ الرُّكُوعِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ أَبِي عِصْمَةَ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ عُبَيْدٍ قَالَ " بَعْدَ الرُّكُوعِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

৮৪৬. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রুকূ হতে সোজা হওয়ার পর “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ আল্লাহুম্মা রবানা লাকাল হামদ, মিলউস-সামাওয়াতে ওয়া মিলউল-আরদে ওয়া মিলউ মা শি’তা মিন শায়ইন বা’দু বলতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

৮৪৭
حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، ح وَحَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ بَكْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُصْعَبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، كُلُّهُمْ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ عَطِيَّةَ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ قَزَعَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ حِينَ يَقُولُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَاءِ " . قَالَ مُؤَمَّلٌ مِلْءَ السَّمَوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَىْءٍ بَعْدُ أَهْلَ الثَّنَاءِ وَالْمَجْدِ أَحَقُّ مَا قَالَ الْعَبْدُ وَكُلُّنَا لَكَ عَبْدٌ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ " . زَادَ مَحْمُودٌ " وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ " . ثُمَّ اتَّفَقُوا - " وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ " . قَالَ بِشْرٌ " رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ " . لَمْ يَقُلْ مَحْمُودٌ " اللَّهُمَّ " . قَالَ " رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ " .
[رواه الوليد بن مسلم, عن سعيد قال: اللهم رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ, ولم يقل: وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ.
قَالَ أَبُو دَاوُدَ: ولم يجئ به إلا أبو مسهر]

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৮৪৭. মুআম্মাল ইবনুল ফাদল আল-হাররানী ..... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলতেন, তখন এর সাথে “আল্লাহুম্মা রবানা লাকাল-হামদ মিলউস-সামায়ে” (রাবী মুআম্মালের বর্ণনানুযায়ী) “মিলউস-সামাওয়াতে ওয়া মিলউল আরদে ওয়া মিলউ মা শি’তা মিন শায়ইন বা’দু, আহলুছ-ছানায়ে ওয়াল-মাজদে আহাক্কু মা-কালাল আব্দু, ওয়া কুল্লুনা লাকা আব্দুন লা মানিআ লিমা আতাইতা” বলতেন।

রাবী মাহমুদ এর সাথে আরো অতিরিক্ত “ওয়ালা মুতিয়া লিমা মানাতা” শব্দটি বলেছেন। অতঃপর সকল রাবী এ ব্যাপারে একমত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আরো বলেনঃ “ওয়ালা ইয়ানফাউ যাল-জাদ্দে মিনকাল জাদ্দু”।

রাবী বিশর বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) শুধুমাত্র “রাব্বানা লাকাল হামদ” বলতেন। রাবী মাহমুদের বর্ণনানুযায়ী “আল্লাহুম্মা” শব্দটির উল্লেখ নাই, বরং তাঁর বর্ণনায় নবী (ﷺ) “রবানা লাকাল-হামদ” বলতেন বলে উল্লেখ আছে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৮৪৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قَالَ الإِمَامُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৪৮. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যখন ইমাম “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলবে তখন তোমরা (মুক্তাদিগণ) “আল্লাহুম্মা রবানা লাকাল-হামদ” বলবে। কেননা যে ব্যক্তির এ উক্তির সাথে ফিরিশতাদের উক্তির সমন্বয় ঘটবে তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮৪৯

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا أَسْبَاطٌ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عَامِرٍ، قَالَ لاَ يَقُولُ الْقَوْمُ خَلْفَ الإِمَامِ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ وَلَكِنْ يَقُولُونَ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ .

বর্ণনাকারী: শা‘বী (রহঃ)

৮৪৯. বিশর ইবনে আম্মার .... আমের (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ মুক্তাদীগণ ইমামের বিছনে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলবে না বরং “রবানা লাকাল হামদ” বলবে।

১৫১. দুই সিজদার মাঝখানে পাঠের দু'আ।

باب الدُّعَاءِ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ

৮৫০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَسْعُودٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا كَامِلٌ أَبُو الْعَلاَءِ، حَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَعَافِنِي وَاهْدِنِي وَارْزُقْنِي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৮৫০. মুহাম্মাদ ইবনে মাসউদ ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) দুই সিজদার মাঝে নিম্নের দুআ পাঠ করতেন। “আল্লাহুম্মাগফিরলী, ওয়ারহামনী, ওয়া আফিনী, ওয়াহদিনী, ওয়ারযুকনী”।

১৫২. ইমামের সাথে নামায আদায়কালে মহিলারা পুরুষদের পড়ে সিজদা থেকে মাথা তুলবে।

باب رَفْعِ النِّسَاءِ إِذَا كُنَّ مَعَ الرِّجَالِ رُءُوسَهُنَّ مِنَ السَّجْدَةِ

৮৫১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ الْعَسْقَلاَنِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ، أَخِي الزُّهْرِيِّ عَنْ مَوْلًى، لأَسْمَاءَ ابْنَةِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ كَانَ مِنْكُنَّ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلاَ تَرْفَعْ رَأْسَهَا حَتَّى يَرْفَعَ الرِّجَالُ رُءُوسَهُمْ " . كَرَاهَةَ أَنْ يَرَيْنَ مِنْ عَوْرَاتِ الرِّجَالِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

৮৫১. মুহাম্মাদ ইবনুল মুতাওয়াক্কিল .... আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের (মহিলাদের) মধ্যে যারা আল্লাহ্ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী, তারা যেন পুরষদের মাথা উত্তোলনের পূর্বে নিজেদের মাথা না উঠায়। তা এইজন্য যে, যাতে মহিলারা পুরষদের সতর দেখতে না পায়।

১৫৩. রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানো এবং দুই সিজদার মাঝখানে বিরতির পরিমাণ।

باب طُولِ الْقِيَامِ مِنَ الرُّكُوعِ وَبَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ

৮৫২

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ سُجُودُهُ وَرُكُوعُهُ وَقُعُودُهُ وَمَا بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ قَرِيبًا مِنَ السَّوَاءِ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৮৫২. হাফস ইবনে উমর .... বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সিজদা, রুকূ ও দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠকে প্রায় একই পরিমাণ সময় ব্যয় করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮৫৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، وَحُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ مَا صَلَّيْتُ خَلْفَ رَجُلٍ أَوْجَزَ صَلاَةً مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي تَمَامٍ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . قَامَ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَوْهَمَ ثُمَّ يُكَبِّرُ وَيَسْجُدُ وَكَانَ يَقْعُدُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَوْهَمَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৮৫৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায যেরূপ সংক্ষেপে কিন্তু পরিপূর্ণভাবে আদায় করতেন, আমি এরূপ নামায আর কারো পেছনে পড়ি নাই। যখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলার পর এত দীর্ঘক্ষণ দণ্ডায়মান থাতেন যে, আমাদের মনে হত হয়ত তিনি ভুলে গেছেন। অতঃপর তিনি তাকবীর বলে সিজদাহ করতেন এবং দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময়ে এত বিলম্ব করতেন যে, আমরা মনে করতাম তিনি হয়ত দ্বিতীয় সিজদার কথা ভুলে গেছেন।

৮৫৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَأَبُو كَامِلٍ - دَخَلَ حَدِيثُ أَحَدِهِمَا فِي الآخَرِ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي حُمَيْدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ رَمَقْتُ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم - وَقَالَ أَبُو كَامِلٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - فِي الصَّلاَةِ فَوَجَدْتُ قِيَامَهُ كَرَكْعَتِهِ وَسَجْدَتِهِ وَاعْتِدَالَهُ فِي الرَّكْعَةِ كَسَجْدَتِهِ وَجَلْسَتَهُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ وَسَجْدَتَهُ مَا بَيْنَ التَّسْلِيمِ وَالاِنْصِرَافِ قَرِيبًا مِنَ السَّوَاءِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ مُسَدَّدٌ فَرَكْعَتَهُ وَاعْتِدَالَهُ بَيْنَ الرَّكْعَتَيْنِ فَسَجْدَتَهُ فَجَلْسَتَهُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ فَسَجْدَتَهُ فَجَلْسَتَهُ بَيْنَ التَّسْلِيمِ وَالاِنْصِرَافِ قَرِيبًا مِنَ السَّوَاءِ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৮৫৪. মুসাদ্দাদ ও আবু কামেল .... আল-বারাআ ইবনে আযেব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইচ্ছাকৃতভাবে মুহাম্মাদ (ﷺ)কে নামাযের অবস্থায় দেখি। আমি তার কিয়াম (দণ্ডায়মান অবস্থা) তাঁর রুকূ ও সিজদাহ সমতুল্য পেলাম। তাঁর রুকূতে অবস্থান, তার সিজদার সমান এবং দুই সিজদার মাঝখানের বৈঠক অতঃপর সিজদা করা, অতঃপর সালাম ফিরানো পর্যন্ত বৈঠক সবই প্রায় সমান পেয়েছি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫৪. যে ব্যক্তি রুকু ও সিজদা হতে উঠে পিঠ সোজা করে না।

باب صَلاَةِ مَنْ لاَ يُقِيمُ صُلْبَهُ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ

৮৫৫

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْبَدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُجْزِئُ صَلاَةُ الرَّجُلِ حَتَّى يُقِيمَ ظَهْرَهُ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

৮৫৫. হাফস ইবনে উমর ..... আবু মাসউদ আল-বদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি রুকূ হতে উঠার পর সোজা হয়ে দাঁড়াবে না এবং দুই জিজদার মধ্যবর্তী বিরতীর সময় সোজা হয়ে বসবে নয়া তার নামায যথেষ্ট হবে না।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮৫৬

حَدَّثَنِي الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا أَنَسٌ يَعْنِي ابْنَ عِيَاضٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، - وَهَذَا لَفْظُ ابْنِ الْمُثَنَّى - حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَدَخَلَ رَجُلٌ فَصَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِ السَّلاَمَ وَقَالَ " ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ " . فَرَجَعَ الرَّجُلُ فَصَلَّى كَمَا كَانَ صَلَّى ثُمَّ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَعَلَيْكَ السَّلاَمُ " . ثُمَّ قَالَ " ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ " . حَتَّى فَعَلَ ذَلِكَ ثَلاَثَ مِرَارٍ فَقَالَ الرَّجُلُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أُحْسِنُ غَيْرَ هَذَا فَعَلِّمْنِي . قَالَ " إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلاَةِ فَكَبِّرْ ثُمَّ اقْرَأْ مَا تَيَسَّرَ مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَعْتَدِلَ قَائِمًا ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا ثُمَّ اجْلِسْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ جَالِسًا ثُمَّ افْعَلْ ذَلِكَ فِي صَلاَتِكَ كُلِّهَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ الْقَعْنَبِيُّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَقَالَ فِي آخِرِهِ " فَإِذَا فَعَلْتَ هَذَا فَقَدْ تَمَّتْ صَلاَتُكَ وَمَا انْتَقَصْتَ مِنْ هَذَا شَيْئًا فَإِنَّمَا انْتَقَصْتَهُ مِنْ صَلاَتِكَ " . وَقَالَ فِيهِ " إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلاَةِ فَأَسْبِغِ الْوُضُوءَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৫৬. আল-কানবী ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে প্রবেশ করলেন। এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করতঃ নামায আদায়ের পর তাকে গিয়ে সালাম করল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার সালামের জবাব দিয়ে বলেন, তুমি পুনরায় গিয়ে নামায আদায় কর, কারণ তোমার নামায হয় নাই। অতঃপর ঐ ব্যক্তি পূর্ববত নামায পড়ে এসে নবী (ﷺ)-কে পুনরায় সালাম প্রদান করল। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার সালামের জবাব দিয়ে বলেনঃ তুমি পুনরায় গিয়ে নামায আদায় কর, তোমার নামায হয় নাই। এভাবে সে তিনবার নামায পড়ল। তখন ঐ নামাযী ব্যক্তি বললঃ আল্লাহর শপথ! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, এর চাইতে উত্তমরূপে আমি নামায পড়তে জানি না। অতএব নামাযের পদ্ধতি আমাকে শিখিয়ে দিন।

তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ যখন তুমি নামাযে দণ্ডায়মান হবে তখন সর্বপ্রথম তাকবীরে তাহরীমা বল। অতঃপর তোমার সুবিধা অনুযায়ী কুরআনের আয়াত পাঠ কর, অতঃপর শান্তি ও স্থিরতার সাথে রুকূ করবে, অতঃপর রুকূ হতে একদম সোজা হয়ে দাঁড়াবে। অতঃপর ধীরস্থিরভাবে সিজদা আদায় করবে এবং (দুই সিজদার মধ্যবর্তী স্থানে) সোজা হয়ে বসবে। তুমি তোমার সমস্ত নামায এরূপে আদায় করবে।

অন্য বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, নবী (ﷺ) সর্বশেষে উক্ত সাহাবীকে বলেন, যখন তুমি এরূপে নামায আদায় করবে, তখনই তোমার নামায পরিপূর্ণভাবে আদায় হবে। যদি তুমি এর কোন অংশ আদায়ে ক্রটি কর, তবে তোমার নামাযও ক্রটিপূর্ণ হবে। উক্ত বর্ণনায় এরূপও উল্লেখ আছে যে, নবী (ﷺ) তাকে বলেনঃ যখন তুমি নামায আদায়ের ইরাদা করবে, তখন প্রথমে উত্তমরূপে উযু করবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮৫৭

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى بْنِ خَلاَّدٍ، عَنْ عَمِّهِ، أَنَّ رَجُلاً، دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ قَالَ فِيهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهُ لاَ تَتِمُّ صَلاَةٌ لأَحَدٍ مِنَ النَّاسِ حَتَّى يَتَوَضَّأَ فَيَضَعَ الْوُضُوءَ " . يَعْنِي مَوَاضِعَهُ " ثُمَّ يُكَبِّرُ وَيَحْمَدُ اللَّهَ جَلَّ وَعَزَّ وَيُثْنِي عَلَيْهِ وَيَقْرَأُ بِمَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ ثُمَّ يَرْكَعُ حَتَّى تَطْمَئِنَّ مَفَاصِلُهُ ثُمَّ يَقُولُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ حَتَّى يَسْتَوِيَ قَائِمًا ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ ثُمَّ يَسْجُدُ حَتَّى تَطْمَئِنَّ مَفَاصِلُهُ ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَيَرْفَعُ رَأْسَهُ حَتَّى يَسْتَوِيَ قَاعِدًا ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ ثُمَّ يَسْجُدُ حَتَّى تَطْمَئِنَّ مَفَاصِلُهُ ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ فَيُكَبِّرُ فَإِذَا فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ تَمَّتْ صَلاَتُهُ " .

বর্ণনাকারী: রিফাআ ইবনে রাফি' যুরাকী (রাঃ)

৮৫৭. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আলী ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) থেকে তার চাচার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে। অতঃপর তিনি পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ নবী (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ উযুর অঙ্গসমূহ উত্তমরূপে ধৌত না করলে নামায পূর্ণ হবে না। উযুর পর তাকবীরে তাহরীমা বলে হামদ ও ছানা পাঠ করতঃ কুরআন মজীদ হতে যা সম্ভব পাঠ করবে। অতঃপর “আল্লাহু আকবার” বলে রুকূতে যাবে এমতাবস্থায় যে, তার শরীরের জোড়াসমূহ স্ব-স্ব স্থানে যথারীতি অবস্থান করবে। অতঃপর “সামিআাল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলে স্থিরভাবে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। অতঃপর “আল্লাহু আকবার” বলে এমনভাবে সিজদা করবে যাতে শরীরের জোড়াসমূহ স্ব-স্ব স্থানে যথারীতি অবস্থান করে। পরে “আল্লাহু আকবার” বলে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসবে। এরপর পুনরায় “আল্লাহু আকবার” বলে পূর্ববৎ সিজদা করবে। অতঃপর “আল্লাহু আকবার” বলে সিজদা হতে মস্তক উত্তোলন করবে। যখন কোন ব্যক্তি এভাবে নামায আদায় করবে, তখনই তার নামায পরিপূর্ণ হবে।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮৫৮

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، وَالْحَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى بْنِ خَلاَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمِّهِ، رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ بِمَعْنَاهُ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهَا لاَ تَتِمُّ صَلاَةُ أَحَدِكُمْ حَتَّى يُسْبِغَ الْوُضُوءَ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَيَغْسِلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ وَيَمْسَحَ بِرَأْسِهِ وَرِجْلَيْهِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ثُمَّ يُكَبِّرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَيَحْمَدُهُ ثُمَّ يَقْرَأُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا أُذِنَ لَهُ فِيهِ وَتَيَسَّرَ " . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ حَمَّادٍ قَالَ " ثُمَّ يُكَبِّرُ فَيَسْجُدُ فَيُمَكِّنُ وَجْهَهُ " . قَالَ هَمَّامٌ وَرُبَّمَا قَالَ " جَبْهَتَهُ مِنَ الأَرْضِ حَتَّى تَطْمَئِنَّ مَفَاصِلُهُ وَتَسْتَرْخِيَ ثُمَّ يُكَبِّرُ فَيَسْتَوِي قَاعِدًا عَلَى مَقْعَدِهِ وَيُقِيمُ صُلْبَهُ " . فَوَصَفَ الصَّلاَةَ هَكَذَا أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ حَتَّى فَرَغَ " لاَ تَتِمُّ صَلاَةُ أَحَدِكُمْ حَتَّى يَفْعَلَ ذَلِكَ " .

বর্ণনাকারী: রিফাআ ইবনে রাফি' যুরাকী (রাঃ)

৮৫৮. আল-হাসান ইবনে আলী ..... রিফাআ ইবনে রাফে হতে পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ অর্থে বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেনঃ অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরাশাদ করেনঃ আল্লাহর নির্দেশমত পরিপূর্ণভাবে উযু না করলে কারও নামায শুদ্ধ হবে না। সে তার মুখমণ্ডল এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে এবং মাথা মাসাহ্ করবে এবং উভয় পা গোছাসহ ধৌত করবে। অতঃপর “তাকবীরে তাহরীমা” বলে হামদ পাঠ করতঃ কুরআনের সেই অংশ পাঠ করবে, যা তার জন্য সহজ। অতঃপর রাবী হাম্মাদের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন এবং তিনি (নবী (ﷺ)) বলেনঃ “আল্লাহু আকবার” বলে সিজদা করবে এবং কপাল এমনভাবে মাটিতে স্থাপন করবে যে, শরীরের জোড়াসমূহ স্ব-স্ব স্থানে যথারীতি অবস্থান করে এবং শরীর নরমভাব ধারণ করে। অতঃপর তাকবীর বলে সোজাভাবে পায়ের উপর ভর করে পাছার উপর বসবে এবং পৃষ্ঠদেশ সোজা রাখবে। অতঃপর তিনি এইভাবে চার রাকআত নামায আদায়ের পদ্ধতি শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন। উপরোক্ত নিয়মে নামায আদায় না করলে তোমাদের কারো নামায সঠিক হবে না।

৮৫৯

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، - يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو - عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى بْنِ خَلاَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ، بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ " إِذَا قُمْتَ فَتَوَجَّهْتَ إِلَى الْقِبْلَةِ فَكَبِّرْ ثُمَّ اقْرَأْ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَبِمَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَقْرَأَ وَإِذَا رَكَعْتَ فَضَعْ رَاحَتَيْكَ عَلَى رُكْبَتَيْكَ وَامْدُدْ ظَهْرَكَ " . وَقَالَ " إِذَا سَجَدْتَ فَمَكِّنْ لِسُجُودِكَ فَإِذَا رَفَعْتَ فَاقْعُدْ عَلَى فَخِذِكَ الْيُسْرَى " .

বর্ণনাকারী: রিফাআ ইবনে রাফি' যুরাকী (রাঃ)

৮৫৯. ওয়াহব ইবনে বাকিয়্যা .... রিফাআ ইবনে রাফে হতে উপরোক্ত ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি (নবী (ﷺ)) বলেনঃ তুমি যখন নামায আদায়ের ইরাদা করে কিব্লামুখী হয়ে দাঁড়াবে, তখন “তাকবীরে তাহরীমা” বলার পর সূরা ফাতিহা পাঠ করতঃ কুরআনের কিছু অংশ পাঠ করবে। অতঃপর যখন তুমি রুকূ করবে, তখন তোমার উভয় হাত উভয় হাটুর উপর রাখবে এবং পৃষ্ঠদেশ লম্বা করে দিবে। তিনি আরো বলেনঃ অতঃপর যখন তুমি সিজদা করবে, তা শান্তভাবে করবে এবং সিজদা হতে মাথা উঠাবার পর তুমি তোমার বাম উরুর উপর বসবে।

৮৬০

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ يَحْيَى بْنِ خَلاَّدِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمِّهِ، رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ " إِذَا أَنْتَ قُمْتَ فِي صَلاَتِكَ فَكَبِّرِ اللَّهَ تَعَالَى ثُمَّ اقْرَأْ مَا تَيَسَّرَ عَلَيْكَ مِنَ الْقُرْآنِ " . وَقَالَ فِيهِ " فَإِذَا جَلَسْتَ فِي وَسَطِ الصَّلاَةِ فَاطْمَئِنَّ وَافْتَرِشْ فَخِذَكَ الْيُسْرَى ثُمَّ تَشَهَّدْ ثُمَّ إِذَا قُمْتَ فَمِثْلَ ذَلِكَ حَتَّى تَفْرُغَ مِنْ صَلاَتِكَ " .

বর্ণনাকারী: রিফাআ ইবনে রাফি' যুরাকী (রাঃ)

৮৬০. মুআাম্মাল ইবনে হিশাম .... রিফাআ ইবনে রাফে (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে উপরোক্ত ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ “তাকবীর তাহরীমা” বলার পর তুমি কুরআনের সহজতম অংশ পাঠ করবে। তিনি বলেনঃ তুমি যখন নামাযের মধ্যে প্রথম বৈঠকে উপবেশন কর, তখন শান্তির সাথে বসবে এবং এ সময় তোমার বাম পা বিছিয়ে দিয়ে অতঃপর তাশাহহুদ পাঠ করবে। পরে যখন তুমি দাঁড়াবে, তখন উপরোক্ত নিয়মে নামায শেষ করবে।

৮৬১

حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ مُوسَى الْخُتَّلِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى بْنِ خَلاَّدِ بْنِ رَافِعٍ الزُّرَقِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَصَّ هَذَا الْحَدِيثَ قَالَ فِيهِ " فَتَوَضَّأْ كَمَا أَمَرَكَ اللَّهُ جَلَّ وَعَزَّ ثُمَّ تَشَهَّدْ فَأَقِمْ ثُمَّ كَبِّرْ فَإِنْ كَانَ مَعَكَ قُرْآنٌ فَاقْرَأْ بِهِ وَإِلاَّ فَاحْمَدِ اللَّهَ وَكَبِّرْهُ وَهَلِّلْهُ " . وَقَالَ فِيهِ " وَإِنِ انْتَقَصْتَ مِنْهُ شَيْئًا انْتَقَصْتَ مِنْ صَلاَتِكَ " .

বর্ণনাকারী: রিফাআ ইবনে রাফি' যুরাকী (রাঃ)

৮৬১. আব্বাদ ইবনে মুসা ..... রিফাআ ইবনে রাফে (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে উপরোক্ত হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী উযু কর, অতঃপর কলেমায়ে শাহাদাত পাঠ কর। স্থিরভাবে দণ্ডায়মান হয়ে “তাকবীরে তাহরীমা” বলার পর কুরআনের জানা অংশ পাঠ করবে, অন্যথায় আলহামদু লিল্লাহ আল্লাহু আকবার ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু পাঠ করবে। উক্ত বর্ণনায় আরো আছে, তিনি বলেনঃ যদি এ থেকে তুমি কিছু বাদ দাও, তবে তোমার নামায ক্রটিপূর্ণ করলে।

৮৬২

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ الْحَكَمِ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ مَحْمُودٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ شِبْلٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ نَقْرَةِ الْغُرَابِ وَافْتِرَاشِ السَّبُعِ وَأَنْ يُوَطِّنَ الرَّجُلُ الْمَكَانَ فِي الْمَسْجِدِ كَمَا يُوَطِّنُ الْبَعِيرُ . هَذَا لَفْظُ قُتَيْبَةَ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে শিবল (রাঃ)

৮৬২. আবুল-ওয়ালীদ আত-তায়ালিসী ..... আব্দুর রহমান ইবনে শিবল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাকের ঠোকরের ন্যায় (অর্থাৎ তাড়াতাড়ি) সিজদা করতে এবং চতুষ্পদ জন্তুর মত বাহু বিছাতে এবং মসজিদের মধ্যে উটের মত নির্দিষ্ট স্থান বেছে নিতে নিষেধ করেছেন। হাদীসের মতন (মূল পাঠ্য) রাবী কুতায়বার বর্ণিত।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৮৬৩

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَالِمٍ الْبَرَّادِ، قَالَ أَتَيْنَا عُقْبَةَ بْنَ عَمْرٍو الأَنْصَارِيَّ أَبَا مَسْعُودٍ فَقُلْنَا لَهُ حَدِّثْنَا عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ بَيْنَ أَيْدِينَا فِي الْمَسْجِدِ فَكَبَّرَ فَلَمَّا رَكَعَ وَضَعَ يَدَيْهِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَجَعَلَ أَصَابِعَهُ أَسْفَلَ مِنْ ذَلِكَ وَجَافَى بَيْنَ مِرْفَقَيْهِ حَتَّى اسْتَقَرَّ كُلُّ شَىْءٍ مِنْهُ ثُمَّ قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقَامَ حَتَّى اسْتَقَرَّ كُلُّ شَىْءٍ مِنْهُ ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى الأَرْضِ ثُمَّ جَافَى بَيْنَ مِرْفَقَيْهِ حَتَّى اسْتَقَرَّ كُلُّ شَىْءٍ مِنْهُ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَجَلَسَ حَتَّى اسْتَقَرَّ كُلُّ شَىْءٍ مِنْهُ فَفَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ أَيْضًا ثُمَّ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ مِثْلَ هَذِهِ الرَّكْعَةِ فَصَلَّى صَلاَتَهُ ثُمَّ قَالَ هَكَذَا رَأَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৮৬৩. যুহায়ের ইবনে হারব্ .... সালেম আল্-বাররাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা উকবা ইবনে আমের আল-আনসারী (রাযিঃ) এর কাছে গিয়ে তাকে বলি যে, আমাদের রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামায সম্পর্কে অবহিত করুন। তখন তিনি আমাদের সম্মুখে মসজিদে দণ্ডায়মান হয়ে “তাকবীরে তাহরীমা” বলেন এবং তিনি যখন রুকুতে যান, তখন তিনি তাঁর দুই হাত দুই হাঁটুর উপর রাখেন এবং তার আঙ্গুলগুলি হাঁটুর নিম্নাংশে স্থাপন করেন এবং তিনি তাঁর হাতের দুই কনুই পৃথক রাখেন, এমতাবস্থায় শরীর স্থির ভাব ধারণ করে। অতঃপর তিনি “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলে স্থিরভাবে দণ্ডায়মান হল। পরে তিনি আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় গমন করেন এবং উভয় হাতের কনুইদ্বয় পৃথক রেখে এমনভাবে সিজদা করেন যে, তাঁর সমস্ত শরীর শান্তভাব ধারণ করে। অতঃপর তিনি সিজদা হতে মাথা উঠিয়ে স্থিরভাবে উপবেশন করেন এবং তিনি চার রাকআত নামায আদায় করেন, অতঃপর বলেনঃ আমি এরূপেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে নামায আদায় করতে দেখেছি।

১৫৫. মহানবী (ﷺ) এর বাণী- যার ফরয নামাযে ত্রুটি থাকবে তা তার নফল নামায দিয়ে পূর্ণ করা হবে।

باب قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " كُلُّ صَلاَةٍ لاَ يُتِمُّهَا صَاحِبُهَا تَتِمُّ مِنْ تَطَوُّعِهِ "

৮৬৪

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ حَكِيمٍ الضَّبِّيِّ، قَالَ خَافَ مِنْ زِيَادٍ أَوِ ابْنِ زِيَادٍ فَأَتَى الْمَدِينَةَ فَلَقِيَ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ فَنَسَبَنِي فَانْتَسَبْتُ لَهُ فَقَالَ يَا فَتَى أَلاَ أُحَدِّثُكَ حَدِيثًا قَالَ قُلْتُ بَلَى رَحِمَكَ اللَّهُ . قَالَ يُونُسُ أَحْسِبُهُ ذَكَرَهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ النَّاسُ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ أَعْمَالِهِمُ الصَّلاَةُ قَالَ يَقُولُ رَبُّنَا جَلَّ وَعَزَّ لِمَلاَئِكَتِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ انْظُرُوا فِي صَلاَةِ عَبْدِي أَتَمَّهَا أَمْ نَقَصَهَا فَإِنْ كَانَتْ تَامَّةً كُتِبَتْ لَهُ تَامَّةً وَإِنْ كَانَ انْتَقَصَ مِنْهَا شَيْئًا قَالَ انْظُرُوا هَلْ لِعَبْدِي مِنْ تَطَوُّعٍ فَإِنْ كَانَ لَهُ تَطَوُّعٌ قَالَ أَتِمُّوا لِعَبْدِي فَرِيضَتَهُ مِنْ تَطَوُّعِهِ ثُمَّ تُؤْخَذُ الأَعْمَالُ عَلَى ذَاكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৬৪. ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম ..... আনাস ইবনে হাকীম আদ-দাব্বী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি যিয়াদ অথবা ইবনে যিয়াদের ভয়ে মদীনায় চলে আসেন এবং আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাত করেন। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) আমাকে তাঁর বংশ-পরিচয় প্রদান করেন এবং আমি আমার পরিচয় প্রদান করি। তিনি আমাকে বলেনঃ হে যুবক! আমি কি তোমার নিকট হাদীস বর্ণনা করব না? জবাবে আমি বলিঃ হ্যাঁ, আল্লাহ্ আপনার উপর রহম করুন। রাবী ইউনুস বলেনঃ আমি মনে করি তিনি এই হাদীসটি সরাসরি নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন লোকদের আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম তাদের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।

তিনি বলেন, আমাদের মহান রব ফিরিশতাদের বান্দার নামায সম্পর্কে স্বয়ং জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও জিজ্ঞাসা করবেন, দেখতো সে তা পূর্ণ রূপে আদায় করেছে না তাতে কোন ক্রটি আছে? অতঃপর বান্দার নামায পরিপূর্ণ হলে তা তদ্রূপই লিখিত হবে। অপর পক্ষে যদি তাতে কোন ক্রটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয় তবে তিনি (রব) ফিরিশতাদের বলবেনঃ দেখতো আমার বান্দার কোন নফল নামায আছে কি? যদি থাকে তবে তিনি বলবেন, তোমরা তার নফল নামায দ্বারা তার ফরয নামাযের ক্রটি দূর কর। অতঃপর এইরূপে সমস্ত ফরয আমলের ক্রটি নফল দ্বারা দূরীভূত করা হবে।
৮৬৫

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي سَلِيطٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৬৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) মুহাম্মাদ (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৮৬৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْمَعْنَى قَالَ " ثُمَّ الزَّكَاةُ مِثْلُ ذَلِكَ ثُمَّ تُؤْخَذُ الأَعْمَالُ عَلَى حَسَبِ ذَلِكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত তামীম আদ-দারী রাযি.

৮৬৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... তামীমুদ-দারী (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যাকাতের ব্যাপারটিও তদ্রূপ হবে। অতঃপর অন্যান্য আমলের হিসাবও অনুরূপভাবে গ্রহণ করা হবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৫৬. রুকু ও সিজদায় হাঁটুর উপর হাত রাখা।

بَابُ وَضْعِ الْيَدَيْنِ عَلَى الرُّكْبَتَيْنِ

৮৬৭

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي يَعْفُورٍ، - قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَاسْمُهُ وَقْدَانُ - عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ صَلَّيْتُ إِلَى جَنْبِ أَبِي فَجَعَلْتُ يَدَىَّ بَيْنَ رُكْبَتَىَّ فَنَهَانِي عَنْ ذَلِكَ، فَعُدْتُ فَقَالَ لاَ تَصْنَعْ هَذَا فَإِنَّا كُنَّا نَفْعَلُهُ فَنُهِينَا عَنْ ذَلِكَ وَأُمِرْنَا أَنْ نَضَعَ أَيْدِيَنَا عَلَى الرُّكَبِ .

বর্ণনাকারী: মুসআব ইবনে সা‘দ (রহঃ)

৮৬৭. হাফছ ইবনে উমর (রাহঃ) .... মুসআব ইবনে সা’দ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আমার পিতার পাশে দণ্ডায়মান হয়ে আদায় করা কালে আমার হাতদুটি দুই হাঁটুর মাঝখানে রাখি। তা দেখে তিনি আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন। কিন্তু আমি পুনরায় এরূপ করায় তিনি আমাকে বলেন, তুমি আর এরূপ করো না, কেননা একসময় আমারাও এরূপ করতাম; কিন্তু আমাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং আমাদের হাঁটুর উপর হাত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

৮৬৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ إِذَا رَكَعَ أَحَدُكُمْ فَلْيَفْرِشْ ذِرَاعَيْهِ عَلَى فَخِذِهِ وَلْيُطَبِّقْ بَيْنَ كَفَّيْهِ فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى اخْتِلاَفِ أَصَابِعِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: আলকামা ইবনে কায়স নাখঈ (রহঃ)

৮৬৮. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... আলকামা ও আসওয়াদ (রাহঃ) আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যখন রুকু করবে, তখন সে যেন তার হস্তদ্বয় রানের উপর সম্প্রসারিত করে রাখে এবং হাতের আঙ্গুলগুলো যেন দৃঢ়ভাবে স্থাপন করে। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে তাঁর আঙ্গুলগুলো বিচ্ছিন্নভাবে রাখতে দেখেছি।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৫৭. নামাযী রুকু ও সিজদায় যা বলবে।

باب مَا يَقُولُ الرَّجُلُ فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ

৮৬৯

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ أَبُو تَوْبَةَ، وَمُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مُوسَى، - قَالَ أَبُو سَلَمَةَ مُوسَى بْنِ أَيُّوبَ - عَنْ عَمِّهِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ ( فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ ) قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اجْعَلُوهَا فِي رُكُوعِكُمْ " . فَلَمَّا نَزَلَتْ ( سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى ) قَالَ " اجْعَلُوهَا فِي سُجُودِكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৮৬৯. আর-রবি ইবনে নাফি আবু তাওবা (রাহঃ) ..... উকবা ইবনে আমের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরআনের আয়াত “ফাসাব্বি বিসমি রাব্বিকাল আযিম” অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূল (ﷺ) বললেন, তোমরা এটা রুকুতে পড়বে। অতঃপর কুরআনের অন্য আয়াত “সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা” অবতীর্ণ হলে তিনি বলেন, এটা তোমারা সিজদায় পড়বে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৮৭০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، - يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ - عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى، - أَوْ مُوسَى بْنِ أَيُّوبَ - عَنْ رَجُلٍ، مِنْ قَوْمِهِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، بِمَعْنَاهُ زَادَ قَالَ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا رَكَعَ قَالَ " سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ وَبِحَمْدِهِ " . ثَلاَثًا وَإِذَا سَجَدَ قَالَ " سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى وَبِحَمْدِهِ " . ثَلاَثًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذِهِ الزِّيَادَةُ نَخَافُ أَنْ لاَ تَكُونَ مَحْفُوظَةً . قَالَ أَبُو دَاوُدَ انْفَرَدَ أَهْلُ مِصْرَ بِإِسْنَادِ هَذَيْنِ الْحَدِيثَيْنِ حَدِيثِ الرَّبِيعِ وَحَدِيثِ أَحْمَدَ بْنِ يُونُسَ .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৮৭০. আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... উকবা ইবনে আমের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত ......... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। এতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকু করতেন, তখন “সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম ওয়া বিহামদিহি” তিনবার বলতেন। তিনি যখন সিজদা করতেন তখন “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা ওয়া বিহামদিহি” তিনবার পাঠ করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৮৭১

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ قُلْتُ لِسُلَيْمَانَ أَدْعُو فِي الصَّلاَةِ إِذَا مَرَرْتُ بِآيَةِ تَخَوُّفٍ فَحَدَّثَنِي عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ عَنْ مُسْتَوْرِدٍ عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ عَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّهُ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ " سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ " . وَفِي سُجُودِهِ " سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى " . وَمَا مَرَّ بِآيَةِ رَحْمَةٍ إِلاَّ وَقَفَ عِنْدَهَا فَسَأَلَ وَلاَ بِآيَةِ عَذَابٍ إِلاَّ وَقَفَ عِنْدَهَا فَتَعَوَّذَ .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৮৭১. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... হুযাইফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী (ﷺ) এর সাথে নামায আদায় করেছেন। তিনি রুকুর মধ্যে “সুবহানা রাব্বিয়াল আজীম” এবং সিজদায় “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা” পড়তেন এবং কুরআন পাঠের সময় তিনি যখন কোন রহমতের আয়াতে পৌঁছতেন, তখন তথায় থেমে রহমতের জন্য দু'আ করতেন। তিনি যখন কোন আযাবের আয়াত পাঠ করতেন, তখন তথায় থেমে আযাব হতে মুক্তি কমনা করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

৮৭২

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ " سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلاَئِكَةِ وَالرُّوحِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৮৭২. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী করীম (ﷺ) সিজদায় ও রুকুতে “সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুল মালাইকাতি ওয়াররূহ” পাঠ করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৮৭৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ حُمَيْدٍ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، قَالَ قُمْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةً فَقَامَ فَقَرَأَ سُورَةَ الْبَقَرَةِ لاَ يَمُرُّ بِآيَةِ رَحْمَةٍ إِلاَّ وَقَفَ فَسَأَلَ وَلاَ يَمُرُّ بِآيَةِ عَذَابٍ إِلاَّ وَقَفَ فَتَعَوَّذَ - قَالَ - ثُمَّ رَكَعَ بِقَدْرِ قِيَامِهِ يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ " سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ " . ثُمَّ سَجَدَ بِقَدْرِ قِيَامِهِ ثُمَّ قَالَ فِي سُجُودِهِ مِثْلَ ذَلِكَ - ثُمَّ قَامَ فَقَرَأَ بِآلِ عِمْرَانَ ثُمَّ قَرَأَ سُورَةً سُورَةً .

বর্ণনাকারী: আউফ ইবনে মালিক (রাঃ)

৮৭৩. আহমদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) ..... আউফ ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসূল (ﷺ) এর সাথে নামাযে দণ্ডায়মান হই। তিনি সূরা বাকারা পাঠকালে যখন রহমতের আয়াতে পৌঁছেন, তখন তিনি (রাসূল (ﷺ) ) তথায় থেমে রহমত কামনা করেন এবং যখন কোন আযাবের আয়াতে পৌঁছেন, তখন তিনি তথায় থেমে আযাব হতে মাগফিরাত কামনা করতেন। অতঃপর তিনি কিয়ামের সমপরিমাণ সময় রুকুতে অতিবাহিত করেন এবং সেখানে তিনি “সুবহানা যিলজাবারূতি ওয়াল মালাকুতি ওয়াল কিবরিয়া-ই ওয়াল আযমাতি” পাঠ করেন। অতঃপর তিনি কিয়ামের সমপরিমাণ সময় সিজদায় অতিবাহিত করেন এবং সেখানেও উপরোক্ত দু'আ পাঠ করেন, পরে এক একটি সূরা পাঠ করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮৭৪

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، وَعَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ، مَوْلَى الأَنْصَارِ عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي عَبْسٍ عَنْ حُذَيْفَةَ، أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ فَكَانَ يَقُولُ " اللَّهُ أَكْبَرُ - ثَلاَثًا - ذُو الْمَلَكُوتِ وَالْجَبَرُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ " . ثُمَّ اسْتَفْتَحَ فَقَرَأَ الْبَقَرَةَ ثُمَّ رَكَعَ فَكَانَ رُكُوعُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ وَكَانَ يَقُولُ فِي رُكُوعِهِ " سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ " . ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فَكَانَ قِيَامُهُ نَحْوًا مِنْ رُكُوعِهِ يَقُولُ " لِرَبِّيَ الْحَمْدُ " . ثُمَّ سَجَدَ فَكَانَ سُجُودُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ فَكَانَ يَقُولُ فِي سُجُودِهِ " سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى " . ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ وَكَانَ يَقْعُدُ فِيمَا بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ نَحْوًا مِنْ سُجُودِهِ وَكَانَ يَقُولُ " رَبِّ اغْفِرْ لِي رَبِّ اغْفِرْ لِي " . فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فَقَرَأَ فِيهِنَّ الْبَقَرَةَ وَآلَ عِمْرَانَ وَالنِّسَاءَ وَالْمَائِدَةَ أَوِ الأَنْعَامَ شَكَّ شُعْبَةُ .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

৮৭৪. আবুল ওয়ালিদ আত-তায়ালিসী (রাহঃ) .... হুযাইফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূল (ﷺ)কে রাতে নামায পড়তে দেখেন। এ সময় তিনি তিনবার আল্লাহু আকবার বলে “যুল মালাকূতি ওয়াল জাবারূতি ওয়াল কিবরিয়া-ই ওয়াল আযমাতি পাঠ করেন। অতঃপর তিনি সূরা বাকারা পড়া শুরু করেন এবং রুকুর সময় কিয়ামের সমপরিমাণ ছিল। তিনি রুকুতে “সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম, সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম” পাঠ করেন। অতঃপর তিনি রুকু হতে মাথা উত্তোলন করেন এবং এ দণ্ডায়মানের সময়টি প্রায় রুকুর সমান ছিল। তিনি এ সময় “লি-রাব্বিয়াল হামদ” পাঠ করেন।

অতঃপর তিনি সিজদায় গমন করেন, যার পরিমাণ কিয়ামের অনুরূপ ছিল এবং তিনি সিজাদায় “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা” পাঠ করেন। পরে তিনি সিজদা হতে মাথা তুলে বসেন এবং তাঁর দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময়টুকু সিজদার সময়ের সমপরিমাণ ছিল, এবং এস্থানে তিনি “রাব্বিগফিরলি” পাঠ করেন। এভাবে তিনি চার রাকআত নামায আদায় করেন এবং এই নামাযে তিনি সূরা বাকারা, সূরা আল-ইমরান, সূরা নিসা এবং সূরা মায়িদা বা সূরা আনআম পাঠ করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫৮. রুকু ও সিজদার মধ্যে দু'আ পাঠ সম্পর্কে।

باب فِي الدُّعَاءِ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ

৮৭৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، قَالُوا حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا عَمْرٌو، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا صَالِحٍ، ذَكْوَانَ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৭৫. আহমদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, সিজদা কালীন সময়ে বান্দা আল্লাহ তাআলার সর্বাধিক নৈকট্য প্রাপ্ত হয়। অতএব তোমরা এ সময় অধিক দু'আ পাঠ করবে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৮৭৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ سُحَيْمٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَشَفَ السِّتَارَةَ وَالنَّاسُ صُفُوفٌ خَلْفَ أَبِي بَكْرٍ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ لَمْ يَبْقَ مِنْ مُبَشِّرَاتِ النُّبُوَّةِ إِلاَّ الرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ يَرَاهَا الْمُسْلِمُ أَوْ تُرَى لَهُ وَإِنِّي نُهِيتُ أَنْ أَقْرَأَ رَاكِعًا أَوْ سَاجِدًا فَأَمَّا الرُّكُوعُ فَعَظِّمُوا الرَّبَّ فِيهِ وَأَمَّا السُّجُودُ فَاجْتَهِدُوا فِي الدُّعَاءِ فَقَمِنٌ أَنْ يُسْتَجَابَ لَكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৮৭৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা (ইন্তিকালের পূর্ব মুহূর্তে) নবী করীম (ﷺ) স্বীয় হুজরার পর্দা উঠিয়ে দেখতে পান যে, লোকেরা আবু বকর (রাযিঃ) এর পিছনে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছে। তখন তিনি সকলকে সম্বোধন করে বলেন, হে লোকগণ! এখন হতে নবুয়াতের আর কিছুই অবশিষ্ট রইল না, কিন্তু মুসলমানদের সত্য-স্বপ্ন যা তারা দেখবে (তাও নবুয়াতের অংশবিশেষ)।

তিনি আরও বলেন, রুকু আর সিজদা কালীন সময়ে আমাকে কিরাত পাঠ করতে নিষেধ করা হয়েছে (কেননা রুকুর উদ্দেশ্য হলো রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা)। অতএব তোমরা রুকুতে রবের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা কর এবং সিজদায় অধিক দু'আ করা চেষ্টা কর। তোমাদের এই দু'আ কবুল হবে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

৮৭৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُكْثِرُ أَنْ يَقُولَ فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ " سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي " . يَتَأَوَّلُ الْقُرْآنَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৮৭৭. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) রুকু ও সিজদায় এই দু'আটি অধিক পাঠ করতেনঃ “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রবানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলি” এবং কুরআনের আয়াতের এই অর্থ করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৮৭৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، ح حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي سُجُودِهِ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ " . زَادَ ابْنُ السَّرْحِ " عَلاَنِيَتَهُ وَسِرَّهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৭৮. আহমদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) সিজদার মধ্যে এই দু'আ পাঠ করতেনঃ “আল্লাহুম্মাগফিরলি যানবি কুল্লাহু দিক্কাহু ওয়া জাল্লাহু ওয়া আওালাহু ওয়া আখিরাহু”। ইবনে সারহ তাঁর বর্ণনায় “আলানিয়াতুহু ওয়া সিররাহু” অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৮৭৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ فَقَدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَلَمَسْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا هُوَ سَاجِدٌ وَقَدَمَاهُ مَنْصُوبَتَانِ وَهُوَ يَقُولُ " أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَأَعُوذُ بِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৮৭৯. মুহাম্মাদ ইবনে সুলায়ামান (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাত্রিতে আমি রাসূল (ﷺ)কে বিছানায় না পেয়ে তাঁর সন্ধানে মসজিদে গমন করি। আমি তাঁকে সেখানে সিজদারত অবস্থায় দেখতে পাই, তখন তাঁর পদদ্বয়ের পাতা খাড়া ছিল। এ সময় তিনি এরূপ বলেছিলেনঃ “আ-উ-যু বিরাদাকা মিন সাখাতিকা ওয়া আউযু বিমাআফাতিকা মিন উকুবাতিকা ওয়া আউযুবিকা মিনকা লা আহসা ছানা আলাইকা আনতা কামা আছনায়তা আলা নফসিকা”।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৫৯. নামাযের মধ্যে দুআ করা সম্পর্কে।

باب الدُّعَاءِ فِي الصَّلاَةِ

৮৮০

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو فِي صَلاَتِهِ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ " . فَقَالَ لَهُ قَائِلٌ مَا أَكْثَرَ مَا تَسْتَعِيذُ مِنَ الْمَغْرَمِ فَقَالَ " إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا غَرِمَ حَدَّثَ فَكَذَبَ وَوَعَدَ فَأَخْلَفَ " .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

৮৮০. আমর ইবনে উসমান (রাহঃ) .... উরওয়া (রাহঃ) হতে বর্ণিত। আয়িশা (রাযিঃ) তাঁকে জানান যে, রাসূল (ﷺ) নামাযের মধ্যে নিম্নোক্ত দু'আ পাঠ করতেনঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নি আ-উ-যুবিকা মিন আযাবিল কাবরি ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ-দাজ্জাল ওয়া আউযুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল মা’ছামি ওয়াল মাগরাম”।

তখন এক ব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করেন যে, মাগরাম বা কর্জ হতে অধিক ভাবে পরিত্রাণ চাওয়ার কারণ কী? জবাবে তিনি বলেন, যখন কোন ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত হয়, তখন সে কথা বলতে মিথ্যার আশ্রয় গ্রহণ করে এবং ওয়াদাও খেলাফ করে।
৮৮১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَلَّيْتُ إِلَى جَنْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ تَطَوُّعٍ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ " أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ وَيْلٌ لأَهْلِ النَّارِ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা (রহঃ)

৮৮১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে আবু লায়লা (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূল (ﷺ) এর পাশে দাঁড়িয়ে নফল নামায আদায় করছিলাম এসময় আমি তাঁকে “আউযু বিল্লাহি মিনান্নার ওয়াইলুন লি-আহলিন নার” বলতে শুনেছি।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৮৮২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الصَّلاَةِ وَقُمْنَا مَعَهُ فَقَالَ أَعْرَابِيٌّ فِي الصَّلاَةِ اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي وَمُحَمَّدًا وَلاَ تَرْحَمْ مَعَنَا أَحَدًا فَلَمَّا سَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِلأَعْرَابِيِّ " لَقَدْ تَحَجَّرْتَ وَاسِعًا " . يُرِيدُ رَحْمَةَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ .

বর্ণনাকারী: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

৮৮২. আহমদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... আবু সালামা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা রাসূল (ﷺ) এর সাথে আমরা একত্রে নামায আদায় করি। এ সময় এক বেদুঈন আরব বলেঃ ইয়া আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ) ও আমার উপর রহমত বর্ষণ কর এবং আমাদের ব্যতীত অন্যদের উপর রহমত কর না। এতদশ্রবণে রাসূল (ﷺ) সালাম ফিরিয়ে ঐ বেদুঈন ব্যক্তিকে বলেনঃ তুমি অবশ্যই প্রশস্ত বস্তুকে সংকির্ণ করেছ। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার রহমত ব্যাপক।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ

৮৮৩

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا قَرَأَ ( سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى ) قَالَ " سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ خُولِفَ وَكِيعٌ فِي هَذَا الْحَدِيثِ وَرَوَاهُ أَبُو وَكِيعٍ وَشُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مَوْقُوفًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৮৮৩. যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন “সাব্বিহিসমা রবিকাল আলা” পড়তেন, তখন তিনি “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা” পাঠ করতেন।
৮৮৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عَائِشَةَ، قَالَ كَانَ رَجُلٌ يُصَلِّي فَوْقَ بَيْتِهِ وَكَانَ إِذَا قَرَأَ ( أَلَيْسَ ذَلِكَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى ) قَالَ سُبْحَانَكَ فَبَلَى فَسَأَلُوهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ أَحْمَدُ يُعْجِبُنِي فِي الْفَرِيضَةِ أَنْ يَدْعُوَ بِمَا فِي الْقُرْآنِ .

বর্ণনাকারী: মুসা ইবনে আবি আয়েশা (রহঃ)

৮৮৪. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ..... মুসা ইবনে আবু আয়িশা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি স্বীয় গৃহের ছাদের উপর নামায আদায় করতেন। সে ব্যক্তি যখন কুরআনের এই আয়াত তেলাওয়াত করতেন “তিনি (আল্লাহ) কি মৃতকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম নন?” - জবাবে বলতেন “সমস্ত পবিত্রতা তোমরই জন্য, অবশ্যই তুমি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী”। তাঁকে এ সম্পর্কে লোকেরা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ আমি রাসূল (ﷺ) এর নিকট হতে এরূপ শ্রবণ করেছি।

১৬০. রুকু ও সিজদায় অবস্থানের পরিমাণ।

باب مِقْدَارِ الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ

৮৮৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ الْجُرَيْرِيُّ، عَنِ السَّعْدِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَوْ عَنْ عَمِّهِ، قَالَ رَمَقْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَتِهِ فَكَانَ يَتَمَكَّنُ فِي رُكُوعِهِ وَسُجُودِهِ قَدْرَ مَا يَقُولُ " سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ " . ثَلاَثًا .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৮৮৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... সাদী (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতা অথবা চাচার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি রাসূল (ﷺ)কে নামাযরত অবস্থায় দেখেছি। তিনি রুকু ও সিজদার মধ্যে “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি” তিনবার পাঠ করার সমপরিমাণ সময় অবস্থান করতেন।
৮৮৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مَرْوَانَ الأَهْوَازِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، وَأَبُو دَاوُدَ عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ يَزِيدَ الْهُذَلِيِّ، عَنْ عَوْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا رَكَعَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ وَذَلِكَ أَدْنَاهُ وَإِذَا سَجَدَ فَلْيَقُلْ سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى ثَلاَثًا وَذَلِكَ أَدْنَاهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا مُرْسَلٌ عَوْنٌ لَمْ يُدْرِكْ عَبْدَ اللَّهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৮৮৬. আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন তোমাদের কেউ রুকু করবে, তখন সে যেন সেখানে “সুবহানা রবিয়াল আযীম” তিনবার পাঠ করে এবং এটাই সর্বনিম্ন পরিমাণ, এবং যখন সিজদা করবে, তখন সেখানে “সুবহানা রবি-ইয়াল আলা” কমপক্ষে তিনবার পাঠ করবে।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৮৮৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ، سَمِعْتُ أَعْرَابِيًّا، يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَرَأَ مِنْكُمْ ( وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ ) فَانْتَهَى إِلَى آخِرِهَا ( أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَحْكَمِ الْحَاكِمِينَ ) فَلْيَقُلْ بَلَى وَأَنَا عَلَى ذَلِكَ مِنَ الشَّاهِدِينَ وَمَنْ قَرَأَ ( لاَ أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ ) فَانْتَهَى إِلَى ( أَلَيْسَ ذَلِكَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى ) فَلْيَقُلْ بَلَى وَمَنْ قَرَأَ ( وَالْمُرْسَلاَتِ ) فَبَلَغَ ( فَبِأَىِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ ) فَلْيَقُلْ آمَنَّا بِاللَّهِ " . قَالَ إِسْمَاعِيلُ ذَهَبْتُ أُعِيدُ عَلَى الرَّجُلِ الأَعْرَابِيِّ وَأَنْظُرُ لَعَلَّهُ فَقَالَ يَا ابْنَ أَخِي أَتَظُنُّ أَنِّي لَمْ أَحْفَظْهُ لَقَدْ حَجَجْتُ سِتِّينَ حَجَّةً مَا مِنْهَا حَجَّةٌ إِلاَّ وَأَنَا أَعْرِفُ الْبَعِيرَ الَّذِي حَجَجْتُ عَلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৮৭. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ “সূরা আত-তীন” এর “আলাইসাল্লাহু বি-আহকামিল হাকিমীন” বলবে, তখন সে যেন অবশ্যই বলে “বালা ওয়া আনা আলা যালিকা মিনাশ শাহিদিন” অর্থাৎ অবশ্যই আমি এর সাক্ষী। অপর পক্ষে যে ব্যক্তি সূরা লা উকসিমু বি-ইয়াওমিল কিয়ামাতি” এর শেষ আয়াত “আলাইসা যালিকা বি-কাদিরীন আলা আই-ইউহ-ইয়াল মাওতা” পাঠ করবে, তখন সে যেন অবশ্যই বলে, বালা অর্থাৎ অবশ্যই ক্ষমতাশালী। আর যে ব্যক্তি “সূরা মুরসালাত” পাঠ করার সময় “ফাবি আইয়ি হাদীসিন বা’দাহু ইউমিনুন” তেলাওয়াত করে, তখন সে যেন অবশ্যই বলে, “আমান্না বিল্লাহি” অর্থাৎ আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি।

রাবী ইসমাঈল বলেন, অতঃপর আমি বর্ণনাকারী বেদুঈন আরবকে দেখার জন্য রওয়ানা হই এ উদ্দেশ্যে যে, হয়ত তার (আমার নিকট বর্ণনাকারীর) বর্ণনা সঠিক নয়। এ সময় রাবী আমাকে বলেন, হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি কি মনে করেছ যে, আমি হাদীস ভুলে গিয়েছি? অথচ আমি এ জীবনে ষাটবার হজ্জ আদায় করেছি এবং প্রত্যেক হজ্জের মওসুমে আমি কি ধরনের উটের উপর সফর করেছি, তা এখনও আমার স্মরণ আছে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮৮৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، وَابْنُ، رَافِعٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُمَرَ بْنِ كَيْسَانَ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ وَهْبِ بْنِ مَانُوسٍ، قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ مَا صَلَّيْتُ وَرَاءَ أَحَدٍ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَشْبَهَ صَلاَةً بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ هَذَا الْفَتَى يَعْنِي عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ . قَالَ فَحَزَرْنَا فِي رُكُوعِهِ عَشْرَ تَسْبِيحَاتٍ وَفِي سُجُودِهِ عَشْرَ تَسْبِيحَاتٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ قُلْتُ لَهُ مَانُوسٌ أَوْ مَابُوسٌ قَالَ أَمَّا عَبْدُ الرَّزَّاقِ فَيَقُولُ مَابُوسٌ وَأَمَّا حِفْظِي فَمَانُوسٌ وَهَذَا لَفْظُ ابْنِ رَافِعٍ . قَالَ أَحْمَدُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৮৮৮. আহমদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) ........... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ) এর ইন্তিকালের পর এই যুবক . উমর ইবনে আব্দুল আযীয ব্যতীত আর কারও পেছনে নবী করীম (ﷺ) এর নামাযের অনুরূপ নামায পড়িনি। তিনি বলেন, আমরা তাঁর রুকু ও সিজদার মধ্যে দশ-দশবার করে রুকু ও সিজদার তাসবীহ পাঠের হিসাব করেছি।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৬১. কোন ব্যক্তি ইমামকে সিজদারত পেলে তখন সে কি করবে?

باب فِي الرَّجُلِ يُدْرِكُ الإِمَامَ سَاجِدًا كَيْفَ يَصْنَعُ

৮৮৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْحَكَمِ، حَدَّثَهُمْ أَخْبَرَنَا نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي الْعَتَّابِ، وَابْنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا جِئْتُمْ إِلَى الصَّلاَةِ وَنَحْنُ سُجُودٌ فَاسْجُدُوا وَلاَ تَعُدُّوهَا شَيْئًا وَمَنْ أَدْرَكَ الرَّكْعَةَ فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلاَةَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৮৮৯. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে ফারিস (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, তোমরা যখন নামাযে এসে আমাদের সিজদারত অবস্থায় পাবে, তখন তোমরা সিজদায় শামিল হয়ে যাবে। তবে উক্ত সিজদা নামাযের রাকআত হিসাবে গণ্য করবে না। যে ব্যক্তি রুকু পেয়েছে, সে নামাযও পেয়েছে (অর্থাৎ ঐ রাকআত প্রাপ্ত হয়েছে)।

১৬২. সিজদার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ।

باب أَعْضَاءِ السُّجُودِ

৮৯০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أُمِرْتُ " . قَالَ حَمَّادٌ أُمِرَ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم - أَنْ يَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةٍ وَلاَ يَكُفَّ شَعْرًا وَلاَ ثَوْبًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৮৯০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেন, আমাকে আল্লাহর তরফ হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, হাম্বাদের বর্ণনায় আছে, তোমাদের নবীকে সাতটি অঙ্গ দ্বারা সিজদা করতে বলা হয়েছে। তিনি নামাযের অবস্থায় চুল ও কাপড় বাঁধতে নিষেধ করেছেন।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৮৯১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أُمِرْتُ " . وَرُبَّمَا قَالَ أُمِرَ نَبِيُّكُمْ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةِ آرَابٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৮৯১. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাকে এরূপ নির্দেশ দেয়া হয়েছে বা তিনি কখনও বলেছেন, তোমাদের নবীকে সাতটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গের দ্বারা সিজদা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

৮৯২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا بَكْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُضَرَ - عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا سَجَدَ الْعَبْدُ سَجَدَ مَعَهُ سَبْعَةُ آرَابٍ وَجْهُهُ وَكَفَّاهُ وَرُكْبَتَاهُ وَقَدَمَاهُ " .

বর্ণনাকারী: আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ)

৮৯২. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূল (ﷺ)কে বলতে শুনেছেন, যখন কোন বান্দা আল্লাহকে সিজদা করে, তখন তার সাথে তার শরীরের সাতটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গও সিজদা করে। যেমন, তার মুখমণ্ডল, দুই হাতের তালু, দুই হাটুঁ এবং দুই পা।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

৮৯৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ - عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رَفَعَهُ قَالَ " إِنَّ الْيَدَيْنِ تَسْجُدَانِ كَمَا يَسْجُدُ الْوَجْهُ فَإِذَا وَضَعَ أَحَدُكُمْ وَجْهَهُ فَلْيَضَعْ يَدَيْهِ وَإِذَا رَفَعَ فَلْيَرْفَعْهُمَا ".

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৮৯৩. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। এই হাদীসের বর্ণনাক্রম রাসূল (ﷺ) পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনি বলেন, বান্দার দুই হাত মুখমণ্ডলের ন্যায় সিজদা করে। যখন তোমাদের কেউ কপাল দ্বারা সিজদা করে, তখন অবশ্যই সে যেন তার দুটি হাতের তালুও জমিনে রাখে এবং যখন সে কপাল উঠাবে, তখন হাতও উঠাবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৬৩. নাক ও কপালের সাহায্যে সিজদা করা।

باب السُّجُودِ عَلَى الأَنْفِ وَالْجَبْهَةِ

৮৯৪

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رُئِيَ عَلَى جَبْهَتِهِ وَعَلَى أَرْنَبَتِهِ أَثَرُ طِينٍ مِنْ صَلاَةٍ صَلاَّهَا بِالنَّاسِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৮৯৪. ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূল (ﷺ) জামাআতের সাথে নামায আদায় করার পর তাঁর কপাল ও নাকের উপর মাটির দাগ পরিলক্ষিত হয়।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৮৯৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৮৯৫. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ..... আব্দুর রাযযাক হতে, তিনি মা’মার হতে পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৬৪. সিজদা করার নিয়ম।

باب صِفَةِ السُّجُودِ

৮৯৬

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ وَصَفَ لَنَا الْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ فَوَضَعَ يَدَيْهِ وَاعْتَمَدَ عَلَى رُكْبَتَيْهِ وَرَفَعَ عَجِيزَتَهُ وَقَالَ هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْجُدُ .

বর্ণনাকারী: আবু ইসহাক সাবিঈ (রহঃ)

৮৯৬. আর-রাবী ইবনে নাফি (রাহঃ) .... আবু ইসহাক (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা বারাআ ইবনে আযিব (রাযিঃ) আমাদের নিকট সিজদার নিয়ম পদ্ধতি বর্ণনা করার সময় তাঁর হাত দুটি মাটিতে রাখেন এবং হাঁটুর উপর ভর করে পাছা উপরের দিকে উঠান, অতঃপর বলেন, রাসূল (ﷺ) এরূপ সিজদা সিজদা করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৮৯৭

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اعْتَدِلُوا فِي السُّجُودِ وَلاَ يَفْتَرِشْ أَحَدُكُمْ ذِرَاعَيْهِ افْتِرَاشَ الْكَلْبِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৮৯৭. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, তোমরা সঠিকভাবে সিজদা করবে কুকুরের ন্যায় হস্তদ্বয়কে জমিনের সাথে মিলাবে না।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

৮৯৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَمِّهِ، يَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ عَنْ مَيْمُونَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا سَجَدَ جَافَى بَيْنَ يَدَيْهِ حَتَّى لَوْ أَنَّ بَهْمَةً أَرَادَتْ أَنْ تَمُرَّ تَحْتَ يَدَيْهِ مَرَّتْ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত মাইমুনা (রাঃ)

৮৯৮. কুতায়বা (রাহঃ) .... মায়মুনা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) যখন সিজদা করতেন, তখন তিনি তাঁর হস্তদ্বয়কে এত দূরে রাখতেন যে, কোন বকরীর বাচ্চা ইচ্ছা করলে এর নীচ দিয়ে চলে যেতে পারত।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৮৯৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنِ التَّمِيمِيِّ الَّذِي، يُحَدِّثُ بِالتَّفْسِيرِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مِنْ خَلْفِهِ فَرَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ وَهُوَ مُجَخٍّ قَدْ فَرَّجَ بَيْنَ يَدَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৮৯৯. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নবী করীম (ﷺ) এর পিছন দিয়ে আসছিলাম, যখন তিনি নামাযরত ছিলেন। তখন আমি তাঁর বগল মোবারকের নিম্নাংশের সাদা অংশটি দেখি। কারণ এ সময় তার হস্তদ্বয়কে প্রসারিত করে রেখেছিলেন।

সূত্র: আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

৯০০

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ رَاشِدٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، حَدَّثَنَا أَحْمَرُ بْنُ جَزْءٍ، صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا سَجَدَ جَافَى عَضُدَيْهِ عَنْ جَنْبَيْهِ حَتَّى نَأْوِيَ لَهُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৯০০. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ....... আহমার ইবনে জুয (রাযিঃ) যিনি রাসূল (ﷺ) এর সাহাবী ছিলেন, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) সিজদায় সময় তাঁর বাহুদ্বয়কে পার্শ্বদেশ হতে অনেক দূরে সরিয়ে রাখতেন এবং (এতে তাঁর কষ্ট দেখে) আমাদের করুণা হত।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৯০১

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ دَرَّاجٍ، عَنِ ابْنِ حُجَيْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا سَجَدَ أَحَدُكُمْ فَلاَ يَفْتَرِشْ يَدَيْهِ افْتِرَاشَ الْكَلْبِ وَلْيَضُمَّ فَخِذَيْهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৯০১. আব্দুল মালিক ইবনে শুয়াইব (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যখন তোমাদের কেউ সিজদা করবে, তখন সে যেন তার বাহুদ্বয়কে কুকুরের মত জমিনে বিছিয়ে না রাখে এবং রানদ্বয় যেন না মিলায়।

১৬৫. এ ব্যাপারে শিথিলতা সম্পর্কে।

باب الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ

৯০২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سُمَىٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ اشْتَكَى أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَشَقَّةَ السُّجُودِ عَلَيْهِمْ إِذَا انْفَرَجُوا فَقَالَ " اسْتَعِينُوا بِالرُّكَبِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৯০২. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) এর সাহাবীগণ সিজদার সময় সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে অধিক সম্প্রসারিত রেখে নামায আদায় করার কষ্ট সম্পর্কে তাঁর নিকট অভিযোগ পেশ করলে তিনি বলেন, তোমরা শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে সিজদার সময় পরস্পর পরস্পরের সাথে সম্মিলিত রেখে (এ কষ্ট দূর করার উদ্দেশ্যে) সাহায্য গ্রহণ কর।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৬৬. কমরের উপর হাত রাখা নিষেধ।

باب فِي التَّخَصُّرِ وَالإِقْعَاءِ

৯০৩

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ صُبَيْحٍ الْحَنَفِيِّ، قَالَ صَلَّيْتُ إِلَى جَنْبِ ابْنِ عُمَرَ فَوَضَعْتُ يَدَىَّ عَلَى خَاصِرَتَىَّ فَلَمَّا صَلَّى قَالَ هَذَا الصَّلْبُ فِي الصَّلاَةِ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى عَنْهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৯০৩. হান্নাদ ইবনে স-সারী (রাহঃ) ..... যিয়াদ ইবনে সুবাইহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি .... ইবনে উমর (রাযিঃ) এর পিছনে দাঁড়িয়ে নামায পড়ছিলাম। এ সময় আমি আমার হস্তদ্বয়কে কোমরের দুই পাশে স্থাপন করি। এতদ্দর্শনে নামায শেষে তিনি আমাকে বলেন, নামাযের সাথে এরূপ দণ্ডায়মান হওয়া শূলিকাষ্ঠের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। রাসূল (ﷺ) এভাবে দাঁড়াতে নিষেধ করেছেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৬৭. নামাযের মধ্যে ক্রন্দন করা সম্পর্কে।

باب الْبُكَاءِ فِي الصَّلاَةِ

৯০৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلاَّمٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ هَارُونَ - أَخْبَرَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَفِي صَدْرِهِ أَزِيزٌ كَأَزِيزِ الرَّحَى مِنَ الْبُكَاءِ

বর্ণনাকারী: মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ (রহঃ)

৯০৪. আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... মুতাররিফ (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূল (ﷺ)কে এমতাবস্থায় নামায আদায় করতে দেখি যে, তাঁর বক্ষ মোবারক হতে ক্রন্দন ধ্বনি শ্রুত হচ্ছিল।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৬৮. নামাযের মধ্যে মনে ওয়াসওয়াসা ও অন্যান্য চিন্তা আসা মাকরুহ।

باب كَرَاهِيَةِ الْوَسْوَسَةِ وَحَدِيثِ النَّفْسِ فِي الصَّلاَةِ

৯০৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ - عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يَسْهُو فِيهِمَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাঃ)

৯০৫. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে খালিদ আল-জুহানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযু করে একাগ্র চিত্তে নির্ভুলভাবে দুই রাকআত নামায আদায় করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মার্জিত হবে।
৯০৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ وَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ يُقْبِلُ بِقَلْبِهِ وَوَجْهِهِ عَلَيْهِمَا إِلاَّ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৯০৬. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... উকবা ইবনে আমির আল-জুহানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে কেউ উত্তমরূপে ওযু করে দুই রাকআত নামায খালেস অন্তর দিয়ে আদায় করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১৬৯. নামাযের মধ্যে ইমামের ভুল ধরিয়ে দেয়া।

باب الْفَتْحِ عَلَى الإِمَامِ فِي الصَّلاَةِ

৯০৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدِّمَشْقِيُّ، قَالاَ أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ يَحْيَى الْكَاهِلِيِّ، عَنِ الْمُسَوَّرِ بْنِ يَزِيدَ الْمَالِكِيِّ، - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَحْيَى وَرُبَّمَا قَالَ - شَهِدْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الصَّلاَةِ فَتَرَكَ شَيْئًا لَمْ يَقْرَأْهُ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ تَرَكْتَ آيَةَ كَذَا وَكَذَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلاَّ أَذْكَرْتَنِيهَا " . قَالَ سُلَيْمَانُ فِي حَدِيثِهِ قَالَ كُنْتُ أُرَاهَا نُسِخَتْ .
وَقَالَ سُلَيْمَانُ قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ كَثِيرٍ الأَزْدِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا الْمِسْوَرُ بْنُ يَزِيدَ الأَسَدِيُّ الْمَالِكِيُّ.
حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَلاَءِ بْنِ زَبْرٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى صَلاَةً فَقَرَأَ فِيهَا فَلُبِسَ عَلَيْهِ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ لأُبَىٍّ " أَصَلَّيْتَ مَعَنَا " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " فَمَا مَنَعَكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৯০৭. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) ..... মিসওয়ার ইবনে ইয়াযিদ আল মালিকী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূল (ﷺ) সাথে নামায আদায় করি। নামাযের মধ্যে তাঁর পঠিত আয়াতের কিছু অংশ ভুলবশত ছুটে যায়। তখন নামায শেষে একব্যক্তি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি অমুক অমুক আয়াত ছেড়ে দিয়েছেন। জবাবে তিনি বলেন, তুমি তখন আমাকে স্মরণ করিয়ে দাও নি কেন?

ইয়াযিদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম (ﷺ) নামাযের মধ্যে কিরাত পাঠকালে সন্দিহান হয়ে পড়েন। তিনি নামায শেষে উবাই (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি আমাদের সাথে নামায আদায় করেছ? জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ। তখন তিনি বলেন, তোমাকে কিরাতের সন্দেহ নিরসন করে দিতে কে বাঁধা দিয়েছে?

১৭০. নামাযের মধ্যে কিরা’আতের ভুল শোধরানোর নিষেধ সম্পর্কে।

باب النَّهْىِ عَنِ التَّلْقِينِ

৯০৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيُّ، عَنْ يُونُسَ بْنِ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا عَلِيُّ لاَ تَفْتَحْ عَلَى الإِمَامِ فِي الصَّلاَةِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَبُو إِسْحَاقَ لَمْ يَسْمَعْ مِنَ الْحَارِثِ إِلاَّ أَرْبَعَةَ أَحَادِيثَ لَيْسَ هَذَا مِنْهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৯০৮. আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে নাজদা (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, হে আলী! তুমি নামাযের মধ্যে ইমামের কিরাতের ভুল শোধরিও না।

১৭১. নামাযের মধ্যে এদিক ওদিক তাকানো মাকরূহ।

باب الاِلْتِفَاتِ فِي الصَّلاَةِ

৯০৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا الأَحْوَصِ، يُحَدِّثُنَا فِي مَجْلِسِ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ قَالَ أَبُو ذَرٍّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَزَالُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مُقْبِلاً عَلَى الْعَبْدِ وَهُوَ فِي صَلاَتِهِ مَا لَمْ يَلْتَفِتْ فَإِذَا الْتَفَتَ انْصَرَفَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৯০৯. আহমদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... আবু যর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, বান্দা নামাযের মধ্যে যতক্ষণ এদিক-ওদিক দৃষ্টিপাত করবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর দৃষ্টি তার দিকে থাকবে। অপর দিকে যখন সে এদিক ওদিক খেয়াল করবে, তখন আল্লাহও তাঁর দৃষ্টি ফিরিয়ে নিবেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৯১০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنِ الأَشْعَثِ، - يَعْنِي ابْنَ سُلَيْمٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْتِفَاتِ الرَّجُلِ فِي الصَّلاَةِ فَقَالَ " إِنَّمَا هُوَ اخْتِلاَسٌ يَخْتَلِسُهُ الشَّيْطَانُ مِنْ صَلاَةِ الْعَبْدِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৯১০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে নামাযের মধ্যে (ঘাড় ফিরিয়ে) এদিক ওদিক তাকানোর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করি। জবাবে তিনি বলেন, এটা শয়তানের ছোঁ মারা, সে মানুষের নামায হতে কিছু অংশ ছো মেরে নিয়ে যায়।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১৭২. নাক দ্বারা সিজদা করা সম্পর্কে।

باب السُّجُودِ عَلَى الأَنْفِ

৯১১

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا عِيسَى، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رُئِيَ عَلَى جَبْهَتِهِ وَعَلَى أَرْنَبَتِهِ أَثَرُ طِينٍ مِنْ صَلاَةٍ صَلاَّهَا بِالنَّاسِ . قَالَ أَبُو عَلِيٍّ هَذَا الْحَدِيثُ لَمْ يَقْرَأْهُ أَبُو دَاوُدَ فِي الْعَرْضَةِ الرَّابِعَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৯১১. মুয়াম্মাল ইবনুল ফাদল (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা জামাআতের সাথে নামাযের পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কপাল ও নাকে মাটির পরিলক্ষিত হয়।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১৭৩. নামাযের মধ্যে কোন দিকে দৃষ্টিপাত করা সম্পর্কে।

باب النَّظَرِ فِي الصَّلاَةِ

৯১২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، - وَهَذَا حَدِيثُهُ وَهُوَ أَتَمُّ - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ تَمِيمِ بْنِ طَرَفَةَ الطَّائِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، - قَالَ عُثْمَانُ - قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسْجِدَ فَرَأَى فِيهِ نَاسًا يُصَلُّونَ رَافِعِي أَيْدِيهِمْ إِلَى السَّمَاءِ - ثُمَّ اتَّفَقَا - فَقَالَ " لَيَنْتَهِيَنَّ رِجَالٌ يَشْخَصُونَ أَبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ - قَالَ مُسَدَّدٌ فِي الصَّلاَةِ - أَوْ لاَ تَرْجِعُ إِلَيْهِمْ أَبْصَارُهُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

৯১২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... জাবের ইবনে সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে প্রবেশ করে দেখেন যে, লোকেরা আকাশের দিকে হাত উত্তোলন করে নামায আদায় করছে। তা দেখে তিনি বলেন, যারা আকাশের প্রতি দৃষ্টিপাত করে নামায পড়ছে। তারা যেন স্ব-স্ব দৃষ্টি অনতিবিলম্বে ফিরিয়ে আনে। অন্যথায় তাদের চক্ষু কখনই তাদের দিকে ফিরে আসবে না।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৯১৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، حَدَّثَهُمْ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَرْفَعُونَ أَبْصَارَهُمْ فِي صَلاَتِهِمْ " . فَاشْتَدَّ قَوْلُهُ فِي ذَلِكَ فَقَالَ " لَيَنْتَهُنَّ عَنْ ذَلِكَ أَوْ لَتُخْطَفَنَّ أَبْصَارُهُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৯১৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, লোকদের কি হয়েছে যে, তারা চক্ষু উপরের দিকে উঠিয়ে নামায আদায় করছে? এ সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে তিনি বলেন, তারা অবশ্যই যেন উপরের দিকে দৃষ্টিপাত করা থেকে বিরত থাকে। অন্যথায় তাদের চক্ষুসমূহ উপড়িয়ে ফেলা হবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৯১৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي خَمِيصَةٍ لَهَا أَعْلاَمٌ فَقَالَ " شَغَلَتْنِي أَعْلاَمُ هَذِهِ اذْهَبُوا بِهَا إِلَى أَبِي جَهْمٍ وَأْتُونِي بِأَنْبِجَانِيَّتِهِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৯১৪. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ডোরাদার পশমি কাপড় পরিধান করে নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি বলেন, এই কাপড়ের নকশা আমাকে নামায হতে অন্যমনস্ক করেছে। তোমরা এই কাপড়টি আবু জাহামের নিকট নিয়ে যাও এবং তার নিকট হতে নকশা বিহীন কম্বল নিয়ে আস।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আল মুওয়াত্তা - ইমাম মালিক রহঃ

৯১৫

حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي الزِّنَادِ - قَالَ سَمِعْتُ هِشَامًا، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، بِهَذَا الْخَبَرِ قَالَ وَأَخَذَ كُرْدِيًّا كَانَ لأَبِي جَهْمٍ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ الْخَمِيصَةُ كَانَتْ خَيْرًا مِنَ الْكُرْدِيِّ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৯১৫. উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু জাহমের নিকট হতে মোটা চাদর গ্রহণ করার পর তাঁকে বলা হয়, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আপনার) নকশাদার চাদরটি মোটা চাদর হতে উত্তম ছিল।

১৭৪. এ বিষয়ে শিথিলতা সম্পর্কে।

باب الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ

৯১৬

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَلاَّمٍ - عَنْ زَيْدٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَلاَّمٍ، قَالَ حَدَّثَنِي السَّلُولِيُّ، - هُوَ أَبُو كَبْشَةَ - عَنْ سَهْلِ ابْنِ الْحَنْظَلِيَّةِ، قَالَ ثُوِّبَ بِالصَّلاَةِ - يَعْنِي صَلاَةَ الصُّبْحِ - فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَهُوَ يَلْتَفِتُ إِلَى الشِّعْبِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَانَ أَرْسَلَ فَارِسًا إِلَى الشِّعْبِ مِنَ اللَّيْلِ يَحْرُسُ .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে হানযালিয়্যা (রাঃ)

৯১৬. আর-রবী ইবনে নাফি (রাহঃ) ..... সাহল ইবনে হানযালিয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফজরের নামাযের ইকামত দেয়ার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযের অবস্থায় দুই পাহাড়ের মধ্যস্থিত সুড়ঙ্গ পথের দিকে নজর করেন।

১৭৫. নামাযের মধ্যে যে কাজ বৈধ।

باب الْعَمَلِ فِي الصَّلاَةِ

৯১৭

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي وَهُوَ حَامِلٌ أُمَامَةَ بِنْتَ زَيْنَبَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَهَا وَإِذَا قَامَ حَمَلَهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৯১৭. আল-কানবী (রাহঃ) ..... আবু কাতাদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় কন্যা যয়নাবের মেয়ে উমামাকে কাঁধে নিয়ে নামায পড়ছিলেন। তিনি সিজদার সময় তাকে নামিয়ে রাখতেন এবং যখন দাঁড়াতেন তখন উঠিয়ে নিতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৯১৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ - حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا قَتَادَةَ، يَقُولُ بَيْنَا نَحْنُ فِي الْمَسْجِدِ جُلُوسٌ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَحْمِلُ أُمَامَةَ بِنْتَ أَبِي الْعَاصِ بْنِ الرَّبِيعِ وَأُمُّهَا زَيْنَبُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ صَبِيَّةٌ يَحْمِلُهَا عَلَى عَاتِقِهِ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ عَلَى عَاتِقِهِ يَضَعُهَا إِذَا رَكَعَ وَيُعِيدُهَا إِذَا قَامَ حَتَّى قَضَى صَلاَتَهُ يَفْعَلُ ذَلِكَ بِهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৯১৮. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আবু কাতাদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা উপস্থিত থাকাকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উমামা বিনতে আবুল আসকে নিয়ে আমাদের নিকট আসেন, যার মাতা ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কন্যা যয়নাব (রাযিঃ)। এ সময় তিনি (উমামা) শিশু ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে কাঁধে নিয়ে আসেন এবং ঐ অবস্থায় নামায আদায় করেন। তিনি রুকু করার সময় তাকে নামিয়ে রাখতেন এবং দাঁড়ানো থাকাবস্থায় তাকে কাঁধে উঠিয়ে নিতেন। এইভাবে তিনি নামায সমাপ্ত করেন।

৯১৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ مَخْرَمَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا قَتَادَةَ الأَنْصَارِيَّ، يَقُولُ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي لِلنَّاسِ وَأُمَامَةُ بِنْتُ أَبِي الْعَاصِ عَلَى عُنُقِهِ فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَهَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَلَمْ يَسْمَعْ مَخْرَمَةُ مِنْ أَبِيهِ إِلاَّ حَدِيثًا وَاحِدًا .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে সুলাইম (রহঃ)

৯১৯. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ..... আমর ইবনে সুলায়ম (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু কাতাদা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উমামা বিনতে আবুল আসকে কাঁধে নিয়ে জামাআতে নামায আদায় করেন। তিনি সিজদার সময় তাকে নামিয়ে রাখতেন।

৯২০

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ - عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، صَاحِبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ نَنْتَظِرُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلصَّلاَةِ فِي الظُّهْرِ أَوِ الْعَصْرِ وَقَدْ دَعَاهُ بِلاَلٌ لِلصَّلاَةِ إِذْ خَرَجَ إِلَيْنَا وَأُمَامَةُ بِنْتُ أَبِي الْعَاصِ بِنْتُ ابْنَتِهِ عَلَى عُنُقِهِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مُصَلاَّهُ وَقُمْنَا خَلْفَهُ وَهِيَ فِي مَكَانِهَا الَّذِي هِيَ فِيهِ قَالَ فَكَبَّرَ فَكَبَّرْنَا قَالَ حَتَّى إِذَا أَرَادَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَرْكَعَ أَخَذَهَا فَوَضَعَهَا ثُمَّ رَكَعَ وَسَجَدَ حَتَّى إِذَا فَرَغَ مِنْ سُجُودِهِ ثُمَّ قَامَ أَخَذَهَا فَرَدَّهَا فِي مَكَانِهَا فَمَا زَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ بِهَا ذَلِكَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ حَتَّى فَرَغَ مِنْ صَلاَتِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৯২০. ইয়াহয়া ইবনে খালাফ (রাহঃ) ..... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবী আবু কাতাদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা যোহর অথবা আসরের নামায আদায়ের জন্য আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর অপেক্ষায় ছিলাম। এ সময় বিলাল (রাযিঃ) তাঁকে নামাযের জন্য আহবান করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উমামা বিনতে আবুল আসকে কাঁধে নিয়ে আগমন করেন। অতঃপর তিনি ইমামতির জন্য স্বীয় স্থানে দাঁড়ান এবং আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়াই এমতাবস্থায় যে, উমামা তাঁর কাঁধেই ছিল। তিনি আল্লাহু আকবার বলার পর আমরাও তাকবীর বলি।

রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকু করার ইরাদা করলে তাকে নীচে নামিয়ে রেখে রুখু ও সিজদা আদায় করেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে তাকে কাঁধে উঠিয়ে নেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি রাকআতে এরূপ করতে থাকেন।
৯২১

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ ضَمْضَمِ بْنِ جَوْسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْتُلُوا الأَسْوَدَيْنِ فِي الصَّلاَةِ الْحَيَّةَ وَالْعَقْرَبَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৯২১. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, কষ্টদায়ক কাল রংয়ের সাপ ও বিচ্ছুকে তোমরা নামায রত অবস্থায়ও হত্যা করবে।

সূত্র: সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

৯২২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَمُسَدَّدٌ، - وَهَذَا لَفْظُهُ - قَالَ حَدَّثَنَا بِشْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُفَضَّلِ - حَدَّثَنَا بُرْدٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ أَحْمَدُ - يُصَلِّي وَالْبَابُ عَلَيْهِ مُغْلَقٌ فَجِئْتُ فَاسْتَفْتَحْتُ - قَالَ أَحْمَدُ - فَمَشَى فَفَتَحَ لِي ثُمَّ رَجَعَ إِلَى مُصَلاَّهُ . وَذَكَرَ أَنَّ الْبَابَ كَانَ فِي الْقِبْلَةِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৯২২. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘরের দরজা বন্ধ করে নামায আদায় করছিলেন। এ সময় আমি এলে তিনি দরজা খুলে দিয়ে পুনরায় নামাযে রত হন। হাদীসে আরও উল্লেখ আছে যে, দরজাটি কিবলামুখী ছিল।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৭৬. নামাযে রত থাকাকালে সালামের জবাব দেয়া।

باب رَدِّ السَّلاَمِ فِي الصَّلاَةِ

৯২৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا نُسَلِّمُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي الصَّلاَةِ فَيَرُدُّ عَلَيْنَا فَلَمَّا رَجَعْنَا مِنْ عِنْدِ النَّجَاشِيِّ سَلَّمْنَا عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْنَا وَقَالَ " إِنَّ فِي الصَّلاَةِ لَشُغْلاً " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৯২৩. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তিনি নামাযরত থাকাবস্থায় সালাম দিতাম এবং তিনি এর জবাব দিতেন। পরবর্তীকালে আমরা যখন হাবশার বাদশাহ নাজ্জাশীর নিকট হতে ফিরে এসে তাঁকে নামাযের মধ্যে সালাম প্রদান করি, তখন তিনি এর জবাব প্রদান করেন নাই। বরং এসময় তিনি বলেন, অবশ্যই নামাযের মধ্যে (কিরাত, তাসবীহ ইত্যাদি) জরুরী করণীয় কাজ রয়েছে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৯২৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا نُسَلِّمُ فِي الصَّلاَةِ وَنَأْمُرُ بِحَاجَتِنَا فَقَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُصَلِّي فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَىَّ السَّلاَمَ فَأَخَذَنِي مَا قَدُمَ وَمَا حَدُثَ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةَ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ يُحْدِثُ مِنْ أَمْرِهِ مَا يَشَاءُ وَإِنَّ اللَّهَ جَلَّ وَعَزَّ قَدْ أَحْدَثَ مِنْ أَمْرِهِ أَنْ لاَ تَكَلَّمُوا فِي الصَّلاَةِ " . فَرَدَّ عَلَىَّ السَّلاَمَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৯২৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নামাযরত অবস্থায় সালাম দিতাম এবং আমাদের জরুরী কাজের কথা বলতাম। পরবর্তীকালে আমি হাবশা হতে প্রত্যাবর্তনের পর একদা তাঁকে নামাযের মধ্যে সালাম দিলে তিনি এর উত্তর দেননি। ফলে আমার মনে পুরাতন ও নতুন কথা স্মরণ হয় এবং সালামের জবাব না পাওয়ায় আমি শঙ্কিত হয়ে পড়ি।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায শেষে আমাকে বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা যখন যা ইচ্ছা করেন, তখন তাই নির্দেশ প্রদান করেন। এখন আল্লাহ তাআলা নামাযের মধ্যে কথা না বলার নির্দেশ জারী করেছেন”। একথা বলার পর তিনি আমার সালামের জবাব দেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৯২৫

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، أَنَّ اللَّيْثَ، حَدَّثَهُمْ عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ نَابِلٍ، صَاحِبِ الْعَبَاءِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ صُهَيْبٍ، أَنَّهُ قَالَ مَرَرْتُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُصَلِّي فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرَدَّ إِشَارَةً . قَالَ وَلاَ أَعْلَمُهُ إِلاَّ قَالَ إِشَارَةً بِأُصْبُعِهِ وَهَذَا لَفْظُ حَدِيثِ قُتَيْبَةَ .

বর্ণনাকারী: সুহায়ব রূমী (রাঃ)

৯২৫. ইয়াযিদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... সুহাইব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে হাজির হয়ে তাঁকে নামাযরত অবস্থায় দেখতে পাই সালাম দেই। এ সময় তিনি আঙ্গুলের ইশারায় এর জবাব দেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৯২৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ أَرْسَلَنِي نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى بَنِي الْمُصْطَلِقِ فَأَتَيْتُهُ وَهُوَ يُصَلِّي عَلَى بَعِيرِهِ فَكَلَّمْتُهُ فَقَالَ لِي بِيَدِهِ هَكَذَا ثُمَّ كَلَّمْتُهُ فَقَالَ لِي بِيَدِهِ هَكَذَا وَأَنَا أَسْمَعُهُ يَقْرَأُ وَيُومِئُ بِرَأْسِهِ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ " مَا فَعَلْتَ فِي الَّذِي أَرْسَلْتُكَ فَإِنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أُكَلِّمَكَ إِلاَّ أَنِّي كُنْتُ أُصَلِّي " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৯২৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আন-নুফাইলী (রাহঃ) ..... জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা আমাকে মুস্তালিক গোত্রের নিকট প্রেরণ করেন। সেখান হতে প্রত্যাবর্তনের পর আমি তাঁকে উটের উপর নামায (নফল) আদায় করতে দেখি। এ সময় আমি তাঁর সাথে কথা বলি এবং তিনি ইশারায় আমার কথার জবাব দেন। এ সময় আমি তাঁকে কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করতে শুনেছি এবং তিনি ইশারায় রুকু সিজদা আদায় করেন। তিনি নামায শেষে আমাকে বলেন, আমি তোমাকে যেজন্য পাঠিয়েছিলাম তার খবর কী? আমি নামাযরত থাকার কারণে এতক্ষণ তোমার সাথে বাক্যালাপ করি নাই।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

৯২৭

حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عِيسَى الْخُرَاسَانِيُّ الدَّامَغَانِيُّ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا نَافِعٌ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يَقُولُ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى قُبَاءَ يُصَلِّي فِيهِ - قَالَ - فَجَاءَتْهُ الأَنْصَارُ فَسَلَّمُوا عَلَيْهِ وَهُوَ يُصَلِّي . قَالَ فَقُلْتُ لِبِلاَلٍ كَيْفَ رَأَيْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرُدُّ عَلَيْهِمْ حِينَ كَانُوا يُسَلِّمُونَ عَلَيْهِ وَهُوَ يُصَلِّي قَالَ يَقُولُ هَكَذَا وَبَسَطَ كَفَّهُ . وَبَسَطَ جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ كَفَّهُ وَجَعَلَ بَطْنَهُ أَسْفَلَ وَجَعَلَ ظَهْرَهُ إِلَى فَوْقٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৯২৭. আল-হোসাইন ইবনে ঈসা আল-খুরাসানী আদ-দামিগানী (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ কুবার মসজিদে নামায আদায়ের জন্য গমন করেন। এ সময় মদীনার আনসারগণ আগমন করে তাঁকে নামাযে রত থাকাবস্থায় সালাম প্রদান করেন।

রাবী বলেন, তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথী বিলাল (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, তিনি নামাযে থাকাবস্থায় সালামের জবাব কিভাবে দিলেন? বিলাল (রাযিঃ) বলেন, এভাবে দিয়েছেন। রাবী জাফর ইবনে আওন এর (ইশারার) নমুনাস্বরূপ স্বীয় হাতের তালু প্রদর্শন করেন, যার পৃষ্ঠদেশ উপরে এবং বক্ষদেশ নিম্নে অবস্থিত ছিল।
৯২৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ غِرَارَ فِي صَلاَةٍ وَلاَ تَسْلِيمٍ " . قَالَ أَحْمَدُ يَعْنِي فِيمَا أُرَى أَنْ لاَ تُسَلِّمَ وَلاَ يُسَلَّمَ عَلَيْكَ وَيُغَرِّرُ الرَّجُلُ بِصَلاَتِهِ فَيَنْصَرِفُ وَهُوَ فِيهَا شَاكٌّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৯২৮. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নামাযে এবং সালামে কোন ক্ষতি নেই।

রাবী আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন, এর অর্থ এই যে, তুমি কাউকে সালাম প্রদান করলে এবং সে উত্তর না দিলে তোমার কোন ক্ষতি নেই। অপর দিকে ধোঁকা হল এই যে, নামাযী ব্যক্তি কত রাকআত নামায আদায় করেছে তাতে সন্দিহান, এতেও কোন ক্ষতি নেই।
৯২৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ - أُرَاهُ رَفَعَهُ - قَالَ " لاَ غِرَارَ فِي تَسْلِيمٍ وَلاَ صَلاَةٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ ابْنُ فُضَيْلٍ عَلَى لَفْظِ ابْنِ مَهْدِيٍّ وَلَمْ يَرْفَعْهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৯২৯. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাবী বলেন, এই হাদীসটি মারফু, অর্থাৎ নবী করীম(ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামাযের মধ্যেও সালামে কোন ক্ষতি নেই।

১৭৭. নামাযরত অবস্থায় হাঁচির জওয়াব দেওয়া।

باب تَشْمِيتِ الْعَاطِسِ فِي الصَّلاَةِ

৯৩০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - الْمَعْنَى - عَنْ حَجَّاجٍ الصَّوَّافِ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَطَسَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ فَقُلْتُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ فَرَمَانِي الْقَوْمُ بِأَبْصَارِهِمْ فَقُلْتُ وَاثُكْلَ أُمِّيَاهُ مَا شَأْنُكُمْ تَنْظُرُونَ إِلَىَّ فَجَعَلُوا يَضْرِبُونَ بِأَيْدِيهِمْ عَلَى أَفْخَاذِهِمْ فَعَرَفْتُ أَنَّهُمْ يُصَمِّتُونِي - فَقَالَ عُثْمَانُ - فَلَمَّا رَأَيْتُهُمْ يُسَكِّتُونِي لَكِنِّي سَكَتُّ قَالَ فَلَمَّا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - بِأَبِي وَأُمِّي - مَا ضَرَبَنِي وَلاَ كَهَرَنِي وَلاَ سَبَّنِي ثُمَّ قَالَ " إِنَّ هَذِهِ الصَّلاَةَ لاَ يَحِلُّ فِيهَا شَىْءٌ مِنْ كَلاَمِ النَّاسِ هَذَا إِنَّمَا هُوَ التَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ وَقِرَاءَةُ الْقُرْآنِ " . أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا قَوْمٌ حَدِيثُ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ وَقَدْ جَاءَنَا اللَّهُ بِالإِسْلاَمِ وَمِنَّا رِجَالٌ يَأْتُونَ الْكُهَّانَ . قَالَ " فَلاَ تَأْتِهِمْ " . قَالَ قُلْتُ وَمِنَّا رِجَالٌ يَتَطَيَّرُونَ . قَالَ " ذَاكَ شَىْءٌ يَجِدُونَهُ فِي صُدُورِهِمْ فَلاَ يَصُدُّهُمْ " . قُلْتُ وَمِنَّا رِجَالٌ يَخُطُّونَ . قَالَ " كَانَ نَبِيٌّ مِنَ الأَنْبِيَاءِ يَخُطُّ فَمَنْ وَافَقَ خَطَّهُ فَذَاكَ " . قَالَ قُلْتُ جَارِيَةٌ لِي كَانَتْ تَرْعَى غُنَيْمَاتٍ قِبَلَ أُحُدٍ وَالْجَوَّانِيَّةِ إِذِ اطَّلَعْتُ عَلَيْهَا إِطْلاَعَةً فَإِذَا الذِّئْبُ قَدْ ذَهَبَ بِشَاةٍ مِنْهَا وَأَنَا مِنْ بَنِي آدَمَ آسَفُ كَمَا يَأْسَفُونَ لَكِنِّي صَكَكْتُهَا صَكَّةً فَعَظَّمَ ذَاكَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ أَفَلاَ أُعْتِقُهَا قَالَ " ائْتِنِي بِهَا " . قَالَ فَجِئْتُهُ بِهَا فَقَالَ " أَيْنَ اللَّهُ " . قَالَتْ فِي السَّمَاءِ . قَالَ " مَنْ أَنَا " . قَالَتْ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ . قَالَ " أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ " .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনুল হাকাম (রাঃ)

৯৩০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... মুআবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে নামায আদায় করি। এ সময় এক ব্যক্তি হাঁচি দিলে আমি “ইয়ারহামুকাল্লাহ” (আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন) বলি। তখন অন্যান্য লোকেরা আমার প্রতি বক্র দৃষ্টিতে তাকায়। তখন আমি অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে তাদের বলি, তোমরা আমার প্রতি এরূপ বক্র দৃষ্টিতে তাকাচ্ছ কেন? তখন তারা আমার রানের উপর হাত মারছিল, ফলে আমি বুঝতে পারি যে, তারা আমাকে চুপ করতে বলেছে।

রাবী উসমান (রাহঃ) বলেন, আমি যখন বুঝতে পারলাম যে, তারা আমাকে চুপ থাকে বলেছে, তখন আমি নিজেই চুপ করে থাকলাম। নামায সমাপ্তির পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে মারেন নাই আমাকে ধমক বা গালিও দেন নাই। অতঃপর তিনি বলেন, মনে রাখবে এটা নামায, এর মধ্যে কথাবার্তা বলা অনুচিত। বরং নামাযের মধ্যে কেবল তাসবীহ, তাকবীর, কুরআনের আয়াত পাঠ করা যেতে পারে। অথবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অনুরূপ কিছু বলেছেন।

তখন আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অন্ধকার যুগের অতি নিকটের লোক, আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ করে আমাদের দ্বীন ইসলামের গ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন। আমাদের মধ্যে এখনও অনেক লোক এরূপ আছে যারা গণকের নিকট গমন করে থাকে। জবাবে তিনি বলেন, এটা এমন একটা ধারণা যা তাদের অন্তরে সৃষ্টি হয়ে থাকে, তা যেন তাদেরকে কোন কাজ থেকে বিরত না রাখে। তখন আমি বলি আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে, যারা রেখা টেনে ভাগ্য-বিধি নির্ধারণ করে থাকে। জবাবে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী কোন কোন নবীও এর সাহায্য নিয়েছেন, কাজেই যার রেখা তার ভাগ্যের অনুকূল হবে, তা তার জন্য যথেষ্ট। তখন আমি বলি, আমার একটি দাসী আছে যে ওহুদ ও জাওনিয়াহ নামক স্থানে বকরী চরায়।

একদা আমি সেখানে গিয়ে দেখি নেকড়ে একটি বকরী নিয়ে গেছে এবং আমি আদম সন্তান হিসাবে এজন্য দুঃখিত ও রাগান্বিত হয়ে তাকে চপেটাঘাত করি। তা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটাকে ঘোরতর অপরাধ হিসাবে গণ্য করেন। তখন আমি বলি, আমি কি তাকে আযাদ করে দিব? তখন নবী করীম (ﷺ) সেই দাসীকে তাঁর নিকট আনার নির্দেশ দেন। তখন আমি তাকে তাঁর খিদমতে উপস্থিত করলে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেন; আল্লাহ তাআলা কোথায় অবস্থান করেন? জবাবে সে বলে, আসমানে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেন, আমি কে? জবাবে দাসী বলে, আপনি আল্লাহর রাসূল। তখন তিনি বলেন, তাকে আযাদ করে দাও, কেননা সে একজন ঈমানদার স্ত্রীলোক।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৯৩১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ النَّسَائِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السُّلَمِيِّ، قَالَ لَمَّا قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عُلِّمْتُ أُمُورًا مِنْ أُمُورِ الإِسْلاَمِ فَكَانَ فِيمَا عُلِّمْتُ أَنْ قَالَ لِي " إِذَا عَطَسْتَ فَاحْمَدِ اللَّهَ وَإِذَا عَطَسَ الْعَاطِسُ فَحَمِدَ اللَّهَ فَقُلْ يَرْحَمُكَ اللَّهُ " . قَالَ فَبَيْنَمَا أَنَا قَائِمٌ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلاَةِ إِذْ عَطَسَ رَجُلٌ فَحَمِدَ اللَّهَ فَقُلْتُ يَرْحَمُكَ اللَّهُ رَافِعًا بِهَا صَوْتِي فَرَمَانِي النَّاسُ بِأَبْصَارِهِمْ حَتَّى احْتَمَلَنِي ذَلِكَ فَقُلْتُ مَا لَكُمْ تَنْظُرُونَ إِلَىَّ بِأَعْيُنٍ شُزْرٍ قَالَ فَسَبَّحُوا فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّلاَةَ قَالَ " مَنِ الْمُتَكَلِّمُ " . قِيلَ هَذَا الأَعْرَابِيُّ فَدَعَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لِي " إِنَّمَا الصَّلاَةُ لِقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ وَذِكْرِ اللَّهِ جَلَّ وَعَزَّ فَإِذَا كُنْتَ فِيهَا فَلْيَكُنْ ذَلِكَ شَأْنَكَ " . فَمَا رَأَيْتُ مُعَلِّمًا قَطُّ أَرْفَقَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনুল হাকাম (রাঃ)

৯৩১. মুহাম্মাদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... মুআবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে আগমনের পর আমাকে শরীয়তের হুকুম আহকাম সম্পর্কে শিক্ষাদান করা হয়। এ সময় আমায় এরূপ শিক্ষা দেয়া হয় যে, যখন তুমি হাঁচি দিবে তখন “আলহামদু লিল্লাহ” বলবে এবং যখন অন্য কাউকে হাঁচি দেয়ার পর “আলহামদু লিল্লাহ” বলতে শুনবে, তখন তুমি “ইয়ারহামুকাল্লা” বলবে। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে নামায আদায় করা কালে এক ব্যক্তি হাঁচি দিয়ে “আলহামদুলিল্লাহ” বললে আমি তার জবাবে উচ্চস্বরে “ইয়ারহামুকাল্লা” বলি। তখন উপস্থিত জনগণ আমার প্রতি বক্র দৃষ্টিতে তাকাতে থাকে, যা আমার জন্য খুবই কষ্টদায়ক ছিল। তখন আমি তাদের সম্বোধন করে বলি: তোমরা প্রতি এরূপ দৃষ্টিতে কেন তাকাচ্ছ?

রাবী বলেন, অতঃপর লোকেরা তাসবীহ ও সুবহানাল্লাহ বলেন। অতঃপর নামায সমাপান্তে নবী করীম (ﷺ) বলেন, নামাযের সময় কে কথা বলেছ? জবাবে তাঁকে জানানো হয় যে, এই বেদুঈন লোকটি কথা বলেছে। রাবী বলেন, তখন নবী করীম (ﷺ) আমাকে কাছে ডেকে বলেনঃ মনে রেখ, নামাযের মধ্যে কেবল মাত্র কুরআন পাঠ ও আল্লাহর যিক্‌রই হয়ে থাকে। কাজেই যখন তুমি নামায আদায় করবে, তখন তোমার এরূপ অবস্থা হওয়া দরকার। রাবী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে অধিক দয়ালু ও বিনয়ী কোন শিক্ষক কখনও দেখি নাই।

১৭৮. ইমামের পিছনে আমীন বলা সম্পর্কে।

باب التَّأْمِينِ وَرَاءَ الإِمَامِ

৯৩২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَلَمَةَ، عَنْ حُجْرٍ أَبِي الْعَنْبَسِ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَرَأَ ( وَلاَ الضَّالِّينَ ) قَالَ " آمِينَ " . وَرَفَعَ بِهَا صَوْتَهُ .

বর্ণনাকারী: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৯৩২. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) .... ওয়াইল ইবনে হুজর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) “ওয়ালাদ্দল্লীন” পাঠ করার পর জোরে “আমীন” বলতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৯৩৩

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ الشَّعِيرِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ حُجْرِ بْنِ عَنْبَسٍ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، أَنَّهُ صَلَّى خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَهَرَ بِآمِينَ وَسَلَّمَ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ خَدِّهِ .

বর্ণনাকারী: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৯৩৩. মাখলাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ...... ওয়াইল ইবনে হুজর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পিছনে নামায আদায় করা কালে তিনি উচ্চ স্বরে আমীন বলেন এবং (নামায শেষে) ডান ও বাম দিকে সালাম ফিরান এভাবে যে, আমি তাঁর গণ্ডদেশের সাদা অংশ পরিষ্কারভাবে দেখি।

৯৩৪

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، عَنْ بِشْرِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ عَمِّ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا تَلاَ ( غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ ) قَالَ " آمِينَ " . حَتَّى يَسْمَعَ مَنْ يَلِيهِ مِنَ الصَّفِّ الأَوَّلِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৯৩৪. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর চাচাত ভাই আবু আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) “গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দল্লীন” পাঠের পর এমন জোরে আমীন’ বলতেন যে প্রথম কাতারে তাঁর নিকটবর্তী লোকেরা এই শব্দ শুনতে পেত।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৯৩৫

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قَالَ الإِمَامُ ( غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ ) فَقُولُوا " آمِينَ " . فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৯৩৫. আল কানবী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যখন ইমাম “গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দল্লীন” বলবে, তখন তোমরা আমীন’ বল। কেননা যার আমীন’ শব্দটি ফিরিশতার আমীন শব্দের সাথে মিশ্রিত হবে, তার অতীত যাবতীয় (সগীরা বা ছোট) গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৯৩৬

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا أَمَّنَ الإِمَامُ فَأَمِّنُوا فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " آمِينَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৯৩৬. আল কানবী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যখন ইমাম আমীন বলবে, তখন তোমরাও আমীন বলবে। কেননা যে ব্যক্তির আমীন শব্দ ফিরিশতার আমীন শব্দের সাথে মিলবে তার পূর্ব-জীবনের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।

ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও আমীন’ বলতেন।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

৯৩৭

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ رَاهَوَيْهِ، أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ بِلاَلٍ، أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لاَ تَسْبِقْنِي " بِآمِينَ " .

