كتاب الصوم

৮. রোযার অধ্যায়

অধ্যায় ৮ · ১৬২ টি হাদীস

১৯৪. রোযা ফরয হওয়া।

باب مَبْدَإِ فَرْضِ الصِّيَامِ

২৩০৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَبُّويَةَ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ ) فَكَانَ النَّاسُ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذَا صَلَّوُا الْعَتَمَةَ حَرُمَ عَلَيْهِمُ الطَّعَامُ وَالشَّرَابُ وَالنِّسَاءُ وَصَامُوا إِلَى الْقَابِلَةِ فَاخْتَانَ رَجُلٌ نَفْسَهُ فَجَامَعَ امْرَأَتَهُ وَقَدْ صَلَّى الْعِشَاءَ وَلَمْ يُفْطِرْ فَأَرَادَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يَجْعَلَ ذَلِكَ يُسْرًا لِمَنْ بَقِيَ وَرُخْصَةً وَمَنْفَعَةً فَقَالَ سُبْحَانَهُ ( عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُونَ أَنْفُسَكُمْ ) . وَكَانَ هَذَا مِمَّا نَفَعَ اللَّهُ بِهِ النَّاسَ وَرَخَّصَ لَهُمْ وَيَسَّرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৩০৭. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে শাবওয়া ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। (আল্লাহ বাণীঃ) (অর্থ) ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন তা পূর্বববতীদের জন্য ফরয করা হয়েছিল।’’ নবী করীম (ﷺ) এর যুগে লোকেরা যখন এশার নামায আদায় করতো, তখন তাদের জন্য পানাহার ও স্ত্রী সহবাস হারাম হয়ে যেত এবং তারা পরবর্তী রাত পর্যন্ত রোযা রাখত। তখন এক ব্যক্তি নিজের নফসের প্রতি খিয়ানত করে স্বীয় স্ত্রীর সাথে সহবাস করে। অথচ সে এশার নামায আদায় করেছিল, কিন্তু ইফতার করেনি, (অর্থাৎ সন্ধ্যার পর কোন খাদ্য গ্রহণ করেনি)। এরপর আল্লাহ্ তাআলা এ নির্দেশ অন্যদের জন্য সহজ, স্বেচ্ছাধীন ও উপকারী করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ (অর্থ) ‘আল্লাহ্ জানেন, তোমরা তোমাদের নফসের প্রতি (পানাহার ও সহবাসের দ্বারা) খিয়ানত করেছিলে।’’ আর এ নির্দেশ দ্বারা আল্লাহ্ মানুষের উপকার করেছেন এবং এটা তাদের জন্য সহজ ও স্বেচ্ছাধীন করেছেন।

২৩০৮

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ نَصْرٍ الْجَهْضَمِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ إِسْحَاقَ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ كَانَ الرَّجُلُ إِذَا صَامَ فَنَامَ لَمْ يَأْكُلْ إِلَى مِثْلِهَا وَإِنَّ صِرْمَةَ بْنَ قَيْسٍ الأَنْصَارِيَّ أَتَى امْرَأَتَهُ وَكَانَ صَائِمًا فَقَالَ عِنْدَكِ شَىْءٌ قَالَتْ لاَ لَعَلِّي أَذْهَبُ فَأَطْلُبُ لَكَ شَيْئًا . فَذَهَبَتْ وَغَلَبَتْهُ عَيْنُهُ فَجَاءَتْ فَقَالَتْ خَيْبَةً لَكَ . فَلَمْ يَنْتَصِفِ النَّهَارُ حَتَّى غُشِيَ عَلَيْهِ وَكَانَ يَعْمَلُ يَوْمَهُ فِي أَرْضِهِ فَذَكَرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَنَزَلَتْ ( أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ ) قَرَأَ إِلَى قَوْلِهِ ( مِنَ الْفَجْرِ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

২৩০৮. নসর ইবনে আলী ..... আল-বারাআ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা যখন রোযা রাখত তখন যদি কেউ না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ত তবে তাকে পরবর্তী রাত পর্যন্ত না খেয়ে থাকতে হতো। একদা সূরামা ইবনে কায়স সারাদিন রোযা রাখার পর রাতে তার স্ত্রীর নিকট আগমন করে তাকে বলে, তোমার নিকট কোন খাদ্য আছে কি? সে বলে, না। তবে আমি যাই, তোমার জন্য খাদ্যের যোগাড় করে আনি। সে (স্ত্রী) যাওয়ার পর, সে (স্বামী) গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এরপর খাদ্য নিয়ে ফেরার পর তাকে নিদ্রিত দেখে সে বলে, তোমার জন্য বঞ্চিত থাকা ব্যতীত আর কিছুই নেই। পরের দিন সে যখন তার যমীনে কর্মরত ছিল, তখন দ্বিপ্রহর হয়ে পড়ে। এরপর নবী করীম (ﷺ) এর নিকট যখন তা উল্লেখ করা হয়, তখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (অর্থ) ‘‘তোমাদের জন্য রমযানের রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস হালাল করা হল ......... (হতে) সকাল পর্যন্ত’’ পূর্ণ আয়াত।

১৯৫. ’’যারা রোযার সামর্থ্য রাখে অথচ রোযা রাখে না তারা ফিদ্য়া দিবে’’ আল্লাহ তা'আলার এ বাণী মানসূখ ( রহিত) হওয়া।

باب نَسْخِ قَوْلِهِ { وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ }

২৩০৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا بَكْرٌ، - يَعْنِي ابْنَ مُضَرَ - عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ يَزِيدَ، مَوْلَى سَلَمَةَ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ) كَانَ مَنْ أَرَادَ مِنَّا أَنْ يُفْطِرَ وَيَفْتَدِيَ فَعَلَ حَتَّى نَزَلَتِ الآيَةُ الَّتِي بَعْدَهَا فَنَسَخَتْهَا .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

২৩০৯. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ..... সালামা ইবনুল আকওয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (অর্থ) ‘‘যারা সামর্থবান (অথচ রোযা রাখে না বা রোযা রাখার ক্ষমতা রাখে না) তারা মিসকীনদের ফিদিয়া দিবে’’। আমাদের মধ্যে যারা রোযা না রেখে ফিদিয়া দেওয়ার ইচ্ছা করতো, তারা তা করতো। এরপর পরবর্তী আয়াত নাযিল হওয়ায় পূর্ববর্তী আয়াতের হুকুম মানসূখ (রহিত) হয়ে যায়।

২৩১০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، ( وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ) فَكَانَ مَنْ شَاءَ مِنْهُمْ أَنْ يَفْتَدِيَ بِطَعَامِ مِسْكِينٍ افْتَدَى وَتَمَّ لَهُ صَوْمُهُ فَقَالَ ( فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ ) وَقَالَ ( فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ) .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৩১০. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যারা সামর্থবান, তারা মিসকীনদের ফিদয়া দিবে। এরপর তাদের মধ্যে যে মিসকীনদের ফিদিয়া দিতে ইচ্ছা করতো, সে তা প্রদান করতো এবং সে নিজের রোযা পূর্ণ করতো। এরপর আল্লাহ্ বলেনঃ যে ব্যক্তি অধিক দান খয়রাত করবে, তা তার জন্য উত্তম। আর যদি তোমরা রোযা রাখ, তবে তা অধিক উত্তম। আল্লাহ্ তাআলা আরো বলেনঃ যে ব্যক্তি রমযান মাসে উপনীত হয়, সে যেন অবশ্যই রোযা রাখে। আর যে অসুস্থ হবে বা সফরে থাকবে সে তা অন্য দিনে গণনা করবে, অর্থাৎ রোযা আদায় করবে।

১৯৬. বৃদ্ধ ও গর্ভবতীর জন্য রোযা না রেখে ফিদ্য়া দেয়ার ব্যাপারে নির্দেশ বহাল রয়েছে বলে যারা মত পোষণ করেন।

باب مَنْ قَالَ هِيَ مُثْبَتَةٌ لِلشَّيْخِ وَالْحُبْلَى

২৩১১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، أَنَّ عِكْرِمَةَ، حَدَّثَهُ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ أُثْبِتَتْ لِلْحُبْلَى وَالْمُرْضِعِ .

বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)

২৩১১. মুসা ইবনে ইসমাঈল ...... ইকরিমা (রাহঃ) বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন, এ (ঐচ্ছিক ব্যাপারে) নির্দেশ কেবল দুগ্ধ প্রদানকারিণী ও গর্ভবতীদের জন্য বহাল রয়েছে।

২৩১২

حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَزْرَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، ( وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ) قَالَ كَانَتْ رُخْصَةً لِلشَّيْخِ الْكَبِيرِ وَالْمَرْأَةِ الْكَبِيرَةِ وَهُمَا يُطِيقَانِ الصِّيَامَ أَنْ يُفْطِرَا وَيُطْعِمَا مَكَانَ كُلِّ يَوْمٍ مِسْكِينًا وَالْحُبْلَى وَالْمُرْضِعُ إِذَا خَافَتَا - قَالَ أَبُو دَاوُدَ يَعْنِي عَلَى أَوْلاَدِهِمَا - أَفْطَرَتَا وَأَطْعَمَتَا .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৩১২. ইবনে আল্ মুসান্না .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ বাণীঃ (অর্থ) সামর্থবান তারা মিসকীনদের ফিদিয়া প্রদান করবে। তিনি বলেন, এ আয়াতটি অতি বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা লোকের জন্য ঐচ্ছিক ব্যবস্থা সবরূপ। যদি তারা রোযা রাখতে সমর্থ হয়, তবে রোযা রাখবে, অন্যথায় প্রত্যহ একজন মিসকীনকে খাদ্য খাওয়াবে। আর গর্ভবতী ও দৃগ্ধদানকারীণী স্ত্রীলোকগণ যদি সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা বোধ করে, তবে তাদের জন্যও এ নির্দেশ বহাল রয়েছে।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, যদি তারা তাদের সন্তানের ব্যাপারে শংকিত হয়, তবে তারা রোযা না রেখে (মিসকীনকে) খাদ্য খাওয়াতে পারে।

১৯৭. মাস উনত্রিশ দিনেও হয়।

باب الشَّهْرِ يَكُونُ تِسْعًا وَعِشْرِينَ

২৩১৩

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَمْرٍو، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ - عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّا أُمَّةٌ أُمِّيَّةٌ لاَ نَكْتُبُ وَلاَ نَحْسُبُ الشَّهْرُ هَكَذَا وَ هَكَذَا وَهَكَذَا " . وَخَنَسَ سُلَيْمَانُ أُصْبَعَهُ فِي الثَّالِثَةِ يَعْنِي تِسْعًا وَعِشْرِينَ وَثَلاَثِينَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৩১৩. সুলাইমান ইবনে হরব ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ আমরা উম্মী জাতির অর্ন্তভূক্ত। আমরা লিখতে জানি না এবং মাসের হিসাবও করতে পারি না। এপর তিনি এরূপ, এরূপ বলে (তিনবার) নিজের (দশ) আঙ্গুলি প্রসারিত করেন। রাবী সুলাইমান তৃতীয়বারে তার একটি আঙ্গুল সংকুচিত করেন, অর্থাৎ রোযার মাস উনত্রিশ বা তিরিশ দিনে হয় (এর প্রতি ইশারা করেন।)

২৩১৪

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ فَلاَ تَصُومُوا حَتَّى تَرَوْهُ وَلاَ تُفْطِرُوا حَتَّى تَرَوْهُ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ ثَلاَثِينَ " . قَالَ فَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا كَانَ شَعْبَانُ تِسْعًا وَعِشْرِينَ نُظِرَ لَهُ فَإِنْ رُؤِيَ فَذَاكَ وَإِنْ لَمْ يُرَ وَلَمْ يَحُلْ دُونَ مَنْظَرِهِ سَحَابٌ وَلاَ قَتَرَةٌ أَصْبَحَ مُفْطِرًا فَإِنْ حَالَ دُونَ مَنْظَرِهِ سَحَابٌ أَوْ قَتَرَةٌ أَصْبَحَ صَائِمًا . قَالَ فَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يُفْطِرُ مَعَ النَّاسِ وَلاَ يَأْخُذُ بِهَذَا الْحِسَابِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৩১৪. সুলাইমান ইবনে দাউদ ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ রোযার মাস উনত্রিশ দিনেও হয়। কাজেই তোমরা চাঁদ না দেখে রোযা রাখবে না এবং চাঁদ (শাওয়ালের) না দেখে ইফতার করবে না। আর তোমাদের আকাশ যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তবে তোমরা ত্রিশ রোযা পূর্ণ করবে। রাবী বলেন, এরপর ইবনে উমর (রাযিঃ) যখন শা‘বানের উনত্রিশ তারিখ হতো, তখন তিনি রমযানের চাঁদ অন্বেষণ করতেন। যদি তিনি তা দেখতে পেতেন, তবে তিনি রোযার রাখতেন। আর যদি তিনি তা মেঘের প্রতিবন্ধকতা বা ধূলিচ্ছন্নতা না থাকা অবস্থায় খোলা আকাশে চাঁদ দেখতে না পেতেন, তবে তিনি পরদিন সকালে রোযা না রেখে খানা খেতেন। আর মেঘাচ্ছন্নতার বা অন্য কোন কারণে, যদি তিনি চাঁদ (রমযানের) দেখতে সক্ষম না হতেন তবে পরদিন রোযা রাখতেন। রাবী বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) লোকদের সাথে ইফতার করতেন, আর তিনি একে (রমযানের) রোযা হিসাবে গণনা করতেন না, (বরং তা হতো তার নফল রোযা)।

২৩১৫

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنِي أَيُّوبُ، قَالَ كَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ إِلَى أَهْلِ الْبَصْرَةِ بَلَغَنَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . نَحْوَ حَدِيثِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم زَادَ وَإِنَّ أَحْسَنَ مَا يُقَدَّرُ لَهُ إِذَا رَأَيْنَا هِلاَلَ شَعْبَانَ لِكَذَا وَكَذَا فَالصَّوْمُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لِكَذَا وَكَذَا إِلاَّ أَنْ تَرَوُا الْهِلاَلَ قَبْلَ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: আইয়ুব সাখতিয়ানী (রহঃ)

২৩১৫. হুমাইদ ইবনে মাস্আদা .... আইয়ুব বলেন, উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) বসরার অধিবাসীদের নিকট এ মর্মে পত্র লিখেন যে, ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এর হাদীসটি আমাদরে নিকট পৌঁছেছে। তবে তিনি (উমর ইবনে আব্দুল আযীয) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, আর গণনার জন্য উত্তম পন্থা হল, আমরা শা‘বানের নতুন চাঁদকে অমুক বা অমুক তারিখে দেখি, কাজেই রোযা ইনশাআল্লাহ্ অমুক তারিখ হবে তা বলতে পারি। অবশ্য যদি উনত্রিশে শাবানের পর রমযানের চাঁদ দেখা যায় তবে (ত্রিশের জন্য অপেক্ষা না করে) রোযা রাখতে হবে।

২৩১৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ عِيسَى بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ بْنِ أَبِي ضِرَارٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ لَمَا صُمْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تِسْعًا وَعِشْرِينَ أَكْثَرُ مِمَّا صُمْنَا مَعَهُ ثَلاَثِينَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৩১৬. আহমদ ইবনে মানী’ ..... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী করীম (ﷺ) এর সাথে পূর্ণ ত্রিশদিন রোযা রাখার চাইতে উনত্রিশ রোযা বেশী রেখেছি।

২৩১৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَنَّ يَزِيدَ بْنَ زُرَيْعٍ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ شَهْرَا عِيدٍ لاَ يَنْقُصَانِ رَمَضَانُ وَذُو الْحِجَّةِ " .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবু বাকরা (রহঃ)

২৩১৭. মুসাদ্দাদ ...... আব্দুর রহমান ইবনে আবু বাকরা তাঁর পিতা হতে, তিনি নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, দু‘ ঈদের মাস সাধারণত (ত্রিশ দিনের) কম হয় না এবং তা হল রমযান ও যিলহজ্জ মাস। (অর্থাৎ একই বছর উভয় মাস ২৯ দিনের হয় না। বরং একটি ৩০ দিনের ও অপরটি ২৯ দিনেরও হতে পারে। )

১৯৮. নতুন চাঁদ দেখতে লোকেরা ভুল করলে।

باب إِذَا أَخْطَأَ الْقَوْمُ الْهِلاَلَ

২৩১৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - فِي حَدِيثِ أَيُّوبَ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ذَكَرَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِيهِ قَالَ " وَفِطْرُكُمْ يَوْمَ تُفْطِرُونَ وَأَضْحَاكُمْ يَوْمَ تُضَحُّونَ وَكُلُّ عَرَفَةَ مَوْقِفٌ وَكُلُّ مِنًى مَنْحَرٌ وَكُلُّ فِجَاجِ مَكَّةَ مَنْحَرٌ وَكُلُّ جَمْعٍ مَوْقِفٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩১৮. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) এর নিকট নতুন চাঁদ দর্শনে লোকজনের ভুলত্রুটির কথা উল্লেখ করা হলে তিনি ইরশাদ করেনঃ যেদিন তোমরা সকলে রোযা রাখবে না সেদিন হল ঈদুল ফিতর আর কুরবানীর ঈদ সে দিন যেদিন তোমরা কুরবানী করবে। আর আরাফাতের ময়দানের সর্বত্রই অবস্থানের জায়গা। মিনার পূর্ণ অংশই কুরবানীর স্থান। আর মক্কার প্রতিটি রাস্তাই কুরবানীর স্থান এবং পুরো মুযদালিফাই অবস্থানস্থল। (অর্থাৎ আরাফাতের যে কোন স্থানে কিয়াম করা যায় আর মুযদালিফার যে কোন স্থানে রাত্রিযাপন করা যায় এবং মিনা ও মক্কার রাজপথে যে কোন স্থানে কুরবানী করা যায়।)

১৯৯. মেঘাচ্ছন্নতার জন্য নতুন চাঁদ না দেখার কারণে, রোযার মাস যদি গোপন থাকে।

باب إِذَا أُغْمِيَ الشَّهْرُ

২৩১৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَيْسٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - تَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَحَفَّظُ مِنْ شَعْبَانَ مَا لاَ يَتَحَفَّظُ مِنْ غَيْرِهِ ثُمَّ يَصُومُ لِرُؤْيَةِ رَمَضَانَ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْهِ عَدَّ ثَلاَثِينَ يَوْمًا ثُمَّ صَامَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩১৯. আহমদ ইবনে হাম্বল ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আবু কায়স বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) শা‘বান মাস ব্যতীত অন্য কোন মাসের দিন উত্তমভাবে মুখস্থ রাখতেন না। এরপর রমযানের চাঁদ দেখে রোযা শুরু করতেন। যদি (উনত্রিশে শাবান) আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকত তবে তিনি ত্রিশ দিন পূর্ণ করতেন। এরপর রোযা রাখতেন।

২৩২০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الضَّبِّيُّ، عَنْ مَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُقَدِّمُوا الشَّهْرَ حَتَّى تَرَوُا الْهِلاَلَ أَوْ تُكْمِلُوا الْعِدَّةَ ثُمَّ صُومُوا حَتَّى تَرَوُا الْهِلاَلَ أَوْ تُكْمِلُوا الْعِدَّةَ " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَرَوَاهُ سُفْيَانُ، وَغَيْرُهُ عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيٍّ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يُسَمِّ حُذَيْفَةَ

বর্ণনাকারী: হযরত হুযায়ফা রাযি

২৩২০. মুহাম্মাদ ইবনুল সাববাহ্ ..... হুযাইফা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ রামাযারে চাঁদ না দেখা গেলে অথবা শা‘বানের ত্রিশ দিন পূর্ণ না হলে তোমরা রোযাকে এগিয়ে আনবে না। রোযার চাঁদ দেখা গেলে অথবা শা‘বানের (ত্রিশ) দিন পূর্ণ হলেই রোযা রাখা আরম্ভ করবে এবং যে পর্যন্ত শাওয়ালের চাঁদ দেখা না যায় অথবা রোযার (ত্রিশ) দিন পূর্ণ না হয় সে পর্যন্ত রোযা রেখে যাবে। অর্থাৎ চাঁদ দেখে রোযা শুরু করবে এবং চাঁদ দেখেই রোযা শেষ করবে।

২০০. যদি রমযানের উনত্রিশ তারিখে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে এবং শাওয়ালের চাঁদ দেখা না যায় তবে তোমরা ত্রিশ রোযা পূর্ণ করবে।

باب مَنْ قَالَ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَصُومُوا ثَلاَثِينَ

২৩২১

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تُقَدِّمُوا الشَّهْرَ بِصِيَامِ يَوْمٍ وَلاَ يَوْمَيْنِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ شَىْءٌ يَصُومُهُ أَحَدُكُمْ وَلاَ تَصُومُوا حَتَّى تَرَوْهُ ثُمَّ صُومُوا حَتَّى تَرَوْهُ فَإِنْ حَالَ دُونَهُ غَمَامَةٌ فَأَتِمُّوا الْعِدَّةَ ثَلاَثِينَ ثُمَّ أَفْطِرُوا وَ الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ حَاتِمُ بْنُ أَبِي صَغِيرَةَ وَشُعْبَةُ وَالْحَسَنُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ سِمَاكٍ بِمَعْنَاهُ لَمْ يَقُولُوا " ثُمَّ أَفْطِرُوا " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «وَهُوَ حَاتِمُ بْنُ مُسْلِمٍ ابْنُ أَبِي صَغِيرَةَ، وَأَبُو صَغِيرَةَ زَوْجُ أُمِّهِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৩২১. আল্ হাসান ইবনে আলী ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা রমযানের মাস আগমনের এক বা দু‘দিন পূর্বে রোযা রাখবে না, অবশ্য যদি কেউ এরূপ রোযা রাখায় অভ্যস্ত থাকে, তবে স্বতন্ত্র ব্যাপার। আর রমযানের চাঁদ দেখার পূর্বে তোমরা রোযা রাখবে না এবং শাওয়ালের চাঁদ দেখার পূর্ব পর্যন্ত রোযা রাখবে। আর যদি এর মধ্যে মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তবে ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে এবং পরে ইফতার করবে। আর সাধারণত চন্দ্রমাস হয় উনত্রিশ দিনে।

২০১. রমযানের আগমনের পূর্বে রোযা রাখা।

باب فِي التَّقَدُّمِ

২৩২২

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، وَسَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي الْعَلاَءِ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لِرَجُلٍ " هَلْ صُمْتَ مِنْ سَرَرِ شَعْبَانَ شَيْئًا " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَإِذَا أَفْطَرْتَ فَصُمْ يَوْمًا " . وَقَالَ أَحَدُهُمَا " يَوْمَيْنِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রাযি.

২৩২২. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি শা‘বানের রোযা রাখ? সে বলে, না। তিনি বললেনঃ যখন তুমি রমযানের রোযা শেষ করবে, তখন একদিন বা, দু‘দিন রোযা রাখবে।

২৩২৩

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْعَلاَءِ الزُّبَيْدِيُّ، مِنْ كِتَابِهِ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِي الأَزْهَرِ الْمُغِيرَةِ بْنِ فَرْوَةَ، قَالَ قَامَ مُعَاوِيَةُ فِي النَّاسِ بِدَيْرِ مِسْحَلٍ الَّذِي عَلَى بَابِ حِمْصَ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا قَدْ رَأَيْنَا الْهِلاَلَ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا وَأَنَا مُتَقَدِّمٌ بِالصِّيَامِ فَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَفْعَلَهُ فَلْيَفْعَلْهُ . قَالَ فَقَامَ إِلَيْهِ مَالِكُ بْنُ هُبَيْرَةَ السَّبَئِيُّ فَقَالَ يَا مُعَاوِيَةُ أَشَىْءٌ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمْ شَىْءٌ مِنْ رَأْيِكَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " صُومُوا الشَّهْرَ وَسِرَّهُ " .

বর্ণনাকারী: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

২৩২৩. ইবরাহীম ইবনে আল-আল যুবায়দী ..... আবুল আযহার আল-মুগীরা ইবনে ফারওয়া হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা মুআবিআ লোকদের সম্মুখে খুতবা দেয়ার জন্য এমন একটি গৃহে দণ্ডায়মান হন যেখানে হিমসের বৈরাগীরা বসবাস করতো। এরপর তিনি বলেন, হে জনগণ! আমরা অমুক দিন চাঁদ দেখেছি। কাজেই আমরা রোযা রাখতে যাচ্ছি। আর যে ব্যক্তি এরূপ করতে ভালবাসে, সে যেন তা করে। রাবী বলেন, তখন তাঁর সম্মুখে মালিক ইবনে হুবায়রা আল্ সাবায়ী দণ্ডায়মান হয়ে বলেন, হে মুআবিয়া! তুমি তা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হতে শ্রবণ করেছ, না এটা তোমার নিজের অভিমত? তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা (শা‘বান) মাসে রোযা রাখবে এবং বিশেষভাবে এর শেষের দিকে।

২৩২৪

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدِّمَشْقِيُّ، - فِي هَذَا الْحَدِيثِ - قَالَ قَالَ الْوَلِيدُ سَمِعْتُ أَبَا عَمْرٍو - يَعْنِي الأَوْزَاعِيَّ - يَقُولُ سِرُّهُ أَوَّلُهُ .