বর্ণনাকারী: বিলাল ইবনে রাবাহ (রাঃ)

৯৩৭. ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... বিলাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার আগে আমীন’ বলবেন না।

৯৩৮

حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ عُتْبَةَ الدِّمَشْقِيُّ، وَمَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، عَنْ صُبَيْحِ بْنِ مُحْرِزٍ الْحِمْصِيِّ، حَدَّثَنِي أَبُو مُصْبِحٍ الْمَقْرَائِيُّ، قَالَ كُنَّا نَجْلِسُ إِلَى أَبِي زُهَيْرٍ النُّمَيْرِيِّ - وَكَانَ مِنَ الصَّحَابَةِ - فَيَتَحَدَّثُ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ فَإِذَا دَعَا الرَّجُلُ مِنَّا بِدُعَاءٍ قَالَ اخْتِمْهُ بِآمِينَ فَإِنَّ آمِينَ مِثْلُ الطَّابَعِ عَلَى الصَّحِيفَةِ . قَالَ أَبُو زُهَيْرٍ أُخْبِرُكُمْ عَنْ ذَلِكَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَأَتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ قَدْ أَلَحَّ فِي الْمَسْأَلَةِ فَوَقَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَسْتَمِعُ مِنْهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَوْجَبَ إِنْ خَتَمَ " . فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ بِأَىِّ شَىْءٍ يَخْتِمُ قَالَ " بِآمِينَ فَإِنَّهُ إِنْ خَتَمَ بِآمِينَ فَقَدْ أَوْجَبَ " . فَانْصَرَفَ الرَّجُلُ الَّذِي سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَى الرَّجُلَ فَقَالَ اخْتِمْ يَا فُلاَنُ بِآمِينَ وَأَبْشِرْ . وَهَذَا لَفْظُ مَحْمُودٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْمَقْرَاءُ قَبِيلٌ مِنْ حِمْيَرَ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৯৩৮. আল-ওয়ালীদ ইবনে উতবা আদ-দিমাশকী (রাহঃ) ..... আবু মুসাব্বিহ আল মাকরাঈ (রাহঃ) বলেন, আমরা আবু যোহাইর আন নুমাইরী (রাযিঃ) এর খিদমতে বসতাম এবং তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একজন প্রিয় সাহাবী ছিলেন। তিনি উত্তম হাদীস সমূহ বর্ণনা করতেন। অতঃপর আমাদের মধ্যকার কোন ব্যক্তি যখন কোনরূপ দু'আ করত তখন তিনি বলতেন, তোমরা আমীন শব্দের উপর দু'আ শেষ করবে। কেননা আমীন শব্দটি ঐশী গ্রন্থের মোহর বা সিলস্বরূপ। এ প্রসঙ্গে আমি তোমাদের কাছে একটি ঘটনা বর্ণনা করতে চাই।

এক রাতে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বাইরে গমন করি। এসময় আমরা এমন এক ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হই, যিনি অনেক অনুনয়-বিনয় সহকারে দু'আ করেন। নবী করীম (ﷺ) তার কথা শ্রবণের জন্য সেখানে দণ্ডায়মান হন। তখন নবী করীম (ﷺ) বলেন, যদি সে শেষ করে তবে তার দু'আ কবুল হবে। এ সময় সমবেত লোকদের মধ্য হতে কোন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলঃ সে কোন জিনিসের উপর দু'আ শেষ করবে? তিনি বলেন তিনি বলেন, যদি সে আমীনের উপর দু'আ শেষ করে। কেননা যদি সে আমীনের উপর তার দু'আ সমাপ্ত করে তবে তবে তার দু'আ কবুল হবে। অতঃপর প্রশ্নকারী ব্যক্তি দু'আয় রত ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হয়, যিনি তখন দু'আর মধ্যে মশগুল ছিলেন। তখন তিনি তাকে বলেন, তুমি আমীন শব্দের উপর তোমার দু'আ শেষ কর এবং সাথে সাথে দু'আ কবুল হওয়ার সুসংবাদ গ্রহণ কর।

১৭৯. নামাযের মধ্যে হাতে তালি দেওয়া।

باب التَّصْفِيقِ فِي الصَّلاَةِ

৯৩৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৯৩৯. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, নামাযের মধ্যে ইমামের কোনরূপ ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে পুরুষেরা “সুবহানাল্লাহ” বলবে এবং স্ত্রীলোকেরা হাতের উপর হাত তালি মেরে শব্দ করবে।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

৯৪০

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي حَازِمِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَهَبَ إِلَى بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ لِيُصْلِحَ بَيْنَهُمْ وَحَانَتِ الصَّلاَةُ فَجَاءَ الْمُؤَذِّنُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ - رضى الله عنه - فَقَالَ أَتُصَلِّي بِالنَّاسِ فَأُقِيمَ قَالَ نَعَمْ . فَصَلَّى أَبُو بَكْرٍ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ فِي الصَّلاَةِ فَتَخَلَّصَ حَتَّى وَقَفَ فِي الصَّفِّ فَصَفَّقَ النَّاسُ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ لاَ يَلْتَفِتُ فِي الصَّلاَةِ فَلَمَّا أَكْثَرَ النَّاسُ التَّصْفِيقَ الْتَفَتَ فَرَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَشَارَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنِ امْكُثْ مَكَانَكَ فَرَفَعَ أَبُو بَكْرٍ يَدَيْهِ فَحَمِدَ اللَّهَ عَلَى مَا أَمَرَهُ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ ذَلِكَ ثُمَّ اسْتَأْخَرَ أَبُو بَكْرٍ حَتَّى اسْتَوَى فِي الصَّفِّ وَتَقَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " يَا أَبَا بَكْرٍ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَثْبُتَ إِذْ أَمَرْتُكَ " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ مَا كَانَ لاِبْنِ أَبِي قُحَافَةَ أَنْ يُصَلِّيَ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا لِي رَأَيْتُكُمْ أَكْثَرْتُمْ مِنَ التَّصْفِيحِ مَنْ نَابَهُ شَىْءٌ فِي صَلاَتِهِ فَلْيُسَبِّحْ فَإِنَّهُ إِذَا سَبَّحَ الْتُفِتَ إِلَيْهِ وَإِنَّمَا التَّصْفِيحُ لِلنِّسَاءِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا فِي الْفَرِيضَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৯৪০. আল কানবী (রাহঃ) ..... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বনু আমর ইবনে আউফ গোত্রের বিবাদ মীমাংশা জন্য গমন করেন। তখন নামাযের সময় উপস্থিত হলে মুয়াযযিন [বিলাল (রাযিঃ)] আবু বকর (রাযিঃ)-কে বলেন, আপনি কি জামাআতে নামাযের ইমামতি করবেন? তখন তিনি স্বীকৃতি প্রদান করায় ইকামত দেয়া হলে আবু বকর (রাযিঃ) নামায শুরু করেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যাবর্তন করেন যে, তখন নামায আরম্ভ হয়ে গিয়েছে। অতঃপর তিনি পিছনের কাতার হতে সামনের কাতারে গিয়ে দণ্ডায়মান হন। মুসল্লীরা তাকে দেখে হাতের উপর হাত রেখে শব্দ করছিল, কিন্তু আবু বকর (রাযিঃ) এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেন নাই। অতঃপর শব্দ অধিক হওয়ার কারণে তিনি সে দিকে খেয়াল করতেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দর্শন করেন (এবং সাথে সাথেই পিছনের দিকে সরে আসতে চেষ্টা করেন)।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশারায় স্বীয় স্থানে অবস্থানের নির্দেশ দেন। তখন আবু বকর (রাযিঃ) স্বীয় হস্তদ্বয় উপরে উত্তোলন করে, এজন্য আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং পশ্চাতে ফিরে এসে কাতারে শামিল হন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইমামের স্থানে গমন করে নামায সমাপান্তে আবু বকর (রাযিঃ)-কে বলেন, হে আবু বকর! আমার নির্দেশ সত্যেও কিসে তোমাকে ইমামের স্থানে অবস্থান করতে বাধা দিয়েছে? জবাবে তিনি বলেন, আবু কুহাফার পুত্রের (আবু বকর) জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সম্মুখে দণ্ডায়মান হয়ে ইমামতি করা শোভা পায় না।

তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সমবেত মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা হাতের উপর হাত মেরে নামাযের মধ্যে এত বেশী শব্দ করলে কেন? যদি ইমামের কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয় তবে তোমরা “সুবহানাল্লাহ” বলবে। কেননা তোমাদের ‘সুবহানাল্লাহ' বলা শুনলে ইমাম সেদিকে খেয়াল করবে। নামাযের মধ্যে হাতের উপর হাত মেরে শব্দ করা কেবলমাত্র মহিলাদের জন্য নির্ধারিত।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৯৪১

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ كَانَ قِتَالٌ بَيْنَ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَاهُمْ لِيُصْلِحَ بَيْنَهُمْ بَعْدَ الظُّهْرِ فَقَالَ لِبِلاَلٍ " إِنْ حَضَرَتْ صَلاَةُ الْعَصْرِ وَلَمْ آتِكَ فَمُرْ أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ " . فَلَمَّا حَضَرَتِ الْعَصْرُ أَذَّنَ بِلاَلٌ ثُمَّ أَقَامَ ثُمَّ أَمَرَ أَبَا بَكْرٍ فَتَقَدَّمَ قَالَ فِي آخِرِهِ " إِذَا نَابَكُمْ شَىْءٌ فِي الصَّلاَةِ فَلْيُسَبِّحِ الرِّجَالُ وَلْيُصَفِّحِ النِّسَاءُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৯৪১. আমর ইবনে আওন (রাহঃ) .... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বনু আমর ইবনে আউফ গোত্রের মধ্যে সংঘর্ষের খবর নবী করীম (ﷺ) এর নিকট পৌঁছানোর পর তিনি যোহরের নামায আদায় করে তাদের মধ্যে সন্ধি প্রতিষ্ঠার জন্য গমন করেন এবং বিলাল (রাযিঃ)-কে বলেন, আমি যদি আসরে সময় ফিরে আসতে না পারি, তবে আবু বকর (রাযিঃ)-কে নামায পড়াতে বলবে। অতঃপর আসরের নামাযের সময় হলে বিলাল (রাযিঃ) আযান ও ইকামত দেয়ার পর আবু বকর (রাযিঃ)-কে ইমামতি করার অনুরোধ করেন। আবু বকর (রাযিঃ) ইমামতির স্থানে দণ্ডায়মান হয়ে নামায শুরু করেন।

রাবী হাদীসের শেষাংশে মহানবী (ﷺ) এর কথাও বর্ণনা করেছেন যে, যখন তোমরা নামাযে ইমামের কোন ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখতে পাও তখন পুরুষেরা “সুবহানাল্লাহ” এবং স্ত্রীলোকেরা “হাতে তালি দিয়ে” শব্দ করবে।
৯৪২

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنْ عِيسَى بْنِ أَيُّوبَ، قَالَ قَوْلُهُ " التَّصْفِيحُ لِلنِّسَاءِ " . تَضْرِبُ بِأُصْبُعَيْنِ مِنْ يَمِينِهَا عَلَى كَفِّهَا الْيُسْرَى .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৯৪২. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... ঈসা ইবনে আইয়ুব (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, স্ত্রীলোকদের জন্য হাতে হাত মেরে শব্দ করার পদ্ধতি এই যে, তারা ডান হাতের আঙ্গুলি দ্বারা বাম হাতের তালুতে মারবে।

১৮০. নামাযের মধ্যে ইশারা করা সম্পর্কে।

باب الإِشَارَةِ فِي الصَّلاَةِ

৯৪৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَبُّويَةَ الْمَرْوَزِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُشِيرُ فِي الصَّلاَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৯৪৩. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) নামাযের মধ্যে বিশেষ প্রয়োজনে ইশারা করতেন। (যেমন কেউ সালাম করলে তিনি মাথার ইশরায় তার জবাব দিতেন। অবশ্য তা নফল নামায আদায়ের সময় করতেন)।

৯৪৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ الأَخْنَسِ، عَنْ أَبِي غَطَفَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ " . يَعْنِي فِي الصَّلاَةِ " وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ مَنْ أَشَارَ فِي صَلاَتِهِ إِشَارَةً تُفْهَمُ عَنْهُ فَلْيَعُدْ لَهَا " . يَعْنِي الصَّلاَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا الْحَدِيثُ وَهَمٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৯৪৪. আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, নামাযের মধ্যে (ইমামের ত্রুটি-বিচ্যুতি জ্ঞাতার্থে) পুরুষগণ “সুবহানাল্লাহ” বলবে, এবং স্ত্রীলোকেরা “হাতের উপর হাত মারবে”। এ ধরনের ইশারার দ্বারা ইমাম তার নামাযের ত্রুটি-বিচ্যুতি সম্পর্কে সজাগ হয়ে তা সঠিকভাবে আদায় করবে।

১৮১. নামাযের মধ্যে পাথর অপসারণ সম্পর্কে।

باب فِي مَسْحِ الْحَصَى فِي الصَّلاَةِ

৯৪৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، - شَيْخٍ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ - أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا ذَرٍّ، يَرْوِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلاَةِ فَإِنَّ الرَّحْمَةَ تُوَاجِهُهُ فَلاَ يَمْسَحِ الْحَصَى " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৯৪৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আবু যর (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (নবী করীম সা) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ নামাযে রত হয়, তখন তার সম্মুখভাগ হতে রহমত নাযিল হয়। অতএব নামাযী ব্যক্তি যেন সম্মুখ ভাগের পাথর (ইত্যাদি) অপসারণ না করে।

সূত্র: সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

৯৪৬

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ مُعَيْقِيبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَمْسَحْ وَأَنْتَ تُصَلِّي فَإِنْ كُنْتَ لاَ بُدَّ فَاعِلاً فَوَاحِدَةً تَسْوِيَةَ الْحَصَى " .

বর্ণনাকারী: মুআইকীব দাওসী (রাঃ)

৯৪৬. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... মুয়াইকিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেন, তোমরা নামাযে রত অবস্থায় (সিজদার স্থান হতে) কিছু অপসারিত করবে না। অবশ্য বিশেষ প্রয়োজনে একবার পাথর-কণা সরিয়ে সমতল করতে পার।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১৮২. নামাযের সময় কোমরে হাত রাখা।

باب الرَّجُلِ يُصَلِّي مُخْتَصِرًا

৯৪৭

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ كَعْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ الاِخْتِصَارِ فِي الصَّلاَةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ يَعْنِي يَضَعُ يَدَهُ عَلَى خَاصِرَتِهِ .

বর্ণনাকারী: মুআইকীব দাওসী (রাঃ)

৯৪৭. ইয়াকুব ইবনে কাব (রাহঃ) .... মুয়াইকিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযের মধ্যে “ইখতিসার” করতে নিষেধ করেছেন।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১৮৩. লাঠির উপর ভর করে নামাযে দাঁড়ানো।

باب الرَّجُلِ يَعْتَمِدُ فِي الصَّلاَةِ عَلَى عَصًا

৯৪৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْوَابِصِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، قَالَ قَدِمْتُ الرَّقَّةَ فَقَالَ لِي بَعْضُ أَصْحَابِي هَلْ لَكَ فِي رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ قُلْتُ غَنِيمَةٌ فَدَفَعْنَا إِلَى وَابِصَةَ قُلْتُ لِصَاحِبِي نَبْدَأُ فَنَنْظُرُ إِلَى دَلِّهِ فَإِذَا عَلَيْهِ قَلَنْسُوَةٌ لاَطِئَةٌ ذَاتُ أُذُنَيْنِ وَبُرْنُسُ خَزٍّ أَغْبَرُ وَإِذَا هُوَ مُعْتَمِدٌ عَلَى عَصًا فِي صَلاَتِهِ فَقُلْنَا بَعْدَ أَنْ سَلَّمْنَا . فَقَالَ حَدَّثَتْنِي أُمُّ قَيْسٍ بِنْتُ مِحْصَنٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا أَسَنَّ وَحَمَلَ اللَّحْمَ اتَّخَذَ عَمُودًا فِي مُصَلاَّهُ يَعْتَمِدُ عَلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হিলাল ইবনে ইয়াসাফ (রহঃ)

৯৪৮. আব্দুস সালাম ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ...... হেলাল ইবনে ইয়াসাফ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যখন শাম (সিরিয়া) দেশের রাক্কা নামক শহরে যাই, তখন আমার কোন একজন সাথী আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, নবী করীম (ﷺ) এর কোন সাহাবীর সাথে সাক্ষাতের আগ্রহ আছে কি? আমি বলি, এটা-তো আমার জন্য গনিমত স্বরূপ। তখন তিনি আমাকে ওয়াবিসা (রাযিঃ) এর খেদমতে নিয়ে যান। আমি আমার সঙ্গীকে বলি, আমরা প্রথমে বেশভূষার প্রতি নজর করব। আমরা তাঁকে মস্তকের সাথে মিলিত একটি টুপি পরিহিত অবস্থায় দেখতে পাই, যার দুই দিক কানের মত উঁচু ছিল এবং রেশম ও পশম দ্বারা তৈরী ছিল। তিনি (বয়োবৃদ্ধির কারণে) লাঠিতে ভর দিয়ে নামায আদায় করছিলেন।

(নামায শেষে) সালাম ফিরানোর পর আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, (আপনি লাঠিতে ভর দিয়ে কিরূপে নামায আদায় করলেন এটা কি জায়েয)? তিনি বলেন, উম্মে কায়েস বিনতে মিহসান (রাযিঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বয়োবৃদ্ধির ফলে যখন তাঁর শরীরের গোশত ঢিলা হয়ে যায়, তখন (দুর্বলতার কারণে) তিনি নামায আদায়ের জন্য তাঁর জায়নামাযের নিকট লাঠি রাখেন এবং তাতে ভর দিয়ে নামায আদায় করতেন।

১৮৪. নামাযের মধ্যে কথা বলা নিষেধ।

باب النَّهْىِ عَنِ الْكَلاَمِ، فِي الصَّلاَةِ

৯৪৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ شُبَيْلٍ، عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ كَانَ أَحَدُنَا يُكَلِّمُ الرَّجُلَ إِلَى جَنْبِهِ فِي الصَّلاَةِ فَنَزَلَتْ ( وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ ) فَأُمِرْنَا بِالسُّكُوتِ وَنُهِينَا عَنِ الْكَلاَمِ .

বর্ণনাকারী: হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রাঃ)

৯৪৯. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে আকরাম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (ইসলামের সূচনাকালে) আমরা নামাযের মধ্যে পার্শ্ববর্তী ব্যক্তির সাথে কথোপকথন করতাম। এ সময় আল-কুরআনের এই আয়াত নাযিল হয়, “তোমরা আল্লাহর একান্ত অনুগত বান্দা হিসাবে (নামাযের মধ্যে) দণ্ডায়মান হও”। এ সময় আমাদেরকে নামাযের মধ্যে নীরবতা পালনের নির্দেশ দেয়া হয় এবং কথা বলতে নিষেধ করা হয়।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৮৫. বসে নামায আদায় করা সম্পর্কে।

باب فِي صَلاَةِ الْقَاعِدِ

৯৫০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ بْنِ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلٍ، - يَعْنِي ابْنَ يِسَافٍ - عَنْ أَبِي يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ حُدِّثْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةُ الرَّجُلِ قَاعِدًا نِصْفُ الصَّلاَةِ " . فَأَتَيْتُهُ فَوَجَدْتُهُ يُصَلِّي جَالِسًا فَوَضَعْتُ يَدَىَّ عَلَى رَأْسِي فَقَالَ مَا لَكَ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو قُلْتُ حُدِّثْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَّكَ قُلْتَ " صَلاَةُ الرَّجُلِ قَاعِدًا نِصْفُ الصَّلاَةِ " . وَأَنْتَ تُصَلِّي قَاعِدًا قَالَ " أَجَلْ وَلَكِنِّي لَسْتُ كَأَحَدٍ مِنْكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

৯৫০. মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করা হয়েছিল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, বসে নামায আদায় করলে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করার অর্ধেক সাওয়াব পাওয়া যায়। (তা শুনে) আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর আমি তাঁর খিদমতে হাজির হয়ে তাঁকে বসে নামায আদায় করতে দেখি। তা দেখে আমি আশ্চর্যান্বিত হয়ে মাথায় হাত রাখি। এ অবস্থায় তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, হে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর! তোমার কি হয়েছে? জবাবে আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার নিকট হাদীস বর্ণিত হয়েছিল যে, আপনি বলেছেন যে, বসে নামায আদায়কারী অর্ধেক সাওয়াব প্রাপ্ত হয়, অথচ আপনি নিজেই বসে নামাযা আদায় করেছেন। জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি এরূপ বলেছি, কিন্তু আমি তোমাদের তুল্য নই।

৯৫১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَلاَةِ الرَّجُلِ قَاعِدًا فَقَالَ " صَلاَتُهُ قَائِمًا أَفْضَلُ مِنْ صَلاَتِهِ قَاعِدًا وَصَلاَتُهُ قَاعِدًا عَلَى النِّصْفِ مِنْ صَلاَتِهِ قَائِمًا وَصَلاَتُهُ نَائِمًا عَلَى النِّصْفِ مِنْ صَلاَتِهِ قَاعِدًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৯৫১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইমরান ইবনে হোসাইন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বসে নামায আদায় করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। জবাবে তিনি বলেন, বসে নামায আদায় করার চাইতে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করা উত্তম এবং বসে নামায আদায় করলে দাঁড়ানোর অর্ধেক সাওয়াব পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, শুয়ে নামায আদায় করলে বসে নামায আদায়ের অর্ধেক সাওয়াব পাওয়া যাবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৯৫২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ كَانَ بِيَ النَّاصُورُ فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " صَلِّ قَائِمًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَقَاعِدًا فَإِنْ لَمْ تَسْتَطِعْ فَعَلَى جَنْبٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

৯৫২. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ..... ইমরান ইবনে হোসাইন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পাঁজরের মধ্যে ব্যথা থাকায় নামায আদায়কালে অসুবিধা হত। এ সম্পর্কে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করি। জবাবে তিনি বলেন, সম্ভব হলে তুমি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবে, এতে অসুবিধা হলে বসে নামায পড়বে এবং তাতেও অপারগ হলে শুয়ে পার্শ্বদেশের উপর ভর করে নামায আদায় করবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৯৫৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي شَىْءٍ مِنْ صَلاَةِ اللَّيْلِ جَالِسًا قَطُّ حَتَّى دَخَلَ فِي السِّنِّ فَكَانَ يَجْلِسُ فِيهَا فَيَقْرَأُ حَتَّى إِذَا بَقِيَ أَرْبَعُونَ أَوْ ثَلاَثُونَ آيَةً قَامَ فَقَرَأَهَا ثُمَّ سَجَدَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৯৫৩. আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তাঁর বৃদ্ধাবস্থায় পৌঁছানোর পূর্ব পর্যন্ত কোন দিন বসে নামায আদায় করতে দেখি নাই। বৃদ্ধ বয়সে তিনি বসে সূরা পাঠ করতেন। ত্রিশ অথবা চল্লিশ আয়াত বাকী থাকতে তিনি দাঁড়িয়ে তা শেষ করত রুকু-সিজদা করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৯৫৪

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، وَأَبِي النَّضْرِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي جَالِسًا فَيَقْرَأُ وَهُوَ جَالِسٌ وَإِذَا بَقِيَ مِنْ قِرَاءَتِهِ قَدْرُ مَا يَكُونُ ثَلاَثِينَ أَوْ أَرْبَعِينَ آيَةً قَامَ فَقَرَأَهَا وَهُوَ قَائِمٌ ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ ثُمَّ يَفْعَلُ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ مِثْلَ ذَلِكَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ عَلْقَمَةُ بْنُ وَقَّاصٍ عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৯৫৪. আল-কানবী (রাহঃ) ....রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (বৃদ্ধ বয়সে) নবী করীম (ﷺ) নফল নামাযে বসে কিরাত পাঠ করতেন। অতঃপর ত্রিশ অথবা চল্লিশ আয়াত বাকী থাকতে তিনি দণ্ডায়মান হয়ে তার পাঠ সমাপ্ত করত: রুকু-সিজদা করতেন। তিনি দ্বিতীয় রাকআতও অনুরূপভাবে আদায় করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৯৫৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ سَمِعْتُ بُدَيْلَ بْنَ مَيْسَرَةَ، وَأَيُّوبَ، يُحَدِّثَانِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي لَيْلاً طَوِيلاً قَائِمًا وَلَيْلاً طَوِيلاً قَاعِدًا فَإِذَا صَلَّى قَائِمًا رَكَعَ قَائِمًا وَإِذَا صَلَّى قَاعِدًا رَكَعَ قَاعِدًا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৯৫৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) কখনও রাত্রিতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে এবং কখনও দীর্ঘ সময় বসে নামায আদায় করতেন। তিনি যখন দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতেন, তখন রুকুও ঐ অবস্থায় করতেন এবং যখন বসে নামায আদায় করতেন তখন রুকুও ঐ অবস্থায় করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৯৫৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ السُّورَةَ فِي رَكْعَةٍ قَالَتِ الْمُفَصَّلَ . قَالَ قُلْتُ فَكَانَ يُصَلِّي قَاعِدًا قَالَتْ حِينَ حَطَمَهُ النَّاسُ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক (রহঃ)

৯৫৬. উসমান ইবনে শাইবা (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক রাকআতে কি একটি সূরা তিলাওয়াত করতেন? জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ ‘মুফাসসাল’ অর্থাৎ দীর্ঘ সূরা পাঠ করতেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, তিনি কি বসে নামায আদায় করতেন? জবাবে তিনি বলেন, যখন তাঁর বয়স অধিক হয়ে যায়, তখন তিনি বসে নামায পড়তেন।

১৮৬. তাশাহ্‌হুদ পাঠের সময় বাসার ধরন সম্পর্কে।

باب كَيْفَ الْجُلُوسُ فِي التَّشَهُّدِ

৯৫৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ وَائِلِ بْنِ حُجْرٍ، قَالَ قُلْتُ لأَنْظُرَنَّ إِلَى صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ يُصَلِّي فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ فَكَبَّرَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى حَاذَتَا بِأُذُنَيْهِ ثُمَّ أَخَذَ شِمَالَهُ بِيَمِينِهِ فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ رَفَعَهُمَا مِثْلَ ذَلِكَ - قَالَ - ثُمَّ جَلَسَ فَافْتَرَشَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى وَحَدَّ مِرْفَقَهُ الأَيْمَنَ عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى وَقَبَضَ ثِنْتَيْنِ وَحَلَّقَ حَلَقَةً وَرَأَيْتُهُ يَقُولُ هَكَذَا وَحَلَّقَ بِشْرٌ الإِبْهَامَ وَالْوُسْطَى وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ .

বর্ণনাকারী: ওয়াইল ইবনে হুজর (রাঃ)

৯৫৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ওয়ায়েল ইবনে হুজর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামায আদায়ের পদ্ধতির প্রতি নজর করি। আমি দেখি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিবলামুখী হয়ে দণ্ডায়মান হন। অতঃপর তিনি আল্লাহু আকবার’ বলে স্বীয় উভয় হস্ত কান পর্যন্ত উঠান এবং পরে ডান হাত দ্বারা বাম হাত চেপে ধরেন। পরে যখন তিনি রুকু করার ইরাদা করেন, তখন তিনি উভয় হস্ত অনুরূপভাবে উত্তোলন করেন। অতঃপর তিনি বাম পা বিছিয়ে দিয়ে, বাম হাত উক্ত পায়ের রানের উপর রাখেন এবং ডান হাতের কনুই ডান পা হতে বিচ্ছিন্নভাবে রাখেন এবং কনিষ্ঠ ও অনামিকা আঙ্গুলীদ্বয়কে গুটিয়ে রাখেন এবং ডান বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মধ্যমার সাথে মিশ্রিত করে বৃত্তাকার রাখেন। অতঃপর আমি তাঁকে এরূপ করতে দেখেছি। (রাবী বলেন) অতঃপর বিশর তাঁর বৃদ্ধাংগুলোকে মধ্যমার সাথে মিলিয়ে বৃত্তাকারে রাখেন এবং শাহাদাত আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৯৫৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ سُنَّةُ الصَّلاَةِ أَنْ تَنْصِبَ، رِجْلَكَ الْيُمْنَى وَتَثْنِيَ رِجْلَكَ الْيُسْرَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৯৫৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নামাযে (তাশাহ্‌হুদের সময়) তোমার ডান পায়ের পাতা দাঁড় করিয়ে রাখা এবং বাম পা বিছিয়ে দেয়া সুন্নত।

৯৫৯

حَدَّثَنَا ابْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى، قَالَ سَمِعْتُ الْقَاسِمَ، يَقُولُ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، يَقُولُ مِنْ سُنَّةِ الصَّلاَةِ أَنْ تُضْجِعَ رِجْلَكَ الْيُسْرَى وَتَنْصِبَ الْيُمْنَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৯৫৯. ইবনে মুআয (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, নামাযের মধ্যে সুন্নত এই যে, তুমি তোমার বাম পা (তাশাহ্‌হুদের অবস্থায়) বিছিয়ে দেবে এবং ডান পায়ের পাতা খাড়া রাখবে।

৯৬০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ يَحْيَى، بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ يَحْيَى، أَيْضًا مِنَ السُّنَّةِ كَمَا قَالَ جَرِيرٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৯৬০. উসমান ইবনে আবু শাইবা (রাহঃ) .... এই সনদসূত্রেও পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।

৯৬১

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، أَنَّ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ، أَرَاهُمُ الْجُلُوسَ فِي التَّشَهُّدِ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

৯৬১. আল-কানবী (রাহঃ) ..... ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। আল-কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) তাদেরকে তাশাহ্‌হুদে বসার নিয়ম দেখিয়েছেন। অতঃপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৯৬২

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ وَكِيعٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا جَلَسَ فِي الصَّلاَةِ افْتَرَشَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى حَتَّى اسْوَدَّ ظَهْرُ قَدَمِهِ .

বর্ণনাকারী: ইবরাহীম নাখঈ (রহঃ)

৯৬২. হান্নাদ ইবনে স সারী (রাহঃ) .... ইবরাহীম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহানবী (ﷺ) নামাযে বাম পা বিছিয়ে বসতেন। ফলে তাঁর পায়ের পাতার উপরের দিক কালো হয়ে গিয়েছিল।

১৮৭. চতুর্থ রাকআতে পাছার উপর বসা সম্পর্কে।

باب مَنْ ذَكَرَ التَّوَرُّكَ فِي الرَّابِعَةِ

৯৬৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ سَمِعْتُهُ فِي، عَشْرَةٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - وَقَالَ أَحْمَدُ قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حُمَيْدٍ السَّاعِدِيَّ فِي عَشْرَةٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهُمْ أَبُو قَتَادَةَ - قَالَ أَبُو حُمَيْدٍ أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِصَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالُوا فَاعْرِضْ . فَذَكَرَ الْحَدِيثَ . قَالَ وَيَفْتَحُ أَصَابِعَ رِجْلَيْهِ إِذَا سَجَدَ ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَيَرْفَعُ وَيَثْنِي رِجْلَهُ الْيُسْرَى فَيَقْعُدُ عَلَيْهَا ثُمَّ يَصْنَعُ فِي الأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ . قَالَ حَتَّى إِذَا كَانَتِ السَّجْدَةُ الَّتِي فِيهَا التَّسْلِيمُ أَخَّرَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَقَعَدَ مُتَوَرِّكًا عَلَى شِقِّهِ الأَيْسَرِ . زَادَ أَحْمَدُ قَالُوا صَدَقْتَ هَكَذَا كَانَ يُصَلِّي وَلَمْ يَذْكُرَا فِي حَدِيثِهِمَا الْجُلُوسَ فِي الثِّنْتَيْنِ كَيْفَ جَلَسَ

বর্ণনাকারী: আবু হুমায়দ সায়িদী (রাঃ)

৯৬৩. আহমদ হাম্বল (রাহঃ) ..... আবু হুমাইদ আস-সাইদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাদীসটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দশজন সাহাবীর নিকট হতে শ্রবণ করেছি। রাবী আহমদে ইবনে হাম্বল (রাহঃ) বলেন, আমার আব্দুল হামীদ মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবু হুমাইদ সাঈদী (রাযিঃ)-কে দশজন সাহাবীর উপস্থিতে এরূপ বলতে শুনেছি, যাদের মধ্যে আবু কাতাদা (রাযিঃ)ও উপস্থিত ছিলেন।

আবু হুমাইদ (রাযিঃ) বলেন, আমি তোমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামায সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ। তখন তাঁরা বলেন, তবে আপনি বর্ণনা করুন। তখন তিনি এই হাদীসটি বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, তিনি সিজদার সময় দুই পায়ের আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী করে রাখতেন, অতঃপর আল্লাহু আকবার’ বলে সিজদা হতে মাথা উঠাতেন। এই সময় তিনি বাম পা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর বসতেন। তিনি দ্বিতীয় রাকআতও অনুরূপ ভাবে আদায় করতেন।

অতঃপর হাদীসের বাকী অংশ বর্ণনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, যখন তিনি সর্বশেষ রাকআতের জন্য সিজদা করতেন, তখন তিনি তাঁর বাম পা একটু দূরে স্থাপন করে পাছার উপর বসতেন। ইমাম আহমদ তাঁর বর্ণনায় আরও বলেন, অতঃপর উপস্থিত সকলে তাঁর কথার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আপনি ঠিক বলেছেন। তিনি এভাবেই নামায আদায় করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৯৬৪

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنِ اللَّيْثِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيِّ، وَيَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا مَعَ نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ وَلَمْ يَذْكُرْ أَبَا قَتَادَةَ قَالَ فَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ جَلَسَ عَلَى رِجْلِهِ الْيُسْرَى فَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَةِ الأَخِيرَةِ قَدَّمَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَجَلَسَ عَلَى مَقْعَدَتِهِ .

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আতা (রহঃ)

৯৬৪. ঈসা ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আতা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একদল সাহাবীদের মধ্যে বসা ছিলেন, এ সময় উপরোক্ত হাদীসটি আলোচিত হয়। তবে তাতে আবু কাতাদা (রাযিঃ) এর নাম উল্লেখ নেই। রাবী বলেন, যখন তিনি (নবী (ﷺ)) দ্বিতীয় রাকআতের পরে বসতেন, তখন বাম পায়ের উপর ভর করে বসতেন এবং যখন তিনি শেষ বৈঠকে বসতেন, তখন বাম পা সামনে এগিয়ে দিয়ে এবং নিতম্বের উপর ভর করে বসতেন।

৯৬৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو الْعَامِرِيِّ، قَالَ كُنْتُ فِي مَجْلِسٍ بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فِيهِ فَإِذَا قَعَدَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ قَعَدَ عَلَى بَطْنِ قَدَمِهِ الْيُسْرَى وَنَصَبَ الْيُمْنَى فَإِذَا كَانَتِ الرَّابِعَةُ أَفْضَى بِوَرِكِهِ الْيُسْرَى إِلَى الأَرْضِ وَأَخْرَجَ قَدَمَيْهِ مِنْ نَاحِيَةٍ وَاحِدَةٍ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৯৬৫. কুতায়বা (রাহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে আমেরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উপরোক্ত হাদীস বর্ণনার মজলিসে আমি হাজির ছিলাম। রাবী বলেন, তিনি (নবী (ﷺ)) যখন দ্বিতীয় রাকআতের জন্য বসতেন তখন বাম পায়ের পাতার পেটের উপর বসতেন এবং ডান পা খাঁড়া করে রাখতেন। তিনি যখন চতুর্থ রাকআতে বসতেন, তখন তাঁর বাম নিতম্বকে জমিনের সাথে মিলিয়ে দিতেন এবং বাম পা কে ডান দিকে বের করে দিতেন।

৯৬৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَدْرٍ، حَدَّثَنِي زُهَيْرٌ أَبُو خَيْثَمَةَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الْحُرِّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ عَبَّاسِ، - أَوْ عَيَّاشِ - بْنِ سَهْلٍ السَّاعِدِيِّ أَنَّهُ كَانَ فِي مَجْلِسٍ فِيهِ أَبُوهُ فَذُكِرَ فِيهِ قَالَ فَسَجَدَ فَانْتَصَبَ عَلَى كَفَّيْهِ وَرُكْبَتَيْهِ وَصُدُورِ قَدَمَيْهِ وَهُوَ جَالِسٌ فَتَوَرَّكَ وَنَصَبَ قَدَمَهُ الأُخْرَى ثُمَّ كَبَّرَ فَسَجَدَ ثُمَّ كَبَّرَ فَقَامَ وَلَمْ يَتَوَرَّكْ ثُمَّ عَادَ فَرَكَعَ الرَّكْعَةَ الأُخْرَى فَكَبَّرَ كَذَلِكَ ثُمَّ جَلَسَ بَعْدَ الرَّكْعَتَيْنِ حَتَّى إِذَا هُوَ أَرَادَ أَنْ يَنْهَضَ لِلْقِيَامِ قَامَ بِتَكْبِيرٍ ثُمَّ رَكَعَ الرَّكْعَتَيْنِ الأُخْرَيَيْنِ فَلَمَّا سَلَّمَ سَلَّمَ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَمْ يَذْكُرْ فِي حَدِيثِهِ مَا ذَكَرَ عَبْدُ الْحَمِيدِ فِي التَّوَرُّكِ وَالرَّفْعِ إِذَا قَامَ مِنْ ثِنْتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৯৬৬. আলী ইবনুল হোসাইন (রাহঃ) ...... আব্বাস অথবা আইয়াশ ইবনে সাহল সাঈদী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি এমন এক মজলিসে ছিলেন, যেখানে তাঁর পিতাও উপস্থিত ছিলেন। রাবী বলেন, তিনি (ﷺ) যখন সিজদা করেন তখন তিনি দুই হাত, দুই হাঁটু ও দুই পায়ের পাতার উপর ভর করেন। অতঃপর যখন তিনি (ﷺ) বসেন, তখন এক পায়ের উপর ভর করে পাছার উপর বসেন এবং অন্য পা খাড়া করে রাখেন। পরে তিনি আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় গমন করেন এবং সেখান হতে আল্লাহু আকবার বলে দণ্ডায়মান হন এবং এই সময়ে তিনি পাছার উপর ভর করে বসেন নাই। এভাবে তিনি দ্বিতীয় রাকআত আদায় করেন। অতঃপর তিনি দ্বিতীয় রাকআতের উপর উপবেশন করেন। বৈঠক শেষে তিনি আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়ান এবং পরবর্তী দুই রাকআত আদায় করেন। অতঃপর সর্বশেষ বৈঠকে প্রথমে ডান দিকে এবং পরে বাম দিকে সালাম ফিরান।

৯৬৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو، أَخْبَرَنِي فُلَيْحٌ، أَخْبَرَنِي عَبَّاسُ بْنُ سَهْلٍ، قَالَ اجْتَمَعَ أَبُو حُمَيْدٍ وَأَبُو أُسَيْدٍ وَسَهْلُ بْنُ سَعْدٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ فَذَكَرَ هَذَا الْحَدِيثَ وَلَمْ يَذْكُرِ الرَّفْعَ إِذَا قَامَ مِنْ ثِنْتَيْنِ وَلاَ الْجُلُوسَ قَالَ حَتَّى فَرَغَ ثُمَّ جَلَسَ فَافْتَرَشَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَأَقْبَلَ بِصَدْرِ الْيُمْنَى عَلَى قِبْلَتِهِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৯৬৭. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আব্বাস ইবনে সাহল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একদা আবু হুমায়েদ, আবু উসায়েদ, সাহল ইবনে সা’দ এবং মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামা (রাযিঃ) এক স্থানে সমবেত হন। এ সময় রাবী এই হাদীসটি বর্ণনা করেন। রাবী প্রসঙ্গত বলে, উক্ত হাদীসে হস্ত উত্তোলন সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ নাই। তিনি (নবী (ﷺ)) দ্বিতীয় সিজদার পর বাম পা বিছিয়ে দেন এবং ডান পায়ের আঙুল কিবলামুখী করে দেন।

১৮৮. তাশাহ্‌হুদের বর্ণনা।

باب التَّشَهُّدِ

৯৬৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى، عَنْ سُلَيْمَانَ الأَعْمَشِ، حَدَّثَنِي شَقِيقُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ كُنَّا إِذَا جَلَسْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلاَةِ قُلْنَا السَّلاَمُ عَلَى اللَّهِ قَبْلَ عِبَادِهِ السَّلاَمُ عَلَى فُلاَنٍ وَفُلاَنٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَقُولُوا السَّلاَمُ عَلَى اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلاَمُ وَلَكِنْ إِذَا جَلَسَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ فَإِنَّكُمْ إِذَا قُلْتُمْ ذَلِكَ أَصَابَ كُلَّ عَبْدٍ صَالِحٍ فِي السَّمَاءِ وَالأَرْضِ - أَوْ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ - أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ لْيَتَخَيَّرْ أَحَدُكُمْ مِنَ الدُّعَاءِ أَعْجَبَهُ إِلَيْهِ فَيَدْعُو بِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৯৬৮.মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে নামাযে রত থাকা অবস্থায় তাশাহহুদের মধ্যে ‘ওয়া আলা ইবাদিহীস সালামু আলা ফুলান ওয়া ফুলান’ এর পূর্বে আসসালামু আলাল্লাহ’ বলতাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা আসসালামু আলাল্লাহ’ বল না; কেননা আল্লাহ তাআলা নিজেই ‘সালাম’ বা শান্তি বর্ষণকারী। আর তোমরা যখন তাশাহহুদের সময় বসবে তখন অবশ্যই পড়বে ‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস-সালাওয়াতু ওয়াত্ তায়্যেবাতু আস্-সালামু আলাইকা আয়্যুহান-নবীয়্যু ওয়ারহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকআতুহু, আল-সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালেহীন’’। তোমরা যখন এটা পাঠ করবে তখন এর সাওয়াব আসমান-যমীন এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী স্থানে যে সমস্ত নেক বান্দা রয়েছেন তাদের উপর পৌঁছাবে। অতঃপর তিনি ‘আশহাদু আন-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু’’ পাঠ করতে বলেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের পছন্দনীয় উত্তম দুআ বেছে নিয়ে তা পাঠ করবে।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

৯৬৯
حَدَّثَنَا تَمِيمُ بْنُ الْمُنْتَصِرِ، أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ، - يَعْنِي ابْنَ يُوسُفَ - عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُنَّا لاَ نَدْرِي مَا نَقُولُ إِذَا جَلَسْنَا فِي الصَّلاَةِ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ عَلِمَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ .
قَالَ شَرِيكٌ وَحَدَّثَنَا جَامِعٌ، - يَعْنِي ابْنَ شَدَّادٍ - عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، بِمِثْلِهِ قَالَ وَكَانَ يُعَلِّمُنَا كَلِمَاتٍ وَلَمْ يَكُنْ يُعَلِّمُنَاهُنَّ كَمَا يُعَلِّمُنَا التَّشَهُّدَ " اللَّهُمَّ أَلِّفْ بَيْنَ قُلُوبِنَا وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِنَا وَاهْدِنَا سُبُلَ السَّلاَمِ وَنَجِّنَا مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَجَنِّبْنَا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَبَارِكْ لَنَا فِي أَسْمَاعِنَا وَأَبْصَارِنَا وَقُلُوبِنَا وَأَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ وَاجْعَلْنَا شَاكِرِينَ لِنِعْمَتِكَ مُثْنِينَ بِهَا قَابِلِيهَا وَأَتِمَّهَا عَلَيْنَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৯৬৯.তামীম ইবনুল মুনতাসির (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাশাহহুদের মধ্যে কি পাঠ করতে হবে তা আমরা জানতাম না। এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জানতেন। অতঃপর রাবী পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।

রাবী শারীক (রাহঃ) বলেনঃ জামে ......... আবু ওয়ায়েল হতে, তিনি আব্দুল্লাহ হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। রাবী আরো বলেনঃ তিনি আমাদের নিম্নোক্ত বাক্যগুলি শিখাতেন, কিন্তু তাশাহহুদের মত (জরুরী হিসাবে) নয়। যথাঃ ‘আল্লাহুম্মা আল্লেফ বায়না কুলূবেনা ওয়া আসলেহ যাতা বায়নানা ওয়াহদিনা সুবুলাস্ সালাম ওয়া নাজ্জেনা মিনায যুলুমাতে ইলান-নূর ওয়া জাননেবনাল ফাওয়াহিশা মা যাহারা মিনহা ওয়ামা বাতানা ওয়া বারেক লানা ফী আসমাইনা ওয়া আবসারেনা ওয়া কুলূবেনা ওয়া আযওয়াজেনা ওয়া যুররিয়াতেনা ওয়াতুব্ আলায়না ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়াবুর রাহীম, ওয়াজ্আলনা শাকেরীনা লে-নিমাতিকা মুছনীনা বিহা কাবলীহা, ওয়া আতেমমিহা আলায়না।
৯৭০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الْحُرِّ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ، قَالَ أَخَذَ عَلْقَمَةُ بِيَدِي فَحَدَّثَنِي أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ أَخَذَ بِيَدِهِ وَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ بِيَدِ عَبْدِ اللَّهِ فَعَلَّمَهُ التَّشَهُّدَ فِي الصَّلاَةِ فَذَكَرَ مِثْلَ دُعَاءِ حَدِيثِ الأَعْمَشِ " إِذَا قُلْتَ هَذَا أَوْ قَضَيْتَ هَذَا فَقَدْ قَضَيْتَ صَلاَتَكَ إِنْ شِئْتَ أَنْ تَقُومَ فَقُمْ وَإِنْ شِئْتَ أَنْ تَقْعُدَ فَاقْعُدْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৯৭০. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ নুফায়েলী, যুহায়ের, তিনি হাসান ইবনুল হুর, তিনি কাসিম ইবনে্ মুখায়মারা হতে এই হাদীসটি বর্ণনা করছেন। তিনি বলেন, একদা আলকামা (রাহঃ) আমার হস্ত ধারণ করে বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) একদা আমার হাত ধরে বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে (আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ) নামাযের মধ্যে তাশাহুহুদ পাঠের পদ্ধতি শিক্ষা দেন। অতঃপর তিনি আ’মাশের উপরোক্ত হাদীসের মধ্যে উল্লিখিত দুআটি শিক্ষা দেন।

অতঃপর তিনি বলেনঃ যখন তুমি এই দুআ (দুআ মাছুরা) পাঠ করবে, তখন তোমার নামায সমাপ্ত হবে। এ সময় তুমি ইচ্ছা করলে যাওয়ার জন্য দণ্ডায়মান হতে পার বা বসেও থাকতে পার।
৯৭১

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، سَمِعْتُ مُجَاهِدًا، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي التَّشَهُّدِ " التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ الصَّلَوَاتُ الطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ " . قَالَ قَالَ ابْنُ عُمَرَ زِدْتُ فِيهَا وَبَرَكَاتُهُ . " السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ " . قَالَ ابْنُ عُمَرَ زِدْتُ فِيهَا وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ . " وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৯৭১. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে তাশাহহুদ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। (তিনি বলেনঃ) তাশাহহুদের মধ্যে এই দুআ পাঠ করতে হবে। যথা ‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহে ওয়াসসালাওয়াতু ওয়াত তাইয়্যেবাতু আসসালামু আলাইকা আয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকআতুহু’’। রাবী মুজাহিদ বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেনঃ এর মধ্যে ‘ওয়া বারাকআতুহু’ আমি যোগ করেছি। আসসালামু আলায়না ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্ সালেহীন আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’ বাক্য অতিরিক্ত পাঠ করিতাম।

ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেন, আমি এতে অতিরিক্ত বলতামঃ ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়ারাসূলুহু।’’
৯৭২

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيِّ، قَالَ صَلَّى بِنَا أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ فَلَمَّا جَلَسَ فِي آخِرِ صَلاَتِهِ قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ أُقِرَّتِ الصَّلاَةُ بِالْبِرِّ وَالزَّكَاةِ . فَلَمَّا انْفَتَلَ أَبُو مُوسَى أَقْبَلَ عَلَى الْقَوْمِ فَقَالَ أَيُّكُمُ الْقَائِلُ كَلِمَةَ كَذَا وَكَذَا فَأَرَمَّ الْقَوْمُ فَقَالَ أَيُّكُمُ الْقَائِلُ كَلِمَةَ كَذَا وَكَذَا فَأَرَمَّ الْقَوْمُ قَالَ فَلَعَلَّكَ يَا حِطَّانُ أَنْتَ قُلْتَهَا . قَالَ مَا قُلْتُهَا وَلَقَدْ رَهِبْتُ أَنْ تَبْكَعَنِي بِهَا . قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ أَنَا قُلْتُهَا وَمَا أَرَدْتُ بِهَا إِلاَّ الْخَيْرَ . فَقَالَ أَبُو مُوسَى أَمَا تَعْلَمُونَ كَيْفَ تَقُولُونَ فِي صَلاَتِكُمْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَنَا فَعَلَّمَنَا وَبَيَّنَ لَنَا سُنَّتَنَا وَعَلَّمَنَا صَلاَتَنَا فَقَالَ " إِذَا صَلَّيْتُمْ فَأَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ ثُمَّ لْيَؤُمَّكُمْ أَحَدُكُمْ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَإِذَا قَرَأَ ( غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ ) فَقُولُوا آمِينَ يُجِبْكُمُ اللَّهُ وَإِذَا كَبَّرَ وَرَكَعَ فَكَبِّرُوا وَارْكَعُوا فَإِنَّ الإِمَامَ يَرْكَعُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ " . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَتِلْكَ بِتِلْكَ وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ يَسْمَعِ اللَّهُ لَكُمْ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ وَإِذَا كَبَّرَ وَسَجَدَ فَكَبِّرُوا وَاسْجُدُوا فَإِنَّ الإِمَامَ يَسْجُدُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ " . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَتِلْكَ بِتِلْكَ فَإِذَا كَانَ عِنْدَ الْقَعْدَةِ فَلْيَكُنْ مِنْ أَوَّلِ قَوْلِ أَحَدِكُمْ أَنْ يَقُولَ التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ " . لَمْ يَقُلْ أَحْمَدُ " وَبَرَكَاتُهُ " . وَلاَ قَالَ " وَأَشْهَدُ " . قَالَ " وَأَنَّ مُحَمَّدًا " .

বর্ণনাকারী: হিত্তান ইবনে আবদুল্লাহ (রহঃ)

৯৭২. আমর ইবনে আওন (রাহঃ) .... হিত্তান ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রুকাশী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবু মুসা আল্-আশআরী (রাযিঃ) আমাদের সাথে জামাআতে নামায আদায়ের পর যখন সর্বশেষ বৈঠকে বসেন, তখন এক ব্যক্তি বলেঃ কল্যাণ ও পবিত্রতার মধ্যে নামায সুস্থির হয়েছে। আবু মুসা (রাযিঃ) নামায শেষে লোকদের প্রতি লক্ষ্য করে বলেনঃ তোমাদের মধ্যেকার কোন ব্যক্তি এরূপ কথা বলেছে? রাবী বলেনঃ সমবেত সকলে নিশ্চুপ থাকে। পুনরায় তিনি একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলে সকলে একইরূপে চুপ থাকে। তখন তিনি বলেনঃ হে হিত্তান! সম্ভবত তুমিই এরূপ বলেছ। জবাবে তিনি বলেনঃ আমি তা বলি নাই। তবে আমি ভয় করেছিলাম যে, এ ব্যাপারে হয়ত আমাকেই দোষারোপ করা হবে।

রাবী হিত্তান বলেনঃ এমন সময় কওমের মধ্যেকার এক ব্যক্তি বলল, আমিই তা বলেছি। তবে আমি এরূপ বলার দ্বারা ভালো কিছুর আশা করেছিলাম। তখন আবু মুসা (রাযিঃ) বলেনঃ তোমরা কি অবগত নও তোমরা নামাযের মধ্যে কি বলবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ সম্পর্কে আমাদের খুতবার মধ্যে শিক্ষা দিয়েছিল এবং নিয়ম কানুন ও নামায সম্পর্কে বিশেষরূপে জ্ঞাত করিয়েছেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ যখন তোমরা নামায আদায়ের ইরাদা করবে, তখন সোজাভাবে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে এবং তোমাদের মধ্যেকার একজন ইমামতি করবে। ইমাম যখন আল্লাহু আকবার বলবেন তখন তোমরাও তা বলবে এবং যখন ইমাম ‘‘গায়রিল মাগদূবি আলায়হিম ওলাদদাল্লীন পড়বেন তখন তোমরা ‘আমীন’’ বলবে। (এর ফলশ্রুতিতে) আল্লাহ পাক তোমাদের দুআ কবুল করবেন। অতঃপর ইমাম যখন আল্লাহু আকবার বলে রুকু করবেন, তখন তোমরাও আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যাবে। কেননা ইমাম তোমাদের পূর্বেই রুকুতে গমন করবেন এবং উঠবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, এটা ওর পরিবর্তে (অর্থাৎ ইমাম রুকুতে আগে যাওয়ার আগে উঠবেন)।

অতঃপর ইমাম যখন ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’’ বলবেন, তখন তোমরা বলবেঃ ‘আল্লাহুম্মা রবানা লাকাল হামদ।’’ আল্লাহ তোমাদের ওটা কবুল করবেন। কেননা আল্লাহ জাল্লা জালালুহু তাঁর নবীর যবানিতে ‘‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদা’ বলিয়েছেন। অতঃপর ইমাম যখন আল্লাহু আকবার বলে সিজদা করবেন, তখন তোমরাও তা বলে সিজদা করবে এবং যেহেতু ইমাম তোমাদের পূর্বে সিজদায় গমন করবেন, সেহেতু তিনি তোমাদের পূর্বেই উঠবেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এটা ওটার পরিবর্তে। অতঃপর তোমরা যখন বৈঠকে বসবে, তখন তোমরা বলবেঃ ‘আত্তাহিয়্যাতু ওয়াততায়্যেবাতু ওয়াস্-সালাতু লিল্লাহি আস্-সালামু আলাইকা আয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকআতুহু আস্-সালামু আলায়না ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালেহীন। আশহাদু আন্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুহু ওয়া রাসূলুহু।’’

রাবী আহমদের বর্ণনায় ‘‘ওয়া বারাকআতুহু’’ ও ‘আশহাদু’’ শব্দ দুইটির উল্লেখ নাই বরং ‘‘ওয়া আন্না মুহাম্মাদান’’ এর উল্লেখ আছে।
৯৭৩

حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ النَّضْرِ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي غَلاَّبٍ، يُحَدِّثُهُ عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيِّ، بِهَذَا الْحَدِيثِ زَادَ " فَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا " . وَقَالَ فِي التَّشَهُّدِ بَعْدَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ زَادَ " وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَوْلُهُ " فَأَنْصِتُوا " . لَيْسَ بِمَحْفُوظٍ لَمْ يَجِئْ بِهِ إِلاَّ سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ .

বর্ণনাকারী: হিত্তান ইবনে আবদুল্লাহ (রহঃ)

৯৭৩. আসেম ইবনে ন নাদর (রাহঃ) ..... হিত্তান ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রুকাশী (রহ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এর মধ্যে অতিরিক্ত আছে যে, ইমাম যখন কিরাআত পাঠ করবেন, তখন তোমরা চুপ থাকবে।

রাবী বলেনঃ তাশাহহুদের মধ্যে ‘আশহহাদু আন্-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’’ এর পর ‘‘ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু’’ অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৯৭৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، وَطَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُنَا التَّشَهُّدَ كَمَا يُعَلِّمُنَا الْقُرْآنَ وَكَانَ يَقُولُ " التَّحِيَّاتُ الْمُبَارَكَاتُ الصَّلَوَاتُ الطَّيِّبَاتُ لِلَّهِ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৯৭৪. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে কুরআনের মতই তাশাহহুদ শিক্ষা দিতেন এবং তিনি বলতেনঃ আত্তাহিয়্যাতু আল-মুবারাকআতু আস-সালাওয়াতু ওয়াত তাইয়্যেবাতু লিল্লাহি, আস-সালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকআতুহু, আস-সালামু আলায়না ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালেহীন ওয়া আশহাদু আলা-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

৯৭৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سَعْدِ بْنِ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، حَدَّثَنِي خُبَيْبُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ سَمُرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، سُلَيْمَانَ بْنِ سَمُرَةَ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، أَمَّا بَعْدُ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ فِي وَسَطِ الصَّلاَةِ أَوْ حِينَ انْقِضَائِهَا فَابْدَءُوا قَبْلَ التَّسْلِيمِ فَقُولُوا " التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ وَالصَّلَوَاتُ وَالْمُلْكُ لِلَّهِ ثُمَّ سَلِّمُوا عَلَى الْيَمِينِ ثُمَّ سَلِّمُوا عَلَى قَارِئِكُمْ وَعَلَى أَنْفُسِكُمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى كُوفِيُّ الأَصْلِ كَانَ بِدِمَشْقَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ دَلَّتْ هَذِهِ الصَّحِيفَةُ عَلَى أَنَّ الْحَسَنَ سَمِعَ مِنْ سَمُرَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

৯৭৫. মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ (রাহঃ) ...... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের এরূপ নির্দেশ দিয়েছেন যে, নামাযের মধ্যম অবস্থায় (অর্থাৎ দ্বিতীয় রাকআত শেষে) অথবা নামায সমাপ্তির পর (অর্থাৎ চতুর্থ রাকআত শেষে) সালাম ফিরাবার পূর্বে বলবেঃ আত্-তাহিয়্যাতু আত্-তাইয়্যেবাতু ওয়াস-সালাওয়াতু ওয়াল মুলক্ লিল্লাহ’’, অতঃপর ডান দিকে সালাম ফিরাবে, অতপর ইমামকে এবং নিজেদের সালাম দিবে।

১৮৯. তাশাহ্‌হুদের পর নবী করীম (ﷺ) এর উপর দরুদ পেশ করা।

باب الصَّلاَةِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ التَّشَهُّدِ

৯৭৬

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، قَالَ قُلْنَا أَوْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمَرْتَنَا أَنْ نُصَلِّيَ عَلَيْكَ وَأَنْ نُسَلِّمَ عَلَيْكَ فَأَمَّا السَّلاَمُ فَقَدْ عَرَفْنَاهُ فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ قَالَ " قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ " .

বর্ণনাকারী: কাব ইবনে উজরাহ (রাঃ)

৯৭৬. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... কাব ইবনে উজরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা বলি অথবা তাঁরা বলেছেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাদের আপনার উপরে দরূদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। অতঃপর সালাম সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। এখন আমরা আপনার উপর দরূদ কিভাবে পেশ করব? তিনি বলেন, তোমরা বলবে, ‘আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লায়তা আলা ইবরাহীমা, ওয়া বারেক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইবরাহীমা, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ’’

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

৯৭৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ " صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ " .

বর্ণনাকারী: শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)

৯৭৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইয়াযীদ ইবনে যুরায় (রাহঃ) হতে, তিনি শোবা (রাহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে এরূপ উক্ত হয়েছে যেঃ সাল্লে আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ কামা সাল্লায়তা আলা ইবরাহীম।

৯৭৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا ابْنُ بِشْرٍ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنِ الْحَكَمِ، بِإِسْنَادِهِ بِهَذَا قَالَ " اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الزُّبَيْرُ بْنُ عَدِيٍّ عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى كَمَا رَوَاهُ مِسْعَرٌ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ " كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ " . وَسَاقَ مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হাকাম ইবনে সুফয়ান

৯৭৮. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) .... হাকাম (রাহঃ) হতে উপরোক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লায়তা আলা ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা আলি ইরবাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ।’’

রাবী বলেনঃ অন্য বর্ণনায় এইরূপ উল্লেখ আছেঃ কামা সাল্লায়তা আলা আলি ইবরাহীমা, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। ওয়া বারেক আলা মুহাম্মাদিন অতঃপর বাকী অংশটুকু মিসআর (রাহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
৯৭৯

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، أَنَّهُ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ، أَنَّهُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ قَالَ " قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে সুলাইম (রহঃ)

৯৭৯. আল-কানবী (রাহঃ) .... আমর ইবনে সুলায়ম আয-যুরাকী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু হুমায়েদ সাইদী (রাযিঃ) আমাকে বলেছেন যে, একদা তাঁরা (সাহাবাগণ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনার উপর কিরূপে দরূদ পাঠ করব? জবাবে তিনি বলেন, তোমরা বলবেঃ আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আয্ওয়াজিহি ওয়া জুররিয়্যাতিহী কামা সাল্লায়তা আলা আলি ইবরাহীমা ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আজওয়াজিহি ও জুররিয়্যাতিহী কামা বরাকতা আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ’’।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৯৮০

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُجْمِرِ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، - وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ هُوَ الَّذِي أُرِيَ النِّدَاءَ بِالصَّلاَةِ - أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّهُ قَالَ أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَجْلِسِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ فَقَالَ لَهُ بَشِيرُ بْنُ سَعْدٍ أَمَرَنَا اللَّهُ أَنْ نُصَلِّيَ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى تَمَنَّيْنَا أَنَّهُ لَمْ يَسْأَلْهُ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قُولُوا " . فَذَكَرَ مَعْنَى حَدِيثِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ زَادَ فِي آخِرِهِ " فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

৯৮০. আল-কানবী (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) যাঁকে স্বপ্নের মধ্যে আযানের পদ্ধতি দেখানো হয়েছিল, তাঁর পুত্র মুহাম্মাদ (রাহঃ) আবু মাসউদ আল-আনসারী (রাযিঃ) হতে জ্ঞাত হয়ে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সা’দ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) এর মজলিসে আগমন করেন। এ সময় বশীর ইবনে সা’দ (রাযিঃ) তাঁকে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ আমাদেরকে আপনার উপর দরূদ পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আপনার উপর কিরূপে দরূদ পাঠ করব? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুক্ষণ চুপ থাকেন; এতে আমরা পস্তাচ্ছিলাম এই ভেবে যে, বশীরের এই প্রশ্নটি না করাই উত্তম ছিল। নীরবতার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা বলবেঃ ......... অতঃপর কা’ব ইবনে উজরার উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন এবং উক্ত হাদীসের শেষাংশে এটুকু যোগ করেনঃ ‘‘ফিল্ আলামীন ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ’’

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৯৮১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَمْرٍو، بِهَذَا الْخَبَرِ قَالَ " قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ الأُمِّيِّ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৯৮১. আহমাদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ..... উকবা ইবনে আমের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমরা বলবেঃ ‘আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন্।’’

৯৮২

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ يَسَارٍ الْكِلاَبِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو مُطَرِّفٍ، عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كَرِيزٍ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْهَاشِمِيُّ، عَنِ الْمُجْمِرِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَكْتَالَ بِالْمِكْيَالِ الأَوْفَى إِذَا صَلَّى عَلَيْنَا أَهْلَ الْبَيْتِ فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ وَأَزْوَاجِهِ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ وَذُرِّيَّتِهِ وَأَهْلِ بَيْتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৯৮২. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ এই দরূদ পাঠের দ্বারা যে ব্যক্তি পরিপূর্ণ মাত্রায় সাওয়াব প্রাপ্তির আশা রাখে সে যেন আমাদের আহলে বায়ত’ [নবী করীম (ﷺ) এর পরিবার পরিজনবর্গ] এর উপর দরুদ পাঠ করতে গিয়ে এরূপ বলেঃ ‘আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যি ওয়া আয্ওয়াজিহি উম্মুহাতিল মু’মিনীন, ওয়া যুররিয়্যাতিহী ওয়া আহলে বায়তিহী কামা সাল্লায়তা আলা আলে ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ।’’

১৯০. তাশাহ্‌হুদের পর যে দু'আ পড়তে হয়।

باب مَا يَقُولُ بَعْدَ التَّشَهُّدِ

৯৮৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَائِشَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا فَرَغَ أَحَدُكُمْ مِنَ التَّشَهُّدِ الآخِرِ فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنْ أَرْبَعٍ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৯৮৩. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমরা নামাযের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পাঠ শেষ করবে, তখন আল্লাহর নিকট চারটি বিষয় হতে পানাহ চাইবেঃ

(১) জাহান্নামের আযাব হতে,
(২) কবরের আযাব হতে,
(৩) জীবিত ও মৃত্যুকালে যাবতীয় ফিতনা হতে এবং
(৪) দাজ্জালের ক্ষতি হতে

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৯৮৪

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ الْيَمَامِيُّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ بَعْدَ التَّشَهُّدِ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৯৮৪. ওয়াহব ইবনে বাকিয়্যা (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাশাহহুদের পর এই দুআ পাঠ করতেনঃ ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন্ আযাবে জাহান্নাম ওয়া আউযু বিকা মিন আযাবিল্ কাবরে, ওয়া আউযু বিকা মিন্ ফিতনাতিদ্ দাজ্জাল ওয়া আউযু বিকা মিন্ ফিতনাতিল মাহয়া ওয়াল মামাত।’’

৯৮৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ الْمُعَلِّمُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ عَلِيٍّ، أَنَّ مِحْجَنَ بْنَ الأَدْرَعِ، حَدَّثَهُ قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسْجِدَ فَإِذَا هُوَ بِرَجُلٍ قَدْ قَضَى صَلاَتَهُ وَهُوَ يَتَشَهَّدُ وَهُوَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ يَا اللَّهُ الأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ أَنْ تَغْفِرَ لِي ذُنُوبِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ . قَالَ فَقَالَ " قَدْ غُفِرَ لَهُ قَدْ غُفِرَ لَهُ " . ثَلاَثًا .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৯৮৫। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ও আবু মামার (রাহঃ) .... হানযালা ইবনে আলী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা মেহজান ইবনে আদরা কে এই মর্মে জানানো হয় যে, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে প্রবেশ করে জনৈক ব্যক্তিকে নামায শেষে তাশাহ্হুদ পাঠ করতে দেখেন। তখন সে এও পড়ছিলঃ ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্আলুকা ইয়া আল্লাহ আল্-আহাদু আস-সামাদু আল্লাযী লাম য়ালিদ ওয়ালাদ ইয়ূলাদ। ওয়া লাম ইয়া কুললাহু কুফুওয়ান আহাদ আন তাগফিরলী যুনূবী ইন্নাকা আন্তাল্ গাফুরুর রাহীম।’’ রাবী বলেন, তখন তিনি তিনবার এরূপ বলেন, ‘‘তাঁকে মাফ করা হয়েছে’’।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৯১. নীরবে তাশাহ্‌হুদে পাঠ করা।

باب إِخْفَاءِ التَّشَهُّدِ

৯৮৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، - يَعْنِي ابْنَ بُكَيْرٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ مِنَ السُّنَّةِ أَنْ يُخْفَى التَّشَهُّدُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৯৮৬. আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-কিন্দী (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাশাহহুদ আস্তে পাঠ করাই সুন্নত।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৯২. তাশাহ্‌হুদের মধ্যে (আঙ্গুল দ্বারা) ইশারা করা।

باب الإِشَارَةِ فِي التَّشَهُّدِ

৯৮৭

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُعَاوِيِّ، قَالَ رَآنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ وَأَنَا أَعْبَثُ بِالْحَصَى فِي الصَّلاَةِ فَلَمَّا انْصَرَفَ نَهَانِي وَقَالَ اصْنَعْ كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ . فَقُلْتُ وَكَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ قَالَ كَانَ إِذَا جَلَسَ فِي الصَّلاَةِ وَضَعَ كَفَّهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى وَقَبَضَ أَصَابِعَهُ كُلَّهَا وَأَشَارَ بِأُصْبُعِهِ الَّتِي تَلِي الإِبْهَامَ وَوَضَعَ كَفَّهُ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৯৮৭. আল-কানবী (রাহঃ) ..... আলী ইবনে আব্দুর রহমান আল-মুআবী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) আমাকে নামাযের মধ্যে কংকর নিয়ে অনর্থক খেলতে দেখেন। তিনি নামায শেষে আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করেন এবং বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেরূপে নামায আদায় করতেন, তদ্রূপ করবে। তখন আমি তাঁকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামায পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। জবাবে তিনি বলেন, তিনি যখন নামাযের মধ্যে বসতেন, তখন ডান হাতের তালুকে ডান পায়ের রানের উপর রাখতেন এবং তার সমস্ত আঙ্গুলগুলো (শাহাদাত আঙ্গুল ব্যতীত) বন্ধ করে রাখতেন এবং শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন। এবং তিনি বাম হাতের তালু বাম পায়ের রানের উপর রাখতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৯৮৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا عَامِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَعَدَ فِي الصَّلاَةِ جَعَلَ قَدَمَهُ الْيُسْرَى تَحْتَ فَخِذِهِ الْيُمْنَى وَسَاقِهِ وَفَرَشَ قَدَمَهُ الْيُمْنَى وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُسْرَى عَلَى رُكْبَتِهِ الْيُسْرَى وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى وَأَشَارَ بِأُصْبُعِهِ . وَأَرَانَا عَبْدُ الْوَاحِدِ وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ .

বর্ণনাকারী: আমের ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রহঃ)

৯৮৮. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহীম আল-বাযযায (রাহঃ) .... আমের ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন নামাযের মধ্যে বসতেন, তখন তিনি তাঁর বাম পা ও এর নলাকে ডান রানের নীচে রাখতেন, ডান পা বিছিয়ে দিতেন, বাম হাত বাম পায়ের রানের উপর রাখতেন, ডান হাত ডান পায়ের রানের উপর স্থাপন করতেন এবং শাহাদাত আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করতেন।

রাবী আফফান (রাহঃ) বলেনঃ আব্দুল ওয়াহেদ (রাহঃ) আমাদের শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে দেখিয়ে দিয়েছেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৯৮৯

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ الْمِصِّيصِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ زِيَادٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ ذَكَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُشِيرُ بِأُصْبُعِهِ إِذَا دَعَا وَلاَ يُحَرِّكُهَا . قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ وَزَادَ عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَامِرٌ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَدْعُو كَذَلِكَ وَيَتَحَامَلُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ الْيُسْرَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُسْرَى .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়র (রাঃ)

৯৮৯. ইবরাহীম ইবনুল হাসান (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবায়ের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতেন বলে উল্লেখ আছে, যখন তিনি তাশাহহুদ পাঠ করতেন এবং এ সময় তিনি আঙ্গুল হেলাতেন না।

অপর বর্ণনায় আছে যে, আমের (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী (ﷺ)কে শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করতে দেখেছেন এবং নবী করিম (ﷺ) বাম হাত দ্বারা বাম পায়ের রান ধরতেন।
৯৯০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ عَجْلاَنَ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ لاَ يُجَاوِزُ بَصَرُهُ إِشَارَتَهُ . وَحَدِيثُ حَجَّاجٍ أَتَمُّ .

বর্ণনাকারী: আমের ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রহঃ)

৯৯০. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... আমের ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুয্ যুবাইর (রাযিঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেনঃ তাঁর চোখ ইশারা থেকে অগ্রসর হত না। হাজ্জাজ (রাহঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস পরিপূর্ণ।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৯৯১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - حَدَّثَنَا عِصَامُ بْنُ قُدَامَةَ، - مِنْ بَنِي بُجَيْلَةَ - عَنْ مَالِكِ بْنِ نُمَيْرٍ الْخُزَاعِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَاضِعًا ذِرَاعَهُ الْيُمْنَى عَلَى فَخِذِهِ الْيُمْنَى رَافِعًا أُصْبُعَهُ السَّبَّابَةَ قَدْ حَنَاهَا شَيْئًا .

বর্ণনাকারী: নুমায়র খুযাঈ (রাঃ)

৯৯১। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... মালিক ইবনে নুমায়ের খুযায়ী (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ)কে তাঁর ডান হাত ডান পায়ের রানের উপর রাখতে দেখেছি এবং এ সময় তিনি তাঁর শাহাদাত আঙ্গুলি অর্ধনমিত অবস্থায় উচিয়ে রাখেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৯৩. নামাযের মধ্যে হাতের উপর ভর করা মাকরূহ।

باب كَرَاهِيَةِ الاِعْتِمَادِ عَلَى الْيَدِ فِي الصَّلاَةِ

৯৯২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَبُّويَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الْغَزَّالُ، قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ - أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ - أَنْ يَجْلِسَ الرَّجُلُ فِي الصَّلاَةِ وَهُوَ مُعْتَمِدٌ عَلَى يَدِهِ . وَقَالَ ابْنُ شَبُّويَةَ نَهَى أَنْ يَعْتَمِدَ الرَّجُلُ عَلَى يَدِهِ فِي الصَّلاَةِ . وَقَالَ ابْنُ رَافِعٍ نَهَى أَنْ يُصَلِّيَ الرَّجُلُ وَهُوَ مُعْتَمِدٌ عَلَى يَدِهِ . وَذَكَرَهُ فِي بَابِ الرَّفْعِ مِنَ السُّجُودِ . وَقَالَ ابْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ نَهَى أَنْ يَعْتَمِدَ الرَّجُلُ عَلَى يَدَيْهِ إِذَا نَهَضَ فِي الصَّلاَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৯৯২. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... ইবনে্ উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (আহমাদ ইবনে হাম্বলের বর্ণনা অনুযায়ী) নামাযের মধ্যে কোন ব্যক্তিকে হাতের উপর ভর করে বসতে নিষেধ করেছেন। ইবনে শাব্বুয়ার বর্ণনায় আছে, মহানবী (ﷺ) লোকদেরকে নামাযের মধ্যে হাতের উপর ভর দিতে নিষেধ করেছেন।

রাবী ইবনে্ রাফে এর বর্ণনায় আছে, তিনি লোকদেরকে হাতের উপর ভর করে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন। রাবী ইবনে আব্দুল মালিকের বর্ণনায় আছে তিনি লোকদেরকে নামাযের (সিজদা হতে) উঠার সময় হাতের উপর ভর দিতে নিষেধ করেছেন।
৯৯৩

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، سَأَلْتُ نَافِعًا عَنِ الرَّجُلِ، يُصَلِّي وَهُوَ مُشَبِّكٌ يَدَيْهِ قَالَ قَالَ ابْنُ عُمَرَ تِلْكَ صَلاَةُ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

৯৯৩. বিশর ইবনে হিলাল (রাহঃ) ..... ইসমাঈল ইবনে উমাইয়া (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাফে (রাহঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন ব্যক্তি যদি উভয় হাতের আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে (পরস্পরের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে) নামায পড়ে? নাফে (রাহঃ) বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেছেন, ঐরূপ নামায তাদের যাদের উপর আল্লাহর গযব নাযিল হয়।

৯৯৪

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَبِي الزَّرْقَاءِ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، - وَهَذَا لَفْظُهُ - جَمِيعًا عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ رَأَى رَجُلاً يَتَّكِئُ عَلَى يَدِهِ الْيُسْرَى وَهُوَ قَاعِدٌ فِي الصَّلاَةِ - وَقَالَ هَارُونُ بْنُ زَيْدٍ سَاقِطًا عَلَى شِقِّهِ الأَيْسَرِ ثُمَّ اتَّفَقَا - فَقَالَ لَهُ لاَ تَجْلِسْ هَكَذَا فَإِنَّ هَكَذَا يَجْلِسُ الَّذِينَ يُعَذَّبُونَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৯৯৪. হারূন ইবনে যায়দ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এক ব্যক্তিকে নামাযের মধ্যে বাম হাতের উপর ভর করে বসতে দেখেন। রাবী হারূন ইবনে যায়দের বর্ণনায় আছেঃ তিনি তাঁকে বাম দিকের নিতম্বে ভর দিয়ে বসা দেখেন। অতঃপর উভয় রাবীর সম্মিলিত বর্ণনা অনুযায়ী তিনি বলেনঃ তুমি এভাবে বস না। কারণ এভাবে শাস্তিযোগ্য ব্যক্তিরাই বসে থাকে।

১৯৪. বৈঠক সংক্ষেপ করা।

باب فِي تَخْفِيفِ الْقُعُودِ

৯৯৫

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ كَأَنَّهُ عَلَى الرَّضْفِ . قَالَ قُلْتُ حَتَّى يَقُومَ قَالَ حَتَّى يَقُومَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৯৯৫. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... আবু উবাইদা (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা ইবনে মাসউদ) বলেন, নবী করীম (ﷺ) প্রথম দুই রাকআত নামাযের পর বৈঠক এত সংক্ষেপ করেন যে, মনে হচ্ছিল তিনি যেন কোন গরম পাথর বা পাথরের টুকরার উপর বসেছিলেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৯৫. সালাম সম্পর্কে।

باب فِي السَّلاَمِ

৯৯৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ، وَزِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، قَالاَ حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عُبَيْدٍ الطَّنَافِسِيُّ، ح وَحَدَّثَنَا تَمِيمُ بْنُ الْمُنْتَصِرِ، أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ، - يَعْنِي ابْنَ يُوسُفَ - عَنْ شَرِيكٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، كُلُّهُمْ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، وَقَالَ، إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، وَالأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ حَتَّى يُرَى بَيَاضُ خَدِّهِ " السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا لَفْظُ حَدِيثِ سُفْيَانَ وَحَدِيثُ إِسْرَائِيلَ لَمْ يُفَسِّرْهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ زُهَيْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ وَيَحْيَى بْنُ آدَمَ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ عَنْ أَبِيهِ وَعَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ شُعْبَةُ كَانَ يُنْكِرُ هَذَا الْحَدِيثَ - حَدِيثَ أَبِي إِسْحَاقَ - أَنْ يَكُونَ مَرْفُوعًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৯৯৬. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) প্রথমে ডান দিকে এবং পরে বাম দিকে এমনভাবে মুখ ঘুরিয়ে সালাম ফিরাতেন যে, তাঁর মুখমণ্ডলের শুভ্র অংশটি পরিলক্ষিত হত এবং তিনি আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ বলে সালাম ফিরাতেন।

সূত্র: সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

৯৯৭

حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ قَيْسٍ الْحَضْرَمِيُّ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ يُسَلِّمُ عَنْ يَمِينِهِ " السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ " . وَعَنْ شِمَالِهِ " السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ " .

বর্ণনাকারী: আলকামা ইবনে কায়স নাখঈ (রহঃ)

৯৯৭. আব্দা ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... আলকামা ইবনে ওয়ায়েল (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা আমি নবী করীম (ﷺ) এর সাথে নামায আদায় করি। তিনি সালাম ফিরাবার সময় প্রথমে ডান দিকে ফিরে ‘আস্-সালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকআতুহু’’ বলেন এবং বাম দিকে ফিরে ‘আস্-সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ’’ বলেন।

৯৯৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا، وَوَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ ابْنِ الْقِبْطِيَّةِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمَ أَحَدُنَا أَشَارَ بِيَدِهِ مِنْ عَنْ يَمِينِهِ وَمِنْ عَنْ يَسَارِهِ فَلَمَّا صَلَّى قَالَ " مَا بَالُ أَحَدِكُمْ يَرْمِي بِيَدِهِ كَأَنَّهَا أَذْنَابُ خَيْلٍ شُمْسٍ إِنَّمَا يَكْفِي أَحَدَكُمْ - أَوْ أَلاَ يَكْفِي أَحَدَكُمْ - أَنْ يَقُولَ هَكَذَا " . وَأَشَارَ بِأُصْبُعِهِ " يُسَلِّمُ عَلَى أَخِيهِ مَنْ عَنْ يَمِينِهِ وَمَنْ عَنْ شِمَالِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

৯৯৮. উছমান ইবনে্ আবি শাঈবা (রাহঃ) ...... জাবের ইবনে্ সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পেছনে নামায পাঠকালে এক ব্যক্তি সালাম ফিরাবার সময় ডান দিকের লোকদের প্রতি হাতের ইশারায় সালাম দেয় এবং পরে বাম দিকের লোকদেরও। নামায শেষে তিনি বলেনঃ তোমাদের ঐ ব্যক্তির কি হয়েছে যে, সে সালাম ফিরাবার কালে এইরূপে হাতের ইশারা করল, যেন তা ঐ ঘোড়ার লেজের মত যা দ্বারা মশা-মাছি বিতাড়িত করা হয়? বরং সে ব্যক্তি যদি হাতের আঙ্গুলের ইশারা দ্বারা ডান ও বাম পাশের লোকদের সালাম করত, তবে তাই যথেষ্ট ছিল।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৯৯৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، عَنْ مِسْعَرٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ قَالَ " أَمَا يَكْفِي أَحَدَكُمْ - أَوْ أَحَدَهُمْ - أَنْ يَضَعَ يَدَهُ عَلَى فَخِذِهِ ثُمَّ يُسَلِّمُ عَلَى أَخِيهِ مَنْ عَنْ يَمِينِهِ وَمَنْ عَنْ شِمَالِهِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

৯৯৯. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান আল-আনবারী, আবু নুআয়েম হতে, তিনি মিসআর (রাহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের সনদে ও অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি (নবী (ﷺ)) বলেনঃ তোমাদের হস্তদ্বয় রানের উপর রেখে ডান এবং বাম পাশের লোকদের সালাম করাই যথেষ্ট।

১০০০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنِ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ تَمِيمٍ الطَّائِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ رَافِعُو أَيْدِيهِمْ - قَالَ زُهَيْرٌ أُرَاهُ قَالَ - فِي الصَّلاَةِ فَقَالَ " مَا لِي أَرَاكُمْ رَافِعِي أَيْدِيكُمْ كَأَنَّهَا أَذْنَابُ خَيْلٍ شُمْسٍ اسْكُنُوا فِي الصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

১০০০. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... জাবের ইবনে্ সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট এমন সময় আগমন করেন, যখন লোকেরা নামাযের মধ্যে তাদের হাত উপরের দিক উঠিয়ে ছিল। এতদদর্শনে তিনি বলেনঃ আমি এটা কি দেখেছি? মনে হয় যেন তোমরা তোমাদের হস্তদ্বয়কে ঘোড়ার লেজের মত মশা-মাছি বিতাড়নের জন্য আন্দোলিত করছ? তোমরা নামাযের মধ্যে শান্ত থাকবে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৯৬. ইমামের সালামের জবাব দেওয়া।

باب الرَّدِّ عَلَى الإِمَامِ

১০০১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ أَبُو الْجَمَاهِرِ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ، قَالَ أَمَرَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَرُدَّ عَلَى الإِمَامِ وَأَنْ نَتَحَابَّ وَأَنْ يُسَلِّمَ بَعْضُنَا عَلَى بَعْضٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

১০০১. মুহাম্মাদ ইবনে উছমান (রাহঃ) ...... সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) আমাদেরকে সালামের জবাব দেয়ার জন্য, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি স্থাপনের জন্য একে অন্যকে সালাম বিনিময়ের নির্দেশ দিয়েছেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৯৭. নামাযের পরে তাকবীর বলা সম্পর্কে।

باب التَّكْبِيرِ بَعْدَ الصَّلاَةِ

১০০২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ يُعْلَمُ انْقِضَاءُ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالتَّكْبِيرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১০০২. আহমাদ ইবনে আব্দা (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (আমাদেরকে) এরূপ অবহিত করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায সমাপনান্তে তাকবীর পাঠ করতেন। (সম্ভবত তা ঈদুল আযহার আইয়ামে তাশরিকের তাকবীর ছিল)।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১০০৩

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى الْبَلْخِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، أَنَّ أَبَا مَعْبَدٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَفْعَ الصَّوْتِ لِلذِّكْرِ حِينَ يَنْصَرِفُ النَّاسُ مِنَ الْمَكْتُوبَةِ كَانَ ذَلِكَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ كُنْتُ أَعْلَمُ إِذَا انْصَرَفُوا بِذَلِكَ وَأَسْمَعُهُ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনু দীনার (রহঃ)

১০০৩. ইয়াহয়া ইবনে মুসা (রাহঃ) .... আমর ইবনে দীনার (রহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে মুসল্লীগণ ফরয নামায শেষে, গমনের কালে উচ্চস্বরে তাকবীর পাঠ করতেন। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, লোকেরা গমনকালে যে তাকবীর পাঠ করতেন, তা আমি শুনতাম।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১৯৮. সালামের মধ্যে স্বর দির্ঘায়িত না করা সম্পর্কে।

باب حَذْفِ التَّسْلِيمِ

১০০৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيُّ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ قُرَّةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " حَذْفُ السَّلاَمِ سُنَّةٌ " ، قَالَ عِيسَى: «نَهَانِي ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ رَفْعِ هَذَا الْحَدِيثِ» ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: " سَمِعْت أَبَا عُمَيْرٍ عِيسَى بْنَ يُونُسَ الْفَاخُورِيَّ الرَّمْلِيَّ، قَالَ: لَمَّا رَجَعَ الْفِرْيَابِيُّ مِنْ مَكَّةَ، تَرَكَ رَفْعَ هَذَا الْحَدِيثِ، وَقَالَ: نَهَاهُ أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ عَنْ رَفْعِهِ "

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০০৪. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালামের সময় ‘হযফ’ (অর্থাৎ স্বরকে অহেতুক দীর্ঘায়িত না করা) কে সুন্নত বলেছেন।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৯৯. নামাযের মধ্যে উযু নষ্ট হলে পুনরায় উযু করে বাকী নামায আদায় করা সম্পর্কে।

باب إِذَا أَحْدَثَ فِي صَلاَتِهِ يَسْتَقْبِلُ

১০০৫

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ عِيسَى بْنِ حِطَّانَ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ سَلاَّمٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ طَلْقٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا فَسَا أَحَدُكُمْ فِي الصَّلاَةِ فَلْيَنْصَرِفْ فَلْيَتَوَضَّأْ وَلْيُعِدْ صَلاَتَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত তালক ইবনে আলী হানাফী রাযি.

১০০৫. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... আলী ইবনে তালক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরশাদ করেছেনঃ যখন নামাযের মধ্যে কারো উযু নষ্ট হয় তখন সে যেন ঐ স্থান পরিত্যাগ করে উযু করে পুনরায় নামায আদায় করে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২০০. যে স্থানে ফরয নামায আদায় করেছে, সেখানে দাঁড়িয়ে নফল নামায আদায় করা সম্পর্কে।

باب فِي الرَّجُلِ يَتَطَوَّعُ فِي مَكَانِهِ الَّذِي صَلَّى فِيهِ الْمَكْتُوبَةَ

১০০৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، وَعَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ لَيْثٍ، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ " . قَالَ عَنْ عَبْدِ الْوَارِثِ " أَنْ يَتَقَدَّمَ أَوْ يَتَأَخَّرَ أَوْ عَنْ يَمِينِهِ أَوْ عَنْ شِمَالِهِ " . زَادَ فِي حَدِيثِ حَمَّادٍ " فِي الصَّلاَةِ " . يَعْنِي فِي السُّبْحَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০০৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরশাদ করেছেনঃ যদি তোমাদের কারও পক্ষে ফরয নামায আদাযের পর ডানে, বামে সম্মুখে বা পশ্চাতে গমন করা সম্ভব না হয়, তবে সে ফরয নামায আদায়ের স্থানে দাঁড়িয়ে নফল আদায় করতে পারে। নচেৎ ফরয নামায আদায়ের স্থান হতে সরে গিয়ে অন্যত্র নফল নামায আদায় করা শ্রেয়।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১০০৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا أَشْعَثُ بْنُ شُعْبَةَ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ خَلِيفَةَ، عَنِ الأَزْرَقِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ صَلَّى بِنَا إِمَامٌ لَنَا يُكْنَى أَبَا رِمْثَةَ فَقَالَ صَلَّيْتُ هَذِهِ الصَّلاَةَ - أَوْ مِثْلَ هَذِهِ الصَّلاَةِ - مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ يَقُومَانِ فِي الصَّفِّ الْمُقَدَّمِ عَنْ يَمِينِهِ وَكَانَ رَجُلٌ قَدْ شَهِدَ التَّكْبِيرَةَ الأُولَى مِنَ الصَّلاَةِ فَصَلَّى نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ سَلَّمَ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ يَسَارِهِ حَتَّى رَأَيْنَا بَيَاضَ خَدَّيْهِ ثُمَّ انْفَتَلَ كَانْفِتَالِ أَبِي رِمْثَةَ - يَعْنِي نَفْسَهُ - فَقَامَ الرَّجُلُ الَّذِي أَدْرَكَ مَعَهُ التَّكْبِيرَةَ الأُولَى مِنَ الصَّلاَةِ يَشْفَعُ فَوَثَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ فَأَخَذَ بِمَنْكِبِهِ فَهَزَّهُ ثُمَّ قَالَ اجْلِسْ فَإِنَّهُ لَمْ يَهْلِكْ أَهْلُ الْكِتَابِ إِلاَّ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ بَيْنَ صَلَوَاتِهِمْ فَصْلٌ . فَرَفَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَصَرَهُ فَقَالَ " أَصَابَ اللَّهُ بِكَ يَا ابْنَ الْخَطَّابِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَدْ قِيلَ أَبُو أُمَيَّةَ مَكَانَ أَبِي رِمْثَةَ .

বর্ণনাকারী: আবু রিমসা তায়মী (রাঃ)

১০০৭. আব্দুল ওয়াহ্হাব ইবনে নাজদা (রাহঃ) ..... আল-আরযাক্ ইবনে কায়েস (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমাদের ইমাম আবু রিমছা (রাযিঃ) জামাআতে নামায শেষে বলেনঃ একদা আমি এই ফরয নামায নবী করীম (ﷺ) এর সাথে আদায় করি। নামাযে আবু বকর ও উমর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ডানপাশে সামনের কাতারে দণ্ডায়মান ছিলেন। ঐ সময়ে অন্য একজন সাহাবীও তাকবীরে উলা বা প্রথম তাকবীরের সময় উপস্থিত ছিলেন। ইমাম হিসাবে নবী করীম (ﷺ) নামায শেষে ডান এবং বাম দিকে এরূপভাবে সালাম ফিরান যে, আমরা তাঁর গালের শুভ্র অংশ অবলোকন করি।

অতঃপর তিনি স্বীয় স্থান হতে উঠে দাঁড়ান, যেমন আবু রিমছা (রাবী স্বয়ং) উঠে দাঁড়ালেন। ঐ সময় প্রথম তাকবীর প্রাপ্ত ব্যক্তি নফল নামায আদায়ের জন্য উক্ত স্থানেই দণ্ডায়মান হন। তখন উমর (রাযিঃ) দ্রুত তাঁর নিকট গমন করে তার কাঁধে হাত দিয়ে তাকে একটু ঝাঁকুনি দিয়ে বলেনঃ বস, পূর্ববর্তী আহলে কিতাবগণ এ কারণেই ধ্বংস হয়েছে যে, তারা ফরয ও নফলের মধ্যে কোনরূপ ভেদাভেদ করত না। ঐ সময় নবী করীম (ﷺ) সেদিকে দৃষ্টিপাত করে বলেনঃ হে খাত্তাবের পুত্র! আল্লাহ তোমার দ্বারা সঠিক কাজ করিয়েছেন।

২০১. দুই সাহু সিজদার বর্ণনা।

باب السَّهْوِ فِي السَّجْدَتَيْنِ

১০০৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِحْدَى صَلاَتَىِ الْعَشِيِّ - الظُّهْرَ أَوِ الْعَصْرَ قَالَ - فَصَلَّى بِنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ قَامَ إِلَى خَشَبَةٍ فِي مُقَدَّمِ الْمَسْجِدِ فَوَضَعَ يَدَيْهِ عَلَيْهَا إِحْدَاهُمَا عَلَى الأُخْرَى يُعْرَفُ فِي وَجْهِهِ الْغَضَبُ ثُمَّ خَرَجَ سَرَعَانُ النَّاسِ وَهُمْ يَقُولُونَ قَصُرَتِ الصَّلاَةُ قَصُرَتِ الصَّلاَةُ وَفِي النَّاسِ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ فَهَابَاهُ أَنْ يُكَلِّمَاهُ فَقَامَ رَجُلٌ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُسَمِّيهِ ذَا الْيَدَيْنِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَسِيتَ أَمْ قَصُرَتِ الصَّلاَةُ قَالَ " لَمْ أَنْسَ وَلَمْ تَقْصُرِ الصَّلاَةُ " . قَالَ بَلْ نَسِيتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْقَوْمِ فَقَالَ " أَصَدَقَ ذُو الْيَدَيْنِ " . فَأَوْمَئُوا أَىْ نَعَمْ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى مَقَامِهِ فَصَلَّى الرَّكْعَتَيْنِ الْبَاقِيَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ مِثْلَ سُجُودِهِ أَوْ أَطْوَلَ ثُمَّ رَفَعَ وَكَبَّرَ ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ مِثْلَ سُجُودِهِ أَوْ أَطْوَلَ ثُمَّ رَفَعَ وَكَبَّرَ . قَالَ فَقِيلَ لِمُحَمَّدٍ سَلَّمَ فِي السَّهْوِ فَقَالَ لَمْ أَحْفَظْهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَلَكِنْ نُبِّئْتُ أَنَّ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ قَالَ ثُمَّ سَلَّمَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০০৮. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইেদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সাথে যোহর অথবা আসরের নামায আদায় করেন। তিনি দুই রাকআত নামায আদায়ের পর সালাম ফিরান। অতঃপর তিনি মসজিদের সম্মুখে অবস্থিত কাষ্ঠ খণ্ডের নিকট গিয়ে তার ওপরে এক হাত অন্য হাতের উপর স্থাপন করে দণ্ডায়মান হন। ঐ সময় তাঁকে রাগান্বিত মনে হচ্ছিল। তখন লোকেরা মসজিদ হতে নিগর্মনকালে বলছিলঃ নামায কসর করা হয়েছে, নামায কসর করা হয়েছে (অর্থাৎ আল্লাহ চার রাকআতের স্থানে দুই রাকআত করে দিয়েছেন) ঐ সময়ে সমবেত মুসল্লীদের মধ্যে আবু বকর (রাযিঃ) ও উমর (রাযিঃ)-ও ছিলেন এবং তাঁরা এ ব্যাপার সম্পর্কে তাঁর সাথে আলোচনা করতে ভীত হন। ঐ সময় রাসূল (ﷺ) এর নিকট হতে যুলয়াদাইন উপাধিপ্রাপ্ত জনৈক সাহাবী দাঁড়িয়ে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি ভুল করেছেন না নামায কসর (সংক্ষিপ্ত) করা হয়েছে?

জবাবে তিনি বলেনঃ না, আমি ভুল করিনি এবং নামায কসরও করা হয় নাই। তখন ঐ সাহাবী বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! তবে আপনি ভুল করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সমবেত জনগণের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করেনঃ আচ্ছা, যুলয়াদাইন কি সত্য বলেছে? জবাবে সাহাবাগণ ইশারায় বলেনঃ জি হ্যাঁ। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় স্থানে প্রত্যাবর্তনের করে বাকী দুই রাকআত নামায আদায় করে সালাম ফিরান। অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে পূর্বের সিজদার সমপরিমাণ সময় অথবা তার চাইতে কিছু অধিক সময় ধরে সিজদা করেন। পরে আল্লাহু আকবার বলে মস্তক উত্তোলন করেন এবং পুনরায় আল্লাহু আকবার বলে পূর্ববর্তী সিজদার ন্যায় সিজদা করেন এবং পুনরায় আল্লাহু আকবার বলে মাথা উঠান।

রাবী বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনে সীরীনকে সিজদায়ে সাহু এর পর সালাম করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জবাবে তিনি বলেনঃ এ ব্যাপারে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে আমার কিছু জানা নেই। তবে আমাকে জ্ঞাত করানো হয়েছে যে, ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) বলেছেন যে, সিজদায়ে সাহু এর পর তিনি সালাম ফিরিয়েছিলেন।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১০০৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، بِإِسْنَادِهِ - وَحَدِيثُ حَمَّادٍ أَتَمُّ - قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَقُلْ بِنَا . وَلَمْ يَقُلْ فَأَوْمَئُوا . قَالَ فَقَالَ النَّاسُ نَعَمْ . قَالَ ثُمَّ رَفَعَ - وَلَمْ يَقُلْ وَكَبَّرَ - ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ مِثْلَ سُجُودِهِ أَوْ أَطْوَلَ ثُمَّ رَفَعَ وَتَمَّ حَدِيثُهُ لَمْ يَذْكُرْ مَا بَعْدَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ فَأَوْمَئُوا . إِلاَّ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكُلُّ مَنْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ لَمْ يَقُلْ فَكَبَّرَ . وَلاَ ذَكَرَ رَجَعَ .

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন (রহঃ)

১০০৯. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) এর সূত্রে ..... মালিক (রাহঃ) হতে, তিনি আইযুব হতে, তিনি মুহাম্মাদ হতে উপরোক্ত সনদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী হাম্মাদের হাদীসটিই পূর্ণ হাদীস। রাবী বলেনঃ অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আদায় করেন। তবে এই বর্ণনায় ‘আমাদেরকে নিয়ে’’ এবং ‘‘লোকদের ইশারা’’ শব্দদ্বয়ের উল্লেখ নাই। রাবী বলেনঃ লোকেরা শুধুমাত্র ‘‘হ্যাঁ’’ বলে জবাব দিয়েছিল।

রাবী আরো বলেনঃ অতঃপর তিনি (নবী (ﷺ)) (সিজদা হতে মাথা) উত্তোলন করেন এবং এই বর্ণনায় তাকবীরের বিষয়ও উল্লেখ নাই।
১০১০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُفَضَّلِ - حَدَّثَنَا سَلَمَةُ، - يَعْنِي ابْنَ عَلْقَمَةَ - عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى حَمَّادٍ كُلِّهِ إِلَى آخِرِ قَوْلِهِ نُبِّئْتُ أَنَّ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ قَالَ ثُمَّ سَلَّمَ . قَالَ قُلْتُ فَالتَّشَهُّدُ قَالَ لَمْ أَسْمَعْ فِي التَّشَهُّدِ وَأَحَبُّ إِلَىَّ أَنْ يَتَشَهَّدَ وَلَمْ يَذْكُرْ كَانَ يُسَمِّيهِ ذَا الْيَدَيْنِ . وَلاَ ذَكَرَ فَأَوْمَئُوا . وَلاَ ذَكَرَ الْغَضَبَ وَحَدِيثُ حَمَّادٍ عَنْ أَيُّوبَ أَتَمُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০১০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিয়ে নামায আদায় করেন।

অতঃপর রাবী হাম্মাদের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ অর্থে হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি এ সম্পর্কে জানতে পারি যে, সিজদায়ে সাহূ এর পরেও সালাম আছে। রাবী সালামা বলেনঃ অতঃপর আমি মুহাম্মাদ ইবনে সীরীনকে তাশাহহুদ পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। জবাবে তিনি বলেনঃ আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে তাশাহহুদ পাঠ করা সম্পর্কে কোন বর্ণনা পাই নাই। তবে তাশাহহুদ পাঠ করাই আমার নিকট শ্রেয়। এ বর্ণনায় তাঁকে যুল্-য়াদাইন হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে কোন উল্লেখ নাই এবং এই হাদীসে ‘‘লোকদের ইশারা’’ ও ‘‘তিনি যে রাগান্বিত হন’’ এই শব্দদ্বয়ের কোন উল্লেখ নাই।
১০১১

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ نَصْرِ بْنِ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، وَهِشَامٍ، وَيَحْيَى بْنِ عَتِيقٍ، وَابْنِ، عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي قِصَّةِ ذِي الْيَدَيْنِ أَنَّهُ كَبَّرَ وَسَجَدَ . وَقَالَ هِشَامٌ يَعْنِي ابْنَ حَسَّانَ كَبَّرَ ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ أَيْضًا حَبِيبُ بْنُ الشَّهِيدِ وَحُمَيْدٌ وَيُونُسُ وَعَاصِمٌ الأَحْوَلُ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ لَمْ يَذْكُرْ أَحَدٌ مِنْهُمْ مَا ذَكَرَ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ هِشَامٍ أَنَّهُ كَبَّرَ ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ وَرَوَى حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ هِشَامٍ لَمْ يَذْكُرَا عَنْهُ هَذَا الَّذِي ذَكَرَهُ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ أَنَّهُ كَبَّرَ ثُمَّ كَبَّرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০১১. আলী ইবনে নসর (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে যুল্-য়াদাইনের ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ অতঃপর তিনি তাকবীর বলে সিজদা করেন ...।

১০১২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ وَعُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ وَلَمْ يَسْجُدْ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ حَتَّى يَقَّنَهُ اللَّهُ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০১২. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে যুল-য়াদাইনের হাদীসে বর্ণিত ঘটনার ন্যায় বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সিজদায়ে সাহু করেননি যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাঁকে নিশ্চিত করে দেন (দুই রাকআত না পড়ার ব্যাপারে)।

১০১৩

حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ أَبَا بَكْرِ بْنَ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْخَبَرِ قَالَ وَلَمْ يَسْجُدِ السَّجْدَتَيْنِ اللَّتَيْنِ تُسْجَدَانِ إِذَا شَكَّ حَتَّى لَقَّاهُ النَّاسُ . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَأَخْبَرَنِي بِهَذَا الْخَبَرِ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ وَأَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ وَعِمْرَانُ بْنُ أَبِي أَنَسٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَالْعَلاَءُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ جَمِيعًا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ بِهَذِهِ الْقِصَّةِ وَلَمْ يَذْكُرْ أَنَّهُ سَجَدَ السَّجْدَتَيْنِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ الزُّبَيْدِيُّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِيهِ وَلَمْ يَسْجُدْ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১০১৩. হাজ্জাজ ইবনে আবু ইয়াকুব (রাহঃ) ..... আবু বকর ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) বলেনঃ তাঁকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সিজদায়ে সাহূ সম্পর্কে জ্ঞাত করানো হয়েছে।

রাবী ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলেনঃ সমবেত জনতার সঙ্গে আলোচনার পূর্ব পর্যন্ত তিনি সিজদায়ে সাহূ করেন নাই। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে অন্য এক বর্ণনায় এই ঘটনা সম্পর্কে উল্লেখ নাই তবে সেখানে ‘‘দুই সিজদার’’ বিষয়ও উল্লেখ নাই।

রাবী আবু বকর ইবনে সুলাইমান ইবনে আবু হাছমা (রাহঃ) নবী করীম (ﷺ) এর এই হাদীসটি বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন যে, তিনি সিজদায় সাহূ আদায় করেন নাই।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১০১৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، سَمِعَ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الظُّهْرَ فَسَلَّمَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ فَقِيلَ لَهُ نَقَصَتِ الصَّلاَةُ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০১৪. ইবনে মুআয (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম (ﷺ) ভুলবশতঃ যোহরের নামায দুই রাকআত আদায়ের পর সালাম ফিরান। ঐ সময় তাঁকে বলা হয় যে, নামায কম হয়েছে। এতদশ্রবণে তিনি পরে আরো দুই রাকআত আদায় করে দুইটি সিজদায় সাহু করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১০১৫

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَسَدٍ، أَخْبَرَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم انْصَرَفَ مِنَ الرَّكْعَتَيْنِ مِنْ صَلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ أَقَصُرَتِ الصَّلاَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمْ نَسِيتَ قَالَ " كُلَّ ذَلِكَ لَمْ أَفْعَلْ " . فَقَالَ النَّاسُ قَدْ فَعَلْتَ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ أُخْرَيَيْنِ ثُمَّ انْصَرَفَ وَلَمْ يَسْجُدْ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ دَاوُدُ بْنُ الْحُصَيْنِ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ مَوْلَى ابْنِ أَبِي أَحْمَدَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ بَعْدَ التَّسْلِيمِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০১৫. ইসমাঈল ইবনে আসাদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম (ﷺ) যোহর অথবা আসরের দুই রাকআত নামায আদায়ের পর সালাম ফিরিয়ে উক্ত স্থান ত্যাগ করেন। ঐ সময় জনৈক সাহাবী তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, নামায কি কমে গিয়েছে, না আপনি ভুল করেছেন? জবাবে তিনি বলেনঃ এর কোনটাই নয়। তখন লোকেরা বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি নামায কম পড়েছেন। এতদশ্রবণে তিনি আরো দুই রাকআত নামায আদায় করে চলে যান এবং ঐ সময় তিনি সিজদায়ে সাহু করেন নাই।

অপর বর্ণনায় আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে এই ঘটনার উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, অতঃপর তিনি ভুলের জন্য সালামের পর দুইটি সিজদা বসা অবস্থায় আদায় করেন।

৩৭৩. আশ্রয় প্রার্থনা করা।

باب فِي الاِسْتِعَاذَةِ

১০১৬

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ ضَمْضَمِ بْنِ جَوْسٍ الْهِفَّانِيِّ، حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، بِهَذَا الْخَبَرِ قَالَ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ بَعْدَ مَا سَلَّمَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০১৬. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, অতঃপর তিনি সালামের পর (নামাযের মধ্যকার) ভুলের জন্য দুইটি সিজদা আদায় করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

২০১. দুই সাহু সিজদার বর্ণনা।

باب السَّهْوِ فِي السَّجْدَتَيْنِ

১০১৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا أَبُو أُسَامَةَ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১০১৭. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সাথে নামায আদায়কালে (ভুলবশত চার রাকআতের স্থলে) দুই রাকআত আদায় করে সালাম ফিরান। অতঃপর রাবী আবু উসামা আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেনঃ অতঃপর তিনি ফিরিয়ে ভুলের জন্য সিজদায়ে সাহু আদায় করেন।

১০১৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا مَسْلَمَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، حَدَّثَنَا أَبُو قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ سَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ثَلاَثِ رَكَعَاتٍ مِنَ الْعَصْرِ ثُمَّ دَخَلَ - قَالَ عَنْ مَسْلَمَةَ - الْحُجَرَ فَقَامَ إِلَيْهِ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ الْخِرْبَاقُ كَانَ طَوِيلَ الْيَدَيْنِ فَقَالَ لَهُ أَقَصُرَتِ الصَّلاَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَخَرَجَ مُغْضَبًا يَجُرُّ رِدَاءَهُ فَقَالَ " أَصَدَقَ " . قَالُوا نَعَمْ . فَصَلَّى تِلْكَ الرَّكْعَةَ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْهَا ثُمَّ سَلَّمَ .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

১০১৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... ইমরান ইবনে হুসায়েন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের নামায আদায়কালে তৃতীয় রাকআতের সময় সালাম ফিরিয়ে স্বীয় হুজরায় গমন করেন। তখন লম্বা বাহু বিশিষ্ট সাহাবী খিরবাক (রাযিঃ) তাঁর খিদমতে হাজির হয়ে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! নামায কি কমিয়ে দেয়া হয়েছে? এতদশ্রবণে তিনি রাগান্বিত অবস্থায় স্বীয় চাদরে হেঁচড়িয়ে বাইরে এসে লোকদের জিজ্ঞাসা করেনঃ এই ব্যক্তি কি সত্য বলেছে? জবাবে তারা বলেনঃ হ্যাঁ। অতঃপর তিনি বাকী নামায আদায় করে সিজদায়ে সাহু করার পর সর্বশেষ সালাম ফিরান।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২০২. ভুলবশত নাযায পাঁচ রাকআত পড়লে।

باب إِذَا صَلَّى خَمْسًا

১০১৯

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - الْمَعْنَى - قَالَ حَفْصٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ خَمْسًا . فَقِيلَ لَهُ أَزِيدَ فِي الصَّلاَةِ قَالَ " وَمَا ذَاكَ " . قَالَ صَلَّيْتَ خَمْسًا . فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ بَعْدَ مَا سَلَّمَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১০১৯. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (ভুলবশত) যোহরের নামায পাঁচ রাকআত আদায় করেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, নামায কি বেশী করা হয়েছে? তিনি বলেনঃ কেন কি হয়েছে? তখন এক ব্যক্তি বলেনঃ আপনি পাঁচ রাকআত নামায আদায় করেছেন। তখন তিনি সালাম ফেরানোর পর সিজদায় সাহূ আদায় করেন।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১০২০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ إِبْرَاهِيمُ فَلاَ أَدْرِي زَادَ أَمْ نَقَصَ - فَلَمَّا سَلَّمَ قِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَحَدَثَ فِي الصَّلاَةِ شَىْءٌ . قَالَ " وَمَا ذَاكَ " . قَالُوا صَلَّيْتَ كَذَا وَكَذَا . فَثَنَى رِجْلَهُ وَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ فَسَجَدَ بِهِمْ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ فَلَمَّا انْفَتَلَ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنَّهُ لَوْ حَدَثَ فِي الصَّلاَةِ شَىْءٌ أَنْبَأْتُكُمْ بِهِ وَلَكِنْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ فَإِذَا نَسِيتُ فَذَكِّرُونِي " . وَقَالَ " إِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَتِهِ فَلْيَتَحَرَّ الصَّوَابَ فَلْيُتِمَّ عَلَيْهِ ثُمَّ لْيُسَلِّمْ ثُمَّ لْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১০২০. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযের মধ্যে ভুলবশতঃ বেশী বা কম করেন। রাবী ইবরাহীম বলেনঃ বেশী বা কম সম্পর্কে আমি জ্ঞাত নই। তখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! নামায সম্পর্কে কোন নতুন নির্দেশ এসেছে কি? তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তা কি? তখন তাঁকে বলা হল, আপনি এত রাকআত কম বা বেশী নামায আদায় করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর পদদ্বয়কে ঘুরিয়ে কিবলামুখী হয়ে দুইটি সিজদা করে সালাম ফিরান।

নামায শেষে তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলেনঃ নামায সম্পর্কে কোন নতুন নির্দেশ নাযিল হলে আমি অবশ্যই তা তোমাদের জানাতাম। কিন্তু আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ, তাই আমিও তোমাদের মত ভুল করি। কাজেই আমি যখন ভুল করব, তখন তোমরা আমাকে অবশ্যই স্মরণ করিয়ে দিবে। তিনি আরো বলেনঃ নামায পাঠকালে যখন তোমাদের কেউ সন্দিহান হয়ে পড়বে, তখন চিন্তা-ভাবনার পর যা সঠিক মনে করবে, তাই আদায় করবে এবং পরে সালাম ফিরিয়ে সিজদায়ে সাহু দুই সিজদা করবে।
১০২১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، بِهَذَا قَالَ " فَإِذَا نَسِيَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ " . ثُمَّ تَحَوَّلَ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ حُصَيْنٌ نَحْوَ حَدِيثِ الأَعْمَشِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১০২১. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ...... অন্য সূত্রে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেনঃ যখন তোমাদের কেউ ভুল করবে, তখন দুইটি সিজদা দিবে। অতঃপর তিনি তার মুখ ফিরিয়ে দুইটি সিজদা করেন।

১০২২

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، ح وَحَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، - وَهَذَا حَدِيثُ يُوسُفَ - عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَمْسًا فَلَمَّا انْفَتَلَ تَوَشْوَشَ الْقَوْمُ بَيْنَهُمْ فَقَالَ " مَا شَأْنُكُمْ " . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ زِيدَ فِي الصَّلاَةِ قَالَ " لاَ " . قَالُوا فَإِنَّكَ صَلَّيْتَ خَمْسًا . فَانْفَتَلَ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ قَالَ " إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১০২২. নসর ইবনে আলী ও ইউসুফ ইবনে মুসা (রাহঃ) এর মিলিত সনদে .... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সাথে নামায আদায়কালে পাঁচ রাকআত আদায় করেন। নামায শেষে এ সম্পর্কে লোকেরা পরষ্পরের মধ্যে চুপে চুপে আলাপ করতে থাকে। এতদ্দর্শনে তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ কি ব্যাপার, তোমাদের কি হয়েছে? জবাবে তারা বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! নামায কি বৃদ্ধি করা হয়েছে? তিনি বলেনঃ না। তখন তাঁরা বলেনঃ আপনি তো পাঁচ রাকআত আদায় করেছেন। এতদশ্রবণে তিনি পুনরায় গমন করতঃ দুইটি সিজদা আদায়ের পর সালাম ফিরিয়ে বলেনঃ আমিও তোমাদের মত একজন মানুষ। কাজেই আমারও তোমাদের ন্যায় ভুল হতে পারে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১০২৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، - يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ - عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، أَنَّ سُوَيْدَ بْنَ قَيْسٍ، أَخْبَرَهُ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ حُدَيْجٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى يَوْمًا فَسَلَّمَ وَقَدْ بَقِيَتْ مِنَ الصَّلاَةِ رَكْعَةٌ فَأَدْرَكَهُ رَجُلٌ فَقَالَ نَسِيتَ مِنَ الصَّلاَةِ رَكْعَةً فَرَجَعَ فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ وَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ الصَّلاَةَ فَصَلَّى لِلنَّاسِ رَكْعَةً فَأَخْبَرْتُ بِذَلِكَ النَّاسَ . فَقَالُوا لِي أَتَعْرِفُ الرَّجُلَ قُلْتُ لاَ إِلاَّ أَنْ أَرَاهُ فَمَرَّ بِي فَقُلْتُ هَذَا هُوَ . فَقَالُوا هَذَا طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১০২৩. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... মুআবিয়া ইবনে হুদায়জ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জামাআতের সাথে নামায আদায়কালে এক রাকআত অবশিষ্ট থাকতে সালাম ফিরান। তাঁর নিকট এক ব্যক্তি গিয়ে বলেনঃ আপনি ভুলবশত এক রাকআত বাদ দিয়েছেন। তখন তিনি মসজিদে প্রবেশ করে বিলালকে ইকামত দিতে বলেন এবং তিনি লোকদের নিয়ে বাকী নামায আদায় করেন।

রাবী বলেনঃ এই ঘটনা আমি লোকদের নিকট বর্ণনা করলে তাঁরা জিজ্ঞাসা করেনঃ আপনি কি ঐ ব্যক্তিকে চিনেন? জবাবে তিনি বলেনঃ না, আমি মাত্র তাঁকে দেখেছিলাম। এই সময় ঐ ব্যক্তিকে আমার পাশ দিয়ে গমনকালে আমি বলি-ইনিই সেই ব্যক্তি। তখন তাঁরা বলেনঃ এই ব্যক্তির নাম তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাযিঃ)।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

২০৩. যে ব্যক্তি নামাযের মধ্যে সন্দিহান হয়েছে।

باب مَنْ قَالَ يُلْقِي الشَّكَّ

১০২৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَتِهِ فَلْيُلْقِ الشَّكَّ وَلْيَبْنِ عَلَى الْيَقِينِ فَإِذَا اسْتَيْقَنَ التَّمَامَ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ فَإِنْ كَانَتْ صَلاَتُهُ تَامَّةً كَانَتِ الرَّكْعَةُ نَافِلَةً وَالسَّجْدَتَانِ وَإِنْ كَانَتْ نَاقِصَةً كَانَتِ الرَّكْعَةُ تَمَامًا لِصَلاَتِهِ وَكَانَتِ السَّجْدَتَانِ مُرْغِمَتَىِ الشَّيْطَانِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ مُطَرِّفٍ عَنْ زَيْدٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَحَدِيثُ أَبِي خَالِدٍ أَشْبَعُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১০২৪. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) ...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ নামাযের মধ্যে (রাকআত ইত্যাদি সম্পর্কে) সন্দিহান হবে, তখন তা দূরীভূত করে দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে খেয়াল করবে এবং যখন তার দৃঢ় বিশ্বাস এই হবে যে, তার নামায শেষ হয়েছে, তখন সে দুটি সিজদা করবে। যদি প্রকৃতপক্ষে তার নামায পূর্ণ হয়ে থাকে, তবে দুটি সিজদা এবং শেষ রাকআত তার জন্য নফল হিসাবে পরিগণিত হবে। তার পূর্বে যদি তার নামায পরিপূর্ণ না হয়ে থাকে, তবে শেষের দুই সিজদা তার নামাযের পরিপূরক হবে এবং এই সিজদা দুইটি শয়তানের জন্য অপমান স্বরূপ।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১০২৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رِزْمَةَ، أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَمَّى سَجْدَتَىِ السَّهْوِ الْمُرْغِمَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১০২৫. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুটি সিজদায়ে সাহুকে ‘‘মুরগামাতায়ন’’ নামকরণ করেছেন। (অর্থাৎ এই দুটি সিজদা শয়তানকে অপমান করে থাকে)।

১০২৬

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَتِهِ فَلاَ يَدْرِي كَمْ صَلَّى ثَلاَثًا أَوْ أَرْبَعًا فَلْيُصَلِّ رَكْعَةً وَيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ قَبْلَ التَّسْلِيمِ فَإِنْ كَانَتِ الرَّكْعَةُ الَّتِي صَلَّى خَامِسَةً شَفَعَهَا بِهَاتَيْنِ وَإِنْ كَانَتْ رَابِعَةً فَالسَّجْدَتَانِ تَرْغِيمٌ لِلشَّيْطَانِ " .

বর্ণনাকারী: আতা ইবনে ইয়াসার (রহঃ)

১০২৬. আল-কানবী (রাহঃ) ..... আতা ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ নামাযের মধ্যে সন্দিহান হয়ে এমন অবস্থায় পতিত হবে যে, তিন না চার রাকআত আদায় করেছে তা ঠিক করতে পারে না, তখন সে আরো এক রাকআত নামায পূরণ করে বসা অবস্থায় সর্বশেষ সালামের পূর্বে ভুলের জন্য দুইটি সিজদা করবে। যদি শেষ রাকআত পঞ্চম রাকআত হয়, তবে এই দুটি সিজদা তার জের হিসাবে পরিণত হবে এবং যদি তা চতুর্থ রাকআত হয়, তবে এই দুটি সিজদা শয়তানকে অপমান করার জন্য হবে।

১০২৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَارِيُّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، بِإِسْنَادِ مَالِكٍ قَالَ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا شَكَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَتِهِ فَإِنِ اسْتَيْقَنَ أَنْ قَدْ صَلَّى ثَلاَثًا فَلْيَقُمْ فَلْيُتِمَّ رَكْعَةً بِسُجُودِهَا ثُمَّ يَجْلِسْ فَيَتَشَهَّدْ فَإِذَا فَرَغَ فَلَمْ يَبْقَ إِلاَّ أَنْ يُسَلِّمَ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ ثُمَّ لْيُسَلِّمْ " . ثُمَّ ذَكَرَ مَعْنَى مَالِكٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَذَلِكَ رَوَاهُ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ مَالِكٍ وَحَفْصِ بْنِ مَيْسَرَةَ وَدَاوُدَ بْنِ قَيْسٍ وَهِشَامِ بْنِ سَعْدٍ إِلاَّ أَنَّ هِشَامًا بَلَغَ بِهِ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে আসলাম (রহঃ)

১০২৭. কুতায়বা (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে আসলাম (রাহঃ) রাবী মালিকের সনদে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যদি তোমাদের কেউ নামাযের মধ্যে সন্দেহে পতিত হয় এবং সে এরূপ দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে যে, সে তিন রাকআত আদায় করেছে, তখন সে যেন চতুর্থ রাকআতের জন্য দাঁড়িয়ে তা সিজদা সহকারে আদায় করে তাশাহহুদ পাঠের নিমিত্তে বসবে। তাশাহহুদ পাঠের পর বসা অবস্থায় দুটি সিজদা দিবে এবং সবশেষে সালাম ফিরাবে।

২০৪. প্রবল ধারণার ভিত্তিতে নামায শেষ করা।

باب مَنْ قَالَ يُتِمُّ عَلَى أَكْبَرِ ظَنِّهِ

১০২৮

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ خُصَيْفٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا كُنْتَ فِي صَلاَةٍ فَشَكَكْتَ فِي ثَلاَثٍ أَوْ أَرْبَعٍ وَأَكْبَرُ ظَنِّكَ عَلَى أَرْبَعٍ تَشَهَّدْتَ ثُمَّ سَجَدْتَ سَجْدَتَيْنِ وَأَنْتَ جَالِسٌ قَبْلَ أَنْ تُسَلِّمَ ثُمَّ تَشَهَّدْتَ أَيْضًا ثُمَّ تُسَلِّمُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ عَبْدُ الْوَاحِدِ عَنْ خُصَيْفٍ وَلَمْ يَرْفَعْهُ وَوَافَقَ عَبْدَ الْوَاحِدِ أَيْضًا سُفْيَانُ وَشَرِيكٌ وَإِسْرَائِيلُ وَاخْتَلَفُوا فِي الْكَلاَمِ فِي مَتْنِ الْحَدِيثِ وَلَمْ يُسْنِدُوهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১০২৮. আন-নুফায়লী (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন তুমি নামাযের মধ্যে তিন রাকআত না চার রাকআত আদায় করেছ, এ সম্পর্কে সন্দীহান হবে এবং তখন তোমার অধিক ধারণা চার রাকআত আদায় করেছ, এ সম্পর্কে সন্দীহান হবে এবং তখন তোমার অধিক ধারণা চার রাকআত আদায়ের প্রতি হবে, তখন তুমি তাশাহহুদ পাঠরত বসা অবস্থায় সালামের পূর্বে দুইটি সিজদা করবে। অতঃপর আবার তাশাহহুদ পাঠ করে সালাম ফিরাবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১০২৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا عِيَاضٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ هِلاَلِ بْنِ عِيَاضٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلَمْ يَدْرِ زَادَ أَمْ نَقَصَ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ قَاعِدٌ فَإِذَا أَتَاهُ الشَّيْطَانُ فَقَالَ إِنَّكَ قَدْ أَحْدَثْتَ فَلْيَقُلْ كَذَبْتَ إِلاَّ مَا وَجَدَ رِيحًا بِأَنْفِهِ أَوْ صَوْتًا بِأُذُنِهِ " . وَهَذَا لَفْظُ حَدِيثِ أَبَانَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ مَعْمَرٌ وَعَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ عِيَاضُ بْنُ هِلاَلٍ وَقَالَ الأَوْزَاعِيُّ عِيَاضُ بْنُ أَبِي زُهَيْرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১০২৯. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা ও মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ নামায আদায়কালে (রাকআতের) কম বেশী সম্পর্কে সন্দীহান হবে, তখন সে ব্যক্তি বসা অবস্থায় দুটি সিজদা করবে। অতঃপর যদি তার নিকট শয়তান এসে ধোঁকা দেয়, (হে নামাযী) তোমার উযু নষ্ট হয়ে গিয়েছে, তখন নামাযী বলবে (হে শয়তান!) তুমি মিথ্যাবাদী; তবে বায়ু নির্গমনের শব্দ বা দুর্গন্ধ যদি অনুভূত হয় (তবে তাকে নতুনভাবে উযু করতে হবে)

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১০৩০

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا قَامَ يُصَلِّي جَاءَهُ الشَّيْطَانُ فَلَبَسَ عَلَيْهِ حَتَّى لاَ يَدْرِي كَمْ صَلَّى فَإِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ ذَلِكَ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا رَوَاهُ ابْنُ عُيَيْنَةَ وَمَعْمَرٌ وَاللَّيْثُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০৩০. আল-কানবী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ নামাযে দণ্ডায়মান হয়, তখন শয়তান তার নিকট এসে তাকে ধোঁকা দিতে দিতে এমন পর্যায়ে পৌঁছে দেয় যে, সে কয় রাকআত আদায় করেছে-তা স্মরণ করতে পারে না। তোমাদের কারো যখন এমন অবস্থা হবে, তখন সে যেন বসা অবস্থায় দুটি সিজদা দেয়।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১০৩১

حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ أَبِي يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَخِي الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ بِإِسْنَادِهِ زَادَ " وَهُوَ جَالِسٌ قَبْلَ التَّسْلِيمِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০৩১. হাজ্জাজ ইবনে আবু ইয়াকুব (রাহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম (রাহঃ) উপরোক্ত হাদীসের সনদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি আরও বর্ণনা করেছেন যে, সালামের পূর্বে বসা অবস্থায় (সাহু সিজদা) করবে।

১০৩২

حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، أَخْبَرَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ الزُّهْرِيُّ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ قَالَ " فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ قَبْلَ أَنْ يُسَلِّمَ ثُمَّ لْيُسَلِّمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০৩২. হাজ্জাজ (রাহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম যুহরী (রাহঃ) উপরোক্ত সনদ ও অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ সালামের পূর্বে দুটি সিজদা দিয়ে পরে সালাম ফিরাবে।

২০৫. সালামের পর সিজদা সাহু করা সম্পর্কে।

باب مَنْ قَالَ بَعْدَ التَّسْلِيمِ

১০৩৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُسَافِعٍ، أَنَّ مُصْعَبَ بْنَ شَيْبَةَ، أَخْبَرَهُ عَنْ عُتْبَةَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ شَكَّ فِي صَلاَتِهِ فَلْيَسْجُدْ سَجْدَتَيْنِ بَعْدَ مَا يُسَلِّمُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর রাযি.

১০৩৩. আহমাদ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে্ জাফর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি নামাযের মধ্যে সন্দীহান হবে, সে যেন সালাম ফিরাবার পর দুইটি সিজদা (সাহু) করে।

২০৬. দুই রাকআতের পর তাশাহ্‌হুদ পাঠ না করে দাঁড়ানো সম্পর্কে।

باب مَنْ قَامَ مِنْ ثِنْتَيْنِ وَلَمْ يَتَشَهَّدْ

১০৩৪

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ بُحَيْنَةَ، أَنَّهُ قَالَ صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ فَلَمْ يَجْلِسْ فَقَامَ النَّاسُ مَعَهُ فَلَمَّا قَضَى صَلاَتَهُ وَانْتَظَرْنَا التَّسْلِيمَ كَبَّرَ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ قَبْلَ التَّسْلِيمِ ثُمَّ سَلَّمَ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক বুহায়না (রাঃ)

১০৩৪. আল-কানবী (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে বুহায়না (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জামাআতে নামায আদায় করার সময় দুই রাকআতের পর না বসে (ভুলবশত তৃতীয় রাকআতের) জন্য দণ্ডায়মান হন এবং মুক্তাদীগণও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে যায়। নামায শেষে আমরা যখন সালামের অপেক্ষায় ছিলাম, তখন তিনি বসা অবস্থায় সালামের পূর্বে আল্লাহু আকবার বলে দুইটি সিজদা দেন এবং অতপর তিনি সালাম ফিরান।

১০৩৫

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبِي وَبَقِيَّةُ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِمَعْنَى إِسْنَادِهِ وَحَدِيثِهِ زَادَ وَكَانَ مِنَّا الْمُتَشَهِّدُ فِي قِيَامِهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ سَجَدَهُمَا ابْنُ الزُّبَيْرِ قَامَ مِنْ ثِنْتَيْنِ قَبْلَ التَّسْلِيمِ وَهُوَ قَوْلُ الزُّهْرِيِّ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

১০৩৫. আমর ইবনে উছমান (রাহঃ) ..... যুহরী (রাহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের সনদ ও অর্থের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং এখানে অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ (ভুলবশতঃ) দাঁড়ানো অবস্থায় তাশাহহুদ পাঠ করেন।

২০৭. প্রথম তাশাহ্‌হুদ পড়তে ভুলে গেলে।

باب مَنْ نَسِيَ أَنْ يَتَشَهَّدَ وَهُوَ جَالِسٌ

১০৩৬

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْوَلِيدِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، - يَعْنِي الْجُعْفِيَّ - قَالَ حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ شُبَيْلٍ الأَحْمَسِيُّ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا قَامَ الإِمَامُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ فَإِنْ ذَكَرَ قَبْلَ أَنْ يَسْتَوِيَ قَائِمًا فَلْيَجْلِسْ فَإِنِ اسْتَوَى قَائِمًا فَلاَ يَجْلِسْ وَيَسْجُدُ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «وَلَيْسَ فِي كِتَابِي عَنْ جَابِرٍ الْجُعْفِيِّ إِلَّا هَذَا الْحَدِيثُ»

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

১০৩৬. হাসান ইবনে আমর (রাহঃ) ...... মুগীরা ইবনে শোবা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন ইমাম (তিন বা চার রাকআত বিশিষ্ট নামাযে) দুই রাকআত আদায়ের পর না বসে দণ্ডায়মান হওয়া কালে সম্পূর্ণ সোজা হওয়ার পূর্বে এটা তার স্মরণ হয়; তখন তিনি সাথে সাথেই বসবেন এবং যদি তিনি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়ে থাকেন তখন তিনি আর না বসে নামায শেষে দুইটি সিজদা সাহূ করবেন

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১০৩৭

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْجُشَمِيُّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاَقَةَ، قَالَ صَلَّى بِنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ فَنَهَضَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ قُلْنَا سُبْحَانَ اللَّهِ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَمَضَى فَلَمَّا أَتَمَّ صَلاَتَهُ وَسَلَّمَ سَجَدَ سَجْدَتَىِ السَّهْوِ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ كَمَا صَنَعْتُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ ابْنُ أَبِي لَيْلَى عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ وَرَفَعَهُ وَرَوَاهُ أَبُو عُمَيْسٍ عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ صَلَّى بِنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ مِثْلَ حَدِيثِ زِيَادِ بْنِ عِلاَقَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَبُو عُمَيْسٍ أَخُو الْمَسْعُودِيِّ وَفَعَلَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ مِثْلَ مَا فَعَلَ الْمُغِيرَةُ وَعِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ وَالضَّحَّاكُ بْنُ قَيْسٍ وَمُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ وَابْنُ عَبَّاسٍ أَفْتَى بِذَلِكَ وَعُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا فِيمَنْ قَامَ مِنْ ثِنْتَيْنِ ثُمَّ سَجَدُوا بَعْدَ مَا سَلَّمُوا .

বর্ণনাকারী: যিয়াদ ইবনে ইলাকা (রহঃ)

১০৩৭. উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর (রাহঃ) .... যিয়াদ ইবনে ইলাকা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মুগীরা (রাযিঃ) ইমামতি করা কালে দুই রাকআতের পর না বসে দণ্ডায়মান হন। তখন আমরা ‘সুবহানাল্লাহ’ বলি (ভুল সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য নামাযের মধ্যে এরূপ বলতে হয়)। জবাবে তিনিও ‘‘সুবহানাল্লাহ’’ বলেন। নামায সমাপনান্তে তিনি ভুলের জন্য দুইটি সিজদা সাহূ করেন। পরে তিনি সে স্থান ত্যাগ করবার পর বলেনঃ আমি যেরূপ করেছি, এরূপ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে করতে দেখেছি।

অন্য বর্ণনায় আবু উমায়েস .... ছাবিত ইবনে উবাইেদ হতে উল্লেখ করেছেন যে, একদা মুগীরা ইবনে শোবা (রাযিঃ) নামায পড়াচ্ছিলেন ......... অতঃপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১০৩৮

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، وَالرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَشُجَاعُ بْنُ مَخْلَدٍ، - بِمَعْنَى الإِسْنَادِ - أَنَّ ابْنَ عَيَّاشٍ، حَدَّثَهُمْ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدٍ الْكَلاَعِيِّ، عَنْ زُهَيْرٍ، - يَعْنِي ابْنَ سَالِمٍ الْعَنْسِيِّ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، قَالَ عَمْرٌو وَحْدَهُ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ ثَوْبَانَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لِكُلِّ سَهْوٍ سَجْدَتَانِ بَعْدَ مَا يُسَلِّمُ " . لَمْ يَذْكُرْ عَنْ أَبِيهِ . غَيْرُ عَمْرٍو .

বর্ণনাকারী: হযরত ছাওবান (রাঃ)

১০৩৮. আমর ইবনে উছমান (রাহঃ) ..... ছাওবান (রাযিঃ) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ নামাযের মধ্যে যে কোন ভুলের জন্য দুটি সিজদায় সাহু করতে হয়।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২০৮. দুইটি সাহু সিজদার পর তাশাহ্‌হুদ পড়বে, অতঃপর সালাম ফিরাবে।

باب سَجْدَتَىِ السَّهْوِ فِيهِمَا تَشَهُّدٌ وَتَسْلِيمٌ

১০৩৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي أَشْعَثُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ خَالِدٍ، - يَعْنِي الْحَذَّاءَ - عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمُهَلَّبِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِهِمْ فَسَهَا فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ تَشَهَّدَ ثُمَّ سَلَّمَ .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

১০৩৯. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াইয়া (রাহঃ) ..... ইমরান ইবনে হুসায়েন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম (ﷺ) তাঁদের সাথে নামায আদায়কালে ভুল করেন। অতঃপর তিনি ভুলের জন্য দুটি সিজদা করেন। পরে তাশাহহুদ পাঠ করে সালাম ফিরান।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২০৯. পুরুষদের পূর্বে স্ত্রীলোকদের নামায শেষে প্রস্থান সম্পর্কে।

باب انْصِرَافِ النِّسَاءِ قَبْلَ الرِّجَالِ مِنَ الصَّلاَةِ

১০৪০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ هِنْدَ بِنْتِ الْحَارِثِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا سَلَّمَ مَكَثَ قَلِيلاً وَكَانُوا يَرَوْنَ أَنَّ ذَلِكَ كَيْمَا يَنْفُذَ النِّسَاءُ قَبْلَ الرِّجَالِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

১০৪০. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ..... উম্মে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায শেষে সালামের পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেন। লোকেরা এর অর্থ করত যাতে মহিলারা পুরুষদের পূর্বে মসজিদ হতে বের হয়ে যেতে পারে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২১০. নামায শেষে প্রস্থানের পদ্ধতি সম্পর্কে।

باب كَيْفَ الاِنْصِرَافُ مِنَ الصَّلاَةِ

১০৪১

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ هُلْبٍ، - رَجُلٍ مِنْ طَيِّئٍ - عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم وَكَانَ يَنْصَرِفُ عَنْ شِقَّيْهِ .

বর্ণনাকারী: কাবীসা ইবনে হুলব (রহঃ)

১০৪১. আবুল ওলীদ (রাহঃ) .... কাবীসা ইবনে হুলব (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তিনি নবী করীম (ﷺ) এর সাথে নামায আদায় করেছেন এবং তিনি নামায শেষে মসজিদের কোন এক পাশ (ডান বা বাম) দিয়ে ঘুরে বসতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১০৪২

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لاَ يَجْعَلْ أَحَدُكُمْ نَصِيبًا لِلشَّيْطَانِ مِنْ صَلاَتِهِ أَنْ لاَ يَنْصَرِفَ إِلاَّ عَنْ يَمِينِهِ وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَكْثَرَ مَا يَنْصَرِفُ عَنْ شِمَالِهِ . قَالَ عُمَارَةُ أَتَيْتُ الْمَدِينَةَ بَعْدُ فَرَأَيْتُ مَنَازِلَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم عَنْ يَسَارِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১০৪২. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যেন স্বীয় নামাযের মধ্যে শয়তানের জন্য কোন অংশ না রাখে। অর্থাৎ নামায শেষে শুধু দান দিক থেকেই ঘুরে না বলে বা সে নির্গমনের সময় শুধুমাত্র ডানদিক হতেই বের হবে। তিনি আরো বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে অধিকাংশ সময়ে বাম দিক থেকে ঘুরতে দেখেছি।

রাবী উমরা বলেনঃ এই হাদীস শ্রবনের পর আমি যখন মদীনায় গমন করি, তখন নবী করীম (ﷺ) এর হুজরাসমূহ মসজিদের বাম দিকে দেখতে পাই।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২১১. নফল নামায ঘরে আদায় করা উত্তম।

باب صَلاَةِ الرَّجُلِ التَّطَوُّعَ فِي بَيْتِهِ

১০৪৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اجْعَلُوا فِي بُيُوتِكُمْ مِنْ صَلاَتِكُمْ وَلاَ تَتَّخِذُوهَا قُبُورًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১০৪৩. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা তোমাদের স্ব স্ব গৃহে (নফল) নামায আদায় করবে এবং তোমাদের ঘরকে তোমরা (নামায আদায় না করে) কবর সদৃশ্য করবে না।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১০৪৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةُ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ أَفْضَلُ مِنْ صَلاَتِهِ فِي مَسْجِدِي هَذَا إِلاَّ الْمَكْتُوبَةَ " .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

১০৪৪. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ ফরয নামায ব্যতীত যে কোন ধরনের নফল নামায আমার এই মসজিদ (মসজিদে নববী) হতে ঘরে পড়াই শ্রেয়।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২১২. কিবলা ব্যতিত অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নামায আদায় করার পর, তা জ্ঞাত হলে।

باب مَنْ صَلَّى لِغَيْرِ الْقِبْلَةِ ثُمَّ عَلِمَ

১০৪৫

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، وَحُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابَهُ كَانُوا يُصَلُّونَ نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ فَلَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ ) فَمَرَّ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سَلِمَةَ فَنَادَاهُمْ وَهُمْ رُكُوعٌ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ نَحْوَ بَيْتِ الْمَقْدِسِ أَلاَ إِنَّ الْقِبْلَةَ قَدْ حُوِّلَتْ إِلَى الْكَعْبَةِ مَرَّتَيْنِ فَمَالُوا كَمَا هُمْ رُكُوعٌ إِلَى الْكَعْبَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১০৪৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাথীরা বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামায আদায় করতেন। অতঃপর যখন এই আয়াত নাযিল হয়ঃ তোমরা যেখানেই থাক, মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরিয়ে নামায আদায় কর। (অর্থাৎ এ সময় বায়তুল্লাহকে কিবলা হিসাবে নির্ধারিত করা হয়) এ সময় বনী সালামার এক ব্যক্তি মসজিদের পাশ দিয়ে গমন কালে দেখতে পান যে, তারা বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে ফজরের নামায আদায় করছেন। তখন তিনি দুইবার (চিৎকার করে) বলেনঃ নিশ্চয়ই কিবলাকে এখন বায়তুল্লাহর দিকে ফিরানো হয়েছে। তাঁরা রুকু অবস্থায় কাবার দিকে মুখ ফিরিয়ে নেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

২১৩. জুমআর নামাযের বিভিন্ন বিধান।

باب فَضْلِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَلَيْلَةِ الْجُمُعَةِ

১০৪৬

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ فِيهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ أُهْبِطَ وَفِيهِ تِيبَ عَلَيْهِ وَفِيهِ مَاتَ وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ وَمَا مِنْ دَابَّةٍ إِلاَّ وَهِيَ مُسِيخَةٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ مِنْ حِينَ تُصْبِحُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ شَفَقًا مِنَ السَّاعَةِ إِلاَّ الْجِنَّ وَالإِنْسَ وَفِيهِ سَاعَةٌ لاَ يُصَادِفُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللَّهَ حَاجَةً إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهَا " . قَالَ كَعْبٌ ذَلِكَ فِي كُلِّ سَنَةٍ يَوْمٌ . فَقُلْتُ بَلْ فِي كُلِّ جُمُعَةٍ . قَالَ فَقَرَأَ كَعْبٌ التَّوْرَاةَ فَقَالَ صَدَقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ ثُمَّ لَقِيتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَلاَمٍ فَحَدَّثْتُهُ بِمَجْلِسِي مَعَ كَعْبٍ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلاَمٍ قَدْ عَلِمْتُ أَيَّةَ سَاعَةٍ هِيَ . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَقُلْتُ لَهُ فَأَخْبِرْنِي بِهَا . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلاَمٍ هِيَ آخِرُ سَاعَةٍ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ . فَقُلْتُ كَيْفَ هِيَ آخِرُ سَاعَةٍ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يُصَادِفُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ يُصَلِّي " . وَتِلْكَ السَّاعَةُ لاَ يُصَلَّى فِيهَا . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلاَمٍ أَلَمْ يَقُلْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ جَلَسَ مَجْلِسًا يَنْتَظِرُ الصَّلاَةَ فَهُوَ فِي صَلاَةٍ حَتَّى يُصَلِّيَ " . قَالَ فَقُلْتُ بَلَى . قَالَ هُوَ ذَاكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০৪৬. আল্-কানবী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে সব দিনে সূর্যোদয় হয় তার মধ্যে জুমআর দিনই উত্তম। ঐ দিনেই আদম (আলাইহিস সালাম) সৃষ্টি হয়েছিলেন, ঐ দিনই তাঁকে দুনিয়াতে পাঠানো হয়, ঐ দিনই তাঁর তওবা কবুল হয় এবং ঐ দিন তিনি ইন্তিকাল করেন। ঐ দিনই কিয়ামত কায়েম হবে, এই দিন জীন ও ইনসান ব্যতীত সমস্ত প্রাণীকুল সুবহে সাদেক হতে সূর্যোদয় পর্যন্ত কিয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়ার ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত থাকবে। এই দিনের মধ্যে এমন একটি সময় নিহিত আছে, তখন কোন মুসলিম বান্দা নামায আদায়ের পর আল্লাহর নিকট যা প্রার্থনা করবে তাই প্রাপ্ত হবে।

কাব (রাযিঃ) বলেন, এইরূপ দুআ কবুলের সময় সারা বছরের মধ্যে মাত্র এক দিন। রাবী বলেন, আমি তাঁকে বললাম, বছরের একটি দিন নয়, বরং এটা প্রতি জুমআর দিনের মধ্যে নিহিত আছে। রাবী বলেন, অতঃপর কাব (রাযিঃ) তার প্রমাণস্বরূপ তাওরাত পাঠ করে বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সত্য বলেছেন।

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর আমি বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ) এর সাথে সাক্ষাত করি (যিনি ইহুদীদের মধ্যে বিজ্ঞ আলিম ছিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন) এবং তাঁকে এ ব্যাপারে অবহিত করি। এই সময় কাব (রাযিঃ)-ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ) বলেন, দুআ কবুলের সেই বিশেষ সময় সম্পর্কে আমি জ্ঞাত আছি। তখন আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, আমাকে ঐ সময় সম্পর্কে অবহিত করুন।

আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ) বলেন, তা হল জুমআর দিনের সর্বশেষ সময়। আমি বললাম, তা জুমআর দিনের সর্বশেষ সময় কিরূপে হবে? অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ যে কোন বান্দা নামায আদায়ের পর উক্ত সময়ে দুআ করলে তার দুআ কবুল হবে। অথচ আপনার বর্ণিত সময়ে কোন নামায আদায় করা যায় না। আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি বলেন নি যে, কোন ব্যক্তি নামাযের অপেক্ষায় বসে থাকলে নামায আদায় না করা পর্যন্ত তাকে নামাযে রত হিসাবে গণ্য করা হয়? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ তা ঐ সময়টি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১০৪৭

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ قُبِضَ وَفِيهِ النَّفْخَةُ وَفِيهِ الصَّعْقَةُ فَأَكْثِرُوا عَلَىَّ مِنَ الصَّلاَةِ فِيهِ فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَىَّ " . قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلاَتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرِمْتَ يَقُولُونَ بَلِيتَ . فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ " .

বর্ণনাকারী: আউস ইবনে আউস ছাকাফী (রাঃ)

১০৪৭. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ..... আওস ইবনে আওস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ দিনসমূহের মধ্যে জুমআর দিনই সর্বোৎকৃষ্ট। এই দিনই আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করা হয় এবং এই দিন তিনি ইন্তিকাল করেন। ঐ দিনে শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে। ঐ দিন সমস্ত সৃষ্টিকুল বেহুশ হবে। অতএব তোমরা ঐ দিন আমার উপর অধিক দরূদ পাঠ করবে, কেননা তোমাদের দরূদ আমার সম্মুখে পেশ করা হয়ে থাকে। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার দেহ তো গলে যাবে। এমতাবস্থায় আমাদের দুরূদ কিরূপে আপনার সম্মুখে পেশ করা হবে? তিনি বলেনঃ আল্লাহ জাল্লা জালালুহু আম্বিয়ায় কিরামের দেহসমূহ মাটির জন্য (বিনষ্ট করা হতে) হারাম করে দিয়েছেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২১৪. জুমআর দিনে কোন মুহূর্তে দু'আ কবুল হয়।

باب الإِجَابَةِ أَيَّةُ سَاعَةٍ هِيَ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ

১০৪৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - أَنَّ الْجُلاَحَ، مَوْلَى عَبْدِ الْعَزِيزِ حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا سَلَمَةَ - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - حَدَّثَهُ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " يَوْمُ الْجُمُعَةِ ثِنْتَا عَشْرَةَ " . يُرِيدُ سَاعَةً " لاَ يُوجَدُ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ شَيْئًا إِلاَّ آتَاهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَالْتَمِسُوهَا آخِرَ سَاعَةٍ بَعْدَ الْعَصْرِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১০৪৮. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) ..... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ জুমআর দিনের বার ঘন্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত আছে, তখন কোন মুসলমান আল্লাহর নিকট যা-ই দুআ করে আল্লাহ তাই কবুল করেন। তোমরা এই মুহূর্তটিকে আসরের শেষে অনুসন্ধান কর।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১০৪৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مَخْرَمَةُ، - يَعْنِي ابْنَ بُكَيْرٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، قَالَ قَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ أَسَمِعْتَ أَبَاكَ يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شَأْنِ الْجُمُعَةِ يَعْنِي السَّاعَةَ . قَالَ قُلْتُ نَعَمْ سَمِعْتُهُ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " هِيَ مَا بَيْنَ أَنْ يَجْلِسَ الإِمَامُ إِلَى أَنْ تُقْضَى الصَّلاَةُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ يَعْنِي عَلَى الْمِنْبَرِ .

বর্ণনাকারী: আবু বুরদা আশআরী (রহঃ)

১০৪৯. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... আবু বুরদা ইবনে আবু মুসা আল-আশআরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) আমাকে বলেন, আপনি আপনার পিতাকে জুমআর দিনের বিশেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন কি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, আমি আমার পিতার সূত্রে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ এই বিশেষ মুহূর্তটি হল, ইমামের খুতবা দানের জন্য মিম্বরের উপর বসার সময় হতে নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত।

২১৫. জুমআর নামাযের ফযিলত।

باب فَضْلِ الْجُمُعَةِ

১০৫০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ أَتَى الْجُمُعَةَ فَاسْتَمَعَ وَأَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَ الْجُمُعَةِ إِلَى الْجُمُعَةِ وَزِيَادَةُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ وَمَنْ مَسَّ الْحَصَى فَقَدْ لَغَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০৫০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযু করে জুমআর নামায পড়তে আসে এবং চুপ করে (খুতবা) শুনে আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির এক জুমআ হতে অন্য জুমআর মধ্যবর্তী সময়ের যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেন এবং আরো তিন দিনের গুনাহও মাফ করে দিয়ে থাকেন। তিনি আরো বলেনঃ যে ব্যক্তি (খুতবা ও নামাযের সময়) কংকর সরায় সে যেন বেহুদা কর্মে লিপ্ত হল।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১০৫১

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عِيسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَطَاءٌ الْخُرَاسَانِيُّ، عَنْ مَوْلَى، امْرَأَتِهِ أُمِّ عُثْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا، - رضى الله عنه - عَلَى مِنْبَرِ الْكُوفَةِ يَقُولُ " إِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ غَدَتِ الشَّيَاطِينُ بِرَايَاتِهَا إِلَى الأَسْوَاقِ فَيَرْمُونَ النَّاسَ بِالتَّرَابِيثِ أَوِ الرَّبَائِثِ وَيُثَبِّطُونَهُمْ عَنِ الْجُمُعَةِ وَتَغْدُو الْمَلاَئِكَةُ فَيَجْلِسُونَ عَلَى أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ فَيَكْتُبُونَ الرَّجُلَ مِنْ سَاعَةٍ وَالرَّجُلَ مِنْ سَاعَتَيْنِ حَتَّى يَخْرُجَ الإِمَامُ فَإِذَا جَلَسَ الرَّجُلُ مَجْلِسًا يَسْتَمْكِنُ فِيهِ مِنَ الاِسْتِمَاعِ وَالنَّظَرِ فَأَنْصَتَ وَلَمْ يَلْغُ كَانَ لَهُ كِفْلاَنِ مِنْ أَجْرٍ فَإِنْ نَأَى وَجَلَسَ حَيْثُ لاَ يَسْمَعُ فَأَنْصَتَ وَلَمْ يَلْغُ كَانَ لَهُ كِفْلٌ مِنْ أَجْرٍ وَإِنْ جَلَسَ مَجْلِسًا يَسْتَمْكِنُ فِيهِ مِنَ الاِسْتِمَاعِ وَالنَّظَرِ فَلَغَا وَلَمْ يُنْصِتْ كَانَ لَهُ كِفْلٌ مِنْ وِزْرٍ وَمَنْ قَالَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ لِصَاحِبِهِ صَهْ . فَقَدْ لَغَا وَمَنْ لَغَا فَلَيْسَ لَهُ فِي جُمُعَتِهِ تِلْكَ شَىْءٌ " . ثُمَّ يَقُولُ فِي آخِرِ ذَلِكَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ذَلِكَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنِ ابْنِ جَابِرٍ قَالَ بِالرَّبَائِثِ وَقَالَ مَوْلَى امْرَأَتِهِ أُمِّ عُثْمَانَ بْنِ عَطَاءٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১০৫১. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... আতা আল-খুরাসানীর স্ত্রী উম্মে উছমানের আযাদকৃত গোলাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আলী (রাযিঃ)-কে কুফার মসজিদে মিম্বরের উপর বসে বলতে শুনেছিঃ যখন জুমআর দিন আসে, তখন শয়তান স্বীয় ঢালসহ বাজারে (বা লোকদের একত্রিত হওয়ার স্থানে) ঘুরে বেড়ায় আর লোকজন বিভিন্ন প্রয়োজনের বেড়াজালে নিক্ষিপ্ত করে নামায হতে বিরত রাখতে চেষ্টা করে এবং জুমআয় হাযির হতে বিলম্ব ঘটায়। পক্ষান্তরে জুমআর দিন ফিরিশতারা দপ্তরসহ (নথিপত্র) আগমন করেন এবং মসজিদের দরজায় উপবেশন করে এবং প্রত্যেক ব্যক্তির আগমনের সময় লিপিবদ্ধ করেন, এমনকি ইমাম খুতবা দেয়ার জন্য মিম্বরের উপর আরোহণ করা পর্যন্ত তাঁরা একাজে লিপ্ত থাকেন। (অতঃপর ইমাম মিম্বরের উপর বসার সাথে সাথেই তাঁরা খাতা বন্ধ করে দেন)।

ইমাম খুতবা দেয়া শুরু করলে যে ব্যক্তি চুপচাপ বসে শুনে সে দুইটি বিনিময় প্রাপ্ত হয়। আর যে ব্যক্তি এতদূরে বসে যে, ইমামের খুতবা শুনতে পায় না; তবুও সে চুপ করে বসে থাকার জন্য একটি বিনিময় প্রাপ্ত হবে। আর যে ব্যক্তি এমন স্থানে উপবেশন করে যেখান হতে সে ইচ্ছা করলে ইমামের খুতবা শুনতে এবং তাকে দেখতেও পারে, কিন্তু সে এরূপ না করে বেহুদা কথা ও কর্মে লিপ্ত হয়, সে গুনাহগার হবে। অতঃপর যে ব্যক্তি জুমআর দিন ইমামের খুতবা দানের সময় অন্যকে চুপ থাকতে বলে সেও বেহুদা কর্মে লিপ্ত হয়। আর যে ব্যক্তি এরূপ বেহুদা কথা বা কর্মে লিপ্ত হয়, সে জুমআর দিনের কোন ফযীলাত প্রাপ্ত হবে না। অতঃপর আলী (রাযিঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এরূপ বলতে শুনেছি।

সূত্র: আলমুসনাদ - ইমাম আহমদ রহঃ

২১৬. জুমআর নামায ত্যাগ করার কঠোর পরিণতি সম্পর্কে।

باب التَّشْدِيدِ فِي تَرْكِ الْجُمُعَةِ

১০৫২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ حَدَّثَنِي عُبَيْدَةُ بْنُ سُفْيَانَ الْحَضْرَمِيُّ، عَنْ أَبِي الْجَعْدِ الضَّمْرِيِّ، - وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ تَرَكَ ثَلاَثَ جُمَعٍ تَهَاوُنًا بِهَا طَبَعَ اللَّهُ عَلَى قَلْبِهِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১০৫২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবুল জাদ্ আদ-দামিরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি বিনা কারণে অলসতা হেতু তিনটি জুমআর নামায পরিত্যাগ করে আল্লাহ তার অন্তরের উপর মোহর মেরে দেন (যাতে কোন কল্যাণ তাতে প্রবেশ করতে না পারে, ফলে তাতে কল্যাণ ও বরকত প্রবেশের দ্বার বন্ধ হয়ে যায়)।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২১৭. জুমআর নামায ত্যাগের কাফফারা।

باب كَفَّارَةِ مَنْ تَرَكَهَا

১০৫৩

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ قُدَامَةَ بْنِ وَبَرَةَ الْعُجَيْفِيِّ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ تَرَكَ الْجُمُعَةَ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ فَلْيَتَصَدَّقْ بِدِينَارٍ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَبِنِصْفِ دِينَارٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَكَذَا رَوَاهُ خَالِدُ بْنُ قَيْسٍ وَخَالَفَهُ فِي الإِسْنَادِ وَوَافَقَهُ فِي الْمَتْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

১০৫৩. আল-হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি বিনা ওযরে জুমআর নামায ত্যাগ করে, সে যেন এক দীনার সাদ্‌কা করে। যদি তার পক্ষে এক দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) সাদ্‌কা করা সম্ভব না হয়, তবে যেন অর্ধ-দীনার সদ্কা করে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১০৫৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ أَيُّوبَ أَبِي الْعَلاَءِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ قُدَامَةَ بْنِ وَبَرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ فَاتَتْهُ الْجُمُعَةُ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ فَلْيَتَصَدَّقْ بِدِرْهَمٍ أَوْ نِصْفِ دِرْهَمٍ أَوْ صَاعِ حِنْطَةٍ أَوْ نِصْفِ صَاعٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ سَعِيدُ بْنُ بَشِيرٍ عَنْ قَتَادَةَ هَكَذَا إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ " مُدًّا أَوْ نِصْفَ مُدٍّ " . وَقَالَ عَنْ سَمُرَةَ ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: سَمِعْت أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ، يُسْأَلُ عَنِ اخْتِلَافِ هَذَا الْحَدِيثِ، فَقَالَ هَمَّامٌ: عِنْدِي أَحْفَظُ مِنْ أَيُّوبَ يَعْنِي أَبَا الْعَلَاءِ

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১০৫৪. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ..... কুদামা ইবনে ওয়াবারাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তির বিনা কারণে জুমআর নামায পরিত্যক্ত হবে, সে যেন এক দিরহাম বা অর্ধ দিরহাম অথবা এক সা’ গম, বা অর্ধ-সা’ গম আল্লাহর ওয়াস্তে সাদ্‌কা করে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২১৮. যাদের উপর জুমআর নামায ফরয।

باب مَنْ تَجِبُ عَلَيْهِ الْجُمُعَةُ

১০৫৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ جَعْفَرٍ، حَدَّثَهُ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ النَّاسُ يَنْتَابُونَ الْجُمُعَةَ مِنْ مَنَازِلِهِمْ وَمِنَ الْعَوَالِي .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১০৫৫. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকজন নিজ নিজ ঘর হতে (মদীনা শহরের) জুমআর নামায আদায়ের জন্য মসজিদে নববীতে আগমন করতেন, এমনকি আওয়ালীয়ে মদীনা’ (অর্থাৎ মদীনার শহরতলী) হতেও লোকজন আসতো।

১০৫৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ، - يَعْنِي الطَّائِفِيَّ - عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ نُبَيْهٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ هَارُونَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْجُمُعَةُ عَلَى كُلِّ مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ جَمَاعَةٌ عَنْ سُفْيَانَ مَقْصُورًا عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو لَمْ يَرْفَعُوهُ وَإِنَّمَا أَسْنَدَهُ قَبِيصَةُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১০৫৬. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যারা জুমআর নামাযের আযান শুনতে পাবে তাদের উপর জুমআর নামায আদায় করা ওয়াজিব। (বাধ্যতামূলক)।

২১৯. বৃষ্টির দিনে জুমআর নামায।

باب الْجُمُعَةِ فِي الْيَوْمِ الْمَطِيرِ

১০৫৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ يَوْمَ، حُنَيْنٍ كَانَ يَوْمَ مَطَرٍ فَأَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مُنَادِيَهُ أَنِ الصَّلاَةُ فِي الرِّحَالِ .

বর্ণনাকারী: আবুল মালীহ (রহঃ)

১০৫৭. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আবু মালীহ (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধের দিন বৃষ্টি হচ্ছিল। তখন নবী করীম (ﷺ) মুয়াযযিনকে স্ব-স্ব অবস্থানে নামায আদায়ের ঘোষণা দেওয়ার নির্দেশ দেন (বৃষ্টিপাতের মধ্যে একত্রিত হয়ে নামায আদায়ের কোন ব্যবস্থা না থাকায় এরূপ করা হয়)।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১০৫৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ صَاحِبٍ، لَهُ عَنْ أَبِي مَلِيحٍ، أَنَّ ذَلِكَ، كَانَ يَوْمَ جُمُعَةٍ .

বর্ণনাকারী: আবুল মালীহ (রহঃ)

১০৫৮। মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) .... আবু মালীহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, এটা (হুনাইনের) ছিল জুমআর দিন।

১০৫৯

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ سُفْيَانُ بْنُ حَبِيبٍ خَبَّرَنَا عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ شَهِدَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ فِي يَوْمِ جُمُعَةٍ وَأَصَابَهُمْ مَطَرٌ لَمْ تَبْتَلَّ أَسْفَلُ نِعَالِهِمْ فَأَمَرَهُمْ أَنْ يُصَلُّوا فِي رِحَالِهِمْ .

বর্ণনাকারী: আবুল মালীহ (রহঃ)

১০৫৯. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ...... আবু মালীহ (রাযিঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় তিনি জুমআর দিন নবী করীম (ﷺ) এর কাছে আসেন। ঐ সময় হালকা বৃষ্টি হয় যাতে জুতার তলাও ভিজে নাই। নবী করীম (ﷺ) সকলকে স্ব-স্ব অবস্থানস্থলে নামায আদায়ের নির্দেশ দেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২২০. শীতের রাতে জামাআতে না যাওয়া সম্পর্কে।

باب التَّخَلُّفِ عَنِ الْجَمَاعَةِ، فِي اللَّيْلَةِ الْبَارِدَةِ

১০৬০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، نَزَلَ بِضَجْنَانَ فِي لَيْلَةٍ بَارِدَةٍ فَأَمَرَ الْمُنَادِيَ فَنَادَى أَنِ الصَّلاَةُ فِي الرِّحَالِ . قَالَ أَيُّوبُ وَحَدَّثَنَا نَافِعٌ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا كَانَتْ لَيْلَةٌ بَارِدَةٌ أَوْ مَطِيرَةٌ أَمَرَ الْمُنَادِيَ فَنَادَى الصَّلاَةُ فِي الرِّحَالِ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

১০৬০. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইেদ (রাহঃ) .... নাফে (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। ইবনে উমর (রাযিঃ) একদা দাজনান্ নামক স্থানে (মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী একটি জায়গা) শীতের রাতে অবতরণ করেন। ঐ সময় তিনি মুয়াযযিনকে স্ব-স্ব স্থানে নামায আদায়ের ঘোষণা দিতে বলেন।

রাবী আইয়ুব বলেন, নাফে (রহ) থেকে ইবনে উমর (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রচন্ড শীত ও বৃষ্টির রাতে মুয়াযযিনকে স্ব-স্ব আবাসে নামায আদায়ের ঘোষণা দেয়ার নির্দেশ দিতেন।
১০৬১

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ نَادَى ابْنُ عُمَرَ بِالصَّلاَةِ بِضَجْنَانَ ثُمَّ نَادَى أَنْ صَلُّوا فِي رِحَالِكُمْ قَالَ فِيهِ ثُمَّ حَدَّثَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَأْمُرُ الْمُنَادِيَ فَيُنَادِي بِالصَّلاَةِ ثُمَّ يُنَادِي " أَنْ صَلُّوا فِي رِحَالِكُمْ " . فِي اللَّيْلَةِ الْبَارِدَةِ وَفِي اللَّيْلَةِ الْمَطِيرَةِ فِي السَّفَرِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَيُّوبَ وَعُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ فِيهِ فِي السَّفَرِ فِي اللَّيْلَةِ الْقَرَّةِ أَوِ الْمَطِيرَةِ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

১০৬১. মুআম্মাল ইবনে হিশাম (রাহঃ) .... নাফে (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) দাজনান নামক স্থানে নামাযের জন্য আযান দেন। অতঃপর তিনি স্ব-স্ব অবস্থানে সকলকে নামায আদায়ের নির্দেশ দেন।

রাবী নাফে (রাহঃ) বলেন, অতঃপর ইবনে উমর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, তিনি (নবী (ﷺ)) মুয়াযযিনকে নামাযের আযান দিতে বলতেন, অতঃপর মুয়াযযিন ঘোষণা দিত যে, সফরের সময় প্রচন্ড শীত অথবা বৃষ্টির রাতে স্ব-স্ব অবস্থানে (তাঁবুতে) নামায আদায় কর।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১০৬২

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ نَادَى بِالصَّلاَةِ بِضَجْنَانَ فِي لَيْلَةٍ ذَاتِ بَرْدٍ وَرِيحٍ فَقَالَ فِي آخِرِ نِدَائِهِ أَلاَ صَلُّوا فِي رِحَالِكُمْ أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ ثُمَّ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْمُرُ الْمُؤَذِّنَ إِذَا كَانَتْ لَيْلَةٌ بَارِدَةٌ أَوْ ذَاتُ مَطَرٍ فِي سَفَرٍ يَقُولُ أَلاَ صَلُّوا فِي رِحَالِكُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১০৬২. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি দাজনান্ নামক স্থানে প্রচন্ড শীত ও বায়ু প্রবাহের রাতে নামাযের আযান দেন এবং আযান শেষে বলেন, তোমরা স্ব-স্ব অবস্থানে নামায আদায় কর। অতঃপর তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরকালীন প্রচন্ড শীত ও বর্ষার সময় স্ব-স্ব তাঁবুতে নামায আদায়ের নির্দেশ দিতেন।

১০৬৩

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، - يَعْنِي أَذَّنَ بِالصَّلاَةِ فِي لَيْلَةٍ ذَاتِ بَرْدٍ وَرِيحٍ - فَقَالَ أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ ثُمَّ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْمُرُ الْمُؤَذِّنَ إِذَا كَانَتْ لَيْلَةٌ بَارِدَةٌ أَوْ ذَاتُ مَطَرٍ يَقُولُ أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

১০৬৩. আল্-কানবী (রাহঃ) .... নাফে (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবনে উমর (রাযিঃ) শীত ও বায়ু প্রবাহের রাতে নামাযের আযানের পর বলেন, শুনে নাও! তোমরা স্ব-স্ব অবস্থানে নামায আদায় কর। অতঃপর তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রচন্ড শীত অথবা বৃষ্টির রাতে মুয়াযযিনকে স্ব-স্ব অবস্থানে নামায আদায় করার ঘোষণা দিতে বলতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১০৬৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ نَادَى مُنَادِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ فِي الْمَدِينَةِ فِي اللَّيْلَةِ الْمَطِيرَةِ وَالْغَدَاةِ الْقَرَّةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى هَذَا الْخَبَرَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ عَنِ الْقَاسِمِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِيهِ فِي السَّفَرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১০৬৪. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মদীনাতে শীতের ভোরে ও বৃষ্টির রাতে নবী করীম (ﷺ) লোকদেরকে স্ব-স্ব আবাসে নামায আদায়ের ঘোষণা দেন।

অপর এক বর্ণনায় আছে যে, ইবনে উমর (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) এর নিকট থেকে এই হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এটা সফরের সময়ের ব্যাপার।
১০৬৫

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَمُطِرْنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِيُصَلِّ مَنْ شَاءَ مِنْكُمْ فِي رَحْلِهِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১০৬৫. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। ঐ সময় বৃষ্টিপাত হওয়ায় তিনি সাহাবীদের বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজ ঘরে নামায আদায়ের ইচ্ছা করে সে তা করতে পারে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১০৬৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْحَمِيدِ، صَاحِبُ الزِّيَادِيِّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ ابْنُ عَمِّ، مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، قَالَ لِمُؤَذِّنِهِ فِي يَوْمٍ مَطِيرٍ إِذَا قُلْتَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ . فَلاَ تَقُلْ حَىَّ عَلَى الصَّلاَةِ . قُلْ صَلُّوا فِي بُيُوتِكُمْ . فَكَأَنَّ النَّاسَ اسْتَنْكَرُوا ذَلِكَ فَقَالَ قَدْ فَعَلَ ذَا مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنِّي إِنَّ الْجُمُعَةَ عَزْمَةٌ وَإِنِّي كَرِهْتُ أَنْ أُحْرِجَكُمْ فَتَمْشُونَ فِي الطِّينِ وَالْمَطَرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১০৬৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিছ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বৃষ্টির দিনে তাঁর মুয়াযযিনকে বলেন, তুমি ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ’’ বলার পর ‘হাইয়্যা আলাস্ সালাত’ বল না, বরং বলবে ‘সাল্লু ফী বাইতিকুম’ (তোমরা নিজ নিজ ঘরে নামায আদায় কর)। এতদশ্রবণে লোকেরা তা অপছন্দ করেন। তখন তিনি বলেন, তা আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি করেছেন। জুমআর নামায আদায় করা ওয়াজিব। এরূপ বৃষ্টি-বাদলের মধ্যে হেটে এসে তা আদায় করবার জন্য তোমাদেরকে বাধ্য করতে আমি পছন্দ করি না।

২২১. মহিলা ও গোলামদের জন্য জুমআর নামায ফরয নয়।

باب الْجُمُعَةِ لِلْمَمْلُوكِ وَالْمَرْأَةِ

১০৬৭

حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا هُرَيْمٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْجُمُعَةُ حَقٌّ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فِي جَمَاعَةٍ إِلاَّ أَرْبَعَةً عَبْدٌ مَمْلُوكٌ أَوِ امْرَأَةٌ أَوْ صَبِيٌّ أَوْ مَرِيضٌ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ طَارِقُ بْنُ شِهَابٍ قَدْ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَسْمَعْ مِنْهُ شَيْئًا .

বর্ণনাকারী: তারিক ইবনে শিহাব (রাঃ)

১০৬৭. আব্বাস ইবনে আব্দুল আযীম (রাহঃ) ..... তারিক ইবনে শিহাব (রহ) থেকে বর্ণিত। নবী করিম (ﷺ) বলেন, জুমআর নামায প্রত্যেক মুসলমানের উপর জামাআতের সাথে আদায় করা ওয়াজিব। কিন্তু তা চার প্রকার লোকের উপর ওয়াজিব নয়ঃ ক্রীতদাস, মহিলা, শিশু ও রুগ্ন ব্যক্তি।

২২২. গ্রামাঞ্চলে জুমআর নামায আদায় সম্পর্কে।

باب الْجُمُعَةِ فِي الْقُرَى

১০৬৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُخَرِّمِيُّ، - لَفْظُهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ إِنَّ أَوَّلَ جُمُعَةٍ جُمِّعَتْ فِي الإِسْلاَمِ بَعْدَ جُمُعَةٍ جُمِّعَتْ فِي مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْمَدِينَةِ لَجُمُعَةٌ جُمِّعَتْ بِجُوَاثَاءَ قَرْيَةٍ مِنْ قُرَى الْبَحْرَيْنِ . قَالَ عُثْمَانُ قَرْيَةٌ مِنْ قُرَى عَبْدِ الْقَيْسِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১০৬৮. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইসলামের প্রথম জুমআ মদীনাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মসজিদে (মসজিদে নববীতে) অনুষ্ঠিত হওয়ার পর অন্য যেখানে প্রথম অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা হল বাহরাইনের আব্দুল কায়েস গোত্রে অবস্থিত ‘‘জাওয়াছা’’ নামক গ্রামে। রাবী উছমান (রাহঃ) বলেন, তা আব্দুল কায়েস নামীয় গোত্রের বসতি এলাকা।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ

১০৬৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، - وَكَانَ قَائِدَ أَبِيهِ بَعْدَ مَا ذَهَبَ بَصَرُهُ عَنْ أَبِيهِ، كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ كَانَ إِذَا سَمِعَ النِّدَاءَ، يَوْمَ الْجُمُعَةِ تَرَحَّمَ لأَسْعَدَ بْنِ زُرَارَةَ . فَقُلْتُ لَهُ إِذَا سَمِعْتَ النِّدَاءَ، تَرَحَّمْتَ لأَسْعَدَ بْنِ زُرَارَةَ قَالَ لأَنَّهُ أَوَّلُ مَنْ جَمَّعَ بِنَا فِي هَزْمِ النَّبِيتِ مِنْ حَرَّةِ بَنِي بَيَاضَةَ فِي نَقِيعٍ يُقَالُ لَهُ نَقِيعُ الْخَضِمَاتِ . قُلْتُ كَمْ أَنْتُمْ يَوْمَئِذٍ قَالَ أَرْبَعُونَ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে কা‘ব ইবনে মালিক (রহঃ)

১০৬৯. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ...... আব্দুর রহমান ইবনে কাব ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তার পিতা কাব (রাযিঃ) এর দৃষ্টিশক্তি বিলুপ্ত হওয়ার পর তিনি তার পরিচালক ছিলেন। তিনি তার পিতা কাব (রাযিঃ) এর সূত্রে হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, তার পিতা যখন জুমার নামাযের আযান শুনতেন, তখন আসআদ ইবনে যুরারা (রাযিঃ) এর জন্য দু'আ করতেন। তার এরূপ দু'আ করার কারণ সম্পর্কে আমি জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, যেহেতু তিনি ইয়ামানের “হাযম আল-নাবিত” নামক গ্রামে আমাদের জন্য সর্বপ্রথম জুমার নামায কায়েম করেন। এই স্থানটি “নাকী” নামক স্থানের “বানি বায়দার-হুররাতে” অবস্থিত এবং তা নাকী আল-খাদামাত নামে প্রসিদ্ধ। অতঃপর আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করি, সে সময়ে আপনারা সংখ্যায় কতজন ছিলেন? তিনি বলেনঃ চল্লিশজন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২২৩. ঈদ ও জুমআ যদি একই দিনে একত্রিত হয়।

باب إِذَا وَافَقَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ يَوْمَ عِيدٍ

১০৭০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ أَبِي رَمْلَةَ الشَّامِيِّ، قَالَ شَهِدْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ وَهُوَ يَسْأَلُ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ قَالَ أَشَهِدْتَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِيدَيْنِ اجْتَمَعَا فِي يَوْمٍ قَالَ نَعَمْ . قَالَ فَكَيْفَ صَنَعَ قَالَ صَلَّى الْعِيدَ ثُمَّ رَخَّصَ فِي الْجُمُعَةِ فَقَالَ " مَنْ شَاءَ أَنْ يُصَلِّيَ فَلْيُصَلِّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রাঃ)

১০৭০. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আইয়াস ইবনে আবু রামলা আশ-শামী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মুআবিয়া বিন আবু সুফীয়ান (রাযিঃ) যায়দ বিন আরকাম (রাযিঃ)-কে কিছু জিজ্ঞাসা করার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তিনি (মুআবিয়া) বলেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়ে তার সাথে ঈদ ও জুমা একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে দেখেছেন? তিনি (যায়দ বিন আরকাম) উত্তর দিলেন: হ্যাঁ। তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি কিরূপে তা আদায় করেছিলেন? তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) প্রথমে ঈদের নামায আদায় করেন, অতঃপর জুমার নামায আদায়ের ব্যাপারে অবকাশ প্রদান করে বলেনঃ যে ব্যক্তি তা আদায় করতে চায়, সে তা আদায় করতে পারে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১০৭১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ الْبَجَلِيُّ، حَدَّثَنَا أَسْبَاطٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، قَالَ صَلَّى بِنَا ابْنُ الزُّبَيْرِ فِي يَوْمِ عِيدٍ فِي يَوْمِ جُمُعَةٍ أَوَّلَ النَّهَارِ ثُمَّ رُحْنَا إِلَى الْجُمُعَةِ فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْنَا فَصَلَّيْنَا وُحْدَانًا وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ بِالطَّائِفِ فَلَمَّا قَدِمَ ذَكَرْنَا ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ أَصَابَ السُّنَّةَ .

বর্ণনাকারী: আতা ইবনে আবী রাবাহ (রহঃ)

১০৭১. মুহাম্মাদ ইবনে তারীফ (রাহঃ) .... আতা ইবনে আবু রাবাহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) জুমার দিনে আমাদের সাথে ঈদের নামায আদায় করেন। অতঃপর সূর্য পশ্চিমাকাশে একটু হেলে যাওয়ার পর আমরা জুমার নামায পড়তে যাই। কিন্তু তিনি না আসাতে আমাদের প্রত্যেকে একাকী নামায আদায় করেন। ঐ সময় ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) তায়েফে ছিলেন। তিনি তায়েফ থেকে ফেরার পর আমরা বিষয়টি তার নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেন, ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) সুন্নত অনুসারে কাজ করেছেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১০৭২

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ قَالَ عَطَاءٌ اجْتَمَعَ يَوْمُ جُمُعَةٍ وَيَوْمُ فِطْرٍ عَلَى عَهْدِ ابْنِ الزُّبَيْرِ فَقَالَ عِيدَانِ اجْتَمَعَا فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ فَجَمَعَهُمَا جَمِيعًا فَصَلاَّهُمَا رَكْعَتَيْنِ بُكْرَةً لَمْ يَزِدْ عَلَيْهِمَا حَتَّى صَلَّى الْعَصْرَ .

বর্ণনাকারী: ইবনে জুরাইজ (রহঃ)

১০৭২. ইয়াহিয়া ইবনে খালাফ (রাহঃ) ..... ইবনে জুরায়জ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আতা (রাযিঃ) বলেছেন, ইবনে যুবায়ের (রাযিঃ) এর সময় একবার ঈদুল ফিতর ও জুমা একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বলেন, একই দিনে দুইটি ঈদের সমাগম হয়েছে। তখন তিনি দুইটিকে একত্রিত করে উভয় ঈদের জন্য দুই রাকআত নামায আদায় করেন এবং সেদিন তিনি আছরের পূর্বে আর কোন নামায পড়েন নি।

১০৭৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى، وَعُمَرُ بْنُ حَفْصٍ الْوَصَّابِيُّ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْمُغِيرَةِ الضَّبِّيِّ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " قَدِ اجْتَمَعَ فِي يَوْمِكُمْ هَذَا عِيدَانِ فَمَنْ شَاءَ أَجْزَأَهُ مِنَ الْجُمُعَةِ وَإِنَّا مُجَمِّعُونَ " . قَالَ عُمَرُ عَنْ شُعْبَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১০৭৩. মুহাম্মাদ ইবনুল মুসাফফা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আজকের এই দিনে দুইটি ঈদের সমাগম হয়েছে (ঈদ ও জুমা)। অতএব কোন ব্যক্তি ইচ্ছা করলে জুমার নামায আদায় করে তার ফযীলত অর্জন করতে পারে এবং আমি দুটিই (ঈদ ও জুমআ) আদায় করব।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২২৪. জুমআর দিনে ফজরের নামাযে যে সূরা পড়তে হয়।

باب مَا يُقْرَأُ فِي صَلاَةِ الصُّبْحِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ

১০৭৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مُخَوَّلِ بْنِ رَاشِدٍ، عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ تَنْزِيلَ السَّجْدَةِ وَ ( هَلْ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ حِينٌ مِنَ الدَّهْرِ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১০৭৪. মুসাদ্দাদ .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমার দিনে ফযরের নামাযে সূরা সিজদা (৩২ নং সূরা) এবং সূরা ইনসান (৭৬ নং সূরা) তিলাওয়াত করতেন।

১০৭৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مُخَوَّلٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ وَزَادَ فِي صَلاَةِ الْجُمُعَةِ بِسُورَةِ الْجُمُعَةِ وَ ( إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ ) .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১০৭৫. মুসাদ্দাদ .... মুখাওয়াল (রাহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসটি একই অর্থে বর্ণিত হয়েছে। তবে সেখানে আরো উল্লেখ আছে যে, তিনি (নবী (ﷺ)) জুমার নামাযে সূরা জুমা এবং সূরা আল-মুনাফিকুন তিলাওয়াত করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

২২৫. জুমআর জন্য পরিধেয় বস্ত্র সম্পর্কে।

باب اللُّبْسِ لِلْجُمُعَةِ

১০৭৬

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رَأَى حُلَّةً سِيَرَاءَ - يَعْنِي تُبَاعُ عِنْدَ بَابِ الْمَسْجِدِ - فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوِ اشْتَرَيْتَ هَذِهِ فَلَبِسْتَهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلِلْوَفْدِ إِذَا قَدِمُوا عَلَيْكَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا يَلْبَسُ هَذِهِ مَنْ لاَ خَلاَقَ لَهُ فِي الآخِرَةِ " . ثُمَّ جَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهَا حُلَلٌ فَأَعْطَى عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ مِنْهَا حُلَّةً فَقَالَ عُمَرُ كَسَوْتَنِيهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَقَدْ قُلْتَ فِي حُلَّةِ عُطَارِدَ مَا قُلْتَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنِّي لَمْ أَكْسُكَهَا لِتَلْبَسَهَا " . فَكَسَاهَا عُمَرُ أَخًا لَهُ مُشْرِكًا بِمَكَّةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১০৭৬. আল-কানবী (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) মসজিদের দরজার সামনে স্বর্ণখচিত রেশমী কাপড় বিক্রয় হতে দেখে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! যদি আপনি এই কাপড় খরিদ করতেন, তবে এর তৈরী জামা জুমার দিনে এবং বহিরাগত প্রতিনিধিগণ যখন আপনার খিদমতে উপস্থিত হয় তখন পরিধান করতে পারতেন।

নবী করীম (ﷺ) বলেন, এটা তো ঐ ব্যক্তি পরিধান করতে পারে যার আখিরাতে কোন অংশ নেই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে ঐ জাতীয় কিছু কাপড় হাদিয়া স্বরূপ এলে তিনি তা থেকে উমর (রাযিঃ)-কে একটি নকশীদার চাদর দান করেন। তখন উমর (রাযিঃ) বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এটা আপনি আমাকে পরিধানের জন্য দিয়েছেন, কিন্তু ইতিপূর্বে আপনি উতারাদের রেশমী কাপড় ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। তখন নবী করীম (ﷺ) বলেন, আমি এটা তোমার পরিধানের জন্য দেইনি। অতপর উমর (রাযিঃ) কাপড়টি মক্কায় তার এক অমুসলিম দুধভাইকে দান করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১০৭৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، وَعَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ وَجَدَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ حُلَّةَ إِسْتَبْرَقٍ تُبَاعُ بِالسُّوقِ فَأَخَذَهَا فَأَتَى بِهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ابْتَعْ هَذِهِ تَجَمَّلْ بِهَا لِلْعِيدِ وَلِلْوَفْدِ . ثُمَّ سَاقَ الْحَدِيثَ وَالأَوَّلُ أَتَمُّ .

বর্ণনাকারী: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

১০৭৭. আহমদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) ..... সালেম (রাহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন একদা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বাজারে রেশমের মোটা কাপড় বিক্রি হতে দেখে তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে পেশ করে বলেন, আপনি এটা খরিদ করুন এবং তা পরিধান করে ঈদের নামায আদায় করতে এবং বহিরাগত প্রতিনিধিদলের সাথে সাক্ষাত করতে পারবেন। অতঃপর উক্ত হাদীসের পরবর্তী অংশ বর্ণিত হয়েছে এবং প্রথম হাদীসটিই পূর্ণাঙ্গ।

১০৭৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، وَعَمْرٌو، أَنَّ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيَّ، حَدَّثَهُ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا عَلَى أَحَدِكُمْ إِنْ وَجَدَ " . أَوْ " مَا عَلَى أَحَدِكُمْ إِنْ وَجَدْتُمْ أَنْ يَتَّخِذَ ثَوْبَيْنِ لِيَوْمِ الْجُمُعَةِ سِوَى ثَوْبَىْ مَهْنَتِهِ " . قَالَ عَمْرٌو وَأَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ مُوسَى بْنِ سَعْدٍ عَنِ ابْنِ حَبَّانَ عَنِ ابْنِ سَلاَمٍ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ذَلِكَ عَلَى الْمِنْبَرِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ مُوسَى بْنِ سَعْدٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১০৭৮. আহমদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) ...... মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহিয়া (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কারো পক্ষে বা তোমাদের পক্ষে সম্ভব হলে-নিজেদের সচরাচর পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া-জুমার নামাযের জন্য পৃথক দুইটি কাপড়ের ব্যবস্থা করে নেবে।

২২৬. জুমআর দিন নামাযের পূর্বে গোলাকার হয়ে বসা।

باب التَّحَلُّقِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَبْلَ الصَّلاَةِ

১০৭৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الشِّرَاءِ وَالْبَيْعِ فِي الْمَسْجِدِ وَأَنْ تُنْشَدَ فِيهِ ضَالَّةٌ وَأَنْ يُنْشَدَ فِيهِ شِعْرٌ وَنَهَى عَنِ التَّحَلُّقِ قَبْلَ الصَّلاَةِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

১০৭৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আমর ইবনে শুয়াইব (রাহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তারঁ পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে বেচা-কেনা করতে, হারানো জিনিস খোঁজ করতে এবং কবিতা পাঠ করতে নিষেধ করেছেন এবং জুমআর দিন নামাযের পূর্বে গোলাকার হয়ে বসতেও নিষেধ করেছেন।

সূত্র: সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

২২৭. মিম্বর তৈরী সম্পর্কে।

باب فِي اتِّخَاذِ الْمِنْبَرِ

১০৮০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيُّ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمِ بْنُ دِينَارٍ، أَنَّ رِجَالاً، أَتَوْا سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ السَّاعِدِيَّ وَقَدِ امْتَرَوْا فِي الْمِنْبَرِ مِمَّ عُودُهُ فَسَأَلُوهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ وَاللَّهِ إِنِّي لأَعْرِفُ مِمَّا هُوَ وَلَقَدْ رَأَيْتُهُ أَوَّلَ يَوْمٍ وُضِعَ وَأَوَّلَ يَوْمٍ جَلَسَ عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى فُلاَنَةَ امْرَأَةٍ قَدْ سَمَّاهَا سَهْلٌ " أَنْ مُرِي غُلاَمَكِ النَّجَّارَ أَنْ يَعْمَلَ لِي أَعْوَادًا أَجْلِسُ عَلَيْهِنَّ إِذَا كَلَّمْتُ النَّاسَ " . فَأَمَرَتْهُ فَعَمِلَهَا مِنْ طَرْفَاءِ الْغَابَةِ ثُمَّ جَاءَ بِهَا فَأَرْسَلَتْهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَ بِهَا فَوُضِعَتْ هَا هُنَا فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى عَلَيْهَا وَكَبَّرَ عَلَيْهَا ثُمَّ رَكَعَ وَهُوَ عَلَيْهَا ثُمَّ نَزَلَ الْقَهْقَرَى فَسَجَدَ فِي أَصْلِ الْمِنْبَرِ ثُمَّ عَادَ فَلَمَّا فَرَغَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ " أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا صَنَعْتُ هَذَا لِتَأْتَمُّوا بِي وَلِتَعَلَّمُوا صَلاَتِي " .

বর্ণনাকারী: আবু হাযিম (রহঃ)

১০৮০. কুতাইবা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ...... আবু হাযিম ইবনে দীনার (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কিছু লোক সন্দীহান হয়ে সাহাল ইবনে সায়াদ আস-সাঈদী (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মিম্বর তৈরী এবং কাঠ সম্পর্কে জানতে চায় এবং তারা তাকে ঐ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! এটা কিসের তৈরী তা আমি অবগত আছি এবং আমি এর (মিম্বরের) প্রথম স্থাপনের দিন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রথম যেদিন তাতে উপবেশন করেন তা আমি স্বচক্ষে অবলোকন করেছি।

একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসার গোত্রের (আয়িশা নাম্নী) এক মহিলার নিকট এক ব্যক্তিকে এই খবরসহ প্রেরণ করেন: তুমি তোমার কাঠমিস্ত্রী মায়মুন নামীয় গোলামকে (রাবী সাহল ঐ মহিলার নাম উল্লেখ করেন) আমার বসে খুতবা দেয়ার জন্য একটি কাঠের মিম্বর তৈরী করতে বল। তিনি ঐ গোলামকে তা তৈরী করার নির্দেশ দেন। তখন ঐ মিস্ত্রী (মদীনা থেকে নয় মাল দূরে) জঙ্গল থেকে সংগৃহীত (ঝাউ নামীয়) গাছের কাঠ দিয়ে মিম্বর তৈরী করেন। অতঃপর তিনি তা নিয়ে তার মালিকার নিকট আসেন। তিনি তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে প্রেরণ করেন। অতপর তার নির্দেশে তা এই স্থানে রাখা হয়।

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এর উপর নামায পড়তে, তাকবীর বলতে এবং রুকু করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি তা থেকে পেছনের দিকে সরে গিয়ে মিম্বরের গোড়ায় (অর্থাৎ মাটিতে) সেজদা করেন। অতঃপর তিনি তার উপরে উঠেন এবং এইরূপে নামায শেষে লোকদের দিকে ফিরে বলেনঃ হে জনগণ! আমি এজন্য এরূপ করেছি যাতে তোমরা আমার অনুসরণ এবং অনুকরণ করতে এবং আমার নামায আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞাত হতে পার।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১০৮১

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي رَوَّادٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمَّا بَدُنَ قَالَ لَهُ تَمِيمٌ الدَّارِيُّ أَلاَ أَتَّخِذُ لَكَ مِنْبَرًا يَا رَسُولَ اللَّهِ يَجْمَعُ - أَوْ يَحْمِلُ - عِظَامَكَ قَالَ " بَلَى " . فَاتَّخَذَ لَهُ مِنْبَرًا مِرْقَاتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১০৮১. আল হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) এর শরীর বার্ধক্য এবং বয়োবৃদ্ধি জনিত কারণে ভারী হয়ে গেলে একদা তামীমুদদারী (রাযিঃ) তাঁকে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি আপনার জন্য একটি মিম্বর তৈরী করে দেব যার উপর আপনি বসতে পারবেন? তিনি বলেন: হ্যাঁ। ঐ সময় তাঁর জন্য দুই ধাপবিশিষ্ট একটি মিম্বর তৈরী করা হয়।

২২৮. মিম্বর রাখার স্থান।

باب مَوْضِعِ الْمِنْبَرِ

১০৮২

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، قَالَ كَانَ بَيْنَ مِنْبَرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَبَيْنَ الْحَائِطِ كَقَدْرِ مَمَرِّ الشَّاةِ .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

১০৮২. মাখলাদ ইবনে খালিদ (রাযিঃ) .... সালামা ইবনুল আকাওয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রক্ষিত মিম্বর কিবলার দিকের প্রাচীরের মাঝখানে একটি বকরী চলাচল করার মত জায়গা ফাঁকা ছিল।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

২২৯. সূর্য পশিমাকাশে হেলে যাওয়ার পূর্বে জুমআর দিন নামায আদায় করা সম্পর্কে।

باب الصَّلاَةِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَبْلَ الزَّوَالِ

১০৮৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا حَسَّانُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي الْخَلِيلِ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَرِهَ الصَّلاَةَ نِصْفَ النَّهَارِ إِلاَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَقَالَ " إِنَّ جَهَنَّمَ تُسْجَرُ إِلاَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هُوَ مُرْسَلٌ مُجَاهِدٌ أَكْبَرُ مِنْ أَبِي الْخَلِيلِ وَأَبُو الْخَلِيلِ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِي قَتَادَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

১০৮৩. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) .... আবু কাতাদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) জুমআর দিন ছাড়া অন্যদিন ঠিক দুপুরে নামায আদায় করা মাকরূহ মনে করতেন। তিনি আরো বলেন, জুমআর দিন ব্যতীত অন্যদিনের এই সময়ে জাহান্নামের আগুন প্রজ্জলিত করা হয়।

২৩০. জুমআর নামাযের ওয়াক্ত।

باب فِي وَقْتِ الْجُمُعَةِ

১০৮৪

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنِي فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنِي عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ التَّيْمِيُّ، سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الْجُمُعَةَ إِذَا مَالَتِ الشَّمْسُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১০৮৪. আল-হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার পর জুমার নামায আদায় করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১০৮৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ الْحَارِثِ، سَمِعْتُ إِيَاسَ بْنَ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْجُمُعَةَ ثُمَّ نَنْصَرِفُ وَلَيْسَ لِلْحِيطَانِ فَىْءٌ .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

১০৮৫. আহমদ ইবনে ইউনুছ (রাহঃ) .... ইয়াস ইবনে সালামা (রাহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে জুমার নামায আদায়ের পর প্রত্যাবর্তন করার পরেও দেওয়ালের ছায়া দেখতাম না। (অর্থাৎ, জুমার নামায তিনি এত তাড়াতাড়ি আদায় করতেন যে, এ সময় সূর্য বেশী হেলে না যাওয়ার কারণে দেওয়ালের ছায়া দেখা যেত না।)

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১০৮৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ كُنَّا نَقِيلُ وَنَتَغَدَّى بَعْدَ الْجُمُعَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

১০৮৬. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... সাহাল ইবনে সাদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জুমআর নামায আদায়ের পরে দিনের প্রথমাংশের খাবার খেয়ে “কায়লুলা” (দুপুরের বিশ্রাম) করতাম।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২৩১. জুমআর নামাযের আযান সম্পর্কে।

باب النِّدَاءِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ

১০৮৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي السَّائِبُ بْنُ يَزِيدَ، أَنَّ الأَذَانَ، كَانَ أَوَّلُهُ حِينَ يَجْلِسُ الإِمَامُ عَلَى الْمِنْبَرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِي عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ - رضى الله عنهما - فَلَمَّا كَانَ خِلاَفَةُ عُثْمَانَ وَكَثُرَ النَّاسُ أَمَرَ عُثْمَانُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ بِالأَذَانِ الثَّالِثِ فَأُذِّنَ بِهِ عَلَى الزَّوْرَاءِ فَثَبَتَ الأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: সাঈব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ)

১০৮৭. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) .... আস-সাইব ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আবু বকর (রাযিঃ) ও উমর (রাযিঃ)-এর যুগে ইমাম যখন খুতবা দেয়ার উদ্দেশ্যে মিম্বরের উপর বসতেন, তখন যে আযান দেয়া হত তাই ছিল জুমআর প্রথম আযান। অতঃপর উসমান (রাযিঃ)-এর খিলাফতকালে যখন মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তখন তিনি তৃতীয় আযানের প্রবর্তন করেন। এই ধরণের প্রথম আযান ‘জাওরা’ নামক স্থানে সর্বপ্রথম প্রদত্ত হয়। অতঃপর এই নিয়ম ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১০৮৮

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ كَانَ يُؤَذَّنُ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ . ثُمَّ سَاقَ نَحْوَ حَدِيثِ يُونُسَ .

বর্ণনাকারী: সাঈব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ)

১০৮৮. আন-নুফায়লী (রাহঃ) ..... আস-সাইব ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমার দিনে যখন মিম্বরের উপর বসতেন, তখন মুয়াযযিন মসজিদের দরজার উপর নবী করীম (ﷺ) এর সামনাসামনি দাঁড়িয়ে আযান দিতেন এবং আবু বকর (রাযিঃ) ও উমর (রাযিঃ)-এর সময়েও এই নিয়ম চালু ছিল। .... অবশিষ্টাংশ পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

১০৮৯

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ السَّائِبِ، قَالَ لَمْ يَكُنْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ مُؤَذِّنٌ وَاحِدٌ بِلاَلٌ ثُمَّ ذَكَرَ مَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: সাঈব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ)

১০৮৯. হান্নাদ ইবনুস-সারী .... আস-সাইব ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একমাত্র মুয়াযযিন ছিলেন।

১০৯০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ السَّائِبَ بْنَ يَزِيدَ ابْنَ أُخْتِ، نَمِرٍ أَخْبَرَهُ قَالَ وَلَمْ يَكُنْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَيْرُ مُؤَذِّنٍ وَاحِدٍ . وَسَاقَ هَذَا الْحَدِيثَ وَلَيْسَ بِتَمَامِهِ .

বর্ণনাকারী: সাঈব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ)

১০৯০. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহিয়া (রাযিঃ) ..... আস-সাইব ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিলাল (রাযিঃ) ব্যতীত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আর কোন মুয়াজ্জিন ছিল না .... হাদীসের শেষ পর্যন্ত এবং এই হাদীস পুর্নাংগ নয়।

২৩২. খুতবার সময় অন্যের সাথে ইমামের কথা বলা সম্পর্কে।

باب الإِمَامِ يُكَلِّمُ الرَّجُلَ فِي خُطْبَتِهِ

১০৯১

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ كَعْبٍ الأَنْطَاكِيُّ، حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ لَمَّا اسْتَوَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَالَ " اجْلِسُوا " . فَسَمِعَ ذَلِكَ ابْنُ مَسْعُودٍ فَجَلَسَ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ فَرَآهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " تَعَالَ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا يُعْرَفُ مُرْسَلاً إِنَّمَا رَوَاهُ النَّاسُ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَمَخْلَدٌ هُوَ شَيْخٌ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১০৯১. ইয়াকুব ইবনে কাব (রাযিঃ) ..... জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমার দিনে খুতবা দেয়ার জন্য মিম্বরের উপর উঠে বলেন, তোমরা বস! ইবনে মাসুদ (রাযিঃ) তা শুনে দরজার উপর বসে পড়েন। কারণ তিনি তখন সেখানেই ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ডেকে বলেন, হে আব্দুল্লাহ! তুমি এদিকে এসো।

২৩৩. ইমাম মিম্বরের উপর উঠে বসা।

باب الْجُلُوسِ إِذَا صَعِدَ الْمِنْبَرَ

১০৯২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، - يَعْنِي ابْنَ عَطَاءٍ - عَنِ الْعُمَرِيِّ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ خُطْبَتَيْنِ كَانَ يَجْلِسُ إِذَا صَعِدَ الْمِنْبَرَ حَتَّى يَفْرُغَ - أُرَاهُ قَالَ الْمُؤَذِّنُ - ثُمَّ يَقُومُ فَيَخْطُبُ ثُمَّ يَجْلِسُ فَلاَ يَتَكَلَّمُ ثُمَّ يَقُومُ فَيَخْطُبُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১০৯২. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুইটি খুতবা দিতেন। তিনি প্রথমে মিম্বরের উপর উঠে বসতেন এবং মুয়াযযিনের আযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই বসে থাকতেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন এবং মাঝখানে কোন কথাবার্তা না বলে কিছুক্ষণ বসে থাকার পর দ্বিতীয় খুতবা দিতেন।

২৩৪. দাঁড়িয়ে খুতবা (ভাষণ) দেয়া সম্পর্কে।

باب الْخُطْبَةِ قَائِمًا

১০৯৩

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَخْطُبُ قَائِمًا ثُمَّ يَجْلِسُ ثُمَّ يَقُومُ فَيَخْطُبُ قَائِمًا فَمَنْ حَدَّثَكَ أَنَّهُ كَانَ يَخْطُبُ جَالِسًا فَقَدْ كَذَبَ فَقَالَ فَقَدْ وَاللَّهِ صَلَّيْتُ مَعَهُ أَكْثَرَ مِنْ أَلْفَىْ صَلاَةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

১০৯৩. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাযিঃ) .... জাবের ইবনে সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দণ্ডায়মান হয়ে খুতবা দিতেন এবং প্রথম খুতবা শেষে কিছুক্ষণ বসে থাকার পর দ্বিতীয় খুতবা দিতেন।

রাবী বলেন, যদি কেউ বলে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বসে খুতবা দিতেন, তবে সে মিথ্যাবাদী। আল্লাহর শপথ! আমি তাঁর সাথে দুই হাজারেরও অধিক ওয়াক্ত নামায আদায় করেছি।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১০৯৪

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، - الْمَعْنَى - عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا سِمَاكٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خُطْبَتَانِ كَانَ يَجْلِسُ بَيْنَهُمَا يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيُذَكِّرُ النَّاسَ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

১০৯৪. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাযিঃ) .... জাবের ইবনে সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুইটি খুতবা দিতেন এবং মাঝখানে বসতেন। তিনি খুতবার মধ্যে কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করতেন এবং লোকদের উপদেশ দিতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১০৯৫

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ قَائِمًا ثُمَّ يَقْعُدُ قَعْدَةً لاَ يَتَكَلَّمُ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

১০৯৫. আবু কামিল (রাযিঃ) ..... জাবির ইবনে সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ)কে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতে দেখেছি। তিনি প্রথম খুতবা দেয়ার পর ক্ষণিকের জন্য বসতেন এবং ঐ সময় কোন কথা বলতেন না ......... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্ববৎ।

২৩৫. ধনুকের উপর ভর করে খুতবা দেয়া।

باب الرَّجُلِ يَخْطُبُ عَلَى قَوْسٍ

১০৯৬

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا شِهَابُ بْنُ خِرَاشٍ، حَدَّثَنِي شُعَيْبُ بْنُ رُزَيْقٍ الطَّائِفِيُّ، قَالَ جَلَسْتُ إِلَى رَجُلٍ لَهُ صُحْبَةٌ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَالُ لَهُ الْحَكَمُ بْنُ حَزْنٍ الْكُلَفِيُّ فَأَنْشَأَ يُحَدِّثُنَا قَالَ وَفَدْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَابِعَ سَبْعَةٍ أَوْ تَاسِعَ تِسْعَةٍ فَدَخَلْنَا عَلَيْهِ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ زُرْنَاكَ فَادْعُ اللَّهَ لَنَا بِخَيْرٍ فَأَمَرَ بِنَا أَوْ أَمَرَ لَنَا بِشَىْءٍ مِنَ التَّمْرِ وَالشَّأْنُ إِذْ ذَاكَ دُونٌ فَأَقَمْنَا بِهَا أَيَّامًا شَهِدْنَا فِيهَا الْجُمُعَةَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ مُتَوَكِّئًا عَلَى عَصًا أَوْ قَوْسٍ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ كَلِمَاتٍ خَفِيفَاتٍ طَيِّبَاتٍ مُبَارَكَاتٍ ثُمَّ قَالَ " أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ لَنْ تُطِيقُوا أَوْ لَنْ تَفْعَلُوا كُلَّ مَا أُمِرْتُمْ بِهِ وَلَكِنْ سَدِّدُوا وَأَبْشِرُوا " . قَالَ أَبُو عَلِيٍّ سَمِعْتُ أَبَا دَاوُدَ قَالَ ثَبَّتَنِي فِي شَىْءٍ مِنْهُ بَعْضُ أَصْحَابِنَا وَقَدْ كَانَ انْقَطَعَ مِنَ الْقِرْطَاسِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১০৯৬. সাঈদ ইবনে মনসুর (রাযিঃ) ..... শুয়াইব ইবনে রুযায়ক আত-তাবিকী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুল (ﷺ)-এর এক সাহাবীর নিকট উপবেশন করি, যার নাম ছিল আল-হাকাম ইবনে হাযান আল-কালফী (রাযিঃ)। তিনি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, একদা আমি সাত জনের সপ্তম বা নয় জনের নবম ব্যক্তি হিসেবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে প্রতিনিধি হিসাবে আগমন করি। ঐ সময় আমরা তাঁকে বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে এসেছি। অতএব আপনি আমাদের কল্যাণ এবং মঙ্গলের জন্য আল্লাহর নিকট দু'আ করুন।

তখন তিনি খোরমা দ্বারা আমাদের আপ্যায়ন করার নির্দেশ দেন। তখন মুসলমানগণ কষ্টের মধ্যে ছিল। আমরা তার সাথে অবস্থানকালে একটি জুমআর দিনও প্রত্যক্ষ করি। ঐ সময় (জুমআর খুতবা দেয়ার সময়) তিনি লাঠি অথবা ধনুকের উপর ভর করে দাঁড়িয়ে খুতবার প্রারম্ভে আল্লাহর প্রশংসা এবং প্রশস্তি জ্ঞাপন করে কয়েকটি হালকা, পবিত্র ও উত্তম বাক্য আস্তে আস্তে বলেন। অতঃপর তিনি বলেন, হে জনগণ! প্রতিটি নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা তোমাদের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়, তবে তোমরা সঠিকভাবে আমল করার চেষ্টা কর এবং সুসংবাদ প্রদান কর।
১০৯৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا عِمْرَانُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ، عَنْ أَبِي عِيَاضٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا تَشَهَّدَ قَالَ " الْحَمْدُ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلاَ هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ أَرْسَلَهُ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا بَيْنَ يَدَىِ السَّاعَةِ مَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ رَشَدَ وَمَنْ يَعْصِهِمَا فَإِنَّهُ لاَ يَضُرُّ إِلاَّ نَفْسَهُ وَلاَ يَضُرُّ اللَّهَ شَيْئًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১০৯৭. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমার খুতবা দানকালে বলতেনঃ “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তারই নিকট সাহায্য চাই এবং ক্ষমা চাই, এবং আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের প্রবৃত্তির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়ত করেন, তাকে গোমরাহকারী কেউ নেই এবং তিনি যাকে গোমরাহ করেন, তাকে হেদায়তকারীও কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তার বান্দা ও রাসূল। তিনি তাকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারী হিসাবে কিয়ামতের পূর্বে প্রেরণ করেছেন। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করবে, সে হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে এবং যে ব্যক্তি তাদের নাফরমানী করবে সে নিজের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই করবেনা এবং সে আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না।

১০৯৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، أَنَّهُ سَأَلَ ابْنَ شِهَابٍ عَنْ تَشَهُّدِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَذَكَرَ نَحْوَهُ قَالَ " وَمَنْ يَعْصِهِمَا فَقَدْ غَوَى " . وَنَسْأَلُ اللَّهَ رَبَّنَا أَنْ يَجْعَلَنَا مِمَّنْ يُطِيعُهُ وَيُطِيعُ رَسُولَهُ وَيَتَّبِعُ رِضْوَانَهُ وَيَجْتَنِبُ سَخَطَهُ فَإِنَّمَا نَحْنُ بِهِ وَلَهُ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

১০৯৮. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ...... ইউনুছ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ইবনে শিহাবকে জুমার দিনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খুতবাদান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তখন তিনি উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করে আরো বলেন, এবং যে ব্যক্তি তাদের (আল্লাহ ও রাসূলের) নাফরমানী করবে সে গোমরাহ হবে। আমরা আমাদের রবের নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদেরকে ঐ দলভুক্ত করেন যারা তার এবং তার রাসূলের আনুগত্য করে এবং তাদেঁর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে এবং অসন্তুষ্টি হতে বেচে থাকে। কেননা, আমরা তার সাথে এবং তার জন্যই।

১০৯৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ رُفَيْعٍ، عَنْ تَمِيمٍ الطَّائِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، أَنَّ خَطِيبًا، خَطَبَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَمَنْ يَعْصِهِمَا فَقَالَ " قُمْ - أَوِ اذْهَبْ - بِئْسَ الْخَطِيبُ أَنْتَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আদী ইবনে হাতিম (রাঃ)

১০৯৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আদী ইবনে হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। জৈনক বক্তা নবী করীম (ﷺ) এর উপস্থিতিতে বক্তৃতা করতে গিয়ে বলে, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করবে এবং যে ব্যক্তি তাদের উভয়ের নাফরমানী করবে”। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ উঠো অথবা ভেগে যাও, তুমি নিকৃষ্ট বক্তা।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১১০০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خُبَيْبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْنٍ، عَنْ بِنْتِ الْحَارِثِ بْنِ النُّعْمَانِ، قَالَتْ مَا حَفِظْتُ ق إِلاَّ مِنْ فِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَخْطُبُ بِهَا كُلَّ جُمُعَةٍ قَالَتْ وَكَانَ تَنُّورُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَتَنُّورُنَا وَاحِدًا قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ عَنْ شُعْبَةَ قَالَ بِنْتِ حَارِثَةَ بْنِ النُّعْمَانِ وَقَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ أُمِّ هِشَامٍ بِنْتِ حَارِثَةَ بْنِ النُّعْمَانِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১১০০. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... হারিছ ইবনেন্ নুমান (রাযিঃ)-এর কন্যা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সূরা কাহাফকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যবান মোবারক হতে শুনে মুখস্থ করেছি। তিনি প্রত্যেক জুমআর দিনে তা তিলাওয়াত করে খুতবা দিতেন। তিনি আরো বলেন, আমরা মহিলারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটবর্তী একই কাতারে সোজা অবস্থান করতাম।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১১০১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي سِمَاكٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَصْدًا وَخُطْبَتُهُ قَصْدًا يَقْرَأُ آيَاتٍ مِنَ الْقُرْآنِ وَيُذَكِّرُ النَّاسَ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

১১০১. মুসাদ্দাদ ....... জাবির বিন সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খুতবা ও নামায উভয় ছিল মধ্যম দৈর্ঘ্যের। তিনি খুতবার মধ্যে কুরআনের বিভিন্ন আয়াত পড়ে লোকদেরকে উপদেশ দিতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১১০২

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ أُخْتِهَا، قَالَتْ مَا أَخَذْتُ ق إِلاَّ مِنْ فِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَؤُهَا فِي كُلِّ جُمُعَةٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَذَا رَوَاهُ يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ وَابْنُ أَبِي الرِّجَالِ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ أُمِّ هِشَامٍ بِنْتِ حَارِثَةَ بْنِ النُّعْمَانِ .

বর্ণনাকারী: আমরাহ বিনতে আব্দুর রহমান (রহঃ)

১১০২. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ...... আমরাহ থেকে তার ভগ্নির সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সূরা কাহাফ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যবান মোবারক হতে শুনে শুনে মুখস্থ করেছি। তিনি এই সূরাটি প্রত্যেক জুমআর দিনে তিলাওয়াত করতেন।

১১০৩

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ أُخْتٍ، لِعَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ كَانَتْ أَكْبَرَ مِنْهَا بِمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: আমরাহ বিনতে আব্দুর রহমান (রহঃ)

১১০৩. ইবনুস সারহ (রাহঃ) .... আমরাহ (রাযিঃ) থেকে তার বোন আব্দুর রহমানের কন্যার সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, আমরাহ এর বোন তাঁর চাইতে বয়সে বড় ছিলেন।

২৩৬. মিম্বরের উপর থাকাবস্থায় দুই হাত তোলা অবাঞ্ছনীয়।

باب رَفْعِ الْيَدَيْنِ عَلَى الْمِنْبَرِ

১১০৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ حُصَيْنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ رَأَى عُمَارَةُ بْنُ رُؤَيْبَةَ بِشْرَ بْنَ مَرْوَانَ وَهُوَ يَدْعُو فِي يَوْمِ جُمُعَةٍ فَقَالَ عُمَارَةُ قَبَّحَ اللَّهُ هَاتَيْنِ الْيَدَيْنِ . قَالَ زَائِدَةُ قَالَ حُصَيْنٌ حَدَّثَنِي عُمَارَةُ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ مَا يَزِيدُ عَلَى هَذِهِ يَعْنِي السَّبَّابَةَ الَّتِي تَلِي الإِبْهَامَ .

বর্ণনাকারী: উমারা ইবনে রুআইবা ছাকাফী (রাঃ)

১১০৪. আহমদ ইবনে ইউনুছ (রাহঃ) ..... হুসাইন ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা উমরা ইবনে রুয়াইবাহ (রাযিঃ) বিশর ইবনে মারওয়ান (রাযিঃ)-কে জুমআর দিনে (হাত তুলে) দু'আ করতে দেখে বলেন, আল্লাহ তার হাত হস্তদ্বয়কে বিনষ্ট করুন! রাবী হুসাইন বলেন, উমরা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মিম্বরে দাড়িঁয়ে এর অধিক কিছু করতে দেখিনি যে, তিনি শাহাদত আঙ্গুল দিয়ে ইশারা ব্যতীত আর কিছুই করেননি।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১১০৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُفَضَّلِ - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذُبَابٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَاهِرًا يَدَيْهِ قَطُّ يَدْعُو عَلَى مِنْبَرِهِ وَلاَ عَلَى غَيْرِهِ وَلَكِنْ رَأَيْتُهُ يَقُولُ هَكَذَا وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ وَعَقَدَ الْوُسْطَى بِالإِبْهَامِ .

বর্ণনাকারী: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

১১০৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... সাহাল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মিম্বর অথবা অন্য কোথাও বেশী উপরে হাত উঠিয়ে দু'আ করতে দেখিনি। বরং তিনি শাহাদত আঙ্গুল উপরে উঠিয়ে ইশারা করতেন এবং বৃদ্ধা ও মধ্যমাকে মিলিয়ে শাহাদত আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করতেন মাত্র।

২৩৭. খুতবাসমূহ সংক্ষেপ করা।

باب إِقْصَارِ الْخُطَبِ

১১০৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الْعَلاَءُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي رَاشِدٍ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ، قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِإِقْصَارِ الْخُطَبِ .

বর্ণনাকারী: আম্মার ইবন ইয়াসির আল-'আনযী (রা)

১১০৬. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে খুতবা সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশ দেন।

১১০৭

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، أَخْبَرَنِي شَيْبَانُ أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ السُّوَائِيِّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ يُطِيلُ الْمَوْعِظَةَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِنَّمَا هُنَّ كَلِمَاتٌ يَسِيرَاتٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

১১০৭. মুহাম্মাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) .... জাবের ইবনে সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমার দিন ওয়াজ-নসীহত দীর্ঘ করতেন না এবং সংক্ষিপ্ত খুতবা দিতেন।

২৩৮. খুতবার সময়ে ইমামের নিকটবর্তী স্থানে বসা।

باب الدُّنُوِّ مِنَ الإِمَامِ عِنْدَ الْمَوْعِظَةِ

১১০৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ وَجَدْتُ فِي كِتَابِ أَبِي بِخَطِّ يَدِهِ وَلَمْ أَسْمَعْهُ مِنْهُ قَالَ قَتَادَةُ عَنْ يَحْيَى بْنِ مَالِكٍ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " احْضُرُوا الذِّكْرَ وَادْنُوا مِنَ الإِمَامِ فَإِنَّ الرَّجُلَ لاَ يَزَالُ يَتَبَاعَدُ حَتَّى يُؤَخَّرَ فِي الْجَنَّةِ وَإِنْ دَخَلَهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

১১০৮. আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... মুআয ইবনে হিশাম (রাযিঃ) বলেন, আমি আমার পিতার হস্ত-লিখিত কিতাবে দেখেছি, কিন্তু আমি তার মুখে শুনিনি। তিনি বলেন, আবু কাতাদা ইয়াহয়া ইবনে মালিক হতে, তিনি সামূরা ইবনে জুনদুব হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন: যেখানে আল্লাহর যিক্‌র হয় তোমরা সেখানে হাযির হবে এবং ইমামের নিকটবর্তী স্থানে থাকবে। কেননা যে ব্যক্তি দুনিয়াতে সবসময় দূরে দূরে অবস্থান করবে (খুতবা, যিক্‌র ইত্যাদি নেককর্ম হতে) যদিও সে বেহেশতী হয়, তবুও সে বিলম্বে তাতে প্রবেশ করবে।

২৩৯. আকস্মিক কারণে ইমামের খুতবায় বিরতি সম্পর্কে।

باب الإِمَامِ يَقْطَعُ الْخُطْبَةَ لِلأَمْرِ يَحْدُثُ

১১০৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ حُبَابٍ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَقْبَلَ الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ - رضى الله عنهما - عَلَيْهِمَا قَمِيصَانِ أَحْمَرَانِ يَعْثُرَانِ وَيَقُومَانِ فَنَزَلَ فَأَخَذَهُمَا فَصَعِدَ بِهِمَا الْمِنْبَرَ ثُمَّ قَالَ " صَدَقَ اللَّهُ ( إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلاَدُكُمْ فِتْنَةٌ ) رَأَيْتُ هَذَيْنِ فَلَمْ أَصْبِرْ " . ثُمَّ أَخَذَ فِي الْخُطْبَةِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

১১০৯. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাযিঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রাহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে খুতবা দানকালে হাসান এবং হুসাইন (রাযিঃ) লাল ডোরা বিশিষ্ট জামা পরিধান করে সেখানে আসার সময় (অল্প বয়স্ক হওয়ায়) পিছলিয়ে পড়ে যান। নবী করীম (ﷺ) খুতবা বন্ধ করে মিম্বর হতে অবতরণ করে তাঁদেরকে নিয়ে পুনরায় মিম্বরে আরোহণ করেন। অতঃপর তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা সত্য বলেছেন: “তোমাদের ধন-সম্পদ এবং সন্তানাদি ফিতনাস্বরূপ”। আমি উভয়কে পড়ে যেতে দেখে সহ্য করতে পারিনি। অতঃপর তিনি খুতবা দেয়া শুরু করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২৪০. ইমামের খুতবা দেয়ার সময় কাপড় জড়িয়ে বসবে না।

باب الاِحْتِبَاءِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ

১১১০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ، حَدَّثَنَا الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي مَرْحُومٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْحُبْوَةِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ .

বর্ণনাকারী: মু‘আয ইবনে আনাস জুহানী রাযি.

১১১০. মুহাম্মাদ ইবনে আউফ (রাহঃ) ..... মুআয ইবনে আনাস (রাযিঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) জুমআর দিনে ইমামের খুতবা প্রদানের সময় হাটুঁ উপরে উঠিয়ে কাপড় জড়িয়ে বসতে নিষেধ করেছেন।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১১১১

حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ حَيَّانَ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزِّبْرِقَانِ، عَنْ يَعْلَى بْنِ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ شَهِدْتُ مَعَ مُعَاوِيَةَ بَيْتَ الْمَقْدِسِ فَجَمَّعَ بِنَا فَنَظَرْتُ فَإِذَا جُلُّ مَنْ فِي الْمَسْجِدِ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَرَأَيْتُهُمْ مُحْتَبِينَ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَانَ ابْنُ عُمَرَ يَحْتَبِي وَالإِمَامُ يَخْطُبُ وَأَنَسُ بْنُ مَالِكٍ وَشُرَيْحٌ وَصَعْصَعَةُ بْنُ صُوحَانَ وَسَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ وَإِبْرَاهِيمُ النَّخَعِيُّ وَمَكْحُولٌ وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ وَنُعَيْمُ بْنُ سَلاَمَةَ قَالَ لاَ بَأْسَ بِهَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَلَمْ يَبْلُغْنِي أَنَّ أَحَدًا كَرِهَهَا إِلاَّ عُبَادَةُ بْنُ نُسَىٍّ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১১১১. দাউদ ইবনে রাশীদ (রাহঃ) .... ইয়ালা ইবনে সাদ্দাদ ইবনে আউস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি মুআবিয়া (রাযিঃ)-এর সাথে বায়তুল মুকাদ্দাসে উপস্থিত ছিলাম এবং তিনি সেদিন জুমআর নামাযের ইমামতি করেন। আমি দেখতে পাই যে, মসজিদে উপস্থিত অধিকাংশ লোকই নবী করীম (ﷺ)-এর সাহাবী। ঐ সময় আমি তাঁদেরকে ইমামের খুতবা প্রদানের সময় কাপড় জড়িয়ে হাঁটু উপরে উঠিয়ে বসতে দেখি।

২৪১. ইমামের খুতবা দেয়ার সময় কথা বলা নিষেধ।

باب الْكَلاَمِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ

১১১২

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قُلْتَ أَنْصِتْ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১১১২. আল-কানবী ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইমামের খুতবা দেয়ার সময় যদি তুমি কাউকে চুপ থাকতেও বল, তবে তুমি বেহুদা কাজ করলে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১১১৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَأَبُو كَامِلٍ قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ، عَنْ حَبِيبٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَحْضُرُ الْجُمُعَةَ ثَلاَثَةُ نَفَرٍ رَجُلٌ حَضَرَهَا يَلْغُو وَهُوَ حَظُّهُ مِنْهَا وَرَجُلٌ حَضَرَهَا يَدْعُو فَهُوَ رَجُلٌ دَعَا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِنْ شَاءَ أَعْطَاهُ وَإِنْ شَاءَ مَنَعَهُ وَرَجُلٌ حَضَرَهَا بِإِنْصَاتٍ وَسُكُوتٍ وَلَمْ يَتَخَطَّ رَقَبَةَ مُسْلِمٍ وَلَمْ يُؤْذِ أَحَدًا فَهِيَ كَفَّارَةٌ إِلَى الْجُمُعَةِ الَّتِي تَلِيهَا وَزِيَادَةُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ وَذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ ( مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا ) " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১১১৩. মুসাদ্দাদ ও আবু কামেল (রাযিঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেন: মসজিদে তিন প্রকারের লোক হাযির হয়ে থাকে। একধরণের লোক মসজিদে উপস্থিত হয়ে এদিক-ওদিক ঘুরাফেরা করে এবং অনর্থক কথা বলে। আর একধরণের লোক মসজিদে হাযির হয়ে খুতবার সময় দু'আ ইত্যাদিতে মশগুল থাকে। আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে এদের দু'আ কবুল করতেও পারেন আবার নাও করতে পারেন। আর এক ধরণের লোক মসজিদে হাযির হয়ে খুতবা পাঠের সময় নিশ্চুপ থাকে এবং অন্যের ঘাড়ের উপর দিয়ে চলাফেরা করেনা এবং অন্যকে কষ্ট দেয় না। এই (তৃতীয় ধরণের) ব্যক্তির জন্য বিগত জুমা হতে এ পর্যন্ত এবং সামনের তিনদিনের জন্য এই নীরবতা কাফফারা স্বরূপ হবে। তা এই জন্য যে, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “যে ব্যক্তি একটি ভাল কাজ করবে সে এর বিনিময়ে দশগুণ সাওয়াব পাবে”।

২৪২. উযু নষ্ট হলে ইমামের অনুমতি চাওয়া সম্পর্কে।

باب اسْتِئْذَانِ الْمُحْدِثِ الإِمَامَ

১১১৪

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ الْمِصِّيصِيُّ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَحْدَثَ أَحَدُكُمْ فِي صَلاَتِهِ فَلْيَأْخُذْ بِأَنْفِهِ ثُمَّ لْيَنْصَرِفْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ وَأَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا دَخَلَ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ " . لَمْ يَذْكُرَا عَائِشَةَ رضى الله عنها .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১১১৪. ইবরাহীম ইবনুল হাছান (রাযিঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন: যখন নামাযের মধ্যে তোমাদের কারো ওযু নষ্ট হয়, তখন সে যেন তার নাক ধরে বের হয়ে যায় (নাক ধরা ওযু নষ্টের পরিচায়ক)।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২৪৩. ইমামের খুতবা দেয়ার সময় মসজিদে উপস্থিত হলে।

باب إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ

১১১৫

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَمْرٍو، - وَهُوَ ابْنُ دِينَارٍ - عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَجُلاً، جَاءَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ فَقَالَ " أَصَلَّيْتَ يَا فُلاَنُ " . قَالَ لاَ . قَالَ " قُمْ فَارْكَعْ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১১১৫. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ...... জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ)-এর খুতবা দেয়ার সময় সেখানে এক ব্যক্তি আগমন করেন। তিনি তাঁকে বলেন, হে অমুক! তুমি কি নামায পড়েছ? ঐ ব্যক্তি বলেন, না। তিনি বললেন: তুমি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করে নাও।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১১১৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَحْبُوبٍ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ جَابِرٍ، وَعَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالاَ جَاءَ سُلَيْكٌ الْغَطَفَانِيُّ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ فَقَالَ لَهُ " أَصَلَّيْتَ شَيْئًا " . قَالَ لاَ . قَالَ " صَلِّ رَكْعَتَيْنِ تَجَوَّزْ فِيهِمَا " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১১১৬. মুহাম্মাদ ইবনে মাহবুব .... জাবের (রাযিঃ) ও আবু হুরাইরা হতে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খুতবাদান কালে সেখানে সালিক আল-গাতাফানী (রাযিঃ) নামক এক ব্যক্তি উপস্থিত হন। তখন তিনি বলেন: তুমি কি কিছু নামায পড়েছ? ঐ ব্যক্তি বলেন, না। তিনি তাকে বলেন, তুমি সংক্ষিপ্তভাবে দুই রাকআত নামায আদায় কর।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১১১৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ طَلْحَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يُحَدِّثُ أَنَّ سُلَيْكًا، جَاءَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ زَادَ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ قَالَ " إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ فَلْيُصَلِّ رَكْعَتَيْنِ يَتَجَوَّزُ فِيهِمَا " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১১১৭. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাযিঃ) ..... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুলাইক (রাযিঃ) মসজিদে আগমন করেন। অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এই বর্ণনায় আরো আছে যে, অতঃপর নবী করীম (ﷺ) মুসল্লীদের লক্ষ্য করে বলেন: ইমামের খুতবা দেয়ার সময় যদি তোমাদের কেউ মসজিদে আসে, তবে সে যেন সংক্ষিপ্তভাবে দুই রাকআত নামায আদায় করে নেয়।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

২৪৪. জুমআর দিনে লোকের কাঁধ টপকিয়ে সামনে যাওয়া সম্পর্কে।

باب تَخَطِّي رِقَابِ النَّاسِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ

১১১৮

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي الزَّاهِرِيَّةِ، قَالَ كُنَّا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ صَاحِبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَجَاءَ رَجُلٌ يَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُسْرٍ جَاءَ رَجُلٌ يَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " اجْلِسْ فَقَدْ آذَيْتَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর আল-আসলামী রাযি.

১১১৮. হারূন ইবনে মারূফ (রাযিঃ) .... আবুল জাহেরিয়া (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী করীম (ﷺ)-এর সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রাযিঃ)-এর সাথে জুমআর নামায আদায়ের জন্য মসজিদে উপস্থিত ছিলাম। ঐ সময় এক ব্যক্তি এসে লোকদের ঘাঁড় টপকিয়ে সামনের দিকে যাচ্ছিল। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রাযিঃ) বলেন, একদা নবী করীম (ﷺ)-এর জুমআর খুতবা দানকালে এক ব্যক্তি লোকের ঘাঁড় টপকিয়ে যেতে থাকলে তিনি তাকে বলেন: তুমি বস! তুমি অন্যকে কষ্ট দিচ্ছ। তুমি অন্যকে কষ্ট দিচ্ছ।

২৪৫. ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় কারো তন্দ্রা আসলে।

باب الرَّجُلِ يَنْعَسُ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ

১১১৯

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، عَنْ عَبْدَةَ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ فَلْيَتَحَوَّلْ مِنْ مَجْلِسِهِ ذَلِكَ إِلَى غَيْرِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১১১৯. হান্নাদ ইবনুস সারী (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: যদি মসজিদে কোন ব্যক্তি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়, তবে সে যেন স্বীয় স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র সরে বসে।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২৪৬. খুতবা শেষে মিম্বর হতে নেমে ইমামের কথা বলা সম্পর্কে।

باب الإِمَامِ يَتَكَلَّمُ بَعْدَ مَا يَنْزِلُ مِنَ الْمِنْبَرِ

১১২০

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ جَرِيرٍ، - هُوَ ابْنُ حَازِمٍ لاَ أَدْرِي كَيْفَ قَالَهُ مُسْلِمٌ أَوْ لاَ - عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْزِلُ مِنَ الْمِنْبَرِ فَيَعْرِضُ لَهُ الرَّجُلُ فِي الْحَاجَةِ فَيَقُومُ مَعَهُ حَتَّى يَقْضِيَ حَاجَتَهُ ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْحَدِيثُ لَيْسَ بِمَعْرُوفٍ عَنْ ثَابِتٍ هُوَ مِمَّا تَفَرَّدَ بِهِ جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১১২০. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ...... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসূলু্ল্লাহ (ﷺ)-কে মিম্বর হতে নামতে দেখলাম। এ সময় এক ব্যক্তি নিজের প্রয়োজনে তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ান। তখন তিনি তার প্রয়োজন পূরণের পর নামায আদায় করেন।

সূত্র: সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

২৪৭. যে ব্যক্তি জুমআর নামাযের এক রাকআত পায়।

باب مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الْجُمُعَةِ رَكْعَةً

১১২১

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصَّلاَةِ فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلاَةَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১১২১. আল-কানবী (রাহঃ) ..... আবু হুরাইরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি নামাযের এক রাকআত পেল, সে যেন সম্পূর্ণ নামায পেল।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

২৪৮. জুমআর নামাযের কিরা’আত সম্পর্কে।

باب مَا يُقْرَأُ بِهِ فِي الْجُمُعَةِ

১১২২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ فِي الْعِيدَيْنِ وَيَوْمِ الْجُمُعَةِ بِـ ( سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى ) وَ ( هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ ) قَالَ وَرُبَّمَا اجْتَمَعَا فِي يَوْمٍ وَاحِدٍ فَقَرَأَ بِهِمَا .