বর্ণনাকারী: আওযায়ী (রহঃ)

২৩২৪. সুলাইমান ইবনে আব্দুর রহমান দিমাশকী বর্ণনা করেন যে, ওয়ালীদ বলেন, আমি আবু আমর আল আওয়াযী হতে শুনেছি হাদীসে বর্ণিত ″সাররাহ″ অর্থ মাসের প্রথমভাগ।

২৩২৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُسْهِرٍ، قَالَ كَانَ سَعِيدٌ - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ - يَقُولُ سِرُّهُ أَوَّلُهُ ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: " وَقَالَ بَعْضُهُمْ: سِرُّهُ وَسَطُهُ، وَقَالُوا: آخِرُهُ "

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৩২৫. আহমদ ইবনে আব্দুল ওয়াহেদ সূত্রে বর্ণিত আবু মুসহির বলেন, অর্থাৎ সাঈদ ইবনে আব্দুল আযীয বলতেন, ″সাররাহ″ শব্দের অর্থ প্রথমাংশ। (অর্থাৎ শা‘বানের প্রথমাংশে রোযা রাখার তাগিদ দিয়েছেন।)

২০২. যদি কোন শহরে অন্যান্য শহরের এক রাত পূর্বে চাঁদ দেখা যায়।

باب إِذَا رُؤِيَ الْهِلاَلُ فِي بَلَدٍ قَبْلَ الآخَرِينَ بِلَيْلَةٍ

২৩২৬
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَرْمَلَةَ، أَخْبَرَنِي كُرَيْبٌ، أَنَّ أُمَّ الْفَضْلِ ابْنَةَ الْحَارِثِ، بَعَثَتْهُ إِلَى مُعَاوِيَةَ بِالشَّامِ قَالَ فَقَدِمْتُ الشَّامَ فَقَضَيْتُ حَاجَتَهَا فَاسْتُهِلَّ رَمَضَانُ وَأَنَا بِالشَّامِ فَرَأَيْنَا الْهِلاَلَ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ ثُمَّ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فِي آخِرِ الشَّهْرِ فَسَأَلَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ ثُمَّ ذَكَرَ الْهِلاَلَ فَقَالَ مَتَى رَأَيْتُمُ الْهِلاَلَ قُلْتُ رَأَيْتُهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ . قَالَ أَنْتَ رَأَيْتَهُ قُلْتُ نَعَمْ وَرَآهُ النَّاسُ وَصَامُوا وَصَامَ مُعَاوِيَةُ . قَالَ لَكِنَّا رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ السَّبْتِ فَلاَ نَزَالُ نَصُومُهُ حَتَّى نُكْمِلَ الثَّلاَثِينَ أَوْ نَرَاهُ . فَقُلْتُ أَفَلاَ تَكْتَفِي بِرُؤْيَةِ مُعَاوِيَةَ وَصِيَامِهِ قَالَ لاَ هَكَذَا أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا الْأَشْعَثُ، عَنِ الْحَسَنِ، فِي رَجُلٍ كَانَ بِمِصْرٍ مِنَ الأَمْصَارِ، فَصَامَ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ، وَشَهِدَ رَجُلَانِ أَنَّهُمَا رَأَيَا الْهِلَالَ لَيْلَةَ الْأَحَدِ، فَقَالَ: لَا يَقْضِي ذَلِكَ الْيَوْمَ الرَّجُلُ، وَلَا أَهْلُ مِصْرِهِ، إِلَّا أَنْ يَعْلَمُوا أَنَّ أَهْلَ مِصْرٍ مِنْ أَمْصَارِ الْمُسْلِمِينَ قَدْ صَامُوا يَوْمَ الْأَحَدِ فَيَقْضُوهُ

বর্ণনাকারী: কুরাইব (রহঃ)

২৩২৬. মুসা ই্ন ইসমাঈল ..... কুরায়ব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মে ফযল বিনতে আল হারিস তাঁকে মুআবিয়ার নিকট শাম (সিরিয়া) দেশে প্রেরণ করেন। তিনি বলেন, আমি সিরিয়া পৌঁছে, তার প্রয়োজন পূর্ণ করি। আমি সিরিয়া থাকাবস্থায় রমযানের চাঁদ ওঠে এবং আমরা উহা জুমআর রাত্রিতে অবলোকন করি। এরপর আমি রমযানের শেষর দিকে মদীনায় প্রত্যাবর্তন করি। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) আমাকে সফর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন এবং বিশেষ করে চাঁদ দেখা সম্পর্কে বলেন, তোমরা রমযানের চাঁদ কখন দেখেছিলে? আমি বলি, আমি তা জুমআর রাতে দেখেছি। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি নিজেও কি তা দেখেছিলে? আমি বলি, হ্যাঁ এবং অন্যান্য লোকেরাও দেখে এবং তারা রোয়া রাখে, এমনকি মুআবিয়াও রোযা রাখেন। তিনি বলেন, আমরা তো তা শনিবারে দেখেছি। কাজেই আমরা ত্রিশ পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত রোযা রাখব অথবা শাওয়ালের চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোযা রেখে যাবো। আমি জিজ্ঞসা করি, মুআবিয়ার দর্শন ও রোযা রাখা কি এ ব্যাপরে যথেষ্ট নয়? তিনি বলেন, না। আমাদেরকে রাসৃলুল্লাহ্ (ﷺ) এরূপ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

আল-হাসান (রাহঃ) সূত্রে কোনো এক শহরের অধিবাসী সম্পর্কে বর্ণিত। লোকটি সোমবার সওম পালন করে এবং দুই ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, তারা রবিবার দিবাগত সন্ধ্যায় চাঁদ দেখেছে। তিনি বললেন, ঐ লোক এবং তার অধিবাসীকে সওম কাযা করতে হবে না যতক্ষণ না তারা জানতে পারে যে, ঐ জনপদের লোকেরা রবিবার সওম পালন করেছে। তাহলে তারা সওমের কাযা করবে।

২০৩. সন্দেহজনক দিবসে রোযা রাখা মাকরূহ।

باب كَرَاهِيَةِ صَوْمِ يَوْمِ الشَّكِّ

২৩২৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ صِلَةَ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ عَمَّارٍ فِي الْيَوْمِ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ فَأُتِيَ بِشَاةٍ فَتَنَحَّى بَعْضُ الْقَوْمِ فَقَالَ عَمَّارٌ مَنْ صَامَ هَذَا الْيَوْمَ فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: আম্মার ইবন ইয়াসির আল-'আনযী (রা)

২৩২৭. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ ..... সিলা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা সন্দেহজনক দিবসে আম্মার (রাযিঃ) এর নিকট ছিলাম। সেখানে একটি ভুনা বকরী পেশ করা হলে সেখানকার কিছু লোক (রোযা থাকার কারণে) তা খাওয়া হতে বিরত থাকে। আম্মার (রাযিঃ) বলেন, আজ (এ সন্দেহজনক দিবসে) যে রোযা রেখেছে, সে তো আবুল কাসিম (ﷺ) এর নাফরমানী করেছে।

২০৪. যারা শা’বানের রোযাকে রমযানের রোযার সাথে মিশ্রিত করেন।

باب فِيمَنْ يَصِلُ شَعْبَانَ بِرَمَضَانَ

২৩২৮

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَقَدَّمُوا صَوْمَ رَمَضَانَ بِيَوْمٍ وَلاَ يَوْمَيْنِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ صَوْمًا يَصُومُهُ رَجُلٌ فَلْيَصُمْ ذَلِكَ الصَّوْمَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩২৮. মুসলিম ইবনে ইবরাহীম ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা রমযানের আগমনের পূর্বে তার রোযাকে একদিন বা দু‘দিন এগিয়ে নিও না। অবশ্য যদি কেউ ঐ দিন (শা‘বানের শেষ তারিখে) রোযা রাখতে অভ্যস্ত থাকে, তবে সে যেন ঐ রোযা রাখে।

২৩২৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ تَوْبَةَ الْعَنْبَرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يَصُومُ مِنَ السَّنَةِ شَهْرًا تَامًّا إِلاَّ شَعْبَانَ يَصِلُهُ بِرَمَضَانَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

২৩২৯. আহমদ ইবনে হাম্বল ..... উম্মে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) কোন বছর-ই রমযানের নিকটবর্তী শা‘বান মাস ব্যতীত অন্য কোন মাস পূর্ণ রোযা রাখতেন না।

২০৫. শা’বানের শেষার্ধে রোযা রাখা মাকরূহ।

باب فِي كَرَاهِيَةِ ذَلِكَ

২৩৩০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ قَدِمَ عَبَّادُ بْنُ كَثِيرٍ الْمَدِينَةَ فَمَالَ إِلَى مَجْلِسِ الْعَلاَءِ فَأَخَذَ بِيَدِهِ فَأَقَامَهُ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ إِنَّ هَذَا يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا انْتَصَفَ شَعْبَانُ فَلاَ تَصُومُوا " . فَقَالَ الْعَلاَءُ اللَّهُمَّ إِنَّ أَبِي حَدَّثَنِي عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ: رَوَاهُ الثَّوْرِيُّ، وَشِبْلُ بْنُ الْعَلَاءِ، وَأَبُو عُمَيْسٍ، وَزُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَلَاءِ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: " وَكَانَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ، لَا يُحَدِّثُ بِهِ، قُلْتُ لِأَحْمَدَ: لِمَ قَالَ؟ لِأَنَّهُ كَانَ عِنْدَهُ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَصِلُ شَعْبَانَ بِرَمَضَانَ، وَقَالَ: عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خِلَافَهُ "، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «وَلَيْسَ هَذَا عِنْدِي خِلَافُهُ، وَلَمْ يَجِئْ بِهِ غَيْرُ الْعَلَاءِ، عَنْ أَبِيهِ»

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৩০. বুতায়বা ইবনে সাঈদ, আব্দুল আযীয ইবনে মুহাম্মাদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আব্বাদ ইবনে কাসীর মদীনা গিয়ে আলা ইবনে আব্দুর রহমানের মজলিসে পৌঁছলেন এবং তাঁর হাত ধরে তাঁকে দাঁড় করিয়ে বললেন, এই ব্যক্তি তাঁর পিতা হতে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে হাদীস বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ শা‘বানের অর্ধেক যখন অতিবাহিত হয়, তখন তোমরা রোযা রাখবে না। তখন আলা বলেন, হে আল্লাহ! আমার পিতা (আব্দুর রহমান) আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে এবং তিনি নবী করীম (ﷺ) হতে এরূপ বর্ণনা করেছেন।

২০৬. শাওয়ালের চাঁদ দর্শনে দু’ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রদান।

باب شَهَادَةِ رَجُلَيْنِ عَلَى رُؤْيَةِ هِلاَلِ شَوَّالٍ

২৩৩১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ أَبُو يَحْيَى الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا عَبَّادٌ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ الْحَارِثِ الْجَدَلِيُّ، - مِنْ جَدِيلَةِ قَيْسٍ أَنَّ أَمِيرَ مَكَّةَ خَطَبَ ثُمَّ قَالَ عَهِدَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَنْسُكَ لِلرُّؤْيَةِ فَإِنْ لَمْ نَرَهُ وَشَهِدَ شَاهِدَا عَدْلٍ نَسَكْنَا بِشَهَادَتِهِمَا فَسَأَلْتُ الْحُسَيْنَ بْنَ الْحَارِثِ مَنْ أَمِيرُ مَكَّةَ قَالَ لاَ أَدْرِي . ثُمَّ لَقِيَنِي بَعْدُ فَقَالَ هُوَ الْحَارِثُ بْنُ حَاطِبٍ أَخُو مُحَمَّدِ بْنِ حَاطِبٍ ثُمَّ قَالَ الأَمِيرُ إِنَّ فِيكُمْ مَنْ هُوَ أَعْلَمُ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ مِنِّي وَشَهِدَ هَذَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَأَوْمَأَ بِيَدِهِ إِلَى رَجُلٍ قَالَ الْحُسَيْنُ فَقُلْتُ لِشَيْخٍ إِلَى جَنْبِي مَنْ هَذَا الَّذِي أَوْمَأَ إِلَيْهِ الأَمِيرُ قَالَ هَذَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ . وَصَدَقَ كَانَ أَعْلَمَ بِاللَّهِ مِنْهُ فَقَالَ بِذَلِكَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হারিস ইবন হাতিব (রাঃ)

২৩৩১. মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহীম ...... হুসাইন ইবনে আল হারিস আল জাদলী থেকে বর্ণিত যে, একদা মক্কার আমীর খুতবা প্রদানের সময় বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন যে, আমরা যেন শাওয়ালের চাঁদ দেখাকে ইবাদত হিসাবে গুরুত্ব দেই। আর আমরা স্বচক্ষে যদি তা না দেখি তবে দু‘জন ন্যায়পরায়ন লোক এ ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান করলে তখন আমরা যেন তাদের সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করি। তখন প্রশ্নকারী (আবু মালিক) আল হুসাইন ইবনে আল হারিসকে মক্কার আমীরের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেন যে, তার নাম কী? তিনি বলেন, আমি জানি না। কিছুক্ষণ পরে আবার আমার সাথে সাক্ষাত করে তিনি বলেন, তাঁর নাম আল হারিস ইবনে হাতিব, যিনি মুহাম্মাদ ইবনে হাতিবের ভাই।

এরপর আমীর বলেন, তোমাদের মধ্যে আমার চাইতে যিনি অধিক জ্ঞানী, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সম্পর্কে তিনি এ বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন? এরপর তিনি এক ব্যক্তির প্রতি ইশারা করেন। হুসাইন বলেন, আমি আমার পাশ্ববর্তী একজন শায়খকে জিজ্ঞাসা করি, এই ব্যক্তি কে যার প্রতি আমীর ইশারা করলেন? তিনি বলেন, ইনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) আর তিনি সত্য বলেন যে, তাঁর (আমীরের) চাইতে তিনি (আব্দুল্লাহ ইবনে উমর) আল্লাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী ছিলেন। তখন তিনি (আব্দুল্লাহ ইবনে উমর) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে এরূপ করতে নির্দেশ প্রদান করেন। (অর্থাৎ নতুন চাঁদ দেখার সাক্ষ্য প্রদান গ্রহণকে শরীআতের বিধান হিসাবে গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন।)
২৩৩২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَخَلَفُ بْنُ هِشَامٍ الْمُقْرِئُ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ اخْتَلَفَ النَّاسُ فِي آخِرِ يَوْمٍ مِنْ رَمَضَانَ فَقَدِمَ أَعْرَابِيَّانِ فَشَهِدَا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِاللَّهِ لأَهَلاَّ الْهِلاَلَ أَمْسِ عَشِيَّةً فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّاسَ أَنْ يُفْطِرُوا زَادَ خَلَفٌ فِي حَدِيثِهِ وَأَنْ يَغْدُوا إِلَى مُصَلاَّهُمْ .

বর্ণনাকারী: রিবঈ ইবনে হিরাশ (রহঃ)

২৩৩২. মুসাদ্দাদ ও খালফ ইবনে হিশাম আল মুকরী ..... রিবঈ ইবনে হিরাশ নবী করীম (ﷺ) এর জনৈক সাহাবী হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, একদা লোকেরা রমযানের শেষে শাওয়ালের চাঁদ সম্পর্কে মতভেদ করেন। তখন দু‘জন বেদুঈন নবী করীম (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে আল্লাহর শপথ করে সাক্ষ্য প্রদান করেন যে, গত সন্ধ্যায় তারা শাওয়ালের চাঁদ দেখেছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদেরকে রোযা ভাঙ্গার নির্দেশ দেন। রাবী খালফ তাঁর হাদীসে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আরও নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আর তারা যেন আগামী দিন ঈদের নামায আদায়ের জন্য ঈদগাহে গমন করে।’’

২০৭. রমযানের চাঁদ দেখার ব্যাপারে এক ব্যক্তির সাক্ষ্য।

باب فِي شَهَادَةِ الْوَاحِدِ عَلَى رُؤْيَةِ هِلاَلِ رَمَضَانَ

২৩৩৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ الرَّيَّانِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي ثَوْرٍ ح وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ، - يَعْنِي الْجُعْفِيَّ - عَنْ زَائِدَةَ، - الْمَعْنَى - عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنِّي رَأَيْتُ الْهِلاَلَ - قَالَ الْحَسَنُ فِي حَدِيثِهِ يَعْنِي رَمَضَانَ - فَقَالَ " أَتَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " أَتَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " يَا بِلاَلُ أَذِّنْ فِي النَّاسِ فَلْيَصُومُوا غَدًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৩৩৩. মুহাম্মাদ ইবনে বাক্কার ইবনে রাঈয়ান ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জনৈক বেদুঈন নবী করীম (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলে, আমি চাঁদ দেখেছি। রাবী হাসান তাঁর হাদীসে বলেন, অর্থাৎ রমযানের চাঁদ। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি এরূপ সাক্ষ্য প্রদান কর যে, আল্লাহ্ ব্যতিত কোন ইলাহ্ নেই? সে বলে, হ্যাঁ। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি এরূপ সাক্ষ্য প্রদান কর যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল? সে বলে, হ্যাঁ। তিনি বিলালকে বলেন, তুমি লোকদের জানিয়ে দাও, যেন তারা আগামী দিন রোযা রাখে।

২৩৩৪

حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، أَنَّهُمْ شَكُّوا فِي هِلاَلِ رَمَضَانَ مَرَّةً فَأَرَادُوا أَنْ لاَ يَقُومُوا وَلاَ يَصُومُوا فَجَاءَ أَعْرَابِيٌّ مِنَ الْحَرَّةِ فَشَهِدَ أَنَّهُ رَأَى الْهِلاَلَ فَأُتِيَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَتَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ " . قَالَ نَعَمْ . وَشَهِدَ أَنَّهُ رَأَى الْهِلاَلَ فَأَمَرَ بِلاَلاً فَنَادَى فِي النَّاسِ أَنْ يَقُومُوا وَأَنْ يَصُومُوا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ جَمَاعَةٌ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ مُرْسَلاً وَلَمْ يَذْكُرِ الْقِيَامَ أَحَدٌ إِلاَّ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ .

বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)

২৩৩৪. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... ইকরিমা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সাহাবীগণ রমযানের চাঁদ দেখার ব্যাপারে সন্দিহান হন। তাঁরা তারাবির নামায আদায় করার এবং (পরদিন) রোযা না রাখার ইচ্ছা করেন। এমতাবস্থায় হাররা নামক স্থান হতে জনৈক বেদুঈন আগমন করে সাক্ষ্য দেয় যে, সে চাঁদ দেখেছে। তাকে নবী করীম (ﷺ) এর নিকট আনয়ন করা হয়। তিনি জিজ্ঞাসা করেন তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল? সে বলে, হ্যাঁ এবং আরও সাক্ষ্য দেয় যে, সে নতুন চাঁদ দেখেছে। তিনি বিলালকে নির্দেশ দেন যে, সে যেন লোকদের জানিয়ে দেয়, যাতে তারা তারাবীহ্ নামায আদায় করে এবং পরদিন রোযা রাখে।

২৩৩৫

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّمَرْقَنْدِيُّ، - وَأَنَا لِحَدِيثِهِ، أَتْقَنُ - قَالاَ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، - هُوَ ابْنُ مُحَمَّدٍ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ تَرَاءَى النَّاسُ الْهِلاَلَ فَأَخْبَرْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنِّي رَأَيْتُهُ فَصَامَهُ وَأَمَرَ النَّاسَ بِصِيَامِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৩৩৫. মুহামূদ ইবনে খালিদ ও আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্দুর রহমান সমরকান্দী .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা লোকেরা রমযানের চাঁদ অন্বেষণ করে, কিন্তু দেখতে পায়নি। পরে এক ব্যক্তি রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ)কে এরূপ খবর দেয় যে, সে চাঁদ দেখেছে। এরপর তিনি রোযা রাখেন এবং লোকদেরকেও রোযা রাখার নির্দেশ দেন।

২০৮. সাহরী খাওয়ার গুরুত্ব।

باب فِي تَوْكِيدِ السُّحُورِ

২৩৩৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُلَىِّ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ، مَوْلَى عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ فَصْلَ مَا بَيْنَ صِيَامِنَا وَصِيَامِ أَهْلِ الْكِتَابِ أَكْلَةُ السَّحَرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আমর ইবনুল আস রাযি.

২৩৩৬. মুসাদ্দাদ ..... আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ আমাদের রোযার মধ্যে এবং আহলে কিতাবদের রোযার মধ্যে পার্থক্য হল সাহরী খাওয়া।

২০৯. সাহরীকে যারা নাশ্তা হিসাবে আখ্যায়িত করেন।

باب مَنْ سَمَّى السَّحُورَ الْغَدَاءَ

২৩৩৭
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ خَالِدٍ الْخَيَّاطُ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ يُونُسَ بْنِ سَيْفٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي رُهْمٍ، عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ، قَالَ دَعَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى السَّحُورِ فِي رَمَضَانَ فَقَالَ " هَلُمَّ إِلَى الْغَدَاءِ الْمُبَارَكِ " .

حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْوَزِيرِ أَبُو الْمُطَرِّفِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ نِعْمَ سَحُورُ الْمُؤْمِنِ التَّمْرُ ‏"‏ ‏.‏

বর্ণনাকারী: ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাঃ)

২৩৩৭. আমর ইবনে মুহাম্মাদ ..... আল্-ইরবায ইবনে সারিয়া (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে রমযানের মাসে সাহরীর সময় আহবান করেন, এবং বলেন, কল্যাণময় সকালের খাবারের দিকে (সাহরীর দিকে) সত্তর আগমন করো।

আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ ঈমানদার ব্যক্তির জন্য খেজুর দিয়ে সাহরী খাওয়া কতোই না উত্তম!