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

১১২২. কুতাইবা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ...... নুমান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুই ঈদের নামাযে এবং জুমার নামাযে “সাব্বিহিছমা রাব্বিকাল আ'লা” এবং “হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়াহ” সূরাদ্বয় তিলাওয়াত করতেন। রাবী বলেন, ঈদ ও জুমআ একই দিনে অনুষ্ঠিত হলেও তিনি সূরাদ্বয় তিলাওয়াত করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১১২৩

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ سَعِيدٍ الْمَازِنِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ الضَّحَّاكَ بْنَ قَيْسٍ، سَأَلَ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ مَاذَا كَانَ يَقْرَأُ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْجُمُعَةِ عَلَى إِثْرِ سُورَةِ الْجُمُعَةِ فَقَالَ كَانَ يَقْرَأُ ( هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

১১২৩. আল-কানবী (রাহঃ) ..... আদ-দাহহাক ইবনে কায়েস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নুমান ইবনে বশীর (রাযিঃ)-কে প্রশ্ন করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমআর নামাযে সূরা জুমআর পরে কোন সূরা পাঠ করতেন? তিনি বলেন, তিনি “হাল আতাকা হাদীসুল-গাশিয়াহ” পাঠ করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১১২৪

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ بِلاَلٍ - عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ أَبِي رَافِعٍ، قَالَ صَلَّى بِنَا أَبُو هُرَيْرَةَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَرَأَ بِسُورَةِ الْجُمُعَةِ وَفِي الرَّكْعَةِ الآخِرَةِ ( إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ ) قَالَ فَأَدْرَكْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ حِينَ انْصَرَفَ فَقُلْتُ لَهُ إِنَّكَ قَرَأْتَ بِسُورَتَيْنِ كَانَ عَلِيٌّ - رضى الله عنه - يَقْرَأُ بِهِمَا بِالْكُوفَةِ . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ بِهِمَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১১২৪. আল-কানবী (রাহঃ) ...... ইবনে আবু রাফে (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবু হুরায়রা (রাযিঃ) জুমআর নামাযের ইমামতি করার সময় প্রথম রাকআতে সূরা জুমআ এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরা মুনাফিকুন তিলাওয়াত করেন।

রাবী বলেন, তার ফেরার পথে তার সাথে আমার সাক্ষাত হলে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করি: আলী (রাযিঃ) কুফাতে (জুমআর নামাযে) যে সূরাদ্বয় পাঠ করেছেন, আপনিও দেখি তাই পাঠ করলেন! উত্তরে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জুমআর নামাযে এই সূরাদ্বয় তিলাওয়াত করতে শুনেছি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১১২৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مَعْبَدِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ فِي صَلاَةِ الْجُمُعَةِ ( سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى ) وَ ( هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

১১২৫. মুসাদ্দদ (রাহঃ) ..... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমার নামাযের প্রথম রাকআতে “সাব্বিহিছমা রাব্বিকাল আলা” এবং দ্বিতীয় রাকআতে “হাল আতাকা হাদীসুল গাশিয়াহ” তিলাওয়াত করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

২৪৯. ইমাম ও মুক্তাদীর মাঝখানে প্রাচীর থাকলে।

باب الرَّجُلِ يَأْتَمُّ بِالإِمَامِ وَبَيْنَهُمَا جِدَارٌ

১১২৬

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حُجْرَتِهِ وَالنَّاسُ يَأْتَمُّونَ بِهِ مِنْ وَرَاءِ الْحُجْرَةِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১১২৬. যুহায়ের ইবনে হারব (রাযিঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কক্ষে অবস্থান করে নামাযের ইমামতি করেন। এসময়ে লোকেরা (মুক্তাদীগণ) হুজরার পেছনের দিকে থেকে তাঁর ইকতিদা করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ

২৫০. জুমআর ফরযের পরে সুন্নত নামায আদায় সম্পর্কে।

باب الصَّلاَةِ بَعْدَ الْجُمُعَةِ

১১২৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، رَأَى رَجُلاً يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِي مَقَامِهِ فَدَفَعَهُ وَقَالَ أَتُصَلِّي الْجُمُعَةَ أَرْبَعًا وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ يُصَلِّي يَوْمَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ وَيَقُولُ هَكَذَا فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

১১২৭. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইেদ (রাহঃ) .... নাফে (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) কোন এক ব্যক্তিকে জুমার নামায আদায়ের পর স্বীয় স্থানে দাঁড়িয়ে দুই রাকআত নফল নামায আদায় করতে দেখেন। তিনি তাকে উক্ত স্থান হতে সরে যেতে নির্দেশ দিয়ে বলেন, তুমি কি জুমআর নামায চার রাকআত আদায় করবে? আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) জুমআর দিনে (জুমআর নামায আদায়ের পর) নিজের ঘরে দুই রাকআত নফল নামায আদায় করতেন। তিনি বলতেন, রাসূলে করীম (ﷺ) এরূপ করতেন।

১১২৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ كَانَ ابْنُ عُمَرَ يُطِيلُ الصَّلاَةَ قَبْلَ الْجُمُعَةِ وَيُصَلِّي بَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ وَيُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

১১২৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... নাফে (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) জুমআর ফরযের পূর্ববর্তী নামায (অর্থাৎ, সুন্নত নামায) দীর্ঘায়িত করতেন এবং জুমআর নামায আদায়ের পর ঘরে ফিরে দুই রাকআত আদায় করতেন। তিনি আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এইরূপে জুমআর দিনে নামায আদায় করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১১২৯

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ عَطَاءِ بْنِ أَبِي الْخُوَارِ، أَنَّ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرٍ، أَرْسَلَهُ إِلَى السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ ابْنِ أُخْتِ نَمِرٍ يَسْأَلُهُ عَنْ شَىْءٍ، رَأَى مِنْهُ مُعَاوِيَةُ فِي الصَّلاَةِ فَقَالَ صَلَّيْتُ مَعَهُ الْجُمُعَةَ فِي الْمَقْصُورَةِ فَلَمَّا سَلَّمْتُ قُمْتُ فِي مَقَامِي فَصَلَّيْتُ فَلَمَّا دَخَلَ أَرْسَلَ إِلَىَّ فَقَالَ لاَ تَعُدْ لِمَا صَنَعْتَ إِذَا صَلَّيْتَ الْجُمُعَةَ فَلاَ تَصِلْهَا بِصَلاَةٍ حَتَّى تَكَلَّمَ أَوْ تَخْرُجَ فَإِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِذَلِكَ أَنْ لاَ تُوصَلَ صَلاَةٌ بِصَلاَةٍ حَتَّى يَتَكَلَّمَ أَوْ يَخْرُجَ .

বর্ণনাকারী: নাফি' ইবনে জুবাইর (রহঃ)

১১২৯. আল-হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... নাফে ইবনে যুবায়ের (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমর ইবনে আতা (রাহঃ) তাঁকে সায়েব (রাযিঃ)-এর খিদমতে এই সংবাদ সহ পাঠান যে, আপনি নামায আদায়কালে মুআবিয়া (রাযিঃ) আপনাকে কি করতে দেখেছেন? তিনি বলেন, একদা আমি মসজিদের মেহরাবে তাঁর সাথে জুমার নামায আদায় করি। নামাযের সালাম ফিরাবার পর আমি স্বস্থানে নামায আদায় করি। এ সময় মুআবিয়া (রাযিঃ) তাঁর ঘরে গিয়ে আমার নিকট সংবাদ পাঠান যে, তুমি এখন যেরূপ করেছ আর কখনো এরূপ করবে না। জুমআর ফরয নামায আদায়ের পর, স্থান না বদলিয়ে বা কথা না বলে পুনঃ নামাযে দাড়াঁবে না। কেননা নবী করীম (ﷺ) বলেছেন: কেউ যেন এক নামাযের (ফরয নামাযের) সাথে অন্য নামায না মিলায়, যতক্ষণ না সে ঐ স্থান ত্যাগ করে বা কথা বলে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১১৩০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رِزْمَةَ الْمَرْوَزِيُّ، أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ إِذَا كَانَ بِمَكَّةَ فَصَلَّى الْجُمُعَةَ تَقَدَّمَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ تَقَدَّمَ فَصَلَّى أَرْبَعًا وَإِذَا كَانَ بِالْمَدِينَةِ صَلَّى الْجُمُعَةَ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى بَيْتِهِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَلَمْ يُصَلِّ فِي الْمَسْجِدِ فَقِيلَ لَهُ فَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১১৩০. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আযীয ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি মক্কায় অবস্থানকালে জুমআর ফরয নামায আদায়ের পর নিজ স্থান ত্যাগ করে একটু সামনে এগিয়ে দুই রাকআত নামায আদায় করতেন। অতঃপর আরো একটু সামনে এগিয়ে চার রাকআত আদায় করতেন। আর তিনি মদীনায় অবস্থানকালে জুমআর ফরয নামায আদায় শেষে ঘরে ফিরে দুই রাকআত আদায় করতেন। তখন তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এইরূপ করতেন।

১১৩১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - قَالَ ابْنُ الصَّبَّاحِ قَالَ - " مَنْ كَانَ مُصَلِّيًا بَعْدَ الْجُمُعَةِ فَلْيُصَلِّ أَرْبَعًا " . وَتَمَّ حَدِيثُهُ وَقَالَ ابْنُ يُونُسَ " إِذَا صَلَّيْتُمُ الْجُمُعَةَ فَصَلُّوا بَعْدَهَا أَرْبَعًا " . قَالَ فَقَالَ لِي أَبِي يَا بُنَىَّ فَإِنْ صَلَّيْتَ فِي الْمَسْجِدِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَتَيْتَ الْمَنْزِلَ أَوِ الْبَيْتَ فَصَلِّ رَكْعَتَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১১৩১. আহমদ ইবনে ইউনুছ ও মুহাম্মাদ ইবনে সাব্বাহ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি জুমআর ফরয নামায আদায়ের পর অন্য নামায আদায় করে সে যেন চার রাকআত আদায় করে (এটা রাবী ইবনুস সাব্বাহের বর্ণনা)। তিনি (নবী (ﷺ)) আরো বলেছেন: জুমআর ফরয নামায আদায়ের পর আরো চার রাকআত আদায় করবে।

রাবী সাহল বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেন, হে বৎস! যদি তুমি জুমার ফরয নামায আদায়ের পর সেখানে দুই রাকআত নামায আদায় কর তবে ঘরে ফিরেও দুই রাকআত নামায আদায় করবে। এই বর্ণনাটি রাবী ইবনে ইউনুছের।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১১৩২

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ فِي بَيْتِهِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১১৩২. আল-হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুমআর ফরয নামায আদায়ের পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘরে ফিরে দুই রাকআত নামায পড়তেন।

সূত্র: সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১১৩৩

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، أَنَّهُ رَأَى ابْنَ عُمَرَ يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ فَيَنْمَازُ عَنْ مُصَلاَّهُ الَّذِي، صَلَّى فِيهِ الْجُمُعَةَ قَلِيلاً غَيْرَ كَثِيرٍ قَالَ فَيَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ قَالَ ثُمَّ يَمْشِي أَنْفَسَ مِنْ ذَلِكَ فَيَرْكَعُ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ قُلْتُ لِعَطَاءٍ كَمْ رَأَيْتَ ابْنَ عُمَرَ يَصْنَعُ ذَلِكَ قَالَ مِرَارًا قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ وَلَمْ يُتِمَّهُ .

বর্ণনাকারী: আতা ইবনে আবী রাবাহ (রহঃ)

১১৩৩. ইবরাহীম ইবনুল হাসান (রাহঃ) .... আতা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে জুমআর ফরয নামায আদায়ের পর নিজ স্থান হতে একটু সরে গিয়ে দুই রাকআত নামায আদায় করতে দেখেন। অতঃপর তিনি আরেকটু সরে গিয়ে চার রাকআত আদায় করেন।

রাবী বলেন, আমি আতা (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি, আপনি ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে এইরূপে নামায আদায় করতে কতবার দেখেছেন? তিনি বলেন, বহুবার।

২৫১. দুই ঈদের নামায।

باب صَلاَةِ الْعِيدَيْنِ

১১৩৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَلَهُمْ يَوْمَانِ يَلْعَبُونَ فِيهِمَا فَقَالَ " مَا هَذَانِ الْيَوْمَانِ " . قَالُوا كُنَّا نَلْعَبُ فِيهِمَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَبْدَلَكُمْ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا يَوْمَ الأَضْحَى وَيَوْمَ الْفِطْرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১১৩৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ............ আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় পৌঁছে দেখতে পান যে, সেখানকার অধিবাসীরা দুইটি দিন (নায়মূক ও মেহেরজান) খেলাধূলা ও আনন্দ-উৎসব করে থাকে। তিনি (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেন, এই দুইটি দিন কিসের? তারা বলেন, জাহিলী যুগে আমরা এই দুই দিন খেলাধূলা ও উৎসব করতাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে এই দুই দিনের পরিবর্তে অন্য দুইটি উত্তম দিন দান করেছেন এবং তা হল: কুরবানীর ঈদ এবং রোযার ঈদ।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২৫২. ঈদের নামাযের জন্য মাঠে যাওয়ার সময়।

باب وَقْتِ الْخُرُوجِ إِلَى الْعِيدِ

১১৩৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا صَفْوَانُ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خُمَيْرٍ الرَّحْبِيُّ، قَالَ خَرَجَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُسْرٍ صَاحِبُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَعَ النَّاسِ فِي يَوْمِ عِيدِ فِطْرٍ أَوْ أَضْحَى فَأَنْكَرَ إِبْطَاءَ الإِمَامِ فَقَالَ إِنَّا كُنَّا قَدْ فَرَغْنَا سَاعَتَنَا هَذِهِ وَذَلِكَ حِينَ التَّسْبِيحِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর আল-আসলামী রাযি.

১১৩৫. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাযিঃ) ....... ইয়াযীদ ইবনে খুমায়ের (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর (রাযিঃ) ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহার দিন লোকদের সাথে নামায আদায়ের জন্য রওয়ানা হন। ইমামের বিলম্বের কারণে তিনি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে আমরা এমন সময় অর্থাৎ, ইশরাকের সময় (সূর্য কিছু উপরে উঠতে) নামাযই শেষ করতাম।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২৫৩. মহিলাদের ঈদের নামাযে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে মাঠে যাওয়া।

باب خُرُوجِ النِّسَاءِ فِي الْعِيدِ

১১৩৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، وَيُونُسَ، وَحَبِيبٍ، وَيَحْيَى بْنِ عَتِيقٍ، وَهِشَامٍ، - فِي آخَرِينَ - عَنْ مُحَمَّدٍ، أَنَّ أُمَّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نُخْرِجَ ذَوَاتِ الْخُدُورِ يَوْمَ الْعِيدِ . قِيلَ فَالْحُيَّضُ قَالَ " لِيَشْهَدْنَ الْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْمُسْلِمِينَ " . قَالَ فَقَالَتِ امْرَأَةٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ لَمْ يَكُنْ لإِحْدَاهُنَّ ثَوْبٌ كَيْفَ تَصْنَعُ قَالَ " تُلْبِسُهَا صَاحِبَتُهَا طَائِفَةً مِنْ ثَوْبِهَا " .

বর্ণনাকারী: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

১১৩৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... উম্মে আতিয়্যা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদের নামাযে যাওয়ার জন্য মহিলাদের নির্দেশ দেন। এ সময় তাঁকে ঋতুবতী মহিলাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ওয়ায-নসীহতে এবং দু'আয় তাদেরও হাযির হওয়া উচিত। এ সময় এক মহিলা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! শরীর ঢেকে ঈদগাহে যাওয়ার জন্য যদি কোন মহিলার পর্যাপ্ত কাপড় না থাকে তবে সে কি করবে? তিনি বলেন, তার সাথী মহিলার অতিরিক্ত কাপড় জড়িয়ে যাবে।

১১৩৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، بِهَذَا الْخَبَرِ قَالَ " وَيَعْتَزِلُ الْحُيَّضُ مُصَلَّى الْمُسْلِمِينَ " . وَلَمْ يَذْكُرِ الثَّوْبَ . قَالَ وَحَدَّثَ عَنْ حَفْصَةَ عَنِ امْرَأَةٍ تُحَدِّثُهُ عَنِ امْرَأَةٍ أُخْرَى قَالَتْ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَذَكَرَ مَعْنَى حَدِيثِ مُوسَى فِي الثَّوْبِ .

বর্ণনাকারী: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

১১৩৭. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইেদ (রাহঃ) ..... উম্মে আতিয়্যা (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে। অতঃপর নবী করীম (ﷺ) বলেন: ঋতুবতী মহিলারা অন্যদের থেকে পৃথক থাকবে। এই হাদীসে কাপড়ের কথা উল্লেখ নাই।

১১৩৮

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الأَحْوَلُ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ كُنَّا نُؤْمَرُ بِهَذَا الْخَبَرِ قَالَتْ وَالْحُيَّضُ يَكُنَّ خَلْفَ النَّاسِ فَيُكَبِّرْنَ مَعَ النَّاسِ .

বর্ণনাকারী: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

১১৩৮. আন-নুফায়লী ....... উম্মে আতিয়্যা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে ঈদের নামাযে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। রাবী বলেন, ঋতুবতী মহিলারা সকলের পিছনে থেকে কেবলমাত্র লোকদের সাথে তাকবীরে শামিল হবে।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১১৩৯

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، - يَعْنِي الطَّيَالِسِيَّ - وَمُسْلِمٌ قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ عَطِيَّةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ جَمَعَ نِسَاءَ الأَنْصَارِ فِي بَيْتٍ فَأَرْسَلَ إِلَيْنَا عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَقَامَ عَلَى الْبَابِ فَسَلَّمَ عَلَيْنَا فَرَدَدْنَا عَلَيْهِ السَّلاَمَ ثُمَّ قَالَ أَنَا رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْكُنَّ . وَأَمَرَنَا بِالْعِيدَيْنِ أَنْ نُخْرِجَ فِيهِمَا الْحُيَّضَ وَالْعُتَّقَ وَلاَ جُمُعَةَ عَلَيْنَا وَنَهَانَا عَنِ اتِّبَاعِ الْجَنَائِزِ .

বর্ণনাকারী: উম্মে আতিয়্যা (রাঃ)

১১৩৯. আবুল ওয়ালিদ আত-তায়ালিসী ও মুসলিম (রাহঃ) ...... উম্মে আতিয়্যা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) মদীনায় এসে আনসারদের মহিলাদেরকে এক বাড়িতে একত্রিত করেন। অতঃপর তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-কে আমাদের নিকট প্রেরণ করেন। তিনি বাড়ির দরজার নিকট এসে আমাদেরকে সালাম করলে আমরা তার জবাব দেই। অতঃপর তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দূত হিসাবে তোমাদের নিকট হাযির। তিনি আমাদেরকে ঈদের নামাযে হাযির হওয়ার নির্দেশ দেন এবং ঋতুবতী ও বিবাহযোগ্য কিশোরীদেরকেও সেখানে হাযির হতে বলেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের (মহিলাদের) উপর জুমআর নামায ওয়াযিব নয়। তিনি আমাদেরকে জানাযায় যেতে নিষেধ করেন।

২৫৪. ঈদের দিনের খুতবা (ভাষণ)।

باب الْخُطْبَةِ يَوْمَ الْعِيدِ

১১৪০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ رَجَاءٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، ح وَعَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ أَخْرَجَ مَرْوَانُ الْمِنْبَرَ فِي يَوْمِ عِيدٍ فَبَدَأَ بِالْخُطْبَةِ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا مَرْوَانُ خَالَفْتَ السُّنَّةَ أَخْرَجْتَ الْمِنْبَرَ فِي يَوْمِ عِيدٍ وَلَمْ يَكُنْ يُخْرَجُ فِيهِ وَبَدَأْتَ بِالْخُطْبَةِ قَبْلَ الصَّلاَةِ . فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ مَنْ هَذَا قَالُوا فُلاَنُ بْنُ فُلاَنٍ . فَقَالَ أَمَّا هَذَا فَقَدْ قَضَى مَا عَلَيْهِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ رَأَى مُنْكَرًا فَاسْتَطَاعَ أَنْ يُغَيِّرَهُ بِيَدِهِ فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১১৪০. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা এবং কায়েস ইবনুল মুসলিম (রাযিঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ঈদের দিনে মারওয়ান খুতবা দেয়ার উদ্দেশ্যে মিম্বর স্থাপন করেন এবং নামাযের পূর্বেই খুতবা দেওয়া শুরু করেন। তখন জৈনক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলেন, হে মারওয়ান! তুমি সুন্নতের বরখেলাফ করছ। তুমি ঈদের দিনে মিম্বর বাইরে এনেছ, যা ইতিপূর্বে কখনো করা হয়নি এবং তুমি নামাযের পূর্বে খুতবা দিয়েছ।

তখন আবু সাঈদ খুদুরী (রাযিঃ) বলেন, এই ব্যক্তি কে? তারা বলেন, অমুকের পুত্র অমুক। তিনি বলেন, সে তার দায়িত্ব পালন করেছে। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: তোমাদের মধ্যে কেউ যখন শরীয়ত বিরোধী কোন কাজ হতে দেখে, তখন সম্ভব হলে তাকে হাত (শক্তি) দ্বারা বাধাঁ দেবে। যদি হাত দ্বারা তাকে বাঁধা দেয়া সম্ভব না হয় তবে মুখ দ্বারা প্রতিবাদ করবে। যদি তাও সম্ভব না হয় তবে তাকে অন্তর দ্বারা ঘৃণা করবে এবং এটা দুর্বলতম ঈমানের পরিচায়ক।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১১৪১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَامَ يَوْمَ الْفِطْرِ فَصَلَّى فَبَدَأَ بِالصَّلاَةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ ثُمَّ خَطَبَ النَّاسَ فَلَمَّا فَرَغَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَزَلَ فَأَتَى النِّسَاءَ فَذَكَّرَهُنَّ وَهُوَ يَتَوَكَّأُ عَلَى يَدِ بِلاَلٍ وَبِلاَلٌ بَاسِطٌ ثَوْبَهُ تُلْقِي فِيهِ النِّسَاءُ الصَّدَقَةَ قَالَ تُلْقِي الْمَرْأَةُ فَتَخَهَا وَيُلْقِينَ وَيُلْقِينَ وَقَالَ ابْنُ بَكْرٍ فَتَخَتَهَا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১১৪১. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ঈদুল ফিতরের দিনে খুতবার পূর্বে নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি খুতবা দেন। খুতবা শেষ করার পর নবী করীম (ﷺ) মহিলাদের নিকট যান এবং তাদের উপদেশ দান করেন। এ সময় তিনি বিলাল (রাযিঃ)-এর হাতের উপর ভর করেছিলেন এবং বিলাল (রাযিঃ) তার কাপড় বিছিয়ে দিয়েছিলেন, যার মধ্যে মহিলারা দান-সাদ্‌কাহ নিক্ষেপ করেন।

রাবী বলেন, এ সময় মহিলারা নিজেদের গহনাপত্রও সেখানে দান করছিলেন এবং এ ব্যাপারে বারংবার উৎসাহিত করা হচ্ছিল।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

২৫৩. মহিলাদের ঈদের নামাযে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে মাঠে যাওয়া।

باب خُرُوجِ النِّسَاءِ فِي الْعِيدِ

১১৪২

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ أَشْهَدُ عَلَى ابْنِ عَبَّاسٍ وَشَهِدَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ خَرَجَ يَوْمَ فِطْرٍ فَصَلَّى ثُمَّ خَطَبَ ثُمَّ أَتَى النِّسَاءَ وَمَعَهُ بِلاَلٌ . قَالَ ابْنُ كَثِيرٍ أَكْبَرُ عِلْمِ شُعْبَةَ فَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ فَجَعَلْنَ يُلْقِينَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১১৪২. হাফস্ ইবনে উমর ও ইবনে কাসীর (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল ফিতরের দিন নামায শেষে খুতবা দেন। অতঃপর তিনি বেলাল (রাযিঃ)-কে সাথে নিয়ে মহিলাদের নিকট যান এবং তাদেরকে দান-সাদ্‌কার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। তারা নিজেদের অলংকারাদি দান করতে থাকেন।

১১৪৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَأَبُو مَعْمَرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، بِمَعْنَاهُ قَالَ فَظَنَّ أَنَّهُ لَمْ يُسْمِعِ النِّسَاءَ فَمَشَى إِلَيْهِنَّ وَبِلاَلٌ مَعَهُ فَوَعَظَهُنَّ وَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ فَكَانَتِ الْمَرْأَةُ تُلْقِي الْقُرْطَ وَالْخَاتَمَ فِي ثَوْبِ بِلاَلٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১১৪৩. মুসাদ্দাদ ও আবু মামার (রাযিঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, নবী করীম (ﷺ) ধারণা করেন যে, মহিলাগণ তাঁর উপদেশ শুনতে পাচ্ছেনা (দূরে অবস্থানের ফলে)। তাই তিনি বিলাল (রাযিঃ)-কে সাথে নিয়ে তাদের নিকট গিয়ে উপদেশ দেন। মহিলারা তাদের কানের দুল, হাতের আংটি পর্যন্ত বিলাল (রাযিঃ) এর কাপড়ের উপর (সাদ্‌কাস্বরূপ) নিক্ষেপ করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২৫৪. ঈদের দিনের খুতবা (ভাষণ)।

باب الْخُطْبَةِ يَوْمَ الْعِيدِ

১১৪৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فَجَعَلَتِ الْمَرْأَةُ تُعْطِي الْقُرْطَ وَالْخَاتَمَ وَجَعَلَ بِلاَلٌ يَجْعَلُهُ فِي كِسَائِهِ قَالَ فَقَسَمَهُ عَلَى فُقَرَاءِ الْمُسْلِمِينَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১১৪৪. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইেদ (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, মহিলাগণ তাদের কানের অলংকার ও আংটি দান করেছিলেন এবং বিলাল (রাযিঃ) তার কম্বলের মধ্যে তা জমা করেন। রাবী আরো বলেন, অতঃপর তিনি তা গরীব মুসলমানদের মধ্যে তা বন্টন করে দেন।

২৫৫. ধনুকের উপর ভর করে খুতবা (ভাষণ) দেওয়া।

باب يَخْطُبُ عَلَى قَوْسٍ

১১৪৫

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي جَنَابٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْبَرَاءِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نُوِّلَ يَوْمَ الْعِيدِ قَوْسًا فَخَطَبَ عَلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

১১৪৫. আল-হাসান ইবনুল আলী (রাযিঃ) ..... ইয়াযীদ ইবনুল বারা (রাযিঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ)-কে ঈদের দিন উপহার হিসাবে ধনুক প্রদান করা হলে দিনি তার উপর ভর করে খুতবা (ভাষণ) দেন।

২৫৬. ঈদের নামাযে আযান নেই।

باب تَرْكِ الأَذَانِ فِي الْعِيدِ

১১৪৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَابِسٍ، قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ ابْنَ عَبَّاسٍ أَشَهِدْتَ الْعِيدَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ وَلَوْلاَ مَنْزِلَتِي مِنْهُ مَا شَهِدْتُهُ مِنَ الصِّغَرِ فَأَتَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعَلَمَ الَّذِي عِنْدَ دَارِ كَثِيرِ بْنِ الصَّلْتِ فَصَلَّى ثُمَّ خَطَبَ وَلَمْ يَذْكُرْ أَذَانًا وَلاَ إِقَامَةً قَالَ ثُمَّ أَمَرَ بِالصَّدَقَةِ - قَالَ - فَجَعَلَ النِّسَاءُ يُشِرْنَ إِلَى آذَانِهِنَّ وَحُلُوقِهِنَّ قَالَ فَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَتَاهُنَّ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১১৪৬. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাযিঃ) ...... আব্দুর রহমান ইবনে আবেস (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কি কোন ঈদে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে উপস্থিত ছিলেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। আমি যদি তাঁর প্রিয় পাত্র না হতাম তবে ছোটবেলা থেকে তাঁর নিকটস্থ হওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হত না। কাছির ইবনুস সালাতের ঘরের নিকট যে পতাকা ছিল তিনি সেখানে যান এবং নামায আদায় করতঃ খুতবা দেন।

রাবী বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) আযান ও ইকামতের কথা উল্লেখ করেন নাই। অতঃপর তিনি দান-খয়রাত সম্পর্কে উপদেশ দেন, যা শুনে মহিলাগণ তাদের কান ও গলা হতে স্বর্ণালংকার খুলে দান করতে থাকেন। তিনি বিলাল (রাযিঃ)-কে মহিলাদের নিকট গিয়ে তা গ্রহণের নির্দেশ দেন। অতঃপর তিনি সেগুলো নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ফিরে আসেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১১৪৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الْعِيدَ بِلاَ أَذَانٍ وَلاَ إِقَامَةٍ وَأَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ أَوْ عُثْمَانَ شَكَّ يَحْيَى .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১১৪৭. মুসাদ্দাদ (রাযিঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদের নামায আযান ও ইকামত ব্যতীত আদায় করেন এবং আবু বকর (রাযিঃ), উমর (রাযিঃ) ও উসমান (রাযিঃ)-ও তদ্রূপ করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১১৪৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهَنَّادٌ، - وَهَذَا لَفْظُهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سِمَاكٍ، - يَعْنِي ابْنَ حَرْبٍ - عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم غَيْرَ مَرَّةٍ وَلاَ مَرَّتَيْنِ الْعِيدَيْنِ بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلاَ إِقَامَةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)

১১৪৮. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... জাবের ইবনে সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ) এর সাথে বহুবার ঈদের নামায আযান ও ইকামত ছাড়া আদায় করেছি।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২৫৭. ঈদের নামাযের তাকবীর।

باب التَّكْبِيرِ فِي الْعِيدَيْنِ

১১৪৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُكَبِّرُ فِي الْفِطْرِ وَالأَضْحَى فِي الأُولَى سَبْعَ تَكْبِيرَاتٍ وَفِي الثَّانِيَةِ خَمْسًا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১১৪৯. কুতায়বা (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার নামাযের প্রথম রাকআতে সাতবার এবং দ্বিতীয় রাকআতে পাঁচবার তাকবীর বলতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১১৫০

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ قَالَ سِوَى تَكْبِيرَتَىِ الرُّكُوعِ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

১১৫০. ইবনুস সারহ .... ইবনে শিহাব হতেও উপরোক্ত হাদীসটি অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রুকুর দুই তাকবীর ছাড়া।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১১৫১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الطَّائِفِيَّ، يُحَدِّثُ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " التَّكْبِيرُ فِي الْفِطْرِ سَبْعٌ فِي الأُولَى وَخَمْسٌ فِي الآخِرَةِ وَالْقِرَاءَةُ بَعْدَهُمَا كِلْتَيْهِمَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১১৫১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, ঈদুল ফিতরের প্রথম রাকআতে সাত তাকবীর এবং দ্বিতীয় রাকআতে পাঁচ তাকবীর এবং উভয় রাকআতে তাকবীরের পরেই কিরাআত পড়তে হয়।

১১৫২

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ حَيَّانَ - عَنْ أَبِي يَعْلَى الطَّائِفِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُكَبِّرُ فِي الْفِطْرِ فِي الأُولَى سَبْعًا ثُمَّ يَقْرَأُ ثُمَّ يُكَبِّرُ ثُمَّ يَقُومُ فَيُكَبِّرُ أَرْبَعًا ثُمَّ يَقْرَأُ ثُمَّ يَرْكَعُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ وَكِيعٌ وَابْنُ الْمُبَارَكِ قَالاَ سَبْعًا وَخَمْسًا .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

১১৫২. আবু তাওবা (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শুয়াইব (রাহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) ঈদুল ফিতরের নামাযের প্রথম রাকআতে সাতটি তাকবীর বলার পর কিরাআত পাঠ শুরু করতেন। কিরাআত শেষে তাকবীর বলার পর প্রথম রাকআত সমাপনান্তে দ্বিতীয় রাকআতের জন্য দণ্ডায়মান হয়ে চারবার তাকবীর বলে কিরাআত শুরু করতেন এবং পরে রুকুতে যেতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১১৫৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَابْنُ أَبِي زِيَادٍ، - الْمَعْنَى قَرِيبٌ - قَالاَ حَدَّثَنَا زَيْدٌ، - يَعْنِي ابْنَ حُبَابٍ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو عَائِشَةَ، جَلِيسٌ لأَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ، سَأَلَ أَبَا مُوسَى الأَشْعَرِيَّ وَحُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُكَبِّرُ فِي الأَضْحَى وَالْفِطْرِ فَقَالَ أَبُو مُوسَى كَانَ يُكَبِّرُ أَرْبَعًا تَكْبِيرَهُ عَلَى الْجَنَائِزِ . فَقَالَ حُذَيْفَةُ صَدَقَ . فَقَالَ أَبُو مُوسَى كَذَلِكَ كُنْتُ أُكَبِّرُ فِي الْبَصْرَةِ حَيْثُ كُنْتُ عَلَيْهِمْ . وَقَالَ أَبُو عَائِشَةَ وَأَنَا حَاضِرٌ سَعِيدَ بْنَ الْعَاصِ .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

১১৫৩. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) ..... সাঈদ ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আবু মুসা আল-আশআরী (রাযিঃ)-কে এবং হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার তাকবীর কিরূপে আদায় করতেন। তিনি (আবু মুসা) বলেন, তিনি জানাযার নামাযে চার তাকবীর আদায় করতেন (অর্থাৎ তিনি জানাযার নামাযের অনুরূপ ঈদের নামাযের প্রতি রাকআতে চারটি তাকবীর বলতেন এবং তা তাহরীমা ও রুকুর তাকবীর সহ।)। হুযাইফা (রাযিঃ) বলেন, আবু মুসা আল-আশআরী সত্য বলেছেন। তিনি বলেন, আমি বসরার আমির থাকাকালে এইরূপে তাকবীর দিয়েছি।

রাবী আবু আয়িশা বলেন, সাঈদ ইবনুল আস (রাযিঃ) ও আবু মুসা (রাযিঃ)-এর মধ্যে কথোপকথনকালে আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম।

২৫৮. উভয় ঈদের নামাযে কিরা’আত পাঠ।

باب مَا يُقْرَأُ فِي الأَضْحَى وَالْفِطْرِ

১১৫৪

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ سَعِيدٍ الْمَازِنِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، سَأَلَ أَبَا وَاقِدٍ اللَّيْثِيَّ مَاذَا كَانَ يَقْرَأُ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الأَضْحَى وَالْفِطْرِ قَالَ كَانَ يَقْرَأُ فِيهِمَا ( ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ ) وَ ( اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১১৫৪. আল কানবী (রাহঃ) ..... উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আবু ওয়াকিদ আল-লায়ছি (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাযে কোন সূরা পাঠ করতেন? তিনি বলেন, তিনি সূরা “কাফ ওয়াল কুরআনিল মাজিদ” এবং সূরা “ইকতারাবাতিস সাআতু ওয়ান শাককাল ক্বমারু” পাঠ করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

২৫৯. খুতবা শুনার জন্য বসা।

باب الْجُلُوسِ لِلْخُطْبَةِ

১১৫৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى السِّيْنَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ، قَالَ شَهِدْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِيدَ فَلَمَّا قَضَى الصَّلاَةَ قَالَ " إِنَّا نَخْطُبُ فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَجْلِسَ لِلْخُطْبَةِ فَلْيَجْلِسْ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَذْهَبَ فَلْيَذْهَبْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا مُرْسَلٌ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনুস সাঈব (রাঃ)

১১৫৫. মুহাম্মাদ ইবনুল সাব্বাহ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনুস সায়েব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ঈদের নামায আদায় করি। নামায শেষে তিনি বলেন, আমি এখন খুতবা দেব। যে তা শুনতে চায়, সে যেন বসে থাকে এবং যে চলে যেতে চায় সে দেতে পারে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২৬০. ঈদের নামাযের জন্য এক পথ দিয়ে যাওয়া ও অন্য পথ দিয়ে প্রত্যাবর্তন।

باب يَخْرُجُ إِلَى الْعِيدِ فِي طَرِيقٍ وَيَرْجِعُ فِي طَرِيقٍ

১১৫৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ عُمَرَ - عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ يَوْمَ الْعِيدِ فِي طَرِيقٍ ثُمَّ رَجَعَ فِي طَرِيقٍ آخَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১১৫৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদের নামায আদায়ের জন্য এক রাস্তা দিয়ে যেতেন এবং অন্য রাস্তা দিয়ে প্রত্যাবর্তন করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২৬১. কোন ওযরের কারণে ইমাম প্রথম দিন ঈদের নামাযের জন্য বের হতে না পারলে তা পরের দিন আদায় করা সম্পর্কে।

باب إِذَا لَمْ يَخْرُجِ الإِمَامُ لِلْعِيدِ مِنْ يَوْمِهِ يَخْرُجُ مِنَ الْغَدِ

১১৫৭

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي وَحْشِيَّةَ، عَنْ أَبِي عُمَيْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ عُمُومَةٍ، لَهُ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَكْبًا جَاءُوا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَشْهَدُونَ أَنَّهُمْ رَأَوُا الْهِلاَلَ بِالأَمْسِ فَأَمَرَهُمْ أَنْ يُفْطِرُوا وَإِذَا أَصْبَحُوا أَنْ يَغْدُوا إِلَى مُصَلاَّهُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১১৫৭. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে তাঁর চাচা এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীর সূত্রে বর্ণিত। একদা কয়েকজন আরোহী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে হাযির হয়ে বলেন যে, তারা গতকাল চাঁদ দেখেছেন। তখন তিনি তাদেরকে রোযা ভঙ্গ করতে এবং পরের দিন সকালে ঈদের নামায আদায় করতে বলেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১১৫৮

حَدَّثَنَا حَمْزَةُ بْنُ نُصَيْرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُوَيْدٍ، أَخْبَرَنِي أُنَيْسُ بْنُ أَبِي يَحْيَى، أَخْبَرَنِي إِسْحَاقُ بْنُ سَالِمٍ، مَوْلَى نَوْفَلِ بْنِ عَدِيٍّ أَخْبَرَنِي بَكْرُ بْنُ مُبَشِّرٍ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ كُنْتُ أَغْدُو مَعَ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمُصَلَّى يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ الأَضْحَى فَنَسْلُكُ بَطْنَ بَطْحَانَ حَتَّى نَأْتِيَ الْمُصَلَّى فَنُصَلِّيَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ نَرْجِعُ مِنْ بَطْنِ بَطْحَانَ إِلَى بُيُوتِنَا .

বর্ণনাকারী: ইবরাহীম ইবনু সুওয়াইদ নাখঈ (রহঃ)

১১৫৮. হামযা ইবনে নুসায়ের (রাহঃ) ..... বকর ইবনে মুবাশশির আল-আনসারী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সকাল বেলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীদের সাথে ঈদুল ফিতর অথবা ঈদুল আযহার নামায আদায়ের জন্য ঈদগাহে যেতাম। আমরা ‘বাতনে বাতহা’ নামক স্থান অতিক্রম করে ঈদগাহে পৌঁছার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ঈদের নামায আদায় করতাম। অতঃপর ‘বাতনে বাতহা’ হয়ে আমাদের ঘরে ফিরে আসতাম।

২৬২. ঈদের নামাযের পর অন্য নামায আদায় করা সম্পর্কে।

باب الصَّلاَةِ بَعْدَ صَلاَةِ الْعِيدِ

১১৫৯

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنِي عَدِيُّ بْنُ ثَابِتٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ فِطْرٍ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ لَمْ يُصَلِّ قَبْلَهُمَا وَلاَ بَعْدَهُمَا ثُمَّ أَتَى النِّسَاءَ وَمَعَهُ بِلاَلٌ فَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ فَجَعَلَتِ الْمَرْأَةُ تُلْقِي خُرْصَهَا وَسِخَابَهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১১৫৯. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল ফিতরের নামায আদায়ের জন্য রওয়ানা হয়ে দুই রাকআত ঈদের নামায আদায় করেন। তিনি তার আগে বা পরে কোন নামায আদায় করেননি। অতঃপর তিনি বিলাল (রাযিঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে মহিলাদের নিকট যান এবং তাদেরকে দান-খয়রাতের নির্দেশ দেন। মহিলাগণ তাদের কানের বালা ও গলার হার দান-খয়রাত করেন।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

২৬৩. বৃষ্টির দিনে লোকদের নিয়ে ঈদের নামায মসজিদে আদায় করা।

باب يُصَلَّى بِالنَّاسِ الْعِيدُ فِي الْمَسْجِدِ إِذَا كَانَ يَوْمَ مَطَرٍ

১১৬০

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، ح وَحَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا رَجُلٌ، مِنَ الْفَرْوِيِّينَ - وَسَمَّاهُ الرَّبِيعُ فِي حَدِيثِهِ عِيسَى بْنَ عَبْدِ الأَعْلَى بْنِ أَبِي فَرْوَةَ - سَمِعَ أَبَا يَحْيَى عُبَيْدَ اللَّهِ التَّيْمِيَّ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ أَصَابَهُمْ مَطَرٌ فِي يَوْمِ عِيدٍ فَصَلَّى بِهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْعِيدِ فِي الْمَسْجِدِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১১৬০। হিশাম ইবনে আম্মার ও আর-বাবী ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ঈদের দিন বৃষ্টি হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবীদের নিয়ে মসজিদে নামায আদায় করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২৬৪. ইসতিসকার বিধানসমূহ ও এই নামাযের বর্ণনা।

১১৬১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَمِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ بِالنَّاسِ لِيَسْتَسْقِيَ فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَتَيْنِ جَهَرَ بِالْقِرَاءَةِ فِيهِمَا وَحَوَّلَ رِدَاءَهُ وَرَفَعَ يَدَيْهِ فَدَعَا وَاسْتَسْقَى وَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ .

বর্ণনাকারী: আব্বাদ ইবনে তামীম (রহঃ)

১১৬১. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ...... আব্বাদ ইবনে তামীম থেকে তাঁর চাচার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইসতিসকার নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে ময়দানে যান। অতঃপর তিনি সেখানে লোকদের নিয়ে উচ্চস্বরে কিরাআত পড়ে দুই রাকআত নামায আদায় করেন। এ সময় তিনি স্বীয় চাদর মুবারক উল্টিয়ে গায়ে দেন এবং কিবলামুখী হয়ে হস্তদ্বয় উপরে তুলে বৃষ্টির জন্য দু'আ করেন।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১১৬২

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، وَيُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَبَّادُ بْنُ تَمِيمٍ الْمَازِنِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ عَمَّهُ، - وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا يَسْتَسْقِي فَحَوَّلَ إِلَى النَّاسِ ظَهْرَهُ يَدْعُو اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ - قَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ وَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ وَحَوَّلَ رِدَاءَهُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ - قَالَ ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ - وَقَرَأَ فِيهِمَا زَادَ ابْنُ السَّرْحِ يُرِيدُ الْجَهْرَ .

বর্ণনাকারী: আব্বাদ ইবনে তামীম (রহঃ)

১১৬২. ইবনুস সারহ (রাহঃ) ..... আব্বাদ ইবনে তামীম আল-মাযিনী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তার চাচা ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীকে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইসতিসকার নামায আদায় করতে গিয়ে লোকদের দিকে পিঠ ফিরিয়ে আল্লাহ তাআলার নিকট বৃষ্টির জন্য দু'আ করেন।

রাবী সুলাইমান ইবনে দাউদের বর্ণনায় আছে, তিনি কিবলামুখী হয়ে তাঁর চাদর উল্টিয়ে গায়ে দিয়ে দুই রাকআত নামায আদায় করেন। অন্য বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, তিনি উক্ত নামাযে কিরাআত শব্দ করে পাঠ করেন।
১১৬৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ، قَالَ قَرَأْتُ فِي كِتَابِ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ - يَعْنِي الْحِمْصِيَّ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَالِمٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ بِإِسْنَادِهِ لَمْ يَذْكُرِ الصَّلاَةَ قَالَ وَحَوَّلَ رِدَاءَهُ فَجَعَلَ عِطَافَهُ الأَيْمَنَ عَلَى عَاتِقِهِ الأَيْسَرِ وَجَعَلَ عِطَافَهُ الأَيْسَرَ عَلَى عَاتِقِهِ الأَيْمَنِ ثُمَّ دَعَا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১১৬৩. মুহাম্মাদ ইবনে আউফ (রাহঃ) .... মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম (রাহঃ) হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এই বর্ণনায় নামাযের কথা উল্লেখ নাই। তিনি (নবী (ﷺ)) তাঁর চাদর উল্টিয়ে ডান দিক বাম কাধেঁর উপর এবং বাম দিক ডান কাধেঁর উপর রেখে আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আ করেন।

১১৬৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدٍ، قَالَ اسْتَسْقَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ خَمِيصَةٌ لَهُ سَوْدَاءُ فَأَرَادَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَأْخُذَ بِأَسْفَلِهَا فَيَجْعَلَهُ أَعْلاَهَا فَلَمَّا ثَقُلَتْ قَلَبَهَا عَلَى عَاتِقِهِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ মাযিনী (রাঃ)

১১৬৪. কুতাইবা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইসতিসকার নামায আদায়কালে তাঁর গায়ে কাল ডোরাবিশিষ্ট চাদর ছিল। তিনি এর নীচের দিক উল্টিয়ে উপরের দিকে উঠাবার সময় ভারী বোধ করলেন। তখন তিনি তা উল্টিয়ে নিজ কাধেঁর উপর রাখলেন।

১১৬৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ بِلاَلٍ - عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى الْمُصَلَّى يَسْتَسْقِي وَأَنَّهُ لَمَّا أَرَادَ أَنْ يَدْعُوَ اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ ثُمَّ حَوَّلَ رِدَاءَهُ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ মাযিনী (রাঃ)

১১৬৫. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ....... আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইসতিসকার নামাযে যান। নামায শেষে তিনি যখন দু'আ করার ইচ্ছা করেন, তখন কিবলামুখী হয়ে স্বীয় চাদর উল্টিয়ে গায়ে দেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ

১১৬৬

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبَّادَ بْنَ تَمِيمٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدٍ الْمَازِنِيَّ، يَقُولُ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمُصَلَّى فَاسْتَسْقَى وَحَوَّلَ رِدَاءَهُ حِينَ اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ মাযিনী (রাঃ)

১১৬৬. আল-কানবী (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ আল-মাযেনী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাঠে গিয়ে ইসতিসকার নামায আদায় করেন এবং কিবলামুখী হয়ে স্বীয় চাদর উল্টিয়ে গায়ে দেন।

১১৬৭

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، نَحْوَهُ قَالاَ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كِنَانَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي قَالَ، أَرْسَلَنِي الْوَلِيدُ بْنُ عُتْبَةَ - قَالَ عُثْمَانُ ابْنُ عُقْبَةَ وَكَانَ أَمِيرَ الْمَدِينَةِ - إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَسْأَلُهُ عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الاِسْتِسْقَاءِ فَقَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُتَبَذِّلاً مُتَوَاضِعًا مُتَضَرِّعًا حَتَّى أَتَى الْمُصَلَّى - زَادَ عُثْمَانُ فَرَقِيَ عَلَى الْمِنْبَرِ ثُمَّ اتَّفَقَا - وَلَمْ يَخْطُبْ خُطَبَكُمْ هَذِهِ وَلَكِنْ لَمْ يَزَلْ فِي الدُّعَاءِ وَالتَّضَرُّعِ وَالتَّكْبِيرِ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَمَا يُصَلِّي فِي الْعِيدِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَالإِخْبَارُ لِلنُّفَيْلِيِّ وَالصَّوَابُ ابْنُ عُتْبَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১১৬৭. আন-নুফায়লী এবং উছমান ইবনে আবু শাইবা (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাধারণ বেশভূষা পরিধান করে বিনম্র হৃদয়ে ইসতিসকার নামায আদায়ের জন্য মাঠে যান। অতঃপর তিনি মিম্বরে উঠেন। (রাবী উছমানের মতে) এ সময় তিনি সাধারণ নামাযের খুতবার অনুরূপ খুতবা না দিয়ে সম্পূর্ণ সময়টি কাকুতি-মিনতির সাথে দু'আ ও তাকবীরের মধ্যে অতিবাহিত করেন। অতঃপর তিনি ঈদের নামাযের মত দুই রাকাআত নামায আদায় করেন।

সূত্র: সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

২৬৫. ইসতিসকার নামায আদায়কালে দুই হাত তুলে দু'আ করা।

باب رَفْعِ الْيَدَيْنِ فِي الاِسْتِسْقَاءِ

১১৬৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ حَيْوَةَ، وَعُمَرَ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عُمَيْرٍ، مَوْلَى بَنِي آبِي اللَّحْمِ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَسْتَسْقِي عِنْدَ أَحْجَارِ الزَّيْتِ قَرِيبًا مِنَ الزَّوْرَاءِ قَائِمًا يَدْعُو يَسْتَسْقِي رَافِعًا يَدَيْهِ قِبَلَ وَجْهِهِ لاَ يُجَاوِزُ بِهِمَا رَأْسَهُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১১৬৮. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ..... উমায়ের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি নবী করীম (ﷺ)-কে আল-জাওয়া নামক স্থানের নিকটবর্তী আহজারুল যায়েত’ নামক স্থানে দাঁড়িয়ে উভয় হাত মাথা পর্যন্ত উত্তোলন করে ইসতিসকার নামাযের পর দু'আ করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১১৬৯

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، عَنْ يَزِيدَ الْفَقِيرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَوَاكِي فَقَالَ " اللَّهُمَّ اسْقِنَا غَيْثًا مُغِيثًا مَرِيئًا مَرِيعاً نَافِعًا غَيْرَ ضَارٍّ عَاجِلاً غَيْرَ آجِلٍ " . قَالَ فَأَطْبَقَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১১৬৯. ইবনে আবু খালাফ (রাহঃ) ..... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে কিছু লোক বৃষ্টি না হওয়ার কারণে ক্রন্দনরত অবস্থায় আগমন করে (বৃষ্টির জন্য দু'আ করতে বলে)। তখন তিনি (ﷺ) এই দু'আ করেনঃ “ইয়া আল্লাহ! আমাদের জন্য এমন বৃষ্টি বর্ষণ করুন যা আমাদের জনকল্যাণকর এবং মঙ্গলজনক হয়, ফলমূল ও ফসলাদি উৎপাদনে সহায়ক হয়, যা আমাদের জন্য অপকারী না হয়ে উপকারী হয় এবং তা বিলম্বের পরিবর্তে অবিলম্বে দান করুন”। রাবী বলেন এই দু'আর সাথে সাথেই আসমান মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টিপাত শুরু হয়।

১১৭০

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي شَىْءٍ مِنَ الدُّعَاءِ إِلاَّ فِي الاِسْتِسْقَاءِ فَإِنَّهُ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ حَتَّى يُرَى بَيَاضُ إِبْطَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১১৭০. নসর ইবনে আলি (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইসতিসকার নামাযে ব্যতীত অন্য কোন নামাযে হাত তুলে দুআ করতেন না। তিনি এই নামাযে হাত এত উপরে উত্তোলন করতেন যে, তাঁর বগলের নীচের সাদা অংশ দেখা যেত।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১১৭১

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَسْتَسْقِي هَكَذَا يَعْنِي وَمَدَّ يَدَيْهِ وَجَعَلَ بُطُونَهُمَا مِمَّا يَلِي الأَرْضَ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১১৭১. আল হাসান ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) নিজের দুই হাত বেশ উপরে তুলে পানি বর্ষণের জন্য দুআ করেন। তিনি ওই সময় তাঁর হাতের ভিতরের দিক (সামনের অংশ) মাটির দিকে রাখেন, ফলে আমি তাঁর বগলের সাদা অংশ দেখতে পাই।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১১৭২

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنِي مَنْ، رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَدْعُو عِنْدَ أَحْجَارِ الزَّيْتِ بَاسِطًا كَفَّيْهِ .

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম তায়মী (রহঃ)

১১৭২. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ...... মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ″আহজার আয-যায়েত″ নামক স্থানে ইস্তিস্কার নামায আদায় কালে নবী করীম (ﷺ)-কে উপরের দিকে দুই হাত তুলে দুআ করতে যারা দেখেছেন, তাঁরা আমাকে এই হাদীস অবহিত করেছেন।

১১৭৩

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ نِزَارٍ، حَدَّثَنِي الْقَاسِمُ بْنُ مَبْرُورٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ شَكَى النَّاسُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قُحُوطَ الْمَطَرِ فَأَمَرَ بِمِنْبَرٍ فَوُضِعَ لَهُ فِي الْمُصَلَّى وَوَعَدَ النَّاسَ يَوْمًا يَخْرُجُونَ فِيهِ قَالَتْ عَائِشَةُ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ بَدَا حَاجِبُ الشَّمْسِ فَقَعَدَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَكَبَّرَ صلى الله عليه وسلم وَحَمِدَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ ثُمَّ قَالَ " إِنَّكُمْ شَكَوْتُمْ جَدْبَ دِيَارِكُمْ وَاسْتِئْخَارَ الْمَطَرِ عَنْ إِبَّانِ زَمَانِهِ عَنْكُمْ وَقَدْ أَمَرَكُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تَدْعُوهُ وَوَعَدَكُمْ أَنْ يَسْتَجِيبَ لَكُمْ " . ثُمَّ قَالَ " ( الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ * الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ * مَلِكِ يَوْمِ الدِّينِ ) لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ اللَّهُمَّ أَنْتَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الْغَنِيُّ وَنَحْنُ الْفُقَرَاءُ أَنْزِلْ عَلَيْنَا الْغَيْثَ وَاجْعَلْ مَا أَنْزَلْتَ لَنَا قُوَّةً وَبَلاَغًا إِلَى حِينٍ " . ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ فَلَمْ يَزَلْ فِي الرَّفْعِ حَتَّى بَدَا بَيَاضُ إِبْطَيْهِ ثُمَّ حَوَّلَ عَلَى النَّاسِ ظَهْرَهُ وَقَلَّبَ أَوْ حَوَّلَ رِدَاءَهُ وَهُوَ رَافِعٌ يَدَيْهِ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ وَنَزَلَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَأَنْشَأَ اللَّهُ سَحَابَةً فَرَعَدَتْ وَبَرَقَتْ ثُمَّ أَمْطَرَتْ بِإِذْنِ اللَّهِ فَلَمْ يَأْتِ مَسْجِدَهُ حَتَّى سَالَتِ السُّيُولُ فَلَمَّا رَأَى سُرْعَتَهُمْ إِلَى الْكِنِّ ضَحِكَ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ فَقَالَ " أَشْهَدُ أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ وَأَنِّي عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ إِسْنَادُهُ جَيِّدٌ أَهْلُ الْمَدِينَةِ يَقْرَءُونَ ( مَلِكِ يَوْمِ الدِّينِ ) وَإِنَّ هَذَا الْحَدِيثَ حُجَّةٌ لَهُمْ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১১৭৩. হারুন ইবনে সাইদ আল-আয়লি (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে অনাবৃষ্টির অভিযোগ পেশ করে। তখন তিনি ময়দানে মিম্বর স্থাপনের নির্দেশ দিলে তা স্থাপিত হয়। তিনি দিন ক্ষণ ঠিক করে সকলের নিকট থেকে ময়দানে যাওয়ার ওয়াদা নেন। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, সেদিন সূর্য উঠা আরম্ভ হতেই নবী করীম (ﷺ) ময়দানে গিয়ে উক্ত মিম্বরে আরোহণ করে সর্বপ্রথম তাকবীর বলেন, অতঃপর মহান আল্লাহর প্রশংসা করেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ তোমরা সময়মত বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে দুর্ভিক্ষের অভিযোগ করেছ। অথচ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ঘোষণা দিয়েছেনঃ ″যদি তোমরা তাঁর নিকট দুআ কর, তবে তিনি তা কবুল করবেন″।

অতঃপর তিনি বলেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সমস্ত বিশ্বজগতের রব। তিনি পরম দাতা মেহেরবান, কিয়ামতের দিনের একচ্ছত্র অধিপতি। তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই। তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন। ইয়া আল্লাহ! তুমিই আল্লাহ। তুমি ছাড়া আর কেউ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় এবং আমরা ফকির। তুমি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর এবং তার সাহায্যে সবসময় খাদ্যশস্য উৎপাদনের ব্যবস্থা কর। অতঃপর তিনি উভয় হাত এত উপরে উত্তোলন করেন যে, তাঁর বগলের সাদা অংশ দৃষ্টিগোচর হয়।

অতঃপর তিনি লোকদের প্রতি পীঠ ফিরিয়ে স্বীয় চাদর মুবারক উল্টিয়ে দেন এবং ঐ সময়য়ও তাঁর হাত উপরে ছিল। অবশেষে তিনি লোকদের দিকে ফিরে মিম্বর হতে অবতরণের পর দুই রাকআত নামায আদায় করলেন। এই সময় আল্লাহ তাআলা আকাশে মেঘের সঞ্চার করেন এবং তার গর্জন ও ঘনঘটা শুরু হয়ে যায়। অতঃপর আল্লাহর হুকুমে এমন বৃষ্টিপাত হতে থাকে যে, নবী করীম (ﷺ) মসজিদে নববীতে আসার পূর্বে সমস্ত এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে আদ্রতা হতে আত্মরক্ষার জন্য ব্যস্ত-সমস্ত হতে দেখেন, তখন এমন ভাবে হেসে দেন যে, তাঁর সামনের পাটির দাঁত দৃষ্টিগোচর হয়। অতঃপর তিনি বলেনঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তাআলা সব কিছুর উপর অধিক ক্ষমতাবান এবং আমি আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
১১৭৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، وَيُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ أَصَابَ أَهْلَ الْمَدِينَةِ قَحْطٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَيْنَمَا هُوَ يَخْطُبُنَا يَوْمَ جُمُعَةٍ إِذْ قَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكَ الْكُرَاعُ هَلَكَ الشَّاءُ فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يَسْقِيَنَا فَمَدَّ يَدَيْهِ وَدَعَا قَالَ أَنَسٌ وَإِنَّ السَّمَاءَ لَمِثْلُ الزُّجَاجَةِ فَهَاجَتْ رِيحٌ ثُمَّ أَنْشَأَتْ سَحَابَةً ثُمَّ اجْتَمَعَتْ ثُمَّ أَرْسَلَتِ السَّمَاءُ عَزَالِيَهَا فَخَرَجْنَا نَخُوضُ الْمَاءَ حَتَّى أَتَيْنَا مَنَازِلَنَا فَلَمْ يَزَلِ الْمَطَرُ إِلَى الْجُمُعَةِ الأُخْرَى فَقَامَ إِلَيْهِ ذَلِكَ الرَّجُلُ أَوْ غَيْرُهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ تَهَدَّمَتِ الْبُيُوتُ فَادْعُ اللَّهَ أَنْ يَحْبِسَهُ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " حَوَالَيْنَا وَلاَ عَلَيْنَا " . فَنَظَرْتُ إِلَى السَّحَابِ يَتَصَدَّعُ حَوْلَ الْمَدِينَةِ كَأَنَّهُ إِكْلِيلٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১১৭৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জীবদ্দশায় একবার মদীনায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। ঐ সময় জুমআর নামাযে বক্তৃতা দেয়াকালে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! অনাবৃষ্টির জন্য উট বকরী ইত্যাদি প্রায় ধংসোম্মুখ। আপনি আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণের দুআ করুন। অতঃপর তিনি হাত উঠিয়ে দুআ করেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, তিনি দুআ করার পূর্বে আকাশ সচ্ছ ও রৌদ্রোজ্জ্বল ছিল (এবং দুআর পর) বাতাস প্রবাহিত হতে শুরু করে এবং মেঘমালা একত্রিত হয়ে অঝোর ধারায় বৃষ্টিপাত হতে থাকে।

রাবী বলেন, অতঃপর আমরা বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আমাদের ঘরে প্রত্যাবর্তন করি এবং একাধারে পরবর্তী জুমআ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে থাকে। সেদিন ঐ ব্যক্তি অথবা অন্য কোন ব্যক্তি দণ্ডায়মান হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অধিক বৃষ্টিপাতের ফলে আমাদের ঘরবাড়ি ধ্বসে যাচ্ছে, আপনি তা বন্ধের জন্য দুআ করুন। তখন তিনি মুচকি হেসে দুআ করেনঃ (ইয়া আল্লাহ) তা (মেঘমালা) আমাদের উপর হতে অন্য দিকে সরিয়ে নাও।

রাবী বলেন, এই সময় আমি আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করে দেখতে পাই যে, পুঞ্জীভূত মেঘমালা মদীনার আকাশ হতে সরে গিয়ে চতুর্দিকে গোলাকার ধারণ করেছে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ

১১৭৫

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَيْهِ بِحِذَاءِ وَجْهِهِ فَقَالَ " اللَّهُمَّ اسْقِنَا " . وَسَاقَ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১১৭৫. ঈসা ইবনে হাম্মাদ (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। অতঃপর রাবী হাদীসটি আব্দুল আযীযের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর হস্তদ্বয় মুখমণ্ডল পর্যন্ত উঠিয়ে বলেনঃ ইয়া আল্লাহ! তুমি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১১৭৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ ح وَحَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ قَادِمٍ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَسْقَى قَالَ " اللَّهُمَّ اسْقِ عِبَادَكَ وَبَهَائِمَكَ وَانْشُرْ رَحْمَتَكَ وَأَحْىِ بَلَدَكَ الْمَيِّتَ " . هَذَا لَفْظُ حَدِيثِ مَالِكٍ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে শুআইব (রহঃ)

১১৭৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা ও সাহল ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... আমর ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদা আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইসতিসকার নামাযের সময় বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ! তুমি তোমার বান্দা ও পশু পক্ষীদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণ কর। তোমার রহমত বিস্তৃত কর এবং তোমার মৃত ভূমিকে (শুষ্ক জমিনকে) জীবিত (সুজলা সুফলা উর্বর) করে দাও। এটা মালিক বর্ণিত হাদীসের মতন (মূল পাঠ)।

২৬৬. কুসুফের (সূর্যগ্রহণের সময়) নামায।

باب صَلاَةِ الْكُسُوفِ

১১৭৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، أَخْبَرَنِي مَنْ، أُصَدِّقُ وَظَنَنْتُ أَنَّهُ يُرِيدُ عَائِشَةَ قَالَ كُسِفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قِيَامًا شَدِيدًا يَقُومُ بِالنَّاسِ ثُمَّ يَرْكَعُ ثُمَّ يَقُومُ ثُمَّ يَرْكَعُ ثُمَّ يَقُومُ ثُمَّ يَرْكَعُ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ ثَلاَثُ رَكَعَاتٍ يَرْكَعُ الثَّالِثَةَ ثُمَّ يَسْجُدُ حَتَّى إِنَّ رِجَالاً يَوْمَئِذٍ لَيُغْشَى عَلَيْهِمْ مِمَّا قَامَ بِهِمْ حَتَّى إِنَّ سِجَالَ الْمَاءِ لَتُصَبُّ عَلَيْهِمْ يَقُولُ إِذَا رَكَعَ " اللَّهُ أَكْبَرُ " . وَإِذَا رَفَعَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . حَتَّى تَجَلَّتِ الشَّمْسُ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لاَ يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ وَلَكِنَّهُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ يُخَوِّفُ بِهِمَا عِبَادَهُ فَإِذَا كُسِفَا فَافْزَعُوا إِلَى الصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১১৭৭. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম (ﷺ) এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি লোকদের সাথে নামায (কুসুফ) আদায়কালে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। অতঃপর তিনি রুকু করে দণ্ডায়মান হন, পুনঃ রুকু করে দাঁড়ান এবং পরে রুকু করে দুই রাকআত নামায আদায় করেন। এভাবে তিনি প্রত্যেক নামাযে তিনবার রুকু করার পর সিজদায় যান। সেদিন দীর্ঘ সময় নামাযে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে কিছু লোক বেহুঁশ হয়ে যায় এবং তাদের মাথায় পানি ঢালতে হয়। তিনি রুকুতে যেতে ″আল্লাহু আকবার″ বলতেন এবং রুকু থেকে উঠার সময় সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বলতেন। এইরূপে নামায শেষ করার মধ্যেই সূর্যগ্রহণ শেষ হয়ে যায়। অতঃপর তিনি বলেনঃ চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ কারও জন্ম মৃত্যুর কারণে সংগঠিত হয়না, বরং তা আল্লাহ তাআলার নিদর্শনাবলির অন্যতম দুইটি নিদর্শন। আল্লাহ এর দ্বারা তাঁর বান্দাদের সতর্ক করে থাকেন। তিনি আরও বলেনঃ যখন সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে তখন তোমরা দ্রুত নামায আদায়ে মনোনিবেশ করবে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

২৬৭. (কুসুফের নামাযের) দুই রাকআতে চারটি রুকু সম্পর্কে।

باب مَنْ قَالَ أَرْبَعُ رَكَعَاتٍ

১১৭৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، حَدَّثَنِي عَطَاءٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كُسِفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ ذَلِكَ فِي الْيَوْمِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ إِبْرَاهِيمُ ابْنُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّاسُ إِنَّمَا كُسِفَتْ لِمَوْتِ إِبْرَاهِيمَ ابْنِهِ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى بِالنَّاسِ سِتَّ رَكَعَاتٍ فِي أَرْبَعِ سَجَدَاتٍ كَبَّرَ ثُمَّ قَرَأَ فَأَطَالَ الْقِرَاءَةَ ثُمَّ رَكَعَ نَحْوًا مِمَّا قَامَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَرَأَ دُونَ الْقِرَاءَةِ الأُولَى ثُمَّ رَكَعَ نَحْوًا مِمَّا قَامَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَرَأَ الْقِرَاءَةَ الثَّالِثَةَ دُونَ الْقِرَاءَةِ الثَّانِيَةِ ثُمَّ رَكَعَ نَحْوًا مِمَّا قَامَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَانْحَدَرَ لِلسُّجُودِ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ ثَلاَثَ رَكَعَاتٍ قَبْلَ أَنْ يَسْجُدَ لَيْسَ فِيهَا رَكْعَةٌ إِلاَّ الَّتِي قَبْلَهَا أَطْوَلُ مِنَ الَّتِي بَعْدَهَا إِلاَّ أَنَّ رُكُوعَهُ نَحْوٌ مِنْ قِيَامِهِ قَالَ ثُمَّ تَأَخَّرَ فِي صَلاَتِهِ فَتَأَخَّرَتِ الصُّفُوفُ مَعَهُ ثُمَّ تَقَدَّمَ فَقَامَ فِي مَقَامِهِ وَتَقَدَّمَتِ الصُّفُوفُ فَقَضَى الصَّلاَةَ وَقَدْ طَلَعَتِ الشَّمْسُ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ لاَ يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ بَشَرٍ فَإِذَا رَأَيْتُمْ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَصَلُّوا حَتَّى تَنْجَلِيَ " . وَسَاقَ بَقِيَّةَ الْحَدِيثِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১১৭৮. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে তাঁর প্রিয় পুত্র ইবরাহীমের মৃত্যুর দিন সূর্যগ্রহণ হলে লোকেরা বলাবলি করতে থাকে যে, ইবরাহীমের ইন্তিকালের ফলে সূর্যগ্রহণ হয়েছে। নবী করীম (ﷺ) লোকদের নিয়ে ছয়টি রুকু ও চারটি সিজদাহ সহকারে দুই রাকআত নামায আদায় করেন। তিনি ″আল্লাহু আকবার″ বলে তাহরিমা বাঁধার পর দীর্ঘক্ষণব্যাপী কিরাত পাঠের পর রুকুতে গিয়ে অনুরূপ সময় অতিবাহিত করেন। অতঃপর তিনি মাথা তলার পর পূর্বের কিরাতের চেয়ে ছোট কিরাত পাঠ করে পুনরায় রুকুতে যান এবং দাঁড়ানোর সমপরিমাণ সময় রুকুতে থাকার পর পুনরায় মাথা উঠিয়ে দ্বিতীয় বারের চেয়ে আরও ছোট সূরা তিলাওয়াত করেন। অতঃপর তিনি রুকুতে গিয়ে দাঁড়ানোর সমপরিমাণ সময় অতিবাহিত করে মাথা তোলেন এবং পরে সিজদায় যান।

তিনি দুইটি সিজদা করার পর দ্বিতীয় রাকআতের জন্য দণ্ডায়মান হন এবং এখানেও তিনি সিজদায় যাওয়ার পূর্বে তিনটি রুকু করেন। তাঁর দ্বিতীয় রাকআতের (দাঁড়ানোর) সময়ও দীর্ঘ ছিল, কিন্তু তার পরিমাণ প্রথম কিয়ামের চেয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিয়ামের সময় যথাক্রমে কম ছিল এবং তাঁর রুকুতে অবস্থানের সময় কিয়ামের সমপরিমাণ ছিল। অতঃপর তিনি তাঁর দাঁড়ানোর স্থান হতে পেছনে সরে আসেন, যার ফলে মুসল্লীদের কাতার কিছুটা পিছনের দিকে সরে যায়। পুনরায় তিনি সস্থানে আসেন, এবং মুসল্লীগণও স্ব স্ব স্থানে ফিরে আসেন। এবং এইরূপে নামায শেষ করার মুহূর্তে সূর্যগ্রহণ শেষ হয়ে যায়। এ সময় তিনি ইরশাদ করেনঃ হে লোকগণ! নিশ্চয়ই চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহ তাআলার মহান নিদর্শনাবলির অন্যতম। এরা কোন ব্যক্তির মৃত্যুতে রাহুগ্রস্ত হয় না। অতএব যখন তোমরা গ্রহণ হতে দেখবে, তখন তা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত নামাযে রত থাকবে। এইরূপে হাদীসের বাকি অংশ বর্ণিত হয়েছে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১১৭৯

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كُسِفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي يَوْمٍ شَدِيدِ الْحَرِّ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِأَصْحَابِهِ فَأَطَالَ الْقِيَامَ حَتَّى جَعَلُوا يَخِرُّونَ ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ ثُمَّ رَفَعَ فَأَطَالَ ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ ثُمَّ رَفَعَ فَأَطَالَ ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ فَصَنَعَ نَحْوًا مِنْ ذَلِكَ فَكَانَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ . وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১১৭৯. মুয়াম্মাল ইবনে হিশাম (রাহঃ) ..... জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে প্রচণ্ড রোদের মধ্যে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি সাহাবীদের নিয়ে নামায শুরু করেন। তিনি এত দীর্ঘ সময় নামাযে দণ্ডায়মান থাকেন যে কিছু লোক বেহুঁশ হয়ে পড়ে। অতঃপর তিনি রুকুতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন, অতঃপর রুকু হতে উঠে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকেন। অতঃপর রুকুতে গিয়েও দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেন। অতঃপর মাথা তুলে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকেন। অতঃপর তিনি সিজদায় গিয়ে দুটি সিজদাহ করার পর দ্বিতীয় রাকআতের জন্য দণ্ডায়মান হন এবং তাতেও প্রথম রাকআতের অনুরূপ রুকু সিজদা করেন। তিনি এই দুই রাকআত নামায চারটি রুকু ও চারটি সিজদা সহকারে আদায় করেন। এইরূপে পূর্ণ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১১৮০

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ خُسِفَتِ الشَّمْسُ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى الْمَسْجِدِ فَقَامَ فَكَبَّرَ وَصَفَّ النَّاسُ وَرَاءَهُ فَاقْتَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قِرَاءَةً طَوِيلَةً ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ " . ثُمَّ قَامَ فَاقْتَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً هِيَ أَدْنَى مِنَ الْقِرَاءَةِ الأُولَى ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً هُوَ أَدْنَى مِنَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ ثُمَّ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ " . ثُمَّ فَعَلَ فِي الرَّكْعَةِ الأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ فَاسْتَكْمَلَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ وَأَرْبَعَ سَجَدَاتٍ وَانْجَلَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَنْصَرِفَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১১৮০. ইবনুস সারহ (রাহঃ) .... নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জীবদ্দশায় সূর্যগ্রহণ হলে তিনি মসজিদে যান। অতঃপর তিনি দণ্ডায়মান হয়ে আল্লাহু আকবার বলে নামায শুরু করেন। এ সময় লোকেরা তাঁর পিছনে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। তিনি দীর্ঘ কিরাত পাঠের পর আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যান এবং বহুক্ষণ রুকুতে অতিবাহিত করার পর ″সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ″ বলে রুকু হতে সোজা হয়ে দাঁড়ান।

এসময় তিনি দীর্ঘ কিরাত পাঠ করেন কিন্তু তাঁর পরিমাণ প্রথম বারের কিরাত হতে সংক্ষিপ্ত ছিল। অতঃপর তিনি আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে গিয়ে সেখানে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। কিন্তু তাঁর পরিমাণ প্রথম বারের রুকু হতে কম ছিল। অতঃপর তিনি ″সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ″ বলে দণ্ডায়মান হন (এবং পরে দুইটি সিজদা আদায় করেন)। এইরূপে তিনি দ্বিতীয় রাকআতও আদায় করেন। তিনি দুই রাকআত নামায চারটি রুকু ও চারটি সিজদা সহকারে আদায় করেন এবং নামায শেষ করে ফেরার পূর্বেই সূর্য রাহুমুক্ত হয়ে যায়।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১১৮১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ كَانَ كَثِيرُ بْنُ عَبَّاسٍ يُحَدِّثُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي كُسُوفِ الشَّمْسِ مِثْلَ حَدِيثِ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১১৮১. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূর্যগ্রহণ কালে নামায আদায় করেছেন। অতঃপর রাবী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি আরো বলেন, তিনি দুই রাকআত কুসূফের নামাযের প্রতি রাকআতে দুইটি করে রুকূ করেছেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১১৮২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْفُرَاتِ بْنِ خَالِدٍ أَبُو مَسْعُودٍ الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ الرَّازِيِّ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحُدِّثْتُ عَنْ عُمَرَ بْنِ شَقِيقٍ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الرَّازِيُّ، - وَهَذَا لَفْظُهُ وَهُوَ أَتَمُّ - عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِهِمْ فَقَرَأَ بِسُورَةٍ مِنَ الطُّوَلِ وَرَكَعَ خَمْسَ رَكَعَاتٍ وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ الثَّانِيَةَ فَقَرَأَ سُورَةً مِنَ الطُّوَلِ وَرَكَعَ خَمْسَ رَكَعَاتٍ وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ جَلَسَ كَمَا هُوَ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ يَدْعُو حَتَّى انْجَلَى كُسُوفُهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

১১৮২. আহমাদ ইবনুল ফুরাত (রাহঃ) ..... উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় সূর্যগ্রহণ হলে তিনি সাহাবীগণকে নিয়ে নামায আদায় করেন। তিনি এই নামাযে সুদীর্ঘ সূরা পাঠ করেন। তিনি প্রথম রাকআতে পাঁচটি রুকু ও দুইটি সিজদা করেন এবং দ্বিতীয় রাকআতের জন্য দণ্ডায়মান হয়ে দীর্ঘ সূরা পাঠ করেন এবং পাঁচটি রুকু ও দুইটি সিজদা করেন। অতঃপর তিনি কিবলামুখী হয়ে বসে দুআ করতে করতে সূর্য রাহুমুক্ত হয়।

১১৮৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ صَلَّى فِي كُسُوفِ الشَّمْسِ فَقَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ قَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ قَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ قَرَأَ ثُمَّ رَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ وَالأُخْرَى مِثْلُهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১১৮৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) কুসুফের নামায আদায়কালে দণ্ডায়মান হয়ে কিরাত পাঠের পর রুকুতে যান, অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে কিরাত পাঠের পর রুকু করেন। পরে তিনি দাঁড়িয়ে কিরাত পাঠের পর রুকুতে যান, অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে কিরাত পাঠের পর রুকুতে যান এবং শেষে সিজদা করেন। অতঃপর তিনি সিজদা শেষে দ্বিতীয় রাকআত অনুরূপভাবে আদায় করেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১১৮৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ قَيْسٍ، حَدَّثَنِي ثَعْلَبَةُ بْنُ عِبَادٍ الْعَبْدِيُّ، مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ أَنَّهُ شَهِدَ خُطْبَةً يَوْمًا لِسَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ قَالَ قَالَ سَمُرَةُ بَيْنَمَا أَنَا وَغُلاَمٌ مِنَ الأَنْصَارِ نَرْمِي غَرَضَيْنِ لَنَا حَتَّى إِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ قِيدَ رُمْحَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةٍ فِي عَيْنِ النَّاظِرِ مِنَ الأُفُقِ اسْوَدَّتْ حَتَّى آضَتْ كَأَنَّهَا تَنُّومَةٌ فَقَالَ أَحَدُنَا لِصَاحِبِهِ انْطَلِقْ بِنَا إِلَى الْمَسْجِدِ فَوَاللَّهِ لَيُحْدِثَنَّ شَأْنُ هَذِهِ الشَّمْسِ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي أُمَّتِهِ حَدَثًا قَالَ فَدَفَعْنَا فَإِذَا هُوَ بَارِزٌ فَاسْتَقْدَمَ فَصَلَّى فَقَامَ بِنَا كَأَطْوَلِ مَا قَامَ بِنَا فِي صَلاَةٍ قَطُّ لاَ نَسْمَعُ لَهُ صَوْتًا قَالَ ثُمَّ رَكَعَ بِنَا كَأَطْوَلِ مَا رَكَعَ بِنَا فِي صَلاَةٍ قَطُّ لاَ نَسْمَعُ لَهُ صَوْتًا ثُمَّ سَجَدَ بِنَا كَأَطْوَلِ مَا سَجَدَ بِنَا فِي صَلاَةٍ قَطُّ لاَ نَسْمَعُ لَهُ صَوْتًا . ثُمَّ فَعَلَ فِي الرَّكْعَةِ الأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ قَالَ فَوَافَقَ تَجَلِّي الشَّمْسِ جُلُوسَهُ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ قَالَ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ قَامَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَشَهِدَ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَشَهِدَ أَنَّهُ عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ سَاقَ أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ خُطْبَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

১১৮৪. আহমাদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ..... বসরার অধিবাসী সালাবা ইবনে আব্বাদ আল-আব্দি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি একদিন সামুরা ইবনে জুন্দুব (রাযিঃ) এর ভাষণ শুনেছিলেন। তিনি বলেন, সামুরা ইবনে জুন্দুব (রাযিঃ) বলেন, আমি এবং একজন আনসার যুবক নির্ধারিত স্থানে তীর চালনা করছিলাম। এসময় সূর্য যখন দুই তিন তীর পরিমাণ উপরে উঠেছিল, তখন তা দর্শকের চোখে তানুমা ঘাসের ন্যায় বিবর্ণ হয়ে যায়। তখন আমরা পরস্পরকে বলি, চল আমরা মসজিদে যাই। আল্লাহর শপথ! সূর্যের এই কাল হওয়াটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উম্মতের উপর কোন বিপদ সংগঠিত হতে যাচ্ছে।

রাবী বলেন, আমরা সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখতে পাই যে, তিনি বের হয়ে আসছেন। তিনি ইমামতির স্থানে দাঁড়িয়ে নামায শুরু করেন এবং আমরাও তাঁর সাথে শরীক হই। তিনি উক্ত নামাযে এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন যে, ইতিপূর্বে কোন নামাযে এত দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকেন নি। আমরা তাঁর কিরাত পাঠের কোন শব্দ শুনি নাই। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি রুকুতেও এত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন যে ইতিপূর্বে কখনও এরূপ করেন নি। এসময়ও আমরা কোন শব্দ শুনি নাই। অতঃপর তিনি সিজদায় গিয়ে এত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন যা ইতিপূর্বের কোন সিজদায় করেন নি এবং এসময়ও আমরা তাঁর কোন শব্দ শুনি নাই। অতঃপর তিনি নামাযের দ্বিতীয় রাকআতও অনুরূপ ভাবে আদায় করেন।

রাবী বলেন, তিনি দ্বিতীয় রাকআতের বৈঠকে থাকাকালীন সূর্য রাহুমক্ত হয়। অতঃপর তিনি সালাম ফিরিয়ে দণ্ডায়মান হয়ে আল্লাহর প্রশংসায় বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি তাঁর বান্দা ও রাসুল। অতঃপর আহমাদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) মহানবী (ﷺ) এর ভাষণের বর্ণনা দেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১১৮৫

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ قَبِيصَةَ الْهِلاَلِيِّ، قَالَ كُسِفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَ فَزِعًا يَجُرُّ ثَوْبَهُ وَأَنَا مَعَهُ يَوْمَئِذٍ بِالْمَدِينَةِ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَأَطَالَ فِيهِمَا الْقِيَامَ ثُمَّ انْصَرَفَ وَانْجَلَتْ فَقَالَ " إِنَّمَا هَذِهِ الآيَاتُ يُخَوِّفُ اللَّهُ بِهَا فَإِذَا رَأَيْتُمُوهَا فَصَلُّوا كَأَحْدَثِ صَلاَةٍ صَلَّيْتُمُوهَا مِنَ الْمَكْتُوبَةِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১১৮৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... কাবীসা আল হিলালি (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়ে একদা সূর্যগ্রহণ হয়। এ সময় তিনি অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে এত দ্রুত বের হয়ে আসেন যে, তাঁর চাদর মাটিতে হেঁচড়াচ্ছিল এবং এ সময় মদীনাতে আমি তাঁর সাথে ছিলাম। অতঃপর তিনি দুই রাকআত নামায আদায় করেন, যাতে তিনি দীর্ঘ কিয়াম করেন। তাঁর নামায শেষ করার সময় সূর্যগ্রহণও শেষ হয়। তখন তিনি বলেন, এটা আল্লাহ তাআলার অন্যতম নিদর্শন, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর বান্দাদের সতর্ক করে থাকেন। যখন তোমরা এরূপ হতে দেখবে তখন দ্রুত তোমাদের সর্বশেষ ফরয নামাযের ন্যায় নামায আদায় করবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১১৮৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا رَيْحَانُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ عَامِرٍ، أَنَّ قَبِيصَةَ الْهِلاَلِيَّ، حَدَّثَهُ أَنَّ الشَّمْسَ كُسِفَتْ بِمَعْنَى حَدِيثِ مُوسَى قَالَ حَتَّى بَدَتِ النُّجُومُ .

বর্ণনাকারী: হিলাল ইবনে আমের (রহঃ)

১১৮৬. আহমাদ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... হিলাল ইবনে আমের (রাহঃ) হতে বর্ণিত। কাবিসা আল হিলালি (রাযিঃ) তাঁকে বলেন, একদা সূর্যগ্রহণ হলে ......... অতঃপর মুসা ইবনে ইবরাহীমের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এই বর্ণনায় আরও আছে যে, সে সময় এমনভাবে সূর্যগ্রহণ হয় যার ফলে আকাশের নক্ষত্রমণ্ডলী দৃষ্টিগোচর হতে থাকে।

২৬৮. কুসুফের নামাযের কিরা’আত সম্পর্কে।

باب الْقِرَاءَةِ فِي صَلاَةِ الْكُسُوفِ

১১৮৭

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا عَمِّي، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ، كُلُّهُمْ قَدْ حَدَّثَنِي عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُسِفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى بِالنَّاسِ فَقَامَ فَحَزَرْتُ قِرَاءَتَهُ فَرَأَيْتُ أَنَّهُ قَرَأَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ - وَسَاقَ الْحَدِيثَ - ثُمَّ سَجَدَ سَجْدَتَيْنِ ثُمَّ قَامَ فَأَطَالَ الْقِرَاءَةَ فَحَزَرْتُ قِرَاءَتَهُ فَرَأَيْتُ أَنَّهُ قَرَأَ بِسُورَةِ آلِ عِمْرَانَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১১৮৭. উবাইদুল্লাহ ইবনে সা’দ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যামানায় সূর্যগ্রহণ হলে তিনি লোকদের নিয়ে বের হয়ে নামায আদায় করেন। নামাযে তিনি যে সূরা পাঠ করেন, আমার ধারণা মতে তা ছিল সূরা বাকারা। অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে .... তিনি সিজদায় গিয়ে দুইটি সিজদা আদায়ের পর দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় রাকআতে যে সূরা পাঠ করেন, আমার ধারণামতে তা ছিল সূরা আলে ইমরান।

১১৮৮

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ مَزْيَدٍ، أَخْبَرَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، أَخْبَرَنِي الزُّهْرِيُّ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً فَجَهَرَ بِهَا يَعْنِي فِي صَلاَةِ الْكُسُوفِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১১৮৮. আল আব্বাস ইবনুল ওয়ালিদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুসুফের নামায আদায়কালে উচ্চস্বরে দীর্ঘ কিরাত পাঠ করেন।

১১৮৯

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - كَذَا عِنْدَ الْقَاضِي وَالصَّوَابُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، - قَالَ خُسِفَتِ الشَّمْسُ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ مَعَهُ فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلاً بِنَحْوٍ مِنْ سُورَةِ الْبَقَرَةِ ثُمَّ رَكَعَ وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১১৮৯. আল কানবী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সূর্যগ্রহণ হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জনগণের সাথে নামায আদায়ের জন্য দণ্ডায়মান হন। তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় এত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন যে, সম্ভবত তিনি সূরা আল-বাকারা তিলাওয়াত করেন। অতঃপর তিনি রুকু করেন ......... পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

২৬৯. কুসুফের নামাযের জন্য আহবান করা।

باب يُنَادَى فِيهَا بِالصَّلاَةِ

১১৯০

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ نَمِرٍ، أَنَّهُ سَأَلَ الزُّهْرِيَّ فَقَالَ الزُّهْرِيُّ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُسِفَتِ الشَّمْسُ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً فَنَادَى أَنَّ الصَّلاَةَ جَامِعَةٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১১৯০. আমর ইবনে উসমান (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সূর্যগ্রহণ শুরু হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে লোকদের নামাযের জন্য ডাকতে বলেন। ঐ ব্যক্তি নামায জামাআতে অনুষ্ঠিত হবে বলে আহবান করেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ

২৭০. সূর্যগ্রহণের সময় দান-খয়রাত করা।

باب الصَّدَقَةِ فِيهَا

১১৯১

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ لاَ يُخْسَفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ فَادْعُوا اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ وَكَبِّرُوا وَتَصَدَّقُوا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১১৯১. আল কানবী (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ চন্দ্র সূর্যগ্রহণ কারও জন্ম মৃত্যুর ফলে হয়না। যখন তোমরা তা এই অবস্থায় দেখবে, তখন আল্লাহর যিক্‌র করবে, দুআ করবে এবং দান খয়রাত করবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

২৭১. সূর্যগ্রহণের সময় গোলাম আযাদ করা।

باب الْعِتْقِ فِيهِ

১১৯২

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ فَاطِمَةَ، عَنْ أَسْمَاءَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُ بِالْعَتَاقَةِ فِي صَلاَةِ الْكُسُوفِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

১১৯২. যুহায়ের ইবনে হারব (রাহঃ) ..... আসমা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) সূর্য বা চন্দ্র গহনের সময় গোলাম আযাদ করার নির্দেশ দিতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ

২৭২. যারা বলেন, সূর্যগ্রহণের সময় দুই রাকআত নামায পড়বে।

باب مَنْ قَالَ يَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ

১১৯৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنِي الْحَارِثُ بْنُ عُمَيْرٍ الْبَصْرِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ كُسِفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَعَلَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ وَيَسْأَلُ عَنْهَا حَتَّى انْجَلَتْ .

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

১১৯৩. আহমাদ ইবনে আবু শুয়ায়েব (রাহঃ) ...... আন-নুমান ইবনে বাশির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি দুই রাকআত নামায আদায় করেন এবং জিজ্ঞাসা করতে থাকেনঃ সূর্যগ্রহণ কি শেষ হয়েছে?

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১১৯৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَكَدْ يَرْكَعُ ثُمَّ رَكَعَ فَلَمْ يَكَدْ يَرْفَعُ ثُمَّ رَفَعَ فَلَمْ يَكَدْ يَسْجُدُ ثُمَّ سَجَدَ فَلَمْ يَكَدْ يَرْفَعُ ثُمَّ رَفَعَ فَلَمْ يَكَدْ يَسْجُدُ ثُمَّ سَجَدَ فَلَمْ يَكَدْ يَرْفَعُ ثُمَّ رَفَعَ وَفَعَلَ فِي الرَّكْعَةِ الأُخْرَى مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ نَفَخَ فِي آخِرِ سُجُودِهِ فَقَالَ " أُفْ أُفْ " . ثُمَّ قَالَ " رَبِّ أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لاَ تُعَذِّبَهُمْ وَأَنَا فِيهِمْ أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لاَ تُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ " . فَفَرَغَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ صَلاَتِهِ وَقَدْ أَمْحَصَتِ الشَّمْسُ وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১১৯৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় সূর্যগ্রহণ হলে তিনি নামাযের রাকআতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। অতঃপর রুকুতে গিয়ে সেখানেও অধিক্ষণ কাতান। অতঃপর তিনি দীর্ঘক্ষণ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পর সিজদায় গিয়েও দীর্ঘক্ষণ অতিবাহিত করেন। অতঃপর তিনি প্রথম সিজদা হতে মাথা তোলার পর অনেক্ষণ বসে থাকেন এবং পুনরায় সিজদায় গিয়ে সেখানে অনেক বিলম্ব করেন। অতঃপর সিজদা শেষে দ্বিতীয় রাকআতের জন্য দাঁড়ান এবং তাও প্রথম রাকআতের মত আদায় করেন। তিনি সর্বশেষ সিজদা দেওয়ার সময় উহ উহ শব্দ করেন এবং বলেন, ইয়া আল্লাহ! তুমি কি আমার সাথে ওয়াদা করনি যে, যতক্ষণ আমি তাদের মধ্যে থাকব ততক্ষণ তুমি তাদেরকে আযাবে নিক্ষেপ করবে না, তুমি আমার সাথে এইরূপ ওয়াদা করনি যে, যতক্ষণ তাঁরা ইস্তিগফার করতে থাকবে, ততক্ষণ তুমি তাদেরকে শাস্তি দিবে না? অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামায শেষে সূর্যগ্রহণও শেষ হয়। এরূপে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১১৯৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ حَيَّانَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ بَيْنَمَا أَنَا أَتَرَمَّى، بِأَسْهُمٍ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ كُسِفَتِ الشَّمْسُ فَنَبَذْتُهُنَّ وَقُلْتُ لأَنْظُرَنَّ مَا أُحْدِثَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي كُسُوفِ الشَّمْسِ الْيَوْمَ فَانْتَهَيْتُ إِلَيْهِ وَهُوَ رَافِعٌ يَدَيْهِ يُسَبِّحُ وَيُحَمِّدُ وَيُهَلِّلُ وَيَدْعُو حَتَّى حُسِرَ عَنِ الشَّمْسِ فَقَرَأَ بِسُورَتَيْنِ وَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা (রাঃ)

১১৯৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জীবদ্দশায় আমি একটি নির্দিষ্ট স্থানে তীর চালনা শিক্ষা করার সময় সূর্যগ্রহণ হতে দেখি। তখন আমি সবকিছু ত্যাগ করে বলি যে, আজ সূর্যগ্রহণের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি করেন তা দেখব। আমি তাঁর নিকট এসে দেখতে পাই যে, তিনি দুই হাত তুলে তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), হামদ (আলহামদুলিল্লাহ) এবং তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) পাঠ করছেন। তাঁর দুআ করাকালীন সময়ের মধ্যে সূর্যগ্রহণ শেষ হয়ে যায়। এ সময় তিনি দুটি সূরা সহ দুই রাকআত নামায আদায় করেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

২৭৩. দুর্যোগ-দুর্বিপাকের সময় নামায আদায় করা।

باب الصَّلاَةِ عِنْدَ الظُّلْمَةِ وَنَحْوِهَا

১১৯৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ جَبَلَةَ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، حَدَّثَنِي حَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ النَّضْرِ، حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، كَانَتْ ظُلْمَةٌ عَلَى عَهْدِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ - قَالَ - فَأَتَيْتُ أَنَسًا فَقُلْتُ يَا أَبَا حَمْزَةَ هَلْ كَانَ يُصِيبُكُمْ مِثْلُ هَذَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَعَاذَ اللَّهِ إِنْ كَانَتِ الرِّيحُ لَتَشْتَدُّ فَنُبَادِرُ الْمَسْجِدَ مَخَافَةَ الْقِيَامَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১১৯৬. মুহাম্মাদ ইবনে আমর (রাহঃ) ..... উবাইদুল্লাহ ইবনে নাদর (রাহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাযিঃ) এর সময় একবার আকাশ অন্ধকারচ্ছন্ন হলে আমরা তাঁর নিকট এসে বলি, হে আবু হামযা! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে কোন সময় এরূপ হয়েছিল কি? তিনি বলেন, আল্লাহর পানাহ! তাঁর যুগে এমনকি জোরে বাতাস প্রবাহিত হতে দেখলেও আমরা কিয়ামতের আশঙ্কায় দৌড়িয়ে মসজিদে আশ্রয় নিতাম।

২৭৪. কোন অশুভ আলামত দেখে সিজদা করা।

باب السُّجُودِ عِنْدَ الآيَاتِ

১১৯৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي صَفْوَانَ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، قَالَ قِيلَ لاِبْنِ عَبَّاسٍ مَاتَتْ فُلاَنَةُ بَعْضُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَخَرَّ سَاجِدًا فَقِيلَ لَهُ أَتَسْجُدُ هَذِهِ السَّاعَةَ فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا رَأَيْتُمْ آيَةً فَاسْجُدُوا " . وَأَىُّ آيَةٍ أَعْظَمُ مِنْ ذَهَابِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)

১১৯৭. মুহাম্মাদ ইবনে উসমান (রাহঃ) .... ইকরিমা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে নবী করীম (ﷺ) এর কোন এক স্ত্রীর ইন্তিকালের খবর দেওয়া হলে তিনি সাথে সাথে সিজদায় যান। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলঃ আপনি এখন সিজদা করলেন? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমরা আল্লাহর কোন নিদর্শন দেখবে তখন সিজদা করবে। নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রীর ইন্তিকালের চেয়ে অধিক বড় নিদর্শন আর কি হতে পারে?

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২৭৫. মুসাফিরের নামায।

باب صَلاَةِ الْمُسَافِرِ

১১৯৮

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ فُرِضَتِ الصَّلاَةُ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ فَأُقِرَّتْ صَلاَةُ السَّفَرِ وَزِيدَ فِي صَلاَةِ الْحَضَرِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১১৯৮. আল কানবী (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফরে ও আবাসে দুই দুই রাকআত নামাযই ফরয করা হয়েছিল। অতঃপর সফরের সময়ের নামায ঠিক রাখা হয়েছে এবং আবাসের নামায বৃদ্ধি করা হয়েছে (তিন এবং চার রাকআতে)।*

* বাড়িতে অবস্থানকে 'হযর' আর বাড়ি হতে দুরের যাত্রাকে 'সফর' বলা হয়। ৪৮ মাইল হতে অধিক দুরত্বের যাত্রায় ফরয নামায চার রাকআতের স্থলে দুই রাকআত কসর (সংক্ষেপ) করে পড়তে হয়। মিরাজ রজনীতে সর্বপ্রথম পাঁচ ওয়াক্ত নামাযই দুই দুই রাকআত করে ফরয করা হয়। পরে পূর্ববর্তী নবীদের অনুকরণে হযর অবস্থায় আসর ও ইশার ফরয নামায চার রাকআতে এবং মাগরিব তিন রাকআতে উন্নীত করা হয়। সফরের সময়ে ঐ বর্ধিত নামাযটিই বাদ দেওয়া হয়েছে। মাগরিবের তিন রাকআত সফরেও বহাল রয়েছে। - অনুবাদক

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১১৯৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، ح وَحَدَّثَنَا خُشَيْشٌ، - يَعْنِي ابْنَ أَصْرَمَ - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَابَيْهِ، عَنْ يَعْلَى بْنِ أُمَيَّةَ، قَالَ قُلْتُ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَرَأَيْتَ إِقْصَارَ النَّاسِ الصَّلاَةَ وَإِنَّمَا قَالَ تَعَالَى ( إِنْ خِفْتُمْ أَنْ يَفْتِنَكُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا ) فَقَدْ ذَهَبَ ذَلِكَ الْيَوْمُ . فَقَالَ عَجِبْتُ مِمَّا عَجِبْتَ مِنْهُ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " صَدَقَةٌ تَصَدَّقَ اللَّهُ بِهَا عَلَيْكُمْ فَاقْبَلُوا صَدَقَتَهُ " .

বর্ণনাকারী: ইয়ালা ইবন উমাইয়া (রাঃ)

১১৯৯. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... ইয়ালা ইবনে উমাইয়া (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-কে বললাম, বর্তমানে লোকেরা নামায কসর (সংক্ষেপ) করছে, অথচ আল্লাহর নির্দেশঃ ″যদি তোমরা কাফিরদের হামলার আশঙ্কা কর তবে তোমরা নামায কসর হিসেবে আদায় করতে পার″। বর্তমানে ঐ সময় অতিবাহিত হয়েছে। তখন উমর (রাযিঃ) বলেন, তুমি যাতে বিস্ময় প্রকাশ করছ, এ ব্যাপারে আমিও বিস্মিত হয়েছিলাম। আমি এ ব্যপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ তা আল্লাহর তরফ হতে তোমাদের জন্য সাদ্‌কাস্বরূপ। কাজেই তোমরা তাঁর দান গ্রহণ কর।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২০০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي عَمَّارٍ، يُحَدِّثُ فَذَكَرَهُ نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ أَبُو عَاصِمٍ وَحَمَّادُ بْنُ مَسْعَدَةَ كَمَا رَوَاهُ ابْنُ بَكْرٍ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১২০০. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আম্মার (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

২৭৬. মুসাফির কখন নামায কসর পড়বে।

باب مَتَى يُقْصِرُ الْمُسَافِرُ

১২০১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَزِيدَ الْهُنَائِيِّ، قَالَ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ عَنْ قَصْرِ الصَّلاَةِ، فَقَالَ أَنَسٌ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا خَرَجَ مَسِيرَةَ ثَلاَثَةِ أَمْيَالٍ أَوْ ثَلاَثَةِ فَرَاسِخَ - شُعْبَةُ شَكَّ - يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১২০১. ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... ইয়াহয়া ইবনে ইয়াযিদ আল হানানি (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)-কে সফরের সময় নামায ″কসর″ পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিন মাইল অথবা তিন ফারসাখ দূরত্ব অতিক্রম করতেন, তখন তিনি চার রাকআত ফরয নামাযের পরিবর্তে দুই রাকআত নামায পড়তেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১২০২

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، وَإِبْرَاهِيمَ بْنِ مَيْسَرَةَ، سَمِعَا أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ بِالْمَدِينَةِ أَرْبَعًا وَالْعَصْرَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১২০২. যুহায়ের ইবনে হারব (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে (সফরে রওয়ানা হয়ে) মদীনাতে চার রাকআত যোহরের নামায আদায় করেছি এবং যুল হুলাইফাতে গিয়ে আসরের নামায দুই রাকআত আদায় করি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২৭৭. সফরের সময় আযান দেওয়া।

باب الأَذَانِ فِي السَّفَرِ

১২০৩

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّ أَبَا عُشَّانَةَ الْمَعَافِرِيَّ، حَدَّثَهُ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " يَعْجَبُ رَبُّكُمْ مِنْ رَاعِي غَنَمٍ فِي رَأْسِ شَظِيَّةٍ بِجَبَلٍ يُؤَذِّنُ بِالصَّلاَةِ وَيُصَلِّي فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي هَذَا يُؤَذِّنُ وَيُقِيمُ الصَّلاَةَ يَخَافُ مِنِّي فَقَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي وَأَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

১২০৩. হারুন ইবনে মারুফ (রাহঃ) .... উকবা ইবনে আমের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ যখন কোন বকরীর পালের রাখাল পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থানকালে আযান দিয়ে নামায আদায় করে, তখন মহান আল্লাহ পাক তাঁর উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান এবং বলেন, (হে আমার ফিরিশতারা) তোমরা আমার বান্দার প্রতি নজর কর। এই ব্যক্তি (পাহাড়ের চূড়ায়ও) আযান দিয়ে নামায আদায় করছে। সে আমার ভয়েই তা করছে। অতএব আমি আমার এই বান্দার যাবতীয় গুনাহ (পাপ) মাফ করে দিলাম এবং আমি তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করাব।

২৭৮. সময়ের ব্যাপারে সন্দিহান অবস্থায় মুসাফিরের নামায আদায় করা।

باب الْمُسَافِرِ يُصَلِّي وَهُوَ يَشُكُّ فِي الْوَقْتِ

১২০৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْمِسْحَاجِ بْنِ مُوسَى، قَالَ قُلْتُ لأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ حَدِّثْنَا مَا، سَمِعْتَ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ كُنَّا إِذَا كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي السَّفَرِ فَقُلْنَا زَالَتِ الشَّمْسُ أَوْ لَمْ تَزُلْ صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ ارْتَحَلَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১২০৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সফরের মধ্যে থাকাবস্থায় যোহরের নামায আদায় করে পুনঃ রওয়ানা হই। তবে নামায আদায়কালে সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়েছিল কিনা সে ব্যাপারে আমরা মনে মনে সন্দিহান ছিলাম।

১২০৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، حَدَّثَنِي حَمْزَةُ الْعَائِذِيُّ، - رَجُلٌ مِنْ بَنِي ضَبَّةَ - قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا نَزَلَ مَنْزِلاً لَمْ يَرْتَحِلْ حَتَّى يُصَلِّيَ الظُّهْرَ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ وَإِنْ كَانَ بِنِصْفِ النَّهَارِ قَالَ وَإِنْ كَانَ بِنِصْفِ النَّهَارِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১২০৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যোহরের নামাযের সময় কোন গণ্তব্যে পৌঁছে সেখান হতে যোহরের নামায আদায়ের পূর্বে বের হতেন না।

রাবী বলেন, এক ব্যক্তি আনাস (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, যদি তিনি ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়ও কোন গণ্তব্যে পৌঁছতেন, তখন তিনি কি নামায আদায় করতেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

২৭৯. দুই ওয়াক্তের নামায একত্র করা।

باب الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّلاَتَيْنِ

১২০৬

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، أَخْبَرَهُمْ أَنَّهُمْ، خَرَجُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَجْمَعُ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ فَأَخَّرَ الصَّلاَةَ يَوْمًا ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا ثُمَّ دَخَلَ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ جَمِيعًا .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

১২০৬. আল-কানবী (রাহঃ) .... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুকের যুদ্ধের সময় তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সফরে বের হলে তিনি তখন যোহর ও আসরের নামায একত্রে এবং মাগরিব ও এশার নামায একত্রে আদায় করেন। একদিন তিনি যোহরের নামায বিলম্ব করে যোহর ও আসরের নামায একত্রে পড়েন। অতঃপর তিনি মাগরিব ও এশা একত্রে আদায় করেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১২০৭

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، اسْتُصْرِخَ عَلَى صَفِيَّةَ وَهُوَ بِمَكَّةَ فَسَارَ حَتَّى غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَبَدَتِ النُّجُومُ فَقَالَ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا عَجِلَ بِهِ أَمْرٌ فِي سَفَرٍ جَمَعَ بَيْنَ هَاتَيْنِ الصَّلاَتَيْنِ . فَسَارَ حَتَّى غَابَ الشَّفَقُ فَنَزَلَ فَجَمَعَ بَيْنَهُمَا .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

১২০৭. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... নাফে থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কায় অবস্থানকালে ইবনে উমর (রাযিঃ) এর নিকট সাফিয়্যা (রাযিঃ) এর মৃত্যু সংবাদ পৌঁছলে তিনি দ্রুত রওয়ানা হন। ঐ সময় সূর্যাস্তের ফলে আকাশের তারকারাজি দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল। অতঃপর তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) যখন কোন সফর কালে ব্যাস্ত থাকতেন, তখন তিনি এই দুই নামায (মাগরিব ও ইশা) একত্রে আদায় করতেন। পশ্চিমাকাশের লালিমা দূরীভূত হওয়ার পর তিনি (ইবনে উমর) বাহন হতে অবতরণ করে প্রথমে মাগরিব ও পরে ইশার নামাযের (সময় শুরু হলে) একত্রে আদায় করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২০৮

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ الرَّمْلِيُّ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُفَضَّلُ بْنُ فَضَالَةَ، وَاللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ إِذَا زَاغَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَرْتَحِلَ جَمَعَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَإِنْ يَرْتَحِلْ قَبْلَ أَنْ تَزِيغَ الشَّمْسُ أَخَّرَ الظُّهْرَ حَتَّى يَنْزِلَ لِلْعَصْرِ وَفِي الْمَغْرِبِ مِثْلَ ذَلِكَ إِنْ غَابَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَرْتَحِلَ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ وَإِنْ يَرْتَحِلْ قَبْلَ أَنْ تَغِيبَ الشَّمْسُ أَخَّرَ الْمَغْرِبَ حَتَّى يَنْزِلَ لِلْعِشَاءِ ثُمَّ جَمَعَ بَيْنَهُمَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ حُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ كُرَيْبٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ حَدِيثِ الْمُفَضَّلِ وَاللَّيْثِ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

১২০৮. ইয়াযীদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুকের যুদ্ধের সময় (মনযিল থেকে) রওয়ানা হওয়ার পূর্বে সূর্য ঢলে পড়লে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যোহরের ও আসরের নামায একত্রে আদায় করতেন এবং সূর্য ঢলে পরার পূর্বে রওয়ানা করলে তিনি যোহর তার শেষ সময়ে এবং আসর তার প্রথম সময়ে একত্রে আদায় করতেন। তিনি মাগরিবেও তাই করতেন। অর্থাৎ রওয়ানার পূর্বে সূর্যাস্ত গেলে তিনি মাগরিব এবং ইশা তার প্রথম সময়ে একত্রে আদায় করতেন আর রওয়ানা হওয়ার পরে সূর্যাস্ত গেলে তিনি মাগরিব বিলম্ব করে ইশার সাথে একত্রে পড়তেন।

১২০৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ، عَنْ أَبِي مَوْدُودٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي يَحْيَى، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ مَا جَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ قَطُّ فِي السَّفَرِ إِلاَّ مَرَّةً . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا يُرْوَى عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ مَوْقُوفًا عَلَى ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ لَمْ يُرَ ابْنُ عُمَرَ جَمَعَ بَيْنَهُمَا قَطُّ إِلاَّ تِلْكَ اللَّيْلَةَ يَعْنِي لَيْلَةَ اسْتُصْرِخَ عَلَى صَفِيَّةَ وَرُوِيَ مِنْ حَدِيثِ مَكْحُولٍ عَنْ نَافِعٍ أَنَّهُ رَأَى ابْنَ عُمَرَ فَعَلَ ذَلِكَ مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২০৯. কুতায়বা (রাহঃ) ..... ইবনে উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরকালে একবারের অধিক মাগরিব ও এশার নামায একত্রে আদায় করেন নি। অন্য এক বর্ণনায় নাফে (রাহঃ) বলেছেন যে, সাফিয়্যা (রাযিঃ) এর মৃত্যু সংবাদ প্রাপ্তির পর ইবনে উমর (রাযিঃ) সেই রাতেই শুধু মাগরিব ও এশার নামায একত্রে আদায় করেন। নাফে (রাহঃ) হতে অন্য এক বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, তিনি ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে এক বা দুইবার দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করতে দেখেছেন।

১২১০

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ جَمِيعًا فِي غَيْرِ خَوْفٍ وَلاَ سَفَرٍ . قَالَ مَالِكٌ أُرَى ذَلِكَ كَانَ فِي مَطَرٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ نَحْوَهُ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ وَرَوَاهُ قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ قَالَ فِي سَفْرَةٍ سَافَرْنَاهَا إِلَى تَبُوكَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১২১০. আল-কানবী (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভয়ভীতি ও সফরকালীন সময় ছাড়াও যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশার নামায একত্রে আদায় করেছেন। রাবী মালিক (রাহঃ) বলেন, সম্ভবত তিনি বৃষ্টির কারণে এইরূপ করেন। আবুয যুবায়ের হতে অন্য এক বর্ণনায় উল্লেখ আছে- আমরা তাবুকের যুদ্ধের সফরে এইরূপ করেছিলাম।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১২১১

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِالْمَدِينَةِ مِنْ غَيْرِ خَوْفٍ وَلاَ مَطَرٍ . فَقِيلَ لاِبْنِ عَبَّاسٍ مَا أَرَادَ إِلَى ذَلِكَ قَالَ أَرَادَ أَنْ لاَ يُحْرِجَ أُمَّتَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১২১১. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় অবস্থানকালে ভয়ভীতি ও বৃষ্টি জনিত কারণ ছাড়াই যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করেছেন। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তাঁর উম্মত যাতে অসুবিধার সম্মুখীন না হয় সেজন্য তিনি এরূপ করেছিলেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২১২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ نَافِعٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَاقِدٍ، أَنَّ مُؤَذِّنَ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ الصَّلاَةُ . قَالَ سِرْ سِرْ . حَتَّى إِذَا كَانَ قَبْلَ غُيُوبِ الشَّفَقِ نَزَلَ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ ثُمَّ انْتَظَرَ حَتَّى غَابَ الشَّفَقُ وَصَلَّى الْعِشَاءَ ثُمَّ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا عَجِلَ بِهِ أَمْرٌ صَنَعَ مِثْلَ الَّذِي صَنَعْتُ فَسَارَ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ مَسِيرَةَ ثَلاَثٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ جَابِرٍ عَنْ نَافِعٍ نَحْوَ هَذَا بِإِسْنَادِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২১২. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইেদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াকিদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবনে উমর (রাযিঃ) এর মুয়াযযিন নামাযের সময় নামায শব্দ উচ্চারণ পূর্বক তাঁকে ডাকলে তিনি বলেন, চল, চল। অতঃপর তিনি পশ্চিমাকাশের সাদা বর্ণ দূরীভূত হওয়ার প্রাক্কালে বাহন হতে অবতরণ করে মাগরিবের নামায আদায় করেন এবং এরপর সামান্য অপেক্ষা করে পশ্চিমাকাশের সাদা বর্ণ সম্পূর্ণরূপে তিরোহিত হলে তিনি ইশার নামায আদায় করেন, অতঃপর বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন জরুরী কাজে ব্যাস্ত থাকলে তিনি এরূপ করতেন, যেরূপ আমি করেছি। তিনি সেই দিন ও রাতের সফরে তিন দিনের রাস্তা অতিক্রম করেন (অর্থাৎ তিনি তড়িঘড়ি পথ অতিক্রম করেন)।

১২১৩

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، عَنِ ابْنِ جَابِرٍ، بِهَذَا الْمَعْنَى . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَلاَءِ عَنْ نَافِعٍ، قَالَ حَتَّى إِذَا كَانَ عِنْدَ ذَهَابِ الشَّفَقِ نَزَلَ فَجَمَعَ بَيْنَهُمَا .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১২১৩. ইবরাহীম (রাহঃ) ..... ইবনে জাবের (রাহঃ) থেকে এই সনদেও উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে অপর এক বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, তিনি সেদিন পশ্চিমাকাশের সাদা বর্ণ তিরোহিত হওয়ার সময় বাহন হতে অবতরণ করে মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করেন।

১২১৪

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْمَدِينَةِ ثَمَانِيًا وَسَبْعًا الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ . وَلَمْ يَقُلْ سُلَيْمَانُ وَمُسَدَّدٌ بِنَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ صَالِحٌ مَوْلَى التَّوْأَمَةِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ فِي غَيْرِ مَطَرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১২১৪. সুলাইমান ইবনে হারব ও আমর ইবনে আওন (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনাতে অবস্থানকালে যোহরের (শেষ সময়) চার রাকআত এবং আসরের (প্রথম সময়ে) চার রাকআত মোট আট রাকআত এবং মাগরিব ও ইশার নামায ঐরূপে একত্রে সাত রাকআত আদায় করেন।

অন্য এক বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে, ঐ সময় বৃষ্টি না থাকা সত্ত্বেও তিনি এরূপে দুই নামায একত্রে আদায় করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১২১৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدٍ الْجَارِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَابَتْ لَهُ الشَّمْسُ بِمَكَّةَ فَجَمَعَ بَيْنَهُمَا بِسَرِفَ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১২১৫. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরকালিন সময়ে মক্কাতে সূর্যাস্তের পর “সারিফ” নামক স্থানে পৌঁছেই মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১২১৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ هِشَامٍ، جَارُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ بَيْنَهُمَا عَشْرَةُ أَمْيَالٍ يَعْنِي بَيْنَ مَكَّةَ وَسَرِفَ .