২১০. সাহরীর সময়।

باب وَقْتِ السُّحُورِ

২৩৩৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَوَادَةَ الْقُشَيْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ سَمُرَةَ بْنَ جُنْدُبٍ، يَخْطُبُ وَهُوَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَمْنَعَنَّ مِنْ سَحُورِكُمْ أَذَانُ بِلاَلٍ وَلاَ بَيَاضُ الأُفُقِ الَّذِي هَكَذَا حَتَّى يَسْتَطِيرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রাঃ)

২৩৩৮. মুসাদ্দাদ ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে সাওয়াদা আল কুশায়রী তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ)-কে খুতবা দেওয়ার সময় বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ বিলালের আযান এবং পূর্ব আকাশের এরূপ শুভ্র আলো যতক্ষণ না তা পূর্ব দিগন্তে প্রসারিত হয়, তা যেন তোমাদেরকে খাওয়া হতে বিরত না রাখে।

২৩৩৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ التَّيْمِيِّ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَمْنَعَنَّ أَحَدَكُمْ أَذَانُ بِلاَلٍ مِنْ سَحُورِهِ فَإِنَّهُ يُؤَذِّنُ - أَوْ قَالَ يُنَادِي - لِيَرْجِعَ قَائِمُكُمْ وَيَنْتَبِهَ نَائِمُكُمْ وَلَيْسَ الْفَجْرُ أَنْ يَقُولَ هَكَذَا " . قَالَ مُسَدَّدٌ وَجَمَعَ يَحْيَى كَفَّيْهِ حَتَّى يَقُولَ هَكَذَا وَمَدَّ يَحْيَى بِأُصْبَعَيْهِ السَّبَّابَتَيْنِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৩৩৯. মুসাদ্দাদ ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ বিলালের আযান যেন তোমাদের কাউকে সাহরী খাওয়া হতে বিরত না রাখে, কেননা সে আযান দেয় অথবা (রাবীর সন্দেহ) আহবান করে, যারা তাহাজ্জুদ নামাযে রত থাকে, তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য এরূপ তোমাদের মধ্যে যা নিদ্রিত থাকে তাদের জাগাবার জন্য। আর ততক্ষণ ফজর হয় না, যতক্ষণ না এরূপ হয় এ বলে ইয়াহয়া তাঁর হাতের তালুতে মুষ্টিবদ্ধ করে প্রসারিত করেন, পরে তাঁর হাতের তালুর অঙ্গুলি প্রসারিত করে দেন।

২৩৪০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا مُلاَزِمُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ النُّعْمَانِ، حَدَّثَنِي قَيْسُ بْنُ طَلْقٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كُلُوا وَاشْرَبُوا وَلاَ يَهِيدَنَّكُمُ السَّاطِعُ الْمُصْعِدُ فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَعْتَرِضَ لَكُمُ الأَحْمَرُ " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «هَذَا مِمَّا تَفَرَّدَ بِهِ أَهْلُ الْيَمَامَةِ»

বর্ণনাকারী: কায়স ইবনে তলক (রহঃ)

২৩৪০ মুহাম্মাদাদ ইবনে ঈসা ..... কায়স ইবনে তালক (রাহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা খাও এবং পান করো, আর তোমাদেকে যেন সু্বহে সাদিকের উচ্চ লম্বা রেখা (যা পূর্ব হতে পশ্চিমে দৃশ্যমান) সাহরী খাওয়া হতে বিরত না রাখে। আর তোমরা ততক্ষণ পানাহার করো, যতক্ষণ না সুবহে সাদিকের লম্বা লাল আলোকরশ্মি (যা পূর্বাকাশে উত্তর দক্ষিণে দৃশ্যমান) প্রকাশ পায়।

২৩৪১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حُصَيْنُ بْنُ نُمَيْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، - الْمَعْنَى - عَنْ حُصَيْنٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ ( حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ ) . قَالَ أَخَذْتُ عِقَالاً أَبْيَضَ وَعِقَالاً أَسْوَدَ فَوَضَعْتُهُمَا تَحْتَ وِسَادَتِي فَنَظَرْتُ فَلَمْ أَتَبَيَّنْ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَضَحِكَ فَقَالَ " إِنَّ وِسَادَكَ لَعَرِيضٌ طَوِيلٌ إِنَّمَا هُوَ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ " . قَالَ عُثْمَانُ " إِنَّمَا هُوَ سَوَادُ اللَّيْلِ وَبَيَاضُ النَّهَارِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আদী ইবনে হাতিম (রাঃ)

২৩৪১. মুসাদ্দাদ ..... আদী ইবনে হাতিম (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (অর্থ) ‘‘তোমরা ততক্ষণ পানাহার কর, যতক্ষণ না কালো সুতা হতে সাদা সুতা উজ্জ্বল হয়’’ রাবী বলেন, তখন আমি এক টুকরা কালো ও এক টুকরা সাদা সুতা আমার বালিশের নীচে রাখি। এরপর আমি এর প্রতি দৃষ্টিপাত করি, কিন্তু প্রকৃত রহস্য অনুধাবণ করতে অক্ষম হই। তখন আমি তা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট প্রকাশ করলে, তিনি হেসে ওঠেন এবং বলেন, তোমার বালিশ তো বেশ দৈর্ঘ্য প্রস্থধারী, বরং এর (কালো ও সাদা সুতার) রহস্য হলো রাত ও দিনের প্রকাশ। রাবী উসমান বলেন, বরং তা রাতের অন্ধকার ও দিনের শুভ্রতা।

২১১. সাহরীর খাবার গ্রহণরত অবস্থায় আযান শুনতে পেলে।

باب فِي الرَّجُلِ يَسْمَعُ النِّدَاءَ وَالإِنَاءُ عَلَى يَدِهِ

২৩৪২

حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا سَمِعَ أَحَدُكُمُ النِّدَاءَ وَالإِنَاءُ عَلَى يَدِهِ فَلاَ يَضَعْهُ حَتَّى يَقْضِيَ حَاجَتَهُ مِنْهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৪২. আব্দুল আলা ইবনে হাম্মাদ ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ফজরের আযান শ্রবণ করে, আর এ সময় তার হাতে খাদ্যের পাত্র থাকে, সে যেন আযানের কারণে খাদ্য গ্রহণ বন্ধ না করে যতক্ষণ না সে তদ্বারা স্বীয় প্রয়োজন পূর্ণ না করে ।

২১২. রোযাদারের ইফ্তারের সময়।

باب وَقْتِ فِطْرِ الصَّائِمِ

২৩৪৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ هِشَامٍ، - الْمَعْنَى - قَالَ هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " إِذَا جَاءَ اللَّيْلُ مِنْ هَا هُنَا وَذَهَبَ النَّهَارُ مِنْ هَا هُنَا " . زَادَ مُسَدَّدٌ " وَغَابَتِ الشَّمْسُ فَقَدْ أَفْطَرَ الصَّائِمُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২৩৪৩. আহমাদ ইবনে হাম্বল ..... আসিম ইবনে উমর (রাহঃ) তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন পূর্বাকাশে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে এবং সূর্য পশ্চিমাকাশে অস্তমিত হয়, রাবী মুসাদ্দাদ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, যখন সূর্য ডুবে যায়, তখন যেন রোযাদার ইফতার করে।

২৩৪৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى، يَقُولُ سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ صَائِمٌ فَلَمَّا غَرَبَتِ الشَّمْسُ قَالَ " يَا بِلاَلُ انْزِلْ فَاجْدَحْ لَنَا " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ أَمْسَيْتَ . قَالَ " انْزِلْ فَاجْدَحْ لَنَا " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ عَلَيْكَ نَهَارًا . قَالَ " انْزِلْ فَاجْدَحْ لَنَا " . فَنَزَلَ فَجَدَحَ فَشَرِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ " إِذَا رَأَيْتُمُ اللَّيْلَ قَدْ أَقْبَلَ مِنْ هَا هُنَا فَقَدْ أَفْطَرَ الصَّائِمُ " . وَأَشَارَ بِأُصْبُعِهِ قِبَلَ الْمَشْرِقِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবী আউফা (রাঃ)

২৩৪৪. মুসাদ্দাদ ...... সুলাইমান আল-শায়বানী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে গমন করি, তখন তিনি রোযাদার ছিলেন। এরপর সূর্য অস্তমিত হলে, তিনি বলেন, হে বিলাল! তুমি অবতরণ কর, এবং আমাদের (ইফতারের) জন্য ছাতু তৈরী করে আনো। তিনি (বিলাল) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হতাম, (তবে ভাল হতো) তিনি বলেন, তুমি অবতরণ করো এবং আমাদের জন্য ছাতু তৈরী করে আনো। তখন তিনি অবতরণ করে ছাতু তৈরী করে আনলেন। এরপর রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) তা পান করে বলেন, যখন তোমরা রাতকে এদিক হতে আসতে দেখবে, তখন যেন রোযাদার ইফতার করে। এরপর তিনি স্বীয় অঙ্গুলি দ্বারা পূর্বাকাশের প্রতি ইশারা করেন।

২১৩. দ্রুত (সূর্যাস্তের পরপরই) ইফ্তার করা মুস্তাহাব।

باب مَا يُسْتَحَبُّ مِنْ تَعْجِيلِ الْفِطْرِ

২৩৪৫

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، - يَعْنِي ابْنَ عَمْرٍو - عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَزَالُ الدِّينُ ظَاهِرًا مَا عَجَّلَ النَّاسُ الْفِطْرَ لأَنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى يُؤَخِّرُونَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৪৫. ওয়াহব ইবনে বাকিয়্যা ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেনঃ দীন ততদিন বিজয়ী থাকবে, যতদিন লোকেরা জলদি ইফতার করবে। কেননা, ইয়াহুদী ও নাসারারা ইফতার অধিক বিলম্বে করে।

২৩৪৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ أَبِي عَطِيَّةَ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ - رضى الله عنها - أَنَا وَمَسْرُوقٌ فَقُلْنَا يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ رَجُلاَنِ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم أَحَدُهُمَا يُعَجِّلُ الإِفْطَارَ وَيُعَجِّلُ الصَّلاَةَ وَالآخَرُ يُؤَخِّرُ الإِفْطَارَ وَيُؤَخِّرُ الصَّلاَةَ قَالَتْ أَيُّهُمَا يُعَجِّلُ الإِفْطَارَ وَيُعَجِّلُ الصَّلاَةَ قُلْنَا عَبْدُ اللَّهِ . قَالَتْ كَذَلِكَ كَانَ يَصْنَعُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: আবু আতিয়্যা (রহঃ)

২৩৪৬. মুসাদ্দাদ ..... আবু আতিয়্যা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং মাসরূক (রাহঃ) আয়িশা (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে বলি, হে উম্মুল মু‘মিনীন! মুহাম্মাদ (ﷺ) এর সাহাবীদের মধ্যে দু‘ব্যক্তির এক ব্যক্তি তাড়াতাড়ি ইফতার করেন এবং তাড়াতাড়ি মাগরিবের নামায আদায় করেন এবং অপর ব্যক্তি ইফতার ও নামায আদায়ে বিলম্ব করেন। তিনি (আয়িশা) বলেন, তাদের মধ্যে কে তাড়াতাড়ি ইফতার করেন এবং নামাযও (মাগরিবের) তাড়াতাড়ি আদায় করেন? আমরা বলি, আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এরূপই করতেন।

২১৪. যা দিয়ে ইফ্তার করতে হবে।

باب مَا يُفْطَرُ عَلَيْهِ

২৩৪৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ، عَنِ الرَّبَابِ، عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ، عَمِّهَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ صَائِمًا فَلْيُفْطِرْ عَلَى التَّمْرِ فَإِنْ لَمْ يَجِدِ التَّمْرَ فَعَلَى الْمَاءِ فَإِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ " .

বর্ণনাকারী: সালমান ইবনে আমির যব্বী (রাঃ)

২৩৪৭. মুসাদ্দাদ ..... সালমান ইবনে আমের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ রোযা রাখে, তখন সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। আর সে যদি খেজুর না পায়, তবে সে যেন পানি দ্বারা ইফতার করে, কেননা পানি পবিত্র।

২৩৪৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُفْطِرُ عَلَى رُطَبَاتٍ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ رُطَبَاتٌ فَعَلَى تَمَرَاتٍ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ حَسَا حَسَوَاتٍ مِنْ مَاءٍ .

বর্ণনাকারী: ছাবিত বুনানী (রহঃ)

২৩৪৮. আহমদ ইবনে হাম্বল ..... সাবিত আল্ বানানী (রাহঃ) আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মাগরিবের নামায আদায়ের পূর্বে পাকা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। আর যদি পাকা খেজুর না পেতেন, তখন তিনি শুকনা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। আর যদি তাও না হতো, তখন তিনি কয়েক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করতেন।

২১৫. ইফ্তারের সময় কী বলতে হবে।

باب الْقَوْلِ عِنْدَ الإِفْطَارِ

২৩৪৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى أَبُو مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ، أَخْبَرَنِي الْحُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، - يَعْنِي ابْنَ سَالِمٍ - الْمُقَفَّعُ - قَالَ رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ يَقْبِضُ عَلَى لِحْيَتِهِ فَيَقْطَعُ مَا زَادَ عَلَى الْكَفِّ وَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَفْطَرَ قَالَ " ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৩৪৯. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ..... ইবনে সালিম আল্-মুকাফফা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে এক মুষ্টির অধিক দাঁড়ি কর্তন করতে দেখেছি। এরপর তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইফতারের সময় বলতেন, তৃষ্ণা নিবারিত হয়েছে, শিরা-উপশিরা পরিতৃপ্ত হয়েছে এবং আল্লাহ্ চাহেতু বিনিময় নির্ধারিত হয়েছে।

২৩৫০

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ زُهْرَةَ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَفْطَرَ قَالَ " اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৩৫০. মুসাদ্দাদ ..... মুআয ইবনে যোহরা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি ইফতারের সময় এই দুআ পড়তেন (অর্থ): হে আল্লাহ্! আমি তোমারই জন্য রোযা রেখেছি এবং তোমরাই রিযক দ্বারা ইফতার করছি।

২১৬. সূর্যাস্তের পূর্বে ইফ্তার করা।

باب الْفِطْرِ قَبْلَ غُرُوبِ الشَّمْسِ

২৩৫১

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ أَفْطَرْنَا يَوْمًا فِي رَمَضَانَ فِي غَيْمٍ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ طَلَعَتِ الشَّمْسُ قَالَ أَبُو أُسَامَةَ قُلْتُ لِهِشَامٍ أُمِرُوا بِالْقَضَاءِ قَالَ وَبُدٌّ مِنْ ذَلِكَ

বর্ণনাকারী: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

২৩৫১. হারূন ইবনে আব্দুল্লাহ্ ও মুহাম্মাদ ইবনে আলা .... আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর যুগে মেঘাচ্ছন্ন দিনে সূর্য অস্তমিত হয়েছে মনে করে আমরা রমযানের রোযার ইফতার করি। এরপর সূর্য প্রকাশ পায়। আবু উসামা বলেন, আমি হিশামকে জিজ্ঞাসা করি, এতে কি ক্বাযা আদায় করতে হবে? তিনি বলেন, তা অবশ্য করণীয়।

২১৭. সাওমে বিসাল্।[১]

باب فِي الْوِصَالِ

২৩৫২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ نَهَى عَنِ الْوِصَالِ، قَالُوا فَإِنَّكَ تُوَاصِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " إِنِّي لَسْتُ كَهَيْئَتِكُمْ إِنِّي أُطْعَمُ وَأُسْقَى " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৩৫২. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা আল্ কা‘নবী ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাওমে বিসাল রাখতে নিষেধ করেছেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি তো ক্রমাগত রোযা রেখে থাকেন? তিনি বলেন, আমি তোমাদের মত নই, আমাকে পানাহার করানো হয়ে থাকে।

[১] রাতে কিছু না খেয়ে, দু' বা ততোধিক দিন ক্রমাগত রোযা রাখাকে সাওমে বিসাল বলা হয়।

২১৭. সাওমে বিসাল্।

باب فِي الْوِصَالِ

২৩৫৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، أَنَّ بَكْرَ بْنَ مُضَرَ، حَدَّثَهُمْ عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَبَّابٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ تُوَاصِلُوا فَأَيُّكُمْ أَرَادَ أَنْ يُوَاصِلَ فَلْيُوَاصِلْ حَتَّى السَّحَرِ " . قَالُوا فَإِنَّكَ تُوَاصِلُ . قَالَ " إِنِّي لَسْتُ كَهَيْئَتِكُمْ إِنَّ لِي مُطْعِمًا يُطْعِمُنِي وَسَاقِيًا يَسْقِينِي " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৩৫৩. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ....... আবু সাঈদ আল্ খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ)কে বলতে শুনেছেনঃ তোমরা ক্রমাগত রাতে না খেয়ে রোযা রাখবে না। অবশ্য তোমাদের কেউ যদি ক্রমাগত রোযা রাখতে চায়, সে যেন সাহরী পর্যন্ত এরূপ করে। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করেন, আপনি তো ক্রমাগত রোযা রাখেন। তিনি বলেন, অবশ্যই আমি তোমাদের মত নই, আমার একজন খাদ্য প্রদানকারী আছেন, যিনি আমাকে খাওয়ান এবং পানীয় প্রদানকারী আছেন, যিনি আমাকে পান করান।

২১৮. রোযাদারের জন্য গীবত করা।

باب الْغِيبَةِ لِلصَّائِمِ

২৩৫৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ " . قَالَ أَحْمَدُ فَهِمْتُ إِسْنَادَهُ مِنَ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ وَأَفْهَمَنِي الْحَدِيثَ رَجُلٌ إِلَى جَنْبِهِ أُرَاهُ ابْنَ أَخِيهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৫৪. আহমদ ইবনে ইউনুস ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রোযাবস্থায় মিথ্যা কথা ও অপকর্ম পরিহার করে না, সে ব্যক্তির পানাহার পরিত্যাগ করাতে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।

২৩৫৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الصِّيَامُ جُنَّةٌ إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ صَائِمًا فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَجْهَلْ فَإِنِ امْرُؤٌ قَاتَلَهُ أَوْ شَاتَمَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ إِنِّي صَائِمٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৫৫. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা আল কা‘নবী ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ রোযা রাখলে সে যেন অশ্লীল কথাবার্তা ও অপকর্মে লিপ্ত না হয়। যদি এই সময় কেউ তার সাথে মারামারি ও গালাগালি করতে আসে, তখন সে যেন বলে, আমি রোযাদার, আমি রোযাদার।

২১৯. রোযাদার ব্যক্তির মিসওয়াক করা।

باب السِّوَاكِ لِلصَّائِمِ

২৩৫৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَسْتَاكُ وَهُوَ صَائِمٌ . زَادَ مُسَدَّدٌ مَا لاَ أَعُدُّ وَلاَ أُحْصِي .

বর্ণনাকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে আমির ইবনে রবীআ (রহঃ)

২৩৫৬. মুহাম্মাদ ইবনে আল্ সাববাহ .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমের ইবনে রাবীআ তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে রোযা অবস্থায় মিস্ওয়াক করতে দেখেছি। রাবী মুসাদ্দাদ (مَا لاَ أَعُدُّ وَلاَ أُحْصِي) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।

২২০. তৃষ্ণার্ত হওয়ার কারণে মাথায় পানি দেয়া এবং বার বার নাকে পানি দেয়া।

باب الصَّائِمِ يَصُبُّ عَلَيْهِ الْمَاءَ مِنَ الْعَطَشِ وَيُبَالِغُ فِي الاِسْتِنْشَاقِ

২৩৫৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ بَعْضِ، أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ النَّاسَ فِي سَفَرِهِ عَامَ الْفَتْحِ بِالْفِطْرِ وَقَالَ " تَقَوَّوْا لِعَدُوِّكُمْ " . وَصَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو بَكْرٍ قَالَ الَّذِي حَدَّثَنِي لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْعَرْجِ يَصُبُّ عَلَى رَأْسِهِ الْمَاءَ وَهُوَ صَائِمٌ مِنَ الْعَطَشِ أَوْ مِنَ الْحَرِّ .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

২৩৫৭. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা আল কা‘নবী ..... নবী করীম (ﷺ) এর জনৈক সাহাবী হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর আমি নবী করীম (ﷺ)কে মক্কার দিকে সফরের সময় লোকদেরকে ইফতারের নির্দেশ প্রদান করতে দেখি। তিনি বলেন, তোমাদের শত্রুদের সাথে মুকাবিলার জন্য শক্তি সঞ্চয় করো। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রোযা রাখেন। আবু বকর (রাযিঃ) বলেন, উক্ত ব্যক্তি আমাকে বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে আরয স্থানে এমতাবস্থায় দেখি যে, তিনি রোযা থাকাবস্থায় তৃষ্ণার্ত হওয়ার কারণে গরমের ফলে স্বীয় মস্তকে পানি ঢালছিলেন।

২৩৫৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ كَثِيرٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ لَقِيطِ بْنِ صَبِرَةَ، عَنْ أَبِيهِ، لَقِيطِ بْنِ صَبِرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " بَالِغْ فِي الاِسْتِنْشَاقِ إِلاَّ أَنْ تَكُونَ صَائِمًا " .

বর্ণনাকারী: লাকীত ইবনে সাবরাহ (রাঃ)

২৩৫৮. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ....... লাকীত ইবনে সাবুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা রোযা থাকাবস্থায় ব্যতীত অন্য সময়ে নাকে অধিক পানি প্রবেশ করাবে।

২২১. রোযাদার ব্যক্তির শিংগা লাগানো।

باب فِي الصَّائِمِ يَحْتَجِمُ

২৩৫৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ هِشَامٍ، ح وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، - جَمِيعًا - عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ، - يَعْنِي الرَّحَبِيَّ - عَنْ ثَوْبَانَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ " . قَالَ شَيْبَانُ أَخْبَرَنِي أَبُو قِلاَبَةَ أَنَّ أَبَا أَسْمَاءَ الرَّحَبِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত ছাওবান (রাঃ)

২৩৫৯. মুসাদ্দাদ ও আহমাদ ইবনে হাম্বল ..... সাওবান (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি শিংগা লাগায় এবং যার উপর লাগায় তাদের উভয়ের রোযা ভঙ্গ হয়। রাবী শায়বান বলেন, আমি আবু কিলাবা হতে, তিনি নবী করীম (ﷺ) এর আযাদকৃত গোলাম সাওবান হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী করীম (ﷺ) হতে তা শ্রবণ করেছেন।

২৩৬০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو قِلاَبَةَ الْجَرْمِيُّ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ شَدَّادَ بْنَ أَوْسٍ بَيْنَمَا هُوَ يَمْشِي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ نَحْوَهُ .

বর্ণনাকারী: ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ আল কাত্তান (রহঃ)

২৩৬০. আহমদ ইবনে হাম্বল ...... ইয়াহয়া (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু কিলাবা হতে, তিনি শাদ্দাদ ইবনে আওস হতে যিনি নবী করীম (ﷺ) এর সাথে চলাকালে ইহা শ্রবণ করেন। এরপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

২৩৬১

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ، عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَتَى عَلَى رَجُلٍ بِالْبَقِيعِ وَهُوَ يَحْتَجِمُ وَهُوَ آخِذٌ بِيَدِي لِثَمَانَ عَشْرَةَ خَلَتْ مِنْ رَمَضَانَ فَقَالَ " أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى خَالِدٌ الْحَذَّاءُ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ بِإِسْنَادِ أَيُّوبَ مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত শাদ্দাদ ইবনে আওস (রাঃ)

২৩৬১. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... শাদ্দাদ ইবনে আওস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বাকী’ নামক স্থানে এক ব্যক্তির নিকট গমন করে তাকে শিংগা লাগাতে দেখেন। এ সময় তিনি রমযানের আঠার তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার বিষয় গণনা করে বলেনঃ যে ব্যক্তি শিংগা লাগায় এবং যাকে লাগায় তারা উভয়ে রোযা ভঙ্গ করল।

২৩৬২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ - عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي مَكْحُولٌ، أَنَّ شَيْخًا، مِنَ الْحَىِّ - قَالَ عُثْمَانُ فِي حَدِيثِهِ مُصَدَّقٌ - أَخْبَرَهُ أَنَّ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত ছাওবান (রাঃ)

২৩৬২. আহমদ ইবনে হাম্বল ও উসমান ইবনে আবি শাঈবা হতে বর্ণিত। রাবী উসমান তাঁর হাদীসে বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম (ﷺ) এর আযাদকৃত গোলাম সাওবান তাঁকে বলেছেন যে, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি শিংগা লাগায় এবং যাকে লাগায় তারা ইফতার করল অর্থাৎ রোযা ভেঙ্গে ফেলল।

২৩৬৩

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا الْعَلاَءُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ ابْنُ ثَوْبَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ مَكْحُولٍ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত ছাওবান (রাঃ)

২৩৬৩. মাহমুদ ইবনে খালিদ ...... সাওবান (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি শিংগা লাগায় এবং যাকে লাগায় তারা উভয়ে রোযা ভেঙ্গে ফেলে।

২২২. রোযা অবস্থায় শিংগা লাগানের ব্যাপারে অনুমতি।

باب فِي الرُّخْصَةِ

২৩৬৪

حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ وَهُوَ صَائِمٌ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ وُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ أَيُّوبَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ . وَجَعْفَرُ بْنُ رَبِيعَةَ وَهِشَامُ بْنُ حَسَّانَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৩৬৪. আবু মা‘মার আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) রোযা থাকাবস্থায় (স্বীয় দেহে) শিংগা লাগিয়েছিলেন।

২৩৬৫

حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم احْتَجَمَ وَهُوَ صَائِمٌ مُحْرِمٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৩৬৫. হাফস ইবনে উমর ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) ইহরামের মধ্যে রোযা থাকাবস্থায় শিংগা লাগান।

২৩৬৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَابِسٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، حَدَّثَنِي رَجُلٌ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْحِجَامَةِ وَالْمُوَاصَلَةِ وَلَمْ يُحَرِّمْهُمَا إِبْقَاءً عَلَى أَصْحَابِهِ فَقِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ تُوَاصِلُ إِلَى السَّحَرِ . فَقَالَ " إِنِّي أُوَاصِلُ إِلَى السَّحَرِ وَرَبِّي يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِي " .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা (রহঃ)

২৩৬৬. আহমদ ইবনে হাম্বল ...... আব্দুর রহমান ইবনে আবু লায়লা (রাহঃ) নবী করীম (ﷺ) এর জনৈক সাহাবী হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) শিংগা লাগানো এবং ক্রমাগত (ইফতার ছাড়া) রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। অবশ্য তিনি অনুগতবশত তাঁর সাহাবীদের উপর তা হারাম করেননি। জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি সাহরী পর্যন্ত ক্রমাগত রোযা রাখেন। তিনি বলেন, আমি সাহরীর সময় পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। কেননা আমার রব আমাকে পানাহার করান।

২৩৬৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ الْمُغِيرَةِ - عَنْ ثَابِتٍ، قَالَ قَالَ أَنَسٌ مَا كُنَّا نَدَعُ الْحِجَامَةَ لِلصَّائِمِ إِلاَّ كَرَاهِيَةَ الْجَهْدِ .