বর্ণনাকারী: হিশাম ইবনে সা'দ (রহঃ)

১২১৬. মুহাম্মাদ ইবনে হিশাম (রাহঃ) ..... হিশাম ইবনে সা’দ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা ও সারিফ নামক স্থানদ্বয়ের মধ্যকার দূরত্ব দশ মাইল। (অবশ্য কেউ কেউ ছয়/সাত মাইলের কথাও উল্লেখ করেছেন)।

১২১৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنِ اللَّيْثِ، قَالَ قَالَ رَبِيعَةُ - يَعْنِي كَتَبَ إِلَيْهِ - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ قَالَ غَابَتِ الشَّمْسُ وَأَنَا عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَسِرْنَا فَلَمَّا رَأَيْنَاهُ قَدْ أَمْسَى قُلْنَا الصَّلاَةُ . فَسَارَ حَتَّى غَابَ الشَّفَقُ وَتَصَوَّبَتِ النُّجُومُ ثُمَّ إِنَّهُ نَزَلَ فَصَلَّى الصَّلاَتَيْنِ جَمِيعًا ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا جَدَّ بِهِ السَّيْرُ صَلَّى صَلاَتِي هَذِهِ يَقُولُ يَجْمَعُ بَيْنَهُمَا بَعْدَ لَيْلٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ عَاصِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ أَخِيهِ عَنْ سَالِمٍ وَرَوَاهُ ابْنُ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ذُؤَيْبٍ أَنَّ الْجَمْعَ بَيْنَهُمَا مِنِ ابْنِ عُمَرَ كَانَ بَعْدَ غُيُوبِ الشَّفَقِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রহঃ)

১২১৭. আব্দুল মালিক ইবনে শুয়ায়েব (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ইবনে উমর (রাযিঃ) এর সাথে ছিলাম এবং সূর্য ডুবে গিয়েছিল, ঐ সময় তিনি সফরে পথ অতিক্রম করছিলেন। যখন আমরা “নামায” বলি, তখনও তিনি পথ অতিক্রম করতেই থাকেন। অতঃপর যখন পশ্চিমাকাশের লালিমা বিদূরিত হল এবং তারকারাজির আলো স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হল, তখন তিনি অবতরণ করে মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সফরকালীন সময়ে জরুরী অবস্থায় এরূপে নামায আদায় করতে দেখেছি।

রাবী বলেন, রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি ঐ দুই নামায একত্রে আদায় করতেন। অপর এক বর্ণনায় আছে যে, ইবনে উমর (রাযিঃ) আকাশ প্রান্তে লাল বর্ণ অতিক্রান্ত হওয়ার পর এই দুই নামায একত্রে আদায় করতেন।
১২১৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَابْنُ، مَوْهَبٍ - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا الْمُفَضَّلُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا ارْتَحَلَ قَبْلَ أَنْ تَزِيغَ الشَّمْسُ أَخَّرَ الظُّهْرَ إِلَى وَقْتِ الْعَصْرِ ثُمَّ نَزَلَ فَجَمَعَ بَيْنَهُمَا فَإِنْ زَاغَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَرْتَحِلَ صَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ رَكِبَ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَانَ مُفَضَّلٌ قَاضِيَ مِصْرَ وَكَانَ مُجَابَ الدَّعْوَةِ وَهُوَ ابْنُ فَضَالَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১২১৮. কুতায়বা ও ইবনে মাওয়াহব (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুপুরের পূর্বে সফরে রওয়ানা হলে যোহরের নামায প্রায় আসরের নিকটবর্তী সময় পর্যন্ত বিলম্বিত করে যোহর ও আসর একত্রে আদায় করতেন। তিনি সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পরার পর সফরের উদ্দেশ্যে বের হলে যোহরের নামায আদায়ের পর বাহনে সওয়ার হতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১২১৯

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي جَابِرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عُقَيْلٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ بِإِسْنَادِهِ قَالَ وَيُؤَخِّرُ الْمَغْرِبَ حَتَّى يَجْمَعَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الْعِشَاءِ حِينَ يَغِيبُ الشَّفَقُ .

বর্ণনাকারী: উকাইল (রহঃ)

১২১৯. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... উকায়ল (রাহঃ) হতে এই সনদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, তিনি অনুরূপ পশ্চিমাকাশে লালিমা দূরীভূত হওয়ার পর মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করেছেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১২২০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ، عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ إِذَا ارْتَحَلَ قَبْلَ أَنْ تَزِيغَ الشَّمْسُ أَخَّرَ الظُّهْرَ حَتَّى يَجْمَعَهَا إِلَى الْعَصْرِ فَيُصَلِّيهِمَا جَمِيعًا وَإِذَا ارْتَحَلَ بَعْدَ زَيْغِ الشَّمْسِ صَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ جَمِيعًا ثُمَّ سَارَ وَكَانَ إِذَا ارْتَحَلَ قَبْلَ الْمَغْرِبِ أَخَّرَ الْمَغْرِبَ حَتَّى يُصَلِّيَهَا مَعَ الْعِشَاءِ وَإِذَا ارْتَحَلَ بَعْدَ الْمَغْرِبِ عَجَّلَ الْعِشَاءَ فَصَلاَّهَا مَعَ الْمَغْرِبِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَلَمْ يَرْوِ هَذَا الْحَدِيثَ إِلاَّ قُتَيْبَةُ وَحْدَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

১২২০. কুতায়বা ইবনে সাইদ (রাহঃ) .... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) তাবুক অভিযান কালে দ্বিপ্রহরের পূর্বে মনযিল ত্যাগ করলে যোহরের নামায বিলম্বিত করে যোহর ও আসর একত্রে আদায় করতেন। তিনি দ্বিপ্রহরের পরে (কোন মনযিল হতে) রওয়ানা হলে যোহর ও আসর একত্রে আদায় করে রওয়ানা হতেন। তিনি (কোন মনযিল হতে) মাগরিবের পূর্বে রওয়ানা হলে মাগরিবের নামাযে বিলম্ব করে মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। যেদিন তিনি মাগরিবের পরে রওয়ানা হতেন সেদিন তিনি ইশার নামায এগিয়ে এনে মাগরিবের সাথে তা একত্রে পড়তেন।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২৮০. সফরের সময় নামাযের কিরা’আত সংক্ষেপ করা।

باب قِصَرِ قِرَاءَةِ الصَّلاَةِ فِي السَّفَرِ

১২২১

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَصَلَّى بِنَا الْعِشَاءَ الآخِرَةَ فَقَرَأَ فِي إِحْدَى الرَّكْعَتَيْنِ بِالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

১২২১. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... বারাআ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সফরে গেলাম। তিনি ইশার নামাযে ওয়াত্তিন ওয়ায-যায়তুন এর মত ছোট সূরা পাঠ করেন।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

২৮১. সফরে সুন্নত ও নফল নামায পড়া।

باب التَّطَوُّعِ فِي السَّفَرِ

১২২২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ أَبِي بُسْرَةَ الْغِفَارِيِّ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَمَانِيَةَ عَشَرَ سَفَرًا فَمَا رَأَيْتُهُ تَرَكَ رَكْعَتَيْنِ إِذَا زَاغَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ الظُّهْرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

১২২২. কুতায়বা ইবনে সাইদ (রাহঃ) .... বারাআ ইবনে আযেব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আঠারটি সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সফরসঙ্গী ছিলাম। কিন্তু আমি তাঁকে দ্বিপ্রহরের পরে যোহরের নামাযের পূর্বে দুই রাকআত নামায কোন সময় ত্যাগ করতে দেখিনি।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২২৩

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَفْصِ بْنِ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ صَحِبْتُ ابْنَ عُمَرَ فِي طَرِيقٍ - قَالَ - فَصَلَّى بِنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَقْبَلَ فَرَأَى نَاسًا قِيَامًا فَقَالَ مَا يَصْنَعُ هَؤُلاَءِ قُلْتُ يُسَبِّحُونَ . قَالَ لَوْ كُنْتُ مُسَبِّحًا أَتْمَمْتُ صَلاَتِي يَا ابْنَ أَخِي إِنِّي صَحِبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي السَّفَرِ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَصَحِبْتُ أَبَا بَكْرٍ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَصَحِبْتُ عُمَرَ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ تَعَالَى وَصَحِبْتُ عُثْمَانَ فَلَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ تَعَالَى وَقَدْ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২২৩. আল-কানবী (রাহঃ) ..... হাফস ইবনে আসিম (রহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর (রাযিঃ) এর সাথে সফরে গেলাম। তিনি পথিমধ্যে আমাদের সাথে দুই রাকাআত ফরয নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি মুখ ফিরিয়ে দেখতে পান যে কিছু সংখ্যক লোক দাঁড়িয়ে আছে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, এরা কি করছে? আমি বললাম, তাঁরা নফল নামায পড়ছে। তিনি বললেন, হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! যদি আমি নফল নামায আদায় করতে পারতাম তবে ফরয নামাযে চার রাকাআতই আদায় করতাম।

অতঃপর তিনি বলেন, বহু সফরে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সফরসঙ্গী ছিলাম। কিন্তু আমি কখনও তাঁকে তাঁর ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত দুই রাকাআতের অধিক নামায আদায় করতে দেখিনি। আমি বহু সফরে আবু বকর (রাযিঃ) এর সফরসঙ্গী ছিলাম, কিন্ত তাঁকেও তাঁর ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত দুই রাকাআতের অধিক নামায আদায় করতে দেখিনি। তিনি আরও বলেন, আমি উমর (রাযিঃ) ও উসমান (রাযিঃ) এর সফরসঙ্গী ছিলাম, কিন্ত তাদেরকেও তাদের ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত দুই রাকাআতের অধিক নামায আদায় করতে দেখিনি। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেনঃ “তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে উত্তম আদর্শ নিহিত রয়েছে”।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২৮২. বাহনের উপর নফল ও বিতর নামায আদায় করা।

باب التَّطَوُّعِ عَلَى الرَّاحِلَةِ وَالْوِتْرِ

১২২৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُسَبِّحُ عَلَى الرَّاحِلَةِ أَىَّ وَجْهٍ تَوَجَّهَ وَيُوتِرُ عَلَيْهَا غَيْرَ أَنَّهُ لاَ يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ عَلَيْهَا .

বর্ণনাকারী: সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রহঃ)

১২২৪. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) ...... সালিম (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যানবাহনের উপর থাকাকালে যে কোন দিকে মুখ ফিরিয়ে নফল নামায আদায় করতেন, তবে ফরয নামায আদায় করতেন না। (ফরয নামায মাটিতে অবতরণ করে আদায় করতেন)।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১২২৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا رِبْعِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْجَارُودِ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ أَبِي الْحَجَّاجِ، حَدَّثَنِي الْجَارُودُ بْنُ أَبِي سَبْرَةَ، حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا سَافَرَ فَأَرَادَ أَنْ يَتَطَوَّعَ اسْتَقْبَلَ بِنَاقَتِهِ الْقِبْلَةَ فَكَبَّرَ ثُمَّ صَلَّى حَيْثُ وَجَّهَهُ رِكَابُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১২২৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরকালিন সময়ে তাঁর বাহনের (উটের) মুখ কিবলার দিকে থাকা অবস্থায় নফল নামাযের নিয়াত করতেন, অতঃপর জন্তুযান যেদিকে মোড় নিত তিনি সেদিকে ফিরেই নামায পড়তেন।

১২২৬

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ، عَنْ أَبِي الْحُبَابِ، سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي عَلَى حِمَارٍ وَهُوَ مُتَوَجِّهٌ إِلَى خَيْبَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২২৬. আল কানবী (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে গাধার উপরও (নফল) নামায আদায় করতে দেখেছি। এবং এ সময় তাঁর গাধা খয়বরের দিকে যাচ্ছিল।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১২২৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، - قَالَ - بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَاجَةٍ قَالَ فَجِئْتُ وَهُوَ يُصَلِّي عَلَى رَاحِلَتِهِ نَحْوَ الْمَشْرِقِ وَالسُّجُودُ أَخْفَضُ مِنَ الرُّكُوعِ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১২২৭. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে কোন কাজে পাঠান। আমি ফিরে এসে দেখি যে, তিনি বাহনের উপর বসে পূর্বমুখী হয়ে নামায পড়ছেন। ঐ সময় তিনি রুকূর তুলনায় সিজদায় মাথা অধিক নত করেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

২৮৩. ওযরবশত বাহনের উপর ফরয নামায আদায় করা।

باب الْفَرِيضَةِ عَلَى الرَّاحِلَةِ مِنْ عُذْرٍ

১২২৮

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ الْمُنْذِرِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - هَلْ رُخِّصَ لِلنِّسَاءِ أَنْ يُصَلِّينَ عَلَى الدَّوَابِّ قَالَتْ لَمْ يُرَخَّصْ لَهُنَّ فِي ذَلِكَ فِي شِدَّةٍ وَلاَ رَخَاءٍ . قَالَ مُحَمَّدٌ هَذَا فِي الْمَكْتُوبَةِ .

বর্ণনাকারী: আতা ইবনে আবী রাবাহ (রহঃ)

১২২৮. মাহমুদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ...... আতা ইবনে আবু রাবাহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, মহিলাগণ যানবাহনের উপর নামায পড়তে পারবে কি? তিনি বলেন, স্বাভাবিক অথবা অস্বাভাবিক কোন অবস্থাতেই তাদের জন্য এর অনুমতি নাই। রাবী মুহাম্মাদ ইবনে শুআয়ব (রাহঃ) বলেন, এই নির্দেশ কেবলমাত্র ফরয নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

২৮৪. মুসাফির কখন পুরা নামায আদায় করবে?

باب مَتَى يُتِمُّ الْمُسَافِرُ

১২২৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، ح وَحَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، - وَهَذَا لَفْظُهُ - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَشَهِدْتُ مَعَهُ الْفَتْحَ فَأَقَامَ بِمَكَّةَ ثَمَانِيَ عَشْرَةَ لَيْلَةً لاَ يُصَلِّي إِلاَّ رَكْعَتَيْنِ وَيَقُولُ " يَا أَهْلَ الْبَلَدِ صَلُّوا أَرْبَعًا فَإِنَّا قَوْمٌ سَفْرٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

১২২৯. মুসা ইবনে ইবরাহীম ও ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে যুদ্ধে শরীক হই এবং মক্কা বিজয়ের দিনও তাঁর সাথে ছিলাম। ঐ সময় তিনি আঠার দিন মক্কায় অবস্থানকালে (চার রাকাআতের স্থলে) দুই রাকাআত নামায পড়েন এবং বলেনঃ হে শহরবাসী! তোমরা চার রাকাআত আদায় কর। কেননা আমি মুসাফিরদের অন্তর্গত।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২৩০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، - الْمَعْنَى وَاحِدٌ - قَالاَ حَدَّثَنَا حَفْصٌ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقَامَ سَبْعَ عَشْرَةَ بِمَكَّةَ يَقْصُرُ الصَّلاَةَ . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَمَنْ أَقَامَ سَبْعَ عَشْرَةَ قَصَرَ وَمَنْ أَقَامَ أَكْثَرَ أَتَمَّ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ عَبَّادُ بْنُ مَنْصُورٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ أَقَامَ تِسْعَ عَشْرَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১২৩০. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা এবং উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে সতের দিন অবস্থানকালে নামায কসর করেন। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) আরও বলেন, যে ব্যক্তি কোথাও সতের দিন অবস্থান করবে সে যেন নামায “কসর” করে এবং যে ব্যক্তি এর অধিক দিন কোন স্থানে অবস্থান করবে, তাঁকে পুরা নামায আদায় করতে হবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২৩১

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ خَمْسَ عَشْرَةَ يَقْصُرُ الصَّلاَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ وَأَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ الْوَهْبِيُّ وَسَلَمَةُ بْنُ الْفَضْلِ عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ لَمْ يَذْكُرُوا فِيهِ ابْنَ عَبَّاسٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১২৩১. আন-নুফায়লি (রাহঃ) ....... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের সময় সেখানে পনের দিন অবস্থান করেন এবং সে সময় তিনি নামায “কসর” করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১২৩২

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنِ ابْنِ الأَصْبَهَانِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقَامَ بِمَكَّةَ سَبْعَ عَشْرَةَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১২৩২. নসর ইবনে আলি (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কাতে সতের দিন অবস্থানকালে ফরয নামায চার রাকআতের স্থলে দুই রাকআত আদায় করেন।

১২৩৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى مَكَّةَ فَكَانَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ حَتَّى رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ فَقُلْنَا هَلْ أَقَمْتُمْ بِهَا شَيْئًا قَالَ أَقَمْنَا بِهَا عَشْرًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১২৩৩. মুসা ইবনে ইসমাঈল এবং মুসলিম ইবনে ইবরাহীম ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে মদীনা হতে মক্কায় রওয়ানা করলাম। আমরা পুনরায় মদীনায় প্রত্যাবর্তনের পূর্ব পর্যন্ত তিনি নামায (চার রাকআত ফরয) দুই রাকআত করে আদায় করেন। রাবী বলেন, আমরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, আপনারা সেখানে কত দিন অবস্থান করেন? তিনি বলেন, দশ দিন মাত্র।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১২৩৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ الْمُثَنَّى، - وَهَذَا لَفْظُ ابْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، - قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى - قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ عَلِيًّا، - رضى الله عنه - كَانَ إِذَا سَافَرَ سَارَ بَعْدَ مَا تَغْرُبُ الشَّمْسُ حَتَّى تَكَادَ أَنْ تُظْلِمَ ثُمَّ يَنْزِلُ فَيُصَلِّي الْمَغْرِبَ ثُمَّ يَدْعُو بِعَشَائِهِ فَيَتَعَشَّى ثُمَّ يُصَلِّي الْعِشَاءَ ثُمَّ يَرْتَحِلُ وَيَقُولُ هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ . قَالَ عُثْمَانُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ سَمِعْتُ أَبَا دَاوُدَ يَقُولُ وَرَوَى أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ حَفْصِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ أَنَسًا كَانَ يَجْمَعُ بَيْنَهُمَا حِينَ يَغِيبُ الشَّفَقُ وَيَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ ذَلِكَ وَرِوَايَةُ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১২৩৪. উসমান ইবনে আবি শাঈবা ও ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ..... উমর ইবনে আলী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রাযিঃ) সফরে থাকাকালে সূর্যাস্তের পরে ও অন্ধকার ঘনীভূত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বাহনে চলার পর প্রথমে মাগরিবের নামায আদায় করতেন, অতঃপর রাতের খাওয়া শেষ করে ইশার নামায আদায় করতেন। অতঃপর সফরের উদ্দেশে পুনরায় রওয়ানা হতেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এইরূপে নামায আদায় করতেন। অপর এক বর্ণনায় আছে যে, আনাস (রাযিঃ) পশ্চিমাকাশের লাল বর্ণ তিরোহিত হওয়ার পর মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন এবং বলতেন, নবী করীম (ﷺ) এরূপ করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

২৮৫. শত্রুর দেশে অবস্থানকালে নামায কসর করা।

باب إِذَا أَقَامَ بِأَرْضِ الْعَدُوِّ يَقْصُرُ

১২৩৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ أَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِتَبُوكَ عِشْرِينَ يَوْمًا يَقْصُرُ الصَّلاَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ غَيْرُ مَعْمَرٍ لاَ يُسْنِدُهُ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১২৩৫. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ....... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাবুকের যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে বিশ দিন অতিবাহিত করা কালে নামায কসর করেন।

২৮৬. শঙ্কাকালীন নামায।

ভয় ভীতির সময় যুদ্ধক্ষেত্রে নামায পড়ার পদ্ধতি এই যে, ইমাম মুসল্লীদেরকে দুই ভাগে (কাতারে) বিভক্ত করবেন এবং সকলে মিলে একত্রে তাকবীর পাঠের পর নামায আরম্ভ করবেন, অতঃপর সকলে একত্রে রুকূও করবে। অতঃপর ইমাম তাঁর নিকটবর্তী কাতারের লোকদের নিয়ে (প্রথম রাকআতের জন্য) দুইটি সিজদা করবেন। তখন পিছন কাতারের লোকজন পাহারায় মোতায়েন থাকবে। অতঃপর প্রথম কাতারের মুসল্লীরা সিজদা হতে দাঁড়াবে, তখন দ্বিতীয় কাতারের লোকজন নিজেরাই (প্রথম রাকআতের জন্য) দুইটি সিজদা করে নিবে।

অতঃপর ইমামের নিকটবর্তী মুসল্লীরা (প্রথম কাতারের) পিছনে সরে যাবে এবং পিছনের কাতারের (দ্বিতীয় সারির) লোকজন তাদের স্থানে এসে দণ্ডায়মান হবে। এই সময় ইমাম সকলকে নিয়ে রুকু করবে এবং পরে তাঁর নিকটবর্তী মুসল্লীদের নিয়ে সিজদা করবে। এসময় পিছনের কাতারের লোকেরা পাহারায় মোতায়েন থাকে। অতঃপর ইমাম যখন প্রথম সারির লোকদের সাথে বসবে তখন দ্বিতীয় সারির লোকেরা (দ্বিতীয় রাকআতের জন্য) সিজদা করবে। অতঃপর সকলে একত্রে বসে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবে।

باب صَلاَةِ الْخَوْفِ<br>مَنْ رَأَى أَنْ يُصَلِّيَ بِهِمْ وَهُمْ صَفَّانِ, فَيُكَبِّرُ بِهِمْ جَمِيعًا, ثُمَّ يَرْكَعُ بِهِمْ جَمِيعًا, ثُمَّ يَسْجُدُ الإِمَامُ, وَالصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ, وَالآخَرُونَ قِيَامٌ يَحْرُسُونَهُمْ (1), فَإِذَا قَامُوا سَجَدَ الآخَرُونَ, الَّذِينَ كَانُوا خَلْفَهُمْ, ثُمَّ تَأَخَّرَ الصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ, إِلَى مَقَامِ الآخَرِينَ, وَتَقَدَّمَ (2) الصَّفُّ الأَخِيرُ إِلَى مَقَامِهِمْ, ثُمَّ يَرْكَعُ الإِمَامُ وَيَرْكَعُونَ جَمِيعًا, ثُمَّ يَسْجُدُ وَيَسْجُدُ الصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ, وَالآخَرُونَ يَحْرُسُونَهُمْ, فَإِذَا جَلَسَ الإِمَامُ وَالصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ, سَجَدَ الآخَرُونَ, ثُمَّ جَلَسُوا جَمِيعًا, ثُمَّ سَلَّمَ عَلَيْهِمْ جَمِيعًا.<br>قَالَ أَبُو دَاوُدَ: هَذَا قَوْلُ سُفْيَانَ.

১২৩৬

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ أَبِي عَيَّاشٍ الزُّرَقِيِّ، قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعُسْفَانَ وَعَلَى الْمُشْرِكِينَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ فَصَلَّيْنَا الظُّهْرَ فَقَالَ الْمُشْرِكُونَ لَقَدْ أَصَبْنَا غِرَّةً لَقَدْ أَصَبْنَا غَفْلَةً لَوْ كُنَّا حَمَلْنَا عَلَيْهِمْ وَهُمْ فِي الصَّلاَةِ فَنَزَلَتْ آيَةُ الْقَصْرِ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فَلَمَّا حَضَرَتِ الْعَصْرُ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ وَالْمُشْرِكُونَ أَمَامَهُ فَصَفَّ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَفٌّ وَصَفَّ بَعْدَ ذَلِكَ الصَّفِّ صَفٌّ آخَرُ فَرَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَكَعُوا جَمِيعًا ثُمَّ سَجَدَ وَسَجَدَ الصَّفُّ الَّذِينَ يَلُونَهُ وَقَامَ الآخَرُونَ يَحْرُسُونَهُمْ فَلَمَّا صَلَّى هَؤُلاَءِ السَّجْدَتَيْنِ وَقَامُوا سَجَدَ الآخَرُونَ الَّذِينَ كَانُوا خَلْفَهُمْ ثُمَّ تَأَخَّرَ الصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ إِلَى مَقَامِ الآخَرِينَ وَتَقَدَّمَ الصَّفُّ الأَخِيرُ إِلَى مَقَامِ الصَّفِّ الأَوَّلِ ثُمَّ رَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَكَعُوا جَمِيعًا ثُمَّ سَجَدَ وَسَجَدَ الصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ وَقَامَ الآخَرُونَ يَحْرُسُونَهُمْ فَلَمَّا جَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالصَّفُّ الَّذِي يَلِيهِ سَجَدَ الآخَرُونَ ثُمَّ جَلَسُوا جَمِيعًا فَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ جَمِيعًا فَصَلاَّهَا بِعُسْفَانَ وَصَلاَّهَا يَوْمَ بَنِي سُلَيْمٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى أَيُّوبُ وَهِشَامٌ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ هَذَا الْمَعْنَى عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَذَلِكَ رَوَاهُ دَاوُدُ بْنُ حُصَيْنٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَكَذَلِكَ عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ وَكَذَلِكَ قَتَادَةُ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ حِطَّانَ عَنْ أَبِي مُوسَى فِعْلَهُ وَكَذَلِكَ عِكْرِمَةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَذَلِكَ هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১২৩৬. সাইদ ইবনে মানসুর (রাহঃ) ..... আবু আয়্যাশ আয-যুরাকি (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে উসফান নামক স্থানে (জুহফা ও মক্কার মধ্যে) ছিলাম। ঐ সময় খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রাযিঃ) মুশরিকদের দলভুক্ত ছিলেন। অতঃপর আমরা যখন যোহরের নামায জামাআতে আদায় করি, তখন মুশরিকরা বলাবলি করতে থাকেঃ আমরা ধোঁকা ও গাফলতের মধ্যে আছি। যদি আমরা তাদেরকে (মুসলমান) তাদের নামাযের অবস্থায় হামলা করতাম (তবে খুবই উত্তম হত)। এসময় যোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে কসরের আয়াত নাযিল হয়। অতঃপর আসরের নামাযের সময় হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিবলা মুখী হয়ে মুশরিকদের মুখোমুখি অবস্থায় দাঁড়ান। এ সময় নামাযের উদ্দেশ্যে তাঁর পিছনে পর পর দুইটি সফ (কাতার) বেঁধে (সকলে দণ্ডায়মান হলে তিনি নামায শুরু করে) সকলকে নিয়ে এক সঙ্গে রুকূতে যান।

অতঃপর (প্রথম রাকআতের) সিজদার সময় কেবলমাত্র প্রথম কাতারের লোকজন (তাঁর সাথে) সিজদায় যায় এবং দ্বিতীয় কাতারের লোকজন তাঁদের পাহারায় মোতায়েন থাকে। অতপর প্রথম কাতারের লোকেরা সিজদা শেষে দণ্ডায়মান হলে দ্বিতীয় কাতারের লোকজন নিজেরাই (প্রথম রাকআতের) স্ব-স্ব সিজদা আদায় করেন। অতঃপর প্রথম কাতারের লোকজন পিছনে সরে এলে তথায় দ্বিতীয় কাতারের লোকজন এসে দাঁড়ায়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সকলে একসঙ্গে দ্বিতীয় রাকআতের রুকু আদায় করার পর তিনি তাঁর নিকটবর্তী কাতারের লোকদের নিয়ে (দ্বিতীয় রাকআতের) সিজদায় যান। এই সময় পিছনের কাতারের লোকেরা তাঁদের পাহারায় নিযুক্ত থাকে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিকটবর্তী লোকদের নিয়ে (সিজদা শেষে) যখন বসেন তখন পিছনের কাতারের লোকেরা স্ব স্ব সিজদা আদায় করে বসে পড়েন। তখন তিনি তাঁদের সাথে একত্রে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করেন। একইভাবে তিনি উসফান ও সুলায়ম গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযান কালে নামায আদায় করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

২৮৭. যেসব বিশেষজ্ঞ আলেম বলেন, শংকাকালীন সময়ে এক কাতার (দল) ইমামের সাথে নামায পড়বে এবং অপর কাতার শত্রুর মোকাবিলায় দণ্ডায়মান থাকবে। তাঁদের অভিমত এই যে, যারা ইমামের নিকটবর্তী থাকবে, ইমাম তাদেরকে নিয়ে এক রাকআত (প্রথম রাকআত) নামায আদায় করে ততক্ষণ দণ্ডায়মান থাকবেন, যতক্ষণ না তাঁর সাথে নামায আদায়কারীরা নিজ নিজ দ্বিতীয় রাকআত নামায সম্পন্ন করবে। অতঃপর তাঁরা শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টি করতে যাবে, যারা ঐ দায়িত্বে নিয়োজিত তাঁরা এসে ইমামের পিছনে দাঁড়াবে। তখন ইমাম তাদেরকে নিয়ে এক রাকআত (অর্থাৎ ইমামের দ্বিতীয় রাকআত) নামায আদায় করে ততক্ষণ বসবেন, যতক্ষণ না পিছনে আগমনকারীরা তাঁদের দ্বিতীয় রাকআত নামায আদায় সম্পন্ন করে। অতঃপর ইমাম সকলকে (উভয় দলকে) নিয়ে সালাম ফিরাবে।

باب مَنْ قَالَ يَقُومُ صَفٌّ مَعَ الإِمَامِ وَصَفٌّ وِجَاهَ الْعَدُوِّ, فَيُصَلِّي بِالَّذِينَ يَلُونَهُ رَكْعَةً, ثُمَّ يَقُومُ قَائِمًا, حَتَّى يُصَلِّيَ الَّذِينَ مَعَهُ رَكْعَةً أُخْرَى, ثُمَّ يَنْصَرِفُوا فَيَصُفُّوا وِجَاهَ الْعَدُوِّ, وَتَجِيءُ الطَّائِفَةُ الأُخْرَى, فَيُصَلِّي بِهِمْ رَكْعَةً, وَيَثْبُتُ جَالِسًا, فَيُتِمُّونَ لأَنْفُسِهِمْ رَكْعَةً أُخْرَى, ثُمَّ يُسَلِّمُ بِهِمْ جَمِيعًا.

১২৩৭

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِأَصْحَابِهِ فِي خَوْفٍ فَجَعَلَهُمْ خَلْفَهُ صَفَّيْنِ فَصَلَّى بِالَّذِينَ يَلُونَهُ رَكْعَةً ثُمَّ قَامَ فَلَمْ يَزَلْ قَائِمًا حَتَّى صَلَّى الَّذِينَ خَلْفَهُمْ رَكْعَةً ثُمَّ تَقَدَّمُوا وَتَأَخَّرَ الَّذِينَ كَانُوا قُدَّامَهُمْ فَصَلَّى بِهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَكْعَةً ثُمَّ قَعَدَ حَتَّى صَلَّى الَّذِينَ تَخَلَّفُوا رَكْعَةً ثُمَّ سَلَّمَ .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে আবি হাছমা (রাঃ)

১২৩৭. উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয (রাহঃ) ......... সাহল ইবনে আবী হাসমা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের সঙ্গে নিয়ে ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় নামায আদায় করেন। ঐ সময় তিনি তাঁর পিছনে দুই সারিতে লোকদের দাঁড় করান। অতঃপর তিনি তাঁর নিকটবর্তী সারির লোকদের নিয়ে এক রাকআত নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাঁর সাথে নামায আদায়কারীগণ স্ব-স্ব দ্বিতীয় রাকআত আদায় করেন। অতঃপর তাঁরা পশ্চাতে সরে গেলে পিছনের সারির লোকেরা সামনে এসে দাঁড়ালে তিনি তাদেরকে নিয়ে আরও এক রাকআত নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি বসে থাকা অবস্থায় পিছনে আগমনকারীরা তাঁদের দ্বিতীয় রাকআত আদায় করেন। অতঃপর তিনি সকলকে নিয়ে সালাম ফিরান।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

২৮৮. যেসব বিশেষজ্ঞ আলেম বলেন, শংকাকালীন সময়ে ইমাম এক দলকে নিয়ে এক রাকআত আদায় করে দাঁড়িয়ে থাকবেন এবং তাঁর সাথীগণ নিজ নিজ দ্বিতীয় রাকআত আদায় করে সালাম ফিরিয়ে শত্রুর মুকাবিলায় চলে যাবে এবং সালামের ব্যপারে মতভেদ আছে।

باب مَنْ قَالَ إِذَا صَلَّى رَكْعَةً وَثَبَتَ قَائِمًا أَتَمُّوا لأَنْفُسِهِمْ رَكْعَةً ثُمَّ سَلَّمُوا ثُمَّ انْصَرَفُوا فَكَانُوا وِجَاهَ الْعَدُوِّ وَاخْتُلِفَ فِي السَّلاَمِ

১২৩৮

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ، عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتٍ، عَمَّنْ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ ذَاتِ الرِّقَاعِ صَلاَةَ الْخَوْفِ أَنَّ طَائِفَةً صَفَّتْ مَعَهُ وَطَائِفَةً وِجَاهَ الْعَدُوِّ فَصَلَّى بِالَّتِي مَعَهُ رَكْعَةً ثُمَّ ثَبَتَ قَائِمًا وَأَتَمُّوا لأَنْفُسِهِمْ ثُمَّ انْصَرَفُوا وَصَفُّوا وِجَاهَ الْعَدُوِّ وَجَاءَتِ الطَّائِفَةُ الأُخْرَى فَصَلَّى بِهِمُ الرَّكْعَةَ الَّتِي بَقِيَتْ مِنْ صَلاَتِهِ ثُمَّ ثَبَتَ جَالِسًا وَأَتَمُّوا لأَنْفُسِهِمْ ثُمَّ سَلَّمَ بِهِمْ . قَالَ مَالِكٌ وَحَدِيثُ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ أَحَبُّ مَا سَمِعْتُ إِلَىَّ .

বর্ণনাকারী: সালিহ ইবনে খাওয়াত (রহঃ)

১২৩৮. আল কানবী (রাহঃ) ..... সালেহ ইবনে খাওয়াত (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি যাতুর-রিকা নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে শংকাকালীন নামায আদায়কারী সাহাবীদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। সেখানে তাঁরা এই পদ্ধতিতে নামায আদায় করেন যে, এক দল তাঁর সাথে নামাযে রত ছিলেন এবং অপর দল শত্রুর মুকাবেলায় নিয়োজিত ছিলেন। তখন তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন আর সাথীরা নিজ নিজ দ্বিতীয় রাকআত নামায আদায় করে শত্রুর মুকাবিলার জন্য গমন করেন। তখন অপর দলটি (যারা শত্রুর মুকাবেলায় নিযুক্ত ছিল) এসে তাঁর পশ্চাতে দণ্ডায়মান হলে তিনি তাদেরকে নিয়ে দ্বিতীয় রাকআত আদায় করেন। অতঃপর তিনি বসে থাকেন আর তাঁর সাথীরা তাঁদের স্ব-স্ব দ্বিতীয় রাকআত আদায় করেন। পরে তিনি দ্বিতীয় দলের সাথে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১২৩৯

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتٍ الأَنْصَارِيِّ، أَنَّ سَهْلَ بْنَ أَبِي حَثْمَةَ الأَنْصَارِيَّ، حَدَّثَهُ أَنَّ صَلاَةَ الْخَوْفِ أَنْ يَقُومَ الإِمَامُ وَطَائِفَةٌ مِنْ أَصْحَابِهِ وَطَائِفَةٌ مُوَاجِهَةَ الْعَدُوِّ فَيَرْكَعُ الإِمَامُ رَكْعَةً وَيَسْجُدُ بِالَّذِينَ مَعَهُ ثُمَّ يَقُومُ فَإِذَا اسْتَوَى قَائِمًا ثَبَتَ قَائِمًا وَأَتَمُّوا لأَنْفُسِهِمُ الرَّكْعَةَ الْبَاقِيَةَ ثُمَّ سَلَّمُوا وَانْصَرَفُوا وَالإِمَامُ قَائِمٌ فَكَانُوا وِجَاهَ الْعَدُوِّ ثُمَّ يُقْبِلُ الآخَرُونَ الَّذِينَ لَمْ يُصَلُّوا فَيُكَبِّرُونَ وَرَاءَ الإِمَامِ فَيَرْكَعُ بِهِمْ وَيَسْجُدُ بِهِمْ ثُمَّ يُسَلِّمُ فَيَقُومُونَ فَيَرْكَعُونَ لأَنْفُسِهِمُ الرَّكْعَةَ الْبَاقِيَةَ ثُمَّ يُسَلِّمُونَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَأَمَّا رِوَايَةُ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنِ الْقَاسِمِ نَحْوُ رِوَايَةِ يَزِيدَ بْنِ رُومَانَ إِلاَّ أَنَّهُ خَالَفَهُ فِي السَّلاَمِ وَرِوَايَةُ عُبَيْدِ اللَّهِ نَحْوُ رِوَايَةِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ وَيَثْبُتُ قَائِمًا .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে আবি হাছমা (রাঃ)

১২৩৯. আল কানবী (রাহঃ) ..... সাহল ইবনে আবু হাসমা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ভয় ভীতির সময়ে নামাযের নিয়ম এই যে, ইমাম এক দল লোক নিয়ে নামাযে দাঁড়াবে এবং অপর দল দুশমনের মুকাবেলায় নিয়োজিত থাকবে। অতঃপর ইমাম তাঁর নিকটতম সাথীদের সাথে এক রাকআত নামায রুকু সিজদা সহ আদায় করবে এবং পরে ইমাম দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাঁর এই সঙ্গীগণ স্ব স্ব দ্বিতীয় রাকআত আদায় করবে এবং সালাম শেষে তাঁরা চলে গিয়ে দুশমনের মুকাবিলা করবে। ঐ সময় যারা দুশমনের মুকাবিলায় নিয়োজিত ছিল তাঁরা এসে তাকবীর পাঠানতে ইমামের পশ্চাতে দণ্ডায়মান হবে। তখন ইমাম তাঁদের সাথে রুকু ও সিজদা করে (দ্বিতীয় রাকআত আদায়ের পর) সালাম ফিরাবে। ঐ সময় তাঁর সঙ্গীরা দণ্ডায়মান হয়ে স্ব স্ব বাকী নামায আদায় করে সালাম ফিরাবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

২৮৯. এক দল বিশেষজ্ঞ আলেম বলেন, শংকাকালীন নামায পড়া কালে সকলকে এক সঙ্গে তাকবীর তাহরীমা বলতে হবে, যদি এক দলের কিবলা তাঁদের পশ্চাতে পড়ে। অতঃপর যারা ইমামের নিকটবর্তী থাকবে তিনি তাঁদের সাথে এক রাকআত আদায় করবেন। পড়ে অপর দল এসে নিজ নিজ এক রাকআত আদায় করার পর ইমাম তাদেরকে নিয়ে দ্বিতীয় রাকআত আদায় করে বসে থাকবেন। তখন প্রথম রাকআত ইমামের সাথে আদায়কারীগণ ফিরে এসে স্ব স্ব দ্বিতীয় রাকআত আদায় করবে। অতঃপর ইমাম তাঁদের সাথে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করবে।

باب مَنْ قَالَ يُكَبِّرُونَ جَمِيعًا وَإِنْ كَانُوا مُسْتَدْبِرِي الْقِبْلَةِ, ثُمَّ يُصَلِّي بِمَنْ مَعَهُ رَكْعَةً, ثُمَّ يَأْتُونَ مَصَافَّ أَصْحَابِهِمْ, وَيَجِيءُ الآخَرُونَ فَيَرْكَعُونَ لأَنْفُسِهِمْ رَكْعَةً, ثُمَّ يُصَلِّي بِهِمْ رَكْعَةً, ثُمَّ تُقْبِلُ الطَّائِفَةُ الَّتِي كَانَتْ مُقَابِلَ الْعَدُوِّ, فَيُصَلُّونَ لأَنْفُسِهِمْ رَكْعَةً, وَالإِمَامُ قَاعِدٌ, ثُمَّ يُسَلِّمُ بِهِمْ كُلِّهِمْ [جميعا]

১২৪০

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، وَابْنُ، لَهِيعَةَ قَالاَ أَخْبَرَنَا أَبُو الأَسْوَدِ، أَنَّهُ سَمِعَ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، يُحَدِّثُ عَنْ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ، أَنَّهُ سَأَلَ أَبَا هُرَيْرَةَ هَلْ صَلَّيْتَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْخَوْفِ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ نَعَمْ . قَالَ مَرْوَانُ مَتَى فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَامَ غَزْوَةِ نَجْدٍ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى صَلاَةِ الْعَصْرِ فَقَامَتْ مَعَهُ طَائِفَةٌ وَطَائِفَةٌ أُخْرَى مُقَابِلَ الْعَدُوِّ ظُهُورُهُمْ إِلَى الْقِبْلَةِ فَكَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَبَّرُوا جَمِيعًا الَّذِينَ مَعَهُ وَالَّذِينَ مُقَابِلِي الْعَدُوِّ ثُمَّ رَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَةً وَاحِدَةً وَرَكَعَتِ الطَّائِفَةُ الَّتِي مَعَهُ ثُمَّ سَجَدَ فَسَجَدَتِ الطَّائِفَةُ الَّتِي تَلِيهِ وَالآخَرُونَ قِيَامٌ مُقَابِلِي الْعَدُوِّ ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَامَتِ الطَّائِفَةُ الَّتِي مَعَهُ فَذَهَبُوا إِلَى الْعَدُوِّ فَقَابَلُوهُمْ وَأَقْبَلَتِ الطَّائِفَةُ الَّتِي كَانَتْ مُقَابِلِي الْعَدُوِّ فَرَكَعُوا وَسَجَدُوا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَائِمٌ كَمَا هُوَ ثُمَّ قَامُوا فَرَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَةً أُخْرَى وَرَكَعُوا مَعَهُ وَسَجَدَ وَسَجَدُوا مَعَهُ ثُمَّ أَقْبَلَتِ الطَّائِفَةُ الَّتِي كَانَتْ مُقَابِلِي الْعَدُوِّ فَرَكَعُوا وَسَجَدُوا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاعِدٌ وَمَنْ مَعَهُ ثُمَّ كَانَ السَّلاَمُ فَسَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَلَّمُوا جَمِيعًا فَكَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَانِ وَلِكُلِّ رَجُلٍ مِنَ الطَّائِفَتَيْنِ رَكْعَةٌ رَكْعَةٌ .

বর্ণনাকারী: মারওয়ান ইবনুল হাকাম (রহঃ)

১২৪০. আল হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... মারওান ইবনুল-হাকাম হতে বর্ণিত। তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কি কখনও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ভয় ভীতির সময় নামায আদায় করেছেন? আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, হ্যাঁ। মারওান পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন, কখন? তিনি বলেন, যাতুর-রিকার যুদ্ধের সময়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের নামায আদায়ের জন্য দাঁড়ালে একদল তাঁর সাথে নামাযে দাঁড়ায় এবং অপর দল কিবলার দিকে পিঠ ফিরিয়ে শত্রুর মুকাবিলায় নিয়োজিত থাকে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহু আকবার বললে যারা তাঁর সাথে ছিলেন এবং যারা শত্রুর মুকাবিলায় নিয়োজিত ছিলেন সকলে তাকবীর বলেন।

তিনি তাঁর নিকটবর্তী লোকদের সঙ্গে নিয়ে প্রথম রাকআতের সিজদাহ করেন এবং অপর দল শত্রুর মুকাবিলায় নিয়োজিত থাকে। অতঃপর তিনি দ্বিতীয় রাকআতের জন্য দাঁড়ান এবং তাঁর সাথীগণ দুশমনের মুকাবিলায় যান এবং যারা ঐ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন তাঁরা এসে একাকী প্রথম রাকআতের রুকু ও সিজদা করে দ্বিতীয় রাকআতের জন্য তাঁর পশ্চাতে দণ্ডায়মান হন। তখন তিনি তাঁদের সাথে একত্রে দ্বিতীয় রাকআতের রুকু সিজদা করে বসে থাকেন। এই সময়ে যারা দুশমনের মুকাবিলায় নিয়োজিত ছিল তাঁরা ফিরে এসে নিজ নিজ রুকু সিজদা করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পিছনে বসেন। অতঃপর তিনি সকলকে নিয়ে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করেন। রাবী বলেন, এই সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর দুই রাকআত নামাযই জামাআতের সাথে আদায় করেন, কিন্তু তাঁর সাহাবীদের (প্রতিটি দলের) নামায জামাআতের সাথে এক রাকআত করে আদায় হয়েছে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১২৪১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، وَمُحَمَّدِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى نَجْدٍ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِذَاتِ الرِّقَاعِ مِنْ نَخْلٍ لَقِيَ جَمْعًا مِنْ غَطَفَانَ فَذَكَرَ مَعْنَاهُ وَلَفْظُهُ عَلَى غَيْرِ لَفْظِ حَيْوَةَ وَقَالَ فِيهِ حِينَ رَكَعَ بِمَنْ مَعَهُ وَسَجَدَ قَالَ فَلَمَّا قَامُوا مَشَوُا الْقَهْقَرَى إِلَى مَصَافِّ أَصْحَابِهِمْ وَلَمْ يَذْكُرِ اسْتِدْبَارَ الْقِبْلَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১২৪১. মুহাম্মাদ ইবনে আমর (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে নজদে গমন করি। ঐ সময় আমরা যাতুর-রিকা নামক স্থানের একটি খেজুর বাগানে অবস্থান করি। তখন গাতাফান গোত্রের সাথে আমাদের যুদ্ধ হয়। অতঃপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থ জ্ঞাপক হাদীস বর্ণনা করেন, যদিও কিছু শাব্দিক পার্থক্য রয়েছে।

রাবী ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় আছে, ‘যখন তাঁর সাথীগণ রুকু সিজদা করেন’। রাবী আরও বলেন, রাকআত শেষে তাঁরা কিবলার দিকে মুখ রেখে পশ্চাদপসারন করে যারা শত্রুর মুকাবিলায় নিয়োজিত ছিল, তাঁদের স্থানে গিয়ে দণ্ডায়মান হন। উক্ত বর্ণনায় কিবলার দিকে পৃষ্ঠ প্রদর্শনের কথা উল্লেখ নাই।
১২৪২

قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَأَمَّا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ فَحَدَّثَنَا قَالَ حَدَّثَنِي عَمِّي، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَهُ أَنَّ عَائِشَةَ حَدَّثَتْهُ بِهَذِهِ الْقِصَّةِ، قَالَتْ كَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَبَّرَتِ الطَّائِفَةُ الَّذِينَ صُفُّوا مَعَهُ ثُمَّ رَكَعَ فَرَكَعُوا ثُمَّ سَجَدَ فَسَجَدُوا ثُمَّ رَفَعَ فَرَفَعُوا ثُمَّ مَكَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسًا ثُمَّ سَجَدُوا هُمْ لأَنْفُسِهِمُ الثَّانِيَةَ ثُمَّ قَامُوا فَنَكَصُوا عَلَى أَعْقَابِهِمْ يَمْشُونَ الْقَهْقَرَى حَتَّى قَامُوا مِنْ وَرَائِهِمْ وَجَاءَتِ الطَّائِفَةُ الأُخْرَى فَقَامُوا فَكَبَّرُوا ثُمَّ رَكَعُوا لأَنْفُسِهِمْ ثُمَّ سَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَجَدُوا مَعَهُ ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَجَدُوا لأَنْفُسِهِمُ الثَّانِيَةَ ثُمَّ قَامَتِ الطَّائِفَتَانِ جَمِيعًا فَصَلُّوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَكَعَ فَرَكَعُوا ثُمَّ سَجَدَ فَسَجَدُوا جَمِيعًا ثُمَّ عَادَ فَسَجَدَ الثَّانِيَةَ وَسَجَدُوا مَعَهُ سَرِيعًا كَأَسْرَعِ الإِسْرَاعِ جَاهِدًا لاَ يَأْلُونَ سِرَاعًا ثُمَّ سَلَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَلَّمُوا فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ شَارَكَهُ النَّاسُ فِي الصَّلاَةِ كُلِّهَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১২৪২. আবু দাউদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে ঘটনাটি এভাবে বিবৃত হয়েছেঃ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তাকবীরের সাথে সাথেই তাঁর নিকটবর্তী কাতারের লোকেরা তাকবীর বলেন এবং তাঁর সাথে প্রথম রাকআতের রুকু ও সিজদা করেন। অতঃপর তিনি প্রথম সিজদা হতে মাথা উঠাবার সাথে সাথে তারাও মাথা উঠান। প্রথম সিজদা করার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বসে থাকেন। এ সময় মুক্তাদিগণ নিজেরাই দ্বিতীয় সিজদা করে শত্রুর মুকাবিলা করার জন্য গমন করে। তখন দ্বিতীয় দল এসে নিজেরা তাকবীর বলে রুকু আদায় করে এবং পরে নবী করীম (ﷺ) এর সাথে সিজদা করে।

অতঃপর তিনি একাকী দণ্ডায়মান হন। তখন মুক্তাদিগণ স্ব-স্ব দ্বিতীয় সিজদা আদায় করে দণ্ডায়মান হয়। অতঃপর উভয় দল একত্রিত হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে রুকু সিজদা করে পূর্ববর্তী সিজদাটি (যা সকলে বিচ্ছিন্ন ভাবে আদায় করে) জামাআতের সাথে আদায় করেন এবং তা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করেন। অতঃপর তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ সালাম ফিরান। এমনিভাবে সকলে জামাআতের অর্ধেক অংশে শরীক হয়ে নামায সম্পন্ন করেন।

২৯০. এক দল বিশেষজ্ঞ আলেমের মতে, ইমাম প্রত্যেক দলের সাথে এক রাকআত করে নামায পড়ে সালাম ফিরাবে। অতঃপর প্রত্যেক দল স্বতন্ত্র ভাবে আরও এক রাকআত পড়বে।

باب مَنْ قَالَ يُصَلِّي بِكُلِّ طَائِفَةٍ رَكْعَةً ثُمَّ يُسَلِّمُ فَيَقُومُ كُلُّ صَفٍّ فَيُصَلُّونَ لأَنْفُسِهِمْ رَكْعَةً

১২৪৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِإِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ رَكْعَةً وَالطَّائِفَةُ الأُخْرَى مُوَاجِهَةُ الْعَدُوِّ ثُمَّ انْصَرَفُوا فَقَامُوا فِي مَقَامِ أُولَئِكَ وَجَاءَ أُولَئِكَ فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً أُخْرَى ثُمَّ سَلَّمَ عَلَيْهِمْ ثُمَّ قَامَ هَؤُلاَءِ فَقَضَوْا رَكْعَتَهُمْ وَقَامَ هَؤُلاَءِ فَقَضَوْا رَكْعَتَهُمْ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ نَافِعٌ وَخَالِدُ بْنُ مَعْدَانَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَذَلِكَ قَوْلُ مَسْرُوقٍ وَيُوسُفَ بْنِ مِهْرَانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَكَذَلِكَ رَوَى يُونُسُ عَنِ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي مُوسَى أَنَّهُ فَعَلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২৪৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক দলকে নিয়ে এক রাকআত নামায আদায় করেন এবং এই সময় দ্বিতীয় দল শত্রুর মুকাবিলায় নিয়োজিত থাকে। অতঃপর প্রথম দলটি শত্রুর মুকাবিলার জন্য গমন করলে দ্বিতীয় দলটি আসার পর তিনি তাঁদের নিয়ে দ্বিতীয় রাকআত আদায় করে সালাম ফিরান। ঐ সময় তাঁরা স্ব-স্ব দ্বিতীয় রাকআত আদায় করে শত্রুর মুকাবিলায় গমন করে। অতঃপর প্রথম দলটি তাঁদের বাকী নামায সম্পন্ন করে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

২৯১. এক দল বিশেষজ্ঞ আলেমের মতে, ইমাম প্রথম দলের সাথে এক রাকআত করে নামায পড়ে সালাম ফিরাবে এবং তাঁরা উঠে স্বতন্ত্রভাবে আরেক রাকআত নামায পড়বে। অতঃপর তাঁরা শত্রুর মুকাবিলায় চলে যাবে। এবং পরবর্তী দল এসে তাঁদের স্থানে দাঁড়িয়ে ইমামের সাথে এক রাকআত পড়বে।

باب مَنْ قَالَ يُصَلِّي بِكُلِّ طَائِفَةٍ رَكْعَةً ثُمَّ يُسَلِّمُ

১২৪৪

حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا خُصَيْفٌ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْخَوْفِ فَقَامُوا صَفَّيْنِ صَفٌّ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَصَفٌّ مُسْتَقْبِلَ الْعَدُوِّ فَصَلَّى بِهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَةً ثُمَّ جَاءَ الآخَرُونَ فَقَامُوا مَقَامَهُمْ وَاسْتَقْبَلَ هَؤُلاَءِ الْعَدُوَّ فَصَلَّى بِهِمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَكْعَةً ثُمَّ سَلَّمَ فَقَامَ هَؤُلاَءِ فَصَلَّوْا لأَنْفُسِهِمْ رَكْعَةً ثُمَّ سَلَّمُوا ثُمَّ ذَهَبُوا فَقَامُوا مَقَامَ أُولَئِكَ مُسْتَقْبِلِي الْعَدُوِّ وَرَجَعَ أُولَئِكَ إِلَى مَقَامِهِمْ فَصَلَّوْا لأَنْفُسِهِمْ رَكْعَةً ثُمَّ سَلَّمُوا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১২৪৪. ইমরান ইবনে মায়সারা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সাথে ভয় ভীতির সময় নামায আদায়কালে লোকদের দুই ভাগে বিভক্ত করেন। ঐ সময় একদল তাঁর পশ্চাতে নামাযে দণ্ডায়মান হয় এবং অপর দল শত্রুর মুকাবিলায় নিয়োজিত থাকে। তিনি তাঁর নিকটবর্তী লোকদের সাথে নিয়ে এক রাকআত নামায সম্পন্ন করলে তাঁরা শত্রুর মুকাবিলায় গমন করে এবং অপর দলটি এসে নবী করীম (ﷺ) এর সাথে নামাযে যোগ দেয়। তিনি তাদেরকে সাথে নিয়ে নামাযের দ্বিতীয় রাকআত শেষ করে একাকী সালাম ফিরান। তখন তাঁরা দণ্ডায়মান হয়ে স্ব স্ব দ্বিতীয় রাকআত আদায় করে সালাম ফিরায়। অতঃপর তাঁরা শত্রুর মুকাবিলায় চলে গেলে প্রথম দলটি প্রত্যাবর্তন করে পূর্বে দণ্ডায়মান হওয়ার স্থানে গিয়ে বাকী নামায একাকী আদায় করে সালাম ফিরায়।

১২৪৫

حَدَّثَنَا تَمِيمُ بْنُ الْمُنْتَصِرِ، أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ، - يَعْنِي ابْنَ يُوسُفَ - عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ خُصَيْفٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ . قَالَ فَكَبَّرَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَبَّرَ الصَّفَّانِ جَمِيعًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الثَّوْرِيُّ بِهَذَا الْمَعْنَى عَنْ خُصَيْفٍ وَصَلَّى عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَمُرَةَ هَكَذَا إِلاَّ أَنَّ الطَّائِفَةَ الَّتِي صَلَّى بِهِمْ رَكْعَةً ثُمَّ سَلَّمَ مَضَوْا إِلَى مَقَامِ أَصْحَابِهِمْ وَجَاءَ هَؤُلاَءِ فَصَلَّوْا لأَنْفُسِهِمْ رَكْعَةً ثُمَّ رَجَعُوا إِلَى مَقَامِ أُولَئِكَ فَصَلَّوْا لأَنْفُسِهِمْ رَكْعَةً . قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ حَبِيبٍ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي أَنَّهُمْ غَزَوْا مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ كَابُلَ فَصَلَّى بِنَا صَلاَةَ الْخَوْفِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১২৪৫. তামিম ইবনুল মুনতাসির (রাহঃ) .... খুসায়েফ (রাহঃ) হতে এই সনদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, অতঃপর নবী করীম (ﷺ) তাকবীর বললে উভয় দলই তাঁর সাথে তাকবীর বলে।

২৯২. এক দল বিশেষজ্ঞ আলেমের মতে,প্রত্যেক দল ইমামের সাথে এক রাকআত করে নামায পড়বে এবং দ্বিতীয় রাকআত পড়ার প্রয়োজন নেই।

باب مَنْ قَالَ يُصَلِّي بِكُلِّ طَائِفَةٍ رَكْعَةً وَلاَ يَقْضُونَ

১২৪৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي الأَشْعَثُ بْنُ سُلَيْمٍ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ زَهْدَمٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ بِطَبَرِسْتَانَ فَقَامَ فَقَالَ أَيُّكُمْ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْخَوْفِ فَقَالَ حُذَيْفَةُ أَنَا فَصَلَّى بِهَؤُلاَءِ رَكْعَةً وَبِهَؤُلاَءِ رَكْعَةً وَلَمْ يَقْضُوا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا رَوَاهُ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَمُجَاهِدٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَقِيقٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَيَزِيدُ الْفَقِيرُ وَأَبُو مُوسَى - قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَجُلٌ مِنَ التَّابِعِينَ لَيْسَ بِالأَشْعَرِيِّ - جَمِيعًا عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ قَالَ بَعْضُهُمْ فِي حَدِيثِ يَزِيدَ الْفَقِيرِ إِنَّهُمْ قَضَوْا رَكْعَةً أُخْرَى . وَكَذَلِكَ رَوَاهُ سِمَاكٌ الْحَنَفِيُّ عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَذَلِكَ رَوَاهُ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَكَانَتْ لِلْقَوْمِ رَكْعَةً رَكْعَةً وَلِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: ছা'লাবা ইবনে যাহদাম (রাঃ)

১২৪৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... সালাবা ইবনে যাহদাম (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সাইদ ইবনুল আস (রাযিঃ) এর সাথে তাবারিস্তানে ছিলাম। তিনি সেখানে দণ্ডায়মান হয়ে বলেন, আপনাদের মধ্যে এমন কে আছেন যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ভয় ভীতির সময় নামায আদায় করেছেন? হুযাইফা (রাযিঃ) বলেন, আমি তাঁর সাথে সালাতুল খাওফ আদায় করেছি। তিনি এক দলকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম রাকআত এবং দ্বিতীয় দলকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় রাকআত আদায় করেন। ঐ সময় মুক্তাদিগণ তাঁদের দ্বিতীয় রাকআত সম্পন্ন করেন নাই। অন্য বর্ণনায় আছে যে, তাঁরা দ্বিতীয় রাকআত সম্পন্ন করেন। যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে অন্য এক বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, এই সময় মুক্তাদিগণ এক এক রাকআত আদায় করেন এবং নবী করীম (ﷺ) দুই রাকআত সম্পন্ন করেন।

১২৪৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَسَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَخْنَسِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ فَرَضَ اللَّهُ تَعَالَى الصَّلاَةَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم فِي الْحَضَرِ أَرْبَعًا وَفِي السَّفَرِ رَكْعَتَيْنِ وَفِي الْخَوْفِ رَكْعَةً .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১২৪৭. মুসাদ্দাদ ও সাইদ ইবনে মানসুর (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তোমাদের নবী (ﷺ) মারফত ফরয নামায বাড়িতে অবস্থান কালে চার রাকআত (যোহর, আসর ও ইশা) এবং সফরের মধ্যে দুই রাকআত (চার রাকআতের পরিবর্তে) এবং যুদ্ধকালীন ভয় ভীতির সময় এক রাকআত ফরয করেছেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

২৯৩. এক দল বিশেষজ্ঞ আলেমের মতে, ইমাম প্রত্যেক দলের সাথে দুই রাকআত করে নামায পড়বে।

باب مَنْ قَالَ يُصَلِّي بِكُلِّ طَائِفَةٍ رَكْعَتَيْنِ

১২৪৮

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَشْعَثُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي خَوْفٍ الظُّهْرَ فَصَفَّ بَعْضَهُمْ خَلْفَهُ وَبَعْضَهُمْ بِإِزَاءِ الْعَدُوِّ فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ فَانْطَلَقَ الَّذِينَ صَلَّوْا مَعَهُ فَوَقَفُوا مَوْقِفَ أَصْحَابِهِمْ ثُمَّ جَاءَ أُولَئِكَ فَصَلَّوْا خَلْفَهُ فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ فَكَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعًا وَلأَصْحَابِهِ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ . وَبِذَلِكَ كَانَ يُفْتِي الْحَسَنُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ فِي الْمَغْرِبِ يَكُونُ لِلإِمَامِ سِتَّ رَكَعَاتٍ وَلِلْقَوْمِ ثَلاَثًا ثَلاَثًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَكَذَلِكَ قَالَ سُلَيْمَانُ الْيَشْكُرِيُّ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)

১২৪৮. উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয (রাহঃ) ...... আবু বকর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (যুদ্ধকালীন) ভীতিকর পরিস্থিতিতে যোহরের নামায আদায় করেন। ঐ সময় লোকজন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে একদল তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়ায় এবং অপর দল শত্রুর মুকাবিলায় নিয়োজিত থাকে। ঐ সময় তিনি তাঁর পিছনে দণ্ডায়মান লোকদের নিয়ে দুই রাকআত নামায পড়ে সালাম ফিরান। অতঃপর নামায শেষে তাঁরা শত্রুর মুকাবিলায় চলে গেলে, সেখানে যারা ছিল তাঁরা এসে তাঁর পশ্চাতে দাঁড়ায়। তখন তিনি তাঁদের নিয়ে দুই রাকআত নামায আদায় করে সালাম ফিরান। ফলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামাযের রাকআতের সংখ্যা চারে পৌঁছায় এবং সাহাবায়ে কিরামের দুই দুই রাকআত হয়। হাসান বসরি (রাহঃ) এইরূপ ফতওয়া দিতেন।

২৯৪. শত্রু হত্যার উদ্দেশ্যে অনুসন্ধানকারীর নামায সম্পর্কে।

باب صَلاَةِ الطَّالِبِ

১২৪৯

حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُنَيْسٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى خَالِدِ بْنِ سُفْيَانَ الْهُذَلِيِّ - وَكَانَ نَحْوَ عُرَنَةَ وَعَرَفَاتٍ - فَقَالَ " اذْهَبْ فَاقْتُلْهُ " . قَالَ فَرَأَيْتُهُ وَحَضَرَتْ صَلاَةُ الْعَصْرِ فَقُلْتُ إِنِّي لأَخَافُ أَنْ يَكُونَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ مَا إِنْ أُؤَخِّرُ الصَّلاَةَ فَانْطَلَقْتُ أَمْشِي وَأَنَا أُصَلِّي أُومِئُ إِيمَاءً نَحْوَهُ فَلَمَّا دَنَوْتُ مِنْهُ قَالَ لِي مَنْ أَنْتَ قُلْتُ رَجُلٌ مِنَ الْعَرَبِ بَلَغَنِي أَنَّكَ تَجْمَعُ لِهَذَا الرَّجُلِ فَجِئْتُكَ فِي ذَاكَ . قَالَ إِنِّي لَفِي ذَاكَ فَمَشَيْتُ مَعَهُ سَاعَةً حَتَّى إِذَا أَمْكَنَنِي عَلَوْتُهُ بِسَيْفِي حَتَّى بَرَدَ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ বিন উনাইস (রাঃ)

১২৪৯. আবু মামার আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে উনায়স (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে খালিদ ইবনে সুফিয়ান আল-হাযালীকে হত্যার জন্য উরানা ও আরাফাতের দিকে প্রেরণ করেন। তিনি বলেন, আমি তাঁকে আসরের নামাযের সময় দেখতে পাই। এই সময় আমার মনে এরূপ আশঙ্কার সৃষ্টি হয় যে, যদি আমি নামাযে রত হই তবে সে আমার নাগালের বাইরে চলে যাবে। তখন আমি ইশারায় নামায আদায় করতে করতে তাঁর দিকে রওয়ানা হই।

অতঃপর আমি তাঁর নিকটবর্তী হলে সে আমাকে জিজ্ঞাসা করে, তুমি কে? আমি বলি, আমি আরবের একজন অধিবাসী। আমি জানতে পারলাম যে তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সৈন্য যোগাড় করছ। তাই আমি তোমার নিকট এসেছি। তখন সে ব্যক্তি বলে, আমি এইরূপ করছি। রাবী বলেন, অতঃপর আমি তাঁর সাথে পথ চলতে থাকি। এমতাবস্থায় আমি সুযোগ মত তাঁর উপর তরবারির আঘাত হেনে তাঁকে হত্যা করি।

২৯৫. নফল ও সুন্নত নামাযের বিভিন্ন দিক ও রাক'আত সম্পর্কে।

১২৫০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، حَدَّثَنِي النُّعْمَانُ بْنُ سَالِمٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَوْسٍ، عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ، قَالَتْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَلَّى فِي يَوْمٍ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعًا بُنِيَ لَهُ بِهِنَّ بَيْتٌ فِي الْجَنَّةِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে হাবীবা (রাঃ)

১২৫০. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) .... উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দৈনিক বারো রাকাআত (সুন্নত) নামায আদায় করবে, এর বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য বেহেশতের মধ্যে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১২৫১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - الْمَعْنَى - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ التَّطَوُّعِ فَقَالَتْ كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ أَرْبَعًا فِي بَيْتِي ثُمَّ يَخْرُجُ فَيُصَلِّي بِالنَّاسِ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى بَيْتِي فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَكَانَ يُصَلِّي بِالنَّاسِ الْمَغْرِبَ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى بَيْتِي فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَكَانَ يُصَلِّي بِهِمُ الْعِشَاءَ ثُمَّ يَدْخُلُ بَيْتِي فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَكَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ تِسْعَ رَكَعَاتٍ فِيهِنَّ الْوِتْرُ وَكَانَ يُصَلِّي لَيْلاً طَوِيلاً قَائِمًا وَلَيْلاً طَوِيلاً جَالِسًا فَإِذَا قَرَأَ وَهُوَ قَائِمٌ رَكَعَ وَسَجَدَ وَهُوَ قَائِمٌ وَإِذَا قَرَأَ وَهُوَ قَاعِدٌ رَكَعَ وَسَجَدَ وَهُوَ قَاعِدٌ وَكَانَ إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يَخْرُجُ فَيُصَلِّي بِالنَّاسِ صَلاَةَ الْفَجْرِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক (রহঃ)

১২৫১. আহমাদ ইবনে হাম্বল ও মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলে, একদা আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামায (সুন্নত/নফল) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন, তিনি যোহরের পূর্বে ঘরে চার রাকআত নামায আদায় করতেন। পুনরায় ঘরে ফিরে এসে তিনি দুই রাকআত নামায আদায় করতেন। তিনি মাগরিবের ফরয নামায জামাআতে আদায়ের পর ঘরে ফিরে এসে তিনি দুই রাকআত (সুন্নত) নামায আদায় করতেন।

তিনি রাতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ও বসে (নফল) নামায পড়তেন। তিনি দাঁড়িয়ে কিরাআত পাঠ করলে রুকু ও সিজদাও ঐ অবস্থায় করতেন এবং যখন তিনি বসে কিরাত পাঠ করতেন তখন রুকু সিজদাও ঐ অবস্থায় আদায় করতেন। তিনি সুবহে সাদিকের সময় দুই রাকআত (সুন্নত) নামায আদায় করতেন। অতঃপর তিনি ঘর হতে বের হয়ে (মসজিদে গিয়ে) জামাআতে ফজরের নামায আদায় করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১২৫২

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ رَكْعَتَيْنِ وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ - وَبَعْدَ الْمَغْرِبِ رَكْعَتَيْنِ - فِي بَيْتِهِ وَبَعْدَ صَلاَةِ الْعِشَاءِ رَكْعَتَيْنِ وَكَانَ لاَ يُصَلِّي بَعْدَ الْجُمُعَةِ حَتَّى يَنْصَرِفَ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২৫২. আল-কানবী (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যোহরের পূর্বে কোন কোন সময় দুই রাকআত নামায আদায় করতেন এবং যোহরের ফরয নামায আদায়ের পরও দুই রাকআত নামায আদায় করতেন। তিনি মাগরিবের ফরযের পর ঘরে ফিরে দুই রাকআত নামায আদায় করতেন। তিনি এশার ফরয নামায আদায়ের পর দুই রাকআত নামায আদায় করতেন। তিনি জুমআর নামায আদায়ের পর ঘরে ফিরে দুই রাকআত নামায আদায় করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১২৫৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَدَعُ أَرْبَعًا قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الْغَدَاةِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১২৫৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যোহরের ফরযের পূর্বে চার রাকআত এবং ফজরের ফরযের পূর্বে দুই রাকআত নামায কখনও ত্যাগ করতেন না।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

২৯৬. ফজরের দুই রাকআত সুন্নত নামায।

باب رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ

১২৫৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، حَدَّثَنِي عَطَاءٌ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكُنْ عَلَى شَىْءٍ مِنَ النَّوَافِلِ أَشَدَّ مُعَاهَدَةً مِنْهُ عَلَى الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الصُّبْحِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১২৫৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের নামাযের পূর্বে দুই রাকআত নামায আদায়ের ব্যপারে যে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা পালন করেছেন তা অন্য কোন নামাযের (সুন্নত বা নফল) ব্যাপারে পালন করেন নি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

২৯৭. ফজরের সুন্নত সংক্ষেপে পড়া সম্পর্কে।

باب فِي تَخْفِيفِهِمَا

১২৫৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُخَفِّفُ الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الْفَجْرِ حَتَّى إِنِّي لأَقُولُ هَلْ قَرَأَ فِيهِمَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১২৫৫. আহমাদ ইবনে আবু শুয়ায়ব (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ফজরের ফরয নামাযের পূর্বের দুই রাকআত নামায এত সংক্ষেপ করতেন যে, আমি ধারণা করতাম, তিনি কি তাতে কেবলমাত্র সূরা ফাতিহা পাঠ করেছেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১২৫৬

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ كَيْسَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ فِي رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ ( قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ) وَ ( قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১২৫৬. ইয়াহিয়া ইবনে মাইন (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ফজরের দুই রাকআত সুন্নত নামাযে “সূরা কাফিরুন” ও “সূরা কুল হুআল্লাহু আহাদ” তিলাওয়াত করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১২৫৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنِي أَبُو زِيَادَةَ، عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ زِيَادٍ الْكِنْدِيُّ عَنْ بِلاَلٍ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّهُ، أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِيُؤْذِنَهُ بِصَلاَةِ الْغَدَاةِ فَشَغَلَتْ عَائِشَةُ - رضى الله عنها - بِلاَلاً بِأَمْرٍ سَأَلَتْهُ عَنْهُ حَتَّى فَضَحَهُ الصُّبْحُ فَأَصْبَحَ جِدًّا قَالَ فَقَامَ بِلاَلٌ فَآذَنَهُ بِالصَّلاَةِ وَتَابَعَ أَذَانَهُ فَلَمْ يَخْرُجْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا خَرَجَ صَلَّى بِالنَّاسِ وَأَخْبَرَهُ أَنَّ عَائِشَةَ شَغَلَتْهُ بِأَمْرٍ سَأَلَتْهُ عَنْهُ حَتَّى أَصْبَحَ جِدًّا وَأَنَّهُ أَبْطَأَ عَلَيْهِ بِالْخُرُوجِ فَقَالَ " إِنِّي كُنْتُ رَكَعْتُ رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ أَصْبَحْتَ جِدًّا . قَالَ " لَوْ أَصْبَحْتُ أَكْثَرَ مِمَّا أَصْبَحْتُ لَرَكَعْتُهُمَا وَأَحْسَنْتُهُمَا وَأَجْمَلْتُهُمَا " .

বর্ণনাকারী: বিলাল ইবনে রাবাহ (রাঃ)

১২৫৭. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... বিলাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে ফজরের নামাযের সময় সম্পর্কে জ্ঞাত করতে আসেন। এ সময় আয়িশা (রাযিঃ) বিলাল (রাযিঃ)-কে একটি প্রশ্ন করে ব্যাস্ত রাখা অবস্থায় আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। অতঃপর বিলাল (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ)-কে পুনঃ দুইবার ফজরের নামাযের সময় সম্পর্কে অবহিত করেন, কিন্তু তিনি তখন বাইরে আসেন নাই। কিছুক্ষণ পরে তিনি বাইরে বের হয়ে এসে লোকদের নিয়ে নামায আদায় করেন।

বিলাল (রাযিঃ) তাঁকে বলেন, (অদ্য নামাযে বিলম্ব হওয়ার কারণ এই যে) আয়িশা (রাযিঃ) তাঁকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে আটকে রাখেন এবং অপরপক্ষে নবী (ﷺ)-ও বের হতে বিলম্ব করেন। ফলে পূর্বাকাশ অধিক পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। মহানবী (ﷺ) বলেন, (আমার বিলম্বের কারণ এই যে) আমি তোমার আহবানের সময় ফজরের ফরয নামাযের পূর্বের দুই রাকআত নামায আদায়ে মশগুল ছিলাম। তিনি বলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনিও আজ অধিক বিলম্ব করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি আজ যত দেরি করেছি এই চাইতে অধিক বিলম্ব হলেও দুই রাকআত অত্যন্ত সুন্দরভাবে আদায় করতাম।
১২৫৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ الْمَدَنِيَّ - عَنِ ابْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ سِيْلاَنَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَدَعُوهُمَا وَإِنْ طَرَدَتْكُمُ الْخَيْلُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১২৫৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা কোন সময় ঐ দুই রাকআত নামায (ফজরের সুন্নত) ত্যাগ করবেনা, ঘোড়ায় তোমাদের পিষে ফেললেও।

১২৫৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ حَكِيمٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ كَثِيرًا، مِمَّا كَانَ يَقْرَأُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ بِـ ( آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا ) هَذِهِ الآيَةَ قَالَ هَذِهِ فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى وَفِي الرَّكْعَةِ الآخِرَةِ بِـ ( آمَنَّا بِاللَّهِ وَاشْهَدْ بِأَنَّا مُسْلِمُونَ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১২৫৯. আহমাদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অধিকাংশ সময় ফজরের দুই রাকআত নামাযের (সুন্নত) প্রথম রাকআতে “আমান্না বিল্লাহি ওয়ামা উনযিলা ইলাইনা” এবং দ্বিতীয় রাকআতে “আমান্না বিল্লাহি ওয়াশহাদ বিয়ান্না মুসলিমুন” এই আয়াতদ্বয় পাঠ করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১২৬০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ بْنِ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عُمَرَ، - يَعْنِي ابْنَ مُوسَى - عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ ( قُلْ آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا ) فِي الرَّكْعَةِ الأُولَى وَفِي الرَّكْعَةِ الأُخْرَى بِهَذِهِ الآيَةِ ( رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ ) أَوْ ( إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلاَ تُسْأَلُ عَنْ أَصْحَابِ الْجَحِيمِ ) شَكَّ الدَّرَاوَرْدِيُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১২৬০. মুহাম্মাদ ইবনুস সাব্বাহ (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ) ফজরের দুই রাকআত (সুন্নত) নামাযের প্রথম রাকআতে “কুল আমান্না বিল্লাহি ওয়ামা উনযিলা ইলাইনা” এবং দ্বিতীয় রাকআতে “রাব্বানা আমান্না বিমা আনযালতা ওয়াত্তাবানার রাসুলা ফাকতুবনা মাআশশাহিদীন” অথবা “ইন্না আরসালনাকা বিল হাক্কি বাশীরাও ওয়া নাযিরা ওয়ালা তুসয়ালু আন আসহাবিল জাহিম” তিলাওয়াত করতে শুনেছি।

২৯৮. ফজরের সুন্নতের পর বিশ্রাম গ্রহণ সম্পর্কে।

باب الاِضْطِجَاعِ بَعْدَهَا

১২৬১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَأَبُو كَامِلٍ وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمُ الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الصُّبْحِ فَلْيَضْطَجِعْ عَلَى يَمِينِهِ " . فَقَالَ لَهُ مَرْوَانُ بْنُ الْحَكَمِ أَمَا يُجْزِئُ أَحَدَنَا مَمْشَاهُ إِلَى الْمَسْجِدِ حَتَّى يَضْطَجِعَ عَلَى يَمِينِهِ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ فِي حَدِيثِهِ قَالَ لاَ . قَالَ فَبَلَغَ ذَلِكَ ابْنَ عُمَرَ فَقَالَ أَكْثَرَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَلَى نَفْسِهِ . قَالَ فَقِيلَ لاِبْنِ عُمَرَ هَلْ تُنْكِرُ شَيْئًا مِمَّا يَقُولُ قَالَ لاَ وَلَكِنَّهُ اجْتَرَأَ وَجَبُنَّا . قَالَ فَبَلَغَ ذَلِكَ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ فَمَا ذَنْبِي إِنْ كُنْتُ حَفِظْتُ وَنَسُوا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১২৬১. মুসাদ্দাদ, আবু কামিল এবং উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ ফজরের সুন্নত নামায পড়ার পর যেন কাত হয়ে শুয়ে ক্ষণিক বিশ্রাম নেয়। এ সময় মারওয়ান ইবনুল হাকাম তাঁকে বলেন, যদি কেউ মসজিদে গিয়ে ডান পাঁজরে ভর দিয়ে বিশ্রাম গ্রহণ করে তবে কি তা যথেষ্ট হবে? তিনি বলেন, না (এটা রাবী উবাইদুল্লাহ-র বর্ণনা অনুযায়ী)।

রাবী বলেন, অতঃপর এই সংবাদ ইবনে উমর (রাযিঃ) এর নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এই বর্ণনায় নিজের তরফ থেকে কিছু বৃদ্ধি করেছেন কি? তখন ইবনে উমর (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হয়, আপনি কি তা অস্বীকার করেন? তিনি বলেন, না। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সাহসের সাথে তা বলেছেন এবং আমরা এতে দুর্বলতা প্রকাশ করেছি। এই সংবাদ আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর নিকট পৌঁছলে তিনি বলেন, কোন কিছু স্মরণে থাকা ও ভুলে যাওয়া কোন দোষের ব্যপার নয়।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২৬২

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ سَالِمٍ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا قَضَى صَلاَتَهُ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ نَظَرَ فَإِنْ كُنْتُ مُسْتَيْقِظَةً حَدَّثَنِي وَإِنْ كُنْتُ نَائِمَةً أَيْقَظَنِي وَصَلَّى الرَّكْعَتَيْنِ ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى يَأْتِيَهُ الْمُؤَذِّنُ فَيُؤْذِنَهُ بِصَلاَةِ الصُّبْحِ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ ثُمَّ يَخْرُجُ إِلَى الصَّلاَةِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১২৬২. ইয়াহিয়া ইবনে হাকিম (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাহাজ্জুদ নামায আদায়ের পর আমাকে জাগ্রত অবস্থায় পেলে আমার সাথে (দ্বীন সম্পর্কীয়) আলাপ আলোচনা করতেন। আমি ঘুমন্ত অবস্থায় থাকলে তিনি আমাকে ঘুম থেকে উঠাতেন। অতঃপর তিনি দুই রাকআত নামায আদায়ের পর কাত হয়ে শুয়ে বিশ্রাম নিতেন এবং মুয়াজ্জিনের আগমন পর্যন্ত ঐ ভাবে থাকতেন। মুয়াজ্জিন এসে ফজরের নামাযের খবর দিলে তিনি ফজরের দুই রাকআত (সুন্নত) হাল্কাভাবে আদায় করতেন। অতঃপর ফজরের ফরয নামায আদায়ের জন্য মসজিদে যেতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২৬৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زِيَادِ بْنِ سَعْدٍ، عَمَّنْ حَدَّثَهُ - ابْنِ أَبِي عَتَّابٍ، أَوْ غَيْرِهِ - عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ قَالَتْ عَائِشَةُ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا صَلَّى رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ فَإِنْ كُنْتُ نَائِمَةً اضْطَجَعَ وَإِنْ كُنْتُ مُسْتَيْقِظَةً حَدَّثَنِي .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১২৬৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের দুই রাকআত সুন্নত নামায আদায়ের পর আমাকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলে তিনিও একটু আরাম করতেন। তিনি আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দেখলে আমার সাথে দ্বীন সম্পর্কে আলোচনা করতেন।

১২৬৪

حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، وَزِيَادُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ، عَنْ أَبِي مَكِينٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ، - رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ - عَنْ مُسْلِمِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِصَلاَةِ الصُّبْحِ فَكَانَ لاَ يَمُرُّ بِرَجُلٍ إِلاَّ نَادَاهُ بِالصَّلاَةِ أَوْ حَرَّكَهُ بِرِجْلِهِ . قَالَ زِيَادٌ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْفُضَيْلِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

১২৬৪. আব্বাস আল আনবারী এবং যিয়াদ ইবনে ইয়াহিয়া (রাহঃ) ...... আবু বাকরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ফজরের নামাযে যাই। এই সময় তিনি কোন ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে নামাযের জন্য আহবান করতেন অথবা তাঁর পা দিয়ে স্পর্শ করতেন (সাধারণত ফজরের সুন্নত নামায আদায়ের পর যারা আরামের জন্য ক্ষণিক শয়ন করত, তিনি তাদেরকে এইরূপে ডাকতেন)।

২৯৯. কেউ ফজরের সুন্নত নামায আদায়ের পূর্বে ইমামকে জামাআতে নামাযরত পেলে।

باب إِذَا أَدْرَكَ الإِمَامَ وَلَمْ يُصَلِّ رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ

১২৬৫

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الصُّبْحَ فَصَلَّى الرَّكْعَتَيْنِ ثُمَّ دَخَلَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الصَّلاَةِ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " يَا فُلاَنُ أَيَّتُهُمَا صَلاَتُكَ الَّتِي صَلَّيْتَ وَحْدَكَ أَوِ الَّتِي صَلَّيْتَ مَعَنَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সারজিস রাযি.

১২৬৫. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে সারজিস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মসজিদে এসে দেখতে পায় যে, নবী করীম (ﷺ) জামাআত শুরু করে দিয়েছেন। লোকটি একাকী দুই রাকআত নামায পড়ার পর নবী করীম (ﷺ) এর সাথে জামাআতে শরীক হয়। নামায শেষে তিনি বলেনঃ তুমি কোন নামায আদায়ের উদ্দেশে মসজিদে এসেছ? যে নামায একাকী পড়েছ না যা আমাদের সাথে আদায় করেছ?

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১২৬৬

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ وَرْقَاءَ، ح وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، ح وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَاقَ، كُلُّهُمْ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ صَلاَةَ إِلاَّ الْمَكْتُوبَةُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১২৬৬. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম, আহমাদ ইবনে হাম্বল ও আল হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনুল মুতাওাক্কিল প্রমুখ সূত্রে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ ফরজ নামাযের ইকামত হয়ে যাওয়ার পর ফরয ব্যতিত আর কোন নামায পড়া দুরস্ত নয়।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

৩০০. যদি কারো ফজরের সুন্নত বাদ পড়ে তবে সে তা কখন পড়বে?

باب مَنْ فَاتَتْهُ مَتَى يَقْضِيهَا

১২৬৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يُصَلِّي بَعْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ رَكْعَتَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صَلاَةُ الصُّبْحِ رَكْعَتَانِ " . فَقَالَ الرَّجُلُ إِنِّي لَمْ أَكُنْ صَلَّيْتُ الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا فَصَلَّيْتُهُمَا الآنَ . فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: কায়স ইবনে আমর (রাঃ)

১২৬৭. উসমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... কায়েস ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দেখতে পান যে, এক ব্যক্তি ফজরের ফরয নামায আদায়ের পর দুই রাকআত নামায আদায় করছে। মহানবী (ﷺ) বলেন, ফজরের নামায দুই রাকআত। তখন ঐ ব্যক্তি বলেন, আমি ইতিপূর্বে ফজরের দুই রাকআত সুন্নত আদায় করতে পারিনি, তা এখন আদায় করছি। তাঁর কথায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিরব থাকেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২৬৮

دَّثَنَا حَامِدُ بْنُ يَحْيَى الْبَلْخِيُّ، قَالَ قَالَ سُفْيَانُ كَانَ عَطَاءُ بْنُ أَبِي رَبَاحٍ يُحَدِّثُ بِهَذَا الْحَدِيثِ عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى عَبْدُ رَبِّهِ وَيَحْيَى ابْنَا سَعِيدٍ هَذَا الْحَدِيثَ مُرْسَلاً أَنَّ جَدَّهُمْ زَيْدًا صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذِهِ الْقِصَّةِ»

বর্ণনাকারী: আতা ইবনে আবী রাবাহ (রহঃ)

১২৬৮. হামেদ ইবনে ইয়াহিয়া আল-বালখী (রাহঃ) ..... আতা ইবনে আবু রাবাহ (রাহঃ) সাদ ইবনে সাইদ (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৩০১. যোহরের আগে ও পরে চার রাকআত নামায।

باب الأَرْبَعُ قَبْلَ الظُّهْرِ وَبَعْدَهَا

১২৬৯

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، عَنِ النُّعْمَانِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، قَالَ قَالَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ زَوْجُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ حَافَظَ عَلَى أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ قَبْلَ الظُّهْرِ وَأَرْبَعٍ بَعْدَهَا حَرُمَ عَلَى النَّارِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الْعَلاَءُ بْنُ الْحَارِثِ وَسُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى عَنْ مَكْحُولٍ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে হাবীবা (রাঃ)

১২৬৯. মুয়াম্মাল ইবনুল ফাদল (রাহঃ) ..... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রী উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি যোহরের ফরয নামাযের পূর্বে এবং পরে চার রাকআত করে নামায পড়বে তাঁর জন্য দোযখের আগুন হারাম হবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২৭০

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ عُبَيْدَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ مِنْجَابٍ، عَنْ قَرْثَعٍ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَرْبَعٌ قَبْلَ الظُّهْرِ لَيْسَ فِيهِنَّ تَسْلِيمٌ تُفْتَحُ لَهُنَّ أَبْوَابُ السَّمَاءِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ بَلَغَنِي عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانِ قَالَ لَوْ حَدَّثْتُ عَنْ عُبَيْدَةَ بِشَىْءٍ لَحَدَّثْتُ عَنْهُ بِهَذَا الْحَدِيثِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ عُبَيْدَةُ ضَعِيفٌ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ ابْنُ مِنْجَابٍ هُوَ سَهْمٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

১২৭০. ইবনুল মুসান্না (রাহঃ) ..... আবু আইয়ুব (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, যোহরের ফরয নামাযের পূর্বে এক সালামের সাথে যে ব্যক্তি চার রাকআত নামায পড়বে এর বদৌলতে তাঁর জন্য আকাশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত হবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩০২. আসরের ফরয নামাযের পূর্বে নামায পড়া সম্পর্কে।

باب الصَّلاَةِ قَبْلَ الْعَصْرِ

১২৭১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنِي جَدِّي أَبُو الْمُثَنَّى، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " رَحِمَ اللَّهُ امْرَأً صَلَّى قَبْلَ الْعَصْرِ أَرْبَعًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২৭১. আহমাদ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আসরের ফরয নামাযের পূর্বে চার রাকআত নামায পড়বে আল্লাহ তাআলা তার উপর রহমত বর্ষণ করুন।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২৭২

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الْعَصْرِ رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১২৭২. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মহানবী (ﷺ) আসরের (ফরয) নামাযের পূর্বে দুই রাকআত (নফল) নামায পড়তেন।

৩০৩. আসরের ফরয নামাযের পর নামায পড়া সম্পর্কে।

باب الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ

১২৭৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَزْهَرَ، وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، أَرْسَلُوهُ إِلَى عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا اقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلاَمَ مِنَّا جَمِيعًا وَسَلْهَا عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ وَقُلْ إِنَّا أُخْبِرْنَا أَنَّكِ تُصَلِّينَهُمَا وَقَدْ بَلَغَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْهُمَا . فَدَخَلْتُ عَلَيْهَا فَبَلَّغْتُهَا مَا أَرْسَلُونِي بِهِ فَقَالَتْ سَلْ أُمَّ سَلَمَةَ . فَخَرَجْتُ إِلَيْهِمْ فَأَخْبَرْتُهُمْ بِقَوْلِهَا فَرَدُّونِي إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ بِمِثْلِ مَا أَرْسَلُونِي بِهِ إِلَى عَائِشَةَ فَقَالَتْ أُمُّ سَلَمَةَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى عَنْهُمَا ثُمَّ رَأَيْتُهُ يُصَلِّيهِمَا أَمَّا حِينَ صَلاَّهُمَا فَإِنَّهُ صَلَّى الْعَصْرَ ثُمَّ دَخَلَ وَعِنْدِي نِسْوَةٌ مِنْ بَنِي حَرَامٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَصَلاَّهُمَا فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ الْجَارِيَةَ فَقُلْتُ قُومِي بِجَنْبِهِ فَقُولِي لَهُ تَقُولُ أُمُّ سَلَمَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَسْمَعُكَ تَنْهَى عَنْ هَاتَيْنِ الرَّكْعَتَيْنِ وَأَرَاكَ تُصَلِّيهِمَا فَإِنْ أَشَارَ بِيَدِهِ فَاسْتَأْخِرِي عَنْهُ . قَالَتْ فَفَعَلَتِ الْجَارِيَةُ فَأَشَارَ بِيَدِهِ فَاسْتَأْخَرَتْ عَنْهُ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " يَا بِنْتَ أَبِي أُمَيَّةَ سَأَلْتِ عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ إِنَّهُ أَتَانِي نَاسٌ مِنْ عَبْدِ الْقَيْسِ بِالإِسْلاَمِ مِنْ قَوْمِهِمْ فَشَغَلُونِي عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ اللَّتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ فَهُمَا هَاتَانِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১২৭৩. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়েব (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ), আব্দুর রহমান ইবনে আযহার (রাযিঃ) এবং মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) এর খিদমতে এই সংবাদসহ প্রেরণ করেন যে, তুমি তাঁকে আমাদের সকলের পক্ষ হতে সালাম দিবে অতঃপর আসরের পর দুই রাকআত নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। তাঁকে এও বলবে যে, আমরা জানতে পেরেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের পর নামায পড়তে নিষেধ করেছেন।

কুরায়েব বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে সালাম জানিয়ে বিষয়টি অবহিত করি। তিনি বলেন, তুমি এই সম্পর্কে উম্মে সালামা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা কর। অতএব আমি তাঁদের নিকট ফিরে আসি। অতঃপর তাঁরা আবার আমাকে ঐ বার্তাসহ উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর নিকট প্রেরণ করেন, যা নিয়ে তাঁরা আমাকে আয়িশা (রাযিঃ) এর নিকট প্রেরণ করেছিলেন।

আমি উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দুই রাকআত নামায (আসরের পরে) পড়তে নিষেধ করতে শুনেছি এবং আমি তাঁকে ঐ দুই রাকআত নামায পড়তেও দেখেছি। ঐ দুই রাকআত নামায আদায়ের ঘটনা এই যে, একদা তিনি আসরের নামাযের পর ঘরে ফিরে নামাযে দণ্ডায়মান হন। এই সময় আনসারদের বনী হারাম গোত্রের কিছু সংখ্যক মহিলা আমার নিকট উপস্থিত ছিল। আমি তাঁর নিকট জনৈক দাসীকে প্রেরণ করে বলি, তুমি তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বলবে, উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেছেন, ‘‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনাকে এই দুই রাকআত নামায আদায়ের ব্যাপারে নিষেধ করতে শুনেছি এবং আমি এখন তা আপনাকে আদায় করতে দেখছি।’’ তিনি যদি হাত দ্বারা ইশারা করেন, তবে তুমি অপেক্ষা করবে। উম্মে সালামা (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর দাসীটি আমার নির্দেশমত কাজ করলে নবী করীম (ﷺ) ইশারা করলে সে অপেক্ষা করে।

তিনি নামায শেষে বলেনঃ হে আবু উমাইয়ার কন্যা! তুমি আমাকে আসরের পর দুই রাকআত নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, আজ আব্দুল কায়েস গোত্রের কিছু সংখ্যক লোক ইসলামের ব্যাপারে জানবার জন্য আমার নিকট আগমন করে, তাদের সাথে কথাবার্তায় মশগুল থাকায় আমি যোহরের পরের দুই রাকআত নামায আদায় করতে পারিনি, এখন তা আদায় করলাম।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৩০৪. সূর্য উপরে থাকতেই তা আদায়ের অনুমতি সম্পর্কে।

باب مَنْ رَخَّصَ فِيهِمَا إِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ مُرْتَفِعَةً

১২৭৪

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ وَهْبِ بْنِ الأَجْدَعِ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ إِلاَّ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১২৭৪. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের পর (নফল) নামায পড়তে নিষেধ করেছেন; তবে যদি সূর্য উপরে থাকে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১২৭৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي إِثْرِ كُلِّ صَلاَةٍ مَكْتُوبَةٍ رَكْعَتَيْنِ إِلاَّ الْفَجْرَ وَالْعَصْرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১২৭৫. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সালল্লালল্লাহু আলাইহি ওয়াসালল্লাম প্রত্যেক ফরয নামায আদায়ের পর দুই রাকআত নামায আদায় করতেন। তবে তিনি ফজর ও আসরের ফরয নামাযের কোন নামায পড়তেন না।

১২৭৬

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ شَهِدَ عِنْدِي رِجَالٌ مَرْضِيُّونَ فِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَأَرْضَاهُمْ عِنْدِي عُمَرُ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ صَلاَةَ بَعْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَلاَ صَلاَةَ بَعْدَ صَلاَةِ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১২৭৬. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কতিপয় নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি যাদের মধ্যে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-ও ছিলেন এবং তিনিই আমার নিকট অধিক প্রিয় ছিলেন, বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ ফজরের নামাযের পর সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত কোন নামায নাই। একইরূপে আসরের ফরয নামাযের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোন নামায নাই।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১২৭৭

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ أَبِي سَلاَّمٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ السُّلَمِيِّ، أَنَّهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَىُّ اللَّيْلِ أَسْمَعُ قَالَ " جَوْفُ اللَّيْلِ الآخِرُ فَصَلِّ مَا شِئْتَ فَإِنَّ الصَّلاَةَ مَشْهُودَةٌ مَكْتُوبَةٌ حَتَّى تُصَلِّيَ الصُّبْحَ ثُمَّ أَقْصِرْ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَتَرْتَفِعَ قِيْسَ رُمْحٍ أَوْ رُمْحَيْنِ فَإِنَّهَا تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ وَتُصَلِّي لَهَا الْكُفَّارُ ثُمَّ صَلِّ مَا شِئْتَ فَإِنَّ الصَّلاَةَ مَشْهُودَةٌ مَكْتُوبَةٌ حَتَّى يَعْدِلَ الرُّمْحُ ظِلَّهُ ثُمَّ أَقْصِرْ فَإِنَّ جَهَنَّمَ تُسْجَرُ وَتُفْتَحُ أَبْوَابُهَا فَإِذَا زَاغَتِ الشَّمْسُ فَصَلِّ مَا شِئْتَ فَإِنَّ الصَّلاَةَ مَشْهُودَةٌ حَتَّى تُصَلِّيَ الْعَصْرَ ثُمَّ أَقْصِرْ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَإِنَّهَا تَغْرُبُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ وَيُصَلِّي لَهَا الْكُفَّارُ " . وَقَصَّ حَدِيثًا طَوِيلاً قَالَ الْعَبَّاسُ هَكَذَا حَدَّثَنِي أَبُو سَلاَّمٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ إِلاَّ أَنْ أُخْطِئَ شَيْئًا لاَ أُرِيدُهُ فَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে আবাসা (রাঃ)

১২৭৭. আর-রবী ইবনে নাফে (রাহঃ) .... আমর ইবনে আনবাসা আস-সুলামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাতের কোন অংশে আল্লাহ পাক দুআ অধিক কবুল করেন? তিনি বলেনঃ রাতের শেষাংশে। অতএব তখন তুমি তোমার ইচ্ছামত নামায আদায় করবে। কেননা ঐ সময়ের নামাযে বিশেষ ফিরিশতারা উপস্থিত হয়ে তা তাদের নিকট রক্ষিত আমলনামায় লিপিবদ্ধ করে নেয় এবং তারা ফজরের সূর্য উঠা পর্যন্ত উপস্থিত থাকে। অতঃপর তুমি সূর্য উঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে এবং এর পরিমাণ হল, এক বা দুই তীরের সমান। কেননা সূর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়ে উদিত হয় এবং ঐ সময় কাফিররা শয়তানের পূজা করে। অতঃপর তোমার ইচ্ছানুযায়ী নামায আদায় করবে। কেননা প্রত্যেক নামাযের সময়ই ফিরিশতারা দফতরসহ উপস্থিত হয়ে থাকে এবং ঠিক দ্বিপ্রহরের পূর্ব পর্যন্ত নামায আদায় করা যায়।

অতঃপর সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। কেননা এই সময় জাহান্নামের আগুন প্রবলভাবে উদ্দীপিত হতে থাকে এবং এর দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। অতঃপর সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পর তুমি তোমার খুশীমত আসরের পূর্ব পর্যন্ত নামায আদায় করতে পার। কেননা প্রত্যেক নামাযের সময় ফেরেশাতার হাযির হয়ে থাকে। আসরের ফরয নামায আদায়ের পর হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনরূপ নামায পড়া থেকে বিরত থাকবে। কেননা শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে সূর্য অস্তচলে যায় এবং কাফিররা ঐ সময় শয়তানের পূজা করে থাকে। অতঃপর রাবী দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন।

রাবী আব্বাস ইবনে সালিম (রাহঃ) বলেন, আবু সালামা (রাহঃ) ......... আবু উমামা (রাযিঃ) হতে আমার নিকট ঐরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে যদি আমার বর্ণনায় কোন ভুলত্রুটি হয়ে থাকে সেজন্য আমি আল্লাহর নিকটে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২৭৮

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا قُدَامَةُ بْنُ مُوسَى، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي عَلْقَمَةَ، عَنْ يَسَارٍ، مَوْلَى ابْنِ عُمَرَ قَالَ رَآنِي ابْنُ عُمَرَ وَأَنَا أُصَلِّي، بَعْدَ طُلُوعِ الْفَجْرِ فَقَالَ يَا يَسَارُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ عَلَيْنَا وَنَحْنُ نُصَلِّي هَذِهِ الصَّلاَةَ فَقَالَ " لِيُبَلِّغْ شَاهِدُكُمْ غَائِبَكُمْ لاَ تُصَلُّوا بَعْدَ الْفَجْرِ إِلاَّ سَجْدَتَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২৭৮. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... ইয়াসার (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সুবহে সাদিকের পর ইবনে উমর (রাযিঃ) আমাকে নামায পড়তে দেখে বলেন, হে ইয়াসার! একদা আমরা এই নামায আদায়কালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকটবর্তী হয়ে বলেছিলেনঃ তোমরা এখন যারা উপস্থিত আছ, তারা আমার এই নির্দেশ অনুপস্থিত লোকদের নিকট পৌঁছায়ে দিও যে, সুবহে সাদিকের পর ফজরের ফরযের পূর্বে দুই রাকআত সুন্নত নামায ছাড়া আর কোন নামায পড়বে না।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২৭৯

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، وَمَسْرُوقٍ، قَالاَ نَشْهَدُ عَلَى عَائِشَةَ - رضى الله عنها - أَنَّهَا قَالَتْ مَا مِنْ يَوْمٍ يَأْتِي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ صَلَّى بَعْدَ الْعَصْرِ رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১২৭৯. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) আসরের ফরয নামায আদায়ের পর সব সময়ই দুই রাকআত নামায পড়তেন। (সম্ভবতঃ তা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট ছিল। কিন্তু তাঁর উম্মতের জন্য উপরোক্ত নিষেধ বাণী প্রযোজ্য)।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১২৮০

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا عَمِّي، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ ذَكْوَانَ، مَوْلَى عَائِشَةَ أَنَّهَا حَدَّثَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي بَعْدَ الْعَصْرِ وَيَنْهَى عَنْهَا وَيُوَاصِلُ وَيَنْهَى عَنِ الْوِصَالِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১২৮০. উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের ফরয নামায আদায়ের পর অন্য নফল নামাযও পড়তেন। তবে তিনি তাঁর উম্মতকে তা পড়তে নিষেধ করতেন এবং তিনি (কোন কোন সময়) একই সঙ্গে বহু দিন রোযা (সাওমে বিসাল) রাখতেন, কিন্তু তিনি উম্মতকে এভাবে রোযা রাখতে নিষেধ করতেন।

৩০৫. মাগরিবের আগে নফল নামায আদায় সম্পর্কে।

باب الصَّلاَةِ قَبْلَ الْمَغْرِبِ

১২৮১

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ الْحُسَيْنِ الْمُعَلِّمِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صَلُّوا قَبْلَ الْمَغْرِبِ رَكْعَتَيْنِ " . ثُمَّ قَالَ " صَلُّوا قَبْلَ الْمَغْرِبِ رَكْعَتَيْنِ لِمَنْ شَاءَ " . خَشْيَةَ أَنْ يَتَّخِذَهَا النَّاسُ سُنَّةً .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ মুযানী (রাঃ)

১২৮১. উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনুল-মুযানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তোমরা যে ইচ্ছা কর মাগরিবের পূর্বে দুই রাকআত নামায আদায় করতে পার। তিনি দুইবার এরূপ বলেন এবং তিনি তা আদায়ে কঠোরতা না করার কারণ এই ছিল, যাতে লোকেরা এটাকে সুন্নত হিসাবে মনে না করে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ

১২৮২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْبَزَّازُ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنِ الْمُخْتَارِ بْنِ فُلْفُلٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ صَلَّيْتُ الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْمَغْرِبِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ قُلْتُ لأَنَسٍ أَرَآكُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ رَآنَا فَلَمْ يَأْمُرْنَا وَلَمْ يَنْهَنَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১২৮২. মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় আমরা মাগরিবের নামাযের পূর্বে দুই রাকআত নামায আদায় করতাম। রাবী বলেন, আমি এ সম্পর্কে আনাস (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কি রাসূলুল্লাহকে এই নামায আদায় করতে দেখেছেন? তখন তিনি বলেন, হ্যাঁ, এবং তিনি আমাদেরকেও তা আদায় করতে দেখেছেন। কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে কোন আদেশ বা নিষেধ প্রদান করেন নি।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১২৮৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ لِمَنْ شَاءَ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাঃ)

১২৮৩. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ দুই আযানের (আযান ও ইকামতের) মধ্যবর্তী সময়ে যে ইচ্ছা করে, নামায আদায় করতে পারে। তিনি দুইবার এরূপ বলেন।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১২৮৪

حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي شُعَيْبٍ، عَنْ طَاوُسٍ، قَالَ سُئِلَ ابْنُ عُمَرَ عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ، قَبْلَ الْمَغْرِبِ فَقَالَ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّيهِمَا . وَرَخَّصَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ مَعِينٍ يَقُولُ هُوَ شُعَيْبٌ يَعْنِي وَهِمَ شُعْبَةُ فِي اسْمِهِ .

বর্ণনাকারী: তাউস ইবনে কায়সান (রহঃ)

১২৮৪. ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... তাউস (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ)-কে মাগরিবের নামাযের পূর্বে দুই রাকআত নামায আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে আমি কাউকেও তা আদায় করতে দেখিনি এবং আমি কাউকেও আসরের পরে দুই রাকআত নামায আদায়ের ব্যাপারে অনুমতি দিতে দেখিনি।

৩০৬. বেলা এক প্রহরে চাশতের নামায।

باب صَلاَةِ الضُّحَى

১২৮৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ عَبَّادٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، - الْمَعْنَى - عَنْ وَاصِلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُقَيْلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمُرَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يُصْبِحُ عَلَى كُلِّ سُلاَمَى مِنِ ابْنِ آدَمَ صَدَقَةٌ تَسْلِيمُهُ عَلَى مَنْ لَقِيَ صَدَقَةٌ وَأَمْرُهُ بِالْمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ وَنَهْيُهُ عَنِ الْمُنْكَرِ صَدَقَةٌ وَإِمَاطَتُهُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ وَبُضْعَةُ أَهْلِهِ صَدَقَةٌ وَيُجْزِئُ مِنْ ذَلِكَ كُلِّهِ رَكْعَتَانِ مِنَ الضُّحَى " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدِيثُ عَبَّادٍ أَتَمُّ وَلَمْ يَذْكُرْ مُسَدَّدٌ الأَمْرَ وَالنَّهْىَ زَادَ فِي حَدِيثِهِ وَقَالَ كَذَا وَكَذَا وَزَادَ ابْنُ مَنِيعٍ فِي حَدِيثِهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَحَدُنَا يَقْضِي شَهْوَتَهُ وَتَكُونُ لَهُ صَدَقَةٌ قَالَ " أَرَأَيْتَ لَوْ وَضَعَهَا فِي غَيْرِ حِلِّهَا أَلَمْ يَكُنْ يَأْثَمُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

১২৮৫. আহমাদ ইবনে মানী ও মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু যর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক মানুষের জন্য প্রত্যহ সকালে সাদ্‌কা দেওয়া প্রয়োজন। কোন ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত হলে তাকে সালাম দেয়াও একটি সাদ্‌কা। কোন ব্যক্তিকে ভালো কাজের নির্দেশ দেয়াও একটি সাদ্‌কা এবং খারাপ কাজ হতে বিরত থাকাও একটি সাদ্‌কা, রাস্তার উপর হতে কষ্টদায়ক বস্ত্ত অপসারণ করাও একটি সাদ্‌কা, নিজের স্ত্রীর সাথেও সহবাস করাও একটি সাদ্‌কা। যদি কেউ দুই রাকআত চাশতের নামায আদায় করে, তবে সে উপরোক্ত কাজগুলির অনুরূপ সাওয়াব প্রাপ্ত হবে।

রাবী ইবনে মানী (রাহঃ) তাঁর র্বণনায় আরও উল্লেখ করেছেন যে, এসময় সাহাবায়ে কিরাম বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কেউ নিজ স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে তার কামস্পৃহা চরিতার্থ করবে এবং একেও কি সাদ্‌কা বলা হবে? তিনি বলেনঃ তুমি কি দেখ না, যদি সে তা কোন অবৈধ স্থানে ব্যবহার করত তবে সে গুনাহগার হত না?
১২৮৬

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ وَاصِلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُقَيْلٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمُرَ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ الدُّؤَلِيِّ، قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ أَبِي ذَرٍّ قَالَ " يُصْبِحُ عَلَى كُلِّ سُلاَمَى مِنْ أَحَدِكُمْ فِي كُلِّ يَوْمٍ صَدَقَةٌ فَلَهُ بِكُلِّ صَلاَةٍ صَدَقَةٌ وَصِيَامٍ صَدَقَةٌ وَحَجٍّ صَدَقَةٌ وَتَسْبِيحٍ صَدَقَةٌ وَتَكْبِيرٍ صَدَقَةٌ وَتَحْمِيدٍ صَدَقَةٌ " . فَعَدَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ هَذِهِ الأَعْمَالِ الصَّالِحَةِ ثُمَّ قَالَ " يُجْزِئُ أَحَدَكُمْ مِنْ ذَلِكَ رَكْعَتَا الضُّحَى " .