বর্ণনাকারী: ছাবিত বুনানী (রহঃ)

২৩৬৭. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা ....... সাবিত (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাযিঃ) বলেছেন, রোযাদার ব্যক্তি দুর্বল হয়ে যাবে বিবেচনা করে আমরা তাকে শিংগা লাগাতে দিতাম না।

২২৩. রমযান মাসে রোযাদার ব্যক্তির দিনের বেলায় স্বপ্নদোষ হলে।

باب فِي الصَّائِمِ يَحْتَلِمُ نَهَارًا فِي شَهْرِ رَمَضَانَ

২৩৬৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِهِ عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يُفْطِرُ مَنْ قَاءَ وَلاَ مَنِ احْتَلَمَ وَلاَ مَنِ احْتَجَمَ " .

বর্ণনাকারী: অজ্ঞাত সাহাবী

২৩৬৮. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর ..... নবী করীম (ﷺ) এর জনৈক সাহাবী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি বমি করে, তার রোযা ভঙ্গ হয় তবে যার স্বপ্নদোষ হয় এবং যে শিংগা লাগায় এতে রোযা ভঙ্গ হয় না।

২২৪. নিদ্রা যাওয়ার সময় সুরমা ব্যবহার।

باب فِي الْكَحْلِ عِنْدَ النَّوْمِ

২৩৬৯

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ ثَابِتٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ النُّعْمَانِ بْنِ مَعْبَدِ بْنِ هَوْذَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ أَمَرَ بِالإِثْمِدِ الْمُرَوَّحِ عِنْدَ النَّوْمِ وَقَالَ " لِيَتَّقِهِ الصَّائِمُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ لِي يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ هُوَ حَدِيثٌ مُنْكَرٌ يَعْنِي حَدِيثَ الْكَحْلِ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৩৬৯. আন্ নুফায়লী ..... আব্দুর রহমান ইবনে নু‘মান ইবনে মা‘বাদ ইবনে হাওযা তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে, তিনি নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নিদ্রার সময় সুগন্ধিযুক্ত ইসমিদ (পাথরের তৈরী) সুরমা ব্যবহারের নির্দেশ দেন এবং তিনি ইরশাদ করেছেনঃ রোযাদর ব্যক্তি যেন তা পরিহার করে।

২৩৭০

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عُتْبَةَ، عَنْ أَبِي مُعَاذٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ كَانَ يَكْتَحِلُ وَهُوَ صَائِمٌ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৩৭০. ওহাহব ইবনে বাকিয়্যা ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রোযা থাকাবস্থায় সুরমা ব্যবহার করতেন।

২৩৭১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمُخَرِّمِيُّ، وَيَحْيَى بْنُ مُوسَى الْبَلْخِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عِيسَى، عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِنَا يَكْرَهُ الْكَحْلَ لِلصَّائِمِ وَكَانَ إِبْرَاهِيمُ يُرَخِّصُ أَنْ يَكْتَحِلَ الصَّائِمُ بِالصَّبِرِ .

বর্ণনাকারী: সুলাইমান আ‘মাশ (রহঃ)

২৩৭১. মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদুল্লাহ্ ..... আল্ আ‘মাশ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমাদের সাথীদের মধ্যে কাউকেও রোযা থাকাবস্থায় সুরমা ব্যবহারে আপত্তি করতে দেখিনি এবং রাবী ইবরাহীম রোযাদারের জন্য বিশেষভাবে ‘সিবর’ জাতীয় সুরমা ব্যবহার করতে অনুমতি দিতেন।

২২৫. রোযাদার ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে।

باب الصَّائِمِ يَسْتَقِيءُ عَامِدًا

২৩৭২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ ذَرَعَهُ قَىْءٌ وَهُوَ صَائِمٌ فَلَيْسَ عَلَيْهِ قَضَاءٌ وَإِنِ اسْتَقَاءَ فَلْيَقْضِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৭২. মুসাদ্দাদ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রোযা থাকাবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি করে তার জন্য কাযা আদায় করা জরুরী নয়। অবশ্য যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে তবে সে যেন কাযা আদায় করে।

২৩৭৩

حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ، عَنْ يَحْيَى، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَعِيشَ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ هِشَامٍ، أَنَّ أَبَاهُ، حَدَّثَهُ حَدَّثَنِي مَعْدَانُ بْنُ طَلْحَةَ، أَنَّ أَبَا الدَّرْدَاءِ، حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاءَ فَأَفْطَرَ فَلَقِيتُ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي مَسْجِدِ دِمَشْقَ فَقُلْتُ إِنَّ أَبَا الدَّرْدَاءِ حَدَّثَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاءَ فَأَفْطَرَ . قَالَ صَدَقَ وَأَنَا صَبَبْتُ لَهُ وَضُوءَهُ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: মা'দান ইবনে তালহা (রহঃ)

২৩৭৩. আবু মা‘মার আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ..... মা‘দান ইবনে তালহা (রাহঃ) বলেন, আবু দারদা (রাযিঃ) তাঁকে বলেছেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বমি করেন, এরপর ইফতার করেন। পরে আমার সাথে রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) আযাদকৃত গোলাম সাওবানের দামেশকের এক মসজিদে দেখা হয়। আমি তাঁকে বলি, আবু দারদা (রাযিঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বমি করেন, পরে ইফতার করেন। তিনি (সাওবান) বলেন, তিনি সত্য বলেছেন। আর ঐ সময় আমি তাঁকে ওযূর জন্য পানি ঢেলে দিয়েছিলাম।

২২৬. রোযাদার ব্যক্তির চুম্বন করা।

باب الْقُبْلَةِ لِلصَّائِمِ

২৩৭৪

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، وَعَلْقَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُ وَهُوَ صَائِمٌ وَيُبَاشِرُ وَهُوَ صَائِمٌ وَلَكِنَّهُ كَانَ أَمْلَكَ لإِرْبِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৭৪. মুসাদ্দাদ ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রোযা থাকাবস্থায় তাঁকে চুম্বন করতেন এবং তিনি রোযাবস্থায় তাঁর সাথে সহাবস্থান করতেন। তবে তিনি ছিলেন কঠোর সংযমী।

২৩৭৫

حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاَقَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُ فِي شَهْرِ الصَّوْمِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৭৫. আবু তাওবা আর-রাবী ইবনে নাফি’ ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) রমযানের মাসে রোযা থাকাবস্থায় তাঁর পত্নীগণকে চুম্বন করতেন।

২৩৭৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ عُثْمَانَ الْقُرَشِيَّ - عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقَبِّلُنِي وَهُوَ صَائِمٌ وَأَنَا صَائِمَةٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৭৬. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রোযাবস্থায় আমাকে চুম্বন করতেন এবং আমিও রোযাবস্থায় থাকতাম।

২৩৭৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، ح وَحَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ هَشِشْتُ فَقَبَّلْتُ وَأَنَا صَائِمٌ، فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ صَنَعْتُ الْيَوْمَ أَمْرًا عَظِيمًا قَبَّلْتُ وَأَنَا صَائِمٌ . قَالَ " أَرَأَيْتَ لَوْ مَضْمَضْتَ مِنَ الْمَاءِ وَأَنْتَ صَائِمٌ " . قَالَ عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ فِي حَدِيثِهِ قُلْتُ لاَ بَأْسَ بِهِ . ثُمَّ اتَّفَقَا قَالَ " فَمَهْ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৩৭৭. আহমদ ইবনে ইউনুস ও ঈসা ইবনে হাম্মাদ ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেন, একদা রোযা থাকাবস্থায় আমি আমার স্ত্রীর সাথে আনন্দ-ফুর্তি করাকালে তাকে চুম্বন করি। এরপর আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আজ আমি একটি গুরুতর কাজ করে ফেলেছি, রোযাবস্থায় আমি আমার স্ত্রীকে চুম্বন করেছি। তিনি বলেন, তুমি কি রোযা থাকাবস্থায় কুলি করো না? ঈসা ইবনে হাম্মাদ তার হাদীসে বলেন, আমি বলি এতে তো কোন দোষ নেই।

২২৭. রোযাদার ব্যক্তির থুথু গলাধরণ করা।

باب الصَّائِمِ يَبْلَعُ الرِّيقَ

২৩৭৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دِينَارٍ، حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ أَوْسٍ الْعَبْدِيُّ، عَنْ مِصْدَعٍ أَبِي يَحْيَى، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُقَبِّلُهَا وَهُوَ صَائِمٌ وَيَمُصُّ لِسَانَهَا ، قَالَ ابْنُ الْأَعْرَابِيِّ: «هَذَا الْإِسْنَادُ لَيْسَ بِصَحِيحٍ»

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৭৮. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) রোযা থাকাবস্থায় তাঁকে চুম্বন করতেন এবং তাঁর জিহ্বা লেহন করতেন।

চুম্বন ও সহাবস্থান যুবকের মাকরূহ হওয়া।

باب كَرَاهِيَتِهِ لِلشَّابِّ

২৩৭৯

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، - يَعْنِي الزُّبَيْرِيَّ - أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي الْعَنْبَسِ، عَنِ الأَغَرِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْمُبَاشَرَةِ لِلصَّائِمِ فَرَخَّصَ لَهُ وَأَتَاهُ آخَرُ فَسَأَلَهُ فَنَهَاهُ . فَإِذَا الَّذِي رَخَّصَ لَهُ شَيْخٌ وَالَّذِي نَهَاهُ شَابٌّ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৭৯. নসর ইবনে আলী ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর নিকট রোযা থাকাবস্থায় স্বীয় স্ত্রীর সাথে সহাবস্থান করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে এর অনুমতি প্রদান করেন। এরপর অপর এক ব্যক্তি এসে অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে নিষেধ করেন। আর ব্যাপার এই ছিল যে, তিনি যাকে অনুমতি প্রদান করেন সে ছিল বৃদ্ধ, আর যাকে নিষেধ করেন সে ছিল যুবক।

২২৮. রমযান মাসে নাপাক অবস্থায় ভোর হলে।

باب فِيمَنْ أَصْبَحَ جُنُبًا فِي شَهْرِ رَمَضَانَ

২৩৮০

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، ح وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ الأَذْرَمِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ عَائِشَةَ، وَأُمِّ سَلَمَةَ زَوْجَىِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُمَا قَالَتَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصْبِحُ جُنُبًا . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ الأَذْرَمِيُّ فِي حَدِيثِهِ فِي رَمَضَانَ مِنْ جِمَاعٍ غَيْرِ احْتِلاَمٍ ثُمَّ يَصُومُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৮০. আল্ কা‘নবী ..... নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) ও উম্মে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নাপাক অবস্থায় ভোর হয়ে যেত। রাবী আব্দুল্লাহ্ আল আযরামী তার বর্ণিত হাদীসে বলেন, রমযানের মাসে রাতে স্বপ্ন-দোষের কারণে নয় বরং স্ত্রী সহবাসের কারণে তিনি সকালে নাপাক অবস্থায় থেকে রোযা রাখতেন (অবশ্য পরে দিনের বেলায় গোসল করে পবিত্র হতেন)।

২৩৮১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، - يَعْنِي الْقَعْنَبِيَّ - عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَعْمَرٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِي يُونُسَ، مَوْلَى عَائِشَةَ عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَجُلاً قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ وَاقِفٌ عَلَى الْبَابِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُصْبِحُ جُنُبًا وَأَنَا أُرِيدُ الصِّيَامَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَأَنَا أُصْبِحُ جُنُبًا وَأَنَا أُرِيدُ الصِّيَامَ فَأَغْتَسِلُ وَأَصُومُ " . فَقَالَ الرَّجُلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ لَسْتَ مِثْلَنَا قَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " وَاللَّهِ إِنِّي لأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَخْشَاكُمْ لِلَّهِ وَأَعْلَمَكُمْ بِمَا أَتَّبِعُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৮১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা ....... নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জনৈক ব্যক্তি দরজায় দণ্ডায়মান অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! নাপাক অবস্থায় আমার ভোর হয়ে যায় এবং আমি রোযা রাখার ইচ্ছা করি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, আমারও নাপাক অবস্থায় ভোর হয়ে যায় এবং রোযা রাখার ইচ্ছা করি। আর আমি গোসল করি এবং রোযা রাখি। সে ব্যক্তি বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি তো আমাদের মতো নন, আল্লাহ্ তো আপনার জীবনের পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ মার্জনা করে দিয়েছেন। এতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রাগান্বিত হন এবং বলেন, আল্লাহ শপথ! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সকলের চেয়ে অধিক আল্লাহ ভীরু ও তাঁর অধিক বন্দেগী করতে সংকল্প রাখি।

যে ব্যক্তি রমযানের দিনে স্বীয় স্ত্রীর সাথে সহবাস করে, তার কাফ্ফারা।

باب كَفَّارَةِ مَنْ أَتَى أَهْلَهُ فِي رَمَضَانَ

২৩৮২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، - قَالَ مُسَدَّدٌ - حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَتَى رَجُلٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ هَلَكْتُ . فَقَالَ " مَا شَأْنُكَ " . قَالَ وَقَعْتُ عَلَى امْرَأَتِي فِي رَمَضَانَ . قَالَ " فَهَلْ تَجِدُ مَا تُعْتِقُ رَقَبَةً " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَهَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تَصُومَ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَهَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تُطْعِمَ سِتِّينَ مِسْكِينًا " . قَالَ لاَ . قَالَ " اجْلِسْ " . فَأُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِعَرَقٍ فِيهِ تَمْرٌ فَقَالَ " تَصَدَّقْ بِهِ " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا بَيْنَ لاَبَتَيْهَا أَهْلُ بَيْتٍ أَفْقَرَ مِنَّا فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ ثَنَايَاهُ قَالَ " فَأَطْعِمْهُ إِيَّاهُمْ " . وَقَالَ مُسَدَّدٌ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ أَنْيَابُهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৮২. মুসাদ্দাদ ও মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করে, আমি ধ্বংস হয়েছি। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তোমার কী হয়েছে? সে বলে, রোযা অবস্থায় আমি আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, আযাদ করার মত তোমার কোন দাস-দাসী আছে কী? সে বলে, না। তিনি বলেন, তুমি কি ক্রমাগত দু‘মাস রোযা রাখতে সক্ষম? সে বলে, না। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি ষাটজন মিসকীনকে খানা খাওয়াতে পারবে? সে বলে, না। তিনি তাকে বলেন, তুমি বস।

এ সময় নবী করীম (ﷺ) এর নিকট এক ‘ইরক’ (থলে ভর্তি) খেজুর এল। এরপর নবী করীম (ﷺ) তাকে খুরমা ভর্তি একটি থলে প্রদান করে বলেন, তুমি তা দ্বারা সাদ্‌কা করো। সে ব্যক্তি বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! মদীনার উভয় পার্শ্বে আমাদের চেয়ে অভাবগ্রস্থ আর কোন পরিবার নেই। রাবী বলেন, এতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এমনভাবে হেসে ওঠেন যে, তাঁর সম্মুখের দন্তরাজি প্রকাশ হয়ে পড়ে। তিনি তাকে বলেন, তবে তোমরাই তা ভক্ষণ করো। রাবী মুসাদ্দাদ অন্য বর্ণনায় বলেন, তাঁর দন্তরাজি বের হয়ে পড়ে।
২৩৮৩

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الْحَدِيثِ بِمَعْنَاهُ . زَادَ الزُّهْرِيُّ وَإِنَّمَا كَانَ هَذَا رُخْصَةً لَهُ خَاصَّةً فَلَوْ أَنَّ رَجُلاً فَعَلَ ذَلِكَ الْيَوْمَ لَمْ يَكُنْ لَهُ بُدٌّ مِنَ التَّكْفِيرِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ وَالأَوْزَاعِيُّ وَمَنْصُورُ بْنُ الْمُعْتَمِرِ وَعِرَاكُ بْنُ مَالِكٍ عَلَى مَعْنَى ابْنِ عُيَيْنَةَ . زَادَ الأَوْزَاعِيُّ وَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ .

২৩৮৩. আল্ - হাসান ইবনে আলী .... ইমাম যুহরী (রাহঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ অর্থে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রাবী যুহরী অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, এ অনুমতি ঐ ব্যক্তির জন্য খাস ছিল। আজ যদি কোন ব্যক্তি এরূপ কাজ করে, তবে তার জন্য অবশ্যই কাফফারা রয়েছে।

২৩৮৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، أَفْطَرَ فِي رَمَضَانَ فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُعْتِقَ رَقَبَةً أَوْ يَصُومَ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ أَوْ يُطْعِمَ سِتِّينَ مِسْكِينًا . قَالَ لاَ أَجِدُ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اجْلِسْ " . فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِعَرَقٍ فِيهِ تَمْرٌ فَقَالَ " خُذْ هَذَا فَتَصَدَّقْ بِهِ " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَحَدٌ أَحْوَجَ مِنِّي . فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى بَدَتْ أَنْيَابُهُ وَقَالَ لَهُ " كُلْهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ جُرَيْجٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَلَى لَفْظِ مَالِكٍ أَنَّ رَجُلاً أَفْطَرَ وَقَالَ فِيهِ " أَوْ تُعْتِقَ رَقَبَةً أَوْ تَصُومَ شَهْرَيْنِ أَوْ تُطْعِمَ سِتِّينَ مِسْكِينًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৮৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি রমযানের মধ্যে ইফতার (রোযা ভঙ্গ) করলে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে দাস-দাসী আযাদ করতে, অথবা ক্রমাগত দুই মাস রোযা রাখতে বা ষাটজন মিস্কীনকে খাওয়াতে নির্দেশ দেন। সে ব্যক্তি বলে, এর কোনটিই আমার পক্ষে সম্ভব নয়। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে বসতে বলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে একটি থলে ভর্তি খেজুর দিয়ে বলেন, তুমি এটা গ্রহণ করো এবং এর দ্বারা সাদ্‌কা প্রদান করো। সে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার চেয়ে অধিক মুখাপেক্ষী (অভাবগ্রস্থ) আর কেউ নেই। এতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এমনভাবে হেসে ওঠলেন যে, তাঁর সম্মুখের দন্তরাজি প্রকাশ হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, তবে তুমিই তা ভক্ষণ করো।

২৩৮৫

حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَفْطَرَ فِي رَمَضَانَ بِهَذَا الْحَدِيثِ . قَالَ فَأُتِيَ بِعَرَقٍ فِيهِ تَمْرٌ قَدْرُ خَمْسَةَ عَشَرَ صَاعًا وَقَالَ فِيهِ " كُلْهُ أَنْتَ وَأَهْلُ بَيْتِكَ وَصُمْ يَوْمًا وَاسْتَغْفِرِ اللَّهَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৮৫. জা‘ফর ইবনে মুসাফির ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে হাযির হয়, যে রমযানে (ইচ্ছাকৃতভাবে) ইফতার করে। এরপর পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। রাবী বলেন, এরপর তাকে এমন একটি খুরমা ভর্তি থলে প্রদান করা হয়, যাতে পনের সা’ পরিমাণ খেজুর ছিল। রাবী বলেন, এরপর তিনি তাকে বলেন, তুমি তা তোমার পরিবারের লোকদের সাথে ভক্ষণ করো এবং একদিন রোযা রাখো, আর আল্লাহর নিকট গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো।

২৩৮৬

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْقَاسِمِ، حَدَّثَهُ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ حَدَّثَهُ أَنَّ عَبَّادَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَقُولُ أَتَى رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْمَسْجِدِ فِي رَمَضَانَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ احْتَرَقْتُ . فَسَأَلَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَا شَأْنُهُ قَالَ أَصَبْتُ أَهْلِي . قَالَ " تَصَدَّقْ " . قَالَ وَاللَّهِ مَا لِي شَىْءٌ وَلاَ أَقْدِرُ عَلَيْهِ . قَالَ " اجْلِسْ " . فَجَلَسَ فَبَيْنَمَا هُوَ عَلَى ذَلِكَ أَقْبَلَ رَجُلٌ يَسُوقُ حِمَارًا عَلَيْهِ طَعَامٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَيْنَ الْمُحْتَرِقُ آنِفًا " . فَقَامَ الرَّجُلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَصَدَّقْ بِهَذَا " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعَلَى غَيْرِنَا فَوَاللَّهِ إِنَّا لَجِيَاعٌ مَا لَنَا شَىْءٌ . قَالَ " كُلُوهُ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৮৬. সুলাইমান ইবনে দাউদ আল মোহরী ..... নবী করীম (ﷺ) এর পত্নী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রমযান মাসে জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর নিকট মসজিদে আগমন করে। এরপর সে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি গুনাহে লিপ্ত হওয়ার কারণে দোজখের উপযোগী হয়েছি। নবী করীম (ﷺ) তাকে তার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। সে বলে, আমি আমার স্ত্রীর সাথে রোযা অবস্থায় সহবাস করেছি। তিনি বলেন, তুমি কিছু সাদ্‌কা করো। সে বলে, আল্লাহ শপথ! আমার কিছুই নেই এবং তা প্রদানে আমি সক্ষম নই।

তিনি তাকে বলেন, তুমি একটু বস। এরপর সে সেখানে বসে থাকা অবস্থায় অপর এক ব্যক্তি গাধার পৃষ্ঠে করে কিছু খাদ্যদ্রব্য নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করেন, জাহান্নামের উপযোগী ঐ ব্যক্তিটি কোথায়? সে ব্যক্তি দণ্ডায়মান হলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে বলেনঃ তুমি এর দ্বারা সাদ্‌কা করো। সে ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি কি তা অন্যকে দান করব? আল্লাহ শপথ! নিশ্চয়ই আমি অধিক অভাবগ্রস্থ। আমাদের কিছুই নেই। এতদশ্রবণে তিনি বলেন, তবে তোমরাই তা ভক্ষণ করো।
২৩৮৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَائِشَةَ، بِهَذِهِ الْقِصَّةِ قَالَ فَأُتِيَ بِعَرَقٍ فِيهِ عِشْرُونَ صَاعًا .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৮৭. মুহাম্মাদ ইবনে আওফ ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, তাকে এমন একটি খেজুরের থলে প্রদান করা হয়, যাতে বিশ সা’ পরিমাণ খেজুর ছিল।

২২৯. স্বেচ্ছায় রোযা ভঙ্গ করার কঠোর পরিণতি।

باب التَّغْلِيظِ فِي مَنْ أَفْطَرَ عَمْدًا

২৩৮৮

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنِ ابْنِ مُطَوِّسٍ، عَنْ أَبِيهِ، - قَالَ ابْنُ كَثِيرٍ عَنْ أَبِي الْمُطَوِّسِ، عَنْ أَبِيهِ، - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ رُخْصَةٍ رَخَّصَهَا اللَّهُ لَهُ لَمْ يَقْضِ عَنْهُ صِيَامُ الدَّهْرِ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৮৮. সুলাইমান ইবনে হারব ....... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তাআলা প্রদত্ত সুযোগের (সফর বা রোগ) অনুমতি ব্যতীত অন্য কোন কারণে রমযানের কোন দিন রোযা ভঙ্গ করে, সে যদি যুগ যুগ রোযা রাখে তবুও তার কাযা আদায় হবে না।

২৩৮৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنِي حَبِيبٌ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنِ ابْنِ الْمُطَوِّسِ، - قَالَ فَلَقِيتُ ابْنَ الْمُطَوِّسِ فَحَدَّثَنِي - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ حَدِيثِ ابْنِ كَثِيرٍ وَسُلَيْمَانَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَاخْتُلِفَ عَلَى سُفْيَانَ وَشُعْبَةَ عَنْهُمَا ابْنُ الْمُطَوِّسِ وَأَبُو الْمُطَوِّسِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৮৯. আহমদ ইবনে হাম্বল ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ ইবনে কাসীর ও সুলাইমান বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

২৩০. রোযা রেখে যে ব্যক্তি ভুলক্রমে খাদ্য গ্রহণ করে।

باب مَنْ أَكَلَ نَاسِيًا

২৩৯০

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، وَحَبِيبٌ، وَهِشَامٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَكَلْتُ وَشَرِبْتُ نَاسِيًا وَأَنَا صَائِمٌ . فَقَالَ " أَطْعَمَكَ اللَّهُ وَسَقَاكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৩৯০. মুসা ইবনে ইসমাঈল ...... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম (ﷺ) এর নিকট জনৈক ব্যক্তি আগমন করে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি রোযা থাকাবস্থায় ভুলবশত পানাহার করে ফেলেছি। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তাআলা তোমাকে পানাহার করিয়েছেন অর্থাৎ এতে রোযা নষ্ট হয়নি।

২৩১. রমযানের রোযার কাযা আদায়ে বিলম্ব করা।

باب تَأْخِيرِ قَضَاءِ رَمَضَانَ

২৩৯১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَمِعَ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - تَقُولُ إِنْ كَانَ لَيَكُونُ عَلَىَّ الصَّوْمُ مِنْ رَمَضَانَ فَمَا أَسْتَطِيعُ أَنْ أَقْضِيَهُ حَتَّى يَأْتِيَ شَعْبَانُ .

বর্ণনাকারী: আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রহঃ)

২৩৯১. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা আল্ কা‘নবী ...... আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান (রাহঃ) আয়িশা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন, যদি আমার উপর (হায়যের কারণে রমযানের) কোন রোযার কাযা আবশ্যক হতো, তবে শা‘বানের মাস আগমনের পূর্বে আমি উহার কাযা আদায় করতে সক্ষম হতাম না।

২৩২. যে ব্যক্তি রোযার কাযা বাকি থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।

باب فِيمَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ

২৩৯২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهُ " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «هَذَا فِي النَّذْرِ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ»

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৯২. আহমাদ ইবনে সালি্হ ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি তার উপর কাযা রোযা থাকা অবস্থায় মারা যায় তার উত্তরাধিকারীগণ তার পক্ষ হতে তা আদায় করবে।

২৩৯৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ إِذَا مَرِضَ الرَّجُلُ فِي رَمَضَانَ ثُمَّ مَاتَ وَلَمْ يَصُمْ أُطْعِمَ عَنْهُ وَلَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ قَضَاءٌ وَإِنْ كَانَ عَلَيْهِ نَذْرٌ قَضَى عَنْهُ وَلِيُّهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৩৯৩. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যদি কোন ব্যক্তি রমযান মাসে রোগাক্রান্ত হয় এবং সে ঐ অসুখ হতে সুস্থ না হয়ে মৃত্যুবরণ করে তবে তার পক্ষ হতে (ফিদিয়া প্রদান করত) মিসকীনদের খাওয়াতে হবে তবে তার উপর এর কাযা থাকবে না। আর যদি মৃত ব্যক্তি কোন মান্নত করে থাকে, তবে তা তার উত্তরাধিকারীগণ তার পক্ষ হতে পূর্ণ করবে।

২৩৩. সফরে রোযা রাখা।

باب الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ

২৩৯৪

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ حَمْزَةَ الأَسْلَمِيَّ، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي رَجُلٌ أَسْرُدُ الصَّوْمَ أَفَأَصُومُ فِي السَّفَرِ قَالَ " صُمْ إِنْ شِئْتَ وَأَفْطِرْ إِنْ شِئْتَ " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৩৯৪. সুলাইমান ইবনে হারব .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হামযা আল আসলামী (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এমন ব্যক্তি যে প্রায়ই রোযা রাখি। কাজেই আমি কি সফরকালে রোযা (রমযানের) রাখব? তিনি বলেন, তুমি ইচ্ছা করলে রোযা রাখতে পারো, কিংবা ইফতারও করতে পার।

২৩৯৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ الْمَدَنِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ حَمْزَةَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ حَمْزَةَ الأَسْلَمِيَّ، يَذْكُرُ أَنَّ أَبَاهُ، أَخْبَرَهُ عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي صَاحِبُ ظَهْرٍ أُعَالِجُهُ أُسَافِرُ عَلَيْهِ وَأَكْرِيهِ وَإِنَّهُ رُبَّمَا صَادَفَنِي هَذَا الشَّهْرُ - يَعْنِي رَمَضَانَ - وَأَنَا أَجِدُ الْقُوَّةَ وَأَنَا شَابٌّ وَأَجِدُ بِأَنْ أَصُومَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَهْوَنَ عَلَىَّ مِنْ أَنْ أُؤَخِّرَهُ فَيَكُونَ دَيْنًا أَفَأَصُومُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَعْظَمُ لأَجْرِي أَوْ أُفْطِرُ قَالَ " أَىُّ ذَلِكَ شِئْتَ يَا حَمْزَةُ " .

বর্ণনাকারী: হামযা ইবনে আমর আসলামী (রাঃ)

২৩৯৫. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ আন নুফায়লী ...... হামযা ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হামযা আল আসলামী (রাহঃ) তাঁর পিতা তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি উটের পিঠের মালিক এবং আমি প্রায়ই সফরে থাকি। এমতাবস্থায় যদি এই রমযান মাস আসে এবং যৌবনের শক্তির কারণে যদি আমি রোযা রাখতে সক্ষম হই, তবে কি আমি রোযা রাখব? ইয়া রাসূলূল্লাহ্! রোযা পরে রাখার (কাযা করার) চাইতে তা আদায় করা আমার জন্য অধিকতর সহজ এবং তা দ্বীনেরও অঙ্গ। ইয়া রাসূলাল্লাহ! অধিক বিনিময় প্রাপ্তির আশায় আমি কি রোযা রাখব, না ইফতার করব? তিনি বলেন, হে হামযা! তোমার যা ইচ্ছা তা-ই করো।

২৩৯৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى مَكَّةَ حَتَّى بَلَغَ عُسْفَانَ ثُمَّ دَعَا بِإِنَاءٍ فَرَفَعَهُ إِلَى فِيهِ لِيُرِيَهُ النَّاسَ وَذَلِكَ فِي رَمَضَانَ . فَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ قَدْ صَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَأَفْطَرَ فَمَنْ شَاءَ صَامَ وَمَنْ شَاءَ أَفْطَرَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৩৯৬. মুসাদ্দাদ ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম (ﷺ) মদীনা হতে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হন। এরপর তিনি উসফান নামক স্থানে উপনীত হওয়ার পর পানি চান এবং লোকদের দেখানের উদ্দেশ্যে তা মুখে স্থাপন করেন। আর এই ঘটনা রমযানের মধ্যে সংঘটিত হয়। ইবনে আব্বাসা (রাযিঃ) বলতেন, নবী করীম (ﷺ) রোযা রেখে পরে ইফতার করেন। কাজেই যার ইচ্ছা রোযা রাখতে পারে এবং ইফতারও করতে পারে।

২৩৯৭

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ سَافَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَصَامَ بَعْضُنَا وَأَفْطَرَ بَعْضُنَا فَلَمْ يَعِبِ الصَّائِمُ عَلَى الْمُفْطِرِ وَلاَ الْمُفْطِرُ عَلَى الصَّائِمِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৩৯৭. আহমদ ইবনে ইউসুফ ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রমযান মাসে আমরা রাসূুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথে সফর করি। তখন আমাদের কেউ কেউ রোযা রাখে এবং কেউ কেউ ইফতার করে। কিন্তু ঐ সময় কোন রোযাদার ইফতারকারীকে এবং ইফতারকারী রোযাদারকে দোষারোপ করেননি।

২৩৯৮

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، وَوَهْبُ بْنُ بَيَانٍ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ عَنْ قَزَعَةَ، قَالَ أَتَيْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ وَهُوَ يُفْتِي النَّاسَ وَهُمْ مُكِبُّونَ عَلَيْهِ فَانْتَظَرْتُ خَلْوَتَهُ فَلَمَّا خَلاَ سَأَلْتُهُ عَنْ صِيَامِ رَمَضَانَ فِي السَّفَرِ فَقَالَ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ عَامَ الْفَتْحِ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ وَنَصُومُ حَتَّى بَلَغَ مَنْزِلاً مِنَ الْمَنَازِلِ فَقَالَ " إِنَّكُمْ قَدْ دَنَوْتُمْ مِنْ عَدُوِّكُمْ وَالْفِطْرُ أَقْوَى لَكُمْ " . فَأَصْبَحْنَا مِنَّا الصَّائِمُ وَمِنَّا الْمُفْطِرُ - قَالَ - ثُمَّ سِرْنَا فَنَزَلْنَا مَنْزِلاً فَقَالَ " إِنَّكُمْ تُصَبِّحُونَ عَدُوَّكُمْ وَالْفِطْرُ أَقْوَى لَكُمْ فَأَفْطِرُوا " . فَكَانَتْ عَزِيمَةً مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ أَبُو سَعِيدٍ ثُمَّ لَقَدْ رَأَيْتُنِي أَصُومُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ ذَلِكَ وَبَعْدَ ذَلِكَ .

বর্ণনাকারী: কাযাআ (রহঃ)

২৩৯৮. আহমদ ইবনে সালিহ ..... কাযাআ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (মদীনাতে) আবু সাঈদ আল্ খুদরী (রাযিঃ) এর নিকট গমন করি। ঐ সময় তিনি প্রচুর জনসমাগমের মধ্যে ফাতওয়া প্রদানে রত ছিলেন। এরপর আমি তাঁর সাথে একান্তে সাক্ষাতের আশায় অপেক্ষা করতে থাকি। পরে তিনি একটু অবসর হলে আমি তাঁকে সফরের মধ্যে রমযানের রোযা রাখা সম্পর্কে প্রশ্ন করি। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের সময় রমযান মাসে আমরা নবী করীম (ﷺ) এর সাথে বের হই। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রোযা রাখলে আমরাও রোযা রাখি। পরে একটি মনযিলে উপনীত হওয়ার পর তিনি ইরশাদ করেনঃ তোমরা তোমাদের শত্রুদের নিকটবর্তী হয়েছ। কাজেই এখন তোমাদের জন্য ইফতার অধিক শক্তি সঞ্চয়ের কারণ হবে।

এমতাবস্থায় আমরা কেউ কেউ রোযা রাখি এবং কেউ কেউ ইফতার করি। রাবী বলেন, আমরা আরো সম্মুখ দিয়ে অগ্রসর হওয়ার পর, তিনি ইরশাদ করেনঃ তোমরা আগামীকাল সকালে তোমাদের শত্রুদের সাথে মুকাবিলায় পৌঁছাবে। কাজেই তোমাদের ইফতার করা, অধিক শক্তি সঞ্চয়ের কারণ হবে। আর তোমরা সকলে ইফতার করো। আর এটা ছির রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর পক্ষ হতে নির্দেশ স্বরূপ। আবু সাঈদ বলেন, এর পূর্বে ও পরে আমি নবী করীম (ﷺ) এর সাথে রোযা রাখি এবং ইফতারও করি।

২৩৪. (সফরে) যিনি ইফ্তারকে ভাল মনে করেন।

باب اخْتِيَارِ الْفِطْرِ

২৩৯৯

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ سَعْدِ بْنِ زُرَارَةَ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَسَنٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى رَجُلاً يُظَلَّلُ عَلَيْهِ وَالزِّحَامُ عَلَيْهِ فَقَالَ " لَيْسَ مِنَ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ " .

বর্ণনাকারী: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

২৩৯৯. আবুল ওয়ালীদ তায়ালিসী ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম (ﷺ) দেখলেন, জনৈক ব্যক্তিকে (রোযা থাকার ফলে অসুস্থ হওয়ার কারণে) ছায়া দেয়া হয়েছে এবং তার নিকট লোকের ভীড় জমেছে। এরপর তিনি বললেন, সফরে রোযা রাখাতে পূণ্য নেই।

২৪০০

حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا أَبُو هِلاَلٍ الرَّاسِبِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ سَوَادَةَ الْقُشَيْرِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، - رَجُلٍ مِنْ بَنِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ إِخْوَةِ بَنِي قُشَيْرٍ - قَالَ أَغَارَتْ عَلَيْنَا خَيْلٌ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَانْتَهَيْتُ - أَوْ قَالَ فَانْطَلَقْتُ - إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَأْكُلُ فَقَالَ " اجْلِسْ فَأَصِبْ مِنْ طَعَامِنَا هَذَا " . فَقُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ . قَالَ " اجْلِسْ أُحَدِّثْكَ عَنِ الصَّلاَةِ وَعَنِ الصِّيَامِ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى وَضَعَ شَطْرَ الصَّلاَةِ أَوْ نِصْفَ الصَّلاَةِ وَالصَّوْمَ عَنِ الْمُسَافِرِ وَعَنِ الْمُرْضِعِ أَوِ الْحُبْلَى " . وَاللَّهِ لَقَدْ قَالَهُمَا جَمِيعًا أَوْ أَحَدَهُمَا قَالَ فَتَلَهَّفَتْ نَفْسِي أَنْ لاَ أَكُونَ أَكَلْتُ مِنْ طَعَامِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

২৪০০. শায়বান ইবনে ফাররূখ ........ আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। কুশায়র গোত্রস্থিত বনী আব্দুল্লাহ্ ইবনে কা‘ব সম্প্রদায়ের জনৈক ব্যক্তি বলেন, আমাদের কওমের উপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর অশ্বারোহী বাহিনী শেষ রাতে হামলা করলে আমি তাঁর নিকট গমন করি, অথবা (রাবীর সন্দেহ) আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে আহার করতে দেখি। তিনি আমাকে বলেন, তুমি বস এবং আমাদের সাথে এই খাদ্য ভক্ষণ করো। আমি বলি, আমি রোযাদার। এরপর তিনি বলেন, তুমি বস, আমি তোমার নিকট নামায ও রোযা সম্পর্কে কিছু বর্ণনা করব। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তাআলা মুসাফিরের জন্য নামাযের অর্ধেক উঠিয়ে দিয়েছেন অথবা (রাবীর সন্দেহ) নামাযের অর্ধেক উঠিয়ে দিয়েছেন এবং মুসাফির, দুগ্ধপানকারী মাতা ও গর্ভবতী স্ত্রীলোকের ওপর হতে রোযা সরিয়ে দিয়েছেন। রাবী বলেন, আল্লাহর কসম তিনি দুগ্ধপানকারীণী মাতা ও গর্ভবতী স্ত্রীলোকের কথা একই সঙ্গে উচ্চারণ করেন অথবা কোন একটি কথা বলেন, এরপর আমি এজন্য অনুতপ্ত হই যে, কেন আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) প্রদত্ত খাদ্য ভক্ষণ করিনি।

২৩৫. (সফরে) যে ব্যক্তি রোযা রাখাকে ভাল মনে করেন।

باب فِيمَنِ اخْتَارَ الصِّيَامَ

২৪০১

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، حَدَّثَتْنِي أُمُّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ غَزَوَاتِهِ فِي حَرٍّ شَدِيدٍ حَتَّى إِنَّ أَحَدَنَا لَيَضَعُ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ أَوْ كَفَّهُ عَلَى رَأْسِهِ مِنْ شِدَّةِ الْحَرِّ مَا فِينَا صَائِمٌ إِلاَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবুদ দারদা রাযি.

২৪০১. মুআম্মাল ইবনে ফায্ল ..... আবু দারদা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথে প্রচন্ড গরমের দিনে কোন এক যুদ্ধের জন্য বের হই। এ সময় অস্হ্য গরমের কারণে আমাদের কেউ কেউ স্বীয় হস্ত মস্তকে রাখছিল অথবা হাতের তালু স্বীয় মস্তকে রাখছিল। আর এ সময় আমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও আব্দুল্লাহ্ ইবনে রাওয়াহা (রাযিঃ) ব্যতীত আর কেউই রোযাদার ছিলেন না।

২৪০২

حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ، ح وَحَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو قُتَيْبَةَ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ حَبِيبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سَمِعْتُ سِنَانَ بْنَ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبَّقِ الْهُذَلِيَّ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ كَانَتْ لَهُ حَمُولَةٌ تَأْوِي إِلَى شِبَعٍ فَلْيَصُمْ رَمَضَانَ حَيْثُ أَدْرَكَهُ " .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনে মুহাব্বাক (রাঃ)

২৪০২. হামিদ ইবনে ইয়াহয়া .... সিনান ইবনে সালামা ইবনে মুহাব্বাক আল্ হুযালী (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তির আরোহণের জন্য কোন বাহন থাকবে, বা তাকে নিরাপদে গণ্তব্যস্থানে পৌঁছে দিবে, সে ব্যক্তির উচিত রমযানের রোযা (কাযা না করে) আদায় করা, যেখানেই তা পাবে। (অর্থাৎ সফরের মধ্যে যেখানেই রমযান মাস এসে পড়ে সেখানে সক্ষম ব্যক্তির জন্য রোযা রাখা উত্তম, যদিও কাযা করা জায়েয)।

২৪০৩

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ الْمُهَاجِرِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ حَبِيبٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ سِنَانِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبَّقِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَدْرَكَهُ رَمَضَانُ فِي السَّفَرِ " . فَذَكَرَ مَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: সালামা ইবনে মুহাব্বাক (রাঃ)

২৪০৩. নসর ইবনে মুহাজির ..... সালামা ইবনে মুহাব্বাক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তিকে রোযা সফরের মধ্যে পাবে ......... এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

২৩৬. সফরের উদ্দেশ্যে বের হয়ে মুসাফির কখন ইফ্তার করবে।

باب مَتَى يُفْطِرُ الْمُسَافِرُ إِذَا خَرَجَ

২৪০৪

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، ح وَحَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى، - الْمَعْنَى - حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ، وَزَادَ، جَعْفَرٌ وَاللَّيْثُ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، أَنَّ كُلَيْبَ بْنَ ذُهْلٍ الْحَضْرَمِيَّ، أَخْبَرَهُ عَنْ عُبَيْدٍ، - قَالَ جَعْفَرٌ ابْنُ جَبْرٍ - قَالَ كُنْتُ مَعَ أَبِي بَصْرَةَ الْغِفَارِيِّ صَاحِبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفِينَةٍ مِنَ الْفُسْطَاطِ فِي رَمَضَانَ فَرُفِعَ ثُمَّ قُرِّبَ غَدَاهُ - قَالَ جَعْفَرٌ فِي حَدِيثِهِ - فَلَمْ يُجَاوِزِ الْبُيُوتَ حَتَّى دَعَا بِالسُّفْرَةِ قَالَ اقْتَرِبْ . قُلْتُ أَلَسْتَ تَرَى الْبُيُوتَ قَالَ أَبُو بَصْرَةَ أَتَرْغَبُ عَنْ سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ جَعْفَرٌ فِي حَدِيثِهِ فَأَكَلَ .

বর্ণনাকারী: আবু বাসরা গিফারী (রহঃ)

২৪০৪. উবাইদুল্লাহ্ ইবনে উমর .... উবাইদ হতে বর্ণিত। জা‘ফর ইবনে খায়র বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাহাবী আবু বাসরা আল গিফারীর সাথে রমযান মাসে ফুসতাত হতে আগমনকারী এক জাহাজে সওয়ার ছিলাম। এরপর জাহাজ ছেড়ে দেয়ার পর তিনি সকালে নাশতা খেতে শুরু করেন। রাবী জা‘ফর তাঁর হাদীসে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর ঘর হতে দূরে গমনের আগেই সকালের নাশতা খান। তিনি বলেন, এসো! আমাদের সাথে খাদ্য গ্রহণ করো। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কি আপনার ঘরবাড়ী দেখছেন না? আবু বুসরা বলেন, তুমি কি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সুন্নত ত্যাগ করতে চাও? রাবী জা‘ফর তাঁর হাদীসে উল্লেখ করেন, তিনি খাদ্য গ্রহণ করেন।

২৩৭. রোযাদার ব্যক্তি কী পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করলে রোযা না রেখে পানাহার করবে।

باب قَدْرِ مَسِيرَةِ مَا يُفْطِرُ فِيهِ

২৪০৫

حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ حَمَّادٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، - يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ - عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ مَنْصُورٍ الْكَلْبِيِّ، أَنَّ دِحْيَةَ بْنَ خَلِيفَةَ، خَرَجَ مِنْ قَرْيَةٍ مِنْ دِمَشْقَ مَرَّةً إِلَى قَدْرِ قَرْيَةِ عُقْبَةَ مِنَ الْفُسْطَاطِ وَذَلِكَ ثَلاَثَةُ أَمْيَالٍ فِي رَمَضَانَ ثُمَّ إِنَّهُ أَفْطَرَ وَأَفْطَرَ مَعَهُ نَاسٌ وَكَرِهَ آخَرُونَ أَنْ يُفْطِرُوا فَلَمَّا رَجَعَ إِلَى قَرْيَتِهِ قَالَ وَاللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُ الْيَوْمَ أَمْرًا مَا كُنْتُ أَظُنُّ أَنِّي أَرَاهُ إِنَّ قَوْمًا رَغِبُوا عَنْ هَدْىِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابِهِ . يَقُولُ ذَلِكَ لِلَّذِينَ صَامُوا ثُمَّ قَالَ عِنْدَ ذَلِكَ اللَّهُمَّ اقْبِضْنِي إِلَيْكَ .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৪০৫. ঈসা ইবনে হামমাদ ..... মনসুর আল কালবী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই দেহ্ইয়া ইবনে খলীফা একদা দামেশকের কোন এক গ্রাম হতে ফুসততা শহরের দূরত্বের অনুরূপ দূরত্ব রমযান মাসে অতিক্রম করেন, যার পরিমাণ ছিল তিন মাইলের মত। তখন তিনি রোযা ভঙ্গ করে খাদ্য গ্রহণ করেন এবং তার সঙ্গের লোকজনও রোযা ভঙ্গ করেন। কিন্তু কিছু লোক রোযা ভঙ্গ করতে অস্বীকার করেন। এরপর তিনি স্বীয় গ্রামে প্রত্যাবর্তনের পর বলেন, আল্লাহ শপথ! অদ্য আমি এমন এক ব্যাপার দেখলাম, যা দেখার কোন ধারণাও আমার ছিল না। নিশ্চয়ই কওমের লোকেরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সুন্নত ত্যাগ করেছে। আর তাঁর সাহাবীগণ যাঁরা রোযা রেখেছিলেন তাদেরকে ঐরূপ বলতে থাকেন। এমতাবস্থায় তিনি বলেন, ইয়া আল্লাহ্! তুমি আমাকে তোমার নিকট উঠিয়ে লও।

২৩৭. রোযাদার ব্যক্তি কী পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করলে রোযা না রেখে পানাহার করবে।

باب قَدْرِ مَسِيرَةِ مَا يُفْطِرُ فِيهِ

২৪০৬

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، كَانَ يَخْرُجُ إِلَى الْغَابَةِ فَلاَ يُفْطِرُ وَلاَ يَقْصُرُ .