বর্ণনাকারী: আবুল আসওয়াদ দুআলী (রহঃ)

১২৮৬. ওয়াহব ইবনে বাকিয়া (রাহঃ) .... আবুল আসাদ আদ-দায়লামী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা আবু যর (রাযিঃ) এর নিকটে বসে থাকা অবস্থায় তিনি বলেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের উচিত, প্রত্যহ সকালে নিজেদের জন্য কিছু সাদ্‌কা করা। তার প্রত্যেকটি নামাযই সাদ্‌কা স্বরূপ, রোযাও সাদ্‌কা, হজ্জও সাদ্‌কা, তাসবীহ পাঠও সাদ্‌কা, তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠও সাদ্‌কা, তাহমীদ (আলহামাদু লিল্লাহ) পাঠও সাদ্‌কাস্বরূপ! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উপরোক্ত কাজগুলিকে পুন্যের কাজসমূহের মধ্যে গণ্য করেছেন। অতঃপর বলেছেন, কেউ চাশতের সময়ে দুই রাকআত নামায আদায় করলে সে ঐ ব্যক্তির ঐগুলির অনুরূপ সাওয়াব পাবে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১২৮৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ زَبَّانَ بْنِ فَائِدٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ الْجُهَنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَعَدَ فِي مُصَلاَّهُ حِينَ يَنْصَرِفُ مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ حَتَّى يُسَبِّحَ رَكْعَتَىِ الضُّحَى لاَ يَقُولُ إِلاَّ خَيْرًا غُفِرَ لَهُ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ أَكْثَرَ مِنْ زَبَدِ الْبَحْرِ " .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে মুআয (রহঃ)

১২৮৭. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা (রাহঃ) ..... সাহল ইবনে মুআয (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি ফজরের নামাযের পর ভালো কাজে লিপ্ত থেকে সূর্য একটু উপরে উঠার পর দুই রাকআত নামায আদায় করে, তবে তার সমস্ত গুনাহ মার্জিত হবে। যদিও এর পরিমাণ সাগরের ফেনার চাইতেও অধিক হয়।

১২৮৮

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةٌ فِي أَثَرِ صَلاَةٍ لاَ لَغْوَ بَيْنَهُمَا كِتَابٌ فِي عِلِّيِّينَ " .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

১২৮৮. আবু তাওবা (রাহঃ) ..... আবু উমামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক নামায আদায়ের পর হতে অন্য নামায আদায় করা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি কেউ কোনরূপ অন্যায় অপকর্মে লিপ্ত না হয় তবে ঐ ব্যক্তির ‘আমলনামা’’ ইল্লীন নামক স্থানে সংরক্ষিত থাকবে।

১২৮৯

حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ أَبِي شَجَرَةَ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ هَمَّارٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَا ابْنَ آدَمَ لاَ تُعْجِزْنِي مِنْ أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ فِي أَوَّلِ نَهَارِكَ أَكْفِكَ آخِرَهُ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১২৮৯. দাউদ ইবনে রাশীদ (রাহঃ) .... নুআয়ম ইবনে হাম্মার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ রবুল আলামীন বলেনঃ হে বনী আদম! তোমরা দিনের প্রথমাংশে চার রাকআত নামায আদায় না করে আমাকে দিনের শেষ ভাগ পর্যন্ত তোমাদের ভালোবাসা হতে বঞ্চিত রেখ না।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২৯০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عِيَاضُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أُمِّ هَانِئٍ بِنْتِ أَبِي طَالِبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْفَتْحِ صَلَّى سُبْحَةَ الضُّحَى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ يُسَلِّمُ مِنْ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْفَتْحِ صَلَّى سُبْحَةَ الضُّحَى فَذَكَرَ مِثْلَهُ . قَالَ ابْنُ السَّرْحِ إِنَّ أُمَّ هَانِئٍ قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يَذْكُرْ سُبْحَةَ الضُّحَى بِمَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব (রাঃ)

১২৯০. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন দুপুরের পূর্বে প্রতি দুই রাকআতে সালাম ফিরিয়ে আট রাকআত নামায আদায় করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১২৯১

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ مَا أَخْبَرَنَا أَحَدٌ، أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الضُّحَى غَيْرَ أُمِّ هَانِئٍ فَإِنَّهَا ذَكَرَتْ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ اغْتَسَلَ فِي بَيْتِهَا وَصَلَّى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ فَلَمْ يَرَهُ أَحَدٌ صَلاَّهُنَّ بَعْدُ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা (রহঃ)

১২৯১. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... ইবনে আবু লায়লা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মে হানী (রাযিঃ) ব্যতীত আর কেউই এরূপ বর্ণনা করেননি যে, সে নবী করীম (ﷺ)কে দ্বিপ্রহরের পূর্বে নামায পড়তে দেখেছে। উম্মে হানী (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন যে, মক্কা বিজয়ের দিন নবী করী (ﷺ) তাঁর ঘরে প্রবেশ করে গোসল করেন, অতঃপর আট রাকআত নামায পড়েন। পরবর্তীকালে আর কেউই তাঁকে কখনও এরূপ নামায পড়তে দেখেনি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২৯২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الضُّحَى فَقَالَتْ لاَ إِلاَّ أَنْ يَجِيءَ مِنْ مَغِيبِهِ . قُلْتُ هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرِنُ بَيْنَ السُّورَتَيْنِ قَالَتْ مِنَ الْمُفَصَّلِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক (রহঃ)

১২৯২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি দুপুরের সময় কোন নামায পড়তেন? তিনি বলেন, না, অবশ্য ঐ সময় যদি তিনি কোন সফর হতে প্রত্যাবর্তন করতেন (তবে নামায পড়তেন)। রাবী বলেন, অতঃপর আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি একই রাকআতের মধ্যে দুটি সূরা মিলিয়ে পড়তেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ, তিনি কুরআনের মুফাসসাল (হুজুরাত থেকে নাস) সূরা মাঝে মাঝে মিলিয়ে নামায পড়তেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২৯৩

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ مَا سَبَّحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُبْحَةَ الضُّحَى قَطُّ وَإِنِّي لأُسَبِّحُهَا وَإِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيَدَعُ الْعَمَلَ وَهُوَ يُحِبُّ أَنْ يَعْمَلَ بِهِ خَشْيَةَ أَنْ يَعْمَلَ بِهِ النَّاسُ فَيُفْرَضَ عَلَيْهِمْ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১২৯৩. আল-কানবী (রাহঃ) ..... নবী করীম (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) কখনই নিয়মিতভাবে চাশতের নামায পড়েন নি। কিন্তু আমি তা আদায় করি এবং তিনি তা আমল করতে পছন্দ করলেও (মাঝে মাঝে) তার পরিত্যাগের কারণ এই ছিল যে, তিনি নিয়মিতভাবে আদায় করলে লোকদের উপর তা ফরয হয়ে যেতে পারে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১২৯৪

حَدَّثَنَا ابْنُ نُفَيْلٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالاَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا سِمَاكٌ، قَالَ قُلْتُ لِجَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ أَكُنْتَ تُجَالِسُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ كَثِيرًا فَكَانَ لاَ يَقُومُ مِنْ مُصَلاَّهُ الَّذِي صَلَّى فِيهِ الْغَدَاةَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَإِذَا طَلَعَتْ قَامَ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: সিমাক ইবনে হারব (রহঃ)

১২৯৪. ইবনে নুফায়েল (রাহঃ) ..... সিমাক (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবের ইবনে সামুরা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কি অধিক সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে থাকতেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি বহু সময় তাঁর সাথে থাকতাম। তিনি ফজরের নামাযের পর ঐ স্থানে সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে থাকতেন। অতঃপর সূর্য উপরে উঠলে তিনি ইশরাকের নামায আদায় করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৩০৭. দিনের নফল নামায সম্পর্কে।

باب فِي صَلاَةِ النَّهَارِ

১২৯৫

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَارِقِيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " صَلاَةُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مَثْنَى مَثْنَى " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১২৯৫. আমর ইবনে মারযূক (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ দিন ও রাতের (নফল) নামায দুই দুই রাকআত।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২৯৬

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنِي عَبْدُ رَبِّهِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ أَبِي أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ الْمُطَّلِبِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الصَّلاَةُ مَثْنَى مَثْنَى أَنْ تَشَهَّدَ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ وَأَنْ تَبَاءَسَ وَتَمَسْكَنَ وَتُقْنِعَ بِيَدَيْكَ وَتَقُولَ اللَّهُمَّ اللَّهُمَّ فَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَهِيَ خِدَاجٌ " . سُئِلَ أَبُو دَاوُدَ عَنْ صَلاَةِ اللَّيْلِ مَثْنَى قَالَ إِنْ شِئْتَ مَثْنَى وَإِنْ شِئْتَ أَرْبَعًا .

বর্ণনাকারী: আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ)

১২৯৬. ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ..... আল-মুত্তালিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ নফল নামায দুই দুই রাকআত এবং তুমি প্রতি দুই রাকআতের পর তাশাহহুদ পড়বে, অতপর নিজের বিপদাপদ ও দারিদ্রের কথা প্রকাশ করে দুই হাত তুলে দুআ করবেঃ আল্লাহুম্মা, আল্লাহুম্মা - ইত্যাদি। যে ব্যক্তি এরূপ করবে না তার নামায ত্রুটিপূর্ণ।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৩০৮. সালাতুত তাসবীহ সম্পর্কে।

باب صَلاَةِ التَّسْبِيحِ

১২৯৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرِ بْنِ الْحَكَمِ النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِلْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ " يَا عَبَّاسُ يَا عَمَّاهُ أَلاَ أُعْطِيكَ أَلاَ أَمْنَحُكَ أَلاَ أَحْبُوكَ أَلاَ أَفْعَلُ بِكَ عَشْرَ خِصَالٍ إِذَا أَنْتَ فَعَلْتَ ذَلِكَ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ ذَنْبَكَ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ قَدِيمَهُ وَحَدِيثَهُ خَطَأَهُ وَعَمْدَهُ صَغِيرَهُ وَكَبِيرَهُ سِرَّهُ وَعَلاَنِيَتَهُ عَشْرَ خِصَالٍ أَنْ تُصَلِّيَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ تَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَسُورَةً فَإِذَا فَرَغْتَ مِنَ الْقِرَاءَةِ فِي أَوَّلِ رَكْعَةٍ وَأَنْتَ قَائِمٌ قُلْتَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً ثُمَّ تَرْكَعُ فَتَقُولُهَا وَأَنْتَ رَاكِعٌ عَشْرًا ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ مِنَ الرُّكُوعِ فَتَقُولُهَا عَشْرًا ثُمَّ تَهْوِي سَاجِدًا فَتَقُولُهَا وَأَنْتَ سَاجِدٌ عَشْرًا ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ مِنَ السُّجُودِ فَتَقُولُهَا عَشْرًا ثُمَّ تَسْجُدُ فَتَقُولُهَا عَشْرًا ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ فَتَقُولُهَا عَشْرًا فَذَلِكَ خَمْسٌ وَسَبْعُونَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ تَفْعَلُ ذَلِكَ فِي أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ إِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تُصَلِّيَهَا فِي كُلِّ يَوْمٍ مَرَّةً فَافْعَلْ فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي كُلِّ جُمُعَةٍ مَرَّةً فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي كُلِّ شَهْرٍ مَرَّةً فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي كُلِّ سَنَةٍ مَرَّةً فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي عُمُرِكَ مَرَّةً " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১২৯৭. আব্দুর রহমান ইবনে বিশর (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর চাচা আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাযিঃ)-কে বলেনঃ হে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব! হে আব্বাস! হে আমার প্রিয় চাচা! আমি কি আপনাকে এমন একটি জিনিস দেব না যার মাধ্যমে আপনি দশটি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবেন? যখন আপনি এরূপ করবেন, তখন আল্লাহ তাআলা আপনার পূর্বাপরের সমস্ত গুনাহ মাফ করবেন। চাই তা প্রথম বারের হোক বা শেষ বারের পুরাতন হোক কিংবা নতুন হোক, ভুলেই হোক অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে, বড়ই হোক অথবা ছোট, প্রকাশ্যেই হোক অথবা গোপনে- আপনি এই দশটি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবেন, যদি আপনি চার রাকআত নামায নিম্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে আদায় করেন। আপনি এর প্রতি রাকআতে সূরা ফাতিহা পাঠের পর এর সাথে অন্য একটি সূরা মিলাবেন। অতঃপর যখন আপনি কিরাআত পাঠ শেষ করবেন তখন দাঁড়ানো অবস্থায় এই দুআ পাঠ করবেনঃ ‘সুবহানালল্লাহ আলহামদু লিলল্লাহ ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।’

অতঃপর আপনি রুকূ করবেন এবং সেখানেও ঐ দুআ দশবার পাঠ করবেন। পরে রুকূ হতে মাথা তুলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ঐ দু্’আ দশবার পাঠ করবেন। অতঃপর সিজদায় গিয়েও তা দশবার পাঠ করবেন এবং প্রথম সিজদার পর মাথা তুলে বসবার সময় ঐ দুআ দশবার পাঠ করবেন। অতঃপর দ্বিতীয় সিজদায়ও তা দশবার পাঠ করবেন, পরে সিজদা হতে মাথা তুলে ঐ দুআ দশবার পাঠ করা পর্যন্ত বসে থাকার পর দাঁড়াবেন (দ্বিতীয় রাকআতের জন্য)। অতঃপর আপনি প্রতি রাকআতে এরূপ পঁচাত্তর বার ঐ দুআ পাঠ করবেন এবং এরূপ চার রাকআত নামায আদায় করবেন। যদি আপনার পক্ষে সম্ভব হয় তবে আপনি এই নামায দৈনিক একবার আদায় করবেন। যদি তা সম্ভব না হয় তবে প্রতি সপ্তাহে শুক্রবারে একবার; যদি তাও সম্ভব না হয় হবে প্রতি মাসে একবার; যদি তাও অসম্ভব হয়, তবে প্রতি বছরে একবার; যদি তাও সম্ভব না হয় তবে গোটা জীবনে অন্ততঃ একবার আদায় করবেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১২৯৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُفْيَانَ الأُبُلِّيُّ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ أَبُو حَبِيبٍ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ، قَالَ حَدَّثَنِي رَجُلٌ، كَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ يُرَوْنَ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " ائْتِنِي غَدًا أَحْبُوكَ وَأُثِيبُكَ وَأُعْطِيكَ " . حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ يُعْطِينِي عَطِيَّةً قَالَ " إِذَا زَالَ النَّهَارُ فَقُمْ فَصَلِّ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ " . فَذَكَرَ نَحْوَهُ قَالَ " تَرْفَعُ رَأْسَكَ - يَعْنِي مِنَ السَّجْدَةِ الثَّانِيَةِ - فَاسْتَوِ جَالِسًا وَلاَ تَقُمْ حَتَّى تُسَبِّحَ عَشْرًا وَتَحْمَدَ عَشْرًا وَتُكَبِّرَ عَشْرًا وَتُهَلِّلَ عَشْرًا ثُمَّ تَصْنَعُ ذَلِكَ فِي الأَرْبَعِ رَكَعَاتٍ " . قَالَ " فَإِنَّكَ لَوْ كُنْتَ أَعْظَمَ أَهْلِ الأَرْضِ ذَنْبًا غُفِرَ لَكَ بِذَلِكَ " . قُلْتُ فَإِنْ لَمْ أَسْتَطِعْ أَنْ أُصَلِّيَهَا تِلْكَ السَّاعَةَ قَالَ " صَلِّهَا مِنَ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ خَالُ هِلاَلٍ الرَّائِيِّ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الْمُسْتَمِرُّ بْنُ الرَّيَّانِ عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو مَوْقُوفًا وَرَوَاهُ رَوْحُ بْنُ الْمُسَيَّبِ وَجَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَالِكٍ النُّكْرِيِّ عَنْ أَبِي الْجَوْزَاءِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَوْلُهُ وَقَالَ فِي حَدِيثِ رَوْحٍ فَقَالَ حَدِيثُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১২৯৮. মুহাম্মাদ ইবনে সুফিয়ান (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম (ﷺ) আমাকে বলেন, তুমি আগামীকাল আমার নিকট আসবে। আমি তোমাকে একটি উপাদেয় বস্তু দেব। তিনি বলেনঃ আমি মনে মনে ধারণা করলাম যে, তিনি নিশ্চয়ই আমাকে কোন জিনিস প্রদান করবেন। (পরদিন আমি তাঁর খিদমতে হাজির হলে) তিনি বলেনঃ যখন সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়বে, তখন তুমি চার রাকআত নাময আদায় করবে।

অতঃপর রাবী পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তিনি আরো বলেনঃ অতঃপর তুমি দ্বিতীয় সিজদা হতে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসবে এবং দাঁড়ানোর পূর্বেই দশবার তাসবীহ, দশবার তাহমীদ, দশবার তাকবীর ও দশবার তাহলীল পাঠ করবে (অর্থাৎ সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ও আল্লাহু আকবার)। তুমি চার রাকআত নমাযেই এরূপ দুআ পাঠ করবে। যদি তুমি যমীনের সর্বাপেক্ষা অধিক গুনাহগার ব্যক্তিও হও, তবুও তোমার গুনাহ মার্জিত হবে।

রাবী বলেনঃ আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, যদি আমি তা ঐ সময়ে আদায় করতে না পারি? তিনি বলেনঃ তুমি দিবারাত্রির মধ্যে যখনই সুযোগ পাবে তখনই তা আদায় করবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১২৯৯

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُهَاجِرٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ، رُوَيْمٍ حَدَّثَنِي الأَنْصَارِيُّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِجَعْفَرٍ بِهَذَا الْحَدِيثِ فَذَكَرَ نَحْوَهُمْ قَالَ فِي السَّجْدَةِ الثَّانِيَةِ مِنَ الرَّكْعَةِ الأُولَى كَمَا قَالَ فِي حَدِيثِ مَهْدِيِّ بْنِ مَيْمُونٍ .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

১২৯৯. আবু তাওবা আর-রাবী (রাহঃ) .... উরওয়া (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ জনৈক আনসার আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জাফর (রাযিঃ) এর নিকট এই হাদীসটি বর্ণনা করেন। অতঃপর উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

রাবী আরো বলেনঃ প্রথম রাকআতের দ্বিতীয় সিজদা সম্পর্কে রাবী মাহদী ইবনে মায়মুন হতে যেরূপ উক্ত হয়েছেন, তদ্রূপ এই স্থানেও বর্ণিত হয়েছে।

৩০৯. মাগরিবের দুই রাকআত সুন্নত নামায কোথায় পড়বে।

باب رَكْعَتَىِ الْمَغْرِبِ أَيْنَ تُصَلَّيَانِ

১৩০০

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، حَدَّثَنِي أَبُو مُطَرِّفٍ، مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْوَزِيرِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الْفِطْرِيُّ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَتَى مَسْجِدَ بَنِي عَبْدِ الأَشْهَلِ فَصَلَّى فِيهِ الْمَغْرِبَ فَلَمَّا قَضَوْا صَلاَتَهُمْ رَآهُمْ يُسَبِّحُونَ بَعْدَهَا فَقَالَ " هَذِهِ صَلاَةُ الْبُيُوتِ " .

বর্ণনাকারী: কাব ইবনে উজরাহ (রাঃ)

১৩০০. আবু বকর ইবনে আবুল আসওয়াদ (রাহঃ) ..... কা’ব ইবনে উজরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম (ﷺ) বনী আব্দুল আশহালের মসজিদে মাগরিবের নামায আদায় করেন। তিনি এসে নামায শেষে তাদের দেখতে পান যে, তাঁরা আরো নামায আদায় করছে। এতদ্দর্শনে তিনি বলেনঃ এটা (সুন্নত) তো গৃহে আদায় করার নামায।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৩০১

حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجَرْجَرَائِيُّ، حَدَّثَنَا طَلْقُ بْنُ غَنَّامٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي الْمُغِيرَةِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُطِيلُ الْقِرَاءَةَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ حَتَّى يَتَفَرَّقَ أَهْلُ الْمَسْجِدِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ نَصْرٌ الْمُجَدَّرُ عَنْ يَعْقُوبَ الْقُمِّيِّ وَأَسْنَدَهُ مِثْلَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَدَّثَنَاهُ مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ الطَّبَّاعِ حَدَّثَنَا نَصْرٌ الْمُجَدَّرُ عَنْ يَعْقُوبَ مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৩০১. হুসায়েন ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাগরিবের ফরয নামায আদায়ের পর দুই রাকআত সুন্নত নামাযের কিরাআত এত দীর্ঘ করতেন যে, মসজিদে আগত লোকেরা বিচ্ছিন্ন হয়ে চলে যেত।

১৩০২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ مُرْسَلٌ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ حُمَيْدٍ يَقُولُ سَمِعْتُ يَعْقُوبَ يَقُولُ كُلُّ شَىْءٍ حَدَّثْتُكُمْ عَنْ جَعْفَرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَهُوَ مُسْنَدٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনে জুবায়র (রহঃ)

১৩০২. আহমাদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ..... সাঈদ ইবনে যুবায়ের (রাহঃ) হতে এই সনদে নবী করীম (ﷺ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

৩১০. ইশার পর নফল নামায সম্পর্কে

باب الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعِشَاءِ

১৩০৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ الْعُكْلِيُّ، حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، حَدَّثَنِي مُقَاتِلُ بْنُ بَشِيرٍ الْعِجْلِيُّ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَ سَأَلْتُهَا عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ مَا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ قَطُّ فَدَخَلَ عَلَىَّ إِلاَّ صَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ أَوْ سِتَّ رَكَعَاتٍ وَلَقَدْ مُطِرْنَا مَرَّةً بِاللَّيْلِ فَطَرَحْنَا لَهُ نِطْعًا فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى ثُقْبٍ فِيهِ يَنْبُعُ الْمَاءُ مِنْهُ وَمَا رَأَيْتُهُ مُتَّقِيًا الأَرْضَ بِشَىْءٍ مِنْ ثِيَابِهِ قَطُّ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩০৩. মুহাম্মাদ ইবনে রাফে (রাহঃ) .... উম্মে শুরায়হ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার ফরয নামায আদায়ের পর আমার গৃহে প্রবেশ করে সব সময় চার রাকআত অথবা ছয় রাকআত নফল নামায আদায় করতেন। একদা রাত্রির প্রবল বর্ষণে গৃহের খেজুর পাতার চাল নষ্ট হয়ে ঐ ছিদ্র দিয়ে যে পানি পড়ছিল, তা আমি দেখছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে নামাযের সময় স্বীয় বস্ত্রকে ধূলা, ময়লা, কাদা ইত্যাদি হতে রক্ষা করবার জন্য কোন সময় টানতে দেখি নাই।

৩১১. রাত জাগরনের ( তাহাজ্জুদ নামাযের ) বাধ্যবাধকতা রহিত করে সহজ বিধান দেওয়া হয়েছে।

باب نَسْخِ قِيَامِ اللَّيْلِ وَالتَّيْسِيرِ فِيهِ

১৩০৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ ابْنُ شَبُّويَةَ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ فِي الْمُزَّمِّلِ ( قُمِ اللَّيْلَ إِلاَّ قَلِيلاً * نِصْفَهُ ) نَسَخَتْهَا الآيَةُ الَّتِي فِيهَا ( عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوهُ فَتَابَ عَلَيْكُمْ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ ) وَنَاشِئَةُ اللَّيْلِ أَوَّلُهُ وَكَانَتْ صَلاَتُهُمْ لأَوَّلِ اللَّيْلِ يَقُولُ هُوَ أَجْدَرُ أَنْ تُحْصُوا مَا فَرَضَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ مِنْ قِيَامِ اللَّيْلِ وَذَلِكَ أَنَّ الإِنْسَانَ إِذَا نَامَ لَمْ يَدْرِ مَتَى يَسْتَيْقِظُ وَقَوْلُهُ ( أَقْوَمُ قِيلاً ) هُوَ أَجْدَرُ أَنْ يُفْقَهَ فِي الْقُرْآنِ وَقَوْلُهُ ( إِنَّ لَكَ فِي النَّهَارِ سَبْحًا طَوِيلاً ) يَقُولُ فَرَاغًا طَوِيلاً .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৩০৪. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সূরা মুযযামমিলের “অর্ধরাত্রি অপেক্ষা কিছু কম সময়ের জন্য জেগে থেকে (দণ্ডায়মান হয়ে) নামায আদায় কর” আয়াতটি ঐ সূরায় পরবর্তী আয়াত “তোমাদের জন্য এটা নির্ণয় করা অসম্ভব” দ্বারা বাতিল করা হয়েছে। আল্লাহ তোমাদের কষ্ট অনুধাবন করে তোমাদের জন্য এটা সহজ করে দিয়েছেন যে, তোমরা নামাযের মধ্যে কুরআন হতে সহজে পঠিতব্য অংশ পাঠ করতে পার এবং রাতের কিছু অংশেও নামায আদায় করবে এবং রাত্রের প্রথমাংশে তাদের জন্য এই নামায আদায় খুবই সহজ। অতএব আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য রাতে আদায়ের জন্য যা নির্ধারিত করে দিয়েছেন, তা তোমরা সঠিকভাবে আদায় কর। কেননা মানুষ যখন রাতে নিদ্রা হতে কখন সে জাগ্রত হবে, তা সে জানে না। এবং “আকওয়ামু কীলা” শব্দের অর্থ এই যে, কুরআনের মূল অর্থ উপলব্ধি করবার জন্য এটাই উত্তম সময়। অতঃপর আল্লাহ তাআলার বাণীঃ “লাকা ফিন- নাহারে সাভহান তাবীলা” কেননা দিনের বেলায় আপনি পার্থিব কাজকর্মে অধিক সময় ব্যস্ত থাকেন।

১৩০৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، - يَعْنِي الْمَرْوَزِيَّ - حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ سِمَاكٍ الْحَنَفِيِّ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ أَوَّلُ الْمُزَّمِّلِ كَانُوا يَقُومُونَ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِمْ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ حَتَّى نَزَلَ آخِرُهَا وَكَانَ بَيْنَ أَوَّلِهَا وَآخِرِهَا سَنَةٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৩০৫. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ সূরা মুযযাম্মিলের প্রথমাংশ অবতীর্ণ হওয়ার পর সাহাবাগণ রোযার মাসের মত রাত জেগে নামায আদায় করতেন। অতঃপর উক্ত সূরার শেষাংশ অবতীর্ণ হয় এবং সূরা মুযযাম্মিলের প্রথম ও শেষাংশের অবতীর্ণ হওয়ার মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল এক বছরের।

৩১২. তাহাজ্জুদের নামাযে দাঁড়িয়ে রাত জাগা সম্পর্কে ।

باب قِيَامِ اللَّيْلِ

১৩০৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلاَثَ عُقَدٍ يَضْرِبُ مَكَانَ كُلِّ عُقْدَةٍ عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقُدْ فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَإِنْ تَوَضَّأَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَإِنْ صَلَّى انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ وَإِلاَّ أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلاَنَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩০৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ঘুমায় তখন শয়তান তার মাথার পেছনের চুল তিনটি গিরা দিয়ে রাখে এবং প্রত্যেক গিরা দেওয়ার সময় সে বলেঃ তুমি ঘুমাও রাত এখনও অনেক বাকী। অতঃপর ঐ ব্যক্তি ঘুম থেকে জেগে যদি আল্লাহ তাআলার যিক্‌র করে, তবে একটি গিরা খুলে যায়। অতঃপর সে যখন উযু করে তখন আরেকটি গিরা খুলে যায় এবং সে যখন নামায আদায় করে তখন সর্বশেষ গিরাটিও খুলে যায়। অতঃপর সে ব্যক্তি (ইবাদাতের) মাধ্যমে তার দিনের শুভসূচনা করে, অথবা অলসতার মাধ্যমে খারাপভাবে তার দিনটি শুরু করে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৩০৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ خُمَيْرٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي قَيْسٍ، يَقُولُ قَالَتْ عَائِشَةُ رضى الله عنها لاَ تَدَعْ قِيَامَ اللَّيْلِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يَدَعُهُ وَكَانَ إِذَا مَرِضَ أَوْ كَسِلَ صَلَّى قَاعِدًا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩০৭. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা তাহাজ্জুদের নামায পরিত্যাগ কর না। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একে কোন সময় পরিত্যাগ করতেন না। যখন তিনি অসুস্থ হতেন অথবা আলস্য বোধ করতেন তখন তিনি তা বসে আদায় করতেন।

১৩০৮

حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا ابْنُ عَجْلاَنَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " رَحِمَ اللَّهُ رَجُلاً قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ فَإِنْ أَبَتْ نَضَحَ فِي وَجْهِهَا الْمَاءَ رَحِمَ اللَّهُ امْرَأَةً قَامَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّتْ وَأَيْقَظَتْ زَوْجَهَا فَإِنْ أَبَى نَضَحَتْ فِي وَجْهِهِ الْمَاءَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩০৮. ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ আল্লাহ ঐ ব্যক্তির উপর রহম করুন, যে রাত জেগে নামায আদায় করে; অতঃপর সে স্বীয় স্ত্রীকে ঘুম হতে জাগ্রত করে। আর যদি সে ঘুম হতে উঠতে না চায় তখন সে তার চোখে পানি ছিটিয়ে দেয় ( নিদ্রাভঙ্গের জন্য)। আল্লাহ ঐ মহিলার উপর রহম করুন যে রাতে উঠে নামায আদায় করে এবং স্বীয় স্বামীকে জাগ্রত করে। যদি সে ঘুম হতে উঠতে অস্বীকার করে, তখন সে তার চোখে পানি ছিটিয়ে দেয়।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৩০৯

حَدَّثَنَا ابْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ بَزِيعٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ شَيْبَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ، - الْمَعْنَى - عَنِ الأَغَرِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، وَأَبِي، هُرَيْرَةَ قَالاَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أَيْقَظَ الرَّجُلُ أَهْلَهُ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّيَا أَوْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ جَمِيعًا كُتِبَا فِي الذَّاكِرِينَ وَالذَّاكِرَاتِ " . وَلَمْ يَرْفَعْهُ ابْنُ كَثِيرٍ وَلاَ ذَكَرَ أَبَا هُرَيْرَةَ جَعَلَهُ كَلاَمَ أَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ سُفْيَانَ قَالَ وَأُرَاهُ ذَكَرَ أَبَا هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدِيثُ سُفْيَانَ مَوْقُوفٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৩০৯. ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি রাত্রিতে স্বীয় স্ত্রীকে ঘুম হতে জাগিয়ে একত্রে নামায আদায় করে অথবা তারা পৃথক পৃথকভাবে নামায আদায় করে, তখন তাদের নাম যিক্‌রকারী পুরুষ ও যিক্‌রকারিণী স্ত্রী হিসাবে আমলের খাতায় লিপিবদ্ধ করা হয়। রাবী। রাবী ইবনে কাছীর আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর নাম উল্লেখ করেন নাই, বরং আবু সাঈদ (রাযিঃ) এর নাম উল্লেখ করেছেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৩১৩. নামাযের মধ্যে তন্দ্রা এলে।

باب النُّعَاسِ فِي الصَّلاَةِ

১৩১০

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ فِي الصَّلاَةِ فَلْيَرْقُدْ حَتَّى يَذْهَبَ عَنْهُ النَّوْمُ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا صَلَّى وَهُوَ نَاعِسٌ لَعَلَّهُ يَذْهَبُ يَسْتَغْفِرُ فَيَسُبَّ نَفْسَهُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩১০. আল-কানবী (রাহঃ) .... নবী করীম (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কারও নামাযের মধ্যে তন্দ্রাভাব আসে, সে যেন তখন নিদ্রা যায়; যাতে তার নিদ্রা পূর্ণ হওয়ার পর ঐ ভাব চলে যায়। কেননা তোমাদের কেউ যখন তন্দ্রা অবস্থায় নামায আদায়কালে ‘ইস্তিগফার’ (গুনাহ মাফের জন্য প্রার্থনা) করে তখন হয়ত সে (অজান্তে) নিজেকে নিজেই গালি দেয়।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১৩১১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ فَاسْتَعْجَمَ الْقُرْآنُ عَلَى لِسَانِهِ فَلَمْ يَدْرِ مَا يَقُولُ فَلْيَضْطَجِعْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩১১. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ রাত্রিতে তাহাজ্জুদ নামায পাঠের জন্য দণ্ডায়মান হয়, তখন তন্দ্রার কারণে কুরআনের আয়াত পাঠ করছে তা বুঝতে না পারে, এমতাবস্থায় সে নিদ্রার জন্য শয়ন করবে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৩১২

حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، وَهَارُونُ بْنُ عَبَّادٍ الأَزْدِيُّ، أَنَّ إِسْمَاعِيلَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسْجِدَ وَحَبْلٌ مَمْدُودٌ بَيْنَ سَارِيَتَيْنِ فَقَالَ " مَا هَذَا الْحَبْلُ " . فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذِهِ حَمْنَةُ بِنْتُ جَحْشٍ تُصَلِّي فَإِذَا أَعْيَتْ تَعَلَّقَتْ بِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِتُصَلِّ مَا أَطَاقَتْ فَإِذَا أَعْيَتْ فَلْتَجْلِسْ " . قَالَ زِيَادٌ فَقَالَ " مَا هَذَا " . فَقَالُوا لِزَيْنَبَ تُصَلِّي فَإِذَا كَسِلَتْ أَوْ فَتَرَتْ أَمْسَكَتْ بِهِ . فَقَالَ " حُلُّوهُ " . فَقَالَ " لِيُصَلِّ أَحَدُكُمْ نَشَاطَهُ فَإِذَا كَسِلَ أَوْ فَتَرَ فَلْيَقْعُدْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৩১২. যিয়াদ ইবনে আইয়ুব (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে প্রবেশ করে দেখতে পান যে, দুটি খুটির সাথে একটি রশি বাঁধা আছে। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ এটা কেন? তখন জনৈক ব্যক্তি বলেনঃ এটা হামনা বিনতে জাহাশ (রাযিঃ) এর রশি। তিনি রাত্রিতে নামায আদায়কালে যখন ক্লান্তিবোধ করেন, তখন তিনি নিজেকে এর দ্বারা আটকে রাখেন। এতদশ্রবণে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ সামর্থ অনুযায়ী নামায আদায় করবে এবং যখন ক্লান্তি বোধ করবে, তখন বিশ্রাম গ্রহণ করবে।

রাবী যিয়াদ বলেনঃ তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ এটা কি? জবাবে তাঁরা বলেনঃ এটা যয়নাব (রাযিঃ) এর রশি। তিনি রাত্রিতে নামায আদায়কালে যখন ক্লান্তিবোধ করেন, তখন তিনি এর দ্বারা নিজেকে আটকে রাখেন। তখন তিনি নির্দেশ দেন, এটা খুলে ফেল। অতঃপর তিনি বলেনঃ তোমরা আনন্দের সাথে নামায আদায় করবে এবং যখন ক্লান্তি বোধ করবে তখন বিশ্রাম নিবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৩১৪. নিদ্রার কারণে ওযীফা পরিত্যক্ত হওয়া সম্পর্কে।

باب مَنْ نَامَ عَنْ حِزْبِهِ

১৩১৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو صَفْوَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ، ح وَحَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، - الْمَعْنَى - عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّ السَّائِبَ بْنَ يَزِيدَ، وَعُبَيْدَ اللَّهِ، أَخْبَرَاهُ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَبْدٍ قَالاَ عَنِ ابْنِ وَهْبِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ نَامَ عَنْ حِزْبِهِ أَوْ عَنْ شَىْءٍ مِنْهُ فَقَرَأَهُ مَا بَيْنَ صَلاَةِ الْفَجْرِ وَصَلاَةِ الظُّهْرِ كُتِبَ لَهُ كَأَنَّمَا قَرَأَهُ مِنَ اللَّيْلِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৩১৩. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রাত্রিতে নামায আদায়কালে নিদ্রার কারণে তার সম্পূর্ণ বা আংশিক অযীফা পরিত্যক্ত হয়; অতঃপর সে যদি তা ফজর ও যোহরের মধ্যবর্তী সময়ে পাঠ করে, তবে রাত্রিতে পাঠের ফলে যেরূপ সাওয়াব ঐ ব্যক্তির আমলনামায় লেখা হত তদ্রূপ সাওয়াব লেখা হয়।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

৩১৫. নামাযের নিয়ত করবার পর নিদ্রাচ্ছন্ন হলে।

باب مَنْ نَوَى الْقِيَامَ فَنَامَ

১৩১৪

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ رَجُلٍ، عِنْدَهُ رَضِيٍّ أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا مِنِ امْرِئٍ تَكُونُ لَهُ صَلاَةٌ بِلَيْلٍ يَغْلِبُهُ عَلَيْهَا نَوْمٌ إِلاَّ كُتِبَ لَهُ أَجْرُ صَلاَتِهِ وَكَانَ نَوْمُهُ عَلَيْهِ صَدَقَةً " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩১৪. আল-কানবী (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রাত্রিতে নিয়মিত নামায আদায় করে থাকে সে যদি কোন রাত্রিতে নিদ্রাচ্ছন্ন হওয়ার কারণে নামায আদায়ে ব্যর্থ হয় তবুও আল্লাহ তাআলা তার আমলনামায় উক্ত নামায আদায়ের অনুরূপ সাওয়াব প্রদান করবেন এবং তার ঐ নিদ্রা সাদ্‌কাস্বরূপ হবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৩১৬. রাত্রির কোন সময়টা ইবাদতের জন্য উত্তম।

باب أَىُّ اللَّيْلِ أَفْضَلُ

১৩১৫

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَعَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الأَغَرِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ فَيَقُولُ مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩১৫. আল-কানবী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ প্রত্যহ আল্লাহ রবুল আলামীন রাত্রির এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ হয়ে বলতে থাকেনঃ তোমাদের কেউ আমার নিকট কোন কিছুর জন্য প্রার্থনা করবে, আমি তার ঐ দুআ কবুল করব, যে কেউ আমার নিকট কিছু যাচ্ঞা করবে, আমি তা তাকে প্রদান করব এবং যে আমার নিকট গুনাহ মাফের জন্য কান্না করবে, আমি তার গুনাহ মাফ করব (এতে বুঝা গেল যে, দুআ কবুলের জন্য রাত্রির তিনভাগের শেষ ভাগ সময়টি উত্তম)।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

৩১৭. নবী করীম (স) রাতে কখন উঠতেন ?

باب وَقْتِ قِيَامِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنَ اللَّيْلِ

১৩১৬

حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ يَزِيدَ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا حَفْصٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيُوقِظُهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ بِاللَّيْلِ فَمَا يَجِيءُ السَّحَرُ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ حِزْبِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩১৬. হুসায়েন ইবনে য়াযীদ (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা নবী করীম (ﷺ)কে রাতের এমন সময় ঘুম হতে জাগাতেন যে, তিনি তাঁর আশানুরূপ ওযীফা শেষ না করা পর্যন্ত সাহরীর সময় হত না।

১৩১৭

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، ح وَحَدَّثَنَا هَنَّادٌ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، - وَهَذَا حَدِيثُ إِبْرَاهِيمَ - عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ - رضى الله عنها - عَنْ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ لَهَا أَىُّ حِينٍ كَانَ يُصَلِّي قَالَتْ كَانَ إِذَا سَمِعَ الصُّرَاخَ قَامَ فَصَلَّى .

বর্ণনাকারী: মাসরূক ইবনে আজদা' (রহঃ)

১৩১৭. ইবরাহীম ইবনে মুসা ও হান্নাদ (রাহঃ) .... মাসরূক (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা প্রসঙ্গে বলিঃ তিনি রাতের কোন অংশে নামায আদায় করতেন? জবাবে তিনি বলেনঃ তিনি রাতে মোরগের ডাক শুনে জাগরিত হয়ে নামায আদায় করতেন (অর্থাৎ অর্ধরাত্রির পর)।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১৩১৮

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ : مَا أَلْفَاهُ السَّحَرُ عِنْدِي إِلاَّ نَائِمًا، تَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩১৮. আবু তাওবা (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) সাধারণত (ভোর রাতে তাহাজ্জুদ পাঠের পর কিছুক্ষণ) ঘুমাতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৩১৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الدُّؤَلِيِّ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَخِي، حُذَيْفَةَ عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا حَزَبَهُ أَمْرٌ صَلَّى .

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

১৩১৯. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) .... হুযাইফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন নবী করীম (ﷺ) কোন কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে নামাযে মশগুল হয়ে যেতেন।

১৩২০

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْهِقْلُ بْنُ زِيَادٍ السَّكْسَكِيُّ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ سَمِعْتُ رَبِيعَةَ بْنَ كَعْبٍ الأَسْلَمِيَّ، يَقُولُ : كُنْتُ أَبِيتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم آتِيهِ بِوَضُوئِهِ وَبِحَاجَتِهِ، فَقَالَ : " سَلْنِي " . فَقُلْتُ : مُرَافَقَتَكَ فِي الْجَنَّةِ . قَالَ : " أَوَغَيْرَ ذَلِكَ " . قُلْتُ : هُوَ ذَاكَ . قَالَ : " فَأَعِنِّي عَلَى نَفْسِكَ بِكَثْرَةِ السُّجُودِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত রবী‘আ ইবনে কা‘ব আসলামী (রাঃ)

১৩২০. হিশাম ইবনে আম্মার (রাহঃ) ..... রবীআ ইবনে কাব আল-আসলামী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি প্রায়ই সফরকালীন সময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে অবস্থান করে তাঁর উযুর পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করতাম। একদা তিনি আমাকে বলেনঃ তুমি আমার নিকট কিছু চাও? তখন আমি বলিঃ আমি জান্নাতের মধ্যে আপনার সঙ্গী হিসেবে থাকতে চাই। তিনি বলেনঃ এ ছাড়াও অন্য কিছু চাও? আমি বলিঃ এটাই আমার একমাত্র কামনা। তিনি বলেনঃ তুমি অধিক সিজদা আদায়ের দ্বারা তোমার দাবী পূরণে আমাকে সাহায্য কর।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১৩২১

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، فِي هَذِهِ الآيَةِ ( تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ، يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ ) قَالَ : كَانُوا يَتَيَقَّظُونَ مَا بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ يُصَلُّونَ، وَكَانَ الْحَسَنُ يَقُولُ : قِيَامُ اللَّيْلِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৩২১. আবু কামিল (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এই আয়াত সম্পর্কেঃ “তারা তাদের পৃষ্ঠদেশকে বিছানা হতে আল্লাহর ভয় ও আশায় দূরে রাখে এবং তাদের জন্য প্রদত্ত রিযিক হতে তারা আল্লাহর রাস্তার খরচ করে” বলেন যে, সাহাবীগণ মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তীকালীন সময়ে জাগ্রত থাকতেন এবং নামায আদায় করতেন (অর্থাৎ তারা মাগরিবের নামায আদায়ের পর না ঘুমিয়ে নামায আদায় করতেন)।

আর হাসান বসরী বলতেনঃ এর দ্বারা তাহাজ্জুদ নামায উদ্দেশ্য (মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তীকালীন নামায নয়)।
১৩২২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، فِي قَوْلِهِ جَلَّ وَعَزَّ ( كَانُوا قَلِيلاً مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ ) قَالَ : كَانُوا يُصَلُّونَ فِيمَا بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ، زَادَ فِي حَدِيثِ يَحْيَى : وَكَذَلِكَ ( تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৩২২. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর বাণী ″তারা রাত্রিতে খুব কম সময়ই আরাম করত″ এই আয়াতের অর্থ হলঃ তারা মাগরিব ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে নামায আদায় করত। রাবী ইয়াহয়া তাঁর বর্ণিত হাদীসে আরও বর্ণনা করেছেন যে, “তাদের পৃষ্ঠদেশ বিছানা হতে দূরে অবস্থান করত″ - এই আয়াতের অর্থও পূর্বের আয়াতের অনুরূপ।

৩১৮. দুই রাকআত নফল দ্বারা রাতের নামায আরাম্ভ করা।

باب افْتِتَاحِ صَلاَةِ اللَّيْلِ بِرَكْعَتَيْنِ

১৩২৩

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ أَبُو تَوْبَةَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَيَّانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ فَلْيُصَلِّ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩২৩. আর-রাবী ইবনে নাফে (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ রাত্রিতে তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য উঠে তখন সে যেন হালকাভাবে দুই রাকআত (নফল) নামায আদায় করে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১৩২৪

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، - يَعْنِي ابْنَ خَالِدٍ - عَنْ رَبَاحِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ : " إِذَا " . بِمَعْنَاهُ زَادَ : " ثُمَّ لْيُطَوِّلْ بَعْدُ مَا شَاءَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ وَزُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ وَجَمَاعَةٌ عَنْ هِشَامٍ عَنْ مُحَمَّدٍ أَوْقَفُوهُ عَلَى أَبِي هُرَيْرَةَ، وَكَذَلِكَ رَوَاهُ أَيُّوبُ وَابْنُ عَوْنٍ أَوْقَفُوهُ عَلَى أَبِي هُرَيْرَةَ، وَرَوَاهُ ابْنُ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدٍ قَالَ : فِيهِمَا تَجَوَّزْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩২৪. মাখলাদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে এই সনদেও উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, অতঃপর তুমি তোমার ইচ্ছানুযায়ী দীর্ঘ কিরাআত দ্বারা নামায আদায় করতে পার।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১৩২৫

حَدَّثَنَا ابْنُ حَنْبَلٍ، - يَعْنِي أَحْمَدَ - حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي عُثْمَانُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَلِيٍّ الأَزْدِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُبْشِيٍّ الْخَثْعَمِيِّ، : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ أَىُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ : " طُولُ الْقِيَامِ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে হুবশী খাছ'আমী (রাঃ)

১৩২৫. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে হাবশী আল খাছাআমী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম (ﷺ)কে উত্তম আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ উত্তম আমল হল দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে নামায আদায় করা।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৩১৯. রাতের নামায দুই দুই রাকআত।

باب صَلاَةِ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى

১৩২৬

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، : أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَلاَةِ اللَّيْلِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " صَلاَةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى، فَإِذَا خَشِيَ أَحَدُكُمُ الصُّبْحَ صَلَّى رَكْعَةً وَاحِدَةً تُوتِرُ لَهُ مَا قَدْ صَلَّى " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৩২৬. আল-কানবী ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে রাতের নামাযের রাকআত সংখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ রাতের নামায হল-দুই দুই রাকআতের। অতঃপর তোমরা কেউ যখন নামায আদায়কালে ‘সুবহে সাদিকের’ আশঙ্কা করবে (তখন পাঠিত দুই রাকআতের সাথে) এক রাকআত মিলিয়ে নামায শেষ করবে এবং এটা তোমার জন্য বিতর হিসাবে পরিগণিত হবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৩২০. রাতের (নফল) নামাযে কিরাতের স্বশব্দে পাঠ করা সম্পর্কে।

باب فِي رَفْعِ الصَّوْتِ بِالْقِرَاءَةِ فِي صَلاَةِ اللَّيْلِ

১৩২৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْوَرْكَانِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، مَوْلَى الْمُطَّلِبِ عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ : كَانَتْ قِرَاءَةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَلَى قَدْرِ مَا يَسْمَعُهُ مَنْ فِي الْحُجْرَةِ وَهُوَ فِي الْبَيْتِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৩২৭. মুহাম্মাদ ইবনে জাফর (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বগৃহে নামায আদায়কালে এতটা উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করতেন যে, বাইরের লোকেরা শুনতে পেত।

১৩২৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ الرَّيَّانِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ زَائِدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي خَالِدٍ الْوَالِبِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ : كَانَتْ قِرَاءَةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِاللَّيْلِ يَرْفَعُ طَوْرًا وَيَخْفِضُ طَوْرًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : أَبُو خَالِدٍ الْوَالِبِيُّ اسْمُهُ هُرْمُزُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩২৮. মুহাম্মাদ ইবনে বাককার (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) রাতের (নফল) নামায আদায়কালে কখনও কিরাআত আস্তে এবং কখনও জোরে পাঠ করতেন।

১৩২৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ح وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ، أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ لَيْلَةً فَإِذَا هُوَ بِأَبِي بَكْرٍ - رضى الله عنه - يُصَلِّي يَخْفِضُ مِنْ صَوْتِهِ - قَالَ - وَمَرَّ بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَهُوَ يُصَلِّي رَافِعًا صَوْتَهُ - قَالَ - فَلَمَّا اجْتَمَعَا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " يَا أَبَا بَكْرٍ مَرَرْتُ بِكَ وَأَنْتَ تُصَلِّي تَخْفِضُ صَوْتَكَ " . قَالَ : قَدْ أَسْمَعْتُ مَنْ نَاجَيْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ وَقَالَ لِعُمَرَ : " مَرَرْتُ بِكَ وَأَنْتَ تُصَلِّي رَافِعًا صَوْتَكَ " . قَالَ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ أُوقِظُ الْوَسْنَانَ وَأَطْرُدُ الشَّيْطَانَ . زَادَ الْحَسَنُ فِي حَدِيثِهِ : فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " يَا أَبَا بَكْرٍ ارْفَعْ مِنْ صَوْتِكَ شَيْئًا " . وَقَالَ لِعُمَرَ : " اخْفِضْ مِنْ صَوْتِكَ شَيْئًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

১৩২৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল ও হাসান ইবনুস সাব্বাহ (রাহঃ) .... আবু কাতাদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম (ﷺ) ঘর হতে বের হয়ে আবু বকর (রাযিঃ)-কে আস্তে আস্তে (নিঃশব্দে কিরাআত দ্বারা) নামায আদায় করতে দেখেন। অতঃপর তিনি উমর (রাযিঃ) এর পাশ দিয়ে গমনকালে দেখতে পান যে, তিনি শব্দ করে (জোর কিরাআত পাঠ করে) নামায আদায় করছেন।

রাবী বলেনঃ অতঃপর তাঁরা উভয়ে নবী কারিম (ﷺ) এর খিদমতে হাযির হলে তিনি বলেনঃ হে আবু বকর! আমি তোমার পাশ দিয়ে গমনকালে তোমাকে নিঃশব্দে নামায করতে দেখেছি। তখন তিনি (আবু বকর) বলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি আমার রবের সাথে গোপনে আলাপ করেছি এবং তিনি তা শ্রবণকারী (কাজেই আমি সশব্দে নামায আদায়ের প্রয়োজন বোধ করি নাই)।

রাবী বলেনঃ অতঃপর তিনি উমর (রাযিঃ)-কে বলেনঃ আমি তোমার পাশ দিয়ে গমনকালে তোমাকে সশব্দে নামায আদায় করতে দেখেছি। উমর (রাযিঃ) বলেনঃ এর দ্বারা আমার ইচ্ছা ছিল ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগ্রত করা এবং শয়তানকে বিতাড়িত করা। রাবী হাসান তাঁর বর্ণিত হাদীসে এরূপ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তখন নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ হে আবু বকর! তুমি তোমার কিরাআতকে একটু শব্দ করে পাঠ করবে। অতঃপর তিনি উমর (রাযিঃ)-কে বলেনঃ তুমি তোমার কিরাআত একটু নিম্ন শব্দে পাঠ করবে।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৩৩০

حَدَّثَنَا أَبُو حَصِينِ بْنُ يَحْيَى الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذِهِ الْقِصَّةِ لَمْ يَذْكُرْ فَقَالَ لأَبِي بَكْرٍ : " ارْفَعْ مِنْ صَوْتِكَ شَيْئًا " . وَلِعُمَرَ : " اخْفِضْ شَيْئًا " . زَادَ : " وَقَدْ سَمِعْتُكَ يَا بِلاَلُ وَأَنْتَ تَقْرَأُ مِنْ هَذِهِ السُّورَةِ وَمِنْ هَذِهِ السُّورَةِ " . قَالَ : كَلاَمٌ طَيِّبٌ يَجْمَعُ اللَّهُ تَعَالَى بَعْضَهُ إِلَى بَعْضٍ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم : " كُلُّكُمْ قَدْ أَصَابَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩৩০. আবু হুসায়েন (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী করীম (ﷺ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এই বর্ণনায় আবু বকর (রাযিঃ)-কে একটু শব্দ করে এবং উমর (রাযিঃ)-কে একটু শব্দ ছোট করে পড়ার কথার উল্লেখ নাই। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর বর্ণনায় অতিরিক্ত উল্লেখ আছে যে, তিনি বলেনঃ হে বিলাল! তুমি নামাযের মধ্যে এই সূরা পাঠ করে থাক। তখন বিলাল (রাযিঃ) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা কুরআনের আয়াতকে সুন্দররূপে সুসজ্জিত করেছেন (কাজেই তা পাঠ করতে আমার ভালো লাগে)। এতদশ্রবনে নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা সকলেই সঠিক কাজ করেছ।

১৩৩১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها : أَنَّ رَجُلاً، قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَقَرَأَ فَرَفَعَ صَوْتَهُ بِالْقُرْآنِ، فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " يَرْحَمُ اللَّهُ فُلاَنًا، كَأَيِّنْ مِنْ آيَةٍ أَذْكَرَنِيهَا اللَّيْلَةَ كُنْتُ قَدْ أَسْقَطْتُهَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : رَوَاهُ هَارُونُ النَّحْوِيُّ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ فِي سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ فِي الْحُرُوفِ ( وَكَأَيِّنْ مِنْ نَبِيٍّ ) .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৩১. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা এক ব্যক্তি রাতে নামায আদায় করাকালে উচ্চস্বরে কিরা’আত পাঠ করে। অতঃপর সকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ ঐ ব্যক্তির উপর রহম করুন। সে আমাকে গতরাতে কয়েকটি আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যা আমি ভুলতে বসেছিলাম।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৩৩২

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ : اعْتَكَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ فَسَمِعَهُمْ يَجْهَرُونَ بِالْقِرَاءَةِ، فَكَشَفَ السِّتْرَ وَقَالَ : " أَلاَ إِنَّ كُلَّكُمْ مُنَاجٍ رَبَّهُ فَلاَ يُؤْذِيَنَّ بَعْضُكُمْ بَعْضًا، وَلاَ يَرْفَعْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ فِي الْقِرَاءَةِ " . أَوْ قَالَ : " فِي الصَّلاَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৩৩২. হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে “ইতিকাফ” করাকালীন সাহাবীদেরকে উচ্চস্বরে কিরা’আত পাঠ করতে শুনে পর্দা উঠিয়ে বলেনঃ জেনে রাখ। তোমরা প্রত্যেকেই তোমাদের রবের সাথে গোপন আলাপে রত আছ। অতএব তোমরা (উচ্চস্বরে কিরা’আত পাঠের দ্বারা) একে অন্যকে কষ্ট দিও না তোমরা একে অন্যের চাইতে উচ্চস্বরে কিরা’আত পাঠ কর না।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৩৩৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ بَحِيرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : " الْجَاهِرُ بِالْقُرْآنِ كَالْجَاهِرِ بِالصَّدَقَةِ، وَالْمُسِرُّ بِالْقُرْآنِ كَالْمُسِرِّ بِالصَّدَقَةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

১৩৩৩. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... উকবা ইবনে আমের আল-জুহানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ কুরআন উচ্চস্বরে পাঠকারী প্রকাশ্যে দান-খয়রাতকারীর অনুরূপ এবং গোপনে কুরআন পাঠ-কারী গোপন দানকারীর মত।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩২১. রাতের (তাহাজ্জুদ) নামায সম্পর্কে।

باب فِي صَلاَةِ اللَّيْلِ

১৩৩৪

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ حَنْظَلَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ عَشْرَ رَكَعَاتٍ، وَيُوتِرُ بِسَجْدَةٍ، وَيَسْجُدُ سَجْدَتَىِ الْفَجْرِ، فَذَلِكَ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৩৪. ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাত্রিতে দশ রাকআত নামায আদায় করতেন এবং এর সাথে আরো এক রাকআত মিলিয়ে ‘বিতর’ পূর্ণ করতেন। অতঃপর তিনি ফজরের দুই রাকআত (সুন্নত) আদায় করতেন। এইরূপে মোট তের রাকআত হত।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৩৩৫

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُوتِرُ مِنْهَا بِوَاحِدَةٍ، فَإِذَا فَرَغَ مِنْهَا اضْطَجَعَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৩৫. আল-কানবী (রাহঃ) ...... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তিনি (নবী (ﷺ)) রাত্রিতে এক রাকআত বিতর সহ মোট এগার রাকআত নামায আদায় করতেন। অতঃপর নামায শেষে তিনি বিশ্রামের জন্য ডানপাশের উপর ভর করে শুয়ে যেতেন।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১৩৩৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَنَصْرُ بْنُ عَاصِمٍ، - وَهَذَا لَفْظُهُ - قَالاَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، - وَقَالَ نَصْرٌ : عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، وَالأَوْزَاعِيِّ، - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِيمَا بَيْنَ أَنْ يَفْرُغَ مِنْ صَلاَةِ الْعِشَاءِ إِلَى أَنْ يَنْصَدِعَ الْفَجْرُ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُسَلِّمُ مِنْ كُلِّ ثِنْتَيْنِ وَيُوتِرُ بِوَاحِدَةٍ، وَيَمْكُثُ فِي سُجُودِهِ قَدْرَ مَا يَقْرَأُ أَحَدُكُمْ خَمْسِينَ آيَةً قَبْلَ أَنْ يَرْفَعَ رَأْسَهُ، فَإِذَا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُ بِالأُولَى مِنْ صَلاَةِ الْفَجْرِ قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ، ثُمَّ اضْطَجَعَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ حَتَّى يَأْتِيَهُ الْمُؤَذِّنُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৩৬. আব্দুর রহমান ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার নামাযের পর হতে সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ে এগার রাকআত নামায আদায় করতেন এবং প্রতি দুই রাকআতে তিনি সালাম ফিরাতেন। অতঃপর তিনি শেষ দুই রাকআতের সাথে আরো এক রাকআত মিলিয়ে বিতর পূর্ণ করতেন। তিনি এত দীর্ঘ সময় সিজদাতে অবস্থান করতেন এবং প্রতি দুই রাকআতে তিনি সালাম ফিরাতেন। অতঃপর তিনি শেষ দুই রাকআতের সাথে আরো এক রাকআত মিলিয়ে বিতর পূর্ণ করতেন। তিনি এত দীর্ঘ সময় সিজদাতে অবস্থান করতেন যে, তাঁর মাথা উঠাবার পূর্বে তোমরা যে কেউ পঞ্চাশ আয়াত পরিমাণ পাঠ করতে পারতে। অতঃপর মুয়াযযিন যখন ফজরের আযান শেষ করতেন, তখন তিনি দণ্ডায়মান হয়ে হাল্কাভাবে দুই রাকআত নামায আদায় করতেন। পরে মুয়াজ্জিন পুনরায় আসা পর্যন্ত ডান পাশের উপর ভর করে শুয়ে থাকতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৩৩৭

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، وَعَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، وَيُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، أَخْبَرَهُمْ بِإِسْنَادِهِ، وَمَعْنَاهُ،، قَالَ : وَيُوتِرُ بِوَاحِدَةٍ، وَيَسْجُدُ سَجْدَةً قَدْرَ مَا يَقْرَأُ أَحَدُكُمْ خَمْسِينَ آيَةً قَبْلَ أَنْ يَرْفَعَ رَأْسَهُ، فَإِذَا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُ مِنْ صَلاَةِ الْفَجْرِ وَتَبَيَّنَ لَهُ الْفَجْرُ . وَسَاقَ مَعْنَاهُ . قَالَ : وَبَعْضُهُمْ يَزِيدُ عَلَى بَعْضٍ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

১৩৩৭. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... ইবনে শিহাব (রাহঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের সনদ ও অর্থে বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেনঃ তিনি (নবী (ﷺ)) শেষ দুই রাকআত নামাযের সাথে আরো এক রাকআত মিলিয়ে বিতর পূর্ণ করতেন। তিনি এত দীর্ঘক্ষণ সিজদায় অবস্থান করতেন যে, এই সময় তোমারা যে কেউ পঞ্চাশ আয়াত পরিমাণ তিলওয়াত করতে পারতে। অতঃপর মুয়াযযিন যখন আযান শেষ করতেন এবং আকাশও পরিষ্কার হয়ে যেত ......... পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৩৩৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً يُوتِرُ مِنْهَا بِخَمْسٍ، لاَ يَجْلِسُ فِي شَىْءٍ مِنَ الْخَمْسِ حَتَّى يَجْلِسَ فِي الآخِرَةِ فَيُسَلِّمَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : رَوَاهُ ابْنُ نُمَيْرٍ عَنْ هِشَامٍ، نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৩৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে বিতর সহ তের রাকআত নামায আদায় করতেন। বিতর নামাযের পঞ্চম রাকআতে তিনি নামায শেষ করতেন। তিনি নামাযের মধ্যে মাঝখানে না বসে সর্বশেষ রাকআতে বসে সালাম ফিরাতেন।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১৩৩৯

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بِاللَّيْلِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً، ثُمَّ يُصَلِّي إِذَا سَمِعَ النِّدَاءَ بِالصُّبْحِ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৩৯. আল-কানবী (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে তের রাকআত নামায আদায় করতেন এবং ফজরের আযানের পর হালকাভাবে দুই রাকআত (সুন্নত) আদায় করতেন।

১৩৪০

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، : أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً، وَكَانَ يُصَلِّي ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ، وَيُوتِرُ بِرَكْعَةٍ، ثُمَّ يُصَلِّي - قَالَ مُسْلِمٌ : بَعْدَ الْوِتْرِ، ثُمَّ اتَّفَقَا - رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ قَاعِدٌ، فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ قَامَ فَرَكَعَ، وَيُصَلِّي بَيْنَ أَذَانِ الْفَجْرِ وَالإِقَامَةِ رَكْعَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৪০. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) রাতের বেলায় তের রাকআত নামায আদায় করতেন এবং তাঁর আট রাকআত হত তাহাজ্জুদ বা নফল। অতঃপর তিনি বিতরের নামায আদায় করতেন। পরে তিনি ফজরের দুই রাকআত সুন্নত আদায় করতেন।

ইমাম মুসলিম (রাহঃ) বলেনঃ তিনি বিতরের পরে দুই রাকআত নামায বসে আদায় করতেন। অতঃপর ফজরের আযান ও ইকামতের মাঝখানে দুই রাকআত ফজরের সুন্নত নামায আদায় করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৩৪১

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ : أَنَّهُ، سَأَلَ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ : مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً : يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا، قَالَتْ عَائِشَةُ - رضى الله عنها - فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ قَالَ : " يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَىَّ تَنَامَانِ وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৪১. আল-কানবী (রাহঃ) ..... আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযান মাসে কিরূপ নামায আদায় করতেন? তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযান মাস ও অন্যান্য সময়েও রাত্রিতে এগার রাকআত নামায আদায় করতেন। প্রথমে তিনি সুদীর্ঘ কিরাআতের দ্বারা সুন্দরভাবে চার রাকআত নামায আদায় করতেন অতঃপর তিনি আরো চার রাকআত আনুরূপভাবে আদায় করতেন এবং সবশেষে তিনি বিতরের তিন রাকআত নামায আদায় করতেন।

আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কি বিতর নামায আদায়ের পূর্বে নিদ্রা যান? জবাবে তিনি বলেনঃ হে আয়িশা! আমার চক্ষু তো নিদ্রা যায়, কিন্তু আমার অন্তর জাগ্রত থাকে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৩৪২

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، قَالَ : طَلَّقْتُ امْرَأَتِي فَأَتَيْتُ الْمَدِينَةَ لأَبِيعَ عَقَارًا كَانَ لِي بِهَا، فَأَشْتَرِيَ بِهِ السِّلاَحَ وَأَغْزُوَ، فَلَقِيتُ نَفَرًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا : قَدْ أَرَادَ نَفَرٌ مِنَّا سِتَّةٌ أَنْ يَفْعَلُوا ذَلِكَ فَنَهَاهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ : " لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ " . فَأَتَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَسَأَلْتُهُ عَنْ وِتْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ : أَدُلُّكَ عَلَى أَعْلَمِ النَّاسِ بِوِتْرِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأْتِ عَائِشَةَ رضى الله عنها . فَأَتَيْتُهَا فَاسْتَتْبَعْتُ حَكِيمَ بْنَ أَفْلَحَ فَأَبَى فَنَاشَدْتُهُ فَانْطَلَقَ مَعِي، فَاسْتَأْذَنَّا عَلَى عَائِشَةَ، فَقَالَتْ : مَنْ هَذَا قَالَ : حَكِيمُ بْنُ أَفْلَحَ . قَالَتْ : وَمَنْ مَعَكَ قَالَ : سَعْدُ بْنُ هِشَامٍ . قَالَتْ : هِشَامُ بْنُ عَامِرٍ الَّذِي قُتِلَ يَوْمَ أُحُدٍ قَالَ قُلْتُ : نَعَمْ . قَالَتْ : نِعْمَ الْمَرْءُ كَانَ عَامِرًا . قَالَ قُلْتُ : يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ حَدِّثِينِي عَنْ خُلُقِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَتْ : أَلَسْتَ تَقْرَأُ الْقُرْآنَ فَإِنَّ خُلُقَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ الْقُرْآنَ . قَالَ قُلْتُ : حَدِّثِينِي عَنْ قِيَامِ اللَّيْلِ قَالَتْ : أَلَسْتَ تَقْرَأُ ( يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ ) قَالَ قُلْتُ : بَلَى . قَالَتْ : فَإِنَّ أَوَّلَ هَذِهِ السُّورَةِ نَزَلَتْ، فَقَامَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى انْتَفَخَتْ أَقْدَامُهُمْ، وَحُبِسَ خَاتِمَتُهَا فِي السَّمَاءِ اثْنَىْ عَشَرَ شَهْرًا، ثُمَّ نَزَلَ آخِرُهَا فَصَارَ قِيَامُ اللَّيْلِ تَطَوُّعًا بَعْدَ فَرِيضَةٍ . قَالَ قُلْتُ : حَدِّثِينِي عَنْ وِتْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . قَالَتْ : كَانَ يُوتِرُ بِثَمَانِ رَكَعَاتٍ لاَ يَجْلِسُ إِلاَّ فِي الثَّامِنَةِ، ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي رَكْعَةً أُخْرَى، لاَ يَجْلِسُ إِلاَّ فِي الثَّامِنَةِ وَالتَّاسِعَةِ، وَلاَ يُسَلِّمُ إِلاَّ فِي التَّاسِعَةِ، ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ فَتِلْكَ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يَا بُنَىَّ، فَلَمَّا أَسَنَّ وَأَخَذَ اللَّحْمَ أَوْتَرَ بِسَبْعِ رَكَعَاتٍ لَمْ يَجْلِسْ إِلاَّ فِي السَّادِسَةِ وَالسَّابِعَةِ، وَلَمْ يُسَلِّمْ إِلاَّ فِي السَّابِعَةِ، ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ، فَتِلْكَ هِيَ تِسْعُ رَكَعَاتٍ يَا بُنَىَّ، وَلَمْ يَقُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةً يُتِمُّهَا إِلَى الصَّبَاحِ، وَلَمْ يَقْرَإِ الْقُرْآنَ فِي لَيْلَةٍ قَطُّ، وَلَمْ يَصُمْ شَهْرًا يُتِمُّهُ غَيْرَ رَمَضَانَ، وَكَانَ إِذَا صَلَّى صَلاَةً دَاوَمَ عَلَيْهَا، وَكَانَ إِذَا غَلَبَتْهُ عَيْنَاهُ مِنَ اللَّيْلِ بِنَوْمٍ صَلَّى مِنَ النَّهَارِ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ رَكْعَةً . قَالَ : فَأَتَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَحَدَّثْتُهُ . فَقَالَ : هَذَا وَاللَّهِ هُوَ الْحَدِيثُ، وَلَوْ كُنْتُ أُكَلِّمُهَا لأَتَيْتُهَا حَتَّى أُشَافِهَهَا بِهِ مُشَافَهَةً . قَالَ قُلْتُ : لَوْ عَلِمْتُ أَنَّكَ لاَ تُكَلِّمُهَا مَا حَدَّثْتُكَ .

বর্ণনাকারী: সা'দ ইবনে হিশাম (রহঃ)

১৩৪২. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... সা’দ ইবনে হিশাম (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর (বসরা) হতে মদীনায় আমার যে যমীনটি ছিল, তা বিক্রয় করে যুদ্ধাস্ত্র খরিদের উদ্দেশ্যে মদীনায় গমন করি এবং এ কাজে আমার উদ্দেশ্য ছিল (রোমকদের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। ঐ সময়ে আমি নবী করীম (ﷺ)-এর সাহাবীদের সাথে সাক্ষাত করি। তখন তাঁরা বলেনঃ আমাদের মধ্যেকার ছয় ব্যক্তিও তোমার ন্যায় স্বীয় স্ত্রীকে পরিত্যাগ করে যুদ্ধে গমনের ইচ্ছা করেছিল। তখন নবী করীম (ﷺ) তাঁদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করেন এবং ইরশাদ করেনঃ “তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের জীবনে উত্তম আদর্শ নিহিত আছে।″

রাবী বলেনঃ অতঃপর আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট নবী করীম (ﷺ)-এর বিতর নামায আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ এ সম্পর্কে যিনি সবচাইতে অভিজ্ঞ আমি তোমাকে তাঁর ঠিকানা প্রদান করছি। কাজেই তুমি এব্যাপারে জানার জন্য আয়িশা (রাযিঃ)-এর নিকট গমন কর। তখন আমি তাঁর নিকট গমনের জন্য ইবনে আফলাহকে অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। এমতাবস্থায় আমি তাঁকে আল্লাহর নামে শপথ প্রদান করে আমার সাথে যেতে অনুরোধ করি। তখন হাকীম ইবনে আফলাহ আমাকে নিয়ে আয়িশা (রাযিঃ)-এর কাছে গমন করে সাক্ষাতের জন্য অনুমতি প্রার্থনা করেন।

আয়িশা (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করেনঃ কে? জবাবে তিনি বলেনঃ (আমি) হাকীম ইবনে আফলাহ। তখন তিনি বলেনঃ তোমার সঙ্গী কে? আমি বলিঃ সা’দ ইবনে হিশাম। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ ঐ হিশাম না কি, যিনি উহুদের যুদ্ধে মারা যান? তখন হাকিম বলেনঃ হ্যাঁ। আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ হিশাম ইবনে আমের তো অত্যন্ত ভালো লোক ছিল। তখন সাদ বলেনঃ হে উম্মুল মুমেনীন! আপনি আমার নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পুতঃপবিত্র চরিত্র সম্পর্কে কিছু বলুন। তিনি বলেনঃ তুমি কুরআন পাঠ কর না? রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পবিত্র জীবনই ছিল কুরআন।

আমি তাঁকে বলিঃ আপনি তাঁর রাত জাগরন সম্পর্কে কিছু বলুন। তিনি বলেনঃ তুমি কি সূরা মুযযাম্মিল পাঠ কর নাই? জবাবে আমি বলিঃ হ্যাঁ। তিনি (আয়িশা) বলেনঃ এই সূরায় প্রথমাংশ যখন নাযিল হয়, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবীগণ দীর্ঘ বারটি মাস সারা রাত এমনভাবে দাঁড়িয়ে (নামাযে) কাটাতেন যে, তাঁদের পা ফুলে যেত। অতঃপর ঐ সূরার শেষাংশ অবতীর্ণ হলে, এই রাত্রির দাঁড়ান (অবস্থা) ফরয হতে নফলে পরিবর্তিত হয়।

অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিতর নামায পাঠ সম্পর্কে কিছু বলতে বললে তিনি ইরশাদ করেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে প্রথম নয় রাকআত নামাযের শেষ তিন রাকআত বিতর হিসাবে আদায় করে সালাম ফিরাতেন অতঃপর তিনি বসে দুই রাকআত নামায আদায় করতেন। কাজেই হে প্রিয় বৎস! এটাই তাঁর সর্বমোট এগার রাকআত নামায পাঠের বর্ণনা।

অতঃপর বয়োঃবৃদ্ধির কারণে তিনি সাত রাকআত নামাযের শেষ তিন রাকআত বিতর আদায় করে সালাম ফিরাতেন। অতঃপর বসে দুই রাকআত নামায আদায় করতেন। হে বৎস। এটাই তার নয় রাকআত নামায আদায়ের বর্ণনা। তিনি আরো বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সারা রাত জেগে থেকে কোন সময়ই ইবাদত করেন নাই এবং তিনি এক রাতে কুরআন খতম কোন সময়ই করেন নাই এবং রমযান ব্যতীত অন্য মাসে তিনি সারা মাস রোযা রাখেন নাই এবং যখন তিনি কোন নামায আদায় করা শুরু করতেন, তখন তিনি তা নিয়মিতভাবে আদায় করতেন। আর রাত্রিতে যখন তিনি কোন কারণবশত নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়তেন, তখন তিনি দিনের বেলা ঐ বার রাকআত নামায আদায় করতেন।

রাবী বলেনঃ অতঃপর আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট গমন করে এরূপ বর্ণনা করায় তিনি বলেনঃ আল্লাহর শপথ! এটাই আসল হাদীস। আমি যদি তাঁর (আয়িশা) সাথে আলাপ করতাম তবে এ ব্যাপারে আমি সরাসরি তাঁর সাথে বাক্যবিনিময় করতাম। অতঃপর রাবী বলেনঃ যদি আমি জানতাম যে, আপনি তাঁর সাথে বাক্যালাপ করেন তবে এটা আমি আপনার নিকট বর্ণনা করতাম না।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৩৪৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ قَالَ : يُصَلِّي ثَمَانِ رَكَعَاتٍ لاَ يَجْلِسُ فِيهِنَّ إِلاَّ عِنْدَ الثَّامِنَةِ، فَيَجْلِسُ فَيَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ، ثُمَّ يَدْعُو، ثُمَّ يُسَلِّمُ تَسْلِيمًا يُسْمِعُنَا، ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ بَعْدَ مَا يُسَلِّمُ، ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَةً، فَتِلْكَ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يَا بُنَىَّ، فَلَمَّا أَسَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَخَذَ اللَّحْمَ أَوْتَرَ بِسَبْعٍ، وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ بَعْدَ مَا يُسَلِّمُ، بِمَعْنَاهُ إِلَى مُشَافَهَةً .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

১৩৪৩. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ..... আবু কাতাদা (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত সনদে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেনঃ তিনি একই সঙ্গে (বিনা বৈঠকে) আট রাকআত নামায আদায় করে বসতেন এবং পরে আল্লাহর যিক্‌র ও দুআ পাঠ করে এমনভাবে সালাম ফিরাতেন, যা আমরা শুনতে পেতাম। অতঃপর তিনি বসে দুই রাকআত নাময আদায় করতেন। পরে তিনি এক রাকআত নামায আদায় করতেন। হে বৎস! এটাই তাঁর আদায়কৃত এগার রাকআত নামাযের বর্ণনা। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সপ্তম রাকআতের সময় বিতর সমাপ্ত করতেন। অতঃপর তিনি বসে দুই রাকআত নামায আদায় করতেন।

১৩৪৪

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ : يُسَلِّمُ تَسْلِيمًا يُسْمِعُنَا كَمَا قَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ .

বর্ণনাকারী: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

১৩৪৪. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... সাইদ (রাহঃ) হতে পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি (নবী (ﷺ)) এমনভাবে সালাম ফিরাতেন, যা আমরা শুনতে পেতাম।

১৩৪৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ ابْنُ بَشَّارٍ بِنَحْوِ حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ : وَيُسَلِّمُ تَسْلِيمَةً يُسْمِعُنَا .

বর্ণনাকারী: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আনসারী (রহঃ)

১৩৪৫. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... সাঈদ (রাহঃ) হতে পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ইবনে বাশশার ইয়াহহিয়া ইবনে সাঈদ হতে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

১৩৪৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ الدِّرْهَمِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ، حَدَّثَنَا زُرَارَةُ بْنُ أَوْفَى، : أَنَّ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - سُئِلَتْ عَنْ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي جَوْفِ اللَّيْلِ، فَقَالَتْ : كَانَ يُصَلِّي صَلاَةَ الْعِشَاءِ فِي جَمَاعَةٍ، ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى أَهْلِهِ فَيَرْكَعُ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، ثُمَّ يَأْوِي إِلَى فِرَاشِهِ وَيَنَامُ وَطَهُورُهُ مُغَطًّى عِنْدَ رَأْسِهِ، وَسِوَاكُهُ مَوْضُوعٌ حَتَّى يَبْعَثَهُ اللَّهُ سَاعَتَهُ الَّتِي يَبْعَثُهُ مِنَ اللَّيْلِ، فَيَتَسَوَّكُ وَيُسْبِغُ الْوُضُوءَ، ثُمَّ يَقُومُ إِلَى مُصَلاَّهُ فَيُصَلِّي ثَمَانِ رَكَعَاتٍ يَقْرَأُ فِيهِنَّ بِأُمِّ الْكِتَابِ وَسُورَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ وَمَا شَاءَ اللَّهُ، وَلاَ يَقْعُدُ فِي شَىْءٍ مِنْهَا حَتَّى يَقْعُدَ فِي الثَّامِنَةِ، وَلاَ يُسَلِّمُ، وَيَقْرَأُ فِي التَّاسِعَةِ، ثُمَّ يَقْعُدُ فَيَدْعُو بِمَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَدْعُوَهُ، وَيَسْأَلُهُ وَيَرْغَبُ إِلَيْهِ وَيُسَلِّمُ تَسْلِيمَةً وَاحِدَةً شَدِيدَةً، يَكَادُ يُوقِظُ أَهْلَ الْبَيْتِ مِنْ شِدَّةِ تَسْلِيمِهِ، ثُمَّ يَقْرَأُ وَهُوَ قَاعِدٌ بِأُمِّ الْكِتَابِ، وَيَرْكَعُ وَهُوَ قَاعِدٌ، ثُمَّ يَقْرَأُ الثَّانِيَةَ فَيَرْكَعُ وَيَسْجُدُ وَهُوَ قَاعِدٌ، ثُمَّ يَدْعُو مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَدْعُوَ، ثُمَّ يُسَلِّمُ وَيَنْصَرِفُ، فَلَمْ تَزَلْ تِلْكَ صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَّنَ فَنَقَصَ مِنَ التِّسْعِ ثِنْتَيْنِ، فَجَعَلَهَا إِلَى السِّتِّ وَالسَّبْعِ وَرَكْعَتَيْهِ وَهُوَ قَاعِدٌ حَتَّى قُبِضَ عَلَى ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: যুরারা ইবনে আওফা (রহঃ)

১৩৪৬. আলী ইবনে হুসায়েন (রাহঃ) .... যুরারাহ ইবনে আওফ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আয়িশা (রাযিঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মধ্যরাত্রির নামায পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ তিনি ইশার নামায জামাআতে আদায়ের পর গৃহে আসতেন। অতঃপর তিনি চার রাক'আত নামায আদায় করে বিছানায় গমন করে ঘুমিয়ে পড়তেন। এ সময় উযুর পানির বদনা তাঁর শিয়রে ঢাকা অবস্থায় থাকত এবং মিসওয়াকও তাঁর পাশে থাকত। অতঃপর তিনি রাত্রির বিশেষ সময়ে আল্লাহর নির্দেশে জাগ্রত হয়ে মিসওয়াক করত ভালোভাবে উযু করতেন। পরে তিনি জায়নামাযে গমন করে আট রাকআত নামায আদায় করতেন। তিনি এই নামাযের রাক'আতসমুহে সূরা ফাতিহা এবং কুরআনের অন্য সূরা পাঠ করতেন, যা আল্লাহর ইচ্ছা হত এরূপ আরো আয়াত পাঠ করতেন।

তিনি এই আট রাকআত নামায আদায়কালে মাঝখানে না বসে শেষ রাকআতের পরে বসতেন এবং সালাম ফিরাবার পূর্বে দণ্ডায়মান হয়ে নবম রাকআত আদায় করে বসতেন। অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী দুআ করতেন এবং তাঁর নিকট প্রার্থনা করতেন এবং তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হতেন। পরিশেষে তিনি স্বশব্দে সালাম ফিরাতেন যার ফলে গৃহের লোকেরা জাগ্রত হবার উপক্রম হত। অতঃপর তিনি বসে দুই রাকআত নামায আদায় করতেন এবং এখানে সূরা ফাতেহা পাঠের পর বসাবস্থায় রুকূ করতেন, অতঃপর দ্বিতীয় রাকআত রুকূ ও সিজদার সাথে বসে আদায় করতেন। পরে তিনি আল্লাহর মর্জি অনুযায়ী দুআ করতঃ সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করতেন। তাঁর শরীর মোবারক ভারী ও দুর্বল হয়ে পড়লে তিনি নয় রাকআতের স্থলে দুই রাকআত বাদ দিয়ে ছয় এবং তার সাথে এক রাকআত যোগ করে সাত রাকআত আদায় করতেন এবং তাঁর ইন্‌তিকালের পূর্বে পর্যন্ত এরূপে নামায আদায় করতেন।
১৩৪৭

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَخْبَرَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ، فَذَكَرَ هَذَا الْحَدِيثَ بِإِسْنَادِهِ قَالَ : يُصَلِّي الْعِشَاءَ ثُمَّ يَأْوِي إِلَى فِرَاشِهِ، لَمْ يَذْكُرِ الأَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، وَسَاقَ الْحَدِيثَ قَالَ فِيهِ : فَيُصَلِّي ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ يُسَوِّي بَيْنَهُنَّ فِي الْقِرَاءَةِ وَالرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ، وَلاَ يَجْلِسُ فِي شَىْءٍ مِنْهُنَّ إِلاَّ فِي الثَّامِنَةِ، فَإِنَّهُ كَانَ يَجْلِسُ ثُمَّ يَقُومُ وَلاَ يُسَلِّمُ، فَيُصَلِّي رَكْعَةً يُوتِرُ بِهَا، ثُمَّ يُسَلِّمُ تَسْلِيمَةً يَرْفَعُ بِهَا صَوْتَهُ حَتَّى يُوقِظَنَا، ثُمَّ سَاقَ مَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: বাহয ইবনে হাকীম (রহঃ)

১৩৪৭. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ..... বাহয ইবনে হাকীম (রাহঃ) উপরোক্ত হাদীসের সনদে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ তিনি ইশার নামায শেষে বিছানায় গমন করতেন এবং উক্ত বর্ণনায় তাঁর চার রাকআত নামায আদায় সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নাই। তিনি বর্ণনা করেন যে, তিনি আট রাকআত নামায আদায় করবার সময় কিরাআত, রুকূ ও সিজদার মধ্যে সমতা রক্ষা করতেন এবং এই নামাযের কেবলমাত্র শেষ রাকআতে তিনি বসতেন। অতঃপর দণ্ডায়মান হয়ে বিতরের এক রাকআত আদায় করে এমন সশব্দে সালাম ফিরেতেন যে, আমরা জাগ্রত হয়ে যেতাম। অতঃপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ অর্থে বর্ণিত হয়েছে।

১৩৪৮

حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، - يَعْنِي ابْنَ مُعَاوِيَةَ - عَنْ بَهْزٍ، حَدَّثَنَا زُرَارَةُ بْنُ أَوْفَى، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، : أَنَّهَا سُئِلَتْ عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ : كَانَ يُصَلِّي بِالنَّاسِ الْعِشَاءَ، ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى أَهْلِهِ فَيُصَلِّي أَرْبَعًا، ثُمَّ يَأْوِي إِلَى فِرَاشِهِ، ثُمَّ سَاقَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ وَلَمْ يَذْكُرْ : يُسَوِّي بَيْنَهُنَّ فِي الْقِرَاءَةِ وَالرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ . وَلَمْ يَذْكُرْ فِي التَّسْلِيمِ : حَتَّى يُوقِظَنَا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৪৮. আমর ইবনে উছমান (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা তাঁকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ তিনি ইশার নাময জামাআতে আদায়ের পর গৃহে প্রত্যাবর্তন করতেন। অতঃপর তিনি চার রাকআত নামায আদায় করে বিছানায় যেতেন। অতঃপর পূর্ববর্তীর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং এই বর্ণনায় তিনি যে কিরা’আত, রুকূ ও সিজদার মধ্যে সমতা রক্ষা করতেন, এর উল্লেখ নাই এবং তাঁর সশব্দ সালাম আমাদের যে নিদ্রাভঙ্গ হত, তারও উল্লেখ নেই।

১৩৪৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - بِهَذَا الْحَدِيثِ وَلَيْسَ فِي تَمَامِ حَدِيثِهِمْ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৪৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

১৩৫০

حَدَّثَنَا مُوسَى، - يَعْنِي ابْنَ إِسْمَاعِيلَ - حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً يُوتِرُ بِسَبْعٍ أَوْ كَمَا قَالَتْ، وَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ، وَرَكْعَتَىِ الْفَجْرِ بَيْنَ الأَذَانِ وَالإِقَامَةِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৫০. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাত্রিতে তের রাকআত নামায আদায় করতেন এবং তিনি নবম রাকআতে বিতর পাঠ শেষ করতেন অথবা তিনি (আয়িশা) যেরূপ বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি (নবী (ﷺ)) বসাবস্থায় দুই রাকআত নামায আদায় করতেন। তিনি ফজরের দুই রাকআত সুন্নত নামায আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করতেন।

১৩৫১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُوتِرُ بِتِسْعِ رَكَعَاتٍ، ثُمَّ أَوْتَرَ بِسَبْعِ رَكَعَاتٍ، وَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ بَعْدَ الْوِتْرِ يَقْرَأُ فِيهِمَا، فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَرْكَعَ قَامَ فَرَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ : رَوَى هَذَيْنِ الْحَدِيثَيْنِ خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْوَاسِطِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو مِثْلَهُ، قَالَ فِيهِ قَالَ عَلْقَمَةُ بْنُ وَقَّاصٍ : يَا أُمَّتَاهُ كَيْفَ كَانَ يُصَلِّي الرَّكْعَتَيْنِ فَذَكَرَ مَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৫১. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবম রাকআতে তিনি বিতর সমাপ্ত করতেন। অতঃপর তিনি তাঁর পরিণত বয়সে সপ্তম রাকআতের সময় বিতর শেষ করতেন এবং এর পর বসে দুই রাকআত নামায আদায় করতেন। তিনি এই দুই রাকআতে রুকুর ইরাদায় দণ্ডায়মান হতেন এবং রুকু ও সিজদা আদায় করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১৩৫২

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ عَنْ خَالِدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، قَالَ : قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فَدَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَقُلْتُ : أَخْبِرِينِي عَنْ صَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَتْ : إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي بِالنَّاسِ صَلاَةَ الْعِشَاءِ، ثُمَّ يَأْوِي إِلَى فِرَاشِهِ فَيَنَامُ، فَإِذَا كَانَ جَوْفُ اللَّيْلِ قَامَ إِلَى حَاجَتِهِ وَإِلَى طَهُورِهِ فَتَوَضَّأَ، ثُمَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَصَلَّى ثَمَانِ رَكَعَاتٍ يُخَيَّلُ إِلَىَّ أَنَّهُ يُسَوِّي بَيْنَهُنَّ فِي الْقِرَاءَةِ وَالرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ، ثُمَّ يُوتِرُ بِرَكْعَةٍ، ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ، ثُمَّ يَضَعُ جَنْبَهُ، فَرُبَّمَا جَاءَ بِلاَلٌ فَآذَنَهُ بِالصَّلاَةِ، ثُمَّ يُغْفِي، وَرُبَّمَا شَكَكْتُ أَغَفَى أَوْ لاَ، حَتَّى يُؤْذِنَهُ بِالصَّلاَةِ، فَكَانَتْ تِلْكَ صَلاَتَهُ حَتَّى أَسَنَّ وَلَحُمَ، فَذَكَرَتْ مِنْ لَحْمِهِ مَا شَاءَ اللَّهُ، وَسَاقَ الْحَدِيثَ .

বর্ণনাকারী: সা'দ ইবনে হিশাম (রহঃ)

১৩৫২. ওয়াহাব ইবনে বাকিয়্যা (রাহঃ) .... সা’দ ইবনে হিশাম (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদীনায় গমনের পর আয়িশা (রাযিঃ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করি আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামায সম্পর্কে কিছু বলুন। তখন তিনি বলেনঃ তিনি ইশার নামায জামাআতে আদায়ের পর বিছানায় গিয়ে ঘুমাতেন। অতঃপর মধ্যরাত্রিতে তিনি গাত্রোত্থান করে পেশাব-পায়খানা করার উদ্দেশ্যে গমন করতেন। অতঃপর পানি দ্বারা উযু করে মসজিদে গমন করতেন এবং সেখানে আট রাকআত নামায আদায় করতেন। সম্ভবতঃ তিনি এই নামাযের কিরাআত, রুকূ ও সিজদা আদায়ের মধ্যে সমতা রক্ষা করতেন। অতঃপর তিনি বিতরের উদ্দেশ্যে আরো এক রাকআত আদায় করতেন এবং পরে বসাবস্থায় দুই রাকআত নামায আদায় করে কাত হয়ে শুয়ে থাকতেন। অতঃপর কখনো কখনো বিলাল (রাযিঃ) এসে তাঁকে নামাযের জন্য আহবান করতেন। আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ প্রথমাবস্থায় আমি তাঁর এরূপ নিদ্রার জন্য শিকায়েত (অভিযোগ) করতাম, যেহেতু নামাযের জন্য পুনরায় তাঁকে ডাকতে হত। তিনি শেষ বয়স পর্যন্ত এরূপে নামায আদায় করেন।

রাবী ইবনে ঈসা বলেনঃ বিতরের নামায আদায়ের পর সুবহে সাদিক হলে বিলাল (রাযিঃ) তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে নামাযের সংবাদ দিতেন। তখন তিনি ফজরের দুই রাকআত সুন্নত আদায় করে মসজিদে গমন করতেন।

অতঃপর দুই রাবী (উছমান ও ঈসা) একমত হয়ে বলেনঃ অতঃপর তিনি বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমার কলবে নূর দান করুন, আমার জিহ্বায় নূর দান করুন, আমার কানে নূর দান করুন, আমার উপরে ও নীচে নূর দান করুন, আমার অস্থিতে নূর দান প্রদান করুন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৩৫৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، : أَنَّهُ رَقَدَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَرَآهُ اسْتَيْقَظَ فَتَسَوَّكَ وَتَوَضَّأَ وَهُوَ يَقُولُ : ( إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ ) حَتَّى خَتَمَ السُّورَةَ، ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ أَطَالَ فِيهِمَا الْقِيَامَ وَالرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ، ثُمَّ إِنَّهُ انْصَرَفَ فَنَامَ حَتَّى نَفَخَ، ثُمَّ فَعَلَ ذَلِكَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ بِسِتِّ رَكَعَاتٍ، كُلُّ ذَلِكَ يَسْتَاكُ ثُمَّ يَتَوَضَّأُ وَيَقْرَأُ هَؤُلاَءِ الآيَاتِ، ثُمَّ أَوْتَرَ - قَالَ عُثْمَانُ : بِثَلاَثِ رَكَعَاتٍ، فَأَتَاهُ الْمُؤَذِّنُ فَخَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ - وَقَالَ ابْنُ عِيسَى : ثُمَّ أَوْتَرَ فَأَتَاهُ بِلاَلٌ فَآذَنَهُ بِالصَّلاَةِ حِينَ طَلَعَ الْفَجْرُ، فَصَلَّى رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ - ثُمَّ اتَّفَقَا - وَهُوَ يَقُولُ : " اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي لِسَانِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي سَمْعِي نُورًا، وَاجْعَلْ فِي بَصَرِي نُورًا، وَاجْعَلْ خَلْفِي نُورًا، وَأَمَامِي نُورًا، وَاجْعَلْ مِنْ فَوْقِي نُورًا، وَمِنْ تَحْتِي نُورًا، اللَّهُمَّ وَأَعْظِمْ لِي نُورًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৩৫৩. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে রাত যাপন করেন। অতঃপর তিনি তাঁকে দেখতে পান যে, তিনি রাতে ঘুম থেকে উঠে মিসওয়াক শেষে উযু করে কুরআনের (সূরা আলে ইমরানের) এই আয়াত পাঠ করেছেনঃ নিশ্চয় আসমান ও যমীনের সৃষ্টির মধ্যে ......... সূরার শেষ আয়াত পর্যন্ত। অতঃপর তিনি দণ্ডায়মান হয়ে সুদীর্ঘ কিরা’আত ও রুকূ-সিজদার মাধ্যমে দুই রাক'আত নাময আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েন। অতঃপর তিনি এরূপে তিনবার ছয় রাকআত নামায আদায় করেন এবং প্রতি দুই রাকআত নামায আদায়ের পূর্বে তিনি মিসওয়াক করতঃ উযু করার পর এই আয়াতসমূহ পাঠ করেন। অতঃপর তিনি বিতরের নামায আদায় করেন।

রাবী উছমান (রাহঃ) বলেনঃ তিনি বিতরের নামায তিন রাকআত আদায় করতেন। অতঃপর যখন তাঁর নিকট মুয়াযযিন আসতেন তিনি ফজরের নামায আদায়ের জন্য মসজিদে গমন করেন এবং এ দু'আ পাঠ করেনঃ ″হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর দাও, আমার জবানে নূর দাও, আমার কানে নূর দাও, আমার চোখে নূর দাও, নূর দান করো আমার পিছন ও সম্মুখভাগে এবং আমার উপরে ও নীচে। হে আল্লাহ! আমাকে পর্যাপ্ত নূর দান কর।″
১৩৫৪

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ حُصَيْنٍ، نَحْوَهُ قَالَ : " وَأَعْظِمْ لِي نُورًا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : وَكَذَلِكَ قَالَ أَبُو خَالِدٍ الدَّالاَنِيُّ عَنْ حَبِيبٍ فِي هَذَا، وَكَذَلِكَ قَالَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ وَقَالَ سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ عَنْ أَبِي رِشْدِينَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৩৫৪। ওয়াহব ইবনে বাকিয়্যা (রাহঃ) .... হুসায়েন হতেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেনঃ (ইয়া আল্লাহ) আমার অস্থিতে নূর দান করুন।

১৩৫৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ : بِتُّ لَيْلَةً عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لأَنْظُرَ كَيْفَ يُصَلِّي فَقَامَ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ قِيَامُهُ مِثْلُ رُكُوعِهِ، وَرُكُوعُهُ مِثْلُ سُجُودِهِ، ثُمَّ نَامَ، ثُمَّ اسْتَيْقَظَ فَتَوَضَّأَ وَاسْتَنَّ ثُمَّ قَرَأَ بِخَمْسِ آيَاتٍ مِنْ آلِ عِمْرَانَ ( إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ ) فَلَمْ يَزَلْ يَفْعَلُ هَذَا حَتَّى صَلَّى عَشْرَ رَكَعَاتٍ، ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى سَجْدَةً وَاحِدَةً فَأَوْتَرَ بِهَا، وَنَادَى الْمُنَادِي عِنْدَ ذَلِكَ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ مَا سَكَتَ الْمُؤَذِّنُ فَصَلَّى سَجْدَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ، ثُمَّ جَلَسَ حَتَّى صَلَّى الصُّبْحَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ : خَفِيَ عَلَىَّ مِنِ ابْنِ بَشَّارٍ بَعْضُهُ .

বর্ণনাকারী: ফযল ইবনে আব্বাস (রাঃ)

১৩৫৫. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... ফাদাল ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামায পাঠের পদ্ধতি আবলোকনের উদ্দেশ্যে রাতে তাঁর সাথে অবস্থান করি। তিনি রাতে উঠে উযু করার পর দুই রাকআত নামায আদায় করেন এবং তাঁর দাঁড়ানোর সময়টুকু তাঁর রুকূর অনুরূপ ছিল এবং তাঁর রুকূর পরিমাণ ছিল সিজদার অনুরূপ। অতঃপর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন এবং পরে ঘুম থেকে উঠে মিসওয়াক ও উযু করতঃ সূরা আলে-ইমরানের এই পাঁচটি আয়াত তিলাওয়াতের করেনঃ নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টির মধ্যে এবং দিন-রাতের পরিক্রমার মধ্যে ...। তিনি অনুরূপভাবে দশ রাকআত নামায আদায় করেন এবং শেষ দুই রাকআতের সাথে এক রাকআত মিলিয়ে বিতর আদায় করেন। এসময় মুয়াযযিন আযান দেওয়া শেষ করলে তিনি দণ্ডায়মান হয়ে ফজরের দুই রাকআত সুন্নত হালকাভাবে আদায় করেন। অতঃপর কিছুক্ষণ বসার পর জামাআতের সাথে ফজরের নামায আদায় করেন।

১৩৫৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قَيْسٍ الأَسَدِيُّ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ : بِتُّ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ مَا أَمْسَى فَقَالَ : " أَصَلَّى الْغُلاَمُ " . قَالُوا : نَعَمْ . فَاضْطَجَعَ حَتَّى إِذَا مَضَى مِنَ اللَّيْلِ مَا شَاءَ اللَّهُ قَامَ فَتَوَضَّأَ، ثُمَّ صَلَّى سَبْعًا أَوْ خَمْسًا أَوْتَرَ بِهِنَّ لَمْ يُسَلِّمْ إِلاَّ فِي آخِرِهِنَّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৩৫৬. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাতে আমি আমার খালা মায়মুনা (রাযিঃ) এর গৃহে অবস্থান করি। রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে জিজ্ঞাসা করেনঃ ছেলেটি কি নামায আদায় করেছে? তাঁরা বলেনঃ হ্যাঁ। তখন তিনি শয়ন করেন এবং রাত্রির কিছু অংশ আল্লাহর ইচ্ছায় আতিবাহিত হওয়ার পর তিনি ঘুম থেকে উঠে উযু করার পর পাঁচ অথবা সাত রাকআত নামায আদায় করেন; যার মধ্যে বিতরও শামিল ছিল। ঐ সময় তিনি সর্বশেষ রাকআতে সালাম ফিরান।

১৩৫৭

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ : بِتُّ فِي بَيْتِ خَالَتِي مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ فَصَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ، ثُمَّ جَاءَ فَصَلَّى أَرْبَعًا، ثُمَّ نَامَ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي، فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ فَأَدَارَنِي فَأَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ فَصَلَّى خَمْسًا ثُمَّ نَامَ حَتَّى سَمِعْتُ غَطِيطَهُ - أَوْ خَطِيطَهُ - ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الْغَدَاةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৩৫৭. ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাত্রিতে আমি আমার খালা মায়মুনা বিনতেল হারিছ (রাযিঃ) এর গৃহে অবস্থান করি। এ সময় নবী করীম (ﷺ) ইশার নামায আদায়ের পর গৃহে আগমন করে চার রাকআত নামায আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েন। অতঃপর তিনি ঘুম থেকে উঠে উযু করার পর নামাযের জন্য দণ্ডায়মান হন। এ সময় আমি তাঁর বাম পাশে দাঁড়াই। তিনি আমাকে ঘুরিয়ে ডান পাশে দাঁড় করান এবং পাঁচ রাকআত নামায আদায় করেন। অতঃপর পুনরায় নিদ্রা যান, ঐ সময় আমি তাঁর নাসিকা ধ্বনি শুনতে পাই। অতঃপর তিনি নিদ্রা হতে উঠে দুই রাকআত নামায (ফজরের সুন্নত) আদায় করেন এবং মসজিদে গিয়ে ফজরের নামায আদায় করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৩৫৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ الْمَجِيدِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، حَدَّثَهُ فِي، هَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ : فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ، حَتَّى صَلَّى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ، ثُمَّ أَوْتَرَ بِخَمْسٍ لَمْ يَجْلِسْ بَيْنَهُنَّ .

বর্ণনাকারী: সাঈদ ইবনে জুবায়র (রহঃ)

১৩৫৮. কুতায়বা (রাহঃ) .... সাঈদ ইবনে যুবায়ের (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এরূপ নামায পাঠের ঘটনা আমার নিকট বর্ণনা করেন।

রাবী বলেনঃ তিনি (নবী (ﷺ)) দুই দুই রাকআত করে মোট আট রাকআত নামায আদায় করেন। অতঃপর পাঁচ রাকআত বিতর আদায় করেন এবং এর মাঝখানে বসেন নি।
১৩৫৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً بِرَكْعَتَيْهِ قَبْلَ الصُّبْحِ : يُصَلِّي سِتًّا مَثْنَى مَثْنَى، وَيُوتِرُ بِخَمْسٍ لاَ يَقْعُدُ بَيْنَهُنَّ إِلاَّ فِي آخِرِهِنَّ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৫৯. আব্দুল আযীয ইবনে ইয়াহহিয়া (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের সুন্নত সহ মোট তের রাকআত নামায আদায় করতেন। তিনি প্রথমত দুই দুই রাকআত করে ছয় রাকআত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি বিতর নামায পাঁচ রাকআত আদায় করতেন এবং শেষ রাকআতে বসতেন।

১৩৬০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي بِاللَّيْلِ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً بِرَكْعَتَىِ الْفَجْرِ .

বর্ণনাকারী: উরওয়া ইবনে যুবায়র (রহঃ)

১৩৬০. কুতায়বা (রাহঃ) .... উরওয়া (রাহঃ) আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আয়িশা (রাযিঃ) তাঁকে এই মর্মে অবহিত করেন যে, নবী করীম (ﷺ) ফজরের সুন্নত সহ রাত্রিতে মোট তের রাকআত নামায আদায় করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১৩৬১

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، وَجَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ يَزِيدَ الْمُقْرِئَ، أَخْبَرَهُمَا عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عِرَاكِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الْعِشَاءَ، ثُمَّ صَلَّى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ قَائِمًا، وَرَكْعَتَيْنِ بَيْنَ الأَذَانَيْنِ وَلَمْ يَكُنْ يَدَعُهُمَا . قَالَ جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ فِي حَدِيثِهِ : وَرَكْعَتَيْنِ جَالِسًا بَيْنَ الأَذَانَيْنِ، زَادَ : جَالِسًا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৬১. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার নামায আদায়ের পর দণ্ডায়মান হয়ে আট রাকআত নামায আদায় করতেন এবং তারপর দুই রাকআত তিনি ফজরের নামাযের আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করতেন। এই দুই রাকআত নামায তিনি কখনও পরিত্যাগ করতেন না (এটা ফজরের সুন্নত)। অত্র হাদীসে জাফার ইবনে মুসাফির-এর বর্ণনায় বিতরের পরে সাহরীর আযান ও ফজরের আযানের মধ্যবর্তী সময়ে দুই রাকআত নামায বসে পড়তেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ

১৩৬২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَيْسٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ رضى الله عنها : بِكَمْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُوتِرُ قَالَتْ : كَانَ يُوتِرُ بِأَرْبَعٍ وَثَلاَثٍ، وَسِتٍّ وَثَلاَثٍ، وَثَمَانٍ وَثَلاَثٍ، وَعَشْرٍ وَثَلاَثٍ، وَلَمْ يَكُنْ يُوتِرُ بِأَنْقَصَ مِنْ سَبْعٍ، وَلاَ بِأَكْثَرَ مِنْ ثَلاَثَ عَشْرَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ زَادَ أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ : وَلَمْ يَكُنْ يُوتِرُ بِرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْفَجْرِ . قُلْتُ : مَا يُوتِرُ قَالَتْ : لَمْ يَكُنْ يَدَعُ ذَلِكَ . وَلَمْ يَذْكُرْ أَحْمَدُ : وَسِتٍّ وَثَلاَثٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৬২. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আবু কায়েস (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাত্রিতে বিতর সহ কত রাকআত নামায আদায় করতেন? তিনি বলেনঃ তিনি চার রাকআত ও তিন রাকআত বিতর আদায় করতেন এবং কখনও ছয় রাক'আত ও তিন রাকআত ও বিতর আদায় করতেন এবং কখনও আট রাকআত আদায় করতেন এবং (কোন কোন সময়) তিনি মোট তের রাকআত নামায আদায় করতেন। তবে সাধারণতঃ তিনি সাত রাকআতের কম এবং তের রাকআতের অধিক নামায আদায় করতেন না। তিনি ফজরের সুন্নত কোন সময় ত্যাগ করতেন না - এটা রাবী আহমদের বর্ণনা। রাবী আহমাদের বর্ণনায় ছয় এবং তিন রাকআতের কথা উল্লেখ নাই।

১৩৬৩

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيِّ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، : أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ فَسَأَلَهَا عَنْ صَلاَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِاللَّيْلِ . فَقَالَتْ : كَانَ يُصَلِّي ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً مِنَ اللَّيْلِ، ثُمَّ إِنَّهُ صَلَّى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، وَتَرَكَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قُبِضَ صلى الله عليه وسلم حِينَ قُبِضَ وَهُوَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ تِسْعَ رَكَعَاتٍ، وَكَانَ آخِرُ صَلاَتِهِ مِنَ اللَّيْلِ الْوِتْرَ .

বর্ণনাকারী: আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ নাখঈ (রহঃ)

১৩৬৩. মুআম্মাল ইবনে হিশাম (রাহঃ) ..... আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আয়িশা (রাযিঃ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে তাঁকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রাত্রিকালীন নামায পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেন, তিনি রাত্রিতে তের রাকআত নামায আদায় করতেন। অতঃপর শেষ বয়সে তিনি দুই রাকআত কম করে মোট এগার রাকআত আদায় করতেন এবং তাঁর ইন্তিকালের পূর্বে তিনি নয় রাকআত নামায আদায় করতেন এবং তাঁর রাত্রির শেষ নামায ছিল বিতরের নামায।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৩৬৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ اللَّيْثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ جَدِّي، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، أَنَّ كُرَيْبًا، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، قَالَ : سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِاللَّيْلِ قَالَ : بِتُّ عِنْدَهُ لَيْلَةً وَهُوَ عِنْدَ مَيْمُونَةَ، فَنَامَ حَتَّى إِذَا ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ أَوْ نِصْفُهُ اسْتَيْقَظَ فَقَامَ إِلَى شَنٍّ فِيهِ مَاءٌ فَتَوَضَّأَ وَتَوَضَّأْتُ مَعَهُ، ثُمَّ قَامَ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ عَلَى يَسَارِهِ فَجَعَلَنِي عَلَى يَمِينِهِ، ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ عَلَى رَأْسِي كَأَنَّهُ يَمَسُّ أُذُنِي كَأَنَّهُ يُوقِظُنِي فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ، قُلْتُ : فَقَرَأَ فِيهِمَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ صَلَّى حَتَّى صَلَّى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً بِالْوِتْرِ، ثُمَّ نَامَ فَأَتَاهُ بِلاَلٌ فَقَالَ : الصَّلاَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ صَلَّى لِلنَّاسِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৩৬৪. আব্দুল মালিক ইবনে শুআইব (রাহঃ) ...... মাখরামা ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তাঁকে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম কুরাইব আবহিত করেন যে, একদা তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাত্রিতে কিরূপ নামায আদায় করতেন? তখন তিনি বলেনঃ একদা রাত্রিতে আমি তাঁর সাথে অবস্থান করি, ঐ সময় তিনি মায়মুনা (রাযিঃ) এর গৃহে ছিলেন। অতঃপর তিনি নিদ্রা যান এবং রাতের এক-তৃতীয়াংশে অথবা অর্ধেক অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি গাত্রোত্থান করে পানির বদনায় কাছে গিয়ে উযু করেন এবং আমিও তাঁর সাথে উযু করি। অতঃপর তিনি নামাযে দণ্ডায়মান হলে আমি তাঁর বাম পাশে গিয়ে দাঁড়লে তিনি আমাকে টেনে ডান পাশে নিয়ে আসেন।

পরে তিনি তাঁর হস্ত মোবারক আমার মস্তকের উপর স্থাপন করেন, তিনি আমার কান মলে আমাকে সতর্ক করেন। এই সময় তিনি হাল্কাভাবে দুই রাকআত নামায আদায় করেন। আমার মনে হয় যে, তিনি প্রতি রাকআতে সূরা ফাতিহা পাঠ করেন। অতঃপর তিনি সালাম ফিরান এবং পরে বিতর সহ এগার রাকআত নামায আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েন। অতঃপর বিলাল (রাযিঃ) এসে নামায ইয়া রাসুলাল্লাহ বলায় তিনি উযু করে দাঁড়িয়ে দুই রাকআত নামায (ফজরের সুন্নত) আদায় করেন, পরে মসজিদে গিয়ে লোকদের সাথে জামাআতে ফজরের নামায আদায় করেন।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১৩৬৫

حَدَّثَنَا نُوحُ بْنُ حَبِيبٍ، وَيَحْيَى بْنُ مُوسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ : بِتُّ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً مِنْهَا رَكْعَتَا الْفَجْرِ، حَزَرْتُ قِيَامَهُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ بِقَدْرِ ( يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ ) لَمْ يَقُلْ نُوحٌ : مِنْهَا رَكْعَتَا الْفَجْرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৩৬৫. নূহ ইবনে হাবীব (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাত্রিতে আমি আমার খালা মায়মুনা (রাযিঃ) এর গৃহে অবস্থান করি। এই সময় নবী করীম (ﷺ) রাত্রিতে উঠে নামাযের জন্য দণ্ডায়মান হন এবং তিনি ফজরের দুই রাকআত সুন্নত সহ মোট তের রাকআত নামায আদায় করেন। আমি অনুমান করলাম যে, তাঁর প্রতি রাকআতে দাঁড়ানোর সময় ছিল “সূরা-মুযযাম্মিল” পাঠের সময়ের অনুরূপ। রাবী নূহ তাঁর বর্ণনায় দুই রাকআত ফজরের সুন্নত নামাযের কথা উল্লেখ করেন নাই।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৩৬৬

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسِ بْنِ مَخْرَمَةَ، أَخْبَرَهُ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّهُ - قَالَ - لأَرْمُقَنَّ صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اللَّيْلَةَ، قَالَ : فَتَوَسَّدْتُ عَتَبَتَهُ أَوْ فُسْطَاطَهُ، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ طَوِيلَتَيْنِ طَوِيلَتَيْنِ طَوِيلَتَيْنِ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُمَا دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا، ثُمَّ أَوْتَرَ، فَذَلِكَ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রাঃ)

১৩৬৬. আল-কানবী (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে খালিদ আল-জুহনী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি নজর রাখব তিনি রাতের নামায কিভাবে পড়েন। আমি আমার মস্তক দরজা বা তাবুর চৌকাঠের উপর রেখে শুয়ে থাকলাম। তিনি হালকাভাবে দুই রাকআত নামায আদায় করার পর আরো দুই রাকআত নামায অতি দীর্ঘ করে পড়েন। অতঃপর তিনি আরো দুই রাকআত নামায আদায় করেন, যা পূর্বের দুই রাকআত অপেক্ষা কম দীর্ঘ ছিল। পরে তিনি এর চাইতে আরো কম দীর্ঘ দুই রাকআত নামায আদায় করেন এবং পরে আরো দুই রাকআত নামায আদায় করেন, যা পূর্বের নামাযের চাইতে আরো কম দীর্ঘ ছিল। অতঃপর তিনি পূর্বের চাইতে কম দীর্ঘ করে আরো দুই রাকআত নামায আদায় করেন এবং তাঁর সাথে এক রাকআত মিলিয়ে বিতর সহ মোট তের রাকআত আদায় করেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১৩৬৭

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ : أَنَّهُ، بَاتَ عِنْدَ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ خَالَتُهُ - قَالَ - فَاضْطَجَعْتُ فِي عَرْضِ الْوِسَادَةِ، وَاضْطَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَهْلُهُ فِي طُولِهَا، فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا انْتَصَفَ اللَّيْلُ - أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيلٍ، أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيلٍ - اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَلَسَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ بِيَدِهِ، ثُمَّ قَرَأَ الْعَشْرَ الآيَاتِ الْخَوَاتِمَ مِنْ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ، ثُمَّ قَامَ إِلَى شَنٍّ مُعَلَّقَةٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ : فَقُمْتُ فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ، ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ، فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رَأْسِي فَأَخَذَ بِأُذُنِي يَفْتِلُهَا، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، قَالَ الْقَعْنَبِيُّ : سِتَّ مَرَّاتٍ، ثُمَّ أَوْتَرَ، ثُمَّ اضْطَجَعَ، حَتَّى جَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ، ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৩৬৭. আল-কানবী (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম কুরায়েব (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) তাঁর নিকট বর্ণনা করেন যে, এক রাতে তিনি তাঁর খালা এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী মায়মুনা (রাযিঃ) এর গৃহে আবস্থান করেন। তিনি বলেনঃ আমি বালিশের পাশে মাথা রেখে শয়ন করি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর পত্নি বালিশের লম্বা ভাগের উপর মাথা রেখে শয়ন করেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিদ্রাভিভূত হয়ে পড়েন। তিনি রাতের অর্ধেক বা এর চাইতে একটু কম বা বেশী সময়ের পর জাগ্রত হয়ে হাতের সাহায্যে তাঁর চক্ষু রগড়াতে থাকেন এবং সূরা আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করেন।

অতঃপর আমিও উঠে তাঁর মত উযু করে তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়াই। এ সময় তিনি তাঁর ডান হাত দ্বারা আমার কান স্পর্শ করেন। অতঃপর তিনি দুই রাকআত, পরে দুই রাকআত, আরো পরে দুই রাকআত, পুনঃ দুই রাকআত, আবার দুই রাকআত এবং সবশেষে আরো দুই রাকআত নামায আদায় করেন। রাবী আল-কানবী বলেনঃ এরূপ তিনি ছয় বার নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি শেষ রাকআতের সাথে এক রাকআত মিলিয়ে বিতর আদায় করে শুয়ে পড়েন। অবশেষে মুয়াযযিন এসে তাঁকে নামাযের খবর দিলে তিনি হালকাভাবে দুই রাকআত নামায (ফজরের সুন্নত) আদায় করে গৃহ হতে বের হয়ে ফজরের ফরয নামায (মসজিদে) জামাআতের সাথে আদায় করেন।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

৩২২. নামাযের মধ্যে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা সম্পর্কে।

باب مَا يُؤْمَرُ بِهِ مِنَ الْقَصْدِ فِي الصَّلاَةِ

১৩৬৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ : " اكْلَفُوا مِنَ الْعَمَلِ مَا تُطِيقُونَ، فَإِنَّ اللَّهَ لاَ يَمَلُّ حَتَّى تَمَلُّوا، وَإِنَّ أَحَبَّ الْعَمَلِ إِلَى اللَّهِ أَدْوَمُهُ وَإِنْ قَلَّ " . وَكَانَ إِذَا عَمِلَ عَمَلاً أَثْبَتَهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৬৮. কুতায়বা (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা সাধ্যানুযায়ী আমল কর। কেননা আল্লাহ তাআলা তোমাদের কোন আমলকে বন্ধ করেন না, যতক্ষণ না তোমারা নিজেরাই তা বন্ধ কর। কেননা আল্লাহ তাআলার নিকট ঐ আমলই অধিক পছন্দনীয় যা নিয়মিত আদায় করা হয়ে থাকে, যদিও পরিমাণে তা কম হয়। তিনি যখন কোন আমল শুরু করতেন, তখন তা নিয়মিতভাবে আদায় করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৩৬৯

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا عَمِّي، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، : أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ إِلَى عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ فَجَاءَهُ فَقَالَ : " يَا عُثْمَانُ أَرَغِبْتَ عَنْ سُنَّتِي " . قَالَ : لاَ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَلَكِنْ سُنَّتَكَ أَطْلُبُ . قَالَ : " فَإِنِّي أَنَامُ وَأُصَلِّي، وَأَصُومُ وَأُفْطِرُ، وَأَنْكِحُ النِّسَاءَ، فَاتَّقِ اللَّهَ يَا عُثْمَانُ، فَإِنَّ لأَهْلِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنَّ لِضَيْفِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَإِنَّ لِنَفْسِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، فَصُمْ وَأَفْطِرْ، وَصَلِّ وَنَمْ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৬৯. উবাইদুল্লাহ ইবনে সাদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উছমান ইবনে মাযউন (রাযিঃ)-কে ডেকে পাঠান। তিনি আগমন করলে নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ হে উছমান। তুমি আমার সুন্নতের বিরোধিতা করছ? তিনি আল্লাহর শপথ করে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ। না, বরং আমি আপনার সুন্নতের অন্বেষণকারী। তখন তিনি বলেনঃ আমি ঘুমাই এবং নামাযও আদায় করি, রোযা রাখি এবং ইফতারও করি, এবং স্ত্রীও গ্রহণ করি। হে উছমান! তুমি আল্লাহকে ভয় কর। তোমার প্রতি তোমার বিবির হক আছে, তোমার মেহমানের হক আছে, তোমার নফসের হক আছে। অতএব তুমি রোযাও রাখ এবং রোযাহীনও থাক, নামায আদায় কর এবং নিদ্রাও যাও।

১৩৭০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ : سَأَلْتُ عَائِشَةَ كَيْفَ كَانَ عَمَلُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَلْ كَانَ يَخُصُّ شَيْئًا مِنَ الأَيَّامِ قَالَتْ : لاَ، كَانَ كُلُّ عَمَلِهِ دِيمَةً، وَأَيُّكُمْ يَسْتَطِيعُ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتَطِيعُ

বর্ণনাকারী: আলকামা ইবনে কায়স নাখঈ (রহঃ)

১৩৭০. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... আলকামা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আয়িশা (রাযিঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি যে, তিনি বিশেষ কোন দিনে নির্ধারিত কোন ইবাদত করতেন কি? তখন জবাবে তিনি বলেন, না, বরং তিনি যা আমল করতেন, তা সর্বদাই করতেন। আর তিনি যা করতে সক্ষম ছিলেন, তোমরা সেরূপ করতে কিরূপ সক্ষম?

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩২৩. রমযান মাসের রাত্রিকালীন নামায।

باب فِي قِيَامِ شَهْرِ رَمَضَانَ

১৩৭১

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، - قَالَ الْحَسَنُ فِي حَدِيثِهِ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُرَغِّبُ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ بِعَزِيمَةٍ ثُمَّ يَقُولُ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " . فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ ثُمَّ كَانَ الأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ فِي خِلاَفَةِ أَبِي بَكْرٍ - رضى الله عنه - وَصَدْرًا مِنْ خِلاَفَةِ عُمَرَ رضى الله عنه . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا رَوَاهُ عُقَيْلٌ وَيُونُسُ وَأَبُو أُوَيْسٍ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ " . وَرَوَى عُقَيْلٌ " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ وَقَامَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩৭১. আল-হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবীদেরকে রমযান মাসের (রাতে) নামায আদায়ের ব্যপারে উৎসাহিত করতেন; তবে তিনি তা আদায়ের ব্যাপারে অধিক গুরুত্ব (ফরয-ওয়াজিবের ন্যায়) আরোপ করতেন না। তিনি বলতেনঃ যে ব্যক্তি রমযান মাস ঈমানের সাথে এবং মর্যাদা লাভের আশায় দণ্ডায়মান হয়ে তারাবীহ নামায আদায় করে, আল্লাহ তাআলা তাঁর জীবনের পূর্ববর্তী সমস্ত (সগীরা) গুনাহ মাফ করে দেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তিকালের পরেও এই নামাযের বিধান একইরূপ থাকে। অতঃপর আবু বকর (রাযিঃ) এর খিলাফতকালেও তদ্রূপ থাকে এবং উমর (রাযিঃ) এর খিলাফতের প্রথম দিকেও ঐরূপ ছিল।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৩৭২

حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، وَابْنُ أَبِي خَلَفٍ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَا رَوَاهُ يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩৭২. মাখলাদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এই হাদীসের সনদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং মর্যাদা লাভের আশায় রমযান মাসের রোযা রাখে, তার পূর্ববর্তী জীবনের সমস্ত (সগীরা) গুনাহ মার্জিত হবে। আর যে ব্যক্তি “লায়লাতুল কদরে” ঈমানের সাথে এবং আল্লাহর সন্তুষ্ট লাভের জন্য নামায আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী জীবনের সমুদয় (সগীরা) গুনাহ মার্জিত হবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৩৭৩

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى فِي الْمَسْجِدِ فَصَلَّى بِصَلاَتِهِ نَاسٌ ثُمَّ صَلَّى مِنَ الْقَابِلَةِ فَكَثُرَ النَّاسُ ثُمَّ اجْتَمَعُوا مِنَ اللَّيْلَةِ الثَّالِثَةِ فَلَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ " قَدْ رَأَيْتُ الَّذِي صَنَعْتُمْ فَلَمْ يَمْنَعْنِي مِنَ الْخُرُوجِ إِلَيْكُمْ إِلاَّ أَنِّي خَشِيتُ أَنْ يُفْرَضَ عَلَيْكُمْ " . وَذَلِكَ فِي رَمَضَانَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৭৩. আল্-কানবী (রাহঃ) ..... নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে (তারাবীহ) নামায আদায় করেন। ঐ সময় তাঁর সাথে অন্যান্য লোকেরাও নামায আদায় করেন। পরবর্তীতে রাতে উক্ত নামায আদায় করাকালে অনেক লোকের সমাগম হয়। অতঃপর তৃতীয় রাতেও লোকেরা উক্ত নামায (তারাবীহ) আদায় করার জন্য জমায়েত হলে সেদিন তিনি মসজিদে গমন করেন নাই।

অতঃপর প্রত্যুষে তিনি সকলকে লক্ষ্য করে বলেনঃ তোমরা যা করেছ তা আমি অবলোকন করেছি। আমি একারণেই নামায জামাআতের সাথে আদায় করার জন্য আসি নাই যে, আমার ভয় হচ্ছিল তোমাদের উপর তা ফরয করা হয় কি না (তবে কষ্টকর বোঝা হয়ে দাঁড়াবে)। এটা রমযান মাসের (তারাবীহ নামায আদায়ের) ঘটনা।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ

১৩৭৪

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّاسُ يُصَلُّونَ فِي الْمَسْجِدِ فِي رَمَضَانَ أَوْزَاعًا فَأَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَضَرَبْتُ لَهُ حَصِيرًا فَصَلَّى عَلَيْهِ بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَتْ فِيهِ قَالَ - تَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم - " أَيُّهَا النَّاسُ أَمَا وَاللَّهِ مَا بِتُّ لَيْلَتِي هَذِهِ بِحَمْدِ اللَّهِ غَافِلاً وَلاَ خَفِيَ عَلَىَّ مَكَانُكُمْ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৭৪. হান্নাদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা রমযান মাসে মসজিদে বিচ্ছিন্নভাবে নামায আদায় করত। ঐ সময় নবী করীম (ﷺ) একদা আমাকে মসজিদে মাদুর বিছিয়ে দিতে বলেন এবং তিনি তার উপর নামায আদায় করেন। অতঃপর রাবী পূর্ণ ঘটনা বিবৃত করতে দিয়ে বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ হে জনগণ! আলহামদুলিল্লাহ! অদ্য রজনীতে আমি আল্লাহর ইবাদাত করতে গাফেল হই নাই এবং আমার নিকট তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে কিছুই গোপন নাই।

১৩৭৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ صُمْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَمَضَانَ فَلَمْ يَقُمْ بِنَا شَيْئًا مِنَ الشَّهْرِ حَتَّى بَقِيَ سَبْعٌ فَقَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ فَلَمَّا كَانَتِ السَّادِسَةُ لَمْ يَقُمْ بِنَا فَلَمَّا كَانَتِ الْخَامِسَةُ قَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ شَطْرُ اللَّيْلِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ نَفَّلْتَنَا قِيَامَ هَذِهِ اللَّيْلَةِ . قَالَ فَقَالَ " إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا صَلَّى مَعَ الإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ حُسِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ " . قَالَ فَلَمَّا كَانَتِ الرَّابِعَةُ لَمْ يَقُمْ فَلَمَّا كَانَتِ الثَّالِثَةُ جَمَعَ أَهْلَهُ وَنِسَاءَهُ وَالنَّاسَ فَقَامَ بِنَا حَتَّى خَشِينَا أَنْ يَفُوتَنَا الْفَلاَحُ . قَالَ قُلْتُ مَا الْفَلاَحُ قَالَ السُّحُورُ ثُمَّ لَمْ يَقُمْ بِنَا بَقِيَّةَ الشَّهْرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

১৩৭৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু যর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে রমযান মাসে রোযাব্রত পালন করেছি। তিনি রমযান মাসের প্রথম দিকে (তারাবীহ নামায) আমাদের সাথে আদায় করেন নাই। অতঃপর উক্ত মাসের মাত্র সাতটি রাত অবশিষ্ট থাকতে তিনি আমাদের নিয়ে নামায (তারাবীহ) আদায় করেন; এভাবে রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয়। অতঃপর তিনি ষষ্ঠ রাতে (অর্থাৎ পরের রাত) আমাদের সাথে (তারাবীহ) নামায আদায় করেন নাই। পরে পঞ্চম রাতে তিনি আমাদের সাথে নামায আদায় করাকালে রাতের অর্ধাংশ অতিবাহিত করেন।

রাবী বলেনঃ ঐ সময় আমি তাঁকে বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! অদ্য রজনীতে আপনি যদি আমাদের সাথে সারা রাত নামায আদায় করতেন, তবে কত উত্তম হত। তখন তিনি বলেনঃ কেউ জামাআতের সাথে (ইশার নামায) আদায় করে ঘরে প্রত্যাবর্তন করলে তাকে সারা রাতের জন্য নামাযী হিসাবে গণ্য করা হয়। রাবী বলেনঃ তিনি চতুর্থ রাতে (২৭শে রমযান) মসজিদে আসেন নাই (তারাবীর নামায আদায়ের জন্য)।

অতঃপর তৃতীয় রাতে তিনি তাঁর স্ত্রী ও পরিবার-পরিজনদেরকে এবং অন্যান্য লোকদেরকে একত্রিত করে জামাআতের সাথে (তারাবীর) নামায আদায় করেন (এবং তার সময় এত দীর্ঘ হয় যে,) আমাদের আশঙ্কা হচ্ছিল যে, হয়ত আমারা “ফালাহ্”-র সুযোগ হারিয়ে ফেলব। রাবী বলেন, আমি তখন জিজ্ঞাসা করিঃ ‘ফালাহ’ কি? তিনি বলেনঃ সাহরী খাওয়া। অতঃপর তিনি উক্ত মাসের বাকী দিনগুলিতে (২৯ ও ৩০) আমাদের সাথে জামাআতে আর তারাবীহ আদায় করেন নাই।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৩৭৬

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، وَدَاوُدُ بْنُ أُمَيَّةَ، أَنَّ سُفْيَانَ، أَخْبَرَهُمْ عَنْ أَبِي يَعْفُورٍ، - وَقَالَ دَاوُدُ عَنِ ابْنِ عُبَيْدِ بْنِ نِسْطَاسٍ، - عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ أَحْيَا اللَّيْلَ وَشَدَّ الْمِئْزَرَ وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَأَبُو يَعْفُورٍ اسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ نِسْطَاسٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৩৭৬. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রমযান মাসের (শেষ) দশ দিনে নবী করীম (ﷺ) সারা রাত জাগ্রত থাকতেন, স্ত্রীদের নিকট হতে দূরে অবস্থান করতেন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনদেরকে জাগিয়ে দিতেন (ইবাদাতের জন্য)।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৩৭৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا أُنَاسٌ فِي رَمَضَانَ يُصَلُّونَ فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ فَقَالَ " مَا هَؤُلاَءِ " . فَقِيلَ هَؤُلاَءِ نَاسٌ لَيْسَ مَعَهُمْ قُرْآنٌ وَأُبَىُّ بْنُ كَعْبٍ يُصَلِّي وَهُمْ يُصَلُّونَ بِصَلاَتِهِ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَصَابُوا وَنِعْمَ مَا صَنَعُوا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ لَيْسَ هَذَا الْحَدِيثُ بِالْقَوِيِّ مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ ضَعِيفٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৩৭৭. আহমাদ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রমযানের রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় গৃহ হতে বের হয়ে দেখতে পান যে, মসজিদের এক পাশে কিছু লোক নামায আদায় করছে। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ এরা কি করছে? তাঁকে বলা হয়ঃ এদের কুরআন মুখস্ত না থাকায় তাঁরা উবাই ইবনে কা’বের (রাযিঃ) পিছনে (মুক্তাদী হিসাবে) তারাবীর নামায আদায় করছে। নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ তারা ঠিকই করছে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩২৪. লাইলাতুল কদর (মহিমান্বিত রাত) এর বর্ণনা।

باب فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ

১৩৭৮

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُسَدَّدٌ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، قَالَ قُلْتُ لأُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ أَخْبِرْنِي عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، يَا أَبَا الْمُنْذِرِ فَإِنَّ صَاحِبَنَا سُئِلَ عَنْهَا . فَقَالَ مَنْ يَقُمِ الْحَوْلَ يُصِبْهَا . فَقَالَ رَحِمَ اللَّهُ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَاللَّهِ لَقَدْ عَلِمَ أَنَّهَا فِي رَمَضَانَ - زَادَ مُسَدَّدٌ وَلَكِنْ كَرِهَ أَنْ يَتَّكِلُوا أَوْ أَحَبَّ أَنْ لاَ يَتَّكِلُوا ثُمَّ اتَّفَقَا - وَاللَّهِ إِنَّهَا لَفِي رَمَضَانَ لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ لاَ يَسْتَثْنِي . قُلْتُ يَا أَبَا الْمُنْذِرِ أَنَّى عَلِمْتَ ذَلِكَ قَالَ بِالآيَةِ الَّتِي أَخْبَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قُلْتُ لِزِرٍّ مَا الآيَةُ قَالَ تُصْبِحُ الشَّمْسُ صَبِيحَةَ تِلْكَ اللَّيْلَةِ مِثْلَ الطَّسْتِ لَيْسَ لَهَا شُعَاعٌ حَتَّى تَرْتَفِعَ .

বর্ণনাকারী: যির ইবনে হুবায়শ (রহঃ)

১৩৭৮. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ..... যির ইবনে হুবায়েশ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি, হে আবুল মুনযির! লায়লাতুল কদর সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। কেননা এ সম্পর্কে আমাদের সঙ্গী (আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি সারা বছর রাতে ইবাদাত করবে, সে তা প্রাপ্ত হবে। তিনি (কাব) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা আবু আব্দুর রহমানের উপর রহম করুন! তিনি এটা অবগত আছেন যে, ‘শবে কদর’ রমযান মাসের মধ্যে নিহীত।

রাবী মুসাদ্দাদ তাঁর বর্ণনায় আরও বলেনঃ তিনি (ইবনে মাসুউদ) এটা প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন। অতঃপর উভয় রাবী (সুলাইমান ও মুসাদ্দাদ) ঐক্যমতে পৌঁছে বলেনঃ আল্লাহ্ শপথ! এটা হল রমযানের ২৭ তারিখের রাত। উল্লেখ্য যে, তাঁরা তাঁদের এই শপথবাণী উচ্চারণের সময় ইনশাআল্লাহ ব্যবহার করেন নাই। রাবী বলেন, তখন আমি বলি, হে আবুল মুনযির! আপনি তা কিরূপে অবগত হতে পারলেন? তিনি বলেনঃ ঐ সমস্ত নিদর্শনাবলীর সাহায্যে আমরা জানতে পেরেছি, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বলে গিয়েছেন। রাবী আসেম তখন যির ইবনে হুবায়েশ (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেনঃ ঐ নিদর্শনাবলী কি? তিনি বলেনঃ সে রাতের প্রভাতের সূর্য উপরে না উঠা পর্যন্ত তা নিষ্প্রভ থাকবে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৩৭৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَفْصِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ السُّلَمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ الزُّهْرِيِّ، عَنْ ضَمْرَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُنَيْسٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنْتُ فِي مَجْلِسِ بَنِي سَلِمَةَ وَأَنَا أَصْغَرُهُمْ، فَقَالُوا مَنْ يَسْأَلُ لَنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَذَلِكَ صَبِيحَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ مِنْ رَمَضَانَ . فَخَرَجْتُ فَوَافَيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْمَغْرِبِ ثُمَّ قُمْتُ بِبَابِ بَيْتِهِ فَمَرَّ بِي فَقَالَ " ادْخُلْ " . فَدَخَلْتُ فَأُتِيَ بِعَشَائِهِ فَرَآنِي أَكُفُّ عَنْهُ مِنْ قِلَّتِهِ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ " نَاوِلْنِي نَعْلِي " . فَقَامَ وَقُمْتُ مَعَهُ فَقَالَ " كَأَنَّ لَكَ حَاجَةً " . قُلْتُ أَجَلْ أَرْسَلَنِي إِلَيْكَ رَهْطٌ مِنْ بَنِي سَلِمَةَ يَسْأَلُونَكَ عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ فَقَالَ " كَمِ اللَّيْلَةُ " . فَقُلْتُ اثْنَتَانِ وَعِشْرُونَ قَالَ " هِيَ اللَّيْلَةُ " . ثُمَّ رَجَعَ فَقَالَ " أَوِ الْقَابِلَةُ " . يُرِيدُ لَيْلَةَ ثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ বিন উনাইস (রাঃ)

১৩৭৯. আহমাদ ইবনে হাফস (রাহঃ) ..... দুমরাহ্ (রাহঃ) তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ একদা আমি বনু সালামার এক মজলিসে উপস্থিত ছিলাম এবং সেখানে আমিই সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলাম। তাঁরা পরামর্শ করেন যে, আমাদের মধ্যেকার কোন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে ‘লায়লাতুল-কদর’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে? এই মজলিস রমযান মাসের ২১ তারিখ সকালে অনুষ্ঠিত হয়। রাবী বলেনঃ তখন আমি (এটা জিজ্ঞাসার জন্য) বের হই এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে মাগরিবের নামায আদায় করি। নামায শেষে আমি তাঁর ঘরের সম্মুখে দণ্ডায়মান হই। তিনি আমার পাশ দিয়ে যাবার সময় বলেনঃ ভিতরে প্রবেশ কর। আমি ভিতরে প্রবেশ করি। এই সময়ে তাঁর সম্মুখে রাতের খাবার হাযির করা হলে খাদ্যের পরিমাণ কম থাকায় আমি কম খেয়ছি।

অতঃপর তিনি খাওয়া শেষ করে বলেনঃ আমার জুতাগুলি দাও। তিনি দণ্ডায়মান হলে আমিও তাঁর সাথে দাঁড়াই। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ নিশ্চয় তোমার কোন প্রয়োজন আছে। আমি বলিঃ বনী সালামার লোকেরা আপনার নিকট ‘লায়লাতুল-কদর’ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য আমকে পাঠিয়েছে। তিনি বলেনঃ আজ কোন রজনী? আমি বলিঃ অদ্য রমযানের ২২তম রাত। তখন তিনি বলেনঃ আজকের রাত কদরের রাত। অতঃপর তিনি তা প্রত্যাহার করে বলেনঃ আগামী রাত এবং তিনি এর দ্বারা ২৩শে রমযানের রাতের প্রতি ইঙ্গিত করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৩৮০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُنَيْسٍ الْجُهَنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي بَادِيَةً أَكُونُ فِيهَا وَأَنَا أُصَلِّي فِيهَا بِحَمْدِ اللَّهِ فَمُرْنِي بِلَيْلَةٍ أَنْزِلُهَا إِلَى هَذَا الْمَسْجِدِ . فَقَالَ " انْزِلْ لَيْلَةَ ثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ " . فَقُلْتُ لاِبْنِهِ كَيْفَ كَانَ أَبُوكَ يَصْنَعُ قَالَ كَانَ يَدْخُلُ الْمَسْجِدَ إِذَا صَلَّى الْعَصْرَ فَلاَ يَخْرُجُ مِنْهُ لِحَاجَةٍ حَتَّى يُصَلِّيَ الصُّبْحَ فَإِذَا صَلَّى الصُّبْحَ وَجَدَ دَابَّتَهُ عَلَى بَابِ الْمَسْجِدِ فَجَلَسَ عَلَيْهَا فَلَحِقَ بِبَادِيَتِهِ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ বিন উনাইস (রাঃ)

১৩৮০. আহমাদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উনায়স (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলি, আমি দূরে বনভূমিতে অবস্থান করি এবং আল্লাহর ফযলে সেখানে নামাযও পড়ি। কাজেই আপনি আমাকে কদরের রাত সম্পর্কে বলে দিন, যাতে আমি সে রাতে আপনার মসজিদে এসে ইবাদাত করতে পারি। তখন তিনি বলেনঃ তুমি ২৩শে রমযানের রাতে আসবে।

মুহাম্মাদ ইবনে ইরাহীম (রাহঃ) বলেনঃ আমি আব্দুল্লাহর পুত্রকে জিজ্ঞাসা করি, তোমর পিতা কিরূপ করতেন। তিনি বলেনঃ আমার পিতা রমযানের (২২ তারিখে) আসরের নামায আদায়ের পর মসজিদে গমন করতেন এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতেন। অতঃপর তিনি ফজরের নামায আদায়ের পর মসজিদের পাশে রক্ষিত তাঁর বাহনের উপর আরোহণ করে বনভূমিতে প্রত্যাবর্তন করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১৩৮১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ فِي تَاسِعَةٍ تَبْقَى وَفِي سَابِعَةٍ تَبْقَى وَفِي خَامِسَةٍ تَبْقَى " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৩৮১. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেনঃ তোমরা রমযানের শেষ দশ রাতে লায়লাতুল কদর অন্বেষণ করবে। তিনি আরো বলেনঃ তোমরা তার অন্বেষণ কর- রমযানের ৯ দিন বাকী থাকতে, ৭ দিন অবশিষ্ট থাকতে অথবা ৫ দিন বাকী থাকতে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ

৩২৫. যারা বলেন, লাইলাতুল কদর একুশ রাতে।

باب فِيمَنْ قَالَ لَيْلَةُ إِحْدَى وَعِشْرِينَ

১৩৮২

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الأَوْسَطَ مِنْ رَمَضَانَ فَاعْتَكَفَ عَامًا حَتَّى إِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ إِحْدَى وَعِشْرِينَ وَهِيَ اللَّيْلَةُ الَّتِي يَخْرُجُ فِيهَا مِنَ اعْتِكَافِهِ قَالَ " مَنْ كَانَ اعْتَكَفَ مَعِي فَلْيَعْتَكِفِ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ وَقَدْ رَأَيْتُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ ثُمَّ أُنْسِيتُهَا وَقَدْ رَأَيْتُنِي أَسْجُدُ مِنْ صَبِيحَتِهَا فِي مَاءٍ وَطِينٍ فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ وَالْتَمِسُوهَا فِي كُلِّ وِتْرٍ " . قَالَ أَبُو سَعِيدٍ فَمُطِرَتِ السَّمَاءُ مِنْ تِلْكَ اللَّيْلَةِ وَكَانَ الْمَسْجِدُ عَلَى عَرِيشٍ فَوَكَفَ الْمَسْجِدُ . فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ فَأَبْصَرَتْ عَيْنَاىَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَلَى جَبْهَتِهِ وَأَنْفِهِ أَثَرُ الْمَاءِ وَالطِّينِ مِنْ صَبِيحَةِ إِحْدَى وَعِشْرِينَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৩৮২. আল-কানবী (রাহঃ) ........... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাধারণত রমযানের মধ্যম দশ দিনে ইতিকাফ করতেন। এরূপ তিনি (ﷺ) এক বছর ইতিকাফ করবার সময় রমযানের ২১শে রাতে, অর্থাৎ আমার সাথে ইতিকাফে শরীক হয়েছে সে যেন রমযানের শেষ দশ দিন ও ইতিকাফ করে এবং আমি লায়লাতুল-কদর দেখেছি, কিন্তু তা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেকে শবে কদরের সকালে কাদামাটির মধ্যে সিজদা করতে দেখেছি। তোমরা তা (শবে কদর) রমযানের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতে অন্বেষন করবে।

রাবী আবু সাঈদ (রাহঃ) বলেনঃ উক্ত একুশের রাতে বৃষ্টি হয়েছিল এবং তখন মসজিদের ছাদ খেজুর পাতার থাকায় তাতে পানি পড়েছিল। রাবী আবু সাঈদ (রাযিঃ) আরো বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেহারা মোবারকে, নাকে ও চোখে ২১ তারিখের সকালে কাঁদামাটির চিহ্ন দেখতে পাই।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৩২৬. অন্য তারিখে শবে ক্কাদার হওয়া সম্পর্কে।

১৩৮৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، أَخْبَرَنَا سَعِيدٌ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ وَالْتَمِسُوهَا فِي التَّاسِعَةِ وَالسَّابِعَةِ وَالْخَامِسَةِ " . قَالَ قُلْتُ يَا أَبَا سَعِيدٍ إِنَّكُمْ أَعْلَمُ بِالْعَدَدِ مِنَّا . قَالَ أَجَلْ . قُلْتُ مَا التَّاسِعَةُ وَالسَّابِعَةُ وَالْخَامِسَةُ قَالَ إِذَا مَضَتْ وَاحِدَةٌ وَعِشْرُونَ فَالَّتِي تَلِيهَا التَّاسِعَةُ وَإِذَا مَضَى ثَلاَثٌ وَعِشْرُونَ فَالَّتِي تَلِيهَا السَّابِعَةُ وَإِذَا مَضَى خَمْسٌ وَعِشْرُونَ فَالَّتِي تَلِيهَا الْخَامِسَةُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ لاَ أَدْرِي أَخَفِيَ عَلَىَّ مِنْهُ شَىْءٌ أَمْ لاَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৩৮৩. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা তা (শবে কদর) রমযানের শেষ দশ দিনে অন্বেষণ করবে এবং বিশেষ করে তার নবম, সপ্তম ও পঞ্চম রজনীতে অন্বেষণ করবে।

আবু নাদর বলেনঃ তখন আমি বলি, হে আবু সাঈদ! আপনি তো আমাদের চাইতে গণনায় অধিক অভিজ্ঞ। জবাবে তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। (রাবী বলেনঃ) আমি বলিঃ নবম, সপ্তম ও পঞ্চম কি? জবাবে তিনি বলেনঃ নবম রাত হল রমযানের একুশ তারিখের রাত্রি, সপ্তম হল, রমযানের তেইশ তারিখের রাত্রি এবং পঞ্চম রাত্রি হল, রমযানের পঁচিশ তারিখের রাত্রি (এটা অবশিষ্ট দিনের হিসাব মত গণনা)।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৩২৭. এক বর্ণনায় আছে, শবে ক্কাদার সতের তারিখে।

باب مَنْ رَوَى أَنَّهَا، لَيْلَةُ سَبْعَ عَشْرَةَ

১৩৮৪

حَدَّثَنَا حَكِيمُ بْنُ سَيْفٍ الرَّقِّيُّ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو - عَنْ زَيْدٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي أُنَيْسَةَ - عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اطْلُبُوهَا لَيْلَةَ سَبْعَ عَشْرَةَ مِنْ رَمَضَانَ وَلَيْلَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ وَلَيْلَةَ ثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ " . ثُمَّ سَكَتَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৩৮৪. হাকীম ইবনে সায়েফ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে বলেনঃ তোমরা তাকে (শবে কদর) রমযানের সতের, একুশ ও তেইশের রাতে অন্বেষণ কর। অতঃপর তিনি চুপ থাকেন।

৩২৮. শবে ক্কাদার রমযানের শেষ সাত দিনে হওয়া সম্পর্কে।

باب مَنْ رَوَى فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ

১৩৮৫

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৩৮৫. আল-কানবী (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা শবে কদরকে রমযানের শেষ সাত দিনের মধ্যে অন্বেষণ কর।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৩২৯. সাতাশে রমাযান শবেকদর অনুষ্ঠিত হওয়া সম্পর্কে।

باب مَنْ قَالَ سَبْعٌ وَعِشْرُونَ

১৩৮৬

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ مُطَرِّفًا، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ قَالَ " لَيْلَةُ الْقَدْرِ لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ " .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

১৩৮৬. উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয (রাহঃ) ..... মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে শবে কদর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। তিনি (নবী (ﷺ)) বলেনঃ রমযানের ২৭ তারিখ হল লাইলাতুল কদর।

৩৩০. শবে কদর রমযানের যে কোন রাতে হওয়া সম্পর্কে।

باب مَنْ قَالَ هِيَ فِي كُلِّ رَمَضَانَ

১৩৮৭

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ زَنْجُويَهْ النَّسَائِيُّ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَسْمَعُ عَنْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ فَقَالَ " هِيَ فِي كُلِّ رَمَضَانَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ سُفْيَانُ وَشُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ مَوْقُوفًا عَلَى ابْنِ عُمَرَ لَمْ يَرْفَعَاهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৩৮৭. হুমায়েদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে শবে কদর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার সময় আমি তা শ্রবণ করি। তিনি বলেনঃ সেটা তো (শবে কদর) রমযানের প্রতিটি রাতের মধ্যে নিহিত আছে (অর্থাৎ এর কোন এক রাতে তা নিহিত আছে)।

৩৩১. কুরআন মাজিদ কত দিনে খতম করতে হবে সে সম্পর্কে।

باب فِي كَمْ يُقْرَأُ الْقُرْآنُ

১৩৮৮

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَمُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالاَ أَخْبَرَنَا أَبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ " اقْرَإِ الْقُرْآنَ فِي شَهْرٍ " . قَالَ إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً . قَالَ " اقْرَأْ فِي عِشْرِينَ " . قَالَ إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً . قَالَ " اقْرَأْ فِي خَمْسَ عَشْرَةَ " . قَالَ إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً . قَالَ " اقْرَأْ فِي عَشْرٍ " . قَالَ إِنِّي أَجِدُ قُوَّةً . قَالَ " اقْرَأْ فِي سَبْعٍ وَلاَ تَزِيدَنَّ عَلَى ذَلِكَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدِيثُ مُسْلِمٍ أَتَمُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৩৮৮. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম এবং মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম (ﷺ) তাকে বলেনঃ তুমি কুরআন এক মাসে খতম করবে। তিনি বলেনঃ এর চাইতে কম সময়ে খতম করার সামর্থ্য আমার আছে। তখন তিনি বলেনঃ তবে বিশ দিনে খতম করবে। তিনি (ইবনে আমর) বলেনঃ এর চাইতেও কম সময়ে আমি তা খতম করতে পারি। তিনি বলেনঃ তাহলে পনের দিনে খতম করবে। আবার আমি বলিঃ এর চাইতেও কম সময়ে তা খতম করতে পারি। তিনি বলেনঃ তবে দশ দিনে খতম করবে। পুনরায় আমি বলিঃ আমি এর চাইতেও কম সময়ে খতম করতে পারি। তিনি বলেনঃ তবে সাত দিনে খতম করবে এবং এর চাইতে কম দিনে খতম করবে না।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১৩৮৯

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، أَخْبَرَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صُمْ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَاقْرَإِ الْقُرْآنَ فِي شَهْرٍ " . فَنَاقَصَنِي وَنَاقَصْتُهُ فَقَالَ " صُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمًا " . قَالَ عَطَاءٌ وَاخْتَلَفْنَا عَنْ أَبِي فَقَالَ بَعْضُنَا سَبْعَةَ أَيَّامٍ وَقَالَ بَعْضُنَا خَمْسًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৩৮৯. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেন, তুমি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখবে এবং প্রতি মাসে একবার কুরআন খতম করবে। সময়ের ব্যাপারে তাঁর ও আমার মধ্যে মতভেদ হলে তিনি বলেন, তুমি এক দিন রোযা রাখবে এবং পরদিন ইফতার করবে (অর্থাৎ রোযা রাখবে না।)

রাবী আতা বলেনঃ আমার পিতার সাথে আমাদের এ সম্পর্কে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়েছে যে, কেউ বলেছেন সাত দিনে এবং কেউ বলেছেন পাঁচ দিনে কুরআন খতম করবে।
১৩৯০

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فِي كَمْ أَقْرَأُ الْقُرْآنَ قَالَ " فِي شَهْرٍ " . قَالَ إِنِّي أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ - يُرَدِّدُ الْكَلاَمَ أَبُو مُوسَى - وَتَنَاقَصَهُ حَتَّى قَالَ " اقْرَأْهُ فِي سَبْعٍ " . قَالَ إِنِّي أَقْوَى مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " لاَ يَفْقَهُ مَنْ قَرَأَهُ فِي أَقَلَّ مِنْ ثَلاَثٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৩৯০. ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কুরআন কত দিনে খতম করব? তিনি বলেনঃ এক মাসে। আমি বলিঃ আমি এর চাইতে কম সময়ে খতম করতে সামর্থ রাখি। অতঃপর তাঁর সাথে আলাপ-আলোচনার পর তিনি এর পরিমাণ কমিয়ে সাত দিনে খতম করতে নির্দেশ দেন। আমি বলিঃ আমি এর চাইতেও কম সময়ে খতম করতে সক্ষম। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি তিন দিনের কম সময়ে কুরআন খতম করেছে, সে (কুরআন) হৃদয়ঙ্গম করতে ব্যর্থ হয়েছে।

১৩৯১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَفْصٍ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقَطَّانُ، خَالُ عِيسَى بْنِ شَاذَانَ أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا الْحَرِيشُ بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ خَيْثَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْرَإِ الْقُرْآنَ فِي شَهْرٍ " . قَالَ إِنَّ بِي قُوَّةً . قَالَ " اقْرَأْهُ فِي ثَلاَثٍ " . قَالَ أَبُو عَلِيٍّ سَمِعْتُ أَبَا دَاوُدَ يَقُولُ سَمِعْتُ أَحْمَدَ - يَعْنِي ابْنَ حَنْبَلٍ - يَقُولُ عِيسَى بْنُ شَاذَانَ كَيِّسٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৩৯১. মুহাম্মাদ ইবনে হাফস (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেনঃ তুমি এক মাসে কুরআন খতম করবে। আমি বলিঃ এর চাইতে কম সময়ে খতম করার ক্ষমতা আমার আছে। তিনি বলেনঃ তবে তিন দিনে খতম করবে।

৩৩২. আল-কুরআনকে পারা ও অংশে ভাগ করে পড়া সম্পর্কে।

باب تَحْزِيبِ الْقُرْآنِ

১৩৯২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، قَالَ سَأَلَنِي نَافِعُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ فَقَالَ لِي فِي كَمْ تَقْرَأُ الْقُرْآنَ فَقُلْتُ مَا أُحَزِّبُهُ . فَقَالَ لِي نَافِعٌ لاَ تَقُلْ مَا أُحَزِّبُهُ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " قَرَأْتُ جُزْءًا مِنَ الْقُرْآنِ " . قَالَ حَسِبْتُ أَنَّهُ ذَكَرَهُ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ .

বর্ণনাকারী: নাফি' ইবনে জুবাইর (রহঃ)

১৩৯২. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... ইবনুল হাদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নাফে ইবনে যুবায়ের ইবনে মুতইম আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কুরআন কতটুকু পাঠ করেন? আমি বলিঃ আমি এর নির্ধারিত কিছু অংশ পাঠ করি না।

রাবী বলেনঃ তখন নাফে আমাকে বলেনঃ তুমি এ শব্দটি ব্যবহার করো না। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ আমি কুরআনের জুয (অংশ বিশেষ) পাঠ করেছি।
১৩৯৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَخْبَرَنَا قُرَّانُ بْنُ تَمَّامٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو خَالِدٍ، - وَهَذَا لَفْظُهُ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْلَى، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَوْسٍ، عَنْ جَدِّهِ، - قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ فِي حَدِيثِهِ أَوْسُ بْنُ حُذَيْفَةَ - قَالَ قَدِمْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي وَفْدِ ثَقِيفٍ - قَالَ - فَنَزَلَتِ الأَحْلاَفُ عَلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ وَأَنْزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَنِي مَالِكٍ فِي قُبَّةٍ لَهُ . قَالَ مُسَدَّدٌ وَكَانَ فِي الْوَفْدِ الَّذِينَ قَدِمُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ ثَقِيفٍ قَالَ كَانَ كُلَّ لَيْلَةٍ يَأْتِينَا بَعْدَ الْعِشَاءِ يُحَدِّثُنَا . قَالَ أَبُو سَعِيدٍ قَائِمًا عَلَى رِجْلَيْهِ حَتَّى يُرَاوِحَ بَيْنَ رِجْلَيْهِ مِنْ طُولِ الْقِيَامِ وَأَكْثَرُ مَا يُحَدِّثُنَا مَا لَقِيَ مِنْ قَوْمِهِ مِنْ قُرَيْشٍ ثُمَّ يَقُولُ لاَ سَوَاءً كُنَّا مُسْتَضْعَفِينَ مُسْتَذَلِّينَ - قَالَ مُسَدَّدٌ بِمَكَّةَ - فَلَمَّا خَرَجْنَا إِلَى الْمَدِينَةِ كَانَتْ سِجَالُ الْحَرْبِ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ نُدَالُ عَلَيْهِمْ وَيُدَالُونَ عَلَيْنَا فَلَمَّا كَانَتْ لَيْلَةً أَبْطَأَ عَنِ الْوَقْتِ الَّذِي كَانَ يَأْتِينَا فِيهِ فَقُلْنَا لَقَدْ أَبْطَأْتَ عَنَّا اللَّيْلَةَ . قَالَ إِنَّهُ طَرَأَ عَلَىَّ جُزْئِي مِنَ الْقُرْآنِ فَكَرِهْتُ أَنْ أَجِيءَ حَتَّى أُتِمَّهُ . قَالَ أَوْسٌ سَأَلْتُ أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَيْفَ يُحَزِّبُونَ الْقُرْآنَ قَالُوا ثَلاَثٌ وَخَمْسٌ وَسَبْعٌ وَتِسْعٌ وَإِحْدَى عَشْرَةَ وَثَلاَثَ عَشْرَةَ وَحِزْبُ الْمُفَصَّلِ وَحْدَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَحَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ أَتَمُّ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৩৯৩. মুসাদ্দাদ এবং আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আওস ইবনে হুযাইফা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমরা বনী ছাকীফ, যাদের সাথে চুক্তি হয়েছিল, গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হই। তারা মুগীরা ইবনে শোবা (রাযিঃ) এর বাড়িতে উঠেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মালেক গোত্রের লোকদের তাঁর একটি প্রকোষ্ঠে স্থান দেন।

রাবী মুসাদ্দাদের বর্ণনায় আছেঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে বনী ছাকীফের যে প্রতিনিধি দল এসেছিল, তাদের মধ্যে আওস ইবনে হুযাইফাও ছিলেন। রাবী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যহ ইশার নামায আদায়ের পর উক্ত প্রকোষ্ঠে (আবাসস্থানে) গমন করে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে কথাবার্তা বলতেন। রাবী আবু সাঈদ (রাযিঃ) বলেনঃ তিনি তাদেরকে দীর্ঘক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে ইরশাদ করার সময় একবার এক পায়ের উপর ভর করতেন এবং পুনরায় অন্য পায়ের উপর এবং তিনি তাঁর বক্তব্যে কুরায়েশদের সাথে সম্পর্কিত ব্যাপার নিয়ে অধিকাংশ সময় আলোচনা করতেন।

অতঃপর তিনি বলতেনঃ মক্কাতে অবস্থানকালে আমরা তাদের সমকক্ষ ছিলাম না, বরং দুর্বল ও অসহায় ছিলাম। অতঃপর মদীনাতে আগমনের পর যুদ্ধে কখনও আমরা বিজয়ী হয়েছি এবং কখনও তারা জয়ী হয়েছে। একদা রজনীতে তিনি আমাদের নিকট আসতে নির্ধারিত সময়ের চাইতে কিছু বিলম্ব করেন। তখন আমরা তাঁকে বলিঃ আজ আপনি বিলম্বে এসেছেন। তিনি বলেনঃ অদ্য কুরআন তিলাওয়াতের সময় তার কিছু অংশ পড়তে বাকি ছিল যা সমাপ্ত না করে আমি আসতে পছন্দ করি নাই।

রাবী আওস বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করিঃ আপনার কুরআন পাঠের জন্য কিরূপে বাছাই করেন? তখন তাঁরা বলেনঃ আমরা প্রথম অংশ তিন সূরা (বাকারা-নিসা), দ্বিতীয় অংশ পাঁচ সূরা (মায়েদা-তওবা), তৃতীয় অংশ সাত সূরা (ইউনুস-নাহল), চতুর্থ অংশ নয় সূরা (ইসরা-ফুরকান), পঞ্চম অংশ এগার সূরা (শুআরা-ইয়াসীন), ষষ্ঠ অংশ তের সূরা (সাফফাত-হুজুরাত) এবং সপ্তম অংশ মুফাসসালের (সূরা কাফ হতে সূরা নাস পর্যন্ত) সূরাগুলি পাঠ করি (অর্থাৎ আমরা সাত দিনে কুরআন খতম করে থাকি)।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৩৯৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، أَخْبَرَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْعَلاَءِ، يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَفْقَهُ مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ فِي أَقَلَّ مِنْ ثَلاَثٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৩৯৪. মুহাম্মাদ ইবনুল মিনহাল (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি তিন দিনের কম সময়ে কুরআন খতম করে, সে তার কিছুই অনুধাবন করতে সক্ষম হয় না।

সূত্র: সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১৩৯৫

حَدَّثَنَا نُوحُ بْنُ حَبِيبٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّهُ سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي كَمْ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ قَالَ " فِي أَرْبَعِينَ يَوْمًا " . ثُمَّ قَالَ " فِي شَهْرٍ " . ثُمَّ قَالَ " فِي عِشْرِينَ " . ثُمَّ قَالَ " فِي خَمْسَ عَشْرَةَ " . ثُمَّ قَالَ " فِي عَشْرٍ " . ثُمَّ قَالَ " فِي سَبْعٍ " . لَمْ يَنْزِلْ مِنْ سَبْعٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৩৯৫. নূহ ইবনে হাবীব (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি একদা নবী করীম (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করেন যেঃ কুরআন কত দিনে খতম করা উচিত। তিনি বলেনঃ চল্লিশ দিনে, অতঃপর বলেন, এক মাসে। পরে তিনি বলেনঃ বিশ দিনে। অতঃপর তিনি পনের দিন, দশ দিন ও সাত দিনের কথা উল্লেখ করেন এবং সাত দিনের আর কম করেননি।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৩৯৬

حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالأَسْوَدِ، قَالاَ أَتَى ابْنَ مَسْعُودٍ رَجُلٌ فَقَالَ إِنِّي أَقْرَأُ الْمُفَصَّلَ فِي رَكْعَةٍ . فَقَالَ أَهَذًّا كَهَذِّ الشِّعْرِ وَنَثْرًا كَنَثْرِ الدَّقَلِ لَكِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ النَّظَائِرَ السُّورَتَيْنِ فِي رَكْعَةٍ الرَّحْمَنَ وَالنَّجْمَ فِي رَكْعَةٍ وَاقْتَرَبَتْ وَالْحَاقَّةَ فِي رَكْعَةٍ وَالطُّورَ وَالذَّارِيَاتِ فِي رَكْعَةٍ وَإِذَا وَقَعَتْ وَن فِي رَكْعَةٍ وَسَأَلَ سَائِلٌ وَالنَّازِعَاتِ فِي رَكْعَةٍ وَوَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ وَعَبَسَ فِي رَكْعَةٍ وَالْمُدَّثِّرَ وَالْمُزَّمِّلَ فِي رَكْعَةٍ وَهَلْ أَتَى وَلاَ أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فِي رَكْعَةٍ . وَعَمَّ يَتَسَاءَلُونَ وَالْمُرْسَلاَتِ فِي رَكْعَةٍ وَالدُّخَانَ وَإِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ فِي رَكْعَةٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا تَأْلِيفُ ابْنِ مَسْعُودٍ رَحِمَهُ اللَّهُ .

বর্ণনাকারী: আলকামা ইবনে কায়স নাখঈ (রহঃ)

১৩৯৬. আব্বাদ ইবনে মুসা (রাহঃ) .... আলকামা ও আসওয়াদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, একদা ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর খিদমতে এক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে বলেন, আমি মুফাসসালের (সূরা হুজুরাত হতে নাস পর্যন্ত) সূরাগুলো নামাযের একই রাকআতে তেলাওয়াত করি। ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলেনঃ এটা (অতি দ্রুত তিলাওয়াত) কবিতা পাঠের অনুরূপ অথবা গাছ থেকে শুকনো খেজুর পতিত হওয়ার অনুরূপ। তিনি আরো বলেনঃ অথচ নবী করীম (ﷺ) একই সমান দীর্ঘ দুটি সূরা এক রাকআতে, সূরা ইযা ওকাআত এবং নূন-কে এক রাকআতে, সূরা সাআলা সাইলুন ও আন নাযিআত-কে এক রাকআতে, সূরা ওযাইলুল-লিল মুতাফফিফীন ও আবাসাহ-কে এক রাকআতে, সূরা মুদ্দাছছির ও মুযযাম্মিলকে এক রাকআতে, সূরা হাল আতা এবং লা-উকসিমু বি-ইয়াওমিল কিয়ামাহ্-কে এক রাকআতে, সূরা আম্মা ইয়াতাসাআলূন ও আল-মুরসালাত-কে এক রাকআতে, সূরা দুখান এবং ইযাশ-শামসু কুওবিরাত-কে এক রাকআতে পড়তেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১৩৯৭

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ سَأَلْتُ أَبَا مَسْعُودٍ وَهُوَ يَطُوفُ بِالْبَيْتِ فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَرَأَ الآيَتَيْنِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ (রহঃ)

১৩৯৭. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আবু মাসউদ (রাযিঃ)-কে বায়তুল্লাহ শরীফ তাওয়াফকালে কুরআন পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ আয়াত দুটি তিলাওযাত করবে, এটা তার জন্য যথেষ্ট হবে।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১৩৯৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا عَمْرٌو، أَنَّ أَبَا سَوِيَّةَ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ ابْنَ حُجَيْرَةَ، يُخْبِرُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ قَامَ بِعَشْرِ آيَاتٍ لَمْ يُكْتَبْ مِنَ الْغَافِلِينَ وَمَنْ قَامَ بِمِائَةِ آيَةٍ كُتِبَ مِنَ الْقَانِتِينَ وَمَنْ قَامَ بِأَلْفِ آيَةٍ كُتِبَ مِنَ الْمُقَنْطَرِينَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ ابْنُ حُجَيْرَةَ الأَصْغَرُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حُجَيْرَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৩৯৮. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) ..... আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) এর পুত্র আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতের নামাযে দণ্ডায়মান হয়ে দশ আয়াত পরিমাণ পাঠ করবে, সে গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর যে ব্যক্তি রাতে একশত আয়াত তিলাওয়াত করবে, তার নাম অনুগত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং যে ব্যক্তি এক হাজার আয়াত তিলাওয়াত করবে, তাকে অশেষ সাওয়াব প্রাপ্তদের মধ্যে তালিকাভুক্ত করা হবে।

১৩৯৯

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى الْبَلْخِيُّ، وَهَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي عَيَّاشُ بْنُ عَبَّاسٍ الْقِتْبَانِيُّ، عَنْ عِيسَى بْنِ هِلاَلٍ الصَّدَفِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ أَتَى رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَقْرِئْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ " اقْرَأْ ثَلاَثًا مِنْ ذَوَاتِ الرَّاءِ " . فَقَالَ كَبِرَتْ سِنِّي وَاشْتَدَّ قَلْبِي وَغَلُظَ لِسَانِي . قَالَ " فَاقْرَأْ ثَلاَثًا مِنْ ذَوَاتِ حم " . فَقَالَ مِثْلَ مَقَالَتِهِ . فَقَالَ " اقْرَأْ ثَلاَثًا مِنَ الْمُسَبِّحَاتِ " . فَقَالَ مِثْلَ مَقَالَتِهِ فَقَالَ الرَّجُلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَقْرِئْنِي سُورَةً جَامِعَةً . فَأَقْرَأَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ( إِذَا زُلْزِلَتِ الأَرْضُ ) حَتَّى فَرَغَ مِنْهَا . فَقَالَ الرَّجُلُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لاَ أَزِيدُ عَلَيْهَا أَبَدًا ثُمَّ أَدْبَرَ الرَّجُلُ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَفْلَحَ الرُّوَيْجِلُ " . مَرَّتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৩৯৯. ইয়াহয়া ইবনে মুসা (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে কুরআন পাঠ শিক্ষা দিন। তিনি বলেনঃ তুমি (প্রথমে) ‘রা’ বিশিষ্ট তিনটি সূরা পাঠ করবে (যথা সূরা ইউনুস, হূদ, ইউসুফ ইত্যাদি)। তখন সে ব্যক্তি বললঃ আমি বৃদ্ধ হয়েছি, আমার স্মরণশক্তি লোপ পেয়েছে এবং জিহ্বা ভারী হয়ে গেছে। তখন তিনি বলেনঃ (যদি তুমি এগুলি তিলাওয়াত করতে অক্ষম হও) তবে হা-মিম সম্বলিত তিনটি সূরা তিলাওয়াত করবে। সে ব্যক্তি পূর্বের ন্যায় উক্তি করে।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তাহলে তুমি যে সমস্ত সূরার প্রথমে সাব্বাহা বা য়ুসাব্বিহু অনুরূপ শব্দ আছে, সেই সূরাগুলি পাঠ করবে। তখনও ঐ ব্যক্তি পূর্বের ন্যায় উক্তি করে বলেঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে এমন একটি সূরা শিক্ষা দিন যা জামেআহ বা স্বয়ংসম্পূর্ণ। তিনি তাঁকে সূরা ইযা যুলযিলাতিল আরদু শেষ পর্যন্ত শিক্ষা দেন। তখন সেই লোকটি বলেঃ আল্লাহর শপথ! যিনি আপনাকে সত্য নবী হিসাবে প্রেরণ করেছেন; আমি তার অতিরিক্ত কিছুই করব না। লোকটি চলে গেলে তিনি ইরশাদ করেনঃ সে ব্যক্তিটি কামিয়াব হয়েছে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৩৩৩. আয়াতের সংখ্যা সম্পর্কে।

باب فِي عَدَدِ الآىِ

১৪০০

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ، عَنْ عَبَّاسٍ الْجُشَمِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " سُورَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ ثَلاَثُونَ آيَةً تَشْفَعُ لِصَاحِبِهَا حَتَّى يُغْفَرَ لَهُ ( تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ ) " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪০০. আমর ইবনে মারযূক (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেনঃ কুরআনের ত্রিশটি আয়াত বিশিষ্ট সূরা তাবারাকাল্লাযী (অর্থাৎ সূরা আল-মুলক) তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে। এমনকি তাকে মাফ করে দেয়া হবে (অর্থাৎ যে ব্যক্তি সূরা তাবারাকাল্লাযী তিলাওয়াত করবে, এটা তার জন্য সুপারিশকারী হবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৩৪. কুরআন মাজিদে তিলাওয়াতের সিজদা কয়টি?

باب كَمْ سَجْدَةٍ فِي الْقُرْآنِ

১৪০১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ الْبَرْقِيِّ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ سَعِيدٍ الْعُتَقِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُنَيْنٍ، - مِنْ بَنِي عَبْدِ كُلاَلٍ - عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقْرَأَهُ خَمْسَ عَشْرَةَ سَجْدَةً فِي الْقُرْآنِ مِنْهَا ثَلاَثٌ فِي الْمُفَصَّلِ وَفِي سُورَةِ الْحَجِّ سَجْدَتَانِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رُوِيَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِحْدَى عَشْرَةَ سَجْدَةً وَإِسْنَادُهُ وَاهٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আমর ইবনুল আস রাযি.

১৪০১. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহীম (রাহঃ) ..... আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) তাঁকে কুরআনের মধ্যে পনেরটি সিজদা আছে বলে শিক্ষা দিয়েছেন। এর তিনটি মুফাসসালের মধ্যে (সূরা নাজম, ইনশিকাক ও আলাক), সূরা হজ্জের মধ্যে দুটি (তবে হানাফী মাযহাব অনুযায়ী একটি)।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৪০২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، أَنَّ مِشْرَحَ بْنَ هَاعَانَ أَبَا الْمُصْعَبِ، حَدَّثَهُ أَنَّ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ حَدَّثَهُ قَالَ قُلْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفِي سُورَةِ الْحَجِّ سَجْدَتَانِ قَالَ " نَعَمْ وَمَنْ لَمْ يَسْجُدْهُمَا فَلاَ يَقْرَأْهُمَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

১৪০২. আহমাদ ইবনে আমর (রাহঃ) ...... উকবা ইবনে আমের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলি যে, সূরা হজ্জের মধ্যে দুটি সিজদা আছে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ। যে এই দুটি সিজদা আদায় করে না সে যেন এই সূরা তিলাওয়াত না করে।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৩৫. ছোট ছোট সূরার (মুফাসসালের) মধ্যে সিজদা না থাকা সম্পর্কে।

باب مَنْ لَمْ يَرَ السُّجُودَ فِي الْمُفَصَّلِ

১৪০৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ الْقَاسِمِ، - قَالَ مُحَمَّدٌ رَأَيْتُهُ بِمَكَّةَ - حَدَّثَنَا أَبُو قُدَامَةَ، عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَسْجُدْ فِي شَىْءٍ مِنَ الْمُفَصَّلِ مُنْذُ تَحَوَّلَ إِلَى الْمَدِينَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৪০৩. মুহাম্মাদ ইবনে রাফে (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় আসার পর মুফাসসালের কোন আয়াত পাঠের পর সিজদা করেন নাই।

১৪০৪

حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّجْمَ فَلَمْ يَسْجُدْ فِيهَا .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

১৪০৪. হান্নাদ ইবনুস সারী (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সম্মুখে ‘সূরা নাজম’ পাঠ করি। তিনি এই সূরা পাঠের পর সিজদা করেন নাই।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৪০৫

حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو صَخْرٍ، عَنِ ابْنِ قُسَيْطٍ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَانَ زَيْدٌ الإِمَامَ فَلَمْ يَسْجُدْ فِيهَا .

বর্ণনাকারী: খারিজা ইবনে যায়দ ইবনে ছাবিত (রহঃ)

১৪০৫. ইবনুস সারহ (রাহঃ) ..... খারিজাহ ইবনে যায়দ ইবনে ছাবিত (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি নবী করীম (ﷺ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৩৬. যারা তাতে সিজদা আছে বলে মনে করেন।

باب مَنْ رَأَى فِيهَا السُّجُودَ

১৪০৬

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ سُورَةَ النَّجْمِ فَسَجَدَ فِيهَا وَمَا بَقِيَ أَحَدٌ مِنَ الْقَوْمِ إِلاَّ سَجَدَ فَأَخَذَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ كَفًّا مِنْ حَصًى أَوْ تُرَابٍ فَرَفَعَهُ إِلَى وَجْهِهِ وَقَالَ يَكْفِينِي هَذَا . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَلَقَدْ رَأَيْتُهُ بَعْدَ ذَلِكَ قُتِلَ كَافِرًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৪০৬. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূরা নাজম পাঠ করেন এবং সিজদার আয়াত পাঠের পর সকলেই সিজদা করেন। কিন্তু এক ব্যক্তি সিজদা না করে স্বীয় হস্তে এক মুষ্টি মাটি বা কংকর নিয়ে নিজের কপাল পর্যন্ত উত্তোলন করে বলে, এটাই আমার জন্য যথেষ্ট। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, আমি উক্ত ব্যক্তিকে কুফরী অবস্থায় মারা যেতে দেখেছি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৩৩৭. সূরা ইকরা ও ইযাস সামাউ ইনশাককাত পাঠের পর সিজদা সম্পর্কে।

باب السُّجُودِ فِي { إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ } وَ { اقْرَأْ }

১৪০৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى، عَنْ عَطَاءِ بْنِ مِينَاءَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ سَجَدْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ( إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ ) وَ ( اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ) ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «أَسْلَمَ أَبُو هُرَيْرَةَ سَنَةَ سِتٍّ عَامَ خَيْبَرَ، وَهَذَا السُّجُودُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آخِرُ فِعْلِهِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪০৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা সূরা ইযাস্-সামাউন শাককাত ও ইকরা বিসমি রবিকাল্লাযী খালাক পাঠের পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সিজদা আদায় করেছি।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১৪০৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي، حَدَّثَنَا بَكْرٌ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ الْعَتَمَةَ فَقَرَأَ ( إِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ ) فَسَجَدَ فَقُلْتُ مَا هَذِهِ السَّجْدَةُ قَالَ سَجَدْتُ بِهَا خَلْفَ أَبِي الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم فَلاَ أَزَالُ أَسْجُدُ بِهَا حَتَّى أَلْقَاهُ .

বর্ণনাকারী: আবু রাফি‘ (রহঃ)

১৪০৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু রাফে (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর সাথে ইশার নামায আদায় করি। ঐ সময় তিনি সূরা ইযাস্-সামাউন শাককাত তিলাওয়াতের পর সিজদা (তিলাওয়াতের) আদায় করেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, এটা কিসের সিজদা? তিনি বলেন, আমি এই সিজদা আবুল কাসেম (মুহাম্মাদ (ﷺ)) এর পশ্চাতে আদায় করেছি এবং এটা আমি মৃত্যু পর্যন্ত আদায় করতে থাকব।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৩৩৮. সূরা সাদ এ সিজদা সম্পর্কে।

باب السُّجُودِ فِي { ص }

১৪০৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَيْسَ ( ص ) مِنْ عَزَائِمِ السُّجُودِ وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْجُدُ فِيهَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৪০৯. মুসা ইবনে ইস্মাঈল (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সূরা সাদ-এর মধ্যে যে সিজদাটি আছে তা ফরয নয়। তবে আমি একে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে আদায় করতে দেখেছি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৪১০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، - يَعْنِي ابْنَ الْحَارِثِ - عَنِ ابْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ قَالَ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ ( ص ) فَلَمَّا بَلَغَ السَّجْدَةَ نَزَلَ فَسَجَدَ وَسَجَدَ النَّاسُ مَعَهُ فَلَمَّا كَانَ يَوْمٌ آخَرُ قَرَأَهَا فَلَمَّا بَلَغَ السَّجْدَةَ تَشَزَّنَ النَّاسُ لِلسُّجُودِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا هِيَ تَوْبَةُ نَبِيٍّ وَلَكِنِّي رَأَيْتُكُمْ تَشَزَّنْتُمْ لِلسُّجُودِ " . فَنَزَلَ فَسَجَدَ وَسَجَدُوا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৪১০. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বরের উপর অবস্থান কালে সূরা সাদ তিলাওয়াত করেন। তিনি সিজদার আয়াতে পৌঁছে মিম্বর হতে অবতরণ করে সিজদা আদায় করেন। ঐ সময় লোকেরাও তাঁর সাথে সিজদা আদায় করে। অতঃপর দ্বিতীয় দিনও তিনি উক্ত সূরা পাঠ করেন এবং যখন সিজদার আয়াতের নিকটবর্তী হন, তখন লোকেরা সিজদার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে। এমতাবস্থায় তিনি বলেনঃ এটা নবীর জন্য তওবাস্বরূপ। অথচ আমি তোমাদেরকে এর জন্য সিজদা দেয়ার উদ্দেশ্য প্রস্তুতি নিতে দেখছি। অতঃপর তিনি মিম্বরের উপর হতে অবতরণ করে লোকদের নিয়ে সিজদা করেন।

৩৩৯. যানবাহনের উপর আরোহী থাকাবস্থায় সিজদার আয়াত শুনলে।

باب فِي الرَّجُلِ يَسْمَعُ السَّجْدَةَ وَهُوَ رَاكِبٌ

১৪১১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الدِّمَشْقِيُّ أَبُو الْجُمَاهِرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُحَمَّدٍ - عَنْ مُصْعَبِ بْنِ ثَابِتِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ عَامَ الْفَتْحِ سَجْدَةً فَسَجَدَ النَّاسُ كُلُّهُمْ مِنْهُمُ الرَّاكِبُ وَالسَّاجِدُ فِي الأَرْضِ حَتَّى إِنَّ الرَّاكِبَ لَيَسْجُدُ عَلَى يَدِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪১১. মুহাম্মাদ ইবনে উছমান (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়কালীন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করলে উপস্থিত সকলে সিজদা আদায় করেন। ঐ সময় যারা যানবাহনের উপর সওয়ার ছিলেন, তারা স্ব-স্ব হাতের উপর সিজদা করেন এবং অন্যান্যরা যমীনের উপর সিজদা করেন।

১৪১২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، - الْمَعْنَى - عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ عَلَيْنَا السُّورَةَ - قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ فِي غَيْرِ الصَّلاَةِ ثُمَّ اتَّفَقَا - فَيَسْجُدُ وَنَسْجُدُ مَعَهُ حَتَّى لاَ يَجِدُ أَحَدُنَا مَكَانًا لِمَوْضِعِ جَبْهَتِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪১২. আহমাদ ইবনে হাম্বল ও আহমাদ ইবনে আবু শোআয়ের (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট সূরা পাঠ করতেন। রাবী ইবনে নুমায়েব বলেন, এটা ছিল নামাযের বাইরে। অতঃপর রাবীদ্বয় একমত হয়ে বলেন, তিনি সিজদার আয়াত পাঠের পর সিজদা করতেন এবং আমরাও তাঁর সাথে সিজদা আদায় করতাম। ঐ সময় লোকের ভীড়ের কারণে অনেকেই সিজদা দেয়ার স্থান পেত না।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১৪১৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْفُرَاتِ أَبُو مَسْعُودٍ الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ عَلَيْنَا الْقُرْآنَ فَإِذَا مَرَّ بِالسَّجْدَةِ كَبَّرَ وَسَجَدَ وَسَجَدْنَا . قَالَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ وَكَانَ الثَّوْرِيُّ يُعْجِبُهُ هَذَا الْحَدِيثُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ يُعْجِبُهُ لأَنَّهُ كَبَّرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪১৩. আহমাদ ইবনুল ফুরাত (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের নিকট কুরআন তিলাওয়াতের সময় যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সিজদার আয়াত পাঠ করতেন, তখন তিনি আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যেতেন এবং আমরাও সিজদা করতাম।

আব্দুর রাযযাক (রাহঃ) বলেন, সুফিয়ান সাওরী (রাহঃ) এই হাদীস খুবই পছন্দ করতেন। কারণ এতে তাকবীরের কথা উল্লেখ আছে।

৩৪০. সিজদার মধ্যে কি বলবে?

باب مَا يَقُولُ إِذَا سَجَدَ

১৪১৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي سُجُودِ الْقُرْآنِ بِاللَّيْلِ يَقُولُ فِي السَّجْدَةِ مِرَارًا " سَجَدَ وَجْهِي لِلَّذِي خَلَقَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৪১৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে তিলাওয়াতের সিজদা আদায়কালে পুনঃ পুনঃ বলতেনঃ আমার মস্তক তাঁরই নিকট অবনত, যিনি একে সৃষ্টি করেছেন এবং চক্ষু ও কর্ণকে (দর্শন ও শ্রবণ শক্তির দ্বারা) বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত করেছেন, তিনিই সমস্ত শক্তি ও সামর্থের একমাত্র আধার।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৪১. ফজরের নামাযের পর সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করলে।

باب فِيمَنْ يَقْرَأُ السَّجْدَةَ بَعْدَ الصُّبْحِ

১৪১৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الصَّبَّاحِ الْعَطَّارُ، حَدَّثَنَا أَبُو بَحْرٍ، حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ عُمَارَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيُّ، قَالَ لَمَّا بَعَثْنَا الرَّكْبَ - قَالَ أَبُو دَاوُدَ يَعْنِي إِلَى الْمَدِينَةِ قَالَ - كُنْتُ أَقُصُّ بَعْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ فَأَسْجُدُ فَنَهَانِي ابْنُ عُمَرَ فَلَمْ أَنْتَهِ ثَلاَثَ مِرَارٍ ثُمَّ عَادَ فَقَالَ إِنِّي صَلَّيْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ - رضى الله عنهم - فَلَمْ يَسْجُدُوا حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪১৫. আব্দুল্লাহ ইবনুস সাব্বাহ (রাহঃ) ..... আবু তুমায়মা হুজায়মী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমরা কাফেলার সাথে মদীনায় আসি তখন আমি ফজরের নামাযের পর লোকদেরকে নসীহত করতাম। এই সময় সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করলে আমি সিজদা আদায় করতাম। ইবনে উমর (রাযিঃ) আমাকে এরূপ করতে তিনবার নিষেধ করেন। আমি তাঁর কথায় কর্ণপাত না করায় তিনি পুনরায় আমাকে নিষেধ করে বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আবু বকর (রাযিঃ), উমর (রাযিঃ) ও উছমান (রাযিঃ) এর পশ্চাতে নামায আদায় করেছি। কিন্তু তাঁরা সূর্যোদয়ের পূর্বে সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করতেন না।*

* নীহার অনুসারে ফজরের নামাযের পর সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং আসরের নামাযের পর মাগরিবের পূর্বে তিলাওয়াতের সিজদা আদায় করা জায়েয - (অনুবাদক)

৩৪২. বিতরের নামায সুন্নত।

باب اسْتِحْبَابِ الْوِتْرِ

১৪১৬

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عِيسَى، عَنْ زَكَرِيَّا، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَهْلَ الْقُرْآنِ أَوْتِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৪১৬. ইবরাহীম (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ হে কুরআনের অনুসারীগণ! তোমরা বিতরের নামায আদায় কর। কেননা আল্লাহ তাআলা বেজোড় (একক), কাজেই তিনি বেজোড় (বিতর)-কে ভালোবাসেন।

সূত্র: সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১৪১৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ الأَبَّارُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ زَادَ فَقَالَ أَعْرَابِيٌّ مَا تَقُولُ فَقَالَ " لَيْسَ لَكَ وَلاَ لأَصْحَابِكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৪১৭. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এতটুকু বেশী আছে যে, আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) এ হাদীস বর্ণনা করলে এক বেদুইন বলে, আপনি কি বলছেন? জবাবে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন, এটা তোমার ও তোমার সাথীদের জন্য প্রযোজ্য নয়।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৪১৮

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَاشِدٍ الزَّوْفِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُرَّةَ الزَّوْفِيِّ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ حُذَافَةَ، - قَالَ أَبُو الْوَلِيدِ الْعَدَوِيُّ - قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ أَمَدَّكُمْ بِصَلاَةٍ وَهِيَ خَيْرٌ لَكُمْ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ وَهِيَ الْوِتْرُ فَجَعَلَهَا لَكُمْ فِيمَا بَيْنَ الْعِشَاءِ إِلَى طُلُوعِ الْفَجْرِ " .

বর্ণনাকারী: খারিজা ইবনে হুযাফা (রাঃ)

১৪১৮. আবুল ওয়ালীদ আত-তায়ালিসী (রাহঃ) ..... খারিজা ইবনে হুযাফা আল-আদাবী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে বলেনঃ আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য লাল বর্ণের ঘোড়ার চাইতেও উত্তম একটি নামায নির্ধারিত করেছেন এবং এটাই হল বিতর। এই নামাযের আদায়কাল হল ইশার নামাযের পর হতে সুব্হে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৪৩. বিতরের নামায আদায় না করলে তার শাস্তি।

باب فِيمَنْ لَمْ يُوتِرْ

১৪১৯

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الطَّالْقَانِيُّ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْعَتَكِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا ".

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

১৪১৯. ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ বিতরের নামায হক (সত্য)। যে ব্যক্তি এটা আদায় করবে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। এই উক্তিটি তিনি তিনবার করেন।

১৪২০

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حَبَّانَ، عَنِ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ بَنِي كِنَانَةَ يُدْعَى الْمُخْدَجِيَّ سَمِعَ رَجُلاً، بِالشَّامِ يُدْعَى أَبَا مُحَمَّدٍ يَقُولُ إِنَّ الْوِتْرَ وَاجِبٌ . قَالَ الْمُخْدَجِيُّ فَرُحْتُ إِلَى عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ عُبَادَةُ كَذَبَ أَبُو مُحَمَّدٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " خَمْسُ صَلَوَاتٍ كَتَبَهُنَّ اللَّهُ عَلَى الْعِبَادِ فَمَنْ جَاءَ بِهِنَّ لَمْ يُضَيِّعْ مِنْهُنَّ شَيْئًا اسْتِخْفَافًا بِحَقِّهِنَّ كَانَ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدٌ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ وَمَنْ لَمْ يَأْتِ بِهِنَّ فَلَيْسَ لَهُ عِنْدَ اللَّهِ عَهْدٌ إِنْ شَاءَ عَذَّبَهُ وَإِنْ شَاءَ أَدْخَلَهُ الْجَنَّةَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাদা ইব্‌নুস সামিত (রাঃ)

১৪২০. আল-কানবী (রাহঃ) ..... আবু মুহাম্মাদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিতরের নামায ওয়াজিব। রাবী মাখদাজী বলেন, তখন আমি উবাদা ইবনুস সামিত (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলি যে, আবু মুহাম্মাদ এরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবু মুহাম্মাদ ভুল করেছেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি তা সঠিকভাবে আদায় করবে এবং অলসতাহেতু তার কিছুই পরিত্যাগ করবে না, আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবার জন্য অঙ্গীকার করেছেন। আর যে ব্যক্তি তা (সঠিকভাবে) আদায় করবে না, তাঁর জন্য আল্লাহর নিকট কোন অঙ্গীকার নাই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি প্রদান করবেন এবং ইচ্ছা করলে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৩৪৪. বিতরের নামায কয় রাকআত?

باب كَمِ الْوِتْرُ

১৪২১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَلاَةِ اللَّيْلِ فَقَالَ بِأُصْبُعَيْهِ هَكَذَا مَثْنَى مَثْنَى وَالْوِتْرُ رَكْعَةٌ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪২১. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক বেদুইন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে রাতের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। তিনি তাঁর আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে বলেন দুই, দুই এবং শেষ রাতে এক রাকআত বিতর (অর্থাৎ দুই ও এক রাকআত, মোট তিন রাকআত বিতর)।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৪২২

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْمُبَارَكِ، حَدَّثَنِي قُرَيْشُ بْنُ حَيَّانَ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ وَائِلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْوِتْرُ حَقٌّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِخَمْسٍ فَلْيَفْعَلْ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِثَلاَثٍ فَلْيَفْعَلْ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُوتِرَ بِوَاحِدَةٍ فَلْيَفْعَلْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

১৪২২. আব্দুর রহমান ইবনুল মোবারক (রাহঃ) .... আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ বিতরের নামায প্রত্যেক মুসলমানের জন্য হক। যে ব্যক্তি তাকে পাঁচ রাকআত আদায় করতে চায়, সে পাঁচ রাকআত আদায় করবে; যে ব্যক্তি তিন রাকআত আদায়ের ইচ্ছা করে, সে ঐরূপ করবে এবং যে ব্যক্তি এক রাকআত আদায় করতে চায়, সে এক রাকআত আদায় করবে।*

* হানাফী মাযহাব মতে, বিতরের নামায তিন রাকআত - অনুবাদক

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৩৪৫. বিতরের নামাযে কিরাত।

باب مَا يُقْرَأُ فِي الْوِتْرِ

১৪২৩

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ الأَبَّارُ، ح وَحَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَنَسٍ، - وَهَذَا لَفْظُهُ - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ طَلْحَةَ، وَزُبَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُوتِرُ بِـ ( سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى ) وَ ( قُلْ لِلَّذِينَ كَفَرُوا ) وَاللَّهُ الْوَاحِدُ الصَّمَدُ .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

১৪২৩. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) এবং ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) .... উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিতরের নামাযে সূরা সাব্বিহ্ ইসমা রবিকাল আলা, কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরূন এবং সূরা ইখলাস পাঠ করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৪২৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا خُصَيْفٌ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ بِأَىِّ شَىْءٍ كَانَ يُوتِرُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ مَعْنَاهُ قَالَ وَفِي الثَّالِثَةِ بِـ ( قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ) وَالْمُعَوِّذَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৪২৪. আহমাদ ইবনে আবু শোআয়েব (রাহঃ) .... আব্দুল আযীয ইবনে জুরায়জ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মুল মু'মিনীন আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিতরের নামাযে কোন সূরা পড়তেন? উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ .... রাবী বলেন, তিনি তৃতীয় রাকআতে সূরা ইখলাস, নাস ও ফালাক পাঠ করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৪৬. বিতরের নামাযে দুআ কুনুত পাঠ সম্পর্কে।

باب الْقُنُوتِ فِي الْوِتْرِ

১৪২৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ جَوَّاسٍ الْحَنَفِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ أَبِي الْحَوْرَاءِ، قَالَ قَالَ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ رضى الله عنهما عَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَلِمَاتٍ أَقُولُهُنَّ فِي الْوِتْرِ قَالَ ابْنُ جَوَّاسٍ فِي قُنُوتِ الْوِتْرِ " اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ إِنَّكَ تَقْضِي وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ وَلاَ يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ " .

বর্ণনাকারী: হাসান ইবনে আলী (রাঃ)

১৪২৫. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও আহমাদ ইবনে জাওয়াস আল্-হানাফী (রাহঃ) ..... আবুল হাওরা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে কয়েকটি বাক্য শিক্ষা দিয়েছেন, যা আমি বিতরের নামাযে পাঠ করি।

রাবী ইবনে জাওয়াসের বর্ণনায় আছে “বিতরের দুআ কুনূতে পড়ে থাকি”। তা হলঃ “আল্লহুমা ইহদিনী ফীমান হাদায়তা ওয়া আফিনী ফীমান আফায়তা ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লায়তা ওয়া বারিকলী ফীমা আতায়তা ওয়াকিনী শাররা মা কাদায়তা, ইন্নাকা তাকদী ওয়ালা য়ুকদা আলাইকা ওয়াইন্নাহু লায়াযিল্লু মান ওয়ালায়তা ওলা য়াইযযু মান আদায়তা তাবারাকতা রবানা ওয়া তাআলাইতা।

সূত্র: সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১৪২৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ قَالَ فِي آخِرِهِ قَالَ هَذَا يَقُولُ فِي الْوِتْرِ فِي الْقُنُوتِ وَلَمْ يَذْكُرْ أَقُولُهُنَّ فِي الْوِتْرِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَبُو الْحَوْرَاءِ رَبِيعَةُ بْنُ شَيْبَانَ .

বর্ণনাকারী: আবু ইসহাক সাবিঈ (রহঃ)

১৪২৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) .... আবু ইসহাক (রাহঃ) উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ সনদ ও অর্থে বর্ণনা করেছেন। তবে এই বর্ণনায় “আমি তা বিতরের নামাযে পড়ি” কথাটুকু উল্লেখ নাই।

১৪২৭

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عَمْرٍو الْفَزَارِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ فِي آخِرِ وِتْرِهِ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هِشَامٌ أَقْدَمُ شَيْخٍ لِحَمَّادٍ وَبَلَغَنِي عَنْ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ أَنَّهُ قَالَ لَمْ يَرْوِ عَنْهُ غَيْرُ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَنَتَ - يَعْنِي فِي الْوِتْرِ - قَبْلَ الرُّكُوعِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى عِيسَى بْنُ يُونُسَ هَذَا الْحَدِيثَ أَيْضًا عَنْ فِطْرِ بْنِ خَلِيفَةَ عَنْ زُبَيْدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ أُبَىٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ وَرُوِيَ عَنْ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ عَنْ مِسْعَرٍ عَنْ زُبَيْدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَنَتَ فِي الْوِتْرِ قَبْلَ الرُّكُوعِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَدِيثُ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ رَوَاهُ يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عَزْرَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَذْكُرِ الْقُنُوتَ وَلاَ ذَكَرَ أُبَيًّا وَكَذَلِكَ رَوَاهُ عَبْدُ الأَعْلَى وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ الْعَبْدِيُّ وَسَمَاعُهُ بِالْكُوفَةِ مَعَ عِيسَى بْنِ يُونُسَ وَلَمْ يَذْكُرُوا الْقُنُوتَ وَقَدْ رَوَاهُ أَيْضًا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ وَشُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ وَلَمْ يَذْكُرَا الْقُنُوتَ وَحَدِيثُ زُبَيْدٍ رَوَاهُ سُلَيْمَانُ الأَعْمَشُ وَشُعْبَةُ وَعَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ وَجَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ كُلُّهُمْ عَنْ زُبَيْدٍ لَمْ يَذْكُرْ أَحَدٌ مِنْهُمُ الْقُنُوتَ إِلاَّ مَا رُوِيَ عَنْ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ عَنْ مِسْعَرٍ عَنْ زُبَيْدٍ فَإِنَّهُ قَالَ فِي حَدِيثِهِ إِنَّهُ قَنَتَ قَبْلَ الرُّكُوعِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَلَيْسَ هُوَ بِالْمَشْهُورِ مِنْ حَدِيثِ حَفْصٍ نَخَافُ أَنْ يَكُونَ عَنْ حَفْصٍ عَنْ غَيْرِ مِسْعَرٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَيُرْوَى أَنَّ أُبَيًّا كَانَ يَقْنُتُ فِي النِّصْفِ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৪২৭. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ...... আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিতরের নামাযের শেষ রাকআতে এরূপ দুআ করতেনঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বি-রিদাকা মিন সাখাতিকা ওয়া বি-মুআফাতিকা মিন উকূবাতিকা ওয়া আউযু বিকা মিনকা লা উহসী ছানা আলাইকা আন্তা কামা আছনায়তা আলা নফসিকা।”

উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিতরের (শেষ রাকআত) রুকুতে যাবার পূর্বে দুআ কুনূত পাঠ করতেন।

উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) নবী করিম (ﷺ) হতে পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। হাফস ইবনে গিয়াস সূত্রে ......... উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিতরের নামাযে রুকূর পূর্বে দুআ কুনূত পাঠ করতেন।

সূত্র: সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১৪২৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ بَعْضِ، أَصْحَابِهِ أَنَّ أُبَىَّ بْنَ كَعْبٍ، أَمَّهُمْ - يَعْنِي فِي رَمَضَانَ - وَكَانَ يَقْنُتُ فِي النِّصْفِ الآخِرِ مِنْ رَمَضَانَ .

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন (রহঃ)

১৪২৮. আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... মুহাম্মাদ (রাহঃ) থেকে তাঁর কোন কোন বন্ধুর সূত্রে বর্ণিত। উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) রমযানে তাদের ইমামতি করতেন এবং এর শেষার্দ্ধে দুআ কুনূত পাঠ করতেন।

১৪২৯
حَدَّثَنَا شُجَاعُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، جَمَعَ النَّاسَ عَلَى أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ فَكَانَ يُصَلِّي لَهُمْ عِشْرِينَ لَيْلَةً وَلاَ يَقْنُتُ بِهِمْ إِلاَّ فِي النِّصْفِ الْبَاقِي فَإِذَا كَانَتِ الْعَشْرُ الأَوَاخِرُ تَخَلَّفَ فَصَلَّى فِي بَيْتِهِ فَكَانُوا يَقُولُونَ أَبَقَ أُبَىٌّ .
قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الَّذِي ذُكِرَ فِي الْقُنُوتِ لَيْسَ بِشَىْءٍ وَهَذَانِ الْحَدِيثَانِ يَدُلاَّنِ عَلَى ضَعْفِ حَدِيثِ أُبَىٍّ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَنَتَ فِي الْوِتْرِ .

বর্ণনাকারী: হাসান বসরী (রহঃ)

১৪২৯. শুজা ইবনে মাখলাদ (রাহঃ) ..... হাসান বসরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) লোকদের উবাই ইবনে কাবের পিছনে তারাবীর নামায আদায় করার উদ্দেশ্যে একত্রিত করেন। ঐ সময় উবাই (রাযিঃ) তাদের নিয়ে বিশ রাত তারাবীর নামায আদায় করতেন আর তিনি শেষ অর্ধেক ছাড়া কুনূত পাঠ করতেন না। রমযানের শেষ দশ দিন তিনি স্বীয় গৃহে একাকী নামায আদায় করতেন। লোকেরা বলাবলি করত যে, উবাই (রাযিঃ) পলায়ন করেছেন।

৩৪৭. বিতরের পর দুআ পাঠ সম্পর্কে।

باب فِي الدُّعَاءِ بَعْدَ الْوِتْرِ

১৪৩০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدَةَ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ طَلْحَةَ الأَيَامِيِّ، عَنْ ذَرٍّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا سَلَّمَ فِي الْوِتْرِ قَالَ " سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

১৪৩০. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিতরের নামাযের পর বলতেনঃ সুবহানাল্ মালিকিল্ কুদ্দূস।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৪৩১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي غَسَّانَ، مُحَمَّدِ بْنِ مُطَرِّفٍ الْمَدَنِيِّ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ نَامَ عَنْ وِتْرِهِ أَوْ نَسِيَهُ فَلْيُصَلِّهِ إِذَا ذَكَرَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৪৩১. মুহাম্মাদ ইবনে আওফ (রাহঃ) ...... আবু সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি নিদ্রা বা ভুলের কারণে বিতরের নামায আদায় করে নাই, সে যেন তা স্মরণ হওয়ার পরপরই আদায় করে নেয়।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৪৮. নিদ্রার পূর্বে বিতরের নামায আদায় সম্পর্কে।

باب فِي الْوِتْرِ قَبْلَ النَّوْمِ

১৪৩২

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، - مِنْ أَزْدِ شَنُوءَةَ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَوْصَانِي خَلِيلِي صلى الله عليه وسلم بِثَلاَثٍ لاَ أَدَعُهُنَّ فِي سَفَرٍ وَلاَ حَضَرٍ رَكْعَتَىِ الضُّحَى وَصَوْمِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنَ الشَّهْرِ وَأَنْ لاَ أَنَامَ إِلاَّ عَلَى وِتْرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪৩২. ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার প্রিয় হাবীব রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তিনটি কাজের জন্য ওসিয়াত করেছেন, যা আমি স্থায়ীভাবে কোথাও অবস্থানকালে এবং সফরের সময়েও ত্যাগ করি না।

১। চাশতের সময় দুই রাকআত নামায,

২। প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখা (১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোযা) এবং

৩। নিদ্রার পূর্বে বিতরের নামায আদায় করা।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১৪৩৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ السَّكُونِيِّ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ " أَوْصَانِي خَلِيلِي صلى الله عليه وسلم بِثَلاَثٍ لاَ أَدَعُهُنَّ لِشَىْءٍ أَوْصَانِي بِصِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَلاَ أَنَامُ إِلاَّ عَلَى وِتْرٍ وَبِسُبْحَةِ الضُّحَى فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

১৪৩৩. আব্দুল ওয়াহ্হাব্ ইবনে নাজ্দা (রাহঃ) ..... আবু দারদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার প্রিয় হাবীব (ﷺ) আমাকে তিনটি জিনিসের জন্য উপদেশ দান করেছেন। আমি তা কোন অবস্থাতেই ত্যাগ করি না।

১. তিনি প্রতি মাসে তিন দিন আমাকে রোযা রাখার জন্য ওসিয়াত করেন,

২. বিতরের নামায আদায়ের পূর্বে না ঘুমাতে এবং

৩. চাশতের নামায আদায় করার নির্দেশ দেন, চাই তা সফরের সময় হোক বা স্থায়ীভাবে বাড়ীতে বসবাসের সময়।
১৪৩৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ، حَدَّثَنَا أَبُو زَكَرِيَّا، يَحْيَى بْنُ إِسْحَاقَ السَّيْلَحِينِيُّ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لأَبِي بَكْرٍ " مَتَى تُوتِرُ " قَالَ أُوتِرُ مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ . وَقَالَ لِعُمَرَ " مَتَى تُوتِرُ " . قَالَ آخِرَ اللَّيْلِ . فَقَالَ لأَبِي بَكْرٍ " أَخَذَ هَذَا بِالْحَزْمِ " . وَقَالَ لِعُمَرَ " أَخَذَ هَذَا بِالْقُوَّةِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

১৪৩৪. মুহামাদ ইবনে আহমাদ (রাহঃ) ..... আবু কাতাদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম (ﷺ) আবু বকর (রাযিঃ)-কে বলেনঃ আপনি বিতরের নামায কোন সময় আদায় করেন? তিনি বলেন, রাত্রির পথম অংশে। অতঃপর তিনি উমর (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি কোন সময়ে বিতরের নামায আদায় করেন? তিনি বলেন, রাত্রির শেষ অংশে। তিনি আবু বকর (রাযিঃ)-কে বলেনঃ সতর্কতা হেতু আপনি এর উপর আমল করতে থাকুন। তিনি উমর (রাযিঃ)-কে বলেনঃ আপনি আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী আমল করুন।

৩৪৯. বিতরের ওয়াক্ত সম্পর্কে।

باب فِي وَقْتِ الْوِتْرِ

১৪৩৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ مَتَى كَانَ يُوتِرُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كُلَّ ذَلِكَ قَدْ فَعَلَ أَوْتَرَ أَوَّلَ اللَّيْلِ وَوَسَطَهُ وَآخِرَهُ وَلَكِنِ انْتَهَى وِتْرُهُ حِينَ مَاتَ إِلَى السَّحَرِ .

বর্ণনাকারী: মাসরূক ইবনে আজদা' (রহঃ)

১৪৩৫. আহমাদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... মাসরূক (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞসা করি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাত্রির কোন সময়ে বিতর আদায় করতেন? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার নামায আদায়ের পর বিতরের নামায কোন সময় রাত্রির প্রথমাংশে, কোন সময় মধ্যম অংশে এবং কোন সময় শেষাংশে আদায় করতেন। তবে তিনি ইনতিকালের পূর্বে শেষ রাত্রিতে বিতরের নামায আদায় করতেন।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১৪৩৬

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " بَادِرُوا الصُّبْحَ بِالْوِتْرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৩৬. হারূন ইবনে মারূফ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা সুবহে সাদিকের পূর্বেই বিতরের নামায আদায় করবে।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৪৩৭

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَيْسٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنْ وِتْرِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ رُبَّمَا أَوْتَرَ أَوَّلَ اللَّيْلِ وَرُبَّمَا أَوْتَرَ مِنْ آخِرِهِ . قُلْتُ كَيْفَ كَانَتْ قِرَاءَتُهُ أَكَانَ يُسِرُّ بِالْقِرَاءَةِ أَمْ يَجْهَرُ قَالَتْ كُلَّ ذَلِكَ كَانَ يَفْعَلُ رُبَّمَا أَسَرَّ وَرُبَّمَا جَهَرَ وَرُبَّمَا اغْتَسَلَ فَنَامَ وَرُبَّمَا تَوَضَّأَ فَنَامَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ غَيْرُ قُتَيْبَةَ تَعْنِي فِي الْجَنَابَةِ .

বর্ণনাকারী: আবু বুরদা আশআরী (রহঃ)

১৪৩৭. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাযিঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আবু কায়েস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিতরের নামায সম্পর্কে আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি। তখন জবাবে তিনি বলেন, তিনি কখনও রাত্রির প্রথমাংশে এবং কখনও শেষাংশে তা আদায় করতেন। আমি বলি, তিনি কি কিরাআত আস্তে পড়তে না জোরে? তিনি বলেন, উভয় প্রকারেই কখনো জোরে এবং কখনো আস্তে। তিনি (অপবিত্রতার পরে) কোন সময় গোসল করে এবং কোন সময় উযু করে শয়ন করতেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৪৩৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اجْعَلُوا آخِرَ صَلاَتِكُمْ بِاللَّيْلِ وِتْرًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৩৮. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ তোমরা বিতরকে রাত্রির সর্বশেষ নামায হিসাবে আদায় করবে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৩৫০. দুই বার বিতর পড়বে না।

باب فِي نَقْضِ الْوِتْرِ

১৪৩৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا مُلاَزِمُ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَدْرٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ طَلْقٍ، قَالَ زَارَنَا طَلْقُ بْنُ عَلِيٍّ فِي يَوْمٍ مِنْ رَمَضَانَ وَأَمْسَى عِنْدَنَا وَأَفْطَرَ ثُمَّ قَامَ بِنَا تِلْكَ اللَّيْلَةَ وَأَوْتَرَ بِنَا ثُمَّ انْحَدَرَ إِلَى مَسْجِدِهِ فَصَلَّى بِأَصْحَابِهِ حَتَّى إِذَا بَقِيَ الْوِتْرُ قَدَّمَ رَجُلاً فَقَالَ أَوْتِرْ بِأَصْحَابِكَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ وِتْرَانِ فِي لَيْلَةٍ " .

বর্ণনাকারী: কায়স ইবনে তলক (রহঃ)

১৪৩৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... কায়েস ইবনে তালক (রহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তালক ইবনে আলী (রাযিঃ) আমদের সাথে কোন এক রোযার দিনে সাক্ষাত করেন এবং সেদিন আমাদের সাথে ইফতার করেন। অতঃপর আমাদের নিয়ে জামাআতে তারাবীহ্ ও বিতরের নামায আদায় করে তিনি তাঁর নিজের মসজিদে গমন করেন এবং সেখানেও তাঁর সঙ্গীদের সাথে তারবীহ নামায আদায় করেন এবং বিতরের নামায আদায়ের জন্য অন্য এক ব্যক্তিকে ইমামতির জন্য সম্মুখে পাঠিয়ে দেন এবং বলেন, তুমি এদের সাথে বিতরের নামায আদায় কর। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ একই রাতে দুইবার বিতরের নামায আদায় করা যায় না।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৫১. নামাযের মধ্যে কুনুত পাঠ সম্পর্কে।

باب الْقُنُوتِ فِي الصَّلَوَاتِ

১৪৪০

حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أُمَيَّةَ، حَدَّثَنَا مُعَاذٌ، - يَعْنِي ابْنَ هِشَامٍ - حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ وَاللَّهِ لأُقَرِّبَنَّ بِكُمْ صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَكَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ يَقْنُتُ فِي الرَّكْعَةِ الآخِرَةِ مِنْ صَلاَةِ الظُّهْرِ وَصَلاَةِ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ وَصَلاَةِ الصُّبْحِ فَيَدْعُو لِلْمُؤْمِنِينَ وَيَلْعَنُ الْكَافِرِينَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪৪০. দাউদ ইবনে উমাইয়া (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামায পাঠের অনুরূপ নামায আদায় করব। রাবী বলেন, তখন আবু হুরায়রা (রাযিঃ) যোহর, ইশা এবং ফজরের শেষ রাকআতে কুনূতে নাযেলাহ্ পাঠ করেন। তিনি এই নামাযের মধ্যে মুমিনদের জন্য দুআ করেন এবং কাফিরদের অভিসম্পাত দেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৪৪১

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَحَفْصُ بْنُ عُمَرَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنِي أَبِي قَالُوا، كُلُّهُمْ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْنُتُ فِي صَلاَةِ الصُّبْحِ زَادَ ابْنُ مُعَاذٍ وَصَلاَةِ الْمَغْرِبِ .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

১৪৪১. আবুল ওয়ালীদ এবং মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... বারাআ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ফজরের নামাযের সময় কুনূত পাঠ করেন। রাবী ইবনে মুআয (রাযিঃ) বলেন, তিনি মাগরিবের নামাযেও কুনূত পাঠ করতেন।*

* হানাফী মাযহাব অনুসারে, ফজরের নামাযে কুনুত নাযেলাই পাঠ করা যাবে না। তবে বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিত তা পাঠ করা যেতে পারে, যথা যুদ্ধ-বিগ্রহ ও মুসলমানদের উপর বিপদকালে - (অনুবাদক)

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৪৪২

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَنَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الْعَتَمَةِ شَهْرًا يَقُولُ فِي قُنُوتِهِ " اللَّهُمَّ نَجِّ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ اللَّهُمَّ نَجِّ سَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ اللَّهُمَّ نَجِّ الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ اللَّهُمَّ اجْعَلْهَا عَلَيْهِمْ سِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ " . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ وَأَصْبَحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ فَلَمْ يَدْعُ لَهُمْ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ " وَمَا تَرَاهُمْ قَدْ قَدِمُوا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪৪২. আব্দুর রহমান ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক মাস যাবৎ ইশার নামাযে কুনূতে নাযেলাহ্ পাঠ করেনঃ “ইয়া আল্লাহ! আপনি ওলীদ ইবনে ওলীদকে মুক্তি দান করুন। ইয়া আল্লাহ! আপনি সালামা ইবনে হিশামকে মুক্তি দিন। ইয়া আল্লাহ! আপনি সামর্থহীন দুর্বল মুমিনদেরকে নাজাত দান করুন। ইয়া আল্লাহ! আপনি আপনার দুশমনদের ধ্বংস করুন। ইয়া আল্লাহ! আপনি তাদের উপর ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর সময়ের মত করাল দুর্ভিক্ষ আপতিত করুন।” একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের নামাযের সময় তাদের জন্য এরূপ দুআ না করায় আমি তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেই। তখন তিনি বলেনঃ তুমি কি দেখ না যে, তারা মুক্তিপ্রাপ্ত হয়ে মদীনাতে চলে এসেছে?

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১৪৪৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْجُمَحِيُّ، حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ خَبَّابٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَنَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَهْرًا مُتَتَابِعًا فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ وَصَلاَةِ الصُّبْحِ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ إِذَا قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . مِنَ الرَّكْعَةِ الآخِرَةِ يَدْعُو عَلَى أَحْيَاءٍ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ عَلَى رِعْلٍ وَذَكْوَانَ وَعُصَيَّةَ وَيُؤَمِّنُ مَنْ خَلْفَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৪৪৩. আব্দুল্লাহ ইবনে মুআবিয়া (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ক্রমাগতভাবে একমাস যাবত যোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজরের নামাযে কুনূতে নাযেলাহ পাঠ করেন। অর্থাৎ তিনি প্রত্যেক নামাযের শেষ রাকআতে ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদা’ বলার পর বনী সুলায়ম, রিআল, যাকওয়ান ও উসাইয়্যাদের জন্য বদ-দুআ করতেন। সে সময় মুক্তাদীগণ আমীন বলতেন।

১৪৪৪

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ سُئِلَ هَلْ قَنَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الصُّبْحِ فَقَالَ نَعَمْ . فَقِيلَ لَهُ قَبْلَ الرُّكُوعِ أَوْ بَعْدَ الرُّكُوعِ قَالَ بَعْدَ الرُّكُوعِ . قَالَ مُسَدَّدٌ بِيَسِيرٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৪৪৪. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের নামাযে কুনূতে নাযেলাহ্ পাঠ করেছেন কি? তিনি বলেন, হ্যাঁ। অতঃপর তাঁকে আরো জিজ্ঞাসা করা হয় যে, তিনি কি তা রুকূর পূর্বে না পরে পাঠ করেছেন? তিনি বলেন, রুকূর পরে।

রাবী মুসাদ্দাদ বলেন, তিনি এটা মাত্র কয়েক দিন পাঠ করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৪৪৫

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَنَتَ شَهْرًا ثُمَّ تَرَكَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৪৪৫. আবুল ওয়ালীদ আত-তায়ালিসী (রাহঃ) ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সময় এক মাস যাবত কুনূতে নাযেলাহ্ পাঠের পর তা বন্ধ করেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১৪৪৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُفَضَّلٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ حَدَّثَنِي مَنْ، صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْغَدَاةِ فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ قَامَ هُنَيَّةً .

বর্ণনাকারী: মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন (রহঃ)

১৪৪৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (রাহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ফজরের নামায আদায়কারী জনৈক সাহাবী আমাকে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দ্বিতীয় রাকআতের রুকূ হতে দাঁড়ানোর পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৩৫২. ঘরে নফল নামায আদায়ের ফযিলত সম্পর্কে।

باب فِي فَضْلِ التَّطَوُّعِ فِي الْبَيْتِ

১৪৪৭

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ - عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّهُ قَالَ احْتَجَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ حُجْرَةً فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْرُجُ مِنَ اللَّيْلِ فَيُصَلِّي فِيهَا قَالَ فَصَلَّوْا مَعَهُ بِصَلاَتِهِ - يَعْنِي رِجَالاً - وَكَانُوا يَأْتُونَهُ كُلَّ لَيْلَةٍ حَتَّى إِذَا كَانَ لَيْلَةً مِنَ اللَّيَالِي لَمْ يَخْرُجْ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَتَنَحْنَحُوا وَرَفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ وَحَصَبُوا بَابَهُ - قَالَ - فَخَرَجَ إِلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُغْضَبًا فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَا زَالَ بِكُمْ صَنِيعُكُمْ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنْ سَتُكْتَبَ عَلَيْكُمْ فَعَلَيْكُمْ بِالصَّلاَةِ فِي بُيُوتِكُمْ فَإِنَّ خَيْرَ صَلاَةِ الْمَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلاَّ الصَّلاَةَ الْمَكْتُوبَةَ " .

বর্ণনাকারী: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

১৪৪৭. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ...... যায়দ ইবনে ছাবিত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনার মসজিদে একটি হুজরা কায়েম করেন। তিনি রাতে সেখানে গমন করে নামায আদায় করতেন। ঐ সময় অন্যান্য লোকেরাও প্রতি রাতে তাঁর সাতে নামায আদায় করতেন। একদা রাতে তিনি মসজিদে না আসায় তাঁরা উচ্চস্বরে কথাবার্তা শুরু করেন, এমনকি তাঁর ঘরের দরজায় গিয়ে কেউ কেউ করাঘাত করে এবং কংকর নিক্ষেপ করে।

রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন রাগান্বিত হয়ে বাইরে এসে বলেনঃ হে জনগণ! তোমাদের কি হয়েছে? তোমরা নফল নামায জামাআতে আদায়ের জন্য এত ব্যতিব্যস্ত কেন? তোমাদের কর্মধারায় আমার কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এটা তোমাদের জন্য ফরয হয়ে যাবে। তোমরা স্ব-স্ব গৃহে (প্রত্যাবর্তন করে) নামায আদায় কর। কেননা মানুষের জন্য ফরয নামায ব্যতীত, অন্যান্য নামায গৃহেই আদায় করা উত্তম।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৪৪৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اجْعَلُوا فِي بُيُوتِكُمْ مِنْ صَلاَتِكُمْ وَلاَ تَتَّخِذُوهَا قُبُورًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৪৮. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা স্ব স্ব গৃহে (নফল) নামায আদায় করবে এবং তাকে তোমরা কবর (সদৃশ্য) বানিও না।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

৩৫৩. (দীর্ঘ কিয়াম)

باب

১৪৪৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ حَدَّثَنِي عُثْمَانُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَلِيٍّ الأَزْدِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُبْشِيٍّ الْخَثْعَمِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ أَىُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ " طُولُ الْقِيَامِ " . قِيلَ فَأَىُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ قَالَ " جُهْدُ الْمُقِلِّ " . قِيلَ فَأَىُّ الْهِجْرَةِ أَفْضَلُ قَالَ " مَنْ هَجَرَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ " . قِيلَ فَأَىُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ قَالَ " مَنْ جَاهَدَ الْمُشْرِكِينَ بِمَالِهِ وَنَفْسِهِ " . قِيلَ فَأَىُّ الْقَتْلِ أَشْرَفُ قَالَ " مَنْ أُهْرِيقَ دَمُهُ وَعُقِرَ جَوَادُهُ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে হুবশী খাছ'আমী (রাঃ)

১৪৪৯. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে হাবশী আল-খাছআমী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, উত্তম আমল কোনটি? তিনি বলেনঃ নামাযের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ দণ্ডায়মান থাকা। অতঃপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কোন সাদ্‌কাহ উত্তম? তিনি বলেনঃ সামর্থ্য না থাকা সত্ত্বেও দান করা। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, উত্তম হিজরত কোনটি? তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাআলার হারাম বস্তুসমূহ হতে ফিরে থাকাই উত্তম হিজরত। অতঃপর তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কোন জিহাদ উৎকৃষ্ট? তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি তার জান-মাল দিয়ে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে। অতঃপর তাকে বলা হয়ঃ কোন ধরনের নিহত হওয়া উত্তম? তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি তার ঘোড়াসহ যুদ্ধের ময়দানে নিহত।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৩৫৪. ইবাদাতের জন্য রাত্রি জাগরনে উৎসাহিত করা।

باب الْحَثِّ عَلَى قِيَامِ اللَّيْلِ

১৪৫০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، حَدَّثَنَا الْقَعْقَاعُ بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ " رَحِمَ اللَّهُ رَجُلاً قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ فَصَلَّتْ فَإِنْ أَبَتْ نَضَحَ فِي وَجْهِهَا الْمَاءَ رَحِمَ اللَّهُ امْرَأَةً قَامَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّتْ وَأَيْقَظَتْ زَوْجَهَا فَإِنْ أَبَى نَضَحَتْ فِي وَجْهِهِ الْمَاءَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪৫০. মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ আল্লাহ ঐ বান্দার উপর রহম করুন, যে রাত্রিকালে উঠে নামায আদায় করে এবং তার স্ত্রীকেও জাগায় এবং সেও নামায আদায় করে। যদি সে (স্ত্রী) নিদ্রার কারণে উঠতে অস্বীকার করে, তবে সে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ তাআলা ঐ মহিলার উপরও রহম করুন, যে রাত্রিতে উঠে নামায আদায় করে এবং তার স্বামীকে ঘুম হতে জাগায় এবং সেও নামায পড়ে। যদি সে ঘুম হতে উঠতে অস্বীকার করে তবে সে তার মুখে পানি ছিটিয়ে জাগিয়ে তোলে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৪৫১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ بَزِيعٍ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ شَيْبَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ، عَنِ الأَغَرِّ أَبِي مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، وَأَبِي، هُرَيْرَةَ قَالاَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنِ اسْتَيْقَظَ مِنَ اللَّيْلِ وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ فَصَلَّيَا رَكْعَتَيْنِ جَمِيعًا كُتِبَا مِنَ الذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৪৫১. মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রাত্রিকালে ঘুম হতে উঠে নিজের স্ত্রীকে জাগায়, অতঃপর তারা একত্রে দুই রাকআত নামায আদায় করে- তাদের নাম আল্লাহর নিকট যিক্‌রকারী ও যিক্‌রকারিনীদের দফতরে লিপিবদ্ধ করা হয়।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৩৫৫. কুরআন তিলাওয়াতের সাওয়াব সম্পর্কে।

باب فِي ثَوَابِ قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ

১৪৫২

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عُثْمَانَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ " .

বর্ণনাকারী: উসমান ইবনে আফফান (রাঃ)

১৪৫২. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ...... উছমান (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই উত্তম যে নিজে কুরআন পাঠ করে এবং তা অন্যকে শিক্ষাদান করে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১৪৫৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ زَبَّانَ بْنِ فَائِدٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذٍ الْجُهَنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ وَعَمِلَ بِمَا فِيهِ أُلْبِسَ وَالِدَاهُ تَاجًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْؤُهُ أَحْسَنُ مِنْ ضَوْءِ الشَّمْسِ فِي بُيُوتِ الدُّنْيَا لَوْ كَانَتْ فِيكُمْ فَمَا ظَنُّكُمْ بِالَّذِي عَمِلَ بِهَذَا " .

বর্ণনাকারী: সাহল ইবনে মুআয (রহঃ)

১৪৫৩. আহমাদ ইবনে আমর (রাহঃ) ...... সাহল্ ইবনে মুআয আল্-জুহানী (রাযিঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেননঃ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তা অনুসারে আমল করে, কিয়ামতের দিন তার পিতা-মাতাকে এমন টুপী পরিধান করানো হবে, যার জ্যোতি সূর্যের কিরণের চাইতেও উজ্জ্বল হবে। যদি মনে করা হয় যে, সূর্য তোমাদের কারও ঘরের মধ্যে আছে (এ মতাবস্থায় তার উজ্জ্বলতা যেরূপ প্রকাশ পাবে, এর চাইতেও অধিক উজ্জ্বল টুপী তাদেরকে কিয়ামতের দিন পরিধান করানো হবে)। অতএব যে ব্যক্তি নিজে কুরআন পাঠ করে তার উপর আমল করে, তার ব্যাপারটি কেমন হবে, সে সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কি?

১৪৫৪

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، وَهَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَهُوَ مَاهِرٌ بِهِ مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ وَالَّذِي يَقْرَؤُهُ وَهُوَ يَشْتَدُّ عَلَيْهِ فَلَهُ أَجْرَانِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৪৫৪. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং কুরআনে অভিজ্ঞও, সে ব্যক্তি অতি সম্মানিত ফিরিশতাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠের সময় আটকে যায় এবং কষ্ট করে পড়ে, তার জন্য দুটি বিনিময় অবধারিত।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১৪৫৫

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللَّهِ تَعَالَى يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَيَتَدَارَسُونَهُ بَيْنَهُمْ إِلاَّ نَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَحَفَّتْهُمُ الْمَلاَئِكَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪৫৫. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যখন কোন কওমের লোকেরা আল্লাহর ঘরের কোন এক ঘরে একত্রিত হয়ে কুরআন পাঠ করে এবং একে অন্যকে শিখায় এবং শিখে, তখন তাদের উপর শান্তি বর্ষিত হয় এবং আল্লাহর রহমত তাদেরকে আচ্ছাদিত করে এবং ফিরিশতারা তাদেরকে ঘিরে রাখে এবং আল্লাহ তাআলা ঐ সমস্ত বান্দাদের ব্যাপারে তাঁর নিকটবর্তী ফিরিশতাদের সামনে উল্লেখ করেন।

১৪৫৬

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُلَىِّ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ، قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ فِي الصُّفَّةِ فَقَالَ " أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنْ يَغْدُوَ إِلَى بُطْحَانَ أَوِ الْعَقِيقِ فَيَأْخُذَ نَاقَتَيْنِ كَوْمَاوَيْنِ زَهْرَاوَيْنِ بِغَيْرِ إِثْمٍ بِاللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَلاَ قَطْعِ رَحِمٍ " . قَالُوا كُلُّنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " فَلأَنْ يَغْدُوَ أَحَدُكُمْ كُلَّ يَوْمٍ إِلَى الْمَسْجِدِ فَيَتَعَلَّمَ آيَتَيْنِ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ خَيْرٌ لَهُ مِنْ نَاقَتَيْنِ وَإِنْ ثَلاَثٌ فَثَلاَثٌ مِثْلُ أَعْدَادِهِنَّ مِنَ الإِبِلِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

১৪৫৬. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... উকবা ইবনে আমের আল্-জুহানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ঘর হতে বের হন, এসময় আমরা “সুফফাতে” (মসজিদে নববীর আঙ্গিনায়) অবস্থান করছিলাম। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমাদের মধ্যে কে পছন্দ কর যে, প্রত্যুষে সে বাত্হা বা আকীক নামক ময়দানে গমন করবে, এবং সেখান হতে উজ্জ্বল বর্ণের হৃষ্টপুষ্ট, বহুমুল্য দুইটি উট সংগ্রহ করবে, যার সংগ্রহে সে কোনরূপ অন্যায় করে নাই বা আত্মীয়তা বিচ্ছিন্নও করে নাই? তারা বলেন, আমরা সকলেই এটা পছন্দ করি। তিনি ইরশাদ করেনঃ যদি তোমাদের কেউ মসজিদে এসে আল্লাহর কিতাবের (কুরআনের) দুটি আয়াত শিক্ষা করে, তবে তা ঐ দুটি উট হতেও শ্রেয়। যদি সে ব্যক্তি তিনটি আয়াত শিক্ষা করে, তবে তা ঐরূপ তিনটি উট হতেও শ্রেয় হবে। এরূপ সে ব্যক্তি যত আয়াত শিক্ষা করবে, সে ততটি উটের চাইতেও অধিক উত্তম জিনিস প্রাপ্ত হবে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৩৫৬. সূরা ফাতিহা সম্পর্কে।

باب فَاتِحَةِ الْكِتَابِ

১৪৫৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ) أُمُّ الْقُرْآنِ وَأُمُّ الْكِتَابِ وَالسَّبْعُ الْمَثَانِي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪৫৭. আহমাদ ইবনে শোআয়েব ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ “আলহামদু লিল্লাহে রবিল আলামীন” হল- উম্মুল্ কিতাব, উম্মুল্ কুরআন এবং আস্-সাব্উ আল-মাছানী।*

* আস্-সাব্উ আল্-মাছানী বলা হয় সূরা ফাতিহাকে। এই সূরার মধ্যে এমন সাতটি আয়াত আছে, যা পূর্ববর্তী ঐশীগ্রন্থ তাওরাত, যাবুর ও ইঞ্জীলের মধ্যে নাই। এই সাতটি আয়াত নামাযের প্রতিটি রাকআতে পঠিত হয়। একে মাছানী বলার কারণ এটাও যে, তা আল্লাহর প্রশংসায় পরিপূর্ণ। এই সূরাকে উম্মুল কুরআন এইজন্য বলা হয় যে, তা গোটা কুরআনের সারমর্মস্বরূপ। সূরা ফাতিহা, সাবউ আল-মাছানী ও উম্মুল-কুরআন ছাড়াও এর অনেক নাম আছে - (অনুবাদক)

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৪৫৮

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ سَمِعْتُ حَفْصَ بْنَ عَاصِمٍ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي سَعِيدِ بْنِ الْمُعَلَّى، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِهِ وَهُوَ يُصَلِّي فَدَعَاهُ قَالَ فَصَلَّيْتُ ثُمَّ أَتَيْتُهُ قَالَ فَقَالَ " مَا مَنَعَكَ أَنْ تُجِيبَنِي " . قَالَ كُنْتُ أُصَلِّي . قَالَ " أَلَمْ يَقُلِ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ ) لأُعَلِّمَنَّكَ أَعْظَمَ سُورَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ أَوْ فِي الْقُرْآنِ " . شَكَّ خَالِدٌ " قَبْلَ أَنْ أَخْرُجَ مِنَ الْمَسْجِدِ " . قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَوْلَكَ . قَالَ " ( الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ) وَهِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي الَّتِي أُوتِيتُ وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সা'ঈদ ইবনুল মু'আল্লা রাযি.

১৪৫৮. উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ ইবনুল মুআল্লা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা তিনি নামাযে রত থাকাবস্থায় নবী করীম তাঁর পাশ দিয়ে গমনকালে তাঁকে ডাকেন। রাবী বলেন, আমি নামায সমাপন্তে তাঁর খিদমতে হাযির হই। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, আমার ডাকে সাড়া দিতে তোমাকে কিসে বাধা দিয়েছে? আমি বলি, আমি নামাযে রত ছিলাম। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাআলা কি ইরশাদ করেন নাই, হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল যখন তোমাদেরকে আহবান করেন, তখন তোমরা তার জবাব প্রদান করবে, কেননা তিনি তোমাদেরকে সত্যের প্রতি উদ্ধুদ্ধ করেন? অতঃপর তিনি বলেনঃ আমি আজ মসজিদ হতে বের হবার পূর্বেই তোমাকে কুরআনের একটি সর্বোৎকৃষ্ট সূরা শিক্ষা দিব। আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার মূল্যবান কথাটি বর্ণে বর্ণে সংরক্ষিত করব, যা আপনি ইরশাদ করবেন। তিনি বলেনঃ আলহামদু লিল্লাহে রবিল আলামীন সূরা যা প্রদান করা হয়েছে; এটা আস্-সাব্উ আল-মাছানী এবং আল্-কুরআনুল আজীম।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৫৭. সূরা ফাতিহা লম্বা সূরাগুলোর (অর্থের দিক দিয়ে) অন্তুর্ভুক্ত।

باب مَنْ قَالَ هِيَ مِنَ الطُّوَلِ

১৪৫৯

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمٍ الْبَطِينِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ أُوتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَبْعًا مِنَ الْمَثَانِي الطُّوَلِ وَأُوتِيَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ سِتًّا فَلَمَّا أَلْقَى الأَلْوَاحَ رُفِعَتْ ثِنْتَانِ وَبَقِيَ أَرْبَعٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৪৫৯. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে সাব্উ আল-মাছানী নামীয় দীর্ঘ সূরাটি (অর্থের দিক দিয়ে) প্রদান করা হয়েছে এবং মুসা (আলাইহিস সালাম)-কে ছয়টি ‘তখত’ (যাতে তওরাত কিতাব লিপিবদ্ধ ছিল) প্রদান করা হয়। অতঃপর যখন তিনি তা রাগে নিক্ষেপ করেন, তখন আল্লাহ তাআলা এর (ভগ্ন) দুটিকে উঠিয়ে নেন এবং চারিটি অবশিষ্ট থাকে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৩৫৮. আয়াতুল কুরসীর ফযিলত।

باب مَا جَاءَ فِي آيَةِ الْكُرْسِيِّ

১৪৬০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ إِيَاسٍ، عَنْ أَبِي السَّلِيلِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبَاحٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَبَا الْمُنْذِرِ أَىُّ آيَةٍ مَعَكَ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ أَعْظَمُ " . قَالَ قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ " أَبَا الْمُنْذِرِ أَىُّ آيَةٍ مَعَكَ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ أَعْظَمُ " . قَالَ قُلْتُ ( اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ ) قَالَ فَضَرَبَ فِي صَدْرِي وَقَالَ " لِيَهْنِ لَكَ يَا أَبَا الْمُنْذِرِ الْعِلْمُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

১৪৬০. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ..... উবাই ইবনে কাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হে আবুল মুনযির! তোমার নিকট কুরআনের কোন আয়াতটি সর্বাপেক্ষা সম্মানিত? আমি বলি, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল এ বিষয়ে অধিক অবগত। তিনি তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন, যে আবুল মুনযির! তোমার নিকট কুরআনের কোন আয়াতটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ? রাবী বলেন, তখন আমি বলি, আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল্ হাইয়্যুল কায়্যূম। এতদশ্রবণে তিনি আমার বক্ষে হাত চাপড়িয়ে (মহব্বতের সাথে) বলেনঃ হে আবুল মুনযির! তোমার জন্য কুরআনের ইলম বরকতময় হোক।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৩৫৯. সূরা ইখলাসের ফযিলত।

باب فِي سُورَةِ الصَّمَدِ

১৪৬১

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَجُلاً، سَمِعَ رَجُلاً، يَقْرَأُ ( قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ) يُرَدِّدُهَا فَلَمَّا أَصْبَحَ جَاءَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ وَكَانَ الرَّجُلُ يَتَقَالُّهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهَا لَتَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৪৬১. আল্-কানবী (রাহঃ) ...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তিকে “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” সূরাটি পুনঃ পুনঃ পাঠ করতে শ্রবণ করেন। পরদিন প্রত্যুষে ঐ ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে তার উল্লেখ করেন এবং ঐ ব্যক্তির (শ্রবণকারীর) নিকট এর ফযীলত কম মনে হয়েছিল। তখন নবী করীম বলেনঃ ঐ আল্লাহর শপথ যাঁর নিয়ন্ত্রণে আমার জীবন! এই সূরাটি গোটা কুরআনের তিন ভাগের একভাগ তুল্য (মর্যাদার দিক দিয়ে)।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৩৬০. সূরা নাস ও ফালাকের ফযিলত।

باب فِي الْمُعَوِّذَتَيْنِ

১৪৬২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مُعَاوِيَةُ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنِ الْقَاسِمِ، مَوْلَى مُعَاوِيَةَ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ كُنْتُ أَقُودُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَاقَتَهُ فِي السَّفَرِ فَقَالَ لِي " يَا عُقْبَةُ أَلاَ أُعَلِّمُكَ خَيْرَ سُورَتَيْنِ قُرِئَتَا " . فَعَلَّمَنِي ( قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ) وَ ( قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ) قَالَ فَلَمْ يَرَنِي سُرِرْتُ بِهِمَا جِدًّا فَلَمَّا نَزَلَ لِصَلاَةِ الصُّبْحِ صَلَّى بِهِمَا صَلاَةَ الصُّبْحِ لِلنَّاسِ فَلَمَّا فَرَغَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الصَّلاَةِ الْتَفَتَ إِلَىَّ فَقَالَ " يَا عُقْبَةُ كَيْفَ رَأَيْتَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

১৪৬২. আহমাদ ইবনে আমর (রাহঃ) ..... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সফরকালীন সময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উটের রশি ধরে টেনে নিয়ে যেতাম। তিনি একদিন আমাকে বলেনঃ হে উকবা! আমি কি তোমাকে দুটি সূরা শিক্ষা দিব, যা তুমি পাঠ করবে? অতঃপর তিনি আমাকে “কুল্ আউযু বিরবিল ফালাক” ও “কুল আউযু বি-রবিন নাস” সূরা দুটি শিক্ষা দেন। এতে তিনি আমাকে খুব উৎফুল্ল দেখেন নাই। অতঃপর তিনি ফজরের নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে অবতরণ করে নামাযের মধ্যে উক্ত সূরা দুটি পাঠ করেন। তিনি নামায শেষে আমার দিক মুখ ফিরিয়ে বলেনঃ হে উকবা! তুমি কেমন দেখলে? (অর্থাৎ যে সূরা দুটি শিক্ষা দেওয়া হয়েছে তা দ্বারা নামায আদায় করা চলে)।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৪৬৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ بَيْنَا أَنَا أَسِيرُ، مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ الْجُحْفَةِ وَالأَبْوَاءِ إِذْ غَشِيَتْنَا رِيحٌ وَظُلْمَةٌ شَدِيدَةٌ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَعَوَّذُ بِـ ( أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ) وَ ( أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ) وَيَقُولُ " يَا عُقْبَةُ تَعَوَّذْ بِهِمَا فَمَا تَعَوَّذَ مُتَعَوِّذٌ بِمِثْلِهِمَا " . قَالَ وَسَمِعْتُهُ يَؤُمُّنَا بِهِمَا فِي الصَّلاَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

১৪৬৩. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ...... উকবা ইবনে আমের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুহফা ও আব্ওয়া নামক স্থানদ্বয়ের মধ্যে সফরে ছিলাম। ঐ সময় হঠাৎ আমাদেরকে ঘোর কালো অন্ধকার ও প্রবল বাতাস আচ্ছন্ন করে ফেলে। তখন তিনি আল্লাহর নিকট “সূরা নাস” ও “সূরা ফালাক্” পাঠ করে আশ্রয় প্রার্থনা করেন এবং আমাকে বলেনঃ হে উকবা! তুমিও এদের দ্বারা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কর। এর চাইতে অধিক উত্তম তা’বীয আর কিছুই নাই। আমি নবী করীম (ﷺ)-কে দুটি সূরার দ্বারা নামাযের ইমামতি করতেও শ্রবণ করেছি।

৩৬১. কুরআন মাজিদের কিরা’আতের মধ্যে ’তারতিল’ সম্পর্কে।

باب اسْتِحْبَابِ التَّرْتِيلِ فِي الْقِرَاءَةِ

১৪৬৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي عَاصِمُ بْنُ بَهْدَلَةَ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ اقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৪৬৪. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ কিয়ামতের দিন কুরআনের পাঠককে বলা হবে, তুমি তা পাঠ করতে থাক এবং উপরে চড়তে (উঠতে) থাক। তুমি তাকে ধীরেসুস্থে পাঠ করতে থাক, যেরূপ তুমি দুনিয়াতে পাঠ করতে। কেননা তোমার সর্বশেষ বসবাসের স্থান (জান্নাত) ঐটিই, যেখানে তোমার কুরআনের আয়াত শেষ হবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৪৬৫

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ سَأَلْتُ أَنَسًا عَنْ قِرَاءَةِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم فَقَالَ كَانَ يَمُدُّ مَدًّا .

বর্ণনাকারী: কাতাদা ইবনে দিআমা (রহঃ)

১৪৬৫. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... কাতাদা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আনাস (রাযিঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিরাআত পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন, তিনি যেখানে যতটুকু টেনে পড়ার প্রয়োজন, সেখানে ততটুকুই লম্বা করে টেনে পড়তেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১৪৬৬

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ يَعْلَى بْنِ مَمْلَكٍ، أَنَّهُ سَأَلَ أُمَّ سَلَمَةَ عَنْ قِرَاءَةِ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَصَلاَتِهِ فَقَالَتْ وَمَا لَكُمْ وَصَلاَتَهُ كَانَ يُصَلِّي وَيَنَامُ قَدْرَ مَا صَلَّى ثُمَّ يُصَلِّي قَدْرَ مَا نَامَ ثُمَّ يَنَامُ قَدْرَ مَا صَلَّى حَتَّى يُصْبِحَ وَنَعَتَتْ قِرَاءَتَهُ فَإِذَا هِيَ تَنْعَتُ قِرَاءَتَهُ حَرْفًا حَرْفًا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

১৪৬৬. য়াযীদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... ইয়ালা ইবনে মুমাল্লাক্ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি উম্মে সালামা (রাযিঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামায ও কিরাআত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেন, তাঁর ও তাঁর নামাযের সঙ্গে তোমাদের সম্পর্ক কি? তিনি যতক্ষণ নামায আদায় করতেন, ততক্ষণ সময় ঘুমাতেন; অতঃপর তিনি যতক্ষণ ঘুমাতেন তৎপরিমাণ সময় নামাযের মধ্যে অতিবাহিত করতেন; তিনি যতক্ষণ নামাযের মধ্যে কাটাতেন, ততক্ষণ সময় নিদ্রা যেতেন এবং এরূপে তিনি সকালে উপনীত হতেন। তিনি তার কিরাআত পাঠের বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, তিনি কিরাআতের প্রতিটি হরফ (অক্ষর) স্পষ্টরূপে উচ্চারণ করে তিলাওয়াত করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৪৬৭

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ وَهُوَ عَلَى نَاقَةٍ يَقْرَأُ بِسُورَةِ الْفَتْحِ وَهُوَ يُرَجِّعُ .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাঃ)

১৪৬৭. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে মক্কা বিজয়ের দিন স্বীয় উটের উপর অবস্থান করে “সূরা ফাতহ্” বারবার তিলাওয়াত করতে দেখেছি।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৪৬৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ طَلْحَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْسَجَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " زَيِّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

১৪৬৮. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... বারা ইবনে আযেব্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা তোমাদের ধ্বনির সাহায্যে কুরআনকে সুষমামণ্ডিত কর, অথবা তোমরা কুরআনকে তাজবীদ ও তারতীলের সাথে সুন্দরভাবে পাঠ কর।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৪৬৯

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَيَزِيدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ مَوْهَبٍ الرَّمْلِيُّ، بِمَعْنَاهُ أَنَّ اللَّيْثَ، حَدَّثَهُمْ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَهِيكٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، - وَقَالَ يَزِيدُ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، - عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، وَقَالَ، قُتَيْبَةُ هُوَ فِي كِتَابِي عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ " .

বর্ণনাকারী: কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রহঃ)

১৪৬৯. আবুল ওলীদ, কুতায়বা ও য়াযীদ (রাহঃ) পূর্ববতী হাদীসের অনুরূপ অর্থে হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাবী কুতায়বা বলেন, আমার কিতাবে তা এইরূপে সংরক্ষিত আছেঃ সাঈদ ইবনে আবু সাঈদ বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ ঐ ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে কুরআনকে স্পষ্টরূপে বিশুদ্ধভাবে মধুর সুরে তিলাওয়াত করে না।

১৪৭০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَهِيكٍ، عَنْ سَعْدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

১৪৭০. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ....... সা’দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন ......... উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

১৪৭১

حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ الْوَرْدِ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي مُلَيْكَةَ، يَقُولُ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي يَزِيدَ مَرَّ بِنَا أَبُو لُبَابَةَ فَاتَّبَعْنَاهُ حَتَّى دَخَلَ بَيْتَهُ فَدَخَلْنَا عَلَيْهِ فَإِذَا رَجُلٌ رَثُّ الْبَيْتِ رَثُّ الْهَيْئَةِ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ " . قَالَ فَقُلْتُ لاِبْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ أَرَأَيْتَ إِذَا لَمْ يَكُنْ حَسَنَ الصَّوْتِ قَالَ يُحَسِّنُهُ مَا اسْتَطَاعَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল ফযল লুবাবা (রাঃ)

১৪৭১. আব্দুল আলা ইবনে হাম্মাদ, আব্দুল জাব্বার ইবনুল ওযারদ (রাহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি ইবনে আবু মুলায়কাকে বলতে শুনেছি, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবু য়াযীদ বলেছেন, একদা আবু লুবাবা (রাযিঃ) আমার পার্শ দিয়ে গমনকালে আমি তাঁকে অনুসরণ করতে থাকি। ঐ সময় তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করলে আমিও তথায় প্রবেশ করি। সেখানে আমি শীর্ণদেহ ও জীর্ণ বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় এক ব্যক্তিকে বলতে শুনি, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ ঐ ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়, যে স্পষ্টভাবে উত্তম সুরে কুরআন পাঠ করে না।

রাবী বলেনঃ তখন আমি আবু মুলায়কাকে বলি, হে আবু মুহাম্মাদ! যদি কেউ এরূপে মধুর স্বরে তা পাঠ না করতে পারে? তিনি বলেন, সে ব্যক্তি তার সাধ্যানুযায়ী তা উত্তমরূপে তিলাওয়াতের চেষ্টা করবে।
১৪৭২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، قَالَ قَالَ وَكِيعٌ وَابْنُ عُيَيْنَةَ يَعْنِي يَسْتَغْنِي بِهِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৪৭২. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমানের সূত্রে বর্ণিত। ওকী (রাহঃ) বলেন, ইবনে উয়াইনা (রাহঃ) সুমধুর স্বরে কুরআন তিলাওয়াত করতেন।

১৪৭৩

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ مَالِكٍ، وَحَيْوَةُ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَا أَذِنَ اللَّهُ لِشَىْءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِيٍّ حَسَنِ الصَّوْتِ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ يَجْهَرُ بِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪৭৩. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলাঃ কোন কিছুই এতটা নিবিষ্টভাবে শুনেন না যেভাবে তিনি কুরআনের পাঠ শুনেন- যখন তাঁর নবী সুমধুর কন্ঠে স্পষ্ট উচ্চারণে তা পাঠ করেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৩৬২. কুরআন হিফজের পর তা ভুলে গেলে, তার কঠোর পরিণতি সম্পর্কে।

باب التَّشْدِيدِ فِيمَنْ حَفِظَ الْقُرْآنَ ثُمَّ نَسِيَهُ

১৪৭৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ فَائِدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنِ امْرِئٍ يَقْرَأُ الْقُرْآنَ يَنْسَاهُ إِلاَّ لَقِيَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَجْذَمَ " .

বর্ণনাকারী: সা'দ ইবনে উবাদা (রাঃ)

১৪৭৪. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) ..... সাদ ইবনে উবাদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠের পর তা ভুলে যায়, সে কেয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত অবস্থায় আসবে। (কুষ্ঠ রোগের কারণে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেন খসে খসে পড়ছে)

৩৬৩. কুরআন সাত হরফে নাযিল হওয়া সম্পর্কে।

باب أُنْزِلَ الْقُرْآنُ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ

১৪৭৫

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ عَلَى غَيْرِ مَا أَقْرَؤُهَا وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَقْرَأَنِيهَا فَكِدْتُ أَنْ أَعْجَلَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَمْهَلْتُهُ حَتَّى انْصَرَفَ ثُمَّ لَبَّبْتُهُ بِرِدَائِهِ فَجِئْتُ بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي سَمِعْتُ هَذَا يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ عَلَى غَيْرِ مَا أَقْرَأْتَنِيهَا . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اقْرَأْ " . فَقَرَأَ الْقِرَاءَةَ الَّتِي سَمِعْتُهُ يَقْرَأُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَكَذَا أُنْزِلَتْ " . ثُمَّ قَالَ لِي " اقْرَأْ " . فَقَرَأْتُ فَقَالَ " هَكَذَا أُنْزِلَتْ " . ثُمَّ قَالَ " إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ أُنْزِلَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৪৭৫. আল-কানবী (রাহঃ) ..... আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল ক্বারী (রাহঃ) বলেন, আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-কে শুনেছিঃ আমি হিশাম ইবনে হাকীম (রাযিঃ)- কে সূরা আল-ফুরকান আমার পাঠের নিয়মের ব্যতিক্রমে পাঠ করতে শুনি। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বয়ং আমাকে তা শিক্ষা দেন। আমি তার উপর ঝাপিয়ে পড়তে উদ্যত হই, কিন্তু তাঁকে পাঠ করার সুযোগ দিলাম। তিনি আবসর হলে আমি তার গলায় আমার চাদর পেচিয়ে তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে হাযির করি এবং বলিঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এই ব্যক্তিকে সূরা ফুরকান অন্যরূপে তিলাওয়াত করতে শুনেছি, যেরূপে আপনি আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন তার বিপরীত।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বলেনঃ তুমি পাঠ কর। তখন সে ব্যক্তি ঐরূপে পাঠ করে, যেরূপে আমি তাকে পাঠ করতে শুনেছিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তা এরূপই অবতীর্ণ হয়েছে। পরে তিনি আমাকে বলেনঃ এবার তুমি পাঠ কর। তখন আমি তা তিলাওয়াত করি। আমার পাঠের পর তিনি বলেনঃ সূরাটি এভাবে নাযিল হয়েছে। অতপর তিনি বলেনঃ কুরআন সাত কিরা’আতে অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব যেভাবে পড়তে সহজ হয় তোমার পাঠ কর।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৪৭৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، قَالَ قَالَ الزُّهْرِيُّ إِنَّمَا هَذِهِ الأَحْرُفُ فِي الأَمْرِ الْوَاحِدِ لَيْسَ تَخْتَلِفُ فِي حَلاَلٍ وَلاَ حَرَامٍ .

বর্ণনাকারী: মা’মার ইবনে রাশেদ (রহঃ)

১৪৭৬. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহিয়া (রাহঃ) .... মা’মার (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইমাম যুহরী (রাহঃ) বলেন, কুরআন যে সাত কিরাআতে অবতীর্ণ হয়েছে, তা কেবলমাত্র আক্ষরিক পার্থক্য, এতে হালাল-হারাম সম্পর্কে কোন বিভেদ নাই।

১৪৭৭

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمُرَ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدٍ الْخُزَاعِيِّ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " يَا أُبَىُّ إِنِّي أُقْرِئْتُ الْقُرْآنَ فَقِيلَ لِي عَلَى حَرْفٍ أَوْ حَرْفَيْنِ فَقَالَ الْمَلَكُ الَّذِي مَعِي قُلْ عَلَى حَرْفَيْنِ . قُلْتُ عَلَى حَرْفَيْنِ . فَقِيلَ لِي عَلَى حَرْفَيْنِ أَوْ ثَلاَثَةٍ . فَقَالَ الْمَلَكُ الَّذِي مَعِي قُلْ عَلَى ثَلاَثَةٍ . قُلْتُ عَلَى ثَلاَثَةٍ . حَتَّى بَلَغَ سَبْعَةَ أَحْرُفٍ ثُمَّ قَالَ لَيْسَ مِنْهَا إِلاَّ شَافٍ كَافٍ إِنْ قُلْتَ سَمِيعًا عَلِيمًا عَزِيزًا حَكِيمًا مَا لَمْ تَخْتِمْ آيَةَ عَذَابٍ بِرَحْمَةٍ أَوْ آيَةَ رَحْمَةٍ بِعَذَابٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

১৪৭৭. আবুল ওয়ালীদ আত-তায়ালিস (রাহঃ) ..... উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেন, হে উবাই, আমাকে কুরআন শিক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং, তুমি কি তা এক হরফে পড়তে চাও, না দুই হরফে? ঐ সময় আমার সঙ্গী ফিরিশতা আমাকে বলেন, আপনি বলুন, আমি দুই হরফে পড়তে চাই। তখন আমি বলিঃ দুই হরফের দ্বারা। আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়ঃ তুমি কি দুই হরফে পড়তে চাও, না তিন হরফে? তখন আমার সঙ্গী ফিরিশতা (জিবরাঈল) আমাকে বলেন, আপনি বলুনঃ তিনি হরফের দ্বারা। তখন আমি বলিঃ তিন হরফের রীতিতে। এরূপে সাত কিরাআত (বা রীতি) পর্যন্ত পৌছায়।

অতঃপর তিনি বলেন, এই হরফগুলো বা কিরা’আত দ্বারা কুরআন পরিপূর্ণভাবে বোধগম্য হওয়ার জন্য যথেষ্ট। যদি তুমি বলঃ (سَمِيعًا عَلِيمًا عَزِيزًا حَكِيمًا) তবে তুমি ঠিকই বলবে। (এভাবে যদি কেউ বলেঃسَمِيعًا عَلِيمًا او عَلِيمًا سَمِيعًا তবে তাও ঠিক) যতক্ষণ না আযাবের আয়াত রহমতের সাথে অথবা রহমতের আয়াত আযাবের সাথে সম্মিলিত হয়। (অর্থাৎ শব্দের বিচ্ছিন্নতা সত্ত্বেও যেন অর্থের মধ্যে কোনরূপ ব্যতিক্রম না হয়)।
১৪৭৮

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ عِنْدَ أَضَاةِ بَنِي غِفَارٍ فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَأْمُرُكَ أَنْ تُقْرِئَ أُمَّتَكَ عَلَى حَرْفٍ . قَالَ " أَسْأَلُ اللَّهَ مُعَافَاتَهُ وَمَغْفِرَتَهُ إِنَّ أُمَّتِي لاَ تُطِيقُ ذَلِكَ " . ثُمَّ أَتَاهُ ثَانِيَةً فَذَكَرَ نَحْوَ هَذَا حَتَّى بَلَغَ سَبْعَةَ أَحْرُفٍ قَالَ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكَ أَنْ تُقْرِئَ أُمَّتَكَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ فَأَيُّمَا حَرْفٍ قَرَءُوا عَلَيْهِ فَقَدْ أَصَابُوا .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

১৪৭৮. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ..... উবাই ইবনে কা’ব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম (ﷺ) গিফার গোত্রের কূপের নিকট আবস্থনকালে তার নিকট জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আগমন করে বলেনঃ আল্লাহ রবুল আলামীন নির্দেশ প্রদান করেছেন যে, আপনি আপনার উম্মতের সকলকে যেন একই কিরাতের অনুসারী বানান। তখন তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর নিকট এইজন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি যে, এ ব্যাপারে আমার উম্মতের এই ক্ষমতা নাই। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) দ্বিতীয় বার আগমন করে পূর্বের ন্যায় বলেন, নবী করীম (ﷺ) একইরূপ বলেন। এরূপে সাত কিরাআত পর্যন্ত পৌছায়। অতঃপর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা আপনাকে আপনার উম্মতদেরকে সাত কিরাতের কুরআন পড়বার অনুমতি প্রদান করেছেন। আপনার উম্মতের এই সাত কিরাআতের যে কোন কিরাআতে কুরআন পাঠ করবে, তারা ঠিক করবে।

৩৬৪. দুআর ফযিলত।

باب الدُّعَاءِ

১৪৭৯

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ ذَرٍّ، عَنْ يُسَيْعٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ ( قَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ ) " .

বর্ণনাকারী: হযরত নু'মান ইবন বাশীর রাযি.

১৪৭৯. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... নু’মান ইবনে বাশীর (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (নবী (ﷺ)) বলেনঃ দুআও একটি ইবাদাত। তোমাদের রব বলেনঃ তোমরা আমার নিকট দুআ কর আমি তা কবুল করব।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৪৮০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ مِخْرَاقٍ، عَنْ أَبِي نُعَامَةَ، عَنِ ابْنٍ لِسَعْدٍ، أَنَّهُ قَالَ سَمِعَنِي أَبِي، وَأَنَا أَقُولُ اللَّهُمَّ، إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَنَعِيمَهَا وَبَهْجَتَهَا وَكَذَا وَكَذَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ وَسَلاَسِلِهَا وَأَغْلاَلِهَا وَكَذَا وَكَذَا فَقَالَ يَا بُنَىَّ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " سَيَكُونُ قَوْمٌ يَعْتَدُونَ فِي الدُّعَاءِ " . فَإِيَّاكَ أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ إِنْ أُعْطِيتَ الْجَنَّةَ أُعْطِيتَهَا وَمَا فِيهَا مِنَ الْخَيْرِ وَإِنْ أُعِذْتَ مِنَ النَّارِ أُعِذْتَ مِنْهَا وَمَا فِيهَا مِنَ الشَّرِّ .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

১৪৮০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... ইবনে সা’দ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে এরূপ বলতে শুনেন যে, “ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার নিকট জান্নাত, তার নিআমত ও সুখ-সৌন্দর্য ইত্যাদি কামনা করছি এবং আপনার নিকট দোজখের অগ্নি, তার লোহার জিঞ্জীর ও বেড়ী ইত্যাদি হতে পরিত্রাণ কামনা করি।″ আমার পিতা বলেন, হে প্রিয় বৎস! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি যে, অতি সত্বর এমন এক সম্প্রদায় প্রকাশ পাবে, যারা দুআর মধ্যে অতিরঞ্জন করবে। কাজেই তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হইও না। যদি তোমাকে জান্নাত দান করা হয়, তবে তার যাবতীয় সুখ-সম্পদ, আরাম- আয়েশের উপকরনাদিসহ প্রদান করা হবে। আর যদি তোমাকে দোযখের আগুন হতে রক্ষা করা হয়, তবে অবশ্যই তুমি তার যাবতীয় কষ্ট মুসীবত হতেও নিষ্কৃতি পাবে।

১৪৮১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ، أَخْبَرَنِي أَبُو هَانِئٍ، حُمَيْدُ بْنُ هَانِئٍ أَنَّ أَبَا عَلِيٍّ، عَمْرَو بْنَ مَالِكٍ حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ فَضَالَةَ بْنَ عُبَيْدٍ، صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ سَمِعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يَدْعُو فِي صَلاَتِهِ لَمْ يُمَجِّدِ اللَّهَ تَعَالَى وَلَمْ يُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " عَجِلَ هَذَا " . ثُمَّ دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ أَوْ لِغَيْرِهِ " إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِتَحْمِيدِ رَبِّهِ جَلَّ وَعَزَّ وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِ ثُمَّ يُصَلِّي عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يَدْعُو بَعْدُ بِمَا شَاءَ " .

বর্ণনাকারী: ফাযালা ইবনে উবায়দ (রাঃ)

১৪৮১. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ....... ফাদালা ইবনে উবাইেদ (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) এর সাবাহী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শুনতে পান যে, জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা ও নবী করীম (ﷺ) এর উপর দরূদ পাঠ ব্যতিরেকে দুআ করতে শুরু করে। তিনি বলেনঃ সে তাড়াহুড়া করেছে।

রাবী বলেন, অতঃপর তিনি ঐ ব্যক্তিকে বা অন্য কাউকে ডেকে বলেনঃ যখন তোমাদের কেউ নামায আদায় করবে, তখন সে যেন সর্বপ্রথম আল্লাহর প্রশংসা ও নবীর উপর দরূদ পাঠ করে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৪৮২

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ شَيْبَانَ، عَنْ أَبِي نَوْفَلٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتَحِبُّ الْجَوَامِعَ مِنَ الدُّعَاءِ وَيَدَعُ مَا سِوَى ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৪৮২. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুআর মধ্যে জাওয়ামি (অর্থাৎ এরূপ দুআ যার মধ্যে দুনিয়া ও আখিরাতের বিষয় উল্লেখ থাকে; যে দুআর মধ্যে সমস্ত মুসলমান শামিল অথবা এরূপ দুআ যা স্বয়ংসম্পূর্ণ) কে ভালবাসতেন এবং এটা ব্যতীত অন্য সব কিছু তিনি পরিত্যাগ করতেন।

১৪৮৩

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَقُولَنَّ أَحَدُكُمُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي إِنْ شِئْتَ لِيَعْزِمِ الْمَسْأَلَةَ فَإِنَّهُ لاَ مُكْرِهَ لَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪৮৩. আল-কানবী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, কেউ যেন এরূপ দুআ না করে, ইয়া আল্লাহ। যদি তুমি ইচ্ছা কর তবে আমাকে মার্জনা কর। আর যদি তুমি চাও, তবে আমার উপর রহম কর। বরং দৃঢ়তার সাথে দুআ করবে। কেননা আল্লাহর উপর কারো জোর খাটে না।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১৪৮৪

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يُسْتَجَابُ لأَحَدِكُمْ مَا لَمْ يَعْجَلْ فَيَقُولُ قَدْ دَعَوْتُ فَلَمْ يُسْتَجَبْ لِي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৪৮৪. আল-কানবী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের দু'আ কবুল হয়ে থাকে, যতক্ষণ না সে ব্যক্তি তার জন্য তাড়াহুড়া করে এবং এরূপ বলতে থাকে যে, আমি দুআ করলাম অথচ তা কবুল হয় নাই।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৪৮৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَيْمَنَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَعْقُوبَ بْنِ إِسْحَاقَ، عَمَّنْ حَدَّثَهُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَسْتُرُوا الْجُدُرَ مَنْ نَظَرَ فِي كِتَابِ أَخِيهِ بِغَيْرِ إِذْنِهِ فَإِنَّمَا يَنْظُرُ فِي النَّارِ سَلُوا اللَّهَ بِبُطُونِ أَكُفِّكُمْ وَلاَ تَسْأَلُوهُ بِظُهُورِهَا فَإِذَا فَرَغْتُمْ فَامْسَحُوا بِهَا وُجُوهَكُمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ كُلُّهَا وَاهِيَةٌ وَهَذَا الطَّرِيقُ أَمْثَلُهَا وَهُوَ ضَعِيفٌ أَيْضًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৪৮৫. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা দেওয়ালে পর্দা দিও না। যে ব্যক্তি অন্যের বিনা অনুমতিতে তার চিঠির প্রতি নজর করে সে যেন দোজখের প্রতি দৃষ্টিপাত করল। তোমরা তোমাদের হাতের তালু উপরের দিকে করে দুআ করবে, হাতের পিঠ উপরের দিকে করে নয় এবং দুআর শেষে (হাত) মুখমণ্ডলে মাসাহ করবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৪৮৬

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْبَهْرَانِيُّ، قَالَ قَرَأْتُهُ فِي أَصْلِ إِسْمَاعِيلَ - يَعْنِي ابْنَ عَيَّاشٍ - حَدَّثَنِي ضَمْضَمٌ عَنْ شُرَيْحٍ حَدَّثَنَا أَبُو ظَبْيَةَ أَنَّ أَبَا بَحْرِيَّةَ السَّكُونِيَّ حَدَّثَهُ عَنْ مَالِكِ بْنِ يَسَارٍ السَّكُونِيِّ ثُمَّ الْعَوْفِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَاسْأَلُوهُ بِبُطُونِ أَكُفِّكُمْ وَلاَ تَسْأَلُوهُ بِظُهُورِهَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ لَهُ عِنْدَنَا صُحْبَةٌ يَعْنِي مَالِكَ بْنَ يَسَارٍ .

বর্ণনাকারী: মালিক ইবন ইয়াসার (রাঃ)

১৪৮৬. সুলাইমান ইবনে আব্দুল হামীদ (রাহঃ) ..... মালিক ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমরা আল্লাহ কাছে দুআ কর তখন তোমরা হাতের পেট দ্বারা দুআ করবে, পিঠ দ্বারা নয়। সুলাইমান (রাহঃ) বলেন, আমাদের মতে, মালিক (রাযিঃ) মহানবী (ﷺ)-এর সাহচর্য লাভ করেছেন।

১৪৮৭

حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ، حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ قُتَيْبَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ نَبْهَانَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْعُو هَكَذَا بِبَاطِنِ كَفَّيْهِ وَظَاهِرِهِمَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৪৮৭. উকবা ইবনে মুকাররাম (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে কখনও হাতের পেটের দ্বারা এবং কখনও পিঠের দ্বারা দুআ (ইসতিসকার নামাযে) করতে দেখেছি।

১৪৮৮

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى، - يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ - حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ، - يَعْنِي ابْنَ مَيْمُونٍ صَاحِبَ الأَنْمَاطِ - حَدَّثَنِي أَبُو عُثْمَانَ، عَنْ سَلْمَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ رَبَّكُمْ تَبَارَكَ وَتَعَالَى حَيِيٌّ كَرِيمٌ يَسْتَحْيِي مِنْ عَبْدِهِ إِذَا رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَيْهِ أَنْ يَرُدَّهُمَا صِفْرًا " .

বর্ণনাকারী: সালমান ফারিসী (রাঃ)

১৪৮৮. মুতাম্মল ইবনে ফাদল (রাহঃ) ..... সালমান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের রব চিরঞ্জীব ও মহান দাতা। যখন কোন বান্দাহ হাত উঠিয়ে দুআ করে, তখন তিনি তার খালি হাত ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৪৮৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، - يَعْنِي ابْنَ خَالِدٍ - حَدَّثَنِي الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ الْمَسْأَلَةُ أَنْ تَرْفَعَ، يَدَيْكَ حَذْوَ مَنْكِبَيْكَ أَوْ نَحْوَهُمَا وَالاِسْتِغْفَارُ أَنْ تُشِيرَ بِأُصْبُعٍ وَاحِدَةٍ وَالاِبْتِهَالُ أَنْ تَمُدَّ يَدَيْكَ جَمِيعًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৪৮৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, দুআর আদব (শিষ্টতা) হল, উভয় কাঁধ বা তার সম-পরিমাণ পর্যন্ত উত্তোলন করা এবং ইস্তেগফারের (গুনাহ মাফের জন্য দুআ করার) আদব হল, দুআর সময় শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করা। ইবতিহালের (অর্থাৎ দুআর সময় রোনাজারি, কান্নাকাটি করা) আদব হল-দুআর সময় উভয় হস্তকে এত উপরে উঠানো যাতে হাতের বগলের সাদা অংশ দৃষ্টিগোচর হয়।

১৪৯০

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنِي عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدِ بْنِ عَبَّاسٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فِيهِ وَالاِبْتِهَالُ هَكَذَا وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَجَعَلَ ظُهُورَهُمَا مِمَّا يَلِي وَجْهَهُ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৪৯০. আমর ইবনে উছমান (রাহঃ) ..... আব্বাস ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) হতে এই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, ইবতিহাল এরূপ যে, দুআর সময় হাতের পৃষ্ঠদেশ দুআকারীর মুখের দিকে থাকবে।

১৪৯১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أَخِيهِ، إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৪৯১. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন ......... উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৪৯২

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ حَفْصِ بْنِ هَاشِمِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا دَعَا فَرَفَعَ يَدَيْهِ مَسَحَ وَجْهَهُ بِيَدَيْهِ .

বর্ণনাকারী: সাঈব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ)

১৪৯২. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আস-সাইব ইবনে য়াযীদ (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) দুআর সময় তাঁর উভয় হাত উত্তোলন করতেন এবং তাঁর দ্বারা মুখমণ্ডল মাসাহ করতেন।

১৪৯৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ رَجُلاً يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ أَنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ . فَقَالَ " لَقَدْ سَأَلْتَ اللَّهَ بِالاِسْمِ الَّذِي إِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى وَإِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রহঃ)

১৪৯৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহে ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে এরূপ দুআ করতে শুনেন “ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি এবং আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, তুমিই আল্লাহ এবং তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই। তুমি একক এবং অমুখাপেক্ষী যার কোন সন্তান নাই এবং যিনি কারও সন্তান নন যার সমকক্ষ কেউই নাই। “তখন তিনি বলেন, তুমিই আল্লাহর নিকট তাঁর নাম ধরে প্রার্থনা করেছ, যখন এরূপে কেউ দুআ করে তখন আল্লাহ তা প্রদান করেন এবং এরূপে দুআ করলে তিনি তা কবুল করে থাকেন।

সূত্র: সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১৪৯৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ خَالِدٍ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ، بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ فِيهِ " لَقَدْ سَأَلْتَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ بِاسْمِهِ الأَعْظَمِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৪৯৪. আব্দুর রহমান ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... মালিক ইবনে মিগওয়াল (রাহঃ) এই হাদীসটি বর্ণনা প্রসঙ্গে মহানবী (ﷺ) এর নিম্নোক্ত কথা উল্লেখ করেছেনঃ নিশ্চয়ই ঐ ব্যক্তি আল্লাহর নিকট “ইসম আজমের” দ্বারা (মহান নামের দ্বারা) চেয়েছে।

সূত্র: সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১৪৯৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْحَلَبِيُّ، حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ خَلِيفَةَ، عَنْ حَفْصٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَخِي أَنَسٍ - عَنْ أَنَسٍ، أَنَّهُ كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسًا وَرَجُلٌ يُصَلِّي ثُمَّ دَعَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الْمَنَّانُ بَدِيعُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ يَا حَىُّ يَا قَيُّومُ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَقَدْ دَعَا اللَّهَ بِاسْمِهِ الْعَظِيمِ الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ وَإِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৪৯৫. আব্দুর রহমান ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি নবী করীম (ﷺ)-এর সাথে বসে ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি নামায শেষে এরূপ দুআ করতে থাকে “ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি। তুমিই সমস্ত প্রশংসার মালিক, তুমি ছাড়া আর কোন দানকারী ইলাহ নাই, তুমিই আসমান ও যমীনসমূহের সৃষ্টিকরী, হে মহান শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ও মহান দাতা, হে চিরঞ্জীব, হে অবিনশ্বর।″ এতদশ্রবণে নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ এই ব্যক্তি আল্লাহর নিকট তাঁর মহান নামের মাধ্যমে দুআ করেছে এবং যদি কেউ এরূপে দুআ করে, তবে তা অবশ্যই কবুল হবে। আর যদি কেউ এরূপে চায়, তবে আল্লাহ তাকে টা দান করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৪৯৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " اسْمُ اللَّهِ الأَعْظَمُ فِي هَاتَيْنِ الآيَتَيْنِ ( وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ ) وَفَاتِحَةُ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ ( الم * اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ ) .

বর্ণনাকারী: আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রাঃ)

১৪৯৬. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আসমা বিনতেে য়াযীদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ এই দুটি আয়াত হল আল্লাহর “ইসম আজম” মহান নাম।

১। (وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ) অর্থাৎ তোমাদের ইলাহ এক, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই, যিনি দাতা-দয়ালু।

২। সূরা আল- ইমরানের প্রথমাংশঃ (الم * الله لا إله إلا هو الحى القيوم) আলিফ, লাম, মীম আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৪৯৭

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سُرِقَتْ مِلْحَفَةٌ لَهَا فَجَعَلَتْ تَدْعُو عَلَى مَنْ سَرَقَهَا فَجَعَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ تُسَبِّخِي عَنْهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ لاَ تُسَبِّخِي أَىْ لاَ تُخَفِّفِي عَنْهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৪৯৭. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তাঁর একটি চাদর চুরি হয়ে যায়। তিনি চোরের জন্য বদদু'আ করতে শুরু করলে নবী করীম (ﷺ) বলেন, তুমি তার জন্য ঐরূপ করে বিষয়টি হালকা কর না (অর্থাৎ তাঁর পাপের বোঝা কমিও না)।

১৪৯৮

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ، - رضى الله عنه - قَالَ اسْتَأْذَنْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي الْعُمْرَةِ فَأَذِنَ لِي وَقَالَ " لاَ تَنْسَنَا يَا أُخَىَّ مِنْ دُعَائِكَ " . فَقَالَ كَلِمَةً مَا يَسُرُّنِي أَنَّ لِي بِهَا الدُّنْيَا قَالَ شُعْبَةُ ثُمَّ لَقِيتُ عَاصِمًا بَعْدُ بِالْمَدِينَةِ فَحَدَّثَنِيهِ وَقَالَ " أَشْرِكْنَا يَا أُخَىَّ فِي دُعَائِكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৪৯৮. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) .... উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট উমরাহ জন্য অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি প্রদান করে বলেনঃ হে আমার প্রিয় ভাই। তুমি দুআ করার সময় যেন আমাদের কথা ভুলে না যাও। অতঃপর উমর (রাযিঃ) বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) এর এই উক্তি “হে আমার প্রিয় ভাই” আমাকে এত খুশী করে যে, আমি যদি এর পরিবর্তে সমস্ত দুনিয়ার মালিক হতাম, তবুও এত খুশী হতাম না।

রাবী শোবা বলেন, অতঃপর আমি আসেম (রাহঃ) এর সাথে মদীনায় সাক্ষাত করলে তিনি আমাকে বলেনঃ তখন নবী করীম (ﷺ) উমর (রাযিঃ)-কে বলেনঃ হে ভ্রাতা। তুমি তোমার দুআর মধ্যে আমাদেরকেও শরীক কর।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৪৯৯

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ مَرَّ عَلَىَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا أَدْعُو بِأُصْبُعَىَّ فَقَالَ " أَحِّدْ أَحِّدْ " . وَأَشَارَ بِالسَّبَّابَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

১৪৯৯. যুহায়ের ইবনে হারব (রাহঃ) ..... সা’দ ইবনে আবু ওয়াককাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আঙ্গুল উঠিয়ে দুআ করতে থাকলে নবী করীম (ﷺ) এই সময় আমার পাশ দিয়ে গমনকালে বলেনঃ এক, এক (অর্থাৎ এক আঙ্গুল দ্বারা দুআ কর) এবং ঐ সময় তিনি তাঁর শাহাদাত আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৬৫. কংকর দ্বারা তাসবীহ পাঠের হিসাব রাখা।

باب التَّسْبِيحِ بِالْحَصَى

১৫০০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ أَبِي هِلاَلٍ، حَدَّثَهُ عَنْ خُزَيْمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهَا، أَنَّهُ دَخَلَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى امْرَأَةٍ وَبَيْنَ يَدَيْهَا نَوًى أَوْ حَصًى تُسَبِّحُ بِهِ فَقَالَ " أُخْبِرُكِ بِمَا هُوَ أَيْسَرُ عَلَيْكِ مِنْ هَذَا أَوْ أَفْضَلُ " . فَقَالَ " سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الأَرْضِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ بَيْنَ ذَلِكَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ وَاللَّهُ أَكْبَرُ مِثْلُ ذَلِكَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ مِثْلُ ذَلِكَ . وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مِثْلُ ذَلِكَ . وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ مِثْلُ ذَلِكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

১৫০০. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) ..... আয়িশা বিনতে সা’দ, তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে জনৈক মহিলার নিকট গমন করে তার সম্মুখে কিছু দানা অথবা পাথরের টুকরা দেখতে পান, যা দ্বারা তিনি তাসবীহ পাঠে রত ছিলেন। এতদ্দর্শনে তিনি (ﷺ) বলেনঃ আমি তোমাকে এর চেয়ে সহজ পন্থা শিক্ষা দিব।

নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ সুবহানাল্লাহ শব্দটি আসমানের যাবতীয় সৃষ্টিবস্তুর সম-সংখ্যক এবং সুবহানাল্লাহ যমীনে সৃষ্টি যাবতীয় সৃষ্টির সম-সংখ্যক এবং সুবহানাল্লাহ শব্দটি এতদুভয়ের মধ্যে সৃষ্টি সমস্ত বস্তুর সম-সংখ্যক। সুবহানাল্লাহ শব্দটি ভবিষ্যতে যা কিছু সৃষ্টি হবে, তার সমসংখ্যক এবং “আল্লাহু আকবার” ও “আল-হামদুলিল্লাহ’ও তার (সুবাহানাল্লাহর) অনুরূপ। “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”ও তার অনুরূপ এবং 'লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ও তার অনুরূপ।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫০১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ هَانِئِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ حُمَيْضَةَ بِنْتِ يَاسِرٍ، عَنْ يُسَيْرَةَ، أَخْبَرَتْهَا أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُنَّ أَنْ يُرَاعِينَ بِالتَّكْبِيرِ وَالتَّقْدِيسِ وَالتَّهْلِيلِ وَأَنْ يَعْقِدْنَ بِالأَنَامِلِ فَإِنَّهُنَّ مَسْئُولاَتٌ مُسْتَنْطَقَاتٌ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৫০১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... হুমায়সাহ বিনতে য়াসির (রাহঃ) য়ুসায়রাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁকে এই মর্মে খবর দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদেরকে (মহিলা) তাকবীর (আল্লাহু আকবার), তাকদীস (সুবহানাল্লাহ) ও তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এর শব্দগুলিকে হিফাজত ও গণনার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি এসব আঙ্গুলের গিরার দ্বারা গণনা করতে বলেছেন। কেননা কিয়ামতের দিন আঙ্গুলসমূহকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে এবং তারা এর স্বীকৃতি প্রদান করবে (সাক্ষ্য দিবে)।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫০২

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ، - فِي آخَرِينَ - قَالُوا حَدَّثَنَا عَثَّامٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - يَعْقِدُ التَّسْبِيحَ قَالَ ابْنُ قُدَامَةَ - بِيَمِينِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৫০২. উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে তাসবীহ পাঠের সময় তার আঙ্গুলে তা গণনা করতে আঙ্গুলে তা গণনা করতে দেখেছি। রাবী ইবনে কুতায়বার বর্ণনায় আছে, নবী করীম (ﷺ) তা তার ডান হাতে গণনা করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫০৩

حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أُمَيَّةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، مَوْلَى أَبِي طَلْحَةَ عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عِنْدِ جُوَيْرِيَةَ - وَكَانَ اسْمُهَا بَرَّةَ فَحَوَّلَ اسْمَهَا - فَخَرَجَ وَهِيَ فِي مُصَلاَّهَا وَرَجَعَ وَهِيَ فِي مُصَلاَّهَا فَقَالَ " لَمْ تَزَالِي فِي مُصَلاَّكِ هَذَا " . قَالَتْ نَعَمْ . قَالَ " قَدْ قُلْتُ بَعْدَكِ أَرْبَعَ كَلِمَاتٍ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ لَوْ وُزِنَتْ بِمَا قُلْتِ لَوَزَنَتْهُنَّ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৫০৩. দাউদ ইবনে উমাইয়া (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহে ওয়াসাল্লাম জুওয়ায়রিয়া (রাযিঃ) এর ঘর হতে (সকালে) বের হন এবং তার পূর্বের নাম ছিল বাররা। নবী করীম (ﷺ) তার নাম পরিবর্তন করে জুওয়ায়রিয়া রাখেন। তিনি তার ঘর হতে বের হওয়ার সময়ও তাঁকে জায়নামাযের উপর দেখেন এবং ফিরে এসেও তাঁকে ঐ অবস্থায় দেখতে পান। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি এতক্ষণ এই জায়নামাযের উপরেই ছিলে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ।

নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ তোমার এখান থেকে যাওয়ার পর আমি চারটি কলেমা তিনবার করে পড়েছি। তার ওজন করা হলে তোমার পঠিত যিক্‌রের তুলনায় তাদের ওজন বেশী হবে। তার একটি হল “সুবহানাল্লাহ ওয়া বিহামদিহি”, এটা আল্লাহর সৃষ্ট সমস্ত মখলুকের সম-সংখ্যক। তা পাঠের ফলে আল্লাহ রাযী হন, তার ওজন পবিত্র আরশের সমান এবং তাঁর (আল্লাহর) সমস্ত বাক্যের সম-সংখ্যক।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১৫০৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي حَسَّانُ بْنُ عَطِيَّةَ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَائِشَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ أَبُو ذَرٍّ يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَهَبَ أَصْحَابُ الدُّثُورِ بِالأُجُورِ يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ وَلَهُمْ فُضُولُ أَمْوَالٍ يَتَصَدَّقُونَ بِهَا وَلَيْسَ لَنَا مَالٌ نَتَصَدَّقُ بِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَبَا ذَرٍّ أَلاَ أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ تُدْرِكُ بِهِنَّ مَنْ سَبَقَكَ وَلاَ يَلْحَقُكَ مَنْ خَلْفَكَ إِلاَّ مَنْ أَخَذَ بِمِثْلِ عَمَلِكَ " . قَالَ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " تُكَبِّرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ دُبُرَ كُلِّ صَلاَةٍ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَتَحْمَدُهُ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَتُسَبِّحُهُ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَتَخْتِمُهَا بِلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ غُفِرَتْ لَهُ ذُنُوبُهُ وَلَوْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫০৪. আব্দুর রহমান ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু যর (রাযিঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! বিত্তশালীরা দান-সাদ্‌কার দ্বারা আমাদের হতে আমলের মধ্যে অগ্রগামী। আমাদের মত তারাও নামায আদায় করে থাকে। তারা আমাদের মত রোযা রেখে থাকে এবং তারা তাদের অতিরিক্ত ধন-সম্পদ দান-সাদ্‌কাহ করে অধিক ফযীলতের অধিকারী হচ্ছে এবং আমাদের দান-সাদ্‌কাহ করার মত কোন ধন-সম্পদ নাই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আমি কি তোমাকে এমন কিছু বাক্য শিক্ষা দিব না, যার উপর আমল করে তুমি তোমার চাইতে অগ্রগামীদের (ফযীলতের দিক দিয়ে) সমকক্ষ হতে পার এবং পশ্চাতে যারা আছে, তারা কখনই তোমার সমকক্ষ হতে পারবে না? অবশ্য যারা তোমার মত আমল করবে (তারা তোমার সমান হবে)। তিনি বলেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি আমাকে তা শিক্ষা দিন।

নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ তুমি প্রত্যেক নামাযের শেষে “আল্লাহু আকবার” ৩৩ বার, “আলহামদুলিল্লাহ” ৩৩ বার এবং “ সুবহানাল্লাহ” ৩৩ বার বলবে এবং সবশেষে পড়বে- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর। যে ব্যক্তি এই দুআ পাঠ করবে, তার গুনাহের পরিমাণ যদি সমুদ্রের ফেনারাজির মত অসংখ্যও হয়, তা মার্জিত হবে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৩৬৬. নামাযের সালাম শেষে কি দুআ পড়বে?

باب مَا يَقُولُ الرَّجُلُ إِذَا سَلَّمَ

১৫০৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ، عَنْ وَرَّادٍ، مَوْلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، كَتَبَ مُعَاوِيَةُ إِلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ أَىُّ شَىْءٍ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِذَا سَلَّمَ مِنَ الصَّلاَةِ فَأَمْلاَهَا الْمُغِيرَةُ عَلَيْهِ وَكَتَبَ إِلَى مُعَاوِيَةَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ " .

বর্ণনাকারী: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

১৫০৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... মুগীরা ইবনে শোবা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযের সালাম ফিরাবার পর কোন দুআ পাঠ করতেন এটা জানার জন্য আমীরে মুআবিয়া (রাযিঃ) মুগীরাকে পত্র লিখেছিলেন। অতঃপর মুগীর (রাযিঃ) মুআবিয়া (রাযিঃ) এর নিকট এই মর্মে পত্রোত্তরে জানান যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল-মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর। আল্লাহুম্মা লা মানেআ লিমা আতায়তা, ওয়ালা মুতিয়া লিমা মানা’তা, ওলা লা য়ানফাউ যাল-জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৫০৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ، عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا انْصَرَفَ مِنَ الصَّلاَةِ يَقُولُ " لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ أَهْلُ النِّعْمَةِ وَالْفَضْلِ وَالثَّنَاءِ الْحَسَنِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ " .

বর্ণনাকারী: আবুয যুবায়র (রহঃ)

১৫০৬. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ...... আবু যুবায়ের (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাযিঃ)-কে মিম্বরের উপর দণ্ডায়মান হয়ে ভাষণ দানকালে বলতে শুনেছিঃ নবী করীম (ﷺ) নামায শেষে এই দুআ করতেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল-মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুখলেসীনা লাহুদ্দীন ওয়ালাও কারিহাল কাফিরূন। আহলুন-নি’মাতে ওয়াল ফাদলে, ওয়াছ-ছানাইল হুসনে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুখলেসীনা লাহুদ্দীন, ওয়ালাও কারিহাল কাফিরূন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৫০৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، قَالَ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الزُّبَيْرِ يُهَلِّلُ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ فَذَكَرَ نَحْوَ هَذَا الدُّعَاءِ زَادَ فِيهِ " وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ لاَ نَعْبُدُ إِلاَّ إِيَّاهُ لَهُ النِّعْمَةُ " . وَسَاقَ بَقِيَّةَ الْحَدِيثِ .

বর্ণনাকারী: আবুয যুবায়র (রহঃ)

১৫০৭. মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ..... আবু যুবায়ের (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাযিঃ) নামায শেষে তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ...) পাঠ করতেন। অতঃপর উপরোক্ত দুআর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং তার সাথে “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ, লা না’বুদু ইল্লা ইয়্যাহু লাহুন-নি’মাহ ......... অতিরিক্ত বর্ণনা করে পরে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

১৫০৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، - وَهَذَا حَدِيثُ مُسَدَّدٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ سَمِعْتُ دَاوُدَ الطُّفَاوِيَّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو مُسْلِمٍ الْبَجَلِيُّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ، قَالَ سَمِعْتُ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ وَقَالَ سُلَيْمَانُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ فِي دُبُرِ صَلاَتِهِ " اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَىْءٍ أَنَا شَهِيدٌ أَنَّكَ أَنْتَ الرَّبُّ وَحْدَكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَىْءٍ أَنَا شَهِيدٌ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَىْءٍ أَنَا شَهِيدٌ أَنَّ الْعِبَادَ كُلَّهُمْ إِخْوَةٌ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَىْءٍ اجْعَلْنِي مُخْلِصًا لَكَ وَأَهْلِي فِي كُلِّ سَاعَةٍ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ اسْمَعْ وَاسْتَجِبِ اللَّهُ أَكْبَرُ الأَكْبَرُ اللَّهُمَّ نُورَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ " . قَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ " رَبَّ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ " . " اللَّهُ أَكْبَرُ الأَكْبَرُ حَسْبِيَ اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ اللَّهُ أَكْبَرُ الأَكْبَرُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত যায়দ ইবনে আরকাম (রাঃ)

১৫০৮. মুসাদ্দাদ ও সুলাইমান (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম (ﷺ)কে বলতে শুনেছি। রাবী সুলাইমানের বর্ণনায় আছে যে, নবী করীম (ﷺ) নামায শেষে বলতেনঃ আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া কুল্লি শায়ইন। আনা শাহীদুন ইন্নাকা আনতার রব, ওয়াহদাকা লা শারীকা লাকা। আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া রবা কুল্লি শায়ইন, আনা শাহীদুন আন্না মুহামাদ্দান আব্দুকা ওয়া রাসূলুকা। আল্লাহুম্মা রবানা ওয়া রবা কুল্লি শায়ইন, আনা শাহীদুন আন্নাল ইবাদা কুল্লাহুম ইখওয়াহ। আল্লাহুম্মা রবানা ওয়া রবা কুল্লি শায়ইন, ইজআলনী মুখলিসান লাকা ওয়া আহলী ফী কুল্লি সাআতিন ফিদ-দুনয়া ওয়াল আখিরাহ, ইয়া যাল-জালালে ওয়াল ইকরাম। ইসমা ওয়াসতাজিব, আল্লাহু আকবারুল আকবার। আল্লাহু নূরুস-সামাওয়াতি ওয়াল আরদি।

রাবী সুলাইমান ইবনে দাউদ বলেনঃ রবুস-সামাওয়াতে ওয়াল-আরদি, আল্লাহু আকবারুল আকবার, হাসবিয়াল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকীল আল্লাহু আকবারুল আকবার।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৫০৯

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَمِّهِ الْمَاجِشُونَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا سَلَّمَ مِنَ الصَّلاَةِ قَالَ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ وَمَا أَسْرَفْتُ وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৫০৯. উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) ..... আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) নামাযের সালামের পর দুআ পাঠ করতেনঃ আল্লাহুম্মাগ ফিরলী মা কাদ্দামতু ওয়ামা আখখারতু, ওয়ামা আসরারতু ওয়ামা আলানতু, ওয়ামা আসরাফতু ওয়ামা আনতা আলামু বিহী মিন্নী, আনতাল মুকাদ্দাম ওয়াল মুআখখার লা ইলাহা ইল্লা আনতা।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫১০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ طُلَيْقِ بْنِ قَيْسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدْعُو " رَبِّ أَعِنِّي وَلاَ تُعِنْ عَلَىَّ وَانْصُرْنِي وَلاَ تَنْصُرْ عَلَىَّ وَامْكُرْ لِي وَلاَ تَمْكُرْ عَلَىَّ وَاهْدِنِي وَيَسِّرْ هُدَاىَ إِلَىَّ وَانْصُرْنِي عَلَى مَنْ بَغَى عَلَىَّ اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي لَكَ شَاكِرًا لَكَ ذَاكِرًا لَكَ رَاهِبًا لَكَ مِطْوَاعًا إِلَيْكَ مُخْبِتًا أَوْ مُنِيبًا رَبِّ تَقَبَّلْ تَوْبَتِي وَاغْسِلْ حَوْبَتِي وَأَجِبْ دَعْوَتِي وَثَبِّتْ حُجَّتِي وَاهْدِ قَلْبِي وَسَدِّدْ لِسَانِي وَاسْلُلْ سَخِيمَةَ قَلْبِي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৫১০. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারীম (ﷺ) এরূপ দুআ পাঠ করতেনঃ রাব্বী আইন্নী ওয়ালা তুইন আলায়্যা, ওয়ানসুরনা ওয়ালা তানসুর আলাইয়্যা, ওয়ামকুর লী ওয়ালা তামকুর আলইয়্যা, ওয়াহদিনী ওয়া ইয়াসসির হুদায়া আলাইয়্যা, ওয়ানসুরনী আলা মান বাগা আলাইয়্যা। আল্লাহুম্মা ইজআলনী লাকা শাকেরান লাকা রাহেবান লাকা মিতাওয়াআন ইলায়কা, মুখবিতান আও মুনীবান রবি তাকাব্বাল তাওবাতী, ওয়াগছিল হাওবাতী, আজিব দাও’য়াতী, ওয়াছাব্বিত হুজ্জাতী, ওয়াহদে কালবী, ওয়া সাদ্দিদ লিসানী, ওয়াসলুল সাখীমাতা কালবী।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫১১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ مُرَّةَ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ قَالَ " وَيَسِّرِ الْهُدَى إِلَىَّ " . وَلَمْ يَقُلْ " هُدَاىَ " .

বর্ণনাকারী: আমর ইবনে মুররা (রাঃ)

১৫১১. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আমর ইবনে মুররা (রাহঃ) উপরোক্ত হাদীসের সনদ ও অর্থে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি “ওয়া য়াসসিরিল হুদায়া” এর স্থলে “ওয়াসসির হুদা” উল্লেখ করেছেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫১২

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، وَخَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا سَلَّمَ قَالَ " اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمِعَ سُفْيَانُ مِنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ قَالُوا ثَمَانِيَةَ عَشَرَ حَدِيثًا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫১২. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) সালামের পর নামায শেষে এই দুআ পাঠ করতেনঃ আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম তাবারকতা ইয়া যাল-জালালে ওয়াল ইকরাম।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১৫১৩

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا عِيسَى، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ أَبِي عَمَّارٍ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ، عَنْ ثَوْبَانَ، مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَنْصَرِفَ مِنْ صَلاَتِهِ اسْتَغْفَرَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ " . فَذَكَرَ مَعْنَى حَدِيثِ عَائِشَةَ رضى الله عنها .

বর্ণনাকারী: হযরত ছাওবান (রাঃ)

১৫১৩. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) ...... রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আযাদক্রিত গোলাম ছাওবান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন নামায শেষ করতেন, তখন তিনবার ইস্তিগফার পাঠ করতেন। অতঃপর তিনি (ﷺ) বলতেনঃ আল্লাহুম্মা আনতাস-সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল-জালালে ওয়াল ইকরাম।

সূত্র: সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ), আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৩৬৭. ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা সম্পর্কে।

باب فِي الاِسْتِغْفَارِ

১৫১৪

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ وَاقِدٍ الْعُمَرِيُّ، عَنْ أَبِي نُصَيْرَةَ، عَنْ مَوْلًى، لأَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا أَصَرَّ مَنِ اسْتَغْفَرَ وَإِنْ عَادَ فِي الْيَوْمِ سَبْعِينَ مَرَّةً " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)

১৫১৪. আন- নুফায়লী (রাহঃ) ..... আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ইস্তিগফারের (গুনাহে লিপ্ত হওয়ার পর লজ্জিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা) পরে তওবা করে, তবে তা ইসরার (বারবার) হিসাবে গণ্য হবে না; যদিও সে ব্যক্তি দৈনিক সত্তর বারও এরূপ করে।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫১৫

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنِ الأَغَرِّ الْمُزَنِيِّ، - قَالَ مُسَدَّدٌ فِي حَدِيثِهِ وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّهُ لَيُغَانُ عَلَى قَلْبِي وَإِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي كُلِّ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আগার ইবনে ইয়াসার আল-মুযানী রাযি.

১৫১৫. সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ..... আল-আগার আল-মুযানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ অবশ্য কখনো কখনো আমার ‘কলব’ পর্দাবৃত হয় (অর্থাৎ মানুষ হিসাবে দুনিয়ার কাজকর্মে লিপ্ত হওয়ার কারণে আল্লাহর যিক্‌র হতে গাফিল হয়) এবং আমি আল্লাহর নিকট দৈনিক একশত বার ইস্তিগফার করে থাকি।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১৫১৬

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ إِنْ كُنَّا لَنَعُدُّ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَجْلِسِ الْوَاحِدِ مِائَةَ مَرَّةٍ " رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَىَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৫১৬. আল-হাসান ইবনুল আলা (রাযিঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে মসজিদে অবস্থানকালে একই বৈঠকে নিম্নোক্ত দুআটি একশত বার পাঠ করতে-গণনা করেছিঃ রাব্বিগফির লী ওয়াতুব আলায়্যা ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রাহীম।

সূত্র: সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১৫১৭

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ الشَّنِّيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي عُمَرُ بْنُ مُرَّةَ، قَالَ سَمِعْتُ بِلاَلَ بْنَ يَسَارِ بْنِ زَيْدٍ، مَوْلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُنِيهِ عَنْ جَدِّي أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ قَالَ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ غُفِرَ لَهُ وَإِنْ كَانَ فَرَّ مِنَ الزَّحْفِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

১৫১৭. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আযাদকৃত গোলাম বিলাল ইবনে যায়দ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে এই হাদীসটি আমার দাদার সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি নবী করীম (ﷺ)-কে ইরশাদ করতে শুনেনঃ যে ব্যক্তি-

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

“আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুয়া আল-হায়য়ুল কায়ূওম, ওয়া-আতূবু ইলাইহি” পাঠ করবে, যদিও সে ব্যক্তি যুদ্ধের ময়দান হতে পালিয়ে আসে, তবুও তার গুনাহ মার্জিত হবে।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫১৮

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ مُصْعَبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ لَزِمَ الاِسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لاَ يَحْتَسِبُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৫১৮. হিশাম ইবনে আম্মার (রাযিঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তাকে সর্ব প্রকার বিপদাপদ হতে মুক্ত করবেন, এবং সব রকম দুশ্চিন্তা হতে রক্ষা করবেন এবং তার জন্য এমন স্থান হতে রিযিকের ব্যবস্থা করবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারেন না।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৫১৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، ح وَحَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - الْمَعْنَى - عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، قَالَ سَأَلَ قَتَادَةُ أَنَسًا أَىُّ دَعْوَةٍ كَانَ يَدْعُو بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَكْثَرَ قَالَ كَانَ أَكْثَرُ دَعْوَةٍ يَدْعُو بِهَا " اللَّهُمَّ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ " . وَزَادَ زِيَادٌ وَكَانَ أَنَسٌ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَدْعُوَ بِدَعْوَةٍ دَعَا بِهَا وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَدْعُوَ بِدُعَاءٍ دَعَا بِهَا فِيهَا .

বর্ণনাকারী: আব্দুল আযীয ইবন সুহায়ব (রহঃ)

১৫১৯. মুসাদ্দাদ ও যিয়াদ (রাহঃ) ..... আব্দুল আযীয ইবনে সুহায়েব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা কাতাদা (রাহঃ) আনাস (রাযিঃ) এর নিকট জিজ্ঞসা করেন যে, নবী করীম (ﷺ) কোন দুআ অধিক পাঠ করতেন? তখন তিনি বলেনঃ তিনি অধিকাংশ সময় এই দুআ পাঠ করতেনঃ আল্লাহুম্মা আতিনা ফিদ-দুনয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতে হাসানা ওয়াকিনা আযাবান্নার।

রাবী যিয়াদ আরো অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন যে, আনাস (রাযিঃ) যখন দুআ করতেন তখন এই দুআটি করতেন। আর যখন তিনি অতিরিক্ত দুআ করতে চাইতেন, তখনও এই দুআ করতেন।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৫২০

حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ خَالِدٍ الرَّمْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الشَّهَادَةَ صَادِقًا بَلَّغَهُ اللَّهُ مَنَازِلَ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ مَاتَ عَلَى فِرَاشِهِ " .

বর্ণনাকারী: আবু উমামা বিন সাহল (রাঃ)

১৫২০. য়াযীদ ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... আবু উমামা ইবনে সাহল হুনায়ফ (রাযিঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি খাঁটি অন্তরে শাহাদাত প্রাপ্তির কামনা করে, ঐ ব্যক্তি নিজের বিছানায় মারা গেলেও আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদা দান করবেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১৫২১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ الثَّقَفِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ الأَسَدِيِّ، عَنْ أَسْمَاءَ بْنِ الْحَكَمِ الْفَزَارِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا، - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - يَقُولُ كُنْتُ رَجُلاً إِذَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا نَفَعَنِي اللَّهُ مِنْهُ بِمَا شَاءَ أَنْ يَنْفَعَنِي وَإِذَا حَدَّثَنِي أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ اسْتَحْلَفْتُهُ فَإِذَا حَلَفَ لِي صَدَّقْتُهُ قَالَ وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ وَصَدَقَ أَبُو بَكْرٍ - رضى الله عنه - أَنَّهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنْ عَبْدٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا فَيُحْسِنُ الطُّهُورَ ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ إِلاَّ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ " . ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الآيَةَ ( وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ ) إِلَى آخِرِ الآيَةِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

১৫২১. মুসাদ্দাদ (রাযিঃ) .... আসমা ইবনুল হাকাম (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আলী (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ আমি এমন এক ব্যক্তি, যখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে কোন হাদীস শুনি, তখন তার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা আমাকে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী আমলের তৌফিক দান করেন। যখন তাঁর কোন সাহাবী আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করতেন, তখন আমি তার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তাঁকে শপথ করতাম। অতঃপর তিনি যখন সে ব্যাপারে হলফ করে বলতেন, তখন আমি তাকে সত্য বলে গ্রহণ করতাম।

আলী (রাযিঃ) আরো বলেন, আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) আমার নিকট একটি হাদীস বর্ণনা করেন এবং হলফ ছাড়াই আমি তাঁর বর্ণিত হাদীস সত্য বলে গ্রহণ করি। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ যদি কেউ গুনাহে লিপ্ত হাওয়ার পর উত্তমরূপে উযু করে নামাযে দণ্ডায়মান হয়ে দুই রাকআত নামায আদায় করে, অতঃপর ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তাআলা তার ঐ গুনাহ মর্জনা করেন।

অতঃপর আবু বকর (রাযিঃ) কুরআনের এই আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ যারা কোন অন্যায় কাজে কখনো লিপ্ত হয়, অথবা স্বীয় নফসের উপর যুলুম করে (গুনাহের দ্বারা) এইরূপে আয়াতের শেষ পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫২২

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ مُسْلِمٍ، يَقُولُ حَدَّثَنِي أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيُّ، عَنِ الصُّنَابِحِيِّ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ بِيَدِهِ وَقَالَ " يَا مُعَاذُ وَاللَّهِ إِنِّي لأُحِبُّكَ وَاللَّهِ إِنِّي لأُحِبُّكَ " . فَقَالَ " أُوصِيكَ يَا مُعَاذُ لاَ تَدَعَنَّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ تَقُولُ اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ " . وَأَوْصَى بِذَلِكَ مُعَاذٌ الصُّنَابِحِيَّ وَأَوْصَى بِهِ الصُّنَابِحِيُّ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

১৫২২. উবাইদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) ..... মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর হাত ধরে বলেন, হে মুআয! আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে ভালবাসি। অতঃপর তিনি বলেনঃ আমি তোমাকে কিছু ওসয়িত করতে চাই; তুমি নামায পাঠের পর এটা কোন সময় ত্যাগ করবে না। তা হলঃ “আল্লাহুম্মা আইন্নী আলা যিক্‌রিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিক।” অতঃপর মুআয (রাযিঃ) আল-সানাবিহীকে এরূপ ওসীয়ত করেন এবং আল-সানাবিহী আবু আব্দুর রহমানকে এরূপ ওসীয়ত করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৫২৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ حُنَيْنَ بْنَ أَبِي حَكِيمٍ، حَدَّثَهُ عَنْ عُلَىِّ بْنِ رَبَاحٍ اللَّخْمِيِّ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَقْرَأَ بِالْمُعَوِّذَاتِ دُبُرَ كُلِّ صَلاَةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

১৫২৩. মুহাম্মাদ ইবনে সালামা আল-মুরাদী (রাহঃ) .... উকবা ইবনে আমের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে প্রত্যেক নামাযের পর সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫২৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سُوَيْدٍ السَّدُوسِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُعْجِبُهُ أَنْ يَدْعُوَ ثَلاَثًا وَيَسْتَغْفِرَ ثَلاَثًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

১৫২৪. আহমদ ইবনে আলী (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এটা পছন্দনীয় ছিল যে, তিনি তিন বার দুআ পাঠ করতেন এবং তিন বার ইস্তেগফার পাঠ করতেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৫২৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ هِلاَلٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنِ ابْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ، قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَلاَ أُعَلِّمُكِ كَلِمَاتٍ تَقُولِينَهُنَّ عِنْدَ الْكَرْبِ أَوْ فِي الْكَرْبِ اللَّهُ اللَّهُ رَبِّي لاَ أُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا هِلاَلٌ مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ وَابْنُ جَعْفَرٍ هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ .

বর্ণনাকারী: আসমা বিনতে উমাইস (রাঃ)

১৫২৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আসমা বিনতে উমায়েস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেনঃ আমি কি তোমাকে এমন কয়েকটি বাক্য শিক্ষা দিব না, যা তুমি বিপদাপদের সময় পাঠ করতে পার? অতঃপর তিনি বলেনঃ আল্লাহু, আল্লাহু রাব্বী, লা উশরিকু বিহি শায়আন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৫২৬

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، وَعَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، وَسَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، أَنَّ أَبَا مُوسَى الأَشْعَرِيَّ، قَالَ كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَلَمَّا دَنَوْا مِنَ الْمَدِينَةِ كَبَّرَ النَّاسُ وَرَفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ لاَ تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلاَ غَائِبًا إِنَّ الَّذِي تَدْعُونَهُ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَ أَعْنَاقِ رِكَابِكُمْ " . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَا أَبَا مُوسَى أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ " . فَقُلْتُ وَمَا هُوَ قَالَ " لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ " .

বর্ণনাকারী: আবু উসমান নাহদী (রহঃ)

১৫২৬. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আবু উছমান আল-নাহদী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু মুসা আল-আশআরী (রাযিঃ) বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে এক সফরে ছিলাম। অতঃপর তাঁরা মদীনার নিকটবর্তী হলে লোকেরা উচ্চস্বরে তাকবীর ধ্বনি (আল্লাহু আকবার) দেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা তো কোন বধীর এবং অনুপস্থিত ব্যক্তিকে আহবান করছ না, বরং তোমরা (ঐ মহান আল্লাহকে) স্মরণ করছ, যিনি তোমাদের শাহ রগেরও নিকটবর্তী। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হে আবু মুসা! আমি কি তোমাকে এমন একটি জিনিসের কথা অবহিত করব, যা জান্নাতের ভাণ্ডার (খাজানা) স্বরূপ? তখন আমি বলিঃ সেটা কি? তিনি বলেনঃ লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

১৫২৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، أَنَّهُمْ كَانُوا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُمْ يَتَصَعَّدُونَ فِي ثَنِيَّةٍ فَجَعَلَ رَجُلٌ كُلَّمَا عَلاَ الثَّنِيَّةَ نَادَى لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ . فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّكُمْ لاَ تُنَادُونَ أَصَمَّ وَلاَ غَائِبًا " . ثُمَّ قَالَ " يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ " . فَذَكَرَ مَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

১৫২৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তাঁরা নবী করীম (ﷺ)-এর সাথে পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ কালে এক ব্যক্তি উচ্চকণ্ঠে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার” ধ্বনি দেয়। এতদশ্রবণে তিনি বলেনঃ তোমরা বধির বা গায়েব সত্তাকে ডাকছ না। অতঃপর তিনি বলেনঃ হে আব্দুল্লাহ ইবনে কায়েস! অতঃপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ অর্থে বর্ণিত হয়েছে।

১৫২৮

حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، مَحْبُوبُ بْنُ مُوسَى أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْفَزَارِيُّ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، بِهَذَا الْحَدِيثِ وَقَالَ فِيهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " يَا أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ " .

বর্ণনাকারী: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

১৫২৮. আবু সালেহ (রাহঃ) ...... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) হতে পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, অতঃপর নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ হে জনগণ! তোমরা নিম্নস্বর ব্যবহার করে তোমাদের নফসের প্রতি সুবিচার কর।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১৫২৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ، زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شُرَيْحٍ الإِسْكَنْدَرَانِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو هَانِئٍ الْخَوْلاَنِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا عَلِيٍّ الْجَنْبِيَّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ قَالَ رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولاً وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৫২৯. মুহাম্মাদ ইবনে রাফে (রাহঃ) ...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি বলে, আমি রব হিসাবে আল্লাহকে, দ্বীন হিসেবে ইসলামকে এবং রাসূল হিসাবে মুহাম্মাদ (ﷺ)কে পেয়ে সন্তুষ্ট তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১৫৩০

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ صَلَّى عَلَىَّ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫৩০. সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি আমার উপর এক বার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫৩১

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَأَكْثِرُوا عَلَىَّ مِنَ الصَّلاَةِ فِيهِ فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَىَّ " . قَالَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلاَتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرِمْتَ قَالَ يَقُولُونَ بَلِيتَ . قَالَ " إِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِمْ " .

বর্ণনাকারী: আউস ইবনে আউস ছাকাফী (রাঃ)

১৫৩১. আল-হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ...... আওস ইবনে আওস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের জন্য উৎকৃষ্ট দিন হলো জুমআর দিন। তোমরা ঐ দিনে আমার উপর অধিক দরূদ পাঠ করবে। কেননা তোমাদের দরূদ আমার নিকট পেশ করা হয়ে থাকে।

রাবী বলেন, সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার দেহ মোবারক চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে মাটির সাথে মিশে যাবে, তখন কিরূপে তা আপনার সামনে পেশ করা হবে? জবাবে তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাআলা যমীনের জন্য নবীদের শরীরকে হারাম করে দিয়েছেন।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

৩৬৮. সম্পদ ও পরিবার পরিজনদের অভিশাপ দেয়া নিষেধ।

باب النَّهْىِ عَنْ أَنْ يَدْعُوَ الإِنْسَانُ عَلَى أَهْلِهِ وَمَالِهِ

১৫৩২

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، وَيَحْيَى بْنُ الْفَضْلِ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالُوا حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ مُجَاهِدٍ أَبُو حَزْرَةَ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَدْعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ وَلاَ تَدْعُوا عَلَى أَوْلاَدِكُمْ وَلاَ تَدْعُوا عَلَى خَدَمِكُمْ وَلاَ تَدْعُوا عَلَى أَمْوَالِكُمْ لاَ تُوَافِقُوا مِنَ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى سَاعَةَ نَيْلٍ فِيهَا عَطَاءٌ فَيَسْتَجِيبَ لَكُمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا الْحَدِيثُ مُتَّصِلُ الإِسْنَادِ فَإِنَّ عُبَادَةَ بْنَ الْوَلِيدِ بْنِ عُبَادَةَ لَقِيَ جَابِرًا .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৫৩২. হিশাম ইবনে আম্মা (রাহঃ) .... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা নিজেদের অভিশাপ দিও না। তোমরা তোমাদের সন্তান-সন্ততিদের অভিশাপ দিও না, তোমরা তোমাদের চাকর-চাকরানীদের বদ-দুআ কর না এবং তোমরা তোমাদের ধন-সম্পদের প্রতি বদ-দুআ কর না। কেননা এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত আছে যখন দুআ (বা বদ-দুআ) করলে তা কবুল হয়ে যায়। কাজেই তোমার ঐ বদ-দুআ যেন ঐ মুহূর্তের সাথে মিলে না যায়।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

৩৬৯. নবী (ﷺ) ব্যতিত অন্যের উপর দরুদ পাঠ সম্পর্কে।

باب الصَّلاَةِ عَلَى غَيْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم

১৫৩৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ نُبَيْحٍ الْعَنَزِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ امْرَأَةً، قَالَتْ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَلِّ عَلَىَّ وَعَلَى زَوْجِي . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " صَلَّى اللَّهُ عَلَيْكِ وَعَلَى زَوْجِكِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৫৩৩. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ..... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা একজন মহিলা নবী করীম (ﷺ)কে বলেন, আমার ও আমার স্বামীর জন্য দুআ করুন। তখন নবী করীম (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমার এবং তোমার স্বামীর উপর রহম করুন।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৭০. কারো অবর্তমানে তার জন্য দু'আ করা।

باب الدُّعَاءِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ

১৫৩৪

حَدَّثَنَا رَجَاءُ بْنُ الْمُرَجَّى، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ ثَرْوَانَ، حَدَّثَنِي طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ كَرِيزٍ، حَدَّثَتْنِي أُمُّ الدَّرْدَاءِ، قَالَتْ حَدَّثَنِي سَيِّدِي أَبُو الدَّرْدَاءِ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا دَعَا الرَّجُلُ لأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ قَالَتِ الْمَلاَئِكَةُ آمِينَ وَلَكَ بِمِثْلٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

১৫৩৪. রাজা ইবনুল মুরাজজা (রাহঃ) .... আবু দারদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে আমি বলতে শুনেছিঃ যখন কেউ তার মুসলিম ভ্রাতার জন্য তার অনুপস্থিতিতে দুআ করে তখন ফিরিশতাগণ বলেন, আমীন! তখন দুআকারীর জন্যও অনুরূপ হবে।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১৫৩৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ أَسْرَعَ الدُّعَاءِ إِجَابَةً دَعْوَةُ غَائِبٍ لِغَائِبٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

১৫৩৫. আহমাদ ইবনে আমর (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ নিশ্চয় সবচে দ্রুত কবুল হওয়ার দুআ হল অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য অনুপস্থিত ব্যক্তির দুআ।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫৩৬

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " ثَلاَثُ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَاتٌ لاَ شَكَّ فِيهِنَّ دَعْوَةُ الْوَالِدِ وَدَعْوَةُ الْمُسَافِرِ وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫৩৬. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তিন ব্যক্তির দুআ নিঃসন্দেহে কবুল হয়। পিতা-মাতার দুআ (সন্তানের জন্য), মুসাফিরের দুআ এবং মযলুম (নির্যাতিত) ব্যক্তির দুআ।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

৩৭১. শত্রুর ভয়ে ভীত অবস্থায় পাঠ করার দুআ।

باب مَا يَقُولُ إِذَا خَافَ قَوْمًا

১৫৩৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ أَبَاهُ، حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا خَافَ قَوْمًا قَالَ " اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ " .

বর্ণনাকারী: আবু বুরদা আশআরী (রহঃ)

১৫৩৭. মাহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ..... আবু বুরদা ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তাঁর পিতা নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, যখন তিনি (নবী (ﷺ)) কোন সম্প্রদায়ের তরফ হতে কোনরূপ বিপদের আশঙ্কা করতেন তখন এরূপ বলতেনঃ “ইয়া আল্লাহ! আমরা আপনাকে তাদের সাথে মুকাবেলার জন্য যথেষ্ট মনে করি এবং তাদের অত্যাচার-অবিচার হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি।” (আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফী নুহূরিহিম ওয়া নাউযুবিকা মিন শুরূরিহিম)।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

৩৭২. ইস্তিখারার বর্ণনা।

باب فِي الاِسْتِخَارَةِ

১৫৩৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُقَاتِلٍ، خَالُ الْقَعْنَبِيِّ وَمُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى - الْمَعْنَى وَاحِدٌ - قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الْمَوَالِ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُعَلِّمُنَا الاِسْتِخَارَةَ كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ يَقُولُ لَنَا " إِذَا هَمَّ أَحَدُكُمْ بِالأَمْرِ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ الْفَرِيضَةِ وَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلاَ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلاَ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ - يُسَمِّيهِ بِعَيْنِهِ الَّذِي يُرِيدُ - خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَمَعَادِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي وَبَارِكْ لِي فِيهِ اللَّهُمَّ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُهُ شَرًّا لِي مِثْلَ الأَوَّلِ فَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ رَضِّنِي بِهِ " . أَوْ قَالَ " فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ " . قَالَ ابْنُ مَسْلَمَةَ وَابْنُ عِيسَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ جَابِرٍ .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

১৫৩৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে ইস্তিখারার পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষা দান করতেন, যেমন তিনি আমাদেরকে কুরআন পাঠ শিক্ষা দিতেন। তিনি আমাদের বলতেনঃ যখন তোমাদের কেউ কোনরূপ গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সম্মুখীন হবে, তখন এরূপ বলবেঃ

“আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্তাখীরুকা বে-ইলমিকা, ওয়া আসতাকদিরুকা বে-কুদরাতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাদলিকাল আজীম। ফাইন্নাকা তাকদিরু ওয়ালা আকদিরু, ওয়া তালামু, ওয়ালা আলামু ওয়া আনতা আল্লামুল গুয়ূব। আল্লাহুম্মা ফাইন কুনত তা’লামু ইন্না হাযাল আমরা (এখানে নির্ধারিত সমস্যাটির বিষয় উল্লেখ করতে হবে) খায়রান লী ফী দীনী, ওয়া মা’আশী ওয়া মাআদী, ওয়া আকিবাতি আমরী ফা-আকদিরহু লী ওয়া য়াসসিরহু লী ওয়া বারিক লী ফীহে। আল্লাহুম্মা ওয়া ইন কুনতা তা’লামুহু শাররান লী মিছলাল আওয়াল ফা-আসরিফনী আনহু ওয়া আসরিফহু আন্নী ওয়াকদুর লী আল-খায়রা হায়ছু কানা ছুম্মা আরদিনী বিহি, আও কালা ফী আজিলি আমরী ওয়া আযেলিহি।*

* ‘ইসতিখারা’ অর্থ যাতে কল্যাণ নিহিত তা কামনা করা। জীবন যাপনের সাধারণ বিষয়াদিতে কেউ কোনরূপ সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগলে সে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হাওয়ার জন্য ইসতিখারা করবে। সহীহ বুখারী কিতাবুদ দাওয়াত –এ ৪৮ নং অনুচ্ছেদে আছেঃ

“রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) আমাদের প্রতিটি বষয়ে ইসতিখারা শিক্ষা দিতেন ......... তোমাদের মধ্যে কেউ কোন সমস্যায় পতিত হলে সে যেন দুই রাকআত নামায আদায় করে এবং নামায সমাপ্ত করে নিম্নোক্ত দুআ করেঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার জ্ঞানের ভিত্তিতে তোমার নিকট হতে কল্যাণ কামনা করি এবং তোমার শক্তি চাই, তোমার মহান অনুগ্রহ প্রত্যাশা করি। সকল শক্তি তোমার, আমার কোন শক্তি নাই। তুমিই সবকিছু জান, আমি কিছুই জানি না। তুমি সকল আদৃশ্য বিষয় ভালভাবে জ্ঞাত। হে আল্লাহ! আমার দীন, জীবন বিধান এবং পরিণাম হিসাবে যদি তুমি এই কাজ আমার জন্য কল্যাণকর মনে কর তবে আমাকে তার শক্তি দাও। তুমি যদি মনে কর যে, এই কাজ আমার ধর্ম, আমার জীবন ও পরিণাম হিসাবে অকল্যাণকর – তবে আমার থেকে তা দূরে রাখ এবং তা থেকে আমাকে দূরে রাখ। আমার জন্য যেখানে কল্যাণ নিহিত তার আমাকে শক্তি দাও এবং তার মাধ্যমে আমাকে সন্তুষ্ট কর।“

অনুরূপভাবে বুখারী শরীফের কিতাবুত তাওহীদ, ১০ম অনুচ্ছেদে এই দুআ বর্ধিত আকারে বর্ণিত হয়েছে। ইব্‌ন মাজা শরীফের “আল-ইসতিখারা” অনুচ্ছেদে সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণিত হয়েছে, পৃঃ৪৪০ (সুনান, খ. ১, মুহাম্মাদ ফু’আদ আব্দুল বাকী কর্তৃক বিন্যস্ত)। এই দুআ প্রায় অনুরূপ আকারে শীআ ইমামিয়্যা মাযহাবেও প্রচলিত আছে (দ্র. আবু জাফার আল কুম্মী, মান লা ইয়াহ্‌দুরুহুল ফাকীহ খ. ৩৫৫ দারুল-কুতুব আল-ইসলামিয়্যা, নাজাফ ১৩৭৭ হি.)। শরীআতের নিয়ম অনুযায়ী এই ইসতিখারায় দুই রাকআত নামাযের পর আল্লাহ্‌ তাআলার নিকট কল্যাণ কামনা করে দুআ করা হয়।

বিভিন্ন হাদীস হতে এটি স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, মুসলিমগণ প্রাচীন কাল হতেই ইসতিখারার উপর আমল করে আসছিলেন। যখনই ইসতিখারা করা হোক না কেন, তা কেবল মাত্র একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের জন্য করতে হয়। কালের বিবর্তনে ইসতিখারার মধ্যে এমন কিছু নিয়ম প্রবিষ্ট হয়েছে, শরীআতের দৃষ্টিতে যার কোন সমর্থন পাওয়া যায় না। যেমন ইসতিখারার জন্য মসজিদে যাওয়া আবশ্যক ইত্যাদি।

৩৭৩. আশ্রয় প্রার্থনা করা।

باب فِي الاِسْتِعَاذَةِ

১৫৩৯

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَعَوَّذُ مِنْ خَمْسٍ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَسُوءِ الْعُمْرِ وَفِتْنَةِ الصَّدْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

১৫৩৯. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) পাঁচটি বিষয় হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রথনা করতেন। ভীরুতা হতে, কৃপণতা হতে, বায়োবৃদ্ধি জনিত দুরবস্থা হতে অন্তরের মধ্যে সৃষ্ট ফিতনা (হিংসা-বিদ্বেষ) হতে এবং কবরের আযাব হতে।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৫৪০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَخْبَرَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي قَالَ، سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَالْهَرَمِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৫৪০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি শারীরিক দুর্বলতা হতে, অলসতা হতে, কাপুরুষতা হতে, কৃপণতা হতে এবং বায়োবৃদ্ধিজনিত ক্লান্তি বা কষ্ট হতে এবং আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি কবরের আযাব হতে, এবং আমি আরো আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি জীবন-মৃত্যুর ফিতনা হতে।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৫৪১

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، - قَالَ سَعِيدٌ الزُّهْرِيُّ - عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنْتُ أَخْدُمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَكُنْتُ أَسْمَعُهُ كَثِيرًا يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَضَلْعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ " . وَذَكَرَ بَعْضَ مَا ذَكَرَهُ التَّيْمِيُّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৫৪১. সাঈদ ইবনে মনসুর এবং কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খাদেম ছিলাম। আমি তাঁকে অধিকাংশ সময় বলতে শুনতামঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুশ্চিন্তা ও ভাবনা হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং করভার হতে, মানুষের অহেতুক প্রধান্য হতে তোমার আশ্রয় কামনা করছি (অর্থাৎ আমি যেন যালিম বা মাযলুম না হই)।

সূত্র: আলজামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রঃ, আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫৪২

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ الْمَكِّيِّ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُعَلِّمُهُمْ هَذَا الدُّعَاءَ كَمَا يُعَلِّمُهُمُ السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

১৫৪২. আল-কানবী (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদেরকে কুরআনের সূরার মত এই দুআটি শিক্ষা দিতেনঃ ইয় আল্লাহ! আমি তোমার নিকট জাহান্নামের আযাব হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আমি তোমার নিকট কবরের আযাব হতে মুক্তি কামনা করছি, আমি তোমার নিকট মিথ্যুক দাজ্জালের ফিতনা হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং আমি তোমার নিকট জীবন-মৃত্যুর ফিতনা হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫৪৩

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو بِهَؤُلاَءِ الْكَلِمَاتِ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ النَّارِ وَعَذَابِ النَّارِ وَمِنْ شَرِّ الْغِنَى وَالْفَقْرِ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

১৫৪৩. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) এরূপ দুআ করতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঐরূপ ফিতনা হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করেছি, যা জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায় এবং দোযখের আযাব হতে, এবং দরিদ্রতা ও প্রাচুর্যের ক্ষতি হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

সূত্র: কুতুবে সিত্তাহ

১৫৪৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْفَقْرِ وَالْقِلَّةِ وَالذِّلَّةِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫৪৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) এরূপ বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দরিদ্রতা হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তোমার কম অনুকম্পা ও অসম্মানী হতে এবং আমি কারো প্রতি যুলুম করা হতে বা নিজে অত্যাচারিত হওয়া থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৫৪৫

حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْفٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْغَفَّارِ بْنُ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ مِنْ دُعَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ وَتَحْوِيلِ عَافِيَتِكَ وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ وَجَمِيعِ سَخَطِكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

১৫৪৫. ইবনে আওফ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অন্যতম একটি দুআ এই যেঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই তোমার নিআমত অপসারণ হতে, ভালোর পরিবর্তে মন্দ হতে, আকস্মিক বিপদাপদ হতে এবং ঐ সমস্ত ক্রিয়াকান্ড হতে যা তোমার অসন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যায়।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ

১৫৪৬

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنَا ضُبَارَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي السَّلِيكِ، عَنْ دُوَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ السَّمَّانُ، قَالَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الشِّقَاقِ وَالنِّفَاقِ وَسُوءِ الأَخْلاَقِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫৪৬. আমর ইবনে উছমান (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ দুআ করতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই, তোমার বিরুদ্ধাচরণ করা হতে, নিফাক (মুনাফিকী) হতে, অসৎ চরিত্রতা হতে বাঁচার জন্য।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৫৪৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، عَنِ ابْنِ إِدْرِيسَ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُوعِ فَإِنَّهُ بِئْسَ الضَّجِيعُ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخِيَانَةِ فَإِنَّهَا بِئْسَتِ الْبِطَانَةُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫৪৭. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ দুআ করতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কষ্টদায়ক ক্ষুধা হতে পরিত্রাণ চাচ্ছি, কেননা তা অত্যন্ত মারাত্মক এবং আমি তোমার নিকট (আমানতের) খিয়ানত হতে পরিত্রাণ চাচ্ছি, কেননা এটা একটা ক্ষতিকর স্বভাব।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৫৪৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَخِيهِ، عَبَّادِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الأَرْبَعِ مِنْ عِلْمٍ لاَ يَنْفَعُ وَمِنْ قَلْبٍ لاَ يَخْشَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لاَ تَشْبَعُ وَمِنْ دُعَاءٍ لاَ يُسْمَعُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

১৫৪৮. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি চারটি বিষয় হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি-

১। এমন ইলম যা উপকারী নয়;

২। এমন কলব যা (আল্লাহর ভয়ে) ভীত নয়;

৩। এমন নফস হতে যা পরিতৃপ্ত নয় এবং

৪। এরূপ দুআ হতে যা কবুল হয় না।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, সুনানে আরবাআ'(আবু দাউদ,তিরমিযী,নাসাঈ,ইবনে মাজাহ)

১৫৪৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ قَالَ أَبُو الْمُعْتَمِرِ أُرَى أَنَّ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، حَدَّثَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ صَلاَةٍ لاَ تَنْفَعُ " . وَذَكَرَ دُعَاءً آخَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৫৪৯. মুহাম্মাদ ইবনুল মুতাওয়াককিল (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপে দুআ করতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এমন নামায (আদায়) হতে তোমার আশ্রয় কামনা করি, যা কোন উপকারে আসে না। তিনি এতদ্ব্যতীত অন্য দুআও করতেন।

১৫৫০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ الأَشْجَعِيِّ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ عَمَّا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْعُو بِهِ قَالَتْ كَانَ يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا عَمِلْتُ وَمِنْ شَرِّ مَا لَمْ أَعْمَلْ " .

বর্ণনাকারী: ফারওয়া ইবনে নওফাল (রহঃ)

১৫৫০. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... ফারওয় ইবনে নাওফাল (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিরূপে দুআ করতেন? তিনি বলেন, তিনি বলতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঐ সমস্ত অপকর্ম হতে তোমার আশ্রয় কামনা করছি, যা আমি করেছি এবং যা এখনও করি নাই।

সূত্র: আলমুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম ইবনে মাজা রহঃ

১৫৫১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، - الْمَعْنَى - عَنْ سَعْدِ بْنِ أَوْسٍ، عَنْ بِلاَلٍ الْعَبْسِيِّ، عَنْ شُتَيْرِ بْنِ شَكَلٍ، عَنْ أَبِيهِ، فِي حَدِيثِ أَبِي أَحْمَدَ شَكَلِ بْنِ حُمَيْدٍ - قَالَ - قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلِّمْنِي دُعَاءً قَالَ " قُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِي وَمِنْ شَرِّ بَصَرِي وَمِنْ شَرِّ لِسَانِي وَمِنْ شَرِّ قَلْبِي وَمِنْ شَرِّ مَنِيِّي " .

বর্ণনাকারী: শাকাল ইবনে হুমায়দ (রাঃ)

১৫৫১. আহমদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) ..... শাকল ইবনে হুমায়েদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে আবেদন করি যে, আমাকে দুআ শিক্ষা দেন। তখন তিনি বলেনঃ তুমি বল, ইয়া আল্লাহ! আমি কর্ণের অপকর্ম হতে, চোখের দুষ্টামি হতে, যবানের ধৃষ্টতা হতে, কলবের অপসৃষ্টি হতে, বীর্যের অপব্যবহার হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

সূত্র: কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ, আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ

১৫৫২

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ صَيْفِيٍّ، مَوْلَى أَفْلَحَ مَوْلَى أَبِي أَيُّوبَ عَنْ أَبِي الْيَسَرِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَدْمِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ التَّرَدِّي وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْغَرَقِ وَالْحَرَقِ وَالْهَرَمِ وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ يَتَخَبَّطَنِي الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ فِي سَبِيلِكَ مُدْبِرًا وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ لَدِيغًا " .

বর্ণনাকারী: আবুল ইয়াসার (রাঃ)

১৫৫২. উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) ..... আবুল ইয়ুসর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ দুআ করতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঘর-বাড়ী ভেংগে চাপা পড়া হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, উচ্চ স্থান হতে পতিত হওয়ার ব্যাপার হতে, পানিতে ডুবে, আগুনে জ্বলা ও অধিক বায়োবৃদ্ধি হতে তোমার আশ্রয় কামনা করছি এবং আমি তোমার নিকট মৃত্যুর সময় শয়তানের প্ররোচনা হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তোমার নিকট যুদ্ধের ময়দান হতে পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যু হতে তোমার আশ্রয় কামনা করছি এবং আমি তোমার নিকট (সাপ, বিচ্ছুর) দংশনজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করা হতে বাঁচার জন্য তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

সূত্র: আলজামিউল কাবীর - ইমাম তিরমিযী রহঃ, কিতাবুস সুনান-ইমাম নাসাঈ রহঃ

১৫৫৩

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدٍ، حَدَّثَنِي مَوْلًى، لأَبِي أَيُّوبَ عَنْ أَبِي الْيَسَرِ، زَادَ فِيهِ " وَالْغَمِّ " .

বর্ণনাকারী: আবুল ইয়াসার (রাঃ)

১৫৫৩. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) ....... আবুল ইয়ূসর (রাযিঃ) হতে (পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ) বর্ণিত হয়েছে। তাতে কেবলমাত্র ‘গম’ (দুশ্চিন্তা) শব্দটির অতিরিক্ত উল্লেখ আছে।

১৫৫৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَالْجُنُونِ وَالْجُذَامِ وَمِنْ سَيِّئِ الأَسْقَامِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

১৫৫৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) এরূপ দুআ করতেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি শ্বেত (কুষ্ঠ) রোগ হতে, পাগলামী হতে, খুজলী-পাঁচড়া হতে এবং ঘৃণ্য রোগ হতে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

১৫৫৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ الْغُدَانِيُّ، أَخْبَرَنَا غَسَّانُ بْنُ عَوْفٍ، أَخْبَرَنَا الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ الْمَسْجِدَ فَإِذَا هُوَ بِرَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُ أَبُو أُمَامَةَ فَقَالَ " يَا أَبَا أُمَامَةَ مَا لِي أَرَاكَ جَالِسًا فِي الْمَسْجِدِ فِي غَيْرِ وَقْتِ الصَّلاَةِ " . قَالَ هُمُومٌ لَزِمَتْنِي وَدُيُونٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " أَفَلاَ أُعَلِّمُكَ كَلاَمًا إِذَا أَنْتَ قُلْتَهُ أَذْهَبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ هَمَّكَ وَقَضَى عَنْكَ دَيْنَكَ " . قَالَ قُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " قُلْ إِذَا أَصْبَحْتَ وَإِذَا أَمْسَيْتَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحُزَنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ " . قَالَ فَفَعَلْتُ ذَلِكَ فَأَذْهَبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ هَمِّي وَقَضَى عَنِّي دَيْنِي .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

১৫৫৫. আহমাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) ...... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে প্রবেশ করে আবু উমামা (রাযিঃ) নামক জনৈক আনসার সাহাবীকে দেখতে পান। তিনি তাঁকে (আনসারীকে) জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আবু উমামা! আমি তোমাকে নামাযের সময় ব্যতীত মসজিদে উপবিষ্ট কেন দেখেছি? তিনি বলেন, সীমাহীন দুশ্চিন্তা ও ঋণভার জর্জরিত হাওয়ার কারণে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমি এই অসময়ে মসজিদে উপনীত হয়ে তা থেকে আল্লাহর নিকট মুক্তি কামনা করছি)। তিনি বলেনঃ আমি কি তোমাকে এমন বাক্য শিক্ষা দিব না তুমি তা উচ্চারণ করলে আল্লাহ তোমার দুশ্চিন্তা দূরীভূত করবেন এবং তোমার কর্জ পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন। এতদশ্রবণে আমি বলিঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ।

তিনি বলেনঃ তুমি সকাল ও সন্ধায় এরূপে বলবেঃ ″আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল হাম্মে ওয়াল হুযনে, ওয়া আউযু বিকা মিন গালাবাতিদ-দায়নে ওয়া কাহরির রিজাল।″ (অর্থাৎ, ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট যাবতীয় চিন্তা-ভাবনা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আমি তোমার নিকট দুর্বলতা ও অলসতা হতে আশ্রয় কামনা করছি, তোমার নিকট কাপুরুষতা ও কৃপণতা হতে নাজাত কামানা করছি এবং আমি তোমার নিকট ঋণভার ও মানুষের দুষ্ট প্রভাব হতে পরিত্রাণ চাচ্ছি।″

আবু উমামা (রাযিঃ) বলেন, অতঃপর ঐরূপ আমল করি, যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তাআলা আমার চিন্তা-ভাবনা বিদূরিত করেন এবং ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন।
২. নামাযের অধ্যায় — সুনানে আবু দাউদ | ইসলামী যিন্দেগী | ইসলামী যিন্দেগী