বর্ণনাকারী: নাফি‘ (রহঃ)

২৪০৬. মুসাদ্দাদ .... নাফি’ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) যখন গাবা নামক স্থানের দিকে রওয়ানা হতেন, তখন তিনি ইফতার (রোযা ভঙ্গ) করতেন না, আর নামাযও কসর করতেন না।

২৩৮. যে ব্যক্তি বলে, আমি পূর্ণ রমযান রোযা রেখেছি।

باب مَنْ يَقُولُ صُمْتُ رَمَضَانَ كُلَّهُ

২৪০৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ الْمُهَلَّبِ بْنِ أَبِي حَبِيبَةَ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ إِنِّي صُمْتُ رَمَضَانَ كُلَّهُ وَ قُمْتُهُ كُلَّهُ " . فَلاَ أَدْرِي أَكَرِهَ التَّزْكِيَةَ أَوْ قَالَ لاَ بُدَّ مِنْ نَوْمَةٍ أَوْ رَقْدَةٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

২৪০৭. মুসাদ্দাদ .... আবু বাকরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন না বলে, আমি পূর্ণ রমযান মাস রোযা রেখে এবং এর পূর্ণ রজনী দণ্ডায়মান হয়ে নামাযে রত ছিলাম। রাবী বলেন, তিনি তাযকীয়া[১] অপছন্দ করতেন কিনা তা আমার জানা নেই অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি বলেন, তার জন্য নিদ্রা অথবা তন্দ্রা উভয়ই প্রয়োজন।[২]

[১]আত্মশুদ্ধি।

[২] কারণ এরূপ উক্তিতে আত্মগর্ব প্রকাশ পায়। অপরদিকে উক্তিটি এ কারণে মিথ্যা যে, কিছু না কিছু সময় তো তার নিদ্রা বা তন্ত্রায় কেটেছে। আবার রোযা-নামায কবুল হয়েছে কিনা তা-ও জানা নেই। অতএব, এরূপ বলা উচিত নয়।

২৩৯. দু’ঈদের দিনে রোযা রাখা।

باب فِي صَوْمِ الْعِيدَيْنِ

২৪০৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، - وَهَذَا حَدِيثُهُ - قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ، قَالَ شَهِدْتُ الْعِيدَ مَعَ عُمَرَ فَبَدَأَ بِالصَّلاَةِ قَبْلَ الْخُطْبَةِ ثُمَّ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ صِيَامِ هَذَيْنِ الْيَوْمَيْنِ أَمَّا يَوْمُ الأَضْحَى فَتَأْكُلُونَ مِنْ لَحْمِ نُسُكِكُمْ وَأَمَّا يَوْمُ الْفِطْرِ فَفِطْرُكُمْ مِنْ صِيَامِكُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

২৪০৮. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ..... আবু উবাইদ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উমর (রাযিঃ) এর সাথে ঈদের নামায আদায় করি। এরপর তিনি খুতবার পূর্বে নামায আদায় করেন। পরে বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ দু‘দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। আর ঈদুল আযহার দিন, তোমরা যে কুরবানী করে থাকো তার গোশত তোমরা ভক্ষণ করে থাকো। আর ঈদুল ফিতরের দিন, তা তোমাদের রোযার ইফতারের দিন।

২৪০৯

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صِيَامِ يَوْمَيْنِ يَوْمِ الْفِطْرِ وَيَوْمِ الأَضْحَى وَعَنْ لِبْسَتَيْنِ الصَّمَّاءِ وَأَنْ يَحْتَبِيَ الرَّجُلُ فِي الثَّوْبِ الْوَاحِدِ وَعَنِ الصَّلاَةِ فِي سَاعَتَيْنِ بَعْدَ الصُّبْحِ وَبَعْدَ الْعَصْرِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৪০৯. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... আবু সাঈদ আল খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুর ফিতর ও ঈদুল আযহার এ দু‘দিনে রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন এবং এমনভাবে পুরুষের জন্য এক প্রস্থ কাপড় পড়তে নিষেধ করেছেন, যাতে হস্ত-পদ পাথরের মতো নিশ্চল থাকে এবং তিনি সকাল হবার পর (দু‘রাকআত সুন্নত ব্যতীত অন্য নামায) এবং আসরের পরে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন।

২৪০. তাশরীকের দিনসমূহে রোযা রাখা।

باب صِيَامِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ

২৪১০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْهَادِ، عَنْ أَبِي مُرَّةَ، مَوْلَى أُمِّ هَانِئٍ أَنَّهُ دَخَلَ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَلَى أَبِيهِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ فَقَرَّبَ إِلَيْهِمَا طَعَامًا فَقَالَ كُلْ . فَقَالَ إِنِّي صَائِمٌ . فَقَالَ عَمْرٌو كُلْ فَهَذِهِ الأَيَّامُ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنَا بِإِفْطَارِهَا وَيَنْهَانَا عَنْ صِيَامِهَا . قَالَ مَالِكٌ وَهِيَ أَيَّامُ التَّشْرِيقِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৪১০. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা আল্ কা‘নবী ...... উম্মে হানীর আযাদকৃত গোলাম আবু মু্ররা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমরের সাথে তাঁর পিতা আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) এর নিকট গমন করেন। তিনি উভয়ের সম্মুখে কিছু খাদ্যদ্রব্য রেখে বলেন, খাও! আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর বলেন, আমি তো রোযাদার। আমর (রাযিঃ) বলেন, তুমি খাদ্য গ্রহণ করো, কেননা এই দিনগুলোতে রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে ইফতার করতে নির্দেশ দিতেন এবং রোযা রাখতে নিষেধ করতেন। রাবী মালিক বলেন, তা ছিল তাশরীকের দিনসমূহ।

২৪১১

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا وَهْبٌ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُلَىٍّ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُلَىٍّ، - وَالإِخْبَارُ فِي حَدِيثِ وَهْبٍ - قَالَ سَمِعْتُ أَبِي أَنَّهُ، سَمِعَ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَوْمُ عَرَفَةَ وَيَوْمُ النَّحْرِ وَأَيَّامُ التَّشْرِيقِ عِيدُنَا أَهْلَ الإِسْلاَمِ وَهِيَ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

২৪১১. আল্ হাসান ইবনে আলী ও উসমান ইবনে আবি শাঈবা ..... মুসা ইবনে আলী হতে বর্ণিত। যার শব্দগুলো ওয়াহব বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ আছে। তিনি বলেন, আমি আমার পিতার নিকট হতে শ্রবণ করেছি, যিনি উকবা ইবনে আমের হতে শ্রবণ করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ আরাফার দিন, কুরবানীর দিন এবং তাশরীকের দিনগুলো মুসলিমদের জন্য ঈদ স্বরূপ। এই দিনগুলি পানাহারের জন্য নির্ধারিত।

২৪১. (কেবল) জুমু’আর দিনকে রোযার জন্য নির্ধারিত করা নিষেধ।

باب النَّهْىِ أَنْ يُخَصَّ يَوْمُ الْجُمُعَةِ بِصَوْمٍ

২৪১২

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَصُمْ أَحَدُكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِلاَّ أَنْ يَصُومَ قَبْلَهُ بِيَوْمٍ أَوْ بَعْدَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৪১২. মুসাদ্দাদ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ যেন পূর্বের একদিন বা পরের একদিন রোযা রাখা ব্যতীত শুধু জুমআর দিনটিতে রোযা না রাখে।

২৪২. (কেবল) শনিবার দিনকে রোযার জন্য নির্ধারিত করা নিষেধ।

باب النَّهْىِ أَنْ يُخَصَّ يَوْمُ السَّبْتِ بِصَوْمٍ

২৪১৩

حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حَبِيبٍ، ح وَحَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ قُبَيْسٍ، - مِنْ أَهْلِ جَبَلَةَ - حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، جَمِيعًا عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ السُّلَمِيِّ، عَنْ أُخْتِهِ، - وَقَالَ يَزِيدُ الصَّمَّاءِ - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَصُومُوا يَوْمَ السَّبْتِ إِلاَّ فِيمَا افْتُرِضَ عَلَيْكُمْ وَإِنْ لَمْ يَجِدْ أَحَدُكُمْ إِلاَّ لِحَاءَ عِنَبَةٍ أَوْ عُودَ شَجَرَةٍ فَلْيَمْضُغْهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا حَدِيثٌ مَنْسُوخٌ . «قال أبو داود: عبد الله بن بسر حمصي, وهذا الحديث منسوخ, نسخه حديث جويرية».

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুসর আল-আসলামী রাযি.

২৪১৩. হামীদ ইবনে মাসআদা ...... আব্দুল্লাহ্ ইবনে বুসর আল সুলামী তার ভগ্নি হতে বর্ণনা করেছেন। ইয়াযীদ আস সাম্মা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা রোযা রাখবে না। তবে যদি ঐ দিন রোযা রাখা ফরয হয়, তা স্বতস্ত্র ব্যাপার। আর যদি তোমাদের কেউ আঙ্গুরের খোসা বা কোন গাছের ছাল ছাড়া অন্য কিছুই খেতে না পায়, তবে সে যেন তা চর্বণের পর ভক্ষণ করে।

২৪৩. এতদ্সম্পর্কে (সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিন) অনুমতি প্রসঙ্গে।

باب الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ

২৪১৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، ح وَحَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، - قَالَ حَفْصٌ الْعَتَكِيُّ - عَنْ جُوَيْرِيَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيْهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَهِيَ صَائِمَةٌ فَقَالَ " أَصُمْتِ أَمْسِ " . قَالَتْ لاَ . قَالَ " تُرِيدِينَ أَنْ تَصُومِي غَدًا " . قَالَتْ لاَ . قَالَ " فَأَفْطِرِي " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন জুওয়াইরিয়্যা বিনতে হারিস (রাঃ)

২৪১৪. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর ...... জুওয়াইরিয়া বিনতে আল হারিস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জুমআর দিন নবী করীম (ﷺ) তাঁর নিকট গমন করেন। আর সেদিন তিনি রোযাদার ছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি বৃহস্পতিবারে রোযা রেখেছিলে? তিনি বলেন, না। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি আগামীকাল (শনিবার) রোযা রাখার ইরাদা কর? তিনি বলেন, না। তিনি বলেন, তবে তুমি ইফতার (রোযা ভঙ্গ) কর।

২৪১৫

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ شُعَيْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ سَمِعْتُ اللَّيْثَ، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ كَانَ إِذَا ذُكِرَ لَهُ أَنَّهُ نُهِيَ عَنْ صِيَامِ يَوْمِ السَّبْتِ يَقُولُ ابْنُ شِهَابٍ هَذَا حَدِيثٌ حِمْصِيٌّ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

২৪১৫. আব্দুল মালিক ইবনে শুআয়ব ..... ইবনে শিহাব যুহরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন শনিবারের রোযা রাখার নিষিদ্ধতা সম্পর্কে তাকে কেউ বলত, তখন ইবনে শিহাব বলতেন, এ হাদীসটি দুর্বল।

২৪১৬

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ بْنِ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، قَالَ مَا زِلْتُ لَهُ كَاتِمًا حَتَّى رَأَيْتُهُ انْتَشَرَ . يَعْنِي حَدِيثَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ هَذَا فِي صَوْمِ يَوْمِ السَّبْتِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ مَالِكٌ هَذَا كَذِبٌ .

বর্ণনাকারী: আওযায়ী (রহঃ)

২৪১৬. মুহাম্মাদ ইবনে আল্ সাব্বাহ্ ..... আওয়াযী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে বুসর বর্ণিত হাদীসটি গোপন রাখতে চেষ্টা করতাম, কিন্তু এতদসত্ত্বেও আমি দেখতে পাই যে, তা অর্থাৎ শনিবারে রোযা না রাখার হাদীসটি বেশ প্রসার লাভ করেছে।

২৪৪. সারা বছর নফল রোযা রাখা।

باب فِي صَوْمِ الدَّهْرِ تَطَوُّعًا

২৪১৭

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَصُومُ فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ قَوْلِهِ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ عُمَرُ قَالَ رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ غَضَبِ اللَّهِ وَمِنْ غَضَبِ رَسُولِهِ . فَلَمْ يَزَلْ عُمَرُ يُرَدِّدُهَا حَتَّى سَكَنَ غَضَبُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ الدَّهْرَ كُلَّهُ قَالَ " لاَ صَامَ وَلاَ أَفْطَرَ " . قَالَ مُسَدَّدٌ " لَمْ يَصُمْ وَلَمْ يُفْطِرْ أَوْ مَا صَامَ وَلاَ أَفْطَرَ " . شَكَّ غَيْلاَنُ . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ يَوْمَيْنِ وَيُفْطِرُ يَوْمًا قَالَ " أَوَيُطِيقُ ذَلِكَ أَحَدٌ " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا قَالَ " ذَلِكَ صَوْمُ دَاوُدَ " . قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَكَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمَيْنِ قَالَ " وَدِدْتُ أَنِّي طُوِّقْتُ ذَلِكَ " . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " ثَلاَثٌ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ فَهَذَا صِيَامُ الدَّهْرِ كُلِّهِ وَصِيَامُ عَرَفَةَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ وَصَوْمُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

২৪১৭. সুলাইমান ইবনে হারব ও মুসাদ্দাদ ..... আবু কাতাদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা জনৈক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কিরূপে রোযা রাখেন? রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এতে রাগান্বিত হন। এরপর উমর (রাযিঃ) বলেন, আমরা রব হিসাবে আল্লাহকে, দীন হিসাবে ইসলাম এবং নবী হিসাবে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এ সন্তুষ্ট। আর আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় পার্থনা করছি, আল্লাহর গযব ও তাঁর রাসূলের গযব হতে। উমর (রাযিঃ) পনঃপুনঃ এরূপ বলতে থাকাতে নবী করীম (ﷺ) এর ক্রোধ নিবারিত হয়। তখন তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ঐ ব্যক্তি কিরূপ, যে সারা বছর রোযা রাখে? তিনি বলেন, সে যেন রোযা রাখল না এবং ইফতারও করল না।

মুসাদ্দাদ (রাহঃ) বলেন, সে যেন রোযাও রাখেনি এবং ইফতারও করেনি। রাবী গায়লান সন্দেহবশত এরূপ বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি (উমর) জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? যে দুইদিন রোযা রাখে এবং একদিন ইফতার করে? তিনি বলেন, কেউ কি এরূপ করতে সক্ষম? উমর (রাযিঃ) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ঐ ব্যক্তি কিরূপ, যে একদিন রোযা রাখে এবং একদিন ইফতার করে? তিনি বলেন, তা দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর রোযার অনুরূপ।

এরপর উমর (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ঐ ব্যক্তি কিরূপ, যে একদিন রোযা রাখে এবং দু‘দিন ইফতার করে? তিনি বলেন, আমি এটাই পছন্দ করি, যদি আমাকে ক্ষমতা দেয়া হয়। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, প্রতি মাসে তিনদিন করে এক রমযান হতে অন্য রমযান পর্যন্ত রোযা রাখা, ইহাই সারা বছর রোযা রাখার সমতুল্য। আর আরাফার রোযা, আমি আল্লাহ নিকট এরূপ প্রত্যাশা করি যে, এর বিনিময়ে তিনি পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের যাবতীয় গুনাহ্ মার্জনা করে দিবেন। আর আশুরার রোযা, আমি আল্লাহ নিকট এরূপ প্রত্যাশা করি যে, তিনি এর বিনিময়ে পূর্ববর্তী এক বছরের যাবতীয় গুনাহ্ মার্জনা করে দিবেন।

২৪৪. সারা বছর নয়ল রোযা রাখা।

باب فِي صَوْمِ الدَّهْرِ تَطَوُّعًا

২৪১৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ، حَدَّثَنَا غَيْلاَنُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، بِهَذَا الْحَدِيثِ زَادَ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ صَوْمَ يَوْمِ الاِثْنَيْنِ وَيَوْمِ الْخَمِيسِ قَالَ " فِيهِ وُلِدْتُ وَفِيهِ أُنْزِلَ عَلَىَّ الْقُرْآنُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

২৪১৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল ...... আবু কাতাদা (রাযিঃ) পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখা সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বলেন, এ দিন (সোমবার) আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এ দিন আমার উপর কুরআন সর্বপ্রথম নাযিল হয়।[১]

[১] হাদীসের আলোকে বোঝা যায় যে, নসী ফরীদ (ﷺ) সোমবার দিন রোযা রাখাকে উত্তম জ্ঞান করেছেন। কেননা, ঐ দিন মুবারক দিবস। রাসূলুল্লাহ্ (স)-এর দুনিয়াতে আগমন বিশ্ববাসীর জন্য পরম সৌভাগ্য ও রহমত। তাছাড়া সোমবার হাদীসে বর্ণনা রয়েছে।
২৪১৯

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ لَقِيَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَلَمْ أُحَدَّثْ أَنَّكَ تَقُولُ لأَقُومَنَّ اللَّيْلَ وَلأَصُومَنَّ النَّهَارَ " . قَالَ - أَحْسِبُهُ قَالَ - نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ قُلْتُ ذَاكَ . قَالَ " قُمْ وَنَمْ وَصُمْ وَأَفْطِرْ وَصُمْ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَذَاكَ مِثْلُ صِيَامِ الدَّهْرِ " . قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ . قَالَ " فَصُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمَيْنِ " . قَالَ فَقُلْتُ إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ قَالَ " فَصُمْ يَوْمًا وَأَفْطِرْ يَوْمًا وَهُوَ أَعْدَلُ الصِّيَامِ وَهُوَ صِيَامُ دَاوُدَ " . قُلْتُ إِنِّي أُطِيقُ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৪১৯. আল হাসান ইবনে আলী ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথে আমার সাক্ষাত হয়। তিনি বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, তুমি এরূপ বলো, আমি সারারাত জেগে নামায আদায় করব এবং সারাদিন রোযা রাখব? রাবী বলেন, আমার ধারণা এরূপ যে, তিনি ছিলেন, আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ)। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! হ্যাঁ, আমি এরূপ বলেছি। তিনি বলেন, নামায আদায় করো এবং নিদ্রাও যাও, রোযাও রাখো এবং ইফতারও করো। আর প্রতিমাসে তিনদিন রোযা রাখবে। আর তা হলো সমস্ত বছর রোযা রাখার সমতুল্য।

তিনি বলেন, আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি এর চাইতে অধিক করতে সক্ষম। তিনি বলেন, তবে তুমি একদিন রোযা রাখবে এবং দু‘দিন ইফতার করবে। তিনি বলেন, আমি পুনরায় বলি, আমার এর চাইতে অধিক করার ক্ষমতা আছে। তিনি বলেন, তবে একদিন রোযা রাখবে এবং একদিন ইফতার করবে। আর এটাই উত্তম রোযা। এটা দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর রোযার অনুরূপ। আমি বলি, আমি এর চাইতেও অধিক করতে সক্ষম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, এর চাইতে অধিক উত্তম আর কিছুই নেই।

২৪৫. হারাম (পবিত্র) মাস সমূহে [১] রোযা রাখা।

باب فِي صَوْمِ أَشْهُرِ الْحُرُمِ

২৪২০

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سَعِيدٍ الْجُرَيْرِيِّ، عَنْ أَبِي السَّلِيلِ، عَنْ مُجِيبَةَ الْبَاهِلِيَّةِ، عَنْ أَبِيهَا، أَوْ عَمِّهَا أَنَّهُ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ انْطَلَقَ فَأَتَاهُ بَعْدَ سَنَةٍ وَقَدْ تَغَيَّرَتْ حَالَتُهُ وَهَيْئَتُهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمَا تَعْرِفُنِي قَالَ " وَمَنْ أَنْتَ " . قَالَ أَنَا الْبَاهِلِيُّ الَّذِي جِئْتُكَ عَامَ الأَوَّلِ . قَالَ " فَمَا غَيَّرَكَ وَقَدْ كُنْتَ حَسَنَ الْهَيْئَةِ " . قَالَ مَا أَكَلْتُ طَعَامًا إِلاَّ بِلَيْلٍ مُنْذُ فَارَقْتُكَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لِمَ عَذَّبْتَ نَفْسَكَ " . ثُمَّ قَالَ " صُمْ شَهْرَ الصَّبْرِ وَيَوْمًا مِنْ كُلِّ شَهْرٍ " . قَالَ زِدْنِي فَإِنَّ بِي قُوَّةً . قَالَ " صُمْ يَوْمَيْنِ " . قَالَ زِدْنِي . قَالَ " صُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ " . قَالَ زِدْنِي . قَالَ " صُمْ مِنَ الْحُرُمِ وَاتْرُكْ صُمْ مِنَ الْحُرُمِ وَاتْرُكْ صُمْ مِنَ الْحُرُمِ وَاتْرُكْ " . وَقَالَ بِأَصَابِعِهِ الثَّلاَثَةِ فَضَمَّهَا ثُمَّ أَرْسَلَهَا .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৪২০. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... মুজীবা আল্-বাহেলীয়্যা তাঁর পিতা হতে অথবা তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট আগমন ও সাক্ষাত করে তাঁর ঘরে প্রত্যাবর্তন করেন। এরপর এক বছর পরে তিনি নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে এমন অবস্থায় আগমন করেন যে, তার অবস্থা ও চেহারা পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন? তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কে? তিনি বলেন, আমি বাহেলী, যে গত বছর আপনার নিকট এসেছিলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তোমার এরূপ পরিবর্তনের কারণ কী, তুমি তো সুন্দর চেহারার অধিকারী ছিলে? তিনি বলেন, আপনার নিকট হতে প্রত্যাবর্তনের পর, আমি রাতে ব্যতীত দিনে কখনোও খাদ্য গ্রহণ করিনি (অর্থাৎ সারা বছর রোযা রেখেছি)।

রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, তুমি তোমার নফসকে কেন কষ্ট দিলে? এরপর তিনি বলেন, তুমি রমযান মাসের রোযা রাখবে। তিনি বলেন, আমাকে এর চেয়ে অধিক করার অনুমতি দিন, কেননা আমি সক্ষম। তিনি বলেন, তবে দু‘দিন (প্রতি মাসে) রোযা রাখবে। তিনি বলেন, এর চাইওে অধিক করার অনুমতি দিন। তিনি বলেন, তবে মাসে তিনদিন রোযা রাখবে। তিনি বলেন, এর চাইতেও অধিক করার অনুমতি দিন। তিনি বলেন, তুমি পবিত্র মাসগুলোতে রোযা রাখবে এবং রোযা পরিত্যাগও করবে। এরূপ তিনি তিনবার বলেন। আর তিনি স্বীয় তিনটি অঙ্গুলি বদ্ধ করে এবং পুনরায় তা খুলে, প্রতিমাসে তিনদিন রোযা রাখার ও তিনদিন বাদ দেয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেন।

[১] যিল-কাদ, যিল-হাজ্জ, মুহাররাম ও রজব -এ চার মাসকে আশহুরুল হুরুম বা পবিত্র মাস বলা হয়।

২৪৬. মুহাররাম মাসের রোযা।

باب فِي صَوْمِ الْمُحَرَّمِ

২৪২১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ شَهْرُ اللَّهِ الْمُحَرَّمُ وَإِنَّ أَفْضَلَ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْمَفْرُوضَةِ صَلاَةٌ مِنَ اللَّيْلِ " . لَمْ يَقُلْ قُتَيْبَةُ " شَهْرِ " . قَالَ " رَمَضَانَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৪২১. মুসাদ্দাদ ও কুতায়বা ইবনে সাঈদ .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ রমযান মাসের পরে উত্তম রোযা হল মুহাররাম মাসের রোযা। আর ফরয নামাযের পর উত্তম নামায হল রাতের (নফল) নামায। (রাবী কুতায়বা ‘শাহরুন’ শব্দের উল্লেখ না করে শুধু ‘রমযান’ শব্দের উল্লেখ করেছেন।)

২৪৭. রজব মাসের রোযা।

باب فِي صَوْمِ رَجَبَ

২৪২২

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عِيسَى، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، - يَعْنِي ابْنَ حَكِيمٍ - قَالَ سَأَلْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ عَنْ صِيَامِ رَجَبَ، فَقَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ لاَ يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لاَ يَصُومُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৪২২. ইবরাহীম ইবনে মুসা .... উসমান ইবনে হাকীম (রাহঃ) বলেন, আমি সাঈদ ইবনে জুবাইরকে রজব মাসে রোযা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন, আমাকে ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ মাসে এরূপ রোযা রাখতেন যে, আমরা বলতাম, তিনি আর ইফতার (রোযা ভঙ্গ) করবেন না। আবার তিনি এরূপ ইফতার করতেন যে, আমরা বলতাম, তিনি আর রোযা রাখবেন না।

২৪৮. শা’বান মাসের রোযা।

باب فِي صَوْمِ شَعْبَانَ

২৪২৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَيْسٍ، سَمِعَ عَائِشَةَ، تَقُولُ كَانَ أَحَبَّ الشُّهُورِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَصُومَهُ شَعْبَانُ ثُمَّ يَصِلُهُ بِرَمَضَانَ .

বর্ণনাকারী: আবু বুরদা আশআরী (রহঃ)

২৪২৩. আহমদ ইবনে হাম্বল ....... আব্দুল্লাহ্ ইবনে কায়স (রাযিঃ) আয়িশা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট মাসসমূহের মধ্যে (নফল) রোযার জন্য প্রিয়তম মাস ছিল শা‘বান মাস। এরপর তিনি রমযানের রোযা রাখা শুরু করতেন।

২৪২৪

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ مُوسَى - عَنْ هَارُونَ بْنِ سَلْمَانَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ الْقُرَشِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَأَلْتُ - أَوْ سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم - عَنْ صِيَامِ الدَّهْرِ فَقَالَ " إِنَّ لأَهْلِكَ عَلَيْكَ حَقًّا صُمْ رَمَضَانَ وَالَّذِي يَلِيهِ وَكُلَّ أَرْبِعَاءَ وَخَمِيسٍ فَإِذَا أَنْتَ قَدْ صُمْتَ الدَّهْرَ " ، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: «وَافَقَهُ زَيْدٌ الْعُكْلِيُّ، وَخَالَفَهُ أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ مُسْلِمُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ»

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৪২৪. মুহাম্মাদ ইবনে উসমান আল আজালী ..... উবাইদুল্লাহ্ ইবনে মুসলিম আল-কারাশী (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা আমি জিজ্ঞাসা করি অথবা (রাবীর সন্দেহ) নবী করিম (ﷺ)কে সারা বছর রোযা রাখা সম্পর্কে করা হয়। তিনি বলেন, তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হক আছে। কাজেই তুমি রমযানের রোযা রাখো এবং এর পরবর্তী (শাওয়ালের) রোযাগুলো রাখো। তাছাড়া তুমি প্রতি মাসে তিনদিন রোযা রাখবে। যদি তুমি এরূপ কর, তবে তুমি যেন সারা বছর রোযা রাখলে।

২৪৯. শাওয়াল মাসে ছয়দিন রোযা রাখা।

باب فِي صَوْمِ شَوَّالٍ

২৪২৫

حَدَّثَنَا النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ، وَسَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ ثَابِتٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، صَاحِبِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ بِسِتٍّ مِنْ شَوَّالٍ فَكَأَنَّمَا صَامَ الدَّهْرَ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ)

২৪২৫. আন্ নুফায়লী .... নবী করীম (ﷺ) এর গৃহকর্তা আবু আইউব আনসারী (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখার পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা রাখবে, সে যেন সারা বছর রোযা রাখল।

২৫০. নবী করীম (ﷺ) কিভাবে রোযা রাখতেন।

باب كَيْفَ كَانَ يَصُومُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم

২৪২৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ لاَ يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لاَ يَصُومُ وَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ قَطُّ إِلاَّ رَمَضَانَ وَمَا رَأَيْتُهُ فِي شَهْرٍ أَكْثَرَ صِيَامًا مِنْهُ فِي شَعْبَانَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪২৬. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা .... নবী করীম (ﷺ) এর পত্নী আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এরূপে রোযা রাখতেন যে, আমরা বলতাম, তিনি আর ইফতার (রোযা ভঙ্গ) করবেন না। আবার তিনি ইফতার করতেন, আমরা বলতাম, তিনি আর রোযা রাখবেন না। আর আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে রমযান মাস ব্যতীত অন্য কোন মাসে পূর্ণ মাস রোযা রাখতে দেখিনি। আর আমি তাঁকে শা‘বান মাসের চাইতে অন্য কোন মাসে অধিক রোযা রাখতে দেখিনি (অর্থাৎ শা‘বান মাসেই তিনি বেশীরভাগ নফল রোযা রাখতেন।)

২৪২৭

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ . زَادَ كَانَ يَصُومُهُ إِلاَّ قَلِيلاً بَلْ كَانَ يَصُومُهُ كُلَّهُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৪২৭. মুসা ইবনে ইসমাঈল .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি নবী করীম (ﷺ) হতে, পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি শা‘বান মাসের অল্প ক‘দিন ছাড়া পুরো রোযা রাখতেন।

২৫১. সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা।

باب فِي صَوْمِ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ

২৪২৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي الْحَكَمِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ مَوْلَى، قُدَامَةَ بْنِ مَظْعُونٍ عَنْ مَوْلَى، أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ أَنَّهُ انْطَلَقَ مَعَ أُسَامَةَ إِلَى وَادِي الْقُرَى فِي طَلَبِ مَالٍ لَهُ فَكَانَ يَصُومُ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ فَقَالَ لَهُ مَوْلاَهُ لِمَ تَصُومُ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ وَأَنْتَ شَيْخٌ كَبِيرٌ فَقَالَ إِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَصُومُ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ وَسُئِلَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ " إِنَّ أَعْمَالَ الْعِبَادِ تُعْرَضُ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَذَا قَالَ هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ عَنْ يَحْيَى عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي الْحَكَمِ .

বর্ণনাকারী: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

২৪২৮. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... উসামা ইবনে যায়দের আযাদকৃত গোলাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি উসামার সাথে কুবা নামক উপত্যকায় তাঁর মালের জন্য গমন করেন। তিনি (উসামা) সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখেন। তাঁর আযাদকৃত গোলাম তাঁকে বলে, আপনি সোমবার ও বৃহস্পতিবার কেন রোযা রাখেন অথচ আপনি একজন অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) সোম ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন। নবী করীম (ﷺ)কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ মানুষের আমলসমূহ সেমবার ও বৃহস্পতিবার আল্লাহ সমীপে পেশ করা হয়।

২৫২. দশদিন রোযা রাখা।

باب فِي صَوْمِ الْعَشْرِ

২৪২৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الْحُرِّ بْنِ الصَّبَّاحِ، عَنْ هُنَيْدَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ امْرَأَتِهِ، عَنْ بَعْضِ، أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ تِسْعَ ذِي الْحِجَّةِ وَيَوْمَ عَاشُورَاءَ وَثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ أَوَّلَ اثْنَيْنِ مِنَ الشَّهْرِ وَالْخَمِيسَ .

বর্ণনাকারী: হুনাইদা খুযাঈ (রহঃ)

২৪২৯. মুসাদ্দাদ .... হুনায়দা ইবনে খালিদ তাঁর স্ত্রী হতে এবং তিনি নবী করীম (ﷺ) এর কোন এক স্ত্রী হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যিল-হজ্জের প্রথম নয়দিন ও আশুরার দিন রোযা রাখতেন। আর তিনি প্রতি মাসে তিনদিন, মাসের প্রথম সোম ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন।

২৪৩০

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، وَمُجَاهِدٍ، وَمُسْلِمٍ الْبَطِينِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ " . يَعْنِي أَيَّامَ الْعَشْرِ . قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلاَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ " وَلاَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلاَّ رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَىْءٍ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৪৩০. উসমান ইবনে আবি শাঈবা ....... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ আল্লাহ্ তাআলার নিকট দিনসমূহের মধ্যে যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের আমল অধিক প্রিয়। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করাও কি ঐরূপ উত্তম আমল নয়? তিনি বলেন না, আল্লাহ রাস্তায় জিহাদ করাও নয়। অবশ্য যে ব্যক্তি স্বীয় জান-মালসহ রাস্তায় বের হওয়ার পর, আর প্রত্যাবর্তন করে না, তার ব্যাপারটি স্বতন্ত্র।

২৫৩. দশ যিলহজ্জে রোযা না রাখা।

باب فِي فِطْرِ الْعَشْرِ

২৪৩১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَائِمًا الْعَشْرَ قَطُّ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৩১. মুসাদ্দাদ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি কখনও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)কে যিলহজ্জ মাসে দশদিন (নফল) রোযা রাখতে দেখিনি।

২৫৪. আরাফাতের দিন আরাফাতে রোযা রাখা।

باب فِي صَوْمِ عَرَفَةَ بِعَرَفَةَ

২৪৩২

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَوْشَبُ بْنُ عَقِيلٍ، عَنْ مَهْدِيٍّ الْهَجَرِيِّ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ أَبِي هُرَيْرَةَ فِي بَيْتِهِ فَحَدَّثَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ بِعَرَفَةَ .

বর্ণনাকারী: ইকরিমা (রহঃ)

২৪৩২. সুলাইমান ইবনে হারব .... ইকরিমা (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর নিকট তাঁর ঘরে অবস্থানরত ছিলাম। তিনি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আরাফাতের দিন আরাফাতের রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন।

২৫৪. আরাফাতের দিন আরাফাতের রোযা রাখা।

باب فِي صَوْمِ عَرَفَةَ بِعَرَفَةَ

২৪৩৩

حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ عُمَيْرٍ، مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أُمِّ الْفَضْلِ بِنْتِ الْحَارِثِ، أَنَّ نَاسًا، تَمَارَوْا عِنْدَهَا يَوْمَ عَرَفَةَ فِي صَوْمِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ بَعْضُهُمْ هُوَ صَائِمٌ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ لَيْسَ بِصَائِمٍ . فَأَرْسَلَتْ إِلَيْهِ بِقَدَحِ لَبَنٍ وَهُوَ وَاقِفٌ عَلَى بَعِيرِهِ بِعَرَفَةَ فَشَرِبَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল ফযল লুবাবা (রাঃ)

২৪৩৩. আল্ কা‘নবী .... উম্মে ফযল বিনতুল হারিস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আফাতের দিন লোকেরা তার নিকট রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) এর রোযা রাখা সম্পর্কে বিতর্ক করতে থাকে। কেউ কেউ বলে, তিনি রোযা রেখেছেন। আবার কেউ কেউ বলে, তিনি রোযা রাখেননি। আমি নবীজীর খিদমতে এক পেয়ালা দুধ প্রেরণ করি, তখন তিনি তাঁর উটের উপর আরাফাতে অবস্থানরত ছিলেন। তিনি তা পান করেন। এতে বোঝা যায় যে, তিনি রোযা রাখেননি।

২৫৫. আশুরার দিন রোযা রাখা।

باب فِي صَوْمِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ

২৪৩৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ يَوْمًا تَصُومُهُ قُرَيْشٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُهُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَلَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ صَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ فَلَمَّا فُرِضَ رَمَضَانُ كَانَ هُوَ الْفَرِيضَةَ وَتُرِكَ عَاشُورَاءُ فَمَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৩৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, কুরাশগণ জাহিলীয়াতের যুগে আশুরার (১০ই মুহাররামের দিন) রোযা পালন করতো। আর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)ও জাহিলীয়াতের যুগে ঐ দিন নিজে রোযা রাখতেন। তিনি মদীনাতে আগমনের পর ঐ দিন নিজে রোযা রাখেন এবং অন্যদেরও রোযা রাখার নির্দেশ দেন। অতঃপর রমযানের রোযা ফরয করা হলে, আশুরার রোযার আবশ্যকতা পরিত্যক্ত হয়। যে কেউ স্বেচ্ছায় তা রাখতে পারে এবং যে কেউ স্বেচ্ছায় তা ত্যাগও করতে পারে।

২৪৩৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ كَانَ عَاشُورَاءُ يَوْمًا نَصُومُهُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَلَمَّا نَزَلَ رَمَضَانُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذَا يَوْمٌ مِنْ أَيَّامِ اللَّهِ فَمَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৪৩৫. মুসাদ্দাদ ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আশুরা এমন দিন ছিল, আমরা যাতে জাহিলীয়াতের যুগে রোযা রাখতাম। এরপর যখন রমযানের রোযা নাযিল (ফরয করা) হয়, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, এটা আল্লাহ্ তাআলার নিকট একটি বিশেষ দিন। কাজেই যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে সে এ দিন রোযা রাখতে পারে। আর যে কেউ ইচ্ছা করে ত্যাগও করতে পারে।

২৪৩৬

حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ لَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمَدِينَةَ وَجَدَ الْيَهُودَ يَصُومُونَ عَاشُورَاءَ فَسُئِلُوا عَنْ ذَلِكَ فَقَالُوا هَذَا الْيَوْمُ الَّذِي أَظْهَرَ اللَّهُ فِيهِ مُوسَى عَلَى فِرْعَوْنَ وَنَحْنُ نَصُومُهُ تَعْظِيمًا لَهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " نَحْنُ أَوْلَى بِمُوسَى مِنْكُمْ " . وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৪৩৬. যিয়াদ ইবনে আইয়ুব .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) মদীনায় আগমনের পর দেখতে পান যে, ইয়াহুদীরা আশুরার দিন রোযা রাখে। এর কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলে, এ দিন আল্লাহ্ তাআলা মুসা (আলাইহিস সালাম)-কে ফিরআউনের উপর বিজয় দান করেন। আর এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন হেতু আমরা রোযা রাখি। রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ আমরা তোমাদের চাইতে মুসা (আলাইহিস সালাম) এর অনুসরণের অধিক হকদার। আর তিনি ঐ দিন রোযা রাখার নির্দেশ দেন।

২৫৬. ৯ মুহাররামের দিন আশুরা হওয়া সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

باب مَا رُوِيَ أَنَّ عَاشُورَاءَ الْيَوْمُ التَّاسِعُ

২৪৩৭

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، أَنَّ إِسْمَاعِيلَ بْنَ أُمَيَّةَ الْقُرَشِيَّ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا غَطَفَانَ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ حِينَ صَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَنَا بِصِيَامِهِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ يَوْمٌ تُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَإِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ صُمْنَا يَوْمَ التَّاسِعِ " . فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৪৩৭. সুলাইমান ইবনে দাউদ ..... আবু গিতফান (রাহঃ) বলেন, আমি আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি যে, নবী করীম (ﷺ) যখন আশুরার দিন রোযা রাখেন, তখন আমাদেরকেও ঐ দিন রোযা রাখার নির্দেশ দেন। সাহবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! এ তো এমন দিন, যাকে ইয়াহুদী ও নাসারাগণ সম্মান করে থাকে। রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, যখন আগামী বছর এ সময় আসবে, তখন আমরা ৯ই মুহাররমসহ রোযা রাখব। কিন্তু পরবর্তী বছর আগমনের পূর্বেই রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইন্তিকাল করেন।

২৪৩৮

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، - يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ - عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ غَلاَبٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، أَخْبَرَنِي حَاجِبُ بْنُ عُمَرَ، - جَمِيعًا الْمَعْنَى - عَنِ الْحَكَمِ بْنِ الأَعْرَجِ، قَالَ أَتَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ وَهُوَ مُتَوَسِّدٌ رِدَاءَهُ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ فَسَأَلْتُهُ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ فَقَالَ إِذَا رَأَيْتَ هِلاَلَ الْمُحَرَّمِ فَاعْدُدْ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ التَّاسِعِ فَأَصْبِحْ صَائِمًا . فَقُلْتُ كَذَا كَانَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ فَقَالَ كَذَلِكَ كَانَ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

২৪৩৮. মুসাদ্দাদ ..... হাকাম ইবনুল আ‘রাজ (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট এমন সময় গমন করি, যখন তিনি স্বীয় চাদর মস্তকের নীচে (বালিশের ন্যায়) প্রদানপূর্বক কা‘বা ঘরে শায়িত ছিলেন। আমি তাঁকে আশুরার রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন, যখন তোমরা মুহাররমের নতুন চাঁদ দেখবে, তখন গণনা করতে থাকবে। যখন ৯ তারিখ আসবে, তখন তুমি রোযা রাখবে। এরপর আমি জিজ্ঞাসা করি, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কি এরূপ রোযা রাখতেন? তিনি বলেন, এরূপেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রোযা রাখতেন। (অর্থাৎ মুহাররামের ৯ তারিখের রাতে সাহরী খেয়ে ১০ তারিখ রোযা রাখবে। অথবা ৯ ও ১০ উভয় দিনই রোযা রাখবে)।

২৫৭. আশুরার রোযার ফযীলত।

باب فِي فَضْلِ صَوْمِهِ

২৪৩৯

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَسْلَمَةَ، عَنْ عَمِّهِ، أَنَّ أَسْلَمَ، أَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " صُمْتُمْ يَوْمَكُمْ هَذَا " . قَالُوا لاَ . قَالَ " فَأَتِمُّوا بَقِيَّةَ يَوْمِكُمْ وَاقْضُوهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ يَعْنِي يَوْمَ عَاشُورَاءَ .

বর্ণনাকারী: আব্দুর রহমান ইবন মাসলামা (রহঃ)

২৪৩৯. মুহাম্মাদ ইবনে আল-মিনহাল .... আব্দুর রহমান ইবনে মাসলামা তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেছেন যে, একদা (১০ই মুহাররাম তারিখে) আসলাম গোত্রের লোকেরা নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হলে, তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তোমরা কি এ দিন (আশুরার) রোযা রেখেছ? তারা বলে, না। তিনি বলেন, তোমরা বাকি দিন আর কিছু না খেয়ে রোযা করো এবং পরে এ দিনের রোযার কাযা আদায় করবে।

২৫৮. একদিন রোযা রাখা ও একদিন না রাখা।

باب فِي صَوْمِ يَوْمٍ وَفِطْرِ يَوْمٍ

২৪৪০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، وَمُسَدَّدٌ، - وَالإِخْبَارُ فِي حَدِيثِ أَحْمَدَ - قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ سَمِعْتُ عَمْرًا قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ أَوْسٍ سَمِعَهُ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَحَبُّ الصِّيَامِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى صِيَامُ دَاوُدَ وَأَحَبُّ الصَّلاَةِ إِلَى اللَّهِ صَلاَةُ دَاوُدَ كَانَ يَنَامُ نِصْفَهُ وَيَقُومُ ثُلُثَهُ وَيَنَامُ سُدُسَهُ وَكَانَ يُفْطِرُ يَوْمًا وَيَصُومُ يَوْمًا " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ'স (রাঃ)

২৪৪০. আহমদ ইবনে হাম্বল .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে বলেন, আল্লাহ্ তাআলার নিকট অধিক প্রিয় হল দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর রোযা এবং আল্লাহ্ তাআলার নিকট সবচেয়ে প্রিয় নামায হল দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর নামায। তিনি অর্ধরাত পর্যন্ত ঘুমাতেন এবং পরে এর এক তৃতীআংশ সময় নামাযে অতিবাহিত করতেন। আর (সব কাজ শেষে) তিনি এর এক ষষ্ঠাংশ সময় ঘুমাতেন। আর (রোযার ব্যাপারে) তিনি একদিন রোযা রাখতেন এবং একদিন ইফতার করতেন (অর্থাৎ একদিন অন্তর রোযা রাখতেন।)

২৫৯. প্রতিমাসে তিনদিন রোযা রাখা।

باب فِي صَوْمِ الثَّلاَثِ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ

২৪৪১

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَخِي مُحَمَّدٍ عَنِ ابْنِ مِلْحَانَ الْقَيْسِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنَا أَنْ نَصُومَ الْبِيضَ ثَلاَثَ عَشْرَةَ وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ وَخَمْسَ عَشْرَةَ . قَالَ وَقَالَ " هُنَّ كَهَيْئَةِ الدَّهْرِ " .

বর্ণনাকারী: বিবিধ

২৪৪১. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর .... ইবনে মিলহান আল-কায়সী তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদেরকে আইয়ামে বীয্ অর্থাৎ চন্দ্র মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনের তারিখে রোযা রাখার নির্দেশ দিতেন। তিনি (ইবনে মিলহান) বলেন, তিনি বলেছেনঃ এ রোযাগুলোর মর্যাদা (ফযীলত) সারা বছর রোযা রাখার সমতুল্য।

২৪৪২

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ - يَعْنِي مِنْ غُرَّةِ كُلِّ شَهْرٍ - ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

২৪৪২. আবু কামিল .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) রোযা রাখতেন, অর্থাৎ প্রতি মাসের প্রথম দিকে তিনদিন।

২৬০. সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখা।

باب مَنْ قَالَ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ

২৪৪৩

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ، عَنْ سَوَاءٍ الْخُزَاعِيِّ، عَنْ حَفْصَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مِنَ الشَّهْرِ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ وَالاِثْنَيْنِ مِنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

২৪৪৩. মুসা ইবনে ইস্মাঈল .... হাফসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) প্রতিমাসে তিনদিন রোযা রাখতেন। (মাসের প্রথম সপ্তাহের) সোমবার, বৃহস্পতিবার এবং (দ্বিতীয় সপ্তাহের) সোমবার দিন।

২৪৪৪

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ هُنَيْدَةَ الْخُزَاعِيِّ، عَنْ أُمِّهِ، قَالَتْ دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ فَسَأَلْتُهَا عَنِ الصِّيَامِ فَقَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنِي أَنْ أَصُومَ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ أَوَّلُهَا الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ .

বর্ণনাকারী: হুনাইদা খুযাঈ (রহঃ)

২৪৪৪. যুহাইর ইবনে হারব .... হুনায়দা আল্-খুযা‘ঈ তাঁর মাতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি উম্মে সালামা (রাযিঃ) এর নিকট গমন করে তাঁকে (নফল) রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে প্রতি মাসে তিনদিন রোযা রাখার নির্দেশ দিতেন। মাসের প্রথম সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার এবং (দ্বিতীয় সপ্তাহের) বৃহস্পতিবার দিন।

২৬১. যিনি বলেন, মাসের যেকোনো দিন রোযা রাখায় কোন অসুবিধা নেই।

باب مَنْ قَالَ لاَ يُبَالِي مِنْ أَىِّ الشَّهْرِ

২৪৪৫

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ، عَنْ مُعَاذَةَ، قَالَتْ قُلْتُ لِعَائِشَةَ أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصُومُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ قَالَتْ نَعَمْ . قُلْتُ مِنْ أَىِّ شَهْرٍ كَانَ يَصُومُ قَالَتْ مَا كَانَ يُبَالِي مِنْ أَىِّ أَيَّامِ الشَّهْرِ كَانَ يَصُومُ .

বর্ণনাকারী: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

২৪৪৫. মুসাদ্দাদ .... মুআয (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করি, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কি প্রতিমাসে তিনদিন রোযা রাখতেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করি, মাসের কোন কোন দিনে তিনি রোখা রাখতেন? তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) মাসের কোন কোন দিন রোযা রাখবেন, তা নির্দিষ্ট করতেন না।

২৬২. রোযার নিয়ত।

باب النِّيَّةِ فِي الصِّيَامِ

২৪৪৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَفْصَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ لَمْ يُجْمِعِ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ فَلاَ صِيَامَ لَهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ اللَّيْثُ وَإِسْحَاقُ بْنُ حَازِمٍ أَيْضًا جَمِيعًا عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ مِثْلَهُ وَوَقَفَهُ عَلَى حَفْصَةَ مَعْمَرٌ وَالزُّبَيْدِيُّ وَابْنُ عُيَيْنَةَ وَيُونُسُ الأَيْلِيُّ

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

২৪৪৬. আহমদ ইবনে সালিহ .... নবী করীম (ﷺ) এর স্ত্রী হাফসা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রোযার নিয়ত করবে না, তার রোযা আদায় হবে না।

২৬৩. রোযার জন্য নিয়ত না করার অনুমতি।

باب فِي الرُّخْصَةِ فِي ذَلِكَ

২৪৪৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، جَمِيعًا عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ عَلَىَّ قَالَ " هَلْ عِنْدَكُمْ طَعَامٌ " . فَإِذَا قُلْنَا لاَ قَالَ " إِنِّي صَائِمٌ " . زَادَ وَكِيعٌ فَدَخَلَ عَلَيْنَا يَوْمًا آخَرَ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أُهْدِيَ لَنَا حَيْسٌ فَحَبَسْنَاهُ لَكَ . فَقَالَ " أَدْنِيهِ " . قَالَ طَلْحَةُ فَأَصْبَحَ صَائِمًا وَأَفْطَرَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৪৭. মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) আমার নিকট আগমন করলে জিজ্ঞাসা করতেন, তোমাদের নিকট কি খাবার আছে? আমরা না বললে, তিনি বলতেন, আমি রোযা রাখলাম। রাবী ওয়াকী’ অতিরিক্ত বর্ণনায় বলেন, এরপর একদিন তিনি আমাদের নিকট আগমন করলে আমরা বলি, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের জন্য হায়স নামীয় খাদ্য হাদীয়া এসেছে। আর আমরা তা আপনার জন্য রেখে দিয়েছি। তিনি বলেন, তা আমার নিকট আনয়ন করো। এরপর তিনি সকাল হতে রাখা রোযা ভেঙ্গে ইফতার করেন।

২৪৪৮

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أُمِّ هَانِئٍ، قَالَتْ لَمَّا كَانَ يَوْمُ الْفَتْحِ فَتْحِ مَكَّةَ جَاءَتْ فَاطِمَةُ فَجَلَسَتْ عَنْ يَسَارِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأُمُّ هَانِئٍ عَنْ يَمِينِهِ قَالَتْ فَجَاءَتِ الْوَلِيدَةُ بِإِنَاءٍ فِيهِ شَرَابٌ فَنَاوَلَتْهُ فَشَرِبَ مِنْهُ ثُمَّ نَاوَلَهُ أُمَّ هَانِئٍ فَشَرِبَتْ مِنْهُ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقَدْ أَفْطَرْتُ وَكُنْتُ صَائِمَةً . فَقَالَ لَهَا " أَكُنْتِ تَقْضِينَ شَيْئًا " . قَالَتْ لاَ . قَالَ " فَلاَ يَضُرُّكِ إِنْ كَانَ تَطَوُّعًا " .

বর্ণনাকারী: উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব (রাঃ)

২৪৪৮. উসমান ইবনে আবি শাঈবা .... উম্মে হানী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি (রাবী) বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন বিজয়ের পর ফাতিমা (রাযিঃ) আগমন করেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর বামদিকে উপবেশন করেন এবং উম্মে হানী (রাযিঃ) ডানদিকে। তিনি (রাবী) বলেন, এমন সময় একটি ছোট্ট মেয়ে একটি পাত্রে কিছু পানীয় দ্রব্য এনে পেশ করলে তিনি তা পান করেন। এরপর তিনি এর অবশিষ্টাংশ উম্মে হানীকে পান করতে দেন। তিনি তা পান করে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমি তো ইফতার করলাম, কিন্তু আমি যে রোযা ছিলাম। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি কোন কাযা রোযা আদায় করছিলে? তিনি বলেন, না। তিনি বলেন, যদি তা নফল রোযা হয়, তবে এতে তোমার কোন ক্ষতি হবে না।

২৬৪. যার মতে, নফল রোযা ভঙ্গের পর এর কাযা আদায় করতে হবে।

باب مَنْ رَأَى عَلَيْهِ الْقَضَاءَ

২৪৪৯
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، عَنِ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ زُمَيْلٍ، مَوْلَى عُرْوَةَ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أُهْدِيَ لِي وَلِحَفْصَةَ طَعَامٌ وَكُنَّا صَائِمَتَيْنِ فَأَفْطَرْنَا ثُمَّ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْنَا لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا أُهْدِيَتْ لَنَا هَدِيَّةٌ فَاشْتَهَيْنَاهَا فَأَفْطَرْنَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ عَلَيْكُمَا صُومَا مَكَانَهُ يَوْمًا آخَرَ " .
قال أبو سعيد بن الأعرابي: هذا الحديث لا يثبت.

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৪৯. আহমদ ইবনে সালিহ .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমার ও হাফসার জন্য কিছু খাবার হাদিয়া স্বরূপ আসে। এ সময় আমরা উভয়ে রোযাদার ছিলাম। কিন্তু (খাবার পাওয়াতে) আমরা রোযা ভেঙ্গে তা খেয়ে ফেলি। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হাজির হলে, আমরা তাঁকে বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! নিশ্চয়ই আমাদের জন্য কিছু খাবার হাদিয়া স্বরূপ আসে, আর আমাদের তা খেতে ইচ্ছা হওয়াতে আমরা রোযা ভেঙ্গে খেয়ে ফেলেছি। রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, ক্ষতি নেই। তোমাদের উভয়ের জন্য অন্য কোনদিন কাযা রোযা রাখতে হবে। (অপর বর্ণনায় আছে, তোমরা উভয়ে এর পরিবর্তে অন্য কোনদিন কাযা রোযা রাখবে)।

২৬৫. স্বামীর অনুমতি ব্যতীত স্ত্রীর (নফল) রোযা রাখা।

باب الْمَرْأَةِ تَصُومُ بِغَيْرِ إِذْنِ زَوْجِهَا

২৪৫০

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَصُومُ الْمَرْأَةُ وَبَعْلُهَا شَاهِدٌ إِلاَّ بِإِذْنِهِ غَيْرَ رَمَضَانَ وَلاَ تَأْذَنُ فِي بَيْتِهِ وَهُوَ شَاهِدٌ إِلاَّ بِإِذْنِهِ " .

বর্ণনাকারী: হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ (রহঃ)

২৪৫০. আল্ হাসান ইবনে আলী .... হাম্মাম ইবনে মুনাবিবহ্ (রাহঃ) আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ কোন স্ত্রীলোক রমযান মাস ব্যতীত অন্য সময় তার স্বামী উপস্থিত থাকতে তার অনুমতি ব্যতীত রোযা রাখবে না। আর তার (স্বামীর) উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত অন্য কাউকে তার ঘরে প্রবেশের অনুমতি দিবে না।

২৪৫১

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ عِنْدَهُ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ زَوْجِي صَفْوَانَ بْنَ الْمُعَطَّلِ يَضْرِبُنِي إِذَا صَلَّيْتُ وَيُفَطِّرُنِي إِذَا صُمْتُ وَلاَ يُصَلِّي صَلاَةَ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ . قَالَ وَصَفْوَانُ عِنْدَهُ . قَالَ فَسَأَلَهُ عَمَّا قَالَتْ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمَّا قَوْلُهَا يَضْرِبُنِي إِذَا صَلَّيْتُ فَإِنَّهَا تَقْرَأُ بِسُورَتَيْنِ وَقَدْ نَهَيْتُهَا . قَالَ فَقَالَ " لَوْ كَانَتْ سُورَةً وَاحِدَةً لَكَفَتِ النَّاسَ " . وَأَمَّا قَوْلُهَا يُفَطِّرُنِي فَإِنَّهَا تَنْطَلِقُ فَتَصُومُ وَأَنَا رَجُلٌ شَابٌّ فَلاَ أَصْبِرُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَئِذٍ " لاَ تَصُومُ امْرَأَةٌ إِلاَّ بِإِذْنِ زَوْجِهَا " . وَأَمَّا قَوْلُهَا إِنِّي لاَ أُصَلِّي حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَإِنَّا أَهْلُ بَيْتٍ قَدْ عُرِفَ لَنَا ذَاكَ لاَ نَكَادُ نَسْتَيْقِظُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ . قَالَ " فَإِذَا اسْتَيْقَظْتَ فَصَلِّ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ حَمَّادٌ - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ حُمَيْدٍ أَوْ ثَابِتٍ عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

২৪৫১. উসমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আবু সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈকা মহিলা নবী করীম (ﷺ) এর খিদমতে আগমন করে এবং এ সময় আমরাও তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলাম। সে মহিলা বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার স্বামী সাফ্ওয়ান ইবনে মুআত্তাল, যখন আমি নামায পড়ি, তখন আমাকে মারধর করে। আর আমি রোযা রাখলে সে আমাকে রোযা ভাঙ্গতে বলে। অথচ সে সূর্যোদয়ের পূর্বে কখনও ফযরের নামায পড়ে না। রাবী বলেন, সাফওয়ানও তাঁর নিকট উপস্থিত ছিল।

রাবী বলেন, তিনি তার নিকট উক্ত মহিলার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তার বক্তব্য, ‘আমাকে মারধর করে, যখন আমি নামায আদায় করি।’’ প্রকৃত ব্যাপার এই যে, সে এমন (দীর্ঘ) দু‘টি সূরা (নামাযের মধ্যে) পড়ে, যা পড়তে তাকে আমি নিষেধ করি। রাবী বলেন, তিনি ইরশাদ করেন, যদি কেউ (ছোট) একটি সূরা পড়ে, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। আর তার বক্তব্য, ‘আমি রোযা রাখলে সে আমাকে ইফতার করতে বলে।’’ ব্যাপার এই যে, সে সব সময়ই (নফল) রোযা রাখে। আর আমি যুবক হওয়ার কারণে (স্ত্রী সহবাস ব্যতীত) থাকতে পারি না।

রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন, আজ হতে কোন স্ত্রীলোক স্বামীর অনুমতি ব্যতীত (নফল) রোযা রাখতে পারবে না। আর তার বক্তব্য যে, আমি সূর্যোদয়ের পূর্বে (ফজরের) নামায আদায় করি না। এ সম্পর্কে আমার বক্তব্য এই যে, আমরা পানি সরবরাহকারী পরিবারের লোক। রাতের প্রথমভাগে কাজ করি, শেষ রাতে নিদ্রা যাই এবং এটাই আমাদের অভ্যাস। এজন্য আমরা সূর্যোদয় হওয়া ব্যতীত নিদ্রা হতে জাগতে পারি না। তিনি বলেন, তুমি যখনই নিদ্রা হতে জাগ্রত হবে, তখনই নামায পড়ে নিবে।

২৬৬. রোযাদার ব্যক্তিকে যদি বিবাহ - ভোজে দাওয়াত করা হয়।

باب فِي الصَّائِمِ يُدْعَى إِلَى وَلِيمَةٍ

২৪৫২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ فَلْيُجِبْ فَإِنْ كَانَ مُفْطِرًا فَلْيَطْعَمْ وَإِنْ كَانَ صَائِمًا فَلْيُصَلِّ " . قَالَ هِشَامٌ وَالصَّلاَةُ الدُّعَاءُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ أَيْضًا عَنْ هِشَامٍ

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৪৫২. আব্দুল্লাহ্ ইবনে সাঈদ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কাউকে (বিবাহ ভোজের জন্য) দাওয়াত করা হয়, তখন সে যেন তা গ্রহণ করে। সে ব্যক্তি যদি রোযাদার না হয়, তবে সে যেন অবশ্যই খাদ্য গ্রহণ করে, আর যদি (নফল) রোযাদার হয়, তবে সে যেন অবশ্যই দাওয়াতকারীর জন্য দুআ করে।

হিশাম (রাহঃ) বলেন, হাদীসে ‘নামায’ অর্থ দু'আ, কল্যাণ কামনা।
২৪৫৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ إِلَى طَعَامٍ وَهُوَ صَائِمٌ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৪৫৩. মুসাদ্দাদ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কাউকে খাবারের জন্য দাওয়াত করা হয়, অথচ সে রোযাদার, তখন সে যেন (ওযর পেশ করে বলে), আমি রোযাদার।

২৬৭. ই’তিকাফ।

باب الاِعْتِكَافِ

২৪৫৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ ثُمَّ اعْتَكَفَ أَزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৫৪. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ...... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) রমযানের শেষ দশক ই‘তিকাফ করতেন, যতদিন না আল্লাহ্ তাআলা তাঁকে উঠিয়ে নেন। এরপর তাঁর স্ত্রীগণও (ই‘তিকাফ করেন)।

২৪৫৫

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ فَلَمْ يَعْتَكِفْ عَامًا فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ اعْتَكَفَ عِشْرِينَ لَيْلَةً .

বর্ণনাকারী: হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাঃ)

২৪৫৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল ..... উবাই ইবনে কা‘ব (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) রমযান মাসের শেষ দশক ই‘তিকাফ করতেন। কিন্তু বিশেষ কারণে তিনি এক বছর ই‘তিকাফ করতে সক্ষম হননি। এরপর পরবর্তী বছর এলে তিনি বিশ দিন ই‘তিকাফ করেন।

২৪৫৬

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَيَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ أَنْ يَعْتَكِفَ صَلَّى الْفَجْرَ ثُمَّ دَخَلَ مُعْتَكَفَهُ . قَالَتْ وَإِنَّهُ أَرَادَ مَرَّةً أَنْ يَعْتَكِفَ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ . قَالَتْ فَأَمَرَ بِبِنَائِهِ فَضُرِبَ فَلَمَّا رَأَيْتُ ذَلِكَ أَمَرْتُ بِبِنَائِي فَضُرِبَ . قَالَتْ وَأَمَرَ غَيْرِي مِنْ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِبِنَائِهِ فَضُرِبَ فَلَمَّا صَلَّى الْفَجْرَ نَظَرَ إِلَى الأَبْنِيَةِ فَقَالَ " مَا هَذِهِ آلْبِرَّ تُرِدْنَ " . قَالَتْ فَأَمَرَ بِبِنَائِهِ فَقُوِّضَ وَأَمَرَ أَزْوَاجُهُ بِأَبْنِيَتِهِنَّ فَقُوِّضَتْ ثُمَّ أَخَّرَ الاِعْتِكَافَ إِلَى الْعَشْرِ الأُوَلِ يَعْنِي مِنْ شَوَّالٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ إِسْحَاقَ وَالأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ نَحْوَهُ وَرَوَاهُ مَالِكٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ اعْتَكَفَ عِشْرِينَ مِنْ شَوَّالٍ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৫৬. উসমান ইবনে আবি শাঈবা ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন ই‘তিকাফ করার ইরাদা করতেন, তখন তিনি ফজরের নামায আদায়ের পর ই‘তিকাফকারী হিসাবে (মসজিদে) প্রবেশ করতেন। তিনি বলেন, এক সময়ে তিনি রমযানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করার ইরাদা করেন। তিনি বলেন, তখন তিনি তাঁর জন্য একটি তাঁবু খাটানোর নির্দেশ দিলে তা খাটানো হয়। এরপর তা দেখে আমি আমার জন্য একটি তাঁবু খাটাতে বললে তা খাটানো হয়। তিনি বলেন, আমি ব্যতীত নবী করীম (ﷺ) এর অন্যান্য পত্নীগণও তাদের জন্য তাঁবু আটাতে নির্দেশ দিলে তাও খাটানো হয়।

এরপর তিনি ফজরের নামায শেষে ঐ সমস্ত তাঁবুর দিকে দৃষ্টিপাত করে বলেন, তা এমন কী ভাল কাজ, যা করতে তোমরা ইচ্ছা করেছো? তিনি স্বীয় তাঁবু ভেঙ্গে ফেলতে নির্দেশ দেওয়ায়, তা ভেঙ্গে ফেলা হয়। তাঁর স্ত্রীগণও স্ব-স্ব তাঁবু ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিলে, সেগুলোও ভেঙ্গে ফেলা হয়। এরপর তিনি এ ই‘তিকাফ শাওয়াল মাসের প্রথম দশদিন পর্যন্ত বিলম্বিত করেন।

২৬৮. ই’তিকাফ কোথায় করতে হবে।

باب أَيْنَ يَكُونُ الاِعْتِكَافُ

২৪৫৭

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، أَنَّ نَافِعًا، أَخْبَرَهُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ . قَالَ نَافِعٌ وَقَدْ أَرَانِي عَبْدُ اللَّهِ الْمَكَانَ الَّذِي يَعْتَكِفُ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْمَسْجِدِ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৪৫৭. সুলাইমান ইবনে দাউদ .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) রমযান মাসের শেষ দশক ই‘তিকাফ করেন। নাফে’ বলেন, আমাকে আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) মসজিদের ঐ স্থানটি দেখান, যেখানে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ই‘তিকাফ করতেন।

২৪৫৮

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعْتَكِفُ كُلَّ رَمَضَانَ عَشَرَةَ أَيَّامٍ فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ اعْتَكَفَ عِشْرِينَ يَوْمًا .

বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

২৪৫৮. হান্নাদ ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) প্রতি রমযানে, দশদিন ই‘তিকাফ করতেন। এরপর তাঁর ইন্তিকালের বছর তিনি বিশদিন ই‘তিকাফ করেন।

২৬৯. ই’তিকাফের প্রয়োজনে মসজিদ হতে বের হয়ে ঘরে প্রবেশ করতে পারবে।

باب الْمُعْتَكِفِ يَدْخُلُ الْبَيْتَ لِحَاجَتِهِ

২৪৫৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اعْتَكَفَ يُدْنِي إِلَىَّ رَأْسَهُ فَأُرَجِّلُهُ وَكَانَ لاَ يَدْخُلُ الْبَيْتَ إِلاَّ لِحَاجَةِ الإِنْسَانِ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৫৯. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন ই‘তিকাফ করতেন, তখন তিনি স্বীয় মাথা মুবারক আমার নিকটবর্তী করতেন। আমি তাতে চিরুনী করে দিতাম। আর তিনি প্রস্রাব-পায়খানা ছাড়া অন্য কোন প্রয়োজনে ঘরে প্রবেশ করতেন না।

২৬৯. ই’তিকাফের প্রয়োজনে মসজিদ হতে বের হয়ে ঘরে প্রবেশ করতে পারবে।

باب الْمُعْتَكِفِ يَدْخُلُ الْبَيْتَ لِحَاجَتِهِ

২৪৬০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ يُونُسُ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَلَمْ يُتَابِعْ أَحَدٌ مَالِكًا عَلَى عُرْوَةَ عَنْ عَمْرَةَ وَرَوَاهُ مَعْمَرٌ وَزِيَادُ بْنُ سَعْدٍ وَغَيْرُهُمَا عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৬০. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ..... আয়িশা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

২৬৯. ই’তিকাফের প্রয়োজনে মসজিদ হতে বের হয়ে ঘরে প্রবেশ করতে পারবে।

باب الْمُعْتَكِفِ يَدْخُلُ الْبَيْتَ لِحَاجَتِهِ

২৪৬১

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَكُونُ مُعْتَكِفًا فِي الْمَسْجِدِ فَيُنَاوِلُنِي رَأْسَهُ مِنْ خَلَلِ الْحُجْرَةِ فَأَغْسِلُ رَأْسَهُ . وَقَالَ مُسَدَّدٌ فَأُرَجِّلُهُ وَأَنَا حَائِضٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৬১. সুলাইমান ইবনে হারব ও মুসাদ্দাদ ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ই‘তিকাফ অবস্থায়, স্বীয় মাথা মুবারক হুজরার দরজা দিয়ে আমার দিকে বের করে দিতেন। এরপর আমি তাঁর মাথা মুবারক ধুয়ে দিতাম। রাবী মুসাদ্দাদ তার বর্ণনায় বলেন, আমি ঋতুবতী অবস্থায় তাঁর মাথায় চিরুনী করে দিতাম।

২৪৬২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شَبُّويَةَ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنْ صَفِيَّةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُعْتَكِفًا فَأَتَيْتُهُ أَزُورُهُ لَيْلاً فَحَدَّثْتُهُ ثُمَّ قُمْتُ فَانْقَلَبْتُ فَقَامَ مَعِي لِيَقْلِبَنِي - وَكَانَ مَسْكَنُهَا فِي دَارِ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ - فَمَرَّ رَجُلاَنِ مِنَ الأَنْصَارِ فَلَمَّا رَأَيَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَسْرَعَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " عَلَى رِسْلِكُمَا إِنَّهَا صَفِيَّةُ بِنْتُ حُيَىٍّ " . قَالاَ سُبْحَانَ اللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنَ الإِنْسَانِ مَجْرَى الدَّمِ فَخَشِيتُ أَنْ يَقْذِفَ فِي قُلُوبِكُمَا شَيْئًا " . أَوْ قَالَ " شَرًّا " .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন সাফিয়্যা বিনতে হুওয়াই (রাঃ)

২৪৬২. আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে শাবওয়া আল মারওয়াযী ...... সাফিয়্যা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) ই‘তিকাফ থাকাবস্থায় আমি তাঁর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে রাতে সেখানে গমন করি এবং তাঁর সাথে কথাবার্তা বলি। এরপর আমি দণ্ডায়মান হয়ে আমার ঘরের দিকে রওয়ানা করি। তিনিও আমার সাথে দণ্ডায়মান হন, যাতে তিনি আমাকে ঘরে পৌছে দিতে পারেন। আর তখন তার (সাফিয়্যার) আবাসস্থল ছিল উসামা ইবনে যায়দের ঘর। ঐ সময় আনসারদের দু‘ব্যক্তি কোথাও গমন করছিল।

তারা নবী করীম (ﷺ) এর সাথে একজন মহিলাকে দেখে দ্রুত গমন করতে থাকে। নবী করীম (ﷺ) বলেন, তোমরা স্বাভাবিকভাবে (হেঁটে) গমন কর। আর (আমার সাথে) এ হল সাফিয়্যা বিনতে হুয়্যেই। তারা আশ্চর্য হয়ে বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! সুবহানাল্লাহ্! তিনি বলেন, শয়তান রক্ত প্রবাহের ন্যায় মানুষের ধমনী দিয়ে চলাচল করে। আর আমার আশঙ্কা যে, হয়ত সে তোমাদের অন্তরে কিছু সন্দেহ নিক্ষেপ করতে পারে। অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি বলেন, খারাপ কিছুর উদ্রেক করতে পারে।
২৪৬৩

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ فَارِسٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِإِسْنَادِهِ بِهَذَا قَالَتْ حَتَّى إِذَا كَانَ عِنْدَ بَابِ الْمَسْجِدِ الَّذِي عِنْدَ بَابِ أُمِّ سَلَمَةَ مَرَّ بِهِمَا رَجُلاَنِ . وَسَاقَ مَعْنَاهُ .

বর্ণনাকারী: ইবনে শিহাব যুহরী (রহঃ)

২৪৬৩. মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া ইবনে ফারিস ..... যুহরী (রাহঃ) হতে উপরোক্ত সনদে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি (সাফিয়্যা) বলেন, যখন তিনি মসজিদের ঐ দরজার নিকটবর্তী ছিলেন, যা উম্মে সালামার দরজার নিকট, সে সময় তাঁর পাশ দিয়ে দু‘ব্যক্তি গমন করে। এরপর উপরোক্ত হাদীসের মর্মে হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

২৭০. ই’তিকাফকারীর রোগীর সেবা করা।

باب الْمُعْتَكِفِ يَعُودُ الْمَرِيضَ

২৪৬৪

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ حَرْبٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ بْنُ أَبِي سُلَيْمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - قَالَ النُّفَيْلِيُّ - قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَمُرُّ بِالْمَرِيضِ وَهُوَ مُعْتَكِفٌ فَيَمُرُّ كَمَا هُوَ وَلاَ يُعَرِّجُ يَسْأَلُ عَنْهُ . وَقَالَ ابْنُ عِيسَى قَالَتْ إِنْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعُودُ الْمَرِيضَ وَهُوَ مُعْتَكِفٌ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৬৪. আব্দুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মাদ আন-নুফায়লী .... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাবী আন-নুফায়লী বলেন, তিনি (আয়িশা) বলেছেন, নবী করীম(ﷺ) ই‘তিকাফে থাকাবস্থায় রোগীর নিকট গমন করতেন। এরপর তিনি যেরূপে থাকতেন, সেরূপে গমন করতেন এবং তার (রোগীর) নিকট দণ্ডায়মান না হয়ে, তার সম্পর্কে খোঁজ খবর নিতেন। (রাবী) ইবনে ঈসা বলেন, তিনি (আয়িশা) বলেছেন, নবী করীম (ﷺ) ই‘তিকাফ অবস্থায় রোগীর পরিচর্যা করেছিলেন (তবে তিনি প্রসাব-পায়খানার প্রয়োজনে বের হয়েছিলেন)।

২৪৬৫

حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، أَخْبَرَنَا خَالِدٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا قَالَتِ السُّنَّةُ عَلَى الْمُعْتَكِفِ أَنْ لاَ يَعُودَ مَرِيضًا وَلاَ يَشْهَدَ جَنَازَةً وَلاَ يَمَسَّ امْرَأَةً وَلاَ يُبَاشِرَهَا وَلاَ يَخْرُجَ لِحَاجَةٍ إِلاَّ لِمَا لاَ بُدَّ مِنْهُ وَلاَ اعْتِكَافَ إِلاَّ بِصَوْمٍ وَلاَ اعْتِكَافَ إِلاَّ فِي مَسْجِدٍ جَامِعٍ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ غَيْرُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ لاَ يَقُولُ فِيهِ قَالَتِ السُّنَّةُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ جَعَلَهُ قَوْلَ عَائِشَةَ .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৬৫. ওয়াহব ইবনে বাকীয়্যা ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ই‘তিকাফের জন্য সুন্নত এই যে, সে যেন কোন রোগীর পরিচর্যার জন্য গমন না করে, জানাযার নামাযে শরীক না হয়, স্ত্রীকে স্পর্শ না করে এবং তার সাথে সহবাস না করে। আর সে যেন বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত মসজিদ হতে বের না হয়। রোযা ব্যতীত ই‘তিকাফ নেই এবং জামে মসজিদ ব্যতীত ই‘তিকাফ শুদ্ধ নয়।

২৪৬৬

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُدَيْلٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ عُمَرَ، - رضى الله عنه - جَعَلَ عَلَيْهِ أَنْ يَعْتَكِفَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ لَيْلَةً أَوْ يَوْمًا عِنْدَ الْكَعْبَةِ فَسَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " اعْتَكِفْ وَصُمْ " .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৪৬৬. আহমদ ইবনে ইবরাহীম .... ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) জাহিলীয়াতের যুগে একদিন একরাত মসজিদুল হারামে ই‘তিকাফের মান্নাত করেন। তিনি এ সম্পর্কে নবী করীম (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তুমি ই‘তিকাফ করো এবং রোযা রাখো।

২৪৬৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبَانَ بْنِ صَالِحٍ الْقُرَشِيِّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ، - يَعْنِي الْعَنْقَزِيَّ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُدَيْلٍ، بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ قَالَ فَبَيْنَمَا هُوَ مُعْتَكِفٌ إِذْ كَبَّرَ النَّاسُ فَقَالَ مَا هَذَا يَا عَبْدَ اللَّهِ قَالَ سَبْىُ هَوَازِنَ أَعْتَقَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَتِلْكَ الْجَارِيَةُ . فَأَرْسَلَهَا مَعَهُمْ .

বর্ণনাকারী: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

২৪৬৭. আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে বুদাইল (রাহঃ) উপরোক্ত সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাবী বলেন, যখন তিনি (উমর) ই‘তিকাফে ছিলেন, তখন লোকেরা তাকবীর প্রদান করে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, এ তাকবীর ধ্বনি কেন? তিনি (ইবনে উমর) বলেন, হাওয়াযিন গোত্রের বন্দীদের রাসূলূল্লাহ্ (ﷺ) মুক্ত করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এ দাসীকে তাদের সাথে পাঠিয়ে দাও।

২৭১. মুস্তাহাজার ই’তিকাফ।

باب فِي الْمُسْتَحَاضَةِ تَعْتَكِفُ

২৪৬৮

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - قَالَتِ اعْتَكَفَتْ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم امْرَأَةٌ مِنْ أَزْوَاجِهِ فَكَانَتْ تَرَى الصُّفْرَةَ وَالْحُمْرَةَ فَرُبَّمَا وَضَعْنَا الطَّسْتَ تَحْتَهَا وَهِيَ تُصَلِّي .

বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

২৪৬৮. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ও কুতায়বা ..... আয়িশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথে তাঁর পত্নীদের একজন ই‘তিকাফ করেন। এরপর তাঁর (ইস্তিহাযার) রক্ত কোনো সময় হলুদ এবং হলুদ এবং কোনো সময় লাল রং দেখা যেত। আর আমরা তাঁর জন্য নামাযের সময় তাঁর নীচে একটি তাসত (পাত্র) রাখতাম, (যাতে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট না হয়)।